GEN 1:1 শুরুতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন।
GEN 1:2 এমতাবস্থায় পৃথিবী নিরবয়ব ও ফাঁকা ছিল, গভীরের উপরের স্তরে অন্ধকার ছেয়ে ছিল, এবং ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর ভেসে বেড়াচ্ছিলেন।
GEN 1:3 আর ঈশ্বর বললেন, “আলো হোক,” এবং আলো হল।
GEN 1:4 ঈশ্বর দেখলেন যে সেই আলো ভালো হয়েছে, এবং তিনি অন্ধকার থেকে আলোকে বিচ্ছিন্ন করলেন।
GEN 1:5 ঈশ্বর আলোকে “দিন” নাম দিলেন এবং অন্ধকারকে “রাত” নাম দিলেন। সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল—এই হল প্রথম দিন।
GEN 1:6 আর ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীর জল থেকে আকাশের জলকে আলাদা করার জন্য এই দুই ধরনের জলের মাঝখানে উন্মুক্ত এলাকা তৈরি হোক।”
GEN 1:7 অতএব ঈশ্বর উন্মুক্ত এলাকা তৈরি করলেন এবং সেই এলাকার উপরের ও নিচের জলকে আলাদা করে দিলেন। আর তা সেইমতোই হল।
GEN 1:8 ঈশ্বর সেই উন্মুক্ত এলাকাকে “আকাশ” নাম দিলেন। আর সন্ধ্যা হল ও সকাল হল—এই হল দ্বিতীয় দিন।
GEN 1:9 আর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নিচের সব জল এক স্থানে জমা হোক, এবং শুকনো জমি দৃষ্টিগোচর হোক।” আর তা সেইমতোই হল।
GEN 1:10 ঈশ্বর সেই শুকনো জমির নাম দিলেন “ভূমি” এবং জমা জলকে তিনি “সমুদ্র” নাম দিলেন। আর ঈশ্বর দেখলেন যে সেটি ভালো হয়েছে।
GEN 1:11 পরে ঈশ্বর বললেন, “ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করুক: সেগুলির বিভিন্ন ধরন অনুসারে ভূমিতে উৎপন্ন সবীজ লতাগুল্ম ও বীজ সমেত ফল উৎপাদনকারী গাছ উৎপন্ন হোক।” আর তা সেইমতোই হল।
GEN 1:12 ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করল: নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে বীজ উৎপাদনকারী লতাগুল্ম এবং নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে বীজ সমেত ফল উৎপাদনকারী গাছ উৎপন্ন হল। এবং ঈশ্বর দেখলেন যে সেগুলি ভালো হয়েছে।
GEN 1:13 আর সন্ধ্যা হল ও সকাল হল—এই হল তৃতীয় দিন।
GEN 1:14 আর ঈশ্বর বললেন, “রাত থেকে দিনকে আলাদা করার জন্য আকাশের উন্মুক্ত এলাকায় জ্যোতি হোক, এবং বিভিন্ন ঋতু, দিন ও বছর চিহ্নিত করার জন্য এগুলি নিদর্শনরূপে কাজ করুক,
GEN 1:15 আর পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এগুলি আকাশের উন্মুক্ত এলাকায় আলোর উৎস হয়ে যাক।” আর তা সেরকমই হল।
GEN 1:16 ঈশ্বর দুটি বড়ো জ্যোতি তৈরি করলেন—দিন নিয়ন্ত্রিত করার জন্য অপেক্ষাকৃত বড়ো জ্যোতি এবং রাত নিয়ন্ত্রিত করার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোটো জ্যোতি। তিনি তারকামালাও তৈরি করলেন।
GEN 1:17 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর সেগুলিকে আকাশের উন্মুক্ত এলাকায় বসিয়ে দিলেন,
GEN 1:18 যেন সেগুলি দিন ও রাতের উপরে প্রভুত্ব করতে পারে, এবং অন্ধকার থেকে আলোকে আলাদা করতে পারে। আর ঈশ্বর দেখলেন যে তা ভালো হয়েছে।
GEN 1:19 আর সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল—এই হল চতুর্থ দিন।
GEN 1:20 আর ঈশ্বর বললেন, “জলে জীবিত প্রাণীর ঝাঁক দেখা যাক এবং আকাশে পৃথিবীর উপর পাখিরা উড়ে বেড়াক।”
GEN 1:21 তাই ঈশ্বর সমুদ্রের বড়ো বড়ো প্রাণীদের এবং জলে থাকা প্রত্যেকটি জীবিত ও গতিশীল জীবকে তাদের প্রজাতি অনুসারে, এবং প্রত্যেকটি ডানাযুক্ত পাখিকে তাদের প্রজাতি অনুসারে সৃষ্টি করলেন। আর ঈশ্বর দেখলেন যে তা ভালো হয়েছে।
GEN 1:22 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “ফলবান হও ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্রের জল ভরিয়ে তোলো, এবং পৃথিবীর বুকে পাখিরাও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাক।”
GEN 1:23 আর সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল—এই হল পঞ্চম দিন।
GEN 1:24 আর ঈশ্বর বললেন, “ভূমি নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে জীবিত প্রাণী উৎপন্ন করুক: গৃহপালিত পশু, জমির সরীসৃপ প্রাণী, এবং বন্যপশু, প্রত্যেকে নিজস্ব প্রজাতি অনুসারেই হোক।” আর তা সেইমতোই হল।
GEN 1:25 বন্যপশুদের তাদের নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে, গৃহপালিত পশুদের তাদের নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে, এবং জমির সরীসৃপ প্রাণীদের তাদের নিজস্ব প্রজাতি অনুসারে ঈশ্বর তৈরি করলেন। আর ঈশ্বর দেখলেন যে তা ভালো হয়েছে।
GEN 1:26 তখন ঈশ্বর বললেন, “এসো, আমরা আমাদের প্রতিমূর্তিতে ও আমাদের সাদৃশ্যে মানুষ তৈরি করি, যেন তারা সমুদ্রের মাছেদের উপরে এবং আকাশের পাখিদের উপরে, গৃহপালিত পশুদের ও সব বন্যপশুর উপরে, এবং জমির সব সরীসৃপ প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ব করে।”
GEN 1:27 অতএব ঈশ্বর তাঁর নিজস্ব প্রতিমূর্তিতে মানুষ সৃষ্টি করলেন, ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তিনি তাকে সৃষ্টি করলেন; পুরুষ ও স্ত্রী করে তিনি তাদের সৃষ্টি করলেন।
GEN 1:28 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমরা ফলবান হও ও সংখ্যায় বৃদ্ধিলাভ করো; পৃথিবী ভরিয়ে তোলো ও এটি বশে রেখো। সমুদ্রের মাছগুলির উপরে ও আকাশের পাখিদের উপরে এবং প্রত্যেকটি সরীসৃপ প্রাণীর উপরে তোমরা কর্তৃত্ব কোরো।”
GEN 1:29 পরে ঈশ্বর বললেন, “প্রত্যেকটি সবীজ লতাগুল্ম, যা সমগ্র পৃথিবীর বুকে উৎপন্ন হয় ও বীজ সমেত ফল উৎপাদনকারী প্রত্যেকটি গাছপালা আমি তোমাদের দিলাম। সেগুলি তোমাদের খাদ্যদ্রব্য হবে।
GEN 1:30 আর পৃথিবীর সব পশুর ও আকাশের সব পাখির এবং সব সরীসৃপ প্রাণীর কাছে—যে সবকিছুর মধ্যে জীবন আছে—খাদ্যদ্রব্যরূপে আমি প্রত্যেকটি সবুজ চারাগাছ দিলাম।” আর তা সেইমতোই হল।
GEN 1:31 ঈশ্বর যা যা তৈরি করলেন, তা তিনি দেখলেন, এবং তা খুবই ভালো হল। আর সন্ধ্যা হল ও সকাল হল—এই হল ষষ্ঠ দিন।
GEN 2:1 এইভাবে আকাশমণ্ডল এবং পৃথিবী ও সেখানকার সবকিছু সৃষ্টির কাজ সম্পূর্ণ হল।
GEN 2:2 সপ্তম দিনে এসে ঈশ্বর তাঁর সব কাজকর্ম সমাপ্ত করলেন; তাই সপ্তম দিনে তিনি তাঁর সমস্ত কাজ থেকে বিশ্রাম নিলেন।
GEN 2:3 আর ঈশ্বর সপ্তম দিনকে আশীর্বাদ করে সেটিকে পবিত্র করলেন, কারণ এই দিনেই তিনি তাঁর সব সৃষ্টিকর্ম সম্পূর্ণ করে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।
GEN 2:4 আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী যখন সৃষ্টি হল, সদাপ্রভু ঈশ্বর যখন পৃথিবী ও আকাশমণ্ডল তৈরি করলেন তখন তার বর্ণনা এইরকম হল।
GEN 2:5 আর তখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে কোনও গাছপালা উৎপন্ন হয়নি এবং কোনও চারাগাছ তখনও গজিয়ে ওঠেনি, কারণ সদাপ্রভু ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠাননি, এবং জমিতে চাষ করার জন্য সেখানে কোনও মানুষও ছিল না,
GEN 2:6 কিন্তু পৃথিবী থেকে জলধারা উঠে এল ও জমির সমগ্র বহির্ভাগ জলসিক্ত করে তুলল।
GEN 2:7 সদাপ্রভু ঈশ্বর জমির ধুলো থেকে মানুষকে গড়ে তুললেন এবং তার নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু ভরে দিলেন, এবং সেই মানুষ এক জীবিত প্রাণী হয়ে গেল।
GEN 2:8 এমতাবস্থায় সদাপ্রভু ঈশ্বর এদনে, পূর্বদিকে একটি বাগান তৈরি করলেন; এবং সেখানে তিনি তাঁর হাতে গড়া মানুষটিকে রাখলেন।
GEN 2:9 আর সদাপ্রভু ঈশ্বর ভূমিতে সব ধরনের গাছপালা জন্মাতে দিলেন—যেসব গাছপালা দেখতে ভালো লাগে এবং খাদ্যরূপেও যেগুলি ভালো। বাগানের মাঝখানে জীবনদায়ী গাছ এবং ভালোমন্দের জ্ঞানদায়ী গাছ ছিল।
GEN 2:10 এদন থেকে একটি নদী প্রবাহিত হয়ে বাগানটি জলসেচিত করে তুলল; সেখান থেকে এটি চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল।
GEN 2:11 প্রথমটির নাম পীশোন; এটি সমগ্র সেই হবীলা দেশ জুড়ে প্রবাহিত হয়েছে, যেখানে সোনা পাওয়া যায়।
GEN 2:12 (সেই দেশের সোনা খুব উন্নত মানের; আর সেখানে সুগন্ধি ধুনো এবং স্ফটিকমণিও পাওয়া যায়)
GEN 2:13 দ্বিতীয় নদীটির নাম গীহোন, এটি সমগ্র কূশ দেশ জুড়ে প্রবাহিত হয়েছে।
GEN 2:14 তৃতীয় নদীটির নাম টাইগ্রিস; এটি আসিরিয়ার পূর্বদিক ঘেঁসে বয়ে গিয়েছে। চতুর্থ নদীটি হল ইউফ্রেটিস।
GEN 2:15 সদাপ্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে নিয়ে এদন বাগানে কাজ করার এবং সেটির যত্ন নেওয়ার জন্য তাকে সেখানে রাখলেন।
GEN 2:16 আর সদাপ্রভু ঈশ্বর সেই মানুষটিকে আদেশ দিলেন, “বাগানের যে কোনো গাছের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে তুমি স্বাধীন;
GEN 2:17 কিন্তু ভালোমন্দের জ্ঞানদায়ী গাছের ফল তুমি অবশ্যই খেয়ো না। যদি সেই গাছের ফল খাও, তবে তুমি নিশ্চয় মারা যাবে।”
GEN 2:18 সদাপ্রভু ঈশ্বর বললেন, “মানুষের একা থাকা ভালো নয়। আমি তার উপযুক্ত এক সহকারিণী তৈরি করব।”
GEN 2:19 এখন সদাপ্রভু ঈশ্বর সব বন্যপশুকে ও আকাশের সব পাখিকে মাটি দিয়ে তৈরি করলেন। সেই মানুষটি তাদের কী নাম দেয় তা দেখার জন্য ঈশ্বর তাদের তাঁর কাছে আনলেন; আর সেই মানুষটি প্রত্যেকটি জীবন্ত প্রাণীকে যে যে নাম দিলেন, তার নাম ঠিক তাই হল।
GEN 2:20 অতএব সেই মানুষটি সব গৃহপালিত পশুর, আকাশের পাখিদের এবং সব বন্যপশুর নামকরণ করলেন। কিন্তু আদমের জন্য উপযুক্ত কোনও সহকারিণী পাওয়া যায়নি।
GEN 2:21 অতএব সদাপ্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়তে দিলেন; এবং যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, তখন ঈশ্বর সেই মানুষটির পাঁজরের একটি হাড় বের করে নিয়ে তাঁর সেই স্থানটি মাংস দিয়ে ভরাট করে দিলেন।
GEN 2:22 পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর সেই মানুষটির পাঁজরের যে হাড়টি বের করলেন, তা দিয়ে এক নারী তৈরি করলেন, এবং ঈশ্বর তাঁকে সেই মানুষটির কাছে আনলেন।
GEN 2:23 মানুষটি বললেন, “এখন এই আমার অস্থির অস্থি ও আমার মাংসের মাংস; এর নাম হবে ‘নারী,’ কারণ একে নর থেকে নেওয়া হয়েছে।”
GEN 2:24 এই কারণে একজন পুরুষ তার পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করে, তার স্ত্রীর সাথে সংযুক্ত হবে ও সেই দুজন একাঙ্গ হবে।
GEN 2:25 সেই পুরুষ ও তাঁর স্ত্রী, দুজনেই নগ্ন ছিলেন, আর তাদের কোনো লজ্জাবোধও ছিল না।
GEN 3:1 এখন সদাপ্রভু ঈশ্বরের নির্মিত যে কোনো বন্যপশুর মধ্যে সাপই ছিল সবচেয়ে ধূর্ত। সে নারীকে বলল, “সত্যিই কি ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই বাগানের কোনও গাছের ফল খেয়ো না’?”
GEN 3:2 নারী সাপকে বললেন, “আমরা বাগানের গাছগুলি থেকে ফল খেতে পারি,
GEN 3:3 কিন্তু ঈশ্বর বলেছেন, ‘বাগানের মাঝখানে যে গাছটি আছে, তার ফল তোমরা অবশ্যই খাবে না, আর এটি তোমরা ছোঁবেও না, এমনটি করলে তোমরা মারা যাবে।’ ”
GEN 3:4 “অবশ্যই তোমরা মরবে না,” সাপ নারীকে বলল।
GEN 3:5 “কারণ ঈশ্বর জানেন যে, যখন তোমরা এটি খাবে, তখন তোমাদের চোখ খুলে যাবে, ও তোমরা ভালোমন্দ জানার ক্ষেত্রে ঈশ্বরের মতো হয়ে যাবে।”
GEN 3:6 নারী যখন দেখলেন যে সেই গাছের ফলটি খাদ্য হিসেবে ভালো ও চোখের পক্ষে আনন্দদায়ক, এবং জ্ঞানার্জনের পক্ষেও কাম্য, তখন তিনি কয়েকটি ফল পেড়ে তা খেলেন। তিনি তাঁর সেই স্বামীকেও কয়েকটি ফল দিলেন, যিনি তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ও তিনিও তা খেলেন।
GEN 3:7 তখন তাদের দুজনেরই চোখ খুলে গেল, এবং তারা অনুভব করলেন যে তারা উলঙ্গ; তাই তারা ডুমুর গাছের পাতা একসাথে সেলাই করে নিজেদের জন্য আচ্ছাদন তৈরি করলেন।
GEN 3:8 তখন সেই মানুষটি ও তাঁর স্ত্রী সেই সদাপ্রভু ঈশ্বরের হাঁটার আওয়াজ শুনতে পেলেন, যিনি দিনের পড়ন্ত বেলায় বাগানে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিলেন, এবং তারা সদাপ্রভু ঈশ্বরকে এড়িয়ে বাগানের গাছগুলির আড়ালে লুকিয়ে পড়লেন।
GEN 3:9 কিন্তু সদাপ্রভু ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ডেকে বললেন, “তুমি কোথায়?”
GEN 3:10 তিনি উত্তর দিলেন, “বাগানে আমি তোমার হাঁটার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম, আর আমি ভয় পেয়েছিলাম কারণ আমি যে উলঙ্গ; তাই আমি লুকিয়ে পড়েছি।”
GEN 3:11 আর সদাপ্রভু ঈশ্বর বললেন, “কে তোমাকে বলেছে যে তুমি উলঙ্গ? যে গাছের ফল না খাওয়ার আদেশ আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, সেই গাছের ফল তুমি কি খেয়েছ?”
GEN 3:12 মানুষটি বললেন, “আমার সঙ্গে তুমি যে নারীকে এখানে রেখেছ—সেই গাছটি থেকে কয়েকটি ফল আমায় দিয়েছিল এবং আমি তা খেয়ে ফেলেছি।”
GEN 3:13 তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন, “তুমি এ কী করলে?” নারী বললেন, “সাপ আমাকে প্রতারিত করেছে, ও আমি খেয়ে ফেলেছি।”
GEN 3:14 অতএব সদাপ্রভু ঈশ্বর সাপকে বললেন, “যেহেতু তুমি এমনটি করেছ, তাই, “সব গবাদি পশুর মধ্যে ও সব বন্যপশুর মধ্যে তুমিই হলে অভিশপ্ত! তুমি বুকে ভর দিয়ে চলবে আর সারা জীবনভর ধুলো খেয়ে যাবে।
GEN 3:15 তোমার ও নারীর মধ্যে আর তোমার ও তার সন্তানসন্ততির মধ্যে আমি শত্রুতা জন্মাব; সে তোমার মাথা গুঁড়িয়ে দেবে আর তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত হানবে।”
GEN 3:16 সদাপ্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন, “আমি তোমার সন্তান প্রসবের ব্যথা খুব বাড়িয়ে দেব; প্রচণ্ড প্রসববেদনা সহ্য করে তুমি সন্তানের জন্ম দেবে। তোমার স্বামীর প্রতি তোমার আকুল বাসনা থাকবে, আর সে তোমার উপর কর্তৃত্ব করবে।”
GEN 3:17 আদমকে তিনি বললেন, “যেহেতু তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনে সেই গাছের ফল খেয়েছ, যেটির বিষয়ে আমি তোমাকে আদেশ দিয়েছিলাম, ‘তুমি এর ফল অবশ্যই খাবে না,’ তাই “তোমার জন্য ভূমি অভিশপ্ত হল; আজীবন তুমি কঠোর পরিশ্রম করে তা থেকে খাবার খাবে।
GEN 3:18 তা তোমার জন্য কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাঁটা ফলাবে, আর তুমি ক্ষেতের লতাগুল্ম খাবে,
GEN 3:19 যতদিন না তুমি মাটিতে ফিরে যাচ্ছ, ততদিন তুমি কপালের ঘাম ঝরিয়ে তোমার খাবার খাবে, যেহেতু সেখান থেকেই তোমাকে আনা হয়েছে; কারণ তুমি তো ধুলো, আর ধুলোতেই তুমি যাবে ফিরে।”
GEN 3:20 আদম তাঁর স্ত্রীর নাম দিলেন হবা, কারণ তিনি হবেন সব জীবন্ত মানুষের মা।
GEN 3:21 সদাপ্রভু ঈশ্বর আদম ও তাঁর স্ত্রীর জন্য চামড়ার পোশাক বানিয়ে দিলেন এবং তাদের কাপড় পরিয়ে দিলেন।
GEN 3:22 আর সদাপ্রভু ঈশ্বর বললেন, “মানুষ এখন ভালোমন্দের জ্ঞান পেয়ে আমাদের একজনের মতো হয়ে গিয়েছে। তাকে এই সুযোগ দেওয়া যাবে না, যেন সে তার হাত বাড়িয়ে আবার জীবনদায়ী গাছের ফল খেয়ে অমর হয়ে যায়।”
GEN 3:23 তাই সদাপ্রভু ঈশ্বর তাঁকে এদন বাগান থেকে নির্বাসিত করে সেই ভূমিতে কাজ করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন, যেখান থেকে তাঁকে তুলে আনা হয়েছিল।
GEN 3:24 সেই মানুষটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর, এদন বাগানের পূর্বদিকে তিনি করূবদের মোতায়েন করে দিলেন এবং জীবনদায়ী গাছের কাছে পৌঁছানোর পথ রক্ষা করার জন্য ঘূর্ণায়মান জ্বলন্ত এক তরোয়ালও বসিয়ে দিলেন।
GEN 4:1 আদম তাঁর স্ত্রী হবার সঙ্গে সহবাস করলেন, এবং হবা গর্ভবতী হয়ে কয়িনের জন্ম দিলেন। হবা বললেন, “সদাপ্রভুর সাহায্য নিয়ে আমি একটি পুরুষমানুষ উৎপন্ন করেছি।”
GEN 4:2 পরে তিনি কয়িনের ভাই হেবলের জন্ম দিলেন। হেবল মেষপাল দেখাশোনা করত, এবং কয়িন জমি চাষ-আবাদ করত।
GEN 4:3 অবশেষে কয়িন তার জমির কিছু ফল সদাপ্রভুর কাছে এক উপহার রূপে নিয়ে এল।
GEN 4:4 কিন্তু হেবল উপহার রূপে তার মেষপালের প্রথমজাত কয়েকটি মেষের চর্বিদার অংশ আনল। সদাপ্রভু হেবল ও তার উপহারের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন,
GEN 4:5 কিন্তু কয়িন ও তার উপহারের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হননি। তাই কয়িন খুব ক্রুদ্ধ হল এবং সে বিষণ্ণবদন হয়ে পড়ল।
GEN 4:6 তখন সদাপ্রভু কয়িনকে বললেন, “তুমি ক্রুদ্ধ হলে কেন? কেন তুমি বিষণ্ণবদন হয়ে পড়েছ?
GEN 4:7 যদি তুমি ঠিক কাজ করতে, তবে কি গ্রাহ্য হতে না? কিন্তু যদি ঠিক কাজ না করে থাকো, তবে পাপ তোমার দরজায় গুটিসুটি মেরে আছে; পাপ তোমাকে গ্রাস করতে চাইছে, কিন্তু তোমাকেই পাপকে বশে রাখতে হবে।”
GEN 4:8 এদিকে কয়িন তার ভাই হেবলকে বলল, “চলো, আমরা জমিতে যাই।” আর তারা যখন জমিতে ছিল, তখন কয়িন তার ভাই হেবলকে আক্রমণ করে তাকে হত্যা করল।
GEN 4:9 তখন সদাপ্রভু কয়িনকে বললেন, “তোমার ভাই হেবল কোথায়?” “আমি জানি না,” সে উত্তর দিল, “আমি কি আমার ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক?”
GEN 4:10 সদাপ্রভু বললেন, “তুমি এ কী করলে? শোনো! জমি থেকে তোমার ভাইয়ের রক্তের কান্না আমার কানে ভেসে আসছে।
GEN 4:11 এখন তুমি অভিশাপগ্রস্ত হলে এবং সেই জমি থেকে বিতাড়িতও হলে, যা তোমার হাত থেকে তোমার ভাইয়ের রক্ত গ্রহণ করার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
GEN 4:12 যখন তুমি এই জমিতে কাজ করবে, তখন আর তা তোমার জন্য ফসল উৎপন্ন করবে না। এ জগতে তুমি অশান্ত এক ভ্রমণকারী হয়েই থাকবে।”
GEN 4:13 কয়িন সদাপ্রভুকে বলল, “আমার শাস্তিটি, আমার শক্তির অতিরিক্ত হয়ে গেল।
GEN 4:14 আজ তুমি আমাকে কৃষিভূমি থেকে তাড়িয়ে দিলে, আর আমি তোমার উপস্থিতি থেকে লুকিয়ে পড়ব; পৃথিবীতে আমি অশান্ত এক ভ্রমণকারী হয়েই থাকব, এবং যে কেউ আমার দেখা পাবে সে আমাকে হত্যা করবে।”
GEN 4:15 কিন্তু সদাপ্রভু তাকে বললেন, “তা নয়; কেউ যদি কয়িনকে হত্যা করে, তবে তার প্রতিশোধে তাকে সাতগুণ বেশি নির্যাতন সহ্য করতে হবে।” পরে সদাপ্রভু কয়িনের গায়ে একটি চিহ্ন লাগিয়ে দিলেন, যেন যে কেউ কয়িনের খোঁজ পেয়ে তাকে হত্যা করতে না পারে।
GEN 4:16 অতএব কয়িন সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে সরে গিয়ে এদনের পূর্বদিকে নোদ দেশে গিয়ে বসবাস করতে লাগল।
GEN 4:17 কয়িন তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করল, ও তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে হনোকের জন্ম দিল। পরে কয়িন একটি নগর গড়ে তার ছেলে হনোকের নামানুসারে সেটির নাম রাখল হনোক।
GEN 4:18 হনোক ঈরদের জন্ম দিল, এবং ঈরদ মহূয়ায়েলের বাবা হল, এবং মহূয়ায়েল মথূশায়েলের বাবা হল, এবং মথূশায়েল লেমকের বাবা হল।
GEN 4:19 লেমক দুজন মহিলাকে বিয়ে করল, একজনের নাম আদা ও অন্যজনের নাম সিল্লা।
GEN 4:20 আদা যাবলের জন্ম দিল; যারা তাঁবুতে বসবাস করে ও গৃহপালিত পশুপাল পালন করে, সে তাদের পূর্বপুরুষ।
GEN 4:21 তার ভাইয়ের নাম যুবল; যারা বীণা ও বাঁশি বাজায়, সে তাদের পূর্বপুরুষ।
GEN 4:22 সিল্লারও এক ছেলে ছিল, যে তূবল-কয়িন, ব্রোঞ্জ ও লোহা দিয়ে সেসব ধরনের যন্ত্রপাতি গড়ে তুলত। তূবল-কয়িনের বোনের নাম নয়মা।
GEN 4:23 লেমক তার স্ত্রীদের বলল, “আদা ও সিল্লা; আমার কথা শোনো; ওহে লেমকের স্ত্রীরা, আমার কথায় কান দাও। আমায় যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য একটি লোককে আমি হত্যা করেছি, আমায় আহত করার জন্য একটি যুবককে আমি হত্যা করেছি।
GEN 4:24 কয়িনের হত্যার প্রতিশোধ যদি সাতগুণ হয়, তবে লেমকের হত্যার প্রতিশোধ হবে 77 গুণ।”
GEN 4:25 আদম আবার তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলেন, এবং হবা এক ছেলের জন্ম দিয়ে এই বলে তার নাম দিলেন শেথ, যে “কয়িন হেবলকে হত্যা করেছে বলে ঈশ্বর তার স্থানে আমাকে আর এক ছেলে মঞ্জুর করেছেন।”
GEN 4:26 শেথেরও একটি ছেলে হল, এবং তিনি তার নাম দিলেন ইনোশ। তখন থেকেই লোকেরা সদাপ্রভুর নামে ডাকতে শুরু করল।
GEN 5:1 এই হল আদমের বংশাবলির লিখিত নথি। ঈশ্বর যখন মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাদের ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তৈরি করলেন।
GEN 5:2 তিনি তাদের পুরুষ ও স্ত্রী করে সৃষ্টি করলেন এবং তাদের আশীর্বাদও করলেন। আর তারা যখন সৃষ্ট হলেন তখন তিনি তাদের “মানবজাতি” নাম দিলেন।
GEN 5:3 130 বছর বয়সে আদম তাঁর নিজের সাদৃশ্যে, তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে এক ছেলে লাভ করলেন; আর তিনি তাঁর নাম দিলেন শেথ।
GEN 5:4 শেথের জন্ম হওয়ার পর, আদম 800 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:5 সব মিলিয়ে, আদম মোট 930 বছর বেঁচেছিলেন, আর পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:6 105 বছর বয়সে শেথ ইনোশের বাবা হলেন।
GEN 5:7 ইনোশের বাবা হওয়ার পর শেথ 807 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:8 সব মিলিয়ে, শেথ মোট 912 বছর বেঁচেছিলেন, আর পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:9 90 বছর বয়সে ইনোশ কৈননের বাবা হলেন।
GEN 5:10 কৈননের বাবা হওয়ার পর ইনোশ 815 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:11 সব মিলিয়ে, ইনোশ মোট 905 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:12 70 বছর বয়সে, কৈনন মহললেলের বাবা হলেন।
GEN 5:13 মহললেলের বাবা হওয়ার পর কৈনন 840 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:14 সব মিলিয়ে, কৈনন মোট 910 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:15 65 বছর বয়সে, মহললেল যেরদের বাবা হলেন।
GEN 5:16 যেরদের বাবা হওয়ার পর মহললেল 830 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:17 সব মিলিয়ে, মহললেল মোট 895 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:18 162 বছর বয়সে, যেরদ হনোকের বাবা হলেন।
GEN 5:19 হনোকের বাবা হওয়ার পর যেরদ 800 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:20 সব মিলিয়ে, যেরদ মোট 962 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:21 65 বছর বয়সে হনোক, মথূশেলহের বাবা হলেন।
GEN 5:22 মথূশেলহের বাবা হওয়ার পর হনোক 300 বছর ধরে বিশ্বস্ততাপূর্বক ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করলেন, এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:23 সব মিলিয়ে, হনোক মোট 365 বছর বেঁচেছিলেন।
GEN 5:24 হনোক বিশ্বস্ততাপূর্বক ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করলেন; পরে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন, কারণ ঈশ্বর তাঁকে তুলে নিলেন।
GEN 5:25 187 বছর বয়সে মথূশেলহ, লেমকের বাবা হলেন।
GEN 5:26 লেমকের বাবা হওয়ার পর মথূশেলহ 782 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:27 সব মিলিয়ে, মথূশেলহ মোট 969 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:28 182 বছর বয়সে লেমকের এক ছেলে হল।
GEN 5:29 তিনি তার নাম দিলেন নোহ এবং বললেন, “সদাপ্রভুর দ্বারা জমি অভিশপ্ত হওয়ার কারণে হাতে কাজ করতে গিয়ে আমাদের যে ব্যথা ও কষ্টকর পরিশ্রম ভোগ করতে হচ্ছে, তা থেকে এই ছেলেটি আমাদের স্বস্তি দেবে।”
GEN 5:30 নোহের জন্ম হওয়ার পর, লেমক 595 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 5:31 সব মিলিয়ে, লেমক মোট 777 বছর বেঁচেছিলেন, পরে তিনি মারা যান।
GEN 5:32 500 বছর বয়সে নোহ, শেম, হাম ও যেফতের বাবা হলেন।
GEN 6:1 পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা যখন বাড়তে শুরু করল ও তাদের ঔরসে কন্যাসন্তানেরা জন্মাল,
GEN 6:2 তখন ঈশ্বরের ছেলেরা দেখল যে মানুষের মেয়েরা বেশ সুন্দরী, এবং তাদের মধ্যে থেকে তারা নিজেদের পছন্দমতো মেয়েকে বিয়ে করল।
GEN 6:3 তখন সদাপ্রভু বললেন, “আমার আত্মা অনন্তকাল ধরে মানুষের সাথে বিবাদ করবেন না, কারণ তারা নশ্বর; তাদের আয়ু হবে 120 বছর।”
GEN 6:4 সে যুগে পৃথিবীতে নেফিলীমরা বসবাস করত—এবং পরবর্তীকালেও করত—যখন ঈশ্বরের ছেলেরা মানুষের মেয়েদের সঙ্গে সহবাস করল এবং তাদের মাধ্যমে সন্তানসন্ততি লাভ করল। তারাই প্রাচীনকালের বীরপুরুষ, বিখ্যাত মানুষ হল।
GEN 6:5 সদাপ্রভু দেখলেন পৃথিবীতে মানুষের দুষ্টতা কত বেড়ে গিয়েছে, এবং তাদের অন্তরের চিন্তাভাবনার প্রত্যেকটি প্রবণতা সবসময় শুধু মন্দই থেকে গেল।
GEN 6:6 পৃথিবীতে মানবজাতিকে তৈরি করেছেন বলে সদাপ্রভু মর্মাহত হলেন, এবং তাঁর অন্তর গভীর মর্মবেদনায় ভরে উঠল।
GEN 6:7 তাই সদাপ্রভু বললেন, “যে মানবজাতিকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের—এবং তাদের সাথে সাথে পশুদের, পাখিদের ও সরীসৃপ প্রাণীদেরও—আমি এই পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলব, কারণ তাদের তৈরি করেছি বলে আমার অনুতাপ হচ্ছে।”
GEN 6:8 কিন্তু নোহ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করলেন।
GEN 6:9 এই হল নোহ ও তাঁর পরিবারের বিবরণ। নোহ তাঁর সমকালীন লোকদের মধ্যে এক ধার্মিক, অনিন্দনীয় লোক ছিলেন, আর তিনি বিশ্বস্ততাপূর্বক ঈশ্বরের সাথে চলাফেরা করতেন।
GEN 6:10 নোহের তিন ছেলে ছিল: শেম, হাম ও যেফৎ।
GEN 6:11 এমতাবস্থায় পৃথিবী ঈশ্বরের দৃষ্টিতে নীতিভ্রষ্ট ছিল এবং হিংস্রতাতেও পরিপূর্ণ হয়েছিল।
GEN 6:12 ঈশ্বর দেখলেন পৃথিবী কত নীতিভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে, কারণ পৃথিবীর সব মানুষজন তাদের জীবনযাপন নীতিভ্রষ্ট করে তুলেছিল।
GEN 6:13 অতএব ঈশ্বর নোহকে বললেন, “আমি সব মানুষের জীবন শেষ করে দিতে চলেছি, কারণ এদের জন্যই পৃথিবী হিংস্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমি নির্ঘাৎ তাদের ও পৃথিবীকে একসাথে ধ্বংস করে দিতে চলেছি।
GEN 6:14 তাই তুমি নিজেই দেবদারু কাঠ দিয়ে একটি জাহাজ তৈরি করো; তার মধ্যে কয়েকটি ঘর তৈরি কোরো এবং তার ভিতরের ও বাইরের দিকে আলকাতরা মাখিয়ে দিয়ো।
GEN 6:15 এভাবেই তোমাকে এটি তৈরি করতে হবে: জাহাজটি 135 মিটার লম্বা, 23 মিটার চওড়া ও 14 মিটার উঁচু হবে।
GEN 6:16 এর একটি ছাদ তৈরি কোরো এবং ছাদের নিচে চারদিকে 45 সেন্টিমিটার উঁচু একটি জানালা তৈরি কোরো। জাহাজটির একদিকে একটি দরজা তৈরি কোরো এবং জাহাজে নিম্ন, মধ্যম ও উপর তলা তৈরি কোরো।
GEN 6:17 পৃথিবীতে বন্যার জল পাঠিয়ে আমি আকাশমণ্ডলের নিচে থাকা সব প্রাণকে, প্রাণবায়ুবিশিষ্ট প্রত্যেকটি প্রাণীকে ধ্বংস করে দিতে চলেছি। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হবে।
GEN 6:18 কিন্তু তোমার সাথে আমি আমার নিয়ম প্রতিষ্ঠিত করব, এবং তুমি সেই জাহাজে প্রবেশ করবে—তুমি ও তোমার সাথে তোমার ছেলেরা, ও তোমার স্ত্রী এবং তোমার পুত্রবধূরাও।
GEN 6:19 সব জীবিত প্রাণীর মধ্যে থেকে এক এক জোড়া করে মদ্দা ও মাদি প্রাণীকে তোমার সাথে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তোমাকে জাহাজে এনে রাখতে হবে।
GEN 6:20 জীবিত থাকার জন্য সব ধরনের পাখি, সব ধরনের পশু এবং সব ধরনের সরীসৃপ প্রাণী দুটি দুটি করে তোমার কাছে আসবে।
GEN 6:21 তোমাদের ও তাদের সকলের খাদ্যরূপে তোমাকে সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য মজুত করতে হবে।”
GEN 6:22 ঈশ্বর যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, নোহ সবকিছু ঠিক সেভাবেই করলেন।
GEN 7:1 সদাপ্রভু পরে নোহকে বললেন, “তুমি ও তোমার সম্পূর্ণ পরিবার জাহাজে প্রবেশ করো, কারণ এই প্রজন্মে আমি তোমাকেই ধার্মিকরূপে খুঁজে পেয়েছি।
GEN 7:2 তুমি সব ধরনের শুচিশুদ্ধ পশুর মধ্যে সাত জোড়া করে, একটি মদ্দা ও তার সহচরীকে, সব ধরনের অশুচি পশুর মধ্যে এক জোড়া করে, একটি মদ্দা ও তার সহচরীকে,
GEN 7:3 আর সব ধরনের পাখির মধ্যে সাত জোড়া করে, মদ্দা ও মাদিকেও সাথে নিয়ো, যেন পৃথিবীর সর্বত্র তাদের বিভিন্ন প্রজাতি রক্ষা পায়।
GEN 7:4 আর সাত দিন পর আমি পৃথিবীতে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পর্যন্ত চলতে থাকা বৃষ্টি পাঠাব, এবং আমার তৈরি করা প্রত্যেকটি জীবিত প্রাণীকে আমি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলব।”
GEN 7:5 আর সদাপ্রভু নোহকে যা যা আদেশ দিয়েছিলেন, তিনি সেসবকিছু করলেন।
GEN 7:6 নোহের 600 বছর বয়সকালে বন্যার জল পৃথিবীতে ধেয়ে এল।
GEN 7:7 আর বন্যার জলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নোহ এবং তাঁর ছেলেরা ও তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূরা সবাই সেই জাহাজে প্রবেশ করলেন।
GEN 7:8 শুচিশুদ্ধ ও অশুচি পশুদের, পাখিদের ও সরীসৃপ সব প্রাণীর মদ্দা ও মাদিরা জোড়ায় জোড়ায়,
GEN 7:9 নোহকে দেওয়া ঈশ্বরের আদেশানুসারে নোহের কাছে এল এবং জাহাজে প্রবেশ করল।
GEN 7:10 আর সেই সাত দিন পর পৃথিবীতে বন্যার জল ধেয়ে এল।
GEN 7:11 নোহের জীবনকালের 600 তম বছরের, দ্বিতীয় মাসের সপ্তদশতম দিনে—সেদিন ভূগর্ভস্থ জলের সব উৎস বিস্ফোরিত হল, এবং আকাশের জলনিকাশের সব পথ খুলে গেল।
GEN 7:12 আর চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পৃথিবীতে বৃষ্টি পড়ল।
GEN 7:13 সেদিনই নোহ ও তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর ছেলেরা—শেম, হাম ও যেফৎ, ও তিন পুত্রবধূ সেই জাহাজে প্রবেশ করলেন।
GEN 7:14 তাদের সাথে তারা নিজ নিজ প্রজাতি অনুসারে সব ধরনের বন্যপশু, সব ধরনের গৃহপালিত পশু, সব ধরনের সরীসৃপ প্রাণী এবং ডানাওয়ালা সব ধরনের পাখি রাখলেন।
GEN 7:15 প্রাণবায়ুবিশিষ্ট সব প্রাণী জোড়ায় জোড়ায় নোহের কাছে এল এবং জাহাজে প্রবেশ করল।
GEN 7:16 যেসব পশু ভিতরে ঢুকল, তারা ছিল প্রত্যেকটি জীবিত প্রাণীর মদ্দা ও মাদি পশু, ঠিক যেভাবে ঈশ্বর নোহকে আদেশ দিয়েছিলেন। পরে সদাপ্রভু তাঁকে ভিতর থেকে বন্ধ করে দিলেন।
GEN 7:17 চল্লিশ দিন ধরে পৃথিবীতে বন্যা হল, আর যেমন যেমন জল বেড়েছিল, তেমন তেমন জাহাজটিকে সেই জল ভূতল থেকে উঁচুতে তুলে ধরেছিল।
GEN 7:18 জল উপরে উঠে পৃথিবীর উপর অত্যন্ত বেড়ে গেল, এবং সেই জাহাজটি জলের উপর ভেসে উঠল।
GEN 7:19 জল পৃথিবীর উপর খুব বেড়ে গেল, ও সমগ্র আকাশমণ্ডলের নিচে অবস্থিত সব উঁচু উঁচু পাহাড়-পর্বত ঢাকা পড়ে গেল।
GEN 7:20 জলস্তর 6.8 মিটারেরও বেশি উচ্চতায় উঠে গেল ও পাহাড়-পর্বতগুলি ঢাকা পড়ে গেল।
GEN 7:21 পাখি, গৃহপালিত ও বন্যপশু, পৃথিবীতে উড়ে বেড়ানো সব কীটপতঙ্গ, ও সমগ্র মানবজাতি—পৃথিবীতে বিচরণকারী প্রত্যেকটি জীবিত প্রাণী ধ্বংস হল।
GEN 7:22 শুকনো জমির উপরে থাকা প্রত্যেকটি শ্বাসবিশিষ্ট প্রাণী মারা গেল।
GEN 7:23 পৃথিবীর বুকে যত জীবিত প্রাণী ছিল, সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল; মানুষজন ও পশু এবং সরীসৃপ জীব ও আকাশের পাখি, সবাই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। শুধুমাত্র নোহ এবং জাহাজে যারা তাঁর সাথে ছিল, তারাই বাদ পড়ল।
GEN 7:24 150 দিন ধরে জল পৃথিবীকে প্লাবিত করে রাখল।
GEN 8:1 কিন্তু ঈশ্বর নোহকে এবং জাহাজে তাঁর সাথে থাকা সব বন্য ও গৃহপালিত পশুকে স্মরণ করলেন, এবং পৃথিবীতে তিনি বাতাস পাঠালেন, ও জল সরে গেল।
GEN 8:2 এদিকে মাটির নিচে থাকা জলের উৎসগুলি, ও আকাশমণ্ডলের জানালাগুলি বন্ধ হয়ে গেল, এবং আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়াও বন্ধ হল।
GEN 8:3 পৃথিবী থেকে জল সরার প্রক্রিয়া অব্যাহত রইল। 150 দিন পর জল নিচে নামল,
GEN 8:4 এবং সপ্তম মাসের সপ্তদশতম দিনে জাহাজটি আরারট পর্বতের চূড়ায় এসে স্থির হল।
GEN 8:5 দশম মাস পর্যন্ত জল অনবরত সরে এল, এবং দশম মাসের প্রথম দিনে পাহাড়-পর্বতের চূড়াগুলি দৃষ্টিগোচর হল।
GEN 8:6 চল্লিশ দিন পর নোহ সেই জানালাটি খুলে দিলেন, যেটি তিনি সেই জাহাজে তৈরি করেছিলেন
GEN 8:7 এবং একটি দাঁড়কাক বাইরে পাঠালেন, আর পৃথিবীতে জল না শুকানো পর্যন্ত সেটি ইতস্তত বাইরে যাচ্ছিল ও ফিরে আসছিল।
GEN 8:8 পরে স্থলভূমির উপরে জল শুকিয়েছে কি না, তা দেখার জন্য তিনি একটি পায়রা বাইরে পাঠালেন।
GEN 8:9 কিন্তু পায়রাটি তার পা রাখার জায়গা পায়নি, কারণ পৃথিবীর উপরে সর্বত্র তখনও জল জমে ছিল; তাই সেটি জাহাজে নোহের কাছে ফিরে এল। তখন তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে পায়রাটিকে ধরে জাহাজে তাঁর নিজের কাছে ফিরিয়ে আনলেন।
GEN 8:10 তিনি আরও সাত দিন অপেক্ষা করলেন এবং আবার জাহাজ থেকে সেই পায়রাটিকে বাইরে পাঠালেন।
GEN 8:11 সন্ধ্যাবেলায় যখন সেই পায়রাটি তাঁর কাছে ফিরে এল, তখন সেটির চঞ্চুতে ছিল জলপাই গাছের একটি টাটকা পাতা! তখন নোহ জানতে পারলেন যে পৃথিবী থেকে জল সরে গিয়েছে।
GEN 8:12 তিনি আরও সাত দিন অপেক্ষা করলেন এবং আবার সেই পায়রাটিকে বাইরে পাঠালেন, এবার কিন্তু সেটি আর তাঁর কাছে ফিরে এল না।
GEN 8:13 নোহের জীবনকালের 601 তম বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে, পৃথিবীর উপরে জল শুকিয়ে গেল। নোহ তখন জাহাজ থেকে আচ্ছাদনটি সরিয়ে দিলেন এবং দেখতে পেলেন যে স্থলভূমির উপরদিকটি শুকিয়ে গিয়েছে।
GEN 8:14 দ্বিতীয় মাসের সাতাশতম দিনে পৃথিবী পুরোপুরি শুকিয়ে গেল।
GEN 8:15 ঈশ্বর তখন নোহকে বললেন,
GEN 8:16 “তুমি ও তোমার স্ত্রী ও তোমার ছেলেরা ও তাদের স্ত্রীরা—তোমরা জাহাজ থেকে বাইরে বেরিয়ে এসো।
GEN 8:17 যেসব জীবিত প্রাণী তোমার সাথে আছে—পাখিরা, পশুরা, ও সব সরীসৃপ প্রাণী—সবাইকে বাইরে বের করে আনো, যেন সেগুলি পৃথিবীতে বংশবৃদ্ধি করে এখানে ফলবান হয় ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়।”
GEN 8:18 অতএব নোহ তাঁর স্ত্রীকে, ছেলেদের, এবং তাঁর পুত্রবধূদের সাথে নিয়ে বাইরে বের হয়ে এলেন।
GEN 8:19 সব পশু এবং সরীসৃপ প্রাণী ও পাখি—পৃথিবীতে বিচরণকারী সবকিছু, তাদের প্রজাতি অনুসারে এক এক করে জাহাজ থেকে বাইরে বের হয়ে এল।
GEN 8:20 পরে নোহ সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন এবং, সব শুচিশুদ্ধ পশু ও শুচিশুদ্ধ পাখির মধ্যে থেকে কয়েকটি নিলেন, ও সেই বেদিতে হোমবলি উৎসর্গ করলেন।
GEN 8:21 সদাপ্রভু সেই প্রীতিকর সৌরভের ঘ্রাণ নিয়ে মনে মনে বললেন: “মানুষের জন্য আমি আর কখনোই ভূমিকে অভিশাপ দেব না, যদিও শিশুকাল থেকেই মানুষের অন্তরের সব প্রবণতা মন্দ। যেভাবে আমি সব জীবিত প্রাণীকে ধ্বংস করেছি, আমি আর তা করব না।
GEN 8:22 “যতদিন এই পৃথিবী টিকে থাকবে, বীজবপনকাল ও ফসল গোলাজাত করার সময়, শৈত্য ও উত্তাপ, গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল, দিন ও রাত কখনোই শেষ হবে না।”
GEN 9:1 পরে ঈশ্বর নোহ ও তাঁর ছেলেদের আশীর্বাদ করে বললেন, “ফলবান হও ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবী ভরিয়ে তোলো।
GEN 9:2 পৃথিবীর সব জন্তু ও আকাশের সব পাখি, সব সরীসৃপ প্রাণী, ও সমুদ্রের সব মাছ তোমাদের দেখে ভীত ও আতঙ্কিত হবে; তোমাদের হাতে এদের তুলে দেওয়া হল।
GEN 9:3 যা যা জীবন্ত ও চলেফিরে বেড়ায়, সেসব তোমাদের খাদ্য হবে। ঠিক যেভাবে আমি তোমাদের সবুজ গাছপালা দিয়েছি, সেভাবে এখন সবকিছু আমি তোমাদের দিচ্ছি।
GEN 9:4 “কিন্তু যে মাংসে প্রাণ-রক্ত অবশিষ্ট আছে, তোমরা সেই মাংস কখনোই খেয়ো না।
GEN 9:5 আর তোমাদের প্রাণ-রক্তের হিসেবও আমি নিশ্চিতভাবেই চাইব। প্রত্যেকটি পশুর কাছে আমি হিসেব চাইব। আর প্রত্যেকটি মানুষের কাছেও, আমি অন্যান্য মানুষের প্রাণের হিসেব চাইব।
GEN 9:6 “যে কেউ মানুষের রক্ত ঝরাবে, মানুষের দ্বারাই তার রক্ত ঝরবে; কারণ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে ঈশ্বর মানুষকে তৈরি করেছেন।
GEN 9:7 আর তোমরা ফলবান হয়ে সংখ্যায় বৃদ্ধিলাভ করো; পৃথিবীতে বংশবৃদ্ধি করো ও এখানে বর্ধিষ্ণু হও।”
GEN 9:8 পরে ঈশ্বর নোহকে ও তাঁর সাথে থাকা তাঁর ছেলেদের বললেন,
GEN 9:9 “আমার নিয়মটি আমি এখন তোমাদের সঙ্গে ও তোমাদের ভাবী বংশধরদের সঙ্গে
GEN 9:10 এবং তোমাদের সাথে থাকা সব জীবিত প্রাণীর—পাখিদের, গৃহপালিত পশুদের ও সব বন্যপশুর, যারা তোমাদের সাথে জাহাজের বাইরে বের হয়ে এসেছিল—পৃথিবীর সব জীবিত প্রাণীর সঙ্গে স্থাপন করছি।
GEN 9:11 আমি তোমাদের সঙ্গে আমার নিয়ম স্থাপন করছি: আর কখনও সব প্রাণী বন্যার জলে উচ্ছিন্ন হবে না; আর কখনও এই পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য কোনও বন্যা হবে না।”
GEN 9:12 আর ঈশ্বর বললেন, “এই হল সেই নিয়মের চিহ্ন, যা আমি আমার ও তোমাদের মধ্যে তথা তোমাদের সঙ্গে থাকা প্রত্যেকটি জীবিত প্রাণীর সঙ্গে স্থাপন করেছি, পরবর্তী সব প্রজন্মের জন্যও এ এক নিয়ম হবে:
GEN 9:13 মেঘের মধ্যে আমি আমার মেঘধনু বসিয়ে দিয়েছি, আর এটিই হবে আমার ও পৃথিবীর মধ্যে স্থাপিত সেই চিহ্ন।
GEN 9:14 পৃথিবীর উপর যখনই আমি মেঘ বিস্তার করব ও সেই মেঘে মেঘধনু আবির্ভূত হবে,
GEN 9:15 তখনই আমি তোমাদের এবং তোমাদের সঙ্গে থাকা সব জীবিত প্রাণীর সঙ্গে স্থাপিত আমার সেই নিয়মটি স্মরণ করব। আর কখনও জল বন্যায় পরিণত হয়ে সব প্রাণীকে ধ্বংস করবে না।
GEN 9:16 যখনই মেঘে মেঘধনু আবির্ভূত হবে, আমি তা দেখব ও অনন্তকালস্থায়ী সেই নিয়মটি স্মরণ করব, যা ঈশ্বর ও পৃথিবীর সব ধরনের জীবিত প্রাণীর মধ্যে স্থাপিত হয়েছে।”
GEN 9:17 অতএব ঈশ্বর নোহকে বললেন, “এই সেই নিয়মের চিহ্ন, যা আমি আমার ও পৃথিবীর সব প্রাণীর মধ্যে স্থাপন করেছি।”
GEN 9:18 নোহের যে ছেলেরা জাহাজ থেকে বেরিয়ে এলেন, তারা হলেন শেম, হাম ও যেফৎ। (হাম কনানের বাবা)
GEN 9:19 এরাই হলেন নোহের সেই তিন ছেলে, এবং তাঁদের থেকে যেসব লোকজন উৎপন্ন হল, তারা সমগ্র জগতে ছড়িয়ে পড়ল।
GEN 9:20 চাষিগৃহস্থ মানুষ নোহ, একটি দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করার জন্য এগিয়ে গেলেন।
GEN 9:21 যখন তিনি সেখানকার খানিকটা দ্রাক্ষারস পান করলেন, তখন তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর তাঁবুর ভিতরে তিনি বিবস্ত্র হয়ে শুয়ে পড়লেন।
GEN 9:22 কনানের বাবা হাম তাঁর বাবাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে তাঁর দুই দাদাকে তা বললেন।
GEN 9:23 কিন্তু শেম ও যেফৎ একটি কাপড় নিয়ে সেটি তাঁদের কাঁধের উপর ফেলে রাখলেন; পরে তাঁরা পিছনের দিকে পিছিয়ে গিয়ে তাঁদের বাবার উলঙ্গতা ঢেকে দিলেন। তাঁদের মুখমণ্ডল অন্যদিকে ঘোরানো ছিল, যেন তাঁরা তাঁদের বাবার উলঙ্গতা দেখতে না পান।
GEN 9:24 নোহ যখন তাঁর নেশার ঘোর কাটিয়ে উঠলেন ও জানতে পারলেন তাঁর ছোটো ছেলে তাঁর প্রতি ঠিক কী আচরণ করেছেন,
GEN 9:25 তখন তিনি বললেন, “কনান অভিশপ্ত হোক! তার দাদা-ভাইদের মধ্যে সে অত্যন্ত নীচ দাস হবে।”
GEN 9:26 তিনি আরও বললেন, “শেমের ঈশ্বর সদাপ্রভু ধন্য হোন! কনান শেমের দাস হোক।
GEN 9:27 ঈশ্বর যেফতের এলাকা প্রসারিত করুন; যেফৎ শেমের তাঁবুতে বসবাস করুক, আর কনান তার ক্রীতদাস হোক।”
GEN 9:28 বন্যার পর নোহ 350 বছর বেঁচেছিলেন।
GEN 9:29 নোহ মোট 950 বছর বেঁচেছিলেন, ও পরে তিনি মারা যান।
GEN 10:1 এই হল নোহের ছেলে শেম, হাম ও যেফতের বিবরণ, যারা স্বয়ং বন্যার পর সন্তান লাভ করলেন।
GEN 10:2 যেফতের ছেলেরা: গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, তূবল, মেশক ও তীরস।
GEN 10:3 গোমরের ছেলেরা: অস্কিনস, রীফৎ, এবং তোগর্ম।
GEN 10:4 যবনের ছেলেরা: ইলীশা, তর্শীশ, কিত্তীম এবং রোদানীম।
GEN 10:5 (এদের থেকেই সমুদ্র-উপকূল নিবাসী লোকেরা, প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব ভাষা সমেত নিজেদের বংশানুসারে, তাদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।)
GEN 10:6 হামের ছেলেরা: কূশ, মিশর, পূট ও কনান।
GEN 10:7 কূশের ছেলেরা: সবা, হবীলা, সব্‌তা, রয়মা ও সব্‌তেকা। রয়মার ছেলেরা: শিবা ও দদান।
GEN 10:8 কূশ সেই নিম্রোদের বাবা, যিনি পৃথিবীতে এক বলশালী যোদ্ধা হয়ে উঠলেন।
GEN 10:9 সদাপ্রভুর সামনে তিনি বলশালী এক শিকারি হলেন; তাই বলা হয়ে থাকে, “সদাপ্রভুর সামনে নিম্রোদের মতো বলশালী এক শিকারি।”
GEN 10:10 শিনারে অবস্থিত ব্যাবিলন, এরক, অক্কদ, ও কল্‌নী তাঁর রাজ্যের মূলকেন্দ্র হল।
GEN 10:11 সেই দেশ থেকে তিনি সেই আসিরিয়া দেশে গেলেন, যেখানে তিনি নীনবী, রহোবোৎ ঈর, কেলহ
GEN 10:12 ও সেই রেষণ নগরটি গড়ে তুললেন যা নীনবী ও কেলহের মাঝখানে অবস্থিত; সেটিই সেই মহানগর।
GEN 10:13 মিশর ছিলেন সেই লূদীয়, অনামীয়, লহাবীয়, নপ্তুহীয়,
GEN 10:14 পথ্রোষীয়, কস্‌লূহীয় (যাদের থেকে ফিলিস্তিনীরা উৎপন্ন হয়েছে) ও কপ্তোরীয়দের বাবা।
GEN 10:15 কনান ছিলেন তাঁর বড়ো ছেলে সীদোনের, ও হিত্তীয়,
GEN 10:16 যিবূষীয়, ইমোরীয়, গির্গাশীয়,
GEN 10:17 হিব্বীয়, অর্কীয়, সীনীয়,
GEN 10:18 অর্বদীয়, সমারীয় ও হমাতীয়দের বাবা। (পরবর্তীকালে কনানীয় বংশ ইতস্তত ছড়িয়ে পড়ল
GEN 10:19 এবং কনানের সীমানা সীদোন থেকে গরারের দিকে গাজা পর্যন্ত, ও পরে লাশার দিকে সদোম, ঘমোরা, অদ্‌মা, ও সবোয়ীম পর্যন্ত বিস্তৃত হল)
GEN 10:20 তাদের এলাকা ও জাতি ধরে এরাই হল বংশ ও ভাষা অনুসারে হামের সন্তান।
GEN 10:21 সেই শেমেরও কয়েকটি ছেলে জন্মাল, যাঁর দাদা ছিলেন যেফৎ; শেম হলেন এবরের সব সন্তানের পূর্বপুরুষ।
GEN 10:22 শেমের ছেলেরা: এলম, অশূর, অর্ফক্‌ষদ, লূদ ও অরাম।
GEN 10:23 অরামের ছেলেরা: ঊষ, হূল, গেথর, ও মেশক।
GEN 10:24 অর্ফক্‌ষদ হলেন শেলহের বাবা, এবং শেলহ এবরের বাবা।
GEN 10:25 এবরের দুটি ছেলের জন্ম হল: একজনের নাম দেওয়া হল পেলগ, কারণ তাঁর সময়কালেই পৃথিবী বিভিন্ন ভাষাবাদী জাতির আধারে বিভক্ত হল; তাঁর ভাইয়ের নাম দেওয়া হল যক্তন।
GEN 10:26 যক্তন হলেন অলমোদদ, শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ,
GEN 10:27 হদোরাম, ঊষল, দিক্ল,
GEN 10:28 ওবল, অবীমায়েল, শিবা,
GEN 10:29 ওফীর, হবীলা ও যোববের বাবা। তারা সবাই যক্তনের বংশধর ছিলেন।
GEN 10:30 (পূর্বদিকের পার্বত্য দেশের যে এলাকায় তারা বসবাস করতেন, সেটি মেষা থেকে সফার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল)
GEN 10:31 তাদের এলাকা ও জাতি ধরে বংশ ও ভাষা অনুসারে এরাই শেমের সন্তান।
GEN 10:32 তাদের জাতিগুলির মধ্যে, বংশানুক্রমিকভাবে এরাই নোহের ছেলেদের বংশধর। বন্যার পর এদের থেকেই বিভিন্ন জাতি সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল।
GEN 11:1 এমতাবস্থায় সমগ্র জগতে এক ভাষা ও এক সাধারণ বাচনভঙ্গি ছিল।
GEN 11:2 মানুষজন যেমন যেমন পূর্বদিকে সরে গেল, তারা শিনারে এক সমভূমি খুঁজে পেল এবং সেখানেই বসতি স্থাপন করল।
GEN 11:3 তারা পরস্পরকে বলল, “এসো, আমরা ইট তৈরি করি ও সেগুলি পুরোদস্তুর আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করে নিই।” তারা পাথরের পরিবর্তে ইট, ও চুনসুরকির পরিবর্তে আলকাতরা ব্যবহার করল।
GEN 11:4 পরে তারা বলল, “এসো, আমরা নিজেদের জন্য গগনস্পর্শী এক মিনার সমেত এক নগর নির্মাণ করি, যেন আমাদের নামডাক হয় ও সমগ্র পৃথিবীতে আমাদের ছড়িয়ে পড়তে না হয়।”
GEN 11:5 কিন্তু সদাপ্রভু সেই নগর ও মিনারটি দেখার জন্য নেমে এলেন, যেগুলি সেই মানুষেরা তখন নির্মাণ করছিল।
GEN 11:6 সদাপ্রভু বললেন, “এক ভাষাবাদী মানুষ হয়ে যদি তারা এরকম করতে শুরু করে দিয়েছে, তবে তারা যাই করার পরিকল্পনা করুক না কেন, তা তাদের অসাধ্য হবে না।
GEN 11:7 এসো, আমরা নিচে নেমে যাই ও তাদের ভাষা গুলিয়ে দিই, যেন তারা পরস্পরের কথা বুঝতে না পারে।”
GEN 11:8 অতএব সদাপ্রভু সেখান থেকে তাদের পৃথিবীর সর্বত্র ইতস্তত ছড়িয়ে দিলেন, আর তারা নগর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিল।
GEN 11:9 সেজন্যই সেই স্থানটির নাম দেওয়া হল ব্যাবিলন—যেহেতু সেখানেই সদাপ্রভু সমগ্র জগতের ভাষা গুলিয়ে দিলেন। সেখান থেকে সদাপ্রভু তাদের পৃথিবীর সর্বত্র ইতস্তত ছড়িয়ে দিলেন।
GEN 11:10 এই হল শেমের বংশবৃত্তান্ত। বন্যার দুই বছর পর, শেমের বয়স যখন একশো বছর, তখন তিনি অর্ফক্‌ষদের বাবা হলেন।
GEN 11:11 আর অর্ফক্‌ষদের বাবা হওয়ার পর শেম 500 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:12 অর্ফক্‌ষদ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে শেলহের বাবা হলেন।
GEN 11:13 আর শেলহের বাবা হওয়ার পর অর্ফক্‌ষদ 403 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:14 শেলহ ত্রিশ বছর বয়সে এবরের বাবা হলেন।
GEN 11:15 আর এবরের বাবা হওয়ার পর শেলহ 403 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:16 এবর চৌত্রিশ বছর বয়সে পেলগের বাবা হলেন।
GEN 11:17 আর পেলগের বাবা হওয়ার পর এবর 430 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:18 পেলগ ত্রিশ বছর বয়সে রিয়ূর বাবা হলেন।
GEN 11:19 আর রিয়ূর বাবা হওয়ার পর পেলগ 209 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:20 রিয়ূ বত্রিশ বছর বয়সে সরূগের বাবা হলেন।
GEN 11:21 আর সরূগের বাবা হওয়ার পর রিয়ূ 207 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:22 সরূগ ত্রিশ বছর বয়সে নাহোরের বাবা হলেন।
GEN 11:23 আর নাহোরের বাবা হওয়ার পর সরূগ 200 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:24 নাহোর উনত্রিশ বছর বয়সে তেরহের বাবা হলেন।
GEN 11:25 আর তেরহের বাবা হওয়ার পর নাহোর 119 বছর বেঁচেছিলেন এবং তাঁর আরও ছেলেমেয়ে হল।
GEN 11:26 তেরহ সত্তর বছর বয়সে অব্রাম, নাহোর, ও হারণের বাবা হলেন।
GEN 11:27 এই হল তেরহের বংশবৃত্তান্ত। তেরহ অব্রাম, নাহোর, ও হারণের বাবা হলেন। আর হারণ লোটের বাবা হলেন।
GEN 11:28 হারণ তাঁর জন্মস্থান, কলদীয় দেশের ঊরেই তাঁর বাবা তেরহের জীবদ্দশায় মারা যান।
GEN 11:29 অব্রাম ও নাহোর, দুজনেই বিয়ে করলেন। অব্রামের স্ত্রীর নাম সারী, এবং নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্কা; মিল্কা সেই হারণের মেয়ে, যিনি মিল্কা ও যিষ্কা, দুজনেরই বাবা।
GEN 11:30 সারী নিঃসন্তান ছিলেন যেহেতু তাঁর গর্ভধারণের ক্ষমতা ছিল না।
GEN 11:31 তেরহ তাঁর ছেলে অব্রাম, তাঁর নাতি তথা হারণের ছেলে লোট এবং তাঁর পুত্রবধূ তথা তাঁর ছেলে অব্রামের স্ত্রী সারীকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে কলদীয় দেশের ঊর ত্যাগ করে কনানে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করলেন। কিন্তু হারণ নামাঙ্কিত স্থানে পৌঁছে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করলেন।
GEN 11:32 তেরহ 205 বছর বেঁচেছিলেন, এবং হারণেই তিনি মারা যান।
GEN 12:1 সদাপ্রভু অব্রামকে বললেন, “তোমার দেশ, তোমার আত্মীয়স্বজন ও তোমার পৈত্রিক পরিবার ছেড়ে সেই দেশে চলে যাও, যা আমি তোমাকে দেখাতে চলেছি।
GEN 12:2 “আমি তোমাকে এক মহাজাতিতে পরিণত করব, আর আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব; আমি তোমার নাম মহান করে তুলব, আর তুমি এক আশীর্বাদ হবে।
GEN 12:3 যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে, আমি তাদের আশীর্বাদ করব, আর যারা তোমাকে অভিশাপ দেবে, আমি তাদের অভিশাপ দেব; আর পৃথিবীর সব লোকজন তোমার মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করবে।”
GEN 12:4 অতএব সদাপ্রভুর কথামতো অব্রাম চলে গেলেন; এবং লোট তাঁর সাথে গেলেন। 75 বছর বয়সে অব্রাম হারণ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন।
GEN 12:5 তিনি তাঁর স্ত্রী সারী, ভাইপো লোট, ও হারণে উপার্জিত সব বিষয়সম্পত্তি ও অর্জিত লোকজন সাথে নিয়ে কনান দেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে সেখানে পৌঁছে গেলেন।
GEN 12:6 অব্রাম সেই দেশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে শিখিমে মোরির সেই বিশাল গাছটির কাছে পৌঁছে গেলেন। সেই সময় কনানীয়েরা সেই দেশে বসবাস করত।
GEN 12:7 সদাপ্রভু অব্রামকে দর্শন দিয়ে বললেন, “তোমার সন্তানসন্ততিকে আমি এই দেশ দেব।” তাই তিনি সেখানে সেই সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন, যিনি তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন।
GEN 12:8 সেখান থেকে তিনি বেথেলের পূর্বদিকে অবস্থিত পাহাড়ের দিকে চলে গেলেন এবং বেথেলকে পশ্চিমদিকে ও অয়কে পূর্বদিকে রেখে তিনি তাঁর তাঁবু খাটালেন। সেখানে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন এবং সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন।
GEN 12:9 পরে অব্রাম যাত্রা শুরু করে নেগেভের দিকে এগিয়ে গেলেন।
GEN 12:10 এদিকে সেই দেশে এক দুর্ভিক্ষ হল, এবং অব্রাম মিশরে কিছুদিন বসবাস করার জন্য সেখানে নেমে গেলেন, কারণ দুর্ভিক্ষটি বেশ দুঃসহ হল।
GEN 12:11 মিশরে প্রবেশ করার ঠিক আগে তিনি তাঁর স্ত্রী সারীকে বললেন, “আমি জানি তুমি খুব সুন্দরী।
GEN 12:12 মিশরীয়রা যখন তোমায় দেখে বলবে, ‘এ তো এই লোকটির স্ত্রী।’ তখন তারা আমায় হত্যা করবে কিন্তু তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
GEN 12:13 তুমি বোলো, তুমি আমার বোন, যেন তোমার খাতিরে আমি ভালো ব্যবহার পাই ও তোমার জন্য আমার প্রাণরক্ষা হয়।”
GEN 12:14 অব্রাম যখন মিশরে এলেন, তখন মিশরীয়রা দেখল যে সারী পরম সুন্দরী।
GEN 12:15 আর ফরৌণের কর্মকর্তারা সারীকে দেখে ফরৌণের কাছে তাঁর প্রশংসা করলেন, এবং সারীকে ফরৌণের রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হল।
GEN 12:16 সারীর খাতিরে তিনি অব্রামের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করলেন, এবং অব্রাম প্রচুর মেষ ও গবাদি পশু, গাধা ও গাধি, দাস-দাসী ও উট অর্জন করলেন।
GEN 12:17 কিন্তু অব্রামের স্ত্রী সারীর কারণে সদাপ্রভু ফরৌণ ও তাঁর পরিবারের উপর সংকটজনক রোগব্যাধি চাপিয়ে দিলেন।
GEN 12:18 তাই ফরৌণ অব্রামকে ডেকে পাঠালেন, “আপনি আমার প্রতি এ কী করলেন?” তিনি বললেন, “আপনি কেন আমায় বলেননি যে ইনি আপনার স্ত্রী?
GEN 12:19 আপনি কেন বললেন, ‘এ আমার বোন,’ তাইতো আমি তাঁকে আমার স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছি? তবে এখন, এই রইল আপনার স্ত্রী। তাঁকে নিন আর চলে যান!”
GEN 12:20 পরে ফরৌণ তাঁর লোকজনকে অব্রামের বিষয়ে আদেশ দিলেন, এবং তারা তাঁর স্ত্রী ও তাঁর অধিকারে থাকা সবকিছু সমেত তাঁকে বিদায় করে দিলেন।
GEN 13:1 অতএব অব্রাম তাঁর স্ত্রী ও নিজের সবকিছু নিয়ে মিশর থেকে নেগেভের দিকে চলে গেলেন, এবং লোটও তাঁর সাথে গেলেন।
GEN 13:2 অব্রাম তাঁর গৃহপালিত পশুপাল এবং রুপো ও সোনার নিরিখে খুবই ধনী হয়ে গেলেন।
GEN 13:3 নেগেভ থেকে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে তিনি সেই বেথেলে পৌঁছালেন, যা বেথেল ও অয়ের মাঝখানে অবস্থিত এমন এক স্থান, যেখানে এর আগেও তাঁর তাঁবু খাটানো ছিল
GEN 13:4 এবং যেখানে তিনি প্রথমবার এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করেছিলেন। সেখানেই অব্রাম সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন।
GEN 13:5 এদিকে, যিনি অব্রামের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, সেই লোটেরও প্রচুর মেষপাল ও পশুপাল ও তাঁবু ছিল।
GEN 13:6 কিন্তু একসাথে থাকার সময় সেখানে তাঁদের জায়গার অকুলান হচ্ছিল, কারণ তাঁদের বিষয়সম্পত্তি এত বেশি ছিল যে তাঁরা একসাথে থাকতে পারছিলেন না।
GEN 13:7 আর অব্রামের ও লোটের রাখালদের মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল। সেই সময় কনানীয় এবং পরিষীয়রাও সেদেশে বসবাস করছিল।
GEN 13:8 তাই অব্রাম লোটকে বললেন, “তোমার ও আমার মধ্যে অথবা তোমার ও আমার রাখালদের মধ্যে যেন ঝগড়া না হয়, কারণ আমরা পরস্পরের খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
GEN 13:9 তোমার সামনে কি গোটা দেশ পড়ে নেই? এসো, আমরা পৃথক হয়ে যাই। তুমি যদি বাঁদিকে যাও, আমি তবে ডানদিকে যাব; তুমি যদি ডানদিকে যাও, আমি তবে বাঁদিকে যাব।”
GEN 13:10 লোট চারিদিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে সোয়রের দিকে জর্ডনের সমগ্র সমভূমি বেশ জলসিক্ত, ঠিক যেন সদাপ্রভুর বাগানের মতো, মিশর দেশের মতো। (সদাপ্রভু সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস করার আগে সেখানকার দশা এরকমই ছিল)
GEN 13:11 অতএব লোট তাঁর নিজের জন্য জর্ডনের সমগ্র সমভূমিটি মনোনীত করলেন এবং পূর্বদিকে এগিয়ে গেলেন। দুজন পরস্পরের সঙ্গ ত্যাগ করলেন:
GEN 13:12 অব্রাম কনান দেশে থেকে গেলেন, অন্যদিকে লোট সেই সমভূমির নগরগুলিতে থেকে গিয়ে সদোমের কাছে তাঁর তাঁবু খাটালেন।
GEN 13:13 সদোমের মানুষজন খুব দুষ্ট ছিল ও সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে তারা মহাপাপ করে যাচ্ছিল।
GEN 13:14 লোট অব্রামের সঙ্গ ত্যাগ করে যাওয়ার পর সদাপ্রভু অব্রামকে বললেন, “তুমি যেখানে আছ, সেখানে থেকেই তোমার চারপাশে—উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমদিকে তাকিয়ে দেখো।
GEN 13:15 তুমি যে দেশটি দেখতে পাচ্ছ, সম্পূর্ণ সেই দেশটিই আমি চিরতরে তোমাকে ও তোমার বংশধরদের দেব।
GEN 13:16 তোমার বংশধরদের আমি পৃথিবীর ধূলিকণার মতো করে তুলব, যেন কেউ যদি ধূলিকণার সংখ্যা গুনতে পারে, তবে তোমার বংশধরদেরও গোনা যাবে।
GEN 13:17 যাও, দেশটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ধরে ঘুরে এসো, কারণ আমি এটি তোমাকেই দিচ্ছি।”
GEN 13:18 অতএব অব্রাম হিব্রোণে মম্রির সেই বিশাল গাছগুলির কাছে থাকতে চলে গেলেন, যেখানে তিনি তাঁর তাঁবুগুলি খাটিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন।
GEN 14:1 সেই সময় যখন অম্রাফল শিনারের রাজা, অরিয়োক ইল্লাসরের রাজা, কদর্লায়োমর এলমের রাজা এবং তিদিয়ল গোয়ীমের রাজা,
GEN 14:2 তখন এই রাজারা সদোমের রাজা বিরা, ঘমোরার রাজা বির্শা, অদ্‌মার রাজা শিনাব, সবোয়িমের রাজা শিমেবর ও বিলার (অর্থাৎ, সোয়রের) রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন।
GEN 14:3 শেষোক্ত এসব রাজা সিদ্দীম উপত্যকায় (অর্থাৎ, মরুসাগরের উপত্যকায়) একজোট হয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করলেন।
GEN 14:4 বারো বছর তাঁরা কদর্লায়োমরের শাসনাধীন হয়ে ছিলেন, কিন্তু ত্রয়োদশতম বছরে তাঁরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন।
GEN 14:5 চতুর্দশতম বছরে, এমীয়দের রাজা কদর্লায়োমর এবং তাঁর সঙ্গী রাজারা মরুভূমির কাছাকাছি অবস্থিত এল-পারণ পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে অস্তরোৎ-কর্ণয়িমে রফায়ীয়দের, হমে সুষীয়দের, শাবি-কিরিয়াথয়িমে এমীয়দের
GEN 14:6 এবং সেয়ীরের পার্বত্য এলাকায় হোরীয়দের পরাজিত করলেন।
GEN 14:7 পরে সেখান থেকে ফিরে এসে তারা ঐনমিস্পটে (অর্থাৎ, কাদেশে) গেলেন, এবং সেই অমালেকীয়দের ও ইমোরীয়দেরও সমগ্র এলাকা তারা জোর করে দখল করে নিলেন, যারা হৎসসোন-তামরে বসবাস করছিল।
GEN 14:8 পরে সদোমের রাজা, ঘমোরার রাজা, অদ্‌মার রাজা, সবোয়িমের রাজা এবং বিলার (অর্থাৎ সোয়রের) রাজা কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গিয়ে সিদ্দীম উপত্যকায়
GEN 14:9 সেই এলমের রাজা কদর্লায়োমর, গোয়ীমের রাজা তিদিয়ল, শিনারের রাজা অম্রাফল ও ইল্লাসরের রাজা অরিয়োকের বিরুদ্ধে সৈন্যশিবির স্থাপন করলেন—যে চারজন রাজা পাঁচজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন।
GEN 14:10 ওই সিদ্দীম উপত্যকায় প্রচুর আলকাতরার খনি ছিল, এবং সদোম ও ঘমোরার রাজারা যখন পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কয়েকটি লোক সেইসব খনিতে গিয়ে পড়ল ও বাকিরা পাহাড়ে পালিয়ে গেল।
GEN 14:11 সেই চারজন রাজা সদোম ও ঘমোরার সব জিনিসপত্র ও তাদের সব খাবারদাবার বাজেয়াপ্ত করলেন এবং তাঁরা চলে গেলেন।
GEN 14:12 তাঁরা অব্রামের ভাইপো লোটকে ও তাঁর বিষয়সম্পত্তিও তুলে নিয়ে গেলেন, যেহেতু লোট সদোমেই বসবাস করছিলেন।
GEN 14:13 একজন লোক পালিয়ে গিয়ে হিব্রু অব্রামের কাছে এসে খবর দিল। অব্রাম তখন সেই ইষ্কোলের ও আনেরের এক ভাই ইমোরীয় মম্রির বিশাল গাছগুলির কাছে বসবাস করছিলেন, যারা সবাই অব্রামের বন্ধু ছিলেন।
GEN 14:14 অব্রাম যখন শুনলেন যে তাঁর আত্মীয়কে বন্দি করা হয়েছে, তখন তিনি তাঁর ঘরে জন্মানো 318 জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোককে ডাক দিলেন ও দান পর্যন্ত তাঁদের পশ্চাদ্ধাবন করে গেলেন, যাঁরা লোটকে বন্দি করেছিলেন।
GEN 14:15 রাতের বেলায় তাঁদের আক্রমণ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার জন্য অব্রাম তাঁর লোকজনকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে দিলেন, ও দামাস্কাসের উত্তরে অবস্থিত হোবা পর্যন্ত তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলেন।
GEN 14:16 তিনি সব জিনিসপত্র পুনরুদ্ধার করলেন এবং তাঁর আত্মীয় লোটকে ও তাঁর বিষয়সম্পত্তি, তথা মহিলাদের ও অন্যান্য লোকজনকেও ফিরিয়ে আনলেন।
GEN 14:17 অব্রাম কদর্লায়োমর ও তাঁর সঙ্গে জোট বাঁধা রাজাদের পরাজিত করে ফিরে আসার পর শাবী উপত্যকায় (অর্থাৎ, রাজার উপত্যকায়) সদোমের রাজা তাঁর সাথে দেখা করার জন্য বেরিয়ে এলেন।
GEN 14:18 তখন শালেমের রাজা মল্কীষেদক রুটি ও দ্রাক্ষারস বের করে নিয়ে এলেন। তিনি পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক ছিলেন।
GEN 14:19 তিনি অব্রামকে আশীর্বাদ করে বললেন, “অব্রাম, স্বর্গ-মর্ত্যের সৃষ্টিকর্তা পরাৎপর ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য হোন,
GEN 14:20 আর সেই পরাৎপর ঈশ্বরের প্রশংসা হোক, যিনি আপনার শত্রুদের আপনার হাতে সঁপে দিয়েছেন।” পরে অব্রাম তাঁকে নিজের সবকিছুর দশমাংশ দিলেন।
GEN 14:21 সদোমের রাজা অব্রামকে বললেন, “লোকজন আমাকে দিন ও সব জিনিসপত্র আপনি নিজের কাছে রেখে দিন।”
GEN 14:22 কিন্তু অব্রাম সদোমের রাজাকে বললেন, “স্বর্গ-মর্ত্যের সৃষ্টিকর্তা পরাৎপর ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর উদ্দেশে হাত তুলে আমি শপথ করছি
GEN 14:23 যে আপনার অধিকারে থাকা কোনো কিছুই আমি গ্রহণ করব না, এমনকি একটি সুতো বা চটিজুতোর একটি ফিতেও নয়, যেন আপনি কখনও বলতে না পারেন, ‘আমি অব্রামকে ধনবান করে তুলেছি।’
GEN 14:24 আমার লোকজন যা খেয়েছে ও যারা আমার সাথে গিয়েছিল—সেই আনের, ইষ্কোল ও মম্রির ভাগে যা পড়ে, সেটুকু ছাড়া আমি আর কিছুই গ্রহণ করব না। তারা তাদের ভাগ বুঝে নিক।”
GEN 15:1 পরে, এক দর্শনের মাধ্যমে সদাপ্রভুর বাক্য অব্রামের কাছে এল: “অব্রাম, ভয় কোরো না। আমি তোমার ঢাল, তোমার মহা পুরস্কার।”
GEN 15:2 কিন্তু অব্রাম বললেন, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমি আর আমাকে কী দেবে? আমি যে নিঃসন্তান ও দামাস্কাসের ইলীয়েষরই যে আমার ভূসম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।”
GEN 15:3 আর অব্রাম বললেন, “তুমি তো আমাকে কোনও সন্তান দাওনি; তাই আমার ঘরের এক দাসই আমার উত্তরাধিকারী হবে।”
GEN 15:4 তখন তাঁর কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য এল: “এই লোকটি তোমার উত্তরাধিকারী হবে না, কিন্তু যে ছেলে তোমার নিজের রক্তমাংস, সেই হবে তোমার উত্তরাধিকারী।”
GEN 15:5 তিনি অব্রামকে বাইরে নিয়ে গিয়ে বললেন, “আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো ও যদি সম্ভব হয় তবে তারাগুলি গোনো।” পরে তিনি তাঁকে বললেন, “তোমার সন্তানসন্ততিরা এরকমই হবে।”
GEN 15:6 অব্রাম সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করলেন, এবং তিনি তা অব্রামের পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য করলেন।
GEN 15:7 এছাড়াও তিনি অব্রামকে বললেন, “আমি সেই সদাপ্রভু, যিনি তোমাকে এই দেশের অধিকার দেওয়ার জন্য কলদীয় দেশের ঊর থেকে এদেশে বের করে এনেছি।”
GEN 15:8 কিন্তু অব্রাম বললেন, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমি কীভাবে জানব যে আমি এদেশের অধিকার লাভ করব?”
GEN 15:9 তাই সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “তুমি আমার কাছে তিন বছর বয়স্ক এক-একটি বকনা-বাছুর, ছাগল, ও মেষ, ও একইসাথে একটি ঘুঘু, ও একটি কপোতশাবক নিয়ে এসো।”
GEN 15:10 অব্রাম এসব কিছু তাঁর কাছে আনলেন, সেগুলি দু-টুকরো করে কেটে অর্ধেক অর্ধেক অংশ পরস্পরের উল্টোদিকে সাজিয়ে রাখলেন; পাখিটিকে, অবশ্য তিনি দু-টুকরো করেননি।
GEN 15:11 পরে পশুপাখির শবগুলির উপর শিকারি পাখিরা নেমে এল, কিন্তু অব্রাম তাদের তাড়িয়ে দিলেন।
GEN 15:12 সূর্য যখন অস্ত যাচ্ছিল, অব্রাম তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, এবং ত্রাসজনক অন্ধকার তাঁর উপর নেমে এল।
GEN 15:13 সদাপ্রভু তখন তাঁকে বললেন, “নিশ্চিত জেনে রাখো যে তোমার বংশধরেরা 400 বছর এমন একটি দেশে অপরিচিত মানুষ হয়ে বসবাস করবে, যা তাদের নিজস্ব নয়, এবং তারা সেখানে ক্রীতদাসে পরিণত হবে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হবে।
GEN 15:14 কিন্তু যে দেশে তারা ক্রীতদাস হয়ে থাকবে, সেই দেশটিকে আমি শাস্তি দেব, এবং শেষ পর্যন্ত তারা প্রচুর বিষয়সম্পত্তি নিয়ে বেরিয়ে আসবে।
GEN 15:15 তুমি অবশ্য, শান্তিতে মারা গিয়ে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে চলে যাবে, এবং বেশ বৃদ্ধ অবস্থায় কবরস্থ হবে।
GEN 15:16 চতুর্থ প্রজন্মে তোমার বংশধরেরা এখানে ফিরে আসবে, কারণ ইমোরীয়দের পাপ এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়নি।”
GEN 15:17 সূর্য অস্ত যাওয়ার ও অন্ধকার নেমে আসার পর, জ্বলন্ত এক মশাল সমেত ধোঁয়ায় ভরা একটি উনুন আবির্ভূত হল এবং সেই টুকরোগুলির মাঝখান দিয়ে চলে গেল।
GEN 15:18 সেদিন সদাপ্রভু অব্রামের সঙ্গে একটি নিয়ম স্থাপন করে বললেন, “আমি মিশরের ওয়াদি থেকে সেই মহানদী ইউফ্রেটিস পর্যন্ত এই দেশটি—
GEN 15:19 কেনীয়, কনিষীয়, কদমোনীয়,
GEN 15:20 হিত্তীয়, পরিষীয়, রফায়ীয়,
GEN 15:21 ইমোরীয়, কনানীয়, গির্গাশীয় ও যিবূষীয়দের দেশটি তোমার বংশধরদের দিয়েছি।”
GEN 16:1 অব্রামের স্ত্রী সারী, তাঁর জন্য কোনও সন্তানের জন্ম দেননি। কিন্তু সারীর এক মিশরীয় ক্রীতদাসী ছিল, যার নাম হাগার;
GEN 16:2 তাই সারী অব্রামকে বললেন, “সদাপ্রভু আমাকে নিঃসন্তান করে রেখেছেন। যাও, আমার ক্রীতদাসীর সঙ্গে গিয়ে শোও; হয়তো তার মাধ্যমে আমি এক পরিবার গড়ে তুলতে পারব।” সারীর কথায় অব্রাম সম্মত হলেন।
GEN 16:3 অতএব অব্রাম কনানে দশ বছর বসবাস করার পর, তাঁর স্ত্রী সারী মিশরীয় ক্রীতদাসী হাগারকে নিয়ে তাকে নিজের স্বামীর স্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
GEN 16:4 অব্রাম হাগারের সঙ্গে সহবাস করলেন, এবং সে গর্ভবতী হল। হাগার যখন জানতে পারল যে সে গর্ভবতী হয়েছে, তখন সে তার মালকিনকে অবজ্ঞা করতে লাগল।
GEN 16:5 তখন সারী অব্রামকে বললেন, “আমি যে অন্যায় ভোগ করছি, তার জন্য তুমিই দায়ী। আমি আমার ক্রীতদাসীকে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি, আর এখন সে যখন জানতে পেরেছে যে সে গর্ভবতী হয়েছে, সে আমাকেই অবজ্ঞা করছে। সদাপ্রভুই তোমার ও আমার মধ্যে বিচারক হোন।”
GEN 16:6 “তোমার ক্রীতদাসী তোমারই হাতে আছে,” অব্রাম বললেন, “তোমার যা ভালো মনে হয়, তুমি তার সাথে তাই করো।” তখন সারী হাগারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলেন; তাই সে তাঁর কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
GEN 16:7 মরুভূমিতে একটি জলের উৎসের কাছে সদাপ্রভুর দূত হাগারকে খুঁজে পেলেন; এটি সেই জলের উৎস, যা শূরের দিকে যাওয়ার পথের ধারে অবস্থিত।
GEN 16:8 আর দূত হাগারকে বললেন, “হে সারীর ক্রীতদাসী হাগার, তুমি কোথা থেকে এসেছ, ও কোথায় যাচ্ছ?” “আমি আমার মালকিন সারীর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছি,” সে উত্তর দিল।
GEN 16:9 তখন সদাপ্রভুর দূত তাকে বললেন, “তোমার মালকিনের কাছে ফিরে যাও ও তার বশ্যতাস্বীকার করো।”
GEN 16:10 সদাপ্রভুর দূত আরও বললেন, “আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যা এত বৃদ্ধি করব যে গোনার পক্ষে তারা বহুসংখ্যক হয়ে উঠবে।”
GEN 16:11 সদাপ্রভুর দূত তাকে আরও বললেন: “এখন তুমি গর্ভবতী হয়েছ আর তুমি এক ছেলের জন্ম দেবে। তুমি তার নাম দেবে ইশ্মায়েল, কারণ সদাপ্রভু তোমার দুর্দশার কথা শুনেছেন।
GEN 16:12 সে বন্য গাধার মতো এক মানুষ হবে; প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তার হাত উঠবে আর প্রত্যেকের হাত তার বিরুদ্ধে উঠবে, আর তার সব ভাইয়ের প্রতি শত্রুতা বজায় রেখে সে বসবাস করবে।”
GEN 16:13 যে সদাপ্রভু হাগারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সে তাঁর এই নাম দিল: “তুমি দর্শনকারী ঈশ্বর,” কারণ সে বলল, “আমি এখন এমন একজনকে দেখেছি, যিনি আমাকে দেখেছেন।”
GEN 16:14 সেইজন্য সেই কুয়োর নাম হল বের-লহয়-রোয়ী; কাদেশ ও বেরদের মাঝখানে এটি এখনও আছে।
GEN 16:15 অতএব হাগার অব্রামের জন্য এক ছেলের জন্ম দিল, এবং সে যে ছেলের জন্ম দিল, অব্রাম তার নাম দিলেন ইশ্মায়েল।
GEN 16:16 হাগার যখন অব্রামের জন্য ইশ্মায়েলের জন্ম দিল, তখন অব্রামের বয়স ছিয়াশি বছর।
GEN 17:1 অব্রামের বয়স যখন 99 বছর, তখন সদাপ্রভু তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর; বিশ্বস্ত ও অনিন্দনীয় হয়ে আমার সামনে চলাফেরা করো।
GEN 17:2 তবেই আমি আমার ও তোমার মধ্যে আমার নিয়ম স্থাপন করব এবং প্রচুর পরিমাণে তোমার বংশবৃদ্ধি করব।”
GEN 17:3 অব্রাম মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে গেলেন, এবং ঈশ্বর তাঁকে বললেন,
GEN 17:4 “দেখো, তোমার সঙ্গে এই হল আমার নিয়ম: তুমি বহু জাতির পিতা হবে।
GEN 17:5 তোমাকে আর অব্রাম বলে ডাকা হবে না; তোমার নাম হবে অব্রাহাম, কারণ আমি তোমাকে বহু জাতির পিতা করেছি।
GEN 17:6 আমি তোমাকে অত্যন্ত ফলবান করব; আমি তোমার মধ্যে থেকে বহু জাতি উৎপন্ন করব, এবং রাজারা তোমার মধ্যে থেকেই উৎপন্ন হবে।
GEN 17:7 তোমার ঈশ্বর ও তোমার আগামী বংশধরদের ঈশ্বর হওয়ার জন্য আমার এবং তোমার মধ্যে ও তোমার আগামী বংশধরদের মধ্যে কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত স্থায়ী এক চিরস্থায়ী নিয়মরূপে আমি আমার নিয়মটি স্থাপন করব।
GEN 17:8 এখন যেখানে তুমি এক বিদেশিরূপে বসবাস করছ, সমগ্র সেই কনান দেশটি আমি তোমাকে ও তোমার বংশধরদের এক চিরস্থায়ী অধিকাররূপে দেব; আর আমি তাদের ঈশ্বর হব।”
GEN 17:9 পরে ঈশ্বর অব্রাহামকে বললেন, “দেখো, তোমাকে অবশ্যই আমার নিয়মটি পালন করতে হবে, তোমাকে ও তোমার বংশধরদের আগামী বংশপরম্পরায় তা পালন করতে হবে।
GEN 17:10 এই হল তোমার ও তোমার পরবর্তী বংশধরদের জন্য আমার সেই নিয়ম, যা তোমাদের পালন করতে হবে: তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষকে সুন্নত করা হবে।
GEN 17:11 তোমাকে সুন্নত করাতে হবে, আর এটিই হবে আমার ও তোমার মধ্যে স্থাপিত নিয়মের চিহ্ন।
GEN 17:12 পুরুষানুক্রমে তোমাদের মধ্যে আট দিন বয়স্ক প্রত্যেকটি পুরুষকে সুন্নত করাতে হবে, যারা তোমার পরিবারে জন্মেছে, তাদের বা কোনও বিদেশির কাছ থেকে যাদের অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে—যারা তোমার নিজের সন্তান নয়, তাদেরও করাতে হবে।
GEN 17:13 যারা তোমার পরিবারে জন্মেছে বা তোমার অর্থ দিয়ে যাদের কেনা হয়েছে, তাদের সবাইকে সুন্নত করাতেই হবে। তোমার শরীরে স্থাপিত আমার এই নিয়মই চিরস্থায়ী এক নিয়ম হবে।
GEN 17:14 সুন্নত না হওয়া যে কোনো পুরুষ, যার শরীরে সুন্নত করা হয়নি, সে তার লোকজনের মধ্যে থেকে উৎখাত হবে; সে আমার নিয়ম ভঙ্গ করেছে।”
GEN 17:15 ঈশ্বর অব্রাহামকে আরও বললেন, “তোমার স্ত্রী সারীকে, তুমি আর সারী বলে ডাকবে না; তার নাম হবে সারা।
GEN 17:16 আমি তাকে আশীর্বাদ করব, আর অবশ্যই তাকে তার নিজের এক পুত্রসন্তান দেব। আমি তাকে আশীর্বাদ করব, যেন সে বহু জাতির মা হয়; তার মধ্যে থেকে লোকসমূহের রাজারা উৎপন্ন হবে।”
GEN 17:17 অব্রাহাম মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে গেলেন; তিনি হেসে আপনমনে বললেন, “একশো বছর বয়স্ক লোকের কি পুত্রসন্তান হবে? সারা কি নব্বই বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দেবে?”
GEN 17:18 আর অব্রাহাম ঈশ্বরকে বললেন, “ইশ্মায়েলই শুধু তোমার আশীর্বাদের অধীনে বেঁচে থাকুক!”
GEN 17:19 তখন ঈশ্বর বললেন, “হ্যাঁ, কিন্তু তোমার স্ত্রী সারা তোমার জন্য এক ছেলের জন্ম দেবে, এবং তুমি তার নাম দেবে ইস্‌হাক। তার আগামী বংশধরদের জন্য এক চিরস্থায়ী নিয়মরূপে আমি তার সঙ্গে আমার নিয়ম স্থাপন করব।
GEN 17:20 আর ইশ্মায়েলের সম্বন্ধেও তোমার করা প্রার্থনাটি আমি শুনেছি: আমি তাকে অবশ্যই আশীর্বাদ করব; আমি তাকে ফলবান করব ও তার প্রচুর বংশবৃদ্ধি করব। সে বারোজন শাসনকর্তার বাবা হবে এবং আমি তাকে এক বড়ো জাতিতে পরিণত করব।
GEN 17:21 কিন্তু আমার নিয়ম আমি সেই ইস্‌হাকের সঙ্গেই স্থাপন করব, যাকে আগামী বছর এইসময় সারা তোমার জন্য জন্ম দেবে।”
GEN 17:22 অব্রাহামের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে ঈশ্বর তাঁর কাছ থেকে উঠে চলে গেলেন।
GEN 17:23 সেদিনই অব্রাহাম তাঁর ছেলে ইশ্মায়েলকে ও তাঁর পরিবারে জন্মানো বা তাঁর অর্থ দিয়ে কেনা সবাইকে, তাঁর পরিবারের প্রত্যেকটি পুরুষ সদস্যকে নিয়ে ঈশ্বরের কথানুসারে সুন্নত করালেন।
GEN 17:24 অব্রাহাম যখন সুন্নত করালেন তখন তাঁর বয়স 99 বছর,
GEN 17:25 এবং তাঁর ছেলে ইশ্মায়েলের বয়স তেরো বছর;
GEN 17:26 অব্রাহাম এবং তাঁর ছেলে ইশ্মায়েল দুজনে একই দিনে সুন্নত করালেন।
GEN 17:27 আর অব্রাহামের পরিবারের প্রত্যেকটি পুরুষ সদস্যকে তথা তাঁর পরিবারে জন্মানো বা কোনও বিদেশির কাছ থেকে অর্থ দিয়ে কেনা প্রত্যেককে তাঁর সাথে সুন্নত করানো হল।
GEN 18:1 অব্রাহাম যখন একদিন ভর-দুপুরে মম্রির বিশাল গাছগুলির কাছে তাঁর তাঁবুর প্রবেশদ্বারে বসেছিলেন, তখন সদাপ্রভু তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন।
GEN 18:2 অব্রাহাম চোখ তুলে চেয়ে দেখলেন তিনজন লোক তাঁর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের দেখতে পেয়ে তিনি তাঁদের সাথে দেখা করার জন্য তাড়াতাড়ি তাঁবুর প্রবেশদ্বার ছেড়ে এগিয়ে গেলেন ও মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করলেন।
GEN 18:3 তিনি বললেন, “হে আমার প্রভু, আপনার দৃষ্টিতে আমি যদি অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তবে আপনার এই দাসকে পার করে যাবেন না।
GEN 18:4 একটু জল এনে দিই, যেন আপনারা পা-টা ধুয়ে নিয়ে এই গাছের তলায় বিশ্রাম করে নিতে পারেন।
GEN 18:5 আপনারা যখন আপনাদের এই দাসের কাছে এসেই পড়েছেন—আপনাদের জন্য আমি কিছু খাবার এনে দিই, যেন আপনারা তরতাজা হয়ে আপনাদের যাত্রাপথে এগিয়ে যেতে পারেন।” “তা বেশ,” তাঁরা উত্তর দিলেন, “যা বললে তাই করো।”
GEN 18:6 অতএব অব্রাহাম চট্ করে তাঁবুতে সারার কাছে চলে গেলেন। তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি করো, তিন মান মিহি আটা নাও ও তা মেখে কয়েকটি রুটি সেঁকে দাও।”
GEN 18:7 পরে তিনি দৌড়ে গোয়ালঘরে গেলেন এবং বাছাই করা একটি কচি বাছুর নিয়ে সেটি তাঁর এক দাসকে দিলেন, যে চট্ করে সেটি রান্না করতে গেল।
GEN 18:8 পরে অব্রাহাম খানিকটা দই ও দুধ এবং রান্না করা বাছুরের মাংস এনে তাঁদের সামনে পরিবেশন করলেন। তাঁরা যখন ভোজনপান করছিলেন, তিনি তখন তাঁদের কাছে, একটি গাছের তলায় দাঁড়িয়েছিলেন।
GEN 18:9 “তোমার স্ত্রী সারা কোথায়?” তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। “ওখানে, তাঁবুর মধ্যে আছে,” তিনি বললেন।
GEN 18:10 তখন তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, “আগামী বছর মোটামুটি এইসময় আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে ফিরে আসব, এবং তোমার স্ত্রী সারা এক পুত্রসন্তান লাভ করবে।” ইত্যবসরে সারা তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সেই অতিথির পিছন দিকে দাঁড়িয়ে সেকথা শুনছিলেন।
GEN 18:11 অব্রাহাম ও সারা দুজনেরই খুব বয়স হয়েছিল এবং সারার সন্তান প্রসবের বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল।
GEN 18:12 তাই একথা ভেবে সারা মনে মনে হেসেছিলেন, “আমি জরাগ্রস্ত ও আমার স্বামী বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও কি এখন আমি এই সুখ পাব?”
GEN 18:13 তখন সদাপ্রভু অব্রাহামকে বললেন, “সারা কেন হেসে বলল, ‘সত্যিই কি আমি এক সন্তান লাভ করব, আমি যে এখন বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছি?’
GEN 18:14 সদাপ্রভুর কাছে কোনো কিছু কি খুব কঠিন? আগামী বছর নিরূপিত সময়ে আমি তোমার কাছে ফিরে আসব, এবং সারার কাছে তখন এক পুত্রসন্তান থাকবে।”
GEN 18:15 সারা ভয় পেয়েছিলেন, তাই তিনি মিথ্যামিথ্যি বললেন, “আমি হাসিনি।” কিন্তু তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তুমি অবশ্যই হেসেছিলে।”
GEN 18:16 সেই লোকেরা চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে নিচে সদোমের দিকে তাকালেন, এবং অব্রাহাম তাঁদের বিদায় জানানোর জন্য তাঁদের সঙ্গে কিছুটা পথ হাঁটলেন।
GEN 18:17 তখন সদাপ্রভু বললেন, “আমি যা করতে যাচ্ছি তা কি আমি অব্রাহামের কাছে লুকাব?”
GEN 18:18 অব্রাহাম নিঃসন্দেহে মহান ও শক্তিশালী এক জাতিতে পরিণত হবে, এবং পৃথিবীর সব জাতি তার মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করবে।
GEN 18:19 কারণ আমি তাকে মনোনীত করেছি, যেন যা উপযুক্ত ও ন্যায্য, তা করার মাধ্যমে সদাপ্রভুর পথে চলার ক্ষেত্রে সে তারপরে তার সন্তানদের ও তার পরিবারকে পথ দেখায়, ও যেন সদাপ্রভু অব্রাহামের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছেন তা তিনি সফল করেন।
GEN 18:20 পরে সদাপ্রভু বললেন, “সদোম ও ঘমোরার বিরুদ্ধে ওঠা কোলাহল এত তীব্র ও তাদের পাপ এত অসহ্য
GEN 18:21 যে আমি নিচে নেমে যাব এবং দেখব তারা যা করেছে, তা সত্যিই আমার কানে পৌঁছানো কোলাহলের মতো মন্দ কি না। যদি তা না হয়, আমি তা জানতে পারব।”
GEN 18:22 সেই লোকেরা পিছনে ফিরে সদোমের দিকে চলে গেলেন, কিন্তু অব্রাহাম সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন।
GEN 18:23 পরে অব্রাহাম তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: “তুমি কি দুষ্টদের সাথে ধার্মিকদেরও দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে?
GEN 18:24 নগরে যদি পঞ্চাশ জন ধার্মিক লোক থাকে তবে কী হবে? তুমি কি সত্যিই নগরটি নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে এবং সেখানকার পঞ্চাশ জন ধার্মিক লোকের খাতিরে সেই স্থানটিকে অব্যাহতি দেবে না?
GEN 18:25 এমন কাজ করা থেকে তুমি বিরত থাকো—দুষ্টদের সাথে ধার্মিকদের হত্যা করা, ধার্মিকদের ও দুষ্টদের প্রতি একইরকম আচরণ করা—এমন কাজ করা থেকে তুমি বিরত থাকো! সমগ্র পৃথিবীর বিচারক কি ন্যায়বিচার করবেন না?”
GEN 18:26 সদাপ্রভু বললেন, “সদোম নগরে আমি যদি পঞ্চাশ জন ধার্মিক লোক পাই, তবে তাদের খাতিরে সমগ্র স্থানটিকে আমি অব্যাহতি দেব।”
GEN 18:27 তখন অব্রাহাম আরেকবার বলে উঠলেন: “যদিও আমি ধুলো ও ভস্ম ছাড়া আর কিছুই নই, তাও যখন আমি প্রভুর সাথে কথা বলার সাহস পেয়েই গিয়েছি,
GEN 18:28 তখন বলি কি, ধার্মিকদের সংখ্যা যদি পঞ্চাশ জনের থেকে পাঁচজন কম হয়, তাতে কী? পাঁচজন লোক কম থাকার জন্য কি তুমি সমগ্র নগরটিকে ধ্বংস করে দেবে?” “আমি যদি সেখানে পঁয়তাল্লিশ জন পাই,” তিনি বললেন, “আমি তা ধ্বংস করব না।”
GEN 18:29 আরেকবার অব্রাহাম তাঁকে বললেন, “সেখানে যদি শুধু চল্লিশ জন পাওয়া যায়, তবে কী হবে?” তিনি বললেন, “চল্লিশ জনের খাতিরে, আমি এরকম করব না।”
GEN 18:30 তখন অব্রাহাম বললেন, “প্রভু, রাগ করবেন না, কিন্তু আমায় বলতে দিন। সেখানে যদি শুধু ত্রিশজন পাওয়া যায়, তবে কী হবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “সেখানে আমি যদি ত্রিশজন পাই, তাও আমি এরকম করব না।”
GEN 18:31 অব্রাহাম বললেন, “প্রভুর সাথে কথা বলার জন্য আমি যখন এতটাই সাহসী হয়েছি, তখন বলি কি, সেখানে যদি শুধু কুড়ি জন পাওয়া যায় তবে কী হবে?” তিনি বললেন, “কুড়ি জনের খাতিরে, আমি তা ধ্বংস করব না।”
GEN 18:32 তখন অব্রাহাম বললেন, “প্রভু রাগ করবেন না, আমাকে শুধু আর একটিবার বলতে দিন। সেখানে যদি শুধু দশজন পাওয়া যায়, তবে কী হবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “দশজনের খাতিরে, আমি তা ধ্বংস করব না।”
GEN 18:33 অব্রাহামের সাথে কথোপকথন শেষ করে সদাপ্রভু চলে গেলেন, এবং অব্রাহাম ঘরে ফিরে গেলেন।
GEN 19:1 সন্ধ্যাবেলায় সেই দুজন দূত সদোমে উপস্থিত হলেন। লোট নগরের প্রবেশদ্বারে বসেছিলেন। তাঁদের দেখতে পেয়ে তিনি তাঁদের সাথে দেখা করার জন্য উঠে গেলেন ও মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করলেন।
GEN 19:2 “হে আমার প্রভুরা,” তিনি বললেন, “দয়া করে আপনাদের এই দাসের বাড়ির দিকে আসুন। আপনারা পা ধুয়ে এখানে রাত কাটাতে পারেন ও তারপর ভোরবেলায় আপনাদের যাত্রাপথে এগিয়ে যান।” “না,” তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা চকেই রাত কাটাব।”
GEN 19:3 কিন্তু তিনি এত পীড়াপীড়ি করলেন যে তাঁরা তাঁর সাথে গেলেন ও তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁদের জন্য কিছু খাবারদাবার রান্না করলেন ও খামিরবিহীন রুটি সেঁকে দিলেন, ও তাঁরা তা খেলেন।
GEN 19:4 তাঁরা শুতে যাওয়ার আগে, সদোম নগরের সবদিক থেকে লোকজন এসে—যুবকেরা ও বৃদ্ধেরা—সবাই বাড়িটি ঘিরে ধরল।
GEN 19:5 তারা লোটকে ডেকে বলল, “আজ রাতে যে লোকেরা তোমার কাছে এসেছে, তারা কোথায়? তাদের আমাদের কাছে বের করে নিয়ে এসো, যেন আমরা তাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে পারি।”
GEN 19:6 তাদের সাথে দেখা করার জন্য লোট বাইরে গেলেন ও পিছন থেকে দরজাটি বন্ধ করে দিলেন
GEN 19:7 এবং বললেন, “হে আমার বন্ধুরা, না। এরকম মন্দ কাজ কোরো না।
GEN 19:8 দেখো, আমার এমন দুই মেয়ে আছে যারা কখনও কোনো পুরুষের সাথে সহবাস করেনি। আমি তাদের তোমাদের কাছে বের করে আনি, আর তোমরা তাদের সাথে যা ইচ্ছা তা করতে পারো। কিন্তু এই লোকদের প্রতি কিছু কোরো না, কারণ তাঁরা আমার ঘরে আশ্রয় নিতে এসেছেন।”
GEN 19:9 “আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়া।” তারা উত্তর দিল। “এ তো এক বিদেশি হয়ে এখানে এসেছিল, আর এখন কি না বিচারক হওয়ার চেষ্টা করছে! আমরা তোর প্রতি ওদের চেয়েও মন্দ আচরণ করব।” তারা লোটের উপর চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছিল ও দরজা ভেঙে ফেলার জন্য সামনে এগিয়ে গেল।
GEN 19:10 কিন্তু ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা হাত বাড়িয়ে লোটকে বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
GEN 19:11 পরে তাঁরা সেই বাড়ির দরজায় যারা দাঁড়িয়েছিল—যুবকদের ও বৃদ্ধদের—এমন অন্ধতায় আছন্ন করলেন, যে তারা আর দরজাই খুঁজে পেল না।
GEN 19:12 সেই দুই ব্যক্তি লোটকে বললেন, “এখানে তোমার আর কেউ কি আছে—জামাই, ছেলে বা মেয়ে, অথবা এই নগরের এমন কেউ, যারা তোমার আপনজন? এখান থেকে তাদের বের করে নিয়ে যাও,
GEN 19:13 কারণ আমরা এই স্থানটি ধ্বংস করতে যাচ্ছি। এখানকার লোকজনের বিরুদ্ধে ওঠা কোলাহল সদাপ্রভুর কানে এত জোরে বেজেছে, যে এটি ধ্বংস করার জন্যই তিনি আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন।”
GEN 19:14 অতএব লোট বাইরে গিয়ে তাঁর সেই জামাইদের সাথে কথা বললেন, যারা তাঁর মেয়েদের বিয়ে করার জন্য বাগ্‌দান করেছিল। তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি করো ও এখান থেকে বেরিয়ে যাও, কারণ সদাপ্রভু এই নগরটি ধ্বংস করতে চলেছেন!” কিন্তু তাঁর জামাইরা ভেবেছিল যে তিনি বুঝি ঠাট্টা করছেন।
GEN 19:15 ভোর হতে না হতেই, দূতেরা লোটকে অনুরোধ জানিয়ে বললেন, “তাড়াতাড়ি করো! যারা এখানে আছে, তোমার সেই স্ত্রী ও দুই মেয়েকে সাথে নাও, তা না হলে এই নগরটিকে যখন দণ্ড দেওয়া হবে, তখন তোমরাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”
GEN 19:16 তিনি যখন ইতস্তত বোধ করছিলেন, তখন সেই ব্যক্তিরা তাঁর হাত, তাঁর স্ত্রীর হাত ও তাঁর দুই মেয়ের হাত চেপে ধরে নিরাপদে তাঁদের নগরের বাইরে নিয়ে গেলেন, কারণ সদাপ্রভু তাঁদের প্রতি দয়াবান ছিলেন।
GEN 19:17 তাঁদের বাইরে বের করে আনার পরেই সেই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বললেন, “প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাও! পিছনে ফিরে তাকিয়ো না, আর সমভূমিতে কোথাও দাঁড়িয়ো না! পাহাড়-পর্বতে পালিয়ে যাও, তা না হলে তোমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে!”
GEN 19:18 কিন্তু লোট তাঁদের বললেন, “হে আমার প্রভুরা, না, দয়া করুন!
GEN 19:19 আপনাদের এই দাস আপনাদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছে, এবং আপনারা আমার প্রাণরক্ষার জন্য অশেষ দয়া দেখিয়েছেন। কিন্তু আমি পাহাড়-পর্বতে পালিয়ে যেতে পারব না; এই দুর্যোগ আমাকে গ্রাস করবে ও আমি মারা যাব।
GEN 19:20 দেখুন, এখানে কাছাকাছি পালিয়ে যাওয়ার উপযোগী একটি নগর আছে, আর তা ছোটও। আমাকে সেখানে পালিয়ে যেতে দিন—সেটি খুবই ছোটো, তাই না? তবেই তো আমার প্রাণরক্ষা হবে।”
GEN 19:21 তিনি তাঁকে বললেন, “তা বেশ, এই অনুরোধটিও আমি রাখব; যে নগরটির কথা তুমি বললে, আমি সেটি উৎখাত করব না।
GEN 19:22 কিন্তু তাড়াতাড়ি সেখানে পালিয়ে যাও, কারণ যতক্ষণ না তুমি সেখানে পৌঁছে যাচ্ছ, আমি কিছুই করতে পারব না।” (সেজন্যই নগরটিকে সোয়র নাম দেওয়া হল।)
GEN 19:23 লোট সোয়রে পৌঁছালে, দেশে সূর্যোদয় হল।
GEN 19:24 তখন সদাপ্রভু সদোম ও ঘমোরার উপর—সদাপ্রভুর কাছ থেকে, আকাশ থেকে—জ্বলন্ত গন্ধক বর্ষণ করলেন।
GEN 19:25 এভাবে তিনি সেই নগরগুলি ও সমগ্র সমতল এলাকা উৎখাত করলেন, ও নগরগুলিতে যত প্রাণী ছিল, সেসব—আর দেশের গাছপালাও ধ্বংস করে দিলেন।
GEN 19:26 কিন্তু লোটের স্ত্রী পিছনে ফিরে তাকাল, ও সে এক লবণস্তম্ভে পরিণত হল।
GEN 19:27 পরদিন ভোরবেলায় অব্রাহাম উঠে সেই স্থানে ফিরে গেলেন, যেখানে তিনি সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
GEN 19:28 তিনি নিচে সদোম ও ঘমোরার দিকে, এবং সমগ্র সমতল এলাকার দিকে তাকালেন, ও তিনি দেখলেন যে এক চুল্লি থেকে ওঠা ধোঁয়ার মতো ঘন ধোঁয়া সেই দেশ থেকে উঠে আসছে।
GEN 19:29 তাই ঈশ্বর যখন সমতল এলাকার নগরগুলি ধ্বংস করে দিলেন, তখন তিনি অব্রাহামকে স্মরণ করলেন, এবং লোটকে তিনি সেই সর্বনাশ থেকে বের করে আনলেন, যা সেই নগরগুলিকে উৎখাত করে ছেড়েছিল, যেখানে লোট বসবাস করছিলেন।
GEN 19:30 লোট ও তাঁর দুই মেয়ে সোয়র ছেড়ে পাহাড়-পর্বতের উপর বসতি স্থাপন করলেন, কারণ সোয়রে থাকতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। তিনি ও তাঁর দুই মেয়ে একটি গুহাতে বসবাস করছিলেন।
GEN 19:31 একদিন তাঁর বড়ো মেয়ে ছোটো মেয়েকে বলল, “আমাদের বাবা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছেন, আর সমগ্র পৃথিবীর প্রচলিত প্রথানুসারে—এখানে এমন কোনো পুরুষও নেই, যে আমাদের সন্তান দিতে পারে।
GEN 19:32 আয়, আমাদের বাবাকে দ্রাক্ষারস পান করাই ও পরে তাঁর সাথে সহবাস করি এবং আমাদের বাবার মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক বংশধারা এগিয়ে নিয়ে যাই।”
GEN 19:33 সেরাতে তারা তাদের বাবাকে দ্রাক্ষারস পান করালো, এবং বড়ো মেয়ে ভিতরে গিয়ে তাঁর সাথে সহবাস করল। লোট জানতেই পারেননি কখন সে শুতে এসেছিল আর কখনোই বা সে উঠে পড়েছিল।
GEN 19:34 পরদিন বড়ো মেয়ে ছোটো মেয়েকে বলল, “গতকাল রাতে আমি আমার বাবার সাথে সহবাস করেছিলাম। আয়, আজ রাতেও আমরা তাঁকে দ্রাক্ষারস পান করাই আর তুই ভিতরে গিয়ে তাঁর সাথে সহবাস কর, যেন আমরা আমাদের বাবার মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক বংশধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।”
GEN 19:35 তাই সেরাতেও তারা তাদের বাবাকে দ্রাক্ষারস পান করালো, আর ছোটো মেয়ে ভিতরে গিয়ে তাঁর সাথে সহবাস করল। এবারও তিনি জানতেই পারেননি কখন সে শুতে এসেছিল আর কখনোই বা সে উঠে পড়েছিল।
GEN 19:36 অতএব লোটের দুই মেয়েই তাদের বাবার মাধ্যমে গর্ভবতী হল।
GEN 19:37 বড়ো মেয়ে এক পুত্রসন্তান লাভ করল, আর সে তার নাম দিল মোয়াব; সে বর্তমানকালের মোয়াবীয়দের পূর্বপুরুষ।
GEN 19:38 ছোটো মেয়েও এক পুত্রসন্তান লাভ করল, ও সে তার নাম দিল বিন-অম্মি; সে বর্তমানকালের অম্মোনীয়দের পূর্বপুরুষ।
GEN 20:1 এমতাবস্থায় অব্রাহাম সেখান থেকে নেগেভ অঞ্চলের দিকে এগিয়ে গিয়ে কাদেশ ও শূরের মাঝখানে বসবাস করলেন। কিছুকাল তিনি গরারে থেকে গেলেন,
GEN 20:2 আর সেখানে অব্রাহাম তাঁর স্ত্রী সারার বিষয়ে বললেন, “এ আমার বোন।” তখন গরারের রাজা অবীমেলক লোক পাঠিয়ে সারাকে তুলে আনলেন।
GEN 20:3 কিন্তু একদিন রাতে ঈশ্বর স্বপ্নে অবীমেলককে দর্শন দিয়ে তাঁকে বললেন, “যে মহিলাটিকে তুমি নিয়ে এসেছ, তার জন্য তুমি মৃত্যুর পাত্র হয়ে গিয়েছ; সে এক বিবাহিত মহিলা।”
GEN 20:4 অবীমেলক তখনও সারার কাছাকাছি যাননি, তাই তিনি বললেন, “প্রভু, তুমি কি নির্দোষ এক জাতিকে ধ্বংস করবে?
GEN 20:5 সেই লোকটি কি আমাকে বলেননি, ‘এ আমার বোন’ আর মহিলাটিও কি বলেননি, ‘উনি আমার দাদা?’ বিশুদ্ধ এক বিবেক সমেত ও শুচিশুদ্ধ হাতেই আমি এ কাজ করেছি।”
GEN 20:6 তখন ঈশ্বর স্বপ্নে তাঁকে বললেন, “হ্যাঁ, আমি জানি যে তুমি বিশুদ্ধ বিবেক সমেত এ কাজ করেছ, আর তাই আমি তোমাকে আমার বিরুদ্ধে পাপ করা থেকে বিরত রেখেছি। এজন্যই আমি তাকে ছুঁতে দিইনি।
GEN 20:7 এখন সেই লোকটির স্ত্রীকে ফিরিয়ে দাও, কারণ সে একজন ভাববাদী এবং সে তোমার জন্য প্রার্থনা করবে ও তুমি বেঁচে যাবে। কিন্তু যদি তুমি মহিলাটিকে ফিরিয়ে না দাও, তবে নিশ্চিত থাকতে পারো যে তুমি ও তোমার সব লোকজন মারা যাবে।”
GEN 20:8 পরদিন ভোরবেলায় অবীমেলক তাঁর সব কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠালেন এবং যা যা ঘটেছে সেসব যখন তিনি তাঁদের বলে শোনালেন, তখন তাঁরা খুব ভয় পেয়ে গেলেন।
GEN 20:9 পরে অবীমেলক অব্রাহামকে নিজের কাছে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “আমাদের প্রতি আপনি এ কী করলেন? আমি আপনার প্রতি কী এমন অন্যায় করেছি যে আপনি আমার ও আমার রাজ্যের উপর এত বড়ো দোষ লাগিয়ে দিলেন? আপনি আমার প্রতি যা করলেন, তা করা আপনার উচিত হয়নি।”
GEN 20:10 আর অবীমেলক অব্রাহামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন আপনি এরকম করতে গেলেন?”
GEN 20:11 অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “আমি মনে করেছিলাম, ‘নিঃসন্দেহে এখানে মানুষের মনে ঈশ্বরভয় নেই, আর তারা আমার স্ত্রীর কারণে আমাকে হত্যা করবে।’
GEN 20:12 এছাড়াও, এ সত্যিই আমার বোন, আমার বাবার মেয়ে হলেও সে আমার মায়ের মেয়ে নয়; পরে সে আমার স্ত্রী হয়েছে।
GEN 20:13 আর ঈশ্বর যখন আমার পিতৃগৃহ ছাড়তে আমাকে বাধ্য করেছিলেন, তখন আমি একে বলেছিলাম, ‘এভাবেই তুমি আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে: আমরা যেখানে যেখানে যাব, আমার বিষয়ে তুমি বলবে, “উনি আমার দাদা।” ’ ”
GEN 20:14 তখন অবীমেলক মেষ ও গবাদি পশুপাল এবং ক্রীতদাস ও দাসীদের এনে অব্রাহামকে দিলেন, আর তাঁর স্ত্রী সারাকেও তিনি তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
GEN 20:15 আর অবীমেলক বললেন, “আমার দেশটি আপনার সামনেই আছে; আপনার যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসবাস করুন।”
GEN 20:16 সারাকে তিনি বললেন, “আমি আপনার দাদাকে 1,000 শেকল রুপো দিচ্ছি। যারা আপনার সাথে আছে, তাদের সামনেই আপনার বিরুদ্ধে করা অন্যায়ের ক্ষতিপূরণস্বরূপ আমি এটি দিচ্ছি; আপনার সব দোষ খণ্ডন হল।”
GEN 20:17 তখন অব্রাহাম ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং ঈশ্বর অবীমেলককে, তাঁর স্ত্রীকে ও তাঁর ক্রীতদাসীদের সুস্থ করে দিলেন যেন তারা আবার সন্তান লাভ করতে পারে,
GEN 20:18 কারণ অব্রাহামের স্ত্রী সারার জন্য সদাপ্রভু অবীমেলকের পরিবারের সব মহিলাকে গর্ভধারণ করা থেকে বিরত রেখেছিলেন।
GEN 21:1 সদাপ্রভু তাঁর বলা কথানুসারে সারার প্রতি অনুগ্রহকারী হলেন, এবং সদাপ্রভু যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সারার প্রতি তাই করলেন।
GEN 21:2 সারা গর্ভবতী হলেন এবং অব্রাহামের বৃদ্ধাবস্থায়, ঈশ্বর যে সময়ের প্রতিজ্ঞা তাঁর কাছে করেছিলেন, ঠিক সেই সময়ে অব্রাহামের জন্য এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন।
GEN 21:3 অব্রাহামের জন্য সারা যে পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন, অব্রাহাম তার নাম দিলেন ইস্‌হাক।
GEN 21:4 তাঁর ছেলে ইস্‌হাকের বয়স যখন আট দিন, তখন ঈশ্বরের আদেশানুসারে অব্রাহাম তার সুন্নত করালেন।
GEN 21:5 অব্রাহামের ছেলে ইস্‌হাকের যখন জন্ম হয় তখন তাঁর বয়স একশো বছর।
GEN 21:6 সারা বললেন, “ঈশ্বর আমাকে হাসির পাত্রী করে তুলেছেন, আর যে কেউ একথা শুনবে সেও আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।”
GEN 21:7 পরে তিনি এও বললেন, “কে অব্রাহামকে বলতে পেরেছিল যে সারা শিশুসন্তানকে স্তন্যদান করবে? তা সত্ত্বেও তাঁর বৃদ্ধাবস্থায় আমি তাঁর জন্য এক ছেলের জন্ম দিয়েছি।”
GEN 21:8 শিশুটি বেড়ে উঠল ও তার স্তন্য-ত্যাগ করানো হল, এবং যেদিন ইস্‌হাকের স্তন্য-ত্যাগ করানো হল, সেদিন অব্রাহাম এক মহাভোজের আয়োজন করলেন।
GEN 21:9 কিন্তু সারা দেখতে পেলেন যে, যে ছেলেটিকে মিশরীয় হাগার অব্রাহামের জন্য জন্ম দিয়েছিল, সে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছে,
GEN 21:10 আর তাই তিনি অব্রাহামকে বললেন, “ওই ক্রীতদাসী ও তার ছেলেকে তাড়িয়ে দাও, কারণ আমার ছেলে ইস্‌হাকের সম্পত্তির অধিকারে ওই মহিলার ছেলে কখনোই ভাগ বসাবে না।”
GEN 21:11 বিষয়টি অব্রাহামকে খুবই ব্যথিত করে তুলেছিল, কারণ এতে তাঁর ছেলের স্বার্থ জড়িত ছিল।
GEN 21:12 কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে বললেন, “ছেলেটির ও তোমার ক্রীতদাসীর বিষয়ে তুমি এত ব্যথিত হোয়ো না। সারা তোমাকে যা বলছে, তা শোনো, কারণ ইস্‌হাকের মাধ্যমেই তোমার সন্তানসন্ততি পরিচিত হবে।
GEN 21:13 আমি ওই ক্রীতদাসীর ছেলেকেও এক জাতিতে পরিণত করব, কারণ সেও তোমার সন্তান।”
GEN 21:14 পরদিন ভোরবেলায় অব্রাহাম কিছু খাবার ও এক মশক জল নিয়ে সেগুলি হাগারকে দিলেন। তিনি সেগুলি হাগারের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে তাকে সেই ছেলেটি সমেত বিদায় করে দিলেন। হাগার প্রস্থান করল এবং বের-শেবার মরুভূমিতে ইতস্তত ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছিল।
GEN 21:15 মশকের জল যখন শেষ হয়ে গেল, তখন সে ছেলেটিকে একটি ঝোপের তলায় নিয়ে গিয়ে রাখল।
GEN 21:16 পরে সে একটু দূরে, প্রায় 100 মিটার দূরে গিয়ে বসে পড়ল, কারণ সে ভাবল, “আমি নিজের চোখে ছেলেটির মৃত্যুদৃশ্য দেখতে পারব না।” আর সেখানে বসে সে ফোঁপাতে শুরু করল।
GEN 21:17 ঈশ্বর সেই ছেলেটির কান্না শুনতে পেলেন, এবং ঈশ্বরের দূত স্বর্গ থেকে হাগারকে ডেকে বললেন, “কী হল, হাগার? ভয় পেয়ো না; সেখানে শুয়ে ছেলেটি যখন কাঁদছে, তখন তার কান্না ঈশ্বর শুনেছেন।
GEN 21:18 ছেলেটিকে তুলে তার হাত ধরো, কারণ আমি তাকে এক মহাজাতিরূপে গড়ে তুলব।”
GEN 21:19 তখন ঈশ্বর হাগারের চোখ খুলে দিলেন আর সে জলের এক কুয়ো দেখতে পেল। তাই সে গিয়ে মশকে জল ভরে ছেলেটিকে পানীয় জল এনে দিল।
GEN 21:20 ছেলেটি যখন বেড়ে উঠছিল তখন ঈশ্বর তার সাথেই ছিলেন। সে মরুভূমিতে বসবাস করছিল ও এক তিরন্দাজ হয়ে উঠল।
GEN 21:21 সে যখন পারণ মরুভূমিতে বসবাস করছিল তখন তার মা, মিশর থেকে এক মহিলাকে তার স্ত্রী হওয়ার জন্য নিয়ে এল।
GEN 21:22 সেই সময় অবীমেলক তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতি ফীকোলকে সাথে নিয়ে অব্রাহামের কাছে এসে বললেন, “আপনি যা যা করেন, সবেতেই ঈশ্বর আপনার সহায় হন।
GEN 21:23 এখন ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে আমার কাছে শপথ করুন যে আপনি আমার বা আমার সন্তানসন্ততির বা আমার বংশধরদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। আমি আপনার প্রতি যে দয়া দেখিয়েছিলাম, সেই একইরকম দয়া আপনি আমার প্রতি ও যে দেশে এখন আপনি এক বিদেশিরূপে বসবাস করছেন, সেই দেশের প্রতিও দেখান।”
GEN 21:24 অব্রাহাম বললেন, “আমি শপথ করছি।”
GEN 21:25 তখন অব্রাহাম অবীমেলকের কাছে সেই সজল কুয়োটির বিষয়ে অভিযোগ জানালেন, যেটি অবীমেলকের দাসেরা জোর করে দখল করে নিয়েছিল।
GEN 21:26 কিন্তু অবীমেলক বললেন, “আমি জানি না কে এই কাজটি করেছে। আপনিও আমাকে কিছু বলেননি, আর আজই আমি এই বিষয়ে শুনলাম।”
GEN 21:27 অতএব অব্রাহাম মেষ ও গবাদি পশুপাল আনিয়ে সেগুলি অবীমেলককে দিলেন এবং দুজনে এক সন্ধিচুক্তি করলেন।
GEN 21:28 অব্রাহাম তাঁর মেষপাল থেকে মেষের সাতটি মাদি শাবক পৃথক করলেন,
GEN 21:29 এবং অবীমেলক অব্রাহামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি যে মেষের এই সাতটি মাদি শাবক পৃথক করলেন, এর অর্থ কী?”
GEN 21:30 তিনি উত্তর দিলেন, “আমিই যে এই কুয়োটি খুঁড়েছি, তার প্রমাণস্বরূপ আপনি আমার হাত থেকে মেষের এই সাতটি শাবক গ্রহণ করুন।”
GEN 21:31 অতএব সেই স্থানটির নাম হল বের-শেবা, কারণ সেই দুজন লোক সেখানে এক শপথ নিয়েছিলেন।
GEN 21:32 বের-শেবায় সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর অবীমেলক ও তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতি ফীকোল ফিলিস্তিনীদের দেশে ফিরে গেলেন।
GEN 21:33 অব্রাহাম বের-শেবায় একটি ঝাউ গাছ লাগালেন, ও সেখানে তিনি অনন্তজীবী ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন।
GEN 21:34 আর অব্রাহাম দীর্ঘকাল ফিলিস্তিনীদের দেশে থেকে গেলেন।
GEN 22:1 কিছুকাল পর ঈশ্বর অব্রাহামকে পরীক্ষা করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, “অব্রাহাম!” “আমি এখানে,” অব্রাহাম উত্তর দিলেন।
GEN 22:2 তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার ছেলেকে, তোমার একমাত্র ছেলেকে, যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে—সেই ইস্‌হাককে—নাও ও মোরিয়া প্রদেশে যাও। সেখানে এমন একটি পর্বতের উপর তাকে হোমবলিরূপে উৎসর্গ করো, যেটি আমি তোমাকে দেখিয়ে দেব।”
GEN 22:3 পরদিন ভোরবেলায় অব্রাহাম উঠে তাঁর গাধায় জিন চাপালেন। তিনি তাঁর দাসদের মধ্যে দুজনকে ও তাঁর ছেলে ইস্‌হাককে সাথে নিলেন। হোমবলির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কাঠ কাটার পর তিনি সেই স্থানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন, যেটির বিষয়ে ঈশ্বর তাঁকে আগেই বলে দিয়েছিলেন।
GEN 22:4 তৃতীয় দিনে অব্রাহাম চোখ তুলে তাকিয়ে দূর থেকে সেই স্থানটি দেখলেন।
GEN 22:5 তিনি তাঁর দাসদের বললেন, “ছেলেটিকে সাথে নিয়ে আমি যখন সেখানে যাচ্ছি, তখন তোমরা গাধাটির সঙ্গে এখানেই থাকো। আমরা আরাধনা করব ও পরে তোমাদের কাছে ফিরে আসব।”
GEN 22:6 অব্রাহাম হোমবলির কাঠ নিয়ে সেগুলি তাঁর ছেলে ইস্‌হাকের কাঁধে চাপিয়ে দিলেন, এবং তিনি স্বয়ং আগুন ও ছুরি নিলেন। তাঁরা দুজন যখন একসাথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন,
GEN 22:7 ইস্‌হাক মুখ খুলে তাঁর বাবা অব্রাহামকে বললেন, “বাবা?” “বলো বাছা?” অব্রাহাম উত্তর দিলেন। “আগুন ও কাঠ তো এখানে আছে,” ইস্‌হাক বললেন, “কিন্তু হোমবলির জন্য মেষশাবক কোথায়?”
GEN 22:8 অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “বাছা, ঈশ্বর স্বয়ং হোমবলির জন্য মেষশাবকের জোগান দেবেন।” আর তাঁরা দুজন একসাথে এগিয়ে গেলেন।
GEN 22:9 ঈশ্বর যে স্থানটির কথা বলেছিলেন, তারা যখন সেখানে পৌঁছালেন, তখন অব্রাহাম সেখানে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন ও সেটির উপর কাঠ বিছিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর ছেলে ইস্‌হাককে বেঁধে সেই বেদিতে, কাঠের উপর শুইয়ে দিলেন।
GEN 22:10 পরে তিনি হাত বাড়িয়ে ছুরিটি ধরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন।
GEN 22:11 কিন্তু সদাপ্রভুর দূত স্বর্গ থেকে তাঁকে ডেকে বললেন, “অব্রাহাম, অব্রাহাম!” “আমি এখানে,” তিনি উত্তর দিলেন।
GEN 22:12 “ছেলেটির গায়ে হাত দিয়ো না,” দূত বললেন। “ওর কোনও ক্ষতি কোরো না। এখন আমি বুঝেছি যে তুমি ঈশ্বরকে ভয় করো, কারণ আমাকে তুমি তোমার ছেলেটি, তোমার একমাত্র ছেলেটি দিতে অসম্মত হওনি।”
GEN 22:13 অব্রাহাম চোখ তুলে তাকিয়ে দেখতে পেলেন সেখানে ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি মদ্দা মেষ শিং আটকানো অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি সেখানে গিয়ে মদ্দা মেষটিকে এনে তাঁর ছেলের পরিবর্তে সেটিকে এক হোমবলিরূপে উৎসর্গ করলেন।
GEN 22:14 অতএব অব্রাহাম সেই স্থানটির নাম দিলেন সদাপ্রভু জোগাবেন। আর আজও পর্যন্ত একথা বলা হয়ে থাকে, “সদাপ্রভুর পর্বতে তা জোগানো হবে।”
GEN 22:15 সদাপ্রভুর দূত দ্বিতীয়বার স্বর্গ থেকে অব্রাহামকে ডাক দিলেন
GEN 22:16 এবং বললেন, “সদাপ্রভু ঘোষণা করছেন, আমি নিজের নামে শপথ করছি, যেহেতু তুমি এই কাজটি করেছ এবং আমাকে তোমার ছেলেটি, তোমার একমাত্র ছেলেটি দিতে অসম্মত হওনি,
GEN 22:17 তাই অবশ্যই আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব ও তোমার বংশধরদের আকাশের তারাগুলির মতো ও সমুদ্রের বালুকণার মতো বিপুল সংখ্যক করে তুলব। তোমার বংশধররা তাদের শত্রুদের নগরগুলি দখল করে নেবে,
GEN 22:18 এবং তোমার সন্তানসন্ততির মাধ্যমে পৃথিবীর সব জাতি আশীর্বাদ লাভ করবে, কারণ তুমি আমার বাধ্য হয়েছ।”
GEN 22:19 পরে অব্রাহাম তাঁর দাসদের কাছে ফিরে এলেন, এবং তাঁরা সবাই মিলে বের-শেবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন। আর অব্রাহাম বের-শেবাতেই থেকে গেলেন।
GEN 22:20 কিছুকাল পর অব্রাহামকে বলা হল, “মিল্কাও মা হয়েছেন; তিনি আপনার ভাই নাহোরের জন্য এই ছেলেদের জন্ম দিয়েছেন:
GEN 22:21 প্রথমজাত ঊষ, তার ভাই বূষ, কমূয়েল (অরামের বাবা),
GEN 22:22 কেষদ, হসো, পিলদশ, যিদলফ ও বথূয়েল।”
GEN 22:23 বথূয়েল রিবিকার বাবা। মিল্কা অব্রাহামের ভাই নাহোরের জন্য এই আটটি ছেলের জন্ম দিলেন।
GEN 22:24 যার নাম রূমা, নাহোরের সেই উপপত্নীও এই ছেলেদের জন্ম দিল: টেবহ, গহম, তহশ ও মাখা।
GEN 23:1 সারা 127 বছর বেঁচেছিলেন।
GEN 23:2 কনান দেশের অন্তর্গত কিরিয়ৎ-অর্বে (অথবা, হিব্রোণে) তিনি মারা গেলেন, এবং অব্রাহাম সারার জন্য শোকপ্রকাশ ও কান্নাকাটি করার জন্য (সেখানে) গেলেন।
GEN 23:3 পরে অব্রাহাম তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহের পাশ থেকে উঠে এসে হিত্তীয়দের সাথে কথা বললেন। তিনি বললেন,
GEN 23:4 “আপনাদের মাঝখানে আমি একজন বিদেশি ও অপরিচিত ব্যক্তি। কবরস্থান বানানোর জন্য এখানে আমাকে কিছুটা জমি বিক্রি করে দিন, যেন আমি আমার স্ত্রীর মৃতদেহ কবর দিতে পারি।”
GEN 23:5 হিত্তীয়েরা অব্রাহামকে উত্তর দিল,
GEN 23:6 “মশাই, আমাদের কথা শুনুন। আমাদের মাঝখানে আপনি তো এক মহান রাজপুরুষ। আমাদের কবরগুলির মধ্যে আপনার পছন্দসই সেরা কবরটিতেই আপনার মৃত পরিজনকে কবর দিন। আমাদের মধ্যে কেউই আপনার মৃত পরিজনকে কবর দেওয়ার জন্য নিজের কবরটি দিতে অস্বীকার করব না।”
GEN 23:7 তখন অব্রাহাম উঠে দাঁড়িয়ে সেই দেশের লোকদের অর্থাৎ, হিত্তীয়দের সামনে প্রণত হলেন।
GEN 23:8 তিনি তাদের বললেন, “আপনারা যদি চান যে আমি আমার মৃত পরিজনকে এখানে কবর দিই, তবে আমার কথা শুনুন এবং আপনারা আমার হয়ে আমার ও সোহরের ছেলে ইফ্রোণের মাঝে মধ্যস্থতা করুন,
GEN 23:9 যেন তিনি তাঁর অধিকারে থাকা সেই মক্‌পেলা গুহাটি আমায় বিক্রি করেন, যেটি তাঁর জমির শেষ প্রান্তে আছে। তাঁকে বলুন, তিনি যেন সেটি সম্পূর্ণ দাম নিয়ে আপনাদের মাঝে অবস্থিত এক কবরস্থানরূপে আমায় বিক্রি করে দেন।”
GEN 23:10 হিত্তীয় ইফ্রোণ তাঁর লোকজনের মাঝখানে বসেছিলেন এবং যে হিত্তীয়েরা তাঁর নগরের প্রবেশদ্বারের কাছে সমবেত হল, তাদের সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে তিনি অব্রাহামকে উত্তর দিলেন।
GEN 23:11 “হে আমার প্রভু, না,” তিনি বললেন। “আমার কথা শুনুন; আমি আপনাকে সেই জমিটি দিলাম, ও সেখানে অবস্থিত গুহাটিও দিলাম। আমার লোকজনের উপস্থিতিতেই আমি এগুলি আপনাকে দিলাম। আপনার মৃত পরিজনকে আপনি কবর দিন।”
GEN 23:12 অব্রাহাম আরও একবার সেই দেশের লোকদের সামনে প্রণত হলেন
GEN 23:13 এবং তাদের শুনিয়ে শুনিয়ে তিনি ইফ্রোণকে বললেন, “আমার কথা শুনতে চাইলে, শুনুন। আমি জমিটির দাম দেব। আমার কাছ থেকে তা গ্রহণ করুন, যেন সেখানে আমি আমার মৃত পরিজনকে কবর দিতে পারি।”
GEN 23:14 ইফ্রোণ অব্রাহামকে উত্তর দিলেন,
GEN 23:15 “হে আমার প্রভু, আমার কথা শুনুন; জমিটির দাম 400 শেকল রুপো, কিন্তু আপনার ও আমার মধ্যে তাতে কী আসে-যায়? আপনার মৃত পরিজনকে আপনি কবর দিন।”
GEN 23:16 ইফ্রোণের শর্তে অব্রাহাম রাজি হলেন এবং হিত্তীয়দের কর্ণগোচরে ইফ্রোণ যে দাম ধার্য করলেন, ততখানি পরিমাণ রুপো: বণিকদের মধ্যে প্রচলিত বর্তমান ওজন অনুসারে 400 শেকল রুপো তিনি তাঁকে ওজন করে দিলেন।
GEN 23:17 অতএব মম্রির কাছাকাছি অবস্থিত মক্‌পেলায় ইফ্রোণের সেই জমিটি—সেখানকার জমি ও গুহা, দুটিই এবং সেই জমির সীমানার অন্তর্গত সব গাছপালা—হস্তান্তরের দলিল
GEN 23:18 অব্রাহামের নামে তাঁর সম্পত্তিরূপে সেই নগরের প্রবেশদ্বারের কাছে সমবেত সব হিত্তীয়ের উপস্থিতিতে পাকা করা হল।
GEN 23:19 পরে অব্রাহাম তাঁর স্ত্রী সারাকে কনান দেশে মম্রির (অর্থাৎ, হিব্রোণের) পার্শ্ববর্তী মক্‌পেলার জমিতে অবস্থিত গুহায় কবর দিলেন।
GEN 23:20 অতএব সেই জমি ও সেখানকার গুহাটি হিত্তীয়েরা দলিল করে এক কবরস্থানরূপে অব্রাহামের অধিকারভুক্ত করে দিল।
GEN 24:1 অব্রাহাম খুব বৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং সদাপ্রভু তাঁকে সবদিক থেকেই আশীর্বাদ করলেন।
GEN 24:2 যিনি তাঁর সব সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন, তাঁর ঘরের সেই প্রবীণ দাসকে তিনি বললেন, “তুমি আমার ঊরুর তলায় হাত রাখো।
GEN 24:3 যিনি স্বর্গের ঈশ্বর ও পৃথিবীরও ঈশ্বর, আমি চাই তুমি সেই সদাপ্রভুর নামে এই শপথ করো, যে আমি যাদের মধ্যে বসবাস করছি, সেই কনানীয়দের কোনো মেয়েকে তুমি আমার ছেলের স্ত্রী করে আনবে না,
GEN 24:4 কিন্তু তুমি আমার দেশে ও আমার আপন আত্মীয়স্বজনদের কাছে যাবে এবং আমার ছেলে ইস্‌হাকের জন্য এক স্ত্রী নিয়ে আসবে।”
GEN 24:5 সেই দাস তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সেই মেয়েটি যদি এই দেশে আসতে অনিচ্ছুক হয় তবে কী হবে? তবে কি যে দেশ থেকে আপনি এসেছেন, সেই দেশে আমি আপনার ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাব?”
GEN 24:6 “তুমি কোনোমতেই আমার ছেলেকে সেই দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না,” অব্রাহাম বললেন।
GEN 24:7 “স্বর্গের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি আমাকে আমার পিতৃগৃহ থেকে ও আমার মাতৃভূমি থেকে বের করে এনেছেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এক শপথের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, ‘এই স্থানটি আমি তোমার সন্তানসন্ততিকে দেব,’ তিনিই তোমার অগ্রগামী করে তাঁর দূতকে পাঠিয়ে দেবেন, যেন তুমি সেখান থেকে আমার ছেলের জন্য এক স্ত্রী আনতে পারো।
GEN 24:8 যদি সেই মেয়েটি তোমার সঙ্গে আসতে না চায়, তবে তুমি আমার এই শপথ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। শুধু তুমি আমার ছেলেকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যেয়ো না।”
GEN 24:9 অতএব সেই দাস তাঁর প্রভু অব্রাহামের ঊরুর তলায় হাত রেখে এই বিষয়ে তাঁর কাছে শপথ করলেন।
GEN 24:10 পরে সেই দাস তাঁর প্রভুর উটগুলির মধ্যে থেকে দশটি উটের পিঠে তাঁর প্রভুর কাছ থেকে পাওয়া সব ধরনের ভালো ভালো জিনিসপত্র চাপিয়ে নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন। তিনি অরাম-নহরয়িমের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেলেন এবং নাহোরের নগরে পৌঁছালেন।
GEN 24:11 তিনি নগরের বাইরে অবস্থিত একটি কুয়োর কাছে উটগুলিকে নতজানু করে বসালেন; তখন প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল, যে সময় মহিলারা কুয়ো থেকে জল তুলতে যায়।
GEN 24:12 তখন তিনি প্রার্থনা করলেন, “হে সদাপ্রভু, আমার প্রভু অব্রাহামের ঈশ্বর, আজ তুমি আমাকে সফল করে তোলো, এবং আমার প্রভু অব্রাহামের প্রতি দয়া দেখাও।
GEN 24:13 দেখো, আমি এই জলের উৎসের ধারে দাঁড়িয়ে আছি, এবং নগরবাসীদের মেয়েরা জল তুলতে আসছে।
GEN 24:14 এরকমই হোক যেন আমি যখন একটি যুবতী মেয়েকে বলব, ‘দয়া করে তোমার কলশিটি নামিয়ে রাখো যেন আমি জলপান করতে পারি,’ এবং সে যখন বলবে, ‘আপনি পান করুন এবং আপনার উটগুলির জন্যও আমি পানীয় জল দেব, ’ তখন সেই যেন সেই মেয়ে হয়, যাকে তুমি তোমার দাস ইস্‌হাকের জন্য মনোনীত করেছ। এর দ্বারাই আমি জানতে পারব যে তুমি আমার প্রভুর প্রতি দয়া দেখিয়েছ।”
GEN 24:15 ঈশ্বরের কাছে করা তাঁর প্রার্থনাটি শেষ হওয়ার আগেই রিবিকা তার কলশি কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে এলেন। তিনি অব্রাহামের ভাই নাহোরের স্ত্রী মিল্কার ছেলে বথূয়েলের মেয়ে।
GEN 24:16 সেই মেয়েটি অপরূপ সুন্দরী, ও এক কুমারী ছিলেন; কোনও পুরুষ কখনও তাঁর সাথে শোয়নি। তিনি জলের উৎসের কাছে নেমে গিয়ে, তাঁর কলশিতে জল ভরে আবার উপরে উঠে আসছিলেন।
GEN 24:17 সেই দাস তাড়াতাড়ি তাঁর সাথে দেখা করে বললেন, “দয়া করে তোমার কলশি থেকে আমায় একটু জল দাও।”
GEN 24:18 “হে আমার প্রভু, পান করুন,” এই বলে রিবিকা চট্ করে কলশিটি হাতে নামিয়ে এনে তাঁকে পানীয় জল দিলেন।
GEN 24:19 তাঁকে পানীয় জল দেওয়ার পর রিবিকা বললেন, “আমি আপনার উটগুলির জন্যও ততক্ষণ জল তুলতে থাকব, যতক্ষণ না তারা যথেষ্ট পরিমাণ জলপান করে ফেলছে।”
GEN 24:20 অতএব তিনি তাড়াতাড়ি সেই জাবপাত্রে কলশির জল খালি করে দিলেন, আরও জল তোলার জন্য কুয়োর কাছে দৌড়ে ফিরে গেলেন, এবং সেই দাসের সব উটের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ জল তুলে আনলেন।
GEN 24:21 কোনও কথা না বলে সেই লোকটি এই বিষয়টি বোঝার জন্য তাঁকে খুব ভালো করে লক্ষ্য করছিলেন, যে সদাপ্রভু তাঁর যাত্রা আদৌ সফল করেছেন কি না।
GEN 24:22 উটগুলি জলপান করে ফেলার পর, সেই লোকটি এক বেকা ওজনের একটি সোনার নথ এবং দশ শেকল ওজনের সোনার দুটি বালা বের করলেন।
GEN 24:23 পরে তিনি প্রশ্ন করলেন, “তুমি কার মেয়ে? দয়া করে আমায় বলো তো, তোমার পিতৃগৃহে আমাদের রাত কাটানোর জন্য ঘর আছে কি?”
GEN 24:24 রিবিকা তাঁকে উত্তর দিলেন, “আমি সেই বথূয়েলের মেয়ে, যিনি নাহোরের ছেলে, ও যাঁকে মিল্কা নাহোরের জন্য জন্ম দিয়েছিলেন।”
GEN 24:25 তিনি আরও বললেন, “আমাদের কাছে প্রচুর খড়-বিচালি ও জাব আছে, তা ছাড়া আপনাদের রাত কাটানোর জন্য ঘরও আছে।”
GEN 24:26 তখন সেই লোকটি মাথা নত করে সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন,
GEN 24:27 এবং বললেন, “আমার প্রভু অব্রাহামের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, যিনি আমার প্রভুর প্রতি তাঁর দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখাতে ক্ষান্ত হননি। আমার ক্ষেত্রেও, সদাপ্রভু আমার প্রভুর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি পর্যন্ত যাত্রাপথে আমাকে পথ দেখালেন।”
GEN 24:28 যুবতী মেয়েটি দৌড়ে গিয়ে তাঁর মায়ের পরিজনদের এইসব বিষয় জানালেন।
GEN 24:29 রিবিকার এক দাদা ছিলেন, যাঁর নাম লাবন, আর তিনি চট্ করে জলের উৎসের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির কাছে চলে গেলেন।
GEN 24:30 সেই নথটি এবং তাঁর বোনের হাতের বালা দেখামাত্রই এবং রিবিকাকে সেই লোকটি যা যা বলেছিলেন, সেসব কথা তাঁর কাছ থেকে শোনামাত্রই তিনি সেই লোকটির কাছে চলে গেলেন এবং দেখতে পেলেন, তিনি সেই জলের উৎসের কাছে উটগুলি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
GEN 24:31 “হে সদাপ্রভুর আশীর্বাদধন্য ব্যক্তি, আসুন,” তিনি বললেন। “আপনি এখানে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আমি আপনার জন্য বাড়িঘর ঠিকঠাক করে রেখেছি এবং উটগুলির জন্যও জায়গা করে রেখেছি।”
GEN 24:32 অতএব সেই লোকটি বাড়িতে গেলেন এবং উটগুলিকেও ভারমুক্ত করা হল। উটগুলির জন্য খড়-বিচালি ও জাব আনা হল এবং তাঁর ও তাঁর লোকজনের পা ধোয়ার জন্য জল আনা হল।
GEN 24:33 পরে তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করা হল, কিন্তু তিনি বললেন, “আমার যা বলার আছে তা যতক্ষণ না আমি আপনাদের বলে শুনাচ্ছি, ততক্ষণ আমি কিছু খাব না।” “তবে আমাদের তা বলে ফেলুন।” লাবন বললেন।
GEN 24:34 অতএব তিনি বললেন, “আমি অব্রাহামের দাস।
GEN 24:35 সদাপ্রভু আমার প্রভুকে প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদ করেছেন, এবং তিনি ধনী হয়ে গিয়েছেন। সদাপ্রভু তাঁকে মেষ ও গবাদি পশুপাল, রুপো ও সোনা, দাস ও দাসী, এবং উট ও গাধা দিয়েছেন।
GEN 24:36 আমার প্রভুর স্ত্রী সারা বৃদ্ধাবস্থায় তাঁর জন্য এক ছেলের জন্ম দিয়েছেন, এবং আমার প্রভুর নিজস্ব সবকিছু তিনি তাঁকেই দিয়েছেন।
GEN 24:37 আর আমার প্রভু আমাকে দিয়ে এক শপথ করিয়ে নিয়েছেন, ও বলেছেন, ‘যাদের দেশে আমরা বসবাস করছি, সেই কনানীয়দের মেয়েদের মধ্যে থেকে কাউকে তুমি আমার ছেলের স্ত্রী করে আনবে না,
GEN 24:38 কিন্তু তুমি আমার পিতৃপরিজনদের এবং আমার নিজের গোত্রভুক্ত লোকজনের কাছে যাবে, ও আমার ছেলের জন্য এক স্ত্রী নিয়ে আসবে।’
GEN 24:39 “তখন আমি আমার প্রভুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘সেই মেয়েটি যদি আমার সঙ্গে আসতে না চায় তবে কী হবে?’
GEN 24:40 “তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যাঁর সাক্ষাতে আমি বিশ্বস্ততাপূর্বক চলেছি, সেই সদাপ্রভুই তাঁর দূতকে তোমার সঙ্গে পাঠাবেন এবং তোমার যাত্রা সফল করবেন, যেন তুমি আমার নিজের গোত্রভুক্ত লোকজনের ও আমার পিতৃপরিজনদের মধ্য থেকেই আমার ছেলের জন্য এক স্ত্রী আনতে পারো।
GEN 24:41 আমার শপথ থেকে তুমি মুক্ত হয়ে যাবে যদি, তুমি যখন আমার গোত্রভুক্ত লোকজনের কাছে যাবে, ও তারা যদি মেয়েটিকে তোমার হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করে—তখন তুমি আমার শপথ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।’
GEN 24:42 “আজ যখন আমি জলের উৎসের কাছে এলাম, তখন আমি বললাম, ‘হে সদাপ্রভু, আমার প্রভু অব্রাহামের ঈশ্বর, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে দয়া করে তুমি আমার এই যাত্রা সফল করো, যে যাত্রায় আমি বের হয়ে এসেছি।
GEN 24:43 দেখো, আমি এই জলের উৎসের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। একটি যুবতী মেয়ে যদি এখানে জল তুলতে আসে এবং আমি যদি তাকে বলি, “দয়া করে তোমার কলশি থেকে আমাকে একটু জলপান করতে দাও,”
GEN 24:44 আর সে যদি আমাকে বলে, “পান করুন, এবং আমি আপনার উটগুলির জন্যও জল তুলে দেব,” তবে সেই যেন এমন একজন হয়, যাকে সদাপ্রভু আমার প্রভুর ছেলের জন্য মনোনীত করে রেখেছেন।’
GEN 24:45 “মনে মনে আমি এই প্রার্থনা শেষ করার আগেই, রিবিকা বেরিয়ে এল, ও তার কাঁধে কলশি ছিল। সে জলের উৎসের কাছে নেমে গেল ও জল তুলছিল, আর আমি তাকে বললাম, ‘দয়া করে আমাকে পান করার জল দাও।’
GEN 24:46 “সে তাড়াতাড়ি কাঁধ থেকে তার কলশিটি নামিয়ে এনে বলল, ‘পান করুন, এবং আমি আপনার উটগুলির জন্যও জল দেব।’ অতএব আমি জলপান করলাম, এবং সে উটগুলিকেও জল দিল।
GEN 24:47 “আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি কার মেয়ে?’ “সে বলল, ‘আমি সেই বথূয়েলের মেয়ে, যিনি নাহোরের ছেলে, ও যাঁকে মিল্কা নাহোরের জন্য জন্ম দিয়েছিলেন।’ “তখন আমি তার নাকে নথ ও হাতে বালা পরিয়ে দিলাম,
GEN 24:48 এবং আমি নতমস্তকে সদাপ্রভুর আরাধনা করলাম। আমি আমার প্রভু অব্রাহামের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর প্রশংসা করলাম, যিনি সঠিক পথে আমাকে পরিচালিত করলেন, যেন আমার প্রভুর ছেলের জন্য তাঁর ভাইয়ের নাতনীকে আমি খুঁজে পাই।
GEN 24:49 এখন আপনারা যদি আমার প্রভুর প্রতি দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখাতে চান, তবে বলুন; আর যদি তা না চান, তাও বলুন, যেন আমি জানতে পারি কোন দিকে আমাকে ফিরতে হবে।”
GEN 24:50 লাবন ও বথূয়েল উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর দিক থেকেই এই ঘটনাটি ঘটেছে; এই ব্যাপারে আমরা আপনাকে ভালোমন্দ কিছুই বলতে পারব না।
GEN 24:51 রিবিকা এখানেই আছে; তাকে নিয়ে চলে যান, আর সে আপনার প্রভুর ছেলের স্ত্রী হয়ে যাক, যেমনটি সদাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছেন।”
GEN 24:52 তাঁরা যা বললেন, অব্রাহামের দাস যখন তা শুনলেন, তখন তিনি সদাপ্রভুর সামনে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন।
GEN 24:53 পরে সেই দাস সোনা ও রুপোর গয়না এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ বের করে সেগুলি রিবিকাকে দিলেন; তিনি তাঁর দাদা ও মাকেও মূল্যবান উপহারসামগ্রী দিলেন।
GEN 24:54 পরে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন ভোজনপান করলেন এবং সেখানেই রাত কাটালেন। পরদিন সকালে ওঠার পর তিনি বললেন, “আমার প্রভুর কাছে যাওয়ার জন্য আমায় বিদায় দিন।”
GEN 24:55 কিন্তু রিবিকার দাদা ও মা উত্তর দিলেন, “মেয়েটি আমাদের কাছে দিন দশেক থাকুক; পরে আপনারা যেতে পারেন।”
GEN 24:56 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, “আমাকে আটকে রাখবেন না, যেহেতু সদাপ্রভু আমার যাত্রা সফল করেছেন। আমাকে বিদায় দিন, যেন আমি আমার প্রভুর কাছে যেতে পারি।”
GEN 24:57 তখন তাঁরা বললেন, “মেয়েটিকে ডাকা হোক এবং তাকেই এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যাক।”
GEN 24:58 অতএব তাঁরা রিবিকাকে ডেকে এনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এই লোকটির সঙ্গে যাবে?” “আমি যাব,” তিনি বললেন।
GEN 24:59 অতএব তাঁরা তাঁদের বোন রিবিকাকে ও তাঁর ধাত্রীকে এবং অব্রাহামের দাস ও তাঁর লোকজনকে বিদায় জানালেন।
GEN 24:60 আর তাঁরা রিবিকাকে আশীর্বাদ করে তাঁকে বললেন, “হে আমাদের বোন, তুমি বৃদ্ধি পাও হাজার হাজার গুণ; তোমার সন্তানসন্ততি অধিকার করুক তাদের শত্রুদের নগরগুলি।”
GEN 24:61 পরে রিবিকা ও তাঁর সেবিকারা প্রস্তুত হয়ে উটের পিঠে চড়ে সেই লোকটির সাথে চলে গেলেন। অতএব সেই দাস রিবিকাকে সাথে নিয়ে প্রস্থান করলেন।
GEN 24:62 এদিকে ইস্‌হাক বের-লহয়-রোয়ী থেকে ফিরে আসছিলেন, কারণ তিনি তখন নেগেভে বসবাস করতেন।
GEN 24:63 এক সন্ধ্যায় তিনি ধ্যান করতে ক্ষেতে গেলেন, এবং যেই তিনি উপর দিকে তাকালেন, তিনি দেখতে পেলেন কয়েকটি উট এগিয়ে আসছে।
GEN 24:64 রিবিকাও উপর দিকে তাকালেন এবং ইস্‌হাককে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর উটের পিঠ থেকে নেমে
GEN 24:65 সেই দাসকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ক্ষেত থেকে যিনি আমাদের সাথে দেখা করতে এগিয়ে আসছেন, তিনি কে?” “তিনি আমার প্রভু,” সেই দাস উত্তর দিলেন। অতএব রিবিকা তাঁর ঘোমটা টেনে এনে নিজের মুখ ঢাকলেন।
GEN 24:66 পরে সেই দাস নিজে যা যা করেছিলেন সেসব তিনি ইস্‌হাককে বলে শোনালেন।
GEN 24:67 ইস্‌হাক রিবিকাকে তাঁর মা সারার তাঁবুতে নিয়ে এলেন, এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। অতএব রিবিকা তাঁর স্ত্রী হয়ে গেলেন, এবং ইস্‌হাক তাঁকে ভালোবাসলেন; আর ইস্‌হাক তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর সান্ত্বনা লাভ করলেন।
GEN 25:1 অব্রাহাম অন্য আর এক স্ত্রীকে বিয়ে করে আনলেন, যাঁর নাম কটুরা।
GEN 25:2 তাঁর জন্য কটুরা সিম্রণ, যকষণ, মদান, মিদিয়ন, যিষবক ও শূহের জন্ম দিলেন।
GEN 25:3 যক্‌ষণ শিবা এবং দদানের বাবা; অশূরীয়, লটূশীয় ও লিয়ূম্মীয়রা হল দদানের বংশধর।
GEN 25:4 মিদিয়নের ছেলেরা হল ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ ও ইলদায়া। এরা সবাই কটূরার বংশধর।
GEN 25:5 অব্রাহাম তাঁর অধিকারে থাকা সবকিছু ইস্‌হাককে দিলেন।
GEN 25:6 কিন্তু বেঁচে থাকাকালীনই অব্রাহাম তাঁর উপপত্নীদের ছেলেদের উপহারসামগ্রী দিলেন এবং তাঁর ছেলে ইস্‌হাকের কাছ থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দিয়ে পূর্বদেশে পাঠিয়ে দিলেন।
GEN 25:7 অব্রাহাম 175 বছর বেঁচেছিলেন।
GEN 25:8 পরে অব্রাহাম শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং যথেষ্ট বৃদ্ধাবস্থায়, বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ মানুষরূপে মারা গেলেন; এবং তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হলেন।
GEN 25:9 তাঁর ছেলে ইস্‌হাক ও ইশ্মায়েল তাঁকে হিত্তীয় সোহরের ছেলে ইফ্রোণের ক্ষেতে অবস্থিত মম্রির নিকটবর্তী মক্‌পেলা গুহাতে কবর দিলেন।
GEN 25:10 সেই ক্ষেতটি অব্রাহাম হিত্তীয়দের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন। সেখানেই অব্রাহাম ও তাঁর স্ত্রী সারা সমাধিস্থ হলেন।
GEN 25:11 অব্রাহামের মৃত্যুর পর, ঈশ্বর তাঁর সেই ছেলে ইস্‌হাককে আশীর্বাদ করলেন, যিনি তখন বের-লহয়-রোয়ীর কাছে বসবাস করছিলেন।
GEN 25:12 এই হল অব্রাহামের ছেলে সেই ইশ্মায়েলের বংশবৃত্তান্ত, যাঁকে সারার ক্রীতদাসী, মিশরীয়া হাগার, অব্রাহামের জন্য জন্ম দিয়েছিল।
GEN 25:13 এই হল ইশ্মায়েলের ছেলেদের নাম, যা তাদের জন্মের ক্রমানুসারে নথিভুক্ত করা হয়েছে: ইশ্মায়েলের বড়ো ছেলে নবায়োৎ, পরে কেদর, অদবেল, মিবসম,
GEN 25:14 মিশমা, দুমা, মসা,
GEN 25:15 হদদ, তেমা, যিটূর, নাফীশ ও কেদমা।
GEN 25:16 এরাই ইশ্মায়েলের সন্তান, এবং তাদের উপনিবেশ ও শিবির অনুসারে এই হল বারোজন গোষ্ঠী-শাসকদের নাম।
GEN 25:17 ইশ্মায়েল 137 বছর বেঁচেছিলেন। তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে মারা গেলেন, এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হলেন।
GEN 25:18 তাঁর বংশধরেরা আসিরিয়ার দিকে মিশরের পূর্বসীমার কাছাকাছি অবস্থিত হবীলা থেকে শূর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসতি স্থাপন করল। তারা তাদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয়-গোষ্ঠীদের প্রতি শত্রুতাভাব বজায় রেখে বসবাস করে যাচ্ছিল।
GEN 25:19 এই হল অব্রাহামের ছেলে ইস্‌হাকের পারিবারিক বংশবৃত্তান্ত। অব্রাহাম ইস্‌হাকের বাবা হলেন,
GEN 25:20 এবং ইস্‌হাক চল্লিশ বছর বয়সে সেই রিবিকাকে বিয়ে করলেন, যিনি পদ্দন-আরামের বাসিন্দা অরামীয় বথূয়েলের মেয়ে এবং অরামীয় লাবনের বোন।
GEN 25:21 ইস্‌হাক তাঁর স্ত্রীর হয়ে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, কারণ রিবিকা নিঃসন্তান ছিলেন। সদাপ্রভু তাঁর প্রার্থনার উত্তর দিলেন, এবং তাঁর স্ত্রী রিবিকা গর্ভবতী হলেন।
GEN 25:22 শিশুরা রিবিকার গর্ভে একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিল, এবং তিনি বললেন, “আমার ক্ষেত্রে কেন এমন ঘটছে?” অতএব তিনি সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নিতে গেলেন।
GEN 25:23 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “তোমার গর্ভে দুই জাতি আছে, এবং তোমার মধ্য থেকেই দুই বংশ পৃথক হবে; এক বংশ অন্য বংশ থেকে বেশি শক্তিশালী হবে, এবং বড়ো ছেলে ছোটো ছেলের সেবা করবে।”
GEN 25:24 সন্তান প্রসবের সময়কাল ঘনিয়ে এলে দেখা গেল তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান।
GEN 25:25 প্রথমে যে ভূমিষ্ঠ হল, তার গায়ের রং ছিল লাল, এবং তার সারা শরীর ছিল লোমশ পোশাকের মতো; তাই তাঁরা তার নাম দিলেন এষৌ।
GEN 25:26 পরে, তার সেই ভাই বেরিয়ে এল, যার হাত এষৌর গোড়ালি ধরে রেখেছিল; তাই তার নাম দেওয়া হল যাকোব। রিবিকা যখন তাদের জন্ম দেন তখন ইস্‌হাকের বয়স 60 বছর।
GEN 25:27 ছেলেরা বেড়ে উঠেছিল, এবং এষৌ এমন এক নিপুণ শিকারি হয়ে উঠছিল, যিনি বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়াতেন, অন্যদিকে যাকোব ঘরের ভিতরে তাঁবুর মধ্যেই থাকতে পছন্দ করতেন।
GEN 25:28 যিনি শিকার করা পশুর মাংস খেতে পছন্দ করতেন, সেই ইস্‌হাক এষৌকে ভালোবাসতেন, কিন্তু রিবিকা যাকোবকে ভালোবাসতেন।
GEN 25:29 একবার যাকোব যখন খানিকটা ঝোল-তরকারী রান্না করছিলেন, এষৌ তখন মাঠ থেকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন।
GEN 25:30 তিনি যাকোবকে বললেন, “তাড়াতাড়ি আমাকে লাল রংয়ের ওই ঝোল-তরকারী থেকে কিছুটা খেতে দাও! আমি ক্ষুধার্ত!” (এই জন্য তাঁকে ইদোম নামেও ডাকা হয়।)
GEN 25:31 যাকোব উত্তর দিলেন, “প্রথমে তুমি আমার কাছে তোমার জ্যেষ্ঠাধিকার বিক্রি করো।”
GEN 25:32 দেখো, আমি প্রায় মরতে চলেছি, “এষৌ বললেন। জ্যেষ্ঠাধিকার আমার কী কাজে লাগবে?”
GEN 25:33 কিন্তু যাকোব বললেন, “প্রথমে আমার কাছে শপথ করো।” অতএব এষৌ তাঁর কাছে শপথ করলেন, তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার যাকোবের কাছে বিক্রি করে দিলেন।
GEN 25:34 পরে যাকোব এষৌকে কয়েকটি রুটি ও মশুরি দিয়ে তৈরি কিছুটা ঝোল-তরকারী দিলেন। তিনি ভোজনপান করলেন, ও পরে উঠে চলে গেলেন। অতএব এষৌ তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার হেয় জ্ঞান করলেন।
GEN 26:1 এদিকে দেশে এক দুর্ভিক্ষ হল—যা অব্রাহামের সময়কালে হওয়া সাবেক দুর্ভিক্ষের অতিরিক্ত—এবং ইস্‌হাক গরারে ফিলিস্তিনীদের রাজা অবীমেলকের কাছে গেলেন।
GEN 26:2 সদাপ্রভু ইস্‌হাককে দর্শন দিয়ে বললেন, “তুমি মিশরে যেয়ো না; সেই দেশেই বসবাস করো, যেখানে আমি তোমাকে বসবাস করতে বলছি।
GEN 26:3 এদেশেই কিছুকাল থেকে যাও, আর আমি তোমার সহবর্তী হব ও তোমাকে আশীর্বাদ করব। কারণ তোমাকে ও তোমার বংশধরদের আমি এইসব দেশ দেব এবং তোমার বাবা অব্রাহামের কাছে করা আমার সেই শপথ বলবৎ করব।
GEN 26:4 আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যা আকাশের তারাগুলির মতো বিপুল সংখ্যক করব এবং তাদের এইসব দেশ দেব, এবং তোমার সন্তানসন্ততির মাধ্যমে পৃথিবীর সব জাতি আশীর্বাদ লাভ করবে,
GEN 26:5 কারণ অব্রাহাম আমার বাধ্য হয়েছিল এবং আমার আদেশ, আমার হুকুম ও আমার নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে আমি তার কাছে যা কিছু চেয়েছিলাম, সে সবকিছু করেছিল।”
GEN 26:6 অতএব ইস্‌হাক গরারেই থেকে গেলেন।
GEN 26:7 সেখানকার লোকজন যখন তাঁকে তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বললেন, “সে আমার বোন,” কারণ “সে আমার স্ত্রী” একথা বলতে তাঁর ভয় হল। তিনি ভাবলেন, “এখানকার লোকজন রিবিকার জন্য আমাকে হয়তো মেরে ফেলবে, কারণ সে সুন্দরী।”
GEN 26:8 বেশ কিছুকাল ইস্‌হাক সেখানে থেকে যাওয়ার পর, ফিলিস্তিনীদের রাজা অবীমেলক জানালা থেকে নিচে তাকালেন এবং দেখতে পেলেন যে ইস্‌হাক তাঁর স্ত্রী রিবিকাকে আদর-সোহাগ করছেন।
GEN 26:9 অতএব অবীমেলক ইস্‌হাককে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “উনি সত্যিই আপনার স্ত্রী! আপনি কেন তবে বললেন, ‘সে আমার বোন’?” ইস্‌হাক তাঁকে উত্তর দিলেন, “কারণ আমি ভেবেছিলাম, তার জন্য আমাকে হয়তো প্রাণ হারাতে হবে।”
GEN 26:10 তখন অবীমেলক বললেন, “আপনি আমাদের প্রতি এ কী ব্যবহার করলেন? যে কোনো লোক অনায়াসে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে শুয়ে পড়তে পারত, আর আপনি আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে দিতেন।”
GEN 26:11 অতএব অবীমেলক প্রজাদের সবাইকে আদেশ দিলেন: “যে কোনো লোক এই লোকটির বা তাঁর স্ত্রীর ক্ষতিসাধন করবে, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।”
GEN 26:12 ইস্‌হাক সেই দেশে চাষাবাদ করলেন এবং সেবছর একশো গুণ ফসল পেলেন, কারণ সদাপ্রভু তাঁকে আশীর্বাদ করলেন।
GEN 26:13 তিনি ধনী হয়ে গেলেন এবং যতদিন না তিনি অত্যন্ত ধনী হতে পেরেছিলেন, তাঁর ধনসম্পদ ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছিল।
GEN 26:14 তাঁর এত মেষপাল ও গবাদি পশুপাল এবং দাস-দাসী হল যে ফিলিস্তিনীরা তাঁকে হিংসা করতে লাগল।
GEN 26:15 অতএব তাঁর বাবা অব্রাহামের সময় তাঁর বাবার দাসেরা যে কুয়োগুলি খুঁড়েছিল, ফিলিস্তিনীরা মাটি ফেলে সেগুলি ভরাট করে দিল।
GEN 26:16 তখন অবীমেলক ইস্‌হাককে বললেন, “আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যান; আমাদের তুলনায় আপনি খুব বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।”
GEN 26:17 অতএব ইস্‌হাক সেখান থেকে দূরে সরে গিয়ে গরার উপত্যকায় শিবির স্থাপন করলেন।
GEN 26:18 তাঁর বাবা অব্রাহামের সময় যে কুয়োগুলি খোঁড়া হয়েছিল, ও অব্রাহামের মৃত্যুর পর যেগুলি ফিলিস্তিনীরা ভরাট করে দিয়েছিল, ইস্‌হাক আর একবার সেগুলি খুঁড়িয়েছিলেন, এবং তাঁর বাবা সেগুলির যে যে নাম দিয়েছিলেন, তিনিও সেগুলির সেই সেই নাম বজায় রাখলেন।
GEN 26:19 ইস্‌হাকের দাসেরা সেই উপত্যকায় মাটি খুঁড়ে সেখানে টাটকা জলের একটি কুয়ো খুঁজে পেয়েছিল।
GEN 26:20 কিন্তু গরারের রাখালেরা ইস্‌হাকের রাখালদের সঙ্গে ঝগড়া করে বলল, “এই জল আমাদের!” তাই তিনি সেই কুয়োর নাম দিলেন এষক, কারণ তারা তাঁর সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।
GEN 26:21 পরে তারা আরও একটি কুয়ো খুঁড়েছিল, কিন্তু তারা সেটির জন্যও ঝগড়া করল; তাই তিনি সেটির নাম দিলেন সিটনা।
GEN 26:22 সেখান থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি আরও একটি কুয়ো খোঁড়ালেন, এবং সেটির জন্য কেউই ঝগড়া করেনি। এই বলে তিনি সেটির নাম দিলেন রহোবোৎ, যে “সদাপ্রভু এখন আমাদের স্থান করে দিয়েছেন এবং আমরা এই দেশে সমৃদ্ধিলাভ করব।”
GEN 26:23 সেখান থেকে তিনি বের-শেবার দিকে উঠে গেলেন।
GEN 26:24 সেরাতে সদাপ্রভু তাঁকে দর্শন দিয়ে বললেন, “আমি তোমার বাবা অব্রাহামের ঈশ্বর। ভয় কোরো না, কারণ আমি তোমার সাথে আছি; আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব এবং আমার দাস অব্রাহামের খাতিরে আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব।”
GEN 26:25 ইস্‌হাক সেখানে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন এবং সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন। সেখানে তিনি তাঁবু খাটালেন, এবং সেখানে তাঁর দাসেরা একটি কুয়ো খুঁড়ল।
GEN 26:26 ইত্যবসরে, অবীমেলক গরার থেকে তাঁর কাছে আসলেন, ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত পরামর্শদাতা অহূষৎ ও তাঁর সেনাবাহিনীর সেনাপতি ফীকোল।
GEN 26:27 ইস্‌হাক তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনারা কেন আমার কাছে এসেছেন, যেহেতু আপনারা তো আমার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন এবং আমাকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন?”
GEN 26:28 তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা স্পষ্টই দেখেছি যে, সদাপ্রভু আপনার সাথে ছিলেন; তাই আমরা বলছি, ‘আমাদের মধ্যে এক শপথ-চুক্তি হওয়া উচিত—আমাদের এবং আপনার মধ্যে।’ আসুন, আপনার সঙ্গে আমরা এমন এক সন্ধি করি
GEN 26:29 যে আপনি আমাদের কোনও ক্ষতি করবেন না, ঠিক যেভাবে আমরা আপনার ক্ষতি করিনি, কিন্তু সবসময় আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করেছি এবং শান্তিপূর্বক আপনাকে বিদায় দিয়েছিলাম। আর এখন আপনি সদাপ্রভুর আশীর্বাদধন্য হয়েছেন।”
GEN 26:30 ইস্‌হাক তখন তাঁদের জন্য এক ভোজসভার আয়োজন করলেন, এবং তাঁরা ভোজনপান করলেন।
GEN 26:31 পরদিন ভোরবেলায় তাঁরা পরস্পরের উদ্দেশে শপথ করলেন। পরে ইস্‌হাক তাঁদের বিদায় দিলেন, এবং তাঁরাও শান্তিপূর্বক প্রস্থান করলেন।
GEN 26:32 সেইদিনই ইস্‌হাকের দাসেরা তাঁর কাছে এসে যে কুয়োটি তারা খুঁড়েছিল, সেটির কথা তাঁকে বলে শুনিয়েছিল। তারা বলল, “আমরা জল পেয়েছি!”
GEN 26:33 তিনি সেটির নাম দিলেন শেবা, আর আজও পর্যন্ত সেই নগরটি বের-শেবা নামাঙ্কিত হয়ে আছে।
GEN 26:34 এষৌর বয়স যখন চল্লিশ বছর, তখন তিনি হিত্তীয় বেরির মেয়ে যিহূদীৎকে, এবং হিত্তীয় এলোনের মেয়ে বাসমৎকেও বিয়ে করলেন।
GEN 26:35 ইস্‌হাক ও রিবিকার কাছে তারা মর্মযন্ত্রণার উৎস হল।
GEN 27:1 ইস্‌হাক যখন বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন ও তাঁর চোখদুটি যখন এত দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে তিনি আর দেখতেই পারতেন না, তখন তিনি তাঁর বড়ো ছেলে এষৌকে ডেকে তাঁকে বললেন, “বাছা।” “এই তো আমি এখানে,” এষৌ উত্তর দিলেন।
GEN 27:2 ইস্‌হাক বললেন, “আমি এখন বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি আর এও জানি না কবে আমার মৃত্যু হবে।
GEN 27:3 তাই এখন, তোমার সাজসরঞ্জাম—তোমার তূণীর ও ধনুক হাতে তুলে নাও—এবং মরুপ্রান্তরে গিয়ে আমার জন্য পশু শিকার করে আনো।
GEN 27:4 আমি যে ধরনের সুস্বাদু খাবার পছন্দ করি, সেরকম পদ রান্না করে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তা খাব; যেন মারা যাওয়ার আগে আমি আমার আশীর্বাদ তোমাকে দিয়ে যেতে পারি।”
GEN 27:5 ইস্‌হাক যখন এষৌর সাথে কথা বলছিলেন তখন রিবিকা তা শুনে ফেলেছিলেন। এষৌ যখন শিকার করে আনার জন্য মরুপ্রান্তরের উদ্দেশে বেড়িয়ে পড়লেন,
GEN 27:6 তখন রিবিকা তাঁর ছেলে যাকোবকে বললেন, “দেখো, আমি আড়ি পেতে শুনে ফেলেছি, তোমার বাবা তোমার দাদা এষৌকে বলেছেন,
GEN 27:7 ‘আমার কাছে শিকার করা পশুর মাংস নিয়ে এসো এবং আমার জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করো, যেন মারা যাওয়ার আগে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে আমি তোমায় আশীর্বাদ দিয়ে যেতে পারি।’
GEN 27:8 এখন বাছা, আমি তোমাকে যা বলছি তা ভালো করে শোনো এবং আমি যা বলছি, তাই করো:
GEN 27:9 পশুপালের কাছে চলে যাও এবং বাছাই করা দুটি কচি পাঁঠা নিয়ে এসো, যেন আমি তোমার বাবার জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করে দিতে পারি, ঠিক যেমনটি তিনি পছন্দ করেন।
GEN 27:10 পরে তুমি তা নিয়ে গিয়ে তোমার বাবাকে খেতে দিয়ো, যেন মারা যাওয়ার আগে তিনি তোমাকে তাঁর আশীর্বাদ দিয়ে যেতে পারেন।”
GEN 27:11 যাকোব তাঁর মা রিবিকাকে বললেন, “কিন্তু আমার দাদা এষৌ যে এক লোমশ মানুষ, অথচ আমার ত্বক তো মসৃণ।
GEN 27:12 আমার বাবা যদি আমাকে স্পর্শ করেন তবে কী হবে? আমি যে তাঁর সাথে ছলচাতুরি করছি তা প্রমাণ হয়ে যাবে এবং আমার উপর আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ নেমে আসবে।”
GEN 27:13 তাঁর মা তাঁকে বললেন, “বাছা, সেই অভিশাপ আমার উপরেই নেমে আসুক। আমি যা বলছি তুমি শুধু তাই করো; যাও ও আমার জন্য সেগুলি নিয়ে এসো।”
GEN 27:14 অতএব তিনি চলে গেলেন ও সেগুলি সংগ্রহ করে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে এলেন, এবং তাঁর বাবা যেমনটি পছন্দ করতেন, রিবিকা ঠিক তেমনই সুস্বাদু খাবার রান্না করে দিলেন।
GEN 27:15 পরে রিবিকা তাঁর বড়ো ছেলে এষৌর সবচেয়ে ভালো সেই পোশাকগুলি বের করলেন, যা সেই বাড়িতেই রাখা ছিল, এবং সেগুলি তাঁর ছোটো ছেলে যাকোবের গায়ে পরিয়ে দিলেন।
GEN 27:16 তিনি যাকোবের দুটি হাত ও ঘাড়ের মসৃণ অংশগুলি ছাগচর্ম দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিলেন।
GEN 27:17 পরে তিনি তাঁর ছেলে যাকোবের হাতে তাঁর নিজের হাতে তৈরি করা সেই সুস্বাদু খাবার ও রুটি তুলে দিলেন।
GEN 27:18 যাকোব তাঁর বাবার কাছে গিয়ে বললেন, “বাবা।” “হ্যাঁ বাছা,” তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি কে?”
GEN 27:19 যাকোব তাঁর বাবাকে বললেন, “আমি আপনার বড়ো ছেলে এষৌ। আপনি আমায় যা বলেছিলেন, আমি তাই করেছি। দয়া করে উঠে বসুন এবং আমার শিকার করা পশুর মাংসের খানিকটা অংশ খান, যেন আপনি আমাকে আপনার আশীর্বাদ দিতে পারেন।”
GEN 27:20 ইস্‌হাক তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “বাছা, এত তাড়াতাড়ি তুমি কীভাবে তা খুঁজে পেলে?” “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাকে সফলতা দিয়েছেন,” তিনি উত্তর দিলেন।
GEN 27:21 তখন ইস্‌হাক যাকোবকে বললেন, “বাছা, আমার কাছে এসো, যেন আমি তোমাকে স্পর্শ করে বুঝতে পারি তুমি সত্যিই আমার ছেলে এষৌ কি না।”
GEN 27:22 যাকোব তাঁর বাবা ইস্‌হাকের কাছে গেলেন, ও তিনি যাকোবকে স্পর্শ করে বললেন, “কণ্ঠস্বর তো যাকোবের কণ্ঠস্বরের মতো, কিন্তু হাত দুটি এষৌর হাতের মতো।”
GEN 27:23 তিনি যাকোবকে চিনতে পারেননি, কারণ তাঁর হাত দুটি তাঁর দাদা এষৌর হাতের মতোই লোমশ ছিল; তাই তিনি তাঁকে আশীর্বাদ করার জন্য এগিয়ে গেলেন।
GEN 27:24 “তুমি কি সত্যিই আমার ছেলে এষৌ?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। “হ্যাঁ,” যাকোব উত্তর দিলেন।
GEN 27:25 তখন তিনি বললেন, “বাছা, শিকার করা পশুর মাংস খাওয়ার জন্য খানিকটা আমার কাছে নিয়ে এসো, যেন আমি তোমাকে আমার আশীর্বাদ দিতে পারি।” যাকোব তাঁর কাছে তা নিয়ে এলেন ও তিনি তা খেলেন; এবং যাকোব তাঁকে কিছুটা দ্রাক্ষারসও এনে দিলেন ও তিনি তা পান করলেন।
GEN 27:26 তখন তাঁর বাবা ইস্‌হাক তাঁকে বললেন, “বাছা, এখানে এসো, ও আমাকে চুমু দাও।”
GEN 27:27 অতএব যাকোব তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে চুমু দিলেন। ইস্‌হাক যখন তাঁর পোশাকের গন্ধ শুঁকলেন, তখন তিনি তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন, “আহা, আমার ছেলের সুগন্ধ তা যেন এমন এক ক্ষেতের সুগন্ধ যা সদাপ্রভুর আশীর্বাদধন্য।
GEN 27:28 ঈশ্বর তোমাকে আকাশের শিশির আর ভূমির প্রাচুর্য— শস্যপ্রাচুর্য ও নতুন দ্রাক্ষারস দান করুন।
GEN 27:29 জাতিরা তোমার সেবা করুক এবং মানুষজন তোমার কাছে মাথা নত করুক। তোমার ভাইদের উপর তুমি প্রভুত্ব করো, আর তোমার মায়ের ছেলেরা তোমার কাছে মাথা নত করুক। যারা তোমাকে অভিশাপ দেয় তারা শাপগ্রস্ত হোক আর যারা তোমাকে আশীর্বাদ দেয় তারা আশীর্বাদধন্য হোক।”
GEN 27:30 ইস্‌হাক যাকোবকে আশীর্বাদ করার পর, ও তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে প্রস্থান করতে না করতেই, তাঁর দাদা এষৌ শিকার করে ফিরে এলেন।
GEN 27:31 তিনিও খানিকটা সুস্বাদু খাবার রান্না করে সেটি তাঁর বাবার কাছে আনলেন। পরে তিনি তাঁকে বললেন, “বাবা, দয়া করে উঠে বসুন ও আমার শিকার করা পশুর মাংসের তরকারি খানিকটা খেয়ে নিন, যেন আপনি আমাকে আপনার আশীর্বাদ দিতে পারেন।”
GEN 27:32 তাঁর বাবা ইস্‌হাক তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কে?” “আমি তো আপনার ছেলে,” তিনি উত্তর দিলেন, “আপনার বড়ো ছেলে এষৌ।”
GEN 27:33 ইস্‌হাক প্রবলভাবে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, “তবে, সে কে ছিল, যে পশু শিকার করেছিল ও আমার কাছে তা নিয়ে এসেছিল? তুমি আসার খানিকক্ষণ আগেই আমি তা খেয়ে ফেলেছি ও তাকে আশীর্বাদ দিয়েছি—আর সে অবশ্যই আশীর্বাদধন্য হবে!”
GEN 27:34 তাঁর বাবার কথা শুনে এষৌ জোর গলায় চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলেন এবং তাঁর বাবাকে বললেন, “বাবা, আমাকে—আমাকেও আশীর্বাদ করুন!”
GEN 27:35 কিন্তু তিনি বললেন, “তোমার ভাই ছলনা করে এসেছিল ও তোমার আশীর্বাদ আত্মসাৎ করে নিয়ে গিয়েছে।”
GEN 27:36 এষৌ বললেন, “তার নাম যাকোব রাখাই কি উচিত হয়নি? সে এই দ্বিতীয়বার আমার সাথে প্রতারণা করল: সে আমার জ্যেষ্ঠাধিকার আত্মসাৎ করেছিল আর এখন সে আমার আশীর্বাদও আত্মসাৎ করে নিল!” পরে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার জন্য আর কোনও আশীর্বাদ কি আপনি রাখেননি?”
GEN 27:37 ইস্‌হাক এষৌকে উত্তর দিলেন, “তোমার উপর আমি তাকে প্রভু করে দিয়েছি ও তার সব আত্মীয়স্বজনকে আমি তার দাস করে দিয়েছি, এবং খাদ্যশস্য ও নতুন দ্রাক্ষারস দিয়ে আমি তাকে সবল করেছি। তাই, বাছা, তোমার জন্য এখন আমি আর কী করতে পারি?”
GEN 27:38 এষৌ তাঁর বাবাকে বললেন, “বাবা, আপনার কাছে কি শুধু একটিই আশীর্বাদ আছে? বাবা, আমাকেও আশীর্বাদ করুন না!” পরে এষৌ জোর গলায় কেঁদে ফেলেছিলেন।
GEN 27:39 তাঁর বাবা ইস্‌হাক তাঁকে উত্তর দিলেন, “তোমার বাসস্থান হবে ভূমির প্রাচুর্য থেকে দূরবর্তী, ঊর্ধ্বস্থ আকাশের শিশির থেকে দূরবর্তী।
GEN 27:40 তরোয়ালের সাহায্যেই তুমি বেঁচে থাকবে আর তুমি তোমার ভাইয়ের সেবা করবে। কিন্তু তুমি যখন অস্থির হয়ে পড়বে, তখন তোমার কাঁধ থেকে তুমি তার জোয়াল ঝেড়ে ফেলবে।”
GEN 27:41 যাকোবের বিরুদ্ধে এষৌ মনে আক্রোশ পুষে রাখলেন, কারণ তাঁর বাবা যাকোবকে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন। তিনি মনে মনে বললেন, “আমার বাবার জন্য শোকপ্রকাশের সময় আসন্ন; তারপরেই আমি আমার ভাই যাকোবকে হত্যা করব।”
GEN 27:42 রিবিকার বড়ো ছেলে কী বলেছেন, তা যখন তাঁকে বলা হল, তখন রিবিকা লোক পাঠিয়ে তাঁর ছোটো ছেলে যাকোবকে ডেকে পাঠালেন ও তাঁকে বললেন, “তোমার দাদা এষৌ তোমাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
GEN 27:43 এখন তবে, বাছা, আমি যা বলছি তুমি তাই করো: এখনই তুমি হারণে আমার দাদা লাবনের কাছে পালিয়ে যাও।
GEN 27:44 সেখানে অল্প কিছুদিন তাঁর কাছে গিয়ে থাকো, যতদিন না তোমার দাদার রাগ কমছে।
GEN 27:45 যখন তোমার উপর তোমার দাদার রাগ শান্ত হয়ে যাবে ও তুমি যা যা করেছ, সে যখন সেসব কথা ভুলে যাবে, তখন আমি সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য তোমাকে খবর পাঠাব। একই দিনে কেন আমি তোমাদের দুজনকেই হারাব?”
GEN 27:46 পরে রিবিকা ইস্‌হাককে বললেন, “এই হিত্তীয় মেয়েদের সাথে বসবাস করতে করতে আমি বিতৃষ্ণ হয়ে পড়েছি। এদের মতো যাকোবও যদি এই দেশের মেয়েদের মধ্যে থেকে, অর্থাৎ হিত্তীয় মেয়েদের মধ্যে থেকে কাউকে তার স্ত্রী করে আনে, তবে আমার বেঁচে থাকাই অর্থহীন হয়ে যাবে।”
GEN 28:1 অতএব ইস্‌হাক যাকোবকে ডেকে পাঠালেন ও তাঁকে আশীর্বাদ করলেন। পরে তিনি তাঁকে আদেশ দিলেন: “কনানীয় কোনো মেয়েকে তুমি বিয়ে কোরো না।
GEN 28:2 এখনই তুমি পদ্দন-আরামে, তোমার দাদু বথূয়েলের বাড়িতে যাও। সেখান থেকেই, তোমার মামা লাবনের মেয়েদের মধ্যে থেকেই কাউকে তোমার স্ত্রীরূপে গ্রহণ কোরো।
GEN 28:3 সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাকে আশীর্বাদ করুন ও তোমাকে ফলবান করুন এবং যতদিন না তুমি এক জনসমাজ হয়ে উঠছ, ততদিন তোমার সংখ্যা বৃদ্ধি করে যান।
GEN 28:4 অব্রাহামকে যে আশীর্বাদ দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন তোমাকে ও তোমার বংশধরদের সেই আশীর্বাদই দেন, যার বলে তুমি সেই দেশের দখল নিতে পারো, যেখানে এখন তুমি এক বিদেশিরূপে বসবাস করছ, তা সেই দেশ, যেটি ঈশ্বর অব্রাহামকে দিয়েছিলেন।”
GEN 28:5 পরে ইস্‌হাক যাকোবকে বিদায় করে দিলেন, এবং তিনি পদ্দন-আরামে, অরামীয় বথূয়েলের ছেলে সেই লাবনের কাছে গেলেন, যিনি সেই রিবিকার দাদা, যিনি যাকোব ও এষৌর মা।
GEN 28:6 এদিকে এষৌ জানতে পারলেন যে ইস্‌হাক যাকোবকে আশীর্বাদ করে পদ্দন-আরাম থেকে এক স্ত্রী আনার জন্য তাঁকে সেখানে পাঠিয়েছেন, এবং আশীর্বাদ দেওয়ার সময় তিনি তাঁকে এই আদেশও দিয়েছেন, “কনানীয় কোনো মেয়েকে বিয়ে কোরো না,”
GEN 28:7 এবং যাকোবও তাঁর বাবা-মায়ের আদেশ পালন করে পদ্দন-আরামে চলে গিয়েছেন।
GEN 28:8 এষৌ তখন অনুভব করলেন কনানীয় মেয়েরা তাঁর বাবা ইস্‌হাকের কাছে কত অপছন্দসই;
GEN 28:9 তাই তাঁর একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি ইশ্মায়েলের কাছে গেলেন এবং সেই মহলৎকে বিয়ে করলেন, যিনি অব্রাহামের ছেলে ইশ্মায়েলের মেয়ে নবায়োতের বোন।
GEN 28:10 যাকোব বের-শেবা ত্যাগ করে হারণের দিকে যাত্রা শুরু করলেন।
GEN 28:11 নির্দিষ্ট এক স্থানে পৌঁছে, তিনি রাত্রিবাসের জন্য থামলেন, কারণ সূর্যাস্ত হয়ে গিয়েছিল। সেখানকার একটি পাথর নিয়ে, সেটি তিনি তাঁর মাথার নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন।
GEN 28:12 তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন এবং সেই স্বপ্নে তিনি দেখলেন যে একটি সিঁড়ি পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে আছে, ও সেটির মাথা আকাশ ছুঁয়েছে, এবং ঈশ্বরের দূতেরা সেটির উপর দিয়ে ওঠানামা করছেন।
GEN 28:13 সেটির মাথায় সদাপ্রভু দাঁড়িয়েছিলেন, এবং তিনি বললেন: “আমি সেই সদাপ্রভু, তোমার পূর্বপুরুষ অব্রাহামের ঈশ্বর ও ইস্‌হাকের ঈশ্বর। তুমি যে জমিতে শুয়ে আছ সেটি আমি তোমাকে ও তোমার বংশধরদের দেব।
GEN 28:14 তোমার বংশধরেরা পৃথিবীর ধূলিকণার মতো হয়ে যাবে, এবং তুমি পশ্চিমে ও পূর্বে, উত্তরে ও দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়বে। তোমার ও তোমার সন্তানসন্ততির মাধ্যমেই পৃথিবীর সব লোকজন আশীর্বাদধন্য হবে।
GEN 28:15 আমি তোমার সাথেই আছি ও তুমি যেখানেই যাও না কেন, আমি তোমার উপর নজর রাখব, এবং তোমাকে এই দেশেই ফিরিয়ে আনব। যতদিন না আমি তোমার কাছে আমার করা প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করছি, ততদিন আমি তোমাকে ত্যাগ করব না।”
GEN 28:16 ঘুম ভেঙে জেগে ওঠার পর, যাকোব ভাবলেন, “সদাপ্রভু নিশ্চয় এখানে আছেন, এবং আমি তা বুঝতে পারিনি।”
GEN 28:17 তিনি ভয় পেয়ে গিয়ে বললেন, “এই স্থানটি কি ভয়ংকর! এটি ঈশ্বরের গৃহ ছাড়া আর অন্য কিছু নয়; এটিই স্বর্গদ্বার।”
GEN 28:18 পরদিন ভোরবেলায় যাকোব তাঁর মাথার নিচে রাখা পাথরটি নিয়ে সেটি এক স্তম্ভরূপে স্থাপন করলেন এবং সেটির উপর তেল ঢেলে দিলেন।
GEN 28:19 তিনি সেই স্থানটির নাম বেথেল রাখলেন, যদিও সেই নগরটিকে আগে লূস নামে ডাকা হত।
GEN 28:20 পরে যাকোব এই বলে এক শপথ নিলেন যে, “আমার এই যাত্রাপথে ঈশ্বর যদি আমার সাথে থাকেন ও আমার উপর নজর রাখেন এবং আমাকে খাওয়ার জন্য খাদ্য ও গায়ে পরার জন্য বস্ত্র জোগান,
GEN 28:21 যেন আমি আমার বাবার ঘরে নিরাপদে ফিরে যেতে পারি, তবে সদাপ্রভু আমার ঈশ্বর হবেন
GEN 28:22 এবং এই যে পাথরটি আমি স্তম্ভরূপে স্থাপন করেছি, সেটিই ঈশ্বরের গৃহ হবে, এবং তুমি আমাকে যা কিছু দেবে, আমি অবশ্যই তোমাকে তার দশমাংশ দেব।”
GEN 29:1 পরে যাকোব তাঁর যাত্রাপথে এগিয়ে গেলেন এবং প্রাচ্যদেশীয় লোকদের দেশে পৌঁছালেন।
GEN 29:2 সেখানে খোলা মাঠের মধ্যে তিনি একটি কুয়ো দেখতে পেলেন, যার কাছে মেষের তিনটি পাল শুয়েছিল, কারণ সেই কুয়ো থেকে পালগুলিকে জলপান করানো হত। কুয়োর মুখের উপর রাখা পাথরটি খুব বড়ো ছিল।
GEN 29:3 সবকটি পাল যখন সেখানে একত্রিত হত, তখন মেষপালকেরা কুয়োর মুখ থেকে সেই পাথরটি সরিয়ে মেষদের জলপান করাতো। পরে তারা আবার কুয়োর মুখে যথাস্থানে পাথরটি বসিয়ে দিত।
GEN 29:4 যাকোব মেষপালকদের জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আমার ভাইসকল, তোমরা কোথাকার লোক?” “আমরা হারণের অধিবাসী,” তারা উত্তর দিল।
GEN 29:5 তিনি তাদের বললেন, “তোমরা কি সেই লাবনকে চেন, যিনি নাহোরের নাতি?” “হ্যাঁ, আমরা তাঁকে চিনি,” তারা উত্তর দিল।
GEN 29:6 তখন যাকোব জিজ্ঞাসা করলেন, “তিনি ভালো আছেন তো?” “হ্যাঁ, তিনি ভালো আছেন,” তারা বলল, “আর দেখুন, তাঁর মেয়ে রাহেল মেষপাল নিয়ে এদিকেই আসছে।”
GEN 29:7 “দেখো,” তিনি বললেন, “সূর্য এখনও মাথার উপরেই আছে; পালগুলি একত্রিত করার সময় এখনও হয়নি। মেষদের জলপান করিয়ে তাদের আবার চরাতে নিয়ে যাও।”
GEN 29:8 “আমরা তা পারবো না,” তারা উত্তর দিল, “আগে সব পাল একসঙ্গে একত্রিত হোক এবং কুয়োর মুখ থেকে পাথরটি সরানো হোক। পরে আমরা মেষদের জলপান করাব।”
GEN 29:9 তিনি তখনও তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, ইতিমধ্যে রাহেল তাঁর বাবার মেষপাল নিয়ে উপস্থিত হলেন, কারণ তিনি এক মেষপালিকা ছিলেন।
GEN 29:10 যাকোব যখন তাঁর মামা লাবনের মেয়ে রাহেলকে, ও লাবনের মেষদের দেখতে পেলেন, তখন তিনি এগিয়ে গিয়ে কুয়োর মুখ থেকে পাথরটি সরিয়ে দিলেন ও তাঁর মামার মেষদের জলপান করালেন।
GEN 29:11 পরে যাকোব রাহেলকে চুমু দিলেন এবং জোর গলায় কাঁদতে শুরু করলেন।
GEN 29:12 তিনি রাহেলকে বলে দিয়েছিলেন যে তিনি রাহেলের বাবার এক আত্মীয় ও রিবিকার এক ছেলে। তাই রাহেল দৌড়ে গিয়ে তাঁর বাবাকে সেকথা জানালেন।
GEN 29:13 যে মুহূর্তে লাবন তাঁর বোনের ছেলে যাকোবের খবর পেলেন, তিনি তাড়াতাড়ি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন ও তাঁকে চুমু দিলেন এবং তাঁকে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন, ও যাকোব সেখানে তাঁকে সবকিছু বলে শোনালেন।
GEN 29:14 তখন লাবন তাঁকে বললেন, “তুমি আমার আপন রক্তমাংসের আত্মীয়।” যাকোব সম্পূর্ণ এক মাস লাবনের সঙ্গে থাকার পর,
GEN 29:15 লাবন যাকোবকে বললেন, “তুমি আমার এক আত্মীয় বলে কি কিছু না নিয়েই আমার জন্য কাজ করবে? তোমার বেতন কত হওয়া উচিত তা তুমিই বলে দাও।”
GEN 29:16 লাবনের দুই মেয়ে ছিল; বড়টির নাম লেয়া ও ছোটোটির নাম রাহেল।
GEN 29:17 লেয়ার চোখদুটি দুর্বল ছিল, কিন্তু রাহেল স্বাস্থ্যবতী ও সুন্দরী ছিলেন।
GEN 29:18 যাকোব রাহেলের প্রেমে পড়ে গেলেন এবং তিনি বললেন, “আপনার ছোটো মেয়ে রাহেলের জন্য আমি সাত বছর আপনার কাছে কাজ করব।”
GEN 29:19 লাবন বললেন, “তাকে অন্য কোনও পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বরং তোমাকে দেওয়াই ভালো। আমার সঙ্গে তুমি এখানেই থাকো।”
GEN 29:20 অতএব যাকোব রাহেলকে পাওয়ার জন্য সাত বছর দাসত্ব করলেন, কিন্তু যেহেতু তিনি রাহেলকে ভালোবেসেছিলেন তাই এতগুলি বছর তাঁর কাছে মাত্র কয়েক দিন বলে মনে হল।
GEN 29:21 পরে যাকোব লাবনকে বললেন, “আমার স্ত্রীকে আমার হাতে তুলে দিন। আমার সময় সম্পূর্ণ হয়েছে, আর আমি তাকে প্রণয়জ্ঞাপন করতে চাই।”
GEN 29:22 অতএব লাবন সেখানকার সব লোকজনকে একত্রিত করে এক ভোজসভার আয়োজন করলেন।
GEN 29:23 কিন্তু সন্ধ্যাবেলায়, তিনি তাঁর মেয়ে লেয়াকে এনে তাঁকে যাকোবের কাছে পৌঁছে দিলেন এবং যাকোব তাঁকে প্রণয়জ্ঞাপন করলেন।
GEN 29:24 আর লাবন তাঁর দাসী সিল্পাকে তাঁর মেয়ে লেয়ার সেবিকারূপে তাঁকে দিলেন।
GEN 29:25 যখন সকাল হল, দেখা গেল তিনি লেয়া! অতএব যাকোব লাবনকে বললেন, “আপনি আমার সঙ্গে এ কী করলেন? আমি রাহেলের জন্যই তো আপনার দাসত্ব করেছি, তাই না? তবে কেন আপনি আমাকে ঠকালেন?”
GEN 29:26 লাবন উত্তর দিলেন, “আমাদের এখানে বড়ো মেয়ের আগে ছোটো মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রথা নেই।
GEN 29:27 এই মেয়েটির দাম্পত্য-সপ্তাহ সম্পূর্ণ করো; আরও সাত বছর কাজ করার পরিবর্তে পরে আমরা ছোটো মেয়েটিকেও তোমার হাতে তুলে দেব।”
GEN 29:28 আর যাকোব তেমনই করলেন। তিনি লেয়ার সপ্তাহ সম্পূর্ণ করলেন, এবং পরে লাবন তাঁর মেয়ে রাহেলকে যাকোবের স্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
GEN 29:29 লাবন তাঁর দাসী বিলহাকে রাহেলের সেবিকারূপে তাঁকে দিলেন।
GEN 29:30 যাকোব রাহেলকেও প্রণয়জ্ঞাপন করলেন, এবং লেয়াকে তিনি যত না ভালোবাসতেন, রাহেলকে সে তুলনায় অনেক বেশি ভালোবাসতেন। আর তিনি লাবনের জন্য আরও সাত বছর কাজ করলেন।
GEN 29:31 সদাপ্রভু যখন দেখলেন যে লেয়া ভালোবাসা পাচ্ছেন না, তখন তিনি তাঁকে গর্ভধারণের ক্ষমতা দিলেন, কিন্তু রাহেল নিঃসন্তান রয়ে গেলেন।
GEN 29:32 লেয়া অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং একটি ছেলের জন্ম দিলেন। তিনি তাঁর নাম রাখলেন রূবেণ, কারণ তিনি বললেন, “সদাপ্রভু আমার দুর্দশা দেখেছেন বলেই এমনটি ঘটেছে। এখন নিশ্চয় আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসবেন।”
GEN 29:33 তিনি আবার গর্ভবতী হলেন, এবং যখন তিনি আর একটি ছেলের জন্ম দিলেন, তখন তিনি বললেন, “যেহেতু সদাপ্রভু শুনেছেন যে আমি ভালোবাসা পাইনি, তাই তিনি আমাকে এই একটি ছেলেও দিলেন।” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন শিমিয়োন।
GEN 29:34 আবার তিনি গর্ভবতী হলেন, এবং যখন তিনি আর একটি ছেলের জন্ম দিলেন, তখন তিনি বললেন, “এখন অবশেষে আমার স্বামী আমার প্রতি সংলগ্ন হবেন, কারণ আমি তাঁর জন্য তিন ছেলের জন্ম দিয়েছি।” অতএব তার নাম রাখা হল লেবি।
GEN 29:35 তিনি আর একবার গর্ভবতী হলেন, এবং যখন তিনি আর একটি ছেলের জন্ম দিলেন, তখন তিনি বললেন, “এবার আমি সদাপ্রভুর প্রশংসা করব।” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন যিহূদা। পরে তিনি আর কোনও সন্তানের জন্ম দেননি।
GEN 30:1 রাহেল যখন দেখলেন যে তিনি যাকোবের জন্য কোনও সন্তানধারণ করতে পারছেন না, তখন তিনি তাঁর দিদির প্রতি ঈর্ষাকাতর হলেন। তাই তিনি যাকোবকে বললেন, “আমাকে সন্তান দাও, তা না হলে আমি মারা যাব!”
GEN 30:2 যাকোব তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, “আমি কি সেই ঈশ্বরের স্থান নিতে পারি, যিনি তোমাকে সন্তানধারণ করা থেকে বিরত রেখেছেন?”
GEN 30:3 তখন রাহেল বললেন, “আমার দাসী বিলহা তো আছে। এর সাথে শুয়ে পড়ো, যেন সে আমার জন্য সন্তানধারণ করতে পারে এবং আমিও তার মাধ্যমে এক পরিবার গড়ে তুলতে পারি।”
GEN 30:4 অতএব তিনি তাঁর দাসী বিলহাকে স্ত্রীরূপে যাকোবকে দিলেন। যাকোব তার সাথে শুলেন,
GEN 30:5 এবং সে গর্ভবতী হল ও তাঁর জন্য এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিল।
GEN 30:6 তখন রাহেল বললেন, “ঈশ্বর আমার পক্ষসমর্থন করেছেন; তিনি আমার অনুরোধ শুনেছেন ও আমাকে এক ছেলে দিয়েছেন।” এই জন্য তিনি তাঁর নাম রাখলেন দান।
GEN 30:7 রাহেলের দাসী বিলহা আবার গর্ভধারণ করল ও যাকোবের জন্য দ্বিতীয় এক ছেলের জন্ম দিল।
GEN 30:8 তখন রাহেল বললেন, “আমার দিদির সঙ্গে আমার এক মহাসংগ্রাম হয়েছে, এবং আমিই জয়লাভ করেছি।” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন নপ্তালি।
GEN 30:9 লেয়া যখন দেখলেন যে তিনি সন্তানধারণ করতে অপারক, তখন তিনি তাঁর দাসী সিল্পাকে এক স্ত্রীরূপে যাকোবকে দিলেন।
GEN 30:10 লেয়ার দাসী সিল্পা যাকোবের জন্য এক ছেলের জন্ম দিল।
GEN 30:11 তখন লেয়া বললেন, “আমার কী মহাসৌভাগ্য!” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন গাদ।
GEN 30:12 লেয়ার দাসী সিল্পা যাকোবের জন্য দ্বিতীয় এক ছেলের জন্ম দিল।
GEN 30:13 তখন লেয়া বললেন, “আমি কতই না সুখী! মহিলারা আমাকে সুখী বলে ডাকবে।” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন আশের।
GEN 30:14 গম গোলাজাত করার সময়, রূবেণ ক্ষেতে গেল ও কিছু দূদা লতাগুল্ম খুঁজে পেল, যা সে তার মা লেয়ার কাছে এনেছিল। রাহেল লেয়াকে বললেন, “তোমার ছেলের আনা দূদাগুলি থেকে আমাকে দয়া করে কিছুটা দাও।”
GEN 30:15 কিন্তু লেয়া তাঁকে বললেন, “এই কি যথেষ্ট নয় যে তুমি আমার স্বামীকে ছিনিয়ে নিয়েছ? তুমি আমার ছেলের দূদাগুলিও নেবে নাকি?” “ঠিক আছে,” রাহেল বললেন, “তোমার ছেলের দূদাগুলির পরিবর্তে যাকোব আজ রাতে তোমার সাথে শুতে পারেন।”
GEN 30:16 অতএব সেদিন সন্ধ্যাবেলায় যাকোব যখন ক্ষেত থেকে ফিরে এলেন, লেয়া তখন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে গেলেন। “তোমাকে আমার সাথে শুতে হবে,” তিনি বললেন। “আমি আমার ছেলের দূদাগুলি দিয়ে তোমাকে ভাড়া করেছি।” অতএব সেরাতে তিনি লেয়ার সাথে শুলেন।
GEN 30:17 ঈশ্বর লেয়ার প্রার্থনা শুনলেন ও তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং যাকোবের জন্য পঞ্চম এক ছেলের জন্ম দিলেন।
GEN 30:18 পরে লেয়া বললেন, “আমার স্বামীকে আমার দাসী দিয়েছি বলে ঈশ্বর আমাকে পুরস্কৃত করেছেন।” অতএব তিনি তার নাম রাখলেন ইষাখর।
GEN 30:19 লেয়া আবার গর্ভধারণ করলেন এবং যাকোবের জন্য ষষ্ঠ এক ছেলের জন্ম দিলেন।
GEN 30:20 পরে লেয়া বললেন, “ঈশ্বর আমাকে এক মূল্যবান উপহার দিয়েছেন। এবার আমার স্বামী আমাকে সম্মান দেবেন, কারণ আমি তাঁর জন্য ছয় ছেলের জন্ম দিয়েছি।” অতএব তিনি তাঁর নাম রাখলেন সবূলূন।
GEN 30:21 আরও কিছুকাল পরে তিনি এক মেয়ের জন্ম দিলেন এবং তার নাম রাখলেন দীণা।
GEN 30:22 পরে ঈশ্বর রাহেলকে স্মরণ করলেন; তিনি তাঁর প্রার্থনা শুনলেন ও তাঁকে গর্ভধারণের ক্ষমতা দিলেন।
GEN 30:23 তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং এক ছেলের জন্ম দিলেন ও বললেন, “ঈশ্বর আমার লাঞ্ছনা দূর করেছেন।”
GEN 30:24 তিনি তার নাম রাখলেন যোষেফ, এবং বললেন, “সদাপ্রভু আমার জীবনে আরও এক ছেলে যোগ করুন।”
GEN 30:25 রাহেল যোষেফের জন্ম দেওয়ার পর যাকোব লাবনকে বললেন, “আমাকে এবার যেতে দিন, যেন আমি নিজের স্বদেশে ফিরে যেতে পারি।
GEN 30:26 আমার সেই স্ত্রীদের ও সন্তানদেরও দিন, যাদের জন্য আমি আপনার দাসত্ব করেছি, এবং আমি দেশে ফিরে যাব। আপনি তো জানেন, আপনার জন্য আমি কত পরিশ্রম করেছি।”
GEN 30:27 কিন্তু লাবন তাঁকে বললেন, “আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে দাক্ষিণ্য পেয়ে থাকি, তবে দয়া করে এখানে থেকে যাও। আমি অলৌকিক উপায়ে জানতে পেরেছি যে তোমার কারণেই সদাপ্রভু আমাকে আশীর্বাদ করেছেন।”
GEN 30:28 তিনি আরও বললেন, “তুমি কত পারিশ্রমিক চাও তা বলো, ও আমি তোমাকে তা দিয়ে দেব।”
GEN 30:29 যাকোব তাঁকে বললেন, “আপনি জানেন আপনার জন্য আমি কীভাবে পরিশ্রম করেছি ও আমার যত্নআত্তিতে আপনার গবাদি পশুপাল কীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
GEN 30:30 আমি আসার আগে আপনার অল্পসল্প যা কিছু ছিল তা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আমি যেখানে থেকেছি সদাপ্রভু সেখানেই আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন। কিন্তু এখন, আমার নিজের পরিবারের জন্য আমি কখন কী করব?”
GEN 30:31 “আমি তোমাকে কী দেব?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। “আমাকে কিছু দিতে হবে না,” যাকোব উত্তর দিলেন। “কিন্তু আপনি যদি আমার জন্য এই একটি কাজ করেন, তবে আমি আপনার পশুপালের তত্ত্বাবধান করে যাব ও তাদের উপর নজরদারিও চালিয়ে যাব:
GEN 30:32 আজ আমাকে আপনার পশুপালের মধ্যে দিয়ে যেতে দিন এবং সেগুলির মধ্যে থেকে প্রত্যেকটি দাগযুক্ত বা তিলকিত মেষ, প্রত্যেকটি শ্যামবর্ণ মেষশাবক ও প্রত্যেকটি তিলকিত বা দাগযুক্ত ছাগল আলাদা করতে দিন। সেগুলিই হবে আমার পারিশ্রমিক।
GEN 30:33 আর ভবিষ্যতে যখনই আপনি আমাকে দেওয়া পারিশ্রমিকের হিসেব কষবেন, তখন আমার সততাই আমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে। আমার অধিকারে থাকা যে কোনো ছাগল যদি দাগযুক্ত বা তিলকিত না হয়, অথবা যে কোনো মেষশাবক যদি শ্যামবর্ণ না হয়, তবে তা চুরি করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
GEN 30:34 “আমি রাজি,” লাবন বললেন। “তোমার কথামতোই তা হোক।”
GEN 30:35 সেদিনই তিনি সেইসব মদ্দা ছাগল আলাদা করলেন, যেগুলি ডোরাকাটা বা তিলকিত, ও সেইসব মাদি ছাগলও আলাদা করলেন, যেগুলি দাগযুক্ত ও তিলকিত (যেগুলির গায়ে সাদা দাগ ছিল) এবং সব শ্যামবর্ণ মেষশাবকও আলাদা করলেন, ও সেগুলি তাঁর ছেলেদের তত্ত্বাবধানে রাখলেন।
GEN 30:36 পরে তিনি তাঁর নিজের ও যাকোবের মধ্যে তিনদিনের যাত্রার ব্যবধান রাখলেন, অন্যদিকে যাকোব লাবনের বাদবাকি পশুপালের তত্ত্বাবধান করে গেলেন।
GEN 30:37 যাকোব অবশ্য, চিনার, কাঠবাদাম ও প্লেইন গাছের সদ্য কাটা ডালপালা নিয়ে সেগুলির ছাল ছাড়িয়ে ও ডালপালার ভিতরদিকের সাদা কাঠ বের করে সেগুলির উপর সাদা লম্বা লম্বা দাগ বানিয়ে দিলেন।
GEN 30:38 পরে তিনি সেইসব ছালছাড়ানো ডালপালা পশুদের জলপানের সব জাবপাত্রে রেখে দিলেন, যেন সেগুলি তখন সরাসরি সেইসব পশুর সামনে থাকে, যারা তখন জলপান করার জন্য সেখানে এসেছিল। পশুপাল যৌন আবেগে গরম হয়ে জলপান করতে এসে,
GEN 30:39 সেইসব ডালপালার সামনে যৌনমিলন করল। আর তারা সেইসব শাবকের জন্ম দিল, যারা ডোরাকাটা বা দাগযুক্ত বা তিলকিত।
GEN 30:40 যাকোব পশুপালের সেইসব শাবক আলাদা করে দিলেন, কিন্তু বাদবাকি পশুদের সেইসব ডোরাকাটা ও শ্যামবর্ণ পশুদের দিকে মুখ করিয়ে রাখলেন, যেগুলি লাবনের অধিকারভুক্ত ছিল। এইভাবে তিনি নিজের জন্য আলাদা পশুপাল তৈরি করলেন এবং সেগুলিকে লাবনের পশুপালের সঙ্গে রাখেননি।
GEN 30:41 যখনই সবল মাদিগুলি যৌন আবেগে উত্তেজিত হত, যাকোব সেইসব ডালপালা পশুপালের জলপানের জাবপাত্রের মধ্যে পশুপালের সামনে রেখে দিতেন, যেন তারা সেইসব ডালপালার সামনে যৌনমিলন করতে পারে,
GEN 30:42 কিন্তু পশুগুলি যদি দুর্বল হত, তবে তিনি সেগুলিকে সেখানে রাখতেন না। অতএব দুর্বল পশুগুলি লাবনের ও সবল পশুগুলি যাকোবের অধিকারভুক্ত হল।
GEN 30:43 এইভাবে সেই মানুষটি খুব সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠলেন এবং অনেক পশুপাল, ও দাস-দাসী, এবং উট ও গাধার মালিক হয়ে গেলেন।
GEN 31:1 যাকোব শুনতে পেলেন যে লাবনের ছেলেরা বলাবলি করছে, “আমাদের বাবার অধিকারভুক্ত সবকিছু যাকোব ছিনিয়ে নিয়েছে এবং আমাদের বাবার যেসব ধনসম্পদ ছিল তা নিয়েই তার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।”
GEN 31:2 আর যাকোব লক্ষ্য করলেন যে তার প্রতি লাবনের আচরণ আর আগের মতো নেই।
GEN 31:3 তখন সদাপ্রভু যাকোবকে বললেন, “তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের ও আত্মীয়স্বজনের দেশে ফিরে যাও, আর আমি তোমার সঙ্গে থাকব।”
GEN 31:4 অতএব যাকোব রাহেল ও লেয়াকে খবর পাঠিয়ে সেই মাঠে ডেকে পাঠালেন, যেখানে তাঁর পশুপাল রাখা ছিল।
GEN 31:5 তিনি তাঁদের বললেন, “আমি দেখছি যে আমার প্রতি তোমাদের বাবার আচরণ আর আগের মতো নেই, কিন্তু আমার পৈত্রিক ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।
GEN 31:6 তোমরা তো জানো যে তোমাদের বাবার জন্য আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে পরিশ্রম করেছি,
GEN 31:7 তবুও তোমাদের বাবা দশবার আমার পারিশ্রমিক পরিবর্তন করে আমাকে ঠকিয়েছেন। অবশ্য, ঈশ্বর তাঁকে আমার কোনও ক্ষতি করার অনুমতি দেননি।
GEN 31:8 তিনি যদি বলেছেন, ‘দাগযুক্ত পশুগুলি তোমার পারিশ্রমিক হবে,’ তবে সব পশুপালই দাগযুক্ত শাবকের জন্ম দিয়েছিল; আর তিনি যদি বলেছেন, ‘ডোরাকাটা পশুগুলি তোমার পারিশ্রমিক হবে,’ তবে সব পশুপালই ডোরাকাটা শাবকের জন্ম দিয়েছিল।
GEN 31:9 অতএব ঈশ্বরই তোমাদের বাবার গবাদি পশুপাল তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন ও সেগুলি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন।
GEN 31:10 “পশুদের প্রজননের মরশুমে আমি একবার এক স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি উপরের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিলাম আর দেখেছিলাম যে, যে মদ্দা ছাগলগুলি মাদিগুলির সাথে যৌনমিলন করছে, সেগুলি ডোরাকাটা, দাগযুক্ত বা তিলকিত।
GEN 31:11 ঈশ্বরের দূত স্বপ্নে আমাকে বলেছিলেন, ‘যাকোব।’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘আমি এখানে।’
GEN 31:12 আর তিনি বলেছিলেন, ‘উপরের দিকে চোখ তুলে তাকাও ও দেখো মাদিগুলির সাথে যেসব মদ্দা ছাগল যৌনমিলন করছে সেগুলি ডোরাকাটা, দাগযুক্ত বা তিলকিত, কারণ লাবন তোমার সঙ্গে যা যা করে চলেছে, আমি সেসব দেখেছি।
GEN 31:13 আমি সেই বেথেলের ঈশ্বর, যেখানে তুমি এক স্তম্ভকে অভিষিক্ত করেছিলে এবং আমার কাছে এক শপথ নিয়েছিলে। এখন তুমি এই মুহূর্তেই এই স্থান ত্যাগ করো এবং তোমার স্বদেশে ফিরে যাও।’ ”
GEN 31:14 তখন রাহেল ও লেয়া উত্তর দিলেন, “আমাদের বাবার ভূসম্পত্তিতে এখনও কি আমাদের আর কোনও অংশ ও অধিকার আছে?
GEN 31:15 তিনি কি আমাদের বিদেশি বলে গণ্য করেন না? তিনি যে শুধু আমাদের বিক্রি করে দিয়েছেন তা নয়, কিন্তু আমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছিল, তাও তিনি নিঃশেষ করে ফেলেছেন।
GEN 31:16 নিঃসন্দেহে যেসব ধনসম্পদ ঈশ্বর আমাদের বাবার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন, তা আমাদের ও আমাদের সন্তানদেরই। অতএব ঈশ্বর তোমাকে যা যা বলেছেন, তাই করো।”
GEN 31:17 তখন যাকোব তার সন্তানদের ও তাঁর স্ত্রীদের উটের পিঠে চাপিয়ে দিলেন,
GEN 31:18 এবং কনান দেশে তাঁর বাবা ইস্‌হাকের কাছে যাবার জন্য তিনি পদ্দন-আরামে থাকাকালীন যেসব জিনিসপত্র জমিয়েছিলেন, সেগুলি সাথে নিয়ে তাঁর আগে আগে তাঁর সব গবাদি পশুপালও তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন।
GEN 31:19 লাবন যখন তাঁর মেষের লোম ছাঁটতে গিয়েছিলেন, রাহেল তখন তাঁর বাবার গৃহদেবতাদের মূর্তিগুলি চুরি করে নিলেন।
GEN 31:20 এছাড়াও, তিনি যে পালিয়ে যাচ্ছেন একথা অরামীয় লাবনকে না বলে যাকোব তাঁকে প্রতারিত করলেন।
GEN 31:21 অতএব তিনি তাঁর সবকিছু সাথে নিয়ে, ইউফ্রেটিস নদী পার করে পালিয়ে গেলেন, এবং গিলিয়দের পার্বত্য এলাকার দিকে এগিয়ে গেলেন।
GEN 31:22 তৃতীয় দিনে লাবনকে বলা হল যে যাকোব পালিয়ে গিয়েছেন।
GEN 31:23 তাঁর আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে, তিনি সাত দিন ধরে যাকোবের পশ্চাদ্ধাবন করলেন এবং গিলিয়দের পার্বত্য এলাকায় তাঁকে ধরে ফেললেন।
GEN 31:24 তখন রাতের বেলায় ঈশ্বর স্বপ্নে অরামীয় লাবনের কাছে এলেন ও তাঁকে বললেন, “যাকোবকে ভালো বা মন্দ কোনো কিছু বলার বিষয়ে তুমি সাবধান থেকো।”
GEN 31:25 লাবন যখন যাকোবের নাগাল ধরে ফেললেন, তখন যাকোব গিলিয়দের পার্বত্য এলাকায় তাঁর তাঁবু খাটিয়েছিলেন, এবং লাবন ও তাঁর আত্মীয়স্বজনরাও সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন।
GEN 31:26 তখন লাবন যাকোবকে বললেন, “তুমি এ কী করলে? তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছ এবং তুমি আমার মেয়েদের যুদ্ধবন্দিদের মতো করে নিয়ে এসেছ।
GEN 31:27 তুমি কেন গোপনে পালিয়ে এসেছ ও আমাকে ঠকিয়েছ? তুমি কেন আমায় বলোনি, আমি তো আনন্দের সঙ্গে এবং খঞ্জনি ও বীণার বাজনা সহযোগে গান গেয়ে তোমাদের বিদায় জানাতে পারতাম?
GEN 31:28 এমনকি তুমি আমাকে আমার নাতি-নাতনিদের ও মেয়েদের চুমু দিয়ে বিদায় জানাতেও দাওনি। তুমি এক মূর্খের মতো কাজ করেছ।
GEN 31:29 তোমার ক্ষতিসাধন করার শক্তি আমার আছে; কিন্তু গতকাল রাতে তোমার পৈত্রিক ঈশ্বর আমাকে বললেন, ‘যাকোবকে ভালো বা মন্দ কোনো কিছু বলার বিষয়ে তুমি সাবধান থেকো।’
GEN 31:30 তুমি প্রস্থান করেছ, কারণ তুমি তোমার বাবার ঘরে ফিরে যেতে চেয়েছিলে। কিন্তু আমার দেবতাদের তুমি চুরি করলে কেন?”
GEN 31:31 যাকোব লাবনকে উত্তর দিলেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম, কারণ আমি ভেবেছিলাম আপনি আপনার মেয়েদের জোর করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন।
GEN 31:32 কিন্তু এমন কাউকে যদি আপনি খুঁজে পান যার কাছে আপনার দেবতারা আছে, তবে সে আর বেঁচে থাকবে না। আমাদের আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে, আপনি নিজেই দেখে নিন আপনার কোনও জিনিস আমার সাথে আছে কি না; এবং যদি তা থাকে, তবে তা নিয়ে নিন।” যাকোব জানতেনই না যে রাহেল দেবতাদের চুরি করেছেন।
GEN 31:33 অতএব লাবন যাকোবের তাঁবুতে ও লেয়ার তাঁবুতে এবং দুই দাসীর তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু তিনি কিছুই খুঁজে পেলেন না। আর লেয়ার তাঁবু থেকে বেরিয়ে আসার পর, তিনি রাহেলের তাঁবুতে প্রবেশ করলেন।
GEN 31:34 রাহেল গৃহদেবতাদের নিয়ে সেগুলি তাঁর উটের জিনের মধ্যে রেখে দিয়েছিলেন এবং সেটির উপরে বসেছিলেন। লাবন সেই তাঁবুর প্রত্যেকটি জিনিসপত্র খানাতল্লাশি করলেন কিন্তু কিছুই খুঁজে পেলেন না।
GEN 31:35 রাহেল তাঁর বাবাকে বললেন, “হে আমার প্রভু, আমি যে আপনার সামনে উঠে দাঁড়াতে পারছি না, সেজন্য আমার উপর রাগ করবেন না; আমার মাসিক চলছে।” তাই লাবন খানাতল্লাশি করেও গৃহদেবতাদের খুঁজে পাননি।
GEN 31:36 যাকোব রেগে গিয়ে লাবনকে তিরস্কার করলেন। “আমি কী অপরাধ করেছি?” তিনি লাবনকে জিজ্ঞাসা করলেন। “আমি আপনার কী এমন ক্ষতি করেছি যে আপনি আমাকে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছেন?
GEN 31:37 এখন আপনি যে আমার সব জিনিসপত্র খানাতল্লাশি করলেন, তাতে এমন কিছু কি পেয়েছেন যা আপনার গৃহস্থালিভুক্ত? আপনার ও আমার আত্মীয়স্বজনদের সামনে তা এখানে এনে রাখুন, এবং তাদেরকেই আমাদের উভয়ের মধ্যে বিচার করতে দিন।
GEN 31:38 “আমি আপনার কাছে এখন কুড়ি বছর ধরে আছি। না আপনার মেষ ও ছাগপালের গর্ভপাত হয়েছে, না আমি আপনার পশুপাল থেকে মদ্দা মেষগুলি ধরে ধরে খেয়েছি।
GEN 31:39 বন্যজন্তুরা যেসব পশুকে বিদীর্ণ করেছিল আমি সেগুলি আপনার কাছে নিয়ে আসিনি; সেই ক্ষতি আমি নিজেই বহন করেছি। আর দিনে বা রাতে যখনই কিছু চুরি গিয়েছিল, আপনি আমার কাছ থেকে তার দাম দাবি করেছিলেন।
GEN 31:40 এই ছিল আমার অবস্থা: দিনের বেলায় উত্তাপ ও রাতের বেলায় শৈত্য আমাকে গ্রাস করেছিল, এবং আমার চোখ থেকে নিদ্রা পালিয়ে গিয়েছিল।
GEN 31:41 এভাবেই আমি কুড়িটি বছর আপনার ঘর-পরিবারে কাটিয়ে দিয়েছি। আপনার দুই মেয়ের জন্য চোদ্দো বছর এবং আপনার পশুপালের জন্য ছয় বছর আমি আপনার কাছে কাজ করেছি, আর দশবার আপনি আমার পারিশ্রমিকের পরিবর্তন করেছেন।
GEN 31:42 আমার পৈত্রিক ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর এবং ইস্‌হাকের সেই আশঙ্কা যদি আমার সাথে না থাকতেন, তবে আপনি নিঃসন্দেহে আমাকে শূন্য হাতেই পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু ঈশ্বর আমার কষ্ট ও আমার হাতের পরিশ্রম দেখেছেন, আর তাই গতকাল রাতে তিনি আপনাকে ভর্ৎসনা করেছেন।”
GEN 31:43 লাবন যাকোবকে উত্তর দিলেন, “এই মহিলারা আমার মেয়ে, এই সন্তানেরা আমার সন্তানসন্ততি ও এই পশুপাল আমারই পশুপাল। তুমি যা কিছু দেখছ এসবই আমার। তবুও আজ আমি আমার এই মেয়েদের বিষয়ে বা তারা যেসব সন্তানের জন্ম দিয়েছে, তাদের বিষয়ে কী-ই বা করতে পারি?
GEN 31:44 এখন তবে এসো, তুমি ও আমি, আমরা এক নিয়ম তৈরি করি, এবং এটি আমাদের মধ্যে এক সাক্ষী হয়ে থাকুক।”
GEN 31:45 অতএব যাকোব একটি পাথর নিয়ে সেটি এক স্তম্ভরূপে স্থাপন করলেন।
GEN 31:46 তিনি তাঁর আত্মীয়স্বজনদের বললেন, “কিছু পাথর সংগ্রহ করো।” অতএব তাঁরা বেশ কিছু পাথর নিয়ে সেগুলি একটি স্তূপে পাঁজা করে রাখলেন, এবং সেই স্তূপের পাশে বসে ভোজনপান করলেন।
GEN 31:47 লাবন সেটির নাম রাখলেন যিগর সাহদূথা, এবং যাকোব সেটির নাম রাখলেন গল্-এদ।
GEN 31:48 লাবন বললেন, “এই স্তূপ আজ তোমার ও আমার মধ্যে এক সাক্ষী হয়ে রইল।” এজন্য সেটির নাম রাখা হল গল্-এদ।
GEN 31:49 সেটির নাম মিস্‌পা রাখা হল, কারণ তিনি বললেন, “আমরা যখন পরস্পরের থেকে দূরে সরে থাকব তখনও সদাপ্রভু যেন আমাদের দুজনের উপর নজর রাখেন।
GEN 31:50 তুমি যদি আমার মেয়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করো বা আমার মেয়েদের পাশাপাশি অন্য কোনও স্ত্রীকে গ্রহণ করো, তবে যদিও আমাদের সঙ্গে কেউ নাও থাকে, তবু মনে রেখো যে তোমার ও আমার মাঝখানে ঈশ্বর এক সাক্ষী হয়ে আছেন।”
GEN 31:51 লাবন যাকোবকে এও বললেন, “এই সেই স্তূপ, ও এই সেই স্তম্ভ যা আমি তোমার ও আমার মাঝখানে স্থাপন করেছি।
GEN 31:52 এই স্তূপ এক সাক্ষী, এবং এই স্তম্ভ এক সাক্ষী হয়ে থাকল, যে এই স্তূপ পার হয়ে আমি তোমার ক্ষতিসাধন করার জন্য তোমার দিকে যাব না এবং তুমিও এই স্তূপ ও স্তম্ভ পার হয়ে আমার ক্ষতিসাধন করার জন্য আমার দিকে আসবে না।
GEN 31:53 অব্রাহামের ঈশ্বর এবং নাহোরের ঈশ্বর, তাঁদের পৈত্রিক ঈশ্বরই, আমাদের দুজনের মধ্যে বিচারক হয়ে থাকুন।” অতএব যাকোব তাঁর বাবা ইস্‌হাকের আশঙ্কার নামে শপথ নিলেন।
GEN 31:54 সেই পার্বত্য এলাকায় তিনি এক বলি উৎসর্গ করলেন ও তাঁর আত্মীয়স্বজনদের এক ভোজসভায় নিমন্ত্রণ করলেন। ভোজনপান করার পর, তাঁরা সেখানে রাত কাটালেন।
GEN 31:55 পরদিন ভোরবেলায় লাবন তাঁর নাতি-নাতনিদের ও তাঁর মেয়েদের চুমু দিলেন এবং তাদের আশীর্বাদ করলেন। পরে তিনি বিদায় নিয়ে তাঁর স্বদেশে ফিরে গেলেন।
GEN 32:1 যাকোবও তাঁর পথে রওনা দিলেন, এবং ঈশ্বরের দূতেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন।
GEN 32:2 যাকোব যখন তাঁদের দেখলেন, তিনি তখন বললেন, “এ হল ঈশ্বরের শিবির!” অতএব তিনি সেই স্থানটির নাম রাখলেন মহনয়িম।
GEN 32:3 যাকোব নিজে যাওয়ার আগেই সেয়ীর দেশে, ইদোম অঞ্চলে তাঁর দাদা এষৌর কাছে তাঁর দূতদের পাঠিয়ে দিলেন।
GEN 32:4 তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন: “আমার প্রভু এষৌকে তোমাদের একথাই বলতে হবে: ‘আপনার দাস যাকোব বলেছেন, আমি লাবনের সঙ্গে বসবাস করছিলাম এবং এতদিন সেখানেই ছিলাম।
GEN 32:5 আমার কাছে গবাদি পশুপাল ও গাধা, মেষ ও ছাগল, এবং দাস-দাসী আছে। এখন আমি আমার প্রভুকে এই খবর পাঠাচ্ছি, যেন আমি আপনার দৃষ্টিতে দয়া পাই।’ ”
GEN 32:6 দূতেরা যাকোবের কাছে ফিরে এসে বলল, “আমরা আপনার দাদা এষৌর কাছে গেলাম, আর এখন তিনি আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, ও তাঁর সাথে 400 লোক আছে।”
GEN 32:7 খুব ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে যাকোব তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজনকে দুই দলে বিভক্ত করে দিলেন, এবং মেষ ও গোরুর পাল ও উটদেরও তেমনটিই করলেন।
GEN 32:8 তিনি ভাবলেন, “এষৌ যদি এসে একটি দলকে আক্রমণ করেন, তবে অন্য দলটি পালিয়ে যেতে পারবে।”
GEN 32:9 পরে যাকোব প্রার্থনা করলেন, “হে সদাপ্রভু, আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহামের ঈশ্বর, আমার বাবা ইস্‌হাকের ঈশ্বর, তুমিই তো আমাকে বলেছ, ‘তোমার দেশে ও তোমার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফিরে যাও, এবং আমি তোমাকে সমৃদ্ধিশালী করব,’
GEN 32:10 তোমার দাসের প্রতি তুমি যে দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখিয়েছ, আমি সেসব পাওয়ার যোগ্য নই। আমি যখন এই জর্ডন নদী পার হলাম, তখন আমার হাতে শুধু আমার লাঠিটিই ছিল, কিন্তু এখন আমি দুটি শিবিরে পরিণত হয়েছি।
GEN 32:11 প্রার্থনা করি, আমার দাদা এষৌর হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমার ভয় হচ্ছে যে তিনি এসে আমাকে, এবং সন্তানসন্ততিসহ মায়েদের আক্রমণ করবেন।
GEN 32:12 কিন্তু তুমিই তো বলেছ, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে সমৃদ্ধিশালী করব এবং তোমার বংশধরদের সমুদ্রের এমন বালুকণার মতো করব, যা গোনা যায় না।’ ”
GEN 32:13 সেই রাতটি তিনি সেখানেই কাটালেন, এবং তাঁর কাছে যা কিছু ছিল তার মধ্যে থেকে তিনি তাঁর দাদা এষৌর জন্য এক উপহার বেছে নিলেন:
GEN 32:14 200-টি মাদি ছাগল ও কুড়িটি মদ্দা ছাগল, 200-টি মেষী ও কুড়িটি মদ্দা মেষ,
GEN 32:15 শাবকসহ ত্রিশটি মাদি উট, চল্লিশটি গরু ও দশটি বলদ, এবং কুড়িটি গাধি ও দশটি গাধা।
GEN 32:16 আলাদা আলাদা করে প্রত্যেকটি পশুপাল তিনি তাঁর দাসদের তত্ত্বাবধানে রাখলেন, এবং তাঁর দাসদের বললেন, “আমার আগে আগে যাও, এবং পশুপালগুলির মধ্যে তোমরা কিছুটা ব্যবধান রেখো।”
GEN 32:17 নেতৃত্বে থাকা একজনকে তিনি নির্দেশ দিলেন: “আমার দাদা এষৌ যখন তোমার সঙ্গে দেখা করবেন ও জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তুমি কার লোক ও তুমি কোথায় যাচ্ছ, এবং তোমার সামনে থাকা এইসব পশুর মালিক কে?’
GEN 32:18 তখন তোমাকে বলতে হবে, ‘এগুলির মালিক আপনার দাস যাকোব। আমার প্রভু এষৌর কাছে এগুলি উপহারস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং আমাদের পিছু পিছু তিনিও আসছেন।’ ”
GEN 32:19 সেই পশুপালের অনুগামী দ্বিতীয়জনকে, তৃতীয় জনকে ও অন্যান্য সবাইকেও তিনি নির্দেশ দিলেন: “তোমরা যখন এষৌর সঙ্গে দেখা করবে, তখন তোমাদেরও তাঁকে একই কথা বলতে হবে।
GEN 32:20 আর অবশ্যই বলবে, ‘আপনার দাস যাকোব আমাদের পিছু পিছু আসছেন।’ ” কারণ তিনি ভেবেছিলেন, “আগেভাগেই আমি এই যেসব উপহার পাঠিয়ে দিচ্ছি, সেগুলি দিয়েই আমি তাঁকে শান্ত করব; পরে, আমার সঙ্গে যখন তাঁর দেখা হবে, হয়তো তিনি আমাকে গ্রহণ করবেন।”
GEN 32:21 অতএব যাকোবের উপহারগুলি তাঁর যাওয়ার আগেই পৌঁছে গেল, কিন্তু তিনি স্বয়ং সেই রাতটি শিবিরেই কাটালেন।
GEN 32:22 সেরাতে যাকোব উঠে পড়লেন ও তাঁর দুই স্ত্রীকে, তাঁর দুই দাসীকে এবং তাঁর এগারোজন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যব্বোক নদীর অগভীর অংশটি পার হয়ে গেলেন।
GEN 32:23 তাদের নদী পার করে পাঠিয়ে দেওয়ার পর, তিনি তাঁর সব জিনিসপত্রও পাঠিয়ে দিলেন।
GEN 32:24 অতএব যাকোব একাই থেকে গেলেন, এবং একজন লোক ভোর হয়ে ওঠা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কুস্তি লড়লেন।
GEN 32:25 যখন সেই লোকটি দেখলেন যে তিনি তাঁকে হারাতে পারছেন না, তখন তিনি যাকোবের ঊরুর কোটর স্পর্শ করলেন যেন সেই লোকটির সঙ্গে কুস্তি করতে করতে তাঁর ঊরু মচকে যায়।
GEN 32:26 পরে সেই লোকটি বললেন, “আমাকে যেতে দাও, কারণ ভোর হয়ে আসছে।” কিন্তু যাকোব উত্তর দিলেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি আমাকে আশীর্বাদ করছেন, আমি আপনাকে যেতে দেব না।”
GEN 32:27 সেই লোকটি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কী?” “যাকোব,” তিনি উত্তর দিলেন।
GEN 32:28 তখন সেই লোকটি বললেন, “তোমার নাম আর যাকোব থাকবে না, কিন্তু তা হবে ইস্রায়েল, কারণ তুমি ঈশ্বরের ও মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয় পেয়েছ।”
GEN 32:29 যাকোব বললেন, “দয়া করে আপনার নাম বলুন।” কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি আমার নাম জিজ্ঞাসা করছ কেন?” পরে তিনি সেখানেই তাঁকে আশীর্বাদ করলেন।
GEN 32:30 অতএব যাকোব এই বলে সেই স্থানটির নাম রাখলেন পনূয়েল, “আমি ঈশ্বরকে সামনাসামনি দেখেছি, আর তাও আমার প্রাণরক্ষা হয়েছে।”
GEN 32:31 তিনি যখন পনূয়েল পার হচ্ছিলেন তখন সূর্য তাঁর মাথার উপর উদিত হল, এবং তাঁর ঊরুর জন্য তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।
GEN 32:32 তাই আজও পর্যন্ত ইস্রায়েলীরা ঊরুর কোটরের সঙ্গে সংলগ্ন কণ্ডরা খায় না, যেহেতু কণ্ডরার কাছেই যাকোবের ঊরুর কোটর স্পর্শ করা হয়েছিল।
GEN 33:1 যাকোব চোখ তুলে তাকিয়ে সেই এষৌকে দেখতে পেলেন, যিনি 400 জন লোক নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন; অতএব তিনি লেয়া, রাহেল ও দুই দাসীর মধ্যে সন্তানদের ভাগাভাগি করে দিলেন।
GEN 33:2 সামনের দিকে তিনি দাসীদের ও তাদের সন্তানদের, পরে লেয়া ও তাঁর সন্তানদের এবং পিছন দিকে রাহেল ও যোষেফকে রাখলেন।
GEN 33:3 তিনি স্বয়ং সবার আগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দাদার কাছাকাছি পৌঁছে সাতবার মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে অভিবাদন জানালেন।
GEN 33:4 কিন্তু এষৌ যাকোবের সঙ্গে দেখা করার জন্য ছুটে এলেন এবং তাঁকে আলিঙ্গন করলেন; তিনি দু-হাতে তাঁর গলা জড়িয়ে ধরে তাঁকে চুমু দিলেন। আর তাঁরা কান্নাকাটি করলেন।
GEN 33:5 পরে এষৌ মুখ তুলে তাকালেন এবং সব মহিলা ও সন্তানকে দেখতে পেলেন। “তোমার সঙ্গে এরা কারা?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। যাকোব উত্তর দিলেন, “এরা সেইসব সন্তানসন্ততি যাদের ঈশ্বর অনুগ্রহ করে আপনার এই দাসকে দিয়েছেন।”
GEN 33:6 তখন দাসীরা ও তাদের সন্তানেরা এগিয়ে এসে অভিবাদন জানাল।
GEN 33:7 পরে, লেয়া ও তাঁর সন্তানেরা এসে অভিবাদন জানালেন। সবশেষে যোষেফ ও রাহেল এলেন, এবং তাঁরাও অভিবাদন জানালেন।
GEN 33:8 এষৌ জিজ্ঞাসা করলেন, “যেসব মেষ ও পশুপালের সঙ্গে আমার দেখা হল, সেগুলির অর্থ কী?” “হে আমার প্রভু, আপনার দৃষ্টিতে দয়া পাওয়ার জন্য,” তিনি বললেন।
GEN 33:9 কিন্তু এষৌ বললেন, “হে আমার ভাই, আমার কাছে তো যথেষ্ট আছে। তোমার কাছে যা আছে, তা নিজের জন্যই রেখে দাও।”
GEN 33:10 যাকোব বললেন, “আপনার দৃষ্টিতে আমি যদি দয়া পেয়েছি, তবে দয়া করে আমার কাছ থেকে এই উপহারটি গ্রহণ করুন। কারণ আপনার মুখ দেখার অর্থ হল ঈশ্বরেরই মুখ দেখা, যেহেতু এখন আপনি দয়া দেখিয়ে আমাকে গ্রহণ করেছেন।
GEN 33:11 আপনার কাছে যে উপহারটি আনা হয়েছে তা দয়া করে গ্রহণ করুন, কারণ ঈশ্বর আমার প্রতি অনুগ্রহশীল হয়েছেন এবং আমার যা যা প্রয়োজন তা আমার কাছে আছে।” আর যেহেতু যাকোব পীড়াপীড়ি করলেন, তাই এষৌ তা গ্রহণ করলেন।
GEN 33:12 পরে এষৌ বললেন, “চলো আমরা রওনা দিই; আমিও তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে যাব।”
GEN 33:13 কিন্তু যাকোব তাঁকে বললেন, “আমার প্রভু তো জানেন যে শিশুসন্তানেরা সুকুমার এবং আমাকে সেইসব মেষীর ও গরুর যত্ন নিতে হবে, যারা তাদের শাবকদের শুশ্রুষা করছে। একদিনেই যদি তাদের জোরে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সব পশু মারা যাবে।
GEN 33:14 অতএব আমার প্রভুই তাঁর দাসের আগে আগে চলে যান, আর যতক্ষণ না আমি আমার প্রভুর কাছে সেয়ীরে উপস্থিত হতে পারছি, ততক্ষণ আমি আমার আগে আগে যাওয়া মেষ ও পশুপালের এবং শিশু সন্তানদের গতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”
GEN 33:15 এষৌ বললেন, “তবে আমার কিছু লোকজন তোমাদের কাছে ছেড়ে যাই!” “কিন্তু তা কেন করবেন?” যাকোব জিজ্ঞাসা করলেন। “আমার প্রভুর দৃষ্টিতে শুধু আমাকে দয়া পেতে দিন।”
GEN 33:16 অতএব সেদিন এষৌ সেয়ীরের দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করলেন।
GEN 33:17 যাকোব, অবশ্য, সেই সুক্কোতে চলে গেলেন, যেখানে তিনি নিজের জন্য এক বাড়ি ও তাঁর গৃহপালিত পশুপালের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করলেন। সেই কারণে সেই স্থানটিকে সুক্কোৎ বলে ডাকা হয়।
GEN 33:18 পদ্দন-আরাম থেকে চলে আসার পর যাকোব নিরাপদে কনান দেশের শিখিম নগরে পৌঁছে গেলেন এবং সেই নগরের কাছেই নিজের শিবির স্থাপন করলেন।
GEN 33:19 100 রৌপমুদ্রা দিয়ে, তিনি শিখিমের বাবা হমোরের ছেলেদের কাছ থেকে সেই জমিখণ্ডটি কিনলেন, যেখানে তিনি তাঁবু খাটিয়েছিলেন।
GEN 33:20 সেখানে তিনি একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করে সেটির নাম রাখলেন এল্-এলোহে-ইস্রায়েল।
GEN 34:1 যে মেয়েটিকে লেয়া যাকোবের জন্য জন্ম দিয়েছিলেন, সেই দীণা সেদেশের মহিলাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে গেল।
GEN 34:2 সেই অঞ্চলের শাসনকর্তা হিব্বীয় হমোরের ছেলে শিখিম যখন তাকে দেখতে পেল, তখন সে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করল।
GEN 34:3 যাকোবের মেয়ে দীণার প্রতি তার মন আকর্ষিত হল; সে সেই যুবতী মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলল ও তার সঙ্গে কোমলভাবে কথা বলল।
GEN 34:4 আর শিখিম তার বাবা হমোরকে বলল, “এই মেয়েটিকে আমার স্ত্রী করে এনে দাও।”
GEN 34:5 যাকোব যখন শুনতে পেলেন যে তাঁর মেয়ে দীণাকে কলুষিত করা হয়েছে, তখন তাঁর ছেলেরা তাঁর গৃহপালিত পশুপাল নিয়ে মাঠেই ছিল; তাই তারা বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি সে বিষয়ে কিছুই করলেন না।
GEN 34:6 পরে শিখিমের বাবা হমোর যাকোবের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন।
GEN 34:7 এদিকে, যে ঘটনা ঘটেছিল তা শুনে যাকোবের ছেলেরা মাঠ থেকে ফিরে এসেছিল। তারা মর্মাহত ও অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল, কারণ যাকোবের মেয়ের সাথে শুয়ে শিখিম ইস্রায়েলে এমন এক নির্লজ্জ কাজ করেছিল—যা করা একদম উচিত হয়নি।
GEN 34:8 কিন্তু হমোর তাঁদের বললেন, “আমার ছেলে শিখিম আপনার মেয়েকে তার মন দিয়ে বসেছে। দয়া করে তাকে স্ত্রীরূপে তার হাতে তুলে দিন।
GEN 34:9 আমাদের সাথে অসবর্ণমতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোন; আপনাদের মেয়েদের আমাদের হাতে তুলে দিন ও আমাদের মেয়েদের আপনারা গ্রহণ করুন।
GEN 34:10 আমাদের মধ্যে আপনারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন; দেশটি আপনাদের কাছে খোলা পড়ে আছে। এখানে বসবাস করুন, এখানে ব্যবসাবাণিজ্য করুন, এবং এখানে বিষয়সম্পত্তি অর্জন করুন।”
GEN 34:11 তখন শিখিম দীণার বাবাকে ও দাদাদের বলল, “আপনাদের দৃষ্টিতে আমাকে দয়া পেতে দিন, এবং আপনারা যা চান আমি আপনাদের তাই দেব।
GEN 34:12 যে স্ত্রী-পণ ও উপহার আমাকে দিতে হবে, তা যতই বেশি হোক না কেন, আপনাদের ইচ্ছানুসারে তা আপনারাই ঠিক করুন, আর আপনারা আমার কাছে যা চাইবেন, আমি আপনাদের তাই দেব। শুধু যুবতী মেয়েটিকে আমার স্ত্রীরূপে আমায় দিন।”
GEN 34:13 যেহেতু তাদের বোন দীণাকে কলুষিত করা হয়েছিল, তাই যাকোবের ছেলেরা শিখিম ও তার বাবা হমোরের সঙ্গে কথা বলার সময় ছলনা করে উত্তর দিয়েছিল।
GEN 34:14 তারা তাদের বলল, “আমরা এরকম কাজ করতে পারব না; আমরা এমন কোনও পুরুষের হাতে আমাদের বোনকে তুলে দিতে পারব না, যার সুন্নত হয়নি। তা আমাদের পক্ষে মর্যাদাহানিকর হবে।
GEN 34:15 একটিমাত্র শর্তে শুধু আমরা তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারি: তোমাদের সব পুরুষমানুষ সুন্নত করিয়ে যদি আমাদের মতো হয়ে যাও, তবেই তা সম্ভব।
GEN 34:16 তখনই আমাদের মেয়েদের আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব ও তোমাদের মেয়েদের আমরা নিজেদের জন্য গ্রহণ করব। আমরা তোমাদের মধ্যেই স্থায়ীভাবে বসবাস করব এবং তোমাদের সঙ্গে মিলেমিশে এক জাতি হয়ে যাব।
GEN 34:17 কিন্তু তোমরা যদি সুন্নত করাতে রাজি না হও, তবে আমরা আমাদের বোনকে নিয়ে চলে যাব।”
GEN 34:18 তাদের প্রস্তাবটি হমোর ও তার ছেলে শিখিমের ভালোই লেগেছিল।
GEN 34:19 সেই যুবকটি, যে তার বাবার পরিবারে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ছিল, সে তাদের কথামতো কাজ করতে একটুও সময় নষ্ট করেনি, কারণ যাকোবের মেয়েকে পেয়ে সে খুশি হয়েছিল।
GEN 34:20 অতএব হমোর ও তার ছেলে শিখিম তাদের নগরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের নগরের ফটকে চলে গেল।
GEN 34:21 “এই লোকেরা আমাদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন,” তারা বলল। “তারা আমাদের দেশেই বসবাস করুক ও এখানেই ব্যবসাবাণিজ্য করুক; এদেশে তাদের জন্য প্রচুর স্থান আছে। আমরা তাদের মেয়েদের বিয়ে করতে পারি ও তারাও আমাদের মেয়েদের বিয়ে করতে পারে।
GEN 34:22 কিন্তু সেই লোকেরা একটিই মাত্র শর্তে আমাদের সঙ্গে এক জাতি হয়ে বসবাস করবে, যে আমাদের সব পুরুষমানুষ সুন্নত করাবে, যেমনটি তারা নিজেরাও করিয়েছে।
GEN 34:23 তাদের গবাদি পশুপাল, তাদের বিষয়সম্পত্তি ও তাদের বাকি সব পশু কি আমাদের হয়ে যাবে না? তাই এসো, আমরা তাদের শর্তে রাজি হয়ে যাই, এবং তারা আমাদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করুক।”
GEN 34:24 যেসব লোকজন নগরের ফটকের বাইরে গিয়েছিল, তারা হমোর ও তার ছেলে শিখিমের কথায় রাজি হল, এবং সেই নগরের সব পুরুষমানুষ সুন্নত করাল।
GEN 34:25 তিন দিন পর, যখন তারা সবাই তখনও ব্যথায় কাতরাচ্ছিল, তখন যাকোবের ছেলেদের মধ্যে দুজন—দীণার দাদা শিমিয়োন ও লেবি, তাদের তরোয়াল হাতে তুলে নিয়ে সেই অসন্দিগ্ধ নগরটি আক্রমণ করল, ও প্রত্যেকটি পুরুষমানুষকে হত্যা করল।
GEN 34:26 তারা হমোর ও তার ছেলে শিখিমকেও তরোয়াল দিয়ে হত্যা করল এবং দীণাকে শিখিমের বাড়ি থেকে নিয়ে চলে এল।
GEN 34:27 যাকোবের ছেলেরা মৃতদেহগুলির কাছে গিয়ে সেই নগরে লুটপাট চালাল, যেখানে তাদের বোনকে কলুষিত করা হয়েছিল।
GEN 34:28 তারা তাদের মেষপাল ও পশুপাল ও গাধাগুলি এবং সেই নগরে ও মাঠেঘাটে তাদের আরও যা যা ছিল, সেসবকিছু দখল করে নিল।
GEN 34:29 তারা তাদের ধনসম্পদ ও তাদের সব স্ত্রী ও সন্তানসন্ততিকে তুলে এনে, তাদের বাড়িঘরের সর্বস্ব লুট করল।
GEN 34:30 তখন যাকোব শিমিয়োন ও লেবিকে বললেন, “তোমরা সেই কনানীয় ও পরিষীয়দের কাছে, এই দেশে বসবাসকারী জাতিদের কাছে আমাকে আপত্তিকর করে তুলে আমার উপর সমস্যার বোঝা চাপিয়ে দিলে। আমরা সংখ্যায় কয়েকজন মাত্র, এবং তারা যদি আমার বিরুদ্ধে দল বেঁধে আমাকে আক্রমণ করে, তবে আমি ও আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাব।”
GEN 34:31 কিন্তু তারা উত্তর দিল, “আমাদের বোনের সাথে এক বেশ্যার মতো ব্যবহার করা কি তার উচিত হয়েছে?”
GEN 35:1 তখন ঈশ্বর যাকোবকে বললেন, “বেথেলে চলে যাও ও সেখানেই বসবাস করো, এবং সেখানে সেই ঈশ্বরের উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করো, যিনি তোমার কাছে সেই সময় আবির্ভূত হলেন, যখন তুমি তোমার দাদা এষৌর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলে।”
GEN 35:2 অতএব যাকোব তাঁর পরিবারের লোকজনদের ও তাঁর সঙ্গে আরও যারা ছিলেন, তাদের বললেন, “তোমাদের কাছে যে বিজাতীয় দেবতারা আছে, তাদের থেকে নিষ্কৃতি লাভ করো এবং নিজেদের শুচিশুদ্ধ করো ও তোমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ বদলে ফেলো।
GEN 35:3 পরে এসো, আমরা সবাই মিলে সেই বেথেলে উঠে যাই, যেখানে সেই ঈশ্বরের উদ্দেশে আমি একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করব, যিনি আমার দুঃখের দিনে আমাকে উত্তর দিয়েছিলেন ও আমি যেখানেই গিয়েছি, তিনি আমার সহায় হয়েছেন।”
GEN 35:4 অতএব তারা, তাদের কাছে যেসব বিজাতীয় দেবতাগুলি ছিল, সেগুলি ও তাদের কানের দুলগুলি যাকোবকে দিলেন, এবং যাকোব সেগুলি শিখিমে ওক গাছের তলায় পুঁতে দিলেন।
GEN 35:5 পরে তাঁরা রওনা দিলেন, এবং ঈশ্বরের আতঙ্ক এমনভাবে তাঁদের চারপাশের ছোটোখাটো সব নগরের উপর নেমে এল যে কেউই তাঁদের পশ্চাদ্ধাবন করেনি।
GEN 35:6 যাকোব ও তাঁর সব সঙ্গীসাথী কনান দেশের লূসে (অথবা, বেথেলে) এলেন।
GEN 35:7 সেখানে তিনি একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করেছিলেন, এবং তিনি সেই স্থানটির নাম রাখলেন এল্-বেথেল, কারণ যখন তিনি তাঁর দাদার কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানেই ঈশ্বর নিজেকে তাঁর কাছে প্রকাশিত করলেন।
GEN 35:8 তখন রিবিকার সেবিকা দবোরা মারা গেল এবং তাকে বেথেলের বাইরের দিকে একটি ওক গাছের তলায় কবর দেওয়া হল। তাই সেই স্থানটির নাম রাখা হল অলোন্-বাখুৎ।
GEN 35:9 পদ্দন-আরাম থেকে ফিরে আসার পর, ঈশ্বর আবার যাকোবের কাছে আবির্ভূত হলেন ও তাঁকে আশীর্বাদ করলেন।
GEN 35:10 ঈশ্বর তাঁকে বললেন, “তোমার নাম যাকোব, কিন্তু তোমাকে আর যাকোব বলে ডাকা হবে না; তোমার নাম হবে ইস্রায়েল।” অতএব তিনি তাঁর নাম রাখলেন ইস্রায়েল।
GEN 35:11 আর ঈশ্বর তাঁকে বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর; ফলপ্রসূ হও এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি পাও। তোমার মধ্যে থেকে এক জাতি ও এক জাতি-সমাজ উৎপন্ন হবে, এবং তোমার বংশধরদের মধ্যে অনেকেই রাজা হবে।
GEN 35:12 যে দেশটি আমি অব্রাহাম ও ইস্‌হাককে দিয়েছিলাম তা আমি তোমাকেও দেব, এবং তোমার পরে এই দেশটি আমি তোমার বংশধরদেরও দেব।”
GEN 35:13 পরে ঈশ্বর তাঁর কাছ থেকে সেই স্থানে উঠে গেলেন, যেখানে তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
GEN 35:14 ঈশ্বর যে স্থানটিতে যাকোবের সঙ্গে কথা বললেন, সেখানে তিনি পাথরের একটি স্তম্ভ খাড়া করলেন এবং সেটির উপর তিনি এক পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন; তিনি সেটির উপর তেলও ঢেলে দিলেন।
GEN 35:15 যে স্থানটিতে ঈশ্বর যাকোবের সঙ্গে কথা বললেন, তিনি সেটির নাম রাখলেন বেথেল।
GEN 35:16 পরে তাঁরা বেথেল ছেড়ে এগিয়ে গেলেন। যখন তাঁরা ইফ্রাথ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন, তখন রাহেলের প্রসবযন্ত্রণা শুরু হল ও তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন।
GEN 35:17 আর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে যখন তাঁর খুব অসুবিধা হচ্ছিল তখন তাঁর ধাত্রী তাঁকে বলল, “আপনি নিরাশ হবেন না, আপনি আরও এক ছেলের জন্ম দিয়েছেন।”
GEN 35:18 শেষনিশ্বাস ত্যাগ করতে করতে তিনি তাঁর ছেলের নাম রাখলেন বিনোনী—কারণ তিনি মারা যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার বাবা তার নাম রাখলেন বিন্যামীন।
GEN 35:19 অতএব রাহেল মারা গেলেন ও তাঁকে ইফ্রাথে (অথবা, বেথলেহেমে) যাওয়ার পথেই কবর দেওয়া হল।
GEN 35:20 তাঁর সমাধির উপর যাকোব একটি স্তম্ভ খাড়া করলেন, এবং আজও পর্যন্ত সেই স্তম্ভটি রাহেলের কবররূপে চিহ্নিত হয়ে আছে।
GEN 35:21 ইস্রায়েল আরও আগে এগিয়ে গেলেন এবং মিগদল-এদোর পার করে তাঁর তাঁবু খাটালেন।
GEN 35:22 ইস্রায়েল যখন সেই অঞ্চলে বসবাস করছিলেন, রূবেণ তাঁর বাবার উপপত্নী বিলহার কাছে গিয়ে তাঁর সাথে শুয়েছিলেন, এবং ইস্রায়েল তা শুনতে পেলেন। যাকোবের বারোটি ছেলে ছিল:
GEN 35:23 লেয়ার ছেলেরা: যাকোবের বড়ো ছেলে রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর ও সবূলূন।
GEN 35:24 রাহেলের ছেলেরা: যোষেফ ও বিন্যামীন,
GEN 35:25 রাহেলের দাসী বিলহার ছেলেরা: দান ও নপ্তালি।
GEN 35:26 লেয়ার দাসী সিল্পার ছেলেরা: গাদ ও আশের। এরাই যাকোবের সেই ছেলেরা, পদ্দন-আরামে যারা তাঁর ঔরসে জন্মেছিল।
GEN 35:27 কিরিয়ৎ-অর্বের (অথবা, হিব্রোণের) কাছাকাছি অবস্থিত সেই মম্রিতে যাকোব ঘরে তাঁর বাবা ইস্‌হাকের কাছে এলেন, যেখানে অব্রাহাম ও ইস্‌হাক বসবাস করতেন।
GEN 35:28 ইস্‌হাক 180 বছর বেঁচেছিলেন।
GEN 35:29 পরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন ও মারা গেলেন এবং তিনি বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ অবস্থায় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হলেন। আর তাঁর ছেলে এষৌ ও যাকোব তাঁকে কবর দিলেন।
GEN 36:1 এই হল এষৌর (অথবা, ইদোমের) বংশপরম্পরার বৃত্তান্ত।
GEN 36:2 এষৌ কনানীয় মহিলাদের মধ্যে থেকেই তাঁর স্ত্রীদের গ্রহণ করলেন: হিত্তীয় এলোনের মেয়ে আদা এবং হিব্বীয় সিবিয়োনের নাতনি তথা অনার মেয়ে অহলীবামা—
GEN 36:3 এছাড়াও ইশ্মায়েলের মেয়ে ও নবায়োতের বোন বাসমৎ।
GEN 36:4 এষৌর জন্য আদা ইলীফসের, বাসমৎ রূয়েলের,
GEN 36:5 এবং অহলীবামা যিয়ূশ, যালম ও কোরহের জন্ম দিলেন। এরাই হল এষৌর সেই ছেলেরা, যাদের জন্ম কনান দেশে হয়েছিল।
GEN 36:6 এষৌ তাঁর স্ত্রীদের ও ছেলেমেয়েদের এবং তাঁর পরিবারের সব সদস্যকে, এছাড়াও তাঁর গবাদি পশুপাল ও অন্যান্য পশুপাল তথা কনান দেশে তিনি যেসব জিনিসপত্র অর্জন করেছিলেন, সেসবকিছু নিয়ে তাঁর ভাই যাকোবের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে এগিয়ে গেলেন।
GEN 36:7 তাঁদের বিষয়সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি ছিল যে একত্রে বসবাস করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না; যে দেশে তাঁরা বসবাস করছিলেন, তা তাঁদের গবাদি পশুপালের জন্য তাঁদের ভারবহন করতে পারছিল না।
GEN 36:8 অতএব এষৌ (অথবা, ইদোম) সেয়ীরের পার্বত্য অঞ্চলে বসতি স্থাপন করলেন।
GEN 36:9 সেয়ীরের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ এষৌর বংশপরম্পরা এইরকম:
GEN 36:10 এষৌর ছেলেদের নাম এইরকম: এষৌর স্ত্রী আদার ছেলে ইলীফস, এবং এষৌর স্ত্রী বাসমতের ছেলে রূয়েল।
GEN 36:11 ইলীফসের ছেলেরা: তৈমন, ওমার, সফো, গয়িতম ও কনস।
GEN 36:12 এষৌর ছেলে ইলীফসের তিম্না নামের এক উপপত্নীও ছিল, যে ইলীফসের জন্য অমালেককে জন্ম দিয়েছিল। এরাই হল এষৌর স্ত্রী আদার সব নাতিপুতি।
GEN 36:13 রূয়েলের ছেলেরা: নহৎ, সেরহ, শম্ম ও মিসা। এরাই হল এষৌর স্ত্রী বাসমতের সব নাতিপুতি।
GEN 36:14 এষৌর স্ত্রী তথা সিবিয়োনের নাতনি ও অনার মেয়ে অহলীবামা এষৌর জন্য যেসব ছেলের জন্ম দিলেন তারা হল: যিয়ূশ, যালম ও কোরহ।
GEN 36:15 এষৌর বংশধরদের মধ্যে এরাই হলেন বিভাগীয় প্রধান: এষৌর বড়ো ছেলে ইলীফসের ছেলেরা: দল প্রধান তৈমন, ওমার, সফো, কনস,
GEN 36:16 কোরহ, গয়িতম ও অমালেক। ইদোমে এই বিভাগীয় প্রধানেরাই ইলীফসের বংশে জন্মগ্রহণ করলেন; তাঁরা আদার সব নাতিপুতি।
GEN 36:17 এষৌর ছেলে রূয়েলের ছেলেরা: বিভাগীয় প্রধান নহৎ, সেরহ, শম্ম ও মিসা। ইদোমে এই বিভাগীয় প্রধানেরাই রূয়েলের বংশে জন্মগ্রহণ করলেন; তাঁরা এষৌর স্ত্রী বাসমতের সব নাতিপুতি।
GEN 36:18 এষৌর স্ত্রী অহলীবামার ছেলেরা: বিভাগীয় প্রধান যিয়ূশ, যালম ও কোরহ। এই বিভাগীয় প্রধানেরাই এষৌর স্ত্রী তথা অনার মেয়ে অহলীবামার গর্ভজাত হলেন।
GEN 36:19 এরাই হলেন এষৌর (অথবা, ইদোমের) সব ছেলে, এবং এরাই হলেন তাদের বিভাগীয় প্রধান।
GEN 36:20 এরাই হলেন হোরীয় সেয়ীরের সেইসব ছেলে, যারা সেই অঞ্চলে বসবাস করতেন: লোটন, শোবল, শিবিয়োন, অনা,
GEN 36:21 দিশোন, এৎসর ও দীশন। ইদোমে সেয়ীরের এই ছেলেরা ছিলেন হোরীয় বিভাগীয় প্রধান।
GEN 36:22 লোটনের ছেলেরা: হোরি ও হোমম। তিম্না ছিলেন লোটনের বোন।
GEN 36:23 শোবলের ছেলেরা: অলবন, মানহৎ, এবল, শফী ও ওনম।
GEN 36:24 সিবিয়োনের ছেলেরা: অয়া ও অনা। (এই অনাই মরুভূমিতে তাঁর বাবা সিবিয়োনের গাধাগুলি চরানোর সময় উষ্ণ জলের উৎসগুলি খুঁজে পেয়েছিলেন)
GEN 36:25 অনার সন্তানেরা: অনার মেয়ে দিশোন ও অহলীবামা।
GEN 36:26 দিশোনের ছেলেরা: হিমদন, ইশ্‌বন, যিত্রণ ও করাণ।
GEN 36:27 এৎসরের ছেলেরা: বিলহন, সাবন ও আকন।
GEN 36:28 দীশনের ছেলেরা: ঊষ ও অরাণ।
GEN 36:29 এরাই ছিলেন হোরীয় বিভাগীয় প্রধান: লোটন, শোবল, শিবিয়োন, অনা,
GEN 36:30 দিশোন, এৎসর ও দীশন। সেয়ীর দেশে তাদের বিভাগ অনুসারে এরাই হলেন হোরীয় বিভাগীয় প্রধান।
GEN 36:31 কোনো ইস্রায়েলী রাজা রাজত্ব করার আগে এরাই ইদোমে রাজা হয়ে রাজত্ব করলেন:
GEN 36:32 বিয়োরের ছেলে বেলা ইদোমের রাজা হলেন। তাঁর রাজধানীর নাম দেওয়া হল দিনহাবা।
GEN 36:33 বেলা যখন মারা যান, বস্রানিবাসী সেরহের ছেলে যোবব তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
GEN 36:34 যোবব যখন মারা যান, তৈমন দেশ থেকে আগত হূশম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
GEN 36:35 হূশম যখন মারা যান, বেদদের ছেলে সেই হদদ তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি মোয়াব দেশে মিদিয়নীয়দের পরাজিত করলেন। তাঁর নগরের নাম দেওয়া হল অবীৎ।
GEN 36:36 হদদ যখন মারা যান, মস্রেকানিবাসী সম্ল তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
GEN 36:37 সম্ল যখন মারা যান, সেই নদীর নিকটবর্তী রহোবোৎ নিবাসী শৌল তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
GEN 36:38 শৌল যখন মারা যান, অকবোরের ছেলে বায়াল-হানন তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
GEN 36:39 অকবোরের ছেলে বায়াল-হানন যখন মারা যান, হদদ রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। তাঁর নগরের নাম দেওয়া হল পায়ূ এবং তাঁর স্ত্রীর নাম মহেটবেল, যিনি মট্রেদের মেয়ে, ও মেষাহবের নাতনি ছিলেন।
GEN 36:40 নামানুসারে, এবং তাদের বংশ ও অঞ্চল অনুসারে এরাই হলেন এষৌর বংশে জন্মানো বিভাগীয় প্রধান: তিম্ন, অলবা, যিথেৎ,
GEN 36:41 অহলীবামা, এলা, পীনোন,
GEN 36:42 কনস, তৈমন, মিবসর,
GEN 36:43 মগ্‌দীয়েল ও ঈরম। তাদের অধিকৃত দেশে তাঁরা যে বসতি স্থাপন করলেন, তা অনুসারে এরাই ইদোমের দলপতি ছিলেন। এই হল ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ এষৌর বংশপরম্পরা।
GEN 37:1 যাকোব সেই কনান দেশে, যেখানে তাঁর বাবা বসবাস করতেন, সেখানেই বসবাস করছিলেন।
GEN 37:2 এই হল যাকোবের বংশপরম্পরার বৃত্তান্ত। সতেরো বছর বয়স্ক এক যুবক যোষেফ, তাঁর সেই দাদাদের সঙ্গে পশুপাল চরাচ্ছিলেন, যাঁরা ছিলেন তাঁদের বাবার স্ত্রী বিলহা ও সিল্পার ছেলে, এবং তাঁদের কুকর্মের খবর যোষেফ তাঁদের বাবার কাছে পৌঁছে দিলেন।
GEN 37:3 ইস্রায়েল যোষেফকে তাঁর অন্য ছেলেদের থেকে বেশি ভালোবাসতেন, কারণ ইস্রায়েলের বৃদ্ধাবস্থায় যোষেফের জন্ম হয়েছিল; এবং ইস্রায়েল তাঁর জন্য একটি রংচঙে আলখাল্লা বানিয়ে দিয়েছিলেন।
GEN 37:4 তাঁর দাদারা যখন দেখলেন যে তাঁদের বাবা যোষেফকে তাঁদের যে কোনো একজনের তুলনায় বেশি ভালোবাসেন, তখন তাঁরা তাঁকে ঘৃণা করলেন, এবং তাঁর উদ্দেশে তাঁরা কোনও প্রীতিকর কথা বলতে পারতেন না।
GEN 37:5 যোষেফ একটি স্বপ্ন দেখলেন এবং যখন তিনি সেটি তাঁর দাদাদের বললেন, তখন তাঁরা তাঁকে আরও বেশি ঘৃণা করলেন।
GEN 37:6 তিনি তাঁদের বললেন, “আমি যে স্বপ্নটি দেখেছি তা শোনো:
GEN 37:7 আমরা যখন জমিতে শস্যের আঁটি বাঁধছিলাম তখন হঠাৎই আমার আঁটিটি উঠে দাঁড়াল, আর তোমাদের আঁটিগুলি আমার আঁটিটির চারপাশ ঘিরে সেটিকে প্রণাম জানাল।”
GEN 37:8 তাঁর দাদারা তাঁকে বললেন, “তুমি কি আমাদের উপর রাজত্ব করতে চাও? তুমি কি সত্যিই আমাদের শাসন করবে?” তাঁর এই স্বপ্নের জন্য ও তিনি যা যা বললেন, সেজন্য তাঁরা তাঁকে আরও বেশি ঘৃণা করলেন।
GEN 37:9 পরে তিনি আরও একটি স্বপ্ন দেখলেন, এবং সেটি তিনি তাঁর দাদাদের বললেন। “শোনো,” তিনি বললেন, “আমি আরও একটি স্বপ্ন দেখেছি, এবং এবার সূর্য ও চন্দ্র ও এগারোটি তারা আমাকে প্রণাম করছে।”
GEN 37:10 তিনি যখন তাঁর বাবাকে ও একইসাথে তাঁর দাদাদেরও তা বললেন, তখন তাঁর বাবা তাঁকে ভর্ৎসনা করে বললেন, “তুমি এ কী ধরনের স্বপ্ন দেখলে? তোমার মা, আমি ও তোমার দাদারা কি সত্যিই তোমার কাছে এসে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে তোমাকে প্রণাম করব?”
GEN 37:11 তাঁর দাদারা তাঁর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হলেন, কিন্তু তাঁর বাবা এই বিষয়টি মনে রাখলেন।
GEN 37:12 তাঁর দাদারা শিখিমের কাছে তাঁদের বাবার পশুপাল চরাতে গেলেন,
GEN 37:13 এবং ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “তুমি তো জানো, তোমার দাদারা শিখিমের কাছে পশুপাল চরাচ্ছে। এসো, আমি তোমাকে তাদের কাছে পাঠাতে যাচ্ছি।” “খুব ভালো,” তিনি উত্তর দিলেন।
GEN 37:14 অতএব তিনি যোষেফকে বললেন, “যাও ও দেখো পশুপালের সাথে সাথে তোমার দাদারাও সব ঠিকঠাক আছে কি না, এবং আমার কাছে খবর নিয়ে এসো।” পরে তিনি তাঁকে হিব্রোণ উপত্যকা থেকে পাঠিয়ে দিলেন। যোষেফ যখন শিখিমে পৌঁছালেন,
GEN 37:15 তখন একজন লোক তাঁকে মাঠেঘাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কার খোঁজ করছ?”
GEN 37:16 তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আমার দাদাদের খুঁজছি। তুমি কি বলতে পারবে কোথায় তাঁরা তাঁদের পশুপাল চরাচ্ছেন?”
GEN 37:17 “তাঁরা এখান থেকে সামনে এগিয়ে গিয়েছেন,” লোকটি উত্তর দিল। “আমি তাঁদের বলতে শুনেছি, ‘চলো, দোথনে যাই।’ ” অতএব যোষেফ তাঁর দাদাদের অনুসরণ করলেন ও দোথনের কাছে তাঁদের খুঁজে পেলেন।
GEN 37:18 কিন্তু তাঁরা দূর থেকেই তাঁকে দেখতে পেলেন, এবং তিনি তাঁদের কাছে পৌঁছানোর আগেই, তাঁরা তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলেন।
GEN 37:19 “সেই স্বপ্নদর্শী আসছে!” তাঁরা একে অপরকে বললেন।
GEN 37:20 “এখন এসো, আমরা তাকে হত্যা করি ও এখানে যে জলাশয়গুলি আছে তার মধ্যে একটিতে তাকে ফেলে দিই এবং বলি যে হিংস্র কোনো পশু তাকে গিলে ফেলেছে। পরে আমরা দেখব তার স্বপ্নের কী হয়।”
GEN 37:21 রূবেণ যখন তা শুনলেন, তখন তিনি তাঁদের হাত থেকে যোষেফকে রক্ষা করতে চাইলেন। “আমরা যেন তাকে হত্যা না করি,” তিনি বললেন।
GEN 37:22 “কোনও রক্তপাত কোরো না। এই মরুপ্রান্তরে তাকে এই জলাশয়ের মধ্যে ফেলে দাও, কিন্তু তার গায়ে হাত দিয়ো না।” যোষেফকে তাঁদের হাত থেকে রক্ষা করার ও তাঁকে তাঁর বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই রূবেণ তা বললেন।
GEN 37:23 অতএব যোষেফ যখন তাঁর দাদাদের কাছে এলেন, তখন তাঁরা তাঁর সেই আলখাল্লাটি—তাঁর পরনের সেই রংচঙে আলখাল্লাটি—খুলে নিলেন
GEN 37:24 এবং তাঁরা তাঁকে ধরে সেই জলাশয়ের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। জলাশয়টি খালি ছিল; তাতে জল ছিল না।
GEN 37:25 খাবার খেতে বসামাত্রই তারা মুখ তুলে তাকালেন এবং দেখতে পেলেন গিলিয়দ থেকে ইশ্মায়েলীয়দের একটি কাফেলা এগিয়ে আসছে। তাদের উটগুলি মশলাপাতি, সুগন্ধি মলম ও গন্ধরসে বোঝাই ছিল এবং তারা সেগুলি মিশরের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিল।
GEN 37:26 যিহূদা তাঁর দাদা-ভাইদের বললেন, “আমাদের ভাইকে হত্যা করে ও তার রক্ত লুকিয়ে রেখে আমাদের কী লাভ হবে?
GEN 37:27 এসো, আমরা বরং তাকে ইশ্মায়েলীয়দের কাছে বিক্রি করে দিই ও তার গায়ে হাত না দিই; যতই হোক, সে তো আমাদেরই ভাই, আমাদের নিজেদের রক্ত ও মাংস।” তাঁর দাদা-ভাইরাও একমত হলেন।
GEN 37:28 অতএব মিদিয়নীয় ব্যবসায়ীরা যখন সেখানে পৌঁছাল, যোষেফের দাদারা তাঁকে সেই জলাশয় থেকে টেনে তুললেন এবং সেই ইশ্মায়েলীয়দের কাছে কুড়ি শেকল রুপোর বিনিময়ে তাঁকে বিক্রি করে দিলেন, যারা তাঁকে মিশরে নিয়ে গেল।
GEN 37:29 রূবেণ যখন সেই জলাশয়ের কাছে ফিরে এসে দেখতে পেলেন যে যোষেফ সেখানে নেই, তখন তিনি নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন।
GEN 37:30 তিনি তাঁর ভাইদের কাছে গিয়ে বললেন, “ছেলেটি তো সেখানে নেই! আমি এখন কোথায় যাব?”
GEN 37:31 তখন তাঁরা যোষেফের আলখাল্লাটি নিয়ে, একটি ছাগল জবাই করলেন এবং সেই আলখাল্লাটি রক্তে চুবিয়ে নিলেন।
GEN 37:32 তাঁরা সেই রংচঙে আলখাল্লাটি তাঁদের বাবার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বললেন, “আমরা এটি খুঁজে পেয়েছি। পরীক্ষা করে দেখুন এটি আপনার ছেলেরই আলখাল্লা কি না।”
GEN 37:33 তিনি সেটি চিনতে পেরে বললেন, “এটি আমার ছেলেরই আলখাল্লা! কোনো হিংস্র জন্তু তাকে গিলে ফেলেছে। যোষেফকে নিশ্চয় টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।”
GEN 37:34 তখন যাকোব তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলে দিলেন, গুনচট গায়ে দিলেন ও তাঁর ছেলের জন্য অনেক দিন ধরে শোক পালন করলেন।
GEN 37:35 তাঁর সব ছেলেমেয়ে তাঁকে সান্তনা দিতে এলেন, কিন্তু তিনি সান্তনা পেতে চাননি। “না,” তিনি বললেন, “যতদিন না পর্যন্ত আমি কবরে গিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মিলিত হচ্ছি, আমি শোক পালন করেই যাব।” অতএব তাঁর বাবা তাঁর জন্য কান্নাকাটি করলেন।
GEN 37:36 ইতিমধ্যে, মিদিয়নীয়রা যোষেফকে মিশরে ফরৌণের রাজকর্মকর্তা, পাহারাদারদের দলপতি পোটিফরের কাছে বিক্রি করে দিল।
GEN 38:1 সেই সময় যিহূদা তাঁর দাদা-ভাইদের ছেড়ে হীরা নামক অদুল্লম নিবাসী একজন লোকের সঙ্গে থাকতে চলে গেলেন।
GEN 38:2 সেখানে যিহূদা শূয় নামক কনানীয় একজন লোকের মেয়ের দেখা পেলেন। তিনি তাকে বিয়ে করলেন ও তাকে প্রণয়জ্ঞাপনও করলেন;
GEN 38:3 সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল ও এক ছেলের জন্ম দিল, যার নাম রাখা হল এর।
GEN 38:4 সে আবার গর্ভবতী হল ও এক ছেলের জন্ম দিল, ও তার নাম রাখল ওনন।
GEN 38:5 সে আরও এক ছেলের জন্ম দিল ও তার নাম রাখল শেলা। শেলার জন্মের সময় তাঁরা কষীবেই বসবাস করতেন।
GEN 38:6 যিহূদা তাঁর বড়ো ছেলে এরের জন্যে এক স্ত্রী এনেছিলেন, তার নাম তামর।
GEN 38:7 কিন্তু যিহূদার বড়ো ছেলে এর, সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে দুষ্ট ছিল; তাই সদাপ্রভু তাকে মেরে ফেললেন।
GEN 38:8 পরে যিহূদা ওননকে বললেন, “তোমার দাদার স্ত্রীর সঙ্গে শুয়ে পড়ো এবং তোমার দাদার হয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য তার প্রতি তোমার দায়িত্ব পালন করো।”
GEN 38:9 কিন্তু ওনন জানত যে সেই সন্তানটি তার নিজের হবে না, তাই যখনই সে তার দাদার স্ত্রীর সাথে শুতো, সে তার বীর্য মাটিতে ফেলে দিত, যেন তাকে তার দাদার হয়ে কোনও সন্তানের জন্ম দিতে না হয়।
GEN 38:10 সে যা করল তা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে অপকর্মরূপে গণ্য হল; তাই সদাপ্রভু তাকেও মেরে ফেললেন।
GEN 38:11 যিহূদা তখন তাঁর পুত্রবধূ তামরকে বললেন, “আমার ছেলে শেলা যতদিন না বড়ো হচ্ছে, ততদিন তুমি তোমার বাবার ঘরে গিয়ে বিধবার মতো হয়ে থাকো।” কারণ তিনি ভাবলেন, “সেও হয়তো তার দাদাদের মতো মারা যাবে।” অতএব তামর তার বাবার ঘরে থাকতে চলে গেল।
GEN 38:12 বেশ কিছুকাল পর শূয়ের সেই মেয়ে, যিহূদার স্ত্রী মারা গেল। যিহূদা যখন তাঁর মর্মযন্ত্রণা কাটিয়ে উঠলেন, তখন তিনি তিম্নায় সেই লোকজনের কাছে উঠে গেলেন, যারা তাঁর মেষগুলির লোম ছাঁটছিল, এবং তাঁর বন্ধু অদুল্লমীয় হীরাও তাঁর সঙ্গে গেলেন।
GEN 38:13 যখন তামরকে বলা হল, “তোমার শ্বশুরমশাই তাঁর মেষগুলির লোম ছাঁটার জন্য তিম্নার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন,”
GEN 38:14 তখন সে তার বৈধব্য-বস্ত্রটি খুলে ফেলল, ছদ্মবেশ ধারণের জন্য ঘোমটায় মুখ ঢাকল, এবং পরে সেই ঐনয়িমের প্রবেশদ্বারে গিয়ে বসল, যা তিম্নায় যাওয়ার পথেই পড়ে। কারণ সে দেখল যে, যদিও শেলা এখন বেড়ে উঠেছে, তবুও তার স্ত্রীরূপে তাকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
GEN 38:15 যিহূদা যখন তাকে দেখলেন, তখন তিনি ভাবলেন যে সে একজন বেশ্যা, কারণ সে তার মুখ ঢেকে রেখেছিল।
GEN 38:16 সে যে তাঁর পুত্রবধূ, একথা না বুঝেই তিনি রাস্তার ধারে তার কাছে গিয়ে বললেন, “এবার এসো, আমি তোমার সঙ্গে শুয়ে পড়ি।” “আর আপনার সঙ্গে শোয়ার জন্য আপনি আমাকে কী দেবেন?” সে জিজ্ঞাসা করল।
GEN 38:17 “আমার পশুপাল থেকে একটি ছাগশাবক আমি তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব,” তিনি বললেন। “যতদিন না আপনি আমার কাছে সেটি পাঠাচ্ছেন, ততদিন আপনি কি জামানতরূপে আমাকে কিছু দেবেন?” সে জিজ্ঞাসা করল।
GEN 38:18 তিনি বললেন, “জামানতরূপে তোমাকে আমি কী দেব?” “আপনার সিলমোহর ও সেটির সুতো, ও আপনার হাতের লাঠিটি,” সে উত্তর দিল। অতএব তিনি তাকে সেগুলি দিলেন ও তাঁর সঙ্গে শুলেন, এবং সে তাঁর দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল।
GEN 38:19 সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর, সে তার ওড়নাটি খুলে ফেলল এবং আবার তার বৈধব্য-বস্ত্রটি পরে নিল।
GEN 38:20 ইতিমধ্যে যিহূদা সেই মহিলাটির কাছ থেকে তাঁর জামানতটি ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁর সেই অদুল্লমীয় বন্ধুর মাধ্যমে সেই ছাগশাবকটি পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু তিনি তাকে খুঁজে পাননি।
GEN 38:21 সেখানে বসবাসকারী লোকজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “ঐনয়িমের রাস্তার ধারে যে দেবদাসীটি ছিল, সে কোথায়?” তারা বলল, “এখানে কোনও দেবদাসী থাকে না।”
GEN 38:22 অতএব তিনি যিহূদার কাছে ফিরে গেলেন ও বললেন, “আমি তাকে খুঁজে পাইনি। এছাড়াও, সেখানে বসবাসকারী লোকজনও বলল, ‘এখানে কোনও দেবদাসী থাকে না।’ ”
GEN 38:23 তখন যিহূদা বললেন, “তার কাছে যা আছে তা সে রেখে দিক, তা না হলে আমাদের এক হাসির খোরাক হতে হবে। যাই হোক না কেন, আমি তো এই ছাগশাবকটি তার কাছে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি তাকে খুঁজে পাওনি।”
GEN 38:24 প্রায় তিন মাস পর যিহূদাকে বলা হল, “আপনার পুত্রবধূ তামর বেশ্যাবৃত্তির অপরাধ করেছে, এবং পরিণামস্বরূপ এখন সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।” যিহূদা বললেন, “তাকে বের করে আনো ও আগুনে পুড়িয়ে মারো!”
GEN 38:25 তাকে যখন বের করে আনা হচ্ছিল, সে তখন তার শ্বশুরের কাছে একটি খবর পাঠিয়েছিল। “যিনি এগুলির মালিক, তাঁর দ্বারাই আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছি,” সে বলল। আর সে এও বলল, “দেখুন তো, এই সিলমোহর ও সুতো এবং লাঠিটি কার তা আপনি চিনতে পারেন কি না।”
GEN 38:26 যিহূদা সেগুলি চিনতে পেরে বললেন, “সে আমার থেকে বেশি ধার্মিক, যেহেতু আমি তাকে আমার ছেলে শেলার হাতে তুলে দিইনি।” তিনি আর কখনও তামরের সঙ্গে শয়ন করেননি।
GEN 38:27 যখন তামরের প্রসবকাল এসে উপস্থিত হল, তখন দেখা গেল তার গর্ভে যমজ ছেলে।
GEN 38:28 যখন সে সন্তান প্রসব করছিল, তাদের মধ্যে একজন তার হাত বাইরে বের করল; অতএব ধাত্রী টকটকে লাল রংয়ের সুতো নিয়ে সেটি তার কব্জিতে বেঁধে দিল ও বলল, “এই প্রথমে বের হয়েছে।”
GEN 38:29 কিন্তু সে যখন তার হাতটি টেনে নিল, তখন তার ভাই বের হয়ে এল, ও ধাত্রী বলল, “অতএব তুমি এভাবেই আবির্ভূত হয়েছ!” আর তার নাম রাখা হল পেরস।
GEN 38:30 পরে তার সেই ভাই বের হয়ে এল, যার কব্জিতে টকটকে লাল রংয়ের সুতো বাঁধা ছিল। আর তার নাম রাখা হল সেরহ।
GEN 39:1 যোষেফকে মিশরে নিয়ে যাওয়া হল। পোটিফর বলে একজন মিশরীয়, যিনি ফরৌণের রাজকর্মকর্তাদের মধ্যে একজন তথা পাহারাদারদের দলপতি ছিলেন, তিনি তাঁকে সেই ইশ্মায়েলীয়দের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন, যারা তাঁকে মিশরে নিয়ে গেল।
GEN 39:2 সদাপ্রভু যোষেফের সঙ্গে ছিলেন তাই তিনি সাফল্য পেলেন, এবং তিনি তাঁর মিশরীয় প্রভুর বাড়িতে বসবাস করতেন।
GEN 39:3 তাঁর প্রভু যখন দেখলেন যে সদাপ্রভু তাঁর সঙ্গে আছেন এবং তিনি যা যা করেন সবেতেই সদাপ্রভু তাঁকে সফলতা দেন,
GEN 39:4 তখন যোষেফ তাঁর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করলেন ও তাঁর সেবক হয়ে গেলেন। পোটিফর তাঁকে নিজের পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব দিলেন, এবং তাঁর মালিকানাধীন সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্বও তাঁকে দিলেন।
GEN 39:5 যে সময় থেকে তিনি যোষেফকে তাঁর পরিবারের ও তাঁর মালিকানাধীন সবকিছুর দায়িত্ব দিলেন, সদাপ্রভু যোষেফের জন্য সেই মিশরীয়ের পরিবারকে আশীর্বাদ করলেন। বাড়িতে ও জমিতে, পোটিফরের যা যা ছিল, সে সবকিছুর উপর সদাপ্রভুর আশীর্বাদ বর্তে ছিল।
GEN 39:6 অতএব পোটিফর তাঁর সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্ব যোষেফের উপর ছেড়ে দিলেন; যোষেফ সেই দায়িত্ব সামলানোর সময়, তিনি যে যে খাবারদাবার খেতেন সেগুলি ছাড়া তিনি আর কোনো বিষয়ে চিন্তা করতেন না। যোষেফ শক্তপোক্ত ও সুদর্শন পুরুষ ছিলেন,
GEN 39:7 এবং কিছুকাল পর তার প্রভু-পত্নীর দৃষ্টি যোষেফের উপর গিয়ে পড়ল ও সে বলল, “আমার সাথে বিছানায় এসো!”
GEN 39:8 কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। “আমাকে দায়িত্ব দিয়ে,” তিনি তাকে বললেন, “আমার প্রভু বাড়ির কোনও বিষয়েই আর মাথা ঘামান না; তাঁর মালিকানাধীন সবকিছুই তিনি আমার দায়িত্বে ছেড়ে দিয়েছেন।
GEN 39:9 এই বাড়িতে আমার চেয়ে বড়ো আর কেউ নেই। আপনাকে ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার প্রভু আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি, কারণ আপনি যে তাঁর স্ত্রী। তবে কীভাবে আমি এ ধরনের জঘন্য কাজ এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করব?”
GEN 39:10 আর যদিও সেই মহিলা দিনের পর দিন যোষেফকে একই কথা বলে যাচ্ছিল, তবুও তিনি তাঁর সাথে বিছানায় যেতে অস্বীকার করলেন; এমনকি তিনি তাঁর সঙ্গে থাকতেও চাইলেন না।
GEN 39:11 একদিন তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করার জন্য বাড়ির ভিতরে গেলেন, এবং পারিবারিক দাস-দাসীদের মধ্যে কেউই তখন ভিতরে ছিল না।
GEN 39:12 তাঁর প্রভু-পত্নী তাঁর আলখাল্লা টেনে ধরে বলল, “আমার সাথে বিছানায় এসো!” কিন্তু তিনি তার হাতে নিজের আলখাল্লাটি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেন।
GEN 39:13 যখন সে দেখল যে যোষেফ তার হাতে নিজের আলখাল্লাটি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন,
GEN 39:14 তখন সে তার পারিবারিক দাস-দাসীদের ডাক দিল। “দেখো,” সে তাদের বলল, “এই হিব্রুটিকে আমাদের সঙ্গে ফুর্তি করার জন্য আনা হয়েছে! সে এখানে ভিতরে এসে আমার সঙ্গে শুতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি চিৎকার করে উঠেছিলাম।
GEN 39:15 যখন সে শুনল আমি সাহায্য পাওয়ার জন্য চিৎকার করছি, তখন সে আমার পাশে তার আলখাল্লাটি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল।”
GEN 39:16 তাঁর প্রভু ঘরে না ফেরা পর্যন্ত সেই মহিলাটি তাঁর আলখাল্লাটি নিজের পাশে রেখে দিয়েছিল।
GEN 39:17 পরে সে পোটিফরকে এই গল্পটি বলে শোনাল: “যে হিব্রু ক্রীতদাসটিকে তুমি এনেছিলে, সে আমার সঙ্গে ফুর্তি করার জন্য আমার কাছে এসেছিল।
GEN 39:18 কিন্তু যেই না আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠেছিলাম, সে আমার পাশে তার আলখাল্লাটি ছেড়ে দিয়ে পালিয়েছিল।”
GEN 39:19 “তোমার ক্রীতদাসটি আমার সঙ্গে এই ধরনের ব্যবহার করেছে,” এই গল্পটি যখন যোষেফের প্রভু-পত্নী তাঁর প্রভুকে বলে শোনাল, তখন তিনি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন।
GEN 39:20 যোষেফের প্রভু যোষেফকে ধরে সেই জেলখানায় পুরে দিলেন, যেখানে রাজার কয়েদিদের বন্দি করে রাখা হত। কিন্তু যোষেফ যখন সেই জেলখানায় ছিলেন,
GEN 39:21 সদাপ্রভু তখন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন; তিনি তাঁকে দয়া দেখালেন ও সেই জেল-রক্ষকের দৃষ্টিতে তাঁকে অনুগ্রহ পেতেও দিলেন।
GEN 39:22 অতএব সেই জেল-রক্ষক যোষেফকে জেলের সব বন্দির তত্ত্বাবধায়ক করে দিলেন, এবং সেখানে যা যা কাজকর্ম হত, সেসবের দায়িত্বও তাঁকে দিলেন।
GEN 39:23 যোষেফের তত্ত্বাবধানে যা কিছু ছিল, তার কোনোটির প্রতিই সেই রক্ষক মনোযোগ দিতেন না, কারণ সদাপ্রভু যোষেফের সঙ্গে ছিলেন ও তিনি যা কিছু করতেন, সবেতেই তিনি তাঁকে সাফল্য দিলেন।
GEN 40:1 কিছুকাল পর, মিশরের রাজার পানপাত্র বহনকারী ও রুটিওয়ালা তাদের প্রভুকে, মিশরের রাজাকে অসন্তুষ্ট করল।
GEN 40:2 ফরৌণ তাঁর সেই দুই কর্মকর্তার, প্রধান পানপাত্র বহনকারী ও প্রধান রুটিওয়ালার প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন,
GEN 40:3 এবং যে জেলখানায় যোষেফ বন্দি ছিলেন, সেখানে পাহারাদারদের দলপতির হেফাজতেই তাদের রেখে দিলেন।
GEN 40:4 পাহারাদারদের দলপতি তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব যোষেফকে দিলেন, এবং তিনি তাদের পরিচর্যা করলেন। তারা কিছুকাল সেখানে বন্দি থাকার পর,
GEN 40:5 দুজনের প্রত্যেকেই—যাদের জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল, মিশরের রাজার সেই পানপাত্র বহনকারী ও রুটিওয়ালা—একই রাতে একটি করে স্বপ্ন দেখল, এবং প্রত্যেকটি স্বপ্নেরই নিজস্ব অর্থ ছিল।
GEN 40:6 পরদিন সকালে যোষেফ যখন তাদের কাছে এলেন, তখন তিনি দেখলেন যে তারা দুজনেই বিমর্ষ হয়ে আছে।
GEN 40:7 অতএব ফরৌণের যে কর্মকর্তারা তাঁর প্রভুর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে বন্দি অবস্থায় ছিল, তাদের তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আজ আপনাদের এত দুঃখিত দেখাচ্ছে কেন?”
GEN 40:8 “আমরা দুজনেই স্বপ্ন দেখেছি,” তারা উত্তর দিল, “কিন্তু সেগুলি ব্যাখ্যা করে দেওয়ার কেউ নেই।” তখন যোষেফ তাদের বললেন, “ব্যাখ্যা করার মালিক কি ঈশ্বর নন? আপনাদের স্বপ্নগুলি আমায় বলুন।”
GEN 40:9 অতএব প্রধান পানপাত্র বহনকারী যোষেফকে তার স্বপ্নটি বলল। সে তাঁকে বলল, “আমার স্বপ্নে আমার সামনে আমি একটি দ্রাক্ষালতা দেখলাম,
GEN 40:10 এবং সেই দ্রাক্ষালতায় তিনটি শাখা ছিল। সেটিতে কুঁড়ি ফোটামাত্র ফুলও ফুটে উঠল, এবং সেটির গুচ্ছগুলি পাকা দ্রাক্ষাফলে পরিণত হল।
GEN 40:11 ফরৌণের পানপাত্রটি আমার হাতে ছিল, এবং আমি সেই দ্রাক্ষাফলগুলি নিয়ে সেগুলি ফরৌণের পানপাত্রে নিংড়ে দিলাম এবং পানপাত্রটি তাঁর হাতে তুলে দিলাম।”
GEN 40:12 “এই হল এর অর্থ,” যোষেফ তাকে বললেন। “তিনটি শাখা হল তিন দিন।
GEN 40:13 তিনদিনের মধ্যে ফরৌণ আপনার মাথা উন্নত করবেন ও আপনাকে আপনার পদে পুনর্বহাল করবেন, এবং আপনি ফরৌণের হাতে তাঁর পানপাত্রটি তুলে দেবেন, ঠিক যেভাবে আপনি তাঁর পানপাত্র বহনকারী থাকার সময় করতেন।
GEN 40:14 কিন্তু সবকিছু যখন আপনার ক্ষেত্রে ঠিকঠাক হয়ে যাবে, তখন আপনি আমায় মনে রাখবেন ও আমার প্রতি দয়া দেখাবেন; ফরৌণের কাছে আমার কথা বলবেন এবং আমাকে এই জেলখানা থেকে মুক্ত করবেন।
GEN 40:15 হিব্রুদের দেশ থেকে আমাকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে এবং এমনকি এখানেও আমি এমন কোনও কিছু করিনি যে কারণে আমাকে অন্ধকূপে থাকতে হবে।”
GEN 40:16 যখন প্রধান রুটিওয়ালা দেখল যে যোষেফ এক যথাযথ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তখন তিনি যোষেফকে বললেন, “আমিও একটি স্বপ্ন দেখেছি: আমার মাথায় তিন ঝুড়ি রুটি রাখা ছিল।
GEN 40:17 একদম উপরের ঝুড়িটিতে ফরৌণের জন্য সব ধরনের সেঁকা খাবারদাবার ছিল, কিন্তু পাখিরা আমার মাথায় রাখা সেই ঝুড়ি থেকে সেগুলি খেয়ে নিচ্ছিল।”
GEN 40:18 “এই হল এর অর্থ,” যোষেফ বললেন। “সেই তিনটি ঝুড়ি হল তিন দিন।
GEN 40:19 তিনদিনের মধ্যে ফরৌণ আপনার মাথা কেটে ফেলবেন ও আপনার দেহটি শূলে চড়াবেন। আর পাখিরা আপনার মাংস খুবলে খুবলে খাবে।”
GEN 40:20 তৃতীয় দিনটি ছিল ফরৌণের জন্মদিন, এবং তিনি তাঁর সব কর্মকর্তার জন্য এক ভোজসভার আয়োজন করলেন। তাঁর সব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তিনি তাঁর প্রধান পানপাত্র বহনকারী ও প্রধান রুটিওয়ালার মাথা উন্নত করলেন:
GEN 40:21 প্রধান পানপাত্র বহনকারীকে তিনি তাঁর পদে পুনর্বহাল করলেন, যেন তিনি আরও একবার ফরৌণের হাতে পানপাত্রটি তুলে দিতে পারেন—
GEN 40:22 কিন্তু প্রধান রুটিওয়ালাকে তিনি শূলে চড়ালেন, ঠিক যেমনটি যোষেফ তাঁর ব্যাখ্যায় তাদের বলেছিলেন।
GEN 40:23 প্রধান পানপাত্র বহনকারী, অবশ্য, যোষেফকে মনে রাখেনি; সে তাঁকে ভুলে গেল।
GEN 41:1 সম্পূর্ণ দুই বছর যখন পার হয়ে গেল, তখন ফরৌণ একটি স্বপ্ন দেখলেন: তিনি নীলনদের কূলে দাঁড়িয়েছিলেন,
GEN 41:2 পরে নদী থেকে সাতটি মসৃণ ও হৃষ্টপুষ্ট গরু উঠে এল, এবং সেগুলি নলখাগড়ার বনে চরছিল।
GEN 41:3 এগুলির পরে অন্য আরও সাতটি কুৎসিতদর্শন ও অস্থিচর্মসার গরু, নীলনদ থেকে উঠে এল ও নদীর কূলে চরা সেই গরুগুলির পাশে এসে দাঁড়াল।
GEN 41:4 আর যে গরুগুলি কুৎসিত ও অস্থিচর্মসার ছিল, সেগুলি মসৃণ ও হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলিকে গিলে ফেলল। পরে ফরৌণ জেগে উঠলেন।
GEN 41:5 তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন ও দ্বিতীয় একটি স্বপ্ন দেখলেন: সাতটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর শস্যদানার শিষ একটিমাত্র বৃন্তে বেড়ে উঠছিল।
GEN 41:6 সেগুলির পরে, আরও সাতটি শস্যদানার শিষ—কৃষকায় ও পূর্বীয় বায়ু দ্বারা ঝলসিত শিষ অঙ্কুরিত হল।
GEN 41:7 সেই সাতটি কৃষকায় শিষ সাতটি স্বাস্থ্যকর, পূর্ণ শিষকে গিলে ফেলল। পরে ফরৌণ জেগে উঠলেন; তা এক স্বপ্ন ছিল।
GEN 41:8 সকালবেলায় তাঁর মন অস্থির হয়ে পড়ল, তাই তিনি মিশরের সব জাদুকর ও জ্ঞানীগুণী মানুষজনকে ডেকে পাঠালেন। ফরৌণ তাঁর স্বপ্নের কথা তাঁদের বললেন, কিন্তু কেউই সেগুলি তাঁর জন্য ব্যাখ্যা করে দিতে পারলেন না।
GEN 41:9 তখন সেই প্রধান পানপাত্র বহনকারী ফরৌণকে বলল, “আমার ত্রুটি-বিচ্যূতির কথা আজ আমার মনে পড়ছে।
GEN 41:10 ফরৌণ একবার তাঁর দাসদের উপর ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তিনি আমাকে ও প্রধান রুটিওয়ালাকে পাহারাদারদের দলপতির বাড়িতে বন্দি করে রেখেছিলেন।
GEN 41:11 একই রাতে আমরা দুজনেই একটি করে স্বপ্ন দেখেছিলাম, এবং প্রত্যেকটি স্বপ্নেরই নিজস্ব এক অর্থ ছিল।
GEN 41:12 সেখানে পাহারাদারদের দলপতির দাস, এক হিব্রু যুবক আমাদের সঙ্গেই ছিল। আমরা তাকে আমাদের স্বপ্নগুলি বলেছিলাম, এবং সে আমাদের জন্য সেগুলি ব্যাখ্যা করে দিয়েছিল, প্রত্যেককে তার স্বপ্নের অর্থ জানিয়েছিল।
GEN 41:13 আর যেভাবে সে আমাদের কাছে সেগুলি ব্যাখ্যা করে দিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তা ঘটল: আমি আমার পদে পুনর্বহাল হলাম, এবং অন্যজনকে শূলে চড়ানো হল।”
GEN 41:14 অতএব ফরৌণ যোষেফকে ডেকে পাঠালেন, এবং তাঁকে তাড়াতাড়ি অন্ধকূপ থেকে নিয়ে আসা হল। চুল-দাড়ি কামিয়ে ও পোশাক পরিবর্তন করে তিনি ফরৌণের সামনে এলেন।
GEN 41:15 ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি, এবং কেউই সেটির ব্যাখ্যা করতে পারছে না। কিন্তু আমি তোমার বিষয়ে শুনেছি যে তুমি যখন কোনও স্বপ্নের কথা শোনো, তখন তা ব্যাখ্যা করে দিতে পারো।”
GEN 41:16 “আমি তা করতে পারি না,” যোষেফ ফরৌণকে উত্তর দিলেন, “কিন্তু ফরৌণের ইচ্ছানুসারে ঈশ্বরই তাঁকে উত্তর দেবেন।”
GEN 41:17 তখন ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমার স্বপ্নে আমি যখন নীলনদের কূলে দাঁড়িয়েছিলাম,
GEN 41:18 তখন নদী থেকে সাতটি হৃষ্টপুষ্ট ও মসৃণ গরু উঠে এল, এবং সেগুলি নলখাগড়ার বনে চরছিল।
GEN 41:19 সেগুলির পিছু পিছু, অন্য সাতটি গরু উঠে এল—অস্থিসার ও খুব কুৎসিত এবং কৃষকায়। সমগ্র মিশর দেশে আমি এরকম কুৎসিত গরু কখনও দেখিনি।
GEN 41:20 সেই কৃষকায়, কুৎসিত গরুগুলি সেই সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গরুকে খেয়ে ফেলল।
GEN 41:21 কিন্তু সেগুলি খেয়ে ফেলার পরও, কেউই বলতে পারেনি যে তারাই এ কাজ করেছিল; আগের মতো তখনও সেগুলিকে কুৎসিতই দেখাচ্ছিল। পরে আমি জেগে উঠলাম।
GEN 41:22 “আমার স্বপ্নে আমি একই বৃন্তে বেড়ে ওঠা শস্যদানার সাতটি পূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর শিষ দেখেছিলাম।
GEN 41:23 সেগুলির পিছু পিছু, আরও সাতটি শিষ অঙ্কুরিত হল—শুকনো ও কৃষকায় ও পূর্বীয় বায়ু দ্বারা ঝলসিত।
GEN 41:24 শস্যদানার সেই কৃষকায় শিষগুলি সেই সাতটি সুন্দর শিষকে গিলে ফেলল। আমি একথা জাদুকরদের বললাম, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই আমার কাছে তা ব্যাখ্যা করে দিতে পারেনি।”
GEN 41:25 তখন যোষেফ ফরৌণকে বললেন, “ফরৌণের স্বপ্নগুলি এক ও অনুরূপ। ঈশ্বর ফরৌণের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন তিনি কী করতে চলেছেন।
GEN 41:26 সাতটি সুন্দর গরু হল সাত বছর এবং সাতটি সুন্দর শস্যদানার শিষ হল সাত বছর; এ হল এক ও অনুরূপ স্বপ্ন।
GEN 41:27 যে সাতটি কৃষকায়, কুৎসিত গরু পরে উঠে এল সেগুলি সাত বছর, এবং পূর্বীয় বায়ু দ্বারা ঝলসিত শস্যদানার সাতটি রুগ্ন অখাদ্য শিষও তাই: সেগুলি হল সাত বছরের দুর্ভিক্ষ।
GEN 41:28 “আমি ফরৌণকে যেমনটি বললাম তা ঠিক এরকম: ঈশ্বর যা করতে চলেছেন তা তিনি ফরৌণকে দেখিয়েছেন।
GEN 41:29 মিশর দেশে অতিপ্রাচুর্যময় সাতটি বছর আসতে চলেছে,
GEN 41:30 কিন্তু তার পিছু পিছু দুর্ভিক্ষকবলিত সাতটি বছর আসবে। তখন মিশরের সব প্রাচুর্য মানুষ ভুলে যাবে, এবং দুর্ভিক্ষ দেশটিকে ধ্বংস করে দেবে।
GEN 41:31 দেশের প্রাচুর্যকে কেউ মনে রাখবে না, কারণ যে দুর্ভিক্ষ সেটির পিছু পিছু আসতে চলেছে তা খুব ভয়াবহ হবে।
GEN 41:32 ফরৌণকে দুটি আকারে স্বপ্নটি দেওয়ার কারণ হল এই যে বিষয়টি ঈশ্বর দ্বারা অটলভাবে নিশ্চিত হয়ে আছে, এবং অচিরেই ঈশ্বর তা বাস্তবায়িত করবেন।
GEN 41:33 “আর এখন ফরৌণ একজন বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান লোক খুঁজে বের করুন এবং তার হাতে মিশর দেশের দায়িত্ব তুলে দিন।
GEN 41:34 প্রাচুর্যময় সাত বছর ধরে মিশরে উৎপন্ন শস্যের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করার জন্য ফরৌণ সারা দেশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ করুন।
GEN 41:35 তাঁরা আগামী এই সুন্দর বছরগুলিতে যেন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেন এবং ফরৌণের কতৃর্ত্বের অধীনে সেই শস্য মজুত করে যেন নগরগুলিতে খাদ্যভাণ্ডার গড়ে রাখেন।
GEN 41:36 মিশরের উপর দুর্ভিক্ষকবলিত যে সাতটি বছর নেমে আসতে চলেছে, সেই সময় ব্যবহারের উপযোগী করে দেশের জন্য এই খাদ্যশস্য মজুত করে রাখতে হবে, যেন দেশটি সেই দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস হয়ে না যায়।”
GEN 41:37 ফরৌণের ও তাঁর সব কর্মকর্তার কাছে সেই পরিকল্পনাটি বেশ ভালো বলে মনে হল।
GEN 41:38 অতএব ফরৌণ তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এই লোকটির মতো কাউকে কি আমরা খুঁজে পাব, যার অন্তরে ঈশ্বরের আত্মা আছে?”
GEN 41:39 পরে ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “যেহেতু ঈশ্বর এসব কিছু তোমাকেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাই তোমার মতো এত বিচক্ষণ ও জ্ঞানীগুণী আর কেউ নেই।
GEN 41:40 তুমিই আমার প্রাসাদের দায়িত্ব সামলাবে, এবং আমার সব প্রজাকে তোমার আদেশের অধীন হতে হবে। শুধুমাত্র সিংহাসনের ক্ষেত্রে আমি তোমার চেয়ে মহত্তর হব।”
GEN 41:41 অতএব ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমি এতদ্বারা তোমার হাতে সম্পূর্ণ মিশর দেশের দায়িত্ব সমর্পণ করে দিলাম।”
GEN 41:42 পরে ফরৌণ নিজের আঙুল থেকে তাঁর সিলমোহরের আংটিটি খুলে যোষেফের আঙুলে পরিয়ে দিলেন। তিনি তাঁকে মিহি মসিনার আলখাল্লা দিয়ে সুসজ্জিত করলেন এবং তাঁর গলায় সোনার এক হার পরিয়ে দিলেন।
GEN 41:43 তিনি তাঁকে পদমর্যাদায় তাঁর দ্বিতীয় প্রধান করে একটি রথে চড়িয়ে দিলেন এবং লোকজন তাঁর সামনে চিৎকার করতে লাগল, “রাস্তা করে দাও!” এভাবে তিনি যোষেফের হাতে সম্পূর্ণ মিশর দেশের দায়িত্ব তুলে দিলেন।
GEN 41:44 পরে ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমি ফরৌণ, কিন্তু তোমার আদেশ ছাড়া সমগ্র মিশরে কেউ হাত বা পা ওঠাবে না।”
GEN 41:45 ফরৌণ যোষেফের নাম রাখলেন সাফনৎ-পানেহ এবং তাঁর স্ত্রী হওয়ার জন্য তিনি ওনের যাজক পোটীফেরের মেয়ে আসনৎকে দান করলেন। আর যোষেফ সমগ্র মিশর দেশ জুড়ে ঘুরে বেড়ালেন।
GEN 41:46 ত্রিশ বছর বয়সে যোষেফ মিশরের রাজা ফরৌণের কাজে যোগ দিলেন। আর যোষেফ ফরৌণের সামনে থেকে চলে গেলেন এবং সমগ্র মিশর জুড়ে ঘুরে বেড়ালেন।
GEN 41:47 প্রাচুর্যময় সাত বছর জমিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হল।
GEN 41:48 প্রাচুর্যময় সেই সাত বছর ধরে মিশরে যত খাদ্যশস্য উৎপন্ন হল, যোষেফ সেসব সংগ্রহ করলেন ও নগরগুলিতে মজুত করে রাখলেন। প্রত্যেকটি নগরের চারপাশের জমিতে উৎপন্ন খাদ্যশস্য তিনি সেইসব নগরেই রেখে দিলেন।
GEN 41:49 প্রচুর খাদ্যশস্য, সমুদ্রের বালুকণার মতো করে যোষেফ মজুত করে ফেললেন; তা পরিমাণে এত বেশি ছিল যে তিনি হিসেব রাখা বন্ধ করে দিলেন, কারণ তা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
GEN 41:50 দুর্ভিক্ষকবলিত বছরগুলি এসে পড়ার আগেই, ওনের যাজক পোটীফেরের মেয়ে আসনতের মাধ্যমে যোষেফের দুই ছেলে জন্মেছিল।
GEN 41:51 যোষেফ তাঁর বড়ো ছেলের নাম রাখলেন মনঃশি এবং বললেন, “যেহেতু ঈশ্বর আমাকে আমার সব দুঃখকষ্ট ও আমার বাবার পুরো পরিবারকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন।”
GEN 41:52 দ্বিতীয় ছেলের নাম তিনি রাখলেন ইফ্রয়িম এবং বললেন “যেহেতু ঈশ্বর আমাকে আমার দুঃখের দেশে ফলপ্রসূ করেছেন।”
GEN 41:53 মিশরে প্রাচুর্যময় সাত বছর সমাপ্ত হল,
GEN 41:54 এবং দুর্ভিক্ষকবলিত সাত বছর শুরু হল, যোষেফ ঠিক যেমনটি বলেছিলেন। অন্যান্য দেশেও দুর্ভিক্ষ হল, কিন্তু সমগ্র মিশর দেশে খাদ্যদ্রব্য ছিল।
GEN 41:55 সমগ্র মিশরে যখন দুর্ভিক্ষের অনুভূতি শুরু হল, তখন প্রজারা ফরৌণের কাছে খাদ্যদ্রব্যের জন্য কান্নাকাটি করল। তখন ফরৌণ সব মিশরবাসীকে বললেন, “যোষেফের কাছে যাও ও সে যা বলবে তাই করো।”
GEN 41:56 দুর্ভিক্ষ যখন সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ল, তখন যোষেফ সব আড়ত খুলে দিলেন ও মিশরীয়দের কাছে খাদ্যশস্য বিক্রি করলেন, কারণ সমগ্র মিশর জুড়ে দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করল।
GEN 41:57 সমগ্র জগৎ মিশরে যোষেফের কাছে খাদ্যশস্য কিনতে এল, কারণ দুর্ভিক্ষ সর্বত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করল।
GEN 42:1 যাকোব যখন জানতে পারলেন যে মিশর দেশে খাদ্যশস্য আছে, তখন তিনি তাঁর ছেলেদের বললেন, “তোমরা কেন শুধু পরস্পরের মুখ দেখাদেখি করছ?”
GEN 42:2 তিনি আরও বললেন, “আমি শুনেছি যে মিশরে খাদ্যশস্য আছে। সেখানে যাও ও আমাদের জন্য কিছুটা খাদ্যশস্য কিনে আনো, যেন আমরা বাঁচতে পারি ও মরে না যাই।”
GEN 42:3 তখন যোষেফের দাদা-ভাইদের মধ্যে দশজন মিশর থেকে খাদ্যশস্য কিনে আনার জন্য সেখানে গেলেন।
GEN 42:4 কিন্তু যাকোব যোষেফের ছোটো ভাই বিন্যামীনকে, অন্যদের সঙ্গে পাঠাননি, কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন, পাছে তার কোনও ক্ষতি হয়।
GEN 42:5 অতএব যারা খাদ্যশস্য কেনার জন্য মিশরে গেল তাদের মধ্যে ইস্রায়েলের ছেলেরাও ছিলেন, কারণ কনান দেশেও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
GEN 42:6 যোষেফ ছিলেন সেদেশের সেই শাসনকর্তা, যিনি সেখানকার সব প্রজার কাছে খাদ্যশস্য বিক্রি করছিলেন। অতএব যোষেফের দাদারা যখন সেখানে পৌঁছালেন, তাঁরা মাটিতে মাথা নত করে তাঁকে প্রণাম করলেন।
GEN 42:7 যোষেফ তাঁর দাদাদের দেখামাত্রই, তাঁদের চিনতে পারলেন, কিন্তু তিনি এক অপরিচিত লোক হওয়ার ভান করলেন ও তাঁদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন। “তোমরা কোথা থেকে এসেছ?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। “কনান দেশ থেকে,” তাঁরা উত্তর দিলেন, “খাদ্যশস্য কেনার জন্য।”
GEN 42:8 যোষেফ যদিও তাঁর দাদাদের চিনতে পেরেছিলেন, তাঁরা তাঁকে চিনতে পারেননি।
GEN 42:9 তখন তাঁর সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ল, যা তিনি তাঁদের সম্বন্ধে দেখেছিলেন এবং তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা গুপ্তচর! তোমরা দেখতে এসেছ কোথায় আমাদের দেশ অসুরক্ষিত হয়ে আছে।”
GEN 42:10 “হে আমার প্রভু, না,” তাঁরা উত্তর দিলেন। “আপনার দাসেরা খাদ্যশস্য কিনতে এসেছে।
GEN 42:11 আমরা সবাই এক ব্যক্তিরই ছেলে। আপনার দাসেরা সৎলোক, তারা গুপ্তচর নয়।”
GEN 42:12 “না!” তিনি তাঁদের বললেন। “তোমরা দেখতে এসেছ কোথায় আমাদের দেশ অসুরক্ষিত হয়ে আছে।”
GEN 42:13 কিন্তু তাঁরা উত্তর দিলেন, “আপনার দাসেরা মোট বারোজন ভাই ছিল, সবাই সেই একজনেরই ছেলে, যিনি কনান দেশে বসবাস করেন। ছোটো ছেলেটি এখন আমাদের বাবার সঙ্গে আছে, এবং অন্যজন আর বেঁচে নেই।”
GEN 42:14 যোষেফ তাদের বললেন, “আমি যা বলেছি তাই ঠিক: তোমরা গুপ্তচর!
GEN 42:15 আর এভাবেই তোমাদের পরীক্ষা করা হবে: ফরৌণের প্রাণের দিব্যি, যতক্ষণ না তোমাদের ছোটো ভাই এখানে আসছে, তোমরা এই স্থান ছেড়ে যেতে পারবে না।
GEN 42:16 তোমাদের ভাইকে নিয়ে আসার জন্য তোমাদের মধ্যে থেকে একজনকে পাঠাও; তোমাদের মধ্যে অবশিষ্টজনেদের জেলখানায় পুরে রাখা হবে, যেন তোমাদের কথা পরীক্ষা করে দেখা যায় যে আদৌ তোমরা সত্যিকথা বলছ কি না। যদি তা না হয়, তবে ফরৌণের প্রাণের দিব্যি, তোমরা গুপ্তচরই!”
GEN 42:17 আর তিনদিনের জন্য তিনি তাঁদের জেলে বন্দি করে রাখলেন।
GEN 42:18 তৃতীয় দিনে, যোষেফ তাঁদের বললেন “এরকম করো ও তোমরা বেঁচে যাবে, কারণ আমি ঈশ্বরকে ভয় করি:
GEN 42:19 যদি তোমরা সৎলোক হও, তবে তোমাদের ভাইদের মধ্যে একজন এখানে জেলখানায় থাকো, ততক্ষণ তোমাদের মধ্যে অন্যেরা চলে যাও ও তোমাদের নিরন্ন পরিবার-পরিজনেদের জন্য খাদ্যশস্যও নিয়ে যাও।
GEN 42:20 কিন্তু তোমরা অবশ্যই তোমাদের ছোটো ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, যেন তোমাদের বলা কথা যাচাই করা যায় ও তোমরা মারা না যাও।” তাঁরা তাই করতে উদ্যত হলেন।
GEN 42:21 তাঁরা পরস্পরকে বললেন, “আমাদের ভাইয়ের কারণেই আমরা শাস্তি পাচ্ছি। সে যখন আমাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছিল, আমরা দেখেছিলাম সে কত আকুল হয়ে পড়েছিল, কিন্তু আমরা তার কথা শুনিনি; সেজন্যই আমাদের উপর এই চরম বিপদ ঘনিয়েছে।”
GEN 42:22 রূবেণ উত্তর দিলেন, “আমি কি তোমাদের বলিনি যে বালকটির বিরুদ্ধে কোনও পাপ কোরো না? কিন্তু তোমরা তা শোনোনি! এখন তার রক্তের হিসেব আমাদের দিতেই হবে।”
GEN 42:23 তাঁরা অনুভবই করতে পারেননি যে যোষেফ তাঁদের কথা বুঝতে পারছিলেন, কারণ তিনি একজন অনুবাদক ব্যবহার করছিলেন।
GEN 42:24 তিনি তাঁদের কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন ও কাঁদতে শুরু করলেন, কিন্তু পরে আবার ফিরে এলেন ও তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি তাঁদের মধ্যে থেকে শিমিয়োনকে নিয়ে তাঁদের চোখের সামনেই তাকে বেঁধে ফেললেন।
GEN 42:25 যোষেফ তাঁদের বস্তাগুলি খাদ্যশস্য দিয়ে ভর্তি করার, প্রত্যেকের রুপো তাঁদের বস্তায় আবার রেখে দেওয়ার, ও তাঁদের যাত্রাপথের জন্য প্রয়োজনীয় রসদপত্র তাঁদের দেওয়ার আদেশ দিলেন। তাঁদের জন্য এসব কিছু সম্পন্ন হওয়ার পর,
GEN 42:26 তাঁরা তাঁদের গাধাগুলির পিঠে তাঁদের খাদ্যশস্য চাপিয়ে রওনা হয়ে গেলেন।
GEN 42:27 রাত্রিযাপনের জন্য একটি স্থানে তাঁরা দাঁড়ানোর পর তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর গাধার জাবনা নেওয়ার জন্য নিজের বস্তাটি খুললেন, আর তিনি বস্তার মুখে তাঁর রুপো দেখতে পেলেন।
GEN 42:28 “আমার রুপো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে,” তিনি তাঁর ভাইদের বললেন। “এখানে আমার বস্তার মধ্যে তা রাখা আছে।” তাঁদের মনে কাঁপুনি ধরে গেল এবং তাঁরা কাঁপতে কাঁপতে পরস্পরের দিকে ফিরে বললেন, “ঈশ্বর আমাদের প্রতি এ কী করলেন?”
GEN 42:29 কনান দেশে তাঁরা যখন তাঁদের বাবা যাকোবের কাছে এলেন, তখন তাঁরা তাঁদের প্রতি যা যা ঘটেছিল সেসব কথা তাঁকে বললেন। তাঁরা বললেন,
GEN 42:30 “যে লোকটি সে দেশের প্রভু, তিনি আমাদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন এবং আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করলেন যে আমরা বুঝি সেই দেশে গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়েছি।
GEN 42:31 কিন্তু আমরা তাঁকে বললাম, ‘আমরা সৎলোক; আমরা গুপ্তচর নই।
GEN 42:32 আমরা বারোটি ভাই, সবাই একই বাবার ছেলে। একজন আর বেঁচে নেই, এবং ছোটো ভাই এখন কনানে আমাদের বাবার সাথে আছে।’
GEN 42:33 “তখন সেদেশের প্রভু সেই লোকটি আমাদের বললেন, ‘এভাবেই আমি জানতে পারব তোমরা সৎলোক কি না: তোমাদের ভাইদের মধ্যে একজনকে এখানে আমার কাছে ছেড়ে যাও, এবং তোমাদের নিরন্ন পরিবার-পরিজনেদের জন্য খাদ্যশস্য নাও ও চলে যাও।
GEN 42:34 কিন্তু তোমাদের ছোটো ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো যেন আমি জানতে পারি যে তোমরা গুপ্তচর নও কিন্তু সৎলোক। পরে আমি তোমাদের ভাইকে তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দেব, এবং তোমরা এই দেশে ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারো।’ ”
GEN 42:35 তাঁরা যখন তাঁদের বস্তাগুলি খালি করছিলেন, প্রত্যেকের বস্তাতেই তাঁদের রুপো ভর্তি বটুয়া পাওয়া গেল! যখন তাঁরা এবং তাঁদের বাবা টাকার বটুয়াগুলি দেখলেন, তখন তাঁরা ভয় পেয়ে গেলেন।
GEN 42:36 তাঁদের বাবা যাকোব তাঁদের বললেন, “তোমরা আমাকে সন্তানহীন করেছ, যোষেফ আর বেঁচে নেই ও শিমিয়োনও আর নেই, এবং এখন তোমরা বিন্যামীনকে নিয়ে যেতে চাইছ। সবকিছুই আমার বিরুদ্ধে গিয়েছে!”
GEN 42:37 তখন রূবেণ তাঁর বাবাকে বললেন, “আমি যদি তাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে আনতে না পারি তবে আপনি আমার দুই ছেলেকে মেরে ফেলতে পারেন। তার দায়িত্ব আমার হাতে তুলে দিন, আর আমি তাকে ফিরিয়ে আনব।”
GEN 42:38 কিন্তু যাকোব বললেন, “আমার ছেলে তোমাদের সাথে সেখানে যাবে না; তার দাদা মারা গিয়েছে এবং একমাত্র ওই বেঁচে আছে। তোমাদের যাত্রাপথে ওর যদি কোনও ক্ষতি হয়, তবে শোকার্ত অবস্থায় পাকাচুলে তোমরা আমাকে কবরে পাঠিয়ে দেবে।”
GEN 43:1 তখনও পর্যন্ত সেদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছিল।
GEN 43:2 অতএব যখন তাঁরা মিশর থেকে আনা সব খাদ্যশস্য খেয়ে ফেললেন, তখন তাঁদের বাবা তাঁদের বললেন, “তোমরা ফিরে যাও ও আমাদের জন্য আরও কিছু খাদ্যশস্য কিনে আনো।”
GEN 43:3 কিন্তু যিহূদা তাঁকে বললেন, “সেই লোকটি শপথপূর্বক আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন, ‘তোমাদের ভাই যদি তোমাদের সঙ্গে না থাকে তবে তোমরা আর আমার মুখদর্শন করবে না।’
GEN 43:4 আপনি যদি আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকে পাঠান, তবেই আমরা সেখানে যাব ও আপনার জন্য খাদ্যশস্য কিনে আনব।
GEN 43:5 কিন্তু আপনি যদি তাকে না পাঠান, আমরা সেখানে যাব না, কারণ সেই লোকটি আমাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের ভাই যদি তোমাদের সঙ্গে না থাকে তবে তোমরা আর আমার মুখদর্শন করবে না।’ ”
GEN 43:6 ইস্রায়েল জিজ্ঞাসা করলেন, “সেই লোকটিকে একথা বলে কেন তোমরা আমার উপর এই বিপত্তি ডেকে এনেছ যে তোমাদের অন্য একটি ভাই আছে?”
GEN 43:7 তাঁরা উত্তর দিলেন, “সেই লোকটি আমাদের বিষয়ে ও আমাদের পরিবারের বিষয়ে পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে আমাদের প্রশ্ন করেছিলেন। ‘তোমাদের বাবা কি এখনও জীবিত আছেন?’ তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ‘তোমাদের কি অন্য কোনও ভাই আছে?’ আমরা শুধু তাঁর প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছিলাম। আমরা কীভাবে জানব যে তিনি বলবেন, ‘তোমাদের ভাইকে এখানে নিয়ে এসো’?”
GEN 43:8 তখন যিহূদা তাঁর বাবা ইস্রায়েলকে বললেন, “বালকটিকে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দিন এবং আমরা এখনই রওনা দেব, যেন আমরা ও আপনি এবং আমাদের সন্তানেরা বাঁচতে পারি এবং না মরি।
GEN 43:9 আমি নিজে তার নিরাপত্তার মুচলেকা দেব; তার জন্য আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে দায়ী করতে পারেন। আমি যদি তাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে আনতে না পারি ও আপনার সামনে তাকে দাঁড় করাতে না পারি, তবে সারা জীবন আমি এই দোষ বয়ে বেড়াব।
GEN 43:10 তবে ঘটনা হল এই যে, আমরা যদি দেরি না করতাম, তবে এতক্ষণে আমরা দু-দুবার সেখানে গিয়ে ফিরে আসতে পারতাম।”
GEN 43:11 তখন তাঁদের বাবা ইস্রায়েল তাঁদের বললেন, “যদি তা আবশ্যক হয়, তবে এরকম করো: তোমাদের বস্তাগুলিতে এদেশের শ্রেষ্ঠ দ্রব্যগুলির মধ্যে কিছু কিছু নিয়ে রাখো ও এক উপহারসামগ্রীরূপে সেগুলি সেই লোকটির কাছে নিয়ে যাও—যেমন সামান্য কিছু গুগ্‌গুল ও সামান্য কিছু মধু, কিছু মশলাপাতি ও গন্ধরস, কিছু পেস্তাবাদাম ও কাঠবাদাম।
GEN 43:12 তোমরা নিজেদের সঙ্গে দ্বিগুণ পরিমাণ রুপো নাও, কারণ সেই রুপোগুলি তোমাদের ফেরত দিতে হবে যা তোমাদের বস্তার মুখে রেখে দেওয়া হয়েছিল। হয়তো ভুলবশতই তা হয়েছিল।
GEN 43:13 তোমাদের ভাইকেও সঙ্গে নাও এবং এখনই সেই লোকটির কাছে চলে যাও।
GEN 43:14 আর সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সেই লোকটির দৃষ্টিতে তোমাদের দয়া পেতে দিন, যেন তিনি তোমাদের অন্য ভাইকে ও বিন্যামীনকে তোমাদের সঙ্গে ফিরে আসতে দেন। আমার আর কি, আমাকে যদি সন্তানহারা হতে হয় তবে তাই হোক।”
GEN 43:15 অতএব তাঁরা উপহারসামগ্রী ও দ্বিগুণ পরিমাণ রুপো, এবং বিন্যামীনকেও সঙ্গে নিলেন। তাঁরা তাড়াতাড়ি করে মিশরে গেলেন ও যোষেফের কাছে নিজেদের উপস্থিত করলেন।
GEN 43:16 যোষেফ যখন বিন্যামীনকে তাঁদের সঙ্গে দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁর বাড়ির গোমস্তাকে বললেন, “এদের আমার বাড়িতে নিয়ে যাও, একটি পশু বধ করো এবং ভোজের আয়োজন করো, দুপুরবেলায় এরা আমাদের সঙ্গে ভোজনপান করবে।”
GEN 43:17 যোষেফ যেমনটি করতে বললেন, সেই লোকটি ঠিক সেরকমই করলেন এবং তাঁদের যোষেফের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
GEN 43:18 যখন তাঁদের তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হল তখন তাঁরা ভয় পেয়ে গেলেন। তাঁরা ভাবলেন, “প্রথমবার আমাদের বস্তায় যে রুপো রেখে দেওয়া হয়েছিল সেজন্যই আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তিনি আমাদের উপর হামলা করতে ও ক্রীতদাসরূপে আমাদের গ্রেপ্তার করতে এবং আমাদের গাধাগুলি দখল করে নিতে চাইছেন।”
GEN 43:19 অতএব তাঁরা যোষেফের গোমস্তার কাছে চলে গেলেন ও বাড়ির প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন।
GEN 43:20 “হে আমাদের প্রভু, আমরা আপনার দয়া ভিক্ষা করছি,” তাঁরা বললেন, “প্রথমবার আমরা এখানে খাদ্যশস্য কেনার জন্যই এসেছিলাম।
GEN 43:21 কিন্তু রাত্রিযাপনের জন্য আমরা একটি স্থানে থেমে আমাদের বস্তাগুলি খুলেছিলাম এবং আমাদের প্রত্যেকেই বস্তার মুখে নিজের নিজের রুপো—একেবারে নির্ভুল ওজনের রুপো—খুঁজে পেয়েছিলাম। তাই আমরা তা নিজেদের সঙ্গে করে ফিরিয়ে এনেছি।
GEN 43:22 খাদ্যশস্য কেনার জন্য আমরা আরও কিছু রুপো আমাদের সঙ্গে করে এনেছি। আমরা জানি না কে আমাদের বস্তাগুলিতে আমাদের রুপোগুলি রেখে দিয়েছিল।”
GEN 43:23 “ঠিক আছে,” তিনি বললেন। “ভয় পেয়ো না। তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পৈত্রিক ঈশ্বর, তোমাদের বস্তাগুলিতে পুরে তোমাদের ধনসম্পদ দিয়েছেন; আমি তোমাদের রুপো পেয়েছি।” পরে তিনি শিমিয়োনকে তাঁদের কাছে আনলেন।
GEN 43:24 সেই গোমস্তা তাঁদের যোষেফের বাড়িতে নিয়ে গেলেন, তাঁদের পা ধোয়ার জন্য তাঁদের জল দিলেন এবং তাঁদের গাধাগুলির জন্য জাবনার জোগান দিলেন।
GEN 43:25 দুপুরে যোষেফ আসবেন বলে তাঁরা তাঁদের উপহারসামগ্রী প্রস্তুত করে রাখলেন, কারণ তাঁরা শুনেছিলেন যে সেখানে তাঁদের ভোজনপান করতে হবে।
GEN 43:26 যোষেফ যখন ঘরে এলেন, তখন সেই বাড়িতে তাঁরা যেসব উপহারসামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলি তাঁরা তাঁকে দিলেন, এবং মাটিতে নতমস্তক হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।
GEN 43:27 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন তারা কেমন আছেন, এবং পরে তিনি বললেন, “তোমাদের যে বৃদ্ধ বাবার কথা তোমরা বলেছিলে, তিনি কেমন আছেন? তিনি কি এখনও বেঁচে আছেন?”
GEN 43:28 তাঁরা উত্তর দিলেন, “আপনার দাস আমাদের বাবা এখনও বেঁচে আছেন ও ভালোই আছেন।” এবং তাঁরা তাঁর সামনে মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন।
GEN 43:29 তিনি চোখ তুলে তাকিয়ে যেই না তাঁর ভাই বিন্যামীনকে, তাঁর সহোদর ভাইকে দেখতে পেলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “এই কি তোমাদের সেই ছোটো ভাই, যার কথা তোমরা আমাকে বলেছিলে?” আর তিনি বললেন, “বাছা, ঈশ্বর তোমার প্রতি মঙ্গলময় হোন।”
GEN 43:30 ভাইকে দেখতে পেয়ে যোষেফ দারুণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন, তাই তিনি তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে গেলেন ও কাঁদার জন্য একটি স্থান খুঁজলেন। তিনি নিজের খাস কামরায় ঢুকে গেলেন ও সেখানে কেঁদে নিলেন।
GEN 43:31 নিজের মুখ ধুয়ে নেওয়ার পর, নিজেকে সংযত করে তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে বললেন, “খাবার পরিবেশন করো।”
GEN 43:32 তারা আলাদা আলাদা করে তাঁর জন্য, তাঁর ভাইদের জন্য এবং তাঁর সাথে যে মিশরীয়রা খেতে বসেছিল, তাদের জন্য খাবার পরিবেশন করল, কারণ মিশরীয়রা হিব্রুদের সাথে ভোজনপান করত না, যেহেতু মিশরীয়দের কাছে তা ঘৃণ্য বলে গণ্য হত।
GEN 43:33 বড়ো থেকে শুরু করে ছোটো পর্যন্ত, তাঁদের বয়সানুসারেই তাঁদের তাঁর সামনে বসানো হল; এবং তাঁরা অবাক হয়ে পরস্পরের দিকে তাকালেন।
GEN 43:34 যোষেফের টেবিল থেকে যখন তাঁদের খাবার পরিবেশন করা হল, বিন্যামীনের অংশটি অন্য যে কারোর অংশের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি হল। অতএব তাঁরা তাঁর সাথে বসে অবাধে পেট পুরে ভোজনপান করলেন।
GEN 44:1 যোষেফ তাঁর ঘরের গোমস্তাকে এই নির্দেশগুলি দিলেন: “এই লোকেরা যতখানি খাদ্যশস্য বয়ে নিয়ে যেতে পারে, ততখানি করে দিয়ে ওদের বস্তাগুলি ভরে দাও, এবং প্রত্যেকের বস্তার মুখে তাদের রুপো রেখে দাও।
GEN 44:2 পরে খাদ্যশস্যের জন্য আনা রুপোর পাশাপাশি আমার পানপাত্রটি, সেই রুপোর পানপাত্রটিও সেই ছোটো ছেলেটির বস্তার মুখে রেখে দাও।” আর যোষেফ যেমনটি বললেন, তিনি তেমনটিই করলেন।
GEN 44:3 সকাল হওয়ামাত্র, তাঁদের গাধাগুলির সঙ্গে তাঁদের বিদায় করে দেওয়া হল।
GEN 44:4 তাঁরা নগর থেকে তখন খুব বেশি দূরে যাননি, এমন সময় যোষেফ তাঁর গোমস্তাকে বললেন, “এখনই ওই লোকদের পশ্চাদ্ধাবন করো, এবং তাদের নাগাল পেয়ে, তুমি তাদের বোলো, ‘ভালোর পরিবর্তে তোমরা কেন মন্দ প্রতিদান দিলে?
GEN 44:5 এটি কি সেই পানপাত্র নয় যেটি থেকে আমার প্রভু পান করেন এবং ভবিষ্যৎ-কথনের জন্য যেটি ব্যবহার করেন? তোমরা এ এক মন্দ কাজ করে বসলে।’ ”
GEN 44:6 তাঁদের নাগাল পেয়ে তিনি তাঁদের কাছে এই কথাগুলি বলে শোনালেন।
GEN 44:7 কিন্তু তাঁরা তাঁকে বললেন, “আমার প্রভু কেন এরকম কথা বলছেন? এরকম কোনও কাজ আপনার দাসেরা করতেই পারে না!
GEN 44:8 এমনকি আমরা সেই কনান দেশ থেকে সেই রুপোও তো ফেরত এনেছিলাম, যা আমাদের বস্তার মুখে পাওয়া গিয়েছিল। তাই আপনার প্রভুর বাড়ি থেকে কেনই বা আমরা রুপো বা সোনা চুরি করব?
GEN 44:9 যদি আপনার এই দাসেদের মধ্যে কারও কাছে তা পাওয়া যায়, তবে সে মরবে; এবং আমাদের মধ্যে বাকি সবাই আমার প্রভুর ক্রীতদাস হবে।”
GEN 44:10 “তবে ঠিক আছে,” তিনি বললেন, “তোমাদের কথানুসারেই তা হোক। যার কাছে সেটি পাওয়া যাবে সে আমার ক্রীতদাস হয়ে যাবে; তোমাদের মধ্যে বাদবাকি সবাই দোষমুক্ত হবে।”
GEN 44:11 তাঁদের প্রত্যেকেই তাড়াতাড়ি মাটিতে বস্তা নামালেন ও তা খুলে ধরলেন।
GEN 44:12 পরে সেই গোমস্তা খানাতল্লাশি করার জন্য এগিয়ে গেলেন, বড়ো থেকে শুরু করে ছোটো জনের কাছে গিয়ে খানাতল্লাশি শেষ করলেন। আর সেই পানপাত্রটি বিন্যামীনের বস্তাতে পাওয়া গেল।
GEN 44:13 তা দেখে, তাঁরা তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। পরে তাঁরা সবাই তাঁদের গাধার পিঠে বোঝা চাপিয়ে নগরে ফিরে গেলেন।
GEN 44:14 যিহূদা ও তাঁর ভাইয়েরা যখন ফিরে এলেন, যোষেফ তখনও বাড়ির মধ্যেই ছিলেন, এবং তাঁরা তাঁর সামনে গিয়ে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন।
GEN 44:15 যোষেফ তাঁদের বললেন, “তোমরা এ কী কাজ করলে? তোমরা কি জানো না যে আমার মতো একজন লোকগণনা করে সবকিছু খুঁজে বের করতে পারে?”
GEN 44:16 “আমার প্রভুর কাছে আমরা কী আর বলব?” যিহূদা উত্তর দিলেন। “আমরা কী আর বলব? আমরা কীভাবেই বা আমাদের নির্দোষিতার প্রমাণ দেব? ঈশ্বর আপনার দাসদের দোষ উন্মোচন করে দিয়েছেন। আমরা এখন আমার প্রভুর ক্রীতদাস হয়ে গিয়েছি—আমরা নিজেরা এবং সেই জন, যার কাছে সেই পানপাত্রটি পাওয়া গিয়েছে।”
GEN 44:17 কিন্তু যোষেফ বললেন, “এরকম কাজ যেন আমি না করি! শুধু যার কাছে সেই পানপাত্রটি পাওয়া গিয়েছে, সেই লোকটিই আমার ক্রীতদাস হবে। তোমাদের মধ্যে বাদবাকি সবাই শান্তিতে তোমাদের বাবার কাছে ফিরে যাও।”
GEN 44:18 তখন যিহূদা তাঁর কাছে গিয়ে বললেন: “হে আমার প্রভু, আপনার এই দাসকে ক্ষমা করুন, আমার প্রভুর কাছে আমাকে একটি কথা বলতে দিন। আপনার এই দাসের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন না, যদিও বা আপনি স্বয়ং ফরৌণের সমতুল্য।
GEN 44:19 আমার প্রভু তাঁর দাসদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমাদের কি বাবা অথবা ভাই আছে? ’
GEN 44:20 আর আমরা তাঁকে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘আমাদের বৃদ্ধ বাবা আছেন, এবং তাঁর বৃদ্ধাবস্থায় জন্মানো তাঁর এক ছোটো ছেলেও আছে। তার দাদা মারা গিয়েছে, এবং তার মায়ের একমাত্র সন্তানরূপে সেই বেঁচে আছে, এবং তার বাবা তাকে ভালোবাসেন।’
GEN 44:21 “পরে আপনি আপনার দাসদের বলেছিলেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, যেন আমি তাকে স্বচক্ষে দেখতে পারি।’
GEN 44:22 আর আমরা আমার প্রভুকে বলেছিলাম, ‘সেই বালকটি তার বাবার কাছছাড়া হতে পারবে না; যদি সে তাঁকে ছেড়ে আসে, তবে তার বাবা মারা যাবেন।’
GEN 44:23 কিন্তু আপনি আপনার দাসদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের ছোটো ভাই যতক্ষণ না তোমাদের সঙ্গে আসছে, তোমরা আর আমার মুখদর্শন করবে না।’
GEN 44:24 আমরা যখন আপনার দাস আমার বাবার কাছে ফিরে গেলাম, তখন আমার প্রভু যা যা বলেছিলেন, সেসব আমরা তাঁকে বলেছিলাম।
GEN 44:25 “তখন আমাদের বাবা বললেন, ‘তোমরা ফিরে যাও এবং আরও অল্প কিছু খাদ্যশস্য কিনে আনো।’
GEN 44:26 কিন্তু আমরা বললাম, ‘আমরা যেতে পারব না। আমাদের ছোটো ভাই যদি আমাদের সঙ্গে থাকে তবেই আমরা যাব। আমাদের ছোটো ভাই যদি আমাদের সঙ্গে না থাকে তবে আমরা সেই লোকটির মুখদর্শন করতে পারব না।’
GEN 44:27 “আপনার দাস আমার বাবা আমাদের বললেন, ‘তোমরা তো জানো যে আমার স্ত্রী আমার জন্য দুটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিল।
GEN 44:28 তাদের মধ্যে একজন আমার কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছে, এবং আমি বলেছিলাম, “নিশ্চিতভাবে তাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।” তখন থেকে আমি আর তাকে দেখতে পাইনি।
GEN 44:29 তোমরা যদি একেও আবার আমার কাছ থেকে নিয়ে যাও এবং এর যদি কোনও ক্ষতি হয়, তবে এই পাকাচুলে মর্মপীড়ায় তোমরা আমাকে কবরে পাঠাবে।’
GEN 44:30 “অতএব এখন, আমি যখন আপনার দাস আমার বাবার কাছে ফিরে যাব, তখন যদি বালকটি আমাদের সঙ্গে না থাকে এবং আমার সেই বাবা, যাঁর জীবন সেই বালকটির জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত,
GEN 44:31 তিনি যদি দেখেন যে বালকটি সেখানে নেই, তবে তিনি মারা যাবেন। আপনার দাসেরা আমার বাবাকে এই পাকাচুলে মর্মপীড়ায় কবরে পাঠাবে।
GEN 44:32 আপনার এই দাস আমি আমার বাবার কাছে সেই বালকটির নিরাপত্তার মুচলেকা দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘আমি যদি তাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে আনতে না পারি, তবে হে আমার বাবা, আজীবন আমি আপনার সামনে দোষ বয়ে বেড়াব!’
GEN 44:33 “এখন তবে, প্রভু দয়া করে এই বালকটির স্থানে আপনার এই দাসকেই এখানে আপনার ক্রীতদাস হয়ে থাকতে দিন, এবং এই বালকটিকে তার দাদাদের সঙ্গে ফিরে যেতে দিন।
GEN 44:34 বালকটি যদি আমার সঙ্গে না থাকে তবে আমি কীভাবে আমার বাবার কাছে ফিরে যাব? না! আমার বাবার উপর যে মর্মপীড়া নেমে আসবে, তা যেন আমাকে দেখতে না হয়।”
GEN 45:1 তখন যোষেফ তাঁর সব সেবকের সামনে নিজেকে আর সংযত করে রাখতে পারলেন না, এবং তিনি চিৎকার করে উঠলেন, “সবাই আমার সামনে থেকে সরে যাও!” অতএব যোষেফ যখন তাঁর দাদা-ভাইদের কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করলেন তখন তাঁর কাছে আর কেউ ছিল না।
GEN 45:2 আর তিনি এত জোরে কাঁদলেন যে মিশরীয়রা তা শুনতে পেল, এবং ফরৌণের পরিবার-পরিজনও তা শুনতে পেল।
GEN 45:3 যোষেফ তাঁর দাদা-ভাইদের বললেন, “আমি যোষেফ! আমার বাবা কি এখনও বেঁচে আছেন?” কিন্তু তাঁর দাদারা তাঁকে উত্তর দিতে পারলেন না, কারণ তাঁর উপস্থিতিতে তাঁরা ভয় পেয়ে গেলেন।
GEN 45:4 পরে যোষেফ তাঁর দাদা-ভাইদের বললেন, “আমার কাছে এসো।” যখন তাঁরা এলেন, তখন তিনি বললেন, “আমিই তোমাদের সেই ভাই যোষেফ, যাকে তোমরা মিশরে বিক্রি করে দিয়েছিলে!
GEN 45:5 আর এখন, আমাকে এখানে বিক্রি করে দিয়েছ বলে আকুল হোয়ো না ও নিজেদের উপর রাগ কোরো না, কারণ মানুষের প্রাণরক্ষা করার জন্যই ঈশ্বর তোমাদের আগে আগে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
GEN 45:6 দুই বছর ধরে এখন এদেশে দুর্ভিক্ষ চলছে, এবং পরবর্তী পাঁচ বছর কোনও হলকর্ষণ ও শস্যচ্ছেদন হবে না।
GEN 45:7 কিন্তু এই পৃথিবীতে তোমাদের বংশরক্ষা করার জন্য ও এক মহামুক্তির মাধ্যমে তোমাদের প্রাণরক্ষা করার জন্য ঈশ্বর তোমাদের আগে আগে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
GEN 45:8 “অতএব, এমনটি নয় যে তোমরা আমাকে এখানে পাঠিয়েছ, কিন্তু ঈশ্বরই পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে ফরৌণের বাবা, তাঁর সমস্ত পরিবারের মালিক এবং সমগ্র মিশরের শাসনকর্তা করেছেন।
GEN 45:9 এখন তাড়াতাড়ি করে আমার বাবার কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে বলো, ‘তোমার ছেলে যোষেফ একথা বলেছে: ঈশ্বর আমাকে সমগ্র মিশরের মালিক করে তুলেছেন। আমার কাছে নেমে এসো; দেরি কোরো না।
GEN 45:10 তোমরা গোশন অঞ্চলে বসবাস করবে এবং আমার কাছেই থাকবে—তোমরা, তোমাদের সন্তানেরা, এবং তোমাদের নাতিপুতিরা, তোমাদের গোমেষাদি পশুপাল, এবং তোমাদের যা যা আছে সেসবকিছু।
GEN 45:11 আমি সেখানে তোমাদের জন্য সবকিছুর জোগান দেব, কারণ পাঁচ বছরের দুর্ভিক্ষ এখনও বাকি আছে। তা না হলে তোমরা ও তোমাদের পরিবার-পরিজন এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত সবাই নিঃস্ব হয়ে যাবে।’
GEN 45:12 “তোমরা নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছ, এবং আমার ভাই বিন্যামীনও দেখতে পাচ্ছে, যে তোমাদের সঙ্গে যে কথা বলছে সে আসলে আমিই।
GEN 45:13 মিশরে আমাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে ও তোমরা যা যা দেখেছ সেসব আমার বাবাকে গিয়ে বলো। আর আমার বাবাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো।”
GEN 45:14 পরে তিনি তাঁর দু-হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাঁর ভাই বিন্যামীনকে আলিঙ্গন করলেন এবং কাঁদলেন, এবং বিন্যামীনও তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন।
GEN 45:15 আর তিনি তাঁর দাদাদের সবাইকে চুমু দিলেন, ও তাঁদের ধরে কাঁদলেন। পরে তাঁর দাদারা তাঁর সঙ্গে কথা বললেন।
GEN 45:16 যোষেফের দাদা-ভাইরা এসেছে, এই খবর যখন ফরৌণের প্রাসাদে এসে পৌঁছাল, তখন ফরৌণ ও তাঁর সব কর্মকর্তা খুশি হলেন।
GEN 45:17 ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “তোমার দাদা-ভাইদের বলো, ‘এরকম করো: তোমাদের পশুদের পিঠে বোঝা চাপাও ও কনান দেশে ফিরে যাও,
GEN 45:18 এবং তোমাদের বাবাকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো। মিশর দেশের সেরা জিনিসগুলি আমি তোমাদের দেব এবং তোমরা দেশের বাছাই করা জিনিসগুলি উপভোগ করবে।’
GEN 45:19 “তোমাকে আরও নির্দেশ দেওয়া হল যেন তুমি তাদের বলো, ‘এরকম করো: তোমাদের সন্তানদের ও তোমাদের স্ত্রীদের জন্য মিশর থেকে কয়েকটি দুই চাকার গাড়ি নাও, এবং তোমাদের বাবাকে নিয়ে চলে এসো।
GEN 45:20 তোমাদের বিষয়সম্পত্তির জন্য কোনও চিন্তা কোরো না, কারণ সমগ্র মিশরের সেরা জিনিসগুলি তোমাদেরই হবে।’ ”
GEN 45:21 অতএব ইস্রায়েলের ছেলেরা এমনটিই করলেন। ফরৌণ যেমনটি আদেশ দিলেন, সেই অনুসারে যোষেফ তাঁদের দু-চাকার গাড়িগুলি দিলেন, এবং তিনি তাঁদের যাত্রাপথের জন্য রসদপত্রও জোগালেন।
GEN 45:22 তাঁদের প্রত্যেককে তিনি নতুন নতুন পোশাক দিলেন, কিন্তু তিনি বিন্যামীনকে তিনশো শেকল রুপো ও পাঁচজোড়া পোশাক দিলেন।
GEN 45:23 আর তাঁর বাবার কাছে তিনি যা যা পাঠালেন তা হল এই: দশটি মদ্দা গাধার পিঠে বোঝাই করা মিশরের সেরা জিনিসপত্র, এবং দশটি গাধির পিঠে বোঝাই করা তাঁর যাত্রাপথের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য এবং রুটি ও অন্যান্য রসদপত্র।
GEN 45:24 পরে তিনি তাঁর দাদা-ভাইদের পাঠিয়ে দিলেন, এবং তাঁরা যখন প্রস্থান করলেন, তিনি তাঁদের বললেন, “রাস্তায় ঝগড়াঝাটি কোরো না!”
GEN 45:25 অতএব তাঁরা মিশর থেকে চলে গেলেন এবং কনান দেশে তাঁদের বাবা যাকোবের কাছে এলেন।
GEN 45:26 তাঁরা তাঁকে বললেন, “যোষেফ এখনও বেঁচে আছে! আসলে, সে সমগ্র মিশরের শাসনকর্তা হয়ে গিয়েছে।” যাকোব স্তব্ধ হয়ে গেলেন; তাঁদের কথা তিনি বিশ্বাস করলেন না।
GEN 45:27 কিন্তু তাঁরা যখন যোষেফ তাঁদের যা যা বলেছিলেন সেসব কথা তাঁকে বললেন, এবং তিনি যখন তাঁকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যোষেফের পাঠানো দুই চাকার গাড়িগুলি দেখলেন, তখন তাঁদের বাবা যাকোবের অন্তরাত্মা পুনরুজ্জীবিত হল।
GEN 45:28 আর ইস্রায়েল বললেন, “আমি নিশ্চিত! আমার ছেলে যোষেফ এখনও বেঁচে আছে। মরার আগে আমি যাব এবং তাকে দেখব।”
GEN 46:1 অতএব ইস্রায়েল তাঁর যথাসর্বস্য নিয়ে রওনা দিলেন, এবং তিনি যখন বের-শেবাতে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর বাবা ইস্‌হাকের ঈশ্বরের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করলেন।
GEN 46:2 আর রাতের বেলায় এক দর্শনের মাধ্যমে ঈশ্বর ইস্রায়েলের সঙ্গে কথা বললেন, এবং তিনি বললেন, “যাকোব, যাকোব!” “আমি এখানে,” তিনি উত্তর দিলেন।
GEN 46:3 “আমি ঈশ্বর, তোমার বাবার সেই ঈশ্বর,” তিনি বললেন। “মিশরে যেতে ভয় পেয়ো না, কারণ সেখানে আমি তোমাকে এক বড়ো জাতি করে তুলব,
GEN 46:4 তোমার সঙ্গে আমিও মিশরে যাব, এবং আমি আবার সেখান থেকে তোমাকে অবশ্যই বের করে আনব। আর যোষেফ নিজের হাতে তোমার চোখ বন্ধ করবে।”
GEN 46:5 পরে যাকোব বের-শেবা ছেড়ে এলেন, এবং ইস্রায়েলের ছেলেরা, তাঁদের বাবা যাকোবকে ও তাঁদের সন্তানদের এবং তাঁদের স্ত্রীদের সেই দুই চাকার গাড়িগুলিতে করে আনলেন, যেগুলি ফরৌণ তাঁকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
GEN 46:6 অতএব যাকোব ও তাঁর সব বংশধর নিজেদের সাথে কনানে অর্জিত তাঁদের গৃহপালিত পশুপাল ও বিষয়সম্পত্তি নিয়ে মিশরে গেলেন।
GEN 46:7 যাকোব নিজের সাথে তাঁর ছেলেদের ও নাতিদের এবং তাঁর মেয়েদের ও নাতনীদের—তাঁর সব বংশধরকে মিশরে আনলেন।
GEN 46:8 এই হল ইস্রায়েলের সেই ছেলেদের নাম (যাকোব এবং তাঁর বংশধররা) যারা মিশরে গিয়েছিলেন: যাকোবের প্রথমজাত রূবেণ।
GEN 46:9 রূবেণের ছেলেরা: হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি।
GEN 46:10 শিমিয়োনের ছেলেরা: যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর ও এক কনানীয় মহিলার সেই ছেলে শৌল।
GEN 46:11 লেবির ছেলেরা: গের্শোন, কহাৎ, ও মরারি।
GEN 46:12 যিহূদার ছেলেরা: এর, ওনন, শেলা, পেরস ও সেরহ। (কিন্তু এর ও ওনন কনান দেশে মারা গিয়েছিল) পেরসের ছেলেরা: হিষ্রোণ ও হামূল।
GEN 46:13 ইষাখরের ছেলেরা: তোলয়, পূয়, যাশূব ও শিম্রোণ।
GEN 46:14 সবূলূনের ছেলেরা: সেরদ, এলোন, ও যহলেল।
GEN 46:15 এরা হলেন লেয়ার সেই ছেলেরা, যাদের ও তা ছাড়াও যাকোবের মেয়ে দীণাকে যিনি পদ্দন-আরামে যাকোবের জন্য জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর এইসব ছেলে ও মেয়ে মোট তেত্রিশজন।
GEN 46:16 গাদের ছেলেরা: সেফোন, হগি, শূনী, ইষবোন, এরি, অরোদী ও অরেলী।
GEN 46:17 আশেরের ছেলেরা: যিম্না, যিশ্‌বা, যিশ্‌বি, বরিয়। তাদের বোন সেরহ। বরিয়ের ছেলেরা: হেবর ও মল্কীয়েল।
GEN 46:18 এরা হলেন যাকোবের সেই ছেলেমেয়ে, যারা লেয়ার সেই দাসী সিল্পা দ্বারা জাত হয়েছিল, যাকে লাবন তাঁর মেয়ে লেয়াকে দিয়েছিলেন—মোট ষোলোজন।
GEN 46:19 যাকোবের স্ত্রী রাহেলের ছেলেরা: যোষেফ ও বিন্যামীন।
GEN 46:20 মিশরে, যোষেফের ছেলে মনঃশি ও ইফ্রয়িম ওনের যাজক পোটীফেরের মেয়ে আসনতের দ্বারা জন্মেছিলেন।
GEN 46:21 বিন্যামীনের ছেলেরা: বেলা, বেখর, অস্‌বেল, গেরা, নামান, এহী, রোশ, মূপপীম, হুপপীম ও অর্দ।
GEN 46:22 এরা হলেন যাকোবের সেই ছেলেরা, যারা রাহেলের দ্বারা জন্মেছিলেন—মোট চোদ্দোজন।
GEN 46:23 দানের ছেলে: হূশীম।
GEN 46:24 নপ্তালির ছেলেরা: যহসিয়েল, গূনি, যেৎসর ও শিল্লেম।
GEN 46:25 এরা হলেন যাকোবের সেই ছেলেরা, যারা রাহেলের সেই দাসী বিলহা দ্বারা জাত হলেন, যাকে লাবন তাঁর মেয়ে রাহেলকে দিয়েছিলেন—মোট সাতজন।
GEN 46:26 যাকোবের সঙ্গে যারা মিশরে গেলেন—যারা তাঁর অব্যবহিত বংশধর নন, তাঁর সেই পুত্রবধূদের সংখ্যা না ধরে—তাদের সংখ্যা হয়েছিল ছেষট্টি জন।
GEN 46:27 মিশরে যোষেফের যে দুই ছেলের জন্ম হয়েছিল তাদের সংখ্যা ধরে, যাকোবের পরিবারের যে সদস্যেরা মিশরে গেলেন তাদের সংখ্যা মোট সত্তর জন।
GEN 46:28 ইত্যবসরে গোশনে যাওয়ার পথনির্দেশনা লাভের জন্য যাকোব তাঁর আগে আগে যিহূদাকে যোষেফের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা যখন সেই গোশন অঞ্চলে পৌঁছালেন,
GEN 46:29 যোষেফ তখন তাঁর রথ সাজিয়েগুছিয়ে নিলেন ও তাঁর বাবা ইস্রায়েলের সঙ্গে দেখা করার জন্য গোশনে চলে গেলেন। যোষেফ তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই তিনি তাঁর বাবার দিকে দু-হাত বাড়িয়ে দিলেন ও অনেকক্ষণ ধরে কাঁদলেন।
GEN 46:30 ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “আমি এখন মরার জন্য প্রস্তুত, যেহেতু আমি নিজের চোখেই দেখলাম যে তুমি এখনও জীবিত আছ।”
GEN 46:31 পরে যোষেফ তাঁর দাদা-ভাইদের ও তাঁর পৈত্রিক পরিবার-পরিজনদের বললেন, “আমি ফরৌণের কাছে গিয়ে তাঁর সাথে কথা বলব ও তাঁকে বলব, ‘যারা সেই কনান দেশে বসবাস করছিলেন, আমার সেই দাদা-ভাইয়েরা ও আমার পৈত্রিক পরিবার-পরিজনেরা আমার কাছে এসেছেন।
GEN 46:32 তারা মেষপালক; তারা গৃহপালিত পশুপাল চরান, এবং তাদের মেষপাল ও পশুপাল ও তাদের অধিকারভুক্ত সবকিছু সাথে নিয়ে তারা এখানে এসেছেন।’
GEN 46:33 ফরৌণ যখন তোমাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, ‘তোমাদের পেশা কী?’
GEN 46:34 তোমাদের তখন এই উত্তর দিতে হবে, ‘আমাদের ছেলেবেলা থেকেই আপনার এই দাসেরা গৃহপালিত পশুপাল চরিয়ে আসছে, ঠিক যেভাবে আমাদের পূর্বপুরুষরাও চরাতেন।’ তখন তোমাদের গোশন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করার অনুমতি দেওয়া হবে, কারণ সব মেষপালকই মিশরীয়দের কাছে ঘৃণ্য।”
GEN 47:1 যোষেফ চলে গেলেন এবং ফরৌণকে বললেন, “আমার বাবা ও দাদা-ভাইয়েরা তাদের মেষপাল ও পশুপাল এবং তাদের অধিকারভুক্ত সবকিছু সাথে নিয়ে কনান দেশ থেকে চলে এসেছেন এবং এখন গোশনে আছেন।”
GEN 47:2 তিনি তাঁর দাদা-ভাইদের মধ্যে পাঁচ জনকে মনোনীত করে তাঁদের ফরৌণের সামনে উপস্থিত করলেন।
GEN 47:3 ফরৌণ সেই দাদা-ভাইদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের পেশা কী?” “আপনার এই দাসেরা মেষপালক,” তাঁরা ফরৌণকে উত্তর দিলেন, “ঠিক যেমনটি আমাদের পূর্বপুরুষেরাও ছিলেন।”
GEN 47:4 তাঁরা তাঁকে আরও বললেন, “আমরা এখানে অল্প কিছুকালের জন্য বসবাস করতে এসেছি, কারণ কনানে দুর্ভিক্ষ দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আপনার এই দাসেদের মেষপালের জন্য কোনও চারণভূমি নেই। অতএব এখন, দয়া করে আপনার এই দাসেদের গোশনে বসতি স্থাপন করতে দিন।”
GEN 47:5 ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “তোমার বাবা ও দাদা-ভাইয়েরা তোমার কাছে এসেছেন,
GEN 47:6 এবং এই মিশর দেশটি তোমার সামনেই আছে; দেশের সব থেকে ভালো জায়গায় তোমার বাবা ও দাদা-ভাইদের বসতি স্থাপন করিয়ে দাও। তারা গোশনেই বসবাস করুন। আর যদি তুমি জানো যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশেষ দক্ষতাবিশিষ্ট, তবে তাদের তুমি আমার নিজের গৃহপালিত পশুপাল দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ো।”
GEN 47:7 তখন যোষেফ তাঁর বাবা যাকোবকে নিয়ে গিয়ে ফরৌণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন। যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করার পর,
GEN 47:8 ফরৌণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার বয়স কত?”
GEN 47:9 আর যাকোব ফরৌণকে বললেন, “আমার জীবনপরিক্রমার কাল 130 বছর হয়েছে। আমার আয়ুর বছরগুলি অল্প সংখ্যক ও কষ্টকর হয়েছে, এবং সেগুলি আমার পূর্বপুরুষদের জীবনপরিক্রমার বছরগুলির সমান নয়।”
GEN 47:10 পরে যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর সামনে থেকে চলে গেলেন।
GEN 47:11 অতএব যোষেফ তাঁর বাবা ও দাদা-ভাইদের মিশরে বসতি স্থাপন করিয়ে দিলেন এবং ফরৌণের নির্দেশানুসারে, দেশের সব থেকে ভালো জায়গায়, সেই রামিষেষ জেলায় তাঁদের বিষয়সম্পত্তি দিলেন।
GEN 47:12 এছাড়াও যোষেফ তাঁর বাবার ও দাদা-ভাইদের এবং তাঁর পৈত্রিক সব পরিবার-পরিজনের সন্তানসন্ততির সংখ্যা অনুসারে তাঁদের খাদ্যদ্রব্য জোগান দিলেন।
GEN 47:13 সমগ্র এলাকায় অবশ্য খাদ্যদ্রব্য ছিল না, কারণ দুর্ভিক্ষ দুঃসহ হয়ে পড়েছিল; দুর্ভিক্ষের কারণে মিশর ও কনান, দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
GEN 47:14 মিশর ও কনানে যে অর্থ পাওয়া গেল যোষেফ সেসব তাদের কেনা খাদ্যশস্যের মূল্যরূপে সংগ্রহ করে তা ফরৌণের প্রাসাদে নিয়ে এলেন।
GEN 47:15 মিশর ও কনানের প্রজাদের অর্থ যখন শেষ হয়ে গেল, তখন মিশরের সব লোকজন যোষেফের কাছে এসে বলল, “আমাদের খাদ্যদ্রব্য দিন। আপনার চোখের সামনে আমরা কেন মারা পড়ব? আমাদের সব অর্থ ফুরিয়ে গিয়েছে।”
GEN 47:16 “তবে তোমাদের গৃহপালিত পশুপাল নিয়ে এসো,” যোষেফ বললেন। “যেহেতু তোমাদের অর্থ ফুরিয়ে গিয়েছে তাই তোমাদের গৃহপালিত পশুপালের বিনিময়ে আমি তোমাদের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করব।”
GEN 47:17 অতএব তারা যোষেফের কাছে তাদের গৃহপালিত পশুপাল নিয়ে এল, এবং তিনি তাদের ঘোড়া, তাদের মেষ ও ছাগল, তাদের গবাদি পশুপাল ও গাধাগুলির বিনিময়ে তাদের খাদ্যদ্রব্য দিলেন। আর তাদের সব গৃহপালিত পশুর বিনিময়ে তাদের খাদ্যদ্রব্য দিয়ে তিনি সে বছরটি পার করে দিলেন।
GEN 47:18 যখন সেই বছরটি শেষ হল, পরের বছরও তারা তাঁর কাছে এসে বলল, “আমরা এই তথ্যটি আমাদের প্রভুর কাছে লুকিয়ে রাখতে পারছি না যে যেহেতু আমাদের অর্থ ফুরিয়ে গিয়েছে এবং আমাদের গৃহপালিত পশুপালও আপনারই হয়ে গিয়েছে, এখন আমাদের প্রভুর জন্য আমাদের শরীর ও আমাদের জমিজায়গা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
GEN 47:19 আপনার চোখের সামনে আমরা কেন ধ্বংস হব—আমরা ও আমাদের জমিজায়গাও? খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে আপনি আমাদের ও আমাদের জমিজায়গা কিনে নিন, এবং আমাদের জমিজায়গা সমেত আমরা ফরৌণের কাছে দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ হব। আমাদের বীজ দিন যেন আমরা বাঁচতে পারি ও মারা না যাই, এবং এই দেশ যেন জনশূন্য হয়ে না যায়।”
GEN 47:20 অতএব যোষেফ মিশরে সব জমিজায়গা ফরৌণের জন্য কিনে নিলেন। মিশরীয়রা, এক এক করে, সবাই তাদের জমিজায়গা বিক্রি করে দিল, কারণ তাদের পক্ষে দুর্ভিক্ষ অত্যন্ত দুঃসহ হয়েছিল। সেই জমিজায়গা ফরৌণের হয়ে গেল,
GEN 47:21 এবং যোষেফ মিশরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত প্রজাদের ক্রীতদাসে পরিণত করলেন।
GEN 47:22 অবশ্য, তিনি যাজকদের জমিজায়গা কেনেননি, কারণ তাঁরা ফরৌণের কাছ থেকে নিয়মিত এক ভাতা পেতেন এবং ফরৌণের দেওয়া সেই ভাতা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য জোগাড় হয়ে যেত। সেজন্যই তাঁরা তাঁদের জমিজায়গা বিক্রি করেননি।
GEN 47:23 যোষেফ প্রজাদের বললেন, “আজ যখন আমি তোমাদেরকে ও তোমাদের জমিজায়গা ফরৌণের জন্য কিনে নিয়েছি, এই রইল তোমাদের বীজ, যেন তোমরা জমিতে তা বপন করতে পারো।
GEN 47:24 কিন্তু যখন শস্য উৎপন্ন হবে, তখন তার এক-পঞ্চমাংশ তোমরা ফরৌণকে দিয়ো। অন্য চার-পঞ্চমাংশ তোমরা জমির জন্য বীজরূপে, এবং তোমাদের নিজেদের, তোমাদের পরিবার-পরিজনেদের এবং তোমাদের সন্তানদের জন্য খাদ্যদ্রব্যরূপে রাখতে পারো।”
GEN 47:25 “আপনি আমাদের প্রাণরক্ষা করেছেন,” তারা বলল। “আমরা যেন আমাদের প্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাই; আমরা ফরৌণের ক্রীতদাস হয়ে থাকব।”
GEN 47:26 অতএব যোষেফ সেটি মিশরে জমি সংক্রান্ত এক আইনরূপে প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন—যা আজও বলবৎ আছে—যে উৎপন্ন শস্যের এক-পঞ্চমাংশ ফরৌণের অধিকারভুক্ত। শুধুমাত্র যাজকদের জমিজায়গাই ফরৌণের অধিকারভুক্ত হয়নি।
GEN 47:27 ইস্রায়েলীরা মিশরে গোশন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করল। তারা সেখানে বিষয়সম্পত্তি অর্জন করল এবং ফলবান হল ও সংখ্যায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেল।
GEN 47:28 যাকোব মিশরে সতেরো বছর বেঁচেছিলেন, এবং তাঁর জীবনকাল হল 147 বছর।
GEN 47:29 ইস্রায়েলের মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে এল, তিনি তখন তাঁর ছেলে যোষেফকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন, “আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তবে আমার ঊরুর নিচে তোমার হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করো যে তুমি আমার প্রতি দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখাবে। আমাকে মিশরে কবর দিয়ো না,
GEN 47:30 কিন্তু আমি যখন আমার পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হব, তখন মিশর থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যেয়ো এবং সেখানেই কবর দিয়ো যেখানে তাঁদের কবর দেওয়া হয়েছে।” “আপনি যেমনটি বললেন, আমি তেমনটিই করব,” তিনি বললেন।
GEN 47:31 “আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করো,” তিনি বললেন। তখন যোষেফ তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞা করলেন, এবং ইস্রায়েল তাঁর লাঠির ডগার উপর হেলান দিয়ে উপাসনা করলেন।
GEN 48:1 কিছুকাল পর যোষেফকে বলা হল, “আপনার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।” অতএব তিনি তাঁর দুই ছেলে মনঃশি ও ইফ্রয়িমকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন।
GEN 48:2 যাকোবকে যখন বলা হল, “আপনার ছেলে যোষেফ আপনার কাছে এসেছেন,” তখন ইস্রায়েল শক্তি সঞ্চয় করে বিছানায় উঠে বসলেন।
GEN 48:3 যাকোব যোষেফকে বললেন, “সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কনান দেশের লূসে আমাকে দর্শন দিয়েছিলেন, এবং সেখানে তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেছিলেন
GEN 48:4 ও আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে ফলবান করতে ও তোমার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চলেছি। আমি তোমাকে এক জনসমাজে পরিণত করব, এবং আমি তোমার পরে তোমার বংশধরদের এই দেশটি চিরস্থায়ী এক অধিকাররূপে দেব।’
GEN 48:5 “এখন তবে, আমি তোমার কাছে এখানে আসার আগে মিশরে তোমার যে দুই ছেলে জন্মেছিল, তারা আমারই বলে গণ্য হবে; ইফ্রয়িম ও মনঃশি আমারই হবে, ঠিক যেমন রূবেণ ও শিমিয়োনও আমার।
GEN 48:6 এদের পরে তোমার যে কোনো সন্তান জন্মাবে, তারা তোমারই হবে; উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেই অঞ্চলে তারা তাদের দাদাদের নামেই পরিচিত হবে।
GEN 48:7 আমি যখন পদ্দন থেকে ফিরছিলাম, তখন আমাদের যাত্রাপথেই ইফ্রাথ থেকে খানিকটা দূরে সেই কনান দেশে রাহেল মারা গিয়েছিল। তাই ইফ্রাথে (অথবা, বেথলেহেমে) যাওয়ার পথের পাশে আমি তাকে কবর দিয়েছিলাম।”
GEN 48:8 ইস্রায়েল যখন যোষেফের ছেলেদের দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এরা কারা?”
GEN 48:9 “এরা সেই ছেলেরা, ঈশ্বর যাদের এখানে আমাকে দিয়েছেন,” যোষেফ তাঁর বাবাকে বললেন। তখন ইস্রায়েল বললেন, “তাদের আমার কাছে নিয়ে এসো, যেন আমি তাদের আশীর্বাদ করতে পারি।”
GEN 48:10 বার্ধক্যের কারণে ইস্রায়েলের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছিল, এবং দেখতে তাঁর খুব অসুবিধা হত। তাই যোষেফ নিজের ছেলেদের তাঁর খুব কাছে নিয়ে এলেন, এবং তাঁর বাবা তাদের চুমু দিলেন ও তাদের আলিঙ্গন করলেন।
GEN 48:11 ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “আমি কখনও আশা করিনি যে তোমার মুখ আবার দেখতে পাব, আর ঈশ্বর এখন আমাকে তোমার সন্তানদেরও দেখার সুযোগ করে দিলেন।”
GEN 48:12 পরে যোষেফ ইস্রায়েলের দুই হাঁটুর মাঝখান থেকে তাদের সরিয়ে দিলেন এবং মাটিতে মুখ ঠেকিয়ে নতজানু হলেন
GEN 48:13 আর যোষেফ তাদের দুজনকে নিয়ে, ইফ্রয়িমকে নিজের ডানদিকে রেখে ইস্রায়েলের বাঁ হাতের দিকে এবং মনঃশিকে নিজের বাঁদিকে রেখে ইস্রায়েলের ডান হাতের দিকে এগিয়ে দিলেন, এবং তাঁর খুব কাছাকাছি নিয়ে এলেন।
GEN 48:14 কিন্তু ইস্রায়েল তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং তা ইফ্রয়িমের মাথায় রাখলেন, যদিও সেই ছিল ছোটো, এবং তাঁর হাত দুটি আড়াআড়িভাবে বাড়িয়ে দিয়ে, তিনি তাঁর বাঁ হাত মনঃশির মাথায় রাখলেন, যদিও মনঃশিই ছিল প্রথমজাত সন্তান।
GEN 48:15 পরে তিনি যোষেফকে আশীর্বাদ করে বললেন, “আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইস্‌হাক যে ঈশ্বরের সামনে বিশ্বস্ততাপূর্বক চলাফেরা করতেন, আজও পর্যন্ত আমার সমগ্র জীবনভোর যে ঈশ্বর আমার মেষপালক হয়ে থেকেছেন,
GEN 48:16 যে দূত আমাকে সব অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন, তিনিই এই বালকদের আশীর্বাদ করুন। তারা আমার এবং আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইস্‌হাকের নাম দ্বারাই পরিচিত হোক, আর তারা এই পৃথিবীর বুকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধিলাভ করুক।”
GEN 48:17 যোষেফ যখন দেখলেন যে তাঁর বাবা তাঁর ডান হাত ইফ্রয়িমের মাথায় রেখেছেন তখন তিনি অসন্তুষ্ট হলেন; তাই তিনি তাঁর বাবার হাতটি মনঃশির মাথার উপর রাখার জন্য সেটি ধরে ইফ্রয়িমের মাথার উপর থেকে সরিয়ে দিলেন।
GEN 48:18 যোষেফ তাঁকে বললেন, “হে আমার বাবা, না না, এই প্রথমজাত, এরই মাথার উপর আপনার ডান হাতটি রাখুন।”
GEN 48:19 কিন্তু তাঁর বাবা তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমি জানি, বাছা, আমি জানি। সেও এক জাতিতে পরিণত হবে, এবং সেও মহান হবে। তা সত্ত্বেও, তার ছোটো ভাই তার থেকেও মহান হবে এবং তার বংশধরেরা এক জাতিপুঞ্জ হবে।”
GEN 48:20 সেদিন তিনি তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমার নামেই ইস্রায়েল এই আশীর্বাদ উচ্চারণ করবে: ‘ঈশ্বর তোমাকে ইফ্রয়িম ও মনঃশির মতো করুন।’ ” অতএব তিনি ইফ্রয়িমকে মনঃশির আগে রাখলেন।
GEN 48:21 পরে ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “আমি মরতে চলেছি, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের সহবর্তী থাকবেন এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেশে তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
GEN 48:22 আর আমি তোমার দাদা-ভাইদের যা দেব তা থেকেও তোমাকে দেশের আরও একটি বেশি শৈলশিরা দেব, যে শৈলশিরাটি আমি আমার তরোয়াল ও আমার ধনুক দিয়ে ইমোরীয়দের কাছ থেকে অধিকার করেছিলাম।”
GEN 49:1 পরে যাকোব তাঁর ছেলেদের ডেকে বললেন: “তোমরা একত্রিত হও যেন আমি তোমাদের বলে দিতে পারি আগামী দিনগুলিতে তোমাদের প্রতি কী ঘটবে।
GEN 49:2 “হে যাকোবের সন্তানেরা, জমায়েত হও ও শোনো; তোমাদের বাবা ইস্রায়েলের কথা শোনো।
GEN 49:3 “হে রূবেণ, তুমি আমার প্রথমজাত, আমার বল, আমার শক্তির প্রথম চিহ্ন, সম্মানে উত্তম, পরাক্রমে উত্তম।
GEN 49:4 জলের মতো অদম্য বলে, তুমি আর শ্রেষ্ঠতর হবে না, কারণ তুমি তোমার বাবার বিছানায়, আমার শয্যায় গেলে ও সেটি কলুষিত করলে।
GEN 49:5 “শিমিয়োন ও লেবি দুই ভাই— তাদের তরোয়ালগুলি হিংস্রতার অস্ত্রশস্ত্র।
GEN 49:6 তাদের মন্ত্রণা-সভায় আমি যেন না ঢুকি, তাদের সমাবেশে যেন যোগ না দিই, কারণ তাদের ক্রোধে তারা মানুষজনকে হত্যা করেছিল এবং তাদের খেয়ালখুশি মতো তারা বলদদের পায়ের শিরা কেটে দিয়েছিল।
GEN 49:7 অভিশপ্ত হোক তাদের ক্রোধ, যা এত প্রচণ্ড, আর তাদের উন্মত্ততা, যা এত নিষ্ঠুর! যাকোবের মধ্যে আমি তাদের ইতস্তত ছড়িয়ে দেব এবং ইস্রায়েলের মধ্যে তাদের বিক্ষিপ্ত করে দেব।
GEN 49:8 “হে যিহূদা, তোমার দাদা-ভাইয়েরা তোমার প্রশংসা করবে; তোমার শত্রুদের ঘাড়ে তোমার হাত থাকবে; তোমার বাবার ছেলেরা তোমার কাছে মাথা নত করবে।
GEN 49:9 তুমি এক সিংহশাবক, হে যিহূদা; বাছা, তুমি শিকার করে ফিরে এলে। এক সিংহের মতো সে গুড়ি মারে ও শুয়ে থাকে, এক সিংহীর মতো—কে তাকে জাগাতে সাহস করে?
GEN 49:10 যিহূদা থেকে রাজদণ্ড বিদায় নেবে না, তার দুই পায়ের ফাঁক থেকে শাসকের ছড়িও সরে যাবে না, যতদিন না তিনি আসছেন সেটি যাঁর অধিকারভুক্ত আর জাতিদের সেই আনুগত্য তাঁরই হবে।
GEN 49:11 সে এক দ্রাক্ষালতায় তার গাধা বেঁধে রাখবে, তার অশ্বশাবক সেই পছন্দসই ডালে বেঁধে রাখবে; দ্রাক্ষারসে সে তার জামাকাপড় ধোবে, তার আলখাল্লাগুলি ধোবে দ্রাক্ষারসের রক্তে।
GEN 49:12 তার চোখদুটি দ্রাক্ষারসের থেকেও বেশি রক্তবর্ণ হবে, তার দাঁতগুলি দুধের থেকেও বেশি সাদা হবে।
GEN 49:13 “সবূলূন সমুদ্রতীরে বসবাস করবে আর জাহাজগুলির জন্য এক পোতাশ্রয় হবে; তার সীমানা সীদোনের দিকে প্রসারিত হবে।
GEN 49:14 “ইষাখর এক কঙ্কালসার গাধা মেষ-খোঁয়াড়ের মধ্যে যে পড়ে আছে।
GEN 49:15 যখন সে দেখবে তার বিশ্রামস্থান কত সুন্দর ও তার দেশ কত সুখকর, তখন ভারবহনের জন্য সে তার কাঁধ নত করবে ও কষ্টকল্পিত পরিশ্রমের প্রতি সমর্পিত হবে।
GEN 49:16 “ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে এক গোষ্ঠীরূপে দান তার লোকজনের জন্য ন্যায় প্রদান করবে।
GEN 49:17 দান পথের পাশে পড়ে থাকা এক সাপ, সেই পথ বরাবর এমন এক বিষধর সাপ হবে, যে ঘোড়ার গোড়ালিতে ছোবল মারে যেন সেটির সওয়ার পিছন-পানে ডিগবাজি খায়।
GEN 49:18 “হে সদাপ্রভু, আমি তোমার উদ্ধারের প্রত্যাশা করছি।
GEN 49:19 “গাদ এক আক্রমণকারী দল দ্বারা আক্রান্ত হবে, কিন্তু সে তাদের গোড়ালি লক্ষ্য করে তাদের আক্রমণ করবে।
GEN 49:20 “আশেরের খাদ্যদ্রব্য হবে সমৃদ্ধ; সে এমন সুস্বাদু খাদ্য জোগাবে যা এক রাজার পক্ষে মানানসই।
GEN 49:21 “নপ্তালি এমন এক বাঁধনমুক্ত হরিণী যা সুন্দর সুন্দর হরিণশিশু গর্ভে ধারণ করে।
GEN 49:22 “যোষেফ এক ফলবান দ্রাক্ষালতা, এক নির্ঝরিণীর কাছে স্থিত এক ফলবান দ্রাক্ষালতা, যার শাখাপ্রশাখাগুলি এক দেয়াল বেয়ে ওঠে।
GEN 49:23 তিক্ততা সমেত তিরন্দাজরা তাকে আক্রমণ করেছিল; শত্রুতা দেখিয়ে তারা তার দিকে তির ছুঁড়েছিল।
GEN 49:24 কিন্তু তার ধনুক অবিচলিত থেকেছিল, তার শক্তিশালী হাত দুটি নমনীয় হয়েই ছিল, যাকোবের সেই শক্তিমান-জনের সেই হাতের কারণে, ইস্রায়েলের সেই মেষপালকের, সেই শৈলের কারণে,
GEN 49:25 তোমার পৈত্রিক সেই ঈশ্বরের কারণে, যিনি তোমাকে সাহায্য করবেন, সেই সর্বশক্তিমানের কারণে, যিনি তোমাকে আশীর্বাদ করবেন ঊর্ধ্বস্থিত আকাশের আশীর্বাদসহ, নিচস্থ গভীর নির্ঝরিণীর আশীর্বাদসহ, স্তন ও গর্ভের আশীর্বাদসহ।
GEN 49:26 তোমার পৈত্রিক আশীর্বাদগুলি সেই প্রাচীন পাহাড়-পর্বতের আশীর্বাদগুলির চেয়েও মহত্তর, শতাব্দী-প্রাচীন পাহাড়গুলির দানশীলতার চেয়েও মহত্তর। এসব কিছু যোষেফের মাথায় স্থির হোক, তার দাদা-ভাইদের মধ্যে যে নায়ক, তার ললাটে গিয়ে পড়ুক।
GEN 49:27 “বিন্যামীন এক বুভুক্ষু নেকড়ে; সকালবেলায় সে শিকার গ্রাস করে, সন্ধ্যাবেলায় সে লুন্ঠিত জিনিসপত্র ভাগবাঁটোয়ারা করে।”
GEN 49:28 এরা সবাই ইস্রায়েলের সেই বারো বংশ, এবং তাঁদের বাবা প্রত্যেককে যথাযথ আশীর্বাদ দিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ করার সময় তাঁদের এই কথাগুলিই বললেন।
GEN 49:29 পরে তিনি তাঁদের এইসব নির্দেশ দিলেন: “আমি আমার পরিজনবর্গের সঙ্গে একত্রিত হতে যাচ্ছি। আমাকে আমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে হিত্তীয় ইফ্রোণের ক্ষেতের সেই গুহায় কবর দিয়ো,
GEN 49:30 যে গুহাটি কনানে মম্রির পার্শ্ববর্তী মক্‌পেলার ক্ষেতে অবস্থিত, যেটি অব্রাহাম হিত্তীয় ইফ্রোণের কাছ থেকে ক্ষেতসহ এক কবরস্থানরূপে কিনেছিলেন।
GEN 49:31 সেখানে অব্রাহাম এবং তাঁর স্ত্রী সারাকে কবর দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই ইস্‌হাক ও তাঁর স্ত্রী রিবিকাকে কবর দেওয়া হয়েছিল, এবং সেখানেই আমি লেয়াকে কবর দিয়েছি।
GEN 49:32 সেই ক্ষেত ও সেই গুহাটি হিত্তীয়দের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।”
GEN 49:33 যাকোব তাঁর ছেলেদের নির্দেশদান সমাপ্ত করার পর, তিনি তাঁর পা-দুটি বিছানায় টেনে আনলেন, শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং তাঁর পরিজনবর্গের সঙ্গে একত্রিত হলেন।
GEN 50:1 যোষেফ তাঁর বাবার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে চুমু দিলেন।
GEN 50:2 পরে যোষেফ তাঁর সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের তাঁর বাবা ইস্রায়েলের দেহটি সুগন্ধি বস্তু দ্বারা রক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। অতএব চিকিৎসকরা তাঁর দেহটি সুগন্ধি বস্তু দ্বারা সংরক্ষণ করলেন,
GEN 50:3 তাঁরা পুরো চল্লিশ দিন সময় নিলেন, কারণ সুগন্ধি বস্তু দ্বারা শবদেহ সংরক্ষণ করার জন্য এতখানিই সময় লাগত। আর মিশরীয়রা তাঁর জন্য সত্তর দিন শোক পালন করল।
GEN 50:4 যখন শোকপালনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন যোষেফ ফরৌণের রাজসভাসদদের কাছে গিয়ে বললেন, “আমি যদি আপনাদের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তবে আমার হয়ে ফরৌণের কাছে একথা বলুন। তাঁকে বলুন,
GEN 50:5 ‘আমার বাবা আমাকে দিয়ে এক প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমি মরতে চলেছি; কনান দেশে আমি নিজের জন্য যে কবর খুঁড়ে রেখেছি সেখানেই আমাকে কবর দিয়ো।” এখন আমাকে গিয়ে আমার বাবাকে কবর দিয়ে আসতে দিন; পরে আমি ফিরে আসব।’ ”
GEN 50:6 ফরৌণ বললেন, “যাও ও তোমার বাবাকে কবর দাও, যেমনটি করার জন্য তিনি তোমাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছেন।”
GEN 50:7 অতএব যোষেফ তাঁর বাবাকে কবর দিতে গেলেন। ফরৌণের সব কর্মকর্তা যোষেফের সাথী হলেন—তাঁর দরবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মিশরের সব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ—
GEN 50:8 এছাড়াও যোষেফের পরিবারের সব সদস্য ও তাঁর দাদা-ভাইয়েরা এবং তাঁর পৈত্রিক পরিবারের অন্তর্গত সকলে তাঁর সঙ্গে গেলেন। শুধুমাত্র তাঁদের সন্তানেরা, এবং তাঁদের মেষপাল ও পশুপাল গোশনে থেকে গেল।
GEN 50:9 রথ ও অশ্বারোহীরাও তাঁর সঙ্গে গেল। সে ছিল বিশাল এক সমবেত জনসমষ্টি।
GEN 50:10 তাঁরা যখন জর্ডনের কাছে আটদের খামারে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা তারস্বরে ও তীব্রভাবে কান্নাকাটি করলেন; এবং যোষেফ সেখানে তাঁর বাবার জন্য সাত দিন ধরে শোক পালন করলেন।
GEN 50:11 যে কনানীয়রা সেখানে বসবাস করত, তারা যখন আটদের খামারে তাদের শোক পালন করতে দেখল, তখন তারা বলল, “মিশরীয়রা শোকের এক গুরুগম্ভীর অনুষ্ঠান পালন করছে।” সেজন্যই জর্ডনের কাছে অবস্থিত সেই স্থানটি আবেল-মিস্রয়ীম নামে আখ্যাত হল।
GEN 50:12 অতএব যাকোবের ছেলেরা তাই করলেন, যা তিনি তাঁদের আদেশ দিয়েছিলেন:
GEN 50:13 তাঁরা তাঁকে কনান দেশে বয়ে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে মম্রির কাছে, মক্‌পেলার সেই ক্ষেতে অবস্থিত গুহায় কবর দিলেন, যেটি অব্রাহাম হিত্তীয় ইফ্রোণের কাছ থেকে ক্ষেতজমিসহ এক কবরস্থানরূপে কিনে নিয়েছিলেন।
GEN 50:14 তাঁর বাবাকে কবর দেওয়ার পর, যোষেফ তাঁর দাদা-ভাইদের ও অন্যান্য সেইসব লোকজনের সাথে মিশরে ফিরে এলেন, যারা তাঁর বাবাকে কবর দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন।
GEN 50:15 যোষেফের দাদা-ভাইয়েরা যখন দেখলেন যে তাঁদের বাবা মারা গিয়েছেন, তখন তাঁরা বললেন, “যোষেফ যদি আমাদের বিরুদ্ধে আক্রোশ পুষে রাখে ও তার প্রতি আমরা যেসব অন্যায় করেছি সে যদি তার প্রতিশোধ নেয়, তবে কী হবে?”
GEN 50:16 অতএব তাঁরা যোষেফের কাছে খবর পাঠিয়ে, বললেন, “তোমার বাবা মারা যাওয়ার আগে এসব নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন:
GEN 50:17 ‘যোষেফকে তোমাদের এই কথাটি বলতে হবে: তোমার দাদারা তোমার প্রতি এত খারাপ ব্যবহার করে যে পাপ ও অন্যায় করেছে আমি চাই তুমি যেন তা ক্ষমা করে দাও।’ এখন দয়া করে তোমার পৈত্রিক ঈশ্বরের দাসদের পাপগুলি ক্ষমা করে দাও।” তাঁদের এই খবর যখন যোষেফের কাছে এসে পৌঁছাল, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন।
GEN 50:18 তাঁর দাদা-ভাইয়েরা পরে তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁর সামনে নতমস্তক হয়ে প্রণাম করলেন। “আমরা তোমার ক্রীতদাস,” তাঁরা বললেন।
GEN 50:19 কিন্তু যোষেফ তাঁদের বললেন, “ভয় পেয়ো না। আমি কি ঈশ্বরের স্থলাভিষিক্ত?
GEN 50:20 তোমরা আমার ক্ষতি করার সংকল্প করলে, কিন্তু এখন যা কিছু হয়েছে তা ভালোর জন্যই, প্রচুর প্রাণরক্ষা করার জন্য ঈশ্বরই মনস্থ করে রেখেছিলেন।
GEN 50:21 তাই এখন, ভয় পেয়ো না। আমি তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের জন্য রসদপত্র জোগাব।” আর তিনি আবার তাঁদের আশ্বস্ত করলেন এবং তাঁদের সাথে সদয় কথাবার্তা বললেন।
GEN 50:22 যোষেফ তাঁর পৈত্রিক পরিবারের সব লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিশরে থেকে গেলেন। তিনি 110 বছর বেঁচেছিলেন
GEN 50:23 এবং ইফ্রয়িমের সন্তানদের তৃতীয় প্রজন্মকে স্বচক্ষে দেখলেন। এছাড়াও মনঃশির ছেলে মাখীরের সন্তানদেরও জন্মের সময় যোষেফের কোলেই রাখা হল।
GEN 50:24 পরে যোষেফ তাঁর দাদা-ভাইদের বললেন, “আমি মরতে চলেছি। কিন্তু ঈশ্বর নিঃসন্দেহে তোমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন এবং তোমাদের এই দেশ থেকে বের করে সেই দেশে নিয়ে যাবেন, যেটি তিনি অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।”
GEN 50:25 আর যোষেফ ইস্রায়েলীদের দিয়ে একটি প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিলেন ও বললেন, “ঈশ্বর নিঃসন্দেহে তোমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন, এবং তখন তোমাদের অবশ্যই আমার অস্থি এই স্থান থেকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
GEN 50:26 অতএব যোষেফ 110 বছর বয়সে মারা গেলেন। আর তাঁরা তাঁকে সুগন্ধি বস্তু দ্বারা সংরক্ষণ করার পর তাঁর মৃতদেহ মিশরে একটি শবাধারের মধ্যে রেখে দেওয়া হল।
EXO 1:1 এই হল ইস্রায়েলের সেই ছেলেদের নাম, যাঁরা প্রত্যেকে নিজের পরিবারসহ যাকোবের সঙ্গে মিশরে গিয়েছিলেন:
EXO 1:2 রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি ও যিহূদা;
EXO 1:3 ইষাখর, সবূলূন ও বিন্যামীন;
EXO 1:4 দান ও নপ্তালি; গাদ ও আশের।
EXO 1:5 যাকোবের বংশধররা সংখ্যায় হল মোট সত্তরজন; যোষেফ ইতিপূর্বে মিশরেই ছিলেন।
EXO 1:6 এদিকে যোষেফ ও তাঁর সব দাদা-ভাই, এবং সেই প্রজন্মের সবাই মারা গেলেন,
EXO 1:7 কিন্তু ইস্রায়েলীরা অত্যন্ত ফলবান হল; তারা প্রচুর পরিমাণে বংশবৃদ্ধি করল, সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে এত সংখ্যক হয়ে উঠল যে সে দেশটি তাদের দিয়েই পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
EXO 1:8 পরে এমন এক নতুন রাজা মিশরের ক্ষমতায় এলেন, যাঁর কাছে যোষেফের কোনও গুরুত্বই ছিল না।
EXO 1:9 “দেখো,” তিনি তাঁর প্রজাদের বললেন, “ইস্রায়েলীরা আমাদের পক্ষে বড়ো বেশি সংখ্যক হয়ে পড়েছে।
EXO 1:10 এসো, আমরা তাদের প্রতি প্রজ্ঞাপূর্বক ব্যবহার করি, তা না হলে তারা এর চেয়েও বেশি সংখ্যক হয়ে যাবে এবং, যদি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, তারা আমাদের শত্রুদের সাথে যোগ দেবে, আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে ও দেশ ছেড়ে চলে যাবে।”
EXO 1:11 অতএব তারা বাধ্যতামূলকভাবে পরিশ্রম করিয়ে ইস্রায়েলীদের নিগৃহীত করার জন্য তাদের উপর কড়া তত্ত্বাবধায়কদের নিযুক্ত করে দিল, এবং তারা ফরৌণের জন্য ভাণ্ডার-নগরীরূপে পিথোম ও রামিষেষ গেঁথে তুলল।
EXO 1:12 কিন্তু যত বেশি তাদের নিপীড়িত করা হল, তত বেশি তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হল ও তারা ছড়িয়ে পড়ল; অতএব মিশরীয়রা ইস্রায়েলীদের ভয় পেতে শুরু করল
EXO 1:13 এবং তারা নির্মমভাবে তাদের খাটাতে লাগল।
EXO 1:14 ইট ও চুনসুরকির কাজে এবং চাষবাসের সব ধরনের কাজে কঠোর পরিশ্রম করিয়ে তারা তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলল; মিশরীয়রা নির্মমভাবে তাদের কাছে কঠোর পরিশ্রম দাবি করল।
EXO 1:15 মিশরের রাজা শিফ্রা ও পূয়া নামাঙ্কিত হিব্রু ধাত্রীদের বললেন,
EXO 1:16 “প্রসব-শয্যায় তোমরা যখন সন্তান প্রসবের সময় হিব্রু মহিলাদের সাহায্য করছ, তখন যদি তোমরা দেখো যে শিশুটি এক পুত্রসন্তান, তবে তাকে মেরে ফেলো; কিন্তু সে যদি এক কন্যাসন্তান হয়, তবে তাকে বাঁচিয়ে রেখো।”
EXO 1:17 সেই ধাত্রীরা অবশ্য ঈশ্বরকে ভয় করত ও মিশরের রাজা তাদের যা করতে বললেন, তারা তা করল না; তারা শিশুপুত্রদের বাঁচিয়ে রাখল।
EXO 1:18 তখন মিশরের রাজা সেই ধাত্রীদের ডেকে পাঠিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা এরকম কেন করলে? তোমরা শিশুপুত্রদের বাঁচিয়ে রাখলে কেন?”
EXO 1:19 তারা ফরৌণকে উত্তর দিল, “হিব্রু মহিলারা মিশরীয় মহিলাদের মতো নয়; তারা সবলা ও ধাত্রীরা পৌঁছানোর আগেই তারা সন্তান প্রসব করে ফেলে।”
EXO 1:20 অতএব ঈশ্বর সেই ধাত্রীদের প্রতি দয়ালু হলেন এবং ইস্রায়েলীরা বৃদ্ধি পেয়ে আরও বহুসংখ্যক হয়ে উঠল।
EXO 1:21 আর যেহেতু সেই ধাত্রীরা ঈশ্বরকে ভয় করত, তাই তিনি তাদের নিজস্ব পরিবার দিলেন।
EXO 1:22 পরে ফরৌণ তাঁর সব প্রজাকে এই আদেশ দিলেন: “সদ্যজাত প্রত্যেকটি হিব্রু পুত্রসন্তানকে তোমরা অবশ্যই নীলনদে ছুঁড়ে ফেলবে, কিন্তু প্রত্যেকটি কন্যাসন্তানকে জীবিত রাখবে।”
EXO 2:1 এদিকে লেবি বংশের একজন লোক এক লেবীয় মহিলাকে বিয়ে করলেন,
EXO 2:2 আর সেই মহিলাটি গর্ভবতী হলেন ও এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন। যখন তিনি দেখলেন যে শিশুটি দেখতে খুব সুন্দর, তখন তিনি তাকে তিন মাস ধরে লুকিয়ে রাখলেন।
EXO 2:3 কিন্তু যখন তিনি তাকে আর লুকিয়ে রাখতে পারলেন না, তখন তিনি তার জন্য নলখাগড়া দিয়ে একটি ডালি তৈরি করলেন ও সেটিতে আলকাতরা ও পিচ লেপন করে দিলেন। পরে তিনি সেই শিশুটিকে সেটির মধ্যে শুইয়ে দিয়ে সেটি নীলনদের পাড়ে নলবনের মধ্যে রেখে দিলেন।
EXO 2:4 শিশুটির দিদি একটু দূরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য রাখছিল তার ভাইয়ের প্রতি কী ঘটতে চলেছে।
EXO 2:5 পরে ফরৌণের মেয়ে নীলনদে স্নান করার জন্য নামলেন, এবং তাঁর পরিচারিকারা তাঁর পাশে পাশে নদীর পাড় ধরে হাঁটছিল। তিনি নলবনের মধ্যে সেই ডালিটি দেখতে পেলেন এবং সেটি তুলে আনার জন্য তিনি তাঁর ক্রীতদাসীকে পাঠালেন।
EXO 2:6 তিনি সেটি খুললেন ও সেই শিশুটিকে দেখতে পেলেন। সে কাঁদছিল, আর তার জন্য তাঁর দুঃখ হল। “এ হিব্রু শিশুদের মধ্যেই একজন,” তিনি বললেন।
EXO 2:7 তখন সেই শিশুটির দিদি ফরৌণের মেয়েকে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কি গিয়ে হিব্রু মহিলাদের মধ্যে একজনকে ডেকে আনব, যে আপনার জন্য এই শিশুটির শুশ্রুষা করবে?”
EXO 2:8 “হ্যাঁ, যাও,” ফরৌণের মেয়ে উত্তর দিলেন। অতএব সেই মেয়েটি গিয়ে শিশুটির মাকে ডেকে আনল।
EXO 2:9 ফরৌণের মেয়ে তাঁকে বললেন, “এই শিশুটিকে নিয়ে যাও ও আমার হয়ে এর শুশ্রুষা করো, আর আমি তোমাকে বেতন দেব।” অতএব সেই মহিলাটি শিশুটিকে নিয়ে তার শুশ্রুষা করলেন।
EXO 2:10 শিশুটি যখন বড়ো হল, তখন তিনি তাকে ফরৌণের মেয়ের কাছে নিয়ে এলেন ও সে তাঁর ছেলে হয়ে গেল। “আমি তাকে জল থেকে টেনে তুলেছি,” এই বলে তিনি তার নাম দিলেন মোশি।
EXO 2:11 একদিন, মোশি বড়ো হয়ে যাওয়ার পর, যেখানে তাঁর নিজস্ব লোকজনেরা ছিল, তিনি সেখানে গেলেন ও দেখলেন তারা কঠোর পরিশ্রম করছে। তিনি দেখতে পেলেন একজন মিশরীয় লোক একজন হিব্রু লোককে মারধর করছে, যে কি না তাঁর নিজস্ব লোকজনের মধ্যেই একজন।
EXO 2:12 এদিক-ওদিক তাকিয়ে, কাউকে দেখতে না পেয়ে তিনি সেই মিশরীয় লোকটিকে হত্যা করলেন ও তাকে বালিতে পুঁতে দিলেন।
EXO 2:13 পরদিন তিনি বাইরে গেলেন ও দেখতে পেলেন দুজন হিব্রু লোক মারপিট করছে। যে অন্যায় করেছিল তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কেন তোমার স্বজাতীয় হিব্রু ভাইকে মারছ?”
EXO 2:14 সেই লোকটি বলল, “কে তোমাকে আমাদের উপর শাসক ও বিচারক নিযুক্ত করেছে? যেভাবে তুমি সেই মিশরীয় লোকটিকে হত্যা করেছিলে, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করার কথা ভাবছ?” তখন মোশি ভয় পেয়ে গিয়ে ভাবলেন, “আমি যা করেছি তা নিশ্চয় লোকেরা জেনে ফেলেছে।”
EXO 2:15 ফরৌণ যখন তা শুনতে পেলেন, তখন তিনি মোশিকে হত্যা করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু মোশি ফরৌণের কাছ থেকে পালিয়ে মিদিয়নে বসবাস করতে চলে গেলেন, ও সেখানে গিয়ে তিনি এক কুয়োর পাড়ে বসে পড়লেন।
EXO 2:16 মিদিয়নীয় এক যাজকের সাতটি মেয়ে ছিল, এবং তারা তাদের বাবার মেষপালকে জলপান করাবার জন্য জল তুলতে ও জাবপাত্র ভরতে এসেছিল।
EXO 2:17 কয়েকজন মেষপালক সেখানে এসে তাদের তাড়িয়ে দিল, কিন্তু মোশি উঠে দাঁড়ালেন ও তাদের রক্ষাকর্তা হয়ে তাদের মেষপালকে জলপান করালেন।
EXO 2:18 সেই মেয়েরা যখন তাদের বাবা রূয়েলের কাছে ফিরে গেল, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আজ তোমরা কেন এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে?”
EXO 2:19 তারা উত্তর দিল, “একজন মিশরীয় লোক মেষপালকদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। এমনকি তিনি আমাদের জন্য জল তুলে দিলেন ও আমাদের মেষপালকে জলপান করালেন।”
EXO 2:20 “আর তিনি কোথায়?” রূয়েল তাঁর মেয়েদের জিজ্ঞাসা করলেন। “তোমরা কেন তাঁকে ছেড়ে এলে? কিছু খাওয়ার জন্য তাঁকে নিমন্ত্রণ করো।”
EXO 2:21 মোশি সেই লোকটির সঙ্গে থাকতে সম্মত হলেন, যিনি মোশির সঙ্গে তাঁর মেয়ে সিপ্পোরার বিয়ে দিলেন।
EXO 2:22 সিপ্পোরা এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন, ও মোশি এই বলে তার নাম দিলেন গের্শোম যে “বিদেশভূমিতে আমি এক বিদেশি হয়ে গেলাম।”
EXO 2:23 সুদীর্ঘ সময়কাল পার হয়ে যাওয়ার পর, মিশরের রাজা মারা গেলেন। ইস্রায়েলীরা তাদের ক্রীতদাসত্বের কারণে যন্ত্রণা পেয়ে গভীর আর্তনাদ করে উঠল, এবং তাদের ক্রীতদাসত্বের কারণে তাদের চাওয়া সাহায্যের আকুতি ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে গেল।
EXO 2:24 ঈশ্বর তাদের কান্না শুনলেন এবং অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের সঙ্গে করা তাঁর নিয়মটি তিনি স্মরণ করলেন।
EXO 2:25 অতএব ঈশ্বর ইস্রায়েলীদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন ও তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হলেন।
EXO 3:1 মোশি এক সময় তাঁর শ্বশুর, মিদিয়নীয় যাজক যিথ্রোর মেষপাল চরাচ্ছিলেন, এবং সেই পালকে দূরে মরুপ্রান্তরের এক প্রান্তে চরাতে চরাতে তিনি হোরেবে সদাপ্রভুর পর্বতে পৌঁছে গেলেন।
EXO 3:2 সেখানে এক ঝোপের মধ্যে থেকে সদাপ্রভুর দূত আগুনের শিখায় মোশির কাছে আবির্ভূত হলেন। মোশি দেখলেন যে যদিও ঝোপটি জ্বলছে তবুও তা পুড়ে শেষ হচ্ছে না।
EXO 3:3 অতএব মোশি ভাবলেন, “আমি পরিদর্শনে যাব ও এই অদ্ভুত ঘটনাটি দেখব—কেন ঝোপটি পুড়ে শেষ হচ্ছে না।”
EXO 3:4 সদাপ্রভু যখন দেখলেন যে মোশি দেখার জন্য পরিদর্শনে গিয়েছেন, তখন ঈশ্বর সেই ঝোপের মধ্যে থেকে মোশিকে ডেকে বললেন, “মোশি, মোশি!” আর মোশি বললেন, “আমি এখানে।”
EXO 3:5 “আর কাছে এসো না,” ঈশ্বর বললেন। “তোমার চটিজুতো খুলে ফেলো, কারণ তুমি যে স্থানে দাঁড়িয়ে আছ সেটি পবিত্র ভূমি।”
EXO 3:6 পরে তিনি বললেন, “আমি তোমার পৈত্রিক ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর।” তখন মোশি তাঁর মুখ আড়াল করলেন, কারণ তিনি ঈশ্বরের দিকে তাকাতে ভয় পেয়েছিলেন।
EXO 3:7 সদাপ্রভু বললেন, “আমি সত্যিই মিশরে আমার প্রজাদের দুর্দশা দেখেছি। তাদের উপর নিযুক্ত ক্রীতদাস পরিচালকদের কারণে তারা যে কান্নাকাটি করছে তা আমি শুনেছি, এবং তাদের কায়ক্লেশের বিষয়ে আমি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।
EXO 3:8 তাই মিশরীয়দের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য এবং সেদেশ থেকে মনোরম ও প্রশস্ত এক দেশে, দুধ ও মধু প্রবাহিত এক দেশে—কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের স্বদেশে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি নেমে এসেছি।
EXO 3:9 আর এখন ইস্রায়েলীদের কান্না আমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং আমি দেখেছি কীভাবে সেই মিশরীয়রা তাদের নিগৃহীত করছে।
EXO 3:10 অতএব এখন, যাও। মিশর থেকে আমার প্রজা ইস্রায়েলীদের বের করে আনার জন্য আমি তোমাকে ফরৌণের কাছে পাঠাচ্ছি।”
EXO 3:11 কিন্তু মোশি ঈশ্বরকে বললেন, “আমি কে যে আমাকে ফরৌণের কাছে যেতে হবে ও মিশর থেকে ইস্রায়েলীদের বের করে আনতে হবে?”
EXO 3:12 আর ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমার সঙ্গে থাকব। আর আমিই যে তোমাকে পাঠিয়েছি তার চিহ্ন হবে এই: তুমি যখন মিশর থেকে লোকদের বের করে আনবে, তখন এই পর্বতে তোমরা ঈশ্বরের আরাধনা করবে।”
EXO 3:13 মোশি ঈশ্বরকে বললেন, “ধরে নিন আমি ইস্রায়েলীদের কাছে গেলাম ও তাদের বললাম, ‘তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন,’ এবং তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তাঁর নাম কী?’ তখন আমি তাদের কী বলব?”
EXO 3:14 ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “আমি যে আছি, সেই আছি। ইস্রায়েলীদের তোমাকে একথাই বলতে হবে: ‘আমি আছি আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।’ ”
EXO 3:15 এছাড়াও ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “ইস্রায়েলীদের বোলো, ‘সদাপ্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর—অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর—আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।’ “এটিই আমার অনন্তকালীন নাম, যে নামে তোমরা আমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ডাকবে।
EXO 3:16 “যাও, ইস্রায়েলের প্রাচীনদের সমবেত করো ও তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর—অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর—আমাকে দর্শন দিয়ে বললেন: আমি তোমাদের পাহারা দিয়েছিলাম এবং দেখেছিলাম মিশরে তোমাদের প্রতি কী করা হয়েছে।
EXO 3:17 আর আমি তোমাদের মিশরের দুর্দশা থেকে বের করে এনে কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের দেশে—দুধ ও মধু প্রবাহিত সেই দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলাম।’
EXO 3:18 “ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা তোমার কথা শুনবে। পরে তোমাকে ও সেই প্রাচীনদের মিশররাজের কাছে গিয়ে তাকে বলতে হবে, ‘সদাপ্রভু, হিব্রুদের ঈশ্বর, আমাদের দেখা দিয়েছেন। মরুপ্রান্তরে তিনদিনের পথযাত্রা করে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমাদের বলি উৎসর্গ করে আসতে দিন।’
EXO 3:19 কিন্তু আমি জানি যে মিশররাজ ততক্ষণ তোমাদের যেতে দেবে না, যতক্ষণ না এক বলশালী হাত তাকে বাধ্য করবে।
EXO 3:20 অতএব আমি আমার হাত বাড়িয়ে দেব ও সেইসব আশ্চর্য কাজের মাধ্যমে মিশরীয়দের আঘাত হানব, যেগুলি আমি তাদের মধ্যে সম্পন্ন করতে চলেছি। পরে, সে তোমাদের যেতে দেবে।
EXO 3:21 “আর এই জাতির প্রতি মিশরীয়দের আমি এত অনুগ্রহকারী হতে দেব, যে যখন তোমরা দেশ ছেড়ে যাবে, তখন তোমাদের খালি হাতে যেতে হবে না।
EXO 3:22 প্রত্যেকটি মহিলাকে তার প্রতিবেশিনী ও তার বাড়িতে বসবাসকারী যে কোনো মহিলার কাছ থেকে রুপো ও সোনার গয়নাগাটি এবং পোশাক-পরিচ্ছদ চেয়ে নিতে হবে, যেগুলি তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়েদের গায়ে পরিয়ে দেবে। আর এইভাবে তোমরা মিশরীয়দের উপর লুঠতরাজ চালাবে।”
EXO 4:1 মোশি উত্তর দিলেন, “তারা যদি আমার কথা বিশ্বাস না করে বা আমার কথা না শোনে ও বলে, ‘সদাপ্রভু তোমার কাছে আবির্ভূত হননি,’ তবে কী হবে?”
EXO 4:2 তখন সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “তোমার হাতে ওটি কী?” “একটি ছড়ি,” তিনি উত্তর দিলেন।
EXO 4:3 সদাপ্রভু বললেন, “সেটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দাও।” মোশি সেটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং সেটি একটি সাপে পরিণত হল ও তিনি সেটির কাছ থেকে পালিয়ে গেলেন।
EXO 4:4 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার হাত বাড়িয়ে দাও ও সেটির লেজ ধরে ফেলো।” অতএব মোশি হাত বাড়িয়ে সাপটি ধরে ফেললেন এবং সেটি আবার তাঁর হাতে ধরা এক ছড়িতে পরিণত হল।
EXO 4:5 সদাপ্রভু বললেন, “এরকম করা হল, যেন তারা বিশ্বাস করে যে সদাপ্রভু, তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর—অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর—তোমার কাছে আবির্ভূত হয়েছেন।”
EXO 4:6 পরে সদাপ্রভু বললেন, “তোমার আলখাল্লায় তোমার হাতটি ঢুকিয়ে নাও।” অতএব মোশি নিজের আলখাল্লায় তাঁর হাতটি ঢুকিয়ে নিলেন, ও তিনি যখন সেটি বের করে আনলেন, তখন তাঁর হাতের চামড়া কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হয়ে—সেটি বরফের মতো সাদা হয়ে গেল।
EXO 4:7 “এখন হাতটি আবার তোমার আলখাল্লায় ঢুকিয়ে নাও।” তিনি বললেন। অতএব মোশি আবার নিজের হাতটি তাঁর আলখাল্লায় ঢুকিয়ে নিলেন, আর যখন তিনি তাঁর হাতটি বের করে আনলেন, তখন সেটি ঠিক হয়ে গেল, তাঁর শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই।
EXO 4:8 পরে সদাপ্রভু বললেন, “তারা যদি তোমার কথা বিশ্বাস না করে বা প্রথম চিহ্নটিতে মনোযোগ না দেয়, তবে তারা হয়তো দ্বিতীয়টি বিশ্বাস করবে।
EXO 4:9 কিন্তু তারা যদি এই দুটি চিহ্নই বিশ্বাস না করে বা তোমার কথা না শোনে, তবে তুমি নীলনদ থেকে খানিকটা জল নিয়ে তা শুকনো মাটিতে ঢেলে দিয়ো। যে জল তুমি নদী থেকে আনবে তা মাটিতে রক্ত হয়ে যাবে।”
EXO 4:10 মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “হে প্রভু, আপনার এই দাসকে ক্ষমা করবেন। আমি কখনোই বাক্যবাগীশ ছিলাম না, না ছিলাম অতীতে আর না তখন, যখন আপনি আপনার এই দাসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কথাবার্তায় ও জিভে আমার জড়তা আছে।”
EXO 4:11 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “মানুষকে কে মুখ দিয়েছে? কে তাদের কালা বা বোবা তৈরি করেছে? কে তাদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছে বা তাদের অন্ধ তৈরি করেছে? সে কি আমি, এই সদাপ্রভু নই?
EXO 4:12 এখন যাও; আমি তোমাকে কথা বলতে সাহায্য করব ও কী বলতে হবে তা শেখাব।”
EXO 4:13 কিন্তু মোশি বললেন, “হে প্রভু, আপনার এই দাসকে ক্ষমা করবেন। দয়া করে অন্য কাউকে পাঠান।”
EXO 4:14 তখন সদাপ্রভুর ক্রোধ মোশির বিরুদ্ধে জ্বলে উঠল ও তিনি বললেন, “তোমার দাদা, সেই লেবীয় হারোণ নেই নাকি? আমি জানি সে বেশ ভালোই কথা বলতে পারে। সে এখনই তোমার সাথে দেখা করতে আসছে এবং তোমার দেখা পেয়ে সে খুশিই হবে।
EXO 4:15 তুমি তার সাথে কথা বলবে এবং তার মুখে শব্দ বসিয়ে দেবে; আমি তোমাদের দুজনকেই কথা বলতে সাহায্য করব ও কী করতে হবে তা শিখিয়ে দেব।
EXO 4:16 সে তোমার হয়ে লোকজনের কাছে কথা বলবে, এবং সে তোমার মুখ হবে, ও তুমি তার কাছে ঈশ্বরস্বরূপ হবে।
EXO 4:17 কিন্তু এই ছড়িটি তোমার হাতে নাও যেন তুমি এটি দিয়ে চিহ্নকাজ করতে পারো।”
EXO 4:18 পরে মোশি তাঁর শ্বশুর যিথ্রোর কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁকে বললেন, “আমাকে মিশরে আমার নিজস্ব লোকজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখতে দিন যে তাদের মধ্যে কেউ এখনও বেঁচে আছে কি না।” যিথ্রো বললেন, “যাও, ও আমি তোমার মঙ্গলকামনা করছি।”
EXO 4:19 মিদিয়নে থাকাকালীনই মোশিকে সদাপ্রভু বললেন, “মিশরে ফিরে যাও, কারণ যারা তোমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তারা সবাই মারা গিয়েছে।”
EXO 4:20 অতএব মোশি তাঁর স্ত্রী ও ছেলেদের নিয়ে, তাদের গাধার পিঠে চাপিয়ে মিশরে ফেরার জন্য রওনা হলেন। আর তিনি ঈশ্বরের সেই ছড়িটি নিজের হাতে তুলে নিলেন।
EXO 4:21 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি যখন মিশরে ফিরে যাবে, তখন দেখো আমি তোমাকে যেসব আশ্চর্য কাজ করার ক্ষমতা দিয়েছি, সেগুলি যেন তুমি ফরৌণের সামনে করে দেখাও। কিন্তু আমি তার হৃদয় এমন কঠিন করব যে সে লোকদের যেতে দেবে না।
EXO 4:22 পরে তুমি ফরৌণকে বোলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: ইস্রায়েল আমার প্রথম সন্তান,
EXO 4:23 আর আমি তোমাকে বলেছি, “আমার ছেলেকে যেতে দাও, যেন সে আমার আরাধনা করতে পারে।” কিন্তু তুমি তাকে যেতে দিতে অস্বীকার করলে; তাই আমি তোমার প্রথমজাত ছেলেকে হত্যা করব।’ ”
EXO 4:24 পথিমধ্যে এক পান্থশালায়, সদাপ্রভু মোশির সাথে দেখা করলেন এবং তাঁকে প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিলেন।
EXO 4:25 কিন্তু সিপ্পোরা চকমকি পাথরের একটি ছুরি নিয়ে, তাঁর ছেলের লিঙ্গাগ্রত্বক কেটে সেটি মোশির পায়ে ঠেকিয়ে দিলেন। “নিশ্চয় তুমি আমার কাছে রক্তের এক বর,” তিনি বললেন।
EXO 4:26 অতএব সদাপ্রভু মোশিকে নিষ্কৃতি দিলেন। (সেই সময় সিপ্পোরা সুন্নতের উল্লেখ করে বললেন, “রক্তের বর।”)
EXO 4:27 সদাপ্রভু হারোণকে বললেন, “মোশির সঙ্গে দেখা করার জন্য মরুপ্রান্তরে যাও।” তাই তিনি ঈশ্বরের পর্বতে মোশির সঙ্গে দেখা করলেন ও তাঁকে চুমু দিলেন।
EXO 4:28 পরে সদাপ্রভু মোশিকে যা যা বলতে পাঠালেন, ও এছাড়াও যেসব চিহ্নকাজ তিনি তাঁকে সম্পাদন করার আদেশ দিয়েছিলেন, সেসবকিছু মোশি হারোণকে বললেন।
EXO 4:29 মোশি ও হারোণ ইস্রায়েলীদের সব প্রাচীনকে একত্রিত করলেন,
EXO 4:30 এবং সদাপ্রভু মোশিকে যা যা বলেছিলেন সেসবকিছু হারোণ তাঁদের বললেন। এছাড়াও তিনি লোকজনের সামনে সেই চিহ্নকাজগুলি সম্পাদন করলেন,
EXO 4:31 এবং তাঁরা বিশ্বাস করলেন। আর তাঁরা যখন শুনলেন যে সদাপ্রভু তাঁদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছেন ও তাঁদের দুর্দশা দেখেছেন, তখন তাঁরা মাথা নত করে আরাধনা করলেন।
EXO 5:1 পরে মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছে গিয়ে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একথাই বলেন: ‘আমার লোকজনকে যেতে দাও, যেন তারা মরুপ্রান্তরে গিয়ে আমার উদ্দেশে এক উৎসব পালন করতে পারে।’ ”
EXO 5:2 ফরৌণ বললেন, “সদাপ্রভু কে, যে আমাকে তার বাধ্য হতে হবে ও ইস্রায়েলকে যেতে দিতে হবে? আমি সদাপ্রভুকে চিনি না আর আমি ইস্রায়েলকেও যেতে দেব না।”
EXO 5:3 তখন তাঁরা বললেন, “হিব্রুদের ঈশ্বর আমাদের দর্শন দিয়েছেন। এখন মরুপ্রান্তরে তিনদিনের পথযাত্রা করে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমাদের বলি উৎসর্গ করে আসতে দিন, তা না হলে তিনি হয়তো আমাদের মহামারি বা তরোয়াল দিয়ে আঘাত করবেন।”
EXO 5:4 কিন্তু মিশররাজ বললেন, “ওহে মোশি ও হারোণ, লোকদের কেন তোমরা তাদের কাজকর্ম থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছ? তোমাদের কাজে ফিরে যাও!”
EXO 5:5 পরে ফরৌণ বললেন, “দেখো, দেশের লোকজন এখন বহুসংখ্যক হয়ে গিয়েছে এবং তোমরা তাদের কাজ করা থেকে বিরত রাখছ।”
EXO 5:6 সেদিনই ফরৌণ লোকজনের দায়িত্বে থাকা ক্রীতদাস পরিচালকদের ও তত্ত্বাবধায়কদের এই আদেশ দিলেন:
EXO 5:7 “ইট তৈরি করার জন্য তোমরা লোকদের আর খড়ের জোগান দেবে না; তারা নিজেরাই গিয়ে খড় জোগাড় করুক।
EXO 5:8 কিন্তু আগে তারা যে পরিমাণ ইট তৈরি করত, এখনও তাদের ততটাই তৈরি করতে বলো; প্রদেয় নির্দিষ্ট ভাগ কমিয়ে দিয়ো না। তারা অলস; তাই তারা কান্নাকাটি করে বলছে, ‘আমাদের যেতে দাও ও আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করতে দাও।’
EXO 5:9 লোকদের জন্য কাজকর্ম এত কঠিন করে দাও, যেন তারা কাজ করতেই থাকে ও মিথ্যা কথায় মনোযোগ না দেয়।”
EXO 5:10 তখন ক্রীতদাস পরিচালকেরা ও তত্ত্বাবধায়কেরা বাইরে গিয়ে লোকজনকে বলল, “ফরৌণ একথাই বলেছেন: ‘আমি আর তোমাদের খড় দেব না।
EXO 5:11 যাও, যেখান থেকে পারো তোমাদের খড় নিয়ে এসো, কিন্তু তোমাদের কাজকর্ম কোনোমতেই কম করা হবে না।’ ”
EXO 5:12 অতএব লোকেরা খড়ের পরিবর্তে নাড়া সংগ্রহ করার জন্য মিশরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।
EXO 5:13 ক্রীতদাস পরিচালকেরা এই বলে তাদের চাপ দিয়ে যাচ্ছিল, “তোমরা প্রতিদিনের নিরূপিত কাজকর্ম শেষ করো, ঠিক যেভাবে আগে তোমাদের কাছে খড় থাকার সময় তোমরা তা করতে।”
EXO 5:14 আর ফরৌণের ক্রীতদাস পরিচালকেরা যে ইস্রায়েলী তত্ত্বাবধায়কদের নিযুক্ত করল, তারা তাদের কাছে এই দাবি জানিয়ে তাদের মারধর করত, “গতকাল বা আজ কেন তোমরা আগের মতো তোমাদের যত ইট তৈরি করার কথা, ততখানি তৈরি করোনি?”
EXO 5:15 তখন ইস্রায়েলী তত্ত্বাবধায়কেরা গিয়ে ফরৌণের কাছে নালিশ জানাল: “কেন আপনি আপনার এই দাসেদের সঙ্গে এরকম আচরণ করছেন?
EXO 5:16 আপনার দাসেদের কোনও খড় দেওয়া হয়নি, অথচ আমাদের বলা হয়েছে, ‘ইট তৈরি করো!’ আপনার দাসেদের মারধর করা হয়েছে, কিন্তু আপনার নিজের প্রজারাই দোষ করেছে।”
EXO 5:17 ফরৌণ বললেন, “তোমরা অলস, তোমরা এরকমই—অলস! সেজন্যই তোমরা বলে যাচ্ছ, ‘চলো যাই ও সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করি।’
EXO 5:18 এখন কাজে লেগে পড়ো। তোমাদের কোনও খড় দেওয়া হবে না। তবুও তোমাদের নিরূপিত পরিমাণ ইটের পুরোটাই উৎপাদন করতে হবে।”
EXO 5:19 ইস্রায়েলী তত্ত্বাবধায়কদের যখন বলা হল, “প্রতিদিন তোমাদের যতগুলি করে ইট তৈরি করার কথা, তোমরা তার সংখ্যা কমাতে পারবে না,” তখন তারা বুঝতে পারল যে তারা অসুবিধায় পড়েছে।
EXO 5:20 তারা যখন ফরৌণের কাছ থেকে ফিরে এল, তখন তারা দেখল যে মোশি ও হারোণ তাদের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন,
EXO 5:21 এবং তারা বলল, “সদাপ্রভুই আপনাদের দিকে তাকিয়ে আপনাদের বিচার করুন! আপনারা ফরৌণের ও তাঁর কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের আপত্তিকর করে তুলেছেন এবং আমাদের হত্যা করার জন্য তাদের হাতে এক তরোয়াল তুলে দিয়েছেন।”
EXO 5:22 মোশি সদাপ্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “কেন, হে প্রভু, কেন তুমি এই লোকদের অসুবিধায় ফেললে? এজন্যই কি তুমি আমাকে পাঠিয়েছিলে?
EXO 5:23 যখন থেকে আমি তোমার নাম করে ফরৌণের সাথে কথা বলতে গিয়েছি, তখন থেকেই তিনি এই লোকদের অসুবিধায় ফেলেছেন, এবং তুমি তোমার প্রজাদের আদৌ উদ্ধার করোনি।”
EXO 6:1 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “এখন তুমি দেখবে আমি ফরৌণের প্রতি কী করব: আমার শক্তিশালী হাতের কারণে সে তাদের যেতে দেবে; আমার শক্তিশালী হাতের কারণে সে তাদের তার দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে।”
EXO 6:2 এছাড়াও ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “আমিই সেই সদাপ্রভু।
EXO 6:3 সর্বশক্তিমান ঈশ্বররূপে আমি অব্রাহামের, ইস্‌হাকের ও যাকোবের কাছে আবির্ভূত হয়েছিলাম, কিন্তু সদাপ্রভু—আমার এই নামে পুরোপুরিভাবে আমি তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিইনি।
EXO 6:4 যে কনান দেশে তারা বিদেশিরূপে বসবাস করছিল, সেটি তাদের দেওয়ার জন্য আমি তাদের সাথে আমার নিয়ম প্রতিষ্ঠিতও করেছিলাম।
EXO 6:5 এছাড়াও, আমি সেই ইস্রায়েলীদের কান্না শুনেছিলাম, যাদের মিশরীয়রা ক্রীতদাস করে রেখেছে, এবং আমি আমার নিয়ম স্মরণ করলাম।
EXO 6:6 “সুতরাং, ইস্রায়েলীদের বলো: ‘আমি সদাপ্রভু, এবং মিশরীয়দের জোয়ালের তলা থেকে আমি তোমাদের বের করে আনব। তাদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার হাত থেকে আমি তোমাদের স্বাধীন করব, এবং এক প্রসারিত হাত ও মহৎ দণ্ডাদেশ সহ আমি তোমাদের মুক্ত করব।
EXO 6:7 আমার নিজস্ব প্রজারূপে আমি তোমাদের গ্রহণ করব, এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর হব। তখন তোমরা জানবে যে আমিই তোমাদের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশরীয়দের জোয়ালের তলা থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।
EXO 6:8 আর উদ্যত হাত দিয়ে আমি তোমাদের সেই দেশে নিয়ে আসব, যেটি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা আমি অব্রাহামের, ইস্‌হাকের ও যাকোবের কাছে করেছিলাম। এক অধিকাররূপে আমি সেটি তোমাদের দেব। আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EXO 6:9 মোশি ইস্রায়েলীদের এই খবর দিলেন, কিন্তু তাদের আত্মবিশ্বাসহীনতা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে তারা তাঁর কথা শোনেনি।
EXO 6:10 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 6:11 “যাও, মিশররাজ ফরৌণকে তার দেশ ছেড়ে ইস্রায়েলীদের যেতে দিতে বলো।”
EXO 6:12 কিন্তু মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “আমি যেহেতু কম্পমান ঠোঁটে কথা বলি তাই ইস্রায়েলীরাই যখন আমার কথা শুনছে না, ফরৌণ তবে কেন আমার কথা শুনবেন?”
EXO 6:13 ইস্রায়েলীদের ও মিশররাজ ফরৌণের বিষয়ে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণের সাথে কথা বললেন, এবং ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনার আদেশ তিনি তাঁদের দিলেন।
EXO 6:14 তাঁদের কুলের নেতা এঁরাই: ইস্রায়েলের প্রথমজাত সন্তান রূবেণের ছেলেরা: হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি। এরাই হলেন রূবেণের গোষ্ঠী।
EXO 6:15 শিমিয়োনের ছেলেরা: যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর, ও এক কনানীয় মহিলার ছেলে শৌল। এঁরাই হলেন শিমিয়োনের গোষ্ঠী।
EXO 6:16 তাঁদের নথি অনুসারে এই হল লেবির ছেলেদের নাম: গের্শোন, কহাৎ, ও মরারি। (লেবি 137 বছর বেঁচেছিলেন।)
EXO 6:17 গোষ্ঠী অনুসারে, গের্শোনের ছেলেরা: লিব্‌নি ও শিমিয়ি।
EXO 6:18 কহাতের ছেলেরা: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল। (কহাৎ 133 বছর বেঁচেছিলেন।)
EXO 6:19 মরারির ছেলেরা: মহলি ও মূশি। তাঁদের নথি অনুসারে এরাই লেবির বিভিন্ন গোষ্ঠী।
EXO 6:20 অম্রাম তাঁর পিসিমা সেই যোকেবদকে বিয়ে করলেন, যিনি অম্রামের জন্য মোশি ও হারোণের জন্ম দিলেন। (অম্রাম 137 বছর বেঁচেছিলেন।)
EXO 6:21 যিষ্‌হরের ছেলেরা: কোরহ, নেফগ ও সিখ্রি।
EXO 6:22 উষীয়েলের ছেলেরা: মীশায়েল, ইল্‌সাফন ও সিথ্রি।
EXO 6:23 হারোণ অম্মীনাদবের মেয়ে ও নহশোনের বোন ইলীশেবাকে বিয়ে করলেন, এবং তিনি হারোণের জন্য নাদব ও অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরের জন্ম দিলেন।
EXO 6:24 কোরহের ছেলেরা হলেন: অসীর, ইল্‌কানা ও অবীয়াসফ। এঁরাই হলেন কোরহের বিভিন্ন গোষ্ঠী।
EXO 6:25 হারোণের ছেলে ইলীয়াসর পুটিয়েলের মেয়েদের মধ্যে একজনকে বিয়ে করলেন, এবং তিনি তাঁর জন্য পীনহসের জন্ম দিলেন। এঁরাই হলেন গোষ্ঠী ধরে ধরে লেবীয় কুলের বিভিন্ন নেতা।
EXO 6:26 এই হারোণ ও মোশিকেই সদাপ্রভু বললেন, “বিভাগ ধরে ধরে তোমরা ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনো।”
EXO 6:27 তাঁরাই—এই মোশি ও হারোণই ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনার বিষয়ে মিশররাজ ফরৌণের সাথে কথা বললেন।
EXO 6:28 এদিকে সদাপ্রভু যখন মিশরে মোশির সাথে কথা বললেন,
EXO 6:29 তখন তিনি মোশিকে বললেন, “আমি সদাপ্রভু। আমি তোমাকে যা যা বলছি সেসব কথা মিশররাজ ফরৌণকে গিয়ে বলো।”
EXO 6:30 কিন্তু মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “আমি যেহেতু কম্পমান ঠোঁটে কথা বলি, তাই ফরৌণ আমার কথা শুনবেন কেন?”
EXO 7:1 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “দেখো, আমি তোমাকে ফরৌণের কাছে ঈশ্বরের সমতুল্য করে দিয়েছি, এবং তোমার দাদা হারোণ তোমার ভাববাদী হবে।
EXO 7:2 আমি তোমাকে যে আদেশ দিচ্ছি সেসব কথা তোমাকে বলতে হবে, এবং তোমার দাদা হারোণ ফরৌণকে বলুক যেন সে ইস্রায়েলীদের তার দেশ ছেড়ে যেতে দেয়।
EXO 7:3 কিন্তু আমি ফরৌণের হৃদয় কঠিন করব, ও যদিও আমি মিশরে আমার চিহ্নের ও অলৌকিক কাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করব,
EXO 7:4 তবুও সে তোমাদের কথা শুনবে না। পরে আমি মিশরের উপর আমার হাত বাড়াব এবং দণ্ডের ক্ষমতাশালী কাজের মাধ্যমে আমি আমার সৈন্যসামন্তকে, আমার প্রজা ইস্রায়েলীদের বের করে আনব।
EXO 7:5 আর আমি যখন মিশরের বিরুদ্ধে আমার হাত প্রসারিত করব ও সেখান থেকে ইস্রায়েলীদের বের করে আনব তখনই মিশরীয়রা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।”
EXO 7:6 মোশি ও হারোণকে সদাপ্রভু যে আদেশ দিলেন তাঁরা ঠিক তাই করলেন।
EXO 7:7 তাঁরা যখন ফরৌণের সঙ্গে কথা বললেন তখন মোশির বয়স আশি ও হারোণের তিরাশি বছর।
EXO 7:8 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
EXO 7:9 “ফরৌণ যখন তোমাদের বলবে, ‘একটি অলৌকিক কাজ করে দেখাও,’ তখন হারোণকে বোলো, ‘তোমার ছড়িটি নাও ও ফরৌণের সামনে সেটি নিক্ষেপ করো,’ আর সেটি একটি সাপে পরিণত হবে।”
EXO 7:10 অতএব মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছে গেলেন এবং সদাপ্রভু যেমন আদেশ দিয়েছিলেন ঠিক সেরকমই করলেন। হারোণ ফরৌণের ও তাঁর কর্মকর্তাদের সামনে তাঁর ছড়িটি নিক্ষেপ করলেন ও সেটি একটি সাপে পরিণত হল।
EXO 7:11 ফরৌণ তখন পণ্ডিতদের ও গুনিনদের ডেকে পাঠালেন, এবং সেই মিশরীয় জাদুকররাও তাদের রহস্যময় শিল্পকলার মাধ্যমে একই কাজ করল:
EXO 7:12 প্রত্যেকে নিজের নিজের ছড়ি নিক্ষেপ করল এবং তা সাপে পরিণত হল। কিন্তু হারোণের ছড়িটি তাদের ছড়িগুলি গিলে ফেলল।
EXO 7:13 তবুও ফরৌণের হৃদয় কঠিন হল ও তিনি তাদের কথা শুনতে চাননি, যেমন সদাপ্রভু বলেছিলেন।
EXO 7:14 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণের হৃদয় অনমনীয়; সে লোকদের যেতে দিতে চায় না।
EXO 7:15 সকালে ফরৌণ যখন নদীর কাছে যাবে তখন তুমিও তার কাছে যেয়ো। নীলনদের তীরে তার সম্মুখীন হোয়ো, এবং তোমার সেই ছড়িটি হাতে রেখো যেটি একটি সাপে পরিণত হয়েছিল।
EXO 7:16 পরে তাকে বোলো, ‘হিব্রুদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আপনার কাছে আমাকে একথা বলতে পাঠিয়েছেন: আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা মরুপ্রান্তরে আমার আরাধনা করতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তুমি সেকথা শোনোনি।
EXO 7:17 সদাপ্রভু একথাই বলেন: এর দ্বারাই তোমরা জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু: যে ছড়িটি আমার হাতে ধরা আছে সেটি দিয়ে আমি নীলনদের জলে আঘাত করব, আর তা রক্তে পরিণত হবে।
EXO 7:18 নীলনদে মাছ মারা যাবে, এবং তার ফলে নদীতে দুর্গন্ধ ছড়াবে; মিশরীয়রা এর জলপান করতে পারবে না।’ ”
EXO 7:19 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণকে বোলো, ‘তোমার ছড়িটি নাও এবং মিশরের সব স্রোতোজলের উপর—নদীর ও খালের উপর, পুকুরের ও সব জলাধারের উপর—তোমার হাত বাড়াও ও সেসব রক্তে পরিণত হবে।’ মিশরে সর্বত্র রক্তই থাকবে, এমনকি কাঠের ও পাথরের পাত্রেও থাকবে।”
EXO 7:20 মোশি ও হারোণ ঠিক তাই করলেন যা সদাপ্রভু তাঁদের করার আদেশ দিয়েছিলেন। ফরৌণ ও তাঁর কর্মকর্তাদের সামনে তিনি তাঁর ছড়িটি বাড়িয়ে দিলেন ও নীলনদের জলে আঘাত করলেন ও সব জল রক্তে পরিণত হল।
EXO 7:21 নীলনদে মাছ মারা গেল, এবং নদীতে এত দুর্গন্ধ ছড়াল যে মিশরীয়রা সেটির জলপান করতে পারল না। মিশরে সর্বত্র রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
EXO 7:22 কিন্তু মিশরের জাদুকররাও তাদের রহস্যময় শিল্পকলার দ্বারা একই কাজ করল, এবং ফরৌণের হৃদয় কঠিন হল; তিনি মোশি ও হারোণের কথা শোনেননি, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু বলেছিলেন।
EXO 7:23 পরিবর্তে, তিনি তাঁর প্রাসাদে ফিরে গেলেন, এবং এমনকি এতে কিছুই মনে করলেন না।
EXO 7:24 আর মিশরীয়রা সবাই পানীয় জল পাওয়ার জন্য নীলনদের পাশে কুয়ো খুঁড়েছিল, কারণ তারা নদীর জলপান করতে পারেনি।
EXO 7:25 সদাপ্রভু নীলনদের উপর আঘাত হানার পর সাত দিন কেটে গেল।
EXO 8:1 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণের কাছে যাও ও তাকে বলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা আমার আরাধনা করতে পারে।
EXO 8:2 যদি তুমি তাদের যেতে দিতে অসম্মত হও, তবে আমি তোমার সমগ্র দেশে ব্যাং দ্বারা এক আঘাত হানব।
EXO 8:3 নীলনদ ব্যাং-এ পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। সেগুলি তোমার প্রাসাদে ও শয়নকক্ষে, এবং তোমার বিছানাতে, এবং তোমার কর্মকর্তাদের বাড়িতে ও তোমার প্রজাদের উপর, এবং তোমাদের উনুনে ও কোঠাতেও উঠে আসবে।
EXO 8:4 ব্যাংগুলি তোমার গায়ে ও তোমার প্রজাদের এবং তোমার সব কর্মকর্তার গায়ে উঠে আসবে।’ ”
EXO 8:5 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণকে বলো, ‘ছড়িসহ তোমার হাত সব জলস্রোতের ও খালের এবং পুকুরের উপর বাড়িয়ে দাও, এবং মিশর দেশের উপর ব্যাঙদের নিয়ে এসো।’ ”
EXO 8:6 অতএব হারোণ মিশরের স্রোতোজলের উপর তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন, এবং ব্যাংগুলি উঠে এসে দেশটি ঢেকে দিল।
EXO 8:7 কিন্তু জাদুকররা তাদের রহস্যময় শিল্পকলার মাধ্যমে একই কাজ করল; তারাও মিশর দেশের উপর ব্যাঙদের নিয়ে এল।
EXO 8:8 ফরৌণ, মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “আমার ও আমার প্রজাদের কাছ থেকে ব্যাংগুলি দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করো, এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করার জন্য আমি তোমাদের লোকজনকে যেতে দেব।”
EXO 8:9 মোশি ফরৌণকে বললেন, “শুধু নীলনদে যেসব ব্যাং আছে, সেগুলি ছাড়া আপনি ও আপনাদের ঘরবাড়ি যেন ব্যাং-এর হাত থেকে নিষ্কৃতি পান সেজন্য আমি কখন আপনার জন্য ও আপনার কর্মকর্তাদের এবং আপনার প্রজাদের জন্য প্রার্থনা করব, সেই সময়টি ঠিক করার ভার আমি আপনার হাতেই তুলে দিচ্ছি।”
EXO 8:10 “আগামীকাল,” ফরৌণ বললেন। মোশি উত্তর দিলেন, “আপনার কথামতোই তা হোক, যেন আপনি জানতে পারেন যে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মতো আর কেউ নেই।
EXO 8:11 ব্যাংগুলি আপনার কাছ থেকে ও আপনার বাড়ি থেকে এবং আপনার কর্মকর্তাদের ও আপনার প্রজাদের বাড়ি থেকে চলে যাবে; সেগুলি শুধু নীলনদেই থাকবে।”
EXO 8:12 মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর, মোশি সেই ব্যাংগুলির সম্বন্ধে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, যেগুলি তিনি ফরৌণের উপর নিয়ে এসেছিলেন।
EXO 8:13 আর মোশি যা চেয়েছিলেন সদাপ্রভু তাই করলেন। বাড়িতে, প্রাঙ্গণে ও ক্ষেতজমিতে ব্যাংগুলি মারা গেল।
EXO 8:14 সেগুলি গাদায় গাদায় স্তূপাকার করা হল, এবং সেগুলির কারণে দেশে দুর্গন্ধ ছড়াল।
EXO 8:15 কিন্তু ফরৌণ যখন দেখলেন যে মুক্তি পাওয়া গিয়েছে, তখন তিনি তাঁর হৃদয় কঠিন করলেন এবং মোশি ও হারোণের কথা শুনতে চাইলেন না, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু বলেছিলেন।
EXO 8:16 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণকে বলো, ‘তোমার ছড়িটি বাড়িয়ে দাও এবং মাঠের ধুলোতে আঘাত করো,’ এবং মিশর দেশের সর্বত্র ধুলোবালি ডাঁশ-মশায় পরিণত হবে।”
EXO 8:17 তাঁরা তাই করলেন, এবং হারোণ যখন ছড়িসহ তাঁর হাতটি বাড়িয়ে দিয়ে মাঠের ধুলোতে আঘাত করলেন, তখন মানুষজনের ও পশুদের গায়ে ডাঁশ-মশা উঠে এল। মিশর দেশের সর্বত্র সব ধুলোবালি ডাঁশ-মশায় পরিণত হল।
EXO 8:18 কিন্তু জাদুকররা যখন তাদের রহস্যময় শিল্পকলার মাধ্যমে ডাঁশ-মশা উৎপন্ন করতে চাইল, তারা তা করতে পারল না। যেহেতু সর্বত্র মানুষের ও পশুদের উপর ডাঁশ-মশা ছেয়ে গেল,
EXO 8:19 তাই জাদুকররা ফরৌণকে বলল, “এ হল ঈশ্বরের আঙুল।” কিন্তু ফরৌণের হৃদয় কঠিন হল এবং তিনি শুনতে চাইলেন না, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু বলেছিলেন।
EXO 8:20 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “সকালে তাড়াতাড়ি উঠে যেয়ো এবং ফরৌণ যখন নদীর কাছে যাবে তখন তার সম্মুখীন হোয়ো ও তাকে বোলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা আমার আরাধনা করতে পারে।
EXO 8:21 যদি তুমি আমার প্রজাদের যেতে না দাও, তবে আমি তোমার উপর ও তোমার কর্মকর্তাদের, তোমার প্রজাদের উপর এবং তোমার বাড়ির মধ্যে মাছির ঝাঁক পাঠাব। মিশরীয়দের বাড়িগুলি মাছিতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে; এমনকি মাঠঘাটও সেগুলি দ্বারা ঢাকা পড়ে যাবে।
EXO 8:22 “ ‘কিন্তু সেদিন সেই গোশন প্রদেশের প্রতি আমি অন্যরকম আচরণ করব, যেখানে আমার প্রজারা বসবাস করে; সেখানে মাছির কোনও ঝাঁক থাকবে না, যেন তুমি জানতে পারো যে আমি, সদাপ্রভু এই দেশেই আছি।
EXO 8:23 আমি আমার প্রজাদের ও তোমার প্রজাদের মধ্যে এক পার্থক্য গড়ে তুলব। আগামীকাল এই চিহ্নটি ফুটে উঠবে।’ ”
EXO 8:24 আর সদাপ্রভু এরকমই করলেন। মাছির ঘন ঝাঁক ফরৌণের প্রাসাদে, ও তাঁর কর্মকর্তাদের বাড়িগুলিতে আছড়ে পড়ল; মিশরের সর্বত্র দেশ মাছি দ্বারা ছারখার হয়ে গেল।
EXO 8:25 তখন ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “যাও, দেশের মধ্যেই তোমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করো।”
EXO 8:26 কিন্তু মোশি বললেন, “এরকম করা ঠিক হবে না। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমরা যে বলি উৎসর্গ করি তা মিশরীয়দের কাছে ঘৃণ্য হবে। আর আমরা যদি সেই বলি উৎসর্গ করি যা তাদের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য, তবে তারা কি আমাদের উপর পাথর ছুঁড়বে না?
EXO 8:27 আমাদের অবশ্যই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করার জন্য তিনদিনের পথ পাড়ি দিয়ে মরুপ্রান্তরে যেতে হবে, যেমনটি তিনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন।”
EXO 8:28 ফরৌণ বললেন, “মরুপ্রান্তরে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করার জন্য আমি তোমাদের যেতে দেব, কিন্তু তোমরা খুব বেশি দূরে যাবে না। এখন আমার জন্য প্রার্থনা করো।”
EXO 8:29 মোশি উত্তর দিলেন, “আপনার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পরই আমি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করব, এবং আগামীকাল মাছিগুলি ফরৌণকে ও তাঁর কর্মকর্তাদের এবং তাঁর প্রজাদের ছেড়ে চলে যাবে। শুধু ফরৌণ যেন নিশ্চিতরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে লোকদের বলি দিতে যেতে না দিয়ে প্রতারণামূলক আচরণ না করেন।”
EXO 8:30 পরে মোশি ফরৌণের কাছ থেকে চলে গেলেন এবং সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন,
EXO 8:31 এবং মোশি যেমনটি চেয়েছিলেন সদাপ্রভু তাই করলেন। মাছির ঝাঁক ফরৌণকে ও তাঁর কর্মকর্তাদের এবং তাঁর প্রজাদের ছেড়ে গেল; একটিও মাছি অবশিষ্ট রইল না।
EXO 8:32 কিন্তু এবারও ফরৌণ তাঁর হৃদয় কঠিন করলেন এবং তিনি লোকদের যেতে দিলেন না।
EXO 9:1 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণের কাছে যাও এবং তাকে বলো, ‘হিব্রুদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: “আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা আমার আরাধনা করতে পারে।”
EXO 9:2 যদি তুমি তাদের যেতে দিতে অসম্মত হও এবং ক্রমাগত তাদের আটকে রাখো,
EXO 9:3 তবে সদাপ্রভুর হাত মাঠেঘাটে থাকা তোমাদের গৃহপালিত পশুপালের উপর—তোমাদের ঘোড়া, গাধা ও উটের এবং গবাদি পশুপালের, মেষ ও ছাগলদের উপর ভয়ংকর এক আঘাত নিয়ে আসবে।
EXO 9:4 কিন্তু সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের গৃহপালিত পশুপালের এবং মিশরীয়দের গৃহপালিত পশুপালের মধ্যে এক পার্থক্য গড়ে তুলবেন, যেন ইস্রায়েলীদের অধিকারভুক্ত কোনও পশু মারা না যায়।’ ”
EXO 9:5 সদাপ্রভু এক সময় নির্দিষ্ট করলেন ও বললেন, “আগামীকাল সদাপ্রভু দেশে এরকম করবেন।”
EXO 9:6 আর পরদিন সদাপ্রভু তা করলেন: মিশরীয়দের সব গৃহপালিত পশু মারা গেল, কিন্তু ইস্রায়েলীদের অধিকারভুক্ত একটি পশুও মারা গেল না।
EXO 9:7 ফরৌণ তদন্ত করলেন এবং জানতে পারলেন যে ইস্রায়েলীদের একটি পশুও মারা যায়নি। তবুও তাঁর হৃদয় অনমনীয়ই থেকে গেল এবং তিনি লোকদের যেতে দিলেন না।
EXO 9:8 পরে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, “একটি উনুন থেকে মুঠো ভর্তি করে ছাইভস্ম তুলে নাও এবং ফরৌণের সামনেই মোশি তা হাওয়ায় ছড়িয়ে দিক।
EXO 9:9 সমগ্র মিশর দেশে তা মিহি ধুলোয় পরিণত হবে, এবং দেশের সর্বত্র মানুষজনের ও পশুপালের গায়ে পুঁজ-ভরা ফোঁড়া ফুটে উঠবে।”
EXO 9:10 অতএব তাঁরা একটি উনুন থেকে ছাইভস্ম তুলে নিয়ে ফরৌণের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। মোশি হাওয়ায় তা ছড়িয়ে দিলেন, এবং মানুষজনের ও পশুপালের গায়ে পুঁজ-ভরা ফোঁড়া ফুটে উঠল।
EXO 9:11 জাদুকরদের ও সব মিশরীয়দের গায়ে যে ফোঁড়াগুলি ফুটে উঠল, সেগুলির কারণে জাদুকররা মোশির সামনে দাঁড়াতে পারল না।
EXO 9:12 কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দিলেন এবং তিনি মোশি ও হারোণের কথা শুনতে চাইলেন না, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন।
EXO 9:13 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে, ফরৌণের সম্মুখীন হয়ে তাকে বোলো, ‘হিব্রুদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা আমার আরাধনা করতে পারে,
EXO 9:14 তা না হলে এবার আমি তোমার বিরুদ্ধে ও তোমার কর্মকর্তাদের ও তোমার প্রজাদের বিরুদ্ধে আমার আঘাতগুলির পূর্ণ বল পাঠাব, যেন তুমি জানতে পারো যে সারা পৃথিবীতে আমার মতো আর কেউ নেই।
EXO 9:15 কারণ এখনই আমি আমার হাত বাড়িয়ে তোমাকে ও তোমার প্রজাদের এমন এক আঘাত দ্বারা আহত করতে পারি যা তোমাদের এই পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে পারে।
EXO 9:16 কিন্তু ঠিক এই উদ্দেশ্যেই আমি তোমাকে উন্নত করেছি, যেন আমি তোমাকে আমার ক্ষমতা দেখাতে পারি ও সমগ্র পৃথিবীতে আমার নাম প্রচারিত হয়।
EXO 9:17 তুমি এখনও আমার প্রজাদের বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছ এবং তাদের যেতে দিচ্ছ না।
EXO 9:18 তাই, আগামীকাল এইসময় আমি এমন ভারী শিলাবৃষ্টি পাঠাব যা মিশরের প্রতিষ্ঠা-দিবস থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কখনও মিশরের উপর পড়েনি।
EXO 9:19 তুমি এখন এক আদেশ জারি করো, যেন মাঠেঘাটে তোমার যত গৃহপালিত পশুপাল ও যা যা আছে, সেসব নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়, কারণ যেসব মানুষ ও পশুকে ভিতরে আনা হয়নি ও যারা এখনও মাঠেঘাটেই আছে, তাদের প্রত্যেকের উপর শিলাবৃষ্টি নেমে আসবে, ও তারা মারা পড়বে।’ ”
EXO 9:20 ফরৌণের যেসব কর্মকর্তা সদাপ্রভুর বাক্যে ভয় পেয়েছিলেন, তাঁরা তাড়াতাড়ি করে তাঁদের ক্রীতদাস-দাসীদের ও তাঁদের গৃহপালিত পশুপালকে ভিতরে নিয়ে এলেন।
EXO 9:21 কিন্তু যারা সদাপ্রভুর বাক্য উপেক্ষা করল, তারা তাদের ক্রীতদাস-দাসীদের ও গৃহপালিত পশুপাল মাঠেঘাটেই ছেড়ে দিল।
EXO 9:22 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করো যেন মিশরে সর্বত্র শিলাবৃষ্টি নেমে আসে—মানুষজনের ও পশুপালের এবং মিশরের মাঠেঘাটে যা যা উৎপন্ন হচ্ছে, সবকিছুর উপরে নেমে আসে।”
EXO 9:23 মোশি যখন তাঁর ছড়িটি আকাশের দিকে প্রসারিত করলেন, তখন সদাপ্রভু বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টি পাঠিয়ে দিলেন, এবং বজ্রবিদ্যুতের চমক মাটি স্পর্শ করল। অতএব সদাপ্রভু মিশর দেশের উপর শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলেন;
EXO 9:24 শিলাবৃষ্টিপাত হয়েছিল এবং এদিক-ওদিক বজ্রবিদ্যুৎ চমকাল। যখন থেকে মিশর এক দেশে পরিণত হয়েছিল, তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মিশর দেশে এরকম শিলাবৃষ্টি আর কখনও হয়নি।
EXO 9:25 মিশরে সর্বত্র শিলাবৃষ্টি মাঠের সবকিছুকে—মানুষজন ও পশুপাল, সবাইকেই আঘাত করল; মাঠেঘাটে যা যা উৎপন্ন হয় সেসবকিছু তা দুমড়ে-মুচড়ে দিল ও প্রত্যেকটি গাছ নেড়া করে ফেলল।
EXO 9:26 একমাত্র যেখানে শিলাবৃষ্টি পড়েনি তা হল সেই গোশন প্রদেশ, যেখানে ইস্রায়েলীরা বসবাস করত।
EXO 9:27 তখন ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠালেন। “এবার আমি পাপ করেছি,” তিনি তাঁদের বললেন। “সদাপ্রভু ন্যায়পরায়ণ, এবং আমি ও আমার প্রজারা অন্যায় করেছি।
EXO 9:28 সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করো, কারণ আমরা যথেষ্ট বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টি পেয়েছি। আমি তোমাদের যেতে দেব; তোমাদের আর এখানে থাকতে হবে না।”
EXO 9:29 মোশি উত্তর দিলেন, “আমি যখন নগরটি ছেড়ে যাব, তখন আমি আমার হাত দুটি প্রার্থনায় সদাপ্রভুর দিকে প্রসারিত করব। বজ্রপাত থেমে যাবে এবং শিলাবৃষ্টি আর হবে না, যেন আপনি জানতে পারেন যে এই পৃথিবী সদাপ্রভুরই।
EXO 9:30 কিন্তু আমি জানি যে আপনি ও আপনার কর্মকর্তারা এখনও সদাপ্রভু ঈশ্বরকে ভয় পাচ্ছেন না।”
EXO 9:31 (শণগাছ ও যব ধ্বংস হল, যেহেতু যবের শিষ ফুটেছিল ও শণগাছে ফুল ধরেছিল।
EXO 9:32 গম ও বাজরা অবশ্য ধ্বংস হয়নি, কারণ সেগুলি পরে পাকে।)
EXO 9:33 পরে মোশি ফরৌণকে ছেড়ে নগর থেকে বাইরে চলে গেলেন। তিনি সদাপ্রভুর দিকে তাঁর হাত দুটি প্রসারিত করলেন; বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে গেল, এবং বৃষ্টিও আর জমিতে নেমে এল না।
EXO 9:34 ফরৌণ যখন দেখলেন যে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ পড়া বন্ধ হয়েছে, তখন আবার তিনি পাপ করলেন: তিনি ও তাঁর কর্মকর্তারা তাঁদের হৃদয় কঠিন করলেন।
EXO 9:35 অতএব ফরৌণের হৃদয় কঠিন হল এবং তিনি ইস্রায়েলীদের যেতে দিলেন না, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে বলেছিলেন।
EXO 10:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণের কাছে যাও, কারণ আমি তার হৃদয় ও তার কর্মচারীদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি যেন তাদের মাঝখানে আমি আমার এই চিহ্নকাজগুলি সম্পন্ন করতে পারি
EXO 10:2 ও যেন তুমি তোমার সন্তানদের ও নাতি-নাতনিদের বলতে পারো কীভাবে আমি মিশরীয়দের সঙ্গে রূঢ়ভাবে আচরণ করেছি এবং কীভাবে আমি তাদের মাঝখানে আমার চিহ্নকাজগুলি সম্পন্ন করেছি, এবং তোমরা যেন জানতে পারো যে আমিই সদাপ্রভু।”
EXO 10:3 অতএব মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছে গেলেন এবং তাঁকে বললেন, “হিব্রুদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘আর কত কাল তুমি আমার সামনে নিজেকে নত করতে অসম্মত হবে? আমার প্রজাদের যেতে দাও, যেন তারা আমার আরাধনা করতে পারে।
EXO 10:4 যদি তুমি তাদের যেতে না দাও, তবে আগামীকাল আমি তোমার দেশে পঙ্গপাল নিয়ে আসব।
EXO 10:5 সেগুলি মাঠঘাট এমনভাবে ঢেকে ফেলবে যেন তা দেখা না যায়। শিলাবৃষ্টির পর তোমাদের অল্পসল্প যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেগুলি ও তার পাশাপাশি তোমাদের মাঠেঘাটে যত গাছপালা বেড়ে উঠছে, সেসব সেগুলি গ্রাস করবে।
EXO 10:6 সেগুলি তোমার বাড়িঘর ও তোমার কর্মকর্তাদের এবং সমস্ত মিশরীয়ের বাড়িঘর ভরিয়ে তুলবে—তা এমন এক ঘটনা হবে যা তোমার বাবা-মায়েরা বা তোমার পূর্বপুরুষরাও এদেশে তাদের বসতি স্থাপন করা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কখনও দেখেনি।’ ” পরে মোশি ঘুরে দাঁড়ালেন ও ফরৌণকে ছেড়ে চলে গেলেন।
EXO 10:7 ফরৌণের কর্মকর্তারা তাঁকে বললেন, “আর কত দিন এই লোকটি আমাদের পক্ষে এক ফাঁদ হয়ে থাকবে? লোকদের যেতে দিন, যেন তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা করতে পারে। আপনি কি এখনও বুঝতে পারছেন না যে মিশর ছারখার হয়ে গিয়েছে?”
EXO 10:8 তখন মোশি ও হারোণকে ফরৌণের কাছে ফিরিয়ে আনা হল। “যাও, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা করো,” তিনি বললেন। “কিন্তু আমায় বলো, কে কে যাবে।”
EXO 10:9 মোশি উত্তর দিলেন, “আমরা আমাদের শিশু ও বৃদ্ধদের, আমাদের ছেলেমেয়েদের, এবং আমাদের মেষপাল ও পশুপাল সঙ্গে নিয়ে যাব, কারণ সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমাদের এক উৎসব পালন করতে হবে।”
EXO 10:10 ফরৌণ বললেন, “সদাপ্রভু তোমাদের সহবর্তী হোন—আমি যদি মহিলা ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে তোমাদের যেতে দিই! এতে তোমাদের অশুভ উদ্দেশ্য প্রকাশিত হচ্ছে।
EXO 10:11 না! শুধুমাত্র পুরুষরাই যাক এবং সদাপ্রভুর আরাধনা করুক, যেহেতু তোমরা তো তাই চেয়েছিলে।” পরে মোশি ও হারোণকে ফরৌণের কাছ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল।
EXO 10:12 আর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “মিশরের উপর তোমার হাত প্রসারিত করো যেন পঙ্গপালেরা দেশের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে ও শিলাবৃষ্টির পর যা কিছু অবশিষ্ট থেকে গিয়েছে, মাঠঘাটে বেড়ে ওঠা সেসবকিছু সেগুলি গ্রাস করে নেয়।”
EXO 10:13 অতএব মোশি মিশর দেশের উপর তাঁর ছড়িটি বাড়িয়ে দিলেন, আর সদাপ্রভু সারাদিন ও সারারাত দেশে পূর্বীয় বাতাস বইতে দিলেন। সকাল হতে না হতেই সেই বাতাস ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল নিয়ে এল;
EXO 10:14 সেগুলি সমগ্র মিশর দেশে হানা দিল এবং বিপুল সংখ্যায় দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে থিতুও হল। আগে কখনও পঙ্গপালের এরকম আঘাত সহ্য করতে হয়নি, আর কখনও তা করতেও হবে না।
EXO 10:15 অন্ধকার হওয়ার আগেই সেগুলি সমস্ত মাঠঘাট ঢেকে ফেলল। শিলাবৃষ্টির পর যা কিছু অবশিষ্ট থেকে গিয়েছিল—মাঠেঘাটে বেড়ে ওঠা সবকিছু এবং গাছের ফলমূল সেগুলি গ্রাস করে ফেলল। মিশর দেশের সর্বত্র গাছপালায় বা লতাপাতায় কোনও সবুজ অংশ অবশিষ্ট রইল না।
EXO 10:16 ফরৌণ তাড়াতাড়ি মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ও তোমাদের বিরুদ্ধেও পাপ করেছি।
EXO 10:17 এখন আর একবার আমার পাপ ক্ষমা করে দাও, এবং এই মৃত্যুজনক আঘাত আমার কাছ থেকে দূর করার জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করো।”
EXO 10:18 মোশি পরে ফরৌণকে ছেড়ে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে গেলেন।
EXO 10:19 আর সদাপ্রভু সেই বাতাসকে প্রচণ্ড এক পশ্চিমী বাতাসে পরিবর্তিত করে দিলেন, যা পঙ্গপালগুলিকে ধরে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে লোহিত সাগরে ফেলে দিল। মিশরে কোথাও আর একটিও পঙ্গপাল অবশিষ্ট রইল না।
EXO 10:20 কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দিলেন, এবং তিনি ইস্রায়েলীদের যেতে দিলেন না।
EXO 10:21 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আকাশের দিকে তোমার হাত প্রসারিত করো যেন মিশরের উপর অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ে—তা এমন অন্ধকার যা অনুভব করা যায়।”
EXO 10:22 অতএব মোশি আকাশের দিকে তাঁর হাত প্রসারিত করলেন, এবং সমগ্র মিশর দেশ তিনদিনের জন্য অন্ধকারে ঢেকে গেল।
EXO 10:23 তিন দিন ধরে কেউ কাউকে দেখতে পায়নি বা চলাফেরাও করতে পারেনি। অথচ ইস্রায়েলীরা যেখানে বসবাস করত সেখানে তাদের কাছে আলো ছিল।
EXO 10:24 তখন ফরৌণ মোশিকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “যাও, সদাপ্রভুর আরাধনা করো। এমনকি তোমাদের মহিলারা এবং সন্তানেরাও তোমাদের সঙ্গে যেতে পারে; শুধু তোমাদের মেষপাল ও পশুপাল এখানে রেখে যাও।”
EXO 10:25 কিন্তু মোশি বললেন, “আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার বলি এবং হোমবলি উৎসর্গ করার জন্য আপনাকে আমাদের অনুমতি দিতে হবে।
EXO 10:26 আমাদের গৃহপালিত পশুপালও আমাদের সঙ্গে অবশ্যই যাবে; একটি খুরও এখানে পড়ে থাকবে না। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনায় সেগুলির মধ্যে কয়েকটিকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে, আর যতক্ষণ না আমরা সেখানে পৌঁছাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা জানতে পারব না যে সদাপ্রভুর আরাধনার জন্য আমাদের কী কী ব্যবহার করতে হবে।”
EXO 10:27 কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দিলেন, এবং তিনি তাঁদের যেতে দিতে চাইলেন না।
EXO 10:28 ফরৌণ মোশিকে বললেন, “আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যাও! নিশ্চিত করে নাও যে আমার সামনে তুমি আর কখনও দর্শন দেবে না! যেদিন আমার মুখদর্শন করবে সেদিনই তুমি মারা যাবে!”
EXO 10:29 “আপনি ঠিকই বলেছেন,” মোশি উত্তর দিলেন, “আমি আর কখনোই আপনার সামনে দর্শন দেব না।”
EXO 11:1 এদিকে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আমি ফরৌণের ও মিশরের উপর আরও একটি আঘাত নিয়ে আসব। পরে, সে তোমাদের এখান থেকে যেতে দেবে, এবং যখন সে তা করবে, তখন সম্পূর্ণরূপে সে তোমাদের তাড়িয়ে দেবে।
EXO 11:2 লোকদের বলো, স্ত্রী-পুরুষ সবাই যেন তাদের প্রতিবেশীদের কাছে রুপো ও সোনার তৈরি জিনিসপত্র চেয়ে নেয়।”
EXO 11:3 (সদাপ্রভু লোকজনের প্রতি মিশরীয়দের অনুগ্রহকারী করে তুলেছিলেন, এবং স্বয়ং মোশি মিশরে ফরৌণের কর্মকর্তাদের ও তাঁর প্রজাদের দৃষ্টিতে খুব শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছিলেন।)
EXO 11:4 অতএব মোশি বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘মাঝরাত নাগাদ আমি মিশরের মধ্যে দিয়ে যাব।
EXO 11:5 মিশরের প্রত্যেক প্রথমজাত পুত্রসন্তান মারা যাবে, যে সিংহাসনে বসতে চলেছে, ফরৌণের সেই প্রথমজাত ছেলেটি থেকে শুরু করে, ক্রীতদাসীর যাঁতার কাছে বসে থাকা তার প্রথমজাত ছেলে, এবং গবাদি পশুপালের প্রথমজাত সব শাবকও মারা যাবে।
EXO 11:6 মিশরের সর্বত্র প্রবল হাহাকার উঠবে—এত প্রবল হাহাকার আগে কখনও শোনা যায়নি বা আর কখনও শোনাও যাবে না।
EXO 11:7 কিন্তু ইস্রায়েলীদের মধ্যে কোনও মানুষের বা পশুর বিরুদ্ধে একটি কুকুরও ঘেউ ঘেউ করবে না।’ তখন আপনি জানতে পারবেন যে সদাপ্রভু মিশরের ও ইস্রায়েলীদের মধ্যে এক পার্থক্য রচনা করেছেন।
EXO 11:8 আপনার এইসব কর্মকর্তা আমার কাছে আসবে, আমার সামনে মাথা নত করবে ও বলবে, ‘যাও, তুমি ও তোমার অনুগামী সব লোকজন চলে যাও!’ পরে আমি চলে যাব।” এরপর মোশি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে, ফরৌণকে ছেড়ে চলে গেলেন।
EXO 11:9 সদাপ্রভু মোশিকে বলে দিয়েছিলেন, “ফরৌণ তোমার কথা শুনতে চাইবে না—যেন মিশরে আমার অলৌকিক কাজের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।”
EXO 11:10 মোশি ও হারোণ ফরৌণের সামনে এইসব অলৌকিক কাজ সম্পন্ন করলেন, কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দিলেন, এবং তিনি তাঁর দেশ থেকে ইস্রায়েলীদের চলে যেতে দিলেন না।
EXO 12:1 মিশরে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
EXO 12:2 “এই মাসটি তোমাদের জন্য প্রথম মাস, তোমাদের বছরের প্রথম মাস হবে।
EXO 12:3 ইস্রায়েলের সমগ্র জনসাধারণকে বলো যে এই মাসের দশম দিনে প্রত্যেকটি লোককে তার পরিবারের জন্য একটি করে মেষশাবক নিতে হবে, এক-একটি পরিবারের জন্য এক-একটি মেষশাবক।
EXO 12:4 যদি কোনও পরিবার সম্পূর্ণ একটি মেষশাবক নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব ছোটো হয়ে যায়, তবে তারা তাদের নিকটতম প্রতিবেশীদের সঙ্গে সেখানকার জনসংখ্যার আধারে অবশ্যই যেন সেটি ভাগাভাগি করে নেয়। প্রত্যেকে যতখানি করে খাবে সেই অনুসারে মেষশাবকের পরিমাণ তোমরা নির্দিষ্ট করে দিয়ো।
EXO 12:5 যে পশুগুলি তোমরা বাছাই করে রাখবে সেগুলি অবশ্যই যেন খুঁতবিহীন এক বছর বয়স্ক মদ্দা হয়, এবং তোমরা সেগুলি মেষ বা ছাগপাল থেকে নিতে পারো।
EXO 12:6 মাসের সেই চতুর্দশতম দিন পর্যন্ত সেগুলির যত্ন নিয়ো, যেদিন ইস্রায়েলী জনসাধারণের অন্তর্গত সব সদস্য অবশ্যই গোধূলি লগ্নে সেগুলি বধ করবে।
EXO 12:7 পরে খানিকটা রক্ত নিয়ে তা তাদের সেই বাড়ির দরজার চৌকাঠের দুই পাশে ও উপর দিকে লাগিয়ে দিতে হবে, যেখানে তারা সেই মেষশাবকগুলি খাবে।
EXO 12:8 সেরাতেই আগুনে ঝলসে সেই মাংস তাদের তেতো শাক ও খামিরবিহীন রুটির সাথে খেতে হবে।
EXO 12:9 সেই মাংস কাঁচা বা জলে সিদ্ধ করে খেয়ো না, কিন্তু তা আগুনে ঝলসে নিও—মাথা, পা ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সমেত।
EXO 12:10 সকাল পর্যন্ত সেটির কোনো কিছুই অবশিষ্ট রেখো না; যদি কোনো কিছু সকাল পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যায়, তা তোমাদের পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
EXO 12:11 এইভাবেই তোমাদের তা খেতে হবে: তোমরা আলখাল্লা কোমরবন্ধে গুঁজে নেবে, পায়ে চটিজুতো পরে থাকবে এবং হাতে ছড়ি ধরে রাখবে। তাড়াতাড়ি করে তা খাবে; এ হল সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব।
EXO 12:12 “সেরাতেই আমি মিশরের মধ্যে দিয়ে যাব এবং মানুষ ও পশু উভয়ের প্রত্যেক প্রথমজাতকে আঘাত করব, এবং মিশরের সব দেবতাকে আমি দণ্ড দেব। আমিই সদাপ্রভু।
EXO 12:13 তোমরা যেখানে আছ, সেই ঘরগুলির উপর সেই রক্তই তোমাদের জন্য চিহ্ন হবে, এবং আমি যখন সেই রক্ত দেখব, তখন আমি তোমাদের অতিক্রম করে যাব। আমি যখন মিশরকে আঘাত করব, তখন কোনও ধ্বংসাত্মক আঘাত তোমাদের স্পর্শ করবে না।
EXO 12:14 “এ এমন একদিন যা তোমাদের স্মরণার্থক দিনরূপে পালন করতে হবে; আগামী বংশপরম্পরায় তোমরা এটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে পালনীয় এক উৎসবরূপে পালন করবে—যা হবে এক দীর্ঘস্থায়ী বিধি।
EXO 12:15 সাত দিন ধরে তোমাদের খামিরবিহীন রুটি খেতে হবে। প্রথম দিনই তোমাদের বাড়িঘর থেকে খামির বিদায় করে দেবে, কারণ যে কেউ প্রথম দিন থেকে শুরু করে সপ্তম দিন পর্যন্ত খামিরযুক্ত কোনো কিছু খাবে, তাকে ইস্রায়েল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
EXO 12:16 প্রথম দিনে পবিত্র সমাবেশ রাখবে এবং সপ্তম দিনও আরও একটি কোরো। শুধুমাত্র সবার জন্য খাবার রান্না করা ছাড়া এই দিনগুলিতে তোমরা আর কোনও কাজকর্ম কোরো না; শুধু এটুকুই করতে পারো।
EXO 12:17 “খামিরবিহীন রুটির উৎসব পালন কোরো, কারণ ঠিক এই দিনেই আমি তোমাদের বাহিনীকে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম। আগামী বংশপরম্পরায় এক দীর্ঘস্থায়ী বিধিরূপে এই দিনটি পালন কোরো।
EXO 12:18 প্রথম মাসে তোমাদের খামিরবিহীন রুটি খেতে হবে, চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলা থেকে একুশতম দিনের সন্ধ্যাবেলা পর্যন্ত।
EXO 12:19 সাত দিন যেন তোমাদের বাড়িঘরে কোনও খামির পাওয়া না যায়। আর বিদেশি হোক বা দেশজাত, যে কেউ এইসময় খামিরযুক্ত কোনো কিছু খাবে, তাকে ইস্রায়েলের জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
EXO 12:20 খামির দিয়ে তৈরি কোনো কিছুই খেয়ো না। তোমরা যেখানেই বসবাস করো না কেন, তোমরা অবশ্যই খামিরবিহীন রুটি খাবে।”
EXO 12:21 তখন মোশি ইস্রায়েলের সব প্রাচীনকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁদের বললেন, “এক্ষুনি যাও ও তোমাদের পরিবারগুলির জন্য পশুগুলি মনোনীত করো এবং নিস্তারপর্বীয় মেষশাবক জবাই করো।
EXO 12:22 একগুচ্ছ এসোব নাও, গামলায় রাখা রক্তে সেটি চুবিয়ে নাও এবং সেই রক্তের কিছুটা দরজার চৌকাঠের উপর দিকে ও দুই পাশে লাগিয়ে দাও। সকাল না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ দরজা দিয়ে বাইরে যাবে না।
EXO 12:23 সদাপ্রভু যখন মিশরীয়দের আঘাত করার জন্য দেশের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাবেন, তিনি দরজার চৌকাঠের উপর দিকে ও দুই পাশে রক্ত দেখবেন এবং দরজার সেই চৌকাঠ পার করে যাবেন, ও তিনি বিনাশকারীকে তোমাদের ঘরে ঢুকে তোমাদের আঘাত করার অনুমতি দেবেন না।
EXO 12:24 “তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের বংশধরদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী এক বিধিরূপে তোমরা এই নির্দেশাবলির বাধ্য হোয়ো।
EXO 12:25 যে দেশটি সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারে তোমাদের দেবেন, তোমরা যখন সেখানে প্রবেশ করবে, তখন সেখানেও এই অনুষ্ঠানটি তোমরা পালন কোরো।
EXO 12:26 আর তোমাদের সন্তানেরা যখন তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের কাছে এই অনুষ্ঠানটির অর্থ কী?’
EXO 12:27 তখন তাদের বোলো, ‘এটি সেই সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত নিস্তারপর্বীয় বলি, যিনি মিশরে ইস্রায়েলীদের বাড়িঘর অতিক্রম করে গিয়েছিলেন এবং যখন তিনি মিশরীয়দের আঘাত করেছিলেন, তখন আমাদের ঘরগুলি বাদ দিয়েছিলেন।’ ” তখন লোকেরা মাথা নত করে আরাধনা করল।
EXO 12:28 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে যে আদেশ দিয়েছিলেন ইস্রায়েলীরা ঠিক তাই করল।
EXO 12:29 মাঝরাতে সদাপ্রভু মিশরে সব প্রথমজাতকে, সিংহাসনে উপবিষ্ট ফরৌণের প্রথমজাত সন্তান থেকে শুরু করে অন্ধকূপে থাকা বন্দির প্রথমজাত সন্তান, এবং সব গৃহপালিত পশুর প্রথমজাত শাবক পর্যন্ত সবাইকে আঘাত করলেন।
EXO 12:30 রাতের বেলায় ফরৌণ এবং তাঁর কর্মকর্তারা ও মিশরীয়রা সবাই জেগে গেল, আর মিশরে প্রবল হাহাকার শুরু হয়ে গেল, কারণ এমন কোনও বাড়ি ছিল না যেখানে কেউ মারা যায়নি।
EXO 12:31 রাতেই ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠালেন ও বললেন, “ওঠো! তোমরা ও ইস্রায়েলীরা আমার প্রজাদের ছেড়ে চলে যাও! যাও, তোমরা যেমন অনুরোধ জানিয়েছিলে, সেই অনুসারে গিয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা করো।
EXO 12:32 তোমরা যেমন বলেছিলে, সেভাবেই তোমাদের মেষপাল ও পশুপাল নিয়ে চলে যাও। আর আমাকে আশীর্বাদও করো।”
EXO 12:33 মিশরীয়রা লোকদের অনুরোধ জানাল যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। “কারণ তা না হলে,” তারা বলল, “আমরা সবাই মারা যাব!”
EXO 12:34 অতএব লোকেরা খামির মেশানোর আগেই তাদের আটার তালগুলি তুলে নিল, এবং কাপড়ে মুড়ে সেগুলি কেঠোয় রেখে কাঁধে তুলে নিল।
EXO 12:35 ইস্রায়েলীরা মোশির নির্দেশানুসারেই সবকিছু করল এবং তারা মিশরীয়দের কাছে রুপো ও সোনার তৈরি জিনিসপত্র এবং পোশাক-পরিচ্ছদ চেয়ে নিল।
EXO 12:36 সদাপ্রভু লোকদের প্রতি মিশরীয়দের অনুগ্রহকারী করে দিয়েছিলেন, এবং ইস্রায়েলীরা তাদের কাছে যা যা চেয়েছিল, তারা সেসবকিছু তাদের দিয়েছিল; অতএব তারা মিশরীয়দের জিনিসপত্র অপহরণ করল।
EXO 12:37 ইস্রায়েলীরা রামিষেষ থেকে সুক্কোতের উদ্দেশে যাত্রা করল। মহিলা ও শিশুদের বাদ দিয়ে, সেখানে প্রায় 6 লক্ষ পদাতিক পুরুষ ছিল।
EXO 12:38 অন্যান্য আরও অনেক লোকজন তাদের সঙ্গে গেল, এবং এছাড়াও গৃহপালিত পশুপালের বিশাল এক দলও গেল, তাতে মেষ ও গবাদি পশুপালও ছিল।
EXO 12:39 যে আটার তাল ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে এনেছিল, তা দিয়ে তারা খামিরবিহীন রুটি সেঁকে নিল। আটার সেই তাল খামিরবিহীন ছিল কারণ তাদের মিশর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ও তারা নিজেদের জন্য খাবার তৈরি করার সময় পায়নি।
EXO 12:40 ইস্রায়েলী জনগণ মিশরে 430 বছর ধরে বসবাস করল।
EXO 12:41 সেই 430 বছরের শেষে, সেদিনই, সদাপ্রভুর সব বাহিনী মিশর ছেড়ে এল।
EXO 12:42 যেহেতু সেরাতে তাদের মিশর থেকে বের করে আনার জন্য সদাপ্রভু সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন, তাই আগামী বংশপরম্পরায় সদাপ্রভুকে সম্মান জানানোর জন্য এরাতে ইস্রায়েলীদের সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
EXO 12:43 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, “এগুলিই হল নিস্তারপর্বীয় খাদ্যের নিয়মকানুন: “কোনো বিদেশি লোক এটি খেতে পারবে না।
EXO 12:44 যাকে তোমরা কিনে নেওয়ার পর সুন্নত করিয়েছ, সেরকম এক ক্রীতদাস এটি খেতে পারে,
EXO 12:45 কিন্তু অস্থায়ী এক বাসিন্দা বা এক ঠিকা শ্রমিক এটি খেতে পারবে না।
EXO 12:46 “বাড়ির ভিতরেই এটি খেতে হবে; সেই মাংসের কিছুই বাড়ির বাইরে নিয়ে যেয়ো না। কোনও অস্থি ভেঙো না।
EXO 12:47 ইস্রায়েলীদের সমগ্র জনসমাজকে এটি পালন করতে হবে।
EXO 12:48 “তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো বিদেশি লোক যদি সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব পালন করতে চায়, তবে তাকে পরিবারের সব পুরুষ সদস্যকে সুন্নত করাতে হবে; পরেই সে দেশজাত একজনের মতো এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সুন্নত না করানো কোনো পুরুষ এটি খেতে পারবে না।
EXO 12:49 যারা দেশজাত ও যেসব বিদেশি তোমাদের মধ্যে বসবাস করছে, তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই একই নিয়মকানুন প্রযোজ্য হবে।”
EXO 12:50 ইস্রায়েলীরা সবাই ঠিক তাই করল, যা করার আদেশ সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে দিয়েছিলেন।
EXO 12:51 আর ঠিক সেদিনই সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের বাহিনী অনুসারে তাদের মিশর থেকে বের করে আনলেন।
EXO 13:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 13:2 “প্রত্যেকটি প্রথমজাত পুরুষকে আমার উদ্দেশে পবিত্র করো। মানুষ হোক কি পশু, ইস্রায়েলীদের মধ্যে প্রত্যেকটি গর্ভের প্রথম সন্তানটি আমার।”
EXO 13:3 তখন মোশি লোকদের বললেন, “যেদিন তোমরা মিশর থেকে, ক্রীতদাসত্বের দেশ থেকে বের হয়ে এসেছিলে, সেদিনটির স্মরণার্থে এদিন উৎসব পালন করো, কারণ সদাপ্রভু শক্তিশালী হাত দিয়ে তোমাদের সেখান থেকে বের করে এনেছেন। খামিরযুক্ত কোনো কিছু খেয়ো না।
EXO 13:4 আজ, আবীব মাসে, তোমরা বের হয়ে যাচ্ছ।
EXO 13:5 সদাপ্রভু যখন তোমাকে কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, হিব্বীয়, ও যিবূষীয়দের দেশে—যে দেশটি তিনি তোমাকে দেওয়ার বিষয়ে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, দুধ ও মধু প্রবাহিত সেই দেশে—নিয়ে আসবেন, তখন এই মাসে তোমাকে এই পর্বটি পালন করতে হবে:
EXO 13:6 সাত দিন ধরে তুমি খামিরবিহীন রুটি খেয়ো এবং সপ্তম দিনে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি উৎসবের আয়োজন কোরো।
EXO 13:7 সেই সাত দিন যাবৎ তুমি খামিরবিহীন রুটি খেয়ো; খামিরযুক্ত কোনো কিছু যেন তোমার কাছে দেখা না যায়, বা তোমার সীমানার মধ্যেও যেন কোথাও কোনও খামির দেখা না যায়।
EXO 13:8 সেদিন তুমি তোমার সন্তানকে বোলো, ‘আমি যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিলাম তখন সদাপ্রভু আমার জন্য যা করেছিলেন, সেজন্যই আমি এরকম করছি।’
EXO 13:9 এই অনুষ্ঠানটি তোমার জন্য তোমার হাতে এক চিহ্নের মতো ও তোমার কপালে এক স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে যেন সদাপ্রভুর এই বিধান তোমার ঠোঁটেই থাকে। কারণ সদাপ্রভু তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে তোমাকে মিশর থেকে বের করে এনেছেন।
EXO 13:10 বছরের পর বছর ধরে নিরূপিত সময়ে তোমাকে এই বিধিটি পালন করতে হবে।
EXO 13:11 “সদাপ্রভু তোমাকে কনানীয়দের দেশে নিয়ে আসার পর ও সেটি তোমাকে দেওয়ার পর, যেভাবে তিনি তোমার কাছে ও তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন,
EXO 13:12 তোমার প্রত্যেকটি গর্ভের প্রথম সন্তান সদাপ্রভুর হাতে তুলে দিতে হবে। তোমার গৃহপালিত পশুপালের সব প্রথমজাত মদ্দা সদাপ্রভুর।
EXO 13:13 প্রত্যেকটি প্রথমজাত গাধাকে এক-একটি মেষশাবক দিয়ে মুক্ত কোরো, কিন্তু যদি সেটি মুক্ত না করো, তবে সেটির ঘাড় ভেঙে দিয়ো। তোমার ছেলেদের মধ্যে প্রত্যেক প্রথমজাতকে মুক্ত কোরো।
EXO 13:14 “ভবিষ্যতে, তোমার সন্তানেরা যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘এর অর্থ কী?’ তখন তুমি তাকে বোলো, ‘শক্তিশালী হাত দিয়ে সদাপ্রভু আমাদের মিশর থেকে, ক্রীতদাসত্বের সেই দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
EXO 13:15 ফরৌণ যখন একগুঁয়েমি দেখিয়ে আমাদের যেতে দিতে অস্বীকার করলেন, সদাপ্রভু তখন মিশরে মানুষ ও পশু, উভয়ের প্রথমজাতদের হত্যা করলেন। এজন্যই আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রত্যেকটি গর্ভের প্রথম পুং-সন্তানকে বলিরূপে উৎসর্গ করছি এবং আমার প্রথমজাত ছেলেদের মধ্যে এক একজনকে মুক্ত করছি।’
EXO 13:16 আর এটি তোমার হাতে এই এক চিহ্নের ও তোমার কপালে এই এক প্রতীকের মতো হবে যে সদাপ্রভু তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছেন।”
EXO 13:17 ফরৌণ যখন লোকদের যেতে দিলেন, ঈশ্বর তখন তাদের ফিলিস্তিনীদের দেশের মধ্যে দিয়ে স্থলপথে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাননি, যদিও সেটিই সংক্ষিপ্ত পথ। কারণ ঈশ্বর বললেন, “যদি তারা যুদ্ধের সম্মুখীন হয়, তবে তারা হয়তো তাদের মন পরিবর্তন করে ফেলবে এবং মিশরে ফিরে যাবে।”
EXO 13:18 অতএব ঈশ্বর ঘুরপথে লোকদের মরুভূমির পথ দিয়ে লোহিত সাগরের দিকে নিয়ে গেলেন। ইস্রায়েলীরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েই মিশর থেকে বের হয়ে গেল।
EXO 13:19 মোশি যোষেফের অস্থিও সাথে নিলেন কারণ যোষেফ ইস্রায়েলীদের দিয়ে এক প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলে দিয়েছিলেন, “ঈশ্বর নিঃসন্দেহে তোমাদের সাহায্য করতে আসবেন, এবং তখন তোমাদের অবশ্যই নিজেদের সাথে আমার অস্থি এখান থেকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
EXO 13:20 সুক্কোৎ ছেড়ে আসার পর তারা মরুভূমির এক প্রান্তে অবস্থিত এথমে শিবির স্থাপন করল।
EXO 13:21 সদাপ্রভু দিনের বেলায় এক মেঘস্তম্ভের মধ্যে থেকে তাদের পথ দেখানোর জন্য এবং রাতের বেলায় এক অগ্নিস্তম্ভের মধ্যে থেকে তাদের আলো দেওয়ার জন্য তাদের অগ্রগামী হলেন, যেন দিনরাত তারা যাত্রা করতে পারে।
EXO 13:22 দিনের বেলায় মেঘস্তম্ভ বা রাতের বেলায় অগ্নিস্তম্ভ, কোনোটিই লোকদের সামনে থেকে সরে যায়নি।
EXO 14:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 14:2 “ইস্রায়েলীদের বলো, তারা যেন পিছনে ফিরে মিগ্‌দোলের ও সমুদ্রের মাঝামাঝিতে অবস্থিত পী-হহীরোতের কাছে শিবির স্থাপন করে। তাদের সরাসরি বায়াল-সফোনের বিপরীত দিকে, সমুদ্রের ধারে শিবির স্থাপন করতে হবে।
EXO 14:3 ফরৌণ ভাববে, ‘ইস্রায়েলীরা মরুভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, ধন্দে পড়ে দেশে ইতস্তত বিচরণ করে বেড়াচ্ছে।’
EXO 14:4 আর আমি ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দেব, এবং সে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করবে। কিন্তু আমি ফরৌণ ও তার সমগ্র সৈন্যদলের মাধ্যমে স্বয়ং গৌরব লাভ করব, এবং মিশরীয়রা জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু।” অতএব ইস্রায়েলীরা এরকমই করল।
EXO 14:5 মিশররাজকে যখন বলা হল যে লোকেরা পালিয়েছে, তখন ফরৌণ ও তাঁর কর্মকর্তারা তাদের বিষয়ে নিজেদের মন পরিবর্তন করে বললেন, “আমরা এ কী করলাম? আমরা ইস্রায়েলীদের যেতে দিলাম ও তাদের পরিষেবা হারালাম!”
EXO 14:6 অতএব তিনি তাঁর রথ প্রস্তুত করলেন ও তাঁর সৈন্যদল সঙ্গে নিলেন।
EXO 14:7 সেরা রথগুলির মধ্যে থেকে তিনি 600-টি রথ নিলেন, এছাড়াও মিশরের অন্য সব রথ ও সেসবের উপর নিযুক্ত কর্মকর্তাদেরও সঙ্গে নিলেন।
EXO 14:8 সদাপ্রভু মিশরের রাজা ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দিলেন, যেন তিনি সেই ইস্রায়েলীদের পশ্চাদ্ধাবন করেন, যারা নির্ভীকভাবে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে যাচ্ছিল।
EXO 14:9 মিশরীয়রা—ফরৌণের সব ঘোড়া ও রথ, ঘোড়সওয়ার ও সেনা—ইস্রায়েলীদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং তারা যখন বায়াল-সফোনের বিপরীত দিকে, পী-হহীরোতের কাছে সমুদ্রের ধারে শিবির স্থাপন করে বসেছিল, তখন তাদের নাগাল পেল।
EXO 14:10 ফরৌণ যেই না তাদের কাছে এগিয়ে এলেন, ইস্রায়েলীরা চোখ তুলে তাকাল, আর মিশরীয়রা তাদের পিছনে ধেয়ে আসছিল। তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং সদাপ্রভুর কাছে কাঁদতে শুরু করল।
EXO 14:11 তারা মোশিকে বলল, “মিশরে কি কোনও কবরস্থান ছিল না যে তুমি মরার জন্য আমাদের এই মরুভূমিতে নিয়ে এসেছ? মিশর থেকে আমাদের বের করে এনে তুমি আমাদের প্রতি এ কী করলে?
EXO 14:12 মিশরেই কি আমরা তোমাকে বলিনি, ‘আমাদের একা ছেড়ে দাও; মিশরীয়দের সেবা করতে দাও’? মরুভূমিতে মরার চেয়ে মিশরীয়দের সেবা করাই আমাদের পক্ষে ভালো ছিল।”
EXO 14:13 মোশি লোকদের উত্তর দিলেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না! শক্ত হয়ে দাঁড়াও এবং তোমরা দেখতে পাবে আজ সদাপ্রভু কীভাবে তোমাদের রক্ষা করবেন। আজ তোমরা যে মিশরীয়দের দেখছ, তাদের আর কখনও দেখতে পাবে না।
EXO 14:14 সদাপ্রভু তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন; তোমাদের শুধু স্থির হয়ে থাকতে হবে।”
EXO 14:15 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি আমার কাছে কাঁদছ কেন? ইস্রায়েলীদের এগিয়ে যেতে বলো।
EXO 14:16 তোমার ছড়িটি উঠিয়ে নাও এবং জল ভাগ করার জন্য তোমার হাতটি সমুদ্রের উপর প্রসারিত করো যেন ইস্রায়েলীরা সমুদ্রের একদিক থেকে অন্যদিকে শুকনো জমির উপর দিয়ে চলে যেতে পারে।
EXO 14:17 আমি মিশরীয়দের হৃদয় কঠিন করে দেব, যেন তারা তাদের পশ্চাৎগামী হয়। আর আমি ফরৌণের ও তার সমগ্র সৈন্যদলের, তার রথগুলির ও তার ঘোড়সওয়ারদের মাধ্যমে গৌরব লাভ করব।
EXO 14:18 আমি যখন ফরৌণের, তার রথগুলির ও তার ঘোড়সওয়ারদের মাধ্যমে গৌরব লাভ করব, তখনই মিশরীয়রা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।”
EXO 14:19 ঈশ্বরের যে দূত ইস্রায়েলী সৈন্যদলের আগে আগে যাচ্ছিলেন, তিনি তখন সরে গিয়ে তাদের পিছনে চলে গেলেন। মেঘস্তম্ভও তাদের সামনে থেকে সরে গেল এবং তাদের পিছনে গিয়ে,
EXO 14:20 মিশর ও ইস্রায়েলের সৈন্যদলের মাঝখানে চলে এল। সারারাত মেঘ একদিকে অন্ধকার ও অন্যদিকে আলো নিয়ে এসেছিল; তাই সারারাত তারা কেউই অন্য দলের কাছে যায়নি।
EXO 14:21 পরে মোশি সমুদ্রের উপর তাঁর হাত প্রসারিত করলেন, এবং সেই সারারাত সদাপ্রভু এক প্রবল পূর্বীয় বাতাস বইয়ে সমুদ্রকে পিছিয়ে দিলেন এবং সেটিকে শুকনো জমিতে পরিণত করলেন। জল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল,
EXO 14:22 এবং ইস্রায়েলীরা শুকনো জমির উপর দিয়ে সমুদ্রের একদিক থেকে অন্যদিকে চলে গেল, আর তাদের ডানদিকে ও তাদের বাঁদিকে ছিল জলের এক প্রাচীর।
EXO 14:23 মিশরীয়রা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল, এবং ফরৌণের সব ঘোড়া ও রথ ও ঘোড়সওয়ার ইস্রায়েলীদের অনুগামী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ল।
EXO 14:24 রাতের শেষ প্রহরে সদাপ্রভু অগ্নিস্তম্ভ ও মেঘস্তম্ভ থেকে নিচে সেই মিশরীয় সৈন্যদলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেন।
EXO 14:25 তিনি তাদের রথগুলির চাকা আটকে দিলেন যেন রথ চালাতে তাদের অসুবিধা হয়। আর মিশরীয়রা বলল, “এসো, আমরা ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে দূরে সরে যাই! মিশরের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুই তাদের হয়ে যুদ্ধ করছেন।”
EXO 14:26 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার হাত সমুদ্রের উপর প্রসারিত করে দাও যেন মিশরীয়দের উপর এবং তাদের রথ ও ঘোড়সওয়ারদের উপর জলধারা ধেয়ে আসে।”
EXO 14:27 মোশি সমুদ্রের উপর তাঁর হাত প্রসারিত করে দিলেন, এবং ভোরবেলায় সমুদ্র স্বস্থানে ফিরে গেল। মিশরীয়রা সেদিকেই পালাচ্ছিল, এবং সদাপ্রভু তাদের সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলেন।
EXO 14:28 জলধারা ধেয়ে এসে রথ ও ঘোড়সওয়ারদের—ফরৌণের সমগ্র সেই সৈন্যদলকে ঢেকে দিল যারা ইস্রায়েলীদের অনুগামী হয়ে সমুদ্রে নেমেছিল। তাদের একজনও প্রাণে বাঁচেনি।
EXO 14:29 কিন্তু ইস্রায়েলীরা তাদের ডানদিকে ও বাঁদিকে জলের এক প্রাচীর সাথে নিয়ে সমুদ্রের একদিক থেকে অন্যদিকে শুকনো জমির উপর দিয়ে চলে গেল।
EXO 14:30 ইস্রায়েলকে সেদিন সদাপ্রভু মিশরীয়দের হাত থেকে রক্ষা করলেন, এবং ইস্রায়েল দেখল মিশরীয়রা সমুদ্রতীরে মরে পড়ে আছে।
EXO 14:31 আর ইস্রায়েলীরা যখন মিশরীয়দের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর শক্তিশালী হাত প্রদর্শিত হতে দেখল, তখন লোকেরা সদাপ্রভুকে ভয় করল এবং তাঁর উপর ও তাঁর দাস মোশির উপর তাদের আস্থা স্থাপন করল।
EXO 15:1 তখন মোশি ও ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই গান গাইলেন: “আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাইব, কারণ তিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত। ঘোড়া ও সওয়ার উভয়কেই তিনি সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছেন।
EXO 15:2 “সদাপ্রভু আমার শক্তি ও আমার সুরক্ষা; তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ। তিনি আমার ঈশ্বর, এবং আমি তাঁর প্রশংসা করব, আমার পৈত্রিক ঈশ্বর, এবং আমি তাঁকে মহিমান্বিত করব।
EXO 15:3 সদাপ্রভু এক যোদ্ধা; তাঁর নাম সদাপ্রভু।
EXO 15:4 ফরৌণের রথ ও তাঁর সৈন্যদলকে তিনি সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন। ফরৌণের সেরা কর্মকর্তারা লোহিত সাগরে ডুবে গেল।
EXO 15:5 গভীর জলরাশি তাদের ঢেকে দিল; এক পাথরের মতো তারা গভীরে তলিয়ে গেল।
EXO 15:6 তোমার ডান হাত, হে সদাপ্রভু, পরাক্রমে অত্যুন্নত। তোমার ডান হাত, হে সদাপ্রভু, শত্রুকে করেছে চূর্ণবিচূর্ণ।
EXO 15:7 “তোমার মহত্ত্বের গরিমায় তোমার বিরোধীদের তুমি নিক্ষেপ করেছ। তোমার জ্বলন্ত ক্রোধ তুমি ছড়িয়ে দিয়েছ; তা তাদের নাড়ার মতো গ্রাস করেছে।
EXO 15:8 তোমার নাকের বিস্ফোরণে জলরাশি স্তূপাকার হল। উথাল জলরাশি, এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল; গভীর জলরাশি সমুদ্র-গহ্বরে জমাট বেঁধে গেল।
EXO 15:9 শত্রু দম্ভভরে বলল, ‘আমি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করব, তাদের ধরে ফেলব। আমি লুটের মাল ভাগাভাগি করব; আমি তাদের উপর ঘাটি গাড়ব। আমি আমার তরোয়াল টেনে আনব আর আমার হাত তাদের ধ্বংস করবে।’
EXO 15:10 কিন্তু তুমি তোমার শ্বাস দিয়ে ফুঁ দিলে, আর সাগর তাদের ঢেকে দিল। তারা প্রবল জলরাশিতে সীসার মতো ডুবে গেল।
EXO 15:11 দেবতাদের মধ্যে কে তোমার মতো, হে সদাপ্রভু? তোমার মতো কে— পবিত্রতায় মহিমান্বিত, প্রতাপে অসাধারণ, অলৌকিক কর্মকারী?
EXO 15:12 “তোমার ডান হাত তুমি প্রসারিত করলে, আর পৃথিবী তোমার শত্রুদের গ্রাস করল।
EXO 15:13 তোমার চিরস্থায়ী প্রেমে করবে তুমি পরিচালনা তোমার মুক্তিপ্রাপ্ত জাতিকে। তোমার শক্তিতে তুমি তাদের পথ দেখাবে তোমার পবিত্র বাসস্থানের দিকে।
EXO 15:14 জাতিরা শুনবে ও থরথরাবে; ফিলিস্তিনী প্রজারা যন্ত্রণায় কাতর হবে।
EXO 15:15 ইদোমের নেতারা আতঙ্কিত হবে, মোয়াবের নায়কেরা হবে কম্পন-কবলিত। কনানের প্রজারা গলে যাবে;
EXO 15:16 আতঙ্ক ও শঙ্কা তাদের উপর এসে পড়বে। তোমার বাহুবলে তারা পাথরের মতো স্থির হয়ে যাবে— যতক্ষণ না তোমার প্রজারা পেরিয়ে যায়, হে সদাপ্রভু, যতক্ষণ না সেই প্রজারা পেরিয়ে যায়, যাদের তুমি কিনে নিয়েছ।
EXO 15:17 তুমি তাদের ভিতরে আনবে ও রোপণ করবে, তোমার উত্তরাধিকারের পাহাড়ে— সেই স্থান, হে সদাপ্রভু, তুমি করে তোমার বাসস্থান রচেছ, হে সদাপ্রভু, তোমার দুটি হাত সেই পবিত্রস্থান প্রতিষ্ঠিত করেছে।
EXO 15:18 “সদাপ্রভু করলেন রাজত্ব করলেন অনন্তকাল ধরে।”
EXO 15:19 ফরৌণের ঘোড়া, রথ ও ঘোড়সওয়ারেরা যখন সমুদ্রে তলিয়ে গেল, তখন সদাপ্রভু তাদের উপর সমুদ্রের জলরাশি ফিরিয়ে আনলেন, কিন্তু ইস্রায়েলীরা সমুদ্রের একদিক থেকে অন্যদিকে শুকনো জমির উপর দিয়ে হেঁটে চলে গেল।
EXO 15:20 তখন মহিলা ভাববাদী মরিয়ম, হারোণের দিদি, নিজের হাতে একটি খঞ্জনি তুলে নিলেন, এবং সব মহিলা তাঁর দেখাদেখি খঞ্জনি বাজিয়ে নেচেছিল।
EXO 15:21 মরিয়ম তাদের কাছে গান গাইলেন: “সদাপ্রভুর উদ্দেশে গাও গান, কারণ তিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত। ঘোড়া ও সওয়ার উভয়কেই তিনি করেছেন সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত।”
EXO 15:22 পরে মোশি লোহিত সাগর থেকে ইস্রায়েলীদের চালিত করলেন এবং তারা শূর মরুভূমিতে চলে গেল। তিন দিন ধরে তারা মরুভূমিতে জল না পেয়ে ভ্রমণ করল।
EXO 15:23 তারা যখন মারায় পৌঁছাল, তারা সেখানকার জলপান করতে পারেনি কারণ তা ছিল তেতো। (সেজন্যই সেই স্থানটির নাম রাখা হল মারা)
EXO 15:24 অতএব লোকেরা মোশির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলল, “আমরা কী পান করব?”
EXO 15:25 তখন মোশি সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে ফেললেন, এবং সদাপ্রভু তাঁকে এক টুকরো কাঠ দেখিয়ে দিলেন। তিনি সেটি জলে ছুঁড়ে দিলেন, এবং সেই জল পানের উপযুক্ত হয়ে গেল। সেখানেই সদাপ্রভু তাদের জন্য এক বিধিনির্দেশ ও অনুশাসন দিলেন এবং তাদের পরীক্ষায় ফেলে দিলেন।
EXO 15:26 তিনি বললেন, “তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথা যত্নসহকারে শোনো, এবং তাঁর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য তাই করো, তোমরা যদি তাঁর আদেশগুলির প্রতি মনোযোগ দাও ও তাঁর সব হুকুম পালন করো, তবে তোমাদের উপর আমি সেইসব রোগব্যাধির মধ্যে একটিও আনব না, যেগুলি আমি মিশরীয়দের উপরে এনেছিলাম, কারণ আমি সেই সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের সুস্থ করেছেন।”
EXO 15:27 পরে তারা সেই এলীমে এল, যেখানে বারোটি জলের উৎস ও সত্তরটি খেজুর গাছ ছিল, এবং সেখানে তারা জলের কাছেই শিবির স্থাপন করল।
EXO 16:1 ইস্রায়েলীদের সমগ্র জনসমাজ মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর দ্বিতীয় মাসের পঞ্চদশতম দিনে এলীম থেকে বের হয়ে সেই সীন মরুভূমিতে এল, যা এলীম ও সীনয়ের মাঝখানে অবস্থিত।
EXO 16:2 সেই মরুভূমিতে সমগ্র জনসমাজ মোশি ও হারোণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাল।
EXO 16:3 ইস্রায়েলীরা তাঁদের বলল, “হায় আমরা কেন মিশরেই সদাপ্রভুর হাতে মারা পড়িনি! সেখানে আমরা মাংসের হাঁড়ি ঘিরেই বসে থাকতাম ও আমাদের চাহিদানুসারেই সব খাবারদাবার খেতাম, কিন্তু তোমরা সমগ্র এই জনসমাজকে অনাহারে মেরে ফেলার জন্য আমাদের এই মরুভূমিতে নিয়ে এসেছ।”
EXO 16:4 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আমি তোমাদের জন্য স্বর্গ থেকে খাদ্য বর্ষণ করব। লোকদের প্রতিদিন বাইরে যেতে হবে এবং সেদিনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে তা কুড়াতে হবে। এইভাবে আমি তাদের পরীক্ষা করব ও দেখব তারা আমার নির্দেশাবলি পালন করে কি না।
EXO 16:5 ষষ্ঠ দিনে তারা যেটুকু কুড়াবে সেটুকুই রান্না করবে, এবং তা হবে অন্যান্য দিনে কুড়ানো খাদ্যের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি।”
EXO 16:6 অতএব মোশি ও হারোণ সব ইস্রায়েলীকে বললেন, “সন্ধ্যাবেলায় তোমরা জানতে পারবে যে সদাপ্রভুই তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছেন,
EXO 16:7 এবং সকালবেলায় তোমরা সদাপ্রভুর মহিমা দেখতে পাবে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের গজ্‌গজানি তিনি শুনেছেন। আমরা কে, যে তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছ?”
EXO 16:8 মোশি এও বললেন, “যখন তিনি সন্ধ্যাবেলায় তোমাদের মাংস খেতে দেবেন ও সকালবেলায় তোমাদের চাহিদানুসারে সব খাদ্য দেবেন তখনই তোমরা জানতে পারবে যে তা সদাপ্রভুই দিয়েছেন, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে করা তোমাদের গজ্‌গজানি তিনি শুনেছেন। আমরা কে? তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছ না, কিন্তু সদাপ্রভুর বিরুদ্ধেই জানাচ্ছ।”
EXO 16:9 তখন মোশি হারোণকে বললেন, “সমগ্র ইস্রায়েলী জনসমাজকে বলো, ‘সদাপ্রভুর সামনে এসো, কারণ তিনি তোমাদের গজ্‌গজানি শুনেছেন।’ ”
EXO 16:10 হারোণ যখন সমগ্র ইস্রায়েলী জনসমাজের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তারা মরুভূমির দিকে তাকাল, এবং সেখানে সদাপ্রভুর মহিমা মেঘে আবির্ভূত হল।
EXO 16:11 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 16:12 “আমি ইস্রায়েলীদের গজ্‌গজানি শুনেছি। তাদের বলো, ‘গোধূলিবেলায় তোমরা মাংস খাবে, এবং সকালবেলায় তোমরা খাদ্যে পরিপূর্ণ হবে। তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু তোমাদের ঈশ্বর।’ ”
EXO 16:13 সেই সন্ধ্যায় ভারুই পাখির দল এল এবং শিবির ঢেকে ফেলল, এবং সকালবেলায় শিবিরের চারপাশে শিশিরের এক পরত পড়েছিল।
EXO 16:14 শিশির সরে যাওয়ার পর, মরুভূমির জমিতে হিমকণার মতো পাতলা আঁশ আবির্ভূত হল।
EXO 16:15 ইস্রায়েলীরা যখন তা দেখল, তখন তারা পরস্পরকে বলল, “এটি কী?” কারণ সেটি কী তা তারা জানতে পারেনি। মোশি তাদের বললেন, “এ হল সেই খাদ্য যা সদাপ্রভু তোমাদের খেতে দিয়েছেন।
EXO 16:16 সদাপ্রভু এই আদেশই দিয়েছেন: ‘প্রত্যেকে তাদের প্রয়োজন অনুসারেই কুড়াবে। তোমাদের তাঁবুতে থাকা এক একজনের জন্য এক ওমর করে কুড়াও।’ ”
EXO 16:17 ইস্রায়েলীরা তাই করল যা তাদের করতে বলা হয়েছিল; কয়েকজন বেশি পরিমাণে কুড়াল এবং কয়েকজন কম পরিমাণে কুড়াল।
EXO 16:18 আর যখন তারা তা ওমর দিয়ে মাপল, তখন যে বেশি পরিমাণে কুড়িয়েছিল তার কাছে খুব বেশি ছিল না, এবং যে কম পরিমাণে কুড়িয়েছিল তার কাছে খুব কম ছিল না। প্রত্যেকে ঠিক তাদের চাহিদা অনুসারেই কুড়িয়েছিল।
EXO 16:19 পরে মোশি তাদের বললেন, “সকাল পর্যন্ত কেউ এর কোনো কিছুই রাখবে না।”
EXO 16:20 অবশ্য, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মোশির কথায় মনোযোগ দেয়নি; তারা সকাল পর্যন্ত এর অংশবিশেষ রেখে দিয়েছিল, কিন্তু তাতে পোকা লেগে গেল এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করল। অতএব মোশি তাদের উপর ক্রুদ্ধ হলেন।
EXO 16:21 প্রত্যেকদিন সকালবেলায় প্রত্যেকে তাদের চাহিদা অনুসারে কুড়াত, আর সূর্য যখন প্রখর হত, তখন তা গলে যেত।
EXO 16:22 ষষ্ঠ দিনে, তারা দ্বিগুণ পরিমাণে কুড়াল—প্রত্যেকের জন্য দুই ওমর করে—এবং সমাজের নেতারা এসে মোশিকে এই সংবাদ দিলেন।
EXO 16:23 তিনি তাঁদের বললেন, “সদাপ্রভু এই আদেশই দিয়েছেন: ‘আগামীকাল হবে সাব্বাথ বিশ্রামের দিন, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক পবিত্র সাব্বাথ। তাই যা যা তোমরা সেঁকতে চাও তা সেঁকে নাও এবং যা যা জলে সিদ্ধ করতে চাও তা সিদ্ধ করো। যা যা অবশিষ্ট থাকবে তা বাঁচিয়ে সকাল পর্যন্ত রেখে দাও।’ ”
EXO 16:24 অতএব সকাল পর্যন্ত তারা তা বাঁচিয়ে রাখল, ঠিক যেমনটি মোশি আদেশ দিয়েছিলেন, এবং তাতে দুর্গন্ধ ছড়ায়নি বা তাতে কোনো পোকাও লাগেনি।
EXO 16:25 “আজ এটি খেয়ে নাও,” মোশি বললেন, “কারণ আজ সদাপ্রভুর উদ্দেশে পালনীয় এক সাব্বাথবার। মাঠে আজ তোমরা এর একটিও খুঁজে পাবে না।
EXO 16:26 ছয় দিন তোমরা এটি কুড়াবে, কিন্তু সপ্তম দিনে, সাব্বাথবারে, কিছুই থাকবে না।”
EXO 16:27 তা সত্ত্বেও, কয়েকজন লোক সপ্তম দিনেও তা কুড়ানোর জন্য বাইরে গেল, কিন্তু তারা কিছুই পেল না।
EXO 16:28 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আর কত দিন তুমি আমার আদেশগুলি ও আমার নির্দেশাবলি পালন করতে অস্বীকার করবে?
EXO 16:29 মনে রেখো যে সদাপ্রভুই তোমাদের সাব্বাথবার দিয়েছেন; সেজন্যই ষষ্ঠ দিনে তিনি তোমাদের দুই দিনের খাদ্য দেন। সপ্তম দিনে যে যেখানে আছে তাকে সেখানেই থাকতে হবে; কেউ যেন বাইরে না যায়।”
EXO 16:30 অতএব লোকেরা সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিল।
EXO 16:31 ইস্রায়েলীরা সেই খাদ্যকে মান্না নাম দিল। এটি দেখতে সাদা রংয়ের ধনে বীজের মতো এবং স্বাদে মধু মাখানো চাকতির মতো হত।
EXO 16:32 মোশি বললেন, “সদাপ্রভু এই আদেশই দিয়েছেন: ‘এক ওমর মান্না নাও এবং সেটি পরবর্তী প্রজন্মগুলির জন্য রেখে দাও, যেন তারা সেই খাদ্যটি দেখতে পায় যা মিশর দেশ থেকে তোমাদের বের করে আনার পর, মরুভূমিতে আমি তোমাদের খেতে দিয়েছিলাম।’ ”
EXO 16:33 অতএব মোশি হারোণকে বললেন, “একটি বয়াম নাও এবং তাতে এক ওমর মান্না ভরে রাখো। পরে পরবর্তী প্রজন্মগুলির জন্য সেটি রক্ষা করে রাখার জন্য সদাপ্রভুর সামনে সাজিয়ে রাখো।”
EXO 16:34 মোশিকে দেওয়া সদাপ্রভুর আদেশানুসারে, হারোণ বিধিনিয়মের ফলকগুলি সমেত সেই মান্না সাজিয়ে রাখলেন, যেন তা সংরক্ষিত থাকে।
EXO 16:35 ইস্রায়েলীরা যতদিন না স্থায়ী এক দেশে এল, ততদিন চল্লিশ বছর ধরে মান্না খেয়েছিল; কনানের সীমানায় পৌঁছানো পর্যন্ত তারা মান্না খেয়েছিল।
EXO 16:36 (এক ওমর এক ঐফার এক-দশমাংশ।)
EXO 17:1 সমগ্র ইস্রায়েলী জনসমাজ সদাপ্রভুর আদেশানুসারে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ভ্রমণ করতে করতে সীন মরুভূমি থেকে বের হয়ে এল। তারা রফীদীমে শিবির স্থাপন করল, কিন্তু সেখানে লোকজনের জন্য পানীয় জল ছিল না।
EXO 17:2 তাই তারা মোশির সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে বলল, “আমাদের পানীয় জল দাও।” মোশি উত্তর দিলেন, “তোমরা কেন আমার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করছ? তোমরা কেন সদাপ্রভুর পরীক্ষা নিচ্ছ?”
EXO 17:3 কিন্তু লোকেরা সেখানে জলের জন্য তৃষ্ণার্ত হল এবং তারা মোশির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাল। তারা বলল, “কেন তুমি আমাদের ও আমাদের সন্তানসন্ততিকে এবং আমাদের গৃহপালিত পশুপালকে তৃষ্ণার্ত হয়ে মরে যাওয়ার জন্য মিশর থেকে বের করে এখানে নিয়ে এসেছ?”
EXO 17:4 তখন মোশি সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে বললেন, “এই লোকদের নিয়ে আমি কী করব? তারা তো প্রায় আমাকে পাথর মারার জন্য তৈরিই হয়ে আছে।”
EXO 17:5 সদাপ্রভু মোশিকে উত্তর দিলেন, “লোকদের সামনে চলে যাও। ইস্রায়েলের কয়েকজন প্রাচীনকে তোমার সাথে নাও ও তোমার সেই ছড়িটি হাতে তুলে নাও, যেটি দিয়ে তুমি নীলনদে আঘাত করেছিলে, এবং যাও।
EXO 17:6 আমি সেখানে তোমার সামনে হোরেবে শিলাপাথরের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। সেই শিলাপাথরে আঘাত করো, এবং লোকজনের জন্য সেখান থেকে পানীয় জল বেরিয়ে আসবে।” অতএব মোশি ইস্রায়েলের প্রাচীনদের চোখের সামনে তা করলেন।
EXO 17:7 আর তিনি সেই স্থানটির নাম দিলেন মঃসা ও মরীবা কারণ ইস্রায়েলীরা ঝগড়া-বিবাদ করেছিল এবং তারা এই বলে সদাপ্রভুর পরীক্ষা নিয়েছিল, “সদাপ্রভু আমাদের মাঝে আছেন কি নেই?”
EXO 17:8 অমালেকীয়রা রফীদীমে এসে ইস্রায়েলীদের আক্রমণ করল।
EXO 17:9 মোশি যিহোশূয়কে বললেন, “আমাদের কয়েকজন লোককে মনোনীত করো এবং অমালেকীয়দের সাথে যুদ্ধ করতে যাও। আগামীকাল আমি ঈশ্বরের সেই ছড়িটি হাতে নিয়ে পাহাড়ের উপরে দাঁড়াব।”
EXO 17:10 অতএব যিহোশূয় মোশির আদেশানুসারে অমালেকীয়দের সাথে যুদ্ধ করলেন, এবং মোশি, হারোণ ও হূর পাহাড়ের উপরে চলে গেলেন।
EXO 17:11 যতক্ষণ মোশি তাঁর হাত দুটি উপরে উঠিয়ে রেখেছিলেন, ইস্রায়েলীরা জিতছিল, কিন্তু যখনই তিনি তাঁর হাত দুটি নিচে নামাচ্ছিলেন, অমালেকীয়রা জিতছিল।
EXO 17:12 মোশির হাত দুটি যখন অবসন্ন হয়ে গেল, তখন তাঁরা একটি পাথর নিলেন ও সেটি তাঁর নিচে রেখে দিলেন এবং তিনি সেটির উপর বসে পড়লেন। হারোণ ও হূর তাঁর হাত দুটি—একজন একদিকে, অন্যজন অন্যদিকে—তুলে ধরে রাখলেন, যেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁর হাত দুটি অবিচলিত থাকে।
EXO 17:13 অতএব যিহোশূয় তরোয়াল দিয়ে অমালেকীয় সৈন্যদলকে পরাস্ত করলেন।
EXO 17:14 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “স্মরণযোগ্য করে রাখার জন্য এটি একটি গোটানো চামড়ার পুঁথিতে লিখে রাখো এবং নিশ্চিত কোরো যেন যিহোশূয় তা শোনে, কারণ আকাশের নিচ থেকে অমালেকের নাম আমি পুরোপুরি মুছে ফেলব।”
EXO 17:15 মোশি একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন ও সেটির নাম রাখলেন “সদাপ্রভু আমার নিশান।”
EXO 17:16 তিনি বললেন, “যেহেতু সদাপ্রভুর সিংহাসনের বিরুদ্ধে হাত উঠেছিল, তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সদাপ্রভু অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাবেন।”
EXO 18:1 ঈশ্বর মোশির ও তাঁর প্রজাদের জন্য যা যা করলেন, এবং কীভাবে সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন, সেসব কথা মিদিয়নীয় যাজক তথা মোশির শ্বশুরমশাই যিথ্রো শুনেছিলেন।
EXO 18:2 মোশি তাঁর স্ত্রী সিপ্পোরাকে পাঠিয়ে দেওয়ার পর, তাঁর শ্বশুরমশাই যিথ্রো সিপ্পোরাকে,
EXO 18:3 এবং তাঁর দুই ছেলেকে গ্রহণ করলেন। এক ছেলের নাম রাখা হল গের্শোম, কারণ মোশি বললেন, “আমি বিদেশে এক বিদেশি হয়ে গিয়েছি”
EXO 18:4 আর অন্যজনের নাম রাখা হল ইলীয়েষর, কারণ তিনি বললেন, “আমার পৈত্রিক ঈশ্বর আমার সাহায্যকারী হয়েছেন; তিনি আমাকে ফরৌণের তরোয়ালের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।”
EXO 18:5 মোশির শ্বশুরমশাই যিথ্রো, মোশির ছেলেদের ও স্ত্রীকে নিয়ে সেই মরুভূমিতে তাঁর কাছে এলেন, যেখানে ঈশ্বরের পর্বতের কাছে তিনি শিবির স্থাপন করেছিলেন।
EXO 18:6 যিথ্রো তাঁর কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, “আমি, তোমার শ্বশুর যিথ্রো, তোমার স্ত্রী ও তার দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তোমার কাছে আসছি।”
EXO 18:7 অতএব মোশি তাঁর শ্বশুরমশাই-এর সাথে দেখা করার জন্য বাইরে গেলেন এবং প্রণত হয়ে তাঁকে চুমু দিলেন। তাঁরা পরস্পরকে অভিবাদন জানালেন ও পরে তাঁবুর ভিতরে চলে গেলেন।
EXO 18:8 ইস্রায়েলের জন্য সদাপ্রভু ফরৌণের ও মিশরীয়দের প্রতি যা যা করেছিলেন এবং পথিমধ্যে যেসব কষ্ট তাঁদের সহ্য করতে হয়েছিল ও সদাপ্রভু কীভাবে তাঁদের রক্ষা করেছিলেন, সেসব কথা মোশি তাঁর শ্বশুরমশাইকে বলে শোনালেন।
EXO 18:9 মিশরীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলীদের রক্ষা করতে গিয়ে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের জন্য যেসব ভালো ভালো কাজ করেছিলেন, তার বৃত্তান্ত শুনে যিথ্রো খুব খুশি হলেন।
EXO 18:10 তিনি বললেন, “সেই সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, যিনি মিশরীয়দের ও ফরৌণের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন এবং যিনি মানুষজনকে মিশরীয়দের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
EXO 18:11 এখন আমি জানলাম যে সদাপ্রভু অন্য সব দেবতার চেয়ে মহত্তর, কারণ তিনি তাদেরই প্রতি এরকম করেছেন, যারা ইস্রায়েলের প্রতি অহংকারী আচরণ দেখিয়েছিল।”
EXO 18:12 পরে মোশির শ্বশুরমশাই যিথ্রো, সদাপ্রভুর কাছে এক হোমবলি ও অন্যান্য নৈবেদ্য নিয়ে আসলেন, এবং হারোণ ইস্রায়েলের সব প্রাচীনকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে মোশির শ্বশুরমশাই যিথ্রোর সঙ্গে এক ভোজ খেতে এলেন।
EXO 18:13 পরদিন মোশি লোকদের বিচারক হয়ে তাঁর আসন গ্রহণ করলেন, এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকেরা তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকল।
EXO 18:14 মোশি লোকজনের জন্য যা কিছু করছিলেন, তাঁর শ্বশুরমশাই যখন সেসবকিছু দেখলেন, তখন তিনি বললেন, “লোকজনের জন্য তুমি এ কী করছ? একা তুমিই কেন বিচারক হয়ে বসে আছ, যখন এইসব লোক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে?”
EXO 18:15 মোশি তাঁকে উত্তর দিলেন, “কারণ লোকেরা ঈশ্বরের ইচ্ছার খোঁজ নেওয়ার জন্য আমার কাছে আসে।
EXO 18:16 যখনই তারা এক দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়, তা আমার কাছে আনা হয়, এবং আমি দুই দলের মধ্যে মীমাংসা করি এবং ঐশ্বরিক হুকুমাদি ও নির্দেশাবলি তাদের জানিয়ে দিই।”
EXO 18:17 মোশির শ্বশুরমশাই তাঁকে উত্তর দিলেন, “তুমি যা করছ তা ঠিক নয়।
EXO 18:18 তুমি ও এই যেসব লোক তোমার কাছে আসছে, তোমরা সবাই অবসন্ন হয়ে পড়বে। তোমার পক্ষে এ কাজটি অত্যন্ত গুরুভার; একা তুমি এটি সামলাতে পারবে না।
EXO 18:19 এখন আমার কথা শোনো ও আমি তোমাকে কিছু পরামর্শ দেব, এবং ঈশ্বর তোমার সহবর্তী হোন। তোমাকে অবশ্যই ঈশ্বরের সামনে লোকজনের প্রতিনিধি হতে হবে এবং তাঁর কাছে তাদের দ্বন্দ্বগুলি নিয়ে আসতে হবে।
EXO 18:20 তাঁর হুকুমাদি ও নির্দেশাবলি তাদের শিক্ষা দাও, এবং তাদের দেখিয়ে দাও কীভাবে তাদের জীবনযাপন করতে হবে ও তাদের কেমন আচরণ করতে হবে।
EXO 18:21 কিন্তু সব লোকজনের মধ্যে থেকে যোগ্য লোকদের মনোনীত করো—যারা ঈশ্বরকে ভয় করে, বিশ্বস্ত এমন সব লোক যারা অসাধু মুনাফা ঘৃণা করে—এবং কয়েক হাজার, কয়েকশো, পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ও দশ-দশ জনের উপর তাদের কর্মকর্তারূপে নিযুক্ত করো।
EXO 18:22 সবসময় এদেরই লোকজনের বিচারক হয়ে থাকতে দিয়ো, কিন্তু প্রত্যেকটি দুরূহ মামলা তাদের তোমার কাছে আনতে দিয়ো; সহজ মামলাগুলির নিষ্পত্তি তারা নিজেরাই করে নিতে পারবে। এতে তোমার বোঝা হালকা হয়ে যাবে, কারণ তারা তোমার সঙ্গে তা ভাগাভাগি করে নেবে।
EXO 18:23 তুমি যদি এরকম করো ও ঈশ্বরও যদি এরকম আদেশ দেন, তবে তুমি ধকলটি সামলাতে সক্ষম হবে, এবং এইসব লোক তৃপ্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাবে।”
EXO 18:24 মোশি তাঁর শ্বশুরমশাই যিথ্রোর কথা শুনলেন এবং তিনি যা যা করতে বললেন সেসবকিছু করলেন।
EXO 18:25 সমগ্র ইস্রায়েলের মধ্যে থেকে তিনি যোগ্য লোকদের মনোনীত করলেন এবং লোকজনের নেতারূপে, কয়েক হাজার, কয়েকশো, পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ও দশ-দশ জনের উপর কর্মকর্তারূপে তাঁদের নিযুক্ত করে দিলেন।
EXO 18:26 সবসময় তাঁরা লোকজনের জন্য বিচারক হয়ে বিচার করতেন। দুরূহ মামলাগুলি তাঁরা মোশির কাছে আনতেন, কিন্তু সহজ মামলাগুলির নিষ্পত্তি তাঁরা নিজেরাই করতেন।
EXO 18:27 পরে মোশি তাঁর শ্বশুরমশাইকে বিদায় দিলেন, এবং যিথ্রো তাঁর নিজের দেশে ফিরে গেলেন।
EXO 19:1 ইস্রায়েলীরা মিশর ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর তৃতীয় মাসের প্রথম দিনে—ঠিক সেদিনই—তারা সীনয় মরুভূমিতে এসেছিল।
EXO 19:2 রফীদীম থেকে যাত্রা শুরু করার পর, তারা সীনয় মরুভূমিতে প্রবেশ করল, এবং পর্বতের সামনের দিকে ইস্রায়েল সেখানে মরুভূমিতে শিবির স্থাপন করল।
EXO 19:3 পরে মোশি ঈশ্বরের কাছে উঠে গেলেন এবং সদাপ্রভু পর্বত থেকে তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, “যাকোবের বংশধরদের কাছে এবং ইস্রায়েলের লোকজনের কাছে তোমাকে একথাই বলতে হবে:
EXO 19:4 ‘তোমরা নিজেরাই তো দেখেছ আমি মিশরের প্রতি কী করেছিলাম, এবং কীভাবে আমি তোমাদের ঈগলের ডানায় তুলে বহন করেছিলাম ও তোমাদের নিজের কাছে এনেছিলাম।
EXO 19:5 এখন তোমরা যদি পুরোপুরি আমার বাধ্য হও ও আমার নিয়ম পালন করো, তবে সব জাতির মধ্যে তোমরাই আমার নিজস্ব সম্পত্তি হবে। যদিও সমগ্র পৃথিবীই আমার,
EXO 19:6 তোমরা আমার জন্য যাজকদের এক রাজ্য এবং পবিত্র এক জাতি হবে।’ ইস্রায়েলীদের কাছে তোমাকে এইসব কথা বলতে হবে।”
EXO 19:7 অতএব মোশি ফিরে গেলেন এবং লোকদের প্রাচীনদের ডেকে পাঠালেন ও সদাপ্রভু তাঁকে যা যা বলার আদেশ দিয়েছিলেন সেসব কথা তাঁদের সামনে পেশ করলেন।
EXO 19:8 লোকজন সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল, “সদাপ্রভু যা যা বলেছেন আমরা সেসবকিছু করব।” অতএব মোশি তাদের উত্তর সদাপ্রভুর কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
EXO 19:9 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আমি এক ঘন মেঘে তোমার কাছে আসতে চলেছি, যেন লোকেরা শোনে যে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি এবং তারা সবসময় তোমার উপর তাদের আস্থা স্থাপন করে।” লোকেরা কী বলেছিল তা তখন মোশি সদাপ্রভুকে বললেন।
EXO 19:10 আর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “লোকদের কাছে যাও এবং আজ ও আগামীকাল তাদের পবিত্র করো। তারা তাদের জামাকাপড় ধুয়ে নিক
EXO 19:11 ও তৃতীয় দিনের জন্য প্রস্তুত থাকুক, কারণ সেদিনই সব লোকের চোখের সামনে সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে নেমে আসবেন।
EXO 19:12 পর্বতের চারপাশে লোকদের জন্য সীমানা নির্দিষ্ট করে দাও ও তাদের বলো, ‘সাবধান, তোমরা কেউ যেন পর্বতের কাছে না যাও বা এর পাদদেশ স্পর্শ না করো। যে কেউ পর্বত স্পর্শ করবে তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 19:13 তাদের পাথর ছুঁড়ে বা তির নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হবে; তাদের উপর যেন কোনও হাত না পড়ে। কোনও মানুষ বা পশুকে বেঁচে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না।’ একমাত্র যখন শিঙার সুদীর্ঘ শব্দ শোনা যাবে, তখনই তারা পর্বতের কাছে আসতে পারবে।”
EXO 19:14 পর্বত থেকে মোশি নিচে ইস্রায়েলীদের কাছে নেমে আসার পর, তিনি তাদের পবিত্র করলেন, এবং তারা তাদের জামাকাপড় ধুয়ে নিল।
EXO 19:15 পরে তিনি লোকদের বললেন, “তৃতীয় দিনের জন্য তোমরা নিজেদের প্রস্তুত করো। যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকো।”
EXO 19:16 তৃতীয় দিন সকালবেলায় বজ্রপাত হল ও বিদ্যুৎ চমকাল, একইসাথে ঘন মেঘে পর্বত ঢেকে গেল ও খুব জোরে শিঙার শব্দ শোনা গেল। শিবিরের মধ্যে প্রত্যেকে কেঁপে উঠল।
EXO 19:17 তখন মোশি ঈশ্বরের সঙ্গে দেখা করার জন্য নেতৃত্ব দিয়ে লোকদের শিবির থেকে বের করে আনলেন, এবং তারা পর্বতের পাদদেশে এসে দাঁড়াল।
EXO 19:18 সীনয় পর্বত ধোঁয়ায় ঢেকে গেল, কারণ সদাপ্রভু অগ্নিবেষ্টিত হয়ে পর্বতের উপর নেমে এলেন। অগ্নিকুণ্ড থেকে ওঠা ধোঁয়ার মতো সেই ধোঁয়া গলগল করে সেখান থেকে উপরে উঠে গেল, এবং সমগ্র পর্বত থরথর করে কেঁপে উঠল।
EXO 19:19 শিঙার শব্দ ক্রমশ জোরালো হল, মোশি কথা বললেন এবং ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর তাঁকে উত্তর দিল।
EXO 19:20 সদাপ্রভু সীনয় পর্বতের চূড়ায় নেমে এলেন এবং মোশিকে পর্বতের চূড়ায় ডেকে নিলেন। অতএব মোশি উপরে উঠে গেলেন
EXO 19:21 এবং সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “নিচে নেমে যাও ও লোকদের সাবধান করে দাও, পাছে তারা জোর করে সদাপ্রভুকে দেখতে যায় ও তাদের মধ্যে অনেকে প্রাণ হারায়।
EXO 19:22 এমনকি যারা সদাপ্রভুর নিকটবর্তী হয়, সেই যাজকরাও যেন নিজেদের পবিত্র করে, তা না হলে সদাপ্রভু তাদের বিরুদ্ধে সহসা আবির্ভূত হবেন।”
EXO 19:23 মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “লোকেরা সীনয় পর্বতে উঠে আসতে পারবে না, কারণ তুমি নিজেই আমাদের সাবধান করে দিয়েছ, ‘পর্বতের চারপাশে সীমানা নির্দিষ্ট করে রাখো এবং সেটিকে পবিত্রতায় পৃথক করে রাখো।’ ”
EXO 19:24 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “নিচে নেমে যাও এবং হারোণকে তোমার সঙ্গে নিয়ে উপরে উঠে এসো। কিন্তু যাজকেরা ও লোকেরা যেন জোর করে সদাপ্রভুর কাছে উঠে আসার চেষ্টা না করে, তা না হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে সহসা আবির্ভূত হবেন।”
EXO 19:25 অতএব মোশি নিচে লোকদের কাছে নেমে গেলেন এবং তাদের এসব কথা বললেন।
EXO 20:1 আর ঈশ্বর এইসব কথা বললেন:
EXO 20:2 “আমিই তোমার ঈশ্বর সেই সদাপ্রভু, যিনি তোমাকে মিশর থেকে, ক্রীতদাসত্বের সেই দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
EXO 20:3 “আমার সামনে তুমি অন্য কোনও দেবতা রাখবে না।
EXO 20:4 নিজের জন্য তুমি ঊর্ধ্বস্থ স্বর্গের বা অধঃস্থ পৃথিবীর বা জলরাশির তলার কোনো কিছুর আকৃতিবিশিষ্ট কোনও প্রতিমা তৈরি করবে না।
EXO 20:5 তুমি তাদের কাছে মাথা নত করবে না বা তাদের আরাধনা করবে না; কারণ আমি, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, এক ঈর্ষান্বিত ঈশ্বর, বাবা-মার করা পাপের কারণে সন্তানদের শাস্তি দিই, যারা আমাকে ঘৃণা করে তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত দিই,
EXO 20:6 কিন্তু যারা আমাকে ভালোবাসে ও আমার আজ্ঞাগুলি পালন করে, হাজার প্রজন্ম পর্যন্ত তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখাই।
EXO 20:7 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের অপব্যবহার কোরো না, কারণ যে কেউ তাঁর নামের অপব্যবহার করে সদাপ্রভু তাকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করবেন না।
EXO 20:8 পবিত্রতায় বিশ্রামদিন পালন করে স্মরণ কোরো।
EXO 20:9 ছয় দিন তুমি পরিশ্রম করবে ও তোমার সব কাজকর্ম করবে,
EXO 20:10 কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন। সেদিন তুমি, তোমার ছেলে বা মেয়ে, তোমার দাস বা দাসী, তোমার পশুপাল, বা তোমার নগরে বসবাসকারী কোনো বিদেশি, কেউ কোনও কাজ কোরো না।
EXO 20:11 কারণ ছয় দিনে সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেগুলির মধ্যে থাকা সমস্ত কিছু তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সপ্তম দিন তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই সদাপ্রভু সাব্বাথবারকে আশীর্বাদ করে সেটি পবিত্র করলেন।
EXO 20:12 তোমার বাবাকে ও তোমার মাকে সম্মান কোরো, যেন তুমি সেই দেশে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পারো, যে দেশ তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে দিচ্ছেন।
EXO 20:13 তুমি নরহত্যা কোরো না।
EXO 20:14 তুমি ব্যভিচার কোরো না।
EXO 20:15 তুমি চুরি কোরো না।
EXO 20:16 তুমি তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না।
EXO 20:17 তুমি তোমার প্রতিবেশীর ঘরবাড়ির প্রতি লোভ কোরো না। তুমি তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর, বা তার দাস বা দাসীর, তার বলদের বা গাধার, বা তোমার প্রতিবেশীর অধিকারভুক্ত কোনো কিছুর প্রতি লোভ কোরো না।”
EXO 20:18 যখন লোকেরা বজ্রপাত হতে ও বিদ্যুৎ চমকাতে দেখল এবং শিঙার শব্দ শুনল ও পর্বত ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখল, তখন তারা ভয়ে কেঁপে উঠল। তারা দূরে দাঁড়িয়ে পড়ল
EXO 20:19 এবং মোশিকে বলল, “আপনি নিজেই আমাদের সঙ্গে কথা বলুন ও আমরা তা শুনব। কিন্তু ঈশ্বর যেন আমাদের সঙ্গে কথা না বলেন পাছে আমরা মারা যাই।”
EXO 20:20 মোশি লোকদের বললেন, “ভয় পেয়ো না। ঈশ্বর তোমাদের পরীক্ষা করতে এসেছেন, যেন পাপ করা থেকে তোমাদের বিরত রাখার জন্য ঈশ্বরভয় তোমাদের সহবর্তী হয়।”
EXO 20:21 লোকেরা দূরে দাঁড়িয়ে থাকল, আর মোশি সেই ঘন অন্ধকারের দিকে এগিয়ে গেলেন যেখানে ঈশ্বর উপস্থিত ছিলেন।
EXO 20:22 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ইস্রায়েলীদের একথা বলো: ‘তোমরা নিজেরাই দেখলে যে আমি স্বর্গ থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি:
EXO 20:23 আমার পাশাপাশি রাখার জন্য অন্য কোনও দেবতা তৈরি কোরো না; নিজেদের জন্য রুপোর দেবতা বা সোনার দেবতা তৈরি কোরো না।
EXO 20:24 “ ‘আমার জন্য মাটি দিয়ে একটি যজ্ঞবেদি তৈরি করো এবং সেটির উপর তোমাদের হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করো, মেষ ও ছাগল, ও তোমাদের গবাদি পশুপাল বলি দাও। আমি যেখানেই আমার নাম সম্মানিত করব, সেখানেই আমি তোমাদের কাছে আসব এবং তোমাদের আশীর্বাদ করব।
EXO 20:25 তোমরা যদি আমার জন্য পাথরের এক যজ্ঞবেদি তৈরি করো, তবে খোদিত পাথর দিয়ে তা নির্মাণ কোরো না, কারণ যদি সেটিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করো তবে তোমরা সেটি অশুচি করে তুলবে।
EXO 20:26 আর সিঁড়ির ধাপ বেয়ে আমার যজ্ঞবেদিতে উঠো না, পাছে তোমাদের গোপনাঙ্গগুলি অনাবৃত হয়ে যায়।’
EXO 21:1 “এগুলি সেই বিধিবিধান যা তোমাকে তাদের সামনে রাখতে হবে:
EXO 21:2 “যদি তুমি কোনও হিব্রু দাসকে কিনে এনেছ, তবে সে ছয় বছর তোমার সেবা করুক। কিন্তু সপ্তম বছরে, সে স্বাধীন হয়ে চলে যাবে, তাকে কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না।
EXO 21:3 সে যদি একা এসেছে, তবে সে একাই স্বাধীন হয়ে চলে যাক; কিন্তু আসার সময় যদি তার স্ত্রী তার সঙ্গে ছিল, তবে সেও তার সঙ্গে যাক।
EXO 21:4 তার মালিক যদি তাকে এক স্ত্রী দেন এবং সেই স্ত্রী তার জন্য ছেলে বা মেয়েদের জন্ম দেয়, তবে সেই মহিলা ও তার সন্তানেরা তার মালিকের অধিকারভুক্ত হবে, এবং শুধু সেই পুরুষটিই স্বাধীন হয়ে চলে যাবে।
EXO 21:5 “কিন্তু সেই দাস যদি ঘোষণা করে, ‘আমি আমার মালিককে ও আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ভালোবাসি এবং স্বাধীন হয়ে চলে যেতে চাই না,’
EXO 21:6 তবে তার মালিক অবশ্যই তাকে ঈশ্বরের সামনে নিয়ে যাবেন। মালিক তাকে দরজার কাছে বা দরজার চৌকাঠের কাছে নিয়ে যাবেন এবং একটি কাঁটা দিয়ে তার কান বিদীর্ণ করে দেবেন। তখন সে সারা জীবনের জন্য তাঁর দাস হয়ে যাবে।
EXO 21:7 “যদি কোনও লোক তার মেয়েকে এক দাসীরূপে বিক্রি করে দেয়, তবে সে দাসের মতো স্বাধীন হয়ে চলে যেতে পারবে না।
EXO 21:8 সে যদি তার সেই মালিককে সন্তুষ্ট করতে না পারে, যিনি তাকে নিজের জন্য পছন্দ করেছিলেন, তবে তিনি যেন অবশ্যই তাকে মুক্ত করে দেন। তাকে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করার তাঁর কোনও অধিকার নেই, কারণ তিনি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
EXO 21:9 সেই মালিক যদি তাকে নিজের ছেলের জন্য পছন্দ করেছেন, তবে তিনি যেন অবশ্যই তাকে এক মেয়ের অধিকার দেন।
EXO 21:10 তিনি যদি অন্য কোনও মহিলাকে বিয়ে করেন, তবে তিনি যেন অবশ্যই প্রথমজনকে তার খাদ্য, বস্ত্র ও দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না করেন।
EXO 21:11 তিনি যদি তার প্রতি এই তিনটি কর্তব্য পালন না করেন, তবে সেই স্ত্রী কোনও অর্থ খরচ না করে, স্বাধীন হয়ে ফিরে যেতে পারবে।
EXO 21:12 “যে কেউ অন্য কাউকে মারাত্মক এক ঘা দিয়ে জখম করে, তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:13 অবশ্য, তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা না হয়, কিন্তু ঈশ্বরই তা হতে দিয়েছেন, তবে তাকে এমন এক স্থানে পালিয়ে যেতে হবে যা আমি নির্দিষ্ট করে দেব।
EXO 21:14 কিন্তু কেউ যদি চক্রান্ত করে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে সেই লোকটিকে আমার যজ্ঞবেদি থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:15 “যে কেউ তার বাবা বা মাকে আক্রমণ করে, তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:16 “যে কেউ অন্য কাউকে অপহরণ করে সেই অপহৃত লোকটিকে বিক্রি করে দেয় বা তাকে নিজের দখলে রাখে, তবে সেই অপহরণকারীকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:17 “যে কেউ তার বাবা বা মাকে অভিশাপ দেয়, তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:18 “যদি মানুষজন ঝগড়া-বিবাদ করতে করতে একজন অন্যজনকে পাথর দিয়ে আঘাত করে বা তাদের মুষ্টাঘাত করে এবং সেই আঘাতপ্রাপ্ত লোকটি মারা না যায় কিন্তু শয্যাশায়ী হয়, ও
EXO 21:19 সে যদি উঠে একটি ছড়ি ধরে বাইরে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করতে পারে, তবে যে আঘাত করল তাকে দায়ী করা হবে না; অবশ্য, সেই দোষী লোকটিকে সময়ের ক্ষতিপূরণস্বরূপ সেই আহত লোকটির জন্য খরচপত্র দিতে হবে এবং যতদিন না সে পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে ততদিন তার দেখাশোনা করতে হবে।
EXO 21:20 “যদি কেউ তার ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে একটি লাঠি দিয়ে মারে ও এর প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ সে যদি মারা যায় তবে অবশ্যই তাকে শাস্তি দিতে হবে,
EXO 21:21 কিন্তু যদি সেই ক্রীতদাস বা দাসী দুই একদিন পর সুস্থ হয়ে ওঠে তবে তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না, যেহেতু সেই ক্রীতদাস বা দাসী তারই সম্পত্তি।
EXO 21:22 “যদি লোকজন মারামারি করার সময় কোনও গর্ভবতী মহিলাকে আঘাত করে ও সে অকালে সন্তানের জন্ম দেয় কিন্তু বড়ো ধরনের আঘাত না পায়, তবে সেই মহিলার স্বামী যা দাবি করবে এবং আদালত যেমনটি অনুমতি দেবে সেইমতোই অবশ্য অপরাধীর জরিমানা ধার্য করতে হবে।
EXO 21:23 কিন্তু সেই মহিলাটি যদি বড়ো ধরনের আঘাত পায়, তবে তোমাদের প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ,
EXO 21:24 চোখের পরিবর্তে চোখ, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত, হাতের পরিবর্তে হাত, পায়ের পরিবর্তে পা,
EXO 21:25 দহনের পরিবর্তে দহন, ক্ষতের পরিবর্তে ক্ষত, কালশিটের পরিবর্তে কালশিটে আদায় করতে হবে।
EXO 21:26 “যে মালিক তাঁর ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীর চোখে আঘাত করে তা নষ্ট করে দেন, তাঁকে অবশ্যই সেই চোখের ক্ষতিপূরণ করার জন্য সেই ক্রীতদাস বা দাসীকে স্বাধীন করে দিতে হবে।
EXO 21:27 আর যে মালিক মেরে ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীর দাঁত উপড়ে ফেলেন, তাঁকে অবশ্যই সেই দাঁতের ক্ষতিপূরণ করার জন্য সেই ক্রীতদাস বা দাসীকে স্বাধীন করে দিতে হবে।
EXO 21:28 “একটি বলদ যদি ঢুঁ মেরে কোনও পুরুষ বা মহিলাকে মেরে ফেলে, তবে সেই বলদটিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে হবে, এবং সেটির মাংস অবশ্যই খাওয়া যাবে না। কিন্তু সেই বলদটির মালিক দোষী সাব্যস্ত হবে না।
EXO 21:29 অবশ্য যদি, সেই বলদটির ঢুঁ মারার অভ্যাস ছিল এবং সেই মালিককে সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে সেটিকে খোঁয়াড়ে বেঁধে রাখেনি ও সেটি কোনও পুরুষ বা মহিলাকে মেরে ফেলেছে, তবে সেই বলদটিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে হবে এবং সেটির মালিককেও মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:30 অবশ্য, যদি খরচপত্র দাবি করা হয়, তবে সেই মালিক দাবিমতো খরচপত্র দিয়ে তার প্রাণ মুক্ত করতে পারবে।
EXO 21:31 সেই বলদটি যদি কোনও ছেলে বা মেয়েকে ঢুঁ মারে, সেক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
EXO 21:32 সেই বলদটি যদি কোনও ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে ঢুঁ মারে, তবে সেই মালিককে অবশ্যই সেই ক্রীতদাস বা দাসীর মালিককে ত্রিশ শেকল রুপো দিতে হবে, এবং সেই বলদটিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 21:33 “যদি কেউ একটি খানাখন্দ অনাবৃত রাখে বা সেটি ঢেকে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং কোনও বলদ বা কোনও গাধা সেটির মধ্যে পড়ে যায়,
EXO 21:34 তবে যে সেই খন্দটি খুঁড়েছিল সে অবশ্যই সেই মালিককে ক্ষতিপূরণ দেবে ও পরিবর্তে মৃত পশুটি নিয়ে নেবে।
EXO 21:35 “যদি কোনও লোকের বলদ অন্য কোনও লোকের বলদকে আহত করে ও সেটি মারা যায়, তবে দুই পক্ষই জীবিত বলদটিকে বিক্রি করবে এবং সেই অর্থ ও মৃত পশুটিকে সমপরিমাণে ভাগ করে নেবে।
EXO 21:36 অবশ্য, যদি জানা ছিল যে সেই বলদটির ঢুঁ মারার অভ্যাস ছিল, অথচ মালিক সেটিকে খোঁয়াড়ে বেঁধে রাখেনি, তবে সেই মালিক অবশ্যই পশুর জন্য পশু দেবে, এবং পরিবর্তে মৃত পশুটি নিয়ে নেবে।
EXO 22:1 “যে কেউ একটি বলদ বা একটি মেষ চুরি করে সেটি জবাই করে বা বিক্রি করে দেয়, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণস্বরূপ সেই বলদটির পরিবর্তে পাঁচটি গবাদি পশু ও সেই মেষটির পরিবর্তে চারটি মেষ দিতে হবে।
EXO 22:2 “রাতের বেলায় যদি কোনও চোর চুরি করতে এসে ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আঘাত পেয়ে মারা যায়, তবে রক্ষক রক্তপাতের দোষে দোষী হবে না;
EXO 22:3 কিন্তু তা যদি সূর্যোদয়ের পর ঘটে, তবে সেই রক্ষক রক্তপাতের দোষে দোষী হবে। “যে কেউ চুরি করেছে, তাকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কিন্তু তার কাছে যদি কিছুই না থাকে, তবে চৌর্যবৃত্তির ক্ষতিপূরণের জন্য তাকে অবশ্যই বিক্রীত হতে হবে।
EXO 22:4 চুরি যাওয়া পশুটিকে যদি তার সম্পত্তির মধ্যে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়—তা সে বলদ বা গাধা বা মেষ যাই হোক না কেন—তাকে অবশ্যই দ্বিগুণ অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে।
EXO 22:5 “কেউ যদি তার গৃহপালিত পশুপাল জমিতে বা দ্রাক্ষাক্ষেতে চরাতে নিয়ে যায় ও সেগুলি পথভ্রষ্ট হয়ে অন্য একজনের জমিতে চরতে চলে যায়, তবে সেই অপরাধীকে অবশ্যই তার নিজস্ব জমি বা দ্রাক্ষাক্ষেতের সেরা ফলন দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে হবে।
EXO 22:6 “যদি আগুন লেগে তা কাঁটাঝোপে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে তা কাঁচা বা পাকা শস্য অথবা সমগ্র ক্ষেতজমি পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়, তবে যে প্রথমে সেই আগুন লাগিয়েছিল, তাকেই ক্ষতিপূরণ করতে হবে।
EXO 22:7 “কেউ যদি তার প্রতিবেশীর কাছে রুপো বা সোনা গচ্ছিত রাখে এবং সেগুলি সেই প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়, এবং চোর যদি ধরা পড়ে যায়, তবে তাকে অবশ্যই দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
EXO 22:8 কিন্তু সেই চোরকে যদি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে সেই বাড়ির মালিককে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হবে, এবং তাঁদেরই স্থির করতে হবে সেই বাড়ির মালিক সেই অন্যজনের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে, কি না।
EXO 22:9 বলদ, গাধা, মেষ, পোশাকের, বা অন্য যে কোনো হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তির বিষয়ে যদি কেউ বলে, ‘এটি আমার,’ সেগুলির অবৈধ দখলদারির সব ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই তাদের মামলাগুলি বিচারকদের সামনে আনতে হবে। যাকে বিচারকেরা দোষী সাব্যস্ত করবেন, সেই অন্যজনকে দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দেবে।
EXO 22:10 “যদি কেউ তার প্রতিবেশীর কাছে গাধা, বলদ, মেষ বা অন্য কোনো পশু গচ্ছিত রাখে এবং সেটি মারা যায় বা আহত হয় বা মানুষের অগোচরে চুরি হয়ে যায়,
EXO 22:11 তবে তাদের মধ্যে উৎপন্ন সমস্যাটির সমাধান হবে সদাপ্রভুর সামনে এই শপথ নেওয়ার মাধ্যমে, যে সেই প্রতিবেশী অন্যজনের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেনি। মালিককে তা মেনে নিতে হবে, এবং কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
EXO 22:12 কিন্তু সেই পশুটি যদি সেই প্রতিবেশীর কাছ থেকে চুরি গিয়েছে, তবে তাকে মালিকের ক্ষতিপূরণ করতে হবে।
EXO 22:13 সেটি যদি কোনও বন্যপশু দ্বারা বিদীর্ণ হয়েছে, তবে সেই প্রতিবেশী প্রমাণস্বরূপ সেটির দেহাবশেষ আনবে এবং সেই বিদীর্ণ পশুটির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
EXO 22:14 “যদি কেউ তার প্রতিবেশীর কাছ থেকে কোনও পশু ধার নেয় এবং মালিকের অনুপস্থিতিতে সেটি আহত হয় বা মারা যায়, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
EXO 22:15 কিন্তু মালিক যদি পশুটির সাথে থাকে, তবে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। সেই পশুটি যদি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, তবে ভাড়াবাবদ দেওয়া অর্থেই ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে।
EXO 22:16 “যদি কোনও লোক, যার বাগদান হয়নি এমন এক কুমারীর সতীত্ব হরণ করে ও তার সাথে শোয়, তবে সে অবশ্যই কন্যাপণ দেবে এবং সেই কুমারী তার স্ত্রী হয়ে যাবে।
EXO 22:17 সেই কুমারীর বাবা যদি তাকে তার হাতে তুলে দিতে নিছক অস্বীকার করে, তা হলেও, তাকে কুমারীদের জন্য ধার্য কন্যাপণ দিতেই হবে।
EXO 22:18 “কোনও ডাকিনীকে বেঁচে থাকতে দিয়ো না।
EXO 22:19 “যে কেউ পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 22:20 “যে কেউ সদাপ্রভু ছাড়া অন্য কোনো দেবতার কাছে বলি উৎসর্গ করে তাকে অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
EXO 22:21 “কোনও বিদেশির প্রতি মন্দ ব্যবহার বা জুলুম কোরো না, কারণ তোমরা মিশরে বিদেশিই ছিলে।
EXO 22:22 “বিধবা বা অনাথদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ো না।
EXO 22:23 তোমরা যদি তা করো ও তারা আমার কাছে কেঁদে ওঠে, তবে আমি নিঃসন্দেহে তাদের কান্না শুনব।
EXO 22:24 আমার ক্রোধ জাগ্রত হবে, এবং আমি তরোয়াল দিয়ে তোমাদের হত্যা করব; তোমাদের স্ত্রীরা বিধবা হয়ে যাবে ও তোমাদের সন্তানেরা পিতৃহীন হবে।
EXO 22:25 “তুমি যদি তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী আমার প্রজাদের মধ্যে অভাবগ্রস্ত কাউকে অর্থ ধার দাও, তবে তা এক ব্যবসায়িক চুক্তিরূপে গণ্য কোরো না; সুদ ধার্য কোরো না।
EXO 22:26 তোমার প্রতিবেশীর আলখাল্লাটি যদি তুমি বন্ধকরূপে নিয়েছ, তবে সূর্যাস্তের আগেই তা ফিরিয়ে দিয়ো,
EXO 22:27 কারণ সেই আলখাল্লাটিই তোমার প্রতিবেশীর কাছে থাকা একমাত্র আচ্ছাদন। তারা আর কীসে শোবে? তারা যখন আমার কাছে কেঁদে উঠবে, আমি তা শুনব; কারণ আমি করুণাময়।
EXO 22:28 “ঈশ্বরনিন্দা কোরো না বা তোমাদের লোকজনের শাসককে অভিশাপ দিয়ো না।
EXO 22:29 “তোমার শস্যাগারে বা তোমাদের ভাঁটিতে অর্ঘ্য আটকে রেখো না। “তোমার ছেলেদের মধ্যে প্রথমজাতকে আমার হাতে অবশ্যই তুলে দিতে হবে।
EXO 22:30 তোমার গবাদি পশুপালের ও তোমার মেষের ক্ষেত্রেও তুমি তাই কোরো। মায়েদের সাথে সেগুলি সাত দিন থাকুক, কিন্তু অষ্টম দিনে তুমি সেগুলি আমাকে দিয়ো।
EXO 22:31 “তোমাদের আমার পবিত্র প্রজা হতে হবে। অতএব বুনো পশুদের দ্বারা বিদীর্ণ কোনও পশুর মাংস খেয়ো না; কুকুরদের কাছে তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ো।
EXO 23:1 “মিথ্যা গুজব ছড়িয়ো না। এক বিদ্বেষপরায়ণ সাক্ষী হওয়ার দ্বারা কোনও দোষী লোককে সাহায্য কোরো না।
EXO 23:2 “অন্যায় করার ক্ষেত্রে জনসাধারণের অনুগামী হোয়ো না। কোনো মামলায় তুমি যখন সাক্ষ্য দাও, তখন জনসাধারণের পক্ষ নিয়ে ন্যায়বিচার বিকৃত কোরো না,
EXO 23:3 এবং কোনো মামলায় কোনও দরিদ্র লোকের প্রতি পক্ষপাতিত্ব কোরো না।
EXO 23:4 “তোমার শত্রুর বলদ অথবা গাধাকে যদি তুমি পথভ্রষ্ট হয়ে চরতে দেখো, তবে নিঃসন্দেহে সেটি ফিরিয়ে দেবে।
EXO 23:5 যে তোমাকে ঘৃণা করে, এমন কোনও লোকের গাধাকে যদি তুমি সেটির ভারের তলায় চাপা পড়তে দেখো, তবে সেটিকে সেখানে পড়ে থাকতে দিয়ো না; তুমি নিঃসন্দেহে সেটিকে ভারমুক্ত হতে সাহায্য করবে।
EXO 23:6 “তোমাদের মধ্যবর্তী দরিদ্র লোকজনের মামলায় তাদের প্রতি যেন ন্যায়বিচার অস্বীকার করা না হয়।
EXO 23:7 মিথ্যা দোষারোপ করা থেকে দূরে সরে থেকো এবং কোনও নির্দোষ বা সৎলোককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ো না, কারণ আমি সেই দোষীকে বেকসুর খালাস হতে দেব না।
EXO 23:8 “ঘুস নিয়ো না, কারণ যাদের দৃষ্টিশক্তি আছে, ঘুস তাদের অন্ধ করে তোলে এবং নির্দোষ লোকদের কথা পরিবর্তন করে।
EXO 23:9 “কোনও বিদেশির উপর জোরজুলুম কোরো না; তোমরা নিজেরাই জানো বিদেশি হয়ে থাকতে কেমন লাগে, কারণ তোমরাও মিশরে বিদেশিই হয়ে ছিলে।
EXO 23:10 “ছয় বছর ধরে তুমি তোমার জমিতে বীজ বুনবে এবং শস্য কাটবে,
EXO 23:11 কিন্তু সপ্তম বছরে সেই জমিটি অকর্ষিত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেবে। তখন তোমাদের লোকজনের মধ্যবর্তী দরিদ্র লোকেরা সেখান থেকে হয়তো খাদ্যশস্য পাবে, এবং যা অবশিষ্ট থেকে যাবে তা হয়তো বন্যপশুরা খেতে পারবে। তোমার দ্রাক্ষাক্ষেতের ও জলপাই বাগানের ক্ষেত্রেও তুমি তাই কোরো।
EXO 23:12 “ছয় দিন তুমি কাজ কোরো, কিন্তু সপ্তম দিন কাজ কোরো না; যেন তোমার বলদ ও গাধা বিশ্রাম নিতে পারে, এবং তোমার পরিবারে জন্মানো ক্রীতদাস ও তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশি যেন চাঙ্গা থাকতে পারে।
EXO 23:13 “আমি তোমাকে যা যা বলেছি সেসবকিছু করার ক্ষেত্রে সাবধান থেকো। অন্যান্য দেবতাদের নাম ধরে ডেকো না; তোমার মুখে যেন তাদের কথা শোনাও না যায়।
EXO 23:14 “বছরে তিনবার তোমাকে আমার উদ্দেশে উৎসব পালন করতে হবে।
EXO 23:15 “খামিরবিহীন রুটির উৎসব উদ্‌যাপন কোরো; সাত দিন ধরে খামিরবিহীন রুটি খেয়ো, যেমনটি আমি তোমাকে আদেশ দিয়েছি। আবীব মাসের নির্দিষ্ট সময়ে এরকমটি কোরো, কারণ সেই মাসেই তোমরা মিশর থেকে বেরিয়ে এসেছিলে। “কেউ যেন খালি হাতে আমার সামনে এসে না দাঁড়ায়।
EXO 23:16 “তোমার জমিতে বোনা ফসলের প্রথম ফল দিয়ে শস্যচ্ছেদনের উৎসব উদ্‌যাপন কোরো। “বছর-শেষে, জমি থেকে যখন তুমি তোমার শস্য সংগ্রহ করবে, তখন শস্য সংগ্রহের উৎসব উদ্‌যাপন কোরো।
EXO 23:17 “বছরে তিনবার সব পুরুষকে সার্বভৌম সদাপ্রভুর সামনে এসে দাঁড়াতে হবে।
EXO 23:18 “খামিরযুক্ত কোনো কিছু সমেত আমার উদ্দেশে বলির রক্ত উৎসর্গ কোরো না। “আমার উৎসব-বলির মেদ যেন সকাল পর্যন্ত রেখে দেওয়া না হয়।
EXO 23:19 “তোমার জমির সেরা প্রথম ফলটি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে নিয়ে এসো। “ছাগ-শিশুকে তার মায়ের দুধে রান্না কোরো না।
EXO 23:20 “দেখো, পথে তোমাকে রক্ষা করার জন্য ও যে স্থানটি আমি তৈরি করে রেখেছি, সেখানে তোমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি তোমার আগে আগে এক দূত পাঠাচ্ছি।
EXO 23:21 তাঁর কথায় মনোযোগ দিয়ো এবং তিনি যা কিছু বলেন তা শুনো। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কোরো না; তিনি তোমার বিদ্রোহ ক্ষমা করবেন না, যেহেতু তাঁর মধ্যে আমার নাম আছে।
EXO 23:22 তিনি যা বলেন তা যদি তুমি সযত্নে শোনো এবং আমি যা কিছু বলি সেসব করো, তবে আমি তোমার শত্রুদের শত্রু হব ও যারা তোমার বিরোধিতা করে তাদের বিরোধিতা করব।
EXO 23:23 আমার দূত তোমার আগে আগে যাবেন এবং ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, কনানীয়, হিব্বীয়, ও যিবূষীয়দের দেশে তোমাকে নিয়ে আসবেন, এবং আমি তাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলব।
EXO 23:24 তাদের দেবতাদের সামনে মাথা নত কোরো না বা তাদের আরাধনা কোরো না অথবা তাদের রীতিনীতি পালন কোরো না। তোমরা অবশ্যই তাদের ধ্বংস করবে এবং তাদের পুণ্য পাথরগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবে।
EXO 23:25 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা কোরো, এবং তাঁর আশীর্বাদ তোমার খাদ্যে ও জলে বজায় থাকবে। তোমার মধ্যে থেকে আমি সব রোগব্যাধি দূর করে দেব,
EXO 23:26 এবং তোমার দেশে কারোর গর্ভপাত হবে না বা কেউ বন্ধ্যা থাকবে না। আমি তোমার আয়ুর পরিমাণ পূর্ণ করব।
EXO 23:27 “তোমার আগে আগে আমি আমার আতঙ্ক পাঠিয়ে দেব এবং যেসব জাতি তোমার সম্মুখীন হবে, তাদের প্রত্যেককে আমি বিশৃঙ্খল করে তুলব। তোমার সব শত্রুকে আমি পিছু ফিরে পালাতে বাধ্য করব।
EXO 23:28 তোমার সামনে থেকে হিব্বীয়, কনানীয় ও হিত্তীয়দের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমি তোমার আগে আগে ভিমরুল পাঠিয়ে দেব।
EXO 23:29 কিন্তু এক বছরের মধ্যেই আমি তাদের তাড়িয়ে দেব না, কারণ দেশটি জনশূন্য হয়ে যাবে এবং বন্যপশুরা তোমার পক্ষে অত্যধিক বহুসংখ্যক হয়ে যাবে।
EXO 23:30 তোমার সামনে থেকে আমি তাদের একটু একটু করে তাড়িয়ে দেব, যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি সংখ্যায় যথেষ্ট পরিমাণে বেড়ে দেশের দখল নিতে পারছ।
EXO 23:31 “লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত, এবং মরুভূমি থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত আমি তোমার সীমানা স্থাপন করব। যারা সেই দেশে বসবাস করে তাদের আমি তোমার হাতে তুলে দেব, এবং তোমার সামনে থেকে তুমি তাদের তাড়িয়ে দেবে।
EXO 23:32 তাদের সঙ্গে বা তাদের দেবতাদের সঙ্গে কোনও নিয়ম স্থির কোরো না।
EXO 23:33 তোমার দেশে তাদের বসবাস করতে দিয়ো না, তা না হলে আমার বিরুদ্ধে তারা তোমাকে দিয়ে পাপ করাবে, কারণ তাদের দেবতাদের আরাধনা নিঃসন্দেহে তোমার পক্ষে এক ফাঁদ হয়ে উঠবে।”
EXO 24:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি ও হারোণ, নাদব, ও অবীহূ, এবং ইস্রায়েলের সত্তরজন প্রাচীন, তোমরা সদাপ্রভুর কাছে উঠে এসো। তোমরা একটু দূরে থেকেই আরাধনা করবে,
EXO 24:2 কিন্তু মোশি একাই সদাপ্রভুর কাছে আসবে; অন্যেরা কাছাকাছি আসবে না। আর লোকেরাও যেন তার সঙ্গে উপরে উঠে না আসে।”
EXO 24:3 মোশি যখন লোকদের কাছে গিয়ে সদাপ্রভুর সব কথা ও বিধি তাদের বলে শোনালেন, তখন তারা একস্বরে উত্তর দিল, “সদাপ্রভু যা যা বলেছেন, আমরা সেসবকিছু করব।”
EXO 24:4 মোশি তখন সদাপ্রভু যা যা বলেছিলেন সেসবকিছু লিখে রাখলেন। পরদিন ভোরবেলায় মোশি ঘুম থেকে উঠলেন ও সেই পর্বতের পাদদেশে এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন এবং ইস্রায়েলের বারো গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক পাথরের বারোটি স্তম্ভ খাড়া করলেন।
EXO 24:5 পরে তিনি ইস্রায়েলী যুবকদের পাঠালেন, এবং তারা হোমবলি উৎসর্গ করল ও মঙ্গলার্থক বলিরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এঁড়ে বাছুরগুলি উৎসর্গ করল।
EXO 24:6 মোশি অর্ধেক পরিমাণ রক্ত নিয়ে তা গামলাগুলিতে রাখলেন, এবং বাকি অর্ধেকটি তিনি যজ্ঞবেদির উপর ছিটিয়ে দিলেন।
EXO 24:7 পরে তিনি নিয়মের সেই গ্রন্থটি নিলেন এবং লোকদের কাছে তা পড়ে শোনালেন। তারা উত্তর দিল, “সদাপ্রভু যা যা বলেছেন আমরা সেসবকিছু করব; আমরা বাধ্য হব।”
EXO 24:8 মোশি তখন সেই রক্ত নিলেন, লোকদের উপর তা ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন, “এ হল সেই নিয়মের রক্ত, যে নিয়মটি সদাপ্রভু এসব কথার আধারে তোমাদের সঙ্গে স্থির করেছেন।”
EXO 24:9 মোশি ও হারোণ, নাদব ও অবীহূ এবং ইস্রায়েলের সেই সত্তরজন প্রাচীন উপরে উঠে গেলেন
EXO 24:10 এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বরের দর্শন পেলেন। তাঁর পায়ের তলায় আকাশের মতো উজ্জ্বল নীল রংয়ের নীলকান্তমণি দিয়ে তৈরি শান-বাঁধান মেঝের মতো কিছু একটা ছিল।
EXO 24:11 কিন্তু ঈশ্বর ইস্রায়েলীদের এইসব নেতার বিরুদ্ধে তাঁর হাত ওঠাননি; তাঁরা ঈশ্বরের দর্শন পেলেন, এবং তাঁরা ভোজনপান করলেন।
EXO 24:12 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “পর্বতে আমার কাছে উঠে এসো ও এখানে থাকো, এবং আমি তোমাকে সেই পাথরের ফলকগুলি দেব, যেগুলিতে আমি তাদের নির্দেশদানের উদ্দেশে বিধি ও আদেশগুলি লিখে রেখেছি।”
EXO 24:13 তখন মোশি তাঁর সহায়ক যিহোশূয়কে সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন, এবং মোশি ঈশ্বরের পর্বতে উঠে গেলেন।
EXO 24:14 তিনি প্রাচীনদের বললেন, “যতক্ষণ না আমরা তোমাদের কাছে ফিরে আসছি, ততক্ষণ এখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করো। হারোণ ও হূর তোমাদের সঙ্গে আছেন, এবং যে কেউ কোনও বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, সে তাদের কাছে যেতে পারে।”
EXO 24:15 মোশি যখন পর্বতের উপরে চলে গেলেন, তখন তা মেঘে ঢেকে গেল,
EXO 24:16 এবং সদাপ্রভুর গৌরব সীনয় পর্বতের উপর বসতি স্থাপন করল। ছয় দিন পর্বত মেঘে ঢাকা পড়ে গেল, এবং সপ্তম দিনে সদাপ্রভু মেঘের মধ্যে থেকে মোশিকে ডাক দিলেন।
EXO 24:17 ইস্রায়েলীদের কাছে সদাপ্রভুর গৌরব পর্বতচূড়ায় অবস্থিত গ্রাসকারী এক আগুনের মতো দেখাচ্ছিল।
EXO 24:18 পরে মোশি পর্বতে চড়তে চড়তে সেই মেঘে প্রবেশ করলেন। আর সেই পর্বতের উপর তিনি চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত থেকে গেলেন।
EXO 25:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 25:2 “ইস্রায়েলীদের আমার কাছে এক নৈবেদ্য আনতে বলো। আমার জন্য তোমাকে সেই প্রত্যেকজনের কাছ থেকে নৈবেদ্য গ্রহণ করতে হবে যারা আন্তরিকভাবে দান দিতে ইচ্ছুক।
EXO 25:3 “এই নৈবেদ্যগুলি তোমাকে তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে: “সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ;
EXO 25:4 নীল, বেগুনি, ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি মসিনা; ছাগলের লোম;
EXO 25:5 লাল রং করা মেষের ছাল এবং অন্য এক ধরনের টেকসই চামড়া; বাবলা কাঠ;
EXO 25:6 আলোর জন্য জলপাই তেল; অভিষেক করার উপযোগী তেলের জন্য ও সুগন্ধি ধূপের জন্য মশলাপাতি;
EXO 25:7 এবং এফোদ ও বুকপাটার উপরে বসানোর জন্য স্ফটিকমণি ও অন্যান্য মণিরত্ন।
EXO 25:8 “পরে আমার জন্য এক পবিত্রস্থান তৈরি করতে তাদের দিয়ো, এবং আমি তাদের মধ্যে বসবাস করব।
EXO 25:9 আমি তোমাদের যে নমুনাটি দেখিয়ে দেব ঠিক সেই অনুসারেই এই সমাগম তাঁবু ও সেটির সব আসবাবপত্র তৈরি কোরো।
EXO 25:10 “প্রায় 1.1 মিটার লম্বা এবং 68 সেন্টিমিটার করে চওড়া ও উঁচু বাবলা কাঠের একটি সিন্দুক তাদের তৈরি করতে দিয়ো।
EXO 25:11 ভিতরে ও বাইরে, দুই দিকেই এটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো, এবং এটির চারপাশে সোনার এক ছাঁচ তৈরি কোরো।
EXO 25:12 এটির জন্য সোনার চারটি কড়া ঢালাই কোরো এবং সেগুলি এটির চারটি পায়াতে আটকে দিয়ো, দুটি কড়া একদিকে ও দুটি কড়া অন্যদিকে।
EXO 25:13 পরে বাবলা কাঠের খুঁটিগুলি তৈরি কোরো এবং সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো।
EXO 25:14 সিন্দুকটি বহন করার জন্য সেটির দুই পাশে থাকা কড়াগুলিতে সেই খুঁটিগুলি ঢুকিয়ে দিয়ো।
EXO 25:15 এই সিন্দুকের কড়ার মধ্যে যেন সেই খুঁটিগুলি থাকে; সেগুলি সরানো যাবে না।
EXO 25:16 পরে সেই সিন্দুকটিতে বিধিনিয়মের সেই ফলকগুলি রেখো, যেগুলি আমি তোমাদের দেব।
EXO 25:17 “খাঁটি সোনা দিয়ে প্রায় 1.1 মিটার লম্বা এবং 68 সেন্টিমিটার চওড়া একটি প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদন তৈরি কোরো।
EXO 25:18 আর সেই আচ্ছাদনের শেষ প্রান্তের দিকে পিটানো সোনা দিয়ে দুটি করূব তৈরি কোরো।
EXO 25:19 একটি করূব এক প্রান্তে এবং দ্বিতীয়টি অন্য প্রান্তে তৈরি কোরো; দুই প্রান্তেই আবরণসহ একটি করে করূব তৈরি কোরো।
EXO 25:20 করূবেরা তাদের ডানা উপর দিকে ছড়িয়ে রেখে, সেই আবরণটির উপরে নিজেদের দেহ দিয়ে ছায়া ফেলবে। করূবেরা পরস্পরের দিকে মুখ করে, সেই আবরণের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
EXO 25:21 আবরণটি সিন্দুকের চূড়ায় রাখবে এবং সিন্দুকে সেই বিধিনিয়মের ফলকগুলি রাখবে, যেগুলি আমি তোমাদের দেব।
EXO 25:22 সেখানে, সেই দুই করূবের মাঝখানে বিধিনিয়মের সিন্দুকের উপরে রাখা সেই আবরণের উপরেই আমি তোমার সঙ্গে দেখা করব ও ইস্রায়েলীদের জন্য তোমাকে আমার সমস্ত আজ্ঞা দেব।
EXO 25:23 “বাবলা কাঠ দিয়ে প্রায় 90 সেন্টিমিটার লম্বা, 45 সেন্টিমিটার চওড়া ও 68 সেন্টিমিটার উঁচু একটি টেবিল তৈরি কোরো।
EXO 25:24 খাঁটি সোনা দিয়ে সেটি মুড়ে দিয়ো এবং সেটির চারপাশে সোনার এক ছাঁচ তৈরি কোরো।
EXO 25:25 এছাড়াও সেটির চারপাশে প্রায় 7.5 সেন্টিমিটার চওড়া চক্রবেড় তৈরি করে সেই চক্রবেড়ের উপর সোনার এক ছাঁচ রেখো।
EXO 25:26 টেবিলের জন্য সোনার চারটি কড়া তৈরি কোরো ও যেখানে সেই চারটি পায়া আছে, সেই চার প্রান্তে সেগুলি বেঁধে দিয়ো।
EXO 25:27 কড়াগুলি যেন সেই চক্রবেড়গুলির কাছাকাছি থাকে ও সেই টেবিলটি বহন করার উপযোগী খুঁটিগুলি যেন সেগুলি ধরে রাখতে পারে।
EXO 25:28 বাবলা কাঠ দিয়ে খুঁটিগুলি তৈরি কোরো, সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো এবং সেগুলির সাথে সাথে টেবিলটিও বহন কোরো।
EXO 25:29 আর খাঁটি সোনা দিয়ে এটির থালা ও বাসন, এছাড়াও নৈবেদ্য ঢেলে দেওয়ার জন্য এটির কলশি ও গামলাও তৈরি কোরো।
EXO 25:30 সবসময় আমার সামনে রাখার জন্য এই টেবিলে দর্শন-রুটি সাজিয়ে রেখো।
EXO 25:31 “খাঁটি সোনার এক দীপাধার তৈরি কোরো। এটির ভিত ও দণ্ড পিটিয়ে নিতে হবে, এবং সেগুলির সাথে সাথে এতে একই টুকরো দিয়ে ফুলের মতো দেখতে পানপাত্র, কুঁড়ি ও মুকুলগুলিও তৈরি কোরো।
EXO 25:32 সেই দীপাধারের পাশ থেকে ছয়টি শাখা বেরিয়ে আসবে—একদিকে তিনটি এবং অন্যদিকে তিনটি।
EXO 25:33 একটি শাখায় কুঁড়ি ও মুকুল সহ কাগজি বাদামের আকৃতিবিশিষ্ট তিনটি পানপাত্র থাকবে, পরবর্তী শাখাতে তিনটি, এবং সেই দীপাধার থেকে বেরিয়ে আসা ছয়টি শাখার সবকটিতে একইরকম হবে।
EXO 25:34 আর সেই দীপাধারে কুঁড়ি ও মুকুল সহ কাগজি বাদামফুলের মতো আকৃতিবিশিষ্ট চারটি পানপাত্র থাকবে।
EXO 25:35 সেই দীপাধার থেকে বেরিয়ে আসা মোট ছয়টি শাখার মধ্যে প্রথম জোড়া শাখার নিচে একটি কুঁড়ি থাকবে, দ্বিতীয় জোড়া শাখার নিচে দ্বিতীয় একটি কুঁড়ি থাকবে, এবং তৃতীয় জোড়ার নিচে তৃতীয় একটি কুঁড়ি থাকবে।
EXO 25:36 সেই দীপাধারের সাথে একই টুকরো দিয়ে সেই কুঁড়ি ও শাখাগুলিও পিটানো খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করতে হবে।
EXO 25:37 “পরে এর সাতটি প্রদীপ তৈরি কোরো ও সেগুলি সেটির উপর এমনভাবে সাজিয়ে রেখো যেন সেগুলি সেটির সামনের দিকের প্রাঙ্গণে আলো ফেলে।
EXO 25:38 এর পলতে ছাঁটার যন্ত্র ও বারকোশগুলিও খাঁটি সোনার হবে।
EXO 25:39 দীপাধার ও এইসব আনুষঙ্গিক উপকরণের জন্য এক তালন্ত খাঁটি সোনা ব্যবহার করতে হবে।
EXO 25:40 দেখো, পর্বতের উপরে তোমাকে যে নকশা দেখানো হয়েছিল, সেই অনুযায়ী সবকিছু নির্মাণ কোরো।
EXO 26:1 “একজন দক্ষ কারিগরকে দিয়ে মিহি পাকান মসিনা ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতোয় তৈরি দশটি পর্দায় করূবদের নকশা ফুটিয়ে তুলে সমাগম তাঁবুটি তৈরি কোরো।
EXO 26:2 সব পর্দা একই মাপের—13 মিটার লম্বা ও 1.8 মিটার চওড়া হবে।
EXO 26:3 পাঁচটি পর্দা একসঙ্গে জুড়ে দিয়ো, এবং অন্য পাঁচটির ক্ষেত্রেও একই কাজ কোরো।
EXO 26:4 এক পাটি পর্দায় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত কিনারা ধরে ধরে নীল কাপড়ের ফাঁস তৈরি কোরো, এবং অন্য পাটি পর্দাতেও এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত একই কাজ কোরো।
EXO 26:5 একটি পর্দায় পঞ্চাশটি ফাঁস তৈরি কোরো এবং অন্য পাটি পর্দাতেও কিনারা ধরে ধরে পঞ্চাশটি ফাঁস তৈরি কোরো, যেন ফাঁসগুলি পরস্পরের বিপরীত দিকে থাকে।
EXO 26:6 পরে সোনার পঞ্চাশটি আঁকড়া তৈরি কোরো এবং পর্দাগুলি একসঙ্গে সংলগ্ন করে রাখার জন্য সেগুলি ব্যবহার কোরো, যেন এক এককরূপে সমাগম তাঁবুটি অক্ষুণ্ণ থাকে।
EXO 26:7 “সমাগম তাঁবুটি ঢেকে রাখার জন্য ছাগ-লোমের পর্দা তৈরি কোরো—মোট এগারোটি।
EXO 26:8 এগারোটি পর্দার সবগুলিই একই মাপের হবে—13.5 মিটার লম্বা ও 1.8 মিটার চওড়া।
EXO 26:9 পাঁচটি পর্দা একসঙ্গে এক পাটিতে জুড়ে দিয়ো, এবং অন্য ছয়টি অন্য পাটিতে জুড়ে দিয়ো। ষষ্ঠ পর্দাটি দুই ভাঁজ করে তাঁবুর সামনের দিকে রেখে দিয়ো।
EXO 26:10 এক পাটি পর্দায় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত কিনারা ধরে ধরে পঞ্চাশটি ফাঁস তৈরি কোরো এবং অন্য পাটি পর্দাতেও এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত তা কোরো।
EXO 26:11 পরে ব্রোঞ্জের পঞ্চাশটি আঁকড়া তৈরি কোরো এবং এক এককরূপে একসঙ্গে তাঁবুটি বেঁধে রাখার জন্য সেগুলি ফাঁসগুলির মধ্যে আটকে দিয়ো।
EXO 26:12 তাঁবুর পর্দাগুলির বাড়তি দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে, যে অর্ধেক পর্দাটি বাড়তি থেকে যাবে, সেটি সমাগম তাঁবুর পিছন দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে।
EXO 26:13 তাঁবুর পর্দাগুলি দুই দিকেই 45 সেন্টিমিটার করে বেশি লম্বা হবে; যেটুকু বাড়তি থাকবে তা সমাগম তাঁবুটি ঢেকে রাখার জন্য তাঁবুর এপাশে ওপাশে ঝুলতে থাকবে।
EXO 26:14 তাঁবু ঢেকে রাখার জন্য মেষের চামড়া লাল রং করে, তা দিয়ে একটি আচ্ছাদন তৈরি কোরো, এবং সেটির উপর অন্য এক টেকসই চামড়া দিয়ে আরও একটি আচ্ছাদন তৈরি কোরো।
EXO 26:15 “সমাগম তাঁবুর জন্য বাবলা কাঠ দিয়ে খাড়া কাঠামো তৈরি কোরো।
EXO 26:16 প্রত্যেকটি কাঠামো 4.5 মিটার করে লম্বা ও 68 সেন্টিমিটার করে চওড়া হবে,
EXO 26:17 এবং কাঠামোর বেরিয়ে থাকা অংশ দুটি পরস্পরের সমান্তরাল করে বসাতে হবে। এভাবেই সমাগম তাঁবুর সব কাঠামো তৈরি কোরো।
EXO 26:18 সমাগম তাঁবুর দক্ষিণ দিকের জন্য কুড়িটি কাঠামো তৈরি কোরো
EXO 26:19 এবং সেগুলির তলায় লাগানোর জন্য রুপোর চল্লিশটি ভিত তৈরি কোরো—প্রত্যেকটি কাঠামোর জন্য দুটি করে ভিত, এক-একটি অভিক্ষেপের তলায় একটি করে।
EXO 26:20 অন্য দিকের জন্য, সমাগম তাঁবুর উত্তর দিকের জন্য, কুড়িটি কাঠামো
EXO 26:21 এবং প্রত্যেকটি কাঠামোর তলায় দুটি করে ভিত লাগানোর জন্য চল্লিশটি রুপোর ভিত তৈরি কোরো।
EXO 26:22 দূরবর্তী প্রান্তের জন্য, অর্থাৎ, সমাগম তাঁবুর পশ্চিম প্রান্তের জন্য ছয়টি কাঠামো তৈরি কোরো,
EXO 26:23 এবং দূরবর্তী প্রান্তে কোণার জন্য দুটি কাঠামো তৈরি কোরো।
EXO 26:24 এই দুটি কোনায় সেগুলি যেন অবশ্যই নিচ থেকে একদম চূড়া পর্যন্ত দ্বিগুণ মাপের হয় এবং একটিই বলয়ে লাগানো থাকে; দুটিই একইরকম হবে।
EXO 26:25 অতএব সেখানে আটটি কাঠামো ও প্রত্যেকটি কাঠামোর তলায় দুটি করে—মোট ষোলোটি রুপোর ভিত থাকবে।
EXO 26:26 “এছাড়াও বাবলা কাঠ দিয়ে অর্গল তৈরি কোরো: সমাগম তাঁবুর একদিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি,
EXO 26:27 অন্য দিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি, এবং সমাগম তাঁবুর শেষ প্রান্তে, পশ্চিমদিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি।
EXO 26:28 মাঝখানের অর্গলটি কাঠামোগুলির মাঝখানে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
EXO 26:29 কাঠামোগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো এবং অর্গলগুলি ধরে রাখার জন্য সোনার আংটা তৈরি কোরো। আর অর্গলগুলিও সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো।
EXO 26:30 “পর্বতের উপরে তোমার কাছে যেমনটি প্রদর্শিত হল, ঠিক সেই পরিকল্পনা অনুসারেই সমাগম তাঁবুটি প্রতিষ্ঠিত কোরো।
EXO 26:31 “নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো ও মিহি পাকান মসিনা দিয়ে একটি পর্দা তৈরি কোরো, এবং দক্ষ কারিগর দিয়ে তাতে করূবদের নকশা ফুটিয়ে তোলো।
EXO 26:32 সোনা দিয়ে মোড়া এবং রুপোর চারটি ভিতের উপর দাঁড়ান বাবলা কাঠের চারটি খুঁটির উপরে এটি সোনার আঁকড়া দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ো।
EXO 26:33 পর্দাটি আঁকড়া থেকে নিচে ঝুলিয়ে দিয়ো এবং বিধিনিয়মের সিন্দুকটি পর্দার পিছন দিকে রেখে দিয়ো। পর্দাটিই পবিত্র স্থানটিকে মহাপবিত্র স্থান থেকে পৃথক করবে।
EXO 26:34 মহাপবিত্র স্থানে, বিধিনিয়মের সিন্দুকটির উপরে প্রায়শ্চিত্ত-আবরণটি রেখে দিয়ো।
EXO 26:35 সমাগম তাঁবুর উত্তর দিকে পর্দার বাইরে টেবিলটি রেখে দিয়ো এবং সেটির বিপরীতে দক্ষিণ দিকে দীপাধারটি রেখে দিয়ো।
EXO 26:36 “তাঁবুর প্রবেশদ্বারের জন্য নীল, বেগুনি, টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে একটি পর্দা তৈরি কোরো—যা হবে একজন সূচিশিল্পীর হস্তকলা।
EXO 26:37 এই পর্দাটির জন্য সোনার আঁকড়া এবং সোনায় মোড়া বাবলা কাঠের পাঁচটি খুঁটিও তৈরি কোরো। আর এগুলির জন্য ব্রোঞ্জের পাঁচটি ভিত ঢালাই করে দিয়ো।
EXO 27:1 “বাবলা কাঠ দিয়ে 1.4 মিটার উঁচু একটি বেদি নির্মাণ কোরো; এটি যেন 2.3 মিটার লম্বা ও 2.3 মিটার চওড়া বর্গাকার হয়।
EXO 27:2 চার কোণার প্রত্যেকটিতে একটি করে, চারটি শিং তৈরি কোরো, যেন সেই শিংগুলি বেদির সাথে অখণ্ড হয়, এবং বেদিটি ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়ে দিয়ো।
EXO 27:3 এটির সব বাসনপত্র—ছাই ফেলার হাঁড়ি, ও বেলচা, ছিটানোর গামলা, মাংস তোলার কাঁটাচামচ এবং আগুনে সেঁকার চাটু, সবই ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি কোরো।
EXO 27:4 এটির জন্য একটি জাফরি, ব্রোঞ্জের পরস্পরছেদী একটি জাল তৈরি কোরো, এবং সেই জালের চার কোণার প্রত্যেকটিতে একটি করে ব্রোঞ্জের আংটা তৈরি কোরো।
EXO 27:5 এটি বেদির তাকের নিচে রেখে দিয়ো যেন এটি বেদির অর্ধেক উচ্চতায় অবস্থিত থাকে।
EXO 27:6 বেদির জন্য বাবলা কাঠের খুঁটি তৈরি কোরো এবং সেগুলি ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়ে দিয়ো।
EXO 27:7 খুঁটিগুলিকে আংটাগুলির মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে দিতে হবে যেন বেদিটি বহন করার সময় সেগুলি বেদির দুই পাশে থাকে।
EXO 27:8 তক্তা দিয়ে, বেদিটি ফাঁপা করে তৈরি কোরো। এটি ঠিক সেভাবেই তৈরি করতে হবে যেমনটি পর্বতের উপরে তোমার কাছে প্রদর্শিত হয়েছিল।
EXO 27:9 “সমাগম তাঁবুর জন্য একটি প্রাঙ্গণ তৈরি কোরো। দক্ষিণ দিকটি 45 মিটার লম্বা হবে এবং সেখানে মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি পর্দা থাকবে,
EXO 27:10 এবং কুড়িটি খুঁটি ও ব্রোঞ্জের কুড়িটি ভিত তথা খুঁটিগুলির উপরে রুপোর আঁকড়া ও শেকলও থাকবে।
EXO 27:11 উত্তর দিকটিও 45 মিটার লম্বা হবে এবং সেখানে পর্দা, তথা কুড়িটি খুঁটি ও ব্রোঞ্জের কুড়িটি ভিত এবং খুঁটিগুলির উপরে রুপোর আঁকড়া ও শিকল থাকবে।
EXO 27:12 “প্রাঙ্গণের পশ্চিমপ্রান্তটি 23 মিটার চওড়া হবে, এবং সেখানে পর্দা, তথা দশটি খুঁটি ও দশটি ভিত থাকবে।
EXO 27:13 সূর্যোদয়ের দিকে, পূর্বপ্রান্তেও, প্রাঙ্গণটি 23 মিটার চওড়া হবে।
EXO 27:14 6.8 মিটার লম্বা পর্দাগুলি প্রবেশদ্বারের একদিকে থাকবে, ও সাথে থাকবে তিনটি খুঁটি ও তিনটি ভিত,
EXO 27:15 এবং 6.8 মিটার লম্বা পর্দাগুলি অন্যদিকে থাকবে, ও সাথে থাকবে তিনটি খুঁটি ও তিনটি ভিত।
EXO 27:16 “প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের জন্য, নীল, বেগুনি এবং টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি 9 মিটার লম্বা একটি পর্দার জোগান দিয়ো—তা হবে এক সূচিশিল্পীর হস্তকলা—সাথে চারটি খুঁটি ও চারটি ভিতও দিয়ো।
EXO 27:17 প্রাঙ্গণের চারপাশের সব খুঁটির শিকল ও আঁকড়াগুলি রুপোর এবং ভিতগুলি ব্রোঞ্জের হবে।
EXO 27:18 প্রাঙ্গণটি হবে 45 মিটার লম্বা ও 23 মিটার চওড়া, এবং পর্দাগুলি মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি 2.3 মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হবে, এবং সাথে ব্রোঞ্জের ভিতগুলিও থাকবে।
EXO 27:19 সমাগম তাঁবুর সেবাকাজে ব্যবহৃত অন্য সব জিনিসপত্র, তা তাদের কাজ যাই হোক না কেন, সাথে সাথে সেটির এবং প্রাঙ্গণের সব তাঁবু-খুটা, ব্রোঞ্জের হবে।
EXO 27:20 “আলোর জন্য নিংড়ে নেওয়া স্বচ্ছ জলপাই তেল তোমার কাছে নিয়ে আসার জন্য ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও যেন প্রদীপগুলি সবসময় জ্বলতেই থাকে।
EXO 27:21 সমাগম তাঁবুর ভিতরে, যে পর্দাটি বিধিনিয়মের সিন্দুকটি আড়াল করে রাখে, সেটির বাইরের দিকে, হারোণ ও তার ছেলেরা সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সদাপ্রভুর সামনে প্রদীপগুলি জ্বালিয়ে রাখবে। আগামী বংশপরম্পরায় ইস্রায়েলীদের মধ্যে এটি একটি চিরস্থায়ী বিধিনিয়ম হয়েই থাকবে।
EXO 28:1 “ইস্রায়েলীদের মধ্যে থেকে তোমার দাদা হারোণকে এবং তার ছেলে নাদব ও অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরকে তোমার কাছে ডেকে আনো, যেন তারা যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 28:2 তোমার দাদা হারোণকে মর্যাদা ও সম্মান দিতে তার জন্য পবিত্র পোশাক তৈরি কোরো।
EXO 28:3 যাদের আমি এই বিষয়ে প্রজ্ঞা দিয়েছি, সেইসব দক্ষ কারিগরকে বোলো, তারা যেন হারোণের জন্য, তার অভিষেকের জন্য পোশাক তৈরি করে, সে যেন যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 28:4 এইসব পোশাক-পরিচ্ছদ তারা তৈরি করবে: একটি বুকপাটা, একটি এফোদ, একটি আলখাল্লা, হাতে বোনা একটি নিমা, একটি পাগড়ি ও একটি উত্তরীয়। তোমার দাদা হারোণ ও তার ছেলেদের জন্য তাদের এইসব পবিত্র পোশাক-পরিচ্ছদ তৈরি করতে হবে, যেন তারা যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 28:5 তাদের সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি মসিনা ব্যবহার করতে দিয়ো।
EXO 28:6 “সোনা, এবং নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে এফোদটি তৈরি কোরো—যা দক্ষ হস্তকলা হবে।
EXO 28:7 এতে কোণাগুলির সাথে যুক্ত দুটি কাঁধ-পটি থাকবে, যেন এফোদটি বেঁধে রাখা যায়।
EXO 28:8 দক্ষতার সাথে বোনা এটির কোমরবন্ধটিও এরই মতো হবে—এটি এফোদের সাথেই জুড়ে থাকা একই ভাগ হবে এবং সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি করা হবে।
EXO 28:9 “তুমি দুটি স্ফটিকমণি নাও এবং সেগুলির উপর ইস্রায়েলের ছেলেদের নাম খোদাই করে দাও।
EXO 28:10 তাদের জন্মের ক্রমানুসারে—একটি মণিতে ছয়টি নাম এবং অন্যটিতে বাকি ছয়টি নাম খোদাই করো।
EXO 28:11 যেভাবে একজন রত্নশিল্পী একটি সিলমোহর খোদাই করে, সেভাবেই সেই মণি দুটিতে ইস্রায়েলের ছেলেদের নামগুলি খোদাই করে দিয়ো। পরে মণিগুলি সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্য করা ঝালরে চড়িয়ে দিয়ো
EXO 28:12 এবং ইস্রায়েলের ছেলেদের জন্য স্মরণার্থক মণিরূপে সেগুলি সেই এফোদের কাঁধ-পটিগুলিতে বেঁধে দিয়ো। সদাপ্রভুর সামনে এক স্মারকরূপে হারোণ তার কাঁধে সেই নামগুলি বহন করবে।
EXO 28:13 সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্য করা ঝালর
EXO 28:14 এবং খাঁটি সোনা দিয়ে দড়ির মতো দেখতে দুটি পাতা-কাটা শিকল তৈরি কোরো, ও সেই শিকলটি ঝালরে জুড়ে দিয়ো।
EXO 28:15 “সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি বুকপাটা গড়ে দিয়ো—যা হবে দক্ষ হস্তকলা। এটিকে এফোদের মতো করেই: সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি কোরো।
EXO 28:16 এটি বর্গাকার, 23 সেন্টিমিটার লম্বা ও চওড়া হবে এবং তা দুই ভাঁজ করে রাখতে হবে।
EXO 28:17 পরে এটির উপর মূল্যবান মণিরত্নের চারটি সারি চড়িয়ে দিয়ো। প্রথম সারিতে থাকবে চুণী, গোমেদ ও পান্না;
EXO 28:18 দ্বিতীয় সারিতে থাকবে ফিরোজা, নীলা ও পান্না;
EXO 28:19 তৃতীয় সারিতে থাকবে নীলকান্তমণি, অকীক ও নীলা;
EXO 28:20 চতুর্থ সারিতে থাকবে পোখরাজ, স্ফটিকমণি ও সূর্যকান্তমণি। এগুলি সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্য করা ঝালরে চড়িয়ে দিয়ো।
EXO 28:21 ইস্রায়েলের ছেলেদের এক একজনের নামের জন্য বারোটি মণি থাকবে, প্রত্যেকটি মণির উপরে বারোটি গোষ্ঠীর মধ্যে এক এক গোষ্ঠীর নাম এক সিলমোহরের মতো খোদাই করে দিয়ো।
EXO 28:22 “বুকপাটার জন্য খাঁটি সোনা দিয়ে দড়ির মতো পাতা-কাটা শিকল তৈরি কোরো।
EXO 28:23 এটির জন্য সোনার দুটি আংটা তৈরি করে সেগুলি সেই বুকপাটার দুই কোনায় বেঁধে দিয়ো।
EXO 28:24 সেই বুকপাটার কোনায় থাকা আংটাগুলিতে সোনার সেই শিকল দুটি বেঁধে দিয়ো,
EXO 28:25 এবং সেই শিকলগুলির অন্য প্রান্তগুলি সেই দুটি ঝালরে বেঁধে দিয়ে এফোদের সামনের দিকের কাঁধ-পটিতে জুড়ে দিয়ো।
EXO 28:26 সোনার দুটি আংটা তৈরি করে সেগুলি এফোদের পাশে থাকা ভিতরদিকের বুকপাটার অন্য দুই কোনায় জুড়ে দিয়ো।
EXO 28:27 সোনার আরও দুটি আংটা তৈরি করে সেগুলি এফোদের সামনের দিকের কাঁধ-পটির তলায়, এফোদের কোমরবন্ধের ঠিক উপরে, দুই প্রান্তের জোড়ের কাছে জোড়া দিয়ে দিয়ো।
EXO 28:28 বুকপাটার আংটাগুলিকে কোমরবন্ধের সাথে যুক্ত করে নীল দড়ি দিয়ে এফোদের আংটাগুলির সাথে এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে, যেন বুকপাটাটি দোল খেয়ে এফোদ থেকে সরে না যায়।
EXO 28:29 “হারোণ যখনই পবিত্রস্থানে প্রবেশ করবে, সদাপ্রভুর সামনে চিরস্থায়ী এক স্মারকরূপে সিদ্ধান্তের সেই বুকপাটায় সে তার হৃদয়ের উপরে ইস্রায়েলের ছেলেদের নামগুলি বহন করবে।
EXO 28:30 এছাড়াও সেই বুকপাটায় ঊরীম ও তুম্মীম রেখো, যেন হারোণ যখনই সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে প্রবেশ করে, সেগুলি তার হৃদয়ের উপরেই থেকে যায়। এইভাবে হারোণ সবসময় সদাপ্রভুর সামনে ইস্রায়েলীদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাধন তার বুকের উপরে বয়ে বেড়াবে।
EXO 28:31 “এফোদের আলখাল্লাটি আগাগোড়াই নীল কাপড় দিয়ে তৈরি করে,
EXO 28:32 মাথা ঢোকানোর জন্য মাঝখানে একটি ফাঁক রেখো। এই ফাঁকের চারপাশে গলাবন্ধের মতো হাতে বোনা একটি ধারি থাকবে, যেন এটি ছিঁড়ে না যায়।
EXO 28:33 সেই আলখাল্লার আঁচলের চারপাশে নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো দিয়ে ডালিম তৈরি করে, সেগুলির মাঝে মাঝে সোনার ঘণ্টা ঝুলিয়ে দিয়ো।
EXO 28:34 সোনার ঘণ্টা ও ডালিমগুলি আলখাল্লার আঁচলের চারপাশে পর্যায়ক্রমে বসানো থাকবে।
EXO 28:35 পরিচর্যা করার সময় হারোণকে অবশ্যই এটি পরে থাকতে হবে। সে যখন পবিত্রস্থানে সদাপ্রভুর সামনে প্রবেশ করবে এবং যখন সে বাইরে বেরিয়ে আসবে, তখন সেই ঘণ্টার শব্দ শোনা যাবে, যেন সে মারা না যায়।
EXO 28:36 “খাঁটি সোনা দিয়ে একটি ফলক তৈরি করে তাতে সিলমোহরের মতো করে খোদাই করে দিয়ো: সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র।
EXO 28:37 এটিকে পাগড়ির সাথে জুড়ে রাখার জন্য এতে একটি নীল সুতো বেঁধে দিয়ো; এটি পাগড়ির সামনের দিকে থাকবে।
EXO 28:38 এটি হারোণের কপালের উপরে থাকবে, এবং সে ইস্রায়েলীদের উৎসর্গ করা পবিত্র নৈবেদ্যগুলির সাথে যুক্ত অপরাধ বহন করবে, তাদের নৈবেদ্যগুলি যাই হোক না কেন। অবিচ্ছিন্নভাবে এটি হারোণের কপালে থাকবে যেন তারা সদাপ্রভুর কাছে গ্রাহ্য হয়।
EXO 28:39 “মিহি মসিনা দিয়ে নিমা বুনো এবং পাগড়িও তৈরি কোরো। উত্তরীয়টি হবে দক্ষ এক সূচিশিল্পীর হস্তকলা।
EXO 28:40 হারোণের ছেলেদের মর্যাদা ও সম্মান দিতে তাদের জন্য নিমা, উত্তরীয় ও টুপি তৈরি কোরো।
EXO 28:41 তোমার দাদা হারোণ ও তার ছেলেদের এইসব পোশাক পরিয়ে দেওয়ার পর তুমি তাদের অভিষিক্ত ও নিযুক্ত কোরো। তাদের পবিত্র কোরো যেন তারা যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 28:42 “শরীর ঢেকে রাখার জন্য মসিনা দিয়ে অন্তর্বাস তৈরি কোরো, যা কোমর থেকে ঊরু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
EXO 28:43 হারোণ ও তার ছেলেরা যখনই সমাগম তাঁবুতে প্রবেশ করবে বা পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করার জন্য বেদির নিকটবর্তী হবে, তখনই তাদের সেগুলি পরতে হবে, যেন তারা অপরাধের ভাগী হয়ে মারা না যায়। “হারোণ ও তার বংশধরদের জন্য এটি চিরস্থায়ী এক বিধি হবে।
EXO 29:1 “তারা যেন যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে, সেজন্য তাদের পবিত্র করার ক্ষেত্রে তোমাকে এরকম করতে হবে: নিখুঁত একটি এঁড়ে বাছুর ও দুটি মেষ নিও।
EXO 29:2 আর গমের মিহি আটায় জলপাই তেল মিশ্রিত করে খামিরবিহীন গোলাকার রুটি, খামিরবিহীন মোটা মোটা রুটি এবং জলপাই তেল মাখানো পাতলা পাতলা রুটি তৈরি কোরো।
EXO 29:3 সেগুলি একটি ঝুড়িতে রেখো এবং সেগুলি সেই এঁড়ে বাছুর ও মেষ সমেত উপহার দিয়ো।
EXO 29:4 পরে হারোণ ও তার ছেলেদের সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে এনো এবং জল দিয়ে তাদের গা ধুয়ে দিয়ো।
EXO 29:5 পোশাকগুলি নিয়ে হারোণকে নিমা, এফোদের আলখাল্লা, এফোদ ও বুকপাটাটি পরিয়ে দিয়ো। দক্ষতার সঙ্গে বোনা কোমরবন্ধ দিয়ে তার গায়ে এফোদটি বেঁধে দিয়ো।
EXO 29:6 তার মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দিয়ো এবং সেই পাগড়িতে পবিত্র প্রতীক জুড়ে দিয়ো।
EXO 29:7 অভিষেক-তেল নিয়ে তা তার মাথায় ঢেলে দিয়ে তাকে অভিষিক্ত কোরো।
EXO 29:8 তার ছেলেদের নিয়ে এসে তাদেরও নিমা পরিয়ে দিয়ো
EXO 29:9 এবং মাথায় টুপি বেঁধে দিয়ো। পরে হারোণ ও তার ছেলেদের গায়ে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ো। দীর্ঘস্থায়ী এক বিধি দ্বারা যাজকত্ব তাদেরই অধিকারভুক্ত হয়েছে। “পরে তুমি হারোণ ও তার ছেলেদের যাজকপদে নিযুক্ত কোরো।
EXO 29:10 “সেই বাছুরটিকে তুমি সমাগম তাঁবুর সামনে এনো, এবং হারোণ ও তার ছেলেরা সেটির মাথায় তাদের হাত রাখবে।
EXO 29:11 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে সেটি বধ কোরো।
EXO 29:12 সেই বাছুরটির রক্ত থেকে কিছুটা রক্ত নিয়ো ও তোমার আঙুল দিয়ে তা সেই বেদির শিং-এ মাখিয়ে দিয়ো, এবং বাদবাকি রক্ত সেই বেদির তলায় ঢেলে দিয়ো।
EXO 29:13 পরে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সব চর্বি, কলিজার বড়ো পালি, ও চর্বি সমেত কিডনি দুটি নিয়ে সেগুলি বেদির উপর পুড়িয়ে ফেলো।
EXO 29:14 কিন্তু বাছুরটির মাংস ও সেটির চামড়া ও অন্ত্রগুলি শিবিরের বাইরে পুড়িয়ে দিয়ো। এ হল এক পাপার্থক বলি।
EXO 29:15 “মেষগুলির মধ্যে একটিকে নিয়ো, এবং হারোণ ও তার ছেলেরা সেটির মাথায় তাদের হাত রাখবে।
EXO 29:16 সেটিকে বধ কোরো ও রক্ত নিয়ে তা বেদির উপরে চারপাশে ছিটিয়ে দিয়ো।
EXO 29:17 মেষটিকে টুকরো টুকরো করে কেটো এবং সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও পা ধুয়ে দিয়ো, এবং সেগুলি মাথা ও অন্যান্য টুকরোগুলির সাথেই রেখো।
EXO 29:18 পরে সমগ্র মেষটি বেদিতে রেখে পুড়িয়ে ফেলো। এ হল সদাপ্রভুর উদ্দেশে দত্ত এক হোমবলি, প্রীতিকর সৌরভ, সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত এক ভক্ষ্য-নৈবেদ্য।
EXO 29:19 “অন্য মেষটিকেও নিও, এবং হারোণ ও তার ছেলেরা সেটির মাথায় তাদের হাত রাখবে।
EXO 29:20 সেটিকে বধ কোরো, সেটির রক্ত থেকে কিছুটা রক্ত নিয়ো এবং তা হারোণ ও তার ছেলেদের ডান কানের লতিতে, তাদের ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও তাদের ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে লাগিয়ে দিয়ো। পরে বেদির উপরে চারপাশে রক্ত ছিটিয়ে দিয়ো।
EXO 29:21 আর বেদি থেকে কিছুটা রক্ত ও কিছুটা অভিষেক-তেল নিও এবং হারোণের ও তার পোশাকের উপরে এবং তার ছেলেদের ও তাদের পোশাকের উপরে ছিটিয়ে দিয়ো। তখন সে ও তার ছেলেরা এবং তাদের পোশাকগুলিও শুচিশুদ্ধ হবে।
EXO 29:22 “এই মেষটি থেকে চর্বি, মোটা লেজ, অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিতে লেগে থাকা চর্বি, কলিজার বড়ো পালি, দুটি কিডনি ও সেগুলিতে লেগে থাকা চর্বি, এবং ডানদিকের ঊরুটি নিও। (এ হল যাজকপদে নিযুক্তিমূলক মেষ)
EXO 29:23 সদাপ্রভুর সামনে রাখা খামিরবিহীন রুটির ঝুড়ি থেকে একটি গোলাকার রুটি, জলপাই তেল মিশ্রিত একটি মোটা রুটি, এবং একটি পাতলা রুটি নিও।
EXO 29:24 এসব কিছু হারোণ ও তার ছেলেদের হাতে দিয়ো এবং এক দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর সামনে সেগুলি তাদের দোলাতে দিয়ো।
EXO 29:25 পরে তাদের হাত থেকে সেগুলি নিয়ে নিও এবং হোমবলির সাথে সাথে সেগুলিও সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক প্রীতিকর সৌরভরূপে, সদাপ্রভুর কাছে নিবেদিত এক ভক্ষ্য-নৈবেদ্যরূপে বেদিতে পুড়িয়ে দিয়ো।
EXO 29:26 হারোণের নিযুক্তির জন্য তুমি মেষের বক্ষটি নেওয়ার পর, সেটি এক দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর সামনে দুলিয়ো, এবং এটি তোমার অংশ হবে।
EXO 29:27 “যাজকপদে নিযুক্তিমূলক মেষের সেই অঙ্গগুলি শুচিশুদ্ধ কোরো, যেগুলি হারোণ ও তার ছেলেদের অধিকারভুক্ত: সেই বক্ষঃস্থল, যা দোলানো হল এবং সেই ঊরু, যা উপহার দেওয়া হল।
EXO 29:28 এটি সবসময় হারোণ ও তার ছেলেদের জন্য ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে নেওয়া চিরস্থায়ী অংশ হবে। এ হল ইস্রায়েলীদের সেই উপহার, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে দত্ত মঙ্গলার্থক বলি থেকে তারা দিয়ে থাকে।
EXO 29:29 “হারোণের পবিত্র পোশাকগুলি তার বংশধরদের অধিকারভুক্ত হবে যেন তারা সেগুলি পরে অভিষিক্ত ও নিযুক্ত হয়।
EXO 29:30 তার যে ছেলে যাজকরূপে তার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করার জন্য সমাগম তাঁবুতে আসবে, তাকে সাত দিন ধরে সেগুলি পরে থাকতে হবে।
EXO 29:31 “যাজকপদে নিযুক্তিমূলক মেষটি নিও এবং পবিত্র এক স্থানে সেই মাংস রান্না কোরো।
EXO 29:32 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে, হারোণ ও তার ছেলেদের সেই মেষের মাংস ও ঝুড়িতে রাখা রুটি খেতে হবে।
EXO 29:33 তাদের যাজকপদে নিযুক্তি ও অভিষেকের জন্য যে যে প্রায়শ্চিত্ত বলি উৎসর্গ করা হল, সেগুলির আধারেই তাদের এই নৈবেদ্যগুলি খেতে হবে। কিন্তু অন্য কেউ সেগুলি খেতে পারবে না, কারণ সেগুলি পবিত্র।
EXO 29:34 আর যাজকপদে নিযুক্তিমূলক সেই মেষের কিছুটা মাংস বা কয়েকটি রুটি যদি সকাল পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যায়, তবে সেগুলি পুড়িয়ে ফেলো। তা যেন অবশ্যই খাওয়া না হয়, কারণ তা পবিত্র।
EXO 29:35 “তোমাকে দেওয়া আমার আদেশানুসারে তুমি হারোণ ও তার ছেলেদের প্রতি সবকিছু কোরো, যাজকপদে তাদের নিযুক্ত করার জন্য সাত দিন সময় নিও।
EXO 29:36 প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য এক পাপার্থক বলিরূপে প্রতিদিন একটি করে বলদ বলি দিয়ো। বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করার দ্বারা সেটি শুচিশুদ্ধ কোরো, এবং সেটি পবিত্র করার জন্য তা অভিষিক্ত কোরো।
EXO 29:37 সাত দিন ধরে বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্ত কোরো এবং সেটি পবিত্র কোরো। তখন সেই বেদিটি মহাপবিত্র হয়ে যাবে এবং যা কিছু সেটিকে স্পর্শ করবে তাও পবিত্র হবে।
EXO 29:38 “প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সেই বেদির উপরে তোমাকে যা যা উৎসর্গ করতে হবে, তা হল এই: এক বছর বয়স্ক দুটি মেষশাবক।
EXO 29:39 একটি সকালে ও অন্যটি গোধূলিবেলায় উৎসর্গ কোরো।
EXO 29:40 প্রথম মেষশাবকটির সাথে সাথে হিনের এক-চতুর্থাংশ নিংড়ানো জলপাই তেল মিশ্রিত ঐফার এক-দশমাংশ মিহি আটা এবং পেয়-নৈবেদ্যরূপে হিনের এক-চতুর্থাংশ দ্রাক্ষারসও উৎসর্গ কোরো।
EXO 29:41 গোধূলিবেলায় অন্য মেষশাবকটিও সকালবেলার মতো একই শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য সহযোগে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত এক প্রীতিকর সৌরভ, এক ভক্ষ্য-নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ কোরো।
EXO 29:42 “বংশপরম্পরায় সদাপ্রভুর সামনে, সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে নিয়মিতভাবে এই হোমবলিটি উৎসর্গ করতে হবে। সেখানে আমি তোমার সাথে দেখা করব ও তোমার সাথে কথা বলব;
EXO 29:43 এছাড়াও সেখানেই আমি ইস্রায়েলীদের সাথে দেখা করব, এবং সেই স্থানটি আমার মহিমা দ্বারা পবিত্র হবে।
EXO 29:44 “অতএব আমি সেই সমাগম তাঁবু ও বেদিটি পবিত্র করব এবং যাজকরূপে আমার সেবা করার জন্য হারোণ ও তার ছেলেদেরও পবিত্র করব।
EXO 29:45 পরে আমি ইস্রায়েলীদের মধ্যে বসবাস করব এবং তাদের ঈশ্বর হব।
EXO 29:46 তারা জানতে পারবে যে আমিই তাদের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি তাদের মধ্যে বসবাস করার জন্য মিশর থেকে তাদের বের করে এনেছিলেন। আমিই তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
EXO 30:1 “ধূপ জ্বালানোর জন্য বাবলা কাঠ দিয়ে একটি বেদি তৈরি কোরো।
EXO 30:2 এটি 45 সেন্টিমিটার করে লম্বা ও চওড়া, এবং 90 সেন্টিমিটার উঁচু বর্গাকার হবে—এর শিংগুলি এর সাথে একই টুকরো দিয়ে গড়া হবে।
EXO 30:3 এর চূড়া ও সবদিক এবং শিংগুলি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো, এবং এর চারপাশে সোনার এক ছাঁচ তৈরি কোরো।
EXO 30:4 সেই ছাঁচের তলায় বেদিটির জন্য সোনার দুটি আংটা তৈরি কোরো—বেদিটি বহন করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত খুঁটিগুলি ধরে রাখার জন্য বিপরীত দিকগুলির প্রত্যেকটিতে দুটি দুটি করে আংটা তৈরি কোরো।
EXO 30:5 বাবলা কাঠ দিয়ে খুঁটিগুলি তৈরি কোরো এবং সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়ো।
EXO 30:6 যে পর্দাটি বিধিনিয়মের সিন্দুকটিকে আড়াল করে রাখে, সেটির সামনের দিকে—যে প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদনটি বিধিনিয়মের ফলকগুলির উপরে থাকে, সেটির সামনে—সেই বেদিটি রেখো, যেখানে আমি তোমার সাথে দেখা করব।
EXO 30:7 “প্রতিদিন সকালে হারোণ যখন প্রদীপগুলি পরিষ্কার করবে তখন তাকে বেদিতে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাতে হবে।
EXO 30:8 আবার গোধূলিবেলায় সে যখন প্রদীপগুলি জ্বালাবে তখনও তাকে ধূপ জ্বালাতে হবে, যেন আগামী বংশপরম্পরায় সদাপ্রভুর সামনে নিয়মিতভাবে ধূপ জ্বলে।
EXO 30:9 এই বেদিতে আর অন্য কোনো ধূপ বা কোনো হোমবলি বা শস্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ কোরো না, এটির উপরে কোনো পেয়-নৈবেদ্য ঢেলো না।
EXO 30:10 বছরে একবার হারোণ বেদির শিংগুলির উপরে প্রায়শ্চিত্ত সাধন করবে। এই বাৎসরিক প্রায়শ্চিত্তটি আগামী বংশপরম্পরায় প্রায়শ্চিত্তকারক পাপার্থক বলির রক্ত দিয়ে করতে হবে। সদাপ্রভুর উদ্দেশে এটি অতি পবিত্র।”
EXO 30:11 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 30:12 “ইস্রায়েলীদের সংখ্যা গণনা করার জন্য যখন তুমি তাদের জনগণনা করবে, তখন গণিত হওয়ার সময় প্রত্যেককে তার জীবনের জন্য সদাপ্রভুকে এক মুক্তিপণ দিতে হবে। তুমি তাদের সংখ্যা গণনা করার সময় তখন আর তাদের উপর কোনও আঘাত নেমে আসবে না।
EXO 30:13 যারা ইতিমধ্যেই গণিত হয়ে গিয়েছে, সেই লোকজনের মধ্যে যে কেউ আসবে, তাকে পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে আধ শেকল দিতে হবে, এক শেকলের ওজন কুড়ি গেরা। এই আধ শেকল সদাপ্রভুর উদ্দেশে দত্ত এক উপহার।
EXO 30:14 এদিকে আসা যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তার বেশি, তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
EXO 30:15 তোমাদের জীবনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে তুমি যখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে, তখন ধনবান লোক আধ শেকলের বেশি দেবে না এবং দরিদ্রও কম দেবে না।
EXO 30:16 ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে প্রায়শ্চিত্তকারী অর্থ গ্রহণ কোরো এবং সেই অর্থ সমাগম তাঁবুর সেবাকাজে ব্যবহার কোরো। সদাপ্রভুর সামনে ইস্রায়েলীদের জন্য এক স্মারক হয়ে থেকে তা তোমাদের জীবনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।”
EXO 30:17 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 30:18 “ধোয়াধুয়ি করার জন্য ব্রোঞ্জের একটি গামলা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে সেটির মাচাও তৈরি কোরো। সমাগম তাঁবুর ও বেদির মাঝখানে সেটি রেখো, এবং সেটিতে জল ভরে দিয়ো।
EXO 30:19 সেখান থেকে জল নিয়ে হারোণ ও তার ছেলেদের তাদের হাত পা ধুতে হবে।
EXO 30:20 যখনই তারা তাঁবুর ভিতরে প্রবেশ করবে, তারা জল দিয়ে নিজেদের ধুয়ে ফেলবে, যেন তারা মারা না যায়। এছাড়াও, যখন তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার মাধ্যমে পরিচর্যা করার জন্য সেই বেদির নিকটবর্তী হবে,
EXO 30:21 তখনও তারা তাদের হাত পা ধুয়ে নেবে, যেন তারা মারা না যায়। আগামী বংশপরম্পরায় হারোণ ও তার বংশধরদের জন্য এ এক দীর্ঘস্থায়ী বিধি হবে।”
EXO 30:22 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 30:23 “তুমি এই সুন্দর সুন্দর মশলাগুলি নিও: 500 শেকল তরল গন্ধরস, এর অর্ধেক পরিমাণ (অর্থাৎ 250 শেকল) সুগন্ধি দারুচিনি, 250 শেকল সুগন্ধি বচ,
EXO 30:24 500 শেকল নীরসে ধরনের দারুচিনি—সবই পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে—এবং এক হিন জলপাই তেল।
EXO 30:25 এগুলি দিয়ে সুগন্ধি দ্রব্যাদির প্রস্তুতকারকের হস্তকলার মতো করে পবিত্র এক অভিষেক-তেল, সুগন্ধি এক মিশ্রণ তৈরি কোরো।
EXO 30:26 পরে সমাগম তাঁবু, বিধিনিয়মের সিন্দুক,
EXO 30:27 টেবিল ও তার সব জিনিসপত্র, দীপাধার ও তার আনুষঙ্গিক উপকরণ, ধূপবেদি,
EXO 30:28 হোমবলির বেদি ও তার সব বাসনপত্র, এবং গামলা ও তার মাচাটি অভিষিক্ত করার জন্য তা ব্যবহার কোরো।
EXO 30:29 সেগুলি তুমি পবিত্র করবে, যেন সেগুলি অতি পবিত্র হয়ে যায় এবং যা কিছু সেগুলির সংস্পর্শে আসবে সেগুলিও পবিত্র হয়ে যাবে।
EXO 30:30 “হারোণ ও তার ছেলেদের অভিষিক্ত এবং পবিত্র কোরো, যেন তারা যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 30:31 ইস্রায়েলীদের বোলো, ‘আগামী বংশপরম্পরায় এটিই হবে আমার পবিত্র অভিষেক-তেল।
EXO 30:32 অন্য কোনো মানুষের দেহে এটি ঢেলো না এবং একই প্রস্তুতপ্রণালী ব্যবহার করে অন্য কোনো তেল তৈরি কোরো না। এটি পবিত্র, আর তোমাদের এটি পবিত্র বলেই গণ্য করতে হবে।
EXO 30:33 যে কেউ এটির মতো সুগন্ধি তৈরি করে এবং একজন যাজক ছাড়া অন্য কোনো মানুষের গায়ে ঢেলে দেয়, তাকে তার লোকজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে। ’ ”
EXO 30:34 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি সমপরিমাণে সুগন্ধি মশলাপাতি—আঠা রজন, নখী, কুন্দুরু—এবং খাঁটি গুগগুল নিয়ো,
EXO 30:35 এবং একজন সুগন্ধি দ্রব্যাদি প্রস্তুতকারকের হস্তকলার মতো করে ধূপের এক সুগন্ধি মিশ্রণ তৈরি কোরো। এটি যেন লবণাক্ত এবং খাঁটি ও পবিত্র হয়।
EXO 30:36 তা থেকে কিছুটা পিষে গুঁড়ো করে নিও এবং তা সমাগম তাঁবুতে বিধিনিয়মের সেই সিন্দুকটির সামনে এনে রেখো, যেখানে আমি তোমার সাথে দেখা করব। এটি তোমাদের কাছে অতি পবিত্র হবে।
EXO 30:37 এই প্রস্তুতপ্রণালী দিয়ে নিজেদের জন্য তোমরা কোনো ধূপ তৈরি কোরো না; সদাপ্রভুর উদ্দেশে এটি পবিত্র বলে গণ্য কোরো।
EXO 30:38 যে কেউ এটির সুগন্ধ উপভোগ করার জন্য এটির মতো ধূপ তৈরি করবে, তাকে তার লোকজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে।”
EXO 31:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 31:2 “দেখো, আমি যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত হূরের নাতি তথা ঊরির ছেলে বৎসলেলকে মনোনীত করেছি,
EXO 31:3 এবং আমি তাকে ঈশ্বরের আত্মায়, প্রজ্ঞায়, বুদ্ধিতে, জ্ঞানে এবং সব ধরনের দক্ষতায় পরিপূর্ণ করেছি—
EXO 31:4 যেন সে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ দিয়ে চারুশিল্পসম্মত নকশা ফুটিয়ে তুলতে,
EXO 31:5 পাথর কেটে তা বসাতে, কাঠের কাজ করতে, এবং সব ধরনের কারুশিল্পের কাজে লিপ্ত হতে পারে।
EXO 31:6 এছাড়াও, তাকে একাজে সাহায্য করার জন্য আমি দান গোষ্ঠীভুক্ত অহীষামকের ছেলে অহলীয়াবকেও নিযুক্ত করেছি। “যা যা করার আদেশ আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, সেসবকিছু তৈরি করার দক্ষতা আমি সব দক্ষ কারিগরকে দিয়েছি:
EXO 31:7 “সমাগম তাঁবু, বিধিনিয়মের সিন্দুক এবং সেটির উপরের প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদন, এবং তাঁবুর অন্যান্য সব আসবাবপত্র—
EXO 31:8 টেবিল এবং সেটির সব জিনিসপত্র, খাঁটি সোনার দীপাধার এবং সেটির সব আনুষঙ্গিক উপকরণ, ধূপবেদি,
EXO 31:9 হোমবলির বেদি এবং সেটির সব পাত্র, গামলা এবং সেটির মাচা—
EXO 31:10 আর এছাড়াও হাতে বোনা পোশাক-পরিচ্ছদ, যাজক হারোণের জন্য সেই পবিত্র পোশাক এবং তার ছেলেদের জন্যও সেই পোশাক, যেগুলি তারা যাজকরূপে সেবাকাজ করার সময় গায়ে দেবে,
EXO 31:11 এবং পবিত্রস্থানের জন্য সেই অভিষেক-তেল ও সুগন্ধি ধূপ। “আমি তোমাকে যেমন আদেশ দিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই তারা যেন সেগুলি তৈরি করে।”
EXO 31:12 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
EXO 31:13 ইস্রায়েলীদের বলো, “তোমাদের অবশ্যই আমার সাব্বাথ পালন করতে হবে। আগামী বংশপরম্পরায় এটি আমার ও তোমাদের মধ্যে এক চিহ্ন হবে, যেন তোমরা জানতে পারো যে আমিই সেই সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের পবিত্র করেছেন।
EXO 31:14 “সাব্বাথ পালন কোরো, কারণ তোমাদের কাছে এই দিনটি পবিত্র। যে কেউ এই দিনটিকে অপবিত্র করবে, তাকে মেরে ফেলতে হবে; যারা সেদিন কোনও কাজ করবে, তাদের অবশ্যই তাদের লোকজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে।
EXO 31:15 ছয় দিন কাজ করা যেতে পারে, কিন্তু সপ্তম দিনটি সাব্বাথ বিশ্রামের দিন, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র। যে কেউ সাব্বাথবারে কোনও কাজ করবে, তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 31:16 আগামী বংশপরম্পরায় দীর্ঘস্থায়ী এক নিয়মরূপে সাব্বাথবার উদ্‌যাপন করার মাধ্যমে ইস্রায়েলীদের তা পালন করতে হবে।
EXO 31:17 চিরকালের জন্য এটি আমার ও ইস্রায়েলীদের মধ্যে এক চিহ্ন হয়ে থাকবে, কারণ ছয় দিনে সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী তৈরি করেছিলেন, এবং সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন ও চাঙ্গা হয়েছিলেন।”
EXO 31:18 সীনয় পর্বতে মোশির সঙ্গে সদাপ্রভুর কথা বলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর, তিনি মোশিকে ঈশ্বরের আঙুল দিয়ে খোদাই করা পাথরের ফলকগুলি, বিধিনিয়মের সেই দুটি ফলক দিলেন।
EXO 32:1 লোকেরা যখন দেখেছিল যে মোশি পর্বত থেকে নিচে নামতে খুব দেরি করছেন, তখন তারা হারোণের চারপাশে একত্রিত হয়ে বলল, “আসুন, আমাদের জন্য এমন সব দেবতা তৈরি করে দিন, যারা আমাদের অগ্রগামী হবেন। যে মোশি আমাদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছেন, তার কী হল তা আমরা জানি না।”
EXO 32:2 হারোণ তাদের উত্তর দিলেন, “তোমাদের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা যেসব সোনার কানের দুল পরে আছে, সেগুলি খুলে ফেলো ও আমার কাছে নিয়ে এসো।”
EXO 32:3 অতএব সব লোকজন তাদের সোনার কানের দুল খুলে ফেলল ও হারোণের কাছে এনে দিল।
EXO 32:4 তারা তাঁর হাতে যা সঁপে দিল, সেগুলি তিনি গ্রহণ করলেন এবং ঢালাই করে এক যন্ত্রের সাহায্যে তিনি বাছুরের আকৃতিবিশিষ্ট একটি প্রতিমা তৈরি করে দিলেন। তখন তারা বলল, “হে ইস্রায়েল, এরাই তোমাদের সেই দেবতা, যারা মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।”
EXO 32:5 হারোণ যখন তা দেখলেন, তখন তিনি সেই বাছুরের সামনে একটি বেদি নির্মাণ করে দিলেন ও ঘোষণা করলেন, “আগামীকাল সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি উৎসব হবে।”
EXO 32:6 অতএব লোকজন পরদিন ভোরবেলায় উঠে পড়ল এবং হোমবলি উৎসর্গ করল ও মঙ্গলার্থক বলি নিবেদন করল। পরে তারা ভোজনপান করার জন্য বসে পড়ল, তারপর উঠে পরজাতীয়দের মতো হুল্লোড়ে মত্ত হল।
EXO 32:7 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “নিচে নেমে যাও, কারণ তোমার যে লোকদের তুমি মিশর থেকে বের করে এনেছ, তারা নীতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে।
EXO 32:8 আমি তাদের যে আদেশ দিয়েছিলাম তা থেকে তারা খুব তাড়াতাড়ি বিপথগামী হয়ে পড়েছে এবং নিজেদের জন্য তারা ঢালাই করে বাছুরের আকৃতিবিশিষ্ট একটি প্রতিমা তৈরি করেছে। সেটির সামনে তারা নতজানু হয়েছে এবং সেটির উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করে বলেছে, ‘হে ইস্রায়েল, এরাই তোমার সেইসব দেবতা, যারা মিশর থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন।’
EXO 32:9 “আমি এই লোকদের দেখেছি,” সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আর এরা খুব একগুঁয়ে লোক।
EXO 32:10 এখন আমার কাজে হস্তক্ষেপ কোরো না, যেন এদের বিরুদ্ধে আমি ক্রোধে ফেটে পড়তে পারি ও যেন এদের আমি ধ্বংস করে ফেলতে পারি। পরে আমি তোমাকে এক মহাজাতিতে পরিণত করব।”
EXO 32:11 কিন্তু মোশি তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগ্রহ চাইলেন, “হে সদাপ্রভু,” তিনি বললেন, “তুমি কেন তোমার সেই প্রজাদের বিরুদ্ধে ক্রোধে ফেটে পড়বে, যাদের তুমি মহাশক্তিতে ও বলশালী এক হাত দিয়ে মিশর থেকে বের করে এনেছ?
EXO 32:12 মিশরীয়রা কেন বলবে, ‘মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে, পাহাড়-পর্বতে তাদের হত্যা করার এবং পৃথিবীর বুক থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্যই তিনি তাদের বের করে এনেছেন’? তোমার প্রচণ্ড ক্রোধ প্রশমিত করো; কোমল হও ও তোমার এই প্রজাদের উপর বিপর্যয় ডেকে এনো না।
EXO 32:13 তোমার সেই দাস অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে স্মরণ করো, যাদের কাছে তুমি নিজের নামে শপথ করে বলেছিলে: ‘আমি তোমার বংশধরদের আকাশের তারার মতো অসংখ্য করে তুলব এবং আমি তোমার বংশধরদের এই সমগ্র দেশটি দেব, যেটি আমি তাদের দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করলাম, এবং চিরকালের জন্য এই দেশটি তাদের উত্তরাধিকার হবে।’ ”
EXO 32:14 তখন সদাপ্রভু কোমল হলেন এবং তাঁর প্রজাদের উপর যে বিপর্যয় ডেকে আনার হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা আর আনেননি।
EXO 32:15 মোশি ঘুরে দাঁড়ালেন এবং বিধিনিয়মের সেই দুটি ফলক হাতে নিয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে এলেন। সেই ফলকগুলির সামনে ও পিছনে, দুই দিকেই বিধিনিয়ম খোদাই করা ছিল।
EXO 32:16 ফলকগুলি ছিল ঈশ্বরের কাজ; রচনাটি ছিল ফলকগুলির উপর খোদাই করা ঈশ্বরের রচনা।
EXO 32:17 যিহোশূয় যখন লোকজনের চিৎকার শুনলেন, তখন তিনি মোশিকে বললেন, “শিবিরে যুদ্ধের শব্দ হচ্ছে।”
EXO 32:18 মোশি উত্তর দিলেন: “এটি জয়ধ্বনির শব্দ নয়, এটি পরাজয়ের শব্দ নয়; আমি গানের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।”
EXO 32:19 মোশি যখন শিবিরের কাছাকাছি এলেন, এবং সেই বাছুরটিকে ও নাচানাচি দেখলেন, তখন তিনি ক্রোধে ফেটে পড়লেন এবং তিনি ফলকগুলি হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পর্বতের পাদদেশে সেগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
EXO 32:20 আর তিনি লোকদের তৈরি করা সেই বাছুরটি নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন; পরে তিনি সেটি পিষে গুঁড়ো করে, তা জলের উপর ছড়িয়ে দিলেন এবং ইস্রায়েলীদের তা পান করতে বাধ্য করলেন।
EXO 32:21 তিনি হারোণকে বললেন, “এই লোকেরা তোমার কী করেছিল, যে তুমি তাদের দিয়ে এত বড়ো পাপ করালে?”
EXO 32:22 “হে আমার প্রভু, ক্রুদ্ধ হবেন না,” হারোণ উত্তর দিলেন। “আপনি তো জানেন এই লোকেরা কত দুষ্টতাপ্রবণ।
EXO 32:23 তারা আমাকে বলল, ‘আমাদের জন্য এমন সব দেবতা তৈরি করে দিন, যারা আমাদের অগ্রগামী হবেন। যে মোশি আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছেন, তার কী হয়েছে তা আমরা জানি না।’
EXO 32:24 তাই আমি তাদের বললাম, ‘যার যার কাছে সোনার অলংকার আছে, সেগুলি খুলে ফেলো।’ তখন তারা আমাকে সেই সোনা দিয়েছিল, আর আমি সেগুলি আগুনে ফেলে দিয়েছিলাম, ও সেখান থেকে এই বাছুরটি বেরিয়ে এসেছে!”
EXO 32:25 মোশি দেখলেন যে, লোকেরা যা খুশি তাই করছে এবং হারোণও তাদের লাগামছাড়া হতে দিয়েছেন ও এভাবে তাদের শত্রুদের কাছে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
EXO 32:26 অতএব তিনি শিবিরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, “যে কেউ সদাপ্রভুর স্বপক্ষে, সে আমার কাছে চলে এসো।” আর লেবীয়রা সবাই তাঁর কাছে এসে একত্রিত হল।
EXO 32:27 তখন তিনি তাদের বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘প্রত্যেকে নিজের নিজের দেহের পাশে একটি করে তরোয়াল বেঁধে নিক। শিবিরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সে আসা যাওয়া করুক, এবং প্রত্যেকে তার ভাই ও বন্ধু ও প্রতিবেশীকে হত্যা করুক।’ ”
EXO 32:28 লেবীয়রা মোশির আদেশানুসারেই কাজ করল, আর সেদিন প্রায় 3,000 লোক মারা গেল।
EXO 32:29 তখন মোশি বললেন, “আজ তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক হলে, কারণ তোমরা তোমাদের নিজের ছেলে ও ভাইদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছ, এবং এই দিনে তিনি তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন।”
EXO 32:30 পরদিন মোশি লোকদের বললেন, “তোমরা মহাপাপ করেছ। কিন্তু আমি সদাপ্রভুর কাছে যাব; হয়তো আমি তোমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারব।”
EXO 32:31 অতএব মোশি সদাপ্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “হায়, হায়, এই লোকেরা কী মহাপাপই না করেছে! তারা নিজেদের জন্য সোনার দেবতা তৈরি করেছে।
EXO 32:32 কিন্তু এখন, দয়া করে এদের পাপ ক্ষমা করো—কিন্তু যদি না করো, তবে তোমার লেখা বই থেকে আমার নামটি মুছে ফেলো।”
EXO 32:33 সদাপ্রভু মোশিকে উত্তর দিলেন, “যে কেউ আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে, তারই নাম আমি আমার বই থেকে মুছে ফেলব।
EXO 32:34 এখন যাও, যে স্থানের কথা আমি বলেছিলাম, লোকদের সেখানে নিয়ে যাও এবং আমার দূত তোমার অগ্রগামী হবেন। অবশ্য, যখন শাস্তি দেওয়ার সময় আসবে, তখন তাদের পাপের জন্য আমি তাদের শাস্তি দেব।”
EXO 32:35 আর হারোণের তৈরি করা সেই বাছুরটিকে নিয়ে লোকেরা যা করেছিল সেজন্য সদাপ্রভু এক সংক্রামক মহামারি দ্বারা লোকদের আঘাত করলেন।
EXO 33:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি ও যাদের তুমি মিশর থেকে বের করে এনেছ, তারা সবাই এই স্থান ত্যাগ করে সেই দেশে যাও, যে দেশের বিষয়ে আমি অব্রাহাম, ইস্‌হাক, ও যাকোবের কাছে শপথ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলাম, ‘এটি আমি তোমার বংশধরদের দেব।’
EXO 33:2 তোমার আগে আগে আমি এক দূত পাঠাব এবং কনানীয়, ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের তাড়িয়ে দেব।
EXO 33:3 দুধ ও মধু প্রবাহিত সেই দেশে চলে যাও। কিন্তু আমি তোমাদের সাথে যাব না, কারণ তোমরা একগুঁয়ে লোক এবং পাছে পথে আমি তোমাদের ধ্বংস করে ফেলি।”
EXO 33:4 লোকেরা যখন এই অসুখকর কথা শুনল, তখন তারা দুঃখ প্রকাশ করল এবং কেউই কোনও অলংকার পরল না।
EXO 33:5 কারণ সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘তোমরা একগুঁয়ে লোক। এক মুহূর্তের জন্যও যদি আমি তোমাদের সাথে যাই, তবে হয়তো আমি তোমাদের ধ্বংসই করে ফেলব। এখন তোমাদের অলংকারগুলি খুলে ফেলো এবং আমিই ঠিক করব তোমাদের নিয়ে কী করতে হবে।’ ”
EXO 33:6 অতএব হোরেব পর্বতে ইস্রায়েলীরা তাদের গা থেকে অলংকারগুলি খুলে ফেলেছিল।
EXO 33:7 আর মোশি একটি তাঁবু নিয়ে শিবিরের বাইরে কিছুটা দূরে তা খাটিয়ে দিলেন, ও সেটির নাম দিলেন “সমাগম তাঁবু।” যে কেউ সদাপ্রভুর কাছে কিছু জানতে চাইত, সে শিবিরের বাইরে সমাগম তাঁবুর কাছে যেত।
EXO 33:8 আর যখনই মোশি সেই তাঁবুর কাছে যেতেন, সব লোকজন উঠে তাদের তাঁবুগুলির প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে পড়ত, ও যতক্ষণ না মোশি সেই তাঁবুতে প্রবেশ করতেন, ততক্ষণ তাঁর উপর নজর রাখত।
EXO 33:9 মোশি যেই না সেই তাঁবুর ভিতরে প্রবেশ করতেন, মেঘস্তম্ভ নেমে আসত ও যতক্ষণ সদাপ্রভু মোশির সাথে কথা বলতেন, ততক্ষণ তা সেই প্রবেশদ্বারে অবস্থান করত।
EXO 33:10 যখনই লোকেরা সেই মেঘস্তম্ভটিকে তাঁবুর প্রবেশদ্বারে অবস্থান করতে দেখত, তখনই তারা প্রত্যেকে নিজেদের তাঁবুর প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আরাধনা করত।
EXO 33:11 একজন বন্ধু যেভাবে তার বন্ধুর সাথে কথা বলে, সদাপ্রভুও মোশির সাথে সেভাবে মুখোমুখি কথা বলতেন। পরে মোশি নিজের তাঁবুতে ফিরে আসতেন, কিন্তু নূনের ছেলে যিহোশূয়—তাঁর তরুণ সহায়ক, সেই তাঁবু ত্যাগ করতেন না।
EXO 33:12 মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “তুমি আমাকে বলে চলেছ, ‘এই লোকদের নেতৃত্ব দাও,’ কিন্তু তুমি আমাকে জানতে দাওনি আমার সাথে তুমি কাকে পাঠাবে। তুমি বলেছ, ‘আমি তোমাকে নাম ধরে চিনি এবং তুমি আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছ।’
EXO 33:13 আমি যদি তোমাকে খুশি করতে পেরেছি, তবে তোমার পথের বিষয়ে আমাকে শিক্ষা দাও যেন আমি তোমাকে জানতে পারি ও অবিরতভাবে তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেতেই থাকি। মনে রেখো যে এই জাতি তোমারই প্রজা।”
EXO 33:14 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “আমার উপস্থিতি তোমার সাথেই যাবে, এবং আমি তোমাকে বিশ্রাম দেব।”
EXO 33:15 তখন মোশি তাঁকে বললেন, “তোমার উপস্থিতি যদি আমাদের সাথে না যায়, তবে এখান থেকে আমাদের পাঠিয়ো না।
EXO 33:16 তুমি যদি আমাদের সাথে না যাও তবে কেউ কীভাবে জানবে যে আমি ও তোমার প্রজারা তোমাকে খুশি করতে পেরেছি? আর কী-ই বা আমাকে ও তোমার প্রজাদের এই পৃথিবীর অন্যান্য সব মানুষজনের থেকে ভিন্ন করে তুলবে?”
EXO 33:17 আর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি যা চেয়েছ, আমি ঠিক তাই করব, কারণ তুমি আমাকে খুশি করেছ এবং আমি তোমাকে নাম ধরে চিনি।”
EXO 33:18 তখন মোশি বললেন, “তোমার মহিমা এখন আমাকে দেখাও।”
EXO 33:19 আর সদাপ্রভু বললেন, “আমি আমার সব চমৎকারিত্ব তোমার সামনে দিয়ে পার হতে দেব, এবং তোমার উপস্থিতিতে আমি আমার সেই সদাপ্রভু নামটি ঘোষণা করব। যার প্রতি আমি দয়া দেখাতে চাই, তার প্রতি আমি দয়া দেখাব, এবং যার প্রতি করুণা করতে চাই, তার প্রতি করুণা করব।
EXO 33:20 কিন্তু,” তিনি বললেন, “তুমি আমার মুখ দেখতে পাবে না; কারণ কেউ আমাকে দেখে বেঁচে থাকে না।”
EXO 33:21 পরে সদাপ্রভু বললেন, “আমার কাছাকাছি একটি স্থান আছে যেখানে তুমি পাষাণ-পাথরের উপরে গিয়ে দাঁড়াতে পারো।
EXO 33:22 আমার মহিমা যখন পার হবে, তখন আমি তোমাকে সেই পাষাণ-পাথরের এক ফাটলে রেখে দেব এবং যতক্ষণ না আমি পার হয়ে যাচ্ছি ততক্ষণ তোমাকে আমি আমার হাত দিয়ে ঢেকে রাখব।
EXO 33:23 পরে আমি আমার হাত সরিয়ে নেব ও তুমি আমার পিঠ দেখতে পাবে; কিন্তু আমার মুখ দেখা যাবে না।”
EXO 34:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “প্রথম দুটির মতো আরও দুটি পাথরের ফলক খোদাই করো, এবং তুমি যে ফলকগুলি ভেঙে ফেলেছিলে, সেগুলিতে যা যা লেখা ছিল আমি এগুলিতেও সেসব কথা লিখে দেব।
EXO 34:2 সকালবেলায় তৈরি থেকো, ও পরে সীনয় পর্বতে উঠে এসো। সেই পর্বতের চূড়ায় সেখানে আমার কাছে উপস্থিত হোয়ো।
EXO 34:3 কেউ যেন তোমার সাথে না আসে বা সেই পর্বতে কোথাও যেন কাউকে দেখা না যায়; এমনকি সেই পর্বতের সামনে মেষপাল ও পশুপালও যেন না চরে।”
EXO 34:4 অতএব মোশি সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে প্রথম দুটি ফলকের মতো আরও দুটি পাথরের ফলক খোদাই করলেন এবং খুব সকালবেলায় সীনয় পর্বতে উঠে গেলেন; এবং তিনি সেই পাথরের ফলক দুটিও হাতে করে তুলে নিয়ে গেলেন।
EXO 34:5 তখন সদাপ্রভু মেঘে নিচে নেমে এলেন এবং মোশির সাথে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে, সদাপ্রভু—তাঁর এই নাম ঘোষণা করলেন।
EXO 34:6 আর তিনি একথা ঘোষণা করতে করতে মোশির সামনে দিয়ে পার হয়ে গেলেন, “সদাপ্রভু, সদাপ্রভু, তিনি করুণাময় ও অনুগ্রহকারী ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর, প্রেম ও বিশ্বস্ততায় সমৃদ্ধ,
EXO 34:7 হাজার হাজার জনের প্রতি প্রেম প্রদর্শনকারী, এবং দুষ্টতা, বিদ্রোহ ও পাপ ক্ষমাকারী। তবুও অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে তিনি ছেড়ে দেন না; তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত তিনি বাবা-মার পাপের জন্য তাদের সন্তানদের ও নাতি-নাতনিদের শাস্তি দেন।”
EXO 34:8 মোশি তৎক্ষণাৎ মাটিতে মাথা নত করে আরাধনা করলেন।
EXO 34:9 “হে প্রভু,” তিনি বললেন, “আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তবে প্রভু যেন আমাদের সাথে যান। এরা যদিও একগুঁয়ে লোক, তাও আমাদের দুষ্টতা ও আমাদের পাপ ক্ষমা করো, এবং আমাদের তোমার উত্তরাধিকার করে নাও।”
EXO 34:10 তখন সদাপ্রভু বললেন: “আমি তোমার সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করছি। তোমার সব লোকজনের সামনে আমি এমন সব আশ্চর্য কাজ করব যা সমগ্র পৃথিবীতে কোনও জাতির মধ্যে আগে কখনও করা হয়নি। যেসব লোকজনের মধ্যে তুমি বসবাস করছ, তারা দেখবে আমি, সদাপ্রভু তোমার জন্য যে কাজ করব, তা কতই না অসাধারণ।
EXO 34:11 আজ আমি তোমাকে যে আদেশ দিচ্ছি, তা পালন কোরো। আমি তোমার সামনে থেকে ইমোরীয়, কনানীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের তাড়িয়ে দেব।
EXO 34:12 সাবধান, যে দেশে তুমি যাচ্ছ, সেখানে বসবাসকারী লোকদের সঙ্গে কোনও চুক্তি কোরো না, তা না হলে তারা তোমাদের মধ্যে এক ফাঁদ হয়ে যাবে।
EXO 34:13 তাদের বেদিগুলি ভেঙে দিয়ো, তাদের পবিত্র পাথরগুলি চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ো ও তাদের আশেরা-খুঁটিগুলি কেটে নামিয়ে দিয়ো।
EXO 34:14 অন্য আর কোনও দেবতার আরাধনা কোরো না, কারণ যাঁর নাম ঈর্ষাপরায়ণ, সেই সদাপ্রভু ঈর্ষান্বিত ঈশ্বর।
EXO 34:15 “সাবধান, সেই দেশে বসবাসকারী লোকদের সঙ্গে চুক্তি কোরো না; কারণ তারা যখন তাদের দেবতাদের কাছে বেশ্যাবৃত্তি করবে ও তাদের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করবে, তখন তারা তোমাকে আমন্ত্রণ জানাবে ও তুমি তাদের বলি দেওয়া প্রসাদ খেয়ে ফেলবে।
EXO 34:16 আর তুমি যখন তোমার ছেলেদের জন্য স্ত্রীরূপে তাদের মেয়েদের মধ্যে কয়েকজনকে মনোনীত করবে এবং সেই মেয়েরা তাদের দেবতাদের কাছে বেশ্যাবৃত্তি করবে, তখন তারা তোমার ছেলেদেরও একই কাজ করতে বাধ্য করবে।
EXO 34:17 “কোনও প্রতিমা তৈরি কোরো না।
EXO 34:18 “খামিরবিহীন রুটির উৎসব পালন কোরো। তোমাকে দেওয়া আদেশানুসারে, সাত দিন খামিরবিহীন রুটি খেয়ো। আবীব মাসের নির্দিষ্ট সময়ে এরকম কোরো, কারণ সেই মাসেই তুমি মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিলে।
EXO 34:19 “প্রত্যেকটি গর্ভের প্রথম সন্তানটি আমার, এবং তোমার গৃহপালিত পশুপালের প্রথমজাত সব মদ্দাও আমার, তা সে গোপাল বা মেষপাল, যাই হোক না কেন।
EXO 34:20 প্রথমজাত গাধাকে এক মেষশাবক দিয়ে মুক্ত কোরো, কিন্তু যদি তা মুক্ত না করো, তবে সেটির ঘাড় ভেঙে দিয়ো। তোমার সব প্রথমজাত ছেলেকে মুক্ত কোরো। “কেউ যেন খালি হাতে আমার সামনে উপস্থিত না হয়।
EXO 34:21 “ছয় দিন তুমি পরিশ্রম কোরো, কিন্তু সপ্তম দিন বিশ্রাম নিয়ো; এমনকি চাষ করার ও ফসল কাটার সময়েও তোমাকে বিশ্রাম নিতে হবে।
EXO 34:22 “কাটা গমের অগ্রিমাংশ নিয়ে সাত সপ্তাহের উৎসব, এবং বছর ঘুরে এলে ফল সংগ্রহের উৎসবও পালন কোরো।
EXO 34:23 বছরে তিনবার তোমাদের সব পুরুষকে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সার্বভৌম সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হতে হবে।
EXO 34:24 আমি তোমার সামনে থেকে জাতিদের তাড়িয়ে দেব এবং তোমার এলাকা সম্প্রসারিত করব, এবং তুমি যখন বছরে তিনবার তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হতে যাবে, তখন কেউ তোমার জমিজায়গার উপর লোভ করবে না।
EXO 34:25 “খামিরযুক্ত কোনো কিছু সমেত আমার উদ্দেশে বলির রক্ত উৎসর্গ কোরো না, এবং নিস্তারপর্বীয় উৎসবের কোনও নৈবেদ্য সকাল পর্যন্ত পড়ে থাকতে দিয়ো না।
EXO 34:26 “তোমার জমির সেরা প্রথম ফলটি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে নিয়ে এসো। “ছাগ-শিশুকে তার মায়ের দুধে রান্না কোরো না।”
EXO 34:27 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “এসব কথা লিখে ফেলো, কারণ এই কথাগুলির আধারে আমি তোমার সাথে ও ইস্রায়েলের সাথে এক নিয়ম স্থির করেছি।”
EXO 34:28 রুটি না খেয়ে ও জলপান না করে মোশি সেখানে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সদাপ্রভুর সাথে ছিলেন। আর সেই ফলকের উপর তিনি নিয়মের সেই কথাগুলি—দশাজ্ঞাটি লিখলেন।
EXO 34:29 মোশি যখন বিধিনিয়মের সেই দুটি ফলক হাতে নিয়ে সীনয় পর্বত থেকে নেমে এলেন, তখন তিনি জানতেই পারেননি যে যেহেতু তিনি সদাপ্রভুর সাথে কথা বলেছিলেন তাই তাঁর মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
EXO 34:30 হারোণ ও ইস্রায়েলীরা সবাই যখন মোশিকে দেখেছিল, তখন তাঁর মুখটি উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, এবং তারা তাঁর কাছে আসতে ভয় পেল।
EXO 34:31 কিন্তু মোশি তাঁদের ডাক দিলেন; অতএব হারোণ ও সমাজের নেতারা সবাই তাঁর কাছে ফিরে এলেন, এবং মোশি তাঁদের সাথে কথা বললেন।
EXO 34:32 পরে ইস্রায়েলীরা সবাই তাঁর কাছে এল, এবং সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে তাঁকে যেসব আদেশ দিয়েছিলেন তা তিনি তাদের জানালেন।
EXO 34:33 মোশি তাদের কাছে সব কথা বলে শেষ করার পর, তিনি তাঁর মুখে একটি আবরণ দিলেন।
EXO 34:34 কিন্তু যখনই তিনি সদাপ্রভুর সাথে কথা বলার জন্য তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করতেন, বের হয়ে না আসা পর্যন্ত তিনি সেই আবরণ সরিয়ে রাখতেন। আর যখনই তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে ইস্রায়েলীদের বলতেন তাঁকে কী কী আদেশ দেওয়া হয়েছে,
EXO 34:35 তখনই তারা দেখত যে তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে আছে। তখন মোশি যতক্ষণ না সদাপ্রভুর সাথে কথা বলার জন্য ভিতরে যেতেন ততক্ষণ তাঁর মুখে একটি আবরণ দিয়ে রাখতেন।
EXO 35:1 মোশি সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজকে একত্রিত করলেন এবং তাদের বললেন, “সদাপ্রভু তোমাদের এরকম করার আদেশ দিয়েছেন:
EXO 35:2 ছয় দিন কাজ করা যাবে, কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমাদের জন্য পবিত্র দিন, সদাপ্রভুর উদ্দেশে সাব্বাথের এক বিশ্রামবার হবে। যে কেউ এদিন কোনও কাজ করবে তাকে মেরে ফেলতে হবে।
EXO 35:3 সাব্বাথবারে তোমাদের কোনও বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ো না।”
EXO 35:4 মোশি সমগ্র ইস্রায়েল সমাজকে বললেন, “সদাপ্রভু তোমাদের এরকম করার আদেশ দিয়েছেন:
EXO 35:5 তোমাদের কাছে যা আছে তা থেকে সদাপ্রভুর জন্য এক উপহার নিয়ো। যে কেউ ইচ্ছুক, সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক উপহাররূপে এগুলি আনুক: “সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ;
EXO 35:6 নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি মসিনা; ছাগলের লোম;
EXO 35:7 লাল রং করা মেষের ছাল এবং অন্য এক ধরনের টেকসই চামড়া; বাবলা কাঠ;
EXO 35:8 আলোর জন্য জলপাই তেল; অভিষেক করার উপযোগী তেলের জন্য ও সুগন্ধি ধূপের জন্য মশলাপাতি;
EXO 35:9 এবং এফোদ ও বুকপাটার উপরে বসানোর জন্য স্ফটিকমণি ও অন্যান্য মণিরত্ন।
EXO 35:10 “তোমাদের মধ্যে যারা দক্ষ কারিগর, তাদের এগিয়ে আসতে হবে ও সদাপ্রভুর আদেশানুসারে সবকিছু করতে হবে:
EXO 35:11 “আবাস এবং সেটির তাঁবু ও সেটির আচ্ছাদন, আঁকড়া, কাঠামো, আগল, খুঁটি ও ভিতগুলি;
EXO 35:12 সিন্দুক ও সেটির খুঁটিগুলি এবং প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদন ও সেটিকে আড়াল করে থাকা পর্দা;
EXO 35:13 টেবিল ও সেটির খুঁটিগুলি এবং সেটির সব উপকরণ ও দর্শন-রুটি;
EXO 35:14 আলো দেওয়ার জন্য দীপাধার ও সেটির আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্রদীপ ও আলোর জন্য তেল;
EXO 35:15 ধূপবেদি ও সেটির খুঁটিগুলি, অভিষেক-তেল ও সুগন্ধি ধূপ; সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে দরজার জন্য পর্দা;
EXO 35:16 হোমবলির বেদি ও সেটির ব্রোঞ্জের জাফরি, সেটির খুঁটিগুলি ও সেটির সব পাত্র; ব্রোঞ্জের গামলা ও সেটির মাচা;
EXO 35:17 প্রাঙ্গণের পর্দাগুলি ও সেখানকার খুঁটি ও ভিতগুলি, এবং প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের জন্য পর্দা;
EXO 35:18 সমাগম তাঁবুর ও প্রাঙ্গণের জন্য তাঁবু-খুটা এবং সেগুলির দড়াদড়ি;
EXO 35:19 হাতে বোনা যে পোশাক পরে পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করতে হত, সেগুলি ও যাজক হারোণের জন্য পবিত্র পোশাক এবং যাজকরূপে সেবা করার সময় তাঁর ছেলেদের যে পোশাকগুলি পরে, সেই পোশাকগুলিও।”
EXO 35:20 পরে সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজ মোশির কাছ থেকে চলে গেল,
EXO 35:21 এবং যে যে ইচ্ছুক হল ও যাদের অন্তর তোলপাড় হল, তারা প্রত্যেকে এগিয়ে এল এবং সমাগম তাঁবুর জন্য, সেখানকার সব সেবাকাজের জন্য, ও পবিত্র পোশাকগুলির জন্য সদাপ্রভুর কাছে এক উপহার নিয়ে এল।
EXO 35:22 পুরুষ-স্ত্রী নির্বিশেষে যারা যারা ইচ্ছুক হল, তারা এগিয়ে এল এবং সব ধরনের সোনার অলংকার নিয়ে এল: বালা, কানের দুল, আংটি ও গয়নাগাটি। তারা সবাই তাদের সোনাদানা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ করল।
EXO 35:23 যার যার কাছে নীল, বেগুনি বা টকটকে লাল রংয়ের সুতো অথবা মিহি মসিনা, বা ছাগলের লোম, লাল রং করা মেষচর্ম অথবা অন্যান্য টেকসই চামড়া ছিল, তারা প্রত্যেকে সেগুলি নিয়ে এল।
EXO 35:24 যারা যারা রুপো বা ব্রোঞ্জের উপহার উৎসর্গ করল, সদাপ্রভুর উদ্দেশেই তারা সেটি নিয়ে এল, এবং যাদের কাছে যে কোনো কাজে ব্যবহারের উপযোগী বাবলা কাঠ ছিল তারা প্রত্যেকেই তা নিয়ে এল।
EXO 35:25 এক একজন দক্ষ মহিলা নিজের হাতে সুতো কেটেছিল ও নীল, বেগুনি বা টকটকে লাল রংয়ের সুতো অথবা মিহি মসিনা—যা কেটেছিল তাই আনল।
EXO 35:26 আর যেসব মহিলা ইচ্ছুক হল ও যাদের সেই দক্ষতা ছিল, তারা ছাগলের লোম দিয়ে সুতো কেটেছিল।
EXO 35:27 নেতারা এফোদ ও বুকপাটায় বসানোর জন্য স্ফটিকমণি ও অন্যান্য মণিরত্ন আনলেন।
EXO 35:28 এছাড়াও তারা আলোর জন্য এবং অভিষেক-তেলের জন্য ও সুগন্ধি ধূপের জন্য মশলাপাতি ও জলপাই তেল আনলেন।
EXO 35:29 যেসব ইস্রায়েলী স্ত্রী-পুরুষ ইচ্ছুক হল, তারা মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু তাঁর জন্য তাদের যেসব কাজ করার আদেশ দিয়েছিলেন, তা করার জন্য সদাপ্রভুর কাছে স্বেচ্ছাদান নিয়ে এল।
EXO 35:30 পরে মোশি ইস্রায়েলীদের বললেন, “দেখো, সদাপ্রভু যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত হূরের নাতি তথা ঊরির ছেলে বৎসলেলকে মনোনীত করেছেন,
EXO 35:31 এবং তিনি তাকে ঈশ্বরের আত্মায়, প্রজ্ঞায়, বুদ্ধিতে, জ্ঞানে এবং সব ধরনের দক্ষতায় পরিপূর্ণ করেছেন—
EXO 35:32 যেন সে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ দিয়ে শিল্পবোধসম্পন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলে,
EXO 35:33 মণিরত্ন কেটে বসায়, কাঠের কাজ করে এবং সব ধরনের শিল্পবোধসম্পন্ন কারুশিল্পের কাজে লিপ্ত হয়।
EXO 35:34 আর তিনি তাকে ও দান গোষ্ঠীভুক্ত অহীষামকের ছেলে অহলীয়াব, এই দুজনকেই অন্যান্য মানুষজনকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন।
EXO 35:35 তিনি তাদের ও তাঁতিদের খোদাইকারী, নকশাকার ও সূচিশিল্পীরূপে নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো ও মিহি মসিনা দিয়ে সব ধরনের কাজ করার দক্ষতায় পরিপূর্ণ করেছেন—তারা সবাই দক্ষ কারিগর ও নকশাকার।
EXO 36:1 অতএব ঠিক কীভাবে সদাপ্রভুর আদেশানুসারে পবিত্রস্থান নির্মাণ-সংক্রান্ত সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে তা জানার জন্য সদাপ্রভু বৎসলেলকে, অহলীয়াবকে ও প্রত্যেক দক্ষ লোককে দক্ষতা ও সামর্থ্য দিলেন।”
EXO 36:2 পরে মোশি সেই বৎসলেল ও অহলীয়াব এবং দক্ষ এক একজন লোককে ডেকে পাঠালেন, যাদের সদাপ্রভু সামর্থ্য দিয়েছিলেন ও যারা এসে কাজ করতে ইচ্ছুক হল।
EXO 36:3 পবিত্রস্থান নির্মাণ-সংক্রান্ত কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ইস্রায়েলীরা যেসব উপহার এনেছিল, মোশির হাত থেকে তাঁরা সেগুলি গ্রহণ করলেন। আর লোকেরা প্রতিদিন সকালবেলায় অব্যাহতভাবে স্বেচ্ছাদান এনেই যাচ্ছিল।
EXO 36:4 অতএব যেসব দক্ষ কারিগর পবিত্রস্থানের সব কাজকর্ম করছিল, তারা নিজেদের কাজ থামিয়ে
EXO 36:5 মোশির কাছে এসে বলল, “সদাপ্রভু যে কাজ করার আদেশ দিয়েছেন তা করার জন্য যা দরকার, লোকেরা তার চেয়েও বেশি উপকরণ নিয়ে এসেছে।”
EXO 36:6 তখন মোশি এক আদেশ জারি করলেন এবং তারা শিবিরের সর্বত্র একথা ঘোষণা করে দিলেন: “কোনও স্ত্রী বা পুরুষ যেন পবিত্রস্থানের জন্য এক উপহাররূপে আর কিছু না আনে।” আর তাই লোকেরা আরও বেশি কিছু আনা থেকে ক্ষান্ত হল,
EXO 36:7 যেহেতু তাদের কাছে ইতিমধ্যেই যা ছিল, তা সব কাজ করার পক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্তই ছিল।
EXO 36:8 কারিগরদের মধ্যে যাঁরা দক্ষ ছিলেন, তাঁরা পাকা হাতে মিহি পাকান মসিনা ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতোয় তৈরি দশটি পর্দায় করূবদের নকশা ফুটিয়ে তুলে সমাগম তাঁবুটি তৈরি করলেন।
EXO 36:9 সব পর্দা একই মাপের—13 মিটার লম্বা ও 1.8 মিটার চওড়া হল।
EXO 36:10 তাঁরা পাঁচটি পর্দা একসাথে জুড়ে দিলেন ও অন্য পাঁচটির ক্ষেত্রেও একই কাজ করলেন।
EXO 36:11 পরে তাঁরা এক পাটি পর্দায় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত কিনারা ধরে ধরে নীল কাপড়ের ফাঁস তৈরি করলেন, এবং অন্য পাটি পর্দাতেও এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত একই কাজ করলেন।
EXO 36:12 এছাড়াও তাঁরা একটি পর্দায় পঞ্চাশটি ফাঁস ও অন্য পাটির শেষ প্রান্তের পর্দায় পঞ্চাশটি ফাঁস তৈরি করে দিলেন, এবং ফাঁসগুলি পরস্পরের মুখোমুখি ছিল।
EXO 36:13 পরে তাঁরা সোনার পঞ্চাশটি আঁকড়া তৈরি করলেন এবং দুই পাটি পর্দা একসাথে বেঁধে রাখার জন্য সেগুলি ব্যবহার করলেন, যেন সমাগম তাঁবুটি অক্ষুণ্ণ থাকে।
EXO 36:14 তাঁরা সমাগম তাঁবুটি ঢেকে রাখার জন্য ছাগ-লোমের মোট এগারোটি পর্দা তৈরি করলেন।
EXO 36:15 এগারোটি পর্দার সবকটি একই মাপের—14 মিটার লম্বা ও 1.8 মিটার চওড়া হল।
EXO 36:16 তাঁরা পর্দাগুলির মধ্যে পাঁচটি একসাথে জুড়ে এক পাটি করলেন এবং অন্য ছটি জুড়ে আর এক পাটি করলেন।
EXO 36:17 পরে তাঁরা এক পাটি পর্দায় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত কিনারা ধরে ধরে পঞ্চাশটি ফাঁস তৈরি করলেন এবং অন্য পাটি পর্দাতেও এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত তা করলেন।
EXO 36:18 তাঁবুটি একসাথে অক্ষুণ্ণ অবস্থায় বেঁধে রাখার জন্য তাঁরা ব্রোঞ্জের পঞ্চাশটি আঁকড়া তৈরি করলেন।
EXO 36:19 পরে তাঁরা সেই তাঁবু ঢেকে রাখার জন্য মেষের চামড়া লাল রং করে, তা দিয়ে একটি আচ্ছাদন তৈরি করলেন, এবং সেটির উপর অন্য এক টেকসই চামড়া দিয়ে আরও একটি আচ্ছাদন তৈরি করলেন।
EXO 36:20 তাঁরা সমাগম তাঁবুর জন্য বাবলা কাঠ দিয়ে খাড়া কাঠামো তৈরি করলেন।
EXO 36:21 প্রত্যেকটি কাঠামো 4.5 মিটার করে লম্বা ও 68 সেন্টিমিটার করে চওড়া হল,
EXO 36:22 এবং কাঠামোর বেরিয়ে থাকা অংশ দুটি পরস্পরের সমান্তরাল করে বসানো হল। এভাবেই তাঁরা সমাগম তাঁবুর সব কাঠামো তৈরি করলেন।
EXO 36:23 সমাগম তাঁবুর দক্ষিণ দিকের জন্য তাঁরা কুড়িটি কাঠামো তৈরি করলেন
EXO 36:24 এবং সেগুলির তলায় দেওয়ার জন্য—প্রত্যেকটি কাঠামোর জন্য দুটি করে, ও প্রত্যেকটি বেরিয়ে থাকা অংশের তলায় একটি করে মোট চল্লিশটি রুপোর ভিত তৈরি করলেন।
EXO 36:25 অন্য দিকের, সমাগম তাঁবুর উত্তর দিকের জন্য তাঁরা কুড়িটি কাঠামো
EXO 36:26 এবং প্রত্যেকটি কাঠামোর তলায় দুটি করে মোট চল্লিশটি রুপোর ভিত তৈরি করলেন।
EXO 36:27 শেষ প্রান্তের, অর্থাৎ, সমাগম তাঁবুর পশ্চিম প্রান্তের জন্য তাঁরা ছয়টি কাঠামো তৈরি করলেন,
EXO 36:28 এবং শেষ প্রান্তে সমাগম তাঁবুর কোণাগুলির জন্যও দুটি কাঠামো তৈরি হল।
EXO 36:29 এই দুই কোনায় কাঠামোগুলি নিচ থেকে একদম চূড়া পর্যন্ত দ্বিগুণ মাপের হল এবং একটিই চক্রে সেগুলি লাগানো হল; দুটি কোনা একইরকম ভাবে তৈরি করা হল।
EXO 36:30 অতএব সেখানে আটটি কাঠামো ও প্রত্যেকটি কাঠামোর তলায় দুটি করে—মোট ষোলোটি রুপোর ভিত ছিল।
EXO 36:31 এছাড়াও তাঁরা বাবলা কাঠের আগল তৈরি করলেন: সমাগম তাঁবুর একদিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি,
EXO 36:32 অন্য দিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি, এবং সমাগম তাঁবুর শেষ প্রান্তে, পশ্চিমদিকের কাঠামোগুলির জন্য পাঁচটি।
EXO 36:33 তাঁরা এমনভাবে মধ্যবর্তী আগলটি তৈরি করলেন যে সেটি কাঠামোর মাঝখানে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারিত হল।
EXO 36:34 কাঠামোগুলি তাঁরা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন এবং আগলগুলি ধরে রাখার জন্য সোনার আংটা তৈরি করলেন। আগলগুলিও তাঁরা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
EXO 36:35 তাঁরা নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো ও মিহি পাকান মসিনা দিয়ে একটি পর্দা তৈরি করলেন, এবং দক্ষ কারিগর দিয়ে তাতে করূবদের নকশা ফুটিয়ে তুললেন।
EXO 36:36 সেটির জন্য তাঁরা বাবলা কাঠের চারটি খুঁটি তৈরি করলেন এবং সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন। সেগুলির জন্য তাঁরা সোনার আঁকড়া তৈরি করলেন এবং সেগুলির চারটি রুপোর ভিতও ঢালাই করে দিলেন।
EXO 36:37 তাঁবুর প্রবেশদ্বারের জন্য নীল, বেগুনি, টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে একটি পর্দা তৈরি করলেন—যা হল একজন সূচিশিল্পীর হস্তকলা;
EXO 36:38 এবং তাঁরা পাঁচটি খুঁটি ও সেগুলির জন্য আঁকড়াও তৈরি করলেন। তাঁরা খুঁটিগুলির চূড়া ও বেড়ীগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে সেগুলির পাঁচটি ভিত তৈরি করলেন।
EXO 37:1 বৎসলেল বাবলা কাঠ দিয়ে 1.1 মিটার লম্বা, 68 সেন্টিমিটার চওড়া, ও 68 সেন্টিমিটার উঁচু সিন্দুকটি তৈরি করলেন।
EXO 37:2 ভিতরে ও বাইরে, দুই দিকেই তিনি সেটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং সেটির চারপাশে সোনা দিয়ে একটি ছাঁচ তৈরি করলেন।
EXO 37:3 সেটির জন্য তিনি সোনার চারটি কড়া ঢালাই করে দিলেন এবং সেগুলি সেটির চারটি পায়ায় বেঁধে দিলেন—দুটি আংটা একদিকে ও দুটি আংটা অন্যদিকে রাখলেন।
EXO 37:4 পরে তিনি বাবলা কাঠ দিয়ে খুঁটি তৈরি করলেন ও সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
EXO 37:5 আর সিন্দুকটি বহন করার জন্য তিনি সেটির দুই পাশে রাখা আংটায় খুঁটিগুলি ঢুকিয়ে দিলেন।
EXO 37:6 খাঁটি সোনা দিয়ে তিনি 1.1 মিটার লম্বা ও 68 সেন্টিমিটার চওড়া প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদন তৈরি করলেন।
EXO 37:7 পরে তিনি সেই আচ্ছাদনের দুই কিনারায় পিটানো সোনা দিয়ে দুটি করূব তৈরি করলেন।
EXO 37:8 একদিকের কিনারায় তিনি একটি করূব ও অন্যদিকে দ্বিতীয় করূবটি তৈরি করলেন; দুই কিনারায় আবরণ সমেত তিনি সেগুলি অখণ্ডিত রূপ দিয়েই তৈরি করলেন।
EXO 37:9 করূবেরা তাদের ডানাগুলি উপরের দিকে ছড়িয়ে দিয়েছিল, ও সেগুলি দিয়ে আবরণটি আড়াল করে রেখেছিল। করূবেরা পরস্পরের দিকে মুখ করে সেই আবরণের দিকে তাকিয়েছিল।
EXO 37:10 তাঁরা বাবলা কাঠ দিয়ে 90 সেন্টিমিটার লম্বা, 45 সেন্টিমিটার চওড়া ও 68 সেন্টিমিটার উঁচু টেবিলটি তৈরি করলেন।
EXO 37:11 পরে তাঁরা সেটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন এবং সেটির চারপাশে সোনার এক ছাঁচ তৈরি করে দিলেন।
EXO 37:12 এছাড়াও তাঁরা সেটির চারপাশে 7.5 সেন্টিমিটার চওড়া একটি চক্রবেড় তৈরি করলেন এবং সেই চক্রবেড়ে সোনার এক ছাঁচ বসিয়ে দিলেন।
EXO 37:13 টেবিলের জন্য তাঁরা সোনার চারটি আংটা ঢালাই করে দিলেন এবং সেগুলি সেই চার কোনায় বেঁধে দিলেন, যেখানে চারটি পায়াও ছিল।
EXO 37:14 টেবিল বহনের উদ্দেশে ব্যবহৃত খুঁটিগুলি ধরে রাখার জন্য সেই কড়াগুলি চক্রবেড়ের কাছাকাছি রাখা হল।
EXO 37:15 টেবিল বহনকারী খুঁটিগুলি বাবলা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হল এবং সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল।
EXO 37:16 আর টেবিলের জন্য খাঁটি সোনা দিয়ে তাঁরা এইসব জিনিসপত্র—থালা ও বাটি ও গামলা ও পেয়-নৈবেদ্য ঢালার জন্য কলশিগুলি তৈরি করলেন।
EXO 37:17 তাঁরা খাঁটি সোনা দিয়ে দীপাধার তৈরি করলেন। পিটিয়ে পিটিয়ে তাঁরা সেটির ভিত ও হাতল তৈরি করলেন, এবং সেগুলির সাথে একই টুকরো দিয়ে ফুলের মতো দেখতে পেয়ালা, কুঁড়ি ও মুকুলগুলিও তৈরি করলেন।
EXO 37:18 সেই দীপাধারের দুই ধার থেকে একদিকে তিনটি ও অন্যদিকে তিনটি—মোট ছয়টি শাখা বের করা হল।
EXO 37:19 কুঁড়ি ও মুকুল সমেত কাগজি বাদামফুলের মতো দেখতে তিনটি পেয়ালা ছিল একটি শাখায়, ও অন্য তিনটি ছিল পরবর্তী শাখায় এবং দীপাধার থেকে বের হয়ে থাকা ছয়টি শাখাই একইরকম দেখতে হল।
EXO 37:20 আর দীপাধারে কুঁড়ি ও মুকুল সমেত কাগজি বাদামফুলের মতো দেখতে চারটি পানপাত্র ছিল।
EXO 37:21 একটি কুঁড়ি ছিল দীপাধার থেকে বের হয়ে থাকা মোট ছয়টি শাখার মধ্যে প্রথম জোড়া শাখার তলায়, দ্বিতীয় কুড়িটি ছিল দ্বিতীয় জোড়ার তলায় এবং তৃতীয় কুড়িটি ছিল তৃতীয় জোড়ার তলায়।
EXO 37:22 সবকটি কুঁড়ি ও শাখা সেই দীপাধারের সঙ্গে অখণ্ড ছিল, যা খাঁটি সোনা পিটিয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হল।
EXO 37:23 খাঁটি সোনা দিয়ে তাঁরা সেটির সাতটি প্রদীপ, সেইসাথে সেটির পলতে ছাঁটার যন্ত্র ও বারকোশগুলিও তৈরি করলেন।
EXO 37:24 এক তালন্ত খাঁটি সোনা দিয়ে তাঁরা সেই দীপাধার ও সেটির সব আনুষঙ্গিক উপকরণ তৈরি করলেন।
EXO 37:25 ধূপ জ্বালানোর জন্য তাঁরা বাবলা কাঠ দিয়ে একটি বেদি তৈরি করলেন। এটি ছিল বর্গাকার, 45 সেন্টিমিটার করে লম্বা ও চওড়া এবং 90 সেন্টিমিটার উঁচু—এর শিংগুলি এর সাথে একই টুকরো দিয়ে গড়া হল।
EXO 37:26 তাঁরা সেই বেদির চূড়া ও সবদিক এবং শিংগুলি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং এর চারপাশে সোনার এক ছাঁচ তৈরি করলেন।
EXO 37:27 তাঁরা বেদিটি বহন করার কাজে ব্যবহৃত খুঁটিগুলি ধরে রাখার জন্য সেই ছাঁচের তলায়—সামনাসামনি দুই দিকের জন্য দুটি দুটি করে—সোনার দুটি আংটা তৈরি করলেন।
EXO 37:28 বাবলা কাঠ দিয়ে তাঁরা খুঁটি তৈরি করলেন ও সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
EXO 37:29 এছাড়াও তাঁরা পবিত্র অভিষেক-তেল ও খাঁটি সুগন্ধি ধূপ তৈরি করলেন—যা হল সুগন্ধি দ্রব্যাদি প্রস্তুতকারকের হস্তকলা।
EXO 38:1 বাবলা কাঠ দিয়ে তাঁরা 1.4 মিটার উঁচু হোমবলির বেদি নির্মাণ করলেন; সেটি বর্গাকার, 2.3 মিটার করে লম্বা ও চওড়া হল।
EXO 38:2 চারটি কোণের প্রত্যেকটিতে তাঁরা একটি করে শিং তৈরি করলেন, যেন শিংগুলি বেদির সাথে অখণ্ড হয়, এবং বেদিটি তাঁরা ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়ে দিলেন।
EXO 38:3 সেটির সব পাত্র তাঁরা ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করলেন: হাঁড়ি, বেলচা, জল ছিটানোর গামলা, মাংস তোলার কাঁটাচামচ ও আগুনে সেঁকার চাটু।
EXO 38:4 বেদির জন্য তাঁরা একটি জাফরি, ব্রোঞ্জের পরস্পরছেদী একটি জাল তৈরি করলেন, যা বেদির মাঝামাঝিতে, সেটির তাকের নিচে বসানো হল।
EXO 38:5 ব্রোঞ্জের জাফরির চার কোণের খুঁটিগুলি ধরে রাখার জন্য তাঁরা ব্রোঞ্জের আংটা ঢালাই করে দিলেন।
EXO 38:6 বাবলা কাঠ দিয়ে তাঁরা খুঁটিগুলি তৈরি করলেন এবং সেগুলি ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়ে দিলেন।
EXO 38:7 খুঁটিগুলি তাঁরা আংটায় ঢুকিয়ে দিলেন, যেন বেদি বহনের জন্য সেগুলি বেদির পাশেই থাকে। তাঁরা সেগুলি তক্তা দিয়ে, ফাঁপা করে তৈরি করলেন।
EXO 38:8 যেসব মহিলা সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সেবাকাজ করত, তাদের ব্যবহৃত আয়নাগুলি দিয়ে তাঁরা ব্রোঞ্জের গামলা ও সেটির মাচা তৈরি করলেন।
EXO 38:9 পরে তাঁরা প্রাঙ্গণটি তৈরি করলেন। দক্ষিণ দিকটি ছিল 45 মিটার লম্বা এবং সেখানে মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি পর্দা,
EXO 38:10 এবং কুড়িটি খুঁটি ও ব্রোঞ্জের কুড়িটি ভিত ছিল, ও খুঁটিগুলির উপরে রুপোর আঁকড়া ও বেড়ীও ছিল।
EXO 38:11 উত্তর দিকটিও ছিল 45 মিটার লম্বা এবং সেখানে কুড়িটি খুঁটি ও ব্রোঞ্জের কুড়িটি ভিত ছিল, ও খুঁটিগুলির উপরে রুপোর আঁকড়া ও বেড়ীও ছিল।
EXO 38:12 পশ্চিম দিকটি ছিল 23 মিটার চওড়া এবং সেখানে পর্দা, এবং দশটি খুঁটি ও দশটি ভিত, এবং খুঁটিগুলির উপরে রুপোর আঁকড়া ও বেড়ীও ছিল।
EXO 38:13 সূর্যোদয়ের দিকে, পূর্ব দিকটিও ছিল 23 মিটার চওড়া।
EXO 38:14 প্রবেশদ্বারের এক পাশে, তিনটি খুঁটি ও তিনটি ভিত সমেত 6.8 মিটার লম্বা পর্দা ছিল,
EXO 38:15 এবং প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের অন্য দিকেও তিনটি খুঁটি ও তিনটি ভিত সমেত 6.8 মিটার লম্বা পর্দা ছিল।
EXO 38:16 প্রাঙ্গণের চারপাশের সব পর্দা মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি করা হল।
EXO 38:17 সব খুঁটির ভিতগুলি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করা হল। খুঁটির উপরের আঁকড়া ও বেড়ীগুলি রুপো দিয়ে তৈরি করা হল, এবং খুঁটির চূড়াগুলি রুপো দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল; অতএব প্রাঙ্গণের সব খুঁটিতে রুপোর বেড়ী ছিল।
EXO 38:18 প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের পর্দাটি নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে তৈরি করা হল—যা এক সূচিশিল্পীর হস্তকলা হল। সেটি 9 মিটার লম্বা এবং, প্রাঙ্গণের পর্দাগুলির মতো, 2.3 মিটার উঁচু হল,
EXO 38:19 এবং সেটির সাথে চারটি খুঁটি ও ব্রোঞ্জের চারটি ভিতও ছিল। সেগুলির আঁকড়া ও বেড়ীগুলি রুপো দিয়ে তৈরি করা হল, এবং চূড়াগুলি রুপো দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল।
EXO 38:20 সমাগম তাঁবুর ও পার্শ্ববর্তী প্রাঙ্গণের সব তাঁবু-খুটা ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করা হল।
EXO 38:21 মোশির আদেশানুসারে, যাজক হারোণের ছেলে ঈথামরের নেতৃত্বে লেবীয়েরা সমাগম তাঁবুতে, বিধিনিয়মের সেই সমাগম তাঁবুতে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর যে সংখ্যা নথিভুক্ত করলেন তা এইরকম।
EXO 38:22 (সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেইমতোই যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত হূরের নাতি ও ঊরির ছেলে বৎসলেল সবকিছু তৈরি করলেন;
EXO 38:23 তাঁর সাথে ছিলেন দান গোষ্ঠীভুক্ত অহীষামকের ছেলে অহলীয়াব—যিনি এক ক্ষোদক ও নকশাকার, এবং নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতোর ও মিহি মসিনার কাজ জানা এক সূচিশিল্পী ছিলেন)
EXO 38:24 পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে, পবিত্রস্থানের সব কাজে ব্যবহৃত দোলনীয়-নৈবেদ্য থেকে সংগৃহীত সোনার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল 29 তালন্ত ও 730 শেকল।
EXO 38:25 পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে, সমাজভুক্ত যাদের সংখ্যা জনগণনায় স্থান পেয়েছিল, তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত রুপোর পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল 100 তালন্ত ও 1,775 শেকল—
EXO 38:26 কুড়ি বছর ও ততোধিক বয়স্ক মোট 6,03,550 জন লোক, যারা গণিত হওয়ার জন্য পার হয়ে এসেছিল, তাদের মধ্যে প্রত্যেকের জন্য পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে এক বেকা, অর্থাৎ, আধ শেকল করে নেওয়া হল।
EXO 38:27 100 তালন্ত রুপো পবিত্রস্থানের ও পর্দার জন্য ভিত ঢালাইয়ের উদ্দেশে 100-টি ভিতের জন্য 100 তালন্ত, প্রত্যেকটি ভিতের জন্য এক এক তালন্ত রুপো ব্যবহৃত হল।
EXO 38:28 খুঁটির আঁকড়া তৈরি করার, খুঁটির চূড়া মুড়ে দেওয়ার, ও সেগুলির বেড়ী তৈরি করার জন্য তাঁরা 1,775 শেকল ব্যবহার করলেন।
EXO 38:29 দোলনীয়-নৈবেদ্য থেকে সংগৃহীত ব্রোঞ্জের পরিমাণ হল 70 তালন্ত ও 2,400 শেকল।
EXO 38:30 সেই ব্রোঞ্জ তারা সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারের ভিত, ব্রোঞ্জের বেদি ও সেটির সাথে যুক্ত ব্রোঞ্জের জাফরি এবং সেটির সব পাত্র,
EXO 38:31 পার্শ্ববর্তী প্রাঙ্গণের ও সেটির প্রবেশদ্বারের ভিতগুলি এবং সমাগম তাঁবুর ও পার্শ্ববর্তী প্রাঙ্গণের জন্য তাঁবু-খুটা তৈরি করার কাজে ব্যবহার করলেন।
EXO 39:1 পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করার জন্য তারা নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো দিয়ে হাতে বোনা পোশাক তৈরি করলেন। এছাড়াও, সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই আদেশানুসারে তাঁরা হারোণের জন্য পবিত্র পোশাক তৈরি করে দিলেন।
EXO 39:2 তাঁরা সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো, এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে এফোদ তৈরি করলেন।
EXO 39:3 তাঁরা সোনা পিটিয়ে পিটিয়ে সরু পাত তৈরি করলেন এবং তা থেকে সুতো কেটে নীল, বেগুনি ও লাল রংয়ের সুতোয় ও মিহি মসিনায় গেঁথে দিলেন—যা দক্ষ হস্তকলা হল।
EXO 39:4 তাঁরা এফোদের জন্য কাঁধ-পটি তৈরি করলেন, ও এমনভাবে সেগুলি এফোদের দুটি কোণে জুড়ে দিলেন যেন তা বাঁধা থাকে।
EXO 39:5 দক্ষতার সাথে বোনা কোমরবন্ধটিও এটির মতো করে তৈরি হল—এফোদের সাথেই জুড়ে থাকা একই ভাগ হবে এবং সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো, এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে, সদাপ্রভু মোশিকে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, সেরকমই হল।
EXO 39:6 সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্যে স্ফটিকমণি বসিয়ে তাঁরা তাতে ইস্রায়েলের ছেলেদের নামগুলি সিলমোহরের মতো খোদাই করে দিলেন।
EXO 39:7 সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে পরে তাঁরা ইস্রায়েলের ছেলেদের জন্য স্মারক-মণিরূপে সেগুলি এফোদের কাঁধ-পটিগুলিতে বেঁধে দিলেন।
EXO 39:8 তাঁরা বুকপাটাটি তৈরি করলেন—যা দক্ষ এক কারিগরের কাজ হল। এফোদের মতো করেই তাঁরা সেটি তৈরি করলেন: সোনা, ও নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো, এবং মিহি পাকান মসিনা দিয়ে সেটি তৈরি করা হল।
EXO 39:9 সেটি বর্গাকার—23 সেন্টিমিটার করে লম্বা ও চওড়া হল—এবং তা দুই ভাঁজ করে রাখা হল।
EXO 39:10 পরে তাঁরা সেটির উপর চার সারি মূল্যবান মণিরত্ন বসিয়ে দিলেন। প্রথম সারিতে ছিল চুণী, গোমেদ ও পান্না;
EXO 39:11 দ্বিতীয় সারিতে ছিল ফিরোজা, নীলা ও হীরা;
EXO 39:12 তৃতীয় সারিতে ছিল নীলকান্তমণি, অকীক ও নীলা;
EXO 39:13 চতুর্থ সারিতে ছিল পোখরাজ, স্ফটিকমণি ও সূর্যকান্তমণি। সেগুলি সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্য করা নকশার উপরে বসানো হল।
EXO 39:14 ইস্রায়েলের ছেলেদের প্রত্যেকের নামে একটি করে, মোট বারোটি মণিরত্ন নেওয়া হল, এবং প্রত্যেকটি মণি বারোটি গোষ্ঠীর মধ্যে এক এক গোষ্ঠীর নামে সিলমোহরের মতো খোদাই করে দেওয়া হল।
EXO 39:15 বুকপাটাটির জন্য তাঁরা খাঁটি সোনা দিয়ে দড়ির মতো দেখতে পাতা-কাটা শিকল তৈরি করলেন।
EXO 39:16 তাঁরা সোনার তারের সূক্ষ্ম কারুকার্য করা দুটি নকশা ও সোনার দুটি আংটা তৈরি করলেন, এবং সেই আংটা দুটি বুকপাটার দুই কোণে বেঁধে দিলেন।
EXO 39:17 তাঁরা সোনার সেই দুটি শিকল বুকপাটার কোণগুলিতে রাখা আংটাগুলিতে বেঁধে দিলেন,
EXO 39:18 এবং শিকলের অন্য প্রান্তগুলি নকশা দুটিতে বেঁধে দিয়ে, সেগুলি সামনের দিকে এফোদের কাঁধ-পটিতে জুড়ে দিলেন।
EXO 39:19 তাঁরা সোনার দুটি আংটা তৈরি করলেন ও এফোদের পাশের বুকপাটার ভিতরদিকে অন্য দুই কোণে সেগুলি জুড়ে দিলেন।
EXO 39:20 পরে তাঁরা সোনার আরও দুটি আংটা তৈরি করলেন এবং এফোদের কোমরবন্ধের ঠিক উপরে, যেখানে জোড়ের মুখের সেলাই পড়েছিল, তার কাছেই এফোদের সামনের দিকে কাঁধ-পটির তলায় সেগুলি জুড়ে দিলেন।
EXO 39:21 নীল সুতো দিয়ে তাঁরা এফোদের আংটাগুলির সাথে বুকপাটার আংটাগুলি বেঁধে, সেটি কোমরবন্ধের সাথে জুড়ে দিলেন, যেন বুকপাটাটি নড়ে গিয়ে এফোদ থেকে খুলে না যায়—যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 39:22 তাঁরা পুরোপুরি নীল কাপড় দিয়েই তাঁতির কাজের মতো করে এফোদের আলখাল্লাটি তৈরি করলেন,
EXO 39:23 এবং সেই আলখাল্লার মাঝখানে মাথা ঢোকানোর মতো একটি ফাঁক, ও সেই ফাঁকের চারপাশে একটি বেড়ী রেখে দিলেন, যেন তা ছিঁড়ে না যায়।
EXO 39:24 সেই আলখাল্লার আঁচল ধরে ধরে তাঁরা নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো ও মিহি পাকান মসিনা দিয়ে ডালিম তৈরি করে দিলেন।
EXO 39:25 আর তাঁরা খাঁটি সোনা দিয়ে ঘণ্টা তৈরি করলেন এবং ডালিমগুলির মাঝে মাঝে আঁচলের চারপাশে সেগুলি জুড়ে দিলেন।
EXO 39:26 সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশানুসারে, পরিচর্যা করার সময় যে আলখাল্লাটি পরতে হত, সেটির আঁচলের চারপাশে পর্যায়ক্রমিকভাবে ঘণ্টা ও ডালিমগুলি লাগানো হল।
EXO 39:27 হারোণ ও তাঁর ছেলেদের জন্য, তাঁরা মিহি মসিনা দিয়ে তাঁতির কাজের মতো করে নিমা
EXO 39:28 এবং মিহি মসিনা দিয়ে পাগড়ি, মসিনার টুপি ও মিহি পাকান মসিনা দিয়ে অন্তর্বাসগুলি তৈরি করলেন।
EXO 39:29 সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশানুসারে, একজন সূচিশিল্পীর হস্তকলার মতো করে মিহি পাকান মসিনা এবং নীল, বেগুনি ও টকটকে লাল রংয়ের সুতো দিয়ে উত্তরীয়টি তৈরি করা হল।
EXO 39:30 তাঁরা খাঁটি সোনা দিয়ে ফলক, সেই পবিত্র প্রতীকটি তৈরি করে, তাতে সিলমোহরে খোদাই করা লিপির মতো খোদাই করে লিখে দিলেন: সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র।
EXO 39:31 সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশানুসারে, পরে তাঁরা পাগড়ির সাথে সেটি জুড়ে রাখার জন্য তাতে একটি নীল সুতো বেঁধে দিলেন।
EXO 39:32 অতএব আবাসের, সমাগম তাঁবুর সব কাজ সম্পূর্ণ হল। ইস্রায়েলীরা সবকিছু সেভাবেই করল, যেমনটি করার আদেশ সদাপ্রভু মোশিকে দিয়েছিলেন।
EXO 39:33 পরে তারা সেই সমাগম তাঁবুটি মোশির কাছে নিয়ে এল: সেই তাঁবু ও সেটির সব আসবাবপত্র, সেটির আঁকড়া, কাঠামো, আগল, খুঁটি ও ভিতগুলি;
EXO 39:34 লাল রং করা মেষচর্মের আচ্ছাদন এবং অন্য একটি টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন ও আচ্ছাদক-পর্দা;
EXO 39:35 খুঁটি ও প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদন সমেত বিধিনিয়মের সিন্দুক;
EXO 39:36 সব উপকরণ সমেত টেবিল এবং দর্শন-রুটি;
EXO 39:37 প্রদীপের সারি ও আনুষঙ্গিক উপকরণ সমেত খাঁটি সোনার দীপাধার, এবং আলোর জন্য জলপাই তেল;
EXO 39:38 সোনার বেদি, অভিষেক-তেল, সুগন্ধি ধূপ, এবং তাঁবুর প্রবেশদ্বারের জন্য পর্দা;
EXO 39:39 ব্রোঞ্জের জাফরি সমেত ব্রোঞ্জের বেদি, সেটির খুঁটি ও সব পাত্র; গামলা ও সেটির মাচা;
EXO 39:40 খুঁটি ও ভিত সমেত প্রাঙ্গণের পর্দাগুলি, এবং প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের পর্দা; প্রাঙ্গণের জন্য তাঁবু-খুটা ও দড়াদড়ি; আবাসের, সেই সমাগম তাঁবুর জন্য সব আসবাবপত্র;
EXO 39:41 এবং হাতে বোনা যে পোশাক পরে পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করতে হত, সেগুলি ও যাজক হারোণের জন্য পবিত্র পোশাক এবং যাজকরূপে সেবা করার সময় তাঁর ছেলেদের যে পোশাকগুলি পরতে হত, সেই পোশাকগুলিও।
EXO 39:42 সদাপ্রভু মোশিকে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই ইস্রায়েলীরা সব কাজ করল।
EXO 39:43 মোশি সেই কাজ পরিদর্শন করলেন এবং দেখলেন যে সদাপ্রভু যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই তারা তা করেছে। তাই মোশি তাদের আর্শীবাদ করলেন।
EXO 40:1 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন:
EXO 40:2 “প্রথম মাসের প্রথম দিনে সমাগম তাঁবু, সেই আবাসটি প্রতিষ্ঠিত করো।
EXO 40:3 বিধিনিয়মের সিন্দুকটি সেটির মধ্যে রেখে দাও এবং সিন্দুকটি পর্দা দিয়ে ঢেকে দাও।
EXO 40:4 টেবিলটি এনে সেটির উপরে সব জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখো। পরে দীপাধারটি এনে সেটির প্রদীপগুলি জ্বালিয়ে দাও।
EXO 40:5 বিধিনিয়মের সিন্দুকটির সামনে সোনার ধূপবেদিটি এনে রাখো এবং সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে পর্দা টাঙিয়ে দাও।
EXO 40:6 “সমাগম তাঁবুর, সেই আবাসের প্রবেশদ্বারের সামনে হোমবলির বেদিটি এনে রাখো;
EXO 40:7 সমাগম তাঁবু ও বেদির মাঝখানে গামলাটি এনে রাখো এবং তাতে জল ভরে দাও।
EXO 40:8 সেটির চারপাশের প্রাঙ্গণটি সাজিয়ে রাখো এবং সেই প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারে পর্দা টাঙিয়ে দাও।
EXO 40:9 “অভিষেক-তেল নাও এবং সমাগম তাঁবু ও সেখানকার সবকিছু অভিষিক্ত করো; সেটি ও সেখানকার সব আসবাবপত্র পবিত্র করো, এবং তা পবিত্র হয়ে যাবে।
EXO 40:10 পরে হোমবলির বেদিটি ও সেটির সব পাত্র অভিষিক্ত করো; বেদিটি অভিষিক্ত করো, এবং তা মহাপবিত্র হয়ে যাবে।
EXO 40:11 গামলা ও সেটির মাচাটি অভিষিক্ত করো এবং সেগুলি পবিত্রও করো।
EXO 40:12 “হারোণ ও তার ছেলেদের সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারের কাছে নিয়ে এসো এবং তাদের জল দিয়ে স্নান করাও।
EXO 40:13 পরে হারোণকে পবিত্র পোশাকগুলি পরিয়ে দাও, তাকে অভিষিক্ত করো এবং তাকে পবিত্র করো, যেন সে যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে।
EXO 40:14 তার ছেলেদের নিয়ে এসো এবং তাদের নিমা পরাও।
EXO 40:15 যেভাবে তাদের বাবাকে অভিষিক্ত করলে, ঠিক সেভাবে তাদেরও অভিষিক্ত করো, যেন তারা যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারে। তাদের এই অভিষেক এমন এক যাজকত্বের জন্য হবে, যা তাদের বংশপরম্পরা ধরে চলতে থাকবে।”
EXO 40:16 সদাপ্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন, ঠিক সেই অনুসারেই তিনি সবকিছু করলেন।
EXO 40:17 অতএব দ্বিতীয় বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে সমাগম তাঁবুটি প্রতিষ্ঠিত হল।
EXO 40:18 মোশি যখন সমাগম তাঁবুটি প্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন তিনি ভিতগুলি সঠিক স্থানে বসালেন, কাঠামোগুলি দাঁড় করালেন, আগলগুলি ঢুকিয়ে দিলেন এবং খুঁটিগুলি পুঁতে দিলেন।
EXO 40:19 পরে তিনি সমাগম তাঁবুর উপরে তাঁবু বিছিয়ে দিলেন এবং তাঁবুর উপরে আবরণ দিলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:20 তিনি বিধিনিয়মের ফলকগুলি নিলেন এবং সেগুলি সিন্দুকে রেখে দিলেন, সেই সিন্দুকের সাথে খুঁটিগুলি জুড়ে দিলেন ও সেটির উপরে প্রায়শ্চিত্ত-আচ্ছাদনটি রেখে দিলেন।
EXO 40:21 পরে তিনি সেই সিন্দুকটি সমাগম তাঁবুতে নিয়ে এলেন এবং আড়ালকারী পর্দাটি ঝুলিয়ে দিলেন ও বিধিনিয়মের সেই সিন্দুকটি আড়াল করে রাখলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:22 মোশি সেই টেবিলটি সমাগম তাঁবুতে, পর্দার বাইরে, আবাসের উত্তর দিকে রেখে দিলেন
EXO 40:23 এবং সদাপ্রভুর সামনে সেটির উপরে রুটি সাজিয়ে রাখলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:24 তিনি সেই দীপাধারটি সমাগম তাঁবুতে, টেবিলের বিপরীতে, আবাসের দক্ষিণ দিকে রেখে দিলেন
EXO 40:25 এবং সদাপ্রভুর সামনে প্রদীপগুলি জ্বালিয়ে দিলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:26 মোশি সোনার বেদিটি সমাগম তাঁবুতে পর্দার সামনে রেখে দিলেন
EXO 40:27 এবং সেটির উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালিয়ে দিলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:28 পরে তিনি সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে পর্দা টাঙিয়ে দিলেন।
EXO 40:29 তিনি হোমবলির বেদিটি সমাগম তাঁবুর, সেই আবাসের প্রবেশদ্বারের কাছে রেখে দিলেন, এবং সেটির উপরে হোমবলি ও শস্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:30 গামলাটি তিনি সমাগম তাঁবু ও বেদির মাঝখানে রেখে দিলেন ও ধোয়াধুয়ি করার জন্য তাতে জল ভরে রাখলেন,
EXO 40:31 এবং মোশি এবং হারোণ ও তাঁর ছেলেরা সেই জল তাঁদের হাত পা ধোয়ার জন্য ব্যবহার করতেন।
EXO 40:32 যখনই তাঁরা সমাগম তাঁবুতে প্রবেশ করতেন বা বেদিটির কাছে যেতেন, তাঁরা নিজেদের ধোয়াধুয়ি করতেন, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
EXO 40:33 পরে মোশি সমাগম তাঁবুর ও বেদির চারপাশে প্রাঙ্গণ তৈরি করলেন এবং প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারে পর্দা লাগিয়ে দিলেন। আর এইভাবে মোশি কাজটি সমাপ্ত করলেন।
EXO 40:34 তখন মেঘ এসে সমাগম তাঁবুটি ঢেকে দিল, এবং সমাগম তাঁবুটি সদাপ্রভুর মহিমায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠল।
EXO 40:35 মোশি সমাগম তাঁবুতে প্রবেশ করতে পারেননি কারণ তা মেঘে ছেয়ে ছিল, এবং সদাপ্রভুর মহিমা সমাগম তাঁবুটি পরিপূর্ণ করে রেখেছিল।
EXO 40:36 ইস্রায়েলীদের সব যাত্রায়, যখনই মেঘ সমাগম তাঁবুর উপর থেকে সরে যেত, তখনই তারা যাত্রা শুরু করত;
EXO 40:37 কিন্তু মেঘ যদি না সরত, তবে যতদিন তা না সরত, ততদিন তারা যাত্রা শুরু করত না।
EXO 40:38 অতএব ইস্রায়েলীদের সব যাত্রায় তাদের সকলের দৃষ্টিগোচরে দিনের বেলায় সদাপ্রভুর মেঘ সমাগম তাঁবুর উপরে থাকত, এবং রাতের বেলায় সেই মেঘে আগুন থাকত।
LEV 1:1 সদাপ্রভু মোশিকে ডাকলেন ও সমাগম তাঁবু থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন,
LEV 1:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো: ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার দেয়, সে পশুপাল থেকে অর্থাৎ গোপাল অথবা মেষপাল থেকে একটি পশু উৎসর্গ করুক।
LEV 1:3 “ ‘যদি সে পশুপাল থেকে হোমবলি উপহার দেয়, তাহলে নিষ্কলঙ্ক এক পুংপশু উৎসর্গ করুক। সে অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে এই উপহার রাখবে, যেন তা সদাপ্রভুর গ্রহণযোগ্য হয়।
LEV 1:4 হোমবলির মাথায় সে হাত রাখবে ও তা প্রায়শ্চিত্তরূপে তার পক্ষে গৃহীত হবে।
LEV 1:5 পরে সদাপ্রভুর সামনে সে এঁড়ে বাছুরটি বধ করবে এবং এরপরে হারোণের পুত্র যাজকেরা রক্ত নেবে ও সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারের চারপাশে বেদির সর্বত্র রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
LEV 1:6 সে ওই হোমবলির চামড়া খুলবে ও বলিকৃত পশু কেটে খণ্ড খণ্ড করবে।
LEV 1:7 এরপর হারোণের পুত্র যাজকেরা বেদিতে অগ্নি সংযোগ করবে ও আগুনের মধ্যে কাঠ দেবে।
LEV 1:8 পরে হারোণের পুত্র যাজকেরা পশুর মাথা ও চর্বি সমেত খণ্ডগুলি সাজাবে, এবং বেদিতে জ্বলন্ত কাঠের উপরে রাখবে।
LEV 1:9 পশুর শরীরের ভিতরের অংশ ও পাগুলি সে জলে ধোবে এবং যাজক সে সকল বেদির আগুনে পোড়াবে। এটি হোমবলি, সদাপ্রভুর উদ্দেশে সন্তোষজনক সৌরভার্থক অগ্নিকৃত এক উপহার।
LEV 1:10 “ ‘যদি মেষপাল থেকে হোমবলি উৎসর্গ করা হয়, পালের মেষ কিংবা ছাগল হোক, তা হবে নিষ্কলঙ্ক এক পুংশাবক।
LEV 1:11 সদাপ্রভুর সামনে বেদির উত্তর দিকে সে পশুটি হত্যা করবে ও হারোণের পুত্র যাজকেরা বেদির চারপাশে বলিদানের রক্ত ছিটিয়ে দেবে।
LEV 1:12 সে পশুটিকে খণ্ড খণ্ড করে কাটবে এবং পশুটির মাথা ও চর্বি সমেত সমস্ত অর্ঘ্য যাজক সাজাবে ও বেদিতে জ্বলন্ত কাঠের উপরে রাখবে।
LEV 1:13 সে ওই পশুর অন্ত্র ও পা জলে ধুয়ে নেবে এবং যাজক সমস্ত নৈবেদ্য তুলবে ও বেদিতে পোড়াবে। এটি হোমবলি, সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক সন্তোষজনক উপহার।
LEV 1:14 “ ‘যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে পাখিদের হোমবলি উৎসর্গ করা হয়, তাহলে ঘুঘু অথবা কপোতশাবক সে উপহার দেবে।
LEV 1:15 যাজক ওই পাখিকে বেদিতে আনবে, তার মাথা মুচড়ে বেদিতে পোড়াবে; পাখির রক্ত বেদির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেবে।
LEV 1:16 সে ওই পাখির কণ্ঠনালীর থলি ও অন্যান্য আবর্জনা তুলবে ও ভস্মস্থানের বেদির পূর্বদিকে নিক্ষেপ করবে।
LEV 1:17 সে পাখিটির ডানা ভাঙবে, কিন্তু পাখিটিকে পুরোপুরি ছিঁড়ে ফেলবে না, এবং বেদিতে জ্বলন্ত কাঠে যাজক পাখিটিকে পোড়াবে। এটি হোমবলি, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক সন্তোষজনক এক উপহার।
LEV 2:1 “ ‘যখন কেউ সদাপ্রভুর উদ্দেশে শস্য-নৈবেদ্য আনবে, সে মিহি ময়দার উপহার আনবে, ময়দাতে জলপাই তেল ঢালবে, নৈবেদ্যের উপরে ধূপ রাখবে
LEV 2:2 এবং হারোণের পুত্র যাজকদের কাছে নিয়ে যাবে। যাজক সমস্ত ধূপ সমেত একমুঠো মিহি ময়দা ও তেল নেবে এবং নৈবেদ্যের স্মরণীয় অংশরূপে তা বেদিতে পোড়াবে, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক সন্তোষজনক অগ্নিকৃত উপহার।
LEV 2:3 শস্য-নৈবেদ্যের অবশিষ্টাংশ হারোণের ও তাঁর ছেলেদের হবে; এটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত সমস্ত উপহারের অতি পবিত্র অংশ।
LEV 2:4 “ ‘যদি তুমি উনুনে শেঁকা শস্য-নৈবেদ্য আনো, তাহলে মিহি ময়দা দিয়ে তা তৈরি করতে হবে, যা হবে খামিরবিহীন, অথচ তেলমিশ্রিত পিঠে, তৈলাক্ত সরু চাকলী।
LEV 2:5 যদি পিঠে সেঁকার পাত্রে তোমার শস্য-নৈবেদ্য প্রস্তুত করো, তাহলে তেলমিশ্রিত মিহি ময়দা দিয়ে তা তৈরি করতে হবে, কিন্তু সেই খাদ্য খামিরবিহীন রাখতে হবে।
LEV 2:6 নৈবেদ্য খণ্ড খণ্ড করো, তাতে তেল ঢালো; এটি শস্য-নৈবেদ্য।
LEV 2:7 যদি তোমার শস্য-নৈবেদ্য একটি পাত্রে রান্না করা হয়, তা মিহি ময়দা ও জলপাই তেল সহযোগে রান্না করতে হবে।
LEV 2:8 এই সমস্ত উপাদান মিশ্রিত শস্য-নৈবেদ্য সদাপ্রভুর কাছে আনো; যাজকের হাতে দাও, যাজক সেটি বেদিতে নিয়ে যাবেন।
LEV 2:9 তিনি শস্য-নৈবেদ্য থেকে স্মরণীয় অংশ তুলে নেবেন, এবং অগ্নিকৃত নৈবেদ্যরূপে বেদিতে পোড়াবেন, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক সন্তোষজনক উপহার।
LEV 2:10 শস্য-নৈবেদ্যের অবশিষ্টাংশ হারোণের ও তাঁর ছেলেদের হবে। এটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত সমস্ত উপহারের অতি পবিত্র অংশ।
LEV 2:11 “ ‘সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত তোমার যে কোনো শস্য-নৈবেদ্য অবশ্যই খামিরবিহীন হবে। মধুমিশ্রিত কোনো নৈবেদ্য তুমি পোড়াতে পারবে না।
LEV 2:12 তুমি সেগুলি তোমার প্রথম ফসলরূপে সদাপ্রভুর কাছে আনবে, কিন্তু সৌরভার্থক প্রীতিজনক উপহাররূপে সেগুলি উৎসর্গ করা যাবে না।
LEV 2:13 তুমি তোমার শস্য-নৈবেদ্যের সব বস্তু লবণাক্ত করবে। তোমার শস্য-নৈবেদ্য তোমার ঈশ্বরের সঙ্গে সন্ধিচুক্তির লবণ বিহীন রাখবে না। তোমার সব নৈবেদ্যে লবণ মিশ্রিত করো।
LEV 2:14 “ ‘যদি তুমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমার প্রথম ফসলের শস্য-নৈবেদ্য নিবেদন করতে চাও, তাহলে আগুনে ঝলসানো নতুন ফসলের মর্দিত শিষ নিবেদন করবে।
LEV 2:15 এই নৈবেদ্যে তেল ঢালো ও এর উপরে ধূপ রাখো; এটি শস্য-নৈবেদ্য।
LEV 2:16 যাজক সমস্ত ধূপ সমেত মর্দিত ফসলের স্মরণীয় অংশ ও তেল পোড়াবে, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহাররূপে নিবেদিত হবে।
LEV 3:1 “ ‘যদি কেউ মঙ্গলার্থক বলিদান দেয় এবং পশুপাল থেকে একটি পশু উৎসর্গ করে, সেটি পুংপশু বা স্ত্রীপশু যাই হোক না কেন, সদাপ্রভুর সামনে সেটি নির্দোষ হওয়া চাই।
LEV 3:2 সে ওই পশুর মাথায় হাত রাখবে ও সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সেটিকে বধ করবে। পরে হারোণের পুত্র যাজকেরা বেদির চারপাশে রক্ত ছিটাবে।
LEV 3:3 মঙ্গলার্থক বলিদান থেকে সে এক অর্ঘ্য আনবে, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার, ভিতরের অঙ্গ এবং সমস্ত মেদ তার সঙ্গে যুক্ত,
LEV 3:4 অন্ত্র আচ্ছাদনকারী সমস্ত মেদ অথবা এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রত্যঙ্গ, কোমরের কাছাকাছি মেদসহ দুটি কিডনি ও কিডনির পর্দা সে বাদ দেবে।
LEV 3:5 তারপর হোমবলির শীর্ষ ভাগে বেদির উপরে হারোণের ছেলেরা নৈবেদ্য পোড়াবে, অর্থাৎ কাঠে অর্ঘ্য ঝলসানো হবে; এটি অগ্নিকৃত এক নৈবেদ্য যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক প্রীতিজনক উপহার।
LEV 3:6 “ ‘যদি সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পশুপাল থেকে কোনো পুংশাবক অথবা স্ত্রীশাবক মঙ্গলার্থক নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ করে, তাহলে তা যেন ত্রুটিমুক্ত হয়।
LEV 3:7 যদি সে এক মেষশাবক বলি দেয়, সদাপ্রভুর সামনে সে তাকে রাখবে।
LEV 3:8 সে তার বলির পশুর মাথায় হাত রাখবে ও সমাগম তাঁবুর সামনে বধ করবে। পরে হারোণের ছেলেরা বেদির চারপাশে বধ করা পশুর রক্ত ছিটাবে।
LEV 3:9 মঙ্গলার্থক বলি থেকে অগ্নিকৃত উপহার সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদন করবে। বলিকৃত পশুর সমস্ত মেদ, অথবা এতে সংযুক্ত অন্যান্য প্রত্যঙ্গ,
LEV 3:10 কোমরের কাছাকাছি মেদসহ দুটো কিডনি ও যকৃতের পর্দা সে সরিয়ে দেবে।
LEV 3:11 যাজক খাদ্যরূপে সেগুলি বেদিতে পোড়াবে, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত এক উপহার।
LEV 3:12 “ ‘যদি সে একটি ছাগল উৎসর্গ করতে চায়, সদাপ্রভুর সামনে সে তাকে রাখবে,
LEV 3:13 ছাগটির মাথায় সে হাত রাখবে ও সমাগম তাঁবুর সামনে তাকে বধ করবে। পরে হারোণের পুত্রেরা বেদির চারপাশে বধ করা পশুর রক্ত ছিটাবে।
LEV 3:14 তার যে কোনো বলিদান সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার হতেই হবে; অন্ত্র আচ্ছাদনকারী সমস্ত মেদ অথবা এতে সংযুক্ত প্রত্যঙ্গ
LEV 3:15 কোমরের কাছাকাছি মেদসহ দুটো কিডনি ও যকৃতের পর্দা সে সরিয়ে দেবে।
LEV 3:16 যাজক সেগুলি ভক্ষ্যরূপে বেদিতে পোড়াবে, যা সৌরভার্থক প্রীতিজনক অগ্নিকৃত এক উপহার। সমস্ত মেদ সদাপ্রভুর।
LEV 3:17 “ ‘পুরুষানুক্রমে তোমরা যেখানেই বসবাস করো এটি হবে তোমাদের জন্য চিরস্থায়ী বিধি, তোমরা মেদ অথবা রক্ত ভোজন করবে না।’ ”
LEV 4:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 4:2 “তুমি ইস্রায়েলীদের বলো: ‘কেউ যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে এবং সদাপ্রভুর আদেশসমূহের যে কোনো নিষিদ্ধ আদেশ লঙ্ঘন করে।
LEV 4:3 “ ‘যদি অভিষিক্ত যাজক পাপ করে, লোকদের উপরে দোষ বর্তায়, তাহলে তার করা পাপের জন্য সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পাপার্থক বলিরূপে ত্রুটিহীন এঁড়ে বাছুর উৎসর্গ করবে।
LEV 4:4 সে সদাপ্রভুর সামনে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে গোবৎস রাখবে। বাছুরটির মাথায় সে হাত রাখবে ও সদাপ্রভুর সামনে তাকে বধ করবে।
LEV 4:5 পরে অভিষিক্ত যাজক বাছুরটির কিছু রক্ত নেবে ও সমাগম তাঁবুতে নিয়ে যাবে।
LEV 4:6 সে রক্তের মধ্যে আঙুল ডুবিয়ে পবিত্রস্থানের সামনের দিকে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে সেই রক্তের কিছুটা ছিটিয়ে দেবে।
LEV 4:7 পরে যাজক সমাগম তাঁবুর মধ্যে সদাপ্রভুর সামনে সুগন্ধি ধূপযুক্ত বেদির শৃঙ্গে অল্প রক্ত দেবে। সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে হোমবলির বেদির মূলে সে বাছুরটির অবশিষ্ট রক্ত ঢালবে।
LEV 4:8 পাপার্থক বলির বাছুরটির সমস্ত মেদ সে ছাড়াবে যা অন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত অংশ,
LEV 4:9 কোমরের কাছাকাছি মেদযুক্ত দুটি কিডনি ও যকৃতের পর্দা সে সরিয়ে দেবে।
LEV 4:10 একইভাবে বলিকৃত বাছুরটির মেদ সরাবে, যা মঙ্গলার্থক বলিদান। পরে যাজক হোমবলির বেদিতে সেগুলি পোড়াবে।
LEV 4:11 কিন্তু ওই বাছুরটির চামড়া, সমস্ত মাংস, মাথা ও পা, অন্ত্র ও গোবর,
LEV 4:12 সম্পূর্ণ বাছুরটিকে নিয়ে শিবিরের বাইরে কোনো আনুষ্ঠানিক শুচিশুদ্ধ স্থানে কাঠের উপরে আগুনে পোড়াবে, ভস্ম ফেলার স্থানেই ভস্মের স্তূপে সেগুলি পুড়বে।
LEV 4:13 “ ‘যদি সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে ও সদাপ্রভুর আদেশসমূহের মধ্যে যে কোনো একটি নিষিদ্ধ আদেশ লঙ্ঘন করে, এমনকি বিষয়টি সমাজের অজানা থাকলেও তারা দোষী সাব্যস্ত হবে
LEV 4:14 যখন সমাজ তাদের করা পাপের কথা জানতে পারবে, সকলে পাপার্থক বলিরূপে অবশ্যই একটি এঁড়ে বাছুর আনবে ও সমাগম তাঁবুর সামনে রাখবে।
LEV 4:15 সমাজের প্রাচীনেরা সদাপ্রভুর সামনে বাছুরটির মাথায় হাত রাখবে এবং বাছুরটিকে সদাপ্রভুর সামনে বধ করবে।
LEV 4:16 তারপর অভিষিক্ত যাজক বাছুরটির কিছুটা রক্ত নিয়ে সমাগম তাঁবুর মধ্যে যাবে।
LEV 4:17 সে রক্তের মধ্যে আঙুল ডুবিয়ে পবিত্রস্থানের সামনের দিকে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে সেই রক্তের কিছুটা ছিটিয়ে দেবে।
LEV 4:18 বেদির শৃঙ্গে সে খানিকটা রক্ত ঢালবে, যা সমাগম তাঁবুর সদাপ্রভুর সামনে রয়েছে। সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে হোমবলির বেদিমূলে সে অবশিষ্ট রক্ত ঢালবে।
LEV 4:19 সে বাছুরটির সমস্ত মেদ ছাড়াবে ও বেদিতে পোড়াবে,
LEV 4:20 এবং পাপার্থক বলিদানে বাছুরটির প্রতি কৃতকর্মের মতো এই বাছুরটির প্রতি আচরণ করবে। এভাবে তাদের জন্য যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে ও তারা ক্ষমা পাবে।
LEV 4:21 পরে সে বাছুরটিকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাবে ও তাকে পোড়াবে, যেমন প্রথমে বাছুরকে পুড়িয়েছিল। এই হল সমাজের পাপার্থক বলিদান।
LEV 4:22 “ ‘যখন কোনো নেতা অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে এবং তার ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশসমূহের মধ্যে যে কোনো একটি নিষিদ্ধ আদেশ লঙ্ঘন করে, সে যখন তার অপরাধ বুঝতে পারবে
LEV 4:23 এবং তার করা পাপ অন্যেরা জানতে পারবে, সে অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত মদ্দা ছাগল উৎসর্গ করবে।
LEV 4:24 ছাগলটির মাথায় সে হাত রাখবে ও সেখানে তাকে বধ করবে, সেখানে সদাপ্রভুর সামনে হোমবলি করা হয়। এটি পাপার্থক বলিদান।
LEV 4:25 এরপর পাপার্থক বলিদানের খানিকটা রক্ত যাজক আঙুল দিয়ে তুলবে এবং হোমবলির বেদিশৃঙ্গে ঢালবে ও অবশিষ্ট রক্ত বেদিমূলে ঢালবে।
LEV 4:26 সে সমস্ত মেদ বেদিতে জ্বালাবে, যেমন মঙ্গলার্থক বলিদানে জ্বালিয়েছিল। এভাবে মানুষের পাপের জন্য যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে ও সে পাপের ক্ষমা পাবে।
LEV 4:27 “ ‘যদি সমাজের কোনো সদস্য অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে ও সদাপ্রভুর আদেশসমূহের মধ্যে যে কোনো একটি নিষিদ্ধ আদেশ লঙ্ঘন করে, যখন তারা তার দোষ বুঝতে পারবে
LEV 4:28 এবং তার করা পাপ অন্যেরা জানতে পারবে, তাদের করা পাপের জন্য বলিদানরূপে অবশ্যই একটি ত্রুটিমুক্ত মাদি ছাগল আনবে।
LEV 4:29 পাপার্থক বলির মাথায় সে হাত রাখবে ও হোমবলির জায়গায় সেটিকে বধ করবে।
LEV 4:30 এবারে যাজক তার আঙুল দিয়ে খানিকটা রক্ত তুলবে এবং হোমবলির বেদিশৃঙ্গে ঢালবে ও অবশিষ্ট রক্ত বেদিমূলে ঢালবে।
LEV 4:31 সে সমস্ত মেদ ছাড়াবে, যেমন মঙ্গলার্থক বলি থেকে ছাড়িয়েছিল; পরে যাজক সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থে বেদিতে রাখা সবকিছুই জ্বালিয়ে দেবে। এভাবে যাজক তার পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং সে ক্ষমা পাবে।
LEV 4:32 “ ‘যদি সে তার পাপার্থক বলিরূপে একটি মেষশাবক আনে, তাকে ত্রুটিমুক্ত মাদি মেষশাবক আনতে হবে।
LEV 4:33 শাবকটির মাথায় সে হাত রাখবে, এবং হোমবলি বধ করার জায়গায় পাপার্থক বলিরূপে সেটিকে বধ করবে।
LEV 4:34 তারপর পাপার্থক বলিদানের খানিকটা রক্ত যাজক তার আঙুল দিয়ে তুলবে এবং হোমবলির বেদিশৃঙ্গে ঢালবে ও অবশিষ্ট রক্ত বেদিমূলে ঢালবে।
LEV 4:35 সে সমস্ত মেদ ছাড়াবে, যেমন মঙ্গলার্থক বলিদানের মেষশাবকের মেদ ছাড়িয়েছিল এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত নৈবেদ্যের বেদির উপরে পোড়াবে। এইভাবে যাজক তার কৃত পাপের কারণে প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং সে ক্ষমা পাবে।
LEV 5:1 “ ‘যদি কেউ নিজের চোখে দেখে অথবা নিজের কানে শুনেও তা প্রকাশ না করার জন্য পাপ করে, তাহলে সেই বিষয়ের জন্য সে দায়ী হবে।
LEV 5:2 “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি জানতে পারে যে সে দোষী—যদি সে অজান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি কোনো জিনিস স্পর্শ করে (হতে পারে অশুচি পশুর মৃতদেহ, বন্য অথবা গৃহপালিত, অথবা কোনো অশুচি জীব যা মাটিতে চলে) এবং জানে না যে সে অশুচি, কিন্তু পরে উপলব্ধি করে যে সে অশুচি;
LEV 5:3 অথবা যদি সে মানুষের অশৌচ স্পর্শ করে (যা তাকে অশুচি করে) যদিও সে সেই বিষয় অবগত না হয়, কিন্তু পরে জানতে পারে এবং নিজের দোষ উপলব্ধি করে;
LEV 5:4 অথবা যদি কেউ অবিবেচকের মতো ভালো বা মন্দ কোনো কিছু করার শপথ গ্রহণ করে (যে কোনো কিছু করতে অযত্নে শপথ গ্রহণ করে) যদিও সে সেই বিষয় অবগত না হয়, কিন্তু পরে জানতে পারে এবং নিজের দোষ উপলব্ধি করে।
LEV 5:5 এগুলির কোনো একটির দ্বারা যখন কেউ অপরাধী হয়, সে নিজের পাপ অবশ্যই স্বীকার করবে।
LEV 5:6 তার কৃত পাপের দণ্ডরূপে এক পাপার্থক বলির জন্য একটি মেষবৎসা অথবা ছাগবৎসা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সে নিবেদন করবে এবং তার পাপমোচনের জন্য তার পক্ষে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 5:7 “ ‘সে যদি মেষবৎসা আনতে অসমর্থ হয়, তাহলে তার কৃত পাপের জন্য দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক এক দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর কাছে আনবে—একটি পাপার্থক ও অন্যটি হোমবলি হবে।
LEV 5:8 সে যাজকের কাছে সেগুলি আনবে, তিনি পাপার্থক বলিরূপে প্রথমে একটি শাবক উৎসর্গ করবেন। যাজক ওই শাবকের মাথা থেকে গলা মোচড় দেবে, কিন্তু ছিঁড়ে ফেলবে না,
LEV 5:9 এবং পাপার্থক বলির কিছুটা রক্ত নিয়ে বেদির গায়ে ছিটাবে এবং অবশিষ্ট রক্ত বেদির মূলে ঢেলে দেবে। এটি পাপার্থক বলি।
LEV 5:10 এবারে যাজক নির্ধারিত উপায়ে হোমবলিরূপে অন্য শাবকটি উৎসর্গ করবে এবং সেই ব্যক্তির কৃত পাপের জন্য তার পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করবে, এবং তার পাপের ক্ষমা হবে।
LEV 5:11 “ ‘অন্যদিকে, যদি সে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক জোগাড় করতে অসমর্থ হয়, তাহলে সে তার পাপের জন্য এক ঐফার দশমাংশ সূক্ষ্ম ময়দা পাপার্থক বলিরূপে উৎসর্গ করবে। সে তার নৈবেদ্যের উপরে জলপাই তেল অথবা সুগন্ধিদ্রব্য ঢালবে না, কারণ এটি পাপার্থক বলিদান।
LEV 5:12 সে এই বলিদান যাজকের কাছে আনবে যে এক স্মরণীয় অংশরূপে বলিদানের একমুঠো তুলে নিয়ে বেদিতে ভক্ষ্য-নৈবেদ্যের উপরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পোড়াবে। এটি পাপার্থক বলিদান।
LEV 5:13 এইভাবে তাদের কৃত যে কোনো পাপের জন্য যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং তাদের পাপের ক্ষমা হবে। অবশিষ্ট নৈবেদ্য যাজকের হবে, যেমন শস্য-নৈবেদ্যের ক্ষেত্রে হয়েছিল।’ ”
LEV 5:14 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 5:15 “যখন কোনও ব্যক্তি আজ্ঞা লঙ্ঘন করে এবং সদাপ্রভুর পবিত্র বিষয়গুলির কোনো একটি বিষয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে, সে দণ্ডস্বরূপ মেষপাল থেকে একটি ত্রুটিমুক্ত মেষ সদাপ্রভুর উদ্দেশে আনবে ও ধর্মধামের শেকল অনুসারে নিরূপিত পরিমাণে রুপো রাখবে। এটি হবে দোষার্থক-নৈবেদ্য।
LEV 5:16 পবিত্র বিষয়গুলির সম্বন্ধে তার ব্যর্থতা হেতু সে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেবে ও সামগ্রিক পরিমাণের পঞ্চমাংশ আনবে ও সমস্তই যাজককে দেবে। অপরাধের বলিদানরূপে একটি মেষ নিয়ে তার পক্ষে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে, এবং পাপীকে ক্ষমা করা হবে।
LEV 5:17 “যদি কেউ পাপ করে ও সদাপ্রভুর আদেশগুলির মধ্যে কোনো একটি আদেশ লঙ্ঘন করে, নিজের অজান্তে ওই পাপ করলেও সে অপরাধী ও দায়ী হবে।
LEV 5:18 দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে মেষপাল থেকে একটি মেষ সে যাজকের কাছে আনবে; মেষটি নিখুঁত সঠিক মূল্যের হবে। তার অনিচ্ছাকৃত অপরাধ হেতু তার পক্ষে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে, এবং সে তার কৃত পাপের ক্ষমা পাবে।
LEV 5:19 এটি দোষার্থক এক নৈবেদ্য। সদাপ্রভুর বিপক্ষে কৃত মন্দ কাজ হেতু সে অপরাধী হয়েছে।”
LEV 6:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 6:2 “যদি কেউ পাপ করে, এবং তার প্রতি অর্পিত কোনো বিষয় সম্বন্ধে তার প্রতিবেশীকে প্রবঞ্চিত করার দ্বারা সদাপ্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ত হয়, অথবা তার কাছে গচ্ছিত বস্তু চুরি করে, কিংবা সে প্রতিবেশীকে প্রবঞ্চিত করে,
LEV 6:3 অথবা হারানো সম্পত্তি খুঁজে পায়, অথচ মিথ্যা কথা বলে, কিংবা মিথ্যা শপথ করে, কিংবা তার কৃত পাপের মতো অন্য কেউ একই পাপ করে এভাবে যখন সে পাপ করে,
LEV 6:4 যখন সে এরকম কোনো পাপ করে এবং বুঝতে পারে যে সে অপরাধী, তখন চুরি করা বস্তু বা লুন্ঠিত জিনিস, অথবা তার প্রতি অর্পিত জিনিস কিংবা হারানো প্রাপ্ত সম্পদ পেয়ে নিজের কাছে রেখেছে
LEV 6:5 অথবা মিথ্যা শপথ করা যে কোনো বস্তু সে অবশ্যই ফেরত দেবে। যেদিন সে তার দোষার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে, সেদিন নির্ধারিত পরিমাণের পঞ্চমাংশ সমেত পরিশোধ যোগ্য সমস্ত দ্রব্যের ক্ষতিপূরণ প্রাপকের হাতে দেবে।
LEV 6:6 দণ্ডস্বরূপ সে যাজকের কাছে, অর্থাৎ সদাপ্রভুর উদ্দেশে মেষপাল থেকে নিখুঁত ও যথার্থ মানের একটি মেষ অবশ্যই আনবে।
LEV 6:7 এভাবে সদাপ্রভুর সামনে তার পক্ষে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং এসব আদেশের যে কোনো একটি আদেশ অমান্য হেতু তার পাপের ক্ষমা হবে, যা তাকে দোষী করেছিল।”
LEV 6:8 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 6:9 “হারোণ ও তার ছেলেদের এই আদেশ দাও, ‘হোমবলির নিয়মাবলি এইরকম: সারারাত, সকাল অবধি হোমবলি বেদিগৃহে থাকবে, এবং বেদিতে অগ্নি নির্বাপিত হবে না।
LEV 6:10 এবারে যাজক সুতির পোশাক ও অন্তর্বাস পরিধান করবেন, এবং হোমবলির অগ্নিভস্ম সরাবেন ও বেদির পাশে রাখবেন।
LEV 6:11 এরপর যাজক তার পোশাক ছাড়বেন ও অন্য পোশাক পরিহিত হবেন এবং সমস্ত ভস্ম শিবিরের বাইরে এক জায়গায় নিয়ে যাবেন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শুচি স্থান।
LEV 6:12 বেদিতে সংযোগ করা আগুন যেন জ্বলতে থাকে; এই আগুন কোনোভাবে নির্বাপিত হবে না। প্রতিদিন সকালে যাজক কাঠ জোগান দেবে, আগুনে হোমবলি সাজাবে ও এর উপরে মঙ্গলার্থক বলির মেদ পোড়াবে।
LEV 6:13 বেদিতে আগুন অবশ্যই অবিরাম জ্বলবে; আগুন নির্বাপিত হবে না।
LEV 6:14 “ ‘শস্য-নৈবেদ্যের পক্ষে নিয়মাবলি এইরকম, হারোণের ছেলেরা সদাপ্রভুর সামনের দিকে বেদি সামনের দিকে এই নৈবেদ্য আনবে।
LEV 6:15 যাজক সমস্ত ধূপ সমেত এক মুঠি মিহি ময়দা ও জলপাই তেল তুলে নিয়ে শস্য-নৈবেদ্যের উপরে রাখবে, এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক সন্তোষজনক উপহাররূপে বেদিতে স্মরণীয় অংশ পোড়াবে।
LEV 6:16 হারোণ ও তার ছেলেরা অবশিষ্ট খাদ্য ভোজন করবে, কিন্তু তাদের পবিত্রস্থানে খামিরবিহীন খাদ্য ভোজন করতে হবে; সমাগম তাঁবুর উঠোনে তারা যেন আহার করে।
LEV 6:17 খামিরযুক্ত খাদ্যবস্তু রান্না করা যাবে না; আমার উদ্দেশে প্রস্তুত অগ্নিকৃত উপহারগুলির অংশরূপে এটি আমি তাদের দিয়েছি। পাপার্থক বলি ও দোষার্থক-নৈবেদ্যের মতো এটি অত্যন্ত পবিত্র।
LEV 6:18 হারোণের যে কোনো পুরুষ বংশধর এই খাদ্য ভোজন করতে পারে। সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহারগুলির মধ্যে এই অংশবিশেষ তার অধিকার ও পুরুষানুক্রমে তারা ভোজন করবে। তাদের স্পর্শে যে কোনো বস্তু পবিত্র হবে।’ ”
LEV 6:19 সদাপ্রভু মোশিকে আরও বললেন,
LEV 6:20 “হারোণ ও তার ছেলেরা অভিষেকের দিনে সদাপ্রভু উদ্দেশে এই উপহার আনবে: এক নিয়মিত শস্য-নৈবেদ্যরূপে এক ঐফা মিহি ময়দার দশমাংশ, সকালে অর্ধেক ভাগ ও সন্ধ্যায় অর্ধেক ভাগ।
LEV 6:21 পাত্রে তেল ঢেলে তা প্রস্তুত করো, সুমিশ্রিত খাদ্য আনো ও সদাপ্রভুর উদ্দেশে খণ্ড খণ্ড করে কেটে সৌরভার্থক সন্তোষজনক উপহাররূপে ওই শস্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।
LEV 6:22 অভিষিক্ত যাজকরূপে তার উত্তরাধিকারী ছেলে এই খাদ্য প্রস্তুত করবে। এটি সদাপ্রভুর নিয়মিত অংশ, যা পুরোপুরি পোড়াতে হবে।
LEV 6:23 যাজকের প্রত্যেক শস্য-নৈবেদ্য পুরোপুরি পুড়ে যাবে, এটি ভোজন করা যাবে না।”
LEV 6:24 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 6:25 “হারোণ ও তার ছেলেদের বলো, পাপার্থক বলিদানের নিয়মাবলি এইরকম: সদাপ্রভুর সামনে হোমবলি হত্যা করার জায়গায় পাপার্থক বলিকে হত্যা করতে হবে; এটি অত্যন্ত পবিত্র।
LEV 6:26 উৎসর্গকারী যাজক এই খাদ্য খাবে। সমাগম তাঁবুর উঠোনের পবিত্রস্থানে খাদ্যটি ভোজন করতে হবে;
LEV 6:27 যে তা স্পর্শ করবে সে পবিত্র হবে; যদি পোশাকে রক্তের দাগ লাগে, তোমাকে এক পবিত্রস্থানে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
LEV 6:28 মাংস রান্নার জন্য মাটির পাত্রকে অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে; কিন্তু যদি পিতলের পাত্রে তা রান্না করা হয়, তাহলে জল দিয়ে ধুয়ে পাত্রটি পরিষ্কার করতে হবে।
LEV 6:29 যাজকের পরিবারের যে কোনো পুরুষ এই খাদ্য ভোজন করতে পারে; এটি অত্যন্ত পবিত্র।
LEV 6:30 কিন্তু পবিত্রস্থানে প্রায়শ্চিত্ত করবার জন্য সমাগম তাঁবুতে আনা যে কোনো পাপার্থক বলির রক্ত ভোজন করা যাবে না; এই ভক্ষ্য দ্রব্যকে পোড়াতেই হবে।
LEV 7:1 “ ‘দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের পক্ষে এই নিয়মাবলি, যা অত্যন্ত পবিত্র:
LEV 7:2 দোষার্থক-নৈবেদ্যদান সেখানে করতে হবে, যেখানে হোমবলি করা হয় এবং বেদির উপরে চারপাশে এর রক্ত ছিটাতে হবে।
LEV 7:3 এর সমস্ত চর্বি উৎসর্গ করা হবে, মেদযুক্ত লেজ, অন্ত্র আচ্ছাদনকারী মেদ,
LEV 7:4 কোমরের কাছাকাছি মেদযুক্ত দুটি কিডনি এবং যকৃতের পর্দা ছাড়িয়ে ফেলে দিতে হবে।
LEV 7:5 সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহাররূপে এগুলি বেদিতে রেখে যাজক পোড়াবে। এটি দোষার্থক-নৈবেদ্যদান।
LEV 7:6 যাজকের পরিবারের যে কোনো পুরুষ এই খাদ্য ভোজন করতে পারে, কিন্তু অবশ্যই এক পবিত্রস্থানে তা ভোজন করতে হবে; এটি অত্যন্ত পবিত্র ভক্ষ্য।
LEV 7:7 “ ‘পাপার্থক বলি ও দোষার্থক-নৈবেদ্য উভয় ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে; সবই যাজক নেবে, যার দ্বারা সকলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধিত হবে।
LEV 7:8 হোম বলিদানকারী যাজক নিজের জন্য চামড়া রাখতে পারবে।
LEV 7:9 প্রত্যেক শস্য-নৈবেদ্য উনুনে অথবা পাত্রে কিংবা চাটুতে রান্না করা খাদ্য যাজকের হবে, যে এই নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে
LEV 7:10 এবং তেলমিশ্রিত কিংবা অমিশ্রিত যে কোনো শস্য-নৈবেদ্য হারোণের ছেলেরা সবাই সমপরিমাণে পাবে।
LEV 7:11 “ ‘মঙ্গলার্থক বলিদানের পক্ষে এই নিয়মাবলি, যা যে কোনো ব্যক্তি সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার দিতে পারে।
LEV 7:12 “ ‘যদি সে কৃতজ্ঞতার প্রকাশস্বরূপ বলি আনে, তাহলে ধন্যবাদসূচক এই বলিদানের সঙ্গে সে তেলমিশ্রিত খামিরবিহীন রুটি, তৈলাক্ত খামিরবিহীন সরুচাকলি, তৈলসিক্ত মিহি ময়দার পিঠে আনবে।
LEV 7:13 সে তার কৃতজ্ঞতাপূর্ণ মঙ্গলার্থক বলির সঙ্গে খামিরযুক্ত ময়দার পিঠে উপহার দেবে।
LEV 7:14 সব ধরনের ভক্ষ্য সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি করে উপহার দানরূপে আনবে; এগুলি সেই যাজকের হবে যে বেদিতে মঙ্গলার্থক বলির রক্ত ছিটাবে।
LEV 7:15 তার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মঙ্গলার্থক বলির মাংস উৎসর্গীকরণের দিনে অবশ্যই ভোজন করতে হবে; সকাল পর্যন্ত যেন কোনো খাদ্য রাখা না হয়।
LEV 7:16 “ ‘যাইহোক, যদি, তার উপহার কোনো মানত কিংবা স্বেচ্ছাকৃত দানের পরিণতি হয়, তাহলে উৎসর্গীকরণের দিনে ওই বলি ভোজন করতে হবে, তবে অবশিষ্ট যে কোনো ভক্ষ্য পরের দিন ভোজন করতে পারে।
LEV 7:17 বলিদানের কোনো মাংস তৃতীয় দিন পর্যন্ত থাকলে তা অবশ্যই পোড়াতে হবে।
LEV 7:18 যদি মঙ্গলার্থক বলিদানের কোনো মাংস তৃতীয় দিনে ভোজন করা হয়, তাহলে তা গৃহীত হবে না। উপহারদাতার প্রতি তা আরোপিত হবে না, কারণ সেটি অশুচি; যদি কেউ এই মাংস ভক্ষণ করে, সে তার জন্য দায়ী হবে।
LEV 7:19 “ ‘মাংস কোনো আনুষ্ঠানিক অশুচি বস্তুকে স্পর্শ করলে তা ভক্ষণ করা যাবে না; সেটি জ্বালিয়ে দিতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে শুচি যে কোনো ব্যক্তি অন্য মাংস ভক্ষণ করতে পারে।
LEV 7:20 কিন্তু অশুচি কেউ যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত মঙ্গলার্থক বলিদানের মাংস ভক্ষণ করে, তাহলে নিজের লোকদের মধ্য থেকে সে উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 7:21 যদি কেউ কোনো অশুচি বস্তু স্পর্শ করে, কোনো অশুচি মানুষ অথবা এক অশুচি পশু, কিংবা ভূমিতে বিচরণকারী কোনো অশুচি ঘৃণার্হ বস্তু, এবং পরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত মঙ্গলার্থক বলিদানের মাংস ভক্ষণ করে, তাহলে সে নিজের লোকদের মধ্য থেকে অবশ্যই উচ্ছিন্ন হবে।’ ”
LEV 7:22 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 7:23 “তুমি ইস্রায়েলীদের এই কথা বলো: ‘গরু, মেষ অথবা ছাগলের মেদ তোমরা ভোজন করবে না।
LEV 7:24 মৃত পশুর অথবা বন্যপশু দ্বারা ছিন্নভিন্ন পশুর মেদ অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে কিন্তু তোমরা কিছুতেই ভোজন করবে না।
LEV 7:25 যদি কেউ এমন কোনো পশুর মেদ ভোজন করে যা অগ্নিকৃত উপহার রূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত, সে আপন লোকদের মধ্য থেকে অবশ্যই উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 7:26 তোমরা যেখানেই থাকো, কোনো পাখির অথবা পশুর রক্ত কখনও ভোজন করবে না।
LEV 7:27 যদি কেউ রক্ত ভোজন করে, তাহলে আপনজনদের মধ্য থেকে সে অবশ্যই উচ্ছিন্ন হবে।’ ”
LEV 7:28 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 7:29 “তুমি ইস্রায়েলীদের এই কথা বলো: ‘সদাপ্রভুর উদ্দেশে যদি কেউ মঙ্গলার্থক বলিদান আনে, তাহলে সদাপ্রভুর উদ্দেশে সে তার বলিদানের অংশ আনুক।
LEV 7:30 সে নিজের হাতে সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর সামনে আনবে; বক্ষের সঙ্গে মেদও আনতে হবে এবং সেই বক্ষ দোলনীয়-নৈবেদ্যস্বরূপ সদাপ্রভুর সামনে দোলাবে।
LEV 7:31 বেদির উপরে যাজক মেদ জ্বালাবে, কিন্তু হারোণ ও তার ছেলেরা বক্ষের অধিকারী।
LEV 7:32 তোমরা নিজ নিজ মঙ্গলার্থক বলিদানের ডান জাং উপহাররূপে যাজককে দেবে।
LEV 7:33 হারোণের যে ছেলে মঙ্গলার্থক বলিদানের রক্ত ও মেদ উৎসর্গ করবে, তার ভাগের অংশরূপে ডান জাং পাবে।
LEV 7:34 ইস্রায়েলীদের মঙ্গলার্থক বলিদান থেকে এক দোলনীয় বক্ষ আমি নিলাম ও উৎসর্গীকৃত জাং নিয়ে ইস্রায়েল-সন্তানদের দেয় চিরস্থায়ী অধিকাররূপে সেই নৈবেদ্য যাজক হারোণ ও তার ছেলেদের দিলাম।’ ”
LEV 7:35 অগ্নিকৃত উপহারের এই অংশ সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত, যা সেদিন হারোণ ও তার ছেলেদের জন্য চিহ্নিত হল, যেদিন যাজকরূপে তারা সদাপ্রভুর সেবাকর্মে সমর্পিত হয়েছিল।
LEV 7:36 যেদিন তারা অভিষিক্ত হল, সেদিন সদাপ্রভু আদেশ দিলেন যে বংশপরম্পরায় ইস্রায়েলীদের দেয় চিরস্থায়ী অধিকাররূপে এই উৎসর্গীকৃত জাং তারা হারোণ ও তার ছেলেদের দেবে।
LEV 7:37 হোমবলি, শস্য-নৈবেদ্য, পাপার্থক বলি, দোষার্থক-নৈবেদ্য, অভিষিক্তকরণ ও মঙ্গলার্থক বলিদানের পক্ষে এই বিধান,
LEV 7:38 যা সেদিন সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে মোশির প্রতি অর্পণ করেছিলেন, যেন ইস্রায়েলীরা সীনয় মরুভূমিতে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাদের সব বলিদান উৎসর্গ করে।
LEV 8:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 8:2 “তুমি হারোণ ও তার ছেলেদের, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, অভিষেকার্থ তেল, পাপার্থক বলিদানের জন্য বাছুর, দুটি মেষ ও এক ঝুড়ি খামিরবিহীন রুটি আনো,
LEV 8:3 এবং সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সমগ্র মণ্ডলীকে সমবেত করো।”
LEV 8:4 সদাপ্রভুর আদেশমতো মোশি কাজ করলেন ও সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে জনমণ্ডলী সমবেত হল।
LEV 8:5 জনগণের উদ্দেশে মোশি বললেন, “এই কাজ করতে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছেন।”
LEV 8:6 পরে হারোণ ও তাঁর ছেলেদের মোশি সামনে আনলেন ও জল দিয়ে তাদের ধুয়ে দিলেন করলেন।
LEV 8:7 তিনি হারোণকে কাপড় পরালেন, রেশমি ফিতে দিয়ে তার কোমর বেঁধে, তার গায়ে পোশাক ও তার উপরে এফোদ দিলেন এবং একটি বুনানি করা কোমরবন্ধ দিয়ে তার গায়ের এফোদ বেঁধে দিলেন। এর দ্বারা হারোণ সুদৃঢ় হল।
LEV 8:8 মোশি হারোণকে বুকপাটা দিলেন ও বুকপাটাতে ঊরীম ও তুম্মীম স্থাপন করলেন।
LEV 8:9 পরে হারণের মাথায় তিনি পাগড়ি পরিয়ে দিলেন, এবং পাগড়ির সামনের দিকে সোনার পাত দিয়ে গড়া পবিত্র প্রতীক জুড়ে দিলেন, যেমন মোশিকে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 8:10 পরে মোশি অভিষেকার্থক তেল নিলেন, এবং সমাগম তাঁবু ও তার মধ্যের সমস্ত দ্রব্য অভিষিক্ত করলেন, এবং সেগুলি উৎসর্গ করলেন।
LEV 8:11 তিনি বেদিতে সাতবার তেল ছিটালেন; বেদি এবং বেদির সমস্ত পাত্র, খাড়া রাখার উপাদান সমেত প্রক্ষালন পাত্র পবিত্র করণার্থে অভিষেক করলেন।
LEV 8:12 হারোণের মাথায় তিনি কিছুটা অভিষেকার্থক তেল ঢাললেন ও তাকে পবিত্র করণার্থে অভিষিক্ত করলেন।
LEV 8:13 তারপর তিনি হারোণের ছেলেদের সামনে আনলেন, কাপড় পরালেন, কটি বন্ধনে আবদ্ধ করলেন ও তাদের মাথায় শিরোভূষণের বন্ধনী দিলেন, যেমন মোশিকে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 8:14 পরে পাপার্থক বলিদানের জন্য তিনি বাছুর রাখলেন, এবং হারোণ ও তার ছেলেরা বাছুরটির মাথায় হাত রাখলেন।
LEV 8:15 মোশি ওই বাছুরটিকে বধ করলেন এবং বেদি শুচি করার জন্য বেদির শিংগুলিতে আঙুল দিয়ে কিছুটা রক্ত ঢাললেন। অবশিষ্ট রক্ত তিনি বেদিমূলে ঢেলে দিলেন। এইভাবে প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য তিনি সমস্তই পবিত্র করলেন।
LEV 8:16 আর মোশি অন্ত্রের সব মেদ, যকৃতের পর্দা, দুটি কিডনি ও কিডনির মেদ ছাড়িয়ে নিলেন ও বেদিতে জ্বালিয়ে দিলেন।
LEV 8:17 কিন্তু বাছুরটির চামড়া, মাংস ও গোবর শিবিরের বাইরে নিয়ে গেলেন ও সেগুলি পুড়িয়ে দিলেন, যেমন মোশিকে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 8:18 পরে হোমবলির জন্য তিনি মেষ রাখলেন এবং হারোণ ও তাঁর ছেলেরা সেটির মাথায় তাঁদের হাত রাখল।
LEV 8:19 পরে মোশি ওই মেষকে বধ করলেন ও বেদির উপরে চারপাশে রক্ত ছিটালেন।
LEV 8:20 তিনি মেষটিকে খণ্ড খণ্ড করে কাটলেন এবং তার মাথা, মাংসখণ্ড, ও মেদ পোড়ালেন।
LEV 8:21 তিনি অন্ত্র ও পাগুলি জল দিয়ে ধুয়ে দিলেন এবং হোমবলিরূপে গোটা মেষ বেদিতে পোড়ালেন যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত অগ্নিকৃত সৌরভার্থক সন্তোষজনক উপহার, যেমন মোশিকে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 8:22 এরপর অভিষেকের জন্যে তিনি অন্য একটি মেষ রাখলেন, এবং হারোণ ও তাঁর ছেলেরা সেটির মাথায় হাত রাখলেন।
LEV 8:23 মোশি ওই মেষকে বধ করলেন এবং হত মেষের কিছুটা রক্ত নিয়ে হারোণের ডান কানের ডগায়, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে লেপন করলেন।
LEV 8:24 মোশি হারোণের ছেলেদেরও সামনে আনলেন এবং তাদের ডান কানের ডগায়, তাদের ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে কিছুটা রক্ত ঢেলে দিলেন। পরে তিনি বেদির উপরে চারপাশে রক্ত ছিটালেন।
LEV 8:25 এরপরে তিনি মেদ, মেদযুক্ত লেজ, অন্ত্রবেষ্টিত সব মেদ, যকৃতের পর্দা, দুটি কিডনি ও কিডনির মেদ ডান জাং-এ ছাড়িয়ে নিলেন।
LEV 8:26 পরে সদাপ্রভুর সামনে রাখা খামিরবিহীন রুটির ঝুড়ি থেকে একটি রুটি, তৈলপক্ক একটি রুটি এবং একটি সরুচাকলি তিনি তুলে নিলেন, তিনি মেদের অংশে ও ডান জাং-এ এগুলি রাখলেন।
LEV 8:27 হারোণ ও তার ছেলেদের হাতে তিনি এগুলি দিলেন, এবং দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর সামনে এগুলি দোলালেন।
LEV 8:28 এরপর তাদের হাত থেকে মোশি সেগুলি নিলেন এবং অভিষেক নৈবেদ্যরূপে হোমবলির উপরে বেদিতে সকল নৈবেদ্য পোড়ালেন, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত অগ্নিকৃত সৌরভার্থক সন্তোষজনক এক উপহার।
LEV 8:29 তিনি বক্ষটিও নিলেন যা অভিষেক মেষ থেকে মোশির অংশ এবং দোলনীয় এক নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর সামনে সেটি দোলালেন যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 8:30 পরে মোশি বেদি থেকে কিছুটা অভিষেকার্থক তেল ও রক্ত নিলেন এবং হারোণ ও তাঁর পরিধানে এবং তাঁর সকল ছেলে ও তাদের পোশাকে ছিটালেন। এইভাবে হারোণ ও তাঁর পোশাককে, এবং তাঁর সকল ছেলে ও তাদের পোশাককে মোশি পবিত্র করলেন।
LEV 8:31 পরে হারোণ ও তার ছেলেদের মোশি বললেন, “সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে তোমরা মাংস রান্না করো ও অভিষেক নৈবেদ্যগুলির ঝুড়ি থেকে রুটি নিয়ে মাংস দিয়ে ভোজন করো: ‘যেমন আমি বললাম, হারোণ ও তার ছেলেরা সবাই সেরকমই করুক।’
LEV 8:32 পরে অবশিষ্ট মাংস ও রুটি পুড়িয়ে দাও।
LEV 8:33 সাত দিনের জন্য সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বার ছেড়ে যেয়ো না, যতদিন না তোমাদের অভিষেকের দিনগুলি সম্পূর্ণ হয়, কেননা তোমাদের অভিষেক সাত দিন স্থায়ী হবে।
LEV 8:34 সদাপ্রভুর আদেশানুসারে আজ সেই কাজ করা হল, যেন তোমাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধিত হয়।
LEV 8:35 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে দিনরাত সাত দিন অবধি তোমরা অবশ্যই থেকো, এবং সদাপ্রভুর চাহিদা অনুযায়ী কাজ করো; তাহলে তোমরা মরবে না; কেননা আমাকে এই আদেশ করা হয়েছে।”
LEV 8:36 সুতরাং মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভুর আদেশ অনুযায়ী হারোণ ও তাঁর ছেলেরা সকল কাজ করল।
LEV 9:1 অষ্টম দিনে হারোণ, তাঁর সব ছেলেদের ও ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গকে মোশি ডাকলেন,
LEV 9:2 তিনি হারোণকে বললেন, “তুমি পাপার্থক-নৈবেদ্যরূপে ত্রুটিহীন এক এঁড়ে বাছুর ও হোমবলিরূপে ত্রুটিহীন এক মেষ নাও এবং সদাপ্রভুর সামনে নিয়ে এসো।
LEV 9:3 পরে ইস্রায়েলীদের তিনি বললেন, ‘পাপার্থক-নৈবেদ্যরূপে তোমরা একটি পাঁঠা ও হোমবলিরূপে একটি বাছুর, একটি মেষশাবক নাও; দুটিই যেন এক বর্ষীয় ও ত্রুটিমুক্ত হয়,
LEV 9:4 এবং মঙ্গলার্থক বলিদানের জন্য একটি ষাঁড় ও একটি মেষ এবং জলপাই তেলে মেশানো শস্য-নৈবেদ্য নেবে সদাপ্রভুর সামনে উৎসর্গ করার জন্য, কেননা আজ তোমাদের সামনে সদাপ্রভু আবির্ভূত হবেন।’ ”
LEV 9:5 মোশির আদেশানুসারে তারা এইসব সমাগম তাঁবুর সামনে আনল, এবং সমগ্র জনমণ্ডলী কাছে এল ও সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়াল।
LEV 9:6 পরে মোশি বললেন, “সদাপ্রভু এই কাজ করতে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন, যেন সদাপ্রভুর মহিমা তোমাদের প্রতি প্রদর্শিত হয়।”
LEV 9:7 মোশি হারোণকে বললেন, “তুমি বেদির নিকটবর্তী হও এবং তোমার পাপার্থক বলি ও তোমার হোমবলি উৎসর্গ করো এবং তোমার ও লোকদের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করো; লোকদের জন্য উপহার নিবেদন করো এবং তাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করো, যেমন সদাপ্রভু আজ্ঞা দিয়েছিলেন।”
LEV 9:8 সুতরাং হারোণ বেদির কাছে এলেন ও নিজের পাপার্থক বলিরূপে এঁড়ে বাছুর বধ করলেন।
LEV 9:9 তাঁর ছেলেরা তাঁকে রক্ত এনে দিল এবং তিনি তাঁর আঙুল রক্তে ডুবালেন, বেদির শৃঙ্গগুলিতে রক্তের প্রলেপ দিলেন ও অবশিষ্ট রক্ত বেদিমূলে নিক্ষেপ করলেন।
LEV 9:10 পাপার্থক বলি থেকে মেদ, দুটো কিডনি ও যকৃতের পর্দা নিয়ে তিনি বেদিতে সেগুলি পোড়ালেন, যেমন মোশিকে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন;
LEV 9:11 তিনি শিবিরের বাইরে মাংস ও চামড়া পোড়ালেন।
LEV 9:12 পরে তিনি হোমবলি বধ করলেন, তার ছেলেরা রক্ত এগিয়ে দিল এবং তিনি বেদির উপরে চারপাশে রক্ত ছিটালেন।
LEV 9:13 ছেলেরা খণ্ড খণ্ড করে হোমবলি মাথা সমেত হারোণের হাতে দিল এবং হারোণ সেগুলি বেদিতে পোড়ালেন।
LEV 9:14 তিনি অন্ত্র ও পাগুলি ধুয়ে দিলেন ও বেদিতে হোমবলির উপরে সেগুলি পোড়ালেন।
LEV 9:15 পরে হারোণ উপহার আনলেন, যা লোকদের জন্য ছিল। লোকদের পাপার্থক বলিদানের জন্য তিনি ছাগল নিলেন, সেটি বধ করলেন এবং পাপার্থক বলিরূপে উপহার দিলেন, যেমন প্রথম উপহার দিয়েছিলেন।
LEV 9:16 তিনি হোমবলি আনলেন ও নিয়মানুসারে তা নিবেদন করলেন।
LEV 9:17 তিনি শস্য-নৈবেদ্যও আনলেন, ওই নৈবেদ্য থেকে এক মুঠি নিলেন এবং বেদিতে তা পোড়ালেন, যা প্রাতঃকালীন হোমবলির অতিরিক্ত।
LEV 9:18 লোকদের পক্ষে মঙ্গলার্থক বলিরূপে ষাঁড় ও মেষ তিনি বধ করলেন। তাঁর ছেলেরা তাঁর হাতে রক্ত জোগান দিল এবং তিনি বেদির উপরে চারপাশে রক্ত ছিটালেন।
LEV 9:19 কিন্তু ষাঁড় ও মেষের মেদের অংশ, মেদযুক্ত লেজ, মেদের স্তর, দুটি কিডনি ও যকৃতের পর্দা,
LEV 9:20 তারা সেগুলি বক্ষস্থলে রাখল ও পরে হারোণ বেদির উপরে মেদ পোড়ালেন।
LEV 9:21 সদাপ্রভুর সামনে হারোণ বক্ষদুটি ও ডান জাং দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে দোলান, যেমন মোশি আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 9:22 পরে লোকদের দিকে হারোণ তাঁর হাত তুলে ধরলেন ও তাদের আশীর্বাদ করলেন। পাপার্থক বলি, হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলিদান শেষ হওয়ার পরে হারোণ নিচে নামলেন।
LEV 9:23 পরে মোশি ও হারোণ সমাগম তাঁবুর মধ্যে গেলেন। শিবির থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা লোকদের আশীর্বাদ করলেন, এবং সব লোকের কাছে সদাপ্রভুর প্রতাপ আবির্ভূত হল।
LEV 9:24 সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে আগুন নির্গত হল এবং বেদিতে রাখা হোমবলি ও মেদমিশ্রিত অংশগুলিকে সেই আগুন গ্রাস করল। সব লোক এই দৃশ্য চাক্ষুষ করে, হর্ষধ্বনি করল ও উবুড় হয়ে পড়ল।
LEV 10:1 হারোণের ছেলে নাদব ও অবীহূ তাদের ধূপাধার নিল, এবং তাতে ধূপ দিয়ে আগুন সংযোগ করল ও সদাপ্রভুর সামনে অসমর্থিত আগুন উৎসর্গ করল, যা তাঁর আজ্ঞার পরিপন্থী।
LEV 10:2 সুতরাং সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে অগ্নি নির্গত হয়ে তাদের গ্রাস করল ও সদাপ্রভুর সামনে তারা মারা গেল।
LEV 10:3 পরে মোশি হারোণকে বললেন, সদাপ্রভু এমন কথাই বলেছিলেন যখন তিনি আমাকে বলেছিলেন: “ ‘যারা আমার নিকটবর্তী হয়, তাদের আমি আমার পবিত্রতা দেখাব ও সব মানুষের দৃষ্টিতে আমি সম্মানিত হব।’ ” হারোণ নীরব থাকলেন।
LEV 10:4 হারোণের কাকা উষীয়েলের ছেলে মীশায়েল ও ইল্‌সাফনকে মোশি ডাকলেন ও তাদের বললেন, “তোমরা এখানে এসো; ধর্মধামের সামনে থেকে দূরে, শিবিরের বাইরে তোমাদের জ্ঞাতিদের নিয়ে যাও।”
LEV 10:5 সুতরাং তারা এল, জ্ঞাতিদের বহন করল ও কাপড় পরা অবস্থাতেই তাদের শিবিরের বাইরে নিয়ে গেল, যেমন মোশি আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 10:6 পরে হারোণ, তাঁর ছেলে ইলীয়াসর ও ঈথামরকে মোশি বললেন, “তোমাদের মাথা নেড়া কোরো না ও তোমাদের পরিধান ছিঁড়ো না, পাছে তোমরাও মারা যাও, এবং সমগ্র জনমণ্ডলীর উপরে সদাপ্রভুর ক্রোধ বর্ষিত হয়। কিন্তু তোমাদের পরিজন, ইস্রায়েলের সমগ্র সমাজ সদাপ্রভুর কৃত অগ্নিদ্বারা মৃতদের জন্য কাঁদুক।
LEV 10:7 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বার ত্যাগ কোরো না, অন্যথায় তোমরা মরবে, কেননা তোমাদের গায়ে সদাপ্রভুর অভিষেকার্থক তেল আছে।” সুতরাং মোশি যেমন বললেন তারা তেমনই করল।
LEV 10:8 পরে সদাপ্রভু হারোণকে বললেন,
LEV 10:9 “সমাগম তাঁবুতে যাওয়ার সময় তোমরা দ্রাক্ষারস অথবা মদ্যপান করবে না, নইলে তোমরা মরবে। এটি বংশপরম্পরায় তোমাদের পালনীয় চিরস্থায়ী বিধি,
LEV 10:10 যেন পবিত্র ও সাধারণের মধ্যে, শুচি ও অশুচির মধ্যে তুমি অবশ্যই পার্থক্য রাখো
LEV 10:11 এবং মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু যেসব বিধি দিয়েছেন সেগুলি তুমি ইস্রায়েলীদের অবশ্যই শেখাবে।”
LEV 10:12 মোশি হারোণকে ও তাঁর দুই ছেলে ইলীয়াসর ও ঈথামরকে বললেন, “সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত অগ্নিকৃত উপহারের অবশিষ্ট যে শস্য-নৈবেদ্য আছে, তা নিয়ে বেদির পাশে খামিরবিহীন খাদ্য প্রস্তুত ও ভোজন করো, কেননা এটি অত্যন্ত পবিত্র।
LEV 10:13 এক পবিত্রস্থানে এই খাদ্য ভোজন করো, কেননা এটি তোমার ও তোমার ছেলেদের অংশ যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার; কেননা আমি এই আজ্ঞা পেয়েছি।
LEV 10:14 কিন্তু তুমি, তোমার ছেলেমেয়েরা বক্ষ ভোজন করবে, যা দোলানো হল এবং জাং যা সামনে রাখা হল; আনুষ্ঠানিকভাবে শুচি জায়গায় তোমরা এই খাদ্য ভোজন করবে; ইস্রায়েলীদের মঙ্গলার্থক বলি থেকে তোমাদের অংশরূপে এই ভক্ষ্য তোমাকে ও তোমার সন্তানদের দেওয়া হয়েছে।
LEV 10:15 নিবেদিত জাং ও দোলায়িত বক্ষ অগ্নিকৃত উপহারের মেদযুক্ত অংশগুলির সঙ্গে অবশ্যই আনতে হবে, যেন দোদুল্যমান উপহাররূপে সদাপ্রভুর সামনে সেগুলি দোলানো হয়। এগুলি তোমার ও তোমার সন্তানদের নিয়মিত অংশ হবে, যেমন সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছেন।”
LEV 10:16 যখন মোশি পাপার্থক বলির জন্য ছাগল অন্বেষণ করলেন, তিনি জানতে পারলেন যে হারোণের অবশিষ্ট দুই ছেলে ইলীয়াসর ও ঈথামর ছাগল পুড়িয়ে দিয়েছে, মোশি ক্রুদ্ধ হয়ে জানতে চাইলেন,
LEV 10:17 “পবিত্রস্থানের এলাকায় তোমরা পাপার্থক বলি ভোজন করলে না কেন? এটি অত্যন্ত পবিত্র এবং জনমণ্ডলীর অপরাধ বহনার্থে সদাপ্রভুর সামনে প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে তিনি এটি তোমাদের দিয়েছেন।
LEV 10:18 যেহেতু এর রক্ত পবিত্রস্থানে আনা হয়নি, তাই আমার আজ্ঞানুসারে পবিত্রস্থানের এলাকায় তোমাদের এই ছাগল ভোজন করা উচিত ছিল।”
LEV 10:19 হারোণ মোশিকে উত্তর দিলেন, “আজ সদাপ্রভুর সামনে তারা তাদের পাপার্থক বলি ও হোমবলি উৎসর্গ করল, কিন্তু এই ধরনের ঘটনা আমার প্রতি ঘটল। সদাপ্রভু কি সন্তুষ্ট হতেন, যদি আজ আমি পাপার্থক বলি ভোজন করতাম?”
LEV 10:20 এই কথা শুনে মোশি সন্তুষ্ট হলেন।
LEV 11:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
LEV 11:2 “তোমরা ইস্রায়েলীদের বলো, ‘ভূচর সব পশুর মধ্যে সমস্ত জীব তোমাদের খাদ্য হবে:
LEV 11:3 পশুদের মধ্যে যেসব পশু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট ও জাবর কাটে, তার মাংস তোমরা ভোজন করতে পারবে।
LEV 11:4 “ ‘পশুদের মধ্যে যে পশুরা কেবল জাবর কাটে অথবা কেবল দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট, তোমরা কোনোভাবে সেই পশু ভক্ষণ করবে না। উট যদিও জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে তোমাদের পক্ষে উট অশুচি।
LEV 11:5 শাফন জাবর কাটলেও দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়; তাই তোমাদের পক্ষে এটি অশুচি।
LEV 11:6 খরগোশ যদিও জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়; তোমাদের পক্ষে এটি অশুচি।
LEV 11:7 আর শূকর যদিও তার খুর দ্বিখণ্ডিত, জাবর কাটে না; তোমাদের পক্ষে এটি অশুচি।
LEV 11:8 তোমরা তাদের মাংস খাবে না কিংবা তাদের মৃতদেহও ছোঁবে না; তোমাদের পক্ষে এগুলি অশুচি।
LEV 11:9 “ ‘সমুদ্রের জলে ও জলস্রোতে বসবাসকারী সব প্রাণীর মধ্যে যেগুলির ডানা ও আঁশ আছে সেগুলি তোমরা খেতে পারবে।
LEV 11:10 কিন্তু সমুদ্রে অথবা জলস্রোতে বসবাসকারী যে প্রাণীদের ডানা ও আঁশ নেই, সেগুলি ঝাঁকে ঝাঁকে থাকলেও অথবা জলচর প্রাণীদের দলভুক্ত হলেও সেগুলি তোমাদের ঘৃণার্হ।
LEV 11:11 যেহেতু সেগুলি তোমাদের কাছে ঘৃণার্হ, তাই তোমরা কিছুতেই সেগুলির মাংস ভক্ষণ করবে না; সেগুলির মৃতদেহও অবশ্যই ঘৃণা করবে।
LEV 11:12 জলচর যে প্রাণীদের ডানা ও আঁশ নেই, তোমাদের পক্ষে সেগুলি ঘৃণার্হ।
LEV 11:13 “ ‘এই পাখিগুলিকে তোমাদের ঘৃণা করতে হবে এবং তাদের মাংস তোমরা ভক্ষণ করবে না, কারণ সেগুলি ঘৃণার্হ: এগুলি ঈগল, শকুন, কালো শকুন,
LEV 11:14 লাল চিল, যে কোনো ধরনের কালো চিল,
LEV 11:15 যে কোনো ধরনের দাঁড়কাক,
LEV 11:16 শিংযুক্ত প্যাঁচা, কালপ্যাঁচা, শঙ্খচিল, যে কোনোরকম বাজপাখি,
LEV 11:17 ছোটো প্যাঁচা, পানকৌড়ি, বড়ো প্যাঁচা,
LEV 11:18 সাদা প্যাঁচা, মরু-প্যাঁচা, সিন্ধু-ঈগল,
LEV 11:19 সারস, যে কোনো ধরনের কাক, ঝুঁটিওয়ালা পাখি ও বাদুড়।
LEV 11:20 “ ‘চার পায়ে চলা সব পতঙ্গ তোমাদের ঘৃণিত।
LEV 11:21 অন্যদিকে কিছু ডানাওয়ালা প্রাণী রয়েছে, যারা চার পায়ে গমনাগমন করে, সেগুলি তোমরা ভোজন করতে পারো; ভূমিতে গমনশীল চতুষ্পদ প্রাণীদের মধ্যে।
LEV 11:22 যে কোনো ধরনের পঙ্গপাল, বাঘাফড়িং, ঝিঁঝি অথবা অন্য ধরনের ফড়িং তোমরা ভোজন করতে পারো,
LEV 11:23 কিন্তু ডানাওয়ালা যে প্রাণীরা চতুষ্পদ, তারা তোমাদের কাছে ঘৃণার্হ।
LEV 11:24 “ ‘এসব দ্বারা তোমরা অশুচি হবে, যে কেউ ঘৃণিত প্রাণীদের অথবা পাখিদের মৃতদেহ স্পর্শ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 11:25 যে কেউ তাদের মৃতদেহ তুলে ধরবে, তাকে তার পরিধান ধুতেই হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 11:26 “ ‘যেসব পশু কিছুটা ছিন্ন ক্ষুরবিশিষ্ট, পুরোপুরি দ্বিখণ্ডিত নয়, অথবা জাবর কাটে না, তোমাদের পক্ষে এরা অশুচি। যে কেউ তাদের কোনো মৃতদেহ স্পর্শ করবে, সে অশুচি হবে।
LEV 11:27 যেসব পশু চার পায়ে গমনাগমন করে, যে পশুরা থাবা ফেলে চলে, তোমাদের পক্ষে ওরা অশুচি। ওদের মৃতদেহ যে কেউ স্পর্শ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 11:28 তাদের মৃতদেহ যদি কেউ তুলে নেয়, তার পরিধান তাকে ধুতেই হবে, এবং সন্ধ্যা অবধি সে অশুচি থাকবে। এই পশুগুলি তোমাদের পক্ষে অশুচি।
LEV 11:29 “ ‘ভূমিতে বিচরণকারী পশুরা তোমাদের পক্ষে অশুচি, যেমন বেজি, ইঁদুর, বড়ো চেহারার যে কোনো ধরনের টিকটিকি,
LEV 11:30 গোসাপ, নীল টিকটিকি, মেটে গিড়গিটি, সবুজ টিকটিকি ও কাঁকলাশ।
LEV 11:31 এগুলির মধ্যে যেগুলি ভূমিতে চলে, তোমাদের পক্ষে সেগুলি অশুচি। ওদের মৃতদেহ যে কেউ স্পর্শ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 11:32 এদের একটি যখন মরে ও কোনো কিছুর উপরে পড়ে যায়, কাঠ, কাপড়, চামড়া, অথবা চটের তৈরি সেই উপাদান ব্যবহৃত হলে সেটি অশুচি হবে। সেটি জলে ডোবাবে; সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি অশুচি থাকবে, পরে শুচি হবে।
LEV 11:33 যদি তাদের মধ্যে কোনও একটি মাটির কোনো পাত্রে পড়ে যায়, পাত্রস্থিত সবকিছুই অশুচি হবে এবং পাত্রটি তোমরা অবশ্যই ভেঙে ফেলবে,
LEV 11:34 কোনো খাদ্য ভোজনযোগ্য হলে যদি উপরোক্ত পাত্র থেকে সেই খাদ্যে জল পড়ে, তাহলে সেই খাদ্য অশুচি হবে এবং সেই পাত্র থেকে পানযোগ্য যে কোনো পানীয় অশুচি।
LEV 11:35 যদি কোনো দ্রব্যের উপরে তাদের মৃতদেহ থেকে কিছুটা পড়ে যায়, তাহলে সেই জিনিস অশুচি হবে; উনুন অথবা রান্নার বাসন ভেঙে ফেলতে হবে; ওগুলি অশুচি এবং তোমরা ওই উপাদানগুলিকে অশুচি বিবেচনা করবে।
LEV 11:36 অন্যদিকে, জলধারা অথবা চৌবাচ্চা শুচি রাখতে হবে, কিন্তু কেউ যদি কোনো মৃতদেহ স্পর্শ করে, সে অশুচি হবে।
LEV 11:37 তাদের মৃতদেহের কিছুটা যদি বপনীয় বীজের উপরে পতিত হয়, বীজগুলি শুচি থাকবে।
LEV 11:38 কিন্তু বীজের উপরে যদি জল ছিটানো হয় ও সেগুলির উপরে মৃতদেহ পড়ে যায়, তাহলে তোমাদের পক্ষে তা অশুচি।
LEV 11:39 “ ‘তোমাদের ভোজনযোগ্য কোনো পশু যদি মরে এবং যদি কেউ মৃতদেহটি স্পর্শ করে, তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 11:40 মৃতদেহগুলির কিছুটা যদি কেউ ভোজন করে, সে তার পরিধান অবশ্যই ধুয়ে দেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে। যদি কেউ মৃতদেহ বহন করে তাহলে তাকে তার পরিধান অবশ্যই ধুয়ে দিতে হবে এবং সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
LEV 11:41 “ ‘ভূমিতে গমনশীল সমস্ত প্রাণী ঘৃণিত; তাদের মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ।
LEV 11:42 ভূমিতে গমনশীল কোনো প্রাণী তোমরা ভোজন করবে না; হতে পারে তারা পেটে অথবা চার পায়ে কিংবা ততোধিক পায়ে ভর দিয়ে চলে; সেগুলি ঘৃণিত।
LEV 11:43 এই পতঙ্গগুলির মধ্যে থেকে কোনো কিছুর দ্বারা তোমরা নিজেদের অশুচি করো না। তাদের কাজে লাগিয়ে অথবা তাদের দ্বারা তোমরা অশুচি হোয়ো না।
LEV 11:44 আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; তোমরা উৎসর্গীকৃত ও পবিত্র হও, কেননা আমি পবিত্র। ভূমিতে গমনশীল কোনো প্রাণী দ্বারা নিজেদের অশুচি কোরো না।
LEV 11:45 আমি সদাপ্রভু মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছি, যেন তোমাদের ঈশ্বর হতে পারি; অতএব, তোমরা পবিত্র হও, যেমন আমি পবিত্র।
LEV 11:46 “ ‘এই নিয়মাবলি সব ধরনের পশু, পাখি, জলে গমনশীল সব ধরনের প্রাণী এবং ভূমিতে গমনশীল প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
LEV 11:47 অশুচি ও শুচির মধ্যে এবং খাদ্য ও অখাদ্য জীবিত প্রাণীদের মধ্যে তোমরা অবশ্যই পার্থক্য রাখবে।’ ”
LEV 12:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 12:2 “তুমি ইস্রায়েলীদের বলো: ‘সন্তান গর্ভধারণ করার পর কোনো মহিলা যখন একটি ছেলের জন্ম দেয় তবে সে আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দিনের জন্য অশুচি থাকবে, যেমন তার মাসিক ঋতুস্রাব থাকাকালীন সে অশুচি থাকে।
LEV 12:3 অষ্টম দিনে বালকটিকে সুন্নত করতে হবে।
LEV 12:4 পরে মহিলাটি তার রক্তস্রাব থেকে শুদ্ধ হওয়ার জন্য তেত্রিশ দিন অপেক্ষা করবে। তার শুচিশুদ্ধ হওয়ার দিনগুলি অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সে কোনোভাবে পবিত্র বস্তু স্পর্শ করবে না অথবা পবিত্রস্থানে যাবে না।
LEV 12:5 যদি সে একটি মেয়ের জন্ম দেয়, তাহলে দুই সপ্তাহের জন্য তার অশুদ্ধতা থাকবে, যেমন ঋতুস্রাব থাকাকালীন সে অশুচি থাকে। তারপর তার রক্তস্রাব থেকে শুচিশুদ্ধ হওয়ার জন্য তাকে ছেষট্টি দিন অবশ্যই প্রতীক্ষা করতে হবে।
LEV 12:6 “ ‘যখন একটি ছেলে অথবা মেয়ের জন্য তার শুচিশুদ্ধ হওয়ার দিনগুলি অতিবাহিত হয়, হোমবলির জন্য এক বর্ষীয় মেষশাবক ও পাপার্থক বলির জন্য একটি কপোতশাবক অথবা একটি ঘুঘু সে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে যাজকের কাছে আনবে।
LEV 12:7 তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে সদাপ্রভুর যাজক সেগুলি উৎসর্গ করবে এবং পরে ওই মহিলা তার রক্তস্রাব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিশুদ্ধ হবে। “ ‘এই নিয়মাবলি ওই মহিলার জন্য, যে একটি ছেলে অথবা একটি মেয়ের জন্ম দেবে।
LEV 12:8 যদি সে একটি মেষশাবক জোগান দিতে না পারে, তাহলে দুটি ঘুঘু কিংবা দুটি কপোতশাবক আনবে; প্রথমটি হোমবলিদানার্থে ও দ্বিতীয়টি পাপার্থক বলিদানার্থে তার নিবেদন। এইভাবে তার জন্য যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং সে শুচিশুদ্ধ হবে।’ ”
LEV 13:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
LEV 13:2 “যদি কারোর চামড়ায় ফোঁড়া অথবা ফুসকুড়ি কিংবা উজ্জ্বল দাগ দেখা যায়, তা সংক্রামক চর্মরোগ হতে পারে, তাহলে তাকে অবশ্যই যাজক হারোণের কাছে অথবা তার কোনো ছেলের সামনে আনতে হবে এবং সেই ছেলে যেন যাজক হয়।
LEV 13:3 যাজক ওই ব্যক্তির চামড়ায় ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষতের লোম সাদা রংয়ের হয়ে থাকে ও ক্ষতটির আকার চামড়ার গভীরতার চেয়েও গভীর মনে হয়, তাহলে তা এক সংক্রামক চর্মরোগ। সেটি পরীক্ষা করে যাজক তাকে অশুচি বলবে।
LEV 13:4 যদি তার চামড়ার ক্ষতস্থান সাদা রংয়ের হয়, কিন্তু চামড়ার গভীরতার চেয়েও ক্ষতস্থান বেশি গভীর এবং ক্ষতস্থানের লোম সাদা রংয়ের হয়নি, তাহলে যাজক তাকে সাত দিন পৃথক জায়গায় রাখবে।
LEV 13:5 সপ্তম দিনে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার নজরে ক্ষত অপরিবর্তিত থাকে ও চামড়ায় তা প্রসারিত না হয়, তাহলে আরও সাত দিন যাজক তাকে পৃথক জায়গায় রাখবে।
LEV 13:6 সপ্তম দিনে যাজক আবার তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষত মুছে যায় ও চামড়ায় প্রসারিত না হয় তাহলে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে। মানুষটির শুধু ফুসকুড়ি হয়েছে। সে অবশ্যই তার পরিধান ধুয়ে নেবে ও শুচি হবে।
LEV 13:7 নিজে শুচি ঘোষিত হওয়ার জন্য যাজকের কাছে নিজেকে দেখানোর পরে যদি সেই ফুসকুড়ি তার চামড়ায় প্রসারিত হয়, তাহলে সে আবার যাজকের সামনে উপস্থিত হবে।
LEV 13:8 যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার চামড়ায় ফুসকুড়ি প্রসারিত হয়ে থাকে তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি এক সংক্রামক রোগ।
LEV 13:9 “যখন কারোর সংক্রামক চর্মরোগ হয়, যাজকের কাছে তাকে আনতেই হবে।
LEV 13:10 যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চামড়ায় সাদা রংয়ের ফোঁড়া হয় ও লোম সাদা রং হয়ে যায় এবং ফোঁড়াতে কাঁচা মাংস থাকে,
LEV 13:11 তাহলে এটি এক দুরারোগ্য চর্মরোগ এবং যাজক তাকে অশুচি বলবে ও তাকে আলাদা জায়গায় রাখবে না, কারণ ইতিমধ্যে সে অশুচি হয়েছে।
LEV 13:12 “যদি তার সারা শরীরে রোগ প্রসারিত হয় এবং যাজকের নজরে পড়ে যে সংক্রমিত মানুষটি আপাদমস্তক রোগগ্রস্ত,
LEV 13:13 তাহলে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার সারা শরীর রোগে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে, তাহলে যাজক তাকে শুচি বলবে। যেহেতু তার সারা শরীর সাদা হয়ে গিয়েছে, তাই সে শুচি।
LEV 13:14 কিন্তু যখনই তার দেহে কাঁচা মাংস দেখা যায়, সে অশুচি হবে।
LEV 13:15 কাঁচা মাংস যাজকের নজরে পড়লে যাজক তাকে অশুচি বলবে। কাঁচা মাংস অশুচি; তার সংক্রমিত রোগ হয়েছে।
LEV 13:16 কাঁচা মাংস অপরিবর্তিত হয়ে যদি সাদা রং হয়ে যায়, তাহলে সে অবশ্যই যাজকের কাছে যাবে।
LEV 13:17 যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি ক্ষতস্থানগুলি সাদা রং হয়, তাহলে সংক্রমিত মানুষটিকে যাজক শুচি বলবে; এইভাবে সে শুচি হবে।
LEV 13:18 “যখন কারোর চামড়ায় একটি ফোঁড়া থাকে এবং তা সেরে যায়,
LEV 13:19 আর ফোঁড়ার জায়গায় সাদা রংয়ের অথবা হালকা শ্বেতির ছোপ দেখা যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই যাজকের কাছে আনতে হবে।
LEV 13:20 যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চামড়ার গভীরতার চেয়েও তা বেশি গভীর দেখায় ও সংক্রমিত স্থানের লোম সাদা হয়ে যায়, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে। এটি এক সংক্রামক চর্মরোগ, যা ফোঁড়া রূপে উৎপাদিত হয়েছে।
LEV 13:21 কিন্তু যাজকের পরীক্ষায় যদি দেখা যায়, তাতে সাদা রংয়ের লোম নেই এবং চামড়ার গভীরতার চেয়ে তা বেশি গভীর নয়, দাগ মুছে গিয়েছে, তাহলে যাজক সাত দিনের জন্য তাকে পৃথক রাখবে।
LEV 13:22 যদি চামড়ায় দাগ প্রসারিত হতে থাকে, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; রোগটি সংক্রামক।
LEV 13:23 কিন্তু যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং না বাড়ে, এটি ফোঁড়ার ক্ষতচিহ্নমাত্র ও যাজক তাকে শুচি বলবে।
LEV 13:24 “যখন কারো চামড়া পুড়ে যায় এবং পোড়া কাঁচা মাংসে হালকা রক্তিম সাদাটে অথবা সাদা দাগ দেখা যায়,
LEV 13:25 তাহলে যাজক সেই দাগ পরীক্ষা করবে এবং যদি ওই স্থানের লোম সাদা রং হয়ে যায় ও চামড়া থেকে অংশটি নিম্ন মানের মনে হয়, তাহলে এটি এক সংক্রামক রোগ, যা আগুনে পুড়ে উৎপন্ন হয়েছে। যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি সংক্রামক এক চর্মরোগ।
LEV 13:26 কিন্তু যদি যাজক দ্বারা পরীক্ষা করার পর ক্ষতস্থানে সাদা রংয়ের লোম না দেখা যায় ও চামড়ার গভীরে না থাকে, দাগ মুছে যায়, তাহলে যাজক সাত দিনের জন্য তাকে পৃথক স্থানে রাখবে।
LEV 13:27 সপ্তম দিনে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার চর্মরোগ ছড়িয়ে যায়, তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলবে; এটি সংক্রামক এক চর্মরোগ।
LEV 13:28 অন্যদিকে, যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং চামড়ায় ছড়িয়ে না যায়, কিন্তু দাগ দেখা না যায়, তাহলে তা আগুনে পোড়া এক ফোলা অংশ এবং যাজক তাকে শুচি বলবে; এটি কেবল আগুনে পোড়া এক ক্ষতচিহ্ন।
LEV 13:29 “যদি কোনো নর বা নারীর মাথায় কিংবা থুতনিতে ক্ষত থাকে,
LEV 13:30 তাহলে যাজক সেই ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি সেই ক্ষত চামড়ার চেয়েও গভীরে থাকে এবং ক্ষতস্থানের লোম হলুদ ও রুগ্ন হয়, তাহলে ওই মানুষকে যাজক অশুচি ঘোষণা করবে; এটি মস্তকের অথবা থুতনির এক সংক্রামক রোগ।
LEV 13:31 কিন্তু যদি যাজক দ্বারা এই ধরনের ক্ষত পরীক্ষা করার পর তা চামড়ার চেয়েও গভীরে না থাকে এবং সেখানে কালো রংয়ের লোম দেখা না যায়, তাহলে রোগগ্রস্ত মানুষটিকে যাজক সাত দিনের জন্য পৃথক জায়গায় রাখবে।
LEV 13:32 সপ্তম দিনে যাজক তার ক্ষতস্থান পরীক্ষা করবে এবং যদি সেটি প্রসারিত না হয় ও সেখানে হলুদ রংয়ের লোম না থাকে এবং চামড়ার চেয়েও গভীরে এর অবস্থান না থাকে,
LEV 13:33 তাহলে রোগগ্রস্ত নর বা নারীর ক্ষতস্থান ছাড়া সর্বত্র লোম চেঁচে ফেলবে এবং যাজক সাত দিনের জন্য তাকে পৃথক জায়গায় রাখবে।
LEV 13:34 সপ্তম দিনে যাজক তার ক্ষত পরীক্ষা করবে এবং যদি চামড়ায় ক্ষতের প্রসারণ না দেখা যায় ও চামড়ার চেয়েও গভীরে এর অবস্থান না হয়, তাহলে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে। সে তার পরিধান অবশ্যই ধুয়ে পরিষ্কার করবে ও নিজে শুদ্ধ হবে।
LEV 13:35 কিন্তু যদি যাজক দ্বারা তাকে শুচি ঘোষণা করার পর তার চামড়ায় ক্ষত প্রসারিত হয়,
LEV 13:36 তাহলে যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি চামড়ায় প্রসারিত ক্ষত দেখা যায়, তাহলে যাজকের হলুদ রংয়ের লোম দেখার প্রয়োজন নেই; মানুষটি অশুচি।
LEV 13:37 অন্যদিকে, তার বিচারে যদি দাগ অপরিবর্তিত থাকে এবং সেখানে কালো রংয়ের লোম উৎপন্ন হয়, তাহলে ক্ষত নিরাময় হয়েছে। সে শুচিশুদ্ধ এবং যাজক তাকে শুদ্ধ ঘোষণা করবে।
LEV 13:38 “যখন কোনো নর বা নারীর চামড়ায় সাদা রং দাগ দেখা যায়,
LEV 13:39 তাহলে যাজক সমস্ত দাগ পরীক্ষা করবে এবং যদি দাগগুলি হালকা সাদা রং থাকে, তাহলে তা ক্ষতিহীন ফুসকুড়ি, যা চামড়ায় ফুটে উঠেছে; সেই ব্যক্তি শুদ্ধ।
LEV 13:40 “যদি কোনো মানুষের মাথায় চুল না থাকে ও তার টাক পড়ে, সে শুচি।
LEV 13:41 যদি তার মাথার সামনের দিকে চুল না থাকে এবং টাকপড়া কপাল দেখা যায়, তাহলে সে শুচি।
LEV 13:42 কিন্তু যদি তার টাক মাথায় বা কপালে হালকা রক্তিম সাদাটে ক্ষত থাকে, তাহলে তা মাথায় বা কপালে অঙ্কুরিত এক সংক্রামক রোগ।
LEV 13:43 যাজক তাকে পরীক্ষা করবে এবং যদি তার মাথায় অথবা কপালে ফুলে ওঠা ক্ষত এবং সংক্রামক চামড়ার রোগের মতো হালকা রক্তিম সাদাটে হয়,
LEV 13:44 তাহলে মানুষটি রোগগ্রস্ত ও অশুচি। তার মাথায় ক্ষতের কারণে যাজক তাকে অশুচি ঘোষণা করবে।
LEV 13:45 “এমন এক সংক্রামক রোগগ্রস্ত মানুষ অবশ্যই ছেঁড়া কাপড় পরবে, তার চুল এলোমেলো থাকুক; সে তার মুখমণ্ডলের নিচের দিকটি ভাগ ঢেকে রাখবে ও তারস্বরে বলবে ‘অশুচি! অশুচি!’
LEV 13:46 যতদিন তার ক্ষত থাকবে, তাকে অশুচি বলা হবে। সে অবশ্যই একলা থাকবে; সে অবশ্যই শিবিরের বাইরে দিন কাটাবে।
LEV 13:47 “ছাতারোগ দ্বারা যদি কোনো কাপড় কলঙ্কিত হয়, হতে পারে তা পশমি বা মসিনা কাপড়,
LEV 13:48 তাঁতের কাপড়, অথবা মসিনা কিংবা পশমে বোনা, যে কোনো চামড়ার উপাদান অথবা চামড়ার জিনিস,
LEV 13:49 যদি কাপড়ে অথবা চামড়ায়, কিংবা তাঁত কাপড়ে বা বোনা উপাদানে অথবা চামড়ার জিনিসে কলঙ্ক থাকে, সবুজ অথবা হালকা রক্তিম রং পাওয়া যায়, তাহলে প্রসারিত ছাতারোগ এবং অবশ্যই তা যাজককে দেখাতে হবে।
LEV 13:50 যাজক ওই ছাতারোগ পরীক্ষা করবে ও সাত দিনের জন্য রোগগ্রস্ত উপাদান বিচ্ছিন্ন রাখবে।
LEV 13:51 সপ্তম দিনে সে সেটি পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতারোগ কাপড়ে, অথবা কোনো বোনায়, কিংবা বোনা পরিধানে, অথবা চামড়ায়, কিংবা ব্যবহার করা যে কোনো জিনিসে প্রসারিত হয়ে থাকে, তাহলে তা এক মারাত্মক ছাতারোগ, অশুচি জিনিস।
LEV 13:52 সে ওই কাপড়, অথবা তাঁতের কাপড়, কিংবা পশম বা মসিনার কাপড় অথবা কলঙ্কিত যে কোনো চর্মজাত জিনিস পোড়াবে, কেননা ছাতারোগ ধ্বংসাত্মক। ওই জিনিস অবশ্যই পুড়িয়ে দিতে হবে।
LEV 13:53 “কিন্তু যাজক দ্বারা পরীক্ষার পর যদি দেখা যায় ছাতারোগ কাপড়ে কিংবা কোনো বয়ন শিল্পে বা বোনা উপাদানে অথবা চর্মজাত দ্রব্যে প্রসারিত না হয়,
LEV 13:54 তাহলে সেই কলঙ্কিত জিনিস ধুয়ে নিতে তাকে আদেশ দেওয়া হবে। পরে আরও সাত দিনের জন্য সে ওই জিনিস দূরে রাখবে।
LEV 13:55 প্রভাবিত জিনিস ধোয়ার পরে যাজক সেটি পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতারোগের ছোপ পরিবর্তিত না হয় ও তার প্রসারণ নজরে না পড়ে, তবুও এটি অশুদ্ধ। একদিকে বা অন্যদিকে প্রভাবিত ছাতা আগুনে পোড়াতে হবে।
LEV 13:56 যদি যাজক দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে জিনিসটি ধোয়ার পরে ছাতারোগ না দেখা যায়, তাহলে কলঙ্কিত কাপড়ের টুকরো অথবা চামড়া কিংবা বয়ন শিল্প বা বোনা উপাদান সে ছিঁড়ে ফেলবে।
LEV 13:57 কিন্তু যদি তা কাপড়ে অথবা বয়ন শিল্পে কিংবা বোনা উপাদানে বা চামড়ার জিনিসে আবার দেখা যায়, তাহলে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং অল্পবিস্তর ছাতারোগ অবশ্যই আগুনে পোড়াতে হবে।
LEV 13:58 কাপড় অথবা বয়ন শিল্প কিংবা বোনা উপাদান অথবা চামড়ার জিনিস যা ধোয়া হয়েছে ও সেটি ছাতারোগ মুক্ত দেখা যায়, তাহলে ওই জিনিস অবশ্যই পুনরায় ধুয়ে নিতে হবে, তাহলে সেটি শুদ্ধ হবে।”
LEV 13:59 পশমি বা মসিনার কাপড়, বয়ন শিল্প কিংবা বোনা উপাদান অথবা চর্মজাত যে কোনো জিনিসের মলিনতা সম্বন্ধে নিয়মাবলি রয়েছে যেগুলি শুদ্ধ অথবা অশুদ্ধ বলা যেতে পারে।
LEV 14:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 14:2 “রোগগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে তার আনুষ্ঠানিক শুচিশুদ্ধ হওয়ার সময় নিয়মাবলি এই ধরনের, যখন তাকে যাজকের কাছে আনা হয়:
LEV 14:3 যাজক শিবিরের বাইরে যাবে ও তাকে পরীক্ষা করবে। যদি সেই ব্যক্তির সংক্রামক চর্মরোগ সুস্থ হয়ে থাকে,
LEV 14:4 তাহলে তার শুচিকরণের জন্য যাজক দুটি জীবিত শুচি পাখি কিছু দেবদারু কাঠ, লাল রংয়ের সুতো ও এসোব আনতে আদেশ দেবে।
LEV 14:5 পরে যাজক মাটির পাত্রে টাটকা জলের উপরে একটি পাখিকে হত্যা করতে আদেশ দেবে।
LEV 14:6 এবারে যাজক জীবিত পাখিটি নেবে এবং দেবদারু কাঠ, লাল রংয়ের সুতো ও এসোবের সঙ্গে ওই পাখি টাটকা জলের উপরে বধ করা পাখির রক্তে ডুবিয়ে রাখবে।
LEV 14:7 সংক্রামক রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে শুচিশুদ্ধ করার জন্য যাজক সাতবার রক্ত ছিটাবে ও তাকে শুচি ঘোষণা করবে। পরে যাজক জীবিত পাখিটিকে খোলা মাঠে মুক্তি দেবে।
LEV 14:8 “ওই রোগী শুচি হওয়ার জন্য অবশ্যই তার পরিধান ধুয়ে নেবে, তার মাথার সমস্ত চুল নেড়া করবে ও জলে স্নান করবে। এবারে সে আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিশুদ্ধ হবে। এরপরে সে শিবিরে আসতে পারে, কিন্তু সাত দিনের জন্য তাকে তাঁবুর বাইরে থাকতে হবে।
LEV 14:9 সপ্তম দিনে সে তার সর্বাঙ্গের লোম চেঁচে ফেলবে; সে মাথার চুল, দাড়ি, ভুরুর ও সর্বাঙ্গের সমস্ত লোম চেঁচে ফেলবে। সে তার পোশাক অবশ্যই ধুয়ে নেবে, নিজেও জলে স্নান করবে ও শুচিশুদ্ধ হবে।
LEV 14:10 “অষ্টম দিনে দুটি মদ্দা মেষশাবক এবং একটি এক বছরের মেষী সে অবশ্যই আনবে, যেগুলির প্রত্যেকটি হবে নিখুঁত, সঙ্গে থাকবে শস্য-নৈবেদ্যর জন্য তেলমিশ্রিত মিহি ময়দার এক ঐফার দশ ভাগের তিন ভাগ ও এক লোগ তেল।
LEV 14:11 যে যাজক তাকে শুচি ঘোষণা করবে, সে তাকে ও তার নৈবেদ্য উভয়কে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত করবে।
LEV 14:12 “পরে যাজক একটি মদ্দা মেষশাবক নেবে ও এক লোগ তেলের সঙ্গে দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে তা উৎসর্গ করবে। দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে বলিদান নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে যাজক সেগুলি দোলাবে।
LEV 14:13 যাজক পবিত্রস্থানে সেই মেষশাবকটি বধ করবে, যেখানে পাপার্থক বলি ও হোমবলি বধ করা হয়। পাপার্থক বলির মতো দোষার্থক-নৈবেদ্য যাজকের; এটি অত্যন্ত পবিত্র।
LEV 14:14 যাজক দোষার্থক-নৈবেদ্যের কিছুটা রক্ত নিয়ে যে শুচি হবে তার ডান কানের লতি, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে রক্তের প্রলেপ দেবে শুচি হবার জন্য।
LEV 14:15 এবারে যাজক এক লোগ তেলের কিছুটা নেবে এবং আপন বাম হাতের তালুতে ঢালবে,
LEV 14:16 তার হাতে ঢালা তেলের মধ্যে তার তর্জনী ডোবাবে এবং সদাপ্রভুর সামনে আঙুল দিয়ে সাতবার তেল ছিটাবে।
LEV 14:17 যাজক তার হাতের অবশিষ্ট তেলের কিছুটা তেল নেবে, এবং শুচিকরণ প্রার্থীর ডান কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে, ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে দোষার্থক-নৈবেদ্যের রক্তের উপরে ঢেলে দেবে।
LEV 14:18 যাজক তার হাতের অবশিষ্ট তেল শুচিকরণ প্রার্থীর মাথায় ঢালবে ও সদাপ্রভুর সামনে তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 14:19 “পরে যাজক পাপার্থক বলি উৎসর্গ করবে ও অশুচিতা থেকে শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে। এরপরে যাজক হোমবলির পশু বধ করবে।
LEV 14:20 এরপরে শস্য-নৈবেদ্যের সঙ্গে যাজক বেদিতে ওই প্রার্থীর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং সে শুচিশুদ্ধ হবে।
LEV 14:21 “অন্যদিকে, যদি সে দরিদ্র হয় ও বলিদানের সামগ্রী জোগাতে না পারে, তবুও দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে একটি মদ্দা মেষশাবক তাকে আনতেই হবে এবং শস্য-নৈবেদ্যরূপে তেলমিশ্রিত মিহি ময়দার এক ঐফার দশমাংশ ও এক লোগ তেল সহযোগে প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে নৈবেদ্য দোলাতে হবে।
LEV 14:22 সে তার সংগতি অনুসারে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক আনবে এবং পাপার্থক বলিদানার্থে একটি ও হোমবলিদানার্থে অন্যটি উৎসর্গ করবে।
LEV 14:23 “সে তার শুদ্ধকরণের জন্য অষ্টম দিনে সদাপ্রভুর সামনে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে যাজকের কাছে উল্লিখিত ঘুঘু অথবা কপোত আনবে।
LEV 14:24 যাজক এক লোগ তেল সহযোগে দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের পক্ষে মেষশাবক গ্রহণ করবে ও দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সেগুলি সদাপ্রভুর সামনে দোলাবে।
LEV 14:25 দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের জন্য যাজক মেষশাবককে বধ করবে ও কিছুটা রক্ত নিয়ে শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর ডান কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে রক্তের প্রলেপ দেবে।
LEV 14:26 যাজক তার বাম হাতের তালুতে কিছুটা তেল ঢালবে
LEV 14:27 এবং তার হাতের তালু থেকে ডান তালুতে কিছুটা তেল নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে সাতবার ছিটাবে।
LEV 14:28 দোষার্থক-নৈবেদ্যের রক্ত যেখানে ঢালা হয়েছিল সেখানে, শুচিতা প্রত্যাশী প্রার্থীর ডান কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ও তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে যাজক তার হাতের তালু থেকে কিছুটা তেল ঢালবে।
LEV 14:29 যাজক তার হাতের তালুর অবশিষ্ট তেল ওই প্রার্থীর মাথায় ঢালবে, এবং এইভাবে সদাপ্রভুর সামনে তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 14:30 পরে সে তার সংগতি অনুসারে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবককে উৎসর্গ করবে।
LEV 14:31 ঘুঘু অথবা কপোতশাবকের একটি পাপার্থক বলিরূপে এবং অন্যটি হোমবলিরূপে শস্য-নৈবেদ্য সহকারে সে উৎসর্গ করবে। এইভাবে শুচিকৃত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির পক্ষে সদাপ্রভুর সামনে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে।”
LEV 14:32 যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিয়মাবলি এই ধরনের, যার সংক্রামক চামড়ার রোগ হয়েছে এবং যে তার শুচিতার জন্য নিয়মিত বলিদান দিতে অক্ষম।
LEV 14:33 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
LEV 14:34 “তোমরা যখন কনান দেশে প্রবেশ করবে, যে দেশ আমি তোমাদের অধিকার করতে দিচ্ছি, সেই দেশের কোনো বাড়িতে আমি যখন বিস্তৃত ছাতারোগ উৎপন্ন করব,
LEV 14:35 তখন বাড়ির মালিক যাজকের কাছে গিয়ে বলবে, ‘আমার বাড়িতে ছাতারোগের মতো কলঙ্ক আমার নজরে এসেছে।’
LEV 14:36 যাজক ওই ছাতারোগ পরীক্ষা করার আগে বাড়িটি খালি করতে আদেশ দেবে, যেন বাড়ির কোনো জিনিসকে অশুচি না বলা হয়। এরপরে যাজক বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে সেটি পরীক্ষা করবে।
LEV 14:37 যাজক দেওয়ালগুলির ছাতারোগ পরীক্ষা করবে এবং যদি হালকা সবুজ অথবা হালকা লাল দাগ দেওয়ালের বাইরের দিকের চেয়ে গাঢ় মনে হয়,
LEV 14:38 যাজক বাড়ির দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবে এবং তা সাত দিন বন্ধ রাখবে।
LEV 14:39 সপ্তম দিনে বাড়িটি পরীক্ষা করার জন্য যাজক ফিরে আসবে। যদি সমস্ত দেওয়ালে ছাতারোগ বিস্তৃত দেখা যায়,
LEV 14:40 তাহলে তার আদেশে কলুষিত পাথর খুঁড়ে বের করতে হবে ও নগরের বাইরের অশুচি জায়গায় ছুঁড়ে ফেলতে হবে।
LEV 14:41 সে বাড়ির ভিতরের দেওয়ালগুলি অবশ্যই ঘষাবে ও ঘষার উপাদানের ধুলো নগরের বাইরে অশুচি জায়গায় ফেলবে।
LEV 14:42 পরে তারা অন্য পাথর নিয়ে আগে গাঁথা পাথরের জায়গায় বসাবে ও নতুন প্রলেপ দিয়ে বাড়ি পলস্তরা করবে।
LEV 14:43 “কলুষিত পাথর ফেলে দেওয়ার, বাড়ি ঘষে পলস্তরা করার পর যদি বাড়িতে ছাতারোগ আবার দেখা যায়,
LEV 14:44 তাহলে যাজক গিয়ে তা পরীক্ষা করবে এবং যদি ছাতারোগ বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি ধ্বংসাত্মক ছাতারোগ; ওই বাড়ি অশুদ্ধ।
LEV 14:45 প্রভাবিত সমস্ত পাথর, কাঠ ও পলস্তরা তুলে নগরের বাইরে অশুচি জায়গায় ফেলে দিতে হবে।
LEV 14:46 “যদি বন্ধ বাড়িতে কেউ প্রবেশ করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ ঘোষিত হবে।
LEV 14:47 যে কেউ সেই বাড়িতে ঘুমায় অথবা খাবার খায়, সে তার কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে।
LEV 14:48 “যদি যাজক তা পরীক্ষা করতে আসে ও সেই বাড়ি পলস্তরা করার পর ছাতারোগ ছড়িয়ে পড়তে না দেখা যায়, তাহলে সেই বাড়িকে সে শুচি আখ্যা দেবে, কারণ ছাতারোগ নিরসন হয়েছে।
LEV 14:49 ওই বাড়ি পবিত্র করার জন্য যাজক দুটি পাখি, কিছু দেবদারু কাঠ, উজ্জ্বল লাল রংয়ের পাকানো সুতো ও এসোব নেবে।
LEV 14:50 মাটির পাত্রে টাটকা জলের ওপরে সে একটি পাখিকে বধ করবে।
LEV 14:51 এবারে সে দেবদারু কাঠ, এসোব, উজ্জ্বল লাল রংয়ের পাকানো সুতো নিয়ে মৃত পাখির রক্তে ও টাটকা জলে ডোবাবে এবং সাতবার সেই বাড়িতে ছিটাবে।
LEV 14:52 পাখির রক্ত, টাটকা জল, জীবিত পাখি, দেবদারু কাঠ, এসোব ও উজ্জ্বল লাল রংয়ের পাকানো সুতো দিয়ে সে বাড়িটি শুদ্ধ করবে।
LEV 14:53 পরে নগরের বাইরে খোলা মাঠে সে জীবিত পাখিকে ছেড়ে দেবে। এইভাবে বাড়িটির জন্য সে প্রায়শ্চিত্ত করবে ও সেই বাড়ি শুদ্ধ হবে।”
LEV 14:54 এই নিয়মাবলি যে কোনো সংক্রামক চামড়ার রোগ, চুলকানি,
LEV 14:55 কাপড়ে অথবা বাড়িতে ছাতারোগ,
LEV 14:56 এবং কোনো আব, ফুসকুড়ি অথবা উজ্জ্বল দাগের জন্য,
LEV 14:57 যেন কোনো কিছুর শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা নির্ণয় করা যায়। এসব নিয়মাবলি সংক্রামক চর্মরোগ ও ছাতারোগের জন্য।
LEV 15:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
LEV 15:2 “তোমরা ইস্রায়েলীদের বলো, ‘যখন কারোর দেহে অস্বাভাবিক ক্ষরণ হয়, সেই ক্ষরণ অশুদ্ধ।
LEV 15:3 তার দেহ থেকে ক্ষরণ অব্যাহত বা বদ্ধ থাকলে সেটি তাকে অশুচি করবে। এইভাবে তার ক্ষরণ অশুচিতা নিয়ে আসবে।
LEV 15:4 “ ‘ক্ষরণযুক্ত কোনো ব্যক্তি বিছানায় শুলে সেই বিছানা অশুচি হবে এবং আসন বা যা কিছুর উপরে সে বসবে, সেটি অশুচি বিবেচিত হবে।
LEV 15:5 যদি কেউ তার বিছানা স্পর্শ করে, তাকে তার কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে এবং জলে স্নান করতে হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 15:6 ক্ষরণযুক্ত মানুষটির বসা আসবাবপত্রের ওপরে যদি কেউ বসে, তাকে তার কাপড় ধুয়ে নিতেই হবে ও সে জলে স্নান করবে ও সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে অশুচি বলা হবে।
LEV 15:7 “ ‘ক্ষরণযুক্ত মানুষকে যে কেউ স্পর্শ করবে, সে অবশ্যই তা পরিহিত কাপড় ধোবে ও জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
LEV 15:8 “ ‘ক্ষরণযুক্ত মানুষ যদি কারোর দেহে থুতু ফেলে, যে শুচি, সেই ব্যক্তি নিজের কাপড় ধোবে ও জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
LEV 15:9 “ ‘ক্ষরণযুক্ত মানুষটি যে কোনো গাড়িতে চড়ে, সেই গাড়ি অশুচি হয়
LEV 15:10 এবং তার বসার জায়গায় নিচে রাখা কোনো জিনিস যদি কেউ স্পর্শ করে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই জিনিসটি অশুচি থাকবে। যে কেউ সেই জিনিসগুলি তুলে নেয়, তাকে অবশ্যই নিজ কাপড় ধুতে ও জলে স্নান করতে হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
LEV 15:11 “ ‘ক্ষরণযুক্ত মানুষ তার হাত না ধুয়ে যদি কাউকে স্পর্শ করে, সে নিজের কাপড় ধোবে ও জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে অশুচি বলা হবে।
LEV 15:12 “ ‘ওই মানুষটি দ্বারা স্পর্শ করা মাটির পাত্র অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে ও কাঠের আসবাবপত্র জল দিয়ে ধুতে হবে।
LEV 15:13 “ ‘ক্ষরণযুক্ত মানুষ যখন শুচি হয়, সে নিজের আনুষ্ঠানিক শুচিতার জন্য সাত দিন গণনা করবে। সে তার কাপড় অবশ্যই ধোবে ও টাটকা জলে স্নান করবে, এভাবে সে শুদ্ধ হবে।
LEV 15:14 অষ্টম দিনে সে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক নেবে, সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর সামনে আসবে এবং ঘুঘু অথবা কপোতশাবক যাজককে দেবে।
LEV 15:15 একটি পাপার্থক বলি ও অন্যটি হোমবলিরূপে যাজক পাখিগুলি উৎসর্গ করবে। এইভাবে ক্ষরণযুক্ত মানুষের পক্ষে সদাপ্রভুর সামনে যাজক প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 15:16 “ ‘যদি কোনো পুরুষের বীর্যপাত হয়, তাহলে সে তার সমস্ত শরীর জলে ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:17 কোনো কাপড়ে অথবা চামড়ার জিনিসে বীর্যপাত হলে, জলে সেটি ধুতেই হবে ও সেই জিনিসটি সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:18 যদি একটি নারীর সাথে কোনো পুরুষ শয়ন করে এবং বীর্যপাত হয়, তাহলে উভয়ে জলে স্নান করবে ও সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা অশুদ্ধ বিবেচিত হবে।
LEV 15:19 “ ‘যখন কোনো মহিলার নিয়মিত রক্তস্রাব হয়, ঋতুমতীর মাসিক সময়ের অশুদ্ধতা সাত দিন থাকবে এবং যে কেউ তাকে স্পর্শ করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ বিবেচিত হবে।
LEV 15:20 “ ‘মাসিক চলাকালীন যে কিছুর ওপরে সে শোবে, এবং বসবে সবকিছুই অশুচি হবে।
LEV 15:21 তার বিছানা স্পর্শকারী যে কেউ নিজের কাপড় ধোবে ও স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:22 তার বসা আসবাব যে কেউ স্পর্শ করে, সে তার কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে ও নিজে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:23 বিছানা অথবা তার বসা যে কোনো আসবাবপত্র যদি কেউ স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:24 “ ‘যদি কোনো পুরুষ ওই নারীর সঙ্গে শয়ন করে ও তার মাসিক রক্তস্রাব ওই পুরুষের দেহে লাগে, তাহলে পুরুষটি সাত দিনের জন্যে অশুদ্ধ থাকবে ও তার শয়ন করা বিছানা অশুদ্ধ বিবেচিত হবে।
LEV 15:25 “ ‘যদি কোনো মহিলার মাসিক কাল চেয়েও একবারে দীর্ঘদিন ধরে রক্তস্রাব হয়, অথবা তার রক্তস্রাব নিয়মিত সময় অতিক্রম করে, তাহলে তার মাসিক ঋতুস্রাবের দিনগুলির মতো অনিয়মিত দীর্ঘকাল পর্যন্ত সে অশুদ্ধ থাকবে।
LEV 15:26 রক্তস্রাব চলাকালীন তার শোয়ার বিছানা অশুদ্ধ হবে, যেমন তার মাসিক ঋতুকালের বিছানা অশুদ্ধ হবে, যেমন তার অশৌচকালের সময় তার বিছানা অশুদ্ধ হয় এবং তার বসা যে কোনো আসন তার অশৌচকালের মতো অশুদ্ধ হবে।
LEV 15:27 সেগুলি স্পর্শকারী যে কেউ অশুদ্ধ হবে; সে নিজের কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে ও নিজে জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে অশুদ্ধ বলা হবে।
LEV 15:28 “ ‘তার রক্তস্রাব থেকে যখন সে শুদ্ধ হবে, সে নিজের জন্য সাত দিন গণনা করবে এবং এরপরে আনুষ্ঠানিকভাবে সে শুদ্ধ হবে।
LEV 15:29 অষ্টম দিনে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোতশাবক সে নেবে এবং সমাবেশ-তাঁবুর প্রবেশদ্বারে যাজকের হাতে সেগুলি তুলে দেবে।
LEV 15:30 একটি পাপার্থক বলি ও অন্যটি হোমবলিরূপে পাখিগুলিকে যাজক উৎসর্গ করবে। এভাবে মহিলাটির স্রাবের অশুচিতার জন্য সদাপ্রভুর সামনে প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 15:31 “ ‘তোমরা সমস্ত অশুচিতা থেকে ইস্রায়েলীদের পৃথক রাখবে, যেন আমার বাসস্থান অশুচি করার দ্বারা তাদের অশুচিতায় তাদের মৃত্যু না হয়, যা তাদের মধ্যবর্তী।’ ”
LEV 15:32 পুরুষের যে কোনো ক্ষরণ, বীর্যপাতের হেতু যে কোনো পুরুষের অশুচিতার জন্য এসব নিয়মবিধি,
LEV 15:33 কারণ কোনো নারীর মাসিক রক্তস্রাবের ক্ষেত্রে, কোনো পুরুষ অথবা মহিলার ক্ষরণের পক্ষে এবং কোনো মহিলার সঙ্গে শয়নকারী আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি পুরুষের জন্য নিয়মগুলি প্রযোজ্য।
LEV 16:1 হারোণের দুই ছেলে সদাপ্রভুর কাছে এসে মারা যাওয়ার পর সদাপ্রভু মোশির সঙ্গে কথা বললেন।
LEV 16:2 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি তোমার দাদা হারোণকে বলো, সে যেন মহাপবিত্র জায়গায় তিরস্কারিণীর পিছনে সিন্দুকের সামনে পাপাবরণের জায়গায় যখন তখন যেন প্রবেশ না করে, অন্যথায় সে মরবে, কারণ পাপাবরণের ওপরে মেঘের মধ্যে আমি আবির্ভূত হই।
LEV 16:3 “পাপার্থক বলিরূপে একটি বাছুর ও হোমবলিরূপে একটি মেষ সঙ্গে নিয়ে হারোণ মহাপবিত্র জায়গায় প্রবেশ করবে।
LEV 16:4 মসিনার পবিত্র নিমা সে গায়ে দেবে, মসিনার অন্তর্বাস পরবে, মসিনার কটিবন্ধন বাঁধবে ও মসিনার পাগড়িতে বিভূষিত হবে। এগুলি পবিত্র পোশাক সুতরাং এই পোশাক পরার আগে সে অবশ্যই স্নান করবে।
LEV 16:5 পাপার্থক বলির জন্য দুটি পুংছাগ ও হোমবলির জন্য একটি মেষ ইস্রায়েলী সমাজ থেকে সে সংগ্রহ করবে।
LEV 16:6 “হারোণ নিজের পাপার্থক বলিরূপে প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে ও তার কুলের পক্ষে বাছুরটি উৎসর্গ করবে।
LEV 16:7 পরে সে দুটি ছাগল নেবে এবং সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর সামনে রাখবে।
LEV 16:8 পরে দুটি ছাগলের পক্ষে সে গুটিকাপাত করবে। সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি ছাগল ও অন্যদের অপরাধে দণ্ডিত হবার জন্য অন্য ছাগলের ভাগ্য নির্ণীত হবে।
LEV 16:9 সদাপ্রভুর উদ্দেশে নির্ণীত ছাগকে এনে হারোণ পাপার্থক বলি উৎসর্গ করবে।
LEV 16:10 কিন্তু অন্যদের জন্য শাস্তি পাওয়ার জন্য মনোনীত ছাগটিকে জীবিতাবস্থায় সদাপ্রভুর সামনে আনতে হবে ও প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে অন্যের পক্ষে দণ্ডিতরূপে তাকে মরুপ্রান্তরে পাঠাতে হবে।
LEV 16:11 “হারোণ নিজের পাপার্থক বলিরূপে বাছুর আনবে এবং তার ও তার কুলের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং আপন পাপার্থক বলিদানার্থে সে বাছুরটিকে বধ করবে।
LEV 16:12 সদাপ্রভুর সামনের বেদি থেকে সে জ্বলন্ত কয়লাপূর্ণ ধূপাধার নেবে এবং পূর্ণ দুই মুঠো চূর্ণীকৃত সুগন্ধি ধূপ নিয়ে পর্দার পিছনে রাখবে।
LEV 16:13 সদাপ্রভুর সামনে আগুনের মধ্যে সে ধূপ নিক্ষেপ করবে; ফলে সাক্ষ্য-সিন্দুকের ওপরে রাখা পাপাবরণ ধূপের ধূমমেঘে আচ্ছন্ন হবে; সুতরাং সে মরবে না।
LEV 16:14 সে বাছুরটির কিছুটা রক্ত নেবে ও তার আঙুল দিয়ে পাপাবরণের সামনে ছিটাবে; পরে সে তার আঙুল দিয়ে কিছুটা রক্ত নিয়ে পাপাবরণের সামনে সাতবার ছিটাবে।
LEV 16:15 “এবারে লোকদের জন্য পাপার্থক বলিদানার্থে সে ছাগকে বধ করবে এবং বাছুরটির রক্ত ছিটানোর মতো ছাগলের রক্ত ছিটাবে। পাপাবরণের উপরে সাতবার ছিটাবে।
LEV 16:16 এভাবে মহাপবিত্র স্থানের জন্য সে প্রায়শ্চিত্ত করবে, কেননা ইস্রায়েলীদের রকমারি অশুচিতা, বিরোধিতা ও অন্যান্য পাপ সেখানে ঘটেছিল। সমাগম তাঁবুর জন্য সে একই কাজ করবে, যা তাদের অশুচিতার মাঝে তাদের মধ্যে রয়েছে।
LEV 16:17 মহাপবিত্র জায়গায় প্রায়শ্চিত্ত সাধনার্থে হারোণ চলে যাওয়ার সময় থেকে তার ফিরে না আসা পর্যন্ত সমাগম তাঁবুতে কেউ যাবে না। সে নিজের জন্য, তার কুলের পক্ষে ও সমগ্র ইস্রায়েল সমাজের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধনের পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে।
LEV 16:18 “পরে সদাপ্রভুর সম্মুখবর্তী বেদির সামনে সে আসবে ও বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে। সে বাছুরটির কিছুটা রক্ত ও ছাগলের কিছুটা রক্ত নেবে এবং বেদির সমস্ত শিং-এ ঢালবে।
LEV 16:19 বেদি শুচি করতে ও ইস্রায়েলীদের সব ধরনের অশুচিতা থেকে বেদিকে পবিত্র করার জন্য সে তার আঙুল দিয়ে কিছুটা রক্ত নিয়ে সাতবার ছিটাবে।
LEV 16:20 “মহাপবিত্র স্থান, সমাগম তাঁবুর ও বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধনের পর হারোণ জীবিত ছাগকে সামনে আনবে।
LEV 16:21 জীবিত ছাগলের মাথায় সে তার দু-হাত রাখবে এবং ইস্রায়েলীদের সমস্ত দুষ্টতা, বিরোধিতা স্বীকার করবে তাদের সকল পাপ ছাগলের মাথার ওপরে রাখা হবে। দায়িত্ব পালনার্থে নিযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সে ছাগটিকে প্রান্তরে পাঠিয়ে দেবে।
LEV 16:22 ছাগটি তাদের সব পাপ বহন করে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে যাবে ও তত্ত্বাবধায়ক ছাগটিকে মরুপ্রান্তরে ছেড়ে দেবে।
LEV 16:23 “পরে হারোণ সমাগম তাঁবুতে যাবে এবং মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করার আগে পরিহিত সব মসিনার পোশাক ছাড়বে ও সেগুলি সেখানে রাখবে।
LEV 16:24 এক পবিত্রস্থানে সে জলে স্নান করবে এবং তার নিয়মিত কাপড় পরবে। এবারে সে বাইরে আসবে এবং নিজের জন্য হোমবলি ও লোকদের জন্য হোমবলি উৎসর্গ করবে, এইভাবে নিজের জন্য ও লোকদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধিত হবে।
LEV 16:25 আর সে পাপার্থক বলির মেদ বেদিতে পোড়াবে।
LEV 16:26 “অন্যের জন্য দণ্ডিত ছাগকে যে ব্যক্তি মুক্ত করবে, সে তার কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে ও জলে স্নান করবে; পরে সে শিবিরে আসতে পারে।
LEV 16:27 পাপার্থক বলির জন্য আনা বাছুর ও ছাগলের রক্ত প্রায়শ্চিত্ত সাধনের জন্য মহাপবিত্র স্থান থেকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যেতেই হবে; তাদের চামড়া, মাংস ও নাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দিতে হবে।
LEV 16:28 এগুলি যে ব্যক্তি জ্বালাবে, সে তার কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে ও নিজে জলে স্নান করবে; পরে সে শিবিরে আসতে পারবে।
LEV 16:29 “এটি তোমাদের জন্য চিরস্থায়ী বিধি হবে: সপ্তম মাসের দশম দিনে তোমরা আত্মসংযমী হবে এবং স্বদেশি অথবা তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী প্রবাসী কোনো কাজ করবে না,
LEV 16:30 কারণ ওই দিনে তোমাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধিত হবে, তোমরা পরিষ্কৃত হবে। পরে সদাপ্রভুর সামনে তোমরা সব পাপ থেকে শুচিশুদ্ধ হবে।
LEV 16:31 এই দিন তোমাদের বিশ্রামের জন্য বিশ্রামদিন এবং তোমরা অবশ্যই আত্মসংযমী হবে; এটি চিরস্থায়ী বিধি।
LEV 16:32 যে যাজককে অভিষেক ও নিযুক্তি দ্বারা মহাযাজকরূপে তার বাবার উত্তরসূরি করা হবে, সে প্রায়শ্চিত্ত করবে। পবিত্র মসিনা কাপড় সে পরবে
LEV 16:33 এবং সমাগম তাঁবু ও বেদির জন্য এবং যাজকদের ও সমাজের সমস্ত লোকের জন্য মহাপবিত্র জায়গায় প্রায়শ্চিত্ত করবে।
LEV 16:34 “তোমাদের জন্য এটি চিরস্থায়ী বিধি হবে: ইস্রায়েলীদের সব পাপের জন্য বার্ষিক একবার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।” এই কাজ করা হল, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ করেছিলেন।
LEV 17:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 17:2 “তুমি হারোণকে এবং তার ছেলেদের ও ইস্রায়েলীদের সবাইকে এই কথা বলো, ‘সদাপ্রভু এই আদেশ দিয়েছেন:
LEV 17:3 যদি কোনো ইস্রায়েলী শিবিরের মধ্যে অথবা শিবিরের বাইরে গরু, অথবা মেষ কিংবা ছাগল হত্যা করে,
LEV 17:4 কিন্তু সদাপ্রভুর আবাসের সামনে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার উৎসর্গ করতে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে তা না আনে, তাহলে সেই মানুষটি রক্তপাতের অপরাধী গণিত হবে; সে রক্তপাত করছে; সুতরাং তার পরিজনদের কাছ থেকে সে উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 17:5 এরপরে ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিভিন্ন বলিদান আনবে, যেগুলি ওই সময় পর্যন্ত তারা খোলা ময়দানে উৎসর্গ করছিল। তারা যাজকের কাছে সেগুলি অবশ্যই আনবে: অর্থাৎ সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর সামনে এনে মঙ্গলার্থক বলিরূপে সেগুলি উৎসর্গ করবে।
LEV 17:6 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সদাপ্রভুর বেদির সামনে যাজক রক্ত ছিটাবে এবং সদাপ্রভুর সুগন্ধি সন্তোষজনক উপহাররূপে মেদ পোড়াবে।
LEV 17:7 ছাগল প্রতিমাদের উদ্দেশে তারা আর কোনোরকম বলিদান করবে না, যাদের অনুগমনে তারা ব্যভিচার করেছে। তাদের জন্যে ও আগামী প্রজন্মের জন্য এটি চিরস্থায়ী বিধি।’
LEV 17:8 “তাদের বলো, ‘তাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো ইস্রায়েলী অথবা প্রবাসী যদি হোম অথবা বলিদান করে
LEV 17:9 এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলিদান করার জন্য সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে ওই নৈবেদ্য না আনে, তাহলে তার পরিজনদের নিকট থেকে সে অবশ্যই উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 17:10 “ ‘তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো ইস্রায়েলী অথবা কোনো প্রবাসী যদি রক্ত ভোজন করে, তাহলে আমি ওই রক্ত ভোজনকারীর প্রতি বিমুখ হব ও তার পরিজনদের কাছ থেকে তাকে উচ্ছিন্ন করব।
LEV 17:11 কেননা একটি প্রাণীর রক্তে জীবন থাকে এবং এই জীবন আমি তোমাদের দিয়েছি, যেন তোমাদের জন্য তোমরা বেদির ওপরে প্রায়শ্চিত্ত করতে পারো; এই রক্ত প্রত্যেকজনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধন করে।
LEV 17:12 অতএব ইস্রায়েলীদের উদ্দেশে আমি এই কথা বলি, “তোমাদের কেউ অথবা তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো প্রবাসী যেন রক্ত ভোজন না করে।”
LEV 17:13 “ ‘কোনো ইস্রায়েল সন্তান অথবা তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো প্রবাসী যদি মৃগয়াতে গিয়ে ভোজনের উপযোগী পশু অথবা পাখি বধ করে, তাহলে মৃত পশুর অথবা পাখির প্রবাহিত রক্তধারাকে ধুলো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে,
LEV 17:14 কারণ প্রত্যেক প্রাণীর জীবন রক্তের মধ্যে রয়েছে। এই কারণে আমি ইস্রায়েলীদের বলেছি, “তোমরা কোনো প্রাণীর রক্ত একেবারে ভোজন করবে না, কারণ রক্তের মধ্যে প্রত্যেক প্রাণীর জীবন রয়েছে, যদি কেউ তা ভোজন করে, তাকে উচ্ছিন্ন হতেই হবে।”
LEV 17:15 “ ‘স্বদেশি অথবা বিদেশি কেউ যদি কোনো মৃত অথবা বিদীর্ণ বন্যপশুর মাংস ভক্ষণ করে, তাহলে সে নিজের কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নেবে ও জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে আনুষ্ঠানিকভাবে অশুদ্ধ থাকবে; পরে সে শুদ্ধ হবে।
LEV 17:16 কিন্তু সে যদি তার কাপড় না ধোয় ও নিজে স্নান না করে, তাহলে সে নিজের অপরাধ বহন করবে।’ ”
LEV 18:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 18:2 “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 18:3 মিশরে তাদের কর্মের মতো কাজ তোমরা কোরো না, যেখানে তোমরা বসবাস করতে এবং কনান দেশে তাদের কর্মানুযায়ী তোমরা কোনও কাজ কোরো না, যেখানে আমি তোমাদের আনছি। তাদের কোনও অনুশীলন অনুকরণ কোরো না।
LEV 18:4 আমার শাসন তোমরা অবশ্যই পালন করবে এবং আমার সব বিধি সযত্নে মানবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 18:5 আমার বিধিলিপি ও নিয়মাবলি পালন করবে, কেননা যে ব্যক্তি সেগুলি পালন করে সে এসবের দ্বারা বাঁচবে। আমি সদাপ্রভু।
LEV 18:6 “ ‘যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কেউ নিকট আত্মীয়ের কাছে যাবে না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 18:7 “ ‘তোমাদের মায়ের সাথে যৌন সম্পর্ক রেখে তুমি তোমার বাবাকে অশ্রদ্ধা করো না। তিনি তোমার মা; তাঁর সাথে কোনো যৌন সম্পর্ক রেখো না।
LEV 18:8 “ ‘তোমার বাবার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখো না; এই কাজ তোমার বাবার অসম্মানজনক।
LEV 18:9 “ ‘তোমার বোনের সাথে অর্থাৎ তোমার বাবার মেয়ের সাথে অথবা তোমার মায়ের মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক রেখো না; হতে পারে সে একই বাড়িতে অথবা অন্যত্র জন্মেছে।
LEV 18:10 “ ‘তোমার ছেলের মেয়ে অথবা তোমার মেয়ের কোনো মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখবে না, এই কাজ তোমার অসম্মানজনক।
LEV 18:11 “ ‘তোমার বাবার ঔরসে জাত মেয়ের সঙ্গে তুমি যৌন সম্পর্ক রাখবে না; সে তোমার বোন।
LEV 18:12 “ ‘তোমার বাবার বোনের সঙ্গে তুমি যৌন সম্পর্ক রাখবে না; সে তোমার বাবার নিকট আত্মীয়।
LEV 18:13 “ ‘তোমার মায়ের বোনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখো না, কেননা সে তোমার মায়ের নিকট আত্মীয়।
LEV 18:14 “ ‘তোমার বাবার ভ্রাতৃবধূর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে বাবার ভাইকে অশ্রদ্ধা কোরো না; তিনি তোমার কাকীমা।
LEV 18:15 “ ‘তোমার ছেলের বউ-এর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখো না। সে তোমার পুত্রের বউ; তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখবে না।
LEV 18:16 “ ‘তোমার ভাই-এর বউ-এর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখবে না; এ কাজ তোমার ভাই-এর প্রতি অসম্মানজনক।
LEV 18:17 “ ‘কোনো এক মহিলা ও তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখবে না। তার ছেলের মেয়ে অথবা তার মেয়ের কোনো মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখবে না। তারা তার নিকট আত্মীয়; এটি পাপাচার।
LEV 18:18 “ ‘তোমার স্ত্রীর বোনকে এক প্রতিযোগিনী স্ত্রীরূপে গ্রহণ করবে না ও তোমার স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখবে না।
LEV 18:19 “ ‘কোনো মহিলার মাসিক রক্তস্রাবের অশুচিতা থাকাকালীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য তার কাছে যাবে না।
LEV 18:20 “ ‘তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখে তার দ্বারা নিজেকে অশুচি করবে না।
LEV 18:21 “ ‘মোলকের উদ্দেশে তোমার কোনো সন্তান বলিদানার্থে দিয়ো না, কেননা তোমার ঈশ্বরের নাম তুমি কখনও অপবিত্র করবে না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 18:22 “ ‘কোনো পুরুষের সঙ্গে সংসর্গ করবে না, যেমন কেউ কোনো মহিলার সঙ্গে শয়ন করে। এই কাজ ঘৃণিত।
LEV 18:23 “ ‘কোনো পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখে নিজেকে অশুচি করবে না। একটি নারী কামনা চরিতার্থ করতে যেন কখনও কোনো পশুর কাছে না যায়। এই কাজ চূড়ান্ত দুষ্কর্ম।
LEV 18:24 “ ‘এসব দুষ্কর্ম দ্বারা তোমরা নিজেদের কলুষিত করবে না, কারণ তোমাদের সামনে থেকে যে জাতিদের আমি বিতাড়িত করতে চলেছি, তারা এইভাবে কলুষিত হয়েছিল।
LEV 18:25 এমনকি দেশও কলুষিত হয়েছিল; সুতরাং দেশের পাপের জন্য তাকে শাস্তি দিলাম এবং দেশ তার বাসিন্দাদের উগরে ফেলল।
LEV 18:26 কিন্তু আমার বিধি ও আমার বিধান অবশ্যই পালন করবে। স্বদেশে জাত ও তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিরা যেন কোনো ঘৃণিত কাজ না করে।
LEV 18:27 কারণ তোমাদের আগে এই দেশে বসবাসকারী লোকেরা এই সমস্ত করেছিল ও দেশ কলুষিত হয়েছিল।
LEV 18:28 আর তোমরা যদি দেশ কলুষিত করো, তাহলে দেশ তোমাদের উগরে দেবে, যেমন তোমাদের আগে সেই জাতিদের উগরে দিয়েছিল।
LEV 18:29 “ ‘যদি কেউ এই ঘৃণিত কাজগুলির মধ্যে কোনো একটি কাজ করে, তাহলে নিজের পরিজনদের মধ্য থেকে সে উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 18:30 আমার চাহিদাগুলি পূরণ করবে ও ঘৃণিত কোনো কাজ অনুসরণ করবে না, তোমাদের আগে যেগুলি অনুশীলিত হয়েছিল এবং কুকাজগুলির দ্বারা নিজেদের কলুষিত করবে না। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।’ ”
LEV 19:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 19:2 “সমগ্র ইস্রায়েলী জনতার সঙ্গে তুমি কথা বলো এবং তাদের জানাও, ‘তোমরা পবিত্র হও, কেননা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আমি পবিত্র।
LEV 19:3 “ ‘তোমাদের প্রত্যেকজন বাবা-মাকে অবশ্যই সম্মান দিয়ো, এবং আমার বিশ্রামদিন নিশ্চিতরূপে পালন করবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:4 “ ‘প্রতিমাদের দিকে তোমরা ফিরো না, অথবা তোমাদের জন্য গলিত ধাতু দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করবে না। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:5 “ ‘সদাপ্রভুর উদ্দেশে যখন তোমরা মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করতে চাও, এমনভাবে তা উৎসর্গ করবে, যেন তোমাদের পক্ষে নৈবেদ্য গৃহীত হয়।
LEV 19:6 উৎসর্গীকরণ দিনে অথবা পরবর্তী দিনে বলিদানের মাংস ভক্ষণ করতে হবে; তৃতীয় দিন পর্যন্ত যা কিছু পড়ে থাকবে তা পোড়াতে হবে।
LEV 19:7 যদি ভক্ষ্য দ্রব্যের কিছু অংশ তৃতীয় দিনে ভোজন করা হয়, সেটি অশুদ্ধ এবং গৃহীত হবে না।
LEV 19:8 যদি কেউ তা ভোজন করে, সে দায়ী হবে, কারণ সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র দ্রব্যকে সে অপবিত্র করেছে; সেই ব্যক্তি নিজের পরিজনদের মধ্য থেকে অবশ্যই উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 19:9 “ ‘তোমাদের জমির ফসল কাটার সময় একেবারে ফসলের গোড়া কাটবে না, অথবা জমিতে পড়ে থাকা ফসল সংগ্রহ করবে না।
LEV 19:10 তোমাদের দ্রাক্ষাক্ষেতে দ্বিতীয়বার যেয়ো না, অথবা ঝরে পড়া আঙুর তুলবে না। দরিদ্র ও বিদেশিদের জন্য সেগুলি ছেড়ে দিয়ো। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর।
LEV 19:11 “ ‘চুরি কোরো না। “ ‘মিথ্যা কথা বোলো না। “ ‘একজন অন্যজনকে প্রতারণা কোরো না।
LEV 19:12 “ ‘আমার নাম নিয়ে মিথ্যা দিব্যি করবে না এবং এইভাবে তোমাদের ঈশ্বরের নাম অপবিত্র করবে না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:13 “ ‘তোমাদের প্রতিবেশীকে নির্যাতন করবে না কিংবা তার কোনো জিনিস হরণ করবে না। “ ‘বেতনজীবীর বেতন রাত্রি অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে রেখো না।
LEV 19:14 “ ‘বধিরকে অভিশাপ দিয়ো না, অথবা অন্ধজনের সামনে বাধা রেখো না; কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরকে ভয় কোরো। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:15 “ ‘তোমরা বিচারে অন্যায় করবে না; দরিদ্রের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাবে না, অথবা ধনবানকে তোষণ করবে না, কিন্তু তোমাদের প্রতিবেশীর প্রতি ন্যায়বিচার করবে।
LEV 19:16 “ ‘তোমাদের লোকদের মাঝে কুৎসা রটাতে এগিয়ে যেয়ো না। “ ‘এমন কোনো কাজ করবে না, যার দ্বারা তোমাদের প্রতিবেশীর জীবন বিপন্ন হয়। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:17 “ ‘তোমরা হৃদয়ে তোমাদের আত্মীয়কে ঘৃণা কোরো না। তোমাদের প্রতিবেশীকে খোলাখুলিভাবে অনুযোগ করো, যেন তার অপরাধের ভাগী হতে না হয়।
LEV 19:18 “ ‘তোমার লোকদের কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে না, অথবা তার বিপক্ষে বিরূপ মনোভাব রেখো না, কিন্তু প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবেসো। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:19 “ ‘আমার বিধিবিধান পালন করবে। “ ‘বিভিন্ন ধরনের পশুর মধ্যে সংসর্গ করতে দিয়ো না। “ ‘তোমার জমিতে দুই ধরনের বীজবপন করবে না। “ ‘দুই ধরনের উপাদান দিয়ে বোনা কাপড় পরবে না।
LEV 19:20 “ ‘যদি একটি পুরুষ কোনো এক নারীর সঙ্গে শয়ন করে, যে এক ক্রীতদাসী ও অন্য পুরুষের প্রতি বাগদত্তা, কিন্তু যার বন্ধনমুক্ত হয়নি, অথবা তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি, তার শাস্তি হবেই। কিন্তু তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না, কেননা সে মুক্ত হয়নি।
LEV 19:21 অন্যদিকে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক দোষার্থক-নৈবেদ্যদানার্থে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে ওই পুরুষ অবশ্যই একটি মেষ আনবে।
LEV 19:22 যাজক দোষার্থক-নৈবেদ্যদানের মেষটি নিয়ে পুরুষটির পাপের জন্য সদাপ্রভুর সামনে তার পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং তার পাপের ক্ষমা হবে।
LEV 19:23 “ ‘দেশে প্রবেশের পর তোমরা যে কোনো ফলের গাছ রোপণ করো, এর ফল নিষিদ্ধ বিবেচনা করো, কেননা তিন বছর পর্যন্ত এটি নিষিদ্ধ বিবেচিত হবে। এর ফল ভোজন করা যাবে না।
LEV 19:24 চতুর্থ বছরে এর সমস্ত ফল পবিত্র হবে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এটি প্রশংসাসূচক এক উপহার।
LEV 19:25 কিন্তু পঞ্চম বছরে তুমি এর ফল ভোজন করতে পারো। এইভাবে তোমার ফসল বৃদ্ধি পাবে। আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:26 “ ‘রক্ত সমেত কোনো মাংস ভোজন করবে না। “ ‘ভবিষ্যৎ-কথন অথবা জাদুবিদ্যা অনুশীলন করবে না।
LEV 19:27 “ ‘তোমার মাথার কিনারার চুল অথবা তোমার দাড়ির প্রান্তভাগ ছাঁটবে না।
LEV 19:28 “ ‘মৃত মানুষের জন্য তোমার দেহে অস্ত্রাঘাত কোরো না অথবা দেহে ক্ষোদিত চিহ্ন দিয়ো না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:29 “ ‘তুমি তোমার মেয়েকে ব্যভিচারিণী বানিয়ে তার মর্যাদাহানি করবে না পাছে দেশ ব্যভিচারে পূর্ণ হয় ও সব ধরনের লাম্পট্যে ভরে যায়।
LEV 19:30 “ ‘আমার বিশ্রামবার পালন কোরো ও আমার পবিত্র ধর্মধামের প্রতি সম্মান দেখাও। আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:31 “ ‘তোমরা প্রেত মাধ্যমদের ও মায়াবীদের অভিমুখে যেয়ো না, কেননা তাদের সংস্পর্শে তোমরা কলুষিত হবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:32 “ ‘বয়স্কদের উপস্থিতিতে তোমরা উঠে দাঁড়াও, প্রাচীনদের প্রতি সম্মান দেখাও এবং তোমার ঈশ্বরকে ভয় কোরো। আমি সদাপ্রভু।
LEV 19:33 “ ‘তোমাদের দেশে তোমাদের সঙ্গে বসবাসকারী বিদেশির প্রতি দুর্ব্যবহার করবে না।
LEV 19:34 তোমার কাছে স্বদেশীয় যেমন, তোমাদের সঙ্গে বসবাসকারী বিদেশির প্রতিও তুমি অবশ্যই একই ব্যবহার করবে। তুমি তাকে নিজের মতো ভালোবেসো, কেননা মিশরে তুমিও প্রবাসী ছিলে। আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 19:35 “ ‘দৈর্ঘ্য, ওজন অথবা পরিমাণ পরিমাপ করার সময় অবৈধ বাটখারা ব্যবহার করবে না।
LEV 19:36 ন্যায্য মাপনী, ন্যায্য বাটখারা, ন্যায্য ঐফা ও ন্যায্য হিন ব্যবহার করবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।
LEV 19:37 “ ‘আমার সব অনুশাসন ও বিধিবিধান পালন করবে, এবং সেগুলির অনুগামী হবে। আমি সদাপ্রভু।’ ”
LEV 20:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 20:2 “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘কোনো ইস্রায়েলী অথবা ইস্রায়েলে বসবাসকারী কোনো প্রবাসী যদি তার সন্তানদের মোলকের উদ্দেশে উৎসর্গ করার জন্য দেয়, তাহলে অবশ্যই তার প্রাণদণ্ড হবে। সমাজের লোকেরা তাকে প্রস্তরাঘাত করবে।
LEV 20:3 আমি তার বিরুদ্ধে বিমুখ হব ও তার পরিজনদের মধ্যে থেকে তাকে উচ্ছিন্ন করব; কারণ মোলকের উদ্দেশে তার সন্তান দিয়ে সে আমার পবিত্র ধর্মধাম কলুষিত করেছে ও আমার পবিত্র নাম কলঙ্কিত করেছে।
LEV 20:4 যখন সে তার সন্তানদের মধ্য থেকে একটি সন্তান মোলককে উৎসর্গ করে, তখন যদি সমাজের লোকেরা তাদের চোখ বন্ধ রাখে ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে না পারে,
LEV 20:5 তাহলে সেই ব্যক্তি ও তার পরিবারের বিপক্ষে আমি বিমুখ হব এবং তাকে ও তার অনুগামী মোলকের সঙ্গে ব্যভিচারী সবাইকে তাদের পরিজনদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন করব।
LEV 20:6 “ ‘সেই মানুষের বিপক্ষে আমি বিমুখ হব, যে ভূতপ্রেত ও গুণীনদের অনুগমনে ব্যভিচার করার জন্য তাদের অভিমুখে যায় এবং তাকে তার আপনজনদের মধ্য থেকে আমি উচ্ছিন্ন করব।
LEV 20:7 “ ‘তোমরা নিজেদের উৎসর্গ করো ও পবিত্র হও, কেননা আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 20:8 আমার বিধিবিধান পালন করবে, সেগুলির অনুগামী হবে। আমিই সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের পবিত্র করেন।
LEV 20:9 “ ‘যদি কেউ তার বাবাকে বা মাকে অভিশাপ দেয়, তাকে মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। সে তার বাবাকে বা মাকে অভিশাপ দিয়েছে; সুতরাং তার রক্ত তার নিজের মাথায় প্রযোজ্য হবে।
LEV 20:10 “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে—তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে—ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়ের অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।
LEV 20:11 “ ‘যদি কোনো পুরুষ তার বাবার স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন করে, সে তার বাবাকে অশ্রদ্ধা করেছে। সেই পুরুষ ও নারী উভয়ের অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হবে; তাদের রক্ত তাদের নিজেদের মাথায় গিয়ে পড়বে।
LEV 20:12 “ ‘যদি কেউ তার ছেলের বউ-এর সঙ্গে শয়ন করে তাদের উভয়ের প্রাণদণ্ড হবে। তারা যা করেছে তা স্বেচ্ছাচারিতা; তাদের রক্ত তাদের নিজেদের মাথায় গিয়ে পড়বে।
LEV 20:13 “ ‘যদি কোনো পুরুষ অন্য এক পুরুষের সঙ্গে শয়ন করে, যেমন একটি পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে করে তাহলে তারা দুজনই ঘৃণিত কাজ করেছে। অবশ্যই তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে; তাদের রক্ত তাদের নিজেদের মাথায় গিয়ে পড়বে।
LEV 20:14 “ ‘যদি কোনো পুরুষ এক নারী ও তার মাকে বিয়ে করে, এটি দুশ্চরিত্রতা। তাকে ও তাদের আগুনে জ্বালিয়ে দিতে হবে, যেন তোমাদের মাঝে কোনো দুশ্চরিত্রতা না থাকে।
LEV 20:15 “ ‘যদি কোনো পুরুষ একটি পশুর সঙ্গে কামনা চরিতার্থ করে, তার অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হবে এবং পশুকে তোমরা অবশ্যই বধ করবে।
LEV 20:16 “ ‘যদি একটি নারী কামনা চরিতার্থ করতে কোনো পশুর কাছে যায়, সেই নারী ও পশু উভয়কে তোমরা অবশ্যই বধ করবে। অবশ্যই তাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে। তাদের রক্ত তাদের নিজেদের মাথায় গিয়ে পড়বে।
LEV 20:17 “ ‘যদি কোনো পুরুষ তার বোনকে বিয়ে করে, যে তার বাবার অথবা মায়ের মেয়ে এবং তারা কামনা চরিতার্থ করে, এটি লজ্জার বিষয়। তাদের পরিজনদের নজর থেকে তাদের উচ্ছিন্ন করতেই হবে। সে তার বোনের সতীত্ব হরণ করেছে এবং এই দুষ্কর্মের জন্য সে দায়ী থাকবে।
LEV 20:18 “ ‘যদি কোনো পুরুষ একটি স্ত্রীলোকের মাসিক রক্তস্রাব চলাকালীন তার সঙ্গে শয়ন ও কামনা চরিতার্থ করে, সে ওই স্ত্রীলোকের স্রাবের উৎস উন্মোচন করে এবং স্ত্রীলোকটিও তা অনাবৃত করে। তাদের উভয়কে তাদের আপনজনদের মধ্য থেকে অবশ্যই উচ্ছিন্ন করতে হবে।
LEV 20:19 “ ‘তোমার মায়ের অথবা তোমার বাবার বোনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে না; কেননা সেই কাজ নিকট আত্মীয়ের প্রতি অসম্মানজনক। এর জন্য তোমরা দুজনই দায়ী থাকবে।
LEV 20:20 “ ‘যদি কোনো পুরুষ তার আত্মীয়ার সঙ্গে শয়ন করে, তাহলে সে তার আত্মীয়কে অশ্রদ্ধা করেছে। তারা অপরাধী হবে ও নিঃসন্তান থাকাকালীন মারা যাবে।
LEV 20:21 “ ‘যদি কোনো পুরুষ তার ভাইয়ের বউকে বিয়ে করে, এই কাজ অশুদ্ধাচার; সে তার অগ্রজকে অশ্রদ্ধা করেছে। তারা নিঃসন্তান থাকবে।
LEV 20:22 “ ‘আমার সব অনুশাসন ও বিধান পালন করবে ও সেগুলির অনুগামী হবে, যেন যে দেশে তোমাদের আমি নিয়ে যাচ্ছি, সেই দেশ তোমাদের উগরে না ফেলে।
LEV 20:23 তোমরা ওই সমস্ত জাতির বিভিন্ন প্রথা অনুযায়ী জীবনযাপন করবে না, তোমাদের সামনে থেকে যাদের আমি বিতাড়িত করতে যাচ্ছি, কেননা আমার দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজগুলি এরা করেছে।
LEV 20:24 কিন্তু আমি তোমাদের বলেছি, “তাদের দেশ তোমরা অধিকার করবে। আমি উত্তরাধিকাররূপে দেশটি তোমাদের দেব, যে দেশে দুধ ও মধু প্রবাহিত হয়।” আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি সমস্ত জাতি থেকে তোমাদের পৃথক করেছেন।
LEV 20:25 “ ‘অতএব, শুচি ও অশুচি পশুদের মাঝে এবং অশুচি ও শুচি পাখিদের মাঝে তোমরা অবশ্যই তফাৎ রাখবে। কোনো পশু অথবা পাখি কিংবা ভূমিতে বিচরণকারী কোনো কিছুর দ্বারা নিজেদের কলুষিত করবে না—তোমাদের জন্য অশুচিরূপে সেগুলিকে আমি পৃথক রেখেছি।
LEV 20:26 আমার উদ্দেশে তোমাদের পবিত্র হতে হবে, কারণ আমি সদাপ্রভু পবিত্র এবং জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদের আমি পৃথক রেখেছি, যেন তোমরা আমার নিজস্ব হও।
LEV 20:27 “ ‘তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো পুরুষ বা নারী যদি প্রেতমাধ্যম অথবা জাদুকর হয়, তার অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হবে। তাদের তোমরা প্রস্তরাঘাত করবে। তাদের রক্ত তাদের নিজেদের মাথায় গিয়ে পড়বে।’ ”
LEV 21:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণের ছেলে যাজকদের জানাও, তাদের বলো, ‘কোনো যাজক তার কোনো মৃত আপনজনের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে যেন নিজেকে অশুচি না করে,
LEV 21:2 কেবল কোনো নিকট আত্মীয়, যেমন তার মা অথবা বাবা, তার ছেলে অথবা মেয়ে, তার ভাই,
LEV 21:3 অথবা অবিবাহিতা বোন, যে তার উপরে নির্ভরশীল, যেহেতু তার স্বামী নেই—এই বোনের জন্য সে নিজেকে অশুচি করতে পারে।
LEV 21:4 বিবাহ দ্বারা সম্পর্কিত লোকদের জন্য সে নিজেকে কখনও অশুদ্ধ করবে না, কোনোভাবে নিজে কলুষিত হবে না।
LEV 21:5 “ ‘যাজকেরা তাদের মাথা ও দাড়ির প্রান্তভাগ ছাঁটবে না, অথবা নিজেদের দেহে অস্ত্রাঘাত করবে না।
LEV 21:6 তারা তাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে অবশ্যই পবিত্র হবে এবং তাদের ঈশ্বরের নাম কখনও কলঙ্কিত করবে না। যেহেতু সদাপ্রভুর উদ্দেশে তারা অগ্নিকৃত উপহার আনে, তাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য রাখে, সেই কারণে তাদের পবিত্র হতে হবে।
LEV 21:7 “ ‘বেশ্যাবৃত্তি দ্বারা কলঙ্কিত রমণীদের অথবা বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমন মহিলাদের তারা কোনোমতে বিয়ে করবে না, কারণ যাজকেরা তাদের ঈশ্বরের কাছে পবিত্র।
LEV 21:8 পবিত্ররূপে তাদের বিবেচনা করো, কারণ তোমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে তারা ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে। তাদের পবিত্র বলে বিবেচনা করো, কেননা সদাপ্রভু পবিত্র—আমি তোমাদের পবিত্র করি।
LEV 21:9 “ ‘যদি কোনো যাজকের মেয়ে বেশ্যা হয়ে নিজেকে কলুষিত করে, সে তার বাবাকে লজ্জা দেয়, তাকে অবশ্যই আগুনে জ্বালিয়ে দিতে হবে।
LEV 21:10 “ ‘নিজের ভাইদের মধ্যে প্রধান যাজক, যার মাথায় অভিষেকের তেল ঢালা হয়েছে এবং যাজকীয় পোশাক পরার জন্য যে অভিষিক্ত হয়েছে, সে তার চুল এলোমেলো রাখবে না, অথবা তার কাপড় ছিঁড়বে না।
LEV 21:11 সে এমন জায়গায় কখনও প্রবেশ করবে না, যেখানে মৃতদেহ রয়েছে। সে তার বাবা অথবা মায়ের জন্যও নিজেকে কখনও অশুচি করবে না,
LEV 21:12 তার ঈশ্বরের পবিত্রস্থান পরিত্যাগ করবে না, অথবা তা অপবিত্র করবে না, কারণ সে তার ঈশ্বরের অভিষেকের তেল দিয়ে স্থানটিকে উৎসর্গ করেছে। আমি সদাপ্রভু।
LEV 21:13 “ ‘তার বিয়ের জন্য পাত্রী যেন অবশ্যই কুমারী মেয়ে হয়।
LEV 21:14 সে কোনো বিধবাকে, বিবাহ-বিচ্ছিন্না মহিলাকে অথবা বেশ্যাকে কখনও বিয়ে করবে না, কিন্তু তার লোকদের মধ্য থেকে কেবল একটি কুমারী মেয়েকে বিয়ে করবে,
LEV 21:15 যেন এইভাবে তার লোকদের মাঝে নিজের বংশধরদের সে অপবিত্র না করে। আমি সদাপ্রভু, যিনি তাকে পবিত্র করেন।’ ”
LEV 21:16 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 21:17 “তুমি হারোণকে বলো, ‘আগামী প্রজন্মগুলিতে তার বংশধরদের মধ্যে যদি কারও খুঁত থাকে, সে যেন তার ঈশ্বরের উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করতে নিকটবর্তী না হয়।
LEV 21:18 দোষযুক্ত কোনো মানুষ কাছে আসতে পারবে না, অন্ধ অথবা খঞ্জ, বিকলাঙ্গ অথবা অঙ্গহীন কেউ দোষমুক্ত নয়;
LEV 21:19 যার পা অথবা হাত অকেজো,
LEV 21:20 অথবা যে কুঁজো বা বামন, কিংবা যার চোখে ছানি পড়েছে অথবা যে পুঁজযুক্ত ক্ষতবিশিষ্ট, কিংবা ভগ্ন অণ্ডকোষ বিশিষ্ট,
LEV 21:21 যাজক হারোণের বংশধরদের মধ্যে কেউ খুঁতযুক্ত থাকলে সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার উৎসর্গ করতে সে আসতে পারবে না। যেহেতু তার দোষ আছে; তাই তার ঈশ্বরের উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করতে সে কখনও কাছে আসতে পারবে না।
LEV 21:22 সে তার ঈশ্বরের অতি পবিত্র ভক্ষ্য এবং পবিত্র খাদ্যবস্তু ভোজন করতে পারবে;
LEV 21:23 তবুও তার খুঁতের কারণে সে পর্দার কাছে অথবা বেদির অভিমুখে একেবারেই যাবে না, যেন আমার পবিত্রস্থান কলুষিত না হয়। আমি সদাপ্রভু, যিনি তাদের পবিত্র করেন।’ ”
LEV 21:24 সুতরাং হারোণকে, তার সব ছেলেকে ও সব ইস্রায়েলীকে মোশি এইসব কথা বললেন।
LEV 22:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 22:2 “হারোণ ও তার ছেলেদের তুমি জানিয়ে দাও, আমার উদ্দেশে ইস্রায়েলীদের উৎসর্গীকৃত পবিত্র উপহারগুলির প্রতি তারা যেন সম্মান প্রদর্শন করে এবং আমার পবিত্র নাম তারা যেন অপবিত্র না করে। আমি সদাপ্রভু।
LEV 22:3 “তাদের বলো, ‘আগামী প্রজন্মগুলিতে তোমাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি থাকে এবং তবুও সদাপ্রভুর উদ্দেশে ইস্রায়েলীদের উৎসর্গীকৃত পবিত্র উপহারগুলির কাছে সে আসে, তাহলে আমার সামনে থেকে সেই ব্যক্তি উচ্ছিন্ন হবে। আমি সদাপ্রভু।
LEV 22:4 “ ‘যদি হারোণের কোনো এক বংশধরের সংক্রামক চর্মরোগ অথবা দেহের ক্ষরণ থাকে, পবিত্র নৈবেদ্য সে ভোজন করবে না, যতক্ষণ না সে শুচি হয়। সে অশুচি হবে, যদি মৃতদেহ দ্বারা কলুষিত কোনো বস্তু অথবা বীর্য নির্গমিত ব্যক্তিকে স্পর্শ করে;
LEV 22:5 অথবা যদি সে কোনো সরীসৃপকে স্পর্শ করে, সেই স্পর্শে সে অশুচি হবে, অথবা সে কোনো অশুচিতায় কোনো অশুচি মানুষের স্পর্শে সে অশুচি হবে।
LEV 22:6 এই ধরনের দ্রব্যকে যে কেউ স্পর্শ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি বিবেচিত হবে। সে কোনো পবিত্র নৈবেদ্য ভোজন করতেই পারবে না, যতক্ষণ না জলে স্নান করছে।
LEV 22:7 সূর্য অস্ত গেলে সে শুচিশুদ্ধ হবে এবং এরপরে পবিত্র নৈবেদ্য সে ভোজন করতে পারবে; কেননা সেগুলি তার খাদ্য।
LEV 22:8 কোনো মৃত অথবা বন্যপশু দ্বারা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন কোনো প্রাণী সে কখনও ভোজন করবে না এবং এইভাবে নিজে অশুচি হবে না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 22:9 “ ‘যাজকেরা আমার চাহিদাগুলি পূরণ করবে, যেন অপরাধী না হয় এবং সেগুলিকে অবজ্ঞা করে মারা না যায়। আমি সদাপ্রভু, যিনি তাদের পবিত্র করেন।
LEV 22:10 “ ‘যাজকীয় পরিবারের বহির্ভূত কেউ পবিত্র নৈবেদ্য ভোজন করতে পারবে না, অথবা যাজকের কোনো অতিথি কিংবা বেতনজীবী কর্মী এই খাদ্যের অংশীদার হবে না।
LEV 22:11 কিন্তু যদি যাজক টাকা দিয়ে এক ক্রীতদাস ক্রয় করে, অথবা তার বাড়িতে কোনো ক্রীতদাসের জন্ম হয়, তাহলে ক্রীতদাস সেই খাদ্য ভোজন করতে পারে।
LEV 22:12 যদি যাজকের একটি মেয়ে যাজকের পরিবর্তে অন্য একজনকে বিয়ে করে, তাহলে মেয়েটি কোনো পবিত্র নৈবেদ্য ভোজন করবে না।
LEV 22:13 কিন্তু যাজকের মেয়ে যদি বিধবা হয়, অথবা তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে থাকে, অথচ সন্তান না থাকে এবং তার যৌবন থাকাকালীন বাবার বাড়িতে বসবাস করতে সে ফিরে আসে, তাহলে সে তার বাবার খাদ্য ভোজন করবে। অন্যদিকে, কোনো অস্বীকৃত মানুষ ভোজন করতে পারবে না।
LEV 22:14 “ ‘যদি কেউ ভুলবশত পবিত্র নৈবেদ্য ভোজন করে, তাহলে ওই নৈবেদ্যের পক্ষে সে যাজককে ক্ষতিপূরণ দেবে। খাদ্যমানের পঞ্চমাংশ সে সংযোজিত করবে।
LEV 22:15 সদাপ্রভুর উদ্দেশে ইস্রায়েলীদের উৎসর্গীকৃত পবিত্র নৈবেদ্য যাজক কিছুতেই কালিমালিপ্ত করবে না,
LEV 22:16 পবিত্র খাদ্য লোকদের ভোজন করতে দেবে না, যেন এর বিনিময়ে তাদের ওপরে অপরাধ না বর্তায়। আমি সদাপ্রভু, যিনি তাদের পবিত্র করেন।’ ”
LEV 22:17 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 22:18 “হারোণ, তার সব ছেলেদের ও সব ইস্রায়েলীর সঙ্গে তুমি কথা বলো এবং তাদের জানাও, ‘যদি তোমাদের কেউ, কিংবা ইস্রায়েলের কোনো একজন অথবা ইস্রায়েলে বসবাসকারী কোনো প্রবাসী মানত পূরণে অথবা স্বেচ্ছাদত্ত উপহাররূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমার্থক বলি উৎসর্গ করে,
LEV 22:19 তাহলে একটি নির্দোষ বলদ, অথবা পুংমেষ কিংবা পুংছাগ তোমরা অবশ্যই উৎসর্গ করবে, যেন তোমাদের পক্ষে এই উৎসর্গ গৃহীত হয়।
LEV 22:20 খুঁতযুক্ত কোনো কিছু আনবে না, অন্যথায় তোমাদের পক্ষে তা গৃহীত হবে না।
LEV 22:21 যখন কেউ কোনো মানত পূরণ করার জন্য অথবা স্বেচ্ছাদত্ত উপহারস্বরূপ সদাপ্রভুর উদ্দেশে ষাঁড় অথবা মেষ মঙ্গলার্থক বলিদানরূপে আনে, সেটি গৃহীত হওয়ার জন্য যেন নির্দোষ বা নিষ্কলঙ্ক হয়।
LEV 22:22 সদাপ্রভুর উদ্দেশে অন্ধ, আহত, অথবা বিকলাঙ্গ, কিংবা আবযুক্ত অথবা পুঁজযুক্ত ক্ষতবিশিষ্ট কোনো কিছু আনবে না। সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই ধরনের কোনো দোষযুক্ত পশু হোমার্থক বলিরূপে বেদিতে রাখবে না।
LEV 22:23 অন্যদিকে, একটি গরু অথবা একটি মেষ স্বেচ্ছাদত্ত উপহাররূপে উৎসর্গ করতে পারো, এগুলি বিকলাঙ্গ অথবা বুদ্ধিবিহীন বিশিষ্ট হতে পারে, কিন্তু কোনো মানত পূরণের জন্য এই উপহার গৃহীত হবে না।
LEV 22:24 সদাপ্রভুর উদ্দেশে এমন কোনো পশু উৎসর্গ করবে না, যার অণ্ডকোষ থেঁতলানো, চূর্ণ অথবা বিদীর্ণ। তোমাদের দেশে তোমরা এই কাজ কখনও করবে না।
LEV 22:25 কোনো বিদেশির নিকট থেকে এই ধরনের পশু তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না এবং ভক্ষ-নৈবেদ্য স্বরূপ তোমার ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গ করবে না। তোমাদের পক্ষে সেগুলি গৃহীত হবে না, কারণ সেগুলি বিকৃত ও খুঁতযুক্ত।’ ”
LEV 22:26 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 22:27 “যখন কোনো বাছুর, মেষশাবক অথবা ছাগল জন্মাবে, তার মায়ের সঙ্গে তাকে সাত দিন থাকতে হবে। অষ্টম দিন থেকে ওই শাবক হোমার্থক বলিরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে গৃহীত হবে।
LEV 22:28 একই দিনে কোনো গরু অথবা মেষ ও তার শাবককে হত্যা করবে না।
LEV 22:29 “যখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা ধন্যবাদের উপহার বলি দেবে, এমনভাবে সেই বলি দিতে হবে, যেন তোমাদের পক্ষে তা গৃহীত হয়।
LEV 22:30 বলিদানের মাংস সেদিনই ভোজন করতে হবে; সকাল পর্যন্ত কিছু অবশিষ্ট রেখো না। আমি সদাপ্রভু।
LEV 22:31 “আমার সব আদেশ পালন করো এবং সেগুলি অনুসরণ করো। আমি সদাপ্রভু।
LEV 22:32 আমার পবিত্র নাম অপবিত্র করবে না। ইস্রায়েলীদের দ্বারা পবিত্ররূপে আমাকে স্বীকৃতি পেতেই হবে। আমি সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের পবিত্র করেন
LEV 22:33 এবং যিনি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন, যেন তোমাদের ঈশ্বর হন। আমি সদাপ্রভু।”
LEV 23:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 23:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তুমি কথা বলো এবং তাদের বলো, ‘এগুলি আমার নির্দিষ্ট উৎসব, সদাপ্রভুর নির্দিষ্ট উৎসব, পবিত্র সমাবেশরূপে সেগুলি তোমরা ঘোষণা করবে।
LEV 23:3 “ ‘তোমরা ছয় দিন কাজ করতে পারবে, কিন্তু সপ্তম দিন বিশ্রামের জন্য বিশ্রামদিন, পবিত্র সমাবেশ দিবস। এই দিনে তোমরা কোনো কাজ করবে না; তোমরা যেখানেই থাকো, দিনটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন।
LEV 23:4 “ ‘এগুলি সদাপ্রভুর নির্দিষ্ট উৎসব, এগুলি নির্দিষ্ট সময়ে তোমরা বিভিন্ন পবিত্র সমাবেশে ঘোষণা করবে।
LEV 23:5 প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে গোধূলি লগ্নে সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব শুরু হয়।
LEV 23:6 সেই মাসের পঞ্চদশ দিনে সদাপ্রভুর খামিরবিহীন রুটির উৎসব শুরু হয়; সাত দিন ধরে খামিরবিহীন রুটি তোমরা অবশ্যই ভোজন করবে।
LEV 23:7 প্রথম দিনে পবিত্র সমাবেশ রাখবে এবং সেদিন নিয়মিত কাজ করবে না।
LEV 23:8 সাত দিন ধরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য আনবে। সপ্তম দিনে পবিত্র সভা রাখবে এবং সেদিন কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।’ ”
LEV 23:9 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 23:10 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তুমি কথা বলো এবং তাদের বলো, ‘তোমরা যে দেশে প্রবেশ করবে, যা আমি তোমাদের দিতে যাচ্ছি, সেখানে তোমরা ফসল সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত শস্যের প্রথম আঁটি যাজকের কাছে আনবে।
LEV 23:11 সদাপ্রভুর সামনে যাজক সেই আঁটি দোলাবে, যেন তোমাদের পক্ষে তা গৃহীত হয়; বিশ্রামদিনের পরবর্তী দিনে যাজক সেই আঁটি দোলাবে।
LEV 23:12 যেদিন তোমরা বাঁধা আঁটি দোলাবে, সেদিন এক বর্ষীয় নির্দোষ মেষশাবক হোমবলিরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করবে,
LEV 23:13 এবং একইসঙ্গে তেল মিশ্রিত এক ঐফা মিহি ময়দার দুই-দশমাংশ শস্য-নৈবেদ্য আনবে—সদাপ্রভুর উদ্দেশে সুগন্ধযুক্ত সন্তোষজনক এক উপহার—এবং এক হিন দ্রাক্ষারসের এক-চতুর্থাংশ পেয়-নৈবেদ্য রাখবে।
LEV 23:14 যতদিন না নির্দিষ্ট দিনে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা এই উপহার আনছ, ততদিন পর্যন্ত কোনো রুটি বা সেঁকা খাদ্য অথবা নবান্ন ভোজন করবে না। তোমরা যেখানেই বসবাস করো, আগামী প্রজন্মগুলির পক্ষে এ এক চিরস্থায়ী বিধি।
LEV 23:15 “ ‘বিশ্রামদিনের পরবর্তী দিন থেকে, দোলনীয় উপহাররূপ আঁটি আনার দিন থেকে সম্পূর্ণ সাত সপ্তাহ গণনা করবে।
LEV 23:16 সপ্তম বিশ্রামদিনের পরবর্তী দিন থেকে পঞ্চাশ দিন গণনা করবে এবং পরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন শস্যের নৈবেদ্য নিয়ে আসবে।
LEV 23:17 তোমরা যেখানেই বসবাস করো সেখান থেকে এক ঐফা মিহি ময়দার দুই-দশমাংশ দিয়ে তৈরি খামিরযুক্ত দুটি রুটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রথম ফসলের দোলনীয় উপহাররূপে আনবে।
LEV 23:18 এই রুটির সঙ্গে এক বর্ষীয় সাতটি নির্দোষ মদ্দা মেষশাবক, একটি কমবয়সি ষাঁড় ও দুটি মেষ রাখবে। শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যের সঙ্গে এগুলি সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোম-নৈবেদ্যরূপে বিবেচিত হবে—সদাপ্রভুর উদ্দেশে সুরভিযুক্ত ভক্ষ্য-নৈবেদ্যের সন্তোষজনক এক উপহার।
LEV 23:19 পরে পাপার্থক বলিরূপে একটি পুংছাগ এবং মঙ্গলার্থক বলিরূপে এক বর্ষীয় দুটি মেষশাবক উৎসর্গ করবে।
LEV 23:20 সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রথম ফসলের রুটির সঙ্গে দোলনীয় উপহাররূপে দুটি মেষশাবক যাজক দোলাবে। যাজকের পক্ষে এগুলি সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র উপহার।
LEV 23:21 একই দিনে তোমরা পবিত্র সমাবেশ ঘোষণা করবে এবং কোনো নিয়মিত কাজ করবে না। তোমরা যেখানেই বসবাস করো, আগামী প্রজন্মগুলির পক্ষে এ এক চিরস্থায়ী বিধি।
LEV 23:22 “ ‘যখন তোমাদের দেশে তোমরা শস্য ছেদন করবে, ক্ষেত্রের প্রান্তসীমার শস্য ছেদন অথবা পতিত শস্য সংগ্রহ করবে না। দরিদ্র ও তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য সেগুলি রেখে দিয়ো। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।’ ”
LEV 23:23 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 23:24 “তুমি ইস্রায়েলীদের বলো, ‘সপ্তম মাসের প্রথম দিনে বিশ্রামদিন পালন করবে, তূরীধ্বনি সহকারে পবিত্র সমাবেশ দিবস স্মরণ করবে।
LEV 23:25 নিয়মিত কোনো কাজ করবে না, কিন্তু সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য নিবেদন করবে।’ ”
LEV 23:26 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 23:27 “এই সপ্তম মাসের দশম দিনটি প্রায়শ্চিত্ত দিবস। এক পবিত্র সমাবেশ আয়োজন করো এবং নিজেদের অস্বীকার করবে ও সদাপ্রভু উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য দেবে।
LEV 23:28 ওই দিনে কোনো কাজ করবে না, কারণ দিনটি প্রায়শ্চিত্ত দিবস, যেদিন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে তোমাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করা হয়।
LEV 23:29 যদি সেদিন কেউ নিজেকে অস্বীকার না করে, সে তার আপনজনদের মধ্য থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
LEV 23:30 যদি সেদিন কেউ কাজ করে, তাহলে তার আপনজনদের মধ্য থেকে আমি তাকে বিনষ্ট করব।
LEV 23:31 তোমরা কোনো কাজই করবে না। তোমরা যেখানেই বসবাস করো, আগামী প্রজন্মগুলির পক্ষে এটি চিরস্থায়ী বিধি।
LEV 23:32 এটি তোমাদের জন্যে এক বিশ্রামের দিন, সেদিন তোমরা নিজেদের অস্বীকার করবে। মাসের নবম দিনের সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি তোমাদের পালনীয় বিশ্রামদিন।”
LEV 23:33 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 23:34 “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে সদাপ্রভুর উদ্দেশে কুটিরবাস-পর্ব পালন করতে হবে এবং এই পর্ব সাত দিন পর্যন্ত চলবে।
LEV 23:35 প্রথম দিনে এক পবিত্র সমাবেশ হবে; সেদিন কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।
LEV 23:36 সাত দিন ধরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে এবং অষ্টম দিনে এক পবিত্র সমাবেশ রাখবে এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে। এটি বিশেষ সমাপ্তি সমাবেশ; সেদিন কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।
LEV 23:37 (“ ‘এগুলি সদাপ্রভুর নির্দিষ্ট উৎসব, পবিত্র সমাবেশরূপে যেগুলি তোমরা ঘোষণা করবে, যখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা ভক্ষ্য-নৈবেদ্য আনবে—প্রতিদিনের জন্য হোমবলি, শস্য-নৈবেদ্য, বিভিন্ন বলিদান ও পেয়-নৈবেদ্য দিতে হবে।
LEV 23:38 এই উপাদানগুলি সদাপ্রভুর বিশ্রামদিনের উদ্দেশে, তোমাদের বিভিন্ন দান এবং তোমাদের রকমারি মানত ও সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমাদের স্বেচ্ছাদত্ত সব দানের অতিরিক্ত।)
LEV 23:39 “ ‘সুতরাং সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে জমি থেকে শস্য সংগ্রহ করার পর সাত দিন ধরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা উৎসব পালন করবে; প্রথম দিনটি বিশ্রামদিন এবং অষ্টম দিনটিও বিশ্রামদিন।
LEV 23:40 প্রথম দিনে তোমরা পছন্দসই গাছের ফল, খেজুর পাতা, পাতাবাহার গাছের শাখা ও দীর্ঘ বৃক্ষবিশেষের শাখা তুলবে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে সাত দিন ধরে আনন্দে মাতোয়ারা হবে।
LEV 23:41 প্রতি বছর সাত দিন ধরে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা এই উৎসব পালন করবে; আগামী প্রজন্মগুলির জন্য এটি চিরস্থায়ী বিধি। সপ্তম মাসে বিধি অনুযায়ী তোমরা উৎসব পালন করবে।
LEV 23:42 সাত দিনের জন্য তোমরা কুটিরে থাকবে; স্বদেশে জাত সব ইস্রায়েলী থাকবে,
LEV 23:43 যেন তোমাদের বংশধরেরা জানতে পারে, যখন আমি মিশর থেকে তাদের বের করে এনেছিলাম তখন ইস্রায়েলীদের আমি কুটিরে বসবাস করিয়েছিলাম। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।’ ”
LEV 23:44 তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে নির্দিষ্ট উৎসবগুলি সম্বন্ধে মোশি ইস্রায়েলীদের জানালেন।
LEV 24:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 24:2 “আলোর জন্য নিংড়ে নেওয়া স্বচ্ছ জলপাই তেল তোমার কাছে নিয়ে আসার জন্য ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও যেন প্রদীপগুলি সবসময় জ্বলতেই থাকে।
LEV 24:3 সমাগম তাঁবুতে সাক্ষ্য-সিন্দুকের পর্দার বাইরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত হারোণ অবিরত সদাপ্রভুর সামনে বাতিগুলি সাজিয়ে রাখবে। আগামী প্রজন্মগুলির জন্য এটি চিরস্থায়ী বিধি হবে।
LEV 24:4 সদাপ্রভুর সামনে নির্মল সোনার দীপাধারগুলিতে ওই প্রদীপগুলি সারাক্ষণ জ্বলবে।
LEV 24:5 “মিহি ময়দা দিয়ে বারোটি রুটি তৈরি করবে, প্রত্যেক রুটিতে এক ঐফা আটার দুই-দশমাংশ খরচ করবে।
LEV 24:6 প্রভু সদাপ্রভুর সামনে নির্মল সোনার টেবিলে দুটি সারির প্রত্যেক সারিতে ছয়টি রুটি সাজিয়ে রাখবে।
LEV 24:7 এক স্মারক অংশরূপে আবার রুটি জোগাতে ও সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য দিতে প্রত্যেক সারির পাশে কিছুটা নির্মল ধূপ ঢালবে।
LEV 24:8 সদাপ্রভুর সামনে নিয়মিতভাবে প্রত্যেক বিশ্রামদিনে ইস্রায়েলীদের পক্ষে চিরস্থায়ী সন্ধিচুক্তিরূপে এই রুটি সাজাতে হবে।
LEV 24:9 এটি হারোণ ও তার ছেলেদের জন্য, এক পবিত্রস্থানে তারা এই খাদ্য ভোজন করবে, কারণ এটি হল তাদের নিয়মিত উপহারের অংশের এক অত্যন্ত পবিত্র অংশ যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য।”
LEV 24:10 ঘটনাক্রমে এক ইস্রায়েলী মায়ের ও এক মিশরীয় বাবার ছেলে ইস্রায়েলীদের মাঝে উপস্থিত হল এবং শিবিরের মধ্যে তার সঙ্গে এক ইস্রায়েলীর বিবাদ সংঘটিত হল।
LEV 24:11 ইস্রায়েলী মহিলার ছেলে (ঈশ্বরের) নামের প্রতি নিন্দা ও অভিশাপবাণী উচ্চারণ করল। সুতরাং লোকেরা তাকে মোশির কাছে আনল। (তার মায়ের নাম শিলোমিৎ, সে দান বংশীয় দিব্রির মেয়ে)
LEV 24:12 তাদের প্রতি সদাপ্রভুর ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাকে আটকে রাখল।
LEV 24:13 পরে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 24:14 “ঈশ্বরনিন্দুককে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাও, তার কথা যতজন শুনেছে, তারা তার মাথায় হাত রাখবে ও সমগ্র জনসমাজ তাকে প্রস্তরাঘাত করবে।
LEV 24:15 তুমি ইস্রায়েলীদের বলো, ‘যদি কেউ তার ঈশ্বরকে অভিশাপ দেয়, সে পাপের দায়ী হবে;
LEV 24:16 যে কেউ সদাপ্রভুর নামের নিন্দা করবে, তার অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হবে। সমগ্র মণ্ডলী তাকে প্রস্তরাঘাত করবে। এক বিদেশি অথবা স্বদেশে জাত যে কেউ তাঁর নামের নিন্দা করবে, তাকে মৃত্যুদণ্ড পেতেই হবে।
LEV 24:17 “ ‘যদি কেউ মানুষের জীবন নাশ করে, অবশ্যই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
LEV 24:18 যদি কেউ কারোর পশুর জীবন নেয় তাকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে—প্রাণের পরিশোধে প্রাণ।
LEV 24:19 যদি কেউ প্রতিবেশীকে আঘাত করে, সে যেমনি করুক, তাকে প্রত্যাঘাত পেতেই হবে।
LEV 24:20 জখমের পরিশোধে জখম, চোখের পরিবর্তে চোখ, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত। সে যেমন অন্যকে আহত করেছে তেমনই তাকেও আহত হতে হবে।
LEV 24:21 যে কেউ একটি পশুকে হত্যা করবে, সে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেবে, কিন্তু কেউ যদি কোনো মানুষকে হত্যা করে, তাকেই হত হতে হবে।
LEV 24:22 বিদেশি ও স্বদেশে জাত প্রত্যেকজনের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।’ ”
LEV 24:23 পরে মোশি ইস্রায়েলীদের বললেন এবং লোকেরা ঈশ্বরনিন্দুককে শিবিরের বাইরে নিয়ে গেল ও তাকে প্রস্তরাঘাত করল। ইস্রায়েলীরা সেই কাজ করল, সদাপ্রভু মোশিকে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন।
LEV 25:1 সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে মোশিকে বললেন,
LEV 25:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তুমি কথা বলো, তাদের জানাও, ‘আমি যে দেশ তাদের দিতে যাচ্ছি, যখন তারা সেই দেশে প্রবেশ করবে, তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে যেন ভূমি বিশ্রাম ভোগ করে।
LEV 25:3 ছয় বছর ধরে তোমরা ক্ষেতে বীজবপন করবে এবং ছয় বছর ধরে দ্রাক্ষাক্ষেতের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটবে ও দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে।
LEV 25:4 কিন্তু সপ্তম বছরে ভূমি বিশ্রাম, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক বিশ্রাম ভোগ করবে। এই বছরে তোমাদের ক্ষেত্রগুলি বীজবপন করবে না, অথবা দ্রাক্ষাক্ষেতের অনর্থক ডালপালাগুলি ছেঁটে ফেলবে না।
LEV 25:5 ক্ষেতগুলি থেকে যে শস্য এমনি এমনি উৎপন্ন হয়েছে তা কাটবে না, অথবা আঝোড়া দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে না। ভূমির জন্য বিশ্রামের বছর রাখতে হবে।
LEV 25:6 বিশ্রাম বছর চলাকালীন ভূমির খাদ্যশস্য তোমাদের জন্য—তোমার নিজের, তোমার দাস-দাসী, বেতনজীবী কর্মী, তোমার মাঝে অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী মানুষের জন্য
LEV 25:7 এবং তোমার গৃহপালিত সমস্ত পশু ও তোমার দেশের বন্য পশুরাও এই খাদ্যশস্যের অংশীদার। ভূমিতে উৎপন্ন যাবতীয় খাদ্যশস্য ভোজন করতে হবে।
LEV 25:8 “ ‘সাতটি বিশ্রাম বছর—সাতগুণ সাত বছর—গণনা করবে, যেন সাত বিশ্রাম বছরের মোট সংখ্যা উনপঞ্চাশ বছর হয়।
LEV 25:9 এরপর সপ্তম মাসের দশম দিনে সর্বত্র তূরী বাজাতে হবে; প্রায়শ্চিত্ত দিনে তোমার সারা দেশে তূরী বাজবে।
LEV 25:10 পঞ্চাশতম বছর পবিত্র করবে ও সারা দেশে সব বসবাসকারীদের জন্য মুক্তি ঘোষণা করবে। তোমাদের পক্ষে এটি অর্ধশতবার্ষিক মহোৎসব হবে; তোমরা প্রত্যেকজন নিজের নিজের পারিবারিক অধিকারে ও গোষ্ঠীতে ফিরে যাবে।
LEV 25:11 পঞ্চাশতম বছরটি তোমাদের পক্ষে আনন্দ উৎসবের বছর হবে। এসময় কোনো বীজবপন করবে না, ভূমিতে আপনা-আপনি উৎপন্ন শস্যচয়ন অথবা আঝোড়া দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করবে না।
LEV 25:12 কেননা তখন মহোৎসবের সময়, যা তোমাদের জন্য পবিত্র হবে; কেবল ক্ষেতগুলি থেকে সরাসরি তুলে আনা ভক্ষ্য তোমরা ভোজন করবে।
LEV 25:13 “ ‘এই অর্ধশতবার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রত্যেকজনকে নিজের নিজের অধিকারে ফিরে আসতে হবে।
LEV 25:14 “ ‘যদি তোমার কোনো দেশবাসীর কাছে তুমি জমি বিক্রি করো অথবা তার কাছ থেকে জমি কেনো, তাহলে পরস্পর সুযোগ নিও না।
LEV 25:15 অর্ধশতবর্ষের পরে বছর অতিবাহিত হওয়ার ভিত্তিতে তুমি দেশবাসীর নিকট থেকে কিনবে এবং শস্য সংগ্রহের জন্য অবশিষ্ট বছরগুলির ভিত্তিতে সে বিক্রি করবে।
LEV 25:16 বছর-সংখ্যার আধিক্য অনুসারে তুমি মূল্য বৃদ্ধি করবে ও বছর সংখ্যা কম হলে তুমি মূল্য কম করবে, কারণ আসলে সে তোমার কাছে ফলোৎপাদক সংখ্যা অনুসারে বিক্রি করবে।
LEV 25:17 তোমরা পরস্পর সুযোগ নিও না, কিন্তু ঈশ্বরকে ভয় কোরো। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 25:18 “ ‘আমার অনুশাসনের অনুগামী হও এবং আমার সব বিধান মেনে চলতে যত্নশীল থেকো, তাহলে তোমরা দেশে নিরাপদে বসবাস করবে।
LEV 25:19 ভূমি ফল উৎপন্ন করবে এবং তৃপ্তি অবধি তোমরা ভোজন করবে ও তোমাদের নিরাপত্তা থাকবে।
LEV 25:20 তোমাদের প্রশ্ন থাকতে পারে, “সপ্তম বছরে আমরা কী ভোজন করব, যদি আমরা বীজবপন ও শস্য সংগ্রহ না করি?”
LEV 25:21 ষষ্ঠ বছরে আমি এমন আশীর্বাদ বর্ষণ করব যে তিন বছরের জন্য জমিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হবে।
LEV 25:22 অষ্টম বছরে বীজ বপনকালের আগে সংগৃহীত ফসল থেকে তোমরা ভোজন করবে এবং নবম বছরে ফসল সংগৃহীত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা পুরোনো খাদ্য ভোজন করবে।
LEV 25:23 “ ‘চিরদিনের জন্য ভূমি বিক্রি করা যাবে না, কেননা ভূমি আমার এবং তোমরা প্রবাসী ও ভাড়াটিয়া ব্যতীত আর কিছু নও।
LEV 25:24 সারা দেশে তোমরা যে ভূমির অধিকারী হয়েছ, তা মুক্ত করতে তোমরা অবশ্যই সুযোগ দিয়ো।
LEV 25:25 “ ‘যদি তোমার স্বদেশবাসীর মধ্যে কেউ দরিদ্র হয় এবং সে তার কিছু জমি বিক্রি করে, তাহলে তার নিকটতম আত্মীয় আসবে ও স্বদেশবাসীর বিক্রীত ভূমি মুক্ত করবে।
LEV 25:26 অন্যদিকে, যদি এমন কেউ থাকে, যার ভূমির মুক্তিকর্তা কেউ নেই, কিন্তু সে নিজে সমৃদ্ধিশালী হয় এবং ভূমি মুক্ত করতে তার যথেষ্ট সঙ্গতি থাকে,
LEV 25:27 তাহলে বিক্রি করার সময় থেকে পরবর্তী বছরগুলির জন্য সে মূল্য নির্ধারণ করবে ও বিক্রীত মূল্য ক্রেতাকে ফেরত দেবে; পরে সে নিজের অধিকারে ফিরে যাবে।
LEV 25:28 কিন্তু ক্রেতার পাওনা মেটাতে যদি তার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে অর্ধশতবার্ষিক পর্যন্ত বিক্রীত সম্পদ ক্রেতার কাছে থাকবে। অর্ধশতবার্ষিকীর সময় তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সে নিজের অধিকারে ফিরে যাবে।
LEV 25:29 “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি প্রাচীরবেষ্টিত নগরে তার বাড়ি বিক্রি করে তাহলে বিক্রি করার সময় থেকে সম্পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত তার মুক্ত করার অধিকার থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে বিক্রেতা মুক্ত করতে পারবে।
LEV 25:30 যদি সম্পূর্ণ এক বছরের আগে তা মুক্ত করা না হয়, তাহলে প্রাচীরবেষ্টিত নগরের বাড়িটি চিরদিনের জন্য ক্রেতার ও তার বংশধরদের হয়ে যাবে। অর্ধশতবর্ষে এই সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে না।
LEV 25:31 কিন্তু প্রাচীরহীন গ্রামগুলিতে নির্মিত বাড়িগুলি দেশের সার্বিক সম্পত্তিরূপে বিবেচিত হবে। এগুলি মুক্ত করা যাবে এবং অর্ধশতবর্ষে ফেরত দেওয়া হবে।
LEV 25:32 “ ‘লেবীয় অধ্যুষিত নগরগুলিতে নির্মিত লেবীয়দের বাড়িগুলি মুক্ত করতে লেবীয়দের সবসময় অধিকার থাকবে, যেগুলি তাদের অধিকৃত।
LEV 25:33 সুতরাং লেবীয়দের সম্পত্তি মুক্তিযোগ্য অর্থাৎ যে কোনো নগরে তাদের অধিকৃত বাড়ি বিক্রীত হলে অর্ধশতবর্ষে তা ফেরত দিতে হবে, কারণ লেবীয়দের নগরগুলিতে নির্মিত বাড়িগুলি ইস্রায়েলীদের মাঝে লেবীয়দের সম্পত্তি।
LEV 25:34 কিন্তু তাদের নগরগুলির চারণভূমি বিক্রি করা যাবে না; এটি তাদের চিরস্থায়ী অধিকার।
LEV 25:35 “ ‘যদি তোমাদের দেশবাসীর মধ্যে কেউ দরিদ্র ও তোমাদের মাঝে নিজের ভরণ-পোষণ চালাতে অসমর্থ হয়, তাহলে তাকে সাহায্য করো, যেমন তোমরা বিদেশি এবং অপরিচিতদের প্রতি করে থাকো; যেন তোমাদের মাঝে সে বসবাস করতে পারে।
LEV 25:36 তার কাছ থেকে কোনোরকম সুদ অথবা সুবিধা গ্রহণ করবে না, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরকে ভয় করবে, যেন তোমাদের দেশবাসী তোমাদের মাঝে বসবাস করতে পারে।
LEV 25:37 সুদ গ্রহণের শর্তে তুমি তাকে অর্থ ধার দিতে পারবে না, অথবা লাভের আশায় তার কাছে খাদ্য বিক্রি করবে না।
LEV 25:38 আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন, যেন কনান দেশ তোমাদের দেন ও তোমাদের ঈশ্বর হন।
LEV 25:39 “ ‘যদি তোমার দেশবাসীর মধ্যে কেউ দরিদ্র হয় ও তোমার কাছে নিজেকে বিক্রি করে, এক ক্রীতদাসরূপে তাকে কাজ করতে দিয়ো না।
LEV 25:40 এক বেতনজীবী কর্মী অথবা তোমার মাঝে এক অস্থায়ী বাসিন্দারূপে তার প্রতি আচরণ করতে হবে। অর্ধশত বছর পর্যন্ত তোমার জন্য সে কাজটি করবে।
LEV 25:41 পরে সে ও তার সন্তানেরা মুক্ত হবে এবং সে তার গোষ্ঠীতে ও তার পিতৃপুরুষদের অধিকারে ফিরে যাবে।
LEV 25:42 যেহেতু ইস্রায়েলীরা আমার ভৃত্য, আমি মিশর থেকে যাদের বের করেছিলাম; তারা কোনোমতে ক্রীতদাসরূপে বিক্রীত হবে না।
LEV 25:43 নির্দয়ভাবে তাদের শাসন করবে না, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বরকে ভয় কোরো।
LEV 25:44 “ ‘তোমাদের ক্রীতদাস ও দাসীরা তোমাদের চারপাশের দেশ থেকে আসবে; তাদের মধ্যে থেকে তোমরা দাস ও দাসী কিনতে পারবে।
LEV 25:45 তোমাদের মাঝে বসবাসকারী অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ও তোমাদের দেশে তাদের গোষ্ঠীজাত সদস্যদের তোমরা কিনতে পারো এবং তারা তোমাদের সম্পদ হবে।
LEV 25:46 তোমাদের সন্তানদের পক্ষে অধিকৃত সম্পদরূপে তোমরা তাদেরকে দিতে পারো এবং সারা জীবনের জন্য তাদের ক্রীতদাস করে রাখতে পারো, কিন্তু তোমাদের সঙ্গী ইস্রায়েলীদের ওপরে নির্দয়ভাবে শাসন করতে পারবে না।
LEV 25:47 “ ‘তোমাদের মাঝে বসবাসকারী কোনো বিদেশি যদি ধনী হয় এবং তোমাদের কোনো একজন ইস্রায়েলী দেশবাসী দরিদ্র হয় ও সেই বিদেশির অথবা প্রবাসীগোষ্ঠীর কোনো এক সদস্যের কাছে নিজেকে বিক্রি করে,
LEV 25:48 বিক্রীত হওয়ার পরে তার মুক্তিলাভের অধিকার থাকবে; তার কোনো এক আত্মীয় তাকে মুক্ত করতে পারবে।
LEV 25:49 তার জ্যাঠা, কাকা অথবা জ্ঞাতিভাই বা বোন কিংবা তার গোষ্ঠীর রক্তের সম্পর্কযুক্ত কেউ তাকে মুক্ত করতে পারবে। অথবা যদি সে সম্পদশালী হয়, তাহলে নিজেই নিজেকে মুক্ত করবে।
LEV 25:50 বিক্রি করার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত সে ও তার ক্রেতা সময় গণনা করবে। বছরগুলির সংখ্যা সাপেক্ষে বেতনজীবী মানুষের প্রতি বেতন দেওয়ার হারের ভিত্তিতে তার মুক্তির মূল্য ধার্য হবে।
LEV 25:51 যদি অনেক বছর অবশিষ্ট থাকে, তাহলে ক্রয় মূল্য থেকে বেশিরভাগটাই সে নিজের মুক্তির জন্য অবশ্যই দেবে।
LEV 25:52 যদি অর্ধশত বছর না আসা পর্যন্ত কেবল কয়েক বছর অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সে তা গণনা করবে ও তদনুসারে নিজের মুক্তির জন্য মূল্য দেবে।
LEV 25:53 বছরের পর বছর ধরে এক ভাড়া করা মানুষরূপে তার প্রতি আচরণ করা হবে; তুমি অবশ্যই নজর রাখবে, যেন তার মালিক তাকে নির্দয়ভাবে শাসন না করে।
LEV 25:54 “ ‘যদি এই উপায়গুলির কোনো উপায়ে সে মুক্তি না পায়, তাহলে সে ও তার সন্তানেরা পঞ্চাশতম বছরে মুক্ত হবে,
LEV 25:55 কেননা ইস্রায়েলীরা দাসরূপে আমার অধিকার। ওরা আমার দাস-দাসী, আমি মিশর থেকে যাদের বের করে এনেছি। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 26:1 “ ‘তোমরা নিজেদের জন্য প্রতিমা নির্মাণ কোরো না, অথবা প্রতিমূর্তি কিংবা পবিত্র পাথর স্থাপন কোরো না এবং তোমাদের দেশে ক্ষোদিত পাথর রেখে তার সামনে প্রণিপাত কোরো না। আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 26:2 “ ‘আমার বিশ্রামবার পালন কোরো ও আমার পবিত্র ধর্মধামের প্রতি সম্মান দেখাও। আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 26:3 “ ‘তোমরা যদি আমার বিধানগুলি অনুধাবন করো ও আমার সব আদেশ মেনে চলতে যত্নশীল থাকো,
LEV 26:4 তাহলে আমি যথাসময়ে বৃষ্টি পাঠাব; ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে ও ক্ষেতের গাছগুলিতে ফল ভরে যাবে।
LEV 26:5 দ্রাক্ষাচয়ন পর্যন্ত তোমাদের শস্যমর্দনের কাজ চলবে, এবং বীজবপনকাল পর্যন্ত দ্রাক্ষাচয়নের কাজ চলবে এবং তোমরা ইচ্ছামতো খাদ্য ভোজন করবে ও নিরাপদে তোমাদের দেশে বসবাস করবে।
LEV 26:6 “ ‘দেশের প্রতি আমি শান্তি মঞ্জুর করব ও শয়নকালে কেউ তোমাদের ভয় দেখাবে না। আমি দেশ থেকে হিংস্র জন্তুদের তাড়িয়ে দেব ও তোমাদের দেশের মধ্য দিয়ে তরোয়াল যাবে না।
LEV 26:7 তোমরা শত্রুদের তাড়া করবে ও তোমাদের সামনে তারা তরোয়াল দ্বারা পতিত হবে।
LEV 26:8 তোমাদের পাঁচজন একশো জনের পিছনে ধাবমান হবে ও তোমাদের একশো জন 10,000 জনকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে এবং তোমাদের সামনে তোমাদের শত্রুরা তরোয়াল দ্বারা পতিত হবে।
LEV 26:9 “ ‘তোমাদের প্রতি আমি সদয় দৃষ্টি রাখব, তোমাদের ফলবান রাখব, তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব এবং তোমাদের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি রাখব।
LEV 26:10 বিগত বছরে সংগৃহীত শস্য থেকে তখনও তোমরা ভোজন করবে, যখন পুরোনো খাদ্যশস্য সরিয়ে রাখবে, যেন নতুন শস্য রাখার স্থান প্রস্তুত থাকে।
LEV 26:11 আমি তোমাদের মাঝে আমার আবাসস্থান রাখব এবং আমি তোমাদের ঘৃণা করব না।
LEV 26:12 তোমাদের মাঝে আমি গমনাগমন করব, আমি তোমাদের ঈশ্বর হব এবং তোমরা আমার প্রজা হবে।
LEV 26:13 আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন, যেন তোমরা আর মিশরীয়দের ক্রীতদাস না হও; আমি তোমাদের জোয়ালের কাঠ ভেঙেছি ও মাথা উঁচু করে চলার যোগ্যতা তোমাদের দিয়েছি।
LEV 26:14 “ ‘কিন্তু তোমরা যদি আমার কথা না শুনে এই সমস্ত আদেশ অমান্য করো
LEV 26:15 এবং তোমরা যদি আমার সকল অনুশাসন অগ্রাহ্য করো, আমার বিধানগুলি ঘৃণা করো, আমার সমস্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হও এবং এইভাবে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি লঙ্ঘন করো,
LEV 26:16 তাহলে তোমাদের প্রতি আমার হস্তক্ষেপ এই ধরনের হবে, যথা: তোমাদের ওপরে আমি অকস্মাৎ প্রচণ্ড ভীতি আনব, মারাত্মক বিবিধ রোগ ও জ্বর পাঠাব করব, যেগুলির দাপটে তোমরা দৃষ্টিশক্তি হারাবে ও তোমাদের প্রাণনাশ হবে। তোমাদের বীজবপন বৃথা যাবে, কারণ তোমাদের শত্রুরা সমস্ত খাদ্য ভোজন করবে।
LEV 26:17 তোমাদের বিপক্ষে আমি বিমুখ হব, যেন তোমাদের শত্রুরা তোমাদের পরাস্ত করে; যারা তোমাদের ঘৃণা করে তারা তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করবে এবং তোমাদের পিছনে কেউ ধাবমান না হলেও তোমরা পলায়ন করবে।
LEV 26:18 “ ‘এসবের পরেও যদি আমার কথায় তোমরা অবধান না করো, তাহলে তোমাদের পাপসমূহের কারণে আমি তোমাদের সাতগুণ বেশি শাস্তি দেব।
LEV 26:19 তোমাদের একগুঁয়ে গর্ব আমি ভেঙে দেব, ঊর্ধ্বস্থ আকাশ লোহার মতো ও নিম্নস্থ ভূমি পিতলের মতো করব।
LEV 26:20 তোমাদের শক্তি প্রয়োগ বৃথা যাবে, কারণ তোমাদের মাটি ফসল উৎপন্ন করবে না, এমনকি দেশের গাছগুলিও ফল ফলাবে না।
LEV 26:21 “ ‘যদি আমার প্রতি তোমরা বৈরীভাবাপন্ন থাকো ও আমার কথা শুনতে না চাও, তাহলে তোমাদের ক্লেশ আমি সাতগুণ বৃদ্ধি করব, যা পাপের কারণে তোমাদের প্রাপ্য।
LEV 26:22 তোমাদের বিপক্ষে আমি বন্যপশু প্রেরণ করব; ওরা তোমাদের সন্তানদের হরণ করবে, তোমাদের গবাদি পশু বিনষ্ট করবে ও তোমাদের সংখ্যা এত হ্রাস করবে যে তোমাদের সমস্ত পথঘাট জনশূন্য হবে।
LEV 26:23 “ ‘এত বেশি ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও যদি তোমরা সংশোধিত না হও এবং আমার প্রতি বৈরিতা চালিয়ে যাও,
LEV 26:24 তাহলে তোমাদের প্রতি আমি শত্রুতা করব ও তোমাদের পাপের কারণে সাতগুণ ক্লেশ বৃদ্ধি করব।
LEV 26:25 তোমাদের বিপক্ষে তরোয়াল পাঠিয়ে আমি অঙ্গীকার-চুক্তি ভঙ্গের প্রতিশোধ নেব। তোমরা যখন নিজের নিজের নগরে ফিরে যাবে, তোমাদের মাঝে আমি মহামারি পাঠাব এবং শত্রুদের হাতে তোমাদের অর্পণ করব।
LEV 26:26 যখন আমি তোমাদের ভক্ষ্য রুটির জোগান ছিন্ন করব, একটি উনুনে দশজন মহিলা তোমাদের জন্য রুটি তৈরি করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের রুটি তারা তোমাদের দেবে। তোমরা ভোজন করবে, কিন্তু তৃপ্ত হবে না।
LEV 26:27 “ ‘উদরপূর্তি ও তৃপ্তি না হওয়া সত্ত্বেও যদি তোমরা আমার কথা শ্রবণ না করো কিন্তু আমার বিরোধিতা করতেই থাকো,
LEV 26:28 তাহলে আমি ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরোধিতা করব এবং তোমাদের পাপের কারণে সাতগুণ বেশি শাস্তি আমি তোমাদের দেব।
LEV 26:29 তোমরা নিজের নিজের ছেলেদের ও মেয়েদের মাংস ভক্ষণ করবে।
LEV 26:30 তোমাদের সমস্ত উচ্চস্থলী আমি বিনষ্ট করব, তোমাদের ধূপবেদিগুলি উচ্ছেদ করব, তোমাদের প্রতিমাগুলির নিষ্প্রাণ আকৃতির উপরে তোমাদের মৃতদেহ রাখব ও তোমাদের ঘৃণা করব।
LEV 26:31 তোমাদের নগরগুলিকে আমি ধ্বংসাবশেষে পরিণত করব, তোমাদের ধর্মধামগুলি ধ্বংস করব এবং তোমাদের সুরভিযুক্ত সন্তোষজনক উপহারে আমি মোটেই পরিতৃপ্ত হব না।
LEV 26:32 তোমাদের দেশ আমি ধ্বংস করব, যেন তোমাদের শত্রুরা যারা সেখানে বসবাস করে তারা অত্যন্ত ভীত হয়।
LEV 26:33 জাতিদের মাঝে আমি তোমাদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখব, আমার তরোয়াল নিষ্কোষ করব এবং তোমাদের পিছনে ধাবমান হব। তোমাদের দেশ উৎসন্ন হবে ও তোমাদের নগরগুলি ধ্বংসস্থান হয়ে থাকবে।
LEV 26:34 ফলে যতদিন দেশ ধ্বংসস্থান হয়ে থাকবে ও তোমরা তোমাদের শত্রুদের দেশে বসবাস করবে, ততদিন পর্যন্ত দেশ বিশ্রামের বছরগুলি উপভোগ করবে; পরে দেশ বিশ্রাম পাবে ও বিশ্রামবারগুলি উপভোগ করবে।
LEV 26:35 যতকাল দেশ পরিত্যক্ত থাকবে, দেশ বিশ্রাম পাবে, যদিও দেশে তোমাদের থাকাকালীন দেশ বিশ্রামবারগুলিতে বিশ্রাম পায়নি।
LEV 26:36 “ ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট থাকবে, শত্রুদের দেশে তাদের হৃদয় এত ভয়ে ভরিয়ে দেব যে হাওয়াতে পাতা ওড়ার শব্দ শুনে তারা পালাতে চাইবে। তাদের দৌড় দেখে মনে হবে যেন কেউ তরোয়াল নিয়ে তাদের তাড়া করছে এবং তারা পতিত হবে, যদিও কেউ তাদের তাড়া করেনি।
LEV 26:37 কেউ তাড়া না করলেও তরোয়াল থেকে বাঁচবার তাগিদে তারা একজন অন্যজনের উপরে পতিত হবে। সুতরাং তোমাদের শত্রুদের সামনে তোমরা দাঁড়াতে পারবে না।
LEV 26:38 জাতিদের মাঝে তোমরা বিনষ্ট হবে; তোমাদের শত্রুদের দেশ তোমাদের গ্রাস করবে।
LEV 26:39 যারা অবশিষ্ট থাকবে, তারা তাদের অসংখ্য পাপের কারণে শত্রুদের দেশে বিনষ্ট হবে; তাদের পূর্বপুরুষদের পাপের কারণেও তাদের ধ্বংস অনিবার্য।
LEV 26:40 “ ‘কিন্তু তারা যদি তাদের পাপ ও তাদের পূর্বপুরুষদের পাপস্বীকার করে, এই স্বীকারোক্তিতে যদি আমার বিপক্ষে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও আমার প্রতি তাদের শত্রুতার উল্লেখ থাকে,
LEV 26:41 যা তাদের প্রতি আমাকে বৈরীভাবাপন্ন করেছিল, যার প্রেরণায় শত্রুদের দেশে তাদের আমি পাঠালাম, এর ফলে যখন তাদের সুন্নত করা হৃদয়গুলি অবনত হয় ও তাদের পাপের কারণে তারা মূল্য দেয়,
LEV 26:42 যাকোবের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি, ইস্‌হাকের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি ও অব্রাহামের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি আমি স্মরণ করব এবং আমি দেশকে স্মরণ করব।
LEV 26:43 কেননা তাদের দ্বারা দেশ পরিত্যাক্ত হবে এবং তাদের বিহনে জনশূন্য জায়গায় দেশ বিশ্রামবারগুলি উপভোগ করবে। তাদের পাপের কারণে তারা ক্ষতিপূরণ দেবে, কারণ আমার বিধানগুলি তারা অগ্রাহ্য করেছে ও আমার অনুশাসনগুলি ঘৃণা করেছে।
LEV 26:44 আমার প্রতি অবমাননা করা সত্ত্বেও যখন শত্রুদের দেশে তারা থাকবে, আমি তাদের অগ্রাহ্য অথবা ঘৃণা করব না; এবং পুরোপুরিভাবে তাদের বিনষ্ট করব না, তাদের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি ভঙ্গ করব না। আমি তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
LEV 26:45 কিন্তু তাদের পক্ষে তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার-চুক্তি আমি স্মরণ করব, মিশর থেকে সর্বজাতির গোচরে আমি যাদের বের করে আনলাম, যেন তাদের ঈশ্বর হতে পারি। আমি সদাপ্রভু।’ ”
LEV 26:46 এসব আদেশ, অনুশাসন ও নিয়মাবলি সদাপ্রভু সীনয় পর্বতে মোশির মাধ্যমে তাঁর ও ইস্রায়েলীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করলেন।
LEV 27:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
LEV 27:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তুমি কথা বলো ও তাদের জানিয়ে দাও: ‘যদি কেউ সদাপ্রভুর উদ্দেশে কোনো একজনকে উৎসর্গ করবার জন্য সমতুল্য মূল্য দিয়ে এক বিশেষ মানত করে,
LEV 27:3 তাহলে কুড়ি থেকে ষাট বছরের মধ্যে বয়স্ক কোনো এক পুরুষের মূল্য হিসেবে সে পঞ্চাশ শেকল রুপো ধার্য করবে, যা পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে হবে,
LEV 27:4 একজন নারীর ক্ষেত্রে তাকে ত্রিশ শেকল মূল্য ধার্য করতে হবে।
LEV 27:5 যদি পাঁচ থেকে কুড়ি বছরের মধ্যে বয়স্ক কোনো এক ব্যক্তিকে উৎসর্গ করতে হয়, তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে কুড়ি শেকল এবং নারীর ক্ষেত্রে দশ শেকল ধার্য করতে হবে।
LEV 27:6 যদি এক মাস ও পাঁচ বছরের মধ্যে যে কোনো বয়সি কেউ থাকে, তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে পাঁচ শেকল রুপো ও নারীর ক্ষেত্রে তিন শেকল রুপো ধার্য করতে হবে।
LEV 27:7 যদি কারও বয়স ষাট অথবা তদূর্ধ্ব হয়, তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে পনেরো শেকল ও নারীর ক্ষেত্রে দশ শেকল ধার্য করতে হবে।
LEV 27:8 যদি কেউ মানত করে, অথচ অত্যন্ত দরিদ্রতার কারণে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য দিতে অসমর্থ হয়, তাহলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে যাজকের কাছে আনা হবে এবং মানতকারীর সামর্থ্য অনুযায়ী সেই ব্যক্তির পক্ষে যাজক মূল্য নির্ধারণ করবে।
LEV 27:9 “ ‘একটি পশু দিয়ে যদি সে মানত করে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক উপহাররূপে সেই মানত গ্রহণযোগ্য। সদাপ্রভুর উদ্দেশে দত্ত এমন এক পশু পবিত্র হয়।
LEV 27:10 সে যেন পরিবর্তন না করে, অথবা বিকল্পরূপে মন্দের স্থানে ভালো কিংবা ভালোর স্থানে মন্দ পশু জোগান না দেয়। যদি সে একটিরও পক্ষে অন্য পশু বিকল্পরূপে দেয়, তাহলে বিকল্প দুটিই পবিত্র হয়।
LEV 27:11 যদি তার মানত করা পশু আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি হয়, যদি তা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক উপহাররূপে গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে ওই পশুকে অবশ্যই যাজকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
LEV 27:12 পশুটি ভালো অথবা মন্দ, সে বিষয়ের গুণাগুণ যাজক বিচার করবে। পরে যাজক দ্বারা নিরূপিত মূল্য অনুযায়ী পশুর মূল্য নির্ধারিত হবে।
LEV 27:13 পশুর মালিক যদি পশুকে মুক্ত করতে চায়, নিরূপিত মূল্যের পঞ্চমাংশ সে অবশ্যই অতিরিক্ত দেবে।
LEV 27:14 “ ‘যদি কোনো পুরুষ পবিত্র বস্তুরূপে তার বাড়ি সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে তাহলে ভালো অথবা মন্দ বাড়িটির গুণাগুণ যাজক বিচার করবে; যাজক দ্বারা নির্ধারিত মূল্য মেনে নেওয়া হবে।
LEV 27:15 যদি উৎসর্গকারী তার বাড়ি মুক্ত করে, তাহলে নিরূপিত মূল্যের অতিরিক্ত পঞ্চমাংশ সে অবশ্যই দেবে। বাড়িটি পুনরায় তার হবে।
LEV 27:16 “ ‘যদি কোনো পুরুষ তার অধিকৃত ক্ষেতের অংশবিশেষ সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে, সেই ক্ষেতে বপনীয় বীজের পরিমাণানুসারে ক্ষেতটির মূল্য নিরূপিত হবে—এক হোমর যবের বীজের জন্য পঞ্চাশ শেকল রুপো।
LEV 27:17 অর্ধশত বছর চলাকালীন যদি সে তার ক্ষেত উৎসর্গ করে, তাহলে ক্ষেতটির নিরূপিত মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
LEV 27:18 কিন্তু যদি অর্ধশতবার্ষিকীর পরে সে তার ক্ষেত উৎসর্গ করে, পরবর্তী অর্ধশতবার্ষিকী না আসা পর্যন্ত বছরগুলির সংখ্যা অনুযায়ী যাজক মূল্য নির্ধারণ করবে এবং নির্ধারিত মূল্য হ্রাস পাবে।
LEV 27:19 উৎসর্গকারী যদি তার ক্ষেত মুক্ত করতে চায়, ক্ষেতটির মূল্যের অতিরিক্ত পঞ্চমাংশ সে অবশ্যই দেবে এবং ক্ষেতটি আবার তার হয়ে যাবে।
LEV 27:20 অন্যদিকে, যদি সে তার ক্ষেত মুক্ত না করে, অথবা অন্য কারও কাছে ক্ষেতটি বিক্রি করে, তাহলে তা কখনও মুক্ত হবে না।
LEV 27:21 অর্ধশতবার্ষিকীতে ক্ষেত মুক্ত হলে তা হবে পবিত্র, যেন সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিকশিত এক ক্ষেত; এটি হবে যাজকদের সম্পত্তি।
LEV 27:22 “ ‘যদি কোনো এক পুরুষ তার কেনা একটি ক্ষেত সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে, যা তার পৈতৃক ভূমির অংশ নয়,
LEV 27:23 অর্ধশত বছর পর্যন্ত যাজক সেই ক্ষেতটির মূল্য নির্ধারণ করবে এবং সেই মালিককে তার মূল্য সেদিন দিতে হবে যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র বলে বিবেচিত হবে।
LEV 27:24 পঞ্চাশতম বছরে ক্ষেতটি পূর্ব অধিকারে যাবে, যার নিকট থেকে সে ক্ষেতটি কিনেছিল অর্থাৎ পূর্বাধিকারী সেই ক্ষেত পাবে।
LEV 27:25 পবিত্রস্থানের শেকল অনুযায়ী প্রত্যেক বিষয়ের মূল্য নিরূপিত হবে, প্রতি শেকলে কুড়ি গেরা।
LEV 27:26 “ ‘অন্যদিকে, প্রথমজাত কোনো পশুকে কেউ উৎসর্গ করতে পারবে না, যেহেতু প্রথমজাত সদাপ্রভুর অধিকার; ষাঁড় অথবা মেষ যা জন্মাবে, তা প্রভুর।
LEV 27:27 যদি তা এক অশুচি পশু হয়, তাহলে নিরূপিত মূল্যে সে আবার প্রথমজাতকে কিনবে, এর মূল্যের অতিরিক্ত পঞ্চমাংশ সে দেবে। যদি পশুটিকে সে মুক্ত না করে, তাহলে নিরূপিত মূল্যে ওই পশুকে বিক্রি করতে হবে।
LEV 27:28 “ ‘কিন্তু কোনো ব্যক্তি নিজের সর্বস্ব থেকে—মানুষ কিংবা পশু কিংবা পৈতৃক সম্পত্তি—সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত করে; তা বিক্রি বা মুক্ত করা যাবে না; সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত সবকিছুই অতি পবিত্র।
LEV 27:29 “ ‘ধ্বংসাত্মক কর্মে লিপ্ত কোনো বর্জিত ব্যক্তির বন্দিত্বমোচন হবে না; তাকে মৃত্যুদণ্ড পেতেই হবে।
LEV 27:30 “ ‘ভূমি থেকে উৎপন্ন সবকিছুর দশমাংশ মাটি থেকে উৎপন্ন খাদ্যশস্য অথবা গাছের ফল, সমস্তই সদাপ্রভুর। উৎপাদিত সবকিছু সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র।
LEV 27:31 যদি কোনো পুরুষ তার দশমাংশের কিছুটা মুক্ত করে, তাহলে দশমাংশ মূল্যের অতিরিক্ত পঞ্চমাংশ সে অবশ্যই দেবে।
LEV 27:32 গরু ও মেষের সম্পূর্ণ দশমাংশ মেষপালকের চরাণী পাওয়া প্রত্যেক দশটি পশু সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র হবে।
LEV 27:33 সে মন্দ পশুদের মধ্য থেকে ভালো পশু বেছে নেবে না, অথবা বিকল্প বিধান নেবে না। যদি সে বিকল্প উপায় গ্রহণ করে, তাহলে পশু ও তাদের বিকল্প উভয়ই পবিত্র হবে এবং তাদের মুক্ত করা যাবে না।’ ”
LEV 27:34 সদাপ্রভুর এই আদেশগুলি ইস্রায়েলীদের জন্য সীনয় পর্বতে মোশিকে দেওয়া হল।
NUM 1:1 ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর দ্বিতীয় বছরের, দ্বিতীয় মাসের, প্রথম দিনে, সদাপ্রভু সীনয় মরুভূমিতে সমাগম তাঁবুর মধ্যে মোশির সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন,
NUM 1:2 “গোষ্ঠী এবং পরিবার অনুযায়ী, সমস্ত ইস্রায়েলী সম্প্রদায়ের জনগণনা করো। প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, এক এক করে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
NUM 1:3 ইস্রায়েলের সমস্ত পুরুষ কুড়ি বছর বা তারও বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তুমি ও হারোণ, শ্রেণিবিভাগ অনুসারে তাদের গণনা করো।
NUM 1:4 প্রত্যেক গোষ্ঠীর মধ্যে একজন ব্যক্তি, যে তাদের কুলের পুরোধা, সে তোমাদের সাহায্য করবে।
NUM 1:5 “যে সমস্ত ব্যক্তি তোমাদের সহকারী হবে, তাদের নাম হল: “রূবেণ থেকে শদেয়ূরের ছেলে ইলীষূর;
NUM 1:6 শিমিয়োন থেকে সূরীশদ্দয়ের ছেলে শলুমীয়েল;
NUM 1:7 যিহূদা থেকে অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন;
NUM 1:8 ইষাখর থেকে সূয়ারের ছেলে নথনেল;
NUM 1:9 সবূলূন থেকে হেলোনের ছেলে ইলীয়াব;
NUM 1:10 যোষেফের ছেলেদের মধ্য থেকে, ইফ্রয়িম থেকে, অম্মীহূদের ছেলে ইলীশামা, মনঃশি থেকে পদাহসূরের ছেলে গমলীয়েল;
NUM 1:11 বিন্যামীন থেকে গিদিয়োনির ছেলে অবীদান;
NUM 1:12 দান থেকে অম্মীশদ্দয়ের ছেলে অহীয়েষর;
NUM 1:13 আশের থেকে অক্রণের ছেলে পগীয়েল;
NUM 1:14 গাদ থেকে দ্যূয়েলের ছেলে ইলীয়াসফ;
NUM 1:15 নপ্তালি থেকে ঐননের ছেলে অহীরঃ।”
NUM 1:16 সমাজের মধ্য থেকে এই ব্যক্তিদের নিযুক্ত করা হল। তারা নিজের নিজের গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন। ইস্রায়েলী গোষ্ঠীসমূহের তারা শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন।
NUM 1:17 যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল, মোশি ও হারোণ সেই ব্যক্তিদের নিলেন।
NUM 1:18 দ্বিতীয় মাসের প্রথম দিনে, তাঁরা সমস্ত সমাজকে একত্র হওয়ার আহ্বান দিলেন। জনতার পৈতৃক কুল তাদের গোষ্ঠী ও পরিবার অনুযায়ী সূচিত হচ্ছিল, যাদের বয়স কুড়ি বা তারও বেশি, সেই সমস্ত পুরুষ ব্যক্তিরই নাম এক একজন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল,
NUM 1:19 যে রকম সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি সীনয় মরুভূমিতেই তাদের গণনা করেছিলেন।
NUM 1:20 ইস্রায়েলের বড়ো ছেলে রূবেণের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:21 রূবেণ গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 46,500।
NUM 1:22 শিমিয়োনের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী ও পরিবারের নথি অনুসারে, এক একজন গণিত ও নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:23 শিমিয়োন গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 59,300।
NUM 1:24 গাদের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী ও পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:25 গাদ গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 45,650।
NUM 1:26 যিহূদার উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী ও পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:27 যিহূদা গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 74,600।
NUM 1:28 ইষাখরের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:29 ইষাখর গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 54,400।
NUM 1:30 সবূলূনের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:31 সবূলূন গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 57,400।
NUM 1:32 যোষেফের সন্তানদের মধ্য থেকে, ইফ্রয়িমের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:33 ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 40,500।
NUM 1:34 মনঃশির উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:35 মনঃশি গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 32,200।
NUM 1:36 বিন্যামীনের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে, এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:37 বিন্যামীন গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 35,400।
NUM 1:38 দানের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:39 দান গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 62,700।
NUM 1:40 আশেরের উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:41 আশের গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 41,500।
NUM 1:42 নপ্তালির উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে, সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা সেনাদলে কাজ করতে সক্ষম, তাদের গোষ্ঠী এবং পরিবারের নথি অনুসারে এক একজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 1:43 নপ্তালি গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ছিল 53,400।
NUM 1:44 মোশি ও হারোণ এবং নিজের নিজের গোষ্ঠীর প্রতিনিধিস্বরূপ ইস্রায়েলের বারোজন নেতা, এই ব্যক্তিদের গণনা করেছিলেন।
NUM 1:45 সমস্ত ইস্রায়েলী, যাদের বয়স কুড়ি বছর এবং তারও বেশি, যারা ইস্রায়েলী সেনাবাহিনীতে কাজ করতে সক্ষম ছিল তাদের নিজের নিজের গোষ্ঠী অনুসারে গণিত হয়েছিল।
NUM 1:46 এই সমগ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল 6,03,550 জন।
NUM 1:47 লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত পরিবারগুলি অন্যদের সঙ্গে গণিত হয়নি।
NUM 1:48 সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন,
NUM 1:49 “তুমি অবশ্যই লেবির গোষ্ঠীকে গণনা করবে না অথবা অন্যান্য ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তাদের সংখ্যা যুক্ত করবে না।
NUM 1:50 তার পরিবর্তে, লেবীয়দের নিয়োগ করবে, যেন তারা সাক্ষ্যস্বরূপ উপাসনা-তাঁবু, তার আসবাব এবং তার মধ্যবর্তী সমস্ত দ্রব্যের তত্ত্বাবধায়ক হয়। তারা উপাসনা-তাঁবু ও তার সমস্ত দ্রব্য বহন করবে; তারা তার তত্ত্বাবধান করবে এবং তার চতুর্দিকে ছাউনি স্থাপন করবে।
NUM 1:51 যখনই উপাসনা-তাঁবুর স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে, লেবীয়েরা তা খুলে ফেলবে। যখন উপাসনা-তাঁবু স্থাপন করতে হবে, লেবীয়েরাই তা করবে। অন্য যে কেউ তার নিকটবর্তী হয়, তাকে বধ করতে হবে।
NUM 1:52 ইস্রায়েলীরা তাদের নিজের তাঁবু, শ্রেণী অনুসারে প্রত্যেকজন তার নিজস্ব ছাউনিতে, নিজেরাই পতাকার তলায় স্থাপন করবে।
NUM 1:53 কিন্তু লেবীয়েরা, সাক্ষ্যস্বরূপ উপাসনা-তাঁবুর চারিদিকে তাদের ছাউনি স্থাপন করবে যেন আমার ক্রোধ ইস্রায়েলী সমাজের উপরে না বর্তায়। লেবীয়েরাই সাক্ষ্যস্বরূপ উপাসনা-তাঁবুর তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী হবে।”
NUM 1:54 ইস্রায়েলীরা এই সমস্তই সঠিক করেছিল, যে রকম সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 2:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 2:2 “ইস্রায়েলের প্রত্যেক ব্যক্তি, নিজের নিজের পিতৃকুলের চিহ্নের সঙ্গে দলীয় পতাকার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব রেখে, সমাগম তাঁবুর চতুর্দিকে ছাউনি করবে।”
NUM 2:3 পূর্বদিকে, সূর্যোদয় অভিমুখে: যিহূদার শিবিরের সেনাদল তাদের পতাকার তলায় সন্নিবেশিত হবে। অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন যিহূদা জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:4 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 74,600।
NUM 2:5 তার পরবর্তী ছাউনি হবে ইষাখর গোষ্ঠীর। সূয়ারের ছেলে নথনেল ইষাখর জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:6 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 54,400।
NUM 2:7 তার পরবর্তী ছাউনি হবে সবূলূন গোষ্ঠীর। হেলোনের ছেলে ইলীয়াব সবূলূন জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:8 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 57,400।
NUM 2:9 সমস্ত বিভাগীয় সেনাদল অনুসারে যিহূদা শিবিরের জন্য নির্দিষ্ট পুরুষের সংখ্যা 1,86,400 জন। প্রথমে তারা যাত্রা শুরু করবে।
NUM 2:10 দক্ষিণপ্রান্তে: রূবেণের শিবিরের সেনাদল তাদের পতাকার তলায় সন্নিবেশিত হবে। শদেয়ূরের ছেলে ইলীষূর রূবেণ জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:11 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 46,500।
NUM 2:12 শিমিয়োনের গোষ্ঠী তাদের পাশে ছাউনি স্থাপন করবে। সূরীশদ্দয়ের ছেলে শলুমীয়েল শিমিয়োন জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:13 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 59,300।
NUM 2:14 তার পাশের ছাউনি হবে গাদের। দ্যূয়েলের ছেলে ইলীয়াসফ গাদ জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:15 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 45,650।
NUM 2:16 রূবেণের শিবিরের জন্য নির্দিষ্ট তাদের বিভাগীয় সেনাদের অনুসারে, সমস্ত পুরুষের সংখ্যা 1,51,450। দ্বিতীয় স্থানে তারা যাত্রা শুরু করবে।
NUM 2:17 তারপর শিবির সমূহের মধ্যস্থানে, সমাগম তাঁবু এবং লেবীয়দের ছাউনি যাত্রা শুরু করবে। তারা যে রকম ছাউনি স্থাপন করে, সেইরকম অভিন্ন ক্রম অনুসারে যাত্রা করবে, প্রত্যেকজন দলীয় পতাকার কাছে, তাদের নির্দিষ্ট স্থানে।
NUM 2:18 পশ্চিম প্রান্তে: ইফ্রয়িম শিবিরের সেনাদল তাদের পতাকার তলায় অবস্থান করবে। অম্মীহূদের ছেলে ইলীশামা ইফ্রয়িম জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:19 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 40,500।
NUM 2:20 তাদের পরবর্তী ছাউনি হবে মনঃশি গোষ্ঠীর। পদাহসূরের ছেলে গমলীয়েল, মনঃশি জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:21 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 32,200।
NUM 2:22 বিন্যামীন গোষ্ঠীর ছাউনি হবে তাদের পরে। গিদিয়োনির ছেলে অবীদান বিন্যামীন জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:23 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 35,400।
NUM 2:24 ইফ্রয়িমের শিবিরের জন্য নির্দিষ্ট, তাদের সেনাদল অনুসারে পুরুষের সংখ্যা 1,08,100। তারা তৃতীয় স্থানে যাত্রা শুরু করবে।
NUM 2:25 উত্তর প্রান্তে: দানের শিবিরের সেনাদল তাদের পতাকার তলায় সন্নিবেশিত হবে। অম্মীশদ্দয়ের ছেলে অহীয়েষর দান জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:26 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 62,700।
NUM 2:27 তার পরবর্তী ছাউনি হবে আশের গোষ্ঠীর। অক্রণের ছেলে পগীয়েল আশের জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:28 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 41,500।
NUM 2:29 তারপরে অবস্থান হবে নপ্তালি গোষ্ঠীর। ঐননের ছেলে অহীরঃ নপ্তালি জনগোষ্ঠীর নেতা হবে।
NUM 2:30 তার বিভাগীয় সেনাদের সংখ্যা 53,400।
NUM 2:31 দানের শিবিরের জন্য নির্দিষ্ট সমস্ত পুরুষের সংখ্যা 1,57,600 জন। তাদের পতাকা সমেত তারা সবশেষে যাত্রা করবে।
NUM 2:32 এরাই ইস্রায়েলী জনগোষ্ঠী, তাদের পিতৃকুল অনুসারে গণিত। শিবির সমূহে, তাদের বিভাগ অনুসারে গণিত সর্বমোট জনসংখ্যা 6,03,550 জন।
NUM 2:33 কিন্তু এদের মধ্যে অন্য ইস্রায়েলীদের সঙ্গে লেবীয়েরা গণিত হয়নি, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 2:34 সদাপ্রভু মোশিকে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, এইভাবে ইস্রায়েলীরা সে সমস্তই করেছিল; তারা সেইভাবে তাদের পতাকাতলে সন্নিবেশিত প্রত্যেক ব্যক্তি তার গোষ্ঠী এবং পিতৃকুল অনুসারে সেইভাবে যাত্রা করত।
NUM 3:1 সদাপ্রভু যে সময়ে সীনয় পর্বতে মোশির সঙ্গে কথোপকথন করছিলেন, সেই সময় হারোণ ও মোশির বংশবৃত্তান্ত ছিল এইরকম।
NUM 3:2 হারোণের ছেলেদের নাম হল, প্রথমজাত নাদব, তারপর অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামর।
NUM 3:3 হারোণের ছেলেদের নাম এই। তারা অভিষিক্ত যাজক ছিলেন। যাজকীয় কাজের জন্য তাদের নিযুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 3:4 কিন্তু, নাদব ও অবীহূ সদাপ্রভুর সামনে নিহত হয়েছিল, যখন তারা সীনয় মরুভূমিতে তাঁর উদ্দেশে অননুমোদিত অগ্নি নিবেদন করেছিল। তাদের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তাই তাদের বাবা হারোণের জীবদ্দশায় শুধুমাত্র ইলীয়াসর ও ঈথামর যাজক হিসেবে পরিচর্যা করেছিলেন।
NUM 3:5 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 3:6 “লেবি গোষ্ঠীকে নিয়ে এসো ও যাজক হারোণকে সাহায্য করার জন্য তাদের তার কাছে উপস্থিত করো।
NUM 3:7 তারা সমাগম তাঁবুতে, উপাসনা-তাঁবু সংক্রান্ত কাজ দ্বারা তার এবং সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্য নিরূপিত কর্তব্য করবে।
NUM 3:8 তারা সমাগম তাঁবুর সমস্ত আসবাবপত্রের তত্ত্বাবধান করবে ও উপাসনা সম্পর্কিত কাজের মাধ্যমে ইস্রায়েলীদের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ করবে।
NUM 3:9 হারোণ ও তার ছেলেদের হাতে লেবীয়দের সমর্পণ করো; ইস্রায়েলীদের মধ্যে তারাই সম্পূর্ণরূপে তার কাছে দত্ত হবে।
NUM 3:10 হারোণ ও তার ছেলেদের যাজক হিসেবে পরিচর্যার জন্য নিযুক্ত করো। অন্য কোনো ব্যক্তি পবিত্রস্থানের নিকটবর্তী হলে অবশ্যই তার প্রাণদণ্ড হবে।”
NUM 3:11 সদাপ্রভু মোশিকে আরও বললেন,
NUM 3:12 “প্রত্যেক ইস্রায়েলী মহিলার প্রথমজাত পুরুষ শিশুর পরিবর্তে আমি লেবি গোষ্ঠীকে গ্রহণ করেছি। লেবীয় গোষ্ঠী আমারই,
NUM 3:13 যেহেতু সমস্ত জ্যেষ্ঠ সন্তানেরা আমার। যখন মিশরে আমি সমস্ত প্রথমজাতকে আঘাত করি, তখন ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে আমি পশু হোক অথবা মানুষ, প্রত্যেক প্রথমজাত প্রাণীকে নিজের জন্য স্বতন্ত্র করে রাখি। তারা আমারই হবে। আমিই সদাপ্রভু।”
NUM 3:14 সদাপ্রভু মোশিকে সীনয় মরুভূমিতে বললেন,
NUM 3:15 “বংশ এবং গোষ্ঠী অনুসারে লেবীয়দের গণনা করো। এক মাস বা তারও বেশি বয়সি প্রত্যেক পুরুষের সংখ্যা গ্রহণ করো।”
NUM 3:16 তাই মোশি তাদের গণনা করলেন, যেমন সদাপ্রভু বাণীর মাধ্যমে তাকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 3:17 লেবির সন্তানদের নাম এই: গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
NUM 3:18 গের্শোন গোষ্ঠীসমূহের নাম: লিব্‌নি ও শিমিয়ি।
NUM 3:19 কহাতীয় গোষ্ঠীসমূহ হল: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল।
NUM 3:20 মরারি গোষ্ঠীসমূহের নাম: মহলি ও মূশি। বংশক্রম অনুসারে লেবীয় গোষ্ঠীসমূহ হল এরাই।
NUM 3:21 গের্শোন থেকে লিব্‌নীয় গোষ্ঠী ও শিমিয়ি গোষ্ঠী; এরা গের্শোনীয়দের গোষ্ঠী।
NUM 3:22 এক মাস বা তারও বেশি বয়সের সমস্ত পুরুষের গণিত সংখ্যা 7,500।
NUM 3:23 গের্শোনীয়দের গোষ্ঠী সকলকে পশ্চিমদিকে উপাসনা-তাঁবুর পিছন দিকে শিবির স্থাপন করতে হবে।
NUM 3:24 গের্শোনের বংশসমূহের নেতা ছিলেন, লায়েলের ছেলে ইলীয়াসফ।
NUM 3:25 সমাগম তাঁবুতে গের্শোনীয়েরা, উপাসনালয় ও তাঁবু, তাদের আচ্ছাদন, সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথের পর্দা,
NUM 3:26 মন্দির প্রাঙ্গণের পর্দাসকল, উপাসনা-তাঁবু ও বেদি আবেষ্টনকারী অঙ্গনের প্রবেশপথের পর্দা ও দড়ি সকল এবং সেইগুলি সম্পর্কিত সমস্ত ব্যবহার্য দ্রব্যের তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্ব ছিল।
NUM 3:27 কহাতের অন্তর্গত ছিল অম্রামীয়, যিষ্‌হরীয়, হিব্রোণীয় এবং উষীয়েলীয় গোষ্ঠী; এরাই ছিল কহাৎ গোষ্ঠী।
NUM 3:28 এক মাস বা তারও বেশি বয়সের সমস্ত পুরুষের সংখ্যা 8,600। কহাৎ গোষ্ঠী পবিত্রস্থল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী ছিলেন।
NUM 3:29 কহাতীয় গোষ্ঠী সকলকে তাদের উপাসনা-তাঁবুর দক্ষিণপ্রান্তে শিবির স্থাপন করতে হত।
NUM 3:30 উষীয়েলের ছেলে ইলীষাফণ ছিলেন কহাতীয় গোষ্ঠীবৃন্দের বংশসমূহের নেতা।
NUM 3:31 তারা তত্ত্বাবধান করত সিন্দুক, মেজ, দীপাধার, বেদিসমূহ, পবিত্রস্থানের ব্যবহার্য বিশেষ দ্রব্যসকল, পর্দা এবং সেই সকলের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবহার্য সমস্ত দ্রব্য।
NUM 3:32 লেবি গোষ্ঠীর মুখ্য নেতা ছিলেন, যাজক হারোণের ছেলে ইলীয়াসর। যারা পবিত্রস্থানের দায়িত্বে ছিল, তিনি তাদের উপর নিযুক্ত হয়েছিলেন।
NUM 3:33 মরারির অন্তর্গত মহলীয় গোষ্ঠী ও মূশীয় গোষ্ঠী; এরা ছিল মরারি গোষ্ঠী।
NUM 3:34 এক মাস বা তার অধিক বয়সি যে সমস্ত পুরুষ গণিত হয়েছিল, তাদের সংখ্যা 6,200।
NUM 3:35 অবীহয়িলের ছেলে সূরীয়েল ছিলেন মরারি গোষ্ঠীর বংশসমূহের নেতা। উপাসনা-তাঁবুর উত্তর প্রান্তে তাদের ছাউনি ফেলতে হত।
NUM 3:36 মরারিদের নিযুক্ত করা হয়েছিল, যেন তারা উপাসনা-তাঁবুর কাঠামো, তক্তা, তার সমস্ত অর্গল, স্তম্ভ, চুঙ্গি ও তার সমস্ত জিনিস এবং সেই সকলের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবহারের জিনিসের,
NUM 3:37 সেই সঙ্গে প্রাঙ্গণের চারিদিকের সমস্ত খুঁটি, তাঁবুর গোঁজ ও দড়ির তত্ত্বাবধান করে।
NUM 3:38 মোশি, হারোণ এবং তাঁর ছেলেদের, উপাসনা-তাঁবুর পূর্বপ্রান্তে, সূর্যোদয় অভিমুখে, সমাগম তাঁবুর সম্মুখভাগে শিবির স্থাপন করতে হত। তারা ইস্রায়েলীদের তরফে পবিত্রস্থান তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী ছিলেন। অন্য যে কেউ পবিত্রস্থানের কাছে হত, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত।
NUM 3:39 লেবি গোষ্ঠীর পূর্ণ জনসংখ্যা, সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে মোশি ও হারোণ, গোষ্ঠী অনুসারে যাদের গণনা করেছিলেন। এক মাস বা তার অধিক বয়সি যে সমস্ত পুরুষ গণিত হয়েছিল, তাদের সংখ্যা 22,000।
NUM 3:40 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “এক মাস বা তারও বেশি বয়সি ইস্রায়েলী সমস্ত প্রথমজাত সন্তানকে গণনা করে তাদের নামের একটি তালিকা তৈরি করো।
NUM 3:41 ইস্রায়েলী সমস্ত জ্যেষ্ঠ সন্তানের পরিবর্তে লেবীয়দের এবং সেই সঙ্গে তাদের গৃহপালিত পশুসকলের পরিবর্তে লেবীয়দের গৃহপালিত পশুসকল, আমার জন্য অধিকার করো। আমিই সদাপ্রভু।”
NUM 3:42 অতএব সদাপ্রভু যে রকম আদেশ দিয়েছিলেন, মোশি ইস্রায়েলী সমস্ত প্রথমজাত সন্তানের সংখ্যা নিলেন।
NUM 3:43 এক মাস ও তারও বেশি বয়সি, নাম তালিকাভুক্ত প্রথমজাত সন্তানের সংখ্যা ছিল 22,273।
NUM 3:44 সদাপ্রভু মোশিকে একথাও বললেন,
NUM 3:45 “ইস্রায়েলী সমস্ত প্রথমজাত সন্তানের পরিবর্তে লেবীয়দের ও তাদের গৃহপালিত পশুসকলের পরিবর্তে লেবীয়দের পশুসকল গ্রহণ করো। লেবীয়রা আমারই হবে। আমিই সদাপ্রভু।
NUM 3:46 লেবীয়দের সংখ্যা থেকে অতিরিক্ত 273 জন ইস্রায়েলী প্রথমজাত সন্তানের মুক্তির উদ্দেশে,
NUM 3:47 প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিময়ে, পবিত্রস্থানের নিরূপিত শেকল অনুসারে, পাঁচ শেকল করে আদায় করো, যার ওজন কুড়ি গেরা।
NUM 3:48 ইস্রায়েলীদের মুক্তি বাবদ প্রাপ্ত এই অতিরিক্ত অর্থ হারোণ ও তাঁর ছেলেদের দিয়ে দাও।”
NUM 3:49 তাই মোশি, লেবীয়দের দ্বারা মুক্ত ইস্রায়েলীদের থেকে যারা সংখ্যায় অতিরিক্ত ছিল, তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করলেন।
NUM 3:50 ইস্রায়েলী প্রথমজাত সন্তানের কাছ থেকে তিনি, পবিত্রস্থানের নিরূপিত শেকল অনুসারে, 1,365 শেকল রুপো আদায় করলেন।
NUM 3:51 মোশি সেই মুক্তিপণ, হারোণ ও তার ছেলেদের দিয়ে দিলেন, যে রকম তিনি সদাপ্রভুর বাণীর মাধ্যমে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
NUM 4:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 4:2 “লেবি গোষ্ঠীর অন্তর্গত, কহাৎ সন্তানদের, গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে জনগণনা করো।
NUM 4:3 যারা সমাগম তাঁবু সম্পর্কিত কাজ করার জন্য সমাগত হয়, ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক সেই পুরুষদের সংখ্যা গণনা করো।
NUM 4:4 “সমাগম তাঁবুতে কহাতীয়দের কাজকর্ম এই; অতি পবিত্র দ্রব্যসমূহের তত্ত্বাবধান।
NUM 4:5 যখন শিবির যাত্রা শুরু করবে, হারোণ ও তার ছেলেরা ভিতরে ঢেকে দেবে। তারা আচ্ছাদক-পর্দা নামিয়ে এনে, তা দিয়ে সাক্ষ্যের সিন্দুক আবৃত করবে।
NUM 4:6 তার উপরে তারা টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দেবে। এরপর তারা ঘন নীল রংয়ের এক বস্ত্রের আবরণ দিয়ে যথাস্থানে বহন-দণ্ড পরিয়ে দেবে।
NUM 4:7 “উপস্থিতির মেজের উপর তারা নীল রংয়ের বস্ত্র পাতবে, তার উপরে সমস্ত রেকাব, থালা ও বাটি এবং পেয়-নৈবেদ্য রাখার ঘটগুলি রাখবে। যে রুটি সতত সেই মেজের উপরে রাখা থাকে, তা যথারীতি থাকবে।
NUM 4:8 এই সমস্তের উপরে তারা এক উজ্জ্বল লাল রংয়ের বস্ত্র পাতবে ও টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং তার বহন-দণ্ড যথাস্থানে পরিয়ে দেবে।
NUM 4:9 “তারা একটি নীল রংয়ের বস্ত্র নিয়ে, দীপ্তিদানের উদ্দেশে যে দীপাধার, তা আবৃত করবে; সেই সঙ্গে তার প্রদীপগুলি, সলিতা-কাটা যন্ত্রগুলি, বারকোশ এবং তার প্রজ্বলনের উদ্দেশে দত্ত জলপাই তেলের পাত্রগুলি আবৃত করবে।
NUM 4:10 তারপর, তারা সেই দীপাধার ও তার সম্পর্কিত সমস্ত জিনিসের উপর টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং সেই সমস্ত তারা বহনকারী কাঠামোর উপরে রাখবে।
NUM 4:11 “স্বর্ণ-বেদির উপরে তারা নীল রংয়ের বস্ত্র পাতবে এবং টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দিয়ে তার বহন-দণ্ড যথাস্থানে পরিয়ে দেবে।
NUM 4:12 “পবিত্রস্থানে পরিচর্যার উদ্দেশে ব্যবহৃত সমস্ত পাত্র নিয়ে তারা নীল রংয়ের কাপড়ে জড়াবে; সেই সমস্তের উপরে টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং বহনকারী কাঠামোর উপরে রাখবে।
NUM 4:13 “তারা পিতলের বেদি থেকে সমস্ত ছাই বের করে দেবে। তার উপরে বেগুনি রংয়ের কাপড় পাতবে।
NUM 4:14 তার উপরে তারা বেদির উদ্দেশে ব্যবহৃত সমস্ত বাসনপত্র রাখবে, সমস্ত অঙ্গারধানী, ত্রিশূল, বেলচা, রক্ত ছিটানোর উদ্দেশে ব্যবহৃত বাটি সমূহ। এর উপরে তারা টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন দেবে এবং তার বহন-দণ্ড যথাস্থানে পরাবে।
NUM 4:15 “হারোণ ও তার ছেলেরা সমস্ত পবিত্র আসবাব ও পবিত্র দ্রব্যসমূহ আবৃত করার পর, যখন ছাউনি যাবার উদ্দেশে অগ্রসর হবে, তখন কেবল কহাতীয়েরা বহন করার জন্য এগিয়ে আসবে। তারা কিন্তু পবিত্র দ্রব্যসকল স্পর্শ করবে না, নইলে মৃত্যুবরণ করবে। কহাতীয়েরা সমাগম তাঁবুর মধ্যে স্থিত দ্রব্যসকল বহন করবে।
NUM 4:16 “যাজক হারোণের ছেলে ইলীয়াসর, দীপ্তির জন্য তেলের, সুগন্ধি ধূপ, নিয়মিত শস্য-নৈবেদ্য ও অভিষেকের তেলের দায়িত্ব নেবে। সে সমস্ত পবিত্র আসবাব ও জিনিসপত্র সমাগম তাঁবু ও তার ভিতরের সমস্ত বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক হবে।”
NUM 4:17 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 4:18 “দেখবে, যেন কহাতীয় গোষ্ঠীর বংশসমূহ, লেবীয় গোষ্ঠী থেকে উচ্ছিন্ন না হয়।
NUM 4:19 যখন তারা অতি পবিত্র দ্রব্যসমূহের নিকটবর্তী হয়, তারা যেন জীবিত থাকে, হত না হয়; তাদের জন্য এই কাজ করো, হারোণ ও তার ছেলেরা পবিত্রস্থানের ভিতরে যাবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কাজ এবং কোন দ্রব্য সে বহন করবে, তা নিরূপণ করবে।
NUM 4:20 কিন্তু কহাতীয়েরা অবশ্যই ভিতরে গিয়ে, এক মুহূর্তের জন্যও পবিত্র দ্রব্যসকল দেখবে না, নইলে তাদের মৃত্যু হবে।”
NUM 4:21 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 4:22 “বংশ এবং গোষ্ঠী অনুসারে গের্শোনীয়দের জনগণনা করো,
NUM 4:23 সমাগম তাঁবুর কাজে যারা অংশগ্রহণ করে, ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক সেইসব পুরুষের সংখ্যা গণনা করো।
NUM 4:24 “গের্শোন গোষ্ঠীর সকলে, যখন তারা ভারবহন ও কাজ করে, তাদের কর্তব্য এরকম হবে।
NUM 4:25 তারা উপাসনা-তাঁবুর সব পর্দা, তার বাইরে টেকসই চামড়ার আচ্ছাদন, সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথের সব পর্দা,
NUM 4:26 উপাসনা-তাঁবু ও যজ্ঞবেদি পরিবেষ্টনকারী অঙ্গনের পর্দাসকল, প্রবেশপথের পর্দা, দড়ি সকল এবং পরিচর্যায় ব্যবহৃত সমস্ত উপকরণ বহন করবে। গের্শোনীয়েরা এসব দ্রব্য-সংক্রান্ত অথবা অন্যান্য যে কোনো কাজই হোক না কেন তা করতে হবে।
NUM 4:27 তাদের সমস্ত কাজ, বহন-সংক্রান্ত অথবা অন্যান্য যে কোনো কাজই হোক না কেন, সেই সমস্ত হারোণ এবং তার ছেলেদের নির্দেশে করতে হবে। তাদের দায়িত্বে যে সকল বহন করার কাজ থাকবে তা তুমি নির্দিষ্ট করে দেবে।
NUM 4:28 সমাগম তাঁবুর জন্য গের্শোনীয়দের কাজকর্ম এই। তাদের করণীয় কর্তব্য যাজক হারোণের ছেলে ঈথামরের নির্দেশ অনুসারে হবে।
NUM 4:29 “মরারিদেরও তাদের গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে গণনা করো।
NUM 4:30 সমাগম তাঁবুর কাজে অংশগ্রহণের জন্য যারা সমাগত হয়, ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক সেই সমস্ত পুরুষের সংখ্যা গণনা করো।
NUM 4:31 সমাগম তাঁবুতে, তারা যখন কাজ করে, তাদের করণীয় কর্তব্য হবে এরকম; তারা উপাসনা-তাঁবুর কাঠামোর তক্তা সকল, তার অর্গলদণ্ড গুলি, খুঁটি ও পীঠসকল,
NUM 4:32 সেই সঙ্গে প্রাঙ্গণের পরিবেষ্টনকারী খুঁটি সকল, তাঁবুর গোঁজ, দড়ি, তাদের উপকরণ এবং ব্যবহার্য সমস্ত আনুষঙ্গিক দ্রব্য বহন করবে। বহনের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নির্দিষ্ট দ্রব্যসকল নিরূপণ কোরো।
NUM 4:33 সমাগম তাঁবু সম্পর্কিত কাজ করার সময় মরারি গোষ্ঠীর করণীয় কর্তব্য এই। তারা যাজক হারোণের ছেলে ঈথামরের নির্দেশে এই সমস্ত কাজ করবে।”
NUM 4:34 মোশি, হারোণ এবং সমাজের নেতারা, গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে কহাতীয়দের গণনা করলেন।
NUM 4:35 ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক সমস্ত পুরুষের, যারা সমাগম তাঁবুর কাজ করার জন্য সমাগত হল,
NUM 4:36 গোষ্ঠী অনুসারে তাদের গণিত সংখ্যা 2,750।
NUM 4:37 কহাতীয় গোষ্ঠীর যারা সমাগম তাঁবুর পরিচর্যা করত, সেই সমস্ত ব্যক্তির এই মোট সংখ্যা। মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে মোশি ও হারোণ তাদের গণনা করেছিলেন।
NUM 4:38 গের্শোনীয়েরা তাদের গোষ্ঠী এবং বংশ অনুসারে গণিত হয়েছিল।
NUM 4:39 সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর, যারা সমাগম তাঁবুর কাজে অংশগ্রহণ করতে আসত,
NUM 4:40 তাদের গোষ্ঠী এবং বংশ অনুসারে গণিত জনসংখ্যা ছিল 2,630।
NUM 4:41 যারা সমাগম তাঁবু পরিচর্যা করত, সেই গের্শোনীয়দের এই ছিল মোট জনসংখ্যা। সদাপ্রভুর আদেশমতো মোশি ও হারোণ তাদের গণনা করেছিলেন।
NUM 4:42 মরারিদের তাদের গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে গণনা করা হয়েছিল।
NUM 4:43 সমস্ত পুরুষ যাদের বয়স ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর, যারা সমাগম তাঁবুর কাজে অংশগ্রহণ করতে আসত,
NUM 4:44 গোষ্ঠী অনুসারে তাদের গণিত সংখ্যা ছিল 3,200।
NUM 4:45 মরারি গোষ্ঠীর এই ছিল মোট সংখ্যা। সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই অনুসারে মোশি ও হারোণ তাদের গণনা করেছিলেন।
NUM 4:46 এইভাবে মোশি, হারোণ এবং ইস্রায়েলের নেতারা, সমস্ত লেবীয়দের, তাদের গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে গণনা করেছিলেন।
NUM 4:47 ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স্ক সমস্ত পুরুষ যারা পরিচর্যার ও সমাগম তাঁবু বহনের জন্য আসত,
NUM 4:48 তাদের গণিত সংখ্যা হয়েছিল 8,580।
NUM 4:49 মোশির মাধ্যমে দেওয়া সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে তাদের প্রত্যেকজনকে তার কাজ ও বহনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিরূপণ করা হয়েছিল। এইভাবে তাদের মোট সংখ্যা গণিত হয়েছিল, যে রকম সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 5:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 5:2 “ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও যেন তারা সংক্রামক চর্মরোগী বা প্রমেহী অথবা শবের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি ব্যক্তিকে ছাউনি থেকে বহিষ্কার করে।
NUM 5:3 পুরুষ ও স্ত্রী নির্বিশেষে, তারা তাদের বহিষ্কার করবে। তাদের ছাউনির বাইরে পাঠাতে হবে যেন যে শিবিরে আমি তাদের মধ্যে অবস্থান করি, সেই শিবির কলুষিত না হয়।”
NUM 5:4 ইস্রায়েলীরা সেইরকমই করল; তারা তাদের ছাউনির বাইরে পাঠিয়ে দিল। সদাপ্রভু যে রকম মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, তারা ঠিক সেই কাজ করল।
NUM 5:5 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 5:6 “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘যখন কোনো পুরুষ বা স্ত্রী, অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি কোনও ধরনের অন্যায় আচরণ করে এবং সে সদাপ্রভুর কাছে অবিশ্বস্ত প্রতিপন্ন হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
NUM 5:7 সে তার কৃত পাপস্বীকার করবে। তার অন্যায়ের জন্য সে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেবে, তার সঙ্গে এক-পঞ্চমাংশ বেশি যোগ করবে এবং যার বিরুদ্ধে সে অন্যায় করেছে, সেই ব্যক্তিকে তার সমস্তটাই দেবে।
NUM 5:8 যদি সেই ব্যক্তির কোনো নিকটাত্মীয় না থাকে, যাকে সেই অন্যায়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে, তাহলে তা সদাপ্রভুর অধিকারভুক্ত হবে। তার জন্য কৃত প্রায়শ্চিত্তের মেষের সঙ্গে সেইসব অবশ্যই যাজককে দিতে হবে।
NUM 5:9 যাজকের কাছে ইস্রায়েলীদের দ্বারা আনীত সমস্ত পবিত্র উপহার, তাদেরই অধিকারস্বরূপ হবে।
NUM 5:10 প্রত্যেক ব্যক্তির পবিত্র দানসকল তার নিজস্ব হলেও, যে সমস্ত সে যাজকের কাছে নিবেদন করে তা যাজকেরই হবে।’ ”
NUM 5:11 তারপর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 5:12 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বলো, ‘যদি কারোর স্ত্রী বিপথগামী ও তার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়,
NUM 5:13 অন্য পুরুষের সঙ্গে শয়ন করে এবং সেই বিষয় তার স্বামীর নিকট গুপ্ত থাকে, তার অশুদ্ধতা অনাবিষ্কৃত থেকে যায় (যেহেতু তার বিপক্ষে কোনো সাক্ষী নেই, অথবা সেই কাজ কারোর দৃষ্টিগোচর হয়নি),
NUM 5:14 যদি তার স্বামী ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে সন্দেহ করে এবং সে অশুচি হয় অথবা যদি ঈর্ষান্বিত হয়ে স্ত্রীকে সন্দেহ করলেও যদিও সে অশুচি না হয়ে থাকে,
NUM 5:15 সে তার স্ত্রীকে যাজকের কাছে নিয়ে যাবে। সে অবশ্যই তার স্ত্রীর তরফে, এক ঐফার এক-দশমাংশ যবের ময়দা নৈবেদ্যরূপে নিয়ে আসবে। সে তার উপরে জলপাই তেল দেবে না, বা ধূপ নিবেদন করবে না, কারণ এই শস্য-নৈবেদ্য ঈর্ষাজনিত কারণে আনীত, যা অপরাধ চিহ্নিতকরণের অভিপ্রায়ে আনা স্মরণার্থক দানস্বরূপ।
NUM 5:16 “ ‘যাজক সেই স্ত্রীকে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড় করাবে।
NUM 5:17 তারপর সে একটি মাটির পাত্রে সামান্য পবিত্র জল নেবে এবং উপাসনা-তাঁবুর মেঝে থেকে একটু ধুলো নিয়ে ওই জলের মধ্যে দেবে।
NUM 5:18 যাজক সেই স্ত্রীকে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড় করিয়ে তার চুল খুলে দেবে ও তার হাতে স্মারক নৈবেদ্য, অর্থাৎ ঈর্ষাজনিত শস্য-নৈবেদ্য দেবে। সে কিন্তু ওই তিক্ত জল নিজের হাতে ধারণ করবে, যা শাপ বহন করে আনবে।
NUM 5:19 তারপর যাজক সেই স্ত্রীকে শপথ করিয়ে বলবে, “যদি কোনো পুরুষ তোমার সঙ্গে শয়ন না করে থাকে, তুমি যদি ভ্রষ্টা না হয়ে থাকো এবং যদি তোমার স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত হয়েছ, তাই যদি অশুচি না হয়ে থাকো, তাহলে এই তিক্ত জল যা শাপ বহন করে আনে, তা তোমার ক্ষতি না করুক।
NUM 5:20 কিন্তু তোমার স্বামীর সঙ্গে সম্মিলিত হলেও যদি তুমি ভ্রষ্টা হয়ে থাকো এবং তোমার স্বামী ছাড়াও অন্য ব্যক্তির সঙ্গে শয়ন করে কলুষিত হয়ে থাকো,”
NUM 5:21 এখানে যাজক, সেই স্ত্রীকে শপথের এই শাপের অধীনে নিয়ে আসবে, “তাহলে সদাপ্রভু তাই করুন যেন তোমার জনগোষ্ঠী তোমাকে অভিশাপ দেয় ও প্রকাশ্যে তোমার নিন্দা করে এবং তিনি তোমার ঊরুদেশ নিশ্চল ও উদর স্ফীত করুন।
NUM 5:22 এই অভিশপ্ত জল তোমার মধ্যে প্রবেশ করে তোমার উদর স্ফীত ও ঊরুদেশ নিশ্চল করুক।” “ ‘তখন স্ত্রীলোকটিকে বলতে হবে, “আমেন, হ্যাঁ তাই হোক।”
NUM 5:23 “ ‘যাজক এই শাপের বাণীগুলি একটি গোটান পুঁথিতে লিখে ওই তিক্ত জলে সেই লেখা ধুয়ে ফেলবে।
NUM 5:24 সে স্ত্রীলোকটিকে ওই তিক্ত জলপান করাবে, যা শাপ বহন করে আনবে এবং সেই জল তার উদরে প্রবেশ করে দুঃসহ যন্ত্রণা সৃষ্টি করবে।
NUM 5:25 যাজক তার হাত থেকে ঈর্ষাজনিত শস্য-নৈবেদ্য গ্রহণ করে সদাপ্রভুর অভিমুখে দোলাবে এবং যজ্ঞবেদির কাছে নিয়ে আসবে।
NUM 5:26 তারপর যাজক পূর্ণ একমুঠো ওই শস্য-নৈবেদ্য নিয়ে স্মারক নৈবেদ্যরূপে বেদিতে পোড়াবে; তারপর সে, সেই স্ত্রীকে ওই জলপান করাবে।
NUM 5:27 যদি সে নিজেকে কলুষিত করে থাকে এবং তার স্বামীর প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে থাকে, তাহলে সে যখন শাপবাহী ওই জলপান করবে, সেটি তার উদরে প্রবেশ করে দুঃসহ যন্ত্রণা সৃষ্টি করবে; তার উদর স্ফীত হবে ও ঊরুদেশ নিশ্চল হয়ে যাবে। সে তার গোষ্ঠীর মধ্যে অভিশপ্ত প্রতিপন্ন হবে।
NUM 5:28 কিন্তু যদি সেই স্ত্রী নিজেকে অশুচি না করে থাকে এবং নিষ্কলুষ থাকে, তাহলে সে অপরাধ মুক্ত হবে এবং সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হবে।
NUM 5:29 “ ‘এই হবে ঈর্ষাপরায়ণতার বিধি, যখন কোনো স্ত্রীলোক ভ্রষ্টাচারী এবং তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহিতা হলেও অশুচি হয়।
NUM 5:30 অথবা যখন কোনো ব্যক্তির মনে ঈর্ষার মনোভাব জাগে ও সে তার স্ত্রীর প্রতি সন্ধিগ্ধমনা হয়। যাজক সদাপ্রভুর কাছে তার অবস্থান যাচাই করে দেখবে এবং এই সম্পূর্ণ বিধি তার উপরে প্রয়োগ করবে।
NUM 5:31 কৃত কোনও অন্যায় কাজের জন্য স্বামী নির্দোষ প্রতিপন্ন হবে, কিন্তু সেই স্ত্রীলোকটি তার পাপের পরিণতি ভোগ করবে।’ ”
NUM 6:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 6:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বলো, ‘যদি কোনো পুরুষ বা স্ত্রী বিশেষ মানত রাখতে চায়, অর্থাৎ নাসরীয় হিসেবে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক থাকার মানত,
NUM 6:3 তাহলে সে দ্রাক্ষারস; অথবা অন্য উত্তেজক পানীয় পান করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে; সে দ্রাক্ষারস অথবা অন্য উত্তেজক পানীয় থেকে প্রস্তুত সিরকাও পান করবে না। দ্রাক্ষার রস সে অবশ্যই পান করবে না, দ্রাক্ষা বা কিশমিশ খাবে না।
NUM 6:4 যতদিন পর্যন্ত সে নাসরীয় থাকে, দ্রাক্ষালতা থেকে উৎপন্ন কোনো কিছুই, এমনকি তার বীজ বা খোসাও সে আহার করবে না।
NUM 6:5 “ ‘তার পৃথক থাকার নাসরীয় মানতের সম্পূর্ণ পর্যায়ে মাথায় ক্ষুর ব্যবহার করা হবে না। সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক থাকার সম্পূর্ণ পর্যায় সে অবশ্যই পবিত্র থাকবে। সে তার চুলের বৃদ্ধি ঘটতে দেবে।
NUM 6:6 “ ‘সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক থাকার সম্পূর্ণ পর্যায়ে সে কোনো শবের কাছে যাবে না।
NUM 6:7 যদি তার বাবা, মা, ভাই, বা বোন কেউ মারা যায়, তাদের জন্য সে নিজেকে কোনোভাবে অশুচি করবে না, কারণ সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত থাকার প্রতীক তার মাথায় আছে,
NUM 6:8 তাদের উৎসর্গীকরণের সমস্ত সময় তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র থাকবে।
NUM 6:9 “ ‘যদি কেউ তার সান্নিধ্যে হঠাৎ প্রাণত্যাগ করে ও পরিণামে তার উৎসর্গিত চুল অশুচি হয়, তাহলে শুদ্ধকরণের দিন, অর্থাৎ সপ্তম দিনে সে তার মাথা নেড়া করবে।
NUM 6:10 তারপর অষ্টম দিনে সে দুটি ঘুঘু অথবা দুটি কপোত সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে যাজকের কাছে নিয়ে আসবে।
NUM 6:11 যাজক তার একটি পাপার্থে ও অন্যটি হোমার্থক বলিরূপে উৎসর্গ করে তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে, কারণ সে শবের সংস্পর্শে এসে পাপ করেছে। সেদিনই তার মাথার শুদ্ধায়ন করতে হবে।
NUM 6:12 স্বতন্ত্র থাকা পূর্ণ পর্যায়ে সে অবশ্যই সদাপ্রভুর নিকট উৎসর্গ করবে এবং তার অপরাধের নৈবেদ্যস্বরূপ একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক নিয়ে আসবে। পূর্বকালীন দিন সমূহ আর গণিত হবে না কারণ তার পৃথকস্থিতির সময় সে অশুচি হয়েছিল।
NUM 6:13 “ ‘যখন স্বতন্ত্র থাকার পর্যায় সমাপ্ত হবে, তখন নাসরীয় ব্যক্তির করণীয় বিধি হবে এইরকম। তাকে সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে নিয়ে আসতে হবে।
NUM 6:14 সেই স্থানে সে তার উপহার সদাপ্রভুর কাছে নিয়ে আনবে। হোম-নৈবেদ্যর জন্য ক্রুটিহীন একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক, পাপার্থক বলির জন্য নিখুঁত একটি এক বর্ষীয় মাদি মেষশাবক, মঙ্গলার্থক বলিদানের জন্য একটি নিখুঁত মেষ;
NUM 6:15 এর সঙ্গে তাদের শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য, এক ঝুড়ি খামিরবিহীন রুটি, জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় প্রস্তুত পিঠে ও জলপাই তেলে ভিজানো পাতলা রুটি।
NUM 6:16 “ ‘যাজক সেই সমস্ত নৈবেদ্য সদাপ্রভুর সামনে নিয়ে আসবে এবং পাপার্থক বলি ও হোম-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 6:17 সে খামিরবিহীন রুটির চুপড়ির সঙ্গে একটি মেষ মঙ্গলার্থক বলিরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করবে, তার সঙ্গে শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যও নিবেদন করবে।
NUM 6:18 “ ‘তারপর, সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে, সেই নাসরীয় ব্যক্তি তার উৎসর্গিত চুল মুণ্ডন করবে। সেই চুল নিয়ে সে মঙ্গলার্থক বলির উপকরণের সঙ্গে আগুনে নিক্ষেপ করবে।
NUM 6:19 “ ‘নাসরীয় ব্যক্তির উৎসর্গিত হওয়ার প্রতীকরূপ চুল মুণ্ডনের পর, যাজক তার হাতে মেষের সিদ্ধ করা একটি কাঁধ, খামিরবিহীন তৈরি করা একটি পিঠে ও একটি পাতলা রুটি দেবে।
NUM 6:20 তারপর যাজক সেই সমস্ত নিয়ে দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে সদাপ্রভুর অভিমুখে দোলাবে; পবিত্র সেই দ্রব্যগুলি, দোলানো বক্ষের ও নিবেদিত ঊরুর সঙ্গে সবকিছুই যাজকের প্রাপ্য হবে। এরপরে নাসরীয় ব্যক্তি সুরা পান করতে পারে।
NUM 6:21 “ ‘নাসরীয় ব্যক্তি সম্পর্কিত বিধি এরকম যে সদাপ্রভুর কাছে নৈবেদ্যর মানত করে, তার পৃথকস্থিতির বিধি অনুসারে, এই সমস্ত দ্রব্য ছাড়তে অতিরিক্ত যে সমস্ত উপহার সে দিতে সমর্থ হয়, দিতে পারে। নাসরীয় বিধি অনুসারে, তার মানত সে অবশ্যই পূর্ণ করবে।’ ”
NUM 6:22 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 6:23 “হারোণ এবং তার ছেলেদের বলো, ‘তোমরা এইভাবে ইস্রায়েলীদের আশীর্বাদ করবে। তাদের বোলো
NUM 6:24 “ ‘ “সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করুন ও তোমাদের রক্ষা করুন;
NUM 6:25 সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি প্রসন্ন-মুখ হোন ও তোমাদের প্রতি সদয় হোন;
NUM 6:26 সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি তার মুখ ফেরান ও তোমাদের শান্তি দিন।” ’
NUM 6:27 “এইভাবে তারা ইস্রায়েলীদের উপর আমার নাম স্থাপন করবে ও আমি তাদের আশীর্বাদ করব।”
NUM 7:1 মোশি উপাসনা-তাঁবু স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করার পর তিনি সেই তাঁবু ও তার সমস্ত আসবাবপত্র অভিষেক ও উৎসর্গ করলেন। তিনি যজ্ঞবেদি ও তার সমস্ত বাসনপত্রও অভিষেক ও উৎসর্গ করলেন।
NUM 7:2 পরে ইস্রায়েলের নেতৃবৃন্দ, গোষ্ঠীসমূহের মুখ্য ব্যক্তিরা, যাঁরা গণিত ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তাঁরা নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:3 তাঁরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহারস্বরূপ আচ্ছাদন যুক্ত ছয়টি শকট ও বারোটি ষাঁড়, প্রত্যেক নেতার পক্ষে একটি করে ষাঁড় এবং একটি শকট প্রত্যেক দুজনের জন্য এনে আবাস তাঁবুর সামনে উপস্থিত করলেন।
NUM 7:4 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 7:5 “এই সমস্ত তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করো যেন সেগুলি সমাগম তাঁবুর কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজন অনুসারে সেই সমস্ত লেবীয়দের দান করো।”
NUM 7:6 মোশি সেইসব শকট ও ষাঁড়গুলি নিয়ে লেবীয়দের দান করলেন।
NUM 7:7 তিনি গের্শোনীয়দের কাজের চাহিদা অনুসারে দুটি শকট ও চারটি ষাঁড় দিলেন।
NUM 7:8 আবার মরারীয়দের কাজের চাহিদা অনুসারে তিনি তাদের চারটি শকট ও আটটি ষাঁড় দিলেন। তারা সবাই যাজক হারোণের ছেলে ঈথামরের নির্দেশের অধীন ছিল।
NUM 7:9 মোশি কিন্তু কহাতীয়দের কিছু দিলেন না, কারণ পবিত্র দ্রব্যসমূহ তাদের কাঁধে করে বহন করতে হত। এই কাজের জন্য তারাই ছিল দায়ী।
NUM 7:10 যজ্ঞবেদি অভিষিক্ত হওয়ার পর, তা উৎসর্গ করার জন্য নেতৃবর্গ নৈবেদ্য নিয়ে এসে, যজ্ঞবেদির সামনে রাখলেন।
NUM 7:11 কারণ সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন, “প্রত্যেকদিন এক একজন নেতা যজ্ঞবেদি উৎসর্গের জন্য তার নৈবেদ্য নিয়ে আসবে।”
NUM 7:12 প্রথম দিন, যিনি তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন, তিনি যিহূদা গোষ্ঠীর অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন।
NUM 7:13 তাঁর উপহারের মধ্যে ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেল মিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:14 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:15 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:16 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:17 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ পাঁচটি ছাগল, ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল অম্মীনাদবের ছেলে নহশোনের উপহার।
NUM 7:18 দ্বিতীয় দিন, ইষাখর গোষ্ঠীর নেতা, সূয়ারের ছেলে নথনেল তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:19 যে উপহার সে নিয়ে এল, তার মধ্যে ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:20 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:21 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:22 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:23 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল সূয়ারের ছেলে নথনেলের উপহার।
NUM 7:24 তৃতীয় দিনে, সবূলূন গোষ্ঠীর নেতা, হেলোনের ছেলে ইলীয়াব তাঁর উপহার নিয়ে এলেন।
NUM 7:25 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:26 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ সোনার থালা;
NUM 7:27 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:28 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল;
NUM 7:29 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল হেলোনের ছেলে ইলীয়াবের উপহার।
NUM 7:30 চতুর্থ দিন, রূবেণ গোষ্ঠীর নেতা, শদেয়ূরের ছেলে ইলীষূর, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন,
NUM 7:31 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:32 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:33 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:34 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:35 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল শদেয়ূরের ছেলে ইলীষূরের উপহার।
NUM 7:36 পঞ্চম দিন, শিমিয়োন গোষ্ঠীর নেতা, সূরীশদ্দয়ের ছেলে শলুমীয়েল, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:37 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:38 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:39 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:40 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল;
NUM 7:41 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল সূরীশদ্দয়ের ছেলে শলুমীয়েলের উপহার।
NUM 7:42 ষষ্ঠ দিন, গাদ গোষ্ঠীর নেতা, দ্যূয়েলের ছেলে ইলীয়াসফ, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন,
NUM 7:43 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:44 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:45 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:46 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল;
NUM 7:47 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল দ্যূয়েলের ছেলে ইলীয়াসফের উপহার।
NUM 7:48 সপ্তম দিন, ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর নেতা, অম্মীহূদের ছেলে ইলীশামা, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:49 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:50 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:51 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:52 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল;
NUM 7:53 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল অম্মীহূদের ছেলে ইলীশামার উপহার।
NUM 7:54 অষ্টম দিনে, মনঃশি গোষ্ঠীর নেতা, পদাহসূরের ছেলে গমলীয়েল, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:55 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:56 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:57 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:58 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:59 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল পদাহসূরের ছেলে গমলীয়েলের উপহার।
NUM 7:60 নবম দিনে, বিন্যামীন গোষ্ঠীর নেতা, গিদিয়োনির ছেলে অবীদান তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:61 তাঁর উপহার ছিল, 130 ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:62 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:63 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:64 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:65 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল গিদিয়োনির ছেলে অবীদানের উপহার।
NUM 7:66 দশম দিনে, দান গোষ্ঠীর নেতা, অম্মীশদ্দয়ের ছেলে অহীয়েষর; তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:67 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকলের ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:68 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:69 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:70 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:71 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল অম্মীশদ্দয়ের ছেলে অহীয়েষরের উপহার।
NUM 7:72 একাদশ দিনে, আশের গোষ্ঠীর নেতা, অক্রণের পুত্র পগীয়েল তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:73 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকলের ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:74 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:75 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:76 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:77 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি মেষ, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল অক্রণের পুত্র পগীয়েলের উপহার।
NUM 7:78 দ্বাদশ দিনে, নপ্তালি গোষ্ঠীর নেতা, ঐননের পুত্র অহীরঃ, তাঁর নৈবেদ্য নিয়ে এলেন।
NUM 7:79 তাঁর উপহার ছিল, 130 শেকল ওজনের একটি রুপোর থালা, একটি সত্তর শেকল ওজনের রুপোর বাটি, উভয়েরই পরিমাপ পবিত্রস্থানের শেকলের মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল। তার প্রত্যেকটি শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দায় পূর্ণ ছিল।
NUM 7:80 দশ শেকল পরিমিত, ধূপে পূর্ণ একটি সোনার থালা;
NUM 7:81 হোম-নৈবেদ্যের জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও একটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক;
NUM 7:82 পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল,
NUM 7:83 এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য দুটি ষাঁড়, পাঁচটি ছাগল ও পাঁচটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। এই ছিল ঐননের পুত্র অহীরঃর উপহার।
NUM 7:84 যজ্ঞবেদি অভিষেক করার পর, তা উৎসর্গ করার জন্য এই সমস্ত ছিল ইস্রায়েলী নেতাদের নৈবেদ্য; বারোটি রুপোর থালা, বারোটি রুপোর বাটি ও বারোটি সোনার থালা।
NUM 7:85 প্রত্যেকটি রুপোর থালার ওজন ছিল 130 শেকল এবং প্রত্যেক রুপোর বাটি সত্তর শেকল। রুপোর পাত্রগুলির সর্বমোট ওজন পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে, 2,400 শেকল
NUM 7:86 ধূপে পূর্ণ বারোটি সোনার থালা, পবিত্রস্থানের শেকলের অনুসারে প্রত্যেকটির ওজন দশ শেকল। সোনার থালিগুলির সর্বমোট ওজন 120 শেকল।
NUM 7:87 হোম-নৈবেদ্যর জন্য আনীত সমস্ত পশুর সংখ্যা, বারোটি এঁড়ে বাছুর, বারোটি মেষ ও বারোটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক এবং তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য। পাপার্থক বলির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল বারোটি ছাগল।
NUM 7:88 মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গের জন্য সর্বমোট পশুর সংখ্যা ছিল চব্বিশটি ষাঁড়, ষাটটি মেষ, ষাটটি ছাগল ও ষাটটি এক বর্ষীয় মেষশাবক। যজ্ঞবেদি অভিষিক্ত হওয়ার পর এই সমস্ত ছিল উৎসর্গ করার নৈবেদ্য।
NUM 7:89 যখন মোশি সমাগম তাঁবুর ভিতরে সদাপ্রভুর সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রবেশ করলেন, তিনি সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরে পাপাবরণের ঊর্ধ্বে অবস্থিত দুই করূবের মধ্যস্থল থেকে তাঁর রব শুনতে পেলেন। এভাবে সদাপ্রভু তাঁর সঙ্গে কথা বললেন।
NUM 8:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 8:2 “তুমি হারোণের সঙ্গে আলাপ করে তাকে বলো, ‘তুমি যখন সপ্ত-প্রদীপ প্রতিষ্ঠা করবে, তখন সেগুলি যেন দীপাধারের সামনের দিকে আলো দেয়।’ ”
NUM 8:3 হারোণ সেইমতো করলেন; তিনি প্রদীপগুলি স্থাপন করে, সেগুলির মুখ দীপাধারের সামনের দিকে রাখলেন, যে রকম সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 8:4 দীপাধার এইভাবে নির্মিত হয়েছিল; এর নিচ থেকে ফুল পর্যন্ত, সমস্ত অংশই সোনা পিটিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। সদাপ্রভু মোশিকে যেমন নমুনা দেখিয়েছিলেন, দীপাধার ঠিক সেইরকম নির্মিত হয়েছিল।
NUM 8:5 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 8:6 “অন্য ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে লেবীয়দের নিয়ে, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ করো।
NUM 8:7 তাদের শুদ্ধকরণের জন্য এই কাজ করো, তাদের উপর শুদ্ধকরণের জল সেচন করো; তারা সমস্ত শরীরের লোম ক্ষৌরি করে, জলে তাদের পোশাক ধুয়ে ফেলুক ও এইভাবে নিজেদের শুচি করুক।
NUM 8:8 শস্য-নৈবেদ্যস্বরূপ জলপাই তেলমিশ্রিত মিহি ময়দা সমেত তারা একটি এঁড়ে বাছুর নেবে; তারপর পাপার্থক বলির জন্য তুমি দ্বিতীয় একটি এঁড়ে বাছুর নেবে।
NUM 8:9 লেবীয়দের সমাগম তাঁবুর সামনের দিকে আনবে এবং সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজকে একত্র করবে।
NUM 8:10 তুমি লেবীয়দের সদাপ্রভুর সামনে নিয়ে আসবে এবং ইস্রায়েলীরা তাদের উপরে হাত রাখবে।
NUM 8:11 হারোণ ইস্রায়েলীদের দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে লেবীয়দের সদাপ্রভুর সামনে নিবেদন করবে, যেন তারা সদাপ্রভুর কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়।
NUM 8:12 “লেবীয়েরা ওই এঁড়ে বাছুরের উপর হাত রাখার পর, সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাদের একটি পাপার্থক বলিরূপে, অন্যটি হোমবলিরূপে উৎসর্গ করবে, যেন লেবীয়দের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধিত হয়।
NUM 8:13 হারোণ ও তার ছেলেদের সামনে লেবীয়েরা দাঁড় করাবে। তারপর, সদাপ্রভুর অভিমুখে দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে তাদের নিবেদন করবে।
NUM 8:14 এইভাবে, অন্য ইস্রায়েলীদের থেকে তুমি লেবীয়দের পৃথক করবে। লেবীয়দের সকলে আমারই হবে।
NUM 8:15 “লেবীয়দের শুদ্ধ করে, তুমি তাদের দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে নিবেদন করার পর, তারা সমাগম তাঁবুতে তাদের সেবাকাজ করতে আসবে।
NUM 8:16 ইস্রায়েলীদের মধ্যে শুধু তারাই সম্পূর্ণরূপে আমাকে দত্ত হবে। আমি প্রথমজাতদের, প্রত্যেক ইস্রায়েলী স্ত্রীর প্রথম পুরুষ-সন্তানের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব স্বত্ব বলে গ্রহণ করেছি।
NUM 8:17 মানুষ অথবা পশু, ইস্রায়েলের সমস্ত প্রথমজাত পুরুষ আমার। মিশরে যখন আমি সমস্ত প্রথমজাত প্রাণীকে নিধন করি, আমি তাদের নিজের জন্য স্বতন্ত্র করে রেখেছিলাম।
NUM 8:18 তারপর আমি সমস্ত ইস্রায়েলী প্রথমজাত সন্তানের পরিবর্তে লেবীয়দের গ্রহণ করেছি।
NUM 8:19 সমস্ত ইস্রায়েলীর মধ্য থেকে, আমি হারোণ ও তার ছেলেদের, লেবীয়দের দান করেছি, যেন তারা সমস্ত ইস্রায়েলীর পক্ষে সমাগম তাঁবুর কাজ করে, তাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করে, যেন তারা যখন পবিত্রস্থানের অভিমুখী হয়, তখন কোনো মহামারি ইস্রায়েলীর আঘাত না করে।”
NUM 8:20 মোশি, হারোণ এবং সমস্ত ইস্রায়েল সম্প্রদায়, লেবীয় গোষ্ঠীকে নিয়ে সেরকম করলেন, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 8:21 লেবীয়েরা নিজেদের শুদ্ধ করে তাদের পোশাক ধুয়ে ফেলল। তখন হারোণ সদাপ্রভুর সামনে দোলনীয়-নৈবেদ্যরূপে তাদের নিবেদন করলেন ও তাদের শুদ্ধ করার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করলেন।
NUM 8:22 তারপর লেবীয়েরা, হারোণ ও তার ছেলেদের তত্ত্বাবধানে, সমাগম তাঁবুর কাজ করার জন্য উপস্থিত হল। তাঁরা লেবীয়দের নিয়ে সেরকম কাজ করলেন, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 8:23 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 8:24 “এই কথা লেবীয়দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পঁচিশ বছর বা তারও বেশি বয়স্ক পুরুষেরা, সমাগম তাঁবুর কাজে অংশগ্রহণ করতে আসবে,
NUM 8:25 কিন্তু পঞ্চাশ বছর বয়স হলে তারা সেবাকাজ থেকে অবসর নেবে ও আর কোনো কাজ করবে না।
NUM 8:26 তারা সমাগম তাঁবুর কাজে, তাদের ভাইদের সহায়ক হবে, কিন্তু তারা নিজেরা কোনো কাজ করবে না। এইভাবে তুমি লেবীয়দের দায়িত্ব নিরূপণ করবে।”
NUM 9:1 মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর, দ্বিতীয় বছরের প্রথম মাসে, সদাপ্রভু সীনয় মরুভূমিতে মোশির সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন,
NUM 9:2 “ইস্রায়েলীরা নিরূপিত সময়ে নিস্তারপর্ব পালন করুক।
NUM 9:3 নির্দিষ্ট সময়ে, অর্থাৎ এই মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলায়, সমস্ত বিধিনিয়ম অনুসারে, তারা তা সম্পন্ন করুক।”
NUM 9:4 মোশি তখন ইস্রায়েলীদের নিস্তারপর্ব পালন করতে বললেন।
NUM 9:5 তারা সীনয় মরুভূমিতে, প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলায় তা সম্পন্ন করল। ইস্রায়েলীরা ঠিক তাই করল, যে রকম সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 9:6 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন একটি মৃতদেহ স্পর্শ করায় আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি হয়েছিল। তাই তারা সেইদিন নিস্তারপর্ব পালন করতে পারেনি। তারা সেদিনই মোশি ও হারোণের কাছে এল
NUM 9:7 এবং মোশিকে বলল, “আমরা একটি মৃতদেহ স্পর্শ করে অশুচি হয়েছি; তা সত্ত্বেও, অন্য ইস্রায়েলীদের সঙ্গে, নিরূপিত সময়ে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে নৈবেদ্য আনতে আমরা কেন বঞ্চিত হব?”
NUM 9:8 মোশি তাদের উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু তোমাদের সম্পর্কে কী আদেশ দেন, আমি তা জেনে আসা অবধি, তোমরা অপেক্ষা করো।”
NUM 9:9 সদাপ্রভু তখন মোশিকে বললেন,
NUM 9:10 “তুমি ইস্রায়েলীদের বলো, ‘যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা তার বংশধরদের কেউ, শবজনিত কারণে অশুচি হয়, অথবা ভ্রমণপথে দূরে থাকে, তারা তা সত্ত্বেও, সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব পালন করতে পারবে।
NUM 9:11 তারা দ্বিতীয় মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যেবেলা সেই পর্ব সম্পন্ন করবে। খামিরবিহীন রুটি ও তিক্ত শাকের সঙ্গে তারা সেই মেষশাবক আহার করবে।
NUM 9:12 তার কোনো কিছুই তারা সকাল পর্যন্ত রাখবে না, বা তার কোনো অস্থি ভঙ্গ করবে না। তারা যখন নিস্তারপর্ব পালন করবে, তখন তার সমস্ত বিধিনিয়ম অনুসরণ করবে।
NUM 9:13 কিন্তু, যদি কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শুচি থাকে, ভ্রমণপথে না থাকে, অথচ নিস্তারপর্ব পালন না করে, সেই ব্যক্তিকে, তার গোষ্ঠী থেকে অবশ্যই উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ, সে নির্দিষ্ট সময়ে সদাপ্রভুর নৈবেদ্য নিবেদন করেনি। সেই ব্যক্তি তার পাপের পরিণতি ভোগ করবে।
NUM 9:14 “ ‘তোমাদের মধ্যে কোনো প্রবাসী, কোনো বিদেশি ব্যক্তি যদি সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব পালন করতে ইচ্ছুক হয়, সমস্ত বিধিনিয়ম অনুসরণ করে সে তা অবশ্য করবে। বিদেশি ব্যক্তি হোক অথবা স্বদেশ জাত, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।’ ”
NUM 9:15 যেদিন আবাস তাঁবু, অর্থাৎ সাক্ষ্যের তাঁবু স্থাপিত হল, মেঘ তা আবৃত করল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত, আবাস তাঁবুর ঊর্ধ্বস্থ মেঘ, অগ্নিসদৃশ প্রত্যক্ষ হল।
NUM 9:16 সেইরকমই নিত্য হত, মেঘ তা আবৃত করত এবং রাত্রিবেলা সেই মেঘ অগ্নিসদৃশ তা প্রত্যক্ষ হত।
NUM 9:17 যখনই মেঘ তাঁবুর উপর থেকে সরে যেত, ইস্রায়েলীরা যাত্রা শুরু করত। যেখানে মেঘ সুস্থির হত, ইস্রায়েলীরা ছাউনি স্থাপন করত।
NUM 9:18 সদাপ্রভুর আদেশে ইস্রায়েলীরা যাত্রা শুরু করত এবং তাঁর আদেশেই তারা ছাউনি স্থাপন করত। যতক্ষণ পর্যন্ত মেঘ আবাস তাঁবুর উপরে নিশ্চল থাকত, তারা ছাউনিতে অবস্থান করত।
NUM 9:19 যখন মেঘ দীর্ঘ সময় ধরে আবাস তাঁবুর উপরে অবস্থান করত, ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর আদেশ পালন করে যাত্রা করত না।
NUM 9:20 কোনো কোনো সময় আবাস তাঁবুর উপর মেঘ কয়েক দিন অবস্থিতি করত; সদাপ্রভুর আদেশে তারা ছাউনি স্থাপন করত এবং তাঁর আদেশক্রমেই তারা যাত্রা শুরু করত।
NUM 9:21 কোনো কোনো সময় মেঘ কেবলমাত্র সন্ধ্যেবেলা থেকে সকাল পর্যন্ত অবস্থান করত। যখন সকালবেলায় তা উন্নীত হত, তারা যাত্রা শুরু করত। দিনের বেলা হোক, অথবা রাতের বেলা, যখনই মেঘ উন্নীত হত, তারা যাত্রা করত।
NUM 9:22 মেঘ, আবাস তাঁবুর উপর দু-দিন, বা এক মাস, অথবা এক বছর, যতদিনই অবস্থিতি করুক, ইস্রায়েলীরা তাদের ছাউনিতে অবস্থান করত, যাত্রা করত না; কিন্তু যখন তা উন্নীত হত, তারা যাত্রা করত।
NUM 9:23 সদাপ্রভুর আদেশে ছাউনিতে তারা অবস্থান করত এবং সদাপ্রভুর আদেশেই তারা যাত্রা শুরু করত। মোশির মাধ্যমে দেওয়া তাঁর নির্দেশ অনুসারেই, তারা সদাপ্রভুর আদেশ পালন করত।
NUM 10:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 10:2 “পিটানো রুপো দিয়ে দুটি তূরী নির্মাণ করো এবং জনসাধারণকে একত্র করতে ও ছাউনির যাত্রা শুরু করার জন্য সেগুলি ব্যবহার করবে।
NUM 10:3 যখন উভয় তূরী ধ্বনিত হবে, সমস্ত সমাজ, সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে, তোমার কাছে একত্র হবে।
NUM 10:4 যদি একটিমাত্র ধ্বনিত হয়, তাহলে নেতৃবর্গ, অর্থাৎ ইস্রায়েলী গোষ্ঠীর প্রধানেরা, তোমার কাছে একত্র হবে।
NUM 10:5 যখন প্রথমবার তূরীধ্বনি শোনা যাবে, তখন ছাউনিস্থিত পূর্ব প্রান্তের গোষ্ঠীসমূহ যাত্রা শুরু করবে।
NUM 10:6 দ্বিতীয়বার তূরীধ্বনি শোনা গেলে, দক্ষিণপ্রান্তের ছাউনিসমূহ যাত্রা করবে। তুরীধ্বনিই যাত্রা শুরুর সংকেত হবে।
NUM 10:7 জনসাধারণকে একত্র করার জন্য, তূরীধ্বনি করবে, কিন্তু যাত্রা শুরু করার সংকেত হবে না।
NUM 10:8 “হারোণের ছেলেরা যাজকেরা তূরী বাজাবে। এই আদেশ তোমাদের ও তোমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরদিন থাকবে।
NUM 10:9 স্বদেশে, যারা তোমাদের নিপীড়ন করে, যখন তোমরা সেই সমস্ত শত্রুর বিপক্ষে যুদ্ধ করতে যাবে, তূরী বাজাবে। সেই সময় সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের স্মরণ করবেন এবং শত্রুর হাত থেকে নিস্তার করবেন।
NUM 10:10 তোমাদের আনন্দের দিনেও, অর্থাৎ তোমাদের নিরূপিত পর্বসমূহে ও পূর্ণিমার উৎসবে, তোমাদের হোম-নৈবেদ্যের ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার সময়ে, তোমরা তূরী বাজাবে। সেসব ঈশ্বরের সামনে তোমাদের জন্য স্মারকরূপে হবে। আমিই সদাপ্রভু তোমাদের ঈশ্বর।”
NUM 10:11 দ্বিতীয় বছরের, দ্বিতীয় মাসের, বিংশতিতম দিনে, সাক্ষ্যের তাঁবুর উপর থেকে মেঘ উন্নীত হল।
NUM 10:12 তখন ইস্রায়েলীরা সীনয় মরুভূমিতে থেকে বের হল এবং তারা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ভ্রমণ করল, যতক্ষণ না মেঘ, পারণ প্রান্তরে এসে থামল।
NUM 10:13 মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে, তারা এই প্রথমবার যাত্রা করল।
NUM 10:14 প্রথমে যিহূদার শিবিরের অন্তর্গত সমস্ত সেনাবিভাগ, তাদের নিশান নিয়ে অগ্রসর হল। অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন তাদের সেনাপতি ছিলেন।
NUM 10:15 ইষাখর গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে সূয়ারের ছেলে নথনেল ছিলেন
NUM 10:16 এবং হেলোনের ছেলে ইলীয়াব ছিলেন সবূলূন গোষ্ঠীর সেনাপতি।
NUM 10:17 এরপর সমাগম তাঁবু তুলে ফেলা হল এবং যারা তা বহন করত, সেই গের্শোনীয়েরা এবং মরারীয়েরা তখন যাত্রারম্ভ করল।
NUM 10:18 তারপর রূবেণের শিবিরের সমস্ত সৈন্য দলীয় নিশান নিয়ে যাত্রা শুরু করল। শদেয়ূরের ছেলে ইলীষূর তাদের সেনাপতি ছিলেন।
NUM 10:19 শিমিয়োনের গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে ছিলেন সূরীশদ্দয়ের ছেলে শলুমীয়েল।
NUM 10:20 দ্যূয়েলের ছেলে ইলীয়াসফ ছিলেন গাদ গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে।
NUM 10:21 এরপর কহাতীয়েরা বের হল। তারা পবিত্র দ্রব্যসমূহ বহন করছিল। তাদের পৌঁছানোর আগেই সমাগম তাঁবু পুনঃস্থাপিত হয়েছিল।
NUM 10:22 তারপর ইফ্রয়িমের শিবিরের সেনাবিভাগ, দলীয় নিশান নিয়ে যাত্রা শুরু করল। অম্মীহূদের ছেলে ইলীশামা ছিলেন সেনাপতি।
NUM 10:23 পদাহসূরের ছেলে গমলীয়েল, মনঃশি গোষ্ঠীর শীর্ষে ছিলেন।
NUM 10:24 গিদিয়োনির ছেলে অবীদান ছিলেন বিন্যামীন গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে।
NUM 10:25 সমস্ত শিবিরের পিছনে প্রহরীরূপে দানের শিবিরের সমস্ত সেনাবিভাগ, তাদের নিশান নিয়ে যাত্রা করল। অম্মীশদ্দয়ের ছেলে অহীয়েষর ছিলেন তাদের সেনাপতি।
NUM 10:26 আশের গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে ছিলেন অক্রণের ছেলে পগীয়েল।
NUM 10:27 আবার ঐননের ছেলে অহীরঃ ছিলেন নপ্তালির গোষ্ঠীর সেনাবিভাগের শীর্ষে।
NUM 10:28 সমস্ত ইস্রায়েলী সেনাবিভাগ এই ধারায় যাত্রা করত।
NUM 10:29 এরপর মোশি, তাঁর শ্বশুর, মিদিয়নীয় রূয়েলের ছেলে হোববকে বললেন, “আমরা সেই স্থানের উদ্দেশে বের হয়েছি, যার সম্পর্কে সদাপ্রভু বলেছিলেন, ‘আমি সেই দেশ তোমাকে দেব।’ আমাদের সঙ্গে এসো, আমরা তোমাদের সঙ্গে যথোচিত ব্যবহার করব, কারণ সদাপ্রভু ইস্রায়েলের কাছে উত্তম বিষয়সমূহের শপথ করেছেন।”
NUM 10:30 সে উত্তর দিল, “না আমি যাব না। আমি স্বদেশে, আমার স্বজাতির কাছে ফিরে যাচ্ছি।”
NUM 10:31 মোশি তা সত্ত্বেও বললেন, “দয়া করে আমাদের ত্যাগ কোরো না। তুমি জানো প্রান্তরে আমাদের কোন স্থানে ছাউনি স্থাপন করতে হবে এবং তুমি আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারো।
NUM 10:32 যদি তুমি আমাদের সঙ্গে চলো, তাহলে সদাপ্রভু যে সকল উত্তম দ্রব্য আমাদের দান করবেন, আমরা তোমার সঙ্গে সেই সমস্ত ভাগ করে নেব।”
NUM 10:33 এইভাবে তারা সদাপ্রভুর পর্বত থেকে বের হয়ে তিনদিনের পথ ভ্রমণ করল। সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক তাদের অগ্রবর্তী হয়ে সেই তিন দিন চলার পর তারা বিশ্রামের জন্য জায়গা অন্বেষণ করল।
NUM 10:34 তারা যখন শিবির থেকে বের হল, সদাপ্রভুর মেঘ তাদের ঊর্ধ্বে বিদ্যমান ছিল।
NUM 10:35 যখনই সিন্দুক যাত্রা করত মোশি বলতেন, “হে সদাপ্রভু, ওঠো! তোমার শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করো; যারা তোমাকে ঘৃণা করে তারা তোমার সামনে থেকে পালিয়ে যাক।”
NUM 10:36 যখনই বিশ্রামের অবকাশ হত, তিনি বলতেন, “সদাপ্রভু, ফিরে এসো, অযুত অযুত ইস্রায়েলীদের মধ্যে।”
NUM 11:1 এরপর জনগণ সদাপ্রভুর কর্ণগোচরে তাদের ক্লেশের জন্য অভিযোগ করল এবং তিনি যখন তা শুনলেন তখন তিনি রুষ্ট হলেন। তখন সদাপ্রভুর কাছ থেকে আগুন বের হয়ে ছাউনির প্রান্তসীমার কিছু অংশ পুড়িয়ে দিল।
NUM 11:2 যখন সেই লোকেরা মোশির কাছে কাঁদল, তিনি সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করলেন এবং আগুন নিবে গেল।
NUM 11:3 এজন্য সেই স্থানের নাম তবেরা রাখা হল, কারণ সদাপ্রভুর কাছ থেকে আগুন বেরিয়ে এসে তাদের পুড়িয়ে দিয়েছিল।
NUM 11:4 তাদের মধ্যে বসবাসকারী উচ্ছৃঙ্খল লোকেরা, বিকল্প খাবারের জন্য অনুনয় করল এবং ইস্রায়েলীরা পুনরায় বিলাপ করে বলতে লাগল, “আমাদের খাবারের জন্য যদি একটু মাংস পেতাম!
NUM 11:5 স্মরণে আসছে, মিশরে আমরা বিনামূল্যে মাছ খেতাম, সেই সঙ্গে শসা, তরমুজ, সবজি, পিঁয়াজ, রসুনও খেতাম।
NUM 11:6 কিন্তু এখন আমাদের ক্ষুধার অবলুপ্তি ঘটেছে; এই মান্না ছাড়া অন্য কিছু দেখা যায় না।”
NUM 11:7 মান্না, ধনে বীজের মতো আকৃতি এবং দেখতে কিশমিশের মতো ছিল।
NUM 11:8 লোকেরা চতুর্দিকে ভ্রমণ করে তা সংগ্রহ করত, তারপর যাঁতায় পেষণ অথবা হামানদিস্তায় চূর্ণ করত। তারা কোনো পাত্রে সেই মান্না রান্না করত, নতুবা তা দিয়ে পিঠে তৈরি করত। জলপাই তেলে প্রস্তুত কোনো পদের মতোই তার স্বাদ ছিল।
NUM 11:9 রাত্রিবেলা, ছাউনিতে শিশিরের সঙ্গে মান্না পড়ত।
NUM 11:10 মোশি প্রত্যেক পরিবারের বিলাপ শুনতে পেলেন। তারা প্রত্যেকে নিজেদের তাঁবুর প্রবেশ মুখে ছিল। সদাপ্রভু ভয়ংকর রুষ্ট হওয়াতে, মোশি উদ্বিগ্ন হলেন।
NUM 11:11 তিনি সদাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার দাসকে এই সমস্যার সম্মুখীন কেন করেছ? আমি কোন কাজ করতে তোমাকে অসন্তুষ্ট করেছি যে তুমি এই সমস্ত লোকের ভার আমার উপর চাপিয়ে দিলে?
NUM 11:12 এদের সবাইকে কি আমি গর্ভে ধারণ করেছিলাম? আমি কি তাদের জন্ম দিয়েছি? ধাত্রী যেমন শিশুসন্তান বহন করে, সেভাবে, কেন তুমি আমাকে বলেছিলে, তাদের বহন করে, পূর্বপুরুষদের কাছে করা শপথ অনুসারে প্রতিজ্ঞাত দেশে নিয়ে যেতে?
NUM 11:13 এই সমস্ত লোকের জন্য আমি এখন কোথায় মাংস পাব? তারা আমার কাছে কেঁদে বলছে, ‘আমাদের খাবারের জন্য মাংস দাও!’
NUM 11:14 আমি এককভাবে, এই সমস্ত লোকের দায়িত্ব বহন করতে পারব না। তা আমার শক্তির অতিরিক্ত।
NUM 11:15 আমার সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার যদি তোমার অভিপ্রেত হয়, তাহলে এই মুহূর্তেই আমাকে বধ করো, যদি তোমার দৃষ্টিতে কৃপা লাভ করে থাকি, আমাকে ধ্বংসের সম্মুখীন হতে দিয়ো না।”
NUM 11:16 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “আমার কাছে ইস্রায়েলের সত্তরজন প্রবীণ ব্যক্তিকে, যারা জনসমাজের নেতা ও কর্মকর্তারূপে তোমার কাছে পরিচিত, তাদের নিয়ে এসো। তারা সমাগম তাঁবুতে সমাগত হোক, যেন তারা সেই জায়গায় তোমার সঙ্গে দাঁড়ায়।
NUM 11:17 আমি নেমে এসে তোমার সঙ্গে আলাপ করব এবং তোমার উপরে যে আত্মা বিদ্যমান, সেই আত্মা আমি তাদের উপরেও অধিষ্ঠান করাব। তারা তোমার সঙ্গে জনসমাজের দায়িত্ব বহন করবে, যেন তোমাকে এককভাবে সমস্ত ভারবহন করতে না হয়।
NUM 11:18 “লোকদের বলো, ‘আগামীকালের জন্য প্রস্তুত হও, নিজেদের পবিত্র করো, যখন তোমরা মাংস ভোজন করতে পারবে। তোমরা যখন বিলাপ করে বলেছিলে, “যদি আহার করার জন্য মাংস পেতাম! মিশরেই আমরা অপেক্ষাকৃত ভালো ছিলাম!” সেই কথা সদাপ্রভু শুনেছিলেন। এইবার, সদাপ্রভু তোমাদের মাংস জোগাবেন, তোমরা তা ভোজন করবে।
NUM 11:19 মাত্র একদিন, দু-দিন, পাঁচ, দশ কি কুড়ি দিনের জন্য তোমরা ভোজন করবে, তা নয়;
NUM 11:20 সম্পূর্ণ এক মাস অবধি, যতক্ষণ না মাংস তোমাদের নাক থেকে বহির্গত হয় ও তোমাদের বিরাগ জন্মে, কারণ যিনি তোমাদের মধ্যে অবস্থানকারী, তোমরা সেই সদাপ্রভুকে প্রত্যাখ্যান করেছ, বলেছ, “কেন আমরা সম্পূর্ণরূপে মিশর পরিত্যাগ করে এলাম?” ’ ”
NUM 11:21 কিন্তু মোশি বললেন, “এখানে আমি ছয় লক্ষ পদাতিকের মধ্যে অবস্থান করছি এবং তুমি বলছ, ‘আমি তাদের এক মাস পর্যন্ত মাংস ভোজন করতে দেব!’
NUM 11:22 যদি পাল পাল গবাদি পশু ও মেষ হনন করা হয়, তা হলেও তাদের জন্য পরিমাণে কি তা পর্যাপ্ত হবে? যদি সমুদ্রের সমস্ত মাছ ধরা হয়, তাও কি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে?”
NUM 11:23 সদাপ্রভু মোশিকে উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর হাত কি নিতান্তই সংকুচিত হয়েছে? তুমি এবার দেখবে, আমি যা বলি, তা তোমাদের জন্য বাস্তব হয় কি না!”
NUM 11:24 অতএব মোশি বাইরে গিয়ে সদাপ্রভু যে সমস্ত কথা বলেছিলেন, তা লোকদেরকে বললেন। তাদের সত্তরজন প্রবীণকে একত্র করে, সেই শিবিরের চতুর্দিকে দাঁড় করালেন।
NUM 11:25 তখন সদাপ্রভু মেঘের মধ্যে অবতীর্ণ হলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন; তিনি ঈশ্বরের সেই আত্মা সত্তরজন প্রবীণের উপর অধিষ্ঠান করালেন, যে আত্মা মোশির উপর ছিলেন। যখন আত্মা তাঁদের উপর অধিষ্ঠান করলেন, তাঁরা ভাববাণী বলতে লাগলেন, অবশ্য পরে তাঁরা আর তা করেননি।
NUM 11:26 কিন্তু, ইল্‌দদ ও মেদদ নামক দুজন ব্যক্তি ছাউনিতেই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁরাও প্রবীণদের মধ্যে গণিত হয়েছিলেন, যদিও বের হয়ে সেই শিবিরের কাছে যাননি। তা সত্ত্বেও আত্মা তাঁদের উপরে অধিষ্ঠিত হলেন এবং তাঁরা ছাউনির মধ্যেই ভাববাণী বলা শুরু করলেন।
NUM 11:27 একজন যুবক দৌড়ে গিয়ে মোশিকে বলল, “ইল্‌দদ ও মেদদ, ছাউনির মধ্যেই ভাববাণী বলছেন।”
NUM 11:28 নূনের ছেলে যিহোশূয়, যিনি যৌবনকাল থেকে মোশির পরিচারক ছিলেন, তিনি বললেন, “আমার প্রভু, মোশি, ওদের বারণ করুন!”
NUM 11:29 কিন্তু মোশি উত্তরে বললেন, “আমার জন্য তুমি কি ঈর্ষান্বিত হয়েছ? আমার বাসনা, সদাপ্রভুর প্রত্যেকজন ব্যক্তি ভাববাদী হোন এবং তিনি তাদের সকলের উপর আত্মাকে অধিষ্ঠিত করুন।”
NUM 11:30 তারপর মোশি ও ইস্রায়েলের প্রবীণেরা ছাউনিতে ফিরে গেলেন।
NUM 11:31 তখন সদাপ্রভুর কাছ থেকে এক ঝড় বের হয়ে সমুদ্র থেকে ভারুই পাখিদের তুলে নিয়ে এল। সেই ঝড়, ছাউনির চতুর্দিকে তাদের উড়িয়ে নিয়ে এল। তারা ভূমি থেকে তিন ফুট উঁচুতে অবস্থান করল এবং যে কোনো দিশায়, একদিনের চলার পথ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে রইল।
NUM 11:32 সেদিন, সম্পূর্ণ দিন ও রাত এবং তার পরেরও সম্পূর্ণ দিন সবাই ভারুই পাখি সংগ্রহ করল। কোনো ব্যক্তিই দশ হোমারের কম সংগ্রহ করল না। তারা সেই সমস্ত পাখি ছাউনির চতুর্দিকে ছড়িয়ে রাখল।
NUM 11:33 মাংস তাদের দাঁতে থাকতে থাকতেই এবং সব সমাপ্ত হবার আগেই লোকেদের বিপক্ষে সদাপ্রভুর রোষ বহ্নিমান হল। তিনি ভয়ংকর এক মহামারি দ্বারা তাদের আঘাত করলেন।
NUM 11:34 অতএব সেই স্থানের নাম রাখা হল কিব্রোৎ-হত্তাবা, কারণ যারা ভিন্নতর খাবারের জন্য লোভাতুর হয়েছিল, তাদের সেখানেই তারা সমাধি দিল।
NUM 11:35 কিব্রোৎ-হত্তাবা থেকে সেই জনতা, হৎসেরোতে যাত্রা করল এবং সেই জায়গায় অবস্থান করল।
NUM 12:1 মরিয়ম ও হারোণ, মোশির কূশীয়া স্ত্রীর জন্য, তাঁর বিপক্ষে কথা বলা শুরু করলেন, কারণ তিনি এক কূশীয়া নারীকে বিয়ে করেছিলেন।
NUM 12:2 তাঁরা প্রশ্ন করলেন, “সদাপ্রভু কি শুধু মোশির মাধ্যমেই কথা বলেছেন? তিনি কি আমাদের মাধ্যমেও কথা বলেননি?” সদাপ্রভু সেই কথা শুনলেন।
NUM 12:3 (এদিকে মোশি, একজন অত্যন্ত নম্র, ভূপৃষ্ঠ নিবাসী যে কোনো ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর নম্র ছিলেন।)
NUM 12:4 সদাপ্রভু অনতিবিলম্বে মোশি, হারোণ ও মরিয়মকে বললেন, “তোমরা তিনজনই বেরিয়ে সমাগম তাঁবুর কাছে এসো।” তাঁরা তিনজনই বেরিয়ে এলেন।
NUM 12:5 তখন সদাপ্রভু এক মেঘস্তম্ভে অবতরণ করলেন; তিনি তাঁবুর প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে হারোণ ও মরিয়মকে ডাকলেন। তাঁরা উভয়েই যখন সামনে এগিয়ে গেলেন,
NUM 12:6 তিনি বললেন, “আমার কথা শোনো, “তোমাদের মধ্যে থেকে যখন কোনো ভাববাদীর কাছে, আমি, সদাপ্রভু, দর্শনের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করি, আমি স্বপ্নে তাঁর সঙ্গে আলাপ করি।
NUM 12:7 কিন্তু আমার দাস মোশি সেরকম নয়, সে আমার সমস্ত গৃহের মধ্যে বিশ্বাসভাজন।
NUM 12:8 আমি তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলাপ করি, স্পষ্টভাষায় বলি, হেঁয়ালি করে নয়, সে সদাপ্রভুর অবয়ব প্রত্যক্ষ করে। তাহলে তোমরা ভীত হলে না কেন, আমার সেবক মোশির বিপক্ষে কথা বলতে?”
NUM 12:9 সদাপ্রভুর রোষ তাঁদের প্রতি বহ্নিমান হল এবং তিনি তাঁদের ত্যাগ করে চলে গেলেন।
NUM 12:10 যখন সেই মেঘ, তাঁবুর উপর থেকে প্রস্থান করল, মরিয়ম হিমের মতো কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হয়ে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। হারোণ তাঁর দিকে ফিরে দৃষ্টিপাত করলেন, দেখলেন তাঁর কুষ্ঠ হয়েছে।
NUM 12:11 তিনি মোশিকে বললেন, “আমার প্রভু, নির্বোধের মতো করে ফেলা আমাদের পাপ, দয়া করে আমাদের বিপক্ষে ধরে রাখবেন না।
NUM 12:12 সে মাতৃগর্ভ থেকে নিঃসৃত, অর্ধ-ক্ষয়িষ্ণু, মৃতজাত শিশুর মতো না হোক।”
NUM 12:13 মোশি তাই সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে বললেন, “হে ঈশ্বর, কৃপাবশত তাকে সুস্থ করো!”
NUM 12:14 সদাপ্রভু মোশিকে উত্তর দিলেন, “যদি তাঁর বাবা, তাঁর মুখে থুতু দিত, তাহলে সাত দিন সে কি লজ্জিত হত না? ছাউনির বাইরে তাঁকে সাত দিন আবদ্ধ রাখো; তারপর ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।”
NUM 12:15 অতএব, মরিয়ম সাত দিন, ছাউনির বাইরে আবদ্ধ রইলেন এবং তাঁর ফিরে না আসা অবধি, লোকেরা যাত্রায় অগ্রসর হল না।
NUM 12:16 তারপর সেই লোকেরা হৎসেরোৎ ত্যাগ করে পারণ মরুভূমিতে গিয়ে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 13:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 13:2 “আমি ইস্রায়েলীদের যে দেশ দিতে চাই, সেই কনানের ভূমি নিরীক্ষণ করতে কয়েকজন ব্যক্তিকে পাঠাও। প্রত্যেক পিতৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ থেকে একজন করে পাঠাও।”
NUM 13:3 অতএব মোশি সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে, তাদের পারণ প্রান্তর থেকে পাঠালেন। তাঁরা প্রত্যেকেই ইস্রায়েলীদের নেতা ছিলেন।
NUM 13:4 এই তাঁদের নাম: রূবেণ গোষ্ঠী থেকে সক্কুরের ছেলে শম্মূয়;
NUM 13:5 শিমিয়োন গোষ্ঠী থেকে হোরির ছেলে শাফট;
NUM 13:6 যিহূদা গোষ্ঠী থেকে যিফূন্নির ছেলে কালেব;
NUM 13:7 ইষাখর গোষ্ঠী থেকে যোষেফের ছেলে যিগাল;
NUM 13:8 ইফ্রয়িম গোষ্ঠী থেকে নূনের ছেলে হোশেয়;
NUM 13:9 বিন্যামীন গোষ্ঠী থেকে রাফূর ছেলে পল্‌টি;
NUM 13:10 সবূলূন গোষ্ঠী থেকে সোদির ছেলে গদ্দীয়েল;
NUM 13:11 মনঃশি (যোষেফের একটি গোষ্ঠী) গোষ্ঠী থেকে সূষির ছেলে গদ্দি;
NUM 13:12 দান গোষ্ঠী থেকে গমল্লির ছেলে অম্মীয়েল;
NUM 13:13 আশের গোষ্ঠী থেকে মীখায়েলের ছেলে সথুর;
NUM 13:14 নপ্তালি গোষ্ঠী থেকে বপ্সির ছেলে নহ্‌বি;
NUM 13:15 গাদ গোষ্ঠী থেকে মাখির ছেলে গ্যূয়েল।
NUM 13:16 মোশি যে ব্যক্তিদের দেশ নিরীক্ষণ করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের নামগুলি এই। (মোশি নূনের ছেলে হোশেয়ের নাম রাখলেন যিহোশূয়।)
NUM 13:17 কনান নিরীক্ষণ করতে পাঠানোর সময় মোশি তাঁদের বললেন, “নেগেভের মধ্য দিয়ে উঠে পার্বত্য অঞ্চলে গমন করবে।
NUM 13:18 লক্ষ্য করবে, সেই দেশ কী রকম, সেখানকার লোকেরা দুর্বল না শক্তিশালী। তারা সংখ্যায় অল্প না বেশি।
NUM 13:19 কোন ধরনের ভূমিতে তারা বসবাস করে? তা কী ভালো না মন্দ? কোন ধরনের নগরে তাদের নিবাস? সেগুলি প্রাচীর বিহীন না সুরক্ষিত?
NUM 13:20 মাটিই বা কী রকম? উর্বর না সাধারণ? বৃক্ষসমন্বিত না বৃক্ষবিহীন? আপ্রাণ চেষ্টা কোরো, সেই দেশের কিছু ফল নিয়ে আসতে।” (তখন আঙুর পাকার সময় ছিল।)
NUM 13:21 অতএব তাঁরা উঠে গেলেন এবং সীন মরুভূমি থেকে রহোব পর্যন্ত, লেবো-হমাৎ অভিমুখে ভ্রমণ করলেন।
NUM 13:22 তাঁরা নেগেভ হয়ে নিরীক্ষণ করে হিব্রোণে এলেন। সেখানে অহীমান, শেশয়, ও তল্‌ময় নামবিশিষ্ট, অনাকের তিনজন উত্তরাধিকারী বসবাস করত। (মিশরে সোয়ন নির্মিত হওয়ার সাত বছর আগে হিব্রোণ নির্মিত হয়েছিল।)
NUM 13:23 যখন তাঁরা ইষ্কোল উপত্যকায় উপস্থিত হলেন, তাঁরা দ্রাক্ষার গুচ্ছ সমন্বিত একটি শাখা কাটলেন। দুজন ব্যক্তি, একটি দণ্ডের দ্বারা সেই দ্রাক্ষাগুচ্ছ এবং কিছু বেদানা ও ডুমুর বহন করে আনলেন।
NUM 13:24 যেহেতু দ্রাক্ষাগুচ্ছ ইস্রায়েলীরা কেটে এনেছিল, তাই সেই স্থানের নাম হল, ইষ্কোল উপত্যকা।
NUM 13:25 চল্লিশ দিনের শেষে, তাঁরা দেশ নিরীক্ষণ করে ফিরে এলেন।
NUM 13:26 পারণ প্রান্তরে, কাদেশে তাঁরা মোশি, হারোণ এবং সমস্ত ইস্রায়েলীদের কাছে ফিরে এলেন। সেখানে তাঁরা, তাঁদের এবং সমস্ত সম্প্রদায়কে দেশ নিরীক্ষণের বিশদ বিবরণ দিলেন ও সেই দেশের ফল তাদের দেখালেন।
NUM 13:27 তাঁরা মোশিকে বর্ণনা দিয়ে বললেন, “আপনি যে দেশে আমাদের পাঠিয়েছিলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। সেই দেশ অবশ্যই দুধ ও মধু প্রবাহী! এই ফলগুলি, সেই দেশের।
NUM 13:28 কিন্তু যারা সেখানে বসবাস করে, তারা বলিষ্ঠ, তাদের নগরগুলি সুরক্ষিত এবং বড়ো বড়ো। আমরা সেখানে অনাকের উত্তরসূরীদেরও দেখেছি।
NUM 13:29 নেগেভে অমালেকীয়েরা বসবাস করে; হিত্তীয়, যিবূষীয়, ইমোরীয়েরা পার্বত্য অঞ্চলে এবং কনানীয়েরা সমুদ্রের কাছে ও জর্ডন উপকূলে বসবাস করে।”
NUM 13:30 তখন কালেব, মোশির সামনে তাঁদের শান্ত করে বলল, “আমাদের উচিত, উঠে গিয়ে সেই দেশ অধিকার করা, কারণ সেই শক্তি আমাদের অবশ্যই আছে।”
NUM 13:31 যে ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁরা বললেন, “আমরা ওই ব্যক্তিদের আক্রমণ করতে পারি না; তারা আমাদের থেকেও বেশি শক্তিশালী।”
NUM 13:32 তাঁরা যে দেশ নিরীক্ষণ করে এসেছিলেন, সেই দেশ সম্পর্কে ইস্রায়েলীদের মধ্যে বিরূপ সংবাদ ছড়াল। তাঁরা বললেন, “যে দেশ আমরা নিরীক্ষণ করেছি সেই দেশ নিজের অধিবাসীদের গ্রাস করে। যে সমস্ত লোককে সেখানে আমরা দেখেছি তারা সবাই বৃহদাকার।
NUM 13:33 আমরা নেফিলীমদেরও সেখানে দেখেছি। (অনাকের উত্তরসূরিদের আগমন নেফিলিম থেকে) আমরা নিজেদের দৃষ্টিতে, সেই সঙ্গে তাদের দৃষ্টিতেও, ফড়িং-এর মতো প্রতিপন্ন হয়েছি।”
NUM 14:1 সেই রাতে, সমাজের আপামর জনতা, উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করল।
NUM 14:2 ইস্রায়েলীরা সবাই, মোশি ও হারোণের বিপক্ষে অসন্তোষ প্রকাশ করল। সম্পূর্ণ সমাজ তাঁদের বলল, “ভালো হত, যদি আমরা মিশরেই, অথবা এই প্রান্তরেই মারা যেতাম!
NUM 14:3 সদাপ্রভু তরোয়াল দ্বারা বধ করার অভিপ্রায়ে, কেন আমাদের এই দেশে নিয়ে এলেন? আমাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা লুন্ঠিত হবে। আমাদের জন্য মিশরে ফিরে যাওয়াই কি বেশি ভালো নয়?”
NUM 14:4 তারা পরস্পর আলোচনা করে বলল, “একজন নেতা মনোনীত করে আমাদের মিশরে ফিরে যাওয়াই উচিত।”
NUM 14:5 তখন মোশি ও হারোণ, সমবেত সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজের সামনে উপুড় হয়ে পড়লেন।
NUM 14:6 নূনের ছেলে যিহোশূয় এবং যিফূন্নির ছেলে কালেব, যাঁরা দেশ নিরীক্ষণ করেছিলেন, নিজেদের বস্ত্র চিরলেন,
NUM 14:7 এবং সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজকে বললেন, “যে দেশ আমরা সরেজমিনে নিরীক্ষণ করেছি, তা অত্যন্ত ভালো।
NUM 14:8 যদি সদাপ্রভু আমাদের উপরে প্রীত হন, তিনি সেই দেশে, দুধ ও মধু প্রবাহী দেশে, আমাদের নিয়ে যাবেন ও তা দান করবেন।
NUM 14:9 কেবল সদাপ্রভুর বিদ্রোহী হোয়ো না। সেই দেশনিবাসী লোকেদের ভয় পেয়ো না কারণ আমরা তাদের দেশ কুক্ষিগত করব। তাদের নিরাপত্তা বিলীন হয়েছে, কিন্তু সদাপ্রভু আমাদের সহবর্তী আছেন। তাদের থেকে ভীত হোয়ো না।”
NUM 14:10 সমগ্র জনতা কিন্তু তাঁদের প্রস্তরাঘাত করার কথা বলল। তখন ইস্রায়েলীদের সবার সামনে, সদাপ্রভুর মহিমা, সমাগম তাঁবুতে প্রত্যক্ষ হল।
NUM 14:11 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “কত কাল এই লোকেরা আমার অবমাননা করবে? তাদের মধ্যে আমার সমস্ত অলৌকিক চিহ্নকাজ প্রদর্শিত হওয়া সত্ত্বেও, কত কাল তারা আমাকে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করবে?
NUM 14:12 আমি তাদের মহামারির মাধ্যমে আঘাত করে ধ্বংস করব এবং তোমাকে এক মহত্তর ও তাদের অপেক্ষাও শক্তিধর জাতিতে পরিণত করব।”
NUM 14:13 মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “যখন মিশরীয়রা এই কথা শুনতে পাবে! তোমরা শক্তিবলে এই লোকদেরকে, তুমি তাদের মধ্য থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে।
NUM 14:14 তারা এই দেশনিবাসী সবাইকে সেই কথা বলবে। তারা ইতিমধ্যেই শুনেছে, তুমি সদাপ্রভু, এই লোকদের সহবর্তী আছ এবং সদাপ্রভু, তুমি সামনাসামনি এদের দর্শন দিয়ে থাকো। তোমার মেঘ এদের উপরে অবস্থান করে এবং তুমি এদের পুরোভাগে থেকে, দিনের বেলায় মেঘস্তম্ভে ও রাত্রিবেলায় অগ্নিস্তম্ভে গমন করো।
NUM 14:15 যদি তুমি এদের সবাইকে একসঙ্গে বিনাশ করো, কাউকে জীবিত না রাখ, তাহলে যে জাতিসমূহ তোমার সম্পর্কে এই সমস্ত কথা শুনেছে, তারা বলবে,
NUM 14:16 ‘সদাপ্রভু শপথ করে যে দেশ এই জাতিকে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা দিতে সক্ষম হলেন না, তাই তিনি প্রান্তরে তাদের বধ করলেন।’
NUM 14:17 “এখন সদাপ্রভুর শক্তি প্রদর্শিত হোক, যেভাবে তুমি ঘোষণা করেছ,
NUM 14:18 ‘সদাপ্রভু ক্রোধে ধীর, প্রেমে সমৃদ্ধ, পাপ ও বিদ্রোহ ক্ষমা করেন। তা সত্ত্বেও অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে তিনি ছেড়ে দেন না; তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত তিনি বাবা-মার পাপের জন্য তাদের সন্তানদের শাস্তি দেন।’
NUM 14:19 তোমার মহান প্রেমবশত লোকেদের পাপ মার্জনা করো, ঠিক যে রকম ভাবে, মিশর পরিত্যাগ করার সময় থেকে, এ পর্যন্ত তাদের মার্জনা করে এসেছ।”
NUM 14:20 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “তুমি যেমন চেয়েছ, আমি তাদের ক্ষমা করেছি।
NUM 14:21 তা সত্ত্বেও, আমার জীবনের দিব্য এবং সমস্ত পৃথিবী সদাপ্রভুর প্রতাপে পরিপূর্ণ হবে,
NUM 14:22 যত লোক আমার প্রতাপ এবং মিশরে ও প্রান্তরে আমার সাধিত অলৌকিক কাজগুলি প্রত্যক্ষ করেছে, কিন্তু আমাকে অমান্য করে দশবার আমার পরীক্ষা করেছে,
NUM 14:23 তাদের মধ্যে একজনও কখনোই সেই দেশ দেখতে পাবে না, যা আমি শপথপূর্বক, তাদের পূর্বপুরুষদের দান করার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। যারা আমাকে অবজ্ঞা করেছে তাদের মধ্যে কেউই, কখনোই সেই দেশ দেখতে পাবে না।
NUM 14:24 কিন্তু, যেহেতু আমার সেবক কালেবের অন্তরে এক ভিন্নতর আত্মা আছে এবং যে সর্বান্তঃকরণে আমার অনুগামী হয়েছে, তাই যে দেশে সে গিয়েছিল, আমি তাকে সেই দেশে নিয়ে যাব এবং তাঁর বংশধরেরা সেই দেশ অধিকার করবে।
NUM 14:25 যেহেতু উপত্যকাসমূহে অমালেকীয় ও কনানীয়েরা বসতি করে, সেইজন্য আগামীকাল বিপরীতমুখী হও এবং লোহিত সাগরের পথ দিয়ে প্রান্তরের অভিমুখে যাত্রারম্ভ করো।”
NUM 14:26 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 14:27 “কত কাল এই দুষ্ট জনতা আমার বিপক্ষে বচসা করবে? আমি বচসাকারী এই সমস্ত ইস্রায়েলীদের অভিযোগ শুনেছি।
NUM 14:28 তাই তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন, আমার জীবনের দিব্য, তোমরা যে কথা বলেছ, আমি তোমাদের জন্য সেই কাজই করব।
NUM 14:29 যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, জনগণনায় যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং আমার বিপক্ষে যারা বচসা করেছে, তাদের প্রত্যেকের দেহ এই প্রান্তরে নিপাতিত হবে।
NUM 14:30 তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তিও সেই দেশে প্রবেশ করবে না, যা তোমাদের বাসভূমি হবে বলে আমি হস্ত উত্তোলন পূর্বক শপথ করেছিলাম। শুধুমাত্র যিফূন্নির ছেলে কালেব ও নূনের ছেলে যিহোশূয় হবে ব্যতিক্রম।
NUM 14:31 কিন্তু যে সমস্ত শিশুর সম্পর্কে তোমরা বলেছিলে যে তারা লুন্ঠিত হবে, আমি তাদের সেই দেশে নিয়ে যাব, যে দেশ তোমরা প্রত্যাখ্যান করেছ।
NUM 14:32 কিন্তু তোমাদের দেহ এই মরুভূমিতে পতিত হবে।
NUM 14:33 তোমাদের সন্তানেরা চল্লিশ বছর এখানে পশু চরাবে, তোমাদের অবিশ্বস্ততার জন্য তারা কষ্টভোগ করবে, যতদিন না তোমাদের শেষ ব্যক্তির দেহ এই প্রান্তরে কবরস্থ হয়।
NUM 14:34 চল্লিশ বছর পর্যন্ত, দেশ পরিক্রমা করার উদ্দেশে চল্লিশ দিনের জন্য, এক একদিনের পরিবর্তে এক এক বছর, তোমরা তোমাদের পাপের পরিণতি ভোগ করবে। তোমরা উপলব্ধি করবে, আমার বিপক্ষতা করা, কতই না ভয়ানক বিষয়!’
NUM 14:35 আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি, এর সমস্তই এই দুষ্ট সমাজের প্রতি পূর্ণ করব, যারা একসঙ্গে আমার বিপক্ষতা করার উদ্দেশে জোটবদ্ধ হয়েছে। তারা তাদের অন্তিমদশা এই প্রান্তরে দেখতে পাবে। তারা সবাই এখানেই মরবে।”
NUM 14:36 তাই, মোশি যাদের দেশ নিরীক্ষণ করতে পাঠিয়েছিলেন তারা ফিরে এসে সেই দেশ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সমস্ত সমাজকে বচসা করতে প্ররোচিত করেছিল,
NUM 14:37 সেই ব্যক্তিরা, যারা সেই দেশ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করছিল, তারা সদাপ্রভুর সামনে এক মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মরল।
NUM 14:38 যারা দেশ পরিক্রমা করতে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে কেবল নূনের ছেলে যিহোশূয় ও যিফূন্নির ছেলে কালেব অবশিষ্ট রইলেন।
NUM 14:39 মোশি যখন ইস্রায়েলীদের সবাইকে এই সংবাদ দিলেন, তারা খুব কান্নাকাটি করল।
NUM 14:40 পরদিন ভোরবেলায়, তারা উঁচু পর্বতাঞ্চলে আরোহণ করল। তারা বলল, “আমরা পাপ করেছি। সদাপ্রভু যে দেশের বিষয় প্রতিজ্ঞা করেছেন, আমরা সেখানে যাব।”
NUM 14:41 কিন্তু মোশি উত্তর দিলেন, “তোমরা সদাপ্রভুর আদেশ কেন লঙ্ঘন করেছ? এভাবে কৃতকার্য হবে না।
NUM 14:42 উপরে উঠে যাবে না, কারণ সদাপ্রভু তোমাদের সহবর্তী নন। তোমরা শত্রুদের হাতে পরাজিত হবে,
NUM 14:43 কারণ অমালেকীয় ও কনানীয়েরা সেখানে তোমাদের সম্মুখীন হবে। যেহেতু তোমরা সদাপ্রভুর কাছ থেকে বিপথগমন করেছ, তিনি আর তোমাদের সহবর্তী থাকবেন না এবং তরোয়াল দ্বারা তোমাদের পতন হবে।”
NUM 14:44 তা সত্ত্বেও, সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে, তারা উঁচু পর্বতে অবস্থিত নগরে উঠে গেল, যদিও মোশি, অথবা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক ছাউনি থেকে অগ্রসর হয়নি।
NUM 14:45 তখন সেই পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অমালেকীয় ও কনানীয়েরা নেমে এসে তাদের আক্রমণ করল এবং হর্মা পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে গেল।
NUM 15:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 15:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘যে দেশ তোমাদের বাসভূমি বলে আমি দান করেছি, সেখানে প্রবেশ করার পর,
NUM 15:3 তোমরা সদাপ্রভুর কাছে গবাদি পশুপাল অথবা মেষপাল থেকে, আগুনের মাধ্যমে, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিস্বরূপ নৈবেদ্য নিয়ে আসবে। সেই নৈবেদ্য হোম-নৈবেদ্য বা পশুবলি, বিশেষ মানতের উদ্দেশে বা স্বেচ্ছাদত্ত উপহার, অথবা উৎসবের বলি, যাইহোক না কেন, নিয়ে আসবে।
NUM 15:4 তখন যে ব্যক্তি তার নৈবেদ্য নিয়ে আসবে, সে এক ঐফার এক-দশমাংশ মিহি ময়দা, হিনের এক-চতুর্থাংশ জলপাই তেলের সঙ্গে মিশ্রিত করে, শস্য-নৈবেদ্য সদাপ্রভুকে উপহার দেবে।
NUM 15:5 হোম-নৈবেদ্যের প্রত্যেকটি মেষশাবক, অথবা অন্য পশুবলির সঙ্গে, হিনের এক-চতুর্থাংশ দ্রাক্ষারস দিয়ে পেয়-নৈবেদ্য প্রস্তুত করবে।
NUM 15:6 “ ‘একটি মেষের সঙ্গে এক ঐফার দুই-দশমাংশ ও মিহি ময়দা নিয়ে, হিনের এক-তৃতীয়াংশ জলপাই তেল মিশ্রিত করে শস্য-নৈবেদ্য
NUM 15:7 এবং সেই সঙ্গে হিনের এক-তৃতীয়াংশ দ্রাক্ষারস দিয়ে পেয়-নৈবেদ্য প্রস্তুত করবে। সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে এই সমস্ত নিবেদন করবে।
NUM 15:8 “ ‘যখন তোমার একটি এঁড়ে বাছুর হোম-নৈবেদ্য বা বলিরূপে নিয়ে আসবে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে কোনও বিশেষ মানত পূরণ অথবা মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের জন্য,
NUM 15:9 তখন সেই এঁড়ে বাছুরের সঙ্গে এক ঐফার তিন-দশমাংশ মিহি ময়দার সঙ্গে অর্ধ হিন জলপাই তেল মিশ্রিত করে শস্য-নৈবেদ্য নিয়ে আসবে।
NUM 15:10 সেই সঙ্গে অর্ধ হিন দ্রাক্ষারস, পেয়-নৈবেদ্যরূপে নিয়ে আসবে। এটি ভক্ষ্য-নৈবেদ্য, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে, আগুনের মাধ্যমে নিবেদিত হবে।
NUM 15:11 প্রত্যেকটি ষাঁড় অথবা মেষ, প্রত্যেকটি মেষশাবক অথবা ছাগশিশু, এইরূপে আয়োজন করতে হবে।
NUM 15:12 তোমরা তাদের সংখ্যানুসারে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একই ধরনের করবে।
NUM 15:13 “ ‘স্বদেশে জাত প্রত্যেক ব্যক্তি, যখন সে সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য নিয়ে আসে, তখন এই সমস্ত বিষয় এভাবেই করবে।
NUM 15:14 ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী কোনো বিদেশি বা অন্য কেউ যদি সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, সে ঠিক তোমাদের মতোই করবে।
NUM 15:15 সমাজের মধ্যে তোমাদের এবং তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্যও একই বিধি প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এই বিধি চিরস্থায়ী। সদাপ্রভুর সামনে তোমরা এবং বিদেশি ব্যক্তি, উভয়ই সমান প্রতিপন্ন হবে।
NUM 15:16 অভিন্ন বিধি ও নিয়ম তোমাদের ও তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’ ”
NUM 15:17 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 15:18 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘যেখানে আমি তোমাদের নিয়ে যাচ্ছি, যখন তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করবে
NUM 15:19 এবং সেই দেশের খাদ্যদ্রব্য আহার করবে, তখন তার একটু অংশ নিয়ে সদাপ্রভুর কাছে নৈবেদ্যরূপে উপহার দেবে।
NUM 15:20 তোমাদের ভূমিজাত প্রথম খাদ্যদ্রব্য থেকে একটি পিঠে নিবেদন করবে; খামারের উত্তোলনীয় নৈবেদ্য বলেই সেটি উৎসর্গ করবে।
NUM 15:21 পুরুষ-পরম্পরায় তোমাদের প্রথম ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্যের এই উত্তোলনীয় নৈবেদ্য সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদন করতে হবে।
NUM 15:22 “ ‘এখন মোশিকে দত্ত সদাপ্রভুর এই আদেশসমূহের কোনো একটি, তোমরা সমাজরূপে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে, পালন করতে ব্যর্থ হও,
NUM 15:23 এমনকি সদাপ্রভু যে দিনে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন, সেদিন থেকে পুরুষ-পরম্পরায় তোমাদের জন্য সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে তোমাদের যত আদেশ দিয়েছেন,
NUM 15:24 সেসব যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে পালন না করো এবং তা যদি সমাজের অজ্ঞাতসারে হয়, তাহলে সমস্ত সমাজ, হোম-নৈবেদ্যরূপে, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভির জন্য, এক এঁড়ে বাছুর উৎসর্গ করবে ও সেই সম্পর্কিত শস্য-নৈবেদ্য, পেয়-নৈবেদ্য এবং পাপার্থক বলির জন্য একটি ছাগল উৎসর্গ করবে।
NUM 15:25 যাজক সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং তাদের পাপ ক্ষমা করা হবে। যেহেতু তাদের অন্যায়ের জন্য তারা সদাপ্রভুর কাছে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য ও পাপার্থক বলি নিয়ে আসবে, কারণ সেই পাপ ইচ্ছাকৃত ছিল না।
NUM 15:26 সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজ এবং তাদের মধ্যবর্তী বসবাসকারী বিদেশিদের ক্ষমা করা হবে, যেহেতু সব লোক সেই অনিচ্ছাকৃত অন্যায়ে জড়িত ছিল।
NUM 15:27 “ ‘কিন্তু যদি মাত্র একজন ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে, সে পাপার্থক বলির জন্য একটি এক বর্ষীয় ছাগী নিয়ে আসবে।
NUM 15:28 যাজক সেই ব্যক্তির জন্য সদাপ্রভুর সামনে প্রায়শ্চিত্ত করবে, যে অনিচ্ছাকৃতভাবে পাপ করে অন্যায় করেছিল যখন তাঁর জন্য প্রায়শ্চিত্ত সম্পন্ন হবে তার পাপ ক্ষমা হবে।
NUM 15:29 যারা অনিচ্ছাকৃত পাপ করে, তাদের প্রত্যেকের জন্য সেই একই বিধি প্রযোজ্য হবে, সে স্বদেশি ইস্রায়েলী হোক, অথবা তাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশি ব্যক্তি।
NUM 15:30 “ ‘কিন্তু যদি কোনো স্বদেশি বা বিদেশি ব্যক্তি ঔদ্ধত্য দেখিয়ে পাপ করে, যদি সে সদাপ্রভুর নিন্দা করে, সেই ব্যক্তি, তার জনগোষ্ঠী থেকে উচ্ছিন্ন হবে।
NUM 15:31 কারণ সে সদাপ্রভুর আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে ও তাঁর বিধি লঙ্ঘন করেছে। সেই ব্যক্তি নিশ্চিতরূপে উচ্ছিন্ন হবে; কারণ তার অপরাধ তার উপরে বর্তাবে।’ ”
NUM 15:32 ইস্রায়েলীরা যখন প্রান্তরে ছিল, তখন একজন ব্যক্তিকে বিশ্রামবারে কাঠ সংগ্রহ করতে দেখা গেল।
NUM 15:33 যারা তাকে কাঠ সংগ্রহ করতে দেখেছিল, তারা তাকে মোশি, হারোণ এবং সমস্ত সমাজের কাছে উপস্থিত করল।
NUM 15:34 তাঁরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন, কারণ তার প্রতি কী করণীয়, তা সুস্পষ্ট জানা ছিল না।
NUM 15:35 তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “লোকটি অবশ্যই মরবে। সমস্ত সমাজ তাকে ছাউনির বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রস্তরাঘাত করবে।”
NUM 15:36 অতএব সমস্ত সমাজ তাকে ছাউনির বাইরে নিয়ে গেল এবং যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, তাকে প্রস্তরাঘাতে বধ করল।
NUM 15:37 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 15:38 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘পুরুষ-পরম্পরায় তোমাদের পরিধেয় বস্ত্রের কোণে থোপ দেবে। প্রত্যেক থোপ নীল রংয়ের সুতো দিয়ে তৈরি হবে।
NUM 15:39 তোমরা এই সমস্ত থোপ প্রত্যক্ষ করলে, সদাপ্রভুর বিধিগুলি স্মরণে আনতে পারবে; তাহলে তোমরা সেই সমস্ত পালন করে তোমাদের হৃদয় ও চোখের অভিলাষ অনুসারে ব্যভিচার করবে না।
NUM 15:40 তখন তোমরা আমার আদেশগুলি পালন করার বিষয় স্মরণে আনবে এবং তোমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্র হবে।
NUM 15:41 আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যিনি মিশর থেকে তোমাদের ঈশ্বর হওয়ার জন্য তোমাদের মুক্ত করে এনেছি। আমিই সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর।’ ”
NUM 16:1 লেবির ছেলে কহাৎ, তার ছেলে যিষ্‌হর, তার ছেলে কোরহ এবং কয়েকজন রূবেণ গোষ্ঠীর ব্যক্তি—ইলীয়াবের ছেলে দাথন ও অবীরাম এবং পেলতের ছেলে ওন—উদ্ধত হল
NUM 16:2 এবং মোশির বিপক্ষতা করল। তাদের সঙ্গে 250 জন ইস্রায়েলী পুরুষ ছিল, যারা প্রত্যেকে সমাজের সুপরিচিত নেতা ছিল, যাদের মন্ত্রণা-সভার সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছিল।
NUM 16:3 তারা দলবদ্ধ হয়ে মোশি ও হারোণের বিরোধিতা করতে এল এবং তাঁদের বলল, “তোমাদের স্পর্ধা বহুদূর বিস্তৃত হয়েছে! সমস্ত সমাজ পবিত্র, প্রত্যেক ব্যক্তিই পবিত্র এবং সদাপ্রভু তাদের সহবর্তী আছেন। তাহলে কেন তোমরা নিজেদের অবস্থান সদাপ্রভুর সমাজের ঊর্ধ্বে উন্নীত করেছ?”
NUM 16:4 মোশি এই কথা শুনে ভূমিতে উপুড় হয়ে পড়লেন।
NUM 16:5 তিনি কোরহ ও তার অনুগামীদের বললেন, “সকালবেলায় সদাপ্রভু প্রকাশ করবেন, কে তাঁর অধিকারভুক্ত এবং কে পবিত্র। তিনি সেই ব্যক্তিকে তাঁর নিকটবর্তী করবেন। যে ব্যক্তিকে তিনি মনোনীত করেন, সেই তাঁর নিকটবর্তী হবে।
NUM 16:6 কোরহ, তুমি ও তোমার অনুগামী সবাই এই কাজ করো, অঙ্গারধানী নাও
NUM 16:7 এবং আগামীকাল তার মধ্যে আগুন ও ধূপ দিয়ে, সদাপ্রভুর সামনে নিবেদন করো। যে ব্যক্তিকে সদাপ্রভু মনোনীত করেন, সেই ব্যক্তি পবিত্র গণ্য হবে। লেবীয়রা, তোমাদের স্পর্ধা সীমা ছাড়িয়ে গেছে!”
NUM 16:8 মোশি কোরহকে এই কথাও বললেন, “লেবীয়েরা তোমরা এই কথা শোনো!
NUM 16:9 ইস্রায়েলের ঈশ্বর, অবশিষ্ট সমাজ থেকে তোমাদের পৃথক করে, তাঁর সান্নিধ্যে নিয়ে এসেছেন, যেন তোমরা সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুর কাজকর্ম করো এবং সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের পরিচর্যা করো, এই কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না?
NUM 16:10 তিনি তোমাদের ও তোমাদের সহচর লেবীয়দের তাঁর নিকটস্থ করেছেন, কিন্তু এখন তোমরা যাজকত্ব পদের জন্যও চেষ্টা করছ।
NUM 16:11 তোমরা ও তোমাদের অনুগামী সবাই, সদাপ্রভুর বিপক্ষেই জোটবদ্ধ হয়েছ। হারোণ কে যে তোমরা তার বিপক্ষে বচসা করো?”
NUM 16:12 মোশি ইলীয়াবের ছেলে দাথন ও অবীরামকে ডেকে পাঠালেন, কিন্তু তারা বলল, “আমরা যাব না।
NUM 16:13 তুমি এক দুধ ও মধু প্রবাহী দেশ থেকে, এই প্রান্তরে আমাদের মেরে ফেলতে এনেছ, এই কি যথেষ্ট নয়? এখন আমাদের উপর প্রভুত্ব করতে চাইছ?
NUM 16:14 এছাড়াও, এখনও তুমি আমাদের কোনো দুধ ও মধু প্রবাহী দেশে নিয়ে যাওনি অথবা শস্যক্ষেত্র ও দ্রাক্ষাকুঞ্জের কোনো অধিকার দান করোনি। তুমি কি এই সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করবে? না, আমরা যাব না!”
NUM 16:15 মোশি তখন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সদাপ্রভুকে বললেন, “ওই ব্যক্তিদের নৈবেদ্য গ্রহণ কোরো না। আমি তাদের কাছ থেকে, সর্বাধিক একটি গাধাও গ্রহণ করিনি অথবা তাদের কারও প্রতি কোনো অন্যায় আচরণ করিনি।”
NUM 16:16 মোশি কোরহকে বললেন, “তুমি ও তোমার সমস্ত অনুগামী, আগামীকাল সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হবে—তুমি, তারা সবাই এবং হারোণ।
NUM 16:17 প্রত্যেক ব্যক্তি অঙ্গারধানী নেবে—সর্বমোট 250-টি অঙ্গারধানী—এবং সদাপ্রভুর সামনে নিবেদন করতে হবে।” তুমি ও হারোণ তোমাদের অঙ্গারধানীও সদাপ্রভুর সামনে নিবেদন করবে।
NUM 16:18 অতএব তারা প্রত্যেকে তাদের অঙ্গারধানী নিল ও তার মধ্যে আগুন ও ধূপ রাখল। তারপর তারা মোশি ও হারোণের সঙ্গে সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে দাঁড়াল।
NUM 16:19 যখন কোরহ তার অনুগামীদের, তাঁদের বিপক্ষে সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে একত্র করল, তখন সদাপ্রভুর মহিমা সমস্ত সমাজের কাছে প্রত্যক্ষ হল।
NUM 16:20 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 16:21 “তোমরা নিজেদের এই সমাজ থেকে পৃথক করো, যেন এক মুহূর্তে আমি তাদের বিলুপ্ত করি।”
NUM 16:22 কিন্তু মোশি ও হারোণ ভূমিতে উপুড় হয়ে উচ্চস্বরে বললেন, “হে ঈশ্বর, সমস্ত জীবিত বস্তুর আত্মাদের ঈশ্বর, যখন কোনো একজন ব্যক্তি পাপ করে, তখন তাঁর জন্য কি তুমি সমস্ত সমাজের প্রতি রুষ্ট হবে?”
NUM 16:23 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 16:24 “তুমি সমাজকে বলো, ‘তোমরা কোরহ, দাথন ও অবীরামের তাঁবুর কাছ থেকে সরে যাও।’ ”
NUM 16:25 মোশি উঠে দাথন ও অবীরামের কাছে গেলেন এবং ইস্রায়েলের প্রবীণেরা তাঁকে অনুসরণ করল।
NUM 16:26 তিনি সমাজকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, “এই দুষ্ট ব্যক্তিদের তাঁবু থেকে সরে যাও! তাদের কোনো জিনিস স্পর্শ করো না, তা না হলে, তাদের পাপের জন্য তোমরাও বিনষ্ট হবে।”
NUM 16:27 অতএব তারা কোরহ, দাথন ও অবীরামের তাঁবুর কাছ থেকে সরে গেল। দাথন ও অবীরাম, তাদের স্ত্রী, সন্তান ও শিশুসহ তাঁবু থেকে বের হয়ে প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে রইল।
NUM 16:28 মোশি তখন বললেন, “এবার তোমরা অবগত হবে যে সদাপ্রভু এই সমস্ত কাজ করবার জন্য আমাকেই প্রেরণ করেছেন এবং কোনোটিই আমার কল্পনাপ্রসূত নয়।
NUM 16:29 যদি এই ব্যক্তিরা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে ও মানুষমাত্রের প্রতি যা ঘটে থাকে, তাই ভোগ করে, তাহলে সদাপ্রভু আমাকে পাঠাননি।
NUM 16:30 কিন্তু সদাপ্রভু যদি সম্পূর্ণ নতুন কিছু করেন, ভূমি মুখ বিদীর্ণ করে সমস্ত দ্রব্য সমেত তাদের গ্রাস করে এবং যদি তারা জীবিত অবস্থায় সমাধিপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তোমরা অবগত হবে যে এই ব্যক্তিরা সদাপ্রভুর অবমাননা করেছে।”
NUM 16:31 যে মুহূর্তে তিনি এই সমস্ত কথা সমাপ্ত করলেন, তাদের নিম্নস্থ ভূমি বিদীর্ণ হল,
NUM 16:32 ভূমি তার মুখ বিদীর্ণ করে কোরহ, তার সব অনুগামী ও তার আত্মীয়স্বজনদের, সমস্ত বিষয়সম্পত্তি গ্রাস করল।
NUM 16:33 তাদের অধিকারভুক্ত সমস্ত দ্রব্যসহ তারা জীবিত অবস্থায় সমাধিপ্রাপ্ত হল। ভূমি তাদের অবরুদ্ধ করল। তারা বিনাশপ্রাপ্ত হয়ে সমাজ থেকে অবলুপ্ত হল।
NUM 16:34 তাদের আর্তস্বর শুনে, চতুর্দিকের ইস্রায়েলীরা পলায়ন করল। তারা চিৎকার করে বলে উঠল, “ভূমি আমাদেরও গ্রাস করবে!”
NUM 16:35 সদাপ্রভুর কাছ থেকে আগুন নির্গত হয়ে, যারা ধূপ নিবেদন করেছিল, সেই 250 জন ব্যক্তিকেও পুড়িয়ে দিল।
NUM 16:36 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 16:37 “যাজক হারোণের ছেলে ইলীয়াসরকে বলো, সব অঙ্গারধানী নিয়ে, তাদের অবশিষ্ট অঙ্গার, দূরে কোথাও ফেলে দিতে, কারণ ওইসব অঙ্গারধানী পবিত্র।
NUM 16:38 সেই লোকদের অঙ্গারধানী যারা নিজেদের জীবনের প্রতিকূলে পাপ করেছিল। অঙ্গারধানীগুলি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বেদির আচ্ছাদনের জন্য পাত প্রস্তুত করো, কারণ সেসব সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত হয়েছিল, তাই পবিত্র। সেগুলি ইস্রায়েলীদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ হোক।”
NUM 16:39 অতএব যাজক ইলীয়াসর, যারা পুড়ে মরেছিল, তাদের আনা পিতলের সেইসব অঙ্গারধানী নিলেন এবং সেগুলি পিটিয়ে বেদির আচ্ছাদনের জন্য পাত প্রস্তুত করলেন,
NUM 16:40 যে রকম সদাপ্রভু, মোশির মাধ্যমে, তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নিদর্শন ছিল ইস্রায়েলীদের স্মরণার্থক, যেন হারোণের উত্তরসূরি ব্যতীত অন্য কেউ সদাপ্রভুর উদ্দেশে ধূপদাহ না করে; তা না হলে, তার পরিণতি কোরহ ও তার অনুগামীদের মতোই হবে।
NUM 16:41 পরদিন, সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজ, মোশি ও হারোণের বিপক্ষে বচসা করল। তারা বলল, “আপনারাই সদাপ্রভুর প্রজাদের হত্যা করলেন।”
NUM 16:42 যখন সেই সমাজ মোশি ও হারোণের বিপক্ষে একত্র হল এবং সমাগম তাঁবুর অভিমুখে ফিরল, হঠাৎ মেঘ তা আবৃত করল এবং সদাপ্রভুর মহিমা প্রত্যক্ষ হল।
NUM 16:43 তখন মোশি ও হারোণ, সমাগম তাঁবুর সামনে গেলেন
NUM 16:44 এবং সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 16:45 “এই সমাজ থেকে পৃথক হও যেন আমি এক নিমেষেই এদের বিলুপ্ত করি।” তাঁরা ভূমিতে উপুড় হয়ে পড়লেন।
NUM 16:46 মোশি তারপর হারোণকে বললেন, “তোমার অঙ্গারধানী নাও, বেদি থেকে অঙ্গার নিয়ে তার মধ্যে আগুন ও ধূপ দাও এবং তাড়াতাড়ি সমাজের মধ্যে গিয়ে তাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করো। সদাপ্রভুর রোষ নির্গত হয়েছে; মহামারি শুরু হয়ে গিয়েছে।”
NUM 16:47 মোশি যে রকম বললেন, হারোণ ঠিক তাই করলেন, তিনি সমাজের মধ্যে দৌড়ে গেলেন। ততক্ষণে জনতার মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু হারোণ ধূপ দিয়ে তাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করলেন।
NUM 16:48 তিনি জীবিত ও মৃত, এই উভয় দলের মধ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং মহামারি নিবৃত্ত হল।
NUM 16:49 কোরহের জন্য যারা নিহত হয়েছিল, তাদের অতিরিক্ত, ওই মহামারিতে নিহতের সংখ্যা 14,700।
NUM 16:50 পরে হারোণ সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে, মোশির কাছে ফিরে গেলেন, কারণ মহামারি নিবৃত্ত হয়েছিল।
NUM 17:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 17:2 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো এবং তাদের কাছ থেকে প্রত্যেক পিতৃকুলের নেতা প্রতি একটি করে, বারোটি লাঠি গ্রহণ করো। প্রত্যেক ব্যক্তির নাম তার লাঠিতে লেখো।
NUM 17:3 লেবির লাঠিতে হারোণের নাম লিখবে, কারণ প্রত্যেক পিতৃকুলের শীর্ষ নেতার একটি করে লাঠি থাকবে।
NUM 17:4 সেগুলি নিয়ে, যেখানে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করি, সমাগম তাঁবুর সেই সাক্ষ্য-সিন্দুকের সামনে রাখো।
NUM 17:5 যে ব্যক্তিকে আমি মনোনীত করব তার লাঠি অঙ্কুরিত হবে এবং আমি আমার বিপক্ষে ইস্রায়েলীদের নিরবচ্ছিন্ন অসন্তোষ থেকে অব্যহতি পাব।”
NUM 17:6 আর মোশি ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বললেন এবং তাদের নেতৃবৃন্দ তাঁকে প্রত্যেক পিতৃকুলের প্রধানের জন্য একটি করে বারোটি লাঠি দিলেন। হারোণের লাঠিও তাদের মধ্যে ছিল।
NUM 17:7 মোশি সাক্ষ্য তাঁবুর মধ্যে সেই লাঠিগুলি সদাপ্রভুর সামনে রাখলেন।
NUM 17:8 পরদিন, মোশি সাক্ষ্য তাঁবুতে প্রবেশ করে দেখলেন, লেবির কূলসূচক হারোণের লাঠি; শুধুমাত্র যে অঙ্কুরিত হয়েছে, তা নয় কিন্তু মুকুলিত ও পুষ্পিত হয়েছে এবং কাঠবাদামও ধরেছে।
NUM 17:9 তখন মোশি, লাঠিগুলি সদাপ্রভুর কাছ থেকে বাইরে, ইস্রায়েলীদের কাছে নিয়ে এলেন। তারা সেগুলি দেখল এবং প্রত্যেক নেতা নিজের নিজের লাঠি গ্রহণ করলেন।
NUM 17:10 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণের লাঠি আবার সাক্ষ্য-সিন্দুকের সামনে রাখো, তা বিদ্রোহীকুলের পক্ষে নিদর্শনস্বরূপ হবে। এরপরে তারা আমার বিপক্ষে বচসা করতে নিবৃত্ত হবে এবং তারা যেন আর না মরে।”
NUM 17:11 মোশি ঠিক তাই করলেন, যে রকম সদাপ্রভু তাকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 17:12 ইস্রায়েলীরা মোশিকে বলল, “আমরা মারা যাব! আমরা বিনাশপ্রাপ্ত হয়েছি, প্রত্যেকেই বিনষ্ট হলাম!
NUM 17:13 যে কেউ সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুর কাছেও যদি আসে, সে মারা পড়বে। আমরা কি সবাই মরব?”
NUM 18:1 সদাপ্রভু হারোণকে বললেন, “তুমি, তোমার ছেলেরা এবং তোমার পিতৃকুল, পবিত্রস্থানের বিপক্ষে কৃত অপরাধের জন্য দায়ী হবে এবং তুমি ও তোমার ছেলেরা যাজকত্ব পদের বিপক্ষে কৃত অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
NUM 18:2 তোমার পিতৃকুল থেকে সহচর লেবীয়দের নিয়ে এসো। যখন তুমি ও তোমার ছেলেরা সাক্ষ্য তাঁবুর সামনে পরিচর্যা করো, তারা তোমার সঙ্গে যোগ দিয়ে তোমাদের সাহায্য করুক।
NUM 18:3 তারা তোমার প্রতি দায়িত্বশীল থাকবে এবং তারা তাঁবুর সংশ্লিষ্ট সমস্ত কাজ করবে, কিন্তু পবিত্রস্থানের আসবাব অথবা যজ্ঞবেদির কাছে যাবে না, নতুবা তুমি এবং তারা উভয়ই মারা পড়বে।
NUM 18:4 তারা তোমার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাক্ষ্য তাঁবুর তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী হবে, তাঁবু সংক্রান্ত সমস্ত কাজের জন্যই, কিন্তু কেউই যেখানে তোমরা থাকবে সেখানে যাবে না।
NUM 18:5 “তুমি পবিত্রস্থান ও যজ্ঞবেদির জন্য দায়ী হবে, যেন আবার ইস্রায়েলীদের উপর আমার রোষ না বর্তায়।
NUM 18:6 আমি স্বয়ং তোমার সহচর লেবীয়দের, ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে মনোনীত করে, তোমাকে উপহার দিয়েছি, সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র করেছি, যেন তারা সমাগম তাঁবুর কাজকর্ম করতে পারে।
NUM 18:7 কিন্তু যজ্ঞবেদি সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ে এবং পর্দার অভ্যন্তরে শুধুমাত্র তুমি ও তোমার ছেলেরা যাজকরূপে পরিচর্যা করবে। আমি যাজকত্ব পদের পরিচর্যা, তোমাকে উপহারস্বরূপ দিয়েছি। অন্য কেউ যদি পবিত্রস্থানের কাছে যায়, তার প্রাণদণ্ড হবে।”
NUM 18:8 তারপর সদাপ্রভু হারোণকে বললেন, “যে নৈবেদ্যগুলি আমার উদ্দেশে নিবেদিত হয়, আমি স্বয়ং তোমাকে সেসবের তত্ত্বাবধায়ক করেছি; সমস্ত পবিত্র উপহার, যা ইস্রায়েলীরা আমাকে নিবেদন করে, আমি তোমাকে ও তোমার ছেলেদের তোমাদের অংশ ও প্রাপ্য বলে দিয়েছি।
NUM 18:9 যে সমস্ত দ্রব্য অগ্নি আহুতি থেকে অবশিষ্ট থাকে, তুমি সেই অতি পবিত্র নৈবেদ্যর অংশ প্রাপ্ত হবে। সমস্ত উপহার, যা তারা অতি পবিত্র নৈবেদ্যরূপে নিয়ে আসে, অর্থাৎ শস্য বা পাপার্থক-নৈবেদ্য, সেই অংশে তোমার ও তোমার পুত্রগণের অধিকার থাকবে।
NUM 18:10 অত্যন্ত পবিত্র গণ্য করে তা ভোজন কোরো; প্রত্যেক পুরুষ তা ভোজন করবে, তুমি অবশ্যই তা পবিত্র বলে সম্মান করবে।
NUM 18:11 “এই সমস্ত তোমার, ইস্রায়েলীদের আনীত দোলনীয়-নৈবেদ্যের উপহারসমূহ থেকে যা কিছু পৃথক করে রাখা হয়। আমি সেসব তোমাকে, তোমার ছেলে ও মেয়েদের, তোমাদের নিয়মিত প্রাপ্য অংশ বলে দিলাম। তোমার কুলের প্রত্যেক ব্যক্তি, যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিশুদ্ধ, সে তা ভোজন করতে পারবে।
NUM 18:12 “তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাদের যেসব উৎকৃষ্ট জলপাই তেল, উত্তম নতুন দ্রাক্ষারস ও শস্য নিবেদন করে, যেসব অগ্রিমাংশ তারা উৎসর্গ করে, সে সমস্তই আমি তোমাকে দিলাম।
NUM 18:13 ভূমিজাত সমস্ত ফলের অগ্রিমাংশ যা তারা সদাপ্রভুর কাছে নিয়ে আসে, তা তোমাদেরই হবে। তোমরা পরিবারের প্রত্যেকে, যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিশুদ্ধ, সে তা ভোজন করতে পারবে।
NUM 18:14 “ইস্রায়েলের সবকিছুই, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত হয়, তা তোমার হবে।
NUM 18:15 মানুষ বা পশু, যাবতীয় প্রাণীর মধ্যে প্রথমজাত সব প্রাণীকে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করবে, সে সব তোমার হবে। কিন্তু মনুষের প্রথমজাতকে এবং অশুচি পশুর প্রথমজাত পুংপশুকে তুমি অবশ্য মুক্ত করবে।
NUM 18:16 যখন তাদের বয়স এক মাস হবে, তুমি তাদের নির্ধারিত মুক্তির মূল্যে, অর্থাৎ পবিত্রস্থানের শেকল অনুসারে, পাঁচ শেকল রুপোর বিনিময়ে মুক্ত করবে। এক শেকলের ওজন, কুড়ি গেরা।
NUM 18:17 “তুমি কিন্তু প্রথমজাত ষাঁড়, মেষ অথবা ছাগলকে মুক্ত করবে না; সেগুলি পবিত্র। তাদের রক্ত বেদিতে ছিটাবে এবং তাদের মেদ, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিস্বরূপ, ভক্ষ্য-নৈবেদ্যরূপে আগুনে পোড়াবে।
NUM 18:18 তাদের মাংস তোমাদেরই প্রাপ্য হবে, যেমন দোলনীয়-নৈবেদ্যর বক্ষ ও দক্ষিণ ঊরু তোমাদের।
NUM 18:19 সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিবেদিত, ইস্রায়েলীদের পবিত্র নৈবেদ্য থেকে যা কিছু স্বতন্ত্র রাখা হয়, তা আমি তোমাকে, তোমার ছেলে ও মেয়েদের নিয়মিত অংশ বলে দিলাম। তুমি ও তোমার সন্তানদের জন্য এই হল সদাপ্রভুর সাক্ষাতে চিরস্থায়ী লবণ-নিয়ম।”
NUM 18:20 সদাপ্রভু হারোণকে বললেন, “তাদের দেশে তোমার কোনো উত্তরাধিকার থাকবে না, কিংবা তাদের মধ্যে তোমার কোনো অংশ থাকবে না। ইস্রায়েলীদের মধ্যে আমিই তোমার অংশ এবং অধিকার।
NUM 18:21 “সমাগম তাঁবুর পরিচর্যার সময় লেবীয়েরা যে কাজ করে, তাঁর পরিবর্তে আমি উত্তরাধিকারস্বরূপ তাদের ইস্রায়েলের সমস্ত দশমাংশ দিলাম।
NUM 18:22 এখন অবধি ইস্রায়েলীরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর নিকটস্থ হবে না, নতুবা তারা তাদের পাপের পরিণতি ভোগ করবে ও মারা পড়বে।
NUM 18:23 কেবলমাত্র লেবীয়েরাই সমাগম তাঁবুর সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম করবে এবং তাঁর বিপক্ষে কৃত অপরাধসমূহের দায়িত্ব বহন করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এই বিধি চিরস্থায়ী। তারা ইস্রায়েলীদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকার পাবে না।
NUM 18:24 পরিবর্তে, আমি লেবীয়দের অধিকারস্বরূপ সমস্ত দশমাংশ দান করছি, যা ইস্রায়েলীরা, সদাপ্রভুর কাছে উপহারস্বরূপ নিবেদন করে। এই জন্য আমি তাদের সম্পর্কে এই কথা বলেছি, ‘ইস্রায়েলীদের মধ্যে তাদের কোনো উত্তরাধিকার থাকবে না।’ ”
NUM 18:25 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 18:26 “লেবীয়দের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘যখন তোমরা ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে দশমাংশ গ্রহণ করবে, যা আমি তোমাদের অধিকারস্বরূপ দান করেছি, তোমরা সেই দশমাংশের দশমাংশ, সদাপ্রভুর নৈবেদ্যস্বরূপ উপহার দেবে।
NUM 18:27 তোমাদের নৈবেদ্য তোমাদের জন্য খামারের শস্য অথবা দ্রাক্ষা নিষ্পেষণ যন্ত্রের নির্যাসস্বরূপ গণ্য হবে।
NUM 18:28 একইভাবে, তোমরাও ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে যে সমস্ত দশমাংশ পাও, তা থেকে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক নৈবেদ্য উপহার দেবে। এই সমস্ত দশমাংশ থেকে, তোমরা অবশ্যই সদাপ্রভুর অংশ, যাজক হারোণকে দেবে।
NUM 18:29 তোমাদের যা দেওয়া হয়, তার মধ্যে থেকে সর্বোত্তম এবং পবিত্রতম অংশ, সদাপ্রভুর অংশ বলে নিবেদন করবে।’
NUM 18:30 “লেবীয়দের বলো, ‘যখন তোমরা সেই সর্বোত্তম অংশ নিবেদন করবে, তখন তা তোমাদের জন্য খামারের শস্য অথবা দ্রাক্ষা নিষ্পেষণ যন্ত্রের নির্যাসের মতোই গণ্য হবে।
NUM 18:31 তোমরা ও তোমাদের স্বজনবর্গ, তাঁর অবশিষ্ট অংশ, যে কোনো স্থানে আহার করতে পারো, কারণ তা সমাগম তাঁবুতে তোমাদের কাজের বেতনস্বরূপ।
NUM 18:32 তাঁর সর্বোত্তম অংশ নিবেদন করে, তোমরা এই বিষয়ে অপরাধী হবে না; ফলে তোমরা ইস্রায়েলীদের পবিত্র নৈবেদ্য কলুষিত করবে না এবং তোমরা মারা পড়বে না।’ ”
NUM 19:1 সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 19:2 “সদাপ্রভু যা আদেশ করেছেন, শাস্ত্রের সেই বিধান হল এই; ইস্রায়েলীদের বলো, একটি লাল রংয়ের ক্রুটিহীন ও বিকলাঙ্ক নয়, এমন বকনা-বাছুর, যে কখনও জোয়াল টানেনি, তোমার কাছে নিয়ে আসতে।
NUM 19:3 তুমি তা নিয়ে যাজক ইলীয়াসরকে দেবে; সেটিকে ছাউনির বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁর সামনে জবাই করতে হবে।
NUM 19:4 পরে যাজক ইলীয়াসর তাঁর আঙুলে সামান্য রক্ত নিয়ে, সমাগম তাঁবুর অভিমুখে সাতবার ছিটিয়ে দেবে।
NUM 19:5 তাঁর দৃষ্টিগোচরে সেই বকনা-বাছুরটিকে, তাঁর চামড়া, মাংস, রক্ত এবং গোবর সমেত পোড়াতে হবে।
NUM 19:6 যাজক কিছু পরিমাণ দেবদারু কাঠ, এসোব ও লাল রংয়ের পশম নিয়ে ওই পোড়া বাছুরের উপরে নিক্ষেপ করবে।
NUM 19:7 তারপর যাজক অবশ্যই তাঁর পোশাক ধুয়ে জলে স্নান করবে। পরে সে ছাউনিতে ফিরে আসতে পারে; তা সত্ত্বেও, আনুষ্ঠানিকভাবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
NUM 19:8 যে ব্যক্তি তা পোড়ায়, সেও নিজের পোশাক ধুয়ে জলে স্নান করবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
NUM 19:9 “একজন শুচিশুদ্ধ ব্যক্তি সেই বকনা-বাছুরের ছাই সংগ্রহ করে, ছাউনির বাইরে, আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিকৃত কোনও এক স্থানে রাখবে। সেগুলি ইস্রায়েলী সমাজের কাছে রাখবে যেন শুদ্ধকরণের জল হিসেবে তা ব্যবহার করা যায়; এটি পাপ থেকে শুদ্ধকরণের জন্যে।
NUM 19:10 যে ব্যক্তি ওই বকনা-বাছুরের ভস্ম সংগ্রহ করে, সে নিজের পোশাক ধুয়ে নেবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। ইস্রায়েলী এবং তাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য এই আদেশ হবে চিরস্থায়ী।
NUM 19:11 “যে কেউ কোনো মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করবে সে সাত দিন অশুচি থাকবে।
NUM 19:12 তাদের অবশ্যই সেই জল নিয়ে তৃতীয় দিনে ও সপ্তম দিনে নিজেকে শুচিশুদ্ধ করতে হবে; তারপর তারা শুচিশুদ্ধ হবে। কিন্তু তারা যদি তৃতীয় ও সপ্তম দিনে নিজেদের শুচিশুদ্ধ না করে, তারা শুচিশুদ্ধ হবে না।
NUM 19:13 মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করে যদি কেউ নিজেকে পাপমুক্ত না করে, তাহলে তারা সদাপ্রভুর আবাস তাঁবু অশুচি করবে। তারা ইস্রায়েলের মধ্য থেকে বিলুপ্ত হবে। যেহেতু শুদ্ধকরণের জল তাদের উপর ছিটানো হয়নি, তাই তারা অশুচি থাকবে; তাদের অশুচিতা থেকেই যাবে।
NUM 19:14 “যখন কেউ তাঁবুর মধ্যে মারা যায়, এই বিধি সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য। যে কেউ সেই তাঁবুর অভ্যন্তরে থাকে ও যে কোনো ব্যক্তি তাঁর মধ্যে প্রবেশ করে, তারা সাত দিন পর্যন্ত অশুচি থাকবে
NUM 19:15 এবং সমস্ত খোলা পাত্র ও সুতোয় বাঁধা ঢাকনাবিহীন পাত্র অশুচি হবে।
NUM 19:16 “উন্মুক্ত স্থানে কোনো ব্যক্তি যদি তরোয়াল দ্বারা নিহত বা স্বাভাবিকভাবে মৃত কোনো ব্যক্তিকে স্পর্শ করে, অথবা যদি কেউ কোনো মৃত ব্যক্তির অস্থি বা সমাধি স্পর্শ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি সাত দিন অশুচি থাকবে।
NUM 19:17 “অশুচি ব্যক্তির শুদ্ধকরণের জন্য একটি পাত্রে পাপার্থক নৈবেদ্যের সামান্য ভস্ম নিয়ে তাঁর মধ্যে টাটকা জল দিতে হবে।
NUM 19:18 তারপর, আনুষ্ঠানিকভাবে শুচিশুদ্ধ এমন কোনো ব্যক্তি, সামান্য এসোব নিয়ে, সেই জলে ডুবিয়ে তাঁবু, তাঁর আসবাবপত্র এবং সেই স্থানের সমস্ত ব্যক্তির উপর ছিটিয়ে দেবে। সে অবশ্য সেই জল তার উপরেও ছিটিয়ে দেবে, যে কোনো মানুষের অস্থি অথবা সমাধি অথবা কোনো নিহত বা স্বাভাবিকভাবে মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করেছে।
NUM 19:19 যে ব্যক্তি শুচিশুদ্ধ, সে ওই অশুচি ব্যক্তিদের উপর তৃতীয় ও সপ্তম দিনে জল ছিটাবে এবং সপ্তম দিনে সে তাদের শুচিশুদ্ধ করবে। যারা এইভাবে শুদ্ধিকৃত হয়, তারা অবশ্যই তাদের পোশাক ধুয়ে নেবে ও জলে স্নান করবে এবং সেই সন্ধ্যায় তারা শুচিশুদ্ধ হবে।
NUM 19:20 কিন্তু যদি অশুচি ব্যক্তিরা নিজেদের শুচিশুদ্ধ না করে, তারা অবশ্যই সমাজ থেকে বিলুপ্ত হবে, কারণ তারা সদাপ্রভুর পবিত্র স্থানকে অশুচি করেছে। শুদ্ধকরণের জল তাঁর উপরে ছিটানো হয়নি, তাই তারা অশুচি।
NUM 19:21 তাদের জন্য এই আদেশ হবে চিরস্থায়ী। “যে ব্যক্তি সেই জল ছিটাবে, সেও নিজের পোশাক ধুয়ে নেবে এবং যে কেউ সেই শুদ্ধকরণের জল স্পর্শ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
NUM 19:22 কোনো অশুচি ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করবে, তা অশুচি হবে এবং যে কেউ তা স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।”
NUM 20:1 প্রথম মাসে সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজ, সীন মরুভূমিতে উপস্থিত হয়ে কাদেশে অবস্থান করল। সেই স্থানে মরিয়ম মারা গেলেন এবং তাঁকে কবর দেওয়া হল।
NUM 20:2 সেখানে সমাজের ব্যবহার্য কোনো জল ছিল না। তাই জনতা মোশি ও হারোণের বিপক্ষে একত্র হল।
NUM 20:3 তারা মোশির সঙ্গে বিবাদ করে বলল, “আমাদের ভ্রাতৃবর্গ যখন সদাপ্রভুর সামনে মারা গেল, তখন আমরাও যদি মারা যেতাম!
NUM 20:4 কেন তোমরা সদাপ্রভুর সমাজকে এই প্রান্তরে নিয়ে এলে, যেন আমরা ও আমাদের পশুপাল এই জায়গায় মারা যাই?
NUM 20:5 কেন তোমরা মিশর থেকে আমাদের বের করে এই ভয়ংকর জায়গায় নিয়ে এলে? এখানে কোনো শস্য বা ডুমুর, দ্রাক্ষালতা বা বেদানা নেই। পান করার জন্য জলও নেই!”
NUM 20:6 মোশি ও হারোণ, মণ্ডলী থেকে পৃথক হয়ে সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে গেলেন এবং তারা উপুড় হয়ে পড়লেন আর তাদের সামনে সদাপ্রভুর মহিমা প্রকাশিত হল।
NUM 20:7 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 20:8 “তোমার লাঠিটি নাও এবং তুমি ও তোমার ভাই হারোণ মণ্ডলীকে একত্র করো। তাদের দৃষ্টিগোচরে ওই শৈলকে গিয়ে বলো, সে তার অভ্যন্তরস্থ জল নির্গত করবে। তুমি শৈল থেকে সমাজের জন্য জল নির্গত করবে, যেন তারা ও তাদের পশুপাল সেই জলপান করতে পারে।”
NUM 20:9 অতএব মোশি, সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে সেই লাঠিটি গ্রহণ করলেন, যেমন তিনি তাকে আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 20:10 তিনি এবং হারোণ, মণ্ডলীকে সেই শৈলের সামনে একত্র করলেন এবং মোশি তাদের বললেন, “বিদ্রোহীকুল, তোমরা শোনো, আমরা কি এই শৈল থেকে তোমাদের জন্য জল নির্গত করব?”
NUM 20:11 তারপর মোশি হাত তুলে, তাঁর লাঠি দিয়ে দু-বার সেই শৈলে আঘাত করলেন। জল পূর্ণ বেগে নির্গত হল এবং সমাজ ও তাদের পশুপাল সেই জলপান করল।
NUM 20:12 সদাপ্রভু কিন্তু মোশি ও হারোণকে বললেন, “যেহেতু তোমরা, ইস্রায়েলীদের দৃষ্টিতে পবিত্র বলে আমাকে সম্মান দিয়ে, আমার উপর পর্যাপ্ত বিশ্বাস রাখলে না, তাই যে দেশ আমি তাদের দান করব, তোমরা এই মণ্ডলীকে সেই দেশে নিয়ে যাবে না।”
NUM 20:13 এই ছিল মরীবার জল, যেখানে ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর সঙ্গে বিবাদ করেছিল এবং সেই স্থানে তিনি তাদের মধ্যে পবিত্র প্রমাণিত হয়েছিলেন।
NUM 20:14 মোশি কাদেশ থেকে ইদোমের রাজার কাছে বার্তাবাহকদের মাধ্যমে এই বার্তা প্রেরণ করলেন, “আপনার ভাই ইস্রায়েল এই কথা বলছে, আমাদের প্রতি যে সমস্ত কষ্ট ঘটেছিল, সেই বিষয় আপনি অবগত আছেন।
NUM 20:15 আমাদের পূর্বপুরুষেরা মিশরে গিয়েছিলেন এবং বহু বছর আমরা সেখানে বসবাস করেছিলাম। মিশরীয়েরা আমাদের ও আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি দুর্ব্যবহার করেছিল,
NUM 20:16 কিন্তু আমরা সদাপ্রভুর কাছে যখন কাঁদলাম তিনি আমাদের কান্না শুনে একজন স্বর্গদূত পাঠিয়েছিলেন এবং মিশর থেকে আমাদের বের করে নিয়ে এলেন। “এখন আমরা, আপনার অঞ্চলের প্রান্তে কাদেশ নগরে অবস্থান করছি।
NUM 20:17 কৃপা করে আপনার দেশের মধ্যে দিয়ে আমাদের যাত্রা করতে দিন। আমরা কোনো চাষের জমি বা দ্রাক্ষাকুঞ্জের মধ্য দিয়ে যাব না, কুয়ো থেকে জলও পান করব না। আমরা সরাসরি রাজপথ দিয়ে যাব এবং যতক্ষণ না আপনার সীমানা পার হই, আমরা ডানদিকে বা বাঁদিকে ঘুরব না।”
NUM 20:18 কিন্তু ইদোম উত্তর দিল, “তোমরা এই দেশের মধ্য দিয়ে যেতে পারবে না। যদি সেই চেষ্টা করো, তাহলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যাব এবং তরোয়াল নিয়ে তোমাদের আক্রমণ করব।”
NUM 20:19 প্রত্যুত্তরে ইস্রায়েলীরা বলল, “আমরা প্রধান পথ ধরেই যাত্রা করব। যদি আমরা, বা আমাদের পশুপাল কেউ জলপান করে, তার জন্য আমরা মূল্য দেব। আমরা শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে পার হতে চাই, অন্য কিছু নয়।”
NUM 20:20 তারা আবার উত্তর দিল, “তোমরা যেতে পারবে না।” তারপর ইদোম এক বড়ো এবং শক্তিশালী সেনাদল নিয়ে তাদের বিপক্ষে বেরিয়ে এল।
NUM 20:21 যেহেতু ইদোম, তাদের ভূখণ্ড দিয়ে যেতে দিল না, তাই ইস্রায়েলীরা তাদের কাছ থেকে ফিরে এল।
NUM 20:22 সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজ কাদেশ থেকে যাত্রা করে হোর পর্বতে উপস্থিত হল।
NUM 20:23 ইদোমের সীমানার কাছে, হোর পর্বতে, সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন,
NUM 20:24 “হারোণ তাঁর স্বজনবর্গের কাছে সংগৃহীত হবে। ইস্রায়েলীদের আমি যে দেশ দিতে চাই, সেখানে সে প্রবেশ করবে না, কারণ তোমরা উভয়েই মরীবার জলের কাছে আমার বিরুদ্ধাচারণ করেছিলে।
NUM 20:25 হারোণ ও তাঁর ছেলে ইলীয়াসরকে নিয়ে হোর পর্বতে যাও।
NUM 20:26 হারোণের পোশাক খুলে ইলীয়াসরকে পরিয়ে দাও, কারণ হারোণ তাঁর স্বজনবর্গের কাছে সংগৃহীত হবে; সে সেখানেই মারা যাবে।”
NUM 20:27 সদাপ্রভু যে রকম বলেছিলেন, মোশি, ঠিক তাই করলেন। তাঁরা সমগ্র সমাজের দৃষ্টিগোচরে হোর পর্বতে উঠে গেলেন।
NUM 20:28 মোশি, হারোণের পোশাক খুলে, তাঁর পুত্র ইলীয়াসরকে পরিয়ে দিলেন। হারোণ সেই পর্বতের উপরে মারা গেলেন। তারপর মোশি ও ইলীয়াসর পর্বত থেকে নেমে এলেন।
NUM 20:29 যখন সমগ্র সমাজ অবগত হল যে হারোণ মারা গিয়েছেন, তখন ইস্রায়েলীরা সবাই তাঁর জন্য ত্রিশ দিন শোক করল।
NUM 21:1 কনান বংশীয় অরাদের রাজা, যিনি নেগেভে বসবাস করতেন, যখন শুনলেন যে ইস্রায়েলীরা অথারীমের পথ ধরে আসছে, তখন তিনি তাদের আক্রমণ করে কয়েকজনকে বন্দি করলেন।
NUM 21:2 তখন ইস্রায়েল সদাপ্রভুর কাছে এই শপথ করল, “যদি তুমি এই লোকদের আমাদের হাতে সমর্পণ করো, তবে আমরা তাদের নগরগুলি নিঃশেষে বিনষ্ট করব।”
NUM 21:3 সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের অনুনয় শুনলেন এবং তাদের হাতে কনানীয়দের সমর্পণ করলেন। তারা তাদের নগর সমেত সবাইকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করল। তাই সেই স্থানের নাম রাখা হল হর্মা।
NUM 21:4 তারা হোর পর্বত থেকে যাত্রা শুরু করল, ইদোম প্রদক্ষিণ করার উদ্দেশে লোহিত সাগর অভিমুখে গমন করল। কিন্তু জনতা পথের মধ্যে অসহিষ্ণু হয়ে উঠল।
NUM 21:5 তারা ঈশ্বরের এবং মোশির বিপক্ষে নিন্দা করে বলল, “আপনারা কেন মিশর থেকে আমাদের বের করে এই প্রান্তরে মেরে ফেলার জন্য নিয়ে এলেন? এখানে কোনো রুটি নেই! জল নেই! এই কষ্টদায়ক আহারে আমাদের অরুচি ধরে গেছে!”
NUM 21:6 তখন সদাপ্রভু তাদের মধ্যে বিষধর সাপ পাঠালেন; সেগুলি লোকদের দংশন করল এবং অনেক ইস্রায়েলী মারা গেল।
NUM 21:7 লোকেরা মোশির কাছে এসে তাঁকে বলল, “আমরা সদাপ্রভু ও আপনার বিপক্ষে কথা বলে পাপ করেছি। প্রার্থনা করুন যেন সদাপ্রভু এই সাপদের আমাদের কাছ থেকে দূর করেন।” তাই মোশি লোকদের জন্য বিনতি করলেন।
NUM 21:8 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “একটি সাপ নির্মাণ করে তুমি খুঁটির উপরে স্থাপন করো। কাউকে সাপ দংশন করলে সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে রক্ষা পাবে।”
NUM 21:9 মোশি তখন ব্রোঞ্জের একটি সাপ নির্মাণ করে একটি খুঁটির উপরে স্থাপন করলেন। তারপর যখনই কোনো ব্যক্তিকে সাপ দংশন করত এবং সে ওই ব্রোঞ্জ নির্মিত সাপের প্রতি দৃষ্টিপাত করত, সে বেঁচে যেত।
NUM 21:10 ইস্রায়েলীরা যাত্রা করে ওবোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 21:11 তারপর তারা ওবোৎ থেকে যাত্রা করে, সূর্যোদয়ের অভিমুখে, মরুভূমি সন্নিহিত মোয়াবের কাছে ঈয়ী-অবারীমে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 21:12 সেখান থেকে অগ্রসর হয়ে তারা সেরদ উপত্যকায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 21:13 সেখান থেকে যাত্রা করে তারা অর্ণোনের পাশে ছাউনি স্থাপন করল। অর্ণোন মরুভূমিতে অবস্থিত, যা ইমোরীয়দের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মোয়াব এবং ইমোরীয়দের মধ্যে অর্ণোনই হল মোয়াবের সীমানা।
NUM 21:14 এই কারণে সদাপ্রভুর যুদ্ধ সংক্রান্ত পুস্তকে লিপিবদ্ধ আছে, “শূফাতে অবস্থিত বাহেব ও উপত্যকা সকল, অর্ণোন
NUM 21:15 এবং উপত্যকা সকলের পার্শ্ব ভূমি, যা আর্-এর অভিমুখী, এবং মোয়াবের সীমানার পাশে অবস্থিত।”
NUM 21:16 সেই স্থান থেকে তারা ক্রমাগত অগ্রসর হয়ে বীর-এ গেল। সেই কুয়োর কাছে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “লোকদের একত্র করো। আমি তাদের জল দেব।”
NUM 21:17 তখন ইস্রায়েলীরা এই গীত গাইল “উৎসারিত হও, হে কুয়ো, এর উদ্দেশে গাও গীত,
NUM 21:18 রাজপুত্রদের খনিত এই কুয়োর বিষয়ে অভিজাত ব্যক্তিরা যা খনন করেছিলেন, অভিজাত ব্যক্তিদের রাজদণ্ড ও লাঠি দিয়ে।” তারপর তারা প্রান্তর থেকে মত্তানায় গেল।
NUM 21:19 মত্তানা থেকে নহলীয়েলে, নহলীয়েল থেকে বামোতে,
NUM 21:20 বামোৎ থেকে মোয়াব উপত্যকায়, যেখানে পিস্‌গা শিখর থেকে মরুভূমি প্রত্যক্ষ হল।
NUM 21:21 ইস্রায়েল, ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের কাছে বার্তাবাহকদের প্রেরণ করল। তারা গিয়ে বলল,
NUM 21:22 “আপনার দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের যাওয়ার অনুমতি দিন। আমরা কোনো শস্যক্ষেত্র বা দ্রাক্ষাকুঞ্জের মধ্য গিয়ে যাব না, কুয়ো থেকে জলও পান করব না। যতদিন না আমরা এলাকা পার হয়ে যাই, আমরা শুধু রাজপথ দিয়েই গমন করব।”
NUM 21:23 সীহোন কিন্তু তাঁর এলাকা দিয়ে ইস্রায়েলীদের যেতে দিলেন না। তিনি তাঁর সমস্ত সেনা সমাবেশ করে প্রান্তরে ইস্রায়েলীদের বিপক্ষে অগ্রসর হলেন। যহসে পৌঁছে তিনি ইস্রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন।
NUM 21:24 তাতে ইস্রায়েল তাঁকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করল এবং অর্ণোন থেকে যব্বোক পর্যন্ত দখল করে নিল, কারণ অম্মোনীয়দের সীমানা সুরক্ষিত ছিল।
NUM 21:25 ইস্রায়েল হিষ্‌বোন সমেত ইমোরীয়দের সমস্ত নগর এবং তাদের সন্নিহিত উপনিবেশগুলি দখল করে বসতি স্থাপন করল।
NUM 21:26 হিষ্‌বোন, ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের শহর ছিল, যা তিনি মোয়াবের সঙ্গে যুদ্ধ করে অর্ণোন পর্যন্ত তাঁর সমস্ত রাজ্য অধিকারভুক্ত করেছিলেন।
NUM 21:27 সেইজন্য কবিরা বলেছেন, “হিষ্‌বোনে এসো, তা পুনর্নির্মিত হোক, সীহোনের নগর পুনরুদ্ধার হোক।
NUM 21:28 “হিষ্‌বোন থেকে অগ্নি, সীহোনের নগর থেকে নির্গত হল এক বহ্নিশিখা, তা মোয়াবের আর্ ও অর্ণোনের উচ্চভূমির নাগরিকদের বিনাশ করল।
NUM 21:29 হে মোয়াব, ধিক্ তোমাকে! কমোশের প্রজারা, তোমরা বিনষ্ট হলে। সে তার ছেলেদের পলাতকদের হাতে, ও মেয়েদের বন্দিরূপে সমর্পণ করেছে, ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের হাতে।
NUM 21:30 “কিন্তু আমরা তাদের নিপাতিত করেছি; হিষ্‌বোন দীবোন পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে, আমরা নোফঃ পর্যন্ত তাদের ধ্বংস করেছি, যা মেদ্‌বা পর্যন্ত বিস্তৃত।”
NUM 21:31 এইভাবে ইস্রায়েল ইমোরীয়দের দেশে বসতি স্থাপন করল।
NUM 21:32 মোশি যাসেরে গুপ্তচর পাঠানোর পর, ইস্রায়েলীরা তার চতুর্দিকের গ্রামগুলি অধিকার করে নিল এবং সেখানকার সমস্ত ইমোরীয়দের বিতাড়িত করল।
NUM 21:33 তারপর তারা ঘুরে বাশনের পথে উঠে গেল। আর বাশনের রাজা ওগ তাঁর সৈন্যদল নিয়ে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ইদ্রিয়ীতে এলেন।
NUM 21:34 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তাকে ভয় পেয়ো না। আমি তাকে, তার সমস্ত সেনাবাহিনী ও তার দেশ তোমার হাতে সমর্পণ করেছি। তার প্রতি সেরকমই কোরো, যেমন তুমি ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের প্রতি করেছিলে, যে হিষ্‌বোনে রাজত্ব করত।”
NUM 21:35 তাই তারা ওগ ও তার ছেলেদের ও সমস্ত সৈন্যবাহিনীকে আঘাত করল, কাউকে বাঁচিয়ে রাখল না এবং তারা তাঁর দেশ অধিকার করে নিল।
NUM 22:1 তারপর ইস্রায়েলীরা মোয়াব দেশের সমতলে যাত্রা করল এবং যিরীহোর অন্য পাশে, জর্ডন বরাবর ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 22:2 ইস্রায়েল ইমোরীয়দের প্রতি যা করেছিল, সিপ্পোরের ছেলে বালাক তা দেখলেন
NUM 22:3 এবং বিশাল জনতা দেখে মোয়াব অত্যন্ত শঙ্কিত হল। প্রকৃতপক্ষে, মোয়াব ইস্রায়েলীদের জন্য ত্রাসে পূর্ণ হল।
NUM 22:4 মোয়াবীয়েরা, মিদিয়নের প্রবীণদের বলল, “যেমন ষাঁড় ক্ষেতের ঘাস চেটে খায়, তেমনি এই যাযাবর সম্প্রদায় আমাদের চতুর্দিকের সবকিছুই চেটে খাবে।” তাই সিপ্পোরের ছেলে বালাক, যিনি সেই সময় মোয়াবের রাজা ছিলেন,
NUM 22:5 বিয়োরের ছেলে বিলিয়মের কাছে বার্তাবাহকদের পাঠালেন। তিনি সেই সময় ইউফ্রেটিস নদীর সন্নিকটে, তাঁর জন্মভূমি পথোর নগরে ছিলেন। বালাক বলে পাঠালেন, “এক জনসমাজ মিশর থেকে বের হয়ে এসেছে; তারা ভূপৃষ্ঠ ছেয়ে গেছে এবং আমার রাজ্যের পাশেই বসতি করছে।
NUM 22:6 আপনি এসে এই জনসমাজকে অভিশাপ দিন, কারণ তারা আমার থেকেও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। সম্ভবত তখন আমি তাদের পর্যুদস্ত করে দেশ থেকে বিতাড়ন করতে পারব। আমি জানি, আপনি যাদের আশীর্বাদ করেন, তারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয় এবং যাদের অভিশাপ দেন তারা অভিশপ্ত হয়।”
NUM 22:7 মোয়াবের ও মিদিয়নের প্রবীণেরা প্রস্থান করলেন। তাঁরা প্রত্যাদেশের জন্য দেয় পারিশ্রমিক সঙ্গে নিয়ে গেলেন। তাঁরা বিলিয়মের কাছে গিয়ে, তাঁকে বালাকের বার্তা পৌঁছে দিলেন।
NUM 22:8 বিলিয়ম তাঁদের বলল, “রাতে এখানেই থাকুন সদাপ্রভু আমাকে যা উত্তর দেন, তা আমি আপনাদের জ্ঞাত করব।” অতএব মোয়াবীয় কর্মকর্তারা তার সঙ্গে থাকলেন।
NUM 22:9 ঈশ্বর বিলিয়মের কাছে এসে প্রশ্ন করলেন, “তোমার সঙ্গী, এই সমস্ত ব্যক্তি কারা?”
NUM 22:10 বিলিয়ম ঈশ্বরকে বললেন, “মোয়াবের রাজা, সিপ্পোরের ছেলে বালাক, আমার কাছে এই বার্তা পাঠিয়েছেন,
NUM 22:11 ‘এক জনসমাজ মিশর থেকে বের হয়ে এসে সমস্ত দেশ ছেয়ে গেছে। এখন আপনি এসে আমার অনুকূলে তাদের অভিশাপ দিন। সম্ভবত তখন আমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারব ও তাদের বিতাড়ন করব।’ ”
NUM 22:12 কিন্তু ঈশ্বর বিলিয়মকে বললেন, “তুমি তাদের সঙ্গে যাবে না। তুমি অবশ্যই ওই লোকদের অভিশাপ দেবে না, কারণ তারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত।”
NUM 22:13 পরদিন সকালে, বিলিয়ম উঠে বালাকের কর্মকর্তাদের বলল, “আপনাদের দেশে ফিরে যান, কারণ সদাপ্রভু আমাকে, আপনাদের সঙ্গে যেতে দিতে অস্বীকার করলেন।”
NUM 22:14 অতএব মোয়াবীয় কর্মকর্তারা বালাকের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “বিলিয়ম আমাদের সঙ্গে আসতে অস্বীকার করেছেন।”
NUM 22:15 তখন বালাক, সংখ্যায় আরও বেশি ও প্রথম দল অপেক্ষা অধিকতর বিশিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠালেন।
NUM 22:16 তাঁরা বিলিয়মের কাছে এসে বলল, “সিপ্পোরের ছেলে বালাক এই কথা বলেছেন যে, আমার কাছে আসতে কোনো কিছুই যেন আপনাকে নিবারিত না করে,
NUM 22:17 কেননা আমি উদারভাবে আপনাকে পুরস্কৃত করব এবং আপনি যা কিছু বলেন, সে সমস্তই করব। আসুন এবং আমার অনুকূলে এই লোকদের অভিশাপ দিন।”
NUM 22:18 কিন্তু বিলিয়ম তাঁদের উত্তর দিল, “বালাক যদি তাঁর প্রাসাদের সমস্ত রুপো ও সোনা আমাকে দান করেন, আমার ঈশ্বর, সদাপ্রভু আমাকে যে আদেশ দেন, আমি তার থেকে বেশি বা অল্প কিছুই করতে পারব না।
NUM 22:19 এখন অন্য দলের মতো আপনারাও আজ রাতে এখানে থাকুন যেন আমি চেষ্টা করে দেখি সদাপ্রভু আমাকে আর কিছু বলেন কি না।”
NUM 22:20 সেই রাতে সদাপ্রভু বিলিয়মের কাছে এসে বললেন, “যেহেতু এই ব্যক্তিরা তোমাকে ডাকতে এসেছে, তাদের সঙ্গে যাও; কিন্তু সেই কাজই করবে, যা আমি তোমাকে করতে বলব।”
NUM 22:21 বিলিয়ম সকালে উঠে তাঁর গর্দভীর সজ্জা পরালো এবং মোয়াবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গেল।
NUM 22:22 কিন্তু সে যখন গেল, ঈশ্বর ভয়ানক রুষ্ট হলেন, সদাপ্রভুর দূত তার বিরোধিতা করার উদ্দেশে পথের মধ্যে দাঁড়ালেন। বিলিয়ম তার গর্দভীতে আরোহণ করেছিল এবং তার দুই ভৃত্য তার সঙ্গে ছিল।
NUM 22:23 যখন সেই গর্দভী, নিষ্কোষ তরোয়াল হাতে সদাপ্রভুর দূতকে পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল, সে রাস্তা থেকে নেমে এক ক্ষেতের মধ্যে গেল। বিলিয়ম পথে ফিরানোর জন্য তাকে মারল।
NUM 22:24 তারপর সদাপ্রভুর দূত, সেই দ্রাক্ষাকুঞ্জের মধ্যবর্তী এক সংকীর্ণ স্থানে দাঁড়ালেন, যার দুই ধারে দেওয়াল ছিল।
NUM 22:25 যখন সেই গর্দভী সদাপ্রভুর দূতকে দেখল, সে দেওয়ালের নিকট ঘেসে গেল এতে বিলিয়মের পা ঘষে গেল। সেইজন্য সে তাকে পুনরায় প্রহার করল।
NUM 22:26 এরপর সদাপ্রভুর দূত অগ্রসর হয়ে এক সংকীর্ণ স্থানে গিয়ে দাঁড়ালেন, যেখান থেকে ডানদিকে বা বাঁদিকে কোনও পথে ফিরবার উপায় ছিল না।
NUM 22:27 যখন গর্দভী সদাপ্রভুর দূতকে দেখল, সে বিলিয়মের নিচে বসে পড়ল। এতে সে ক্রুদ্ধ হল ও লাঠি দিয়ে সেই গর্দভীকে মারল।
NUM 22:28 তখন সদাপ্রভু গর্দভীটির মুখ খুলে দিলেন এবং সে বিলিয়মকে বলল, “আমি আপনার প্রতি কী করেছি যে এই তিনবার আপনি আমাকে মারলেন?”
NUM 22:29 বিলিয়ম গর্দভীকে উত্তর দিল, “তুমি আমাকে কি নির্বোধ পেয়েছ! যদি আমার হাতে তরোয়াল থাকত, তাহলে আমি এখনই তোমাকে বধ করতাম।”
NUM 22:30 গর্দভী বিলিয়মকে বলল, “আমি কি আপনার ব্যক্তিগত গর্দভী নই, যার উপরে আজ পর্যন্ত আপনি আরোহণ করে এসেছেন? আমি কি অনুরূপ আচরণ কখনও আপনার প্রতি করেছি?” সে বলল, “না।”
NUM 22:31 তখন সদাপ্রভু বিলিয়মের চোখ খুলে দিলেন, আর সে দেখল সদাপ্রভুর দূত, পথের মধ্যে তাঁর তরোয়াল উন্মুক্ত করে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই তিনি মাথা নত করে উপুড় হয়ে পড়লেন।
NUM 22:32 সদাপ্রভুর দূত তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার গর্দভীকে তুমি এই তিনবার কেন মারলে? আমি তোমার বিপক্ষতা করতে এসেছি, কারণ তোমার কর্মপন্থা আমার দৃষ্টিতে অবিবেচকের মতো প্রতিপন্ন হয়েছে।
NUM 22:33 গর্দভীটি আমাকে দেখতে পেয়ে এই তিনবার আমার কাছ থেকে সরে গিয়েছিল। যদি সে না সরে যেত, আমি অবশ্যই এতক্ষণে তোমাকে বধ করতাম, কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখতাম।”
NUM 22:34 বিলিয়ম সদাপ্রভুর দূতকে বলল, “আমি পাপ করেছি। আমি উপলব্ধি করিনি যে আপনি আমার বিপক্ষতা করার জন্য পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন আপনি যদি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আমি ফিরে যাব।”
NUM 22:35 সদাপ্রভুর দূত বিলিয়মকে বললেন, “তুমি ওই লোকদের সঙ্গে যাও, কিন্তু আমি তোমাকে যে কথা বলি, তুমি ঠিক তাই বলবে।” বিলিয়ম এরপর বালাকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গেল।
NUM 22:36 বালাক যখন বিলিয়মের আগমনের সংবাদ পেলেন, তিনি তার সঙ্গে মিলিত হতে তাঁর অঞ্চলের প্রান্তস্থিত অর্ণোনের সীমায় অবস্থিত মোয়াবীয় এক নগরে গেলেন।
NUM 22:37 বালাক বিলিয়মকে বললেন, “আমি কি আপনাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠাইনি? আপনি কেন আমার কাছে আসেননি? আমি কি বাস্তবিকই আপনাকে পুরস্কৃত করতে অক্ষম?”
NUM 22:38 বিলিয়ম উত্তর দিলেন, “বেশ, এখন আমি তো আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা মতন কথা বলতে পারি না। সদাপ্রভু আমার মুখে যে ভাষ্য দেবেন, আমি শুধু সেকথাই বলতে পারব।”
NUM 22:39 তারপর বিলিয়ম, বালাকের সঙ্গে কিরিয়ৎ-হুষোতে গেল।
NUM 22:40 বালাক গবাদি পশু ও মেষ বলিদান করলেন এবং তাদের কয়েকটি নিয়ে বিলিয়ম ও তার সঙ্গী সেই কর্মকর্তাদের দান করলেন।
NUM 22:41 পরদিন সকালে বালাক, বিলিয়মকে নিয়ে বামোৎ বায়ালে আরোহণ করলেন এবং সেই স্থান থেকে তিনি ইস্রায়েলীদের শিবিরের প্রান্তদেশ দেখতে পেলেন।
NUM 23:1 বিলিয়ম বলল, “আমার জন্য আপনি এখানে সাতটি বেদি নির্মাণ করুন এবং সাতটি ষাঁড় ও সাতটি মেষের আয়োজন করুন।”
NUM 23:2 বিলিয়মের কথামতো বালাক সব কাজ করলেন। তারা উভয়ে প্রতিটি বেদিতে, একটি ষাঁড় ও একটি মেষ উৎসর্গ করলেন।
NUM 23:3 তারপর বালাককে বিলিয়ম বলল, “যখন আমি একান্তে যাই, আপনি আপনার নৈবেদ্যের পাশে অপেক্ষা করুন। সম্ভবত সদাপ্রভু আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। যা কিছু তিনি আমার কাছে প্রকাশ করেন, আমি আপনাকে অবহিত করব।” তারপর সে এক অনুর্বর পাহাড়ের উপরে উঠে গেল।
NUM 23:4 ঈশ্বর তার সঙ্গে দেখা করলেন এবং বিলিয়ম বলল, “আমি সাতটি বেদি নির্মাণ করেছি। প্রত্যেকটির উপর একটি করে ষাঁড় ও একটি করে মেষ উৎসর্গ করেছি।”
NUM 23:5 সদাপ্রভু বিলিয়মের মুখে একটি বাণী দিলেন এবং বললেন, “বালাকের কাছে ফিরে গিয়ে তাকে এই বার্তা শোনাও।”
NUM 23:6 সে তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে দেখল তিনি মোয়াবের সমস্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর নৈবেদ্যের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।
NUM 23:7 তখন বিলিয়ম তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “অরাম থেকে বালাক আমাকে আনলেন, মোয়াব রাজা, প্রাচ্যের পর্বতসমূহ থেকে আনলেন, সে বলল, ‘এসো, আমার অনুকূলে যাকোবকে অভিশাপ দাও, এসো, ইস্রায়েলের বিষয় অমঙ্গলের কথা বলো।’
NUM 23:8 ঈশ্বর যাদের অভিশাপ দেননি আমি কীভাবে তাদের অভিশাপ দিই? সদাপ্রভু যাদের অবলুপ্ত করেননি, আমি কীভাবে তাদের অবলুপ্তি ঘোষণা করব?
NUM 23:9 শৈলময় শিখর থেকে আমি তাদের নিরীক্ষণ করি, উচ্চস্থল থেকে আমি তাদের লক্ষ্য করি; দেখতে পাই, স্বতন্ত্র এক জাতির নিবাস, যারা অন্য জাতিসমূহের পর্যায়ভুক্ত বলে নিজেদের গণ্য করে না।
NUM 23:10 যাকোবের ধুলো, কে করতে গণনা পারে অথবা, ইস্রায়েলের এক-চতুর্থাংশের সংখ্যা নির্ণয় করতে পারে? ধার্মিকের মৃত্যুর মতো আমার মৃত্যু হোক, যেন তাদেরই অনুরূপ আমরাও পরিণতি হয়!”
NUM 23:11 বালাক, বিলিয়মকে বললেন, “আপনি আমার প্রতি এ কী করলেন? আমি, আমার শত্রুদের অভিশাপ দিতে আপনাকে ডেকেছিলাম, কিন্তু আপনি কিছুই না করে, তাদের আশীর্বাদ করলেন।”
NUM 23:12 সে উত্তর দিল, “সদাপ্রভু আমার মুখে যে কথা দেন, আমি কি সেকথাই বলতে বাধ্য নই?”
NUM 23:13 পরে বালাক তাকে বললেন, “আমার সঙ্গে অন্য স্থানে চলুন, সেখান থেকে আপনি তাদের দেখতে পাবেন। আপনি তাদের সবাইকে নয়, কিন্তু তাদের শিবিরের প্রান্তভাগ দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আমার অনুকূলে তাদের অভিশাপ দিন।”
NUM 23:14 সেই লক্ষ্যে তিনি তাকে পিস্‌গা শিখরে সোফীমের ক্ষেতে নিয়ে গেলেন। সেখানে সাতটি বেদি নির্মাণ করে, প্রত্যেকটির উপর একটি করে ষাঁড় ও একটি মেষ উৎসর্গ করলেন।
NUM 23:15 বালাককে বিলিয়ম বলল, “যখন আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই, আপনি আপনার নৈবেদ্যের পাশে অপেক্ষা করুন।”
NUM 23:16 সদাপ্রভু বিলিয়মের সঙ্গে দেখা করে তার মুখে বাণী দিলেন এবং বললেন, “বালাকের কাছে ফিরে যাও ও এই বার্তা তাকে দাও।”
NUM 23:17 সে তাঁর কাছে গিয়ে দেখল তিনি মোয়াবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর নৈবেদ্যের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। বালাক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সদাপ্রভু কী কথা বললেন?”
NUM 23:18 তখন তিনি তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করলেন, “বালাক, ওঠো ও শ্রবণ করো, সিপ্পোরের ছেলে, আমার কথায় কর্ণপাত করো।
NUM 23:19 সদাপ্রভু মানব নন যে তাঁকে মিথ্যা বলতে হবে, মনুষ্য সন্তান নন যে তাঁর মতের পরিবর্তন করবেন। তিনি কথা দিয়ে কি কাজে রূপায়িত করেন না? প্রতিজ্ঞা করে তিনি কি পূর্ণ করেন না?
NUM 23:20 আমি আশীর্বাদ করার আদেশ পেয়েছি; তিনি আশীর্বাদ করেছেন, আমি তার অন্যথা করতে পারি না।
NUM 23:21 “যাকোবের মধ্যে কোনো দুর্বিপাক দেখা যায়নি, ইস্রায়েলে কোনো ক্লেশ প্রত্যক্ষ হয়নি; সদাপ্রভু, তাদের ঈশ্বর, তাদের সহায় আছেন রাজার জয়োল্লাস তাদের সঙ্গে বিদ্যমান।
NUM 23:22 ঈশ্বর, মিশর থেকে তাদের নিয়ে এসেছেন, বন্য বৃষের মতো তারা শক্তিধর;
NUM 23:23 যাকোবের বিপক্ষে কোনও ইন্দ্রজাল, ইস্রায়েলের বিপক্ষে কোনও ভবিষ্যৎ-কথন কৃতকার্য হবে না। যাকোব এবং ইস্রায়েল সম্পর্কে এখন বলা হবে, ‘দেখো, ঈশ্বর কী কাজই না সাধন করেছেন!’
NUM 23:24 সেই জাতি সিংহীর মতো উত্থিত হয়, সিংহের মতোই তারা গাত্রোত্থান করে। তারা যতক্ষণ না শিকার বিদীর্ণ করে ততক্ষণ বিশ্রাম করে না, এবং নিহতদের রক্ত পান করে।”
NUM 23:25 বালাক তখন বিলিয়মকে বললেন, “তাদের অভিশাপ দেবেন না, কিংবা আশীর্বাদও করবেন না।”
NUM 23:26 বিলিয়ম উত্তর দিল, “আমি কি আপনাকে একথা বলিনি, যে আমি শুধু সেই কাজই করব, যা সদাপ্রভু আমাকে করতে বলবেন?”
NUM 23:27 তারপরে বিলিয়মকে বালাক বললেন, “আসুন আমি আপনাকে অন্য এক স্থানে নিয়ে যাই। সম্ভবত ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবেন, যেন আপনি আমার পক্ষে সেখান থেকে তাদের অভিশাপ দেন।”
NUM 23:28 আর বালাক মরুভূমি অভিমুখী পিয়োর শৃঙ্গে বিলিয়মকে নিয়ে গেলেন।
NUM 23:29 বিলিয়ম বলল, “এখানে আমার জন্য আপনি সাতটি বেদি নির্মাণ করুন এবং সাতটি ষাঁড় ও সাতটি মেষের বলিদানের আয়োজন করুন।”
NUM 23:30 বিলিয়মের কথামতো বালাক তাই করলেন এবং প্রত্যেকটি বেদির উপরে একটি করে ষাঁড় ও একটি মেষ উৎসর্গ করা হল।
NUM 24:1 বিলিয়ম যখন দেখল যে ইস্রায়েলীদের আশীর্বাদ করা সদাপ্রভুর সন্তোষজনক, তখন অন্য সময়ের মতো সে প্রত্যাদেশ লাভ করতে অন্যত্র গেল না, কিন্তু তার মুখ প্রান্তরের দিকে ফেরালো।
NUM 24:2 বিলিয়ম দেখল, গোষ্ঠী অনুসারে ইস্রায়েল ছাউনি স্থাপন করে আছে, তখন ঈশ্বরের আত্মা তার উপরে এলেন
NUM 24:3 এবং সে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “বিয়োরের ছেলে বিলিয়মের প্রত্যাদেশ, যার চোখ স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করে, তার প্রত্যাদেশ,
NUM 24:4 তার প্রত্যাদেশ, যে ঐশ বাণী শ্রবণ করে, যে সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে দর্শন পায়, যে সাষ্টাঙ্গ প্রণত হয়, ও যার চোখ খোলা থাকে।
NUM 24:5 “হে যাকোব, তোমার তাঁবুগুলি, হে ইস্রায়েল, তোমার নিবাসস্থান কেমন মনোহর!
NUM 24:6 “উপত্যকার মতো সেগুলি বিস্তৃত হয়, নদী-তীরের বাগানের মতো হয়; সদাপ্রভু দ্বারা রোপিত অগুরু গাছগুলির মতো, জলস্রোতের পাশে থাকা দেবদারু গাছগুলির মতো হয়।
NUM 24:7 তাদের বালতি থেকে জল উপচে পড়বে, তাদের বীজ প্রচুর জল পাবে। “তাদের রাজা হবেন অগাগ থেকেও মহৎ, উন্নত হবে তাদের রাজ্য।
NUM 24:8 “ঈশ্বর মিশর থেকে তাদের নির্গত করেছেন, তারা বন্য ষাঁড়ের মতো শক্তিশালী। বৈরী জাতিদের তারা ছিন্নভিন্ন করে, খণ্ডবিখণ্ড করে তাদের অস্থিগুলি, তিরগুলি দিয়ে তাদের বিদ্ধ করে।
NUM 24:9 সিংহের মতোই তারা হামাগুড়ি দেয়, সিংহীর মতোই শয়ন করে; কোন সাহসী তাকে উঠাতে পারে? “যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে তারা আশিস ধন্য হবে, যারা তোমাকে অভিশাপ দেয় তারা অভিশপ্ত হবে!”
NUM 24:10 তখন বিলিয়মের প্রতি বালাকের ক্রোধ বহ্নিমান হল। তিনি হাতে করাঘাত করে তাকে বললেন, “আমি আপনাকে ডেকে এনেছিলাম যেন আপনি আমার শত্রুদের অভিশাপ দেন, কিন্তু এই তিনবার আপনি তাদের আশীর্বাদ করলেন।
NUM 24:11 এখন এই মুহূর্তে, প্রস্থান করুন ও বাড়িতে ফিরে যান! আমি বলেছিলাম, আপনাকে উদারভাবে পুরস্কৃত করব, কিন্তু সদাপ্রভুই আপনাকে পুরস্কার নিতে দিলেন না।”
NUM 24:12 বালাককে বিলিয়ম উত্তর দিল, “আপনি যে বার্তাবাহকদের পাঠিয়েছিলেন, আমি কি তাদের বলিনি,
NUM 24:13 ‘বালাক যদিও তাঁর প্রাসাদের সমস্ত সোনা ও রুপো দেন, আমি স্বেচ্ছায়, ভালো অথবা মন্দ, সদাপ্রভুর আদেশের অতিরিক্ত, কিছুই করতে পারি না। আমি শুধু সেই কথা বলব, যা সদাপ্রভু আমাকে বলে দেবেন।’
NUM 24:14 এখন আমি আমার স্বজাতির কাছে ফিরে যাই, কিন্তু এই লোকেরা ভবিষ্যতে আপনার লোকদের প্রতি কী করবে, আসুন, সেই বিষয়ে আপনাকে সচেতন করে দিই।”
NUM 24:15 পরে সে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “বিয়োরের ছেলে বিলিয়মের প্রত্যাদেশ, যার চোখ স্পষ্ট প্রত্যক্ষ করে, তার প্রত্যাদেশ,
NUM 24:16 তার প্রত্যাদেশ, যে ঐশ বাণী শ্রবণ করে, যিনি পরাৎপরের কাছে থেকে জ্ঞান লাভ করেছে, যে সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে দর্শন পায়, যে সাষ্টাঙ্গ প্রণত হয় ও যার চোখ খোলা থাকে।
NUM 24:17 “আমি তাঁকে দেখব, কিন্তু এখন নয়, আমি দর্শন করব, কিন্তু কাছ থেকে নয়; যাকোব থেকে উদিত হবেন এক তারকা, ইস্রায়েল থেকে এক রাজদণ্ডের উত্থান হবে। তিনি মোয়াবের কপালগুলি ও শেথের সমস্ত সন্তানের খুলিগুলি চূর্ণ করবেন।
NUM 24:18 ইদোম পরাভূত হবে, তার শত্রু সেয়ীর পরাভূত হবে, কিন্তু ইস্রায়েল উত্তরোত্তর শক্তিমান হবে।
NUM 24:19 যাকোব থেকে এক প্রশাসকের আগমন হবে, তিনি নগরের অবশিষ্ট ব্যক্তিদের বিনাশ করবেন।”
NUM 24:20 পরে বিলিয়ম অমালেকের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “অমালেক জাতিসমূহের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিল, কিন্তু বিনাশই হবে তার পরিণতি।”
NUM 24:21 তারপর সে কেনীয়দের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “তোমার নিবাসস্থল সুরক্ষিত, তোমার নীড় শৈলের মধ্যে স্থাপিত,
NUM 24:22 তা সত্ত্বেও কেনীয়েরা, তোমার হবে বিধ্বংস যখন আসিরীয়রা বন্দি করে তোমাদের নিয়ে যাবে।”
NUM 24:23 তারপর সে তার প্রত্যাদেশ ব্যক্ত করল, “হায়! ঈশ্বর যখন এই কাজ করেন, তখন কে রক্ষা পেতে পারে?
NUM 24:24 কিত্তীমের সৈকত থেকে জাহাজগুলি আসবে, তারা আসিরিয়া ও এবরকে দমন করবে; কিন্তু তাদের নিজেদেরও বিনাশ হবে।”
NUM 24:25 এরপরে বিলিয়ম উঠে নিজের ঘরে ফিরে গেল এবং বালাকও নিজের পথে প্রস্থান করলেন।
NUM 25:1 শিটিমে অবস্থানকালে ইস্রায়েলীরা, মোয়াবীয় স্ত্রীলোকদের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হল,
NUM 25:2 যারা তাদের দেবতাদের উদ্দেশে বলিকৃত খাদ্য খাওয়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাল। লোকেরা তা খেয়ে সেই দেবতাদের কাছে প্রণিপাত করল।
NUM 25:3 এইভাবে ইস্রায়েল, পিয়োরের বায়ালের উপাসনায় যোগ দিল। তখন তাদের বিপক্ষে সদাপ্রভুর ক্রোধ বহ্নিমান হল।
NUM 25:4 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “এই জাতির সমস্ত নেতৃবর্গকে নাও এবং প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের বধ করো, যেন সদাপ্রভুর প্রচণ্ড ক্রোধ ইস্রায়েল থেকে দূরীভূত হয়।”
NUM 25:5 তাই মোশি ইস্রায়েলের বিচারকদের বললেন, “তোমরা প্রত্যেকে পিয়োরের বায়াল-প্রতিমার উপাসনাকারী স্বজনদের অবশ্যই বধ করবে।”
NUM 25:6 সেই সময়, একজন ইস্রায়েলী ব্যক্তি, মোশি এবং সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজের দৃষ্টিগোচরে, একজন মিদিয়নীয় স্ত্রীলোককে তার বাড়িতে নিয়ে এল। তখন সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে, তারা সকলে কান্নাকাটি করছিল।
NUM 25:7 যখন যাজক হারোণের নাতি, ইলিয়াসরের ছেলে পীনহস তা দেখলেন, তিনি সমাজ থেকে প্রস্থান করে হাতে একটি বর্শা নিলেন।
NUM 25:8 তিনি সেই ইস্রায়েলী ব্যক্তিকে অনুসরণ করে তার তাঁবু পর্যন্ত গেলেন। তিনি তাদের উভয়ের, সেই ইস্রায়েলী ব্যক্তি ও স্ত্রীলোকটির পেটে বর্শা বিদ্ধ করলেন। তখন ইস্রায়েলীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মহামারি নিবৃত্ত হল;
NUM 25:9 কিন্তু সেই মহামারিতে যারা মারা গিয়েছিল তাদের সংখ্যা 24,000।
NUM 25:10 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 25:11 “যাজক হারোণের নাতি, ইলিয়াসরের ছেলে পীনহস, ইস্রায়েলীদের প্রতিকূলে আমার ক্রোধ নিবৃত্ত করেছে, কারণ আমার সম্মান রক্ষার জন্য আমার মতোই সেও উদ্যোগী হয়েছে। তাই আমি ক্রোধ প্রকাশ করে তাদের শেষ করে দিইনি।
NUM 25:12 সেইজন্য তাকে বলো, আমি তার সঙ্গে আমার শান্তিচুক্তি কার্যকর করছি।
NUM 25:13 সে ও তার বংশধরেরা চিরকাল যাজকত্ব পদের জন্য চুক্তিবদ্ধ হল, কারণ সে তার ঈশ্বরের সম্মান রক্ষার উদ্যোগী হয়ে ইস্রায়েলীদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধন করেছে।”
NUM 25:14 যে ইস্রায়েলী ব্যক্তি, ওই মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকটির সঙ্গে হত হয়েছিল, তার নাম সিম্রি। সে সালুর ছেলে ও শিমিয়োনীয় গোষ্ঠীর একজন নেতা ছিল।
NUM 25:15 আর সেই মিদিয়নীয় স্ত্রীলোক, যাকে হত্যা করা হয়েছিল, তার নাম কস্‌বী। সে মিদিয়ন বংশের জনৈক গোষ্ঠীর প্রধান, সূর-এর মেয়ে ছিল।
NUM 25:16 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 25:17 “মিদিয়নীয়দের শত্রু-জ্ঞান করে তাদের বধ করো।
NUM 25:18 কারণ তারাও তোমাদের শত্রু-জ্ঞান করেছে; তারা পিয়োর সংক্রান্ত বিষয়ে এবং মিদিয়নীয় জনৈক নেতার মেয়ে তাদের বোন কস্‌বী নামক যে স্ত্রীলোকটি হত হয়েছিল, তার মাধ্যমে তোমাদের প্রতারণা করেছিল। পরিণতিস্বরূপ, এই পিয়োরের জন্য তোমরা মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছিলে।”
NUM 26:1 মহামারির পরে সদাপ্রভু, মোশি ও যাজক হারোণের ছেলে ইলীয়াসরকে বললেন,
NUM 26:2 “বংশ অনুসারে সমস্ত ইস্রায়েলী সম্প্রদায়ের লোকগণনা করো। তাদের সবাইকে গণনা করো যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি এবং যারা ইস্রায়েলী সেনাবাহিনীতে কাজ করতে সক্ষম।”
NUM 26:3 অতএব মোশি ও যাজক ইলীয়াসর, মোয়াবের সমতলে, জর্ডনের কাছে, যিরীহোর অপর পাশে, তাদের সঙ্গে আলাপ করলেন ও বললেন,
NUM 26:4 “সদাপ্রভু যেমন মোশিকে আদেশ করেছেন, কুড়ি বছর বা তারও বেশি বয়স্ক পুরুষদের সংখ্যা গণনা করো।” এই ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল:
NUM 26:5 ইস্রায়েলের বড়ো ছেলে রূবেণের বংশধরেরা হল: হনোক থেকে হনোকীয় গোষ্ঠী, পল্লু থেকে পল্লুয়ীয় গোষ্ঠী;
NUM 26:6 হিষ্রোণ থেকে হিষ্রোণীয় গোষ্ঠী, কর্মি থেকে কর্মীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:7 এরা সবাই রূবেণের গোষ্ঠী; এদের গণিত সংখ্যা ছিল 43,730।
NUM 26:8 পল্লুর ছেলে ইলীয়াব
NUM 26:9 এবং ইলীয়াবের ছেলেেরা হল নমূয়েল, দাথন ও অবীরাম। এই দাথন ও অবীরাম ছিলেন সম্প্রদায়ের আধিকারিক, যারা মোশি ও হারোণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তারা কোরহের অনুগামীদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যখন তারা সদাপ্রভুর বিপক্ষে বিদ্রোহ করেছিল।
NUM 26:10 পৃথিবী, তাঁর মুখ খুলে কোরহের সঙ্গে তার অনুগামী দলকে গ্রাস করেছিল। সেসময় আগুন, 250 জন ব্যক্তিকেও পুড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের ঘটনা দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে রইল।
NUM 26:11 যাইহোক, কোরহের বংশধরেরা কেউই মারা পড়েনি।
NUM 26:12 গোষ্ঠী অনুযায়ী, শিমিয়োনের বংশধরেরা হল: নমূয়েল থেকে নমূয়েলীয় গোষ্ঠী, যামীন থেকে যামীনীয় গোষ্ঠী, যাখীন থেকে যাখীনীয় গোষ্ঠী,
NUM 26:13 সেরহ থেকে সেরহীয় গোষ্ঠী, শৌল থেকে শৌলীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:14 এরা সবাই শিমিয়োনের গোষ্ঠী। এদের গণিত পুরুষের সংখ্যা 22,200।
NUM 26:15 গোষ্ঠী অনুযায়ী, গাদের বংশধরেরা হল: সিফোন থেকে সিফোনীয় গোষ্ঠী, হগি থেকে হগীয় গোষ্ঠী, শূনি থেকে শূনীয় গোষ্ঠী,
NUM 26:16 ওষ্ণি থেকে ওষ্ণীয় গোষ্ঠী, এরি থেকে এরীয় গোষ্ঠী;
NUM 26:17 আরোদ থেকে আরোদীয় গোষ্ঠী, অরেলি থেকে অরেলীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:18 এরা সবাই গাদের গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 40,500।
NUM 26:19 এর ও ওনন, যিহূদার সন্তান। তারা সবাই কনানে মারা গিয়েছিল।
NUM 26:20 গোষ্ঠী অনুযায়ী, যিহূদার বংশধরেরা হল: শেলা থেকে শেলানীয় গোষ্ঠী, পেরস থেকে পেরসীয় গোষ্ঠী, সেরহ থেকে সেরহীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:21 পেরসের বংশধরেরা হল: হিষ্রোণ থেকে হিষ্রোণীয় গোষ্ঠী, হামূল থেকে হামূলীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:22 এরা সবাই যিহূদার গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 76,500।
NUM 26:23 গোষ্ঠী অনুযায়ী ইষাখরের বংশধরেরা হল: তোলয় থেকে তোলয়ীয় গোষ্ঠী; পূয় থেকে পূয়ীয় গোষ্ঠী,
NUM 26:24 যাশূব থেকে যাশূবীয় গোষ্ঠী, শিম্রোণ থেকে শিম্রোণীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:25 এরা সবাই ইষাখরের গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 64,300।
NUM 26:26 গোষ্ঠী অনুযায়ী, সবূলূনের বংশধরেরা হল: সেরদ থেকে সেরদীয় গোষ্ঠী, এলোন থেকে এলোনীয় গোষ্ঠী, যহলেল থেকে যহলেলীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:27 এরা সবাই সবূলূনের গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল, 60,500।
NUM 26:28 গোষ্ঠী অনুযায়ী, মনঃশি ও ইফ্রয়িমের মাধ্যমে, যোষেফের বংশধরেরা হল:
NUM 26:29 মনঃশির বংশধরেরা হল: মাখীর থেকে মাখীরীয় গোষ্ঠী। (গিলিয়দের বাবা ছিলেন মাখীর) গিলিয়দ থেকে গিলিয়দীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:30 গিলিয়দের বংশধরেরা হল: ঈয়েষর থেকে ঈয়েষরীয় গোষ্ঠী, হেলক থেকে হেলকীয় গোষ্ঠী,
NUM 26:31 অস্রীয়েল থেকে অস্রীয়েলীয় গোষ্ঠী, শেখম থেকে শেখমীয় গোষ্ঠী,
NUM 26:32 শিমীদা থেকে শিমীদায়ীয় গোষ্ঠী, হেফর থেকে হেফরীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:33 (হেফরের ছেলে সলফাদের কোনো ছেলে ছিল না। তাঁর শুধুমাত্র কয়েকটি মেয়ে ছিল। তাদের নাম ছিল মহলা, নোয়া, হগ্‌লা, মিল্কা ও তির্সা)
NUM 26:34 এরা সবাই মনঃশির গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 52,700।
NUM 26:35 গোষ্ঠী অনুযায়ী ইফ্রয়িমের বংশধরেরা হল: শূথেলহ থেকে শূথেলহীয় গোষ্ঠী, বেখর থেকে বেখরীয় গোষ্ঠী, তহন থেকে তহনীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:36 এরা সবাই শূথেলহের বংশধর, এরণ থেকে এরণীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:37 এরা সবাই ইফ্রয়িম গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 32,500। গোষ্ঠী অনুযায়ী, এরা সকলে যোষেফের বংশধর।
NUM 26:38 গোষ্ঠী অনুযায়ী, বিন্যামীনের বংশধরেরা হল: বেলা থেকে বেলায়ীয় গোষ্ঠী, অস্‌বেল থেকে অস্‌বেলীয় গোষ্ঠী। অহীরাম থেকে অহীরামীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:39 শূফম থেকে শূফমীয় গোষ্ঠী, হুফম থেকে হুফমীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:40 অর্দ এবং নামানের মাধ্যমে, বেলার বংশধরেরা হল: অর্দ থেকে অর্দীয় গোষ্ঠী, নামান থেকে নামানীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:41 এরা সবাই বিন্যামীনের গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা হল 45,600।
NUM 26:42 গোষ্ঠী অনুযায়ী, দানের বংশধরেরা হল: শূহম থেকে শূহমীয় গোষ্ঠী। এরা সবাই দানের গোষ্ঠী।
NUM 26:43 তারা সবাই শূহমীয় গোষ্ঠীভুক্ত ছিল। তাদের গণিত সংখ্যা ছিল 64,400।
NUM 26:44 গোষ্ঠী অনুযায়ী, আশেরের বংশধরেরা হল: যিম্ন থেকে যিম্নীয় গোষ্ঠী, যিস্‌বি থেকে যিস্‌বীয় গোষ্ঠী, বরিয় থেকে বরিয়ীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:45 আবার বরিয়ের বংশধরেরা হল: হেবর থেকে হেবরীয় গোষ্ঠী, মল্কীয়েল থেকে মল্কীয়েলীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:46 আশেরের সারহ নামে একটি মেয়ে ছিল।
NUM 26:47 এরা সবাই আশেরের গোষ্ঠী, তাদের গণিত সংখ্যা ছিল, 53,400।
NUM 26:48 গোষ্ঠী অনুযায়ী, নপ্তালির বংশধরেরা হল: যহসীয়েল থেকে যহসীয়েলীয় গোষ্ঠী, গূনি থেকে গূনীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:49 যেৎসর থেকে যেৎসরীয় গোষ্ঠী, শিল্লেম থেকে শিল্লেমীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:50 এরা সবাই নপ্তালির গোষ্ঠী। এদের গণিত সংখ্যা ছিল 45,400।
NUM 26:51 ইস্রায়েলী পুরুষদের সর্বমোট গণিত সংখ্যা ছিল 6,01,730 জন।
NUM 26:52 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 26:53 “নামের গণিত সংখ্যা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ভূমির স্বত্বাধিকার বণ্টন করতে হবে।
NUM 26:54 বড়ো দলকে বেশি এবং ছোটো দলকে অল্প স্বত্বাধিকার দিতে হবে। নামের তালিকা অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি তার স্বত্বাধিকার লাভ করবে।
NUM 26:55 ভূমি নিশ্চিতরূপে গুটিকাপাতের মাধ্যমে বন্টিত হবে। পিতৃ-গোষ্ঠীর নাম অনুযায়ী প্রতিটি দল স্বত্বাধিকার লাভ করবে।
NUM 26:56 বড়ো বা ছোটো সমস্ত দলের মধ্যেই গুটিকাপাতের মাধ্যমে বন্টিত হবে।”
NUM 26:57 এই লেবীয়েরাও তাদের গোষ্ঠী অনুযায়ী গণিত হল: গের্শোন থেকে গের্শোনীয় গোষ্ঠী, কহাৎ থেকে কহাতীয় গোষ্ঠী, মরারি থেকে মরারীয় গোষ্ঠী।
NUM 26:58 এরাও সবাই লেবীয় গোষ্ঠী ছিল: লিব্‌নীয় গোষ্ঠী, হিব্রোণীয় গোষ্ঠী, মহলীয় গোষ্ঠী, মূশীয় গোষ্ঠী, কোরহীয় গোষ্ঠী। (কহাৎ অম্রামের পূর্বপুরুষ ছিলেন।
NUM 26:59 অম্রামের স্ত্রীর নাম যোকেবদ। ইনি লেবির বংশ। মিশরে ও লেবি গোষ্ঠীতে তাঁর জন্ম হয়েছিল। অম্রামের জন্য তিনি হারোণ, মোশি ও তাঁদের দিদি মরিয়মকে জন্ম দিয়েছিলেন।
NUM 26:60 হারোণ ছিলেন নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরের বাবা।
NUM 26:61 কিন্তু নাদব ও অবীহূ অশুচি আগুনের মাধ্যমে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নৈবেদ্য উৎসর্গ করায় মারা পড়েছিল।)
NUM 26:62 এক মাস বা তারও বেশি বয়স্ক লেবীয়দের সব পুরুষের গণিত সংখ্যা ছিল 23,000। অন্য ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তাদের গণনা করা হয়নি, কারণ তাদের মধ্যে তারা কোনো স্বত্বাধিকার প্রাপ্ত হয়নি।
NUM 26:63 মোশি ও যাজক ইলীয়াসর মোয়াবের সমতলে জর্ডনের তীরে যিরীহোর অপর পাশে এই ইস্রায়েলীদের গণনা করেছিলেন।
NUM 26:64 মোশি ও যাজক হারোণ, সীনয় মরুভূমিতে, যে ইস্রায়েলীদের গণনা করেছিলেন, এই গণিত লোকদের মধ্যে তাদের একজনও অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
NUM 26:65 কারণ সদাপ্রভু সেই ইস্রায়েলীদের বলেছিলেন যে তারা নিশ্চিতরূপেই প্রান্তরে মারা যাবে। তাই যিফূন্নির ছেলে কালেব ও নূনের ছেলে যিহোশূয় ছাড়া, তাদের একজনও অবশিষ্ট ছিল না।
NUM 27:1 মনঃশির ছেলে মাখীর, তাঁর ছেলে গিলিয়দ, তাঁর ছেলে হেফর; তাঁর ছেলে সলফাদের মেয়েরা, যোষেফের ছেলে মনঃশির গোষ্ঠীভুক্ত ছিল। সেই মেয়েদের নাম ছিল মহলা, নোয়া, হগ্‌লা, মিল্কা ও তির্সা।
NUM 27:2 তারা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে মোশি, যাজক ইলীয়াসর, নেতৃবর্গ এবং সমগ্র সমাজের সামনে এসে দাঁড়াল। তারা বলল,
NUM 27:3 “আমাদের বাবা প্রান্তরে মারা গিয়েছিলেন। যারা সদাপ্রভুর বিপক্ষে জোটবদ্ধ হয়েছিল, সেই কোরহের অনুগামীদের মধ্যে তিনি ছিলেন না, কিন্তু তিনি নিজের পাপেই মারা গিয়েছেন এবং কোনো ছেলে রেখে যাননি।
NUM 27:4 যেহেতু তাঁর ছেলে নেই, তাই আমাদের বাবার নাম, তাঁর গোষ্ঠী থেকে কেন অবলুপ্ত হবে? আমাদের বাবার আত্মজনের মধ্যে থেকে, আমাদের ভূমির স্বত্বাধিকার দিন।”
NUM 27:5 মোশি তাদের আবেদন সদাপ্রভুর সামনে নিয়ে গেলেন।
NUM 27:6 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন,
NUM 27:7 “সলফাদের কন্যাগণ সঠিক কথাই বলেছে। তুমি নিশ্চিতরূপে তাদের বাবার আত্মীয়দের অধিকারের মধ্যে, তাদের ভূমির স্বত্বাধিকার দেবে এইভাবে, তাদের বাবার স্বত্বাধিকার, তাদের দান করবে।
NUM 27:8 “ইস্রায়েলীদের বলো, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় ও তার ছেলে না থাকে তাহলে স্বত্বাধিকার তার মেয়ের হবে।
NUM 27:9 যদি তার মেয়েও না থাকে, তবে তার ভ্রাতৃবৃন্দকে সেই স্বত্বাধিকার দিতে হবে।
NUM 27:10 যদি তার ভ্রাতৃবৃন্দও না থাকে, তাহলে তার পিতৃকুলের ভ্রাতৃগণকে তার স্বত্বাধিকার দিতে হবে।
NUM 27:11 যদি তার বাবারও কোনো ভাই না থাকে, তাহলে গোষ্ঠীর নিকটতম আত্মীয়কে তা দান করতে হবে। এইভাবে সে তার স্বত্বাধিকার লাভ করবে। ইস্রায়েলীদের জন্য এই বিধি হবে আইনানুগ, কারণ সদাপ্রভু মোশিকে এরকমই আদেশ দিয়েছেন।’ ”
NUM 27:12 তারপর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “অবারীম পর্বতশ্রেণীর এই পর্বতে ওঠো এবং ইস্রায়েলীদের যে দেশ আমি দিতে চাই, সেই দেশ দেখো।
NUM 27:13 সেটি দেখার পর তুমিও, তোমার দাদা হারোণের মতো স্বজনবর্গের কাছে সংগৃহীত হবে।
NUM 27:14 কারণ সীন মরুভূমিতে যখন জনতা জলের জন্য বিদ্রোহ করেছিল, তোমরা উভয়েই আমার আদেশের অবাধ্য হয়ে তাদের দৃষ্টিগোচরে আমাকে পবিত্র বলে সম্মান করোনি।” (এই জল ছিল সীন মরুভূমির মরীবা কাদেশের জল।)
NUM 27:15 মোশি সদাপ্রভুকে বললেন,
NUM 27:16 “হে সদাপ্রভু, সমগ্র মানবজাতির আত্মাস্বরূপ ঈশ্বর, এই সম্প্রদায়ের উপরে এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করুন,
NUM 27:17 যে তাদের সামনে গমনাগমন করবে ও তাদের নেতৃত্ব দিয়ে বাইরে নিয়ে যাবে ও ভিতরে নিয়ে আসবে, যেন সদাপ্রভুর প্রজারা পালকবিহীন মেষপালের মতো না হয়।”
NUM 27:18 অতএব সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “নূনের ছেলে যিহোশূয়কে নিয়ে তার উপরে তুমি তোমার হাত রাখো, সে আত্মাবিষ্ট ব্যক্তি।
NUM 27:19 তাকে যাজক ইলীয়াসর ও সমগ্র সমাজের সামনে দাঁড় করাও এবং তাদের উপস্থিতিতে তাকে নিয়োগ করো।
NUM 27:20 তোমার কর্তৃত্বভারের কিছু অংশ তাঁকে দাও, যেন সমগ্র ইস্রায়েলী সম্প্রদায় তাঁকে মেনে চলে।
NUM 27:21 সে যাজক ইলিয়াসরের সামনে দাঁড়াবে, যে তার জন্য সদাপ্রভুর কাছে, ঊরিম মারফত সদাপ্রভুর সিদ্ধান্ত যাচ্ঞা করবে। তাঁর আদেশে সে এবং সমস্ত ইস্রায়েলী সম্প্রদায় বাইরে যাবে এবং তাঁর আদেশে তারা ভিতরে আসবে।”
NUM 27:22 মোশি ঠিক তাই করলেন, যে রকম সদাপ্রভু তাঁকে আদেশ করেছিলেন। তিনি যিহোশূয়কে নিয়ে যাজক ইলীয়াসর ও সমগ্র সমাজের সামনে দাঁড় করালেন।
NUM 27:23 তারপর তিনি তাঁর উপর হাত রাখলেন এবং তাঁকে নিয়োগ করলেন যেমন সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে সেরকমই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
NUM 28:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 28:2 “ইস্রায়েলীদের আদেশ দিয়ে তাদের এই কথা বলো, ‘তোমরা নিরূপিত সময়ে, আমার আনন্দদায়ক সুরভিরূপে, আগুনের মাধ্যমে ভক্ষ্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।’
NUM 28:3 তাদের বলো, ‘আগুনের মাধ্যমে অনুরূপ নৈবেদ্য তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রতিদিন হোম-নৈবেদ্যরূপে ক্রুটিহীন এক বর্ষীয় দুটি মেষশাবক উৎসর্গ করবে।
NUM 28:4 একটি মেষ সকালে ও অন্যটি গোধূলিবেলায় উৎসর্গ কোরো।
NUM 28:5 তার সঙ্গে শস্য-নৈবেদ্য হিসেবে, এক ঐফার এক-দশমাংশ মিহি ময়দা, এক হিনের এক-চতুর্থাংশ নিষ্পেষিত জলপাই তেলের সঙ্গে মিশ্রিত করে দিতে হবে।
NUM 28:6 এই নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য, সীনয় পর্বতে স্থাপিত আনন্দদায়ক সুরভিত বলি, যা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক ভক্ষ্য-নৈবেদ্য।
NUM 28:7 এর পেয়-নৈবেদ্যরূপে, প্রত্যেকটি মেষশাবকের সঙ্গে, এক হিনের এক-চতুর্থাংশ গাঁজানো দ্রাক্ষারস দিতে হবে। সেই পেয়-নৈবেদ্য, পবিত্রস্থানে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ঢেলে দিতে হবে।
NUM 28:8 সন্ধ্যাবেলায় দ্বিতীয় মেষটি, একই ধরনের শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য সহযোগে প্রস্তুত করবে, যেমন সকালবেলা করেছিল। এটি ভক্ষ্য-নৈবেদ্য, আগুনের মাধ্যমে সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে নিবেদিত হবে।
NUM 28:9 “ ‘বিশ্রামবারে ক্রুটিহীন এক বর্ষীয় দুটি মেষশাবক নিয়ে উৎসর্গ করবে। সেই সঙ্গে তার পরিপূরক পেয়-নৈবেদ্য ও শস্য-নৈবেদ্যরূপে, এক ঐফার দুই-দশমাংশ মিহি ময়দা তেলে মিশ্রিত করে নিবেদন করবে।
NUM 28:10 নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও পরিপূরক পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত এই হোম-নৈবেদ্য প্রতি বিশ্রামবারের জন্য প্রযোজ্য।
NUM 28:11 “ ‘প্রত্যেক মাসের প্রথম দিনে, সদাপ্রভুর কাছে দুটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ এবং সাতটি মদ্দা মেষশাবক, হোম-নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ করবে। এদের প্রত্যেকটিই ত্রুটিহীন হতে হবে।
NUM 28:12 প্রত্যেকটি এঁড়ে বাছুরের সঙ্গে শস্য-নৈবেদ্যরূপে এক ঐফার তিন-দশমাংশ মিহি ময়দা তেলে মিশ্রিত করে দিতে হবে। মেষটির জন্য শস্য-নৈবেদ্য হবে, তেলে মিশ্রিত এক ঐফার দুই-দশমাংশ মিহি ময়দা;
NUM 28:13 আবার প্রত্যেকটি মেষশাবকের শস্য-নৈবেদ্য হবে এক ঐফার এক-দশমাংশ তেলে মিশ্রিত মিহি ময়দা। এই সমস্ত হোম-নৈবেদ্য, আগুনের মাধ্যমে, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে নিবেদিত হবে।
NUM 28:14 এদের পরিপূরক পেয়-নৈবেদ্য হবে, প্রত্যেকটি এঁড়ে বাছুরের সঙ্গে হিনের এক অর্ধাংশ; মেষটির হিনের এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রত্যেকটি মেষশাবকের সঙ্গে হিনের এক-চতুর্থাংশ দ্রাক্ষারস। বছরের প্রত্যেক অমাবস্যায় এই মাসিক হোম-নৈবেদ্য উৎসর্গ করতে হবে।
NUM 28:15 নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক পেয়-নৈবেদ্যর সঙ্গে পাপার্থক বলিরূপে, সদাপ্রভুর কাছে একটি পাঁঠাও উপহার দিতে হবে।
NUM 28:16 “ ‘প্রথম মাসের চতুর্দশ দিনে, সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
NUM 28:17 এই মাসের পঞ্চদশ দিনে এক উৎসব হবে। সাত দিন খামিরবিহীন রুটি ভোজন করতে হবে।
NUM 28:18 প্রথম দিনে পবিত্র সমাবেশ রাখবে এবং সেদিন নিয়মিত কাজ করবে না।
NUM 28:19 সদাপ্রভুর নিকট আগুনের মাধ্যমে এক নৈবেদ্য, অর্থাৎ এক হোম-নৈবেদ্য নিবেদন কোরো। দুটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও সাতটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক নিতে হবে। এর সব কটিই ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 28:20 প্রত্যেকটি এঁড়ে বাছুরের সঙ্গে পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য দিতে হবে, তেলে মিশ্রিত এক ঐফার তিন-দশমাংশ মিহি ময়দা, মেষটির সঙ্গে দুই-দশমাংশ
NUM 28:21 ও সাতটি মেষশাবকের প্রত্যেক সাতটি মেষের জন্য এক-দশমাংশ মিহি ময়দা।
NUM 28:22 তোমাদের প্রায়শ্চিত্ত সাধনের উদ্দেশে, পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও নেবে।
NUM 28:23 সকালবেলায় নিয়মিত হোম-নৈবেদ্যর অতিরিক্তিরূপে এই সমস্তের আয়োজন করতে হবে।
NUM 28:24 এইভাবে সাত দিন ধরে প্রত্যেকদিন, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে নিবেদিত ভক্ষ্য-নৈবেদ্যর আয়োজন করবে। নিয়িমিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্তরূপে এই আয়োজন করতে হবে।
NUM 28:25 সপ্তম দিনে পবিত্র সভা রাখবে এবং সেদিন কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।
NUM 28:26 “ ‘প্রথম উৎপন্ন শস্যের দিনে, সাত সপ্তাহের উৎসবে, যখন তোমরা সদাপ্রভুকে নতুন শস্য নিবেদন করবে, পবিত্র নতুন শস্যের সভা আহ্বান করবে এবং কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।
NUM 28:27 সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিস্বরূপ হোম-নৈবেদ্যরূপে, দুটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও সাতটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে।
NUM 28:28 প্রত্যেকটি এঁড়ে বাছুরের জন্য পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য হবে তেলে মিশ্রিত এক ঐফার তিন-দশমাংশ মিহি ময়দা; মেষটির জন্য দুই-দশমাংশ
NUM 28:29 এবং সাতটি মেষশাবকের প্রত্যেকটির জন্য এক-দশমাংশ করে।
NUM 28:30 তোমাদের প্রায়শ্চিত্ত সাধনের উদ্দেশে একটি পাঁঠাও নেবে।
NUM 28:31 নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও শস্য-নৈবেদ্যর অতিরিক্তরূপে এই সমস্তের আয়োজন পেয়-নৈবেদ্য সহযোগে করবে। নিশ্চিত হবে, যেন পশুগুলি ত্রুটিহীন হয়।
NUM 29:1 “ ‘সপ্তম মাসের প্রথম দিনে, এক পবিত্র সভার আয়োজন কোরো এবং কোনো নিয়মিত কাজ করবে না। এই দিন তোমরা তূরী বাজাবে।
NUM 29:2 সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিস্বরূপ হোম-নৈবেদ্যরূপে ত্রুটিহীন একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও সাতটি এক বর্ষীয় মেষশাবকের আয়োজন করবে।
NUM 29:3 এঁড়ে বাছুরটির সঙ্গে শস্য-নৈবেদ্য দিতে হবে, এক ঐফার তিন-দশমাংশ জলপাই তেলে মিশ্রিত মিহি ময়দা, মেষটির সঙ্গে দুই-দশমাংশ
NUM 29:4 এবং সাতটি মেষশাবকের প্রত্যেকটির সঙ্গে এক-দশমাংশ।
NUM 29:5 তোমাদের প্রায়শ্চিত্ত সাধনের উদ্দেশে পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও নেবে।
NUM 29:6 যেমন সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে, এসব নৈবেদ্য, মাসিক ও প্রাত্যহিক হোম-নৈবেদ্য এবং তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত। এই সমস্তই অগ্নির মাধ্যমে সদাপ্রভুকে নিবেদিত আনন্দদায়ক সুরভিত ভক্ষ্য-নৈবেদ্য।
NUM 29:7 “ ‘এই সপ্তম মাসের দশম দিনে এক পবিত্র সভা আহ্বান করবে। তোমরা কৃচ্ছ্রসাধন করবে এবং কোনো কাজ করবে না।
NUM 29:8 সদাপ্রভুর কাছে আনন্দদায়ক সুরভিস্বরূপ হোম-নৈবেদ্যর জন্য একটি এঁড়ে বাছুর, একটি মেষ ও সাতটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:9 এঁড়ে বাছুরটির জন্য পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্যরূপে আনতে হবে এক ঐফার তিন-দশমাংশ তেলে মিশ্রিত মিহি ময়দা; মেষটির সঙ্গে দুই-দশমাংশ,
NUM 29:10 সাতটি মেষশাবকের প্রত্যেকটির সঙ্গে এক-দশমাংশ করে।
NUM 29:11 প্রায়শ্চিত্তের জন্য পাপার্থক বলিরূপে নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত পাপার্থক বলিরূপে একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে।
NUM 29:12 “ ‘সপ্তম মাসের পঞ্চদশ দিনে, একটি পবিত্র সভার আয়োজন করবে এবং সেদিন কোনো নিয়মিত কাজ করবে না। সদাপ্রভুর উদ্দেশে, সাত দিন ব্যাপী এক আনন্দোৎসব করবে।
NUM 29:13 তেরোটি এঁড়ে বাছুর, দুটি মেষ এবং চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক নিয়ে, আগুনের মাধ্যমে সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিরূপে হোম-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:14 পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য আনতে হবে, তেরোটি এঁড়ে বাছুরের প্রত্যেকটির জন্য এক ঐফার তিন-দশমাংশ, দুটি মেষের প্রত্যেকটির সঙ্গে দুই-দশমাংশ
NUM 29:15 এবং চোদ্দটি মেষশাবকের প্রত্যেকটির সঙ্গে এক-দশমাংশ তেলে মিশ্রিত মিহি ময়দা।
NUM 29:16 নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য এবং তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত, পাপার্থক বলিরূপে একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে।
NUM 29:17 “ ‘দ্বিতীয় দিনে বারোটি এঁড়ে বাছুর, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। এদের প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হতে হবে।
NUM 29:18 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:19 পাপার্থক বলিরূপে একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত, নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:20 “ ‘তৃতীয় দিনে এগারোটি ষাঁড়, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:21 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:22 পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:23 “ ‘চতুর্থ দিনে এগারোটি ষাঁড়, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:24 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী, তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:25 নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য এবং তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত, পাপার্থক বলিরূপে একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে।
NUM 29:26 “ ‘পঞ্চম দিনে নয়টি ষাঁড়, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:27 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী, তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:28 পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত, নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:29 “ ‘ষষ্ঠ দিনে আটটি ষাঁড়, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:30 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:31 পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত, নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:32 “ ‘সপ্তম দিনে সাতটি ষাঁড় মেষ, দুটি মেষ ও চোদ্দটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:33 সেই ষাঁড়, মেষ ও মেষশাবকদের সংখ্যা অনুযায়ী, তাদের পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:34 পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:35 “ ‘অষ্টম দিনে শেষ দিনের এক বিশেষ সভা করবে এবং কোনো নিয়মিত কাজ করবে না।
NUM 29:36 একটি ষাঁড়, একটি মেষ ও সাতটি এক বর্ষীয় মদ্দা মেষশাবক নিয়ে, সদাপ্রভুর আনন্দদায়ক সুরভিত উপহাররূপে, আগুনের মাধ্যমে হোম-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে। প্রত্যেকটি ত্রুটিহীন হওয়া চাই।
NUM 29:37 সেই ষাঁড়, মেষ এবং মেষশাবকগুলির সঙ্গে, সংখ্যা অনুযায়ী তাদের শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।
NUM 29:38 পাপার্থক বলির জন্য একটি পাঁঠাও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সমস্ত, নিয়মিত হোম-নৈবেদ্য ও তার পরিপূরক শস্য-নৈবেদ্য ও তাদের পেয়-নৈবেদ্যর অতিরিক্ত হবে।
NUM 29:39 “ ‘তোমাদের মানত ও স্বেচ্ছাদানের অতিরিক্তরূপে, তোমাদের নিরূপিত উৎসবসমূহে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই সমস্ত উৎসর্গ করবে। তোমাদের হোম-নৈবেদ্য, শস্য-নৈবেদ্য, পেয়-নৈবেদ্য ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য থেকে এই সমস্ত স্বতন্ত্র।’ ”
NUM 29:40 সদাপ্রভু মোশিকে যে সমস্ত আদেশ দিয়েছিলেন, তিনি ইস্রায়েলীদের সেই সমস্তই বললেন।
NUM 30:1 মোশি, ইস্রায়েলী গোষ্ঠীপ্রধানদের বললেন, “সদাপ্রভু এই আদেশ দিয়েছেন,
NUM 30:2 যখন কোনো ব্যক্তি সদাপ্রভুর উদ্দেশে কোনো মানত স্থির করে, অথবা শপথপূর্বক কোনো অঙ্গীকারে নিজেকে আবদ্ধ করে, তাহলে সে নিজের শপথের অন্যথা করবে না, কিন্তু যা কিছু সে অঙ্গীকার করে, তা অবশ্যই পালন করবে।
NUM 30:3 “কোনো যুবতী যদি তার পিতৃগৃহে অবস্থানকালে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে কোনো মানত স্থিত করে অথবা অঙ্গীকারে নিজেকে আবদ্ধ করে,
NUM 30:4 এবং তার বাবা যদি সেই মানত এবং অঙ্গীকার শোনে, কিন্তু তাকে কিছুই না বলে, তাহলে যার দ্বারা সে আবদ্ধ হয়েছে, সেই সমস্ত মানত এবং অঙ্গীকার স্থির থাকবে।
NUM 30:5 কিন্তু সেই শপথ শোনার পর যদি তার বাবা তাকে নিষেধ করে থাকে, তাহলে তার কোনও মানত বা অঙ্গীকার, যার দ্বারা সে আবদ্ধ হয়েছে, স্থির থাকবে না। সদাপ্রভু তাকে মুক্তি দেবেন, কারণ তার বাবা তাকে নিষেধ করেছিল।
NUM 30:6 “যদি সে মানত স্থির করে বা ওষ্ঠনির্গত, অবিবেচনাপূর্ণ শপথের দ্বারা নিজেকে আবদ্ধ করে বিবাহিতা হয়,
NUM 30:7 এবং তার স্বামী সেকথা শুনলেও তাকে কিছু না বলে, তাহলে তার মানত বা অঙ্গীকার, যার দ্বারা সে আবদ্ধ হয়েছিল, স্থির থাকবে।
NUM 30:8 কিন্তু সেকথা শোনার পর যদি তার স্বামী নিষেধ করে থাকে এবং তার মানত বা যে অবিবেচনাপূর্ণ শপথ দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে তা বাতিল করে দেয়, সদাপ্রভু তাকে মুক্ত করবেন।
NUM 30:9 “বিধবা বা বিবাহ-বিচ্ছিন্না স্ত্রীর যে কোনো মানত বা বাধ্যবাধকতা তার বন্ধনস্বরূপ হবে।
NUM 30:10 “যদি কোনো স্ত্রীলোক, তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করার সময়, কোনো মানত স্থির করে বা শপথপূর্বক কোনো অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়,
NUM 30:11 তার স্বামী সেকথা শুনেও যদি তাকে কিছু না বলে এবং তাকে নিষেধ না করে, তাহলে তার সমস্ত মানত এবং অঙ্গীকার, যার দ্বারা সে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, স্থির থাকবে।
NUM 30:12 কিন্তু সেই সমস্ত শোনার পর যদি তার স্বামী সব বাতিল করে দেয়, তাহলে কোনও মানত বা তার ওষ্ঠনির্গত অঙ্গীকারের শপথ স্থির থাকবে না। তার স্বামী সেই সমস্ত বাতিল করেছে, অতএব সদাপ্রভু তাকে মুক্ত করবেন।
NUM 30:13 তার প্রত্যেক মানত ও অঙ্গীকারকে দুঃখ দেবার প্রতিজ্ঞাযুক্ত প্রত্যেক মানত তার স্বামী স্থির করতেও পারে বা ব্যর্থ করতেও পারে।
NUM 30:14 কিন্তু দিন-প্রতিদিন, এই সম্পর্কে যদি তার স্বামী তাকে কিছু না বলে, তাহলে তার সমস্ত মানত ও অঙ্গীকার, যার দ্বারা সে আবদ্ধ হয়, সে তার অনুমোদন করে। সমস্ত বিষয় শোনার পরও তাকে কিছু না বলার পরিণতিস্বরূপ সে সেই সমস্তের অনুমোদন করে।
NUM 30:15 কিন্তু, যদি সে সেই সমস্ত শোনার কিছুদিন পরে বাতিল করে, তাহলে সে তার স্ত্রীর অপরাধের জন্য দায়ী হবে।”
NUM 30:16 পুরুষ ও স্ত্রীর সম্পর্কে এবং বাবা ও তার যুবতী মেয়ে, যখন সে পিতৃগৃহে থাকে, তাদের সম্পর্কের এই সমস্ত নিয়মবিধি, সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে দিয়েছিলেন।
NUM 31:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 31:2 “ইস্রায়েলীদের তরফে মিদিয়নীয়দের উপর প্রতিশোধ নাও। তারপর তুমি তোমার স্বজনবর্গের কাছে সংগৃহীত হবে।”
NUM 31:3 অতএব মোশি লোকদের বললেন, “মিদিয়নীয়দের বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য তোমরা কিছু ব্যক্তিকে অস্ত্রসজ্জিত করো, যেন সদাপ্রভুর জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
NUM 31:4 ইস্রায়েলের প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে এক এক হাজার সৈন্য যুদ্ধে পাঠাও।”
NUM 31:5 অতএব ইস্রায়েলী বংশসমূহ থেকে, প্রত্যেক গোষ্ঠীর এক হাজার করে বারো হাজার সৈন্য, সমর সজ্জায় সজ্জিত হল।
NUM 31:6 মোশি প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে এক হাজার ব্যক্তিকে যুদ্ধে পাঠালেন। তাদের সঙ্গে যাজক ইলিয়াসরের ছেলে পীনহসকেও পাঠানো হল। তিনি পবিত্রস্থান থেকে পবিত্র জিনিসগুলি ও সংকেত জ্ঞাপনের উদ্দেশে তূরী সঙ্গে নিলেন।
NUM 31:7 সদাপ্রভু যেমন মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, তারা মিদিয়নের বিপক্ষে যুদ্ধ করে তাদের প্রত্যেক পুরুষকে বধ করল।
NUM 31:8 তাদের শিকারের মধ্যে ছিল, মিদিয়নের পাঁচজন রাজা—ইবি, রেকম, সূর, হূর ও রেবা। তারা বিয়োরের ছেলে বিলিয়মকেও তরোয়ালের আঘাতে বধ করল।
NUM 31:9 ইস্রায়েলীরা, মিদিয়নীয় স্ত্রীলোক ও ছেলেমেয়েদের বন্দি করল এবং তারা তাদের গবাদি পশু, মেষপাল ও সমস্ত জিনিস লুণ্ঠন করল।
NUM 31:10 তারা তাদের নগরগুলি, যেখানে তারা বসবাস করত এবং তাদের সমস্ত ছাউনি পুড়িয়ে দিল।
NUM 31:11 তারা মানুষ ও পশু সমেত সমস্ত লুন্ঠিত দ্রব্য ও সমস্ত প্রাণীকে নিয়ে গেল।
NUM 31:12 সমস্ত বন্দি, ধৃত প্রাণী ও লুন্ঠিত জিনিসগুলি নিয়ে তারা মোশি, যাজক ইলিয়াসর ও ইস্রায়েলী সমাজের কাছে তাদের ছাউনিতে, মোয়াবের সমতলে, জর্ডনের সমীপে, যিরীহোর অপর পাশে নিয়ে এল।
NUM 31:13 মোশি, যাজক ইলিয়াসর ও মণ্ডলীর সমস্ত নেতৃবর্গ, ছাউনির বাইরে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।
NUM 31:14 মোশি যুদ্ধ থেকে ফেরা দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকদের, অর্থাৎ সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতিদের উপর রুষ্ট হলেন।
NUM 31:15 তিনি তাদের প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি সব স্ত্রীলোককে জীবিত রেখেছ?
NUM 31:16 বিলিয়মের পরামর্শে তারাই ইস্রায়েলীদের সদাপ্রভুর কাছে থেকে পথভ্রষ্ট করেছিল। পিয়োরে সেই ঘটনা ঘটেছিল যখন সদাপ্রভুর প্রজারা এক মহামারি দ্বারা আক্রান্ত হয়।
NUM 31:17 এখন সব কিশোরকে বধ করো। পুরুষের সঙ্গে শায়িতা সব স্ত্রীলোককেও বধ করো,
NUM 31:18 কিন্তু, যারা কোনো পুরুষের সঙ্গে কখনও শয়ন করেনি, সেই কুমারীদের নিজেদের জন্য জীবিত রাখো।
NUM 31:19 “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে, যারা কাউকে বধ করেছে বা নিহত কাউকে স্পর্শ করেছে, ছাউনির বাইরে সাত দিন অবস্থিতি করবে। তৃতীয় ও সপ্তম দিনে, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের বন্দিদের অবশ্যই শুদ্ধ করবে।
NUM 31:20 প্রত্যেকটি বস্ত্র, সেই সঙ্গে চর্মনির্মিত, ছাগ-লোম বা কাঠ নির্মিত সমস্ত দ্রব্যকে শুদ্ধ করতে হবে।”
NUM 31:21 তারপর যাজক ইলিয়াসর, যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, সেই সৈন্যদের বললেন, “সদাপ্রভু মোশিকে যা বলেছিলেন, সেই বিধানের চাহিদা এই,
NUM 31:22 সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জ, লোহা, টিন, সীসা,
NUM 31:23 এবং অন্য যে সমস্ত দ্রব্য আগুনের উত্তাপ সহ্য করতে পারে, তাদের আগুনের মধ্য দিয়ে পরিশোধন করতে হবে, তখন তা শুদ্ধ হবে। তা সত্ত্বেও, শুদ্ধকরণের জল দিয়ে সেসব পরিশোধন করতে হবে। যে কোনো দ্রব্য আগুনের উত্তাপ সহ্য করতে পারে না, সেগুলি জলে পরিশোধন করতে হবে।
NUM 31:24 সপ্তম দিনে তোমরা নিজেদের বস্ত্র ধুয়ে পরিষ্কৃত হবে। তারপর তোমরা ছাউনিতে প্রবেশ করবে।”
NUM 31:25 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 31:26 “তুমি, যাজক ইলিয়াসর এবং সমাজের বংশ-প্রধানেরা, সমস্ত বন্দি মানুষ ও ধৃত পশুদের সংখ্যা গণনা করো।
NUM 31:27 যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, সেই সৈন্যদের মধ্যে ও সমাজের অবশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে লুন্ঠিত দ্রব্য সমান ভাগে ভাগ করো।
NUM 31:28 যারা যুদ্ধ করেছিল সেই সৈন্যদের কাছ থেকে মানুষ অথবা গবাদি পশু, গাধা, মেষ বা ছাগল, প্রত্যেক 500 প্রাণী প্রতি একটি করে প্রাণী সদাপ্রভুকে দেয় রাজস্ব হিসেবে পৃথক করো।
NUM 31:29 তাদের প্রাপ্য এই অর্ধাংশ থেকে এই রাজস্ব নিয়ে, সদাপ্রভুর অংশ হিসেবে, যাজক ইলিয়াসরকে দান করো।
NUM 31:30 ইস্রায়েলীদের প্রাপ্য অর্ধাংশ থেকে, মানুষ, গবাদি পশু, গাধা, মেষ, ছাগল বা অন্য পশু, প্রত্যেক পঞ্চাশটি প্রাণী প্রতি একটি করে প্রাণী পৃথক করো। সেই সমস্ত নিয়ে লেবীয়দের দাও, যারা সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে।”
NUM 31:31 অতএব মোশি ও যাজক ইলিয়াসর ঠিক তাই করলেন, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন।
NUM 31:32 অন্যান্য লুন্ঠিত দ্রব্য ছাড়া সৈন্যদের ধৃত প্রাণীর সংখ্যা, 6,75,000-টি মেষ,
NUM 31:33 72,000-টি গবাদি পশু,
NUM 31:34 61,000-টি গাধা,
NUM 31:35 এবং 32,000 জন কুমারী যারা কখনও কোনো পুরুষের সঙ্গে শয়ন করেনি।
NUM 31:36 যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের প্রাপ্ত অর্ধাংশ ছিল: 3,37,500-টি মেষ,
NUM 31:37 এর মধ্যে সদাপ্রভুকে দেয় রাজস্বের সংখ্যা 675-টি মেষ;
NUM 31:38 36,000-টি গবাদি পশু, এর মধ্যে সদাপ্রভুকে দেয় রাজস্বের সংখ্যা 72-টি পশু;
NUM 31:39 30,500-টি গাধা, এর মধ্যে সদাপ্রভুকে দেয় রাজস্বের সংখ্যা 61;
NUM 31:40 16,000 জন মানুষ, এর মধ্যে সদাপ্রভুকে দেয় রাজস্বের সংখ্যা 32-টি গাধা।
NUM 31:41 মোশি এই রাজস্ব নিয়ে, সদাপ্রভুর প্রাপ্য বলে যাজক ইলিয়াসরকে দিলেন, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন।
NUM 31:42 ইস্রায়েলীদের প্রাপ্য অর্ধেকাংশ, যা মোশি সৈন্যদের প্রাপ্ত অর্ধাংশ থেকে পৃথক করে রেখেছিলেন,
NUM 31:43 অর্থাৎ সমাজের প্রাপ্য অর্ধাংশ ছিল 3,37,500-টি মেষ,
NUM 31:44 36,000-টি গবাদি পশু,
NUM 31:45 30,500-টি গাধা
NUM 31:46 এবং 16,000 জন মানুষ।
NUM 31:47 ইস্রায়েলীদের অর্ধাংশ থেকে, মোশি প্রতি পঞ্চাশ জন মানুষ ও পশু থেকে একটি করে পৃথক করলেন, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি সেই সমস্ত নিয়ে লেবীয়দের দিলেন, যারা সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।
NUM 31:48 তখন সামরিক বিভাগের পদস্থ আধিকারিকেরা, অর্থাৎ সহস্র-সেনাপতিরা ও শত-সেনাপতিরা, মোশির কাছে গিয়ে,
NUM 31:49 তাঁকে বললেন, “আপনার সেবকেরা আমাদের অধীনস্থ সৈন্যদের গণনা করে দেখেছে, তাদের মধ্যে একজনও নিরুদ্দেশ হয়নি।
NUM 31:50 অতএব আমরা আমাদের অর্জিত স্বর্ণালংকার থেকে, সদাপ্রভুর কাছে নৈবেদ্য এনেছি—তাগা, বালা, আংটি, কানের দুল ও গলার হার—যেন সদাপ্রভুর কাছে আমরা নিজেদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি।”
NUM 31:51 মোশি ও যাজক ইলিয়াসর, তাদের কাছে থেকে সেই সোনা—সকল কারুকার্যময় দ্রব্য গ্রহণ করলেন।
NUM 31:52 সহস্র-সেনাপতির ও শত-সেনাপতির কাছে থেকে গৃহীত সমস্ত সোনার পরিমাণ, যা মোশি ও যাজক ইলিয়াসর সদাপ্রভুকে নিবেদন করেছিলেন, তার ওজন 16,750 শেকল।
NUM 31:53 সৈনিকরা প্রত্যেকে নিজেদের জন্য লুন্ঠিত দ্রব্য নিয়েছিল।
NUM 31:54 মোশি ও যাজক ইলিয়াসর সেই সোনা, সহস্র সেনা অধিনায়ক ও শত সেনা অধিনায়কদের কাছ থেকে গ্রহণ করে এবং সদাপ্রভুর সামনে ইস্রায়েলীদের জন্য স্মারকরূপে সমাগম তাঁবুতে নিয়ে এলেন।
NUM 32:1 রূবেণ ও গাদ গোষ্ঠীর খুব বড়ো বড়ো গোপাল ও মেষপাল ছিল। তারা দেখল যে যাসের ও গিলিয়দ অঞ্চল পশুপালনের জন্য উপযোগী।
NUM 32:2 তারা মোশি, ও যাজক ইলিয়াসর এবং সমাজের নেতৃবর্গের কাছে এল এবং বলল,
NUM 32:3 “অটারোৎ, দীবোন, যাসের, নিম্রা, হিষ্‌বোন, ইলিয়ালী, সেবাম, নেবো ও বিয়োন,
NUM 32:4 সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সামনে যে সমস্ত অঞ্চলের পতন ঘটিয়েছেন, তা পশুপালের জন্য উপযোগী এবং আপনাদের সেবকদের কাছে পশুপাল আছে।
NUM 32:5 যদি আমরা আপনাদের দৃষ্টিতে কৃপা লাভ করে থাকি,” তারা বলল, “তাহলে স্বত্বাধিকাররূপে এই ভূমি আমাদের দান করা হোক। আমাদের জর্ডনের অপর পারে যেতে বাধ্য করবেন না।”
NUM 32:6 গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠীর সবাইকে মোশি বললেন, “তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইয়েরা যুদ্ধে যাবে আর তোমরা সবাই এখানে বসে থাকবে?
NUM 32:7 সদাপ্রভু যে দেশ ইস্রায়েলীদের দান করেছেন, তোমরা সেখানে যেতে কেন তাদের নিরুৎসাহ করছ?
NUM 32:8 এরকমই কাজ তোমাদের পূর্বপুরুষেরা করেছিল, যখন আমি কাদেশ-বর্ণেয় থেকে তাদের দেশ পর্যবেক্ষণ করতে পাঠিয়েছিলাম।
NUM 32:9 তারা ইষ্কোল উপত্যকা পর্যন্ত উঠে গিয়ে দেশ নিরীক্ষণ করে এসে, যে দেশ সদাপ্রভু তাদের দান করেছিলেন, সেই দেশে প্রবেশ করতে ইস্রায়েলীদের হতোদ্যম করেছিল।
NUM 32:10 সেদিন সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়েছিল এবং তিনি শপথ করে বলেছিলেন,
NUM 32:11 ‘যেহেতু তারা সর্বান্তঃকরণে আমার অনুগমন করেনি, তাই তাদের মধ্যে যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তারও বেশি, যারা মিশর থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তাদের মধ্যে একজনও সেই দেশে প্রবেশ করবে না, যে দেশ আমি অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের নিকট দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।
NUM 32:12 কেবলমাত্র, কনিষীয়, যিফূন্নির ছেলে কালেব ও নূনের ছেলে যিহোশূয় ছাড়া, অন্য একজনও নয়, কারণ তারা সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর অনুগমন করেছিল।’
NUM 32:13 ইস্রায়েলের বিপক্ষে সদাপ্রভুর ক্রোধ বহ্নিমান হয়েছিল, তিনি চল্লিশ বছর তাদের প্রান্তরে পরিভ্রমণ করিয়েছিলেন, যতদিন না সেই সম্পূর্ণ প্রজন্ম, যারা তার দৃষ্টিতে কুকাজ করেছিল, মারা গেল।
NUM 32:14 “এখন, পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের সন্তান তোমরা সকলে, যারা তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্থানে দণ্ডায়মান হয়েছে, ইস্রায়েলীদের বিপক্ষে সদাপ্রভুকে আরও বেশি রুষ্ট করছ।
NUM 32:15 যদি তোমরা তাঁর অনুগমন থেকে ফিরে আস, তিনি এই সমস্ত লোককে প্রান্তরে পরিত্যাগ করবেন এবং তোমরাই তাদের বিনাশের কারণ হবে।”
NUM 32:16 তারা তখন তাঁর কাছে এসে বলল, “আমরা এখানে আমাদের পশুপালের জন্য খোঁয়াড় ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য নগর নির্মাণ করতে চাই।
NUM 32:17 তা সত্ত্বেও, আমরা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে, ইস্রায়েলের পুরোভাগে যাব, যতদিন না তাদের গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাই। এসময়, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা, দেশবাসীদের থেকে নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষিত নগরে বসবাস করবে।
NUM 32:18 যতক্ষণ না প্রত্যেক ইস্রায়েলী তাদের অধিকার লাভ করে, আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরে যাব না,
NUM 32:19 জর্ডনের অপর পাড়ে, আমরা তাদের সঙ্গে আর কোনো স্বত্বাধিকার গ্রহণ করব না, কারণ আমাদের স্বত্বাধিকার জর্ডনের পূর্বপাড়ে আমরা প্রাপ্ত হয়েছি।”
NUM 32:20 তখন মোশি তাদের বললেন, “যদি তোমরা সেরকম করো, সদাপ্রভুর সামনে যুদ্ধের জন্য যদি নিজেদের অস্ত্রসজ্জা গ্রহণ করো,
NUM 32:21 যদি তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি সদাপ্রভুর সামনে, সশস্ত্র হয়ে জর্ডনের অন্য পাড়ে যাও, যতক্ষণ না তিনি তাঁর শত্রুদের তাঁর সামনে থেকে বিতাড়িত করেন,
NUM 32:22 যখন দেশ, সদাপ্রভুর সামনে পদানত হবে, তখন তোমরা ফিরে আসতে পারো এবং সদাপ্রভু ও ইস্রায়েলীদের প্রতি বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হতে পারো। তখন সদাপ্রভুর সামনে এই ভূমির স্বত্বাধিকার, তোমাদের হবে।
NUM 32:23 “কিন্তু এই কাজ করতে যদি অক্ষম হও, তোমরা সদাপ্রভুর বিপক্ষে পাপ করবে। তাহলে নিশ্চিত জেনো, তোমাদের পাপ তোমাদের ধরবে।
NUM 32:24 তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নগর ও পশুপালের জন্য খোঁয়াড় নির্মাণ করো, কিন্তু যা শপথ করেছ, কাজেও তা পূর্ণ করবে।”
NUM 32:25 গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠী মোশিকে বলল, “আমদের প্রভু যেমন আদেশ দিলেন, আপনার দাস আমরা তাই করব।
NUM 32:26 আমাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা, মেষপাল ও গোপালসমূহ, গিলিয়দ অঞ্চলের এই সমস্ত নগরে অবস্থান করবে।
NUM 32:27 কিন্তু আপনার দাসেরা, যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র প্রত্যেক পুরুষ, সদাপ্রভুর সামনে যুদ্ধের জন্য জর্ডন পার হয়ে যাবে, যেমন আমাদের প্রভু বলেছেন।”
NUM 32:28 মোশি তখন তাদের সম্বন্ধে, যাজক ইলিয়াসর, নূনের ছেলে যিহোশূয় এবং ইস্রায়েল গোষ্ঠীর বংশ-প্রধানদের আদেশ দিলেন।
NUM 32:29 তিনি তাদের বললেন, “যদি গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠীর প্রত্যেক পুরুষ যুদ্ধের জন্য সসজ্জ হয়, সদাপ্রভুর সামনে তোমাদের সঙ্গে জর্ডন অতিক্রম করে, তাহলে দেশ যখন তোমাদের সামনে পদানত হবে, তখন স্বত্বাধিকারস্বরূপ তাদের গিলিয়দের ভূমি দান করবে।
NUM 32:30 কিন্তু সশস্ত্র হয়ে তারা যদি তোমাদের সঙ্গে জর্ডন অতিক্রম না করে, তাহলে তারা অবশ্যই তাদের স্বত্বাধিকার, কনানে, তোমাদের সঙ্গে লাভ করবে।”
NUM 32:31 গাদ ও রূবেণ গোষ্ঠী উত্তর দিল, “সদাপ্রভু যে রকম বলেছেন, আপনার দাসেরা সেরকমই করবে।
NUM 32:32 আমরা সদাপ্রভুর সামনে, সশস্ত্র অবস্থায় পার হয়ে কনানে প্রবেশ করব, কিন্তু আমাদের অধিকারস্বরূপ স্বত্ব, জর্ডনের এই পাড়ে থাকবে।”
NUM 32:33 তখন মোশি, গাদ গোষ্ঠী, রূবেণ গোষ্ঠী ও যোষেফের ছেলে মনঃশির অর্ধগোষ্ঠীকে, ইমোরীয় রাজা সীহোনের রাজ্য ও বাশনের রাজা ওগের রাজ্য দান করলেন। তাদের নগর সমেত সমস্ত দেশ ও তাদের সন্নিহিত অঞ্চলগুলিও দিলেন।
NUM 32:34 গাদ গোষ্ঠী দীবোন, অটারোৎ, অরোয়ের,
NUM 32:35 অটারোৎ শোফন, যাসের, যগ্‌বিহ,
NUM 32:36 বেথ-নিম্রা ও বেত-হারণ, সুরক্ষিত নগর এবং পশুপালের খোঁয়াড় নির্মাণ করল।
NUM 32:37 আবার রূবেণ গোষ্ঠী হিষ্‌বোন, ইলিয়ালী ও কিরিয়াথয়িম,
NUM 32:38 সেই সঙ্গে নেবো, বায়াল-মিয়োন (এই নামগুলি পরিবর্তিত হয়েছিল) এবং সিব্‌মা। এসব নগর তারা পুনর্নির্মাণ করে তাদের নামকরণ করল।
NUM 32:39 মনঃশির ছেলে মাখীরের বংশধরেরা গিলিয়দে গিয়ে তা দখল করল ও যারা সেখানে ছিল, সেই ইমোরীয়দের বিতাড়িত করল।
NUM 32:40 তাই মোশি, মনঃশির বংশধর মাখীরীয়দের গিলিয়দ দান করলেন। তারা সেখানেই উপনিবেশ স্থাপন করল।
NUM 32:41 মনঃশির বংশধর যায়ীরও তাদের উপনিবেশগুলি দখল করে সেগুলির নাম হব্বোথ-যায়ীর রাখলেন।
NUM 32:42 নোবহ, কনাৎ ও তার সন্নিহিত অঞ্চলগুলি দখল করে তার নিজের নামানুসারে তার নাম নোবহ রাখল।
NUM 33:1 মোশি এবং হারোণের নেতৃত্বে যখন ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে সৈন্য শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী বের হয়েছিল, তখন এই হল যাত্রাপথের পর্যায়ক্রমিক বিবরণ।
NUM 33:2 সদাপ্রভুর আদেশমতো মোশি তাদের যাত্রাপথের পর্যায়ক্রমের বিবরণ নথিভুক্ত করেন। এই হল তাদের যাত্রাপথের পর্যায়ক্রম বিবরণ।
NUM 33:3 প্রথম মাসের পঞ্চদশ দিনে, নিস্তারপর্বের পরদিন, ইস্রায়েলীরা রামিষেষ থেকে বের হয়। তারা সমস্ত মিশরীয়ের সামনে দিয়ে সদম্ভে বেরিয়ে আসে।
NUM 33:4 সেই সময় তারা তাদের প্রথমজাত সন্তানের কবর দিচ্ছিল, যাদের সদাপ্রভু আঘাত করে বধ করেছিলেন। এইভাবে ঈশ্বর তাদের দেবতাদের বিচার করেছিলেন।
NUM 33:5 ইস্রায়েলীরা রামিষেষ ত্যাগ করে সুক্কোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:6 তারা সুক্কোৎ ত্যাগ করে মরুভূমির প্রান্তে, এথমে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:7 তারা এথম ত্যাগ করে, পী-হহীরোতের বিপরীতমুখী হয়ে, বায়াল-সফোনের পূর্বপ্রান্তে এল। তারপর মিগ্‌দোলের কাছে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:8 তারা পী-হহীরোৎ ত্যাগ করে, সমুদ্রের ভিতর দিয়ে মরুভূমিতে গেল এবং এথমের প্রান্তরে তিনদিনের পথ অতিক্রম করে, তারা মারায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:9 মারা ত্যাগ করে তারা এলীমে গেল, যেখানে বারোটি জলের উৎস ও সত্তরটি খেজুর গাছ ছিল। তারা সেখানে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:10 তারা এলীম ত্যাগ করে লোহিত সাগরতীরে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:11 তারা লোহিত সাগর ত্যাগ করে, সীন প্রান্তরে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:12 সীন প্রান্তর ত্যাগ করে তারা দপ্‌কাতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:13 দপ্‌কা ত্যাগ করে তারা আলূশে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:14 আলূশ ত্যাগ করে তারা রফীদীমে ছাউনি স্থাপন করল, যেখানে লোকদের পান করার জন্য জল ছিল না।
NUM 33:15 রফীদীম ত্যাগ করে তারা সীনয় মরুভূমিতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:16 সীনয় মরুভূমি ত্যাগ করে তারা কিব্রোৎ-হত্তাবায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:17 কিব্রোৎ-হত্তাবা ত্যাগ করে তারা হৎসেরোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:18 হৎসেরোৎ ত্যাগ করে তারা রিৎমায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:19 রিৎমা ত্যাগ করে তারা রিম্মোণ-পেরসে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:20 রিম্মোণ-পেরস ত্যাগ করে তারা লিব্‌নায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:21 লিব্‌না ত্যাগ করে তারা রিস্‌সায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:22 রিস্‌সা ত্যাগ করে তারা কহেলাথায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:23 কহেলাথা ত্যাগ করে তারা শেফর পর্বতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:24 শেফর পর্বত ত্যাগ করে তারা হরাদায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:25 হরাদা ত্যাগ করে তারা মখেলোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:26 মখেলোৎ ত্যাগ করে তারা তহতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:27 তহৎ ত্যাগ করে তারা তেরহে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:28 তেরহ ত্যাগ করে তারা মিৎকায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:29 মিৎকা ত্যাগ করে তারা হশ্‌মোনায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:30 হশ্‌মোনা ত্যাগ করে তারা মোষেরোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:31 মোষেরোৎ ত্যাগ করে তারা বনেয়াকনে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:32 বনেয়াকন ত্যাগ করে তারা হোর্-হগিদ্‌গদে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:33 হোর্-হগিদ্‌গদ ত্যাগ করে তারা যট্‌বাথায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:34 যট্‌বাথা ত্যাগ করে তারা অব্রোণায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:35 অব্রোণা ত্যাগ করে তারা ইৎসিয়োন-গেবরে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:36 ইৎসিয়োন-গেবর ত্যাগ করে তারা সীন মরুভূমিতে, কাদেশে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:37 কাদেশ ত্যাগ করে তারা ইদোমের সীমানায়, হোর পর্বতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:38 সদাপ্রভুর আদেশে যাজক হারোণ হোর পর্বতে উঠে গেলেন। ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের হওয়ার পর, চল্লিশতম বছরের পঞ্চম মাসের প্রথম দিনে, তিনি সেখানে প্রাণত্যাগ করলেন।
NUM 33:39 হোর পর্বতে মারা যাবার সময় হারোণের বয়স হয়েছিল, 123 বছর।
NUM 33:40 কনানীয় রাজা অরাদ, যিনি কনানের নেগেভ অঞ্চলে বসবাস করতেন, তিনি শুনলেন যে ইস্রায়েলীরা আসছে।
NUM 33:41 তারা হোর পর্বত ত্যাগ করে সল্‌মোনায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:42 সল্‌মোনা ত্যাগ করে তারা পূনোনে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:43 পূনোন ত্যাগ করে তারা ওবোতে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:44 ওবোৎ ত্যাগ করে তারা মোয়াবের সীমানায় ঈয়ী-অবারীমে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:45 তারা ঈয়ী-অবারীম ত্যাগ করে দীবোন গাদে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:46 তারা দীবোন গাদ ত্যাগ করে অল্‌মোন দিব্লাথয়িমে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:47 অল্‌মোন দিব্লাথয়িম ত্যাগ করে তারা নেবোর কাছে অবারীম পর্বতমালায় ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:48 অবারীম পর্বতমালা ত্যাগ করে জর্ডন সমীপে, যিরীহোর অপর পাশে, মোয়াবের সমতলে ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:49 সেখানে, তারা মোয়াবের সমতলে, জর্ডন বরাবর, বেথ-যিশীমোৎ থেকে আবেল শিটিম পর্যন্ত ছাউনি স্থাপন করল।
NUM 33:50 জর্ডন সমীপে, যিরীহোর অপর পাশে, মোয়াবের সমতলে সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 33:51 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো এবং তাদের বলো, ‘তোমরা যখন জর্ডন অতিক্রম করে কনানে যাবে,
NUM 33:52 সেখানকার সমস্ত অধিবাসীদের বিতাড়িত করবে। তাদের সমস্ত ক্ষোদিত প্রতিমা ও ছাঁচে ঢালা দেবমূর্তি বিনষ্ট এবং তাদের উচ্চস্থলগুলি ধ্বংস করবে।
NUM 33:53 দেশ দখল করে তার মধ্যে উপনিবেশ স্থাপন করবে, কারণ আমি ওই দেশ তোমাদের অধিকারের জন্য দিয়েছি।
NUM 33:54 গোষ্ঠী অনুসারে গুটিকাপাত দ্বারা সেই দেশ তোমরা ভাগ করবে। বেশি লোককে বেশি অংশ এবং যাদের লোকসংখ্যা অল্প তাদের অল্প অংশ দেবে। গুটিকাপাত দ্বারা তাদের যা নির্ধারিত হবে তা তাদেরই। তোমাদের পৈতৃক গোষ্ঠী অনুযায়ী তা বণ্টন করবে।
NUM 33:55 “ ‘কিন্তু, যদি তোমরা সেই দেশনিবাসীদের তাড়িয়ে না দাও, যাদের তোমরা বসবাস করার অনুমতি দেবে, তারা তোমাদের চোখের শূল ও বুকের অঙ্কুশস্বরূপ হবে। যে দেশে তোমরা বসবাস করবে, সেখানে তারা তোমাদের ক্লেশ দেবে।
NUM 33:56 তখন আমি তোমাদের প্রতি তাই করব, যা আমি তাদের প্রতি করতে মনস্থ করেছিলাম।’ ”
NUM 34:1 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 34:2 “ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও, তাদের বলো, ‘যখন তোমরা কনানে প্রবেশ করবে, যে দেশ তোমাদের স্বত্বাধিকাররূপে বণ্টন করা হবে, তার সীমানা হবে এইরকম:
NUM 34:3 “ ‘তোমাদের দক্ষিণপ্রান্তের সীমানা হবে, ইদোমের সীমানা বরাবর, সীন মরুভূমির কিছুটা অংশ। পূর্বপ্রান্তে, তোমাদের দক্ষিণ দিকের সীমানা শুরু হবে মরুসাগরের প্রান্তভাগ থেকে।
NUM 34:4 বৃশ্চিক গিরিপথের দক্ষিণভাগ অতিক্রম করে, সীন পর্যন্ত গিয়ে তা কাদেশ-বর্ণেয়ের দক্ষিণ দিক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপরে তা হৎসর-অদর পর্যন্ত গিয়ে অস্‌মোন পর্যন্ত যাবে।
NUM 34:5 সেখানে বেঁকে গিয়ে মিশরের ওয়াদি ও ভূমধ্যসাগরের প্রান্তে গিয়ে সংযুক্ত হবে।
NUM 34:6 তোমাদের পশ্চিম প্রান্তের সীমানা হবে ভূমধ্যসাগরের উপকুলভাগ। এই হবে তোমাদের পশ্চিম সীমানা।
NUM 34:7 তোমাদের উত্তরপ্রান্তের সীমানার জন্য, ভূমধ্যসাগর থেকে হোর পর্বত
NUM 34:8 এবং হোর পর্বত থেকে লেবো-হমাৎ পর্যন্ত সরলরেখা বরাবর হবে। তারপর সীমানা সদাদ পর্যন্ত গিয়ে,
NUM 34:9 সিফ্রোণ হয়ে হৎসর-ঐনন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই হবে তোমাদের উত্তর সীমানা।
NUM 34:10 তোমাদের পূর্ব প্রান্তের সীমানার জন্য হৎসর-ঐনন থেকে শফাম পর্যন্ত সরলরেখা বরাবর হবে।
NUM 34:11 সীমানা শফাম থেকে নিচে ঐনের পূর্বপ্রান্তে রিব্লা পর্যন্ত যাবে; সেখান থেকে গালীল সাগরের পূর্ব প্রান্তের ঢাল বরাবর বিস্তৃত হবে।
NUM 34:12 তারপর সীমানা জর্ডন বরাবর নেমে গিয়ে মরুসাগরে শেষ হবে। “ ‘এই হবে চতুর্দিকের সীমানা সম্বন্ধিত তোমাদের দেশ।’ ”
NUM 34:13 মোশি ইস্রায়েলীদের নির্দেশ দিলেন, “এই দেশের স্বত্বাধিকার গুটিকাপাতের মাধ্যমে বণ্টন করে অধিকার করবে। সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছেন যে সাড়ে নয় গোষ্ঠীকে এই ভূমি দান করা হবে,
NUM 34:14 কারণ রূবেণ গোষ্ঠী, গাদ গোষ্ঠী ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর বংশসমূহ তাদের স্বত্বাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে।
NUM 34:15 এই আড়াই গোষ্ঠী, সূর্যোদয় অভিমুখে, যিরীহোর সন্নিহিত জর্ডনের পূর্বপ্রান্তে তাদের, স্বত্বাধিকার লাভ করেছে।”
NUM 34:16 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 34:17 “যে ব্যক্তিরা তোমাদের মধ্যে স্বত্বাধিকার ভাগ করবে, তাদের নাম এরকম: যাজক ইলিয়াসর ও নূনের ছেলে যিহোশূয়।
NUM 34:18 আবার প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে ভূমি বিভাগের জন্য এক একজন নেতাকে সাহায্যকারী নিয়োগ করো।
NUM 34:19 “তাদের নামগুলি হবে: “যিহূদা গোষ্ঠী থেকে, যিফূন্নির ছেলে কালেব।
NUM 34:20 শিমিয়োন গোষ্ঠী থেকে অম্মীহূদের ছেলে শমূয়েল।
NUM 34:21 বিন্যামীন গোষ্ঠী থেকে কিশ্‌লোনের ছেলে ইলীদদ।
NUM 34:22 দান গোষ্ঠীর নেতা, যগ্‌লির ছেলে বুক্কি।
NUM 34:23 যোষেফের ছেলে মনঃশি গোষ্ঠীর নেতা, এফোদের ছেলে হন্নীয়েল।
NUM 34:24 যোষেফের ছেলে ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর নেতা, শিপ্তনের ছেলে কমূয়েল
NUM 34:25 সবূলূন গোষ্ঠীর নেতা, পর্ণকের ছেলে ইলীষাফণ।
NUM 34:26 ইষাখর গোষ্ঠীর নেতা, অস্‌সনের ছেলে পল্‌টিয়েল।
NUM 34:27 আশের গোষ্ঠীর নেতা, শলোমির ছেলে অহীহূদ।
NUM 34:28 নপ্তালি গোষ্ঠীর নেতা, অম্মীহূদের ছেলে পদহেল।”
NUM 34:29 কনান দেশে ইস্রায়েলীদের মধ্যে অধিকার বিভাগ করে দিতে সদাপ্রভু এই লোকদের আদেশ দিয়েছিলেন।
NUM 35:1 মোয়াবের সমতলে, যিরীহোর অপর পাশে, জর্ডন সন্নিহিত অঞ্চলে, সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 35:2 “ইস্রায়েলীদের আদেশ দাও যেন তারা যে স্বত্বাধিকার লাভ করবে, তার মধ্য থেকে যেন কয়েকটি নগর লেবীয়দের বাস করার জন্য দান করে। সেইসব নগর সন্নিহিত চারণভূমিও যেন তাদের দেওয়া হয়।
NUM 35:3 তাহলে তারা সেই সমস্ত নগরে বসবাস করবে এবং তাদের গবাদি পশু, মেষপাল ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য চারণভূমিও লাভ করবে।
NUM 35:4 “তোমরা লেবীয়দের জন্য নগরের চতুর্দিকে যে চারণভূমি দান করবে, তা নগরের প্রাচীর থেকে পরের একশো হাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
NUM 35:5 নগরের বাইরে, পূর্বদিকে 2,000 হস্ত, দক্ষিণ দিকে 2,000 হস্ত, পশ্চিমদিকে 2,000 হস্ত ও উত্তর দিকে 2,000 হাত, মাঝখানে নগরটি থাকবে। তারা এই এলাকা, নগরের সকলের চারণভূমি হিসেবে প্রাপ্ত হবে।
NUM 35:6 “যে সমস্ত নগর তোমরা লেবীয়দের দেবে, তার মধ্যে ছয়টি আশ্রয়-নগর হবে। কোনো ব্যক্তি কাউকে বধ করে থাকলে সেখানে পালিয়ে যেতে পারবে। তার অতিরিক্ত তাদের আরও বিয়াল্লিশটি নগর দেবে।
NUM 35:7 তোমরা লেবীয়দের জন্য চারণভূমি সমেত মোট আটচল্লিশটি নগর দেবে।
NUM 35:8 ইস্রায়েলীয়দের অধিকৃত অংশ থেকে যে সমস্ত নগর তোমরা লেবীয়দের দেবে, তা প্রত্যেক গোষ্ঠীর প্রাপ্ত অধিকার অনুসারে হবে। যে গোষ্ঠীর বেশি সংখ্যা আছে, তাদের থেকে নগরের সংখ্যা বেশি নেবে, কিন্তু যাদের কম আছে, তাদের থেকে কম সংখ্যক নগর নেবে।”
NUM 35:9 তারপর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
NUM 35:10 “ইস্রায়েলীদের সঙ্গে কথা বলো, তাদের বলো, ‘যখন তোমরা জর্ডন পার হয়ে কনান দেশে যাবে,
NUM 35:11 তখন কয়েকটি নগর মনোনীত করবে যেগুলি আশ্রয়-নগর হবে, যেন কেউ ভ্রান্তিবশত কারোর প্রাণ নিলে সেখানে পলায়ন করতে পারে।
NUM 35:12 সেইগুলি প্রতিশোধলিপ্সু ব্যক্তির কাছে রক্ষাকারী আশ্রয়স্থল হবে, যেন নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, মণ্ডলীর সামনে বিচারিত হওয়ার আগেই মারা না পড়ে।
NUM 35:13 এই যে ছয়টি নগর তোমরা দান করবে, সেগুলি তোমাদের আশ্রয়-নগর হবে।
NUM 35:14 জর্ডনের এই পাড়ে তিনটি এবং কনানে তিনটি আশ্রয়-নগর দান করবে।
NUM 35:15 ইস্রায়েলী এবং যেসব বিদেশি তোমাদের মধ্যে বসবাস করছে তাদের জন্য এই ছয়টি নগর আশ্রয়স্থল হবে, যেন কেউ যদি ভ্রান্তিবশত কারোর প্রাণ নেয় তাহলে সেখানে পলায়ন করতে পারে।
NUM 35:16 “ ‘যদি কোনো ব্যক্তি, অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো লৌহ পদার্থ দিয়ে এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
NUM 35:17 অথবা যদি কোনো ব্যক্তির হাতে একটি পাথর থাকে এবং সে অন্য এক ব্যক্তিকে তার দ্বারা এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
NUM 35:18 অথবা নিহত হতে পারে এমন কোনো কাঠের বস্তু কারোর হাতে থাকে এবং তার দ্বারা সে কোনো ব্যক্তিকে এমন আঘাত করে যে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী; সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
NUM 35:19 রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে বধ করবে; যখনই সে হত্যাকারীর দেখা পাবে, তাকে বধ করবে।
NUM 35:20 যদি কেউ আগে থেকে বিদ্বেষবশত কাউকে সজোরে ধাক্কা দেয়, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু কারোর দিকে নিক্ষেপ করে, যার ফলে সে মারা যায়,
NUM 35:21 অথবা শত্রুতার কারণে সে তাকে এমন মুষ্ট্যাঘাত করে, যার ফলে সেই ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যাকারী। রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি তাকে দেখামাত্র সেই হত্যাকারী ব্যক্তিকে বধ করবে।
NUM 35:22 “ ‘কিন্তু শত্রুতার মনোভাব ছাড়াই, যদি কোনো ব্যক্তি হঠাৎ কাউকে ধাক্কা দেয়, অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু তার দিকে নিক্ষেপ করে
NUM 35:23 অথবা তার প্রতি লক্ষ্য না করে যদি কোনো ভারী পাথর তার ওপর নিক্ষেপ করে যার দ্বারা মৃত্যু হতে পারে এবং সে মারা যায়, তাহলে যেহেতু সে তার শত্রু ছিল না এবং তার ক্ষতিসাধন করার কোনো মনোবাসনা সেই ব্যক্তির ছিল না
NUM 35:24 মণ্ডলী অবশ্যই সেই ব্যক্তির এবং রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তির মধ্যে এই সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বিধির পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করবে।
NUM 35:25 মণ্ডলী অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং সেই আশ্রয়-নগরে তাকে আবার পাঠিয়ে দেবে, যেখানে সে পালিয়ে গিয়েছিল। যে পর্যন্ত পবিত্র তেলে অভিষিক্ত মহাযাজকের মৃত্যু না হয়, সেই পর্যন্ত সে ওই স্থানে অবস্থিতি করবে।
NUM 35:26 “ ‘কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি, যেখানে সে পলায়ন করেছিল, সেই আশ্রয়-নগরের সীমানার বাইরে যদি কখনও যায়
NUM 35:27 এবং রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধগ্রহণকারী ব্যক্তি সেই নগর সীমানার বাইরে তার দেখা পায়, তাহলে সে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বধ করতে পারবে। নরহত্যার কোনো অপরাধ তার হবে না।
NUM 35:28 অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্যই তার আশ্রয়-নগরে অবস্থান করবে, যতদিন না মহাযাজকের মৃত্যু হয়; কেবলমাত্র মহাযাজকের মৃত্যু হলেই সে তার নিজস্ব অধিকারে ফিরে যেতে পারবে।
NUM 35:29 “ ‘তোমরা যেখানে বসবাস করো, সেখানেই ভবিষ্যৎ বংশপরম্পরায় এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
NUM 35:30 “ ‘কোনও ব্যক্তি, অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যদানের ভিত্তিতে, হত্যাকারী হিসেবে তাকে বধ করতে হবে। কিন্তু শুধুমাত্র একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।
NUM 35:31 “ ‘মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোনো হত্যাকারীর জীবনের বিনিময়ে কোনো মুক্তির মূল্য গ্রহণ করবে না। তাকে নিশ্চিতরূপেই বধ করতে হবে।
NUM 35:32 “ ‘যে ব্যক্তি আশ্রয়-নগরে পলায়ন করেছে, তার কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ নেবে না এবং মহাযাজকের মৃত্যু হওয়ার আগেই তাকে ফিরে যেতে ও নিজস্ব নিবাস ভূমিতে বসবাস করার অনুমতি দেবে না।
NUM 35:33 “ ‘যে দেশে তোমরা বসবাস করো, সেই দেশকে কলুষিত করবে না। রক্তপাত দেশকে কলুষিত করে এবং যেখানে রক্তপাত হয় সেখানে রক্তপাতকারীর রক্তপাত বিনা দেশের প্রায়শ্চিত্ত হতে পারে না।
NUM 35:34 যেখানে তোমরা জীবনযাপন করো ও যেখানে আমি বসবাস করি, সেই দেশকে কলুষিত করবে না। কারণ আমি, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলীদের মধ্যে বসবাস করি।’ ”
NUM 36:1 যোষেফের বংশধরদের গোষ্ঠীসমূহ থেকে মনঃশির নাতি মাখীরের ছেলে গিলিয়দের গোষ্ঠীর প্রধানেরা এসে মোশি ও ইস্রায়েলী পরিবারগুলির প্রধানদের সঙ্গে কথা বললেন।
NUM 36:2 তাঁরা বললেন, “যখন সদাপ্রভু আমাদের প্রভুকে আদেশ দিয়ে বলেছিলেন গুটিকাপাত দ্বারা স্বত্বাধিকাররূপে ইস্রায়েলীদের দেশ বণ্টন করতে, তিনি আপনাকে আদেশ দিয়েছিলেন যেন আপনি আমাদের ভাই সলফাদের অধিকার তার মেয়েদের দেন।
NUM 36:3 এখন, মনে করুন, তারা যদি ইস্রায়েলী অন্য গোষ্ঠীভুক্ত কাউকে বিয়ে করে; তাহলে তাদের স্বত্বাধিকার আমাদের পৈতৃক উত্তরাধিকার থেকে নিয়ে নেওয়া হবে এবং যে গোষ্ঠীতে তাদের বিয়ে হবে তারা তাদের অংশে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই আমাদের জন্য বন্টিত অধিকারের অংশ আমাদের থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।
NUM 36:4 যখন ইস্রায়েলীদের জয়ন্তী বছর উপস্থিত হবে, তখন যে গোষ্ঠীতে তাদের বিয়ে হবে, সেই গোষ্ঠীর অধিকারে তাদের অধিকার যুক্ত হবে এবং আমাদের পিতৃবংশের অধিকার থেকে তাদের সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হবে।”
NUM 36:5 তখন সদাপ্রভুর আদেশ অনুযায়ী মোশি, ইস্রায়েলীদের এই বিধান দিলেন, “যোষেফের গোষ্ঠীর বংশধরেরা যে কথা বলছে, তা যথার্থ।
NUM 36:6 সদাপ্রভু, সলফাদের মেয়েদের জন্য এই আদেশ দিয়েছেন, তাদের বাবার গোষ্ঠীর মধ্যে তারা যাকে চায়, তাকেই বিয়ে করতে পারে।
NUM 36:7 কিন্তু ইস্রায়েলীদের মধ্যে কোনো অধিকার এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীতে যাবে না, কারণ প্রত্যেক ইস্রায়েলী তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া গোষ্ঠীর ভূমি রক্ষা করবে।
NUM 36:8 প্রত্যেক মেয়ে যে ইস্রায়েলী গোষ্ঠীর মধ্যে অধিকার প্রাপ্ত হবে, সে অবশ্যই তা পিতৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করবে। এভাবে প্রত্যেক ইস্রায়েলী ব্যক্তি তার বাবার অধিকার ভোগ করবে।
NUM 36:9 কোনো উত্তরাধিকার এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীতে যাবে না, কারণ প্রত্যেক ইস্রায়েলী গোষ্ঠী তার অধিকারভুক্ত ভূমি নিজের কাছে রাখবে।”
NUM 36:10 অতএব সলফাদের মেয়েরা সেইরকমই করল, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে বলেছিলেন।
NUM 36:11 সলফাদের মেয়েরা—মহলা, তির্সা, হগ্‌লা, মিল্কা ও নোয়া—তাদের পিতৃ-গোষ্ঠীর ছেলেদের বিয়ে করল।
NUM 36:12 তারা যোষেফের ছেলে মনঃশির বংশধরদের গোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে করল এবং তাদের অধিকার তাদের বাবার বংশ ও গোষ্ঠীর মধ্যেই রইল।
NUM 36:13 এই সমস্ত আদেশ ও নিয়ন্ত্রণবিধি, সদাপ্রভু জর্ডনের সামনে, যিরীহোর অন্য পাশে, মোয়াবের সমতলে, মোশির মাধ্যমে ইস্রায়েলীদের দান করেছিলেন।
DEU 1:1 মোশি জর্ডন নদীর পূর্বদিকের মরুএলাকায় অর্থাৎ অরাবাতে সূফের সামনে, পারণ ও তোফল, লাবন, হৎসেরোৎ ও দীষাহবের মাঝখানে ইস্রায়েলীদের কাছে এসব কথা বলেছিলেন।
DEU 1:2 (হোরেব থেকে সেয়ীর পাহাড়ের রাস্তা ধরে কাদেশ-বর্ণেয় পর্যন্ত যেতে এগারো দিন লাগে।)
DEU 1:3 সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সম্বন্ধে মোশিকে যেসব নির্দেশ দিয়েছিলেন তা তিনি চল্লিশতম বছরের একাদশ মাসের প্রথম দিনে তাদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন।
DEU 1:4 ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে এবং ইদ্রিয়ীতে বাশনের রাজা ওগকে হারিয়ে দেবার পর এই ঘটনা ঘটেছিল। সীহোন রাজত্ব করতেন হিষ্‌বোনে এবং ওগ রাজত্ব করতেন অষ্টারোতে।
DEU 1:5 জর্ডনের পূর্বদিকে মোয়াব দেশে মোশি এই বিধান ব্যাখ্যা করতে লাগলেন, তিনি বললেন:
DEU 1:6 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু হোরেবে আমাদের বলেছিলেন, “তোমরা অনেক দিন পাহাড়ে থেকেছ।
DEU 1:7 এখন তোমরা ছাউনি তুলে নিয়ে ইমোরীয়দের পাহাড়ি এলাকা এবং তার নিকটবর্তী জায়গার লোকদের কাছে যাও যারা অরাবাতে, উঁচু পাহাড়ি এলাকায়, পশ্চিম প্রদেশের নিচের পাহাড়ি এলাকায়, নেগেভে এবং সমুদ্রের তীরে, মহানদী ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত কনানীয়দের দেশে ও লেবাননে বসবাস করে।
DEU 1:8 দেখো, আমি তোমাদের এই দেশ দিয়েছি। তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোব এবং তাঁদের বংশধরদের কাছে যে দেশ দিতে সদাপ্রভু শপথ করেছিলেন তোমরা সেখানে গিয়ে সেই দেশ অধিকার করো।”
DEU 1:9 সেই সময় আমি তোমাদের বলেছিলাম, “আমার একার পক্ষে তোমাদের ভার বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
DEU 1:10 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের এত বৃদ্ধি করেছেন যে আজকে তোমরা আকাশের তারার মতো অসংখ্য হয়ে উঠেছ।
DEU 1:11 তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সংখ্যা আরও হাজার গুণ বাড়িয়ে দিন এবং তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুসারেই তিনি তোমাদের আশীর্বাদ করুন!
DEU 1:12 কিন্তু আমি একা কী করে তোমাদের সব সমস্যা ও তোমাদের বোঝা এবং তোমাদের ঝগড়া বহন করব?
DEU 1:13 তোমরা তোমাদের প্রত্যেকটি গোষ্ঠী থেকে কয়েকজন করে জ্ঞানবান, বুদ্ধিমান ও সম্মানীয় লোক বেছে নাও, আমি তাদের উপর তোমাদের দেখাশোনার ভার দেব।”
DEU 1:14 তোমরা আমাকে উত্তর দিয়েছিলে, “আপনি যা বলেছেন তাই করা ভালো।”
DEU 1:15 সেইজন্য আমি তোমাদের গোষ্ঠীর প্রধানদের, জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান লোকদের নিয়ে তোমাদের উপরে নিযুক্ত করেছিলাম—সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চাশৎপতি, দশপতি এবং গোষ্ঠীগত কর্মকর্তাদের।
DEU 1:16 আর সেই বিচারকদের তখন আমি বলেছিলাম, “তোমরা ঝগড়া-বিবাদের সময়ে দুই পক্ষের কথা শুনে ন্যায়পূর্বক বিচার করবে, সেই ঝগড়া ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্যেই হোক কিংবা ইস্রায়েলী এবং ভিন্ন জাতির লোকদের মধ্যেই হোক।
DEU 1:17 বিচারের ব্যাপারে তোমরা কারও পক্ষ নেবে না এবং বড়ো-ছোটো সবার কথাই শুনবে। কোনো মানুষকে ভয় পাবে না, কেননা বিচার ঈশ্বরের। যদি কোনো বিচার তোমাদের কাছে কঠিন বলে মনে হয় তবে তোমরা তা আমার কাছে নিয়ে আসবে, আমি সেই বিচার করব।”
DEU 1:18 আর তোমাদের যা করতে হবে তাও আমি তখন তোমাদের বলে দিয়েছিলাম।
DEU 1:19 এরপর, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে, আমরা হোরেব ছেড়ে ইমোরীয়দের পাহাড়ি এলাকার দিকে যাওয়ার পথে তোমরা সেই বড়ো ও ভয়ংকর মরুএলাকা দেখেছিলে, এবং আমরা কাদেশ-বর্ণেয় পৌঁছালাম।
DEU 1:20 তারপর আমি তোমাদের বলেছিলাম, “তোমরা ইমোরীয়দের পাহাড়ি এলাকায় এসে গিয়েছ, যেটি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের দিচ্ছেন।
DEU 1:21 দেখো, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সেই দেশ তোমাদের দিয়েছেন। উঠে গিয়ে সেটি অধিকার করো যেমন সদাপ্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের বলেছিলেন। ভয় পেয়ো না; হতাশ হোয়ো না।”
DEU 1:22 তখন তোমরা সবাই এসে আমাকে বলেছিলে, “কয়েকজন লোককে আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হোক যেন তারা দেশটি দেখে এসে আমাদের বলতে পারে কোন পথে আমাদের সেখানে যেতে হবে এবং কোন কোন নগর আমাদের সামনে পড়বে।”
DEU 1:23 তোমাদের কথাটি আমার ভালো মনে হয়েছিল; সেইজন্য আমি তোমাদের মধ্যে বারোজনকে মনোনীত করেছিলাম, একজন করে প্রত্যেক গোষ্ঠীর।
DEU 1:24 তারা যাত্রা করে পাহাড়ি এলাকায় উঠে গেল এবং ইষ্কোল উপত্যকায় গিয়ে ভালো করে সবকিছু দেখে আসল।
DEU 1:25 তারা সেই দেশের কিছু ফল সঙ্গে করে নিয়ে এসে বলেছিল, “আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশটি আমাদের দিচ্ছেন তা সত্যিই চমৎকার।”
DEU 1:26 কিন্তু তোমরা সেই দেশে যেতে চাইলে না; তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলে।
DEU 1:27 তোমাদের তাঁবুতে তোমরা দোষারোপ করে বলেছিল, “সদাপ্রভু আমাদের ঘৃণা করেন; সেইজন্য তিনি ইমোরীয়দের হাতে তুলে দিয়ে ধ্বংস করার জন্য আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছেন।
DEU 1:28 আমরা কোথায় যাব? আমাদের ভাইয়েরা আমাদের মন ভেঙে দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘সেখানকার লোকেরা আমাদের থেকে শক্তিশালী এবং লম্বা; নগরগুলি খুব বড়ো ও তাদের প্রাচীর গগনচুম্বী। আমরা সেখানে অনাকীয়দেরও দেখেছি।’ ”
DEU 1:29 তখন আমি তোমাদের বলেছিলাম, “আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না; তাদের ভয় পেয়ো না।
DEU 1:30 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের আগে যাচ্ছেন, তিনি তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন, যেমন তিনি তোমাদের হয়ে মিশরে করেছিলেন, তোমাদের চোখের সামনে,
DEU 1:31 মরুএলাকায়। সেখানে তোমরা দেখেছিলে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু কেমন করে তোমাদের বহন করেছিলেন, যেমন করে একজন বাবা তার ছেলেকে বহন করে, তেমনি করে তিনি নিয়ে এসেছেন যতক্ষণ না তোমরা এই জায়গায় পৌঁছেছ।”
DEU 1:32 তবুও তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করোনি,
DEU 1:33 যিনি যাত্রাপথে রাতে আগুনের মধ্যে ও দিনে মেঘের মধ্যে তোমাদের আগে আগে গিয়েছিলেন, তোমাদের তাঁবু ফেলার জায়গার খোঁজে এবং পথ দেখাবার জন্য যেখান দিয়ে তোমাদের যেতে হবে।
DEU 1:34 তোমরা যা বলেছ তা সদাপ্রভু যখন শুনলেন, তিনি ভীষণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং এই শপথ করলেন
DEU 1:35 “এই দুষ্ট বংশের কোনো লোক সেই চমৎকার দেশ দেখতে পাবে না যা আমি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,
DEU 1:36 কেবল যিফূন্নির ছেলে কালেব ছাড়া। সে তা দেখবে, এবং আমি তাকে ও তার বংশধরদের সেই জায়গা দেব যেখানে সে পা রেখেছিল, কেননা সে পুরোপুরিভাবে সদাপ্রভুর কথা অনুসারে চলেছে।”
DEU 1:37 তোমাদের দরুন সদাপ্রভু আমার উপরেও ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলেন, “তোমারও, ওই দেশে ঢোকা হবে না।
DEU 1:38 কিন্তু তোমার সাহায্যকারী নূনের ছেলে যিহোশূয় ঢুকবে। তাকে উৎসাহ দাও, কারণ সেই ইস্রায়েলকে দেশটি অধিকার করতে নেতৃত্ব দেবে।
DEU 1:39 যেসব ছেলেমেয়েকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তোমরা বলেছিলে তোমাদের সেইসব ছেলেমেয়ে, যাদের ভালোমন্দের জ্ঞান হয়নি তারাই সেই দেশে ঢুকবে। আমি দেশটি তাদেরই দেব এবং তারা তা অধিকার করবে।
DEU 1:40 কিন্তু তোমরা ফেরো এবং সূফসাগরের পথ দিয়ে মরুএলাকার দিকে যাও।”
DEU 1:41 তখন তোমরা উত্তর দিয়েছিলে, “আমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি। আমরা উঠে যাব এবং যুদ্ধ করব, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের যেমন আদেশ করেছেন।” অতএব তোমরা সবাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়েছিলে, ভেবেছিলে পাহাড়ি এলাকায় উঠে যাওয়া খুব সহজ।
DEU 1:42 কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তাদের বলো, ‘উপরে উঠে যুদ্ধ কোরো না, কেননা আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব না। তোমরা শত্রুদের দ্বারা পরাজিত হবে।’ ”
DEU 1:43 আমি তোমাদের সেই কথা জানালাম, কিন্তু তোমরা শুনলে না। তোমরা সদাপ্রভুর আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে এবং অহংকারের সঙ্গে পর্বতে অবস্থিত নগরে উঠে গেলে।
DEU 1:44 সেই পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী ইমোরীয়েরা তোমাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে এসে এক ঝাঁক মৌমাছির মতো তোমাদের তাড়া করে সেয়ীর থেকে হর্মা পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে গিয়েছিল।
DEU 1:45 তোমরা ফিরে এসে সদাপ্রভুর কাছে কেঁদেছিলে, কিন্তু তিনি তোমাদের কান্নায় কোনও মনোযোগ দিলেন না এবং তিনি কান বন্ধ করেছিলেন।
DEU 1:46 আর তোমরা অনেক দিন কাদেশে থাকলে—সেখানেই তোমাদের সময় কাটল।
DEU 2:1 পরে সদাপ্রভু যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন সেইভাবে আমরা পিছন ফিরে সূফসাগরের পথ ধরে মরুএলাকার দিকে রওনা হয়েছিলাম। সেয়ীরের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে যেতে আমাদের অনেক দিন কেটে গেল।
DEU 2:2 তারপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন,
DEU 2:3 “তোমরা পাহাড়ি এলাকায় অনেক দিন ধরে ঘুরছ; এখন উত্তর দিকে ফের।
DEU 2:4 লোকদের এই আদেশ করো: ‘সেয়ীরে বসবাসকারী এষৌর বংশধর তোমাদের আত্মীয়দের রাজ্যের মধ্যে দিয়ে এখন তোমাদের যেতে হবে। তোমাদের দেখে তারা ভয় পাবে কিন্তু তোমরা খুব সাবধানে থেকো।
DEU 2:5 তাদের যুদ্ধের উসকানি দেবে না, কারণ তাদের দেশের কোনও অংশই আমি তোমাদের দেব না, এমনকি পা রাখার জায়গা পর্যন্ত দেব না। আমি সেয়ীরের এই পাহাড়ি এলাকা এষৌকে তার নিজের দেশ হিসেবে দিয়েছি।
DEU 2:6 তাদের কাছ থেকে খাবার ও জল তোমাদের রুপো দিয়ে কিনে খেতে হবে।’ ”
DEU 2:7 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সবকাজেই তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন। এই বিশাল মরুএলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোমাদের দেখাশোনা করেছেন। এই চল্লিশ বছর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সঙ্গেই থেকেছেন, এবং তোমাদের কোনও অভাব হয়নি।
DEU 2:8 অতএব আমরা সেয়ীরে বসবাসকারী এষৌর বংশধর আমাদের আত্মীয়দের রাজ্যের মধ্যে দিয়ে গেলাম। আমরা অরাবার যে পথটি এলৎ ও ইৎসিয়োন-গেবর থেকে বের হয়ে এসেছে সেই পথ ছেড়ে মোয়াবের মরুএলাকার পথে গেলাম।
DEU 2:9 তারপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “মোয়াবীয়দের তোমরা বিরক্ত কোরো না কিংবা তাদের যুদ্ধের উসকানি দিয়ো না, কারণ তাদের দেশের কোনও অংশই আমি তোমাদের দেব না। আমি সম্পত্তি হিসেবে আর্ অঞ্চলটি লোটের বংশধরদের দিয়েছি।”
DEU 2:10 (এমীয়েরা—আগে সেখানে থাকত তারা শক্তিশালী ও অসংখ্য ছিল, এবং অনাকীয়দের মতো লম্বা।
DEU 2:11 অনাকীয়দের মতো এমীয়দেরও রফায়ীয় বলা হত, কিন্তু মোয়াবীয়রা তাদের বলত এমীয়।
DEU 2:12 হোরীয়েরাও সেয়ীরে বসবাস করত, কিন্তু এষৌর বংশধরেরা তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তারা হোরীয়দের তাদের সামনেই ধ্বংস করে, তাদের অধিকারে থাকা জায়গায় বসবাস করতে লাগল, যেমন ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর দেওয়া জায়গায় করেছিল।)
DEU 2:13 আর সদাপ্রভু বললেন, “এখন তোমরা উঠে সেরদ উপত্যকা পার হয়ে যাও।” সুতরাং আমরা উপত্যকা পার হলাম।
DEU 2:14 কাদেশ-বর্ণেয় ছেড়ে সেরদ উপত্যকা পার হয়ে আসতে আমাদের আটত্রিশ বছর কেটে গিয়েছিল। তার মধ্যে, তাঁবুতে যেসব সৈন্য ছিল তারা সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যেমন সদাপ্রভু তাদের কাছে শপথ করেছিলেন।
DEU 2:15 তাঁবু থেকে তাদের সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত সদাপ্রভুর হাত তাদের বিরুদ্ধে ছিল।
DEU 2:16 লোকদের মধ্য থেকে সেই সমস্ত সৈন্য মারা যাবার পর,
DEU 2:17 সদাপ্রভু আমাকে বললেন,
DEU 2:18 “আজ তোমরা মোয়াবের এলাকা আর্ পার হয়ে যাবে।
DEU 2:19 তোমরা যখন অম্মোনীয়দের মধ্যে আসবে, তোমরা তাদের বিরক্ত কোরো না কিংবা তাদের যুদ্ধের উসকানি দিয়ো না, কারণ মোয়াবীয়দের দেশের কোনও অংশই তোমাদের দেব না। লোটের বংশধরদের আমি সেটি সম্পত্তি হিসেবে দিয়ে রেখেছি।”
DEU 2:20 (সেই দেশও রফায়ীয়দের দেশ বলে মনে করা হত, কারণ সেখানে তারা আগে বসবাস করত; কিন্তু অম্মোনীয়েরা তাদের সম্‌সুম্মীয় জাতির লোক বলত।
DEU 2:21 তারা শক্তিশালী ও অসংখ্য ছিল, এবং অনাকীয়দের মতো লম্বা। সদাপ্রভু তাদের অম্মোনীয়দের আগে ধ্বংস করেছিলেন, যারা তাদের তাড়িয়ে দিয়ে সেই জায়গায় বসবাস করছিল।
DEU 2:22 সদাপ্রভু এষৌয়ের বংশধরদের প্রতিও সেইরকম করেছিলেন, যারা সেয়ীরে বসবাস করত, যখন তিনি হোরীয়দের তাদের আগে ধ্বংস করেছিলেন।
DEU 2:23 আর অব্বীয়েরা যারা গাজা পর্যন্ত সমস্ত গ্রামে বসবাস করত, তাদের কপ্তোর থেকে আসা কপ্তোরীয়েরা ধ্বংস করে তাদের জায়গায় বসবাস করছিল।)
DEU 2:24 “তোমরা বের হয়ে পড়ো এবং অর্ণোন উপত্যকা পার হও, আমি হিষ্‌বোনের রাজা ইমোরীয় সীহোনকে ও তার দেশ তোমাদের হাতে দিয়ে দিয়েছি। তোমরা দেশটি দখল করতে শুরু করে তাকে যুদ্ধে নামতে বাধ্য করো।
DEU 2:25 আজ থেকে আমি পৃথিবীর সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের সম্বন্ধে একটি ভয়ের ভাব ও কাঁপুনি ধরাতে শুরু করব। তারা তোমাদের কথা শুনলে কাঁপতে থাকবে এবং তোমাদের দরুন তাদের মনে ভীষণ দুশ্চিন্তা জাগবে।”
DEU 2:26 এরপর আমি কদেমোৎ মরুএলাকা থেকে হিষ্‌বোনের রাজা সীহোনের কাছে শান্তি বজায় রাখার জন্য দূত পাঠালাম এই বলে,
DEU 2:27 আপনাদের দেশের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে দিন। আমরা প্রধান রাস্তাতেই থাকব; আমরা ডানদিকে কিংবা বাদিকে যাব না।
DEU 2:28 আপনাদের খাবার ও জল রুপোর মূল্য দিয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করুন। আমাদের কেবল পায়ে হেঁটে পার হতে দিন,
DEU 2:29 যেমন সেয়ীরে বসবাসকারী এষৌর বংশধরেরা এবং আর্-এ মোয়াবীয়েরা আমাদের প্রতি করেছিল—যতক্ষণ না আমরা জর্ডন পার হয়ে সেই দেশে যাই যে দেশ আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের দিচ্ছেন।
DEU 2:30 হিষ্‌বোনের রাজা সীহোন কিন্তু আমাদের যেতে দিতে রাজি হলেন না। কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর মন কঠিন ও তাঁর হৃদয় শক্ত করেছিলেন যেন তোমাদের হাতে তাঁকে সমর্পণ করেন, যেমন তিনি এখন করেছেন।
DEU 2:31 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “দেখো, আমি সীহোন ও তাঁর দেশ তোমার হাতে তুলে দিতে আরম্ভ করেছি। এখন তাঁর দেশ জয় করে অধিকার করতে শুরু করো।”
DEU 2:32 সীহোন যখন তাঁর সমস্ত সৈন্য নিয়ে আমাদের সঙ্গে যহসে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে এলেন,
DEU 2:33 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁকে আমাদের হাতে সমর্পণ করলেন এবং আমরা তাঁকে, তাঁর ছেলেদের এবং তাঁর সমগ্র সৈন্যবাহিনীকে আঘাত করলাম।
DEU 2:34 সেই সময় আমরা তাদের সমস্ত নগর অধিকার করে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলাম—পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের। আমরা কাউকে জীবিত রাখিনি।
DEU 2:35 কিন্তু পশুপাল এবং নগর থেকে লুট করা জিনিসপত্র আমরা নিজেদের জন্য নিয়ে এলাম।
DEU 2:36 অর্ণোন উপত্যকার সীমানায় অরোয়ের নগর এবং সেই উপত্যকার মধ্যবর্তী নগর থেকে গিলিয়দ পর্যন্ত, কোনও নগরই আমাদের কাছে শক্তিশালী ছিল না। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সবগুলিই আমাদের দিলেন।
DEU 2:37 কিন্তু আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে, আমরা অম্মোনীয়দের কোনো জায়গা, এমনকি যব্বোকের সীমানার জায়গা ও পাহাড়ের পাশের নগরগুলি বলপূর্বক দখল করিনি।
DEU 3:1 পরে আমরা ঘুরে বাশনের পথে উঠে গেলাম। আর বাশনের রাজা ওগ তাঁর সৈন্যদল নিয়ে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ইদ্রিয়ীতে এলেন।
DEU 3:2 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তাকে ভয় পেয়ো না। আমি তাকে, তার সমস্ত সেনাবাহিনী ও তার দেশ তোমার হাতে সমর্পণ করেছি। তার প্রতি সেরকমই কোরো, যেমন তুমি ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের প্রতি করেছিলে, যে হিষ্‌বোনে রাজত্ব করত।”
DEU 3:3 এইভাবে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু বাশনের রাজা ওগ ও তার সমগ্র সেনাবাহিনী আমাদের হাতে দিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা তাদের আঘাত করলাম, কাউকে বাঁচিয়ে রাখিনি।
DEU 3:4 সেই সময় আমরা তাঁর সবগুলি নগরই দখল করলাম। তাঁর ষাটটি নগরের সবগুলোই আমরা দখল করে নিয়েছিলাম, এমন একটিও ছিল না যা আমরা নিইনি—অর্গোবের সমস্ত এলাকা, বাশনে ওগের রাজ্য।
DEU 3:5 সেইসব নগর উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল আর তাতে দ্বার ও হুড়কা ছিল, আর সেখানে অনেক গ্রামও ছিল যেগুলি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল না।
DEU 3:6 আমরা সেগুলি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, যেমন আমরা হিষ্‌বোনের রাজা সীহোনের প্রতি করেছিলাম, প্রত্যেক নগর ধ্বংস করে দিয়েছিলাম—পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের।
DEU 3:7 কিন্তু পশুপাল এবং নগর থেকে লুট করা জিনিসপত্র আমরা নিজেদের জন্য নিয়ে আসলাম।
DEU 3:8 সেই সময় আমরা অর্ণোন উপত্যকা থেকে হর্মোণ পর্বত পর্যন্ত জর্ডন নদীর পূর্বদিকের এলাকাটি এই দুজন ইমোরীয় রাজার হাত থেকে নিয়ে নিয়েছিলাম।
DEU 3:9 (সীদোনীয়েরা হর্মোণকে সিরিয়োণ বলে আর ইমোরীয়েরা বলে সনীর)
DEU 3:10 আমরা মালভূমির সমস্ত নগর, গিলিয়দের সব এলাকা এবং বাশনের রাজা ওগের রাজ্যের সল্‌খা ও ইদ্রিয়ী প্রর্যন্ত গোটা বাশন দেশটি দখল করে নিয়েছিলাম।
DEU 3:11 (রফায়ীয়দের বাকি লোকদের মধ্যে কেবল বাশনের রাজা ওগই বেঁচেছিলেন। তাঁর লোহার তৈরি শোবার খাটটি ছিল লম্বায় তেরো ফুটের বেশি এবং চওড়ায় ছয় ফুট। সেটি এখনও অম্মোনীয়দের রব্বাতে আছে।)
DEU 3:12 সেই সময় আমরা যে দেশ অধিকার করেছিলাম, আমি অর্ণোন উপত্যকার কাছে অরোয়ের উত্তর দিকের এলাকা পর্যন্ত এবং গিলিয়দের পাহাড়ি এলাকার অর্ধেক ও সেখানকার সব নগর রূবেণীয়দের ও গাদীয়দের দিলাম।
DEU 3:13 গিলিয়দের বাকি অংশ এবং রাজা ওগের গোটা বাশন রাজ্যটি আমি মনঃশির অর্ধেক বংশকে দিলাম। (বাশনের মধ্যবর্তী সমস্ত অর্গোব এলাকাটিকে রফায়ীয়দের দেশ বলা হত।
DEU 3:14 যায়ীর, মনঃশির এক বংশধর, গশূরীয়দের ও মাখাথীয়দের সীমানা পর্যন্ত অর্গোবের গোটা এলাকাটি দখল করে নিজের নাম অনুসারে তার নাম রেখেছিল, আজ পর্যন্ত বাশনকে হব্বোৎ-যায়ীর বলা হয়ে থাকে)
DEU 3:15 আর আমি মাখীরকে গিলিয়দ এলাকাটি দিলাম।
DEU 3:16 কিন্তু গিলিয়দ থেকে অর্ণোন উপত্যকার (মাঝখানের সীমারেখাটি পর্যন্ত) সমস্ত এলাকা এবং সেখান থেকে অম্মোনীয়দের সীমানা যব্বোক নদী পর্যন্ত আমি রূবেণীয়দের ও গাদীয়দের দিলাম।
DEU 3:17 পশ্চিমদিকে তাদের সীমানা ছিল অরাবার জর্ডন নদী, কিন্নেরৎ থেকে অরাবা (লবণ-সমুদ্র), পিস্‌গা পাহাড়শ্রেণীর ঢালু অংশের নিচে।
DEU 3:18 সেই সময় আমি তোমাদের আদেশ করেছিলাম, “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই দেশটি তোমাদের দখল করবার জন্য দিয়েছেন। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যাদের গায়ে জোর আছে সেইসব লোককে যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়ে ইস্রায়েলী ভাইদের আগে আগে নদী পার হয়ে যেতে হবে।
DEU 3:19 তবে তোমাদের যেসব নগর আমি দিয়েছি সেখানে তোমাদের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর পশুপাল রেখে যেতে পারবে (আমি জানি তোমাদের অনেক পশু আছে),
DEU 3:20 যতদিন পর্যন্ত সদাপ্রভু তোমাদের মতো করে তোমাদের ভাইদেরও বিশ্রামের সুযোগ না দেন এবং জর্ডনের ওপাড়ে যে দেশটি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের দিতে যাচ্ছেন তা তারা অধিকার না করে। তারপর, যে জায়গা তোমাদের অধিকারের জন্য দেওয়া হয়েছে সেখানে প্রত্যেকে ফিরে আসবে।”
DEU 3:21 সেই সময় আমি যিহোশূয়কে আদেশ করলাম “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই দুই রাজার কী অবস্থা করেছেন তা তো তুমি নিজের চোখেই দেখেছ। তোমরা যেখানে যাচ্ছ সেখানকার সব রাজ্যের অবস্থাও সদাপ্রভু সেইরকমই করবেন।
DEU 3:22 তাদের ভয় কোরো না; তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন।”
DEU 3:23 সেই সময় আমি সদাপ্রভুর কাছে মিনতি করলাম,
DEU 3:24 “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমি যে কত মহান ও শক্তিশালী তা তোমার দাসকে দেখাতে আরম্ভ করেছ। স্বর্গে বা পৃথিবীতে এমন ঈশ্বর কে আছে যে, তুমি যেসব কাজ করেছ তা করতে পারে এবং তুমি যে শক্তি দেখিয়েছ তা দেখাতে পারে?
DEU 3:25 আমাকে ওপাড়ে গিয়ে জর্ডনের পারে সেই মনোরম জায়গাটি দেখতে দাও—সেই চমৎকার পাহাড়ি দেশ এবং লেবানন।”
DEU 3:26 কিন্তু তোমাদের জন্য সদাপ্রভু আমার উপরে বিরক্ত হওয়াতে আমার কথা শুনলেন না। সদাপ্রভু বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে, এই বিষয়ে আমাকে আর বোলো না।
DEU 3:27 তুমি পিস্‌গার চূড়ায় উঠে পশ্চিম ও উত্তর এবং দক্ষিণ ও পূর্বদিকে দেখো। তুমি নিজের চোখে সেই দেশ দেখো, কেননা তুমি জর্ডন পার হতে পারবে না।
DEU 3:28 কিন্তু যিহোশূয়কে দায়িত্ব দাও, এবং তাকে উৎসাহ ও সাহস জোগাও, কারণ সে এই লোকদের আগে আগে গিয়ে পার হবে এবং যে দেশটি তুমি দেখতে যাচ্ছ তা তাদের দিয়ে অধিকার করাবে।”
DEU 3:29 সেইজন্য আমরা বেথ-পিয়োরের কাছের উপত্যকায় থেকে গেলাম।
DEU 4:1 এখন, হে ইস্রায়েল, আমি তোমাদের যেসব অনুশাসন ও বিধান শিক্ষা দিতে যাচ্ছি তা শোনো। সেগুলি মেনে চলো যেন যে দেশ, সদাপ্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেখানে প্রবেশ করে তা অধিকার করতে পারো।
DEU 4:2 আমি তোমাদের যে আদেশ দিচ্ছি তার সঙ্গে কিছু যোগ কোরো না এবং তা থেকে কিছু বাদ দিয়ো না, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যেসব আদেশ আমি তোমাদের দিচ্ছি তা তোমরা মেনে চলবে।
DEU 4:3 সদাপ্রভু বায়াল-পিয়োরে যা করেছিলেন তা তো তোমরা নিজের চোখেই দেখেছ। তোমাদের মধ্যে যারা পিয়োরের বায়াল-দেবতার পূজা করেছিল তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের প্রত্যেককে তোমাদের মধ্য থেকে ধ্বংস করেছিলেন,
DEU 4:4 কিন্তু তোমরা যারা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে আঁকড়ে ধরেছিলে, তোমরা সবাই এখনও বেঁচে আছ।
DEU 4:5 দেখো, আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ মেনে আমি তোমাদের অনুশাসন ও বিধান শিক্ষা দিয়েছি, যেন যে দেশ তোমরা অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে তা পালন করতে পারো।
DEU 4:6 সেগুলি সাবধানতার সঙ্গে পালন কোরো, কারণ তাতে অন্যান্য জাতির মধ্যে তোমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধি প্রকাশ পাবে, যারা এসব অনুশাসনের বিষয় শুনে বলবে, “সত্যিই এই মহান জাতি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান।”
DEU 4:7 এমন আর কোনও মহান জাতি কি আছে যাদের ঈশ্বর তাদের কাছে থাকে, যেমন করে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ডাকলে তাঁকে কাছে পাওয়া যায়?
DEU 4:8 আর আমি আজ তোমাদের সামনে যে বিধান দিচ্ছি, তার মতো ন্যায়নিষ্ঠ অনুশাসন ও বিধান কোনও বড়ো জাতির আছে?
DEU 4:9 কেবল সাবধান থেকো, এবং নিজের উপর দৃষ্টি রেখো যেন তোমরা যা দেখেছ তা ভুলে না যাও বা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তোমাদের অন্তর থেকে তা মুছে না যায়। এসব তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়েদের এবং পরে তাদের ছেলেমেয়েদের শেখাবে।
DEU 4:10 তোমরা সেদিনের কথা মনে করো যেদিন তোমরা হোরেবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হয়েছিলে, যখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমার কথা শোনার জন্য তুমি লোকদের আমার সামনে জড়ো করো যেন তারা এই পৃথিবীতে যতদিন বাঁচবে ততদিন আমাকেই ভক্তি করে চলতে শিখতে পারে এবং যেন তাদের ছেলেমেয়েদেরও শিক্ষা দিতে পারে।”
DEU 4:11 তোমরা কাছে এসে পাহাড়ের নিচে দাঁড়িয়েছিলে, তখন পাহাড়টি মেঘ ও ঘন অন্ধকারে ঘেরা ছিল আর তার মধ্যে সেটি স্বর্গ পর্যন্ত জ্বলছিল।
DEU 4:12 সেই সময় আগুনের মধ্য থেকে সদাপ্রভু তোমাদের কাছে কথা বলেছিলেন। তোমরা তাঁর কথা শুনেছিলে কিন্তু কোনও চেহারা দেখতে পাওনি; সেখানে কেবল আওয়াজ ছিল।
DEU 4:13 তিনি তোমাদের কাছে তাঁর বিধান, দশাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন, যেগুলি তিনি তোমাদের পালন করতে বলেছিলেন এবং পরে দুটি পাথরের ফলকে লিখে দিয়েছিলেন।
DEU 4:14 তোমরা জর্ডন নদী পার হয়ে যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে গিয়ে তোমাদের যে অনুশাসন ও বিধান পালন করে চলতে হবে তা তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য সদাপ্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
DEU 4:15 যেদিন সদাপ্রভু হোরেবে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সেইদিন তোমরা তাঁর কোনও চেহারা দেখোনি। সুতরাং তোমরা নিজেদের উপর দৃষ্টি রেখো,
DEU 4:16 যেন তোমরা কুপথে গিয়ে নিজেদের জন্য কোনো আকারের প্রতিমা তৈরি না করো, তা পুরুষের বা স্ত্রীলোকেরই হোক,
DEU 4:17 কিংবা মাটির উপরের কোনো জন্তুর বা আকাশে উড়ে বেড়ানোর কোনো পাখিরই হোক,
DEU 4:18 কিংবা বুকে হাঁটা কোনো প্রাণীর বা জলের নিচের কোনো মাছেরই হোক।
DEU 4:19 আর যখন তোমরা আকাশের দিকে তাকাবে এবং সূর্য, চাঁদ ও তারাদের—আকাশের সমস্ত বিন্যাস—দেখে ভ্রান্ত হয়ে তাদের প্রতি নত হোয়ো না এবং আরাধনা কোরো না কারণ এগুলি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আকাশের নিচে সমস্ত জাতিকে দিয়েছেন।
DEU 4:20 কিন্তু তোমার জন্য, সদাপ্রভু তোমাদের গ্রহণ করে লোহা গলানো হাপর থেকে বের করেছেন, মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন যেন তোমরা তাঁরই উত্তরাধিকারের লোক হতে পারো, যেমন তোমরা এখন আছ।
DEU 4:21 তোমাদের জন্য সদাপ্রভু আমার উপর ক্রুদ্ধ হলেন, এবং তিনি গম্ভীরভাবে শপথ করলেন যে আমি জর্ডন পার হতে পারব না ও সেই দেশে ঢুকব না যা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের উত্তরাধিকারসূত্রে দেবেন।
DEU 4:22 আমি এই দেশেই মারা যাব; আমি জর্ডন পার হতে পারব না; কিন্তু তোমরা পার হয়ে সেই চমৎকার দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ।
DEU 4:23 সাবধান তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের জন্য যে বিধান স্থাপন করেছেন তা তোমরা ভুলে যেয়ো না; নিজেদের জন্য কোনো কিছুর মতো কোনও মূর্তি তৈরি কোরো না যা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু বারণ করেছেন।
DEU 4:24 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু হলেন সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া আগুনের মতো, যিনি নিজের গৌরব রক্ষা করতে উদ্যোগী ঈশ্বর।
DEU 4:25 তোমরা এবং তোমাদের সন্তানদের এবং তাদের সন্তানদের সেই দেশে অনেক দিন বসবাস করার পর—যদি তোমরা তখন কুপথে গিয়ে কোনও মূর্তি তৈরি করো, আর সদাপ্রভু তোমাদের ঈশ্বরের চোখে যা খারাপ তাই করে তাঁকে অসন্তুষ্ট করো,
DEU 4:26 আমি আজকের এই দিনে স্বর্গ ও পৃথিবীকে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী রেখে বলছি, তোমরা জর্ডন নদী পার হয়ে যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে তোমরা অল্প দিনেই শেষ হয়ে যাবে। তোমরা সেখানে বেশি দিন বসবাস করতে পারবে না কিন্তু নিশ্চয়ই ধ্বংস হবে।
DEU 4:27 সদাপ্রভু বিভিন্ন জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন এবং যাদের মধ্যে তিনি তোমাদের তাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের খুব কম লোকই তাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে।
DEU 4:28 সেখানে তোমরা মানুষের তৈরি কাঠের ও পাথরের দেবতাদের উপাসনা করবে, যারা না পারে দেখতে, না পারে শুনতে, না পারে খেতে, না পারে গন্ধ শুঁকতে।
DEU 4:29 কিন্তু যদি তোমরা সেখান থেকে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিকে মন ফিরাও, তোমরা তাঁকে পাবে যদি তোমরা তোমাদের সমস্ত মন ও সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁর অন্বেষণ করো।
DEU 4:30 যখন তোমরা সংকটে পড়বে এবং এসব তোমাদের প্রতি ঘটবে তখন ভবিষ্যতের সেই দিনগুলিতে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আসবে এবং তাঁর বাধ্য হবে।
DEU 4:31 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এক করুণাময় ঈশ্বর; তিনি তোমাদের ছেড়ে যাবেন না বা ধ্বংস করবেন না, কিংবা তোমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য শপথ করে যে নিয়ম স্থাপন করেছেন তা ভুলে যাবেন না।
DEU 4:32 বিগত দিনের কথা জিজ্ঞাসা করো, তোমাদের সময়ের অনেক আগে, যেদিন থেকে ঈশ্বর পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন; আকাশমণ্ডলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করো। যা ঘটেছে তার থেকে মহান কি আর কিছু ঘটেছে বা এর মতো মহান কি কিছু শোনা গেছে?
DEU 4:33 কোনও মানুষ কি আগুনের মধ্য থেকে ঈশ্বরের রব শুনেছে, যেমন তোমরা শুনেছ এবং বেঁচে আছ?
DEU 4:34 কিংবা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু মিশরে তোমাদের সামনে যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, আর কোনো ঈশ্বর কি কখনও সেইরকম পরীক্ষা, আশ্চর্য চিহ্ন ও কাজ, যুদ্ধ, শক্তিশালী হাত ও বিস্তারিত হাত, মহান ও ভয়ংকর কাজের মাধ্যমে অন্য জাতির মধ্যে থেকে নিজের জন্য এক জাতিকে বের করে এনেছে?
DEU 4:35 তোমাদের এসব বিষয় দেখানো হয়েছে যেন তোমরা জানতে পারো যে সদাপ্রভুই ঈশ্বর; আর কেউ না।
DEU 4:36 তোমাদের উপদেশ দেবার জন্য তিনি স্বর্গ থেকে তাঁর রব তোমাদের শুনিয়েছিলেন। পৃথিবীতে তিনি তোমাদের তাঁর মহান আগুন দেখিয়েছিলেন এবং তোমরা আগুনের মধ্যে তাঁর রব শুনেছিলে।
DEU 4:37 যেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের ভালোবাসতেন এবং তাদের বংশধরদের মনোনীত করেছিলেন, তিনি তোমাদের তাঁর উপস্থিতিতে ও মহাপরাক্রমে মিশর থেকে বের করে এনেছেন,
DEU 4:38 যেন তোমাদের চেয়েও শক্তিশালী জাতিগুলিকে তোমাদের সামনে থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের দেশে তোমাদের নিয়ে যেতে পারেন এবং তোমাদের অধিকার করতে দেন, যেমন আজ হয়েছে।
DEU 4:39 আজকে তোমরা এই কথা জানো ও মনে রেখো যে সদাপ্রভুই উপরে স্বর্গে ও নিচে পৃথিবীর ঈশ্বর। অন্য কেউ নেই।
DEU 4:40 তোমাদের ও তোমাদের পরে তোমাদের সন্তানদের যেন মঙ্গল হয় এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ চিরকালের জন্য তোমাদের দিচ্ছেন তাতে যেন তোমরা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারো সেইজন্য আমি যেসব বিধান ও আদেশ আজ তোমাদের দিচ্ছি তা তোমরা মেনে চলবে।
DEU 4:41 এরপরে মোশি জর্ডনের পূর্বদিকের তিনটি নগর বেছে নিলেন,
DEU 4:42 যেন কেউ কাউকে মেরে ফেললে সেখানে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে অবশ্য যদি সে মনে কোনও হিংসা না রেখে হঠাৎ তা করে থাকে তবেই সে সেখানে আশ্রয় নিতে পারবে। সে নগরগুলির মধ্যে একটিতে পালিয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে পারবে।
DEU 4:43 নগরগুলি হল রূবেণীয়দের জন্য মরুএলাকার সমভূমির বেৎসর; গাদীয়দের জন্য গিলিয়দের রামোৎ এবং মনঃশীয়দের জন্য বাশনের গোলন।
DEU 4:44 মোশি ইস্রায়েলীদের সামনে এই বিধান তুলে ধরেছিলেন।
DEU 4:45 মিশর থেকে বের হয়ে মোশি তাদের এসব চুক্তির বিষয়, অনুশাসন ও বিধান দিয়েছিলেন
DEU 4:46 এবং তারা তখন জর্ডনের পূর্বদিকে হিষ্‌বোনের ইমোরীয় রাজা সীহোনের দেশে বেথ-পিয়োরের কাছে উপত্যকায় ছিল আর মোশি এবং ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বেরিয়ে এসে তাদের পরাজিত করেছিল।
DEU 4:47 তারা জর্ডনের পূর্বদিকের দুজন ইমোরীয় রাজা এবং বাশনের রাজা ওগের দেশ অধিকার করেছিল।
DEU 4:48 এই দেশ অর্ণোন উপত্যকার সীমানায় অরোয়ের থেকে সীওন পাহাড় (অর্থাৎ হর্মোণ) পর্যন্ত সমস্ত দেশ,
DEU 4:49 এবং জর্ডনের পূর্বদিকের সম্পূর্ণ অরাবা এলাকা, পিস্‌গা পাহাড়শ্রেণীর ঢালু অংশের নিচে অরাবার তলভূমির সূফ সাগর পর্যন্ত চলে গিয়েছে।
DEU 5:1 মোশি সমস্ত ইস্রায়েলীকে ডেকে বললেন: হে ইস্রায়েল, শোনো, আজ আমি তোমাদের কাছে অনুশাসন ও বিধানগুলি ঘোষণা করছি। সেগুলি শিখে নিয়ো এবং যত্নের সঙ্গে পালন কোরো।
DEU 5:2 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু হোরেবে আমাদের সঙ্গে এক নিয়ম স্থাপন করেছিলেন।
DEU 5:3 সদাপ্রভু আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সেই নিয়ম স্থাপন করেননি, করেছিলেন আমাদের কাছে, আজ আমরা যারা এখানে বেঁচে আছি আমাদের সকলের কাছে।
DEU 5:4 সদাপ্রভু সেই পাহাড়ের উপরে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছিলেন।
DEU 5:5 (সেই সময় আমিই তোমাদের সদাপ্রভুর কথা প্রকাশ করার জন্য সদাপ্রভুর ও তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলাম, কেননা তোমরা আগুনের ভয়ে পাহাড়ের উপর ওঠোনি।) এবং তিনি বললেন:
DEU 5:6 “আমিই তোমার ঈশ্বর সেই সদাপ্রভু, যিনি তোমাকে মিশর থেকে, ক্রীতদাসত্বের সেই দেশ থেকে বের করে এনেছেন।
DEU 5:7 “আমার সামনে তুমি অন্য কোনও দেবতা রাখবে না।
DEU 5:8 নিজের জন্য তুমি ঊর্ধ্বস্থ স্বর্গের বা অধঃস্থ পৃথিবীর বা জলরাশির তলার কোনো কিছুর আকৃতিবিশিষ্ট কোনও প্রতিমা তৈরি করবে না।
DEU 5:9 তুমি তাদের কাছে মাথা নত করবে না বা তাদের আরাধনা করবে না; কারণ আমি, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, এক ঈর্ষান্বিত ঈশ্বর, বাবা-মার করা পাপের কারণে সন্তানদের শাস্তি দিই, যারা আমাকে ঘৃণা করে তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত দিই,
DEU 5:10 কিন্তু যারা আমাকে ভালোবাসে ও আমার আজ্ঞাগুলি পালন করে, হাজার প্রজন্ম পর্যন্ত তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখাই।
DEU 5:11 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের অপব্যবহার কোরো না, কারণ যে কেউ তাঁর নামের অপব্যবহার করে সদাপ্রভু তাকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করবেন না।
DEU 5:12 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যেমন আদেশ করেছেন, তেমনি করে বিশ্রামদিন পালন করে পবিত্র রেখো।
DEU 5:13 ছয় দিন তুমি পরিশ্রম করবে ও তোমার সব কাজকর্ম করবে,
DEU 5:14 কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন। সেদিন তুমি, তোমার ছেলে বা মেয়ে, তোমার দাস বা দাসী, তোমার বলদ বা তোমার গাধা বা অন্য কোনও পশুপাল বা তোমার নগরে বসবাসকারী কোনো বিদেশি, কেউ কোনও কাজ কোরো না, যেন তোমার দাস বা দাসী বিশ্রাম পায়, যেমন তুমিও পাও।
DEU 5:15 মনে রেখো যে তোমরা মিশরে দাস ছিলে এবং তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু বলবান হাত ও বিস্তারিত বাহু দিয়ে সেখান থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন। সেইজন্যই তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে বিশ্রামদিন পালন করার আদেশ দিয়েছেন।
DEU 5:16 তোমার বাবাকে ও তোমার মাকে সম্মান কোরো, যেমন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে আদেশ দিয়েছেন, যেন তুমি সেই দেশে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পারো ও তোমার মঙ্গল হয়, যে দেশ তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে দিচ্ছেন।
DEU 5:17 তুমি নরহত্যা কোরো না।
DEU 5:18 তুমি ব্যভিচার কোরো না।
DEU 5:19 তুমি চুরি কোরো না।
DEU 5:20 তুমি তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না।
DEU 5:21 তুমি তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর উপর লোভ কোরো না। তোমার প্রতিবেশীর বাড়ি বা জমিতে, তার দাস বা দাসীর, তার বলদের বা গাধার, বা তোমার প্রতিবেশীর অধিকারভুক্ত কোনো কিছুর প্রতি লোভ কোরো না।”
DEU 5:22 সেই পাহাড়ের উপর আগুন, মেঘ ও ঘোর অন্ধকারের মধ্য থেকে সদাপ্রভু এই আজ্ঞাগুলি তোমাদের সকলের কাছে জোরে ঘোষণা করেছিলেন; এবং তিনি আর কিছু যোগ করেননি। পরে তিনি সেগুলি দুটি পাথরের ফলকের উপর লিখে আমার কাছে দিয়েছিলেন।
DEU 5:23 যখন তোমরা অন্ধকারের মধ্য থেকে সেই আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলে, এবং আগুনে পাহাড় জ্বলছিল, তখন তোমাদের সব গোষ্ঠীর নেতারা ও প্রাচীনেরা আমার কাছে এসেছিলে।
DEU 5:24 আর তোমরা বলেছিলে, “আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের তাঁর প্রতাপ ও মহিমা দেখিয়েছেন, আর আমরা আগুনের মধ্য থেকে তাঁর রব শুনেছি। আজ আমরা দেখলাম যে মানুষের সঙ্গে ঈশ্বর কথা বললেও সে বাঁচতে পারে।
DEU 5:25 কিন্তু এখন আমরা কেন মারা পড়ব? এই আগুন আমাদের পুড়িয়ে ফেলবে, এবং আমরা যদি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর রব আরও শুনি তাহলে মারা পড়ব।
DEU 5:26 মানুষের মধ্যে এমন কে আছে যে আমাদের মতো করে আগুনের মধ্য থেকে জীবন্ত ঈশ্বরের রব শুনবার পরেও বেঁচে আছে?
DEU 5:27 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যা বলছেন, আপনি কাছে গিয়ে তা শুনে আসুন। পরে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনাকে যা বলবেন তা আমাদের বলবেন। আমরা তা শুনব ও বাধ্য হব।”
DEU 5:28 তোমরা যখন আমার সঙ্গে কথা বলছিলে তখন সদাপ্রভু তোমাদের কথা শুনেছিলেন এবং সদাপ্রভু আমাকে বলেছিলেন, “লোকে তোমাকে যা বলেছে আমি তা শুনেছি। তারা যা বলেছে সবই ভালো।
DEU 5:29 আহা, সবসময় আমাকে ভয় করতে ও আমার আজ্ঞা পালন করতে যদি তাদের এরকম মনের ইচ্ছা থাকে, তাহলে তাদের ও তাদের সন্তানদের চিরকাল মঙ্গল হবে!
DEU 5:30 “যাও, তাদের বলো নিজেদের তাঁবুতে ফিরে যেতে।
DEU 5:31 কিন্তু তুমি আমার সঙ্গে থাকো যেন আমি তোমাকে সমস্ত আদেশ, অনুশাসন ও বিধান দিতে পারি যেগুলি তুমি তাদের শেখাবে যেন অধিকার করার জন্য যে দেশ আমি আদের দিতে যাচ্ছি সেখানে তারা সেগুলি পালন করে।”
DEU 5:32 অতএব তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে আদেশ দিয়েছেন সেগুলি যত্নের সঙ্গে পালন কোরো; তার ডানদিকে বা বাঁদিকে যাবে না।
DEU 5:33 যাতে তোমরা বাঁচতে পারো এবং তোমাদের মঙ্গল হয় আর যে দেশ তোমরা অধিকার করবে সেখানে অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারো সেইজন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে যে পথে তোমাদের চলবার আদেশ দিয়েছেন তোমরা সেইসব পথেই চলবে।
DEU 6:1 তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাকে এই আজ্ঞা, অনুশাসন ও বিধান দিয়েছেন যেন জর্ডন নদী পার হয়ে তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেখানে তোমরা তা পালন করে চলো,
DEU 6:2 যেন তোমরা, তোমাদের সন্তানেরা ও তাদের পরে তাদের সন্তানেরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করে, আমি যে সকল বিধান ও আদেশ দিচ্ছি সেগুলি পালন করো যেন তোমরা বহুকাল বেঁচে জীবন উপভোগ করো।
DEU 6:3 হে ইস্রায়েল, শোনো, এ সমস্ত যত্নের সঙ্গে মেনে চলো যাতে, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, সদাপ্রভু যেমন বলেছিলেন তেমনি তোমরা দুধ ও মধু প্রবাহিত সেই দেশে যাওয়ার পরে তোমাদের মঙ্গল হয় আর তোমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাও।
DEU 6:4 হে ইস্রায়েল, শোনো: আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একই প্রভু।
DEU 6:5 তুমি তোমার সমস্ত হৃদয় ও তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করবে।
DEU 6:6 এসব আদেশ যা আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তা যেন তোমাদের অন্তরে থাকে।
DEU 6:7 তোমাদের সন্তানদের তোমরা সেগুলি বারবার শেখাবে। ঘরে বসে থাকার সময় ও যখন তোমরা পথে চলবে, শোবার সময় ও যখন ঘুম থেকে উঠবে তাদের সেই সময় বলবে।
DEU 6:8 তোমরা তা মনে রাখবার চিহ্ন হিসেবে হাতে বেঁধে রাখবে এবং তোমাদের কপালে বেঁধে রাখবে।
DEU 6:9 সেগুলি তোমাদের বাড়ির দরজার চৌকাঠে ও তোমাদের দ্বারে লিখে রাখবে।
DEU 6:10 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যখন তোমাদের সেই দেশে নিয়ে যাবেন যা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের কাছে দেবার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—যে দেশে থাকবে বড়ো বড়ো সমৃদ্ধশালী নগর যেগুলি তোমরা তৈরি করোনি,
DEU 6:11 এমন সব জিনিসে ভরা ঘরবাড়ি যেগুলি তোমরা জোগাড় করোনি, কুয়ো যা তোমরা খোঁড়োনি, এবং আঙুরের বাগান ও জলপাই গাছ যা তোমরা লাগাওনি—তখন তোমরা সেগুলি খাবে ও তৃপ্ত হবে,
DEU 6:12 সতর্ক থেকো যেন তোমরা সদাপ্রভুকে ভুলে না যাও, যিনি মিশর দেশ থেকে, দাসত্বের দেশ থেকে, তোমাদের বের করে এনেছেন।
DEU 6:13 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে এবং তাঁর নামেই শপথ করবে।
DEU 6:14 অন্য দেবতাদের অনুসরণ করবে না, যারা তোমাদের চারিদিকের জাতিদের দেবতা;
DEU 6:15 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের মধ্যে আছেন, তিনি নিজের গৌরব রক্ষা করার বিষয়ে খুবই উদ্যোগী, এবং তাঁর ক্রোধের আগুন তোমাদের বিরুদ্ধে জ্বলবে, আর তিনি তোমাদের পৃথিবীর উপর থেকে ধ্বংস করবেন।
DEU 6:16 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর পরীক্ষা কোরো না যেমন তোমরা মঃসাতে করেছিলে।
DEU 6:17 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া আদেশ, শর্তাবলি ও অনুশাসন যত্নের সঙ্গে পালন কোরো।
DEU 6:18 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা কিছু সঠিক এবং ভালো তাই কোরো, যেন তোমাদের মঙ্গল হয় এবং তোমরা গিয়ে সেই উত্তম দেশ অধিকার করো যার বিষয়ে সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন,
DEU 6:19 এবং সদাপ্রভুর কথা অনুসারে তোমরা তোমাদের শত্রুদের তাড়িয়ে দিতে পারবে।
DEU 6:20 ভবিষ্যতে যখন তোমার ছেলে তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, “আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই যেসব শর্তাবলি, অনুশাসন ও আদেশ তোমাদের দিয়েছেন সেইসবের মানে কী?”
DEU 6:21 তাকে বলবে “আমরা মিশরে ফরৌণের দাস ছিলাম, কিন্তু সদাপ্রভু তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে আমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
DEU 6:22 আমাদের চোখের সামনে সদাপ্রভু—বড়ো বড়ো ও ভয়ংকর—চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ মিশর এবং ফরৌণ ও তার বাড়ির সকলের উপর করেছিলেন।
DEU 6:23 কিন্তু তিনি আমাদের সেখান থেকে বের করে এনেছিলেন যাতে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে শপথ করেছিলেন যেন তা দিতে পারেন।
DEU 6:24 সদাপ্রভু আমাদের এই সমস্ত অনুশাসন পালন করতে ও আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করতে আদেশ দিয়েছিলেন, যেন আমাদের উন্নতি হয় এবং বাঁচিয়ে রাখেন, যেমন আজকে আছি।
DEU 6:25 আর আমরা যদি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে, তাঁর আদেশ অনুসারে, যত্নের সঙ্গে এসব বিধান পালন করি তবে সেটিই হবে আমাদের ধার্মিকতা।”
DEU 7:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সেই দেশে নিয়ে যাবেন যেটি তোমরা অধিকার করতে যাচ্ছ এবং তোমাদের সামনে থেকে অনেক জাতিকে তাড়িয়ে দেবেন—হিত্তীয়, গির্গাশীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়, সাতটি জাতি যারা তোমাদের থেকে বড়ো এবং শক্তিশালী
DEU 7:2 আর যখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের তোমাদের হাতে সমর্পণ করবেন এবং তোমরা তাদের পরাজিত করবে, তখন তোমরা তাদের একেবারে ধ্বংস করবে। তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি করবে না, এবং তাদের প্রতি করুণা দেখাবে না।
DEU 7:3 তাদের সঙ্গে অসবর্ণমতে বিয়ে করবে না। তোমাদের মেয়েদের তাদের ছেলেদের হাতে দেবে না অথবা তাদের মেয়েদের তোমাদের ছেলেদের জন্য নেবে না,
DEU 7:4 কেননা তারা তোমাদের সন্তানদের আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্যান্য দেবতাদের সেবা করাবে তাতে সদাপ্রভুর ক্রোধের আগুন তোমাদের বিরুদ্ধে জ্বলবে এবং তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করবেন।
DEU 7:5 তাদের প্রতি তোমাদের এই কাজ করতে হবে: তাদের বেদিগুলি ভেঙে দিয়ো, তাদের পবিত্র পাথরগুলি চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ো ও তাদের আশেরা-খুঁটিগুলি কেটে নামিয়ে দিয়ো এবং তাদের মূর্তিগুলি আগুনে পুড়িয়ে দিয়ো।
DEU 7:6 কেননা তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর পবিত্র লোক। পৃথিবীর যত জাতি আছে সে সকলের মধ্যে থেকে নিজের লোক, তাঁর অধিকারের সম্পদ করার জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদেরই মনোনীত করেছেন।
DEU 7:7 অন্য জাতির চেয়ে তোমাদের লোকসংখ্যা বেশি মনে করে যে সদাপ্রভু তোমাদের স্নেহ করেছেন ও মনোনীত করেছেন তা নয়, কারণ অন্য সব জাতির চেয়ে তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে।
DEU 7:8 কিন্তু এই জন্য যে, সদাপ্রভু তোমাদের ভালোবাসেন এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দেবেন বলে শপথ করেছিলেন তা রক্ষা করতে তিনি তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে তোমাদের দাসত্বের দেশ ও মিশরের রাজা ফরৌণের ক্ষমতা থেকে উদ্ধার করেছেন।
DEU 7:9 অতএব তোমরা জেনে রেখো যে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুই ঈশ্বর; তিনি হলেন বিশ্বস্ত ঈশ্বর, যারা তাঁকে ভালোবাসে ও তাঁর আদেশগুলি পালন করে তাদের জন্য তিনি যে ভালোবাসার বিধান স্থাপন করেছেন তা তিনি হাজার হাজার পুরুষ পর্যন্ত রক্ষা করেন।
DEU 7:10 কিন্তু যারা তাঁকে ঘৃণা করে তাদের ধ্বংস করে তিনি তার শোধ দেন; তাঁর ঘৃণাকারীদের শোধ দিতে তিনি দেরি করেন না।
DEU 7:11 অতএব, আজ আমি তোমাদের যেসব আদেশ, অনুশাসন ও বিধান দিচ্ছি তা তোমরা যত্নের সঙ্গে পালন করবে।
DEU 7:12 যদি তোমরা এসব বিধানের প্রতি মনোযোগ দাও এবং তা যত্নের সঙ্গে পালন করো, তবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে শপথ করেছিলেন সেই অনুসারে তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার বিধান রক্ষা করবেন।
DEU 7:13 তিনি তোমাদের ভালোবাসবেন ও তোমাদের আশীর্বাদ করবেন এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি করবেন। তিনি যে দেশ দিবেন বলে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন সেই দেশে তিনি তোমাদের গর্ভের ফলকে, জমির ফসলকে—তোমাদের শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেল—পশুপালের বাছুর এবং মেষদের আশীর্বাদ করবেন।
DEU 7:14 অন্য সব লোকের চেয়ে তোমরা বেশি আশীর্বাদ পাবে; তোমাদের কোনও পুরুষ বা স্ত্রীলোক নিঃসন্তান হবে না, এমনকি তোমাদের পশুদের কেউ শাবক ছাড়া থাকবে না।
DEU 7:15 সদাপ্রভু সব রোগ থেকে তোমাদের মুক্ত রাখবেন। মিশরে যেসব ভীষণ রোগ তোমরা দেখেছ তা তিনি তোমাদের উপর হতে দেবেন না, কিন্তু যারা তোমাদের ঘৃণা করবে তাদের উপর সেইসব হতে দেবেন।
DEU 7:16 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের হাতের মুঠোয় যেসব জাতিকে এনে দেবেন তাদের সবাইকে তোমাদের ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তাদের তোমরা দয়া দেখাবে না এবং তাদের দেবতাদেরও সেবা করবে না, কারণ তা তোমাদের পক্ষে ফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে।
DEU 7:17 তোমরা মনে মনে বলতে পারো, “এসব জাতি আমাদের থেকে শক্তিশালী। আমরা কী করে তাদের তাড়াব?”
DEU 7:18 কিন্তু তোমরা তাদের ভয় কোরো না; তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু ফরৌণ ও সমগ্র মিশর দেশের উপর কী করেছিলেন তা ভুলে যেয়ো না।
DEU 7:19 তোমরা নিজের চোখে সেই সকল পরীক্ষা দেখেছ, সেই চিহ্ন এবং অদ্ভুত লক্ষণ, সেই শক্তিশালী ও বিস্তারিত হাত, যার দ্বারা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের বের করে এনেছেন। তোমরা এখন যে সকল লোককে ভয় পাচ্ছ তাদের প্রতিও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সেইরকম করবেন।
DEU 7:20 এর পরেও তাদের মধ্যে যারা বেঁচে যাবে এবং তোমাদের কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের মধ্যে ভিমরুল পাঠিয়ে দেবেন আর তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
DEU 7:21 তাদেরকে ভয় পেয়ো না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের মধ্যে আছেন, তিনি মহান ও অসাধারণ ঈশ্বর।
DEU 7:22 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সামনে থেকে ওইসব জাতিকে, অল্প অল্প করে, তাড়িয়ে দেবেন। তাদের সবাইকে তোমরা একসঙ্গে তাড়িয়ে দেবে না, কারণ তাহলে তোমাদের চারপাশে বন্যপশুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।
DEU 7:23 কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সামনে তাদের তুলে দেবেন, এবং যতক্ষণ না তারা ধ্বংস হয় ততক্ষণ তাদের ভীষণ বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দেবেন।
DEU 7:24 তাদের রাজাদের তিনি তোমাদের হাতে তুলে দেবেন, এবং তোমরা আকাশমণ্ডলের নিচ থেকে তাদের নাম মুছে ফেলবে। তোমাদের বিপক্ষে কেউ দাঁড়াতে পারবে না; তোমরা তাদের ধ্বংস করবে।
DEU 7:25 তাদের দেবতাদের মূর্তিগুলি তোমরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। তোমরা তাদের গায়ের সোনারুপোর উপর লোভ করবে না, এবং সেগুলি নিজেদের জন্য নেবে না, অথবা সেগুলির দ্বারা ফাঁদে পড়বে না, কারণ সেগুলি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ঘৃণ্য দ্রব্য।
DEU 7:26 কোনো ঘৃণ্য দ্রব্য তোমাদের ঘরে আনবে না, পাছে তার মতো ধ্বংসের জন্য তোমাদের আলাদা করা হয়েছে। সেগুলিকে ভীষণ ঘৃণা ও অবজ্ঞা করবে, যেহেতু সেগুলি ধ্বংসের জন্য আলাদা করা।
DEU 8:1 আমি আজ তোমাদের যেসব আদেশ দিচ্ছি তার প্রত্যেকটি পালন করবার দিকে তোমরা মন দাও, যাতে তোমরা বেঁচে থাকো ও সংখ্যায় বেড়ে ওঠো আর সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেওয়ার কথা শপথ করে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেখানে ঢুকে তা অধিকার করতে পারো।
DEU 8:2 মনে করে দেখো তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই চল্লিশটি বছর প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে কীভাবে সব দিকে তোমাদের চালিয়ে এনেছেন, তোমাদের অহংকার ভেঙে দেওয়ার জন্য এবং পরীক্ষা করে জানার জন্য যে তোমাদের মনে কী আছে, তোমরা তাঁর আদেশ পালন করবে কি না।
DEU 8:3 তিনি তোমাদের নত করেছিলেন, তোমাদের ক্ষিদে দিয়ে এবং পরে তোমাদের মান্না খেতে দিয়েছিলেন, যা তোমরা বা তোমাদের পূর্বপুরুষেরা জানত না, তোমাদের এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে মানুষ কেবলমাত্র রুটিতে বাঁচে না কিন্তু সদাপ্রভুর মুখ থেকে নির্গত প্রত্যেকটি বাক্য দ্বারাই জীবনধারণ করবে।
DEU 8:4 এই চল্লিশ বছর তোমাদের গায়ের পোশাক নষ্ট হয়নি এবং পাও ফুলে যায়নি।
DEU 8:5 এই কথা তোমাদের অন্তরে জেনে রেখো যে, বাবা যেমন ছেলেকে শাসন করেন ঠিক সেইভাবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের শাসন করেন।
DEU 8:6 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ পালন করবে, তাঁর পথে চলবে এবং তাঁকে ভক্তি করবে।
DEU 8:7 কেননা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের মনোরম দেশে নিয়ে যাচ্ছেন—যে দেশে রয়েছে উপত্যকা ও পাহাড় থেকে বয়ে চলা নদী, ফোয়ারা আর মাটির তলার জল;
DEU 8:8 সেই দেশে রয়েছে প্রচুর গম ও যব, আঙুর ও ডুমুর গাছ, ডালিম, জলপাই তেল এবং মধু;
DEU 8:9 সেই দেশে তোমরা প্রচুর খাবার পাবে এবং তোমাদের কোনো কিছুরই অভাব থাকবে না; সেখানকার পাথরে রয়েছে লোহা এবং সেখানকার পাহাড় থেকে তোমরা তামা খুঁড়ে তুলতে পারবে।
DEU 8:10 তোমরা সেখানে খেয়েদেয়ে তৃপ্ত হওয়ার পর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে চমৎকার দেশেটি দিয়েছেন তার জন্য তাঁর গৌরব করবে।
DEU 8:11 সাবধান, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভুলে যেয়ো না, আমি আজ তাঁর যেসব আদেশ, বিধান ও অনুশাসন তোমাদের দিচ্ছি তা ভুলে যেয়ো না।
DEU 8:12 নয়তো, তোমরা যখন খেয়েদেয়ে তৃপ্ত হবে, তোমরা যখন সুন্দর সুন্দর বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস করবে,
DEU 8:13 আর যখন তোমাদের পালের গরু, ছাগল ও মেষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তোমাদের অনেক সোনা ও রুপো হবে,
DEU 8:14 তখন তোমরা অহংকারী হয়ে উঠবে এবং যিনি মিশর দেশ থেকে, সেই দাসত্বের দেশ থেকে, তোমাদের বের করে এনেছেন তোমাদের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভুকে তোমরা ভুলে যাবে।
DEU 8:15 তিনি তোমাদের এক বিরাট, ভয়ংকর, শুকনো, জলহীন এবং বিষাক্ত সাপ ও কাঁকড়াবিছেতে ভরা প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে নিয়ে এসেছেন। তিনি শক্ত পাথরের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জল বের করেছেন।
DEU 8:16 তিনি তোমাদের প্রান্তরে খাওয়ার জন্য মান্না দিয়েছিলেন, যার কথা তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কখনও জানেননি, যেন তিনি তোমাদের মঙ্গলের জন্য তোমাদের নত করতে ও তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন।
DEU 8:17 তোমরা হয়তো মনে মনে বলতে পারো, “আমার নিজের শক্তিতে, নিজের হাতে কাজ করে আমি এসব ধনসম্পত্তি করেছি।”
DEU 8:18 কিন্তু তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে মনে রেখো, কারণ তিনিই তোমাদের ক্ষমতা দেন এই ধনসম্পত্তি করার, আর এইভাবে তিনি তোমাদের পূর্বপুরুযদের কাছে যে নিয়মের কথা শপথ করে বলেছিলেন তা তিনি এখন পূর্ণ করতে চলেছেন।
DEU 8:19 তোমরা যদি কখনও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভুলে গিয়ে অন্য দেবতাদের অনুসরণ করো এবং তাদের সেবা ও পূজা করো, তবে আজ আমি তোমাদের বিরুদ্ধে এই কথা নিশ্চয় করে বলছি যে, তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।
DEU 8:20 সদাপ্রভু তোমাদের সামনে যেসব জাতিকে ধ্বংস করেছেন তাদের মতো তোমরাও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অবাধ্য হওয়ার দরুন ধ্বংস হয়ে যাবে।
DEU 9:1 হে ইস্রায়েল, শোনো যেসব জাতি তোমাদের থেকে লোকসংখ্যায় ও শক্তিতে বড়ো, তোমরা এখন গিয়ে তাদের গগনচুম্বী প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বড়ো বড়ো নগরগুলি অধিকার করার জন্য জর্ডন নদী পার হতে যাচ্ছ।
DEU 9:2 সেখানকার লোকেরা অনাকীয়—তারা শক্তিশালী ও লম্বা! তোমরা তাদের সম্বন্ধে জানো এবং শুনেছ বলা হয়ে থাকে “অনাকীয়দের বিরুদ্ধে কে দাঁড়াতে পারে?”
DEU 9:3 কিন্তু আজ তুমি এই কথা জেনে রেখো যে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুই গ্রাসকারী আগুনের মতো তোমাদের আগে আগে জর্ডন নদী পার হয়ে যাচ্ছেন। তিনি তাদের ধ্বংস করবেন; তিনি তোমাদের সামনে তাদের দমন করবেন। আর তোমরা তাদের তাড়িয়ে দেবে এবং সত্বর ধ্বংস করবে, যেমন সদাপ্রভু তোমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন।
DEU 9:4 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সামনে থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর, তোমরা কেউ মনে মনে বোলো না, “আমার ধার্মিকতার জন্য সদাপ্রভু আমাকে এই দেশ অধিকার করাতে এখানে নিয়ে এসেছেন।” তা নয়, এসব জাতির লোকদের দুষ্টতার জন্যই সদাপ্রভু তোমাদের সামনে থেকে তাদের তাড়িয়ে দিতে যাচ্ছেন।
DEU 9:5 তোমাদের ধার্মিকতা কিংবা সাধুতার জন্য তোমরা যে তাদের দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ তা নয়; কিন্তু এই জাতিদের দুষ্টতার জন্য, বরং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের কাছে যে কথা প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলেন তা পূরণ করবার জন্যই তিনি এসব জাতির দুষ্টতার দরুন তোমাদের সামনে থেকে তাদের তাড়িয়ে দেবেন।
DEU 9:6 কাজেই তোমরা জেনে রেখো, তোমাদের ধার্মিকতার জন্য যে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই চমৎকার দেশটি তোমাদের অধিকার করতে দিচ্ছেন তা নয়, কারণ তোমরা তো একগুঁয়ে এক জাতি।
DEU 9:7 তোমরা প্রান্তরে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ কীভাবে জাগিয়ে তুলেছিলে তা মনে রেখো, কখনও ভুলে যেয়ো না। মিশর ছেড়ে আসবার দিন থেকে শুরু করে এখানে পৌঁছানো পর্যন্ত তোমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারী হয়ে আসছ।
DEU 9:8 হোরেবে তোমরা এমনভাবে সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলে যে, তার দরুন তিনি তোমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।
DEU 9:9 সদাপ্রভু যে বিধান তোমাদের জন্য স্থাপন করেছেন সেই বিধান লেখা পাথরের ফলক দুটি গ্রহণ করার জন্য আমি পাহাড়ের উপর উঠে চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সেখানেই ছিলাম; আমি জল বা রুটি কিছুই খাইনি।
DEU 9:10 ঈশ্বরের আঙুল দিয়ে লেখা এমন দুটি পাথরের ফলক সদাপ্রভু আমাকে দিয়েছিলেন। তোমরা সবাই যেদিন সদাপ্রভুর সামনে জড়ো হয়েছিলে, সেদিন তিনি পাহাড়ের উপরে আগুনের মধ্য থেকে যেসব আদেশ তোমাদের কাছে ঘোষণা করেছিলেন সেগুলি ওই ফলক দুটির উপর লেখা ছিল।
DEU 9:11 সেই চল্লিশ দিন আর চল্লিশ রাত কেটে যাওয়ার পর সদাপ্রভু ওই বিধান লেখা পাথরের ফলক দুটি আমাকে দিয়েছিলেন।
DEU 9:12 তারপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তুমি এখনই নিচে নেমে যাও, কেননা যে লোকদের তুমি মিশর থেকে বের করে এনেছ তারা কুপথে গেছে। যে পথে চলবার আদেশ আমি দিয়েছিলাম এর মধ্যেই তারা তা থেকে দূরে সরে গেছে এবং পূজার জন্য নিজেদের জন্য একটি মূর্তি তৈরি করেছে।”
DEU 9:13 আর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “আমি এই লোকদের দেখেছি, এরা একগুঁয়ে এক জাতি!
DEU 9:14 তুমি আমাকে বাধা দিয়ো না, যেন আমি তাদের ধ্বংস করি এবং পৃথিবী থেকে তাদের নাম মুছে ফেলি। আর আমি তোমার মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী এবং তাদের চেয়ে আরও বড়ো একটি জাতি তৈরি করব।”
DEU 9:15 তখন আমি পাহাড় থেকে নেমে আসলাম যখন পাহাড় আগুনে জ্বলছিল। আর আমার হাতে বিধানের দুটি ফলক ছিল।
DEU 9:16 আমি চেয়ে দেখলাম, তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছ; পূজার জন্য তোমরা ছাঁচে ফেলে একটি বাছুরের মূর্তি তৈরি করে নিয়েছ। সদাপ্রভু তোমাদের যে পথে চলবার আদেশ দিয়েছিলেন তোমরা ঐটুকু সময়ের মধ্যেই সেই পথ থেকে সরে গিয়েছিলে।
DEU 9:17 সেইজন্য আমি পাথরের ফলক দুটি আমার হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম, তাতে সেগুলি তোমাদের চোখের সামনে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।
DEU 9:18 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ এমন সব পাপ তোমরা করে তাঁর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলে সেইজন্য আমি আগের বারের মতো আবার চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সদাপ্রভুর সামনে উপুড় হয়ে পড়েছিলাম; জল বা রুটি কিছুই খাইনি।
DEU 9:19 সদাপ্রভুর ভীষণ অসন্তোষকে আমি ভয় করেছিলাম, কারণ তোমাদের ধ্বংস করে ফেলবার মতো ক্রোধ তাঁর হয়েছিল। কিন্তু এবারও সদাপ্রভু আমার কথা শুনেছিলেন।
DEU 9:20 আর হারোণকে ধ্বংস করে ফেলবার মতো ক্রোধও তাঁর হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় আমি হারোণের জন্যও মিনতি করেছিলাম।
DEU 9:21 আর আমি তোমাদের সেই পাপময় জিনিসটি, তোমাদের তৈরি সেই বাছুরটি, নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। তারপর আমি সেটি ধুলোর মতো গুঁড়ো করে পাহাড় থেকে বয়ে আসা নদীর স্রোতে ফেলে দিয়েছিলাম।
DEU 9:22 তোমরা তবেরাতে, মঃসাতে ও কিব্রোৎ-হত্তাবাতে সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলে।
DEU 9:23 তারপর সদাপ্রভু তোমাদের কাদেশ-বর্ণেয় থেকে রওনা করে দেওয়ার সময় বলেছিলেন, “তোমরা উঠে যাও এবং যে দেশ আমি তোমাদের দিয়েছি তা অধিকার করো।” কিন্তু তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আজ্ঞার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলে। তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করোনি বা তাঁর বাধ্য হওনি।
DEU 9:24 আমি যখন থেকে তোমাদের জেনেছি তখন থেকেই তোমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে কেবল বিদ্রোহই করে চলেছ।
DEU 9:25 সদাপ্রভু তোমাদের ধ্বংস করার কথা বলেছিলেন বলে আমি সেই চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সদাপ্রভুর সামনে উবুড় হয়ে পড়েছিলাম।
DEU 9:26 আমি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলাম, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তোমার লোকদের তুমি ধ্বংস করে ফেলো না, তারা তো তোমারই উত্তরাধিকারী যাদের তুমি তোমার মহাশক্তি দ্বারা মুক্ত করেছ এবং তোমার শক্তিশালী হাত ব্যবহার করে মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছ।
DEU 9:27 তোমার দাস অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে স্মরণ করো। এই লোকদের একগুঁয়েমি, দুষ্টতা এবং পাপের দিকে চেয়ে দেখো না।
DEU 9:28 তা করলে যে দেশ থেকে তুমি আমাদের বের করে এনেছ সেই দেশের লোকেরা বলবে, ‘সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞাত দেশে তাদের নিয়ে যেতে পারলেন না বলে এবং তাদের ঘৃণা করেন বলে, তাদের মেরে ফেলার জন্য এই প্রান্তরে নিয়ে এসেছেন।’
DEU 9:29 কিন্তু তারা তোমার লোক, তোমারই উত্তরাধিকারী যাদের তুমি তোমার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মহাশক্তিতে বের করে এনেছ।”
DEU 10:1 সেই সময়ে সদাপ্রভু আমাকে বলেছিলেন, “তুমি দু-টুকরো পাথর কেটে আগের পাথরের ফলকের মতো করে নাও এবং পাহাড়ের উপরে আমার কাছে উঠে এসো। সেই সঙ্গে একটি কাঠের সিন্দুকও তৈরি কোরো।
DEU 10:2 আগের যে ফলকগুলি তুমি ভেঙে ফেলেছ, সেগুলির উপরে যে কথা লেখা ছিল তাই এই ফলক দুটির উপর লিখে দেব। তারপর তুমি সেই দুটি নিয়ে সিন্দুকটির মধ্যে রাখবে।”
DEU 10:3 সেইজন্য আমি বাবলা কাঠ দিয়ে একটি সিন্দুক তৈরি করলাম এবং দু-টুকরো পাথর কেটে আগের ফলক দুটির মতো করে নিলাম, তারপর সেই দুটি হাতে করে পাহাড়ের উপর উঠে গিয়েছিলাম।
DEU 10:4 সদাপ্রভু প্রথম ফলক দুটির উপরে যে কথা লিখেছিলেন এই দুটির উপরও তাই লিখলেন, সেই দশাজ্ঞা যা তিনি তোমাদের সকলের একসঙ্গে সমবেত হওয়ার দিনে পাহাড়ের উপর আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে ঘোষণা করেছিলেন। আর সদাপ্রভু সেগুলি আমাকে দিয়ে দিলেন।
DEU 10:5 তারপর, সদাপ্রভু আমাকে যেমন আদেশ করেছিলেন সেইমতো আমি পাহাড়ের উপর থেকে নেমে এসে সেই ফলক দুটি আমার তৈরি করা সিন্দুকে রেখেছিলাম, আর সেগুলি এখনও সেখানেই আছে।
DEU 10:6 (ইস্রায়েলীরা বেরোৎ-বেনেয়াকনের কুয়ো থেকে রওনা হয়ে মোষেরোতে পৌঁছাল। সেখানেই হারোণ মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল, এবং তাঁর ছেলে ইলিয়াসর তাঁর জায়গায় যাজক হয়েছিলেন।
DEU 10:7 সেখান থেকে তারা গুধগোদায় এবং তারপর যট্‌বাথায় গিয়েছিল, যে দেশে অনেক জলপ্রবাহ ছিল।
DEU 10:8 সেই সময় সদাপ্রভু তাঁর নিয়ম-সিন্দুক বয়ে নেওয়ার এবং তাঁর সামনে দাঁড়াবার জন্য ও সেবাকাজের উদ্দেশ্যে আর তাঁর নামে আশীর্বাদ উচ্চারণ করবার জন্য লেবীয় বংশকে বেছে নিয়েছিলেন, যেমন তারা আজ পর্যন্ত করছে।
DEU 10:9 এই জন্য লেবীয়েরা তাদের ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্যে সম্পত্তির কোনও ভাগ বা অধিকার পায়নি; তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথা অনুসারে সদাপ্রভুই তাদের উত্তরাধিকার।)
DEU 10:10 আগের বারের মতো, সেই বারও আমি চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত পাহাড়ের উপরে ছিলাম আর সেই বারও সদাপ্রভু আমার কথা শুনেছিলেন। তোমাদের ধ্বংস করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না।
DEU 10:11 সদাপ্রভু আমাকে বলেছিলেন, “যাও, তুমি গিয়ে লোকদের পরিচালনা করে নিয়ে যাও, যেন তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আমি যে দেশ দেওয়ার শপথ করেছিলাম সেখানে গিয়ে তারা তা অধিকার করে নিতে পারে।”
DEU 10:12 এখন হে ইস্রায়েল, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের কাছে কী চান? তিনি কেবল চান যেন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করো, সব ব্যাপারে তাঁর পথে চলো, তাঁকে ভালোবাসো, তোমাদের সমস্ত হৃদয় ও প্রাণ দিয়ে তাঁর সেবা করো,
DEU 10:13 আর তোমাদের মঙ্গলের জন্য আজ আমি তোমাদের কাছে সদাপ্রভুর যেসব আদেশ ও অনুশাসন দিচ্ছি তা পালন করো।
DEU 10:14 আকাশ ও তার উপরের সবকিছু এবং পৃথিবী ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর।
DEU 10:15 তবুও তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি তাঁর স্নেহ ছিল এবং তিনি তাদের ভালোবাসতেন, আর তিনি সমস্ত জাতির মধ্য থেকে তাদের বংশধরদের, অর্থাৎ তোমাদের মনোনীত করেছেন—যেমন তোমরা আজও আছ।
DEU 10:16 তোমাদের হৃদয়ের সুন্নত করো, আর একগুঁয়ে হয়ে থেকো না।
DEU 10:17 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু ঈশ্বরদের ঈশ্বর এবং প্রভুদের প্রভু, তিনিই মহান ঈশ্বর, ক্ষমতাশালী ও ভয়ংকর, যিনি কারোর মুখাপেক্ষা করেন না এবং ঘুষও নেন না।
DEU 10:18 পিতৃহীনদের ও বিধবাদের অধিকার তিনি রক্ষা করেন, এবং তোমাদের মধ্যে বসবাস করা বিদেশিদের খেতে পরতে দিয়ে তাঁর ভালোবাসা দেখান।
DEU 10:19 আর তোমরা বিদেশিদের ভালোবাসবে, কারণ তোমরা নিজেরাও মিশরে বিদেশি হয়েছিলে।
DEU 10:20 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করবে এবং তাঁর সেবা করবে। তাঁকেই আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং তাঁর নামেই শপথ করবে।
DEU 10:21 তিনিই সেই জন যাঁর তোমরা প্রশংসা করবে; তিনি তোমাদের ঈশ্বর, যিনি তোমাদের জন্য সেই মহান ও ভয়ংকর কাজ করেছিলেন যেগুলি তোমরা নিজের চোখে দেখেছ।
DEU 10:22 তোমাদের যে পূর্বপুরুষেরা মিশরে গিয়েছিলেন তাদের মোট সংখ্যা ছিল সত্তর, আর এখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সংখ্যা করেছেন আকাশের তারার মতো অসংখ্য।
DEU 11:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসবে আর তিনি যা চান তা করবে, এবং তাঁর অনুশাসন, বিধান ও আদেশ সবসময় পালন করবে।
DEU 11:2 আজ তোমরা মনে রেখো যে তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর শিক্ষার বিষয়ে দেখেনি ও তাঁর মহিমা, তাঁর শক্তিশালী হাত, তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া হাতের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি;
DEU 11:3 যে সকল চিহ্নকাজ তিনি মিশরের মধ্যে, মিশরের রাজা ফরৌণের এবং তাঁর সমগ্র দেশের উপর করেছিলেন;
DEU 11:4 তিনি মিশরীয় সৈন্যদলের প্রতি যা করেছিলেন, তাদের ঘোড়া ও রথগুলির প্রতি, এবং তারা যখন তোমাদের পিছনে তাড়া করে আসছিল তখন কেমন করে তিনি লোহিত সাগরের জলে তাদের ডুবিয়ে দিয়েছিলেন আর কেমন করে সদাপ্রভু তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন তাও তারা দেখেনি।
DEU 11:5 তোমরা এখানে এসে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি প্রান্তরে তোমাদের জন্য যা করেছিলেন তা তোমাদের সন্তানেরা দেখেনি,
DEU 11:6 এবং তিনি রূবেণের ছেলে ইলীয়াবের সন্তান দাথন ও অবীরামের প্রতি যা করেছিলেন, যখন ইস্রায়েলীদের মাঝখানে পৃথিবী মুখ খুলে তাদের ও তাদের পরিবারের লোকজন, তাদের তাঁবু এবং তাদের সমস্ত জীবন্ত প্রাণীকে গিলে ফেলেছিল।
DEU 11:7 কিন্তু সদাপ্রভুর এসব বড়ো বড়ো কাজ তোমরাই নিজের চোখে দেখেছ।
DEU 11:8 অতএব আজ আমি তোমাদের এসব আজ্ঞা দিচ্ছি, যেন তোমরা শক্তিশালী হও এবং জর্ডন পার হয়ে যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ তা যেন দখল করতে পারো,
DEU 11:9 আর যেন সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ও তাদের বংশধরদের যে দেশ দেওয়ার জন্য শপথ করেছিলেন, সেই দুধ আর মধু প্রবাহী দেশে অনেক দিন বসবাস করতে পারো।
DEU 11:10 তোমরা যে দেশটি দখল করতে যাচ্ছ সেটি মিশর দেশের মতো নয়, যেখান থেকে তোমরা এসেছ, সেখানে তোমরা বীজ বুনতে আর সবজি ক্ষেতের মতো পা দিয়ে জল সেচতে।
DEU 11:11 কিন্তু জর্ডন পার হয়ে যে দেশটি তোমরা দখল করতে যাচ্ছ সেটি পাহাড় আর উপত্যকায় ভরা যা আকাশের বৃষ্টির জলপান করে।
DEU 11:12 সেই দেশের যত্ন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু করেন; বছরের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবসময় তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর চোখ তার উপরে আছে।
DEU 11:13 অতএব আমি আজ তোমাদের যে সকল আজ্ঞা দিচ্ছি—তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসো ও সমস্ত হৃদয় ও প্রাণ দিয়ে তাঁর সেবা করো
DEU 11:14 তাহলে আমি সব ঋতুতে বৃষ্টি দেব, শরৎ ও বসন্তে, যেন তোমরা শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেল সংগ্রহ করতে পারো।
DEU 11:15 আমি তোমাদের পশুদের জন্য মাঠে ঘাস হতে দেব, এবং তোমরা খাবে ও তৃপ্ত হবে।
DEU 11:16 তোমরা কিন্তু সতর্ক থাকো, তা না হলে তোমরা ছলনায় পড়ে সদাপ্রভুর কাছ থেকে সরে যাবে এবং অন্যান্য দেবতাদের সেবা ও পূজা করবে।
DEU 11:17 এতে তোমাদের উপর সদাপ্রভুর ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠবে এবং তিনি আকাশের দরজা বন্ধ করে দেবেন, যার ফলে বৃষ্টিও হবে না এবং জমিতে ফসলও হবে না, এবং যে চমৎকার দেশটি সদাপ্রভু তোমাদের দিচ্ছেন সেখান থেকে তোমরা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
DEU 11:18 তোমাদের অন্তরে ও মনে আমার এই কথাগুলি গেঁথে রাখবে; তা মনে রাখার চিহ্ন হিসেবে হাতে বেঁধে রাখবে এবং কপালে লাগিয়ে রাখবে।
DEU 11:19 সেগুলি তোমাদের সন্তানদের শেখাবে, ঘরে বসে কথা বলার সময় আর যখন তাদের সঙ্গে হাঁটবে, যখন শোবার সময় ও বিছানা থেকে উঠবার সময়।
DEU 11:20 সেগুলি তোমাদের বাড়ির দরজার চৌকাঠে ও তোমাদের দ্বারে লিখে রাখবে,
DEU 11:21 যেন সদাপ্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দেওয়ার জন্য শপথ করেছিলেন সেখানে তোমরা ও তোমাদের সন্তানেরা ততকাল বেঁচে থাকো যতকাল এই পৃথিবীর উপর মহাকাশ থাকবে।
DEU 11:22 আমি যে সমস্ত আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি সেগুলি যদি তোমরা যত্নের সঙ্গে পালন করো—তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসো, তাঁর বাধ্যতায় চলো এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরে থাকো
DEU 11:23 তাহলে তোমাদের সামনে থেকে সদাপ্রভু এসব জাতিকে তাড়িয়ে দেবেন, আর তোমরা তোমাদের থেকে বড়ো বড়ো এবং শক্তিশালী জাতিকে বেদখল করবে।
DEU 11:24 তোমরা যে জায়গায় পা ফেলবে সেই জায়গাই তোমাদের হবে: তোমাদের সীমানা বাড়বে প্রান্তর থেকে লেবানন পর্যন্ত এবং ইউফ্রেটিস নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত।
DEU 11:25 তোমাদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। তোমরা সেই দেশের যেখানেই যাবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুসারে সেখানকার লোকদের মনে তোমাদের সম্বন্ধে আতঙ্ক ও ভয় ছড়িয়ে দেবেন।
DEU 11:26 দেখো, আজ আমি তোমাদের সামনে আশীর্বাদ ও অভিশাপ রাখলাম,
DEU 11:27 আজ আমি তোমাদের কাছে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যে আজ্ঞাগুলি দিলাম তা যদি তোমরা পালন করো, তবে এই আশীর্বাদ তোমাদের হবে;
DEU 11:28 কিন্তু যদি তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আজ্ঞাগুলি অমান্য করো এবং যে পথে চলবার আদেশ আজ আমি দিয়েছি তা থেকে সরে গিয়ে তোমাদের অজানা অন্য দেবতার পিছনে যাও, তবে তোমাদের উপর অভিশাপ নেমে আসবে।
DEU 11:29 অধিকার করার জন্য তোমরা যে দেশে ঢুকতে যাচ্ছ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যখন সেই দেশে তোমাদের নিয়ে যাবেন তখন, তোমরা গরিষীম পর্বতের উপর থেকে সেই আশীর্বাদের কথা ঘোষণা করবে আর অভিশাপের কথা এবল পর্বতের উপর থেকে ঘোষণা করবে।
DEU 11:30 তোমরা তো জানো, এই পাহাড়গুলি জর্ডনের ওপাড়ে, পশ্চিমদিকে, যেদিকে সূর্য অস্ত যায়, মোরির বড়ো বড়ো গাছের কাছে, গিল্‌গলের কাছাকাছি অরাবায় বসবাসকারী কনানীয়দের দেশে।
DEU 11:31 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশ অধিকার করবার জন্য তোমরা জর্ডন নদী পার হতে যাচ্ছ। তোমরা যখন তা দখল করে সেখানে বসবাস করতে থাকবে,
DEU 11:32 তখন আজ আমি তোমাদের যেসব অনুশাসন ও নির্দেশ দিলাম তা অবশ্যই তোমরা পালন করে চলবে।
DEU 12:1 তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের অধিকার করার জন্য দিয়েছেন সেখানে—যতদিন বেঁচে থাকবে—এসব অনুশাসন ও বিধান যত্নের সঙ্গে পালন করবে।
DEU 12:2 তোমরা যেসব জাতিকে অধিকারচ্যুত করবে, তারা উঁচু পাহাড়ের উপরে ও ডালপালা ছড়ানো সবুজ গাছের নিচে যেসব জায়গায় তাদের দেবতাদের উপাসনা করে সেগুলি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে।
DEU 12:3 তাদের বেদিগুলি ভেঙে ফেলবে, তাদের পবিত্র পাথরগুলি চুরমার করে দেবে এবং আশেরার খুঁটিগুলি আগুনে পুড়িয়ে দেবে; তাদের দেবতাদের মূর্তিগুলি ভেঙে ফেলবে এবং সেই সমস্ত জায়গা থেকে তাদের নাম মুছে ফেলবে।
DEU 12:4 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে তাদের মতো করে উপাসনা করবে না।
DEU 12:5 কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিজেকে প্রকাশ করার জন্য তোমাদের সব গোষ্ঠীকে দেওয়া জায়গা থেকে সেই জায়গাটি তাঁর বাসস্থান হিসেবে বেছে নেবেন। তোমরা সেখানেই তাঁর উপাসনার জন্য যাবে;
DEU 12:6 সেখানে তোমরা হোম ও বলি, তোমাদের দশমাংশ ও বিশেষ দান, যা তোমরা দেওয়ার জন্য মানত করেছ এবং স্বেচ্ছাকৃত দান, আর তোমাদের গরুর ও মেষের পালের প্রথম শাবকটি নিয়ে যাবে।
DEU 12:7 সেখানে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপস্থিতে, তোমরা ও তোমাদের পরিবারের লোকেরা খাওয়াদাওয়া করবে এবং তোমরা হাতে যা কিছু পেয়েছ তার জন্য আনন্দ করবে, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন।
DEU 12:8 এখানে আমরা এখন প্রত্যেকে নিজের যা মনে হয় ঠিক তাই করছি, তোমরা সেরকম করবে না,
DEU 12:9 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে বিশ্রামস্থান ও অধিকার দিচ্ছেন সেখানে তোমরা এখনও পৌঁছাওনি।
DEU 12:10 কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু উত্তরাধিকার হিসেবে যে দেশ তোমাদের দিচ্ছেন তোমরা জর্ডন নদী পার হয়ে গিয়ে যখন সেই দেশে বসবাস করতে থাকবে তখন তিনি চারপাশের সমস্ত শত্রুর থেকে তোমাদের বিশ্রাম দেবেন যেন তোমরা নিরাপদে বসবাস করতে পারো।
DEU 12:11 তখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিজের নামের জন্য এক বাসস্থান বেছে নেবেন—সেখানে তোমরা আমার আদেশ করা সব জিনিস নিয়ে আসবে তোমাদের হোম ও বলি, তোমাদের দশমাংশ ও বিশেষ উপহার, এবং তোমাদের বাছাই করা জিনিস যা তোমরা সদাপ্রভুর কাছে মানত করেছ।
DEU 12:12 আর সেখানে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে আনন্দ কোরো—তোমরা, তোমাদের ছেলেমেয়েরা, তোমাদের দাস-দাসীরা, এবং তোমাদের নগরের লেবীয়েরা যাদের নিজেদের অংশ বা অধিকার তোমাদের মধ্যে নেই।
DEU 12:13 সাবধান, তোমাদের মনের মতো কোনও জায়গায় তোমরা হোমবলি উৎসর্গ করবে না।
DEU 12:14 তোমাদের কোনও এক গোষ্ঠীকে দেওয়া জায়গা থেকে যে জায়গাটি সদাপ্রভু বেছে নেবেন সেখানেই তোমরা হোমবলি উৎসর্গ করবে, আর সেখানে তোমরা আমার আদেশ করা সবকিছু করবে।
DEU 12:15 তবে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করে যেসব পশু দেবেন তা তোমরা যে কোনও নগরে কেটে তোমাদের খুশিমতো মাংস খেতে পারবে, সেটি হতে পারে গজলা হরিণ কিংবা হরিণ। শুচি-অশুচি সব লোক খেতে পারবে।
DEU 12:16 কিন্তু তোমরা রক্ত খাবে না; জলের মতো করে মাটিতে ঢেলে দেবে।
DEU 12:17 তোমাদের শস্যের, নতুন দ্রাক্ষারসের ও জলপাই তেলের দশমাংশ, অথবা তোমাদের গরুর ও মেষের পালের প্রথম শাবক, অথবা তোমাদের মানত করা জিনিসপত্র, অথবা তোমাদের নিজের ইচ্ছায় করা কোনও উৎসর্গ, অথবা বিশেষ উপহার এসব তোমরা তোমাদের নগরের মধ্যে খেতে পারবে না।
DEU 12:18 তার পরিবর্তে, তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বেছে নেওয়া জায়গায় তাঁর সামনে এগুলি তোমাদের খেতে হবে—তোমরা, তোমাদের ছেলেমেয়েরা, তোমাদের দাস-দাসীরা, এবং তোমাদের নগরের লেবীয়েরা—আর তোমরা যা কিছুতেই হাত দেবে তা নিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে আনন্দ করবে।
DEU 12:19 সাবধান, তোমাদের দেশে তোমরা যতদিন বসবাস করবে ততদিন লেবীয়দের প্রতি তোমরা অবহেলা করবে না।
DEU 12:20 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমাদের দেশের সীমানা বাড়িয়ে দেওয়ার পরে যখন তোমরা মাংস খাবার ইচ্ছা নিয়ে বলবে, “আমি মাংস খাব,” তখন তোমরা খুশিমতো মাংস খেতে পারবে।
DEU 12:21 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিজের নামের জন্য ও তাঁর নাম প্রকাশ করবার জন্য যে জায়গাটি বেছে নেবেন সেটি যদি তোমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে হয়, তবে আমার দেওয়া আদেশ অনুসারে তোমরা সদাপ্রভুর দেওয়া গরু ও মেষের পাল থেকে পশু নিয়ে কাটতে পারবে এবং যার যার নগরে খুশিমতো মাংস খেতে পারবে।
DEU 12:22 গজলা হরিণ কিংবা হরিণের মাংসের মতোই তোমরা তা খাবে। শুচি-অশুচি সব লোক খেতে পারবে।
DEU 12:23 কিন্তু সাবধান, রক্ত খাবে না, কারণ রক্তই প্রাণ, আর তোমরা মাংসের সঙ্গে সেই প্রাণ খাবে না।
DEU 12:24 তোমরা রক্ত খাবে না; জলের মতো করে মাটিতে ঢেলে দেবে।
DEU 12:25 তোমাদের ও তোমাদের পরে তোমাদের সন্তানদের যাতে মঙ্গল হয় সেইজন্য তোমরা রক্ত খাবে না, তাহলে সদাপ্রভুর চোখে যা ভালো তাই করা হবে।
DEU 12:26 কিন্তু তোমাদের পবিত্র জিনিসপত্র এবং মানতের জিনিসপত্র সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
DEU 12:27 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদির উপরে তোমাদের হোমবলি উৎসর্গ করবে, মাংস ও রক্ত সমেত। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদির গায়ে তোমাদের উৎসর্গ করা পশুর রক্ত ঢেলে দিতে হবে।
DEU 12:28 সাবধান হয়ে আমার দেওয়া এসব আদেশ যত্নের সঙ্গে পালন করবে, কারণ তা করলে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য এবং ভালো তাই করা হবে, তাতে তোমাদের ও তোমাদের পরে তোমাদের সন্তানদের যাতে সবসময় মঙ্গল হবে।
DEU 12:29 তোমরা যেসব জাতিকে অধিকারচ্যুত করতে যাচ্ছ তাদেরকে যখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সামনে থেকে উচ্ছেদ করবেন, যখন তোমরা তাদেরকে অধিকারচ্যুত করে তাদের দেশে বসবাস করবে,
DEU 12:30 এবং তোমাদের সামনে থেকে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর, তাদের দেবতাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তোমরা ফাঁদে পোড়ো না এবং জিজ্ঞাসা কোরো না “এসব জাতি কেমন করে তাদের দেবতাদের সেবা করত? আমরাও তাই করব।”
DEU 12:31 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপাসনা তাদের পূজার মতো করে করবে না, কারণ তাদের দেবতাদের পূজায় তারা এমন সব জঘন্য কাজ করে যা সদাপ্রভু ঘৃণা করেন। এমনকি, তারা তাদের দেবতাদের কাছে তাদের ছেলেমেয়েদের আগুনে পুড়িয়ে উৎসর্গ করে।
DEU 12:32 আমি তোমাদের যেসব আদেশ দিলাম সেসব তোমরা পালন করবে; এর সঙ্গে কিছু যোগ করবে না বা এর থেকে কিছু বাদ দেবে না।
DEU 13:1 তোমাদের মধ্যে কোনো ভাববাদী বা স্বপ্নদর্শক যদি তোমাদের সামনে উপস্থিত হয় এবং তোমাদের কোনো আশ্চর্য চিহ্ন বা কাজের কথা বলে,
DEU 13:2 এবং যদি সেই আশ্চর্য চিহ্ন বা কাজ ঘটে, ও সেই ভাববাদী বলে, “চলো আমরা অন্য দেবতাদের অনুগামী হই (যে দেবতাদের সম্বন্ধে তোমরা জানো না) এবং তাদের পূজা করি,”
DEU 13:3 তোমরা সেই ভাববাদী বা স্বপ্নদর্শকের কথা শুনবে না। তোমরা তোমাদের সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসো কি না তা জানার জন্য তিনি তোমাদের পরীক্ষায় ফেলেছেন।
DEU 13:4 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথামতো তোমাদের চলতে হবে এবং তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা করতে হবে। তাঁর আজ্ঞা পালন করবে ও তাঁর বাধ্য হবে; তাঁর সেবা করবে এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরবে।
DEU 13:5 সেই ভাববাদী কিংবা স্বপ্নদর্শককে প্রাণদণ্ড দেবে কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন এবং সেই দাসত্বের দেশ থেকে তোমাদের মুক্ত করেছেন, সে তাঁরই বিরুদ্ধে বিদ্রোহের উসকানি দিয়েছে। সেই ভাববাদী কিংবা স্বপ্নদর্শক তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে পথে চলতে তোমাদের আদেশ করেছেন সেই পথ থেকে তোমাদের ফিরাতে চেষ্টা করেছে। তোমাদের মধ্য থেকে সেই দুষ্টতা তোমরা লোপ করে দেবে।
DEU 13:6 যদি তোমার নিজের ভাই, অথবা তোমার ছেলে বা মেয়ে, অথবা যে স্ত্রীকে তুমি ভালোবাসো, অথবা তোমার খুব কাছের বন্ধু গোপনে বিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে, “চলো আমরা অন্য দেবতার আরাধনা করি” (যে দেবতাদের তোমরা বা তোমাদের পূর্বপুরুষেরা জানোনি,
DEU 13:7 তোমাদের চারিদিকে, দূরে বা কাছে, দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত যে কোনও দেবতা হোক),
DEU 13:8 তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না বা তাদের কথা শুনবে না। তাদের প্রতি কোনও করুণা করবে না। তাদের নিষ্কৃতি দেবে না কিংবা রক্ষা করবে না।
DEU 13:9 তাদের অবশ্যই মেরে ফেলবে। তাদের মেরে ফেলার কাজটি তুমি নিজের হাতেই আরম্ভ করবে, তারপর অন্য সবাই মেরে ফেলবে।
DEU 13:10 যিনি তোমাকে মিশর দেশের দাসত্ব থেকে বের করে এনেছেন তোমার সেই ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিক থেকে সে তোমাকে ফিরাবার চেষ্টা করেছে বলে তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে।
DEU 13:11 তাতে ইস্রায়েলীরা সকলে সেই কথা শুনে ভয় পাবে এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আর এরকম মন্দ কাজ করবে না।
DEU 13:12 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেসব নগরে তোমাদের বসবাস করবার জন্য দিতে যাচ্ছেন তার কোনো একটির সম্বন্ধে হয়তো তোমরা শুনতে পাবে যে,
DEU 13:13 সেখানকার ইস্রায়েলীদের মধ্যে কিছু দুষ্টলোক উদিত হয়েছে যারা নগরবাসী লোকদের এই বলে বিপথে টেনে নিয়ে গিয়েছে, “চলো আমরা অন্য দেবতার আরাধনা করি” (যে দেবতাদের সম্বন্ধে তোমরা জানো না),
DEU 13:14 তবে তুমি জিজ্ঞাসা করবে, অনুসন্ধান করবে ও যত্নের সঙ্গে প্রশ্ন করবে। আর সেই কথা যদি সত্যি হয় এবং প্রমাণিত হয় যে তোমাদের মধ্যে এই ঘৃণ্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে,
DEU 13:15 তবে সেখানকার সব বাসিন্দাকে অবশ্যই তরোয়ালের আঘাতে মেরে ফেলতে হবে। সেই নগর এবং তার লোকজন ও পশুপাল তোমরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেবে।
DEU 13:16 সেখানকার সব লুট করা জিনিসপত্র তোমরা নগরের চকের মাঝখানে একত্র করে সেই নগর ও সেইসব জিনিসপত্র তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে আগুনে পুড়িয়ে দেবে। তাতে সেই নগর চিরকালের জন্য ধ্বংসাবশেষ হয়ে থাকবে, সেটি আর কখনও যেন তৈরি করা না হয়,
DEU 13:17 এবং এসব বর্জিত জিনিসপত্রের একটিও যেন তোমাদের হাতে দেখা না যায়। তবে সদাপ্রভু তাঁর ভীষণ ক্রোধ থেকে ফিরবেন, তোমাদের প্রতি কৃপা করবেন ও করুণাবিষ্ট হবেন। তিনি তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন, যেমন তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করে শপথ করেছিলেন,
DEU 13:18 কারণ আজ আমি তোমাদের যেসব আদেশ দিচ্ছি তা পালন করবে এবং তাঁর দৃষ্টিতে যা ভালো তাই করে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হবে।
DEU 14:1 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সন্তান। তোমরা মৃত লোকদের জন্য দেহের কোনও জায়গায় ক্ষত করবে না কিংবা মাথার সামনের চুল কামাবে না,
DEU 14:2 কেননা তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর পবিত্র প্রজা। পৃথিবীর সমস্ত জাতির মধ্য থেকে সদাপ্রভু তোমাদের বেছে নিয়েছেন যাতে তোমরা তাঁর নিজের বিশেষ সম্পত্তি হও।
DEU 14:3 কোনও ঘৃণ্য জিনিস খাবে না।
DEU 14:4 এসব পশু তোমরা খেতে পারো: গরু, মেষ, ছাগল,
DEU 14:5 হরিণ, গজলা হরিণ, রাই হরিণ, বুনো ছাগল, বুনো ছাগবিশেষ, কৃষ্ণসার হরিণ এবং পাহাড়ি মেষ।
DEU 14:6 যেসব পশু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট ও জাবর কাটে তার মাংস তোমরা ভোজন করতে পারবে।
DEU 14:7 কিন্তু, যারা জাবর কাটে অথবা কেবল দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট এমন পশু যেমন উট, খরগোশ অথবা শাফন খাবে না। যদিও তারা জাবর কাটে, তাদের খুর চেরা নয়; সেগুলি তোমাদের পক্ষে অশুচি।
DEU 14:8 শূকরও অশুচি; যদিও তার খুর দ্বিখণ্ডিত, সে জাবর কাটে না। তোমরা তাদের মাংস খাবে না কিংবা তাদের মৃতদেহও ছোঁবে না।
DEU 14:9 জলে বাস করা প্রাণীদের মধ্যে যেগুলির ডানা ও আঁশ আছে সেগুলি তোমরা খেতে পারবে।
DEU 14:10 কিন্তু যেগুলির ডানা ও আঁশ নেই সেগুলি তোমরা খেতে পারবে না; তোমাদের জন্য সেগুলি অশুচি।
DEU 14:11 তোমরা যে কোনো শুচি পাখি খেতে পারো।
DEU 14:12 কিন্তু এগুলি তোমরা খাবে না যেমন ঈগল, শকুন, কালো শকুন,
DEU 14:13 লাল চিল, কালো চিল, যে কোনো বাজপাখি,
DEU 14:14 যে কোনো ধরনের দাঁড়কাক,
DEU 14:15 শিংযুক্ত প্যাঁচা, কালপ্যাঁচা, শঙ্খচিল, যে কোনোরকম বাজপাখি,
DEU 14:16 ছোটো প্যাঁচা, বড়ো প্যাঁচা, সাদা প্যাঁচা,
DEU 14:17 মরু-প্যাঁচা, সিন্ধু-ঈগল, পানকৌড়ি,
DEU 14:18 সারস, যে কোনো ধরনের কাক, ঝুঁটিওয়ালা পাখি ও বাদুড়।
DEU 14:19 উড়ে বেড়ায় এমন সব পোকা তোমাদের পক্ষে অশুচি; সেগুলি খাবে না।
DEU 14:20 কিন্তু যেসব প্রাণীর ডানা আছে এবং শুচি সেগুলি তোমরা খেতে পারবে।
DEU 14:21 মরে পড়ে থাকা কোনো প্রাণী তোমরা খাবে না। তোমাদের নগরে বসবাস করা অন্য জাতির কোনো লোককে তোমরা সেটি দিয়ে দিতে পারবে এবং সে তা খেতে পারবে, কিংবা তোমরা কোনো বিদেশির কাছে সেটি বিক্রি করে দিতে পারবে। কিন্তু তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু কাছে পবিত্র প্রজা। ছাগলছানার মাংস তার মায়ের দুধে রান্না করবে না।
DEU 14:22 প্রত্যেক বছর তোমাদের জমিতে যেসব ফসল ফলবে তার দশ ভাগের এক ভাগ তোমরা অবশ্যই আলাদা করে রাখবে।
DEU 14:23 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে যাতে তোমরা সবসময় ভক্তি করতে শেখো সেইজন্য তোমাদের শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেলের দশমাংশ এবং তোমাদের পালের গরু, মেষ ও ছাগলের প্রথম শাবক তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে খাবে। তোমাদের এমন জায়গায় খেতে হবে যে জায়গাটি তিনি নিজেকে প্রকাশ করবার জন্য তাঁর বাসস্থান হিসেবে বেছে নেবেন।
DEU 14:24 কিন্তু যদি সেই জায়গাটি খুব দূরে হয় এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের এত আশীর্বাদ করে থাকেন যে সেই দশ ভাগের এক ভাগ বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় (কারণ যে জায়গাটি সদাপ্রভু তাঁর নামের জন্য মনোনীত করবেন সেটি অনেক দূরে),
DEU 14:25 তোমাদের দশমাংশ রুপোর সঙ্গে বদলে নেবে, এবং সেই রুপো সঙ্গে নিয়ে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় যাবে।
DEU 14:26 সেই রুপো ব্যবহার করে তোমরা যা ইচ্ছা কিনতে পারবে যেমন গরু, মেষ, দ্রাক্ষারস কিংবা গাঁজানো পানীয় বা তোমাদের খুশিমতো যা কিছু। তারপর তোমরা তোমাদের পরিবার নিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে খাওয়াদাওয়া করে আনন্দ করবে।
DEU 14:27 যে লেবীয়েরা তোমাদের নগরে বসবাস করে তাদের অবহেলা করবে না, কারণ তাদের নিজেদের কোনও ভাগ বা উত্তরাধিকার নেই।
DEU 14:28 প্রত্যেক তৃতীয় বছরের শেষে, তোমাদের সেই বছরের ফসলের দশমাংশ তোমাদের নগরে জমা করবে,
DEU 14:29 যেন লেবীয়েরা (যাদের নিজেদের কোনো ভাগ বা উত্তরাধিকার নেই) এবং বিদেশিরা, পিতৃহীন ও বিধবা যারা তোমাদের নগরে বাস করে তারা এসে খেয়ে তৃপ্ত হতে পারে, এবং যেন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের হাতের সব কাজে আশীর্বাদ করেন।
DEU 15:1 প্রতি সপ্তম বছরের শেষে তোমরা ঋণ মকুব করবে।
DEU 15:2 এইভাবে এটি করতে হবে প্রত্যেক ঋণদাতা অন্য ইস্রায়েলীকে দেওয়া ঋণ মকুব করে দেবে। ঋণ মকুব করার জন্য সদাপ্রভু যে সময় ঠিক করে দিয়েছেন তা ঘোষণা করা হয়েছে বলে তাদের নিজের লোকদের কাছ থেকে ঋণ শোধের দাবি করবে না।
DEU 15:3 বিদেশিদের কাছ থেকে ঋণ শোধের দাবি করতে পারো, কিন্তু তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইদের ঋণ তোমাদের মকুব করে দিতে হবে।
DEU 15:4 তবে, তোমাদের মধ্যে কারোর গরিব থাকার কথা নয়, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের অধিকার করার জন্য দিচ্ছেন, তিনি তোমাদের প্রচুর আশীর্বাদ করবেন,
DEU 15:5 কেবল আজ আমি তোমাদের যে সমস্ত আজ্ঞা দিচ্ছি সেগুলি যত্নের সঙ্গে পালন করার জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্পূর্ণ বাধ্য হোয়ো।
DEU 15:6 কেননা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন, এবং তোমরা অনেক জাতিকে ঋণ দেবে কিন্তু কারোর কাছ থেকে ঋণ নেবে না। তোমরা বহু জাতির উপর রাজত্ব করবে কিন্তু কেউ তোমাদের উপরে রাজত্ব করবে না।
DEU 15:7 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেই দেশের কোনো জায়গায় যদি তোমাদের কোনো ইস্রায়েলী ভাই গরিব হয়, তার প্রতি তোমাদের হৃদয় কঠিন কোরো না কিংবা তার জন্য তোমাদের হাত মুঠো কোরো না।
DEU 15:8 বরং, তোমরা হাত খোলা রেখো এবং তাদের প্রয়োজন অনুসারে তাদের ঋণ দিয়ো।
DEU 15:9 সাবধান, তোমাদের মনে এই মন্দ চিন্তাকে আমল দিয়ো না “সপ্তম বছর, ঋণ মকুবের বছর, প্রায় এসে গেছে,” সেইজন্য তোমাদের সেই অভাবী ইস্রায়েলী ভাইয়ের প্রতি এই মনোভাব নিয়ে তাকে খালি হাতে বিদায় কোরো না। সে তখন সদাপ্রভুর কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারে, এবং তোমরা এই পাপের জন্য দোষী হবে।
DEU 15:10 মনে অনিচ্ছা না রেখে খোলা হাতে তাকে দেবে; তাহলে এর জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সব কাজে আশীর্বাদ করবেন এবং তোমরা যাতে হাত দেবে তাতেই আশীর্বাদ পাবে।
DEU 15:11 দেশের মধ্যে সবসময়ই গরিব মানুষজন থাকবে। সেইজন্য আমি তোমাদের এই আদেশ দিচ্ছি যে, তোমাদের দেশে যেসব ইস্রায়েলী ভাই গরিব এবং অভাবী তাদের প্রতি তোমাদের হাত খোলা রাখবে।
DEU 15:12 যদি তোমাদের কোনও মানুষ—হিব্রু পুরুষ কিংবা স্ত্রী—নিজেদেরকে তোমাদের কাছে বিক্রি করে এবং ছয় বছর তোমাদের সেবা করে, তাহলে সপ্তম বছরে তাকে অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে।
DEU 15:13 আর যখন তোমরা তাকে ছেড়ে দেবে, তাকে খালি হাতে বিদায় করবে না।
DEU 15:14 তোমাদের পাল, খামার ও আঙুর মাড়াইয়ের জায়গা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ তাকে দেবে। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে পরিমাণ আশীর্বাদ করেছেন তোমরা সেই পরিমাণেই তাকে দেবে।
DEU 15:15 মনে রেখো, মিশরে তোমরাও দাস ছিলে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের মুক্ত করেছেন। সেইজন্য আজ আমি তোমাদের এই আদেশ দিচ্ছি।
DEU 15:16 কিন্তু তোমার দাস যদি তোমাকে বলে, “আমি আপনাকে ছেড়ে যেতে চাই না,” কেননা সে তোমাকে ও তোমার পরিবারকে ভালোবাসে এবং সে তোমার কাছে ভালোই আছে,
DEU 15:17 তবে তুমি তার কানের লতি দরজার উপর রেখে তুরপুণ দিয়ে ফুটো করে দেবে, আর সে সারা জীবন তোমার দাস হয়ে থাকবে। তোমার দাসীর বেলায়ও তাই করবে।
DEU 15:18 দাস কিংবা দাসীকে মুক্ত করে দেওয়াটা তোমার কোনও কষ্টের ব্যাপার বলে মনে কোরো না, কারণ এই ছয় বছর সে তোমার জন্য যে কাজ করেছে তার দাম দুজন মজুরের মজুরির সমান। তাতে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার সব কাজে তোমাকে আশীর্বাদ করবেন।
DEU 15:19 তোমাদের গরু, মেষ ও ছাগলের প্রত্যেকটি প্রথমজাত পুরুষ শাবক তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য আলাদা করে রাখবে। তোমাদের গরুর প্রথমজাত বাচ্চাকে কাজে লাগাবে না ও মেষের প্রথম শাবকের লোম ছাঁটবে না।
DEU 15:20 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় প্রত্যেক বছর তোমরা তোমাদের পরিবার নিয়ে তাঁর সামনে সেগুলির মাংস খাবে।
DEU 15:21 যদি কোনো পশুর খুঁত থাকে, খোঁড়া কিংবা অন্ধ হয়, কিংবা কোনো বড়ো ধরনের দোষ থাকে, সেটি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করবে না।
DEU 15:22 সেটি তোমরা নিজেদের নগরেই খাবে। অশুচি এবং শুচি সকলেই সেটি গজলা হরিণ বা হরিণের মাংসের মতোই খেতে পারবে।
DEU 15:23 কিন্তু তোমরা রক্ত খাবে না; জলের মতো করে মাটিতে ঢেলে দেবে।
DEU 16:1 আবীব মাসে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা নিস্তারপর্ব পালন করবে, কারণ আবীব মাসেই রাতের বেলায় তিনি তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন।
DEU 16:2 সদাপ্রভু নিজের নামের জন্য যে বাসস্থান মনোনীত করবেন সেখানে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমাদের গরু বা মেষের পাল থেকে পশু নিয়ে নিস্তারপর্বে উৎসর্গ করবে।
DEU 16:3 সেই পশুর মাংস তোমরা খামিরযুক্ত রুটির সঙ্গে খাবে না, কিন্তু সাত দিন খামিরবিহীন রুটি খাবে, তা দুঃখের সময়ের রুটি, কারণ তোমরা দ্রুত মিশর থেকে বেরিয়ে এসেছিলে—যেন সারা জীবন মিশর থেকে বেরিয়ে আসার সময় তোমরা মনে রাখতে পারো।
DEU 16:4 এই সাত দিন সারা দেশে তোমাদের মধ্যে যেন খামির পাওয়া না যায়। প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলা তোমরা যে মাংস উৎসর্গ করবে তা যেন সকাল পর্যন্ত পড়ে না থাকে।
DEU 16:5 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া আর কোনও নগরে তোমরা নিস্তারপর্বের পশু উৎসর্গ করবে না
DEU 16:6 যে জায়গাটি তিনি নিজেকে প্রকাশ করবার জন্য তাঁর বাসস্থান হিসেবে মনোনীত করবেন কেবল সেখানেই তা উৎসর্গ করবে। যেদিন তোমরা মিশর দেশ থেকে বের হয়ে এসেছ প্রত্যেক বছর সেদিনে সেখানে তোমরা সন্ধ্যাবেলায় নিস্তারপর্বের পশু উৎসর্গ করবে, যখন সূর্য ডুবে যাবে।
DEU 16:7 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় সেই মাংস রান্না করে খাবে। তারপর সকালে নিজেদের তাঁবুতে ফিরে যাবে।
DEU 16:8 ছয় দিন ধরে তোমরা খামিরবিহীন রুটি খাবে আর সাত দিনের দিন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে শেষ দিনে পবিত্র সভার আয়োজন করবে এবং কোনও কাজ করবে না।
DEU 16:9 মাঠের ফসলে প্রথম কাস্তে দেওয়া আরম্ভ করা থেকে তোমরা সাত সপ্তাহ গণনা করবে।
DEU 16:10 তারপর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আশীর্বাদ অনুযায়ী সংগতি থেকে নিজের ইচ্ছায় উপহার দিয়ে সপ্তাহের উৎসব পালন করবে।
DEU 16:11 আর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিজের নামের বাসস্থানের জন্য যে জায়গা মনোনীত করবেন সেখানে—তুমি, তোমার ছেলেমেয়ে, তোমার দাস-দাসীরা, তোমার নগরের লেবীয়রা ও বিদেশিরা, পিতৃহীনেরা ও বিধবারা যারা তোমাদের মধ্যে বাস করে সবাই আনন্দ করবে।
DEU 16:12 মনে রাখবে তোমরাও মিশরে দাস ছিলে, এবং এসব অনুশাসন যত্নের সঙ্গে পালন করবে।
DEU 16:13 তোমাদের খামার এবং আঙুর মাড়াই করবার জায়গা থেকে সবকিছু তুলে রাখবার পরে তোমরা কুটিরবাস-পর্ব পালন করবে।
DEU 16:14 তোমাদের উৎসবে আনন্দ করবে—তুমি, তোমার ছেলেমেয়ে, তোমার দাস-দাসীরা, তোমার নগরের লেবীয়রা ও বিদেশিরা, পিতৃহীনেরা ও বিধবারা যারা তোমাদের মধ্যে বসবাস করে সবাই।
DEU 16:15 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে জায়গা মনোনীত করবেন সেখানেই তোমরা তাঁর উদ্দেশে সাত দিন ধরে এই উৎসব পালন করবে। কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সমস্ত ফসলে ও হাতের সমস্ত কাজে আশীর্বাদ করবেন, এবং তোমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হবে।
DEU 16:16 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় তাঁর সামনে তোমাদের সব পুরুষ বছরে তিনবার উপস্থিত হবে খামিরবিহীন রুটির উৎসব, সপ্তাহের উৎসব এবং কুটিরবাস-পর্ব। সদাপ্রভুর সামনে কেউ খালি হাতে আসবে না
DEU 16:17 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে পরিমাণ আশীর্বাদ করছেন তা বুঝে তোমাদের প্রত্যেকেই যেন কিছু না কিছু নিয়ে আসে।
DEU 16:18 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যেসব নগর দিতে যাচ্ছেন তার প্রত্যেকটিতে প্রত্যেক গোষ্ঠীর জন্য তোমরা বিচারক ও কর্মকর্তা নিযুক্ত করবে, এবং তারা ন্যায়ভাবে লোকদের বিচার করবে।
DEU 16:19 অন্যায় বিচার করবে না কিংবা কারোর পক্ষ নেবে না। ঘুস নিয়ো না, কারণ ঘুস জ্ঞানীদের চোখ অন্ধ করে এবং নির্দোষ লোকদের কথা পরিবর্তন করে।
DEU 16:20 ন্যায্য কেবল ন্যায্যরই অনুগামী হবে, যেন তোমরা বেঁচে থেকে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ দেবেন তা অধিকার করতে পারো।
DEU 16:21 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে যে যজ্ঞবেদি তৈরি করবে তার পাশে কোনোরকম কাঠের আশেরা-খুঁটি পুঁতবে না,
DEU 16:22 এবং কোনো পবিত্র পাথর খাড়া করবে না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এসব ঘৃণা করেন।
DEU 17:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা এমন কোনও গরু কিংবা মেষ উৎসর্গ করবে না যার খুঁত আছে, কারণ তিনি তা ঘৃণা করেন।
DEU 17:2 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যেসব নগর দেবেন তার যে কোনো একটির মধ্যে যদি কোনও পুরুষ কিংবা স্ত্রীলোক তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া বিধান অমান্য করে তাঁর দৃষ্টিতে যা মন্দ তা করে,
DEU 17:3 এবং আমার আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য দেবতাদের উপাসনা করে, তাদের কাছে কিংবা সূর্য, চাঁদ বা আকাশের তারাদের কাছে নত হয়,
DEU 17:4 এবং তা তোমাদের জানানো হয়, তবে তোমরা তা ভালো করে তদন্ত করে দেখবে। যদি তা সত্যি হয় এবং এরকম ঘৃণিত কাজ ইস্রায়েলীদের মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়,
DEU 17:5 তবে যে পুরুষ বা স্ত্রীলোক এরকম জঘন্য কাজ করেছে তোমরা তাকে নগরের দ্বারের কাছে নিয়ে গিয়ে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে।
DEU 17:6 কোনও মানুষকে মেরে ফেলতে হলে দুই বা তিনজন সাক্ষীর কথার উপর নির্ভর করে তা করতে হবে, মাত্র একজন সাক্ষীর কথার উপর নির্ভর করে তা করবে না।
DEU 17:7 তাকে মেরে ফেলবার জন্য সাক্ষীরাই প্রথমে পাথর ছুঁড়বে, তারপর অন্যান্য লোকেরা ছুঁড়বে। তোমাদের মধ্য থেকে দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 17:8 যদি এমন সব মামলা তোমাদের আদালতে আসে যেগুলি বিচার করা তোমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়—সেটি রক্তপাত, বিবাদ অথবা আঘাতের কারণে—তবে সেই মামলা নিয়ে সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় যাবে।
DEU 17:9 লেবীয় যাজকের এবং সেই সময় যে বিচারের দায়িত্বে থাকবে তাদের কাছে যাবে। তোমরা তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবে এবং তারা রায় দেবে।
DEU 17:10 সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় তারা যে রায় দেবে, তোমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবে। তবে সাবধান, তারা তোমাদের যা যা করতে বলবে তোমরা তার সবই করবে।
DEU 17:11 তোমাদের তারা যা শিক্ষা দেবে এবং যে রায় দেবে সেইমতোই তোমরা কাজ করবে। তারা তোমাদের যা বলবে সেই অনুযায়ী করবে, ডানদিকে বা বাঁদিকে ফিরবে না।
DEU 17:12 যদি কেউ বিচারকের কথা কিংবা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবাকারী সেই যাজকের কথা অবজ্ঞা করে তবে তাকে মেরে ফেলবে। ইস্রায়েলের মধ্যে থেকে দুষ্টতা তোমাদের শেষ করতে হবে।
DEU 17:13 সমস্ত লোক সেই কথা শুনে ভয় পাবে, এবং আর অবজ্ঞা দেখাবে না।
DEU 17:14 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশটি তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেখানে গিয়ে তা অধিকার করে যখন তোমরা সেখানে বসবাস করতে থাকবে এবং বলবে, “আমাদের নিকটবর্তী জাতিগুলির মতো এসো, আমরা আমাদের জন্য একজনকে রাজা হিসেবে বেছে নিই,”
DEU 17:15 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যাকে ঠিক করে দেবেন তাকেই তোমরা নিশ্চয় করে তোমাদের রাজা করবে। সে যেন তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্যে একজন হয়। যে ইস্রায়েলী নয়, এমন কোনও বিদেশিকে তোমাদের উপরে রাজা করবে না
DEU 17:16 সেই রাজা যেন নিজের জন্য অনেক ঘোড়া জোগাড় না করে কিংবা আরও ঘোড়া আনার জন্য মিশরে ফেরত না পাঠায়, কেননা সদাপ্রভু তোমাদের বলেছেন, “তোমরা ওই পথে আর ফিরে যাবে না।”
DEU 17:17 তার যেন অনেক স্ত্রী না থাকে, তাতে তার মন বিপথে যাবে। সে যেন প্রচুর পরিমাণে সোনা এবং রুপো জমা না করে।
DEU 17:18 সে যখন নিজের সিংহাসনে বসবে তখন সে যেন নিজের জন্য গোটানো পুঁথিতে এই বিধানের কথাগুলি লিখে রাখে, যেটি লেবীয় যাজকদের বিধানের অনুলিপি।
DEU 17:19 সেটি তার কাছে থাকবে, এবং সারা জীবন তাকে সেটি পড়তে হবে যাতে সে তার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করতে শেখে এবং এই বিধানের সমস্ত কথা ও অনুশাসনের কথাগুলি মেনে চলে
DEU 17:20 এবং নিজেকে অন্যান্য ইস্রায়েলী ভাইদের থেকে ভালো মনে না করে আর সেই বিধানের ডানদিকে বা বাঁদিকে সরে না যায়। তাহলে সে এবং তার বংশধরেরা ইস্রায়েলের উপরে বহুদিন রাজত্ব করতে পারবে।
DEU 18:1 লেবীয় যাজকদের—বাস্তবিক, লেবির সমস্ত গোষ্ঠীর—ইস্রায়েলের সঙ্গে কোনও অংশ বা উত্তরাধিকার থাকবে না। তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে আগুন দ্বারা যে উপহার উৎসর্গ করবে তার উপরেই তারা নির্ভর করবে, কারণ সেটিই তাদের উত্তরাধিকার।
DEU 18:2 তাদের ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্যে কোনও উত্তরাধিকার থাকবে না; সদাপ্রভুই তাদের উত্তরাধিকার, যেমন তিনি তাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
DEU 18:3 লোকেরা গরু বা মেষ উৎসর্গ করলে তার থেকে এগুলি হল যাজকদের প্রাপ্য: কাঁধ, পাকস্থলী এবং মাথা থেকে মাংস।
DEU 18:4 তোমরা তাদের তোমাদের শস্যের, নতুন দ্রাক্ষারসের ও জলপাই তেলের অগ্রিমাংশ, এবং তোমাদের মেষদের গা থেকে ছেঁটে নেওয়া প্রথম লোম দেবে,
DEU 18:5 কারণ সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্য থেকে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের ও তাদের বংশধরদের মনোনীত করেছেন যেন তারা সবসময় সদাপ্রভুর নামে দাঁড়িয়ে তাঁর সেবা করে।
DEU 18:6 যদি কোনও লেবীয় তার বাসস্থান ছেড়ে ইস্রায়েলের যে কোনো নগরে চলে যায়, এবং সত্যিকারের ইচ্ছা নিয়ে সদাপ্রভুর মনোনীত জায়গায় যায়,
DEU 18:7 তবে অন্যান্য লেবীয় ভাইদের মতো সেও সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে সেখানে তার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে সেবাকাজ করতে পারবে।
DEU 18:8 তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির মূল্য পেলেও সেখানকার লেবীয়দের সঙ্গে সে সমান ভাগের অধিকারী হবে।
DEU 18:9 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে দেশ দিতে যাচ্ছেন, সেখানে গিয়ে সেখানকার জাতিগুলির সব ঘৃণ্য কাজ তোমরা অনুকরণ করে শিখবে না।
DEU 18:10 তোমাদের মধ্যে যেন একজনকেও পাওয়া না যায় যারা তাদের ছেলেমেয়েদের আগুনে উৎসর্গ করে, যারা ভবিষ্যৎ-কথন বা মায়াবিদ্যা অনুশীলন করে, লক্ষণ দেখে ভবিষ্যতের কথা বলে, যাদু করে,
DEU 18:11 মন্ত্রতন্ত্র খাটায় বা আত্মার মাধ্যম বা প্রেতসাধক হয়।
DEU 18:12 যে কেউ এসব কাজ করে সে সদাপ্রভুর কাছে ঘৃণ্য; কেননা এসব ঘৃণ্য কাজের জন্যই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সেই সমস্ত জাতিকে তোমাদের সামনে থেকে তাড়িয়ে দেবেন।
DEU 18:13 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে তোমাদের নির্দোষ থাকতে হবে।
DEU 18:14 তোমরা যে জাতিদের অধিকারচ্যুত করবে তারা গণক কিংবা মায়াবিদ্যা ব্যবহারকারীদের কথা শোনে। কিন্তু তোমাদের ক্ষেত্রে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের তা করার অনুমতি দেননি।
DEU 18:15 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্য থেকে আমার মতো একজন ভাববাদীর উত্থান ঘটাবেন। তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর কথা শুনবে।
DEU 18:16 কেননা হোরেবে যেদিন তোমরা সবাই সদাপ্রভুর সামনে সমবেত হয়েছিলে সেদিন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে তাই চেয়েছিলে যখন তোমরা বলেছিলে, “আমরা আর আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর রব শুনতে কিংবা এই মহান আগুন দেখতে চাই না, তাহলে আমরা মরে যাব।”
DEU 18:17 সদাপ্রভু আমাকে বলেছিলেন, “তারা ঠিকই বলেছে।
DEU 18:18 আমি তাদের ইস্রায়েলী ভাইদের মধ্য থেকে তাদের জন্য তোমার মতো একজন ভাববাদী উঠাব, এবং আমি তার মুখে আমার বাক্য দেব। তাকে আমি যা বলতে আদেশ দেব সে তাই বলবে।
DEU 18:19 সেই ভাববাদী আমার নাম করে যে কথা বলবে কেউ আমার সেই কথা যদি না শোনে, তবে আমি নিজেই সেই লোককে প্রতিফল দেব।
DEU 18:20 কিন্তু আমি আদেশ করিনি এমন কোনও কথা যদি কোনও ভাববাদী আমার নাম করে বলে কিংবা সে যদি অন্য দেবতার নামে কথা বলে, তবে তাকে মেরে ফেলতে হবে।”
DEU 18:21 তোমরা মনে মনে বলতে পারো, “সদাপ্রভু এই কথা বলেছেন কি না তা আমরা কেমন করে জানব?”
DEU 18:22 কোনও ভাববাদী যদি সদাপ্রভুর নাম করে কোনও কথা বলে আর তা যদি অসত্য হয় কিংবা না ঘটে, তবে বুঝতে হবে সেই কথা সদাপ্রভু বলেননি। সেই ভাববাদী নিজের ধারণার উপর ভিত্তি করে বলেছে, সুতরাং ভয় পেয়ো না।
DEU 19:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের অধিকার করবার জন্য দেবেন সেখানকার জাতিদের যখন তিনি ধ্বংস করে ফেলবেন এবং তোমরা তাদের নগরে এবং বাড়িতে বসবাস করবে,
DEU 19:2 তখন যে দেশ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের অধিকার করবার জন্য দেবেন সেখান থেকে তিনটি নগর তোমরা আলাদা করে রাখবে।
DEU 19:3 তোমরা নিজেদের জন্য পথ প্রস্তুত করবে এবং সদাপ্রভু যে দেশের অধিকার দেবেন, তোমরা সেটি তিন ভাগ করবে, যেন যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে তাহলে সে কোনও একটি নগরে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে।
DEU 19:4 যে হত্যা করেছে সে সেখানে পালিয়ে বাঁচতে পারে, তার অনুশাসন এইরকম—কোনও হিংসা না করে যদি কেউ তার প্রতিবেশীকে অনিচ্ছাবশত হত্যা করে।
DEU 19:5 যেমন, একজন লোক অন্য একজনের সঙ্গে বনে কাঠ কাটতে গেল, আর সেখানে গাছ কাটতে গিয়ে কোপ দেবার সময় কুড়ুলের ফলাটি ফসকিয়ে গিয়ে অন্য লোকটিকে আঘাত করল এবং তাতে সে মারা গেল। সেই লোকটি কোনও একটি আশ্রয়-নগরে গিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে পারে।
DEU 19:6 তা না হলে রক্তের প্রতিশোধ যার নেওয়ার কথা সে রাগের বশে তাকে তাড়া করতে পারে আর আশ্রয়-নগর কাছে না হলে তাকে মেরে ফেলতে পারে, যদিও মনে হিংসা নিয়ে মেরে ফেলেনি বলে মৃত্যু তার প্রাপ্য শাস্তি নয়।
DEU 19:7 সেইজন্য আমি তোমাদের নিজেদের জন্য তিনটি নগর আলাদা করে রাখবার আদেশ দিচ্ছি।
DEU 19:8 যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের এলাকা বৃদ্ধি করেন, যেমন তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করে শপথ করেছিলেন, এবং তাদের কাছে প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমাদের সম্পূর্ণ দেশটিই দেবেন,
DEU 19:9 কারণ আমি যেসব আজ্ঞা আজ তোমাদের দিচ্ছি সেগুলি যত্নের সঙ্গে পালন করবে—তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসবে এবং তাঁর বাধ্য হয়ে চলবে—তাহলে আরও তিনটি নগর আলাদা করবে।
DEU 19:10 তোমরা এটি করবে যাতে সম্পত্তি হিসেবে যে দেশটি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেই দেশের উপর নির্দোষ লোকের রক্তপাত না হয় এবং রক্তপাতের দোষে তোমরা দোষী না হও।
DEU 19:11 কিন্তু যদি কেউ হিংসা করে প্রতিবেশীর উপর হামলা করে মেরে ফেলবার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকে এবং তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে আর তার কাছের আশ্রয়-নগরে পালিয়ে যায়,
DEU 19:12 তবে তার নগরের প্রবীণ নেতারা লোক পাঠিয়ে সেই নগর থেকে তাকে ধরে আনবে এবং রক্তের প্রতিশোধ যার নেওয়ার কথা তার হাতে তাকে মেরে ফেলার জন্য তুলে দেবে।
DEU 19:13 তাকে কোনও দয়া দেখাবে না। তোমরা ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে নির্দোষ লোকের রক্তপাতের দোষ মুছে ফেলবে, তাতে তোমাদের মঙ্গল হবে।
DEU 19:14 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ অধিকার করার জন্য তোমাদের দিচ্ছেন সেই দেশে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা চিহ্ন দিয়ে যে সীমানা চিহ্নিত করেছে, তোমাদের প্রতিবেশীর সেই সীমানা সরাবে না।
DEU 19:15 কেউ কোনো দোষ বা অপরাধ করলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে তার বিরুদ্ধে মাত্র একজন সাক্ষী দাঁড়ালে হবে না। দুই বা তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে কোনো বিষয় সত্যি বলে প্রমাণিত হবে।
DEU 19:16 যদি কোনও বিদ্বেষপরায়ণ সাক্ষী কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কাজের নালিশ করে,
DEU 19:17 তবে সেই বিতর্কে লিপ্ত দুজনকে সেই সময়কার যাজকদের ও বিচারকদের কাছে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়াতে হবে।
DEU 19:18 বিচারকেরা ভালো করে তদন্ত করবে, আর যদি সে তার ইস্রায়েলী ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবার দরুন মিথ্যাবাদী বলে ধরা পড়ে,
DEU 19:19 তবে সে তার ভাইয়ের যা করতে চেয়েছিল তাই তার প্রতি করতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকে এই রকমের দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 19:20 এই কথা শুনে অন্য সব লোক ভয় পাবে এবং তোমাদের মধ্যে এরকম মন্দ কাজ আর কখনও তারা করবে না।
DEU 19:21 কোনও দয়া দেখাবে না: প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের পরিবর্তে চোখ, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত, হাতের পরিবর্তে হাত, পায়ের পরিবর্তে পা।
DEU 20:1 তোমরা যখন তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবে তখন তোমাদের চেয়ে বেশি ঘোড়া, রথ ও সৈন্য দেখে ভয় পাবে না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি তোমাদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে থাকবেন।
DEU 20:2 তোমরা যুদ্ধযাত্রা করার আগে, যাজক সামনে এসে সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলবেন।
DEU 20:3 তিনি বলবেন, “হে ইস্রায়েল, শোনো আজ তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করতে যাচ্ছ। দুর্বলচিত্ত হবে না বা ভয় পাবে না; তাদের দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হবে না বা ভয়ে কাঁপবে না।
DEU 20:4 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যিনি তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছেন তিনি তোমাদের হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমাদের জয়ী করবেন।”
DEU 20:5 পদাধিকারীরা সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলবে “তোমাদের মধ্যে কি কেউ নতুন বাড়ি তৈরি করে তা উৎসর্গ করেনি? সে বাড়ি ফিরে যাক, পাছে সে যদি যুদ্ধে মারা যায় তাহলে অন্য কেউ তার বাড়িতে বসবাস করা শুরু করবে।
DEU 20:6 কেউ কি নতুন দ্রাক্ষাক্ষেত প্রস্তুত করেছে এবং এখনও তা উপভোগ করা শুরু করেনি? সে বাড়ি ফিরে যাক, পাছে সে যদি যুদ্ধে মারা যায় তাহলে অন্য কেউ তা উপভোগ করবে।
DEU 20:7 কারোর কি বিয়ের সম্বন্ধ হয়েছে কিন্তু এখনও বিয়ে হয়নি? সে বাড়ি ফিরে যাক, পাছে সে যদি যুদ্ধে মারা যায় তাহলে অন্য কেউ সেই স্ত্রীকে বিয়ে করবে।”
DEU 20:8 তারপর পদাধিকারীরা আরও বলবে, “কেউ কি ভয় পেয়েছে কিংবা দুর্বলচিত্ত? তাহলে সে বাড়ি ফিরে যাক যেন অন্য সৈনিক ভাইদের মনোবলও নষ্ট না হয়।”
DEU 20:9 পদাধিকারীরা সৈন্যদের কাছে কথা বলা শেষ করার পর, তারা সৈন্যদের উপরে সেনাপতি নিযুক্ত করবে।
DEU 20:10 যখন তোমরা কোনও নগর আক্রমণ করতে তার কাছে পৌঁছাবে, সেখানকার লোকদের কাছে সন্ধির কথা ঘোষণা করবে।
DEU 20:11 তারা যদি সন্ধি করতে রাজি হয় এবং তাদের দ্বার খুলে দেয়, তবে সেখানকার সমস্ত লোক তোমাদের অধীন হবে এবং তোমাদের জন্য কাজ করবে।
DEU 20:12 যদি তারা সন্ধি করতে রাজি না হয় এবং তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, সেই নগর তোমরা অবরোধ করবে।
DEU 20:13 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যখন সেই নগরটি তোমাদের হাতে তুলে দেবেন, তখন সেখানকার সমস্ত পুরুষকে তোমরা তরোয়ালের আঘাতে মেরে ফেলবে।
DEU 20:14 সেই নগরের স্ত্রীলোক, ছেলেমেয়ে, পশুপাল এবং অন্য সবকিছু তোমরা লুটসামগ্রী হিসেবে নিজেদের জন্য নিয়ে নেবে। শত্রুদের দেশ থেকে লুট করা যেসব জিনিস তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দেবেন তা তোমরা ভোগ করতে পারবে।
DEU 20:15 যেসব নগর তোমাদের দেশ থেকে দূরে আছে, যেগুলি তোমাদের কাছের জাতিগুলির নগর নয়, সেগুলির প্রতি তোমরা এরকম করবে।
DEU 20:16 কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সম্পত্তি হিসেবে যেসব জাতির নগর তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেখানকার কাউকেই তোমরা বাঁচিয়ে রাখবে না।
DEU 20:17 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে তোমরা—হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের—সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে।
DEU 20:18 তা না করলে, তারা তাদের দেবতাদের পূজা করার সময় যেসব ঘৃণ্য কাজ করে তা তোমরাও শিখবে আর তাতে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করবে।
DEU 20:19 অনেক দিন ধরে যখন তোমরা কোনও নগর অবরোধ করবে, সেটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সেটি অধিকার করার জন্য, তখন কুড়ুল দিয়ে সেখানকার কোনো গাছ নষ্ট করবে না, কারণ তোমরা তার ফল খেতে পারবে। সেগুলিকে কেটে ফেলবে না। গাছেরা কি মানুষ, যে তোমরা সেগুলিকে অবরোধ করবে?
DEU 20:20 তবে যে গাছগুলিতে ফল ধরে না বলে তোমরা জানো সেগুলি কেটে ফেলবে এবং অবরোধ তৈরি করতে পারবে যতক্ষণ না যে নগরের বিরুদ্ধে তোমাদের যুদ্ধ হচ্ছে সেটি পতিত হচ্ছে।
DEU 21:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ অধিকার করার জন্য তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেখানকার কোনো মাঠে হয়তো কাউকে খুন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যেতে পারে, কিন্তু কে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি,
DEU 21:2 তাহলে তোমাদের প্রবীণ নেতারা ও বিচারকেরা বাইরে গিয়ে সেই মৃতদেহ থেকে সবচেয়ে কাছের নগর কত দূর তা মেপে দেখবে।
DEU 21:3 তারপর যে নগর মৃতদেহের কাছে সেখানকার প্রবীণ নেতারা একটি বকনা-বাছুর নেবে যেটি কখনও কোনও কাজ করেনি ও যার কাঁধে কখনও জোয়াল দেওয়া হয়নি
DEU 21:4 এবং তারা সেটিকে এমন এক উপত্যকায় নিয়ে যাবে যেখানে একটি জলস্রোত আছে আর চাষ বা বীজবপন করা হয়নি। সেই উপত্যকায় তারা বকনা-বাছুরটির ঘাড় ভেঙে দেবে।
DEU 21:5 লেবীয় যাজকেরা সামনে এগিয়ে যাবে, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের মনোনীত করেছেন পরিচর্যা কাজের জন্য, সদাপ্রভুর নামে আশীর্বাদ উচ্চারণ করার জন্য এবং বিবাদের ও শারীরিক আক্রমণের বিচার করার জন্য।
DEU 21:6 তারপর মৃতদেহের সব থেকে কাছের নগরের প্রবীণ নেতারা উপত্যকায় যে বকনা-বাছুরটির ঘাড় ভাঙা হয়েছিল তার উপরে তাদের হাত ধুয়ে ফেলবে,
DEU 21:7 আর তারা ঘোষণা করবে “এই রক্তপাত আমরা নিজেরা করিনি, এবং হতেও দেখিনি।
DEU 21:8 হে সদাপ্রভু, যে ইস্রায়েলীদের তুমি মুক্ত করেছ তাদের ক্ষমা করো, এবং এই নির্দোষ লোকটির রক্তপাতের জন্য তুমি তোমার লোকদের দায়ী কোরো না।” এতে সেই রক্তপাতের দোষ ক্ষমা করা হবে,
DEU 21:9 এবং তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে নির্দোষ লোকের রক্তপাতের দোষ মুছে ফেলতে পারবে, কারণ তোমরা সদাপ্রভুর চোখে যা ভালো তাই করেছ।
DEU 21:10 তোমরা যখন শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের হাতে তাদের তুলে দেবেন আর তোমরা তাদের বন্দি করবে,
DEU 21:11 তখন যদি তাদের মধ্যে কোনও সুন্দরী স্ত্রীলোককে দেখে তোমাদের কারও তাকে ভালো লাগে তবে সে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে।
DEU 21:12 স্ত্রীলোকটিকে তোমার বাড়িতে নিয়ে যাবে আর তার মাথার চুল কামিয়ে দেবে ও তার নখ কেটে ফেলবে
DEU 21:13 এবং বন্দি হবার সময় সে যে কাপড় পরেছিল সেগুলি খুলে ফেলবে। সে যখন তোমার বাড়িতে থেকে এক মাস তার বাবা-মায়ের জন্য শোক করবে, তারপর তুমি তার কাছে যেতে পারবে ও তার স্বামী হবে এবং সে তোমার স্ত্রী হবে।
DEU 21:14 যদি তুমি তার উপর সন্তুষ্ট না হও, তাকে যেখানে তার ইচ্ছা সেখানে তাকে যেতে দেবে। তুমি তাকে বিক্রি করবে না বা তাকে দাসী করবে না, কারণ তুমি তাকে অসম্মান করেছ।
DEU 21:15 যদি কোনও পুরুষের দুই স্ত্রী থাকে, এবং সে একজনকে ভালোবাসে অন্যজনকে নয়, এবং তাদের দুজনেরই ছেলে হয় কিন্তু যার প্রথমে ছেলে হয় তাকে সে ভালোবাসে না,
DEU 21:16 সে যখন ছেলেদের জন্য তার সম্পত্তির উইল করবে, যে স্ত্রীকে সে ভালোবাসে না তার ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য স্ত্রীর ছেলেটিকে প্রথম ছেলের প্রাপ্য অধিকার দিতে পারবে না।
DEU 21:17 যে স্ত্রীকে সে ভালোবাসে না তার ছেলেকে প্রথম ছেলে বলে স্বীকার করে তাকে তার নিজের সর্বস্ব থেকে অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ দিতে হবে। সেই ছেলেই তার বাবার শক্তির প্রথম ফল। প্রথমজাতকের অধিকার তারই পাওনা।
DEU 21:18 যদি কারও ছেলে একগুঁয়ে এবং বিদ্রোহী হয় যে তার বাবা-মায়ের অবাধ্য এবং তাদের কথা শোনে না যখন তারা তাকে শাসন করে,
DEU 21:19 তার বাবা-মা তাকে তাদের নগরের দ্বারে প্রবীণ নেতাদের কাছে ধরে নিয়ে যাবে।
DEU 21:20 তারা নগরের বয়স্ক নেতাদের বলবে, “আমাদের এই ছেলে একগুঁয়ে এবং বিদ্রোহী। সে আমাদের অবাধ্য। সে আমাদের অর্থ উড়িয়ে দেয় এবং সে মাতাল।”
DEU 21:21 তখন সেই নগরের সমস্ত পুরুষ তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে। তোমাদের মধ্য থেকে সেই দুষ্টতা শেষ করতে হবে। সমস্ত ইস্রায়েল সেই বিষয় শুনবে এবং ভয় পাবে।
DEU 21:22 যদি কোনও লোক মৃত্যুর শাস্তি পাবার মতো কোনও দোষ করে এবং তাকে মেরে ফেলে গাছে টাঙিয়ে রাখা হয়,
DEU 21:23 তবে সকাল পর্যন্ত তার দেহ গাছে টাঙিয়ে রাখবে না। সেদিনই তাকে কবর দিতে হবে, কারণ যাকে গাছে টাঙানো হয় সে ঈশ্বরের অভিশপ্ত। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন তা তোমরা অশুচি করবে না।
DEU 22:1 তোমার ইস্রায়েলী ভাইয়ের কোনও গরু বা মেষকে পথ হারিয়ে অন্য কোথাও চলে যেতে দেখলে তুমি চুপ করে বসে থাকবে না কিন্তু তাকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
DEU 22:2 যদি তারা তোমার বাড়ির কাছে না থাকে অথবা তুমি না জানতে পারো যে আসল মালিক কে, তাহলে সেটির বাড়িতে নিয়ে যাবে আর সেখানে রাখবে যতক্ষণ না তারা সেটার খোঁজে আসে। তখন সেটি ফিরিয়ে দেবে।
DEU 22:3 গাধা কিংবা গায়ের কাপড় কিংবা হারিয়ে যাওয়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে একইরকম করবে। চুপ করে বসে থাকবে না।
DEU 22:4 তুমি যদি দেখো তোমার ইস্রায়েলী ভাইয়ের গাধা কিংবা গরু রাস্তায় পড়ে গেছে, চুপ করে বসে থাকবে না। সেটি যাতে উঠে দাড়াতে পারে তার জন্য মালিককে সাহায্য করবে।
DEU 22:5 কোনও স্ত্রীলোক পুরুষের পোশাক কিংবা কোনও পুরুষ স্ত্রীলোকের পোশাক পরবে না, কারণ যে তা করে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাকে ঘৃণা করেন।
DEU 22:6 তোমরা যদি পথের পাশে কোনও পাখির বাসা দেখো, তা গাছের উপরে কিংবা মাটিতে হতে পারে, এবং পাখির মা শাবকদের উপর বসে আছে কিংবা ডিমের উপর তা দিচ্ছে, তবে শাবক সমেত মাকে তোমরা ঘরে নিয়ে যাবে না।
DEU 22:7 তোমরা শাবকগুলি নিতে পারো, কিন্তু মাকে অবশ্যই ছেড়ে দেবে, যেন তোমাদের মঙ্গল হয় এবং তোমরা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারো।
DEU 22:8 তোমরা যখন নতুন বাড়ি তৈরি করবে, তার ছাদের চারপাশে দেয়ালের মতো করে কিছুটা উঁচু করে দেবে যাতে কেউ ছাদের উপর থেকে পড়লে তোমরা যেন তোমাদের বাড়িতে রক্তপাতের দোষে দোষী না হও।
DEU 22:9 তোমাদের দ্রাক্ষাক্ষেতে দুই জাতের বীজ লাগাবে না; যদি তোমরা তা করো, তাহলে সেই বীজের ফসল এবং দ্রাক্ষাক্ষেতের আঙুর দুই-ই উপাসনা গৃহের জন্য অপবিত্র হবে।
DEU 22:10 তোমরা বলদ আর গাধা একসঙ্গে জুড়ে চাষ করবে না।
DEU 22:11 তোমরা পশম আর মসিনা সুতো মিশিয়ে বোনা কাপড় পরবে না।
DEU 22:12 তোমাদের গায়ের চাদরের চার কোনায় থোপ লাগাবে।
DEU 22:13 কোনও লোক যদি বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে শোবার পরে তাকে অপছন্দ করে
DEU 22:14 এবং তার নিন্দা ও বদনাম করে, বলে, “আমি এই স্ত্রীলোককে বিয়ে করেছিলাম, কিন্তু সে যে কুমারী তার মধ্যে সেই প্রমাণ আমি পেলাম না,”
DEU 22:15 তবে সেই স্ত্রীলোকের বাবা-মা নগরের দ্বারে প্রবীণ নেতাদের কাছে তার কুমারী অবস্থার প্রমাণ নিয়ে যাবে।
DEU 22:16 তার বাবা প্রবীণ নেতাদের বলবে, “আমি এই লোকের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তাকে অপছন্দ করে।
DEU 22:17 এখন সে তার নিন্দা করে বলছে, ‘আমি আপনার মেয়েকে কুমারী অবস্থায় পাইনি।’ কিন্তু এই দেখুন আমার মেয়ের কুমারী অবস্থার প্রমাণ।” পরে তারা সেই কাপড় নগরের প্রবীণ নেতাদের সামনে মেলে ধরবে,
DEU 22:18 আর নগরের প্রবীণ নেতারা তার স্বামীকে শাস্তি দেবে।
DEU 22:19 তার কাছ থেকে তারা জরিমানা হিসেবে একশো শেকল রুপো আদায় করে মেয়েটির বাবাকে দেবে, কারণ এই লোকটি একজন ইস্রায়েলী কুমারী মেয়ের বদনাম করেছে। সে তার স্ত্রীই থাকবে; আর সে যতদিন বেঁচে থাকবে তাকে ছেড়ে দিতে পারবে না।
DEU 22:20 কিন্তু, সেই অভিযোগ যদি সত্যি হয় এবং মেয়েটির কুমারী অবস্থার কোনও প্রমাণ পাওয়া না যায়,
DEU 22:21 তবে মেয়েটিকে তার বাবার বাড়ির দরজার কাছে নিয়ে যেতে হবে আর তার নগরের পুরুষেরা সেখানে তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে। বাবার বাড়িতে থাকবার সময় ব্যভিচার করে ইস্রায়েলীদের মধ্যে মর্যাদাহানিকর কাজ করেছে। তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এরকম দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 22:22 কোনো লোককে যদি অন্য লোকের স্ত্রীর সঙ্গে শুতে দেখা যায়, তবে যে তার সঙ্গে শুয়েছে সেই পুরুষ ও সেই স্ত্রীলোক দুজনকেই মেরে ফেলবে। তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এরকম দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 22:23 বিয়ে ঠিক হয়ে আছে এমন কোনও কুমারী মেয়েকে নগরের মধ্যে পেয়ে যদি কেউ তার সঙ্গে শোয়,
DEU 22:24 তোমরা দুজনকেই নগরের দ্বারের কাছে নিয়ে গিয়ে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে—মেয়েটিকে মেরে ফেলবে কারণ নগরের মধ্যে থেকেও সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেনি, আর পুরুষটিকে মেরে ফেলতে হবে কারণ সে অন্যের স্ত্রীকে নষ্ট করেছে। তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এরকম দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 22:25 কিন্তু বিয়ে ঠিক হয়ে আছে এমন কোনও মেয়েকে মাঠে পেয়ে যদি তাকে কোনও পুরুষ ধর্ষণ করে, তবে যে লোকটি তা করবে কেবল তাকেই মেরে ফেলবে।
DEU 22:26 মেয়েটির প্রতি তোমরা কিছু করবে না; মৃত্যুর শাস্তি পাওয়ার মতো কোনও পাপ সে করেনি। এটি একজন তার প্রতিবেশীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলবার মতোই,
DEU 22:27 কারণ লোকটি মাঠে মেয়েটিকে পেয়েছিল, আর বাগদত্তা মেয়েটি যদিও চিৎকার করেছিল, তবুও তাকে রক্ষা করবার মতো কেউ সেখানে ছিল না।
DEU 22:28 যদি কোনও পুরুষ অবিবাহিতা কোনও কুমারী মেয়েকে পেয়ে ধর্ষণ করে এবং তারা ধরা পড়ে,
DEU 22:29 তাকে মেয়েটির বাবাকে পঞ্চাশ শেকল রুপো দেবে। মেয়েটিকে নষ্ট করেছে বলে, সেই পুরুষকে বিয়ে করতে হবে। সে আজীবন তাকে ছেড়ে দিতে পারবে না।
DEU 22:30 কোনও পুরুষ যেন তার বাবার স্ত্রীকে বিয়ে না করে; সে বাবার স্ত্রীর সঙ্গে শুয়ে তার বাবাকে যেন অসম্মান না করে।
DEU 23:1 যার অণ্ডকোষ থেঁৎলে দেওয়া কিংবা পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে সে সদাপ্রভুর লোকদের সমাজে যোগ দিতে পারবে না।
DEU 23:2 কোনও জারজ লোক বা তার বংশধর সদাপ্রভুর লোকদের সমাজে যোগ দিতে পারবে না; তার দশম পুরুষ পর্যন্তও তা করতে পারবে না।
DEU 23:3 কোনও অম্মোনীয় কিংবা মোয়াবীয় বা তাদের বংশধরেরা কেউ সদাপ্রভুর লোকদের সমাজে যোগ দিতে পারবে না; তার দশম পুরুষ পর্যন্তও তা করতে পারবে না।
DEU 23:4 কেননা তোমরা মিশর থেকে বের হয়ে আসবার পরে তোমাদের যাত্রাপথে তারা খাবার ও জল নিয়ে তোমাদের কাছে এগিয়ে আসেনি, বরং তোমাদের অভিশাপ দেবার জন্য তারা অরাম-নহরয়িম দেশের পথোর নগর থেকে বিয়োরের ছেলে বিলিয়মকে টাকা দিয়ে নিয়ে এসেছিল।
DEU 23:5 কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু বিলিয়মের কথায় সায় দেননি বরং সেই অভিশাপকে তিনি তোমাদের জন্য আশীর্বাদে পরিবর্তন করেছিলেন, কেননা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ভালোবাসেন।
DEU 23:6 তোমরা যতদিন বাঁচবে ততদিন এদের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করবে না।
DEU 23:7 কোনও ইদোমীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ ইদোমীয়রা তোমাদের আত্মীয়। কোনও মিশরীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ তোমরা তাদের দেশে বিদেশি হয়ে বসবাস করেছিলে।
DEU 23:8 তাদের মধ্যে তৃতীয় পুরুষ থেকে তারা সদাপ্রভুর লোকদের সমাজে যোগ দিতে পারবে।
DEU 23:9 শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে ছাউনি ফেলবার পরে সমস্ত রকম অশুচিতা থেকে তোমরা দূরে থাকবে।
DEU 23:10 রাতে বীর্যপাতের দরুন যদি তোমাদের কোনও পুরুষ অশুচি হয়, তবে তাকে ছাউনির বাইরে গিয়ে থাকতে হবে।
DEU 23:11 বিকাল হয়ে আসলে তাকে স্নান করে ফেলতে হবে, এবং সূর্য ডুবে গেলে সে ছাউনিতে ফিরে যেতে পারবে।
DEU 23:12 শৌচকর্ম করার জন্য ছাউনির বাইরে একটি জায়গা ঠিক করবে।
DEU 23:13 তোমাদের বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে মাটি খোঁড়ার জন্য কিছু রাখবে, এবং শৌচকর্ম করার পরে, একটি গর্ত খুড়ে সেই মলে মাটি চাপা দেবে।
DEU 23:14 কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের রক্ষা করার জন্য এবং তোমাদের শত্রুদের তোমাদের হাতে তুলে দেবার জন্য ছাউনির মধ্যে ঘুরে বেড়ান। তোমাদের ছাউনিকে পবিত্র রাখবে, যেন তিনি তোমাদের মধ্যে মন্দ কিছু না দেখেন এবং তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
DEU 23:15 কারও দাস যদি তোমাদের কাছে আশ্রয় নেয়, তাকে তার মনিবের হাতে ফিরিয়ে দেবে না।
DEU 23:16 তারা যেখানে চায় ও যে নগর বেছে নেয় সেখানেই তাদের বসবাস করতে দেবে। তাদের উপর অত্যাচার করবে না।
DEU 23:17 কোনও ইস্রায়েলী পুরুষ বা স্ত্রীলোক যেন দেবদাস-দাসী না হয়।
DEU 23:18 মানত পূরণের জন্য কোনো স্ত্রীলোক বেশ্যা কিংবা পুরুষ বেশ্যার উপার্জন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে নিয়ে আসবে না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু উভয়কেই ঘৃণা করেন।
DEU 23:19 কোনও ইস্রায়েলী ভাইয়ের কাছ থেকে সুদ নেবে না, সেটি অর্থ কিংবা খাবার কিংবা অন্য কিছুর উপর হোক।
DEU 23:20 তোমরা বিদেশির কাছ থেকে সুদ নিতে পারো, কিন্তু ইস্রায়েলী ভাইয়ের কাছ থেকে নয়, যেন তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, সেই দেশে তোমরা যাতে হাত দেবে তাতেই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করেন।
DEU 23:21 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে যদি তোমরা কোনও মানত করো, তা পূরণ করতে দেরি কোরো না, কেননা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিশ্চয়ই তা দাবি করবেন এবং তোমরা পাপে দোষী হবে।
DEU 23:22 কিন্তু তোমরা যদি মানত না করো, তোমরা দোষী হবে না।
DEU 23:23 তোমরা মুখ দিয়ে যে মানতের কথা উচ্চারণ করবে তা তোমাদের পূরণ করতেই হবে, কারণ তোমরা নিজের ইচ্ছায় নিজের মুখেই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে সেই মানত করেছ।
DEU 23:24 তোমরা যদি তোমাদের প্রতিবেশীর দ্রাক্ষাক্ষেতে যাও, তোমরা খুশিমতো আঙুর খেতে পারবে, কিন্তু তোমাদের ঝুড়িতে কিছু রাখবে না।
DEU 23:25 তোমরা যদি তোমাদের প্রতিবেশীর শস্যক্ষেত্রে যাও, তোমরা হাত দিয়ে শিষ ছিঁড়তে পারবে, কিন্তু ফসলের গায়ে কাস্তে লাগাবে না।
DEU 24:1 বিয়ে করার পরে যদি কেউ তার স্ত্রীর মধ্যে কোনও দোষ দেখে তার উপর অসন্তুষ্ট হয়, আর ত্যাগপত্র লিখে তার হাতে দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেয়,
DEU 24:2 আর স্ত্রীলোকটি তার বাড়ি থেকে চলে গিয়ে অন্য এক পুরুষের স্ত্রী হয়,
DEU 24:3 এবং তার দ্বিতীয় স্বামীও যদি পরে তাকে অপছন্দ করে একটি ত্যাগপত্র লিখে তার হাতে দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেয়, কিংবা সে মারা যায়,
DEU 24:4 তাহলে তার প্রথম স্বামী, যে তাকে ত্যাগপত্র দিয়েছিল, সে তাকে আর বিয়ে করতে পারবে না কারণ সে অশুচি হয়ে গিয়েছে। সদাপ্রভুর চোখে সেটি ঘৃণ্য কাজ। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে দেশ অধিকারের জন্য দিচ্ছেন তোমরা এইভাবে তার উপর পাপ ডেকে আনবে না।
DEU 24:5 অল্পদিন বিয়ে হয়েছে এমন কোনও লোককে যুদ্ধে পাঠানো চলবে না কিংবা তার উপর অন্য কোনও কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। তাকে এক বছর পর্যন্ত বাড়িতে স্বাধীনভাবে থাকতে দিতে হবে যেন সে যে স্ত্রীকে বিয়ে করেছে তাকে আনন্দ দিতে পারে।
DEU 24:6 ঋণের বন্ধক হিসেবে কারও জাতা নেওয়া চলবে না—তার উপরের পাথরটিও নয়—কারণ তাতে লোকটির বেঁচে থাকার উপায়টিই বন্ধক নেওয়া হবে।
DEU 24:7 যদি দেখা যায়, কোনও লোক এক ইস্রায়েলী ভাইকে চুরি করে নিয়ে দাস হিসেবে ব্যবহার করছে কিংবা বিক্রি করে দিয়েছে, তবে সেই চোরকে মরতে হবে। তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এরকম দুষ্টতা শেষ করে দেবে।
DEU 24:8 চর্মরোগ দেখা দিলে তোমাদের সতর্ক হতে হবে এবং লেবীয় যাজকেরা যে নির্দেশ দেবে তা যত্নের সঙ্গে পালন করতে হবে। আমি তাদের যে আজ্ঞা দিয়েছি তোমাদের সাবধান হয়ে সেইমতো চলতে হবে।
DEU 24:9 মিশর দেশ থেকে বেরিয়ে আসার পরে পথে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু মরিয়মের প্রতি যা করেছিলেন সেই কথা মনে রেখো।
DEU 24:10 তোমাদের প্রতিবেশীকে কোনও রকম ধার দিলে, তোমরা বন্ধকি জিনিস নেওয়ার জন্য তার বাড়ির মধ্যে যাবে না।
DEU 24:11 বাইরে থাকবে এবং যাকে তোমরা ধার দিচ্ছ সেই বন্ধকি জিনিসটি বাইরে নিয়ে আসবে।
DEU 24:12 যদি সেই প্রতিবেশী গরিব হয়, তবে তোমরা তার বন্ধকি জিনিসটি রেখে ঘুমাতে যাবে না।
DEU 24:13 সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে তার গায়ের কাপড় তাকে ফিরিয়ে দেবে যেন তোমাদের প্রতিবেশী সেটি গায়ে দিয়ে ঘুমাতে পারে। এতে সে তোমাদের ধন্যবাদ দেবে, এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে এটি তোমাদের ধার্মিকতার কাজ হবে।
DEU 24:14 যে দিনমজুর গরিব বা অভাবগ্রস্ত তার কাছ থেকে সুবিধা নেবে না, সেই মজুর এক ইস্রায়েলী ভাই কিংবা একজন বিদেশি যে তোমাদের কোনও এক নগরে বাস করছে।
DEU 24:15 প্রতিদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তার মজুরি দিয়ে দেবে, কারণ সে গরিব এবং তার উপরেই নির্ভর করে। তা না করলে সে তোমাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর কাছে কাতর হয়ে বিচার চাইবে, আর তোমরা পাপে দোষী হবে।
DEU 24:16 ছেলেমেয়েদের পাপের জন্য বাবা-মাকে কিংবা বাবা-মায়ের পাপের জন্য ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলা যাবে না; প্রত্যেককেই তার নিজের পাপের জন্য মরতে হবে।
DEU 24:17 বিদেশির কিংবা পিতৃহীনদের বিচারে অন্যায় করবে না, অথবা কোনও বিধবার কাছ থেকে বন্ধক হিসেবে তার গায়ের কাপড় নেবে না।
DEU 24:18 মনে রাখবে তোমরা মিশরে দাস ছিলে আর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সেখান থেকে তোমাদের মুক্ত করে এনেছেন। সেইজন্যই আমি তোমাদের এসব করার আজ্ঞা দিচ্ছি।
DEU 24:19 তোমাদের জমির ফসল কাটবার পরে যদি শস্যের কোনও আঁটি তোমার সঙ্গে নিয়ে যেতে ভুলে যাও, তবে সেটি নেওয়ার জন্য আর ফিরে যেয়ো না। বিদেশির, পিতৃহীনের এবং বিধবার জন্য সেটি রেখে দেবে, যেন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সবকাজেই তোমাদের আশীর্বাদ করেন।
DEU 24:20 জলপাই পাড়বার সময় তোমরা একই ডাল থেকে দু-বার ফল পাড়তে দ্বিতীয়বার যাবে না। যা থেকে যাবে তা বিদেশির, পিতৃহীনের এবং বিধবার জন্য সেটি রেখে দেবে।
DEU 24:21 তোমাদের আঙুর ক্ষেত থেকে আঙুর তুলবার সময় তোমরা এক ডাল থেকে দ্বিতীয়বার আঙুর তুলতে যাবে না। যা থেকে যাবে তা বিদেশির, পিতৃহীনের এবং বিধবার জন্য সেটি রেখে দেবে।
DEU 24:22 মনে রাখবে তোমরা মিশরে দাস ছিলে। সেইজন্যই আমি তোমাদের এসব করার আজ্ঞা দিচ্ছি।
DEU 25:1 লোকদের মধ্যে যখন ঝগড়া হবে, সেই বিষয় যেন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিচারকেরা তার বিচার করে নির্দোষকে নির্দোষ এবং দোষীকে দোষী বলে রায় দেবে।
DEU 25:2 দোষীর যদি মারধর প্রাপ্য হয়, বিচারক তাকে মাটিতে শুইয়ে দোষ অনুসারে যে কটি চাবুকের ঘা তার প্রাপ্য তা তাঁর উপস্থিতিতে দেওয়াবে,
DEU 25:3 কিন্তু বিচারক তাকে চল্লিশটির বেশি ঘা দিতে পারবে না। দোষীকে এর চেয়ে বেশি চাবুক মারলে, তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইকে তোমার দৃষ্টিতে অসম্মান করা হবে।
DEU 25:4 শস্য মাড়াই করার সময় বলদের মুখে জালতি বেঁধো না।
DEU 25:5 ভাইয়েরা যদি একসঙ্গে বসবাস করে এবং এক ভাই অপুত্রক অবস্থায় মারা যায়, তবে তার বিধবা স্ত্রী পরিবারের বাইরে আর কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। তার দেওর তাকে বিয়ে করবে এবং তার প্রতি দেওরের কর্তব্য পালন করবে।
DEU 25:6 তার যে প্রথম ছেলে হবে সে সেই মৃত ভাইয়ের নাম রক্ষা করবে আর সেই ভাইয়ের নাম ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে মুছে যাবে না।
DEU 25:7 কিন্তু, যদি কোনও পুরুষ তার বৌদিকে বিয়ে করতে না চায়, তবে সেই স্ত্রী নগরের দ্বারের কাছে প্রবীণ নেতাদের কাছে গিয়ে বলবে, “আমার দেওর ইস্রায়েলীদের মধ্যে তার দাদার নাম রক্ষা করতে রাজি নয়। আমার প্রতি দেওরের যে কর্তব্য তা সে পালন করতে চায় না।”
DEU 25:8 তখন নগরের প্রবীণ নেতারা তাকে ডেকে পাঠাবে এবং তার সঙ্গে কথা বলবে। এর পরেও যদি সে বলতে থাকে যে, “আমি তাকে বিয়ে করতে চাই না,”
DEU 25:9 তার দাদার বিধবা স্ত্রী প্রবীণ নেতাদের সামনেই লোকটির কাছে গিয়ে তার পা থেকে এক পাটি চটি খুলে নেবে, তার মুখে থুতু দিয়ে বলবে, “দাদার বংশ যে রক্ষা করতে চায় না তার প্রতি এমনই করা হোক।”
DEU 25:10 ইস্রায়েলীদের মধ্যে সেই লোকের বংশকে বলা হবে “জুতো খোয়ানোর বংশ।”
DEU 25:11 দুজন লোক মারামারির সময় যদি তাদের একজনের স্ত্রী তার স্বামীকে অন্যজনের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য কাছে গিয়ে অন্য লোকটির পুরুষাঙ্গ চেপে ধরে,
DEU 25:12 তবে তোমরা সেই স্ত্রীলোকের হাত কেটে ফেলবে। তার প্রতি কোনও দয়া দেখাবে না।
DEU 25:13 তোমাদের থলিতে যেন দুই রকম ওজনের বাটখারা না থাকে—একটি ভারী, একটি হালকা।
DEU 25:14 তোমাদের বাড়িতে যেন দুই রকম পরিমাণ মাপার পাত্র না থাকে—একটি বড়ো, একটি ছোটো।
DEU 25:15 তোমরা সঠিক মাপের বাটখারা ও পাত্র রাখবে, যেন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে দেশ দিতে যাচ্ছেন সেখানে অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারো।
DEU 25:16 কারণ যে এসব কাজ করে, যে অসাধুতা করে, সে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ঘৃণার পাত্র।
DEU 25:17 মনে রেখো, মিশর থেকে তোমরা যখন বের হয়ে আসছিলে তখন পথে অমালেকীয়েরা তোমাদের প্রতি কি করেছিল।
DEU 25:18 তোমাদের শ্রান্ত-ক্লান্ত অবস্থায় যারা পিছনে পড়েছিল তারা তাদের উপর আক্রমণ করেছিল; তারা ঈশ্বরকে ভয় করেনি।
DEU 25:19 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশটি তোমাদের অধিকারের জন্য দিতে যাচ্ছেন সেখানে তোমাদের চারপাশের শত্রুদের থেকে তোমাদের বিশ্রাম দেবেন, তোমরা তখন পৃথিবীর উপর থেকে অমালেকীয়দের চিহ্ন একেবারে মুছে দেবে। ভুলে যাবে না!
DEU 26:1 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের অধিকারের জন্য দিচ্ছেন সেটি অধিকার করে সেখানে তোমরা যখন বসবাস করবে,
DEU 26:2 তখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া দেশের জমিতে তোমরা যেসব ফসল ফলাবে তার প্রথম তোলা কিছু ফসল টুকরিতে রাখবে। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিজের নামের জন্য যে জায়গা তাঁর বাসস্থান হিসেবে মনোনীত করবেন তোমরা সেখানে সেই ফসল নিয়ে যাবে
DEU 26:3 এবং সেই সময় যে যাজক থাকবে তাকে বলবে, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে আমি স্বীকার করছি যে, তিনি যে দেশটি দেবেন বলে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন সেই দেশে আমি এসে গিয়েছি।”
DEU 26:4 যাজক তোমাদের হাত থেকে সেই টুকরি নিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বেদির সামনে রাখবে।
DEU 26:5 তারপর তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে ঘোষণা করবে “আমার পিতৃপুরুষ একজন অরামীয় যাযাবর ছিলেন, এবং তিনি কয়েকজন লোক নিয়ে মিশরে গিয়েছিলেন ও সেখানে বসবাস করবার সময় তাঁর মাধ্যমে মহান, শক্তিশালী ও বহুসংখ্যক লোকের এক জাতির সৃষ্টি হয়েছিল।
DEU 26:6 কিন্তু মিশরীয়েরা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল ও কষ্ট দিয়েছিল, এবং আমাদের উপর একটি কঠিন পরিশ্রমের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল।
DEU 26:7 তখন আমরা সদাপ্রভুর কাছে কাঁদলাম, আমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের কাছে, আর সদাপ্রভু আমাদের রব শুনলেন ও আমাদের কষ্ট, পরিশ্রম এবং আমাদের উপর অত্যাচার দেখলেন।
DEU 26:8 সেইজন্য সদাপ্রভু তাঁর শক্তিশালী হাত, বিস্তারিত বাহু ও মহা ভয়ংকরতা এবং আশ্চর্য কাজ ও চিহ্ন দ্বারা আমাদের মিশর থেকে বের করে আনলেন।
DEU 26:9 তিনি আমাদের এখানে এনেছেন এবং দুধ আর মধু প্রবাহিত এই দেশ আমাদের দিয়েছেন;
DEU 26:10 সেইজন্য হে সদাপ্রভু, তোমার দেওয়া জমির প্রথমে তোলা ফসল আমি তোমার কাছেই এনেছি।” তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে টুকরি রাখবে এবং মাথা নত করবে।
DEU 26:11 তোমাদের এবং তোমাদের পরিবারকে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেসব ভালো জিনিসপত্র দিয়েছেন তা নিয়ে তোমরা, লেবীয়েরা এবং তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিরা আনন্দ করবে।
DEU 26:12 তৃতীয় বছরে, অর্থাৎ দশমাংশের বছরে, তোমাদের সব ফসলের দশমাংশ পৃথক করা শেষ করে, সেগুলি তোমরা লেবীয়, বিদেশি বসবাসকারী, পিতৃহীন এবং বিধবাদের দেবে, যেন তারা তোমাদের নগরের মধ্যে খেয়ে তৃপ্ত হয়।
DEU 26:13 তারপর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে বলবে “আমি তোমার আজ্ঞা অনুসারে আমার বাড়ি থেকে পবিত্র জিনিসপত্র বের করে লেবীয়, বিদেশি বসবাসকারী, পিতৃহীন এবং বিধবাদের দিয়েছি। তোমার আজ্ঞা আমি অমান্য করিনি কিংবা সেগুলির একটিও আমি ভুলে যাইনি।
DEU 26:14 আমার শোকের সময় আমি সেই পবিত্র অংশ থেকে কিছুই খাইনি, কিংবা অশুচি অবস্থায় আমি তার কিছুই সরাইনি, কিংবা তা থেকে কোনও অংশ মৃত লোকদের উদ্দেশে দান করিনি। আমি আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হয়েছি; তোমার আজ্ঞা অনুসারে আমি সবকিছুই করেছি।
DEU 26:15 তুমি তোমার পবিত্র বাসস্থান থেকে, স্বর্গ থেকে দেখো, তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে আশীর্বাদ করো এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে তোমার শপথ করা প্রতিজ্ঞা অনুসারে দুধ আর মধু প্রবাহিত যে দেশ তুমি আমাদের দিয়েছ সেই দেশকেও আশীর্বাদ করো।”
DEU 26:16 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আজ তোমাদের এই সমস্ত অনুশাসন ও বিধান মেনে চলবার আজ্ঞা দিচ্ছেন; তোমরা সতর্ক হয়ে তোমার সমস্ত হৃদয় ও তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে তা পালন করবে।
DEU 26:17 আজই তোমরা স্বীকার করেছ যে, সদাপ্রভুই তোমাদের ঈশ্বর এবং তাঁর পথেই তোমরা চলবে, তাঁর অনুশাসন, আদেশ ও বিধান তোমরা পালন করবে—তাঁর কথা শুনবে।
DEU 26:18 আর সদাপ্রভুও আজকে ঘোষণা করেছেন যে তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমরা তাঁরই প্রজা এবং তাঁর নিজের মূল্যবান সম্পত্তি হয়েছ ও তাঁর সমস্ত আজ্ঞা পালন করবে।
DEU 26:19 তিনি ঘোষণা করেছেন যে প্রশংসা, সুনাম ও গৌরবের দিক থেকে তাঁর সৃষ্ট অন্যান্য জাতিদের উপরে তিনি তোমাদের স্থান দেবেন এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমরা হবে তাঁর উদ্দেশে পবিত্র প্রজা।
DEU 27:1 মোশি ও ইস্রায়েলী প্রবীণ নেতারা লোকদের এই আদেশ দিলেন: “আজ আমি তোমাদের যেসব আজ্ঞা দিচ্ছি সেগুলি পালন করবে।
DEU 27:2 তোমরা জর্ডন নদী পার হয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া দেশে গিয়ে বড়ো বড়ো পাথর খাড়া করে রাখবে এবং সেগুলি চুন দিয়ে লেপে দেবে।
DEU 27:3 তার উপরে এই বিধানের সমস্ত কথা লিখবে যখন তোমরা পার হয়ে সেই দেশে প্রবেশ করবে যেটি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দিতে যাচ্ছেন, যে দেশ দুধ আর মধু প্রবাহী, ঠিক যেমন সদাপ্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
DEU 27:4 এবং তোমরা যখন জর্ডন পার হবে, এই পাথরগুলি এবল পর্বতের উপর খাড়া করে রাখবে এবং সেগুলি চুন দিয়ে লেপে দেবে যেমন তোমাদের আমি আজ আদেশ দিয়েছি।
DEU 27:5 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে তোমরা সেখানে একটি পাথরের বেদি তৈরি করবে। সেগুলির উপরে কোনও লোহার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে না।
DEU 27:6 সদাপ্রভুর বেদি গোটা গোটা পাথর দিয়ে তৈরি করবে এবং সেখানে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি উৎসর্গ করবে।
DEU 27:7 সেখানে মঙ্গলার্থক বলিদান করবে, আর সেই জায়গায় সেগুলি খাবে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে আনন্দ করবে।
DEU 27:8 আর এই পাথরগুলি যা তোমরা খাড়া করে রেখেছ তার উপরে এই বিধানের সমস্ত কথা খুব স্পষ্ট করে লিখবে।”
DEU 27:9 এরপর মোশি ও লেবীয় যাজকেরা সমস্ত ইস্রায়েলকে বললেন, “হে ইস্রায়েল, তোমরা চুপ করো আর শোনো! আজ তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রজা হলে।
DEU 27:10 তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হবে এবং আজ আমি তোমাদের যে সমস্ত আজ্ঞা ও অনুশাসন দিচ্ছি তা তোমরা পালন করবে।”
DEU 27:11 সেই দিনই মোশি লোকদের এই আদেশ দিলেন:
DEU 27:12 তোমরা যখন জর্ডন পার হবে, এই গোষ্ঠীর লোকেরা গরিষীম পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে লোকদের আশীর্বাদ করবে: শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর, যোষেফ ও বিন্যামীন।
DEU 27:13 আর এই গোষ্ঠীর লোকেরা এবল পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে অভিশাপ উচ্চারণ করবে: রূবেণ, গাদ, আশের, সবূলূন, দান ও নপ্তালি।
DEU 27:14 লেবীয়েরা তখন সমস্ত ইস্রায়েলীর সামনে চিৎকার করে এই কথা বলবে:
DEU 27:15 “সেই লোক অভিশপ্ত যে প্রতিমা তৈরি করে—সদাপ্রভুর কাছে এই জিনিস ঘৃণার্হ, এটি শুধু দক্ষ হাতে তৈরি করা—এবং গোপনে স্থাপন করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:16 “সেই লোক অভিশপ্ত যে বাবাকে কিংবা মাকে অসম্মান করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:17 “সেই লোক অভিশপ্ত যে অন্য লোকের জমির সীমানা-চিহ্ন সরিয়ে দেয়।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:18 “সেই লোক অভিশপ্ত যে অন্ধকে ভুল পথে নিয়ে যায়।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:19 “সেই লোক অভিশপ্ত যে বিদেশিদের, পিতৃহীনদের কিংবা বিধবাদের প্রতি অন্যায় বিচার করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:20 “সেই লোক অভিশপ্ত যে তার বাবার স্ত্রীর সঙ্গে শোয় কারণ তাতে সে বাবাকে অসম্মান করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:21 “সেই লোক অভিশপ্ত যে পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:22 “সেই লোক অভিশপ্ত যে তার বোন, তার বাবার মেয়ে, কিংবা মায়ের মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচার করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:23 “সেই লোক অভিশপ্ত যে তার শাশুড়ির সঙ্গে ব্যভিচার করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:24 “সেই লোক অভিশপ্ত যে প্রতিবেশীকে গোপনে হত্যা করে।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:25 “সেই লোক অভিশপ্ত যে নির্দোষ লোককে হত্যা করার জন্য ঘুস নেয়।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 27:26 “সেই লোক অভিশপ্ত যে বিধানের কথাগুলি পালন করে না।” তখন সমস্ত লোক বলবে, “আমেন!”
DEU 28:1 তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্পূর্ণ বাধ্য হও এবং আমি আজ তাঁর যেসব আদেশ তোমাদের দিচ্ছি তা পালন করো, তাহলে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু পৃথিবীর সব জাতির উপরে তোমাদের স্থান দেবেন।
DEU 28:2 তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হও তবে এসব আশীর্বাদ তোমরা পাবে আর তা তোমাদের সঙ্গে থাকবে
DEU 28:3 তোমরা নগরে আশীর্বাদ পাবে এবং দেশে আশীর্বাদ পাবে।
DEU 28:4 তোমাদের গর্ভের ফলে, ক্ষেতের ফসলে এবং পশুধনের ফলে আশীর্বাদ পাবে—তোমাদের পশুপালের বাছুর ও মেষীদের শাবক।
DEU 28:5 তোমাদের ঝুড়ি এবং ময়দা মাখার পাত্রে আশীর্বাদ পাবে।
DEU 28:6 ভিতরে আসবার সময় তোমরা আশীর্বাদ পাবে এবং বাইরে যাওয়ার সময় তোমরা আশীর্বাদ পাবে।
DEU 28:7 যারা শত্রু হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সদাপ্রভু এমন করবেন যাতে তারা তোমাদের সামনে হেরে যায়। তারা একদিক থেকে তোমাদের আক্রমণ করতে এসে সাত দিক দিয়ে পালিয়ে যাবে।
DEU 28:8 তোমাদের গোলাঘরের উপর সদাপ্রভুর আশীর্বাদ থাকবে এবং যে কাজে তোমরা হাত দেবে তাতেই তিনি আশীর্বাদ করবেন। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর দেওয়া দেশে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন।
DEU 28:9 তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আজ্ঞা পালন করো ও তাঁর পথে চলো তাহলে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর শপথ অনুসারে তোমাদের তাঁর পবিত্র প্রজা হিসেবে স্থাপন করবেন।
DEU 28:10 তখন পৃথিবীর সমস্ত জাতি দেখতে পাবে যে, সদাপ্রভুর নামেই তোমাদের পরিচয়, আর তাতে তারা তোমাদের ভয় করে চলবে।
DEU 28:11 সদাপ্রভু তোমাদের খুব সমৃদ্ধ করবেন—তোমাদের গর্ভের ফলে, পশুধনের ফলে এবং ক্ষেতের ফসলে—সেই দেশে যা তিনি দেবেন বলে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন।
DEU 28:12 তোমাদের সময়মতো বৃষ্টি দিয়ে তোমাদের হাতের সব কাজে আশীর্বাদ করবার জন্য সদাপ্রভু তাঁর দানের ভাণ্ডার, আকাশ খুলে দেবেন। তোমরা অনেক জাতিকে ঋণ দেবে কিন্তু তোমরা নিজেরা কারোর কাছ থেকে ঋণ নেবে না।
DEU 28:13 সদাপ্রভু এমন করবেন যাতে তোমরা সকলের মাথার উপরে থাকো, পায়ের তলায় নয়। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর যেসব আদেশ আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তাতে যদি মনোযোগ দাও এবং যত্নের সঙ্গে পালন করো, তবে সবসময় তোমরা উন্নত হবে, কখনোই অবনত হবে না।
DEU 28:14 আজ আমি তোমাদের যেসব আদেশ দিচ্ছি, অন্য দেবতাদের অনুগামী হয়ে এবং তাদের সেবা করার জন্য তার ডানদিকে কিংবা বাঁদিকে যাবে না।
DEU 28:15 কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথায় কান না দাও এবং আজকে দেওয়া আমার এসব আদেশ ও অনুশাসন যত্নের সঙ্গে পালন না করো, তাহলে এসব অভিশাপ তোমাদের উপর নেমে আসবে এবং তোমাদের সঙ্গে থাকবে
DEU 28:16 তোমরা নগরে অভিশপ্ত হবে এবং দেশে অভিশপ্ত হবে।
DEU 28:17 তোমাদের ঝুড়ি এবং ময়দা মাখার পাত্র অভিশপ্ত হবে।
DEU 28:18 তোমাদের গর্ভের ফল, ক্ষেতের ফসল এবং বাছুর ও মেষীদের শাবক অভিশপ্ত হবে।
DEU 28:19 ভিতরে আসবার সময় তোমরা অভিশপ্ত হবে এবং বাইরে যাওয়ার সময় তোমরা অভিশপ্ত হবে।
DEU 28:20 মন্দ কাজ করে সদাপ্রভুকে ত্যাগ করার অপরাধে তোমাদের সমস্ত কাজে তিনি তোমাদের অভিশাপ দেবেন, বিশৃঙ্খলায় ফেলবেন ও তিরস্কার করবেন, যতক্ষণ না তোমরা হঠাৎ ধ্বংস হয়ে নির্মূল না হও।
DEU 28:21 তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেখান থেকে যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও ততক্ষণ সদাপ্রভু তোমাদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের মহামারি আনবেন।
DEU 28:22 সদাপ্রভু তোমাদের ক্ষয়রোগ, জ্বর, জ্বালা, প্রচণ্ড উত্তাপ ও তরোয়াল, তার সঙ্গে উদ্ভিদের রোগ ও ছত্রাক দ্বারা মহামারি আনবেন যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও।
DEU 28:23 তোমাদের মাথার উপরের আকাশ ব্রোঞ্জের মতো, আর পায়ের তলার মাটি লোহার মতো হবে।
DEU 28:24 সদাপ্রভু তোমাদের দেশে বৃষ্টির বদলে ধুলো আর বালি বর্ষণ করবেন; সেগুলি আকাশ থেকে তোমাদের উপরে পড়বে যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও।
DEU 28:25 সদাপ্রভু এমনটি করবেন যাতে তোমরা তোমাদের শত্রুদের সামনে হেরে যাও। তোমরা একদিক থেকে তাদের আক্রমণ করবে কিন্তু তাদের সামনে থেকে পালিয়ে যাবে সাত দিক দিয়ে, এবং পৃথিবীর অন্য সব রাজ্যের লোকেরা তোমাদের অবস্থা দেখে ভয়ে আঁতকে উঠবে।
DEU 28:26 তোমাদের মৃতদেহ হবে পাখি এবং বন্যপশুদের খাবার, আর তাদের তাড়িয়ে দেবার জন্য কেউ থাকবে না।
DEU 28:27 সদাপ্রভু তোমাদের মিশরীয়দের সেই ফোঁড়া, আব, ফোস্কা এবং চুলকানি দিয়ে যন্ত্রণা দেবেন, যা তোমরা ভালো করতে পারবে না।
DEU 28:28 সদাপ্রভু তোমাদের পাগলামি, অন্ধতা দিয়ে এবং চিন্তাশক্তি নষ্ট করে যন্ত্রণা দেবেন।
DEU 28:29 অন্ধ লোক যেমন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ায় তেমনি করে তোমরা দিনের বেলাতেই হাতড়ে বেড়াবে। তোমরা যে কাজ করবে তাতেই বিফল হবে; দিনের পর দিন তোমরা অত্যাচারিত ও লুন্ঠিত হবে, তোমাদের উদ্ধার করার জন্য কেউ থাকবে না।
DEU 28:30 তোমার বিয়ে একজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে ঠিক হবে, কিন্তু অন্যজন তাকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করবে। তুমি বাড়ি তৈরি করবে, কিন্তু সেখানে বসবাস করতে পারবে না। তুমি দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করবে, কিন্তু তার ফলভোগ করতে পারবে না।
DEU 28:31 তোমাদের সামনেই তোমাদের গরু কাটা হবে, কিন্তু তোমরা তা খেতে পাবে না। তোমাদের গাধাকে জোর করে তোমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে, কিন্তু তা আর ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। তোমাদের মেষদের তোমাদের শত্রুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, আর কেউ তাদের উদ্ধার করবে না।
DEU 28:32 তোমাদের ছেলেদের এবং মেয়েদের অন্য এক জাতির কাছে দেওয়া হবে, আর দিনের পর দিন তাদের আসবার পথ চেয়ে তোমাদের চোখ অন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তোমাদের হাতে কোনও শক্তি থাকবে না।
DEU 28:33 যে লোকদের তোমরা জানো না তারা তোমাদের জমির ফসল ও পরিশ্রমের ফলভোগ করবে, এবং তোমরা সারা জীবন ধরে অত্যাচার ভোগ করবে কিন্তু তোমাদের কিছুই করার থাকবে না।
DEU 28:34 তোমরা যা দেখবে তা তোমাদের পাগল করে দেবে।
DEU 28:35 সদাপ্রভু তোমাদের হাঁটুতে ও পায়ে এমন সব কষ্টদায়ক ফোঁড়া দেবেন যা কখনও ভালো হবে না, আর সেই ফোঁড়া তোমাদের পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত সব জায়গায় হবে।
DEU 28:36 তোমরা যাকে তোমাদের উপরে রাজা করে বসাবে সদাপ্রভু তাকে এবং তোমাদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমন এক জাতির হাতে দেবেন যাদের তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষেরা জানে না। সেখানে তোমরা অন্য দেবতাদের সেবা করবে, যে দেবতারা কাঠ এবং পাথরের তৈরি।
DEU 28:37 সদাপ্রভু তোমাদের যেসব জাতির মধ্যে তাড়িয়ে দেবেন তারা তোমাদের অবস্থা দেখে ভয়ে আঁতকে উঠবে, আর তোমরা তাদের কাছে বিদ্রুপের পাত্র হবে।
DEU 28:38 তোমরা জমিতে অনেক বীজ বুনবে কিন্তু অল্প সংগ্রহ করবে, কারণ পঙ্গপালে ফসল খেয়ে ফলবে।
DEU 28:39 তোমরা দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করবে এবং তার যত্নও নেবে কিন্তু পোকায় তার ফল খেয়ে ফেলবে বলে তোমরা দ্রাক্ষারস খেতে পারবে না কিংবা আঙুর সংগ্রহ করতে পারবে না।
DEU 28:40 তোমাদের সারা দেশে জলপাই গাছ থাকবে কিন্তু তোমরা তেল ব্যবহার করতে পারবে না, কারণ জলপাই ঝরে পড়বে।
DEU 28:41 তোমাদের ছেলেমেয়ে হবে কিন্তু তাদেরকে নিজের কাছে রাখতে পারবে না, কারণ তারা বন্দি হয়ে যাবে।
DEU 28:42 ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল তোমাদের দেশের সমস্ত গাছ ও ফসল অধিকার করবে।
DEU 28:43 তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী অন্যান্য জাতির লোকেরা দিন দিন তোমাদের উপরে উন্নতি করবে, কিন্তু তোমরা নিচে নামতে থাকবে।
DEU 28:44 তারা তোমাদের ঋণ দেবে, কিন্তু তোমরা তাদের ঋণ দিতে পারবে না। তারা থাকবে তোমাদের মাথার উপরে, কিন্তু তোমরা থাকবে তাদের পায়ের তলায়।
DEU 28:45 এই সমস্ত অভিশাপ তোমাদের উপরে নেমে আসবে। তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য না হওয়ার দরুন এবং তিনি যেসব আজ্ঞা ও অনুশাসন দিয়েছেন তা পালন না করার দরুন এসব অভিশাপ তোমাদের পিছনে তাড়া করে আসবে ও তোমাদের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও।
DEU 28:46 এই সমস্ত তোমাদের ও তোমাদের বংশধরদের কাছে চিরকাল আশ্চর্য চিহ্ন এবং আশ্চর্য কাজ হিসেবে থাকবে।
DEU 28:47 যেহেতু তোমাদের সমৃদ্ধির সময়ে তোমরা আনন্দের সঙ্গে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করোনি,
DEU 28:48 সেইজন্য ক্ষুধায় ও তৃষ্ণায়, উলঙ্গতায় ও দারিদ্র্যে তোমরা তোমাদের শত্রুদের সেবা করবে যাদের সদাপ্রভু তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠাবেন। যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও তিনি তোমাদের ঘাড়ে লোহার জোয়াল চাপিয়ে রাখবেন।
DEU 28:49 সদাপ্রভু দূর থেকে, পৃথিবীর শেষ সীমানা থেকে এমন এক জাতিকে তোমাদের বিরুদ্ধে নিয়ে আসবেন, যেমন ঈগল পাখি উড়ে আসে, আর তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না।
DEU 28:50 সেই জাতি হিংস্র চেহারার যারা বয়স্কদের সম্মান করবে না কিংবা ছোটদের প্রতি করুণা দেখাবে না।
DEU 28:51 তারা তোমাদের পশুপালের শাবকগুলি ও ক্ষেতের ফসল খেয়ে ফেলবে যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও। তারা তোমাদের কোনও শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস কিংবা জলপাই কিংবা গরুর বাছুর বা মেষশাবক অবশিষ্ট রাখবে না যতক্ষণ না তোমরা ধ্বংস হও।
DEU 28:52 তারা তোমাদের নগরগুলি ঘিরে রাখবে আর শেষ পর্যন্ত তোমাদের উঁচু প্রাচীরগুলি ভেঙে পড়বে যার উপর তোমরা এত ভরসা করছ। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশ তোমাদের দিতে যাচ্ছেন সেই দেশের সমস্ত নগর তারা ঘেরাও করে রাখবে।
DEU 28:53 শত্রুরা নগরগুলি ঘিরে রাখবার সময় এমন কষ্ট দেবে যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সন্তানদের খাবে, অর্থাৎ তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া ছেলেমেয়েদের মাংস খাবে।
DEU 28:54 এমনকি তোমাদের মধ্যে সব থেকে নম্র ও সংবেদনশীল লোকেরও তার নিজের ভাই কিংবা স্ত্রী যাকে সে ভালোবাসে কিংবা তার জীবিত সন্তানদের প্রতি কোনও দয়ামায়া থাকবে না,
DEU 28:55 আর সে যে সন্তানের মাংস খাবে তার একটুও সে অন্যদের দেবে না। শত্রুরা যখন তোমাদের নগর ঘেরাও করে রেখে তোমাদের কষ্ট দেবে তখন এছাড়া আর কোনও খাবারই তার কাছে থাকবে না।
DEU 28:56 তোমাদের মধ্যে সব থেকে নম্র ও সংবেদনশীল স্ত্রীলোক—সংবেদনশীল ও নম্র যারা নিজের পা মাটিতে ফেলতে চাইবে না—সেও তার প্রিয় স্বামী ও তার ছেলেমেয়েদের প্রতি রুষ্ট হবে যে
DEU 28:57 তার গর্ভের ফল এবং যাদের সে জন্ম দিয়েছে। কারণ তার ভীষণ প্রয়োজনে সে গোপনে তাদের খাবে যেহেতু শত্রুরা তোমাদের নগর ঘিরে রেখে তোমাদের কষ্টের মধ্যে ফেলবে।
DEU 28:58 এই পুস্তকে যে সমস্ত বিধানের কথা লেখা আছে, সেগুলি যদি যত্নের সঙ্গে পালন না করো, এবং—তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর—গৌরবময় ও চমৎকার নামকে সম্মান ও ভয় না করো
DEU 28:59 সদাপ্রভু তোমাদের ও তোমাদের বংশধরদের প্রতি ভয়ানক মহামারি, কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ এবং গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা পাঠাবেন।
DEU 28:60 মিশরে যে সমস্ত অসুখ দেখে তোমরা ভয় পেতে সেগুলি তিনি তোমাদের মধ্যে দেবেন এবং সেগুলি তোমাদের আঁকড়ে থাকবে।
DEU 28:61 এই বিধানপুস্তকে লেখা নেই এমন সব রোগ ও আঘাত তোমরা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সদাপ্রভু তোমাদের উপরে আনবেন।
DEU 28:62 তোমাদের লোকসংখ্যা আকাশের তারার মতো হলেও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি অবাধ্যতার দরুন তোমরা তখন মাত্র অল্প কয়েকজনই বেঁচে থাকবে।
DEU 28:63 যে আনন্দে সদাপ্রভু তোমাদের মঙ্গল করেছেন এবং তোমাদের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস করে আনন্দ পাবেন। যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেখান থেকে তোমরা নির্মূল হবে।
DEU 28:64 তারপর সদাপ্রভু তোমাদের সমস্ত জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সেখানে তোমরা অন্যান্য দেবতাদের উপাসনা করবে—কাঠ এবং পাথরের তৈরি দেবতা, যাদের তোমরা কিংবা তোমাদের পূর্বপুরুষেরা জানতে না।
DEU 28:65 সেই জাতিদের মধ্যে তোমরা শান্তি পাবে না, আর তোমাদের পায়ের গোড়ালি রাখার কোনও জায়গা থাকবে না। সেখানে সদাপ্রভু তোমাদের মনে দুশ্চিন্তা, আশা করে চেয়ে থাকা চোখ এবং এক হতাশার হৃদয় দেবেন।
DEU 28:66 তোমরা নিয়মিত উদ্বেগে থাকবে, দিন এবং রাত উভয় সময়ই ভয় পাবে, তোমাদের জীবন নিয়ে কখনও নিশ্চিত হবে না।
DEU 28:67 সকালে তোমরা বলবে, “যদি এখন সন্ধ্যা হত!” এবং সন্ধ্যায় বলবে, “যদি এখন সকাল হত!” কারণ আতঙ্কে তোমাদের মন ভরে থাকবে এবং তোমরা যে দৃশ্য স্বচক্ষে দেখবে।
DEU 28:68 মিশরে যাওয়ার সম্বন্ধে আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, সেই পথে আর তোমাদের যেতে হবে না, কিন্তু সদাপ্রভু জাহাজে করে তোমাদের মিশরে ফেরত পাঠাবেন। সেখানে তোমরা তোমাদের শত্রুদের কাছে নিজেদের দাস এবং দাসী হিসেবে বিক্রি করতে চাইবে, কিন্তু কেউ তোমাদের কিনবে না।
DEU 29:1 সদাপ্রভু হোরেব পাহাড়ে যে বিধান দিয়েছিলেন তার অতিরিক্ত বিধানের এসব নিয়মাবলি তিনি মোয়াব দেশে ইস্রায়েলীদের কাছে মোশিকে দিতে আদেশ দিয়েছিলেন।
DEU 29:2 মোশি সব ইস্রায়েলীকে ডেকে বললেন: সদাপ্রভু মিশরে ফরৌণ ও তাঁর সমস্ত কর্মচারী এবং সম্পূর্ণ দেশের প্রতি যা করেছিলেন তা তোমরা নিজেরাই দেখেছ।
DEU 29:3 তোমরা নিজের চোখে সেই সমস্ত মহাপরীক্ষা, চিহ্ন এবং মহা আশ্চর্য লক্ষণ দেখেছ।
DEU 29:4 কিন্তু আজ পর্যন্ত সদাপ্রভু সেই মন যে বুঝতে পারে কিংবা চোখ যে দেখতে পায় কিংবা কান যে শুনতে পায় তা তোমাদের দেননি।
DEU 29:5 তবুও সদাপ্রভু বলেন, “আমি চল্লিশ বছর তোমাদের প্রান্তরের মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়েছি, তোমাদের কাপড় ছেঁড়েনি কিংবা তোমাদের পায়ের চটি নষ্ট হয়নি।
DEU 29:6 তোমরা কোনও রুটি খাওনি এবং কোনও দ্রাক্ষারস কিংবা কোনও গাঁজানো পানীয় পান করোনি। আমি এরকম করেছিলাম যেন তোমরা জানতে পারো যে আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।”
DEU 29:7 তোমরা এই জায়গায় পৌঁছানোর পর, হিষ্‌বোনের রাজা সীহোন ও বাশনের রাজা ওগ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবার জন্য বের হয়ে এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদের হারিয়ে দিয়েছি।
DEU 29:8 আমরা তাদের দেশ নিয়ে অধিকারের জন্য তা রূবেণীয়, গাদীয় এবং মনঃশি গোষ্ঠীর অর্ধেক লোককে দিয়েছি।
DEU 29:9 তোমরা এই বিধানের নিয়মাবলি যত্নের সঙ্গে পালন কোরো, যেন তোমরা যা কিছু করো তাতেই উন্নতি করতে পারো।
DEU 29:10 তোমরা সবাই এখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছ—তোমাদের নেতারা ও প্রধান লোকেরা, তোমাদের প্রবীণ নেতারা ও কর্মকর্তারা, এবং ইস্রায়েলের সব লোকজন,
DEU 29:11 তাদের সঙ্গে তোমাদের সন্তানেরা ও তোমাদের স্ত্রীরা, এবং বিদেশিরা যারা তোমাদের ছাউনিতে বসবাস করে তোমাদের জন্য কাঠ কাটে ও জল তোলে।
DEU 29:12 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের জন্য আজ নিশ্চয়তার শপথ করে যে বিধান স্থাপন করেছেন সেই শপথ ও বিধান মেনে নেবার জন্য তোমরা এখানে এসে দাঁড়িয়েছ,
DEU 29:13 যেন তিনি আজ তোমাদের নিজের প্রজারূপে স্থাপন করেন, যেন তিনি তোমাদের ঈশ্বর হন যেমন তিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের কাছে প্রতিজ্ঞা করে শপথ করেছিলেন।
DEU 29:14 আমি এই নিয়ম স্থাপন ও তার সঙ্গে শপথ করছি, কেবল তোমাদের সঙ্গে নয়
DEU 29:15 যারা এখানে আমাদের সঙ্গে আজ দাঁড়িয়ে আছ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে কিন্তু যারা আজ এখানে নেই তাদের জন্যও করছি।
DEU 29:16 তোমরা নিজেরা জানো আমরা মিশরে কীভাবে বসবাস করেছি এবং এখানে আমরা কেমন করে বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে এসেছি।
DEU 29:17 কাঠ, পাথর, রুপো ও সোনার তৈরি ঘৃণ্য মূর্তি এবং প্রতিমা তোমরা তাদের মধ্যে দেখেছ।
DEU 29:18 সেই জাতিগুলির দেবতাদের সেবা করবার জন্য আজ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ফেলে এমন কোনও পুরুষ বা স্ত্রীলোক, কোনও বংশ বা গোষ্ঠী তোমাদের মধ্যে যেন না থাকে; কোনও তীব্র বিষাক্ত মূল যেন তোমাদের মধ্যে না থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে।
DEU 29:19 যখন কোনও ব্যক্তি এই শপথ করা কথাগুলি শোনার সময় নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করে এবং মনে মনে ভাবে, “নিজের ইচ্ছামতো চলতে থাকলেও আমি নিরাপদে থাকব,” তারা উর্বর জমি এমনকি শুষ্ক জমির উপর বিপর্যয় নিয়ে আসবে।
DEU 29:20 সদাপ্রভু কখনও তাদের ক্ষমা করতে রাজি হবেন না; তাদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্রোধ এবং অন্তর ঈর্ষায় জ্বলে উঠবে। এই পুস্তকে যেসব অভিশাপের কথা লেখা আছে তা সবই তাদের উপরে পড়বে, এবং সদাপ্রভু পৃথিবী থেকে তাদের নাম মুছে ফেলবেন।
DEU 29:21 বিধানপুস্তকে লেখা নিয়মের সমস্ত অভিশাপ অনুসারে সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্য থেকে অমঙ্গলের জন্য তাদেরই পৃথক করবেন।
DEU 29:22 সেই দেশের উপরে সদাপ্রভু যেসব বিপর্যয় ও রোগ পাঠিয়ে দেবেন তা তোমাদের বংশধরেরা আর দূরদেশ থেকে আসা বিদেশিরা দেখবে।
DEU 29:23 সমগ্র দেশটি নুন আর গন্ধকে পুড়ে পড়ে থাকবে—তাতে কোনও গাছ লাগানো যাবে না, কোনও বীজ অঙ্কুরিত হবে না, কোনও গাছপালা জন্মাবে না। এই দেশের অবস্থা হবে সদোম, ঘমোরা, অদ্‌মা ও সবোয়িমের মতো, যেগুলি সদাপ্রভু তাঁর ভয়ংকর ক্রোধে জ্বলে উঠে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
DEU 29:24 সমস্ত জাতি জিজ্ঞাসা করবে “সদাপ্রভু কেন এই দেশটির এই দশা করেছেন? কেন তাঁর এই ভয়ংকর জ্বলন্ত ক্রোধ?”
DEU 29:25 আর তার উত্তর হবে “কারণ এই জাতি তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম ত্যাগ করেছে, যে নিয়ম মিশর দেশ থেকে তাদের বের করে আনবার পর তিনি তাদের জন্য স্থাপন করেছিলেন।
DEU 29:26 তারা গিয়ে অন্য দেবতাদের সেবা করেছে এবং তাদের সামনে মাথা নত করেছে, যে দেবতাদের তারা জানত না, যাদের সদাপ্রভু তাদের দেননি।
DEU 29:27 সেইজন্য সদাপ্রভুর ক্রোধ এই দেশের প্রতি জ্বলে উঠেছিল, আর তিনি এই পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ ঢেলে দিয়েছিলেন।
DEU 29:28 ভীষণ ক্রোধে এবং ভয়ংকর জ্বলন্ত ক্রোধে সদাপ্রভু তাদের নিজেদের দেশ থেকে উপড়ে নিয়ে তাদের অন্য দেশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন, আর আজও তারা সেখানে আছে।”
DEU 29:29 গোপন সবকিছু আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অধিকার, কিন্তু প্রকাশিত সবকিছু চিরকালের জন্য আমাদের ও আমাদের সন্তানদের অধিকার, যেন এই বিধানের সব কথা আমরা পালন করতে পারি।
DEU 30:1 আমি তোমাদের সামনে যে আশীর্বাদ ও অভিশাপগুলি তুলে ধরলাম তার সমস্ত কথা যখন তোমাদের উপরে ফলবে আর তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেসব জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন তাদের মধ্যে বসবাস করবার সময় এসব কথায় তোমরা মন দেবে,
DEU 30:2 সেই সময় তোমরা ও তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আসবে এবং সমস্ত হৃদয় ও সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁর বাধ্য হবে আর আমি আজ তোমাদের যেসব আদেশ দিচ্ছি তা পালন করবে,
DEU 30:3 তাহলে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ধন ফিরিয়ে দেবেন। তিনি তোমাদের প্রতি করুণা করবেন এবং যেসব জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন তাদের মধ্য থেকে তিনি আবার তোমাদের সংগ্রহ করবেন।
DEU 30:4 পৃথিবীর শেষ সীমানায়ও যদি তোমাদের দূর করে দেওয়া হয় সেখান থেকেও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সংগ্রহ করবেন।
DEU 30:5 তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেশেই তিনি তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন আর তোমরা তা আবার অধিকার করবে। তিনি তোমাদের আরও সমৃদ্ধিশালী করবেন ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের থেকেও তোমাদের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করবেন।
DEU 30:6 তোমরা যাতে তোমাদের সমস্ত মন ও তোমাদের সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁকে ভালোবেসে বেঁচে থাকো সেইজন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের ও তোমাদের বংশধরদের হৃদয়ের সুন্নত করবেন।
DEU 30:7 এসব অভিশাপ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের শত্রুদের উপর আনবেন যারা তোমাদের ঘৃণা ও অত্যাচার করবে।
DEU 30:8 তখন তোমরা আবার সদাপ্রভুর বাধ্য হয়ে চলবে আর তাঁর যেসব আদেশ আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তা মেনে চলবে।
DEU 30:9 তখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের হাতের সব কাজে, গর্ভের ফলে, পশুধনের ফলে এবং ক্ষেতের ফসলে আশীর্বাদ করবেন। তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি তাঁর যে আনন্দ ছিল, তোমাদের উপরে আবার তাঁর সেই আনন্দ হবে এবং তিনি তোমাদের সমৃদ্ধিশালী করবেন,
DEU 30:10 যদি তোমরা এই বিধানপুস্তকে লেখা তাঁর সব আজ্ঞা ও অনুশাসন পালন করে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হও, আর তোমাদের সমস্ত মন ও তোমাদের সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁর প্রতি ফের।
DEU 30:11 আজ আমি তোমাদের যে আদেশ দিচ্ছি তা পালন করা তোমাদের পক্ষে তেমন শক্ত নয় কিংবা তোমাদের নাগালের বাইরেও নয়।
DEU 30:12 তা স্বর্গে নয়, যে তোমাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, “কে স্বর্গে গিয়ে তা এনে আমাদের শোনাবে যাতে আমরা তা পালন করতে পারি?”
DEU 30:13 এটি সমুদ্রের ওপাড়েও নয়, যে তোমাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, “কে সমুদ্র পার হয়ে গিয়ে তা এনে আমাদের শোনাবে যাতে আমরা তা পালন করতে পারি?”
DEU 30:14 না, সেই বাক্য তোমাদের খুব কাছেই আছে; তা তোমাদের মুখে ও তোমাদের হৃদয়ে রয়েছে, যেন তোমরা তা পালন করতে পারো।
DEU 30:15 দেখো, আজ আমি তোমাদের সামনে জীবন ও সমৃদ্ধি, মৃত্যু ও বিনাশ রাখলাম।
DEU 30:16 এজন্য আজ আমি তোমাদের এই আদেশ দিচ্ছি যে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসো, তাঁর পথে বাধ্য হয়ে চলো, এবং তাঁর আজ্ঞা, অনুশাসন ও বিধান পালন করো; তাহলে তোমরা বাঁচবে ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে, এবং যে দেশ তোমরা অধিকার করতে যাচ্ছ যেখানে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করবেন।
DEU 30:17 কিন্তু তোমাদের হৃদয় যদি তাঁর কাছ থেকে সরে যায় এবং তোমরা তাঁর বাধ্য না হও, আর যদি তোমরা অন্য দেবতাদের কাছে গিয়ে তাদের প্রণাম করো এবং সেবা করো,
DEU 30:18 তবে আজ আমি তোমাদের বলে দিচ্ছি যে, তোমরা নিশ্চয়ই ধ্বংস হবে। জর্ডন নদী পার হয়ে যে দেশ তোমরা অধিকার করতে যাচ্ছ সেখানে তোমরা বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারবে না।
DEU 30:19 তোমাদের বিরুদ্ধে মহাকাশ ও পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে আমি আজ বলছি যে, আমি তোমাদের সামনে জীবন ও মৃত্যু, আশীর্বাদ ও অভিশাপ রাখছি। এখন জীবন বেছে নাও, যেন তোমরা ও তোমাদের সন্তানেরা বেঁচে থাকো
DEU 30:20 এবং যেন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসো, তাঁর রব শোনো, আর তাঁতে আসক্ত হও। কেননা সদাপ্রভুই তোমাদের জীবন, এবং তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে যে দেশ দেবেন বলে শপথ করেছিলেন সেখানে তোমরা বহু বছর বসবাস করতে পারো।
DEU 31:1 পরে মোশি বাইরে গিয়ে সমস্ত ইস্রায়েলীর সামনে এই কথা বললেন
DEU 31:2 “আমার বয়স এখন 120 বছর, এবং আমি আর তোমাদের পরিচালনা করতে পারছি না। সদাপ্রভু আমাকে বলেছেন, ‘তুমি জর্ডন পার হতে পারবে না।’
DEU 31:3 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু নিজেই নদী পার হয়ে তোমাদের আগে আগে যাবেন। তোমাদের সামনে তিনি এই জাতিদের ধ্বংস করবেন, এবং তোমরা তাদের দেশ অধিকার করবে। সদাপ্রভুর কথা অনুসারে যিহোশূয়ই নদী পার হয়ে তোমাদের আগে আগে যাবে।
DEU 31:4 ইমোরীয়দের রাজা সীহোন এবং ওগ আর তাদের দেশ যেমন সদাপ্রভু ধ্বংস করে দিয়েছিলেন তেমনি তিনি সেইসব জাতিকেও ধ্বংস করবেন।
DEU 31:5 তাদের তিনি তোমাদের হাতে তুলে দেবেন, আর আমি তাদের প্রতি যা করবার আদেশ দিয়েছি তোমরা তাদের প্রতি তাই করবে।
DEU 31:6 তোমরা বলবান হও ও সাহস করো। তাদের তোমরা ভয় পেয়ো না কিংবা আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সঙ্গে যাবেন; তিনি কখনও তোমাদের ছেড়ে যাবেন না বা ত্যাগ করবেন না।”
DEU 31:7 এরপর মোশি যিহোশূয়কে ডাকলেন এবং সমস্ত ইস্রায়েলীর সামনে তাঁকে বললেন, “বলবান হও ও সাহস করো, কারণ তোমাকেই এই লোকদের সঙ্গে সেই দেশে যেতে হবে যে দেশটি এদের দেবার শপথ সদাপ্রভু এদের পূর্বপুরুষদের কাছে করেছিলেন। তোমাকেই সেই দেশটি সম্পত্তি হিসেবে এদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।
DEU 31:8 সদাপ্রভু নিজেই তোমার আগে আগে যাবেন এবং তোমার সঙ্গে থাকবেন; তিনি কখনও তোমাকে ছেড়ে যাবেন না বা ত্যাগ করবেন না। তুমি ভয় পেয়ো না; নিরাশ হোয়ো না।”
DEU 31:9 পরে মোশি এই বিধান লিখলেন এবং লেবি গোষ্ঠীর যাজকদের, যারা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বয়ে নিয়ে যেতেন, তাদের ও ইস্রায়েলের সমস্ত প্রবীণ নেতাদের হাতে দিলেন।
DEU 31:10 তারপর মোশি আদেশ দিলেন: “প্রত্যেক সপ্তম বছরের শেষে, ঋণ মকুবের বছরে, কুটিরবাস-পর্বের সময়,
DEU 31:11 যখন সমস্ত ইস্রায়েলী তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাঁর বেছে নেওয়া জায়গায় যাবে তখন তোমরা এই বিধান সকলের সামনে পাঠ করবে যেন সবাই শুনতে পায়।
DEU 31:12 লোকদের একত্র করো—পুরুষ, স্ত্রীলোক ও ছেলেমেয়ে এবং তোমাদের নগরে বসবাসকারী বিদেশিদের—যেন তারা শোনে এবং শিক্ষাগ্রহণ করে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় পায় এবং এই বিধানের সমস্ত কথা যত্নের সঙ্গে পালন করে।
DEU 31:13 তাদের ছেলেমেয়েরা, যারা এই বিধান জানে না, তাদের শুনতে হবে এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করতে শিখতে হবে যতদিন তোমরা সেই দেশে বসবাস করবে যে দেশ জর্ডন পার হয়ে অধিকার করবে।”
DEU 31:14 সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার মৃত্যুর দিন কাছে এসে গেছে। যিহোশূয়কে ডেকে নিয়ে তুমি সমাগম তাঁবুতে উপস্থিত হও, সেখানে আমি তাকে নিয়োগ করব।” তাতে মোশি ও যিহোশূয় সমাগম তাঁবুতে উপস্থিত হলেন।
DEU 31:15 তখন সদাপ্রভু মেঘস্তম্ভের মধ্যে সেই তাঁবুতে উপস্থিত হলেন এবং সেই স্তম্ভ তাঁবুর দরজার উপরে দাঁড়াল।
DEU 31:16 আর সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে বিশ্রাম করতে যাবে, কিন্তু যে দেশে এই লোকেরা ঢুকতে যাচ্ছে সেখানে খুব তাড়াতাড়ি তারা বিজাতীয় দেবতাদের কাছে নিজেদের বিক্রি করবে। তারা আমাকে ত্যাগ করবে এবং আমি তাদের জন্য যে নিয়ম স্থাপন করেছি তা ভেঙে ফেলবে।
DEU 31:17 আর সেদিন ক্রোধে আমি তাদের ত্যাগ করব; আমি তাদের কাছ থেকে আমার মুখ ফিরিয়ে নেব আর তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের উপরে অনেক বিপর্যয় ও দুঃখকষ্ট নেমে আসবে আর সেদিন তারা জিজ্ঞাসা করবে, ‘আমাদের ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে নেই বলেই কি এই বিপর্যয় আমাদের উপরে এসেছে?’
DEU 31:18 তারা অন্য দেবতাদের দিকে ফিরে যেসব মন্দ কাজ করবে সেইজন্য আমি নিশ্চয়ই সেদিন আমার মুখ ফিরিয়ে নেব।
DEU 31:19 “এখন তোমরা এই গানটি লিখে নাও আর ইস্রায়েলীদের শেখাবে এবং তাদের দিয়ে গাওয়াবে, যেন তাদের বিরুদ্ধে এটি আমার পক্ষে এক সাক্ষী হয়ে থাকে।
DEU 31:20 তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আমার শপথ করা সেই দুধ আর মধু প্রবাহী দেশে যখন আমি তাদের নিয়ে যাব আর যখন তারা পেট পুরে খেয়ে সুখে থাকবে তখন তারা আমাকে তুচ্ছ করে আমার বিধান ভেঙে অন্য দেবতাদের দিকে ফিরে তাদের সেবা করবে।
DEU 31:21 আর যখন অনেক বিপর্যয় ও দুঃখকষ্ট তাদের উপরে নেমে আসবে, এই গান তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে, কেননা তাদের বংশধরেরা গানটি ভুলে যাবে না। আমার শপথ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করা দেশে নিয়ে যাওয়ার আগেই আমি জানি যে, তারা কী করতে যাচ্ছে।”
DEU 31:22 সুতরাং মোশি সেদিন গানটি লিখে ইস্রায়েলীদের শিখিয়েছিলেন।
DEU 31:23 নূনের ছেলে যিহোশূয়কে সদাপ্রভু এই আদেশ দিলেন: “বলবান হও ও সাহস করো, কারণ যে দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা আমি শপথ করে ইস্রায়েলীদের কাছে করেছিলাম সেখানে তুমিই তাদের নিয়ে যাবে, এবং আমি নিজেই তোমার সঙ্গে থাকব।”
DEU 31:24 মোশি এই বিধানের সব কথা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটি পুস্তকে লেখা শেষ করার পর
DEU 31:25 তিনি সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী লেবীয়দের এই আদেশ দিলেন:
DEU 31:26 “তোমরা এই বিধানপুস্তক নিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের পাশে রাখো। এটি সেখানে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে থাকবে।
DEU 31:27 কেননা তোমরা কেমন বিদ্রোহী ও একগুঁয়ে তা আমি জানি। আমি তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকতেই যখন তোমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ, তখন আমি মারা যাওয়ার পরে আরও কত বেশি করেই না বিদ্রোহী হবে।
DEU 31:28 তোমরা তোমাদের গোষ্ঠীর প্রবীণ নেতাদের ও কর্মকর্তাদের আমার সামনে একত্র করো, যেন আমি তাদের শুনবার জন্য এসব কথা বলি এবং তাদের বিরুদ্ধে মহাকাশ ও পৃথিবীকে সাক্ষী করি।
DEU 31:29 কেননা আমি জানি যে, আমার মৃত্যুর পরে তোমরা একেবারেই মন্দ হয়ে যাবে এবং যে পথে আমি তোমাদের চলবার নির্দেশ দিয়েছি তোমরা তা থেকে সরে যাবে। ভবিষ্যতে তোমাদের উপরে বিপর্যয় নেমে আসবে কারণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ তাই তোমরা করবে এবং তোমাদের নিজের হাতের কাজ দিয়ে তোমরা তাঁকে অসন্তুষ্ট করে তুলবে।”
DEU 31:30 তারপর সমস্ত ইস্রায়েলী যারা সমবেত হয়েছিল মোশি তাদের এই গানের কথাগুলি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শোনালেন:
DEU 32:1 হে আকাশমণ্ডল, শোনো, আর আমি কথা বলব; হে পৃথিবী, আমার মুখের কথা শোনো।
DEU 32:2 আমার শিক্ষা বৃষ্টির মতো করে ঝরে পড়ুক আর আমার কথা শিশিরের মতো করে নেমে আসুক, নতুন ঘাসের উপর পড়া বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির মতো, কোমল চারাগাছের উপর পড়ুক ভারী বৃষ্টির মতো।
DEU 32:3 আমি সদাপ্রভুর নাম ঘোষণা করব, তোমরা আমাদের ঈশ্বরের মহিমাকীর্তন করো!
DEU 32:4 তিনিই শৈল, তাঁর কাজ নিখুঁত, আর তাঁর সমস্ত পথ ন্যায্য। একজন বিশ্বস্ত ঈশ্বর যিনি কোনও অন্যায় করেন না, তিনি ন্যায়পরায়ণ ও সঠিক।
DEU 32:5 তারা অসৎ এবং তাঁর সন্তান নয়; তাদের লজ্জা হল তারা পক্ষপাতদুষ্ট এবং কুটিল বংশ।
DEU 32:6 এই কি তোমাদের সদাপ্রভুর ঋণ পরিশোধ করার পদ্ধতি, হে মূর্খ এবং অবিবেচক লোকসকল? তিনি কি তোমার বাবা, সৃষ্টিকর্তা নন, যিনি তোমাকে নির্মাণ ও গঠন করেছেন?
DEU 32:7 পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করো; বহুকাল আগের পূর্বপুরুষদের কথা বিবেচনা করো। তোমার বাবাকে জিজ্ঞাসা করো আর তিনি তোমাকে বলবেন, তোমার প্রবীণ নেতাদের করো, তারা তোমাকে বুঝিয়ে দেবেন।
DEU 32:8 পরাৎপর যখন জাতিদের উত্তরাধিকার দিলেন, যখন তিনি সমস্ত মানুষকে তা ভাগ করে দিলেন, তিনি লোকদের জন্য সীমানা ঠিক করে দিলেন ইস্রায়েলের ছেলেদের সংখ্যা অনুসারে।
DEU 32:9 কেননা সদাপ্রভুর প্রাপ্য ভাগই হল তাঁর লোকেরা, যাকোবই তাঁর বরাদ্দ উত্তরাধিকার।
DEU 32:10 তিনি তাকে এক মরুএলাকায় পেলেন, অনুর্বর এবং গর্জন ভরা স্থানে। তিনি তাকে ঘিরে রাখলেন ও তার যত্ন নিলেন; তিনি তাকে চোখের মণির মতো পাহারা দিলেন,
DEU 32:11 ঈগল যেমন তার বাসাকে জাগায় আর তার বাচ্চাদের উপর ওড়ে, যে তার ডানা মেলে তাদের ধরে এবং তাদের উপরে তুলে নেয়।
DEU 32:12 সদাপ্রভু একাই তাকে চালিয়ে নিয়ে আসলেন; কোনও বিজাতীয় দেবতা তার সঙ্গে ছিল না।
DEU 32:13 তিনি দেশের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে তাকে নিয়ে গেলেন এবং তাকে ক্ষেতের ফসল খেতে দিলেন। তিনি পাহাড়ের ফাটল থেকে মধু দিয়ে তাকে পুষ্ট করলেন, এবং পাথুরে পাহাড় থেকে তেল দিয়ে,
DEU 32:14 পশুপাল থেকে দই ও দুধ দিয়ে এবং স্বাস্থ্যবান মেষ ও ছাগল দিয়ে, বাশনের বাছাই করা মেষ দিয়ে এবং পরিপুষ্ট গম দিয়ে। তোমরা গেঁজে ওঠা আঙুরের রস পান করলে।
DEU 32:15 যিশুরূণ হৃষ্টপুষ্ট হয়ে লাথি মারল; অতিরিক্ত খেয়ে, তারা ভারী ও চকচকে হয়ে। যে ঈশ্বর তাদের নির্মাণ করেছেন তাঁকে পরিত্যাগ করেছে এবং তাদের পরিত্রাতা সেই শৈলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
DEU 32:16 তাদের বিজাতীয় দেবতাদের দরুন তাঁকে ঈর্ষান্বিত করেছ এবং তাদের ঘৃণ্য মূর্তি দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট করেছ।
DEU 32:17 তারা মিথ্যা দেবতাদের কাছে বলিদান করেছে, যারা ঈশ্বর নয়, যে দেবতাদের তারা জানত না, যে দেবতারা কিছুদিন আগে সম্প্রতি হাজির হয়েছে, যে দেবতাদের তোমাদের পূর্বপুরুষেরা ভয় করত না।
DEU 32:18 তোমরা সেই শৈল, যিনি তোমাদের বাবা তাঁকে পরিত্যাগ করেছ; তোমরা সেই ঈশ্বরকে ভুলে গিয়েছ যিনি তোমাদের জন্ম দিয়েছেন।
DEU 32:19 তা দেখে সদাপ্রভু তাদের অগ্রাহ্য করেছেন কারণ তিনি তাঁর ছেলে ও তাঁর মেয়েদের দ্বারা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
DEU 32:20 তিনি বললেন, “আমি তাদের থেকে আমার মুখ লুকাব, এবং তাদের শেষ দশা কী হয় তা দেখব; কেননা তারা এক বিপথগামী বংশ, সন্তানেরা যারা অবিশ্বস্ত।
DEU 32:21 যারা ঈশ্বর নয় তাদের দ্বারা আমাকে ঈর্ষান্বিত করেছে এবং তাদের মূল্যহীন মূর্তি দ্বারা আমার ক্রোধ জাগিয়েছে। যারা প্রজা নয় তাদের দ্বারা আমি তাদের পরশ্রীকাতর করব; যে জাতি কিছু বোঝে না তাদের দ্বারা আমি তাদের অসন্তুষ্ট করব।
DEU 32:22 কেননা আমার ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠবে, যা পাতাল পর্যন্ত পুড়িয়ে দেবে। যা পৃথিবী ও তার ফসল গ্রাস করবে এবং পাহাড়ের ভিতে আগুন জ্বালাবে।
DEU 32:23 “আমি তাদের উপরে বিপর্যয় স্তূপাকার করব এবং তাদের উপরে আমার সব তির ছুঁড়ব।
DEU 32:24 আমি তাদের বিরুদ্ধে দেহ ক্ষয় করা দুর্ভিক্ষ আনব, ধ্বংসকারী মহামারি ও কষ্ট ভরা রোগ পাঠিয়ে দেব; আমি তাদের বিরুদ্ধে বন্য দাঁতাল পশুদের আর বুকে ভর দিয়ে চলা বিষাক্ত সাপ পাঠাব।
DEU 32:25 রাস্তায় তরোয়াল দ্বারা তারা সন্তানহীন হবে; বাড়ির ভিতরে ভয়ের রাজত্ব চলবে। তাদের যুবক ও যুবতীরা, শিশুরা ও বৃদ্ধরা ধ্বংস হবে।
DEU 32:26 আমি বলেছিলাম আমি তাদের ছড়িয়ে দেব এবং মানুষের স্মৃতি থেকে তাদের নাম মুছে দেব,
DEU 32:27 কিন্তু আমি শত্রুদের বিদ্রুপ ভয় করেছিলাম, পাছে বিপক্ষেরা ভুল বোঝে আর বলে, ‘আমাদের শক্তি জয় করেছে; সদাপ্রভু এই সমস্ত করেননি।’ ”
DEU 32:28 তারা এক বোধশক্তিহীন জাতি, তাদের মধ্যে কোনও সূক্ষ্ম বুদ্ধি নেই।
DEU 32:29 তারা যদি জ্ঞানী হত ও এটি বুঝতে পারত আর উপলব্ধি করত যে তাদের শেষ পরিণতি কী হবে!
DEU 32:30 একজন লোক কেমন করে হাজার জনকে তাড়াবে, কিংবা দুজনকে দেখে দশ হাজার পালাবে, যদি তাদের শৈল তাদের বিক্রি না করেন, যদি সদাপ্রভু তাদের তুলে না দেন?
DEU 32:31 কেননা তাদের শৈল আমাদের শৈলের মতো নয়, যা আমাদের শত্রুও স্বীকার করে।
DEU 32:32 তাদের দ্রাক্ষালতা সদোমের দ্রাক্ষালতা থেকে এবং ঘমোরার ক্ষেত থেকে এসেছে। তাদের আঙুর বিষে ভরা, এবং তাদের আঙুরের গোছা তেতো।
DEU 32:33 তাদের দ্রাক্ষারস হল সাপের বিষ, কেউটের ভয়ংকর বিষ।
DEU 32:34 “আমি কি এটি সঞ্চয় করে রাখিনি এবং আমার ভাণ্ডার ঘরে সিলমোহর দিইনি?
DEU 32:35 প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ; আমি প্রতিফল দেব। সময় হলেই তাদের পা পিছলে যাবে; তাদের বিপর্যয়ের দিন নিকটবর্তী তাদের জন্য যা নিরূপিত তা তাড়াতাড়ি আসবে।”
DEU 32:36 সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের বিচার করবেন এবং তাঁর দাসদের প্রতি সদয় হবেন যখন তিনি দেখবেন যে তাদের শক্তি চলে গিয়েছে এবং দাস অথবা মুক্ত, কেউ বাকি নেই।
DEU 32:37 তিনি বলবেন: “তাদের দেবতারা এখন কোথায়, সেই শৈল কোথায় যার কাছে তারা আশ্রয় নিয়েছিল,
DEU 32:38 সেই দেবতারা যারা তাদের বলির মেদ খেয়েছিল এবং তাদের পেয়-নৈবেদ্যের দ্রাক্ষারস পান করেছিল? তারা উঠে তোমাদের সাহায্য করুক! তারা তোমাদের আশ্রয় দিক!
DEU 32:39 “এখন দেখো, আমি, আমিই তিনি! আমি ছাড়া আর কোনও ঈশ্বর নেই। আমি মৃত্যু দিই এবং আমিই জীবন দিই, আমি আঘাত করেছি এবং আমিই সুস্থ করব, আমার হাত থেকে কেউ উদ্ধার করতে পারবে না।
DEU 32:40 আমি স্বর্গের দিকে আমার হাত তুলে শপথ করে বলছি: আর বলি, আমি অনন্তজীবী,
DEU 32:41 যখন আমি আমার ঝকঝকে তরোয়ালে শান দিই এবং বিচারের জন্য আমার হাতে তা ধরি, আমার শত্রুদের আমি শাস্তি দেব এবং যারা আমাকে ঘৃণা করে আমি তার প্রতিফল দেব।
DEU 32:42 নিহত আর বন্দিদের রক্ত খাইয়ে, আমার তিরগুলিকে মাতাল করে তুলব, আমার তরোয়াল মাংস খাবে, শত্রু সেনাদের মাথার মাংস খাবে।”
DEU 32:43 জাতিরা, তার লোকদের সঙ্গে আনন্দ করো, কেননা তিনি তাঁর দাসদের রক্তের প্রতিফল দেবেন; তাঁর শত্রুদের প্রতিশোধ নেবেন এবং নিজের দেশ ও লোকদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবেন।
DEU 32:44 মোশি নূনের ছেলে যিহোশূয়কে সঙ্গে নিয়ে এই গানের সব কথা লোকদের শোনালেন।
DEU 32:45 সমস্ত ইস্রায়েলীর কাছে মোশি যখন এসব কথা শেষ করলেন,
DEU 32:46 তিনি তাদের বললেন, “আমি আজ তোমাদের কাছে সাক্ষ্য হিসেবে যা কিছু বললাম, তোমরা সেই সমস্ত কথায় মনোযোগ দাও, আর তোমাদের সন্তানেরা যেন এই বিধানের সব কথা যত্নের সঙ্গে পালন করে এজন্য তাদের সেই আদেশ দাও।
DEU 32:47 এগুলি নিরর্থক কথা নয়—এগুলি তোমাদের জীবন। তোমরা যে দেশ অধিকার করতে জর্ডন পার হয়ে যাচ্ছ, সেই দেশে এই কথাগুলি পালন করে বহুদিন বাঁচবে।”
DEU 32:48 সেদিনই সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
DEU 32:49 “তুমি যিরীহোর উল্টোদিকে মোয়াব দেশের অবারীম পর্বতমালার মধ্যে নেবো পর্বতে গিয়ে ওঠো এবং অধিকার হিসেবে যে কনান দেশটি আমি ইস্রায়েলীদের দিচ্ছি তা একবার দেখে নাও।
DEU 32:50 তোমার দাদা হারোণ যেমন হোর পাহাড়ে মারা গিয়ে তার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে তেমনি করে তুমিও যে পাহাড়ে উঠবে সেখানে তুমি মারা যাবে এবং তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মিলিত হবে।
DEU 32:51 এর কারণ হল, সীন মরুভূমিতে কাদেশের মরীবার জলের কাছে ইস্রায়েলীদের সামনে তোমরা দুজনেই আমার প্রতি অবিশ্বস্ততার কাজ করেছিলে এবং ইস্রায়েলীদের সামনে আমাকে পবিত্র বলে মান্য করোনি।
DEU 32:52 সেইজন্য যে দেশটি আমি ইস্রায়েলীদের দিতে যাচ্ছি তা তুমি কেবল দূর থেকে দেখতে পাবে কিন্তু সেখানে তোমার ঢোকা হবে না।”
DEU 33:1 ঈশ্বরের লোক মোশি মৃত্যুর আগে ইস্রায়েলীদের এই বলে আশীর্বাদ করেছিলেন:
DEU 33:2 তিনি বলেছিলেন: “সদাপ্রভু সীনয় থেকে আসলেন তিনি সেয়ীর থেকে তাদের উপর আলো দিলেন; পারণ পাহাড় থেকে নিজের উজ্জ্বলতা প্রকাশ করলেন। অসংখ্য পবিত্রজনেদের কাছ থেকে আসলেন দক্ষিণ থেকে, তাঁর পাহাড়ের ঢাল থেকে।
DEU 33:3 সত্যিই তুমিই যে লোকদের ভালোবাসো; সকল পবিত্রজন তোমার হাতে। তোমার পায়ের নিচে তারা নত হয়, এবং তোমার কাছ থেকে নির্দেশ নেয়,
DEU 33:4 মোশি আমাদের যে বিধান দিয়েছিলেন, সেটি হল যাকোব গোষ্ঠীর ধন।
DEU 33:5 লোকদের নেতারা যখন একত্র হল, ইস্রায়েলের সমস্ত বংশের সাথে, তখন তিনি ছিলেন যিশুরূণের রাজা।
DEU 33:6 “রূবেণ যেন বেঁচে থাকে ও না মরে, তার লোকসংখ্যা যেন কম না হয়।”
DEU 33:7 এবং তিনি যিহূদার বিষয়ে এই কথা বলেছিলেন: “হে সদাপ্রভু, তুমি যিহূদার কান্না শোনো; তার লোকদের কাছে তাকে আনো। সে নিজের হাতে তার উদ্দেশ্য রক্ষা করে। শত্রুর বিরুদ্ধে তুমি তার সাহায্যকারী হও!”
DEU 33:8 লেবির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “তোমার তুম্মীম ও ঊরীম আছে তোমার বিশ্বস্ত দাসের কাছে। মঃসাতে তুমি তার পরীক্ষা করেছিলে; মরীবার জলের কাছে তুমি তার সঙ্গে ঝগড়া করেছিলে।
DEU 33:9 সে তার বাবা-মায়ের সম্বন্ধে বলেছিল, ‘তাদের প্রতি আমার কোনও সম্মান নেই।’ সে তার ভাইদের চিনতে পারেনি বা সে তার নিজের সন্তানদের স্বীকার করেনি, কিন্তু সে তোমার বাক্য পাহারা দিয়েছিল এবং তোমার নিয়ম রক্ষা করেছে।
DEU 33:10 তোমার আদেশ সে যাকোবকে এবং তোমার বিধান ইস্রায়েলকে শিক্ষা দেয়। সে তোমার সামনে ধূপ জ্বালায় এবং তোমার বেদির উপরে পূর্ণাহুতি রাখে।
DEU 33:11 সদাপ্রভু, তার সকল দক্ষতাতে আশীর্বাদ করো, এবং তার হাতের কাজে খুশি হও। যারা তার বিরুদ্ধে যাবে তাদের আঘাত করো, যেন তার শত্রুরা আর উঠতে না পারে।”
DEU 33:12 বিন্যামীনের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “সদাপ্রভু যাকে ভালোবাসেন সে নিরাপদে তাঁর কাছে থাকবে, তিনি সবসময় তাকে আড়ালে রাখেন, এবং সদাপ্রভু যাকে ভালোবাসেন তাঁরই কাঁধের উপরে তার স্থান।”
DEU 33:13 যোষেফের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, “সদাপ্রভু যেন তার দেশ আশীর্বাদ করেন আকাশের মহামূল্য শিশির দিয়ে এবং মাটির নিচের জল দিয়ে;
DEU 33:14 সূর্যের সেরা দান দিয়ে এবং চাঁদের সেরা ফসল দিয়ে;
DEU 33:15 পুরোনো পাহাড়ের সম্পদ দিয়ে এবং চিরকালীন পাহাড়ের উর্বরতা দিয়ে;
DEU 33:16 পৃথিবীর ভালো ভালো জিনিস দিয়ে আর জ্বলন্ত ঝোপে যিনি ছিলেন তাঁর দয়া দিয়ে। যোষেফের মাথায় এসব আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক, ভাইদের মধ্যে যে রাজকুমার তার মাথার তালুতে পড়ুক।
DEU 33:17 তার মহিমা প্রথমজাত ষাঁড়ের মতো; তার শিং বন্য ষাঁড়ের শিং। তা দিয়ে সে জাতিদের গুঁতাবে, এমনকি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। এরকমই হবে ইফ্রয়িমের লক্ষ লক্ষ লোক; এরকমই হবে মনঃশির হাজার হাজার লোক।”
DEU 33:18 সবূলূনের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “সবূলূন, তোমার নিজের বাইরে যাওয়াতে আনন্দ করো, আর তুমি, ইষাখর, নিজের তাঁবুতে আনন্দ করো।
DEU 33:19 তারা লোকদের পাহাড়ে ডাকবে আর সেখানে ধার্মিকতার বলি উৎসর্গ করবে; সমুদ্র থেকে তারা প্রচুর ধন তুলবে, আর বালি থেকে তুলে আনবে বালির তলার ধন।”
DEU 33:20 গাদের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “ধন্য তিনি, যিনি গাদের রাজ্যের সীমানা বাড়াবেন! গাদ সেখানে সিংহের মতো বসবাস করে, সে হাত ও মাথা ছিঁড়বে।
DEU 33:21 সে নিজের জন্য সব থেকে ভালো স্থান নিয়েছে; নেতার অংশ তার জন্য রাখা আছে। লোকদের প্রধানেরা যখন একত্র হয়, সে সদাপ্রভুর ধার্মিকতার ইচ্ছা পালন করেছে, এবং ইস্রায়েল সম্বন্ধে তার বিচার পালন করেছে।”
DEU 33:22 দানের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “দান সিংহশাবক, সে যেন বাশন থেকে লাফিয়ে আসে।
DEU 33:23 “নপ্তালির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: “নপ্তালি সদাপ্রভুর করুণায় তৃপ্ত আর তাঁর আশীর্বাদে পরিপূর্ণ; সে সমুদ্র ও দক্ষিণ অধিকার করবে।”
DEU 33:24 আশেরের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: আশের অন্যদের চেয়ে বেশি আশীর্বাদ পাবে; সে যেন ভাইদের কাছে প্রিয় হয়, তার পা-দুটি যেন তেলের মধ্যে ডুবে থাকে।
DEU 33:25 তোমার দ্বারের হুড়কাগুলি লোহা ও ব্রোঞ্জের হবে, এবং তোমার যেমন দিন তেমন শক্তি হবে।
DEU 33:26 “যিশুরূণের ঈশ্বরের মতো আর কেউ নেই, যিনি তোমাকে সাহায্য করার জন্য আকাশপথে চলেন, ও নিজের মহিমায় মেঘরথে চড়েন।
DEU 33:27 যিনি আদিকালের ঈশ্বর তিনিই তোমার আশ্রয়, এবং তার নিচে তাঁর অনন্তস্থায়ী হাত। তিনি তোমাদের সামনে তোমাদের শত্রুদের তাড়িয়ে দেবেন, আর বলবেন, ‘এদের ধ্বংস করো!’
DEU 33:28 তাই ইস্রায়েল নিরাপদে থাকবে; যাকোব বিপদ সীমার বাইরে বসবাস করবে শস্যের ও নতুন দ্রাক্ষারসের দেশে যেখানে আকাশ থেকে শিশির পড়বে।
DEU 33:29 হে ইস্রায়েল, তুমি ধন্য! তোমার মতো কে, যে জাতিকে সদাপ্রভু রক্ষা করেছেন? তিনি তোমার ঢাল ও সাহায্যকারী এবং তোমার গৌরবজনক তরোয়াল। তোমার শত্রুরা তোমার সামনে ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকবে, আর তুমি তাদের উচ্চস্থলী পদদলিত করবে।”
DEU 34:1 এরপর মোশি মোয়াবের সমতল থেকে যিরীহোর উল্টোদিকে পিস্‌গা পর্বতমালার মধ্যে নেবো পর্বতে উঠলেন। সেখান থেকে সদাপ্রভু তাঁকে সমগ্র দেশটি দেখালেন—গিলিয়দ থেকে দান পর্যন্ত,
DEU 34:2 নপ্তালির সমস্ত স্থান, ইফ্রয়িম ও মনঃশির দেশ, যিহূদার দেশ ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত,
DEU 34:3 নেগেভ এবং খেজুর নগর যিরীহোর তলভূমির সমস্ত অঞ্চল থেকে সোয়র পর্যন্ত।
DEU 34:4 তারপর সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “এই সেই দেশ যা আমি অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের কাছে শপথ করে বলেছিলাম, ‘দেশটি আমি তোমার বংশধরদের দেব।’ আমি সেটি তোমাকে নিজের চোখে দেখতে দিলাম, কিন্তু তুমি পার হয়ে সেই স্থানে যাবে না।”
DEU 34:5 তখন সদাপ্রভুর দাস মোশি মোয়াব দেশে মারা গেলেন, যেমন সদাপ্রভু বলেছিলেন।
DEU 34:6 মোয়াব দেশের বেথ-পিয়োরের সামনের উপত্যকাতে সদাপ্রভুই তাঁকে কবর দিলেন, কিন্তু তাঁর কবরটি যে কোথায় তা আজ পর্যন্ত কেউ জানে না।
DEU 34:7 মারা যাবার সময় মোশির বয়স হয়েছিল 120 বছর, তবুও তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়নি কিংবা তাঁর গায়ের জোরও কমে যায়নি।
DEU 34:8 ইস্রায়েলীরা মোয়াবের সমভূমিতে মোশির জন্য সেই ত্রিশ দিন শোক পালন করল, যতক্ষণ না কান্নাকাটি ও দুঃখপ্রকাশের সময় শেষ হল।
DEU 34:9 আর নূনের ছেলে যিহোশূয় বিজ্ঞতার আত্মায় পরিপূর্ণ হয়েছিলেন, কারণ মোশি তাঁর উপরে হাত রেখেছিলেন। সেইজন্য ইস্রায়েলীরা তাঁর কথা শুনত এবং সদাপ্রভু মোশিকে যে আজ্ঞা দিয়েছিলেন সেই অনুসারে কাজ করত।
DEU 34:10 আজও পর্যন্ত ইস্রায়েলীদের মধ্যে মোশির মতো আর কোনও ভাববাদী জন্মাননি যার সঙ্গে সদাপ্রভু বন্ধুর মতো সামনাসামনি কথা বলতেন,
DEU 34:11 যিনি সেইসব চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ করেছিলেন যেগুলি সদাপ্রভু তাঁকে দিয়ে করাবার জন্য মিশরে পাঠিয়েছিলেন—ফরৌণের ও তার কর্মচারীদের এবং তার সমস্ত দেশের কাছে।
DEU 34:12 কেননা কেউ এমন পরাক্রম কিংবা ভয়ংকর কাজ করেনি যা মোশি সমস্ত ইস্রায়েলের সামনে করেছিলেন।
JOS 1:1 সদাপ্রভুর দাস মোশির মৃত্যুর পরে, সদাপ্রভু মোশির পরিচারক, নূনের ছেলে যিহোশূয়কে বললেন:
JOS 1:2 “আমার দাস মোশির মৃত্যু হয়েছে। এখন তবে, তুমি ও এই সমস্ত লোকজন, তোমরা জর্ডন নদী অতিক্রম করে, যে দেশ আমি ইস্রায়েলীদের দিতে চলেছি, সেই দেশে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হও।
JOS 1:3 তোমরা যেখানে যেখানে পা রাখবে, সেই সেই স্থান আমি তোমাদের দেব, যেমন আমি মোশির কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।
JOS 1:4 তোমাদের সীমা বিস্তৃত হবে এই মরুভূমি থেকে লেবানন পর্যন্ত এবং মহানদী ইউফ্রেটিস থেকে—হিত্তীয়দের সমস্ত দেশ—পশ্চিমদিকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত।
JOS 1:5 তোমার সমস্ত জীবনকালে কেউই তোমার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আমি যেমন মোশির সঙ্গে ছিলাম, তেমনই আমি তোমারও সঙ্গে সঙ্গে থাকব; আমি তোমাকে কখনও ছেড়ে দেব না, কখনও পরিত্যাগ করব না।
JOS 1:6 তুমি শক্তিশালী ও সাহসী হও, কারণ আমি যে দেশ দেওয়ার জন্য তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলাম, তুমি এই লোকদের নেতৃত্ব দিয়ে তা অধিকার করবে।
JOS 1:7 “তুমি শক্তিশালী ও অত্যন্ত সাহসী হও। আমার দাস মোশি যে বিধান তোমাদের দিয়েছিল, তা পালন করার ব্যাপারে যত্নশীল হোয়ো; তার ডানদিকে বা বাঁদিকে ফিরো না, যেন তুমি যে কোনো স্থানে যাও, সেখানে সফল হও।
JOS 1:8 বিধানের এই পুস্তকের বাণী সবসময় তোমাদের ঠোঁটে বজায় রেখো; দিনরাত এ নিয়ে ধ্যান কোরো, যেন এর মধ্যে যা কিছু লেখা আছে, তা পালন করার ব্যাপারে তুমি যত্নশীল হও। তবেই তুমি সমৃদ্ধিশালী ও কৃতকার্য হবে।
JOS 1:9 আমি কি তোমাকে এই আদেশ দিইনি? তুমি শক্তিশালী ও সাহসী হও। তুমি ভীত হোয়ো না; হতাশ হোয়ো না, কারণ তুমি যেখানেই যাবে, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন।”
JOS 1:10 অতএব যিহোশূয় লোকদের কর্মকর্তাদের আদেশ দিলেন:
JOS 1:11 “তোমরা শিবিরের মধ্যে গিয়ে লোকদের বলো, ‘তোমাদের সঙ্গের পাথেয় খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করো। এখন থেকে তিনদিনের মধ্যে তোমরা জর্ডন নদী অতিক্রম করবে। তোমরা সেই দেশ অধিকার করবে, যে দেশ তোমাদের নিজস্ব অধিকারবলে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দিতে চলেছেন।’ ”
JOS 1:12 কিন্তু রূবেণীয়, গাদীয় ও মনঃশির অর্ধ বংশের উদ্দেশে যিহোশূয় বললেন,
JOS 1:13 “সদাপ্রভুর দাস মোশি তোমাদের যে আদেশ দিয়েছিলেন, তোমরা তা স্মরণ করো: ‘সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বিশ্রাম দিচ্ছেন ও এই ভূমি তোমাদের অধিকারস্বরূপ দিয়েছেন।’
JOS 1:14 জর্ডন নদীর পূর্বদিকে মোশি তোমাদের যে ভূমি দিয়েছেন, সেখানে তোমাদের স্ত্রী, সন্তানসন্ততি ও পশুপাল থাকতে পারে, কিন্তু তোমাদের সমস্ত যোদ্ধা, সম্পূর্ণ সশস্ত্র হয়ে তোমাদের ভাইদের সামনে সামনে অবশ্য জর্ডন নদী পার হয়ে যাবে। তোমরা তোমাদের ভাইদের সাহায্য করবে,
JOS 1:15 যতক্ষণ না সদাপ্রভু তাদের বিশ্রাম দেন, যেমন তিনি তোমাদের দিয়েছেন এবং যতক্ষণ না তারা সেই দেশ অধিকার করে, যা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের দিতে চলেছেন। পরে তোমরা ফিরে গিয়ে তোমাদের জমির অধিকার ভোগ করবে, যা সদাপ্রভুর দাস মোশি, সূর্যোদয়ের দিকে, জর্ডন নদীর পূর্বদিকে তোমাদের দান করেছেন।”
JOS 1:16 তারা তখন যিহোশূয়কে উত্তর দিল, “আপনি আমাদের যে সমস্ত আদেশ দিয়েছেন, আমরা সেগুলি পালন করব, আর আপনি আমাদের যেখানে পাঠাবেন, আমরা সেখানেই যাব।
JOS 1:17 আমরা যেমন মোশির সমস্ত কথা শুনতাম, তেমনই আপনারও আদেশ পালন করব। শুধুমাত্র আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনার সঙ্গে থাকুন, যেমন তিনি মোশির সঙ্গে ছিলেন।
JOS 1:18 যে কেউ আপনার আদেশের বিদ্রোহী হয়, আপনি যা কিছু আদেশ দেন তা পালন না করে, তার প্রাণদণ্ড হবে। শুধু আপনি শক্তিশালী ও সাহসী হোন!”
JOS 2:1 পরে নূনের ছেলে যিহোশূয়, গোপনে দুজন গুপ্তচরকে শিটিম থেকে পাঠালেন। তিনি বললেন, “তোমরা যাও, ওই দেশ, বিশেষ করে যিরীহো নগরটি পর্যবেক্ষণ করো।” তাই তারা রাহব নামক এক বেশ্যার বাড়িতে গিয়ে উঠল ও সেখানে অবস্থান করল।
JOS 2:2 যিরীহোর রাজাকে বলা হল, “দেখুন! কয়েকজন ইস্রায়েলী আজ রাতে এখানে দেশ পর্যবেক্ষণ করার জন্য এসেছে।”
JOS 2:3 তাই যিরীহোর রাজা, রাহবের কাছে এই খবর পাঠালেন: “যে লোকেরা তোমার কাছে এসে তোমার ঘরে প্রবেশ করেছে, তাদের বের করে আনো, কারণ তারা সমস্ত দেশ পর্যবেক্ষণ করতে এসেছে।”
JOS 2:4 কিন্তু সেই নারী তাদের দুজনকে লুকিয়ে রেখেছিল। সে বলল, “সত্যিই সেই দুজন লোক আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি জানতাম না, তারা কোথা থেকে এসেছিল।
JOS 2:5 সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়, যখন নগর-দুয়ার বন্ধ হওয়ার সময় হল, ওই লোকেরা চলে গেল। আমি জানি না, তারা কোন পথে গেল। তাদের পিছনে দ্রুত তাড়া করে যাও। তোমরা হয়তো তাদের নাগাল পাবে।”
JOS 2:6 (কিন্তু সে তাদের ছাদের উপরে নিয়ে গিয়ে, সেখানে ছাদের উপরে তার রাখা মসিনার ডাঁটার পাঁজায় তাদের লুকিয়ে রেখেছিল)
JOS 2:7 তাই ওই লোকেরা সেই গুপ্তচরদের খুঁজে বের করার জন্য তাড়া করে গেল। তারা জর্ডন নদী পার হওয়ার জন্য পারঘাটের অভিমুখে চলে গেল। তারা যাওয়া মাত্র নগর-দুয়ার বন্ধ হল।
JOS 2:8 রাতে, ওই দুজন গুপ্তচর শুতে যাওয়ার আগে, রাহব ছাদে তাদের কাছে গেল
JOS 2:9 ও তাদের বলল, “আমি জানি, সদাপ্রভু এই দেশ তোমাদের হাতে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এক মহা ভয় এসে পড়েছে। সেই কারণে, তোমাদের জন্য এই দেশে বসবাসকারী প্রত্যেকের হৃদয় ভয়ে গলে গিয়েছে।
JOS 2:10 আমরা শুনেছি, যখন তোমরা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিলে, তোমাদের জন্য সদাপ্রভু কীভাবে লোহিত সাগরের জল শুকিয়ে দিয়েছিলেন। আরও শুনেছি, জর্ডন নদীর পূর্বদিকে, ইমোরীয়দের দুই রাজা সীহোন ও ওগের প্রতি তোমরা কী করেছিলে। তোমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছ।
JOS 2:11 আমরা যখন সেকথা শুনলাম, আমাদের হৃদয় গলে গেল, তোমাদের জন্য আমাদের প্রত্যেকের সাহস নষ্ট হয়ে গেল, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু উপরে স্বর্গের ও নিচে পৃথিবীর ঈশ্বর।
JOS 2:12 “তাই এখন, দয়া করে তোমরা আমার কাছে সদাপ্রভুর নামে শপথ করো যে, তোমরা আমার পরিবারবর্গের উপরে করুণা প্রদর্শন করবে, কারণ আমিও তোমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করেছি। আমাকে একটি নিশ্চিত চিহ্ন দাও
JOS 2:13 যে, তোমরা আমার বাবা ও মা, আমার ভাইদের ও বোনেদের এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত সকলের প্রাণভিক্ষা দেবে ও মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করবে।”
JOS 2:14 সেই গুপ্তচরেরা তাকে আশ্বাস দিল, “তোমাদের প্রাণের পরিবর্তে আমাদের প্রাণ যাক। আমরা যা করতে চলেছি, তা যদি তুমি কাউকে না বলো, তবে সদাপ্রভু যখন এই দেশ আমাদের দেবেন, তখন আমরা তোমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ততাপূর্বক সদয় ব্যবহার করব।”
JOS 2:15 তাই রাহব জানালার পথে ওই দুজনকে একটি দড়ি দিয়ে নামিয়ে দিল, কারণ যে বাড়িতে সে বসবাস করত তা নগর-প্রাচীরের অংশবিশেষ ছিল।
JOS 2:16 সে তাদের বলল, “তোমরা পাহাড়ে উঠে যাও, যেন তোমাদের পশ্চাদ্ধাবনকারীরা তোমাদের সন্ধান না পায়। তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত তিন দিন তোমরা সেখানেই নিজেদের লুকিয়ে রাখো, পরে নিজেদের পথে চলে যাবে।”
JOS 2:17 ওই লোকেরা তাকে বলল, “এই শপথ, যা তুমি আমাদের নিতে বাধ্য করেছ, তা থেকে আমরা মুক্ত হব,
JOS 2:18 যদি আমাদের এই দেশে প্রবেশ করার সময়, যে জানালা দিয়ে তুমি আমাদের নামিয়ে দিলে, তাতে এই টকটকে লাল রংয়ের দড়িটি বেঁধে না রাখো। সেই সঙ্গে তুমি তোমার বাবা ও মা, তোমার ভাইরা ও তাদের সমস্ত পরিজন তোমার এই বাড়িতে এসে আশ্রয় নেবে।
JOS 2:19 যদি কেউ তোমার বাড়ির বাইরে পথে যায়, তার রক্তের দায় তারই মাথায় বর্তাবে; আমরা তার দায় নেব না। কিন্তু তোমার বাড়ির ভিতরে যারা থাকে, তাদের কারও উপরে আমাদের কেউ যদি হাত উঠায়, তার রক্তের দায় আমাদের মাথায় বর্তাবে।
JOS 2:20 কিন্তু আমরা যা করতে চলেছি, তা যদি তুমি প্রকাশ করে দাও, তবে যে শপথে তুমি আমাদের আবদ্ধ করেছ, তা থেকে আমরা মুক্ত হব।”
JOS 2:21 “আমি রাজি,” রাহব উত্তর দিল। “তোমরা যেমন বলেছ, তেমনই হবে।” এভাবে সে তাদের বিদায় দিল, ও তারা চলে গেল। সে তখন ওই টকটকে লাল রংয়ের দড়িটি তার জানালায় বেঁধে দিল।
JOS 2:22 তারা প্রস্থান করে পাহাড়ি এলাকায় চলে গেল। সেখানে তারা তিন দিন অবস্থান করল। তাদের পশ্চাদ্ধাবনকারীরা সমস্ত পথ ধরে তাদের খুঁজে বেড়াল এবং তাদের সন্ধান না পেয়ে নগরে ফিরে গেল।
JOS 2:23 পরে সেই দুজন লোক ফিরে গেল এবং পাহাড়ের পাদদেশে নেমে গিয়ে জর্ডন নদী অতিক্রম করে নূনের ছেলে যিহোশূয়ের কাছে চলে গেল। তাদের প্রতি যা কিছু ঘটেছিল, তারা সে সমস্তই তাঁকে বলল।
JOS 2:24 তারা যিহোশূয়কে বলল, “সদাপ্রভু নিশ্চিতভাবেই এই সমস্ত দেশ আমাদের হাতে দিয়েছেন; আমাদের কারণে সেখানকার সমস্ত মানুষের হৃদয় ভয়ে গলে গিয়েছে।”
JOS 3:1 ভোরবেলায় যিহোশূয় সমস্ত ইস্রায়েলী মানুষজনকে সাথে নিয়ে শিটিম থেকে যাত্রা করে জর্ডন নদীর তীরে চলে গেলেন। নদী অতিক্রম করার আগে তাঁরা সেখানে শিবির স্থাপন করলেন।
JOS 3:2 তিন দিন পরে, কর্মকর্তারা সমস্ত শিবির পরিদর্শন করলেন
JOS 3:3 ও লোকদের এই আদেশ দিলেন: “তোমরা যখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক লেবীয় যাজকদের বহন করতে দেখবে, তখন নিজের নিজের স্থান ছেড়ে তাঁদের অনুসরণ করবে।
JOS 3:4 পরে তোমরা জানতে পারবে, কোন পথে তোমাদের যেতে হবে, কারণ তোমরা এই পথে আগে কখনও যাত্রা করোনি। কিন্তু নিয়ম-সিন্দুক ও তোমাদের মধ্যে 900 মিটার দূরত্ব থাকবে; তোমরা সেটির কাছে যাবে না।”
JOS 3:5 যিহোশূয় লোকদের বললেন, “তোমরা নিজেদের পবিত্র করো, যেহেতু আগামীকাল সদাপ্রভু তোমাদের মধ্যে বিস্ময়কর সব কাজ করবেন।”
JOS 3:6 যিহোশূয় যাজকদের বললেন, “আপনারা নিয়ম-সিন্দুক তুলে নিন ও লোকদের আগে আগে পার হয়ে যান।” তাই তাঁরা তা তুলে নিয়ে তাদের আগে আগে পার হয়ে গেলেন।
JOS 3:7 আর সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “আমি আজ তোমাকে সমস্ত ইস্রায়েলের সামনে উন্নত করতে শুরু করব, যেন তারা জানতে পারে যে, আমি যেমন মোশির সঙ্গে ছিলাম, তেমনই তোমার সঙ্গেও আছি।
JOS 3:8 যারা নিয়ম-সিন্দুক বহন করে, তুমি সেই যাজকদের বলো: ‘আপনারা যখন জর্ডন নদীর জলের কিনারায় পৌঁছাবেন, তখন আপনারা গিয়ে নদীর মাঝখানে দাঁড়াবেন।’ ”
JOS 3:9 যিহোশূয় ইস্রায়েলীদের বললেন, “তোমরা এখানে এসো এবং তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর এই বাণী শোনো।”
JOS 3:10 আর যিহোশূয় বললেন, “তোমরা এভাবে জানতে পারবে যে, জীবন্ত ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে আছেন আর তিনি নিশ্চিতরূপে তোমাদের সামনে থেকে কনানীয়, হিত্তীয়, হিব্বীয়, পরিষীয়, গির্গাশীয়, ইমোরীয় ও যিবূষীয়দের তাড়িয়ে দেবেন।
JOS 3:11 দেখো, সমস্ত পৃথিবীর প্রভুর নিয়ম-সিন্দুক তোমাদের আগে জর্ডন নদীতে যাবে।
JOS 3:12 তবে তোমরা এখন ইস্রায়েলী গোষ্ঠীসমূহের মধ্য থেকে বারোজন পুরুষকে বেছে নাও। প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে একজন করে নেবে।
JOS 3:13 আর যে মুহূর্তে সদাপ্রভুর—সমস্ত পৃথিবীর প্রভুর—সিন্দুক বহনকারী যাজকেরা জর্ডন নদীতে পা রাখবেন, নিচের দিকে বয়ে যাওয়া এর জলরাশি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্তূপীকৃত হয়ে যাবে।”
JOS 3:14 অতএব লোকেরা যখন জর্ডন নদী পার হওয়ার জন্য শিবির তুলে ফেলল, যাজকেরা নিয়ম-সিন্দুক তুলে নিয়ে লোকদের আগে আগে চললেন।
JOS 3:15 ফসল কাটার সময়ে জর্ডন নদীর জল সমস্ত তীর প্লাবিত করে। তবুও, সিন্দুক বহনকারী যাজকেরা জর্ডন নদীর তীরে পৌঁছালেন ও তাঁদের পা জলের প্রান্ত স্পর্শ করল,
JOS 3:16 উপর থেকে বয়ে আসা জলস্রোত থেমে গেল। বহুদূরে, সর্তনের নিকটবর্তী আদম নগরের কাছে তা স্তূপীকৃত হয়ে রইল। ফলে অরাবা সাগরে (অর্থাৎ, মরুসাগরে), যে জল নেমে যাচ্ছিল, তা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হল। অতএব লোকেরা যিরীহোর বিপরীত দিক থেকে নদী পার হয়ে গেল।
JOS 3:17 যতক্ষণ না সমগ্র ইস্রায়েল জাতি নদী পার হয়ে গেল, সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী যাজকেরা জর্ডন নদীর মাঝখানে শুকনো ভূমিতে অবিচল দাঁড়িয়ে রইলেন। সমগ্র জাতিই শুকনো ভূমির উপর দিয়ে পার হয়ে গেল।
JOS 4:1 যখন সমগ্র জাতি জর্ডন নদী পার হয়ে গেল, তখন সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন,
JOS 4:2 “তুমি প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে এক একজন করে, মোট বারোজনকে লোকদের মধ্য থেকে বাছাই করো,
JOS 4:3 ও তাদের বলো, যেখানে যাজকেরা দাঁড়িয়েছিলেন, অর্থাৎ জর্ডন নদীর মাঝখান থেকে তারা যেন বারোটি পাথর তুলে আনে ও তোমার সাথে থেকে সেগুলি বহন করে যেখানে তোমরা আজ রাতে থাকবে, সেখানে এনে ফেলে।”
JOS 4:4 তাই যিহোশূয় যে বারোজনকে ইস্রায়েলীদের প্রত্যেক গোষ্ঠীর মধ্য থেকে এক একজন করে নিযুক্ত করলেন, তাদের একসাথে ডেকে নিলেন,
JOS 4:5 ও তিনি তাদের বললেন, “তোমরা জর্ডন নদীর মাঝখানে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সিন্দুকের সামনে যাও। ইস্রায়েলীদের গোষ্ঠীসমূহের সংখ্যা অনুযায়ী, তোমরা প্রত্যেকে সেখান থেকে এক-একটি করে পাথর নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে।
JOS 4:6 সেগুলি তোমাদের পক্ষে চিহ্নস্বরূপ হবে। ভবিষ্যতে, তোমাদের সন্তানেরা যখন জিজ্ঞাসা করবে, ‘এই পাথরগুলির তাৎপর্য কী?’
JOS 4:7 তোমরা তাদের বোলো যে, সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের সামনে জর্ডন নদীর প্রবাহিত স্রোত ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তা যখন জর্ডন নদী অতিক্রম করেছিল, তখন জর্ডন নদীর জলরাশি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই পাথরগুলি চিরকালের জন্য ইস্রায়েলী লোকদের কাছে স্মারকস্বরূপ হবে।”
JOS 4:8 তাই যিহোশূয়ের আদেশমতো ওই ইস্রায়েলীরা সেরকমই করল। সদাপ্রভু যেমন যিহোশূয়কে বললেন, ইস্রায়েলীদের গোষ্ঠী সংখ্যা অনুসারে, তারা জর্ডন নদীর মাঝখান থেকে বারোটি পাথর তুলে আনল। তারা সেগুলি বয়ে নিয়ে তাদের শিবিরে নিয়ে গেল। তারা সেখানেই সেগুলি নামিয়ে রাখল।
JOS 4:9 যেখানে নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী যাজকেরা দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে জর্ডন নদীর মধ্যে যিহোশূয় বারোটি পাথর স্থাপন করলেন। আর সেগুলি আজও পর্যন্ত সেখানেই আছে।
JOS 4:10 মোশি যিহোশূয়কে যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেইমতো যিহোশূয়কে দেওয়া সদাপ্রভুর সমস্ত আদেশ লোকেরা পালন না করা পর্যন্ত সিন্দুক বহনকারী যাজকেরা জর্ডন নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি নদী পার হয়ে গেল।
JOS 4:11 যেই তারা সবাই নদী পার হয়ে গেল, সদাপ্রভুর সিন্দুক ও যাজকেরা লোকদের চক্ষুগোচরে নদীর অন্য পারে চলে গেলেন।
JOS 4:12 রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধ বংশের লোকেরা সশস্ত্র হয়ে ইস্রায়েলীদের সামনে পার হয়ে গেল, যেমন মোশি তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
JOS 4:13 যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত প্রায় 40,000 সৈন্য সদাপ্রভুর সামনে নদী পার হয়ে যুদ্ধের জন্য যিরীহোর সমভূমিতে গেল।
JOS 4:14 সেদিন সদাপ্রভু সমস্ত ইস্রায়েলের সাক্ষাতে যিহোশূয়কে উন্নত করলেন; তারা তাঁর জীবনকালের শেষ পর্যন্ত তাঁকে সম্ভ্রম করে চলল, যেমন তারা মোশির ক্ষেত্রেও করত।
JOS 4:15 পরে সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন,
JOS 4:16 “তুমি যাজকদের আদেশ দাও, তারা যেন বিধিনিয়মের সিন্দুক বহন করে জর্ডন নদী থেকে বের হয়ে আসে।”
JOS 4:17 তাই যিহোশূয় যাজকদের আদেশ দিলেন, “আপনারা জর্ডন নদী থেকে উঠে আসুন।”
JOS 4:18 তখন যাজকেরা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহন করে নদী থেকে উপরে উঠে এলেন। তাঁরা শুকনো ভূমিতে পা রাখামাত্র, জর্ডন নদীর জলরাশি স্বস্থানে ফিরে গেল এবং আগের মতোই সমস্ত তীরের উপরে প্লাবিত হল।
JOS 4:19 প্রথম মাসের দশম দিনে, লোকেরা জর্ডন নদী পার হয়ে যিরীহোর পূর্ব সীমায় গিল্‌গলে শিবির স্থাপন করল।
JOS 4:20 আর যিহোশূয় জর্ডন নদী থেকে তুলে আনা সেই বারোটি পাথর গিল্‌গলে স্থাপন করলেন।
JOS 4:21 তিনি ইস্রায়েলীদের বললেন, “ভাবীকালে যখন তোমাদের বংশধরেরা তাদের বাবাদের জিজ্ঞাসা করবে, ‘এই পাথরগুলির তাৎপর্য কী?’
JOS 4:22 তাদের বোলো, ইস্রায়েল শুকনো ভূমি দিয়ে জর্ডন নদী পার হয়েছিল।
JOS 4:23 কারণ যতক্ষণ না তোমরা তা পার হলে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সামনে জর্ডন নদী শুকনো করে দিয়েছিলেন। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু জর্ডন নদীর প্রতি তাই করেছেন, যা তিনি লোহিত সাগরের প্রতি করেছিলেন, তিনি তা শুকনো করে দিয়েছিলেন, যতক্ষণ না আমরা তা অতিক্রম করলাম।
JOS 4:24 তিনি এরকম এই কারণে করলেন, যেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ জানতে পারে যে, সদাপ্রভুর হাত পরাক্রমশালী এবং তোমরা যেন সবসময়ই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করো।”
JOS 5:1 যখন জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে ইমোরীয়দের সমস্ত রাজা ও উপকূল বরাবর কনানীয়দের সমস্ত রাজা শুনতে পেলেন, জর্ডন নদী অতিক্রম না করা পর্যন্ত, সদাপ্রভু কীভাবে তা ইস্রায়েলীদের সামনে শুকনো করে দিয়েছিলেন, ভয়ে তাদের হৃদয় গলে গেল। ইস্রায়েলীদের সম্মুখীন হওয়ার সাহস আর তাদের রইল না।
JOS 5:2 সেই সময় সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “তুমি চকমকি পাথরের কয়েকটি ছুরি তৈরি করো এবং আরেকবার ইস্রায়েলীদের সুন্নত করাও।”
JOS 5:3 তাই যিহোশূয় চকমকি পাথরের কয়েকটি ছুরি তৈরি করলেন এবং গিবিয়োৎ-হারালোতে ইস্রায়েলীদের সুন্নত করালেন।
JOS 5:4 যিহোশূয় এরকম করার কারণ হল এই: যারা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল—সৈন্যবাহিনীতে যোগদানের উপযোগী বয়ঃপ্রাপ্ত সমস্ত পুরুষ—তারা সবাই মিশর ত্যাগ করে আসার পর পথে মরুপ্রান্তরে মারা গিয়েছিল।
JOS 5:5 যারা বের হয়ে এসেছিল, তাদের সকলের সুন্নত হয়েছিল, কিন্তু যাদের জন্ম মিশর থেকে যাত্রাপথে মরুপ্রান্তরে হয়েছিল, তাদের সুন্নত করা হয়নি।
JOS 5:6 মরুপ্রান্তরে ইস্রায়েলীরা চল্লিশ বছর ইতস্তত ভ্রমণ করল। সেই সময়, সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করা সমস্ত পুরুষের—যারা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল—মৃত্যু হল, যেহেতু তারা সদাপ্রভুর আদেশ পালন করেনি। সদাপ্রভু তাদের কাছে শপথ করে বলেছিলেন যে, যে দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশটি তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তারা দেখতেই পাবে না।
JOS 5:7 তাই তিনি তাদের স্থানে তাদের সন্তানদের উৎপন্ন করলেন, এবং যিহোশূয় এদেরই সুন্নত করিয়েছিলেন। তাদের তখনও পর্যন্ত সুন্নত হয়নি, যেহেতু পথিমধ্যে তাদের সুন্নত করানো হয়নি।
JOS 5:8 আর সমগ্র জাতির সুন্নত করানোর পর, যতক্ষণ না তারা সুস্থ হল, তারা সেখানেই শিবিরের মধ্যে অবস্থান করল।
JOS 5:9 পরে সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “আজ আমি তোমাদের মধ্য থেকে মিশরের দুর্নাম গড়িয়ে দিলাম।” তাই সেই স্থানটির নাম আজও পর্যন্ত গিল্‌গল বলে আখ্যাত রয়েছে।
JOS 5:10 যিরীহোর সমভূমিতে গিল্‌গলে শিবির স্থাপন করে থাকার সময়, মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলায় ইস্রায়েলীরা নিস্তারপর্ব উদ্‌যাপন করল।
JOS 5:11 নিস্তারপর্বের পরের দিন, ঠিক সেদিনই, তারা সেই দেশে উৎপন্ন শস্যের খানিকটা: খামিরবিহীন রুটি ও সেঁকা শস্য ভোজন করল।
JOS 5:12 দেশের এই খাদ্য ভোজন করার পরই মান্না বর্ষণ নিবৃত্ত হল; ইস্রায়েলীদের জন্য কোনও মান্না আর রইল না, কিন্তু সেবছর তারা কনানে উৎপন্ন শস্য ভোজন করল।
JOS 5:13 পরে যিহোশূয় যখন যিরীহোর কাছে গেলেন, তিনি উপরে তাকিয়ে খাপ খোলা তরোয়াল হাতে একজন লোককে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। যিহোশূয় তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি আমাদের পক্ষে, না আমাদের শত্রুদের পক্ষে?”
JOS 5:14 “কোনও পক্ষেই নই,” তিনি উত্তর দিলেন, “কিন্তু আমি এখন সদাপ্রভুর সৈন্যদলের সেনাপতিরূপে এসেছি।” তখন যিহোশূয় সম্মান দেখিয়ে মাটিতে মাথা নত করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার প্রভু তাঁর এই দাসের জন্য কী খবর এনেছেন?”
JOS 5:15 সদাপ্রভুর সৈন্যদলের সেনাপতি উত্তর দিলেন, “তোমার চটিজুতো খুলে ফেলো, যেহেতু তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছ, সেই স্থানটি পবিত্র।” আর যিহোশূয় সেরকমই করলেন।
JOS 6:1 সেই সময় ইস্রায়েলীদের কারণে যিরীহোর নগর-দুয়ারগুলিতে শক্ত করে খিল দেওয়া ছিল। কেউ বাইরে যেত না ও কেউ ভিতরেও আসত না।
JOS 6:2 তখন সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “দেখো, আমি যিরীহোকে তার রাজা ও তার সব যোদ্ধাসহ তোমার হাতে সঁপে দিয়েছি।
JOS 6:3 তোমার সব সশস্ত্র লোকজন নিয়ে নগরটি একবার প্রদক্ষিণ করো। ছয় দিন ধরে এরকম কোরো।
JOS 6:4 সাতজন যাজক নিয়ম-সিন্দুকের সামনে থেকে মেষের শিং দিয়ে তৈরি শিঙা বহন করুক। সপ্তম দিনে, নগরটি সাতবার প্রদক্ষিণ করবে ও যাজকেরা শিঙা বাজাবে।
JOS 6:5 যখন তোমরা তাদের দীর্ঘক্ষণ ধরে শিঙা বাজাতে শুনবে, তখন সমগ্র সৈন্যবাহিনী জোরে চিৎকার করে উঠবে; তখন নগর-প্রাচীর ভেঙে পড়বে এবং সৈন্যবাহিনীর প্রত্যেকে সোজা সামনের দিকে উঠে যাবে।”
JOS 6:6 অতএব নূনের ছেলে যিহোশূয় যাজকদের ডেকে পাঠালেন ও তাঁদের বললেন, “আপনারা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি তুলে নিন এবং সাতজন যাজক সেটির সামনে শিঙা বহন করুন।”
JOS 6:7 আর তিনি সৈন্যবাহিনীকে আদেশ দিলেন, “তোমরা এগিয়ে চলো! নগরটি প্রদক্ষিণ করো এবং একজন সশস্ত্র প্রহরী সদাপ্রভুর সিন্দুকের আগে আগে যাক।”
JOS 6:8 যিহোশূয় যখন লোকদের একথা বললেন, তখন সাতজন যাজক সাতটি শিঙা বহন করে সদাপ্রভুর সামনে সামনে এগিয়ে গেলেন ও তাঁদের শিঙাগুলি বাজাতে লাগলেন, এবং সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক তাঁদের অনুগামী হল।
JOS 6:9 সশস্ত্র প্রহরীটি শিঙাবাদক যাজকদের অগ্রগামী হল এবং পিছনে থাকা প্রহরীটি সিন্দুকটির অনুগামী হল। এসময় অনবরত শিঙা বেজেই যাচ্ছিল।
JOS 6:10 কিন্তু যিহোশূয় সৈন্যবাহিনীকে আদেশ দিলেন, “তোমরা রণহুঙ্কার দিয়ো না, তোমাদের কণ্ঠস্বর তীব্র কোরো না, যতদিন না আমি তোমাদের চিৎকার করতে বলছি, ততদিন একটি কথাও বোলো না। পরে তোমরা চিৎকার কোরো!”
JOS 6:11 এভাবে তিনি সদাপ্রভুর সিন্দুকটিকে নগর প্রদক্ষিণ করতে দিলেন, রোজ একবার করে তা বৃত্তাকারে ঘুরল। পরে সৈন্যবাহিনী শিবিরে ফিরে এল এবং সেখানে রাত্রিযাপন করল।
JOS 6:12 পরদিন ভোরবেলায় যিহোশূয় উঠলেন এবং যাজকেরা সদাপ্রভুর সিন্দুক তুলে নিলেন।
JOS 6:13 সাতজন যাজক সাতটি শিঙা বহন করে সামনে এগিয়ে গেলেন এবং শিঙা বাজাতে বাজাতে সদাপ্রভুর সিন্দুকের আগে আগে চললেন। সশস্ত্র লোকেরা তাঁদের আগে আগে গেল এবং পিছন দিকের প্রহরীটি সদাপ্রভুর সিন্দুকের অনুগামী হল, আর এসময় শিঙাগুলি বেজেই যাচ্ছিল।
JOS 6:14 তাই দ্বিতীয় দিনেও তারা একবার নগর প্রদক্ষিণ করল ও শিবিরে ফিরে গেল। ছয় দিন ধরে তারা এরকম করল।
JOS 6:15 সপ্তম দিনে, ভোরবেলায় তারা উঠে পড়ল এবং একইভাবে তারা সেই নগরটি সাতবার প্রদক্ষিণ করল। কেবলমাত্র সেদিনই তারা সাতবার নগরটি প্রদক্ষিণ করল।
JOS 6:16 সাতবার প্রদক্ষিণ শেষে যখন যাজকেরা শিঙা বাজাচ্ছিলেন, যিহোশূয় লোকদের আদেশ দিলেন, “তোমরা সিংহনাদ করো, কারণ সদাপ্রভু এই নগরটি তোমাদের দান করেছেন!
JOS 6:17 এই নগর এবং এর মধ্যে থাকা সবকিছু সদাপ্রভুর উদ্দেশে বর্জিত হবে। শুধুমাত্র বেশ্যা রাহব এবং তার সঙ্গী সকলে, যারা তার বাড়িতে অবস্থান করবে, তাদের রক্ষা করা হবে, কারণ সে আমাদের পাঠানো গুপ্তচরদের লুকিয়ে রেখেছিল।
JOS 6:18 কিন্তু বর্জিত জিনিসগুলি থেকে তোমরা দূরে সরে থাকবে, যেন সেগুলির কিছু গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের ধ্বংস ডেকে না আনো। অন্যথায়, তোমরা ইস্রায়েলের শিবিরে বিনাশ ও তার উপরে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
JOS 6:19 সমস্ত সোনা ও রুপো এবং ব্রোঞ্জ ও লোহার জিনিসপত্র সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক থাকবে ও সেগুলি অবশ্যই তাঁর ভাণ্ডারে যাবে।”
JOS 6:20 যখন শিঙা বাজানো হল, সৈন্যদল সিংহনাদ করে উঠল। শিঙাধ্বনির কারণে যখন তারা সিংহনাদ করল, প্রাচীর ধসে গেল; অতএব প্রত্যেকে সোজা নিজেদের সামনে উঠে গেল ও নগর নিজেদের দখলে নিল।
JOS 6:21 তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নগরটি উৎসর্গ করল এবং তার মধ্যে জীবিত সমস্ত প্রাণীকে তরোয়াল দিয়ে ধ্বংস করল—সমস্ত পুরুষ ও নারী, যুবক বা বৃদ্ধ, গৃহপালিত পশুপাল, মেষপাল ও সমস্ত গাধা তারা ধ্বংস করল।
JOS 6:22 পরে যিহোশূয় সেই দুজন গুপ্তচরকে, যারা নগরটি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গিয়েছিল, তাদের বললেন, “তোমরা ওই বেশ্যার বাড়িতে যাও এবং তোমাদের শপথমতো তাকে, তার সমস্ত পরিজনসহ সেখান থেকে বের করে আনো।”
JOS 6:23 তাই সেই দুজন যুবক, যারা দেশ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিল, তারা সেই বাড়িতে গিয়ে রাহবকে, তার বাবা-মা, ভাইদের ও তার সমস্ত আপনজনকে বের করে আনল। তারা তার সমস্ত পরিবারকে বের করে আনল এবং ইস্রায়েলীদের শিবিরের বাইরে এক স্থানে নিয়ে গিয়ে রাখল।
JOS 6:24 পরে তারা সমস্ত নগরটি ও তার মধ্যে থাকা সবকিছু পুড়িয়ে দিল, কিন্তু তারা সোনা ও রুপো, ব্রোঞ্জ ও লোহার তৈরি সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে সদাপ্রভুর গৃহের ভাণ্ডারে রাখল।
JOS 6:25 কিন্তু যিহোশূয় বেশ্যা রাহব, তার পরিবার ও সমস্ত আপনজনকে বাঁচিয়ে রাখলেন, কারণ সে যিরীহো নগরে পাঠানো যিহোশূয়ের দুজন গুপ্তচরকে লুকিয়ে রেখেছিল—আর আজও পর্যন্ত ইস্রায়েলীদের মধ্যে বসবাস করছে।
JOS 6:26 সেই সময় যিহোশূয় এই গুরুগম্ভীর শপথ উচ্চারণ করলেন: “যে এই যিরীহো নগর পুনর্নির্মাণ করতে উদ্যোগী হয়, সে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে অভিশপ্ত হোক: “তার প্রথমজাত ছেলের প্রাণের বিনিময়ে সে এটির ভিত্তি স্থাপন করবে; তার সবচেয়ে ছোটো ছেলের প্রাণের বিনিময়ে সে এটির দুয়ার নির্মাণ করবে।”
JOS 6:27 অতএব সদাপ্রভু যিহোশূয়ের সঙ্গে ছিলেন এবং যিহোশূয়ের খ্যাতি সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়ল।
JOS 7:1 কিন্তু ইস্রায়েলীরা উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলির বিষয়ে অবিশ্বস্ত হল; যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত সেরহের ছেলে সিম্রী, তার ছেলে কর্মি, তার ছেলে আখন সেগুলির কিছুটা অংশ রেখে নিয়েছিল। তাই ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর ক্রোধ জ্বলে উঠল।
JOS 7:2 এদিকে যিহোশূয় যিরীহো থেকে সেই অয় নগরে লোক পাঠালেন, যেটি বেথেলের পূর্বদিকে বেথ-আবনের কাছে অবস্থিত ছিল, এবং তাদের বললেন, “তোমরা উঠে যাও ও ওই অঞ্চলটি গোপনে পর্যবেক্ষণ করো।” তাই সেই লোকেরা উঠে গেল ও গোপনে অয় নগরটি পর্যবেক্ষণ করল।
JOS 7:3 যিহোশূয়ের কাছে ফিরে এসে তারা বলল, “অয়ের বিরুদ্ধে সমগ্র সৈন্যদল যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেটি অধিকার করার জন্য 2,000 বা 3,000 লোক পাঠান এবং সমগ্র সৈন্যদলকে কষ্ট দেবেন না, কারণ সেখানে মাত্র অল্প কিছু লোকই বসবাস করে।”
JOS 7:4 তাই, প্রায় 3,000 লোক উঠে গেল, কিন্তু তারা অয়ের সেই লোকদের কাছে সম্পূর্ণরূপে নাস্তানাবুদ হল,
JOS 7:5 যারা ইস্রায়েলীদের মধ্যে প্রায় ছত্রিশ জনকে মেরে ফেলল। অয়ের নগর-দুয়ার থেকে পাথরের খনি পর্যন্ত তারা ইস্রায়েলীদের পিছু ধাওয়া করল এবং ঢালু পথে তাদের আঘাত করল। এতে ভয়ে লোকদের হৃদয় গলে জলের মতো হয়ে গেল।
JOS 7:6 তখন যিহোশূয় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত একইরকম ভাবে সদাপ্রভুর সিন্দুকের সামনে মাটিতে মুখ লুটিয়ে পড়ে থাকলেন। ইস্রায়েলের প্রাচীনরাও সেরকমই করলেন, ও নিজেদের মাথায় ধুলো ছড়ালেন।
JOS 7:7 আর যিহোশূয় বললেন, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু, কেন তুমি এই লোকজনকে জর্ডন নদীর এপারে নিয়ে এসে আমাদের ধ্বংস করার জন্য ইমোরীয়দের হাতে সঁপে দিলে? জর্ডন নদীর ওপারে থাকাই আমাদের পক্ষে ভালো ছিল!
JOS 7:8 হে প্রভু, তোমার এই দাসকে ক্ষমা করো। ইস্রায়েল এখন যে শত্রুদের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে, তাই আমি আর কী বলব?
JOS 7:9 কনানীয়রা ও দেশের অন্যান্য সব লোকজন এই ঘটনার কথা শুনবে ও তারা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরবে এবং পৃথিবী থেকে আমাদের নাম মুছে ফেলবে। তখন তুমি তোমার নিজের মহৎ নামের জন্য কী করবে?”
JOS 7:10 সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “উঠে দাঁড়াও! তুমি এখানে মুখ লুটিয়ে পড়ে থেকে কী করছ?
JOS 7:11 ইস্রায়েল পাপ করেছে; তারা আমার সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, যা আমি তাদের পালন করার আদেশ দিয়েছিলাম। তারা উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলির কিছুটা অংশ নিয়ে নিয়েছে; তারা চুরি করেছে, তারা মিথ্যা কথা বলেছে, সেগুলি তারা তাদের নিজস্ব বিষয়সম্পত্তির মধ্যে রেখে দিয়েছে।
JOS 7:12 সেই কারণে ইস্রায়েলীরা তাদের শত্রুদের সামনে দাঁড়াতে পারছে না; তারা পিছু ফিরে পালিয়েছে কারণ তারাই তাদের সর্বনাশের জন্য দায়ী। তোমরা যদি বিনাশের জন্য উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলি ধ্বংস না করো তবে আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকব না।
JOS 7:13 “যাও, লোকদের পবিত্র করো। তাদের বলো, ‘আগামীকালের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে তোমরা নিজেদের পবিত্র করো; কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: হে ইস্রায়েল, তোমাদের মধ্যে উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলি আছে। তোমরা যতক্ষণ না সেগুলি দূর করছ, তোমরা শত্রুদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।
JOS 7:14 “ ‘সকালবেলায়, তোমরা এক এক গোষ্ঠী করে নিজেদের উপস্থিত কোরো। যে গোষ্ঠীকে সদাপ্রভু মনোনীত করবেন, তারা এক এক বংশরূপে এগিয়ে আসবে। যে বংশকে সদাপ্রভু মনোনীত করবেন, তারা এক এক পরিবাররূপে এগিয়ে আসবে; আর যে পরিবারকে সদাপ্রভু মনোনীত করবেন, তারা এক একজন করে এগিয়ে আসবে।
JOS 7:15 উৎসর্গীকৃত বস্তু সমেত যে ধরা পড়বে, সে এবং তার অধিকারে থাকা সবকিছু আগুন দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাবে। সে সদাপ্রভুর নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং ইস্রায়েলের মধ্যে এক জঘন্য কাজ করেছে।’ ”
JOS 7:16 পরদিন ভোরবেলায়, যিহোশূয় গোষ্ঠী ধরে ধরে ইস্রায়েলকে কাছে ডাকলেন, এবং যিহূদা গোষ্ঠী মনোনীত হল।
JOS 7:17 যিহূদার বংশগুলি এগিয়ে এল, এবং সেরহীয় বংশ মনোনীত হল। পরিবার ধরে ধরে তিনি সেরহীয়দের কাছে ডাকলেন, এবং সিম্রী মনোনীত হল।
JOS 7:18 জনে জনে যিহোশূয় তার পরিবারকে কাছে ডাকলেন, এবং যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত সেরহের ছেলে সিম্রীর ছেলে কর্মির ছেলে আখন মনোনীত হল।
JOS 7:19 তখন যিহোশূয় আখনকে বললেন, “বাছা আমার, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৌরব স্বীকার করো, ও তাঁকে সম্মান করো। তুমি কী করেছ তা আমাকে বলো; আমার কাছ থেকে তা লুকিয়ে রেখো না।”
JOS 7:20 আখন যিহোশূয়কে উত্তর দিল, “একথা সত্যি! ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে আমি পাপ করেছি। আমি এরকম করেছি:
JOS 7:21 লুন্ঠিত জিনিসপত্রের মধ্যে আমি যখন ব্যাবিলনিয়ার একটি সুন্দর আলখাল্লা, 200 শেকল রুপো ও পঞ্চাশ শেকল ওজনের সোনার একটি লম্বা টুকরো দেখেছিলাম, তখন লোভে পড়ে আমি সেগুলি নিয়েছিলাম। আমার তাঁবুর মধ্যে মাটিতে সেগুলি লুকানো আছে, আর সেগুলির নিচে রুপোও রাখা আছে।”
JOS 7:22 অতএব যিহোশূয় দূতদের পাঠালেন, এবং তারা দৌড়ে তাঁবুর কাছে গেল, ও সেখানে, তার তাঁবুর মধ্যে সেগুলি লুকানো ছিল, আর সেগুলির নিচে রুপোও রাখা ছিল।
JOS 7:23 তারা তাঁবু থেকে সেই জিনিসগুলি নিয়ে, যিহোশূয় ও সমগ্র ইস্রায়েলীর কাছে সেগুলি আনল এবং সদাপ্রভুর সামনে সেগুলি মেলে ধরল।
JOS 7:24 তখন সমগ্র ইস্রায়েলের সঙ্গে সঙ্গে যিহোশূয় সেই রুপো, আলখাল্লা, সোনার লম্বা টুকরো, তার ছেলেমেয়ে, তার গবাদি পশুপাল, গাধা ও মেষ, তার তাঁবু ও তার যা কিছু ছিল, সবকিছু সমেত সেরহের সন্তান আখনকে আখোর উপত্যকায় নিয়ে গেলেন।
JOS 7:25 যিহোশূয় বললেন, “তুমি কেন আমাদের উপরে এই বিপত্তি নিয়ে এলে? সদাপ্রভুই আজ তোমার উপরে বিপত্তি নিয়ে আসবেন।” তখন সমগ্র ইস্রায়েল তাকে পাথর ছুঁড়ে মারল, এবং বাকিদেরও পাথর ছুঁড়ে মারার পর, তারা তাদের আগুনে পুড়িয়ে দিল।
JOS 7:26 আখনের উপরে তারা পাথরের বিশাল এক স্তূপ তৈরি করল, যা আজও পর্যন্ত বজায় আছে। পরে সদাপ্রভু তাঁর ভয়ংকর ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত হলেন। তাই তখন থেকেই সেই স্থানটি আখোর উপত্যকা নামে পরিচিত হয়ে আছে।
JOS 8:1 পরে সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “ভয় পেয়ো না; হতাশ হোয়ো না। সমগ্র সৈন্যদল সাথে নাও, এবং উঠে গিয়ে অয় নগর আক্রমণ করো। কারণ অয়ের রাজা, তার প্রজা, তার নগর ও তার দেশকে আমি তোমার হাতে সমর্পণ করেছি।
JOS 8:2 যিরীহো ও তার রাজার প্রতি তুমি যেমন করেছিলে, অয় ও তার রাজার প্রতিও তুমি তেমনই করবে, শুধু ব্যতিক্রম হবে এই যে তোমরা তাদের লুন্ঠিত জিনিসপত্র ও গৃহপালিত পশুপাল নিজেদের জন্য নিতে পারবে। নগরের পিছন দিকে ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকো।”
JOS 8:3 অতএব যিহোশূয় ও সমগ্র সৈন্যদল অয় আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে গেলেন। তাঁর সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে থেকে তিনি 30,000 জনকে মনোনীত করলেন এবং রাতের বেলায় তাদের এই আদেশ দিয়ে
JOS 8:4 পাঠিয়ে দিলেন: “ভালো করে শোনো। নগরের পিছন দিকে তোমাদের ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকতে হবে। সেখান থেকে বেশি দূরে যাবে না। তোমরা সবাই সজাগ থেকো।
JOS 8:5 আমি ও আমার সঙ্গী লোকজন, আমরা সবাই নগরের দিকে এগিয়ে যাব এবং লোকেরা যখন আগের মতো আমাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসবে, তখন আমরা তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাব।
JOS 8:6 আমরা তাদের নগর থেকে দূরে প্রলুব্ধ করে নিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তারা আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করে যাবে, কারণ তারা বলবে, ‘আগের মতোই তারা আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।’ তাই আমরা যখন তাদের কাছ থেকে পালাব,
JOS 8:7 তোমরা তখন গুপ্ত স্থান থেকে উঠে এসে নগরটি দখল করবে। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সেটি তোমাদের হাতে সঁপে দেবেন।
JOS 8:8 তোমরা নগরের দখল নিয়ে, তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ো। সদাপ্রভু যে আদেশ দিয়েছেন, তা পালন কোরো। দেখো; আমি তোমাদের আদেশ দিলাম।”
JOS 8:9 পরে যিহোশূয় তাদের পাঠিয়ে দিলেন, এবং তারা ওৎ পেতে থাকার জন্য নিরূপিত স্থানে গেল এবং অয়ের পশ্চিমদিকে, বেথেল ও অয়ের মাঝখানে অপেক্ষা করতে থাকল—কিন্তু যিহোশূয় সমস্ত রাত লোকদের সঙ্গেই কাটালেন।
JOS 8:10 পরদিন ভোরবেলায় যিহোশূয় তাঁর সৈন্যদল জড়ো করলেন, এবং তিনি ও ইস্রায়েলের নেতারা সৈন্যদলের সামনের সারিতে থেকে অয়ের দিকে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন।
JOS 8:11 তাঁর সঙ্গে থাকা সমগ্র সৈন্যদল কুচকাওয়াজ করে নগরের দিকে এগিয়ে গেল ও সেটির সামনে পৌঁছে গেল। অয়ের উত্তর দিকে তারা শিবির স্থাপন করল, এবং তাদের ও নগরের মাঝখানে উপত্যকা ছিল।
JOS 8:12 যিহোশূয় প্রায় 5,000 লোক নিয়ে নগরের পশ্চিমদিকে বেথেল ও অয়ের মাঝখানে তাদের গোপনে লুকিয়ে রাখলেন।
JOS 8:13 অতএব সৈন্যরা নিজেদের অবস্থান নিল—একদিকে প্রধান শিবিরটি নগরের উত্তর দিকে এবং ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরা সেটির পশ্চিমদিকে ছিল। সেরাতে যিহোশূয় উপত্যকায় চলে গেলেন।
JOS 8:14 অয়ের রাজা যখন তা দেখলেন, তিনি ও নগরের সব লোকজন তখন ভোরবেলায় অরাবার দিকে নজর না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নির্দিষ্ট এক স্থানে ইস্রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে নগরের পিছন দিকে তাঁর বিরুদ্ধে একদল সৈন্য ওৎ পেতে লুকিয়ে আছে।
JOS 8:15 যিহোশূয় ও সমগ্র ইস্রায়েল তাদের সামনে থেকে স্বেচ্ছায় পিছু হটলেন, এবং তাঁরা মরুভূমির দিকে পালিয়ে গেলেন।
JOS 8:16 অয়ের সব লোককে তাঁদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য ডাকা হল, এবং তারা যিহোশূয়ের পশ্চাদ্ধাবন করল ও প্রলুব্ধ হয়ে নগর থেকে দূরে চলে গেল।
JOS 8:17 অয় বা বেথেলে এমন একজন লোকও অবশিষ্ট ছিল না যে ইস্রায়েলের পশ্চাদ্ধাবন করেনি। তারা নগর উন্মুক্ত রেখে ইস্রায়েলের পশ্চাদ্ধাবন করল।
JOS 8:18 তখন সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “তোমার হাতে যে বর্শাটি আছে, তা অয়ের দিকে তাক করে ধরো, কারণ তোমার হাতে আমি এই নগরটি সমর্পণ করব।” অতএব যিহোশূয় তাঁর হাতে থাকা বর্শাটি অয়ের দিকে তাক করে ধরলেন।
JOS 8:19 তিনি তা করামাত্রই, ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরা তাড়াতাড়ি তাদের অবস্থান থেকে উঠে এসে সামনের দিকে দৌড়ে গেল। তারা নগরে প্রবেশ করে তার দখল নিল এবং তাড়াতাড়ি তাতে আগুন ধরিয়ে দিল।
JOS 8:20 অয়ের লোকেরা পিছনে ফিরে তাকাল এবং দেখল নগরের ধোঁয়া আকাশে উঠে যাচ্ছে, কিন্তু তারা কোনো দিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি; যে ইস্রায়েলীরা মরুপ্রান্তরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল, তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবনকারীদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াল।
JOS 8:21 কারণ যিহোশূয় ও সমগ্র ইস্রায়েল যখন দেখলেন যে, ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরা নগর দখল করে নিয়েছে এবং সেখান থেকে ধোঁয়া উপরে উঠে যাচ্ছে, তখন তাঁরা পিছনে ঘুরে অয়ের লোকদের আক্রমণ করলেন।
JOS 8:22 ওৎ পেতে লুকিয়ে থাকা সৈন্যরাও নগর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বেরিয়ে এল, তাতে তারা মাঝখানে পড়ে গেল, এবং তাদের দুই দিকেই ইস্রায়েলীরা মোতায়েন ছিল। ইস্রায়েল তাদের কচুকাটা করল, কাউকে অবশিষ্ট রাখল না বা পালিয়েও যেতে দিল না।
JOS 8:23 কিন্তু তারা অয়ের রাজাকে জীবিত অবস্থায় ধরে তাঁকে যিহোশূয়ের কাছে নিয়ে এল।
JOS 8:24 যারা ইস্রায়েলের পশ্চাদ্ধাবন করছিল অয়ের সেইসব লোকজনকে সেই ক্ষেতে ও মরুপ্রান্তরে হত্যা করার, এবং তাদের প্রত্যেককে তরোয়াল দিয়ে কচুকাটা করার পর, ইস্রায়েলীরা সবাই অয়ে ফিরে এল এবং সেখানে যারা ছিল, তাদেরও হত্যা করল।
JOS 8:25 অয়ের সব লোকজন 12,000 নারী-পুরুষ সেদিন নিহত হল।
JOS 8:26 কারণ যিহোশূয় অয়ে বসবাসকারী লোকজনকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাঁর সেই হাতটি পিছনে টেনে আনেননি, যেটিতে বর্শা ধরা ছিল।
JOS 8:27 কিন্তু ইস্রায়েল নিজেদের জন্য সেই নগরের গৃহপালিত পশুপাল ও লুন্ঠিত জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে গেল, যেমনটি সদাপ্রভু যিহোশূয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
JOS 8:28 অতএব যিহোশূয় অয় নগরটি পুড়িয়ে দিলেন এবং তা এক চিরস্থায়ী ধ্বংসস্তূপে, এক নির্জন স্থানে পরিণত করলেন, যা আজও পর্যন্ত তাই হয়ে আছে।
JOS 8:29 অয়ের রাজাকে তিনি শূলে চড়ালেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর মৃতদেহ সেখানেই রেখে দিলেন। সূর্যাস্তের সময়, যিহোশূয় লোকজনকে তাঁর শবটি শূল থেকে নামিয়ে নগর-দুয়ারের প্রবেশস্থানে ছুঁড়ে ফেলার আদেশ দিলেন। আর তারা সেটির উপর বিশাল পাথরের এক স্তূপ তৈরি করল, যা আজও পর্যন্ত বজায় আছে।
JOS 8:30 পরে যিহোশূয় এবল পর্বতে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন।
JOS 8:31 সদাপ্রভুর দাস মোশি ইস্রায়েলীদের যেমন আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশানুসারে তিনি মোশির বিধানপুস্তকের লিখিত বয়ান অনুযায়ী তা নির্মাণ করলেন—সেই বেদি অকর্তিত পাথরে তৈরি হল, যার উপরে কোনো লোহার যন্ত্র ব্যবহৃত হয়নি। তার উপরে তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করল।
JOS 8:32 সেখানে, ইস্রায়েলীদের উপস্থিতিতে, যিহোশূয় একটি পাথরের ফলকে মোশির বিধানের অনুলিপি লিখে দিলেন।
JOS 8:33 ইস্রায়েলীরা সবাই, তাদের প্রাচীন, কর্মকর্তা ও বিচারকদের সঙ্গে মিলিতভাবে, সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী লেবীয় যাজকদের দিকে মুখ করে সদাপ্রভুর সেই নিয়ম-সিন্দুকের দুই পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশিরাও সেখানে ছিল এবং স্বদেশি লোকজনরাও ছিল। ইস্রায়েলী লোকদের আশীর্বাদ দান সংক্রান্ত নির্দেশদান করার সময় সদাপ্রভুর দাস মোশি আগেই তাদের যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, সেই আদেশানুসারে অর্ধেক লোক গরিষীম পর্বতের সামনে ও অর্ধেক লোক এবল পর্বতের সামনে এসে দাঁড়াল।
JOS 8:34 পরে, বিধানপুস্তকে ঠিক যেমনটি লেখা আছে, সেই অনুসারে যিহোশূয় বিধানের সব কথা—আশীর্বাদ ও অভিশাপের কথা—পাঠ করলেন।
JOS 8:35 মোশির দেওয়া আদেশের এমন কোনও কথা বাকি ছিল না যা যিহোশূয় নারী ও শিশুসহ সমগ্র ইস্রায়েলী সমাজ এবং তাদের মধ্যে বসবাসকারী সব বিদেশির কাছে পাঠ করেননি।
JOS 9:1 এদিকে জর্ডন নদীর পশ্চিম পারের সব রাজা—পার্বত্য অঞ্চলের, পশ্চিম পাদদেশের, এবং লেবানন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরের সমগ্র উপকূলবর্তী এলাকার রাজারা (হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের রাজারা) যখন এসব বিষয় শুনলেন,
JOS 9:2 তখন তাঁরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে যিহোশূয় ও ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।
JOS 9:3 অবশ্য, গিবিয়োনের লোকজন যখন শুনতে পেল, যিহোশূয় যিরীহো ও অয়ের প্রতি কী করেছেন,
JOS 9:4 তখন তারা এক কৌশল অবলম্বন করল: তারা এমন এক প্রতিনিধিদলরূপে গেল যাদের গাধাগুলির পিঠে ছেঁড়া বস্তা ও চিড়-খাওয়া ও তাপ্পি মারা সুরাধার রাখা ছিল।
JOS 9:5 তারা ক্ষয়ে যাওয়া ও তাপ্পি মারা চটিজুতো পায়ে দিল এবং পুরোনো পোশাক গায়ে দিল। তাদের খাওয়ার জন্য সব রুটি ছিল শুকনো ও ছাতাধরা।
JOS 9:6 পরে তারা গিল্‌গলে অবস্থিত শিবিরে যিহোশূয়ের কাছে গেল এবং তাঁকে ও ইস্রায়েলীদের বলল, “আমরা এক দূরদেশ থেকে আসছি; আমাদের সঙ্গে আপনারা মৈত্রীচুক্তি করুন।”
JOS 9:7 ইস্রায়েলীরা হিব্বীয়দের বলল, “কিন্তু হয়তো তোমরা আমাদের কাছাকাছি বসবাস করছ, তাই আমরা কীভাবে তোমাদের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করব?”
JOS 9:8 “আমরা আপনার দাস,” তারা যিহোশূয়কে বলল। কিন্তু যিহোশূয় জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কারা এবং তোমরা কোথা থেকে এসেছ?”
JOS 9:9 তারা উত্তর দিল: “আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সুখ্যাতি শুনে আপনার দাস আমরা বহু দূরের এক দেশ থেকে এখানে এলাম। কারণ আমরা তাঁর খবর শুনলাম: তিনি মিশরে যেসব কাজ করেছেন,
JOS 9:10 এবং জর্ডন নদীর পূর্বপারের ইমোরীয়দের দুই রাজার—হিষ্‌বোনের রাজা সীহোন ও যিনি অষ্টারোতে রাজত্ব করতেন, বাশনের রাজা সেই ওগের—প্রতি তিনি যেসব কাজ করেছেন, সেকথাও আমরা শুনেছি।
JOS 9:11 আর আমাদের প্রাচীনেরা ও আমাদের দেশে বসবাসকারী সবাই আমাদের বললেন, ‘তোমাদের যাত্রার জন্য তোমরা পাথেয় নাও; যাও এবং তাদের সঙ্গে দেখা করো ও তাদের বলো, “আমরা আপনাদের দাস; আমাদের সঙ্গে এক মৈত্রীচুক্তি করুন।” ’
JOS 9:12 যেদিন আমরা আপনাদের কাছে আসার জন্য বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন ঘরে বোঁচকা বাঁধা আমাদের এই রুটিগুলি সব টাটকা ছিল। কিন্তু এখন দেখুন, এগুলি কেমন শুকনো হয়ে গিয়েছে ও এতে ছাতা ধরেছে।
JOS 9:13 আর আমাদের ভর্তি করা এই সুরাধারগুলি নতুন ছিল, কিন্তু দেখুন, এগুলিতে কেমন চিড় ধরেছে। আর এই সুদীর্ঘ যাত্রার ফলে আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চটিজুতোও ছিঁড়ে গিয়েছে।”
JOS 9:14 ইস্রায়েলীরা সেইসব খাবারদাবার পরীক্ষা করে দেখল কিন্তু সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ করল না।
JOS 9:15 তখন যিহোশূয় তাদের সঙ্গে এক মৈত্রীচুক্তি করলেন, যেন তারা বেঁচে থাকে, এবং সমাজের সব নেতা শপথের দ্বারা সেটির অনুমোদন দিলেন।
JOS 9:16 গিবিয়োনীয়দের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করার তিন দিন পর, ইস্রায়েলীরা শুনতে পেল যে, তারা তাদেরই প্রতিবেশী, তাদের কাছেই বসবাস করছিল।
JOS 9:17 তাই ইস্রায়েলীরা যাত্রা করে তৃতীয় দিনে তাদের এই নগরগুলির কাছে পৌঁছে গেল: গিবিয়োন, কফীরা, বেরোৎ ও কিরিয়ৎ-যিয়ারীম।
JOS 9:18 ইস্রায়েলীরা কিন্তু তাদের আক্রমণ করল না, কারণ সমাজের নেতারা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে তাদের কাছে শপথ করেছিলেন। সমগ্র জনসমাজ নেতাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করল,
JOS 9:19 কিন্তু নেতারা সবাই তাদের উত্তর দিলেন, “আমরা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে তাদের কাছে শপথ করেছি, তাই এখন আমরা আর তাদের স্পর্শ করতে পারব না।
JOS 9:20 আমরা তাদের প্রতি এরকম করব: আমরা তাদের বেঁচে থাকতে দেব, যেন তাদের কাছে করা শপথ ভাঙার জন্য আমাদের উপরে ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে না আসে।”
JOS 9:21 তাঁরা আরও বললেন, “তারা বেঁচে থাকুক, কিন্তু সমগ্র সমাজের সেবায় তারা কাঠুরিয়া ও জল বহনকারী হয়েই থাকুক।” অতএব তাদের কাছে করা নেতাদের প্রতিজ্ঞা রক্ষিত হল।
JOS 9:22 পরে যিহোশূয় গিবিয়োনীয়দের ডেকে পাঠালেন ও বললেন, “তোমরা কেন একথা বলে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে যে, ‘আমরা আপনাদের থেকে বহুদূরে বসবাস করি,’ প্রকৃতপক্ষে যখন তোমরা আমাদের কাছেই থাকো?
JOS 9:23 এখন তোমরা এক অভিশাপের অধীন হলে: আমার ঈশ্বরের গৃহের জন্য কাঠুরিয়ার ও জল বহনকারীর সেবাকাজ থেকে তোমরা কখনও নিষ্কৃতি পাবে না।”
JOS 9:24 তারা যিহোশূয়কে উত্তর দিল, “আপনার দাসেদের স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছিল কীভাবে আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর দাস মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, যে তিনি সমগ্র দেশটি আপনাদের দেবেন এবং এখানকার সমস্ত অধিবাসীকে আপনাদের সামনে থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবেন। তাই আপনাদের কারণে আমরা প্রাণভয়ে ভীত হয়েছি, এবং সেজন্যই এরকম করেছি।
JOS 9:25 এখন আমরা আপনার হাতেই আছি। আপনার যা ভালো ও ন্যায্য মনে হয়, আমাদের প্রতি তাই করুন।”
JOS 9:26 অতএব যিহোশূয় ইস্রায়েলীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করলেন, এবং ইস্রায়েলীরা তাদের হত্যা করল না।
JOS 9:27 গিবিয়োনীয়দের সেদিন তিনি সমাজের জন্য কাঠুরিয়া ও জল বহনকারীরূপে, ও সদাপ্রভুর মনোনীত স্থানে সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদির চাহিদা মিটানোর কাজে নিযুক্ত করলেন। আর আজও পর্যন্ত তারা এরকমই হয়ে আছে।
JOS 10:1 এদিকে জেরুশালেমের রাজা অদোনী-ষেদক শুনতে পেলেন যে যিহোশূয় অয় দখল করে তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলেছেন, যিরীহো ও সেখানকার রাজার প্রতি তিনি যেমন করেছিলেন, অয় ও সেখানকার রাজার প্রতিও সেরকমই করেছেন, এবং গিবিয়োন-নিবাসীরা ইস্রায়েলের সঙ্গে এক মৈত্রীচুক্তি করেছে ও তাদের মিত্রশক্তি হয়ে উঠেছে।
JOS 10:2 রাজা ও তাঁর প্রজারা এতে ভীষণ উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে গেলেন, কারণ যে কোনো রাজকীয় নগরের মতো গিবিয়োনও ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক নগর; সেটি আকারে অয়ের থেকেও বড়ো ছিল এবং সেখানকার সব লোকজন ছিল ভালো যোদ্ধা।
JOS 10:3 তাই জেরুশালেমের রাজা অদোনী-ষেদক হিব্রোণের রাজা হোহমের, যর্মূতের রাজা পিরামের, লাখীশের রাজা যাফিয়ের ও ইগ্লোনের রাজা দবীরের কাছে আবেদন জানালেন।
JOS 10:4 “আপনারা আমার কাছে আসুন এবং গিবিয়োন আক্রমণ করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন,” তিনি বললেন, “কারণ তারা যিহোশূয় ও ইস্রায়েলের সঙ্গে সন্ধি করেছে।”
JOS 10:5 তখন ইমোরীয়দের এই পাঁচজন রাজা—জেরুশালেমের, হিব্রোণের, যর্মূতের, লাখীশের ও ইগ্লোনের রাজা—তাঁদের সৈন্যদল সমবেত করলেন। তাঁদের সমগ্র সৈন্যদল নিয়ে তাঁরা এগিয়ে গেলেন ও গিবিয়োনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেটি আক্রমণ করলেন।
JOS 10:6 গিবিয়োনীয়েরা তখন গিল্‌গলের শিবিরে যিহোশূয়ের কাছে খবর পাঠাল: “আপনার দাসদের ছেড়ে যাবেন না। তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আসুন ও আমাদের রক্ষা করুন! আমাদের সাহায্য করুন, কারণ পার্বত্য প্রদেশের ইমোরীয় রাজারা সবাই আমাদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছেন।”
JOS 10:7 অতএব যিহোশূয় তাঁর সমগ্র সৈন্যদল ও সেরা যোদ্ধাদের সবাইকে সাথে নিয়ে গিল্‌গল থেকে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন।
JOS 10:8 সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “ওদের ভয় পেয়ো না; ওদের আমি তোমার হাতে সমর্পণ করেছি। ওদের কেউই তোমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না।”
JOS 10:9 গিল্‌গল থেকে বেরিয়ে সারারাত কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে যাওয়ার পর, যিহোশূয় হঠাৎ তাঁদের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁদের চমকে দিলেন।
JOS 10:10 ইস্রায়েলের সামনে সদাপ্রভু তাদের বিহ্বল করে তুললেন, তাই যিহোশূয় ও ইস্রায়েলীরা গিবিয়োনে তাদের সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করলেন। বেথ-হোরোণ পর্যন্ত উঠে যাওয়া পথটি ধরে ইস্রায়েল তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং অসেকা ও মক্কেদা পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করল।
JOS 10:11 তারা যখন বেথ-হোরোণ থেকে অসেকা পর্যন্ত বিস্তৃত পথে নামতে নামতে ইস্রায়েলের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন সদাপ্রভু তাদের উপরে বড়ো বড়ো শিলা বর্ষণ করলেন এবং ইস্রায়েলীদের তরোয়ালের আঘাতে যতজন না নিহত হল, তার থেকেও বেশি সংখ্যক লোক শিলাবৃষ্টিতে নিহত হল।
JOS 10:12 যেদিন সদাপ্রভু ইমোরীয়দের ইস্রায়েলের হাতে সমর্পণ করলেন, যিহোশূয় সমস্ত ইস্রায়েলের সামনে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: “সূর্য, তুমি গিবিয়োনে স্থির হয়ে দাঁড়াও, আর চাঁদ, তুমি দাঁড়াও অয়ালোন উপত্যকায়।”
JOS 10:13 তাই সূর্য স্থির হয়ে দাঁড়াল, চাঁদও থেমে রইল, যতক্ষণ না সেই জাতি তার শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নিল, যেমনটি যাশেরের পুস্তকে লেখা আছে। সূর্য মধ্যাকাশে থেমে রইল ও অস্ত যেতে প্রায় সম্পূর্ণ একদিন দেরি করল।
JOS 10:14 এর আগে বা এযাবৎ আর কখনও এমন কোনও দিন হয়নি, যেদিন সদাপ্রভু কোনো মানুষের কথা এভাবে শুনেছেন। নিঃসন্দেহে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের হয়ে যুদ্ধ করছিলেন!
JOS 10:15 পরে যিহোশূয় সমগ্র ইস্রায়েলকে সঙ্গে নিয়ে গিল্‌গলের শিবিরে ফিরে এলেন।
JOS 10:16 এদিকে সেই পাঁচজন রাজা পালিয়ে গিয়ে মক্কেদায় একটি গুহাতে লুকিয়েছিলেন।
JOS 10:17 যিহোশূয়কে যখন বলা হল যে সেই পাঁচজন রাজাকে মক্কেদায় একটি গুহাতে লুকিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে,
JOS 10:18 তখন তিনি বললেন, “সেই গুহাটির মুখে বড়ো বড়ো পাষাণ-পাথর গড়িয়ে দাও ও সেটি পাহারা দেওয়ার জন্য কয়েকজন লোক মোতায়েন করে দাও।
JOS 10:19 কিন্তু তোমরা থেমে থেকো না; তোমাদের শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করে যাও! পিছন দিক থেকে তাদের আক্রমণ করো ও তাদের নিজেদের নগরগুলিতে পৌঁছাতে দিয়ো না, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের তোমাদের হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন।”
JOS 10:20 অতএব যিহোশূয় ও ইস্রায়েলীরা সম্পূর্ণরূপে তাদের পরাজিত করলেন, কিন্তু প্রাণে বাঁচা কয়েকজন লোক তাদের প্রাচীরবেষ্টিত নগরগুলিতে পৌঁছে যেতে পারল।
JOS 10:21 সমগ্র সৈন্যদল নিরাপদে মক্কেদার শিবিরে যিহোশূয়ের কাছে ফিরে এল, এবং কেউই ইস্রায়েলীদের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারল না।
JOS 10:22 যিহোশূয় বললেন, “গুহার মুখটি খোলো এবং সেই পাঁচজন রাজাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
JOS 10:23 অতএব তারা সেই পাঁচজন রাজাকে—জেরুশালেমের, হিব্রোণের, যর্মূতের, লাখীশের ও ইগ্লোনের রাজাকে গুহা থেকে বের করে আনল।
JOS 10:24 তারা যখন এসব রাজাকে যিহোশূয়ের কাছে আনল, তখন তিনি ইস্রায়েলের সব লোকজনকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর সঙ্গে আসা সৈন্যদলের সেনাপতিদের বললেন, “তোমরা এখানে এসো ও এই রাজাদের ঘাড়ে নিজেদের পা রাখো।” তাই তাঁরা এগিয়ে এলেন ও সেই রাজাদের ঘাড়ে নিজেদের পা রাখলেন।
JOS 10:25 যিহোশূয় তাদের বললেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না; নিরাশও হোয়ো না। তোমরা বলবান ও সাহসী হও। তোমরা যেসব শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাচ্ছ, সদাপ্রভু তাদের সবারই প্রতি এরকম করবেন।”
JOS 10:26 পরে যিহোশূয় সেই রাজাদের হত্যা করলেন ও পাঁচটি শূলে তাঁদের মৃতদেহ টাঙিয়ে দিলেন, এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের মৃতদেহ ওই শূলগুলিতে ঝুলে রইল।
JOS 10:27 সূর্যাস্তের সময় যিহোশূয় আদেশ দিলেন ও তারা ওই রাজাদের মৃতদেহ শূল থেকে নামাল এবং তাঁরা যেখানে লুকিয়েছিলেন, সেই গুহায় তাঁদের শবগুলি ছুঁড়ে ফেলে দিল। গুহার মুখে তারা বড়ো বড়ো পাষাণ-পাথর রেখে দিল, যা আজও পর্যন্ত সেখানে রাখা আছে।
JOS 10:28 সেদিন যিহোশূয় মক্কেদা দখল করলেন। তিনি সেই নগরের ও সেখানকার রাজার উপর তরোয়াল চালালেন ও সেটির মধ্যে বসবাসকারী প্রত্যেককে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন। তিনি কাউকেই প্রাণে বাঁচতে দিলেন না। আর যিরীহোর রাজার প্রতি তিনি যেমন করেছিলেন, মক্কেদার রাজার প্রতিও তিনি তেমনই করলেন।
JOS 10:29 পরে যিহোশূয় ও সমগ্র ইস্রায়েল মক্কেদা থেকে লিব্‌নার দিকে এগিয়ে গেলেন ও তা আক্রমণ করলেন।
JOS 10:30 সদাপ্রভু সেই নগরটি ও তার রাজাকেও ইস্রায়েলের হাতে সমর্পণ করলেন। সেই নগরের ও সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকের উপর যিহোশূয় তরোয়াল চালালেন। সেখানে কাউকে তিনি প্রাণে বাঁচতে দিলেন না। আর যিরীহোর রাজার প্রতি তিনি যেমন করেছিলেন, এখানকার রাজার প্রতিও তিনি তেমনই করলেন।
JOS 10:31 পরে যিহোশূয় ও তাঁর সঙ্গে থাকা সমগ্র ইস্রায়েল লিব্‌না থেকে লাখীশের দিকে এগিয়ে গেলেন; তিনি সেই নগরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন ও তা আক্রমণ করলেন।
JOS 10:32 সদাপ্রভু ইস্রায়েলের হাতে লাখীশ সমর্পণ করলেন, এবং দ্বিতীয় দিনে যিহোশূয় তা দখল করলেন। সেই নগরের ও সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকের উপরে তিনি তরোয়াল চালালেন, ঠিক যেমনটি তিনি লিব্‌নার প্রতি করেছিলেন।
JOS 10:33 ইতিমধ্যে, গেষরের রাজা হোরম লাখীশকে সাহায্য করতে এলেন, কিন্তু যিহোশূয় তাঁকে ও তাঁর সৈন্যদলকেও পরাজিত করলেন—কাউকে প্রাণে বাঁচতে দিলেন না।
JOS 10:34 পরে যিহোশূয় ও তাঁর সঙ্গে থাকা সমগ্র ইস্রায়েল লাখীশ থেকে ইগ্লোনের দিকে এগিয়ে গেলেন; তাঁরা নগরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন ও তা আক্রমণ করলেন।
JOS 10:35 সেদিনই তাঁরা তা দখল করে নিলেন এবং সেটির উপরে তরোয়াল চালিয়ে সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেককে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন, ঠিক যেমনটি তাঁরা লাখীশের প্রতি করেছিলেন।
JOS 10:36 পরে যিহোশূয় ও তাঁর সঙ্গে থাকা সমগ্র ইস্রায়েল ইগ্লোন থেকে হিব্রোণের দিকে এগিয়ে গিয়ে তা আক্রমণ করলেন।
JOS 10:37 তাঁরা নগরটি দখল করলেন এবং সেটির উপরে ও সেখানকার রাজার, সেখানকার গ্রামগুলির এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকের উপরে তরোয়াল চালিয়ে দিলেন। কাউকেই তাঁরা প্রাণে বাঁচতে দিলেন না। ইগ্লোনের প্রতি যেমন করেছিলেন, সেভাবে সেই নগর ও সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেককে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন।
JOS 10:38 পরে যিহোশূয় ও তাঁর সঙ্গে থাকা সমগ্র ইস্রায়েল পিছনে ফিরে দবীর আক্রমণ করলেন।
JOS 10:39 তাঁরা নগরটির রাজা ও গ্রামগুলি সমেত সেটি দখল করে নিলেন এবং তাদের উপরে তরোয়াল চালিয়ে দিলেন। সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেককে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন। কাউকেই তাঁরা প্রাণে বাঁচতে দিলেন না। লিব্‌না ও সেখানকার রাজার এবং হিব্রোণের প্রতি তাঁরা যেমন করেছিলেন, দবীর ও সেখানকার রাজার প্রতিও তাঁরা তেমনই করলেন।
JOS 10:40 অতএব যিহোশূয় পার্বত্য প্রদেশ, নেগেভ, পশ্চিমী পাহাড়ের পাদদেশ ও পর্বতের ঢাল সমেত সমগ্র অঞ্চলটি, এবং তাদের সব রাজাকে পদানত করলেন। তাদের কাউকেই তিনি প্রাণে বাঁচতে দিলেন না। শ্বাসবিশিষ্ট সকলকেই তিনি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন, ঠিক যেমনটি ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন।
JOS 10:41 কাদেশ-বর্ণেয় থেকে গাজা পর্যন্ত এবং গোশনের সমগ্র অঞ্চল থেকে গিবিয়োন পর্যন্ত, যিহোশূয় তাদের পদানত করলেন।
JOS 10:42 একই সামরিক অভিযানে যিহোশূয় এসব রাজা ও তাঁদের দেশগুলির উপর জয়লাভ করলেন, কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু ইস্রায়েলের হয়ে যুদ্ধ করছিলেন।
JOS 10:43 পরে যিহোশূয় সমগ্র ইস্রায়েলকে সঙ্গে নিয়ে গিল্‌গলের শিবিরে ফিরে এলেন।
JOS 11:1 হাৎসোরের রাজা যাবীন যখন একথা শুনলেন, তখন তিনি মাদোনের রাজা যোববের কাছে, শিম্রোণের ও অক্‌ষফের রাজাদের কাছে,
JOS 11:2 এবং পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী উত্তর দিকের রাজাদের কাছে, কিন্নেরতের দক্ষিণে অরাবায়, পশ্চিমী পাহাড়ের পাদদেশে ও আরও পশ্চিমে নাফোৎ-দোরে খবর পাঠালেন;
JOS 11:3 এছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিমদিকের কনানীয়দের কাছে; পার্বত্য অঞ্চলের ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয় ও যিবূষীয়দের কাছে; এবং হর্মোণের নিচের দিকের মিস্‌পা অঞ্চলে হিব্বীয়দের কাছেও তিনি খবর পাঠালেন।
JOS 11:4 তাঁরা তাঁদের সমগ্র সৈন্যদল এবং বিপুল সংখ্যক ঘোড়া ও রথ নিয়ে—সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো বিশাল সৈন্যদল নিয়ে বেরিয়ে এলেন।
JOS 11:5 এসব রাজা সৈন্যদলগুলি একত্রিত করে ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মেরোম জলাশয়ের কাছে শিবির স্থাপন করলেন।
JOS 11:6 সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “তুমি ওদের ভয় কোরো না, কারণ আগামীকাল এই সময়ে, আমি তাদের সবাইকে হত্যা করে ইস্রায়েলের হাতে সমর্পণ করব। তোমাকে তাদের ঘোড়াগুলির পায়ের শিরা কেটে ফেলতে হবে ও তাদের রথগুলি পুড়িয়ে দিতে হবে।”
JOS 11:7 অতএব যিহোশূয় ও তাঁর সমগ্র সৈন্যদল অতর্কিতে মেরোম জলাশয়ের কাছে গিয়ে তাদের আক্রমণ করলেন,
JOS 11:8 এবং সদাপ্রভু তাদের ইস্রায়েলের হাতে সমর্পণ করলেন। তাঁরা তাদের পরাজিত করলেন এবং মহাসীদোন, মিষ্রফোৎ-ময়িম ও পূর্বদিকে মিস্‌পা উপত্যকা পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে গেলেন, ও একজনকেও প্রাণে বাঁচতে দিলেন না।
JOS 11:9 সদাপ্রভু যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন, যিহোশূয় তাদের প্রতি তেমনই করলেন: তিনি তাদের ঘোড়াগুলির পায়ের শিরা কেটে ফেললেন এবং তাদের রথগুলি পুড়িয়ে দিলেন।
JOS 11:10 সেই সময় যিহোশূয় পিছনে ফিরে হাৎসোর নিয়ন্ত্রণে আনলেন এবং সেখানকার রাজার উপরে তরোয়াল চালিয়ে দিলেন। (এসব রাজ্যের মধ্যে হাৎসোর প্রধান ছিল)
JOS 11:11 সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকের উপরে তারা তরোয়াল চালিয়ে দিলেন। তাঁরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন, তাদের মধ্যে শ্বাসবিশিষ্ট কাউকেই জীবিত রাখলেন না, এবং তিনি হাৎসোর নগরটিই পুড়িয়ে দিলেন।
JOS 11:12 যিহোশূয় এসব রাজকীয় নগর ও সেখানকার রাজাদের নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁদের উপরে তরোয়াল চালিয়ে দিলেন। সদাপ্রভুর দাস মোশির আদেশানুসারে তিনি তাঁদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন।
JOS 11:13 তবুও শুধু যিহোশূয় যেটি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই হাৎসোর ছাড়া, তাদের টিলাগুলির উপরে নির্মিত আর কোনো নগর তারা পোড়ায়নি।
JOS 11:14 ইস্রায়েলীরা এসব নগরের সমস্ত লুন্ঠিত জিনিসপত্র ও গৃহপালিত পশুপাল নিজেদের জন্য বহন করে নিয়ে গেল, কিন্তু সব লোকজনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা তাদের উপরে তরোয়াল চালিয়ে গেল, এবং শ্বাসবিশিষ্ট কাউকেও তারা জীবিত রাখেনি।
JOS 11:15 সদাপ্রভু তাঁর দাস মোশিকে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, মোশিও যিহোশূয়কে তেমনই আদেশ দিয়েছিলেন, ও যিহোশূয় তা পালন করলেন; সদাপ্রভু মোশিকে যেসব আদেশ দিয়েছিলেন, যিহোশূয় তার কোনোটিই অসম্পূর্ণ রাখেননি।
JOS 11:16 অতএব যিহোশূয় সমগ্র এই দেশ: পার্বত্য প্রদেশ, সমগ্র নেগেভ, গোশনের সম্পূর্ণ অঞ্চল, পশ্চিমী পাহাড়ের পাদদেশগুলি, অরাবা এবং ইস্রায়েলের পর্বতগুলি ও সেগুলির পাদদেশগুলি,
JOS 11:17 সেয়ীরের দিকে উঠে যাওয়া হালক পর্বত থেকে হর্মোণ পর্বতের নিচে অবস্থিত লেবানন উপত্যকার বায়াল-গাদ পর্যন্ত দখল করলেন। তিনি সেখানকার সব রাজাকে বন্দি করে তাদের হত্যা করলেন।
JOS 11:18 দীর্ঘদিন ধরে যিহোশূয় এসব রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালালেন।
JOS 11:19 গিবিয়োনে বসবাসকারী হিব্বীয়রা ছাড়া, আর কোনও নগর সেই ইস্রায়েলীদের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করেনি, যারা যুদ্ধে তাদের সবাইকে পরাজিত করেছিল।
JOS 11:20 কারণ স্বয়ং সদাপ্রভুই তাদের হৃদয় কঠোর করলেন, যেন তারা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায় এবং তিনি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারেন, দয়া না দেখিয়ে তাদের যেন নির্মূল করে ফেলেন, যেমনটি সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
JOS 11:21 সেই সময় যিহোশূয় গিয়ে পার্বত্য প্রদেশের অনাকীয়দের ধ্বংস করলেন: হিব্রোণ, দবীর ও অনাব থেকে, যিহূদার সমস্ত পার্বত্য প্রদেশ থেকে ও ইস্রায়েলের সমস্ত পার্বত্য প্রদেশ থেকে। তাদের ও তাদের নগরগুলি যিহোশূয় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলেন।
JOS 11:22 ইস্রায়েলী এলাকায় আর কোনো অনাকীয় অবশিষ্ট ছিল না; শুধুমাত্র গাজা, গাৎ ও অস্‌দোদে কিছু লোক অবশিষ্ট ছিল।
JOS 11:23 অতএব যিহোশূয় সমগ্র দেশটি দখল করলেন, ঠিক যেমনটি সদাপ্রভু মোশিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, এবং তাদের গোষ্ঠী-বিভাগ অনুসারে তিনি সেই দেশটি এক উত্তরাধিকাররূপে ইস্রায়েলকে দিলেন। পরে দেশে যুদ্ধবিরাম হল।
JOS 12:1 এঁরাই হলেন সেই দেশের রাজারা, যাঁদের ইস্রায়েলীরা পরাজিত করল এবং যাঁদের এলাকা জর্ডন নদীর পূর্বপারে, অর্ণোন গিরিখাত থেকে হর্মোণ পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, সেই এলাকা এবং অরাবার পূর্বদিকের সমস্ত এলাকা তারা দখল করল:
JOS 12:2 ইমোরীয়দের রাজা সীহোন, যিনি হিষ্‌বোনে রাজত্ব করতেন। অর্ণোন গিরিখাতের প্রান্তে অরোয়ের থেকে—গিরিখাতের মাঝামাঝি থেকে—অম্মোনীয়দের সীমানারূপে চিহ্নিত যব্বোক নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা তাঁর শাসনাধীন ছিল। গিলিয়দের অর্ধেক অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।
JOS 12:3 এছাড়াও গালীল সাগর থেকে অরাবা সাগর (অর্থাৎ, মরুসাগর) পর্যন্ত এবং বেথ-যিশীমোৎ ও পরে পিস্‌গার ঢালের নিচে, দক্ষিণ দিক পর্যন্ত তাঁর শাসনাধীন ছিল।
JOS 12:4 আর বাশনের রাজা সেই ওগের এলাকা, যিনি রফায়ীয়দের শেষদিকের একজন রাজা, ও যিনি অষ্টারোতে ও ইদ্রিয়ীতে রাজত্ব করতেন।
JOS 12:5 হর্মোণ পর্বত, সল্‌খা, গশূর ও মাখার লোকদের সীমানা পর্যন্ত সমস্ত বাশন এবং হিষ্‌বোনের রাজা সীহোনের রাজ্যের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত গিলিয়দের অর্ধেক অংশ তাঁর শাসনাধীন ছিল।
JOS 12:6 সদাপ্রভুর দাস মোশি এবং ইস্রায়েলীরা তাঁদের উপর জয়লাভ করেন। আর সদাপ্রভুর দাস মোশি তাঁদের দেশটি অধিকাররূপে রূবেণীয় ও গাদীয়দের এবং মনঃশির অর্ধেক বংশকে দিয়েছিলেন।
JOS 12:7 জর্ডন নদীর পশ্চিমদিকে, লেবানন উপত্যকার বায়াল-গাদ থেকে যা সেয়ীরের দিকে উঠে যায়, সেই হালক পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত যে দেশটি যিহোশূয় ও ইস্রায়েলীরা জয় করলেন, সেখানকার রাজাদের এক তালিকা এখানে দেওয়া হল। যিহোশূয় তাঁদের দেশগুলি এক অধিকাররূপে গোষ্ঠী-বিভাগ অনুসারে ইস্রায়েলের বিভিন্ন বংশকে দিয়েছিলেন।
JOS 12:8 এই দেশগুলিতে পার্বত্য প্রদেশ, পশ্চিমী পাহাড়ের পাদদেশ, অরাবা, পর্বতের ঢাল, মরুপ্রান্তর ও নেগেভ যুক্ত ছিল। এগুলি হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের দেশ। এঁরাই সেইসব রাজা:
JOS 12:9 যিরীহোর রাজা একজন (বেথেলের নিকটবর্তী) অয়ের রাজা একজন
JOS 12:10 জেরুশালেমের রাজা একজন হিব্রোণের রাজা একজন
JOS 12:11 যর্মূতের রাজা একজন লাখীশের রাজা একজন
JOS 12:12 ইগ্লোনের রাজা একজন গেষরের রাজা একজন
JOS 12:13 দবীরের রাজা একজন গেদরের রাজা একজন
JOS 12:14 হর্মার রাজা একজন অরাদের রাজা একজন
JOS 12:15 লিব্‌নার রাজা একজন অদুল্লমের রাজা একজন
JOS 12:16 মক্কেদার রাজা একজন বেথেলের রাজা একজন
JOS 12:17 তপূহের রাজা একজন হেফরের রাজা একজন
JOS 12:18 অফেকের রাজা একজন লশারোণের রাজা একজন
JOS 12:19 মাদোনের রাজা একজন হাৎসোরের রাজা একজন
JOS 12:20 শিম্রোণ-মেরোণের রাজা একজন অক্‌ষফের রাজা একজন
JOS 12:21 তানকের রাজা একজন মগিদ্দোর রাজা একজন
JOS 12:22 কেদশের রাজা একজন কর্মিলে যক্নিয়ামের রাজা একজন
JOS 12:23 (নাফোৎ-দোরে) দোরের রাজা একজন গিল্‌গলে গয়িমের রাজা একজন
JOS 12:24 তির্সার রাজা একজন মোট একত্রিশ জন রাজা।
JOS 13:1 যিহোশূয় বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “তুমি খুব বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছ, আর দেশের বিস্তর এলাকা এখনও দখল করা হয়ে ওঠেনি।
JOS 13:2 “এসব দেশ এখনও অবশিষ্ট আছে: “ফিলিস্তিনী ও গশূরীয়দের সমস্ত অঞ্চল,
JOS 13:3 মিশরের পূর্বদিকে প্রবাহিত সীহোর নদী থেকে উত্তর দিকে ইক্রোণের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা, যার সম্পূর্ণটাই কনানীয়দের অধিকাররূপে গণ্য, যদিও গাজা, অস্‌দোদ, অস্কিলোন, গাৎ ও ইক্রোণে রাজত্বকারী পাঁচজন ফিলিস্তিনী রাজা তা দখল করে রেখেছে; দক্ষিণ দিকে
JOS 13:4 অব্বীয়দের এলাকা; সীদোনীয়দের আরা থেকে অফেক পর্যন্ত ও ইমোরীয়দের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত কনানীয়দের দেশ;
JOS 13:5 গিব্‌লীয়দের অঞ্চল; এবং পূর্বদিকে হর্মোণ পর্বতের নিচে অবস্থিত বায়াল-গাদ থেকে লেবো-হমাৎ পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র লেবানন।
JOS 13:6 “লেবানন থেকে মিষ্রফোৎ-ময়িম পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চলের সমস্ত অধিবাসীকে, অর্থাৎ, সীদোনীয়দের সবাইকে আমি স্বয়ং ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে তাড়িয়ে দেব। তোমাকে আমি যেমন নির্দেশ দিয়েছিলাম, সেই অনুসারে এক উত্তরাধিকাররূপে এই দেশটি তুমি অবশ্যই ইস্রায়েলীদের জন্য বরাদ্দ কোরো,
JOS 13:7 এবং এটি এক উত্তরাধিকাররূপে নয় বংশের ও মনঃশির অর্ধেক বংশের মধ্যে ভাগ করে দিয়ো।”
JOS 13:8 মনঃশির অন্য অর্ধেক বংশ, রূবেণীয়রা ও গাদীয়রা তাদের সেই উত্তরাধিকার লাভ করল যা মোশি জর্ডনের পূর্বপারে তাদের দিয়েছিলেন, যেভাবে তিনি, সদাপ্রভুর দাস, তাদের জন্য সেটি বরাদ্দ করে দিয়েছিলেন।
JOS 13:9 এটি অর্ণোন গিরিখাতের প্রান্তে অবস্থিত অরোয়ের থেকে, এবং সেই গিরিখাতের মাঝখানে অবস্থিত নগর থেকে সম্প্রসারিত হল এবং দীবোন পর্যন্ত বিস্তৃত মেদ্‌বার সমগ্র মালভূমি,
JOS 13:10 ও অম্মোনীয়দের সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা ইমোরীয়দের রাজা সেই সীহোনের সমস্ত নগরও এতে যুক্ত হল, যিনি হিষ্‌বোনে রাজত্ব করতেন।
JOS 13:11 এছাড়াও এতে গিলিয়দ অঞ্চল, গশূর ও মাখার অধিবাসীদের এলাকা, সমগ্র হর্মোণ পর্বত ও সল্‌খা পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র বাশন যুক্ত হল—
JOS 13:12 অর্থাৎ, বাশনে সেই ওগের সমগ্র রাজ্য, যিনি অষ্টারোৎ ও ইদ্রিয়ীতে রাজত্ব করতেন। (তিনিই রফায়ীয়দের সর্বশেষ জন) মোশি তাদের পরাজিত করলেন ও তাদের দেশ অধিকার করে নিলেন।
JOS 13:13 কিন্তু ইস্রায়েলীরা গশূর ও মাখার লোকদের সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দেয়নি, তাই আজও পর্যন্ত তারা ইস্রায়েলীদের মধ্যে বসবাস করে যাচ্ছে।
JOS 13:14 কিন্তু লেবি বংশকে তিনি কোনও উত্তরাধিকার দেননি, যেহেতু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত ভক্ষ্য নৈবেদ্যই হল তাদের উত্তরাধিকার, যেভাবে সদাপ্রভু তাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
JOS 13:15 রূবেণ বংশকে, তাদের গোষ্ঠী অনুসারে মোশি এই অধিকার দিলেন:
JOS 13:16 অর্ণোন গিরিখাতের প্রান্তে অবস্থিত অরোয়ের থেকে, এবং গিরিখাতের মাঝখানে অবস্থিত নগর থেকে, এবং মেদ্‌বা ছাড়িয়ে সমগ্র মালভূমি থেকে
JOS 13:17 হিষ্‌বোন এবং মালভূমিতে ছড়িয়ে থাকা নগরগুলির সাথে দীবোন, বামোৎ-বায়াল, বেথ-বায়াল-মিয়োন,
JOS 13:18 যহস, কদেমোৎ, মেফাৎ,
JOS 13:19 কিরিয়াথয়িম, সিব্‌মা, উপত্যকার পাহাড়ে অবস্থিত সেরৎ-নগর,
JOS 13:20 বেথ-পিয়োর, পিস্‌গার ঢাল, ও বেথ-যিশীমোৎ
JOS 13:21 মালভূমিতে অবস্থিত সমস্ত নগর এবং হিষ্‌বোনে রাজত্বকারী ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের সমগ্র অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা তাদের দিলেন। মোশি সীহোনকে এবং মিদিয়নীয় সর্দারদের, ইবি, রেকম, সূর, হূর ও রেবাকে—সীহোনের সঙ্গে জোট বাঁধা এই অধিপতিদের—পরাজিত করলেন, যাঁরা সেই দেশে বসবাস করতেন।
JOS 13:22 যুদ্ধে যারা নিহত হল, তাদের সাথে বিয়োরের ছেলে সেই বিলিয়মকেও ইস্রায়েলীরা তরোয়াল চালিয়ে মেরে ফেলল, যে ভবিষ্যৎ-কথনের অনুশীলন করত।
JOS 13:23 রূবেণীয়দের সীমানা ছিল জর্ডন নদীর পাড়। তাদের গোষ্ঠী অনুসারে এইসব নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি রূবেণ বংশের অধিকার হল।
JOS 13:24 গাদ বংশকে, তাদের গোষ্ঠী অনুসারে মোশি এই অধিকার দিলেন:
JOS 13:25 যাসেরের এলাকা, গিলিয়দের সবকটি নগর এবং রব্বার নিকটবর্তী, অরোয়ের পর্যন্ত বিস্তৃত অম্মোনীয়দের অর্ধেক দেশ;
JOS 13:26 এবং হিষ্‌বোন থেকে রামৎ-মিস্‌পী ও বটোনীম পর্যন্ত এবং মহনয়িম থেকে দবীরের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল;
JOS 13:27 এবং উপত্যকায়, বেথ-হারম, বেথ-নিম্রা, সুক্কোৎ ও সাফোন, ও সেই সঙ্গে হিষ্‌বোনের রাজা সীহোনের অবশিষ্ট সমস্ত অঞ্চল। (জর্ডনের পূর্বদিকে, গালীল সাগরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল)
JOS 13:28 এসব নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি তাদের গোষ্ঠী অনুসারে গাদ বংশের অধিকার হল।
JOS 13:29 মনঃশির অর্ধেক বংশকে, অর্থাৎ, মনঃশির বংশধরদের অর্ধেক ভাগকে, তাদের গোষ্ঠী অনুসারে মোশি এই অধিকার দিলেন:
JOS 13:30 মহনয়িম ছাড়িয়ে এবং সমগ্র বাশন যুক্ত এলাকা, বাশনের রাজা ওগের সমগ্র এলাকা—বাশনে অবস্থিত যায়ীরের সমস্ত জনবসতি, ষাটটি নগর,
JOS 13:31 গিলিয়দের অর্ধেক ভাগ এবং অষ্টারোৎ ও ইদ্রিয়ী। (বাশনে অবস্থিত ওগের রাজকীয় নগরগুলি) মনঃশির ছেলে মাখীরের বংশধরদের জন্য—তাদের গোষ্ঠী অনুসারে মাখীরের সন্তানদের অর্ধেক সংখ্যার জন্য এটি অধিকার হল।
JOS 13:32 মোশি যখন যিরীহোর পূর্বদিকে, জর্ডন নদীর পারে মোয়াবের সমভূমিতে ছিলেন, তখন তিনি এই উত্তরাধিকারটি দিয়েছিলেন।
JOS 13:33 কিন্তু লেবির বংশকে মোশি কোনও উত্তরাধিকার দেননি; ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুই তাদের অধিকার, যেভাবে তিনি তাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
JOS 14:1 কনান দেশে ইস্রায়েলীরা এই সমস্ত এলাকা এক উত্তরাধিকাররূপে লাভ করল, যা যাজক ইলীয়াসর, নূনের ছেলে যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের গোষ্ঠীপতিরা তাদের জন্য বরাদ্দ করে দিলেন।
JOS 14:2 মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই আদেশানুসারে তাদের উত্তরাধিকার গুটিকাপাত দ্বারা সাড়ে নয় বংশের জন্য নির্দিষ্ট হল।
JOS 14:3 আড়াই বংশকে মোশি জর্ডন নদীর পূর্বপারে অধিকার দিয়েছিলেন কিন্তু অবশিষ্টজনেদের মধ্যে তিনি লেবির বংশকে কোনও উত্তরাধিকার দেননি,
JOS 14:4 কারণ যোষেফের বংশধরেরা মনঃশি ও ইফ্রয়িম—এই দুই গোষ্ঠীতে পরিণত হল। লেবীয়েরা দেশের কোনও অংশ পায়নি, কিন্তু বসবাস করার জন্য শুধু কয়েকটি নগর এবং তাদের মেষপাল ও পশুপালের জন্য চারণভূমি পেয়েছিল।
JOS 14:5 অতএব ইস্রায়েলীরা দেশ বিভাগ করল, ঠিক যেভাবে সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন।
JOS 14:6 এদিকে যিহূদার লোকজন গিল্‌গলে যিহোশূয়ের কাছে এগিয়ে এল, এবং কনিষীয় যিফূন্নির ছেলে কালেব তাঁকে বললেন, “আপনি জানেন, আপনার ও আমার সম্পর্কে সদাপ্রভু, কাদেশ-বর্ণেয়তে ঈশ্বরের লোক মোশিকে কী বলেছিলেন।
JOS 14:7 দেশ অনুসন্ধান করার জন্যে সদাপ্রভুর দাস মোশি যখন কাদেশ-বর্ণেয় থেকে আমাকে পাঠিয়েছিলেন, তখন আমার বয়স চল্লিশ বছর। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস অনুসারেই আমি তাঁর কাছে এক প্রতিবেদন পেশ করেছিলাম,
JOS 14:8 কিন্তু আমার যে সহ-ইস্রায়েলী ভাইরা আমার সঙ্গে গিয়েছিল, তারা লোকদের অন্তরে ভয় উৎপন্ন করে তা গলিয়ে দিয়েছিল। আমি, অবশ্য, সর্বান্তঃকরণে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগামী হয়েছিলাম।
JOS 14:9 তাই মোশি সেদিন আমার কাছে শপথ করে বলেছিলেন, ‘দেশের যেখানে যেখানে তোমার পা পড়েছে, তা তোমার ও তোমার সন্তানদের চিরস্থায়ী অধিকার হয়ে থাকবে, কারণ তুমি সর্বান্তঃকরণে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগামী হয়েছ।’
JOS 14:10 “তবে, সদাপ্রভু যেমন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ইস্রায়েলীরা মরুপ্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর সময় মোশিকে একথা বলার সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি আমাকে এই পঁয়তাল্লিশ বছর জীবিত রেখেছেন। তাই আজ দেখুন, আমার বয়স পঁচাশি বছর হয়ে গেল!
JOS 14:11 মোশি যেদিন আমাকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন, সেদিনের মতো আমি আজও ততটাই শক্তিশালী; যুদ্ধে যাওয়ার জন্য তখনকার মতো আমি আজও ততটাই বীর্যবান।
JOS 14:12 সেদিন সদাপ্রভু আমার কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই প্রতিজ্ঞানুসারে এখন আপনি আমাকে এই পার্বত্য দেশটি দিন। তখন তো আপনি স্বয়ং সেকথা শুনেছিলেন যে, অনাকীয়েরা সেখানে আছে এবং তাদের নগরগুলি বড়ো বড়ো ও দেয়াল-ঘেরা, কিন্তু সদাপ্রভুর সাহায্য নিয়ে আমি তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেব, ঠিক যেমনটি তিনি বলেছিলেন।”
JOS 14:13 তখন যিহোশূয় যিফূন্নির ছেলে কালেবকে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর উত্তরাধিকাররূপে তাঁকে হিব্রোণ দিলেন।
JOS 14:14 তাই তখন থেকেই হিব্রোণ কনিষীয় যিফূন্নির ছেলে কালেবের অধিকারভুক্ত হয়ে আছে, কারণ তিনি সর্বান্তঃকরণে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগামী হয়েছিলেন।
JOS 14:15 (হিব্রোণ সেই অর্বের নামানুসারে কিরিয়ৎ-অর্ব নামে পরিচিত ছিল, যিনি অনাকীয়দের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ছিলেন।) পরে দেশে যুদ্ধবিরাম হল।
JOS 15:1 গোষ্ঠী অনুসারে যিহূদা বংশের জন্য বরাদ্দ অংশ নিচের দিকে ইদোমের এলাকা পর্যন্ত, চূড়ান্ত দক্ষিণে সীন মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হল।
JOS 15:2 তাদের দক্ষিণ সীমানা মরুসাগরের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত উপসাগর থেকে শুরু হয়ে,
JOS 15:3 বৃশ্চিক-গিরিপথ অতিক্রম করে, সীন পর্যন্ত গিয়ে ও কাদেশ-বর্ণেয়র দক্ষিণে গিয়ে পৌঁছাল। পরে সেই সীমানা হিষ্রোণ পেরিয়ে অদ্দরের দিকে উঠে গেল ও কর্কা পর্যন্ত ঘুরে গেল।
JOS 15:4 পরে তা অস্‌মোন হয়ে, মিশরের নির্ঝরিণীতে যুক্ত হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে শেষ হল। এই হল তাদের দক্ষিণ সীমানা।
JOS 15:5 পূর্ব সীমানা হল জর্ডনের মোহনা হয়ে মরুসাগর। উত্তর সীমানা জর্ডনের মোহনায় অবস্থিত উপসাগর থেকে শুরু হয়ে,
JOS 15:6 বেথ-হগ্লা পর্যন্ত উঠে গিয়ে বেথ-অরাবার উত্তর দিক ঘেঁসে রূবেণের সন্তান বোহনের পাথর পর্যন্ত পৌঁছাল।
JOS 15:7 সেই সীমানা এরপর আখোর উপত্যকা থেকে দবীর পর্যন্ত উঠে গিয়ে উত্তর দিকে সেই গিল্‌গলে বাঁক নিল, যা সেই গিরিখাতের দক্ষিণে অবস্থিত অদুম্মীম গিরিপথের মুখোমুখি অবস্থিত। তা আরও এগিয়ে ঐন-শেমশের জলাশয়ের গা ঘেঁসে ঐন-রোগেল পর্যন্ত নেমে এল।
JOS 15:8 পরে তা বিন-হিন্নোম উপত্যকা দিয়ে উঠে যিবূষীয় নগরের (অর্থাৎ, জেরুশালেমের) দক্ষিণ দিকের ঢালে পৌঁছাল। সেখান থেকে তা রফায়ীম উপত্যকার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত হিন্নোম উপত্যকার পশ্চিমী পর্বতচূড়ার দিকে উঠে গেল।
JOS 15:9 পর্বতচূড়া থেকে সেই সীমানা নিপ্তোহের জলরাশির উৎসের দিকে এগিয়ে গিয়ে, ইফ্রোণ পর্বতের নগরগুলিতে বের হল এবং বালার (অর্থাৎ, কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের) দিকে নেমে গেল।
JOS 15:10 পরে তা পশ্চিমদিকে বাঁক নিয়ে বালা থেকে সেয়ীর পর্বতের দিকে গিয়ে, যিয়ারীম পর্বতের (অর্থাৎ, কসালোনের) উত্তরপ্রান্তের ঢাল বেয়ে বেত-শেমশ পর্যন্ত গেল ও তিম্না অতিক্রম করল।
JOS 15:11 তা ইক্রোণের উত্তরপ্রান্তের ঢালের দিকে গিয়ে, শিক্করোণের দিকে ফিরল, পরে বালা পর্বত অতিক্রম করে যব্‌নিয়েলে পৌঁছাল। সীমানাটি সমুদ্রে গিয়ে শেষ হল।
JOS 15:12 পশ্চিম সীমানা হল ভূমধ্যসাগরের উপকূল এলাকা। গোষ্ঠী অনুসারে এই হল যিহূদা সন্তানদের চারপাশের সীমানা।
JOS 15:13 তাঁর প্রতি দত্ত সদাপ্রভুর আদেশানুসারে যিহোশূয় যিফূন্নির ছেলে কালেবকে যিহূদায় একটি অংশ—কিরিয়ৎ-অর্ব, অর্থাৎ, হিব্রোণ দিলেন। (অর্ব ছিলেন অনাকের পূর্বপুরুষ)
JOS 15:14 হিব্রোণ থেকে কালেব তিন অনাকীয়কে—অনাকের ছেলে শেশয়, অহীমান ও তল্‌ময়কে তাড়িয়ে দিলেন।
JOS 15:15 সেখান থেকে তিনি দবীরে বসবাসকারী লোকদের বিরুদ্ধে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন (দবীরের পূর্বতন নাম ছিল কিরিয়ৎ-সেফর)
JOS 15:16 আর কালেব বললেন, “যে ব্যক্তি কিরিয়ৎ-সেফর আক্রমণ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনবে, আমি তার সঙ্গে আমার মেয়ে অক্‌ষার বিয়ে দেব।”
JOS 15:17 কালেবের ভাই, কনসের ছেলে অৎনীয়েল সেটি দখল করলেন; অতএব কালেব তাঁর মেয়ে অক্‌ষার সঙ্গে অৎনীয়েলের বিয়ে দিলেন।
JOS 15:18 একদিন অক্‌ষা অৎনীয়েলের কাছে এসে তাঁকে প্ররোচিত করলেন যেন তিনি তাঁর বাবার কাছে একটি ক্ষেতজমি চেয়ে নেন। অক্‌ষা তাঁর গাধার পিঠ থেকে নামার পর, কালেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?”
JOS 15:19 তিনি উত্তর দিলেন, “আমার প্রতি বিশেষ এক অনুগ্রহ দেখান। আপনি যেহেতু নেগেভে আমাকে জমি দিয়েছেন, জলের উৎসগুলিও আমাকে দিন।” অতএব কালেব উচ্চতর ও নিম্নতর জলের উৎসগুলি তাঁকে দিলেন।
JOS 15:20 গোষ্ঠী অনুসারে, এই হল যিহূদা বংশের উত্তরাধিকার:
JOS 15:21 ইদোমের সীমানার দিকে নেগেভে অবস্থিত যিহূদা বংশের সর্বদক্ষিণস্থ নগরগুলি হল: কব্‌সীল, এদর, যাগুর,
JOS 15:22 কীনা, দিমোনা, অদাদা,
JOS 15:23 কেদশ, হাৎসোর, যিৎনন,
JOS 15:24 সীফ, টেলম, বালোৎ,
JOS 15:25 হাৎসোর-হদত্তা, কিরিয়োৎ-হিষ্রোণ (অর্থাৎ, হাৎসোর),
JOS 15:26 অমাম, শমা, মোলাদা,
JOS 15:27 হৎসর-গদ্দা, হিষ্‌মোন, বেথ-পেলট,
JOS 15:28 হৎসর-শূয়াল, বের-শেবা, বিষিয়োথিয়া,
JOS 15:29 বালা, ইয়ীম, এৎসম,
JOS 15:30 ইল্‌তোলদ, কসীল, হর্মা,
JOS 15:31 সিক্লগ, মদ্‌মন্না, সন্‌সন্না,
JOS 15:32 লবায়োৎ, শিল্‌হীম, ঐন্ ও রিম্মোণ—মোট উনত্রিশটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:33 পশ্চিমী পর্বতের পাদদেশে: ইষ্টায়োল, সরা, অশ্‌না,
JOS 15:34 সানোহ, ঐন-গন্নীম, তপূহ, ঐনম,
JOS 15:35 যর্মুৎ, অদুল্লম, সোখো, অসেকা,
JOS 15:36 শারয়িম, অদীথয়িম ও গদেরা—চোদ্দোটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:37 সনান, হদাশা, মিগ্দল্-গাদ,
JOS 15:38 দিলিয়ন, মিস্‌পী, যক্তেল,
JOS 15:39 লাখীশ, বস্কৎ, ইগ্লোন,
JOS 15:40 কব্বন, লহমম, কিৎলিশ,
JOS 15:41 গদেরোৎ, বেথ-দাগোন, নয়মা ও মক্কেদা—ষোলোটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:42 লিব্‌না, এথর, আশন,
JOS 15:43 যিপ্তহ, অশ্‌না, নৎসীব,
JOS 15:44 কিয়ীলা, অক্‌ষীব ও মারেশা—নয়টি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:45 ইক্রোণ ও তার চারপাশের উপনিবেশ ও গ্রামগুলি;
JOS 15:46 ইক্রোণের পশ্চিমদিকে, অস্‌দোদের পার্শ্ববর্তী সব উপনগর, সেই সঙ্গে সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি;
JOS 15:47 অস্‌দোদ ও তার চারপাশের উপনিবেশ ও গ্রামগুলি; এবং গাজা, এবং মিশরের নির্ঝরিণী ও ভূমধ্যসাগরের উপকূল বরাবর গড়ে ওঠা সেটির উপনিবেশ ও গ্রামগুলি।
JOS 15:48 পার্বত্য প্রদেশে: শামীর, যত্তীর, সোখো,
JOS 15:49 দন্না, কিরিয়ৎ-সন্না (অর্থাৎ, দবীর),
JOS 15:50 অনাব, ইষ্টিমোয়, আনীম,
JOS 15:51 গোশন, হোলোন ও গীলো—এগারোটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:52 অরাব, দূমা, ইশিয়ন,
JOS 15:53 যানীম, বেথ-তপূহ, অফেকা,
JOS 15:54 হুমটা, কিরিয়ৎ-অর্ব (অর্থাৎ, হিব্রোণ) ও সীয়োর—নয়টি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:55 মায়োন, কর্মিল, সীফ, যুটা,
JOS 15:56 যিষ্রিয়েল, যক্‌দিয়াম, সানোহ,
JOS 15:57 কয়িন, গিবিয়া ও তিম্না—দশটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:58 হল্‌হূল, বেত-সূর, গদোর,
JOS 15:59 মারৎ, বেথ-অনোৎ ও ইল্‌তকোন—ছয়টি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:60 কিরিয়ৎ-বাল (অর্থাৎ, কিরিয়ৎ-যিয়ারীম) ও রব্বা—দুটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:61 মরুপ্রান্তরে: বেথ-অরাবা, মিদ্দীন, সকাখা,
JOS 15:62 নিব্‌শন, লবণ-নগর ও ঐন-গদী—ছয়টি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 15:63 যিহূদা বংশ সেই যিবূষীয়দের অধিকারচ্যুত করতে পারেনি, যারা জেরুশালেমে বসবাস করত; আজও পর্যন্ত সেই যিবূষীয়েরা যিহূদা সন্তানদের সঙ্গেই সেখানে বসবাস করছে।
JOS 16:1 যোষেফের জন্য বরাদ্দ অংশ জর্ডনে, যিরীহোর জলাশয়ের পূর্বে শুরু হল, এবং সেখান থেকে মরুভূমি হয়ে বেথেলের পার্বত্য অঞ্চলে উঠে গেল।
JOS 16:2 তা বেথেল (অর্থাৎ, লূস) থেকে এগিয়ে গিয়ে অটারোতে অর্কীয়দের এলাকায় পৌঁছাল।
JOS 16:3 সেখান থেকে পশ্চিমদিকে নেমে গিয়ে তা নিম্নতর বেথ-হোরোণের এলাকা ও গেষর হয়ে যফ্‌লেটীয়দের এলাকায় পৌঁছে, ভূমধ্যসাগরে গিয়ে শেষ হল।
JOS 16:4 অতএব যোষেফের বংশধর, মনঃশি ও ইফ্রয়িম, তাদের উত্তরাধিকার লাভ করল।
JOS 16:5 গোষ্ঠী অনুসারে এই হল ইফ্রয়িমের এলাকা: তাদের উত্তরাধিকারের সীমানা পূর্বে অটারোৎ-অদ্দর থেকে উচ্চতর বেথ-হোরোণ পর্যন্ত গেল
JOS 16:6 এবং তা ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হল। উত্তরে মিক্‌মথৎ থেকে পূর্বদিকে বাঁক নিয়ে তা তানৎ-শীলো পর্যন্ত গিয়ে, তা অতিক্রম করে পূর্বদিকে যানোহ পর্যন্ত গেল।
JOS 16:7 পরে যানোহ থেকে নেমে তা অটারোৎ ও নারার দিকে গেল, ও যিরীহো স্পর্শ করে তা জর্ডনে বেরিয়ে এল।
JOS 16:8 তপূহ থেকে সেই সীমানা পশ্চিমে কান্না গিরিখাতের দিকে গেল ও ভূমধ্যসাগরে গিয়ে শেষ হল। গোষ্ঠী অনুসারে, এই হল ইফ্রয়িম বংশের উত্তরাধিকার।
JOS 16:9 এতে মনঃশি সন্তানদের উত্তরাধিকারের মধ্যে পড়া সেইসব নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলিও যুক্ত হল, যেগুলি ইফ্রয়িম সন্তানদের জন্য পৃথক করা হল।
JOS 16:10 গেষরে বসবাসকারী কনানীয়দের তারা অধিকারচ্যুত করেনি; আজও পর্যন্ত সেই কনানীয়েরা ইফ্রয়িমের লোকদের সঙ্গে বসবাস করছে, কিন্তু বেগার শ্রমিকের কাজ করতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
JOS 17:1 যোষেফের প্রথম সন্তানরূপে মনঃশি বংশের জন্য বরাদ্দ অংশটি এইরকম। গিলিয়দীয়দের পূর্বপুরুষ, মনঃশির বড়ো ছেলে মাখীর, গিলিয়দ ও বাশন লাভ করলেন, কারণ মাখিরীয়েরা মহাযোদ্ধা ছিল।
JOS 17:2 অতএব এই অংশটি মনঃশি বংশের অবশিষ্ট লোকদের জন্য—অবীয়েষর, হেলক, অস্রীয়েল, শেখম, হেফর ও শমীদা গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ হল। গোষ্ঠী অনুসারে এরাই যোষেফের ছেলে মনঃশির অন্যান্য পুরুষ বংশধর।
JOS 17:3 এদিকে মনঃশির ছেলে মাখীর, তার ছেলে গিলিয়দ, তার ছেলে হেফর, তার ছেলে সল্‌ফাদের কোনও পুত্রসন্তান ছিল না, কিন্তু শুধু এই কয়েকটি মেয়ে ছিল, যাদের নাম মহলা, নোয়া, হগ্‌লা, মিল্কা ও তির্সা।
JOS 17:4 তারা যাজক ইলীয়াসর, নূনের ছেলে যিহোশূয় ও নেতাব্যক্তিদের কাছে গিয়ে বলল, “সদাপ্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন যেন আমাদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে আমাদেরও এক উত্তরাধিকার দেওয়া হয়।” তাই সদাপ্রভুর আদেশানুসারে যিহোশূয়, তাদের কাকাদের সঙ্গে তাদেরও এক উত্তরাধিকার দিলেন।
JOS 17:5 জর্ডনের পূর্বপাড়ে গিলিয়দ ও বাশন ছাড়াও মনঃশি বংশের ভাগে আরও দশ খণ্ড জমি এল,
JOS 17:6 কারণ মনঃশি বংশের মেয়েরাও ছেলেদের মধ্যে এক উত্তরাধিকার লাভ করল। গিলিয়দ দেশটি মনঃশির অবশিষ্ট বংশধরদের অধিকারভুক্ত হল।
JOS 17:7 মনঃশির এলাকা আশের থেকে শিখিমের পূর্বদিকে অবস্থিত মিক্‌মথৎ পর্যন্ত বিস্তৃত হল। সীমানাটি সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গিয়ে ঐন-তপূহে বসবাসকারী লোকদেরও যুক্ত করল।
JOS 17:8 (মনঃশির সন্তানেরা তপূহ দেশটি পেয়েছিল, কিন্তু মনঃশির সীমানায় অবস্থিত তপূহ নগরটি ইফ্রয়িমের অধিকারভুক্ত থেকে গেল)
JOS 17:9 পরে সেই সীমানা দক্ষিণ দিকে কানা গিরিখাত পর্যন্ত এগিয়ে গেল। সেখানে মনঃশির নগরগুলির মধ্যে ইফ্রয়িমের অধিকারভুক্ত নগরগুলিও পড়ে গেল, কিন্তু মনঃশির সীমানা ছিল সেই গিরিখাতের উত্তর দিকে এবং তা ভূমধ্যসাগরে গিয়ে শেষ হল।
JOS 17:10 দক্ষিণ দিকের দেশটি ছিল ইফ্রয়িমের অধিকারভুক্ত, যা মনঃশির উত্তর দিকে অবস্থিত ছিল। মনঃশির এলাকা ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পৌঁছাল এবং উত্তর দিকে আশের ও পূর্বদিকে ইষাখর তার সীমানা হল।
JOS 17:11 ইষাখর ও আশেরের সীমার মধ্যে মনঃশি চারপাশের উপনিবেশ সমেত বেথ-শান, যিব্‌লিয়ম এবং দোরের, ঐনদোরের, তানকের ও মগিদ্দোর অধিবাসীদেরও লাভ করল। (তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তৃতীয় নগরটি হল নাফোৎ)।
JOS 17:12 তবুও, মনঃশির সন্তানেরা এসব নগর দখল করতে পারেনি, কারণ কনানীয়েরা ওইসব অঞ্চলে বসবাস করার জন্য বদ্ধপরিকর হয়েই ছিল।
JOS 17:13 অবশ্য, ইস্রায়েলীরা যখন আরও শক্তিশালী হল, তখন তারা কনানীয়দের বেগার শ্রমিক হতে বাধ্য করল, কিন্তু সেখান থেকে তাদের সম্পূর্ণরূপে তাড়িয়ে দিল না।
JOS 17:14 যোষেফের সন্তানেরা যিহোশূয়কে বলল, “আপনি কেন এক উত্তরাধিকাররূপে আমাদের শুধু একটি অংশ ও একটি ভাগ দিয়েছেন? আমরা বহুসংখ্যক এক জাতি, এবং সদাপ্রভু আমাদের প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদ করেছেন।”
JOS 17:15 “তোমরা যদি এতই বহুসংখ্যক,” যিহোশূয় উত্তর দিলেন, “এবং ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশ তোমাদের জন্য খুব ছোটো হয়ে যাচ্ছে, তবে অরণ্যে উঠে যাও এবং সেই পরিষীয় ও রফায়ীয়দের দেশে গিয়ে সেখানে নিজেদের জন্য তোমরা জমিজায়গা পরিষ্কার করে নাও।”
JOS 17:16 যোষেফের সন্তানেরা উত্তর দিল, “সেই পার্বত্য প্রদেশ আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়, আর সমতলে, বিশেষত, বেথ-শানে ও সেখানকার উপনিবেশগুলিতে এবং যিষ্রিয়েল উপত্যকায় বসবাসকারী কনানীয়দের কাছে লৌহরথ আছে।”
JOS 17:17 কিন্তু যিহোশূয় যোষেফ বংশকে—ইফ্রয়িম ও মনঃশিকে—বললেন, “তোমরা বহুসংখ্যক ও খুব শক্তিশালী। তোমরা শুধুমাত্র একটি অংশ পাবে না
JOS 17:18 কিন্তু তোমরা বনাকীর্ণ পার্বত্য প্রদেশও পাবে। সেটি পরিষ্কার করে নাও, এবং এর সর্বাধিক দূরবর্তী সীমানা তোমাদেরই হবে; যদিও কনানীয়দের লৌহরথ আছে ও তারা যদিও শক্তিশালী, তোমরা কিন্তু তাদের তাড়িয়ে দিতে পারবে।”
JOS 18:1 ইস্রায়েলীদের সমগ্র মণ্ডলী শীলোতে একত্রিত হল এবং সেখানে সমাগম তাঁবুটি স্থাপন করল। দেশটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হল,
JOS 18:2 কিন্তু ইস্রায়েলীদের সাতটি বংশ তখনও তাদের উত্তরাধিকার লাভ করেনি।
JOS 18:3 অতএব যিহোশূয় ইস্রায়েলীদের বললেন: “তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে দেশটি তোমাদের দিয়েছেন, তা অধিকার করার আগে তোমরা আর কত দিন অপেক্ষা করবে?
JOS 18:4 প্রত্যেক বংশ থেকে তিনজন করে লোক নিযুক্ত করো। দেশটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার ও প্রত্যেকটি বংশের উত্তরাধিকার অনুসারে সেখানকার এক বর্ণনা লিখে আনার জন্য আমি তাদের সেখানে পাঠাব। পরে তারা আমার কাছে ফিরে আসবে।
JOS 18:5 তোমরা দেশটিকে সাত ভাগে বিভক্ত করবে। যিহূদা দক্ষিণ দিকে তার এলাকায় থাকবে এবং উত্তর দিকে থাকবে যোষেফের বংশগুলি।
JOS 18:6 দেশের সাতটি ভাগের বর্ণনা লিখে আনার পর, তোমরা সেগুলি এখানে আমার কাছে নিয়ে আসবে এবং আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে আমি তোমাদের জন্য গুটিকাপাতের দান চালব।
JOS 18:7 লেবীয়েরা অবশ্য, তোমাদের মধ্যে কোনও অংশ পাবে না, কারণ সদাপ্রভুর যাজকীয় সেবাকাজই হল তাদের অধিকার। আর গাদ ও রূবেণ বংশ এবং মনঃশির অর্ধেক বংশ জর্ডন নদীর পূর্বপাড়ে ইতিমধ্যেই তাদের উত্তরাধিকার লাভ করেছে। সদাপ্রভুর দাস মোশি তাদের তা দান করেছেন।”
JOS 18:8 লোকজন দেশের মানচিত্র তৈরি করার কাজে হাত লাগাতে না লাগাতেই যিহোশূয় তাদের নির্দেশ দিলেন, “তোমরা যাও ও দেশটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করো এবং তার একটি বর্ণনা লিখে ফেলো। পরে আমার কাছে ফিরে এসো, এবং আমি এখানে এই শীলোতে, সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে তোমাদের জন্য গুটিকাপাতের দান চালব।”
JOS 18:9 অতএব লোকেরা প্রস্থান করল ও সেই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল। একটি গুটানো চামড়ার পুঁথিতে তারা এক-একটি নগর ধরে ধরে সাতটি ভাগে সেখানকার বর্ণনা লিখে নিল ও শীলোর শিবিরে যিহোশূয়ের কাছে ফিরে এল।
JOS 18:10 যিহোশূয় তখন শীলোতে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে তাদের জন্য গুটিকাপাতের দান চাললেন, এবং সেখানেই তিনি ইস্রায়েলীদের বংশ-বিভাগ অনুসারে তাদের জন্য সেই দেশটি বিতরণ করলেন।
JOS 18:11 গোষ্ঠী অনুসারে বিন্যামীন বংশের নামে গুটিকাপাতের প্রথম দান পড়ল। তাদের জন্য বরাদ্দ এলাকা যিহূদা ও যোষেফ বংশের মধ্যে পড়ল:
JOS 18:12 উত্তর দিকে তাদের সীমানা জর্ডন নদী থেকে শুরু হয়ে, যিরীহোর উত্তর দিকের ঢাল বেয়ে পশ্চিমাভিমূখী হয়ে পার্বত্য প্রদেশের দিকে এগোলো এবং বেথ-আবনের মরুপ্রান্তরে বের হয়ে এল।
JOS 18:13 সেখান থেকে তা লূসের (অর্থাৎ, বেথেলের) দক্ষিণ দিকের ঢাল অতিক্রম করল এবং নিম্নতর বেথ-হোরোণের দক্ষিণে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকায় অটারোৎ-অদ্দরে নেমে গেল।
JOS 18:14 দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বেথ-হোরোণের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড় থেকে সীমানাটি পশ্চিমদিক ধরে দক্ষিণ দিকে বাঁক নিল এবং সেই কিরিয়ৎ-বালে (অর্থাৎ, কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে) বের হয়ে এল, যা হল যিহূদার লোকজনের অধিকারভুক্ত একটি নগর। এই হল পশ্চিম সীমানা।
JOS 18:15 দক্ষিণ দিকের সীমানাটি শুরু হল পশ্চিমে কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের উপকন্ঠ থেকে, এবং তা বের হয়ে এল নিপ্তোহের জলরাশির উৎসে।
JOS 18:16 সীমানাটি নেমে গেল সেই পাহাড়ের পাদদেশে, যা রফায়ীম উপত্যকার উত্তরে অবস্থিত বিন-হিন্নোম উপত্যকার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছিল। তা হিন্নোম উপত্যকার আরও নিচে নেমে গিয়ে যিবূষীয় নগরের দক্ষিণ দিকের ঢাল হয়ে ঐন-রোগেল পর্যন্ত গেল।
JOS 18:17 পরে তা উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে, ঐন-শেমশে গেল ও সেই গলীলৎ পর্যন্ত গেল, যা অদুম্মীম গিরিখাতের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছিল এবং পরে তা রূবেণের ছেলে বোহনের পাথরের কাছে নেমে গেল।
JOS 18:18 সেখান থেকে তা বেথ-অরাবার উত্তর দিকের ঢালের দিকে গেল এবং আরও নিচে অরাবায় নেমে গেল।
JOS 18:19 পরে তা বেথ-হগ্লার উত্তর দিকের ঢালের দিকে গিয়ে দক্ষিণ দিকে জর্ডন নদীর মোহানায়, মরুসাগরের উত্তর উপসাগরে বের হয়ে এল। এই হল দক্ষিণ সীমানা।
JOS 18:20 পূর্বদিকে জর্ডন নদীই সীমানা হল। চারিদিকে এই সীমানাগুলিই বিন্যামীনের সন্তানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার চিহ্নিত করল।
JOS 18:21 গোষ্ঠী অনুসারে, বিন্যামীন বংশ এসব নগর লাভ করল: যিরীহো, বেথ-হগ্লা, এমক-কশিশ,
JOS 18:22 বেথ-অরাবা, সমারয়িম, বেথেল,
JOS 18:23 অব্বীম, পারা, অফ্রা,
JOS 18:24 কফর-অম্মোনী, অফ্‌নি, ও গেবা—বারোটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 18:25 গিবিয়োন, রামা, বেরোৎ,
JOS 18:26 মিস্‌পী, কফীরা, মোৎসা,
JOS 18:27 রেকম, যির্পেল, তরলা,
JOS 18:28 সেলা, এলফ, যিবূষীয় নগর (অর্থাৎ, জেরুশালেম), গিবিয়া ও কিরিয়ৎ—চোদ্দোটি নগর ও সেগুলির সন্নিহিত গ্রামগুলি। গোষ্ঠী অনুসারে এই হল বিন্যামীন বংশের উত্তরাধিকার।
JOS 19:1 দ্বিতীয় গুটিকাপাতের দানটি উঠল নিজেদের গোত্র অনুসারে শিমিয়োন গোষ্ঠীর নামে। তাদের উত্তরাধিকার যিহূদা গোষ্ঠীর এলাকার মধ্যে ছিল।
JOS 19:2 এর অন্তর্ভুক্ত নগরগুলি হল: বের-শেবা (বা শেবা), মোলাদা,
JOS 19:3 হৎসর-শূয়াল, বালা, এৎসম,
JOS 19:4 ইল্‌তোলদ, বথূল, হর্মা,
JOS 19:5 সিক্লগ, বেথ-মর্কাবোৎ, হৎসর-সুসা,
JOS 19:6 বেথ-লবায়োৎ ও শারূহন—তেরোটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি;
JOS 19:7 ওন, রিম্মোণ, এথর ও আশন—চারটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি—
JOS 19:8 এবং বালৎ-বের (অর্থাৎ নেগেভের রামা) পর্যন্ত এসব নগরের চারপাশের সমস্ত গ্রাম। এই ছিল গোত্র অনুযায়ী শিমিয়োন গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:9 শিমিয়োনীয়দের উত্তরাধিকার যিহূদার অংশ থেকে নেওয়া হল, কারণ যিহূদার অংশ তাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ছিল। সেই কারণে, শিমিয়োনীয়েরা তাদের উত্তরাধিকার যিহূদার এলাকাতেই পেল।
JOS 19:10 তৃতীয় গুটিকাপাতের দানটি উঠল নিজেদের গোত্র অনুসারে সবূলূন গোষ্ঠীর নামে: তাদের উত্তরাধিকারের সীমারেখা সারিদ পর্যন্ত গেল।
JOS 19:11 পশ্চিমদিকে গিয়ে তা মারালায়, পরে দব্বেশৎকে ছুঁয়ে যক্নিয়ামের কাছে গিরিখাত পর্যন্ত বিস্তৃত হল।
JOS 19:12 সারিদ থেকে তা পূর্বদিকে ফিরে সূর্যোদয়ের দিকে কিশ্‌লোৎ-তাবোরের এলাকা পর্যন্ত গেল ও সেখান থেকে দাবরৎ ও যাফিয়া পর্যন্ত উঠে গেল।
JOS 19:13 পরে তা ক্রমাগতভাবে গাৎ-হেফর ও এৎ-কাৎসীন পর্যন্ত গেল; তা রিম্মোণের কাছে বের হয়ে নেয়ের অভিমুখে গেল।
JOS 19:14 সেখান থেকে সীমারেখা হন্নাথনের উত্তর দিকে ঘুরল এবং যিপ্তহেল উপত্যকায় গিয়ে শেষ হল।
JOS 19:15 এর আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল কটৎ, নহলাল, শিম্রোণ, যিদালা ও বেথলেহেম। বারোটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলিও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
JOS 19:16 গ্রামগুলিসহ এসব নগর ছিল গোত্র অনুযায়ী সবূলূন গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:17 চতুর্থ গুটিকাপাতের দানটি উঠল নিজেদের গোত্র অনুসারে ইষাখর গোষ্ঠীর নামে।
JOS 19:18 তাদের এলাকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল: যিষ্রিয়েল, কসুল্লোৎ, শূনেম,
JOS 19:19 হফারয়িম, শীয়োন, অনহরৎ,
JOS 19:20 রব্বিৎ, কিশিয়োন, এবস,
JOS 19:21 রেমৎ, ঐন-গন্নীম, ঐন-হদ্দা ও বেথ-পৎসেস।
JOS 19:22 এর সীমারেখা তাবোর, শহৎসূমা ও বেত-শেমশ স্পর্শ করল এবং জর্ডন নদীতে গিয়ে শেষ হল। সেখানে ছিল মোট ষোলোটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 19:23 এই নগরগুলি ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি ছিল গোত্র অনুযায়ী ইষাখর গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:24 পঞ্চম গুটিকাপাতের দানটি উঠল নিজেদের গোত্র অনুসারে আশের গোষ্ঠীর নামে।
JOS 19:25 তাদের এলাকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল: হিল্‌কৎ, হালি, বেতন, অক্‌ষফ,
JOS 19:26 অলম্মেলক, অমাদ ও মিশাল। পশ্চিমদিকে সেই সীমারেখা কর্মিল ও শীহোর-লিবনাৎ স্পর্শ করল।
JOS 19:27 পরে তা পূর্বদিকে বেথ-দাগোনের দিকে গেল, সবূলূন ও যিপ্তহেল উপত্যকা স্পর্শ করে বাঁদিকে কাবুলকে রেখে, উত্তর দিকে বেথ-এমক ও ন্যীয়েল পর্যন্ত গেল।
JOS 19:28 তা গেল অব্দোন, রহব, হম্মোন ও কানা-য়, সেই মহাসীদোন পর্যন্ত।
JOS 19:29 সেই সীমারেখা পরে রামার দিকে ফিরে গেল ও টায়ারের প্রাচীর-ঘেরা সুরক্ষিত নগরের দিকে গেল, পরে হোষার দিকে ঘুরে অক্‌ষীব
JOS 19:30 উম্মা, অফেক ও রাহব অঞ্চল পার হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ল। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বাইশটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি।
JOS 19:31 এসব নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি ছিল গোত্র অনুযায়ী আশের গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:32 ষষ্ঠ গুটিকাপাতের দানটি উঠল নিজেদের গোত্র অনুসারে নপ্তালি গোষ্ঠীর নামে:
JOS 19:33 তাদের সীমারেখা হেলফ থেকে সানন্নীমের বিশাল গাছ থেকে শুরু হয়ে অদামীনেকব ও যব্‌নিয়েল পার হয়ে লক্কূমে গেল ও জর্ডন নদীতে শেষ হল।
JOS 19:34 সেই সীমা অস্‌নোৎ-তাবোর হয়ে পশ্চিমদিকে হুক্কোক পর্যন্ত গেল। দক্ষিণে তা সবূলূনের সীমা, পশ্চিমে আশেরের সীমা ও পূর্বদিকে জর্ডন নদীর কাছে যিহূদার সীমা স্পর্শ করল।
JOS 19:35 আর প্রাচীরবেষ্টিত সুরক্ষিত নগরগুলি ছিল সিদ্দীম, সের, হম্মৎ, রাক্কৎ, কিন্নেরৎ,
JOS 19:36 অদামা, রামা, হাৎসোর,
JOS 19:37 কেদশ, ইদ্রিয়ী, ঐন-হাৎসোর,
JOS 19:38 যিরোণ, মিগ্দল-এল, হোরেম, বেথ-অনাৎ ও বেত-শেমশ। উনিশটি নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি এই এলাকায় ছিল।
JOS 19:39 এসব নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি, গোত্র অনুযায়ী ছিল নপ্তালি গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:40 সপ্তম গুটিকাপাতের দানটি উঠল গোত্র অনুসারে দান গোষ্ঠীর নামে।
JOS 19:41 তাদের উত্তরাধিকারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এসব নগর: সরা, ইষ্টায়োল, ঈর-শেমশ,
JOS 19:42 শালাব্বিন, অয়ালোন, যিৎলা,
JOS 19:43 এলোন, তিম্না, ইক্রোণ,
JOS 19:44 ইল্‌তকী, গিব্বথোন, বালৎ,
JOS 19:45 যিহূদ, বেনে-বরক, গাৎ-রিম্মোণ,
JOS 19:46 মেয়র্কোণ ও রক্কোন এবং জোপ্পার সম্মুখবর্তী এলাকা।
JOS 19:47 (দান গোষ্ঠীর এলাকা যখন দখল হয়ে গেল তখন তারা উঠে গিয়ে লেশম আক্রমণ করল। তা দখল করে সেখানকার অধিবাসীদের তারা তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করল। তারা লেশমে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পূর্বপুরুষের নাম অনুযায়ী নগরটির নাম দান রাখল)
JOS 19:48 এসব নগর ও তাদের সন্নিহিত গ্রামগুলি ছিল গোত্র অনুযায়ী দান গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার।
JOS 19:49 যখন নির্দিষ্ট বণ্টন-প্রক্রিয়া দ্বারা তাঁরা দেশ বিভাগ সম্পূর্ণ করলেন, ইস্রায়েলীরা নূনের ছেলে যিহোশূয়কেও তাদের মধ্যে একটি অংশ উত্তরাধিকাররূপে দিল,
JOS 19:50 যেমন সদাপ্রভু আজ্ঞা দিয়েছিলেন। ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে তিনি তিম্নৎ-সেরহ নগরটি চাইলে, তারা তাঁকে তা দিল। তিনি সেই নগরটি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন।
JOS 19:51 এই সমস্ত এলাকা, যাজক ইলীয়াসর, নূনের ছেলে যিহোশূয় ও ইস্রায়েল-সন্তানদের বংশসমূহের গোষ্ঠী প্রধানেরা শীলোতে, সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে গুটিকাপাতের মাধ্যমে বিভাগ করে দিলেন। এইভাবে তাঁরা দেশ-বিভাগের কাজটি সম্পন্ন করলেন।
JOS 20:1 পরে সদাপ্রভু যিহোশূয়কে বললেন:
JOS 20:2 “তুমি ইস্রায়েলীদের বলো, আমি যেমন মোশির মাধ্যমে তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, তারা যেন তেমনই আশ্রয়-নগরগুলি মনোনীত করে।
JOS 20:3 কেউ যদি দুর্ঘটনাবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করে ফেলে, সে যেন সেখানে পালিয়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্তপাতের প্রতিশোধদাতার হাত থেকে সে রক্ষা পাবে।
JOS 20:4 এসব নগরের কোনো একটিতে তারা যখন পালিয়ে যাবে, তখন তারা নগর-দুয়ারের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে এবং সেই নগরের প্রাচীনদের কাছে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। পরে তারা পলাতককে তাদের নগরে প্রবেশ করতে দেবে ও তাদের সঙ্গে বসবাস করার জন্য একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেবে।
JOS 20:5 রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধদাতা যদি তার পিছু ধাওয়া করে যায়, তবে প্রাচীনেরা যেন সেই পলাতককে তার হাতে সমর্পণ না করে, কারণ সে তার প্রতিবেশীকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এবং পূর্বপরিকল্পিত কোনো বিদ্বেষ ছাড়াই মেরে ফেলেছিল।
JOS 20:6 যতক্ষণ না তারা বিচারের জন্য মণ্ডলীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং যতদিন না সেই সময়কার মহাযাজকের মৃত্যু হয়, তাদের সেই নগরেই থেকে যেতে হবে। পরে তারা যেখান থেকে পালিয়েছিল, নিজের বাড়িতে, তাদের নিজস্ব নগরে ফিরে যেতে পারবে।”
JOS 20:7 তাই তারা নপ্তালি গোষ্ঠীর এলাকায় পার্বত্য প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত গালীলের কেদশ, ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর পার্বত্য প্রদেশের শিখিম ও যিহূদা গোষ্ঠীর পার্বত্য প্রদেশের কিরিয়ৎ-অর্বকে (বা হিব্রোণকে) পৃথক করল।
JOS 20:8 যিরীহোর জর্ডন নদীর পূর্বপারের এলাকায় তারা রূবেণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত মালভূমির মরু এলাকার বেৎসর, গাদ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত গিলিয়দের রামোৎ এবং মনঃশি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বাশনের গোলন, আশ্রয়-নগররূপে পৃথক করল।
JOS 20:9 কোনো ইস্রায়েলী বা তাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশি ব্যক্তি, যে দুর্ঘটনাবশত কাউকে হত্যা করেছে, সে এই নির্ধারিত নগরগুলির যে কোনো একটিতে পালিয়ে যেতে পারবে। তবে সে মণ্ডলীর সাক্ষাতে বিচারিত হওয়ার আগে রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধদাতার হাতে নিহত হবে না।
JOS 21:1 লেবীয়দের পিতৃকুলপতিরা যাজক ইলীয়াসর, নূনের ছেলে যিহোশূয় ও ইস্রায়েলী অন্যান্য গোষ্ঠীপ্রধানদের কাছে এলেন।
JOS 21:2 তাঁরা কনান দেশের শীলোতে তাঁদের বললেন, “সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে আদেশ দিয়েছিলেন যে, আপনি আমাদের বসবাস করার জন্য নগর ও আমাদের পশুপালের জন্য চারণভূমি দেবেন।”
JOS 21:3 তাই, সদাপ্রভুর আদেশানুসারে, ইস্রায়েলীরা তাদের উত্তরাধিকার থেকে এই সমস্ত নগর ও চারণভূমি লেবীয়দের দান করল:
JOS 21:4 প্রথম গুটিকাপাতের দানটি তাদের বংশানুসারে উঠল কহাতীয় গোষ্ঠীর নামে। লেবীয়েরা ছিল যাজক হারোণের বংশধর। তাদের যিহূদা, শিমিয়োন ও বিন্যামীন গোষ্ঠীর বংশধরদের থেকে তেরোটি নগর দেওয়া হল।
JOS 21:5 কহাতের অবশিষ্ট বংশধরদের জন্য ইফ্রয়িম, দান ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর বংশধরদের থেকে দশটি নগর দেওয়া হল।
JOS 21:6 গের্শোনের বংশধরদের দেওয়া হল তেরোটি নগর। তারা ইষাখর, আশের, নপ্তালি ও বাশনের মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর বংশধরদের কাছ থেকে এই নগরগুলি পেল।
JOS 21:7 মরারির বংশধরেরা রূবেণ, গাদ ও সবূলূন গোষ্ঠী থেকে বংশ অনুসারে বারোটি নগর পেল।
JOS 21:8 এইভাবে ইস্রায়েলীরা চারণভূমিসহ এই সমস্ত নগর লেবীয়দের দিল, যেমন সদাপ্রভু মোশির মাধ্যমে আদেশ দিয়েছিলেন।
JOS 21:9 যিহূদা ও শিমিয়োন গোষ্ঠী থেকে তারা এই নামবিশিষ্ট নগরগুলি বরাদ্দ করল।
JOS 21:10 এই নগরগুলি হারোণের সেই বংশধরদের দেওয়া হল, যারা ছিল লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত কহাতীয় গোত্র, যেহেতু প্রথম গুটিকাপাতের দান তাদের নামেই উঠেছিল:
JOS 21:11 যিহূদার পার্বত্য প্রদেশে তারা চারণভূমিসহ তাদের কিরিয়ৎ-অর্ব (অর্থাৎ, হিব্রোণ) নগরটি দিল। (অর্ব ছিল অনাকীয়দের পূর্বপুরুষ)
JOS 21:12 কিন্তু ওই নগরের মাঠগুলি ও চারপাশের সব গ্রাম তারা উত্তরাধিকারস্বরূপ যিফূন্নির ছেলে কালেবকে দিয়েছিল।
JOS 21:13 এভাবে তারা যাজক হারোণের বংশধরদের দিল চারণভূমিসহ হিব্রোণ (নগরটি ছিল নরহত্যার দায়ে অভিযুক্তের জন্য আশ্রয়-নগর), লিব্‌না,
JOS 21:14 যত্তীর, ইষ্টিমোয়,
JOS 21:15 হোলোন, দবীর,
JOS 21:16 ঐন্, যুটা ও বেত-শেমশ—এই দুই গোষ্ঠী থেকে নয়টি নগর দেওয়া হল।
JOS 21:17 আর বিন্যামীন গোষ্ঠী থেকে তারা দিল: চারণভূমিসহ গিবিয়োন, গেবা,
JOS 21:18 অনাথোৎ ও অল্‌মোন—এই চারটি নগর।
JOS 21:19 চারণভূমিসহ মোট তেরোটি নগর হারোণের বংশধর যাজকদের অধিকার হল।
JOS 21:20 লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত কহাতীয় গোত্রের অবশিষ্টদের জন্য ইফ্রয়িম গোষ্ঠী থেকে নগর বরাদ্দ করা হল:
JOS 21:21 ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে তাদের দেওয়া হল: চারণভূমিসহ শিখিম (নরহত্যার দায়ে অভিযুক্তের জন্য একটি আশ্রয়-নগর) ও গেষর,
JOS 21:22 কিবসয়িম ও বেথ-হোরোণ—মোট চারটি নগর।
JOS 21:23 সেই সঙ্গে দান গোষ্ঠী থেকে তারা পেল: চারণভূমিসহ ইল্‌তকী, গিব্বথোন,
JOS 21:24 অয়ালোন ও গাৎ-রিম্মোণ—এই চারটি নগর।
JOS 21:25 মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠী থেকে তারা পেল: চারণভূমিসহ তানক ও গাৎ-রিম্মোণ—এই দুটি নগর।
JOS 21:26 চারণভূমিসহ এই দশটি নগর কহাতীয়দের অবশিষ্ট গোত্রদের দেওয়া হল।
JOS 21:27 লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত গের্শোনীয় গোত্রকে এই নগরগুলি দেওয়া হল: মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠী থেকে: চারণভূমিসহ বাশনের গোলন (নরহত্যার দায়ে অভিযুক্তের জন্য একটি আশ্রয়-নগর) ও বে-এস্তেরা—এই দুটি নগর;
JOS 21:28 ইষাখর গোষ্ঠী থেকে দেওয়া হল: চারণভূমিসহ কিশিয়োন, দাবরৎ,
JOS 21:29 যর্মুৎ ও ঐন-গন্নীম—এই চারটি নগর;
JOS 21:30 আশের গোষ্ঠী থেকে দেওয়া হল: চারণভূমিসহ মিশাল, আব্দোন,
JOS 21:31 হিল্‌কৎ ও রাহব—এই চারটি নগর;
JOS 21:32 নপ্তালি গোষ্ঠী থেকে দেওয়া হল: চারণভূমিসহ গালীলের কেদশ (নরহত্যার দায়ে অভিযুক্তের জন্য একটি আশ্রয়-নগর), হম্মোৎ-দোর ও কর্তন—এই তিনটি নগর।
JOS 21:33 গের্শোনীয় গোত্রদের জন্য ছিল চারণভূমিসহ মোট তেরোটি নগর।
JOS 21:34 (অবশিষ্ট লেবীয় গোষ্ঠীর মধ্যে) মরারীয় গোষ্ঠীকে দেওয়া হল: সবূলূন গোষ্ঠী থেকে: চারণভূমিসহ যক্নিয়াম, কার্তা,
JOS 21:35 দিম্না ও নহলাল—এই চারটি নগর;
JOS 21:36 রূবেণ গোষ্ঠী থেকে: চারণভূমিসহ বেৎসর, যহস,
JOS 21:37 কদেমোৎ ও মেফাৎ—এই চারটি নগর;
JOS 21:38 গাদ গোষ্ঠী থেকে: চারণভূমিসহ গিলিয়দের রামোৎ (নরহত্যার দায়ে অভিযুক্তের জন্য একটি আশ্রয়-নগর), মহনয়িম,
JOS 21:39 হিষ্‌বোন ও যাসের—মোট এই চারটি নগর।
JOS 21:40 লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত অবশিষ্ট মরারীয় গোত্রগুলির জন্য বণ্টন করা হল এই বারোটি নগর।
JOS 21:41 ইস্রায়েলীদের দখলীকৃত এলাকা থেকে লেবীয়দের জন্য নির্দিষ্ট চারণভূমিসহ নগরগুলির সংখ্যা মোট আটচল্লিশটি।
JOS 21:42 এসব নগরের চারপাশে ছিল চারণভূমি। সমস্ত নগরের ক্ষেত্রেই একথা সত্যি ছিল।
JOS 21:43 এভাবে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তাদের দিলেন ও তারা ওই দেশের দখল নিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করল।
JOS 21:44 সদাপ্রভু চারদিক থেকে তাদের বিশ্রাম দিলেন, যেমন তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলেন। তাদের কোনও শত্রু তাদের সামনে দাঁড়াতে পারল না। সদাপ্রভু তাদের সব শত্রুকে তাদের হাতে সমর্পণ করলেন।
JOS 21:45 ইস্রায়েল কুলকে সদাপ্রভুর দেওয়া সমস্ত সুন্দর প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটিও ব্যর্থ হয়নি; সব প্রতিশ্রুতিই পূর্ণ হল।
JOS 22:1 পরে যিহোশূয় রূবেণীয়দের, গাদীয়দের ও মনঃশির অর্ধ বংশকে ডেকে পাঠালেন
JOS 22:2 ও তাদের বললেন, “সদাপ্রভুর দাস মোশি যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, তোমরা সে সমস্তই পালন করেছ এবং আমি তোমাদের যে যে আদেশ দিয়েছিলাম, তোমরা সে সমস্তই মেনে চলেছ।
JOS 22:3 আজ পর্যন্ত, এই দীর্ঘ সময়, তোমরা তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইদের ছেড়ে দাওনি, কিন্তু তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের যে লক্ষ্য দিয়েছিলেন, তা তোমরা পূর্ণ করেছ।
JOS 22:4 এখন সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তোমাদের ভাইদের বিশ্রাম দিয়েছেন। তোমরা তোমাদের স্বভূমিতে, যে দেশটি সদাপ্রভুর দাস মোশি তোমাদের দিয়েছিলেন, সেই জর্ডন নদীর ওপারে তোমাদের ঘরে ফিরে যাও।
JOS 22:5 কিন্তু সদাপ্রভুর দাস মোশি তোমাদের যে বিধান দিয়েছেন, তা পালন করার ব্যাপারে তোমরা অত্যন্ত যত্নশীল হোয়ো: তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে তোমরা ভালোবাসবে, তাঁর দেখানো সমস্ত পথে জীবনযাপন করবে, তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করবে, তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে ও তোমাদের সম্পূর্ণ মন ও প্রাণ দিয়ে তাঁর সেবা করবে।”
JOS 22:6 পরে যিহোশূয় তাদের আশীর্বাদ করলেন ও তাদের বিদায় দিলেন, ও তারা তাদের ঘরে ফিরে গেল।
JOS 22:7 (মনঃশির অর্ধ বংশকে মোশি বাশন দেশে জমি দিয়েছিলেন ও তাদের অপর অর্ধ বংশকে যিহোশূয় জর্ডন নদীর পশ্চিমদিকে তাদের ইস্রায়েলী ভাইদের সঙ্গে উত্তরাধিকার দিয়েছিলেন) যখন যিহোশূয় তাদের ঘরে ফেরত পাঠালেন, তিনি তাদের আশীর্বাদ করলেন।
JOS 22:8 তিনি তাদের বললেন, “তোমরা প্রচুর সম্পত্তি নিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে যাও—গৃহপালিত পশুর বড়ো বড়ো পাল, রুপো, সোনা, ব্রোঞ্জ ও লোহা এবং প্রচুর পরিমাণে পরিধেয় পোশাক নিয়ে যাও—ও তোমরা তোমাদের শত্রুদের কাছ থেকে যে সমস্ত জিনিসপত্র লুট করেছ, তা তোমাদের ইস্রায়েলী ভাইদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ো।”
JOS 22:9 তাই রূবেণ ও গাদ গোষ্ঠী এবং মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠী কনানের শীলোতে ইস্রায়েলীদের ছেড়ে গিলিয়দে, তাদের স্বদেশে ফিরে গেল। এই স্থানটি তারা মোশির মাধ্যমে দেওয়া সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে লাভ করেছিল।
JOS 22:10 তারা যখন কনান দেশের জর্ডন নদীর কাছে গলিলোতে উপস্থিত হল, তখন রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা জর্ডন নদীতীরে এক জমকালো বেদি তৈরি করল।
JOS 22:11 ইস্রায়েলীরা যখন শুনতে পেল যে, তারা কনানের সীমায়, ইস্রায়েলের অংশে, জর্ডন নদীর কাছে গলিলোতে সেই বেদি তৈরি করেছে,
JOS 22:12 তখন ইস্রায়েলের সমস্ত মণ্ডলী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শীলোতে একত্রিত হল।
JOS 22:13 এই কারণে ইস্রায়েলীরা যাজক ইলিয়াসরের ছেলে পীনহসকে গিলিয়দে, রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর কাছে পাঠাল।
JOS 22:14 তাঁর সঙ্গে তারা ইস্রায়েলের প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে এক একজন করে দশজন প্রধান ব্যক্তিকে পাঠাল, যারা ইস্রায়েলী গোত্রগুলির নিজের নিজের বংশের মধ্যে প্রধান ছিলেন।
JOS 22:15 যখন তাঁরা রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর কাছে গিলিয়দে পৌঁছালেন, তাঁরা তাদের বললেন:
JOS 22:16 “সদাপ্রভুর সমস্ত মণ্ডলী একথা বলছে: ‘আপনারা কীভাবে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সঙ্গে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করলেন? কীভাবে আপনারা সদাপ্রভু থেকে বিমুখ হয়ে, তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের বিরুদ্ধাচরণ করে নিজেদের জন্য একটি বেদি নির্মাণ করেছেন?
JOS 22:17 পিয়োরে করা পাপই কি আমাদের শিক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়? আজ পর্যন্ত আমরা সেই পাপ থেকে নিজেদের শুচিশুদ্ধ করতে পারিনি, যদিও সদাপ্রভুর সমাজে এক মহামারি নেমে এসেছিল!
JOS 22:18 আর এখন আপনারাও কি সদাপ্রভুর কাছ থেকে ফিরে যাচ্ছেন? “ ‘আজ যদি আপনারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, আগামীকাল তিনি ইস্রায়েলের সমস্ত সমাজের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন।
JOS 22:19 আপনারা যে দেশ অধিকার করেছেন, তা যদি কলুষিত হয়, তবে সদাপ্রভুর ভূমিতে ফিরে আসুন, যেখানে সদাপ্রভুর সমাগম তাঁবু আছে ও আমাদের সঙ্গে সেই ভূমি ভাগ করে নিন। কিন্তু নিজেদের জন্য আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বেদি ছাড়া অন্য একটি বেদি নির্মাণ করে আপনারা সদাপ্রভুর বা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হবেন না।
JOS 22:20 বর্জিত বিষয়গুলি সম্পর্কে যখন সেরহের ছেলে আখন অবিশ্বস্ততার কাজ করেছিল, তখন কি সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজের উপরে সদাপ্রভুর ক্রোধ উপস্থিত হয়নি? তার পাপের জন্য কেবলমাত্র সেই নিহত হয়নি।’ ”
JOS 22:21 তখন রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা ইস্রায়েলী গোত্রগুলির প্রধানদের উত্তর দিল:
JOS 22:22 “সদাপ্রভু ঈশ্বর পরাক্রমী! সদাপ্রভু ঈশ্বর পরাক্রমী! তিনি জানেন! আর ইস্রায়েলও তা জানুক! এ যদি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা অবাধ্যতা হয়, তবে আজ আপনারা আমাদের নিষ্কৃতি দেবেন না।
JOS 22:23 যদি আমরা নিজেদের নির্মিত বেদি সদাপ্রভু থেকে সরে যাওয়ার জন্য ও তার উপরে হোমবলি বা ভক্ষ্য-নৈবেদ্য কিংবা মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করার জন্য নির্মাণ করে থাকি, তবে সদাপ্রভু স্বয়ং আমাদের তার প্রতিফল দিন।
JOS 22:24 “না! আমরা ভয়ে এই কাজ করেছি, কারণ কোনোদিন হয়তো আপনাদের বংশধরেরা আমাদের বংশধরদের বলবে, ‘ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সঙ্গে তোমাদের কী সম্পর্ক?
JOS 22:25 সদাপ্রভু তোমাদের, অর্থাৎ রূবেণীয় ও গাদীয়দের এবং আমাদের মধ্যে জর্ডন নদীকে সীমানারূপে রেখেছেন! সদাপ্রভুর উপরে তোমাদের কোনও অধিকার নেই।’ তাই আপনাদের বংশধরেরা আমাদের বংশধরদের সদাপ্রভুকে ভয় করতে বাধা দিতে পারে।
JOS 22:26 “সেই কারণে আমরা বললাম, ‘এসো, আমরা তৈরি হই ও একটি বেদি নির্মাণ করি—কিন্তু তার উপরে হোমবলি বা অন্যান্য বলি উৎসর্গ করার জন্য নয়।’
JOS 22:27 উল্টে, এটি বরং আপনাদের ও আমাদের ও পরবর্তী প্রজন্মপরম্পরার মধ্যে সাক্ষীস্বরূপ হবে, যেন আমরা তাঁর ধর্মধামে হোমবলি, অন্যান্য বলি ও মঙ্গলার্থক বলি নিয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা করতে পারি। তবে ভাবীকালে আপনাদের বংশধরেরা আমাদের বংশধরদের বলতে পারবে না যে, ‘সদাপ্রভুর উপরে তোমাদের কোনও অধিকার নেই।’
JOS 22:28 “আমরা আরও বললাম, ‘তারা যদি কখনও একথা আমাদের কিংবা আমাদের বংশধরদের কাছে বলে, আমরা উত্তর দেব: সদাপ্রভুর বেদির ওই ক্ষুদ্র সংস্করণ দেখো। এটি আমাদের পিতৃপুরুষেরা নির্মাণ করেছিলেন, হোমবলি বা অন্যান্য বলি উৎসর্গের জন্য নয়, কিন্তু তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এক সাক্ষী হওয়ার জন্য।’
JOS 22:29 “সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে যে আমরা বিদ্রোহ করি, তাঁর কাছ থেকে বিমুখ হয়ে, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সমাগম তাঁবুর সামনে স্থিত বেদি ছাড়া, আমরা হোমবলি, শস্য-নৈবেদ্য ও অন্যান্য বলি উৎসর্গের জন্য যে অন্য বেদি নির্মাণ করি, তা আমাদের থেকে দূরে থাকুক।”
JOS 22:30 যখন যাজক পীনহস ও সমাজের নেতৃবৃন্দ—ইস্রায়েলীদের গোষ্ঠীপতিরা—রূবেণ, গাদ ও মনঃশি গোষ্ঠীর বক্তব্য শুনলেন, তাঁরা সন্তুষ্ট হলেন।
JOS 22:31 আর ইলিয়াসরের ছেলে যাজক পীনহস, রূবেণ, গাদ ও মনঃশি গোষ্ঠীর লোকদের বললেন, “আজ আমরা বুঝতে পারলাম যে, সদাপ্রভু আমাদের সঙ্গে আছেন, কারণ এই ব্যাপারে আপনারা সদাপ্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ততার কাজ করেননি। এখন সদাপ্রভুর হাত থেকে আপনারা ইস্রায়েলীদের উদ্ধার করলেন।”
JOS 22:32 পরে ইলিয়াসরের ছেলে যাজক পীনহস ও ইস্রায়েলী নেতারা গিলিয়দে রূবেণীয় ও গাদীয়দের সঙ্গে সভা সেরে কনানে ফিরে গেলেন ও ইস্রায়েলীদের কাছে সেই সংবাদ দিলেন।
JOS 22:33 তারা সেই সংবাদ শুনে আনন্দিত হল ও ঈশ্বরের প্রশংসা করল। রূবেণীয়েরা ও গাদীয়েরা যেখানে থাকে, তারা সেই দেশে গিয়ে আর তাদের ধ্বংস করার কথা বলল না।
JOS 22:34 আর রূবেণীয়েরা ও গাদীয়েরা সেই বেদির নাম দিল এদ, কারণ তারা বলল, “তাদের ও আমাদের মধ্যে এই বেদি সাক্ষী যে—সদাপ্রভুই ঈশ্বর।”
JOS 23:1 এরপর বহুদিন পার হয়ে গেল এবং সদাপ্রভু ইস্রায়েলের চারপাশের সমস্ত শত্রু থেকে তাদের বিশ্রাম দিলেন। যিহোশূয় সেই সময় অতি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
JOS 23:2 তিনি ইস্রায়েলীদের সবাইকে—সমস্ত প্রাচীন, নেতা, বিচারক ও কর্মকর্তাদের—ডেকে পাঠালেন ও তিনি তাঁদের বললেন: “আমার অনেক বয়স হয়েছে।
JOS 23:3 তোমরা নিজেরা দেখেছ, তোমাদের জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই সমস্ত জাতির প্রতি কী করেছেন; তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুই তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
JOS 23:4 জর্ডন নদী থেকে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যেসব জাতিকে আমি ধ্বংস করেছি ও যারা এখনও বাকি আছে, মনে করে দেখো, তাদের সেই দেশ আমি কীভাবে তোমাদের মধ্যে উত্তরাধিকাররূপে বণ্টন করে দিয়েছি।
JOS 23:5 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু স্বয়ং অবশিষ্ট ওই জাতিদের তোমাদের পথ থেকে তাড়িয়ে দেবেন। তিনি তোমাদের সামনে থেকে তাদের বিতাড়িত করবেন, আর তোমরা তাদের দেশের দখল নেবে, যেমন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
JOS 23:6 “তোমরা অত্যন্ত শক্তিশালী হও; মোশির বিধানপুস্তকে যা লেখা আছে, সেগুলির সবকিছু সাবধান হয়ে পালন কোরো। তা থেকে ডানদিকে বা বাঁদিকে সরে যেয়ো না।
JOS 23:7 তোমরা এই সমস্ত জাতি, যারা তোমাদের মধ্যে রয়ে গিয়েছে, তাদের সহযোগী হোয়ো না; তাদের দেবতাদের নামে মিনতি বা শপথ কোরো না। তোমরা অবশ্যই তাদের সেবা করবে না অথবা তাদের সামনে প্রণত হবে না।
JOS 23:8 কিন্তু তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, যেমন তোমরা এ পর্যন্ত করে এসেছ।
JOS 23:9 “সদাপ্রভু তোমাদের সামনে মহান ও শক্তিশালী সব জাতিকে তাড়িয়ে দিয়েছেন; আজ পর্যন্ত, তারা কেউই তোমাদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।
JOS 23:10 তোমাদের এক একজন, 1,000 জনকে বিতাড়িত করছে, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতিমতো, তোমাদের জন্য যুদ্ধ করেছেন।
JOS 23:11 তাই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসার ব্যাপারে তোমরা অত্যন্ত যত্নশীল হবে।
JOS 23:12 “কিন্তু তোমরা যদি পিছনে ফিরে যাও ও তোমাদের মধ্যে অবশিষ্ট এই সমস্ত জাতির সঙ্গে তোমরা কোনোরকম মৈত্রী স্থাপন করো, যদি তাদের সঙ্গে তোমরা পারস্পরিক বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করো ও তাদের সহযোগী হও,
JOS 23:13 তবে তোমরা নিশ্চয় জানবে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আর এসব জাতিকে তোমাদের সামনে থেকে তাড়িয়ে দেবেন না। তারা বরং তোমাদের পক্ষে জাল ও ফাঁদস্বরূপ হবে, তারা তোমাদের পিঠে চাবুকের মতো ও তোমাদের চোখে কাঁটার মতো হবে, যতক্ষণ না তোমরা এই উৎকৃষ্ট দেশ থেকে বিনষ্ট হও, যে দেশ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের দান করেছেন।
JOS 23:14 “এখন সমস্ত পৃথিবীর যে অন্তিম পথ, আমি সেই পথে যাচ্ছি। তোমরা সমস্ত মনেপ্রাণে জানো যে, সদাপ্রভু যে সমস্ত উৎকৃষ্ট প্রতিশ্রুতি তোমাদের দিয়েছিলেন, সেগুলির একটিও ব্যর্থ হয়নি। সব প্রতিশ্রুতিই পূর্ণ হয়েছে; একটিও ব্যর্থ হয়নি।
JOS 23:15 কিন্তু, যেমন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রত্যেকটি উৎকৃষ্ট প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তেমনই সদাপ্রভু যে সমস্ত মন্দ বিষয়ের ব্যাপারে তোমাদের ভীতিপ্রদর্শন করেছেন, তা তোমাদের উপরে নিয়ে আসবেন, যতক্ষণ না এই যে উৎকৃষ্ট দেশ তিনি তোমাদের দান করেছেন, সেখান থেকে তোমাদের ধ্বংস করেন।
JOS 23:16 তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম, যা পালন করার আদেশ তিনি তোমাদের দিয়েছেন, তা লঙ্ঘন করো, এবং গিয়ে অন্য দেবদেবীর পুজো করো ও তাদের সামনে প্রণত হও, তবে সদাপ্রভুর ক্রোধ তোমাদের উপরে ফেটে পড়বে এবং তোমরা দ্রুত সেই উৎকৃষ্ট দেশে বিনষ্ট হবে, যে দেশ তিনি তোমাদের দান করেছেন।”
JOS 24:1 পরে যিহোশূয় ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠীকে শিখিমে একত্রিত করলেন। তিনি ইস্রায়েলের প্রাচীনদের, নেতাদের, বিচারকদের ও কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠালেন ও তাঁরা সকলে নিজেদের ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত করলেন।
JOS 24:2 যিহোশূয় সমস্ত লোককে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘বহুপূর্বে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা এবং অব্রাহামের ও নাহোরের বাবা তেরহও ইউফ্রেটিস নদীর অপর পারে বসবাস করতেন ও বিভিন্ন দেবদেবীর পুজো করতেন।
JOS 24:3 কিন্তু আমি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহামকে সেই নদীর ওপার থেকে নিয়ে এসে সমস্ত কনান দেশে চালিত করলাম ও তাঁকে বহু বংশধর দিলাম। আমি তাকে দিলাম ইস্‌হাককে,
JOS 24:4 আবার ইস্‌হাককে দিলাম যাকোব ও এষৌকে। আমি সেয়ীরের পার্বত্য প্রদেশ এষৌকে দিলাম, কিন্তু যাকোব ও তার ছেলেরা মিশরে নেমে গেল।
JOS 24:5 “ ‘পরে আমি মোশি ও হারোণকে পাঠালাম, ও আমি সেখানে যে কাজ করলাম, তার দ্বারা মিশরীয়দের ক্লেশ দিলাম ও আমি তোমাদের বের করে আনলাম।
JOS 24:6 তোমাদের পূর্বপুরুষদের আমি যখন মিশর থেকে বের করে আনলাম, তোমরা সমুদ্রের কাছে এলে এবং মিশরীয়রা বহু রথ ও অশ্বারোহী নিয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে এল।
JOS 24:7 কিন্তু ইস্রায়েলীরা সাহায্যের জন্য সদাপ্রভুর কাছে কাঁদল এবং সদাপ্রভু তোমাদের ও মিশরীয়দের মধ্যে অন্ধকার নিয়ে এলেন; তিনি সমুদ্রকে তাদের উপরে নিয়ে এসে তাদের জলে আবৃত করলেন। মিশরীয়দের প্রতি আমি কী করেছিলাম, তা তোমরা নিজেদের চোখে দেখেছ। পরে দীর্ঘ সময় তোমরা মরুপ্রান্তরে বসবাস করলে।
JOS 24:8 “ ‘আমি তোমাদের সেই ইমোরীয়দের দেশে নিয়ে এলাম, যারা জর্ডন নদীর পূর্বদিকে বসবাস করত। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে আমি তাদের তোমাদের হাতে সমর্পণ করলাম। আমি তোমাদের সামনে থেকে তাদের ধ্বংস করলাম এবং তোমরা তখন তাদের দেশের দখল নিলে।
JOS 24:9 যখন সিপ্পোরের ছেলে মোয়াবের রাজা বালাক ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হল, সে বিয়োরের ছেলে বিলিয়মকে পাঠাল, যেন সে তোমাদের অভিশাপ দেয়।
JOS 24:10 কিন্তু আমি বিলিয়মের কথা শুনলাম না। তাই সে বারবার তোমাদের আশীর্বাদ দিল এবং আমি বালাকের হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করলাম।
JOS 24:11 “ ‘পরে তোমরা জর্ডন নদী অতিক্রম করে যিরীহোতে এলে। যিরীহোর লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল, যেমন করল ইমোরীয়, পরিষীয়, কনানীয়, হিত্তীয়, গির্গাশীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়েরা, কিন্তু তাদের আমি তোমাদের হাতে সমর্পণ করলাম।
JOS 24:12 আমি তোমাদের আগে আগে ভিমরুল পাঠালাম, যারা তোমাদের সামনে থেকে তাদের তাড়িয়ে দিল—সেই সঙ্গে ইমোরীয়দের দুই রাজাকেও তাড়ালো। তোমরা নিজেদের তরোয়াল ও তিরধনুক নিয়ে তা করোনি।
JOS 24:13 তাই আমি তোমাদের এমন এক দেশ দিলাম, যার জন্য তোমরা পরিশ্রম করোনি এবং এমন সব নগর দিলাম, যেগুলি তোমরা নির্মাণ করোনি; তোমরা সেগুলিতে বসবাস করছ এবং যে দ্রাক্ষালতা ও জলপাই গাছ তোমরা রোপণ করোনি, তার ফল তোমরা ভোগ করছ।’
JOS 24:14 “এখন তোমরা সদাপ্রভুকে ভয় করো এবং সম্পূর্ণ বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাঁর সেবা করো। ইউফ্রেটিস নদীর ওপারে এবং মিশরে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যেসব দেবদেবীর আরাধনা করতেন, সেগুলি তোমরা ছুঁড়ে ফেলে দাও ও সদাপ্রভুর সেবা করো।
JOS 24:15 কিন্তু যদি সদাপ্রভুর সেবা করতে তোমরা অনিচ্ছুক হও, তবে আজই তোমরা বেছে নাও কার সেবা করবে, তা সে ইউফ্রেটিস নদীর অপর পারে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যেসব দেবদেবীর সেবা করত তাদের, না সেই ইমোরীয়দের সব দেবদেবীর, যাদের দেশে তোমরা বসবাস করছ, তাদের। কিন্তু আমি ও আমার পরিজন, আমরা সকলে সদাপ্রভুর সেবা করব।”
JOS 24:16 তখন লোকেরা উত্তর দিল, “আমরা সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করে অন্যান্য দেবদেবীর সেবা করব, তা যেন কখনও না হয়!
JOS 24:17 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু স্বয়ং আমাদের ও আমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে, সেই ক্রীতদাসত্বের দেশ থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন এবং আমাদের চোখের সামনে ওইসব মহৎ চিহ্নকাজ সম্পন্ন করেছিলেন। আমাদের সমস্ত যাত্রাপথে ও যে সমস্ত জাতির মধ্যে দিয়ে আমরা পথ অতিক্রম করেছিলাম, তিনি আমাদের সুরক্ষা দিয়েছিলেন।
JOS 24:18 আর সদাপ্রভু আমাদের সামনে থেকে সব জাতিকে বিতাড়িত করলেন, ইমোরীয়দেরও করলেন, যারা এই দেশে বসবাস করত। আমরাও সদাপ্রভুর সেবা করব, কারণ তিনি আমাদের ঈশ্বর।”
JOS 24:19 যিহোশূয় লোকদের বললেন, “তোমরা সদাপ্রভুর সেবা করতে পারবে না। তিনি পবিত্র ঈশ্বর; তিনি ঈর্ষাপরায়ণ ঈশ্বর। তিনি তোমাদের বিদ্রোহ ও পাপ ক্ষমা করবেন না।
JOS 24:20 তোমরা যদি সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করো ও বিজাতীয় দেবদেবীর সেবা করো, তিনি আগে তোমাদের মঙ্গলসাধন করলেও, পরে তোমাদের প্রতি বিমুখ হয়ে তোমাদের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসবেন ও তোমাদের সংহার করবেন।”
JOS 24:21 কিন্তু লোকেরা যিহোশূয়কে বলল, “না! আমরা সদাপ্রভুরই সেবা করব।”
JOS 24:22 তখন যিহোশূয় বললেন, “তোমরা নিজেদেরই বিপক্ষে নিজেরা সাক্ষী যে, তোমরা সদাপ্রভুকে সেবা করা মনোনীত করেছ।” “হ্যাঁ, আমরা সাক্ষী,” তারা উত্তর দিল।
JOS 24:23 যিহোশূয় বললেন, “তবে এখন তোমাদের মধ্যে যেসব বিজাতীয় দেবদেবীর মূর্তি আছে সেগুলি ছুঁড়ে ফেলো এবং তোমাদের হৃদয়, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে সমর্পণ করো।”
JOS 24:24 আর লোকেরা যিহোশূয়কে বলল, “আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করব ও তাঁর আদেশ পালন করব।”
JOS 24:25 সেদিন যিহোশূয় লোকদের জন্য একটি নিয়ম স্থির করলেন, ও সেখানে, ওই শিখিমে তিনি লোকদের পালন করার জন্য বিধিনিয়ম ও বিধান পুনঃস্থাপন করলেন।
JOS 24:26 আর যিহোশূয় এসব বিষয় ঈশ্বরের বিধানপুস্তকে নথিভুক্ত করলেন। পরে তিনি এক বিশাল বড়ো পাথর নিয়ে, সদাপ্রভুর পবিত্রস্থানের কাছে একটি ওক গাছের নিচে রেখে দিলেন।
JOS 24:27 তিনি সমস্ত লোককে বললেন, “দেখো, এই পাথরটি আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে। সদাপ্রভু যেসব কথা আমাদের বলেছেন, সেগুলি এটি শুনেছে। তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বরকে দেওয়া কথা থেকে পিছিয়ে যাও, তবে এই পাথরটি তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।”
JOS 24:28 পরে যিহোশূয় তাদের নিজের নিজের অধিকারে যাওয়ার জন্য বিদায় দিলেন।
JOS 24:29 এসব ঘটনার পরে, সদাপ্রভুর দাস, নূনের ছেলে যিহোশূয়, 110 বছর বয়সে মারা গেলেন।
JOS 24:30 লোকেরা তাঁকে তাঁর নিজের অধিকারের দেশে, গাশ পর্বতের উত্তর দিকে, ইফ্রয়িমের পাহাড়ি অঞ্চলে, তিম্নৎ-সেরহে কবর দিল।
JOS 24:31 ইস্রায়েল যিহোশূয়ের জীবনকালে ও সেইসব প্রাচীনের জীবনকালে আগাগোড়াই সদাপ্রভুর সেবা করল, যারা যিহোশূয়ের মৃত্যুর পরও জীবিত ছিলেন ও ইস্রায়েলের জন্য সদাপ্রভু যেসব মহান কাজ করেছিলেন, সেগুলি সব প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
JOS 24:32 আর যোষেফের অস্থি, যেগুলি ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে নিয়ে এসেছিল, তা লোকেরা শিখিমে সেই জমিখণ্ডে কবর দিল, যা যাকোব শিখিমের বাবা হমোরের ছেলেদের কাছ থেকে একশো রৌপ্যমুদ্রা দিয়ে কিনেছিলেন। এটি যোষেফের বংশধরদের অধিকার হয়ে রইল।
JOS 24:33 আর হারোণের ছেলে ইলীয়াসরেরও মৃত্যু হল ও তাঁকে গিবিয়াতে কবর দেওয়া হল। এই স্থানটি ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে, তাঁর ছেলে পীনহসকে দেওয়া হয়েছিল।
JDG 1:1 যিহোশূয়ের মৃত্যুর পর ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করল, “কনানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের মধ্যে থেকে কোন গোষ্ঠী প্রথমে যাবে?”
JDG 1:2 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “যিহূদা গোষ্ঠী যাবে; আমি তাদেরই হাতে এই দেশটি সমর্পণ করেছি।”
JDG 1:3 তখন যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা তাদের সহ-ইস্রায়েলী শিমিয়োনীয়দের বলল, “কনানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সাথে আমাদের জন্য বরাদ্দ অঞ্চলে এসো। পরে আমরাও তোমাদের সঙ্গে তোমাদের জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চলে যাব।” সুতরাং শিমিয়োন গোষ্ঠীর লোকেরাও তাদের সঙ্গে গেল।
JDG 1:4 যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা যখন আক্রমণ করল, সদাপ্রভু তাদের হাতে কনানীয় ও পরিষীয়দের সমর্পণ করলেন, এবং তারা বেষকে 10,000 লোককে হত্যা করল।
JDG 1:5 সেখানে তারা অদোনী-বেষকের সন্ধান পেল ও তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এবং কনানীয় ও পরিষীয়দের ছত্রভঙ্গ করে দিল।
JDG 1:6 অদোনী-বেষক পালিয়ে গেলেন; কিন্তু তারা তাড়া করে তাঁকে ধরে ফেলল এবং তাঁর হাত-পায়ের বুড়ো আঙুল কেটে দিল।
JDG 1:7 তখন অদোনী-বেষক বললেন, “হাত-পায়ের বুড়ো আঙুল কাটা সত্তরজন রাজা আমার টেবিলের নিচে পড়ে থাকা এঁটোকাটা কুড়িয়ে খেতেন। আমি তাঁদের প্রতি যা করেছিলাম, ঈশ্বর আমাকে তার উপযুক্ত প্রতিফল দিয়েছেন।” যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা তাঁকে জেরুশালেম নিয়ে এল এবং সেখানেই তিনি মারা গেলেন।
JDG 1:8 তারা জেরুশালেমও আক্রমণ করল এবং নগরটি অধিকার করল। তারা নগরের অধিবাসীদের তরোয়াল দ্বারা হত্যা করল এবং নগরটিতে আগুন ধরিয়ে দিল।
JDG 1:9 তারপর, যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা পাহাড়ি অঞ্চলে, নেগেভে এবং পশ্চিমী পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কনানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নেমে গেল।
JDG 1:10 তারা হিব্রোণ নিবাসী কনানীয়দের বিরুদ্ধেও অগ্রসর হল এবং শেশয়, অহীমান ও তল্‌ময়কে পরাজিত করল। (হিব্রোণের পূর্বতন নাম ছিল কিরিয়ৎ-অর্ব)
JDG 1:11 সেখান থেকে তারা দবীরে বসবাসকারী লোকদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হল (দবীরের পূর্বতন নাম ছিল কিরিয়ৎ-সেফর)।
JDG 1:12 আর কালেব বললেন, “যে ব্যক্তি কিরিয়ৎ-সেফর আক্রমণ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনবে, আমি তার সঙ্গে আমার মেয়ে অক্‌ষার বিয়ে দেব।”
JDG 1:13 কালেবের ছোটো ভাই, কনসের ছেলে অৎনীয়েল সেটি দখল করলেন; অতএব কালেব তাঁর মেয়ে অক্‌ষার সঙ্গে অৎনীয়েলের বিয়ে দিলেন।
JDG 1:14 একদিন অক্‌ষা অৎনীয়েলের কাছে এসে তাঁকে প্ররোচিত করলেন যেন তিনি তাঁর বাবার কাছে একটি ক্ষেতজমি চেয়ে নেন। অক্‌ষা তাঁর গাধার পিঠ থেকে নামার পর, কালেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?”
JDG 1:15 তিনি উত্তর দিলেন, “আমার প্রতি বিশেষ এক অনুগ্রহ দেখান। আপনি যেহেতু নেগেভে আমাকে জমি দিয়েছেন, জলের উৎসগুলিও আমাকে দিন।” অতএব কালেব উচ্চতর ও নিম্নতর জলের উৎসগুলি তাঁকে দিলেন।
JDG 1:16 মোশির শ্বশুরমশাই-এর বংশধরেরা, অর্থাৎ কেনীয়েরা যিহূদা গোষ্ঠীর লোকদের সঙ্গে খর্জুরপুর থেকে অরাদের নিকটবর্তী নেগেভে, যিহূদার মরুভূমি নিবাসী লোকদের মধ্যে বসবাস করার জন্য চলে গেল।
JDG 1:17 তখন যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা তাদের সহ-ইস্রায়েলী আত্মীয় শিমিয়োন গোষ্ঠীর লোকদের সঙ্গে গিয়ে সফাৎ নিবাসী কনানীয়দের আক্রমণ করল এবং নগরটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিল। এজন্য নগরটির নাম হল হর্মা।
JDG 1:18 যিহূদা গাজা, অস্কিলোন ও ইক্রোণ—প্রত্যেকটি নগর এবং সেগুলির সন্নিহিত অঞ্চলগুলিও অধিকার করল।
JDG 1:19 সদাপ্রভু যিহূদা গোষ্ঠীর লোকদের সহায় ছিলেন। তারা পার্বত্য অঞ্চলটি অধিকার করে নিল, কিন্তু সমভূমির অধিবাসীদের তারা বিতাড়িত করতে পারল না, কারণ তাদের কাছে লৌহরথ ছিল।
JDG 1:20 মোশির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিব্রোণ কালেবকে দেওয়া হল। তিনি সেখান থেকে অনাকের তিন ছেলেকে বিতাড়িত করলেন।
JDG 1:21 বিন্যামীনীয়েরা অবশ্য জেরুশালেম নিবাসী সেই যিবূষীয়দের বিতাড়িত করেনি, যারা জেরুশালেমে বসবাস করত; আজও পর্যন্ত সেই যিবূষীয়েরা বিন্যামিনীয়দের সঙ্গে সেখানে বসবাস করছে।
JDG 1:22 এবার যোষেফ গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা বেথেল আক্রমণ করল, এবং সদাপ্রভু তাদের সহবর্তী ছিলেন।
JDG 1:23 তারা যখন বেথেলে (সেই নগরের পূর্বতন নাম লূস) গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য লোক পাঠাল,
JDG 1:24 গুপ্তচরেরা একটি লোককে নগর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে তাকে বলল, “এই নগরে প্রবেশ করার পথ আমাদের দেখিয়ে দাও ও আমরা দেখব যেন তোমার প্রতি সদয় ব্যবহার করা হয়।”
JDG 1:25 তাই সে তাদের তা দেখিয়ে দিল এবং তারা নগরে প্রবেশ করে তরোয়াল দ্বারা নগরবাসীদের হত্যা করল কিন্তু সেই লোকটিকে ও তার সমগ্র পরিবারকে অব্যাহতি দিল।
JDG 1:26 লোকটি পরে হিত্তীয়দের দেশে গিয়ে সেখানে একটি নগর পত্তন করল এবং তার নাম দিল লূস, যা আজও এই নামেই পরিচিত।
JDG 1:27 কিন্তু মনঃশি গোষ্ঠীর লোকেরা বেথ-শান বা তানক বা দোর বা যিব্‌লিয়ম বা মগিদ্দো প্রভৃতি নগর-নিবাসী ও সেগুলির সন্নিহিত অঞ্চল-নিবাসী লোকজনকে বিতাড়িত করেনি, কারণ কনানীয়েরা সেদেশেই বসবাস করতে দৃঢ়সংকল্প হয়েছিল।
JDG 1:28 ইস্রায়েল যখন শক্তিশালী হয়ে উঠল, তখন কনানীয়দের সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করার পরিবর্তে তারা জোর করে তাদের বেগার শ্রমিকে পরিণত করল।
JDG 1:29 ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর লোকেরাও গেষর নিবাসী কনানীয়দের বিতাড়িত করল না, কিন্তু কনানীয়েরা গেষরে তাদের মধ্যেই বসবাস করতে থাকল।
JDG 1:30 সবূলূন গোষ্ঠীর লোকেরাও কিট্‌রোণ ও নহলাল নিবাসী কনানীয়দের বিতাড়িত করল না, তাই সেই কনানীয়রা তাদের মধ্যেই বসবাস করল, কিন্তু সবূলূন তাদেরও জোর করে বেগার শ্রমিকে পরিণত করল।
JDG 1:31 আশের গোষ্ঠীর লোকেরাও অক্কো বা সীদোন বা অহলব বা অক্‌ষীব বা হেল্‌বা বা অফীক বা রহোব নিবাসী লোকজনকে বিতাড়িত করল না।
JDG 1:32 আশেরীয়রা সেই দেশের অধিবাসী কনানীয়দের মধ্যেই বসবাস করতে থাকল কারণ তারা কনানীয়দের বিতাড়িত করেনি।
JDG 1:33 নপ্তালি গোষ্ঠীর লোকেরাও বেত-শেমশ বা বেথ-অনাৎ নিবাসী লোকজনকে বিতাড়িত করল না; কিন্তু নপ্তালীয়েরা সেদেশের অধিবাসী কনানীয়দের মধ্যেই বসবাস করতে থাকল, এবং বেত-শেমশ ও বেথ-অনাৎ নিবাসী লোকজন তাদের জন্য বেগার শ্রমিকে পরিণত হল।
JDG 1:34 ইমোরীয়রা দান বংশীয় লোকজনকে পার্বত্য অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ করে রাখল, তাদের সমভূমিতে নেমে আসতে দিল না।
JDG 1:35 আর ইমোরীয়রা হেরস পর্বতে, অয়ালোনে ও শাল্‌বীমে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হল, কিন্তু যোষেফ-গোষ্ঠীর যখন শক্তিবৃদ্ধি হল, তখন ইমোরীয়দেরও জোর করে বেগার শ্রমিকে পরিণত করা হল।
JDG 1:36 ইমোরীয়দের সীমানা বিস্তৃত হল বৃশ্চিক-গিরিপথ থেকে সেলা ও তা অতিক্রম করে আরও বহুদূর পর্যন্ত।
JDG 2:1 সদাপ্রভুর দূত গিল্‌গল থেকে বোখীমে উঠে গিয়ে বললেন, “আমি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছি এবং যে দেশ দেওয়ার শপথ আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে করেছিলাম, সেই দেশে তোমাদের নিয়ে এসেছি। আমি বলেছিলাম, ‘আমি তোমাদের কাছে আমার নিয়মটি কখনোই ভঙ্গ করব না,
JDG 2:2 আর তোমরাও এই দেশের অধিবাসীদের সঙ্গে কোনও নিয়ম স্থির করবে না, কিন্তু তোমরা তাদের যজ্ঞবেদিগুলি ভেঙে ফেলবে।’ অথচ তোমরা আমার অবাধ্য হয়েছ। তোমরা কেন এরকম করলে?
JDG 2:3 আর আমি এও বলেছি, ‘আমি তোমাদের সামনে থেকে তাদের বিতাড়িত করব না; তারা তোমাদের জন্য জালে পরিণত হবে, এবং তাদের দেবতারা তোমাদের কাছে ফাঁদে পরিণত হবে।’ ”
JDG 2:4 সদাপ্রভুর দূত ইস্রায়েলীদের কাছে এসব কথা বলাতে, তারা তারস্বরে কেঁদে ফেলল,
JDG 2:5 এবং তারা সেই স্থানটির নাম রাখল বোখীম। সেখানে তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করল।
JDG 2:6 যিহোশূয় ইস্রায়েলীদের বিদায় করে দেওয়ার পর, তারা প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব অধিকার অনুসারে, দেশ দখল করতে গেল।
JDG 2:7 লোকজন যিহোশূয়ের জীবনকালে ও সেইসব প্রাচীনের জীবনকালে আগাগোড়াই সদাপ্রভুর সেবা করল, যারা যিহোশূয়ের মৃত্যুর পরও জীবিত ছিলেন ও ইস্রায়েলের জন্য সদাপ্রভু যেসব মহান কাজ করেছিলেন, সেগুলি দেখেছিলেন।
JDG 2:8 নূনের ছেলে, সদাপ্রভুর দাস যিহোশূয় 110 বছর বয়সে মারা গেলেন।
JDG 2:9 আর তারা তাঁকে গাশ পর্বতের উত্তরে, ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের তিম্নৎ-হেরসে, তাঁর নিজস্ব অধিকার-ভূমিতে কবর দিল।
JDG 2:10 সেই প্রজন্মের সমস্ত লোকজন তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার পর, অপর এক প্রজন্ম বেড়ে উঠল, যারা না চিনত সদাপ্রভুকে, না জানত তিনি ইস্রায়েলের জন্য কী কী করেছিলেন।
JDG 2:11 পরে ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ তাই করল এবং বায়াল-দেবতাদের সেবা করল।
JDG 2:12 তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, সেই সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করল, যিনি মিশর থেকে তাদের বের করে এনেছিলেন। তারা তাদের চারপাশে বসবাসকারী লোকদের আরাধ্য বিভিন্ন দেবতাদের অনুগামী হল এবং তাদের আরাধনা করতে লাগল। তারা সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলল
JDG 2:13 কারণ তারা তাঁকে পরিত্যাগ করল এবং বায়াল-দেবতার ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করল।
JDG 2:14 ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সদাপ্রভু তাদের সেই আক্রমণকারীদের হাতে সমর্পণ করলেন, যারা তাদের উপরে লুঠতরাজ চালিয়েছিল। তিনি তাদের চারপাশের সেই শত্রুদের হাতে তাদের বিক্রি করে দিলেন, যাদের প্রতিরোধ তারা আর করে উঠতে পারেনি।
JDG 2:15 যখনই ইস্রায়েল যুদ্ধযাত্রা করতে যেত, তাদের পরাজিত করার জন্য সদাপ্রভুর হাত তাদের বিরুদ্ধাচারী হত, ঠিক যেভাবে তিনি তাদের কাছে শপথ করেছিলেন। তাদের উপরে চরম দুর্দশা নেমে এল।
JDG 2:16 তখন সদাপ্রভু সেই বিচারকদের উত্থাপিত করলেন, যারা আক্রমণকারীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করেছিলেন।
JDG 2:17 তবুও তারা তাদের বিচারকদের কথায় কর্ণপাত করত না কিন্তু অন্যান্য দেবতাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বেশ্যাবৃত্তিতে নেমে তাদের আরাধনা করত। তারা দ্রুত তাদের সেই পূর্বপুরুষদের পথ থেকে ফিরে গেল, যারা সদাপ্রভুর আদেশগুলির প্রতি বাধ্য হয়ে চলতেন।
JDG 2:18 সদাপ্রভু যখনই তাদের জন্য কোনও বিচারক উত্থাপিত করতেন, তিনি সেই বিচারকের সহায় হতেন এবং যতদিন সেই বিচারক জীবিত থাকতেন ততদিন সদাপ্রভু তাদের শত্রুদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতেন; যেহেতু তাদের শোষণের কারণে ও নির্যাতনকারীদের অধীনে তাদের জীবনে উৎপন্ন কাতরোক্তির কারণে সদাপ্রভু করুণাবিষ্ট হতেন।
JDG 2:19 কিন্তু সেই বিচারক মারা গেলেই, লোকেরা আবার অন্যান্য দেবতাদের অনুগামী হয়ে, তাদের সেবা ও আরাধনা করার মাধ্যমে তাদের পূর্বপুরুষদের থেকেও বেশি পরিমাণে কলুষিত হয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ত। তারা তাদের মন্দ অভ্যাস ও অনমনীয় স্বভাব ত্যাগ করতে চাইত না।
JDG 2:20 অতএব সদাপ্রভু ইস্রায়েলের উপরে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, “যেহেতু এই জাতি সেই নিয়মটি ভঙ্গ করেছে, যা আমি তাদের পূর্বপুরুষদের জন্য নিরূপিত করেছিলাম এবং যেহেতু আমার কথায় তারা কর্ণপাত করেনি,
JDG 2:21 তাই আমি আর সেইসব জাতির মধ্যে কোনো জাতিকেই তাদের সামনে থেকে বিতাড়িত করব না, যিহোশূয় মারা যাওয়ার সময় যাদের অবশিষ্ট রেখে গিয়েছিল।
JDG 2:22 ইস্রায়েলকে পরীক্ষা করার জন্য ও তাদের পূর্বপুরুষদের মতো তারা সদাপ্রভুর পথে চলে তাঁর আজ্ঞা পালন করছে কি না তা দেখার জন্য আমি এই জাতিকে ব্যবহার করব।”
JDG 2:23 সদাপ্রভু সেইসব জাতিকে সেখানে থাকতে দিলেন; তিনি যিহোশূয়ের হাতে তাদের সমর্পণ করার দ্বারা অবিলম্বে তাদের বিতাড়িত করলেন না।
JDG 3:1 যেসব ইস্রায়েলী কনানে কোনও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি, তাদের পরীক্ষা করার জন্য সদাপ্রভু এসব জাতিকে অবশিষ্ট রেখেছিলেন:
JDG 3:2 (ইস্রায়েলীদের সেই বংশধরদের যুদ্ধবিগ্রহ শিক্ষা দেওয়ার জন্যই শুধুমাত্র তিনি এরকম করলেন, ইতিপূর্বে যাদের যুদ্ধের কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না)
JDG 3:3 ফিলিস্তিনীদের পাঁচজন শাসনকর্তা, বায়াল-হর্মোণ পর্বত থেকে লেবো-হমাৎ পর্যন্ত বিস্তৃত লেবাননের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সমস্ত কনানীয়, সীদোনীয় এবং হিব্বীয় জাতি।
JDG 3:4 মোশির মাধ্যমে ইস্রায়েলীদের পূর্বপুরুষদের সদাপ্রভু যে আদেশগুলি দিয়েছিলেন, সেগুলি তারা পালন করে কি না, তা জানার জন্যই এই জাতিদের অবশিষ্ট রাখা হল।
JDG 3:5 ইস্রায়েলীরা কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয়দের মধ্যে বসবাস করল।
JDG 3:6 ইস্রায়েলীরা তাদের মেয়েদের বিয়ে করে আনত ও নিজেদের মেয়েদের সঙ্গে তাদের ছেলেদের বিয়ে দিত, এবং তাদের দেবতাদের সেবা করত।
JDG 3:7 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ ইস্রায়েলীরা তাই করল; তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভুলে গিয়ে বায়াল-দেবতাদের ও আশেরা-দেবীদের সেবা করল।
JDG 3:8 সদাপ্রভুর ক্রোধ ইস্রায়েলীদের বিরুদ্ধে প্রজ্বলিত হল, আর তিনি তাদের অরাম-নহরয়িমের রাজা সেই কূশন-রিশিয়াথয়িমের হাতে বিক্রি করে দিলেন, ইস্রায়েলীরা আট বছর যাঁর শাসনাধীন হয়ে থাকল।
JDG 3:9 কিন্তু তারা যখন সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, তিনি তাদের জন্য এক রক্ষাকর্তাকে—কালেবের ছোটো ভাই কনসের ছেলে অৎনীয়েলকে—উত্থাপিত করলেন, যিনি তাদের রক্ষা করলেন।
JDG 3:10 সদাপ্রভুর আত্মা অৎনীয়েলের উপর নেমে এলেন, আর তিনি ইস্রায়েলীদের বিচারক হলেন এবং যুদ্ধযাত্রা করলেন। সদাপ্রভু অরামের রাজা কূশন-রিশিয়াথয়িমকে সেই অৎনীয়েলের হাতে সমর্পণ করলেন, যিনি তাঁকে পরাজিত করলেন।
JDG 3:11 অতএব কনসের ছেলে অৎনীয়েলের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত চল্লিশ বছরের জন্য দেশে শান্তি বজায় থাকল।
JDG 3:12 আবার ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ তাই করল, এবং যেহেতু তারা এরকম মন্দ কাজ করল, তাই সদাপ্রভু মোয়াবের রাজা ইগ্লোনকে ইস্রায়েলের উপর শক্তিপ্রদর্শন করতে দিলেন।
JDG 3:13 অম্মোনীয় ও অমালেকীয়দের সঙ্গে নিয়ে এসে ইগ্লোন ইস্রায়েলকে আক্রমণ করলেন, এবং খর্জুরপুর অধিকার করে নিলেন।
JDG 3:14 ইস্রায়েলীরা আঠারো বছর যাবৎ মোয়াবের রাজা ইগ্লোনের শাসনাধীন হয়ে থাকল।
JDG 3:15 ইস্রায়েলীরা আবার সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের এক রক্ষাকর্তা দিলেন—যিনি হলেন বিন্যামীনীয় গেরার ছেলে ন্যাটা এহূদ। ইস্রায়েলীরা তাঁকে রাজস্ব-অর্থ সমেত মোয়াবরাজ ইগ্লোনের কাছে পাঠাল।
JDG 3:16 এহূদ প্রায় 45 সেন্টিমিটার লম্বা এবং উভয় দিকে ধারবিশিষ্ট একটি ছোরা তৈরি করলেন, ও সেটি তিনি তাঁর পোশাকের নিচে তাঁর ডান ঊরুতে বেঁধে রাখলেন।
JDG 3:17 তিনি মোয়াবের রাজা সেই ইগ্লোনের কাছে সেই রাজস্ব-অর্থ পেশ করলেন, যিনি অত্যন্ত স্থূলকায় এক ব্যক্তি ছিলেন।
JDG 3:18 সেই রাজস্ব-অর্থ পেশ করার পর এহূদ তাদের বিদায় করে দিলেন, যারা তা বহন করে এনেছিল।
JDG 3:19 কিন্তু গিল্‌গলের নিকটবর্তী সেই পাথর-প্রতিমাগুলির কাছে পৌঁছানোর পর আবার তিনি ইগ্লোনের কাছে ফিরে এসে বললেন, “হে মহারাজ, আপনার জন্য আমার কাছে এক গোপন সংবাদ আছে।” রাজামশাই তাঁর সেবকদের বললেন, “আমাদের একা ছেড়ে দাও!” আর তারা সবাই বাইরে চলে গেল।
JDG 3:20 রাজামশাই যখন তাঁর প্রাসাদের উপরতলার ঘরে একা বসেছিলেন, তখন এহূদ তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে বললেন, “আপনার জন্য আমার কাছে ঈশ্বরের এক বাণী আছে।” রাজামশাই যেই না তাঁর আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন,
JDG 3:21 এহূদ তাঁর বাঁ হাত বাড়িয়ে ডান ঊরু থেকে সেই ছোরাটি টেনে বের করে সোজা রাজামশাই-এর পেটে ঢুকিয়ে দিলেন।
JDG 3:22 এমনকি ছোরার সঙ্গে বাঁটটিও ভিতরে ঢুকে গেল, এবং তাঁর নাড়িভুঁড়ি বাইরে বেরিয়ে এল। এহূদ ছোরাটি টেনে বের করলেন না, এবং সেটি চর্বিতে আটকে থাকল।
JDG 3:23 পরে এহূদ বাইরে বারান্দায় বেরিয়ে এলেন; তিনি উপরতলার ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে তাতে তালা লাগিয়ে দিলেন।
JDG 3:24 তিনি চলে যাওয়ার পর দাসেরা এসে দেখল যে উপরতলার ঘরের দরজা তালাবন্ধ। তারা বলল, “রাজামশাই নিশ্চয় প্রাসাদের শৌচাগারে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছেন।”
JDG 3:25 তারা বিব্রত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে গেল, কিন্তু রাজামশাই দরজা খুলছেন না দেখে তারা একটি চাবি নিয়ে দরজাটি খুলে ফেলল। সেখানে তারা দেখল যে তাদের মনিব মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন।
JDG 3:26 তারা যখন অপেক্ষা করছিল, তখন এহূদ পালিয়ে গেলেন। তিনি পাথর-প্রতিমাগুলি পার করে গেলেন ও পালিয়ে সিয়ীরাতে গিয়ে পৌঁছালেন।
JDG 3:27 সেখানে পৌঁছে তিনি ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলে শিঙা বাজালেন, এবং ইস্রায়েলীরা তাঁর সঙ্গে পাহাড় থেকে নেমে গেল, ও এহূদ তাদের নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 3:28 “আমার অনুগামী হও,” তিনি আদেশ দিলেন, “কারণ সদাপ্রভু তোমাদের শত্রু মোয়াবকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন।” অতএব তারা এহূদের অনুগামী হল এবং জর্ডনের হাঁটুজলবিশিষ্ট সেই স্থানগুলি অধিকার করে নিল, যেগুলি মোয়াবের দিকে উঠে যায়; তারা কাউকেই ওপারে যেতে দিল না।
JDG 3:29 সেই সময় তারা প্রায় 10,000 মোয়াবীয়কে আঘাত করল, যারা সবাই ছিল সবল ও শক্তিশালী; একজনও পালাতে পারল না।
JDG 3:30 সেদিন মোয়াবকে ইস্রায়েলের শাসনাধীন করা হল, এবং আশি বছরের জন্য দেশে শান্তি বজায় থাকল।
JDG 3:31 এহূদের পর এলেন অনাতের ছেলে শম্‌গর, যিনি বলদের অঙ্কুশ দিয়ে 600 ফিলিস্তিনীকে আঘাত করলেন। তিনিও ইস্রায়েলকে রক্ষা করলেন।
JDG 4:1 এহূদ মারা যাওয়ার পর ইস্রায়েলীরা আবার সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করল।
JDG 4:2 তাই সদাপ্রভু তাদের কনানের রাজা সেই যাবীনের হাতে সমর্পণ করে দিলেন, যিনি হাৎসোরে রাজত্ব করতেন। তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতি সীষরা হরোশৎ-হগ্গোয়ীমের অধিবাসী ছিলেন।
JDG 4:3 যেহেতু তাঁর কাছে 900-টি লৌহরথ ছিল এবং তিনি কুড়ি বছর ধরে ইস্রায়েলীদের উপর নির্মমভাবে অত্যাচার চালিয়েছিলেন, তাই ইস্রায়েলীরা সাহায্য পাওয়ার আশায় সদাপ্রভুর কাছে কেঁদেছিল।
JDG 4:4 সেই সময় লপ্পীদোতের স্ত্রী দবোরা—একজন মহিলা ভাববাদী, ইস্রায়েলীদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
JDG 4:5 ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে রামা ও বেথেলের মাঝখানে অবস্থিত দবোরার খেজুর গাছের তলায় বসে তিনি বিচারকাজ চালাতেন, এবং ইস্রায়েলীরা তাদের দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তির জন্য সেখানে তাঁর কাছে যেত।
JDG 4:6 তিনি কেদশ-নপ্তালি থেকে অবীনোয়মের ছেলে বারককে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমাকে এই আদেশ দিয়েছেন: ‘যাও, নপ্তালি ও সবূলূন গোষ্ঠীভুক্ত 10,000 লোক সঙ্গে নাও এবং তাবোর পর্বত পর্যন্ত তাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাও।
JDG 4:7 আমি যাবীনের সৈন্যদলের সেনাপতি সীষরাকে এবং তার রথ ও তার সৈন্যবাহিনীকে কীশোন নদীর কাছে পরিচালনা দিয়ে নিয়ে যাব এবং তাকে তোমার হাতে সমর্পণ করব।’ ”
JDG 4:8 বারক তাঁকে বললেন, “আপনি যদি আমার সঙ্গে যান, তবেই আমি যাব; কিন্তু আপনি যদি আমার সঙ্গে না যান, তবে আমি যাব না।”
JDG 4:9 “আমি নিশ্চয় তোমার সঙ্গে যাব,” দবোরা বললেন। “কিন্তু এ যাত্রায় তুমি সম্মান লাভ করবে না, কারণ সদাপ্রভু সীষরাকে একজন স্ত্রীলোকের হাতে সমর্পণ করবেন।” অতএব দবোরা বারকের সঙ্গে কেদশে চলে গেলেন।
JDG 4:10 বারক সেখানে সবূলূন ও নপ্তালি গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের ডেকে পাঠালেন, এবং 10,000 লোক তাঁর নেতৃত্বাধীন হয়ে তাঁর সঙ্গে গেল। দবোরাও তাঁর সঙ্গে গেলেন।
JDG 4:11 ইত্যবসরে মোশির শ্যালক, কেনীয় হেবর হোববের বংশধর অন্যান্য কেনীয়দের থেকে পৃথক হয়ে কেদশের নিকটবর্তী সানন্নীমের বিশাল সেই গাছটির কাছে তাঁর তাঁবু খাটিয়েছিলেন।
JDG 4:12 সীষরাকে যখন বলা হল যে অবীনোয়মের ছেলে বারক তাবোর পর্বতে উঠেছে,
JDG 4:13 তখন সীষরা হরোশৎ-হাগ্গোয়ীম থেকে তাঁর সব লোকজনকে ও তাঁর 900-টি লৌহরথ কীশোন নদীতীরে ডেকে আনালেন।
JDG 4:14 তখন দবোরা বারককে বললেন, “যাও! সদাপ্রভু আজই তোমার হাতে সীষরাকে সমর্পণ করেছেন। সদাপ্রভু কি তোমার অগ্রগামী হননি?” অতএব বারক তাঁর 10,000 জন অনুচরকে সঙ্গে নিয়ে তাবোর পর্বত থেকে নেমে এলেন।
JDG 4:15 বারক এগিয়ে যেতে না যেতেই সদাপ্রভু সীষরাকে এবং তাঁর সব রথ ও সৈন্যবাহিনীকে তরোয়ালের আঘাতে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন, এবং সীষরা তাঁর রথ থেকে নেমে পায়ে হেঁটে পালিয়ে গেলেন।
JDG 4:16 বারক হরোশৎ-হাগ্গোয়ীম পর্যন্ত সেইসব রথ ও সৈন্যদলের পশ্চাদ্ধাবন করলেন এবং সীষরার সৈন্যবাহিনী তরোয়াল দ্বারা পতিত হল; একজনও অবশিষ্ট রইল না।
JDG 4:17 এদিকে, সীষরা পায়ে হেঁটে কেনীয় হেবরের স্ত্রী যায়েলের তাঁবুর কাছে পালিয়ে গেলেন, কারণ হাৎসোরের রাজা যাবীনের সঙ্গে কেনীয় হেবরের পরিবারের এক মৈত্রীর সম্পর্ক ছিল।
JDG 4:18 যায়েল সীষরার সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে এসে তাঁকে বললেন, “হে আমার প্রভু, ভিতরে আসুন। ভয় পাবেন না।” অতএব সীষরা যায়েলের তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, এবং তিনি একটি কম্বল দিয়ে সীষরাকে ঢেকে দিলেন।
JDG 4:19 “আমার পিপাসা পেয়েছে,” সীষরা বললেন। “দয়া করে আমাকে একটু জল দাও।” যায়েল তখন দুধ-ভর্তি একটি মশক খুলে তাঁকে খানিকটা দুধ পান করতে দিলেন, এবং আবার তাঁকে ঢেকে দিলেন।
JDG 4:20 “তুমি তাঁবুর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকো,” তিনি যায়েলকে বললেন। “কেউ যদি এসে তোমায় জিজ্ঞাসা করে, ‘এখানে কি কেউ আছে?’ তবে বোলো, ‘না, কেউ নেই।’ ”
JDG 4:21 কিন্তু হেবরের স্ত্রী যায়েল একটি তাঁবু-খুটা ও একটি হাতুড়ি তুলে নিয়ে নিঃশব্দে তাঁর কাছে গেলেন। ক্লান্ত সীষরা গভীর ঘুমে নিদ্রাগত হয়ে পড়েছিলেন। যায়েল সেই খুঁটিটি সীষরার রগে এমনভাবে বিঁধিয়ে দিলেন যে সেটি মাটিতে গেঁথে গেল, ও তিনি মারা গেলেন।
JDG 4:22 ঠিক তখনই বারক সীষরার পশ্চাদ্ধাবন করতে করতে সেখানে উপস্থিত হলেন এবং যায়েল তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে গেলেন। “আসুন,” যায়েল বললেন, “আপনি যে লোকটির খোঁজ করছেন, তাকে আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।” অতএব বারক তাঁর সঙ্গে তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, এবং সেখানে সীষরা রগে তাঁবু-খুটা বিদ্ধ অবস্থায় মরে পড়েছিলেন।
JDG 4:23 সেদিন ঈশ্বর কনানের রাজা যাবীনকে ইস্রায়েলীদের সামনে অবনমিত করলেন।
JDG 4:24 আর ইস্রায়েলীরা কনানের রাজা যাবীনকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাদের হাত তাঁর বিরুদ্ধে ক্রমাগত কঠোর থেকে কঠোরতর হতেই থাকল।
JDG 5:1 সেদিন দবোরা এবং অবীনোয়মের ছেলে বারক এই গানটি গাইলেন:
JDG 5:2 “ইস্রায়েলের নেতারা যখন নেতৃত্বভার হাতে নিলেন, প্রজারা যখন স্বেচ্ছায় নিজেদের উৎসর্গ করল— সদাপ্রভুর প্রশংসা করো!
JDG 5:3 “হে রাজারা, একথা শোনো! হে শাসকেরা, কর্ণপাত করো! আমি, আমিই সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাইব; গানে গানে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করব।
JDG 5:4 “হে সদাপ্রভু, তুমি যখন সেয়ীর থেকে চলে গেলে, ইদোমের দেশ থেকে কুচকাওয়াজ করলে, পৃথিবী কম্পিত হল, আকাশমণ্ডলও বর্ষণ করল, মেঘমালা জলধারা ঢেলে দিল।
JDG 5:5 পর্বতগুলি সীনয়ের সেই সদাপ্রভুর সামনে কম্পিত হল, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর সামনেই হল।
JDG 5:6 “অনাতের পুত্র শম্‌গরের সময়ে, রাজপথগুলি যায়েলের সময়ে পরিত্যক্ত হল; ভ্রমণকারীরা ঘুরপথে যেত।
JDG 5:7 ইস্রায়েলের গ্রামবাসীরা যুদ্ধ করতে চায়নি; তারা ক্ষান্ত ছিল, যতদিন না আমি, দবোরা উঠে দাঁড়ালাম, যতদিন না আমি, ইস্রায়েলের এক মাতৃস্থানীয়া উঠে দাঁড়ালাম।
JDG 5:8 ঈশ্বর নতুন নেতৃবৃন্দ মনোনীত করলেন যুদ্ধ যখন নগর-প্রবেশদ্বারে ঘনিয়ে এল, কিন্তু একটিও ঢাল অথবা বর্শা দেখা গেল না, ইস্রায়েলে হাজার চল্লিশ সেই সেনানীর হাতে।
JDG 5:9 আমার হৃদয় ইস্রায়েলী নেতৃবৃন্দের প্রতি আসক্ত হল, জনতার মধ্যে ইচ্ছুক স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো!
JDG 5:10 “তোমরা যারা সাদা গাধার পিঠে চেপে যাও, জিন কম্বলের উপর বসে থাকো, আর তোমরা যারা পথযাত্রা করো, বিবেচনা করো
JDG 5:11 জলসেচনের স্থানে সেই গায়কদের রব। তারা সদাপ্রভুর বিজয় বর্ণনা করে, ইস্রায়েলের গ্রামবাসীদের বিজয়। “তখন সদাপ্রভুর প্রজাসকল নগরদ্বারে নেমে গেল।
JDG 5:12 ‘জাগো, জাগো হে দবোরা! জাগো, জাগো, গানে মুখরিত হও! হে বারক, ওঠো! হে অবীনোয়মের পুত্র, বন্দি করো তোমার বন্দিদের।’
JDG 5:13 “পরিষদবর্গের অবশিষ্টাংশ নেমে এল; সদাপ্রভুর প্রজারা আমার কাছে বিক্রমীদের বিরুদ্ধাচারী হয়ে নেমে এল।
JDG 5:14 কেউ ইফ্রয়িম থেকে এল, যাদের মূল অমালেকেতে ছিল; বিন্যামীন তোমার অনুগামীদের সহবর্তী ছিল। অধিনায়কেরা মাখীর থেকে নেমে এলেন, সেই রণ-দণ্ডধারীরা সবূলূন থেকে এলেন।
JDG 5:15 ইষাখরের নেতারা দবোরার সঙ্গী ছিলেন; হ্যাঁ, ইষাখর বারকেরও সঙ্গী ছিল, তাঁর আদেশে তাঁরা উপত্যকায় সবেগে ছুটে গেলেন। রূবেণের জেলাগুলিতে খুব অন্তর অনুসন্ধান হল।
JDG 5:16 কেন তোমরা মেষ-খোঁয়াড়ের মাঝে বসে রইলে শুধু মেষপালকদের বাঁশির সুর শুনবে বলে? রূবেণের জেলাগুলিতে খুব অন্তর অনুসন্ধান হল।
JDG 5:17 গিলিয়দ জর্ডনের ওপারে থেকে গেল। আর দান, কেনই বা সে জাহাজের পাশে গড়িমসি করল? আশের সমুদ্র উপকূলে থেকে গেল আর তার সেই উপসাগরে বসবাস করল।
JDG 5:18 সবূলূন-প্রজারা নিজ জীবনের ঝুঁকি নিল; নপ্তালিও তাদের দেখাদেখি সোপানক্ষেত্রে তা করল।
JDG 5:19 “রাজারা এলেন, যুদ্ধ করলেন, কনানের রাজারা যুদ্ধ করলেন। তানকে, মগিদ্দোর নদীতীরে, তারা রুপোর কোনো লুন্ঠিত জিনিসপত্র নেয়নি।
JDG 5:20 আকাশমণ্ডল থেকে নক্ষত্রেরা যুদ্ধ করল, তাদের কক্ষপথ থেকে সীষরার বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করল।
JDG 5:21 কীশোন নদী তাদের ভাসিয়ে দিল, যুগবাহিত সেই নদী, সেই কীশোন নদী। হে আমার প্রাণ, এগিয়ে যাও; বলীয়ান হও!
JDG 5:22 তখন অশ্ব-ক্ষুরের বজ্রনিনাদ হল— তাঁর সবল ঘোড়ার জোরে ছোটার শব্দ।
JDG 5:23 সদাপ্রভুর দূত বললেন ‘মেরোসকে অভিশাপ দাও।’ ‘তার প্রজাদের দারুণ অভিশাপ দাও, কারণ তারা সদাপ্রভুকে সাহায্য করতে আসেনি, সদাপ্রভুকে বলশালীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করতে।’
JDG 5:24 “নারীকুলে যায়েল পরমধন্যা, কেনীয় হেবরের স্ত্রী, তাঁবু-নিবাসী নারীকুলে পরমধন্যা।
JDG 5:25 সীষরা জল চেয়েছিলেন, আর তিনি তাঁকে দুধ দিলেন; অভিজাতদের জন্য উপযুক্ত পাত্রে তিনি দধি এনে দিলেন।
JDG 5:26 তিনি তাঁবু-খুটা হাতে তুলে নিলেন, ডান হাতে শ্রমিকদের হাতুড়ি নিলেন। তিনি সীষরাকে আঘাত করলেন, তাঁর মাথা চূর্ণ করলেন, তিনি তাঁর রগ চুরমার ও বিদ্ধ করলেন।
JDG 5:27 তিনি যায়েলের পদাবনত হলেন, পতিত হলেন; যেখানে তিনি পদাবনত হলেন, সেখানেই মরে পতিত হয়ে রইলেন।
JDG 5:28 “খোলা জানালা দিয়ে সীষরার মা তাকিয়েছিলেন; জাফরির পিছন থেকে তিনি চিৎকার করেছিলেন, ‘তার রথ আসতে কেন এত দেরি হচ্ছে? কেন তার রথের ঘর্ঘর-ধ্বনি বিলম্বিত?’
JDG 5:29 তাঁর জ্ঞানবতী সহচরীরা তাঁকে উত্তর দিল; তিনি নিজেও আপনমনে কথা বললেন,
JDG 5:30 ‘ওরা কি লুন্ঠিত জিনিসপত্র পায়নি? ভাগাভাগি কি করেনি? প্রত্যেক পুরুষের জন্য একটি বা দুটি করে রমণী, সীষরার জন্য লুন্ঠিত রঙিন পোশাক, দোরোখা রঙিন পোশাক, আমার গ্রীবার জন্য উচ্চমানের দোরোখা পোশাক— লুন্ঠিত জিনিসপত্ররূপে এসবই?’
JDG 5:31 “হে সদাপ্রভু, তোমার সব শত্রু এভাবেই বিনষ্ট হোক! কিন্তু যারা তোমায় ভালোবাসে তারা সব সেই সূর্যের মতো হোক যখন তা সপ্রতাপে উদিত হয়।” পরে চল্লিশ বছর দেশে শান্তি বজায় ছিল।
JDG 6:1 ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ তাই করল, এবং সাত বছরের জন্য তিনি তাদের মিদিয়নীয়দের হাতে সমর্পণ করলেন।
JDG 6:2 মিদিয়নীয়রা এত নিষ্ঠুর ছিল যে ইস্রায়েলীরা নিজেদের জন্য পর্বত-গহ্বরে, গুহায় ও দুর্গম স্থানে আশ্রয়স্থল তৈরি করল।
JDG 6:3 যখনই ইস্রায়েলীরা শষ্য-বীজ বপন করত, মিদিয়নীয়, অমালেকীয় এবং প্রাচ্যদেশীয় অন্যান্য জাতিরা এসে দেশ আক্রমণ করত।
JDG 6:4 তারা দেশে শিবির স্থাপন করত এবং গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দিত। তারা ইস্রায়েলীদের জন্য কোনো জীবিত প্রাণী অবশিষ্ট রাখত না, তা সে মেষ, গবাদি পশুপাল বা গাধা, যাই হোক না কেন।
JDG 6:5 পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো তারা তাদের পশুপাল ও তাঁবু সঙ্গে নিয়ে আসত। তাদের সংখ্যা বা তাদের উটদের সংখ্যা গোনা অসম্ভব হত; তারা দেশ ছারখার করে দেওয়ার জন্যই সেখানে আক্রমণ চালাত।
JDG 6:6 মিদিয়ন ইস্রায়েলীদের এমনভাবে নিঃস্ব করে তুলেছিল যে তারা সাহায্য লাভের আশায় সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল।
JDG 6:7 মিদিয়নের কারণে ইস্রায়েলীরা যখন সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল,
JDG 6:8 তখন তিনি তাদের কাছে একজন ভাববাদীকে পাঠিয়ে দিলেন, যিনি বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি মিশর থেকে, ক্রীতদাসত্বের দেশ থেকে তোমাদের বের করে এনেছি।
JDG 6:9 মিশরীয়দের হাত থেকে আমি তোমাদের উদ্ধার করেছি। আর আমি তোমাদের সব উপদ্রবকারীর হাত থেকে তোমাদের মুক্ত করেছি; তোমাদের সামনে থেকে আমি তাদের বিতাড়িত করেছি ও তাদের দেশটি তোমাদের দিয়েছি।
JDG 6:10 আমি তোমাদের বলেছি, ‘আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; যাদের দেশে তোমরা বসবাস করছ, সেই ইমোরীয়দের দেবতাদের আরাধনা তোমরা কোরো না।’ কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনোনি।”
JDG 6:11 সদাপ্রভুর দূত অবীয়েষ্রীয় যোয়াশের অধিকারভুক্ত অফ্রায় এক ওক গাছের তলায় এসে বসলেন। যোয়াশের ছেলে গিদিয়োন তখন সেখানে মিদিয়নীয়দের দৃষ্টির আড়ালে সরিয়ে রাখার জন্য এক আঙুর মাড়াই-কলে দাঁড়িয়ে গম মাড়াই করছিলেন।
JDG 6:12 সদাপ্রভুর দূত গিদিয়োনের কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “হে বলবান যোদ্ধা, সদাপ্রভু তোমার সহবর্তী।”
JDG 6:13 “হে আমার প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন,” গিদিয়োন উত্তর দিলেন, “কিন্তু সদাপ্রভু যদি আমাদের সহবর্তী হন, তবে আমাদের প্রতি কেন এসব কিছু ঘটল? তাঁর সেইসব অলৌকিক কাজকর্ম কোথায় গেল, যেগুলির বিষয়ে আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের বলে শোনাতেন, ‘সদাপ্রভু কি আমাদের মিশর থেকে বের করে আনেননি?’ কিন্তু এখন সদাপ্রভু আমাদের পরিত্যাগ করেছেন এবং মিদিয়নের হাতে আমাদের সমর্পণ করে দিয়েছেন।”
JDG 6:14 সদাপ্রভু তাঁর দিকে ফিরে বললেন, “তোমার নিজস্ব শক্তিতেই তুমি যাও এবং মিদিয়নের হাত থেকে ইস্রায়েলকে রক্ষা করো। আমিই কি তোমাকে পাঠাচ্ছি না?”
JDG 6:15 “হে আমার প্রভু, আমায় ক্ষমা করুন,” গিদিয়োন উত্তর দিলেন, “আমি কীভাবে ইস্রায়েলকে রক্ষা করব? আমার বংশই মনঃশি গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল, এবং আমার পরিবারে আমিই সবচেয়ে নগণ্য।”
JDG 6:16 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “আমি তোমার সহবর্তী হব, এবং তুমি মিদিয়নীয়দের সবাইকে আঘাত করবে, একজনকেও জীবিত রাখবে না।”
JDG 6:17 গিদিয়োন উত্তর দিলেন, “এখন আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছি, তবে আমাকে এমন এক চিহ্ন দেখান যে সত্যি আপনিই আমার সঙ্গে কথা বলছেন।
JDG 6:18 আমি যতক্ষণ না ফিরে আসছি ও আমার নৈবেদ্য এনে আপনার কাছে উৎসর্গ করছি, ততক্ষণ দয়া করে এখান থেকে চলে যাবেন না।” আর সদাপ্রভু বললেন, “তুমি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করব।”
JDG 6:19 গিদিয়োন তাঁবুর ভিতরে গিয়ে একটি কচি পাঁঠার মাংস রান্না করলেন, এবং এক ঐফা ময়দা দিয়ে খামিরবিহীন রুটি তৈরি করলেন। একটি ডালিতে মাংস ও একটি পাত্রে ঝোল রেখে, তিনি সেগুলি বাইরে এনে ওক গাছের তলায় সেগুলি তাঁর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন।
JDG 6:20 ঈশ্বরের দূত তাঁকে বললেন, “মাংস ও খামিরবিহীন রুটিগুলি নিয়ে সেগুলি এই পাষাণ-পাথরের উপরে রাখো, এবং ঝোল ঢেলে দাও।” আর গিদিয়োন সেরকমই করলেন।
JDG 6:21 পরে সদাপ্রভুর দূত তাঁর হাতে ধরা লাঠিটির ডগা দিয়ে সেই মাংস ও খামিরবিহীন রুটি স্পর্শ করলেন। পাষাণ-পাথর থেকে আগুন বের হয়ে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল এবং সেই মাংস ও রুটি গ্রাস করল। আর সদাপ্রভুর দূত অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
JDG 6:22 গিদিয়োন যখন উপলব্ধি করলেন যে উনি সদাপ্রভুর দূত, তখন তিনি চিৎকার করে বললেন, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু! আমি যে মুখোমুখি সদাপ্রভুর দূতকে দেখলাম!”
JDG 6:23 কিন্তু সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “শান্তি বজায় রাখো! ভয় পেয়ো না। তুমি মরবে না।”
JDG 6:24 অতএব গিদিয়োন সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন এবং সেটির নাম দিলেন “সদাপ্রভু শান্তি।” আজও পর্যন্ত অবীয়েষ্রীয়দের অফ্রায় সেটি দাঁড়িয়ে আছে।
JDG 6:25 সেরাতেই সদাপ্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “তোমার বাবার পশুপাল থেকে সেই দ্বিতীয় বলদটি নাও, যেটির বয়স সাত বছর। বায়ালদেবের উদ্দেশে তোমার বাবার দ্বারা নির্মিত বেদিটি ভেঙে ফেলো এবং সেটির পাশে অবস্থিত আশেরা-খুঁটিটি কেটে নামাও।
JDG 6:26 তারপর পাহাড়-চূড়ায় তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে সঠিক ধরনের এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করো। কেটে ফেলা আশেরা-খুঁটির কাঠ ব্যবহার করে, দ্বিতীয় বলদটিকে এক হোমবলিরূপে উৎসর্গ করো।”
JDG 6:27 গিদিয়োন তাঁর দাসদের মধ্যে থেকে দশজনকে সঙ্গে নিলেন এবং সদাপ্রভুর বলা কথা অনুসারে সবকিছু করলেন। কিন্তু পরিবারকে এবং নগরবাসী অন্যান্য লোকদের ভয় করার কারণে তিনি সে কাজটি দিনে না করে রাতে করলেন।
JDG 6:28 সকালবেলায় নগরবাসীরা উঠে দেখল যে বায়ালদেবের বেদিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে ও সেটির পাশে অবস্থিত আশেরা-খুঁটিটিও কেটে নামানো হয়েছে এবং সেই নবনির্মিত বেদির উপর দ্বিতীয় বলদটি উৎসর্গ করা হয়েছে!
JDG 6:29 তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করল, “কে এ কাজ করেছে?” ভালো করে যখন তারা তদন্ত করল, তখন তাদের বলা হল, “যোয়াশের ছেলে গিদিয়োন এ কাজ করেছে।”
JDG 6:30 নগরবাসীরা যোয়াশের কাছে দাবি জানাল, “তোমার ছেলেকে বের করে আনো। তাকে মরতে হবে, কারণ সে বায়ালদেবের বেদি ভেঙে ফেলেছে এবং সেটির পাশে অবস্থিত আশেরা-খুঁটিটিও কেটে নামিয়েছে।”
JDG 6:31 কিন্তু যোয়াশ তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৈরিতাবিশিষ্ট জনতাকে বললেন, “তোমরা কি বায়ালদেবের পক্ষে দাঁড়িয়ে ওকালতি করতে এসেছ? তোমরা কি তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছ? যে কেউ বায়ালদেবের হয়ে লড়াই করবে, কাল সকালে তাদের মেরে ফেলা হবে! বায়াল যদি সত্যিই দেবতা হয়, তবে কেউ তার বেদি ভেঙে ফেললে সে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।”
JDG 6:32 তাই যেহেতু গিদিয়োন বায়ালদেবের বেদি ভেঙে ফেললেন, তাই সেদিন তারা এই বলে তাঁর নাম দিল “যিরুব্বায়াল,” যে “বায়ালদেবই তার সঙ্গে বিবাদ করুন।”
JDG 6:33 ইত্যবসরে মিদিয়নীয়, অমালেকীয় এবং অন্যান্য প্রাচ্যদেশীয় লোকেরা সবাই সৈন্যবাহিনী একত্রিত করল এবং জর্ডন নদী পার হয়ে যিষ্রিয়েলের উপত্যকায় শিবির স্থাপন করল।
JDG 6:34 তখন সদাপ্রভুর আত্মা গিদিয়োনের উপর নেমে এলেন, এবং শিঙা বাজিয়ে তিনি অবীয়েষ্রীয়দের তাঁর অনুগামী হওয়ার জন্য ডাক দিলেন।
JDG 6:35 মনঃশি গোষ্ঠীভুক্ত এলাকার সর্বত্র তিনি দূত পাঠালেন, অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত হওয়ার আহ্বান জানালেন, এবং আশের, সবূলূন ও নপ্তালি গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের কাছেও পাঠালেন, আর তারাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেল।
JDG 6:36 গিদিয়োন ঈশ্বরকে বললেন, “তোমার প্রতিজ্ঞানুসারে, তুমি যদি আমার হাত দিয়েই ইস্রায়েলকে রক্ষা করতে চাও—
JDG 6:37 তবে দেখো, আমি খামারে পশমের একটি টুকরো রাখব। সেই পশমের টুকরোতেই যদি শিশির পড়ে এবং সমগ্র মাঠ শুকনো থাকে, তবেই আমি বুঝব যে আমার হাত দিয়ে তুমি ইস্রায়েলকে রক্ষা করবে, যেমনটি কি না তুমি বলেছিলে।”
JDG 6:38 আর ঠিক তাই ঘটল। পরদিন ভোরবেলায় গিদিয়োন ঘুম থেকে উঠলেন; তিনি সেই পশমের টুকরোটি নিংড়ালেন এবং নিংড়ে সেই শিশিরটুকু বের করলেন—তাতে একবাটি জল হল।
JDG 6:39 তখন গিদিয়োন ঈশ্বরকে বললেন, “আমার উপর ক্রুদ্ধ হোয়ো না। আমাকে আর একটিমাত্র অনুরোধ জানাতে দাও। পশম নিয়ে আমাকে আর একটি পরীক্ষা করার অনুমতি দাও, কিন্তু এবার পশমের টুকরোটিকে শুকনো করে রাখো এবং মাঠে যেন শিশির ছড়িয়ে থাকে।”
JDG 6:40 সেরাতে ঈশ্বর সেরকমই করলেন। শুধু পশমের টুকরোটি শুকনো ছিল; সমগ্র মাঠ শিশিরে ছেয়ে ছিল।
JDG 7:1 যিরুব্বায়াল (অর্থাৎ, গিদিয়োন) ও তাঁর লোকজন ভোরবেলায় উঠে হারোদ নামক জলের উৎসের কাছে শিবির স্থাপন করলেন। মিদিয়ন-শিবির স্থাপিত হল তাদের উত্তর দিকে, মোরি পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত উপত্যকায়।
JDG 7:2 সদাপ্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “তোমার লোকজনের সংখ্যা খুব বেশি হয়ে গিয়েছে। আমি তাদের হাতে মিদিয়নকে সমর্পণ করতে পারব না, পাছে ইস্রায়েল আমার বিরুদ্ধে অহংকার করে বলে যে, ‘আমার নিজস্ব শক্তিতেই আমি রক্ষা পেলাম।’
JDG 7:3 এখন সৈন্যদলের কাছে ঘোষণা করে দাও, ‘যে কেউ ভয়ে কম্পিত হচ্ছে, সে পিছু ফিরে গিলিয়দ পর্বত থেকে প্রস্থান করুক।’ ” অতএব 22,000 লোক চলে গেল, আর 10,000 লোক অবশিষ্ট থাকল।
JDG 7:4 কিন্তু সদাপ্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “এখনও অনেক বেশি লোক আছে। তাদের নিয়ে তুমি জলের উৎসের কাছে নেমে যাও, এবং সেখানে আমি পরীক্ষা করার মাধ্যমে তোমার জন্য তাদের সংখ্যা হ্রাস করব। আমি যদি বলি, ‘এই লোকটি তোমার সঙ্গে যাবে,’ তবে সে যাবে; কিন্তু যদি বলি, ‘এই লোকটি তোমার সঙ্গে যাবে না,’ তবে সে যাবে না।”
JDG 7:5 অতএব গিদিয়োন লোকদের নিয়ে জলের উৎসের কাছে নেমে গেলেন। সেখানে সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “যারা তাদের জিভ দিয়ে কুকুরের মতো চেটে চেটে জলপান করে, তাদের কাছ থেকে যারা নতজানু হয়ে জলপান করে, তাদের পৃথক করে দাও।”
JDG 7:6 তাদের মধ্যে 300 জন কুকুরের মতো চেটে চেটে অঞ্জলি ভরে জলপান করল। বাকি সবাই জলপান করার জন্য নতজানু হল।
JDG 7:7 সদাপ্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “যে 300 জন লোক চেটে চেটে জলপান করেছে, তাদের দ্বারাই আমি তোমাদের রক্ষা করব এবং মিদিয়নীয়দের তোমাদের হাতে সমর্পণ করব। অন্য সবাই ঘরে ফিরে যাক।”
JDG 7:8 অতএব গিদিয়োন অন্য সব ইস্রায়েলীকে ঘরে পাঠিয়ে দিলেন কিন্তু 300 জনকে রেখে দিলেন, যারা অন্যান্য লোকদের রসদপত্র ও শিঙাগুলি হস্তগত করল। ইত্যবসরে মিদিয়ন তাঁর নিচের দিকে অবস্থিত উপত্যকায় শিবির স্থাপন করেছিল।
JDG 7:9 সেরাতে সদাপ্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “ওঠো, শিবিরের দিকে নেমে যাও, কারণ আমি সেটি তোমার হাতেই সমর্পণ করতে যাচ্ছি।
JDG 7:10 আক্রমণ করতে যদি তোমার ভয় হয়, তবে তোমার দাস ফুরাকে সঙ্গে নিয়ে শিবিরের দিকে নেমে যাও
JDG 7:11 এবং তারা কী বলছে তা শোনো। তারপর, শিবির আক্রমণ করার জন্য তুমি উৎসাহিত হবে।” অতএব গিদিয়োন ও তাঁর দাস ফুরা শিবিরের উপকন্ঠে নেমে গেলেন।
JDG 7:12 মিদিয়নীয়, অমালেকীয় ও প্রাচ্যদেশীয় অন্যান্য সব জাতি পঙ্গপালের ঘন ঝাঁকের মতো উপত্যকা জুড়ে শিবির স্থাপন করে বসেছিল। তাদের উটগুলিও সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো অসংখ্য ছিল।
JDG 7:13 একজন লোক তার বন্ধুকে যখন তার স্বপ্নের কথা বলে শোনাচ্ছিল, ঠিক তখনই গিদিয়োন সেখানে পৌঁছালেন। “আমি এক স্বপ্ন দেখেছি,” সে বলছিল। “মিদিয়নীয় শিবিরের মধ্যে গোলাকার যবের একটি রুটি গড়িয়ে এসে পড়ল। সেটি তাঁবুর গায়ে এত জোরে আঘাত করল যে তাঁবুটি উল্টে গিয়ে ধসে পড়ল।”
JDG 7:14 তার বন্ধু উত্তরে বলল, “এ আর কিছুই নয়, কিন্তু ইস্রায়েলী যোয়াশের ছেলে গিদিয়োনের তরোয়াল। ঈশ্বর মিদিয়নীয়দের এবং সমগ্র শিবিরকে তার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন।”
JDG 7:15 গিদিয়োন যখন সেই স্বপ্নের ও সেটির ব্যাখ্যা শুনলেন, তখন তিনি নতজানু হয়ে আরাধনা করলেন। তিনি ইস্রায়েল-শিবিরে ফিরে গিয়ে সবাইকে ডেকে বললেন, “ওঠো! সদাপ্রভু মিদিয়নীয় শিবির তোমাদের হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন।”
JDG 7:16 সেই 300 জন লোককে তিনটি দলে বিভক্ত করে তিনি তাদের সবার হাতে শিঙা ও খালি ঘট তুলে দিলেন; আর ঘটের মধ্যে মশাল দিলেন।
JDG 7:17 “আমার দিকে লক্ষ্য রাখো,” তিনি তাদের বললেন। “আমি যা যা করি, তোমরাও তাই কোরো। আমি যখন শিবিরের কিনারায় যাব, তোমরাও হুবহু আমার মতো কোরো।
JDG 7:18 আমি ও যারা আমার সঙ্গে আছে—আমরা যখন আমাদের শিঙাগুলি বাজাব, তখন তোমরাও শিবিরের চারিদিক থেকে শিঙা বাজিয়ো এবং চিৎকার করে বোলো, ‘সদাপ্রভুর জন্য এবং গিদিয়োনের জন্য।’ ”
JDG 7:19 রাতের মধ্যম প্রহরের শুরুতে, ঠিক যখন পাহারাদারদের পালা-বদল হল, তারপরেই গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গে থাকা একশো জন লোক শিবিরের কিনারায় পৌঁছে গেলেন। তাঁরা শিঙা বাজালেন এবং তাঁদের হাতে ধরা ঘটগুলি ভেঙে ফেললেন।
JDG 7:20 তিনটি দলই শিঙা বাজালো ও ঘট ভেঙে ফেলল। তারা তাদের বাঁ হাতে মশাল নিয়ে ও ডান হাতে বাজানোর উপযোগী শিঙা ধরে, চিৎকার করে উঠল, “সদাপ্রভুর ও গিদিয়োনের তরোয়াল!”
JDG 7:21 প্রত্যেকে যখন শিবির ঘিরে ধরে নিজের নিজের অবস্থান নিল, তখন মিদিয়নীয়রা ভয়ে চিৎকার করতে করতে ছুটে পালালো।
JDG 7:22 300-টি শিঙা যখন বেজে উঠল, তখন সদাপ্রভু শিবিরের সর্বত্র লোকদের পরস্পরের বিরুদ্ধে তরোয়াল নিয়ে যুদ্ধ করতে উসকানি দিলেন। সৈন্যদল টব্বতের কাছাকাছি অবস্থিত আবেল-মহোলার সীমানা পর্যন্ত গিয়ে, সরোরার দিকে বেথ-শিট্টায় পালিয়ে গেল।
JDG 7:23 নপ্তালি, আশের ও মনঃশি গোষ্ঠীভুক্ত এলাকা থেকে ইস্রায়েলীদের ডেকে আনা হল, এবং তারা মিদিয়নীয়দের পশ্চাদ্ধাবন করল।
JDG 7:24 গিদিয়োন এই বলে ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের সর্বত্র দূত পাঠালেন, “মিদিয়নীয়দের বিরুদ্ধে নেমে এসো এবং তাদের সামনের দিকে বেথ-বারা পর্যন্ত বিস্তৃত জর্ডন নদীর জলসেচিত এলাকাটি দখল করো।” তখন ইফ্রয়িমের সব লোকজনকে ডেকে আনা হল এবং তারা বেথ-বারা পর্যন্ত বিস্তৃত জর্ডন নদীর জলসেচিত এলাকাটি দখল করল।
JDG 7:25 তারা ওরেব ও সেব, এই দুই মিদিয়নীয় নেতাকে বন্দি করল। তারা ওরেবকে ওরেব নামক পর্বতে ও সেবকে সেব নামক আঙুর মাড়াই-কলের কাছে হত্যা করল। তারা মিদিয়নীয়দের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং ওরেবের ও সেবের মুণ্ডু দুটি গিদিয়োনের কাছে নিয়ে এল; তিনি তখন জর্ডন নদীতীরে দাঁড়িয়েছিলেন।
JDG 8:1 ইত্যবসরে ইফ্রয়িমীয়েরা গিদিয়োনকে জিজ্ঞাসা করল, “আপনি আমাদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করলেন কেন? মিদিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাওয়ার সময় আপনি আমাদের ডাকলেন না কেন?” আর তারা গিদিয়োনের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ করল।
JDG 8:2 কিন্তু গিদিয়োন তাদের উত্তর দিলেন, “তোমাদের তুলনায় আমি এমন কী-ই বা পেয়েছি? অবীয়েষরের দ্রাক্ষাফল-চয়নের পূর্ণ শস্যচ্ছেদনের তুলনায় ইফ্রয়িমের বাগানে পরিত্যক্ত দ্রাক্ষাফল কুড়ানোই কি ভালো নয়?
JDG 8:3 মিদিয়নীয় দুই নেতা ওরেব ও সেবকে ঈশ্বর তোমাদের হাতে সমর্পণ করেছেন। তোমাদের তুলনায় আমি এমন কী-ই বা করতে পেরেছি?” এতে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা তাদের অসন্তোষ প্রশমিত হল।
JDG 8:4 গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গে থাকা 300 জন লোক ক্লান্ত অবস্থাতেও মিদিয়নীয়দের পশ্চাদ্ধাবন করতে করতে জর্ডন নদীর কাছে এসে তা পার হয়ে গেলেন।
JDG 8:5 তিনি সুক্কোতের লোকদের বললেন, “আমার সৈন্যবাহিনীর লোকদের কিছু রুটি দাও; তারা শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, এবং এখনও আমি মিদিয়নের দুই রাজা, সেবহ ও সল্‌মুন্নার পশ্চাদ্ধাবন করে যাচ্ছি।”
JDG 8:6 কিন্তু সুক্কোতের কর্মকর্তারা বললেন, “সেবহ ও সল্‌মুন্নাকে আপনি কি বন্দি করতে পেরেছেন? আমরা কেন আপনার সৈন্যবাহিনীর লোকদের রুটি দেব?”
JDG 8:7 তখন গিদিয়োন উত্তর দিলেন, “ঠিক আছে, যখন সদাপ্রভু সেবহ ও সল্‌মুন্নাকে আমার হাতে সমর্পণ করবেন, আমি তখন মরুভূমির কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাঁটা দিয়ে তোমাদের শরীর ছিন্নভিন্ন করে দেব।”
JDG 8:8 সেখান থেকে তিনি পনূয়েলে গেলেন এবং সেখানকার লোকদের কাছেও একই অনুরোধ জানালেন, কিন্তু তারাও সুক্কোতের লোকদের মতোই উত্তর দিল।
JDG 8:9 তাই গিদিয়োন পনূয়েলের লোকদের বললেন, “আমি যখন বিজয়ী হয়ে ফিরে আসব, তখন আমি এই মিনারটি চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলব।”
JDG 8:10 ইত্যবসরে সেবহ ও সল্‌মুন্না প্রায় 15,000 সৈন্য নিয়ে কর্কোরে ছিলেন। প্রাচ্যদেশীয় লোকদের সৈন্যবাহিনীতে এতজনই অবশিষ্ট ছিল। 1,20,000 তরোয়ালধারী যোদ্ধা নিহত হল।
JDG 8:11 গিদিয়োন নোবহের ও যগ্‌বিহের পূর্বদিকে যাযাবরদের পথ ধরে উঠে গিয়ে সেই অসন্দিগ্ধ সৈন্যবাহিনীকে আক্রমণ করলেন।
JDG 8:12 মিদিয়নের দুই রাজা, সেবহ ও সল্‌মুন্না পালিয়ে গেলেন, কিন্তু গিদিয়োন তাঁদের পশ্চাদ্ধাবন করে তাঁদের ধরে ফেললেন এবং তাঁদের সমগ্র সৈন্যবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন।
JDG 8:13 পরে যোয়াশের ছেলে গিদিয়োন যুদ্ধ সাঙ্গ করে হেরসের গিরিপথ ধরে ফিরে এলেন।
JDG 8:14 সুক্কোতের এক যুবককে ধরে তিনি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, এবং সেই যুবকটি তাঁর কাছে সুক্কোতের সাতাত্তর জন কর্মকর্তার, নগরের প্রাচীনদের নাম লিখে দিল।
JDG 8:15 পরে গিদিয়োন এসে সুক্কোতের লোকদের বললেন, “এই দেখো সেই সেবহ ও সল্‌মুন্না, যাদের বিষয়ে তোমরা আমাকে বিদ্রুপ করে বলেছিলে, ‘সেবহ ও সল্‌মুন্নকে আপনি কি বন্দি করতে পেরেছেন? আমরা কেন আপনার শ্রান্ত-ক্লান্ত লোকদের রুটি দেব?’ ”
JDG 8:16 তিনি সেই নগরের প্রাচীনদের ধরলেন এবং মরুভূমির কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাঁটা দিয়ে তিনি সুক্কোতের লোকজনকে শাস্তি দেওয়ার দ্বারা তাদের উচিত শিক্ষা দিলেন।
JDG 8:17 এছাড়াও তিনি পনূয়েলের মিনারটি চূর্ণবিচূর্ণ করে দিলেন এবং সেই নগরবাসীদের হত্যা করলেন।
JDG 8:18 পরে তিনি সেবহ ও সল্‌মুন্নাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তাবোরে আপনারা যাদের হত্যা করেছিলেন, তাঁরা কী ধরনের লোক?” “আপনারই মতো লোক,” তারা উত্তর দিলেন, “প্রত্যেকের চেহারা রাজপুত্রের মতো।”
JDG 8:19 গিদিয়োন উত্তর দিলেন, “তারা আমার ভাই, আমারই সহোদর। জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আপনারা যদি তাদের জীবিত রাখতেন, তবে আমি আপনাদের হত্যা করতাম না।”
JDG 8:20 তাঁর বড়ো ছেলে যেথরকে তিনি বললেন, “এদের হত্যা করো।” কিন্তু যেথর তার খাপ থেকে তরোয়াল বের করল না, কারণ সে ছেলেমানুষ ছিল, তাই ভয় পেয়েছিল।
JDG 8:21 সেবহ ও সল্‌মুন্না বললেন, “আসুন, আপনি নিজেই তা করুন, ‘যে যেমন, তার তেমনই শক্তি।’ ” অতএব গিদিয়োন এগিয়ে গিয়ে তাঁদের হত্যা করলেন, এবং তাঁদের উটগুলির গলা থেকে অলংকারগুলি খুলে নিলেন।
JDG 8:22 ইস্রায়েলীরা গিদিয়োনকে বলল, “আপনি, আপনার ছেলে, এবং নাতি—আপনারা আমাদের উপর রাজত্ব করুন, কারণ আপনিই মিদিয়নের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন।”
JDG 8:23 কিন্তু গিদিয়োন তাদের বললেন, “আমি তোমাদের উপর রাজত্ব করব না, আমার ছেলেও করবে না। সদাপ্রভুই তোমাদের উপর রাজত্ব করবেন।”
JDG 8:24 তিনি আরও বললেন, “আমার একটি অনুরোধ আছে, তোমাদের প্রাপ্য লুন্ঠিত জিনিসপত্রের মধ্যে থেকে প্রত্যেকে আমাকে একটি করে কানের দুল এনে দাও।” (ইশ্মায়েলীদের মধ্যে সোনার দুল পরার প্রথা ছিল।)
JDG 8:25 তারা উত্তর দিল, “সেগুলি দিলে আমাদের ভালোই লাগবে।” অতএব তারা একটি কাপড় পেতে দিল, এবং প্রত্যেকে তাতে তাদের লুট করা এক-একটি দুল ছুঁড়ে দিল।
JDG 8:26 যেসব সোনার দুল তিনি চেয়েছিলেন, তার ওজন হল 1,700 শেকল। অলংকারাদি, ঝুমকো ও মিদিয়নীয় রাজাদের পরিধেয় বেগুনি রংয়ের পোশাক অথবা তাঁদের উটগুলির গলার হারগুলি এর মধ্যে গণ্য হয়নি।
JDG 8:27 সেই সোনা দিয়ে গিদিয়োন একটি এফোদ তৈরি করলেন, এবং সেটি তিনি তাঁর নিজের নগর অফ্রাতে নিয়ে গিয়ে রাখলেন। সমগ্র ইস্রায়েল সেখানে সেই এফোদের আরাধনা করার দ্বারা বেশ্যাবৃত্তি করল, এবং সেটি গিদিয়োন ও তাঁর পরিবারের কাছে ফাঁদ হয়ে দাঁড়াল।
JDG 8:28 এইভাবে মিদিয়ন ইস্রায়েলীদের কাছে বশীভূত হল এবং আর কখনও তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। গিদিয়োনের জীবনকালে দেশে চল্লিশ বছর শান্তি বজায় ছিল।
JDG 8:29 যোয়াশের ছেলে যিরুব্বায়াল ঘরে বসবাস করতে চলে গেলেন।
JDG 8:30 তাঁর নিজের সত্তরটি ছেলে ছিল, কারণ তাঁর অনেক স্ত্রী ছিল।
JDG 8:31 শিখিমে বসবাসকারী গিদিয়োনের এক উপপত্নীও তাঁর জন্য এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিল, যার নাম তিনি রেখেছিলেন অবীমেলক।
JDG 8:32 যোয়াশের ছেলে গিদিয়োন যথেষ্ট বৃদ্ধাবস্থায় মারা গেলেন এবং অবীয়েষ্রীয়দের অফ্রাতে তাঁর বাবা যোয়াশের কবরে তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 8:33 গিদিয়োন মারা যেতে না যেতেই ইস্রায়েলীরা আবার বায়ালের উদ্দেশে বেশ্যাবৃত্তি করল। তারা বায়াল-বরীৎকে তাদের দেবতারূপে প্রতিষ্ঠিত করল
JDG 8:34 এবং তাদের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুকে মনে রাখল না, যিনি তাদের চারপাশের সব শত্রুর হাত থেকে তাদের রক্ষা করেছিলেন।
JDG 8:35 যিরুব্বায়াল (অর্থাৎ, গিদিয়োন) তাদের জন্য এত মঙ্গলজনক কাজ করা সত্ত্বেও, তারা তাঁর পরিবারের প্রতি কোনও আনুগত্য দেখায়নি।
JDG 9:1 যিরুব্বায়ালের ছেলে অবীমেলক শিখিমে তার মামাদের কাছে গিয়ে তাদের এবং তার মায়ের গোষ্ঠীভুক্ত সব লোকজনকে বলল,
JDG 9:2 “তোমরা শিখিমের সব নাগরিককে জিজ্ঞাসা করো, ‘তোমাদের পক্ষে কোনটি ভালো: তোমাদের উপরে যিরুব্বায়ালের সত্তরজন ছেলের কর্তৃত্ব করা, না শুধু একজনের?’ মনে রেখো, আমি তোমাদের রক্তমাংসের আত্মীয়।”
JDG 9:3 তার মায়ের আত্মীয়েরা তার এই কথাগুলি শিখিমের লোকদের কাছে বলাতে তারা অবীমেলকের অনুগামী হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, কারণ তারা বলল, “উনি তো আমাদের আত্মীয়।”
JDG 9:4 তারা বায়াল-বরীতের মন্দির থেকে সত্তর শেকল রুপো এনে অবীমেলককে উপহার দিল, এবং অবীমেলক বেপরোয়া ও নীচমনা কিছু লোককে ভাড়া করার জন্য সেই রুপো ব্যবহার করল, ও তারা তার অনুগামী হল।
JDG 9:5 সে অফ্রায় তার বাবার ঘরে গিয়ে যিরুব্বায়ালের ছেলেদের, তার সত্তরজন ভাইকে একটি পাষাণ-পাথরের উপরে হত্যা করল। কিন্তু যিরুব্বায়ালের ছোটো ছেলে যোথম লুকিয়ে পালিয়েছিলেন।
JDG 9:6 পরে শিখিম ও বেথ-মিল্লোর সব নাগরিক শিখিমের সেই বিশাল গাছটির পাশে অবস্থিত স্তম্ভের কাছে একত্রিত হয়ে অবীমেলককে রাজপদে অভিষিক্ত করল।
JDG 9:7 যোথম একথা শুনতে পেয়ে গরিষীম পর্বতের চূড়ায় গিয়ে উঠলেন এবং চিৎকার করে তাদের বললেন, “হে শিখিমের নাগরিকেরা, তোমরা আমার কথা শোনো, যেন ঈশ্বরও তোমাদের কথা শোনেন।
JDG 9:8 একদিন গাছেরা তাদের জন্য একজন রাজাকে অভিষিক্ত করতে গেল। তারা জলপাই গাছকে বলল, ‘তুমি আমাদের রাজা হও।’
JDG 9:9 “কিন্তু জলপাই গাছ তাদের বলল, ‘আমার যে তেল দ্বারা দেবতা ও মানুষেরা সম্মানিত হয়, তা ত্যাগ করে আমি কি গাছদের উপর দুলতে থাকব?’
JDG 9:10 “তারপর, গাছেরা ডুমুর গাছকে বলল, ‘এসো, তুমি আমাদের রাজা হও।’
JDG 9:11 “কিন্তু ডুমুর গাছ উত্তর দিল, ‘আমি কি গাছেদের উপর দুলবার জন্য আমার ভালো ও মিষ্টি ফল উৎপন্ন করা ছেড়ে দেব?’
JDG 9:12 “গাছেরা তখন দ্রাক্ষালতাকে বলল, ‘তুমি এসে আমাদের উপর রাজত্ব করো।’
JDG 9:13 “কিন্তু দ্রাক্ষালতা বলল, ‘আমার যে দ্রাক্ষারস মানুষ ও দেবতাদের আমোদিত করে, তা উৎপন্ন না করে, আমি কি গাছেদের উপর দুলবো?’
JDG 9:14 “শেষে সব গাছ কাঁটাঝোপকে বলল, ‘তুমি এসো, আমাদের রাজা হও।’
JDG 9:15 “কাঁটাঝোপ গাছেদের বলল, ‘তোমরা যদি সত্যিই আমাকে তোমাদের রাজারূপে অভিষিক্ত করতে চাও, তবে এসো ও আমার ছায়ায় আশ্রয় নাও; কিন্তু যদি না নাও, তবে এই কাঁটাঝোপ থেকে আগুন বের হয়ে এসে লেবাননের দেবদারু গাছগুলিকে গ্রাস করুক।’
JDG 9:16 “অবীমেলককে রাজা করে তোমরা কি সম্মানজনক ও যথার্থ আচরণ করেছ? তোমরা কি যিরুব্বায়াল ও তাঁর পরিবারের প্রতি সদাচরণ করেছ? তোমাদের এই ব্যবহার কি তাঁর প্রাপ্য ছিল?
JDG 9:17 মনে রেখো যে আমার বাবা তোমাদের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিদিয়নীয়দের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করেছিলেন।
JDG 9:18 কিন্তু আজ তোমরা আমার বাবার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছো। একটিই পাথরের উপরে তোমরা তাঁর সত্তরজন ছেলেকে হত্যা করেছ এবং তাঁর ক্রীতদাসীর ছেলে অবীমেলককে শিখিমের নাগরিকদের উপরে রাজা করেছ, যেহেতু সে তোমাদের আত্মীয়।
JDG 9:19 অতএব তোমরা কি আজ যিরুব্বায়াল ও তাঁর পরিবারের প্রতি সম্মানজনক ও যথার্থ আচরণ করেছ? যদি তা করে থাকো, তবে অবীমেলককে নিয়ে তোমরা আনন্দ করো, এবং সেও তোমাদের নিয়ে আনন্দ করুক!
JDG 9:20 কিন্তু যদি তা না করে থাকো, তবে অবীমেলকের কাছ থেকে আগুন বের হয়ে আসুক এবং তোমাদের, ও শিখিম ও বেথ-মিল্লোর নাগরিকদের গ্রাস করুক, এবং তোমাদের ও শিখিম ও বেথ-মিল্লোর নাগরিকদের কাছ থেকেও আগুন বের হয়ে আসুক ও অবীমেলককে গ্রাস করুক!”
JDG 9:21 পরে যোথম পালিয়ে গেলেন ও বেরে পৌঁছালেন এবং সেখানেই বসবাস করতে লাগলেন যেহেতু তিনি তাঁর ভাই অবীমেলককে ভয় পেয়েছিলেন।
JDG 9:22 অবীমেলক ইস্রায়েলীদের উপর তিন বছর রাজত্ব করার পর,
JDG 9:23 ঈশ্বর অবীমেলক ও শিখিমের নাগরিকদের মধ্যে এমন শত্রুতা উৎপন্ন করলেন যে তারা অবীমেলকের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করল।
JDG 9:24 ঈশ্বর এরকমটি করলেন যেন যিরুব্বায়ালের সত্তরজন ছেলের বিরুদ্ধে সম্পন্ন অপরাধের, তাদের রক্তপাতের দায় তাদের ভাই অবীমেলক এবং শিখিমের সেই নাগরিকদের উপর বর্তায়, যারা তার ভাইদের হত্যা করার সময় তাকে সাহায্য করেছিল।
JDG 9:25 অবীমেলকের বিরুদ্ধাচরণ করে শিখিমের নাগরিকরা পর্বতের চূড়ায় চূড়ায় গোপনে লোকদের ঘাঁটি গেড়ে বসিয়ে দিল এবং সেখান দিয়ে যাওয়া প্রত্যেকের সবকিছু তারা লুট করতে লাগল। আর এই খবরটি অবীমেলককে জানানো হল।
JDG 9:26 এদিকে এবদের ছেলে গাল তার আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়ে শিখিমের দিকে এগিয়ে গেল, এবং সেখানকার নাগরিকরা তার উপর আস্থা স্থাপন করল।
JDG 9:27 ক্ষেতে গিয়ে দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করার ও সেগুলি মাড়াই করার পরে তারা তাদের দেবতার মন্দিরে উৎসব উদ্‌যাপন করল। ভোজনপান করতে করতে তারা অবীমেলককে অভিশাপ দিল।
JDG 9:28 পরে এবদের ছেলে গাল বলল, “অবীমেলক কে, আর আমরা শিখিমীয়রা কেন তার বশ্যতাস্বীকার করব? সে কি যিরুব্বায়ালের ছেলে নয় ও সবূল কি তার সহকারী নয়? শিখিমের বাবা হমোরের পরিবারের সেবা করো! আমরা কেন অবীমেলকের সেবা করব?
JDG 9:29 যদি শুধু এই লোকেরা আমার নিয়ন্ত্রণাধীন থাকত! তবে আমি তার হাত থেকে রেহাই পেতাম। আমি অবীমেলককে বলতাম, ‘তোমার সমগ্র সৈন্যবাহিনীকে ডেকে আনো!’ ”
JDG 9:30 এবদের ছেলে গাল কী বলেছিল, তা যখন নগরাধ্যক্ষ সবূল শুনতে পেল, তখন সে ভীষণ ক্রুদ্ধ হল।
JDG 9:31 গোপনে সে অবীমেলকের কাছে দূত পাঠিয়ে বলল, “এবদের ছেলে গাল ও তার আত্মীয়েরা শিখিমে এসেছে এবং তারা আপনার বিরুদ্ধে নগরের লোকদের উত্তেজিত করে তুলছে।
JDG 9:32 তাই এখন, রাতের বেলায় আপনাকে ও আপনার লোকজনদের আসতে হবে ও ক্ষেতে লুকিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।
JDG 9:33 সকালে সূর্যোদয়ের সময় নগরের বিরুদ্ধে আপনারা এগিয়ে যাবেন। যখন গাল ও তার লোকজন আপনাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে আসবে, তখন তাদের আক্রমণ করার যে সুযোগ পাবেন তার সদব্যবহার করবেন।”
JDG 9:34 অতএব অবীমেলক ও তার সব সৈন্যসামন্ত রাতের বেলায় উঠে চার দলে বিভক্ত হয়ে শিখিমের কাছে লুকিয়ে থাকল।
JDG 9:35 এদিকে অবীমেলক ও তার সৈন্যসামন্ত যখন তাদের গোপন আস্তানা থেকে বের হয়ে আসছিল ঠিক তখনই এবদের ছেলে গাল বাইরে বেরিয়ে নগরের প্রবেশদ্বারে এসে দাঁড়িয়ে গেল।
JDG 9:36 গাল যখন তাদের দেখল, তখন সে সবূলকে বলল, “দেখো, পর্বত-চূড়াগুলি থেকে লোকেরা নেমে আসছে!” সবূল উত্তর দিল, “তুমি পর্বতের ছায়াকে মানুষ বলে মনে করে ভুল করছ।”
JDG 9:37 কিন্তু গাল আবার বলে উঠল: “দেখো, পাহাড়ের মাঝখান থেকে লোকেরা নিচে নেমে আসছে, এবং গণকদের গাছের দিক থেকেও একদল লোক চলে আসছে।”
JDG 9:38 তখন সবূল তাকে বলল, “তোমার হামবড়াইমার্কা কথাবার্তা এখন কোথায় গেল, তুমিই তো বলেছিলে, ‘অবীমেলক কে যে আমাদের তার নিয়ন্ত্রণাধীন হতে হবে?’ এই লোকদেরই কি তুমি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করোনি? যাও, ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো!”
JDG 9:39 অতএব গাল শিখিমের নাগরিকদের নেতৃত্ব দিল এবং অবীমেলকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল।
JDG 9:40 অবীমেলক নগরের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত তাকে তাড়া করে গেল, এবং পালানোর সময় তাদের মধ্যে অনেকেই নিহত হল।
JDG 9:41 পরে অবীমেলক অরূমায় গিয়ে বসবাস করল, এবং সবূল গাল ও তার দলবলকে শিখিম থেকে তাড়িয়ে দিল।
JDG 9:42 পরদিন শিখিমের লোকেরা ক্ষেতে বের হয়ে গেল, ও এই খবরটি অবীমেলকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হল।
JDG 9:43 অতএব সে তার লোকজনদের নিয়ে, তাদের তিনটি দলে বিভক্ত করে ক্ষেতে গোপনে ঘাঁটি গেড়ে থাকল। সে যখন দেখল যে লোকেরা নগর থেকে বেরিয়ে আসছে, তখন সে তাদের আক্রমণ করার জন্য উঠে পড়ল।
JDG 9:44 অবীমেলক এবং তার সঙ্গে থাকা দলবল, তাড়াতাড়ি সামনে এগিয়ে গিয়ে নগরের প্রবেশদ্বারের কাছে নিজেদের অবস্থান নিল। তখন দুটি দল ক্ষেতে থাকা লোকদের আক্রমণ করে তাদের হত্যা করল।
JDG 9:45 সারাটি দিন ধরে ততক্ষণ অবীমেলক সেই নগরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে গেল যতক্ষণ না সে সেটি দখল করে সেখানকার সব লোককে বধ করল। পরে সে নগরটি ধ্বংস করে সেটির উপর লবণ ছড়িয়ে দিল।
JDG 9:46 এই খবর শুনে, শিখিমের মিনারের নাগরিকেরা এল্-বরীতের মন্দিরের দুর্গে প্রবেশ করল।
JDG 9:47 অবীমেলক যখন শুনল যে তারা সেখানে সমবেত হয়েছে,
JDG 9:48 তখন সে এবং তার সব লোকজন সল্‌মন পর্বতে উঠে গেল। সে একটি কুড়ুল নিয়ে গাছের কয়েকটি ডালপালা কেটে, সেগুলি তার কাঁধে তুলে নিল। তার সঙ্গে থাকা লোকদের সে আদেশ দিল, “তাড়াতাড়ি করো! আমাকে যা করতে দেখছ, তোমরাও তাই করো!”
JDG 9:49 অতএব সব লোকজন গাছের ডালপালাগুলি কেটে নিয়ে অবীমেলকের অনুগামী হল। দুর্গের চারপাশে তারা সেই ডালপালাগুলি স্তূপাকারে রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দিল আর লোকজন তখনও সেই দুর্গের ভিতরেই ছিল। অতএব শিখিমের দুর্গের ভিতরে থাকা সব লোকজন, প্রায় 1,000 জন নারী-পুরুষও মারা গেল।
JDG 9:50 এরপর অবীমেলক তেবেসে গেল এবং সেটি অবরুদ্ধ করে তা দখল করে নিল।
JDG 9:51 সেই নগরের মধ্যে, অবশ্য, একটি মজবুত দুর্গ ছিল। সব নারী-পুরুষ—নগরের সব লোকজন—পালিয়ে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নিল। তারা ভিতর থেকে নিজেদের তালাবন্ধ করে দুর্গের ছাদে উঠে গেল।
JDG 9:52 অবীমেলক দুর্গের কাছে গিয়ে সেটি আক্রমণ করল। কিন্তু যেই না সে দুর্গে আগুন লাগানোর জন্য দুর্গ-দুয়ারের দিকে গেল,
JDG 9:53 একজন স্ত্রীলোক তার মাথায় জাঁতা-পাথরের উপরের এক পাটি ফেলে দিল এবং তার মাথার খুলি ফাটিয়ে দিল।
JDG 9:54 তখন অবীমেলক তাড়াতাড়ি তার অস্ত্র-বহনকারীকে ডেকে বলল, “তুমি তরোয়াল টেনে বের করো ও আমাকে হত্যা করো, যেন তারা বলতে না পারে যে, ‘একজন স্ত্রীলোক তাকে হত্যা করেছে।’ ” অতএব তার দাস তাকে বিদ্ধ করল, ও সে মারা গেল।
JDG 9:55 ইস্রায়েলীরা যখন দেখল যে অবীমেলক মারা গিয়েছে, তখন তারা স্বদেশে ফিরে গেল।
JDG 9:56 এইভাবে ঈশ্বর অবীমেলকের সেই দুষ্টতার প্রতিফল তাকে দিলেন, যা সে তার সত্তরজন ভাইকে হত্যা করার মাধ্যমে তার বাবার প্রতি করেছিল।
JDG 9:57 আবার শিখিমের লোকদের সব দুষ্টতার প্রতিফলও ঈশ্বর তাদের দিলেন। যিরুব্বায়ালের ছেলে যোথমের অভিশাপ তাদের উপরে বর্তালো।
JDG 10:1 অবীমেলকের পরে ইস্রায়েলকে রক্ষা করার জন্য ইষাখর গোষ্ঠীভুক্ত তোলয় নামক একজন লোক উত্থাপিত হলেন; তিনি দোদয়ের নাতি ও পূয়ার ছেলে। তিনি ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের শামীরে বসবাস করতেন।
JDG 10:2 তেইশ বছর তিনি ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন; পরে তিনি মারা গেলেন, এবং শামীরেই তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 10:3 তাঁর পরে এলেন গিলিয়দীয় যায়ীর, যিনি বাইশ বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 10:4 তাঁর ত্রিশজন ছেলে ছিল, যারা ত্রিশটি গাধার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াত। গিলিয়দে ত্রিশটি নগর তারা নিয়ন্ত্রণ করত, যেগুলি আজও হবোৎ-যায়ীর নামে পরিচিত।
JDG 10:5 যায়ীর মারা যাওয়ার পর তাঁকে কমোনে কবর দেওয়া হল।
JDG 10:6 ইস্রায়েলীরা আবার সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ তাই করল। তারা বায়াল-দেবতাদের, অষ্টারোৎ দেবীদের, এবং অরামের দেবতাদের, সীদোনের দেবতাদের, মোয়াবের দেবতাদের, অম্মোনীয়দের দেবতাদের ও ফিলিস্তিনীদের দেবতাদের সেবা করতে লাগল। আর যেহেতু ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করল এবং আর তাঁর সেবা করল না,
JDG 10:7 তাই তাদের বিরুদ্ধে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি সেই ফিলিস্তিনী ও অম্মোনীয়দের হাতে তাদের বিক্রি করে দিলেন,
JDG 10:8 যারা সেই বছর তাদের চূর্ণবিচূর্ণ ও সর্বনাশ করে ছাড়লো। ইমোরীয়দের দেশ গিলিয়দে, জর্ডন নদীর পূর্বপারে বসবাসকারী সব ইস্রায়েলীর উপরে তারা আঠারো বছর ধরে দমনপীড়ন চালাল।
JDG 10:9 অম্মোনীয়রাও যিহূদা, বিন্যামীন ও ইফ্রয়িমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য জর্ডন নদী পার হয়ে আসত; ইস্রায়েল চরম দুর্দশাগ্রস্ত হল।
JDG 10:10 তখন ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে বলল, “আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি, আমাদের ঈশ্বরকে ত্যাগ করেছি ও বায়াল-দেবতাদের সেবা করেছি।”
JDG 10:11 সদাপ্রভু তাদের উত্তর দিলেন, “যখন মিশরীয়, ইমোরীয়, অম্মোনীয়, ফিলিস্তিনী,
JDG 10:12 সীদোনীয়, অমালেকীয় ও মায়োনীয়রা তোমাদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছিল এবং তোমরা আমার কাছে সাহায্য চেয়ে কেঁদেছিলে, তখন কি আমি তাদের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করিনি?
JDG 10:13 কিন্তু তোমরা আমাকে ত্যাগ করে অন্যান্য দেবতাদের সেবা করলে, তাই আমি আর তোমাদের রক্ষা করব না।
JDG 10:14 যাও ও সেই দেবতাদের কাছে গিয়ে কাঁদো যাদের তোমরা মনোনীত করেছিলে। সংকটের সময় তারাই তোমাদের রক্ষা করুক!”
JDG 10:15 কিন্তু ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুকে বলল, “আমরা পাপ করেছি। তোমার যা ভালো বলে মনে হয়, আমাদের প্রতি তাই করো, কিন্তু দয়া করে এখন আমাদের রক্ষা করো।”
JDG 10:16 পরে তারা তাদের মধ্যে থাকা বিজাতীয় দেবতাদের দূর করে দিল ও সদাপ্রভুর সেবা করল। ইস্রায়েলের এই দুর্দশা আর তিনি সহ্য করতে পারলেন না।
JDG 10:17 অম্মোনীয়রা যখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গিলিয়দে শিবির স্থাপন করার জন্য আহূত হল, তখন ইস্রায়েলীরাও মিস্‌পাতে সমবেত হয়ে শিবির স্থাপন করল।
JDG 10:18 গিলিয়দের অধিবাসীদের নেতারা পরস্পর বলাবলি করল, “যে কেউ অম্মোনীয়দের আক্রমণ করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে, সেই হবে সেইসব লোকজনের সর্দার, যারা গিলিয়দে বসবাস করে।”
JDG 11:1 গিলিয়দীয় যিপ্তহ ছিলেন এক শক্তিমান যোদ্ধা। তাঁর বাবার নাম গিলিয়দ; তাঁর মা ছিল এক বেশ্যা।
JDG 11:2 গিলিয়দের স্ত্রীও তাঁর জন্য কয়েকটি ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন, এবং তারা যখন বেড়ে উঠল, তখন তারা যিপ্তহকে তাড়িয়ে দিল। “আমাদের পরিবারে তুমি কোনও উত্তরাধিকার পাবে না,” তারা বলল, “কারণ তুমি অন্য এক মহিলার ছেলে।”
JDG 11:3 অতএব যিপ্তহ তাঁর ভাইদের কাছ থেকে পালিয়ে গেলেন ও সেই টোব দেশে বসতি স্থাপন করলেন, যেখানে একদল ইতর দুর্বৃত্ত লোক তাঁর চারপাশে সমবেত হয়ে তাঁর অনুগামী হল।
JDG 11:4 কিছুকাল পর, অম্মোনীয়রা যখন ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল,
JDG 11:5 তখন অম্মোনীয়দের সাথে যুদ্ধ করার জন্য গিলিয়দের প্রাচীনেরা টোব দেশ থেকে যিপ্তহকে আনতে গেলেন।
JDG 11:6 “এসো,” তাঁরা যিপ্তহকে বললেন, “তুমি আমাদের সেনাপতি হও, যেন আমরা অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি।”
JDG 11:7 যিপ্তহ তাঁদের বললেন, “আপনারা কি আমাকে ঘৃণা করে আমার বাবার বাড়ি থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেননি? এখন যখন অসুবিধায় পড়েছেন, তখন কেন আমার কাছে এসেছেন?”
JDG 11:8 গিলিয়দের প্রাচীনেরা তাঁকে বললেন, “তা সত্ত্বেও, আমরা এখন তোমার কাছে ফিরে এসেছি; অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সঙ্গে এসো, এবং আমরা যারা গিলিয়দে বসবাস করি, তুমি আমাদের সকলের সর্দার হবে।”
JDG 11:9 যিপ্তহ উত্তর দিলেন, “ধরে নিন আপনারা অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন এবং সদাপ্রভু আমার হাতে তাদের সমর্পণ করলেন—সেক্ষেত্রে আমি কি সত্যিই আপনাদের সর্দার হব?”
JDG 11:10 গিলিয়দের প্রাচীনেরা তাঁকে উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু আমাদের সাক্ষী; আমরা নিশ্চয় তোমার কথামতোই কাজ করব।”
JDG 11:11 অতএব যিপ্তহ গিলিয়দের প্রাচীনদের সঙ্গে গেলেন, এবং লোকেরা তাঁকে তাদের সর্দার ও সেনাপতি করল। আর তিনি মিস্‌পাতে সদাপ্রভুর সামনে তাঁর সব কথার পুনরাবৃত্তি করলেন।
JDG 11:12 পরে যিপ্তহ এই প্রশ্ন সমেত অম্মোনীয় রাজার কাছে দূত পাঠালেন: “আমার বিরুদ্ধে আপনার কী অভিযোগ আছে যে আপনি আমার দেশ আক্রমণ করেছেন?”
JDG 11:13 অম্মোনীয়দের রাজা যিপ্তহের দূতদের উত্তর দিলেন, “ইস্রায়েল যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল, তখন তারা অর্ণোন থেকে যব্বোক হয়ে, জর্ডন নদী পর্যন্ত আমার দেশটি দখল করে নিয়েছিল। এখন শান্তিপূর্বক আমার দেশটি ফিরিয়ে দাও।”
JDG 11:14 যিপ্তহ অম্মোনীয় রাজার কাছে আবার দূত পাঠিয়ে,
JDG 11:15 বললেন: “যিপ্তহ একথাই বলেন: ইস্রায়েল মোয়াবের দেশ বা অম্মোনীয়দের দেশ দখল করেনি।
JDG 11:16 কিন্তু তারা যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল, ইস্রায়েল তখন মরুপ্রান্তরের মধ্যে দিয়ে লোহিত সাগর হয়ে কাদেশে এসে পৌঁছেছিল।
JDG 11:17 পরে ইস্রায়েল ইদোমের রাজার কাছে দূত পাঠিয়ে বলেছিল, ‘আপনার দেশের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অনুমতি আমাদের দিন,’ কিন্তু ইদোমের রাজা তা শোনেননি। তারা মোয়াবের রাজার কাছেও দূত পাঠিয়েছিল, এবং তিনিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অতএব ইস্রায়েল কাদেশেই থেকে গিয়েছিল।
JDG 11:18 “এরপর তারা মরুপ্রান্তরের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করল, এবং ইদোম ও মোয়াব দেশকে পাশে রেখে, মোয়াব দেশের পূর্বদিক ধরে এগিয়ে গিয়ে অর্ণোন নদীর অপর পারে শিবির স্থাপন করল। তারা মোয়াবের এলাকায় প্রবেশ করেনি, কারণ অর্ণোনই ছিল মোয়াবের সীমারেখা।
JDG 11:19 “পরে ইস্রায়েল ইমোরীয়দের রাজা সেই সীহোনের কাছে দূত পাঠাল, যিনি হিষ্‌বোনে রাজত্ব করতেন এবং তাঁকে বলল, ‘আপনার দেশের মধ্যে দিয়ে আমাদের নিজেদের স্থানে যাওয়ার অনুমতি আপনি আমাদের দিন।’
JDG 11:20 সীহোন অবশ্য, তাঁর এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথায় ইস্রায়েলকে বিশ্বাস করেননি। তিনি তাঁর সব সৈন্যসামন্ত একত্রিত করে যহসে শিবির স্থাপন করলেন ও ইস্রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন।
JDG 11:21 “তখন ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু সীহোন ও তাঁর সমগ্র সৈন্যদলকে ইস্রায়েলের হাতে সমর্পণ করে দিলেন, এবং ইস্রায়েল তাদের পরাজিত করল। সেই দেশে বসবাসকারী ইমোরীয়দের সব জমিজায়গা ইস্রায়েল দখল করে নিল।
JDG 11:22 অর্ণোন নদী থেকে যব্বোক নদী পর্যন্ত এবং মরুভূমি থেকে জর্ডন নদী পর্যন্ত সেখানকার সব এলাকা তাদের দখলে এল।
JDG 11:23 “এখন যেহেতু ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের সামনে থেকে ইমোরীয়দের তাড়িয়ে দিয়েছেন, তাই তা ফেরত পাওয়ার কোনও অধিকার কি আপনার আছে?
JDG 11:24 আপনার দেবতা কমোশ আপনাকে যা দেন, তা কি আপনি গ্রহণ করবেন না? সেভাবে, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের যা দিয়েছেন, আমরা তা অধিকার করব।
JDG 11:25 আপনি কি সিপ্পোরের ছেলে মোয়াবের রাজা বালাকের থেকেও শ্রেষ্ঠ? তিনি কি কখনও ইস্রায়েলের সঙ্গে বিবাদ বা যুদ্ধ করেছিলেন?
JDG 11:26 300 বছর ধরে ইস্রায়েল হিষ্‌বোন, অরোয়ের, তাদের পার্শ্ববর্তী উপনিবেশগুলি ও অর্ণোনের পার বরাবর অবস্থিত নগরগুলি অধিকার করে রেখেছে। সেসময় আপনারা কেন সেগুলি পুনর্দখল করেননি?
JDG 11:27 আমি আপনাদের প্রতি কোনও অন্যায় করিনি, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আপনিই আমার প্রতি অন্যায় করছেন। বিচারকর্তা সদাপ্রভুই আজ ইস্রায়েলী ও অম্মোনীয়দের মধ্যে উৎপন্ন বিতর্কের নিষ্পত্তি করুন।”
JDG 11:28 অম্মোনীয়দের রাজা অবশ্য যিপ্তহের পাঠানো বার্তায় কর্ণপাত করেননি।
JDG 11:29 পরে সদাপ্রভুর আত্মা যিপ্তহের উপরে এলেন। যিপ্তহ গিলিয়দ ও মনঃশি প্রদেশ পার করে, গিলিয়দের মিস্‌পাতে এলেন, এবং সেখান থেকে তিনি অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন।
JDG 11:30 আর তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে মানত করে বললেন: “তুমি যদি আমার হাতে অম্মোনীয়দের সমর্পণ করো,
JDG 11:31 তবে অম্মোনীয়দের উপরে জয়লাভ করে ফিরে আসার সময় যা কিছু আমার বাড়ির দরজা দিয়ে বেরিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে, তা সদাপ্রভুরই হবে, এবং আমি সেটি এক হোমবলিরূপে উৎসর্গ করব।”
JDG 11:32 পরে যিপ্তহ অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলেন, এবং সদাপ্রভু তাদের তাঁর হাতে সমর্পণ করলেন।
JDG 11:33 তিনি অরোয়ের থেকে মিন্নীতের পার্শ্ববর্তী এলাকার কুড়িটি নগর এবং আবেল-করামীম পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র অঞ্চলটি বিধ্বস্ত করলেন। এইভাবে ইস্রায়েল অম্মোনকে শায়েস্তা করল।
JDG 11:34 যিপ্তহ যখন মিস্‌পায় তাঁর ঘরে ফিরে এলেন, তখন যে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বের হয়ে এল সে ছিল তাঁর মেয়ে, এবং সে খঞ্জনি বাজিয়ে নাচতে নাচতে আসছিল! সে তাঁর একমাত্র সন্তান। সে ছাড়া তাঁর আর কোনও ছেলে বা মেয়ে ছিল না।
JDG 11:35 তাকে দেখামাত্রই যিপ্তহ তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলে চিৎকার করে উঠলেন, “হায় হায়, বাছা! তুমি আমাকে শোকাকুল করে দিলে এবং আমি বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। আমি সদাপ্রভুর কাছে মানত করেছি, যা আমি ভঙ্গ করতে পারব না।”
JDG 11:36 “বাবা,” সে উত্তর দিল, “তুমি সদাপ্রভুকে কথা দিয়েছ। তুমি যেমন প্রতিজ্ঞা করেছ, আমার প্রতি তাই করো, কারণ সদাপ্রভু তোমার হয়ে তোমার শত্রুদের, অম্মোনীয়দের উপরে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
JDG 11:37 কিন্তু আমার এই একটি অনুরোধ রাখো,” সে বলল। “পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোর ও আমার বান্ধবীদের সঙ্গে কান্নাকাটি করার জন্য আমাকে দুই মাস সময় দাও, কারণ আমার কখনও বিয়ে হবে না।”
JDG 11:38 “তুমি যেতে পার,” তিনি বললেন। আর তিনি তাকে দুই মাসের জন্য যেতে দিলেন। সে ও তার বান্ধবীরা পাহাড়ে গেল এবং শোক পালন করল যেহেতু সে কখনও বিয়ে করবে না।
JDG 11:39 দুই মাস পর, সে তার বাবার কাছে ফিরে এল, এবং যিপ্তহ তাঁর করা মানত অনুসারে তার প্রতি তা করলেন। সে কুমারীই থেকে গেল। এ থেকে ইস্রায়েলীদের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত হল
JDG 11:40 যে প্রত্যেক বছর ইস্রায়েলের কুমারী মেয়েরা চারদিনের জন্য গিলিয়দীয় যিপ্তহের মেয়ের স্মরণার্থে বাইরে যাবে।
JDG 12:1 ইফ্রয়িমীয় বাহিনীকে আহ্বান করা হল, এবং তারা জর্ডন নদী পার হয়ে সাফোনে গেল। তারা যিপ্তহকে বলল, “তোমার সঙ্গে যাওয়ার জন্য আমাদের না ডেকে তুমি কেন অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলে? আমরা তোমাকে সুদ্ধ তোমার বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেব।”
JDG 12:2 যিপ্তহ উত্তর দিলেন, “আমি ও আমার লোকজন অম্মোনীয়দের সঙ্গে মহাযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলাম, আর যদিও আমি তোমাদের ডেকেছিলাম, তোমরা তাদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করোনি।
JDG 12:3 আমি যখন দেখলাম যে তোমরা সাহায্য করবে না, তখন আমি প্রাণ হাতে করে অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ওপারে গেলাম, এবং সদাপ্রভু তাদের উপরে আমাকে বিজয়ী করেছেন। তাই আজ কেন তোমরা আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসেছ?”
JDG 12:4 পরে যিপ্তহ গিলিয়দীয় লোকজনদের সমবেত করে ইফ্রয়িমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। গিলিয়দীয়রা তাদের আঘাত করল কারণ ইফ্রয়িমীয়রা বলেছিল, “ওহে গিলিয়দীয়রা, তোমরা ইফ্রয়িম ও মনঃশি গোষ্ঠীর দলত্যাগী লোক।”
JDG 12:5 গিলিয়দীয়রা ইফ্রয়িম অভিমুখী জর্ডন নদীর পারঘাটগুলি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনল, এবং যখনই ইফ্রয়িমের কোনো পলাতক লোক এসে বলত, “আমাকে ওপারে যেতে দাও,” গিলিয়দীয়রা তাকে জিজ্ঞাসা করত, “তুমি কি ইফ্রয়িমীয়?” সে যদি উত্তর দিত, “না,”
JDG 12:6 তখন তারা বলত “ঠিক আছে, বলো ‘শিব্বোলেৎ।’ ” সে যদি বলত, “সিব্বোলেৎ,” যেহেতু সেই শব্দটি সে ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারত না, তখন তারা তাকে ধরে জর্ডন নদীর পারঘাটেই হত্যা করত। সেই সময় 42,000 ইফ্রয়িমীয়কে হত্যা করা হল।
JDG 12:7 যিপ্তহ ছয় বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন। পরে গিলিয়দীয় যিপ্তহ মারা গেলেন এবং গিলিয়দের একটি নগরে তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 12:8 যিপ্তহের পরে, বেথলেহেম নিবাসী ইব্‌সন ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 12:9 তাঁর ত্রিশজন ছেলে ও ত্রিশজন মেয়ে ছিল। তাঁর মেয়েদের বিয়ে তিনি তাঁর গোষ্ঠী বহির্ভূত ছেলেদের সঙ্গে দিলেন, এবং তাঁর ছেলেদের স্ত্রী হওয়ার জন্য তিনি তাঁর গোষ্ঠী বহির্ভূত ত্রিশজন যুবতী মেয়েকে নিয়ে এলেন। ইব্‌সন সাত বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 12:10 পরে ইব্‌সন মারা গেলেন এবং বেথলেহেমেই তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 12:11 তাঁর পরে, সবূলূনীয় এলোন দশ বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 12:12 পরে এলোন মারা গেলেন এবং সবূলূন দেশের অয়ালোনে তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 12:13 তাঁর পরে, পিরিয়াথোনীয় হিল্লেলের ছেলে অব্দোন ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 12:14 তাঁর চল্লিশ জন ছেলে ও ত্রিশজন নাতি ছিল, যারা সত্তরটি গাধার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াত। তিনি আট বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 12:15 পরে হিল্লেলের ছেলে অব্দোন মারা গেলেন এবং ইফ্রয়িম দেশে, অমালেকীয়দের পার্বত্য প্রদেশের পিরিয়াথোনে তাঁকে কবর দেওয়া হল।
JDG 13:1 ইস্রায়েলীরা আবার সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজকর্ম করল, তাই সদাপ্রভু চল্লিশ বছরের জন্য ফিলিস্তিনীদের হাতে তাদের সমর্পণ করলেন।
JDG 13:2 দানীয় গোষ্ঠীভুক্ত, সরা নিবাসী মানোহ বলে একজন ব্যক্তির স্ত্রী বন্ধ্যা ছিলেন। তিনি সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি।
JDG 13:3 সদাপ্রভুর দূত সেই স্ত্রীকে দর্শন দিয়ে বললেন, “তুমি তো বন্ধ্যা ও সন্তানহীনা, কিন্তু তুমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এক ছেলের জন্ম দিতে যাচ্ছ।
JDG 13:4 এখন দেখো, তুমি যেন দ্রাক্ষারস বা অন্য কোনও গাঁজানো পানীয় পান কোরো না এবং অশুচি কোনো কিছু খেয়ো না।
JDG 13:5 তুমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এমন এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবে যার মাথায় কখনও ক্ষুর ছোঁয়ানো যাবে না কারণ ছেলেটি হবে একজন নাসরীয়, গর্ভে থাকার সময় থেকেই সে ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত হবে। ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে ইস্রায়েলকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সেই নেতৃত্ব দেবে।”
JDG 13:6 তখন সেই মহিলাটি তাঁর স্বামীর কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, “ঈশ্বরের একজন লোক আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁকে দেখতে লাগছিল ঈশ্বরের এক দূতের মতো, খুবই ভয়ংকর। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিনি তিনি কোথা থেকে এসেছেন, এবং তিনিও আমাকে তাঁর নাম বলেননি।
JDG 13:7 কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি অন্তঃসত্ত্বা হবে এবং এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবে। তাই এখন থেকে, তুমি দ্রাক্ষারস বা অন্য কোনও গাঁজানো পানীয় পান কোরো না এবং অশুচি কোনো কিছু খেয়ো না, কারণ সেই ছেলেটি গর্ভ থেকে তার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ঈশ্বরের উদ্দেশে এক নাসরীয় হয়ে থাকবে।’ ”
JDG 13:8 তখন মানোহ সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন: “হে প্রভু, আপনার এই দাসকে ক্ষমা করবেন। আমি আপনার কাছে মিনতি করছি, ঈশ্বরের যে লোকটিকে আপনি আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তিনি যেন আবার ফিরে এসে আমাদের শিক্ষা দেন কীভাবে আমরা সেই ছেলেটিকে বড়ো করে তুলব, যার জন্ম হতে চলেছে।”
JDG 13:9 ঈশ্বর মানোহের প্রার্থনা শুনলেন, এবং ঈশ্বরের দূত আবার সেই মহিলাটির কাছে এলেন, যখন তিনি ক্ষেতে ছিলেন; কিন্তু তাঁর স্বামী মানোহ তাঁর সঙ্গে ছিলেন না।
JDG 13:10 মহিলাটি দৌড়ে গিয়ে তাঁর স্বামীকে বললেন, “সেদিন যে লোকটি আমাকে দর্শন দিয়েছিলেন, তিনি এখানে এসেছেন!”
JDG 13:11 মানোহ উঠে তাঁর স্ত্রীকে অনুসরণ করলেন। সেই লোকটির কাছে পৌঁছে তিনি বললেন, “আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন?” “আমিই সেই ব্যক্তি,” তিনি বললেন।
JDG 13:12 অতএব মানোহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার কথা যখন পূর্ণ হবে, তখন সেই ছেলেটির জীবন ও কর্ম নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মটি কী হবে?”
JDG 13:13 সদাপ্রভুর দূত তাঁকে উত্তর দিলেন, “তোমার স্ত্রীকে আমি যা যা করতে বলেছি, সে যেন অবশ্যই তা করে।
JDG 13:14 সে যেন এমন কিছু না খায় যা দ্রাক্ষালতা থেকে উৎপন্ন, অথবা যেন দ্রাক্ষারস বা গাঁজানো অন্য কোনও পানীয় পান না করে বা অশুচি কোনো কিছু না খায়। আমি তাকে যেসব আদেশ দিয়েছি, সে যেন অবশ্যই তা পালন করে।”
JDG 13:15 মানোহ সদাপ্রভুর দূতকে বললেন, “আমরা চাই আপনি ততক্ষণ অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আমরা আপনার জন্য একটি কচি পাঁঠার মাংস রান্না করে আনছি।”
JDG 13:16 সদাপ্রভুর দূত উত্তর দিলেন, “তুমি আমাকে অপেক্ষা করালেও, আমি তোমার আনা কোনও খাবার খাব না। কিন্তু তুমি যদি হোমবলি উৎসর্গ করো, তবে তা সদাপ্রভুর উদ্দেশেই করো।” (মানোহ বুঝতে পারেননি যে তিনি সদাপ্রভুর দূত।)
JDG 13:17 পরে মানোহ সদাপ্রভুর দূতের কাছে জানতে চাইলেন, “আপনার নাম কী, যেন আপনার কথা যখন পূর্ণ হবে, তখন আমরা আপনাকে সম্মান জানাতে পারি?”
JDG 13:18 তিনি উত্তর দিলেন, “আমার নাম জিজ্ঞাসা করছ কেন? তা তোমার বোধের অগম্য।”
JDG 13:19 তখন মানোহ একটি কচি পাঁঠা নিলেন ও সঙ্গে নিলেন শস্য-নৈবেদ্য, এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে তা একটি পাষাণ-পাথরের উপরে উৎসর্গ করলেন। আর মানোহ ও তাঁর স্ত্রীর চোখের সামনেই সদাপ্রভু এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটালেন:
JDG 13:20 বেদি থেকে যখন আগুনের শিখা আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছিল, তখন সদাপ্রভুর দূত ওই শিখা ধরে উঠে গেলেন। তা দেখে, মানোহ ও তাঁর স্ত্রী মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন।
JDG 13:21 সদাপ্রভুর দূত যখন আর মানোহ ও তাঁর স্ত্রীকে দর্শন দিলেন না, তখন মানোহ বুঝতে পারলেন যে তিনি ছিলেন সদাপ্রভুর দূত।
JDG 13:22 “আমাদের মৃত্যু অনিবার্য!” তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন। “আমরা ঈশ্বরকে দেখেছি!”
JDG 13:23 কিন্তু তাঁর স্ত্রী উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু যদি আমাদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি আমাদের হাত থেকে হোমবলি ও শস্য-নৈবেদ্য গ্রহণ করতেন না, বা এসব কিছু আমাদের দেখাতেন না বা এখন এসব কথাও আমাদের বলতেন না।”
JDG 13:24 পরে সেই মহিলাটি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন এবং তার নাম রাখলেন শিম্‌শোন। ছেলেটি বেড়ে উঠল এবং সদাপ্রভু তাকে আশীর্বাদ করলেন,
JDG 13:25 এবং সে যখন সরা ও ইষ্টায়োলের মাঝখানে অবস্থিত মহনেদানে ছিল, তখন থেকেই সদাপ্রভুর আত্মা তাকে চালাতে শুরু করলেন।
JDG 14:1 শিম্‌শোন তিম্নায় নেমে গেলেন ও সেখানে এক যুবতী ফিলিস্তিনী মহিলাকে দেখতে পেলেন।
JDG 14:2 ফিরে এসে, তিনি তাঁর বাবা-মাকে বললেন, “তিম্নায় আমি এক ফিলিস্তিনী মহিলাকে দেখেছি; এখন তোমরা তাকে আমার স্ত্রী করে এনে দাও।”
JDG 14:3 তাঁর বাবা-মা উত্তর দিলেন, “তোমার আত্মীয়দের মধ্যে বা আমাদের সব আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কি উপযুক্ত কোনও মেয়ে নেই? স্ত্রী পাওয়ার জন্য তোমাকে কি সেই সুন্নত না করানো ফিলিস্তিনীদের কাছেই যেতে হবে?” কিন্তু শিম্‌শোন তাঁর বাবাকে বললেন, “আমার জন্য তাকেই এনে দাও। সেই আমার জন্য উপযুক্ত।”
JDG 14:4 (তাঁর বাবা-মা জানতেন না যে এই ঘটনা সেই সদাপ্রভুর ইচ্ছাতেই ঘটছে, যিনি ফিলিস্তিনীদের শায়েস্তা করার এক সুযোগ খুঁজছিলেন; কারণ সেই সময় তারা ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করছিল।)
JDG 14:5 শিম্‌শোন তাঁর বাবা-মার সঙ্গে তিম্নায় নেমে গেলেন। তারা তিম্নার দ্রাক্ষাক্ষেতের কাছাকাছি পৌঁছানোমাত্রই, আচমকা এক যুবা সিংহ গর্জন করতে করতে শিম্‌শোনের দিকে তেড়ে এল।
JDG 14:6 সদাপ্রভুর আত্মা এমন সপরাক্রমে শিম্‌শোনের উপর নেমে এসেছিলেন যে শিম্‌শোন খালি হাতে ছাগশাবক ছিঁড়ে ফেলার মতো করে ওই সিংহটিকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললেন। কিন্তু তিনি কী করলেন, তা তিনি তাঁর বাবা বা মা কাউকেই জানালেন না।
JDG 14:7 পরে তিনি সেই মহিলাটির কাছে গিয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন, এবং মেয়েটিকে তাঁর খুব পছন্দ হল।
JDG 14:8 কিছুকাল পর, শিম্‌শোন যখন তাকে বিয়ে করার জন্য সেখানে ফিরে গেলেন, তখন তিনি সেই সিংহের শবটি দেখার জন্য পথের অন্য পাশে গেলেন, ও গিয়ে দেখলেন যে সেই শবটিতে এক ঝাঁক মৌমাছি ও কিছু মধু লেগে আছে।
JDG 14:9 তিনি হাত দিয়ে কিছুটা মধু বের করলেন ও পথে যেতে যেতে তা খেতে থাকলেন। তিনি যখন তাঁর বাবা-মার সঙ্গে আবার মিলিত হলেন, তখন তিনি তাঁদেরও খানিকটা মধু দিলেন ও তাঁরাও তা খেলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের বলেননি যে সেই মধু তিনি সিংহের মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করেছেন।
JDG 14:10 এমতাবস্থায় তাঁর বাবা সেই মহিলাটিকে দেখতে গেলেন। আর যুবা পুরুষেরা প্রথাগতভাবে যেমন করত, সেই প্রথানুসারে শিম্‌শোনও সেখানে এক ভোজসভার আয়োজন করলেন।
JDG 14:11 লোকেরা যখন তাঁকে দেখল, তখন তারা তাঁর সহচর হওয়ার জন্য ত্রিশজন লোককে মনোনীত করল।
JDG 14:12 “আমি তোমাদের কাছে একটি ধাঁধা বলছি,” শিম্‌শোন তাদের বললেন। “তোমরা যদি উৎসব চলাকালীন এই সাত দিনের মধ্যে এর অর্থ আমায় ব্যাখ্যা করে দিতে পারো, তবে আমি তোমাদের ত্রিশটি মসিনার পোশাক এবং ত্রিশ জোড়া কাপড়চোপড় দেব।
JDG 14:13 কিন্তু তোমরা যদি এর অর্থ আমাকে বলতে না পারো, তবে তোমরাই আমাকে ত্রিশটি মসিনার পোশাক এবং ত্রিশ জোড়া কাপড়চোপড় দেবে।” “তোমার ধাঁধাটি আমাদের বলো,” তারা বলল। “তা শোনা যাক।”
JDG 14:14 শিম্‌শোন উত্তর দিলেন, “ভক্ষকের মধ্যে থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য বেরিয়ে এল; শক্তিধরের মধ্যে থেকে কিছু মিষ্টদ্রব্য বেরিয়ে এল।” তিনদিনে তারা এই ধাঁধার অর্থোদ্ধার করতে পারেনি।
JDG 14:15 চতুর্থ দিনে, তারা শিম্‌শোনের স্ত্রীকে বলল, “তোমার স্বামীকে তোষামোদ করে ভুলিয়েভালিয়ে আমাদের জন্য ধাঁধার অর্থটি জেনে নাও, তা না হলে আমরা তোমাকে এবং তোমার বাবার পরিবার-পরিজনদের আগুনে পুড়িয়ে মারব। আমাদের সম্পত্তি হরণ করার জন্যই কি তোমরা এখানে আমাদের নিমন্ত্রণ করেছ?”
JDG 14:16 তখন শিম্‌শোনের স্ত্রী তাঁর কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ককাতে ককাতে বলল, “তুমি আমাকে ঘৃণাই করো! তুমি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো না। তুমি আমার লোকজনদের কাছে একটি ধাঁধা বলেছ, কিন্তু আমাকে তার অর্থ ব্যাখ্যা করে দাওনি।” “আমার মা-বাবাকেই আমি এর অর্থ বলিনি,” তিনি উত্তর দিলেন, “অতএব তোমাকে কেন আমি এর অর্থ বলতে যাব?”
JDG 14:17 উৎসব চলাকালীন সেই সাত দিন যাবৎ সে কান্নাকাটি করল। অতএব সপ্তম দিনে শেষ পর্যন্ত শিম্‌শোন তাকে ধাঁধাটির অর্থ বলে দিলেন, কারণ সেই স্ত্রী অনবরত তাঁকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। সেও তখন তার লোকজনদের সেই ধাঁধাটির অর্থ বলে দিল।
JDG 14:18 সপ্তম দিনে সূর্যাস্তের আগেই সেই নগরের লোকেরা এসে শিম্‌শোনকে বলল, “মধুর থেকে বেশি মিষ্টি আর কী হতে পারে? সিংহের থেকে বেশি শক্তিশালী আর কে হতে পারে?” শিম্‌শোন তাদের বললেন, “আমার বকনা-বাছুর দিয়ে যদি চাষ না করতে, আমার ধাঁধার নিষ্পত্তি করতে তোমাদের নাভিশ্বাস উঠে যেত।”
JDG 14:19 পরে সদাপ্রভুর আত্মা সপরাক্রমে তাঁর উপরে এলেন। শিম্‌শোন অস্কিলোনে নেমে গেলেন, সেখানকার ত্রিশজন লোককে আঘাত করে, তাদের সব পোশাক-আশাক খুলে নিলেন ও তাদের পোশাকগুলি তাদের দিয়ে দিলেন, যারা তাঁর ধাঁধার অর্থ ব্যাখ্যা করে দিয়েছিল। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে, শিম্‌শোন তাঁর বাবার ঘরে ফিরে গেলেন।
JDG 14:20 আর শিম্‌শোনের স্ত্রীকে তাঁর সহচরদের মধ্যে এমন একজনের হাতে তুলে দেওয়া হল, যে সেই উৎসব চলাকালীন তাঁর পরিচর্যা করেছিল।
JDG 15:1 কিছুকাল পর, গম কাটার মরশুমে, শিম্‌শোন একটি ছাগশাবক নিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তিনি বললেন, “আমি আমার স্ত্রীর ঘরে যাচ্ছি।” কিন্তু তাঁর স্ত্রীর বাবা শিম্‌শোনকে ভিতরে ঢুকতে দিলেন না।
JDG 15:2 “আমি এত নিশ্চিত ছিলাম যে তুমি তাকে ঘৃণা করো,” তিনি বললেন, “আমি তাকে তোমার সহচরের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। তার ছোটো বোন কি তার চেয়েও বেশি সুন্দরী নয়? তার পরিবর্তে বরং তুমি তার বোনকেই বিয়ে করো।”
JDG 15:3 শিম্‌শোন তাদের বললেন, “এবার আমি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি; আমি সত্যিই তাদের ক্ষতি করব।”
JDG 15:4 অতএব তিনি বাইরে গিয়ে 300-টি শিয়াল ধরলেন এবং জোড়ায় জোড়ায় সেগুলির লেজ বেঁধে দিলেন। এরপর তিনি প্রত্যেক জোড়া লেজে একটি করে মশাল বেঁধে দিলেন,
JDG 15:5 মশালগুলি জ্বালিয়ে দিলেন এবং শিয়ালগুলিকে ফিলিস্তিনীদের ফসলের ক্ষেতে ছেড়ে দিলেন। তিনি দ্রাক্ষাক্ষেত ও জলপাই বাগান সুদ্ধ আঁটি বাঁধা ফসল এবং না কাটা ফসল, সব পুড়িয়ে দিলেন।
JDG 15:6 ফিলিস্তিনীরা যখন জিজ্ঞাসা করল, “কে এই কাজ করেছে?” তখন তাদের বলা হল, “সেই তিম্নীয় লোকটির জামাই শিম্‌শোন এ কাজ করেছে, কারণ তার স্ত্রীকে তার সহচরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” তখন ফিলিস্তিনীরা গিয়ে সেই মহিলা ও তার বাবাকে আগুনে পুড়িয়ে মারল।
JDG 15:7 শিম্‌শোন তাদের বললেন, “যেহেতু তোমরা এরকম কাজ করেছ, তাই আমি শপথ নিচ্ছি যে তোমাদের উপর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না।”
JDG 15:8 তিনি তাদের উপর ভয়ংকর আক্রমণ শানালেন এবং বহু মানুষজনকে হত্যা করলেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে ঐটম পাষাণ-পাথরের একটি গুহায় বসবাস করতে লাগলেন।
JDG 15:9 ফিলিস্তিনীরা গিয়ে যিহূদা দেশে শিবির স্থাপন করল এবং লিহীর কাছে ছড়িয়ে পড়ল।
JDG 15:10 যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা তাদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কেন আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসেছ?” “আমরা শিম্‌শোনকে বন্দি করে নিয়ে যেতে এসেছি,” তারা উত্তর দিল, “সে আমাদের প্রতি যা করেছে, আমরাও তার প্রতি তেমনই করব।”
JDG 15:11 পরে যিহূদা দেশ থেকে 3,000 লোক এসে ঐটমের পাষাণ-পাথরের গুহায় নেমে গিয়ে শিম্‌শোনকে বলল, “তুমি কি বুঝতে পারছ না যে ফিলিস্তিনীরা আমাদের উপরে রাজত্ব করছে? আমাদের প্রতি তুমি এ কী করলে?” শিম্‌শোন উত্তর দিলেন, “তারা আমার প্রতি যা করেছে, আমিও তাদের প্রতি শুধু সেরকমই করেছি।”
JDG 15:12 তারা তাঁকে বলল, “আমরা তোমাকে বেঁধে ফিলিস্তিনীদের হাতে সমর্পণ করে দিতে এসেছি।” শিম্‌শোন বললেন, “আমার কাছে শপথ করো যে তোমরা নিজেরাই আমাকে হত্যা করবে না?”
JDG 15:13 “ঠিক আছে,” তারা উত্তর দিল, “আমরা শুধু তোমাকে বেঁধে নিয়ে গিয়ে তাদের হাতে সমর্পণ করে দেব। আমরা তোমাকে হত্যা করব না।” অতএব তারা দুই গাছা নতুন দড়ি দিয়ে শিম্‌শোনকে বাঁধল এবং সেই পাষাণ-পাথর থেকে তাঁকে নিয়ে গেল।
JDG 15:14 তিনি লিহীর কাছাকাছি আসতে না আসতেই, ফিলিস্তিনীরা চিৎকার করতে করতে তাঁর দিকে ছুটে এল। সদাপ্রভুর আত্মা সপরাক্রমে তাঁর উপরে নেমে এলেন। তাঁর হাতের দড়ি পোড়া শণের মতো হয়ে গেল, এবং হাত দুটি থেকে বাঁধনগুলি খসে পড়ল।
JDG 15:15 গাধার চোয়ালের একটি টাটকা হাড় পেয়ে, তিনি সেটি হাতে তুলে নিলেন এবং সেটি দিয়ে 1,000 লোককে আঘাত করে হত্যা করলেন।
JDG 15:16 পরে শিম্‌শোন বললেন, “গাধার চোয়ালের হাড় দিয়ে আমি তাদের গাধা বানালাম। গাধার চোয়ালের হাড় দিয়ে আমি 1,000 লোক মারলাম।”
JDG 15:17 কথা বলা শেষ করে, তিনি গাধার চোয়ালের হাড়টি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন; এবং সেই স্থানটির নাম রাখা হল রামৎ-লিহী।
JDG 15:18 যেহেতু তিনি খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাই তিনি সদাপ্রভুকে ডেকে বললেন, “তুমি তোমার দাসকে এই মহাবিজয় দান করেছ। এখন কি আমাকে পিপাসায় মরতে হবে এবং ওই সুন্নতবিহীন লোকদের হাতে গিয়ে পড়তে হবে?”
JDG 15:19 তখন ঈশ্বর লিহীতে একটি গর্ত খুঁড়ে দিলেন, এবং সেখান থেকে জল বের হয়ে এল। শিম্‌শোন যখন সেই জলপান করলেন, তখন তাঁর শক্তি ফিরে এল এবং তিনি চাঙ্গা হয়ে গেলেন। তাই সেই জলের উৎসের নাম রাখা হল ঐন-হক্কোরী, এবং আজও পর্যন্ত লিহীতে সেটি অবস্থিত আছে।
JDG 15:20 ফিলিস্তিনীদের সময়কালে শিম্‌শোন কুড়ি বছর ইস্রায়েলীদের নেতৃত্ব দিলেন।
JDG 16:1 একদিন শিম্‌শোন গাজাতে গিয়ে সেখানে এক বেশ্যাকে দেখতে পেয়ে তার সঙ্গে রাত কাটালেন।
JDG 16:2 গাজার লোকজনকে বলা হল, “শিম্‌শোন এখানে এসেছে!” অতএব তারা সেই স্থানটি চারদিক থেকে ঘিরে ধরল এবং নগরের প্রবেশদ্বারে সারারাত ধরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকল। তারা এই কথা বলে সারারাত নিশ্চল হয়ে থাকল যে, “ভোর হওয়ামাত্রই আমরা তাকে হত্যা করব।”
JDG 16:3 কিন্তু শিম্‌শোন সেখানে শুধু মাঝরাত পর্যন্ত শুয়ে থাকলেন। পরে তিনি উঠে পড়লেন ও নগরের প্রবেশদ্বারের পাল্লা এবং দুটি থাম ও খিল—সবকিছু ধরে উপড়ে ফেললেন। তিনি সেগুলি কাঁধে চাপিয়ে সেই পাহাড়ের চূড়ায় বয়ে নিয়ে গেলেন, যেটি হিব্রোণের মুখোমুখি অবস্থিত ছিল।
JDG 16:4 কিছুকাল পর, শিম্‌শোন সোরেক উপত্যকার এক মহিলার প্রেমে পড়লেন, যার নাম দলীলা।
JDG 16:5 ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা সেই মহিলাটির কাছে গিয়ে বললেন, “দেখো, যদি তুমি ছলে-বলে-কৌশলে তার কাছ থেকে তার মহাশক্তির রহস্যটি এবং কীভাবে আমরা তাকে বশে আনতে পারব, তা জেনে নিতে পারো, যেন আমরা তাকে বেঁধে ফেলতে ও জব্দ করতে পারি, তবে আমাদের মধ্যে প্রত্যেকে তোমাকে 1,100 শেকল করে রুপো দেব।”
JDG 16:6 অতএব দলীলা শিম্‌শোনকে বলল, “তোমার মহাশক্তির রহস্যটি এবং কীভাবে তোমাকে বেঁধে বশে আনা যায়, তা আমাকে বলে দাও।”
JDG 16:7 শিম্‌শোন তাকে উত্তর দিলেন, “কেউ যদি ধনুকের এমন তাজা সাত-গাছি ছিলা দিয়ে আমাকে বাঁধে, যেগুলি শুকনো হয়নি, তবে আমি অন্য যে কোনো লোকের মতো দুর্বল হয়ে পড়ব।”
JDG 16:8 তখন ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা দলীলাকে ধনুকের এমন তাজা সাত-গাছি ছিলা এনে দিলেন, যেগুলি শুকনো হয়নি, এবং সে সেগুলি দিয়ে শিম্‌শোনকে বেঁধে ফেলল।
JDG 16:9 সেই ঘরে তখন কয়েকজন লোক লুকিয়ে ছিল। দলীলা তাঁকে ডাক দিয়ে বলল, “শিম্‌শোন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে!” কিন্তু যেভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে এক টুকরো দড়ি ছিঁড়ে যায়, ঠিক সেভাবে তিনি খুব সহজেই ধনুকের ছিলাগুলি দুম করে ছিঁড়ে ফেললেন। অতএব তাঁর শক্তির রহস্যটি জানা গেল না।
JDG 16:10 পরে দলীলা শিম্‌শোনকে বলল, “তুমি আমাকে বোকা বানিয়েছ; তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলেছ। এখন এসো, আমাকে বলে দাও কীভাবে তোমাকে বাঁধা যাবে?”
JDG 16:11 শিম্‌শোন বললেন, “যদি কেউ এমন নতুন দড়ি দিয়ে আমাকে শক্ত করে বাঁধে, যা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি, তবে আমি অন্য যে কোনো লোকের মতো দুর্বল হয়ে পড়ব।”
JDG 16:12 অতএব দলীলা কয়েকগাছি নতুন দড়ি নিয়ে সেগুলি দিয়ে শিম্‌শোনকে বেঁধে ফেলল। পরে, ঘরে লুকিয়ে থাকা লোকজনের সঙ্গে মিলে সে তাকে ডাক দিয়ে বলল, “শিম্‌শোন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে!” কিন্তু শিম্‌শোন তাঁর হাত দুটি থেকে দড়িগুলি এমনভাবে দুম করে ছিঁড়ে ফেললেন যেন সেগুলি বুঝি নেহাতই সুতোমাত্র।
JDG 16:13 দলীলা তখন শিম্‌শোনকে বলল, “সবসময় তুমি আমাকে বোকা বানিয়েই আসছ এবং আমাকে মিথ্যা কথাই বলেছ। এখন বলো দেখি, কীভাবে তোমাকে বাঁধা যাবে?” শিম্‌শোন উত্তর দিলেন, “তুমি যদি আমার মাথার সাত-গাছি চুল তাঁতের বুননের সাথে বুনে সেগুলি গোঁজের সঙ্গে শক্ত করে আটকে দাও, তবে আমি অন্য যে কোনো লোকের মতো দুর্বল হয়ে পড়ব।” অতএব শিম্‌শোন যখন ঘুমিয়েছিলেন, দলীলা তখন তাঁর মাথার সাত-গাছি চুল নিয়ে সেগুলি তাঁতের বুননের সাথে বুনলো
JDG 16:14 এবং গোঁজের সঙ্গে শক্ত করে আটকে দিল। আবার সে শিম্‌শোনকে ডেকে বলল, “শিম্‌শোন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে!” শিম্‌শোন ঘুম থেকে জেগে উঠেই টান মেরে গোঁজসমেত তাঁতযন্ত্র ও বুনন—সবকিছু উপড়ে ফেললেন।
JDG 16:15 তখন দলীলা তাঁকে বলল, “তুমি কীভাবে বলতে পারো, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি,’ যখন তুমি আমাকে বিশ্বাস করে কিছু বলতেই চাইছ না? এই নিয়ে তিনবার তুমি আমাকে বোকা বানালে এবং তোমার মহাশক্তির রহস্য আমাকে বললে না।”
JDG 16:16 এভাবে দিনের পর দিন বিরক্তিকরভাবে সে শিম্‌শোনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলছিল।
JDG 16:17 অতএব তিনি দলীলাকে সবকিছু বলে দিলেন। “আমার মাথায় কখনও ক্ষুর ব্যবহৃত হয়নি,” তিনি বললেন, “কারণ মায়ের গর্ভ থেকেই আমি এক নাসরীয়রূপে ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত হয়ে আছি। আমার মাথা যদি কামানো হয়, তবে আমার শক্তি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, এবং আমি অন্য যে কোনো লোকের মতো দুর্বল হয়ে পড়ব।”
JDG 16:18 দলীলা যখন দেখল যে শিম্‌শোন তাকে সবকিছু বলে দিয়েছে, তখন সে ফিলিস্তিনী শাসনকর্তাদের কাছে খবর পাঠাল, “আপনারা আর একবার চলে আসুন; সে আমাকে সবকিছু বলে দিয়েছে।” অতএব ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা রুপো হাতে নিয়ে ফিরে এলেন।
JDG 16:19 শিম্‌শোনকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে, সে একজন লোককে ডেকে তাকে দিয়ে শিম্‌শোনের মাথার সাত-গাছি চুল কামিয়ে দিল, এবং এভাবেই তাকে জব্দ করতে শুরু করলো। আর শিম্‌শোনের শক্তি তাঁকে ছেড়ে গেল।
JDG 16:20 তখন দলীলা তাঁকে ডেকে বলল, “শিম্‌শোন, ফিলিস্তিনীরা তোমাকে ধরতে এসেছে!” শিম্‌শোন ঘুম থেকে জেগে উঠে ভাবলেন, “আমি আগের মতোই বাইরে গিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে মুক্ত হয়ে যাব।” কিন্তু তিনি বোঝেননি যে সদাপ্রভু তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন।
JDG 16:21 পরে ফিলিস্তিনীরা তাঁকে ধরে তাঁর চোখদুটি উপড়ে ফেলল ও এবং তাঁকে গাজায় নিয়ে গেল। ব্রোঞ্জের বেড়ি দিয়ে তাঁকে বেঁধে, তারা জেলখানায় তাঁকে জাঁতা পেষাই-এর কাজে লাগিয়ে দিল।
JDG 16:22 কিন্তু মাথা কামানোর পরেও তাঁর মাথার চুল আবার বাড়তে শুরু করল।
JDG 16:23 ইত্যবসরে ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা তাদের দেবতা দাগোনের উদ্দেশে এক মহাবলি উৎসর্গ করার ও উৎসব পালন করার জন্য সমবেত হয়ে বললেন, “আমাদের দেবতা আমাদের শত্রু শিম্‌শোনকে আমাদের হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন।”
JDG 16:24 শিম্‌শোনকে দেখে লোকেরা তাদের আরাধ্য দেবতার প্রশংসা করে বলল, “আমাদের দেবতা আমাদের শত্রুকে সঁপে দিয়েছেন আমাদের হাতে, এ সেই, যে আমাদের দেশটি করেছে ধ্বংস আর অসংখ্য লোককে করেছে হত্যা।”
JDG 16:25 খোশমেজাজে তারা চিৎকার করে বলল, “আমাদের চিত্ত-বিনোদনের জন্য শিম্‌শোনকে নিয়ে এসো।” অতএব তারা জেলখানা থেকে তাঁকে ডেকে আনালো, এবং তিনি তাদের সামনে কসরত দেখাতে লাগলেন। যখন তারা তাঁকে স্তম্ভগুলির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দিল,
JDG 16:26 তখন যে দাসটি তাঁর হাত ধরে রেখেছিল, তাকে শিম্‌শোন বললেন, “আমাকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দাও, যেখানে আমি এই মন্দিরের ভারবহনকারী স্তম্ভগুলি যেন অনুভব করতে পারি ও যেন সেগুলির গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াতে পারি।”
JDG 16:27 মন্দিরটি পুরুষ ও মহিলার ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়েছিল; ফিলিস্তিনীদের সব শাসনকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এবং ছাদের উপর থেকে প্রায় 3,000 নরনারী শিম্‌শোনের কসরত দেখছিল।
JDG 16:28 তখন শিম্‌শোন সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমাকে স্মরণ করো। দয়া করে ঈশ্বর আর একবার শুধু আমাকে শক্তি জোগাও, এবং একটিমাত্র ঘুষিতেই আমার দুই চোখ উপড়ে নেওয়ার প্রতিশোধ ফিলিস্তিনীদের উপর আমায় নিতে দাও।”
JDG 16:29 পরে শিম্‌শোন মাঝখানের সেই দুটি স্তম্ভের কাছে পৌঁছে গেলেন, যেগুলির উপর ভর দিয়ে মন্দিরটি দাঁড়িয়েছিল। ডান হাত একটির ও বাঁ হাত অন্যটির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সেগুলি জড়িয়ে ধরে,
JDG 16:30 শিম্‌শোন বললেন, “ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে আমারও মৃত্যু হোক!” পরে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে সেগুলিকে ধাক্কা দিলেন, এবং মন্দিরটির ভিতরে থাকা শাসনকর্তাদের ও সব লোকজনের উপরে সেটি ভেঙে পড়ল। এভাবে শিম্‌শোন বেঁচে থাকার সময় যত না লোককে হত্যা করেছিলেন, মরার সময় তার চেয়েও বেশি লোককে হত্যা করলেন।
JDG 16:31 পরে তাঁর ভাইরা এবং তাঁর বাবার সমগ্র পরিবার তাঁকে আনতে গেলেন। তারা তাঁকে ফিরিয়ে এনে সরা ও ইষ্টায়োলের মাঝখানে অবস্থিত তাঁর বাবা মানোহের সমাধিতে তাঁকে কবর দিলেন। শিম্‌শোন কুড়ি বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
JDG 17:1 ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে বসবাসকারী মীখা নামক একজন লোক
JDG 17:2 তার মাকে বলল, “তোমার যে 1,100 শেকল রুপো চুরি হয়েছিল এবং যার জন্য আমি তোমাকে অভিশাপ দিতে শুনেছিলাম—সেই রুপো আমার কাছেই আছে; আমিই তা নিয়েছিলাম।” তখন তার মা বললেন, “বাছা, সদাপ্রভু তোমায় আশীর্বাদ করুন!”
JDG 17:3 সে যখন তার মাকে সেই 1,100 শেকল রুপো ফিরিয়ে দিল, তখন তার মা বললেন, “আমার এই রুপো আমি শপথ নিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করছি, যেন আমার ছেলে রুপো দিয়ে মোড়া একটি মূর্তি তৈরি করে। এই রুপো আমি তোমাকেই ফিরিয়ে দেব।”
JDG 17:4 অতএব মীখা সেই রুপো তার মাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর, তিনি তা থেকে 200 শেকল রুপো নিয়ে সেগুলি এমন একজন রৌপ্যকারকে দিলেন, যে প্রতিমা নির্মাণ করার জন্য সেগুলি ব্যবহার করল। আর সেটি মীখার বাড়িতেই রাখা হল।
JDG 17:5 সেই মীখার একটি মন্দির ছিল, এবং সে একটি এফোদ ও কয়েকটি গৃহদেবতা তৈরি করল ও তার এক ছেলেকে নিজের যাজকরূপে অভিষিক্ত করল।
JDG 17:6 সেই সময় ইস্রায়েলে কোনও রাজা ছিলেন না; প্রত্যেকে, তাদের যা ভালো বলে মনে হত, তাই করত।
JDG 17:7 যিহূদার বেথলেহেমে এক তরুণ লেবীয় ছিল, যে যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত লোকজনের সঙ্গে বসবাস করত।
JDG 17:8 সে সেই নগর ছেড়ে বসবাসের উপযোগী অন্য কোনো স্থানের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। পথে যেতে যেতে সে ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে মীখার বাড়িতে এসে পৌঁছাল।
JDG 17:9 মীখা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কোথাকার লোক?” “আমি যিহূদার বেথলেহেম নিবাসী এক লেবীয়,” সে বলল, “আর আমি থাকার জন্য একটি স্থান খুঁজছি।”
JDG 17:10 পরে মীখা সেই লেবীয়কে বলল, “আমার সঙ্গে থাকো এবং আমার পিতৃস্থানীয় এক যাজক হয়ে যাও, এবং আমি তোমাকে বছরে দশ শেকল করে রুপো, তোমার জামাকাপড় ও তোমার খাদ্যদ্রব্য দেব।”
JDG 17:11 অতএব সেই লেবীয় তরুণ তার সঙ্গে থাকতে রাজি হয়ে গেল, এবং সে মীখার কাছে তার পুত্রস্থানীয় হয়ে গেল।
JDG 17:12 পরে মীখা সেই লেবীয়কে অভিষিক্ত করল, এবং সেই তরুণ তার যাজক হয়ে গেল ও তার বাড়িতেই বসবাস করতে লাগল।
JDG 17:13 আর মীখা বলল, “এখন আমি বুঝতে পারছি যে সদাপ্রভু আমার প্রতি মঙ্গলময় হবেন, যেহেতু এই লেবীয় আমার যাজক হয়েছে।”
JDG 18:1 সেই সময় ইস্রায়েলে কোনও রাজা ছিলেন না। আর সেই সময় দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকজন নিজস্ব এমন এক স্থান খুঁজছিল যেখানে তারা বসতি স্থাপন করতে পারে, কারণ তখনও পর্যন্ত তারা ইস্রায়েলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও উত্তরাধিকার লাভ করেনি।
JDG 18:2 অতএব দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা তাদের মধ্যে পাঁচজন মুখ্য লোককে সরা ও ইষ্টায়োল থেকে দেশ পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করার জন্য পাঠাল। এই লোকেরা সমগ্র দান গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছিল। তারা তাদের বলল, “যাও, দেশটি অনুসন্ধান করো।” অতএব তারা ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে প্রবেশ করে মীখার বাড়িতে এল, এবং সেখানেই রাত কাটাল।
JDG 18:3 মীখার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে, তারা সেই লেবীয় তরুণের কণ্ঠস্বর শুনে তাকে চিনতে পারল; তাই তারা সেখানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কে তোমাকে এখানে এনেছে? তুমি এখানে কী করছ? তুমি এখানে কেন এসেছ?”
JDG 18:4 মীখা তার জন্য যা যা করেছিল, সে তা তাদের বলে শোনাল এবং বলল, “তিনি আমাকে ভাড়া করেছেন ও আমি তাঁর যাজক হয়েছি।”
JDG 18:5 তখন তারা তাকে বলল, “দয়া করে ঈশ্বরের কাছ থেকে জেনে নাও যে আমাদের যাত্রা সফল হবে কি না।”
JDG 18:6 যাজকটি তাদের উত্তর দিল, “শান্তিপূর্বক এগিয়ে যাও। তোমাদের যাত্রায় সদাপ্রভুর অনুমোদন আছে।”
JDG 18:7 অতএব সেই পাঁচজন লোক সেই স্থানটি ত্যাগ করে লয়িশে এল। সেখানে তারা দেখল যে লোকজন সীদোনীয়দের মতো নিরাপদে, শান্তিতে ও নিশ্চিন্ত-নির্ভয়ভাবে জীবনযাপন করছে। আর যেহেতু তাদের দেশে কোনো কিছুরই অভাব ছিল না, তাই তারা সমৃদ্ধিশালীও হল। এছাড়াও, তারা সীদোনীয়দের কাছ থেকে বহুদূরে বসবাস করত এবং অন্য কারোর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক ছিল না।
JDG 18:8 সেই পাঁচজন যখন সরা ও ইষ্টায়োলে ফিরে এল, তখন দান গোষ্ঠীভুক্ত তাদের আত্মীয়স্বজনেরা তাদের জিজ্ঞাসা করল, “অবস্থা কেমন দেখলে?”
JDG 18:9 তারা উত্তর দিল, “চলো, তাদের আক্রমণ করা যাক! আমরা সেই দেশটি দেখলাম, এবং সেটি খুব সুন্দর। তোমরা কি কিছু করবে না? সেখানে গিয়ে সেটি দখল করে নিতে দ্বিধাবোধ কোরো না।
JDG 18:10 তোমরা যখন সেখানে যাবে, তখন দেখতে পাবে যে অসন্দিগ্ধচরিত্র মানুষজনদের ও খুব সুন্দর এমন এক দেশ ঈশ্বর তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, যেখানে কোনো কিছুরই অভাব নেই।”
JDG 18:11 পরে দান গোষ্ঠীভুক্ত 600 জন লোক, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে ও অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে, সরা ও ইষ্টায়োল থেকে যাত্রা শুরু করল।
JDG 18:12 পথে যেতে যেতে তারা যিহূদার কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের কাছে শিবির স্থাপন করল। এই জন্য আজও কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পশ্চিমে অবস্থিত স্থানটিকে মহনেদান বলে ডাকা হয়।
JDG 18:13 সেখান থেকে যাত্রা করে তারা ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশে গেল এবং মীখার বাড়ি পর্যন্ত এল।
JDG 18:14 তখন যে পাঁচজন লোক লয়িশে দেশ পর্যবেক্ষণ করেছিল, তারা দান গোষ্ঠীভুক্ত তাদের আত্মীয়স্বজনদের বলল, “তোমরা কি জানো যে এই বাড়িগুলির মধ্যে কোনো একটিতে একটি এফোদ, কয়েকটি গৃহদেবতা এবং রুপো দিয়ে মোড়া একটি মূর্তি আছে? এখন তোমরা তো জানো, তোমাদের কী করণীয়।”
JDG 18:15 অতএব তারা সেদিকে মুখ ফিরিয়ে মীখার বাড়িতে গেল, যেখানে সেই লেবীয় তরুণটি বসবাস করত এবং তারা তাকে অভিবাদন জানাল।
JDG 18:16 যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত দান গোষ্ঠীভুক্ত সেই 600 জন লোক প্রবেশদ্বারের কাছে দাঁড়িয়েছিল।
JDG 18:17 দেশ পর্যবেক্ষণকারী সেই পাঁচজন লোক ভিতরে প্রবেশ করল এবং সেই প্রতিমা, এফোদ ও গৃহদেবতাদের তুলে নিল, আর সেই যাজক এবং অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত 600 জন লোক প্রবেশদ্বারের কাছে দাঁড়িয়েছিল।
JDG 18:18 সেই পাঁচজন লোক যখন মীখার বাড়িতে গিয়ে সেই প্রতিমা, এফোদ ও গৃহদেবতাদের তুলে নিল, তখন সেই যাজক তাদের বলল, “তোমরা এ কী করছ?”
JDG 18:19 তারা তাকে উত্তর দিল, “চুপ করে থাকো! কোনও কথা বোলো না। আমাদের সঙ্গে চলো, এবং আমাদের পিতৃস্থানীয় এক যাজক হয়ে যাও। একটিমাত্র লোকের পরিবারের সেবা করার চেয়ে ইস্রায়েলের একটি বংশ ও গোষ্ঠীর সেবা করা কি তোমার পক্ষে ভালো নয়?”
JDG 18:20 সেই যাজক খুব খুশি হল। সে সেই এফোদ, গৃহদেবতাদের এবং সেই প্রতিমাটি নিয়ে সেই লোকদের সঙ্গে চলে গেল।
JDG 18:21 তাদের ছোটো ছোটো শিশুদের, তাদের গবাদি পশুপাল ও তাদের বিষয়সম্পত্তি সামনে রেখে তারা মুখ ফিরিয়ে চলে গেল।
JDG 18:22 মীখার বাড়ি থেকে তারা কিছু দূর যেতে না যেতেই, মীখার বাড়ির কাছে বসবাসকারী লোকদের ডাকা হল এবং তারা দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের নাগাল ধরে ফেলল।
JDG 18:23 দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের লক্ষ্য করে তারা যখন চিৎকার করছিল, তখন দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা মুখ ফিরিয়ে মীখাকে বলল, “তোমার কী হয়েছে যে তুমি যুদ্ধ করার জন্য তোমার লোকদের ডেকে আনলে?”
JDG 18:24 সে উত্তর দিল, “তোমরা আমার তৈরি করা দেবতাদের, ও আমার যাজককে নিয়ে চলে গিয়েছ। আমার কাছে আর কী রইল? তোমরা কীভাবে প্রশ্ন করতে পারো, ‘তোমার কী হয়েছে?’ ”
JDG 18:25 দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা উত্তর দিল, “আমাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি কোরো না, তা না হলে কয়েকজন লোক ক্রুদ্ধ হয়ে তোমাদের আক্রমণ করে ফেলতে পারে, এবং তুমি ও তোমার পরিবার-পরিজন প্রাণ হারাবে।”
JDG 18:26 অতএব দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা নিজেদের পথ ধরে চলে গেল, এবং তারা যে তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা বুঝতে পেরে মীখা মুখ ফিরিয়ে ঘরে ফিরে গেল।
JDG 18:27 পরে তারা মীখার তৈরি করা বস্তুগুলি ও তার যাজককে নিয়ে সেই লয়িশে গেল, যেখানকার লোকেরা শান্তিতে ও নিশ্চিন্ত-নির্ভয় অবস্থায় ছিল। তারা তরোয়াল চালিয়ে তাদের আক্রমণ করল এবং তাদের নগরটি আগুনে পুড়িয়ে দিল।
JDG 18:28 তাদের রক্ষা করার কেউ ছিল না, কারণ তারা সীদোন থেকে বহুদূরে বসবাস করছিল এবং অন্য কারোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল না। সেই নগরটি বেথ-রহোবের নিকটবর্তী এক উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। দান গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা সেই নগরটি পুনর্নির্মাণ করে সেখানে বসতি স্থাপন করল।
JDG 18:29 তারা তাদের পূর্বপুরুষ সেই দানের নামানুসারে সেই নগরটির নাম দিল দান, যিনি ইস্রায়েলের ছেলে ছিলেন—যদিও সেই নগরটিকে আগে লয়িশ বলে ডাকা হত।
JDG 18:30 তারা নিজেদের জন্য সেখানে সেই প্রতিমাটি প্রতিষ্ঠিত করল, এবং মোশির ছেলে গের্শোমের সন্তান যোনাথন ও তার ছেলেরা দেশের বন্দিদশার সময়কাল পর্যন্ত দান গোষ্ঠীর যাজক হয়ে রইল।
JDG 18:31 যতদিন শীলোতে ঈশ্বরের মন্দির ছিল, ততদিন তারা মীখার তৈরি করা প্রতিমাটি ব্যবহার করে যাচ্ছিল।
JDG 19:1 সেই সময় ইস্রায়েলে কোনও রাজা ছিলেন না। ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় একজন লেবীয় বসবাস করত। সে যিহূদার বেথলেহেম থেকে এক উপপত্নী এনেছিল।
JDG 19:2 কিন্তু সেই মহিলাটি তার প্রতি অবিশ্বস্ত হল। সে তাকে ত্যাগ করে যিহূদার বেথলেহেমে তার বাবা-মার ঘরে ফিরে গেল। সেখানে চার মাস থাকার পর,
JDG 19:3 তার স্বামী তাকে ফিরে আসার জন্য রাজি করাতে তার কাছে গেল। তার সাথে ছিল তার দাস ও দুটি গাধা। সেই লোকটির উপপত্নী তাকে নিজের বাবা-মার ঘরে নিয়ে গেল, এবং তার বাবা যখন সেই লেবীয়কে দেখল, তখন সে সানন্দে তাকে অভ্যর্থনা জানাল।
JDG 19:4 তার শ্বশুরমশাই, সেই মেয়েটির বাবা, তাকে সেখানে থেকে যেতে অনুরোধ করায় সে তিন দিন তার সঙ্গে থাকল এবং ভোজনপান করল ও সেখানে রাত কাটাল।
JDG 19:5 চতুর্থ দিন ভোরবেলায় উঠে সে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল, কিন্তু সেই মেয়েটির বাবা তার জামাইকে বলল, “কিছু খেয়ে নিজেকে চাঙ্গা করে নাও; পরে যেতে পারো।”
JDG 19:6 অতএব তারা দুজনে একসঙ্গে বসে ভোজনপান করল। তারপর সেই মেয়েটির বাবা বলল, “দয়া করে আজকের রাতটিও থেকে যাও ও একটু আরাম করে নাও।”
JDG 19:7 আর সেই লোকটি যখন যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল, তখন তার শ্বশুরমশাই তাকে অনুরোধ জানাল, তাই সে সেই রাতটিও সেখানে থেকে গেল।
JDG 19:8 পঞ্চম দিন সকালবেলায়, সে যখন যাওয়ার জন্য উঠল, তখন সেই মেয়েটির বাবা বলল, “জলখাবার খেয়ে নাও। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করো!” অতএব তারা দুজনে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করল।
JDG 19:9 পরে যখন সেই লোকটি তার উপপত্নী ও তার দাসকে সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠল, তখন তার শ্বশুরমশাই—সেই মেয়েটির বাবা বলল, “দেখো, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। রাতটুকু এখানেই কাটিয়ে যাও; দিন প্রায় ফুরিয়েই এল। এখানে থেকে একটু আরাম করে নাও। আগামীকাল ভোরবেলায় উঠে তোমরা ঘরের দিকে রওনা হয়ে যেতে পারো।”
JDG 19:10 কিন্তু, আর একটি রাত সেখানে কাটাতে রাজি না হয়ে, সেই লোকটি উঠে জিন পরানো দুটি গাধা ও তার উপপত্নীকে সঙ্গে নিয়ে যিবূষের (অর্থাৎ, জেরুশালেমের) দিকে চলে গেল।
JDG 19:11 তারা যিবূষের কাছে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই বেলা প্রায় গড়িয়ে গেল ও দাস তার মনিবকে বলল, “আসুন, যিবূষীয়দের এই নগরে থেমে রাত কাটানো যাক।”
JDG 19:12 তার মনিব উত্তর দিল, “না। আমরা এমন কোনো নগরে প্রবেশ করব না, যেখানকার লোকেরা ইস্রায়েলী নয়। আমরা গিবিয়ার দিকে এগিয়ে যাব।”
JDG 19:13 সে আরও বলল, “এসো, গিবিয়ায় বা রামায় পৌঁছে, সেগুলির মধ্যে কোনো একটি স্থানে রাত কাটানো যাক।”
JDG 19:14 অতএব তারা এগিয়ে গেল, এবং বিন্যামীনের অন্তর্গত গিবিয়ার কাছে তারা পৌঁছানোমাত্রই সূর্য অস্ত গেল।
JDG 19:15 রাত কাটানোর জন্য তারা সেখানে থামল। তারা নগরের চকে গিয়ে বসল, কিন্তু রাতে থাকার জন্য কেউই তাদের ঘরে নিয়ে গেল না।
JDG 19:16 সেই সন্ধ্যায় ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের অধিবাসী, গিবিয়ায় বসবাসকারী একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক ক্ষেতে কাজ করে ফিরে আসছিলেন। (সেই স্থানের অধিবাসীরা বিন্যামীনীয় ছিল)
JDG 19:17 যখন সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোক চোখ তুলে নগরের চকে সেই পথিককে দেখতে পেলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি আসছই বা কোথা থেকে?”
JDG 19:18 সে উত্তর দিল, “আমরা যিহূদার অন্তর্গত বেথলেহেম থেকে ইফ্রয়িমের পার্বত্য প্রদেশের এক প্রত্যন্ত এলাকায় যাচ্ছি, যা আমার বাসস্থান। আমি যিহূদার অন্তর্গত বেথলেহেমে গিয়েছিলাম, আর এখন আমি সদাপ্রভুর মন্দিরে যাচ্ছি। রাতে থাকার জন্য কেউ আমাকে ঘরে নিয়ে যায়নি।
JDG 19:19 আমাদের গাধাগুলির জন্য আমাদের কাছে খড় ও পশুখাদ্য আছে এবং আপনার দাসেদের—আমার, স্ত্রীলোকটির ও আমাদের সঙ্গী এই যুবকটির জন্যও রুটি ও দ্রাক্ষারস আছে। আমাদের কোনো কিছুরই অভাব নেই।”
JDG 19:20 “আমার বাড়িতে তোমাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি,” সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোক বললেন। “তোমাদের যা যা প্রয়োজন সেসব আমাকেই সরবরাহ করতে দাও। তোমরা শুধু চকে রাত কাটিয়ো না।”
JDG 19:21 অতএব তিনি তাদের তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং গাধাগুলিকে খাবার দিলেন। পা ধোয়ার পর, তারাও ভোজনপান করল।
JDG 19:22 তারা যখন একটু আরাম করছিল, তখন নগরের কয়েকজন দুষ্টলোক সেই বাড়িটি ঘিরে ধরল। দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে, তারা চিৎকার করে সেই গৃহকর্তা বৃদ্ধ ভদ্রলোককে বলল, “তোমার বাড়িতে যে লোকটি এসেছে, তাকে বের করে আনো, যেন আমরা তার সঙ্গে যৌন সহবাস করতে পারি।”
JDG 19:23 সেই গৃহকর্তা বাইরে বের হয়ে তাদের বললেন, “ওহে বন্ধুরা, না, না, এত নীচ হোয়ো না। যেহেতু এই লোকটি আমার অতিথি, তাই এরকম জঘন্য কাজ কোরো না।
JDG 19:24 দেখো, এই আমার কুমারী মেয়ে, ও সেই লোকটির উপপত্নী। আমি এখনই তাদের তোমাদের কাছে বের করে আনব, তোমরা তাদের ভোগ করতে পারো এবং তাদের নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করো। কিন্তু এই লোকটির প্রতি এ ধরনের কোনও জঘন্য কাজ কোরো না।”
JDG 19:25 কিন্তু সেই লোকেরা তাঁর কথা শুনতে চাইল না। তাই সেই লেবীয় লোকটি তার উপপত্নীকে নিয়ে তাকে বাইরে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিল, আর তারা সারারাত ধরে তাকে ধর্ষণ করল ও তার উপর নির্যাতন চালাল, এবং ভোরবেলায় তাকে ছেড়ে দিল।
JDG 19:26 ভোরবেলায় সেই মহিলাটি উঠে যে বাড়িতে তার স্বামী ছিল সেখানে ফিরে গেল, ও দিনের আলো না ফোটা পর্যন্ত দোরগোড়ায় পড়ে রইল।
JDG 19:27 তার স্বামী সকালবেলায় উঠে বাড়ির দরজা খুলল এবং যাওয়ার জন্য বাইরে এসে দেখল, তার উপপত্নী সেই বাড়ির দরজায় পড়ে আছে ও গোবরাটে তার হাত ছড়িয়ে রেখেছে।
JDG 19:28 সে তাকে বলল, “ওঠো; যাওয়া যাক।” কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া গেল না। তখন সেই লোকটি তাকে গাধার পিঠে চাপিয়ে ঘরের দিকে রওনা হল।
JDG 19:29 ঘরে ফিরে এসে, সে একটি ছুরি নিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধরে ধরে তার উপপত্নীর দেহটি বারো টুকরো করে, সেগুলি ইস্রায়েলের সব এলাকায় পাঠিয়ে দিল।
JDG 19:30 যারা যারা তা দেখল, তারা প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা কখনও দেখা যায়নি বা ঘটেওনি। ভাবা যায়! আমাদের কিছু একটা করতেই হবে! তাই চিৎকার করে ওঠো!”
JDG 20:1 পরে দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে এবং গিলিয়দ দেশ থেকে এসে সমগ্র ইস্রায়েল একজন মানুষের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিস্‌পাতে সদাপ্রভুর সামনে সমবেত হল।
JDG 20:2 ইস্রায়েলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সব লোকজনের নেতারা ঈশ্বরের প্রজাদের জনসমাবেশে 4,00,000 তরোয়ালধারী লোকের মধ্যে তাঁদের স্থান গ্রহণ করলেন।
JDG 20:3 (বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকজন শুনেছিল যে ইস্রায়েলীরা মিস্‌পাতে গিয়েছে) পরে ইস্রায়েলীরা বলল, “আমাদের বলো কীভাবে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটল।”
JDG 20:4 অতএব সেই নিহত মহিলাটির স্বামী—সেই লেবীয় লোকটি বলল, “আমি ও আমার উপপত্নী রাত কাটানোর জন্য বিন্যামীনের অন্তর্গত গিবিয়াতে গিয়েছিলাম।
JDG 20:5 রাতের বেলায় গিবিয়ার লোকজন আমাকে ধরার জন্য এসেছিল এবং আমাকে হত্যা করার মতলবে, সেই বাড়িটি ঘিরে ধরেছিল। তারা আমার উপপত্নীকে ধর্ষণ করল, ও সে মরে গেল।
JDG 20:6 আমি আমার উপপত্নীকে নিয়ে, তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ইস্রায়েলের অধিকারভুক্ত প্রত্যেকটি এলাকায় একটি করে টুকরো পাঠিয়ে দিলাম, কারণ তারা ইস্রায়েলের মধ্যে এই নীচ ও জঘন্য কাজটি করেছে।
JDG 20:7 এখন তোমরা, ইস্রায়েলীরা সবাই, চিৎকার করে ওঠো ও আমায় বলো তোমরা কী করার সিদ্ধান্ত নিলে।”
JDG 20:8 সব লোকজন উঠে দাঁড়িয়ে একযোগে বলে উঠল, “আমরা কেউ ঘরে যাব না। না, আমাদের মধ্যে একজনও তার বাড়িতে ফিরে যাবে না।
JDG 20:9 কিন্তু এখন গিবিয়ার প্রতি আমরা যা করব তা হল এই: গুটিকাপাতের মাধ্যমে ক্রম স্থির করে আমরা গিবিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাব।
JDG 20:10 ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠী থেকে প্রতি একশো জনের মধ্যে দশজন, প্রতি 1,000 জনের মধ্যে একশো জন এবং প্রতি 10,000 জনের মধ্যে 1,000 জনকে নিয়ে আমরা তাদের সৈন্যবাহিনীর খাদ্য সরবরাহের জন্য নিযুক্ত করব। পরে, সৈন্যবাহিনী যখন বিন্যামীনের অন্তর্গত গিবিয়াতে পৌঁছাবে, তখন ইস্রায়েলের মধ্যে করা এই জঘন্য কাজের জন্য তারা তাদের উপযুক্ত দণ্ড দেবে।”
JDG 20:11 অতএব ইস্রায়েলীরা সবাই একত্রিত হয়ে সেই নগরটির বিরুদ্ধে একজন মানুষের মতো সংঘবদ্ধ হল।
JDG 20:12 ইস্রায়েলের বিভিন্ন গোষ্ঠী বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত এলাকার সর্বত্র লোক মারফত বলে পাঠাল, “তোমাদের মধ্যে এসব কী ভয়াবহ অপকর্ম হয়েছে?
JDG 20:13 এখন গিবিয়ার সেইসব দুর্জন লোককে তোমরা আমাদের হাতে তুলে দাও যেন আমরা তাদের হত্যা করে ইস্রায়েল থেকে দুষ্টাচার লোপ করতে পারি।” কিন্তু বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা তাদের স্বজাতীয় ইস্রায়েলীদের কথা শুনতে চাইল না।
JDG 20:14 তাদের নগরগুলি থেকে বেরিয়ে এসে তারা ইস্রায়েলীদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য গিবিয়ায় সমবেত হল।
JDG 20:15 অবিলম্বে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা তাদের নগরগুলি থেকে 26,000 তরোয়ালধারী লোক সংগ্রহ করল। এর পাশাপাশি গিবিয়াতে বসবাসকারী লোকদের মধ্যে থেকেও 700 জন দক্ষ যুবক সংগ্রহ করা হল।
JDG 20:16 এইসব সৈনিকের মধ্যে বাছাই করা 700 জন সৈনিক ছিল ন্যাটা, যাদের প্রত্যেকেই চুলের মতো সূক্ষ্ম নিশানায় গুলতি দিয়ে পাথর ছুঁড়তে পারত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হত না।
JDG 20:17 বিন্যামীনকে বাদ দিয়ে ইস্রায়েল তরোয়ালধারী এমন 4,00,000 লোক জোগাড় করল, যারা সবাই যুদ্ধের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ছিল।
JDG 20:18 ইস্রায়েলীরা বেথেলে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে জানতে চাইল। তারা বলল, “বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের মধ্যে থেকে কারা আগে যাবে?” সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “যিহূদা গোষ্ঠী আগে যাবে।”
JDG 20:19 পরদিন সকালে ইস্রায়েলীরা উঠে গিবিয়ার কাছে শিবির স্থাপন করল।
JDG 20:20 ইস্রায়েলীরা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বাইরে গেল এবং গিবিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবস্থান নিল।
JDG 20:21 বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা গিবিয়া থেকে বেরিয়ে এসে সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রে 22,000 ইস্রায়েলীকে হত্যা করল।
JDG 20:22 কিন্তু ইস্রায়েলীরা পরস্পরকে উৎসাহিত করল এবং প্রথম দিন যেখানে তারা নিজেদের মোতায়েন করেছিল, সেখানেই আবার তাদের অবস্থান গ্রহণ করল।
JDG 20:23 ইস্রায়েলীরা গিয়ে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করল, এবং তাঁর কাছে জানতে চাইল। তারা বলল, “আমরা কি আবার আমাদের স্বজাতীয় বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব?” সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “তাদের বিরুদ্ধে চলে যাও।”
JDG 20:24 পরে ইস্রায়েলীরা দ্বিতীয় দিনে বিন্যামীনের দিকে এগিয়ে গেল।
JDG 20:25 এবার, বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা ইস্রায়েলীদের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য গিবিয়া থেকে বেরিয়ে এসে এমন আরও 18,000 ইস্রায়েলীকে হত্যা করল, যারা সবাই ছিল তরোয়ালধারী সৈনিক।
JDG 20:26 পরে ইস্রায়েলীরা সবাই—সমগ্র সৈন্যবাহিনী বেথেলে গেল, এবং সেখানে বসে তারা সদাপ্রভুর সামনে কান্নাকাটি করতে লাগল। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা উপবাস করল এবং সদাপ্রভুর কাছে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করল।
JDG 20:27 আর ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর কাছে জানতে চাইল। (সেই সময় ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি সেখানে ছিল,
JDG 20:28 এবং হারোণের নাতি, তথা ইলিয়াসরের ছেলে পীনহস সেটির সামনে থেকে পরিচর্যা করতেন) তারা জিজ্ঞাসা করল, “আমরা কি আবার আমাদের স্বজাতীয় বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব, কি যাব না?” সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “যাও, কারণ আগামীকাল আমি তাদের তোমাদের হাতে সমর্পণ করে দেব।”
JDG 20:29 পরে ইস্রায়েল গিবিয়ার চারপাশে ওৎ পেতে বসে থাকল।
JDG 20:30 তৃতীয় দিনে তারা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের বিরুদ্ধে উঠে গেল এবং গিবিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিল, যেভাবে আগেও তারা নিয়েছিল।
JDG 20:31 বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা ইস্রায়েলীদের সম্মুখীন হওয়ার জন্য বেরিয়ে এল এবং তাদের নগর থেকে দূরে আকৃষ্ট করা হল। আগের মতোই তারা ইস্রায়েলীদের হত্যা করতে শুরু করল, তাতে খোলা মাঠে এবং পথের উপরে—একটি বেথেলের অভিমুখে ও অন্যটি গিবিয়ার অভিমুখে, প্রায় ত্রিশজন মরে পড়ে থাকল।
JDG 20:32 একদিকে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা বলছিল, “আগের মতোই আমরা ওদের পরাজিত করছি,” অন্যদিকে ইস্রায়েলীরা বলছিল, “এসো আমরা পিছিয়ে যাই এবং নগর থেকে ওদের পথের দিকে আকর্ষণ করি।”
JDG 20:33 ইস্রায়েলের লোকজন সবাই তাদের স্থান থেকে সরে এসে বায়াল-তামরে অবস্থান গ্রহণ করল, এবং ওৎ পেতে বসে থাকা ইস্রায়েলীরা গিবিয়ার পশ্চিমদিকে অবস্থিত তাদের গুপ্ত স্থান ছেড়ে বেরিয়ে এল।
JDG 20:34 পরে ইস্রায়েলের 10,000 জন যোগ্যতাসম্পন্ন যুবক সামনে থেকে গিবিয়ার উপর আক্রমণ চালাল। সেই যুদ্ধ এত ধুন্ধুমার হল যে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা বুঝতেই পারেনি যে বিপর্যয় ঘনিয়ে এসেছে।
JDG 20:35 সদাপ্রভু ইস্রায়েলের সামনে বিন্যামীনকে পরাজিত করলেন, এবং সেদিন ইস্রায়েলীরা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত 25,100 জন লোককে হত্যা করল। তারা সবাই ছিল তরোয়ালধারী সৈনিক।
JDG 20:36 তখন বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা দেখল যে তারা পরাজিত হয়েছে। ইত্যবসরে ইস্রায়েলের লোকজন বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, কারণ তারা সেইসব লোকের উপরে নির্ভর করছিল, যারা গিবিয়ার কাছে ওৎ পেতে বসেছিল।
JDG 20:37 যারা ওৎ পেতে বসেছিল, তারা আচমকাই গিবিয়াতে ঢুকে পড়ল, এবং চারপাশে ছড়িয়ে গিয়ে তরোয়াল চালিয়ে নগরবাসী সবাইকে আঘাত করল।
JDG 20:38 ইস্রায়েলীরা ওৎ পেতে থাকা লোকদের বলে দিয়েছিল, যেন তারা নগর থেকে ধোঁয়াযুক্ত বিশাল মেঘ ছড়িয়ে দেয়,
JDG 20:39 এবং তখনই ইস্রায়েলীরা পালটা আক্রমণ করবে। বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা ইস্রায়েলীদের (প্রায় ত্রিশ জনকে) হত্যা করতে শুরু করল, এবং তারা বলল, “প্রথমবারের যুদ্ধের মতোই আমরা তাদের পরাজিত করছি।”
JDG 20:40 কিন্তু নগর থেকে যখন ধোঁয়ার স্তম্ভ উপরে উঠতে শুরু করল, তখন বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা মুখ ফিরিয়ে দেখল যে সমগ্র নগর থেকে গলগল করে ধোঁয়া আকাশে উঠে যাচ্ছে।
JDG 20:41 তখন ইস্রায়েলীরাও তাদের পালটা আক্রমণ করল, এবং বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, কারণ তারা বুঝতে পারল যে তাদের উপরে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
JDG 20:42 অতএব তারা ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে মরুপ্রান্তরের দিকে পালিয়ে গেল, কিন্তু তারা যুদ্ধ এড়িয়ে পালাতে পারল না। আর যেসব ইস্রায়েলী লোকজন নগর থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারা সেখানেই তাদের হত্যা করল।
JDG 20:43 ইস্রায়েলীরা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের ঘিরে ধরল, তাড়া করল এবং খুব সহজেই পূর্বদিকে গিবিয়ার কাছে গিয়ে তাদের ছারখার করে দিল।
JDG 20:44 বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত 18,000 লোক নিহত হল। তারা সবাই ছিল বীর যোদ্ধা।
JDG 20:45 তারা যখন মরুপ্রান্তরের দিকে পিছু ফিরে রিম্মোণ পাষাণ-পাথরের দিকে পালিয়ে গেল, তখন ইস্রায়েলীরা পথেই 5,000 জন লোককে হত্যা করল। গিদোম পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে তারা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের পশ্চাদ্ধাবন করে গেল এবং আরও 2,000 লোককে হত্যা করল।
JDG 20:46 সেদিন বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত 25,000 তরোয়ালধারী লোক নিহত হল। তারা সবাই ছিল বীর যোদ্ধা।
JDG 20:47 কিন্তু তাদের মধ্যে 600 জন লোক মরুপ্রান্তরের দিকে পিছু ফিরে রিম্মোণ পাষাণ-পাথরের দিকে পালিয়ে গেল এবং চার মাস তারা সেখানেই থাকল।
JDG 20:48 ইস্রায়েলী লোকজন বিন্যামীন গোষ্ঠীর অধিকারভুক্ত এলাকায় ফিরে গেল এবং সব নগরে তরোয়াল চালিয়ে মানুষ, পশুপাল ও আরও যা যা পাওয়া গেল, সেসব ছারখার করে দিল। তারা যত নগর পেল, সেগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে দিল।
JDG 21:1 ইস্রায়েলী লোকজন মিস্‌পাতে এক শপথ নিয়েছিল: “আমাদের মধ্যে কেউই তার মেয়ের সঙ্গে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত কোনও ছেলের বিয়ে দেবে না।”
JDG 21:2 লোকেরা বেথেলে গেল, এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ঈশ্বরের সামনে বসে জোর গলায় প্রচণ্ড কান্নাকাটি করল।
JDG 21:3 “ইস্রায়েলের ঈশ্বর, হে সদাপ্রভু,” তারা চিৎকার করে বলল, “ইস্রায়েলের মধ্যে এমন ঘটনা কেন ঘটল? আজ কেন ইস্রায়েল থেকে একটি গোষ্ঠী বিলুপ্ত হতে চলেছে?”
JDG 21:4 পরদিন ভোরবেলায় লোকেরা এক যজ্ঞবেদি নির্মাণ করল এবং হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করল।
JDG 21:5 পরে ইস্রায়েলীরা জিজ্ঞাসা করল, “ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীর মধ্যে কারা সদাপ্রভুর সামনে সমবেত হয়নি?” কারণ তারা এক আনুষ্ঠানিক শপথ নিয়েছিল যে মিস্‌পাতে যদি কেউ সদাপ্রভুর সামনে না আসে তবে তাকে মেরে ফেলা হবে।
JDG 21:6 ইত্যবসরে ইস্রায়েলীরা তাদের স্বজাতীয় বিন্যামীন গোষ্ঠীর জন্য শোকসন্তপ্ত হল। “আজ ইস্রায়েল থেকে একটি গোষ্ঠী বিচ্ছিন্ন হল,” তারা বলল।
JDG 21:7 “আমরা কীভাবে তবে যারা এখনও অবশিষ্ট আছে তাদের জন্য স্ত্রীর বিধান করব, যেহেতু আমরা তো সদাপ্রভুর নামে শপথ নিয়েছি যে তাদের সঙ্গে আমাদের মেয়েদের বিয়ে দেব না।”
JDG 21:8 পরে তারা জিজ্ঞাসা করল, “ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কোন গোষ্ঠী মিস্‌পাতে সদাপ্রভুর সামনে আসেনি?” তারা জানতে পারল যে যাবেশ-গিলিয়দ থেকে কেউ সেই সভায় যোগ দেওয়ার জন্য শিবিরে আসেনি।
JDG 21:9 কারণ তারা যখন লোকগণনা করল, তখন দেখা গেল যে যাবেশ-গিলিয়দের লোকদের মধ্যে কেউ সেখানে নেই।
JDG 21:10 অতএব জনসমাজ 12,000 যোদ্ধাকে নির্দেশ দিয়ে পাঠাল যেন তারা যাবেশ-গিলিয়দে যায় এবং মহিলা ও শিশুসহ সেখানে বসবাসকারী সব লোককে তরোয়াল দিয়ে হত্যা করে।
JDG 21:11 “তোমাদের এরকম করতে হবে,” তারা বলল। “প্রত্যেক পুরুষমানুষকে এবং যে কুমারী নয়, এমন প্রত্যেক মহিলাকে হত্যা কোরো।”
JDG 21:12 যাবেশ-গিলিয়দে বসবাসকারী লোকদের মধ্যে তারা এমন 400 জন তরুণীর খোঁজ পেল, যারা কোনো পুরুষমানুষের সঙ্গে কখনও শোয়নি, এবং তারা তাদের কনান দেশের শীলোতে অবস্থিত শিবিরে নিয়ে এল।
JDG 21:13 পরে সমগ্র জনসমাজ রিম্মোণ পাষাণ-পাথরে বসবাসকারী বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের কাছে এক শান্তি-প্রস্তাব দিয়ে পাঠাল।
JDG 21:14 অতএব বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা সেই সময় ফিরে এল এবং যাবেশ-গিলিয়দের যে মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সেই লোকদের বিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু তাদের সবার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক মেয়ে পাওয়া গেল না।
JDG 21:15 লোকেরা বিন্যামীনের জন্য মনঃক্ষুণ্ণ হল, কারণ সদাপ্রভু ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে এক ফাঁক তৈরি করলেন।
JDG 21:16 আর জনসমাজের প্রাচীনেরা বললেন, “বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত মহিলারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, এখন অবশিষ্ট পুরুষমানুষদের জন্য আমরা কীভাবে স্ত্রীর ব্যবস্থা করব?
JDG 21:17 বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকদের বংশরক্ষাও তো করতে হবে,” তাঁরা বললেন, “যেন ইস্রায়েলের একটি গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে না যায়।
JDG 21:18 আমরা তো আমাদের মেয়েদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দিতে পারব না, যেহেতু আমরা, ইস্রায়েলীরা এই শপথ নিয়েছি: ‘যে কেউ বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত কাউকে কন্যাদান করবে, সে অভিশপ্ত হোক।’
JDG 21:19 কিন্তু দেখো, সেই শীলোতে সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রতি বছর এক উৎসব হয়, যা বেথেলের উত্তরে, এবং বেথেল থেকে শিখিমের দিকে চলে যাওয়া পথের পূর্বদিকে, এবং লবোনার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।”
JDG 21:20 অতএব তাঁরা বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, “যাও ও দ্রাক্ষাক্ষেতে লুকিয়ে থাকো
JDG 21:21 এবং লক্ষ্য রাখো। শীলোর তরুণীরা যখন দল বেঁধে নাচ করতে করতে বেরিয়ে আসবে, তখন দ্রাক্ষাক্ষেত থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে তোমরা প্রত্যেকে তাদের মধ্যে এক একজনকে নিজেদের স্ত্রী করে নিয়ো। পরে বিন্যামীন দেশে ফিরে যেয়ো।
JDG 21:22 তাদের বাবারা বা ভাইরা যখন আমাদের কাছে অভিযোগ জানাবে, তখন আমরা তাদের বলব, ‘তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমাদের একটু উপকার করো, কারণ যুদ্ধের সময় আমরা তাদের জন্য স্ত্রী পাইনি। তোমরা তোমাদের শপথ ভাঙার দোষে দোষী হবে না, কারণ তোমরা তো তোমাদের মেয়েদের তাদের হাতে তুলে দাওনি।’ ”
JDG 21:23 অতএব বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত লোকেরা সেরকমই করল। সেই তরুণীরা যখন নাচছিল, তখন প্রত্যেকজন পুরুষমানুষ এক একজনকে ধরে তার স্ত্রী হওয়ার জন্য তাকে তুলে নিয়ে গেল। পরে তারা তাদের অধিকারভুক্ত এলাকায় ফিরে গেল এবং নগরগুলি পুনর্নির্মাণ করে সেগুলিতে বসতি স্থাপন করল।
JDG 21:24 সেই সময় ইস্রায়েলীরা সেই স্থান ত্যাগ করে প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব অধিকার অনুসারে তাদের গোষ্ঠী ও বংশভুক্ত এলাকায়, নিজেদের ঘরে ফিরে গেল।
JDG 21:25 সেই সময় ইস্রায়েলে কোনও রাজা ছিলেন না; প্রত্যেকে, তাদের যা ভালো বলে মনে হত, তাই করত।
RUT 1:1 বিচারকরা যখন দেশ শাসন করছিলেন সেই সময় দেশে দুর্ভিক্ষ হয়। যিহূদিয়ার বেথলেহেম থেকে একটি লোক তার স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে কিছুদিনের জন্য মোয়াব দেশে থাকবে বলে সেখানে যায়।
RUT 1:2 সেই লোকটির নাম ছিল ইলীমেলক, তার স্ত্রীর নাম নয়মী এবং তাঁর দুই পুত্রের নাম মহলোন ও কিলিয়োন। তারা যিহূদিয়ার বেথলেহেমের অধিবাসী ইফ্রাথীয় ছিল। তারা মোয়াব দেশে গিয়া বসবাস করতে লাগল।
RUT 1:3 কিন্তু ঘটনাক্রমে নয়মীর স্বামী ইলীমেলক মারা গেল। তাই সে দুই ছেলে নিয়ে একা বসবাস করতে লাগল।
RUT 1:4 নয়মীর দুই ছেলে মোয়াবের মেয়েদের বিয়ে করল। সেই দুই মোয়াবীয় মহিলার নাম ছিল অর্পা ও রূত। মোয়াব দেশে এরা দশ বছর থাকার পর,
RUT 1:5 নয়মীর দুই ছেলে মহলোন ও কিলিয়োনও মারা গেল। তাই নয়মী স্বামী ও দুই ছেলে হারিয়ে একা হয়ে গেল।
RUT 1:6 এরপর নয়মী তার দুই ছেলের স্ত্রীদের নিয়ে মোয়াব দেশ থেকে ফিরে আসার জন্য তৈরি হল। মোয়াব দেশে থাকার সময় সে শুনেছিল যে সদাপ্রভু দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর লোকদের খাবার জুগিয়েছেন।
RUT 1:7 তাই নয়মী তার দুই পুত্রবধূকে নিয়ে যিহূদা দেশের রাস্তার দিকে গেল।
RUT 1:8 কিন্তু নয়মী তার দুই পুত্রবধূকে বলল, “তোমরা যে যার মায়ের বাড়িতে ফিরে যাও। সদাপ্রভু তোমাদের দয়া দেখান, যেমন তোমরা যারা মারা গেছে তাদের উপর ও আমার উপর দয়া দেখিয়েছ।
RUT 1:9 সদাপ্রভু তোমাদের দুজনকে নিজের নিজের স্বামীর ঘর পেতে সাহায্য করুন!” তারপর সে তাদের চুমু খেল আর তারা জোরে জোরে কাঁদতে লাগল
RUT 1:10 এবং তারা নয়মীকে বলল, “না, আমরা তোমার সঙ্গে তোমার লোকদের কাছে ফিরে যাব।”
RUT 1:11 কিন্তু নয়মী বলল, “বাছা তোমরা ফিরে যাও। কেন তোমরা আমার সঙ্গে যাবে? আমার সঙ্গে আর কি কোনও ছেলে আছে যে তোমাদের স্বামী হতে পারবে?
RUT 1:12 বাছা, ফিরে যাও। কারণ আমি যে বৃদ্ধা, বিয়ে করে আরেকটি স্বামী পাওয়ার বয়স আর নেই। যদি আমার আশাও থাকে, যদি আজ রাতেই আমি বিয়ে করে স্বামী পাই এবং ছেলেদের জন্ম দিই,
RUT 1:13 তারা যতদিন পর্যন্ত না বড়ো হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তোমরা কি তাদের জন্য বিয়ে না করে অপেক্ষা করবে? না বাছা, এরকম করা তোমাদের থেকে আমার জন্য খুবই শক্ত কাজ। কারণ সদাপ্রভু আমার বিরোধী হয়েছেন!”
RUT 1:14 নয়মীর কথা শুনে, আবার তারা জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। তারপর অর্পা তার শাশুড়িকে চুমু দিয়ে তার পথে চলে গেল, কিন্তু রূত তাকে ধরে থাকল।
RUT 1:15 নয়মী তাকে বলল, “দেখো, তোমার জা তার লোকজনের ও তার দেবতাদের কাছে ফিরে গেল। তাই তুমিও তার সঙ্গে ফিরে যাও।”
RUT 1:16 কিন্তু রূত বলল, “আপনার কাছ থেকে ফিরে যেতে বা আপনাকে ছেড়ে যেতে আর আমাকে অনুরোধ করবেন না। আপনি যেখানে যাবেন আমিও সেখানে যাব। আপনি যেখানে থাকবেন আমিও সেখানে থাকব। আপনার লোকেরা আমার লোক এবং আপনার ঈশ্বর হবেন আমার ঈশ্বর।
RUT 1:17 আপনি যেখানে মরবেন আমিও সেখানে মরব, এবং সেখানেই আমার কবর হবে। তাই সদাপ্রভুই এই বিষয়ে আমার বিচার করে শাস্তি দিন। আর যাই হোক শুধু মৃত্যুই যেন আমাকে আপনার থেকে আলাদা করে।”
RUT 1:18 যখন নয়মী দেখলো যে, রূত কোনোমতেই তাকে ছেড়ে যাবে না, তাই সে আর কিছু বলল না।
RUT 1:19 তাই তারা দুজন চলতে লাগল, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা বেথলেহেমে পৌঁছাল। তারা যখন বেথলেহেমে পৌঁছাল, তখন তাদের কারণে সমগ্র নগর আলোড়িত হল, এবং মহিলারা বলল, “এ মহিলাটি কি নয়মী?”
RUT 1:20 নয়মী তাদের বলল, “আমাকে নয়মী বোলো না। আমাকে মারা বলে ডাকো। কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমার জীবনে অনেক সমস্যা নিয়ে এসেছেন।
RUT 1:21 আমি পরিপূর্ণা হয়ে মোয়াবে গিয়েছিলাম, কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে শূন্য করে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। কেন আমাকে নয়মী বলছ? সদাপ্রভু আমার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সর্বশক্তিমান আমাকে দুঃখভোগ করতে অনুমতি দিয়েছেন।”
RUT 1:22 তাই নয়মী তার বউমা মোয়াবীয় রূতের সঙ্গে মোয়াব দেশ থেকে বেথলেহেমে ফিরে এল। যব কাটা শুরু হওয়ার সময় তারা বেথলেহেমে এসে পৌঁছাল।
RUT 2:1 নয়মীর স্বামী ইলীমেলকের পরিবারের একজন সম্ভ্রান্ত লোক ছিলেন, যাঁর নাম বোয়স।
RUT 2:2 আর মোয়াবীয় রূত তার শাশুড়িকে বলল, “দয়া করে আমাকে যে কোনো জমিতে শিষ কুড়াতে অনুমতি দিন। যাতে জমিতে পড়ে থাকা শিষ কুড়ানোর জন্য আমি যার পিছনে যাই তার কাছেই দয়া পাই।” নয়মী তাকে বলল, “বাছা আমার, যাও।”
RUT 2:3 তাই রূত বাইরে গেল, যেখানে মজুরেরা যব কেটে জমা করছিল, এবং তাদের পিছনে পিছনে গিয়ে জমিতে পড়ে থাকা যবের শিষ কুড়াতে লাগল। সেদিন ঘটনাক্রমে, সে জানতে পারল, যে জমির অংশটিতে সে কুড়াচ্ছে, সেই জমিটি বোয়সের ছিল, যিনি নয়মীর স্বামী ইলীমেলকের পরিবারের একজন।
RUT 2:4 ঠিক সেই সময় বোয়স বেথলেহেম থেকে আসলেন। যে মজুরেরা শস্য কেটে জমা করছিল, তিনি তাদের উদ্দেশে বললেন, “সদাপ্রভু তোমাদের সঙ্গে থাকুন!” আর তারাও উত্তরে বলল, “সদাপ্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করুন!”
RUT 2:5 তখন বোয়স মজুরদের উপরে নিযুক্ত প্রধানকে বললেন, “কে এই যুবতী মহিলা?”
RUT 2:6 মজুরদের উপরে নিযুক্ত প্রধান বলল, “এই যুবতী সেই মোয়াবীয় মহিলা যে নয়মীর সঙ্গে মোয়াব দেশ থেকে এসেছে।”
RUT 2:7 সে বলেছিল, “দয়া করে আমাকে মজুরদের পিছনে পিছনে গিয়ে জমিতে পড়ে থাকা যবের শিষ কুড়াতে দিন। সে জমিতে গেছে এবং ঘরে খুব কম সময় আরাম করা ছাড়া, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অনবরত কাজ করে চলেছে।”
RUT 2:8 তাই বোয়স রূতকে বললেন, “বাছা আমার, খুব মন দিয়ে আমার কথা শোনো, এই জমি ছেড়ে আর অন্য কোনো লোকের জমিতে শিষ কুড়াতে যেয়ো না। এখানে আমার দাসীদের সঙ্গে থাকো।
RUT 2:9 তারা যে জমিতে শস্য জমা করছে, সেই জমির উপর তোমার চোখ রেখে, তাদের পিছনে পিছনে শিষ কুড়াও। আমি আমার দাসদের বলে দিয়েছি, যেন তারা তোমার গায়ে হাত না দেয়। আর যখন তোমার পিপাসা পাবে তখন আমার দাসেরা যে জল ভরে রেখেছে সেই জলের পাত্রের কাছে গিয়ে জল পান করবে।”
RUT 2:10 বোয়সের সব কথা শোনার পর রূত মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করল। সে জিজ্ঞাসা করল, “কেন আমি আপনার চোখে এত দয়া পেয়েছি? কেনই বা আপনি আমার এত যত্ন নিচ্ছেন? আমি তো অন্য দেশের লোক, আপনার কাছে বিদেশিনী।”
RUT 2:11 বোয়স উত্তরে বললেন, “তোমার স্বামীর মৃত্যুর পর তুমি তোমার শাশুড়ির জন্য যা কিছু করেছ, এবং কীভাবে তুমি তোমার জন্মভূমি, তোমার বাবা ও মাকে ছেড়ে, যে লোকদের তুমি আগে জানতে না, তাদের সঙ্গে বসবাস করতে এসেছ, সেই বিষয়ে তোমার সব কথা আমি লোকের মুখে শুনেছি।
RUT 2:12 সদাপ্রভু তোমার কাজের পুরস্কার দিন। সদাপ্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাকে তোমার কাজের পুরো দাম দিন, যাঁর কাছে আশ্রয় নিয়ে সুরক্ষা পেতে তুমি এখানে এসেছ।”
RUT 2:13 তখন রূত বোয়সকে বলল, “হে আমার প্রভু, এখন আমি যেমন আপনার কাছে দয়া পেয়েছি, তেমনি দয়া যেন এর পরেও পেতে পারি। আপনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং আপনার এই দাসীর সঙ্গে দয়ালু ভাব দেখিয়েছেন—যদিও আমি আপনার যত দাসী আছে তাদের একজনেরও যোগ্য নই।”
RUT 2:14 দুপুরবেলায় খাবার সময় বোয়স রূতকে ডেকে বললেন, “এখানে উঠে এসো, কিছু রুটি নিয়ে সিরকায় ডুবিয়ে নাও।” যখন সে শস্যচ্ছেদকদের কাছে গিয়ে বসল, তখন বোয়স তাকে কিছুটা ভাজা শস্য দিলেন। মনের ইচ্ছামতো পেট পুরে সে খেল এবং কিছু রেখে দিল।
RUT 2:15 যখন সে আবার শস্য কুড়াতে উঠল, তখন বোয়স তার দাসদের আদেশ দিয়ে বললেন, “বরং একে তোমাদের আঁটির মধ্যে থেকে কুড়াতে দিয়ো, তার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলবে না।
RUT 2:16 বরং আঁটির মধ্যে থেকে কিছু শিষ বের করে তার জন্য ফেলে দিয়ো যেন সে কুড়াতে পারে এবং তাকে বকাবকি করবে না।”
RUT 2:17 তাই রূত সন্ধ্যা পর্যন্ত বোয়সের জমিতে শিষ কুড়ালো। পরে সে কুড়ানো যব ঝাড়াই করলে তার পরিমাণ প্রায় এক ঐফা হল।
RUT 2:18 এরপর সে সেগুলি নিয়ে নগরে গেল আর তার শাশুড়ি দেখল যে সে কত কুড়িয়েছে। রূত যথেষ্ট খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া খাবার বের করে তার শাশুড়িকে দিল।
RUT 2:19 তার শাশুড়ি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি আজ কোথায় শিষ কুড়াতে গিয়েছিলে? আজ তুমি কোথায় কাজ করলে? যিনি তোমার উপর দয়া দেখিয়েছেন তাঁর মঙ্গল হোক!” তাই সে তার শাশুড়িকে বলল, “আমি আজ যার জমিতে কাজ করেছি সেই ব্যক্তির নাম বোয়স।”
RUT 2:20 তখন নয়মী রূতকে বলল, “ধন্য সদাপ্রভু যিনি তাঁর দয়া জীবিত ও মৃতদের উপর দেখিয়েছেন।” নয়মী রূতকে আরও বলল, “সে আমাদের পরিবারের এক নিকট আত্মীয় এবং আমাদের একজন মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি।”
RUT 2:21 পরে মোয়াবীয় রূত বলল, “তিনি আমাকে আরও বললেন, তুমি আমার দাসদের সঙ্গে থেকো যতক্ষণ না তারা শস্য জমা করার কাজ শেষ করছে।”
RUT 2:22 নয়মী তার বউমা রূতকে বলল, “বাছা, তোমার পক্ষে এই ভালো যে তুমি তাঁর দাসীদের সঙ্গে ছিলে কারণ অন্যের জমি হলে তোমার ক্ষতি হত।”
RUT 2:23 তাই যব ও গম কুড়ানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত রূত বোয়সের দাসীদের সঙ্গেই ছিল। এইভাবে সে তার শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে লাগল।
RUT 3:1 একদিন রূতের শাশুড়ি নয়মী তাকে বলল, “বাছা আমার, আমি কি তোমার জন্য এমন একটি ঘর দেখব না যেখানে তোমার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই তুমি পেতে পারবে?
RUT 3:2 বোয়স আমাদেরই পরিবারের লোক যাঁর দাসীদের সঙ্গে তুমি সারাদিন ছিলে। আজ রাতে তিনি খামারে যব ঝাড়াই করবেন।
RUT 3:3 তাই তেল মেখে চান করো ও গায়ে আতর লাগাও এবং তোমার সব থেকে সুন্দর কাপড়টি পরে নাও। তারপর খামারে নেমে যাও, কিন্তু সাবধান, যতক্ষণ না বোয়স খাবার খেয়ে জলপান করছেন, ততক্ষণ তিনি যেন জানতে না পারেন যে তুমি সেখানে আছ।
RUT 3:4 যখন তিনি শুতে যাবেন, ভালো করে দেখবে তিনি কোথায় শুয়েছেন। ভিতরে গিয়ে তাঁর পায়ের চাদর সরিয়ে, তুমি তাঁর পায়ের তলায় শোবে। তখন তিনি তোমাকে কী করতে হবে তা বলে দেবেন।”
RUT 3:5 রূত তার শাশুড়িকে উত্তর দিল, “আপনি আমাকে যা কিছু বললেন আমি তাই করব।”
RUT 3:6 তাই রূত খামারে নেমে গেল এবং তার শাশুড়ির কথামতো সবকিছু করল।
RUT 3:7 যখন বোয়স খাওয়াদাওয়া শেষ করে খামারের এক পাশে কোনাতে শুতে গেলেন, তাঁর মন খুব খুশি ছিল। পরে রূত চুপিচুপি খামারের ভিতরে এল। তারপর বোয়সের পায়ের চাদর সরিয়ে, তাঁর পায়ের তলায় শুয়ে পড়ল।
RUT 3:8 গভীর রাতে যখন বোয়স পাশ ফিরলেন তিনি ভয়ে চমকে উঠলেন, তিনি দেখলেন যে একজন মহিলা তাঁর পায়ের তলায় শুয়ে আছে।
RUT 3:9 বোয়স তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তুমি?” সে উত্তর দিল, “আমি আপনার দাসী রূত, আপনার দাসীর উপর আপনার চাদর ঢেকে দিন। কারণ আপনি আমাদের পরিবারের একজন মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি।”
RUT 3:10 বোয়স বললেন, “বাছা আমার, সদাপ্রভু তোমাকে আশীর্বাদ করুন। ধনী বা দরিদ্র কোনও যুবকের পিছনে না গিয়ে তুমি প্রথমে যে দয়া দেখিয়েছিলে তার থেকে এই দয়াটি মহৎ।
RUT 3:11 এখন বাছা আমার, ভয় কোরো না। তুমি যা বলবে আমি তোমার জন্য তাই করব। কারণ এই নগরের সবাই জানে যে তুমি আদর্শ চরিত্রবিশিষ্ট এক মহিলা।
RUT 3:12 একথা সত্যি যে আমি তোমার মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি কিন্তু আমার থেকেও একজন আরও খুব কাছের মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি এই নগরে আছেন।
RUT 3:13 আজ রাতটি এখানে কাটাও। সকালে আমি তাঁকে বলবো, যদি তিনি তোমাকে তাঁর নিজের করে গ্রহণ করেন তবে ভালো, কিন্তু তিনি যদি গ্রহণ না করেন তবে জীবিত সদাপ্রভুর নামে আমি তোমাকে আমার নিজের করে গ্রহণ করব! তাই সকাল পর্যন্ত এখানে শুয়ে থাকো।”
RUT 3:14 তাই রূত সকাল পর্যন্ত বোয়সের পায়ের তলায় শুয়ে থাকল, কিন্তু যখন লোকে একে অপরকে চিনতে পারে সেই সময় খুব অন্ধকার থাকতে সে উঠল; কারণ বোয়স তাকে বলেছিলেন, “দেখো কেউ যেন জানতে না পারে যে একজন মহিলা খামারে এসেছিল।”
RUT 3:15 তিনি আরও বললেন, “তোমার গায়ের শালটি আমার কাছে এনে মেলে ধরো।” সে তাই করল, বোয়স তাকে ছয় মান যব দিলেন। এরপর সে নগরে চলে গেল।
RUT 3:16 যখন রূত তার শাশুড়ির কাছে ফিরে এল, নয়মী তাকে জিজ্ঞাসা করল, “বাছা আমার, তোমার কী হল?” তখন রূত তার প্রতি যা কিছু ঘটেছিল, সব তার শাশুড়িকে বলল।
RUT 3:17 রূত আরও বলল, “তিনি এই ছয় মান যব আমাকে দিয়ে বললেন, ‘তোমার শাশুড়ির কাছে খালি হাতে যেয়ো না।’ ”
RUT 3:18 এরপর নয়মী তাকে বলল, “বাছা আমার, এবার তুমি অপেক্ষা করো আর দেখো কী হয়। কারণ যতক্ষণ না আজ কিছু স্থির হয়, তিনি আরাম করবেন না।”
RUT 4:1 ইত্যবসরে বোয়স নগরের ফটকের কাছে গেলেন এবং সেখানে বসলেন। যে মুক্তিকর্তা জ্ঞাতির কথা তিনি রূতকে বলেছিলেন, তাঁকে যখন তিনি রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেন, তখন বোয়স তাঁকে ডেকে বললেন, “বন্ধু আমার কাছে এখানে এসে বসো।” তাই তিনি বোয়সের কাছে এসে বসলেন।
RUT 4:2 বোয়স নগরের আরও দশজন প্রাচীনকে ডেকে বললেন, “এখানে আমার কাছে এসে বসুন।” তাঁরাও তাঁর কাছে এসে বসলেন।
RUT 4:3 তখন বোয়স সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতিকে বললেন, “যে নয়মী মোয়াব দেশ থেকে ফিরে এসেছে, সে তার স্বামী ইলীমেলকের জমিটি বিক্রি করতে চায়।
RUT 4:4 আমি ভাবলাম যে এই বিষয়টি তোমার নজরে আমার আনা উচিত এবং এখানে যাঁরা বসে আছেন ও আমার স্বজাতীয় প্রাচীনদের সামনে আমি এই জমিটি মুক্ত করার প্রস্তাব রাখছি। যদি তুমি সেই জমিটি মুক্ত করতে চাও, মুক্ত করতে পারো। কিন্তু যদি না করতে চাও, আমাকে বলো, যেন আমি তা জানতে পারি। কারণ সেই জমিটি মুক্ত করার প্রথম অধিকার তোমার ছাড়া আর কারোর নেই এবং তারপর সেই অধিকার আছে আমার।” সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বললেন, “আমি এটি মুক্ত করব।”
RUT 4:5 তারপর বোয়স বললেন, “যেদিন তুমি নয়মী ও রূতের কাছ থেকে সেই জমি কিনবে, সেদিন তাদের মরা লোকের সম্পত্তির সঙ্গে মরা লোকটির নাম উদ্ধার করার জন্য তার বিধবা মোয়াবীয় মহিলা রূতকে নিজের স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে হবে।”
RUT 4:6 তখন সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বললেন, “আমি মুক্ত করতে পারব না, কারণ পরে এমন হলে আমি আমার নিজের সম্পত্তিও হারাব। তুমি নিজেই এই সম্পত্তি মুক্ত করো। আমি করতে পারব না।”
RUT 4:7 (প্রাচীনকালে ইস্রায়েল জাতির মধ্যে সম্পত্তি মুক্ত করার ও তার মালিকানা হস্তান্তর করে তা চূড়ান্ত করার জন্য এক পক্ষ তার পায়ের চটি খুলে তা অন্য পক্ষকে দিয়ে দিত। ইস্রায়েলে এই প্রথা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বৈধতা পেত।)
RUT 4:8 তাই সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বোয়সকে বললেন, “তুমিই কিনে নাও।” আর তিনি নিজের চটি খুলে ফেললেন।
RUT 4:9 তখন বোয়স, যারা সেখানে বসেছিল সেই লোকদের ও প্রাচীনদের উদ্দেশে ঘোষণা করে বললেন, “আজ আমি আপনাদের সকলকে সাক্ষী রেখে ইলীমেলক, কিলিয়োন এবং মহলোনের সমস্ত সম্পত্তি নয়মীর কাছ থেকে কিনে নিলাম।
RUT 4:10 আর আমি মহলোনের স্ত্রী মোয়াবীয় রূতকে নিজের স্ত্রীরূপে সেই মৃত ব্যক্তির নাম রক্ষা করার জন্য গ্রহণ করলাম, যেন সেই ব্যক্তির নাম নগরের পারিবারিক নামের তালিকা থেকে বাদ না যায়। আজ আপনারা তার সাক্ষী হলেন!”
RUT 4:11 নগরের ফটকের কাছে যত লোক ছিল এবং প্রাচীনেরা সবাই বললেন, “আমরা এর সাক্ষী রইলাম। যে মহিলা তোমার ঘরে আসছে তাকে সদাপ্রভু রাহেল ও লেয়ার মতো তৈরি করুন, যাঁরা দুজন ইস্রায়েল পরিবারকে তৈরি করেছিলেন। ইফ্রাথায় তুমি ধনবান হও এবং বেথলেহেমে তোমার নাম বিখ্যাত হোক।
RUT 4:12 এই যুবতী মহিলার মাধ্যমে সদাপ্রভু তোমাকে যে সন্তানদের দেন, তারা যেন যিহূদা ও তামরের পুত্র পেরসের মতো হয়।”
RUT 4:13 তাই বোয়স রূতকে গ্রহণ করলেন এবং সে তাঁর স্ত্রী হল। এরপর বোয়স তার কাছে গেলে, সদাপ্রভু রূতকে গর্ভধারণ করার শক্তি দিলেন এবং সে এক ছেলের জন্ম দিল।
RUT 4:14 সেই দেশের মহিলারা নয়মীকে বলল, “সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ তিনি তোমাকে মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি থেকে আলাদা করেননি। সমগ্র ইস্রায়েল জাতির মধ্যে সে বিখ্যাত হোক!
RUT 4:15 এই পুত্র তোমার জীবন আবার নতুন করে দিক এবং বৃদ্ধাবস্থায় তোমার যত্ন করুক। কারণ তুমি যাকে সাত ছেলের থেকেও বেশি ভালোবাসো সেই এর জন্ম দিয়েছে।”
RUT 4:16 এরপর নয়মী ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে ধরল এবং তার যত্ন নিল।
RUT 4:17 সেখানে বসবাসকারী মহিলারা বলল, “নয়মীর এক ছেলে জন্মেছে!” এই বলে তারা সেই ছেলেটির নাম রাখল ওবেদ। ইনি যিশয়ের বাবা, যিনি দাউদের বাবা।
RUT 4:18 আর এই হল পেরসের পরিবারের সন্তানদের বংশতালিকা: পেরসের ছেলে হিষ্রোণ,
RUT 4:19 হিষ্রোণের ছেলে রাম, রামের ছেলে অম্মীনাদব,
RUT 4:20 অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন, নহশোনের ছেলে সলমন,
RUT 4:21 সল্‌মোনের ছেলে বোয়স, বোয়সের ছেলে ওবেদ,
RUT 4:22 ওবেদের ছেলে যিশয়, এবং যিশয়ের ছেলে দাউদ।
1SA 1:1 ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকায় রামাথয়িম-সোফিম নগরে ইল্‌কানা নামে ইফ্রয়িম গোষ্ঠীভুক্ত এক ব্যক্তি বসবাস করতেন। তাঁর বাবার নাম যিরোহম, যিরোহম ইলীহূর ছেলে, ইলীহূ তোহের ছেলে এবং তোহ ছিলেন সূফের ছেলে।
1SA 1:2 ইল্‌কানার দু্‌ই স্ত্রী ছিল; একজনের নাম হান্না, অন্যজনের নাম পনিন্না। পনিন্না সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু হান্নার কোনও সন্তান ছিল না।
1SA 1:3 প্রত্যেক বছর ইল্‌কানা নিজের নগর থেকে শীলোতে গিয়ে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর আরাধনা করতেন ও বলিদান সম্পন্ন করতেন। সেখানে এলির দুই ছেলে, হফনি ও পীনহস সদাপ্রভুর যাজকের কাজ করত।
1SA 1:4 বলিদানের নিরূপিত দিন এলে ইল্‌কানা তাঁর স্ত্রী পনিন্না ও তাঁর সব ছেলেমেয়েকে বলিকৃত মাংসের ভাগ দিতেন।
1SA 1:5 কিন্তু হান্নাকে তিনি দ্বিগুণ অংশ দিতেন, যেহেতু তিনি তাঁকে ভালোবাসতেন, এবং সদাপ্রভু হান্নাকে বন্ধ্যা করে রেখেছিলেন।
1SA 1:6 যেহেতু সদাপ্রভু হান্নাকে বন্ধ্যা করে রেখেছিলেন তাই তাঁর সতীন তাঁকে বিরক্ত করার জন্য অনবরত তাঁকে প্ররোচিত করে যেত।
1SA 1:7 বছরের পর বছর এরকম হয়েই চলেছিল। যখনই হান্না সদাপ্রভুর মন্দিরে যেতেন, তাঁর সতীন তাঁকে প্ররোচিত করত এবং তিনি অশ্রুপাত করতেন ও ভোজনপানও করতেন না।
1SA 1:8 তাঁর স্বামী ইল্‌কানা তাঁকে বলতেন, “হান্না, তুমি কেন অশ্রুপাত করছ? তুমি ভোজনপান করছ না কেন? তুমি মন খারাপই বা করে আছ কেন? তোমার কাছে দশ ছেলের চেয়ে আমি কি বেশি নই?”
1SA 1:9 একবার শীলোতে তাঁদের ভোজনপান শেষ হয়ে যাওয়ার পর হান্না উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। যাজক এলি তখন সদাপ্রভুর গৃহের দ্বারে, তাঁর আসনে বসেছিলেন।
1SA 1:10 গভীর মনোবেদনা নিয়ে হান্না অশ্রুপাত করে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন।
1SA 1:11 তিনি শপথ করে বললেন, “হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, যদি তুমি শুধু তোমার এই দাসীর দুর্দশা দেখে আমাকে স্মরণ করো, এবং তোমার এই দাসীকে ভুলে না গিয়ে আমাকে একটি ছেলে দাও, তবে আমি তাকে সারাটি জীবনের জন্য সদাপ্রভুর হাতে সমর্পণ করে দেব, এবং তার মাথায় কখনও ক্ষুর ব্যবহার করা হবে না।”
1SA 1:12 তিনি যখন সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করেই যাচ্ছিলেন তখন এলি তাঁর মুখটি নিরীক্ষণ করছিলেন।
1SA 1:13 হান্না মনে মনে প্রার্থনা করছিলেন, এবং তাঁর ঠোঁট দুটি কাঁপছিল কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল না। এলি ভেবেছিলেন, হান্না মদ্যপান করেছেন।
1SA 1:14 তিনি তাঁকে বললেন, “আর কত কাল তুমি মদ্যপ অবস্থায় থাকবে? মদ্যপান করা বন্ধ করো।”
1SA 1:15 হান্না উত্তর দিলেন, “হে আমার প্রভু, এমনটি নয়; আমি এমন এক নারী, যে বড়োই দুঃখিনী। আমি দ্রাক্ষারস পান করিনি বা মদ্যপানও করিনি; আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমার অন্তর উজাড় করে দিচ্ছিলাম।
1SA 1:16 আপনার এই দাসীকে বদ মহিলা বলে মনে করবেন না; আমি গভীর দুঃখ ও মনস্তাপ নিয়ে এখানে প্রার্থনা করে চলেছি।”
1SA 1:17 এলি উত্তর দিলেন, “শান্তিপূর্বক চলে যাও, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছে তুমি যা চেয়েছ, তিনি তা তোমাকে দান করুন।”
1SA 1:18 হান্না বললেন, “আপনার এই দাসী আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহপ্রাপ্ত হোক।” পরে তিনি ফিরে গিয়ে ভোজনপান করলেন, এবং তাঁর মুখ আর বিষণ্ণ থাকেনি।
1SA 1:19 পরদিন ভোরবেলায় তাঁরা উঠে সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন এবং পরে রামায় তাঁদের বাড়িতে ফিরে গেলেন। ইল্‌কানা তাঁর স্ত্রী হান্নার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেন, এবং সদাপ্রভু হান্নাকে স্মরণ করলেন।
1SA 1:20 যথাসময়ে হান্না গর্ভবতী হলেন এবং এক ছেলের জন্ম দিলেন। তিনি এই বলে ছেলের নাম রাখলেন শমূয়েল যে, “আমি সদাপ্রভুর কাছ থেকে তাকে চেয়ে নিয়েছি।”
1SA 1:21 হান্নার স্বামী ইল্‌কানা যখন তাঁর সম্পূর্ণ পরিবারসহ সদাপ্রভুর উদ্দেশে বাৎসরিক বলিদান উৎসর্গ করতে ও তাঁর মানত পূরণ করতে গেলেন,
1SA 1:22 হান্না সঙ্গে যাননি। তিনি তাঁর স্বামীকে বললেন, “বালকটির স্তন্য-ত্যাগ করানোর পরই আমি তাকে নিয়ে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত করব, এবং সে আজীবন সেখানে বসবাস করবে।”
1SA 1:23 তাঁর স্বামী ইল্‌কানা তাঁকে বললেন, “তোমার যা ভালো বলে মনে হয়, তুমি তাই করো। তার স্তন্য-ত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তুমি এখানে থাকো; সদাপ্রভু শুধু যেন তাঁর বাক্য সুস্থির করেন।” অতএব হান্না ঘরে থেকে গিয়ে ছেলেটি স্তন্য-ত্যাগ না করা পর্যন্ত তাকে স্তন্যদান করে যেতে লাগলেন।
1SA 1:24 সে স্তন্য-ত্যাগ করার পর তিনি একটি তিন বছর বয়স্ক বলদ, এক ঐফা ময়দা, এবং এক মশক দ্রাক্ষারস সমেত ছেলেটিকে শীলোতে সদাপ্রভুর গৃহে নিয়ে গেলেন।
1SA 1:25 বলদটিকে বলি দেওয়ার পর তাঁরা ছেলেটিকে এলির কাছে নিয়ে গেলেন,
1SA 1:26 এবং হান্না তাঁকে বললেন, “হে আমার প্রভু, আমায় ক্ষমা করবেন। আপনার জীবনের দিব্যি, আমিই সেই নারী, যে এখানে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করছিল।
1SA 1:27 আমি এই শিশুটির জন্য প্রার্থনা করেছিলাম, এবং সদাপ্রভুর কাছে আমি যা চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তাই দিয়েছেন।
1SA 1:28 অতএব, এখন আমি একে সদাপ্রভুর হাতে সমর্পণ করছি। সারাটি জীবনের জন্য সে সদাপ্রভুর হয়েই থাকবে।” পরে তাঁরা সেখানে সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন।
1SA 2:1 পরে হান্না প্রার্থনা করে বললেন: “মম অন্তর সদাপ্রভুতে আনন্দিত রয়; মম শৃঙ্গ সদাপ্রভুতে উন্নত হয়। মম মুখ শত্রুদের পরে গর্বিত হয়, তব উদ্ধারে আমি আনন্দিত হই।
1SA 2:2 “সদাপ্রভুর মতো পবিত্র কেউ যে আর নেই; মোদের ঈশ্বরের মতো শৈল যে আর নেই।
1SA 2:3 “এত গর্বভরে তোমরা কথা বোলো না তব মুখ এত অহংকারে ভরা কথা না বলুক কারণ সদাপ্রভু এমন ঈশ্বর যিনি সব জানেন, আর তিনি কাজের হিসেব ওজন করে রাখেন।
1SA 2:4 “যোদ্ধাদলের ধনুসকল ভগ্ন হয়েছে, কিন্তু যারা ঠোকর খেয়েছে তারা সুসংলগ্ন হয়েছে।
1SA 2:5 ক্ষুধার জ্বালায় পূর্ণ-উদর বেতনজীবী হয়েছে, কিন্তু যাদের ক্ষুধা ছিল তারা আজ তৃপ্ত হয়েছে। যিনি বন্ধ্যা ছিলেন তিনি সপ্ত সন্তান জন্ম দিলেন, কিন্তু যে বহু পুত্রের জননী সে আজ দুর্বলভারলব্ধা।
1SA 2:6 “সদাপ্রভু মৃত্যু আনেন ও তিনি জীবনও দেন তিনি কবরস্থানে পাঠান ও বাঁচিয়ে তোলেন।
1SA 2:7 সদাপ্রভু দারিদ্র ও সম্পদ পাঠিয়ে দেন; তিনিই নত করেন আবার উন্নতও করেন।
1SA 2:8 তিনি ধুলো থেকে দরিদ্রকে উত্তোলন করেন আর ভস্মস্তূপের মধ্য থেকে অভাবীকে তোলেন; তাদের তিনি রাজাধিরাজদের সাথে বসিয়ে দেন আর তাদের সম্মানের রাজাসনে বসিয়ে দেন। “কেননা ধরাধামের বনেদগুলি সদাপ্রভুরই অধিকার; তিনি সেগুলির উপরে এই চরাচর ধরে রেখেছেন।
1SA 2:9 তিনি তাঁর ভক্তজনের চরণগুলি রক্ষা করবেন, কিন্তু দুরাচারী আঁধারে ঘেরা স্থানে নির্বাক হবে। “বলবীর্যে কেউ যুদ্ধে বিজয়শ্রী হয় না;
1SA 2:10 যারা সদাপ্রভুর বিরোধিতা করে তারা চুরমার হবে। স্বর্গ হতে পরাৎপর বজ্রাঘাত করবেন; সদাপ্রভু সমগ্র মর্ত্যলোকের বিচার করবেন। “তিনিই তাঁর রাজাকে শক্তি সামর্থ্য দেবেন আর অভিষিক্ত-জনের শৃঙ্গ উন্নত করবেন।”
1SA 2:11 পরে ইল্‌কানা রামায় তাঁর ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু ছেলেটি যাজক এলির অধীনে থেকে সদাপ্রভুর পরিচর্যা করতে থাকলো।
1SA 2:12 এলির ছেলেরা ছিল একেবারে অমানুষ; সদাপ্রভুকে তারা আদৌ শ্রদ্ধা করত না।
1SA 2:13 সেখানে যাজকদের এই প্রথা প্রচলিত ছিল যে, যখনই কেউ উপহার বলি উৎসর্গ করতে আসত, বলির মাংস সিদ্ধ হওয়ার সময় যাজকের দাস হাতে ত্রিফলাযুক্ত এক কাঁটাচামচ নিয়ে চলে আসত
1SA 2:14 এবং সেই কাঁটাচামচটি চাটু বা কেটলি বা কড়াই বা রান্নার পাত্রে সজোরে নিক্ষেপ করত। কাঁটাচামচের সঙ্গে যা উঠে আসত যাজক তা নিজের জন্য রেখে দিত। শীলোতে যেসব ইস্রায়েলী আসত, তাদের প্রতি তারা এরকমই আচরণ করত।
1SA 2:15 কিন্তু মেদ দহনের আগেই, যাজকের দাস এসে বলি উৎসর্গকারী ব্যক্তিকে বলত, “ঝলসানোর জন্য যাজককে কিছুটা মাংস দাও; তিনি তোমার কাছ থেকে সিদ্ধ মাংস নেবেন না, কিন্তু শুধু কাঁচা মাংসই নেবেন।”
1SA 2:16 যদি সেই লোকটি তাকে বলত, “আগে মেদ দহন হয়ে যাক, পরে তোমার যা ইচ্ছা তা নিও,” তখন দাসটি উত্তর দিত, “তা হবে না, এখনই সেটি আমার হাতে তুলে দাও; যদি না দাও, আমি তবে জোর করে তা কেড়ে নেব।”
1SA 2:17 সদাপ্রভুর দৃষ্টিগোচরে যুবকদের এই পাপটি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে গণ্য হল, কারণ তারা সদাপ্রভুর উপহার বলিকে তুচ্ছজ্ঞান করে যাচ্ছিল।
1SA 2:18 কিন্তু কিশোর শমূয়েল মসিনার এফোদ গায়ে দিয়ে সদাপ্রভুর সামনে থেকে পরিচর্যা করে যাচ্ছিল।
1SA 2:19 প্রতি বছর তার মা তার জন্য একটি করে আকারে ছোটো, লম্বা ঢিলেঢালা বর্হিবাস তৈরি করে যখন তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে বাৎসরিক বলিদান সম্পন্ন করতে আসতেন, তখন সেটি তার কাছে নিয়ে আসতেন।
1SA 2:20 এলি ইল্‌কানা ও তাঁর স্ত্রীকে আশীর্বাদ করে বলতেন, “এই স্ত্রীলোকটি প্রার্থনা করে সন্তান পেয়েও যাকে সদাপ্রভুর হাতে তুলে দিয়েছিল, তার স্থান নেওয়ার জন্য সদাপ্রভু তোমাকে তার মাধ্যমে আরও সন্তান দান করুন।” পরে তাঁরা ঘরে ফিরে যেতেন।
1SA 2:21 সদাপ্রভু হান্নার প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়েছিলেন; হান্না তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দিলেন। এদিকে, কিশোর শমূয়েল সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে বেড়ে উঠছিল।
1SA 2:22 ইতিমধ্যে এলি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, ও তাঁর ছেলেরা সব ইস্রায়েলী মানুষজনের প্রতি যা যা করত ও যেসব স্ত্রীলোক সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে সেবাকাজে লিপ্ত থাকত, কীভাবে তারা তাদের সঙ্গে যৌন মিলনে মিলিত হত, সেসব কথা তিনি শুনতে পেয়েছিলেন।
1SA 2:23 অতএব তিনি তাদের বললেন, “তোমরা কেন এরকম কাজ করছ? আমি সব মানুষজনের কাছ থেকে তোমাদের এইসব কুকর্মের কথা শুনতে পাচ্ছি।
1SA 2:24 না না, বাছা; সদাপ্রভুর প্রজাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া যে খবর আমি শুনতে পাচ্ছি, তা ভালো নয়।
1SA 2:25 একজন ব্যক্তি যদি অন্যজনের বিরুদ্ধে পাপ করে, তবে ঈশ্বর হয়তো অপরাধীর হয়ে মধ্যস্থতা করবেন; কিন্তু কেউ যদি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধেই পাপ করে বসে, কে তার হয়ে মধ্যস্থতা করবে?” যাই হোক না কেন, তাঁর ছেলেরা তাদের বাবার তিরস্কারে কান দেয়নি, কারণ সদাপ্রভুই তাদের মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।
1SA 2:26 কিশোর শমূয়েল ক্রমাগত দৈহিক উচ্চতায় এবং সদাপ্রভুর ও মানুষজনের অনুগ্রহে বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছিল।
1SA 2:27 ইত্যবসরে, ঈশ্বরের একজন লোক এলির কাছে এসে তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভু একথা বলছেন: ‘তোমার পূর্বপুরুষের পরিবার যখন মিশরে ফরৌণের অধীনে ছিল, তখন কি আমি নিজেকে স্পষ্টভাবে তাদের কাছে প্রকাশ করিনি?
1SA 2:28 ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে আমি তোমার পূর্বপুরুষকে বেছে নিয়ে তাকে আমার যাজক করেছিলাম, আমার বেদিতে যাওয়ার, ধূপদাহ করার, ও আমার উপস্থিতিতে এফোদ গায়ে দেওয়ার অধিকারও দিয়েছিলাম। ইস্রায়েলীদের উপহার দেওয়া সব ভক্ষ্য-নৈবেদ্যও আমি তোমার পূর্বপুরুষের পরিবারকে দিয়েছিলাম।
1SA 2:29 তোমরা কেন তবে আমার সেই নৈবেদ্য ও উপহার অশ্রদ্ধেয় জ্ঞান করছ, যা আমি আমার বাসস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছি? আমার প্রজা ইস্রায়েলের দেওয়া প্রত্যেকটি উপহারের বাছাই করা অংশগুলি দিয়ে নিজেদের পুষ্ট করার দ্বারা কেন তুমি আমার তুলনায় তোমার ছেলেদের বেশি সম্মান জানাচ্ছ?’
1SA 2:30 “অতএব, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে তোমার পরিবারের সদস্যরা আমার সামনে চিরকাল পরিচর্যা করে যাবে।’ কিন্তু এখন সদাপ্রভু একথা বলেন: ‘আর তা হবে না! যারা আমাকে সম্মান করে আমি তাদের সম্মানিত করব, কিন্তু যারা আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তারা উপেক্ষিত হবে।
1SA 2:31 সময় আসছে যখন আমি তোমার শক্তি ও তোমার যাজকীয় পরিবারের শক্তি এভাবে খর্ব করব, যেন এই পরিবারের কেউ বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছাতে না পারে,
1SA 2:32 এবং তুমি আমার বাসস্থানে চরম দুর্দশা দেখবে। যদিও ইস্রায়েলের প্রতি মঙ্গল বর্ষিত হবে, তোমার বংশে কেউ কখনও বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছাবে না।
1SA 2:33 তোমাদের মধ্যে যাকে আমি আমার বেদিতে সেবাকাজ করার জন্য না মেরে বাঁচিয়ে রাখব, সে শুধু তোমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করার ও তোমার শক্তি নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্যই বেঁচে থাকবে, এবং তোমার সব বংশধর যুবাবস্থাতেই মারা যাবে।
1SA 2:34 “ ‘তোমার দুই ছেলে, হফনি ও পীনহসের প্রতি যা ঘটবে, তা তোমার পক্ষে এক চিহ্নস্বরূপ হবে: তারা দুজন একই দিনে মরবে।
1SA 2:35 আমার জন্য আমি এক বিশ্বস্ত যাজক গড়ে তুলব, যে আমার অন্তর ও মনের বাসনানুসারে কাজ করবে। আমি তার যাজকীয় পরিবারকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করব, এবং তারা অভিষিক্ত ব্যক্তিরূপে চিরকাল আমার সামনে পরিচর্যা করবে।
1SA 2:36 তখন তোমার পরিবারের বাদবাকি প্রত্যেকে তাঁর সামনে এসে একখণ্ড রুপো ও এক টুকরো রুটির জন্য নতজানু হয়ে অনুরোধ জানিয়ে বলবে, “আমাকে কোনও যাজকীয় কাজে নিযুক্ত করুন যেন আমি কিছু খেতে পাই।” ’ ”
1SA 3:1 কিশোর শমূয়েল এলির অধীনে থেকে সদাপ্রভুর পরিচর্যা করে যাচ্ছিল। সেকালে সদাপ্রভুর বাক্য বিরল ছিল; দর্শনও খুব একটা দেখতে পাওয়া যেত না।
1SA 3:2 এলির দৃষ্টিশক্তি এতই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিল যে তিনি প্রায় দেখতেই পেতেন না। এই অবস্থায় রাতের বেলায় একদিন তিনি সেখানে শুয়েছিলেন, যেখানে সচরাচর তিনি শুয়ে থাকতেন।
1SA 3:3 সদাপ্রভুর প্রদীপ তখনও নেভানো হয়নি, এবং শমূয়েল সদাপ্রভুর সেই গৃহে শুয়েছিলেন, যেখানে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুক রাখা থাকত।
1SA 3:4 তখন সদাপ্রভু শমূয়েলকে ডাক দিলেন। শমূয়েল উত্তর দিল, “আমি এখানে।”
1SA 3:5 আর সে দৌড়ে এলির কাছে গিয়ে বলল, “আপনি আমায় ডাকছেন; আমি তো এখানে।” কিন্তু এলি বললেন, “আমি তোমায় ডাকিনি; ফিরে গিয়ে তুমি শুয়ে পড়ো।” অতএব সে ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
1SA 3:6 সদাপ্রভু আবার ডাক দিলেন, “শমূয়েল!” শমূয়েলও এলির কাছে গিয়ে বলল, “আপনি আমায় ডাকছেন; আমি তো এখানে।” “ওহে বাছা,” এলি বললেন, “আমি তোমায় ডাকিনি; ফিরে গিয়ে তুমি শুয়ে পড়ো।”
1SA 3:7 তখনও পর্যন্ত শমূয়েল সদাপ্রভুর পরিচয় পায়নি: সদাপ্রভুর বাক্য তখনও তার কাছে প্রকাশিত হয়নি।
1SA 3:8 তৃতীয়বার সদাপ্রভু ডাক দিলেন, “শমূয়েল!” শমূয়েলও উঠে এলির কাছে গিয়ে বলল, “আপনি আমায় ডাকছেন; আমি তো এখানে।” তখন এলি অনুভব করলেন যে সদাপ্রভুই ছেলেটিকে ডাকছিলেন।
1SA 3:9 অতএব এলি শমূয়েলকে বললেন, “তুমি ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়ো, আর যদি তিনি আবার তোমায় ডাকেন, তুমি বোলো, ‘সদাপ্রভু, বলুন, কারণ আপনার দাস শুনছে।’ ” অতএব শমূয়েল ফিরে গিয়ে নিজের জায়গায় শুয়ে পড়ল।
1SA 3:10 সদাপ্রভু এসে, সেখানে দাঁড়িয়ে অন্যান্যবারের মতো এবারও ডাক দিয়ে বললেন, “শমূয়েল! শমূয়েল!” তখন শমূয়েল বলল, “বলুন, কারণ আপনার দাস শুনছে।”
1SA 3:11 সদাপ্রভু শমূয়েলকে বললেন: “দেখো, ইস্রায়েলের মধ্যে আমি এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা শুনে প্রত্যেকের কান ভোঁ ভোঁ করবে।
1SA 3:12 আমি এলির পরিবারের সম্বন্ধে যা যা বলেছি, সেই সময় আমি এলির প্রতি—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিক তাই ঘটাব।
1SA 3:13 কারণ আমি তাকে বলেছি যে তার জানা পাপের কারণে আমি চিরতরে তার পরিবারের বিচার করতে চলেছি; তার ছেলেরা ঈশ্বরনিন্দা করেছে, আর সে তাদের শাসন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
1SA 3:14 তাই আমি এলির বংশের উদ্দেশে শপথ করে বলেছি, ‘এলির বংশের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত, বলি বা নৈবেদ্য দ্বারা হবে না।’ ”
1SA 3:15 শমূয়েল সকাল পর্যন্ত শুয়ে থাকল ও পরে সদাপ্রভুর গৃহের দরজাগুলি খুলে দিল। এলিকে দর্শনটির কথা বলতে তার ভয় হচ্ছিল,
1SA 3:16 কিন্তু এলি তাকে ডেকে বললেন, “বাছা শমূয়েল।” শমূয়েল উত্তর দিল, “আমি এখানে।”
1SA 3:17 “তিনি তোমাকে কী বলেছেন?” এলি প্রশ্ন করলেন। “আমার কাছে তা লুকিয়ে রেখো না। তিনি তোমাকে যা বলেছেন তার কোনো কিছু যদি তুমি আমার কাছে লুকিয়ে রাখো, তবে যেন ঈশ্বর তোমাকে কড়া শাস্তি দেন।”
1SA 3:18 তখন শমূয়েল তাঁকে সবকিছু বলে দিল, তাঁর কাছে কিছুই লুকিয়ে রাখল না। পরে এলি বললেন, “তিনি সদাপ্রভু; তাঁর দৃষ্টিতে যা ভালো বলে মনে হয়, তিনি তাই করুন।”
1SA 3:19 শমূয়েল যখন বেড়ে উঠেছিলেন সদাপ্রভু তখন তাঁর সহবর্তী ছিলেন, আর তিনি শমূয়েলের কোনও কথা ব্যর্থ হতে দিতেন না।
1SA 3:20 আর দান থেকে শুরু করে বের-শেবা পর্যন্ত ইস্রায়েলীরা সবাই স্বীকার করে নিল যে শমূয়েল সদাপ্রভুর এক ভাববাদীরূপে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
1SA 3:21 সদাপ্রভু শীলোতে দর্শন দিতে থাকলেন, এবং সেখানে তিনি তাঁর বাক্যের মাধ্যমে নিজেকে শমূয়েলের কাছে প্রকাশিত করলেন।
1SA 4:1 আর শমূয়েলের বাক্য সব ইস্রায়েলীর কাছে পৌঁছে গেল। ইস্রায়েলীরা তখন ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করল। ইস্রায়েলীরা এবন-এষরে সৈন্যদলের শিবির স্থাপন করল, এবং ফিলিস্তিনীরা অফেকে তাদের শিবির স্থাপন করল।
1SA 4:2 ইস্রায়েলের সঙ্গে সম্মুখসমরে নামার জন্য ফিলিস্তিনীরা তাদের সৈন্যদল সাজিয়েছিল, এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইস্রায়েল ফিলিস্তিনীদের কাছে পরাজিত হল। যুদ্ধক্ষেত্রে ফিলিস্তিনীরা তাদের প্রায় 4,000 সৈন্যকে হত্যা করল।
1SA 4:3 সৈনিকরা শিবিরে ফিরে আসার পর ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা তাদের প্রশ্ন করলেন, “সদাপ্রভু কেন ফিলিস্তিনীদের সামনে আজ আমাদের পরাজিত হতে দিলেন? এসো, শীলো থেকে আমরা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসি, যেন তিনি আমাদের সঙ্গে সঙ্গে যান এবং শত্রুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেন।”
1SA 4:4 অতএব লোকেরা কয়েকজনকে শীলোতে পাঠিয়ে দিল, এবং তারা সেই সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি ফিরিয়ে নিয়ে এল, যিনি করূবদ্বয়ের মধ্যে বিরাজমান। এলির দুই ছেলে, হফনি ও পীনহস, ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকের সঙ্গে সেখানে ছিল।
1SA 4:5 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক যখন সৈন্যশিবিরে এল, ইস্রায়েলীরা সবাই এত জোরে চিৎকার করে উঠল যে ধরাতল কেঁপে উঠেছিল।
1SA 4:6 কোলাহল শুনে, ফিলিস্তিনীরা প্রশ্ন করল, “হিব্রুদের শিবিরে এত চিৎকার শোনা যাচ্ছে কেন?” ফিলিস্তিনীরা যখন জানতে পারল যে সদাপ্রভুর সিন্দুক শিবিরে এসেছে,
1SA 4:7 তখন তারা ভয় পেয়ে গেল। “শিবিরে একজন দেবতা এসে পড়েছেন,” তারা বলল। “আরে না! এর আগে এমনটি কখনও ঘটেনি।
1SA 4:8 আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেল! এইসব শক্তিশালী দেবতার হাত থেকে কে আমাদের রক্ষা করবে? তারা সেইসব দেবতা, যারা মরুপ্রান্তরে সব ধরনের উপদ্রব দিয়ে মিশরীয়দের আঘাত করেছিলেন।
1SA 4:9 ফিলিস্তিনীরা, শক্তপোক্ত হও! পুরুষত্ব দেখাও, তা না হলে হিব্রুরা যেভাবে তোমাদের বশীভূত হয়েছিল, তোমরাও তাদের বশীভূত হয়ে পড়বে। পুরুষের মতো যুদ্ধ করো!”
1SA 4:10 অতএব ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধ করল, আর ইস্রায়েলীরা পরাজিত হয়ে প্রত্যেকে নিজের নিজের তাঁবুতে ফিরে গেল। হত্যালীলা চরম শিখরে পৌঁছাল; ইস্রায়েল 30,000 পদাতিক সৈন্য হারাল।
1SA 4:11 সদাপ্রভুর সিন্দুকটি শত্রুদের হস্তগত হল, এবং এলির দুই ছেলে, হফনি ও পীনহস মারা গেল।
1SA 4:12 ঠিক সেদিনই বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত একজন লোক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ছিন্নবস্ত্রে ও ধূলিধূসরিত মস্তকে শীলোতে পালিয়ে গেল।
1SA 4:13 সে যখন সেখানে পৌঁছাল, এলি তখন পথের ধারে তাঁর আসনে বসে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, কারণ ঈশ্বরের সিন্দুকের জন্য তাঁর অন্তর ব্যাকুল হয়েছিল। যখন সেই লোকটি নগরে প্রবেশ করে যা যা ঘটেছিল, তা সবিস্তারে বলে শোনাল, তখন গোটা নগরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেল।
1SA 4:14 এলি সেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, “এত গোলমাল হচ্ছে কেন?” লোকটি তৎক্ষণাৎ এলির কাছে দৌড়ে গেল।
1SA 4:15 তাঁর বয়স তখন আটানব্বই বছর এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ায় তিনি দেখতেও পাচ্ছিলেন না।
1SA 4:16 লোকটি এলিকে বলল, “আমি এইমাত্র যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এসেছি; আজই আমি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি।” এলি জিজ্ঞাসা করলেন, “বাছা, কী হয়েছে?”
1SA 4:17 সংবাদবাহক লোকটি উত্তর দিল, “ইস্রায়েল ফিলিস্তিনীদের সামনে থেকে পালিয়ে গিয়েছে, এবং সৈন্যদল ভারী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া আপনার দুই ছেলে, হফনি ও পীনহসও মারা গিয়েছে, এবং ঈশ্বরের সিন্দুকও শত্রুদের করায়ত্ত হয়েছে।”
1SA 4:18 সে ঈশ্বরের সিন্দুকের কথা বলামাত্র, এলি দরজার পাশেই তাঁর আসন থেকে পিছন দিকে উল্টে পড়ে গেলেন। তাঁর ঘাড় ভেঙে গেল এবং তিনি মারা গেলেন, কারণ তাঁর বয়স হয়েছিল, ও তাঁর শরীরও ভারী ছিল। তিনি চল্লিশ বছর ধরে ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
1SA 4:19 তাঁর পুত্রবধূ, তথা পীনহসের স্ত্রী, গর্ভবতী ছিল ও তার প্রসবকালও ঘনিয়ে এসেছিল। ঈশ্বরের সিন্দুক শত্রুদের করায়ত্ত হয়েছে এবং তার শ্বশুরমশাই ও স্বামী মারা গিয়েছেন, এই খবর শুনে তার প্রসববেদনা শুরু হল ও সে এক সন্তানের জন্ম দিল, কিন্তু প্রসববেদনায় সে অবসন্ন হয়ে পড়েছিল।
1SA 4:20 সে যখন মারা যাচ্ছিল, তার শুশ্রুষাকারী স্ত্রীলোকেরা বলল, “হতাশ হোয়ো না; তুমি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছ।” কিন্তু সে উত্তর দেয়নি বা তাদের কথায় মনোযোগও দেয়নি।
1SA 4:21 সে এই বলে ছেলেটির নাম ঈখাবোদ রেখেছিল যে, “ইস্রায়েল থেকে প্রতাপ চলে গিয়েছে,” যেহেতু ঈশ্বরের সিন্দুক শত্রুদের করায়ত্ত হয়েছে এবং তার শ্বশুরমশাই ও স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
1SA 4:22 সে বলল, “ইস্রায়েল থেকে প্রতাপ চলে গিয়েছে, কারণ ঈশ্বরের সিন্দুক শত্রুদের করায়ত্ত হয়েছে।”
1SA 5:1 ফিলিস্তিনীরা ঈশ্বরের সিন্দুকটি করায়ত্ত করার পর, তারা সেটিকে এবন-এষর থেকে অস্‌দোদে এনেছিল।
1SA 5:2 পরে তারা সিন্দুকটিকে দাগোন দেবতার মন্দিরে এনে দাগোনের মূর্তির পাশেই রেখে দিয়েছিল।
1SA 5:3 অস্‌দোদের অধিবাসীরা পরদিন সকালে উঠে দেখল, সদাপ্রভুর সিন্দুকের সামনে দাগোন মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে! তারা দাগোনকে তুলে এনে আবার স্বস্থানে বসিয়ে দিল।
1SA 5:4 কিন্তু পরদিন সকালে উঠে তারা দেখল, আবার সদাপ্রভুর সিন্দুকের সামনে দাগোন মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে! সেটির মাথা ও হাত দুটি ভাঙা অবস্থায় দোরগোড়ায় লুটিয়ে পড়েছে; শুধু দেহের মূল অংশটি অবশিষ্ট রয়েছে।
1SA 5:5 ঠিক এই কারণে আজও পর্যন্ত না দাগোনের যাজকেরা আর না অন্য কেউ, অস্‌দোদে দাগোনের মন্দিরে প্রবেশ করে চৌকাঠ মাড়ায়।
1SA 5:6 অস্‌দোদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজনের উপর সদাপ্রভুর হাত ভারী হল; তাদের উপর তিনি প্রলয় নিয়ে এলেন এবং আব দিয়ে তাদের দৈহিক যন্ত্রণাগ্রস্ত করলেন।
1SA 5:7 যা যা ঘটছিল, তা দেখে অস্‌দোদের মানুষজন বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটি এখানে আমাদের সঙ্গে যেন না থাকে, কারণ তাঁর হাত আমাদের ও আমাদের দেবতা দাগোনের উপর ভারী হয়ে পড়েছে।”
1SA 5:8 অতএব তারা ফিলিস্তিনীদের সব শাসনকর্তাকে একত্রিত করে বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটি নিয়ে আমরা কী করব?” তারা উত্তর দিল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটি গাতে পাঠিয়ে দেওয়া যাক।” অতএব তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটি সেখানে পাঠিয়ে দিল।
1SA 5:9 কিন্তু তারা সেটিকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়ার পর, সদাপ্রভুর হাত সেই নগরটির বিরুদ্ধেও প্রসারিত হল, সেখানেও মহা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। ছোটো-বড়ো নির্বিশেষে, নগরের সব মানুষজনের শরীরে আব ফুটিয়ে তিনি তাদের দৈহিক যন্ত্রণা দিলেন।
1SA 5:10 তাই তারা ঈশ্বরের সিন্দুকটিকে ইক্রোণে পাঠিয়ে দিল। ঈশ্বরের সিন্দুকটি যখন ইক্রোণে প্রবেশ করছিল, তখন ইক্রোণের অধিবাসীরা চিৎকার করে বলে উঠল, “এরা আমাদের ও আমাদের মানুষজনকে হত্যা করার জন্য ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটি আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে।”
1SA 5:11 অতএব তারা ফিলিস্তিনীদের সব শাসনকর্তাকে একত্রিত করে বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটিকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান; এটি স্বস্থানে ফিরে যাক, তা না হলে এটি আমাদের ও আমাদের লোকজনকে মেরে ফেলবে।” কারণ মৃত্যুর আতঙ্ক গোটা নগরে ছড়িয়ে পড়েছিল; ঈশ্বরের হাত নগরটির উপরে খুব ভারী হয়ে গেল।
1SA 5:12 যারা মারা যায়নি, তারাও আবের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিল, এবং নগরটির আর্তনাদ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেল।
1SA 6:1 সদাপ্রভুর সিন্দুকটি সাত মাস ফিলিস্তিনী এলাকায় থাকার পর,
1SA 6:2 ফিলিস্তিনীরা যাজক ও গণৎকারদের ডেকে পাঠিয়ে বলল, “সদাপ্রভুর সিন্দুকটিকে নিয়ে আমরা কী করব? আমাদের বলুন, কীভাবে আমরা এটিকে স্বস্থানে ফেরত পাঠাব?”
1SA 6:3 তারা উত্তর দিল, “তোমরা যদি ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুকটিকে ফেরত পাঠাতেই চাও, তবে একটি উপহার না দিয়ে সেটিকে তাঁর কাছে ফেরত পাঠিয়ো না; যে করেই হোক না কেন, তাঁর কাছে একটি দোষার্থক-নৈবেদ্য পাঠাও। তখনই তোমরা সুস্থ হবে, এবং তোমরা জানতে পারবে কেন তাঁর হাত তোমাদের উপর থেকে সরে যায়নি।”
1SA 6:4 ফিলিস্তিনীরা জিজ্ঞাসা করল, “তাঁর কাছে আমরা কী রকম দোষার্থক-নৈবেদ্য পাঠাব?” তারা উত্তর দিল, “ফিলিস্তিনী শাসনকর্তাদের সংখ্যানুসারে পাঁচটি সোনার আব এবং পাঁচটি সোনার ইঁদুর, কারণ একই আঘাত তোমাদের উপর ও তোমাদের শাসনকর্তাদের উপরও নেমে এসেছে।
1SA 6:5 তোমরা দেশ ধ্বংসকারী আব ও ইঁদুরের ছাঁচ গড়ে তোলো, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করো। হয়তো তিনি তোমাদের, তোমাদের দেবদেবীদের ও তোমাদের দেশের উপর থেকে তাঁর হাত সরিয়ে নেবেন।
1SA 6:6 মিশরীয়দের ও ফরৌণের মতো তোমরাও কেন তোমাদের অন্তর কঠোর করছ? ইস্রায়েলের ঈশ্বর যখন তাদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করেছিলেন, তারা কি ইস্রায়েলীদের যেতে দিতে বাধ্য হয়নি?
1SA 6:7 “তবে এখন, নতুন একটি গাড়ি সমেত দুটি এমন গরু প্রস্তুত রাখো, যেগুলির বাছুর আছে ও যেগুলির ঘাড়ে কখনও জোয়াল চাপেনি। গরু দুটিকে গাড়ির সঙ্গে জুড়ে দিয়ো, কিন্তু তাদের বাছুরগুলিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে খোঁয়াড়ে পুরে দিয়ো।
1SA 6:8 সদাপ্রভুর সিন্দুকটিকে নিয়ে সেটিকে গাড়ির উপরে রেখো, এবং সেটির পাশে একটি কাঠের বাক্সের মধ্যে সেইসব সোনার বস্তু রেখে দিয়ো, যেগুলি তোমরা দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে তাঁর কাছে পাঠাচ্ছ। গাড়িটিকে নিজের মতো করে যেতে দিয়ো,
1SA 6:9 তবে সেটির উপর নজর রেখো। সেটি যদি নিজের এলাকায়, বেত-শেমশের দিকে যায়, তবে জানবে যে সদাপ্রভুই আমাদের উপর এই মহা দুর্বিপাক এনেছেন। কিন্তু যদি সেটি সেদিকে না যায়, তবে আমরা জানব যে তাঁর হাত আমাদের আঘাত করেনি কিন্তু হঠাৎ করেই তা আমাদের প্রতি ঘটে গিয়েছে।”
1SA 6:10 অতএব তারা এরকমই করল। তারা এ ধরনের দুটি গরু নিয়ে সেগুলি গাড়িতে জুড়ে দিল ও বাছুরগুলিকে খোঁয়াড়ে পুরে দিল।
1SA 6:11 সদাপ্রভুর সিন্দুকটি তারা গাড়িটির উপর বসিয়ে দিল এবং সেটির পাশাপাশি তারা কাঠের বাক্সের মধ্যে সোনার ইঁদুর ও আবের ছাঁচও রেখে দিল।
1SA 6:12 গরুগুলি তখন সোজা পথের মাঝখান দিয়ে হাম্বা হাম্বা ডাক ছেড়ে বেত-শেমশের দিকে এগিয়ে গেল; সেগুলি ডাইনে বা বাঁয়ে, কোনোদিকেই ঘোরেনি। বেত-শেমশের সীমান্ত পর্যন্ত ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা সেগুলির পশ্চাদ্ধাবন করে গেল।
1SA 6:13 বেত-শেমশের মানুষজন তখন উপত্যকায় ক্ষেতের গম কাটছিল, আর চোখ তুলে চেয়ে তারা সিন্দুকটি দেখতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠল।
1SA 6:14 গাড়িটি বেত-শেমশের অধিবাসী যিহোশূয়ের ক্ষেতে পৌঁছে বিশাল এক পাষাণ-পাথরের পাশে এসে দাঁড়াল। সেখানকার মানুষজন গাড়িটির কাঠ কেটে গরুগুলি হোমবলিরূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে দিল।
1SA 6:15 লেবীয়রা সোনার বস্তুগুলি দিয়ে ভরা বাক্সটি সমেত সদাপ্রভুর সিন্দুকটিকে নামিয়ে এনে সেগুলি সেই বিশাল পাষাণ-পাথরটির উপর সাজিয়ে রাখল। সেইদিন বেত-শেমশের লোকজন সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি ও উপহার উৎসর্গ করল।
1SA 6:16 ফিলিস্তিনীদের পাঁচজন শাসনকর্তা এসব দেখার পর সেদিনই ইক্রোণে ফিরে গেল।
1SA 6:17 সদাপ্রভুর উদ্দেশে দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে ফিলিস্তিনীরা যে সোনার আবগুলি পাঠিয়েছিল সেগুলি হল—অস্‌দোদ, গাজা, অস্কিলোন, গাৎ ও ইক্রোণের জন্য এক-একটি করে পাঠানো সোনার আব।
1SA 6:18 সোনার ইঁদুরের সংখ্যা নিরূপিত হল পাঁচজন শাসনকর্তার অধিকারে থাকা ফিলিস্তিনী নগরের—গ্রাম্য এলাকা সমেত প্রাচীরবেষ্টিত নগরের সংখ্যানুসারে। যে বিশাল পাষাণ-পাথরটির উপর লেবীয়রা সদাপ্রভুর সিন্দুকটিকে রেখেছিল, সেটি আজও পর্যন্ত বেত-শেমশের অধিবাসী যিহোশূয়ের ক্ষেতে সাক্ষ্য-স্তম্ভ হয়ে আছে।
1SA 6:19 কিন্তু ঈশ্বর বেত-শেমশের অধিবাসীদের মধ্যে কয়েকজনকে আঘাত করলেন, তাদের মধ্যে সত্তর জনকে মেরে ফেললেন কারণ তারা সদাপ্রভুর সিন্দুকের ভিতরে তাকিয়েছিল। সদাপ্রভু লোকজনের উপর এই ভীষণ আঘাত হেনেছিলেন বলে তারা শোকপ্রকাশ করল।
1SA 6:20 বেত-শেমশের অধিবাসীরা প্রশ্ন করল, “এই পবিত্র ঈশ্বরের, সদাপ্রভুর সামনে কে দাঁড়াতে পারে? এখান থেকে সিন্দুকটি কাদের কাছে যাবে?”
1SA 6:21 পরে তারা কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের অধিবাসীদের কাছে দূত পাঠিয়ে বলল, “ফিলিস্তিনীরা সদাপ্রভুর সিন্দুকটি ফেরত পাঠিয়েছে। তোমরা নেমে এসো এবং সেটি তোমাদের নগরে নিয়ে যাও।”
1SA 7:1 তাই কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের অধিবাসীরা এসে সদাপ্রভুর সিন্দুকটি নিয়ে গেল। তারা সেটিকে পাহাড়ের উপর অবস্থিত অবীনাদবের বাড়িতে এনে তুলল এবং সদাপ্রভুর সিন্দুকটি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য তাঁর ছেলে ইলিয়াসরকে উৎসর্গীকৃত করল।
1SA 7:2 সিন্দুকটি বেশ কিছুকাল—প্রায় কুড়ি বছর কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে রাখা ছিল। সেই সময় ইস্রায়েলী জনগণ সদাপ্রভুর দিকে ফিরে এসেছিল।
1SA 7:3 অতএব শমূয়েল সব ইস্রায়েলীকে বললেন, “যদি তোমরা সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর দিকে ফিরে আসতে চাও, তবে তোমাদের মধ্যে থেকে ভিনদেশী দেবতাদের ও অষ্টারোৎ দেবীদের দূর করে দাও এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিজেদের সমর্পণ করো ও একমাত্র তাঁরই সেবা করো, তবে দেখবে তিনি ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করবেন।”
1SA 7:4 অতএব ইস্রায়েলীরা তাদের বায়াল-দেবতাদের ও অষ্টারোৎ দেবীদের দূর করে দিল, এবং একমাত্র সদাপ্রভুরই সেবা করল।
1SA 7:5 তখন শমূয়েল বললেন, “ইস্রায়েলের সব লোকজনকে মিস্‌পাতে সমবেত করো, আর আমি তোমাদের জন্য সদাপ্রভুর কাছে অনুরোধ জানাব।”
1SA 7:6 তারা মিস্‌পাতে সমবেত হয়ে, জল সংগ্রহ করে সদাপ্রভুর সামনে তা ঢেলে দিল। সেদিন তারা উপবাস রেখে, সেখানে পাপস্বীকার করে বলল, “সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে আমরা পাপ করেছি।” শমূয়েল তখন মিস্‌পাতে থেকে ইস্রায়েলের নেতা হয়ে সেবাকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
1SA 7:7 ফিলিস্তিনীরা যখন শুনল যে ইস্রায়েল মিস্‌পাতে সমবেত হয়েছে, তখন ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা ইস্রায়েলীদের আক্রমণ করতে উঠে এল। ইস্রায়েলীরা তা শুনে ফিলিস্তিনীদের কারণে ভয় পেয়ে গেল।
1SA 7:8 তারা শমূয়েলকে বলল, “আমাদের জন্য আপনি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে আর্তনাদ করা বন্ধ করবেন না, যেন তিনি আমাদের ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেন।”
1SA 7:9 তখন শমূয়েল একটি দুগ্ধপোষ্য মেষশাবক নিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে সেটিকে এক অখণ্ড হোমবলিরূপে উৎসর্গ করলেন। ইস্রায়েলের হয়ে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে আর্তনাদ করলেন, এবং সদাপ্রভু তাঁকে উত্তরও দিলেন।
1SA 7:10 শমূয়েল যখন হোমবলি উৎসর্গ করছিলেন, তখন ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য এগিয়ে এল। কিন্তু সেদিন ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু প্রচণ্ড গর্জনে বজ্রপাত করলেন এবং তাদের মধ্যে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দিলেন যে তারা ইস্রায়েলীদের সামনে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল।
1SA 7:11 ইস্রায়েলীরা মিস্‌পা থেকে ছুটে এসে ফিলিস্তিনীদের পিছু ধাওয়া করল, ও তাদের হত্যা করতে করতে বেথ-করের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে গেল।
1SA 7:12 তখন শমূয়েল একটি পাথর নিয়ে সেটিকে মিস্‌পা ও শেনের মাঝখানে প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি এই বলে সেটির নাম রাখলেন এবন-এষর যে, “এযাবৎ সদাপ্রভু আমাদের সাহায্য করেছেন।”
1SA 7:13 অতএব ফিলিস্তিনীরা বশীভূত হল এবং তারা ইস্রায়েলের এলাকায় সশস্ত্র আক্রমণ করা বন্ধ করল। শমূয়েলের সমগ্র জীবনকালে, সদাপ্রভুর হাত ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে প্রসারিত হয়েই ছিল।
1SA 7:14 ইক্রোণ থেকে গাৎ পর্যন্ত যেসব ছোটো ছোটো নগর ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিল, সেগুলি আবার ইস্রায়েলের কাছে ফিরিয়ে দিতে হল, এবং ইস্রায়েলীরা পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিও ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে মুক্ত করল। ইস্রায়েল ও ইমোরীয়দের মধ্যেও শান্তি বলবৎ ছিল।
1SA 7:15 শমূয়েল আজীবন ইস্রায়েলের নেতা হয়েই থেকে গেলেন।
1SA 7:16 বছরের পর বছর তিনি বেথেল থেকে শুরু করে গিল্‌গল থেকে মিস্‌পা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে সেইসব স্থানে ইস্রায়েলের বিচার করে বেড়াতেন।
1SA 7:17 কিন্তু সবসময় তিনি সেই রামাতে ফিরে যেতেন, যেখানে তাঁর ঘরবাড়ি ছিল, এবং সেখানে তিনি ইস্রায়েলের জন্য বিচারসভারও আয়োজন করতেন। সেখানে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি বেদিও নির্মাণ করলেন।
1SA 8:1 শমূয়েল যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন তিনি তাঁর ছেলেদের ইস্রায়েলের নেতারূপে নিযুক্ত করলেন।
1SA 8:2 তাঁর প্রথমজাত ছেলের নাম যোয়েল ও দ্বিতীয়জনের নাম অবিয়, এবং তারা বের-শেবায় সেবাকাজে লিপ্ত ছিল।
1SA 8:3 কিন্তু তাঁর ছেলেরা তাঁর পথে চলত না। তারা অসাধু উপায়ে অর্থলাভের পথে গেল এবং ঘুস নিত তথা ন্যায়বিচার বিকৃত করত।
1SA 8:4 তাই ইস্রায়েলের সব প্রাচীন একজোট হয়ে রামাতে শমূয়েলের কাছে এলেন।
1SA 8:5 তারা তাঁকে বললেন, “আপনার বয়স হয়েছে, আর আপনার ছেলেরাও আপনার পথে চলে না; এখন তাই আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন রাজা নিযুক্ত করুন, যেমন অন্য সব জাতিরও রাজা আছে।”
1SA 8:6 “আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন রাজা দিন,” তাদের বলা এই কথাটি কিন্তু শমূয়েলকে অসন্তুষ্ট করল; তাই তিনি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন।
1SA 8:7 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন: “লোকেরা তোমায় যা যা বলছে তুমি তা শুনে নাও; তারা যে তোমায় প্রত্যাখ্যান করেছে তা নয়, কিন্তু তাদের রাজারূপে তারা আমাকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।
1SA 8:8 যেদিন আমি তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তারা যেভাবে আমাকে ছেড়ে অন্যান্য দেবদেবীর সেবা করে এসেছে, সেরকম আচরণ তারা তোমার প্রতিও করছে।
1SA 8:9 এখন তুমি তাদের কথা শোনো; কিন্তু শপথপূর্বক তুমি তাদের সতর্ক করে দাও এবং তারা জানুক, যে রাজা তাদের উপর রাজত্ব করতে চলেছেন, তিনি তাঁর অধিকাররূপে কী দাবি জানাবেন।”
1SA 8:10 যারা শমূয়েলের কাছে একজন রাজা চেয়েছিল, তাদের তিনি সদাপ্রভুর বলা সব কথা বলে শোনালেন।
1SA 8:11 তিনি বললেন, “যে রাজা তোমাদের উপর রাজত্ব করবেন, তিনি তাঁর অধিকাররূপে তোমাদের কাছে এই দাবি জানাবেন: তিনি তোমাদের ছেলেদের নিয়ে তাঁর রথ ও অশ্বগুলির পরিচর্যাকাজে লাগাবেন, ও তারা তাঁর রথের সামনে সামনে দৌড়াবে।
1SA 8:12 তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি সহস্র-সেনাপতি ও পঞ্চাশ-সেনাপতি পদে নিযুক্ত করবেন, এবং অন্য কয়েকজনকে তিনি তাঁর জমি চাষ করার ও ফসল কাটার কাজে লাগাবেন, এবং অন্য আরও কয়েকজনকে যুদ্ধাস্ত্র ও তাঁর রথের সাজসরঞ্জাম তৈরির কাজে লাগাবেন।
1SA 8:13 তিনি তোমাদের মেয়েদের নিয়ে তাদের সুগন্ধি-প্রস্তুতকারিনী, রাঁধুনী ও রুটিওয়ালী করে ছাড়বেন।
1SA 8:14 তিনি তোমাদের সেরা চাষযোগ্য জমি, দ্রাক্ষাক্ষেত ও জলপাই-এর বাগানগুলি কেড়ে নিয়ে, সেগুলি তাঁর পরিচারকদের হাতে তুলে দেবেন।
1SA 8:15 তিনি তোমাদের ফসলের ও মরশুমী দ্রাক্ষারসের দশমাংশ আদায় করে তা তাঁর কর্মকর্তা ও পরিচারকদের হাতে তুলে দেবেন।
1SA 8:16 তোমাদের দাস-দাসীদের ও সেরা পশুপাল ও গাধার পাল তিনি নিজের ব্যবহারের জন্য দখল করে নেবেন।
1SA 8:17 তিনি তোমাদের পশুপালের দশমাংশ ছিনিয়ে নেবেন, ও তোমরা নিজেরাই তাঁর ক্রীতদাস-দাসীতে পরিণত হবে।
1SA 8:18 এমন একদিন আসতে চলেছে, যেদিন তোমরা তোমাদেরই মনোনীত রাজার হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য আর্তনাদ করবে, কিন্তু সেদিন সদাপ্রভু তোমাদের কোনও উত্তর দেবেন না।”
1SA 8:19 কিন্তু লোকেরা শমূয়েলের কথা শুনতেই চায়নি। তারা বলল, “আরে ধুর! আমরা একজন রাজা চাই।
1SA 8:20 তবেই তো আমরা অন্য সব জাতির মতো হতে পারব, একজন রাজা আমাদের উপর রাজত্ব করবেন এবং তিনিই আমাদের অগ্রগামী হবেন ও আমাদের হয়ে যুদ্ধও করবেন।”
1SA 8:21 শমূয়েল লোকদের সব কথা শোনার পর তিনি সদাপ্রভুর কাছে আবার তা বলে শোনালেন।
1SA 8:22 সদাপ্রভু উত্তর দিলেন, “তাদের কথা শোনো ও তাদের জন্য একজন রাজা ঠিক করে দাও।” পরে শমূয়েল ইস্রায়েলীদের বললেন, “তোমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের নগরে ফিরে যাও।”
1SA 9:1 সেখানে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত বিন্যামীন বংশীয় একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর নাম কীশ। কীশ অবীয়েলের ছেলে, অবীয়েল সরোরের ছেলে, সরোর বখোরতের ছেলে, বখোরত বিন্যামীন বংশীয় অফিয়ের ছেলে ছিলেন।
1SA 9:2 কীশের এক ছেলে ছিল, যাঁর নাম শৌল। তিনি এত সুদর্শন ছিলেন যে ইস্রায়েল দেশে কোথাও তাঁর মতো একজনও যুবক খুঁজে পাওয়ার উপায় ছিল না, এবং তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশ কিছুটা লম্বা ছিলেন।
1SA 9:3 শৌলের বাবা কীশের কয়েকটি গাধি হারিয়ে গিয়েছিল, তাই কীশ তাঁর ছেলে শৌলকে বললেন, “দাসদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে গাধিগুলির খোঁজ করো।”
1SA 9:4 তাই তিনি ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকা হয়ে শালিশা অঞ্চলে এক চক্কর ঘুরে এলেন, কিন্তু সেগুলির খোঁজ পেলেন না। তখন তাঁরা শালীম প্রদেশ পর্যন্ত গেলেন, কিন্তু গাধিগুলি সেখানেও ছিল না। পরে তিনি বিন্যামিনীয়দের এলাকাতেও গেলেন, কিন্তু সেগুলির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
1SA 9:5 তাঁরা যখন সূফ জেলায় পৌঁছালেন, শৌল তখন তাঁর সঙ্গে চলা দাসকে বললেন, “এসো, আমরা ফিরে যাই, তা না হলে আমার বাবা গাধিগুলির জন্য চিন্তা করা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের জন্যই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।”
1SA 9:6 কিন্তু সেই দাস উত্তর দিল, “দেখুন, এই নগরে ঈশ্বরের একজন লোক আছেন; তাঁকে সবাই খুব সম্মান করে, এবং তিনি যা যা বলেন, সব সত্যি হয়। চলুন না, সেখানে একবার যাওয়া যাক। হয়তো তিনি আমাদের বলে দেবেন কোন পথে যেতে হবে।”
1SA 9:7 শৌল তাঁর দাসকে বললেন, “আমরা সেখানে গিয়ে ভদ্রলোককে কী-ই বা দিতে পারব? আমাদের থলিতে রাখা সব খাবারদাবার শেষ হয়ে গিয়েছে। ঈশ্বরের লোকের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উপহারও আমাদের কাছে নেই। আমাদের কাছে কিছু আছে কি?”
1SA 9:8 দাস আবার তাঁকে উত্তর দিল। সে বলল, “দেখুন, আমার কাছে এক শেকলের চার ভাগের এক ভাগ রুপো আছে। আমি সেটি ঈশ্বরের লোককে দিয়ে দেব যেন তিনি আমাদের বলে দেন, কোন পথে আমাদের যেতে হবে।”
1SA 9:9 (প্রাচীনকালে ইস্রায়েল দেশে, যদি কেউ ঈশ্বরের কাছে কোনো কিছুর খোঁজ নিতে যেত, তখন তারা বলত, “এসো, দর্শকের কাছে যাওয়া যাক,” কারণ বর্তমানে যাদের ভাববাদী বলা হয়, আগে তাদের দর্শক বলা হত।)
1SA 9:10 শৌল তাঁর দাসকে বললেন, “ঠিক আছে, চলো, সেখানে যাওয়া যাক।” অতএব তাঁরা সেই নগরটির উদ্দেশে রওনা হয়ে গেলেন, যেখানে ঈশ্বরের লোক তখন ছিলেন।
1SA 9:11 পাহাড় পেরিয়ে যখন তাঁরা নগরটির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁরা এমন কয়েকজন যুবতী মহিলার দেখা পেলেন যারা জল ভরতে যাচ্ছিল। তাঁরা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “দর্শক কি এখানে আছেন?”
1SA 9:12 তারা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, তিনি আপনাদের থেকে একটু আগেই আছেন। তাড়াতাড়ি যান; তিনি একটু আগেই আমাদের নগরে এসেছেন, কারণ টিলার উপর আজ লোকেরা এক বলি উৎসর্গ করবে।
1SA 9:13 তিনি টিলায় ভোজনপান করতে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে যাওয়ার আগে, নগরে প্রবেশ করলেই আপনারা তাঁর দেখা পাবেন। তিনি না আসা পর্যন্ত লোকেরা ভোজনপান শুরু করবে না, কারণ প্রথমে তাঁকেই বলির নৈবেদ্যটিতে আশীর্বাদ বর্ষণ করতে হবে; পরে নিমন্ত্রিত লোকেরা ভোজনপান করবে। এখনই চলে যান; অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর দেখা পেয়ে যাবেন।”
1SA 9:14 তাঁরা নগরটির দিকে যাচ্ছিলেনই, আর ঠিক যখন তাঁরা সেখানে প্রবেশ করবেন, শমূয়েল টিলায় চড়ার পথে তাঁদের দিকে এগিয়ে এলেন।
1SA 9:15 এদিকে শৌল আসার একদিন আগেই সদাপ্রভু শমূয়েলের কাছে একথা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন:
1SA 9:16 “আগামীকাল প্রায় এইসময়েই আমি তোমার কাছে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত অঞ্চল থেকে একজন লোককে পাঠাব। তুমি তাকে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর শাসনকর্তা পদে অভিষিক্ত করবে; সে ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে তাদের মুক্ত করবে। আমি আমার প্রজাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেছি, কারণ তাদের আর্তনাদ আমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে।”
1SA 9:17 শৌলের দিকে শমূয়েলের চোখ পড়ার সাথে সাথেই সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “এই লোকটির কথাই আমি তোমাকে বলেছিলাম; এই আমার প্রজাদের পরিচালনা করবে।”
1SA 9:18 সদর দরজায় গিয়ে শৌল শমূয়েলের কাছাকাছি পৌঁছে জিজ্ঞাসা করলেন, “দয়া করে আমায় জানাবেন কি, দর্শকের বাড়িটি কোথায়?”
1SA 9:19 শমূয়েল তাঁকে উত্তর দিলেন, “আমিই সেই দর্শক। আমার আগে আগে টিলায় চড়, কারণ আজ তোমরা আমার সঙ্গে ভোজনপান করবে, আর সকালবেলায় আমি তোমাদের বিদায় দেব ও তোমার মনে যা যা আছে সব বলে দেব।
1SA 9:20 তিন দিন আগে তোমাদের যে গাধিগুলি হারিয়ে গিয়েছিল, সেগুলির সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা কোরো না; সেগুলির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আর ইস্রায়েলের সব বাসনা কার দিকে ঘুরে গিয়েছে, সে কি তোমার ও তোমার সব পরিবার-পরিজনের দিকে নয়?”
1SA 9:21 শৌল উত্তর দিলেন, “আমি কি সেই বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত নই, যা ইস্রায়েলের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো গোষ্ঠী, এবং আমার বংশই কি বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত সব বংশের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো বংশ নয়? তবে কেন আপনি আমাকে এ ধরনের কথা বলছেন?”
1SA 9:22 তখন শমূয়েল, শৌল ও তাঁর দাসকে বড়ো খাবার ঘরে নিয়ে এসে নিমন্ত্রিত—প্রায় ত্রিশজন অতিথির মধ্যে সম্মানজনক স্থানে তাঁদের বসিয়ে দিলেন।
1SA 9:23 শমূয়েল রাঁধুনীকে বললেন, “মাংসের যে টুকরোটি আমি তোমায় সরিয়ে রাখতে বলেছিলাম, সেটি নিয়ে এসো।”
1SA 9:24 অতএব রাঁধুনী রানের টুকরোটি ও সেটির সঙ্গে লেগে থাকা মাংস এনে শৌলের পাতে সাজিয়ে দিল। শমূয়েল বললেন, “এগুলি তোমারই জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। খাও, কারণ ‘আমি অতিথিদের নিমন্ত্রণ করেছি,’ একথা বলার সময় থেকে শুরু করে এখন এই উপলক্ষের জন্যই এগুলি সরিয়ে রাখা হয়েছে।” সেদিন শৌল শমূয়েলের সঙ্গে ভোজনপান করলেন।
1SA 9:25 টিলা থেকে তাঁরা নগরে নেমে আসার পর, শমূয়েল তাঁর বাড়ির ছাদে উঠে শৌলের সঙ্গে কথাবার্তা বললেন।
1SA 9:26 ভোর প্রায় হয়ে আসছিল, তখনই তাঁরা উঠে পড়লেন, এবং শমূয়েল শৌলকে ছাদেই ডেকে বললেন, “তৈরি হয়ে নাও, আমি তোমাদের বাড়িতে ফেরত পাঠাব।” শৌল তৈরি হওয়ার পর তিনি ও শমূয়েল একসঙ্গেই বাইরে বের হলেন।
1SA 9:27 তাঁরা নগরের প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই শমূয়েল শৌলকে বললেন, “দাসটিকে একটু এগিয়ে যেতে বলো,” আর দাসও তেমনটিই করল, “কিন্তু তুমি এখানে কিছুক্ষণ থেকে যাও, যেন আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা একটি বাণী তোমাকে দিতে পারি।”
1SA 10:1 একথা বলে শমূয়েল এক কুপি জলপাইয়ের তেল নিয়ে শৌলের মাথায় তা ঢেলে দিলেন ও তাঁকে চুমু দিয়ে বললেন, “সদাপ্রভুই কি তোমাকে তাঁর অধিকারের উপর শাসনকর্তা পদে অভিষিক্ত করেননি?
1SA 10:2 আজ আমায় ছেড়ে যাওয়ার পর, বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত এলাকার সীমানায় সেলসহ বলে একটি স্থানে রাহেলের সমাধির কাছে তুমি দুজন লোকের দেখা পাবে। তারা তোমাকে বলবে, ‘যে গাধিগুলির খোঁজে আপনি গিয়েছিলেন, সেগুলি পাওয়া গিয়েছে। এখন আপনার বাবা সেগুলির কথা না ভেবে বরং আপনার কথা ভেবেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি জানতে চাইছেন, “আমার ছেলের জন্য আমি কী করব?” ’
1SA 10:3 “তারপর তুমি সেখান থেকে তাবোরের ওক গাছটির কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছাবে। বেথেলে আরাধনা করতে যাচ্ছে, এমন তিনটি লোকের সঙ্গে সেখানে তোমার দেখা হবে। দেখবে একজন তিনটি ছাগলছানা, অন্যজন তিনটি রুটি, আর একজন এক মশক ভর্তি দ্রাক্ষারস বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
1SA 10:4 তারা তোমায় শুভেচ্ছা জানাবে এবং তোমাকে দুটি রুটি নিতে বলবে, যা তুমি তাদের কাছ থেকে গ্রহণও করবে।
1SA 10:5 “পরে তুমি ঈশ্বরের গিবিয়াতে যাবে, যেখানে ফিলিস্তিনীদের একটি সেনা-ছাউনি আছে। নগরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই, তুমি একদল ভাববাদীকে শোভাযাত্রা করে টিলা থেকে নেমে আসতে দেখবে। তাঁদের সামনে সামনে লোকেরা দোতারা, খোল, বাঁশি ও বীণা বাজাবে, এবং তাঁরা ভাববাণী বলবেন।
1SA 10:6 সদাপ্রভুর আত্মা প্রবল পরাক্রমে তোমার উপর নেমে আসবেন, এবং তুমিও তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে ভাববাণী বলবে; আর তুমি পরিবর্তিত হয়ে গিয়ে একদম অন্যরকম মানুষ হয়ে যাবে।
1SA 10:7 একবার এই চিহ্নগুলি সার্থক হতে দাও, পরে তুমি যা যা করতে চাও, সব কোরো, কারণ ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছেন।
1SA 10:8 “আমার আগে আগেই তুমি গিল্‌গলে নেমে যাও। আমিও অবশ্যই হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য তোমার কাছে নেমে আসব, কিন্তু আমি এসে তোমাকে কী করতে হবে, তা না বলা পর্যন্ত তোমাকে সাত দিন অপেক্ষা করতেই হবে।”
1SA 10:9 শমূয়েলের কাছ থেকে চলে যাওয়ার জন্য শৌল ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই, ঈশ্বর শৌলের অন্তর পরিবর্তিত করে দিলেন, এবং সেদিনই সেইসব চিহ্ন সার্থক হল।
1SA 10:10 যখন তিনি ও তাঁর দাস গিবিয়াতে পৌঁছালেন, শোভাযাত্রা করে আসা ভাববাদীদের সঙ্গে তাঁর দেখা হল; ঈশ্বরের আত্মা প্রবল পরাক্রমে তাঁর উপর নেমে এলেন, এবং তিনিও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভাববাণী বললেন।
1SA 10:11 যখন তাঁর পূর্বপরিচিত লোকেরা ভাববাদীদের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকেও ভাববাণী বলতে দেখল, তারা তখন পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করল, “কীশের ছেলের হোলো-টা কী? শৌলও কি ভাববাদীদের মধ্যে একজন?”
1SA 10:12 সেখানে বসবাসকারী একজন উত্তর দিল, “আর এদের বাবাই বা কে?” অতএব এটি এক প্রবাদবাক্যে পরিণত হল: “শৌলও কি ভাববাদীদের মধ্যে একজন?”
1SA 10:13 শৌল ভাববাণী বলা শেষ করে, টিলায় উঠে গেলেন।
1SA 10:14 পরে শৌলের কাকা তাঁকে ও তাঁর দাসকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কোথায় গিয়েছিলে?” “গাধিগুলির খোঁজে,” তিনি উত্তর দিলেন। “কিন্তু সেগুলির খোঁজ না পেয়ে আমরা শমূয়েলের কাছে চলে গিয়েছিলাম।”
1SA 10:15 শৌলের কাকা বললেন, “আমায় বলো শমূয়েল তোমায় কী বলেছেন।”
1SA 10:16 শৌল উত্তর দিলেন, “তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বললেন যে গাধিগুলি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।” কিন্তু শমূয়েল রাজপদের বিষয়ে কী বলেছিলেন তা তিনি তাঁর কাকাকে বলেননি।
1SA 10:17 শমূয়েল লোকজনকে মিস্‌পাতে সদাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হওয়ার ডাক দিলেন
1SA 10:18 এবং তাদের বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথা বলেন: ‘আমি ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বাইরে বের করে এনেছি, এবং তোমাদের উপর যারা অত্যাচার করত, সেই মিশরের ও অন্য সব রাজ্যের হাত থেকে আমিই তোমাদের মুক্ত করেছি।’
1SA 10:19 কিন্তু এখন তোমরা তোমাদের সেই ঈশ্বরকেই নাকচ করে দিয়েছ, যিনি তোমাদের সব দুর্বিপাক ও বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। আর তোমরা বলেছ, ‘না, আমাদের উপর একজন রাজা নিযুক্ত করে দিন।’ তাই এখন তোমাদের গোষ্ঠী ও বংশ অনুসারে সদাপ্রভুর সামনে নিজেদের পেশ করো।”
1SA 10:20 শমূয়েল ইস্রায়েলের সব লোকজনকে তাদের গোষ্ঠী অনুসারে কাছে ডেকে আনার পর গুটিকাপাত করে বিন্যামীনের গোষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হল।
1SA 10:21 পরে এক-একটি বংশ ধরে ধরে তিনি বিন্যামীনের গোষ্ঠীকে কাছে ডেকে এনেছিলেন, এবং মট্রীয় বংশকে মনোনীত করা হল। সবশেষে কীশের ছেলে শৌলকে মনোনীত করা হল। কিন্তু যখন তারা তাঁর খোঁজ করল, তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেল না।
1SA 10:22 অতএব তারা আরেকবার সদাপ্রভুর কাছে জানতে চাইল, “লোকটি কি এখনও এখানে আসেনি?” সদাপ্রভু বললেন, “হ্যাঁ, সে মালপত্রের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে।”
1SA 10:23 তারা দৌড়ে গিয়ে তাঁকে বের করে আনল, এবং তিনি লোকজনের মাঝখানে দাঁড়ালে দেখা গেল, তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশ কিছুটা লম্বা।
1SA 10:24 শমূয়েল সব লোকজনকে বললেন, “সদাপ্রভু যাঁকে মনোনীত করেছেন তাঁকে কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ? সব লোকজনের মধ্যে তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।” তখন লোকেরা চিৎকার করে বলে উঠল, “রাজা চিরজীবী হোন!”
1SA 10:25 শমূয়েল লোকজনের কাছে রাজপদের অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্যগুলি ব্যাখ্যা করে দিলেন। একটি পুঁথিতে সেগুলি লিখে রেখে তিনি সেটি সদাপ্রভুর সামনে গচ্ছিত রাখলেন। পরে শমূয়েল নিজের নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য লোকদের অনুমতি দিলেন।
1SA 10:26 শৌলও গিবিয়াতে নিজের ঘরে ফিরে গেলেন, ও তাঁর সঙ্গে গেলেন এমন কয়েকজন অসমসাহসী লোক, যাদের অন্তর ঈশ্বর স্পর্শ করেছিলেন।
1SA 10:27 কিন্তু কয়েকজন নীচমনা লোক বলল, “এ ‘ব্যাটা’ কীভাবে আমাদের রক্ষা করবে?” তারা তাঁকে অবজ্ঞা করল ও তাঁর জন্য কোনও উপহার আনল না। কিন্তু শৌল নীরব থেকে গেলেন।
1SA 11:1 অম্মোনীয় নাহশ যাবেশ-গিলিয়দ আক্রমণ করে নগরটি অবরুদ্ধ করলেন। যাবেশের সব মানুষজন তাঁকে বলল, “আমাদের সঙ্গে আপনি এক শান্তিচুক্তি করুন, আর আমরাও আপনার বশীভূত হয়ে থাকব।”
1SA 11:2 কিন্তু অম্মোনীয় নাহশ উত্তর দিলেন, “আমি একমাত্র এই শর্তেই তোমাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করব: আমি তোমাদের প্রত্যেকের ডান চোখ উপড়ে নেব ও এরকম করার দ্বারা সমগ্র ইস্রায়েল জাতিকে কলঙ্কিত করব।”
1SA 11:3 যাবেশের প্রাচীনেরা তাঁকে বললেন, “আমাদের সাত দিন সময় দিন যেন আমরা ইস্রায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে দূত পাঠাতে পারি; যদি কেউ আমাদের রক্ষা করতে এগিয়ে না আসে, তবে আমরা আপনার হাতে নিজেদের সমর্পণ করে দেব।”
1SA 11:4 দূতেরা যখন শৌলের নগর গিবিয়াতে এসে লোকদের কাছে এইসব শর্তের খবর দিল, তারা সবাই চিৎকার করে কান্নাকাটি করল।
1SA 11:5 ঠিক সেই সময় শৌল বলদদের পিছু পিছু ক্ষেত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “কী হয়েছে? এরা কাঁদছে কেন?” তখন যাবেশের লোকেরা যা যা বলল, তা তারা আরেকবার শৌলকে বলে শোনাল।
1SA 11:6 শৌল তাদের কথা শোনার পর, ঈশ্বরের আত্মা সপরাক্রমে তাঁর উপর নেমে এলেন, ও তিনি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন।
1SA 11:7 তিনি এক জোড়া বলদ নিয়ে, সেগুলি টুকরো টুকরো করে কেটে দূতদের মাধ্যমে সেই টুকরোগুলি ইস্রায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দিয়ে ঘোষণা করলেন, “যদি কেউ শৌল ও শমূয়েলের অনুসরণ না করে তবে তার বলদদের প্রতিও এরকমই করা হবে।” তখন সদাপ্রভুর আতঙ্ক লোকজনের মনে বাসা বাঁধল, ও তারা একজোট হয়ে বাইরে বের হয়ে এল।
1SA 11:8 শৌল যখন বেষকে তাদের সমবেত করলেন, তখন ইস্রায়েলের জনসংখ্যা হল 3,00,000 জন ও যিহূদার হল 30,000 জন।
1SA 11:9 সেখানে আসা দূতদের তারা বলল, “যাবেশ-গিলিয়দের লোকদের গিয়ে তোমরা বোলো, ‘আগামীকাল সূর্য যখন মধ্য-গগনে থাকবে, তখনই তোমাদের রক্ষা করা হবে।’ ” দূতেরা গিয়ে যখন যাবেশের লোকদের কাছে এ খবর দিল, তারা খুব খুশি হল।
1SA 11:10 তারা অম্মোনীয়দের বলল, “আগামীকাল আমরা তোমাদের হাতে নিজেদের সমর্পণ করে দেব, আর তোমরা আমাদের প্রতি যা ইচ্ছা হয়, তাই কোরো।”
1SA 11:11 পরদিন শৌল তাঁর লোকজনকে তিন দলে বিভক্ত করলেন; রাতের শেষ প্রহরে তারা অম্মোনীয়দের সৈন্যশিবিরে ঝাঁপিয়ে পড়ল ও রোদ প্রখর হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর হত্যার তাণ্ডব চালিয়ে গেল। যারা বেঁচে গেল, তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল, তাতে এমন দশা হল যে তাদের মধ্যে দুজনও একসঙ্গে থাকতে পারেনি।
1SA 11:12 লোকজন তখন শমূয়েলকে বলল, “তারা কারা, যারা বলেছিল, ‘শৌল কি আমাদের উপর রাজত্ব করবে?’ সেইসব লোককে আমাদের হাতে তুলে দিন যেন আমরা তাদের মেরে ফেলতে পারি।”
1SA 11:13 কিন্তু শৌল বললেন, “আজ আর কাউকে মারা হবে না, কারণ আজকের এই দিনেই সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছেন।”
1SA 11:14 তখন শমূয়েল লোকদের বললেন, “এসো, আমরা সবাই গিল্‌গলে যাই ও সেখানে নতুন করে রাজপদটি প্রতিষ্ঠিত করি।”
1SA 11:15 অতএব সব লোকজন গিল্‌গলে গিয়ে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে শৌলকে রাজা করল। সেখানে তারা সদাপ্রভুর সামনে মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করল, এবং শৌল ও ইস্রায়েলের সব লোকজন এক বড়ো অনুষ্ঠান করলেন।
1SA 12:1 শমূয়েল ইস্রায়েলের সব লোকজনকে বললেন, “তোমরা আমাকে যা যা বলেছিলে আমি সেসব শুনেছিলাম ও তোমাদের উপর একজন রাজা নিযুক্ত করে দিয়েছিলাম।
1SA 12:2 এখন তোমাদের নেতারূপে তোমরা একজন রাজা পেয়ে গিয়েছ। আমার ক্ষেত্রে বলি কি, আমার তো বয়স হয়েছে ও আমার চুলও পেকে গিয়েছে, আর আমার ছেলেরা এখানে তোমাদের সাথেই আছে। আমার যৌবনকাল থেকে আজকের এই দিনটি পর্যন্ত আমি তোমাদের নেতা হয়ে থেকেছি।
1SA 12:3 আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি। সদাপ্রভু ও তাঁর অভিষিক্ত-জনের উপস্থিতিতে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে বলো দেখি: আমি কার বলদ নিয়েছি? কার গাধা নিয়েছি? কাকে ঠকিয়েছি? কার প্রতি অত্যাচার করেছি? কার হাত থেকে ঘুস নিয়ে আমি চোখ বন্ধ করে রেখেছি? যদি আমি এগুলির মধ্যে একটিও করে থাকি, তবে বলো, আমি তার ক্ষতিপূরণ করে দেব।”
1SA 12:4 তারা উত্তর দিল, “আপনি আমাদের ঠকাননি বা আমাদের উপর অত্যাচারও করেননি। আপনি কারও হাত থেকে কিছু গ্রহণও করেননি।”
1SA 12:5 শমূয়েল তাদের বললেন, “সদাপ্রভুই তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী রইলেন, আর আজ এই দিনে তাঁর অভিষিক্ত-জনও সাক্ষী রইলেন, যে তোমরা আমার হাতে কিছুই পাওনি।” “তিনিই সাক্ষী,” তারা বলল।
1SA 12:6 তখন শমূয়েল লোকদের বললেন, “সদাপ্রভুই মোশি ও হারোণকে নিযুক্ত করেছিলেন ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন।
1SA 12:7 এখন তাই, এখানে দাঁড়াও, যেহেতু আমি সদাপ্রভুর সামনেই তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য সদাপ্রভুর করা সব ন্যায়নিষ্ঠ কাজের প্রমাণ তোমাদের কাছে তুলে ধরছি।
1SA 12:8 “যাকোব মিশরে প্রবেশ করার পর, তারা সাহায্য পাওয়ার আশায় সদাপ্রভুর কাছে আর্তনাদ করেছিল, এবং সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে বের করে এনে এই স্থানেই তাদের স্থায়ীভাবে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
1SA 12:9 “কিন্তু তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভুলে গেল; তাই তিনি তাদের হাৎসোরের সৈন্যদলের সেনাপতি সীষরার হাতে এবং ফিলিস্তিনীদের ও মোয়াবের রাজার হাতে বিক্রি করে দিলেন, যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল।
1SA 12:10 তারা সদাপ্রভুর কাছে আর্তনাদ করে বলল, ‘আমরা পাপ করেছি; আমরা সদাপ্রভুকে ছেড়ে বায়াল-দেবতাদের ও অষ্টারোৎ দেবীদের পূজার্চনা করেছি। কিন্তু এখন তুমি এই শত্রুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো, আর আমরা তোমারই সেবা করব।’
1SA 12:11 তখন সদাপ্রভু যিরুব্বায়াল, বারক, যিপ্তহ ও শমূয়েলকে পাঠিয়ে দিয়ে তোমাদের চারপাশে ঘিরে থাকা শত্রুদের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করলেন, যেন তোমরা নিরাপদে দেশে বসবাস করতে পারো।
1SA 12:12 “কিন্তু যখন তোমরা দেখলে যে অম্মোনীয়দের রাজা নাহশ তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করছেন, তোমরা আমাকে বললে, ‘না, আমাদের উপর রাজত্ব করার জন্য আমাদের একজন রাজা দরকার,’ যদিও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুই তোমাদের রাজা হয়ে ছিলেন।
1SA 12:13 এখন এই তোমাদের সেই রাজা, যাঁকে তোমরা মনোনীত করেছ, যাঁকে তোমরা চেয়েছিলে; দেখো, সদাপ্রভু তোমাদের উপর একজন রাজা নিযুক্ত করেছেন।
1SA 12:14 যদি তোমরা সদাপ্রভুকে ভয় করো ও তাঁর বাধ্য হয়ে তাঁর সেবা করো এবং তাঁর আদেশগুলির বিরুদ্ধে যদি বিদ্রোহ না করো, তথা তোমরা ও তোমাদের উপর রাজত্বকারী রাজা, উভয়েই যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে অনুসরণ করো—তবে তো ভালোই!
1SA 12:15 কিন্তু তোমরা যদি সদাপ্রভুর বাধ্য না হও, ও তোমরা যদি তাঁর আদেশগুলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো, তবে তাঁর হাত তোমাদের বিরুদ্ধে উঠবে, যেভাবে তা তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিরুদ্ধে উঠেছিল।
1SA 12:16 “তবে এখন, স্থির হয়ে দাঁড়াও এবং তোমাদের চোখের সামনে সদাপ্রভু যে মহৎ কাজ করতে চলেছেন তা দেখে নাও!
1SA 12:17 এখনই কি গম কাটার সময় নয়? আমি সদাপ্রভুকে ডেকে বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টি পাঠাতে বলব। তখনই তোমরা বুঝতে পারবে যে রাজা দাবি করে সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে তোমরা কতই না অন্যায় করেছ।”
1SA 12:18 পরে শমূয়েল সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, এবং সেদিনই সদাপ্রভু বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টি পাঠিয়ে দিলেন। তখন সব মানুষজনের মনে সদাপ্রভুর ও শমূয়েলের প্রতি সম্ভ্রম উৎপন্ন হল।
1SA 12:19 সব মানুষজন শমূয়েলকে বলে উঠল, “আপনার দাসদের জন্য আপনি আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন, যেন আমরা মারা না পড়ি, কারণ একজন রাজা দাবি করে যে অন্যায় আমরা করেছি, তা আমাদের করা অন্যান্য পাপের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।”
1SA 12:20 শমূয়েল উত্তর দিলেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না।” তোমরা এত অন্যায় করেছ; তবু সদাপ্রভুর কাছ থেকে সরে যেয়ো না, কিন্তু সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর সেবা করো।
1SA 12:21 অসার প্রতিমাদের দিকে ঘুরে যেয়ো না। সেগুলি তোমাদের মঙ্গলও করতে পারবে না, আর তোমাদের রক্ষাও করতে পারবে না, যেহেতু তারা যে অসার।
1SA 12:22 সদাপ্রভুর মহৎ নামের খাতিরেই তিনি তাঁর প্রজাদের প্রত্যাখ্যান করবেন না, কারণ সদাপ্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব প্রজা করতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন।
1SA 12:23 আমার ক্ষেত্রে, আমি একথাই বলতে পারি, আমি যেন তোমাদের জন্য প্রার্থনা করতে ব্যর্থ হয়ে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করে না বসি। আমি তোমাদের সেই পথ শিক্ষা দেব যা উত্তম ও সঠিক।
1SA 12:24 কিন্তু নিশ্চিত থেকো, যেন তোমরা সদাপ্রভুকে ভয় কোরো ও সর্বান্তঃকরণে বিশ্বস্ততাপূর্বক তাঁর সেবা কোরো; বিবেচনা কোরো তিনি তোমাদের জন্য কী মহৎ কাজ করেছেন।
1SA 12:25 তবুও যদি তোমরা অন্যায় করেই যাও, তবে তোমরা ও তোমাদের রাজা, সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
1SA 13:1 শৌল ত্রিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং তিনি ইস্রায়েলের উপর বিয়াল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
1SA 13:2 শৌল ইস্রায়েল থেকে 3,000 জনকে বেছে নিলেন; 2,000 জন তাঁর সঙ্গে মিক্‌মসে ও বেথেলের পার্বত্য এলাকায় ছিল, এবং 1,000 জন যোনাথনের সঙ্গে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত গিবিয়াতে ছিল। অবশিষ্ট লোকজনকে তিনি তাদের ঘরে ফিরিয়ে দিলেন।
1SA 13:3 যোনাথন গেবাতে অবস্থিত ফিলিস্তিনীদের সেনা-ছাউনি আক্রমণ করলেন, এবং ফিলিস্তিনীরা তা শুনতে পেল। তখন শৌল গোটা দেশ জুড়ে শিঙা বাজিয়ে বললেন, “হিব্রু মানুষজন শুনুক!”
1SA 13:4 অতএব ইস্রায়েলের সব মানুষজন খবরটি শুনতে পেল: “শৌল ফিলিস্তিনীদের সেনা-ছাউনি আক্রমণ করেছেন, এবং ইস্রায়েল এখন ফিলিস্তিনীদের কাছে আপত্তিকর হয়ে গিয়েছে।” অতএব গিল্‌গলে শৌলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য প্রজাদের ডেকে পাঠানো হল।
1SA 13:5 3,000 রথ, 6,000 সারথি, এবং সমুদ্র-সৈকতের বালুকণার মতো অসংখ্য সৈন্যসামন্ত নিয়ে ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হল। তারা বেথ-আবনের পূর্বদিকে অবস্থিত মিক্‌মসে গিয়ে শিবির স্থাপন করল।
1SA 13:6 ইস্রায়েলীরা যখন দেখল যে তাদের অবস্থা খুব শোচনীয় ও তাদের সৈন্যদল চাপে পড়ে গিয়েছে, তখন তারা গুহায় ও ঝোপঝাড়ে, শিলাস্তূপের খাঁজে, এবং খাদে ও জলাধারে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল।
1SA 13:7 হিব্রুদের মধ্যে কয়েকজন এমনকি জর্ডন নদী পেরিয়ে গাদ ও গিলিয়দ দেশেও চলে গেল। শৌল গিল্‌গলে থেকে গেলেন, এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সব সৈন্যসামন্ত ভয়ে কাঁপছিল।
1SA 13:8 শমূয়েলের নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ানুসারে তিনি সাত দিন অপেক্ষা করলেন; কিন্তু শমূয়েল গিল্‌গলে আসেননি, এবং শৌলের লোকজন ছত্রভঙ্গ হতে শুরু করল।
1SA 13:9 তাই তিনি বললেন, “আমার কাছে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য নিয়ে এসো।” এই বলে শৌল হোমবলি উৎসর্গ করলেন।
1SA 13:10 তিনি বলি উৎসর্গ করতে না করতেই শমূয়েল সেখানে পৌঁছে গেলেন, এবং শৌল তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য বাইরে বেরিয়ে এলেন।
1SA 13:11 শমূয়েল জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি এ কী করলে?” শৌল উত্তর দিলেন, “আমি যখন দেখলাম যে লোকজন ছত্রভঙ্গ হচ্ছে, এবং আপনিও নির্দিষ্ট সময়ে এলেন না, ইত্যবসরে আবার ফিলিস্তিনীরাও মিক্‌মসে সমবেত হচ্ছে,
1SA 13:12 তখন আমি ভাবলাম, ‘এবার ফিলিস্তিনীরা গিল্‌গলে আমার বিরুদ্ধে চড়াও হবে, আর আমি সদাপ্রভুর অনুগ্রহও প্রার্থনা করিনি।’ তাই বাধ্য হয়েই আমাকে হোমবলি উৎসর্গ করতে হল।”
1SA 13:13 শমূয়েল তাঁকে বললেন, “তুমি মূর্খের মতো কাজ করেছ। তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যে আজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা তুমি পালন করোনি; যদি তুমি তা করতে, তবে তিনি চিরতরে ইস্রায়েলের উপর তোমার রাজত্ব স্থায়ী করে দিতেন।
1SA 13:14 কিন্তু এখন তোমার রাজত্ব আর স্থায়ী হবে না; সদাপ্রভু তাঁর মনের মতো এক মানুষ খুঁজে নিয়েছেন এবং তাকে তাঁর প্রজাদের শাসনকর্তারূপে নিযুক্ত করেছেন, কারণ তুমি সদাপ্রভুর আজ্ঞা পালন করোনি।”
1SA 13:15 পরে শমূয়েল গিল্‌গল ছেড়ে বিন্যামীন প্রদেশের গিবিয়াতে চলে গেলেন, এবং শৌল তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের সংখ্যা গণনা করলেন। তাদের সংখ্যা হল প্রায় 600।
1SA 13:16 শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজন বিন্যামীন প্রদেশের গিবিয়াতে ছিলেন, অন্যদিকে ফিলিস্তিনীরা মিক্‌মসে শিবির স্থাপন করেছিল।
1SA 13:17 ফিলিস্তিনীদের শিবির থেকে আক্রমণকারী সৈন্যরা তিন দলে বিভক্ত হয়ে বেরিয়ে এল। একদল সৈন্য শূয়াল এলাকায় অবস্থিত অফ্রার দিকে গেল,
1SA 13:18 অন্য দলটি গেল বেথ-হোরোণের দিকে, এবং তৃতীয় দলটি মরুপ্রান্তরের দিকে দৃষ্টি রেখে সিবোয়িম উপত্যকা লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকার দিকে গেল।
1SA 13:19 গোটা ইস্রায়েল দেশে কোনও কামার পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ ফিলিস্তিনীরা বলেছিল, “পাছে হিব্রুরা তরোয়াল বা বর্শা তৈরি করে!”
1SA 13:20 তাই ইস্রায়েলের সব লোকজন তাদের লাঙলের ফাল, কোদাল, কুড়ুল ও কাস্তে ধার করার জন্য ফিলিস্তিনীদের কাছে যেত।
1SA 13:21 লাঙলের ফাল ও কোদাল ধার করার জন্য দিতে হত এক শেকলের দুই-তৃতীয়াংশ রুপো এবং কাঁটা-বেলচা ও কুড়ুল ধার করার তথা অঙ্কুশ শান দেওয়ার জন্য দিতে হত এক শেকলের এক-তৃতীয়াংশ রুপো।
1SA 13:22 তাই যুদ্ধের দিনে শৌল ও যোনাথনের সঙ্গে থাকা একজনও সৈনিকের হাতে কোনও তরোয়াল বা বর্শা ছিল না; শুধু শৌল ও যোনাথনের হাতেই সেগুলি ছিল।
1SA 13:23 ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনী সৈন্যদলের একটি অংশ মিক্‌মসের সংকীর্ণ গিরিপথে চলে গিয়েছিল।
1SA 14:1 একদিন শৌলের ছেলে যোনাথন তাঁর অস্ত্র বহনকারী যুবক ছেলেটিকে বললেন, “এসো, অন্যদিকে অবস্থিত ফিলিস্তিনীদের সৈন্যশিবিরে যাওয়া যাক।” কিন্তু একথা তিনি তাঁর বাবাকে বলেননি।
1SA 14:2 শৌল গিবিয়ার প্রান্তদেশে মিগ্রোণে একটি ডালিম গাছের তলায় বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় 600 জন,
1SA 14:3 তাদের মধ্যে ছিলেন অহিয়, যাঁর পরনে ছিল এফোদ। তিনি ছিলেন অহীটূবের ছেলে, অহীটূব ছিলেন ঈখাবোদের ভাই, ঈখাবোদ ছিলেন পীনহসের ছেলে, এবং পীনহস ছিলেন সেই এলির ছেলে, যিনি শীলোতে সদাপ্রভুর যাজক ছিলেন। কেউই বুঝতে পারেনি যে যোনাথন বের হয়ে গিয়েছেন।
1SA 14:4 যে গিরিপথটি পেরিয়ে যোনাথন ফিলিস্তিনীদের সৈন্যশিবিরে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন সেটির দুধারেই একটি করে খাড়া বাঁধ ছিল; একটির নাম বোৎসেস ও অন্যটির নাম সেনি।
1SA 14:5 একটি খাড়া বাঁধ উত্তর দিকে মিক্‌মসের মুখোমুখি ছিল, অন্যটি ছিল দক্ষিণ দিকে গেবার মুখোমুখি।
1SA 14:6 যোনাথন তাঁর অস্ত্র বহনকারী যুবকটিকে বললেন, “চলো, আমরা ইত্যবসরে সেইসব লোকজনের ঘাঁটিতে যাই, যারা নেহাতই অধার্মিক। হয়তো সদাপ্রভু আমাদের হয়ে কাজ করবেন। বেশি লোক দিয়েই হোক বা অল্প লোক দিয়েই হোক, ঈশ্বর উদ্ধার করবেনই, কোনো কিছুই তাঁকে আটকাতে পারবে না।”
1SA 14:7 তাঁর অস্ত্র বহনকারী বলল, “আপনার যা মনে হয় তাই করুন। এগিয়ে যান, আমি মনেপ্রাণে আপনার সঙ্গে সঙ্গে আছি।”
1SA 14:8 যোনাথন বললেন, “তবে, এসো; আমরা পার হয়ে ওদের দিকে যাব এবং ওরাও আমাদের দেখুক।
1SA 14:9 যদি ওরা আমাদের বলে, ‘আমরা তোমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত ওখানে অপেক্ষা করো,’ তবে আমরা যেখানে আছি সেখানেই থাকব ও ওদের কাছে উঠে যাব না।
1SA 14:10 কিন্তু ওরা যদি বলে, ‘আমাদের কাছে উঠে এসে লড়ো,’ তবে আমরা উপরে উঠে যাব, কারণ সেটিই আমাদের কাছে এই চিহ্ন হয়ে যাবে যে সদাপ্রভু ওদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।”
1SA 14:11 অতএব তাঁরা দুজনেই ফিলিস্তিনী সেনা-ঘাঁটির সামনে গিয়ে নিজেদের দর্শন দিলেন। ফিলিস্তিনীরা বলল, “ওই দেখো, গর্তে লুকিয়ে থাকা হিব্রুরা হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসছে।”
1SA 14:12 সেনা-ঘাঁটির লোকজন চিৎকার করে যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র-বহনকারীকে বলল, “আমাদের কাছে উঠে এসে লড়ো, আমরা তোমাদের উচিত শিক্ষা দেব।” অতএব যোনাথন তাঁর অস্ত্র-বহনকারীকে বললেন, “আমার পিছু পিছু উপরে উঠে এসো; সদাপ্রভু ইস্রায়েলের হাতে ওদের তুলে দিয়েছেন।”
1SA 14:13 যোনাথন তাঁর হাত পা ব্যবহার করে উপরে উঠে গেলেন, এবং তাঁর অস্ত্র বহনকারী ছিল ঠিক তাঁর পিছনেই। ফিলিস্তিনীরা যোনাথনের সামনে পড়ে যাচ্ছিল, ও তাঁর অস্ত্র-বহনকারীও তাঁকে অনুসরণ করে তাদের হত্যা করে যাচ্ছিল।
1SA 14:14 প্রথম আক্রমণেই যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটি কমবেশি অর্ধেক একর এলাকা জুড়ে প্রায় কুড়ি জনকে হত্যা করলেন।
1SA 14:15 তখন সমগ্র সৈন্যদলে—যারা শিবিরে ও যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল, এবং যারা সেনা-ঘাঁটিতে ছিল ও যারা হামলা চালাচ্ছিল, তাদের মধ্যেও—আতঙ্ক ছেয়ে গেল, এবং ভূমিকম্প হল। সেই আতঙ্ক ঈশ্বরই পাঠালেন।
1SA 14:16 বিন্যামীনের গিবিয়ায় শৌলের প্রহরীরা দেখতে পেয়েছিল যে সৈন্যদল চর্তুদিকে কমে যাচ্ছে।
1SA 14:17 তখন শৌল তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে বললেন, “সৈন্যদের জমায়েত করে গুনে দেখো, কে কে আমাদের ছেড়ে গিয়েছে।” যখন তারা এমনটি করল, দেখা গেল যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী সেখানে অনুপস্থিত।
1SA 14:18 শৌল অহিয়কে বললেন, “ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি এখানে আনুন।” (সেই সময় সেটি ইস্রায়েলীদের সঙ্গেই ছিল)
1SA 14:19 শৌল যখন যাজকের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ফিলিস্তিনী-শিবিরে তখন ক্রমাগত হৈ হট্টগোল বেড়েই চলেছিল। তাই শৌল যাজককে বললেন, “আপনার হাত সরিয়ে নিন।”
1SA 14:20 পরে শৌল ও তাঁর সব লোকজন একত্রিত হয়ে যুদ্ধে গেলেন। তাঁরা দেখেছিলেন যে ফিলিস্তিনীরা পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গিয়ে নিজেদেরই তরোয়াল দিয়ে পরস্পরকে আঘাত হেনে চলেছে।
1SA 14:21 যেসব হিব্রু লোকজন ইতিপূর্বে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে ছিল ও তাদের সাথে মিলে তাদের সৈন্যশিবিরে চলে গিয়েছিল, তারাও সেইসব ইস্রায়েলীর কাছে ফিরে এসেছিল, যারা শৌল ও যোনাথনের সঙ্গে ছিল।
1SA 14:22 ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকায় লুকিয়ে থাকা ইস্রায়েলীরা যখন শুনেছিল যে ফিলিস্তিনীরা পালিয়ে যাচ্ছে, তখন তারাও যুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
1SA 14:23 অতএব সেদিন সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে রক্ষা করলেন, এবং যুদ্ধ বেথ-আবন পার করে ছড়িয়ে পড়েছিল।
1SA 14:24 সেদিন ইস্রায়েলীরা গুরুতর অসুবিধায় পড়েছিল, কারণ শৌল এই বলে লোকজনকে এক শপথের অধীনে বেঁধে দিলেন, “সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগে, আমার শত্রুদের উপর আমি প্রতিশোধ নেওয়ার আগে যদি কেউ খাবার খায়, তবে সে শাপগ্রস্ত হোক!” তাই সৈন্যদলের কেউই খাবার মুখে তোলেনি।
1SA 14:25 গোটা সৈন্যদল অরণ্যে প্রবেশ করল, আর সেখানে জমির উপর মধু পড়েছিল।
1SA 14:26 অরণ্যে প্রবেশ করে তারা দেখেছিল যে মধু চুঁইয়ে পড়ছে; তবুও কেউ মুখে হাত ঠেকায়নি, কারণ তারা শপথের ভয় করছিল।
1SA 14:27 কিন্তু যোনাথন শোনেননি যে তাঁর বাবা প্রজাদের শপথে বেঁধে রেখেছেন, তাই তিনি তাঁর হাতে থাকা ছড়ির ডগাটি বাড়িয়ে মৌচাকে ডুবিয়ে দিলেন। তিনি হাত বাড়িয়ে মুখে দেওয়ামাত্র তাঁর চোখদুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
1SA 14:28 তখন সৈন্যদের মধ্যে একজন তাঁকে বলল, “আপনার বাবা এই বলে সৈন্যদলকে কঠোর নিয়মানুবর্তী এক শপথে বেঁধে রেখেছেন যে, ‘আজ যে কেউ খাবার খাবে সে শাপগ্রস্ত হোক!’ তাইতো লোকেরা দুর্বল হয়ে পড়েছে।”
1SA 14:29 যোনাথন বললেন, “আমার বাবা দেশে কষ্ট ডেকে এনেছেন। দেখো তো, এই মধুর কিছুটা চাখাতেই কীভাবে আমার চোখদুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
1SA 14:30 লোকেরা আজ যদি তাদের শত্রুদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া লুন্ঠিত জিনিসপত্রের কিছুটা খেতে পারত তবে কতই না ভালো হত। ফিলিস্তিনীদের সংহার আরও বড়ো মাপের হত নাকি?”
1SA 14:31 সেদিন, মিক্‌মস থেকে অয়ালোন পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের আঘাত করতে করতে ইস্রায়েলীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।
1SA 14:32 তারা লুন্ঠিত জিনিসপত্রের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মেষ, গবাদি পশু ও বাছুরদের ধরে ধরে জমির উপরেই সেগুলি বধ করে রক্ত সমেত খেয়ে ফেলেছিল।
1SA 14:33 তখন কেউ একজন গিয়ে শৌলকে বলল, “দেখুন, রক্ত সমেত মাংস খেয়ে লোকেরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করছে।” তিনি বললেন, “তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছ। এখনই এখানে একটি বড়ো পাথর গড়িয়ে আনো।”
1SA 14:34 পরে তিনি বললেন, “লোকদের মধ্যে গিয়ে তাদের বলো, ‘তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে আমার কাছে তোমাদের গবাদি পশু ও মেষপাল নিয়ে এসো, ও সেগুলি এখানে বধ করে খেয়ে ফেলো। রক্ত সমেত মাংস খেয়ে তোমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ কোরো না। ’ ” অতএব প্রত্যেকে সেরাত্রে যে যার বলদ নিয়ে এসে সেখানে বধ করল।
1SA 14:35 তখন শৌল সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন; এই প্রথমবার তিনি এমনটি করলেন।
1SA 14:36 শৌল বললেন, “চলো, আজ রাতেই আমরা ফিলিস্তিনীদের পিছনে তাড়া করে ভোর পর্যন্ত তাদের উপর লুটপাট চালাই, এবং তাদের মধ্যে একজনকেও প্রাণে বাঁচিয়ে না রাখি।” তারা উত্তর দিয়েছিল, “আপনার যা ভালো মনে হয় তাই করুন।” কিন্তু যাজক বললেন, “আসুন, আমরা এখানে ঈশ্বরের কাছে খোঁজ করি।”
1SA 14:37 অতএব শৌল ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি ফিলিস্তিনীদের পিছনে তাড়া করব? তুমি কি তাদের ইস্রায়েলের হাতে তুলে দেবে?” কিন্তু ঈশ্বর সেদিন তাঁকে কোনও উত্তর দেননি।
1SA 14:38 অতএব শৌল বললেন, “তোমরা যারা সৈন্যদলের নেতা, তারা এখানে এসো, এবং খুঁজে দেখা যাক আজ কী পাপ ঘটেছে।
1SA 14:39 ইস্রায়েলের রক্ষাকর্তা সদাপ্রভুর দিব্যি, দোষ যদি আমার ছেলে যোনাথন করে থাকে, তবে তাকেই মরতে হবে।” কিন্তু তাদের কেউই কোনও কথা বলেনি।
1SA 14:40 শৌল তখন সব ইস্রায়েলীকে বললেন, “তোমরা সব ওখানে দাঁড়িয়ে থাকো; আমি ও আমার ছেলে যোনাথন এখানে এসে দাঁড়াব।” “আপনার যা ভালো মনে হয়, তাই করুন,” তারা উত্তর দিয়েছিল।
1SA 14:41 তখন শৌল ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, “আজ তুমি কেন তোমার দাসকে উত্তর দিলে না? আমি বা আমার ছেলে যোনাথন যদি দোষ করে থাকি, তবে ঊরীমের মাধ্যমে উত্তর দাও, কিন্তু ইস্রায়েলের জনতা যদি ভুল করে থাকে, তবে তূম্মীমের মাধ্যমে উত্তর দাও।” গুটিকাপাতের মাধ্যমে যোনাথন ও শৌল ধরা পড়েছিলেন, এবং জনতা মুক্ত হল।
1SA 14:42 শৌল বললেন, “আমার ও আমার ছেলে যোনাথনের মধ্যে গুটিকাপাতের দান চালো।” তাতে যোনাথন ধরা পড়েছিলেন।
1SA 14:43 তখন শৌল যোনাথনকে বললেন, “তুমি কী করেছ তা আমায় বলো।” যোনাথন তাঁকে বললেন, “আমি আমার লাঠির ডগায় করে একটু মধু চেখেছি। এখন আমায় মরতে হবে!”
1SA 14:44 শৌল বললেন, “যোনাথন, তুমি যদি মারা না যাও, তবে ঈশ্বর যেন আমায় আরও বেশি শাস্তি দেন।”
1SA 14:45 কিন্তু লোকেরা শৌলকে বলল, “যিনি ইস্রায়েলে এমন মহা উদ্ধার এনে দিয়েছেন—সেই যোনাথন মরবেন? তা হবে না! জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, তাঁর মাথার একটি চুলও মাটিতে পড়বে না, কারণ ঈশ্বরের সাহায্য নিয়ে তিনিই আজ এমনটি করেছেন।” অতএব লোকেরা যোনাথনকে রক্ষা করল, এবং তাঁকে মরতে হয়নি।
1SA 14:46 পরে শৌল আর ফিলিস্তিনীদের পশ্চাদ্ধাবন করেননি, এবং তারাও তাদের দেশে ফিরে গেল।
1SA 14:47 শৌল ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করা শুরু করার পরপরই তিনি তাদের সব শত্রুর: মোয়াব, অম্মোনীয়, ইদোমীয়, সোবার রাজাদের ও ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। তিনি যেদিকেই যেতেন, তাদের শাস্তি দিয়ে যেতেন।
1SA 14:48 তিনি বীরের মতো যুদ্ধ করে অমালেকীয়দের পরাস্ত করলেন, ও ইস্রায়েলকে তাদের হাত থেকে মুক্ত করলেন, যারা তাদের উপর লুঠতরাজ চালিয়েছিল।
1SA 14:49 শৌলের ছেলেদের নাম যোনাথন, যিশবি ও মল্কীশূয়। তাঁর বড়ো মেয়ের নাম মেরব ও ছোটোটির নাম মীখল।
1SA 14:50 তাঁর স্ত্রীর নাম অহীনোয়ম, যিনি অহীমাসের মেয়ে। শৌলের সৈন্যদলের সেনাপতির নাম অবনের, তিনি নেরের ছেলে, এবং নের ছিলেন শৌলের কাকা।
1SA 14:51 শৌলের বাবা কীশ ও অবনেরের বাবা নের ছিলেন অবীয়েলের ছেলে।
1SA 14:52 শৌলের সমগ্র রাজত্বকাল জুড়ে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে তাদের ভীষণ যুদ্ধ লেগেই থাকত, এবং শৌল যখনই কোনও মহান বা সাহসী লোক দেখতেন, তিনি তাকে তাঁর সৈন্যদলে ভর্তি করে নিতেন।
1SA 15:1 শমূয়েল শৌলকে বললেন, “সদাপ্রভু তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের উপর তোমাকে রাজপদে অভিষিক্ত করার জন্য আমাকেই পাঠিয়েছিলেন; তাই এখন তুমি সদাপ্রভুর বাণীটি শোনো।
1SA 15:2 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘ইস্রায়েল যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল তখন অমালেকীয়রা তাদের উপর লুটপাট চালাবার জন্য ওৎ পেতে বসে থেকে যা যা করেছিল সেজন্য আমি তাদের শাস্তি দেব।
1SA 15:3 এখন যাও, অমালেকীয়দের আক্রমণ করো এবং তাদের যা যা আছে, সব পুরোপুরি ধ্বংস করে দাও। তাদের নিষ্কৃতি দিয়ো না; স্ত্রী-পুরুষ, সন্তানসন্ততি ও শিশু, গবাদি পশু ও মেষ, উট ও গাধাগুলি মেরে ফেলো।’ ”
1SA 15:4 শৌল তখন লোকজনকে ডেকে পাঠিয়ে টলায়ীমে তাদের গণনা করার জন্য একত্রিত করলেন, 2,00,000 পদাতিক সৈন্য ও যিহূদা থেকে 10,000 জন সংগৃহীত হল।
1SA 15:5 শৌল সৈন্যসামন্ত নিয়ে অমালেকীয়দের নগরে গিয়ে সরু গিরিখাতের মধ্যে ওৎ পেতে বসেছিলেন।
1SA 15:6 পরে তিনি কেনীয়দের বললেন, “তোমরা সরে যাও, অমালেকীয়দের সঙ্গ ত্যাগ করো, যেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে আমি তোমাদেরও ধ্বংস করে না ফেলি; কারণ ইস্রায়েলীরা যখন মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল, তোমরা তাদের প্রতি দয়া দেখিয়েছিলে।” তাই কেনীয়েরা অমালেকীয়দের কাছ থেকে দূরে সরে গেল।
1SA 15:7 পরে শৌল হবীলা থেকে মিশরের পূর্ব-সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত শূর পর্যন্ত অমালেকীয়দের আক্রমণ করে গেলেন।
1SA 15:8 তিনি অমালেকীয়দের রাজা অগাগকে জীবিত অবস্থায় ধরে রেখে তার সব লোকজনকে তরোয়াল দিয়ে ধ্বংস করে ফেললেন।
1SA 15:9 কিন্তু শৌল ও তাঁর সৈন্যরা অগাগকে ও ভালো ভালো মেষ ও গবাদি পশুপাল, হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ও মেষশাবকদের—যা যা ভালো বলে মনে হল, সেসব বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলি তাঁরা পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাননি, কিন্তু যা যা তুচ্ছ ও দুর্বল ছিল, সেগুলিই তাঁরা পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছিলেন।
1SA 15:10 তখন সদাপ্রভুর এই বাক্য শমূয়েলের কাছে এসেছিল:
1SA 15:11 “আমি শৌলকে রাজা করেছি বলে আমার আক্ষেপ হচ্ছে, কারণ সে আমার কাছ থেকে সরে গিয়েছে এবং আমার নির্দেশ পালন করেনি।” শমূয়েল ক্রুদ্ধ হলেন, এবং সারারাত সেদিন তিনি সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করলেন।
1SA 15:12 পরদিন ভোরবেলায় শমূয়েল উঠে শৌলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু তাঁকে বলা হল, “শৌল কর্মিলে গিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের সম্মানার্থে একটি স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠা করার পর গিল্‌গলে নেমে গিয়েছেন।”
1SA 15:13 শমূয়েল শৌলের কাছে গিয়ে পৌঁছালে শৌল বললেন, “সদাপ্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করুন! আমি সদাপ্রভুর নির্দেশ পালন করেছি।”
1SA 15:14 কিন্তু শমূয়েল বললেন, “তবে আমার কানে কেন মেষের ডাক ভেসে আসছে? আমি কেন তবে গবাদি পশুর ডাক শুনতে পাচ্ছি?”
1SA 15:15 শৌল উত্তর দিলেন, “সৈন্যরা এগুলি অমালেকীয়দের কাছ থেকে নিয়ে এসেছে; আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি দেওয়ার জন্য তারা ভালো ভালো মেষ ও গবাদি পশু বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু বাদবাকি সবকিছু আমরা পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছি।”
1SA 15:16 “যথেষ্ট হয়েছে!” শমূয়েল শৌলকে বললেন। “গতরাতে সদাপ্রভু আমাকে যা বলেছিলেন, তা আমায় বলতে দাও।” “আমায় বলুন,” শৌল উত্তর দিলেন।
1SA 15:17 শমূয়েল বললেন, “যদিও এক সময় তুমি নিজের দৃষ্টিতেই ক্ষুদ্র ছিলে, তাও কি তুমি ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীর প্রধান হওনি? সদাপ্রভু তোমাকে ইস্রায়েলের উপর রাজপদে অভিষিক্ত করেছেন।
1SA 15:18 তিনিই তোমাকে একটি কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়ে বলেছিলেন, ‘যাও ও সেই দুষ্ট জাতিকে, অমালেকীয়দের পুরোপুরি ধ্বংস করে দাও; তাদের পুরোপুরি মুছে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই যাও।’
1SA 15:19 তুমি সদাপ্রভুর বাধ্য হলে না কেন? কেন তুমি লুন্ঠিত জিনিসপত্রের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে পাপ করলে?”
1SA 15:20 “কিন্তু আমি তো সদাপ্রভুর বাধ্য হয়েছি,” শৌল শমূয়েলকে বললেন। “সদাপ্রভু আমায় যে কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, আমি তো সে কাজেই গিয়েছিলাম। আমি অমালেকীয়দের পুরোপুরি ধ্বংস করেছি এবং তাদের রাজা অগাগকে ধরে এনেছি।
1SA 15:21 সৈন্যরা লুন্ঠিত জিনিসপত্র থেকে কয়েকটি মেষ ও গবাদি পশু নিয়েছে, সেগুলির মধ্যে থেকে ভালো ভালো কয়েকটিকে গিল্‌গলে আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি দেওয়ার জন্য সরিয়ে রাখা হয়েছে।”
1SA 15:22 কিন্তু শমূয়েল উত্তর দিলেন: “সদাপ্রভুর বাধ্য হলে তিনি যত খুশি হন, হোম ও বলি পেয়ে কি তিনি তত খুশি হন? বলি দেওয়ার থেকে বাধ্য হওয়া ভালো, মদ্দা মেষের চর্বির থেকে কথা শোনা ভালো।
1SA 15:23 কারণ বিরুদ্ধাচরণ হল ভবিষ্যৎ-কথনের মতো পাপ, এবং ঔদ্ধত্য হল প্রতিমাপূজার মতো পাপ। যেহেতু তুমি সদাপ্রভুর বাক্য অগ্রাহ্য করেছ, তাই তিনিও তোমায় রাজারূপে অগ্রাহ্য করেছেন।”
1SA 15:24 তখন শৌল শমূয়েলকে বললেন, “আমি পাপ করেছি। আমি সদাপ্রভুর আজ্ঞা ও আপনার নির্দেশ অমান্য করেছি। লোকজনকে ভয় পেয়ে আমি তাদের কথানুসারে কাজ করেছি।
1SA 15:25 এখন আমি আপনাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার পাপ ক্ষমা করুন ও আমার সঙ্গে ফিরে চলুন, যেন আমি সদাপ্রভুর আরাধনা করতে পারি।”
1SA 15:26 কিন্তু শমূয়েল তাঁকে বললেন, “আমি তোমার সঙ্গে ফিরে যাব না। তুমি সদাপ্রভুর বাক্য অগ্রাহ্য করেছ, আর সদাপ্রভুও ইস্রায়েলের রাজারূপে তোমাকে অগ্রাহ্য করেছেন!”
1SA 15:27 শমূয়েল প্রস্থান করার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই শৌল শমূয়েলের আলখাল্লার আঁচল ধরে টান দিলেন, এবং সেটি ছিঁড়ে গেল।
1SA 15:28 শমূয়েল তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভু আজ ইস্রায়েলের রাজ্যটি তোমার কাছ থেকে ছিঁড়ে নিলেন এবং তোমার প্রতিবেশীদের মধ্যে একজনকে—যে তোমার চেয়ে ভালো, তাকে দিয়ে দিলেন।
1SA 15:29 যিনি ইস্রায়েলের প্রতাপ, তিনি মিথ্যা কথা বলেন না বা মন পরিবর্তন করেন না; কারণ তিনি মানুষ নন যে তাঁর মন পরিবর্তন করবেন।”
1SA 15:30 শৌল উত্তর দিলেন, “আমি পাপ করেছি। কিন্তু দয়া করে আমার প্রজাকুলের প্রাচীনদের সামনে ও ইস্রায়েলের সামনে আমার সম্মান বজায় রাখুন; আমার সঙ্গে ফিরে চলুন, যেন আমি আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা করতে পারি।”
1SA 15:31 অতএব শমূয়েল শৌলের সঙ্গে ফিরে গেলেন, এবং শৌল সদাপ্রভুর আরাধনা করলেন।
1SA 15:32 পরে শমূয়েল বললেন, “অমালেকীয়দের রাজা অগাগকে আমার কাছে নিয়ে এসো।” শিকলে বাঁধা অবস্থায় অগাগ তাঁর কাছে এলেন। তিনি মনে করলেন, “মৃত্যুর তীব্রতা নিশ্চয় দূর হয়ে গিয়েছে।”
1SA 15:33 কিন্তু শমূয়েল বললেন, “তোমার তরোয়াল যেভাবে স্ত্রীলোকদের নিঃসন্তান করেছে, তোমার মা স্ত্রীলোকদের মধ্যে তেমনই নিঃসন্তান হবে।” শমূয়েল গিল্‌গলে সদাপ্রভুর সামনে অগাগকে হত্যা করলেন।
1SA 15:34 পরে শমূয়েল রামার উদ্দেশে রওনা হলেন, কিন্তু শৌল শৌলের গিবিয়ায় নিজের ঘরে ফিরে গেলেন।
1SA 15:35 আমৃত্যু শমূয়েল আর শৌলের সঙ্গে দেখা করতে যাননি, যদিও শমূয়েল তাঁর জন্য অবশ্য কান্নাকাটি করতেন। শৌলকে ইস্রায়েলের রাজা করেছিলেন বলে সদাপ্রভুর আক্ষেপ হয়েছিল।
1SA 16:1 সদাপ্রভু শমূয়েলকে বললেন, “ইস্রায়েলের রাজারূপে আমি শৌলকে অগ্রাহ্য করেছি, তাই তুমি আর কত দিন তার জন্য কান্নাকাটি করবে? তোমার শিঙায় তেল ভরে নাও ও বেরিয়ে পড়ো; আমি তোমাকে বেথলেহেমে যিশয়ের কাছে পাঠাচ্ছি। আমি তার ছেলেদের মধ্যে একজনকে রাজা হওয়ার জন্য মনোনীত করেছি।”
1SA 16:2 কিন্তু শমূয়েল বললেন, “আমি কীভাবে যাব? শৌল যদি শুনতে পায়, তবে সে আমাকে মেরে ফেলবে।” সদাপ্রভু বললেন, “তুমি সাথে করে একটি বকনা-বাছুর নিয়ে গিয়ে বলো, ‘আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলিদান উৎসর্গ করতে এসেছি।’
1SA 16:3 বলিদানের অনুষ্ঠানে যিশয়কে নিমন্ত্রণ কোরো, আর আমি তোমায় জানিয়ে দেব ঠিক কী করতে হবে। আমি যার দিকে ইঙ্গিত করব, তুমি তাকেই অভিষিক্ত করবে।”
1SA 16:4 সদাপ্রভু যা বললেন শমূয়েল ঠিক তাই করলেন। তিনি বেথলেহেমে পৌঁছালে, তাঁকে দেখে নগরের প্রাচীনেরা শিহরিত হলেন। তাঁরা প্রশ্ন করলেন, “আপনি শান্তিভাব নিয়ে এসেছেন তো?”
1SA 16:5 শমূয়েল উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, শান্তিভাব নিয়েই এসেছি; আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলিদান উৎসর্গ করতে এসেছি। তোমরা নিজেদের শুচিশুদ্ধ করো ও আমার সঙ্গে বলিদান উৎসর্গ করতে চলো।” পরে তিনি যিশয় ও তাঁর ছেলেদের শুদ্ধকরণ করে বলিদান উৎসর্গ করার জন্য তাঁদের নিমন্ত্রণ জানালেন।
1SA 16:6 তাঁরা সেখানে পৌঁছালে, শমূয়েল ইলীয়াবকে দেখে ভাবলেন, “সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিই নিশ্চয় এখানে সদাপ্রভুর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।”
1SA 16:7 কিন্তু সদাপ্রভু শমূয়েলকে বললেন, “এর চেহারা বা উচ্চতা দেখতে যেয়ো না, কারণ আমি একে অগ্রাহ্য করেছি। মানুষ যা দেখে সদাপ্রভু তা দেখেন না। মানুষ বাইরের চেহারাই দেখে, কিন্তু সদাপ্রভু অন্তর দেখেন।”
1SA 16:8 পরে যিশয় অবীনাদবকে ডেকে তাকে শমূয়েলের সামনে দিয়ে হাঁটালেন। কিন্তু শমূয়েল বললেন, “সদাপ্রভু একেও মনোনীত করেননি।”
1SA 16:9 যিশয় পরে শম্মকে হাঁটালেন, কিন্তু শমূয়েল বললেন, “সদাপ্রভু একেও মনোনীত করেননি।”
1SA 16:10 যিশয় তাঁর সাত ছেলেদের প্রত্যেককেই শমূয়েলের সামনে দিয়ে হাঁটালেন, কিন্তু শমূয়েল তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভু এদের কাউকেই মনোনীত করেননি।”
1SA 16:11 অতএব তিনি যিশয়কে প্রশ্ন করলেন, “তোমার কি এই কটিই ছেলে আছে?” “সবচেয়ে ছোটো একজন আছে,” যিশয় উত্তর দিলেন। “সে তো মেষ চরাচ্ছে।” শমূয়েল বললেন, “তাকে ডেকে পাঠাও; সে না আসা পর্যন্ত আমরা খেতে বসব না।”
1SA 16:12 অতএব যিশয় লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনালেন। সে ছিল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও তার চোখদুটি ছিল সুন্দর এবং দেখতেও সে ছিল রূপবান। তখন সদাপ্রভু বলে উঠলেন, “ওঠো ও একে অভিষিক্ত করো; এই সেই লোক।”
1SA 16:13 তাই শমূয়েল তেলের শিঙা নিয়ে তাকে তার দাদাদের উপস্থিতিতে অভিষিক্ত করলেন, আর সেইদিন থেকেই সদাপ্রভুর আত্মা দাউদের উপর সপরাক্রমে নেমে এলেন। পরে শমূয়েল রামায় চলে গেলেন।
1SA 16:14 ইত্যবসরে সদাপ্রভুর আত্মা শৌলকে ছেড়ে গেলেন, এবং সদাপ্রভুর কাছ থেকে এক মন্দ আত্মা এসে তাঁকে উত্যক্ত করল।
1SA 16:15 শৌলের পরিচারকেরা তাঁকে বলল, “দেখুন, ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা এক মন্দ-আত্মা আপনাকে উত্যক্ত করছে।
1SA 16:16 আমাদের প্রভু এখানে তাঁর দাসদের আদেশ করুন, আমরা এমন একজনকে খুঁজে আনি যে বীণা বাজাতে পারে। মন্দ আত্মাটি যখন ঈশ্বরের কাছ থেকে আপনার উপর নেমে আসবে তখন সে বীণা বাজাবে, এবং আপনার ভালো লাগবে।”
1SA 16:17 অতএব শৌল তাঁর পরিচারকদের বললেন, “এমন কাউকে খুঁজে বের করো যে বেশ ভালো বাজাতে জানে এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
1SA 16:18 দাসদের মধ্যে একজন উত্তর দিল, “আমি বেথলেহেম নিবাসী যিশয়ের ছেলেদের মধ্যে একজনকে দেখেছি যে বীণা বাজাতে জানে। সে একজন বীরপুরুষ ও এক যোদ্ধাও। সে বেশ ভালো কথা বলে ও রূপবানও বটে। সদাপ্রভুও তার সহবর্তী।”
1SA 16:19 তখন শৌল যিশয়ের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, “আমার কাছে তোমার ছেলে সেই দাউদকে পাঠিয়ে দাও, যে মেষপাল দেখাশোনা করছে।”
1SA 16:20 অতএব যিশয় একটি গাধার পিঠে কিছু রুটি ও এক মশক ভরা দ্রাক্ষারস, এবং একটি কচি পাঁঠা সমেত তাঁর ছেলে দাউদকে শৌলের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
1SA 16:21 দাউদ শৌলের কাছে এসে তাঁর সেবাকাজে বহাল হলেন। শৌলের তাকে খুব পছন্দ হল, এবং দাউদ তাঁর অস্ত্র-বহনকারীদের মধ্যে একজন হয়ে গেলেন।
1SA 16:22 পরে শৌল যিশয়কে বলে পাঠালেন, “দাউদকে আমার সেবাকাজে বহাল থাকতে দাও, কারণ আমার ওকে ভালো লেগেছে।”
1SA 16:23 যখনই ঈশ্বরের কাছ থেকে আত্মাটি নেমে আসত, দাউদ তার বীণাটি নিয়ে বাজাতে শুরু করতেন। তখনই শৌল স্বস্তি পেতেন; তাঁর ভালো লাগত, ও মন্দ আত্মাটি তাঁকে ছেড়ে চলে যেত।
1SA 17:1 ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধ করার জন্য যিহূদা প্রদেশের সোখোতে তাদের সৈন্যদল একত্রিত করল। সোখো ও অসেকার মাঝখানে অবস্থিত এফস-দম্মীমে তারা সৈন্যশিবির স্থাপন করল।
1SA 17:2 শৌল ও ইস্রায়েলীরা একত্রিত হয়ে এলা উপত্যকায় শিবির স্থাপন করে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করলেন।
1SA 17:3 মাঝখানে উপত্যকাটিকে রেখে ফিলিস্তিনীরা একটি টিলা এবং ইস্রায়েলীরা অপর একটি টিলা অধিকার করল।
1SA 17:4 ফিলিস্তিনীদের শিবির থেকে গাৎ নিবাসী গলিয়াত নামক একজন বীরপুরুষ বের হয়ে এসেছিল। সে ছিল প্রায় তিন মিটার লম্বা।
1SA 17:5 তার মাথায় ছিল ব্রোঞ্জের শিরস্ত্রাণ ও সে অঙ্গে ধারণ করেছিল 5,000 শেকল ওজনের ব্রোঞ্জের তৈরি আঁশের মতো দেখতে এক বর্ম;
1SA 17:6 তার পায়ে ছিল ব্রোঞ্জের বর্ম ও তার পিঠে ঝুলছিল ব্রোঞ্জের একটি বল্লম।
1SA 17:7 তার বর্শার হাতলটি ছিল তাঁতির দণ্ডের মতো, ও বর্শার লোহার ডগাটিরই ওজন ছিল 600 শেকল। তার ঢাল বহনকারী তার আগে আগে যাচ্ছিল।
1SA 17:8 গলিয়াত দাঁড়িয়ে পড়ে ইস্রায়েলের সৈন্যদলের উদ্দেশে চিৎকার করে বলে উঠল, “তোমরা কেন এখানে এসে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য সাজিয়েছ? আমি কি একজন ফিলিস্তিনী নই, আর তোমরাও কি শৌলের দাস নও? তোমরা একজনকে বেছে নাও আর সে আমার কাছে নেমে আসুক।
1SA 17:9 সে যদি যুদ্ধ করে আমাকে মারতে পারে, তবে আমরা তোমাদের বশ্যতাস্বীকার করব; কিন্তু আমি যদি পরাজিত করে তাকে মারতে পারি, তোমরা আমাদের বশ্যতাস্বীকার করে আমাদের দাসত্ব করবে।”
1SA 17:10 পরে সেই ফিলিস্তিনী বলল, “আজ আমি ইস্রায়েলের সৈন্যদলকে দ্বন্দ্বে আহ্বান করছি! আমাকে একজন লোক দাও আর আমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করি।”
1SA 17:11 সেই ফিলিস্তিনীর কথা শুনে শৌল ও ইস্রায়েলীরা সবাই বিমর্ষ ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন।
1SA 17:12 এদিকে দাউদ ছিলেন যিহূদা প্রদেশের বেথলেহেম নিবাসী ইফ্রাথীয় যিশয়ের ছেলে। যিশয়ের আটটি ছেলে ছিল, এবং শৌলের রাজত্ব চলাকালীন তিনি খুব বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
1SA 17:13 যিশয়ের ছেলেদের মধ্যে প্রথম তিনজন শৌলের অনুগামী হয়ে যুদ্ধে গেলেন: তাঁর বড়ো ছেলের নাম ইলীয়াব; দ্বিতীয়জনের নাম অবীনাদব; ও তৃতীয় জনের নাম শম্ম।
1SA 17:14 দাউদ ছিলেন সবচেয়ে ছোটো। বড়ো তিনজন শৌলের অনুগামী হলেন,
1SA 17:15 কিন্তু দাউদ শৌলের কাছ থেকে বেথলেহেমে তাঁর বাবার মেষপাল দেখাশোনা করার জন্য যাওয়া-আসা করতেন।
1SA 17:16 সেই ফিলিস্তিনী চল্লিশ দিন ধরে রোজ সকালে বিকেলে এগিয়ে এসে দাঁড়িয়ে পড়ত।
1SA 17:17 একদিন যিশয় তাঁর ছেলে দাউদকে বললেন, “তুমি তোমার দাদাদের জন্য এই এক ঐফা সেঁকা শস্য ও এই দশ টুকরো রুটি নিয়ে তাড়াতাড়ি তাদের সৈন্যশিবিরে যাও।
1SA 17:18 এই দশ তাল পনীরও তাদের সহস্র-সেনাপতির কাছে নিয়ে যাও। দেখে এসো তোমার দাদারা কেমন আছে এবং তাদের কাছ থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসো।
1SA 17:19 তারা শৌল ও ইস্রায়েলের সৈন্যদলের সঙ্গে থেকে এলা উপত্যকায় ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।”
1SA 17:20 পরদিন ভোরবেলায় দাউদ একজন রাখালের হাতে পশুপালের ভার সঁপে দিয়ে যিশয়ের নির্দেশানুসারে সবকিছু নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন। ঠিক যখন সৈন্যরা রণহুঙ্কার দিতে দিতে সম্মুখসমরে নামতে যাচ্ছিল, তিনি সৈন্যশিবিরে গিয়ে পৌঁছালেন।
1SA 17:21 ইস্রায়েল ও ফিলিস্তিনীরা সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য পরস্পরের মুখোমুখি হল।
1SA 17:22 দাউদ তাঁর জিনিসপত্র রসদ দেখাশোনাকারী একজন লোকের কাছে ফেলে রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে দৌড়ে গেলেন ও তাঁর দাদাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তারা কেমন আছেন।
1SA 17:23 তিনি যখন তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন গাৎ নিবাসী ফিলিস্তিনী বীরপুরুষ গলিয়াত তার অভ্যাসমতো সামনে এগিয়ে এসে চিৎকার করে তাদের টিটকিরি দিচ্ছিল, এবং দাউদ তা শুনেছিলেন।
1SA 17:24 ইস্রায়েলীরা সেই লোকটিকে দেখামাত্র খুব ভয় পেয়ে গিয়ে সবাই তার সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
1SA 17:25 ইস্রায়েলীরা বলাবলি করছিল, “দেখছ, কীভাবে এই লোকটি বারবার বের হয়ে আসছে? এ ইস্রায়েলকে টিটকিরি দেওয়ার জন্যই বের হয়ে আসছে। যে একে মারতে পারবে তাকে রাজামশাই প্রচুর ধনসম্পদ দেবেন। তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে তার বিয়েও দেবেন ও তার পরিবারকে ইস্রায়েলে খাজনা দেওয়ার হাত থেকেও নিষ্কৃতি দেওয়া হবে।”
1SA 17:26 দাউদ তাঁর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, “যে এই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করবে ও ইস্রায়েল থেকে এই অপযশ দূর করবে তার প্রতি কী করা হবে? এই বিধর্মী ফিলিস্তিনীটি কে যে এ জীবন্ত ঈশ্বরের সৈন্যদলকে টিটকিরি দিচ্ছে?”
1SA 17:27 তারা যা যা বলেছিল তা আরও একবার তাঁকে বলে শোনাল এবং তাঁকে এও বলল, “যে তাকে হত্যা করতে পারবে তার প্রতি এমনটিই করা হবে।”
1SA 17:28 দাউদের বড়ো দাদা ইলীয়াব যখন তাঁকে লোকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে শুনেছিলেন, তখন তিনি তাঁর প্রতি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুই কেন এখানে নেমে এসেছিস? কার কাছেই বা তুই মরুপ্রান্তরে সেই অল্প কয়েকটি মেষ ছেড়ে এসেছিস? আমি জানি তুই কত দাম্ভিক আর তোর মন কত দুষ্টুমিতে ভরা; তুই শুধু যুদ্ধ দেখতে এসেছিস।”
1SA 17:29 “আমি আবার কী করলাম?” দাউদ বললেন। “আমি কি কথাও বলতে পারব না?”
1SA 17:30 এই বলে তিনি অন্য একজনের দিকে ফিরে একই বিষয় উত্থাপন করলেন, এবং লোকেরা আগেকার মতোই উত্তর দিল।
1SA 17:31 কেউ আড়ি পেতে দাউদের বলা কথাগুলি শুনেছিল ও শৌলকে গিয়ে খবর দিয়েছিল, এবং শৌল তাঁকে ডেকে পাঠালেন।
1SA 17:32 দাউদ শৌলকে বললেন, “এই ফিলিস্তিনীর জন্য কাউকে মন খারাপ করতে হবে না; আপনার এই দাস গিয়েই তার সঙ্গে যুদ্ধ করবে।”
1SA 17:33 শৌল উত্তর দিলেন, “তোমার পক্ষে এই ফিলিস্তিনীর বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়; তুমি তো এক বাচ্চা ছেলে, আর সে ছেলেবেলা থেকেই যুদ্ধ করে আসছে।”
1SA 17:34 কিন্তু দাউদ শৌলকে উত্তর দিলেন, “আপনার এই দাস তার বাবার মেষপাল দেখাশোনা করে আসছে। যখন যখন কোনো সিংহ বা ভালুক পাল থেকে মেষ উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে,
1SA 17:35 আমি সেগুলির পিছু ধাওয়া করেছি, আঘাত করে সেগুলির মুখ থেকে মেষটিকে উদ্ধার করে এনেছি। সেটি আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াতেই আমি সেটির কেশর জাপটে ধরে মারতে মারতে শেষ করে ফেলেছি।
1SA 17:36 আপনার এই দাস সিংহ ও ভালুক—দুটিকেই মেরে ফেলেছে; এই বিধর্মী ফিলিস্তিনীও তো ওদের মতোই একজন হবে, কারণ সে জীবন্ত ঈশ্বরের সৈন্যদলকে টিটকিরি দিয়েছে।
1SA 17:37 যে সদাপ্রভু আমাকে সিংহের থাবা থেকে ও ভালুকের থাবা থেকেও রক্ষা করেছেন তিনিই আমাকে এই ফিলিস্তিনীর হাত থেকেও রক্ষা করবেন।” শৌল দাউদকে বললেন, “যাও, সদাপ্রভু তোমার সঙ্গে থাকুন।”
1SA 17:38 পরে শৌল দাউদকে নিজের পোশাকটি পরিয়ে দিলেন। তিনি দাউদের গায়ে যুদ্ধের সাজ ও মাথায় ব্রোঞ্জের শিরস্ত্রাণ চাপিয়ে দিলেন।
1SA 17:39 দাউদ পোশাকের উপর তাঁর তরোয়ালটি বেঁধে চলাফেরা করার চেষ্টা করলেন, কারণ তিনি এতে খুব একটা অভ্যস্ত ছিলেন না। “এগুলি নিয়ে আমি চলতে পারছি না,” তিনি শৌলকে বললেন, “কারণ আমি এতে খুব একটা অভ্যস্ত নই।” তাই তিনি সেগুলি খুলে ফেললেন।
1SA 17:40 পরে তিনি হাতে নিজের লাঠিটি নিয়ে, জলস্রোত থেকে পাঁচটি মসৃণ নুড়ি-পাথর বেছে নিয়ে সেগুলি রাখালেরা যে থলি রাখে, নিজের কাছে থাকা সেরকমই একটি থলিতে রেখে দিলেন, এবং হাতে নিজের গুলতিটি নিয়ে সেই ফিলিস্তিনীর দিকে এগিয়ে গেলেন।
1SA 17:41 এদিকে, সেই ফিলিস্তিনী তার ঢাল বহনকারীকে সামনে রেখে দাউদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করল।
1SA 17:42 সে দাউদের দিকে ভালো করে তাকিয়ে যখন দেখল যে তাঁর বয়স খুব অল্প এবং তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও রূপবান, তখন সে তাঁকে অবজ্ঞা করল।
1SA 17:43 সে দাউদকে বলল, “আমি কি কুকুর নাকি, যে তুই লাঠি নিয়ে আমার কাছে এসেছিস?” আর সেই ফিলিস্তিনী নিজের দেবতাদের নাম নিয়ে দাউদকে গালাগালি দিল।
1SA 17:44 “এখানে আয়,” সে বলল, “আর আমি তোর মাংস পাখি ও বন্যপশুদের খাওয়াব!”
1SA 17:45 দাউদ সেই ফিলিস্তিনীকে বললেন, “তুমি তরোয়াল, বর্শা ও বল্লম নিয়ে আমার বিরুদ্ধে লড়তে এসেছ, কিন্তু আমি ইস্রায়েলের সৈন্যদলের ঈশ্বর সেই সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নামে তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছি, তুমি যাঁর নামে টিটকিরি দিয়েছ।
1SA 17:46 আজকের এই দিনে সদাপ্রভু তোমাকে আমার হাতে সমর্পণ করে দেবেন, আর আমি তোমাকে আঘাত করে তোমার মাথা কেটে ফেলব। আজই আমি ফিলিস্তিনী সৈন্যদের মৃতদেহ পাখি ও বন্যপশুদের খাওয়াব, আর সমগ্র জগৎসংসার জানবে যে ইস্রায়েলে একজন ঈশ্বর আছেন।
1SA 17:47 এখানে যারা যারা উপস্থিত আছে তারা সবাই জানবে যে সদাপ্রভু তরোয়াল বা বর্শা দিয়ে উদ্ধার দেন না; কারণ যুদ্ধ তো সদাপ্রভুরই, আর তিনিই তোমাদের সবাইকে আমাদের হাতে সমর্পণ করে দেবেন।”
1SA 17:48 সেই ফিলিস্তিনী যেই দাউদকে আক্রমণ করার জন্য তাঁর দিকে এগিয়ে এল, তিনি চট করে তার মুখোমুখি হওয়ার জন্য সামনে দৌড়ে গেলেন।
1SA 17:49 তিনি থলি থেকে একটি পাথর বের করে গুলতিতে ভরে সেই ফিলিস্তিনীর কপাল লক্ষ্য করে সেটি ছুঁড়ে মারলেন। পাথরটি তার কপাল ভেদ করে ভিতরে ঢুকে গেল, এবং সে উবুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
1SA 17:50 অতএব দাউদ একটি গুলতি ও একটি পাথর নিয়েই সেই ফিলিস্তিনীর উপর জয়লাভ করলেন; হাতে কোনও তরোয়াল না নিয়েই তিনি সেই ফিলিস্তিনীকে আঘাত করে তাকে মেরে ফেললেন।
1SA 17:51 দাউদ দৌড়ে গিয়ে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। তিনি সেই ফিলিস্তিনীর তরোয়ালটি ধরে সেটি খাপ থেকে বের করে আনলেন। তাকে হত্যা করার পর তিনি তরোয়াল দিয়ে তার মাথাটি কেটে ফেললেন। ফিলিস্তিনীরা যখন দেখল তাদের বীরপুরুষ মারা পড়েছে, তখন তারা পিছু ফিরে পালালো।
1SA 17:52 পরে ইস্রায়েল ও যিহূদার লোকজন প্রবল উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে সামনে এগিয়ে গিয়ে গাতের প্রবেশদ্বার ও ইক্রোণের ফটক পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের পশ্চাদ্ধাবন করল। তাদের শবগুলি গাত ও ইক্রোণ পর্যন্ত শারয়িমের পথে পথে ছড়িয়ে পড়ল।
1SA 17:53 ইস্রায়েলীরা ফিলিস্তিনীদের তাড়িয়ে দিয়ে ফিরে আসার পথে তাদের সৈন্যশিবিরে লুঠতরাজ চালাল।
1SA 17:54 দাউদ সেই ফিলিস্তিনীর মাথাটি তুলে এনে সেটি জেরুশালেমে নিয়ে এলেন; তিনি সেই ফিলিস্তিনীর অস্ত্রশস্ত্র এনে নিজের তাঁবুতে রেখে দিলেন।
1SA 17:55 শৌল দাউদকে সেই ফিলিস্তিনীর মুখোমুখি হওয়ার জন্য যেতে দেখে সৈন্যদলের সহস্র-সেনাপতি অবনেরকে বললেন, “অবনের, এই যুবকটি কার ছেলে?” অবনের উত্তর দিলেন, “মহারাজ, আপনার প্রাণের দিব্যি, আমি জানি না।”
1SA 17:56 রাজামশাই বললেন, “খুঁজে বের করো এই যুবকটি কার ছেলে।”
1SA 17:57 দাউদ সেই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে ফিরে আসার পর মুহূর্তেই অবনের তাঁকে নিয়ে শৌলের কাছে পৌঁছে গেলেন। দাউদের হাতে তখনও সেই ফিলিস্তিনীর কাটা মাথাটি ধরা ছিল।
1SA 17:58 “ওহে যুবক, তুমি কার ছেলে?” শৌল তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। দাউদ বললেন, “আমি আপনার দাস বেথলেহেম নিবাসী যিশয়ের ছেলে।”
1SA 18:1 শৌলের সঙ্গে দাউদের কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই যোনাথন দাউদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেলেন, এবং তিনি দাউদকে নিজের মতো করে ভালোবাসলেন।
1SA 18:2 সেদিন থেকেই শৌল দাউদকে নিজের কাছে রেখে দিলেন এবং তাঁকে ঘরে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে দেননি।
1SA 18:3 যোনাথনও দাউদের সঙ্গে এক চুক্তি করলেন, কারণ তিনি তাঁকে নিজের মতো করে ভালোবেসেছিলেন।
1SA 18:4 যোনাথন তাঁর পরনের পোশাকটি খুলে দাউদকে দিলেন, সঙ্গে নিজের আলখাল্লাটি, এমনকি নিজের তরোয়াল, ধনুক ও কোমরবন্ধটিও দিয়ে দিলেন।
1SA 18:5 শৌল যে কোনো কাজের দায়িত্ব দিয়ে দাউদকে পাঠাতেন, তাতে তিনি এতটাই সফল হতেন যে শৌল সৈন্যদলে তাঁকে আরও উঁচু পদে নিযুক্ত করে দিলেন। এতে সৈনিকরা সবাই খুব খুশি হল ও শৌলের কর্মকর্তারাও খুব খুশি হল।
1SA 18:6 দাউদ সেই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করার পর যখন লোকজন ঘরে ফিরে আসছিল, তখন ইস্রায়েলের সব নগর থেকে স্ত্রীলোকেরা নাচ-গান করতে করতে, খঞ্জনি ও সুরবাহার বাজিয়ে আনন্দগান গাইতে গাইতে রাজা শৌলের সঙ্গে দেখা করতে বের হয়ে এল।
1SA 18:7 নাচতে নাচতে তারা গাইল: “শৌল মারলেন হাজার হাজার, আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত।”
1SA 18:8 শৌলের খুব রাগ হল; এই গানের ধুয়া তাঁকে খুব অসন্তুষ্ট করল। “এরা দাউদকে অযুত অযুতের কথা বলে কৃতিত্ব দিয়েছে,” তিনি ভাবলেন, “কিন্তু আমার বিষয়ে শুধুই হাজার হাজার। পরে আর রাজ্য ছাড়া তার কী-ই বা পাওয়ার আছে?”
1SA 18:9 আর সেই সময় থেকেই শৌল দাউদের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে শুরু করলেন।
1SA 18:10 পরদিনই ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি মন্দ আত্মা সবলে শৌলের উপর নেমে এল। তিনি তাঁর বাড়িতে বসে ভাববাণী বলছিলেন, অন্যদিকে দাউদ সচরাচর যেমনটি করতেন, সেভাবে বীণা বাজিয়ে যাচ্ছিলেন। শৌলের হাতে ছিল একটি বর্শা
1SA 18:11 এবং “আমি দাউদকে দেওয়ালে গেঁথে ফেলব,” আপনমনে একথা বলে তিনি সেটি ছুঁড়ে দিলেন। কিন্তু দাউদ দু-দুবার তাঁর হাত ফসকে পালিয়ে গেলেন।
1SA 18:12 শৌল দাউদকে ভয় পেতে শুরু করলেন, কারণ সদাপ্রভু দাউদের সঙ্গে ছিলেন কিন্তু শৌলকে ছেড়ে গিয়েছিলেন।
1SA 18:13 অতএব তিনি দাউদকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে সহস্র-সেনাপতি পদে নিযুক্ত করলেন, এবং দাউদ যুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিলেন।
1SA 18:14 সবকাজেই তিনি মহাসাফল্য লাভ করলেন, কারণ সদাপ্রভু তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
1SA 18:15 শৌল তাঁকে এত বেশি সফল হতে দেখে তাঁকে ভয় করতে শুরু করলেন।
1SA 18:16 কিন্তু ইস্রায়েল ও যিহূদার সব লোকজন দাউদকে ভালোবেসেছিল, কারণ যুদ্ধে তিনি তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
1SA 18:17 শৌল দাউদকে বললেন, “এই আমার বড়ো মেয়ে মেরব। আমি এর সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব; তুমি শুধু নির্ভীকভাবে আমার সেবা করে যাও ও সদাপ্রভুর জন্য যুদ্ধ করে যাও।” কারণ শৌল মনে মনে বললেন, “আমি এর বিরুদ্ধে হাত উঠাব না। ফিলিস্তিনীরাই এ কাজটি করুক!”
1SA 18:18 কিন্তু দাউদ শৌলকে বললেন, “আমি কে, আর ইস্রায়েলে আমার পরিবার বা আমার বংশই বা কী এমন, যে আমি রাজার জামাই হব?”
1SA 18:19 অবশ্য যখন শৌলের মেয়ে মেরবকে দাউদের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এল, তখন মেরবকে মহোলাতীয় অদ্রীয়েলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হল।
1SA 18:20 ইত্যবসরে আবার শৌলের মেয়ে মীখল দাউদের প্রেমে পড়ে গেলেন, আর শৌলকে যখন খবরটি জানানো হল, তিনি খুশিই হলেন।
1SA 18:21 “আমি মীখলকে ওর হাতে তুলে দেব,” তিনি ভাবলেন, “এতে মীখল ওর কাছে এক ফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে এবং ফিলিস্তিনীদের হাতও ওর বিরুদ্ধে উঠবে।” অতএব শৌল দাউদকে বললেন, “এখন দ্বিতীয়বার তোমার কাছে আমার জামাই হওয়ার সুযোগ এসেছে।”
1SA 18:22 পরে শৌল তাঁর কর্মচারীদের আদেশ দিলেন: “তোমরা গিয়ে গোপনে দাউদকে বলো, ‘দেখো, রাজামশাই তোমাকে পছন্দ করেন, আর তাঁর সব কর্মচারীও তোমাকে ভালোবাসে; এখন তুমি তাঁর জামাই হয়ে যাও।’ ”
1SA 18:23 তারা এইসব কথা দাউদকে বলে শোনাল। কিন্তু দাউদ বললেন, “তোমাদের কি মনে হয় রাজামশায়ের জামাই হওয়া সামান্য ব্যাপার? আমি তো এক গরিব মানুষ ও আমাকে বিশেষ কেউ চেনেও না।”
1SA 18:24 শৌলের দাসেরা যখন দাউদের বলা কথাগুলি শৌলকে গিয়ে শোনাল,
1SA 18:25 শৌল তখন উত্তর দিলেন, “দাউদকে গিয়ে বলো, ‘রাজামশাই আর কোনও কন্যাপণ চান না, শুধু ফিলিস্তিনীদের 100-টি লিঙ্গত্বক্ দিলেই হবে, যেন তাঁর শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নেওয়া যায়।’ ” শৌল পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, যেন দাউদ ফিলিস্তিনীদের হাতেই মারা পড়েন।
1SA 18:26 কর্মকর্তারা যখন দাউদকে এসব কথা বলে শুনিয়েছিলেন, তিনি খুশিমনে রাজার জামাই হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। অতএব নিরূপিত সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই,
1SA 18:27 দাউদ তাঁর দলবল নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে 200 জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে তাদের লিঙ্গত্বক্ নিয়ে এলেন। রাজামশায়ের কাছে তারা সেগুলি পূর্ণ সংখ্যায় গুনে দিল যেন দাউদ রাজার জামাই হতে পারেন। পরে শৌল তাঁর সঙ্গে নিজের মেয়ে মীখলের বিয়ে দিলেন।
1SA 18:28 শৌল যখন অনুভব করলেন যে সদাপ্রভু দাউদের সঙ্গে আছেন ও তাঁর মেয়ে মীখল দাউদকে ভালোবাসেন,
1SA 18:29 তখন তিনি দাউদকে আরও বেশি ভয় করতে শুরু করলেন, এবং জীবনের বাকি দিনগুলি তিনি দাউদের শত্রু হয়েই থেকে গেলেন।
1SA 18:30 ফিলিস্তিনী সহস্র-সেনাপতিরা যুদ্ধ করেই যেতে থাকল, এবং যতবার তারা তা করত, শৌলের অন্যান্য কর্মকর্তাদের তুলনায় দাউদ আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতেন, ও তাঁর নাম সুপরিচিত হয়ে গেল।
1SA 19:1 শৌল তাঁর ছেলে যোনাথন ও সব কর্মকর্তাকে বললেন যেন তারা দাউদকে হত্যা করেন। কিন্তু যোনাথন দাউদকে খুব পছন্দ করতেন
1SA 19:2 তাই তিনি তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, “আমার বাবা শৌল তোমাকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজছেন। কাল সকালে তুমি একটু সাবধানে থেকো; গোপন এক স্থানে গিয়ে তুমি লুকিয়ে থেকো।
1SA 19:3 তুমি যেখানে থাকবে আমিও আমার বাবার সঙ্গে সেখানে গিয়ে দাঁড়াব। তোমার বিষয়ে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব ও আমি যা জানতে পারব তা তোমাকে বলে দেব।”
1SA 19:4 যোনাথন তাঁর বাবা শৌলের কাছে দাউদের প্রশংসা করে বললেন, “মহারাজ, আপনার দাস দাউদের প্রতি কোনও অন্যায় করবেন না; সে তো আপনার বিরুদ্ধে কোনও অন্যায় করেনি, আর সে যা যা করেছে তাতে বরং আপনি উপকৃতই হয়েছেন।
1SA 19:5 সেই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করার সময় সে প্রাণের ঝুঁকিও নিয়ে ফেলেছিল। গোটা ইস্রায়েল জাতির জন্য সদাপ্রভু এক মহাবিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, এবং আপনি তা দেখে খুশিও হয়েছিলেন। অকারণে দাউদের মতো নিরপরাধ একজনকে হত্যা করার মতো অপকর্ম আপনি কেন করতে যাচ্ছেন?”
1SA 19:6 শৌল যোনাথনের কথা শুনে এই শপথ নিয়ে বসলেন: “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, দাউদকে হত্যা করা হবে না।”
1SA 19:7 অতএব যা যা কথা হল, যোনাথন দাউদকে ডেকে এনে সেসব তাঁকে বলে শোনালেন। তিনি দাউদকে শৌলের কাছে নিয়ে এলেন, এবং আগের মতোই তিনি শৌলের সঙ্গে থাকতে শুরু করলেন।
1SA 19:8 আরেকবার যুদ্ধ শুরু হল, এবং দাউদ গিয়ে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। তিনি এত জোরে তাদের আঘাত করলেন যে তারা তাঁর সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
1SA 19:9 কিন্তু শৌল যখন হাতে বর্শা নিয়ে বাড়িতে বসেছিলেন, তখন সদাপ্রভুর কাছ থেকে একটি মন্দ আত্মা তাঁর উপর নেমে এল। দাউদ তখন বীণা বাজাচ্ছিলেন,
1SA 19:10 শৌল তাঁকে বর্শা দিয়ে দেওয়ালে গেঁথে ফেলার চেষ্টা করলেন, কিন্তু শৌল যখন দেওয়ালের দিকে বর্শা ছুঁড়লেন, তখন দাউদ তাঁর হাত এড়িয়ে সরে গেলেন। সেরাতে দাউদ পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন।
1SA 19:11 দাউদের উপর নজর রাখার জন্য শৌল তাঁর বাড়িতে লোক পাঠালেন, যেন সকালেই তাঁকে হত্যা করতে পারেন। কিন্তু দাউদের স্ত্রী মীখল তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, “আজ রাতেই যদি তুমি প্রাণ বাঁচিয়ে না পালাও তবে কাল তুমি নিহত হবে।”
1SA 19:12 অতএব মীখল দাউদকে জানালা দিয়ে নিচে নামিয়ে দিলেন, এবং তিনি পালিয়ে রক্ষা পেলেন।
1SA 19:13 পরে মীখল একটি প্রতিমা নিয়ে সেটিকে বিছানায় শুইয়ে, কাপড়চোপড় দিয়ে ঢেকে রেখে মাথার দিকে কিছুটা ছাগলের লোম রেখে দিলেন।
1SA 19:14 দাউদকে বন্দি করার জন্য শৌল যখন লোক পাঠালেন, মীখল বললেন, “উনি অসুস্থ।”
1SA 19:15 পরে আবার শৌল দাউদকে দেখার জন্য লোক পাঠিয়ে তাদের বলে দিলেন, “ওকে খাট সমেত আমার কাছে নিয়ে এসো যেন আমি ওকে হত্যা করতে পারি।”
1SA 19:16 কিন্তু লোকেরা ঘরে ঢুকে দেখল, বিছানার উপর প্রতিমা রাখা আছে, ও মাথার দিকে কিছুটা ছাগলের লোম রাখা আছে।
1SA 19:17 শৌল মীখলকে বললেন, “তুমি কেন আমাকে এভাবে ঠকালে ও আমার শত্রুকে পালিয়ে যেতে দিলে?” মীখল তাঁকে বললেন, “সে আমাকে বলল, ‘আমাকে যেতে দাও। আমি কেন তোমায় হত্যা করব?’ ”
1SA 19:18 দাউদ পালিয়ে নিজের প্রাণরক্ষা করার পর রামায় শমূয়েলের কাছে গেলেন ও শৌল তাঁর প্রতি যা যা করেছিলেন সেসব বলে শোনালেন। পরে তিনি ও শমূয়েল নায়োতে গিয়ে সেখানেই বসবাস করলেন।
1SA 19:19 শৌলের কাছে খবর এল: “দাউদ রামাতে অবস্থিত নায়োতে আছে”
1SA 19:20 তাই তিনি তাঁকে বন্দি করে আনার জন্য লোক পাঠালেন। কিন্তু যখন তারা দেখল একদল ভাববাদী ভাববাণী বলছেন, ও শমূয়েল দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন ঈশ্বরের আত্মা শৌলের লোকজনের উপর নেমে এলেন, ও তারাও ভাববাণী বলল।
1SA 19:21 শৌলকে সেকথা বলা হল, এবং তিনি আরও লোকজন পাঠালেন, ও তারাও ভাববাণী বলল। শৌল তৃতীয়বার লোক পাঠালেন, আর তারাও ভাববাণী বলল।
1SA 19:22 শেষ পর্যন্ত, তিনি নিজেই রামার উদ্দেশে রওনা হয়ে সেখুতে অবস্থিত সেই বড়ো কুয়োটির কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “শমূয়েল ও দাউদ কোথায়?” “রামাতে অবস্থিত নায়োতে,” তারা বলল।
1SA 19:23 অতএব শৌল রামাতে অবস্থিত নায়োতে চলে গেলেন। কিন্তু ঈশ্বরের আত্মা তাঁর উপরেও নেমে এলেন, এবং যতক্ষণ না তিনি নায়োতে পৌঁছালেন, সারা রাস্তায় তিনি ভাববাণী বলে গেলেন।
1SA 19:24 তিনি পোশাক খুলে ফেললেন, ও শমূয়েলের উপস্থিতিতে তিনিও ভাববাণী বললেন। তিনি সারাদিন ও সারারাত উলঙ্গ হয়েই ছিলেন। এজন্যই লোকেরা বলে, “শৌলও কি ভাববাদীদের মধ্যে একজন?”
1SA 20:1 পরে দাউদ রামার নায়োত থেকে পালিয়ে যোনাথনের কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কী করেছি? আমি কী দোষ করেছি? আমি তোমার বাবার প্রতি কী এমন অন্যায় করেছি, যে তিনি আমায় হত্যা করতে চাইছেন?”
1SA 20:2 “কখনোই না!” যোনাথন উত্তর দিলেন। “তুমি মারা পড়বে না! দেখো, আমার বাবা, ছোটো হোক কি বড়ো, কোনো কিছুই আমাকে না জানিয়ে করেন না। তিনি আমার কাছে একথা লুকাবেন কেন? এ হতেই পারে না!”
1SA 20:3 কিন্তু দাউদ দিব্যি করে বললেন, “তোমার বাবা ভালোভাবেই জানেন যে আমি তোমার প্রিয়পাত্র, আর তিনি মনে মনে বলেছেন, ‘যোনাথন যেন একথা জানতে না পারে, তা না হলে সে খুব দুঃখ পাবে।’ তবুও জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি ও তোমার প্রাণের দিব্যি, আমার ও মৃত্যুর মাঝখানে শুধু এক পায়ের ফাঁক রয়ে গিয়েছে।”
1SA 20:4 যোনাথন দাউদকে বললেন, “তুমি আমাকে যা করতে বলবে, আমি তোমার জন্য তাই করব।”
1SA 20:5 অতএব দাউদ তাঁকে বললেন, “দেখো, আগামীকাল অমাবস্যার উৎসব, আর মহারাজের সঙ্গে আমার ভোজনপান করার কথা; কিন্তু আমি পরশু সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে গিয়ে লুকিয়ে থাকব।
1SA 20:6 যদি তোমার বাবা আমার খোঁজ করেন তবে তাঁকে বোলো, ‘দাউদ তাড়াতাড়ি তার আপন নগর বেথলেহেমে যাওয়ার জন্য আমার কাছে আন্তরিকভাবে অনুমতি চেয়েছিল, কারণ তার সম্পূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য সেখানে এক বাৎসরিক বলিদানের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।’
1SA 20:7 যদি তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে,’ তবে তোমার দাস সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু তিনি যদি মেজাজ হারান, তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো যে তিনি আমার ক্ষতি করবেনই করবেন।
1SA 20:8 আর তুমি তোমার দাসের প্রতি দয়া দেখিয়ো, কারণ সদাপ্রভুকে সাক্ষী রেখে তুমি তার সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করেছ। আমি যদি দোষী সাব্যস্ত হই তবে তুমিই আমাকে হত্যা কোরো! তোমার বাবার হাতে তুমি কেন আমাকে সমর্পণ করবে?”
1SA 20:9 “কখনোই না!” যোনাথন বললেন। “আমি যদি বিন্দুমাত্র আভাস পেতাম যে আমার বাবা তোমার ক্ষতি করার জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন, তবে কি আমি তোমাকে বলতাম না?”
1SA 20:10 দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার বাবা তোমাকে রুক্ষভাবে উত্তর দিয়েছেন কি না তা আমাকে কে বলে দেবে?”
1SA 20:11 “এসো,” যোনাথন বললেন, “আমরা মাঠে যাই।” অতএব তাঁরা দুজনে সেখানে গেলেন।
1SA 20:12 পরে যোনাথন দাউদকে বললেন, “আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে শপথ করে বলছি, পরশুদিন এইসময় আমি নিশ্চয় আমার বাবার সঙ্গে কথা বলব! যদি তিনি তোমার প্রতি সদয় হন, তবে কি আমি তোমাকে খবর দিয়ে পাঠাব না?
1SA 20:13 কিন্তু যদি আমার বাবা তোমার ক্ষতি করতে চান ও আমি তোমাকে তা জানিয়ে নিরাপদে ফেরত না পাঠাই, তবে সদাপ্রভু যোনাথনকে যেন কঠোর দণ্ড দেন। সদাপ্রভু যেভাবে আমার বাবার সহবর্তী ছিলেন, সেভাবে যেন তোমারও সহবর্তী হন
1SA 20:14 কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে থাকব তুমি আমার প্রতি তেমনই অপর্যাপ্ত দয়া দেখিয়ো যেমনটি দয়া সদাপ্রভু দেখান, যেন আমাকে নিহত হতে না হয়,
1SA 20:15 এবং আমার পরিবার-পরিজনের প্রতিও তোমার দয়ায় কাটছাঁট কোরো না—এমনকি যখন সদাপ্রভু পৃথিবীর বুক থেকে দাউদের এক-একটি শত্রুকে মুছে দেবেন, তখনও এমনটি কোরো না।”
1SA 20:16 অতএব যোনাথন এই বলে দাউদের বংশের সঙ্গে এক নিয়ম স্থির করলেন, “সদাপ্রভু যেন দাউদের শত্রুদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন।”
1SA 20:17 যেহেতু যোনাথন দাউদকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন, তাই তাঁকে ভালোবাসার খাতিরে তিনি আরেকবার দাউদকে দিয়ে শপথ করিয়ে নিলেন।
1SA 20:18 পরে যোনাথন দাউদকে বললেন, “আগামীকাল অমাবস্যার উৎসব। তোমার অভাববোধ হবে, কারণ তোমার আসনটি খালি থাকবে।
1SA 20:19 এই সমস্যাটি শুরু হওয়ার সময় তুমি যেখানে লুকিয়ে ছিলে, পরশুদিন সন্ধ্যার দিকে তুমি সেখানেই চলে যেয়ো, এবং এষল নামক সেই পাথরটির পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা কোরো।
1SA 20:20 আমি এমনভাবে সেটির পাশে তিনটি তির ছুঁড়ব, যেন মনে হয় আমি বুঝি নিশানা তাক করে তির ছুঁড়ছি।
1SA 20:21 পরে আমি একটি ছেলেকে পাঠিয়ে বলব, ‘যাও, তিরগুলি খুঁজে নিয়ে এসো।’ যদি আমি তাকে বলি, ‘দেখো, তিরগুলি তোমার এদিকে আছে; সেগুলি এখানে নিয়ে এসো,’ তবে তুমি এসো, কারণ, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, তুমি নিরাপদেই আছ; কোনও বিপদ নেই।
1SA 20:22 কিন্তু আমি যদি সেই ছেলেটিকে বলি, ‘দেখো, তিরগুলি তোমার ওদিকে গিয়ে পড়েছে,’ তবে তোমাকে যেতেই হবে, কারণ সদাপ্রভু তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
1SA 20:23 আর তুমি ও আমি যে বিষয়ে আলোচনা করেছি—মনে রেখো, সে বিষয়ে সদাপ্রভু তোমার ও আমার মধ্যে চিরকালের জন্য সাক্ষী হয়ে রইলেন।”
1SA 20:24 অতএব দাউদ মাঠে লুকিয়ে থাকলেন, ও যখন অমাবস্যার উৎসব এল, রাজামশাই খেতে বসেছিলেন।
1SA 20:25 প্রথানুযায়ী তিনি দেওয়ালের পাশে বসেছিলেন, ও যোনাথন তাঁর উল্টোদিকে বসেছিলেন, এবং অবনের শৌলের ঠিক পাশেই বসেছিলেন, কিন্তু দাউদের আসনটি খালি ছিল।
1SA 20:26 শৌল সেদিন কিছু বলেননি, কারণ তিনি ভেবেছিলেন, “দাউদের এমন কিছু হয়েছে যার দ্বারা সে আনুষ্ঠানিকভাবে অশুচি হয়েছে—নিশ্চয় সে অশুচি অবস্থায় আছে।”
1SA 20:27 কিন্তু পরদিন, মাসের দ্বিতীয় দিনেও দাউদের আসন খালি পড়েছিল। তখন শৌল তাঁর ছেলে যোনাথনকে বললেন, “যিশয়ের ছেলে কেন গতকাল ও আজও খেতে আসেনি?”
1SA 20:28 যোনাথন তাঁকে উত্তর দিলেন, “বেথলেহেমে যাওয়ার জন্য দাউদ আমার কাছে আন্তরিকভাবে অনুমতি চেয়েছিল।
1SA 20:29 সে বলেছিল, ‘আমাকে যেতে দাও, কারণ আমাদের পরিবার সেই নগরে বলিদানের এক অনুষ্ঠান পালন করছে ও আমার দাদা আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকার আদেশ দিয়েছেন। আমি যদি তোমার প্রিয়পাত্র হয়ে থাকি, তবে দয়া করে আমাকে আমার দাদাদের সঙ্গে দেখা করে আসতে দাও।’ এজন্যই সে আজ মহারাজের খাওয়ার টেবিলে আসেনি।”
1SA 20:30 শৌল যোনাথনের প্রতি ক্রোধে ফেটে পড়লেন ও তাঁকে বললেন, “ওরে স্বেচ্ছাচারিণী ও বিদ্রোহিণী নারীর ছেলে! আমি কি জানি না যে তুই নিজেকে ও তোর জন্মদাত্রী মাকে লজ্জিত করার জন্য যিশয়ের ছেলের পক্ষ নিয়েছিস?
1SA 20:31 যতদিন যিশয়ের ছেলে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে, না তুই স্থির থাকবি, না তোর রাজ্য স্থির থাকবে। এখন কাউকে পাঠিয়ে ওকে আমার কাছে ডেকে আন, কারণ ওকে মরতেই হবে!”
1SA 20:32 “ওকে কেন মরতে হবে? ও কী করেছে?” যোনাথন তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন।
1SA 20:33 কিন্তু শৌল তাঁর বর্শাটি যোনাথনের দিকে ছুঁড়ে তাঁকেই মেরে ফেলতে চাইলেন। তখন যোনাথন বুঝতে পারলেন যে তাঁর বাবা দাউদকে হত্যা করবেন বলে মনস্থির করে ফেলেছেন।
1SA 20:34 যোনাথন প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে টেবিল থেকে উঠে গেলেন; উৎসবের সেই দ্বিতীয় দিনে তিনি ভোজনপান করেননি, কারণ দাউদের প্রতি তাঁর বাবার লজ্জাজনক আচরণ দেখে তিনি মনে দুঃখ পেয়েছিলেন।
1SA 20:35 সকালে যোনাথন দাউদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাঠে গেলেন। তাঁর সাথে ছিল একটি ছোটো ছেলে,
1SA 20:36 আর তিনি সেই ছেলেটিকে বললেন, “দৌড়ে গিয়ে আমার ছোঁড়া তিরগুলি খুঁজে নিয়ে এসো।” ছেলেটি দৌড়াতে শুরু করলে, তিনি তাকে পার করে একটি তির ছুঁড়ে দিলেন।
1SA 20:37 যোনাথনের তিরটি যেখানে গিয়ে পড়ল, ছেলেটি সেখানে পৌঁছানোর পর যোনাথন তাকে ডেকে বললেন, “তিরটি কি তোমাকে পার করে যায়নি?”
1SA 20:38 পরে তিনি চিৎকার করে বললেন, “তাড়াতাড়ি করো! জোরে দৌড়াও! থেমো না!” ছেলেটি তিরটি সংগ্রহ করে তার মালিকের কাছে ফিরে এল।
1SA 20:39 (ছেলেটি এসব বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি; শুধু যোনাথন ও দাউদই জানতে পেরেছিলেন)
1SA 20:40 পরে যোনাথন তাঁর অস্ত্রশস্ত্র ছেলেটির হাতে দিয়ে বললেন, “যাও, এগুলি নগরে ফিরিয়ে নিয়ে যাও।”
1SA 20:41 ছেলেটি ফিরে যাওয়ার পর, দাউদ সেই পাথরটির দক্ষিণ দিক থেকে উঠে এসে যোনাথনের সামনে তিনবার মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন। পরে তাঁরা দুজন পরস্পরকে চুমু দিয়ে একসঙ্গে কাঁদলেন—কিন্তু দাউদই বেশি করে কাঁদলেন।
1SA 20:42 যোনাথন দাউদকে বললেন, “নির্ঝঞ্ঝাটে চলে যাও, কারণ এই বলে আমরা সদাপ্রভুর নামে পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি যে, ‘সদাপ্রভু তোমার ও আমার মধ্যে, এবং তোমার ও আমার বংশধরদের মধ্যে চিরকাল সাক্ষী হয়ে আছেন।’ ” পরে দাউদ বিদায় নিলেন ও যোনাথন নগরে ফিরে গেলেন।
1SA 21:1 দাউদ নোবে যাজক অহীমেলকের কাছে চলে গেলেন। তাঁর দেখা পেয়ে অহীমেলক ভয়ে কম্পিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি একা কেন? আপনার সঙ্গে আর কেউ নেই কেন?”
1SA 21:2 দাউদ যাজক অহীমেলককে উত্তর দিলেন, “রাজামশাই একটি কাজের দায়িত্বভার দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন এবং আমায় বলেছেন, ‘আমি তোমায় যে কাজের দায়িত্বভার দিয়ে পাঠাচ্ছি সেই বিষয়ে যেন কেউ কিছু জানতে না পারে।’ আর আমার লোকজন! আমি তাদের বলে দিয়েছি তারা যেন নির্দিষ্ট এক স্থানে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে।
1SA 21:3 তবে এখন, আপনার হাতে কী আছে? আমাকে পাঁচ টুকরো রুটি, বা যা খুঁজে পাচ্ছেন, তাই দিন।”
1SA 21:4 কিন্তু যাজকমশাই দাউদকে উত্তর দিলেন, “আমার হাতে তো সাধারণ কোনও রুটি নেই; অবশ্য, এখানে কয়েকটি পবিত্র রুটি আছে—যদি লোকেরা স্ত্রীলোকদের সংস্পর্শ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে তবেই এগুলি তারা খেতে পারবে।”
1SA 21:5 দাউদ যাজককে উত্তর দিলেন, “যথারীতি আমি যখন কাজে বের হয়েছি তখন থেকেই আমরা স্ত্রীলোকদের সংস্পর্শ থেকে দূরে সরে আছি। কাজের দায়িত্বভার পবিত্র না থাকাকালীনও আমার লোকজনের দেহ শুচিশুদ্ধই থাকে। তবে আজ তা আরও কত না বেশি শুচিশুদ্ধ হয়ে আছে!”
1SA 21:6 কাজেই যাজকমশাই তাঁকে সেই পবিত্র রুটিগুলি দিলেন, যেহেতু সেখানে সেই দর্শন-রুটি ছাড়া আর কোনও রুটি ছিল না, যা সদাপ্রভুর সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে সেদিন সেটির বদলে গরম রুটি রাখা হয়েছিল।
1SA 21:7 ইত্যবসরে শৌলের দাসদের মধ্যে একজন সদাপ্রভুর সামনে আটকে গিয়ে সেখানে থেকে গিয়েছিল: সে হল ইদোমীয় দোয়েগ, শৌলের প্রধান রাখাল।
1SA 21:8 দাউদ অহীমেলককে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার কাছে এখানে কি কোনও বর্শা বা তরোয়াল নেই? আমি আমার তরোয়াল বা অন্য কোনও অস্ত্র নিয়ে আসিনি, কারণ মহারাজের কাজটি জরুরি ছিল।”
1SA 21:9 যাজকমশাই উত্তর দিলেন, “আপনি এলা উপত্যকায় যাকে হত্যা করেছিলেন, সেই ফিলিস্তিনী গলিয়াতের তরোয়ালটি এখানে আছে; এফোদের পিছনে সেটি কাপড়ে মোড়া অবস্থায় রাখা আছে। আপনি চাইলে সেটি নিতে পারেন; সেটি ছাড়া এখানে আর অন্য কোনও তরোয়াল নেই।” দাউদ বললেন, “সেটির মতো আর কিছুই হতে পারে না; আমাকে সেটিই এনে দিন।”
1SA 21:10 সেদিন দাউদ শৌলের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে গাতের রাজা আখীশের কাছে উপস্থিত হলেন।
1SA 21:11 কিন্তু আখীশের দাসেরা তাঁকে বলল, “এই কি দেশের রাজা দাউদ নয়? এরই বিষয়ে কি লোকেরা নাচতে নাচতে গেয়ে ওঠেনি: “ ‘শৌল মারলেন হাজার হাজার, আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত’?”
1SA 21:12 দাউদ সেকথা মনে রেখেছিলেন আর গাতের রাজা আখীশকে দেখে খুব ভয় পেয়ে গেলেন।
1SA 21:13 তাই তাদের উপস্থিতিতে তিনি পাগল হওয়ার ভান করলেন; আর তাদের কাছে থাকার সময় তিনি পাগলের মতো সদর-দরজার কপাটে আঁকিবুকি কাটছিলেন ও তাঁর দাড়ির উপর লালা ঝরাচ্ছিলেন।
1SA 21:14 আখীশ তাঁর দাসদের বললেন, “লোকটির দিকে তাকাও দেখি! এ তো পাগল! একে আমার কাছে এনেছ কেন?
1SA 21:15 আমার কাছে কি পাগলের অভাব আছে যে তোমরা আমার সামনে পাগলামি করার জন্য একে নিয়ে এসেছ? এ লোকটি আমার বাড়িতে আসবে নাকি?”
1SA 22:1 দাউদ গাত ছেড়ে অদুল্লম গুহাতে পালিয়ে গেলেন। তাঁর দাদারা ও তাঁর বাবার পরিবার-পরিজন যখন তা জানতে পারলেন, তখন তাঁরা সেখানে তাঁর কাছে পৌঁছে গেলেন।
1SA 22:2 যারা যারা দুর্দশাগ্রস্ত বা ঋণ-ধারে জর্জরিত অথবা অতৃপ্ত ছিল, তারা সবাই তাঁর চারপাশে একত্রিত হল, এবং তিনি তাদের সেনাপতি হয়ে গেলেন। প্রায় 400 জন তাঁর সঙ্গী হল।
1SA 22:3 সেখান থেকে দাউদ মোয়াবের মিস্পীতে চলে গিয়ে মোয়াবের রাজাকে বললেন, “আমি যতদিন না জানতে পারছি ঈশ্বর আমার জন্য কী করতে চলেছেন, ততদিন কি আপনি আমার মা-বাবাকে আপনার কাছে থাকতে দেবেন?”
1SA 22:4 এই বলে তিনি তাঁদের মোয়াবের রাজার কাছে রেখে গেলেন, ও দাউদ যতদিন সেই ঘাঁটিতে ছিলেন, তাঁরাও রাজার সঙ্গেই ছিলেন।
1SA 22:5 কিন্তু ভাববাদী গাদ দাউদকে বললেন, “ঘাঁটিতে থাকবেন না। যিহূদা দেশে চলে যান।” অতএব দাউদ সেই স্থান ত্যাগ করে হেরৎ বনে চলে গেলেন।
1SA 22:6 ইত্যবসরে শৌল খবর পেয়েছিলেন যে দাউদ ও তাঁর লোকজনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। শৌল হাতে বর্শা নিয়ে গিবিয়ায় ছোটো একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত একটি ঝাউ গাছের নিচে বসেছিলেন, ও তাঁর সব কর্মকর্তা তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিল।
1SA 22:7 তিনি তাদের বললেন, “ওহে বিন্যামীনীয় লোকেরা, শোনো! যিশয়ের ছেলে কি তোমাদের সবাইকে ক্ষেতজমি ও দ্রাক্ষাকুঞ্জ দেবে? সে কি তোমাদের সবাইকে সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতি করে দেবে?
1SA 22:8 এজন্যই কি তোমরা সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছ? কেউই বলোনি কখন আমার ছেলে, যিশয়ের ছেলের সঙ্গে নিয়ম স্থির করেছে। তোমরা কেউ আমার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওনি বা আমাকে বলোনি যে আমার ছেলেই আমার দাসকে আমার বিরুদ্ধে ঘাঁটি পেতে বসে থাকার জন্য উসকানি দিয়েছিল, যেমনটি সে আজ করেছে।”
1SA 22:9 কিন্তু শৌলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে দাঁড়িয়েছিল, সেই ইদোমীয় দোয়েগ বলল, “আমি নোবে অহীটূবের ছেলে অহীমেলকের কাছে যিশয়ের ছেলেকে আসতে দেখেছিলাম।
1SA 22:10 অহীমেলক ওর হয়ে সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নিয়েছিল; সে ওকে খাদ্যদ্রব্য এবং ফিলিস্তিনী গলিয়াতের তরোয়ালটিও দিয়েছিল।”
1SA 22:11 তখন রাজামশাই নোবে যাঁরা যাজকের কাজ করতেন, সেই অহীটূবের ছেলে যাজক অহীমেলক ও তাঁর পরিবারের সব পুরুষ সদস্যকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন, এবং তাঁরা সবাই রাজামশায়ের কাছে এলেন।
1SA 22:12 শৌল বললেন, “ওহে অহীটূবের ছেলে, শোনো।” “হ্যাঁ, প্রভু,” তিনি উত্তর দিলেন।
1SA 22:13 শৌল তাঁকে বললেন, “তোমরা কেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছ, তুমি ও যিশয়ের সেই ছেলে; তুমি তাকে রুটি দিয়েছ, তরোয়াল দিয়েছ, আবার তার হয়ে ঈশ্বরের কাছে খোঁজও নিয়েছ, যেন সে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে ও আমার বিরুদ্ধে ঘাঁটি পেতে বসে থাকতে পারে, যেমনটি সে আজ করেছে?”
1SA 22:14 অহীমেলক রাজামশাইকে উত্তর দিলেন, “আপনার দাসদের মধ্যে দাউদের মতো এত অনুগত আর কে আছেন, তিনি তো মহারাজের জামাই, আপনার দেহরক্ষীদের সর্দার ও আপনার পরিবারের সমস্ত লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি?
1SA 22:15 সেদিনই কি প্রথমবার আমি তাঁর হয়ে ঈশ্বরের কাছে খোঁজ নিয়েছিলাম? তা নিশ্চয় নয়! মহারাজ যেন আপনার দাসকে বা তার বাবার পরিবারের কাউকে দোষ না দেন, কারণ আপনার দাস এই গোটা ঘটনাটির বিন্দুবিসর্গও জানে না।”
1SA 22:16 কিন্তু রাজামশাই বললেন, “অহীমেলক, তোমাকে মরতেই হবে, তোমাকে আর তোমার পুরো পরিবারকেই মরতে হবে।”
1SA 22:17 পরে রাজামশাই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাহারাদারদের আদেশ দিলেন: “ঘুরে গিয়ে সদাপ্রভুর যাজকদের হত্যা করো, কারণ এরাও দাউদের পক্ষ নিয়েছে। ওরা জানত যে সে পালাচ্ছে, অথচ ওরা আমাকে সেকথা বলেনি।” কিন্তু রাজার কর্মচারীরা সদাপ্রভুর যাজকদের উপর হাত তুলতে চায়নি।
1SA 22:18 তখন রাজামশাই দোয়েগকে আদেশ দিলেন, “তুমি ঘুরে গিয়ে যাজকদের আঘাত করো।” ইদোমীয় দোয়েগ তখন ঘুরে গিয়ে আঘাত করে তাঁদের ধরাশায়ী করে ফেলেছিল। সেদিন সে মসিনার এফোদ গায়ে দেওয়া পঁচাশি জনকে হত্যা করল।
1SA 22:19 এছাড়াও সে যাজকদের নগর নোবের উপর তরোয়াল চালিয়ে সেখানকার স্ত্রী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে ও শিশু সন্তানদের, এবং পশুপাল, গাধা ও মেষদেরও শেষ করে ফেলেছিল।
1SA 22:20 কিন্তু অহীটূবের ছেলে অহীমেলকের একমাত্র ছেলে অবিয়াথর কোনোমতে রক্ষা পেয়ে দাউদের কাছে পালিয়ে গেলেন।
1SA 22:21 তিনি দাউদকে বললেন, শৌল সদাপ্রভুর যাজকদের হত্যা করেছেন।
1SA 22:22 তখন দাউদ অবিয়াথরকে বললেন, “ইদোমীয় দোয়েগকে সেদিন যখন আমি সেখানে দেখেছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম যে সে নিশ্চয় শৌলকে বলে দেবে। আপনার পুরো পরিবারের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী।
1SA 22:23 আপনি আমার সঙ্গেই থাকুন; ভয় পাবেন না। যে আপনাকে হত্যা করতে চাইছে সে আমাকেও হত্যা করার চেষ্টা করছে। আপনি আমার কাছে নিরাপদেই থাকবেন।”
1SA 23:1 দাউদকে যখন বলা হল, “দেখুন, ফিলিস্তিনীরা কিয়ীলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সেখানকার খামারগুলির উপর লুটপাট চালাচ্ছে,”
1SA 23:2 তখন তিনি এই বলে সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নিয়েছিলেন, “আমি কি গিয়ে এইসব ফিলিস্তিনীকে আক্রমণ করব?” সদাপ্রভু তাঁকে উত্তর দিলেন, “যাও, ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করে কিয়ীলাকে রক্ষা করো।”
1SA 23:3 কিন্তু দাউদের লোকজন তাঁকে বলল, “এখানে এই যিহূদাতেই আমরা ভয়ে ভয়ে আছি। তবে কিয়ীলাতে ফিলিস্তিনী সৈন্যদলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে আমাদের আরও কত না বেশি ভয় পেতে হবে!”
1SA 23:4 আরও একবার দাউদ সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নিয়েছিলেন, এবং সদাপ্রভু তাঁকে উত্তর দিলেন, “কিয়ীলাতে নেমে যাও, কারণ আমি তোমার হাতে ফিলিস্তিনীদের সঁপে দিতে চলেছি।”
1SA 23:5 অতএব দাউদ ও তাঁর লোকজন কিয়ীলাতে গিয়ে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের গবাদি পশুপাল কেড়ে নিয়ে এলেন। তিনি ফিলিস্তিনীদের প্রচুর ক্ষতিসাধন করলেন ও কিয়ীলার অধিবাসীদের রক্ষা করলেন।
1SA 23:6 (ইত্যবসরে অহীমেলকের ছেলে অবিয়াথর কিয়ীলাতে দাউদের কাছে পালিয়ে আসার সময় এফোদটিও সঙ্গে নিয়ে এলেন।)
1SA 23:7 শৌল খবর পেয়েছিলেন যে দাউদ কিয়ীলাতে গিয়েছেন, তাই তিনি বললেন, “ঈশ্বর তাকে আমার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন, কারণ দাউদ সদর দরজা ও অর্গল দিয়ে ঘেরা একটি নগরে ঢুকে নিজেই নিজেকে বন্দি করে ফেলেছে।”
1SA 23:8 যুদ্ধ করার জন্য, এবং কিয়ীলাতে গিয়ে দাউদ ও তাঁর লোকজনকে অবরোধ করার জন্য শৌল তাঁর সৈন্যদলকে ডাক দিলেন।
1SA 23:9 দাউদ যখন জানতে পারলেন যে শৌল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তখন তিনি যাজক অবিয়াথরকে বললেন, “এফোদটি আনুন।”
1SA 23:10 দাউদ বললেন, “হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাস সঠিকভাবে শুনেছে যে শৌল কিয়ীলাতে এসে আমার জন্যই নগরটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছেন।
1SA 23:11 কিয়ীলার নাগরিকরা কি আমাকে তাঁর হাতে তুলে দেবে? তোমার দাসের শোনা কথা অনুসারে কি শৌল এখানে নেমে আসবেন? হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আমাকে বলে দাও।” সদাপ্রভু বললেন, “সে আসবে।”
1SA 23:12 আরেকবার দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, “কিয়ীলার নাগরিকরা কি আমাকে ও আমার লোকজনকে শৌলের হাতে তুলে দেবে?” সদাপ্রভু বললেন, “তারা তুলে দেবে।”
1SA 23:13 অতএব দাউদ ও তাঁর লোকজন, সংখ্যায় প্রায় 600 জন, কিয়ীলা ছেড়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। শৌলকে যখন বলা হল যে দাউদ কিয়ীলা ছেড়ে পালিয়েছেন, তিনি তখন আর সেখানে যাননি।
1SA 23:14 দাউদ মরুপ্রান্তরের ঘাঁটিতে ও সীফ মরুভূমির ছোটো ছোটো পাহাড়ে থেকে গেলেন। দিনের পর দিন শৌল তাঁকে খুঁজে বেড়িয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে শৌলের হাতে পড়তে দেননি।
1SA 23:15 দাউদ যখন সীফ মরুভূমির হোরেশে ছিলেন, তখন তিনি শুনতে পেলেন যে শৌল তাঁর প্রাণহানি করার জন্য এসে গিয়েছেন।
1SA 23:16 শৌলের ছেলে যোনাথন হোরেশে দাউদের কাছে গিয়ে তাঁকে ঈশ্বরে শক্তি লাভ করতে সাহায্য করলেন।
1SA 23:17 “তুমি ভয় পেয়ো না,” তিনি বললেন। “আমার বাবা শৌল তোমার উপর হাত উঠাতে পারবেন না। তুমিই ইস্রায়েলের রাজা হবে, ও আমি তোমার নিচেই থাকব। এমনকি আমার বাবা শৌলও একথা জানেন।”
1SA 23:18 তাঁরা দুজনেই সদাপ্রভুর সামনে এক চুক্তি করলেন। পরে যোনাথন ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু দাউদ হোরেশেই থেকে গেলেন।
1SA 23:19 সীফীয়রা গিবিয়াতে শৌলের কাছে গিয়ে বলল, “দাউদ কি হোরেশের ঘাঁটিতে, যিশীমনের দক্ষিণ দিকে, হখীলা পাহাড়ে, আমাদের মাঝেই লুকিয়ে নেই?
1SA 23:20 এখন, হে রাজাধিরাজ, আপনার যখন ইচ্ছা তখনই নেমে আসুন, আর আমরা দায়িত্ব নিয়ে তাকে আপনার হাতে তুলে দেব।”
1SA 23:21 শৌল উত্তর দিলেন, “আমার জন্য তোমরা উদ্বিগ্ন হয়েছ বলে সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করুন।
1SA 23:22 যাও, আরও তথ্য সংগ্রহ করো। খুঁজে দেখো, দাউদ সাধারণত কোথায় যায় ও সেখানে তাকে কে দেখেছে। লোকে বলে সে নাকি খুব চালাক।
1SA 23:23 সে লুকিয়ে থাকার জন্য যেসব স্থান ব্যবহার করে, সেগুলির খোঁজ নাও ও নির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো। পরে আমি তোমাদের সঙ্গে যাব; সে যদি সেখানে থাকে, আমি তবে যিহূদার সব বংশের মধ্যে থেকে তাকে খুঁজে বের করবই।”
1SA 23:24 অতএব তারা শৌল যাওয়ার আগেই সীফের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে গেল। ইত্যবসরে দাউদ ও তাঁর লোকজন মায়োন মরুভূমিতে, যিশীমোনের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত অরাবায় ছিলেন।
1SA 23:25 শৌল ও তাঁর লোকজন অনুসন্ধান শুরু করলেন, ও দাউদকে যখন সেকথা বলা হল, তিনি সেই বড়ো পাথরটির কাছে নেমে গেলেন ও মায়োন মরুভূমিতেই থেকে গেলেন। শৌল যখন তা শুনতে পেলেন, তিনিও দাউদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য সেই মায়োন মরুভূমিতে গেলেন।
1SA 23:26 শৌল পাহাড়ের একদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন, এবং দাউদ ও তাঁর লোকজন অন্যদিকে ছিলেন, শৌলের নাগাল এড়িয়ে পালাতেই তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন। শৌল ও তাঁর সৈন্যসামন্তরা যখন দাউদ ও তাঁর লোকজনকে ধরে ফেলার জন্য প্রায় তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন,
1SA 23:27 তখন একজন দূত এসে শৌলকে বলল, “তাড়াতাড়ি আসুন! ফিলিস্তিনীরা দেশ আক্রমণ করেছে।”
1SA 23:28 তখন শৌল দাউদের পশ্চাদ্ধাবন করা থেকে বিরত হয়ে ফিলিস্তিনীদের সামলানোর জন্য ফিরে গেলেন। এজন্যই লোকেরা এই স্থানটির নাম দিয়েছিল সেলা-হম্মলকোৎ।
1SA 23:29 দাউদ সেখান থেকে চলে গিয়ে ঐন-গদীর ঘাঁটিতে বসবাস করতে শুরু করলেন।
1SA 24:1 ফিলিস্তিনীদের পশ্চাদ্ধাবন করে ফিরে আসার পর শৌলকে বলা হল, “দাউদ ঐন-গদীর মরুভূমিতে আছেন।”
1SA 24:2 অতএব শৌল সমস্ত ইস্রায়েল থেকে 3,000 দক্ষ যুবক সংগ্রহ করে দাউদ ও তাঁর লোকজনের খোঁজে জংলী ছাগলদের পাহাড়ের চুড়োয় উঠে গেলেন।
1SA 24:3 পথিমধ্যে তিনি মেষের খোঁয়াড়ে পৌঁছে গেলেন; সেখানে একটি গুহা ছিল, ও শৌল মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য সেটির মধ্যে প্রবেশ করলেন। দাউদ ও তাঁর লোকজন গুহার একদম ভিতরের দিকে বসেছিলেন।
1SA 24:4 লোকেরা বলল, “সদাপ্রভু এই দিনটির বিষয়েই আপনাকে বললেন, ‘আমি তোমার শত্রুকে তোমার হাতে তুলে দেব, যেন তুমি তার প্রতি যা ইচ্ছা হয় তাই করতে পারো।’ ” তখন দাউদ সবার অলক্ষ্যে সেখানে ঢুকে শৌলের আলখাল্লার এক কোনা কেটে নিয়ে এলেন।
1SA 24:5 পরে, শৌলের পোশাকের এক কোনা কেটে নেওয়াতে দাউদ বিবেকের দংশনে বিদ্ধ হচ্ছিলেন।
1SA 24:6 তিনি তাঁর লোকজনকে বললেন, “সদাপ্রভু না করুন! আমি যেন আমার প্রভুর—সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এরকম কাজ না করি, বা তাঁর উপর হাত না তুলি; কারণ তিনি তো সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তি।”
1SA 24:7 একথা বলে দাউদ তাঁর লোকজনকে জোরালো ভাষায় ধমক দিলেন ও শৌলকে আক্রমণ করার সুযোগই তাদের দেননি। শৌলও গুহা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
1SA 24:8 তখন দাউদ গুহা থেকে বেরিয়ে এসে শৌলকে ডেকে বললেন, “হে আমার প্রভু মহারাজ!” শৌল যখন পিছনে ফিরে তাকিয়েছিলেন, দাউদ তখন মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম জানিয়েছিলেন।
1SA 24:9 তিনি শৌলকে বললেন, “লোকে যখন আপনাকে বলে, ‘দাউদ আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তখন আপনি তাদের কথা শোনেন কেন’?
1SA 24:10 আজ তো আপনি নিজের চোখেই দেখলেন কীভাবে সদাপ্রভু সেই গুহার মধ্যে আপনাকে আমার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছিলেন। কয়েকজন তো আমাকে পীড়াপীড়িও করল যেন আমি আপনাকে হত্যা করি, কিন্তু আমি আপনাকে অব্যাহতি দিয়েছিলাম; আমি বললাম, ‘আমি আমার প্রভুর উপর হাত তুলব না, কারণ তিনি সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তি।’
1SA 24:11 দেখুন, হে আমার বাবা, আমার হাতে আপনার পোশাকের এই কাটা টুকরোটি দেখুন! আমি আপনার পোশাকের কোনাটি কেটে নিয়েছিলাম কিন্তু আপনাকে হত্যা করিনি। দেখুন আমার হাতে এমন কিছু নেই যা দিয়ে বোঝা যায় আমি অপরাধ বা বিদ্রোহের দোষে দোষী। আমি আপনার বিরুদ্ধে কোনও অন্যায় করিনি, কিন্তু আপনি আমার প্রাণনাশ করার জন্য আমার পিছু পিছু তাড়া করে বেড়াচ্ছেন।
1SA 24:12 সদাপ্রভুই আপনার ও আমার বিচার করুন। সদাপ্রভুই আমার প্রতি করা আপনার অন্যায়ের প্রতিফল দিন, কিন্তু আমার হাত আপনাকে স্পর্শ করবে না।
1SA 24:13 প্রাচীন প্রবাদবাক্যে যেমন বলা হয়েছে, ‘পাষণ্ডরাই অনিষ্ট সাধন করে,’ তাই আমার হাত আপনাকে স্পর্শ করবে না।
1SA 24:14 “ইস্রায়েলের রাজা কার বিরুদ্ধে উঠে এসেছেন? আপনি কার পশ্চাদ্ধাবন করছেন? একটি মৃত কুকুরের? একটি মাছির?
1SA 24:15 সদাপ্রভুই যেন আমাদের বিচার করে আমাদের মধ্যে একজনের স্বপক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। তিনিই যেন আমার উদ্দেশ্য বিবেচনা করে তা অনুমোদন করলেন; আপনার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করে তিনি যেন আমার পক্ষসমর্থন করলেন।”
1SA 24:16 দাউদের কথা বলা শেষ হওয়ার পর শৌল জিজ্ঞাসা করলেন, “বাছা দাউদ, এ কি তোমার কণ্ঠস্বর?” একথা বলে তিনি সজোরে কেঁদে ফেলেছিলেন।
1SA 24:17 “তুমি আমার তুলনায় বেশি ধার্মিক,” তিনি বললেন। “তুমি আমার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করলে, কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি।
1SA 24:18 এইমাত্র তুমি আমাকে বলেছ, তুমি আমার প্রতি কত ভালো ব্যবহার করেছ; সদাপ্রভু আমাকে তোমার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তুমি আমাকে হত্যা করোনি।
1SA 24:19 যখন কেউ তার শত্রুকে হাতের নাগালে পায়, সে কি তাকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেয়? আজ আমার প্রতি তুমি যে ব্যবহার করেছ, সেজন্য সদাপ্রভু তোমাকে যেন যথাযথভাবে পুরস্কৃত করেন।
1SA 24:20 আমি জানি তুমি অবশ্যই রাজা হবে ও ইস্রায়েলের রাজত্ব তোমার হাতেই সুস্থির হবে।
1SA 24:21 এখন সদাপ্রভুর নামে আমার কাছে শপথ করো যে তুমি আমার বংশধরদের হত্যা করবে না বা আমার বাবার বংশ থেকে আমার নাম মুছে ফেলবে না।”
1SA 24:22 অতএব দাউদ শৌলের কাছে শপথ করলেন। পরে শৌল ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু দাউদ ও তাঁর লোকজন ঘাঁটিতে চলে গেলেন।
1SA 25:1 এদিকে হয়েছে কী, শমূয়েল মারা গেলেন ও সমস্ত ইস্রায়েল একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য শোকপ্রকাশ করল; এবং তারা তাঁকে রামায় তাঁর ঘরেই কবর দিয়েছিল। পরে দাউদ পারণ মরুভূমির দিকে চলে গেলেন।
1SA 25:2 মায়োনে কোনো একজন লোক ছিল, কর্মিলে তার কিছু বিষয়সম্পত্তি ছিল ও সে খুব ধনীও ছিল। তার কাছে 1,000 ছাগল ও 3,000 মেষ ছিল, সে তখন কর্মিলে সেগুলির লোম ছাঁটছিল।
1SA 25:3 তার নাম নাবল ও তার স্ত্রীর নাম অবীগল। অবীগল খুব বুদ্ধিমতী ও সুন্দরী ছিলেন, কিন্তু তাঁর স্বামী ছিল অভদ্র ও বেয়াদব—সে ছিল কালেব বংশীয় একজন লোক।
1SA 25:4 দাউদ মরুপ্রান্তরে থাকার সময় শুনতে পেয়েছিলেন যে নাবল মেষের লোম ছাঁটছে।
1SA 25:5 তাই তিনি তার কাছে দশজন যুবককে পাঠিয়ে তাদের বলে দিলেন, “তোমরা কর্মিলে নাবলের কাছে গিয়ে তাকে আমার নামে শুভেচ্ছা জানাবে।
1SA 25:6 তাকে গিয়ে বোলো: ‘আপনি দীর্ঘজীবী হোন! আপনি কুশলে থাকুন ও আপনার পরিবারও কুশলে থাকুক! এবং আপনার সর্বস্বের কুশল হোক!
1SA 25:7 “ ‘আমি শুনতে পেয়েছি এখন নাকি মেষের লোম ছাঁটার সময়। আপনার রাখালরা যখন আমাদের সঙ্গে ছিল, আমরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি, আর যতদিন তারা কর্মিলে ছিল তাদের কোনো কিছুই হারায়নি।
1SA 25:8 আপনার দাসদের জিজ্ঞাসা করুন, তারাই আপনাকে বলে দেবে। অতএব আমার লোকজনের প্রতি একটু অনুগ্রহ দেখান, যেহেতু আমরা উৎসবের দিনে এলাম। আপনি যা পারেন, দয়া করে আপনার এই দাসদের ও আপনার ছেলে দাউদের হাতে তা তুলে দিন।’ ”
1SA 25:9 দাউদের লোকজন নাবলের কাছে পৌঁছে দাউদের নাম করে তাকে এসব কথা বলল। পরে তারা অপেক্ষা করল।
1SA 25:10 নাবল দাউদের দাসদের উত্তর দিয়েছিল, “কে এই দাউদ? কে এই যিশয়ের ছেলে? আজকাল বিস্তর দাস তাদের প্রভুদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
1SA 25:11 আমি কেন আমার মেষের পশমকর্তকদের জন্য রাখা রুটি ও জল ও মাংস নিয়ে সেইসব লোকের হাতে তুলে দেব, যাদের বিষয়ে আমি জানিই না তারা কোথা থেকে এসেছে?”
1SA 25:12 দাউদের লোকজন মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে তারা প্রতিটি কথা বলে শুনিয়েছিল।
1SA 25:13 দাউদ তাঁর লোকজনকে বললেন, “তোমরা প্রত্যেকে কোমরে তরোয়াল বেঁধে নাও!” তারা তেমনটিই করল, ও দাউদও নিজের তরোয়ালটি বেঁধে নিয়েছিলেন। প্রায় 400 জন দাউদের সঙ্গে গেল, আর 200 জন মালপত্র দেখাশোনা করার জন্য থেকে গেল।
1SA 25:14 দাসদের মধ্যে একজন নাবলের স্ত্রী অবীগলকে বলল, “দাউদ আমাদের প্রভুকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মরুপ্রান্তর থেকে দূত পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের চূড়ান্ত অপমান করেছেন।
1SA 25:15 অথচ ওই লোকগুলি আমাদের পক্ষে বড়োই ভালো ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি, আর যতদিন আমরা মাঠে তাদের কাছে ছিলাম, আমাদের কোনো কিছুই হারায়নি।
1SA 25:16 যতদিন আমরা তাদের কাছে থেকে আমাদের মেষগুলি চরাতাম, রাতদিন তারা আমাদের চারপাশে তখন এক দেওয়াল হয়েই ছিল।
1SA 25:17 এখন ভেবে দেখুন আপনি কী করতে পারবেন, কারণ আমাদের প্রভুর ও তার সমগ্র পরিবারের উপর সর্বনাশ ঘনিয়ে এসেছে। তিনি এমনই বজ্জাত যে কেউই তাকে কিছু বলতে পারে না।”
1SA 25:18 অবীগল দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি 200 টুকরো রুটি, চামড়ার দুই থলি দ্রাক্ষারস, রান্নার জন্য কেটেকুটে প্রস্তুত করা পাঁচটি মেষ, পাঁচ কাঠা সেঁকা শস্যদানা, 100 তাল কিশমিশ ও 200 তাল নিংড়ানো ডুমুর নিয়ে সেগুলি গাধার পিঠে চাপিয়ে দিয়েছিলেন।
1SA 25:19 পরে তিনি তাঁর দাসদের বললেন, “তোমরা এগিয়ে যাও; আমি তোমাদের পিছু পিছু আসছি।” কিন্তু তিনি তাঁর স্বামীকে কিছু বলেননি।
1SA 25:20 তিনি যখন গাধার পিঠে চেপে পাহাড়ের সরু গিরিখাত ধরে আসছিলেন, তখন দাউদও তাঁর লোকজন নিয়ে অবীগলের দিকে নেমে আসছিলেন, ও তাদের সঙ্গে তাঁর দেখা হল।
1SA 25:21 দাউদ অল্প কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন, “কোনও লাভ হয়নি—আমি অনর্থক এই লোকটির সম্পত্তি মরুপ্রান্তরে পাহারা দিয়েছি আর তার কোনো কিছুই হারায়নি। সে ভালোর বদলে আমাকে মন্দ উপহার দিয়েছে।
1SA 25:22 যদি কাল সকাল পর্যন্ত আমি তার পরিবারের একটিও পুরুষ সদস্যকে জীবিত রাখি, তবে যেন ঈশ্বর দাউদকে আরও কঠোর শাস্তি দেন!”
1SA 25:23 অবীগল দাউদকে দেখে চট করে গাধার পিঠ থেকে নেমে মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।
1SA 25:24 তিনি দাউদের পায়ে পড়ে বললেন: “হে আমার প্রভু, আপনার দাসীকে ক্ষমা করুন, আমাকে বলতে দিন; আপনার দাসী যা বলতে চায় তা একটু শুনুন।
1SA 25:25 হে আমার প্রভু, দয়া করে সেই বজ্জাত লোকটির কথায় মনোযোগ দেবেন না। তার যেমন নাম সেও ঠিক সেরকমই—তার নামের অর্থ মূর্খ, আর মূর্খতা তার সহবর্তী। আর আমার কথা যদি বলেন, আপনার এই দাসী, আমি আমার প্রভুর পাঠানো লোকদের দেখতে পাইনি।
1SA 25:26 আর এখন, হে আমার প্রভু, আপনার ঈশ্বর জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি ও আপনার প্রাণের দিব্যি, যেহেতু সদাপ্রভু আপনাকে রক্তপাত করা থেকে ও নিজের হাতে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছেন, তাই আপনার শত্রুদের ও যারা আমার প্রভুর ক্ষতি করতে চায়, তাদের দশা যেন নাবলের মতো হয়।
1SA 25:27 আপনার দাসী আমার প্রভুর কাছে এই যেসব উপহার নিয়ে এসেছে, সেগুলি যেন আপনার অনুগামী লোকদের দেওয়া হয়।
1SA 25:28 “দয়া করে আপনার দাসীর বেয়াদবি ক্ষমা করবেন। আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু নিঃসন্দেহে আমার প্রভুর জন্য এক স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করবেন, কারণ আপনি সদাপ্রভুর হয়ে যুদ্ধ করছেন, এবং আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন আপনার মধ্যে কোনও অন্যায় খুঁজে পাওয়া যাবে না।
1SA 25:29 যদি কেউ আপনার প্রাণহানি করার জন্য আপনার পশ্চাদ্ধাবনও করে, তবুও আমার প্রভুর প্রাণ আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর দ্বারা জীবিতদের দলে সুরক্ষিত থাকবে, কিন্তু আপনার শত্রুদের প্রাণ গুলতির থলিতে রাখা পাথরের মতো তিনি ছুঁড়ে ফেলে দেবেন।
1SA 25:30 সদাপ্রভু যখন আমার প্রভুর জন্য তাঁর করা প্রতিটি মঙ্গল-প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবেন ও ইস্রায়েলের উপর তাঁকে শাসনকর্তারূপে নিযুক্ত করবেন,
1SA 25:31 তখন আমার প্রভুকে আর তাঁর বিবেকে অনর্থক রক্তপাতের বা নিজেরই নেওয়া প্রতিশোধের হতভম্বকারী বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে না। আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু যখন আমার প্রভুকে সাফল্য দেবেন, আপনার এই দাসীকে তখন একটু স্মরণ করবেন।”
1SA 25:32 দাউদ অবীগলকে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি তোমাকে আজ আমার সঙ্গে দেখা করতে পাঠিয়েছেন।
1SA 25:33 তোমার সুবিবেচনার জন্য এবং আমাকে আজ তুমি রক্তপাত করা থেকে ও নিজের হাতে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছ বলে তুমি ধন্যা।
1SA 25:34 তা না হলে, যিনি আমাকে আজ তোমার ক্ষতি করা থেকে বিরত রেখেছেন সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, তুমি যদি তাড়াতাড়ি আমার সঙ্গে দেখা করতে না আসতে, তবে নাবলের পরিবারের একজন পুরুষ সদস্যও সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকত না।”
1SA 25:35 পরে দাউদ অবীগলের আনা সবকিছু তাঁর হাত থেকে গ্রহণ করলেন ও তাঁকে বললেন, “শান্তিতে ঘরে ফিরে যাও। আমি তোমার কথা শুনেছি ও তোমার অনুরোধ রেখেছি।”
1SA 25:36 অবীগল যখন নাবলের কাছে ফিরে গেলেন, সে তখন বাড়িতে ছিল ও সেখানে রাজকীয় এক ভোজসভা চলছিল। সে খোশমেজাজে ছিল ও পুরোপুরি মাতাল হয়ে পড়েছিল। তাই সকাল না হওয়া পর্যন্ত অবীগল তাকে কিছু বলেননি।
1SA 25:37 পরে সকালে নাবল যখন ভদ্রস্থ হল, তার স্ত্রী তাকে সব কথা বলে শুনিয়েছিলেন, ও সে মনমরা হয়ে পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গেল।
1SA 25:38 প্রায় দশদিন পর, সদাপ্রভু নাবলকে আঘাত করলেন ও সে মারা গেল।
1SA 25:39 নাবলের মৃত্যুর খবর পেয়ে দাউদ বললেন, “সদাপ্রভুর গৌরব হোক, আমার প্রতি নাবল অবজ্ঞামূলক আচরণ করেছিল বলেই তিনি আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাঁর দাসকে অন্যায় করা থেকে বিরত রেখেছেন ও নাবলের অন্যায় তারই মাথায় বর্ষণ করেছেন।” পরে দাউদ অবীগলকে খবর পাঠালেন, তাঁকে তাঁর স্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলেন
1SA 25:40 তাঁর দাসেরা কর্মিলে গিয়ে অবীগলকে বলল, “দাউদ তাঁর স্ত্রী করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার কাছে আমাদের পাঠিয়ে দিয়েছেন।”
1SA 25:41 তিনি মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে বললেন, “আমি আপনার দাসী এবং আমি আপনার সেবা করার ও আমার প্রভুর দাসদের পা ধুয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
1SA 25:42 অবীগল তাড়াতাড়ি একটি গাধার পিঠে চেপে, পাঁচজন দাসী সঙ্গে নিয়ে দাউদের পাঠানো দূতদের সঙ্গে চলে গেলেন ও তাঁর স্ত্রী হলেন।
1SA 25:43 দাউদ যিষ্রিয়েলীয় অহীনোয়মকেও বিয়ে করলেন, ও তারা দুজনেই তাঁর স্ত্রী হলেন।
1SA 25:44 কিন্তু শৌল তাঁর মেয়ে, দাউদের স্ত্রী মীখলকে গল্লীম নিবাসী লয়িশের ছেলে পল্‌টিয়েলের হাতে তুলে দিলেন।
1SA 26:1 সীফীয়েরা গিবিয়াতে শৌলের কাছে গিয়ে তাঁকে বলল, “দাউদ কি যিশীমোনের সামনে অবস্থিত হখীলা পাহাড়ে লুকিয়ে নেই?”
1SA 26:2 অতএব শৌল তাঁর 3,000 বাছাই করা ইস্রায়েলী সৈন্য নিয়ে দাউদের খোঁজে সীফ মরুভূমিতে নেমে গেলেন।
1SA 26:3 শৌল যিশীমোনের সামনে অবস্থিত হখীলা পাহাড়ের উপর রাস্তার ধারে তাঁর শিবির স্থাপন করলেন, কিন্তু দাউদ মরুপ্রান্তরেই থেকে গেলেন। তিনি যখন দেখলেন শৌল সেখানেও তাঁর পিছু পিছু চলে এসেছেন,
1SA 26:4 তখন তিনি গুপ্তচর পাঠিয়ে নিশ্চিত হলেন যে শৌল চলে এসেছেন।
1SA 26:5 পরে দাউদ উঠে শৌল যেখানে শিবির করে বসেছিলেন, সেখানে পৌঁছে গেলেন। শৌল এবং সৈন্যদলের সেনাপতি, নেরের ছেলে অবনের যেখানে শুয়েছিলেন দাউদ সেই স্থানটি দেখেছিলেন। শৌল শিবিরের ভিতরে শুয়েছিলেন, এবং সৈন্যদল তাঁকে চারপাশে ঘিরে রেখেছিল।
1SA 26:6 দাউদ তখন হিত্তীয় অহীমেলক ও সরূয়ার ছেলে যোয়াবের ভাই অবীশয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে আমার সঙ্গে শিবিরে শৌলের কাছে যাবে?” “আমি আপনার সঙ্গে যাব,” অবীশয় বললেন।
1SA 26:7 অতএব দাউদ ও অবীশয় রাতের বেলায় সেখানে চলে গেলেন, যেখানে শৌল শিবিরের ভিতরে ঘুমিয়েছিলেন ও তাঁর বর্শাটি তাঁর মাথার কাছে মাটিতে পোঁতা ছিল। অবনের ও সৈন্যসামন্তরা তাঁকে ঘিরে সবাই শুয়েছিল।
1SA 26:8 অবীশয় দাউদকে বললেন, “আজ ঈশ্বর আপনার শত্রুকে আপনার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন। এখন আমায় অনুমতি দিন, আমি তাঁকে বর্শার এক আঘাতে মাটিতে গেঁথে ফেলি; আমি তাঁকে দু-বার আঘাত করব না।”
1SA 26:9 কিন্তু দাউদ অবীশয়কে বললেন, “তাঁকে মেরে ফেলো না! সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির উপর হাত উঠিয়ে কে নির্দোষ থাকতে পারবে?
1SA 26:10 জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,” তিনি বললেন, “সদাপ্রভু স্বয়ং তাঁকে আঘাত করবেন, বা তাঁর সময় ফুরোবে ও তিনি মারা যাবেন, অথবা তিনি যুদ্ধে গিয়েই শেষ হয়ে যাবেন।
1SA 26:11 কিন্তু সদাপ্রভু না করুন, আমি যেন সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির উপর হাত ওঠাই। এখন তাঁর মাথার কাছে যে বর্শা ও জলের পাত্রটি রাখা আছে, সেগুলি নিয়ে এসো, ও চলো যাওয়া যাক।”
1SA 26:12 অতএব দাউদ শৌলের মাথার কাছে রাখা বর্শা ও জলের পাত্রটি তুলে নিয়েছিলেন, ও তাঁরা সেখান থেকে চলে গেলেন। কেউ তা দেখেনি বা সে বিষয়ে জানতে পারেনি, আর কেউ জেগেও ওঠেনি। তারা সবাই ঘুমাচ্ছিল, কারণ সদাপ্রভু তাদের গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন।
1SA 26:13 পরে দাউদ অন্যদিকে কিছুটা দূরে গিয়ে পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে গেলেন; তাঁদের দুজনের মাঝখানে বেশ কিছুটা খালি স্থান ছিল।
1SA 26:14 তিনি সৈন্যদের ও নেরের ছেলে অবনেরকে ডেকে বললেন, “অবনের, আপনার কি কিছু বলার নেই?” অবনের উত্তর দিলেন, “তুমি কে যে রাজার কাছে চেঁচামেচি করছ?”
1SA 26:15 দাউদ বললেন, “আপনি তো একজন পুরুষ, তাই না? ইস্রায়েলে আপনার মতো আর কে আছে? তবে আপনি কেন আপনার প্রভু মহারাজকে রক্ষা করেননি? কেউ একজন আপনার প্রভু মহারাজকে মারতে এসেছিল।
1SA 26:16 আপনি যা করেছেন তা মোটেই ভালো হয়নি। জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আপনাকে ও আপনার লোকজনকে মরতে হবে, কারণ আপনারা আপনাদের প্রভু, সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করেননি। চারপাশে একটু দেখুন, মহারাজের মাথার কাছে যে বর্শা ও জলের পাত্রটি রাখা ছিল, সেগুলি কোথায়?”
1SA 26:17 শৌল দাউদের কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলে উঠেছিলেন, “বাছা দাউদ, এ কি তোমার কণ্ঠস্বর?” দাউদ উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ আমার প্রভু মহারাজ, এ আমারই কণ্ঠস্বর।”
1SA 26:18 তিনি এও বললেন, “আমার প্রভু কেন আমার পিছু ধাওয়া করছেন? আমি কী করেছি, ও আমি কী এমন অন্যায় করেছি?
1SA 26:19 এখন হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনার দাসের কথা একটু শুনুন। সদাপ্রভু যদি আপনাকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে থাকেন, তবে তিনি যেন এক নৈবেদ্য গ্রহণ করেন। অবশ্য, যদি লোকেরা তা করে থাকে, তবে তারাই যেন সদাপ্রভুর সামনে অভিশপ্ত হয়! তারাই আজ সদাপ্রভুর উত্তরাধিকারে আমার যে অংশ আছে, তা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে ও বলেছে, ‘যাও, অন্যান্য দেবদেবীর সেবা করো।’
1SA 26:20 এখন আমার রক্ত যেন সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে দূরে মাটিতে গিয়ে না পড়ে। ইস্রায়েলের রাজা এক মাছির খোঁজে বের হয়ে এসেছেন—যেভাবে একজন পাহাড়ে তিতির পাখি শিকারে যায়।”
1SA 26:21 তখন শৌল বললেন, “আমি পাপ করেছি। বাছা দাউদ, তুমি ফিরে এসো। যেহেতু আজ তুমি আমার প্রাণ মূল্যবান গণ্য করেছ, তাই আমি আর কখনও তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করব না। নিঃসন্দেহে আমি এক মূর্খের মতো আচরণ করেছি ও যারপরনাই অন্যায় করেছি।”
1SA 26:22 “মহারাজ, এই সেই বর্শা,” দাউদ উত্তর দিলেন। “আপনার যুবকদের মধ্যে একজন এসে এটি নিয়ে যাক।
1SA 26:23 সদাপ্রভু প্রত্যেককে ধার্মিকতার ও বিশ্বস্ততার পুরস্কার দেন। সদাপ্রভু আজ আপনাকে আমার হাতে সমর্পণ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির উপরে হাত তুলতে চাইনি।
1SA 26:24 যেভাবে আজ আমি আপনার প্রাণ মূল্যবান গণ্য করেছি, নিশ্চিতভাবে সদাপ্রভুও যেন আমার প্রাণটি মূল্যবান গণ্য করেন ও আমাকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন।”
1SA 26:25 তখন শৌল দাউদকে বললেন, “বাছা দাউদ, তুমি আশীর্বাদপ্রাপ্ত হও; তুমি বড়ো বড়ো কাজ করবে ও বিজয়ীও হবে।” পরে দাউদ নিজের পথে চলে গেলেন, ও শৌল ঘরে ফিরে গেলেন।
1SA 27:1 দাউদ মনে মনে ভেবেছিলেন, “একদিন না একদিন আমাকে শৌলের হাতে মরতেই হবে। আমার পক্ষে ফিলিস্তিনীদের দেশে পালিয়ে যাওয়াই ভালো। তখন শৌল ইস্রায়েলে আর কোথাও আমার খোঁজ করবেন না, ও আমি তাঁর হাত এড়িয়ে পালিয়ে যেতে পারব।”
1SA 27:2 অতএব দাউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা 600 জন লোক দেশ ছেড়ে মায়োকের ছেলে গাতের রাজা আখীশের কাছে পৌঁছে গেলেন।
1SA 27:3 দাউদ ও তাঁর লোকজন গাতে আখীশের কাছেই থেকে গেলেন। প্রত্যেকে তাদের পরিবার সমেতই সেখানে ছিল, এবং দাউদের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই স্ত্রী: যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়ম ও নাবলের বিধবা কর্মিলীয়া অবীগল।
1SA 27:4 শৌলকে যখন বলা হল দাউদ গাতে পালিয়ে গিয়েছেন, তখন তিনি আর তাঁর খোঁজ করেননি।
1SA 27:5 তখন দাউদ আখীশকে বললেন, “আমি যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়েছি, তবে আমার থাকার জন্য যেন পল্লি-অঞ্চলে একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আপনার দাস কেন আপনার সঙ্গে রাজধানী নগরে বসবাস করবে?”
1SA 27:6 অতএব সেদিন আখীশ তাঁকে সিক্লগ নগরটি দান করে দিলেন, ও সেদিন থেকেই সেটি যিহূদার রাজাদের অধিকারে চলে গেল।
1SA 27:7 দাউদ ফিলিস্তিনী এলাকায় এক বছর চার মাস ধরে বসবাস করলেন।
1SA 27:8 ইতিমধ্যে দাউদ ও তাঁর লোকজন গিয়ে গশূরীয়, গির্ষীয় ও অমালেকীয়দের উপরে অতর্কিত আক্রমণ শানিয়েছিলেন। (প্রাচীনকাল থেকেই এইসব লোকজন শূর ও মিশর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসবাস করত)
1SA 27:9 যখনই দাউদ কোনো এলাকা আক্রমণ করতেন, তিনি সেখানে একটিও পুরুষ বা স্ত্রীলোককে জীবিত ছাড়তেন না, কিন্তু মেষ ও গবাদি পশু, গাধা ও উট, এবং পোশাক-পরিচ্ছদ লুট করতেন। পরে তিনি আখীশের কাছে ফিরে আসতেন।
1SA 27:10 আখীশ যখন জিজ্ঞাসা করতেন, “আজ তুমি কোথায় অতর্কিত আক্রমণ শানাতে গেলে?” দাউদ তখন উত্তর দিতেন, “যিহূদার নেগেভে” অথবা “যিরহমেলীয়দের নেগেভে” বা “কেনীয়দের নেগেভে।”
1SA 27:11 গাতে নিয়ে আসার জন্য তিনি কোনো পুরুষ বা স্ত্রীলোককে জীবিত রাখতেন না, কারণ তিনি ভাবতেন, “এরা হয়তো আমাদের বিষয়ে বলে দেবে, ‘দাউদ এ ধরনের কাজ করেছেন।’ ” আর যতদিন তিনি ফিলিস্তিনী এলাকায় বসবাস করলেন, ততদিন তিনি এরকমই করে গেলেন।
1SA 27:12 আখীশ দাউদকে বিশ্বাস করতেন ও মনে মনে বলতেন, “সে তার নিজের জাতি ইস্রায়েলের কাছে নিজেকে আপত্তিকর করে তুলেছে, তাই সারা জীবন সে আমার দাস হয়েই থাকবে।”
1SA 28:1 তখন ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্যদল একত্রিত করল। আখীশ দাউদকে বললেন, “তোমার নিশ্চয় জানা আছে যে তোমাকে তোমার দলবল সমেত আমার সৈন্যদলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে।”
1SA 28:2 দাউদ বললেন, “আপনি নিজেই দেখতে পাবেন, আপনার দাস ঠিক কী করতে পারে।” আখীশ উত্তর দিলেন, “ঠিক আছে, আমি আজীবন তোমাকে আমার দেহরক্ষী করে রাখব।”
1SA 28:3 শমূয়েল মারা গিয়েছিলেন, আর ইস্রায়েলীরা সবাই তাঁর জন্য শোকপ্রকাশ করে তাঁকে তাঁর নিজের নগর রামায় কবর দিয়েছিলেন। শৌল দেশ থেকে প্রেতমাধ্যম ও গুনিনদের দূর করে দিলেন।
1SA 28:4 ফিলিস্তিনীরা একত্রিত হয়ে শূনেমে সৈন্যশিবির স্থাপন করল, অন্যদিকে শৌল ইস্রায়েলীদের একত্রিত করে গিলবোয়ে সৈন্যশিবির স্থাপন করলেন।
1SA 28:5 ফিলিস্তিনীদের সৈন্যদল দেখে শৌল ভয় পেয়ে গেলেন; তাঁর অন্তর আতঙ্কে ভরে গেল।
1SA 28:6 তিনি সদাপ্রভুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সদাপ্রভু স্বপ্ন বা ঊরীম বা ভাববাদীদের মাধ্যমে তাঁকে উত্তর দেননি।
1SA 28:7 তখন শৌল তাঁর পরিচারকদের বললেন, “এমন একজন মহিলাকে খুঁজে নিয়ে এসো, যে একজন প্রেতমাধ্যম, যেন আমি তার কাছে গিয়ে একটু খোঁজখবর নিতে পারি।” তারা বলল, “ঐনদোরে এমন একজন মহিলা আছে।”
1SA 28:8 অতএব শৌল ছদ্মবেশ ধারণ করে, সাধারণ কাপড় পরে রাতের অন্ধকারে দুজন লোককে সঙ্গে নিয়ে সেই মহিলাটির কাছে গেলেন। তিনি বললেন, “আমার জন্য একটি প্রেতমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করো ও যাঁর নাম বলছি তাঁকে ডেকে আনো।”
1SA 28:9 কিন্তু মহিলাটি তাঁকে বলল, “আপনি তো জানেনই শৌল কী করেছেন। তিনি প্রেতমাধ্যম ও গুনিনদের দেশ থেকে বের করে দিয়েছেন। তবে কেন আপনি আমাকে মেরে ফেলার জন্য ফাঁদ পাতছেন?”
1SA 28:10 শৌল সদাপ্রভুর নামে শপথ করে তাকে বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, এজন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে না।”
1SA 28:11 তখন মহিলাটি প্রশ্ন করল, “আপনার জন্য আমি কাকে ডেকে আনব?” “শমূয়েলকে ডেকে আনো,” তিনি বললেন।
1SA 28:12 মহিলাটি শমূয়েলকে দেখতে পেয়ে জোর গলায় চিৎকার করে শৌলকে বলল, “আপনি কেন আমার সঙ্গে ছলনা করলেন? আপনি তো শৌল!”
1SA 28:13 রাজামশাই তাকে বললেন, “ভয় পেওনা। বলো তুমি কী দেখছ?” মহিলাটি বলল, “আমি এক ভুতুড়ে চেহারা দেখতে পাচ্ছি, যিনি ভূতল থেকে উঠে আসছেন।”
1SA 28:14 “তিনি কার মতো দেখতে?” তিনি প্রশ্ন করলেন। “লম্বা আলখাল্লা পরে একজন বৃদ্ধ মানুষ এগিয়ে আসছেন,” মহিলাটি বলল। তখন শৌল বুঝতে পারলেন যে তিনি শমূয়েল, এবং তিনি মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।
1SA 28:15 শমূয়েল শৌলকে বললেন, “আমাকে তুলে এনে তুমি কেন আমাকে বিরক্ত করলে?” “আমি খুব বিপদে পড়েছি,” শৌল বললেন। “ফিলিস্তিনীরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আর ঈশ্বরও আমাকে ছেড়ে গিয়েছেন। তিনি আর আমার ডাকে সাড়া দেন না, ভাববাদীদের দ্বারাও নয় বা স্বপ্নের দ্বারাও নয়। তাই আমি আপনাকে ডেকে এনেছি যেন আপনি বলে দেন, আমাকে কী করতে হবে।”
1SA 28:16 শমূয়েল বললেন, “সদাপ্রভুই যখন তোমাকে ছেড়ে গিয়েছেন ও তোমার শত্রু হয়ে গিয়েছেন তখন আর আমার পরামর্শ চাইছ কেন?
1SA 28:17 আমার মাধ্যমে সদাপ্রভু আগে থেকে যা বলে দিয়েছিলেন তাই করেছেন। সদাপ্রভু তোমার হাত থেকে রাজ্যটি কেড়ে নিয়ে তোমার প্রতিবেশীদের মধ্যে একজনের—দাউদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
1SA 28:18 যেহেতু তুমি সদাপ্রভুর বাধ্য হওনি বা অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ সম্পাদন করোনি, তাই সদাপ্রভু আজ তোমার প্রতি এরকমটি করেছেন।
1SA 28:19 সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে ও তোমাকেও ফিলিস্তিনীদের হাতে সঁপে দেবেন এবং আগামীকাল তুমি ও তোমার ছেলেরা আমার সঙ্গে থাকবে। সদাপ্রভু ইস্রায়েলের সৈন্যদলকেও ফিলিস্তিনীদের হাতে সঁপে দেবেন।”
1SA 28:20 শমূয়েলের কথা শুনে শৌল ভয় পেয়ে তৎক্ষণাৎ সটান মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে গেলেন। তাঁর শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল, কারণ সারা দিনরাত তিনি কিছুই খাননি।
1SA 28:21 সেই মহিলাটি শৌলের কাছে এসে যখন দেখল তিনি খুব বিচলিত হয়ে পড়েছেন, তখন সে বলল, “দেখুন, আপনার দাসী আপনার বাধ্য হয়েছে। আমি প্রাণ হাতে নিয়ে আপনি আমাকে যা করতে বলেছিলেন তাই করেছি।
1SA 28:22 এখন দয়া করে আপনার দাসীর কথা শুনুন ও আপনাকে কিছু খাবার দিতে দিন যেন সেই খাবার খেয়ে আপনি ফিরে যাওয়ার শক্তি লাভ করেন।”
1SA 28:23 তিনি রাজি না হয়ে বললেন, “আমি খাব না।” কিন্তু তাঁর লোকজনও মহিলাটির সঙ্গে মিলিতভাবে তাঁকে পীড়াপীড়ি করল, ও তিনি তাদের কথা শুনেছিলেন। তিনি মাটি থেকে উঠে খাটে গিয়ে বসেছিলেন।
1SA 28:24 মহিলাটির গোয়ালঘরে একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ছিল, যেটি সে তক্ষুনি বধ করল। সে কিছুটা ময়দা মেখে খামিরবিহীন কয়েকটি রুটি বানাল।
1SA 28:25 পরে সে সেগুলি শৌল ও তাঁর লোকজনের সামনে এনে রেখেছিল, ও তাঁরা ভোজনপান করলেন। রাত থাকতে থাকতেই তাঁরা উঠে চলে গেলেন।
1SA 29:1 ফিলিস্তিনীরা অফেকে তাদের সব সৈন্য একত্রিত করল, এবং ইস্রায়েল যিষ্রিয়েলের ঝর্নার কাছে শিবির স্থাপন করল।
1SA 29:2 ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা যখন এক-একশো ও এক এক হাজার সৈন্য সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, দাউদ তাঁর লোকজন নিয়ে আখীশের সঙ্গী হয়ে পিছন পিছন যাচ্ছিলেন।
1SA 29:3 ফিলিস্তিনী সেনাপতিরা জিজ্ঞাসা করল, “এই হিব্রু লোকগুলি কী করছে?” আখীশ উত্তর দিলেন, “এ কি সেই দাউদ নয়, যে ইস্রায়েলের রাজা শৌলের উচ্চপদস্থ এক সামরিক কর্মচারী ছিল? সে আমার সঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে, এবং যেদিন সে শৌলকে ছেড়ে এসেছিল, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি তার জীবনে কোনও দোষ খুঁজে পাইনি।”
1SA 29:4 কিন্তু ফিলিস্তিনী সেনাপতিরা আখীশের উপর রেগে গেল ও তাঁকে বলল, “এই লোকটিকে আপনি ফেরত পাঠিয়ে দিন, যেন সে সেখানেই ফিরে যেতে পারে যে স্থানটি আপনি তার জন্য নিরূপিত করে রেখেছেন। সে যেন আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে না যায়, পাছে যুদ্ধ চলাকালীন সে আমাদের বিরুদ্ধে চলে যায়। আমাদের নিজস্ব লোকজনের মুণ্ডু কেটে তার মনিবের অনুগ্রহ ফিরে পাওয়ার এমন সুযোগ সে কি আর পাবে?
1SA 29:5 এই দাউদের বিষয়েই কি লোকেরা নাচ-গান করে বলেনি: “ ‘শৌল মারলেন হাজার হাজার, আর দাউদ মারলেন অযুত অযুত’?”
1SA 29:6 আখীশ তাই দাউদকে ডেকে তাঁকে বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, তুমি নির্ভরযোগ্য, এবং তোমায় আমি আমার সঙ্গে সৈন্যদলে রাখতে পারলে খুশিই হতাম। যেদিন তুমি আমার কাছে এসেছিলে সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তোমার মধ্যে কোনও দোষ খুঁজে পাইনি, কিন্তু শাসনকর্তারা তোমাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না।
1SA 29:7 এখন শান্তিতে ফিরে যাও; ফিলিস্তিনী শাসনকর্তারা অসন্তুষ্ট হয় এমন কোনও কাজ কোরো না।”
1SA 29:8 “কিন্তু আমি কী করেছি?” দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন। “যেদিন আমি আপনার কাছে এসেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আপনি আপনার দাসের বিরুদ্ধে কি কিছু খুঁজে পেয়েছেন? তবে কেন আমি গিয়ে আমার প্রভু মহারাজের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারব না?”
1SA 29:9 আখীশ উত্তর দিলেন, “আমি জানি যে আমার নজরে তুমি ঈশ্বরের এক দূতের মতোই ভালো; তা সত্ত্বেও, ফিলিস্তিনী সেনাপতিরা বলেছে, ‘সে যেন আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে না যায়।’
1SA 29:10 এখন তাড়াতাড়ি উঠে পড়ো, তোমার মনিবের সেইসব দাসকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সকাল আলো ফোটামাত্র এখান থেকে চলে যাও, যারা তোমার সঙ্গে এখানে এসেছিল।”
1SA 29:11 তাই দাউদ ও তাঁর লোকজন ফিলিস্তিনীদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল উঠে পড়েছিলেন, এবং ফিলিস্তিনীরা যিষ্রিয়েলে চলে গেল।
1SA 30:1 দাউদ ও তাঁর লোকজন তৃতীয় দিনে সিক্লগে গিয়ে পৌঁছালেন। ইত্যবসরে অমালেকীয়রা নেগেভে ও সিক্লগে হামলা চালিয়েছিল। তারা সিক্লগ আক্রমণ করে সেটি পুড়িয়ে দিয়েছিল,
1SA 30:2 এবং স্ত্রীলোকদের ও ছোটো-বড়ো সবাইকে বন্দি করল। তারা কাউকেই হত্যা করেনি, কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় তাদের তুলে নিয়ে গেল।
1SA 30:3 দাউদ ও তাঁর লোকজন যখন সিক্লগে পৌঁছেছিলেন, তখন তাঁরা দেখেছিলেন নগরটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ও তাদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা বন্দি হয়েছে।
1SA 30:4 তাই দাউদ ও তাঁর লোকজন গলা ছেড়ে কেঁদেছিলেন। শেষে এমন হল যে তাঁদের আর কাঁদার শক্তি অবশিষ্ট ছিল না।
1SA 30:5 দাউদের দুই স্ত্রী—যিষ্রিয়েলের অহীনোয়ম ও কর্মিল-নিবাসী নাবলের বিধবা অবীগল বন্দি হয়েছিলেন।
1SA 30:6 দাউদ মনে খুব দুঃখ পেয়েছিলেন কারণ লোকেরা তাঁকে পাথর মারার কথা বলছিল; ছেলেমেয়েদের জন্য প্রত্যেকের মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু দাউদ তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুতে শক্তি অর্জন করলেন।
1SA 30:7 পরে দাউদ অহীমেলকের ছেলে যাজক অবিয়াথরকে বললেন, “এফোদটি আমার কাছে নিয়ে আসুন।” অবিয়াথর সেটি তাঁর কাছে এনেছিলেন,
1SA 30:8 এবং দাউদ সদাপ্রভুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “আমি কি আক্রমণকারীদের পিছু ধাওয়া করব? আমি কি তাদের ধরে ফেলতে পারব?” “পিছু ধাওয়া করো,” তিনি উত্তর দিলেন। “তুমি নিঃসন্দেহে তাদের ধরে ফেলতে পারবে ও উদ্ধারকাজে সফল হবে।”
1SA 30:9 দাউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা 600 জন লোক বিষোর উপত্যকায় পৌঁছে গেলেন। কয়েকজন সেখানেই থেকে গেল।
1SA 30:10 তাদের মধ্যে 200 জন এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা আর উপত্যকাটি পার হতে পারেনি, কিন্তু দাউদ ও অন্য 400 জন লোক আক্রমণকারীদের পিছু ধাওয়া করেই যাচ্ছিলেন।
1SA 30:11 তারা মাঠে একজন মিশরীয় লোককে খুঁজে পেয়ে তাকে দাউদের কাছে নিয়ে এসেছিল। তারা তাকে জলপান করতে ও খাবার খেতে দিয়েছিল—
1SA 30:12 সেই খাবার ছিল ডুমুরচাকের খানিকটা পিঠে ও কিশমিশ দিয়ে তৈরি দুটি পিঠে। সে সেগুলি খেয়ে শক্তি ফিরে পেয়েছিল, কারণ সে তিন দিন তিনরাত খাবার খায়নি বা জলও পান করেননি।
1SA 30:13 দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কার লোক? কোথা থেকেই বা এসেছ?” সে বলল, “আমি জাতিতে একজন মিশরীয়, আমি একজন অমালেকীয়ের দাস। তিন দিন আগে আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম তখন আমার মনিব আমাকে একা ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন।
1SA 30:14 আমরা করেথীয়দের নেগেভে, যিহূদার অধিকারভুক্ত কিছু এলাকায় ও কালেবের নেগেভে হানা দিয়েছিলাম। আবার আমরা সিক্লগও আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছি।”
1SA 30:15 দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি পথ দেখিয়ে আমাকে সেই আক্রমণকারীদের কাছে নিয়ে যেতে পারবে?” সে উত্তর দিয়েছিল, “আপনি ঈশ্বরের কাছে শপথ করে বলুন যে আপনি আমাকে হত্যা করবেন না বা আমাকে আমার মনিবের হাতে তুলে দেবেন না, তবেই আমি আপনাকে তাদের কাছে নিয়ে যাব।”
1SA 30:16 সে দাউদকে তাদের কাছে নিয়ে গেল, আর সেখানে তারা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ভোজনপান ও বিশ্রাম করছিল কারণ তারা ফিলিস্তিনীদের দেশ থেকে ও যিহূদা থেকে প্রচুর পরিমাণে লুন্ঠিত জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছিল।
1SA 30:17 দাউদ সেদিন ভরসন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরদিন সন্ধ্যাবেলা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, ও উটের পিঠে চেপে পালিয়ে যাওয়া 400 জন যুবক ছাড়া তাদের মধ্যে আর কেউই রক্ষা পায়নি।
1SA 30:18 অমালেকীয়রা যা যা নিয়ে গেল সে সবকিছুই, এমনকি তাঁর দুই স্ত্রীকেও দাউদ ফিরিয়ে এনেছিলেন।
1SA 30:19 কোনো কিছুই হারায়নি: অল্পবয়স্ক বা বয়সে বৃদ্ধ, ছেলে বা মেয়ে, লুন্ঠিত জিনিসপত্র বা তারা নিয়ে গিয়েছিল এমন অন্য সবকিছু দাউদ ফিরিয়ে নিয়ে এলেন।
1SA 30:20 তিনি সব মেষ ও পশুপাল ছিনিয়ে এনেছিলেন, এবং এই বলে তাঁর লোকজন সেগুলি অন্যান্য গবাদি পশুর আগে আগে তাড়িয়ে এনেছিল, “এসব দাউদের লুন্ঠিত জিনিসপত্র।”
1SA 30:21 পরে দাউদ সেই 200 জন লোকের কাছে এলেন যারা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বলে তাঁর অনুগামী হতে পারেনি ও তারা বিষোর উপত্যকায় থেকে গিয়েছিল। তারা দাউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। দাউদ ও তাঁর লোকজন সেখানে পৌঁছালে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন তারা কেমন আছে।
1SA 30:22 কিন্তু দাউদের অনুগামীদের মধ্যে সব দুষ্ট প্রকৃতির ও ঝামেলা সৃষ্টিকারী লোক বলল, “যেহেতু এরা আমাদের সঙ্গে যায়নি, তাই আমাদের ফিরিয়ে আনা লুন্ঠিত জিনিসপত্রের বখরা আমরা এদের দেব না। অবশ্য, এরা প্রত্যেকে নিজেদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যেতে পারে।”
1SA 30:23 দাউদ উত্তর দিলেন, “না না, হে আমার ভাইয়েরা, সদাপ্রভু আমাদের যা দিয়েছেন, তা নিয়ে তোমরা এরকম কোরো না। তিনি আমাদের সুরক্ষা জুগিয়েছেন ও সেই আক্রমণকারীদের আমাদের হাতে সঁপে দিয়েছেন, যারা আমাদের বিরুদ্ধে এসেছিল।
1SA 30:24 কে তোমাদের কথা শুনবে? যারা রসদসামগ্রী পাহারা দিয়েছিল তারাও, যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, তাদের মতোই ভাগ পাবে। সবার বখরাই সমান হবে।”
1SA 30:25 সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দাউদ ইস্রায়েলের জন্য এই নিয়ম ও বিধি স্থির করে দিয়েছেন।
1SA 30:26 সিক্লগে পৌঁছে দাউদ এই বলে লুন্ঠিত জিনিসপত্রের কিছুটা অংশ তাঁর বন্ধুস্থানীয় যিহূদার প্রাচীনদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন যে, “সদাপ্রভুর শত্রুদের কাছ থেকে পাওয়া লুন্ঠিত জিনিসপত্র থেকে আপনাদের জন্য সামান্য উপহার পাঠাচ্ছি।”
1SA 30:27 দাউদ তাঁদেরই কাছে সেগুলি পাঠালেন, যাঁরা বেথেল, নেগেভের রামোৎ ও যত্তীরে থাকতেন;
1SA 30:28 যাঁরা অরোয়ের, শিফমোৎ, ইষ্টিমোয়
1SA 30:29 ও রাখলে থাকতেন; যাঁরা যিরহমেলীয়দের ও কেনীয়দের নগরগুলিতে থাকতেন;
1SA 30:30 যাঁরা হর্মা, বোর-আশন, অথাক
1SA 30:31 ও হিব্রোণে থাকতেন; তথা অন্যান্য সেইসব স্থানে থাকতেন, যেখানে যেখানে তিনি ও তাঁর লোকজন ঘুরে বেড়াতেন।
1SA 31:1 ইত্যবসরে ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল; ইস্রায়েলীরা তাদের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, ও অনেকেই গিলবোয় পর্বতে মারা পড়েছিল।
1SA 31:2 ফিলিস্তিনীরা বীর-বিক্রমে শৌল ও তাঁর ছেলেদের পিছু ধাওয়া করল, এবং তারা তাঁর ছেলে যোনাথন, অবীনাদব ও মল্কীশূয়কে হত্যা করল।
1SA 31:3 শৌলের চারপাশে ভীষণ যুদ্ধ চলছিল, এবং তীরন্দাজেরা তাঁর নাগাল পেয়ে তাঁকে গুরুতরভাবে আহত করে ফেলেছিল।
1SA 31:4 শৌল তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিকে বললেন, “তোমার তরোয়ালটি বের করে আমার উপর চালিয়ে দাও, তা না হলে সুন্নত না করা এইসব লোকজন এসে আমাকে হত্যা করে আমার অপমান করবে।” কিন্তু তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটি ভয় পেয়েছিল ও তা করতে চায়নি; তাই শৌল নিজের তরোয়ালটি বের করে সেটির উপর নিজেই পড়ে গেলেন।
1SA 31:5 সেই অস্ত্র বহনকারী লোকটি যখন দেখল যে শৌল মারা গিয়েছেন, তখন সেও নিজের তরোয়ালের উপর পড়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গেই মারা গেল।
1SA 31:6 অতএব একই দিনে শৌল, তাঁর তিন ছেলে ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটি এবং তাঁর সব লোকজন একসঙ্গে মারা গেলেন।
1SA 31:7 উপত্যকার ইস্রায়েলীরা ও জর্ডন নদীর ওপারে বসবাসকারী লোকেরা যখন দেখল যে ইস্রায়েলী সৈন্যদল পালিয়েছে এবং শৌল ও তাঁর ছেলেরা মারা গিয়েছেন, তখন তারাও নিজেদের নগরগুলি ছেড়ে পালিয়ে গেল। ফিলিস্তিনীরা এসে তখন সেই নগরগুলি দখল করল।
1SA 31:8 পরদিন ফিলিস্তিনীরা যখন মৃতদেহগুলি থেকে সাজসজ্জা খুলে নিতে এসেছিল, তারা শৌল ও তাঁর ছেলেদের গিলবোয় পর্বতে মরে পড়ে থাকতে দেখেছিল।
1SA 31:9 তারা তাঁর মাথা কেটে নিয়েছিল ও তাঁর অস্ত্র-সজ্জাও খুলে নিয়েছিল, এবং তারা ফিলিস্তিনীদের গোটা দেশ জুড়ে তাদের দেবদেবীর মন্দিরে মন্দিরে ও প্রজাদের মধ্যে এই খবর ঘোষণা করার জন্য দূতদের পাঠিয়ে দিয়েছিল।
1SA 31:10 তারা তাঁর মাথাটি নিয়ে গিয়ে অষ্টারোৎ দেবীদের মন্দিরে রেখেছিল এবং তাঁর দেহটি বেথ-শানের প্রাচীরে ঝুলিয়ে রেখেছিল।
1SA 31:11 যাবেশ-গিলিয়দের লোকজন যখন শুনতে পেল ফিলিস্তিনীরা শৌলের প্রতি কী করেছে,
1SA 31:12 তখন সেখানকার বীরপুরুষরা রাতারাতি কুচকাওয়াজ করে বেথ-শানে পৌঁছে গেল। তারা বেথ-শানের প্রাচীর থেকে শৌল ও তাঁর ছেলেদের শবগুলি নামিয়ে এনে যাবেশে ফিরে গেল, ও সেখানে তারা সেগুলি পুড়িয়ে দিল।
1SA 31:13 পরে তারা তাদের হাড়গুলি নিয়ে সেগুলি যাবেশে একটি ঝাউ গাছের তলায় কবর দিল, এবং সাত দিন ধরে উপবাস করল।
2SA 1:1 শৌলের মৃত্যুর পর, দাউদ অমালেকীয়দের বধ করে ফিরে আসার পর সিক্লগে দু-দিন কাটিয়েছিলেন।
2SA 1:2 তৃতীয় দিনে শৌলের সৈন্যশিবির থেকে ছিন্নবস্ত্রে ও মাথায় ধুলো মেখে একটি লোক সেখানে পৌঁছেছিল। দাউদের কাছে এসে সে তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিল।
2SA 1:3 “তুমি কোথা থেকে এসেছ?” দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে উত্তর দিয়েছিল, “আমি ইস্রায়েলী সৈন্যশিবির থেকে পালিয়ে এসেছি।”
2SA 1:4 “কী হয়েছে?” দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন। “আমায় বলো।” “লোকজন যুদ্ধস্থল থেকে পালিয়েছে,” সে উত্তর দিয়েছিল। “তাদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছে। শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথনও মারা গিয়েছেন।”
2SA 1:5 যে যুবকটি দাউদের কাছে এই খবরটি এনেছিল তাকে তখন দাউদ বললেন, “তুমি কী করে জানলে শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথন মারা গিয়েছেন?”
2SA 1:6 “ঘটনাচক্রে আমি গিলবোয় পাহাড়ে ছিলাম,” যুবকটি বলল, “আর শৌল তখন সেখানে তাঁর বর্শার উপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, আর রথ ও সেগুলির সারথিরা বীর-বিক্রমে তাঁর পিছু ধাওয়া করল।
2SA 1:7 তিনি যখন এদিক-ওদিক চেয়ে আমাকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখন তিনি আমায় ডাক দিলেন, ও আমি বললাম, ‘আমি কী করতে পারি?’
2SA 1:8 “তিনি আমায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কে?’ “ ‘একজন অমালেকীয়,’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম।
2SA 1:9 “পরে তিনি আমায় বললেন, ‘আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে হত্যা করো! আমি মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করছি, কিন্তু আমি এখনও বেঁচে আছি।’
2SA 1:10 “তাই আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে হত্যা করলাম, যেহেতু আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে পড়ে যাওয়ার পর তাঁর পক্ষে আর কোনোভাবেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আর আমি তাঁর মাথার মুকুটটি ও তাঁর হাতের বাজুটি খুলে নিয়ে সেগুলি এখানে আমার প্রভু আপনার কাছে এনেছি।”
2SA 1:11 তখন দাউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজন নিজেদের পোশাক ধরে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।
2SA 1:12 সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা শৌলের ও তাঁর ছেলে যোনাথনের, ও সদাপ্রভুর সৈন্যদলের এবং ইস্রায়েল জাতির জন্য শোকপ্রকাশ করে কেঁদেছিলেন ও উপবাস করলেন, কারণ তারা তরোয়ালের আঘাতে মারা পড়েছিলেন।
2SA 1:13 যে ছেলেটি দাউদের কাছে এই খবরটি এনেছিল, তিনি তাকে বললেন, “তুমি কোথাকার লোক?” “আমি এক বিদেশির ছেলে, একজন অমালেকীয়,” সে উত্তর দিয়েছিল।
2SA 1:14 দাউদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে মেরে ফেলার জন্য হাত উঠাতে কেন তোমার ভয় করল না?”
2SA 1:15 পরে দাউদ তাঁর লোকদের মধ্যে একজনকে ডেকে বললেন, “যাও, ওকে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দাও!” তখন সে তাকে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিল, ও সে মারা গেল।
2SA 1:16 কারণ দাউদ তাকে বললেন, “তোমার রক্তের দোষ তুমিই তোমার মাথায় বহন করো। তোমার নিজের মুখেই তুমি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছ, ‘আমি সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করেছি।’ ”
2SA 1:17 শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথনের জন্য দাউদ এই বিলাপ-গীতটি গেয়েছিলেন,
2SA 1:18 এবং তিনি আদেশ দিলেন যেন যিহূদার লোকজনকেও ধনুকের এই বিলাপ-গীতটি শেখানো হয় (এটি যাশের গ্রন্থে লেখা আছে):
2SA 1:19 “হে ইস্রায়েল, তোমার চূড়ায় এক গজলা হরিণ মরে পড়ে আছে। বীরপুরুষেরা হেথায় কেমন সব পড়ে আছেন!
2SA 1:20 “গাতে এ খবর দিয়ো না, অস্কিলোনের পথে পথে তা ঘোষণা কোরো না, ফিলিস্তিনীদের মেয়েরা পুলকিত হোক, বিধর্মী লোকদের মেয়েরা আনন্দিত হোক।
2SA 1:21 “হে গিলবোয়ের পাহাড়-পর্বত, তোমাদের উপর যেন কখনও শিশির বা বৃষ্টি না পড়ে, তোমাদের সমতল ক্ষেতেও যেন বৃষ্টি না পড়ে। কারণ সেখানে বীরপুরুষের ঢাল অবজ্ঞাত হল, শৌলের সেই ঢাল—আর তৈল-মর্দিত হবে না।
2SA 1:22 “নিহতের রক্ত না নিয়ে, বীরপুরুষের মাংস না পেয়ে, যোনাথনের ধনুক কখনও পিছু ফিরত না, শৌলের তরোয়াল কখনও অতৃপ্ত ফিরত না।
2SA 1:23 শৌল ও যোনাথন— জীবনকালে তারা ছিলেন প্রিয়তম ও প্রশংসিত, মরণেও তারা হননি বিচ্ছিন্ন। তারা ছিলেন ঈগলের চেয়েও দ্রুতগামী, তারা ছিলেন সিংহের চেয়েও শক্তিশালী।
2SA 1:24 “হে ইস্রায়েলের মেয়েরা, শৌলের জন্য কাঁদো, যিনি তোমাদের টকটকে লাল রংয়ের মিহি কাপড় পরিয়েছেন, যিনি তোমাদের পোশাক সোনা গয়নায় সাজিয়েছেন।
2SA 1:25 “বীরপুরুষেরা যুদ্ধে কেমন হত হলেন! তোমার চূড়ায় যোনাথন মৃত পড়ে আছেন।
2SA 1:26 হে যোনাথন, ভাই আমার; তোমার জন্য আজ আমি মর্মাহত, হে বন্ধু, আমার কাছে তুমি কত যে প্রিয় ছিলে। আমার প্রতি তোমার প্রেম যে অপরূপ ছিল, নারীদের প্রেমের চেয়েও বুঝি বেশি অপরূপ।
2SA 1:27 “বীরপুরুষেরা আছেন হেথায় কেমন সব পড়ে! যুদ্ধের সব হাতিয়ার যে বিনষ্ট রয়েছে পড়ে!”
2SA 2:1 কালক্রমে, দাউদ সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নিয়েছিলেন। “আমি কি যিহূদার নগরগুলির মধ্যে কোনো একটিতে যাব?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। সদাপ্রভু বললেন, “চলে যাও।” দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কোথায় যাব?” “হিব্রোণে যাও,” সদাপ্রভু উত্তর দিলেন।
2SA 2:2 অতএব দাউদ তাঁর দুই স্ত্রী, যিষ্রিয়েলীয় অহীনোয়ম ও কর্মিলীয় নাবলের বিধবা অবীগলকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছে গেলেন।
2SA 2:3 দাউদ সাথে করে পরিবার-পরিজনসহ তাঁর সঙ্গী লোকজনকেও নিয়ে গেলেন, এবং তারা হিব্রোণে ও তার পাশাপাশি গ্রামগুলিতে বসবাস করতে শুরু করল।
2SA 2:4 পরে যিহূদার লোকজন হিব্রোণে পৌঁছেছিল, ও সেখানে তারা দাউদকে যিহূদা কুলের রাজারূপে অভিষিক্ত করল। দাউদকে যখন বলা হল যে যাবেশ-গিলিয়দের লোকজন শৌলকে কবর দিয়েছে,
2SA 2:5 তখন তিনি একথা বলার জন্য তাদের কাছে কয়েকজন দূত পাঠালেন, “তোমরা তোমাদের প্রভু শৌলকে কবর দিয়ে তাঁর প্রতি যে দয়া দেখিয়েছ, সেজন্য সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করুন।
2SA 2:6 সদাপ্রভু এখন যেন তোমাদের প্রতি দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখান, এবং আমিও তোমাদের প্রতি একইরকম অনুগ্রহ দেখাব, কারণ তোমরা ভালো কাজ করেছ।
2SA 2:7 তবে এখন, সবল ও সাহসী হও, কারণ তোমাদের মনিব শৌল মারা গিয়েছেন, এবং যিহূদার লোকজন তাদের উপর আমাকে রাজারূপে অভিষিক্ত করেছে।”
2SA 2:8 ইতিমধ্যে, শৌলের সৈন্যদলের সেনাপতি, নেরের ছেলে অবনের শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশতকে মহনয়িমে এনে তুলেছিলেন।
2SA 2:9 তিনি তাঁকে গিলিয়দ, আশের ও যিষ্রিয়েল, তথা ইফ্রয়িম, বিন্যামীন ও সম্পূর্ণ ইস্রায়েলের উপর রাজা করে দিলেন।
2SA 2:10 চল্লিশ বছর বয়সে শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশত ইস্রায়েলের উপর রাজা হলেন, এবং তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন। যিহূদা কুল অবশ্য দাউদের প্রতি অনুগত থেকে গেল।
2SA 2:11 যিহূদা কুলে দাউদ সাত বছর ছয় মাস হিব্রোণে রাজা হয়ে ছিলেন।
2SA 2:12 নেরের ছেলে অবনের শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশতের লোকদের সঙ্গে নিয়ে মহনয়িম ছেড়ে গিবিয়োনে গেলেন।
2SA 2:13 সরূয়ার ছেলে যোয়াব ও দাউদের লোকরাও বের হয়ে এলেন এবং গিবিয়োনের ডোবার কাছে তাদের দেখা পেয়েছিলেন। একটি দল ডোবার এপারে ও অন্য দলটি ডোবার ওপারে গিয়ে বসেছিল।
2SA 2:14 পরে অবনের যোয়াবকে বললেন, “আমাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন যুবক উঠে গিয়ে আমাদের চোখের সামনেই হাতাহাতি যুদ্ধ করুক।” “ঠিক আছে, তারা এরকমই করুক,” যোয়াব বললেন।
2SA 2:15 তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল ও তাদের সংখ্যা গোনা হল—বিন্যামীন ও শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশতের পক্ষে বারোজন, এবং দাউদের পক্ষে বারোজন।
2SA 2:16 পরে প্রত্যেকে নিজের নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাথা জাপটে ধরে তাদের দেহপার্শ্বে ছোরা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, ও তারা একসাথেই মারা গেল। তাই গিবিয়োনের সেই স্থানটি হিলকৎ-হৎসূরীম নামে আখ্যাত হল।
2SA 2:17 সেদিন যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করল, এবং অবনের ও ইস্রায়েলীরা দাউদের লোকজনের হাতে পরাজিত হল।
2SA 2:18 সরূয়ার তিন ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন: যোয়াব, অবীশয় ও অসাহেল। অসাহেল আবার এক গজলা হরিণের মতো ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন ছিলেন।
2SA 2:19 তিনি অবনেরের পিছু ধাওয়া করলেন, আর অবনেরের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে তিনি ডাইনে বা বাঁয়ে, কোনোদিকেই ঘুরে তাকাননি।
2SA 2:20 অবনের তাঁর দিকে পিছু ফিরে জিজ্ঞাসা করলেন, “এ কি তুমি, অসাহেল?” “হ্যাঁ আমিই,” তিনি উত্তর দিলেন।
2SA 2:21 তখন অবনের তাঁকে বললেন, “ডাইনে বা বাঁয়ে ফিরে যুবকদের মধ্যে কাউকে ধরে তার অস্ত্রশস্ত্র খুলে নাও।” কিন্তু অসাহেল তাঁর পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করেননি।
2SA 2:22 আরেকবার অবনের তাঁকে সাবধান করে দিলেন, “আর আমার পিছু ধাওয়া কোরো না! কেন মিছিমিছি আমি তোমাকে মারব? আর আমি তোমার দাদা যোয়াবের কাছে তখন কীভাবেই বা মুখ দেখাব?”
2SA 2:23 কিন্তু অসাহেল পশ্চাদ্ধাবন বন্ধ করতে রাজি হননি; তাই অবনের তাঁর বর্শার বাঁটটি অসাহেলের পেটে ঢুকিয়ে দিলেন, ও বর্শাটি তাঁর পিঠ ভেদ করে বেরিয়ে এসেছিল। অকুস্থলেই তিনি পড়ে গেলেন। যেখানে অসাহেল পড়ে মারা গেলেন, প্রত্যেকেই সেখানে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিল।
2SA 2:24 কিন্তু যোয়াব ও অবীশয় অবনেরের পিছু ধাওয়া করে গেলেন, এবং সূর্য যখন অস্ত যাচ্ছিল, তখন তারা গিবিয়োনের মরুএলাকার পথে গীহের কাছাকাছি অম্মা পাহাড়ে পৌঁছেছিলেন।
2SA 2:25 তখন বিন্যামীনের লোকজন অবনেরের পিছনে জমায়েত হল। তারা দল বেঁধে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
2SA 2:26 অবনের যোয়াবকে ডেকে বললেন, “তরোয়াল কি চিরকাল গ্রাসই করতে থাকবে? তুমি কি বুঝতে পারছ না যে তিক্ততা দিয়েই এর সমাপ্তি হবে? আর কখন তুমি তোমার লোকজনকে তাদের সমগোত্রীয় ইস্রায়েলীদের পিছু ধাওয়া করতে মানা করবে?”
2SA 2:27 যোয়াব উত্তর দিলেন, “জীবন্ত ঈশ্বরের দিব্যি, তুমি যদি কথা না বলতে, তবে লোকেরা সকাল পর্যন্ত তাদের পিছু ধাওয়া করেই যেত।”
2SA 2:28 অতএব যোয়াব শিঙা বাজিয়েছিলেন, এবং সৈন্যসামন্ত সবাই থেমে গেল; তারা আর ইস্রায়েলের পিছু ধাওয়া করেনি, বা তারা আর যুদ্ধও করেনি।
2SA 2:29 সারারাত ধরে অবনের ও তাঁর লোকজন অরাবার মধ্যে দিয়ে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন। তারা জর্ডন নদী পার হয়ে সকালের দিকে মহনয়িমে এসে উপস্থিত হলেন।
2SA 2:30 পরে যোয়াব অবনেরের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করে দিয়ে সমগ্র সৈন্যদল একত্রিত করলেন। অসাহেলের পাশাপাশি দেখা গেল দাউদের উনিশজন লোকও কম পড়ছিল।
2SA 2:31 কিন্তু দাউদের লোকজন অবনেরের সঙ্গে থাকা 360 জন বিন্যামীনীয় লোককে হত্যা করল।
2SA 2:32 তারা অসাহেলকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বেথলেহেমে তাঁর বাবার কবরে কবর দিয়েছিল। পরে যোয়াব ও তাঁর লোকজন সারারাত ধরে কুচকাওয়াজ করে ভোরবেলায় হিব্রোণে পৌঁছে গেলেন।
2SA 3:1 শৌল গোষ্ঠী ও দাউদ গোষ্ঠীর মধ্যে চলা যুদ্ধ দীর্ঘদিন স্থায়ী হল। দাউদ দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছিলেন, অথচ শৌল গোষ্ঠী দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছিল।
2SA 3:2 হিব্রোণে দাউদের কয়েকটি ছেলের জন্ম হল: তাঁর বড়ো ছেলের নাম অম্নোন, যিনি যিষ্রিয়েলীয় অহীনোয়মের ছেলে;
2SA 3:3 তাঁর দ্বিতীয় ছেলে কিলাব, যিনি কর্মিলীয় নাবলের বিধবা অবীগলের সন্তান; তৃতীয় ছেলে অবশালোম, যিনি গশূরের রাজা তলময়ের মেয়ে মাখার সন্তান;
2SA 3:4 চতুর্থ ছেলে আদোনিয়, যিনি হগীতের সন্তান; পঞ্চম ছেলে শফটিয়, যিনি অবীটলের সন্তান;
2SA 3:5 ষষ্ঠ ছেলে যিত্রিয়ম, যিনি দাউদের স্ত্রী ইগ্লার সন্তান। দাউদের এইসব ছেলের জন্ম হল হিব্রোণে।
2SA 3:6 শৌল গোষ্ঠী ও দাউদ গোষ্ঠীর মধ্যে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন অবনের শৌল গোষ্ঠীতে নিজের পদ শক্তপোক্ত করে যাচ্ছিলেন।
2SA 3:7 ইত্যবসরে রিস্পা বলে শৌলের এক উপপত্নী ছিল। সে ছিল অয়ার মেয়ে। ঈশ্‌বোশত অবনেরকে বললেন, “আপনি কেন আমার বাবার উপপত্নীর সঙ্গে বিছানায় শুয়েছেন?”
2SA 3:8 ঈশ্‌বোশতের কথা শুনে অবনের খুব রেগে গেলেন। তাই তিনি উত্তর দিলেন, “যিহূদার পক্ষে আমি কি কুকুরের মুণ্ডু? আজও পর্যন্ত আমি তোমার বাবা শৌলের গোষ্ঠীর ও তাঁর পরিবারের ও বন্ধুবান্ধবদের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে এসেছি। তোমাকে আমি দাউদের হাতেও তুলে দিইনি। অথচ এখন কি না তুমি এই মহিলাটির সঙ্গে নাম জড়িয়ে আমাকে অপবাদ দিচ্ছ!
2SA 3:9 ঈশ্বর যেন অবনেরকে দণ্ড দেন, যেন কঠোর দণ্ড দেন। সদাপ্রভু শপথ করে দাউদের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করলেন, আমি যদি তাঁর হয়ে তা না করি
2SA 3:10 ও শৌল গোষ্ঠীর হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নিয়ে দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত ইস্রায়েল ও যিহূদার উপরে দাউদের সিংহাসন স্থির না করি।”
2SA 3:11 ঈশ্‌বোশত অবনেরকে আর একটিও কথা বলার সাহস পাননি, কারণ তিনি তাঁকে ভয় পেয়েছিলেন।
2SA 3:12 পরে অবনের তাঁর হয়ে এই কথা বলার জন্য দাউদের কাছে দূত পাঠালেন, “এই দেশটি কার? আমার সঙ্গে একটি চুক্তি করুন, সম্পূর্ণ ইস্রায়েলকে আপনার পক্ষে আনার জন্য আমি আপনাকে সাহায্য করব।”
2SA 3:13 “ভালো,” দাউদ বললেন, “আমি আপনার সঙ্গে চুক্তি করব। কিন্তু আমি আপনার কাছে একটি দাবি জানাচ্ছি: আমার সঙ্গে দেখা করার সময় যদি শৌলের মেয়ে মীখলকে নিয়ে আসতে না পারেন, তবে আমার সামনে আর আসবেন না।”
2SA 3:14 পরে দাউদ শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশতের কাছে দূত পাঠিয়ে দাবি জানিয়েছিলেন, “আমার স্ত্রী সেই মীখলকে ফিরিয়ে দাও, যাকে আমি একশো জন ফিলিস্তিনীর লিঙ্গত্বকরূপী মেয়েপণ দিয়ে বিয়ে করেছি।”
2SA 3:15 তখন ঈশ্‌বোশত আদেশ দিয়ে মীখলকে তাঁর স্বামী, লয়িশের ছেলে পল্‌টিয়েলের কাছ থেকে আনিয়েছিলেন।
2SA 3:16 তাঁর স্বামী অবশ্য পিছন পিছন বহুরীম পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে তাঁর সঙ্গে গেলেন। তখন অবনের তাঁকে বললেন, “তুমি ঘরে ফিরে যাও!” তাই তিনি ফিরে গেলেন।
2SA 3:17 অবনের ইস্রায়েলের প্রাচীনদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বললেন, “বেশ কিছুদিন থেকেই আপনারা দাউদকে আপনাদের রাজা বানাতে চাইছেন।
2SA 3:18 এখনই তা করে ফেলুন! কারণ সদাপ্রভু দাউদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন, ‘আমার দাস দাউদকে দিয়েই ফিলিস্তিনীদের ও আমার প্রজা ইস্রায়েলের সব শত্রুর হাত থেকে আমি তাদের উদ্ধার করব।’ ”
2SA 3:19 অবনের আবার আলাদা করে বিন্যামিনীয়দের সঙ্গেও কথা বললেন। পরে তিনি হিব্রোণে দাউদের কাছে সবকিছু বলতে গেলেন, যা ইস্রায়েল ও বিন্যামীনের কূলজাত সব লোকজন করতে চেয়েছিল।
2SA 3:20 অবনের যখন কুড়ি জন লোক সঙ্গে নিয়ে হিব্রোণে দাউদের কাছে এলেন, দাউদ তখন তাঁর ও তাঁর লোকজনের জন্য ভোজসভার আয়োজন করলেন।
2SA 3:21 অবনের দাউদকে বললেন, “আমাকে এখনই যেতে দিন। আমি আমার প্রভু মহারাজের জন্য সমস্ত ইস্রায়েলকে একত্রিত করব, যেন তারা আপনার সঙ্গে এক নিয়মবদ্ধ হয়, ও আপনি যেন আপনার অন্তরের বাসনানুসারে সবার উপর রাজত্ব করতে পারেন।” তখন দাউদ অবনেরকে বিদায় দিলেন, ও তিনি শান্তিতে ফিরে চলে গেলেন।
2SA 3:22 ঠিক তখনই দাউদের লোকজন ও যোয়াব কোথাও থেকে অতর্কিত আক্রমণ সেরে ফিরছিলেন ও সঙ্গে করে প্রচুর লুন্ঠিত জিনিসপত্রও নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অবনের তখন আর হিব্রোণে দাউদের সঙ্গে ছিলেন না, কারণ দাউদ তাঁকে বিদায় দিলেন, ও তিনি শান্তিতে চলে গেলেন।
2SA 3:23 যোয়াব যখন তাঁর সঙ্গে থাকা সব সৈন্যসামন্ত নিয়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন, তিনি খবর পেয়েছিলেন যে নেরের ছেলে অবনের রাজার কাছে এসেছিলেন এবং রাজা তাঁকে বিদায় দিয়েছেন ও তিনিও শান্তিতে চলে গিয়েছেন।
2SA 3:24 তখন যোয়াব রাজার কাছে গিয়ে বললেন, “এ আপনি কী করেছেন? দেখুন, অবনের আপনার কাছে এলেন। আপনি কেন তাঁকে যেতে দিলেন? এখন তো তিনি চলেই গিয়েছেন!
2SA 3:25 নেরের ছেলে অবনেরকে তো আপনি জানেনই; তিনি আপনাকে ঠকাতে ও আপনার সব গতিবিধি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতে তথা আপনি কী কী করছেন তার খোঁজ নেওয়ার জন্যই তিনি এলেন।”
2SA 3:26 যোয়াব পরে দাউদের কাছ থেকে চলে গিয়ে অবনেরের কাছে কয়েকজন দূত পাঠালেন, ও তারা সিরার জলাধারের কাছ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু দাউদ তা জানতে পারেননি।
2SA 3:27 অবনের যখন হিব্রোণে ফিরে এলেন, যোয়াব তখন তাঁর সঙ্গে গোপনে কথা বলার অছিলায় তাঁকে একান্তে ভিতরের একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে যোয়াব তাঁর ভাই অসাহেলের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁর পেটে ছোরা ঢুকিয়ে দিলেন, ও তিনি মরে গেলেন।
2SA 3:28 পরে, দাউদ যখন সেকথা শুনেছিলেন, তিনি বললেন, “নেরের ছেলে অবনেরের রক্তপাতের বিষয়ে আমি ও আমার রাজ্য চিরকাল সদাপ্রভুর সামনে নির্দোষ থাকব।
2SA 3:29 তাঁর রক্তপাতের দোষ যোয়াব ও তাঁর সম্পূর্ণ পরিবারের উপরেই বর্তুক! যোয়াবের পরিবারে যেন কখনও এমন কোনও লোকের অভাব না হয় যাদের শরীরে কাঁচা ঘা বা কুষ্ঠরোগ আছে অথবা যারা খঞ্জের লাঠিতে ভর দিয়ে চলে বা যারা তরোয়ালের আঘাতে মারা পড়ে বা খাবারের অভাবগ্রস্ত হয়।”
2SA 3:30 (যোয়াব ও তাঁর ভাই অবীশয় অবনেরকে হত্যা করলেন, কারণ তিনি তাদের ভাই অসাহেলকে গিবিয়োনের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করলেন।)
2SA 3:31 পরে দাউদ যোয়াব ও তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজনকে বললেন, “নিজেদের কাপড়গুলি ছিঁড়ে ফেলো ও চটের কাপড় পরে অবনেরের আগে আগে শোকপ্রকাশ করতে করতে হাঁটতে থাকো।” রাজা দাউদ স্বয়ং শবাধারের পিছু পিছু হেঁটেছিলেন।
2SA 3:32 তারা হিব্রোণে অবনেরকে কবর দিলেন, এবং রাজামশাই অবনেরের সমাধিস্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে কেঁদেছিলেন। সব লোকও কেঁদেছিল।
2SA 3:33 রাজামশাই অবনেরের জন্য এই বিলাপগাথা গেয়েছিলেন: “অবনেরকে কি বোকার মতো মরতেই হত?
2SA 3:34 তোমার হাত তো বাঁধা ছিল না, তোমার পা তো শিকলে বাঁধা ছিল না। তুমি এমন পড়লে যেভাবে কেউ দুষ্টলোকের সামনে পড়ে।” সব লোকজন আবার তাঁর জন্য কাঁদতে শুরু করল।
2SA 3:35 পরে তারা সবাই এসে দিন থাকতে থাকতেই দাউদকে কিছু খেয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল; কিন্তু এই বলে দাউদ এক শপথ নিয়েছিলেন, “যদি আমি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে রুটি বা অন্য কিছুর স্বাদ নিই, তবে ঈশ্বর যেন আমায় দণ্ড দেন, কঠোর দণ্ড দেন!”
2SA 3:36 সব লোকজন তা লক্ষ্য করে সন্তুষ্ট হল; সত্যিই, রাজামশাই যা যা করলেন তা তাদের সন্তুষ্ট করল।
2SA 3:37 অতএব সেদিন সেখানকার সব লোকজন ও সমস্ত ইস্রায়েল জানতে পেরেছিল যে নেরের ছেলে অবনেরের খুন হয়ে যাওয়ার পিছনে রাজার কোনও ভূমিকা ছিল না।
2SA 3:38 তখন রাজা তাঁর লোকজনকে বললেন, “তোমরা কি বুঝতে পারছ না যে আজ ইস্রায়েলে এক সেনাপতি ও মহান এক ব্যক্তি পতিত হয়েছেন?
2SA 3:39 আর আজ, আমি যদিও অভিষিক্ত রাজা, তবুও আমি দুর্বল, সরূয়ার এই ছেলেরা আমার পক্ষে বড়োই শক্তিশালী। সদাপ্রভু পাপিষ্ঠকে তার পাপকাজের আধারেই প্রতিফল দিন!”
2SA 4:1 শৌলের ছেলে ঈশ্‌বোশত যখন শুনেছিলেন যে অবনের হিব্রোণে মারা গিয়েছেন, তখন তিনি সাহস হারিয়ে ফেলেছিলেন, ও সমস্ত ইস্রায়েল আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
2SA 4:2 শৌলের ছেলের কাছে দুজন লোক ছিল, যারা ছিল আক্রমণকারী দলের সর্দার। একজনের নাম ছিল বানা, অন্যজনের নাম রেখব; তারা ছিল বিন্যামীন বংশীয় বেরোতীয় রিম্মোণের ছেলে—বেরোৎ বিন্যামীনের অংশবিশেষ বলে বিবেচিত হত,
2SA 4:3 যেহেতু বেরোতীয়েরা গিত্তয়িমে পালিয়ে গিয়ে আজও পর্যন্ত সেখানে বিদেশিরূপে বসবাস করে চলেছে।
2SA 4:4 (শৌলের ছেলে যোনাথনের এক ছেলে ছিল, যে আবার দু-পায়েই খঞ্জ ছিল। যিষ্রিয়েল থেকে শৌল ও যোনাথনের বিষয়ে খবর আসার সময় তার বয়স ছিল পাঁচ বছর। তার ধাত্রী তাকে কোলে তুলে নিয়ে পালিয়েছিল, কিন্তু সেই ধাত্রী যখন দৌড়ে পালাতে যচ্ছিল, তখন শিশুটি পড়ে গিয়ে অক্ষম হয়ে যায়। তার নাম মফীবোশৎ।)
2SA 4:5 ইত্যবসরে বেরোতীয় রিম্মোণের দুই ছেলে রেখব ও বানা ঈশ্‌বোশতের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হল, ও ভর-দুপুরে তিনি যখন দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন তারা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হল।
2SA 4:6 তারা কিছুটা গম নেওয়ার অছিলায় বাড়ির ভিতরদিকে চলে গেল, ও সেখানে গিয়ে তারা তাঁর পেটে ছোরা বিঁধিয়ে দিয়েছিল। পরে রেখব ও তার ভাই বানা পালিয়ে গেল।
2SA 4:7 ঈশ্‌বোশত যখন তাঁর শোবার ঘরে বিছানার উপর শুয়েছিলেন, তখনই তারা সেই বাড়িতে ঢুকেছিল। তাঁকে ছোরা মেরে খুন করার পর তারা তাঁর মুণ্ডুটি কেটে নিয়েছিল। সেটি সঙ্গে নিয়ে তারা সারারাত অরাবার পথ ধরে হেঁটে গেল।
2SA 4:8 হিব্রোণে দাউদের কাছে তারা ঈশ্‌বোশতের মুণ্ডুটি নিয়ে গিয়ে রাজাকে বলল, “এই মুণ্ডুটি হল শৌলের সেই ছেলে ঈশ্‌বোশতের মুণ্ডু, যে আপনার শত্রু, ও যে আপনাকে খুন করতে চেয়েছিল। আজই শৌল ও তাঁর বংশধরের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু আমার প্রভু মহারাজের হয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন।”
2SA 4:9 বেরোতীয় রিম্মোণের দুই ছেলে রেখব ও তার ভাই বানাকে দাউদ উত্তর দিলেন, “যিনি আমাকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেছেন, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,
2SA 4:10 যখন কেউ একজন আমাকে বলল, ‘শৌল মরেছেন,’ ও ভেবেছিল যে সে সুখবর এনেছে, আমি কিন্তু তাকে ধরে সিক্লগে হত্যা করলাম। তার দেওয়া খবরের জন্য আমি তাকে এই পুরস্কারই দিয়েছিলাম!
2SA 4:11 তোমরা, এই দুষ্ট লোকেরা যখন একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে তাঁর নিজের ঘরে, তাঁরই বিছানায় খুন করেছ—তখন আরও কত না বেশি করে আমি তাঁর রক্তের প্রতিশোধ তোমাদের কাছ থেকে নেব ও এই পৃথিবীর বুক থেকে তোমাদের উচ্ছেদ করে ছাড়ব!”
2SA 4:12 অতএব দাউদ তাঁর লোকজনকে আদেশ দিলেন, ও তারা তাদের হত্যা করল। তারা তাদের হাত পা কেটে দেহগুলি হিব্রোণের ডোবার পাশে ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তারা ঈশ্‌বোশতের মুণ্ডুটি নিয়ে গিয়ে সেটি হিব্রোণে অবনেরের কবরে কবর দিয়েছিল।
2SA 5:1 ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠী হিব্রোণে দাউদের কাছে এসে বলল, “আমরা আপনারই রক্তমাংস।
2SA 5:2 অতীতে, শৌল যখন আমাদের উপর রাজা ছিলেন, আপনিই তো ইস্রায়েলের সামরিক অভিযানে তাদের নেতৃত্ব দিতেন। সদাপ্রভু আপনাকে বললেন, ‘তুমি আমার প্রজা ইস্রায়েলের পালক হবে, ও তুমিই তাদের শাসক হবে।’ ”
2SA 5:3 ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা সবাই যখন হিব্রোণে রাজা দাউদের কাছে এলেন, রাজা তখন সদাপ্রভুকে সাক্ষী রেখে হিব্রোণে তাদের সাথে একটি চুক্তি করলেন, ও তারা দাউদকে ইস্রায়েলের উপর রাজারূপে অভিষিক্ত করলেন।
2SA 5:4 দাউদ যখন রাজা হলেন তখন তাঁর বয়স তিরিশ বছর, ও তিনি চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
2SA 5:5 হিব্রোণে যিহূদার উপর তিনি সাত বছর ছয় মাস রাজত্ব করলেন, এবং জেরুশালেমে ইস্রায়েল ও যিহূদার উপর তিনি তেত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন।
2SA 5:6 রাজামশাই ও তাঁর লোকজন সেই যিবূষীয়দের আক্রমণ করার জন্য জেরুশালেমের দিকে যুদ্ধযাত্রা করলেন, যারা সেখানে বসবাস করত। যিবূষীয়রা দাউদকে বলল, “আপনি এখানে ঢুকতে পারবেন না; এমনকি অন্ধ ও খঞ্জ লোকরাও আপনাকে তাড়িয়ে দেবে।”
2SA 5:7 তা সত্ত্বেও, দাউদ সিয়োনের দুর্গটি দখল করলেন—যেটি হল দাউদ-নগর।
2SA 5:8 সেদিন দাউদ বললেন, “যে কেউ যিবূষীয়দের অধিকার করবে, তাকে সেইসব ‘খঞ্জ ও অন্ধের’ কাছে পৌঁছানোর জন্য জল-সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করতে হবে, যারা দাউদের শত্রুবিশেষ।” এজন্যই তারা বলে, “ ‘অন্ধ ও খঞ্জেরা’ প্রাসাদে প্রবেশ করবে না।”
2SA 5:9 দাউদ পরে দুর্গটিকেই নিজের বাসস্থান বানিয়ে সেটির নাম দিলেন দাউদ-নগর। তিনি ভিতরের দিকে চাতাল থেকে সেটির চারপাশ ঘিরে দিলেন।
2SA 5:10 তিনি দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
2SA 5:11 আবার সোরের রাজা হীরম দাউদের কাছে দেবদারু জাতীয় কাঠের গুঁড়ি, ছুতোর ও রাজমিস্ত্রি সমেত কয়েকজন দূত পাঠিয়ে দিলেন, এবং তারা দাউদের জন্য এক প্রাসাদ তৈরি করল।
2SA 5:12 তখন দাউদ বুঝতে পেরেছিলেন যে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের উপর তাঁর রাজপদ স্থির করেছেন এবং তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের জন্য তাঁর রাজ্যের উন্নতি করেছেন।
2SA 5:13 হিব্রোণ ছেড়ে আসার পর দাউদ জেরুশালেমে আরও কয়েকজনকে স্ত্রী ও উপপত্নীরূপে গ্রহণ করলেন, এবং তাঁর আরও কয়েকটি ছেলেমেয়ের জন্ম হল।
2SA 5:14 সেখানে তাঁর যেসব সন্তানের জন্ম হল তারা হল: শম্মূয়, শোবব, নাথন, শলোমন,
2SA 5:15 যিভর, ইলীশূয়, নেফগ, যাফিয়,
2SA 5:16 ইলীশামা, ইলিয়াদা ও ইলীফেলট।
2SA 5:17 ফিলিস্তিনীরা যখন শুনতে পেয়েছিল দাউদ ইস্রায়েলের উপর রাজারূপে অভিষিক্ত হয়েছেন, তখন সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তারা তাঁকে খুঁজতে শুরু করল, কিন্তু দাউদ সেকথা শুনে দুর্গে নেমে গেলেন।
2SA 5:18 ফিলিস্তিনীরা এসে রফায়ীম উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়েছিল;
2SA 5:19 দাউদ তখন সদাপ্রভুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “আমি কি গিয়ে ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করব? তুমি কি আমার হাতে তাদের সঁপে দেবে?” সদাপ্রভু তাঁকে উত্তর দিলেন, “যাও, কারণ আমি অবশ্যই তোমার হাতে ফিলিস্তিনীদের সঁপে দেব।”
2SA 5:20 তখন দাউদ বায়াল-পরাসীমে গেলেন, ও সেখানে তিনি তাদের পরাজিত করলেন। তিনি বললেন, “বাঁধ ফেটে জল যেভাবে বেগে বেরিয়ে যায়, সদাপ্রভুও আমার সামনে আমার শত্রুদের বিরুদ্ধে সেভাবে ফাটিয়েছেন।” তাই সেই স্থানটির নাম হল বায়াল-পরাসীম।
2SA 5:21 ফিলিস্তিনীরা সেখানেই তাদের দেবদেবীর মূর্তিগুলি ফেলে রেখে গেল এবং দাউদ ও তাঁর লোকজন সেগুলি উঠিয়ে নিয়ে এলেন।
2SA 5:22 আরও একবার ফিলিস্তিনীরা এসে রফায়ীম উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়েছিল;
2SA 5:23 তাই দাউদ সদাপ্রভুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন ও তিনি উত্তর দিলেন, “সরাসরি তোমরা তাদের দিকে যেয়ো না, কিন্তু তাদের পিছন দিকে গিয়ে তাদের ঘিরে ধরো ও চিনার গাছগুলির সামনে গিয়ে তাদের আক্রমণ করো।
2SA 5:24 যে মুহূর্তে তোমরা চিনার গাছগুলির মাথায় কুচকাওয়াজের শব্দ শুনবে, তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেয়ো, কারণ এর অর্থ হল এই যে ফিলিস্তিনী সৈন্যদলকে আক্রমণ করার জন্য সদাপ্রভুই তোমাদের আগে চলে গিয়েছেন।”
2SA 5:25 অতএব সদাপ্রভু দাউদকে যে আদেশ দিলেন, তিনি সেই অনুসারেই কাজ করলেন এবং তিনি গিবিয়োন থেকে শুরু করে গেষর পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের আঘাত করে গেলেন।
2SA 6:1 দাউদ ইত্যবসরে আবার ইস্রায়েলের 30,000 দক্ষ যুবককে একত্রিত করলেন।
2SA 6:2 তিনি ও তাঁর সব লোকজন যিহূদার বালা থেকে ঈশ্বরের সেই নিয়ম-সিন্দুকটি আনতে গেলেন, যেটি সেই নামে—সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নামে পরিচিত, যিনি নিয়ম-সিন্দুকে দুটি করূবের মাঝখানে বিরাজমান।
2SA 6:3 তারা ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি নতুন একটি গাড়িতে তুলে দিলেন এবং সেটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত গিবিয়ায় অবীনাদবের বাড়ি থেকে নিয়ে এলেন। অবীনাদবের দুই ছেলে উষ ও অহিয়ো সেই নতুন গাড়িটি চালাচ্ছিল
2SA 6:4 ও ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি সেটির উপর রাখা ছিল, এবং গিবিয়ায় বসবাসকারী অবীনাদবের ছেলে অহিয়ো সেটির আগে আগে হাঁটছিল।
2SA 6:5 দাউদ ও সমস্ত ইস্রায়েল সদাপ্রভুর সামনে গান গেয়ে ও বীণা, খঞ্জনি, তবলা, সুরবাহার ও করতাল বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিলেন।
2SA 6:6 তারা যখন নাখোনের খামারে পৌঁছেছিলেন, উষ হাত বাড়িয়ে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি ধরেছিল, কারণ বলদগুলি হোঁচট খেয়েছিল।
2SA 6:7 উষের এই ভক্তিহীন আচরণ দেখে সদাপ্রভু তার উপর ক্রোধে জ্বলে উঠেছিলেন; তাই ঈশ্বর তাকে যন্ত্রণা করলেন, ও সে সেখানে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকের পাশেই পড়ে মারা গেল।
2SA 6:8 সদাপ্রভুর ক্রোধ উষের উপর ফেটে পড়তে দেখে দাউদ তখন ক্রুদ্ধ হলেন, এবং আজও পর্যন্ত সেই স্থানটিকে পেরস-উষ বলে ডাকা হয়।
2SA 6:9 সেদিন দাউদ সদাপ্রভুকে ভয় পেয়ে বললেন, “সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি তবে কীভাবে আমার কাছে আসবে?”
2SA 6:10 দাউদ-নগরে তিনি তাঁর সঙ্গে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে যেতে চাননি। তার পরিবর্তে তিনি সেটি গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন।
2SA 6:11 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে তিন মাস ধরে রাখা ছিল, এবং সদাপ্রভু তাকে ও তার সম্পূর্ণ পরিবারকে আশীর্বাদ করলেন।
2SA 6:12 রাজা দাউদকে বলা হল, “ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকের খাতিরে সদাপ্রভু ওবেদ-ইদোম ও তার সবকিছুকে আশীর্বাদ করেছেন।” তাই ওবেদ-ইদোমের বাড়ি থেকে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি দাউদ-নগরে নিয়ে আসার জন্য দাউদ আনন্দ করতে করতে সেখানে গেলেন।
2SA 6:13 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী লোকেরা ছয়পা যেতে না যেতেই তিনি একটি বলদ ও একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর বলি দিলেন।
2SA 6:14 মসিনার এফোদ গায়ে দিয়ে দাউদ সদাপ্রভুর সামনে তাঁর সব শক্তি নিয়ে নেচে যাচ্ছিলেন,
2SA 6:15 এবং এভাবেই তিনি ও সমস্ত ইস্রায়েল চিৎকার-চেঁচামেচি করে ও শিঙা বাজিয়ে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসছিলেন।
2SA 6:16 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি যখন দাউদ-নগরে প্রবেশ করছিল, শৌলের মেয়ে মীখল জানলা থেকে তা লক্ষ্য করলেন। যখন তিনি দেখেছিলেন যে রাজা দাউদ সদাপ্রভুর সামনে লাফালাফি ও নাচানাচি করছেন, তিনি তখন মনে মনে তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করলেন।
2SA 6:17 তারা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি সেই তাঁবুর মধ্যে এনে রেখেছিল, যেটি দাউদ সেটি রাখার জন্যই খাটিয়ে রেখেছিলেন, এবং দাউদ সদাপ্রভুর সামনে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করলেন।
2SA 6:18 হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করার পর তিনি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নামে প্রজাদের আশীর্বাদ করলেন।
2SA 6:19 পরে তিনি স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে, ইস্রায়েলী জনতার এক একজনকে একটি করে রুটি, খেজুরের পিঠে ও কিশমিশের পিঠে দিলেন। প্রজারা সবাই নিজেদের ঘরে ফিরে গেল।
2SA 6:20 পরিবারের লোকজনকে আশীর্বাদ করার জন্য যখন দাউদ ঘরে ফিরে গেলেন, শৌলের মেয়ে মীখল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে এলেন ও তাঁকে বললেন, “ইস্রায়েলের রাজা আজ এ কীভাবে নিজেকে সম্মানিত করলেন, অন্য যে কোনো নীচ লোকের মতো আপনিও কি না আপনার দাসদের ক্রীতদাসীদের সামনে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ালেন!”
2SA 6:21 দাউদ মীখলকে বললেন, “আমি সেই সদাপ্রভুর সামনেই তা করেছি, যিনি তোমার বাবা বা তাঁর পরিবারের অন্য কোনও লোককে না বেছে আমাকেই সদাপ্রভুর প্রজা ইস্রায়েলের উপর শাসনকর্তারূপে নিযুক্ত করলেন—আমি সদাপ্রভুর সামনেই আনন্দ প্রকাশ করব।
2SA 6:22 আমি এর থেকেও আরও নীচ হব, ও আমি নিজের দৃষ্টিতে হীন হব। কিন্তু তুমি যেসব ক্রীতদাসীর কথা বললে, আমি তাদের কাছে সম্মানিতই থেকে যাব।”
2SA 6:23 আর শৌলের মেয়ে মীখলের আমৃত্যু কোনও সন্তান হয়নি।
2SA 7:1 রাজামশাই তাঁর প্রাসাদে স্থির হয়ে বসার ও সদাপ্রভু তাঁকে তাঁর চারপাশের সব শত্রুর দিক থেকে বিশ্রাম দেওয়ার পর,
2SA 7:2 তিনি ভাববাদী নাথনকে বললেন, “দেখুন, আমি তো দেবদারু কাঠে তৈরি বাড়িতে বসবাস করছি, অথচ ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি তাঁবুতেই রাখা আছে।”
2SA 7:3 নাথন রাজাকে উত্তর দিলেন, “আপনার যা মনে হয়, আপনি তাই করুন, কারণ সদাপ্রভু আপনার সঙ্গেই আছেন।”
2SA 7:4 কিন্তু সেই রাতে সদাপ্রভুর বাক্য এই বলে নাথনের কাছে এসেছিল:
2SA 7:5 “তুমি গিয়ে আমার দাস দাউদকে বলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: তুমিই কি আমার বসবাসের জন্য এক গৃহ নির্মাণ করবে?
2SA 7:6 যেদিন আমি ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি কোনও গৃহে বসবাস করিনি। এক তাঁবুকেই আমার বাসস্থান করে নিয়ে আমি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেরিয়েছি।
2SA 7:7 সমস্ত ইস্রায়েলীর সাথে আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি, আমি কি কখনও যাদের আমার প্রজা ইস্রায়েলকে দেখাশোনা করার আদেশ দিয়েছিলাম, তাদের সেইসব শাসনকর্তার মধ্যে কাউকে বললাম, “তোমরা কেন আমার জন্য দেবদারু কাঠের এক গৃহ নির্মাণ করে দাওনি?” ’
2SA 7:8 “তবে এখন, আমার দাস দাউদকে বলো, ‘সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমাকে পশুচারণভূমি থেকে, তুমি যখন মেষের পাল চরাচ্ছিলে, তখন সেখান থেকেই তুলে এনেছিলাম, এবং তোমাকে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর শাসনকর্তারূপে নিযুক্ত করলাম।
2SA 7:9 তুমি যেখানে যেখানে গিয়েছ, আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থেকেছি, এবং তোমার সামনে আসা সব শত্রুকে আমি উচ্ছেদ করেছি। এখন আমি তোমার নাম পৃথিবীর মহাপুরুষদের মতোই মহৎ করব।
2SA 7:10 আমার প্রজা ইস্রায়েলের জন্য আমি এক স্থান জোগাব ও তাদের সেখানে বসতি করে দেব, যেন তারা তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি পায় ও আর কখনও যেন তাদের উপদ্রুত হতে না হয়। দুষ্ট লোকজন আর কখনও তাদের অত্যাচার করবে না, যেমনটি তারা শুরু করল
2SA 7:11 ও আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর আমি নেতা নিযুক্ত করার সময় থেকেই যেমনটি তারা করে আসছিল। আমি তোমার সব শত্রুর দিক থেকে তোমাকে বিশ্রামও দেব। “ ‘সদাপ্রভু তোমার কাছে এই ঘোষণা করছেন যে সদাপ্রভু স্বয়ং তোমার জন্য এক গৃহ স্থির করবেন:
2SA 7:12 তোমার দিন ফুরিয়ে যাওয়ার পর ও তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তুমি যখন বিশ্রাম নেবে, তখন আমি তোমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য তোমার সেই বংশধরকে তুলে আনব, যে হবে তোমারই মাংস ও তোমারই রক্ত, এবং আমি তার রাজ্য স্থির করব।
2SA 7:13 সেই আমার নামের জন্য এক গৃহ নির্মাণ করবে, ও আমি তার রাজ্যের সিংহাসন চিরস্থায়ী করব।
2SA 7:14 আমি তার বাবা হব, ও সে আমার ছেলে হবে। সে যখন ভুলচুক করবে, আমি তখন তাকে লোকজনের চালানো ছড়ি দিয়ে, মানুষের হাতে ধরা চাবুক দিয়ে শাস্তি দেব।
2SA 7:15 কিন্তু আমার প্রেম কখনও তার উপর থেকে সরে যাবে না, যেভাবে আমি সেই শৌলের কাছ থেকে তা সরিয়ে নিয়েছিলাম, যাকে আমি তোমার সামনে থেকে উৎখাত করলাম।
2SA 7:16 তোমার বংশ ও তোমার রাজ্য আমার সামনে চিরস্থায়ী হবে; তোমার সিংহাসনও চিরস্থায়ী হবে।’ ”
2SA 7:17 সম্পূর্ণ এই প্রত্যাদেশের সব কথা নাথন দাউদকে জানিয়েছিলেন।
2SA 7:18 পরে রাজা দাউদ ভিতরে সদাপ্রভুর সামনে গিয়ে বসেছিলেন, ও বললেন: “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমি কে, আর আমার পরিবারই বা কী, যে তুমি আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছ?
2SA 7:19 আর বুঝি এও তোমার দৃষ্টিতে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, যে তুমি তোমার দাসের বংশের ভবিষ্যতের বিষয়েও বলে দিয়েছ—আর হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, এই বিধানটি কি নিছক মানুষের জন্য!
2SA 7:20 “দাউদ তোমার কাছে আর বেশি কী বলবে? হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমি তো তোমার দাসকে জানোই।
2SA 7:21 তোমার বাক্যের খাতিরে ও তোমার ইচ্ছানুসারে, তুমি এই মহৎ কাজটি করেছ ও তোমার দাসকে তা জানিয়েছ।
2SA 7:22 “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমি কতই না মহান! তোমার মতো আর কেউ নেই, এবং তুমি ছাড়া ঈশ্বর আর কেউ নেই, যেমনটি আমরা নিজের কানেই শুনেছি।
2SA 7:23 তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মতো আর কে আছে—পৃথিবীতে বিরাজমান একমাত্র জাতি, যাদের তাঁর নিজস্ব প্রজা করার জন্য ঈশ্বর স্বয়ং তাদের মুক্ত করতে গেলেন, ও নিজের জন্য এক নাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, তথা তোমার প্রজাদের সামনে থেকে বিভিন্ন জাতি ও তাদের দেবদেবীদের উৎখাত করার দ্বারা মহৎ ও বিস্ময়কর আশ্চর্য সব কাজ করে যাদের তুমি মিশর থেকে মুক্ত করলে?
2SA 7:24 তুমি চিরকালের জন্য তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে তোমার একান্ত আপন করে নিয়েছ, ও তুমি, হে সদাপ্রভু, তাদের ঈশ্বর হয়েছ।
2SA 7:25 “আর এখন, হে সদাপ্রভু ঈশ্বর, তোমার দাসের ও তার বংশের সম্বন্ধে তুমি যে প্রতিজ্ঞা করেছ, তা চিরকাল রক্ষা কোরো। তোমার প্রতিজ্ঞানুসারেই তা কোরো,
2SA 7:26 যেন তোমার নাম চিরতরে মহৎ হয়। লোকজন বলুক, ‘সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুই ইস্রায়েলের উপর ঈশ্বর হয়ে আছেন!’ আর তোমার দাস দাউদের বংশ তোমার দৃষ্টিতে সুস্থির হবে।
2SA 7:27 “হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তুমি এই বলে তোমার দাসের কাছে এটি প্রকাশ করে দিয়েছ, ‘আমি তোমার জন্য এক বংশ গড়ে তুলব।’ তাইতো তোমার দাস তোমার কাছে এই প্রার্থনাটি করতে সাহস পেয়েছে।
2SA 7:28 হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমিই ঈশ্বর! তোমার পবিত্র নিয়মটি নির্ভরযোগ্য, এবং তুমিই তোমার দাসের কাছে এইসব উত্তম বিষয়ের প্রতিজ্ঞা করেছ।
2SA 7:29 এখন তোমার দাসের বংশকে আশীর্বাদ করতে প্রীত হও, যেন তোমার দৃষ্টিতে তা চিরকাল টিকে থাকে; কারণ তুমিই, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, একথা বলেছ, ও তোমার আশীর্বাদেই তোমার দাসের বংশ চিরতরে আশীর্বাদযুক্ত হবে।”
2SA 8:1 কালক্রমে, দাউদ ফিলিস্তিনীদের পরাজিত করে তাদের বশীভূত করলেন, ও তিনি ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে মেথগ-অম্মা ছিনিয়ে এনেছিলেন।
2SA 8:2 দাউদ মোয়াবীয়দেরও পরাজিত করলেন। তিনি তাদের মাটিতে শুয়ে পড়তে বাধ্য করলেন ও তাদের এক নির্দিষ্ট মাপের দড়ি দিয়ে মেপেছিলেন। এক এক করে তাদের মধ্যে দড়ির মাপানুযায়ী দুই দড়ি বিস্তৃত এলাকার লোকজনকে হত্যা করা হল, ও পরবর্তী এক দড়ি বিস্তৃত এলাকার লোকজনকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হল। তাই মোয়াবীয়রা দাউদের বশীভূত হল ও তাঁর কাছে রাজকর নিয়ে এসেছিল।
2SA 8:3 এছাড়াও, সোবার রাজা রহোবের ছেলে হদদেষর যখন ইউফ্রেটিস নদীর কাছে তাঁর স্মৃতিসৌধটি পুনরুদ্ধার করতে গেলেন, তখন দাউদ তাঁকেও পরাজিত করলেন।
2SA 8:4 দাউদ তাঁর 1,000 রথ, 7,000 অশ্বারোহী ও 20,000 পদাতিক সৈন্য দখল করলেন। রথের সঙ্গে জুড়ে থাকা 100-টি ঘোড়া বাদ দিয়ে বাকি সব ঘোড়ার পায়ের শিরা কেটে তিনি সেগুলিকে খঞ্জ করে দিলেন।
2SA 8:5 দামাস্কাসের অরামীয়রা যখন সোবার রাজা হদদেষরকে সাহায্য করতে এসেছিল, তখন দাউদ তাদের মধ্যে বাইশ হাজার জনকে যন্ত্রণা করে ফেলে দিলেন।
2SA 8:6 তিনি দামাস্কাসের অরামীয় রাজ্যে সৈন্যদল মোতায়েন করে দিলেন, এবং অরামীয়রা তাঁর বশীভূত হয়ে তাঁর কাছে রাজকর নিয়ে এসেছিল। দাউদ যেখানে যেখানে গেলেন, সদাপ্রভু সেখানে সেখানে তাঁকে বিজয়ী করলেন।
2SA 8:7 দাউদ হদদেষরের কর্মকর্তাদের অধিকারে থাকা সোনার ঢালগুলি জেরুশালেমে নিয়ে এলেন।
2SA 8:8 হদদেষরের অধিকারে থাকা টিভৎ ও বেরোথা নগর দুটি থেকে রাজা দাউদ প্রচুর পরিমাণে ব্রোঞ্জ নিয়ে এলেন।
2SA 8:9 হমাতের রাজা তোয়ু যখন শুনেছিলেন যে দাউদ হদদেষরের সম্পূর্ণ সৈন্যদলকে পরাজিত করেছেন,
2SA 8:10 তখন তিনি তাঁকে শুভেচ্ছা ও হদদেষরের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁর ছেলে যোরামকে দাউদের কাছে পাঠালেন, কারণ হদদেষরের সঙ্গে তয়িরেরও অনবরত যুদ্ধ লেগেই থাকত। যোরাম সাথে করে রুপো, সোনা ও ব্রোঞ্জের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে এলেন।
2SA 8:11 রাজা দাউদ এইসব জিনিসপত্র সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে দিলেন, যেভাবে তিনি নিজের বশে আনা অন্য সব জাতির কাছ থেকে সংগ্রহ করা রুপো ও সোনার ক্ষেত্রেও করলেন:
2SA 8:12 অর্থাৎ, ইদোমীয় ও মোয়াবীয়, অম্মোনীয় ও ফিলিস্তিনী, এবং অমালেকীয়দের কাছ থেকে। তিনি সোবার রাজা রহোবের ছেলে হদদেষরের কাছ থেকে পাওয়া লুন্ঠিত জিনিসপত্রও উৎসর্গ করে দিলেন।
2SA 8:13 লবণ উপত্যকায় আঠারো হাজার ইদোমীয়কে শেষ করে ফিরে আসার পর দাউদ বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
2SA 8:14 তিনি ইদোম দেশের সর্বত্র সৈন্যদল মোতায়েন করে দিলেন, ও ইদোমীয়রা সবাই দাউদের বশীভূত হল। দাউদ যেখানে যেখানে গেলেন, সদাপ্রভু সেখানে সেখানে তাঁকে বিজয়ী করলেন।
2SA 8:15 দাউদ সমস্ত ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করলেন, ও তাঁর সব প্রজার জন্য যা যা ন্যায্য ও উপযুক্ত ছিল, তিনি তাই করতেন।
2SA 8:16 সরূয়ার ছেলে যোয়াব সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি ছিলেন; অহীলূদের ছেলে যিহোশাফট ছিলেন লিপিকার;
2SA 8:17 অহীটূবের ছেলে সাদোক ও অবিয়াথরের ছেলে অহীমেলক ছিলেন যাজক; সরায় ছিলেন সচিব;
2SA 8:18 যিহোয়াদার ছেলে বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের উপর নিযুক্ত ছিলেন; এবং দাউদের ছেলেরা ছিলেন যাজক।
2SA 9:1 দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন, “শৌলের বংশে এমন কেউ কি অবশিষ্ট আছে, যার প্রতি আমি যোনাথনের খাতিরে দয়া দেখাতে পারি?”
2SA 9:2 সীব নামে শৌলের এক পারিবারিক দাস ছিল। তাকে দাউদের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হল, এবং রাজামশাই তাকে বললেন, “তুমিই কি সীব?” “আপনার দাস তাই বটে,” সে উত্তর দিয়েছিল।
2SA 9:3 রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন: “শৌলের বংশে আর কি কেউ জীবিত নেই, যার প্রতি আমি ঐশ্বরিক দয়া দেখাতে পারি?” সীব রাজাকে উত্তর দিয়েছিল, “যোনাথনের এক ছেলে এখনও অবশিষ্ট আছেন; তিনি দুই পায়েই খঞ্জ।”
2SA 9:4 “সে কোথায়?” রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন। সীব উত্তর দিয়েছিল, “তিনি লো-দবারে অম্মীয়েলের ছেলে মাখীরের বাসায় আছেন।”
2SA 9:5 তখন রাজা দাউদ লো-দবারে লোক পাঠিয়ে তাঁকে অম্মীয়েলের ছেলে মাখীরের বাসা থেকে আনিয়েছিলেন।
2SA 9:6 শৌলের নাতি ও যোনাথনের ছেলে মফীবোশৎ দাউদের কাছে এসে তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করলেন। দাউদ বললেন, “মফীবোশৎ!” “এই তো আমি, আপনার দাস,” তিনি উত্তর দিলেন।
2SA 9:7 “ভয় পেয়ো না,” দাউদ তাঁকে বললেন, “কারণ নিঃসন্দেহে তোমার বাবা যোনাথনের খাতিরে আমি তোমার প্রতি দয়া দেখাব। তোমার বাবামহ শৌলের সব জমি আমি তোমাকে ফিরিয়ে দেব, ও তুমি সবসময় আমার টেবিলে বসে ভোজনপান করবে।”
2SA 9:8 মফীবোশৎ নতজানু হয়ে বললেন, “আপনার দাস এমন কে, যে আপনি আমার মতো এক মরা কুকুরকে দয়া দেখাচ্ছেন?”
2SA 9:9 তখন রাজামশাই শৌলের সেবক সীবকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে বললেন, “আমি তোমার মনিবের নাতিকে সেসবকিছু দিয়েছি, যা শৌল ও তাঁর পরিবারের অধিকারে ছিল।
2SA 9:10 তুমি ও তোমার ছেলেরা ও তোমার দাসেরা তাঁর জমি চাষ করবে এবং ফসল নিয়ে আসবে, যেন তোমার মনিবের নাতির কাছে খাদ্যের জোগান থাকে। তোমার মনিবের নাতি মফীবোশৎ অবশ্য সবসময় আমার টেবিলে বসে ভোজনপান করবেন।” (সেই সীবের পনেরোজন ছেলে ও কুড়ি জন দাস ছিল।)
2SA 9:11 তখন সীব রাজামশাইকে বলল, “আমার প্রভু মহারাজ তাঁর দাসকে যা যা আদেশ দিয়েছেন, আপনার দাস তাই করবে।” অতএব মফীবোশৎ একজন রাজপুত্রের মতোই দাউদের টেবিলে বসে ভোজনপান করতে লাগলেন।
2SA 9:12 মফীবোশতের এক শিশুছেলে ছিল, যার নাম মীখা, ও সীবের পরিবারের সবাই মফীবোশতের দাস-দাসী ছিল।
2SA 9:13 মফীবোশৎ জেরুশালেমে বসবাস করতেন, কারণ তিনি সবসময় রাজার টেবিলেই বসে ভোজনপান করতেন; তিনি দু-পায়েই খঞ্জ ছিলেন।
2SA 10:1 কালক্রমে, অম্মোনীয়দের রাজা মারা গেলেন, ও তাঁর ছেলে হানূন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2SA 10:2 দাউদ ভেবেছিলেন, “আমি নাহশের ছেলে হানূনের প্রতি সহানুভূতি দেখাব, ঠিক যেভাবে তাঁর বাবা আমার প্রতি দয়া দেখিয়েছিলেন।” অতএব দাউদ হানূনের বাবার প্রতি তাঁর সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য একদল লোককে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠালেন। দাউদের লোকজন যখন অম্মোনীয়দের দেশে এসেছিল,
2SA 10:3 অম্মোনীয় সৈন্যদলের সেনাপতিরা তাদের মনিব হানূনকে বলল, “আপনি কি মনে করছেন যে দাউদ লোকজন পাঠিয়ে আপনার বাবাকে সম্মান জানাচ্ছেন? দাউদ কি নগরের খোঁজখবর নিয়ে চরবৃত্তি করে এটি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যই আপনার কাছে তাদের পাঠাননি?”
2SA 10:4 তাই হানূন দাউদের পাঠানো লোকজনকে ধরে, তাদের দাড়ির অর্ধেকটা করে কেটে দিয়ে, তাদের কাপড়চোপড়ও নিতম্বদেশ পর্যন্ত ছিঁড়ে দিয়ে তাদের ফেরত পাঠালেন।
2SA 10:5 দাউদকে যখন একথা বলা হল, তিনি তখন সেই লোকদের সাথে দেখা করার জন্য কয়েকজন দূত পাঠালেন, কারণ তারা অত্যন্ত লজ্জিত হয়েছিল। রাজামশাই বললেন, “যতদিন না তোমাদের চুল-দাড়ি না বড়ো হচ্ছে, ততদিন তোমরা যিরীহোতেই থাকো, পরে তোমরা এখানে ফিরে এসো।”
2SA 10:6 অম্মোনীয়রা যখন বুঝেছিল যে তারা দাউদের দৃষ্টিতে আপত্তিকর হয়ে গিয়েছে, তখন তারা বৈৎ-রহোব ও সোবা থেকে 20,000 অরামীয় পদাতিক সৈন্য, তথা মাখার রাজার কাছ থেকে এক হাজার জন, ও টোব থেকে 12 হাজার জন লোক ভাড়া করল।
2SA 10:7 একথা শুনতে পেয়ে, দাউদ লড়াকু লোকবিশিষ্ট সমস্ত সৈন্যদল সমেত যোয়াবকে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন।
2SA 10:8 অম্মোনীয়রা বেরিয়ে এসে তাদের নগরের প্রবেশদ্বারে সৈন্যদল সাজিয়ে রেখেছিল, আবার সোবা ও রহোবের অরামীয়রা এবং টোব ও মাখার লোকজনও খোলা মাঠে আলাদা করে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
2SA 10:9 যোয়াব দেখেছিলেন যে তাঁর আগে পিছে সৈন্যদল সাজিয়ে রাখা হয়েছে; তাই তিনি ইস্রায়েলের সেরা কয়েকজন সৈন্য বেছে নিয়ে অরামীয়দের বিরুদ্ধে তাদের মোতায়েন করলেন।
2SA 10:10 বাকি সৈন্যদের তিনি তাঁর ভাই অবীশয়ের কর্তৃত্বাধীন করে রেখেছিলেন, এবং তারা অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে মোতায়েন হল।
2SA 10:11 যোয়াব বললেন, “অরামীয়রা যদি আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে তোমরা আমাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসবে; কিন্তু অম্মোনীয়রা যদি তোমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে আমি তোমাদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসব।
2SA 10:12 শক্তিশালী হও, এসো—আমরা আমাদের জাতির ও আমাদের ঈশ্বরের নগরগুলির জন্য বীরের মতো লড়াই করি। সদাপ্রভুই তাঁর দৃষ্টিতে যা ভালো বোধ হয়, তাই করবেন।”
2SA 10:13 পরে যোয়াব ও তাঁর সৈন্যদল অরামীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেলেন, ও তারা তাঁর সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
2SA 10:14 অম্মোনীয়রা যখন বুঝতে পেরেছিল যে অরামীয়রা পালিয়ে যাচ্ছে, তখন তারাও অবীশয়ের সামনে থেকে পালিয়ে গেল ও নগরের ভিতরে ঢুকে পড়ল। তখন যোয়াব অম্মোনীয়দের ছেড়ে জেরুশালেমে ফিরে এলেন।
2SA 10:15 অরামীয়রা যখন দেখেছিল যে তারা ইস্রায়েলীদের সামনে ছত্রভঙ্গ হয়েছে, তখন তারা আবার দল বেঁধেছিল।
2SA 10:16 হদদেষর ইউফ্রেটিস নদীর ওপার থেকে অরামীয়দের আনিয়েছিলেন; তারা হেলমে গেল, ও হদদেষরের সৈন্যদলের সেনাপতি শোবক তাদের নেতৃত্বে ছিলেন।
2SA 10:17 দাউদকে যখন একথা বলা হল, তিনি সমস্ত ইস্রায়েলকে একত্রিত করলেন, জর্ডন নদী পার হলেন ও হেলমে গেলেন। অরামীয়রা দাউদের সামনে তাদের সৈন্যদল সাজিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল।
2SA 10:18 কিন্তু তারা ইস্রায়েলের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, ও দাউদ তাদের মধ্যে 700 সারথি এবং 40,000 পদাতিক সৈন্যকে হত্যা করলেন। এছাড়াও তিনি তাদের সৈন্যদলের সেনাপতি শোবককেও আঘাত করলেন, ও তিনি সেখানে মারা গেলেন।
2SA 10:19 যখন হদদেষরের দাসানুদাস সব রাজা দেখেছিলেন যে ইস্রায়েলের কাছে তারা ছত্রভঙ্গ হয়েছেন, তখন তারা ইস্রায়েলীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করলেন ও তাদের বশীভূত হলেন। তাই অরামীয়রা আর কখনও অম্মোনীয়দের সাহায্য করার সাহস পায়নি।
2SA 11:1 বসন্তকালে, রাজারা সাধারাণত যখন যুদ্ধে যেতেন, দাউদ তখন রাজার লোকজন ও সমস্ত ইস্রায়েলী সৈন্যদলের সঙ্গে যোয়াবকেই সেখানে পাঠালেন। তারা অম্মোনীয়দের ধ্বংস করে রব্বা অবরোধ করল। কিন্তু দাউদ জেরুশালেমেই থেকে গেলেন।
2SA 11:2 একদিন বিকেলবেলায় দাউদ তাঁর বিছানা ছেড়ে উঠে রাজপ্রাসাদের ছাদে পায়চারি করছিলেন। ছাদ থেকে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একজন মহিলা স্নান করছেন। মহিলাটি অপরূপ সুন্দরী ছিলেন,
2SA 11:3 তাই দাউদ কাউকে পাঠিয়ে তাঁর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। লোকটি বলল, “ইনি ইলিয়ামের মেয়ে ও হিত্তীয় ঊরিয়ের স্ত্রী বৎশেবা।”
2SA 11:4 তখন দাউদ তাঁকে কাছে পাওয়ার জন্য তাঁর কাছে কয়েকজন দূত পাঠালেন। তিনি তাঁর কাছে এলেন, ও দাউদ তাঁর সঙ্গে শুয়েছিলেন। (ইত্যবসরে মহিলাটি মাসিক-ধর্মের অশুচিতা থেকে নিজেকে শুচিশুদ্ধ করছিলেন) পরে তিনি ঘরে ফিরে গেলেন।
2SA 11:5 মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ায় এই বলে দাউদকে খবর পাঠালেন, “দেখুন, আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছি।”
2SA 11:6 তখন দাউদ যোয়াবকে একথা বলে পাঠালেন: “হিত্তীয় ঊরিয়কে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।” যোয়াব তখন তাঁকে দাউদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
2SA 11:7 ঊরিয় যখন দাউদের কাছে এলেন, দাউদ তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যোয়াব কেমন আছেন, সৈন্যরা সব কেমন আছে ও যুদ্ধ কেমন চলছে।
2SA 11:8 পরে দাউদ ঊরিয়কে বললেন, “তোমার বাসায় গিয়ে পা-টা ধুয়ে নাও।” তাই ঊরিয় রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে চলে গেলেন, ও তাঁর পিছু পিছু রাজার কাছ থেকে কিছু উপহারও পাঠানো হল।
2SA 11:9 কিন্তু ঊরিয় তাঁর মনিবের সব দাসের সঙ্গে মিলে রাজপ্রাসাদের সিংহদুয়ারেই ঘুমিয়েছিলেন ও নিজের বাসায় আর যাননি।
2SA 11:10 দাউদকে বলা হল, “ঊরিয় ঘরে যাননি।” তাই তিনি ঊরিয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “এইমাত্র কি তুমি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসোনি? তবে কেন তুমি ঘরে গেলে না?”
2SA 11:11 ঊরিয় দাউদকে বললেন, “সেই নিয়ম-সিন্দুক এবং ইস্রায়েল ও যিহূদা তাঁবুতে আছে, এবং আমার সেনাপতি যোয়াব ও আমার প্রভুর লোকজন খোলা মাঠে শিবির করে আছেন। তবে আমিই বা কেমন করে বাসায় গিয়ে ভোজনপান করব ও আমার স্ত্রীকে সোহাগ করব? আপনার প্রাণের দিব্যি, আমি এ কাজ করতে পারব না!”
2SA 11:12 তখন দাউদ তাঁকে বললেন, “আরও একদিন এখানে থাকো, আগামীকাল আমি তোমাকে ফেরত পাঠাব।” অতএব ঊরিয় সেদিন ও পরদিন জেরুশালেমে থেকে গেলেন।
2SA 11:13 দাউদ তাঁকে নিমন্ত্রণ করায় তিনি তাঁর সঙ্গে ভোজনপান করলেন ও দাউদ তাঁকে মাতাল করে ছেড়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যাবেলায় ঊরিয় তাঁর মনিবের দাসদের মাঝে গিয়ে মেঝেতে পাতা মাদুরে শুয়ে পড়েছিলেন; তিনি ঘরে যাননি।
2SA 11:14 সকালবেলায় দাউদ যোয়াবকে একটি চিঠি লিখে, সেটি ঊরিয়ের হাতে দিয়ে পাঠালেন।
2SA 11:15 সেই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “ঊরিয়কে তুমি একদম প্রথম সারিতে রেখো, যেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি খুব ভয়ংকর। পরে তার পাশ থেকে সরে যেয়ো, যেন সে যন্ত্রণা পেয়ে মারা যায়।”
2SA 11:16 অতএব নগর অবরোধ করার সময় যোয়াব ঊরিয়কে এমন এক স্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, যেখানে তিনি জানতেন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধকারীরা মজুত আছে।
2SA 11:17 নগরের লোকজন বেরিয়ে এসে যখন যোয়াবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল, তখন দাউদের সৈন্যদলের মধ্যেও কেউ কেউ মরেছিল; এছাড়া, হিত্তীয় ঊরিয়ও মারা গেল।
2SA 11:18 যোয়াব যুদ্ধের এক পূর্ণ বিবরণ দাউদের কাছে পাঠালেন।
2SA 11:19 তিনি দূতকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন: “রাজামশাইকে যুদ্ধের এই বিবরণ দেওয়ার পর,
2SA 11:20 রাজা হয়তো রাগে জ্বলে উঠতে পারেন, ও তিনি হয়তো তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, ‘যুদ্ধ করার জন্য তোমরা নগরের এত কাছে গেলে কেন? তোমরা কি জানতে না যে তারা প্রাচীরের উপর থেকে তির ছুঁড়বে?
2SA 11:21 কে যিরূব্বেশতের ছেলে অবীমেলককে হত্যা করেছিল? প্রাচীরের উপর থেকেই কি একজন স্ত্রীলোক জাঁতার উপরের পাটটি এমনভাবে তার উপর ফেলেনি, যে সে তেবেষেই মারা গিয়েছিল? তবে কেন তোমরা প্রাচীরের এত কাছে গেলে?’ তিনি যদি তোমাকে একথা জিজ্ঞাসা করলেন, তবে তাঁকে তুমি বোলো, ‘এছাড়া, আপনার দাস হিত্তীয় ঊরিয়ও মারা গিয়েছে।’ ”
2SA 11:22 সেই দূত বেরিয়ে পড়েছিল, এবং দাউদের কাছে পৌঁছে গিয়ে সে তাঁকে সেসব কথাই বলল, যা যোয়াব তাকে বলতে বললেন।
2SA 11:23 দূতটি দাউদকে বলল, “লোকেরা আমাদের কাবু করে ফেলেছিল ও খোলা মাঠে আমাদের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছিল, কিন্তু আমরা তাদের নগরের সিংহদুয়ার পর্যন্ত তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
2SA 11:24 পরে তিরন্দাজরা প্রাচীরের উপর থেকে আপনার দাসদের দিকে তির নিক্ষেপ করল, ও রাজার লোকজনের মধ্যে কয়েকজন মারা গিয়েছে। এছাড়া, আপনার দাস হিত্তীয় ঊরিয়ও মারা গিয়েছে।”
2SA 11:25 দাউদ দূতকে বললেন, “যোয়াবকে একথা বোলো: ‘এতে যেন তোমার মন খারাপ না হয়; তরোয়াল যেমন একজনকে গ্রাস করে, তেমনি তা অন্যজনকেও গ্রাস করে। নগরটির বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরালো করো ও সেটি ধ্বংস করে দাও।’ যোয়াবকে উৎসাহিত করার জন্য একথা বোলো।”
2SA 11:26 ঊরিয়ের স্ত্রী যখন শুনেছিলেন যে তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন, তখন তিনি তাঁর জন্য শোকপ্রকাশ করলেন।
2SA 11:27 শোকপ্রকাশকাল সম্পূর্ণ হওয়ার পর দাউদ তাঁকে নিজের বাসায় নিয়ে এলেন, ও তিনি দাউদের স্ত্রী হলেন ও তাঁর ছেলের জন্ম দিলেন। কিন্তু দাউদের এই কাজটি সদাপ্রভুকে অসন্তুষ্ট করল।
2SA 12:1 সদাপ্রভু নাথনকে দাউদের কাছে পাঠালেন। তাঁর কাছে এসে তিনি বললেন, “কোনও এক নগরে দুজন লোক ছিল, একজন ছিল ধনী ও অন্যজন দরিদ্র।
2SA 12:2 ধনী লোকটির কাছে প্রচুর মেষ ও গবাদি পশু ছিল,
2SA 12:3 কিন্তু দরিদ্র লোকটির কাছে কিনে আনা একটি ছোটো শাবক মেষী ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সে সেটির লালনপালন করল, ও সেটি তার কাছে থেকে তার ছেলেমেয়ের সঙ্গে বড়ো হয়ে উঠেছিল। সেটি তার হাত থেকেই খাবার খেতো, তার পানপাত্র থেকেই জলপান করত ও এমন কী তার কোলেই ঘুমাতো। তার কাছে সেটি এক মেয়ের মতোই ছিল।
2SA 12:4 “একবার সেই ধনী লোকটির কাছে একজন পথিক এসেছিল, কিন্তু সেই ধনী লোকটি তার কাছে আসা পথিকের জন্য খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে নিজের পাল থেকে কোনও মেষ বা পশু না নিয়ে, তার পরিবর্তে, সে দরিদ্র লোকটির অধিকারে থাকা শাবক ভেড়ীটি ছিনিয়ে এনে সেটি তার বাসায় আসা অতিথির জন্য রান্না করে দিয়েছিল।”
2SA 12:5 সেই লোকটির বিরুদ্ধে দাউদ রাগে জ্বলে উঠেছিলেন ও নাথনকে বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, যে এ কাজটি করেছে তাকে মরতেই হবে!
2SA 12:6 সেই শাবক ভেড়ীটির চারগুণ দাম তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে, কারণ সে এরকম কাজ করেছে ও তার মনে দয়ামায়াও হয়নি।”
2SA 12:7 তখন নাথন দাউদকে বললেন, “আপনিই সেই লোক! ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘আমি তোমাকে ইস্রায়েলের উপর রাজপদে অভিষিক্ত করলাম, আর আমি শৌলের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধারও করলাম।
2SA 12:8 আমি তোমার মনিবের ঘরবাড়ি, ও তোমার মনিবের স্ত্রীদেরও তোমার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। আমি তোমাকে সমস্ত ইস্রায়েল ও যিহূদার অধিকার দিয়েছিলাম। আর এসবও যদি কম হয়ে থাকে, তবে আমি তোমাকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতাম।
2SA 12:9 তুমি কেন সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করার দ্বারা তাঁর বাক্য অগ্রাহ্য করেছ? তুমি হিত্তীয় ঊরিয়কে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেছ এবং তার স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী করে নিয়েছ। তুমি তাকে অম্মোনীয়দের তরোয়াল দিয়ে হত্যা করলে।
2SA 12:10 এখন তাই, তরোয়াল কখনোই তোমার বংশ থেকে দূর হবে না, কারণ তুমি আমাকে অগ্রাহ্য করলে ও হিত্তীয় ঊরিয়ের স্ত্রীকে তোমার নিজের স্ত্রী করে নিয়েছিলে।’
2SA 12:11 “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তোমার পরিবার থেকেই আমি তোমার উপর বিপর্যয় নিয়ে আসতে চলেছি। তোমার নিজের চোখের সামনেই আমি তোমার স্ত্রীদের নিয়ে এমন একজনের হাতে তুলে দেব, যে তোমার খুব ঘনিষ্ঠ, আর সে স্পষ্ট দিনের আলোতেই তোমার স্ত্রীদের সঙ্গে বিছানায় শোবে।
2SA 12:12 তুমি তো গোপনে এ কাজ করলে, কিন্তু আমি স্পষ্ট দিনের আলোতেই সব ইস্রায়েলের সামনে এমনটি করব।’ ”
2SA 12:13 তখন দাউদ নাথনকে বললেন, “আমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি।” নাথন উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুও আপনার পাপ ক্ষমা করলেন। আপনি আর মরবেন না।
2SA 12:14 কিন্তু যেহেতু এ কাজ করে আপনি সদাপ্রভুকে চূড়ান্ত হেনস্থা করেছেন, তাই আপনার যে ছেলেটি জন্মাবে, সে মারা যাবে।”
2SA 12:15 নাথন ঘরে ফিরে যাওয়ার পর সদাপ্রভু সেই শিশুটিকে আঘাত করলেন, যাকে ঊরিয়ের স্ত্রী দাউদের ঔরসে জন্ম দিলেন, ও সে অসুস্থ হয়ে পড়ল।
2SA 12:16 দাউদ শিশুটির জন্য ঈশ্বরের কাছে মিনতি জানিয়েছিলেন। তিনি উপবাস করলেন ও কয়েকরাত মেঝের উপর চট পেতে শুয়েছিলেন।
2SA 12:17 তাঁর পরিবারের প্রাচীনেরা তাঁর পাশে বসে তাঁকে মেঝে থেকে তোলার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি, ও তিনি তাদের সঙ্গে ভোজনপানও করতে চাননি।
2SA 12:18 সপ্তম দিনে শিশুটি মারা গেল। দাউদের কর্মচারীরা তাঁকে বলার সাহস পায়নি যে শিশুটি মারা গিয়েছে, কারণ তারা ভেবেছিল, “শিশুটি যখন বেঁচে ছিল, তখনই তো তিনি আমাদের কথা শোনেননি। তবে এখন আমরা তাঁকে কীভাবে বলব যে শিশুটি মারা গিয়েছে? তিনি হয়তো চরম কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন।”
2SA 12:19 দাউদ লক্ষ্য করলেন যে তাঁর কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে কানাকানি করছে, ও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে শিশুটি মারা গিয়েছে। “শিশুটি কি মারা গিয়েছে?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। “হ্যাঁ,” তারা উত্তর দিয়েছিল, “সে মারা গিয়েছে।”
2SA 12:20 তখন দাউদ মেঝে থেকে উঠলেন। স্নান করে, তেল মেখে ও পোশাক বদলে তিনি সদাপ্রভুর গৃহে গিয়ে আরাধনা করলেন। পরে তিনি নিজের বাসায় গেলেন, ও তাঁর অনুরোধে তারা তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করল, ও তিনি ভোজনপান করলেন।
2SA 12:21 তাঁর কর্মচারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আপনি এরকম আচরণ করলেন কেন? শিশুটি যখন বেঁচে ছিল, তখন তো আপনি উপবাস করলেন ও কান্নাকাটিও করলেন, কিন্তু এখন শিশুটি যখন মারা গিয়েছে, আপনি উঠে ভোজনপান করলেন!”
2SA 12:22 তিনি উত্তর দিলেন, “শিশুটি যখন বেঁচে ছিল, তখন আমি উপবাস করে কান্নাকাটি করলাম। আমি ভেবেছিলাম, ‘কে জানে? সদাপ্রভু হয়তো আমার প্রতি করুণা দেখাবেন ও শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখবেন।’
2SA 12:23 কিন্তু এখন যেহেতু সে মারা গিয়েছে, আমি কেনই বা উপবাস করব? আমি কি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব? আমি তার কাছে যাব, কিন্তু সে আমার কাছে ফিরে আসবে না।”
2SA 12:24 পরে দাউদ তাঁর স্ত্রী বৎশেবাকে সান্তনা জানিয়েছিলেন, ও তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সহবাস করলেন। তিনি এক ছেলের জন্ম দিলেন, ও তারা তার নাম রেখেছিলেন শলোমন। সদাপ্রভু তাকে ভালোবেসেছিলেন;
2SA 12:25 আর যেহেতু সদাপ্রভু তাকে ভালোবেসেছিলেন, তাই ভাববাদী নাথনের মাধ্যমে বলে পাঠালেন, যেন তার নাম রাখা হয় যিদীদীয়।
2SA 12:26 এদিকে যোয়াব অম্মোনীয়দের রাজধানী নগর রব্বার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করে সেটি দখল করে নিয়েছিলেন।
2SA 12:27 যোয়াব পরে দাউদের কাছে দূত পাঠিয়ে বললেন, “আমি রব্বার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সেখানকার জলের ভাণ্ডারটি দখল করে নিয়েছি।
2SA 12:28 এখন আপনি সৈন্যদল একত্র করে নগরটি অবরোধ করে তা দখল করে নিন। তা না হলে আমি নগরটি দখল করব, ও সেটি আমারই নামে পরিচিত হবে।”
2SA 12:29 তাই দাউদ সমস্ত সৈন্যদল একত্র করে রব্বায় গেলেন, ও সেটি আক্রমণ করে দখল করে নিয়েছিলেন।
2SA 12:30 দাউদ তাদের রাজার মাথা থেকে মুকুট কেড়ে নিয়েছিলেন, ও সেটি তাঁর মাথায় পরিয়ে দেওয়া হল। সেটি এক তালন্ত সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, ও সেটি ছিল মনি-মুক্তো-খচিত। নগর থেকে দাউদ প্রচুর পরিমাণ লুন্ঠিত জিনিসপত্র বের করে এনেছিলেন
2SA 12:31 ও সেখানকার লোকজনকেও নিয়ে এসে তিনি তাদের করাত, লোহার গাঁইতি ও কুড়ুল চালানোর, এবং ইট তৈরির কাজে লাগিয়ে দিলেন। দাউদ অম্মোনীয়দের সব নগরের প্রতিই এরকম করলেন। পরে তিনি তাঁর সমস্ত সৈন্যদল নিয়ে জেরুশালেমে ফিরে এলেন।
2SA 13:1 কালক্রমে, দাউদের ছেলে অম্নোন দাউদের অপর ছেলে অবশালোমের নিজের সুন্দরী বোন তামরের প্রেমে পড়েছিল।
2SA 13:2 অম্নোন তার বোন তামরের প্রতি এমন মোহবিষ্ট হয়ে গেল যে সে নিজেকে অসুস্থই করে ফেলেছিল। তামর কুমারী ছিল, ও তার প্রতি কিছু করা অম্নোনের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
2SA 13:3 এদিকে দাউদের ভাই শিমিয়ের ছেলে যোনাদব ছিল অম্নোনের মন্ত্রণাদাতা। যোনাদব খুব ধুরন্ধর লোক ছিল।
2SA 13:4 সে অম্নোনকে জিজ্ঞাসা করল, “হে রাজার ছেলে, তোমাকে দিনের পর দিন কেন এত বিমর্ষ দেখাচ্ছে? তুমি কি আমাকে বলবে না?” অম্নোন তাকে বলল, “আমি আমার ভাই অবশালোমের বোন তামরের প্রেমে পড়েছি।”
2SA 13:5 “বিছানায় গিয়ে অসুস্থ হওয়ার ভান করো,” যোনাদব বলল। “তোমার বাবা যখন তোমাকে দেখতে আসবেন, তাঁকে বোলো, ‘আমি চাই আমার বোন তামর এসে আমাকে কিছু খেতে দিক। সে আমার সামনেই খাবার তৈরি করুক, যেন আমি তাকে দেখতে দেখতে তার হাত থেকেই তা খেতে পারি।’ ”
2SA 13:6 তাই অম্নোন শুয়ে পড়েছিল ও অসুস্থ হওয়ার ভান করল। রাজামশাই যখন তাকে দেখতে এলেন, অম্নোন তাঁকে বলল, “আমি চাই, আমার বোন তামর এসে আমার সামনেই কয়েকটি বিশেষ ধরনের রুটি তৈরি করে দিক, যেন আমি তার হাত থেকেই সেগুলি খেতে পারি।”
2SA 13:7 দাউদ রাজপ্রাসাদে তামরকে খবর পাঠালেন: “তোমার দাদা অম্নোনের বাসায় যাও ও তার জন্য কিছু খাবার তৈরি করে দাও।”
2SA 13:8 অতএব তামর তার দাদা অম্নোনের বাসায় গেল। সে তখন শুয়েছিল। তামর কিছুটা আটা মেখে অম্নোনের চোখের সামনেই রুটি বানিয়ে সেগুলি সেঁকে দিয়েছিল।
2SA 13:9 পরে সে তাওয়াশুদ্ধু রুটিগুলি নিয়ে গিয়ে অম্নোনের সামনে রেখেছিল, কিন্তু সে খেতে চায়নি। “সবাই এখান থেকে চলে যাক,” অম্নোন বলল। তাই সবাই তাকে ছেড়ে গেল।
2SA 13:10 তখন অম্নোন তামরকে বলল, “খাবারগুলি এখানে আমার শোওয়ার ঘরে নিয়ে এসো, যেন আমি তোমার হাত থেকেই সেগুলি খেতে পারি।” তামর তার তৈরি করা রুটিগুলি নিয়ে দাদা অম্নোনের শোওয়ার ঘরে গেল।
2SA 13:11 কিন্তু যখন সে তাকে খাওয়াতে যাচ্ছিল, সে তাকে জাপটে ধরে বলল, “বোন আমার, আমার সঙ্গে বিছানায় চলো।”
2SA 13:12 “না, দাদা না!” সে তাকে বলল। “আমার উপর জোর-জবরদস্তি কোরো না! ইস্রায়েলে এরকম হওয়া উচিত নয়! এরকম জঘন্য কাজ কোরো না।
2SA 13:13 আমার কী হবে? আমার এ কলঙ্ক আমি কোথায় গিয়ে মেটাব? আর তোমারই বা কী হবে? ইস্রায়েলে তোমার দশা হবে এক দুষ্ট নির্বোধের মতো। দয়া করে রাজামশাইকে বলো; তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে তিনি অসম্মত হবেন না।”
2SA 13:14 কিন্তু সে তার কথা শুনতে রাজি হয়নি, ও যেহেতু সে তামরের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ছিল, তাই সে তাকে ধর্ষণ করল।
2SA 13:15 পরে তীব্র বিরাগ নিয়ে সে তাকে ঘৃণা করল। প্রকৃতপক্ষে, সে তাকে যত ভালোবেসেছিল, তার চেয়েও বেশি ঘৃণা করল। অম্নোন তামরকে বলল, “ওঠো ও এখান থেকে বেরিয়ে যাও!”
2SA 13:16 তামর তাকে বলল, “না, না! আমার প্রতি তুমি যা করেছ, আমাকে বের করে দিলে তো তার চেয়েও বেশি অন্যায় করা হয়ে যাবে।” কিন্তু সে তার কথা শুনতে চায়নি।
2SA 13:17 সে তার খাস চাকরকে ডেকে বলল, “এই মহিলাটিকে আমার চোখের সামনে থেকে দূর করে দাও ও দরজায় খিল দিয়ে দাও।”
2SA 13:18 তখন তার চাকরটি তামরকে বের করে দিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দিয়েছিল। তামরের পরনে ছিল অলংকারসমৃদ্ধ এক পোশাক, কারণ কুমারী রাজার মেয়েরা এ ধরনের পোশাকই পরে থাকত।
2SA 13:19 তামর মাথায় ছাইভস্ম মেখে পরনের অলংকারসমৃদ্ধ পোশাকটি ছিঁড়ে ফেলেছিল। মাথায় হাত দিয়ে, জোরে কাঁদতে কাঁদতে সে বাইরে বেরিয়ে গেল।
2SA 13:20 তার দাদা অবশালোম তাকে বলল, “তোমার দাদা অম্নোন কি তোমার সঙ্গে ছিল? হে আমার বোন, আপাতত চুপচাপ থাকো; সে তো তোমারই দাদা। এটি নিয়ে মন খারাপ কোরো না।” সেই থেকে তামর এক নিঃসঙ্গ মহিলার মতো তার দাদা অবশালোমের বাসাতেই থাকতে শুরু করল।
2SA 13:21 রাজা দাউদ এসব কথা শুনে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন।
2SA 13:22 অবশালোমও অম্নোনকে ভালোমন্দ—একটিও কথা বলেনি; সে অম্নোনকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিল, যেহেতু সে তার নিজের বোন তামরকে কলঙ্কিত করল।
2SA 13:23 দুই বছর পর, ইফ্রয়িমের সীমানার কাছে বায়াল-হাৎসোরে যখন অবশালোমের মেষগুলির গা থেকে লোম ছাঁটা হচ্ছিল, সে রাজার সব ছেলেকে সেখানে আসার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
2SA 13:24 অবশালোম রাজামশাই-এর কাছে গিয়ে বলল, “আপনার দাসের কাছে মেষের লোম ছাঁটার লোকেরা এসে গিয়েছে। রাজামশাই ও তাঁর কর্মচারীরা কি দয়া করে আমার সাথে যোগ দেবেন?”
2SA 13:25 “বাছা, না,” রাজামশাই উত্তর দিলেন। “আমাদের সকলের যাওয়া উচিত হবে না; আমরা শুধু তোমার বোঝাই হব।” যদিও অবশালোম তাঁকে পীড়াপীড়ি করল, তাও তিনি যেতে রাজি হননি, তবে তিনি তাকে আশীর্বাদ করলেন।
2SA 13:26 তখন অবশালোম বলল, “আপনি যদি না যান, তবে অন্তত আমার ভাই অম্নোনকে আমাদের সঙ্গে যেতে দিন।” রাজামশাই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সে কেন তোমাদের সঙ্গে যাবে?”
2SA 13:27 কিন্তু যেহেতু অবশালোম তাঁকে পীড়াপীড়ি করল, তিনি অম্নোন ও অন্যান্য রাজার ছেলেদের তার সঙ্গে পাঠালেন।
2SA 13:28 অবশালোম তার লোকজনকে আদেশ দিয়েছিল, “শুনে রাখো! অম্নোন যখন দ্রাক্ষারস পান করে বেশ খোশমেজাজে থাকবে ও আমি যখন তোমাদের বলব ‘অম্নোনকে মারো,’ তখন তাকে হত্যা কোরো। ভয় পেয়ো না। আমিই কি তোমাদের এই আদেশ দিইনি? শক্ত হও ও সাহস করো।”
2SA 13:29 তখন অবশালোমের লোকজন অম্নোনের প্রতি অবশালোমের আদেশমতোই কাজ করল। পরে রাজপুত্রেরা সবাই যে যার খচ্চরের পিঠে চেপে পালিয়েছিল।
2SA 13:30 তারা তখনও পথেই ছিল, আর এই খবরটি দাউদের কাছে পৌঁছে গেল: “অবশালোম রাজার সব ছেলেকে মেরে ফেলেছে; তাদের মধ্যে একজনও বেঁচে নেই।”
2SA 13:31 রাজামশাই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলেছিলেন ও মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলেন; আর তাঁর সব কর্মচারীও নিজেদের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল।
2SA 13:32 কিন্তু দাউদের ভাই শিমিয়ের ছেলে যোনাদব বলল, “আমার প্রভু মনে করবেন না যে তারা রাজার সব ছেলেকে মেরে ফেলেছে; শুধু অম্নোনই মরেছে। যেদিন অম্নোন অবশালোমের বোন তামরকে ধর্ষণ করল, সেদিন থেকেই অবশালোম এরকম করতে বদ্ধপরিকর ছিল।
2SA 13:33 আমার প্রভু মহারাজ এই খবর পেয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না যে রাজার সব ছেলে মারা গিয়েছে। শুধু অম্নোনই মারা গিয়েছে।”
2SA 13:34 ইতিমধ্যে, অবশালোম পালিয়েছিল। একজন পাহারাদার চোখ তুলে চেয়ে দেখেছিল তার পশ্চিমদিকের পথে প্রচুর লোকজন পাহাড়ের পাশ থেকে নেমে আসছে। সেই পাহারাদার গিয়ে রাজামশাইকে বলল, “আমি দেখলাম হরোনয়ীমের দিক থেকে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কিছু লোক নেমে আসছে।”
2SA 13:35 যোনাদব রাজামশাইকে বলল, “দেখুন, রাজপুত্রেরা ফিরে আসছে; আপনার দাস যেমনটি বলল, ঠিক তেমনটিই হয়েছে।”
2SA 13:36 তার কথা শেষ হতে না হতেই, রাজপুত্রেরা জোর গলায় কাঁদতে কাঁদতে সেখানে পৌঁছে গেল। রাজা ও তাঁর কর্মচারীরাও জোর গলায় কাঁদতে শুরু করলেন।
2SA 13:37 অবশালোম পালিয়ে গশূরের রাজা অম্মীহূরের ছেলে তলময়ের কাছে গেল। কিন্তু রাজা দাউদ দীর্ঘদিন তাঁর ছেলের জন্য শোকপ্রকাশ করলেন।
2SA 13:38 অবশালোম গশূরে পালিয়ে গিয়ে তিন বছর সেখানে ছিল।
2SA 13:39 রাজা দাউদ অবশালোমের কাছে যাওয়ার জন্য খুব আকাঙ্ক্ষিত হলেন, কারণ অম্নোনের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি সান্তনা পেয়েছিলেন।
2SA 14:1 সরূয়ার ছেলে যোয়াব জানতেন যে অবশালোমের জন্য রাজার প্রাণ আকাঙ্ক্ষিত হয়ে আছে।
2SA 14:2 তাই যোয়াব তকোয়ে একজন লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে একজন চালাক-চতুর মহিলাকে আনিয়েছিলেন। তিনি মহিলাটিকে বললেন, “শোক করার ভান কোরো। শোক পালনের উপযোগী পোশাক পরে থেকো, ও কোনও সাজগোজ কোরো না বা তেলও মেখো না। এমন একজন মহিলার মতো আচরণ কোরো যে দীর্ঘদিন ধরে মরা মানুষের জন্য শোকপ্রকাশ করে চলেছে।
2SA 14:3 পরে রাজার কাছে গিয়ে তাঁকে এই কথাগুলি বোলো।” এই বলে যোয়াব তার মুখে কথা বসিয়ে দিলেন।
2SA 14:4 তকোয়ের মহিলাটি রাজার কাছে গিয়ে, তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিল ও বলল, “হে মহারাজ, আমাকে সাহায্য করুন!”
2SA 14:5 রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার অসুবিধাটি কী?” সে বলল, “আমি একজন বিধবা নারী; আমার স্বামী মারা গিয়েছে।
2SA 14:6 আপনার এই দাসীর—আমার দুই ছেলে ছিল। মাঠে তারা দুজন পরস্পরের সঙ্গে মারপিট করছিল, আর কেউ তাদের ছাড়াতে পারছিল না। একজন অন্যজনকে আঘাত করল ও তাকে মেরে ফেলেছিল।
2SA 14:7 এখন সম্পূর্ণ গোষ্ঠী আপনার দাসীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে; তারা বলছে, ‘যে তার ভাইকে মেরে ফেলেছে তাকে আমাদের হাতে তুলে দাও, যেন আমরা তার সেই ভাইয়ের প্রাণের পরিবর্তে তাকে হত্যা করতে পারি, যাকে সে খুন করল; তখন আর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীও কেউ থাকবে না।’ তারা আমার কাছে অবশিষ্ট একমাত্র জ্বলন্ত কয়লাটিকেও নিভিয়ে দিতে চাইছে, পৃথিবীর বুকে আমার স্বামীর নাম বা বংশ, কোনো কিছুই আর রাখতে চাইছে না।”
2SA 14:8 রাজা মহিলাটিকে বললেন, “বাড়ি ফিরে যাও, আমি তোমার স্বপক্ষে হুকুম জারি করে দিচ্ছি।”
2SA 14:9 কিন্তু তকোয় থেকে আসা মহিলাটি তাঁকে বলল, “আমার প্রভু মহারাজ আমায় ও আমার পরিবারকে ক্ষমা করুন, এবং মহারাজ ও তাঁর সিংহাসন নির্দোষ থাকুক।”
2SA 14:10 রাজামশাই উত্তর দিলেন, “কেউ যদি তোমায় কিছু বলে, তবে তাদের আমার কাছে নিয়ে এসো, তারা আর তোমায় জ্বালাতন করবে না।”
2SA 14:11 সে বলল, “তবে মহারাজ তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে শপথ করুন, যেন রক্তের প্রতিশোধকারী আর সর্বনাশ করতে না পারে, ও আমার ছেলেও যেন না মরে।” “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,” তিনি বললেন, “তোমার ছেলের মাথার একটি চুলও মাটিতে পড়বে না।”
2SA 14:12 তখন সেই মহিলাটি বলল, “আপনার দাসীকে আমার প্রভু মহারাজের কাছে একটি কথা বলতে দিন।” “বলো,” তিনি উত্তর দিলেন।
2SA 14:13 মহিলাটি বলল, “তবে কেন আপনি ঈশ্বরের প্রজাদের বিরুদ্ধে এরকম এক কৌশল অবলম্বন করলেন? মহারাজ যখন এরকম বলছেন, তিনি কি তখন নিজেকেই দোষী করে তুলছেন না, কারণ মহারাজ যে নিজেই তাঁর নির্বাসিত ছেলেকে ফিরিয়ে আনেননি?”
2SA 14:14 মাটিতে ঢেলে দেওয়া জল যেমন তুলে আনা যায় না, তেমনি আমাদেরও মরতেই হবে। কিন্তু ঈশ্বর এমনটি চান না; বরং, তিনি এমন কৌশল বের করলেন যেন একজন নির্বাসিত ব্যক্তি বরাবরের জন্য তাঁর কাছ থেকে নির্বাসিত হয়ে না থাকে।
2SA 14:15 “এখন আমার প্রভু মহারাজের কাছে আমি একথাই বলতে এসেছি, কারণ লোকেরা আমাকে ভয় দেখিয়েছিল। আপনার দাসী ভেবেছিল, ‘আমি মহারাজের কাছে একথা বলব; হয়তো তিনি তাঁর দাসীর প্রার্থনা মঞ্জুর করবেন।
2SA 14:16 হয়তো মহারাজ তাঁর দাসীকে সেই লোকটির হাত থেকে রক্ষা করতে রাজি হবেন, যে ঈশ্বরের উত্তরাধিকার থেকে আমাকে ও আমার ছেলে—দুজনকেই বঞ্চিত করতে চাইছে।’
2SA 14:17 “এখন আপনার দাসী আমি বলছি, ‘আমার প্রভু মহারাজের কথাই যেন আমার উত্তরাধিকার সুরক্ষিত করে, কারণ ভালোমন্দ বিচার করার ক্ষেত্রে আমার প্রভু মহারাজ ঈশ্বরের এক দূতের মতোই। আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনার সঙ্গেই থাকুন।’ ”
2SA 14:18 তখন রাজামশাই মহিলাটিকে বললেন, “আমি যে প্রশ্নটি তোমাকে করতে চলেছি, সেটির উত্তর আমার কাছে লুকিয়ো না।” “আমার প্রভু মহারাজ বলুন,” মহিলাটি বলল।
2SA 14:19 রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার সঙ্গে এই সবে যোয়াবের হাত নেই তো?” মহিলাটি উত্তর দিয়েছিল, “হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনার প্রাণের দিব্যি, আমার প্রভু মহারাজ যা বলেন, সেখান থেকে কেউ ডাইনে বা বাঁয়ে ফিরতে পারে না। হ্যাঁ, আপনার দাস যোয়াবই এসব করতে আমাকে নির্দেশ দিলেন ও তিনিই আপনার দাসীর মুখে এই কথাগুলি বসিয়ে দিলেন।
2SA 14:20 বর্তমান পরিস্থিতি বদলানোর জন্যই আপনার দাস যোয়াব এসব করলেন। আমার প্রভু, ঈশ্বরের একজন দূতের মতোই জ্ঞানী—দেশে যা যা হয়, তিনি সেসব জানেন।”
2SA 14:21 রাজামশাই যোয়াবকে বললেন, “ঠিক আছে, আমি এরকমই করব। যাও, সেই যুবক অবশালোমকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো।”
2SA 14:22 তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য যোয়াব মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিলেন, ও রাজাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। যোয়াব বললেন, “হে আমার প্রভু মহারাজ, আজই আপনার দাস জেনেছে যে সে আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ লাভ করেছে, কারণ মহারাজ তাঁর দাসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন।”
2SA 14:23 পরে যোয়াব গশূরে গিয়ে অবশালোমকে জেরুশালেমে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
2SA 14:24 কিন্তু রাজামশাই বললেন, “তাকে নিজের বাসায় যেতে হবে; সে যেন আমার মুখদর্শন না করে।” অতএব অবশালোম নিজের বাসায় গেল ও রাজার মুখদর্শন করেনি।
2SA 14:25 সমস্ত ইস্রায়েলের মধ্যে আর কেউ অবশালোমের মতো তার অপরূপ সুন্দর রূপের জন্য প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য হয়নি। তার মাথার তালু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত কোথাও একটুও খুঁত ছিল না।
2SA 14:26 যখনই সে তার মাথার চুল কাটাত—সে বছরে একবারই তার চুল কাটাত, কারণ সেগুলি তার পক্ষে খুব ভারী হয়ে যেত—সে সেগুলি ওজন করাতো, আর সেগুলির ওজন রাজকীয় মাপ অনুসারে হত 200 শেকল।
2SA 14:27 অবশালোমের তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হল। তার মেয়ের নাম তামর, আর সে খুব সুন্দরী হল।
2SA 14:28 অবশালোম রাজার মুখদর্শন না করে দুই বছর জেরুশালেমে বসবাস করল।
2SA 14:29 পরে অবশালোম রাজার কাছে পাঠানোর জন্য যোয়াবকে ডেকে পাঠিয়েছিল, কিন্তু যোয়াব তার কাছে আসতে চাননি। তাই সে দ্বিতীয়বার তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল, কিন্তু তাও তিনি আসতে রাজি হননি।
2SA 14:30 তখন সে তার দাসদের বলল, “দেখো, যোয়াবের ক্ষেতটি আমার ক্ষেতের পাশেই আছে, আর সে সেখানে যব বুনেছে। যাও, সেখানে আগুন লাগিয়ে দাও।” অবশালোমের দাসেরা তখন ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।
2SA 14:31 যোয়াব পরে অবশালোমের বাসায় গেলেন, ও তিনি তাকে বললেন, “তোমার দাসেরা কেন আমার ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে?”
2SA 14:32 অবশালোম যোয়াবকে বলল, “দেখুন, আমি আপনাকে খবর পাঠিয়ে বললাম, ‘এখানে আসুন, যেন আমি আপনাকে রাজার কাছে পাঠিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারি, “আমি কেন গশূর থেকে ফিরে এলাম? আমি সেখানে থাকলেই ভালো হত!” ’ আর এখন, আমি মহারাজের মুখদর্শন করতে চাই, ও আমি যদি দোষ করে থাকি, তিনি আমায় মেরে ফেলতে পারেন।”
2SA 14:33 তাই যোয়াব রাজার কাছে গিয়ে তাঁকে সেকথা বললেন। তখন রাজামশাই অবশালোমকে ডেকে পাঠালেন, ও সে এসে রাজার সামনে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিল। রাজামশাই তাকে চুম্বন করলেন।
2SA 15:1 কালক্রমে, অবশালোম নিজের জন্য একটি রথ, কয়েকটি ঘোড়া ও তার আগে আগে দৌড়ানোর উপযোগী 50 জন লোক জোগাড় করল।
2SA 15:2 সে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নগরের সিংহদুয়ার পর্যন্ত চলে যাওয়া রাজপথের ধারে দাঁড়িয়ে যেত। যখনই কেউ বিচার পাওয়ার আশায় রাজার কাছে কোনও নালিশ নিয়ে আসত, অবশালোম তাকে ডেকে বলত, “তুমি কোনও নগরের লোক?” সে হয়তো উত্তর দিত, “আপনার দাস ইস্রায়েলের অমুক বংশের লোক।”
2SA 15:3 তখন অবশালোম তাকে বলত, “দেখো, তোমার দাবি-দাওয়া তো ন্যায্য ও উপযুক্ত, কিন্তু তোমার কথা শোনার জন্য রাজার কোনও প্রতিনিধি নেই।”
2SA 15:4 আবার অবশালোম এর সঙ্গে যোগ করত, “আমাকে যদি কেউ দেশে বিচারক নিযুক্ত করত! তবে যার যার নালিশ বা মামলা আছে, তারা সবাই আমারই কাছে নিয়ে আসতে পারত ও আমি দেখতাম যেন তারা ন্যায়বিচার পায়।”
2SA 15:5 এছাড়াও, যখনই কেউ অবশালোমকে প্রণাম করতে যেত, সে হাত বাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করত।
2SA 15:6 যেসব ইস্রায়েলী রাজার কাছে বিচার চাইতে আসত, অবশালোম তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই এরকম আচরণ করত, ও সে ইস্রায়েল জাতির মন জয় করে নিয়েছিল।
2SA 15:7 চার বছরের শেষে, অবশালোম রাজাকে বলল, “হিব্রোণে গিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে করা একটি মানত আমাকে পূর্ণ করে আসতে দিন।
2SA 15:8 আপনার দাস—এই আমি যখন অরামের গশূরে বসবাস করছিলাম, তখনই আমি এই মানতটি করেছিলাম: ‘সদাপ্রভু যদি আমাকে জেরুশালেমে ফিরিয়ে আনেন, তবে আমি হিব্রোণে গিয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা করব।’ ”
2SA 15:9 রাজা তাকে বললেন, “শান্তিতে যাও।” তাই সে হিব্রোণে চলে গেল।
2SA 15:10 পরে অবশালোম এই কথা বলার জন্য ইস্রায়েলের সব বংশের কাছে গুপ্তচর পাঠিয়ে দিয়েছিল, “যেই তোমরা শিঙার শব্দ শুনতে পাবে, তখনই বলবে, ‘অবশালোম হিব্রোণে রাজা হলেন।’ ”
2SA 15:11 জেরুশালেম থেকে 200 জন লোক অবশালোমের সঙ্গী হল। তারা অতিথিরূপে আমন্ত্রিত হল ও বেশ সরল মনে কিছু না জেনেই গেল।
2SA 15:12 অবশালোম বলি উৎসর্গ করার সময় দাউদের পরামর্শদাতা গীলোনীয় অহীথোফলকে তাঁর নিজের নগর গীলো থেকে ডেকে এনেছিল। আর তাই ষড়যন্ত্রটি বেশ জোরালো হল, ও অবশালোমের অনুগামীদের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তে শুরু করল।
2SA 15:13 একজন দূত এসে দাউদকে বলল, “ইস্রায়েল জাতির অন্তঃকরণ অবশালোমের সঙ্গী হয়েছে।”
2SA 15:14 তখন দাউদ জেরুশালেমে তাঁর সঙ্গে থাকা সব কর্মকর্তাকে বললেন, “এসো! আমাদের পালাতে হবে, তা না হলে আমাদের মধ্যে কেউই অবশালোমের হাত থেকে রেহাই পাব না। এক্ষুনি আমাদের এখান থেকে যেতে হবে, তা না হলে সে তাড়াতাড়ি এসে আমাদের ধরে ফেলবে ও আমাদের সর্বনাশ করে নগরটিকে তরোয়ালের আঘাতে উচ্ছেদ করবে।”
2SA 15:15 কর্মকর্তারা তাঁকে উত্তর দিয়েছিল, “আমাদের প্রভু মহারাজের যা ইচ্ছা, আপনার দাসেরা তাই করতে প্রস্তুত।”
2SA 15:16 রাজামশাই রওয়ানা হলেন, ও তাঁর সম্পূর্ণ পরিবারও তাঁর অনুগামী হল; কিন্তু তিনি শুধু প্রাসাদ দেখাশোনা করার জন্য দশজন উপপত্নীকে রেখে গেলেন।
2SA 15:17 অতএব রাজামশাই রওয়ানা হলেন, ও সব লোকজন তাঁকে অনুসরণ করছিল, এবং নগরের শেষ প্রান্তে গিয়ে তারা থেমেছিলেন।
2SA 15:18 তাঁর সব লোকজন করেথীয় ও পলেথীয়দের সঙ্গে নিয়ে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেল; এবং গাত থেকে তাঁর সঙ্গী হয়ে আসা ছয়শো জন গাতীয় লোকও রাজার সামনে কুচকাওয়াজ করল।
2SA 15:19 রাজামশাই গাতীয় ইত্তয়কে বললেন, “তুমি কেন আমাদের সঙ্গে যাবে? ফিরে যাও ও রাজা অবশালোমের সঙ্গে গিয়ে থাকো। তুমি একজন বিদেশি, তোমার স্বদেশ থেকে আসা এক নির্বাসিত লোক।
2SA 15:20 তুমি মাত্র কালই এসেছ। আর আজ কি না আমি তোমাকে আমাদের সঙ্গে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে দেব, যেখানে আমিই জানি না, আমি কোথায় যাচ্ছি? ফিরে যাও, আর তোমার লোকজনকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাও। সদাপ্রভু যেন তোমাকে দয়া ও বিশ্বস্ততা দেখান।”
2SA 15:21 কিন্তু ইত্তয় রাজাকে উত্তর দিলেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, ও আমার প্রভু মহারাজের দিব্যি, আমার প্রভু মহারাজ যেখানে থাকবেন, তাতে জীবনই থাকুক বা মৃত্যুই আসুক, আপনার দাস সেখানেই থাকবে।”
2SA 15:22 দাউদ ইত্তয়কে বললেন, “তবে এগিয়ে যাও, কুচকাওয়াজ করো।” তাই গাতীয় ইত্তয় তাঁর সব লোকজন ও তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবার-পরিজন নিয়ে কুচকাওয়াজ করলেন।
2SA 15:23 সব লোকজন যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন পল্লিঅঞ্চলের সব অধিবাসী জোর গলায় কেঁদেছিল। রাজাও কিদ্রোণ উপত্যকা পার হলেন, ও সব লোকজন মরুপ্রান্তরের দিকে এগিয়ে গেল।
2SA 15:24 সাদোকও সেখানে ছিলেন, ও তাঁর সঙ্গে থাকা লেবীয়রা সবাই ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। নগর থেকে সব লোকজন বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ঈশ্বরের সিন্দুকটি নামিয়ে রেখেছিল, ও অবিয়াথর বলি উৎসর্গ করলেন।
2SA 15:25 পরে রাজামশাই সাদোককে বললেন, “ঈশ্বরের সিন্দুকটি নগরে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। আমি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেলে তিনি আমাকে ফিরিয়ে আনবেন এবং এটি ও তাঁর বাসস্থানটিও আবার আমাকে দেখতে দেবেন।
2SA 15:26 কিন্তু তিনি যদি বলেন, ‘আমি তোমার উপর সন্তুষ্ট নই,’ তবে আমি প্রস্তুত আছি; তাঁর যা ভালো লাগে তিনি আমার প্রতি তাই করতে পারেন।”
2SA 15:27 রাজামশাই যাজক সাদোককেও বললেন, “বুঝলে তো? আমার আশীর্বাদ নিয়ে নগরে ফিরে যাও। তোমার ছেলে অহীমাসকে সঙ্গে নাও, আর অবিয়াথরের ছেলে যোনাথনকেও নাও। তুমি ও অবিয়াথর তোমাদের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে যাও।
2SA 15:28 যতক্ষণ না তোমরা আমাকে খবর দিয়ে পাঠাচ্ছো, আমি মরুপ্রান্তরে নদীর অগভীর অংশের কাছে অপেক্ষা করে বসে থাকব।”
2SA 15:29 অতএব সাদোক ও অবিয়াথর ঈশ্বরের সিন্দুকটি নিয়ে জেরুশালেমে ফিরে গিয়ে সেখানেই থেকে গেলেন।
2SA 15:30 কিন্তু দাউদ জলপাই পাহাড়ে উঠে যাচ্ছিলেন, ও যেতে যেতে তিনি কাঁদছিলেন; তাঁর মাথা ঢাকা ছিল ও তিনি খালি পায়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজনও তাদের মাথা ঢেকে রেখেছিল ও যেতে যেতে তারাও কাঁদছিল।
2SA 15:31 এদিকে দাউদকে বলা হল, “অহীথোফলও অবশালোমের সঙ্গে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একজন।” অতএব দাউদ প্রার্থনা করলেন, “হে সদাপ্রভু, অহীথোফলের পরামর্শকে মূর্খতায় বদলে দাও।”
2SA 15:32 দাউদ যখন সেই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন, যেখানে লোকেরা ঈশ্বরের আরাধনা করত, তখন অর্কীয় হূশয় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তাঁর কাপড়চোপড় ছেঁড়া ছিল ও তাঁর মাথা ছিল ধূলিধূসরিত।
2SA 15:33 দাউদ তাঁকে বললেন, “তুমি যদি আমার সঙ্গে যাও, তবে তুমি আমার পক্ষে এক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
2SA 15:34 কিন্তু যদি নগরে ফিরে গিয়ে অবশালোমকে বলো, ‘হে মহারাজ, আমি আপনার দাস হয়ে থাকব; অতীতে আমি আপনার বাবার দাস ছিলাম, কিন্তু এখন আমি আপনার দাস হব,’ তবে অহীথোফলের পরামর্শ ব্যর্থ করে তুমি আমার উপকারই করবে।
2SA 15:35 তোমার সঙ্গে কি সেখানে যাজক সাদোক ও অবিয়াথর থাকবে না? রাজপ্রাসাদে তুমি যা যা শুনবে, সবকিছুই তাদের গিয়ে বলবে।
2SA 15:36 তাদের দুই ছেলে, সাদোকের ছেলে অহীমাস ও অবিয়াথরের ছেলে যোনাথনও সেখানে তাদের সঙ্গে আছে। তুমি যা কিছু শুনবে তারা সেসব তাদের দিয়ে আমার কাছে বলে পাঠাবে।”
2SA 15:37 অতএব অবশালোম যখন জেরুশালেমে প্রবেশ করছিল, তখন দাউদের প্রাণের বন্ধু হূশয়ও নগরে পৌঁছেছিলেন।
2SA 16:1 পাহাড়ের চূড়া পার করে দাউদ অল্প একটু দূর এ গেলেন, সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য মফীবোশতের দাস সীব অপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল একপাল গাধা, যেগুলির পিঠে বাঁধা ছিল 200-টি রুটি, কিশমিশ দিয়ে তৈরি একশোটি, ও ডুমুর দিয়ে তৈরি একশোটি পিঠে এবং একটি চামড়ার থলিতে ভরা দ্রাক্ষারস।
2SA 16:2 রাজামশাই সীবকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কেন এগুলি এনেছ?” সীব উত্তর দিয়েছিল, “গাধাগুলি এনেছি মহারাজের পরিবারের লোকজনের চড়ে যাওয়ার জন্য, রুটি ও ফলগুলি এনেছি লোকদের খাওয়ার জন্য, এবং দ্রাক্ষারস এনেছি যেন মরুপ্রান্তরে যারা ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তারা চাঙ্গা হয়ে যায়।”
2SA 16:3 রাজামশাই তখন জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার মনিবের নাতি কোথায়?” সীব তাঁকে বলল, “তিনি জেরুশালেমেই আছেন, কারণ তিনি ভেবেছেন, ‘ইস্রায়েলীরা আজ আমার কাছে আমার পৈতৃক রাজ্যটি ফিরিয়ে দেবে।’ ”
2SA 16:4 তখন রাজামশাই সীবকে বললেন, “মফীবোশতের অধিকারে থাকা সবকিছুই এখন তোমার।” “আমি আপনাকে প্রণাম জানাচ্ছি,” সীব বলল। “হে আমার প্রভু মহারাজ, আমি যেন আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাই।”
2SA 16:5 রাজা দাউদ বহুরীমে পৌঁছালে শৌলের কুলভুক্ত একজন লোক সেখানে এসে গেল। তার নাম শিমিয়ি, ও সে ছিল গেরার ছেলে। আসতে আসতে সে অভিশাপ দিচ্ছিল।
2SA 16:6 দাউদের ডাইনে বাঁয়ে বিশেষ রক্ষীদল থাকা সত্ত্বেও সে দাউদ ও সব রাজকর্মচারীর দিকে পাথর ছুঁড়ছিল।
2SA 16:7 অভিশাপ দিতে দিতে শিমিয়ি বলল, “দূর হ, দূর হ, ওরে খুনি, ওরে বজ্জাত!
2SA 16:8 যাঁর স্থানে তুই রাজত্ব করছিস, সেই শৌলের কুলে তুই যত রক্তপাত করেছিস তার প্রতিফল সদাপ্রভুই তোকে দিয়েছেন। সদাপ্রভু রাজ্যটি তোর ছেলে অবশালোমের হাতে তুলে দিয়েছেন। তুই একজন খুনি বলেই তোর সর্বনাশ হয়েছে।”
2SA 16:9 তখন সরূয়ার ছেলে অবীশয় রাজাকে বলল, “এই মরা কুকুরটি কেন আমার প্রভু মহারাজকে অভিশাপ দেবে? আমাকে গিয়ে ওর মাথাটি কেটে নিয়ে আসার জন্য আমাকে অনুমতি দিন।”
2SA 16:10 কিন্তু রাজামশাই বললেন, “হে সরূয়ার ছেলেরা, এতে তোমাদের কী? সে যদি এজন্যই অভিশাপ দিচ্ছে যেহেতু সদাপ্রভু তাকে বলেছেন, ‘দাউদকে অভিশাপ দাও,’ তবে কে-ই বা প্রশ্ন করতে পারে, ‘তুমি কেন এমনটি করছ?’ ”
2SA 16:11 দাউদ পরে অবীশয় ও তাঁর সব কর্মকর্তাকে বললেন, “আমার ছেলে, আমার নিজের রক্তমাংসই আমাকে খুন করার চেষ্টা করছে। তবে এই বিন্যামীনীয় আরও কত না বেশি করে তা করবে! ওকে একা ছেড়ে দাও; ওকে অভিশাপ দিতে দাও, কারণ সদাপ্রভুই ওকে এরকম করতে বলেছেন।
2SA 16:12 হয়তো দেখা যাবে যে আজ ওর দেওয়া অভিশাপের বদলে সদাপ্রভু আমার দুর্দশা দেখে, আমার কাছে তাঁর নিয়মের অধীনে থাকা আশীর্বাদ ফিরিয়ে দেবেন।”
2SA 16:13 অতএব দাউদ ও তাঁর লোকজন পথে যেতে থাকলেন, অন্যদিকে শিমিয়ি তাঁর বিপরীত দিকের পাহাড়ি পথ ধরে যেতে যেতে অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছিল ও তাঁর দিকে পাথর ছুঁড়ছিল এবং ধুলোবর্ষণও করছিল।
2SA 16:14 রাজামশাই ও তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজন ক্লান্ত অবস্থায় তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছিলেন। আর সেখানে তিনি নিজের ক্লান্তি দূর করলেন।
2SA 16:15 এদিকে, অবশালোম ও ইস্রায়েলের সব লোকজন জেরুশালেমে এসেছিল, ও অহীথোফলও তাদের সঙ্গে ছিল।
2SA 16:16 তখন দাউদের অন্তরঙ্গ বন্ধু অর্কীয় হূশয় অবশালোমের কাছে গিয়ে তাকে বললেন, “মহারাজ চিরজীবী হোন, মহারাজ চিরজীবী হোন!”
2SA 16:17 অবশালোম হূশয়কে বলল, “তোমার বন্ধুর প্রতি এই তোমার ভালোবাসা? তিনি যদি তোমার বন্ধু, তবে তুমি তাঁরই কাছে গেলে না কেন?”
2SA 16:18 হূশয় অবশালোমকে বললেন, “তা নয়, যিনি সদাপ্রভু দ্বারা, এই লোকদের দ্বারা, ও ইস্রায়েলের সব লোকজন দ্বারা মনোনীত হয়েছেন—আমি তাঁরই হব, ও তাঁর সঙ্গেই থাকব।
2SA 16:19 এছাড়াও, আমি কার সেবা করব? আমি কি তাঁর ছেলেরই সেবা করব না? আমি যেভাবে আপনার বাবার সেবা করতাম, ঠিক সেভাবে আপনারও সেবা করব।”
2SA 16:20 অবশালোম অহীথোফলকে বলল, “আপনি আমাদের পরামর্শ দিন। আমাদের কী করা উচিত?”
2SA 16:21 অহীথোফল উত্তর দিয়েছিল, “তোমার বাবা রাজপ্রাসাদ দেখাশোনা করার জন্য যেসব উপপত্নী রেখে গিয়েছেন, তুমি তাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করো। তখন সমস্ত ইস্রায়েল শুনবে যে তুমি নিজেকে তোমার বাবার কাছে ঘৃণ্য করে তুলেছ, ও তোমার সঙ্গে থাকা প্রত্যেকে আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে।”
2SA 16:22 তাই তারা অবশালোমের জন্য ছাদে একটি তাঁবু খাটিয়ে দিয়েছিল, ও সে সমস্ত ইস্রায়েলীর চোখের সামনে তার বাবার উপপত্নীদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করল।
2SA 16:23 এদিকে, সেই সময় অহীথোফলের দেওয়া পরামর্শকে মনে হত ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা পরামর্শ। দাউদ ও অবশালোম, দুজনেই অহীথোফলের সব পরামর্শকে এরকমই মনে করতেন।
2SA 17:1 অহীথোফল অবশালোমকে বলল, “আমি 12 হাজার লোক বেছে নিয়ে আজ রাতেই দাউদের পিছু ধাওয়া করব।
2SA 17:2 তিনি যখন ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়বেন তখনই আমি তাঁকে আক্রমণ করব। আমি তাঁকে আক্রমণ করে ভয় পাইয়ে দেব, ও তাতে তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজন পালিয়ে যাবে। আমি শুধু রাজাকেই যন্ত্রণা করব
2SA 17:3 ও সব লোকজনকে তোমার কাছে ফিরিয়ে আনব। তুমি যাঁর মৃত্যু কামনা করছ, তিনি মারা যাওয়ার অর্থই হল তোমার কাছে সবার ফিরে আসা; সব লোকজন অক্ষতই থাকবে।”
2SA 17:4 এই পরিকল্পনাটি অবশালোম ও ইস্রায়েলের সব প্রাচীনের কাছে ভালো বলে মনে হল।
2SA 17:5 কিন্তু অবশালোম বলল, “অর্কীয় হূশয়কেও ডেকে আনো, যেন আমরা তারও বক্তব্য শুনতে পারি।”
2SA 17:6 হূশয় যখন তার কাছে এলেন, অবশালোম তাঁকে বলল, “অহীথোফল এই পরামর্শটি দিয়েছে। সে যা বলেছে আমাদের কি তা করা উচিত হবে? যদি তা না হয়, তবে তোমার মতামত কী, তা আমাদের জানাও।”
2SA 17:7 হূশয় অবশালোমকে উত্তর দিলেন, “এবার অহীথোফল যে পরামর্শটি দিয়েছেন, তা ভালো হয়নি।
2SA 17:8 আপনি তো আপনার বাবা ও তাঁর লোকজনকে জানেন; তারা যোদ্ধা, ও এমন এক-একটি বুনো ভালুকের মতো, যার কাছ থেকে তার শাবক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, আপনার বাবা একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা; তিনি সৈন্যদলের সঙ্গে রাত কাটাবেন না।
2SA 17:9 এমন কী, এখনও তিনি কোনও গুহায় বা অন্য কোথাও গিয়ে লুকিয়ে আছেন। তিনি যদি আপনার সৈন্যদলকে প্রথমে আক্রমণ করেন, তবে যে কেউ তা শুনবে, সে বলবে, ‘অবশালোমের অনুগামী সৈন্যদলের মধ্যে ব্যাপক নরহত্যা সম্পন্ন হয়েছে।’
2SA 17:10 তখন সিংহ-হৃদয়বিশিষ্ট বীরশ্রেষ্ঠ সৈনিকের প্রাণও ভয়ে গলে যাবে, কারণ সমস্ত ইস্রায়েল জানে যে আপনার বাবা একজন যোদ্ধা এবং যারা তাঁর সঙ্গে আছে, তারাও সাহসী মানুষজন।
2SA 17:11 “তাই আমি আপনাকে এই পরামর্শ দিচ্ছি: দান থেকে শুরু করে বের-শেবা পর্যন্ত সমস্ত ইস্রায়েল—সাগরতীরের বালুকণার মতো যারা সংখ্যায় প্রচুর—আপনার কাছে সমবেত হোক, এবং আপনি নিজে যুদ্ধে তাদের নেতৃত্ব দিন।
2SA 17:12 তখনই আমরা তাঁকে আক্রমণ করব, তা সে তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এবং শিশির যেভাবে মাটিতে পড়ে, আমরা তাঁকে সেভাবেই মাটিতে পেড়ে ফেলব। না তিনি, না তাঁর লোকজন, কেউই বেঁচে থাকবে না।
2SA 17:13 তিনি যদি কোনও নগরে সরে যান, তবে সমস্ত ইস্রায়েল সেই নগরে দড়ি নিয়ে আসবে, ও আমরা এমনভাবে সেটি উপত্যকার কাছে টেনে নিয়ে যাব, যেন একটি নুড়ি-পাথরও সেখানে অবশিষ্ট থাকতে না পারে।”
2SA 17:14 অবশালোম ও সব ইস্রায়েলী লোকজন বলল, “অর্কীয় হূশয়ের পরামর্শটি অহীথোফলের দেওয়া পরামর্শের তুলনায় ভালো।” কারণ অবশালোমের উপর বিপর্যয় আনার জন্য সদাপ্রভুই অহীথোফলের ভালো পরামর্শটি বানচাল করে দেবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন।
2SA 17:15 হূশয়, সাদোক ও অবিয়াথর এই দুই যাজককে বললেন, “অহীথোফল অবশালোম ও ইস্রায়েলের প্রাচীনদের এই এই কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে, কিন্তু আমি তাদের অমুক অমুক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি।
2SA 17:16 তোমরা এখনই দাউদের কাছে খবর পাঠিয়ে বোলো, ‘আপনি মরুপ্রান্তরে নদীর অগভীর স্থানের কাছে রাত কাটাবেন না; যে করেই হোক সেটি পার হয়ে যান, তা না হলে রাজামশাই ও তাঁর সঙ্গে থাকা সব লোকজন নিঃশেষ হয়ে যাবেন।’ ”
2SA 17:17 যোনাথন ও অহীমাস ঐন-রোগেলে ছিলেন। একজন দাসীর তাদের খবর দেওয়ার কথা ছিল, ও তাদের গিয়ে রাজা দাউদকে তা বলার কথা ছিল, কারণ নগরে প্রবেশ করে ধরা পড়ার ঝুঁকি তারা নিতে চাননি।
2SA 17:18 কিন্তু একজন যুবক তাদের দেখে ফেলেছিল ও অবশালোমকে খবর দিয়েছিল। তাই তারা দুজনেই তৎক্ষণাৎ পালিয়ে বহুরীমে একজনের বাসায় গিয়ে উঠেছিলেন। তার উঠোনে একটি কুয়ো ছিল, ও তারা তার মধ্যে নেমে গেলেন।
2SA 17:19 গৃহকর্তার স্ত্রী কুয়োর খোলামুখটি ঢাকনা দিয়ে ঢাকা দিয়েছিল ও সেটির উপর শস্যদানা ছড়িয়ে রেখেছিল। কেউই এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি।
2SA 17:20 অবশালোমের লোকজন সেই বাড়িতে মহিলাটির কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল, “অহীমাস ও যোনাথন কোথায়?” মহিলাটি তাদের উত্তর দিয়েছিল, “তারা ছোটো নদীটি পার হয়ে গিয়েছে।” সেই লোকেরা তাদের খুঁজেছিল, কিন্তু কাউকেই পায়নি, তাই তারা জেরুশালেমে ফিরে গেল।
2SA 17:21 তারা চলে যাওয়ার পর সেই দুজন কুয়ো থেকে উঠে এলেন ও রাজা দাউদকে খবর দেওয়ার জন্য চলে গেলেন। তারা তাঁকে বললেন, “এক্ষুনি বেরিয়ে পড়ুন ও নদী পার হয়ে যান; অহীথোফল আপনার বিরুদ্ধে এই এই পরামর্শ দিয়েছে।”
2SA 17:22 তাই দাউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন বেরিয়ে পড়েছিলেন ও জর্ডন নদী পার হয়ে গেলেন। সকালের আলো ফোটা অবধি এমন একজনও অবশিষ্ট ছিল না, যে জর্ডন নদী পার হয়ে যায়নি।
2SA 17:23 অহীথোফল যখন দেখেছিল যে তার পরামর্শ অনুসারে কাজ করা হয়নি, তখন সে তার গাধায় জিন পরিয়ে নিজের নগরে অবস্থিত তার বাসার দিকে রওয়ানা হয়ে গেল। সে তার বাসার সবকিছু ঠিকঠাক করে ফাঁসিতে ঝুলে পড়েছিল। অতএব সে মারা গেল ও তাকে তার বাবার কবরে কবর দেওয়া হল।
2SA 17:24 দাউদ মহনয়িমে গেলেন, ও অবশালোম ইস্রায়েলের সব লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে জর্ডন নদী পার হয়ে গেল।
2SA 17:25 অবশালোম যোয়াবের স্থানে অমাসাকে সৈন্যদলের সেনাপতি নিযুক্ত করল। অমাসা ছিল একজন ইশ্মায়েলীয় ব্যক্তি সেই যিথ্রর ছেলে, যে নাহশের মেয়ে ও যোয়াবের মা সরূয়ার বোন অবীগলকে বিয়ে করল।
2SA 17:26 ইস্রায়েলীরা ও অবশালোম গিলিয়দ প্রদেশে শিবির স্থাপন করল।
2SA 17:27 দাউদ যখন মহনয়িমে এলেন তখন অম্মোনীয়দের রব্বা নগর থেকে নাহশের ছেলে শোবি, ও লো-দবার থেকে অম্মীয়েলের ছেলে মাখির, এবং রোগলীম থেকে গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়
2SA 17:28 বিছানাপত্র, বেশ কয়েকটি গামলা ও মাটির পাত্র নিয়ে এসেছিল। এছাড়াও তারা গম ও যব, আটা-ময়দা ও আগুনে সেঁকা শস্যদানা, সিম-বরবটি ও কিছু ডাল,
2SA 17:29 মধু ও দই, মেষ, ও গরুর দুধ দিয়ে তৈরি পনীর দাউদ ও তাঁর লোকজনের খাওয়ার জন্য এনেছিল। কারণ তারা বলল, “লোকেরা মরুপ্রান্তরে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছে।”
2SA 18:1 দাউদ তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে একত্র করে তাদের উপর সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতিদের নিযুক্ত করে দিলেন।
2SA 18:2 দাউদ তাঁর সৈন্যদলকে তিন ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ যোয়াবের, অন্য এক ভাগ যোয়াবের ভাই সরূয়ার ছেলে অবীশয়ের, ও তৃতীয় ভাগটি গাতীয় ইত্তয়ের কর্তৃত্বাধীনে রেখে, তাদের যুদ্ধে পাঠিয়ে দিলেন। রাজামশাই তাঁর সৈন্যদের বললেন, “আমি নিজেও অবশ্য তোমাদের সঙ্গে কুচকাওয়াজ করে যাব।”
2SA 18:3 কিন্তু লোকেরা বলল, “আপনাকে যেতে হবে না; আমাদের যদি পালাতেও হয়, তারা আমাদের নিয়ে মাথা ঘামাবে না। এমন কী আমাদের মধ্যে অর্ধেক লোকও যদি মারা যায়, তবু তারা মাথা ঘামাবে না; কিন্তু আপনার দাম আমাদের মতো 10,000 লোকের সমান। ভালো হয়, যদি আপনি নগরে থেকেই আমাদের সাহায্য করে যান।”
2SA 18:4 রাজামশাই উত্তর দিলেন, “তোমাদের যা ভালো মনে হয়, আমি তাই করব।” অতএব রাজামশাই সিংহদুয়ারের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন, আর তাঁর সব লোকজন এক-একশো ও এক এক হাজার জনের দলে বিভক্ত হয়ে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেল।
2SA 18:5 রাজামশাই যোয়াব, অবীশয় ও ইত্তয়কে আদেশ দিলেন, “আমার খাতিরে সেই যুবক অবশালোমের প্রতি সদয় আচরণ কোরো।” আর সব সৈন্যসামন্ত শুনেছিল রাজামশাই অবশালোমের বিষয়ে সেনাপতিদের এক একজনকে কী আদেশ দিলেন।
2SA 18:6 দাউদের সৈন্যদল ইস্রায়েলীদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য কুচকাওয়াজ করে নগর ছেড়ে বেরিয়েছিল, এবং ইফ্রয়িমের অরণ্যে যুদ্ধ হল।
2SA 18:7 ইস্রায়েলের সৈন্যদল সেখানে দাউদের লোকদের হাতে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হল, এবং সেদিন প্রচুর লোকজন মারা গেল—সংখ্যায় তা হবে 20,000।
2SA 18:8 সমস্ত গ্রাম্য এলাকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল, ও সেদিন যত না লোক তরোয়ালের আঘাতে মারা গেল, তার চেয়েও বেশি লোক মারা গেল অরণ্যের গ্রাসে।
2SA 18:9 এদিকে অবশালোম দাউদের লোকজনের সামনে পড়ে গেল। সে খচ্চরের পিঠে চেপে যাচ্ছিল, ও খচ্চরটি যখন বেশ বড়সড় একটি ওক গাছের ঘন ডালপালার তলা দিয়ে যাচ্ছিল, অবশালোমের মাথার চুল গাছে আটকে গেল। সে শূন্যে ঝুলে গেল, অথচ যে খচ্চরটির পিঠে চেপে সে যাচ্ছিল, সেটি এগিয়ে গেল।
2SA 18:10 যা ঘটেছিল, লোকদের মধ্যে একজন যখন তা দেখেছিল, সে যোয়াবকে বলল, “আমি এইমাত্র দেখলাম যে অবশালোম একটি ওক গাছে ঝুলছে।”
2SA 18:11 যোয়াবকে যে একথা বলল তাকে তিনি বললেন, “তাই নাকি! তুমি তাকে দেখেছ? সেখানেই তুমি কেন তাকে যন্ত্রণা করে মাটিতে পেড়ে ফেলোনি? তবে তো আমি তোমাকে দশ শেকল রুপো ও একজন যোদ্ধার কোমরবন্ধ দিতে পারতাম।”
2SA 18:12 কিন্তু সেই লোকটি উত্তর দিয়েছিল, “আমার হাতে যদি হাজার শেকল রুপোও ওজন করে ধরিয়ে দেওয়া হয়, তবু আমি রাজপুত্রের গায়ে হাত দেব না। আমরা শুনেছি মহারাজ আপনাকে, অবীশয়কে ও ইত্তয়কে আদেশ দিয়েছিলেন, ‘আমার খাতিরে যুবক অবশালোমকে রক্ষা কোরো।’
2SA 18:13 আর আমি যদি আমার প্রাণের ঝুঁকিও নিয়ে ফেলি—মহারাজের কাছে কিছুই লুকিয়ে রাখা যায় না—আপনিই তখন আমার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলবেন।”
2SA 18:14 যোয়াব বললেন, “আমি তোমার জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে পারব না।” অতএব তিনি হাতে তিনটি বর্শা নিয়ে সেগুলি অবশালোমের বুকে গেঁথে দিলেন, অথচ অবশালোম তখনও ওক গাছে ঝুলেও বেঁচেছিলেন।
2SA 18:15 যোয়াবের অস্ত্র-বহনকারীদের মধ্যে দশজন অবশালোমকে ঘিরে রেখে তাকে আঘাত করে হত্যা করল।
2SA 18:16 পরে যোয়াব শিঙা বাজিয়েছিলেন, ও সৈন্যদল ইস্রায়েলের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করে দিয়েছিল, কারণ যোয়াব তাদের থামিয়ে দিলেন।
2SA 18:17 তারা অবশালোমকে নিয়ে অরণ্যে অবস্থিত এক বড়ো গর্তে ফেলে দিয়েছিল ও তার উপর পাথরের বড়ো এক স্তূপ সাজিয়ে দিয়েছিল। এদিকে, সমস্ত ইস্রায়েলী তাদের বাসায় পালিয়ে গেল।
2SA 18:18 বেঁচে থাকার সময় অবশালোম একটি স্তম্ভ বানিয়ে সেটি নিজের এক স্মৃতিসৌধরূপে রাজার উপত্যকায় স্থাপন করল, কারণ সে ভেবেছিল, “আমার নামের স্মৃতি রক্ষা করার জন্য আমার তো কোনও ছেলে নেই।” সে নিজের নামে স্তম্ভটির নামকরণ করল, এবং আজও পর্যন্ত সেটি অবশালোমের নামেই পরিচিত হয়ে আছে।
2SA 18:19 এদিকে সাদোকের ছেলে অহীমাস বললেন, “আমি দৌড়ে গিয়ে মহারাজের কাছে এই খবরটি নিয়ে যাব যে মহারাজের শত্রুদের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করার দ্বারা সদাপ্রভু তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
2SA 18:20 “আজ তুমি এ খবরটি নিয়ে যাবে না,” যোয়াব তাঁকে বললেন। “অন্য কোনও এক সময় তুমি এ খবরটি নিয়ে যেয়ো, কিন্তু আজ এরকমটি করতে যেয়ো না, কারণ রাজার ছেলে মারা গিয়েছেন।”
2SA 18:21 পরে যোয়াব একজন কূশীয়কে বললেন, “যাও, তুমি যা যা দেখেছ, মহারাজকে গিয়ে তা বলো।” কূশীয় লোকটি যোয়াবকে প্রণাম করে দৌড়ে চলে গেল।
2SA 18:22 সাদোকের ছেলে অহীমাস আরেকবার যোয়াবকে বললেন, “যা হয় হোক, আমাকে সেই কূশীয়র পিছন পিছন দৌড়ে যেতে দিন।” কিন্তু যোয়াব উত্তর দিলেন, “বাছা, তুমি কেন যেতে চাইছ? তোমার কাছে এমন কোনও খবর নেই যা দিয়ে তুমি পুরস্কার পাবে।”
2SA 18:23 তিনি বললেন, “যা হয় হোক, আমি দৌড়ে যেতে চাই।” অগত্যা যোয়াব বললেন, “দৌড়াও!” তখন অহীমাস সমভূমির পথ ধরে দৌড়ে গিয়ে কূশীয়কে পিছনে ফেলে দিলেন।
2SA 18:24 দাউদ যখন ভিতরের ও বাইরের দরজার মাঝামাঝিতে বসেছিলেন, পাহারাদার তখন দেয়াল বেয়ে দরজার ছাদে উঠে গেল। বাইরে তাকিয়ে সে দেখেছিল, একজন লোক একা দৌড়ে আসছে।
2SA 18:25 পাহারাদার রাজামশাইকে ডেকে সে খবর জানিয়েছিল। রাজামশাই বললেন, “সে যদি একা আছে তবে নিশ্চয় ভালো খবরই আনছে।” লোকটি দৌড়াতে দৌড়াতে খুব কাছাকাছি এসে পড়েছিল।
2SA 18:26 পরে পাহারাদার আরও একজনকে দৌড়ে আসতে দেখেছিল, আর সে উপর থেকে দারোয়ানকে ডেকে বলল, “দেখো, আরও একজন লোক একা দৌড়ে আসছে!” রাজামশাই বললেন, “সেও নিশ্চয় ভালো খবর নিয়ে আসছে।”
2SA 18:27 পাহারাদার বলল, “আমার মনে হচ্ছে যে প্রথমজন সাদোকের ছেলে অহীমাসের মতো দৌড়াচ্ছেন।” “সে একজন ভালো লোক,” রাজামশাই বললেন। “সে ভালো খবর নিয়ে আসছে।”
2SA 18:28 অহীমাস জোর গলায় রাজামশাইকে ডেকে বললেন, “সব ঠিক আছে!” তিনি মাটিতে উবুড় হয়ে রাজাকে প্রণাম করে বললেন, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক! আমার প্রভু মহারাজের বিরুদ্ধে যারা হাত তুলেছিল, তিনি তাদের ত্যাগ করেছেন।”
2SA 18:29 রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন, “সেই যুবক অবশালোম কি সুরক্ষিত আছে?” অহীমাস উত্তর দিলেন, “ঠিক যখন যোয়াব মহারাজের দাসকে ও আপনার দাস—আমাকে পাঠাতে যাচ্ছিলেন, তখন খুব গোলমাল হচ্ছিল, তবে আমি জানি না ঠিক কী হল।”
2SA 18:30 রাজামশাই বললেন, “এক পাশে সরে গিয়ে একটু অপেক্ষা করো।” অতএব তিনি পাশে সরে গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে গেলেন।
2SA 18:31 পরে সেই কূশীয় লোকটি সেখানে পৌঁছে বলল, “হে আমার প্রভু মহারাজ, সুখবর শুনুন! যারা মহারাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করার দ্বারা সদাপ্রভু তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
2SA 18:32 রাজামশাই সেই কূশীয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “সেই যুবক অবশালোম সুরক্ষিত আছে?” কূশীয় লোকটি উত্তর দিয়েছিল, “আমার প্রভু মহারাজের শত্রুদের ও যারা যারা আপনার বিরুদ্ধে উঠেছিল, তাদের সকলের দশা যেন সেই যুবকের মতোই হয়।”
2SA 18:33 রাজামশাই কেঁপে উঠেছিলেন। তিনি সদর-দরজার উপরের ঘরে গিয়ে কেঁদেছিলেন। যেতে যেতে তিনি বললেন: “বাছা অবশালোম! আমার ছেলে, আমার ছেলে অবশালোম! তোমার পরিবর্তে শুধু আমি যদি মরতে পারতাম—হে অবশালোম, আমার ছেলে, আমার ছেলে!”
2SA 19:1 যোয়াবকে বলা হল, “রাজামশাই অবশালোমের জন্য কাঁদছেন ও শোকপ্রকাশ করছেন।”
2SA 19:2 আর সমস্ত সৈন্যদলের কাছে সেদিন সেই বিজয় শোকে পরিণত হল, কারণ সেদিন সৈন্যসামন্তরা শুনতে পেয়েছিল, “রাজামশাই তাঁর ছেলের জন্য খুব দুঃখ পেয়েছেন।”
2SA 19:3 লোকজন সেদিন নিঃশব্দে এমনভাবে নগরে প্রবেশ করল, যে মনে হচ্ছিল একদল লোক যেন লজ্জিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে চুপিচুপি নগরে প্রবেশ করছে।
2SA 19:4 রাজামশাই মুখ ঢেকে জোর গলায় কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, “বাছা অবশালোম! হে অবশালোম, আমার ছেলে, আমার ছেলে!”
2SA 19:5 তখন যোয়াব প্রাসাদে রাজার কাছে গিয়ে বললেন, “আজ আপনি আপনার সেইসব লোকজনকে অপমান করেছেন, যারা এইমাত্র আপনার প্রাণ ও আপনার ছেলেমেয়েদের প্রাণ ও আপনার স্ত্রী ও উপপত্নীদের প্রাণরক্ষা করেছে।
2SA 19:6 আপনি তাদেরই ভালোবাসেন যারা আপনাকে ঘৃণা করে ও তাদেরই ঘৃণা করেন যারা আপনাকে ভালোবাসে। আজ আপনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আপনার কাছে সেনাপতি ও তাদের লোকজন কোনো কিছুই নয়। আমি দেখতে পাচ্ছি আজ যদি অবশালোম জীবিত থাকত ও আমরা সবাই মারা যেতাম, তবেই আপনি খুশি হতেন।
2SA 19:7 এখন তাই বাইরে গিয়ে আপনার লোকজনকে উৎসাহিত করুন। আমি সদাপ্রভুর নামে শপথ করে বলছি, যদি আপনি বাইরে না যান, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজনও আপনার সঙ্গে থাকবে না। আপনার যৌবনকাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আপনার উপর যত বিপর্যয় এসেছে, সেসবের তুলনায় এটি আরও মন্দ হবে।”
2SA 19:8 তাই রাজামশাই উঠে সিংহদুয়ারের কাছে গিয়ে বসেছিলেন। লোকজনকে যখন বলা হল, “মহারাজ সিংহদুয়ারের কাছে বসে আছেন,” তখন তারা সবাই তাঁর সামনে এসেছিল। এদিকে, ইস্রায়েলীরা নিজের নিজের বাসায় পালিয়ে গেল।
2SA 19:9 ইস্রায়েলের গোষ্ঠীদের মধ্যে সর্বত্র, সব লোকজন নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি করে বলাবলি করছিল, “মহারাজ শত্রুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করলেন; তিনিই ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করলেন। কিন্তু এখন তিনি অবশালোমের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন;
2SA 19:10 এবং যাকে আমরা আমাদের উপর শাসনকর্তারূপে অভিষিক্ত করলাম, সেই অবশালোমও যুদ্ধে মারা গিয়েছে। তবে তোমরা মহারাজকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনও কথা বলছ না কেন?”
2SA 19:11 রাজা দাউদ যাজকদ্বয় সাদোক ও অবিয়াথরের কাছে এই খবর পাঠালেন: “যিহূদার প্রাচীনদের জিজ্ঞাসা করো, ‘রাজাকে তাঁর প্রাসাদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আপনারা কেন সবার পিছনে পড়ে থাকবেন, যেহেতু ইস্রায়েলে সর্বত্র যা বলাবলি হচ্ছে তা রাজার সৈন্যশিবিরে তাঁর কানে গিয়েছে?
2SA 19:12 আপনারা তো আমার আত্মীয়স্বজন, আমার নিজের রক্তমাংস। তাই রাজাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন?’
2SA 19:13 অমাসাকেও বোলো, ‘তুমি কি আমার নিজের রক্তমাংস নও? যদি যোয়াবের স্থানে তুমি সারা জীবনের জন্য আমার সৈন্যদলের সেনাপতি না হও, তবে ঈশ্বর যেন আমাকে কঠোর দণ্ড দেন।’ ”
2SA 19:14 তিনি যিহূদার লোকজনের মন এমনভাবে জিতে নিয়েছিলেন যে তারা সকলে একমত হল। তারা রাজামশাইকে খবর দিয়ে পাঠিয়েছিল, “আপনি ও আপনার সব লোকজন ফিরে আসুন।”
2SA 19:15 তখন রাজামশাই ফিরে এলেন ও জর্ডন নদী পর্যন্ত চলে গেলেন। এদিকে যিহূদার লোকজন রাজার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে জর্ডন নদী পার করিয়ে আনার জন্য গিল্‌গলে গেল।
2SA 19:16 বহুরীমের অধিবাসী গেরার ছেলে বিন্যামীনীয় শিমিয়ি রাজা দাউদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তড়িঘড়ি যিহূদার লোকজনের সাথে মিলে সেখানে এসেছিল।
2SA 19:17 তার সঙ্গে ছিল এক হাজার জন বিন্যামীনীয় লোক, শৌলের পারিবারিক দাস সীব, এবং সীবের পনেরোজন ছেলে ও কুড়ি জন দাস। রাজামশাই যেখানে ছিলেন, তারা জর্ডন নদীর সেই পারে দৌড়ে গেল।
2SA 19:18 রাজার পরিবারকে আনার ও তাঁর ইচ্ছামতো সবকিছু করার জন্য তারা নদীর অগভীর স্থানটি পার হয়ে গেল। গেরার ছেলে শিমিয়ি জর্ডন নদী পার করে উবুড় হয়ে রাজামশাইকে প্রণাম করল
2SA 19:19 ও তাঁকে বলল, “মহারাজ যেন আমায় দোষী সাব্যস্ত না করলেন। আমার প্রভু মহারাজ যেদিন জেরুশালেম ছেড়ে গেলেন, সেদিন আপনার দাস যে অপরাধ করেছিল, তা মনে রাখবেন না। মহারাজ যেন তা মন থেকে বের করে ফেলেন।
2SA 19:20 কারণ আপনার দাস আমি জানি যে আমি পাপ করেছি, কিন্তু আজ আমিই যোষেফের বংশ থেকে প্রথমজন হয়ে এখানে আমার প্রভু মহারাজের সঙ্গে দেখা করার জন্য নেমে এসেছি।”
2SA 19:21 তখন সরূয়ার ছেলে অবীশয় বলল, “এজন্য কি শিমিয়িকে মেরে ফেলা হবে না? সে তো সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছিল।”
2SA 19:22 দাউদ উত্তর দিলেন, “হে সরূয়ার ছেলেরা, এতে তোমাদের কী? তোমাদের কি অনধিকারচর্চা করার কোনও অধিকার আছে? আজ কি ইস্রায়েলে কাউকে মেরে ফেলা উচিত হবে? আমি কি জানি না যে আজ আমি ইস্রায়েলের রাজা?”
2SA 19:23 তাই রাজামশাই শিমিয়িকে বললেন, “তুমি মরবে না।” রাজামশাই শপথ করে তার কাছে প্রতিজ্ঞা করলেন।
2SA 19:24 শৌলের নাতি মফীবোশৎও রাজার সঙ্গে দেখা করতে নেমে গেলেন। যেদিন রাজামশাই চলে গেলেন, সেদিন থেকে শুরু করে নিরাপদে তাঁর ফিরে আসার দিন পর্যন্ত মফীবোশৎ তাঁর পায়ের যত্ন নেননি বা তাঁর দাড়ি-গোঁফ ছাঁটেননি বা তাঁর কাপড়চোপড়ও ধোয়াধুয়ি করেননি।
2SA 19:25 জেরুশালেম থেকে যখন তিনি রাজার সঙ্গে দেখা করতে এলেন, রাজামশাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মফীবোশৎ, তুমি কেন আমার সঙ্গে যাওনি?”
2SA 19:26 তিনি বললেন, “হে আমার প্রভু মহারাজ, যেহেতু আপনার দাস—আমি খঞ্জ, তাই আমি বললাম, ‘আমার গাধায় জিন চাপিয়ে, আমি তাতে চড়ে যাব, যেন আমি মহারাজের সঙ্গেই যেতে পারি।’ কিন্তু আমার দাস সীব আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
2SA 19:27 সে আমার প্রভু মহারাজের কাছে আমার বদনামও করেছে। আমার প্রভু মহারাজ এক স্বর্গদূতের মতো মানুষ; তাই আপনার যা ইচ্ছা তাই করুন।
2SA 19:28 আমার ঠাকুরদাদার সব বংশধরই আমার প্রভু মহারাজের কাছ থেকে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার যোগ্য নয়, কিন্তু আপনি সেইসব লোকের মাঝখানে আপনার দাসকে এক স্থান করে দিয়েছেন, যারা আপনার টেবিলে বসে ভোজনপান করে। তাই মহারাজের কাছে আর কোনও আবেদন জানানোর অধিকার কি আমার আছে?”
2SA 19:29 রাজামশাই তাঁকে বললেন, “আর কিছু বলবেই বা কেন? আমি তো তোমাকে ও সীবকে জমি ভাগাভাগি করে নেওয়ার আদেশ দিয়েই দিয়েছি।”
2SA 19:30 মফীবোশৎ রাজাকে বললেন, “এখন যখন আমার প্রভু মহারাজ নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছেন, তখন সেই সবকিছু নিয়ে নিক।”
2SA 19:31 গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ও রোগলীম থেকে রাজার সঙ্গী হয়ে জর্ডন নদী পার করে সেখান থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য নেমে এলেন।
2SA 19:32 বর্সিল্লয় বয়সে বৃদ্ধ ছিলেন, তাঁর বয়স তখন আশি বছর। রাজামশাই যখন মহনয়িমে ছিলেন, তখন বর্সিল্লয় তাঁর জন্য খাবারদাবারের ব্যবস্থা করলেন, কারণ তিনি খুব ধনী লোক ছিলেন।
2SA 19:33 রাজামশাই বর্সিল্লয়কে বললেন, “নদী পার হয়ে আমার সঙ্গে গিয়ে জেরুশালেমে থাকুন, আর আমি আপনার জন্য সব ব্যবস্থা করব।”
2SA 19:34 কিন্তু বর্সিল্লয় রাজাকে উত্তর দিলেন, “আর কয়বছরই বা আমি বাঁচব যে মহারাজের সঙ্গে আমি জেরুশালেমে গিয়ে থাকব?
2SA 19:35 আমার বয়স এখন আশি বছর। কী উপভোগ্য আর কী নয়, তার পার্থক্য কি এখন আমি করতে পারি? আপনার এই দাস কি খাদ্য বা পানীয়র স্বাদ বুঝতে পারে? আমি কি এখন আর গায়ক ও গায়িকার সুর শুনতে পারি? আপনার এই দাস কেনই বা আমার প্রভু মহারাজের কাছে অতিরিক্ত এক বোঝা হয়ে থাকবে?
2SA 19:36 আপনার এই দাস জর্ডন নদী পার হয়ে অল্প কিছু দূর মহারাজের সঙ্গে যাবে, কিন্তু কেনই বা মহারাজ এভাবে আমাকে পুরস্কৃত করবেন?
2SA 19:37 আপনার দাসকে ফিরে যেতে দিন, যেন আমি আমার নিজের নগরে আমার মা-বাবার কবরের কাছেই মরতে পারি। কিন্তু এই দেখুন আপনার দাস কিম্‌হম। একেই আমার প্রভু মহারাজের সঙ্গে নদী পার হয়ে যেতে দিন। আপনার যা ইচ্ছা, আপনি এর জন্য তাই করুন।”
2SA 19:38 রাজামশাই বললেন, “কিম্‌হম তো আমার সঙ্গে নদী পার হয়ে যাবে, এবং আপনি আমার কাছে যা চান, আমি আপনার জন্য তাই করব।”
2SA 19:39 অতএব সব লোকজন জর্ডন নদী পার হয়ে গেল, এবং পরে রাজা নিজে পার হলেন। রাজা বর্সিল্লয়কে চুম্বন করলেন ও তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলেন, এবং বর্সিল্লয় নিজের ঘরে ফিরে গেলেন।
2SA 19:40 রাজামশাই যখন নদী পার হয়ে গিল্‌গলে গেলেন, কিমহমও তাঁর সঙ্গে নদী পার হল। যিহূদার সৈন্যদলের সমস্ত সৈন্যসামন্ত ও ইস্রায়েলের সৈন্যদলের অর্ধেক সৈন্যসামন্ত রাজামশাইকে নিয়ে এসেছিল।
2SA 19:41 অচিরেই ইস্রায়েলের সব লোকজন রাজার কাছে এসে তাঁকে বলল, “আমাদের ভাইরা, যিহূদার লোকজন কেন মহারাজকে চুরি করে নিয়ে গিয়ে আবার তাঁকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদের তাঁর সব লোকজন সমেত জর্ডন নদী পার করে নিয়ে এসেছে?”
2SA 19:42 যিহূদার সব লোকজন ইস্রায়েলের লোকজনকে বলল, “আমরা এরকম করেছি, কারণ মহারাজ আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তোমরা এতে রাগ করছ কেন? আমরা কি মহারাজের কিছু খেয়েছি? আমরা কি নিজেদের জন্য কিছু নিয়েছি?”
2SA 19:43 তখন ইস্রায়েলের লোকজন যিহূদার লোকজনকে উত্তর দিয়েছিল, “মহারাজের উপর আমাদের দশ ভাগ অধিকার আছে; তাই দাউদের উপর তোমাদের তুলনায় আমাদের বেশি দাবি আছে। তোমরা কেন তবে আমাদের অবজ্ঞার চোখে দেখছ? আমরাই কি প্রথমে আমাদের মহারাজকে ফিরিয়ে আনার কথা বলিনি?” কিন্তু যিহূদার লোকজন তাদের দাবিটি ইস্রায়েলের লোকজনের তুলনায় বেশি জোরালোভাবে পেশ করল।
2SA 20:1 বিখ্রির ছেলে বিন্যামীনীয় শেব নামক এক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। সে শিঙা বাজিয়ে চিৎকার করে বলল, “দাউদে আমাদের কোনও ভাগ নেই, যিশয়ের ছেলেতে কোনও অংশ নেই! হে ইস্রায়েল, প্রত্যেকে যে যার তাঁবুতে ফিরে যাও!”
2SA 20:2 তাই ইস্রায়েলের সব লোকজন দাউদকে ছেড়ে বিখ্রির ছেলে শেবের অনুগামী হল। কিন্তু যিহূদার লোকজন সেই জর্ডন থেকে জেরুশালেম পর্যন্ত তাদের রাজার সাথেই ছিল।
2SA 20:3 দাউদ যখন জেরুশালেমে তাঁর প্রাসাদে ফিরে এলেন, তখন তিনি যাদের সেই প্রাসাদ দেখাশোনা করার জন্য ছেড়ে গেলেন, সেই দশজন উপপত্নীকে এনে এমন একটি বাসায় রেখেছিলেন, যেখানে পাহারা বসানো ছিল। তিনি তাদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্ক রাখেননি। বিধবার মতো, আমৃত্যু তাদের বন্দিদশায় দিন কাটাতে হল।
2SA 20:4 পরে রাজামশাই অমাসাকে বললেন, “যিহূদার লোকজনকে তিনদিনের মধ্যে আমার কাছে আসতে বলো, ও তুমি নিজে এখানে থাকো।”
2SA 20:5 কিন্তু অমাসা যখন যিহূদার লোকজনকে ডাকতে গেলেন, তখন তিনি তাঁর জন্য রাজার নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ের থেকে কিছু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছিলেন।
2SA 20:6 দাউদ অবীশয়কে বললেন, “অবশালোম আমাদের যত না ক্ষতি করল, এখন বিখ্রির ছেলে শেব তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে। তোমার মনিবের লোকজনকে নিয়ে তার পিছু ধাওয়া করো, তা না হলে সে সুরক্ষিত কোনো নগর খুঁজে নিয়ে আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে সেখানে চলে যাবে।”
2SA 20:7 তাই যোয়াবের লোকজন এবং করেথীয়রা ও পলেথীয়রা এবং সব বীর যোদ্ধা অবীশয়ের নেতৃত্বাধীন হয়ে বের হল। বিখ্রির ছেলে শেবের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য তারা জেরুশালেম থেকে কুচকাওয়াজ শুরু করল।
2SA 20:8 তারা যখন গিবিয়োনে বিশাল সেই পাথরটির কাছে ছিল, অমাসা তাদের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। যোয়াবের পরনে ছিল সামরিক পোশাক, এবং তাঁর কোমরে বাঁধা ছিল একটি কোমরবন্ধ, ও সেখানে ঝুলছিল খাপে পোরা একটি ছোরা। তিনি সামনে এগিয়ে গেলে ছোরাটি খাপ থেকে খুলে পড়ে গেল।
2SA 20:9 যোয়াব অমাসাকে বললেন, “ভাই, তুমি কেমন আছ?” পরে যোয়াব ডান হাতে অমাসার দাড়ি টেনে ধরে তাঁকে চুম্বন করতে গেলেন।
2SA 20:10 অমাসা যোয়াবের হাতে থাকা ছোরার কথা খেয়াল করেননি, আর যোয়াব সেটি অমাসার পেটে ঢুকিয়ে দিলেন, ও তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। দ্বিতীয়বার আর যন্ত্রণা করতে হয়নি, অমাসা মারা গেলেন। পরে যোয়াব ও তাঁর ভাই অবীশয় বিখ্রির ছেলে শেবের পশ্চাদ্ধাবন করে গেলেন।
2SA 20:11 যোয়াবের লোকজনের মধ্যে একজন অমাসার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “যে কেউ যোয়াবকে পছন্দ করে, ও দাউদের পক্ষে আছে, সে যোয়াবের অনুগামী হোক!”
2SA 20:12 পথের মাঝখানে অমাসার দেহটি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল, ও সেই লোকটি দেখেছিল, যেসব সৈন্যসামন্ত সেখানে এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। সে যখন বুঝেছিল যে প্রত্যেকেই অমাসার দেহটির কাছে এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সে তাঁর দেহটি পথের মাঝখান থেকে টেনে ক্ষেতে নিয়ে গেল ও সেটির উপর একটি কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিল।
2SA 20:13 অমাসার দেহটি পথ থেকে সরিয়ে ফেলার পর প্রত্যেকেই বিখ্রির ছেলে শেবের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য যোয়াবের সাথে চলে গেল।
2SA 20:14 শেব ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীভুক্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে ও বিখ্রিয়দের গোটা অঞ্চল দিয়ে গিয়ে আবেল-বৈৎমাখায় পৌঁছেছিল, ও বিখ্রিয়রা একত্রিত হয়ে শেবের অনুগামী হল।
2SA 20:15 যোয়াবের সব সৈন্যসামন্ত এসে আবেল বেথ-মাখায় শেবকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল। নগর পর্যন্ত তারা অবরোধকারী এক খাড়া বেষ্টন-পথ তৈরি করল, ও সেটি বাইরের দিকের প্রাচীরে উঠে গেল। তারা যখন প্রাচীর ভেঙে ফেলার জন্য বারবার সেখানে সজোরে যন্ত্রণা করছিল,
2SA 20:16 নগর থেকে একজন বুদ্ধিমতী মহিলা বলে উঠেছিল, “শোনো! শোনো! যোয়াবকে এখানে আসতে বলো, যেন আমি তাঁর সাথে কথা বলতে পারি।”
2SA 20:17 তিনি মহিলাটির দিকে এগিয়ে গেলেন, ও সে জিজ্ঞাসা করল, “আপনিই কি যোয়াব?” “হ্যাঁ, আমিই,” তিনি উত্তর দিলেন। মহিলাটি বলল, “আপনার দাসীর যা বলার আছে, তা একটু শুনুন।” “আমি শুনছি,” তিনি বললেন।
2SA 20:18 সে বলে যাচ্ছিল, “বহুকাল আগে লোকে বলত, ‘আবেলে গিয়ে উত্তরটি জেনে এসো,’ এবং সেভাবেই মামলার নিষ্পত্তি হত।
2SA 20:19 ইস্রায়েলে আমরাই শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বস্ত গোষ্ঠী। আপনি এমন এক নগরকে ধ্বংস করতে চাইছেন, যা ইস্রায়েলে এক মাতৃস্থানীয় নগর। আপনি কেন সদাপ্রভুর উত্তরাধিকার গ্রাস করতে চাইছেন?”
2SA 20:20 “এ কাজ আমার কাছ থেকে দূরে থাকুক!” যোয়াব উত্তর দিলেন, “গ্রাস করার বা ধ্বংস করার বিষয়টি আমার কাছ থেকে দূরে থাকুক!
2SA 20:21 ব্যাপারটি এরকম নয়। ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকা থেকে একজন লোক, বিখ্রির ছেলে শেব—মহারাজের বিরুদ্ধে, দাউদের বিরুদ্ধে হাত উঠিয়েছে। এই একটি লোককে আমার হাতে তুলে দাও, আর আমি নগর ছেড়ে চলে যাব।” মহিলাটি যোয়াবকে বলল, “প্রাচীরের উপর থেকেই তার মুণ্ডুটি আপনার কাছে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।”
2SA 20:22 পরে সেই মহিলাটি তার বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন পরামর্শ নিয়ে সব লোকজনের কাছে গেল, ও তারা বিখ্রির ছেলে শেবের মুণ্ডু কেটে সেটি যোয়াবের কাছে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। তিনি তখন শিঙা বাজিয়েছিলেন, ও তাঁর লোকজন সেই নগরটি ছেড়ে নিজের নিজের বাসায় ফিরে গেল। যোয়াবও জেরুশালেমে রাজার কাছে ফিরে গেলেন।
2SA 20:23 যোয়াব ছিলেন ইস্রায়েলের সমগ্র সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি; যিহোয়াদার ছেলে বনায় ছিলেন করেথীয় ও পলেথীয়দের প্রধান;
2SA 20:24 অদোনীরাম বেগার শ্রমিকদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন; অহীলূদের ছেলে যিহোশাফট ছিলেন লিপিকার;
2SA 20:25 শবা ছিলেন সচিব; সাদোক ও অবিয়াথর ছিলেন যাজক;
2SA 20:26 এবং যায়ীরীয় ঈরা ছিলেন দাউদের ব্যক্তিগত যাজক।
2SA 21:1 দাউদের রাজত্বকালে পরপর তিন বছর দেশে দুর্ভিক্ষ হল; তাই দাউদ সদাপ্রভুর কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। সদাপ্রভু বললেন, “শৌল ও তার পরিবারে রক্তপাতের দোষ আছে বলেই এমনটি হয়েছে; শৌল যেহেতু গিবিয়োনীয়দের হত্যা করেছিল, তাই এমনটি হয়েছে।”
2SA 21:2 রাজামশাই গিবিয়োনীয়দের ডেকে পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললেন। (এদিকে গিবিয়োনীয়রা তো ইস্রায়েল জাতিভুক্ত ছিল না, কিন্তু তারা ছিল ইমোরীয়দের উত্তরজীবী; ইস্রায়েলীরা তাদের রেহাই দেওয়ার বিষয়ে শপথ করল, কিন্তু ইস্রায়েল ও যিহূদার হয়ে উদ্যোগ দেখাতে গিয়ে শৌল তাদের নির্মূল করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন)
2SA 21:3 দাউদ গিবিয়োনীয়দের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি তোমাদের জন্য কী করতে পারি? আমি কীভাবে ক্ষতিপূরণ করব যে তোমরা সদাপ্রভুর উত্তরাধিকারকে আশীর্বাদ করবে?”
2SA 21:4 গিবিয়োনীয়রা তাঁকে উত্তর দিয়েছিল, “শৌল বা তাঁর পরিবারের থেকে রুপো বা সোনা দাবি করার আমাদের কোনও অধিকার নেই, আর না আমাদের এই অধিকার আছে যে আমরা ইস্রায়েলে কাউকে মেরে ফেলতে পারব।” “তোমরা কী চাও, আমি তোমাদের জন্য কী করব?” দাউদ জিজ্ঞাসা করলেন।
2SA 21:5 তারা রাজামশাইকে উত্তর দিয়েছিল, “যিনি আমাদের সংহার করলেন এবং যেন আমরা ধ্বংস হয়ে যাই ও ইস্রায়েলে কোথাও আমাদের কোনও স্থান না থাকে, আমাদের বিরুদ্ধে যিনি এই ষড়যন্ত্র রচনা করলেন,
2SA 21:6 তাঁর পুরুষ বংশধরদের মধ্যে থেকে সাতজনকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক, যেন আমরা তাদের হত্যা করে দেহগুলি সদাপ্রভুর মনোনীত লোক—শৌলের নগর গিবিয়াতে সদাপ্রভুর সামনে প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে পারি।” রাজা তখন বললেন, “আমি তাদের তোমাদের হাতে তুলে দেব।”
2SA 21:7 রাজা দাউদ সদাপ্রভুর সামনে তাঁর ও শৌলের ছেলে যোনাথনের মধ্যে করা শপথের খাতিরে শৌলের নাতি ও যোনাথনের ছেলে মফীবোশৎকে রেহাই দিলেন।
2SA 21:8 কিন্তু রাজামশাই অয়ার মেয়ে রিস্পার গর্ভজাত শৌলের দুই ছেলে অর্মোণি ও মফীবোশৎকে, এবং শৌলের মেয়ে মীখলের সেই পাঁচ ছেলেকে, যাদের সে মহোলাতীয় বর্সিল্লয়ের ছেলে অদ্রীয়েলের জন্য জন্ম দিয়েছিল, তুলে এনেছিলেন।
2SA 21:9 তিনি তাদের গিবিয়োনীয়দের হাতে তুলে দিলেন, এবং তারা তাদের হত্যা করে দেহগুলি সদাপ্রভুর সামনে একটি পাহাড়ের চূড়ায় প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিয়েছিল। সাতজনের প্রত্যেকে একইসাথে মারা গেল; ফসল কাটার দিন আরম্ভ হওয়ামাত্র, যব কাটা মাত্র শুরু হতে চলেছে, ঠিক তখনই তাদের মেরে ফেলা হল।
2SA 21:10 অয়ার মেয়ে রিস্পা একটি বড়ো পাথরের উপর নিজের জন্য একটি চট বিছিয়েছিল। ফসল কাটার দিন শুরু হওয়া থেকে আরম্ভ করে যতদিন না আকাশ থেকে বৃষ্টি এসে সেই দেহগুলি ভিজিয়ে দিয়েছিল, সে না দিনে পাখিদের, না রাতে বুনো পশুদের সেগুলি স্পর্শ করতে দিয়েছিল
2SA 21:11 অয়ার মেয়ে তথা শৌলের উপপত্নী রিস্পা কী করল, তা যখন দাউদকে বলা হল,
2SA 21:12 তখন তিনি গিয়ে যাবেশ-গিলিয়দের নগরবাসীদের কাছ থেকে শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথনের অস্থি নিয়ে এলেন। (ফিলিস্তিনীরা গিলবোয়ে শৌলকে আঘাত করে মেরে ফেলে দেওয়ার পর যখন তাদের দেহগুলি বেথ-শানের খোলা চকে টাঙিয়ে রেখেছিল, তারা সেখান থেকে দেহগুলি চুরি করে এনেছিল)
2SA 21:13 দাউদ সেখান থেকে শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথনের অস্থি জোগাড় করে এনেছিলেন, এবং তাদেরও অস্থি সংগ্রহ করা হল, যাদের হত্যা করে টাঙিয়ে দেওয়া হল।
2SA 21:14 তারা বিন্যামীনের সেলায় শৌলের বাবা কীশের কবরে শৌল ও তাঁর ছেলে যোনাথনের অস্থি কবর দিয়েছিল, এবং সবকিছুই রাজার আদেশমতোই করল। পরেই, ঈশ্বর দেশের জন্য করা প্রার্থনার উত্তর দিলেন।
2SA 21:15 আরও একবার ফিলিস্তিনী ও ইস্রায়েলীদের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেল। দাউদ তাঁর লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নেমে গেলেন, ও তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন
2SA 21:16 ইত্যবসরে রফার বংশধরদের মধ্যে একজন, সেই যিশবী-বনোব, যার বর্শার ফলাটি ব্রোঞ্জের ছিল ও যেটির ওজন ছিল তিনশো শেকল এবং নতুন এক তরোয়ালে যে সুসজ্জিত ছিল, সে বলল দাউদকে সে হত্যা করবে।
2SA 21:17 কিন্তু সরূয়ার ছেলে অবীশয় দাউদকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন; তিনি সেই ফিলিস্তিনীকে আঘাত করে মেরে ফেলেছিলেন। পরে দাউদের লোকজন শপথ করে তাঁকে বলল, “আপনি আর কখনও আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যাবেন না, যেন ইস্রায়েলের প্রদীপ কখনও না নেভে।”
2SA 21:18 কালক্রমে, গোবে ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে তাদের অন্য একটি যুদ্ধ হল। সেই সময় হূশাতীয় সিব্বখয় সেই সফকে হত্যা করল, যে ছিল রফার বংশধরদের মধ্যে একজন।
2SA 21:19 ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে গোবে অন্য একটি যুদ্ধে বেথলেহেমীয় যায়ীরের ছেলে ইলহানন গাতীয় গলিয়াতের সেই ভাইকে হত্যা করল, যার বর্শার হাতলটি ছিল তাঁতির দণ্ডের মতো।
2SA 21:20 গাতে সম্পন্ন অন্য আর একটি যুদ্ধে, এক-একটি হাতে ছয়টি করে ও এক-একটি পায়ে ছয়টি করে, মোট চব্বিশটি আঙুল-বিশিষ্ট দৈত্যাকার একজন লোক যুদ্ধ করছিল। সেও রফারই বংশধর ছিল।
2SA 21:21 সে যখন ইস্রায়েলকে বিদ্রুপের খোঁচা দিয়েছিল, তখন দাউদের ভাই শিমিয়ের ছেলে যোনাথন তাকে হত্যা করল।
2SA 21:22 গাতের এই চারজনই রফার বংশধর ছিল, এবং তারা দাউদ ও তাঁর লোকজনের হাতে মারা গেল।
2SA 22:1 সদাপ্রভু যখন দাউদকে তাঁর সব শত্রুর তথা শৌলের হাত থেকে উদ্ধার করলেন, তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে তিনি এই গানের কথাগুলি গেয়ে উঠেছিলেন।
2SA 22:2 তিনি বললেন: “সদাপ্রভু আমার শৈল, আমার উচ্চদুর্গ ও আমার উদ্ধারকর্তা;
2SA 22:3 আমার ঈশ্বরই আমার শৈল, যাঁতে আমি আশ্রয় নিই, আমার ঢাল ও আমার ত্রাণশৃঙ্গ। তিনিই আমার দুর্গ, আমার আশ্রয়স্থল ও আমার পরিত্রাতা। মারমুখী লোকদের হাত থেকে তুমিই আমাকে রক্ষা করে থাকো।
2SA 22:4 “আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম, যিনি প্রশংসার যোগ্য, এবং শত্রুদের হাত থেকে উদ্ধার পেয়েছি।
2SA 22:5 মৃত্যুর বাঁধন আমাকে আবদ্ধ করেছিল; ধ্বংসের স্রোত আমাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
2SA 22:6 পাতালের বাঁধন আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল; মৃত্যুর ফাঁদ আমার সম্মুখীন হয়েছিল।
2SA 22:7 “সংকটে আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম; আমার ঈশ্বরের কাছে ডাকলাম। তাঁর মন্দির থেকে তিনি আমার গলার স্বর শুনলেন; আমার কান্না তাঁর কানে পৌঁছাল।
2SA 22:8 তখন পৃথিবী টলে উঠল, কেঁপে উঠল, আকাশমণ্ডলের ভিত্তি নড়ে উঠল; কেঁপে উঠল তাঁর ক্রোধের কারণে।
2SA 22:9 তাঁর নাক থেকে ধোঁয়া উঠল; মুখ থেকে গ্রাসকারী আগুন বেরিয়ে এল, জ্বলন্ত কয়লা প্রজ্বলিত হল।
2SA 22:10 তিনি আকাশমণ্ডল ভেদ করলেন ও নেমে এলেন; তাঁর পায়ের তলায় অন্ধকার মেঘ ছিল।
2SA 22:11 করূবের পিঠে চড়ে তিনি উড়ে গেলেন; বাতাসের ডানায় তিনি উড়ে এলেন।
2SA 22:12 তিনি অন্ধকারকে তাঁর চারপাশের আচ্ছাদন করলেন, আকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘ চতুর্দিকে ঘিরে রাখল তাঁকে।
2SA 22:13 তাঁর উপস্থিতির উজ্জ্বলতা থেকে বজ্রপাতে আগুন ফেটে পড়েছিল।
2SA 22:14 আকাশ থেকে সদাপ্রভু বজ্রনাদ করলেন; শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের মাঝে প্রতিধ্বনিত হল পরাৎপরের কণ্ঠস্বর।
2SA 22:15 তিনি তাঁর তির ছুঁড়লেন ও শত্রুদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেন, বজ্রবিদ্যুতের সাথে তাদের পর্যুদস্ত করলেন।
2SA 22:16 সদাপ্রভুর আদেশে তাঁর নাকের নিঃশ্বাসের বিস্ফোরণে, সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হল, আর পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হল।
2SA 22:17 “তিনি আকাশ থেকে হাত বাড়ালেন ও আমাকে ধারণ করলেন; গভীর জলরাশি থেকে আমাকে টেনে তুললেন।
2SA 22:18 আমার শক্তিশালী শত্রুর কবল থেকে তিনি আমাকে রক্ষা করলেন, যারা আমাকে ঘৃণা করত তাদের হাত থেকে, আর তারা আমার জন্য খুবই শক্তিশালী ছিল।
2SA 22:19 আমার বিপদের দিনে তারা আমার মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু সদাপ্রভু আমার সহায় ছিলেন।
2SA 22:20 তিনি আমায় মুক্ত করে এক প্রশস্ত স্থানে আনলেন, তিনি আমায় উদ্ধার করলেন, কারণ তিনি আমাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।
2SA 22:21 “আমার ধার্মিকতা অনুযায়ী সদাপ্রভু আমায় প্রতিফল দিলেন, আমার হাতের পরিচ্ছন্নতা অনুযায়ী আমাকে পুরস্কৃত করলেন।
2SA 22:22 কারণ আমি সদাপ্রভুর নির্দেশিত পথে চলেছি, আমার ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করার অপরাধী আমি নই।
2SA 22:23 তাঁর সব বিধান আমার সামনে রয়েছে, তাঁর আদেশ থেকে আমি কখনও দূরে সরে যাইনি।
2SA 22:24 তাঁর সামনে আমি নিজেকে নির্দোষ রেখেছি আর পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি।
2SA 22:25 যা ন্যায়পরায়ণ তা পালন করার জন্য সদাপ্রভু আমায় পুরস্কার দিয়েছেন, তাঁর দৃষ্টিতে আমার বিশুদ্ধতা দেখে।
2SA 22:26 “যারা বিশ্বস্ত, তাদের প্রতি তুমি বিশ্বস্ত, যারা নির্দোষ, তাদের প্রতি তুমি সিদ্ধ,
2SA 22:27 যারা শুদ্ধ, তাদের প্রতি তুমি শুদ্ধ, কিন্তু যারা কুটিল, তাদের প্রতি তুমি চতুর আচরণ করো।
2SA 22:28 তুমি নম্রকে রক্ষা করো, কিন্তু অহংকারীদের নত করার জন্য তোমার দৃষ্টি তাদের উপর আছে।
2SA 22:29 তুমি, সদাপ্রভু, আমার প্রদীপ; সদাপ্রভু আমার আঁধার আলোতে পরিণত করলেন।
2SA 22:30 তোমার সাহায্যে আমি বিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে পারি; আমার ঈশ্বর সহায় হলে আমি প্রাচীর অতিক্রম করতে পারি।
2SA 22:31 “ঈশ্বরের সমস্ত পথ সিদ্ধ: সদাপ্রভুর বাক্য নিখুঁত; যারা তাঁতে শরণ নেয় তিনি তাদের ঢাল।
2SA 22:32 কারণ সদাপ্রভু ছাড়া আর ঈশ্বর কে আছে? আমাদের ঈশ্বর ছাড়া আর শৈল কে আছে?
2SA 22:33 ঈশ্বর আমায় শক্তি জোগান আর আমার পথ সুরক্ষিত রাখেন।
2SA 22:34 তিনি আমার পা হরিণের পায়ের মতো করেন; উঁচু স্থানে দাঁড়াতে আমাকে সক্ষম করেন।
2SA 22:35 তিনি আমার হাত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত করেন; আমার বাহু পিতলের ধনুক বাঁকাতে পারে।
2SA 22:36 রক্ষাকারী সাহায্য দিয়ে আমার ঢাল গড়েছ; তোমার দেওয়া সাহায্য আমায় মহান করেছে।
2SA 22:37 তুমি আমার চলার পথ প্রশস্ত করেছ, যেন আমার পা পিছলে না যায়।
2SA 22:38 “আমি শত্রুদের পিছনে ধাওয়া করে তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করেছি; তারা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছু হটিনি।
2SA 22:39 আমি তাদের পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ করেছি, যেন তারা আর উঠে দাঁড়াতে না পারে; তারা আমার পায়ের তলায় পতিত হয়েছে।
2SA 22:40 যুদ্ধের জন্য তুমি আমাকে শক্তি দিয়েছ; আমার সামনে আমার বিপক্ষদের তুমি নত করেছ।
2SA 22:41 আমার শত্রুদের তুমি পিছু ফিরে পালাতে বাধ্য করেছ, আর আমি আমার প্রতিপক্ষদের ধ্বংস করেছি।
2SA 22:42 তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছে, কিন্তু কেউ তাদের রক্ষা করেনি, তারা সদাপ্রভুকে ডেকেছে কিন্তু তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেননি।
2SA 22:43 পৃথিবীর ধূলিকণার মতো মিহি করে আমি তাদের গুঁড়ো করেছি; পথের কাদা-মাটির মতো আমি তাদের পিষ্ট করে মাড়িয়েছি।
2SA 22:44 “তুমি আমাকে লোকেদের আক্রমণ থেকে বাঁচিয়েছ; তুমি আমাকে জাতিদের কর্তারূপে তুমি আমায় রক্ষা করেছ। আমার অপরিচিত লোকেরাও এখন আমার সেবা করে,
2SA 22:45 অইহুদিরা আমার সামনে মাথা নত হয়ে থাকে; যে মুহূর্তে তারা আমার আদেশ শোনে, তা পালন করে।
2SA 22:46 তারা সবাই সাহস হারায়; কাঁপতে কাঁপতে তারা তাদের দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।
2SA 22:47 “সদাপ্রভু জীবিত! আমার শৈলের প্রশংসা হোক! আমার ঈশ্বর, আমার শৈল, আমার পরিত্রাতার গৌরব হোক!
2SA 22:48 তিনিই সেই ঈশ্বর যিনি আমার হয়ে প্রতিশোধ নেন, যিনি জাতিদের আমার অধীনস্থ করেন,
2SA 22:49 যিনি শত্রুদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেন। আমার প্রতিপক্ষদের থেকে তুমি আমাকে উন্নত করেছ; মারমুখী লোকের কবল থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করেছ।
2SA 22:50 তাই, হে সদাপ্রভু, আমি জাতিদের মাঝে তোমার প্রশংসা করব; আমি তোমার নামের প্রশংসাগান করব।
2SA 22:51 “তিনি তাঁর রাজাকে মহান বিজয় প্রদান করেন; তাঁর অভিষিক্ত দাউদ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি তিনি চিরকাল তাঁর অবিচল দয়া প্রদর্শন করেন।”
2SA 23:1 এগুলিই হল দাউদের শেষ সময়ে বলা কথা: “যিশয়ের ছেলে দাউদের অনুপ্রাণিত উক্তি, পরাৎপর দ্বারা উন্নত ব্যক্তির এই উক্তি, যাকোবের ঈশ্বর যাঁকে অভিষিক্ত করেছেন, ইস্রায়েলের মধ্যে যিনি মধুর গায়ক:
2SA 23:2 “সদাপ্রভুর আত্মা আমার মাধ্যমে বলেছেন; তাঁর বাক্য আমার কণ্ঠে ছিল।
2SA 23:3 ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন, ইস্রায়েলের পাষাণ-পাথর আমাকে বলেছেন: ‘ন্যায়পরায়ণতায় যখন কেউ প্রজাদের উপর রাজত্ব করে, যখন সে ঈশ্বর ভয়ে শাসন করে,
2SA 23:4 সে সূর্যোদয়ে প্রভাতি আলোর মতো মেঘশূন্য সকালে যা দেখা যায়, বৃষ্টির পরে পাওয়া উজ্জ্বলতার মতো যা দিয়ে মাটিতে ঘাস জন্মায়।’
2SA 23:5 “আমার বংশ যদি ঈশ্বরের কাছে যথাযথ না হত, অবশ্যই তিনি আমার সঙ্গে এক চিরস্থায়ী নিয়ম স্থির করতেন না, যা সবদিক থেকে সুব্যবস্থিত ও সুরক্ষিত; অবশ্যই আমার পরিত্রাণ তিনি সার্থক করতেন না আর আমার প্রত্যেকটি মনোবাঞ্ছা পূরণ করতেন না।
2SA 23:6 কিন্তু দুষ্ট লোকেরা সেইসব কাঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলার যোগ্য, যেগুলি হাত দিয়ে সংগ্রহ করা হয় না।
2SA 23:7 যে কেউ কাঁটা স্পর্শ করে সে লোহার এক যন্ত্র বা এক বর্শাফলক ব্যবহার করে; সেগুলি যেখানে পড়ে থাকে সেখানেই আগুনে ভস্মীভূত হয়।”
2SA 23:8 দাউদের বলবান যোদ্ধাদের নাম এইরকম: তখমোনীয় যোশেব-বশেবৎ, তিনি তিনজনের মধ্যে প্রধান ছিলেন; তিনি 800 জনের বিরুদ্ধে তাঁর বর্শা উত্তোলন করলেন, ও একবারেই তাদের মেরে ফেলেছিলেন।
2SA 23:9 তাঁর পরবর্তীজন ছিলেন অহোহীয় দোদয়ের ছেলে ইলিয়াসর। ফিলিস্তিনীরা যখন পস-দম্মীমে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হল, তখন যারা তাদের বিদ্রুপ করার জন্য দাউদের কাছে ছিলেন, সেই তিনজন বলবান যোদ্ধার মধ্যে তিনিও একজন। পরে ইস্রায়েলীরা পিছিয়ে এসেছিল,
2SA 23:10 কিন্তু ইলীয়াসর ততক্ষণ পর্যন্ত মাটি কামড়ে দাঁড়িয়ে থেকে ফিলিস্তিনীদের যন্ত্রণা করে গেলেন, যতক্ষণ না তাঁর হাত অবশ হয়ে তরোয়ালে জমে গেল। সেদিন সদাপ্রভু মহাবিজয় এনে দিলেন। সৈন্যসামন্তরা ইলিয়াসরের কাছে ফিরে গেল, কিন্তু শুধু মৃতদেহটির সাজপোশাক খুলে ফেলার জন্যই।
2SA 23:11 তাঁর পরবর্তীজন ছিলেন হরারীয় আগির ছেলে শম্ম। মসুর ক্ষেতের কাছে একটি স্থানে যখন ফিলিস্তিনীরা সমবেত হল, তখন ইস্রায়েলী সৈন্যসামন্তরা তাদের কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
2SA 23:12 কিন্তু শম্ম ক্ষেতের মাঝখানে মাটি কামড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি সেটি রক্ষা করলেন ও ফিলিস্তিনীদের আঘাত করে মেরে ফেলেছিলেন, এবং সদাপ্রভু এক মহাবিজয় এনে দিলেন।
2SA 23:13 ফসল কাটার সময়, ত্রিশজন প্রধান যোদ্ধাদের মধ্যে তিনজন অদুল্লম গুহায় দাউদের কাছে এলেন, অন্যদিকে একদল ফিলিস্তিনী রফায়ীম উপত্যকায় শিবির করে বসেছিল।
2SA 23:14 সেই সময় দাউদ দুর্গের মধ্যেই ছিলেন, এবং দুর্গ রক্ষার জন্য মোতায়েন ফিলিস্তিনী সৈন্যদল বেথলেহেমে অবস্থান করছিল।
2SA 23:15 দাউদ তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বলে উঠেছিলেন, “হায়, কেউ যদি আমার জন্য বেথলেহেমের ফটকের কাছে অবস্থিত সেই কুয়ো থেকে একটু জল এনে দিত!”
2SA 23:16 অতএব সেই তিনজন বলবান যোদ্ধা ফিলিস্তিনী সৈন্যশিবির পার করে বেথলেহেমের সিংহদুয়ারের কাছে অবস্থিত কুয়ো থেকে জল তুলে দাউদের কাছে নিয়ে এলেন। কিন্তু তিনি তা পান করতে চাননি; তা না করে, তিনি সেই জল সদাপ্রভুর সামনে ঢেলে দিলেন।
2SA 23:17 “হে সদাপ্রভু, এমন কাজ যেন আমি না করি!” তিনি বললেন। “এ কি সেই লোকদের রক্ত নয়, যারা তাদের প্রাণ বিপন্ন করে গেল?” দাউদ তাই সেই জলপান করেননি। সেই তিনজন বলবান যোদ্ধার এই সেই উজ্জ্বল কীর্তি।
2SA 23:18 সরূয়ার ছেলে, যোয়াবের ভাই অবীশয় সেই তিনজনের মধ্যে প্রধান ছিলেন। তিনি তিনশো জনের বিরুদ্ধে বর্শা তুলেছিলেন ও তাদের হত্যা করলেন, এবং এভাবেই তিনিও সেই তিনজনের মতো বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
2SA 23:19 তাঁকে কি সেই তিনজনের তুলনায় বেশি সম্মান দেওয়া হয়নি? তিনিই তাদের সেনাপতি হলেন, যদিও তাঁকে তাদের মধ্যে ধরা হত না।
2SA 23:20 কব্‌সীলের এক বীর যোদ্ধা, তথা যিহোয়াদার ছেলে বনায় বিশাল সব উজ্জ্বল কীর্তি স্থাপন করলেন। তিনি মোয়াবের অত্যন্ত বলশালী দুই যোদ্ধাকে মেরে ফেলেছিলেন। এছাড়াও একদিন যখন খুব তুষারপাত হচ্ছিল, তখন তিনি একটি গর্তের মধ্যে নেমে গিয়ে একটি সিংহকে মেরে ফেলেছিলেন।
2SA 23:21 এক বিশালদেহী মিশরীয়কেও তিনি আঘাত করে মেরে ফেলেছিলেন। যদিও সেই মিশরীয়র হাতে ছিল একটি বর্শা, বনায় একটি মুগুর নিয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সেই মিশরীয়র হাত থেকে বর্শাটি কেড়ে নিয়ে সেটি দিয়েই তাকে হত্যা করলেন।
2SA 23:22 যিহোয়াদার ছেলে বনায়ের উজ্জ্বল সব কীর্তি এরকমই ছিল; তিনিও সেই তিনজন বলবান যোদ্ধার মতোই বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
2SA 23:23 সেই ত্রিশজনের মধ্যে যে কোনো একজনের তুলনায় তাঁকেই বেশি সম্মান দেওয়া হত, কিন্তু তিনি সেই তিনজনের মধ্যে গণ্য হননি। আর দাউদ তাঁকে তাঁর দেহরক্ষীদের তত্ত্বাবধায়ক করে দিলেন।
2SA 23:24 সেই ত্রিশজনের মধ্যে ছিলেন: যোয়াবের ভাই অসাহেল, বেথলেহেমের অধিবাসী দোদয়ের ছেলে ইলহানন,
2SA 23:25 হরোদীয় শম্ম, হরোদীয় ইলীকা,
2SA 23:26 পল্‌টীয় হেলস, তকোয়ের অধিবাসী ইক্কেশের ছেলে ঈরা,
2SA 23:27 অনাথোতের অধিবাসী অবীয়েষর, হূশাতীয় সিব্বখয়,
2SA 23:28 অহোহীয় সল্‌মন, নটোফাতীয় মহরয়,
2SA 23:29 নটোফাতীয় বানার ছেলে হেলদ, বিন্যামীন প্রদেশে অবস্থিত গিবিয়ার অধিবাসী রীবয়ের ছেলে ইত্তয়,
2SA 23:30 পিরিয়াথোনীয় বনায়, গাশ গিরিখাতের অধিবাসী হিদ্দয়,
2SA 23:31 অর্বতীয় অবি-য়লবোন, বাহরূমীয় অস্‌মাবৎ,
2SA 23:32 শালবোনীয় ইলিয়হবা, যাশেনের ছেলেরা, যোনাথন,
2SA 23:33 যিনি ছিলেন হরারীয় শম্মর ছেলে, হরারীয় সাররের ছেলে অহীয়াম,
2SA 23:34 মাখাতীয় অহসবায়ের ছেলে ইলীফেলট, গীলোনীয় অহীথোফলের ছেলে ইলিয়াম,
2SA 23:35 কর্মিলীয় হিষ্রয়, অর্বীয় পারয়,
2SA 23:36 সোবার অধিবাসী নাথনের ছেলে যিগাল, হগ্রির ছেলে গাদীয় বানী,
2SA 23:37 অম্মোনীয় সেলক, সরূয়ার ছেলে যোয়াবের অস্ত্র বহনকারী বেরোতীয় নহরয়,
2SA 23:38 যিত্রীয় ঈরা, যিত্রীয় গারেব
2SA 23:39 এবং হিত্তীয় ঊরিয়। সবসুদ্ধ মোট সাঁইত্রিশজন ছিল।
2SA 24:1 আরেকবার সদাপ্রভুর ক্রোধ ইস্রায়েলের উপর জ্বলে উঠেছিল, এবং এই বলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে দাউদকে প্ররোচিত করলেন, “যাও, গিয়ে ইস্রায়েল ও যিহূদার জনগণনা করো।”
2SA 24:2 অতএব রাজামশাই যোয়াব ও তাঁর সঙ্গে থাকা সেনাপতিদের বললেন, “দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীর কাছে যাও ও যোদ্ধাদের এক তালিকা তৈরি করো, যেন আমি জানতে পারি তারা সংখ্যায় ঠিক কতজন।”
2SA 24:3 কিন্তু যোয়াব রাজাকে উত্তর দিলেন, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু যেন সৈন্যসামন্তের সংখ্যা একশো গুণ বাড়িয়ে দেন, ও আমার প্রভু মহারাজ যেন স্বচক্ষে তা দেখতে পান। কিন্তু আমার প্রভু মহারাজ কেন এমনটি করতে চাইছেন?”
2SA 24:4 রাজার আদেশে অবশ্য যোয়াব ও সেনাপতিদের কথা নাকচ হয়ে গেল; তাই তারা ইস্রায়েলের যোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করার জন্য রাজার সামনে থেকে চলে গেলেন।
2SA 24:5 জর্ডন নদী পার হওয়ার পর, তারা অরোয়ের কাছে, নগরটির দক্ষিণ দিকের গিরিখাতে শিবির স্থাপন করলেন, এবং পরে গাদের মধ্যে দিয়ে যাসেরে গেলেন।
2SA 24:6 তারা গিলিয়দে ও তহতীম-হদশি এলাকায়, ও সেখান থেকে দান-যান হয়ে ঘুরে সীদোনের দিকে চলে গেলেন।
2SA 24:7 পরে তারা সোরের দুর্গের এবং হিব্বীয় ও কনানীয়দের সব নগরের দিকে চলে গেলেন। সবশেষে, তারা যিহূদার নেগেভে অবস্থিত বের-শেবায় চলে গেলেন।
2SA 24:8 সম্পূর্ণ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসে তারা নয়মাস কুড়ি দিন পর জেরুশালেমে ফিরে এলেন।
2SA 24:9 যোয়াব রাজার কাছে যোদ্ধাদের সংখ্যার বিবরণ দিলেন: ইস্রায়েলে তরোয়াল চালাতে সক্ষম ও সুস্বাস্থের অধিকারী আট লক্ষ, এবং যিহূদায় এরকম পাঁচ লক্ষ লোক ছিল।
2SA 24:10 যোদ্ধাদের সংখ্যা গণনা করার পর দাউদ বিবেকের দংশনে বিদ্ধ হলেন, ও তিনি সদাপ্রভুকে বললেন, “এ কাজ করে আমি মহাপাপ করে ফেলেছি। এখন, হে সদাপ্রভু, আমি মিনতি জানাচ্ছি, তোমার দাসের অপরাধ ক্ষমা করো। আমি মহামূর্খের মতো কাজ করেছি।”
2SA 24:11 পরদিন সকালে দাউদ ঘুম থেকে ওঠার আগেই সদাপ্রভুর বাক্য দাউদের দর্শক ভাববাদী গাদের কাছে উপস্থিত হল:
2SA 24:12 “যাও, দাউদকে গিয়ে বলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমার সামনে তিনটি বিকল্প রাখছি। সেগুলির মধ্যে একটিকে তুমি বেছে নাও, যেন আমি সেটিই তোমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারি।’ ”
2SA 24:13 অতএব গাদ দাউদের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, “আপনার দেশে কি তিন বছর ধরে দুর্ভিক্ষ চলবে? অথবা আপনার শত্রুরা যখন আপনার পশ্চাদ্ধাবন করবে, তখন তিন মাস ধরে আপনি কি তাদের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াবেন? বা আপনার দেশে কি তিন দিন ধরে মহামারি চলবে? তবে এখন এ বিষয়ে ভাবুন ও সিদ্ধান্ত নিন, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকে আমি কী উত্তর দেব।”
2SA 24:14 দাউদ গাদকে বললেন, “আমি খুব বিপদে পড়েছি। সদাপ্রভুর হাতেই পড়া যাক, কারণ তাঁর দয়া সুমহান; তবে আমরা যেন মানুষের হাতে না পড়ি।”
2SA 24:15 অতএব সেদিন সকাল থেকে শুরু করে নিরূপিত সময়ের সমাপ্তি পর্যন্ত সদাপ্রভু ইস্রায়েলে এক মহামারি পাঠালেন, এবং দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত সত্তর হাজার লোক মারা গেল।
2SA 24:16 স্বর্গদূত যখন জেরুশালেম ধ্বংস করার জন্য হাত বাড়িয়েছিলেন, তখন সেই দুর্বিপাকের বিষয়ে সদাপ্রভু দয়ার্দ্র হলেন ও লোকজনকে যিনি যন্ত্রণা দিচ্ছিলেন, সেই স্বর্গদূতকে তিনি বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে! তোমার হাত সরিয়ে নাও।” সদাপ্রভুর দূত তখন যিবূষীয় অরৌণার খামারে ছিলেন।
2SA 24:17 যিনি লোকজনকে আঘাত করছিলেন, সেই স্বর্গদূতকে দাউদ যখন দেখতে পেয়েছিলেন, তখন তিনি সদাপ্রভুকে বললেন, “আমি পাপ করেছি; আমিই, এই পালক, অন্যায় করেছি। এরা তো সব মেষের মতো। এরা কী করেছে? তোমার হাত আমার ও আমার পরিবারের উপরেই এসে পড়ুক।”
2SA 24:18 সেদিনই গাদ দাউদের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, “যান, যিবূষীয় অরৌণার খামারে গিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করুন।”
2SA 24:19 অতএব সদাপ্রভু গাদের মাধ্যমে যে আদেশ দিলেন, তা পালন করতে দাউদ উঠে চলে গেলেন।
2SA 24:20 অরৌণা যখন চোখ তুলে চেয়ে দেখেছিলেন যে রাজামশাই ও তাঁর কর্মচারীরা তাঁর দিকে এগিয়ে আসছেন, তখন তিনি বাইরে গিয়ে মাটিতে উবুড় হয়ে রাজাকে প্রণাম করলেন।
2SA 24:21 অরৌণা বললেন, “আমার প্রভু মহারাজ কেন তাঁর দাসের কাছে এসেছেন?” “তোমার খামারটি কেনার জন্য,” দাউদ উত্তর দিলেন, “যেন আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করতে পারি, ও লোকজনের উপর ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি থেমে যায়।”
2SA 24:22 অরৌণা দাউদকে বললেন, “আমার প্রভু মহারাজের যা ইচ্ছা তাই নিয়ে বলি উৎসর্গ করুন। হোমবলির জন্য এখানে বলদগুলি রাখা আছে, এবং জ্বালানি কাঠের জন্য এখানে শস্য মাড়াই কল ও বলদের জোয়ালও রাখা আছে।
2SA 24:23 হে মহারাজ, অরৌণা এসব কিছুই মহারাজকে দিচ্ছে।” এছাড়াও অরৌণা তাঁকে বললেন, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনাকে গ্রাহ্য করুন।”
2SA 24:24 কিন্তু রাজামশাই অরৌণাকে উত্তর দিলেন, “তা হবে না, আমি অবশ্যই তোমাকে এর দাম দেব। আমি আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে এমন কোনও হোমবলি উৎসর্গ করব না, যার জন্য আমাকে কোনও দাম দিতে হয়নি।” অতএব দাউদ সেই খামারটি ও বলদগুলি কিনে নিয়েছিলেন এবং সেগুলির জন্য পঞ্চাশ শেকল রুপো দাম দিলেন।
2SA 24:25 দাউদ সেখানে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করলেন। তখন সদাপ্রভু দেশের হয়ে করা তাঁর প্রার্থনাটির উত্তর দিলেন, এবং ইস্রায়েলের উপর চলতে থাকা মহামারি থেমে গেল।
1KI 1:1 রাজা দাউদ যখন খুব বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন এমনকি তাঁর শরীর প্রচুর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলেও গরম থাকত না।
1KI 1:2 তাই তাঁর পরিচারকেরা তাঁকে বলল, “মহারাজের সেবা করার ও তাঁর যত্ন নেওয়ার জন্য আমরা একজন অল্পবয়স্ক কুমারী মেয়েকে খুঁজে আনি। সে আপনার পাশে শুয়ে থাকবে, যেন আমাদের প্রভু মহারাজের শরীর গরম থাকে।”
1KI 1:3 পরে তারা ইস্রায়েলের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত সুন্দরী এক যুবতীর খোঁজ করল এবং শূনেমীয়া অবীশগকে পেয়ে তাকে রাজার কাছে নিয়ে এসেছিল।
1KI 1:4 মেয়েটি অপরূপ সুন্দরী ছিল; সে মহারাজের দায়িত্ব নিয়েছিল ও খুব যত্নআত্তি করল, কিন্তু রাজা তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেননি।
1KI 1:5 এদিকে হগীতের ছেলে আদোনিয় আগ বাড়িয়ে বলে বেড়াচ্ছিল, “আমিই রাজা হব।” তাই সে রথ ও ঘোড়া সাজিয়েছিল, ও তার আগে আগে দৌড়ানোর জন্য 50 জন লোক জোগাড় করল।
1KI 1:6 (তার বাবা কখনও এই বলে তাকে তিরস্কার করেননি, “তুমি কেন এরকম আচরণ করছ?” সেও দেখতে খুব সুন্দর ছিল ও অবশালোমের পরেই তার জন্ম হল।)
1KI 1:7 আদোনিয় সরূয়ার ছেলে যোয়াব ও যাজক অবিয়াথরের সঙ্গে আলোচনা করল, এবং তারা তাকে তাদের সমর্থন জানিয়েছিলেন।
1KI 1:8 কিন্তু যাজক সাদোক, যিহোয়াদার ছেলে বনায়, ভাববাদী নাথন, শিমিয়ি ও রেয়ি এবং দাউদের বিশেষ রক্ষীদল আদোনিয়ের সঙ্গে যোগ দেননি।
1KI 1:9 আদোনিয় পরে ঐন-রোগেলের কাছে অবস্থিত সোহেলৎ পাথরে কয়েকটি মেষ, গবাদি পশু ও হৃষ্টপুষ্ট বাছুর বলি দিয়েছিল। সে তার সব ভাইকে, অর্থাৎ রাজার ছেলেদের, ও যিহূদার সব কর্মকর্তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল,
1KI 1:10 কিন্তু সে ভাববাদী নাথনকে বা বনায়কে বা বিশেষ রক্ষীদলকে অথবা তার ভাই শলোমনকে নিমন্ত্রণ জানায়নি।
1KI 1:11 তখন শলোমনের মা বৎশেবাকে নাথন জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি শোনেননি যে হগীতের ছেলে আদোনিয় রাজা হয়েছে, এবং আমাদের মনিব দাউদ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না?
1KI 1:12 তবে এখন, কীভাবে আপনি নিজের ও আপনার ছেলে শলোমনের প্রাণরক্ষা করবেন, সে বিষয়ে আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি।
1KI 1:13 রাজা দাউদের কাছে যান ও তাঁকে গিয়ে বলুন, ‘হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনি কি আপনার দাসীর কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেননি: “তোমার ছেলে শলোমন অবশ্যই আমার পরে রাজা হবে, ও সেই আমার সিংহাসনে বসবে”? তবে আদোনিয় কেন রাজা হল?’
1KI 1:14 মহারাজের সঙ্গে আপনার কথাবার্তা শেষ হওয়ার আগেই আমি সেখানে পৌঁছে যাব ও আপনার বলা কথার সঙ্গে আমার নিজের কথাও যোগ করব।”
1KI 1:15 অতএব বৎশেবা বৃদ্ধ রাজামশাইকে দেখতে তাঁর ঘরে গেলেন। সেখানে তখন শূনেমীয়া অবীশগ তাঁর যত্নআত্তি করছিল।
1KI 1:16 বৎশেবা মহারাজের সামনে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন। “তুমি কী চাও?” রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন।
1KI 1:17 বৎশেবা তাঁকে বললেন, “হে আমার প্রভু, আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে আপনি নিজেই আপনার এই দাসী—আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করলেন: ‘তোমার ছেলে শলোমন আমার পরে রাজা হবে, ও সে আমার সিংহাসনে বসবে।’
1KI 1:18 কিন্তু এখন আদোনিয় রাজা হয়ে গিয়েছে, এবং আপনি, আমার প্রভু মহারাজ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
1KI 1:19 সে প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু, হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ও মেষ বলি দিয়েছে, এবং রাজার ছেলেদের সবাইকে, যাজক অবিয়াথরকে ও সেনাপতি যোয়াবকে নিমন্ত্রণ করেছে, অথচ আপনার দাস শলোমনকে নিমন্ত্রণ করেননি।
1KI 1:20 হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনার পরে আমার প্রভু মহারাজের সিংহাসনে কে বসবে তা জানার জন্য ইস্রায়েলে সবার চোখের দৃষ্টি আপনার উপর স্থির হয়ে আছে।
1KI 1:21 তা না হলে, আমার প্রভু মহারাজ যেই না তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হবেন, আমার সঙ্গে ও আমার ছেলে শলোমনের সঙ্গে তখন অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হবে।”
1KI 1:22 তিনি তখনও রাজার সঙ্গে কথা বলছিলেন, এমন সময় ভাববাদী নাথন সেখানে পৌঁছেছিলেন।
1KI 1:23 রাজামশাইকে বলা হল, “ভাববাদী নাথন এখানে এসেছেন।” অতএব তিনি রাজার সামনে গিয়ে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।
1KI 1:24 নাথন বললেন, “হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনি কি ঘোষণা করেছেন যে আপনার পরে আদোনিয়ই রাজা হবে ও সেই আপনার সিংহাসনে বসবে?
1KI 1:25 আজই সে নিচে নেমে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু, হৃষ্টপুষ্ট বাছুর ও মেষ বলি দিয়েছে। সে রাজার ছেলেদের সবাইকে, সৈন্যদলের সেনাপতিদের ও যাজক অবিয়াথরকে নিমন্ত্রণ করল। ঠিক এই মুহূর্তে তারা তার সঙ্গে বসে ভোজনপান করছে ও বলছে, ‘রাজা আদোনিয় চিরজীবী হোন!’
1KI 1:26 কিন্তু আপনার এই দাস আমাকে, যাজক সাদোককে, ও যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে এবং আপনার দাস শলোমনকে সে নিমন্ত্রণ করেননি।
1KI 1:27 আমার প্রভু মহারাজের পরে তাঁর সিংহাসনে কে বসবে সে বিষয়ে তাঁর দাসদের কিছু না জানিয়ে কি আমার প্রভু মহারাজ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?”
1KI 1:28 তখন রাজা দাউদ বললেন, “বৎশেবাকে ডেকে আনো।” অতএব তিনি রাজার কাছে এসে তাঁর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
1KI 1:29 রাজামশাই তখন একটি শপথ নিয়েছিলেন: “যিনি আমাকে সব বিপত্তি থেকে রক্ষা করেছেন, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,
1KI 1:30 আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে তোমার কাছে যে প্রতিজ্ঞাটি করলাম, সেটি আমি অবশ্যই পালন করব: তোমার ছেলে শলোমনই আমার পরে রাজা হবে, আর আমার স্থানে আমার সিংহাসনে সেই বসবে।”
1KI 1:31 তখন বৎশেবা মাটিতে উবুড় হয়ে রাজামশাইকে প্রণাম করে বললেন, “আমার প্রভু মহারাজ দাউদ, চিরজীবী হোন!”
1KI 1:32 রাজা দাউদ বললেন, “যাজক সাদোক, ভাববাদী নাথন ও যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে ডেকে আনো।” তারা রাজার সামনে আসার পর
1KI 1:33 তিনি তাদের বললেন: “তোমরা তোমাদের মনিবের দাসদের সঙ্গে নাও ও আমার ছেলে শলোমনকে আমার নিজস্ব খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে তাকে নিয়ে গীহোন জলের উৎসে নেমে যাও।
1KI 1:34 সেখানে গিয়ে যাজক সাদোক ও ভাববাদী নাথন তাকে ইস্রায়েলের উপর রাজপদে অভিষিক্ত করুক। তোমরা শিঙা বাজিয়ে চিৎকার করে বোলো, ‘রাজা শলোমন দীর্ঘজীবী হোন!’
1KI 1:35 পরে তোমরা তার সঙ্গে থেকে উপরে উঠে যেয়ো ও সে এসে আমার সিংহাসনে বসে আমার স্থানে রাজত্ব করুক। আমি তাকে ইস্রায়েল ও যিহূদার উপর শাসক নিযুক্ত করলাম।”
1KI 1:36 যিহোয়াদার ছেলে বনায় রাজামশাইকে উত্তর দিলেন, “আমেন! আমার প্রভু মহারাজের ঈশ্বর সদাপ্রভুও এরকমই ঘোষণা করুন।
1KI 1:37 সদাপ্রভু যেমন আমার প্রভু মহারাজের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, তিনি যেন সেভাবেই শলোমনেরও সঙ্গে সঙ্গে থাকেন ও তাঁর সিংহাসন আমার প্রভু মহারাজ দাউদের সিংহাসনের চেয়েও বড়ো করলেন!”
1KI 1:38 অতএব যাজক সাদোক, ভাববাদী নাথন, যিহোয়াদার ছেলে বনায়, করেথীয়রা ও পলেথীয়রা শলোমনকে রাজা দাউদের খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে, তাঁর সমগামী হয়ে তাঁকে গীহোনে নিয়ে গেলেন।
1KI 1:39 যাজক সাদোক পবিত্র তাঁবু থেকে তেলের সেই শিং নিয়ে এসে শলোমনকে অভিষিক্ত করলেন। পরে তারা শিঙা বাজিয়েছিলেন ও সব লোকজন চিৎকার করে উঠেছিল, “রাজা শলোমন দীর্ঘজীবী হোন!”
1KI 1:40 সব লোকজন তাঁর পিছু পিছু বাঁশি বাজিয়ে ও মহানন্দে এমনভাবে ছুটতে শুরু করল, যে সেই শব্দে মাটি কেঁপে উঠেছিল।
1KI 1:41 আদোনিয় ও তার সঙ্গে থাকা সব অতিথি ভোজসভার ভোজনপান প্রায় শেষ করে এসেছে, এমন সময় তারা সেই শব্দ শুনতে পেয়েছিল। শিঙার শব্দ শুনতে পেয়ে যোয়াব জিজ্ঞাসা করলেন, “নগরে কী এত চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছে?”
1KI 1:42 তিনি একথা বলতে না বলতেই যাজক অবিয়াথরের ছেলে যোনাথন সেখানে পৌঁছে গেলেন। আদোনিয় বলল, “আসুন, আসুন। আপনার মতো গুণীজন নিশ্চয় ভালো খবরই নিয়ে এসেছেন।”
1KI 1:43 “একেবারেই না!” যোনাথন আদোনিয়কে উত্তর দিলেন। “আমাদের প্রভু মহারাজ দাউদ শলোমনকে রাজা করেছেন।
1KI 1:44 মহারাজ তাঁর সঙ্গে যাজক সাদোক, ভাববাদী নাথন, যিহোয়াদার ছেলে বনায়, করেথীয় ও পলেথীয়দেরও পাঠালেন, এবং তারা শলোমনকে মহারাজের খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে দিলেন,
1KI 1:45 এবং যাজক সাদোক ও ভাববাদী নাথন গীহোনে তাঁকে রাজপদে অভিষিক্ত করেছেন। সেখান থেকে তারা হর্ষধ্বনি করতে করতে চলে গিয়েছেন, এবং নগরেও তার প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এই চিৎকারই শুনেছ।
1KI 1:46 এছাড়াও, শলোমন রাজসিংহাসনে বসে পড়েছেন।
1KI 1:47 আবার, রাজকর্মচারীরা এই বলে আমাদের প্রভু মহারাজ দাউদকে অভিনন্দন জানাতে এসেছে যে, ‘আপনার ঈশ্বর, শলোমনের নাম আপনার নামের চেয়েও বিখ্যাত করে তুলুন এবং তাঁর সিংহাসন আপনার সিংহাসনের চেয়েও বড়ো করে তুলুন!’ মহারাজ নিজের বিছানাতেই আরাধনা করে
1KI 1:48 বলেছেন, ‘ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, যিনি আজ আমাকে নিজের চোখেই আমার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী দেখে যাওয়ার সুযোগ দিলেন।’ ”
1KI 1:49 একথা শুনে আদোনিয়ের অতিথিরা সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল।
1KI 1:50 কিন্তু আদোনিয় শলোমনের ভয়ে গিয়ে যজ্ঞবেদির শিংগুলি আঁকড়ে জড়িয়ে ধরেছিল।
1KI 1:51 তখন শলোমনকে বলা হল, “আদোনিয় রাজা শলোমনের ভয়ে যজ্ঞবেদির শিংগুলি আঁকড়ে ধরে আছে। সে বলছে, ‘রাজা শলোমন আজ আমার কাছে শপথ করে বলুন যে তিনি তাঁর দাসকে তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করবেন না।’ ”
1KI 1:52 শলোমন উত্তর দিলেন, “সে যদি নিজেকে অনুগত প্রমাণিত করতে পারে, তবে তার মাথার একটি চুলও মাটিতে পড়বে না; কিন্তু যদি তার মধ্যে দুষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তাকে মরতেই হবে।”
1KI 1:53 পরে রাজা শলোমন লোক পাঠালেন, ও তারা তাকে যজ্ঞবেদি থেকে নামিয়ে এনেছিল। আদোনিয় এসে রাজা শলোমনের কাছে নতজানু হল, ও শলোমন বললেন, “তোমার ঘরে ফিরে যাও।”
1KI 2:1 যখন দাউদের মৃত্যুর সময়কাল ঘনিয়ে এসেছিল, তাঁর ছেলে শলোমনকে তিনি তখন কিছু নির্দেশ দিলেন।
1KI 2:2 “পৃথিবীতে সবাই যে পথে যায়, আমিও সেই পথেই যাচ্ছি,” তিনি বললেন। “তাই বলবান হও, একজন পুরুষের মতো আচরণ করো,
1KI 2:3 এবং তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু যা চান, তা লক্ষ্য করো: তাঁর প্রতি বাধ্য হয়ে চলো, আর মোশির বিধানে তাঁর যে হুকুম ও আদেশ, তাঁর বিধান ও বিধিনিয়ম লেখা আছে, তা পালন করো। এরকমটি করো, যেন তুমি যা যা করো ও যেখানে যেখানে যাও, সবেতেই সফল হতে পারো
1KI 2:4 এবং সদাপ্রভু যেন আমার কাছে করা তাঁর সেই প্রতিজ্ঞাটি রক্ষা করতে পারেন: ‘যদি তোমার বংশধররা তাদের জীবনযাপনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারে, ও যদি তারা আমার সামনে তাদের সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বস্ততাপূর্বক চলে, তবে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসার জন্য তোমার কোনও উত্তরাধিকারীর অভাব হবে না।’
1KI 2:5 “এখন তুমি নিজেই তো জানো সরূয়ার ছেলে যোয়াব আমার প্রতি কী করল—ইস্রায়েলী সৈন্যদলের দুই সেনাপতি, নেরের ছেলে অবনের ও যেথরের ছেলে অমাসার প্রতি সে কী করল। সে তাদের হত্যা করল, শান্তির সময়েও সে এমনভাবে তাদের রক্তপাত করল, যেন মনে হয় যুদ্ধেই তা হয়েছে, এবং সেই রক্তে সে তার কোমরের কোমরবন্ধ ও পায়ের চটিজুতো রাঙিয়ে নিয়েছিল।
1KI 2:6 তোমার প্রজ্ঞা অনুসারেই তার মোকাবিলা কোরো, কিন্তু পাকাচুলে তাকে শান্তিতে কবরে যেতে দিয়ো না।
1KI 2:7 “কিন্তু গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের ছেলেদের প্রতি দয়া দেখিয়ো এবং তারা যেন সেইসব লোকজনের মধ্যেই থাকে, যারা তোমার টেবিলে বসে ভোজনপান করবে। আমি যখন তোমার দাদা অবশালোমের কাছ থেকে পালিয়ে গেলাম, তখন তারাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল।
1KI 2:8 “আরও মনে রেখো, তোমার কাছে বহুরীমের অধিবাসী গেরার ছেলে বিন্যামীনীয় শিমিয়ি আছে। যেদিন আমি মহনয়িমে গেলাম, সেদিন সে আমাকে সাংঘাতিক অভিশাপ দিয়েছিল। সে যখন জর্ডন নদীর পারে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, আমি সদাপ্রভুর নামে শপথ করে তাকে বললাম: ‘আমি তরোয়ালের আঘাতে তোমাকে হত্যা করব না।’
1KI 2:9 কিন্তু এখন, তাকে আর নির্দোষ বলে মনে কোরো না। তুমি একজন বিচক্ষণ লোক; তুমি জেনে নিয়ো, তার প্রতি কী করতে হবে। রক্তশুদ্ধ পাকাচুলে তাকে কবরে পাঠিয়ো।”
1KI 2:10 পরে দাউদ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল।
1KI 2:11 তিনি ইস্রায়েলে চল্লিশ বছর—সাত বছর হিব্রোণে ও তেত্রিশ বছর জেরুশালেমে—রাজত্ব করলেন।
1KI 2:12 অতএব শলোমন তাঁর বাবা দাউদের সিংহাসনে বসেছিলেন, ও তাঁর শাসনকাল স্থিতিশীল হল।
1KI 2:13 এদিকে হগীতের ছেলে আদোনিয় শলোমনের মা বৎশেবার কাছে গেল। বৎশেবা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি শান্তিপূর্ণভাবে এসেছ?” সে উত্তর দিয়েছিল, “হ্যাঁ, শান্তিপূর্ণভাবেই এসেছি।”
1KI 2:14 সে আরও বলল, “আপনাকে আমার কিছু বলার আছে।” “তুমি বলতে পারো,” তিনি উত্তর দিলেন।
1KI 2:15 “আপনি তো জানেনই,” সে বলল, “রাজ্যটি আমারই ছিল। ইস্রায়েলে সবাই আমাকেই তাদের রাজারূপে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে গেল, ও রাজ্যটি আমার ভাইয়ের হাতে চলে গিয়েছে; কারণ সদাপ্রভুর দিক থেকেই এটি তার কাছে এসেছে।
1KI 2:16 এখন আমি আপনার কাছে একটি অনুরোধ রাখছি। আমাকে প্রত্যাখ্যান করবেন না।” “তুমি বলতে পারো,” তিনি বললেন।
1KI 2:17 অতএব সে বলে গেল, “দয়া করে রাজা শলোমনকে বলুন—তিনি আপনার কথা অগ্রাহ্য করবেন না—তিনি যেন আমার স্ত্রী হওয়ার জন্য শূনেমীয়া অবীশগকে আমার হাতে তুলে দেন।”
1KI 2:18 “ঠিক আছে,” বৎশেবা উত্তর দিলেন, “আমি তোমার হয়ে রাজার সঙ্গে কথা বলব।”
1KI 2:19 বৎশেবা যখন আদোনিয়ের হয়ে কথা বলার জন্য রাজা শলোমনের কাছে গেলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য রাজা উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁকে প্রণাম করলেন ও নিজের সিংহাসনে বসে পড়েছিলেন। তিনি রাজমাতার জন্য একটি সিংহাসন আনিয়েছিলেন, ও বৎশেবা তাঁর ডানদিকে গিয়ে বসেছিলেন।
1KI 2:20 “তোমার কাছে আমার একটি ছোটো অনুরোধ জানানোর আছে,” তিনি বললেন। “আমাকে প্রত্যাখ্যান কোরো না।” রাজা উত্তর দিলেন, “মা, বলে ফেলো; আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করব না।”
1KI 2:21 অতএব বৎশেবা বললেন, “তোমার দাদা আদোনিয়ের সঙ্গে শূনেমীয়া অবীশগের বিয়ে দিয়ে দাও।”
1KI 2:22 রাজা শলোমন তাঁর মাকে উত্তর দিলেন, “আদোনিয়ের জন্য তুমি কেন শূনেমীয়া অবীশগকে চাইছ? তুমি তো তার জন্য রাজ্যটিও চাইতে পারো—যাই হোক না কেন, সে তো আমার বড়ো দাদা—হ্যাঁ, তার ও যাজক অবিয়াথর ও সরূয়ার ছেলে যোয়াবের জন্যও তো চাইতে পারো!”
1KI 2:23 পরে রাজা শলোমন সদাপ্রভুর নামে দিব্যি করে বললেন: “এই অনুরোধ জানানোর জন্য আদোনিয়কে যদি তার প্রাণ হারাতে না হয়, তবে যেন ঈশ্বর আমাকে কঠোর থেকে কঠোরতর দণ্ড দেন!
1KI 2:24 আর এখন, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি—যিনি আমাকে পাকাপাকিভাবে আমার বাবা দাউদের সিংহাসনে বসিয়েছেন এবং তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারে এক সাম্রাজ্য স্থাপন করেছেন—আজই আদোনিয়কে মেরে ফেলা হবে!”
1KI 2:25 অতএব রাজা শলোমন যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে আদেশ দিলেন, ও তিনি আদোনিয়কে আঘাত করলেন ও সে মারা গেল।
1KI 2:26 যাজক অবিয়াথরকে রাজা বললেন, “আপনি অনাথোতে আপনার ক্ষেতে ফিরে যান। আপনি মরারই যোগ্য, তবে এখন আমি আপনাকে মারছি না, কারণ আমার বাবা দাউদের কাছে থেকে আপনি সার্বভৌম সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি বহন করলেন এবং আমার বাবার সব কষ্টের সাথী হলেন।”
1KI 2:27 অতএব শীলোতে এলির বংশের বিষয়ে সদাপ্রভু যা বলেছিলেন, তা সত্য প্রমাণিত করে শলোমন অবিয়াথরকে যাজক পদ থেকে সরিয়ে দিলেন।
1KI 2:28 এই খবরটি যখন সেই যোয়াবের কাছে পৌঁছেছিল, যিনি অবশালোমের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে শামিল না হলেও আদোনিয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে শামিল হলেন, তখন তিনি সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুতে পালিয়ে গিয়ে যজ্ঞবেদির শিংগুলি আঁকড়ে জড়িয়ে ধরলেন।
1KI 2:29 রাজা শলোমনকে বলা হল যে যোয়াব সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুতে পালিয়ে গিয়েছেন ও যজ্ঞবেদির পাশেই আছেন। তখন শলোমন যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে আদেশ দিলেন, “যাও, তাঁকে গিয়ে আঘাত করো!”
1KI 2:30 অতএব বনায় সদাপ্রভুর আবাস তাঁবুতে ঢুকে যোয়াবকে বললেন, “রাজামশাই বলছেন, ‘বেরিয়ে আসুন!’ ” কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন, “তা হবে না, আমি এখানেই মরব।” বনায় রাজাকে খবর দিলেন, “যোয়াব এভাবেই আমার কথার উত্তর দিয়েছেন।”
1KI 2:31 তখন রাজামশাই বনায়কে আদেশ দিলেন, “তাঁর কথামতোই কাজ করো। তাঁকে আঘাত করে মেরে কবর দিয়ে দাও, ও এভাবেই যোয়াব যে নির্দোষ রক্তপাত করলেন তার দোষ থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে মুক্ত করো।
1KI 2:32 তিনি যে রক্তপাত করলেন, তার প্রতিফল তাঁকে সদাপ্রভুই দেবেন, কারণ আমার বাবা দাউদের অজান্তেই তিনি দুজন মানুষকে আক্রমণ করে তরোয়ালের আঘাতে তাদের মেরে ফেলেছিলেন। তারা দুজনই—নেরের ছেলে, তথা ইস্রায়েলী সৈন্যদলের সেনাপতি অবনের, এবং যেথরের ছেলে, তথা যিহূদা সৈন্যদলের সেনাপতি অমাসা—ভালো লোক ছিলেন এবং তাঁর তুলনায় বেশি সৎ ছিলেন।
1KI 2:33 তাদের রক্তপাতের অপরাধ চিরকাল যেন যোয়াব ও তাঁর বংশধরদের মাথার উপরেই বর্তায়। কিন্তু দাউদ ও তাঁর বংশধরদের, তাঁর পরিবার ও তাঁর সিংহাসনের উপর যেন চিরকাল সদাপ্রভুর শান্তি বিরাজমান থাকে।”
1KI 2:34 অতএব যিহোয়াদার ছেলে বনায় গিয়ে যোয়াবকে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করলেন, এবং তাঁকে গ্রামাঞ্চলে তাঁর ঘরের উঠোনে কবর দেওয়া হল।
1KI 2:35 রাজামশাই যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে যোয়াবের স্থানে সৈন্যদলের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন এবং অবিয়াথরের পরিবর্তে যাজক সাদোককে নিযুক্ত করলেন।
1KI 2:36 পরে রাজামশাই শিমিয়িকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে বললেন, “জেরুশালেমে একটি বাড়ি তৈরি করে সেখানে গিয়ে থাকো, কিন্তু আর কোথাও যেয়ো না।
1KI 2:37 যেদিন তুমি নগর ছেড়ে কিদ্রোণ উপত্যকা পার করবে, সেদিন নিশ্চিত জেনো, তুমি মরবেই মরবে; তোমার রক্তপাতের অপরাধ তোমার মাথাতেই বর্তাবে।”
1KI 2:38 শিমিয়ি রাজাকে উত্তর দিয়েছিল, “আপনি যা বলেছেন, ভালোই বলেছেন। আমার প্রভু মহারাজ যা বলেছেন, আপনার দাস তাই করবে।” আর শিমিয়ি বেশ কিছুকাল জেরুশালেমে থেকে গেল।
1KI 2:39 কিন্তু তিন বছর পর শিমিয়ির দাসদের মধ্যে দুজন দাস, মাখার ছেলে তথা গাতের রাজা আখীশের কাছে পালিয়ে গেল, এবং শিমিয়িকে বলা হল, “তোমার দাসেরা গাতে আছে।”
1KI 2:40 একথা শুনে সে তার গাধার পিঠে জিন চাপিয়ে, তার দাসদের খোঁজে গাতে আখীশের কাছে গেল। অতএব শিমিয়ি গিয়ে গাত থেকে তার দাসদের নিয়ে এসেছিল।
1KI 2:41 শলোমনকে যখন বলা হল যে শিমিয়ি জেরুশালেম থেকে গাতে গিয়ে আবার ফিরেও এসেছে,
1KI 2:42 রাজামশাই শিমিয়িকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে বললেন, “আমি কি সদাপ্রভুর নামে তোমাকে শপথ করাইনি ও সাবধান করে দিইনি, ‘যেদিন তুমি অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য পা বাড়াবে, তুমি নিশ্চিত থেকো, তোমাকে মরতেই হবে’? সেসময় তুমি আমাকে বললে, ‘আপনি যা বলেছেন, ভালোই বলেছেন। আমি এর বাধ্য হব।’
1KI 2:43 তবে কেন তুমি সদাপ্রভুর কাছে করা শপথ রক্ষা করোনি এবং আমার দেওয়া আদেশের বাধ্য হওনি?”
1KI 2:44 রাজামশাই শিমিয়িকে আরও বললেন, “আমার বাবা দাউদের প্রতি তুমি যে অন্যায় করলে তা তো তুমি বিলক্ষণ জানো। এখন সদাপ্রভুই তোমার অন্যায় কাজের প্রতিফল দেবেন।
1KI 2:45 কিন্তু রাজা শলোমন আশীর্বাদধন্য হবেন, এবং সদাপ্রভুর সামনে দাউদের সিংহাসন চিরকাল সুরক্ষিত থাকবে।”
1KI 2:46 পরে রাজামশাই যিহোয়াদার ছেলে বনায়কে আদেশ দিলেন, এবং তিনি বাইরে গিয়ে শিমিয়িকে আঘাত করলেন ও সে মারা গেল। অতএব শলোমনের হাতে রাজ্য সুস্থির হল।
1KI 3:1 শলোমন মিশরের রাজা ফরৌণের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করলেন ও তাঁর মেয়েকে বিয়ে করলেন। তাঁর প্রাসাদ ও সদাপ্রভুর মন্দির এবং জেরুশালেমের চারপাশের প্রাচীর তৈরির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর স্ত্রীকে এনে দাউদ-নগরেই রেখেছিলেন।
1KI 3:2 লোকজন তখনও অবশ্য উঁচু পীঠস্থানগুলিতেই বলি উৎসর্গ করে যাচ্ছিল, কারণ সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে তখনও কোনও মন্দির তৈরি করা হয়নি।
1KI 3:3 শলোমন তাঁর বাবা দাউদের দেওয়া নির্দেশানুসারে চলে সদাপ্রভুর প্রতি তাঁর প্রেম-ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন, এছাড়া অবশ্য তিনি উঁচু পীঠস্থানগুলিতে বলি উৎসর্গ করতেন ও ধূপও পোড়াতেন।
1KI 3:4 রাজামশাই গিবিয়োনে বলি উৎসর্গ করতে গেলেন, কারণ সেটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উঁচু পীঠস্থান, এবং শলোমন সেই যজ্ঞবেদিতে এক হাজার হোমবলি উৎসর্গ করলেন।
1KI 3:5 গিবিয়োনে রাতের বেলায় সদাপ্রভু এক স্বপ্নে শলোমনের কাছে আবির্ভূত হলেন, এবং ঈশ্বর বললেন, “আমার কাছে তোমার যা চাওয়ার আছে তুমি তা চেয়ে নাও।”
1KI 3:6 শলোমন উত্তর দিলেন, “তুমি তো তোমার দাস, আমার বাবা দাউদের প্রতি অসাধারণ দয়া দেখিয়েছো, যেহেতু তিনি তোমার প্রতি বিশ্বস্ত এবং অন্তরে ন্যায়পরায়ণ ও সৎ ছিলেন। তুমি তাঁর প্রতি এই অসাধারণ দয়া দেখিয়েই গিয়েছ ও ঠিক এই দিনটিতেই তাঁর সিংহাসনে বসার জন্য তাঁকে এক ছেলে দিয়েছ।
1KI 3:7 “এখন, হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি আমার বাবা দাউদের স্থানে তোমার এই দাসকে রাজা করেছ। কিন্তু আমি তো ছোটো এক শিশুর মতো ও কীভাবে আমার দায়িত্ব পালন করব, তাও জানি না।
1KI 3:8 তোমার দাস এখানে তোমার সেই মনোনীত লোকজনের মাঝখানেই আছে, যারা এমন এক বিশাল জনতা, যাদের গুনে শেষ করা যায় না।
1KI 3:9 তাই তোমার প্রজাদের পরিচালনা করার ও ভালোমন্দ বিচার করার জন্য তোমার দাসকে দূরদর্শিতাসম্পন্ন এক অন্তঃকরণ দিয়ো। কারণ তোমার এই বিশাল প্রজাদলকে পরিচালনা করার ক্ষমতা কারই বা আছে?”
1KI 3:10 শলোমনকে এই বিষয়টি চাইতে দেখে প্রভু সন্তুষ্ট হলেন।
1KI 3:11 তাই ঈশ্বর তাঁকে বললেন, “যেহেতু তুমি নিজের জন্য দীর্ঘায়ু বা ধনসম্পদ না চেয়ে এই বিষয়টি চেয়েছ, বা তুমি তোমার শত্রুদের মৃত্যু কামনা না করে ন্যায়ের শাসন কায়েম করার জন্য দূরদর্শিতা চেয়েছ,
1KI 3:12 তাই তুমি যা চেয়েছ, আমি তাই করব। আমি তোমাকে সুবিবেচক ও দূরদর্শিতাসম্পন্ন এমন এক অন্তঃকরণ দেব, যেমনটি তোমার আগেও কেউ পায়নি, আর তোমার পরেও কেউ পাবে না।
1KI 3:13 এছাড়াও, আমি তোমাকে সেসবকিছু দেব, যা তুমি চাওনি—ধনসম্পদ ও সম্মানও দেব—যেন তোমার জীবনকালে তোমার সমতুল্য কোনও রাজা না থাকে।
1KI 3:14 আর যদি তুমি আমার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে চলো ও তোমার বাবা দাউদের মতো আমার বিধিনিয়ম ও আদেশগুলি পালন করো, তবে আমি তোমাকে দীর্ঘায়ু দেব।”
1KI 3:15 পরে শলোমন জেগে উঠেছিলেন—আর তিনি অনুভব করলেন যে তা ছিল এক স্বপ্ন। তিনি জেরুশালেমে ফিরে গেলেন, সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করলেন। পরে তিনি তাঁর রাজসভাসদদের জন্য এক ভূরিভোজনের আয়োজন করলেন।
1KI 3:16 এদিকে দুজন বারবনিতা রাজার কাছে এসে তাঁর সামনে দাঁড়িয়েছিল।
1KI 3:17 তাদের মধ্যে একজন বলল, “হে আমার প্রভু, আমায় ক্ষমা করবেন। এই মহিলাটি ও আমি একই বাড়িতে থাকি, ও সে আমার সঙ্গে থাকতে থাকতেই আমার একটি সন্তান হল।
1KI 3:18 আমার সন্তান হওয়ার তিন দিন পর এরও একটি সন্তান হল। আমরা তো একাই ছিলাম; সেই বাড়িতে আর কেউ ছিল না, শুধু আমরা দুজনই ছিলাম।
1KI 3:19 “সেদিন রাতে এই মহিলাটির ছেলে মারা গেল কারণ সে তার উপর শুয়ে পড়েছিল।
1KI 3:20 তাই মাঝরাতে আপনার এই দাসী যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন এ ঘুম থেকে উঠে আমার পাশ থেকে আমার ছেলেকে সরিয়ে নিয়েছিল। এ আমার ছেলেকে নিজের বুকের কাছে রেখে তার মৃত ছেলেকে আমার বুকের কাছে শুইয়ে দিয়েছিল।
1KI 3:21 পরদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে যেই না আমার ছেলেকে দুধ খাওয়াতে গিয়েছি—দেখি সে মরে পড়ে আছে! কিন্তু আমি যখন সকালের আলোয় খুব কাছ থেকে তাকে দেখলাম, তখন বুঝলাম যে এ সেই ছেলে নয় যাকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম।”
1KI 3:22 অন্য মহিলাটি বলে উঠেছিল, “তা নয়! জীবিত ছেলেটি আমার ছেলে; মৃত ছেলেটি তোমার।” কিন্তু প্রথমজন জোর দিয়ে বলল, “তা নয়! মৃত ছেলেটি তোমার; জীবিত ছেলেটি আমার।” আর তারা রাজার সামনেই তর্কাতর্কি শুরু করল।
1KI 3:23 রাজামশাই বললেন, “একজন বলছে, ‘আমার ছেলে জীবিত আর তোমার ছেলে মৃত,’ আবার অন্যজন বলছে, ‘তা নয়! তোমার পুত্র মৃত আর আমার ছেলে জীবিত।’ ”
1KI 3:24 পরে রাজামশাই বললেন, “আমার কাছে একটি তরোয়াল নিয়ে এসো।” তখন তারা রাজার জন্য একটি তরোয়াল নিয়ে এসেছিল।
1KI 3:25 পরে তিনি আদেশ দিলেন: “জীবিত শিশুটিকে দু-টুকরো করে অর্ধেকটা একজনকে ও অর্ধেকটা অন্যজনকে দিয়ে দাও।”
1KI 3:26 যে মহিলাটির ছেলে বেঁচে ছিল, সে ছেলেস্নেহে আকুল হয়ে রাজামশাইকে বলল, “হে আমার প্রভু, দয়া করে জীবিত শিশুটিকে ওর হাতেই তুলে দিন! শিশুটিকে হত্যা করবেন না!” কিন্তু অন্যজন বলল, “একে আমিও পাব না, তুমিও পাবে না। একে দু-টুকরো করে ফেলা হোক!”
1KI 3:27 তখন রাজামশাই তাঁর রায় দিলেন: “জীবিত শিশুটিকে প্রথম মহিলাটির হাতেই তুলে দাও। ওকে হত্যা কোরো না; এই ওর মা।”
1KI 3:28 যখন ইস্রায়েলে সবাই রাজার দেওয়া রায়ের কথা শুনেছিল, তারা রাজাকে সমীহ করতে শুরু করল, কারণ তারা দেখতে পেয়েছিল যে ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার জন্য তাঁর কাছে ঈশ্বরদত্ত সুবিবেচনা আছে।
1KI 4:1 অতএব রাজা শলোমন সমস্ত ইস্রায়েল জুড়ে রাজত্ব করলেন।
1KI 4:2 এরাই ছিলেন তাঁর প্রধান কর্মকর্তা: সাদোকের ছেলে অসরিয় ছিলেন যাজক;
1KI 4:3 শীশার ছেলে ইলীহোরফ ও অহিয় ছিলেন সচিব; অহীলূদের ছেলে যিহোশাফট ছিলেন লিপিকার;
1KI 4:4 যিহোয়াদার ছেলে বনায় ছিলেন প্রধান সেনাপতি; সাদোক ও অবিয়াথর ছিলেন যাজক;
1KI 4:5 নাথনের ছেলে অসরিয় জেলাশাসকদের উপর ভারপ্রাপ্ত ছিলেন; নাথনের ছেলে সাবূদ ছিলেন একজন যাজক ও রাজার পরামর্শদাতা;
1KI 4:6 অহীশার ছিলেন রাজপ্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক; অব্দের ছেলে অদোনীরাম বেগার শ্রমিকদের উপর ভারপ্রাপ্ত ছিলেন।
1KI 4:7 সমস্ত ইস্রায়েলে শলোমন বারোজন জেলাশাসক নিযুক্ত করলেন, যারা রাজা ও রাজপরিবারের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতেন। এক একজনকে বছরে এক এক মাসের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতে হত।
1KI 4:8 এই তাদের নাম: ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলে বিন-হূর;
1KI 4:9 মাকস, শালবীম, বেত-শেমশ ও এলোন-বেথ-হাননে বিন-দেকর;
1KI 4:10 অরুব্বোতে বিন-হেষদ (সোখো ও সমস্ত হেফর প্রদেশ তাঁর অধীনে ছিল);
1KI 4:11 নাফৎ-দোরে বিন-অবীনাদব (শলোমনের মেয়ে টাফতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হল);
1KI 4:12 তানক ও মগিদ্দোতে, এবং সর্তনের কাছাকাছি ও যিষ্রিয়েলের নিচে অবস্থিত বেথ-শানের সমস্ত অঞ্চলে, এবং বৈৎ-শান থেকে যকমিয়াম পার করে আবেল-মহোলা পর্যন্ত অহীলূদের ছেলে বানা;
1KI 4:13 রামোৎ-গিলিয়দে বিন-গেবর (গিলিয়দে মনঃশির ছেলে যায়ীরের গ্রামগুলি, তথা বাশনে অর্গোবের অঞ্চলটি এবং সেখানকার ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি অর্গলসুদ্ধ প্রাচীরবেষ্টিত ষাটটি বড়ো বড়ো নগর তাঁর অধীনে ছিল);
1KI 4:14 মহনয়িমে ইদ্দোর ছেলে অহীনাদব;
1KI 4:15 নপ্তালিতে অহীমাস (তিনি শলোমনের মেয়ে বাসমৎকে বিয়ে করলেন);
1KI 4:16 আশেরে ও বালোতে হূশয়ের ছেলে বানা;
1KI 4:17 ইষাখরে পারূহের ছেলে যিহোশাফট;
1KI 4:18 বিন্যামীনে এলার ছেলে শিমিয়ি;
1KI 4:19 গিলিয়দে ঊরির ছেলে গেবর। (ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের দেশ ও বাশনের রাজা ওগের দেশও তাঁর অধিকারে ছিল) ওই জেলায় তিনিই একমাত্র জেলাশাসক ছিলেন।
1KI 4:20 যিহূদা ও ইস্রায়েলের জনসংখ্যা সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো বহুসংখ্যক ছিল; তারা ভোজন করত, পান করত ও তারা খুশিই ছিল।
1KI 4:21 শলোমন ইউফ্রেটিস নদী থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনীদের দেশ পর্যন্ত, অর্থাৎ একেবারে মিশরের সীমানা পর্যন্ত, সব রাজ্যের উপর শাসন চালাতেন। শলোমন যতদিন বেঁচেছিলেন, এই দেশগুলি তাঁকে কর দিত ও তাঁর শাসনাধীন হয়েই ছিল।
1KI 4:22 শলোমনের দৈনিক খাদ্যসম্ভার ছিল ত্রিশ কোর মিহি ময়দা ও ষাট কোর যবের আটা,
1KI 4:23 গোশালায় জাবনা খাওয়া দশটি গবাদি পশু, বাইরে চরে খাওয়া কুড়িটি গবাদি পশু এবং একশোটি মেষ ও ছাগল, তথা হরিণ, গজলা হরিণ, কৃষ্ণসার হরিণ ও বাছাই করা বড়ো বড়ো কিছু জলচর পাখি।
1KI 4:24 যেহেতু তিনি তিপসহ থেকে গাজা পর্যন্ত ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমদিকের সব রাজ্য শাসন করতেন, তাই সবদিকেই শান্তি বজায় ছিল।
1KI 4:25 শলোমন যতদিন বেঁচেছিলেন, দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত যিহূদা ও ইস্রায়েলে প্রত্যেকে নিজের নিজের দ্রাক্ষাক্ষেতের ও ডুমুর গাছের নিচে নিরাপদে বসবাস করত।
1KI 4:26 শলোমনের কাছে রথের ঘোড়াগুলি রাখার জন্য চার হাজার আস্তাবল, এবং 12,000 ঘোড়া ছিল।
1KI 4:27 জেলাশাসকেরা প্রত্যেকে তাদের নিরূপিত মাসে রাজা শলোমন ও রাজার টেবিলে বসে যারা ভোজনপান করতেন, তাদের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতেন। তারা খেয়াল রাখতেন যেন কোনো কিছুরই অভাব না হয়।
1KI 4:28 রথের ঘোড়া ও অন্যান্য ঘোড়াগুলির জন্য তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ যব ও বিচালিও নির্দিষ্ট স্থানে এনে রাখতেন।
1KI 4:29 ঈশ্বর শলোমনকে প্রজ্ঞা ও প্রচুর পরিমাণে অর্ন্তদৃষ্টি এবং সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো অগাধ বোধবুদ্ধি দিলেন।
1KI 4:30 প্রাচ্যের সব লোকজনের প্রজ্ঞা থেকে, এবং মিশরের সব প্রজ্ঞার তুলনায় শলোমনের প্রজ্ঞা ছিল অসামান্য।
1KI 4:31 তিনি অন্য যে কোনো লোকের, এমনকি ইষ্রাহীয় এথনের চেয়েও বেশি বিচক্ষণ ছিলেন—মাহোলের ছেলে হেমন, কলকোল ও দর্দার চেয়েও বেশি বিচক্ষণ ছিলেন। আর তাঁর সুখ্যাতি পার্শ্ববর্তী সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
1KI 4:32 তিনি তিন হাজার প্রবাদবাক্য বললেন এবং এক হাজার পাঁচটি গানও লিখেছিলেন।
1KI 4:33 লেবাননের দেবদারু থেকে শুরু করে প্রাচীরের গায়ে উৎপন্ন এসোব পর্যন্ত সব গাছপালার বিষয়ে তিনি কথা বললেন। এছাড়াও তিনি পশুদের ও পাখিদের, সরীসৃপদের ও মাছেরও বিষয়ে কথা বললেন।
1KI 4:34 সব দেশ থেকে সেইসব লোকজন শলোমনের প্রজ্ঞার কথা শুনতে আসত, যাদের পৃথিবীর সেইসব রাজা পাঠাতেন, যারা তাঁর প্রজ্ঞার বিষয়ে খবর পেয়েছিলেন।
1KI 5:1 সোরের রাজা হীরম যখন শুনেছিলেন যে শলোমন তাঁর বাবার স্থানে রাজপদে অভিষিক্ত হয়েছেন, তখন শলোমনের কাছে তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের পাঠালেন, কারণ দাউদের সঙ্গে সবসময় তাঁর এক সুসম্পর্ক বজায় ছিল।
1KI 5:2 শলোমন হীরমের কাছে এই খবর দিয়ে পাঠালেন:
1KI 5:3 “আপনি জানেন, যেহেতু সবদিক থেকেই আমার বাবা দাউদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হল, তাই যতদিন না সদাপ্রভু তাঁর শত্রুদের তাঁর পদতলে এনেছিলেন, তিনি তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে এক মন্দির নির্মাণ করতে পারেননি।
1KI 5:4 কিন্তু এখন আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু সবদিক থেকেই আমাকে বিশ্রাম দিয়েছেন, এবং এখন আর কোনও প্রতিপক্ষ বা দুর্বিপাক নেই।
1KI 5:5 তাই আমি সংকল্প করেছি, সদাপ্রভু আমার বাবা দাউদকে যা বললেন, সেই অনুসারেই আমি আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে একটি মন্দির নির্মাণ করব। কারণ সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, ‘যাকে আমি তোমার স্থানে সিংহাসনে বসাব, তোমার সেই ছেলেই আমার নামের উদ্দেশে মন্দির নির্মাণ করবে।’
1KI 5:6 “তাই আদেশ দিন, যেন আমার জন্য লেবাননের দেবদারু গাছগুলি কাটা হয়। আমার লোকজন আপনার লোকজনের সঙ্গে থেকে কাজ করবে, এবং আপনার ঠিক করে দেওয়া বেতনই আমি আপনার লোকজনকে দেব। আপনি তো জানেনই যে সীদোনীয়দের মতো আমাদের কাছে কাঠ কাটার কাজে এত নিপুণ কোনও লোক নেই।”
1KI 5:7 শলোমনের কাছ থেকে এই খবর পেয়ে হীরম খুব খুশি হয়ে বললেন, “আজ সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ তিনি দাউদকে এই বিশাল দেশটি শাসন করার জন্য বিচক্ষণ এক ছেলে দিয়েছেন।”
1KI 5:8 তাই হীরম শলোমনের কাছে এই খবর পাঠালেন: “আপনি আমায় যে খবর পাঠিয়েছেন, তা আমি পেয়েছি এবং দেবদারু ও চিরহরিৎ গাছের কাঠ জোগানোর সম্বন্ধে আপনি আমার কাছে যা যা চেয়েছেন, আমি সেসবকিছু করব।
1KI 5:9 আমার লোকজন লেবানন থেকে সেগুলি ভূমধ্যসাগরে টেনে নামাবে, এবং আমি সমুদ্রের জলে সেগুলি ভেলার মতো করে ভাসিয়ে ঠিক সেখানেই পৌঁছে দেব, আপনি যে স্থানটি নির্দিষ্ট করে দেবেন। সেখানে আমি সেগুলির বাঁধন খুলিয়ে দেব এবং আপনাকেও আমার রাজপরিবারের জন্য খাবারদাবারের জোগান দেওয়ার মাধ্যমে আমার ইচ্ছা পূরণ করতে হবে।”
1KI 5:10 এইভাবে হীরম শলোমনের চাহিদানুসারে তাঁকে দেবদারু ও চিরহরিৎ গাছের কাঠ সরবরাহ করে যাচ্ছিলেন,
1KI 5:11 এবং শলোমন হীরমের পরিবারের জন্য খাদ্যসম্ভাররূপে 20,000 বাত মাড়াই করা জলপাই তেলের পাশাপাশি 20,000 কোর গম তাঁকে দিলেন। বছরের পর বছর শলোমন হীরমের জন্য এমনটি করে গেলেন।
1KI 5:12 সদাপ্রভু তাঁর নিজের করা প্রতিজ্ঞানুসারে শলোমনকে সুবিবেচনা দিলেন। হীরম ও শলোমনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, এবং তারা দুজন এক চুক্তি স্বাক্ষরিত করলেন।
1KI 5:13 রাজা শলোমন সমস্ত ইস্রায়েল থেকে ত্রিশ হাজার লোককে বাধ্যতামূলকভাবে কাজে লাগালেন।
1KI 5:14 প্রতি মাসে পালা করে দশ-দশ হাজার লোককে তিনি লেবাননে পাঠাতেন, ফলস্বরূপ এক মাস তারা লেবাননে ও দুই মাস ঘরে কাটাত। অদোনীরাম বেগার শ্রমিকদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
1KI 5:15 শলোমনের কাছে সত্তর হাজার ভারবহনকারী ও পাহাড়ে আশি হাজার পাথর ভাঙার লোক ছিল,
1KI 5:16 এছাড়াও শলোমনের 33,000 সর্দার-শ্রমিকও ছিল, যারা প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করত ও শ্রমিকদের পরিচালনা করত।
1KI 5:17 রাজার আদেশে তারা পাথর খাদান থেকে উৎকৃষ্ট মানের বড়ো বড়ো পাথরের চাঙড় কেটে তুলত, যা দিয়ে মন্দিরের জন্য আকর্ষণীয় ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি হতে যাচ্ছিল।
1KI 5:18 শলোমনের ও হীরমের কারিগররা এবং গিব্‌লীয় শ্রমিকেরা মন্দির নির্মাণের জন্য কাঠ ও পাথর কেটে সেগুলি তৈরি করে রাখত।
1KI 6:1 ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর 480 তম বছরে, ইস্রায়েলের উপর শলোমনের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, বছরের দ্বিতীয় মাসে, অর্থাৎ সিব মাসে তিনি সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করতে শুরু করলেন।
1KI 6:2 যে মন্দিরটি রাজা শলোমন নির্মাণ করলেন, সেটি প্রায় সাতাশ মিটার লম্বা, নয় মিটার চওড়া ও চোদ্দো মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হল।
1KI 6:3 সেই মন্দিরের মূল ঘরের সামনের দিকের দ্বারমণ্ডপটি মন্দিরের প্রস্থের মাপ নয় মিটার বাড়িয়ে দিয়েছিল, এবং মন্দিরের সামনের দিকের মাপ প্রায় সাড়ে-চার মিটার বাড়িয়ে দিয়েছিল।
1KI 6:4 মন্দিরের দেয়ালের উপরদিকে তিনি কয়েকটি জানালা তৈরি করলেন।
1KI 6:5 মূল ঘরের দেয়ালগুলির ও ভিতরদিকের পবিত্রস্থানের গা ঘেঁসে তিনি ভবনটির চারপাশে এমন একটি কাঠামো গড়েছিলেন, যেটিতে কয়েকটি পার্শ্ব-ঘর ছিল।
1KI 6:6 সবচেয়ে নিচের তলাটি ছিল প্রায় 2.3 মিটার চওড়া, মাঝের তলাটি প্রায় 2.7 মিটার ও তৃতীয় তলাটি প্রায় 3.2 মিটার চওড়া ছিল। তিনি মন্দিরের বাইরে চারপাশে ভারসাম্য বজায়কারী সরু তাক তৈরি করলেন, যেন আর অন্য কোনো কিছু মন্দিরের দেয়ালে গাঁথা না যায়।
1KI 6:7 মন্দির নির্মাণের সময় শুধুমাত্র পাথর খাদানে কেটেকুটে প্রস্তুত করা পাথরের চাঙড়ই ব্যবহার করা হল, এবং মন্দির নির্মাণস্থলে সেটি গড়ে ওঠার সময় কোনও হাতুড়ি, ছেনি বা লোহার অন্য কোনও যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা যায়নি।
1KI 6:8 সবচেয়ে নিচের তলার প্রবেশদ্বারটি ছিল মন্দিরের দক্ষিণ দিকে; সেখান থেকে একটি সিঁড়ি মাঝের তলা হয়ে তৃতীয় তলায় উঠে গেল।
1KI 6:9 এইভাবে তিনি কড়িকাঠ ও দেবদারু কাঠের তক্তা দিয়ে মন্দিরের ছাদ বানিয়ে সেটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করলেন।
1KI 6:10 তিনি মন্দিরের দৈর্ঘ্য বরাবর কয়েকটি পার্শ্ব-ঘর তৈরি করলেন। প্রত্যেকটির উচ্চতা ছিল পাঁচ হাত, এবং সেগুলি দেবদারু কাঠের কড়িকাঠ দিয়ে মন্দিরের সাথে জুড়ে দেওয়া হল।
1KI 6:11 সদাপ্রভুর এই বাক্য শলোমনের কাছে এসেছিল:
1KI 6:12 “তুমি যদি আমার বিধিবিধান অনুসরণ করো, আমার নিয়মকানুন পালন করো ও আমার আদেশগুলি মেনে সেগুলির বাধ্য হও, তবে তোমার তৈরি করা এই মন্দিরের বিষয়ে আমি তোমার বাবা দাউদের কাছে যে প্রতিজ্ঞাটি করলাম, তা তোমার মাধ্যমেই আমি পূরণ করব।
1KI 6:13 আর আমি ইস্রায়েলীদের মাঝখানে বসবাস করব ও আমার প্রজা ইস্রায়েলকে ত্যাগ করব না।”
1KI 6:14 অতএব শলোমন মন্দির নির্মাণ করে সেটি সম্পূর্ণ করলেন।
1KI 6:15 তিনি মন্দিরের ভিতরদিকের দেয়ালগুলি দেবদারু কাঠের তক্তা দিয়ে মুড়ে দিলেন, মন্দিরের মেঝে থেকে ছাদের ভিতরের দিক পর্যন্ত দেয়ালে খুপি তৈরি করে দিলেন, এবং মন্দিরের মেঝেটি চিরহরিৎ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দিলেন।
1KI 6:16 মন্দিরের ভিতরে এক অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থান অর্থাৎ মহাপবিত্র স্থান গড়ার জন্য তিনি মন্দিরের মধ্যেই পিছন দিকে দেবদারু তক্তা দিয়ে কুড়ি হাত এলাকা আলাদা করে দিলেন।
1KI 6:17 এই ঘরটির সামনের দিকের মূল ঘরটি ছিল দৈর্ঘ্যে প্রায় 18 মিটার।
1KI 6:18 মন্দিরের ভিতরদিকে দেবদারু কাঠ খোদাই করে লাউ-এর মতো ফলের ও প্রস্ফুটিত ফুলের আকার গড়ে দেওয়া হল। সেখানে সবকিছুই ছিল দেবদারু কাঠের; কোনো পাথর দেখা যাচ্ছিল না।
1KI 6:19 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি রাখার জন্যই তিনি মন্দিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পবিত্র স্থানটি প্রস্তুত করলেন।
1KI 6:20 অভ্যন্তরীণ পবিত্র স্থানটি ছিল প্রায় 9.2 মিটার করে লম্বা, চওড়া ও উঁচু। ভিতরদিকটি তিনি পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং দেবদারু কাঠের যজ্ঞবেদিটিও তিনি পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
1KI 6:21 শলোমন মন্দিরের ভিতরদিকটিও পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং তিনি সেই অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের সামনের দিক পর্যন্ত সোনার শিকল টেনে নিয়ে গেলেন, যেটি সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল।
1KI 6:22 অতএব তিনি সেই ভবনের ভিতরদিকটি পুরোপুরি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন। এছাড়াও সেই যজ্ঞবেদিটিও তিনি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, যেটি অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের অন্তর্গত ছিল।
1KI 6:23 অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের জন্য তিনি জলপাই কাঠের এক জোড়া করূব তৈরি করলেন, যেগুলির এক একটির উচ্চতা ছিল প্রায় 4.6 মিটার।
1KI 6:24 প্রথম করূবটির একটি ডানার উচ্চতা ছিল প্রায় 2.3 মিটার, ও অন্য ডানাটিরও উচ্চতা ছিল প্রায় 2.3 মিটার—এক ডানার ডগা থেকে অন্য ডানার ডগার দূরত্ব প্রায় 4.6 মিটার।
1KI 6:25 দ্বিতীয় করূবটির মাপ ছিল প্রায় 4.6 মিটার, কারণ দুটি করূবই মাপে ও আকারে সমান ছিল।
1KI 6:26 প্রত্যেকটি করূবের উচ্চতা ছিল প্রায় 4.6 মিটার করে।
1KI 6:27 তিনি করূব দুটি মন্দিরের একদম ভিতরের ঘরে রেখেছিলেন, এবং সে দুটির ডানাগুলি ছড়ানো ছিল। একটি করূবের ডানা একটি দেয়াল ছুঁয়েছিল, আবার অন্য করূবটির ডানা অন্য একটি দেয়াল ছুঁয়েছিল, এবং তাদের ডানাগুলি ঘরের মাঝখানে পরস্পরকে ছুঁয়েছিল।
1KI 6:28 তিনি করূব দুটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
1KI 6:29 ভিতরের ও বাইরের ঘরগুলিতে, মন্দিরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দেয়াল জুড়ে তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
1KI 6:30 এছাড়াও তিনি মন্দিরের ভিতরের ও বাইরের ঘরগুলির মেঝে সোনা দিয়ে ঢেকে দিলেন।
1KI 6:31 অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানে প্রবেশ করার জন্য তিনি জলপাই কাঠের এমন এক জোড়া দরজা তৈরি করলেন যার মাপ পবিত্রস্থানের প্রস্থের এক-পঞ্চমাংশ।
1KI 6:32 আবার জলপাই কাঠের তৈরি দরজার দুটি পাল্লায় তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, এবং করূব ও খেজুর গাছগুলি তিনি সোনার পাত দিয়ে মুড়ে দিলেন।
1KI 6:33 একইরকম ভাবে, মূল ঘরে প্রবেশ করার জন্য তিনি জলপাই কাঠ দিয়ে দরজার এমন চৌকাঠ তৈরি করলেন, যার মাপ ছিল মূল ঘরের প্রস্থের এক-চতুর্থাংশ।
1KI 6:34 এছাড়াও তিনি চিরহরিৎ গাছের কাঠ দিয়ে দরজার এমন দুটি পাল্লা তৈরি করলেন, যেগুলি কব্জা দিয়ে পাক খাওয়ানো যেত।
1KI 6:35 সেগুলির উপর তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এবং খোদাইয়ের কাজের উপর সোনার পাত দিয়ে সমানভাবে সেগুলি মুড়ে দিলেন।
1KI 6:36 আবার কেটেকুটে প্রস্তুত করা পাথরের তিন পর্বে ও দেবদারু কাঠের পরিচ্ছন্ন কড়িকাঠের এক পর্বে তিনি ভিতরদিকের উঠোন তৈরি করলেন।
1KI 6:37 চতুর্থ বছরের সিব মাসে সদাপ্রভুর মন্দিরের ভিত্তিমূল গাঁথা হল।
1KI 6:38 একাদশ বছরের অষ্টম মাসে, অর্থাৎ বূল মাসে মন্দিরের নকশা অনুসারে অনুপুঙ্খভাবে সেটি সম্পূর্ণ হল। সেটি নির্মাণ করার জন্য তিনি সাত সাতটি বছর কাটিয়ে দিলেন।
1KI 7:1 তাঁর প্রাসাদের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে অবশ্য শলোমনের তেরো বছর লেগে গেল।
1KI 7:2 লেবাননের অরণ্যে যে প্রাসাদটি তিনি নির্মাণ করলেন, সেটি দৈর্ঘ্যে ছিল প্রায় 45 মিটার, প্রস্থে প্রায় 23 মিটার ও উচ্চতায় 14 মিটার, এবং দেবদারু কাঠে তৈরি চারটি থাম দেবদারু কাঠেই তৈরি পরিচ্ছন্ন কড়িকাঠগুলি ধরে রেখেছিল।
1KI 7:3 কড়িকাঠের উপরের ছাদ তৈরি হল দেবদারু কাঠে এবং কড়িকাঠগুলি থামের উপর বসানো ছিল—এক এক সারিতে পনেরোটি করে মোট পঁয়তাল্লিশটি কড়িকাঠ ছিল।
1KI 7:4 সেটির জানালাগুলি উপরের দিকে মুখোমুখি তিন তিনটি করে রাখা হল।
1KI 7:5 সব দরজায় আয়তাকার চৌকাঠ ছিল; সামনের দিকে মুখোমুখি সেগুলি তিন তিনটি করে রাখা হল।
1KI 7:6 তিনি প্রায় 23 মিটার লম্বা ও 14 মিটার চওড়া এক স্তম্ভসারি তৈরি করলেন। সেটির সামনের দিকে একটি দ্বারমণ্ডপ ছিল, এবং সেটির সামনের দিকে ছিল কয়েকটি থাম ও একটি ঝুলবারান্দা।
1KI 7:7 তিনি সিংহাসন-দরবার, সেই বিচার-দরবারটি তৈরি করলেন, যেখানে বসে তিনি বিচার করতে যাচ্ছিলেন। সেটি তিনি মেঝে থেকে ছাদের ভিতর দিক পর্যন্ত দেবদারু কাঠ দিয়ে ঢেকে দিলেন।
1KI 7:8 যে প্রাসাদে তিনি থাকতে যাচ্ছিলেন, সেটি সেই একই নকশা অনুসারে বিচার-দরবারের পিছন দিকে তৈরি করা হল। শলোমন যাঁকে বিয়ে করলেন, ফরৌণের সেই মেয়ের জন্যও তিনি এই দরবারটির মতো একটি প্রাসাদ তৈরি করলেন।
1KI 7:9 এইসব ভবন, বাইরে থেকে শুরু করে বড়ো প্রাঙ্গণ পর্যন্ত, এবং ভিত্তি থেকে ছাঁচা পর্যন্ত, মাপ করে কাটা ও ভিতর ও বাইরের দিকে মসৃণ করা উন্নত মানের পাথরের চাঙড় দিয়ে তৈরি করা হল।
1KI 7:10 ভীত গাঁথা হল উন্নত মানের বড়ো বড়ো পাথর দিয়ে, যার কোনো কোনোটির মাপ ছিল প্রায় 4.5 মিটার, আবার কোনো কোনোটির মাপ ছিল প্রায় 3.6 মিটার।
1KI 7:11 উপরেও ছিল মাপ করে কাটা উন্নত মানের পাথর ও দেবদারু কাঠের কড়িকাঠ।
1KI 7:12 বড়ো প্রাঙ্গণটি ঘেরা ছিল তিন সারি পরিচ্ছন্ন পাথর ও দেবদারু কাঠের এক সারি পরিচ্ছন্ন কড়িকাঠ দিয়ে তৈরি এক প্রাচীর দিয়ে, ঠিক যেভাবে দ্বারমণ্ডপ সমেত সদাপ্রভুর মন্দিরের ভিতরদিকের প্রাঙ্গণটি তৈরি হল।
1KI 7:13 রাজা শলোমন লোক পাঠিয়ে সোর থেকে সেই হূরমকে আনিয়েছিলেন,
1KI 7:14 যাঁর মা নপ্তালি গোষ্ঠীভুক্ত এক বিধবা ছিলেন এবং তাঁর বাবা সোরে বসবাসকারী ব্রোঞ্জের কাজে দক্ষ এক শিল্পী ছিলেন। ব্রোঞ্জের সব ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে হূরম প্রজ্ঞা, জ্ঞানবুদ্ধিতে পরিপূর্ণ ছিলেন। তিনি রাজা শলোমনের কাছে এলেন ও তাঁর নিরূপিত সব কাজ করলেন।
1KI 7:15 তিনি ব্রোঞ্জের দুটি থাম ছাঁচে ঢেলে তৈরি করলেন, প্রত্যেকটির উচ্চতা ছিল প্রায় 8.1 মিটার ও পরিধি ছিল প্রায় 5.4 মিটার।
1KI 7:16 এছাড়াও থামের মাথায় রাখার জন্য তিনি ছাঁচে ফেলে ব্রোঞ্জের দুটি স্তম্ভশীর্ষ তৈরি করলেন; প্রত্যেকটি স্তম্ভশীর্ষ উচ্চতায় প্রায় 2.3 মিটার করে ছিল।
1KI 7:17 থামগুলির মাথায় রাখা স্তম্ভশীর্ষগুলি সাজানো হল পরস্পরছেদী জালের মতো বিন্যাসিত একত্রে গাঁথা শিকল দিয়ে, ও প্রত্যেকটি স্তম্ভশীর্ষে ছিল সাতটি করে শিকল।
1KI 7:18 থামের মাথায় রাখা স্তম্ভশীর্ষগুলি সাজানোর জন্য প্রত্যেকটি পরস্পরছেদী জাল ঘিরে দুই দুই সারি করে তিনি ডালিম বানিয়ে দিলেন। প্রত্যেকটি স্তম্ভশীর্ষের জন্য তিনি একই কাজ করলেন।
1KI 7:19 দ্বারমণ্ডপে থামগুলির মাথায় রাখা স্তম্ভশীর্ষগুলি লিলিফুলের মতো দেখতে হল, ও সেগুলির উচ্চতা ছিল প্রায় 1.8 মিটার করে।
1KI 7:20 দুটি থামেরই স্তম্ভশীর্ষে, পরস্পরছেদী জালের পাশে থাকা সরাকৃতি অংশের উপরে চারদিকে সারবাঁধা 200-টি করে ডালিম ছিল।
1KI 7:21 মন্দিরের দ্বারমণ্ডপে তিনি থামগুলি তৈরি করলেন। দক্ষিণ দিকের থামটির নাম তিনি দিলেন যাখীন এবং উত্তর দিকের থামটির নাম দিলেন বোয়স।
1KI 7:22 উপর দিকের স্তম্ভশীর্ষগুলি লিলিফুলের মতো দেখতে হল। আর এভাবেই থামের কাজ সম্পূর্ণ হল।
1KI 7:23 ধাতু ছাঁচে ঢেলে তিনি গোলাকার এমন এক সমুদ্রপাত্র তৈরি করলেন, যা মাপে এক কিনারা থেকে অন্য কিনারা পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে হল প্রায় 4.6 মিটার ও উচ্চতায় হল প্রায় 2.3 মিটার। সেটি ঘিরে মাপা হলে, তা প্রায় 13.8 মিটার হল।
1KI 7:24 কিনারার নিচে, সেটি ঘিরে ছিল প্রতি মিটারে কুড়িটি করে লাউ আকৃতির কয়েকটি ফল। সমুদ্রপাত্রের সাথেই লাউ আকৃতির ফলগুলি এক টুকরোতে দুই দুই সারি করে ছাঁচে ঢেলে তৈরি করা হল।
1KI 7:25 সমুদ্রপাত্রটি বারোটি বলদের উপর দাঁড় করানো ছিল। সেগুলির মধ্যে তিনটি উত্তর দিকে, তিনটি পশ্চিমদিকে, তিনটি দক্ষিণ দিকে ও তিনটি পূর্বদিকে মুখ করে ছিল। সমুদ্রপাত্রটি সেগুলির উপরেই ভর দিয়েছিল, এবং সেগুলির শরীরের পিছনের অংশগুলি কেন্দ্রস্থলের দিকে রাখা ছিল।
1KI 7:26 সেটি প্রায় 7.5 সেন্টিমিটার পুরু ছিল, এবং সেটির কিনারা ছিল একটি পেয়ালার কিনারার মতো, লিলিফুলের মতো। সেটির ধারণক্ষমতা ছিল 2,000 বাত।
1KI 7:27 এছাড়াও তিনি ব্রোঞ্জের দশটি সরণযোগ্য তাক তৈরি করলেন; প্রত্যেকটি প্রায় 1.8 মিটার লম্বা, প্রায় 1.8 মিটার চওড়া ও প্রায় 1.4 মিটার উঁচু।
1KI 7:28 এভাবেই তাকগুলি তৈরি করা হল: সেগুলিতে কিনারাযুক্ত খুপি ছিল, যেগুলি খাড়া খুঁটির সাথে জুড়ে দেওয়া হল।
1KI 7:29 খাড়া খুঁটিগুলির মাঝে থাকা খুপিগুলিতে সিংহ, বলদ ও করূবের আকৃতি খোদাই করা ছিল—আর খাড়া খুঁটিগুলিতেও তা ছিল। সিংহ ও বলদের উপরে ও নিচে পিটানো পাতের মালা গাঁথা ছিল।
1KI 7:30 প্রত্যেকটি তাকে ব্রোঞ্জের চারটি করে চাকা ও ব্রোঞ্জেরই চক্রদণ্ড ছিল, এবং প্রত্যেকটিতে চারটি করে খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক-একটি করে গামলা জাতীয় পাত্র ছিল, যেগুলির প্রতিটি দিকে ছাঁচে ঢেলে মালা গেঁথে দেওয়া হল।
1KI 7:31 তাকের ভিতরদিকে একটি ফাঁক ছিল যেখানে প্রায় পঁয়তাল্লিশ সেন্টিমিটার পুরু গোলাকার একটি খাঁচা ছিল। এই ফাঁকটি ছিল গোল, ও এটির ভিতের কাজ সমেত এটি মাপে ছিল প্রায় আটষট্টি সেন্টিমিটার। সেটির ফাঁক ঘিরে করা হল খোদাইয়ের কাজ। তাকের খুপিগুলি গোল নয়, কিন্তু চৌকো ছিল।
1KI 7:32 চারটি চাকা রাখা ছিল খুপিগুলির নিচে, এবং চাকাগুলির চক্রদণ্ডগুলি তাকের সাথে জুড়ে দেওয়া হল। প্রত্যেকটি চাকার ব্যাস ছিল প্রায় আটষট্টি সেন্টিমিটার করে।
1KI 7:33 চাকাগুলি, রথের চাকার মতো করে তৈরি করা হল; চক্রদণ্ড, চক্রবেড়, চাকার পাখি ও চক্রনাভিগুলি সব ছাঁচে ঢেলে ধাতু দিয়ে তৈরি করা হল।
1KI 7:34 প্রত্যেকটি তাকে চারটি করে হাতল ছিল, তাক থেকে এক-একটি হাতল এক এক প্রান্তে বের হয়েছিল।
1KI 7:35 তাকের মাথায় প্রায় তেইশ সেন্টিমিটার গভীর গোলাকার একটি বেড়ী ছিল। খুঁটি ও খুপিগুলি তাকের মাথায় জুড়ে দেওয়া হল।
1KI 7:36 যেখানে যেখানে ফাঁকা স্থান ছিল, খুঁটি ও খুপিগুলির গায়ে চারদিক ঘিরে গাঁথা মালা সমেত তিনি করূব, সিংহ ও খেজুর গাছের আকৃতি খোদাই করে দিলেন।
1KI 7:37 এভাবেই তিনি দশটি তাক তৈরি করলেন। সবকটি একই ছাঁচে ঢালাই করা হল এবং মাপে ও আকারে সেগুলি একইরকম হল।
1KI 7:38 পরে তিনি হাত ধোয়ার জন্য ব্রোঞ্জের দশটি গামলা জাতীয় পাত্র তৈরি করলেন, যার প্রত্যেকটিতে চল্লিশ বাত করে জল ধরে রাখা যেত এবং আড়াআড়িভাবে মাপে সেগুলি প্রায় 1.8 মিটার করে ছিল, ও এক-একটি পাত্র সেই দশটি তাকের এক একটির উপর রাখা হল।
1KI 7:39 তিনি পাঁচটি তাক মন্দিরের দক্ষিণ দিকে এবং পাঁচটি উত্তর দিকে রেখেছিলেন। তিনি সমুদ্রপাত্রটি মন্দিরের দক্ষিণ দিকে, একেবারে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে এনে রেখেছিলেন।
1KI 7:40 এছাড়াও তিনি আরও কয়েকটি পাত্র, বেলচা ও জল ছিটানোর বাটিও তৈরি করলেন। অতএব সদাপ্রভুর মন্দিরে রাজা শলোমনের জন্য হূরম যা যা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ করলেন:
1KI 7:41 দুটি স্তম্ভ; স্তম্ভের উপরে বসানোর জন্য গামলার আকারবিশিষ্ট দুটি স্তম্ভশীর্ষ; স্তম্ভের উপরে বসানো গামলার আকারবিশিষ্ট দুটি স্তম্ভশীর্ষ সাজিয়ে তোলার জন্য দুই সারি পরস্পরছেদী জাল;
1KI 7:42 দুই সারি পরস্পরছেদী জালের জন্য 400 ডালিম (স্তম্ভগুলির উপরে বসানো গামলার আকারবিশিষ্ট স্তম্ভশীর্ষ সাজিয়ে তোলার কাজে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি পরস্পরছেদী জালের জন্য দুই সারি করে ডালিম);
1KI 7:43 হাত ধোয়ার দশটি পাত্র সমেত দশটি তাক;
1KI 7:44 সমুদ্রপাত্র ও সেটির নিচে থাকা বারোটি বলদ;
1KI 7:45 অন্যান্য পাত্র, বেলচা ও কয়েকটি জল ছিটানোর বাটি। সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য শলোমনের হয়ে হূরম যা যা তৈরি করলেন, সেসবই তৈরি হল পালিশ করা ব্রোঞ্জ দিয়ে।
1KI 7:46 জর্ডন-সমভূমিতে সুক্কোৎ ও সর্তনের মাঝামাঝি এক স্থানে মাটির ছাঁচে করে রাজা সেগুলি ঢালাই করিয়েছিলেন।
1KI 7:47 সেসব জিনিস পরিমাণে এত বেশি ছিল যে শলোমন সেগুলি ওজন না করেই রেখে দিলেন; ব্রোঞ্জের ওজন ঠিক করা যায়নি।
1KI 7:48 সদাপ্রভুর মন্দিরে যেসব আসবাবপত্রাদি ছিল, শলোমন সেগুলিও তৈরি করিয়েছিলেন: সোনার যজ্ঞবেদি; দর্শন-রুটি রাখার জন্য সোনার টেবিল;
1KI 7:49 খাঁটি সোনার দীপাধার (অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের সামনে পাঁচটি ডানদিকে ও পাঁচটি বাঁদিকে); সোনার ফুলসজ্জা এবং প্রদীপ ও চিমটে;
1KI 7:50 হাত ধোয়ার খাঁটি সোনার পাত্র, পলতে ছাঁটবার যন্ত্র, জল ছিটানোর বাটি, থালা ও ধুনুচি; এবং একদম ভিতরের ঘরের দরজাগুলির, মহাপবিত্র স্থানের, ও এছাড়াও মন্দিরের মূল ঘরের দরজাগুলির জন্য সোনার কব্জা।
1KI 7:51 সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য রাজা শলোমনের করা সব কাজ সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাঁর বাবা দাউদের উৎসর্গ করা জিনিসপত্র—রুপো ও সোনা এবং সব আসবাবপত্রাদি—সেখানে নিয়ে এলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের কোষাগারে সেগুলি রেখে দিলেন।
1KI 8:1 পরে রাজা শলোমন জেরুশালেমে তাঁর কাছে দাউদ-নগর, অর্থাৎ সিয়োন থেকে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসার জন্য ইস্রায়েলের প্রাচীনদের, সমস্ত গোষ্ঠীপতিকে ও ইস্রায়েলী পরিবারের প্রধানদের ডেকে পাঠালেন।
1KI 8:2 ইস্রায়েলীরা সবাই বছরের সপ্তম মাস, এথানীম মাসে উৎসবের সময় রাজা শলোমনের কাছে একত্রিত হল।
1KI 8:3 ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা সবাই পৌঁছে যাওয়ার পর যাজকেরা সিন্দুকটি উঠিয়েছিলেন,
1KI 8:4 এবং তারা সদাপ্রভুর সেই সিন্দুকটি ও সমাগম তাঁবুটি এবং সেখানকার সব পবিত্র আসবাবপত্রাদি নিয়ে এলেন। যাজকেরা ও লেবীয়রা সেগুলি বহন করে এনেছিলেন,
1KI 8:5 আর রাজা শলোমন ও তাঁর কাছে একত্রিত হওয়া ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজ সিন্দুকটির সামনে উপস্থিত হয়ে এত মেষ ও গবাদি পশুবলি দিলেন, যে সেগুলি নথিভুক্ত করে বা গুনে রাখা সম্ভব হয়নি।
1KI 8:6 যাজকেরা পরে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি মন্দিরের ভিতরদিকের পীঠস্থানে, অর্থাৎ মহাপবিত্র স্থানে সেটির জন্য ঠিক করে রাখা স্থানে নিয়ে এলেন, এবং দুটি করূবের ডানার নিচে রেখে দিলেন।
1KI 8:7 করূব দুটি সেই সিন্দুক রাখার স্থানের উপর তাদের ডানা মেলে ধরেছিল এবং সেই সিন্দুক ও সেটির হাতলগুলি আড়াল করে রেখেছিল।
1KI 8:8 সেই হাতলগুলি এত লম্বা ছিল যে বের হয়ে আসা হাতলের শেষপ্রান্তগুলি ভিতরদিকের পীঠস্থানের সামনে থেকে দেখা যেত, কিন্তু পবিত্রস্থানের বাইরে থেকে দেখা যেত না; আর সেগুলি আজও সেখানেই আছে।
1KI 8:9 সেই সিন্দুকে পাথরের সেই দুটি পাথরের ফলক ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যেগুলি ইস্রায়েলীরা মিশর দেশ থেকে বের হয়ে আসার পর সদাপ্রভু তাদের সাথে যেখানে এক নিয়ম স্থাপন করলেন, সেই হোরেবে মোশি সিন্দুকে ভরে রেখেছিলেন।
1KI 8:10 যাজকেরা পবিত্রস্থান থেকে সরে যাওয়ার পর সদাপ্রভুর মন্দিরটি মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
1KI 8:11 এবং সেই মেঘের কারণে যাজকেরা তাদের পরিচর্যা করে উঠতে পারেননি, যেহেতু সদাপ্রভুর প্রতাপে তাঁর মন্দিরটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
1KI 8:12 তখন শলোমন বললেন, “সদাপ্রভু বলেছেন যে তিনি ঘন মেঘের মাঝে বসবাস করবেন;
1KI 8:13 বাস্তবিকই আমি তোমার জন্য এক দর্শনীয় মন্দির তৈরি করেছি, সেটি এমন এক স্থান, যেখানে তুমি চিরকাল বসবাস করবে।”
1KI 8:14 ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজ যখন সেখানে দাঁড়িয়েছিল, রাজামশাই তখন তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাদের আশীর্বাদ করলেন।
1KI 8:15 পরে তিনি বললেন: “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি নিজের হাতে তাঁর সেই প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন, যেটি তিনি নিজের মুখে আমার বাবা দাউদের কাছে করলেন। কারণ তিনি বললেন,
1KI 8:16 ‘যেদিন আমি আমার প্রজা ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমার নামের উদ্দেশে মন্দির নির্মাণের জন্য আমি ইস্রায়েলের গোষ্ঠীভুক্ত কোনও নগর মনোনীত করিনি, কিন্তু আমার প্রজা ইস্রায়েলকে শাসন করার জন্য আমি দাউদকে মনোনীত করেছিলাম।’
1KI 8:17 “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে একটি মন্দির নির্মাণ করার বাসনা আমার বাবা দাউদের অন্তরে ছিল।
1KI 8:18 কিন্তু সদাপ্রভু আমার বাবা দাউদকে বললেন, ‘আমার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করার কথা ভেবে তুমি ভালোই করেছ।
1KI 8:19 তবে, তুমি সেই মন্দির নির্মাণ করবে না, কিন্তু তোমার সেই ছেলে, যে তোমারই রক্তমাংস—সেই আমার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করবে।’
1KI 8:20 “সদাপ্রভু তাঁর করা প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন: আমি আমার বাবা দাউদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি এবং সদাপ্রভুর প্রতিজ্ঞানুসারে এখন আমি ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসেছি, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে আমি মন্দিরটি নির্মাণ করেছি।
1KI 8:21 আমি সেখানে সেই সিন্দুকটির জন্য স্থান করে রেখেছি, যেখানে সদাপ্রভুর সেই নিয়মটি রাখা আছে, যা তিনি মিশর থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের বের করে আনার সময় তাদের সঙ্গে স্থাপন করলেন।”
1KI 8:22 পরে শলোমন ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজের সামনে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে উঠে দাঁড়িয়ে স্বর্গের দিকে তাঁর দু-হাত মেলে ধরলেন
1KI 8:23 এবং বললেন: “হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, উপরে স্বর্গে বা নিচে পৃথিবীতে তোমার মতো আর কোনও ঈশ্বর নেই—যারা সর্বান্তঃকরণে তোমার পথে চলতে থাকে, তোমার সেইসব দাসের প্রতি তুমি তোমার প্রেমের নিয়ম পালন করে থাকো।
1KI 8:24 আমার বাবা, তথা তোমার দাস দাউদের কাছে করা প্রতিজ্ঞাটি তুমি পূরণ করেছ; নিজের মুখেই তুমি সেই প্রতিজ্ঞাটি করলে এবং নিজের হাতেই তুমি তা রক্ষাও করেছ—যেমনটি কি না আজ দেখা যাচ্ছে।
1KI 8:25 “এখন হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাস ও আমার বাবা দাউদের কাছে তোমার করা সেই প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করো। যে প্রতিজ্ঞায় তুমি বললে, ‘শুধু যদি তোমার বংশধরেরা আমার সামনে চলার জন্য একটু সতর্ক হয়ে তোমার মতো বিশ্বস্ততাপূর্বক সবকিছু করে, তবে আমার সামনে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসার জন্য তোমার কোনও উত্তরাধিকারীর অভাব হবে না।’
1KI 8:26 আর এখন, হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আমার বাবা তোমার দাস দাউদের কাছে তুমি যে প্রতিজ্ঞা করলে, তা যেন সত্যি হয়।
1KI 8:27 “কিন্তু ঈশ্বর কি সত্যিই পৃথিবীতে বসবাস করবেন? স্বর্গ, এমন কী সর্বোচ্চ স্বর্গও তোমাকে ধারণ করতে পারে না। তবে আমার নির্মাণ করা এই মন্দিরই বা কীভাবে করবে!
1KI 8:28 তবুও হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাসের প্রার্থনায় ও দয়া লাভের জন্য তার করা আজকের দিনে এই অনুরোধের প্রতি মনোযোগ দাও। তোমার উপস্থিতিতে তোমার এই দাস যে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করছে, তা তুমি শোনো।
1KI 8:29 এই মন্দিরের প্রতি যেন দিনরাত তোমার চোখ খোলা থাকে, যেখানকার বিষয়ে তুমি বললে, ‘আমার নাম সেখানে বজায় থাকবে,’ যেন এই স্থানটির দিকে চেয়ে তোমার দাস যে প্রার্থনা করবে তা তুমি শুনতে পাও।
1KI 8:30 তোমার এই দাস ও তোমার প্রজা ইস্রায়েল যখন এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে তখন তুমি তাদের মিনতি শুনো। স্বর্গ থেকে, তোমার সেই বাসস্থান থেকে তুমি তা শুনো; এবং শুনে তাদের ক্ষমাও কোরো।
1KI 8:31 “যখন কেউ তার প্রতিবেশীর প্রতি কোনও অন্যায় করবে ও তাকে শপথ করতে বলা হবে এবং সে এই মন্দিরে রাখা তোমার এই যজ্ঞবেদির সামনে এসে শপথ করবে,
1KI 8:32 তখন তুমি স্বর্গ থেকে তা শুনে সেইমতোই কাজ কোরো। তোমার দাসদের বিচার কোরো, দোষীকে শাস্তি দিয়ো ও তার কৃতকর্মের ফল তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ো, এবং নিরপরাধের পক্ষসমর্থন করে, তার নিষ্কলুষতা অনুসারে তার প্রতি আচরণ কোরো।
1KI 8:33 “যখন তোমার প্রজা ইস্রায়েল তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে শত্রুর কাছে পরাজিত হয়ে আবার তোমার কাছে ফিরে এসে তোমার নামের গৌরব করবে, ও এই মন্দিরে তোমার কাছে প্রার্থনা ও মিনতি করবে,
1KI 8:34 তখন স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো এবং তাদের সেই দেশে ফিরিয়ে এনো, যেটি তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে।
1KI 8:35 “তোমার প্রজারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে যখন আকাশের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে ও বৃষ্টি হবে না, আর যখন তারা এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে ও তোমার নামের প্রশংসা করবে এবং তুমি যেহেতু তাদের কষ্ট দিয়েছ, তাই তারা তাদের পাপপথ থেকে ফিরে আসবে,
1KI 8:36 তখন স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো ও তোমার দাসদের, তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো। সঠিক জীবনযাপনের পথ তুমি তাদের শিক্ষা দিয়ো, এবং যে দেশটি তুমি তোমার প্রজাদের এক উত্তরাধিকাররূপে দিয়েছ, সেই দেশে তুমি বৃষ্টি পাঠিয়ো।
1KI 8:37 “যখন দেশে দুর্ভিক্ষ বা মহামারি দেখা দেবে, অথবা ফসল ক্ষেতে মড়ক লাগবে বা ছাতারোগ লাগবে, পঙ্গপাল বা ফড়িং হানা দেবে, অথবা শত্রুরা তাদের যে কোনো নগরে তাদের যখন অবরুদ্ধ করে রাখবে, যখন এরকম কোনও বিপত্তি বা রোগজ্বালার প্রকোপ পড়বে,
1KI 8:38 তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মধ্যে কেউ যদি প্রার্থনা বা মিনতি উৎসর্গ করে—তাদের নিজেদের অন্তরের দুর্দশা অনুভব করে এই মন্দিরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়—
1KI 8:39 তবে তখন তুমি স্বর্গ থেকে, তোমার বাসস্থান থেকে তা শুনো। তাদের ক্ষমা কোরো, ও প্রত্যেকের সাথে তাদের কৃতকর্মানুসারে আচরণ কোরো, যেহেতু তুমি তো তাদের অন্তর জানো (কারণ একমাত্র তুমিই প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ের খবর রাখো),
1KI 8:40 যে দেশটি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে, সেখানে যতদিন তারা বেঁচে থাকবে, যেন তোমাকে ভয় করে চলতে পারে।
1KI 8:41 “যে তোমার প্রজা ইস্রায়েলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কোনও বিদেশি
1KI 8:42 তোমার মহানামের ও তোমার পরাক্রমী হাতের এবং তোমার প্রসারিত বাহুর কথা শুনে যখন দূরদেশ থেকে আসবে—তারা যখন এসে এই মন্দিরের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে,
1KI 8:43 তখন তুমি স্বর্গ থেকে, তোমার সেই বাসস্থান থেকে তা শুনো। সেই বিদেশি তোমার কাছে যা চাইবে, তা তাকে দিয়ো, যেন পৃথিবীর সব মানুষজন তোমার নাম জানতে পারে ও তোমাকে ভয় করে, ঠিক যেভাবে তোমার নিজস্ব প্রজা ইস্রায়েল করে এসেছে, এবং তারা যেন এও জানতে পারে যে এই যে ভবনটি আমি তৈরি করেছি, তা তোমার নাম বহন করে চলেছে।
1KI 8:44 “তোমার প্রজারা যখন তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবে, তুমি তাদের যেখানেই পাঠাও না কেন, ও এই যে নগর ও মন্দিরটি আমি তোমার নামের উদ্দেশে নির্মাণ করেছি, সেদিকে চেয়ে তারা সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করবে,
1KI 8:45 তখন তুমি স্বর্গ থেকে তাদের প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, এবং তাদের পক্ষসমর্থন কোরো।
1KI 8:46 “তারা যখন তোমার বিরুদ্ধে পাপ করবে—কারণ এমন কেউ নেই যে পাপ করে না—আর তুমি তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হবে ও তাদেরকে তাদের সেই শত্রুদের হাতে তুলে দেবে, যারা তাদের নিজেদের দেশে বন্দি করে নিয়ে যাবে, তা সে বহুদূরে অথবা কাছেও হতে পারে;
1KI 8:47 এবং সেই দেশে বন্দি জীবন কাটাতে কাটাতে যদি তাদের মন পরিবর্তন হয়, ও তারা অনুতাপ করে ও তাদের সেই বন্দিদশার দেশে থাকতে থাকতেই যদি তারা তোমাকে অনুরোধ জানিয়ে বলে, ‘আমরা পাপ করেছি, আমরা অন্যায় করেছি, দুষ্টতামূলক আচরণ করেছি’;
1KI 8:48 এবং তাদের যে শত্রুরা তাদের বন্দি করল, তাদের সেই দেশে যদি তারা তাদের সব মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তোমার কাছে ফিরে আসে ও তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশটি দিয়েছিলে, সেই দেশের ও তুমি যে নগরটি মনোনীত করলে, সেই নগরটির তথা আমি তোমার নামের উদ্দেশে যে মন্দিরটি নির্মাণ করেছি তার দিকে তাকিয়ে যদি তারা তোমার কাছে প্রার্থনা করে;
1KI 8:49 তবে তুমি তোমার বাসস্থান সেই স্বর্গ থেকে তাদের প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, ও তাদের প্রতি সুবিচার কোরো,
1KI 8:50 এবং তোমার সেই প্রজাদের ক্ষমা কোরো, যারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে; তোমার বিরুদ্ধে করা তাদের সব অপরাধ ক্ষমা কোরো, এবং তাদের বন্দিকারীদের মনে এমন ভাব উৎপন্ন কোরো, যেন তারা তাদের প্রতি দয়া দেখায়;
1KI 8:51 কারণ তারা যে তোমার সেই প্রজা ও উত্তরাধিকার, যাদের তুমি মিশর থেকে, সেই লোহা গলানো চুল্লি থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে।
1KI 8:52 “তোমার চোখ তোমার দাসের মিনতির প্রতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মিনতির প্রতিও খোলা থাকুক, এবং তারা যখনই তোমার কাছে কেঁদে উঠবে, তুমি যেন তা শুনতে পাও।
1KI 8:53 কারণ তুমি তাদের তোমার নিজস্ব উত্তরাধিকার হওয়ার জন্য জগতের সব জাতির মধ্যে থেকে আলাদা করে বেছে নিয়েছ, ঠিক যেভাবে তুমি, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে বের করে আনার সময় তোমার দাস মোশির মাধ্যমে ঘোষণা করলে।”
1KI 8:54 সদাপ্রভুর কাছে এইসব প্রার্থনা ও মিনতি উৎসর্গ করা সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর শলোমন সদাপ্রভুর সেই যজ্ঞবেদির সামনে থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, যেখানে তিনি নতজানু হয়ে স্বর্গের দিকে দু-হাত প্রসারিত করে রেখেছিলেন।
1KI 8:55 তিনি উঠে দাঁড়িয়ে জোর গলায় সমগ্র ইস্রায়েলী জনতাকে আশীর্বাদ করে বললেন:
1KI 8:56 “সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারে তাঁর প্রজা ইস্রায়েলকে বিশ্রাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর দাস মোশির মাধ্যমে যত ভালো ভালো প্রতিজ্ঞা করলেন, তার একটিও ব্যর্থ হয়নি।
1KI 8:57 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেমন আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, তেমনি তিনি আমাদেরও সঙ্গে সঙ্গে থাকুন; তিনি যেন আমাদের না ছাড়েন বা আমাদের পরিত্যাগ না করেন।
1KI 8:58 তাঁর প্রতি বাধ্যতায় চলার জন্য ও তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের যে যে আদেশ, বিধিবিধান ও নিয়মকানুন দিলেন, সেগুলি পালন করার জন্য তিনি যেন আমাদের অন্তর তাঁর প্রতি ফিরিয়ে আনেন।
1KI 8:59 আর আমি সদাপ্রভুর সামনে যে প্রার্থনাটি করেছি তার এক-একটি কথা যেন দিনরাত আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছাকাছি থাকে, যেন তিনি প্রতিদিনের চাহিদা অনুসারে তাঁর দাসের ও তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের প্রতি সুবিচার করলেন,
1KI 8:60 যেন পৃথিবীর সব লোকজন জানতে পারে যে সদাপ্রভুই ঈশ্বর ও তিনি ছাড়া আর কেউ ঈশ্বর নয়।
1KI 8:61 আর তোমাদের অন্তর যেন আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিধিবিধান অনুসারে চলার ও তাঁর আদেশের বাধ্য হওয়ার জন্য তাঁর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত থাকে, যেমনটি এসময় হয়েছে।”
1KI 8:62 পরে রাজামশাই ও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ইস্রায়েলীরা সবাই সদাপ্রভুর সামনে বলি উৎসর্গ করলেন।
1KI 8:63 শলোমন সদাপ্রভুর কাছে এই মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন: 22,000-টি গবাদি পশু ও 1,20,000-টি মেষ ও ছাগল। এইভাবে রাজা ও ইস্রায়েলী সবাই সদাপ্রভুর মন্দিরটি উৎসর্গ করলেন।
1KI 8:64 সেদিনই রাজামশাই সদাপ্রভুর মন্দিরের সামনের দিকের প্রাঙ্গণের মাঝের অংশটুকুও উৎসর্গ করে দিলেন, এবং সেখানে তিনি হোমবলি, শষ্য-বলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের চর্বি উৎসর্গ করলেন, কারণ সদাপ্রভুর সামনে রাখা ব্রোঞ্জের যজ্ঞবেদিটি হোমবলি, শষ্য-বলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের চর্বি ধারণ করার পক্ষে বড়োই ছোটো হয়ে গেল।
1KI 8:65 অতএব শলোমন সেই সময় উৎসব পালন করলেন, এবং তাঁর সাথে সমস্ত ইস্রায়েলও পালন করল—সে এক বিশাল জনতা, হমাতের প্রবেশদ্বার থেকে মিশরের নির্ঝরিণী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার লোকজন সেখানে উপস্থিত হল। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে তারা সাত দিন ও আরও সাত দিন, মোট চোদ্দো দিন ধরে উৎসব উদ্‌যাপন করল।
1KI 8:66 পরদিন তিনি লোকজনকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। তারা রাজামশাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও সদাপ্রভু তাঁর দাস দাউদ ও তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের প্রতি যেসব মঙ্গল করেছেন, তার জন্য খুশিমনে আনন্দ করতে করতে যে যার ঘরে ফিরে গেল।
1KI 9:1 শলোমন যখন সদাপ্রভুর মন্দির ও রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করার কাজ সমাপ্ত করলেন, এবং তাঁর যা যা করার বাসনা ছিল, সেসব অর্জন করে ফেলেছিলেন,
1KI 9:2 সদাপ্রভু তখন দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন, যেভাবে একবার তিনি গিবিয়োনে তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন।
1KI 9:3 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন: “তুমি আমার কাছে যে প্রার্থনা ও মিনতি জানিয়েছ, আমি তা শুনেছি; আমার নাম চিরকালের জন্য তোমার নির্মাণ করা মন্দিরে স্থাপন করে আমি সেটি পবিত্র করে দিয়েছি। আমার চোখের দৃষ্টি ও আমার অন্তর সবসময় সেখানে থাকবে।
1KI 9:4 “আর তোমায় বলছি, তোমার বাবা দাউদের মতো তুমিও যদি আমার সামনে অন্তরের সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সমেত বিশ্বস্ততাপূর্বক চলো, এবং আমি যা যা আদেশ দিয়েছি, সেসব করো ও আমার বিধিবিধান ও নিয়মকানুনগুলি পালন করো,
1KI 9:5 তবে চিরকালের জন্য আমি ইস্রায়েলের উপর তোমার রাজসিংহাসন স্থায়ী করব, ঠিক যেমনটি আমি তোমার বাবা দাউদের কাছে এই কথা বলে প্রতিজ্ঞা করলাম, ‘ইস্রায়েলের সিংহাসনে তোমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য কোনও লোকের অভাব হবে না।’
1KI 9:6 “কিন্তু যদি তুমি বা তোমার বংশধররা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও ও আমি তোমাকে যে যে আদেশ ও বিধিবিধান দিয়েছি, সেগুলি পালন না করো ও অন্যান্য দেবদেবীর সেবা ও আরাধনা করতে থাকো,
1KI 9:7 তবে আমি ইস্রায়েলকে যে দেশ দিয়েছি, সেই দেশ থেকে তাদের উৎখাত করব ও এই যে মন্দিরটি আমি আমার নামের উদ্দেশে পবিত্র করেছি, সেটিও অগ্রাহ্য করব। ইস্রায়েল তখন সব লোকজনের কাছে অবজ্ঞার ও উপহাসের এক পাত্রে পরিণত হবে।
1KI 9:8 এই মন্দিরটি ভাঙা ইটপাথরের এক স্তূপে পরিণত হবে। যারা যারা তখন এখান দিয়ে যাবে, তারা সবাই মর্মাহত হবে, টিটকিরি করবে ও বলবে, ‘সদাপ্রভু কেন এই দেশের ও এই মন্দিরটির প্রতি এমনটি করলেন?’
1KI 9:9 লোকেরা উত্তর দেবে, ‘যেহেতু তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করল, যিনি মিশর থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের বের করে এনেছিলেন, এবং যেহেতু তারা অন্যান্য দেবতাদের সাগ্রহে গ্রহণ করল, ও তাদের আরাধনা ও সেবা করল—তাইতো তিনি তাদের উপর এইসব দুর্বিপাক নিয়ে এসেছেন।’ ”
1KI 9:10 যে কুড়ি বছর ধরে শলোমন এই দুটি ভবন—সদাপ্রভুর মন্দির ও রাজপ্রাসাদ—নির্মাণ করলেন, তা পার হয়ে যাওয়ার পর
1KI 9:11 রাজা শলোমন গালীল প্রদেশের কুড়িটি নগর সোরের রাজা হীরমকে দিলেন, কারণ হীরম তাঁর চাহিদানুসারে যাবতীয় দেবদারু ও চিরহরিৎ কাঠ এবং সোনাদানা সরবরাহ করলেন।
1KI 9:12 কিন্তু যে নগরগুলি শলোমন হীরমকে দিলেন, তিনি যখন সেগুলি দেখতে গেলেন, তখন সেগুলি তাঁর খুব একটি পছন্দ হয়নি।
1KI 9:13 “ভাইটি, আপনি আমাকে এসব কী নগর দিয়েছেন?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। আর তিনি সেগুলির নাম দিলেন কাবুল দেশ, আর এই নামটিই আজও পর্যন্ত রয়ে গিয়েছে।
1KI 9:14 ইত্যবসরে হীরম রাজামশাইকে একশো কুড়ি তালন্ত সোনা পাঠালেন।
1KI 9:15 রাজা শলোমন যেসব বেগার শ্রমিককে বাধ্যতামূলকভাবে সদাপ্রভুর মন্দির, তাঁর নিজের প্রাসাদ, উঁচু চাতাল, জেরুশালেমের প্রাচীর, এবং হাৎসোর, মগিদ্দো ও গেষর গাঁথার কাজে লাগলেন, এই হল তাদের বিবরণ।
1KI 9:16 (মিশরের রাজা ফরৌণ গেষর আক্রমণ করে তা অধিকার করে নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আগুন ধরিয়ে দিলেন। তিনি সেখানকার কনানীয় অধিবাসীদের হত্যা করে সেটি তাঁর মেয়ে, শলোমনের স্ত্রীকে বিয়ের যৌতুকরূপে উপহার দিলেন।
1KI 9:17 আর শলোমন গেষর নগরটি পুনর্নির্মাণ করলেন) তিনি নিচের দিকের বেথ-হোরোণ,
1KI 9:18 বালৎ, ও তাঁর দেশের অন্তর্গত মরুভূমিতে অবস্থিত তামর,
1KI 9:19 তথা তাঁর সব গুদাম-নগর এবং তাঁর রথ ও ঘোড়া রাখার জন্য কয়েকটি নগর—জেরুশালেমে, লেবাননে ও তাঁর শাসিত গোটা এলাকা জুড়ে সর্বত্র যা যা তিনি তৈরি করতে চেয়েছিলেন, সেসব তিনি তৈরি করলেন।
1KI 9:20 ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের মধ্যেও কিছু লোক সেখানে অবশিষ্ট রয়ে গেল। (এইসব লোক ইস্রায়েলী নয়)
1KI 9:21 শলোমন দেশে থেকে যাওয়া এইসব লোকের বংশধরদের—যাদের ইস্রায়েলীরা উচ্ছেদ করতে পারেনি—বাধ্যতামূলকভাবে বেগার শ্রমিক রূপে কাজে লাগালেন, আজও পর্যন্ত যা তারা করে চলেছে।
1KI 9:22 কিন্তু শলোমন ইস্রায়েলীদের কাউকে ক্রীতদাস করেননি; তারা তাঁর যোদ্ধা, কর্মকর্তা, সেনাপতি, এবং তাঁর রথের সারথি ও অশ্বারোহীদের সেনাপতি হল।
1KI 9:23 এছাড়াও তারা শলোমনের বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা হল 550 জন কর্মকর্তা এই কাজে লিপ্ত লোকজনের কাজ দেখাশোনা করত।
1KI 9:24 শলোমন ফরৌণের মেয়ের জন্য যে প্রাসাদটি নির্মাণ করলেন, তিনি দাউদ-নগর থেকে সেখানে চলে আসার পর শলোমন সেখানে কয়েকটি উঁচু চাতালও নির্মাণ করে দিলেন।
1KI 9:25 শলোমন সদাপ্রভুর উদ্দেশে যে যজ্ঞবেদিটি তৈরি করলেন, সেখানে তিনি বছরে তিনবার হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করতেন, এবং সেগুলির সাথে সাথে সদাপ্রভুর সামনে ধূপও জ্বালাতেন, আর এভাবেই তিনি মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করলেন।
1KI 9:26 এছাড়াও রাজা শলোমন লোহিত সাগরের তীরে, ইদোমের এলতের কাছে অবস্থিত ইৎসিয়োন-গেবরে কয়েকটি জাহাজ তৈরি করলেন।
1KI 9:27 হীরম শলোমনের লোকজনের সঙ্গে থেকে নৌবাহিনীতে সেবাকাজ করার জন্য তাঁর সেইসব নাবিককে পাঠিয়ে দিলেন, যারা সমুদ্রের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিল।
1KI 9:28 তারা জাহাজে চড়ে ওফীরে গেল ও সেখান থেকে 420 তালন্ত সোনা এনে রাজা শলোমনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
1KI 10:1 শিবার রানি শলোমনের সুনামের ও সদাপ্রভুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শুনে কঠিন কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করতে এলেন।
1KI 10:2 বিশাল দলবল নিয়ে—সুগন্ধি মশলা বহনকারী উট, প্রচুর পরিমাণ সোনা ও দামি মণিমুক্তো নিয়ে—তিনি জেরুশালেমে শলোমনের কাছে এলেন ও তাঁর মনের সব কথা তিনি শলোমনকে খুলে বললেন।
1KI 10:3 শলোমন তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন; রানিকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়ার পক্ষে কোনো কিছুই রাজার কাছে কঠিন বলে মনে হয়নি।
1KI 10:4 শিবার রানি শলোমনের প্রজ্ঞা ও তাঁর নির্মিত করা প্রাসাদ,
1KI 10:5 তাঁর টেবিলে রাখা খাদ্যসম্ভার, তাঁর কর্মকর্তাদের বসার ব্যবস্থা, সেবক-দাসেদের পোশাক-পরিচ্ছদ, তাঁর পানপাত্র বহনকারীদের, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে তাঁর উৎসর্গ করা হোমবলি দেখে আবেগবিহ্বল হয়ে গেলেন।
1KI 10:6 তিনি রাজাকে বললেন, “নিজের দেশে থাকার সময় আমি আপনার কীর্তির ও প্রজ্ঞার বিষয়ে যা যা শুনেছিলাম, সেসবই সত্যি।
1KI 10:7 কিন্তু এখানে এসে স্বচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আমি সেসব বিশ্বাস করিনি। আসলে, অর্ধেক কথাও আমাকে বলা হয়নি; আমি যে খবর শুনেছিলাম, আপনার প্রজ্ঞা ও ধনসম্পদ তার তুলনায় পরিমাণে অনেক বেশি।
1KI 10:8 আপনার প্রজারা কতই না সুখী! আপনার সেই কর্মকর্তারাও কতই না সুখী, যারা অনবরত আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ও আপনার প্রজ্ঞার কথা শোনে!
1KI 10:9 আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়ে আপনাকে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসিয়েছেন। ইস্রায়েলের প্রতি সদাপ্রভুর অনন্ত প্রেমের কারণে, ন্যায় ও ধার্মিকতা বজায় রাখার জন্য তিনি আপনাকে রাজা করেছেন।”
1KI 10:10 আর তিনি রাজামশাইকে একশো কুড়ি তালন্ত সোনা, প্রচুর পরিমাণ সুগন্ধি মশলা, ও দামি মণিমুক্তো দিলেন। শিবার রানি রাজা শলোমনকে যত সুগন্ধি মশলা দিলেন, তত সুগন্ধি মশলা আর কখনও সেখানে আনা হয়নি।
1KI 10:11 (হীরমের জাহাজগুলি ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত; আর সেখান থেকেই তারা বড়ো বড়ো জাহাজে ভরে চন্দনকাঠ ও দামি মণিমুক্তোও নিয়ে আসত।
1KI 10:12 রাজামশাই সদাপ্রভুর মন্দিরের ও রাজপ্রাসাদের খুঁটি নির্মাণ করার জন্য, এবং সুদক্ষ বাদ্যকরদের জন্য বীণা ও সুরবাহার তৈরি করার কাজে চন্দনকাঠ ব্যবহার করতেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এত চন্দনকাঠ আর কখনও আমদানি করা হয়নি বা চোখে দেখাও যায়নি।)
1KI 10:13 রাজা শলোমন শিবা দেশের রানির মনোবাঞ্ছা ও তাঁর চাহিদা অনুসারে তাঁকে সবকিছু দিলেন, এছাড়াও তিনি তাঁর রাজকীয় দানশীলতা দেখিয়ে আরও অনেক কিছু তাঁকে দিলেন। পরে রানি তাঁর লোকলস্কর সঙ্গে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেলেন।
1KI 10:14 প্রতি বছর শলোমন যে পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করতেন তার ওজন 666 তালন্ত,
1KI 10:15 এতে বণিক ও ব্যবসায়ীদের এবং আরবীয় সব রাজার ও সেই অঞ্চলের শাসনকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রাজস্ব ধরা হয়নি।
1KI 10:16 পিটানো সোনার পাত দিয়ে রাজা শলোমন 200-টি বড়ো বড়ো ঢাল তৈরি করলেন; প্রত্যেকটি ঢাল তৈরি করতে 600 শেকল করে পিটানো সোনা লেগেছিল।
1KI 10:17 পিটানো সোনার পাত দিয়ে তিনি আরও তিনশোটি ছোটো ছোটো ঢাল তৈরি করলেন, এবং প্রত্যেকটি ঢালে তিন মানি করে সোনা ছিল। রাজা সেগুলি লেবাননের অরণ্য-প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন।
1KI 10:18 পরে রাজামশাই হাতির দাঁত দিয়ে একটি বড়ো সিংহাসন বানিয়ে, সেটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
1KI 10:19 সিংহাসনে ওঠার জন্য সিঁড়ির ছয়টি ধাপ ছিল, এবং সেটির পিছন দিকের উপরের অংশটি গোলাকার ছিল। বসার স্থানটির দুই দিকেই হাতল ছিল, এবং দুটিরই পাশে একটি করে সিংহমূর্তি দাঁড় করানো ছিল।
1KI 10:20 বারোটি সিংহমূর্তি সিঁড়ির ছয়টি ধাপের উপরে দাঁড় করানো ছিল, এক-একটি মূর্তি প্রত্যেকটি ধাপের এক এক পাশে রাখা ছিল। অন্য কোনও রাজ্যে আগে কখনও এরকম কিছু তৈরি করা হয়নি।
1KI 10:21 রাজা শলোমনের কাছে থাকা ভিত থেকে ওঠা ডাঁটিযুক্ত হাতলবিহীন সব পানপাত্র ছিল সোনার, এবং লেবাননের অরণ্য-প্রাসাদে রাখা সব গৃহস্থালি জিনিসপত্র খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি হল। কোনো কিছুই রুপো দিয়ে তৈরি করা হয়নি, কারণ শলোমনের রাজত্বকালে রুপোকে দামি বলে গণ্যই করা হত না।
1KI 10:22 হীরমের জাহাজগুলির পাশাপাশি সমুদ্রে রাজারও তর্শীশের বাণিজ্যতরির একটি নৌবহর ছিল। তিন বছরে একবার সেই নৌবহর সোনা, রুপো, হাতির দাঁত, এবং বনমানুষ ও ময়ূর নিয়ে ফিরে আসত।
1KI 10:23 পৃথিবীর অন্য সব রাজার তুলনায় রাজা শলোমন ধনসম্পদে ও প্রজ্ঞায় বৃহত্তর হলেন।
1KI 10:24 শলোমনের অন্তরে ঈশ্বর যে প্রজ্ঞা ভরে দিলেন, তা শোনার জন্য গোটা জগৎ তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার লাভের চেষ্টা করত।
1KI 10:25 বছরের পর বছর, যে কেউ তাঁর কাছে আসত, সে কোনও না কোনো উপহার—রুপো ও সোনার তৈরি জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, অস্ত্রশস্ত্র ও মশলাপাতি, এবং ঘোড়া ও খচ্চর নিয়ে আসত।
1KI 10:26 শলোমন প্রচুর রথ ও ঘোড়া একত্রিত করলেন; তাঁর কাছে এক হাজার চারশো রথ ও 12,000 ঘোড়া ছিল, যা তিনি বিভিন্ন রথ-নগরীতে রেখেছিলেন এবং কয়েকটিকে তিনি নিজের কাছে জেরুশালেমেও রেখেছিলেন।
1KI 10:27 জেরুশালেমে রাজা, রুপোকে পাথরের মতো সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনেছিলেন, এবং দেবদারু কাঠকে পর্বতমালার পাদদেশে উৎপন্ন ডুমুর গাছের মতো পর্যাপ্ত করে তুলেছিলেন।
1KI 10:28 শলোমনের ঘোড়াগুলি মিশর ও কুই থেকে আমদানি করা হত—রাজকীয় বণিকেরা বাজার দরে সেগুলি কুই থেকে কিনে আনত।
1KI 10:29 তারা মিশর থেকে এক-একটি রথ আমদানি করত ছয়শো শেকল রুপো দিয়ে, এবং এক-একটি ঘোড়া আমদানি করত একশো 50 শেকলে। এছাড়াও হিত্তীয় ও অরামীয় সব রাজার কাছে তারা সেগুলি রপ্তানিও করত।
1KI 11:1 রাজা শলোমন অবশ্য ফরৌণের মেয়ের পাশাপাশি আরও অনেক বিদেশিনীকে—মোয়াবীয়া, অম্মোনীয়া, ইদোমীয়া, সীদোনীয়া ও হিত্তীয়াকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন।
1KI 11:2 তারা সেইসব জাতিভুক্ত মহিলা ছিল, যাদের সম্বন্ধে সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের বলে দিলেন, “তোমরা অসবর্ণমতে এদের বিয়ে কোরো না, কারণ তারা নিঃসন্দেহে তোমাদের অন্তর তাদের দেবদেবীদের দিকে সরিয়ে দেবে।” তবুও শলোমন তাদের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়েই থেকে গেলেন।
1KI 11:3 রাজপরিবারে জন্মেছিল, এরকম সাতশো জন হল তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর উপপত্নীর সংখ্যা ছিল তিনশো জন, এবং তাঁর স্ত্রীরাই তাঁকে বিপথে পরিচালিত করল।
1KI 11:4 শলোমন বয়সে বৃদ্ধ হতে না হতেই, তাঁর স্ত্রীরা তাঁর অন্তর অন্যান্য দেবদেবীদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল, এবং তাঁর অন্তর আর তাঁর বাবা দাউদের মতো তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি পুরোপুরি একাগ্র থাকেনি।
1KI 11:5 তিনি সীদোনীয়দের দেবী অষ্টারোতের ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মোলকের অনুগামী হলেন।
1KI 11:6 এইভাবে শলোমন সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করলেন; তিনি তাঁর বাবা দাউদের মতো পুরোপুরি সদাপ্রভুর অনুগামী হননি।
1KI 11:7 জেরুশালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ে শলোমন মোয়াবের ঘৃণ্য দেবতা কমোশের ও অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মোলকের জন্য উঁচু পূজাবেদি তৈরি করলেন।
1KI 11:8 তিনি তাঁর সেই বিদেশিনী স্ত্রীদের জন্যও এমনটি করে দিলেন, যারা তাদের দেবদেবীদের উদ্দেশে ধূপ পোড়াতো ও বলি উৎসর্গ করত।
1KI 11:9 সদাপ্রভু শলোমনের উপর ক্রুদ্ধ হলেন, কারণ তাঁর অন্তর ইস্রায়েলের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিক থেকে দূরে সরে গেল, যিনি দু-দুবার তাঁকে দর্শন দিলেন।
1KI 11:10 যদিও সদাপ্রভু শলোমনকে অন্যান্য দেবদেবীদের অনুগামী হতে মানা করলেন, তবুও তিনি সদাপ্রভুর আদেশ পালন করেননি।
1KI 11:11 তাই সদাপ্রভু শলোমনকে বললেন, “যেহেতু এই তোমার মনোভাব এবং তুমি আমার আদেশমতো আমার নিয়মকানুন ও আমার বিধিবিধান পালন করোনি, তাই আমি অবশ্যই তোমার হাত থেকে রাজ্যটি ছিনিয়ে নিয়ে সেটি তোমার অধীনস্থ একজনের হাতে তুলে দেব।
1KI 11:12 তবে, তোমার বাবা দাউদের খাতিরে আমি তোমার জীবনকালে এমনটি করব না। আমি তোমার ছেলের হাত থেকে সেটি ছিনিয়ে নেব।
1KI 11:13 তবুও আমি গোটা রাজ্য তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেব না, কিন্তু আমার দাস দাউদের খাতিরে ও আমার মনোনীত জেরুশালেমের খাতিরে আমি তাকে একটি বংশ দেব।”
1KI 11:14 পরে সদাপ্রভু ইদোমের রাজপরিবার থেকে ইদোমীয় হদদকে শলোমনের বিরুদ্ধে এক প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
1KI 11:15 ইতিপূর্বে দাউদ যখন ইদোমীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন, তখন সৈন্যদলের সেনাপতি যোয়াব মৃত মানুষদের কবর দিতে গিয়ে ইদোমে সব পুরুষমানুষকে মেরে ফেলেছিলেন।
1KI 11:16 যোয়াব ও ইস্রায়েলীরা সবাই ইদোমে সব পুরুষমানুষকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত ছয় মাস ধরে সেখানেই থেকে গেলেন।
1KI 11:17 কিন্তু হদদ তাঁর বাবার সেবক, কয়েকজন ইদোমীয় কর্মকর্তার সঙ্গে মিশরে পালিয়ে গেলেন, আর তখন তিনি একদম ছেলেমানুষ ছিলেন।
1KI 11:18 তারা মিদিয়ন থেকে যাত্রা শুরু করে পারণে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। পরে পারণ থেকে লোকজন সংগ্রহ করে তারা মিশরে, সেখানকার রাজা ফরৌণের কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি হদদকে জমি-বাড়ি দিলেন ও খাবারেরও জোগান দিলেন।
1KI 11:19 ফরৌণ হদদের উপর এত সন্তুষ্ট হলেন যে তিনি নিজের স্ত্রী, রানি তহপনেষের বোনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিলেন।
1KI 11:20 তহপনেষের বোন হদদের জন্য এক ছেলেসন্তান জন্ম দিলেন, যার নাম গনুবৎ। তহপনেষ তাকে রাজপ্রাসাদেই বড়ো করে তুলেছিলেন। সেখানে গনুবৎ ফরৌণের আপন ছেলেমেয়েদের সাথেই বসবাস করত।
1KI 11:21 মিশরে থাকতে থাকতেই হদদ শুনতে পেয়েছিলেন যে দাউদ তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হয়েছেন এবং সৈন্যদলের সেনাপতি যোয়াবও মারা গিয়েছেন। তখন হদদ ফরৌণকে বললেন, “আমাকে যেতে দিন, আমি যেন আমার নিজের দেশে ফিরে যেতে পারি।”
1KI 11:22 “এখানে তোমার কীসের অভাব হচ্ছে যে তুমি তোমার নিজের দেশে ফিরে যেতে চাইছ?” ফরৌণ জিজ্ঞাসা করলেন। “কোনও অভাব নেই,” হদদ উত্তর দিলেন, “কিন্তু তাও আমাকে যেতে দিন!”
1KI 11:23 ঈশ্বর শলোমনের বিরুদ্ধে আরও একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি ইলিয়াদার ছেলে সেই রষোণ, যিনি তাঁর মনিব, সোবার রাজা হদদেষরের কাছ থেকে পালিয়ে গেলেন।
1KI 11:24 দাউদ যখন সোবার সৈন্যদল ধ্বংস করলেন, রষোণ তখন তাঁর চারপাশে একদল লোক জুটিয়ে তাদের নেতা হয়ে গেলেন; তারা দামাস্কাসে গিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করলেন ও সেখানকার নিয়ন্ত্রণভার হাতে তুলে নিয়েছিলেন।
1KI 11:25 শলোমন যতদিন বেঁচেছিলেন, হদদের দ্বারা উৎপন্ন অসুবিধার পাশাপাশি রষোণও ইস্রায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েই ছিলেন। অতএব রষোণ অরামে রাজত্ব করছিলেন ও তিনি ইস্রায়েলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন।
1KI 11:26 এছাড়া, নবাটের ছেলে, সরেদার অধিবাসী ইফ্রয়িমীয় যারবিয়ামও রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। তিনি ছিলেন শলোমনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন। তাঁর মায়ের নাম সরূয়া, ও তিনি এক বিধবা মহিলা ছিলেন।
1KI 11:27 তিনি কীভাবে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হলেন, তার বিবরণ এইরকম: শলোমন কয়েকটি উঁচু চাতাল তৈরি করলেন ও তাঁর বাবা দাউদের নামাঙ্কিত নগরের প্রাচীরের ফাটল সারিয়েছিলেন।
1KI 11:28 ইত্যবসরে যারবিয়াম সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন একজন লোক ছিলেন, এবং শলোমন যখন দেখেছিলেন সেই যুবকটি কত ভালোভাবে তাঁর কাজকর্ম করছিলেন, তখন তিনি তাঁর হাতে যোষেফের বংশভুক্ত সমগ্র মজুরদলের দায়িত্ব সঁপে দিলেন।
1KI 11:29 সেই সময় একদিন যখন যারবিয়াম জেরুশালেমের বাইরে যাচ্ছিলেন, তখন পথে শীলো থেকে আসা ভাববাদী অহিয়র সঙ্গে তাঁর দেখা হল। অহিয়র পরনে ছিল নতুন এক ঢিলা আলখাল্লা। সেই গ্রামাঞ্চলে তারা দুজন একাই ছিলেন,
1KI 11:30 আর অহিয় নিজের পরনে থাকা নতুন আলখাল্লাটি নিয়ে সেটি বারো টুকরো করে ফেলেছিলেন।
1KI 11:31 পরে তিনি যারবিয়ামকে বললেন, “নিজের জন্য তুমি দশটি টুকরো তুলে নাও, কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘দেখো, আমি শলোমনের হাত থেকে রাজ্যটি ছিনিয়ে নিয়ে তোমাকে দশটি বংশ দিতে যাচ্ছি।
1KI 11:32 কিন্তু আমার দাস দাউদের খাতিরে ও যে জেরুশালেম নগরটি আমি ইস্রায়েলের সব বংশের মধ্যে থেকে মনোনীত করে রেখেছি, সেটির খাতিরে তার হাতে একটি বংশ থাকবে।
1KI 11:33 আমি এরকম করব, কারণ তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছে এবং সীদোনীয়দের দেবী অষ্টারোতের, মোয়াবীয়দের দেবতা কমোশের ও অম্মোনীয়দের দেবতা মোলকের পূজার্চনা করেছে, তথা আমার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে চলেনি, বা আমার দৃষ্টিতে যা ভালো তা করেননি, অথবা শলোমনের বাবা দাউদ যেভাবে আমার বিধিবিধান ও নিয়মকানুন পালন করত, তারা সেভাবে তা করেননি।
1KI 11:34 “ ‘কিন্তু আমি শলোমনের হাত থেকে গোটা রাজ্যটি ছিনিয়ে নেব না; যাকে আমি মনোনীত করলাম এবং যে আমার আদেশ ও বিধিবিধান পালন করে গিয়েছে, আমার দাস সেই দাউদের খাতিরেই আমি তাকে সারা জীবনের জন্য শাসনকর্তা করেছি।
1KI 11:35 আমি তার ছেলের হাত থেকে রাজ্যটি ছিনিয়ে নিয়ে তোমাকে দশটি বংশ দেব।
1KI 11:36 আমি তার ছেলেকে একটি বংশ দেব, যেন সেই জেরুশালেমে সবসময় আমার দাস দাউদের এক প্রদীপ জ্বলতে থাকে, যে নগরে আমার নাম বজায় রাখার জন্য আমি সেটি মনোনীত করেছি।
1KI 11:37 অবশ্য, তোমার ক্ষেত্রে আমি বলছি, আমি তোমাকে গ্রহণ করব, ও তোমার মনোবাঞ্ছানুসারে তুমি সবকিছুর উপর শাসন চালাবে; তুমি ইস্রায়েলের উপর রাজা হবে।
1KI 11:38 তুমি যদি আমার দাস দাউদের মতো আমার আদেশানুসারে সবকিছু করো ও আমার প্রতি বাধ্য হয়ে চলো এবং আমার বিধিবিধানের ও আদেশের বাধ্য হয়ে আমার দৃষ্টিতে যা যা ভালো, তাই করো, তবে আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব। আমি তোমার জন্য এমন এক স্থায়ী রাজবংশ গড়ে তুলব, যেমনটি আমি দাউদের জন্য গড়ে তুলেছিলাম এবং ইস্রায়েলকে আমি তোমার হাতেই তুলে দেব।
1KI 11:39 এই কারণে আমি দাউদের বংশধরদের অবনত করব, কিন্তু চিরকালের জন্য নয়।’ ”
1KI 11:40 শলোমন যারবিয়ামকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু যারবিয়াম মিশরে, রাজা শীশকের কাছে পালিয়ে গেলেন, এবং শলোমনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থেকে গেলেন।
1KI 11:41 শলোমনের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা—তিনি যা যা করলেন ও যে প্রজ্ঞা দেখিয়েছিলেন—সেসব কি শলোমনের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 11:42 শলোমন জেরুশালেমে সমগ্র ইস্রায়েলের উপর চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
1KI 11:43 পরে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাঁর বাবা দাউদের নগরেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে রহবিয়াম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 12:1 রহবিয়াম শিখিমে গেলেন, কারণ সমগ্র ইস্রায়েল তাঁকে রাজা করার জন্য সেখানে পৌঁছেছিল।
1KI 12:2 নবাটের ছেলে যারবিয়াম যখন সেকথা শুনলেন (রাজা শলোমনের কাছ থেকে পালিয়ে তিনি সেই যে মিশরে চলে গেলেন, তখনও পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন), তখন তিনি মিশর থেকে ফিরে এলেন।
1KI 12:3 তাই ইস্রায়েলীরা লোক পাঠিয়ে যারবিয়ামকে ডেকে এনেছিল, এবং তিনি ও সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজ রহবিয়ামের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন:
1KI 12:4 “আপনার বাবা আমাদের উপর এক ভারী জোয়াল চাপিয়ে দিলেন, কিন্তু এখন আপনি সেই কঠোর পরিশ্রম ও ভারী জোয়ালের ভার লঘু করে দিন, যা আপনার বাবা আমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন, আর আমরাও আপনার সেবা করব।”
1KI 12:5 রহবিয়াম উত্তর দিলেন, “এখন তোমরা যাও, তিন দিন পর আবার আমার কাছে ফিরে এসো।” তাই লোকজন চলে গেল।
1KI 12:6 পরে রাজা রহবিয়াম সেইসব প্রাচীনের সঙ্গে শলাপরামর্শ করলেন, যারা তাঁর বাবা শলোমনের জীবনকালে তাঁর সেবা করতেন। “এই লোকদের কী উত্তর দিতে হবে সে বিষয়ে আপনারা আমাকে কী পরামর্শ দিতে চান?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।
1KI 12:7 তারা উত্তর দিলেন, “আজ যদি আপনি এই লোকদের দাস হন ও তাদের সেবা করে উপযুক্ত এক উত্তর দেন, তবে তারা সবসময় আপনার দাস হয়েই থাকবে।”
1KI 12:8 কিন্তু সেই বয়স্ক লোকজন রহবিয়ামকে যে পরামর্শ দিলেন, তিনি তা অগ্রাহ্য করলেন এবং সেই কমবয়সি যুবকদের সাথে শলাপরামর্শ করলেন, যারা তাঁর সাথেই বেড়ে উঠেছিল ও যারা তাঁর সেবা করত।
1KI 12:9 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী পরামর্শ দিতে চাও? সেই লোকদের আমরা কী উত্তর দেব, যারা আমাকে বলেছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর যে জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, তা আপনি লঘু করে দিন’?”
1KI 12:10 তাঁর সাথে বেড়ে ওঠা যুবকেরা উত্তর দিয়েছিল, “এই লোকেরা আপনাকে বলেছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি এখন আমাদের জোয়াল হালকা করে দিন।’ এখন আপনি তাদের বলুন, ‘আমার কড়ে আঙুল আমার বাবার কোমরের চেয়েও মোটা।
1KI 12:11 আমার বাবা তোমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন; আমি সেটি আরও ভারী করে তুলব। আমার বাবা তোমাদের চাবুক মেরে শাস্তি দিয়েছেন; আমি তোমাদের শাস্তি দেব কাঁকড়াবিছের কামড় দিয়ে।’ ”
1KI 12:12 “তিন দিন পর আমার কাছে তোমরা ফিরে এসো,” রাজার বলা এই কথামতো তিন দিন পর যারবিয়াম ও সব লোকজন রহবিয়ামের কাছে ফিরে এলেন।
1KI 12:13 রাজামশাই কর্কশভাবে লোকদের উত্তর দিলেন। প্রাচীনেরা তাঁকে যে পরামর্শ দিলেন, তা অগ্রাহ্য করে,
1KI 12:14 তিনি যুবকদের পরামর্শ মতো তাদের বললেন, “আমার বাবা তোমাদের জোয়াল ভারী করে দিলেন; আমি সেটি আরও ভারী করে তুলব। আমার বাবা তোমাদের চাবুক মেরে শাস্তি দিলেন; আমি কাঁকড়াবিছের কামড় দিয়ে তোমাদের শাস্তি দেব।”
1KI 12:15 এইভাবে রাজা, প্রজাদের কথা শুনলেন না, কারণ শীলোনীয় অহিয়ের মাধ্যমে সদাপ্রভুর যে বাক্য নবাটের ছেলে যারবিয়ামের কাছে এসেছিল, সেটি পূর্ণ করার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকেই ঘটনার মোড় এভাবে ঘুরে গেল।
1KI 12:16 সমগ্র ইস্রায়েল যখন দেখেছিল যে রাজা তাদের কথা শুনতে চাইছেন না, তখন তারা রাজাকে উত্তর দিয়েছিল: “দাউদে আমাদের আর কী অধিকার আছে, যিশয়ের ছেলেই বা কী অধিকার আছে? হে ইস্রায়েল তোমাদের তাঁবুতে ফিরে যাও! হে দাউদ, তুমিও নিজের বংশ দেখাশোনা করো!” এই বলে ইস্রায়েলীরা ঘরে ফিরে গেল।
1KI 12:17 কিন্তু যেসব ইস্রায়েলী যিহূদার বিভিন্ন নগরে বসবাস করছিল, রহবিয়াম তখনও তাদের উপর রাজত্ব করে যাচ্ছিলেন।
1KI 12:18 রাজা রহবিয়াম বেগার শ্রমিকদের উপর দায়িত্বপ্রাপ্ত অদোনীরামকে তাদের কাছে পাঠালেন, কিন্তু ইস্রায়েলীরা সবাই পাথর ছুঁড়ে মেরে তাকে হত্যা করল। রাজা রহবিয়াম অবশ্য নিজের রথে চড়ে জেরুশালেমে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
1KI 12:19 এইভাবে, আজও পর্যন্ত ইস্রায়েল, দাউদের বংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেই চলেছে।
1KI 12:20 ইস্রায়েলীরা সবাই যখন শুনেছিল যে যারবিয়াম ফিরে এসেছেন, তখন তারা লোক পাঠিয়ে তাঁকে সমাজে ডেকে এনেছিল ও সমস্ত ইস্রায়েলের উপর তাঁকে রাজা করল। শুধুমাত্র যিহূদা বংশই দাউদ কুলের প্রতি অনুগত থেকে গেল।
1KI 12:21 জেরুশালেমে পৌঁছে রহবিয়াম যিহূদা ও বিন্যামীন বংশ থেকে এমন কিছু লোকজন—এক লাখ আশি হাজার সক্ষম যুবক—একত্রিত করলেন, যারা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও শলোমনের ছেলে রহবিয়ামের হাতে রাজ্য ফিরিয়ে দিতে পারত।
1KI 12:22 কিন্তু ঈশ্বরের এই বাক্য ঈশ্বরের লোক শময়িয়ের কাছে পৌঁছেছিল:
1KI 12:23 “শলোমনের ছেলে, যিহূদার রাজা রহবিয়ামকে এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের সব লোকজনকে তথা বাকি সব লোকজনকেও একথা বলো,
1KI 12:24 ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: তোমাদের ভাইদের সঙ্গে—ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তোমরা যুদ্ধ করতে যেয়ো না। তোমাদের প্রত্যেকজন ঘরে ফিরে যাও, কারণ আমিই এমনটি করেছি।’ ” তাই সদাপ্রভুর কথার বাধ্য হয়ে তারা ঘরে ফিরে গেল, যেমনটি সদাপ্রভু আদেশ দিলেন।
1KI 12:25 পরে যারবিয়াম ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের শিখিম নগরটি সুরক্ষিত করে গড়ে, সেখানে গিয়েই বসবাস করলেন। সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে তিনি পনূয়েলও গড়ে তুলেছিলেন।
1KI 12:26 যারবিয়াম ভেবে নিয়েছিলেন, “রাজ্যটি এখন হয়তো দাউদ কুলের হাতেই ফিরে যাবে।
1KI 12:27 এইসব লোকজন যদি জেরুশালেমে সদাপ্রভুর মন্দিরে বলি উৎসর্গ করতে যায়, তবে হয়তো আবার তারা তাদের মনিব যিহূদার রাজা রহবিয়ামের প্রতি তাদের আনুগত্য দেখিয়ে ফেলতে পারে। তারা আমাকে হত্যা করে আবার রাজা রহবিয়ামের কাছেই ফিরে যাবে।”
1KI 12:28 শলাপরামর্শ করে রাজামশাই সোনার দুটি বাছুর তৈরি করলেন। তিনি প্রজাদের বললেন, “জেরুশালেমে যাওয়া তোমাদের পক্ষে খুব কষ্টকর ব্যাপার। হে ইস্রায়েল, এই দেখো তোমাদের সেই দেবতা, যিনি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।”
1KI 12:29 একটিকে তিনি বেথেলে, ও অন্যটিকে তিনি দানে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
1KI 12:30 আর এটি পাপ বলে বিবেচিত হল; লোকজন বেথেলে এসে একটির পূজার্চনা করত, এবং অন্যটির পূজার্চনা করার জন্য তারা দান পর্যন্ত চলে যেত।
1KI 12:31 যারবিয়াম উঁচু উঁচু স্থানে দেবতার পীঠস্থান তৈরি করে সব ধরনের লোকদের মধ্যে থেকে যাজক নিযুক্ত করে দিলেন, যদিও তারা লেবীয় ছিল না।
1KI 12:32 যিহূদায় যেমনটি হত, ঠিক সেভাবেই তিনি অষ্টম মাসের পনেরোতম দিনে একটি উৎসবের সূচনা করলেন, এবং যজ্ঞবেদিতে বলি উৎসর্গ করলেন। বেথেলে, তাঁর তৈরি করা বাছুরগুলির কাছেই তিনি বলি উৎসর্গ করলেন। আর বেথেলেও তাঁর তৈরি করা উঁচু উঁচু স্থানে তিনি যাজক নিযুক্ত করে দিলেন।
1KI 12:33 তাঁর পছন্দমতো মাসে, অর্থাৎ অষ্টম মাসের পনেরোতম দিনে তিনি বেথেলে তাঁর তৈরি করা যজ্ঞবেদিতে বলি উৎসর্গ করলেন। অতএব তিনি ইস্রায়েলীদের জন্য উৎসবের সূচনা করলেন এবং বলি উৎসর্গ করার জন্য যজ্ঞবেদিতে উঠে গেলেন।
1KI 13:1 যারবিয়াম যখন একটি পশুবলি উৎসর্গ করার জন্য যজ্ঞবেদির কাছে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন সদাপ্রভুর কথামতো ঈশ্বরের একজন লোক যিহূদা থেকে বেথেলে এলেন।
1KI 13:2 সদাপ্রভুর কথামতো তিনি যজ্ঞবেদির বিরুদ্ধে চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন: “ওহে যজ্ঞবেদি, ওহে যজ্ঞবেদি! সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘দাউদের কুলে এক ছেলে জন্মাবে, যার নাম হবে যোশিয়। তোমার উপর সে উঁচু উঁচু স্থানের সেইসব যাজককে বলি দেবে, যারা এখানে বলি উৎসর্গ করছে, এবং একদিন তোমার উপর মানুষের অস্থি জ্বালানো হবে।’ ”
1KI 13:3 সেই একই দিনে ঈশ্বরের লোক একটি চিহ্নও দিলেন: “এই চিহ্নের কথাই সদাপ্রভু ঘোষণা করে দিয়েছেন: যজ্ঞবেদিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং সেটির উপরে রাখা ছাইভস্ম গড়িয়ে পড়বে।”
1KI 13:4 ঈশ্বরের লোক বেথেলে যজ্ঞবেদির বিরুদ্ধে চিৎকার করে যা বললেন, তা শুনে রাজা যারবিয়াম যজ্ঞবেদি থেকেই তাঁর হাত বাড়িয়ে বলে উঠেছিলেন, “ওকে ধরো!” কিন্তু সেই লোকটির দিকে তিনি যে হাতটি বাড়িয়ে দিলেন সেটি এমনভাবে শুকিয়ে বিকৃত হয়ে গেল, যে তিনি আর সেটি টেনে আনতে পারেননি।
1KI 13:5 এছাড়া, সদাপ্রভুর কথামতো ঈশ্বরের লোকের দেওয়া চিহ্ন অনুসারে যজ্ঞবেদিও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল ও ছাইভস্মও গড়িয়ে পড়েছিল।
1KI 13:6 তখন রাজামশাই ঈশ্বরের লোককে বললেন, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে আমার হয়ে অনুরোধ জানান ও আমার জন্য প্রার্থনা করুন, যেন আমার হাতটি ঠিক হয়ে যায়।” অতএব ঈশ্বরের লোক তাঁর হয়ে সদাপ্রভুর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, এবং রাজার হাতটি আগের মতো ঠিকঠাক হয়ে গেল।
1KI 13:7 রাজামশাই ঈশ্বরের লোককে বললেন, “আমার ঘরে এসে একটু ভোজনপান করুন, আর আমি আপনাকে কিছু উপহার দেব।”
1KI 13:8 কিন্তু ঈশ্বরের লোক রাজাকে উত্তর দিলেন, “আপনি যদি আমাকে আপনার সম্পত্তির অর্ধেকও দেন, তবু আমি আপনার সাথে যাব না, বা এখানে রুটিও খাব না ও জলও পান করব না।
1KI 13:9 কারণ সদাপ্রভুর কথামতো আমি এই আদেশ পেয়েছি: ‘তুমি রুটি খাবে না বা জলপান করবে না অথবা যে পথ দিয়ে এসেছ, সে পথে ফিরে যাবে না।’ ”
1KI 13:10 অতএব তিনি অন্য পথ ধরেছিলেন ও যে পথ ধরে বেথেলে এলেন, সে পথে আর ফিরে যাননি।
1KI 13:11 ইত্যবসরে বেথেলে একজন বৃদ্ধ ভাববাদী বসবাস করতেন। তাঁর ছেলেরা এসে সেদিন ঈশ্বরের সেই লোক যা যা করলেন, তা তাঁকে বললেন। তিনি রাজাকে যা যা বললেন, তারা তাদের বাবাকে সেসবও বলে শুনিয়েছিল।
1KI 13:12 তাদের বাবা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তিনি কোনও পথে গিয়েছেন?” যিহূদা থেকে আসা ঈশ্বরের লোক যে পথে গেলেন, তা তাঁর ছেলেরা তাঁকে দেখিয়ে দিয়েছিল।
1KI 13:13 অতএব তিনি তাঁর ছেলেদের বললেন, “আমার জন্য গাধায় জিন চাপাও।” আর যখন তারা তাঁর জন্য গাধায় জিন চাপিয়েছিল, তখন তিনি সেটির পিঠে চড়ে
1KI 13:14 ঈশ্বরের লোকের সন্ধানে গেলেন। তিনি তাঁকে বিশাল একটি গাছের তলায় বসে থাকতে দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনিই কি ঈশ্বরের সেই লোক, যিনি যিহূদা থেকে এসেছেন?” “আমিই সেই লোক,” তিনি উত্তর দিলেন।
1KI 13:15 তখন সেই ভাববাদী তাঁকে বললেন, “আমার সাথে ঘরে চলুন ও কিছু খেয়ে নিন।”
1KI 13:16 ঈশ্বরের লোক বললেন, “আমি আপনার সাথে ফিরে যেতে পারব না, অথবা এই স্থানে আপনার সাথে রুটি খেতে বা জলপান করতেও পারব না।
1KI 13:17 সদাপ্রভুর কথামতো আমাকে বলা হয়েছে: ‘সেখানে তুমি রুটি খেতে বা জলপান করতে পারবে না অথবা যে পথ ধরে এসেছ, সেই পথে আর ফিরে যেতে পারবে না।’ ”
1KI 13:18 সেই বৃদ্ধ ভাববাদী উত্তর দিলেন, “আমিও আপনার মতোই একজন ভাববাদী। আর সদাপ্রভুর কথামতো একজন স্বর্গদূত আমাকে বলেছেন: ‘তুমি সাথে করে তাকে তোমার বাড়িতে নিয়ে এসো, যেন সে রুটি খেতে ও জলপান করতে পারে।’ ” (কিন্তু তিনি তাঁর কাছে মিথ্যা কথা বললেন)
1KI 13:19 অতএব ঈশ্বরের সেই লোক তাঁর সাথে ফিরে গেলেন এবং তাঁর বাড়িতে ভোজনপান করলেন।
1KI 13:20 তারা যখন টেবিলে বসেছিলেন, তখন সদাপ্রভুর বাক্য সেই বৃদ্ধ ভাববাদীর কাছে উপস্থিত হল, যিনি তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন।
1KI 13:21 তিনি যিহূদা থেকে আসা ঈশ্বরের লোকের কাছে চিৎকার করে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তুমি সদাপ্রভুর বাক্য অমান্য করেছ এবং তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যে আদেশ দিলেন তা তুমি পালন করোনি।
1KI 13:22 যেখানে তিনি তোমাকে ভোজনপান করতে বারণ করলেন, সেখানেই ফিরে এসে তুমি রুটি খেয়েছ ও জলপান করেছ। তাই তোমার দেহ তোমার পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থলে কবর দেওয়া হবে না।’ ”
1KI 13:23 ঈশ্বরের লোক ভোজনপান শেষ করার পর যে ভাববাদী তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, তিনি তাঁর জন্য গাধায় জিন চাপিয়ে দিলেন।
1KI 13:24 তিনি পথে যাচ্ছিলেন, এমন সময় একটি সিংহ এসে পথের উপরেই তাঁকে মেরে ফেলেছিল, এবং তাঁর দেহটি পথের উপর পড়েছিল, আর সেই গাধা ও সিংহটি সেই দেহের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
1KI 13:25 পথ দিয়ে যাওয়া কয়েকটি লোক যখন দেখেছিল সেই দেহটি পড়ে আছে, ও সেটির পাশে একটি সিংহ দাঁড়িয়ে আছে, তখন তারা সেই নগরে গিয়ে এই খবর দিয়েছিল, যেখানে সেই বৃদ্ধ ভাববাদী বসবাস করতেন।
1KI 13:26 যিনি তাঁকে তাঁর যাত্রাপথ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, সেই ভাববাদী যখন এই খবর পেয়েছিলেন, তিনি বললেন, “তিনি ঈশ্বরের সেই লোক, যিনি সদাপ্রভুর বাক্য অমান্য করলেন। সদাপ্রভু যে কথা বলে তাঁকে সতর্ক করে দিলেন, সেইমতোই তাঁকে সিংহের হাতে তুলে দিয়েছেন, ও সিংহ তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করে মেরে ফেলেছে।”
1KI 13:27 সেই ভাববাদী তাঁর ছেলেদের বললেন, “আমার জন্য গাধায় জিন চাপাও,” আর তারাও তেমনটি করল।
1KI 13:28 পরে তিনি গিয়ে সেই দেহটি পথে পড়ে থাকতে দেখেছিলেন, এবং গাধা ও সিংহটি সেটির পাশে দাঁড়িয়েছিল। সিংহ দেহটিও খায়নি বা গাধাটিকেও ক্ষতবিক্ষত করেননি।
1KI 13:29 অতএব সেই ভাববাদী ঈশ্বরের লোকের দেহটি তুলে এনে সেটি গাধার পিঠে চাপিয়েছিলেন ও তাঁর উদ্দেশে শোকপ্রকাশ করার ও তাঁকে কবর দেওয়ার জন্য দেহটি নিজের নগরে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন।
1KI 13:30 পরে তিনি দেহটি তাঁর নিজের কবরে শুইয়ে রেখেছিলেন, এবং তারা ঈশ্বরের লোকের জন্য শোকপ্রকাশ করে বললেন, “হায়, আমার ভাই!”
1KI 13:31 তাঁর দেহটি কবর দেওয়ার পর সেই ভাববাদী তাঁর ছেলেদের বললেন, “যে কবরে ঈশ্বরের লোককে কবর দেওয়া হয়েছে, আমি মারা যাওয়ার পর তোমরা আমাকে সেই কবরেই কবর দিয়ো; তাঁর অস্থির পাশেই আমার অস্থিও রেখে দিয়ো।
1KI 13:32 কারণ বেথেলের যজ্ঞবেদির বিরুদ্ধে ও শমরিয়ার নগরগুলিতে উঁচু উঁচু স্থানে স্থাপিত দেবতাদের সব পীঠস্থানের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর কথামতো তিনি যে বাণী ঘোষণা করলেন, তা নিঃসন্দেহে সত্যি হতে চলেছে।”
1KI 13:33 এর পরেও যারবিয়াম তাঁর কুপথ পরিবর্তন করেননি, কিন্তু আরও একবার সব ধরনের লোকজনের মধ্যে থেকে উঁচু উঁচু স্থানগুলির জন্য যাজক নিযুক্ত করলেন। যে কেউ যাজক হতে চাইত, তিনি তাকে উঁচু উঁচু স্থানগুলির জন্য যাজকরূপে উৎসর্গ করে দিতেন।
1KI 13:34 এটি মহাপাপরূপে গণ্য হল এবং যারবিয়াম কুলের পতনের ও পৃথিবীর বুক থেকে সেটি লুপ্ত হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
1KI 14:1 সেই সময় যারবিয়ামের ছেলে অবিয় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল,
1KI 14:2 এবং যারবিয়াম তাঁর স্ত্রীকে বললেন, “যাও, ছদ্মবেশ ধারণ করো, যেন কেউ তোমাকে যারবিয়ামের স্ত্রী বলে চিনতে না পারে। পরে শীলোতে চলে যাও। সেখানে সেই ভাববাদী অহিয় আছেন—যিনি আমাকে বললেন যে আমি এই লোকজনের উপর রাজা হব।
1KI 14:3 দশটি রুটি, কয়েকটি পিঠে ও এক বয়াম মধু সাথে নিয়ে তাঁর কাছে যাও। তিনি তোমাকে বলে দেবেন, ছেলেটির কী হবে।”
1KI 14:4 তাই যারবিয়ামের কথানুসারেই তাঁর স্ত্রী কাজ করলেন এবং শীলোতে অহিয়র বাড়িতে চলে গেলেন। ইত্যবসরে অহিয় আবার চোখে দেখতে পেতেন না; বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গেল।
1KI 14:5 কিন্তু সদাপ্রভু অহিয়কে বলে দিলেন, “যারবিয়ামের স্ত্রী তোমার কাছে তার ছেলের বিষয়ে জানতে আসছে, কারণ সে অসুস্থ আছে, এবং তুমি তাকে অমুক উত্তর দিয়ো। সে এখানে পৌঁছে এমন ভান করবে, যেন সে অন্য কেউ।”
1KI 14:6 তাই অহিয় যখন দরজায় তাঁর পায়ের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন, তখন তিনি বলে উঠেছিলেন, “ওহে যারবিয়ামের স্ত্রী, ভিতরে এসো। এরকম ভান করছ কেন? খারাপ খবর শোনানোর জন্য আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে।
1KI 14:7 যাও, যারবিয়ামকে গিয়ে বলো যে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘আমি প্রজাসাধারণের মধ্যে থেকে তোমাকে তুলে এনে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর রাজপদে বসিয়েছিলাম।
1KI 14:8 আমি দাউদ কুলের হাত থেকে রাজ্যটি ছিনিয়ে এনে তোমার হাতে তুলে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমার দাস সেই দাউদের মতো হতে পারোনি, যে আমার আদেশ পালন করল ও মনপ্রাণ দিয়ে আমার অনুগামী হল, এবং শুধু সেইসব কাজই করল, যা আমার দৃষ্টিতে ন্যায্য।
1KI 14:9 যারা তোমার আগে বেঁচে ছিল, তাদের সবার তুলনায় তুমিই সবচেয়ে বেশি মন্দ কাজ করেছ। তুমি নিজের জন্য অন্যান্য দেবদেবী—অর্থাৎ ধাতব প্রতিমা তৈরি করেছ; তুমি আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছ ও আমার দিকে পিঠ ফিরিয়েছ।
1KI 14:10 “ ‘এজন্য আমি যারবিয়ামের কুলে সর্বনাশ ঘটাতে চলেছি। যারবিয়াম বংশে ইস্রায়েলের অবশিষ্ট এক-একটি পুরুষকে—তা সে ক্রীতদাসই হোক বা স্বাধীন, আমি শেষ করে দেব। যেভাবে মানুষ শেষ পর্যন্ত ঘুঁটে পোড়ায়, আমিও যারবিয়ামের কুলকে পুড়িয়ে ছাই করে দেব।
1KI 14:11 যারবিয়াম কুলের যে কেউ নগরে মারা যাবে, কুকুরেরা তাদের খেয়ে ফেলবে, এবং যারা গ্রামাঞ্চলে মারা যাবে, পাখিরা তাদের ঠুকরে ঠুকরে খাবে। সদাপ্রভুই একথা বলেছেন!’
1KI 14:12 “আর তোমাকে বলছি, ঘরে ফিরে যাও। তুমি নগরে পা রাখামাত্র ছেলেটি মারা যাবে।
1KI 14:13 ইস্রায়েলীরা সবাই তার জন্য শোকপ্রকাশ করবে ও তাকে কবর দেবে। যারবিয়াম কুলে একমাত্র তাকেই কবর দেওয়া হবে, কারণ যারবিয়াম কুলে একমাত্র এর মধ্যেই ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু কিছুটা হলেও সদ্ভাব দেখতে পেয়েছেন।
1KI 14:14 “সদাপ্রভু নিজের জন্য ইস্রায়েলে এমন একজন রাজা উৎপন্ন করবেন, যে যারবিয়ামের পরিবারটিকে শেষ করে ফেলবে। এমনকি এখনই তা শুরু হয়ে গিয়েছে।
1KI 14:15 আর সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে আঘাত করবেন, যেন তা জলের মধ্যে দুলতে থাকা নলখাগড়ার মতো হয়ে যায়। এই যে সুন্দর দেশটি তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের দিলেন, সেখান থেকে তিনি ইস্রায়েলকে উৎখাত করবেন ও ইউফ্রেটিস নদীর ওপারে তাদের ইতস্তত ছড়িয়ে দেবেন, কারণ তারা আশেরার খুঁটি পুঁতে সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছে।
1KI 14:16 আর যেহেতু যারবিয়াম নিজে পাপ করেছে ও ইস্রায়েলকে দিয়েও পাপ করিয়েছে, তাই তিনি ইস্রায়েলকে ত্যাগ করতে চলেছেন।”
1KI 14:17 তখন যারবিয়ামের স্ত্রী উঠে সেখান থেকে তির্সাতে চলে গেলেন। ঠিক যখন তিনি বাড়ির চৌকাঠে পা দিলেন, ছেলেটি মারা গেল।
1KI 14:18 সদাপ্রভু তাঁর দাস ভাববাদী অহিয়ের মাধ্যমে যে কথা বললেন, ঠিক সেইমতো তারা ছেলেটিকে কবর দিয়েছিল ও তার জন্য শোকপ্রকাশ করল।
1KI 14:19 যারবিয়ামের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহ ও তাঁর শাসনব্যবস্থা, সেসব ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
1KI 14:20 তিনি বাইশ বছর রাজত্ব করলেন এবং পরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে নাদব রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 14:21 শলোমনের ছেলে রহবিয়াম যিহূদায় রাজা হলেন। তিনি একচল্লিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং সদাপ্রভু নিজের নাম স্থাপন করার জন্য ইস্রায়েলের সব বংশের মধ্যে থেকে আলাদা করে যে নগরটিকে মনোনীত করলেন, সেই জেরুশালেমে তিনি সতেরো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম নয়মা; তিনি ছিলেন একজন অম্মোনীয়া।
1KI 14:22 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যিহূদা মন্দ কাজ করল। তাদের করা পাপকাজের দ্বারা তারা তাদের আগে যারা বেঁচে ছিল, সেইসব লোকের চেয়েও বেশি পরিমাণে তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল।
1KI 14:23 এছাড়াও তারা নিজেদের জন্য প্রত্যেকটি উঁচু পাহাড়ে ও ডালপালা মেলে ধরা গাছের নিচে দেবতাদের পীঠস্থান, পবিত্র পাথর ও আশেরার খুঁটি খাড়া করল।
1KI 14:24 এমনকি দেশের মন্দিরগুলিতে দেবদাস ও দেবদাসীরা ছিল; প্রজারা অন্যান্য জাতিভুক্ত সেইসব লোকের মতোই সব ধরনের ঘৃণ্য কাজকর্মে লিপ্ত হল, যাদের সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে এক সময় তাড়িয়ে দিলেন।
1KI 14:25 রাজা রহবিয়ামের রাজত্বের পঞ্চম বছরে মিশরের রাজা শীশক জেরুশালেম আক্রমণ করলেন।
1KI 14:26 তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরের ও রাজপ্রাসাদের ধনসম্পদ তুলে নিয়ে গেলেন। শলোমনের তৈরি করা সোনার সব ঢাল সমেত তিনি সবকিছু নিয়ে চলে গেলেন।
1KI 14:27 তাই সেগুলির পরিবর্তে রাজা রহবিয়াম ব্রোঞ্জের কয়েকটি ঢাল তৈরি করলেন এবং যারা রাজপ্রাসাদের সিংহদুয়ারে মোতায়েন ফৌজি পাহারাদারদের সেনাপতি ছিলেন, তাদের হাতে সেগুলি তুলে দিলেন।
1KI 14:28 যখনই রাজা সদাপ্রভুর মন্দিরে যেতেন, ফৌজি পাহারাদাররাও সেই ঢালগুলি বহন করে নিয়ে যেত, এবং পরে তারা আবার সেগুলি ফৌজি পাহারাদারদের কক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যেত।
1KI 14:29 রহবিয়ামের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যা যা করলেন, সেসব কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 14:30 রহবিয়াম ও যারবিয়ামের মধ্যে অনবরত যুদ্ধ লেগেই ছিল।
1KI 14:31 আর রহবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং দাউদ-নগরে তাদের কাছেই তাঁকে কবর দেওয়া হল। তাঁর মায়ের নাম নয়মা; তিনি একজন অম্মোনীয়া। পরে তাঁর ছেলে অবিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 15:1 নবাটের ছেলে যারবিয়ামের রাজত্বের অষ্টাদশতম বছরে অবিয় যিহূদার রাজা হলেন,
1KI 15:2 এবং জেরুশালেমে তিনি তিন বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম মাখা, ও তিনি অবীশালোমের মেয়ে।
1KI 15:3 তিনি সেইসব পাপ করলেন, যা তাঁর বাবা তাঁর আগে করে গেলেন; তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের অন্তর যেমন তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত ছিল, অবিয়র অন্তর কিন্তু সেভাবে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত ছিল না।
1KI 15:4 তা সত্ত্বেও, দাউদের খাতিরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য এক ছেলে দেওয়ার ও জেরুশালেমকে মজবুত করার মাধ্যমে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভু জেরুশালেমে তাঁকে এক প্রদীপ দিলেন।
1KI 15:5 একমাত্র হিত্তীয় ঊরিয়র নজিরটি বাদ দিলে—দাউদ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা উপযুক্ত, তাই করলেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ জীবনকালে সদাপ্রভুর কোনও আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হননি।
1KI 15:6 অবিয় ও যারবিয়ামের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হল, অবিয় যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন তা চলেছিল।
1KI 15:7 অবিয়র রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই? অবিয় ও যারবিয়ামের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই ছিল।
1KI 15:8 অবিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আসা রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 15:9 ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের রাজত্বের বিংশতিতম বছরে আসা যিহূদার রাজা হলেন,
1KI 15:10 এবং জেরুশালেমে তিনি একচল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর ঠাকুমার নাম মাখা, তিনি অবীশালোমের মেয়ে ছিলেন।
1KI 15:11 আসা তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতো, সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তাই করলেন।
1KI 15:12 মন্দির-সংলগ্ন দেবদাসদের তিনি দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের তৈরি করা প্রতিমার মূর্তিগুলিও দূর করলেন।
1KI 15:13 এমনকি তিনি রাজমাতার পদ থেকে তাঁর ঠাকুমা মাখাকে সরিয়ে দিলেন, কারণ আশেরার পুজো করার জন্য মাখা জঘন্য এক মূর্তি তৈরি করলেন। আসা সেটি কেটে ফেলে দিলেন এবং কিদ্রোণ উপত্যকায় সেটি জ্বালিয়ে দিলেন।
1KI 15:14 যদিও তিনি পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি উপড়ে ফেলেননি, তবুও আজীবন আসার অন্তর সদাপ্রভুর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিতই ছিল।
1KI 15:15 সদাপ্রভুর মন্দিরে তিনি রুপো ও সোনা এবং সেইসব জিনিসপত্র এনে রেখেছিলেন, যেগুলি তিনি ও তাঁর বাবা উৎসর্গ করলেন।
1KI 15:16 আসা ও ইস্রায়েলের রাজা বাশার মধ্যে তাদের অধিকারভুক্ত এলাকার সর্বত্র যুদ্ধ লেগেই ছিল।
1KI 15:17 ইস্রায়েলের রাজা বাশা যিহূদার বিরুদ্ধে উঠে গেলেন এবং রামা নগরটি সুরক্ষিত করে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিলেন, যেন যিহূদার রাজা আসার এলাকা থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে না পারে বা সেখানে ঢুকতেও না পারে।
1KI 15:18 আসা তখন সদাপ্রভুর মন্দির থেকে ও তাঁর নিজের প্রাসাদের কোষাগারে পড়ে থাকা সব রুপো ও সোনা নিয়ে তাঁর কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিলেন এবং সেগুলি অরামের রাজা সেই বিন্‌হদদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, যিনি হিষিয়োণের নাতি ও টব্রিম্মোণের ছেলে ছিলেন, এবং তখন যিনি দামাস্কাসে রাজত্ব করছিলেন।
1KI 15:19 “আপনার ও আমার মধ্যে এক চুক্তি হোক,” তিনি বললেন, “যেমনটি আমার বাবা ও আপনার বাবার মধ্যে ছিল। দেখুন, আমি আপনার কাছে রুপো ও সোনার কিছু উপহার পাঠাচ্ছি। এখন আপনি ইস্রায়েলের রাজা বাশার সঙ্গে করা আপনার চুক্তিটি ভেঙে ফেলুন, তবেই সে আমার কাছ থেকে পিছিয়ে যাবে।”
1KI 15:20 বিন্‌হদদ আসার কথায় রাজি হলেন এবং ইস্রায়েলের নগরগুলির বিরুদ্ধে তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতিদের পাঠালেন। নপ্তালি ছাড়াও তিনি ইয়োন, দান, আবেল বেথ-মাখা ও সম্পূর্ণ কিন্নেরৎ দখল করে নিয়েছিলেন।
1KI 15:21 বাশা যখন একথা শুনতে পেলেন, তিনি রামা নগরটি গড়ে তোলার কাজ বন্ধ করে দিলেন এবং তির্সার দিকে পিছিয়ে গেলেন।
1KI 15:22 তখন রাজা আসা যিহূদার সর্বত্র এক আদেশ জারি করলেন—কেউ এর এক্তিয়ার থেকে অব্যাহতি পায়নি—এবং তারা রামা থেকে সেইসব পাথর ও কাঠ তুলে নিয়ে এসেছিল, যেগুলি বাশা সেখানে ব্যবহার করছিলেন। সেগুলি দিয়েই রাজা আসা বিন্যামীনে গেবা, ও পাশাপাশি মিস্‌পাও গেঁথে তুলেছিলেন।
1KI 15:23 আসার রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তাঁর সব কীর্তি, তিনি যা যা করলেন ও যেসব নগর তিনি তৈরি করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই? বৃদ্ধ বয়সে অবশ্য তাঁর পায়ে রোগ দেখা দিয়েছিল।
1KI 15:24 পরে আসা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে তাদের কাছেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোশাফট রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 15:25 যিহূদার রাজা আসার রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে যারবিয়ামের ছেলে নাদব ইস্রায়েলে রাজা হলেন, এবং ইস্রায়েলে তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন।
1KI 15:26 তাঁর বাবার পথ অনুসরণ করে ও তাঁর বাবা ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিলেন, সেই একই পাপ করে তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করলেন।
1KI 15:27 ইষাখর-কুলভুক্ত অহিয়র ছেলে বাশা নাদবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন, এবং নাদব ও সমস্ত ইস্রায়েল যখন ফিলিস্তিনী এক নগর গিব্বথোনের চারদিকে অবরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তখন সেখানেই বাশা তাঁকে আঘাত করে মেরে ফেলেছিলেন।
1KI 15:28 যিহূদার রাজা আসার রাজত্বের তৃতীয় বছরে বাশা নাদবকে হত্যা করলেন ও রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 15:29 রাজত্ব শুরু করামাত্রই তিনি যারবিয়ামের পরিবারের সবাইকে হত্যা করে ফেলেছিলেন। সদাপ্রভু তাঁর দাস শীলোনীয় অহিয়র মাধ্যমে যে কথা বললেন, সেই কথানুসারে তিনি যারবিয়ামের পরিবারে শ্বাস নেওয়ার জন্যও কাউকে অবশিষ্ট রাখেননি, কিন্তু তাদের সবাইকে মেরে ফেলেছিলেন।
1KI 15:30 যারবিয়াম যেহেতু স্বয়ং পাপ করলেন ও ইস্রায়েলকে দিয়েও পাপ করিয়েছিলেন, এবং যেহেতু ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ তিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন, তাই এরকমটি হল।
1KI 15:31 নাদবের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যেসব কাজ করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 15:32 আসা ও ইস্রায়েলের রাজা বাশার মধ্যে তাদের অধিকারভুক্ত এলাকার সর্বত্র যুদ্ধ লেগেই ছিল।
1KI 15:33 যিহূদার রাজা আসার রাজত্বের তৃতীয় বছরে অহিয়র ছেলে বাশা তির্সায় সমস্ত ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি চব্বিশ বছর রাজত্ব করলেন।
1KI 15:34 যারবিয়ামের পথ অনুসরণ করে ও যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিলেন, সেই একই পাপ করে তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করলেন।
1KI 16:1 পরে বাশার বিষয়ে সদাপ্রভুর এই বাক্য হনানির ছেলে যেহূর কাছে এসেছিল:
1KI 16:2 “আমি তোমায় ধুলো থেকে তুলে এনে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর রাজপদে নিযুক্ত করলাম, কিন্তু তুমিও যারবিয়ামের পথে চলেছ ও আমার প্রজা ইস্রায়েলকে দিয়ে পাপ করিয়ে, তাদের সেই পাপের মাধ্যমে আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছ।
1KI 16:3 তাই আমি বাশা ও তার কুলকে অবলুপ্ত করতে চলেছি, ও আমি তোমার কুলকেও নবাটের ছেলে যারবিয়ামের কুলের মতো করে দেব।
1KI 16:4 বাশার কুলভুক্ত যে কেউ নগরে মরবে, তাকে কুকুরেরা খাবে এবং যে কেউ গ্রামাঞ্চলে মরবে, তাকে পাখিরা ঠুকরে ঠুকরে খাবে।”
1KI 16:5 বাশার রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন ও তাঁর সব কীর্তির বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 16:6 বাশা তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাঁকে তির্সায় কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে এলা রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 16:7 এছাড়াও, হনানির ছেলে ভাববাদী যেহূর মাধ্যমেও সদাপ্রভুর বাক্য বাশা ও তাঁর কুলের কাছে এসেছিল, যেহেতু সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে তিনি প্রচুর মন্দ কাজ করলেন, ও সেইসব কাজ করার দ্বারা তাঁর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন, অর্থাৎ যারবিয়ামের কুলের মতোই হয়ে গেলেন—তথা তিনি সেই কুল ধ্বংসও করে দিলেন।
1KI 16:8 যিহূদার রাজা আসার রাজত্বের ষষ্ঠবিংশতিতম বছরে বাশার ছেলে এলা ইস্রায়েলে রাজা হলেন, এবং তির্সায় তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন।
1KI 16:9 তাঁর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সিম্রি। এলার অধিকারে থাকা রথের অর্ধেক সংখ্যক রথের উপর তিনি সেনাপতি পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনিই এলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। এলা সেই সময় তির্সায় রাজপ্রাসাদের প্রশাসক অর্সার ঘরে মাতাল হয়ে পড়েছিলেন।
1KI 16:10 যিহূদার রাজা আসার রাজত্বের সপ্তবিংশতিতম বছরে সিম্রি এসে এলাকে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করলেন। পরে তিনি রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 16:11 রাজত্বের শুরুতে সিংহাসনে বসেই তিনি বাশার কুলের সবাইকে হত্যা করলেন। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব, তা সে যেই হোক না কেন, তিনি কোনো পুরুষমানুষকেই নিষ্কৃতি দেননি।
1KI 16:12 অতএব ভাববাদী যেহূর মাধ্যমে সদাপ্রভু যে কথা বললেন, সেই কথানুসারে, সিম্রি বাশার সম্পূর্ণ কুল ধ্বংস করে দিলেন—
1KI 16:13 বাশা ও তাঁর ছেলে এলা যেসব পাপ করলেন ও ইস্রায়েলকে দিয়েও যা করিয়েছিলেন, সেগুলির কারণেই এমনটি হল, এবং তারা তাদের নির্গুণ প্রতিমার মূর্তিগুলি দিয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
1KI 16:14 এলার রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 16:15 যিহূদার রাজা আসার সপ্তবিংশতিতম বছরে সিম্রি সাত দিন তির্সায় রাজত্ব করলেন। সৈন্যদল ফিলিস্তিনী এক নগর গিব্বথোনের কাছে শিবির করে ছিল।
1KI 16:16 সৈন্যশিবিরের ইস্রায়েলীরা যখন শুনতে পেয়েছিল যে সিম্রি রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে খুন করেছেন, তখন তারা সেদিনই সৈন্যশিবিরের মধ্যে সৈন্যদলের সেনাপতি অম্রিকে ইস্রায়েলের রাজা বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল।
1KI 16:17 পরে অম্রি ও তাঁর সাথে থাকা ইস্রায়েলীরা সবাই গিব্বথোন থেকে পিছিয়ে এসে তির্সার বিরুদ্ধে অবরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
1KI 16:18 সিম্রি যখন দেখেছিলেন যে নগরটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি রাজপ্রাসাদের দুর্গের ভিতর চলে গিয়ে প্রাসাদে নিজের চারপাশে আগুন ধরিয়ে দিলেন। এইভাবে
1KI 16:19 তাঁর করা পাপের কারণে, সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করার এবং যারবিয়ামের পথানুগামী হওয়ার ও যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিলেন, সেই একই পাপ করার কারণে তাঁকে মরতে হল।
1KI 16:20 সিম্রির রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, ও যে বিদ্রোহ তিনি সম্পাদন করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 16:21 তখন ইস্রায়েলী জনতা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল; অর্ধেক লোক গীনতের ছেলে তিবনিকে রাজা করতে চাইছিল, ও অর্ধেক লোক অম্রিকে রাজা করতে চাইছিল।
1KI 16:22 কিন্তু অম্রির অনুগামীরা গীনতের ছেলে তিবনির অনুগামীদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী প্রতিপন্ন হল। তাই তিবনি মারা গেলেন ও অম্রি রাজা হয়ে গেলেন।
1KI 16:23 যিহূদার রাজা আসার একত্রিশতম বছরে অম্রি ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি বারো বছর রাজত্ব করলেন, যার মধ্যে ছয় বছর তিনি তির্সায় রাজত্ব করলেন।
1KI 16:24 তিনি দুই তালন্ত রুপোর বিনিময়ে শমরিয়া পাহাড়টি শেমরের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন ও সেটির উপরে একটি নগর নির্মাণ করেছিলেন এবং সেই পাহাড়টির পূর্বতন মালিক শেমরের নামানুসারে সেটির নাম রেখেছিলেন শমরিয়া।
1KI 16:25 কিন্তু অম্রি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করলেন এবং তাঁর আগে যারা রাজা হলেন, তাদের সবার তুলনায় আরও বেশি পাপ করলেন।
1KI 16:26 তিনি পুরোপুরি নবাটের ছেলে যারবিয়ামের পথানুগামী হলেন, অর্থাৎ যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিলেন, সেই একই পাপ করে তিনিও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন, যেমনটি তারা তাদের অকেজো প্রতিমার মূর্তিগুলির দ্বারা করল।
1KI 16:27 অম্রির রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন এবং যা যা অর্জন করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 16:28 অম্রি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাঁকে শমরিয়ায় কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আহাব রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 16:29 যিহূদার রাজা আসার আটত্রিশতম বছরে অম্রির ছেলে আহাব ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি শমরিয়ায় ইস্রায়েলের উপর বাইশ বছর রাজত্ব করলেন।
1KI 16:30 অম্রির ছেলে আহাব, তাঁর আগে যতজন রাজা হলেন, তাদের তুলনায় সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে আরও বেশি মন্দ কাজ করলেন।
1KI 16:31 নবাটের ছেলে যারবিয়াম যে পাপ করলেন, তা করাকেই যে শুধু তিনি নগণ্য বলে মনে করলেন, তা নয়, কিন্তু তিনি আবার সীদোনীয়দের রাজা ইৎবায়ালের মেয়ে ঈষেবলকেও বিয়ে করলেন, এবং বায়ালদেবের সেবা ও পূজার্চনা করতে শুরু করলেন।
1KI 16:32 শমরিয়ায় তিনি বায়ালদেবের একটি মন্দির তৈরি করে সেখানে বায়ালের একটি যজ্ঞবেদিও খাড়া করে দিলেন।
1KI 16:33 এছাড়াও আহাব একটি আশেরা-খুঁটি তৈরি করলেন এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তোলার জন্য তাঁর আগে ইস্রায়েলে যতজন রাজা হলেন, তাদের তুলনায় আরও বেশি মন্দ কাজ করলেন।
1KI 16:34 আহাবের রাজত্বকালে, বেথেলের হীয়েল যিরীহো নগরটির পুনর্নির্মাণ করল। সদাপ্রভু, নূনের ছেলে যিহোশূয়ের মাধ্যমে যা বললেন, সেই কথানুসারে নগরটির ভিত্তি গাঁথার জন্য হীয়েলকে তার প্রথমজাত ছেলে অবীরামকে হারাতে হল, এবং ছোটো ছেলে সগূবকে বিসর্জন দিয়ে তিনি ফটকগুলি খাড়া করলেন।
1KI 17:1 ইত্যবসরে গিলিয়দের তিশবী থেকে আসা তিশবীয় এলিয় আহাবকে বললেন, “আমি যাঁর সেবা করি, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি না বলা পর্যন্ত পরবর্তী কয়েক বছর দেশে শিশির বা বৃষ্টি, কিছুই পড়বে না।”
1KI 17:2 পরে এলিয়ের কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য এসেছিল:
1KI 17:3 “এই স্থানটি ছেড়ে চলে যাও, পূর্বদিকে ফিরে জর্ডন নদীর পূর্বপারে করীতের সরু গিরিখাতে গিয়ে লুকিয়ে থাকো।
1KI 17:4 তুমি সেই স্রোতের জল পান করবে, এবং আমি দাঁড়কাকদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, তারা সেখানে তোমাকে খাবার জোগাবে।”
1KI 17:5 সদাপ্রভু তাঁকে যা বললেন, তিনি তাই করলেন। তিনি জর্ডন নদীর পূর্বপারে করীতের সরু গিরিখাতের দিকে গিয়ে সেখানেই থেকে গেলেন।
1KI 17:6 দাঁড়কাকেরা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে রুটি ও মাংস নিয়ে আসত, এবং তিনি সেই স্রোতের জল পান করতেন।
1KI 17:7 দেশে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কিছুদিন পর সেই স্রোতটি শুকিয়ে গেল।
1KI 17:8 তখন সদাপ্রভুর এই বাক্য তাঁর কাছে এসেছিল:
1KI 17:9 “এক্ষুনি তুমি সীদোনের এলাকাভুক্ত সারিফতে চলে যাও ও সেখানে গিয়েই থাকো। আমি সেখানে একজন বিধবাকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, সে তোমাকে খাবার জোগাবে।”
1KI 17:10 অতএব তিনি সারিফতে চলে গেলেন। তিনি যখন নগরের সিংহদুয়ারে পৌঁছালেন, একজন বিধবা সেখানে তখন কাঠকুটো সংগ্রহ করছিল। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি আমার জন্য এক পাত্র জল এনে দিতে পারবে, যেন আমি তা পান করতে পারি?”
1KI 17:11 সে যখন জল আনতে যাচ্ছিল তখন তিনি আবার তাকে ডেকে বললেন, “আর দয়া করে আমার জন্য এক টুকরো রুটিও এনো।”
1KI 17:12 “আপনার ঈশ্বর জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,” সে উত্তর দিয়েছিল, “আমার কাছে কোনও রুটি নেই—আছে শুধু একটি পাত্রে পড়ে থাকা একমুঠো ময়দা আর একটি বয়ামে পড়ে থাকা সামান্য একটু জলপাই তেল। আমি ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কয়েকটি কাঠকুটো কুড়াচ্ছি, যেন আমার ও আমার ছেলের জন্য একটু খাবার তৈরি করে আমরা তা খেয়ে মরি।”
1KI 17:13 এলিয় তাকে বললেন, “ভয় পেয়ো না। ঘরে গিয়ে তোমার কথামতোই কাজ করো। কিন্তু তোমার কাছে যা আছে তা দিয়ে প্রথমে আমার জন্য ছোটো এক টুকরো রুটি তৈরি করে সেটি আমার কাছে নিয়ে এসো, পরে তোমার নিজের ও তোমার ছেলের জন্য কিছু তৈরি কোরো।
1KI 17:14 কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘যতদিন না সদাপ্রভু দেশে বৃষ্টি পাঠাচ্ছেন, ততদিন ময়দার এই পাত্র শূন্য হবে না ও তেলের বয়ামও শুকিয়ে যাবে না।’ ”
1KI 17:15 সে গিয়ে এলিয়ের কথামতোই কাজ করল। তাতে প্রতিদিন সেখানে এলিয়ের এবং সেই মহিলা ও তার ছেলের জন্য খাবারের ব্যবস্থা হল।
1KI 17:16 কারণ এলিয়ের মাধ্যমে বলা সদাপ্রভুর সেই কথা সত্যি প্রমাণিত করে ময়দার সেই পাত্র শূন্য হয়নি এবং তেলের বয়ামও শুকিয়ে যায়নি।
1KI 17:17 পরে কোনও এক সময় সেই বাড়ির কর্ত্রী মহিলাটির ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার অবস্থা ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছিল, এবং শেষ পর্যন্ত তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
1KI 17:18 সেই মহিলাটি এলিয়কে বলল, “হে ঈশ্বরের লোক, আমি আপনার কী ক্ষতি করেছি? আপনি কি আমার পাপের কথা মনে করাতে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে এখানে এসেছেন?”
1KI 17:19 “তোমার ছেলেকে আমার হাতে তুলে দাও,” এলিয় উত্তর দিলেন। তিনি তার হাত থেকে ছেলেটিকে নিয়ে উপরের সেই ঘরটিতে চলে গেলেন, যেখানে তিনি থাকার জন্য উঠেছিলেন, এবং ছেলেটিকে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিলেন।
1KI 17:20 পরে তিনি সদাপ্রভুর কাছে চিৎকার করে বললেন, “হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি কি এই বিধবা মহিলাটির ছেলেকে মেরে ফেলে তার জীবনে বিপর্যয় আনতে চাইছ, যার ঘরে আমি এখন এসে থাকছি?”
1KI 17:21 একথা বলে তিনি তিনবার ছেলেটির উপর শুয়ে পড়েছিলেন ও চিৎকার করে সদাপ্রভুকে বললেন, “হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, এই ছেলেটির শরীরে প্রাণ ফিরে আসুক!”
1KI 17:22 সদাপ্রভু এলিয়ের আর্তনাদ শুনেছিলেন, এবং ছেলেটির শরীরে তার প্রাণ ফিরে এসেছিল, ও সে বেঁচে উঠেছিল।
1KI 17:23 এলিয় ছেলেটিকে কোলে তুলে নিয়ে সেই ঘর থেকে নিচে বাড়িতে নেমে এলেন। তাকে তার মায়ের হাতে তুলে দিয়ে তিনি বললেন, “এই দেখো, তোমার ছেলে বেঁচে আছে!”
1KI 17:24 তখন সেই মহিলাটি এলিয়কে বলল, “এখন আমি বুঝলাম যে আপনি ঈশ্বরের লোক এবং আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা সদাপ্রভুর বাক্যই সত্যি।”
1KI 18:1 বেশ কিছু সময় পার হয়ে যাওয়ার পর, তৃতীয় বছরে সদাপ্রভুর এই বাক্য এলিয়ের কাছে এসেছিল: “যাও, নিজেকে আহাবের সামনে উপস্থিত করো, আর আমি দেশে বৃষ্টি পাঠাব।”
1KI 18:2 অতএব এলিয় নিজেকে আহাবের সামনে উপস্থিত করতে গেলেন। ইত্যবসরে শমরিয়ায় দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারণ করল,
1KI 18:3 এবং আহাব তাঁর প্রাসাদের প্রশাসক ওবদিয়কে ডেকে পাঠালেন। (ওবদিয় সদাপ্রভুর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক বিশ্বাসী ছিলেন।
1KI 18:4 ঈষেবল যখন সদাপ্রভুর ভাববাদীদের মেরে ফেলছিল, ওবদিয় তখন একশো জন ভাববাদীকে নিয়ে গিয়ে দুটি গুহায়—এক একটিতে পঞ্চাশ জন করে—লুকিয়ে রেখেছিলেন, এবং তাদের জন্য খাবার ও জলের ব্যবস্থা করেছিলেন)।
1KI 18:5 আহাব ওবদিয়কে বললেন, “দেশে যত জলের উৎস ও উপত্যকা আছে, তুমি সেসব স্থানে যাও। হয়তো আমাদের ঘোড়া ও খচ্চরগুলি বাঁচিয়ে রাখার উপযোগী কিছু ঘাসপাতা আমরা পেয়েও যেতে পারি, সেক্ষেত্রে আমাদের কোনও পশু আর হয়তো আমাদের মারতে হবে না।”
1KI 18:6 অতএব দেশের যে এলাকাগুলিতে তাদের যেতে হত, সেগুলি তারা দুই ভাগে বিভক্ত করে নিয়েছিলেন। আহাব একদিকে গেলেন ও ওবদিয় অন্যদিকে গেলেন।
1KI 18:7 ওবদিয় পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময় তাঁর সঙ্গে এলিয়ের দেখা হল। ওবদিয় তাঁকে চিনতে পেরে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে বললেন, “হে আমার প্রভু এলিয়, এ কি সত্যিই আপনি?”
1KI 18:8 “হ্যাঁ, আমিই,” তিনি উত্তর দিলেন। “যাও, গিয়ে তোমার মনিবকে বলো, ‘এলিয় এখানেই আছেন।’ ”
1KI 18:9 “আমি কী দোষ করেছি,” ওবদিয় জিজ্ঞাসা করলেন, “যে আপনি আপনার এই দাসকে মেরে ফেলার জন্য আহাবের হাতে তুলে দিচ্ছেন?
1KI 18:10 আপনার ঈশ্বর জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, এমন কোনও দেশ বা রাজ্য বাকি নেই, যেখানে আমার মনিব আপনার খোঁজে লোক পাঠাননি। আর যখনই কোনও দেশ বা রাজ্য দাবি করেছে আপনি সেখানে নেই, তখনই তিনি তাদের দিয়ে শপথ করিয়ে নিয়েছিলেন, যে সত্যিই তারা আপনাকে খুঁজে পায়নি।
1KI 18:11 কিন্তু এখন আপনি আমায় বলছেন, আমি যেন গিয়ে আমার মনিবকে বলি, ‘এলিয় এখানে আছেন।’
1KI 18:12 আমি জানি না, আপনার কাছ থেকে আমি চলে যাওয়ার পর সদাপ্রভুর আত্মা আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে। আমি যদি আহাবকে গিয়ে বলি এবং তিনি আপনাকে খুঁজে না পান, তবে তিনি আমাকেই হত্যা করবেন। অথচ আপনার এই দাস আমি আমার যৌবনকাল থেকেই সদাপ্রভুর আরাধনা করে আসছি।
1KI 18:13 হে আমার প্রভু, আপনি কি শোনেননি ঈষেবল যখন সদাপ্রভুর ভাববাদীদের হত্যা করছিল তখন আমি কী করেছিলাম? আমি সদাপ্রভুর ভাববাদীদের মধ্যে একশো জনকে দুটি গুহায়—এক একটিতে পঞ্চাশ জন করে—লুকিয়ে রেখে তাদের জন্য খাবার ও জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।
1KI 18:14 আর এখন কি না আপনি আমাকে আমার মনিবের কাছে গিয়ে একথা বলতে বলছেন, ‘এলিয় এখানে আছেন।’ তিনি তো আমায় মেরে ফেলবেন!”
1KI 18:15 এলিয় বললেন, “আমি যাঁর সেবা করি, সেই সর্বশক্তিমান জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি অবশ্যই আজ আহাবের সামনে নিজেকে উপস্থিত করব।”
1KI 18:16 অতএব ওবদিয় গিয়ে আহাবের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সব কথা বললেন, এবং আহাবও এলিয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।
1KI 18:17 এলিয়ের দেখা পেয়ে আহাব তাঁকে বললেন, “ওহে ইস্রায়েলের অসুবিধা সৃষ্টিকারী লোক, এ কি তুমি?”
1KI 18:18 “আমি ইস্রায়েলে অসুবিধা সৃষ্টি করিনি,” এলিয় উত্তর দিলেন। “কিন্তু আপনি ও আপনার বাবার কুলই তা করেছেন। আপনারা সদাপ্রভুর আদেশ পরিত্যাগ করে বায়াল-দেবদের অনুগামী হয়েছেন।
1KI 18:19 এখন ইস্রায়েলের সর্বত্র খবর পাঠিয়ে লোকদের ডেকে আনুন, যেন তারা কর্মিল পাহাড়ে আমার সাথে দেখা করে। আর বায়ালের সেই 450 জন ও আশেরার সেই 400 জন ভাববাদীকেও নিয়ে আসুন, যারা ঈষেবলের টেবিলে বসে ভোজনপান করে।”
1KI 18:20 অতএব আহাব সমস্ত ইস্রায়েলে খবর পাঠিয়ে ভাববাদীদের কর্মিল পাহাড়ে সমবেত করলেন।
1KI 18:21 এলিয় লোকদের সামনে গিয়ে বললেন, “আর কত দিন তোমরা দুটি অভিমতের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে থাকবে? সদাপ্রভু যদি ঈশ্বর হন, তবে তাঁর অনুগামী হও; কিন্তু বায়াল যদি ঈশ্বর হয়, তবে তারই অনুগামী হও।” কিন্তু লোকেরা কিছুই বলেনি।
1KI 18:22 তখন এলিয় তাদের বললেন, “সদাপ্রভুর ভাববাদীদের মধ্যে এখানে একমাত্র আমিই আছি, কিন্তু বায়ালের ভাববাদীরা সংখ্যায় 450 জন।
1KI 18:23 আমাদের জন্য দুটি বলদ নিয়ে এসো। বায়ালের ভাববাদীরা নিজেদের জন্য একটি বলদ বেছে নিক, ও সেটি কেটে টুকরো টুকরো করে কাঠের উপর সাজিয়ে রাখুক কিন্তু তাতে যেন তারা আগুন না ধরায়। আমিও অন্য বলদটি প্রস্তুত করে সেটি কাঠের উপর সাজিয়ে রাখব কিন্তু তাতে আগুন দেব না।
1KI 18:24 পরে তোমরা নিজেদের দেবতার নাম ধরে ডেকো, ও আমিও সদাপ্রভুর নাম ধরে ডাকব। যিনি আগুনের দ্বারা উত্তর দেবেন, তিনিই ঈশ্বর।” তখন সব লোকজন বলে উঠেছিল, “আপনি ভালো কথাই বলেছেন।”
1KI 18:25 এলিয় বায়ালের ভাববাদীদের বললেন, “একটি বলদ বেছে নিয়ে তোমরা প্রথমে সেটি প্রস্তুত করো, যেহেতু সংখ্যায় তোমরাই বেশি। তোমাদের দেবতার নাম ধরে ডাকো, কিন্তু আগুন জ্বালিয়ো না।”
1KI 18:26 অতএব যে বলদটি তাদের দেওয়া হল, সেটি তারা প্রস্তুত করে রেখেছিল। পরে তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ালের নাম ধরে ডেকেছিল। “হে বায়ালদেব, আমাদের উত্তর দাও!” এই বলে তারা চিৎকার করছিল। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি; কেউ উত্তর দেয়নি। তারা আবার তাদের তৈরি করা যজ্ঞবেদি ঘিরে নাচতেও লাগল।
1KI 18:27 দুপুর হতে না হতেই এলিয় তাদের বিদ্রুপের খোঁচা দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, “আরও জোরে চিৎকার করো! সে তো অবশ্যই একজন দেবতা! হয়তো সে গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে আছে, হয়তো বা সে খুব ব্যস্ত, বা কোথাও বেড়াতে গিয়েছে। হতে পারে সে হয়তো ঘুমাচ্ছে আর তাকে জাগাতে হবে।”
1KI 18:28 তাই তারা আরও জোরে চিৎকার করতে শুরু করল এবং তাদের লোকাচার অনুসারে, রক্তের ধারা প্রবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তরোয়াল ও বর্শা দিয়ে নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে তুলেছিল।
1KI 18:29 দুপুর গড়িয়ে গেল, তবু তারা সন্ধ্যাকালীন বলিদানের সময় পর্যন্ত তাদের ক্ষিপ্ত ভাববাণী আউড়ে গেল। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি, কেউ উত্তর দেয়নি, কেউ তাতে মনোযোগ দেয়নি।
1KI 18:30 তখন এলিয় সব লোকজনকে বললেন, “এখানে আমার কাছে এসো।” তারা তাঁর কাছে এসেছিল, ও তিনি ভেঙে পড়ে থাকা সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিটি মেরামত করলেন।
1KI 18:31 সেই যাকোব থেকে উৎপন্ন বংশের সংখ্যানুসারে এলিয় বারোটি পাথর হাতে তুলে নিয়েছিলেন, যাঁর কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য উপস্থিত হল, “তোমার নাম হবে ইস্রায়েল।”
1KI 18:32 সেই পাথরগুলি দিয়ে তিনি সদাপ্রভুর নামে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করলেন, এবং সেটির চারপাশে দুই কাঠা বীজ ধারণ করতে পারে, এত বড়ো একটি নালা কেটে দিলেন।
1KI 18:33 তিনি কাঠ সাজিয়ে, বলদটি টুকরো টুকরো করে কেটে কাঠের উপর সাজিয়ে রেখেছিলেন। পরে তিনি তাদের বললেন, “চারটি বড়ো বড়ো বয়ামে জল ভরে সেই জল বলির পশু ও কাঠের উপর ঢেলে দাও।”
1KI 18:34 “আবার এরকম করো,” তিনি বললেন, ও তারা আবার তা করল। “তৃতীয়বারও এরকম করো,” তিনি আদেশ দিলেন, ও তারা তৃতীয়বার তা করল।
1KI 18:35 বেদি উপচে জল গড়িয়ে পড়েছিল ও এমনকি নালাও ভরিয়ে তুলেছিল।
1KI 18:36 বলিদান উৎসর্গ করার সময় ভাববাদী এলিয় এগিয়ে এসে প্রার্থনা করলেন: “হে সদাপ্রভু, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর, লোকেরা আজ জানুক যে ইস্রায়েলে তুমিই ঈশ্বর এবং আমি তোমার দাস ও আমি তোমার আদেশেই এসব কাজ করেছি।
1KI 18:37 আমায় উত্তর দাও, হে সদাপ্রভু, আমায় উত্তর দাও, যেন এইসব লোক জানতে পারে যে তুমি তাদের অন্তর আবার ফিরাতে চলেছ।”
1KI 18:38 তখন সদাপ্রভুর কাছ থেকে আগুন নেমে এসেছিল এবং বলির পশু, কাঠ, পাথর ও মাটি পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল, এবং নালার জলও নিকেশ করে ফেলেছিল।
1KI 18:39 সব লোকজন যখন এই দৃশ্য দেখেছিল, তারা মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে চিৎকার করে উঠেছিল, “সদাপ্রভুই ঈশ্বর! সদাপ্রভুই ঈশ্বর!”
1KI 18:40 তখন এলিয় তাদের আদেশ দিলেন, “বায়ালের ভাববাদীদের ধরে ফেলো। কেউ যেন পালাতে না পারে!” তারা তাদের ধরে ফেলেছিল, ও এলিয় তাদের কীশোন উপত্যকায় নামিয়ে এনে সেখানে তাদের হত্যা করলেন।
1KI 18:41 আর এলিয় আহাবকে বললেন, “যান, ভোজনপান করুন, কারণ প্রবল বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে।”
1KI 18:42 অতএব আহাব ভোজনপান করতে চলে গেলেন, কিন্তু এলিয় কর্মিল পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গিয়ে, মাটিতে হাঁটু মুড়ে, নিজের মুখটি দুই হাঁটুর মাঝখানে রেখে বসেছিলেন।
1KI 18:43 “যাও, সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকো,” তিনি তাঁর দাসকে বললেন। আর সে গিয়ে তাকিয়ে থেকেছিল। “সেখানে কিছুই নেই,” সে বলল। সাতবার এলিয় বললেন, “তুমি ফিরে যাও।”
1KI 18:44 সপ্তমবারে সেই দাস এসে খবর দিয়েছিল, “মানুষের হাতের মতো ছোটো একখণ্ড মেঘ সমুদ্র থেকে উঠে আসছে।” অতএব এলিয় বললেন, “যাও, আহাবকে গিয়ে বলো, ‘হ্যাঁচকা টান মেরে আপনার রথটি ওঠান ও বৃষ্টি বাধ সাধার আগেই আপনি চলে যান।’ ”
1KI 18:45 এদিকে, আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল, বাতাস উঠেছিল, প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হল এবং আহাব রথে চড়ে যিষ্রিয়েলে চলে গেলেন।
1KI 18:46 সদাপ্রভুর শক্তি এলিয়ের উপর নেমে এসেছিল, এবং নিজের আলখাল্লাটি কোমরবন্ধে গুঁজে নিয়ে তিনি আহাবের আগেই দৌড়ে যিষ্রিয়েলে পৌঁছে গেলেন।
1KI 19:1 ইত্যবসরে এলিয় যা যা করলেন এবং কীভাবে তিনি ভাববাদীদের সবাইকে তরোয়াল দিয়ে হত্যা করলেন, সেসব কথা আহাব ঈষেবলকে বলে দিলেন।
1KI 19:2 তাই ঈষেবল এলিয়ের কাছে একথা বলার জন্য একজন দূত পাঠালেন, “আগামীকাল এই সময়ের মধ্যে আমি যদি তোমার দশা সেই ভাববাদীদের একজনের মতোও না করি, তবে যেন দেবদেবীরা আমাকে কঠোর থেকে কঠোরতর দণ্ড দেন।”
1KI 19:3 এলিয় ভয় পেয়ে গেলেন এবং প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড় লাগালেন। যিহূদার বের-শেবায় পৌঁছে তিনি তাঁর দাসকে সেখানে রেখে
1KI 19:4 নিজে একদিনের পথ পাড়ি দিয়ে মরুপ্রান্তরে চলে গেলেন। একটি খেংরা ঝোপের কাছে এসে, সেটির তলায় বসে তিনি নিজের মৃত্যু কামনা করে প্রার্থনা করলেন। “হে সদাপ্রভু, যথেষ্ট হয়েছে,” তিনি বললেন। “আমার জীবন নিয়ে নাও; আমার পূর্বপুরুষদের চেয়ে আমি কোনোমতেই ভালো নই।”
1KI 19:5 এই বলে তিনি খেংরা ঝোপের তলায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ করে একজন স্বর্গদূত তাঁকে স্পর্শ করে বলে উঠেছিলেন, “উঠে পড়ো ও খেয়ে নাও।”
1KI 19:6 তিনি চারপাশে তাকিয়েছিলেন, আর দেখতে পেয়েছিলেন যে তাঁর মাথার কাছে গরম কয়লার আগুনে সেঁকা কয়েকটি রুটি ও এক বয়াম জল রাখা আছে। তিনি ভোজনপান করে আবার শুয়ে পড়েছিলেন।
1KI 19:7 সদাপ্রভুর দূত দ্বিতীয়বার ফিরে এসে তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, “উঠে পড়ো ও খেয়ে নাও, কারণ এই যাত্রাটি তোমার পক্ষে বড়ো বেশি লম্বা হতে চলেছে।”
1KI 19:8 অতএব তিনি উঠে ভোজনপান করলেন। খাবার খেয়ে শক্তি লাভ করে তিনি সদাপ্রভুর পর্বত হোরেবে না পৌঁছানো পর্যন্ত চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত হেঁটে গেলেন।
1KI 19:9 সেখানে একটি গুহায় ঢুকে তিনি রাত কাটিয়েছিলেন। আর সদাপ্রভুর এই বাক্য তাঁর কাছে এসেছিল: “এলিয়, তুমি এখানে কী করছ?”
1KI 19:10 তিনি উত্তর দিলেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য দারুণ উদ্যোগী হয়েছি। ইস্রায়েলীরা তোমার নিয়ম বাতিল করে দিয়েছে, তোমার যজ্ঞবেদিগুলি ভেঙে ফেলেছে, এবং তোমার ভাববাদীদের তরোয়াল দিয়ে হত্যা করেছে। একমাত্র আমিই অবশিষ্ট আছি, আর এখন তারা আমাকেও হত্যা করতে চাইছে।”
1KI 19:11 সদাপ্রভু বললেন, “পর্বতের উপর সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে গিয়ে দাঁড়াও, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই সদাপ্রভু ওখান দিয়ে পার হবেন।” পরে প্রচণ্ড শক্তিশালী বাতাসের এক ঝাপটায় সদাপ্রভুর সামনে পর্বতমালা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং পাষাণ-পাথরগুলিও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, কিন্তু সদাপ্রভু সেই বাতাসে ছিলেন না। বাতাস বয়ে যাওয়ার পর ভূমিকম্প হল, কিন্তু সদাপ্রভু সেই ভূমিকম্পেও ছিলেন না।
1KI 19:12 ভূমিকম্প হয়ে যাওয়ার পর সেখানে আগুন জ্বলে উঠেছিল, কিন্তু সদাপ্রভু সেই আগুনেও ছিলেন না। আগুনের পর সেখানে মৃদুমন্দ ফিসফিসানির শব্দ শোনা গেল।
1KI 19:13 সেই শব্দ শুনে এলিয় নিজের আলখাল্লা দিয়ে মুখ ঢেকে বাইরে বের হয়ে গুহার মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন এক কণ্ঠস্বর তাঁকে বলল, “এলিয়, তুমি এখানে কী করছ?”
1KI 19:14 তিনি উত্তর দিলেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য দারুণ উদ্যোগী হয়েছি। ইস্রায়েলীরা তোমার নিয়ম বাতিল করে দিয়েছে, তোমার যজ্ঞবেদিগুলি ভেঙে ফেলেছে, এবং তোমার ভাববাদীদের তরোয়াল দিয়ে হত্যা করেছে। একমাত্র আমিই অবশিষ্ট আছি, আর এখন তারা আমাকেও হত্যা করতে চাইছে।”
1KI 19:15 সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “যে পথ দিয়ে এসেছিলে, সেই পথ ধরেই দামাস্কাসের মরুভূমিতে চলে যাও। সেখানে পৌঁছে হসায়েলকে অরামের উপর রাজপদে অভিষিক্ত করো।
1KI 19:16 এছাড়াও, নিমশির ছেলে যেহূকে ইস্রায়েলের উপর রাজপদে অভিষিক্ত করো, এবং ভাববাদীরূপে তোমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আবেল-মহোলার অধিবাসী শাফটের ছেলে ইলীশায়কে অভিষিক্ত করো।
1KI 19:17 যে কেউ হসায়েলের তরোয়ালের হাত থেকে রেহাই পাবে, যেহূ তাকে হত্যা করবে, আর যে কেউ যেহূর তরোয়ালের হাত থেকে রেহাই পাবে, ইলীশায় তাকে হত্যা করবে।
1KI 19:18 তবে ইস্রায়েলে আমি এমন 7,000 লোককে সংরক্ষিত করে রেখেছি, যারা বায়ালের কাছে মাথা নত করেনি ও তাকে চুমুও দেয়নি।”
1KI 19:19 অতএব সেখান থেকে গিয়ে এলিয় শাফটের ছেলে ইলীশায়কে খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি বারো জোড়া বলদ জোয়ালে জুড়ে জমি চাষ করছিলেন, আর তিনি স্বয়ং শেষ জোড়া বলদ দিয়ে হাল চালাচ্ছিলেন। এলিয় তাঁর কাছে গিয়ে নিজের আলখাল্লাটি তাঁর গায়ে ছুঁড়ে দিলেন।
1KI 19:20 ইলীশায় তখন তাঁর বলদগুলি ছেড়ে এলিয়ের কাছে দৌড়ে গেলেন। “আমাকে অনুমতি দিন, আমি আমার মা-বাবাকে চুমু দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি,” তিনি বললেন, “পরে আমি আপনার সাথে আসব।” “তুমি ফিরে যাও,” এলিয় উত্তর দিলেন। “আমি তোমার প্রতি কী করেছি?”
1KI 19:21 অতএব ইলীশায় তাঁকে ছেড়ে ফিরে গেলেন। তিনি তাঁর হালের বলদগুলি নিয়ে সেগুলি বধ করলেন। তিনি লাঙল-জোয়ালের কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মাংস রান্না করলেন ও লোকজনকে দিলেন ও তারা তা খেয়েছিল। পরে তিনি এলিয়ের অনুগামী হয়ে, তাঁর দাস হয়ে গেলেন।
1KI 20:1 ইত্যবসরে অরামের রাজা বিন্‌হদদ তাঁর সমগ্র সৈন্যদল একত্রিত করলেন। বত্রিশজন রাজা ও তাদের ঘোড়া ও রথ সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তিনি চারদিক থেকে শমরিয়া নগরটিকে ঘিরে ধরে সেখানে আক্রমণ চালিয়েছিলেন।
1KI 20:2 তিনি এই কথা বলার জন্য নগরে ইস্রায়েলের রাজা আহাবের কাছে দূত পাঠালেন, “বিনহদদ এই কথা বলেন:
1KI 20:3 ‘আপনার রুপো ও সোনাদানা সব আমার, এবং আপনার বাছাই করা স্ত্রী ও সন্তানেরাও আমার।’ ”
1KI 20:4 ইস্রায়েলের রাজা উত্তর দিলেন, “হে আমার প্রভু মহারাজ, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি ও আমার সবকিছুই আপনার।”
1KI 20:5 দূতেরা আরেকবার এসে বলল, “বিন্‌হদদ একথাই বলেন: ‘আমি আপনার রুপো ও সোনাদানা, আপনার স্ত্রী ও সন্তানদের চেয়ে নেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিলাম।
1KI 20:6 কিন্তু আগামীকাল মোটামুটি এসময় আপনার রাজপ্রাসাদে ও আপনার কর্মকর্তাদের বাড়িতে তল্লাসি চালানোর জন্য আমি আমার কর্মকর্তাদের পাঠাতে যাচ্ছি। আপনার কাছে যা যা মূল্যবান, সেসবকিছু তারা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে চলে যাবে।’ ”
1KI 20:7 ইস্রায়েলের রাজা আহাব দেশের সব প্রাচীনকে ডেকে পাঠালেন এবং তাদের বললেন, “দেখুন কীভাবে এই লোকটি অনিষ্ট করার চেষ্টা করছেন! তিনি যখন আমার স্ত্রী ও সন্তানদের, আমার রুপো ও সোনাদানা চেয়ে পাঠালেন, আমি তাঁর কথা অমান্য করিনি।”
1KI 20:8 প্রাচীনেরা ও সব লোকজন উত্তর দিয়েছিল, “তাঁর কথা শুনবেন না বা তাঁর দাবি মানবেন না।”
1KI 20:9 অতএব তিনি বিনহদদের দূতদের জবাব দিলেন, “আমার প্রভু মহারাজকে গিয়ে বলো, ‘আপনি প্রথমবার যে যে দাবি জানিয়েছিলেন, আপনার দাস সেসব মানবে, কিন্তু আপনার এই দাবিটি আমি মানতে পারছি না।’ ” তারা এই উত্তর নিয়ে বিন্‌হদদের কাছে ফিরে গেল।
1KI 20:10 পরে বিন্‌হদদ আহাবের কাছে অন্য একটি খবর দিয়ে পাঠালেন: “আমার লোকজনের হাতে দেওয়ার মতো ধুলোও যদি শমরিয়ায় পড়ে থাকে, তবে যেন দেবদেবীরা আমায় কঠোর থেকে কঠোরতর দণ্ড দেন।”
1KI 20:11 ইস্রায়েলের রাজা উত্তর দিলেন, “তাঁকে গিয়ে বলো: ‘যিনি রক্ষাকবচ ধারণ করলেন, তাঁর এমন কোনও লোকের মতো অহংকার করা উচিত নয়, যিনি তা খুলে ফেলেছেন।’ ”
1KI 20:12 বিনহদদ ও অন্যান্য রাজারা যখন তাঁবুতে বসে মদ্যপান করছিলেন, তখনই তিনি এই খবরটি পেয়েছিলেন, এবং তিনি তাঁর লোকজনকে আদেশ দিলেন: “আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হও।” অতএব তারা নগরটি আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হল।
1KI 20:13 এদিকে একজন ভাববাদী ইস্রায়েলের রাজা আহাবের কাছে এসে ঘোষণা করলেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তুমি কি এই বিশাল সৈন্যদল দেখছ? আজই আমি এদের তোমার হাতে তুলে দেব, আর তখনই তুমি জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
1KI 20:14 “কিন্তু কে এ কাজ করবে?” আহাব জিজ্ঞাসা করলেন। ভাববাদীমশাই উত্তরে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘প্রাদেশিক সেনাপতিদের অধীনে থাকা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা এ কাজ করবে।’ ” “আর যুদ্ধ কে শুরু করবে?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। ভাববাদীমশাই উত্তর দিলেন, “আপনিই করবেন।”
1KI 20:15 অতএব আহাব প্রাদেশিক সেনাপতিদের অধীনে থাকা 232 জন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠালেন। পরে তিনি অবশিষ্ট মোট 7,000 ইস্রায়েলী লোক একত্রিত করলেন।
1KI 20:16 বিন্‌হদদ ও তাঁর মিত্রপক্ষের বত্রিশজন রাজা যখন দুপুরবেলায় তাঁবুতে মাতাল হয়ে পড়েছিলেন, তখনই তারা রওনা হল।
1KI 20:17 প্রাদেশিক সেনাপতিদের অধীনে থাকা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারাই প্রথমে রওনা হল। ইত্যবসরে বিন্‌হদদ শত্রুপক্ষের খবর নেওয়ার জন্য লোক পাঠালেন, এবং তারা খবর দিয়েছিল, “শমরিয়া থেকে লোকজন এগিয়ে আসছে।”
1KI 20:18 তিনি বললেন, “তারা যদি সন্ধি করার জন্য আসছে, তবে তাদের জ্যান্ত অবস্থায় ধরো; যদি তারা যুদ্ধ করার জন্য আসছে, তাও তাদের জ্যান্ত অবস্থায় ধরো।”
1KI 20:19 প্রাদেশিক সেনাপতিদের অধীনে থাকা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা নগর ছেড়ে কুচকাওয়াজ করে বের হয়ে এসেছিল। সৈন্যদল ছিল তাদের পিছনে
1KI 20:20 এবং এক একজন তাদের প্রতিপক্ষকে আঘাত করল। তাতে অরামীয়রা পালিয়ে গেল, এবং ইস্রায়েলীরা তাদের পিছু ধাওয়া করল। কিন্তু অরামের রাজা বিন্‌হদদ কয়েকজন অশ্বারোহী সৈন্য সাথে নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চেপে পালিয়ে গেলেন।
1KI 20:21 ইস্রায়েলের রাজা এগিয়ে গিয়ে ঘোড়া ও রথগুলি কাবু করলেন এবং অরামীয়দের উপর ভারী ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিলেন।
1KI 20:22 পরে, সেই ভাববাদী ইস্রায়েলের রাজার কাছে এসে বললেন, “নিজের অবস্থান মজবুত করুন এবং দেখুন কী করতে হবে, কারণ আগামী বছর বসন্তকালে অরামের রাজা আবার আপনাকে আক্রমণ করবেন।”
1KI 20:23 এদিকে, অরামের রাজার কর্মকর্তারা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিল, “ওদের দেবদেবীরা পাহাড়ের দেবদেবী। এজন্যই ওরা আমাদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি সমতলে নেমে ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, নিঃসন্দেহে আমরা ওদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হব।
1KI 20:24 আপনি এক কাজ করুন: রাজাদের সরিয়ে দিয়ে তাদের স্থানে অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাজে লাগান।
1KI 20:25 যে সৈন্যদল আপনি হারিয়েছেন, সেটির মতো আরও একটি সৈন্যদল গড়ে তুলুন—ঘোড়ার পরিবর্তে ঘোড়া এবং রথের পরিবর্তে রথ—তবেই আমরা সমতলে ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারব। তখন নিঃসন্দেহে আমরা ওদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হয়ে যাব।” তিনি তাদের কথায় রাজি হয়ে সেইমতোই কাজ করলেন।
1KI 20:26 পরের বছর বসন্তকালে বিন্‌হদদ অরামীয়দের একত্রিত করে অফেকে ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন।
1KI 20:27 ইস্রায়েলীদেরও যখন একত্রিত করে সবকিছুর জোগান দেওয়া হল, তারা কুচকাওয়াজ করে অরামীয়দের সম্মুখীন হতে গেল। ইস্রায়েলীরা ছোটো দুটি ছাগপালের মতো তাদের বিপরীত দিকে শিবির স্থাপন করল, অন্যদিকে অরামীয়দের দ্বারা গ্রামাঞ্চলের সম্পূর্ণ এলাকা ঢাকা পড়ে গেল।
1KI 20:28 ঈশ্বরের সেই লোক এসে ইস্রায়েলের রাজাকে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘যেহেতু অরামীয়রা মনে করেছে সদাপ্রভু পাহাড়ের দেবতা এবং তিনি উপত্যকার দেবতা নন, তাই আমি এই বিশাল সংখ্যক সৈন্যদল তোমাদের হাতে সমর্পণ করব, এবং তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
1KI 20:29 সাত দিন পর্যন্ত তারা পরস্পরের বিপরীতে শিবির স্থাপন করে বসেছিল, এবং সপ্তম দিনে যুদ্ধ বেধে গেল। একদিনেই ইস্রায়েলীরা অরামীয়দের এক লক্ষ পদাতিক সৈন্য মেরে ফেলেছিল।
1KI 20:30 অবশিষ্ট সৈন্যরা সেই অফেক নগরে পালিয়ে গেল, যেখানে সাতাশ হাজার সৈন্যের উপর প্রাচীর ভেঙে পড়েছিল। বিন্‌হদদ সেই নগরে পালিয়ে গিয়ে ভিতরের একটি ঘরে লুকিয়েছিলেন।
1KI 20:31 তাঁর কর্মকর্তারা তাঁকে বলল, “দেখুন, আমরা শুনেছি যে ইস্রায়েলের রাজারা নাকি খুব দয়ালু। আসুন, আমরা সবাই কোমরের চারপাশে চট ঝুলিয়ে ও মাথার চারপাশে দড়ি বেঁধে ইস্রায়েলের রাজার কাছে যাই। হয়তো তিনি আপনার প্রাণভিক্ষা দেবেন।”
1KI 20:32 কোমরের চারপাশে চট ঝুলিয়ে ও মাথার চারপাশে দড়ি বেঁধে তারা ইস্রায়েলের রাজার কাছে গিয়ে বলল, “আপনার দাস বিন্‌হদদ বলছেন: ‘দয়া করে আমাকে বাঁচতে দিন।’ ” রাজামশাই উত্তর দিলেন, “তিনি কি এখনও বেঁচে আছেন? তিনি তো আমার ভাই।”
1KI 20:33 লোকেরা এটি ভালো লক্ষণ বলে মনে করল এবং তৎক্ষণাৎ তাঁর কথা ধরে বলে উঠেছিল, “হ্যাঁ, আপনারই ভাই বিনহদদ!” “যাও, তাঁকে নিয়ে এসো,” রাজামশাই বললেন। বিন্‌হদদ যখন বের হয়ে এলেন, আহাব তাঁকে নিজের রথে উঠিয়ে নিয়েছিলেন।
1KI 20:34 “আমার বাবা আপনার বাবার কাছ থেকে যেসব নগর ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, আমি সেগুলি ফিরিয়ে দেব,” বিনহদদ প্রস্তাব দিলেন। “আমার বাবা যেভাবে শমরিয়ায় বাজারঘাট বসিয়েছিলেন, আপনিও দামাস্কাসে আপনার নিজস্ব বাজারঘাট বসাতে পারেন।” আহাব বললেন, “একটি সন্ধিচুক্তির শর্তস্বাপেক্ষে আমি আপনাকে মুক্ত করে দেব।” অতএব তিনি বিন্‌হদদের সঙ্গে একটি সন্ধিচুক্তি করলেন, এবং তাঁকে যেতে দিলেন।
1KI 20:35 সদাপ্রভুর বাক্যানুসারে ভাববাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন তাঁর সহচরকে বললেন, “তোমার অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করো,” কিন্তু তিনি রাজি হননি।
1KI 20:36 অতএব সেই ভাববাদীমশাই বললেন, “যেহেতু তুমি সদাপ্রভুর কথার বাধ্য হওনি, তাই যে মুহূর্তে তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে, একটি সিংহ তোমাকে মেরে ফেলবে।” সেই লোকটি চলে যাওয়ার পর মুহূর্তেই একটি সিংহ তাকে পেয়ে মেরে ফেলেছিল।
1KI 20:37 সেই ভাববাদীমশাই অন্য একজনকে পেয়ে তাকে বললেন, “দয়া করে আমাকে আঘাত করো।” তাই সে তাঁকে আঘাত করে তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করে তুলেছিল।
1KI 20:38 তখন সেই ভাববাদীমশাই সেখান থেকে চলে গিয়ে পথে দাঁড়িয়ে রাজার আসার অপেক্ষা করছিলেন। তিনি মাথার পাগড়ি দিয়ে চোখ ঢেকে ছদ্মবেশ ধারণ করলেন।
1KI 20:39 রাজামশাই যেই না পথ দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছিলেন, সেই ভাববাদীমশাই তাঁকে ডেকে বলে উঠেছিলেন, “আপনার এই দাস আমি যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝামাঝি চলে গেলাম, এবং কেউ একজন আমার কাছে একজন বন্দিকে নিয়ে এসে বলল, ‘এই লোকটিকে পাহারা দাও। যদি একে খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে এর প্রাণের পরিবর্তে তোমার প্রাণ যাবে, অথবা তোমাকে এক তালন্ত রুপো দিতে হবে।’
1KI 20:40 আপনার এই দাস যখন এদিক-ওদিক একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, লোকটি উধাও হয়ে গেল।” “তোমাকে ওই শাস্তিই পেতে হবে,” ইস্রায়েলের রাজা বললেন। “তুমি নিজেই নিজের শাস্তি ঘোষণা করেছ।”
1KI 20:41 তখন সেই ভাববাদীমশাই তাড়াতাড়ি তাঁর চোখের উপর থেকে পাগড়িটি সরিয়ে ফেলেছিলেন, এবং ইস্রায়েলের রাজা চিনতে পেরেছিলেন যে তিনি ভাববাদীদের মধ্যেই একজন।
1KI 20:42 তিনি রাজামশাইকে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তুমি এমন একজন লোককে মুক্ত করে দিয়েছ, যাকে মরতে হবে বলে আমি স্থির করে রেখেছিলাম। অতএব তার প্রাণের পরিবর্তে তোমার প্রাণ যাবে, তার লোকজনের পরিবর্তে তোমার লোকজন যাবে।’ ”
1KI 20:43 বিষণ্ণ-গম্ভীর ও ক্রুদ্ধ হয়ে ইস্রায়েলের রাজা শমরিয়ায় তাঁর প্রাসাদে চলে গেলেন।
1KI 21:1 কিছুকাল পর একটি দ্রাক্ষাক্ষেতকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটি ছিল যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের। দ্রাক্ষাক্ষেতটি অবস্থিত ছিল যিষ্রিয়েলে, শমরিয়ার রাজা আহাবের প্রাসাদের খুব কাছেই।
1KI 21:2 আহাব নাবোতকে বললেন, “যেহেতু তোমার দ্রাক্ষাক্ষেতটি আমার প্রাসাদের কাছেই রয়েছে, তাই আমায় সেটি নিতে দাও; আমি সেখানে সবজির বাগান করব। সেটির পরিবর্তে আমি তোমাকে সেটির চেয়েও ভালো একটি দ্রাক্ষাক্ষেত দেব, আর তা না হলে, তুমি যদি চাও, আমি সেটির দাম চুকিয়ে দেব।”
1KI 21:3 কিন্তু নাবোত উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু যেন আমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার আপনাকে দিতে না দেন।”
1KI 21:4 তাই আহাব মনক্ষুণ্ণ ও ক্রুদ্ধ হয়ে ঘরে চলে গেলেন, কারণ যিষ্রিয়েলীয় নাবোত বললেন, “আমি আমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার আপনাকে দেব না।” তিনি গোমড়ামুখে বিছানায় শুয়ে পড়েছিলেন ও ভোজনপানও করতে চাননি।
1KI 21:5 তাঁর স্ত্রী ঈষেবল এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি মনক্ষুণ্ণ হয়ে আছ কেন? তুমি ভোজনপান করছ না কেন?”
1KI 21:6 তিনি ঈষেবলকে উত্তর দিলেন, “আমি যিষ্রিয়েলীয় নাবোতকে বললাম, ‘তোমার দ্রাক্ষাক্ষেতটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও; তা না হলে, তুমি যদি চাও, আমি সেটির পরিবর্তে তোমাকে অন্য একটি দ্রাক্ষাক্ষেত দেব।’ কিন্তু সে বলল, ‘আমি আমার দ্রাক্ষাক্ষেতটি আপনাকে দেব না।’ ”
1KI 21:7 তাঁর স্ত্রী ঈষেবল বলল, “ইস্রায়েলের রাজা হয়ে তুমি এ কী আচরণ করছ? উঠে ভোজনপান করো! চাঙ্গা হও। যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের দ্রাক্ষাক্ষেতটি আমিই তোমাকে দেব।”
1KI 21:8 এই বলে, আহাবের নাম করে সে কয়েকটি চিঠি লিখে, সেগুলিতে রাজার সিলমোহর দিয়ে নাবোতের নগরে তাঁর সাথে বসবাসকারী প্রাচীনদের ও অভিজাত পুরুষদের কাছে সেই চিঠিগুলি পাঠিয়ে দিয়েছিল।
1KI 21:9 সেইসব চিঠিতে সে লিখেছিল: “একদিনের উপবাস ঘোষণা করে আপনারা নাবোতকে গুরুত্বপূর্ণ এক স্থানে লোকজনের মাঝে বসিয়ে দিন।
1KI 21:10 কিন্তু তার মুখোমুখি এমন দুজন বজ্জাত লোককে বসিয়ে দিন, যারা তার বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ জানাবে যে সে ঈশ্বর ও রাজা, দুজনকেই অভিশাপ দিয়েছে। পরে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলবেন।”
1KI 21:11 অতএব নাবোতের নগরে বসবাসকারী প্রাচীন ও অভিজাত পুরুষেরা তাদের উদ্দেশে ঈষেবলের লেখা চিঠির নির্দেশানুসারেই কাজ করলেন।
1KI 21:12 তারা উপবাস ঘোষণা করে নাবোতকে গুরুত্বপূর্ণ এক স্থানে লোকজনের মাঝে বসিয়ে দিলেন।
1KI 21:13 পরে দুজন বজ্জাত লোক এসে তাঁর মুখোমুখি বসেছিল এবং লোকজনের সামনে নাবোতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলল, “নাবোত ঈশ্বর ও রাজা, দুজনকেই অভিশাপ দিয়েছে।” অতএব লোকেরা তাঁকে নগরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলেছিল।
1KI 21:14 পরে তারা ঈষেবলকে খবর পাঠালেন: “নাবোতকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেরা হয়েছে।”
1KI 21:15 নাবোতকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলা হয়েছে, এই খবর পেয়েই ঈষেবল আহাবকে বলল, “ওঠো ও যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের সেই দ্রাক্ষাক্ষেতটির দখল নাও, যেটি সে তোমাকে বিক্রি করতে চায়নি। সে আর বেঁচে নেই, কিন্তু মারা গিয়েছে।”
1KI 21:16 নাবোতের মারা যাওয়ার খবর শুনে আহাব উঠে নাবোতের দ্রাক্ষাক্ষেতটি দখল করার জন্য সেখানে চলে গেলেন।
1KI 21:17 তখন সদাপ্রভুর এই বাক্য তিশবীয় এলিয়ের কাছে এসেছিল:
1KI 21:18 “যে শমরিয়াতে রাজত্ব করছে, ইস্রায়েলের সেই রাজা আহাবের সঙ্গে তুমি দেখা করতে যাও। এখন সে নাবোতের সেই দ্রাক্ষাক্ষেতে আছে, যেটি দখল করার জন্য সে সেখানে গিয়েছে।
1KI 21:19 তাকে গিয়ে বোলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: তুমি কি একজন লোককে খুন করে তার সম্পত্তি দখল করে নাওনি?’ পরে তাকে বোলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: যেখানে কুকুরেরা নাবোতের রক্ত চেটে খেয়েছে, সেখানে তোমারও রক্ত কুকুরেরা চেটে খাবে, হ্যাঁ, তোমারই রক্ত!’ ”
1KI 21:20 আহাব এলিয়কে দেখে বললেন, “তবে ওহে আমার শত্রু, তুমি আমাকে খুঁজে পেলে!” “হ্যাঁ, আমি আপনাকে খুঁজে পেয়েছি,” তিনি উত্তর দিলেন, “কারণ আপনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করার জন্য নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন।
1KI 21:21 তিনি বলেন, ‘আমি তোমার উপর বিপর্যয় আনতে চলেছি। আমি তোমার বংশধরদের অবলুপ্ত করে দেব এবং ইস্রায়েলে আহাবের বংশের শেষ পুরুষটিকে পর্যন্ত—তা সে ক্রীতদাসই হোক বা স্বাধীন—শেষ করে ফেলব।
1KI 21:22 আমি তোমার কুলকে নবাটের ছেলে যারবিয়ামের এবং অহিয়র ছেলে বাশার কুলের মতো করে ফেলব, কারণ তুমি আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছ ও ইস্রায়েলকে দিয়ে পাপ করিয়েছ।’
1KI 21:23 “এছাড়াও ঈষেবলের বিষয়ে সদাপ্রভু বলেন: ‘কুকুরেরা যিষ্রিয়েলের প্রাচীরে ঈষেবলকে গোগ্রাসে গিলে খাবে।’
1KI 21:24 “আহাবের কুলে যারা নগরে মরবে, কুকুরেরা তাদের খাবে; আর যারা গ্রামাঞ্চলে মরবে, পাখিরা তাদের ঠুকরে ঠুকরে খাবে।”
1KI 21:25 (স্ত্রী ঈষেবলের উসকানিতে কান দিয়ে আহাব যেভাবে সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজকর্ম করলেন, সেভাবে তাঁর মতো আর কেউ কখনও করেননি।
1KI 21:26 যে ইমোরীয়দের সদাপ্রভু ইস্রায়েলের সামনে থেকে তাড়িয়ে দিলেন, তাদের মতো তিনিও প্রতিমাপূজায় লিপ্ত হয়ে জঘন্যতম কাজ করলেন।)
1KI 21:27 এইসব কথা শুনে আহাব নিজের পোশাক ছিঁড়ে, চট গায়ে দিয়ে উপবাস করলেন। তিনি চটের বিছানায় শুয়েছিলেন ও নম্রভাবে চলাফেরা করতে শুরু করলেন।
1KI 21:28 তখন তিশবীয় এলিয়ের কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য এসেছিল:
1KI 21:29 “তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আহাব কীভাবে নিজেকে আমার সামনে নম্র করেছে? যেহেতু সে নিজেকে নম্র করেছে, আমি তার জীবনকালে এই বিপর্যয়টি আনব না, কিন্তু তার ছেলের জীবনকালে আমি তার কুলে সেটি আনব।”
1KI 22:1 তিন বছর অরাম ও ইস্রায়েলের মধ্যে কোনও যুদ্ধ হয়নি।
1KI 22:2 কিন্তু তৃতীয় বছরে যিহূদার রাজা যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজার সাথে দেখা করতে গেলেন।
1KI 22:3 ইস্রায়েলের রাজা তাঁর কর্মকর্তাদের বললেন, “তোমরা কি জানো না যে রামোৎ-গিলিয়দ আমাদেরই, আর তাও আমরা অরামের রাজার হাত থেকে সেটি পুনরাধিকার করার জন্য কিছুই করছি না?”
1KI 22:4 তাই তিনি যিহোশাফটকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি আমার সাথে রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করতে যাবেন?” যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজাকে উত্তর দিলেন, “আমি, আপনারই মতো, আমার প্রজারাও আপনার প্রজাদেরই মতো, তথা আমার ঘোড়াগুলি আপনার ঘোড়াগুলির মতোই।”
1KI 22:5 কিন্তু যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজাকে এও বললেন, “প্রথমে সদাপ্রভুর কাছে পরামর্শ চেয়ে নিন।”
1KI 22:6 অতএব ইস্রায়েলের রাজা ভাববাদীদের—প্রায় চারশো জনকে—একত্রিত করলেন, এবং তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব, নাকি বিরত থাকব?” “যান,” তারা উত্তর দিয়েছিল, “কারণ সদাপ্রভু সেটি মহারাজের হাতে তুলে দেবেন।”
1KI 22:7 কিন্তু যিহোশাফট জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে কি সদাপ্রভুর এমন কোনও ভাববাদী আর নেই, যাঁর কাছে আমরা খোঁজখবর নিতে পারব?”
1KI 22:8 ইস্রায়েলের রাজা, যিহোশাফটকে উত্তর দিলেন, “আরও একজন ভাববাদী আছেন, যার মাধ্যমে আমরা সদাপ্রভুর কাছে খোঁজখবর নিতে পারি, কিন্তু আমি তাকে ঘৃণা করি, যেহেতু সে কখনোই আমার বিষয়ে ভালো কিছু ভাববাণী করে না, কিন্তু সবসময় খারাপ ভাববাণীই করে। সে হল যিম্লের ছেলে মীখায়।” “মহারাজ এরকম কথা বলবেন না,” যিহোশাফট উত্তর দিলেন। “মহারাজ এরকম কথা বলবেন না,” যিহোশাফট উত্তর দিলেন।
1KI 22:9 তখন ইস্রায়েলের রাজা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনকে ডেকে বললেন, “এক্ষুনি গিয়ে যিম্লের ছেলে মীখায়কে ডেকে আনো।”
1KI 22:10 রাজপোশাক পরে ইস্রায়েলের রাজা ও যিহূদার রাজা যিহোশাফট, দুজনেই শমরিয়ার সিংহদুয়ারের কাছে খামারবাড়িতে তাদের সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং ভাববাদীরা সবাই তাদের সামনে ভাববাণী করে যাচ্ছিল।
1KI 22:11 ইত্যবসরে কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় লোহার দুটি শিং তৈরি করল এবং সে ঘোষণা করল, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘অরামীয়রা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এগুলি দিয়েই আপনি তাদের গুঁতাবেন।’ ”
1KI 22:12 অন্যান্য সব ভাববাদীও একই ভাববাণী করল। “রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করুন এবং বিজয়ী হোন,” তারা বলল, “কারণ সদাপ্রভু সেটি রাজার হাতে তুলে দেবেন।”
1KI 22:13 যে দূত মীখায়কে ডাকতে গেল, সে তাঁকে বলল, “দেখুন, অন্যান্য ভাববাদীরা সবাই কোনও আপত্তি না জানিয়ে রাজার পক্ষে সফলতার ভাববাণী করছে। আপনার কথাও যেন তাদেরই মতো হয়, এবং আপনিও সুবিধাজনক কথাই বলুন।”
1KI 22:14 কিন্তু মীখায় বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, সদাপ্রভু আমাকে যা বলেছেন, আমি তাঁকে শুধু সেকথাই বলতে পারব।”
1KI 22:15 তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর রাজামশাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মীখায়, আমরা রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করব, কি না?” “আক্রমণ করে জয়ী হোন,” তিনি উত্তর দিলেন, “কারণ সদাপ্রভু মহারাজের হাতে সেটি তুলে দেবেন।”
1KI 22:16 রাজা তাঁকে বললেন, “কতবার আমি তোমাকে দিয়ে শপথ করাব যে তুমি সদাপ্রভুর নামে আমাকে সত্যিকথা ছাড়া আর কিছুই বলবে না?”
1KI 22:17 তখন মীখায় উত্তর দিলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি, ইস্রায়েলীরা সবাই পাহাড়ের উপর পালকবিহীন মেষের পালের মতো হয়ে আছে, এবং সদাপ্রভু বলেছেন, ‘এই লোকজনের কোনও মনিব নেই। শান্তিতে যে যার ঘরে ফিরে যাক।’ ”
1KI 22:18 ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি কি আপনাকে বলিনি যে সে আমার বিষয়ে কখনও ভালো কিছু ভাববাণী করে না, কিন্তু শুধু খারাপ ভাববাণীই করে?”
1KI 22:19 মীখায় আরও বললেন, “এজন্য সদাপ্রভুর এই বাক্য শুনুন: আমি দেখলাম, সদাপ্রভু তাঁর সিংহাসনে বসে আছেন এবং স্বর্গের জনতা তাঁর চারদিকে, তাঁর ডানদিকে ও বাঁদিকে দাঁড়িয়ে আছে।
1KI 22:20 সদাপ্রভু বললেন, ‘রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করে সেখানে মরতে যাওয়ার জন্য কে আহাবকে প্ররোচিত করবে?’ “তখন কেউ একথা, কেউ সেকথা বলল।
1KI 22:21 শেষে, একটি আত্মা এগিয়ে এসে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি তাকে লোভ দেখাব।’
1KI 22:22 “কিন্তু কীভাবে? সদাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন। “ ‘আমি গিয়ে তার সব ভাববাদীর মুখে বিভ্রান্তিকর এক আত্মা হব,’ সে বলল। “ ‘তাকে লোভ দেখাতে তুমি সফল হবে,’ সদাপ্রভু বললেন। ‘যাও, ওরকমই করো।’
1KI 22:23 “তাই এখন সদাপ্রভু আপনার এইসব ভাববাদীর মুখে বিভ্রান্তিকর এক আত্মা দিয়েছেন। সদাপ্রভু আপনার জন্য বিপর্যয়ের বিধান দিয়েছেন।”
1KI 22:24 তখন কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় গিয়ে মীখায়ের গালে চড় মেরেছিল। “সদাপ্রভুর কাছ থেকে আসা আত্মা তোর সাথে কথা বলার জন্য কোন পথে আমার কাছ থেকে গেলেন?” সে জিজ্ঞাসা করল।
1KI 22:25 মীখায় উত্তর দিলেন, “সেদিনই তুমি তা জানতে পারবে, যেদিন তুমি ভিতরের ঘরে গিয়ে লুকাবে।”
1KI 22:26 ইস্রায়েলের রাজা তখন আদেশ দিলেন, “মীখায়কে নগরের শাসনকর্তা আমোন ও রাজপুত্র যোয়াশের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দাও
1KI 22:27 এবং তাদের বোলো, ‘রাজা একথাই বলেছেন: একে জেলখানায় রেখে দাও এবং যতদিন না আমি নিরাপদে ফিরে আসছি, ততদিন একে রুটি ও জল ছাড়া আর কিছুই দিয়ো না।’ ”
1KI 22:28 মীখায় ঘোষণা করলেন, “আপনি যদি নিরাপদে কখনও ফিরে আসেন, তবে জানবেন, সদাপ্রভু আমার মাধ্যমে কথা বলেননি।” পরে তিনি আরও বললেন, “ওহে লোকজন, তোমরা সবাই আমার কথাগুলি মনে গেঁথে রাখো!”
1KI 22:29 অতএব ইস্রায়েলের রাজা ও যিহূদার রাজা যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দে চলে গেলেন।
1KI 22:30 ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করব, কিন্তু আপনি আপনার রাজপোশাক পরে থাকুন।” এইভাবে ইস্রায়েলের রাজা ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধে গেলেন।
1KI 22:31 ইত্যবসরে অরামের রাজা তাঁর রথের বত্রিশজন সেনাপতিকে আদেশ দিয়ে রেখেছিলেন, “একমাত্র ইস্রায়েলের রাজা ছাড়া, ছোটো বা বড়ো, কোনো লোকের সাথে যুদ্ধ করবে না।”
1KI 22:32 রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতিরা যিহোশাফটকে দেখে ভেবেছিল, “ইনিই নিশ্চয় ইস্রায়েলের রাজা।” তাই তাঁকে আক্রমণ করার জন্য তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু যিহোশাফট যখন চিৎকার করে উঠেছিলেন,
1KI 22:33 রথের সেনাপতিরা যখন দেখেছিল যে তিনি ইস্রায়েলের রাজা নন, তারা তাঁর পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করে দিয়েছিল।
1KI 22:34 কিন্তু কেউ একজন আন্দাজে ধনুক চালিয়ে ইস্রায়েলের রাজার দেহে যেখানে বর্মের ঘেরাটোপ ছিল না, সেখানেই আঘাত করে বসেছিল। রাজামশাই তাঁর রথের সারথিকে বললেন, “রথের মুখ ঘুরিয়ে আমাকে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে নিয়ে যাও। আমি আহত হয়েছি।”
1KI 22:35 সারাদিন ধরে তুমুল যুদ্ধ চলেছিল, এবং অরামীয়দের দিকে মুখ করে রাজামশাইকে তাঁর রথে ঠেস দিয়ে খাড়া করে রাখা হল। তাঁর ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া রক্তে রথের মেঝে ভেসে গেল, এবং সেই সন্ধ্যায় তিনি মারা গেলেন।
1KI 22:36 সূর্য যখন অস্ত যাচ্ছিল, তখন সৈন্যদলে এই হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছিল, “প্রত্যেকে নিজের নিজের নগরে ফিরে যাও। প্রত্যেকে নিজের নিজের দেশে ফিরে যাও!”
1KI 22:37 অতএব রাজামশাই মারা গেলেন ও তাঁর দেহ শমরিয়ায় আনা হল, এবং লোকেরা তাঁকে সেখানেই কবর দিয়েছিল।
1KI 22:38 তারা শমরিয়ার একটি পুকুরে রথটি ধুয়েছিল (যেখানে বারবণিতারা স্নান করত), আর সদাপ্রভুর ঘোষিত কথানুসারে কুকুরেরা তাঁর রক্ত চেটে খেয়েছিল।
1KI 22:39 আহাবের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, এছাড়াও তিনি যা যা করলেন, যে প্রাসাদ তিনি তৈরি করলেন ও হাতির দাঁত দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন, এবং যেসব নগর তিনি সুরক্ষিত করলেন—তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 22:40 আহাব তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে অহসিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 22:41 ইস্রায়েলের রাজা আহাবের রাজত্বের চতুর্থ বছরে আসার ছেলে যিহোশাফট যিহূদায় রাজা হলেন।
1KI 22:42 যিহোশাফট পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি পঁচিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অসূবা। তিনি শিলহির মেয়ে ছিলেন।
1KI 22:43 সবকিছুতেই তিনি তাঁর বাবা আসার পথে চলেছিলেন এবং সেগুলি থেকে সরে যাননি; সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তিনি তাই করলেন। অবশ্য প্রতিমাপূজার উঁচু উঁচু স্থানগুলি সরানো হয়নি, এবং লোকজন তখনও সেগুলিতে পশুবলি উৎসর্গ করে যাচ্ছিল ও ধূপও জ্বালিয়ে যাচ্ছিল।
1KI 22:44 ইস্রায়েলের রাজার সঙ্গেও যিহোশাফটের শান্তি বজায় ছিল।
1KI 22:45 যিহোশাফটের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা অর্জন করলেন ও তাঁর সামরিক উজ্জ্বল সব কীর্তি—তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
1KI 22:46 তাঁর বাবা আসার রাজত্বকালে দেবদাসদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরেও দেশে যেসব দেবদাস থেকে গেল, যিহোশাফট তাদেরও দূর করে দিলেন।
1KI 22:47 ইদোমে তখন কোনও রাজা ছিল না; একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা সেখানে শাসন চালাচ্ছিলেন।
1KI 22:48 ইত্যবসরে ওফীর থেকে সোনা আনার জন্য যিহোশাফট বাণিজ্যতরির এক নৌবহর তৈরি করলেন, কিন্তু সেগুলির আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি—কারণ ইৎসিয়োন-গেবরে সেগুলি সমুদ্রে ডুবে গেল।
1KI 22:49 সেই সময় আহাবের ছেলে অহসিয় যিহোশাফটকে বললেন, “আমার লোকজন আপনার লোকজনের সাথে সমুদ্রে পাড়ি দিক,” কিন্তু যিহোশাফট এতে রাজি হননি।
1KI 22:50 পরে যিহোশাফট তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাদেরই সাথে তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোরাম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1KI 22:51 যিহূদার রাজা যিহোশাফটের রাজত্বের সতেরতম বছরে আহাবের ছেলে অহসিয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি দুই বছর ইস্রায়েলে রাজত্ব করলেন।
1KI 22:52 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তাই করলেন, কারণ তিনি তাঁর বাবা, মা, ও নবাটের ছেলে সেই যারবিয়ামের পথেই চলেছিলেন, যারা ইস্রায়েলকে দিয়ে পাপ করিয়েছিলেন।
1KI 22:53 তিনি তাঁর বাবার মতোই বায়ালের সেবা ও পুজো করলেন, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
2KI 1:1 আহাবের মৃত্যুর পর, মোয়াব ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিল।
2KI 1:2 ইত্যবসরে অহসিয় শমরিয়ায় তাঁর প্রাসাদের উপরের ঘরের জাফরি ভেঙে পড়ে গেলেন ও গুরুতরভাবে আহত হলেন। তাই তিনি দূতদের বলে পাঠালেন, “তোমরা গিয়ে ইক্রোণের দেবতা বায়াল-সবূবের কাছে জেনে এসো, আমি এই আঘাত থেকে সুস্থ হব, কি না।”
2KI 1:3 কিন্তু সদাপ্রভুর দূত তিশবীয় এলিয়কে বললেন, “শমরিয়ার রাজার পাঠানো দূতদের কাছে গিয়ে তুমি তাদের একথা জিজ্ঞাসা করো, ‘ইস্রায়েলে কি কোনও ঈশ্বর নেই যে তোমরা ইক্রোণের দেবতা বায়াল-সবূবের কাছে পরামর্শ চাইতে যাচ্ছ?’
2KI 1:4 তাই সদাপ্রভু একথা বলেন: ‘যে বিছানায় তুমি শুয়ে আছ, সেটি ছেড়ে তুমি আর উঠতে পারবে না। তুমি অবশ্যই মরবে!’ ” এই বলে এলিয় চলে গেলেন।
2KI 1:5 দূতেরা রাজার কাছে ফিরে আসার পর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কেন ফিরে এলে?”
2KI 1:6 “একজন আমাদের সাথে দেখা করতে এলেন,” তারা উত্তর দিয়েছিল। “আর তিনি আমাদের বললেন, ‘যিনি তোমাদের পাঠিয়েছেন, তোমরা সেই রাজার কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে গিয়ে বলো, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ইস্রায়েলে কি কোনও ঈশ্বর নেই যে তুমি ইক্রোণের দেবতা বায়াল-সবূবের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তার কাছে দূত পাঠিয়েছ? তাই যে বিছানায় তুমি শুয়ে আছ, সেটি ছেড়ে তুমি আর উঠতে পারবে না। তুমি অবশ্যই মারা যাবে!” ’ ”
2KI 1:7 রাজামশাই তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “যিনি তোমাদের সাথে দেখা করতে এলেন ও তোমাদের এইসব কথা বললেন, তাঁকে দেখতে কেমন?”
2KI 1:8 তারা উত্তর দিয়েছিল, “তাঁর গায়ে ছিল লোমের এক পোশাক এবং তাঁর কোমরে বাঁধা ছিল চামড়ার এক কোমরবন্ধ।” রাজামশাই বললেন, “তিনি তিশবীয় এলিয় ছিলেন।”
2KI 1:9 পরে এলিয়র কাছে তিনি পঞ্চাশ জন সৈন্য সমেত একজন সেনাপতিকে পাঠালেন। এলিয় যখন একটি পাহাড়ের চূড়ায় বসেছিলেন, তখন সেই সেনাপতি তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “হে ঈশ্বরের লোক, রাজামশাই বলেছেন, ‘আপনি নিচে নেমে আসুন!’ ”
2KI 1:10 এলিয় সেই সেনাপতিকে উত্তর দিলেন, “আমি যদি সত্যিই ঈশ্বরের লোক, তবে আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করে ফেলুক!” তখন আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে সেই সেনাপতি ও তাঁর পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করে ফেলেছিল।
2KI 1:11 এই অবস্থা দেখে রাজামশাই অন্য আরেকজন সেনাপতিকে তাঁর পঞ্চাশ জন সৈন্য সমেত এলিয়র কাছে পাঠালেন। সেই সেনাপতিও এলিয়কে গিয়ে বললেন, “হে ঈশ্বরের লোক, রাজা একথা বলেছেন, ‘আপনি এক্ষুনি নিচে নেমে আসুন!’ ”
2KI 1:12 “আমি যদি সত্যিই ঈশ্বরের লোক,” এলিয় উত্তর দিলেন, “তবে আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করে ফেলুক!” তখন আকাশ থেকে ঈশ্বরের আগুন নেমে এসে তাঁকে ও তাঁর পঞ্চাশ জন লোককে গ্রাস করে ফেলেছিল।
2KI 1:13 অতএব রাজামশাই তৃতীয় একজন সেনাপতিকে তাঁর পঞ্চাশ জন সৈন্য সমেত সেখানে পাঠালেন। তৃতীয় এই সেনাপতি সেখানে গিয়ে এলিয়র সামনে নতজানু হলেন। “হে ঈশ্বরের লোক,” তিনি ভিক্ষা চেয়েছিলেন, “দয়া করে আপনার দাস—আমার ও এই পঞ্চাশ জন লোকের প্রাণের মর্যাদা রক্ষা করুন!
2KI 1:14 দেখুন, আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে প্রথম দুজন সেনাপতি ও তাদের লোকজনকে গ্রাস করল। কিন্তু এখন আমার প্রাণের মর্যাদা রক্ষা করুন!”
2KI 1:15 সদাপ্রভুর দূত এলিয়কে বললেন, “এর সাথে তুমি নিচে নেমে যাও; একে ভয় পেয়ো না।” অতএব এলিয় উঠে তাঁর সাথে রাজার কাছে চলে গেলেন।
2KI 1:16 তিনি রাজাকে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ইস্রায়েলে তোমাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো কোনও ঈশ্বর কি ছিলেন না, যে তুমি পরামর্শ নেওয়ার জন্য ইক্রোণের দেবতা বায়াল-সবূবের কাছে দূত পাঠিয়েছিলে? যেহেতু তুমি এই কাজ করেছ, তাই যে বিছানায় তুমি শুয়ে আছ, সেখান থেকে তুমি আর উঠতে পারবে না। তুমি অবশ্যই মরবে!”
2KI 1:17 তাই এলিয় যা বললেন, সদাপ্রভুর সেই কথানুসারে তিনি মারা গেলেন। যেহেতু অহসিয়ের কোনও ছেলে ছিল না, তাই যিহোশাফটের ছেলে যিহূদার রাজা যিহোরামের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে রাজারূপে যোরাম অহসিয়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 1:18 অহসিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 2:1 সদাপ্রভু যখন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে দিয়ে এলিয়কে এবার স্বর্গে প্রায় তুলে নেবেন, এমন সময় এলিয় ও ইলীশায় গিল্‌গল থেকে যাত্রা শুরু করলেন।
2KI 2:2 এলিয় ইলীশায়কে বললেন, “তুমি এখানে থাকো; সদাপ্রভু আমাকে বেথেলে পাঠিয়েছেন।” কিন্তু ইলীশায় বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি এবং আপনারও প্রাণের দিব্যি, আমি আপনাকে ছাড়ব না।” অতএব তারা বেথেলের দিকে নেমে গেলেন।
2KI 2:3 বেথেলে ভাববাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা ইলীশায়ের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি জানেন যে সদাপ্রভু আপনার মনিবকে আজ আপনার কাছ থেকে তুলে নেবেন?” “হ্যাঁ, আমি তা জানি,” ইলীশায় উত্তর দিলেন, “তাই চুপ করে থাকুন।”
2KI 2:4 তখন এলিয় তাঁকে বললেন, “ইলীশায়, তুমি এখানেই থাকো; সদাপ্রভু আমাকে যিরীহোতে পাঠিয়েছেন।” তিনি উত্তর দিলেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি ও আপনারও প্রাণের দিব্যি, আমি আপনাকে ছাড়ব না।” অতএব তারা যিরীহোতে চলে গেলেন।
2KI 2:5 যিরীহোতেও ভাববাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা ইলীশায়ের কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি জানেন যে সদাপ্রভু আপনার মনিবকে আজ আপনার কাছ থেকে তুলে নেবেন?” “হ্যাঁ, আমি তা জানি,” তিনি উত্তর দিলেন, “তাই চুপ করে থাকুন।”
2KI 2:6 তখন এলিয় তাঁকে বললেন, “তুমি এখানে থাকো; সদাপ্রভু আমাকে জর্ডনে পাঠিয়েছেন।” তিনি উত্তর দিলেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি ও আপনারও প্রাণের দিব্যি, আমি আপনাকে ছাড়ব না।” অতএব তারা দুজন হাঁটতেই থাকলেন।
2KI 2:7 ভাববাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে পঞ্চাশ জন লোক একটু দূরে গিয়ে, এলিয় ও ইলীশায় জর্ডনের পাড়ে যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, সেদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন।
2KI 2:8 এলিয় তাঁর ঢিলা আলখাল্লাটি খুলে, গোল করে গুটিয়ে নিয়ে সেটি দিয়ে জলে আঘাত করলেন। জল ডাইনে ও বাঁয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল, এবং তারা দুজন শুকনো জমির উপর দিয়ে নদী পার হয়ে গেলেন।
2KI 2:9 নদী পার হওয়ার পর এলিয় ইলীশায়কে বললেন, “আমায় বলো, তোমার কাছ থেকে আমাকে তুলে নেওয়ার আগে আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?” “আমি যেন আপনার আত্মার দ্বিগুণ অংশ পাই,” ইলীশায় উত্তর দিলেন।
2KI 2:10 “তুমি দুঃসাধ্য জিনিস চেয়ে বসলে,” এলিয় বললেন, “তবুও যদি তোমার কাছ থেকে আমাকে তুলে নেওয়ার সময় তুমি আমাকে দেখতে পাও, তবে তুমি সেটি পাবে—তা না হলে নয়।”
2KI 2:11 পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে যখন তারা দুজন কথা বলছিলেন, হঠাৎ অগ্নিময় একটি রথ ও কয়েকটি ঘোড়া আবির্ভূত হল ও তাদের দুজনকে আলাদা করে দিল, এবং ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে দিয়ে এলিয় স্বর্গে উঠে গেলেন।
2KI 2:12 এই দৃশ্য দেখে ইলীশায় চিৎকার করে উঠেছিলেন, “হে আমার বাবা! হে আমার বাবা! ইস্রায়েলের রথ ও অশ্বারোহীরা!” ইলীশায় আর তাঁকে দেখতে পাননি। তখন তিনি নিজের পোশাক ছিঁড়ে দু-টুকরো করে ফেলেছিলেন।
2KI 2:13 ইলীশায় পরে এলিয়র গা থেকে পড়ে যাওয়া আলখাল্লাটি কুড়িয়ে নিয়ে ফিরে গেলেন এবং জর্ডন নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালেন।
2KI 2:14 এলিয়র গা থেকে পড়ে যাওয়া আলখাল্লাটি নিয়ে তিনি সেটি দিয়ে জলে আঘাত করলেন। “এলিয়র ঈশ্বর সদাপ্রভু এখন কোথায়?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। জলে আঘাত করায় তা ডাইনে ও বাঁয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল, এবং তিনি নদী পার হয়ে গেলেন।
2KI 2:15 যিরীহোর ভাববাদী সম্প্রদায়ের যে লোকেরা কড়া নজরদারি রেখেছিলেন, তারা তখন বললেন, “এলিয়র আত্মা ইলীশায়ের উপর ভর করেছে।” আর তারা ইলীশায়ের সাথে দেখা করতে গেলেন ও তাঁর সামনে মাটিতে মাথা ঠেকিয়েছিলেন।
2KI 2:16 “দেখুন,” তারা বললেন, “আপনার এই দাসেদের, অর্থাৎ আমাদের কাছে পঞ্চাশ জন যোগ্য লোক আছে। তারা আপনার মনিবের খোঁজ করতে যাক। হয়তো সদাপ্রভুর আত্মা তাঁকে নিয়ে গিয়ে কোনও পর্বতে বা উপত্যকায় দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।” “না,” ইলীশায় উত্তর দিলেন, “তাদের পাঠাবেন না।”
2KI 2:17 কিন্তু তারা তাঁকে পীড়াপীড়ি করে এমন অপ্রস্তুতে ফেলে দিলেন যে তিনি আর প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি। তাই তিনি বললেন, “ওদের পাঠিয়ে দিন।” আর তারাও পঞ্চাশ জনকে পাঠিয়ে দিলেন। তারা তিন দিন ধরে খোঁজ চালিয়েছিল, কিন্তু এলিয়কে খুঁজে পায়নি।
2KI 2:18 ইলীশায় যিরীহোতে ছিলেন এবং তারা যখন সেখানে তাঁর কাছে ফিরে এসেছিল, তিনি তাদের বললেন, “আমি কি তোমাদের যেতে বারণ করিনি?”
2KI 2:19 সেই নগরের লোকজন ইলীশায়কে বলল, “হে আমাদের প্রভু, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন যে এই নগরটি বেশ ভালো স্থানতেই অবস্থিত, কিন্তু এখানকার জল খুব খারাপ ও জমিও অনুৎপাদক।”
2KI 2:20 “আমার কাছে একটি নতুন গামলা নিয়ে এসো,” তিনি বললেন, “এবং তাতে একটু লবণ রাখো।” অতএব তারা তাঁর কাছে গামলাটি এনেছিল।
2KI 2:21 পরে তিনি জলের উৎসের কাছে গিয়ে এই বলে তাতে কিছুটা লবণ ঢেলে দিলেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘আমি এই জল শুদ্ধ করলাম। আর কখনও এই জল মৃত্যুর কারণ হবে না বা জমিকেও অনুৎপাদক হয়ে থাকতে দেবে না।’ ”
2KI 2:22 ইলীশায়ের বলা কথানুসারে আজও পর্যন্ত সেই জল শুদ্ধই আছে।
2KI 2:23 যিরীহো থেকে ইলীশায় বেথেলে চলে গেলেন। তিনি পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন, এমন সময় কয়েকটি ছেলে নগর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতে শুরু করল। “ওহে টাকলু, এখান থেকে পালাও!” তারা বলল। “ওহে টাকলু, এখান থেকে পালাও!”
2KI 2:24 তিনি ঘুরে তাদের দিকে তাকিয়েছিলেন এবং সদাপ্রভুর নামে তাদের অভিশাপ দিলেন। তখন বন থেকে দুটি ভালুক বেরিয়ে এসে সেই ছেলেদের মধ্যে বিয়াল্লিশ জনকে তুলোধোনা করল।
2KI 2:25 তিনি কর্মিল পাহাড়ে চলে গেলেন ও সেখান থেকে শমরিয়ায় ফিরে গেলেন।
2KI 3:1 যিহূদার রাজা যিহোশাফটের রাজত্বের অষ্টাদশ বছরে আহাবের ছেলে যোরাম শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি বারো বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 3:2 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে তিনিও যা মন্দ, তাই করলেন, তবে তাঁর বাবা ও মায়ের মতো করেননি। তাঁর বাবার তৈরি করা বায়ালের পুণ্য পাথরটিকে তিনি ফেলে দিলেন।
2KI 3:3 তা সত্ত্বেও নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তিনি সেগুলির প্রতি আসক্ত হয়েই ছিলেন; তিনি সেগুলি ছেড়ে ফিরে আসেননি।
2KI 3:4 ইত্যবসরে মোয়াবের রাজা মেশা মেষের বংশবৃদ্ধি করে যাচ্ছিলেন, এবং কর-বাবদ ইস্রায়েলের রাজাকে তিনি এক লক্ষ মেষশাবক ও এক লক্ষ মদ্দা মেষের লোম দিতেন।
2KI 3:5 কিন্তু আহাব মারা যাওয়ার পর, মোয়াবের রাজা ইস্রায়েলের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিলেন।
2KI 3:6 অতএব সেই সময় রাজা যোরাম শমরিয়া থেকে বের হয়ে যুদ্ধের জন্য সমস্ত ইস্রায়েলকে একত্রিত করলেন।
2KI 3:7 যিহূদার রাজা যিহোশাফটের কাছেও তিনি এই খবর পাঠালেন: “মোয়াবের রাজা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আপনি কি মোয়াবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমার সাথে যাবেন?” “আমি আপনার সাথে যাব,” তিনি উত্তর দিলেন। “আমি—আপনি, আমার লোকজন—আপনার লোকজন, আমার ঘোড়া—আপনার ঘোড়া, সবই তো এক।”
2KI 3:8 “কোনও পথ ধরে আমরা আক্রমণ করব?” যোরাম জিজ্ঞাসা করলেন। “ইদোমের মরুভূমির মধ্যে দিয়ে,” যিহোশাফট উত্তর দিলেন।
2KI 3:9 অতএব ইস্রায়েলের রাজা যিহূদার রাজা ও ইদোমের রাজাকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সাত দিন ঘুরপথে কুচকাওয়াজ করার পর, সৈন্যদের কাছে, নিজেদের জন্য বা তাদের সাথে থাকা পশুদের জন্য আর জল ছিল না।
2KI 3:10 “হায় রে!” ইস্রায়েলের রাজা হঠাৎ জোরে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন। “সদাপ্রভু মোয়াবের হাতে আমাদের সঁপে দেওয়ার জন্যই কি আমাদের—এই তিনজন রাজাকে ডেকে এনেছেন?”
2KI 3:11 কিন্তু যিহোশাফট জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে কি সদাপ্রভুর কোনও ভাববাদী নেই, যাঁর মাধ্যমে আমরা সদাপ্রভুর কাছে একটু খোঁজখবর নিতে পারি?” ইস্রায়েলের রাজার একজন কর্মকর্তা উত্তর দিলেন, “শাফটের ছেলে ইলীশায় এখানে আছেন। তিনি এলিয়র হাতে জল ঢালার কাজ করতেন।”
2KI 3:12 যিহোশাফট বললেন, “সদাপ্রভুর বাক্য তাঁর কাছে আছে।” অতএব ইস্রায়েলের রাজা ও যিহোশাফট এবং ইদোমের রাজা তাঁর কাছে গেলেন।
2KI 3:13 ইলীশায় ইস্রায়েলের রাজাকে বললেন, “আপনি কেন আমাকে এই ব্যাপারে জড়াতে চাইছেন? আপনার বাবার ও আপনার মায়ের ভাববাদীদের কাছে যান।” “না,” ইস্রায়েলের রাজা উত্তর দিলেন, “কারণ সদাপ্রভুই আমাদের—এই তিনজন রাজাকে একসঙ্গে মোয়াবের হাতে সঁপে দেওয়ার জন্য ডেকে এনেছেন।”
2KI 3:14 ইলীশায় বললেন, “আমি যাঁর সেবা করি, সেই সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি যদি যিহূদার রাজা যিহোশাফটের উপস্থিতিকে মর্যাদা না দিতাম, তবে আমি আপনার কথায় মনোযোগই দিতাম না।
2KI 3:15 তবে এখন আমার কাছে বীণা বাজায়, এমন একজন লোক নিয়ে আসুন।” সেই লোকটি যখন বীণা বাজাচ্ছিল, তখন সদাপ্রভুর হাত ইলীশায়ের উপর নেমে এসেছিল
2KI 3:16 এবং তিনি বলে উঠেছিলেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি এই উপত্যকা জলভরা পুকুরে পরিণত করব।
2KI 3:17 কারণ সদাপ্রভু একথাই বলেন: তোমরা বাতাস বা বৃষ্টি, কিছুই দেখতে পাবে না, তবু এই উপত্যকা জলে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, আর তোমরা, তোমাদের গবাদি পশুরা ও তোমাদের অন্যান্য পশুরাও জলপান করবে।
2KI 3:18 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে এ তো তুচ্ছ এক ব্যাপার; তিনি তোমাদের হাতে মোয়াবকেও সঁপে দেবেন।
2KI 3:19 তোমরা প্রত্যেকটি বড়ো বড়ো সুরক্ষিত নগর ও প্রত্যেকটি মুখ্য নগর উৎপাটিত করবে। তোমরা প্রত্যেকটি ভালো ভালো গাছ কেটে ফেলবে, জলের উৎসগুলি বুজিয়ে ফেলবে, ও প্রত্যেকটি ভালো ভালো ক্ষেতজমিতে পাথর ফেলে সেগুলি নষ্ট করে দেবে।”
2KI 3:20 পরদিন সকালে, বলিদান উৎসর্গ করার সময় নাগাদ, দেখা গেল—ইদোমের দিক থেকে জল বয়ে আসছে! আর জমি জলে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
2KI 3:21 ইত্যবসরে মোয়াবীয়রা সবাই শুনেছিল যে রাজারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছেন; তাই যুবক হোক কি বৃদ্ধ, যে কেউ অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে পারত, সবাইকে ডেকে দেশের সীমানায় মোতায়েন করে দেওয়া হল।
2KI 3:22 তারা যখন সকালে ঘুম থেকে উঠেছিল, সূর্য তখন জলের উপর চকচক করছিল। মোয়াবীয়দের কাছে পথের ওপারে, জল রক্তের মতো লাল দেখাচ্ছিল।
2KI 3:23 “এ যে রক্ত!” তারা বলে উঠেছিল। “সেই রাজারা নিশ্চয় নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে একে অপরকে মেরে ফেলেছেন। হে মোয়াব, এখন তবে লুটপাট চালাও!”
2KI 3:24 কিন্তু মোয়াবীয়রা যখন ইস্রায়েলের সৈন্যশিবিরে এসেছিল, ইস্রায়েলীরা উঠে এসেছিল ও যতক্ষণ না মোয়াবীয়রা পালিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ চালিয়ে গেল। ইস্রায়েলীরা দেশে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে মোয়াবীয়দের খতম করে দিয়েছিল।
2KI 3:25 তারা নগরগুলি ধ্বংস করে দিয়েছিল, এবং প্রত্যেকটি লোক সেখানে যত ভালো ভালো ক্ষেতজমি ছিল, তার প্রত্যেকটিতে পাথর ফেলে সেগুলি ঢেকে দিয়েছিল। তারা প্রত্যেকটি জলের উৎস বুজিয়ে দিয়েছিল ও প্রত্যেকটি ভালো ভালো গাছ কেটে দিয়েছিল। একমাত্র কীর-হরাসতে, সেখানকার পাথরগুলি যথাস্থানে ছেড়ে দেওয়া হল, কিন্তু গুলতিধারী কয়েকজন লোক নগরটি ঘিরে ধরে সেখানে আক্রমণ চালিয়েছিল।
2KI 3:26 মোয়াবের রাজা যখন দেখেছিলেন যে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি তাঁর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে, তখন তিনি সাতশো তরোয়ালধারী সৈন্য সাথে নিয়ে শত্রুপক্ষের ব্যূহভেদ করে ইদোমের রাজার দিকে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা ব্যর্থ হল।
2KI 3:27 তখন যিনি রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছিলেন, তিনি তাঁর সেই বড়ো ছেলেকে নিয়ে তাঁকে নগরের প্রাচীরের উপর এক বলিরূপে উৎসর্গ করে দিলেন। ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড রাগে সবাই ফুঁসছিল; তাই তারা পিছিয়ে এসে নিজেদের দেশে ফিরে গেল।
2KI 4:1 ভাববাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন লোকের স্ত্রী ইলীশায়ের কাছে এসে কেঁদে বলল, “আপনার দাস—আমার স্বামী মারা গিয়েছে, আর আপনি তো জানেন যে সে সদাপ্রভুকে গভীর শ্রদ্ধা করত। কিন্তু এখন তার পাওনাদার এসে আমার দুটি সন্তানকে তার ক্রীতদাস করে নিয়ে যেতে চাইছে।”
2KI 4:2 ইলীশায় তাকে উত্তর দিলেন, “আমি কীভাবে তোমাকে সাহায্য করব? আমায় বলো, তোমার ঘরে কী আছে?” “আপনার এই দাসীর কাছে বলতে গেলে কিছুই নেই,” সে বলল, “শুধু ছোটো একটি বয়ামে কিছুটা জলপাই তেল আছে।”
2KI 4:3 ইলীশায় বললেন, “আশেপাশে গিয়ে তোমার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কয়েকটি খালি বয়াম চেয়ে আনো। শুধু অল্প কয়েকটি বয়াম চাইলেই হবে না।
2KI 4:4 পরে ঘরের ভিতরে গিয়ে তুমি ও তোমার ছেলেরা দরজা বন্ধ করে দেবে। সবকটি বয়ামে তেল ঢালতে থেকো, এবং একটি করে বয়াম ভর্তি হবে, আর তুমিও এক এক করে সেগুলি এক পাশে সরিয়ে রাখবে।”
2KI 4:5 সে তাঁর কাছ থেকে চলে গেল এবং ছেলেদের নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা তার কাছে বেশ কয়েকটি বয়াম নিয়ে এসেছিল এবং সে সেগুলিতে তেল ঢেলে যাচ্ছিল।
2KI 4:6 সবকটি বয়াম ভর্তি হয়ে যাওয়ার পর, সে তার এক ছেলেকে বলল, “আরও বয়াম নিয়ে এসো।” কিন্তু সে উত্তর দিয়েছিল, “আর কোনও বয়াম অবশিষ্ট নেই।” তখনই তেলের স্রোত বন্ধ হয়ে গেল।
2KI 4:7 সে ঈশ্বরের লোককে গিয়ে সব কথা বলল, এবং তিনি বললেন, “যাও, তেল বিক্রি করে তোমার দেনা শোধ করো। আর যতটুকু তেল থেকে যাবে, তা দিয়ে তুমি ও তোমার ছেলেরা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে।”
2KI 4:8 একদিন ইলীশায় শূনেমে গেলেন। সেখানে বেশ সম্পন্ন এমন এক মহিলা ছিলেন, যিনি তাঁকে ভোজনপান করে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাই যখনই তিনি সেখানে আসতেন, ভোজনপান করার জন্য তিনি কিছুক্ষণ সময় থেকে যেতেন।
2KI 4:9 সেই মহিলা তাঁর স্বামীকে বললেন, “আমি জানি, যিনি প্রায়ই আমাদের এখানে আসেন, তিনি ঈশ্বরের একজন পবিত্র লোক।
2KI 4:10 আমরা তাঁর জন্য ছাদের উপর একটি ছোটো ঘর বানিয়ে দিই এবং সেখানে একটি খাট, একটি টেবিল, একটি চেয়ার ও একটি লম্ফ রেখে দিই। তবে যখনই তিনি আমাদের কাছে আসবেন, তিনি সেখানে থাকতে পারবেন।”
2KI 4:11 একদিন ইলীশায় সেখানে এসে তাঁর সেই ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন।
2KI 4:12 তিনি তাঁর দাস গেহসিকে বললেন, “শূনেমীয়াকে ডেকে আনো।” তাই সে তাঁকে ডেকেছিল, ও তিনি এসে ইলীশায়ের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
2KI 4:13 ইলীশায় গেহসিকে বললেন, “তাঁকে বলো, ‘তুমি আমাদের জন্য খুব অসুবিধা ভোগ করছ। এখন বলো, তোমার জন্য কী করতে হবে? তোমার হয়ে কি আমরা রাজার বা সৈন্যদলের সেনাপতির সাথে কথা বলব?’ ” শূনেমীয়া উত্তর দিলেন, “নিজের লোকজনের মধ্যে তো আমার একটি ঘর আছে।”
2KI 4:14 “তাঁর জন্য কী করা যেতে পারে?” ইলীশায় জিজ্ঞাসা করলেন। গেহসি বললেন, “তাঁর কোনও ছেলে নেই, আর তাঁর স্বামীও বৃদ্ধ।”
2KI 4:15 তখন ইলীশায় বললেন, “তাঁকে ডাকো।” অতএব গেহসি তাঁকে ডেকেছিলেন, ও তিনি দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
2KI 4:16 “পরের বছর মোটামুটি এসময়,” ইলীশায় বললেন, “তুমি ছেলে কোলে নিয়ে থাকবে।” “না, প্রভু না!” তিনি প্রতিবাদ করে উঠেছিলেন। “হে ঈশ্বরের লোক, আপনার দাসীকে বিভ্রান্তিকর খবর দেবেন না!”
2KI 4:17 কিন্তু মহিলাটি অন্তঃসত্ত্বা হলেন, এবং ইলীশায়ের বলা কথানুসারে, পরের বছর মোটামুটি সেই একই সময়ে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন।
2KI 4:18 শিশুটি বড়ো হয়ে উঠেছিল, এবং একদিন তার বাবা যখন সেই লোকজনের সাথে ক্ষেতে গেলেন, যারা ফসল কাটতে এসেছিল, তখন সেও তাঁর কাছে গেল।
2KI 4:19 সে তার বাবাকে বলল, “আমার মাথা! আমার মাথা!” তার বাবা একজন দাসকে বললেন, “ওকে ওর মায়ের কাছে নিয়ে যাও।”
2KI 4:20 সেই দাস তাকে কোলে তুলে নিয়ে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর, ছেলেটি দুপুর পর্যন্ত মায়ের কোলে বসেছিল ও পরে সে মারা গেল।
2KI 4:21 সেই মহিলাটি উপরে গিয়ে ছেলেটিকে ঈশ্বরের লোকের বিছানায় শুইয়ে দিলেন, পরে দরজা বন্ধ করে বের হয়ে গেলেন।
2KI 4:22 তিনি তাঁর স্বামীকে ডেকে বললেন, “দয়া করে তোমার দাসদের মধ্যে একজনকে ও একটি গাধা আমার কাছে পাঠিয়ে দাও, যেন আমি তাড়াতাড়ি ঈশ্বরের লোকের কাছে গিয়ে ফিরে আসতে পারি।”
2KI 4:23 “আজ তাঁর কাছে যাবে কেন?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। “আজ তো অমাবস্যা নয়, বা সাব্বাথবারও নয়।” “সে ঠিক আছে,” তিনি উত্তর দিলেন।
2KI 4:24 তিনি গাধায় জিন চাপিয়ে তাঁর দাসকে বললেন, “টেনে নিয়ে চলো; আমি না বলা পর্যন্ত গতি কম কোরো না।”
2KI 4:25 এইভাবে তিনি বের হয়ে কর্মিল পাহাড়ে ঈশ্বরের লোকের কাছে পৌঁছে গেলেন। দূর থেকে তাঁকে দেখতে পেয়ে ঈশ্বরের লোক তাঁর দাস গেহসিকে বললেন, “দেখো! সেই শূনেমীয়া আসছে!
2KI 4:26 দৌড়ে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করো ও তাঁকে জিজ্ঞাসা করো, ‘তুমি ঠিক আছ? তোমার স্বামী ঠিক আছে? তোমার ছেলে ঠিক আছে?’ ” “সব ঠিক আছে,” তিনি বললেন।
2KI 4:27 পর্বতে ঈশ্বরের লোকের কাছে পৌঁছে তিনি তাঁর পা জড়িয়ে ধরেছিলেন। গেহসি তাঁকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিল, কিন্তু ঈশ্বরের লোক বললেন, “ওকে একা থাকতে দাও! ও মর্মান্তিক যন্ত্রণাভোগ করছে, কিন্তু সদাপ্রভু তা আমার কাছে লুকিয়ে রেখেছেন এবং কেন তাও আমাকে বলেননি।”
2KI 4:28 “হে আমার প্রভু, আমি কি আপনার কাছে ছেলে চেয়েছিলাম?” তিনি বললেন। “কি আপনাকে বলিনি, ‘আমার আশা জাগিয়ে তুলবেন না?’ ”
2KI 4:29 ইলীশায় গেহসিকে বললেন, “তোমার আলখাল্লাটি কোমরবন্ধ দিয়ে বেঁধে নাও, হাতে আমার ছড়িটি তুলে নাও ও দৌড়াতে থাকো। যে কোনো লোকের সাথেই দেখা হোক না কেন, তাকে শুভেচ্ছা জানিও না, এবং যদি কেউ তোমাকে শুভেচ্ছা জানায়, তবে তুমি তার কোনও উত্তর দিয়ো না। ছেলেটির মুখের উপর আমার ছড়িটি রেখে দিয়ো।”
2KI 4:30 কিন্তু শিশুটির মা বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি ও আপনারও প্রাণের দিব্যি, আমি আপনাকে ছাড়ব না।” তাই ইলীশায় উঠে সেই মহিলাটিকে অনুসরণ করলেন।
2KI 4:31 গেহসি তাদের আগে এগিয়ে গিয়ে ছেলেটির মুখের উপর ছড়িটি রেখে দিয়েছিল, কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তাই গেহসি ইলীশায়ের সাথে দেখা করার জন্য ফিরে গিয়ে তাঁকে বলল, “ছেলেটি জাগেনি।”
2KI 4:32 ইলীশায় যখন সেই বাড়িতে পৌঁছেছিলেন, ছেলেটি তাঁরই খাটে মরে পড়েছিল।
2KI 4:33 তিনি ভিতরে ঢুকে, তাদের দুজনকে বাইরে রেখে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন।
2KI 4:34 পরে তিনি বিছানায় উঠে ছেলেটির মুখের উপর মুখ, চোখের উপর চোখ, হাতের উপর হাত রেখে শুয়ে পড়েছিলেন। ছেলেটির উপর তিনি যখন নিজেকে বিছিয়ে দিলেন, তখন ছেলেটির শরীর গরম হয়ে গেল।
2KI 4:35 ইলীশায় ফিরে এসে ঘরের মধ্যেই আগে পিছে একটু পায়চারি করে আবার বিছানায় উঠে ছেলেটির উপর নিজেকে বিছিয়ে দিলেন। ছেলেটি সাতবার হাঁচি দিয়ে নিজের চোখ খুলেছিল।
2KI 4:36 ইলীশায় গেহসিকে ডেকে বললেন, “শূনেমীয়াকে ডেকে আনো।” সে তা করল। মহিলাটি সেখানে আসার পর ইলীশায় বললেন, “এই নাও তোমার ছেলে।”
2KI 4:37 তিনি ভিতরে এসে ইলীশায়ের পায়ে পড়ে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন। পরে তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন।
2KI 4:38 ইলীশায় গিল্‌গলে ফিরে গেলেন এবং তখন সেই এলাকায় দুর্ভিক্ষ চলছিল। ভাববাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন তাঁর সাথে দেখা করতে গেলেন, তিনি তাঁর দাসকে বললেন, “উনুনে বড়ো হাঁড়িটি চাপিয়ে এই ভাববাদীদের জন্য একটু তরকারি রান্না করো।”
2KI 4:39 তাদের মধ্যে একজন শাক সংগ্রহ করার জন্য ক্ষেতে গেলেন এবং সেখানে বুনো শশার লতা দেখতে পেয়ে কাপড়ে ভরে যত শসা আনা যায়, ততগুলিই তুলে নিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তিনি সেগুলি কেটে তরকারির হাঁড়িতে ঢুকিয়ে দিলেন, যদিও কেউই জানত না সেগুলি ঠিক কী।
2KI 4:40 লোকজনের পাতে তরকারি ঢেলে দেওয়া হল, কিন্তু যেই তারা খেতে শুরু করলেন, তারা চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন, “হে ঈশ্বরের লোক, হাঁড়িতে মৃত্যু আছে!” আর তারা সেই তরকারি খেতে পারেননি।
2KI 4:41 ইলীশায় বললেন, “আমার কাছে কিছুটা ময়দা নিয়ে এসো।” তিনি হাঁড়িতে ময়দা রেখে বললেন, “এবার লোকদের কাছে খাবার পরিবেশন করো।” হাঁড়িতে ক্ষতিকারক আর কিছুই ছিল না।
2KI 4:42 বায়াল-শালিশা থেকে একজন লোক ঈশ্বরের লোকের কাছে থলিতে করে নবান্নরূপী যবের কুড়িটি সেঁকা রুটি, এবং নবান্নের কিছু ফসল-দানা নিয়ে এসেছিল। “লোকদের এগুলি খেতে দাও,” ইলীশায় বললেন।
2KI 4:43 “একশো জন লোকের সামনে আমি কীভাবে এটি পরিবেশন করব?” তাঁর দাস জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু ইলীশায় উত্তর দিলেন, “এগুলিই লোকদের খেতে দাও। কারণ সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তারা খাবে ও আরও কিছু বেঁচেও যাবে।’ ”
2KI 4:44 তখন সে তাদের সামনে সেগুলি পরিবেশন করল, এবং সদাপ্রভুর কথানুসারে, তারা খাওয়ার পরেও আরও কিছু খাবার বেঁচে গেল।
2KI 5:1 ইত্যবসরে নামান ছিলেন অরামের রাজার সৈন্যদলের সেনাপতি। যেহেতু তাঁর মাধ্যমে সদাপ্রভু অরামকে বিজয় দান করলেন, তাই তাঁর মনিবের দৃষ্টিতে তিনি মহান এক ব্যক্তি ছিলেন ও তাঁকে খুব সম্মান করা হত। তিনি অসমসাহসী এক যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু তাঁর কুষ্ঠরোগ হল।
2KI 5:2 অরাম থেকে একদল হামলাকারী ইস্রায়েলে গিয়ে সেখান থেকে ছোটো একটি মেয়েকে বন্দি করে এনেছিল, এবং সে নামানের স্ত্রীর সেবাকাজে নিযুক্ত হল।
2KI 5:3 সে তার মালকিনকে বলল, “যিনি শমরিয়ায় আছেন, সেই ভাববাদীর কাছে গিয়ে যদি আমার মনিব একবার তাঁর সাথে দেখা করতে পারতেন! তিনি তবে তাঁর কুষ্ঠরোগ সারিয়ে দিতেন।”
2KI 5:4 ইস্রায়েল থেকে আসা সেই মেয়েটি যা বলল, নামান তাঁর মনিবের কাছে গিয়ে সেকথা তাঁকে বলে শুনিয়েছিলেন।
2KI 5:5 “অবশ্যই যাও,” অরামের রাজা উত্তর দিলেন। “আমি ইস্রায়েলের রাজার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে দেব।” অতএব নামান সাথে দশ তালন্ত রুপো, 6,000 শেকল সোনা ও দশ পাটি পোশাক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন।
2KI 5:6 ইস্রায়েলের রাজার কাছে তিনি যে চিঠিটি নিয়ে গেলেন, তাতে লেখা ছিল: “এই চিঠি সমেত আমি আমার দাস নামানকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি, যেন আপনি তার কুষ্ঠরোগ সারিয়ে দেন।”
2KI 5:7 ইস্রায়েলের রাজা সেই চিঠি পড়ামাত্রই নিজের রাজবস্ত্র ছিঁড়ে বলে উঠেছিলেন, “আমি কি ঈশ্বর? আমি কি কাউকে মেরে আবার তার জীবন ফিরিয়ে দিতে পারি? কেন এই লোকটি একজনকে তার কুষ্ঠরোগ সারাবার জন্য আমার কাছে পাঠিয়েছে? দেখো দেখি, কীভাবে সে আমার সাথে ঝগড়া বাধাবার চেষ্টা করছে!”
2KI 5:8 ঈশ্বরের লোক ইলীশায় যখন শুনতে পেয়েছিলেন যে ইস্রায়েলের রাজা তাঁর রাজবস্ত্র ছিঁড়ে ফেলেছেন, তখন তিনি তাঁর কাছে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “আপনি কেন আপনার রাজবস্ত্র ছিঁড়ে ফেলেছেন? সেই লোকটিকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, সে জেনে যাবে যে ইস্রায়েলে একজন ভাববাদী আছে।”
2KI 5:9 অতএব নামান তাঁর সব ঘোড়া ও রথ নিয়ে ইলীশায়ের বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
2KI 5:10 তাঁকে একথা বলার জন্য ইলীশায় এক দূত পাঠালেন, “যান, জর্ডন নদীতে গিয়ে সাতবার স্নান করুন, আর আপনার মাংস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে ও আপনি শুচিশুদ্ধও হয়ে যাবেন।”
2KI 5:11 কিন্তু নামান রেগে চলে গেলেন ও বললেন, “আমি ভেবেছিলাম তিনি অবশ্যই আমার কাছে বেরিয়ে আসবেন ও দাঁড়িয়ে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর নাম ধরে ডাকবেন, ছোপের উপর হাত বোলাবেন ও আমার কুষ্ঠরোগ সারিয়ে তুলবেন।
2KI 5:12 দামাস্কাসের অবানা ও পর্পর নদী কি ইস্রায়েলের সব জলাশয়ের থেকে ভালো নয়? আমি কি সেখানে স্নান করে শুচিশুদ্ধ হতে পারতাম না?” তাই তিনি মুখ ফিরিয়ে রেগে চলে গেলেন।
2KI 5:13 নামানের দাসেরা তাঁর কাছে গিয়ে বলল, “হে প্রভু, সেই ভাববাদী যদি আপনাকে কোনও বড়সড় কাজ করতে বলতেন, তবে কি আপনি তা করতেন না? তবে তিনি যখন আপনাকে বলেছেন, ‘স্নান করে শুচিশুদ্ধ হয়ে যান,’ তখন কি আরও বেশি করে আপনার তা করা উচিত নয়!”
2KI 5:14 তাই ঈশ্বরের লোকের কথানুসারে, তিনি জর্ডন নদীতে গিয়ে সাতবার স্নান করলেন, এবং তাঁর দেহ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছিল ও ছোটো ছেলের দেহের মতো সুস্থসবল হয়ে গেল।
2KI 5:15 তখন নামান ও তাঁর সহচররা সবাই ঈশ্বরের লোকের কাছে ফিরে গেলেন। নামান তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “এখন আমি জানলাম যে ইস্রায়েল ছাড়া জগতে আর কোথাও কোনও ঈশ্বর নেই। তাই আপনার এই দাসের কাছ থেকে দয়া করে একটি উপহার গ্রহণ করুন।”
2KI 5:16 ভাববাদীমশাই উত্তর দিলেন, “আমি যাঁর সেবা করি, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি একটি জিনিসও গ্রহণ করব না।” নামান তাঁকে পীড়াপীড়ি করা সত্ত্বেও তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন।
2KI 5:17 “আপনি যদি গ্রহণ না করলেন,” নামান বললেন, “দুটি খচ্চর পিঠে যতখানি মাটি বহন করতে পারে, ততখানি মাটি দয়া করে আমাকে—আপনার এই দাসকে দেওয়ার অনুমতি দিন, কারণ আপনার এই দাস আর কখনও সদাপ্রভু ছাড়া আর কোনও দেবতার কাছে হোমবলি ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে না।
2KI 5:18 কিন্তু এই একটি ব্যাপারে যেন সদাপ্রভু আপনার দাসকে ক্ষমা করেন: আমার মনিব যখন রিম্মোণের মন্দিরে প্রবেশ করে মাথা নত করবেন এবং আমার হাতে ভর দেবেন ও আমাকেও সেখানে মাথা নত করতে হবে—আমি যখন রিম্মোণের মন্দিরে মাথা নত করব, তখন যেন সদাপ্রভু আপনার এই দাসকে এর জন্য ক্ষমা করেন।”
2KI 5:19 “শান্তিতে চলে যাও,” ইলীশায় বললেন। নামান কিছু দূর চলে যাওয়ার পর,
2KI 5:20 ঈশ্বরের লোক ইলীশায়ের দাস গেহসি মনে মনে বলল, “নামান যা যা নিয়ে এসেছিলেন, তা গ্রহণ না করে আমার মনিব এই অরামীয় নামানকে এমনিই ছেড়ে দিলেন। জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি তাঁর পিছনে দৌড়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে কিছু বাগিয়ে আনব।”
2KI 5:21 অতএব গেহসি নামানের পিছনে দৌড়ে গেলেন। নামান যখন তাকে তাঁর পিছনে দৌড়ে আসতে দেখেছিলেন, তিনি তার সাথে দেখা করার জন্য রথ থেকে নেমে এলেন। “সবকিছু ঠিক আছে তো?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।
2KI 5:22 “সবকিছু ঠিকই আছে,” গেহসি উত্তর দিয়েছিল। “আমার মনিব এই কথা বলার জন্য আমাকে পাঠিয়ে দিলেন যে, ‘ভাববাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে এইমাত্র দুজন যুবক আমার কাছে ইফ্রয়িমের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসে পড়েছে। দয়া করে তাদের এক তালন্ত রুপো ও দুই পাটি পোশাক দিন।’ ”
2KI 5:23 “অবশ্যই, দুই তালন্ত নাও,” নামান বললেন। সেগুলি নেওয়ার জন্য তিনি গেহসিকে পীড়াপীড়ি করলেন, এবং পরে দুটি থলিতে দুই তালন্ত রুপো এবং দুই পাটি পোশাক বেঁধে দিলেন। তিনি সেগুলি তাঁর দুজন দাসের হাতে দিলেন, ও তারা গেহসির আগে আগে সেগুলি বয়ে নিয়ে গেল।
2KI 5:24 গেহসি সেই পাহাড়ে পৌঁছে জিনিসগুলি সেই দাসদের হাত থেকে নিয়ে বাড়িতে রেখে দিয়েছিল। সে সেই লোকদের পাঠিয়ে দিয়েছিল ও তারাও চলে গেল।
2KI 5:25 সে ভিতরে গিয়ে তার মনিবের সামনে দাঁড়াতেই ইলীশায় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “গেহসি, তুমি কোথায় গিয়েছিলে?” “আপনার এই দাস কোথাও যায়নি তো,” গেহসি উত্তর দিল।
2KI 5:26 কিন্তু ইলীশায় তাকে বললেন, “সেই লোকটি যখন তোমার সাথে দেখা করার জন্য রথ থেকে নেমেছিলেন, আমার আত্মা কি তোমার সাথেই ছিল না? অর্থ বা পোশাক, অথবা জলপাই বাগান ও দ্রাক্ষাক্ষেত, বা মেষ-গরুর পাল, বা দাস-দাসী নেওয়ার এই কি সময়?
2KI 5:27 নামানের কুষ্ঠরোগ চিরকাল তোমার ও তোমার বংশধরদের শরীরে লেগে থাকুক।” পরে গেহসি ইলীশায়ের সামনে থেকে চলে গেল এবং তার ত্বকে কুষ্ঠরোগ ফুটে উঠেছিল—তা বরফের মতো সাদা হয়ে গেল।
2KI 6:1 ভাববাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা ইলীশায়কে বললেন, “দেখুন, আপনার সাথে আমরা যেখানে দেখা করি, সেই স্থানটি আমাদের জন্য খুবই ছোটো।
2KI 6:2 আমাদের জর্ডন নদীর পাড়ে যেতে দিন, যেন সেখান থেকে আমরা প্রত্যেকে এক-একটি খুঁটি নিয়ে আসতে পারি; এবং সেখানে আমাদের জন্য দেখাসাক্ষাৎ করার একটি স্থান তৈরি করা যাক।” তিনি বললেন, “যাও।”
2KI 6:3 তখন তাদের মধ্যে একজন বললেন, “আপনিও কি দয়া করে আপনার এই দাসেদের সাথে আসবেন না?” “আমিও আসব,” ইলীশায় উত্তর দিলেন।
2KI 6:4 আর তিনি তাদের সাথে গেলেন। তারা জর্ডন নদীর পাড়ে গেলেন ও গাছ কাটতে শুরু করলেন।
2KI 6:5 তাদের মধ্যে একজন যখন একটি গাছ কাটছিলেন, কুড়ুলের লোহার ফলাটি জলে পড়ে গেল। “না! না! হে আমার প্রভু!” তিনি চিৎকার করে উঠেছিলেন। “সেটি যে আমি ধার করে এনেছিলাম!”
2KI 6:6 ঈশ্বরের লোক জিজ্ঞাসা করলেন, “সেটি কোথায় পড়েছে?” তিনি যখন তাঁকে সেই স্থানটি দেখিয়ে দিলেন, ইলীশায় তখন গাছের একটি সরু ডাল ভেঙে নিয়ে সেটি জলে ফেলে দিলেন, ও লোহার ফলাটি ভাসিয়ে তুলেছিলেন।
2KI 6:7 “ফলাটি তুলে আনো,” তিনি বললেন। তখন সেই লোকটি হাত বাড়িয়ে সেটি তুলে এনেছিলেন।
2KI 6:8 ইত্যবসরে অরামের রাজা ইস্রায়েলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করার পর তিনি বললেন, “এসব স্থানে আমি সৈন্যশিবির করব।”
2KI 6:9 ঈশ্বরের লোক ইস্রায়েলের রাজার কাছে খবর দিয়ে পাঠালেন: “সেই স্থানটি পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাবধান, কারণ অরামীয়রা সেখানে যাচ্ছে।”
2KI 6:10 তাই ঈশ্বরের লোক যে স্থানটির বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেন, ইস্রায়েলের রাজা সেটি যাচাই করে নিয়েছিলেন। বারবার ইলীশায় রাজাকে সাবধান করে দিলেন, যেন তিনি এসব স্থানে সতর্ক পাহারা বসিয়ে রাখতে পারেন।
2KI 6:11 এতে অরামের রাজা খুব রেগে গেলেন। তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠিয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “আমায় বলো দেখি! আমাদের মধ্যে কে ইস্রায়েলের রাজার পক্ষে গিয়েছে?”
2KI 6:12 “হে আমার প্রভু মহারাজ, আমাদের মধ্যে কেউই যায়নি,” তাঁর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন বলে উঠেছিল, “কিন্তু ইস্রায়েলে যে ভাববাদী আছেন, সেই ইলীশায় আপনি শোবার ঘরে যা যা বলেন, তার এক-একটি কথা ইস্রায়েলের রাজাকে বলে দেন।”
2KI 6:13 “যাও, গিয়ে খুঁজে বের করো, সে কোথায় আছে,” রাজা আদেশ দিলেন, “যেন আমি লোক পাঠিয়ে তাকে বন্দি করতে পারি।” খবর এসেছিল: “তিনি দোথনে আছেন।”
2KI 6:14 রাজা তখন ঘোড়া, রথ ও বেশ বড়সড় এক সৈন্যদল সেখানে পাঠালেন। রাতের অন্ধকারে তারা গিয়ে নগরটি ঘিরে ফেলেছিল।
2KI 6:15 পরদিন সকালে ঈশ্বরের লোকের দাস যখন ঘুম থেকে উঠে বাইরে গেল, তখন দেখা গেল একদল সৈন্য, ঘোড়া ও রথ নিয়ে নগরটি ঘিরে ফেলেছে। “না! না! হে আমার প্রভু! আমরা কী করব?” সেই দাস জিজ্ঞাসা করল।
2KI 6:16 “ভয় পেয়ো না,” ভাববাদী উত্তর দিলেন। “যারা আমাদের সাথে আছেন, তাদের সংখ্যা, ওদের সাথে যারা আছে, তাদের চেয়ে অনেক বেশি।”
2KI 6:17 আর ইলীশায় প্রার্থনা করলেন, “হে সদাপ্রভু, এর চোখ খুলে দাও, যেন এ দেখতে পারে।” তখন সদাপ্রভু সেই দাসের চোখ খুলে দিলেন, এবং সে তাকিয়ে দেখেছিল ইলীশায়ের চারপাশের পাহাড়গুলি ঘোড়া ও রথে ছেয়ে আছে।
2KI 6:18 শত্রুরা যখন ইলীশায়ের দিকে এগিয়ে এসেছিল, তিনি তখন সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, “এই সৈন্যদলকে তুমি অন্ধ করে দাও।” তাই ইলীশায়ের প্রার্থনানুসারে সদাপ্রভু তাদের আঘাত করে দৃষ্টিশক্তিহীন করে দিলেন।
2KI 6:19 ইলীশায় তাদের বললেন, “এ সেই পথ নয় ও এ সেই নগরও নয়। আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের পথ দেখিয়ে তোমরা যার খোঁজ করছ, সেই লোকটির কাছে নিয়ে যাব।” আর তিনি পথ দেখিয়ে তাদের শমরিয়ায় নিয়ে গেলেন।
2KI 6:20 তারা নগরে প্রবেশ করার পর ইলীশায় বললেন, “হে সদাপ্রভু, এদের চোখ খুলে দাও, যেন এরা দেখতে পারে।” তখন সদাপ্রভু তাদের চোখ খুলে দিলেন ও তারা তাকিয়ে দেখেছিল, শমরিয়ার মাঝখানে তারা দাঁড়িয়ে আছে।
2KI 6:21 ইস্রায়েলের রাজা তাদের দেখতে পেয়ে ইলীশায়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আমার প্রভু, আমি কি এদের মেরে ফেলব? আমি কি এদের মেরে ফেলব?”
2KI 6:22 “এদের মেরে ফেলো না,” তিনি উত্তর দিলেন। “নিজের তরোয়াল বা ধনুক দিয়ে তুমি যাদের বন্দি করেছ, তাদের কি তুমি হত্যা করবে? তাদের সামনে খাবার ও জল রাখো, যেন তারা ভোজনপান করে তাদের মনিবের কাছে ফিরে যেতে পারে।”
2KI 6:23 তাই রাজা তাদের জন্য এক মহাভোজের ব্যবস্থা করলেন, এবং তারা ভোজনপান করার পর তাদের মনিবের কাছে ফিরে গেল। অতএব অরামের সৈন্যদল ইস্রায়েলী এলাকায় হামলা চালানো বন্ধ করে দিয়েছিল।
2KI 6:24 কিছুকাল পরে, অরামের রাজা বিন্‌হদদ তাঁর সমগ্র সৈন্যদল সমাবেশিত করে শমরিয়া অবরোধ করলেন।
2KI 6:25 নগরে ভীষণ দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছিল; এত দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চলছিল যে এক-একটি গাধার মুণ্ডু বিক্রি হচ্ছিল আশি শেকল রুপো দিয়ে, এবং এক কাবের চার ভাগের এক ভাগ রেশমগুটির বীজ বিক্রি হচ্ছিল পাঁচ শেকল রুপো দিয়ে।
2KI 6:26 ইস্রায়েলের রাজা যখন প্রাচীরের উপর দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একজন মহিলা চিৎকার করে তাঁকে বলল, “হে আমার প্রভু মহারাজ, আমায় সাহায্য করুন!”
2KI 6:27 রাজামশাই উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু যদি তোমায় সাহায্য না করলেন, তবে আমি কোথা থেকে তোমায় সাহায্য করব? খামার থেকে? দ্রাক্ষাপেষাই কল থেকে?”
2KI 6:28 পরে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী হয়েছে?” সে উত্তর দিয়েছিল, “এই মহিলাটি আমায় বলল, ‘তোমার ছেলেকে দাও, যেন আজ আমরা ওকে খেতে পারি, আর আগামীকাল আমরা আমার ছেলেকে খাব।’
2KI 6:29 তাই আমরা আমার ছেলেকে রান্না করে খেয়েছিলাম। পরদিন আমি তাকে বললাম, ‘এবার তোমার ছেলেকে দাও, যেন আমরা তাকে খেতে পারি,’ কিন্তু সে তাকে লুকিয়ে রেখেছে।”
2KI 6:30 রাজা যখন সেই মহিলাটির কথা শুনেছিলেন, তখন তিনি তাঁর রাজবস্ত্র ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি যখন প্রাচীরে হাঁটছিলেন, লোকজন তাকিয়ে দেখছিল, ও তারা দেখতে পেয়েছিল যে রাজার রাজবস্ত্রের নিচে তিনি গায়ে চট বেঁধে রেখেছেন।
2KI 6:31 রাজা বললেন, “আজ যদি শাফটের ছেলে ইলীশায়ের মুণ্ডু তার কাঁধের উপর স্বস্থানে থেকে যায়, তবে যেন ঈশ্বর আমাকে কঠোর থেকে কঠোরতর দণ্ড দেন!”
2KI 6:32 ইত্যবসরে ইলীশায় তাঁর বাড়িতে বসেছিলেন, এবং প্রাচীনেরাও তাঁর সাথে বসেছিলেন। রাজামশাই ইতিমধ্যে একজন দূত পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু সে এসে পৌঁছানোর আগেই ইলীশায় সেই প্রাচীনদের বলে দিলেন, “আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না এই হত্যাকারী আমার মুণ্ডু কেটে ফেলার জন্য একজনকে পাঠাচ্ছে? দেখুন, সেই দূত যখন আসবে, আপনারা দরজাটি বন্ধ করে দেবেন এবং তাকে ঢুকতে দেবেন না। তার পিছু পিছু, তার মনিবের পায়ের শব্দও কি শোনা যাচ্ছে না?”
2KI 6:33 তাদের সাথে তখনও তিনি কথা বলছেন, এমন সময় সেই দূত তাঁর কাছে চলে এসেছিল। রাজামশাই বললেন, “এই বিপর্যয় তো সদাপ্রভুর কাছ থেকেই এসেছে। তবে আমি আর কেন সদাপ্রভুর অপেক্ষায় থাকব?”
2KI 7:1 ইলীশায় উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর বাক্য শুনুন। সদাপ্রভু একথাই বলেন: আগামীকাল মোটামুটি এসময়, শমরিয়ার সিংহদুয়ারে এক পসুরি মিহি ময়দা এক শেকলে এবং দুই পসুরি যব এক শেকলে বিক্রি হবে।”
2KI 7:2 যে কর্মকর্তার হাতে ভর দিয়ে রাজা দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ঈশ্বরের লোককে বললেন, “দেখুন, সদাপ্রভু আকাশের রুদ্ধদ্বার যদি খুলেও দেন, তাও কি এরকম হতে পারে?” “আপনি নিজের চোখেই তা দেখতে পাবেন,” ইলীশায় উত্তর দিলেন, “কিন্তু আপনি তার কিছুই খেতে পারবেন না!”
2KI 7:3 ইত্যবসরে নগরের প্রবেশদ্বারে কুষ্ঠরোগগ্রস্ত চারজন লোক দাঁড়িয়েছিল। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “এখানে দাঁড়িয়ে থেকে মরতে যাব কেন?
2KI 7:4 যদি বলি, ‘নগরে যাব,’ সেখানে তো দুর্ভিক্ষ চলছে, আর সেখানে গেলে তো আমাদের মরতে হবে। আর যদি এখানে দাঁড়িয়ে থাকি, তাও তো মরব। তাই অরামীয়দের সৈন্যশিবিরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করাই ভালো। তারা যদি আমাদের ছেড়ে দেয়, তবে আমরা বাঁচব; তারা যদি আমাদের হত্যা করে, তবে মরব।”
2KI 7:5 গোধূলিবেলায় তারা উঠে অরামীয়দের সৈন্যশিবিরে চলে গেল। যখন তারা শিবিরের ধারে পৌঁছেছিল, সেখানে কেউ ছিল না,
2KI 7:6 কারণ সদাপ্রভু অরামীয়দের রথ, ঘোড়া ও বিশাল এক সৈন্যদলের শব্দ শুনিয়েছিলেন, তাই তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “দেখো, ইস্রায়েলের রাজা আমাদের আক্রমণ করার জন্য হিত্তীয় ও মিশরীয় রাজাদের ভাড়া করেছেন!”
2KI 7:7 অতএব তারা গোধূলি বেলাতেই উঠে পালিয়ে গেল এবং তাদের তাঁবু, ঘোড়া ও গাধাগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে গেল। শিবির যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থায় ফেলে রেখে, প্রাণ হাতে করে তারা দৌড় লাগাল।
2KI 7:8 কুষ্ঠরোগগ্রস্ত লোকগুলি শিবিরের ধারে পৌঁছে একটি তাঁবুতে ঢুকে ভোজনপান করল। পরে তারা রুপো, সোনা ও পোশাক-আশাক নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল ও সেগুলি লুকিয়ে রেখেছিল। তারা ফিরে এসে অন্য একটি তাঁবুতে ঢুকে সেখান থেকেও কিছু জিনিসপত্র নিয়ে সেগুলি লুকিয়ে রেখেছিল।
2KI 7:9 পরে তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “আমরা যা করছি, তা ভালো নয়। আজ সুখবরের একদিন আর আমরা তা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছি। দিনের আলো ফোটা পর্যন্ত যদি আমরা অপেক্ষা করি, তবে শাস্তি আমাদের উপর নেমে আসবেই। তাই এক্ষুনি রাজপ্রাসাদে গিয়ে খবর দেওয়া যাক।”
2KI 7:10 তাই তারা গিয়ে নগরের দারোয়ানদের খবর দিয়ে বলল, “আমরা অরামীয়দের সৈন্যশিবিরে গেলাম এবং সেখানে কেউ ছিল না—একজন লোকেরও শব্দ পাওয়া যায়নি—শুধু দড়ি দিয়ে বাঁধা ঘোড়া ও গাধার শব্দ শুনেছিলাম, এবং তাঁবুগুলি যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থাতেই তারা ছেড়ে গিয়েছে।”
2KI 7:11 দারোয়ানরা জোরে চিৎকার করে তাঁকে সেই খবরটি জানিয়েছিল, এবং প্রাসাদের ভিতরে খবর পৌঁছে গেল।
2KI 7:12 রাজামশাই রাতেই উঠে তাঁর কর্মকর্তাদের বললেন, “অরামীয়রা আমাদের প্রতি কী করেছে, তা আমি তোমাদের বলছি। তারা জানে যে আমরা অনাহারে আছি; তাই এই ভেবে তারা শিবির ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে লুকিয়েছে, ‘তারা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে, এবং পরে আমরা তাদের জ্যান্ত ধরব ও নগরের মধ্যে ঢুকে পড়ব।’ ”
2KI 7:13 তাঁর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন উত্তর দিলেন, “নগরে যে কটি ঘোড়া অবশিষ্ট আছে, সেগুলির মধ্যে পাঁচটি ঘোড়া কয়েকজন লোকের হাতে তুলে দেওয়া যাক। তাদের দুরাবস্থা এখানকার বাদবাকি সব ইস্রায়েলীর মতোই হবে—হ্যাঁ, তারা শুধু এইসব ইস্রায়েলীর মতোই হবে, যাদের সর্বনাশ হয়েই গিয়েছে। তাই কী হয়েছে তা জানার জন্য তাদের পাঠিয়ে দেওয়া যাক।”
2KI 7:14 অতএব তারা ঘোড়া সমেত দুটি রথ বেছে নিয়েছিলেন, এবং রাজামশাই অরামীয় সৈন্যদলের খোঁজে তাদের পাঠিয়ে দিলেন। তিনি সারথিদের আদেশ দিলেন, “যাও, গিয়ে খুঁজে বের করো, কী হয়েছে।”
2KI 7:15 জর্ডন নদী পর্যন্ত তারা অরামীয়দের অনুসরণ করল, এবং তারা খুঁজে পেয়েছিল যে অরামীয়রা তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে যেসব পোশাক-আশাক ও যন্ত্রপাতি ফেলে দিয়েছিল, সেগুলি পথের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। অতএব দূতেরা ফিরে এসে রাজামশাইকে খবর দিয়েছিল।
2KI 7:16 তখন লোকেরা বাইরে গিয়ে অরামীয়দের সৈন্যশিবিরে লুঠতরাজ চালিয়েছিল। তাই সদাপ্রভুর বলা কথানুসারে এক পসুরি মিহি ময়দা এক শেকলে, এবং দুই পসুরি যব এক শেকলে বিক্রি হল।
2KI 7:17 ইত্যবসরে রাজামশাই যে কর্মকর্তার হাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন, তাঁকেই সিংহদুয়ার সামলানোর দায়িত্ব দিলেন, এবং লোকজন সিংহদুয়ারেই সেই কর্মকর্তাকে পায়ের তলায় পিষে দিয়েছিল, ও তিনি মারা গেলেন, ঠিক যেমনটি রাজামশাই যখন ঈশ্বরের লোকের বাড়িতে গেলেন, তখন ঈশ্বরের লোক তাঁকে আগাম বলে দিলেন।
2KI 7:18 রাজামশাইকে বলা ঈশ্বরের লোকের কথানুসারে ঘটনাটি ঘটেছিল: “আগামীকাল মোটামুটি এই সময়ে শমরিয়ার সিংহদুয়ারে এক পসুরি মিহি ময়দা এক শেকলে এবং দুই পসুরি যব এক শেকলে বিক্রি হবে।”
2KI 7:19 সেই কর্মকর্তা ঈশ্বরের লোককে বললেন, “দেখুন, সদাপ্রভু যদি আকাশের রুদ্ধদ্বার খুলেও দেন, তাও কি এরকম হতে পারে?” ঈশ্বরের লোক উত্তর দিলেন, “আপনি নিজের চোখেই তা দেখবেন, কিন্তু আপনি তার কিছুই খেতে পারবেন না!”
2KI 7:20 আর তাঁর দশা ঠিক সেরকমই হল, কারণ লোকজন তাঁকে সিংহদুয়ারেই পায়ের তলায় পিষে দিয়েছিল, এবং তিনি মারা গেলেন।
2KI 8:1 ইত্যবসরে যাঁর ছেলের প্রাণ ইলীশায় ফিরিয়ে দিলেন, সেই মহিলাটিকে তিনি বললেন, “তোমার পরিবার সাথে নিয়ে তুমি কিছু সময়ের জন্য যেখানেই হোক, গিয়ে থাকো, কারণ সদাপ্রভুর বিধানমতে এই দেশে এক দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে, যা সাত বছর স্থায়ী হবে।”
2KI 8:2 সেই মহিলাটি ঈশ্বরের লোকের কথানুসারে কাজ করার জন্য অগ্রসর হলেন। তিনি ও তাঁর পরিবার ফিলিস্তিনীদের দেশে গিয়ে সাত বছর কাটিয়েছিলেন।
2KI 8:3 সাত বছর পার হওয়ার পর তিনি ফিলিস্তিনীদের দেশ থেকে ফিরে এলেন এবং তাঁর বাড়ি ও জমি ফেরত পাওয়ার জন্য রাজার কাছে আবেদন জানাতে গেলেন।
2KI 8:4 রাজামশাই ঈশ্বরের লোকের দাস গেহসির সাথে কথা বলছিলেন, এবং তিনি বললেন, “ইলীশায় যেসব বড়ো বড়ো কাজ করেছেন সে বিষয়ে আমায় কিছু বলো।”
2KI 8:5 ঠিক যে মুহূর্তে গেহসি রাজাকে বলছিল, কীভাবে ইলীশায় মৃত মানুষকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে, সেই মহিলাটি তাঁর বাড়ি-জমি ফেরত পাওয়ার জন্য রাজার কাছে আবেদন জানাতে এলেন, যাঁর ছেলের প্রাণ ইলীশায় ফিরিয়ে দিলেন। গেহসি বলল, “হে আমার প্রভু মহারাজ, এই সেই মহিলা, আর এই তাঁর সেই ছেলে, যার প্রাণ ইলীশায় ফিরিয়ে দিলেন।”
2KI 8:6 রাজামশাই মহিলাটিকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এবং তিনি তাঁকে সব কথা বলে শুনিয়েছিলেন। পরে তিনি মহিলার ব্যাপারটি দেখার দায়িত্ব একজন কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে বললেন, “এই মহিলাটির কাছে যা যা ছিল, সব তাকে ফিরিয়ে দাও, এবং যেদিন সে এই দেশ ছেড়ে গেল, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার জমি থেকে যা কিছু আয় হয়েছে, সেসবও তাকে ফিরিয়ে দাও।”
2KI 8:7 ইলীশায় দামাস্কাসে গেলেন, এবং অরামের রাজা বিন্‌হদদ তখন অসুস্থ ছিলেন। রাজাকে যখন বলা হল, “ঈশ্বরের লোক এখানে এত দূর পর্যন্ত এসেছেন,”
2KI 8:8 তিনি হসায়েলকে বললেন, “হাতে একটি উপহার নিয়ে তুমি ঈশ্বরের লোকের সাথে দেখা করতে যাও। তাঁর মাধ্যমে সদাপ্রভুর কাছে পরামর্শ চেয়ে নিয়ো; তাঁকে জিজ্ঞাসা কোরো, ‘আমি কি এই রোগ থেকে সুস্থ হব?’ ”
2KI 8:9 হসায়েল সাথে করে চল্লিশটি উটের পিঠে চাপিয়ে দামাস্কাসের ভালো ভালো পণ্যসামগ্রীসমৃদ্ধ উপহার নিয়ে ইলীশায়ের সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি ভিতরে ঢুকে ইলীশায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “আপনার ছেলে অরামের রাজা বিন্‌হদদ আমাকে এই প্রশ্ন করতে পাঠিয়েছেন, ‘আমি কি এই রোগ থেকে সুস্থ হব?’ ”
2KI 8:10 ইলীশায় উত্তর দিলেন, “তাঁকে গিয়ে বলুন, ‘আপনি অবশ্যই সুস্থ হবেন।’ তা সত্ত্বেও, সদাপ্রভু আমার কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন যে আসলে তিনি মারা যাবেন।”
2KI 8:11 হসায়েল অপ্রস্তুতে না পড়া পর্যন্ত ইলীশায় একদৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়েছিলেন। পরে ঈশ্বরের লোক কাঁদতে শুরু করলেন।
2KI 8:12 “আমার প্রভু কাঁদছেন কেন?” হসায়েল জিজ্ঞাসা করলেন। “যেহেতু আমি জানি আপনি ইস্রায়েলীদের কত ক্ষতি করবেন,” তিনি উত্তর দিলেন। “আপনি তাদের সুরক্ষিত স্থানগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেবেন, তরোয়ালের যন্ত্রণায় তাদের যুবক ছেলেদের হত্যা করবেন, তাদের ছোটো ছোটো শিশুদের মাটিতে আছড়ে ফেলে দেবেন, এবং তাদের অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের টান মেরে চিরে ফেলবেন।”
2KI 8:13 হসায়েল বললেন, “আপনার এই দাস, যে কি না এক কুকুরমাত্র, সে কীভাবে এই কৃতিত্ব দেখাবে?” “সদাপ্রভু আমায় দেখিয়ে দিয়েছেন যে আপনি অরামের রাজা হবেন,” ইলীশায় উত্তর দিলেন।
2KI 8:14 তখন হসায়েল ইলীশায়কে ছেড়ে তাঁর মনিবের কাছে ফিরে গেলেন। বিন্‌হদদ যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ইলীশায় তোমাকে কী বলেছেন?” হসায়েল উত্তর দিলেন, “তিনি আমায় বলেছেন, আপনি অবশ্যই সুস্থ হয়ে যাবেন।”
2KI 8:15 কিন্তু তার পরের দিন তিনি মোটা একটি কাপড় জলে ভিজিয়ে নিয়ে রাজার মুখে সেটি এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে রাজা মারা গেলেন। পরে রাজারূপে হসায়েল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 8:16 আহাবের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা যোরামের রাজত্বের পঞ্চম বছরে যিহোশাফট যখন যিহূদার রাজা ছিলেন, তখনই যিহোশাফটের ছেলে যিহোরাম যিহূদার রাজারূপে রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 8:17 বত্রিশ বছর বয়সে তিনি রাজা হলেন, এবং আট বছর তিনি জেরুশালেমে রাজত্ব করলেন।
2KI 8:18 আহাবের বংশের মতো তিনিও ইস্রায়েলের রাজাদের পথেই চলেছিলেন, কারণ তিনি আহাবের এক মেয়েকে বিয়ে করলেন। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তাই করলেন।
2KI 8:19 তা সত্ত্বেও, সদাপ্রভু তাঁর দাস দাউদের খাতিরে যিহূদাকে ধ্বংস করতে চাননি। দাউদ ও তাঁর বংশধরদের জন্য এক প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার প্রতিজ্ঞা তিনি করলেন।
2KI 8:20 যিহোরামের রাজত্বকালে, ইদোমীয়েরা যিহূদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিল ও নিজেদের জন্য একজন রাজা ঠিক করে নিয়েছিল।
2KI 8:21 তাই যিহোরাম তাঁর সব রথ নিয়ে সায়ীরে গেলেন। ইদোমীয়রা তাঁকে ও তাঁর রথগুলির দায়িত্বে থাকা সেনাপতিদের ঘিরে ধরেছিল, কিন্তু তিনি রাতের অন্ধকারে উঠে শত্রুপক্ষের ব্যূহভেদ করে চলে গেলেন; অবশ্য তাঁর সৈন্যদল ঘরে পালিয়ে গেল।
2KI 8:22 আজও পর্যন্ত ইদোম যিহূদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েই আছে। সেই একই সময়ে লিব্‌নাও বিদ্রোহ করে বসেছিল।
2KI 8:23 যিহোরামের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, আর তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 8:24 যিহোরাম তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাদেরই সাথে তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে অহসিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 8:25 আহাবের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা যোরামের রাজত্বের দ্বাদশ বছরে যিহূদার রাজা যিহোরামের ছেলে অহসিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 8:26 অহসিয় বাইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি এক বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অথলিয়া। তিনি ইস্রায়েলের রাজা অম্রির নাতনি ছিলেন।
2KI 8:27 অহসিয় আহাব কুলের পথেই চলেছিলেন এবং আহাব কুলের মতো তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন, কারণ বিয়ের সূত্র ধরে তিনি আহাব কুলের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিলেন।
2KI 8:28 আহাবের ছেলে যোরামের সাথে মিলে অহসিয় রামোৎ-গিলিয়দে অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন। অরামীয়রা যোরামকে ক্ষতবিক্ষত করল;
2KI 8:29 তাই অরামের রাজা হসায়েলের সাথে যুদ্ধ করার সময় রামোৎ-এ অরামীয়রা রাজা যোরামকে যে আঘাত দিয়েছিল, সেই যন্ত্রণা থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে গেলেন। পরে যিহোরামের ছেলে যিহূদার রাজা অহসিয় আহাবের ছেলে যোরামকে দেখতে যিষ্রিয়েলে নেমে গেলেন, কারণ তিনি আহত অবস্থায় পড়েছিলেন।
2KI 9:1 ভাববাদী ইলীশায় ভাববাদী সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে একজন লোককে ডেকে বললেন, “তোমার কোমরবন্ধে তোমার আলখাল্লাটি গুঁজে নাও, তোমার সাথে এই এক বোতল জলপাই তেল নাও ও রামোৎ-গিলিয়দে চলে যাও।
2KI 9:2 সেখানে পৌঁছে, নিমশির নাতি, তথা যিহোশাফটের ছেলে যেহূর খোঁজ করো। তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে তাঁর সঙ্গীসাথীদের কাছ থেকে একটু দূরে সরিয়ে ভিতরের একটি ঘরে নিয়ে যেয়ো।
2KI 9:3 পরে সেই বোতলের তেলটুকু তাঁর মাথায় ঢেলে দিয়ে ঘোষণা কোরো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমাকে ইস্রায়েলের উপরে রাজপদে অভিষিক্ত করছি।’ পরে দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে যেয়ো; দেরি কোরো না!”
2KI 9:4 অতএব সেই অল্পবয়স্ক ভাববাদী রামোৎ-গিলিয়দে গেলেন।
2KI 9:5 সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন সেনা-কর্মকর্তারা একসাথে বসে আছেন। “হে সেনাপতি, আপনার জন্য আমি একটি খবর নিয়ে এসেছি,” তিনি বললেন। “আমাদের মধ্যে কার জন্য?” যেহূ জিজ্ঞাসা করলেন। “হে সেনাপতি, আপনার জন্যই,” তিনি উত্তর দিলেন।
2KI 9:6 যেহূ উঠে বাড়ির ভিতরে চলে গেলেন। তখন সেই ভাববাদী যেহূর মাথায় সেই তেল ঢেলে দিয়ে ঘোষণা করলেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘সদাপ্রভুর প্রজা ইস্রায়েলের উপর আমি তোমাকে রাজপদে অভিষিক্ত করছি।
2KI 9:7 তুমি তোমার মনিব আহাবের কুল ধ্বংস করবে, এবং ঈষেবল আমার দাস সেই ভাববাদীদের ও সদাপ্রভুর সব দাসের যে রক্তপাত করল, আমি তার প্রতিশোধ নেব।
2KI 9:8 আহাবের কুলে সবাই মারা যাবে। আমি ইস্রায়েলে আহাবের কুলে শেষ পুরুষ পর্যন্ত, এক একজনকে শেষ করে ফেলব—তা সে ক্রীতদাসই হোক কি স্বাধীন।
2KI 9:9 আমি আহাবের কুলকে নবাটের ছেলে যারবিয়ামের কুলের এবং অহিয়র ছেলে বাশার কুলের মতো করে ফেলব।
2KI 9:10 আর ঈষেবলকে যিষ্রিয়েলের জমিতে কুকুরেরা ছিঁড়ে খাবে, ও কেউ তাকে কবরও দেবে না।’ ” এই বলে তিনি দরজা খুলে দৌড়ে চলে গেলেন।
2KI 9:11 যেহূ যখন তাঁর সঙ্গীসাথীদের কাছে ফিরে গেলেন, তাদের মধ্যে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সবকিছু ঠিক আছে তো? ওই উন্মাদটি কেন তোমার কাছে এসেছিল?” “আরে, তোমরা তো ওকে আর ও কী ধরনের কথা বলে, তাও জান,” যেহূ উত্তর দিলেন।
2KI 9:12 “একথা সত্যি নয়!” তারা বললেন। “আমাদের বলে ফেলো।” যেহূ বললেন, “সে আমাকে বলে গেল: ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: ইস্রায়েলের উপর আমি তোমাকে রাজপদে অভিষিক্ত করছি।’ ”
2KI 9:13 তারা তাড়াতাড়ি নিজেদের আলখাল্লাগুলি খুলে নিয়ে সেগুলি তাঁর পায়ের নিচে খোলা সিঁড়ির উপর বিছিয়ে দিলেন। পরে শিঙা বাজিয়ে তারা চিৎকার করে উঠেছিলেন, “যেহূ রাজা হলেন!”
2KI 9:14 অতএব নিমশির নাতি, তথা যিহোশাফটের ছেলে যেহূ যোরামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। (ইত্যবসরে যোরাম ইস্রায়েলের সব লোকজনকে সাথে নিয়ে অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে রামোৎ-গিলিয়দ রক্ষা করছিলেন,
2KI 9:15 কিন্তু অরামের রাজা হসায়েলের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন অরামীয়রা রাজা যোরামকে যে আঘাত দিয়েছিল, তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে গেলেন) যেহূ বললেন, “তোমরা যদি আমাকে রাজা করতে চাও, তবে দেখো, কেউ যেন নগর থেকে পালিয়ে যিষ্রিয়েলে গিয়ে এই খবর দেওয়ার সুযোগ না পায়।”
2KI 9:16 এই বলে তিনি রথে চড়ে যিষ্রিয়েলের দিকে চলে গেলেন, কারণ যোরাম সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ও যিহূদার রাজা অহসিয় তাঁর সাথে দেখা করতে গেলেন।
2KI 9:17 যিষ্রিয়েলের মিনারে দাঁড়িয়ে থাকা পাহারাদার যখন যেহূর সৈন্যদলকে আসতে দেখেছিল, সে চিৎকার করে বলে উঠেছিল, “আমি একদল সৈন্য আসতে দেখছি।” “একজন অশ্বারোহী পাঠাও,” যোরাম আদেশ দিলেন। “সে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করে জিজ্ঞাসা করুক, ‘তোমরা শান্তিতে এসেছ তো?’ ”
2KI 9:18 সেই অশ্বারোহী সৈনিক গিয়ে যেহূর সাথে দেখা করে বলল, “রাজামশাই একথাই বলেছেন: ‘আপনারা শান্তিতেই এসেছেন তো?’ ” “শান্তির ব্যাপারে তোমার খোঁজ নেওয়ার কী দরকার?” যেহূ উত্তর দিলেন। “আমার পিছনে এসে দাঁড়াও।” পাহারাদার খবর দিয়েছিল, “সেই দূত তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু সে ফিরে আসছে না।”
2KI 9:19 তাই রাজামশাই দ্বিতীয় এক অশ্বারোহীকে পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বলল, “রাজামশাই একথাই বলেছেন: ‘আপনারা শান্তিতেই এসেছেন তো?’ ” যেহূ উত্তর দিলেন, “শান্তির ব্যাপারে তোমার খোঁজ নেওয়ার কী দরকার? তুমি আমার পিছনে এসে দাঁড়াও।”
2KI 9:20 পাহারাদার খবর দিয়েছিল, “সে তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু সে ফিরে আসছে না। রথ চালানো দেখে মনে হচ্ছে সে হয়তো নিমশির সন্তান যেহূ—কারণ সে উন্মাদের মতো রথ চালায়।”
2KI 9:21 “আমার রথটি হ্যাঁচকা টান মেরে তোলো,” যোরাম আদেশ দিলেন। আর যখন রথটি হ্যাঁচকা টান মেরে তোলা হল, ইস্রায়েলের রাজা যোরাম ও যিহূদার রাজা অহসিয় নিজের নিজের রথে চড়ে যেহূর সাথে দেখা করতে বের হয়ে গেলেন। যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের অধিকারভুক্ত জমিতেই যেহূর সাথে তাদের দেখা হল।
2KI 9:22 যেহূকে দেখতে পেয়ে যোরাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যেহূ, তুমি কি শান্তিতে এসেছ?” “শান্তি থাকবে কী করে,” যেহূ উত্তর দিলেন, “যতদিন আপনার মা ঈষেবলের প্রতিমাপুজো ও ডাইনিবিদ্যা দেশে উপচে পড়ছে?”
2KI 9:23 যোরাম উল্টোদিকে ফিরে পালিয়ে যেতে যেতে অহসিয়কে বলে যাচ্ছিলেন, “অহসিয়, এ যে বিশ্বাসঘাতকতা!”
2KI 9:24 তখন যেহূ তাঁর ধনুকে টান দিয়ে যোরামের কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে তির ছুঁড়ে মেরেছিলেন। তিরটি তাঁর হৃদপিণ্ডে গিয়ে বিঁধেছিল ও তিনি ধপ করে তাঁর রথে বসে পড়েছিলেন।
2KI 9:25 যেহূ তাঁর রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদকরকে বললেন, “ওকে তুলে নিয়ে এসে যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের জমিতে ছুঁড়ে ফেলে দাও। মনে করে দেখো, তুমি-আমি যখন ওর বাবা আহাবের পিছু পিছু রথে চড়ে যাচ্ছিলাম, তখন সদাপ্রভু আহাবের বিরুদ্ধে এই ভাববাণী করেছিলেন:
2KI 9:26 ‘সদাপ্রভু ঘোষণা করছেন, গতকাল আমি নাবোত ও তার ছেলেদের রক্তপাত হতে দেখেছি, এবং সদাপ্রভু ঘোষণা করছেন, আমি অবশ্যই এই জমির উপরেই তোমাকে এর দাম চোকাতে বাধ্য করব।’ তবে এখন, সদাপ্রভুর বাক্যানুসারে ওকে তুলে নিয়ে এসে সেই জমিতেই ছুঁড়ে ফেলে দাও।”
2KI 9:27 যা ঘটেছিল, তা দেখে যিহূদার রাজা অহসিয় বেথ-হাগ্গনের পথ ধরে পালিয়ে গেলেন। যেহূ এই বলে চিৎকার করতে করতে তাঁর পিছু ধাওয়া করলেন, “ওকেও মেরে ফেলো!” যিব্‌লিয়মের কাছাকাছি অবস্থিত গূরে যাওয়ার পথে তারা রথের মধ্যেই তাঁকে আঘাত করল, কিন্তু তিনি মগিদ্দোতে পালিয়ে গেলেন ও সেখানেই তাঁর মৃত্যু হল।
2KI 9:28 তাঁর দাসেরা রথে করে তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে এসেছিল এবং দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথেই তাঁর কবরে তাঁকে কবর দিয়েছিল।
2KI 9:29 (আহাবের ছেলে যোরামের রাজত্বের একাদশ বছরে অহসিয় যিহূদার রাজা হলেন।)
2KI 9:30 পরে যেহূ যিষ্রিয়েলে চলে গেলেন। ঈষেবল সেকথা শুনতে পেয়ে চোখে কাজল দিয়ে, পরিপাটি করে চুল বেঁধে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিল।
2KI 9:31 যেহূ সিংহদুয়ার দিয়ে ঢুকতে না ঢুকতেই সে জিজ্ঞাসা করল, “ওরে সিম্রি, তোর মনিবের হত্যাকারী, তুই কি শান্তিতে এসেছিস?”
2KI 9:32 যেহূ জানালার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, “কে আমার পক্ষে আছে? কে আছে?” দু-তিনজন খোজা নিচে তাঁর দিকে তাকিয়েছিল।
2KI 9:33 “ওকে নিচে ফেলে দাও!” যেহূ বললেন। অতএব তারা ঈষেবলকে নিচে ফেলে দিয়েছিল, এবং কয়েকটি ঘোড়া যখন তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছিল, তখন দেয়ালে ও ঘোড়াদের গায়ে তার রক্তের ছিটে লাগল।
2KI 9:34 যেহূ ভিতরে গিয়ে ভোজনপান করলেন। “অভিশাপগ্রস্ত ওই মহিলাটির কিছু ব্যবস্থা করো,” তিনি বললেন, “আর ওকে কবর দাও, কারণ ও এক রাজার মেয়ে ছিল।”
2KI 9:35 কিন্তু যখন তারা তাকে কবর দিতে গেল, তখন তারা তার মাথার খুলি, তার পা ও হাত ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পায়নি।
2KI 9:36 তারা ফিরে গিয়ে যেহূকে সেকথা বলল, ও তিনি বললেন, “এ সদাপ্রভুর সেই কথা যা তিনি তাঁর দাস তিশবীয় এলিয়র মাধ্যমে বললেন: যিষ্রিয়েলের জমিতে কুকুরেরা ঈষেবলের মাংস ছিঁড়ে খাবে।
2KI 9:37 গোবরসারের মতো পড়ে থাকবে যে কেউ বলতেই পারবে না যে ‘এ হল ঈষেবল।’ ”
2KI 10:1 ইত্যবসরে শমরিয়ায় আহাব কুলের সত্তরজন ছেলে ছিল। তাই যেহূ কয়েকটি চিঠি লিখে সেগুলি শমরিয়ায়: যিষ্রিয়েলের কর্মকর্তাদের, প্রাচীনদের ও যারা আহাবের সন্তানদের অভিভাবক ছিলেন, তাদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি বললেন,
2KI 10:2 “আপনাদের কাছে আপনাদের মনিবের ছেলেরা আছে, এবং রথ ও ঘোড়া, সুরক্ষিত নগর ও অস্ত্রশস্ত্রও আছে। এখন যেই না এই চিঠি আপনাদের কাছে পৌঁছাবে,
2KI 10:3 আপনাদের মনিবের ছেলেদের মধ্যে যে সেরা ও সবচেয়ে উপযুক্ত, তাকে তক্ষুনি তার বাবার সিংহাসনে বসিয়ে দেবেন। পরে আপনারা আপনাদের মনিবের কুলের হয়ে যুদ্ধ করুন।”
2KI 10:4 কিন্তু তারা ভয় পেয়ে বললেন, “দুজন রাজা যখন তাঁকে বাধা দিতে পারেননি, তখন আমরা কীভাবে তাঁকে বাধা দেব?”
2KI 10:5 তাই রাজপ্রাসাদের প্রশাসনিক কর্তা, নগরের শাসনকর্তা, প্রাচীনেরা ও অভিভাবকেরা যেহূকে এই খবর পাঠালেন: “আমরা আপনারই দাস এবং আপনি আমাদের যা যা বলবেন, আমরা তাই করব। আমরা কাউকে রাজা নিযুক্ত করব না; আপনার যা ভালো বলে মনে হয়, তাই করুন।”
2KI 10:6 পরে যেহূ তাদের কাছে দ্বিতীয় একটি চিঠি লিখে বললেন, “আপনারা যদি আমার পক্ষে আছেন ও আমার কথার বাধ্য হতে চান, তবে আপনাদের মনিবের ছেলেদের মুণ্ডুগুলি নিয়ে আগামীকাল ঠিক এই সময়ে যিষ্রিয়েলে আমার কাছে চলে আসুন।” ইত্যবসরে রাজপুত্রদের মধ্যে সত্তরজন, নগরের সামনের সারির লোকদের সাথে ছিল ও তারাই তাদের দেখাশোনা করতেন।
2KI 10:7 সেই চিঠি সেখানে পৌছানোমাত্র তারা সেই রাজপুত্রদের ধরে সত্তর জনকেই হত্যা করলেন। তারা তাদের মুণ্ডুগুলি ঝুড়িতে ভরে যিষ্রিয়েলে যেহূর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
2KI 10:8 একজন দূত সেখানে পৌঁছে যেহূকে বলল, “রাজপুত্রদের মুণ্ডুগুলি আনা হয়েছে।” তখন যেহূ আদেশ দিলেন, “সকাল পর্যন্ত সেগুলি দুটি স্তূপে ভাগ করে নগরের সিংহদরজার মুখে সাজিয়ে রাখো।”
2KI 10:9 পরদিন সকালে যেহূ উঠে বাইরে গেলেন। তিনি সব লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমরা তো নির্দোষ। আমিই আমার মনিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মেরে ফেলেছিলাম, কিন্তু এদের কে হত্যা করেছে?
2KI 10:10 তাই জেনে রাখো, আহাব কুলের বিরুদ্ধে বলা সদাপ্রভুর একটি কথাও ব্যর্থ হবে না। সদাপ্রভু তাঁর দাস এলিয়র মাধ্যমে যা যা ঘোষণা করলেন, সব সেইমতোই করেছেন।”
2KI 10:11 অতএব যিষ্রিয়েলে আহাব কুলের অবশিষ্ট সকলকে, তথা তাঁর সব মুখ্য লোকজনকে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ও যাজকদের যেহূ হত্যা করলেন, এবং তাঁর কোনও বংশধরকে ছাড় দেননি।
2KI 10:12 পরে যেহূ বের হয়ে শমরিয়ার দিকে চলে গেলেন। রাখালদের গ্রাম বেথ-একদে
2KI 10:13 তিনি যিহূদার রাজা অহসিয়ের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনের দেখা পেয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কারা?” তারা বলল, “আমরা অহসিয়ের আত্মীয়স্বজন, এবং আমরা রাজার পরিবারের লোকজনকে ও রাজমাতাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।”
2KI 10:14 “ওদের জ্যান্ত অবস্থায় ধরো!” যেহূ আদেশ দিলেন। তাই তারা তাদের জ্যান্ত অবস্থায় ধরেই তাদের মধ্যে বিয়াল্লিশ জনকে বেথ-একদের কুয়োর পাশে মেরে ফেলেছিল। একজন বংশধরকেও তিনি অবশিষ্ট রাখেননি।
2KI 10:15 সেই স্থানটি ছেড়ে তিনি রেখবের ছেলে সেই যিহোনাদবের কাছে এলেন, যিনি তাঁর সাথে দেখা করতে আসছিলেন। যেহূ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, “আমি যেমন আপনার সাথে ঐকমত্যে আছি, আপনিও কি আমার সাথে ঐকমত্যে আছেন?” “হ্যাঁ, আছি,” যিহোনাদব উত্তর দিলেন। “যদি তাই হয়,” যেহূ বললেন, “তবে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।” তিনি তা করলেন, ও যেহূ তাঁকে নিজের রথে উঠিয়ে নিয়েছিলেন।
2KI 10:16 যেহূ বললেন, “আমার সাথে আসুন ও সদাপ্রভুর জন্য আমার যে উদ্দীপনা আছে তা দেখে যান।” এই বলে তিনি তাঁকে পাশে বসিয়ে রথে চড়ে এগিয়ে গেলেন।
2KI 10:17 শমরিয়ায় পৌঁছে যেহূ আহাব কুলের অবশিষ্ট সবাইকে হত্যা করলেন; এলিয়কে সদাপ্রভু যা বললেন, সেই কথানুসারে তিনি তাদের শেষ করে ফেলেছিলেন।
2KI 10:18 পরে যেহূ সব লোকজনকে একত্র করে তাদের বললেন, “আহাব বায়ালের সেবা অল্পই করলেন; যেহূ তার সেবা বেশ ভালোমতোই করবে।
2KI 10:19 এখন তোমরা বায়ালের সব ভাববাদীকে, তার সব সেবককে ও সব যাজককে ডেকে আনো। দেখো যেন কেউ বাদ পড়ে না যায়, কারণ আমি বায়ালের জন্য বেশ বড়সড় এক যজ্ঞের ব্যবস্থা করতে চলেছি। যে কেউ অনুপস্থিত থাকবে, সে আর বাঁচবে না।” কিন্তু বায়ালের সেবকদের শেষ করে ফেলার জন্যই আসলে যেহূ ছল করে অভিনয় করছিলেন।
2KI 10:20 যেহূ বললেন, “বায়ালের সম্মানে এক সভা আহ্বান করো।” তাই তারা সভা আহ্বান করল।
2KI 10:21 পরে তারা ইস্রায়েলে সর্বত্র যেহূর এই খবর পাঠিয়ে দিয়েছিল, এবং বায়ালের সব সেবক চলে এসেছিল; একজনও অনুপস্থিত থাকেনি। যতক্ষণ না বায়ালের মন্দিরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভরে উঠেছিল, তারা ভিড় জমিয়েই যাচ্ছিল।
2KI 10:22 যেহূ রাজপ্রাসাদের পোশাক বিভাগের রক্ষীকে বললেন, “বায়ালের সব সেবকের জন্য পোশাক নিয়ে এসো।” তাই সে তাদের জন্য পোশাক বের করে এনেছিল।
2KI 10:23 পরে যেহূ ও রেখবের ছেলে যিহোনাদব বায়ালের মন্দিরে গেলেন। যেহূ বায়ালের সেবকদের বললেন, “ভালো করে দেখে নাও, যেন এখানে তোমাদের সাথে এমন কোনও লোক না থাকে যে সদাপ্রভুর সেবা করে—শুধু বায়ালের সেবকরাই যেন থাকে।”
2KI 10:24 অতএব তারা বলিদান ও হোমবলি উৎসর্গ করার জন্য ভিতরে গেলেন। ইত্যবসরে যেহূ মন্দিরের বাইরে আশি জন লোককে মোতায়েন করে এই বলে তাদের সতর্ক করে দিলেন: “আমি যাদের ভার তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছি, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ এদের একজনকেও পালিয়ে যেতে দাও, তবে সেই পালিয়ে যাওয়া লোকের প্রাণের বদলে তারই প্রাণ যাবে।”
2KI 10:25 যেহূ হোমবলি উৎসর্গ করার পরই রক্ষী ও কর্মকর্তাদের আদেশ দিলেন: “ভিতরে গিয়ে ওদের হত্যা করো; কেউ যেন পালাতে না পারে।” অতএব তারা তরোয়াল দিয়ে তাদের কেটে ফেলেছিল। সেই রক্ষী ও কর্মকর্তারা তাদের দেহগুলি বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল এবং পরে বায়ালের মন্দিরে দেবতার অভ্যন্তরীণ পীঠস্থানে ঢুকে পড়েছিল।
2KI 10:26 তারা সেই পবিত্র পাথরটিকে বায়ালের মন্দিরের বাইরে বের করে সেটি পুড়িয়ে দিয়েছিল।
2KI 10:27 তারা বায়ালের পবিত্র পাথরটিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ও বায়ালের মন্দিরটিও ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল, এবং লোকেরা সেই স্থানটি আজও পর্যন্ত এক শৌচাগাররূপেই ব্যবহার করে চলেছে।
2KI 10:28 অতএব যেহূ ইস্রায়েলে বায়ালের পুজো বন্ধ করে দিলেন।
2KI 10:29 অবশ্য তিনি নবাটের ছেলে যারবিয়ামের সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসতে পারেননি, ইস্রায়েলকে দিয়ে যারবিয়াম যেসব পাপ করিয়েছিলেন—অর্থাৎ, বেথেল ও দানে তিনি সোনার বাছুরের পুজো করলেন।
2KI 10:30 সদাপ্রভু যেহূকে বললেন, “যেহেতু আমার দৃষ্টিতে যা উপযুক্ত তা করে তুমি ভালোই করেছ, এবং মনে মনে আমি যা করতে চেয়েছিলাম, আহাবের কুলের প্রতি তুমি সেসব করে দিয়েছ, তাই তোমার বংশধররা চার পুরুষ পর্যন্ত ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসবে।”
2KI 10:31 তবুও যেহূ মনপ্রাণ দিয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিধান পালনের ক্ষেত্রে মনোযোগী হননি। যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিলেন, তিনি সেই পাপগুলি থেকে ফিরে আসেননি।
2KI 10:32 সেই সময় থেকেই সদাপ্রভু ইস্রায়েলের মাপ ছোটো করতে শুরু করলেন। ইস্রায়েলী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত হসায়েল তাদের দমন করে রেখেছিলেন—
2KI 10:33 জর্ডন নদীর পূর্বপারে গিলিয়দের সব এলাকায় (গাদ, রূবেণ ও মনঃশির অধিকারভুক্ত অঞ্চলে), অর্ণোন গিরিখাতের পাশে অবস্থিত অরোয়ের থেকে শুরু করে গিলিয়দ হয়ে বাশন পর্যন্ত সর্বত্র।
2KI 10:34 যেহূর রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন, তাঁর সব কীর্তি, সেসবের বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 10:35 যেহূ তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও শমরিয়ায় তাঁকে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোয়াহস রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 10:36 আটাশ বছর শমরিয়ায় যেহূ ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করলেন।
2KI 11:1 অহসিয়ের মা অথলিয়া যখন দেখেছিলেন তাঁর ছেলে মারা গিয়েছেন, তখন তিনি গোটা রাজপরিবার ধ্বংস করে দিতে প্রবৃত্ত হলেন।
2KI 11:2 কিন্তু রাজা যিহোরামের মেয়ে ও অহসিয়ের বোন যিহোশেবা অহসিয়ের ছেলে যোয়াশকে সেই রাজপুত্রদের মধ্যে থেকে চুরি করে এনেছিলেন, যাদের অথলিয়া হত্যা করতে যাচ্ছিলেন। তিনি যোয়াশকে অথলিয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাকে ও তার ধাত্রীকে শোবার ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন; তাই তাকে হত্যা করা যায়নি।
2KI 11:3 একদিকে যখন তাকে ও তার ধাত্রীকে সদাপ্রভুর মন্দিরে ছয় বছর লুকিয়ে রাখা হল, অন্যদিকে অথলিয়া দেশ শাসন করে যাচ্ছিলেন।
2KI 11:4 সপ্তম বছরে যিহোয়াদা শত-সেনাপতিদের, এবং করেয় ও রক্ষীদলের সেনাপতিদের সদাপ্রভুর মন্দিরে নিজের কাছে ডেকে পাঠালেন। তাদের সাথে তিনি একটি চুক্তি করলেন ও সদাপ্রভুর মন্দিরে তাদের দিয়ে একটি শপথ করিয়ে নিয়েছিলেন। পরে তিনি তাদের সেই রাজপুত্রকে দেখতে দিলেন।
2KI 11:5 তিনি এই বলে তাদের আদেশ দিলেন, “তোমাদের এরকম করতে হবে: তোমরা যারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে সাব্বাথবারে কাজে যোগ দিতে যাচ্ছ—তোমাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ রাজপ্রাসাদ পাহারা দেবে,
2KI 11:6 এক-তৃতীয়াংশ থাকবে সূর-দুয়ারে, এবং এক-তৃতীয়াংশ থাকবে সেই রক্ষীর পিছন দিকের দুয়ারে, যে মন্দির পাহারা দেওয়ার জন্য ঘুরতে থাকে—
2KI 11:7 আর তোমরা, যারা অন্য দুটি দলে আছ, যারা সাব্বাথবারে সাধারণত কাজ করো না, তোমরা সবাই রাজার জন্য মন্দির পাহারা দিয়ো।
2KI 11:8 তোমরা প্রত্যেকে হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজাকে ঘিরে রেখো। যে কেউ তোমাদের সৈন্যশ্রেণীর কাছাকাছি আসবে, তাকে মেরে ফেলতে হবে। রাজা যেখানেই যাবেন, তোমরা তাঁর কাছাকাছি থেকো।”
2KI 11:9 শত-সেনাপতিরা হুবহু যাজক যিহোয়াদার আদেশানুসারেই কাজ করল। প্রত্যেকে তাদের লোকজন নিয়ে—যারা সাব্বাথবারে কাজ করত ও যারা সাব্বাথবারে কাজ করা থেকে বিরত থাকত, সবাই—যাজক যিহোয়াদার কাছে এসেছিল।
2KI 11:10 পরে তিনি শত-সেনাপতিদের হাতে সেইসব বর্শা ও ঢালগুলি তুলে দিলেন, যেগুলি ছিল রাজা দাউদের এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে রাখা ছিল।
2KI 11:11 যজ্ঞবেদি ও মন্দিরের কাছে, রক্ষীরা প্রত্যেকে হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, মন্দিরের দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করে উত্তর দিক পর্যন্ত রাজাকে ঘিরে রেখেছিল।
2KI 11:12 যিহোয়াদা রাজপুত্রকে বাইরে বের করে এনে তাঁর মাথায় রাজমুকুট পরিয়ে দিলেন; তিনি রাজপুত্রকে পবিত্র নিয়ম-সমৃদ্ধ একটি অনুলিপি উপহার দিয়ে তাঁকে রাজা ঘোষণা করে দিলেন। তারা তাঁকে অভিষিক্ত করল, ও প্রজারা হাততালি দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠেছিল, “রাজা দীর্ঘজীবী হোন!”
2KI 11:13 রক্ষী ও প্রজাদের সেই চিৎকার শুনে অথলিয়া সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রজাদের কাছে গেলেন।
2KI 11:14 তিনি তাকিয়ে দেখেছিলেন, প্রথানুসারে রাজা থামের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। কর্মকর্তা ও শিঙাবাদকেরা রাজার পিছনে দাঁড়িয়েছিল, ও দেশের প্রজারা সবাই আনন্দ করতে করতে শিঙা বাজাচ্ছিল। তখন অথলিয়া তাঁর রাজবস্ত্র ছিঁড়ে বলে উঠেছিলেন, “রাজদ্রোহ! রাজদ্রোহ!”
2KI 11:15 সৈন্যদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শত-সেনাপতিদের যাজক যিহোয়াদা আদেশ দিলেন: “সৈন্যশ্রেণীর মাঝখান দিয়ে তাঁকে বের করে আনো এবং যে কেউ তাঁর অনুগামী, তাকে তরোয়ালের আঘাতে তাকে হত্যা করো।” কারণ যাজকমশাই বললেন, “সদাপ্রভুর মন্দিরের মধ্যে তাঁকে হত্যা করা ঠিক হবে না।”
2KI 11:16 তাই তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেই স্থানে নিয়ে গেল, যেখান থেকে ঘোড়াগুলি প্রাসাদ-সংলগ্ন মাঠে প্রবেশ করে, এবং সেখানেই তাঁকে হত্যা করা হল।
2KI 11:17 যিহোয়াদা পরে এই বলে সদাপ্রভু এবং রাজা ও প্রজাদের মধ্যে এক পবিত্র নিয়ম স্থাপন করে দিলেন, যে তারা সদাপ্রভুর প্রজা হয়েই থাকবে। এছাড়াও তিনি রাজা ও প্রজাদের মধ্যেও এক পবিত্র নিয়ম স্থাপন করে দিলেন।
2KI 11:18 দেশের প্রজারা সবাই বায়ালের মন্দিরে গিয়ে সেটি ভেঙে ফেলেছিল। তারা যজ্ঞবেদি ও প্রতিমার মূর্তিগুলিও ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল এবং বায়ালের যাজক মত্তনকে যজ্ঞবেদির সামনেই হত্যা করল। পরে যাজক যিহোয়াদা সদাপ্রভুর মন্দিরে পাহারাদার বসিয়ে দিলেন।
2KI 11:19 তিনি শত-সেনাপতি, করেয়, রক্ষীদল ও দেশের সব প্রজাকে সাথে নিয়ে রাজাকে সদাপ্রভুর মন্দির থেকে বের করে এনে রক্ষীদলের দুয়ার দিয়ে রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেলেন। রাজা পরে রাজসিংহাসনে বিরাজমান হলেন।
2KI 11:20 দেশের প্রজারা সবাই আনন্দ করল, ও নগরে শান্তি বিরাজিত হল, যেহেতু প্রাসাদে অথলিয়াকে তরোয়াল দিয়ে মেরে ফেলা হল।
2KI 11:21 যোয়াশ যখন রাজত্ব করতে শুরু করলেন, তখন তাঁর বয়স সাত বছর।
2KI 12:1 যেহূর রাজত্বকালের সপ্তম বছরে যোয়াশ রাজা হলেন, এবং তিনি জেরুশালেমে চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম সিবিয়া; তিনি বের-শেবা নগরে থাকতেন।
2KI 12:2 যতদিন যাজক যিহোয়াদা যোয়াশকে উপদেশ দিলেন, ততদিন তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ঠিক, তাই করে গেলেন।
2KI 12:3 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি অবশ্য সরানো হয়নি; লোকজন সেই স্থানগুলিতে তখনও বলিদান উৎসর্গ করেই যাচ্ছিল ও ধূপও পুড়িয়ে যাচ্ছিল।
2KI 12:4 যোয়াশ যাজকদের বললেন, “সদাপ্রভুর মন্দিরে যত অর্থ—জনগণনার মাধ্যমে, ব্যক্তিগত মানত পূরণের জন্য এবং স্বেচ্ছায় মন্দিরে আনা হয়—তা সংগ্রহ করে রাখুন।
2KI 12:5 কোষাধ্যক্ষদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে প্রত্যেক যাজক অর্থ নিয়ে মন্দির যেখানে যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই স্থানগুলি মেরামত করান।”
2KI 12:6 কিন্তু যোয়াশের রাজত্বকালের তেইশ বছর পর্যন্ত যাজকেরা সেই মন্দির মেরামত করেননি।
2KI 12:7 তাই রাজা যোয়াশ যাজক যিহোয়াদা ও অন্যান্য যাজকদের ডেকে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনারা কেন মন্দিরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলি মেরামত করছেন না? কোষাধ্যক্ষদের কাছ থেকে আর অর্থ নেবেন না, কিন্তু মন্দির মেরামতের জন্য তাদের হাতে অর্থ তুলে দিন।”
2KI 12:8 যাজকেরা রাজি হলেন যে তারা লোকজনের কাছ থেকে আর অর্থ সংগ্রহ করবেন না এবং তারা নিজেরাও মন্দির মেরামত করবেন না।
2KI 12:9 যাজক যিহোয়াদা একটি সিন্দুক নিয়ে সেটির ঢাকনায় একটি ফুটো করে দিলেন। তিনি সেটি নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন যজ্ঞবেদির পাশে, ডানদিকে ঠিক সেখানে, যেখান দিয়ে লোকজন সদাপ্রভুর মন্দিরে ঢোকে। যত অর্থ সদাপ্রভুর মন্দিরে আনা হত, মন্দিরের প্রবেশদ্বার পাহারা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত যাজকেরা সেইসব অর্থ সিন্দুকে এনে রাখতেন।
2KI 12:10 যখনই তারা দেখতেন সিন্দুকে অনেক অর্থ জমে গিয়েছে, তখন রাজার সচিব ও মহাযাজক এসে সদাপ্রভুর মন্দিরে জমা পড়া অর্থ গুনে তা থলিতে ভরে রাখতেন।
2KI 12:11 মেরামতিতে কত খরচ হবে তা স্থির হয়ে যাওয়ার পর তারা সেই পরিমাণ অর্থ মন্দিরের কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা লোকদের হাতে তুলে দিতেন। সেই অর্থ দিয়ে তারা সদাপ্রভুর মন্দিরে যারা কাজ করত, অর্থাৎ ছুতোর ও ঠিকাদার,
2KI 12:12 রাজমিস্ত্রি ও যারা পাথর কাটার কাজ করত, তাদের বেতন দিত। সদাপ্রভুর মন্দির মেরামতির জন্য তারা কাঠ ও মাপজোপ করে কাটা পাথরের চাঙড় কিনেছিল, এবং মন্দিরটি আগের দশায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সব খরচপত্র করল।
2KI 12:13 মন্দিরে যত অর্থ আনা হল, তা সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য রুপোর গামলা, পলতে ছাঁটবার যন্ত্র, জল ছিটানোর বাটি, শিঙা অথবা সোনা বা রুপোর অন্য কোনো কিছু তৈরির কাজে খরচ করা হয়নি;
2KI 12:14 সেই অর্থ সেইসব কাজের লোককে দেওয়া হল, যারা মন্দির মেরামতির কাজে তা ব্যবহার করল।
2KI 12:15 কাজের লোকদের দেওয়ার জন্য তারা যাদের সেই অর্থ দিলেন, তাদের কাছে তাদের অর্থের কোনও হিসেব নিতে হয়নি, কারণ তারা সম্পূর্ণ সততা নিয়ে কাজ করল।
2KI 12:16 দোষার্থক-নৈবেদ্য ও পাপার্থক বলি থেকে সংগৃহীত অর্থ সদাপ্রভুর মন্দিরে আনা হয়নি; তা যাজকদেরই হল।
2KI 12:17 মোটামুটি এসময় অরামের রাজা হসায়েল গিয়ে গাত আক্রমণ করে তা দখল করে নিয়েছিলেন। পরে তিনি জেরুশালেম আক্রমণ করার জন্যও মুখ ঘুরিয়েছিলেন।
2KI 12:18 কিন্তু যিহূদার রাজা যোয়াশ তাঁর পূর্বসূরীদের—যিহূদার রাজা যিহোশাফট, যিহোরাম ও অহসিয়ের—দ্বারা উৎসর্গীকৃত সব পবিত্র জিনিসপত্র এবং তিনি নিজে যেসব উপহারসামগ্রী উৎসর্গীকৃত করলেন, সেগুলি এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের কোষাগারে ও রাজপ্রাসাদে যত সোনাদানা ছিল, সব নিয়ে অরামের রাজা হসায়েলের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, এবং তিনি তখন জেরুশালেম থেকে সরে এলেন।
2KI 12:19 যোয়াশের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, আর তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 12:20 তাঁর কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল এবং সিল্লা যাওয়ার পথে বেথ-মিল্লোতে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করল।
2KI 12:21 যে কর্মকর্তারা তাঁকে হত্যা করল, তারা হল শিমিয়তের ছেলে যোষাখর ও শোমরের ছেলে যিহোষাবদ। তিনি মারা গেলেন ও দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথেই তাঁকে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে অমৎসিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 13:1 অহসিয়ের ছেলে যিহূদার রাজা যোয়াশের রাজত্বের তেইশতম বছরে যেহূর ছেলে যিহোয়াহস শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি সতেরো বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 13:2 নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, সেইসব পাপ করে যিহোয়াহসও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তাই করলেন, এবং সেই পাপগুলি থেকে তিনি ফিরে আসেননি।
2KI 13:3 তাই সদাপ্রভুর ক্রোধ ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিল, এবং দীর্ঘকাল তিনি তাদের অরামের রাজা হসায়েল ও তাঁর ছেলে বিন্‌হদদের ক্ষমতার অধীনে রেখে দিলেন।
2KI 13:4 তখন যিহোয়াহস সদাপ্রভুর অনুগ্রহ চেয়েছিলেন, এবং সদাপ্রভুও তাঁর কথা শুনেছিলেন, কারণ তিনি দেখতে পেয়েছিলেন অরামের রাজা কত নির্মমভাবে ইস্রায়েলের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিলেন।
2KI 13:5 সদাপ্রভু ইস্রায়েলের জন্য একজন উদ্ধারকর্তা জোগাড় করে দিলেন, এবং ইস্রায়েলীরা অরামের ক্ষমতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। অতএব ইস্রায়েলীরা আগের মতোই নিজের নিজের ঘরে বসবাস করল।
2KI 13:6 যারবিয়ামের কুল ইস্রায়েলকে দিয়ে যে পাপ করিয়েছিল, তারা কিন্তু সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসেনি; তারা সেইসব পাপ করেই যাচ্ছিল। এছাড়াও, আশেরার সেই খুঁটিও শমরিয়ায় দাঁড় করানো ছিল।
2KI 13:7 যিহোয়াহসের সৈন্যদলে শুধু পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী, দশটি রথ ও দশ হাজার পদাতিক সৈন্য ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না, কারণ অরামের রাজা বাদবাকি সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছিলেন এবং সেগুলি সেই ধুলোর মতো করে দিলেন, যা ফসল মাড়াই করার সময় উড়তে থাকে।
2KI 13:8 যিহোয়াহসের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন ও তাঁর সব কীর্তি, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 13:9 যিহোয়াহস তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাঁকে শমরিয়ায় কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোয়াশ রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 13:10 যিহূদার রাজা যোয়াশের রাজত্বের সাঁইত্রিশতম বছরে যিহোয়াহসের ছেলে যিহোয়াশ শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 13:11 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তাই করলেন এবং নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তিনি তার একটিও থেকে ফিরে আসেননি; তিনি সেই পাপগুলি করেই গেলেন।
2KI 13:12 যিহোয়াশের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন ও তাঁর সব কীর্তি, এছাড়াও যিহূদার রাজা অমৎসিয়ের বিরুদ্ধে করা তাঁর যুদ্ধের বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 13:13 যিহোয়াশ তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন, এবং যারবিয়াম সিংহাসনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইস্রায়েলের রাজাদের সাথেই যিহোয়াশকে শমরিয়ায় কবর দেওয়া হল।
2KI 13:14 ইত্যবসরে ইলীশায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, এবং সেই অসুখেই তিনি মারা গেলেন। ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ তাঁকে দেখতে গেলেন ও তাঁকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। “হে আমার বাবা! হে আমার বাবা!” তিনি চিৎকার করে উঠেছিলেন। “ইস্রায়েলের রথ ও অশ্বারোহীরা!”
2KI 13:15 ইলীশায় বললেন, “একটি ধনুক ও কয়েকটি তির নিয়ে আসুন,” আর তিনি তা এনেছিলেন।
2KI 13:16 “ধনুকটি হাতে তুলে নিন,” তিনি ইস্রায়েলের রাজাকে বললেন। তিনি তা হাতে তুলে নেওয়ার পর, ইলীশায় নিজের হাত রাজার হাতের উপর রেখেছিলেন।
2KI 13:17 “পূর্বদিকের জানালাটি খুলুন,” তিনি বললেন ও রাজাও জানালাটি খুলেছিলেন। “তির ছুঁড়ুন!” ইলীশায় বললেন, ও তিনি তির ছুঁড়েছিলেন। “এ সদাপ্রভুর বিজয়-তির, অরামের উপর বিজয়লাভের তির!” ইলীশায় ঘোষণা করে দিলেন। “আপনি অফেকে অরামীয়দের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন।”
2KI 13:18 পরে তিনি বললেন, “তিরগুলি হাতে তুলে নিন,” আর ইস্রায়েলের রাজাও সেগুলি হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ইলীশায় তাঁকে বললেন, “জমিতে আঘাত করুন।” তিনি তিনবার আঘাত করেই ক্ষান্ত হলেন।
2KI 13:19 ঈশ্বরের লোক তাঁর উপর রেগে বলে উঠেছিলেন, “জমিতে পাঁচ-ছয়বার আঘাত করতে হত; তবেই আপনি অরামকে পরাজিত করে পুরোপুরি তাদের ধ্বংস করতে পারতেন। কিন্তু এখন আপনি শুধু তিনবার অরামকে পরাজিত করতে পারবেন।”
2KI 13:20 ইলীশায় মারা গেলেন ও তাঁকে কবর দেওয়া হল। ইত্যবসরে প্রতি বছর বসন্তকালে মোয়াবীয় আক্রমণকারীরা দেশে ঢুকত।
2KI 13:21 একবার যখন কয়েকজন ইস্রায়েলী লোক একজনকে কবর দিচ্ছিল, হঠাৎ করে তারা একদল আক্রমণকারীকে দেখতে পেয়েছিল; তাই তারা সেই লোকটির মৃতদেহটি ইলীশায়ের কবরে ফেলে দিয়েছিল। সেই মৃতদেহে যখন ইলীশায়ের অস্থির ছোঁয়া লাগল, লোকটি প্রাণ ফিরে পেয়েছিল ও নিজের পায়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল।
2KI 13:22 যিহোয়াহসের রাজত্বকালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অরামের রাজা হসায়েল ইস্রায়েলের উপর অত্যাচার চালিয়ে গেলেন।
2KI 13:23 কিন্তু সদাপ্রভু অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের সাথে যে পবিত্র নিয়ম স্থাপন করলেন, তার খাতিরে তাদের প্রতি অনুগ্রহকারী হলেন এবং তাদের করুণা দেখিয়েছিলেন ও তাদের যত্নও নিয়েছিলেন। আজও পর্যন্ত তিনি তাদের ধ্বংস করতে বা তাঁর উপস্থিতি থেকে তাদের নির্বাসিত করতে অনিচ্ছুক হয়েই আছেন।
2KI 13:24 অরামের রাজা হসায়েল মারা গেলেন, এবং তাঁর ছেলে বিন্‌হদদ রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 13:25 তখন যিহোয়াহসের ছেলে যিহোয়াশ হসায়েলের ছেলে বিন্‌হদদের হাত থেকে সেই নগরগুলি আবার দখল করে নিয়েছিলেন, যেগুলি তিনি যুদ্ধের সময় তাঁর বাবা যিহোয়াহসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তিনবার যিহোয়াশ তাঁকে পরাজিত করলেন, এবং এইভাবে তিনি ইস্রায়েলী নগরগুলি পুনরুদ্ধার করলেন।
2KI 14:1 ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াহসের ছেলে যিহোয়াশের রাজত্বকালের দ্বিতীয় বছরে যিহূদার রাজা যোয়াশের ছেলে অমৎসিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 14:2 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি উনত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিহোয়দ্দন; তিনি জেরুশালেমে বসবাস করতেন।
2KI 14:3 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ঠিক, অমৎসিয় তাই করতেন, কিন্তু তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতো করতেন না। সবকিছুতেই তিনি তাঁর বাবা যোয়াশের আদর্শ অনুসরণ করতেন।
2KI 14:4 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি অবশ্য সরানো হয়নি; লোকজন তখনও সেখানে বলি উৎসর্গ করত ও ধূপ জ্বালাতো।
2KI 14:5 রাজপাট তাঁর হাতে সুস্থির হওয়ার পর তিনি সেই কর্মকর্তাদের প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করে বধ করলেন, যারা তাঁর বাবা, অর্থাৎ রাজাকে হত্যা করেছিল।
2KI 14:6 তবুও মোশির বিধানপুস্তকে লেখা সেই কথানুসারে, যেখানে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন: “ছেলেমেয়েদের পাপের জন্য বাবা-মাকে কিংবা বাবা-মায়ের পাপের জন্য ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলা যাবে না; প্রত্যেককেই তার নিজের পাপের জন্য মরতে হবে।” তিনি সেই গুপ্তঘাতকদের ছেলেমেয়েদের হত্যা করেননি।
2KI 14:7 তিনিই লবণ উপত্যকায় 10,000 ইদোমীয়কে যুদ্ধে পরাজিত করে সেলা দখল করে নিয়েছিলেন, এবং তার নাম রেখেছিলেন যক্তেল। আজও পর্যন্ত সেখানকার সেই নামই বজায় আছে।
2KI 14:8 পরে ইস্রায়েলের রাজা যেহূর নাতি, তথা যিহোয়াহসের ছেলে যিহোয়াশের কাছে দূত পাঠিয়ে অমৎসিয় বললেন: “আসুন, যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হই।”
2KI 14:9 কিন্তু ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ যিহূদার রাজা অমৎসিয়কে উত্তর দিলেন: “লেবাননের শিয়ালকাঁটা লেবাননেরই এক দেবদারু গাছকে খবর দিয়ে পাঠিয়েছিল, ‘তুমি তোমার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দাও।’ পরে লেবাননের বুনো এক জন্তু এসে সেই শিয়ালকাঁটাকে পায়ের তলায় পিষে দিয়েছিল।
2KI 14:10 ইদোমকে পরাজিত করে এখন সত্যিই আপনার অহংকার হয়েছে। বিজয় নিয়েই আপনি মেতে থাকুন, কিন্তু ঘরেই বসে থাকুন! কেন ঝামেলা ডেকে আনছেন এবং আপনার নিজের ও যিহূদারও পতন ত্বরান্বিত করছেন?”
2KI 14:11 অমৎসিয় অবশ্য কোনও কথা শুনতে চাননি, তাই ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ তাঁকে আক্রমণ করলেন। যিহূদার বেত-শেমশে তিনি ও যিহূদার রাজা অমৎসিয় পরস্পরের মুখোমুখি হলেন।
2KI 14:12 ইস্রায়েলের হাতে যিহূদা পর্যুদস্ত হল, এবং প্রত্যেকে নিজের নিজের ঘরে পালিয়ে গেল।
2KI 14:13 বেত-শেমশে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ অহসিয়ের নাতি, তথা যোয়াশের ছেলে যিহূদার রাজা অমৎসিয়কে বন্দি করলেন। পরে যিহোয়াশ জেরুশালেমে গিয়ে ইফ্রয়িম দুয়ার থেকে কোণের দুয়ার পর্যন্ত প্রায় 180 মিটার লম্বা প্রাচীর ভেঙে দিলেন।
2KI 14:14 সদাপ্রভুর মন্দিরে ও রাজপ্রাসাদের কোষাগারে যত সোনা, রুপো ও জিনিসপত্র ছিল, সব তিনি নিয়ে গেলেন। এছাড়াও তিনি কয়েকজনকে পণবন্দি করে শমরিয়ায় ফিরে গেলেন।
2KI 14:15 যিহোয়াশের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন ও তাঁর সব কীর্তি, এছাড়াও যিহূদার রাজা অমৎসিয়ের বিরুদ্ধে করা যুদ্ধের বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 14:16 যিহোয়াশ তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও শমরিয়ায় তাঁকে ইস্রায়েলের রাজাদের সাথেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যারবিয়াম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 14:17 ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াহসের ছেলে যিহোয়াশের মৃত্যুর পর যিহূদার রাজা যোয়াশের ছেলে অমৎসিয় আরও পনেরো বছর বেঁচেছিলেন।
2KI 14:18 অমৎসিয়ের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 14:19 জেরুশালেমে কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল, ও তিনি লাখীশে পালিয়ে গেলেন, কিন্তু তারা লাখীশেও তাঁর পিছনে লোক পাঠিয়ে দিয়েছিল ও সেখানেই তাঁকে হত্যা করল।
2KI 14:20 তাঁর মৃতদেহ ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে ফিরিয়ে আনা হল এবং জেরুশালেমে দাউদ-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথেই তাঁকে কবর দেওয়া হল।
2KI 14:21 তখন যিহূদার প্রজারা সবাই ষোলো বছর বয়স্ক অসরিয়কে রাজারূপে তাঁর বাবা অমৎসিয়ের স্থলাভিষিক্ত করল।
2KI 14:22 রাজা অমৎসিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হওয়ার পর তিনিই এলৎ নগরটি নতুন করে গেঁথে আরেকবার যিহূদার অধীনে নিয়ে এলেন।
2KI 14:23 যিহূদার রাজা যোয়াশের ছেলে অমৎসিয়ের রাজত্বকালের পনেরোতম বছরে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশের ছেলে যারবিয়াম শমরিয়ায় রাজা হলেন, এবং তিনি একচল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 14:24 তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করতেন, এবং নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তার একটিও পাপ থেকে তিনি ফিরে আসেননি।
2KI 14:25 ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু অমিত্তয়ের ছেলে, তথা তাঁর দাস গাৎ-হেফরীয় ভাববাদী যোনার মাধ্যমে যে কথা বললেন, সেই কথানুসারে যারবিয়াম লেবো-হমাৎ থেকে মরুসাগর পর্যন্ত ইস্রায়েলের সীমা আরেকবার নিজের অধিকারে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
2KI 14:26 সদাপ্রভু দেখেছিলেন, ক্রীতদাস হোক কি স্বাধীন, ইস্রায়েলে প্রত্যেকে কীভাবে ভয়ানক কষ্ট পাচ্ছিল; তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না।
2KI 14:27 আর যেহেতু সদাপ্রভু বলেননি যে তিনি আকাশের তলা থেকে ইস্রায়েলের নাম মুছে দেবেন, তাই যিহোয়াশের ছেলে যারবিয়ামের হাত দিয়েই তিনি তাদের রক্ষা করলেন।
2KI 14:28 যারবিয়ামের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন, এবং তাঁর সামরিক কীর্তি, এছাড়াও যিহূদার অধিকারে থাকা দামাস্কাস ও হমাৎ কীভাবে তিনি ইস্রায়েলের অধিকারভুক্ত করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 14:29 যারবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষ, ইস্রায়েলের রাজাদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে সখরিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:1 ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের রাজত্বকালের সাতাশতম বছরে যিহূদার রাজা অমৎসিয়ের ছেলে অসরিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 15:2 তিনি ষোলো বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে বাহান্ন বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিখলিয়া; তিনি জেরুশালেমে বসবাস করতেন।
2KI 15:3 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ঠিক, তিনি তাই করতেন, ঠিক যেমনটি তাঁর বাবা অমৎসিয়ও করতেন।
2KI 15:4 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি অবশ্য সরানো হয়নি; লোকজন তখনও সেখানে বলি উৎসর্গ করত ও ধূপ জ্বালাতো।
2KI 15:5 আমৃত্যু সদাপ্রভু তাঁকে কুষ্ঠরোগাক্রান্ত করে রেখেছিলেন, এবং তিনি আলাদা একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। রাজপুত্র যোথম প্রাসাদ দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং তিনিই দেশের প্রজাদের শাসন করতেন।
2KI 15:6 অসরিয়র রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 15:7 অসরিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাদের কাছেই তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যোথম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:8 যিহূদার রাজা অসরিয়র রাজত্বকালের আটত্রিশতম বছরে যারবিয়ামের ছেলে সখরিয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি ছয় মাস রাজত্ব করলেন।
2KI 15:9 তাঁর পূর্বসূরীদের মতো তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করতেন। নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তিনি সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসেননি।
2KI 15:10 যাবেশের ছেলে শল্লুম সখরিয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। প্রজাদের সামনেই শল্লুম তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন, এবং রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:11 সখরিয়ের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনার বিবরণ ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2KI 15:12 এইভাবে যেহূকে বলা সদাপ্রভুর সেই কথা ফলে গেল: “চার পুরুষ ধরে তোমার বংশধররা ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসবে।”
2KI 15:13 যিহূদার রাজা উষিয়র রাজত্বকালের ঊনচল্লিশ বছরে যাবেশের ছেলে শল্লুম রাজা হলেন, এবং তিনি শমরিয়ায় এক মাস রাজত্ব করলেন।
2KI 15:14 পরে গাদির ছেলে মনহেম তির্সা থেকে শমরিয়ায় উঠে গেলেন। শমরিয়ায় তিনি যাবেশের ছেলে শল্লুমকে আক্রমণ করে তাঁকে হত্যা করলেন এবং রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:15 শল্লুমের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, ও যে ষড়যন্ত্রে তিনি নেতৃত্ব দিলেন, তার বিবরণ ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2KI 15:16 সেই সময় মনহেম তির্সা থেকে শুরু করে তিপসহ নগর ও সেখানকার সব বাসিন্দাকে তথা আশপাশের সব লোকজনকে আক্রমণ করলেন, কারণ তারা তাদের নগরের সিংহদুয়ারগুলি খুলে দিতে রাজি হয়নি। তিনি তিপসহ নগরটির উপর লুটপাট চালিয়েছিলেন এবং সব অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেট চিরে দিলেন।
2KI 15:17 যিহূদার রাজা অসরিয়র রাজত্বকালের ঊনচল্লিশ বছরে গাদির ছেলে মনহেম ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি দশ বছর শমরিয়ায় রাজত্ব করলেন।
2KI 15:18 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তিনি তাই করলেন। নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তাঁর সমগ্র রাজত্বকালে তিনি সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসেননি।
2KI 15:19 পরে আসিরিয়ার রাজা পূল ইস্রায়েলে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিলেন, এবং মনহেম তাঁর সাহায্য পাওয়ার ও রাজ্যে নিজের অধিকার শক্তপোক্ত করার জন্য তাঁকে 1,000 তালন্ত রুপো উপহার দিলেন।
2KI 15:20 মনহেম এই অর্থ ইস্রায়েল থেকে জোর করে আদায় করলেন। আসিরিয়ার রাজাকে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি অবস্থাপন্ন লোককে পঞ্চাশ শেকল করে রুপো দিতে বাধ্য করা হল। তাই আসিরিয়ার রাজা সেখান থেকে সরে গেলেন এবং দেশে আর থাকেননি।
2KI 15:21 মনহেমের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 15:22 মনহেম তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে পকহিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:23 যিহূদার রাজা অসরিয়র রাজত্বকালের পঞ্চাশতম বছরে মনহেমের ছেলে পকহিয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 15:24 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, পকহিয় তাই করলেন। নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তিনি সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসেননি।
2KI 15:25 তাঁর প্রধান কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, রমলিয়ের ছেলে পেকহ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। পঞ্চাশ জন গিলিয়দীয় লোককে সাথে নিয়ে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে শমরিয়ায় রাজপ্রাসাদের দুর্গে অর্গোব ও অরিয়ি ও পকহিয়কে একসাথে হত্যা করলেন। অতএব পকহিয়কে হত্যা করে পেকহ রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:26 পকহিয়ের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2KI 15:27 যিহূদার রাজা অসরিয়র রাজত্বকালের বাহান্নতম বছরে রমলিয়ের ছেলে পেকহ শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি কুড়ি বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 15:28 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তিনি তাই করলেন। নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যেসব পাপ করিয়েছিলেন, তিনি সেইসব পাপ থেকে ফিরে আসেননি।
2KI 15:29 ইস্রায়েলের রাজা পেকহের রাজত্বকালেই আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষর এসে ইয়োন, আবেল বেথ-মাখা, যানোহ, কেদশ, ও হাৎসোর দখল করে নিয়েছিলেন। তিনি গিলিয়দ এবং গালীল, তথা নপ্তালির সব এলাকাও দখল করে নিয়েছিলেন, ও লোকজনকে বন্দি করে আসিরিয়ায় নিয়ে গেলেন।
2KI 15:30 পরে এলার ছেলে হোশেয় রমলিয়ের ছেলে পেকহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। তিনি পেকহকে আক্রমণ করে তাঁকে হত্যা করলেন, এবং উষিয়র ছেলে যোথমের রাজত্বকালের কুড়িতম বছরে রাজারূপে পেকহের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 15:31 পেকহের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 15:32 রমলিয়ের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা পেকহের রাজত্বকালের দ্বিতীয় বছরে যিহূদার রাজা উষিয়ের ছেলে যোথম রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 15:33 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিরুশা। তিনি ছিলেন সাদোকের মেয়ে।
2KI 15:34 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, যোথম তাই করলেন, ঠিক যেভাবে তাঁর বাবা উষিয়ও করেছিলেন।
2KI 15:35 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি অবশ্য সরানো হয়নি; লোকজন তখনও সেখানে বলি উৎসর্গ করত ও ধূপ পোড়াত। যোথম সদাপ্রভুর মন্দিরের উপর দিকের দরজাটি আবার তৈরি করে দিলেন।
2KI 15:36 যোথমের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 15:37 (সেই দিনগুলিতেই সদাপ্রভু অরামের রাজা রৎসীন ও রমলিয়ের ছেলে পেকহকে যিহূদার বিরুদ্ধে পাঠাতে শুরু করলেন।)
2KI 15:38 যোথম তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং দাউদ-নগরে তাঁকে তাঁদের সঙ্গে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আহস রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 16:1 রমলিয়ের ছেলে পেকহের রাজত্বকালের সতেরোতম বছরে যিহূদার রাজা যোথমের ছেলে আহস রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 16:2 আহস কুড়ি বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতো তিনি তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো, তা করেননি।
2KI 16:3 তিনি ইস্রায়েলের রাজাদের পথে চলতেন এবং এমনকি সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে যেসব জাতিকে দূর করে দিলেন, তাদের ঘৃণ্য লোকাচারে লিপ্ত হয়ে তাঁর ছেলেকেও তিনি আগুনে উৎসর্গ করে দিলেন।
2KI 16:4 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলিতে, পাহাড়ের চূড়ায় ও ডালপালা বিস্তার করা প্রত্যেকটি গাছের তলায় তিনি বলি উৎসর্গ করলেন ও ধূপ জ্বালিয়েছিলেন।
2KI 16:5 পরে অরামের রাজা রৎসীন ও রমলিয়ের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা পেকহ জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করে আহসকে অবরুদ্ধ করলেন, কিন্তু তারা তাঁকে বশে আনতে পারেননি।
2KI 16:6 সেই সময় অরামের রাজা রৎসীন যিহূদার লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়ে এলৎ নগরটি আরেকবার অরামের অধিকারে নিয়ে এলেন। ইদোমীয়রা পরে এলতে গিয়ে আজও পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করে চলেছে।
2KI 16:7 আহস এই কথা বলার জন্য আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষরের কাছে দূত পাঠালেন, “আমি আপনার দাস ও কেনা গোলাম। আপনি এখানে এসে, যারা আমাকে আক্রমণ করছে, সেই অরামের রাজা ও ইস্রায়েলের রাজার হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করুন।”
2KI 16:8 আহস সদাপ্রভুর মন্দিরে ও রাজপ্রাসাদের কোষাগারে যত রুপো ও সোনা ছিল, সব নিয়ে উপহার রূপে সেগুলি আসিরিয়ার রাজার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
2KI 16:9 আসিরিয়ার রাজা দামাস্কাস আক্রমণ ও দখল করে এই অনুরোধে সাড়া দিলেন। সেখানকার অধিবাসীদের তিনি বন্দি করে কীরে পাঠালেন এবং রৎসীনকে হত্যা করলেন।
2KI 16:10 পরে রাজা আহস আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষরের সাথে দেখা করার জন্য দামাস্কাসে গেলেন। দামাস্কাসে তিনি একটি যজ্ঞবেদি দেখেছিলেন এবং যাজক ঊরিয়ের কাছে তিনি সেই যজ্ঞবেদির একটি নকশা এবং সেটি কীভাবে বানাতে হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা পাঠিয়ে দিলেন।
2KI 16:11 তাই দামাস্কাস থেকে রাজা আহসের পাঠানো সব পরিকল্পনা অনুসারেই যাজক ঊরিয় একটি যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন এবং রাজা আহস ফিরে আসার আগেই সেটি সম্পূর্ণ করে ফেলেছিলেন।
2KI 16:12 রাজামশাই দামাস্কাস থেকে ফিরে এসে সেই যজ্ঞবেদিটি দেখে সেটির দিকে এগিয়ে গেলেন ও সেটির উপরে চড়ে বলি উৎসর্গ করলেন।
2KI 16:13 তিনি তাঁর হোমবলি ও দানা শস্যের বলি উৎসর্গ করলেন, পেয়-নৈবেদ্য ঢেলে দিলেন, এবং তাঁর মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের রক্ত বেদিতে ছিটিয়ে দিলেন।
2KI 16:14 সদাপ্রভুর সামনে রাখা ব্রোঞ্জের বেদিটি তিনি মন্দিরের সামনে থেকে সরিয়ে এনে—নতুন বেদি ও সদাপ্রভুর মন্দিরের মাঝখান থেকে—সেটি নতুন বেদির উত্তর দিকে রেখে দিলেন।
2KI 16:15 রাজা আহস পরে যাজক ঊরিয়কে এই আদেশগুলি দিলেন: “এই নতুন বড়ো বেদিটির উপর সকালে হোমবলি ও সন্ধ্যায় দানা শস্যের বলি, রাজার হোমবলি ও তাঁর দানা শস্যের বলি, এবং দেশের সব প্রজার হোমবলি, ও তাদের দানা শস্যের বলি ও তাদের পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ কোরো। সব হোমবলি ও পশুবলির রক্ত এই বেদিতে ছিটিয়ে দিয়ো। কিন্তু ব্রোঞ্জের বেদিটি আমি নির্দেশনা চাওয়ার জন্য ব্যবহার করব।”
2KI 16:16 রাজা আহসের আদেশানুসারেই যাজক ঊরিয় সবকিছু করলেন।
2KI 16:17 রাজা আহস ধারের খুপিগুলি কেটে বাদ দিলেন এবং সরানোর উপযোগী তাকগুলি থেকে গামলাগুলি সরিয়ে দিলেন। ব্রোঞ্জের তৈরি বলদমূর্তিগুলির উপর বসানো সমুদ্রপাত্রটি সেখান থেকে সরিয়ে তিনি পাথরের একটি বেদিতে বসিয়ে দিলেন।
2KI 16:18 আসিরিয়ার রাজার প্রতি সম্মান দেখিয়ে, মন্দিরে সাব্বাথবারে (বিশ্রামবারে) ব্যবহারযোগ্য যে শামিয়ানাটি তৈরি করা হল, তিনি সেটি খুলে দিলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের বাইরের দিকে রাজার যে প্রবেশদ্বারটি ছিল, সেটিও সরিয়ে দিলেন।
2KI 16:19 আহসের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, ও তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 16:20 আহস তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাদের সাথেই তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে হিষ্কিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 17:1 যিহূদার রাজা আহসের রাজত্বকালের দ্বাদশতম বছরে এলার ছেলে হোশেয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি নয় বছর রাজত্ব করলেন।
2KI 17:2 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তিনি তাই করলেন, তবে ইস্রায়েলে তাঁর পূর্বসূরি রাজাদের মতো তা করেননি।
2KI 17:3 আসিরিয়ার রাজা শল্‌মনেষর সেই হোশেয়কে আক্রমণ করতে এলেন, যিনি আগে শল্‌মনেষরের কেনা গোলাম ছিলেন এবং তাঁকে রাজকরও দিতেন।
2KI 17:4 কিন্তু আসিরিয়ার রাজা আবিষ্কার করলেন যে হোশেয় একজন বিশ্বাসঘাতক, কারণ তিনি মিশরের রাজা সো-র কাছে দূত পাঠালেন, এবং আগে যেমন বছরের পর বছর তিনি আসিরিয়ার রাজাকে রাজকর দিয়ে যেতেন, এখন তিনি আর তা দিচ্ছিলেন না। তাই শল্‌মনেষর তাঁকে অবরুদ্ধ করে জেলখানায় পুরে দিলেন।
2KI 17:5 আসিরিয়ার রাজা গোটা দেশে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিলেন, শমরিয়ার দিকে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন এবং তিন বছর নগরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
2KI 17:6 হোশেয়ের রাজত্বকালের নবম বছরে আসিরিয়ার রাজা শমরিয়া দখল করে নিয়েছিলেন এবং ইস্রায়েলীদের বন্দি করে আসিরিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন। হলহে, হাবোর নদীতীরের গোষণে এবং মাদীয়দের বিভিন্ন নগরে তিনি তাদের উপনিবেশ গড়ে দিলেন।
2KI 17:7 যিনি ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে, ও মিশরের রাজা ফরৌণের অধীনতা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন, তাদের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে যেহেতু তারা পাপ করল, তাই এসব ঘটনা ঘটেছিল। তারা অন্যান্য দেবতাদের পুজো করল
2KI 17:8 এবং তাদের সামনে থেকে সদাপ্রভু যেসব জাতিকে দূর করে দিলেন, তারা তাদের লোকাচার তথা ইস্রায়েলের রাজাদের শুরু করা লোকাচার অনুসারে চলেছিল।
2KI 17:9 ইস্রায়েলীরা গোপনে তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এমন সব কাজ করল, যা আদৌ ঠিক নয়। নজরমিনার থেকে শুরু করে সুরক্ষিত দুর্গ পর্যন্ত সর্বত্র তারা তাদের সব নগরে প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি তৈরি করল।
2KI 17:10 প্রত্যেকটি উঁচু উঁচু পাহাড়ের উপর ও ডালপালা ছড়ানো গাছের তলায় তারা পবিত্র পাথর ও আশেরার খুঁটি খাড়া করল।
2KI 17:11 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলিতে তারা সেইসব পরজাতি লোকজনের মতো ধূপ জ্বালাতো, যাদের সদাপ্রভু তাদের সামনে থেকে দূর করে দিলেন। তারা এমন সব মন্দ কাজ করল, যা সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিল।
2KI 17:12 তারা প্রতিমাপুজো করল, যদিও সদাপ্রভু বললেন, “তোমরা এরকম করবে না।”
2KI 17:13 সদাপ্রভু তাঁর সব ভাববাদী ও ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মাধ্যমে ইস্রায়েল ও যিহূদাকে এই বলে সতর্ক করে দিলেন: “তোমরা তোমাদের কুপথ থেকে ফিরে এসো। আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনীয় সম্পূর্ণ যে বিধান দিয়েছিলাম ও আমার দাস সেই ভাববাদীদের মাধ্যমে তোমাদের কাছে যা সঁপে দিয়েছিলাম, সেগুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমার সব আদেশ ও বিধিবিধান পালন করো।”
2KI 17:14 কিন্তু তারা তা শোনেওনি এবং তাদের সেই পূর্বপুরুষদের মতো তারাও একগুঁয়েমি করল, যারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হল।
2KI 17:15 তাঁর সেই বিধিবিধান ও পবিত্র নিয়ম তারা প্রত্যাখ্যান করল, যা তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের দিলেন এবং সেই ঐশ্বরিক বিধানও তারা অগ্রাহ্য করল, যা পালন করার জন্য তিনি তাদের সতর্ক করে দিলেন। তারা অযোগ্য সব প্রতিমার অনুগামী হল এবং নিজেরাও অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। তারা তাদের চারপাশে থাকা জাতিদের অনুকরণ করল, যদিও সদাপ্রভু তাদের আদেশ দিলেন, “তোমরা তাদের মতো কাজকর্ম কোরো না।”
2KI 17:16 তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সব আদেশ ত্যাগ করল এবং নিজেদের জন্য বাছুরের আকৃতিবিশিষ্ট দুটি প্রতিমার মূর্তি ও আশেরার একটি খুঁটি তৈরি করে নিয়েছিল। তারা আকাশের সব তারকাদলের কাছে মাথা নত করত, ও বায়ালদেবেরও পুজো করত।
2KI 17:17 তারা তাদের ছেলেমেয়েদের আগুনে উৎসর্গ করত। তারা দৈববিচার প্রয়োগ করত এবং মঙ্গল বা অমঙ্গলসূচক লক্ষণ খুঁজে বেড়াত ও সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলে তাঁর দৃষ্টিতে কুকাজ করার জন্য নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছিল।
2KI 17:18 তাই সদাপ্রভু ইস্রায়েলের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে তাদের দূর করে দিলেন। একমাত্র যিহূদা বংশ অবশিষ্ট ছিল,
2KI 17:19 এবং এমনকি যিহূদাও তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ পালন করেননি। ইস্রায়েলের শুরু করা প্রথা তারাও অনুসরণ করল।
2KI 17:20 তাই সদাপ্রভু ইস্রায়েলের সব লোকজনকে প্রত্যাখ্যান করলেন; তিনি তাদের কষ্ট দিলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে তাদের ধাক্কা মেরে দূর করে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি তাদের লুঠেরাদের হাতে সঁপে দিলেন।
2KI 17:21 যখন তিনি ইস্রায়েলকে দাউদের কুল থেকে ছিঁড়ে আলাদা করলেন, তখন তারা নবাটের ছেলে যারবিয়ামকে তাদের রাজা করল। যারবিয়াম সদাপ্রভুর পথ থেকে সরে যেতে ইস্রায়েলকে প্রলুব্ধ করল এবং তাদের দিয়ে মহাপাপ করিয়েছিল।
2KI 17:22 ইস্রায়েলীরা নাছোড়বান্দা মনোভাব নিয়ে যারবিয়ামের করা সব পাপে লিপ্ত হল এবং সেগুলি থেকে ততদিন ফিরে আসেনি
2KI 17:23 যতদিন না সদাপ্রভু তাঁর উপস্থিতি থেকে তাদের দূর করে দিলেন, যে বিষয়ে তিনি তাঁর সব দাস ভাববাদীদের মাধ্যমে তাদের আগেই সতর্ক করে দিলেন। অতএব ইস্রায়েলী প্রজারা তাদের স্বদেশ থেকে আসিরিয়ায় নির্বাসিত হল, এবং আজও পর্যন্ত তারা সেখানেই আছে।
2KI 17:24 আসিরিয়ার রাজা ব্যাবিলন, কূথা, অব্বা, হমাৎ ও সফর্বয়িম থেকে লোকজন এনে ইস্রায়েলীদের পরিবর্তে শমরিয়ার বিভিন্ন নগরে তাদের বসিয়ে দিলেন। তারা শমরিয়া দখল করে সেখানকার নগরগুলিতে বসবাস করতে শুরু করল।
2KI 17:25 প্রথম প্রথম সেখানে থাকার সময় তারা সদাপ্রভুর আরাধনা করেননি; তাই তিনি তাদের মধ্যে কয়েকটি সিংহ পাঠিয়ে দিলেন এবং সিংহগুলি লোকদের মধ্যে কয়েকজনকে মেরে ফেলেছিল।
2KI 17:26 আসিরিয়ার রাজাকে সেই খবর দেওয়া হল: “যে লোকজনকে আপনি শমরিয়ায় পাঠিয়ে সেখানে তাদের পুনর্বাসন দিয়েছেন, তারা জানে না, সেই দেশের দেবতা ঠিক কী চান। তিনি তাদের মধ্যে কয়েকটি সিংহ পাঠিয়েছেন, যারা লোকজনকে মেরে ফেলছে, কারণ লোকেরা তো জানেই না, তিনি ঠিক কী চান।”
2KI 17:27 তখন আসিরিয়ার রাজা এই আদেশ দিলেন: “তোমরা শমরিয়া থেকে যেসব যাজককে বন্দি করে নিয়ে এসেছ, তাদের মধ্যে একজনকে সেখানে ফিরে যেতে দাও। সে সেখানে থেকে লোকজনকে শিক্ষা দেবে, সেই দেশের দেবতা ঠিক কী চান।”
2KI 17:28 অতএব শমরিয়া থেকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া যাজকদের মধ্যে একজন বেথেলে বসবাস করার জন্য ফিরে এলেন এবং তিনি তাদের শিক্ষা দিলেন, কীভাবে সদাপ্রভুর আরাধনা করতে হয়।
2KI 17:29 তা সত্ত্বেও, বিভিন্ন নগরে উপনিবেশ গড়ে বসবাস করতে থাকা প্রত্যেকটি জাতিভিত্তিক দল সেই নগরগুলিতে নিজের নিজের দেবতা গড়ে নিয়েছিল, এবং শমরিয়ার লোকেরা আগে উঁচু উঁচু স্থানে যেসব প্রতিমাপুজোর পীঠস্থান তৈরি করল, সেখানেই তাদের দেবতাদের প্রতিষ্ঠিত করল।
2KI 17:30 ব্যাবিলন থেকে আসা লোকেরা সুক্কোৎ-বনোৎ তৈরি করল, কূথা থেকে আসা লোকেরা নের্গল, এবং হমাৎ থেকে আসা লোকেরা অশীমা;
2KI 17:31 অব্বীয়রা নিভস ও তর্ত্তক তৈরি করল, এবং সফর্বীয়রা তাদের ছেলেমেয়েদের বলিরূপে সফর্বয়িমের দেবতা অদ্রম্মেলক ও অনম্মেলকের কাছে আগুনে পোড়াতো।
2KI 17:32 তারা সদাপ্রভুর আরাধনা করত, কিন্তু এছাড়াও তারা নিজেদের সব ধরনের লোকজনকে উঁচু উঁচু স্থানগুলিতে দেবতার পীঠস্থানে পূজারির কাজে নিযুক্ত করল।
2KI 17:33 তারা সদাপ্রভুর আরাধনা করত, কিন্তু একইসাথে যেসব দেশ থেকে তাদের আনা হল, সেইসব দেশের লোকাচার অনুসারে তারা নিজেদের দেবতাদেরও সেবা করত।
2KI 17:34 আজও পর্যন্ত তারা তাদের আগেকার প্রথাই পালন করে আসছে। তারা না তো ঠিকঠাক সদাপ্রভুর আরাধনা করে, না তারা সদাপ্রভুর সেইসব বিধি ও নিয়মকানুন, বিধান ও আদেশের প্রতি অনুরক্ত থাকে, যেগুলি তিনি সেই যাকোবের বংশধরদের দিয়েছিলেন, যাঁর নাম তিনি ইস্রায়েল রেখেছিলেন।
2KI 17:35 ইস্রায়েলীদের সাথে সদাপ্রভু পবিত্র এক নিয়ম স্থাপন করার সময় তাদের আদেশ দিলেন: “অন্য কোনও দেবতার আরাধনা করবে না অথবা তাদের কাছে মাথা নত করবে না, তাদের সেবা করবে না বা তাদের কাছে বলি উৎসর্গ করবে না।
2KI 17:36 কিন্তু সেই সদাপ্রভুরই আরাধনা তোমাদের করতে হবে, যিনি মহাশক্তি দেখিয়ে ও প্রসারিত হাত বাড়িয়ে দিয়ে তোমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন। তাঁরই কাছে তোমরা মাথা নত করবে ও তাঁরই কাছে বলি উৎসর্গ করবে।
2KI 17:37 তিনি তোমাদের জন্য যেসব বিধি ও নিয়ম, তথা বিধান ও আদেশ লিখে রেখে গিয়েছেন, সেগুলি পালন করার জন্য তোমাদের সবসময় সতর্ক হয়ে থাকতেই হবে। অন্যান্য দেবদেবীর আরাধনা কোরো না।
2KI 17:38 আমি তোমাদের সাথে যে পবিত্র নিয়ম স্থাপন করেছি, তা তোমরা ভুলো না, এবং অন্যান্য দেবদেবীর আরাধনা কোরো না।
2KI 17:39 বরং, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আরাধনা কোরো; তিনিই তোমাদের সব শত্রুর হাত থেকে তোমাদের মুক্ত করবেন।”
2KI 17:40 তারা অবশ্য তাঁর কথা শোনেনি, কিন্তু তাদের পুরোনো প্রথাই পালন করে গেল।
2KI 17:41 এমনকি এইসব লোকজন সদাপ্রভুর আরাধনা করছিল, আবার তাদের প্রতিমাগুলিরও পুজো করছিল। আজও পর্যন্ত তাদের ছেলেমেয়ে ও নাতিপুতিরা তাদের পূর্বপুরুষদের মতোই এরকম করে চলেছে।
2KI 18:1 এলার ছেলে ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের তৃতীয় বছরে যিহূদার রাজা আহসের ছেলে হিষ্কিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2KI 18:2 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে উনত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অবিয়। তিনি সখরিয়ের মেয়ে ছিলেন।
2KI 18:3 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, তাই করতেন।
2KI 18:4 তিনি প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি সরিয়ে দিলেন, পবিত্র পাথরগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন এবং আশেরার খুঁটিগুলিও কেটে নামিয়ে দিলেন। মোশির তৈরি করা সেই ব্রোঞ্জের সাপটিকেও তিনি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন, কারণ সেই সময় পর্যন্ত ইস্রায়েলীরা সেটির কাছেই ধূপ জ্বালাতো। (সেটির নাম দেওয়া হল নহুষ্টন।)
2KI 18:5 হিষ্কিয় ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করলেন। যিহূদার রাজাদের মধ্যে কেউ তাঁর মতো হননি, না তাঁর আগে, না তাঁর পরে।
2KI 18:6 তিনি সদাপ্রভুকে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং তাঁর পথে চলা বন্ধ করেননি; সদাপ্রভু মোশিকে যেসব আদেশ দিলেন, তিনি সেগুলি পালন করে গেলেন।
2KI 18:7 সদাপ্রভু তাঁর সাথে ছিলেন; তাঁর সব কাজে তিনি সফল হলেন। তিনি আসিরিয়ার রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন এবং তাঁর সেবা করেননি।
2KI 18:8 গাজা ও সেখানকার সব এলাকা জুড়ে নজরমিনার থেকে শুরু করে সুরক্ষিত নগর পর্যন্ত, সর্বত্র তিনি ফিলিস্তিনীদের পরাজিত করলেন।
2KI 18:9 রাজা হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ এলার ছেলে ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের সপ্তম বছরে আসিরিয়ার রাজা শল্‌মনেষর শমরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করে নগরটি অবরুদ্ধ করলেন।
2KI 18:10 তিন বছর পর আসিরিয়ার সৈন্যসামন্তরা সেটি দখল করে নিয়েছিল। অতএব হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের ষষ্ঠ বছরে, অর্থাৎ ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের নবম বছরে শমরিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।
2KI 18:11 আসিরিয়ার রাজা ইস্রায়েলকে আসিরিয়ায় নির্বাসিত করলেন এবং হলহে, হাবোর নদীতীরের গোষণে ও মাদীয়দের বিভিন্ন নগরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।
2KI 18:12 তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হয়ে থাকেনি বলেই এই ঘটনা ঘটেছিল, বরং তারা তাঁর সেইসব পবিত্র নিয়ম লঙ্ঘন করল, যেগুলি সদাপ্রভুর দাস মোশি তাদের পালন করার আদেশ দিলেন। তারা না সেইসব আদেশে কান দিয়েছিল, না সেগুলি পালন করল।
2KI 18:13 রাজা হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের চর্তুদশ বছরে আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব যিহূদার সব সুরক্ষিত নগর আক্রমণ করে সেগুলি দখল করে নিয়েছিলেন।
2KI 18:14 তাই যিহূদার রাজা হিষ্কিয় লাখীশে আসিরিয়ার রাজাকে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “আমি অন্যায় করেছি। আপনি আমার কাছ থেকে ফিরে যান, আর আপনি যা দাবি করবেন, আমি আপনাকে তাই দেব।” আসিরিয়ার রাজা হিষ্কিয়ের কাছ থেকে জোর করে তিনশো তালন্ত রুপো ও ত্রিশ তালন্ত সোনা আদায় করে নিয়েছিলেন।
2KI 18:15 অতএব সদাপ্রভুর মন্দিরে ও রাজপ্রাসাদের কোষাগারে যত রুপো ছিল, হিষ্কিয় সেসব তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
2KI 18:16 যিহূদার রাজা হিষ্কিয় সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজা ও চৌকাঠগুলি যত সোনা দিয়ে মুড়ে রেখেছিলেন, সেইসব সোনা খুলে নিয়ে সেই সময় তিনি তা আসিরিয়ার রাজাকে দিলেন।
2KI 18:17 আসিরিয়ার রাজা লাখীশ থেকে তাঁর প্রধান সেনাপতি, মুখ্য কর্মকর্তা ও সমর-সেনাপতিকে এক বিশাল সৈন্যদল সমেত জেরুশালেমে হিষ্কিয়ের কাছে পাঠালেন। তারা জেরুশালেমে এসে ধোপার মাঠে যাওয়ার পথে পড়া, উপরের দিকের পুকুরপারের কৃত্রিম জলপ্রণালীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
2KI 18:18 তারা রাজাকে ডেকে পাঠালেন; এবং রাজপ্রাসাদের পরিচালক হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও আসফের পুত্র লিপিকার যোয়াহ বের হয়ে তাদের কাছে গেলেন।
2KI 18:19 সেই সৈন্যাধ্যক্ষ তাদের বললেন, “তোমরা গিয়ে হিষ্কিয়কে বলো, “ ‘মহান রাজাধিরাজ, আসিরিয়ার রাজা এই কথা বলেন: তোমাদের এই আত্মনির্ভরতা কীসের উপরে প্রতিষ্ঠিত?
2KI 18:20 তোমরা বলছ যে তোমাদের কাছে যুদ্ধ করার বুদ্ধিপরামর্শ ও শক্তি আছে—কিন্তু তোমরা আসলে শুধু শূন্যগর্ভ কথাই বলছ। কার উপর তুমি নির্ভর করছ, যে আমার বিরুদ্ধেই তুমি বিদ্রোহ করে বসেছ?
2KI 18:21 এখন দেখো, আমি জানি তোমরা মিশরের উপরে নির্ভর করেছ। সে হল থ্যাঁৎলানো নলখাগড়ার মতো লাঠি, যা কোনো মানুষের হাতকে বিদ্ধ করে! তেমনি মিশরের রাজা ফরৌণ যারা তার উপরে নির্ভর করে।
2KI 18:22 আর যদি তোমরা আমাকে বলো, “আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করি,” তাহলে তিনি কি সেই ঈশ্বর নন, যার উঁচু পীঠস্থানগুলি ও বেদিগুলি হিষ্কিয় অপসারণ করেছেন এবং যিহূদা ও জেরুশালেমকে এই কথা বলেছেন, “তোমরা অবশ্যই এই যজ্ঞবেদির সামনে উপাসনা করবে”?
2KI 18:23 “ ‘এবারে এসো, আমার মনিব আসিরিয়ার রাজার সাথে একটি চুক্তি করো: আমি তোমাদের দুই হাজার অশ্ব দেব, যদি তোমরা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অশ্বারোহী দিতে পারো!
2KI 18:24 তা যদি না হয়, তাহলে কীভাবে তোমরা আমার মনিবের নগণ্যতম কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র একজনকেও হঠিয়ে দিতে পারবে, যদিও তোমরা রথ ও অশ্বারোহীদের জন্য মিশরের উপর নির্ভর করছ?
2KI 18:25 এছাড়াও, আমি কি সদাপ্রভুর অনুমতি ছাড়াই এই দেশ আক্রমণ করে ধ্বংস করতে এসেছি? সদাপ্রভু স্বয়ং আমাকে বলেছেন, এই দেশের বিরুদ্ধে সমরাভিযান করে তা ধ্বংস করতে।’ ”
2KI 18:26 তখন হিল্কিয়ের ছেলে ইলিয়াকীম, এবং শিব্‌ন ও যোয়াহ সেই সৈন্যাধ্যক্ষকে বললেন, “দয়া করে আপনি আপনার দাসদের কাছে অরামীয় ভাষায় কথা বলুন, কারণ আমরা তা বুঝতে পারি। প্রাচীরের উপরে বসে থাকা লোকদের কর্ণগোচরে আমাদের সঙ্গে হিব্রু ভাষায় কথা বলবেন না।”
2KI 18:27 কিন্তু সেই সৈন্যাধ্যক্ষ উত্তর দিলেন, “আমার মনিব কি এই সমস্ত কথা কেবলমাত্র তোমাদের মনিব ও তোমাদের কাছে বলতে পাঠিয়েছেন, কিন্তু প্রাচীরের উপরে ওই বসে থাকা লোকদের কাছে নয়—যারা তোমাদেরই মতো নিজেদের মল ভোজন ও নিজেদেরই মূত্র পান করবে?”
2KI 18:28 তারপরে সেই সৈন্যাধ্যক্ষ দাঁড়িয়ে জোরে জোরে হিব্রু ভাষায় বলতে লাগলেন, “তোমরা মহান রাজাধিরাজ, আসিরীয় রাজার কথা শোনো!
2KI 18:29 সেই মহারাজ এই কথা বলেন: হিষ্কিয় তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করুক। সে তোমাদের উদ্ধার করতে পারবে না!
2KI 18:30 হিষ্কিয় তোমাদের এই কথা বলে যেন বিশ্বাস না জন্মায় যে, ‘সদাপ্রভু অবশ্যই আমাদের উদ্ধার করবেন; এই নগর আসিরিয়ার রাজার হাতে সমর্পিত হবে না।’
2KI 18:31 “তোমরা হিষ্কিয়ের কথা শুনবে না। আসিরীয় রাজা এই কথা বলেন: আমার সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করে তোমরা আমার কাছে বেরিয়ে এসো। তাহলে তোমরা তখন প্রত্যেকে নিজের নিজের আঙুর ও ডুমুর গাছ থেকে ফল পেড়ে খাবে ও নিজের নিজের কুয়ো থেকে জলপান করবে।
2KI 18:32 পরে আমি এসে তোমাদের এমন একটি দেশে নিয়ে যাব, যেটি তোমাদের নিজেদের দেশের মতোই—খাদ্যশস্য ও নতুন দ্রাক্ষারসে ভরা এক দেশ, রুটি ও দ্রাক্ষাক্ষেতে ভরা এক দেশ, জলপাই গাছ ও মধু ভরা এক দেশ। মৃত্যু নয়, কিন্তু জীবন বেছে নাও! “হিষ্কিয়ের কথা শুনো না, কারণ এই কথা বলার সময় তিনি তোমাদের বিপথে পরিচালিত করছেন, ‘সদাপ্রভু আমাদের রক্ষা করবেন।’
2KI 18:33 কোনও দেশের দেবতা কি আসিরিয়ার রাজার হাত থেকে তার দেশকে বাঁচাতে পেরেছে?
2KI 18:34 হমাৎ ও অর্পদের দেবতারা কোথায় গেল? সফর্বয়িমের, হেনার ও ইব্বার দেবতারা কোথায় গেল? তারা কি আমার হাত থেকে শমরিয়াকে রক্ষা করতে পেরেছে?
2KI 18:35 এই সমস্ত দেশের কোন সব দেবতা তাদের দেশ আমার হাত থেকে রক্ষা করেছে? তাহলে সদাপ্রভু কীভাবে আমার হাত থেকে জেরুশালেমকে রক্ষা করবেন?”
2KI 18:36 লোকেরা কিন্তু নীরব রইল। প্রত্যুত্তরে তারা কিছুই বলল না, কারণ রাজা আদেশ দিয়েছিলেন, “ওর কথার কোনো উত্তর দিয়ো না।”
2KI 18:37 তখন হিল্কিয়ের পুত্র, রাজপ্রসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও আসফের পুত্র লিপিকার যোয়াহ, নিজের নিজের কাপড় ছিঁড়ে হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন। সেই সৈন্যাধ্যক্ষ যেসব কথা বলেছিলেন, তারা সেসবই তাঁকে বললেন।
2KI 19:1 রাজা হিষ্কিয় একথা শুনে নিজের কাপড় ছিঁড়লেন। তিনি শোকের পোশাক পরে সদাপ্রভুর মন্দিরে গেলেন।
2KI 19:2 তিনি রাজপ্রাসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও গুরুত্বপূর্ণ যাজকদের, আমোষের পুত্র, ভাববাদী যিশাইয়ের কাছে প্রেরণ করলেন। তারা সবাই শোকের পোশাক পরেছিলেন।
2KI 19:3 তারা গিয়ে তাঁকে বললেন, “হিষ্কিয় একথাই বলেন: আজকের এই দিনটি হল মর্মান্তিক যন্ত্রণা, তিরস্কার ও কলঙ্কময় একদিন, ঠিক যেমন সন্তান প্রসবের সময় এসে গিয়েছে, অথচ যেন সন্তান প্রসবের শক্তিই নেই।
2KI 19:4 হয়তো সদাপ্রভু, আপনার ঈশ্বর সেই সৈন্যাধ্যক্ষের সব কথা শুনে থাকবেন, যাকে তার মনিব, আসিরীয় রাজা, জীবন্ত ঈশ্বরকে বিদ্রুপ করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। সদাপ্রভু, আপনার ঈশ্বর, যে কথা শুনেছেন, তার জন্য তিনি হয়তো তাঁকে তিরস্কার করবেন। সেই কারণে, যারা এখনও বেঁচে আছে, আপনি অবশিষ্ট তাদের জন্য প্রার্থনা করুন।”
2KI 19:5 যখন রাজা হিষ্কিয়ের কর্মচারীরা যিশাইয়ের কাছে গেলেন,
2KI 19:6 যিশাইয় তাদের বললেন, “তোমরা গিয়ে তোমাদের মনিবকে বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আসিরীয় রাজার অধীন ব্যক্তিরা আমার সম্পর্কে যেসব নিন্দার উক্তি করেছে, যেগুলি তোমরা শুনেছ, সে সম্পর্কে ভয় পেয়ো না।
2KI 19:7 তোমরা শোনো! আমি তার মধ্যে এমন এক মনোভাব দেব, যার ফলে সে যখন এক সংবাদ শুনবে, সে তার স্বদেশে ফিরে যাবে। সেখানে আমি তাকে তরোয়ালের দ্বারা বিনষ্ট করব।’ ”
2KI 19:8 সেই সৈন্যাধ্যক্ষ যখন শুনতে পেলেন যে, আসিরীয় রাজার লাখীশ ত্যাগ করে চলে গেছেন, তিনি ফিরে গেলেন এবং দেখলেন, রাজা লিব্‌নার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।
2KI 19:9 পরে সন্‌হেরীব একটি সংবাদ শুনতে পেলেন যে, মিশরের কূশ দেশের রাজা তির্হক তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমরাভিযান শুরু করেছেন। তাই, আবার তিনি এই কথা বলে হিষ্কিয়ের কাছে দূতদের পাঠালেন:
2KI 19:10 “যিহূদার রাজা হিষ্কিয়কে গিয়ে বলো: যে দেবতার উপর আপনি নির্ভর করে আছেন, তিনি যেন এই কথা বলে আপনাকে না ঠকান যে, ‘আসিরিয়ার রাজার হাতে জেরুশালেমকে সমর্পণ করা হবে না।’
2KI 19:11 তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ, সব দেশের প্রতি আসিরীয় রাজা কী করেছেন। তিনি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছেন। আর তোমরা কি তাঁর হাত থেকে রক্ষা পাবে?
2KI 19:12 ওইসব জাতির দেশগুলি, যাদের আমার পিতৃপুরুষেরা ধ্বংস করেছিলেন, কেউ কি তাদের উদ্ধার করতে পেরেছে—অর্থাৎ গোষণ, হারণ, রেৎসফ ও তেল-অৎসরে বসবাসকারী এদনের লোকেদের দেবতারা?
2KI 19:13 হমাতের রাজা বা অর্পদের রাজা কোথায় গেল? লায়ীর, সফর্বয়িম, হেনা ও ইব্বার রাজারাই বা কোথায় গেল?”
2KI 19:14 সেই দূতদের কাছ থেকে পত্রখানি গ্রহণ করে হিষ্কিয় পাঠ করলেন। তারপর তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে গেলেন এবং সদাপ্রভুর সামনে তা মেলে ধরলেন।
2KI 19:15 আর হিষ্কিয় এই বলে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন: “দুই করূবের মাঝে বিরাজমান হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই পৃথিবীর সব রাজ্যের ঈশ্বর। তুমিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছ।
2KI 19:16 হে সদাপ্রভু, তুমি কর্ণপাত করো ও শোনো; হে সদাপ্রভু, তুমি তোমার দৃষ্টি উন্মোচন করো ও দেখো; জীবন্ত ঈশ্বরকে অপমান করে সন্‌হেরীব যেসব কথা বলেছে, তা তুমি শ্রবণ করো।
2KI 19:17 “একথা সত্যি, হে সদাপ্রভু, যে আসিরীয় রাজারা এই সমস্ত জাতি ও তাদের দেশগুলিকে বিনষ্ট করেছে।
2KI 19:18 তারা তাদের দেবতাদের আগুনে নিক্ষেপ করে তাদের ধ্বংস করেছে, কারণ তারা দেবতা নয়, কিন্তু ছিল কেবলমাত্র কাঠ ও পাথরের তৈরি, মানুষের হাতে তৈরি শিল্প।
2KI 19:19 এখন, হে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তাঁর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো, যেন পৃথিবীর সব রাজ্য জানতে পারে যে, হে সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই ঈশ্বর।”
2KI 19:20 পরে আমোষের ছেলে যিশাইয় হিষ্কিয়ের কাছে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীবের বিষয়ে তোমার করা প্রার্থনাটি আমি শুনেছি।
2KI 19:21 তার বিরুদ্ধে বলা সদাপ্রভুর বাণী হল এই: “কুমারী-কন্যা সিয়োন তোমাকে অবজ্ঞা ও উপহাস করে। জেরুশালেম-কন্যা তার মাথা নাড়ায় যখন তোমরা পলায়ন করো।
2KI 19:22 তুমি কাকে অপমান ও কার নিন্দা করেছ? তুমি কার বিরুদ্ধে তোমার কণ্ঠস্বর তুলেছ ও গর্বিত চক্ষু উপরে তুলেছ? তা করেছ ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতমের বিরুদ্ধেই।
2KI 19:23 তোমার দূতদের দ্বারা তুমি প্রভুর উপরে অপমানের বোঝা চাপিয়েছ। আবার তুমি বলেছ, ‘আমার বহুসংখ্যক রথের দ্বারা আমি পর্বতসমূহের শিখরে, লেবাননের সর্বোচ্চ চূড়াগুলির উপরে আরোহণ করেছি। আমি তার দীর্ঘতম সিডার গাছগুলিকে, তার উৎকৃষ্টতম দেবদারু গাছগুলিকে কেটে ফেলেছি। আমি তার প্রত্যন্ত এলাকায়, তার সুন্দর বনানীতে পৌঁছে গেছি।
2KI 19:24 আমি বিজাতীয় ভূমিতে কুয়ো খনন করেছি এবং সেখানকার জলপান করেছি। আমার পায়ের তলা দিয়ে আমি মিশরের সব স্রোতোধারা শুকিয়ে দিয়েছি।’
2KI 19:25 “তুমি কি শুনতে পাওনি? বহুপূর্বে আমি তা স্থির করেছিলাম। পুরাকালে আমি তার পরিকল্পনা করেছিলাম; কিন্তু এখন আমি তা ঘটতে দিয়েছি, সেই কারণে তুমি সুরক্ষিত নগরগুলিকে পাথরের ঢিবিতে পরিণত করেছ।
2KI 19:26 সেইসব জাতির লোকেরা ক্ষমতাহীন হয়েছে, তারা হতাশ হয়ে লজ্জিত হয়েছে। তারা হল মাঠের গাছগুলির মতো, গজিয়ে ওঠা কোমল অঙ্কুরের মতো, যেমন ছাদের উপরে ঘাস গজিয়ে ওঠে, কিন্তু বেড়ে ওঠার আগেই তাপে শুকিয়ে যায়।
2KI 19:27 “কিন্তু আমি জানি তোমার অবস্থান কোথায়, কখন তুমি আস ও যাও, আর কীভাবে তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করো।
2KI 19:28 যেহেতু তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করো, আর যেহেতু তোমার অভব্য আচরণের কথা আমার কানে পৌঁছেছে, আমি তোমার নাকে আমার বড়শি ফোটাব, তোমার মুখে দেব আমার বলগা, আর যে পথ দিয়ে তুমি এসেছ, সেই পথেই তোমাকে ফিরিয়ে দেব।
2KI 19:29 “আর ওহে হিষ্কিয়, এই হবে তোমার পক্ষে চিহ্নস্বরূপ: “এই বছরে তোমরা আপনা-আপনি উৎপন্ন শস্য, আর দ্বিতীয় বছরে তা থেকে যা উৎপন্ন হবে, তোমরা তাই ভোজন করবে। কিন্তু তৃতীয় বছরে তোমরা বীজবপন ও শস্যচ্ছেদন করবে, দ্রাক্ষাকুঞ্জ রোপণ করে তার ফল খাবে।
2KI 19:30 আরও একবার যিহূদা রাজ্যের অবশিষ্ট লোকেরা পায়ের নিচে মূল খুঁজে পাবে ও তাদের উপরে ফল ধরবে।
2KI 19:31 কারণ জেরুশালেম থেকে আসবে এক অবশিষ্টাংশ, আর সিয়োন পর্বত থেকে আসবে বেঁচে থাকা লোকের একদল। সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্যোগই তা সুসম্পন্ন করবে।
2KI 19:32 “সেই কারণে, আসিরীয় রাজা সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সে এই নগরে প্রবেশ করবে না, কিংবা এখানে কোনো তির নিক্ষেপ করবে না। সে এই নগরের সামনে ঢাল নিয়ে আসবে না, কিংবা কোনো জাঙ্গাল নির্মাণ করবে না।
2KI 19:33 যে পথ দিয়ে সে আসবে, সে পথেই যাবে ফিরে; সে এই নগরে প্রবেশ করবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
2KI 19:34 “আমি আমার জন্য ও আমার দাস দাউদের জন্য এই নগর রক্ষা করে তা উদ্ধার করব!”
2KI 19:35 সেরাতেই সদাপ্রভুর দূত আসিরীয়দের সৈন্যশিবিরে গিয়ে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার সৈন্য মেরে ফেলেছিলেন। পরদিন সকালে যখন লোকজন ঘুম থেকে উঠেছিল—দেখা গেল সর্বত্র শুধু মৃতদেহ ছড়িয়ে পড়ে আছে!
2KI 19:36 তাই আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব সৈন্যশিবির ভেঙে দিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েছিলেন। তিনি নীনবীতে ফিরে গিয়ে সেখানেই থেকে গেলেন।
2KI 19:37 একদিন, যখন তিনি তাঁর দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে পুজো করছিলেন, তাঁর দুই ছেলে অদ্রম্মেলক ও শরেৎসর তরোয়াল দিয়ে তাঁকে হত্যা করল, এবং আরারট দেশে পালিয়ে গেল। তাঁর ছেলে এসর-হদ্দোন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 20:1 সেই সময় হিষ্কিয় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তা মৃত্যুজনক হয়ে গেল। আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয় তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: তুমি বাড়ির সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করে রাখো, কারণ তুমি মরতে চলেছ; তুমি আর সেরে উঠবে না।”
2KI 20:2 হিষ্কিয় দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনা করলেন,
2KI 20:3 “হে সদাপ্রভু, স্মরণ করো, আমি কীভাবে তোমার সামনে বিশ্বস্ততায় ও সম্পূর্ণ হৃদয়ে ভক্তি প্রকাশ করেছি। তোমার দৃষ্টিতে যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি তাই করেছি।” এই বলে হিষ্কিয় অত্যন্ত রোদন করতে লাগলেন।
2KI 20:4 মাঝখানের প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার আগেই সদাপ্রভুর বাণী যিশাইয়ের কাছে উপস্থিত হল:
2KI 20:5 “তুমি ফিরে গিয়ে আমার প্রজাদের শাসনকর্তা হিষ্কিয়কে এই কথা বলো, ‘সদাপ্রভু, তোমার পিতৃপুরুষ দাউদের ঈশ্বর এই কথা বলেন: আমি তোমার প্রার্থনা শ্রবণ করেছি ও তোমার অশ্রু দেখেছি; আমি তোমাকে সুস্থ করব। আজ থেকে তৃতীয় দিনের মাথায় তুমি সদাপ্রভুর মন্দিরে যাবে।
2KI 20:6 আমি তোমার জীবনের আয়ুর সঙ্গে আরও পনেরো বছর যোগ করব। এছাড়াও আমি তোমাকে ও এই নগরটিকে আসিরীয় রাজার হাত থেকে উদ্ধার করব। আমার স্বার্থে ও আমার দাস দাউদের স্বার্থেই আমি এই নগরকে রক্ষা করব।’ ”
2KI 20:7 পরে যিশাইয় বললেন, “ডুমুরফল ছেঁচে একটি প্রলেপ তৈরি করে নাও।” লোকেরা সেরকমই করল এবং সেই বিষফোড়ার উপর সেটি লাগিয়ে দিয়েছিল, ও তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
2KI 20:8 হিষ্কিয় এর আগে যিশাইয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “সদাপ্রভু যে আমাকে সুস্থ করবেন ও আজ থেকে তৃতীয় দিনের মাথায় আমি যে সদাপ্রভুর মন্দিরে যাব, তার চিহ্ন কী হবে?”
2KI 20:9 যিশাইয় উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারেই যে সবকিছু করবেন, তোমার কাছে সদাপ্রভুর এই চিহ্নই হবে তার প্রমাণ: সূর্য-ঘড়িতে ছায়াটি কি দশ ধাপ এগিয়ে যাবে, না দশ ধাপ পিছিয়ে যাবে?”
2KI 20:10 “ছায়াটি দশ ধাপ এগিয়ে যাওয়া তো মামুলি এক ব্যাপার,” হিষ্কিয় বললেন। “বরং, সেটি দশ ধাপ পিছিয়েই যাক।”
2KI 20:11 তখন ভাববাদী যিশাইয় সদাপ্রভুকে ডেকেছিলেন, এবং সদাপ্রভু আহসের সূর্য-ঘড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া সেই ছায়াটিকে দশ ধাপ পিছিয়ে দিলেন।
2KI 20:12 সেই সময় বলদনের পুত্র, ব্যাবিলনের রাজা মরোদক-বলদন হিষ্কিয়ের কাছে পত্র ও উপহার পাঠালেন, কারণ তিনি হিষ্কিয়ের অসুস্থতার কথা শুনেছিলেন।
2KI 20:13 হিষ্কিয় আনন্দের সঙ্গে ওইসব প্রতিনিধিকে গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর ভাণ্ডারগৃহের সবকিছুই তাদের দেখালেন—রুপো, সোনা, সুগন্ধি মশলা ও বহুমূল্য তেল, তাঁর অস্ত্রশস্ত্র ও তাঁর ধনসম্পদের সমস্ত কিছু তাদের দেখালেন। তাঁর রাজপ্রাসাদে বা তাঁর সমস্ত রাজ্যের মধ্যে এমন কিছুই ছিল না, যা হিষ্কিয় তাদের দেখাননি।
2KI 20:14 তখন ভাববাদী যিশাইয় রাজা হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন ও তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ওই লোকেরা কী বলল এবং ওরা কোথা থেকে এসেছিল?” হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “বহু দূরের এক দেশ থেকে। ওরা ব্যাবিলন থেকে এসেছিল।”
2KI 20:15 ভাববাদী জিজ্ঞাসা করলেন, “ওরা আপনার প্রাসাদে কী কী দেখল?” হিষ্কিয় বললেন, “ওরা আমার প্রাসাদের সবকিছুই দেখেছে। আমার ঐশ্বর্যভাণ্ডারে এমন কিছুই নেই, যা আমি ওদের দেখাইনি।”
2KI 20:16 তখন যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন, “আপনি সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণ করুন:
2KI 20:17 সেই সময় অবশ্যই উপস্থিত হবে, যখন আপনার প্রাসাদে যা কিছু আছে এবং আপনার পিতৃপুরুষেরা এ পর্যন্ত যা কিছু সঞ্চয় করেছেন, সে সমস্তই ব্যাবিলনে বহন করে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, বলেন সদাপ্রভু।
2KI 20:18 আর আপনার কিছু সংখ্যক বংশধর, যারা আপনারই রক্তমাংস, যাদের আপনি জন্ম দেবেন, তাদেরও সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদে নপুংসক হয়ে সেবা করবে।”
2KI 20:19 হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর যে বাক্য আপনি বললেন, তা ভালোই।” কারণ তিনি ভাবলেন, তাঁর নিজের জীবনকালে তো শান্তি আর নিরাপত্তা থাকবে!
2KI 20:20 হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তাঁর সব কীর্তি এবং তিনি কীভাবে পুকুর ও সুরঙ্গ খুঁড়ে নগরে জল এনেছিলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 20:21 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে মনঃশি রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 21:1 মনঃশি বারো বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি পঞ্চান্ন বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম হিফসীবা।
2KI 21:2 ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে সদাপ্রভু যে জাতিদের দূর করে দিলেন, তাদের ঘৃণ্য প্রথা অনুসরণ করে তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2KI 21:3 তাঁর বাবা হিষ্কিয় প্রতিমাপুজোর যেসব উঁচু উঁচু স্থান ভেঙে ফেলেছিলেন, তিনি আবার সেগুলি নতুন করে গড়ে দিলেন; এছাড়াও ইস্রায়েলের রাজা আহাবের মতো তিনিও বায়ালের কয়েকটি যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন ও আশেরার একটি খুঁটি দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি আকাশের সব তারকাদলের সামনে মাথা নত করতেন ও তাদের পুজোও করতেন।
2KI 21:4 সদাপ্রভুর সেই মন্দিরের মধ্যে তিনি কয়েকটি যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন, যে মন্দিরের বিষয়ে সদাপ্রভু বললেন, “জেরুশালেমে আমি আমার নাম প্রতিষ্ঠিত করব।”
2KI 21:5 সদাপ্রভুর মন্দিরের দুটি প্রাঙ্গণে তিনি আকাশের সব তারকাদলের জন্য কয়েকটি বেদি তৈরি করে দিলেন।
2KI 21:6 তিনি নিজের ছেলেকে আগুনে বলিরূপে উৎসর্গ করলেন। তিনি দৈববিচার প্রয়োগ করতেন, শুভ-অশুভ লক্ষণের খোঁজ করতেন, এবং প্রেতমাধ্যম ও অশরীরী আত্মার কাছে পরামর্শ নিতে যেতেন। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে প্রচুর মন্দ কাজ করে তিনি তাঁর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
2KI 21:7 তিনি আশেরার যে বাঁকা খুঁটিটি তৈরি করলেন, সেটি তিনি সদাপ্রভুর সেই মন্দিরে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন, যেখানকার বিষয়ে সদাপ্রভু দাউদ ও তাঁর ছেলে শলোমনকে বলে দিলেন, “যে মন্দির ও জেরুশালেম নগরটি আমি ইস্রায়েলের সব গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে আলাদা করে বেছে রেখেছি, সেখানেই আমি চিরকালের জন্য আমার নাম প্রতিষ্ঠিত করে রাখব।
2KI 21:8 যে দেশটি আমি ইস্রায়েলীদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলাম, আমি আর কখনও তাদের সেই দেশ ছেড়ে চলে যেতে দেব না, শুধু যদি তারা সেইসব কাজ করার জন্য একটু সতর্ক হয়, যেগুলি করার আদেশ আমি তাদের দিয়েছিলাম এবং আমার দাস মোশি তাদের যে বিধান দিয়েছিল, তা যদি তারা পুরোপুরি পালন করে।”
2KI 21:9 কিন্তু লোকেরা সেকথা শোনেনি। মনঃশি এমনভাবে তাদের বিপথে পরিচালিত করলেন, যে তারা সেইসব জাতির চেয়েও বেশি পরিমাণে কুকাজ করল, যাদের সদাপ্রভু তাদের সামনেই ধ্বংস করে দিলেন।
2KI 21:10 সদাপ্রভু তাঁর দাস ভাববাদীদের মাধ্যমে বললেন:
2KI 21:11 “যিহূদার রাজা মনঃশি এইসব ঘৃণ্য পাপ করেছে। তার আগে যারা ছিল, সেই ইমোরীয়দের চেয়েও সে বেশি পরিমাণে কুকাজ করেছে এবং তার প্রতিমার মূর্তিগুলি দিয়ে সে যিহূদাকে পাপপথে পরিচালিত করেছে।
2KI 21:12 তাই ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি জেরুশালেমে ও যিহূদায় এমন বিপর্যয় আনতে চলেছি, তা যে কেউ শুনবে, তার কান ভোঁ ভোঁ করে উঠবে।
2KI 21:13 শমরিয়ার বিরুদ্ধে মাপার যে ফিতে ব্যবহার করা হল, এবং আহাব কুলের বিরুদ্ধে যে ওলন-দড়ি ব্যবহার করা হল, আমি জেরুশালেমের উপরেও সেগুলি ছড়িয়ে দেব। মানুষ যেভাবে থালা মুছে রাখে, আমি জেরুশালেমকেও সেভাবে মুছে রাখব, সেটি মুছে উল্টো করে রাখব।
2KI 21:14 আমার উত্তরাধিকারের অবশিষ্টাংশকে আমি ত্যাগ করব এবং শত্রুদের হাতে তাদের তুলে দেব। তাদের সব শত্রুর দ্বারা তারা লুন্ঠিত হবে;
2KI 21:15 তারা আমার দৃষ্টিতে কুকাজ করেছে এবং যেদিন তাদের পূর্বপুরুষেরা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল, সেদিন থেকে শুরু করে আজও পর্যন্ত তারা আমার ক্রোধ জাগিয়েই চলেছে।”
2KI 21:16 এছাড়াও, মনঃশি এত নির্দোষ লোকের রক্তপাত করলেন যে তা দিয়ে তিনি জেরুশালেমের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পূর্ণ করে ফেলেছিলেন। এর পাশাপাশি, তিনি যিহূদাকে দিয়ে এমন সব পাপ করিয়েছিলেন যে তারা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করল।
2KI 21:17 মনঃশির রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, এছাড়াও যেসব পাপ তিনি করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 21:18 মনঃশি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাঁর প্রাসাদের বাগানে, অর্থাৎ উষের বাগানেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আমোন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 21:19 আমোন বাইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম মশুল্লেমৎ। তিনি হারুষের মেয়ে; তাঁর বাড়ি ছিল ষটবায়।
2KI 21:20 আমোন তাঁর বাবা মনঃশির মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2KI 21:21 তিনি পুরোপুরি তাঁর বাবার পথেই চলেছিলেন, এবং তাঁর বাবা যেসব প্রতিমার পুজো করতেন, তিনিও তাদেরই পুজো করতেন, ও তাদের সামনে মাথা নত করতেন।
2KI 21:22 তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ত্যাগ করলেন, এবং তাঁর প্রতি বাধ্য হয়েও চলেননি।
2KI 21:23 আমোনের কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁর রাজপ্রাসাদেই রাজাকে হত্যা করল।
2KI 21:24 তখন দেশের প্রজারা সেইসব লোককে হত্যা করল, যারা রাজা আমোনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, এবং তারা তাঁর স্থানে তাঁর ছেলে যোশিয়কে রাজা করল।
2KI 21:25 আমোনের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 21:26 উষের বাগানে আমোনের কবরেই তাঁকে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যোশিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 22:1 যোশিয় আট বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি একত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিদীদা, এবং তিনি ছিলেন আদায়ার মেয়ে। তাঁর বাড়ি ছিল বস্কতে।
2KI 22:2 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, যোশিয় তাই করলেন এবং তিনি পুরোপুরি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের পথেই চলেছিলেন, ও সেখান থেকে ডাইনে বা বাঁয়ে, কোনোদিকেই সরে যাননি।
2KI 22:3 রাজা যোশিয়ের রাজত্বকালের অষ্টাদশ বছরে, তিনি মশুল্লমের নাতি, অর্থাৎ অৎসলিয়ের ছেলে তথা তাঁর সচিব শাফনকে সদাপ্রভুর মন্দিরে পাঠালেন। তিনি বললেন:
2KI 22:4 “মহাযাজক হিল্কিয়ের কাছে গিয়ে তাঁকে বলো, যেন তিনি সেইসব অর্থ হাতে নিয়ে তৈরি থাকেন, যা সদাপ্রভুর মন্দিরে আগে আনা হয়েছিল, এবং দারোয়ানরা যা লোকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল।
2KI 22:5 সেই অর্থ যেন সেইসব লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাদের মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা যেন সদাপ্রভুর মন্দির মেরামতের কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের—
2KI 22:6 ছুতোর, ঠিকাদার ও রাজমিস্ত্রিদের বেতন দেয়। তারা যেন মন্দির মেরামতির জন্য কাঠ ও কাটছাঁট করা পাথরও কেনে।
2KI 22:7 কিন্তু তাদের হাতে যে অর্থ তুলে দেওয়া হবে, তার কোনও হিসেব তাদের দিতে হবে না, কারণ অর্থ খরচ করার ক্ষেত্রে তারা যথেষ্টই সৎ।”
2KI 22:8 মহাযাজক হিল্কিয় সচিব শাফনকে বললেন, “সদাপ্রভুর মন্দিরে আমি বিধানগ্রন্থটির খোঁজ পেয়েছি।” তিনি সেই গ্রন্থটি শাফনকে দিলেন, এবং শাফন সেটি পাঠ করলেন।
2KI 22:9 পরে সচিব শাফন রাজার কাছে গিয়ে তাঁকে এই খবর দিলেন: “আপনার কর্মকর্তারা সদাপ্রভুর মন্দিরে রাখা অর্থ নিয়ে তা মন্দিরের শ্রমিক ও তত্ত্বাবধায়কদের হাতে তুলে দিয়েছে।”
2KI 22:10 পরে সচিব শাফন রাজাকে জানিয়েছিলেন, “যাজক হিল্কিয় আমাকে একটি গ্রন্থ দিয়েছেন।” এই বলে শাফন রাজার সামনে গ্রন্থটি থেকে পাঠ করলেন।
2KI 22:11 রাজামশাই যখন বিধানগ্রন্থে লেখা কথাগুলি শুনেছিলেন, তখন তিনি তাঁর রাজবস্ত্র ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।
2KI 22:12 তিনি যাজক হিল্কিয়কে, শাফনের ছেলে অহীকামকে, মীখায়ের ছেলে অক্‌বোরকে, সচিব শাফনকে এবং রাজার পরিচারক অসায়কে এইসব আদেশ দিলেন:
2KI 22:13 “এই যে গ্রন্থটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, তাতে যা যা লেখা আছে, সেসবের বিষয়ে তোমরা আমার, আমার প্রজাদের ও যিহূদার সব লোকজনের জন্য সদাপ্রভুর কাছে গিয়ে খোঁজ নাও। যেহেতু আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই গ্রন্থে লেখা কথাগুলি পালন করেননি, তাই আমাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর ক্রোধ অতিমাত্রায় জ্বলে উঠেছে; আমাদের সম্বন্ধে সেখানে যা যা লেখা আছে, সেই অনুযায়ী তারা কাজ করেননি।”
2KI 22:14 যাজক হিল্কিয়, এবং অহীকাম, অক্‌বোর, শাফন ও অসায় মহিলা ভাববাদী সেই হুলদার সাথে কথা বলতে গেলেন, যিনি রাজপ্রাসাদের পোশাক বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণকারী শল্লুমের স্ত্রী ছিলেন। শল্লুম ছিলেন হর্হসের নাতি ও তিকবের ছেলে। হুলদা জেরুশালেমের নতুন পাড়ায় বসবাস করতেন।
2KI 22:15 তিনি তাদের বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার কাছে যিনি তোমাদের পাঠিয়েছেন, তাঁকে গিয়ে বলো,
2KI 22:16 ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: যিহূদার রাজা যে গ্রন্থটি পাঠ করেছে, সেটিতে যা যা লেখা আছে, সেই কথানুসারে আমি এই স্থানটির ও এখানকার লোকজনের উপর বিপর্যয় আনতে চলেছি।
2KI 22:17 যেহেতু তারা আমাকে ত্যাগ করেছে এবং অন্যান্য দেবতাদের কাছে ধূপ পুড়িয়েছে ও তাদের হাতে গড়া প্রতিমার সব মূর্তি দিয়ে আমার ক্রোধ জাগিয়েছে। আমার ক্রোধ এই স্থানটির বিরুদ্ধে জ্বলে উঠবে ও তা প্রশমিত হবে না।’
2KI 22:18 সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নেওয়ার জন্য যিনি তোমাদের পাঠিয়েছেন, যিহূদার সেই রাজাকে গিয়ে বলো, ‘তোমরা যা যা শুনলে, সেই বিষয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন:
2KI 22:19 এই স্থানটির ও এখানকার লোকজনের বিরুদ্ধে আমি যা বললাম—অর্থাৎ তারা এক অভিশাপে ও পতিত এলাকায় পরিণত হবে—তা শুনে যেহেতু তোমার অন্তর সংবেদনশীল হল ও তুমি সদাপ্রভুর সামনে নিজেকে নম্র করলে, এবং যেহেতু তোমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে আমার সামনে কেঁদেছিলে, তাই আমিও তোমার কথা শুনলাম, সদাপ্রভু একথাই ঘোষণা করেছেন।
2KI 22:20 অতএব আমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে তোমাকে নিয়ে যাব, এবং শান্তিতেই তুমি কবরে যাবে। এই স্থানে আমি যেসব বিপর্যয় আনতে চলেছি, স্বচক্ষে তোমাকে তা দেখতে হবে না।’ ” অতএব তারা তাঁর এই উত্তরটি নিয়ে রাজার কাছে ফিরে গেলেন।
2KI 23:1 তখন যিহূদা ও জেরুশালেমের সব প্রাচীনকে রাজা এক স্থানে ডেকে পাঠালেন।
2KI 23:2 যিহূদার প্রজাদের, জেরুশালেমের অধিবাসীদের, যাজক ও ভাববাদীদের—ছোটো থেকে বড়ো, সব লোকজনকে সাথে নিয়ে তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে গেলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরে যে নিয়ম-পুস্তকটি খুঁজে পাওয়া গেল, তার সব কথা তিনি লোকদের পড়ে শুনিয়েছিলেন।
2KI 23:3 রাজামশাই থামের পাশে দাঁড়িয়ে সদাপ্রভুর সামনে সেই পবিত্র নিয়মটির নবীকরণ করলেন—তিনি সদাপ্রভুর পথে চলার ও মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তাঁর আদেশ, বিধিনিয়ম ও হুকুম পালন করার শপথ নিয়েছিলেন। এইভাবে সেই গ্রন্থে লেখা পবিত্র নিয়মের কথাগুলি তিনি সুনিশ্চিত করলেন। পরে প্রজারাও সবাই সেই পবিত্র নিয়মের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার শপথ নিয়েছিল।
2KI 23:4 রাজামশাই মহাযাজক হিল্কিয়, পদাধিকারবলে তাঁর থেকে ছোটো যাজকদের এবং দারোয়ানদের বললেন, তারা যেন সদাপ্রভুর মন্দির থেকে বায়াল, আশেরা ও আকাশের সব তারকাদলের জন্য তৈরি জিনিসপত্র সরিয়ে দেন। জেরুশালেম নগরের বাইরে অবস্থিত কিদ্রোণ উপত্যকার মাঠে নিয়ে গিয়ে তিনি সেগুলি পুড়িয়ে দিলেন এবং সেই ছাইভস্ম বেথেলে নিয়ে এলেন।
2KI 23:5 যিহূদার রাজারা ইতিপূর্বে যিহূদার বিভিন্ন নগরে ও জেরুশালেমের আশেপাশে অবস্থিত উঁচু উঁচু স্থানে ধূপ পোড়ানোর জন্য প্রতিমাপুজোর সাথে যুক্ত যেসব যাজককে নিযুক্ত করলেন—অর্থাৎ, যারা বায়ালদেব, সূর্য ও চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডল এবং তারকাদলের উদ্দেশে ধূপ জ্বালাতো, তাদের তিনি বরখাস্ত করে দিলেন।
2KI 23:6 তিনি আশেরার খুঁটিটিকে সদাপ্রভুর মন্দির থেকে বের করে জেরুশালেমের বাইরে অবস্থিত কিদ্রোণ উপত্যকায় নিয়ে গিয়ে, সেখানে সেটি পুড়িয়ে দিলেন। সেটি পিষে ধুলোর মতো গুঁড়ো করে তিনি সাধারণ লোকদের কবরস্থানে ছড়িয়ে দিলেন।
2KI 23:7 এছাড়াও তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরের মধ্যে অবস্থিত দেবদাসদের সেই বাসাগুলি ভেঙে দিলেন, যে বাসাগুলিতে বসে মহিলারা আশেরার জন্য কাপড় বুনত।
2KI 23:8 যোশিয় যিহূদার সব নগর থেকে যাজকদের বের করে এনেছিলেন এবং গেবা থেকে শুরু করে বের-শেবা পর্যন্ত প্রতিমাপুজোর যত উঁচু উঁচু স্থানে যাজকেরা ধূপ জ্বালাতো, সেসব তিনি কলুষিত করে দিলেন। নগরের সিংহদুয়ারের বাঁদিকে অবস্থিত নগরের শাসনকর্তা যিহোশূয়ের দুয়ারের প্রবেশদ্বারে যে সদর দরজাটি ছিল, তিনি সেটিও ভেঙে দিলেন।
2KI 23:9 যদিও প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলির যাজকেরা জেরুশালেমে সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিতে সেবাকাজে অংশগ্রহণ করত না, তারা কিন্তু তাদের সহ-যাজকদের সাথে মিলেমিশে খামিরবিহীন রুটি খেয়ে যেত।
2KI 23:10 তিনি বিন-হিন্নোম উপত্যকায় অবস্থিত তোফৎকে কলুষিত করলেন, যেন কেউ আর সেখানে মোলক দেবতার আগুনে তাদের ছেলেমেয়েকে বলিরূপে উৎসর্গ করতে না পারে।
2KI 23:11 সদাপ্রভুর মন্দিরের প্রবেশদ্বার থেকে ঘোড়ার সেই মূর্তিগুলি তিনি দূর করে দিলেন, যেগুলি যিহূদার রাজারা সূর্যের উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করলেন। সেগুলি রাখা ছিল নথন-মেলক বলে একজন কর্মকর্তার ঘরের কাছে অবস্থিত প্রাঙ্গণে। যোশিয় পরে সূর্যের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত রথগুলিও পুড়িয়ে দিলেন।
2KI 23:12 আহসের রাজপ্রাসাদের ছাদে অবস্থিত ঘরের কাছে যিহূদার রাজারা যে যজ্ঞবেদিগুলি তৈরি করেছিলেন, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের দুটি প্রাঙ্গণে মনঃশি যে যজ্ঞবেদিগুলি তৈরি করেছিলেন, তিনি সেগুলিও ভেঙে নামিয়েছিলেন। তিনি সেখান থেকে সেগুলি দূর করে দিলেন, সেগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন এবং সেই ভাঙাচোরা ইটপাথর কিদ্রোণ উপত্যকায় ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
2KI 23:13 রাজামশাই জেরুশালেমের পূর্বদিকে পচন-পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত প্রতিমাপুজোর সেই উঁচু উঁচু স্থানগুলিও কলুষিত করলেন—যেগুলি ইস্রায়েলের রাজা শলোমন সীদোনীয়দের কদর্য দেবী অষ্টারোতের, মোয়াবের কদর্য দেবতা কমোশের, এবং অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য দেবতা মোলকের জন্য তৈরি করলেন।
2KI 23:14 যোশিয় পবিত্র পাথরগুলি ভেঙে গুঁড়ো করে দিলেন ও আশেরার খুঁটিগুলি কেটে নামিয়েছিলেন এবং সেই স্থানটি মানুষের অস্থি দিয়ে ঢেকে দিলেন।
2KI 23:15 এমনকি বেথেলের যজ্ঞবেদিটি, এবং যিনি ইস্রায়েলকে দিয়ে পাপ করিয়েছিলেন, সেই নবাটের ছেলে যারবিয়াম প্রতিমাপুজোর যেসব উঁচু উঁচু স্থান তৈরি করলেন, সেগুলিও তিনি ভূমিসাৎ করে দিলেন। প্রতিমাপুজোর উঁচু স্থানটি পুড়িয়ে দিয়ে তিনি সেটি পিষে গুঁড়ো করে দিলেন, এবং আশেরার খুঁটিটিও তিনি পুড়িয়ে দিলেন।
2KI 23:16 পরে যোশিয় চারপাশে তাকিয়েছিলেন, আর যখন তিনি পাহাড়ের পাশে কয়েকটি কবর দেখতে পেয়েছিলেন, তখন তিনি সেগুলি থেকে অস্থি বের করে এনে যজ্ঞবেদিটি কলুষিত করার জন্য সেটির উপরে সেগুলি পুড়িয়েছিলেন। এসবই হল সদাপ্রভুর ঘোষণা করে দেওয়া সেই কথানুসারে, যে বিষয়ে ঈশ্বরের লোক আগেই ভাববাণী করে দিলেন।
2KI 23:17 রাজামশাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমি যে সমাধিস্তম্ভটি দেখতে পাচ্ছি, সেটি কার?” সেই নগরের লোকেরা বলল, “এটি ঈশ্বরের সেই লোকের সমাধির চিহ্নিত স্তম্ভ, যিনি যিহূদা থেকে এসে বেথেলের যজ্ঞবেদির বিরুদ্ধে একটি বাণী ঘোষণা করলেন, এবং আপনি সেটির প্রতি ঠিক তাই করেছেন।”
2KI 23:18 “এটি ছেড়ে দাও,” তিনি বললেন। “কেউ যেন তাঁর অস্থি নষ্ট না করে।” তাই তারা তাঁর ও শমরিয়া থেকে আসা ভাববাদীর অস্থি নষ্ট না করে ছেড়ে দিয়েছিল।
2KI 23:19 যোশিয় বেথেলে যেমনটি করলেন, ঠিক সেভাবেই শমরিয়ার নগরগুলির উঁচু উঁচু স্থানগুলিতে ইস্রায়েলের রাজারা দেবতার যে পীঠস্থানগুলি তৈরি করে সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন, সেগুলিও তিনি দূর করে দিলেন।
2KI 23:20 বেদিগুলির উপরেই যোশিয় প্রতিমাপুজোর সেইসব উঁচু উঁচু স্থানের যাজকদের হত্যা করলেন এবং সেগুলির উপর মানুষের অস্থি পুড়িয়েছিলেন। পরে তিনি জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
2KI 23:21 রাজামশাই সব লোকজনকে এই আদেশ দিলেন: “পবিত্র নিয়ম সম্বলিত এই গ্রন্থে যেমন লেখা আছে, সেভাবেই তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব পালন করো।”
2KI 23:22 যেসব বিচারকর্তা ইস্রায়েলকে পরিচালনা দিলেন, না তাদের আমলে, আর না ইস্রায়েল ও যিহূদার রাজাদের আমলে এ ধরনের নিস্তারপর্ব পালন করা হত।
2KI 23:23 কিন্তু রাজা যোশিয়ের রাজত্বকালের অষ্টাদশ বছরে জেরুশালেমে সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই নিস্তারপর্ব পালন করা হল।
2KI 23:24 এছাড়াও, যারা প্রেতমাধ্যম ও যারা অশরীরী আত্মাদের আবাহন করে, তাদের, ও ঘরোয়া দেবতাদের, প্রতিমাগুলিকে এবং যিহূদা ও জেরুশালেমে যত ঘৃণ্য জিনিসপত্র দেখা যেত, সেসব যোশিয় দূর করে দিলেন। যাজক হিল্কিয় সদাপ্রভুর মন্দিরে যে গ্রন্থটি খুঁজে পেয়েছিলেন, সেটিতে লেখা বিধানের চাহিদা পূরণ করার জন্যই তিনি এ কাজ করলেন
2KI 23:25 যোশিয়ের আগে বা পরে এমন কোনও রাজা দেখা যায়নি, যিনি তাঁর মতো মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে, ও সর্বশক্তি দিয়ে মোশির বিধান অনুসারে সদাপ্রভুর দিকে ফিরতে পেরেছিলেন।
2KI 23:26 তা সত্ত্বেও, মনঃশি যেহেতু সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তোলার জন্য প্রচুর মন্দ কাজ করলেন, তাই সদাপ্রভু তাঁর সেই প্রচণ্ড ক্রোধের উত্তাপ থেকে ফিরে আসেননি, যা যিহূদার বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিল।
2KI 23:27 তাই সদাপ্রভু বললেন, “যেভাবে আমি ইস্রায়েলকে আমার সামনে থেকে দূর করে দিয়েছি, সেভাবে আমি যিহূদাকেও দূর করে দেব, এবং যে নগরটিকে আমি বেছে নিয়েছিলাম, সেই জেরুশালেমকে, এবং যেটির বিষয়ে আমি বলেছিলাম, ‘আমার নাম সেখানে বজায় থাকবে,’ সেই মন্দিরটিকেও আমি প্রত্যাখ্যান করব।”
2KI 23:28 যোশিয়ের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 23:29 যোশিয় যখন রাজত্ব করছিলেন, তখন মিশরের রাজা ফরৌণ নখো আসিরিয়ার রাজাকে সাহায্য করার জন্য ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত চলে গেলেন। রাজা যোশিয় তাঁর সাথে যুদ্ধ করার জন্য কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন, কিন্তু নখো যোশিয়ের সম্মুখীন হয়ে মগিদ্দোতে তাঁকে মেরে ফেলেছিলেন।
2KI 23:30 যোশিয়ের দাসেরা তাঁর দেহটি রথে করে মগিদ্দো থেকে জেরুশালেমে নিয়ে এসেছিল এবং তাঁকে তাঁরই কবরে কবর দিয়েছিল। দেশের প্রজারা যোশিয়ের ছেলে যিহোয়াহসকে অভিষিক্ত করল এবং তাঁকে তাঁর বাবার পদে রাজা করল।
2KI 23:31 যিহোয়াহস তেইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি তিন মাস রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম হমূটল। তিনি ছিলেন যিরমিয়ের মেয়ে, ও তাঁর বাড়ি ছিল লিব্‌নায়।
2KI 23:32 তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2KI 23:33 ফরৌণ নখো তাঁকে শিকলে বেঁধে হমাৎ দেশের রিব্‌লাতে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন, যেন তিনি আর জেরুশালেমে রাজত্ব করতে না পারেন। একইসাথে যিহূদার উপর তিনি জোর করে একশো তালন্ত রুপো ও এক তালন্ত সোনা খাজনা ধার্য করলেন।
2KI 23:34 ফরৌণ নখো যোশিয়ের ছেলে ইলিয়াকীমকে তাঁর বাবা যোশিয়ের পদে রাজা করলেন এবং ইলিয়াকীমের নাম পরিবর্তন করে যিহোয়াকীম রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি যিহোয়াহসকে মিশরে তুলে নিয়ে গেলেন, এবং সেখানেই যিহোয়াহসের মৃত্যু হল।
2KI 23:35 ফরৌণ নখোর দাবি মতোই যিহোয়াকীম তাঁকে সোনা ও রুপো দিলেন। এরকম করতে গিয়ে, তিনি দেশেই রাজকর ধার্য করে বসেছিলেন এবং দেশের প্রজাদের সামর্থ্য অনুসারে তিনি তাদের কাছ থেকে সোনারুপো আদায় করলেন।
2KI 23:36 যিহোয়াকীম পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি এগারো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম সবীদা। তিনি ছিলেন পদায়ের মেয়ে, ও তাঁর বাড়ি ছিল রূমায়।
2KI 23:37 আর তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2KI 24:1 যিহোয়াকীমের রাজত্বকালে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার দেশে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিলেন, এবং যিহোয়াকীম তিন বছর তাঁর কেনা গোলাম হয়ে থেকেছিলেন। কিন্তু তিন বছর পর তিনি নেবুখাদনেজারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিলেন।
2KI 24:2 সদাপ্রভু, তাঁর দাস ভাববাদীদের মাধ্যমে যে কথা ঘোষণা করে দিলেন, সেই কথানুসারে সদাপ্রভু যিহূদা দেশটি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবিলনীয়, অরামীয়, মোয়াবীয় ও অম্মোনীয় আক্রমণকারীদের পাঠিয়ে দিলেন।
2KI 24:3 সদাপ্রভুর আদেশানুসারেই নিঃসন্দেহে যিহূদার প্রতি এসব কিছু হল, যেন মনঃশির করা সব পাপের কারণে ও তিনি যা যা করলেন, সেসবের কারণে তাদের সদাপ্রভুর উপস্থিতি থেকে দূর করে দেওয়া যায়,
2KI 24:4 এছাড়াও মনঃশির দ্বারা নির্দোষ মানুষের রক্তপাত হওয়ার কারণেও এমনটি হল। কারণ তিনি নির্দোষ মানুষের রক্তে জেরুশালেম পরিপূর্ণ করে দিলেন, এবং সদাপ্রভুও ক্ষমা করতে চাননি।
2KI 24:5 যিহোয়াকীমের রাজত্বের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তিনি যা যা করলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
2KI 24:6 যিহোয়াকীম তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে যিহোয়াখীন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2KI 24:7 মিশরের রাজা আর তাঁর নিজের দেশ থেকে কুচকাওয়াজ করে বাইরে যাননি, কারণ ব্যাবিলনের রাজা মিশরের নির্ঝরিণী থেকে শুরু করে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত ফরৌণের শাসনাধীন সব এলাকা দখল করে নিয়েছিলেন।
2KI 24:8 যিহোয়াখীন আঠারো বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি তিন মাস রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম নহুষ্টা। তিনি ছিলেন ইলনাথনের মেয়ে, ও তাঁর বাড়ি ছিল জেরুশালেমে।
2KI 24:9 যিহোয়াখীন তাঁর বাবার মতো সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2KI 24:10 সেই সময় ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের কর্মকর্তারা জেরুশালেমের দিকে এগিয়ে গিয়ে নগরটি অবরুদ্ধ করল,
2KI 24:11 এবং ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের কর্মকর্তারা যখন নগরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তখন তিনি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত হলেন।
2KI 24:12 যিহূদার রাজা যিহোয়াখীন, তাঁর মা, তাঁর পরিচারকেরা, তাঁর দরবারের অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা ও তাঁর কর্মকর্তারা সবাই নেবুখাদনেজারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। ব্যাবিলনের রাজার রাজত্বকালের অষ্টম বছরে তিনি যিহোয়াখীনকে বন্দি করলেন।
2KI 24:13 সদাপ্রভুর ঘোষিত কথানুসারে নেবুখাদনেজার সদাপ্রভুর মন্দির ও রাজপ্রাসাদ থেকে সঞ্চিত ধনরত্ন তুলে নিয়ে গেলেন, এবং ইস্রায়েলের রাজা শলোমন সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য সোনার যেসব জিনিসপত্র তৈরি করলেন, সেগুলিও কেটে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
2KI 24:14 তিনি জেরুশালেমের সব লোকজনকে বন্দি করে নিয়ে গেলেন: সব কর্মকর্তা ও যোদ্ধা, এবং নিপুণ শিল্পী ও কারিগরকে—মোট দশ হাজার লোককে নিয়ে গেলেন। দেশের সবচেয়ে গরিব লোকদেরই শুধু সেখানে ছেড়ে যাওয়া হল।
2KI 24:15 নেবুখাদনেজার যিহোয়াখীনকে বন্দি করে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন। এছাড়াও তিনি জেরুশালেম থেকে রাজার মাকে, তাঁর স্ত্রীদের, তাঁর কর্মকর্তাদের ও দেশের গণ্যমান্য লোকদেরও ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন।
2KI 24:16 এর পাশাপাশি, ব্যাবিলনের রাজা যুদ্ধের জন্য শক্ত-সমর্থ সাত হাজার যোদ্ধা সম্বলিত সমগ্র সৈন্যদলকে, এবং এক হাজার নিপুণ শিল্পী ও কারিগরকেও ব্যাবিলনে নির্বাসিত করলেন।
2KI 24:17 ব্যাবিলনের রাজা যিহোয়াখীনের কাকা মত্তনিয়কে তাঁর স্থানে রাজা করলেন এবং তাঁর নাম পরিবর্তন করে তাঁকে সিদিকিয় নামে আখ্যাত করলেন।
2KI 24:18 সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজা হন। তিনি এগারো বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। তাঁর মা ছিলেন লিব্‌না নিবাসী যিরমিয়ের কন্যা হমূটল।
2KI 24:19 তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে কেবলই মন্দ কাজ করতেন, যেমন যিহোয়াকীমও করেছিলেন।
2KI 24:20 সদাপ্রভুর ক্রোধের কারণেই জেরুশালেম ও যিহূদার প্রতি এসব কিছু ঘটেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের তাঁর উপস্থিতি থেকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিলেন। ইত্যবসরে সিদিকিয় ব্যাবিলনের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিলেন।
2KI 25:1 তাই, সিদিকিয়ের রাজত্বের নবম বছরে, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার, তাঁর সমস্ত সৈন্য নিয়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন। তিনি নগরের বাইরে শিবির স্থাপন করে তার চারপাশে অবরোধ গড়ে তুললেন।
2KI 25:2 রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের এগারোতম বছর পর্যন্ত নগর অবরুদ্ধ রইল।
2KI 25:3 চতুর্থ মাসের নবম দিনে নগরের দুর্ভিক্ষ এত চরম আকার নিয়েছিল, যে সেখানকার লোকজনের কাছে কোনও খাবারদাবার ছিল না।
2KI 25:4 পরে নগরের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হল, এবং রাতের বেলায় গোটা সৈন্যদল রাজার বাগানের কাছে থাকা দুটি প্রাচীরের মাঝখানে অবস্থিত দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল, যদিও ব্যাবিলনের সৈন্যসামন্ত কিন্তু নগরটি ঘিরে রেখেছিল। তারা অরাবার দিকে পালিয়ে গেল,
2KI 25:5 কিন্তু ব্যাবিলনের সৈন্যদল রাজার পিছনে তাড়া করে গেল এবং যিরীহোর সমভূমিতে তাঁর নাগাল পেল। তাঁর সমস্ত সৈন্য তাঁর কাছ থেকে পৃথক হয়ে ছড়িয়ে পড়ল,
2KI 25:6 আর তিনি ধৃত হলেন। তাঁকে ধরে রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হল, এবং সেখানে তাঁর শাস্তি ঘোষণা করা হল।
2KI 25:7 সিদিকিয়ের চোখের সামনেই তাঁর ছেলেদের তারা হত্যা করল। পরে তারা তাঁর চোখ উপড়ে নিয়েছিল, ও ব্রোঞ্জের শিকল দিয়ে বেঁধে তারা তাঁকে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
2KI 25:8 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের রাজত্বকালের উনিশতম বছরের পঞ্চম মাসের সপ্তম দিনে ব্যাবিলনের রাজার এক কর্মকর্তা, রাজকীয় রক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন জেরুশালেমে এলেন।
2KI 25:9 তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে, রাজপ্রাসাদে এবং জেরুশালেমের সব বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলেন। প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘরবাড়ি তিনি পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন।
2KI 25:10 রাজরক্ষীদলের সেনাপতির অধীনস্থ সমস্ত ব্যাবিলনীয় সৈন্য জেরুশালেমের চারপাশের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছিল।
2KI 25:11 রক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন নগরে থেকে যাওয়া লোকজনকে, এবং তাদের পাশাপাশি বাদবাকি জনসাধারণকে ও যারা ব্যাবিলনের রাজার কাছে পালিয়ে গেল, তাদেরও নির্বাসনে পাঠিয়ে দিলেন।
2KI 25:12 কিন্তু সেনাপতি দেশের অত্যন্ত গরিব কয়েকজন লোককে দ্রাক্ষাক্ষেতে ও ক্ষেতখামারে কাজ করার জন্য ছেড়ে গেলেন।
2KI 25:13 ব্যাবিলনীয়েরা সদাপ্রভুর মন্দিরের পিতলের দুটি স্তম্ভ, স্থানান্তরযোগ্য গামলা বসাবার পাত্রগুলি ও পিতলের সমুদ্রপাত্রটি ভেঙে খণ্ড খণ্ড করল, আর তারা সেগুলির পিতল ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
2KI 25:14 এছাড়াও তারা হাঁড়ি, বেলচা, সলতে ছাঁটার যন্ত্র, থালা ও মন্দিরের সেবাকাজে যেগুলি ব্যবহৃত হত, ব্রোঞ্জের সেইসব জিনিসপত্রও তুলে নিয়ে গেল।
2KI 25:15 রাজরক্ষীদলের সেনাপতি পাকা সোনা বা রুপো দিয়ে তৈরি সব ধুনুচি ও জল ছিটোনোর গামলাগুলিও নিয়ে গেলেন।
2KI 25:16 সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য শলোমন যে দুটি থাম, সমুদ্রপাত্র ও সরণযোগ্য তাকগুলি তৈরি করলেন, সেগুলিতে এত ব্রোঞ্জ ছিল যে তা মেপে রাখা সম্ভব হয়নি।
2KI 25:17 প্রত্যেকটি স্তম্ভ উচ্চতায় ছিল আঠারো হাত করে। এক-একটি স্তম্ভের মাথায় রাখা ব্রোঞ্জের স্তম্ভশীর্ষের উচ্চতা ছিল তিন হাত এবং সেটি পরস্পরছেদী এক জালের মতো করে সাজিয়ে দেওয়া হল ও সেটির চারপাশে ছিল ব্রোঞ্জের বেশ কয়েকটি ডালিম। অন্য থামেও একইরকম ভাবে পরস্পরছেদী জালের মতো সাজসজ্জা ছিল।
2KI 25:18 রক্ষীদলের সেনাপতি মহাযাজক সরায়কে, পদাধিকারবলে তাঁর পরে যিনি ছিলেন, সেই যাজক সফনিয়কে ও তিনজন দারোয়ানকে বন্দি করে নিয়ে গেলেন।
2KI 25:19 নগরে তখনও যারা থেকে গেলেন, তাদের মধ্যে যাঁর উপর যোদ্ধাদের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল, তাঁকে, ও পাঁচজন রাজকীয় পরামর্শদাতাকেও তিনি ধরেছিলেন। এছাড়াও যাঁর উপর দেশের প্রজাদের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দেওয়ানোর দায়িত্ব দেওয়া ছিল, সেই সচিবকে এবং নগরে যে ষাটজন বাধ্যতামূলকভাবে সৈন্যতালিকাভুক্ত ব্যক্তি পাওয়া গেল, তাদেরও তিনি ধরেছিলেন।
2KI 25:20 সেনাপতি নবূষরদন তাদের সবাইকে ধরে রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজার কাছে নিয়ে এলেন।
2KI 25:21 হমাৎ দেশের রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজা প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত এই লোকদের বধ করলেন। অতএব যিহূদা তার দেশ থেকে নির্বাসিত হল।
2KI 25:22 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যিহূদাতে যেসব লোকজন ছেড়ে গেলেন, তাদের উপর তিনি শাফনের নাতি, অর্থাৎ অহীকামের ছেলে গদলিয়কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন।
2KI 25:23 যখন সৈন্যদলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তাদের লোকজনেরা শুনতে পেয়েছিলেন যে ব্যাবিলনের রাজা গদলিয়কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছেন, তখন তারা—অর্থাৎ নথনিয়ের ছেলে ইশ্মায়েল, কারেহর ছেলে যোহানন, নটোফাতীয় তন্‌হূমতের ছেলে সরায়, সেই মাখাতীয়ের ছেলে যাসনিয়, এবং তাদের লোকজন মিস্‌পাতে গদলিয়ের কাছে এলেন।
2KI 25:24 তাদের ও তাদের লোকজনকে আশ্বস্ত করার জন্য গদলিয় একটি শপথ নিয়েছিলেন। “ব্যাবিলনের কর্মকর্তাদের তোমরা ভয় কোরো না,” তিনি বললেন। “দেশেই থেকে যাও ও ব্যাবিলনের রাজার সেবা করো, তাতে তোমাদেরই মঙ্গল হবে।”
2KI 25:25 সপ্তম মাসে অবশ্য ইলীশামার নাতি ও নথনিয়ের ছেলে, তথা শরীরে রাজরক্ত ধারণকারী সেই ইশ্মায়েল সাথে দশজন লোক নিয়ে এসে গদলিয়কে এবং মিস্‌পাতে সেই সময় তাঁর সাথে যিহূদার যে লোকেরা ছিল, তাদের ও ব্যাবিলন থেকে আসা কয়েকজন লোককেও হত্যা করলেন।
2KI 25:26 এই পরিস্থিতিতে, ছোটো থেকে বড়ো, সব লোকজন, সৈন্যদলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে মিলিতভাবে ব্যাবিলনের লোকজনের ভয়ে মিশরে পালিয়ে গেলেন।
2KI 25:27 যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনের বন্দিত্বের সাঁইত্রিশতম বছরে, অর্থাৎ যে বছর ইবিল-মরোদক ব্যাবিলনের রাজা হলেন, সেই বছরেই তিনি যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন। দ্বাদশ মাসের সাতাশতম দিনে তিনি এ কাজ করলেন।
2KI 25:28 তিনি যিহোয়াখীনের সাথে সদয় ভঙ্গিতে কথা বললেন এবং ব্যাবিলনে তাঁর সাথে অন্যান্য যেসব রাজা ছিলেন, তাদের তুলনায় তিনি যিহোয়াখীনকে বেশি সম্মানীয় এক আসন দিলেন।
2KI 25:29 তাই যিহোয়াখীন তাঁর কয়েদির পোশাক একদিকে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলি তিনি নিয়মিতভাবে রাজার টেবিলেই বসে ভোজনপান করলেন।
2KI 25:30 যতদিন যিহোয়াখীন বেঁচেছিলেন, রাজামশাই প্রত্যেকদিন নিয়মিতভাবে তাঁকে ভাতা দিয়ে গেলেন।
1CH 1:1 আদমের বংশধরেরা হলেন শেথ, ইনোশ,
1CH 1:2 কৈনন, মহললেল, যেরদ,
1CH 1:3 হনোক, মথূশেলহ, লেমক, নোহ।
1CH 1:4 নোহের ছেলেরা: শেম, হাম ও যেফৎ।
1CH 1:5 যেফতের ছেলেরা: গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, তূবল, মেশক ও তীরস।
1CH 1:6 গোমরের ছেলেরা: অস্কিনস, রীফৎ এবং তোগর্ম।
1CH 1:7 যবনের ছেলেরা: ইলীশা, তর্শীশ, কিত্তীম এবং রোদানীম।
1CH 1:8 হামের ছেলেরা: কূশ, মিশর, পূট ও কনান।
1CH 1:9 কূশের ছেলেরা: সবা, হবীলা, সব্‌তা, রয়মা ও সব্‌তেকা। রয়মার ছেলেরা: শিবা ও দদান।
1CH 1:10 কূশ সেই নিম্রোদের বাবা, যিনি পৃথিবীতে এক বলশালী যোদ্ধা হয়ে উঠলেন।
1CH 1:11 মিশর ছিলেন সেই লূদীয়, অনামীয়, লহাবীয়, নপ্তুহীয়,
1CH 1:12 পথ্রোষীয়, কস্‌লূহীয় (যাদের থেকে ফিলিস্তিনীরা উৎপন্ন হয়েছে) ও কপ্তোরীয়দের বাবা।
1CH 1:13 কনান ছিলেন তাঁর বড়ো ছেলে সীদোনের, ও হিত্তীয়,
1CH 1:14 যিবূষীয়, ইমোরীয়, গির্গাশীয়,
1CH 1:15 হিব্বীয়, অর্কীয়, সীনীয়,
1CH 1:16 অর্বদীয়, সমারীয় ও হমাতীয়দের বাবা।
1CH 1:17 শেমের ছেলেরা: এলম, অশূর, অর্ফক্‌ষদ, লূদ ও অরাম। অরামের ছেলেরা: ঊষ, হূল, গেথর ও মেশক।
1CH 1:18 অর্ফক্‌ষদ হলেন শেলহের বাবা, এবং শেলহ ছিলেন এবরের বাবা।
1CH 1:19 এবরের দুটি ছেলের জন্ম হল: একজনের নাম দেওয়া হল পেলগ, কারণ তাঁর সময়কালেই পৃথিবী বিভিন্ন ভাষাবাদী জাতির আধারে বিভক্ত হল; তাঁর ভাইয়ের নাম দেওয়া হল যক্তন।
1CH 1:20 যক্তন হলেন অলমোদদ, শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ,
1CH 1:21 হদোরাম, ঊষল, দিক্ল,
1CH 1:22 ওবল, অবীমায়েল, শিবা,
1CH 1:23 ওফীর, হবীলা ও যোববের বাবা। তারা সবাই যক্তনের বংশধর ছিলেন।
1CH 1:24 শেম, অর্ফক্‌ষদ, শেলহ,
1CH 1:25 এবর, পেলগ, রিয়ূ,
1CH 1:26 সরূগ, নাহোর, তেরহ
1CH 1:27 ও অব্রাম (অর্থাৎ, অব্রাহাম)।
1CH 1:28 অব্রাহামের ছেলেরা: ইস্‌হাক ও ইশ্মায়েল।
1CH 1:29 এই তাদের বংশধরেরা: ইশ্মায়েলের বড়ো ছেলে নবায়োৎ, এছাড়াও কেদর, অদবেল, মিবসম,
1CH 1:30 মিশমা, দুমা, মসা, হদদ, তেমা,
1CH 1:31 যিটূর, নাফীশ ও কেদমা। তারাও ইশ্মায়েলের ছেলে।
1CH 1:32 অব্রাহামের উপপত্নী কটূরার গর্ভে যে ছেলেদের জন্ম হল, তারা হলেন: সিম্রণ, যক্‌ষণ, মদান, মিদিয়ন, যিষবক ও শূহ। যক্‌ষণের ছেলেরা: শিবা ও দদান।
1CH 1:33 মিদিয়নের ছেলেরা: ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ ও ইলদায়া। এরা সবাই কটূরার বংশধর ছিলেন।
1CH 1:34 অব্রাহাম ছিলেন ইস্‌হাকের বাবা। ইস্‌হাকের ছেলেরা: এষৌ ও ইস্রায়েল।
1CH 1:35 এষৌর ছেলেরা: ইলীফস, রূয়েল, যিয়ূশ, যালম ও কোরহ।
1CH 1:36 ইলীফসের ছেলেরা: তৈমন, ওমার, সেফো, গয়িতম ও কনস; তিম্নার ছেলে: অমালেক।
1CH 1:37 রূয়েলের ছেলেরা: নহৎ, সেরহ, শম্ম ও মিসা।
1CH 1:38 সেয়ীরের ছেলেরা: লোটন, শোবল, শিবিয়োন, অনা, দিশোন, এৎসর ও দীশন।
1CH 1:39 লোটনের ছেলেরা: হোরি ও হোমম। তিম্না ছিলেন লোটনের বোন।
1CH 1:40 শোবলের ছেলেরা: অলবন, মানহৎ, এবল, শফী ও ওনম। সিবিয়োনের ছেলেরা: অয়া ও অনা।
1CH 1:41 অনার সন্তানেরা: দিশোন। দিশোনের ছেলেরা: হিমদন, ইশ্‌বন, যিত্রণ ও করাণ।
1CH 1:42 এৎসরের ছেলেরা: বিলহন, সাবন ও আকন। দীশনের ছেলেরা: ঊষ ও অরাণ।
1CH 1:43 কোনও ইস্রায়েলী রাজা রাজত্ব করার আগে যে রাজারা ইদোমে রাজত্ব করে গেলেন, তারা হলেন: বিয়োরের ছেলে বেলা, যাঁর রাজধানী নগরের নাম দেওয়া হল দিনহাবা।
1CH 1:44 বেলা যখন মারা যান, বস্রানিবাসী সেরহের ছেলে যোবব তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 1:45 যোবব যখন মারা যান, তৈমন দেশ থেকে আগত হূশম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 1:46 হূশম যখন মারা যান, বেদদের ছেলে সেই হদদ তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি মোয়াব দেশে মিদিয়নীয়দের পরাজিত করলেন। তাঁর নগরের নাম দেওয়া হল অবীৎ।
1CH 1:47 হদদ যখন মারা যান, মস্রেকানিবাসী সম্ল তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 1:48 সম্ল যখন মারা যান, সেই নদীর নিকটবর্তী রহোবোৎ নিবাসী শৌল তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 1:49 শৌল যখন মারা যান, অকবোরের ছেলে বায়াল-হানন তখন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 1:50 বায়াল-হানন যখন মারা যান, হদদ রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। তাঁর নগরের নাম দেওয়া হল পায়ূ, এবং তাঁর স্ত্রীর নাম মহেটবেল, যিনি মট্রেদের মেয়ে, ও মেষাহবের নাতনি ছিলেন।
1CH 1:51 হদদও মারা গেলেন। ইদোমের দলপতিরা হলেন: তিম্ন, অলবা, যিথেৎ,
1CH 1:52 অহলীবামা, এলা, পীনোন,
1CH 1:53 কনস, তৈমন, মিবসর,
1CH 1:54 মগ্‌দীয়েল ও ঈরম। এরাই ইদোমের দলপতি ছিলেন।
1CH 2:1 ইস্রায়েলের ছেলেরা হলেন: রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর, ও সবূলূন,
1CH 2:2 দান, যোষেফ, বিন্যামীন, নপ্তালি, গাদ এবং আশের।
1CH 2:3 যিহূদার ছেলেরা: এর, ওনন এবং শেলা। তাঁর এই তিন ছেলে এমন এক কনানীয়া মহিলার গর্ভে জন্মেছিল, যিনি শূয়ার মেয়ে ছিলেন। যিহূদার বড়ো ছেলে এর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে দুষ্ট প্রতিপন্ন হল; তাই সদাপ্রভু তাকে মেরে ফেলেছিলেন।
1CH 2:4 যিহূদার পুত্রবধূ তামর যিহূদার ঔরসে পেরস ও সেরহকে জন্ম দিলেন। যিহূদার ছেলেদের সংখ্যা মোট পাঁচজন।
1CH 2:5 পেরসের ছেলেরা: হিষ্রোণ এবং হামূল।
1CH 2:6 সেরহের ছেলেরা: সিম্রি, এথন, হেমন, কলকোল এবং দার্দা—মোট পাঁচজন।
1CH 2:7 কর্মির ছেলে: আখর, যে উৎসর্গীকৃত বস্তুগুলি নেওয়ার উপর যে নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল, তা লঙ্ঘন করার মাধ্যমে ইস্রায়েলের ক্ষেত্রে সমস্যা উৎপন্ন করল।
1CH 2:8 এথনের ছেলে: অসরিয়।
1CH 2:9 হিষ্রোণের যে ছেলেরা জন্মেছিলেন, তারা হলেন: যিরহমেল, রাম এবং কালেব।
1CH 2:10 রাম অম্মীনাদবের বাবা ছিলেন, এবং অম্মীনাদব সেই নহশোনের বাবা ছিলেন, যিনি যিহূদা বংশের নেতা ছিলেন।
1CH 2:11 নহশোন সল্‌মনের বাবা ছিলেন, সল্‌মন ছিলেন বোয়সের বাবা,
1CH 2:12 বোয়স ছিলেন ওবেদের বাবা এবং ওবেদ ছিলেন যিশয়ের বাবা।
1CH 2:13 যিশয় তাঁর বড়ো ছেলে ইলীয়াবের বাবা ছিলেন; তাঁর দ্বিতীয় ছেলে অবীনাদব, তৃতীয়জন শম্ম,
1CH 2:14 চতুর্থজন নথনেল, পঞ্চমজন রদ্দয়,
1CH 2:15 ষষ্ঠজন ওৎসম এবং সপ্তমজন দাউদ।
1CH 2:16 তাদের বোনেরা হলেন সরূয়া এবং অবীগল। সরূয়ার তিন ছেলে হলেন অবীশয়, যোয়াব এবং অসাহেল।
1CH 2:17 অবীগল হলেন সেই অমাসার মা, যাঁর বাবা হলেন ইশ্মায়েলীয় যেথর।
1CH 2:18 হিষ্রোণের ছেলে কালেব তাঁর স্ত্রী অসূবার দ্বারা (এবং যিরিয়োতের দ্বারা) সন্তান লাভ করলেন। অসূবার ছেলেরা হলেন: যেশর, শোবব এবং অর্দোন।
1CH 2:19 অসূবা মারা যাওয়ার পর কালেব সেই ইফ্রাথাকে বিয়ে করলেন, যিনি তাঁর ঔরসে হূরকে জন্ম দিলেন।
1CH 2:20 হূর ঊরির বাবা ছিলেন, এবং ঊরি ছিলেন বৎসলেলের বাবা।
1CH 2:21 পরে হিষ্রোণের বয়স যখন ষাট বছর, তখন তিনি গিলিয়দের বাবা মাখীরের মেয়েকে বিয়ে করলেন। তিনি তাঁর সাথে সহবাস করলেন, এবং তাঁর স্ত্রী তাঁর ঔরসে সগূবকে জন্ম দিলেন।
1CH 2:22 সগূব সেই যায়ীরের বাবা, যিনি গিলিয়দে তেইশটি নগরকে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
1CH 2:23 (কিন্তু গশূর ও অরাম হবৎ-যায়ীর দখল করে নিয়েছিল, এছাড়াও তারা কনাৎ ও সেটির পার্শ্ববর্তী উপনিবেশগুলিও—অর্থাৎ ষাটটি নগর দখল করে নিয়েছিল) এরা সবাই গিলিয়দের বাবা মাখীরের বংশধর।
1CH 2:24 কালেব-ইফ্রাথায় হিষ্রোণ মারা যাওয়ার পর হিষ্রোণের স্ত্রী অবিয়া তাঁর ঔরসে তকোয়ের বাবা অস্‌হূরকে জন্ম দিলেন।
1CH 2:25 হিষ্রোণের বড়ো ছেলে যিরহমেলের ছেলেরা: তাঁর বড়ো ছেলে রাম, পরে যথাক্রমে বূনা, ওরণ, ওৎসম ও অহিয়।
1CH 2:26 যিরহমেলের অন্য আর এক স্ত্রীও ছিলেন, যাঁর নাম অটারা; তিনি ওনমের মা।
1CH 2:27 যিরহমেলের বড়ো ছেলে রামের ছেলেরা: মাষ, যামীন ও একর।
1CH 2:28 ওনমের ছেলেরা: শম্ময় ও যাদা। শম্ময়ের ছেলেরা: নাদব ও অবীশূর।
1CH 2:29 অবীশূরের স্ত্রীর নাম অবীহয়িল, যিনি তাঁর ঔরসে অহবান ও মোলীদকে জন্ম দিলেন।
1CH 2:30 নাদবের ছেলেরা: সেলদ ও অপ্পয়িম। সেলদ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলেন।
1CH 2:31 অপ্পয়িমের ছেলে: যিশী, যিনি শেশনের বাবা। শেশন অহলয়ের বাবা।
1CH 2:32 শম্ময়ের ভাই যাদার ছেলেরা: যেথর ও যোনাথন। যেথর নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলেন।
1CH 2:33 যোনাথনের ছেলেরা: পেলৎ ও সাসা। এরাই হলেন যিরহমেলের বংশধর।
1CH 2:34 শেশনের কোনও ছেলে ছিল না—ছিল শুধু কয়েকটি মেয়ে। যার্হা নামে তাঁর মিশরীয় এক দাস ছিল।
1CH 2:35 শেশন তাঁর মেয়ের সাথে তাঁর দাস যার্হার বিয়ে দিলেন, এবং তিনি যার্থার ঔরসে অত্তয়ের জন্ম দিলেন।
1CH 2:36 অত্তয় নাথনের বাবা, নাথন সাবদের বাবা,
1CH 2:37 সাবদ ইফললের বাবা, ইফলল ওবেদের বাবা,
1CH 2:38 ওবেদ যেহূর বাবা, যেহূ অসরিয়র বাবা,
1CH 2:39 অসরিয় হেলসের বাবা, হেলস ইলীয়াসার বাবা,
1CH 2:40 ইলীয়াসা সিসময়ের বাবা, সিসময় শল্লুমের বাবা,
1CH 2:41 শল্লুম যিকমিয়ের বাবা, এবং যিকমিয় ইলীশামার বাবা।
1CH 2:42 যিরহমেলের ভাই কালেবের ছেলেরা: তাঁর বড়ো ছেলে মেশা, যিনি সীফের বাবা, এবং তাঁর ছেলে মারেশা, যিনি হিব্রোণের বাবা।
1CH 2:43 হিব্রোণের ছেলেরা: কোরহ, তপূহ, রেকম ও শেমা।
1CH 2:44 শেমা রহমের বাবা, এবং রহম যর্কিয়মের বাবা। রেকম শম্ময়ের বাবা।
1CH 2:45 শম্ময়ের ছেলে মায়োন, এবং মায়োন বেত-সূরের বাবা।
1CH 2:46 কালেবের উপপত্নী ঐফা হারণ, মোৎসা ও গাসেসের মা। হারণ গাসেসের বাবা।
1CH 2:47 যেহদয়ের ছেলেরা: রেগম, যোথম, গেসন, পেলট, ঐফা ও শাফ।
1CH 2:48 কালেবের উপপত্নী মাখা শেবর ও তির্হনহ।
1CH 2:49 এছাড়াও তিনি মদ্‌মন্নার বাবা শাফ এবং মক্‌বেনার ও গিবিয়ার বাবা শিবাকে জন্ম দিলেন। কালেবের মেয়ের নাম অক্‌ষা।
1CH 2:50 এরাই হলেন কালেবের বংশধর। ইফ্রাথার বড়ো ছেলে হূরের ছেলেরা: কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের বাবা শোবল,
1CH 2:51 বেথলেহেমের বাবা শল্‌ম, এবং বেথ-গাদের বাবা হারেফ।
1CH 2:52 কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের বাবা শোবলের বংশধরেরা: মনূহোতীয়দের অর্ধাংশ হরোয়া,
1CH 2:53 এবং কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের বংশ: যিত্রীয়, পূথীয়, শূমাথীয় মিশ্রায়ীয়রা। এদের থেকেই সরাথীয় ও ইষ্টায়োলীয়রা উৎপন্ন হল।
1CH 2:54 শল্‌মের বংশধরেরা: বেথলেহেম, নটোফাতীয়, অট্রোৎ-বেৎযোয়াব, মনহতীয়দের অর্ধাংশ, সরায়ীয়,
1CH 2:55 এবং যাবেষে বসবাসকারী শাস্ত্রবিদদের বংশ: তিরিথীয়, শিমিয়থীয় ও সূখাথীয়রা। এরা সেই কেনীয়, যারা রেখবীয়দের বাবা হম্মতের বংশজাত।
1CH 3:1 দাউদের এই ছেলেদের জন্ম হিব্রোণে হল: বড়ো ছেলে অম্নোন, যিনি যিষ্রিয়েলীয়া অহীনোয়মের ছেলে; দ্বিতীয়জন, কর্মিলীয়া অবীগলের ছেলে দানিয়েল;
1CH 3:2 তৃতীয়জন, গশূরের রাজা তলময়ের মেয়ে মাখার ছেলে অবশালোম; চতুর্থজন, হগীতের ছেলে আদোনিয়;
1CH 3:3 পঞ্চমজন, অবীটলের ছেলে শফটিয়; এবং ষষ্ঠজন, তাঁর স্ত্রী ইগ্লার গর্ভজাত যিত্রিয়ম।
1CH 3:4 দাউদের এই ছয় ছেলে সেই হিব্রোণে জন্মেছিলেন, যেখানে তিনি ছয় বছর সাত মাস রাজত্ব করলেন। দাউদ জেরুশালেমে তেত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন,
1CH 3:5 এবং সেখানে তাঁর এই সন্তানদের জন্ম হল: শম্ম, শোবব, নাথন ও শলোমন। এই চারজন অম্মীয়েলের মেয়ে বৎশেবার গর্ভজাত।
1CH 3:6 এছাড়াও যিভর, ইলীশূয়, ইলীফেলট,
1CH 3:7 নোগহ, নেফগ, যাফিয়,
1CH 3:8 ইলীশামা, ইলিয়াদা ও ইলীফেলট—মোট এই নয়জনও ছিলেন।
1CH 3:9 এরা সবাই ছিলেন দাউদের ছেলে, পাশাপাশি তাঁর উপপত্নীদেরও কয়েকটি ছেলে ছিল। তামর ছিলেন তাদের বোন।
1CH 3:10 শলোমনের ছেলে রহবিয়াম, তাঁর ছেলে অবিয়, তাঁর ছেলে আসা, তাঁর ছেলে যিহোশাফট,
1CH 3:11 তাঁর ছেলে যিহোরাম, তাঁর ছেলে অহসিয়, তাঁর ছেলে যোয়াশ,
1CH 3:12 তাঁর ছেলে অমৎসিয়, তাঁর ছেলে অসরিয়, তাঁর ছেলে যোথম,
1CH 3:13 তাঁর ছেলে আহস, তাঁর ছেলে হিষ্কিয়, তাঁর ছেলে মনঃশি,
1CH 3:14 তাঁর ছেলে আমোন, তাঁর ছেলে যোশিয়।
1CH 3:15 যোশিয়ের ছেলেরা: বড়ো ছেলে যোহানন, দ্বিতীয় ছেলে যিহোয়াকীম, তৃতীয়জন সিদিকিয়, চতুর্থজন শল্লুম।
1CH 3:16 যিহোয়াকীমের উত্তরাধিকারীরা: তাঁর ছেলে যিহোয়াখীন, ও সিদিকিয়।
1CH 3:17 বন্দি যিহোয়াখীনের বংশধরেরা: তাঁর ছেলে শল্টীয়েল,
1CH 3:18 মলকীরাম, পদায়, শিনৎসর, যিকমিয়, হোশামা এবং নদবিয়।
1CH 3:19 পদায়ের ছেলেরা: সরুব্বাবিল ও শিমিয়ি। সরুব্বাবিলের ছেলেরা: মশুল্লম ও হনানিয়। তাদের বোনের নাম শলোমীৎ।
1CH 3:20 এছাড়াও আরও পাঁচজন ছিলেন: হশুবা, ওহেল, বেরিখিয়, হসদিয় ও যুশব-হেষদ।
1CH 3:21 হনানিয়ের বংশধরেরা: পলটিয় ও যিশায়াহ, এবং রফায়ের, অর্ণনের, ওবদিয়ের ও শখনিয়ের ছেলেরা।
1CH 3:22 শখনিয়ের বংশধরেরা: শময়িয় ও তাঁর ছেলেরা: হটূশ, যিগাল, বারীহ, নিয়রিয় ও শাফট—মোট এই ছ-জন।
1CH 3:23 নিয়রিয়ের ছেলেরা: ইলীয়ৈনয়, হিষ্কিয় ও অস্রীকাম—মোট এই তিনজন।
1CH 3:24 ইলীয়ৈনয়ের ছেলেরা: হোদবিয়, ইলীয়াশীব, পলায়, অক্কূব, যোহানন, দলায় ও অনানি—মোট এই সাতজন।
1CH 4:1 যিহূদার বংশধরেরা: পেরস, হিষ্রোণ, কর্মি, হূর ও শোবল।
1CH 4:2 শোবলের ছেলে রায়া যহৎ-এর বাবা, এবং যহৎ অহূময় ও লহদের বাবা। এরাই সরাথীয় বংশ।
1CH 4:3 এরা ঐটমের ছেলে: যিষ্রিয়েল, যিশ্মা ও যিদবশ। তাদের বোনের নাম হৎসলিল-পোনী।
1CH 4:4 গদোরের বাবা পনূয়েল, এবং হূশের বাবা এষর। এরাই ইফ্রাথার বড়ো ছেলে ও বেথলেহেমের বাবা হূরের বংশধর।
1CH 4:5 তকোয়ের বাবা অস্‌হূরের দুই স্ত্রী ছিল, যাদের নাম হিলা ও নারা।
1CH 4:6 নারা তাঁর ঔরসে অহুষম, হেফর, তৈমনি ও অহষ্টরিকে জন্ম দিলেন। এরাই নারার বংশধর।
1CH 4:7 হিলার ছেলেরা: সেরৎ, যিৎসোহর, ইৎনন,
1CH 4:8 ও কোষ, যিনি আনূব ও সোবেবার এবং হারুমের ছেলে অহর্হল বংশের পূর্বপুরুষ ছিলেন।
1CH 4:9 যাবেষ তাঁর ভাইদের চেয়ে বেশি সম্মানিত ছিলেন। এই বলে তাঁর মা তাঁর নাম রেখেছিলেন যাবেষ, যে, “ব্যথাবেদনার মধ্যে দিয়ে আমি তাকে জন্ম দিয়েছি।”
1CH 4:10 যাবেষ ইস্রায়েলের ঈশ্বরের উদ্দেশে চিৎকার করে বললেন, “ওহো, তুমি যদি আমায় আশীর্বাদ করতে ও আমার এলাকা বিস্তার করতে! তোমার হাত আমার সঙ্গে থাকুক, ও আমাকে অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুক, যেন আমি ব্যথাবেদনা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।” আর ঈশ্বর তাঁর অনুরোধ মঞ্জুর করলেন।
1CH 4:11 শূহের ভাই কলূব সেই মহীরের বাবা, যিনি ইষ্টোনের বাবা।
1CH 4:12 ইষ্টোন বেথ-রাফা, পাসেহ ও সেই তহিন্নের বাবা, যিনি ঈরনাহসের বাবা। এরাই রেকার লোকজন।
1CH 4:13 কনসের ছেলেরা: অৎনীয়েল ও সরায়। অৎনীয়েলের ছেলেরা: হথৎ ও মিয়োনোথয়।
1CH 4:14 মিয়োনোথয় অফ্রার বাবা। সরায় সেই যোয়াবের বাবা, যিনি গী-হরসীমের বাবা। যেহেতু সেখানকার লোকজন সুদক্ষ কর্মী ছিল, তাই সেই স্থানটিকে এই নামেই ডাকা হত।
1CH 4:15 যিফূন্নির ছেলে কালেবের ছেলেরা: ঈরূ, এলা ও নয়ম। এলার ছেলে: কনস।
1CH 4:16 যিহলিলেলের ছেলেরা: সীফ, সীফা, তীরিয় ও অসারেল।
1CH 4:17 ইষ্রার ছেলেরা: যেথর, মেরদ, এফর ও যালোন। মেরদের স্ত্রীদের মধ্যে একজন মরিয়ম, শম্ময় ও সেই যিশবহকে জন্ম দিলেন, যিনি ইষ্টিমোয়ের বাবা।
1CH 4:18 তাঁর যিহূদাবংশীয়া স্ত্রী গদোরের বাবা যেরদকে, সোখোর বাবা হেবরকে, এবং সানোহের বাবা যিকুথিয়েলকে জন্ম দিলেন এরা সবাই ফরৌণের মেয়ে সেই বিথিয়ার সন্তান, যাঁকে মেরদ বিয়ে করলেন।
1CH 4:19 হোদিয়ের স্ত্রী তথা নহমের বোনের ছেলেরা: গর্মীয় কিয়ীলার বাবা, ও মাখাতীয় ইষ্টিমোয়।
1CH 4:20 শীমোনের ছেলেরা: অম্নোন, রিন্ন, বিন-হানন ও তীলোন। যিশীর বংশধরেরা: সোহেৎ ও বিন-সোহেৎ।
1CH 4:21 যিহূদার ছেলে শেলার ছেলেরা: লেকার বাবা এর, মারেশার বাবা লাদা এবং বৈৎ-অসবেয়ের যেসব কারিগর মসিনার কাপড় বুনতো, তাদের বংশধররা,
1CH 4:22 যোকীম, কোষেবার লোকজন, এবং সেই যোয়াশ ও সারফ, যারা মোয়াবে রাজত্ব করতেন এবং যাশূবি-লেহম। (এই নথিগুলি প্রাচীনকালে সংগৃহীত)
1CH 4:23 তারা সেইসব কুমোর, যারা নতায়ীম ও গদেরায় বসবাস করত; তারা সেখানে থাকত ও রাজার জন্য কাজ করত।
1CH 4:24 শিমিয়োনের বংশধরেরা: নমূয়েল, যামীন, যারীব, সেরহ ও শৌল;
1CH 4:25 শৌলের ছেলে শল্লুম, তাঁর ছেলে মিব্‌সম ও তাঁর ছেলে মিশ্‌ম।
1CH 4:26 মিশ্‌মের বংশধরেরা: তাঁর ছেলে হম্মুয়েল, তাঁর ছেলে শক্কুর ও তাঁর ছেলে শিময়ি।
1CH 4:27 শিময়ির ষোল ছেলে ও ছয় মেয়ে ছিল, কিন্তু তাঁর ভাইদের খুব বেশি সন্তান ছিল না; তাই তাদের গোটা বংশ যিহূদা বংশের মতো বহুসংখ্যক হতে পারেনি।
1CH 4:28 তারা বের-শেবা, মোলাদা, হৎসর-শূয়াল,
1CH 4:29 বিলহা, এৎসম, তোলদ,
1CH 4:30 বথূয়েল, হর্মা, সিক্লগ,
1CH 4:31 বেথ-মর্কাবোৎ, শৎসর-সূষীম, বেথ-বিরী ও শারয়িমে বসবাস করতেন। দাউদের রাজত্ব পর্যন্ত এগুলিই তাদের নগর ছিল।
1CH 4:32 তাদের চারপাশের গ্রামগুলি হল ঐটম, ওন, রিম্মোণ, তোখেন ও আশন—পাঁচটি নগর—
1CH 4:33 এবং বালাত পর্যন্ত এই নগরগুলি ঘিরে থাকা সব গ্রাম। এগুলিই ছিল তাদের উপনিবেশ। আর তারা এক বংশতালিকা রেখেছিলেন।
1CH 4:34 মশোবব, যম্লেক, অমৎসিয়ের ছেলে যোশঃ,
1CH 4:35 তার ছেলে যোয়েল, তার ছেলে অসীয়েল, তার ছেলে সরায়, তার ছেলে যোশিবিয়, তার ছেলে যেহূ,
1CH 4:36 এছাড়াও ইলীয়ৈনয়, যাকোবা, যিশোহায়, অসায়, অদীয়েল, যিশীমীয়েল, বনায়,
1CH 4:37 ও শমিয়িয়ের ছেলে সিম্রি, তার ছেলে যিদয়িয়, তার ছেলে অলোন, তার ছেলে শিফি, তার ছেলে সীষঃ।
1CH 4:38 যাদের নাম উপরে নথিভুক্ত করা হয়েছে তারা তাদের বংশের নেতা ছিলেন। তাদের পরিবারগুলি প্রচুর সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছিল,
1CH 4:39 এবং তাদের পশুপালের জন্য চারণভূমির সন্ধান করতে করতে তারা উপত্যকার পূর্বদিকে গদোরের প্রান্তদেশ পর্যন্ত চলে গেলেন।
1CH 4:40 তারা উর্বর, উপযুক্ত চারণভূমির সন্ধান পেয়েছিলেন, এবং সেই দেশটি ছিল সুপরিসর, শান্তিপূর্ণ ও নির্জন। আগে সেখানে হাম বংশীয় কিছু লোকজন বসবাস করত।
1CH 4:41 যাদের নাম নথিভুক্ত হল, তারা যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের সময়ে এলেন। তারা হাম বংশীয় লোকদের বাসস্থান ও সেখানে থাকা মিয়ূনীয়দেরও আক্রমণ করলেন এবং তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলেন, আজও পর্যন্ত যা স্পষ্ট হয়ে আছে। পরে তারা তাদের স্থানে বসতি স্থাপন করলেন, যেহেতু সেখানে তাদের পশুপালের জন্য চারণভূমি ছিল।
1CH 4:42 এবং এই শিমিয়োনীয়দের মধ্যে 500 জন সেয়ীরের পার্বত্য এলাকা দখল করল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন যিশীর ছেলে পলটিয়, নিয়রিয়, রফায়িয় ও উষীয়েল।
1CH 4:43 যারা পালিয়ে গেল, তারা অবশিষ্ট সেই অমালেকীয়দের হত্যা করলেন, এবং আজও পর্যন্ত তারা সেখানেই বসবাস করছেন।
1CH 5:1 ইস্রায়েলের বড়ো ছেলে রূবেণের ছেলেরা: (তিনি বড়ো ছেলে ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি তাঁর বাবার বিবাহ-শয্যা কলুষিত করলেন, তখন তাঁর জ্যেষ্ঠাধিকার ইস্রায়েলের ছেলে যোষেফের ছেলেদের দিয়ে দেওয়া হল; তাই তাঁর জন্মগত অধিকারের আধারে তিনি বংশতালিকায় স্থান পাননি,
1CH 5:2 এবং যদিও যিহূদা তাঁর দাদা-ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিলেন ও তাঁর থেকেই একজন শাসনকর্তা উৎপন্ন হলেন, জেষ্ঠাধিকার কিন্তু যোষেফেরই থেকে গেল)
1CH 5:3 ইস্রায়েলের বড়ো ছেলে রূবেণের ছেলেরা: হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মী।
1CH 5:4 যোয়েলের বংশধরেরা: তাঁর ছেলে শিময়িয়, তাঁর ছেলে গোগ, তাঁর ছেলে শিমিয়ি,
1CH 5:5 তাঁর ছেলে মীখা, তাঁর ছেলে রায়া, তাঁর ছেলে বায়াল,
1CH 5:6 এবং তাঁর ছেলে বেরা, যাঁকে আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষর বন্দি করে নিয়ে গেলেন। বেরা রূবেণীয়দের একজন নেতা ছিলেন।
1CH 5:7 বংশানুসারে তাদের আত্মীয়স্বজন, যারা তাদের বংশতালিকার আধারে নথিভুক্ত হলেন: দলনেতা যিয়ীয়েল, সখরিয়,
1CH 5:8 ও যোয়েলের ছেলে শেমা, তার ছেলে আসস, তার ছেলে বেলা। তারা অরোয়ের থেকে নেবো ও বায়াল-মিয়োন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসতি স্থাপন করলেন।
1CH 5:9 পূর্বদিকে তারা সেই মরুভূমির প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা দখল করলেন, যা ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, কারণ গিলিয়দে তাদের পশুপাল বৃদ্ধি পেয়েছিল।
1CH 5:10 শৌলের রাজত্বকালে তারা সেই হাগরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন, যারা তাদের হাতে পরাজিত হল; গিলিয়দের পূর্বদিকে গোটা এলাকা জুড়ে তারা হাগরীয়দের বাসস্থানগুলি দখল করে নিয়েছিলেন।
1CH 5:11 গাদ বংশীয় লোকেরা তাদের পাশাপাশি থেকে সল্‌খা পর্যন্ত বাশনে বসবাস করলেন:
1CH 5:12 তাদের দলপতি ছিলেন যোয়েল, দ্বিতীয়জন শাফম, পরে যানয় ও শাফট, যারা বাশনে ছিলেন।
1CH 5:13 পরিবার ধরে ধরে তাদের আত্মীয়স্বজন হলেন: মীখায়েল, মশুল্লম, শেবা, যোরায়, যাকন, সীয় ও এবর—মোট সাতজন।
1CH 5:14 এরা হলেন বূষের ছেলে যহদোর, তার ছেলে যিশীশয়, তার ছেলে মীখায়েল, তার ছেলে গিলিয়দ, তার ছেলে যারোহ, তার ছেলে হূরি, তার ছেলে যে অবীহয়িল, এরা সব তাঁর ছেলে।
1CH 5:15 গূনির ছেলে অব্দিয়েল, তার ছেলে অহি, তাদের পরিবারের কর্তা ছিলেন।
1CH 5:16 গাদ বংশীয় লোকেরা গিলিয়দে, বাশনে ও সেখানকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে, ও শারোণের সব চারণভূমি পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করতেন।
1CH 5:17 যিহূদার রাজা যোথম ও ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের রাজত্বকালেই এরা সবাই বংশতালিকায় ঢুকে পড়েছিলেন।
1CH 5:18 রূবেণীয়, গাদীয় ও মনঃশির অর্ধেক বংশে 44,760 জন সামরিক পরিষেবার জন্য প্রস্তুত ছিল—যারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল এবং ঢাল ও তরোয়াল চালাতে পারত, ধনুক ব্যবহার করতে পারত, ও যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিতও ছিল।
1CH 5:19 তারা হাগরীয়দের, যিটূরের, নাফীশের ও নোদবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হল।
1CH 5:20 এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় তারা সাহায্য পেয়েছিল, এবং ঈশ্বর হাগরীয় ও তাদের মিত্রশক্তিকে তাদের হাতে সঁপে দিলেন, কারণ যুদ্ধ চলার সময় তারা তাঁর কাছে কেঁদেছিল। তিনি তাদের প্রার্থনার উত্তর দিলেন, যেহেতু তারা তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল।
1CH 5:21 তারা হাগরীয়দের গবাদি পশুপাল দখল করে নিয়েছিল: 50,000-টি উট, 2,50,000-টি মেষ ও 2,000-টি গাধা। তারা 1,00,000 লোককেও বন্দি করল,
1CH 5:22 এবং আরও অনেকে মারা পড়েছিল, কারণ যুদ্ধটি ঈশ্বরেরই ছিল। এবং নির্বাসনকাল পর্যন্ত তারা দেশটি অধিকার করেই থেকে গেল।
1CH 5:23 মনঃশির অর্ধেক বংশের লোকেরা সংখ্যায় প্রচুর ছিল; তারা সেই দেশে বাশন থেকে বায়াল-হর্মোণ, অর্থাৎ সনীর (হর্মোণ পর্বত) পর্যন্ত বসতি স্থাপন করল।
1CH 5:24 এরাই তাদের পরিবারের কর্তা ছিলেন: এফর, যিশী, ইলীয়েল: অস্রীয়েল, যিরমিয়, হোদবিয় ও যহদীয়েল। তারা সাহসী যোদ্ধা, বিখ্যাত পুরুষ, ও তাদের পরিবারের কর্তা ছিলেন।
1CH 5:25 কিন্তু তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্ত হলেন এবং তারা দেশের লোকদের সেইসব দেবতার উদ্দেশে বেশ্যাবৃত্তি চালিয়েছিলেন, ঈশ্বর যাদের তাদের সামনেই ধ্বংস করেছিলেন।
1CH 5:26 অতএব ইস্রায়েলের ঈশ্বর আসিরিয়ার রাজা সেই পূলের (অর্থাৎ, আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষরের) মন উত্তেজিত করে তুলেছিলেন, যিনি রূবেণীয়দের, গাদীয়দের ও মনঃশির অর্ধেক বংশকে বন্দি করে নিয়ে গেলেন। তিনি তাদের সেই হলহে, হাবোরে, হারাতে ও গোষণ নদীতীরে নিয়ে গেলেন, আজও পর্যন্ত তারা যেখানে রয়ে গিয়েছে।
1CH 6:1 লেবির ছেলেরা: গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
1CH 6:2 কহাতের ছেলেরা: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল।
1CH 6:3 অম্রামের সন্তানেরা: হারোণ, মোশি ও মরিয়ম। হারোণের ছেলেরা: নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামর।
1CH 6:4 ইলীয়াসর পীনহসের বাবা, পীনহস অবিশূয়ের বাবা,
1CH 6:5 অবিশূয় বুক্কির বাবা, বুক্কি উষির বাবা,
1CH 6:6 উষি সরহিয়ের বাবা, সরহিয় মরায়োতের বাবা,
1CH 6:7 মরায়োত অমরিয়ের বাবা, অমরিয় অহীটূবের বাবা,
1CH 6:8 অহীটূব সাদোকের বাবা, সাদোক অহীমাসের বাবা,
1CH 6:9 অহীমাস অসরিয়ের বাবা, অসরিয় যোহাননের বাবা,
1CH 6:10 যোহানন অসরিয়ের বাবা। শলোমন জেরুশালেমে যে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন, অসরিয় সেখানেই যাজকরূপে সেবাকাজ করতেন।
1CH 6:11 অসরিয় অমরিয়ের বাবা, অমরিয় অহীটূবের বাবা,
1CH 6:12 অহীটূব সাদোকের বাবা, সাদোক শল্লুমের বাবা,
1CH 6:13 শল্লুম হিল্কিয়ের বাবা, হিল্কিয় অসরিয়ের বাবা,
1CH 6:14 অসরিয় সরায়ের বাবা, সরায় যোষাদকের বাবা
1CH 6:15 সদাপ্রভু যখন নেবুখাদনেজারের হাত দিয়ে যিহূদা ও জেরুশালেমকে নির্বাসনে পাঠালেন, তখন এই যোষাদকও নির্বাসিত হলেন।
1CH 6:16 লেবির ছেলেরা: গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
1CH 6:17 গের্শোনের ছেলেদের নাম এইরকম: লিব্‌নি ও শিমিয়ি।
1CH 6:18 কহাতের ছেলেরা: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল।
1CH 6:19 মরারির ছেলেরা: মহলি ও মূশি। পূর্বপুরুষদের কুলানুসারে এরাই লেবীয়দের নথিভুক্ত বংশধর:
1CH 6:20 গের্শোনের: তাঁর ছেলে লিব্‌নি, তাঁর ছেলে যহৎ, তাঁর ছেলে সিম্ম,
1CH 6:21 তাঁর ছেলে যোয়াহ, তাঁর ছেলে ইদ্দো, তাঁর ছেলে সেরহ এবং তাঁর ছেলে যিয়ত্রয়।
1CH 6:22 কহাতের বংশধরেরা: তাঁর ছেলে অম্মীনাদব, তাঁর ছেলে কোরহ, তাঁর ছেলে অসীর,
1CH 6:23 তাঁর ছেলে ইল্‌কানা, তাঁর ছেলে ইবীয়াসফ, তাঁর ছেলে অসীর,
1CH 6:24 তাঁর ছেলে তহৎ, তাঁর ছেলে ঊরীয়েল, তাঁর ছেলে উষিয় ও তাঁর ছেলে শৌল।
1CH 6:25 ইল্‌কানার বংশধরেরা: অমাসয়, অহীমোৎ,
1CH 6:26 তাঁর ছেলে ইল্‌কানা, তাঁর ছেলে সোফী, তাঁর ছেলে নহৎ,
1CH 6:27 তাঁর ছেলে ইলীয়াব, তাঁর ছেলে যিরোহম, তাঁর ছেলে ইল্‌কানা ও তাঁর ছেলে শমূয়েল।
1CH 6:28 শমূয়েলের ছেলেরা: বড়ো ছেলে যোয়েল ও দ্বিতীয় ছেলে অবিয়।
1CH 6:29 মরারির বংশধরেরা: মহলি, তাঁর ছেলে লিব্‌নি, তাঁর ছেলে শিমিয়ি, তাঁর ছেলে উষ,
1CH 6:30 তাঁর ছেলে শিমিয়, তাঁর ছেলে হগিয়, তাঁর ছেলে অসায়।
1CH 6:31 নিয়ম-সিন্দুকটি সদাপ্রভুর গৃহে বিশ্রামস্থান লাভের পর দাউদ সেই গৃহে গানবাজনা করার দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দিলেন, তারা এইসব লোক।
1CH 6:32 যতদিন না শলোমন জেরুশালেমে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করলেন, ততদিন তারা সমাগম তাঁবুর, সেই সমাগম তাঁবুর সামনে গানবাজনা সমেত পরিচর্যা করে গেলেন। তাদের জন্য নিরূপিত নিয়মানুসারে তারা তাদের কর্তব্য পালন করে যেতেন।
1CH 6:33 এরা সেইসব লোক, যারা তাদের ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে সেবাকাজ করে গেলেন: কহাতীয়দের মধ্যে থেকে: গায়ক হেমন, তিনি যোয়েলের ছেলে, তিনি শমূয়েলের ছেলে,
1CH 6:34 তিনি ইল্‌কানার ছেলে, তিনি যিরোহমের ছেলে, তিনি ইলীয়েলের ছেলে, তিনি তোহের ছেলে,
1CH 6:35 তিনি সূফের ছেলে, তিনি ইল্‌কানার ছেলে, তিনি মাহতের ছেলে, তিনি অমাসয়ের ছেলে,
1CH 6:36 তিনি ইল্‌কানার ছেলে, তিনি যোয়েলের ছেলে, তিনি অসরিয়ের ছেলে, তিনি সফনিয়ের ছেলে,
1CH 6:37 তিনি তহতের ছেলে, তিনি অসীরের ছেলে, তিনি ইবীয়াসফের ছেলে, তিনি কোরহের ছেলে,
1CH 6:38 তিনি যিষ্‌হরের ছেলে, তিনি কহাতের ছেলে, তিনি লেবির ছেলে, তিনি ইস্রায়েলের ছেলে;
1CH 6:39 এবং হেমনের সহকর্মী ছিলেন সেই আসফ, যিনি তাঁর ডানদিকে দাঁড়িয়ে থেকে সেবাকাজ করতেন: আসফ বেরিখিয়ের ছেলে, তিনি শিমিয়ির ছেলে,
1CH 6:40 তিনি মীখায়েলের ছেলে, তিনি বাসেয়ের ছেলে, তিনি মল্কিয়ের ছেলে,
1CH 6:41 তিনি ইৎনির ছেলে, তিনি সেরহের ছেলে, তিনি অদায়ার ছেলে,
1CH 6:42 তিনি এথনের ছেলে, তিনি সিম্মের ছেলে, তিনি শিমিয়ির ছেলে,
1CH 6:43 তিনি যহতের ছেলে, তিনি গের্শোনের ছেলে, তিনি লেবির ছেলে;
1CH 6:44 এবং তাদের সহকর্মীদের মধ্যে থেকে, মরারীয়রা তাঁর বাঁদিকে দাঁড়াতেন: এথন কীশির ছেলে, তিনি অব্দির ছেলে, তিনি মল্লুকের ছেলে,
1CH 6:45 তিনি হশবিয়ের ছেলে, তিনি অমৎসিয়ের ছেলে, তিনি হিল্কিয়ের ছেলে,
1CH 6:46 তিনি অমসির ছেলে, তিনি বানির ছেলে, তিনি শেমরের ছেলে,
1CH 6:47 তিনি মহলির ছেলে, তিনি মূশির ছেলে, তিনি মরারির ছেলে, তিনি লেবির ছেলে।
1CH 6:48 তাদের সাথী লেবীয়দেরও সদাপ্রভুর গৃহের, সেই সমাগম তাঁবুর অন্যান্য সব কাজকর্ম করার দায়িত্ব দেওয়া হল।
1CH 6:49 কিন্তু হারোণ ও তাঁর বংশধররাই মহাপবিত্রস্থানে যা যা করণীয়, সেই প্রথানুসারে হোমবলির বেদির ও ধূপবেদির উপর উপহার উৎসর্গ করার মাধ্যমে ঈশ্বরের দাস মোশির দেওয়া আদেশানুসারে ইস্রায়েলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতেন।
1CH 6:50 এরাই হারোণের বংশধর: তাঁর ছেলে ইলীয়াসর, তাঁর ছেলে পীনহস, তাঁর ছেলে অবিশূয়,
1CH 6:51 তাঁর ছেলে বুক্কি, তাঁর ছেলে উষি, তাঁর ছেলে সরাহিয়,
1CH 6:52 তাঁর ছেলে মরায়োৎ, তাঁর ছেলে অমরিয়, তাঁর ছেলে অহীটূব,
1CH 6:53 তাঁর ছেলে সাদোক এবং তাঁর ছেলে অহীমাস।
1CH 6:54 তাদের এলাকারূপে এই স্থানগুলিই তাদের উপনিবেশ গড়ার জন্য চিহ্নিত হল: (সেগুলি হারোণের সেই বংশধরদের জন্যই চিহ্নিত হল, যারা কহাতীয় বংশোদ্ভূত ছিল, কারণ প্রথম ভাগটি তাদের জন্যই ছিল)
1CH 6:55 তাদের যিহূদা অঞ্চলের হিব্রোণ ও সেখানকার চারপাশের চারণভূমিগুলি দেওয়া হল।
1CH 6:56 কিন্তু ক্ষেতজমি ও নগর ঘিরে থাকা গ্রামগুলি দেওয়া হল যিফূন্নির ছেলে কালেবকে।
1CH 6:57 অতএব হারোণের বংশধরদের দেওয়া হল হিব্রোণ (এক আশ্রয়-নগর), ও লিব্‌না, যত্তীর, ইষ্টিমোয়,
1CH 6:58 হিলেন, দবীর,
1CH 6:59 আশন, যুটা ও বেত-শেমশ, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তাদের দেওয়া হল।
1CH 6:60 বিন্যামীন বংশ থেকে তাদের দেওয়া হল গিবিয়োন, গেবা, আলেমৎ ও অনাথোৎ, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তাদের দেওয়া হল। কহাতীয় বংশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া নগরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল মোট তেরোটি।
1CH 6:61 কহাতের বাদবাকি বংশধরদের মনঃশির অর্ধেক বংশের অধিকার থেকে দশটি নগর দেওয়া হল।
1CH 6:62 বংশ ধরে ধরে গের্শোনের বংশধরদের ইষাখর, আশের ও নপ্তালি বংশ থেকে, এবং মনঃশি বংশের সেই অংশ, যারা বাশনে ছিল, তাদের থেকে তোরোটি নগর দেওয়া হল।
1CH 6:63 বংশ ধরে ধরে মরারির বংশধরদের রূবেণ, গাদ ও সবূলূন বংশ থেকে বারোটি নগর দেওয়া হল।
1CH 6:64 অতএব ইস্রায়েলীরা লেবীয়দের এইসব নগর ও সেগুলির চারণভূমিও দিয়েছিল।
1CH 6:65 যিহূদা, শিমিয়োন ও বিন্যামীন বংশ থেকে তারা সেই নগরগুলি দিয়েছিল, যেগুলির নামোল্লেখ আগে করা হয়েছে।
1CH 6:66 কহাতীয়দের কয়েকটি বংশকে তাদের এলাকাভুক্ত নগররূপে ইফ্রয়িম বংশ থেকে কয়েকটি নগর দেওয়া হল।
1CH 6:67 ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকায় তাদের শিখিম (এক আশ্রয়-নগর), ও গেষর,
1CH 6:68 যকমিয়াম, বেথ-হোরোণ,
1CH 6:69 অয়ালোন ও গাৎ-রিম্মোণ এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও দেওয়া হল।
1CH 6:70 মনঃশির অর্ধেক বংশ থেকে ইস্রায়েলীরা কহাতীয় বংশের বাদবাকি লোকজনকে আনের ও বিলয়ম এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও দিয়েছিল।
1CH 6:71 গের্শোনীয়রা নিম্নলিখিত নগরগুলি পেয়েছিল: মনঃশির অর্ধেক বংশের অধিকার থেকে তারা পেয়েছিল বাশনে অবস্থিত গোলন ও অষ্টারোৎ, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল;
1CH 6:72 ইষাখর বংশ থেকে তারা পেয়েছিল কেদশ, দাবরৎ,
1CH 6:73 রামোৎ ও আনেম, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল;
1CH 6:74 আশের বংশ থেকে তারা পেয়েছিল মশাল, আব্দোন,
1CH 6:75 হূকোক ও রাহব, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল;
1CH 6:76 এবং নপ্তালি বংশ থেকে তারা পেয়েছিল গালীলে অবস্থিত কেদশ, হম্মোন ও কিরিয়াথয়িম, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল।
1CH 6:77 মরারীয়রা (বাদবাকি লেবীয়রা) নিম্নলিখিত (নগরগুলি) পেয়েছিল: সবূলূন বংশ থেকে তারা পেয়েছিল যক্নিয়াম, কার্তা, রিম্মোণো ও তাবোর, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল;
1CH 6:78 যিরীহোর পূর্বদিকে জর্ডন নদীর পারের রূবেণ বংশ থেকে তারা পেয়েছিল মরুপ্রান্তরে অবস্থিত বেৎসর, যাহসা,
1CH 6:79 কদেমোৎ ও মেফাৎ, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল;
1CH 6:80 এবং গাদ বংশ থেকে তারা পেয়েছিল গিলিয়দে অবস্থিত রামোৎ, মহনয়িম,
1CH 6:81 হিষ্‌বোন ও যাসের, এবং সেই নগরগুলির চারণভূমিও তারা পেয়েছিল।
1CH 7:1 ইষাখরের ছেলেরা: তোলয়, পূয়, যাশূব ও শিম্রোণ—মোট চারজন।
1CH 7:2 তোলয়ের ছেলেরা: উষি, রফায়, যিরীয়েল, যহময়, যিবসম ও শমূয়েল—তাদের পরিবারের কর্তা। দাউদের রাজত্বকালে, তোলয়ের যেসব বংশধর তাদের বংশতালিকানুসারে যোদ্ধারূপে নথিভুক্ত হল, তাদের সংখ্যা 22,600 জন।
1CH 7:3 উষির ছেলে: যিষ্রাহিয়। যিষ্রাহিয়ের ছেলেরা: মীখায়েল, ওবদিয়, যোয়েল ও যিশিয়। এই পাঁচজনই প্রধান ছিলেন।
1CH 7:4 তাদের পারিবারিক বংশতালিকানুসারে, তাদের কাছে 36,000 জন লোক যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল, কারণ তাদের অনেকগুলি স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি ছিল।
1CH 7:5 ইষাখরের সব বংশোদ্ভুক্ত যেসব আত্মীয়স্বজন তাদের বংশতালিকানুসারে যোদ্ধারূপে নথিভুক্ত হল, তাদের সংখ্যা মোট 87,000 জন।
1CH 7:6 বিন্যামীনের ছেলেরা তিনজন: বেলা, বেখর ও যিদীয়েল।
1CH 7:7 বেলার ছেলেরা: ইষবোণ, উষি, উষীয়েল, যিরেমৎ ও ঈরী। এরা পরিবারগুলির কর্তা—মোট পাঁচজন। তাদের বংশতালিকায় 22,034 জন যোদ্ধা নথিভুক্ত হল।
1CH 7:8 বেখরের ছেলেরা: সমীরা, যোয়াশ, ইলীয়েষর, ইলীয়ৈনয়, অম্রি, যিরেমোৎ, অবিয়, অনাথোৎ ও আলেমৎ। এরা সবাই বেখরের ছেলে।
1CH 7:9 তাদের বংশতালিকায় 20,200 জন যোদ্ধা নথিভুক্ত হল।
1CH 7:10 যিদীয়েলের ছেলে: বিলহন। বিলহনের ছেলেরা: যিয়ূশ, বিন্যামীন, এহূদ, কানান্না, সেথন, তর্শীশ ও অহীশহর।
1CH 7:11 যিদীয়েলের এইসব ছেলে পরিবারের কর্তা ছিলেন। 17,200 জন যোদ্ধা যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।
1CH 7:12 শুপ্পিমীয় ও হুপ্পিমীয়রা ঈরের বংশধর, এবং হূশীয়রা অহেরের বংশধর।
1CH 7:13 নপ্তালির ছেলেরা: যহসিয়েল, গূনি, যেৎসর ও শিল্লেম—এরা বিলহার বংশধর।
1CH 7:14 মনঃশির বংশধরেরা: তাঁর অরামীয় উপপত্নীর মাধ্যমে উৎপন্ন বংশধর অস্রীয়েল। সেই উপপত্নী গিলিয়দের বাবা মাখীরকেও গর্ভে ধারণ করল।
1CH 7:15 মাখীর হুপ্পিমীয় ও শুপ্পিমীয়দের মধ্যে থেকেই একজনকে স্ত্রী করে নিয়েছিলেন। তাঁর বোনের নাম মাখা। অন্য একজন বংশধরের নাম সলফাদ, যাঁর শুধু মেয়েই ছিল।
1CH 7:16 মাখীরের স্ত্রী মাখা এক ছেলের জন্ম দিলেন ও তাঁর নাম রেখেছিলেন পেরশ। তাঁর ভাইয়ের নাম রাখা হল শেরশ, এবং তাঁর ছেলেদের নাম ঊলম ও রেকম।
1CH 7:17 ঊলমের ছেলে: বদান। মনঃশির ছেলে মাখীর, তার ছেলে গিলিয়দ, এরা তার ছেলে।
1CH 7:18 তাঁর বোন হম্মোলেকত ঈশ্‌হোদ, অবীয়েষর ও মহলাকে জন্ম দিলেন।
1CH 7:19 শমীদার ছেলেরা: অহিয়ন, শেখম, লিকহি ও অনীয়াম।
1CH 7:20 ইফ্রয়িমের বংশধরেরা: শূথেলহ, তাঁর ছেলে বেরদ, তাঁর ছেলে তহৎ, তাঁর ছেলে ইলিয়াদা, তাঁর ছেলে তহৎ,
1CH 7:21 তাঁর ছেলে সাবদ এবং তাঁর ছেলে শূথেলহ। (জন্মসূত্রে যারা গাত দেশীয় লোক ছিল, তাদের গবাদি পশুপাল দখল করতে গিয়ে এৎসর ও ইলিয়াদা তাদের হাতেই নিহত হলেন।
1CH 7:22 তাদের বাবা ইফ্রয়িম অনেক দিন ধরে তাদের জন্য শোক করলেন, এবং তাঁর আত্মীয়স্বজন তাঁকে সান্তনা দিতে এসেছিল।
1CH 7:23 পরে আরেকবার তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাস করলেন: ও তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে এক ছেলের জন্ম দিলেন। ইফ্রয়িম তাঁর নাম রেখেছিলেন বরিয়, কারণ তাঁর পরিবারে অমঙ্গল নেমে এসেছিল।
1CH 7:24 তাঁর মেয়ের নাম শীরা, যিনি নিম্নতর ও উচ্চতর বেথ-হোরোণ তথা উষেণ-শীরা গেঁথে তুলেছিলেন)
1CH 7:25 তাঁর ছেলে ছিলেন রেফহ, তাঁর ছেলে রেশফ, তাঁর ছেলে তেলহ, তাঁর ছেলে তহন,
1CH 7:26 তাঁর ছেলে লাদন, তাঁর ছেলে অম্মীহূদ, তাঁর ছেলে ইলীশামা,
1CH 7:27 তাঁর ছেলে নূন এবং তাঁর ছেলে যিহোশূয়।
1CH 7:28 তাদের জমি ও উপনিবেশে বেথেল ও তার চারপাশের গ্রামগুলি যুক্ত ছিল, পূর্বদিকে ছিল নারণ, পশ্চিমদিকে ছিল গেষর ও তার কাছাকাছি থাকা গ্রামগুলি, এবং শিখিম ও সেখানকার গ্রামগুলি থেকে শুরু করে সুদূর অয়া ও সেখানকার গ্রামগুলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের জমিজায়গা।
1CH 7:29 মনঃশির সীমানা বরাবর ছিল বেথ-শান, তানক, মগিদ্দো ও দোর তথা সেই নগরগুলির সঙ্গে থাকা গ্রামগুলি। ইস্রায়েলের ছেলে যোষেফের বংশধরেরা এইসব নগরে বসবাস করত।
1CH 7:30 আশেরের ছেলেরা: যিম্ন, যিশ্‌বা, যিশ্‌বী ও বরিয়। সেরহ ছিলেন তাদের বোন।
1CH 7:31 বরিয়ের ছেলেরা: হেবর ও মল্কীয়েল, যিনি বির্ষোতের বাবা।
1CH 7:32 হেবর যফলেট, শোমের ও হোথমের এবং তাদের বোন শূয়ার বাবা।
1CH 7:33 যফলেটের ছেলেরা: পাসক, বিমহল ও অশ্বৎ। এরাই যফলেটের ছেলেসন্তান।
1CH 7:34 শেমরের ছেলেরা: অহি, রোগহ, যিহুব্ব ও অরাম।
1CH 7:35 তাঁর ভাই হেলমের ছেলেরা: শোফহ, যিম্ন, শেলশ ও আমল।
1CH 7:36 শোফহের ছেলেরা: সূহ, হর্ণেফর, শূয়াল, বেরী, যিম্র,
1CH 7:37 বেৎসর, হোদ, শম্ম, শিলশ, যিত্রণ ও বেরা।
1CH 7:38 যেথরের ছেলেরা: যিফুন্নি, পিস্প ও অরা।
1CH 7:39 উল্লের ছেলেরা: আরহ, হন্নীয়েল ও রিৎসিয়।
1CH 7:40 এরা সবাই আশেরের বংশধর—পরিবারের কর্তা, বাছাই করা লোকজন, সাহসী যোদ্ধা ও অসামান্য নেতা। তাদের বংশতালিকায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত 26,000 জন যোদ্ধা নথিভুক্ত হল।
1CH 8:1 বিন্যামীন তাঁর, বড়ো ছেলে বেলার বাবা, তাঁর দ্বিতীয় ছেলে অস্‌বেল, তৃতীয়জন অহর্হ,
1CH 8:2 চতুর্থজন নোহা ও পঞ্চমজন রাফা।
1CH 8:3 বেলার ছেলেরা হলেন: অদ্দর, গেরা, অবীহূদ,
1CH 8:4 অবীশূয়, নামান, আহোহ,
1CH 8:5 গেরা, শফূফন ও হূরম।
1CH 8:6 এহূদের এই বংশধররা গেবায় বসবাসকারী পরিবারগুলির কর্তা ছিলেন এবং তাদের নির্বাসিত করে মানহতে নিয়ে যাওয়া হল:
1CH 8:7 নামান, অহিয়, ও সেই গেরা, যিনি তাদের নির্বাসিত করলেন এবং যিনি আবার উষ ও অহীহূদের বাবাও ছিলেন।
1CH 8:8 মোয়াবে শহরয়িম তাঁর দুই স্ত্রী হূশীম ও বারার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাঁর কয়েকটি ছেলের জন্ম হয়েছিল।
1CH 8:9 তাঁর স্ত্রী হোদশের মাধ্যমে তিনি যে ছেলেদের পেয়েছিলেন, তারা হলেন—যোবব, সিবিয়, মেশা, মল্কম,
1CH 8:10 যিয়ূশ, শখিয় ও মির্ম। এরাই তাঁর ছেলে, তথা তাদের পরিবারগুলির কর্তা।
1CH 8:11 হূশীমের মাধ্যমে তিনি অবীটূব ও ইল্পালকে পেয়েছিলেন।
1CH 8:12 ইল্পালের ছেলেরা: এবর, মিশিয়ম, শেমদ (যিনি চারপাশের গ্রাম সমেত ওনো ও লোদ নগর দুটি গেঁথে তুলেছিলেন),
1CH 8:13 এবং বরিয় ও শেমা, যারা অয়ালোনে বসবাসকারী পরিবারগুলির কর্তা ছিলেন এবং তারাই গাতের অধিবাসীদের তাড়িয়ে দিলেন।
1CH 8:14 অহিয়ো, শাশক, যিরেমোৎ,
1CH 8:15 সবদিয়, অরাদ, এদর,
1CH 8:16 মীখায়েল, যিশপা ও যোহ বরিয়ের ছেলে ছিলেন।
1CH 8:17 সবদিয়, মশুল্লম, হিষ্কি, হেবর,
1CH 8:18 যিশ্মরয়, যিষলিয় ও যোবব ইল্পালের ছেলে ছিলেন।
1CH 8:19 যাকীম, সিখ্রি, সব্দি,
1CH 8:20 ইলীয়ৈনয়, সিল্লথয়, ইলীয়েল,
1CH 8:21 অদায়া, বরায়া ও শিম্রৎ শিমিয়ির ছেলে ছিলেন।
1CH 8:22 যিশপন, এবর, ইলীয়েল,
1CH 8:23 অব্দোন, সিখ্রি, হানন,
1CH 8:24 হনানিয়, এলম, অন্তোথিয়,
1CH 8:25 যিফদিয় ও পনূয়েল শাশকের ছেলে ছিলেন।
1CH 8:26 শিম্‌শরয়, শহরিয়, অথলিয়,
1CH 8:27 যারিশিয়, এলিয় ও সিখ্রি যিরোহমের ছেলে ছিলেন।
1CH 8:28 এরা সবাই তাদের বংশতালিকায় নথিভুক্ত পরিবারগুলির কর্তা ও প্রধান ছিলেন এবং তাঁরা জেরুশালেমেই বসবাস করতেন।
1CH 8:29 গিবিয়োনের বাবা যিয়ীয়েল গিবিয়োনে বসবাস করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম মাখা,
1CH 8:30 এবং তাঁর বড়ো ছেলে অব্দোন, পরে জন্ম হল সূর, কীশ, বায়াল, নের, নাদব,
1CH 8:31 গদোর, অহিয়ো, সখর
1CH 8:32 এবং সেই মিক্লোতের, যিনি শিমিয়ির বাবা ছিলেন। তারাও জেরুশালেমে তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে বসবাস করতেন।
1CH 8:33 নের কীশের বাবা, কীশ শৌলের বাবা, ও শৌল যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্‌বায়ালের বাবা।
1CH 8:34 যোনাথনের ছেলে: মরীব্-বায়াল, যিনি মীখার বাবা।
1CH 8:35 মীখার ছেলেরা: পিথোন, মেলক, তরেয় ও আহস।
1CH 8:36 আহস যিহোয়াদার বাবা, যিহোয়াদা আলেমৎ, অসমাবৎ ও সিম্রির বাবা, এবং সিম্রি মোৎসার বাবা।
1CH 8:37 মোৎসা বিনিয়ার বাবা; বিনিয়ার ছেলে রফায়, তাঁর ছেলে ইলীয়াসা ও তাঁর ছেলে আৎসেল।
1CH 8:38 আৎসেলের ছয় ছেলে ছিল, এবং এই তাদের নাম: অস্রীকাম, বোখরূ, ইশ্মায়েল, শিয়রিয়, ওবদিয় ও হানান। এরা সবাই আৎসেলের ছেলে।
1CH 8:39 তাঁর ভাই এশকের ছেলেরা: তাঁর বড়ো ছেলে ঊলম, দ্বিতীয় ছেলে যিয়ূশ ও তৃতীয়জন এলীফেলট।
1CH 8:40 ঊলমের ছেলেরা এমন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন, যারা ধনুক ব্যবহার করতে পারতেন। তাদের প্রচুর সংখ্যায় ছেলে ও নাতি ছিল—মোট 150 জন। এরা সবাই বিন্যামীনের বংশধর।
1CH 9:1 ইস্রায়েল ও যিহূদার রাজাদের গ্রন্থের বংশতালিকায় সমস্ত ইস্রায়েল নথিভুক্ত হল। তাদের অবিশ্বস্ততার কারণেই তাদের বন্দি করে ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়া হল।
1CH 9:2 নিজেদের নগরে, তাদের নিজস্ব বিষয়সম্পত্তির উপর প্রথমে কিছু ইস্রায়েলী মানুষজন, যাজক, লেবীয় ও মন্দির-সেবকেরাই পুনর্বাসন পেয়েছিল।
1CH 9:3 যিহূদা থেকে, বিন্যামীন থেকে, এবং ইফ্রয়িম ও মনঃশি থেকে যারা জেরুশালেমে বসবাস করল, তারা হল:
1CH 9:4 যিহূদার ছেলে পেরসের এক বংশধর বানি, তাঁর ছেলে ইম্রি, তাঁর ছেলে অম্রি, তাঁর ছেলে অম্মীহূদ ও তাঁর ছেলে উথয়।
1CH 9:5 শীলোনীয়দের মধ্যে থেকে: বড়ো ছেলে অসায় ও তাঁর ছেলেরা।
1CH 9:6 সেরহীয়দের মধ্যে থেকে: যুয়েল। যিহূদা থেকে গণিত লোকসংখ্যা 690 জন।
1CH 9:7 বিন্যামীনীয়দের মধ্যে থেকে: মশুল্লমের ছেলে সল্লু, মশুল্লম হোদবিয়ের ছেলে, ও হোদবিয় হসনূয়ের ছেলে:
1CH 9:8 যিরোহমের ছেলে যিবনিয়; মিখ্রির নাতি ও উষির ছেলে এলা; এবং যিবনিয়ের প্রনাতি, রূয়েলের নাতি ও শফটিয়ের ছেলে মশুল্লম;
1CH 9:9 বিন্যামীনের বংশতালিকানুসারে নথিভুক্ত লোকজনের সংখ্যা 956 জন। এইসব লোকজন তাদের পরিবারগুলির কর্তা ছিলেন।
1CH 9:10 যাজকদের মধ্যে থেকে: যিদয়িয়; যিহোয়ারীব; যাখীন;
1CH 9:11 ঈশ্বরের গৃহের দেখাশোনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী সেই অসরিয়, যিনি হিল্কিয়ের ছেলে, হিল্কিয় মশুল্লমের ছেলে, মশুল্লম সাদোকের ছেলে, সাদোক মরায়োতের ছেলে ও মরায়োৎ অহীটূবের ছেলে ছিলেন;
1CH 9:12 যিরোহমের ছেলে অদায়া, যিরোহম পশ্‌হূরের ছেলে ও পশ্‌হূর মল্কিয়ের ছেলে ছিলেন; এবং অদীয়েলের ছেলে মাসয়, অদীয়েল যহসেরার ছেলে, যহসেরা মশুল্লমের ছেলে, মশুল্লম মশিল্লমীতের ছেলে ও মশিল্লমীত ইম্মেরের ছেলে ছিলেন।
1CH 9:13 যে যাজকেরা তাদের পরিবারগুলির কর্তা ছিলেন, তাদের সংখ্যা হল 1,760 জন। তারা এমন যোগ্য লোক ছিলেন, যারা ঈশ্বরের গৃহে সেবাকাজ করার পক্ষে দায়িত্বশীলও ছিলেন।
1CH 9:14 লেবীয়দের মধ্যে থেকে: হশূবের ছেলে শময়িয়, হশূব অস্রীকামের ছেলে ও অস্রীকাম মরারীয় হশবিয়ের ছেলে;
1CH 9:15 বকবক্কর, হেরশ, গালল এবং আসফের প্রনাতি, সিখ্রির নাতি ও মীখার ছেলে মত্তনিয়;
1CH 9:16 যিদূথূনের ছেলে গাললের নাতি ও শময়িয়ের ছেলে ওবদিয়; এবং ইল্‌কানার নাতি ও আসার ছেলে সেই বেরিখিয়, যিনি নটোফাতীয়দের গ্রামে বসবাস করতেন।
1CH 9:17 দ্বাররক্ষীরা: শল্লুম, অক্কূব, টল্‌মোন, অহীমান ও তাদের সহকর্মী লেবীয়েরা, যাদের দলপতি ছিলেন শল্লুম।
1CH 9:18 তারা আজও পর্যন্ত পূর্বদিকের রাজ-দ্বারে মোতায়েন আছেন। এরাই লেবীয় কুলের অন্তর্ভুক্ত দ্বাররক্ষী।
1CH 9:19 কোরহের ছেলে ইবীয়াসফের নাতি ও কোরির ছেলে শল্লুম, এবং তাঁর পরিবারভুক্ত (কোরহীয়) সহকর্মী দ্বাররক্ষীরা ঠিক সেভাবেই তাঁবুর প্রবেশদ্বার রক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন, যেভাবে তাদের পূর্বপুরুষেরা সদাপ্রভুর আবাসের প্রবেশদ্বার রক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
1CH 9:20 প্রাচীনকালে ইলিয়াসরের ছেলে পীনহসের উপর দ্বাররক্ষীদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব ছিল, এবং সদাপ্রভু তাঁর সাথে ছিলেন।
1CH 9:21 সমাগম তাঁবুর প্রবেশদ্বারে দ্বাররক্ষী হলেন মশেলেমিয়ের ছেলে সখরিয়।
1CH 9:22 প্রবেশদ্বারে যাদের দ্বাররক্ষী হওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হল, তাদের সংখ্যা ছিল মোট 212 জন। তাদের গ্রামগুলিতে তারা বংশতালিকানুসারে নথিভুক্ত হলেন। দাউদ ও ভবিষ্যদ্‌বক্তা শমূয়েল তাদের আস্থাভাজন পদে নিযুক্ত করলেন।
1CH 9:23 তারা ও তাদের বংশধরেরা সদাপ্রভুর সেই গৃহের দ্বার রক্ষার দায়িত্ব পেয়েছিলেন—যে গৃহটি সমাগম তাঁবু নামেও পরিচিত।
1CH 9:24 দ্বাররক্ষীরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ—এই চারদিকে থাকতেন।
1CH 9:25 গ্রামগুলিতে বসবাসকারী তাদের সহকর্মী লেবীয়রাও মাঝেমধ্যে এসে সাত দিনের জন্য তাদের কাজে সাহায্য করে যেতেন।
1CH 9:26 কিন্তু সেই চারজন প্রধান দ্বাররক্ষীকে ঈশ্বরের গৃহের সব ঘর ও ধনসম্পদ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হল, যারা ছিলেন লেবীয়।
1CH 9:27 ঈশ্বরের গৃহের চারপাশে মোতায়েন থেকে তারা রাত কাটাতেন, কারণ তাদের সেটি পাহারা দিতে হত; এবং প্রত্যেকদিন সকালে সেটি খোলার জন্য তাদের চাবি রাখার দায়িত্বও দেওয়া হল।
1CH 9:28 তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মন্দিরের সেবাকাজে ব্যবহারের উপযোগী জিনিসপত্র দেখাশোনার দায়িত্বও দেওয়া হল; সেগুলি আনার ও নিয়ে যাওয়ার সময় তারা সেগুলি গুনে রাখতেন।
1CH 9:29 অন্য কয়েকজনকে আসবাবপত্রাদি ও পবিত্রস্থানের অন্যান্য সব জিনিসপত্র, তথা বিশেষ বিশেষ ময়দা ও দ্রাক্ষারস, এবং জলপাই তেল, ধূপধুনো ও মশলাপাতির যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল।
1CH 9:30 কিন্তু যাজকদের মধ্যে কয়েকজন মশলাপাতি মিশ্রিত করার দায়িত্ব পালন করতেন।
1CH 9:31 কোরহীয় শল্লুমের বড়ো ছেলে মত্তথিয় বলে একজন লেবীয়কে দর্শন-রুটি সেঁকার দায়িত্ব দেওয়া হল।
1CH 9:32 তাদের সহকর্মী লেবীয়দের মধ্যে কয়েকজন কহাতীয়ের উপর দায়িত্ব বর্তে ছিল, যেন তারা প্রত্যেক সাব্বাথবারে টেবিলের উপর রুটি সাজিয়ে রাখেন।
1CH 9:33 লেবীয় কুলের যে কর্তারা গানবাজনা করতেন, তারা মন্দিরের ঘরগুলিতেই থেকে যেতেন ও তাদের অন্যান্য কাজকর্ম করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল, কারণ দিনরাত তাদের নিজেদের কাজেই ব্যস্ত থাকতে হত।
1CH 9:34 এরা সবাই তাদের বংশতালিকায় নথিভুক্ত লেবীয় কুলের কর্তা ও প্রধান, এবং তারা জেরুশালেমে বসবাস করতেন।
1CH 9:35 গিবিয়োনের বাবা যিয়ীয়েল গিবিয়োনে বসবাস করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম মাখা,
1CH 9:36 ও তাঁর বড়ো ছেলে অব্দোন, পরে জন্মেছিলেন সূর, কীশ, বায়াল, নের, নাদব,
1CH 9:37 গদোর, অহিয়ো, সখরিয় ও মিক্লোৎ।
1CH 9:38 মিক্লোৎ শিমিয়ামের বাবা ছিলেন। তারাও জেরুশালেমে তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে বসবাস করতেন।
1CH 9:39 নের কীশের বাবা, কীশ শৌলের বাবা, ও শৌল যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্‌বায়ালের বাবা।
1CH 9:40 যোনাথনের ছেলে: মরীব্-বায়াল, যিনি মীখার বাবা।
1CH 9:41 মীখার ছেলেরা: পিথোন, মেলক, তহরেয় ও আহস।
1CH 9:42 আহস যাদের বাবা, যাদ আলেমৎ, অসমাবৎ ও সিম্রির বাবা এবং সিম্রি মোৎসার বাবা।
1CH 9:43 মোৎসা বিনিয়ার বাবা; বিনিয়ার ছেলে রফায়, তাঁর ছেলে ইলীয়াসা ও তাঁর ছেলে আৎসেল।
1CH 9:44 আৎসেলের ছয় ছেলে ছিল, ও এই তাদের নাম: অস্রীকাম, বোখরূ, ইশ্মায়েল, শিয়রিয়, ওবদিয় ও হানান। এরা সবাই আৎসেলের ছেলে।
1CH 10:1 ইত্যবসরে ফিলিস্তিনীরা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল; ইস্রায়েলীরা তাদের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, ও অনেকেই গিলবোয় পর্বতে মারা পড়েছিল।
1CH 10:2 ফিলিস্তিনীরা বীর-বিক্রমে শৌল ও তাঁর ছেলেদের পিছু ধাওয়া করল, এবং তারা তাঁর ছেলে যোনাথন, অবীনাদব ও মল্কীশূয়কে হত্যা করল।
1CH 10:3 শৌলের চারপাশে যুদ্ধ চরম আকার নিয়েছিল, এবং তীরন্দাজেরা আচমকা তাঁর কাছে এসে তাঁকে আহত করে ফেলেছিল।
1CH 10:4 শৌল তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিকে বললেন, “তোমার তরোয়াল টেনে বের করে, সেটি দিয়ে আমাকে ছিন্নভিন্ন করে দাও, তা না হলে সুন্নত না করা এইসব লোকজন এসে আমাকে অপমানিত করবে।” কিন্তু তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটি ভয় পেয়ে গেল ও সে কাজটি সে করতে চায়নি; তাই শৌল নিজের তরোয়ালটি বের করে সেটির উপর নিজেই পড়ে গেলেন।
1CH 10:5 সেই অস্ত্র বহনকারী লোকটি যখন দেখল যে শৌল মারা গিয়েছেন, তখন সেও নিজের তরোয়ালের উপর পড়ে মারা গেল।
1CH 10:6 অতএব শৌল ও তাঁর তিন ছেলে মারা গেলেন, এবং তাঁর পুরো পরিবার-পরিজন একসাথে মারা পড়েছিল।
1CH 10:7 উপত্যকায় বসবাসকারী ইস্রায়েলীরা সবাই যখন দেখেছিল যে সৈন্যদল পালিয়েছে এবং শৌল ও তাঁর ছেলেরা মারা গিয়েছেন, তখন তারাও নিজেদের নগরগুলি ছেড়ে পালিয়ে গেল। ফিলিস্তিনীরা এসে তখন সেই নগরগুলি দখল করল।
1CH 10:8 পরদিন ফিলিস্তিনীরা যখন মৃতদেহগুলি থেকে সাজসজ্জা খুলে নিতে এসেছিল, তারা শৌল ও তাঁর ছেলেদের গিলবোয় পর্বতে মরে পড়ে থাকতে দেখেছিল।
1CH 10:9 তারা তাঁর সাজসজ্জা খুলে নিয়েছিল ও তাঁর মুণ্ডু ও অস্ত্রশস্ত্র হাতিয়ে নিয়েছিল, এবং ফিলিস্তিনীদের গোটা দেশে তাদের দেবদেবীর প্রতিমাদের ও তাদের প্রজাদের মাঝে সেই খবর ঘোষণা করার জন্য দূতদের পাঠিয়ে দিয়েছিল।
1CH 10:10 তারা তাঁর অস্ত্রশস্ত্র তাদের দেবতাদের মন্দিরে রেখেছিল এবং তাঁর মাথাটি দাগোনের মন্দিরে ঝুলিয়ে রেখেছিল।
1CH 10:11 ফিলিস্তিনীরা শৌলের প্রতি কী করেছে, তা যখন যাবেশ-গিলিয়দের লোকজন শুনতে পেয়েছিল,
1CH 10:12 তখন তাদের সব অসমসাহসী লোকজন গিয়ে শৌল ও তাঁর ছেলেদের শবদেহগুলি যাবেশে তুলে এনেছিল। পরে তারা তাদের অস্থি যাবেশে বিশাল সেই গাছটির তলায় কবর দিয়েছিল, ও সাত দিন তারা উপবাস রেখেছিল।
1CH 10:13 শৌল মারা গেলেন কারণ তিনি সদাপ্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ত হলেন; তিনি সদাপ্রভুর বাক্য পালন করেননি এবং এমনকি পরিচালনা লাভের জন্য এক প্রেতমাধ্যমেরও সাহায্য নিয়েছিলেন,
1CH 10:14 এবং সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নেননি। তাই সদাপ্রভু তাঁর মৃত্যু ঘটিয়েছিলেন এবং রাজ্যের ভার তাঁর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যিশয়ের ছেলে দাউদের হাতে তুলে দিলেন।
1CH 11:1 ইস্রায়েলীরা সবাই একসাথে হিব্রোণে দাউদের কাছে এসে বলল, “আমরা আপনার রক্ত-সম্পর্কের আত্মীয়।
1CH 11:2 অতীতে, এমনকি শৌল যখন রাজা ছিলেন, আপনিই তো ইস্রায়েলের সামরিক অভিযানে তাদের নেতৃত্ব দিতেন। আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুও আপনাকে বললেন, ‘তুমি আমার প্রজা ইস্রায়েলের পালক হবে, ও তুমিই তাদের শাসক হবে।’ ”
1CH 11:3 ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা সবাই যখন হিব্রোণে রাজা দাউদের কাছে এলেন, তিনি তখন সদাপ্রভুকে সাক্ষী রেখে হিব্রোণে তাদের সাথে একটি চুক্তি করলেন, এবং শমূয়েলের মাধ্যমে সদাপ্রভুর করা প্রতিজ্ঞানুসারে তারা দাউদকে ইস্রায়েলের উপর রাজারূপে অভিষিক্ত করলেন।
1CH 11:4 দাউদ ও ইস্রায়েলীরা সবাই জেরুশালেমের (অর্থাৎ, যিবূষের) দিকে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন। সেখানে বসবাসকারী যিবূষীয়েরা
1CH 11:5 দাউদকে বলল, “তুমি এখানে ঢুকতে পারবে না।” তা সত্ত্বেও, দাউদ সিয়োনের দুর্গটি দখল করে নিয়েছিলেন—যা হল কি না সেই দাউদ-নগর।
1CH 11:6 দাউদ বললেন, “যে কেউ যিবূষীয়দের বিরুদ্ধে আক্রমণে নেতৃত্ব দেবে, তাকে প্রধান সেনাপতি করা হবে।” সরূয়ার ছেলে যোয়াবই প্রথমে উঠে গেলেন, আর তাই তিনিই প্রধান সেনাপতি হলেন।
1CH 11:7 দাউদ পরে সেই দুর্গে বসবাস করতে শুরু করলেন, আর তাই সেটি দাউদ-নগর নামে পরিচিত হল।
1CH 11:8 দুর্গটি মাঝখানে রেখে তিনি মণ্ডপ থেকে শুরু করে চারপাশে প্রাচীর গড়ে দিয়ে নগরটি গেঁথে তুলেছিলেন, অন্যদিকে যোয়াব নগরের বাদবাকি অংশ মেরামত করলেন।
1CH 11:9 আর দাউদ উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
1CH 11:10 এরাই দাউদের বলবান যোদ্ধাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন—তারা ইস্রায়েলের সব মানুষজনকে সাথে নিয়ে সদাপ্রভুর করা প্রতিজ্ঞানুসারে গোটা দেশের উপর তাঁর রাজপদ সুস্থির করার জন্য সাহায্যের মজবুত হাত বাড়িয়ে দিলেন—
1CH 11:11 দাউদের বলবান যোদ্ধাদের তালিকাটি এইরকম: হকমোনীয়দের মধ্যে একজন, সেই যাশবিয়াম ছিলেন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধান; তিনি সেই তিনশো জনের বিরুদ্ধে তাঁর বর্শা উঠিয়েছিলেন, যাদের তিনি সম্মুখসমরে একবারেই হত্যা করলেন।
1CH 11:12 তাঁর পরের জন ছিলেন তিনজন বলবান যোদ্ধাদের মধ্যে একজন, অহোহীয় দোদয়ের ছেলে সেই ইলিয়াসর।
1CH 11:13 ফিলিস্তিনীরা যখন পস-দম্মীমে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হল, তখন তিনি দাউদের সাথে সেখানেই ছিলেন। সেটি সেই স্থান, যেখানে যবে পরিপূর্ণ একটি ক্ষেত ছিল, এবং সৈন্যদল ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে পালিয়ে গেল।
1CH 11:14 কিন্তু তারা সেই ক্ষেতের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা সেটি রক্ষা করলেন ও ফিলিস্তিনীদের আঘাত করলেন, এবং সদাপ্রভু এক মহাবিজয় সম্পন্ন করলেন।
1CH 11:15 একদল ফিলিস্তিনী যখন রফায়ীম উপত্যকায় শিবির করে বসেছিল তখন ত্রিশজন প্রধানের মধ্যে তিনজন অদুল্লম গুহায় অবস্থিত সেই শিলাপাথরের কাছাকাছি থাকা দাউদের কাছে নেমে এলেন।
1CH 11:16 সেই সময় দাউদ দুর্গের মধ্যেই ছিলেন, এবং দুর্গ রক্ষার জন্য মোতায়েন ফিলিস্তিনী সৈন্যদল বেথলেহেমে অবস্থান করছিল।
1CH 11:17 দাউদ তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বলে উঠেছিলেন, “হায়, কেউ যদি আমার জন্য বেথলেহেমের ফটকের কাছে অবস্থিত সেই কুয়ো থেকে একটু জল এনে দিত!”
1CH 11:18 অতএব সেই তিনজন ফিলিস্তিনী সৈন্যশিবির পার করে বেথলেহেমের সিংহদুয়ারের কাছে অবস্থিত কুয়ো থেকে জল তুলে দাউদের কাছে নিয়ে এলেন। কিন্তু তিনি তা পান করতে চাননি; তা না করে, তিনি সেই জল সদাপ্রভুর উদ্দেশে ঢেলে দিলেন।
1CH 11:19 “ঈশ্বর যেন আমাকে এরকম করা থেকে বিরত রাখেন!” তিনি বললেন। “যারা তাদের জীবন বিপন্ন করে সেখানে গেল, আমি কি তাদের রক্ত পান করব?” যেহেতু তারা সেই জল আনার জন্য তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তাই দাউদ তা পান করতে চাননি। সেই তিনজন বলবান যোদ্ধা এরকমই সব উজ্জ্বল কীর্তি স্থাপন করে গেলেন।
1CH 11:20 যোয়াবের ভাই অবীশয় সেই তিনজনের মধ্যে প্রধান ছিলেন। তিনি তিনশো জন লোকের বিরুদ্ধে বর্শা উঠিয়ে তাদের হত্যা করলেন, এবং এভাবেই সেই তিনজনের মতো বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
1CH 11:21 তিনি সেই তিনজনকে ছাপিয়ে দ্বিগুণ সমাদরের পাত্র হলেন এবং সেই তিনজনের মধ্যে গণ্য না হয়েও তিনি তাদের সেনাপতি হয়ে গেলেন।
1CH 11:22 কব্‌সীলের এক বীর যোদ্ধা, তথা যিহোয়াদার ছেলে বনায় বিশাল সব উজ্জ্বল কীর্তি স্থাপন করলেন। তিনি মোয়াবের অত্যন্ত বলশালী দুই যোদ্ধাকে মেরে ফেলেছিলেন। এছাড়াও একদিন যখন খুব তুষারপাত হচ্ছিল, তখন তিনি একটি গর্তের মধ্যে নেমে গিয়ে একটি সিংহকে মেরে ফেলেছিলেন।
1CH 11:23 এছাড়াও তিনি এমন এক মিশরীয়কে মেরে ফেলেছিলেন, যে উচ্চতায় 2.3 মিটার লম্বা ছিল। যদিও সেই মিশরীয়র হাতে তাঁতির দণ্ডের মতো একটি বর্শা ছিল, তবু বনায় একটি মুগুর হাতে নিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি সেই মিশরীয়ের হাত থেকে বর্শাটি কেড়ে নিয়ে তার বর্শা দিয়েই তাকে হত্যা করলেন।
1CH 11:24 যিহোয়াদার ছেলে বনায়ের উজ্জ্বল সব কীর্তি এরকমই ছিল; তিনিও সেই তিনজন বলবান যোদ্ধার মতোই বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
1CH 11:25 সেই ত্রিশজনের মধ্যে যে কোনো একজনের তুলনায় তাঁকেই বেশি সম্মান দেওয়া হত, কিন্তু তিনি সেই তিনজনের মধ্যে গণ্য হননি। আর দাউদ তাঁকে তাঁর দেহরক্ষীদের তত্ত্বাবধায়ক করে দিলেন।
1CH 11:26 বলবান যোদ্ধারা হলেন: যোয়াবের ভাই অসাহেল, বেথলেহেমের অধিবাসী দোদয়ের ছেলে ইলহানন,
1CH 11:27 হরোরীয় শম্মোৎ, পলোনীয় হেলস,
1CH 11:28 তকোয়ের অধিবাসী ইক্কেশের ছেলে ঈরা, অনাথোতের অধিবাসী অবীয়েষর,
1CH 11:29 হূশাতীয় সিব্বখয়, অহোহীয় ঈলয়,
1CH 11:30 নটোফাতীয় মহরয়, নটোফাতীয় বানার ছেলে হেলদ,
1CH 11:31 বিন্যামীনের গিবিয়ার অধিবাসী রীবয়ের ছেলে ইথয়, পিরিয়াথোনীয় বনায়,
1CH 11:32 গাশের সরু গিরিখাতের অধিবাসী হূরয়, অর্বতীয় অবীয়েল,
1CH 11:33 বাহরূমীয় অস্‌মাবৎ, শালবোনীয় ইলিয়হবা,
1CH 11:34 গিষোণীয় হাষেমের ছেলেরা, হরারীয় সাগির ছেলে যোনাথন,
1CH 11:35 হরারীয় সাখরের ছেলে অহীয়াম, ঊরের ছেলে ইলীফাল,
1CH 11:36 মখেরাতীয় হেফর, পলোনীয় অহিয়,
1CH 11:37 কর্মিলীয় হিষ্রো, ইষবোয়ের ছেলে নারয়,
1CH 11:38 নাথনের ভাই যোয়েল, হগ্রির ছেলে মিভর,
1CH 11:39 অম্মোনীয় সেলক, সরূয়ার ছেলে যোয়াবের অস্ত্র বহনকারী বেরোতীয় নহরয়,
1CH 11:40 যিত্রীয় ঈরা, যিত্রীয় গারেব,
1CH 11:41 হিত্তীয় ঊরিয়, অহলয়ের ছেলে সাবদ,
1CH 11:42 রূবেণীয় শীষার ছেলে সেই অদীনা, যিনি রূবেণীয়দের একজন প্রধান ছিলেন, এবং তাঁর সাথে ছিলেন সেই ত্রিশজন,
1CH 11:43 মাখার ছেলে হানান, মিত্নীয় যোশাফট,
1CH 11:44 অষ্টরোতীয় উষিয়, অরোয়েরীয় হোথমের দুই ছেলে শাম ও যিয়ীয়েল,
1CH 11:45 সিম্রির ছেলে যিদীয়েল, তাঁর ভাই তীষীয় যোহা,
1CH 11:46 মহবীয় ইলীয়েল, ইলনামের দুই ছেলে যিরীবয় ও যোশবিয়, মোয়াবীয় যিৎমা,
1CH 11:47 ইলীয়েল, ওবেদ ও মসোবায়ীয় যাসীয়েল।
1CH 12:1 দাউদকে যখন কীশের ছেলে শৌলের কাছ থেকে দূর করে দেওয়া হল, তখন এই লোকেরাই সিক্লগে দাউদের কাছে এলেন: (তারা সেইসব যোদ্ধার মধ্যেই ছিলেন, যারা যুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করলেন;
1CH 12:2 তারা ধনুকে সুসজ্জিত ছিলেন এবং কি ডান হাতে কি বাঁ, দুই হাতেই তারা তির ছুঁড়তে বা গুলতির সাহায্যে পাথর ছুঁড়তে পারতেন; তারা বিন্যামীন বংশীয় শৌলের আত্মীয়স্বজন ছিলেন):
1CH 12:3 তাদের প্রধান ছিলেন অহীয়েষর এবং তাঁর ছোটো ভাই ছিলেন যোয়াশ এবং তারা দুজন গিবিয়াতীয় শমায়ের ছেলে; অসমাবতের ছেলে যিষীয়েল ও পেলট; বরাখা, অনাথোতীয় যেহূ,
1CH 12:4 সেই ত্রিশজনের মধ্যে গণ্য এক বলবান যোদ্ধা গিবিয়োনীয় সেই যিশ্ময়িয়, যিনি সেই ত্রিশজনের মধ্যে একজন নেতা ছিলেন; যিরমিয়, যহসীয়েল, যোহানন, গদেরথীয় যোষাবদ,
1CH 12:5 ইলিয়ূষয়, যিরীমোৎ, বালিয়, শমরিয় ও হরূফীয় শফটিয়;
1CH 12:6 কোরহীয় ইল্‌কানা, যিশিয়, অসরেল, যোয়েষর ও যাশবিয়াম;
1CH 12:7 এবং গদোরের অধিবাসী যিরোহমের ছেলে যোয়েলা ও সবদিয়।
1CH 12:8 গাদীয়দের মধ্যে কয়েকজন দলবদল করে মরুপ্রান্তরের দুর্গে অবস্থানকারী দাউদের কাছে চলে গেলেন। তারা এমন সব বীর যোদ্ধা, যারা যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং তারা ঢাল ও বর্শাও চালাতে জানতেন। সিংহের মুখের মতো ছিল তাদের মুখমণ্ডল, ও তারা পাহাড়ি গজলা হরিণের মতো দ্রুতগামী ছিলেন।
1CH 12:9 পদমর্যাদায় প্রধান ছিলেন এষর, ক্রমানুসারে দ্বিতীয় ছিলেন ওবদিয়, তৃতীয় ইলীয়াব,
1CH 12:10 চতুর্থ মিশ্মন্না, পঞ্চম যিরমিয়,
1CH 12:11 ষষ্ঠ অত্তয়, সপ্তম ইলীয়েল,
1CH 12:12 অষ্টম যোহানন, নবম ইলসাবাদ,
1CH 12:13 দশম যিরমিয় ও একাদশ মগবন্নয়।
1CH 12:14 এই গাদীয়রা সৈন্যদলের সেনাপতি ছিলেন; যিনি সবচেয়ে ছোটো, তিনি একশো জনের সমকক্ষ ছিলেন, এবং যিনি সবচেয়ে বড়ো, তিনি এক হাজার জনের সমকক্ষ ছিলেন।
1CH 12:15 এরাই সেই প্রথম মাসে জর্ডন নদী পার করে গেলেন, যখন নদীর দুই কুলে জল উপচে পড়েছিল, এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমদিক পর্যন্ত সেই উপত্যকায় বসবাসকারী প্রত্যেককে তারা তাড়িয়ে ছেড়েছিলেন।
1CH 12:16 অন্যান্য বিন্যামীনীয়েরা ও যিহূদা থেকে আগত কয়েকজন লোকও দাউদের দুর্গে তাঁর কাছে এসেছিল।
1CH 12:17 দাউদ তাদের সাথে দেখা করার জন্য বাইরে বেরিয়ে গিয়ে তাদের বললেন, “তোমরা যদি আমায় সাহায্য করার জন্য শান্তিপূর্বক আমার কাছে এসে থাকো, তবে আমি তোমাদের আমার কাছে রাখতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমার হাত হিংসাশ্রয়িতা থেকে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও যদি তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাকে শত্রুদের হাতে সমর্পণ করার জন্য এসে থাকো, তবে আমার পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরই যেন তা দেখেন ও তোমাদের বিচার করলেন।”
1CH 12:18 তখন সেই ত্রিশজনের প্রধান অমাসয়ের উপর ঈশ্বরের আত্মা নেমে এলেন, এবং তিনি বলে উঠলেন: “হে দাউদ, আমরা আপনারই লোক! হে যিশয়ের ছেলে, আমরা আপনার সাথেই আছি! মঙ্গল হোক, আপনার মঙ্গল হোক, আর যারা আপনাকে সাহায্য করে, তাদেরও মঙ্গল হোক, কারণ আপনার ঈশ্বরই আপনাকে সাহায্য করবেন।” অতএব দাউদ তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে তাদের তাঁর আক্রমণকারী দলের নেতা করে দিলেন।
1CH 12:19 দাউদ যখন ফিলিস্তিনীদের দলে যোগ দিয়ে শৌলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন, তখন মনঃশি বংশের কয়েকজন লোকও দলবদল করে তাঁর কাছে চলে এসেছিল। (তিনি ও তাঁর লোকজন ফিলিস্তিনীদের সাহায্য করেননি, কারণ শলাপরামর্শ করার পর, তাদের শাসনকর্তারা তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। তারা বললেন, “এ যদি আমাদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার মনিব শৌলের সাথে মিলে যায়, তবে নিজেদের মুণ্ডু দিয়েই আমাদের এর দাম চোকাতে হবে”)
1CH 12:20 দাউদ যখন সিক্লগে গেলেন, তখন মনঃশি বংশীয় এইসব লোকই দলবদল করে তাঁর কাছে গেলেন: অদন, যোষাবদ, যিদীয়েল, মীখায়েল, যোষাবদ, ইলীহূ ও সিল্লথয়, যারা ছিলেন মনঃশির এক একজন সহস্র-সেনাপতি।
1CH 12:21 আক্রমণকারী দলগুলির বিরুদ্ধে তারাই দাউদকে সাহায্য করলেন, কারণ তারা সবাই ছিলেন সাহসী যোদ্ধা, এবং তারা তাঁর সৈন্যদলে সেনাপতি হলেন।
1CH 12:22 যতদিন না পর্যন্ত দাউদের সৈন্যদল ঈশ্বরের সৈন্যদলের মতো বিশাল এক সৈন্যদলে পরিণত হল, লোকেরা দিনের পর দিন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল।
1CH 12:23 সদাপ্রভুর বলা কথানুসারে শৌলের রাজ্য দাউদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যারা হিব্রোণে তাঁর কাছে এসেছিল, যুদ্ধের জন্য অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত সেই লোকজনের সংখ্যা এইরকম:
1CH 12:24 যিহূদা বংশ থেকে, ঢাল ও বর্শাধারী—যুদ্ধের জন্য অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত 6,800 জন;
1CH 12:25 শিমিয়োন বংশ থেকে, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত যোদ্ধা: 7,100 জন;
1CH 12:26 লেবীয় গোষ্ঠী থেকে: 4,600 জন;
1CH 12:27 যাদের মধ্যে ছিলেন হারোণ-কুলের নেতা যিহোয়াদা, ও তাঁর সাথে থাকা 3,700 জন,
1CH 12:28 এবং সাদোক বলে এক সাহসী অল্পবয়স্ক যোদ্ধা, ও তাঁর সাথে থাকা তাঁর পরিবারভুক্ত বাইশ জন কর্মকর্তা;
1CH 12:29 শৌলের বংশ, সেই বিন্যামীন বংশ থেকে: 3,000 জন, যে বংশের অধিকাংশ লোক তখনও পর্যন্ত শৌলের পরিবারের প্রতি অনুগতই থেকে গেল;
1CH 12:30 ইফ্রয়িম বংশ থেকে, সেইসব সাহসী যোদ্ধা, যারা তাদের বংশে বিখ্যাত ছিল: 20,800 জন;
1CH 12:31 মনঃশির অর্ধেক বংশ থেকে, দাউদকে রাজা করার জন্য যাদের নাম নির্দিষ্ট করে আসতে বলা হল, তারা: 18,000 জন;
1CH 12:32 ইষাখর বংশ থেকে, সেইসব লোক, যাদের সময়কালের জ্ঞান ছিল ও যারা জানত ইস্রায়েলকে ঠিক কী করতে হবে, তারা: 200 জন প্রধান, ও তাদের অধীনে থাকা তাদের সব আত্মীয়স্বজন;
1CH 12:33 সবূলূন বংশ থেকে, সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অভিজ্ঞ যোদ্ধা, যারা অখণ্ড আনুগত্য সমেত দাউদকে সাহায্য করতে পারতেন, এমন: 50,000 জন;
1CH 12:34 নপ্তালি বংশ থেকে: 1,000 জন কর্মকর্তা, ও তাদের সাথে থাকা 37,000 জন ঢাল ও বর্শা বহনকারী লোক;
1CH 12:35 দান বংশ থেকে, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: 28,600 জন;
1CH 12:36 আশের বংশ থেকে, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অভিজ্ঞ সৈন্য: 40,000 জন;
1CH 12:37 এবং জর্ডন নদীর পূর্বদিক থেকে, অর্থাৎ রূবেণ ও গাদের পূর্ণ ও মনঃশির অর্ধেক বংশ থেকে, সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত লোক: 1,20,000 জন।
1CH 12:38 এরা সবাই এমন সব দক্ষ যোদ্ধা, যারা স্বেচ্ছায় সৈন্যদলে নাম লিখিয়েছিল। দাউদকে গোটা ইস্রায়েলের উপর রাজা করার বিষয়ে পুরোপুরি মনস্থির করেই তারা হিব্রোণে এসেছিল। ইস্রায়েলীদের মধ্যে অবশিষ্ট লোকজনও দাউদকে রাজা করার বিষয়ে একমত হল।
1CH 12:39 এইসব লোকজন তিন দিন দাউদের সঙ্গে থেকে ভোজনপান করল, কারণ তাদের পরিবারগুলিই তাদের জন্য ভোজনপানের আয়োজন করল।
1CH 12:40 এছাড়াও, সুদূর সেই ইষাখর, সবূলূন ও নপ্তালি থেকে তাদের প্রতিবেশীরাও গাধা, উট, খচ্চর ও বলদের পিঠে চাপিয়ে খাদ্যসম্ভার এনেছিল। সেখানে ময়দা, ডুমুরের চাক, কিশমিশের চাক, দ্রাক্ষারস, জলপাই তেল, গবাদি পশু ও মেষের পালের যথেচ্ছ জোগান ছিল, কারণ ইস্রায়েলে আনন্দের হাট বসেছিল।
1CH 13:1 দাউদ তাঁর কর্মকর্তা, সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতিদের মধ্যে এক একজনের সাথে শলাপরামর্শ করলেন।
1CH 13:2 পরে তিনি ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাবেশকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “যদি তোমাদের ভালো বোধ হয় ও যদি তা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ইচ্ছা হয়, তবে এসো, আমরা দূর দূর পর্যন্ত ইস্রায়েলের সমস্ত এলাকায় বসবাসকারী আমাদের অবশিষ্ট লোকজনের কাছে, এবং তাদের নগরগুলিতে ও সেখানকার চারণক্ষেত্রগুলিতে যারা তাদের সাথে আছেন, সেই যাজক ও লেবীয়দের কাছে খবর পাঠিয়ে দিই, যেন তারা এসে আমাদের সাথে মিলিত হন।
1CH 13:3 এসো, আমাদের ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনি, কারণ শৌলের রাজত্বকালে আমরা সেটির কোনও খোঁজখবর নিইনি।”
1CH 13:4 সমগ্র জনসমাবেশ এতে একমত হল, কারণ সব লোকজনের কাছে একথাটি ঠিক বলে মনে হল।
1CH 13:5 অতএব দাউদ কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি আনার জন্য মিশরে অবস্থিত সীহোর নদী থেকে শুরু করে লেবো-হমাৎ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসবাসকারী ইস্রায়েলীদের সবাইকে একত্রিত করলেন।
1CH 13:6 দাউদ ও ইস্রায়েলীরা সবাই যিহূদা দেশের বালা (কিরিয়ৎ-যিয়ারীম) থেকে দুই করূবের মাঝে বিরাজমান সদাপ্রভু ঈশ্বরের সেই নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসার জন্য সেখানে গেলেন—যে সিন্দুকটি তাঁরই নামে পরিচিত।
1CH 13:7 তারা ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি একটি নতুন গাড়িতে চাপিয়ে অবীনাদবের বাড়ি থেকে বের করলেন, এবং উষ ও অহিয়ো গাড়িটি চালাচ্ছিল।
1CH 13:8 গান গেয়ে এবং বীণা, খঞ্জনি, তবলা, সুরবাহার ও করতাল বাজিয়ে দাউদ ও ইস্রায়েলীরা সবাই সর্বশক্তি দিয়ে ঈশ্বরের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন।
1CH 13:9 তারা যখন কীদোনের খামারে গিয়ে পৌঁছেছিলেন, তখন নিয়ম-সিন্দুকটি সামলানোর জন্য উষ নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, কারণ বলদগুলি হোঁচট খেয়েছিল।
1CH 13:10 উষের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু ক্রোধে জ্বলে উঠেছিলেন, এবং তিনি তাকে মেরে ফেলেছিলেন, যেহেতু সে সেই নিয়ম-সিন্দুকে হাত দিয়েছিল। অতএব সে সদাপ্রভুর সামনে মারা গেল।
1CH 13:11 সদাপ্রভুর ক্রোধ উষের উপর ফেটে পড়তে দেখে দাউদ তখন ক্রুদ্ধ হলেন, এবং আজও পর্যন্ত সেই স্থানটিকে পেরস-উষ বলে ডাকা হয়।
1CH 13:12 সেদিন দাউদ সদাপ্রভুর ভয়ে ভীত হয়ে প্রশ্ন করলেন, “কীভাবে তবে আমি ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটিকে আমার কাছে নিয়ে আসব?”
1CH 13:13 নিয়ম-সিন্দুকটিকে তিনি দাউদ-নগরে, নিজের কাছে নিয়ে আসেননি। তার পরিবর্তে তিনি সেটি গাতীয় ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন।
1CH 13:14 ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে, তার পরিবারের কাছেই নিয়ম-সিন্দুকটি তিন মাস ধরে রাখা ছিল, এবং সদাপ্রভু তার পরিবারকে ও তার যা যা ছিল, সবকিছুকে আশীর্বাদ করলেন।
1CH 14:1 ইত্যবসরে সোরের রাজা হীরম দাউদের জন্য একটি রাজপ্রাসাদ তৈরি করার লক্ষ্যে দেবদারু কাঠের গুঁড়ি, পাথর-মিস্ত্রি ও ছুতোরমিস্ত্রি সমেত কয়েকজন দূতকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
1CH 14:2 আর দাউদ বুঝতে পেরেছিলেন যে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের উপর তাঁর রাজপদ স্থির করেছেন এবং তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের জন্য তাঁর রাজ্য যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।
1CH 14:3 জেরুশালেমে গিয়ে দাউদ আরও কয়েকজন মহিলাকে বিয়ে করলেন ও আরও অনেক ছেলেমেয়ের বাবা হলেন।
1CH 14:4 সেখানে তাঁর যেসব সন্তানের জন্ম হল, তাদের নাম হল: শম্মূয়, শোবব, নাথন, শলোমন,
1CH 14:5 যিভর, ইলীশূয়, এলফেলেট,
1CH 14:6 নোগহ, নেফগ, যাফিয়,
1CH 14:7 ইলীশামা, বীলিয়াদা ও ইলীফেলট।
1CH 14:8 ফিলিস্তিনীরা যখন শুনতে পেয়েছিল দাউদ সমস্ত ইস্রায়েলের উপর রাজারূপে অভিষিক্ত হয়েছেন, তখন সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তারা তাঁকে খুঁজতে শুরু করল, কিন্তু দাউদ সেকথা শুনে তাদের সম্মুখীন হওয়ার জন্য ছুটে গেলেন।
1CH 14:9 ইত্যবসরে ফিলিস্তিনীরা এসে রফায়ীম উপত্যকায় হানা দিয়েছিল;
1CH 14:10 তাই দাউদ ঈশ্বরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন: “আমি কি গিয়ে ফিলিস্তিনীদের আক্রমণ করব? তুমি কি আমার হাতে তাদের সমর্পণ করবে?” সদাপ্রভু তাঁকে উত্তর দিলেন, “যাও, তাদের আমি তোমার হাতে সমর্পণ করব।”
1CH 14:11 তখন দাউদ ও তাঁর লোকজন বায়াল-পরাসীমে উঠে গেলেন, ও সেখানে তিনি তাদের পরাজিত করলেন। তিনি বললেন, “জল যেভাবে বাঁধ ভেঙে বের হয়ে আসে, ঈশ্বরও সেভাবে আমার হাত দিয়ে আমার শত্রুদের ভেঙে দিয়েছেন।” তাই সেই স্থানটির নাম দেওয়া হল বায়াল-পরাসীম।
1CH 14:12 ফিলিস্তিনীরা সেখানে তাদের দেবতাদের মূর্তিগুলি ফেলে রেখে গেল, এবং দাউদ সেগুলি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন।
1CH 14:13 আরও একবার ফিলিস্তিনীরা সেই উপত্যকায় হানা দিয়েছিল;
1CH 14:14 তাই দাউদ আবার ঈশ্বরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এবং ঈশ্বর তাঁকে উত্তর দিলেন, “তুমি সরাসরি তাদের দিকে যেয়ো না, বরং চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে ধরে সেই চিনার গাছগুলির সামনে গিয়ে তাদের আক্রমণ করো।
1CH 14:15 চিনার গাছগুলির মাথায় যেই না তুমি কুচকাওয়াজের শব্দ শুনবে, তৎক্ষণাৎ যুদ্ধ-অভিযান চালাবে, কারণ এর অর্থ হল এই যে ফিলিস্তিনী সৈন্যদলকে যন্ত্রণা করার জন্য তোমার আগেই ঈশ্বর স্বয়ং এগিয়ে গিয়েছেন।”
1CH 14:16 অতএব দাউদ ঈশ্বরের আদেশানুসারেই কাজ করলেন, এবং তারা সেই ফিলিস্তিনী সৈন্যদলকে একেবারে সেই গিবিয়োন থেকে গেষর পর্যন্ত যন্ত্রণা করে ফেলে দিলেন।
1CH 14:17 এইভাবে দাউদের সুনাম প্রত্যেকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, এবং সদাপ্রভু সব জাতির মনে দাউদের সম্বন্ধে এক ভয়ভাব উৎপন্ন করলেন।
1CH 15:1 দাউদ-নগরে নিজের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করার পর দাউদ ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকের জন্য এক স্থান প্রস্তুত করলেন ও সেটির জন্য এক তাঁবু খাটিয়েছিলেন।
1CH 15:2 পরে দাউদ বললেন, “লেবীয়েরা ছাড়া আর কেউ ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি বহন করবে না, কারণ সদাপ্রভুর সিন্দুকটি বহন করার ও চিরকাল তাঁর সামনে সেবাকাজ করার জন্য সদাপ্রভুই তাদের বেছে নিয়েছেন।”
1CH 15:3 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটির জন্য দাউদ যে স্থানটি প্রস্তুত করলেন, সেখানে সেটি নিয়ে আসার জন্য তিনি সমস্ত ইস্রায়েলকে জেরুশালেমে একত্রিত করলেন।
1CH 15:4 হারোণ ও এই লেবীয়দের ডেকে তিনি সমবেত করলেন:
1CH 15:5 কহাতের বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা ঊরীয়েল ও তাঁর 120 জন আত্মীয়স্বজন;
1CH 15:6 মরারির বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা অসায় ও তাঁর 220 জন আত্মীয়স্বজন;
1CH 15:7 গের্শোনের বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা যোয়েল ও তাঁর 130 জন আত্মীয়স্বজন;
1CH 15:8 ইলীষাফণের বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা শময়িয় ও তাঁর 200 জন আত্মীয়স্বজন;
1CH 15:9 হিব্রোণের বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা ইলীয়েল ও তাঁর আশি জন আত্মীয়স্বজন;
1CH 15:10 উষীয়েলের বংশধরদের মধ্যে থেকে, নেতা অম্মীনাদব ও তাঁর 112 জন আত্মীয়স্বজন।
1CH 15:11 পরে দাউদ যাজক সাদোক ও অবিয়াথরকে এবং লেবীয় ঊরীয়েল, অসায়, যোয়েল, শময়িয়, ইলীয়েল ও অম্মীনাদবকে ডেকে পাঠালেন।
1CH 15:12 তিনি তাদের বললেন, “আপনারা লেবীয় গোষ্ঠীর কর্তাব্যক্তি; আপনাদেরই নিজেদের ও আপনাদের সহকর্মী লেবীয়দের পবিত্র করতে হবে এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটির জন্য আমি যে স্থানটি প্রস্তুত করে রেখেছি, সেখানে সেটি নিয়ে আসতে হবে।
1CH 15:13 আপনারা, এই লেবীয়রা যেহেতু প্রথমবার সেটি তুলে আনেননি, তাই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের বিরুদ্ধে ক্রোধে ফেটে পড়েছিলেন। বিধানানুসারে কীভাবে তা করতে হয়, সে বিষয়েও আমরা তাঁর কাছে কিছু জানতে চাইনি।”
1CH 15:14 তাই ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসার জন্য যাজক ও লেবীয়েরা নিজেদের পবিত্র করলেন।
1CH 15:15 সদাপ্রভুর বাক্যানুযায়ী মোশি যে আদেশ দিলেন, সেই আদেশানুসারে লেবীয়েরা নিজেদের কাঁধের উপর খুঁটিতে চাপিয়ে ঈশ্বরের সেই নিয়ম-সিন্দুকটি বহন করলেন।
1CH 15:16 দাউদ লেবীয় নেতাদের বললেন, তারা যেন খঞ্জনি, বীণা ও সুরবাহারের মতো বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আনন্দগান গাইবার জন্য তাদের সহকর্মী লেবীয়দের নিযুক্ত করলেন।
1CH 15:17 তাই লেবীয়েরা যোয়েলের ছেলে হেমনকে; তাঁর আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে থেকে বেরিখিয়ের ছেলে আসফকে; এবং তাদের আত্মীয়স্বজন সেই মরারীয়দের মধ্যে থেকে কূশায়ার ছেলে এথনকে নিযুক্ত করলেন;
1CH 15:18 আর তাদের সাথে পদাধিকারবলে তাদের এই আত্মীয়স্বজনরা তাদের তুলনায় কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন: সখরিয়, যাসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, বনায়, মাসেয়, মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ, মিকনেয় এবং দ্বাররক্ষী ওবেদ-ইদোম ও যিয়ীয়েল।
1CH 15:19 সংগীতজ্ঞ হেমন, আসফ ও এথনকে ব্রোঞ্জের সুরবাহার বাজাতে হত;
1CH 15:20 সখরিয়, যাসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, মাসেয় ও বনায়কে অলামোৎ সুরে খঞ্জনি বাজাতে হত,
1CH 15:21 এবং মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ, মিকনেয়, ওবেদ-ইদোম, যিয়ীয়েল ও অসসিয়কে শিমিনীৎ সুরে অনুপ্রাণিত হয়ে বীণা বাজাতে হত।
1CH 15:22 প্রধান-লেবীয় কননিয়কে গানের গুরু করে দেওয়া হল; সেটিই ছিল তাঁর দায়িত্ব, কারণ তিনি সে কাজে যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন।
1CH 15:23 বেরিখিয় ও ইল্‌কানাকে নিয়ম-সিন্দুকটির জন্য দ্বাররক্ষী হতে হল।
1CH 15:24 যাজক শবনিয়, যিহোশাফট, নথনেল, অমাসয়, সখরিয়, বনায় ও ইলীয়েষরকে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটির সামনে শিঙা বাজাতে হত। ওবেদ-ইদোম ও যিহিয়কেও নিয়ম-সিন্দুকটির জন্য দ্বাররক্ষী হতে হল।
1CH 15:25 অতএব দাউদ ও ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা এবং সৈন্যদলের সহস্র-সেনাপতিরা আনন্দ করতে করতে ওবেদ-ইদোমের বাড়ি থেকে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি আনতে গেলেন।
1CH 15:26 যেহেতু সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী লেবীয়দের ঈশ্বর সাহায্য করলেন, তাই সাতটি বলদ ও সাতটি মদ্দা মেষ বলি দেওয়া হল।
1CH 15:27 ইত্যবসরে দাউদ মিহি মসিনার পোশাক গায়ে দিলেন, সেই নিয়ম-সিন্দুক বহনকারী লেবীয়েরা সবাই, তথা সংগীতজ্ঞরা, ও গায়কদলের গান পরিচালনাকারী কননিয়ও একই ধরনের পোশাক গায়ে দিলেন। দাউদ আবার মসিনার এক এফোদও গায়ে দিলেন।
1CH 15:28 অতএব ইস্রায়েলে সবাই চিৎকার করে করে, মদ্দা মেষের শিং ও শিঙা এবং সুরবাহার বাজিয়ে, ও খঞ্জনি ও বীণাও বাজিয়ে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি ফিরিয়ে এনেছিল।
1CH 15:29 সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি ঠিক যখন দাউদ-নগরে প্রবেশ করছিল, শৌলের মেয়ে মীখল জানালায় দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলেন। আর তিনি যখন দেখলেন যে রাজা দাউদ নাচছেন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, তখন তিনি মনে মনে তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করলেন।
1CH 16:1 ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকটি রাখার জন্য দাউদ যে তাঁবুটি খাটিয়েছিলেন, তারা সেটি সেই তাঁবুর মধ্যে এনে রেখেছিল, এবং তারা ঈশ্বরের সামনে হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করল।
1CH 16:2 দাউদ হোমবলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার পর সদাপ্রভুর নামে প্রজাদের আশীর্বাদ করলেন।
1CH 16:3 পরে তিনি প্রত্যেক ইস্রায়েলী পুরুষ ও মহিলাকে একটি করে রুটি, একটি করে খেজুরের ও কিশমিশের পিঠে দিলেন।
1CH 16:4 লেবীয়দের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের সামনে পরিচর্যা করার, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর গুণকীর্তন করার, তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর, ও তাঁর প্রশংসা করার জন্য নিযুক্ত করলেন:
1CH 16:5 তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আসফ, পদমর্যাদায় তাঁর অধঃস্তন ছিলেন সখরিয়, পরে ছিলেন যাশীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, মত্তিথিয়, ইলীয়াব, বনায়, ওবেদ-ইদোম ও যিয়ীয়েল। তাদের খঞ্জনি ও বীণা বাজাতে হত, আসফকে সুরবাহারে ঝংকার তুলতে হত,
1CH 16:6 এবং যাজক বনায় ও যহসীয়েলকে পর্যায়ক্রমে ঈশ্বরের নিয়ম-সিন্দুকের সামনে শিঙা বাজাতে হত।
1CH 16:7 সেদিন দাউদ এইভাবে সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রশংসা জানানোর জন্য প্রথমেই আসফ ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের নিযুক্ত করলেন:
1CH 16:8 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, তাঁর নাম ঘোষণা করো; জাতিদের জানাও তিনি কী করেছেন।
1CH 16:9 তাঁর উদ্দেশে গান গাও, তাঁর উদ্দেশে প্রশংসাগীত গাও; তাঁর সুন্দর সুন্দর সব কাজের কথা বলো।
1CH 16:10 তাঁর পবিত্র নামের মহিমা করো; যারা সদাপ্রভুর খোঁজ করে তাদের অন্তর উল্লসিত হোক।
1CH 16:11 সদাপ্রভুর ও তাঁর শক্তির দিকে চেয়ে দেখো; সর্বদা তাঁর শ্রীমুখের খোঁজ করো।
1CH 16:12 মনে রেখো তাঁর করা আশ্চর্য কাজগুলি, তাঁর অলৌকিক কার্যাবলি ও তাঁর ঘোষণা করা শাস্তি,
1CH 16:13 তোমরা তাঁর দাস, হে ইস্রায়েলের বংশধরেরা, তাঁর মনোনীত লোকেরা, হে যাকোবের সন্তানেরা।
1CH 16:14 তিনিই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; তাঁর বিচার সমগ্র পৃথিবীতে বিরাজমান।
1CH 16:15 তিনি চিরকাল তাঁর নিয়ম মনে রাখেন, যে প্রতিজ্ঞা তিনি করেছেন, হাজার বংশ পর্যন্ত,
1CH 16:16 যে নিয়ম তিনি অব্রাহামের সাথে স্থাপন করলেন, যে শপথ তিনি ইস্‌হাকের কাছে করলেন।
1CH 16:17 তা তিনি যাকোবের কাছে এক বিধানরূপে সুনিশ্চিত করলেন, ইস্রায়েলের কাছে করলেন এক চিরস্থায়ী নিয়মরূপে:
1CH 16:18 “তোমাকেই আমি সেই কনান দেশ দেব সেটিই হবে তোমার উত্তরাধিকারের অংশ।”
1CH 16:19 তারা যখন সংখ্যায় ছিল অতি নগণ্য, সত্যিই নগণ্য, ও সেখানে ছিল তারা বিদেশি,
1CH 16:20 তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ঘুরে বেড়ালো।
1CH 16:21 তিনি কাউকে তাদের উপর অত্যাচার করতে দেননি; তাদের সুবিধার্থে তিনি রাজাদের তিরস্কার করলেন:
1CH 16:22 “আমার অভিষিক্ত জনেদের স্পর্শ কোরো না; আমার ভাববাদীদের কোনও ক্ষতি কোরো না।”
1CH 16:23 হে সমস্ত পৃথিবী, সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাও; দিনের পর দিন তাঁর পরিত্রাণ ঘোষণা করো।
1CH 16:24 সমস্ত জাতির মধ্যে তাঁর মহিমা আর সব লোকের মাঝে তাঁর বিস্ময়কর কাজের কথা প্রচার করো।
1CH 16:25 সদাপ্রভু মহান এবং সর্বোচ্চ প্রশংসার যোগ্য; সব দেবতার উপরে তিনি সম্ভ্রমের যোগ্য।
1CH 16:26 কারণ, জাতিগণের সমস্ত দেবতা কেবল প্রতিমা মাত্র, কিন্তু সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন।
1CH 16:27 তাঁর সামনে রয়েছে সমারোহ ও প্রতাপ; শক্তি ও আনন্দ রয়েছে তাঁর বাসস্থানে।
1CH 16:28 জাতিগণের সমস্ত কুল সদাপ্রভুকে স্বীকার করো, স্বীকার করো যে সদাপ্রভু মহিমান্বিত ও পরাক্রমী।
1CH 16:29 সদাপ্রভুকে তাঁর যোগ্য মহিমায় মহিমান্বিত করো! নৈবেদ্য সাজিয়ে তাঁর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করো। তাঁর পবিত্র শোভায় সদাপ্রভুর আরাধনা করো।
1CH 16:30 সমস্ত পৃথিবী, তাঁর সামনে কম্পিত হও! পৃথিবী দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, তা বিচলিত হবে না।
1CH 16:31 আকাশমণ্ডল আনন্দ করুক, পৃথিবী উল্লসিত হোক; জাতিদের মধ্যে তারা বলুক, “সদাপ্রভু রাজত্ব করেন!”
1CH 16:32 সমুদ্র ও সেখানকার সবকিছু গর্জন করুক; ক্ষেতখামার ও সেখানকার সবকিছু আনন্দ করুক!
1CH 16:33 জঙ্গলের সকল গাছ আনন্দ সংগীত করুক, সদাপ্রভুর সামনে তারা আনন্দে গান করুক, কারণ তিনি পৃথিবীর বিচার করতে আসছেন।
1CH 16:34 সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।
1CH 16:35 চিৎকার করে বলো, “হে আমাদের ত্রাণকর্তা ঈশ্বর, আমাদের উদ্ধার করো; আমাদের সংগ্রহ করো ও জাতিদের হাত থেকে রক্ষা করো, যেন আমরা তোমার পবিত্র নামের ধন্যবাদ করতে পারি, ও তোমার প্রশংসায় মহিমা করতে পারি।”
1CH 16:36 ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত। তখন সব লোকে বলে উঠেছিল “আমেন” ও “সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক।”
1CH 16:37 প্রতিদিনের চাহিদানুসারে পর্যায়ক্রমে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটির সামনে পরিচর্যা করার জন্য দাউদ সেখানে আসফ ও তাঁর সহকর্মীদের ছেড়ে গেলেন।
1CH 16:38 এছাড়াও তাদের সাথে পরিচর্যা করার জন্য তিনি ওবেদ-ইদোম ও তাঁর 68 জন সহকর্মীকেও ছেড়ে গেলেন। যিদূথূনের ছেলে ওবেদ-ইদোম, ও হোষাও দ্বাররক্ষী ছিলেন।
1CH 16:39 গিবিয়োনে আরাধনার উঁচু স্থানটিতে সদাপ্রভুর সমাগম তাঁবুর সামনে দাউদ যাজক সাদোক ও তাঁর সহকর্মী যাজকদের ছেড়ে গেলেন
1CH 16:40 যেন তারা পর্যায়ক্রমে, সকাল-সন্ধ্যায় সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে যে বিধানপুস্তক দিলেন তাতে লেখা যাবতীয় নিয়মানুসারে হোমবলির বেদিতে সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি উপস্থিত করতে পারেন।
1CH 16:41 হেমন ও যিদূথূন এবং “তাঁর প্রেম নিত্যস্থায়ী,” এই বলে সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য নাম ধরে ধরে যাদের মনোনীত করা হল ও দায়িত্ব দেওয়া হল, অবশিষ্ট সেই লোকজনও তাদের সাথে ছিলেন।
1CH 16:42 হেমন ও যিদূথূনকে দায়িত্ব দেওয়া হল যেন তারা শিঙা ও সুরবাহার বাজান এবং পবিত্র গানের সাথে সাথে অন্যান্য বাজনাও বাজান। যিদূথূনের ছেলেরা সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজায় মোতায়েন ছিল।
1CH 16:43 পরে লোকেরা সবাই নিজের নিজের ঘরে ফিরে গেল, এবং দাউদও তাঁর পরিবার-পরিজনদের আশীর্বাদ করার জন্য ঘরে ফিরে গেলেন।
1CH 17:1 দাউদ তাঁর রাজপ্রাসাদে স্থির হয়ে বসার পর ভাববাদী নাথনকে বললেন, “দেখুন, আমি তো দেবদারু কাঠে তৈরি বাড়িতে বসবাস করছি, অথচ সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি একটি তাঁবুর মধ্যেই রাখা আছে।”
1CH 17:2 নাথন দাউদকে উত্তর দিলেন, “আপনার মনে যা কিছু আছে, আপনি তাই করুন, কারণ ঈশ্বর আপনার সাথেই আছেন।”
1CH 17:3 কিন্তু সেরাতে ঈশ্বরের বাক্য নাথনের কাছে এসে উপস্থিত হল, ঈশ্বর বললেন:
1CH 17:4 “তুমি যাও ও আমার দাস দাউদকে গিয়ে বলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার বসবাসের জন্য যে একটি গৃহ নির্মাণ করবে, সে তুমি নও।
1CH 17:5 যেদিন আমি ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলাম, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি কোনো বাড়িতে বসবাস করিনি। আমি এক তাঁবু থেকে অন্য তাঁবুতে, এক বাসস্থান থেকে অন্য বাসস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছি।
1CH 17:6 ইস্রায়েলীদের সবাইকে সাথে নিয়ে আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি, সেখানে কোথাও কি যাদের আমি আমার প্রজাদের লালনপালন করার আদেশ দিয়েছিলাম, সেই নেতাদের মধ্যে কাউকে কখনও বললাম, “তোমরা কেন আমার জন্য দেবদারু কাঠের এক গৃহ নির্মাণ করে দাওনি?” ’
1CH 17:7 “তবে এখন, আমার দাস দাউদকে বলো, ‘সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমাকে পশুচারণভূমি থেকে, তুমি যখন মেষের পাল চরাচ্ছিলে, তখন সেখান থেকেই তুলে এনেছিলাম, এবং তোমাকে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর শাসনকর্তারূপে নিযুক্ত করলাম।
1CH 17:8 তুমি যেখানে যেখানে গিয়েছ, আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থেকেছি, এবং তোমার সামনে আসা সব শত্রুকে আমি উচ্ছেদ করেছি। এখন আমি তোমার নাম পৃথিবীর মহাপুরুষদের মতোই করব।
1CH 17:9 আমার প্রজা ইস্রায়েলের জন্য আমি এক স্থান জোগাব ও তাদের সেখানে বসতি করে দেব, যেন তারা তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি পায় ও আর কখনও যেন তাদের উপদ্রুত হতে না হয়। দুষ্ট লোকজন আর কখনও তাদের অত্যাচার করবে না, যেমনটি তারা শুরু করল
1CH 17:10 এবং যখন থেকে আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর আমি নেতাদের নিযুক্ত করে এসেছি, তখন থেকে শুরু করে এযাবৎ যেভাবে তারা তা করে আসছে। আমি তোমার সব শত্রুকে সংযত করেও রাখব। “ ‘আমি তোমার কাছে ঘোষণা করে দিচ্ছি যে সদাপ্রভুই তোমার জন্য এক কুল গড়ে দেবেন:
1CH 17:11 তোমার আয়ু শেষ হয়ে যাওয়ার পর ও যখন তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য চলে যাবে, তখন তোমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আমি তোমার এমন এক বংশধরকে উৎপন্ন করব, যে হবে তোমার আপন ছেলেদের মধ্যে একজন, এবং আমি তার রাজ্য সুস্থিরও করব।
1CH 17:12 সেই হবে এমন একজন যে আমার জন্য একটি ভবন তৈরি করবে, ও আমি তার সিংহাসন চিরস্থায়ী করব।
1CH 17:13 আমি তার বাবা হব, ও সে আমার ছেলে হবে। যেভাবে আমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আমার প্রেম-ভালোবাসা সরিয়ে নিয়েছিলাম, আমি আর কখনও সেভাবে তার কাছ থেকে তা সরিয়ে নেব না।
1CH 17:14 আমার ভবনের ও আমার রাজ্যের উপর চিরকালের জন্য আমি তাকে বসাব; তার সিংহাসন চিরস্থায়ী হবে।’ ”
1CH 17:15 সম্পূর্ণ এই প্রত্যাদেশের সব কথা নাথন দাউদকে জানিয়েছিলেন।
1CH 17:16 পরে রাজা দাউদ ভিতরে সদাপ্রভুর সামনে গিয়ে বসেছিলেন, ও বললেন: “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমি কে, আর আমার পরিবারই বা কী, যে তুমি আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছ?
1CH 17:17 আর তোমার দৃষ্টিতে এও যদি যথেষ্ট বলে মনে হয়নি, হে আমার ঈশ্বর, তুমি তোমার এই দাসের পরিবারের ভবিষ্যতের বিষয়েও তো বলে দিয়েছ। তুমি, হে ঈশ্বর সদাপ্রভু, এভাবে আমার দিকে চোখ তুলে চেয়েছ, যেন আমি মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপদস্থ একজন।
1CH 17:18 “তোমার এই দাসকে তুমি যে সম্মান দিলে, তার জন্য দাউদ তোমাকে আর কী-ই বা বলতে পারে? কারণ তুমি তো তোমার এই দাসকে জানো,
1CH 17:19 হে সদাপ্রভু। তোমার এই দাসের সুবিধার্থে ও তোমার ইচ্ছানুসারেই তুমি এই মহান কাজটি করেছ ও এসব বড়ো বড়ো প্রতিজ্ঞা অবগত করেছ।
1CH 17:20 “হে সদাপ্রভু, তোমার মতো আর কেউ নেই, এবং তুমি ছাড়া ঈশ্বর আর কেউ নেই, যেমনটি আমরা নিজের কানেই শুনেছি।
1CH 17:21 তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মতো আর কে আছে—পৃথিবীতে বিরাজমান একমাত্র জাতি, যাদের তাঁর নিজস্ব প্রজা করার জন্য তাদের ঈশ্বর স্বয়ং তাদের মুক্ত করতে গেলেন, ও নিজের জন্য এক নাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, তথা তোমার প্রজাদের সামনে থেকে বিভিন্ন জাতি ও তাদের দেবদেবীদের উৎখাত করার দ্বারা মহৎ ও বিস্ময়কর আশ্চর্য সব কাজ করে যাদের তুমি মিশর থেকে মুক্ত করলে?
1CH 17:22 তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে তুমি চিরতরে একেবারে তোমার নিজস্ব করে নিয়েছ, এবং হে সদাপ্রভু, তুমি তাদের ঈশ্বর হয়ে গিয়েছ।
1CH 17:23 “আর এখন, হে সদাপ্রভু, তোমার দাসের ও তার কুলের বিষয়ে তুমি যে প্রতিজ্ঞা করলে, তা যেন চিরতরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তোমার প্রতিজ্ঞানুসারেই তুমি তা করো,
1CH 17:24 যেন তা প্রতিষ্ঠিত হয় ও তোমার নাম চিরতরে মহান হয়ে যায়। তখনই লোকেরা বলবে, ‘সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের উপর বিরাজমান ঈশ্বর, তিনিই ইস্রায়েলের ঈশ্বর!’ আর তোমার দাস দাউদের কুল তোমার সামনে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
1CH 17:25 “হে আমার ঈশ্বর, তুমি তোমার দাসের কাছে প্রকাশিত করে দিয়েছিলে যে তুমি তার জন্য এক কুল গড়ে তুলবে। তাইতো তোমার দাস তোমার কাছে এই প্রার্থনা করার সাহস পেয়েছে।
1CH 17:26 হে সদাপ্রভু, তুমিই ঈশ্বর! তোমার দাসের কাছে তুমিই এইসব উত্তম বিষয়ের প্রতিজ্ঞা করলে।
1CH 17:27 এখন তুমি যখন তোমার এই দাসের কুলকে খুশিমনে আশীর্বাদ করেছ, তখন তোমার দৃষ্টিতে যেন তা চিরকাল বজায় থাকে; কারণ তুমিই, হে সদাপ্রভু, সেই কুলকে আশীর্বাদ করেছ, ও সেটি চিরকালের জন্য আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই থাকবে।”
1CH 18:1 কালক্রমে, দাউদ ফিলিস্তিনীদের পরাজিত করলেন ও তাদের বশীভূতও করলেন, এবং তিনি ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে গাৎ ও সেটির চারপাশের গ্রামগুলি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন।
1CH 18:2 দাউদ মোয়াবীয়দেরও পরাজিত করলেন, এবং তারা তাঁর অধীনে এসে তাঁর কাছে কর নিয়ে এসেছিল।
1CH 18:3 এছাড়াও, সোবার রাজা হদদেষর যখন ইউফ্রেটিস নদীর কাছে তাঁর মিনারটি খাড়া করতে গেলেন, তখন হমাৎ অঞ্চলে দাউদ তাঁকেও পরাজিত করলেন।
1CH 18:4 দাউদ তাঁর 1,000 রথ, 7,000 অশ্বারোহী ও 20,000 পদাতিক সৈন্য দখল করলেন। রথের সঙ্গে জুড়ে থাকা 100-টি ঘোড়া বাদ দিয়ে বাকি সব ঘোড়ার পায়ের শিরা কেটে তিনি সেগুলিকে খঞ্জ করে দিলেন।
1CH 18:5 দামাস্কাসের অরামীয়রা যখন সোবার রাজা হদদেষরকে সাহায্য করতে এসেছিল, তখন দাউদ তাদের মধ্যে বাইশ হাজার জনকে যন্ত্রণা করে ফেলে দিলেন।
1CH 18:6 তিনি দামাস্কাসের অরামীয় রাজ্যে সৈন্যদল মোতায়েন করে দিলেন, এবং অরামীয়রা তাঁর বশীভূত হয়ে রাজকর নিয়ে এসেছিল। দাউদ যেখানে যেখানে গেলেন, সদাপ্রভু সেখানে সেখানে তাঁকে বিজয়ী করলেন।
1CH 18:7 হদদেষরের কর্মকর্তারা সোনার যে ঢালগুলি বহন করত, দাউদ সেগুলি দখল করে জেরুশালেমে নিয়ে এলেন।
1CH 18:8 হদদেষরের অধিকারে থাকা দুটি নগর তেভা ও কূন থেকে দাউদ প্রচুর পরিমাণে ব্রোঞ্জ নিয়ে এলেন, যেগুলি শলোমন ব্রোঞ্জের সমুদ্রপাত্র, বেশ কয়েকটি থাম ও ব্রোঞ্জের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করার কাজে ব্যবহার করলেন।
1CH 18:9 হমাতের রাজা তোয়ু যখন শুনেছিলেন যে দাউদ সোবার রাজা হদদেষরের সম্পূর্ণ সৈন্যদলকে পরাজিত করেছেন,
1CH 18:10 তখন হদদেষরের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর জন্য তিনি দাউদের কাছে তাঁর ছেলে হদোরামকে পাঠিয়ে দিলেন, কারণ হদদেষরের সাথে তোয়ুর প্রায়ই যুদ্ধ হত। হদোরাম সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে এলেন।
1CH 18:11 রাজা দাউদ এইসব জিনিসপত্র সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করে দিলেন, ঠিক যেভাবে ইদোম ও মোয়াব, অম্মোনীয় ও ফিলিস্তিনী এবং অমালেক: এইসব জাতির কাছ থেকে আনা সোনা ও রুপো তিনি উৎসর্গ করে দিলেন।
1CH 18:12 সরূয়ার ছেলে অবীশয় লবণ উপত্যকায় আঠারো হাজার ইদোমীয়কে মেরে ফেলেছিলেন।
1CH 18:13 তিনি ইদোম দেশে সৈন্যদল মোতায়েন করে দিলেন, ও ইদোমীয়রা সবাই দাউদের বশীভূত হল। দাউদ যেখানে যেখানে গেলেন, সদাপ্রভু সেখানে সেখানে তাঁকে বিজয়ী করলেন।
1CH 18:14 দাউদ সমস্ত ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করলেন, ও তাঁর সব প্রজার জন্য যা যা ন্যায্য ও উপযুক্ত ছিল, তিনি তাই করতেন।
1CH 18:15 সরূয়ার ছেলে যোয়াব সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি ছিলেন; অহীলূদের ছেলে যিহোশাফট ছিলেন লিপিকার;
1CH 18:16 অহীটূবের ছেলে সাদোক ও অবিয়াথরের ছেলে অহীমেলক ছিলেন যাজক; শবশ ছিলেন সচিব;
1CH 18:17 যিহোয়াদার ছেলে বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন; এবং দাউদের ছেলেরা রাজার প্রধান সহকারী ছিলেন।
1CH 19:1 কালক্রমে, অম্মোনীয়দের রাজা নাহশ মারা গেলেন, ও রাজারূপে তাঁর ছেলেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 19:2 দাউদ ভেবেছিলেন, “আমি নাহশের ছেলে হানূনের প্রতি সহানুভূতি দেখাব, কারণ তাঁর বাবা আমার প্রতি দয়া দেখিয়েছিলেন।” অতএব দাউদ হানূনের বাবার প্রতি তাঁর সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য একদল লোককে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠালেন। দাউদের পাঠানো লোকেরা হানূনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য যখন অম্মোনীয়দের দেশে তাঁর কাছে গেল,
1CH 19:3 তখন অম্মোনীয়দের সেনাপতিরা হানূনকে বললেন, “আপনার কি মনে হয় যে সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য আপনার কাছে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দাউদ আপনার বাবাকে সম্মান জানাচ্ছেন? তার প্রতিনিধিরা কি শুধু গুপ্তচরবৃত্তি করে দেশটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালিয়ে এটি উচ্ছেদ করার জন্যই আপনার কাছে আসেনি?”
1CH 19:4 অতএব হানূন দাউদের পাঠানো প্রতিনিধিদের ধরে তাদের চুল-দাড়ি কামিয়ে, নিতম্বদেশ পর্যন্ত তাদের জামাকাপড় কেটে দিয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
1CH 19:5 কেউ একজন যখন দাউদের কাছে এসে সেই লোকদের কথা বলল, তখন তাদের সাথে দেখা করার জন্য তিনি কয়েকজন দূত পাঠালেন, কারণ তারা চরম অপদস্থ হয়েছিল। রাজামশাই বললেন, “যতদিন না তোমাদের চুল-দাড়ি বড়ো হচ্ছে, ততদিন তোমরা যিরীহোতেই থাকো, পরে তোমরা এখানে ফিরে এসো।”
1CH 19:6 অম্মোনীয়েরা যখন বুঝতে পেরেছিল যে তারা দাউদের দৃষ্টিতে আপত্তিকর হয়ে গিয়েছে, তখন হানূন ও অম্মোনীয়েরা অরাম-নহরয়িম, অরাম-মাখা ও সোবা থেকে রথ ও সারথি ভাড়া করে আনার জন্য 1,000 তালন্ত রুপো পাঠিয়ে দিয়েছিল।
1CH 19:7 32,000 রথ ও সারথি, তথা সৈন্যসামন্ত সমেত মাখার সেই রাজাকেও তারা ভাড়া করে এনেছিল, যিনি এসে মেদ্‌বার কাছে সৈন্যশিবির স্থাপন করলেন, ইত্যবসরে অম্মোনীয়েরা আবার তাদের নগরগুলিতে জমায়েত হয়ে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেল।
1CH 19:8 একথা শুনতে পেয়ে, দাউদ লড়াকু লোকবিশিষ্ট সমস্ত সৈন্যদল সমেত যোয়াবকে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন।
1CH 19:9 অম্মোনীয়রা বেরিয়ে এসে তাদের নগরের প্রবেশদ্বারে সৈন্যদল সাজিয়ে রেখেছিল, অন্যদিকে, যেসব রাজা সেখানে এলেন, তাঁরা নিজেরা খোলা মাঠে আলাদা করে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
1CH 19:10 যোয়াব দেখেছিলেন যে তাঁর আগে পিছে সৈন্যদল সাজিয়ে রাখা হয়েছে; তাই তিনি ইস্রায়েলের সেরা কয়েকজন সৈন্য বেছে নিয়ে অরামীয়দের বিরুদ্ধে তাদের মোতায়েন করলেন।
1CH 19:11 বাকি সৈন্যদের তিনি তাঁর ভাই অবীশয়ের কর্তৃত্বাধীন করে রেখেছিলেন, এবং তারা অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে মোতায়েন হল।
1CH 19:12 যোয়াব বললেন, “অরামীয়রা যদি আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে তুমি আমাকে রক্ষা কোরো; কিন্তু অম্মোনীয়রা যদি তোমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে আমিই তোমাকে রক্ষা করব।
1CH 19:13 শক্তিশালী হও, এসো—আমরা আমাদের জাতির ও আমাদের ঈশ্বরের নগরগুলির জন্য বীরের মতো লড়াই করি। সদাপ্রভুই তাঁর দৃষ্টিতে যা ভালো বোধ হয়, তাই করবেন।”
1CH 19:14 পরে যোয়াব ও তাঁর সৈন্যদল অরামীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেলেন, ও তারা তাঁর সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
1CH 19:15 অম্মোনীয়রা যখন বুঝতে পেরেছিল যে অরামীয়রা পালিয়ে যাচ্ছে, তখন তারাও তাঁর ভাই অবীশয়ের সামনে থেকে পালিয়ে গিয়ে নগরের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। তাই যোয়াব জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
1CH 19:16 অরামীয়রা যখন দেখেছিল যে তারা ইস্রায়েলীদের দ্বারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, তখন তারা দূত পাঠিয়ে ইউফ্রেটিস নদীর ওপার থেকে সেই অরামীয়দের ডেকে পাঠিয়েছিল, যাদের পরিচালনায় ছিলেন হদদেষরের সেনাবাহিনীর সেনাপতি শোফক।
1CH 19:17 দাউদকে যখন একথা বলা হল, তখন তিনি সমগ্র ইস্রায়েলকে একত্রিত করে জর্ডন নদী পার করে গেলেন; তিনি তাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে গেলেন ও তাদের উল্টোদিকে তাঁর সৈন্যদল মোতায়েন করলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে অরামীয়দের সম্মুখীন হওয়ার জন্য দাউদ তাঁর সৈন্যদল সাজিয়েছিলেন, এবং তারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল।
1CH 19:18 কিন্তু তারা ইস্রায়েলের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, এবং দাউদ তাদের সারথিদের মধ্যে 7,000 জনকে ও তাদের পদাতিক সৈন্যদের মধ্যে 40,000 জনকে হত্যা করলেন। তাদের সেনাবাহিনীর সেনাপতি শোফককেও তিনি হত্যা করলেন।
1CH 19:19 হদদেষরের কেনা গোলামেরা যখন দেখেছিল যে তারা ইস্রায়েলীদের দ্বারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, তখন তারা দাউদের সাথে সন্ধি করল ও তাঁর শাসনাধীন হয়ে গেল। অতএব অরামীয়েরা আর কখনও অম্মোনীয়দের সাহায্য করতে রাজি হয়নি।
1CH 20:1 বসন্তকালে, রাজারা সাধারণত যখন যুদ্ধে যেতেন, সেইরকমই এক সময় যোয়াব সশস্ত্র সৈন্যদলকে নেতৃত্ব দিলেন। তিনি অম্মোনীয়দের দেশটিতে লুটপাট চালিয়েছিলেন এবং রব্বায় গিয়ে সেটি অবরোধ করলেন, কিন্তু দাউদ জেরুশালেমেই থেকে গেলেন। যোয়াব রব্বায় আক্রমণ চালিয়ে সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করলেন।
1CH 20:2 দাউদ তাদের রাজার মাথা থেকে মুকুট কেড়ে নিয়েছিলেন—জানা গেল সেটিতে এক তালন্ত সোনা ছিল, এবং সেটি মূল্যবান রত্নখোচিতও ছিল—আর সেটি দাউদের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হল। তিনি সেই নগরটি থেকে প্রচুর পরিমাণে লুটসামগ্রী নিয়ে এলেন
1CH 20:3 এবং যারা সেখানে ছিল, সেখানকার লোকজনকেও নিয়ে এসে তিনি তাদের করাত ও লোহার গাঁইতি এবং কুড়ুল চালানোর কাজে লাগিয়ে দিলেন। দাউদ অম্মোনীয়দের সব নগরের প্রতিই এরকম করলেন। পরে দাউদ ও তাঁর সমস্ত সৈন্যদল জেরুশালেমে ফিরে এলেন।
1CH 20:4 কালক্রমে, গেষরে ফিলিস্তিনীদের সাথে যুদ্ধ বেধে গেল। সেই সময় হূশাতীয় সিব্বখয় রফায়ীয়দের বংশধরদের মধ্যে সিপ্পয় বলে একজনকে হত্যা করল, এবং ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধে পরাজিত হল।
1CH 20:5 ফিলিস্তিনীদের সাথে অন্য একটি যুদ্ধে, যায়ীরের ছেলে ইলহানন গাতীয় গলিয়াতের ভাই লহমিকে হত্যা করল, যার বর্শার হাতলটি ছিল তাঁতির দণ্ডের মতো।
1CH 20:6 গাতে সম্পন্ন অন্য আর একটি যুদ্ধে, এক-একটি হাতে ছয়টি করে ও এক-একটি পায়ে ছয়টি করে, মোট চব্বিশটি আঙুল-বিশিষ্ট দৈত্যাকার একজন লোক যুদ্ধ করছিল। সেও রফারই বংশধর ছিল।
1CH 20:7 সে যখন ইস্রায়েলকে বিদ্রুপের খোঁচা দিয়েছিল, তখন দাউদের ভাই শিমিয়ির ছেলে যোনাথন তাকে হত্যা করল।
1CH 20:8 গাতের এই লোকেরাই রফার বংশধর ছিল, এবং তারা দাউদ ও তাঁর লোকজনের হাতে মারা গেল।
1CH 21:1 শয়তান ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে গেল এবং ইস্রায়েলে জনগণনা করতে দাউদকে প্ররোচিত করল।
1CH 21:2 তাই দাউদ যোয়াব ও সেনাবাহিনীর সেনাপতিদের বললেন, “যাও, তোমরা গিয়ে বের-শেবা থেকে দান পর্যন্ত ইস্রায়েলীদের সংখ্যা গণনা করো। পরে সে খবর নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো যেন আমি জানতে পারি তাদের সংখ্যা ঠিক কতজন।”
1CH 21:3 কিন্তু যোয়াব উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু যেন তাঁর সৈন্যদলকে কয়েকশো গুণ বাড়িয়ে তোলেন। হে আমার প্রভু মহারাজ, তারা সবাই কি আমার প্রভুর অধীনস্থ দাস নয়? তবে কেন আমার প্রভু এরকম কাজ করতে চাইছেন? তিনি কেন ইস্রায়েলের উপর অপরাধ বয়ে আনতে চাইছেন?”
1CH 21:4 রাজার আদেশে অবশ্য যোয়াবের কথা নাকচ হয়ে গেল; তাই যোয়াব গিয়ে গোটা ইস্রায়েল দেশ জুড়ে ঘুরে বেরিয়ে জেরুশালেমে ফিরে এলেন।
1CH 21:5 যোয়াব দাউদের কাছে যোদ্ধাদের সংখ্যা তুলে ধরেছিলেন: সমগ্র ইস্রায়েলে তরোয়াল চালাতে অভ্যস্ত এগারো লাখ ও যিহূদায় চার লাখ সত্তর হাজার জন লোক ছিল।
1CH 21:6 কিন্তু যোয়াব লোকগণনা করার সময় লেবি ও বিন্যামীন বংশের লোকদের ধরেননি, যেহেতু রাজার আদেশ তাঁর কাছে ন্যক্কারজনক বলে মনে হল।
1CH 21:7 এই আদেশটি ঈশ্বরের দৃষ্টিতেও মন্দ গণ্য হল; তাই তিনি ইস্রায়েলকে শাস্তি দিলেন।
1CH 21:8 তখন দাউদ ঈশ্বরকে বললেন, “এ কাজ করে আমি মহাপাপ করে ফেলেছি। এখন, আমি তোমাকে অনুরোধ জানাচ্ছি, তোমার দাসের এই অপরাধ মার্জনা করো। আমি মহামূর্খের মতো কাজ করে ফেলেছি।”
1CH 21:9 সদাপ্রভু দাউদের ভবিষ্যদ্‌বক্তা গাদকে বললেন,
1CH 21:10 “যাও, দাউদকে গিয়ে বলো, ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমার সামনে তিনটি বিকল্প রাখছি। সেগুলির মধ্যে একটিকে তুমি বেছে নাও, যেন আমি সেটিই তোমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারি।’ ”
1CH 21:11 অতএব গাদ দাউদের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘একটি বিকল্প বেছে নাও:
1CH 21:12 তিন বছরের দুর্ভিক্ষ, তিন মাস ধরে তোমার শত্রুদের সামনে লোপাট হয়ে যাওয়া, এবং তাদের তরোয়াল হঠাৎ তোমার উপর এসে পড়া, অথবা তিন দিন সদাপ্রভুর তরোয়ালের সামনে পড়া—যে কয়দিন দেশে মহামারি ছড়াবে, এবং সদাপ্রভুর দূত ইস্রায়েলের এক-একটি অঞ্চল ছারখার করে দেবেন।’ তবে এখন, আপনিই ঠিক করুন যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আমি তাঁকে কী উত্তর দেব।”
1CH 21:13 দাউদ গাদকে বললেন, “আমি খুব বিপদে পড়েছি। সদাপ্রভুর হাতেই পড়া যাক, কারণ তাঁর দয়া অত্যন্ত সুমহান; তবে আমি যেন মানুষের হাতে না পড়ি।”
1CH 21:14 তাই সদাপ্রভু ইস্রায়েলে এক মহামারি পাঠিয়ে দিলেন, এবং ইস্রায়েলের সত্তর হাজার লোক মারা পড়েছিল।
1CH 21:15 আর ঈশ্বর জেরুশালেম ধ্বংস করার জন্য এক দূত পাঠালেন। কিন্তু সেই দূত তা করতে যাওয়া মাত্র, সদাপ্রভু তা দেখেছিলেন ও সেই দুর্বিপাকের বিষয়ে তাঁর মন নরম হয়ে গেল এবং লোকজনকে ধ্বংস করতে যাওয়া সেই দূতকে তিনি বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে! তোমার হাত টেনে নাও।” সদাপ্রভুর দূত তখন সেই যিবূষীয় অরৌণার খামারে দাঁড়িয়েছিলেন।
1CH 21:16 দাউদ উপরের দিকে তাকিয়ে দেখেছিলেন যে সদাপ্রভুর দূত হাতে খোলা তরোয়াল নিয়ে জেরুশালেমের দিকে তাক করে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন দাউদ ও প্রাচীনেরা চটের কাপড় গায়ে দিয়ে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিলেন।
1CH 21:17 দাউদ ঈশ্বরকে বললেন, “যোদ্ধাদের সংখ্যা গণনা করার আদেশ কি আমিই দিইনি? আমি, এই পালকই পাপ ও অন্যায় করেছি। এরা তো শুধুই মেষ। এরা কী করেছে? হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, আপনার হাত আমার ও আমার পরিবারের উপরেই নেমে আসুক, কিন্তু এই মহামারি আপনার প্রজাদের উপর আর যেন ছেয়ে না থাকে।”
1CH 21:18 তখন সদাপ্রভুর দূত গাদকে আদেশ দিলেন, যেন তিনি দাউদকে গিয়ে বলেন যে তাঁকে গিয়ে যিবূষীয় অরৌণার খামারে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি যজ্ঞবেদি তৈরি করতে হবে।
1CH 21:19 তাই সদাপ্রভুর নামে গাদ যে কথা বললেন, সেকথার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে দাউদ সেখানে চলে গেলেন।
1CH 21:20 গম ঝাড়তে ঝাড়তে অরৌণা পিছনে ফিরে সেই দূতকে দেখতে পেয়েছিলেন; তাঁর সাথে থাকা তাঁর চার ছেলে লুকিয়ে গেল।
1CH 21:21 তখন দাউদ সেখানে পৌঁছেছিলেন, ও অরৌণা তাঁকে দেখতে পেয়ে খামার ছেড়ে বেরিয়ে এসে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে দাউদকে প্রণাম করলেন।
1CH 21:22 দাউদ তাঁকে বললেন, “তোমার খামারের স্থানটি আমাকে নিতে দাও, আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে সেখানে একটি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করব, যেন প্রজাদের উপর নেমে আসা মহামারি থেমে যায়। পুরো দাম নিয়ে তুমি সেটি আমার কাছে বিক্রি করো।”
1CH 21:23 অরৌণা দাউদকে বললেন, “আপনি সেটি নিয়ে নিন! আমার প্রভু মহারাজের যা ইচ্ছা হয় তিনি তাই করুন। দেখুন, আমি হোমবলির জন্য বলদগুলি, কাঠের জন্য শস্য মাড়াই কলগুলি, ও শস্য-নৈবেদ্যর জন্য গমও আপনাকে দেব। এসবই আমি আপনাকে দেব।”
1CH 21:24 কিন্তু রাজা দাউদ অরৌণাকে উত্তর দিলেন, “তা হবে না, আমি তোমাকে পুরো দামই দেব। যা কিছু তোমার, আমি তা সদাপ্রভুর জন্য নেব না, অথবা হোমবলির জন্য আমি এমন কিছু উৎসর্গ করব না যার জন্য আমাকে কোনও দাম দিতে হয়নি।”
1CH 21:25 অতএব দাউদ সেই স্থানটির জন্য অরৌণাকে ছয়শো শেকল সোনা মেপে দিলেন।
1CH 21:26 সদাপ্রভুর উদ্দেশে দাউদ সেখানে একটি যজ্ঞবেদি তৈরি করলেন এবং হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করলেন। তিনি সদাপ্রভুর নামে ডেকেছিলেন, ও সদাপ্রভুও হোমবলির বেদির উপর আকাশ থেকে আগুন নিক্ষেপ করে তাঁকে উত্তর দিলেন।
1CH 21:27 পরে সদাপ্রভু সেই দূতের সাথে কথা বললেন, এবং তিনি তাঁর তরোয়াল আবার খাপে ঢুকিয়ে নিয়েছিলেন।
1CH 21:28 সেই সময়, দাউদ যখন দেখেছিলেন যে যিবূষীয় অরৌণার খামারে সদাপ্রভু তাঁকে উত্তর দিয়েছেন, তখন তিনি সেখানে বলি উৎসর্গ করলেন।
1CH 21:29 মোশি মরুপ্রান্তরে সদাপ্রভুর যে সমাগম তাঁবুটি তৈরি করলেন, সেটি এবং হোমবলির সেই যজ্ঞবেদিটি সেই সময় গিবিয়োনে আরাধনার সেই উঁচু স্থানটিতেই ছিল।
1CH 21:30 কিন্তু দাউদ ঈশ্বরের কাছে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সেখানে যেতে পারেননি, কারণ তিনি সদাপ্রভুর দূতের সেই তরোয়ালকে তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
1CH 22:1 পরে দাউদ বললেন, “সদাপ্রভু ঈশ্বরের ভবনটি, এবং ইস্রায়েলের জন্য হোমবলির বেদিটিও এখানেই থাকবে।”
1CH 22:2 অতএব দাউদ ইস্রায়েলে বসবাসকারী বিদেশিদের সমবেত করার আদেশ দিলেন এবং ঈশ্বরের ভবন তৈরির কাজে ব্যবহারযোগ্য কাটছাঁট করা পাথরের কাজ করার জন্য তাদের মধ্যে থেকেই কয়েকজন পাথর কাটার লোক নিযুক্ত করলেন।
1CH 22:3 সদর-দরজার পাল্লায় ও কব্জায় পেরেক লাগানোর জন্য তিনি প্রচুর পরিমাণে লোহার জোগান দিলেন, এবং তিনি এত ব্রোঞ্জের জোগান দিলেন, যা ওজন করে দেখাও সম্ভব হয়নি।
1CH 22:4 এছাড়াও তিনি এত দেবদারু কাঠের গুঁড়ির জোগান দিলেন, যা গুনে দেখা সম্ভব হয়নি, কারণ সীদোনীয় ও সোরীয়রা দাউদের কাছে প্রচুর পরিমাণে দেবদারু কাঠ এনেছিল।
1CH 22:5 দাউদ বললেন, “আমার ছেলে শলোমনের বয়স কম ও সে অনভিজ্ঞও বটে, এবং সদাপ্রভুর জন্য যে ভবনটি তৈরি করা হবে, সেটি সব জাতির দৃষ্টিতে হবে বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ ও বিখ্যাত এবং জৌলুসে ভরপুর। তাই আমিই সেটির জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেব।” অতএব মারা যাওয়ার আগেই দাউদ ব্যপক প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলেন।
1CH 22:6 পরে তিনি তাঁর ছেলে শলোমনকে ডেকে তাঁর হাতে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য এক ভবন তৈরি করার ভার সঁপে দিলেন।
1CH 22:7 দাউদ শলোমনকে বললেন: “বাছা, আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে একটি ভবন তৈরি করার বাসনা আমার অন্তরে ছিল।
1CH 22:8 কিন্তু সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে এসেছিল: ‘তুমি প্রচুর রক্তপাত করেছ ও অনেক যুদ্ধ করেছ। আমার নামাঙ্কিত কোনো ভবন তুমি তৈরি করতে পারবে না, কারণ আমার দৃষ্টিতে এই পৃথিবীতে তুমি প্রচুর রক্তপাত করেছ।
1CH 22:9 কিন্তু তোমার এক ছেলে হবে, যে হবে শান্তি ও বিশ্রামযুক্ত এক মানুষ, এবং আমি তাকে তার চারপাশের সব শত্রুর দিক থেকে বিশ্রাম দেব। তার নাম হবে শলোমন, এবং আমি তার রাজত্বকালে ইস্রায়েলকে শান্তি ও নিস্তরঙ্গ পরিবেশ দেব।
1CH 22:10 সেই আমার নামাঙ্কিত এক ভবন তৈরি করবে। সে আমার ছেলে হবে ও আমি তার বাবা হব। ইস্রায়েলের উপর তার রাজত্বের সিংহাসন আমি চিরস্থায়ী করব।’
1CH 22:11 “এখন, বাছা, সদাপ্রভু তোমার সহবর্তী হোন, এবং তুমি সাফল্য লাভ করো ও তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর বলা কথামতো তুমিই তাঁর এক ভবন তৈরি করো।
1CH 22:12 তোমাকে ইস্রায়েলের উপর শাসকপদে নিযুক্ত করার পর সদাপ্রভু যেন তোমাকে প্রজ্ঞা ও বোধবুদ্ধি দেন, যার ফলস্বরূপ তুমি যেন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিধিবিধান পালন করে যেতে পারো।
1CH 22:13 ইস্রায়েলের জন্য মোশিকে সদাপ্রভু যে বিধি ও বিধান দিলেন, সেগুলি যদি তুমি সতর্কতাপূর্বক পালন করে যেতে পারো তবে তুমি সাফল্য পাবে। বলবান ও সাহসী হও। ভয় পেয়ো না বা হতাশ হোয়ো না।
1CH 22:14 “সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য আমি খুব কষ্ট করে এক লাখ তালন্ত সোনা, ও দশ লাখ তালন্ত রুপো জোগাড় করেছি, এছাড়াও এত ব্রোঞ্জ ও লোহা জোগাড় করেছি যা ওজন করে দেখা সম্ভব নয়, এবং কাঠ ও পাথরও জোগাড় করেছি। এর সাথে তুমি আরও অনেক কিছু যোগ করতে পারো।
1CH 22:15 তোমার কাছে প্রচুর কাজের লোক আছে: পাথর কাটার লোক, রাজমিস্ত্রি ও ছুতোরমিস্ত্রি, এছাড়াও সব ধরনের কাজে দক্ষ লোকও তোমার কাছে আছে
1CH 22:16 যেমন, সোনা ও রুপো, ব্রোঞ্জ ও লোহার—এত কারিগর আছে, যাদের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। এখন তবে কাজ শুরু করো, এবং সদাপ্রভু তোমার সহবর্তী থাকুন।”
1CH 22:17 পরে দাউদ ইস্রায়েলের সব নেতাকে আদেশ দিলেন, যেন তারা তাঁর ছেলে শলোমনকে সাহায্য করেন।
1CH 22:18 তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু কি তোমাদের সহবর্তী নন? আর তিনি কি সবদিক থেকে তোমাদের বিশ্রাম দেননি? কারণ দেশের অধিবাসীদের তিনি আমার হাতে সঁপে দিয়েছেন, এবং এই দেশ সদাপ্রভুর ও তাঁর প্রজাদের অধীনস্থ হয়েছে।
1CH 22:19 এখন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করার জন্য তোমরা তোমাদের মনপ্রাণ সমর্পণ করো। সদাপ্রভু ঈশ্বরের পীঠস্থান তৈরি করার কাজ শুরু করে দাও, যেন যে মন্দিরটি সদাপ্রভুর নামে তৈরি করা হবে সেখানে তোমাদের পক্ষে সদাপ্রভুর সেই নিয়ম-সিন্দুকটি ও ঈশ্বরের অধিকারভুক্ত পবিত্র জিনিসপত্র আনা সম্ভব হয়।”
1CH 23:1 দাউদ যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন ও তাঁর আয়ু ফুরিয়ে আসছিল, তখন তিনি তাঁর ছেলে শলোমনকে ইস্রায়েলের উপর রাজা করে দিলেন।
1CH 23:2 এছাড়াও তিনি ইস্রায়েলের সব নেতাকে, তথা যাজক ও লেবীয়দেরও সমবেত করলেন।
1CH 23:3 ত্রিশ বছর বা তার বেশি বয়সের লেবীয়দের সংখ্যা গোনা হল, এবং পুরুষদের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল 38,000।
1CH 23:4 দাউদ বললেন, “এদের মধ্যে 24,000 জন সদাপ্রভুর মন্দিরে কাজ করার দায়িত্ব পালন করবে এবং 6,000 জন হবে কর্মকর্তা ও বিচারক।
1CH 23:5 4,000 জন হবে দ্বাররক্ষী ও বাকি 4,000 জন সেইসব বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সদাপ্রভুর প্রশংসা করবে, যেগুলি আমি সেই উদ্দেশ্যেই সরবরাহ করলাম।”
1CH 23:6 গের্শোন, কহাৎ ও মরারি: লেবির এই ছেলেদের বংশানুসারে দাউদ লেবীয়দের কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে দিলেন।
1CH 23:7 গের্শোনীয়দের অন্তর্ভুক্ত: লাদন ও শিমিয়ি।
1CH 23:8 লাদনের ছেলেরা: প্রথমজন যিহীয়েল, পরে সেথম ও যোয়েল—মোট তিনজন।
1CH 23:9 শিমিয়ির ছেলেরা: শলোমৎ, হসীয়েল ও হারণ—মোট তিনজন। এরাই লাদনের বংশগুলির কর্তাব্যক্তি ছিলেন।
1CH 23:10 আবার শিমিয়ির ছেলেরা: যহৎ, সীষ, যিয়ূশ ও বরীয়। এরাই শিমিয়ির ছেলে—মোট চারজন।
1CH 23:11 যহৎ বড়ো ছেলে ছিলেন এবং দ্বিতীয়জন ছিলেন সীষ, কিন্তু যিয়ূশ ও বরীয়ের ছেলের সংখ্যা খুব একটি বেশি ছিল না; তাই তাদের একটিই বংশরূপে গণ্য করা হল এবং একই কাজ করার দায়িত্ব তাদের দেওয়া হল।
1CH 23:12 কহাতের ছেলেরা: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল—মোট চারজন।
1CH 23:13 অম্রামের ছেলেরা: হারোণ ও মোশি। মহাপবিত্র জিনিসপত্র উৎসর্গ করার, সদাপ্রভুর সামনে বলিদান করার, তাঁর সামনে পরিচর্যা করার ও চিরকাল তাঁর নামে আশীর্বাদ ঘোষণা করার উদ্দেশে হারোণকে তথা তাঁর বংশধরদের চিরকালের জন্য অন্যদের থেকে আলাদা করে দেওয়া হল।
1CH 23:14 ঈশ্বরের লোক মোশির ছেলেদেরও লেবীয় বংশের অংশবিশেষ বলে ধরা হত।
1CH 23:15 মোশির ছেলেরা: গের্শোম ও ইলীয়েষর।
1CH 23:16 গের্শোমের বংশধরেরা: প্রথম স্থানে ছিলেন শবূয়েল।
1CH 23:17 ইলীয়েষরের বংশধরেরা: প্রথম স্থানে ছিলেন রহবিয়। ইলীয়েষরের আর কোনও ছেলে ছিল না, কিন্তু রহবিয়ের ছেলেরা সংখ্যায় ছিল প্রচুর।
1CH 23:18 যিষ্‌হরের ছেলেরা: প্রথম স্থানে ছিলেন শলোমীৎ।
1CH 23:19 হিব্রোণের ছেলেরা: প্রথমজন যিরিয়, দ্বিতীয়জন অমরিয়, তৃতীয়জন যহসীয়েল এবং চতুর্থজন যিকমিয়াম।
1CH 23:20 উষীয়েলের ছেলেরা: প্রথমজন মীখা ও দ্বিতীয়জন যিশিয়।
1CH 23:21 মরারির ছেলেরা: মহলি ও মূশি। মহলির ছেলেরা: ইলিয়াসর ও কীশ।
1CH 23:22 ইলিয়াসর অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলেন: তাঁর শুধু কয়েকটি মেয়েই ছিল। কীশের ছেলেরা, অর্থাৎ, তাদের খুড়তুতো ভাইয়েরাই তাদের বিয়ে করলেন।
1CH 23:23 মূশির ছেলেরা: মহলি, এদর ও যিরেমৎ—মোট তিনজন।
1CH 23:24 বংশানুসারে এরাই লেবির বংশধর—যারা বিভিন্ন কুলের কর্তাব্যক্তিরূপে তাদের নামানুসারে নথিভুক্ত হলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের গুনে রাখা হল, অর্থাৎ, তারা সেইসব কর্মী, যাদের বয়স কুড়ি বছর বা তার বেশি হল ও তারা সদাপ্রভুর মন্দিরে পরিচর্যা করতেন।
1CH 23:25 কারণ দাউদ বললেন, “যেহেতু ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের বিশ্রাম দিয়েছেন ও চিরকাল জেরুশালেমে বসবাস করার জন্য এখানে এসেছেন,
1CH 23:26 তাই লেবীয়দের আর কখনও সমাগম তাঁবু বা সেখানকার পরিচর্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোনও জিনিসপত্র বহন করতে হবে না।”
1CH 23:27 দাউদের দেওয়া শেষ নির্দেশ অনুসারে, কুড়ি বছর বা তার বেশি বয়সের সেই লেবীয়দের গুনে রাখা হল।
1CH 23:28 সদাপ্রভুর মন্দিরের পরিচর্যায় হারোণের বংশধরদের সাহায্য করাই ছিল লেবীয়দের দায়িত্ব: প্রাঙ্গণের ও পাশের ঘরগুলির দেখাশোনা করার, সব পবিত্র জিনিসপত্র শুদ্ধকরণের ও ঈশ্বরের ভবনে অন্যান্য সব দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হত।
1CH 23:29 টেবিলে রুটি সাজিয়ে রাখার, শস্য-নৈবেদ্যর জন্য বিশেষ ময়দা প্রস্তুত করার, খামিরবিহীন সরু রুটি তৈরি করার, সেগুলি সেঁকার ও মিশ্রিত করার, এবং পরিমাণ ও মাপ অনুসারে সবকিছু ঠিকঠাক করার দায়িত্বও তাদেরই দেওয়া হল।
1CH 23:30 প্রতিদিন সকালে সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ জানানোর ও তাঁর প্রশংসা করার জন্য তাদের দাঁড়িয়েও থাকতে হত। সন্ধ্যাবেলাতে
1CH 23:31 এবং সাব্বাথবারে, অমাবস্যার উৎসবে ও বিশেষ বিশেষ উৎসবের দিনগুলিতে যখনই সদাপ্রভুর কাছে হোমবলি উৎসর্গ করা হত, তখনও তাদের একই কাজ করতে হত। সঠিক সংখ্যায় ও তাদের জন্য নিরূপিত প্রথানুসারে নিয়মিতভাবে তাদের সদাপ্রভুর সামনে পরিচর্যা করে যেতে হত।
1CH 23:32 তাই এভাবেই লেবীয়েরা তাদের আত্মীয়স্বজন তথা হারোণের বংশধরদের অধীনে থেকে সদাপ্রভুর মন্দিরের পরিচর্যার জন্য সমাগম তাঁবুর ও পবিত্রস্থানের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালন করে গেলেন।
1CH 24:1 এগুলিই হল হারোণের বংশধরদের বিভিন্ন বিভাগ: হারোণের ছেলেরা হলেন নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামর।
1CH 24:2 কিন্তু নাদব ও অবীহূ তাদের বাবা মারা যাওয়ার আগেই মারা গেল, এবং তাদের কোনো ছেলে ছিল না; তাই ইলীয়াসর ও ঈথামর যাজকের দায়িত্ব পালন করলেন।
1CH 24:3 ইলিয়াসরের এক বংশধর সাদোকের ও ঈথামরের এক বংশধর অহীমেলকের সাহায্য নিয়ে দাউদ যাজকদের নিরূপিত পরিচর্যার ক্রমানুসারে তাদের কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত করে দিলেন।
1CH 24:4 ঈথামরের বংশধরদের তুলনায় ইলিয়াসরের বংশধরদের মধ্যেই বেশি সংখ্যায় নেতা খুঁজে পাওয়া গেল, এবং তাদের সেভাবেই বিভক্ত করা হল: ইলিয়াসরের বংশধরদের মধ্যে থেকে ষোলো জনকে ও ঈথামরের বংশধরদের মধ্যে থেকে আট জনকে বংশের কর্তাব্যক্তি করা হল।
1CH 24:5 গুটিকাপাত করে নিরপেক্ষভাবেই তারা তাদের বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করলেন, কারণ ইলীয়াসর ও ঈথামর, দুজনেরই বংশধরদের মধ্যে থেকে অনেকে পীঠস্থানের ও ঈশ্বরের কর্মকর্তা হলেন।
1CH 24:6 নথনেলের ছেলে লেবীয় শাস্ত্রবিদ শময়িয় মহারাজের ও এইসব কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের নামগুলি নথিভুক্ত করলেন: সেই কর্মকর্তারা হলেন যাজক সাদোক, অবিয়াথরের ছেলে অহীমেলক এবং যাজকদের ও লেবীয়দের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কয়েকজন কর্তাব্যক্তি—একবার ইলিয়াসরের বংশ থেকে একজনকে, পরে ঈথামরের বংশ থেকে অন্য একজনকে তিনি নথিভুক্ত করলেন।
1CH 24:7 গুটিকাপাতে প্রথম দানটি পড়েছিল যিহোয়ারীবের নামে, দ্বিতীয়টি পড়েছিল যিদয়িয়ের নামে,
1CH 24:8 তৃতীয়টি পড়েছিল হারীমের নামে, চতুর্থটি পড়েছিল সিয়োরীমের নামে,
1CH 24:9 পঞ্চমটি পড়েছিল মল্কিয়ের নামে, ষষ্ঠটি পড়েছিল মিয়ামীনের নামে,
1CH 24:10 সপ্তমটি পড়েছিল হক্কোষের নামে, অষ্টমটি পড়েছিল অবিয়ের নামে,
1CH 24:11 নবমটি পড়েছিল যেশূয়ের নামে, দশমটি পড়েছিল শখনিয়ের নামে,
1CH 24:12 একাদশতমটি পড়েছিল ইলীয়াশীবের নামে, দ্বাদশতমটি পড়েছিল যাকীমের নামে,
1CH 24:13 ত্রয়োদশতমটি পড়েছিল হুপ্পের নামে, চতুর্দশতমটি পড়েছিল যেশবাবের নামে,
1CH 24:14 পঞ্চদশতমটি পড়েছিল বিলগার নামে, ষোড়শতমটি পড়েছিল ইম্মেরের নামে,
1CH 24:15 সপ্তদশতমটি পড়েছিল হেষীরের নামে, অষ্টাদশতমটি পড়েছিল হপ্পিসেসের নামে,
1CH 24:16 উনবিংশতিতমটি পড়েছিল পথাহিয়ের নামে, বিংশতিতমটি পড়েছিল যিহিষ্কেলের নামে,
1CH 24:17 একবিংশতিতমটি পড়েছিল যাখীনের নামে, দ্বাবিংশতিতমটি পড়েছিল গামূলের নামে,
1CH 24:18 ত্রয়োবিংশতিতমটি পড়েছিল দলায়ের নামে, এবং চতুর্বিংশতিতমটি পড়েছিল মাসিয়ের নামে।
1CH 24:19 ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশানুসারে তাদের পূর্বপুরুষ হারোণ তাদের জন্য যে নিয়মকানুন ঠিক করে দিলেন, তার আধারে যখন তারা সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করতেন তখন তারা পরিচর্যার এই ক্রমই অনুসরণ করতেন।
1CH 24:20 লেবির অবশিষ্ট বংশধরদের কথা: অম্রামের ছেলেদের মধ্যে থেকে: শবূয়েল; শবূয়েলের ছেলেদের মধ্যে থেকে: যেহদিয়।
1CH 24:21 রহবিয়ের কথা, তাঁর ছেলেদের মধ্যে থেকে: প্রথমজন যিশিয়।
1CH 24:22 যিষ্‌হরীয়দের মধ্যে থেকে: শলোমীত; শলোমীতের ছেলেদের মধ্যে থেকে: যহৎ।
1CH 24:23 হিব্রোণের ছেলেরা: প্রথমজন যিরিয়, দ্বিতীয়জন অমরিয়, তৃতীয়জন যহসীয়েল ও চতুর্থজন যিকমিয়াম।
1CH 24:24 উষীয়েলের ছেলেরা: মীখা; মীখার ছেলেদের মধ্যে থেকে: শামীর।
1CH 24:25 মীখার ভাই: যিশিয়; যিশিয়ের ছেলেদের মধ্যে থেকে: সখরিয়।
1CH 24:26 মরারির ছেলেরা: মহলি ও মূশি। যাসিয়ের ছেলে: বিনো।
1CH 24:27 মরারির ছেলেরা: যাসিয় থেকে উৎপন্ন: বিনো, শোহম, শক্কুর ও ইব্রি।
1CH 24:28 মহলি থেকে উৎপন্ন: ইলিয়াসর, যাঁর কোনও ছেলে ছিল না।
1CH 24:29 কীশ থেকে উৎপন্ন: কীশের ছেলে: যিরহমেল।
1CH 24:30 মূশির ছেলেরা: মহলি, এদর ও যিরেমোৎ। তাদের বংশানুসারে এরাই হলেন সেই লেবীয়েরা।
1CH 24:31 তারাও তাদের আত্মীয়স্বজন তথা হারোণের বংশধরদের মতো রাজা দাউদের এবং সাদোক, অহীমেলক এবং যাজক ও লেবীয় বংশের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গুটিকাপাত করলেন। বড়ো ভাইয়ের হোক কি ছোটো ভাইয়ের, প্রত্যেক বংশের প্রতিই সম-আচরণ করা হল।
1CH 25:1 সৈন্যদলের কয়েকজন সেনাপতিকে সাথে নিয়ে দাউদ আসফ, হেমন ও যিদূথূনের ছেলেদের মধ্যে কয়েকজনকে বীণা, খঞ্জনি ও সুরবাহার নিয়ে ভাববাণীর পরিচর্যা করার জন্য আলাদা করে চিহ্নিত করে দিলেন। এই হল সেইসব লোকের তালিকা, যারা এই পরিচর্যা সম্পন্ন করলেন:
1CH 25:2 আসফের ছেলেদের মধ্যে থেকে: সক্কুর, যোষেফ, নথনিয় ও অসারেল। আসফের ছেলেরা সেই আসফের তত্ত্বাবধানের অধীনে ছিলেন, যিনি মহারাজের তত্ত্বাবধানের অধীনে থেকে ভাববাণী করতেন।
1CH 25:3 যিদূথূনের কথা, তাঁর ছেলেদের মধ্যে থেকে: গদলিয়, সরী, যিশায়াহ, শিমিয়ি, হশবিয় ও মত্তিথিয়, মোট এই ছ-জন, যারা তাদের বাবা সেই যিদূথূনের তত্ত্বাবধানের অধীনে ছিলেন, যিনি সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ জানানোর ও তাঁর প্রশংসা করার জন্য বীণা বাজিয়ে ভাববাণী বলতেন।
1CH 25:4 হেমনের কথা, তাঁর ছেলেদের মধ্যে থেকে: বুক্কিয়, মত্তনিয়, উষীয়েল, শবূয়েল, যিরীমোৎ, হনানিয়, হনানি, ইলীয়াথা, গিদ্দলতি, রোমামতী-এষর, যশবকাশা, মল্লোথি, হোথীর ও মহসীয়োৎ।
1CH 25:5 (এরা সবাই রাজার দর্শক হেমনের ছেলে ছিলেন। তাঁকে উন্নত করার জন্যই ঐশ্বরিক প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে তারা তাঁকে দত্ত হল। ঈশ্বর হেমনকে চোদ্দোটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে দিলেন।)
1CH 25:6 এইসব লোকজন ঈশ্বরের ভবনে পরিচর্যা করার জন্য তাদের বাবার তত্ত্বাবধানের অধীনে থেকে সুরবাহার, খঞ্জনি ও বীণা নিয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরে গানবাজনা করতেন। আসফ, যিদূথূন ও হেমন মহারাজের তত্ত্বাবধানের অধীনে ছিলেন।
1CH 25:7 তাদের সব আত্মীয়স্বজন সমেত—যারা সবাই সদাপ্রভুর উদ্দেশে গানবাজনায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ছিলেন—তাদের সংখ্যা হল 288 জন।
1CH 25:8 ছোটো-বড়ো, শিক্ষক-ছাত্র নির্বিশেষে সবাই তাদের দায়িত্ব সুনিশ্চিত করার জন্য গুটিকাপাতের দান চাললেন।
1CH 25:9 আসফের জন্য গুটিকার প্রথম দানটি পড়েছিল যোষেফের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন। দ্বিতীয়টি পড়েছিল গদলিয়ের নামে, তাঁর এবং তাঁর আত্মীয় ও ছেলেদের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:10 তৃতীয়টি পড়েছিল সক্কুরের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:11 চতুর্থটি পড়েছিল যিষ্রির নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:12 পঞ্চমটি পড়েছিল নথনিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:13 ষষ্ঠটি পড়েছিল বুক্কিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:14 সপ্তমটি পড়েছিল যিমারেলার নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:15 অষ্টমটি পড়েছিল যিশয়াহের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:16 নবমটি পড়েছিল মত্তনিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:17 দশমটি পড়েছিল শিমিয়ির নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:18 একাদশতমটি পড়েছিল অসারেলের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:19 দ্বাদশতমটি পড়েছিল হশবিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:20 ত্রয়োদশতমটি পড়েছিল শবুয়েলের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:21 চতুর্দশতমটি পড়েছিল মত্তিথিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:22 পঞ্চদশতমটি পড়েছিল যিরেমোতের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:23 ষোড়শতমটি পড়েছিল হনানিয়ের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:24 সপ্তদশতমটি পড়েছিল যশবকাশার নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:25 অষ্টাদশতমটি পড়েছিল হনানির নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:26 উনবিংশতিতমটি পড়েছিল মল্লোথির নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:27 বিংশতিতমটি পড়েছিল ইলীয়াথার নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:28 একবিংশতিতমটি পড়েছিল হোথীরের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:29 দ্বাবিংশতিতমটি পড়েছিল গিদ্দলতির নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:30 ত্রয়োবিংশতিতমটি পড়েছিল মহসীয়োতের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন;
1CH 25:31 চর্তুবিংশতিতমটি পড়েছিল রোমামতী-এষরের নামে, তাঁর ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা 12 জন।
1CH 26:1 দ্বাররক্ষীদের বিভিন্ন বিভাগ: কোরহীয়দের মধ্যে থেকে: আসফের বংশোদ্ভুক্ত কোরির ছেলে মশেলিমিয়।
1CH 26:2 মশেলিমিয়ের কয়েকটি ছেলে ছিল: বড়ো ছেলে সখরিয়, দ্বিতীয়জন যিদীয়েল, তৃতীয়জন সবদিয়, চতুর্থজন যৎনীয়েল,
1CH 26:3 পঞ্চমজন এলম, ষষ্ঠজন যিহোহানন এবং সপ্তমজন ইলিহৈনয়।
1CH 26:4 ওবেদ-ইদোমেরও কয়েকটি ছেলে ছিল: বড়ো ছেলে শময়িয়, দ্বিতীয়জন যিহোষাবদ, তৃতীয়জন যোয়াহ, চতুর্থজন সাখর, পঞ্চমজন নথনেল,
1CH 26:5 ষষ্ঠজন অম্মীয়েল, সপ্তমজন ইষাখর এবং অষ্টমজন পিয়ূল্লতয়। (কারণ ঈশ্বর ওবেদ-ইদোমকে আশীর্বাদ করলেন)
1CH 26:6 ওবেদ-ইদোমের ছেলে শময়িয়েরও এমন কয়েকটি ছেলে ছিল, যারা তাদের পিতৃকুলে নেতা হলেন, যেহেতু তারা ছিলেন যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ।
1CH 26:7 শময়িয়ের ছেলেরা হলেন: অৎনি, রফায়েল, ওবেদ ও ইলসাবদ; তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে ইলীহূ ও সমথিয়ও যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ ছিলেন।
1CH 26:8 এরা সবাই ওবেদ-ইদোমের বংশধর; তারা এবং তাদের ছেলে ও আত্মীয়রা সবাই কাজ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিশালী ও যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ ছিলেন—ওবেদ-ইদোমের বংশধর, মোট 62 জন।
1CH 26:9 মশেলিমিয়ের কয়েকটি ছেলে ও আত্মীয় ছিল, যারা যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ—মোট 18 জন।
1CH 26:10 মরারীয় হোষার কয়েকটি ছেলে ছিল: প্রথমজন সিম্রি (যদিও তিনি বড়ো ছেলে ছিলেন না, তবুও তাঁর বাবা তাঁকেই প্রধান পদে নিযুক্ত করলেন),
1CH 26:11 দ্বিতীয়জন হিল্কিয়, তৃতীয়জন টবলিয় এবং চতুর্থজন সখরিয়। হোষার ছেলে ও আত্মীয়দের সংখ্যা মোট 13 জন।
1CH 26:12 দ্বাররক্ষীদের এই বিভাগগুলির কাজ ছিল তাদের নেতাদের মাধ্যমে সদাপ্রভুর মন্দিরে পরিচর্যা করে যাওয়া, ঠিক যেভাবে তাদের আত্মীয়রাও তা করতেন।
1CH 26:13 ছোটো-বড়ো নির্বিশেষে, তাদের বংশানুসারে প্রত্যেকটি দরজার জন্য গুটিকাপাত করা হল।
1CH 26:14 পূর্বদিকের দরজাটির জন্য গুটিকাপাতের দানটি পড়েছিল শেলিমিয়ের নামে। পরে তাঁর ছেলে তথা জ্ঞানী পরামর্শদাতা সখরিয়ের জন্য গুটিকাপাতের দান চালা হল, এবং উত্তর দিকের দরজাটির জন্য গুটিকার দানটি পড়েছিল তাঁর নামে।
1CH 26:15 দক্ষিণ দিকের দরজাটির জন্য গুটিকাপাতের দানটি পড়েছিল ওবেদ-ইদোমের নামে, এবং ভাঁড়ারঘরের জন্য গুটিকাপাতের দানটি পড়েছিল তাঁর ছেলেদের নামে।
1CH 26:16 পশ্চিমদিকের দরজাটির ও উপরের দিকে যাওয়ার রাস্তায় অবস্থিত শল্লেখৎ বলে পরিচিত দরজাটির জন্য গুটিকাপাতের দানগুলি পড়েছিল শুপ্পীমের ও হোষার নামে। একজন পাহারাদারের পাশাপাশি আরেকজন পাহারাদার মোতায়েন করা হল:
1CH 26:17 পূর্বদিকে প্রতিদিন ছ-জন করে লেবীয় মোতায়েন থাকতেন, উত্তর দিকে প্রতিদিন চারজন করে, দক্ষিণ দিকে প্রতিদিন চারজন করে এবং ভাঁড়ারঘরে দুই দুজন করে মোতায়েন থাকতেন।
1CH 26:18 পশ্চিমদিকের প্রাঙ্গণের ক্ষেত্রে, রাস্তার দিকে চারজন ও সেই প্রাঙ্গণটিতেই দুজন করে মোতায়েন থাকতেন।
1CH 26:19 এই হল সেইসব দ্বাররক্ষীর বিভাগগুলির বিবরণ, যারা কোরহ ও মরারির বংশধর ছিলেন।
1CH 26:20 তাদের সহকর্মী লেবীয়েরা ঈশ্বরের ভবনের কোষাগারগুলি এবং উৎসর্গীকৃত জিনিসপত্র রাখার জন্য তৈরি কোষাগারগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
1CH 26:21 লাদনের বংশধরদের মধ্যে যারা লাদনের মাধ্যমে গের্শোনীয় পরিচয় পেয়েছিলেন এবং গের্শোনীয় লাদনের বংশের অন্তর্গত কর্তাব্যক্তি ছিলেন, তারা হলেন যিহীয়েলি,
1CH 26:22 যিহীয়েলির ছেলেরা হলেন, সেথম ও তাঁর ভাই যোয়েল। তাদের উপর সদাপ্রভুর মন্দিরের কোষাগারগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব ছিল।
1CH 26:23 অম্রামীয়, যিষ্‌হরীয়, হিব্রোণীয় ও উষীয়েলীয়দের মধ্যে থেকে:
1CH 26:24 মোশির ছেলে গের্শোমের একজন বংশধর শবূয়েল, কোষাগারগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ এক কর্মচারী ছিলেন।
1CH 26:25 ইলীয়েষরের মাধ্যমে যারা তাঁর আত্মীয়স্বজন হলেন, তারা হলেন: তাঁর ছেলে রহবিয়, তাঁর ছেলে যিশায়াহ, তাঁর ছেলে যোরাম, তাঁর ছেলে সিখ্রি ও তাঁর ছেলে শলোমোৎ।
1CH 26:26 রাজা দাউদের, সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতিরূপে নিযুক্ত বিভিন্ন বংশের কর্তাব্যক্তিদের এবং সৈন্যদলের অন্যান্য সেনাপতিদের দ্বারা উৎসর্গীকৃত জিনিসপত্র যেখানে রাখা হত, সেইসব কোষাগার দেখাশোনা করার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল শলোমোৎ ও তাঁর আত্মীয়দের হাতে।
1CH 26:27 যুদ্ধ করে পাওয়া লুটসামগ্রীর মধ্যে কিছু কিছু জিনিসপত্র তারা সদাপ্রভুর মন্দির মেরামতির জন্য উৎসর্গ করে দিলেন।
1CH 26:28 দর্শক শমূয়েলের এবং কীশের ছেলে শৌলের, নেরের ছেলে অবনেরের ও সরূয়ার ছেলে যোয়াবের দ্বারা উৎসর্গীকৃত সবকিছু, ও উৎসর্গীকৃত অন্যান্য সব জিনিসপত্র শলোমোৎ ও তাঁর আত্মীয়দের তত্ত্বাবধানে রাখা হল।
1CH 26:29 যিষ্‌হরীয়দের মধ্যে থেকে: কননিয়কে ও তাঁর ছেলেদের ইস্রায়েলের উপর কর্মকর্তা ও বিচারকরূপে মন্দিরের কাজ বাদ দিয়ে অন্যান্য কাজগুলি করার দায়িত্ব দেওয়া হল।
1CH 26:30 হিব্রোণীয়দের মধ্যে থেকে: হশবিয় ও তাঁর আত্মীয়রা—এক হাজার সাতশো যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ—ইস্রায়েল দেশে জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে, সদাপ্রভুর সব কাজ করার ও রাজার সেবা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
1CH 26:31 হিব্রোণীয়দের ক্ষেত্রে, তাদের বংশতালিকা অনুসারে যিরিয়ই ছিলেন তাদের নেতা। দাউদের রাজত্বকালের চল্লিশতম বছরে বংশতালিকা ধরে এক অনুসন্ধান চালানো হল, এবং গিলিয়দের যাসেরে হিব্রোণীয়দের মধ্যে বেশ কয়েকজন যোগ্য পুরুষের খোঁজ পাওয়া গেল।
1CH 26:32 যিরিয়ের এমন দুই হাজার সাতশো আত্মীয়স্বজন ছিলেন, যারা যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ ও বিভিন্ন বংশের কর্তাব্যক্তিও ছিলেন, এবং রাজা দাউদ ঈশ্বরসংক্রান্ত ও রাজকার্যের উপযোগী প্রত্যেকটি বিষয়ে রূবেণীয়দের, গাদীয়দের ও মনঃশির অর্ধেক বংশের উপরে তত্ত্বাবধায়করূপে তাদের নিযুক্ত করে দিলেন।
1CH 27:1 এই হল সেই ইস্রায়েলীদের তালিকা—যারা বিভিন্ন বংশের কর্তাব্যক্তি, সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতি, ও তাদের কর্মকর্তা হয়ে সারা বছর ধরে মাসের পর মাস সেনাবিভাগ-সংক্রান্ত বিষয়ে রাজার সেবা করে গেলেন। প্রত্যেক বিভাগে 24,000 জন লোক থাকত।
1CH 27:2 প্রথম মাসের জন্য প্রথম বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সব্দীয়েলের ছেলে যাশবিয়াম। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:3 তিনি পেরসের এক বংশধর ছিলেন এবং প্রথম মাসের জন্য সব সামরিক কর্মকর্তার প্রধান হলেন।
1CH 27:4 দ্বিতীয় মাসের জন্য সেই বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন অহোহীয় দোদয়; তাঁর বিভাগের নেতা ছিলেন মিক্লোৎ। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:5 তৃতীয় মাসের জন্য সৈন্যদলের তৃতীয় সেনাপতি হলেন যাজক যিহোয়াদার ছেলে বনায়। তিনিই প্রধান ছিলেন ও তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:6 তিনি সেই বনায়, যিনি সেই ত্রিশজনের মধ্যে একজন বলবান যোদ্ধা ছিলেন এবং সেই ত্রিশজনের নেতাও হলেন। তাঁর ছেলে অম্মীষাবাদ তাঁর বিভাগের নেতা ছিলেন।
1CH 27:7 চতুর্থ মাসের জন্য চতুর্থ সেনাপতি হলেন যোয়াবের ভাই অসাহেল; তাঁর ছেলে সবদিয় তাঁর উত্তরাধিকারী হলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:8 পঞ্চম মাসের জন্য পঞ্চম সেনাপতি হলেন যিষ্রাহীয় শমহূৎ। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:9 ষষ্ঠ মাসের জন্য ষষ্ঠ (সেনাপতি) হলেন তকোয়ীয় ইক্কেশের ছেলে ঈরা। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:10 সপ্তম মাসের জন্য সপ্তম সেনাপতি হলেন পলোনীয় হেলস, যিনি যাতে একজন ইফ্রয়িমীয় ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:11 অষ্টম মাসের জন্য অষ্টম সেনাপতি হলেন হূশাতীয় সিব্বখয়, যিনি যাতে একজন সেরহীয় ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:12 নবম মাসের জন্য নবম সেনাপতি হলেন অনাথোতীয় অবীয়েষর, যিনি যাতে একজন বিন্যামীনীয় ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:13 দশম মাসের জন্য দশম সেনাপতি হলেন নটোফাতীয় মহরয়, যিনি যাতে একজন সেরহীয় ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:14 একাদশতম মাসের জন্য একাদশতম সেনাপতি হলেন পিরিয়াথোনীয় বনায়, যিনি যাতে একজন ইফ্রয়িমীয় ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:15 দ্বাদশতম মাসের জন্য দ্বাদশতম সেনাপতি হলেন নটোফাতীয় হিলদয়, যিনি অৎনীয়েলের বংশোদ্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বিভাগে 24,000 জন লোক ছিল।
1CH 27:16 ইস্রায়েলের গোষ্ঠীসম্প্রদায়গুলির নেতারা হলেন: রূবেণীয়দের উপরে: সিখ্রির ছেলে ইলীয়েষর; শিমিয়োনীয়দের উপরে: মাখার ছেলে শফটিয়;
1CH 27:17 লেবির গোষ্ঠীর উপরে: কমূয়েলের ছেলে হশবিয়; হারোণের গোষ্ঠীর উপরে: সাদোক;
1CH 27:18 যিহূদা গোষ্ঠীর উপরে: দাউদের এক ভাই ইলীহূ; ইষাখর গোষ্ঠীর উপরে: মীখায়েলের ছেলে অম্রি;
1CH 27:19 সবূলূন গোষ্ঠীর উপরে: ওবদিয়ের ছেলে যিশ্মায়য়; নপ্তালি গোষ্ঠীর উপরে: অস্রীয়েলের ছেলে যিরেমোৎ;
1CH 27:20 ইফ্রয়িমীয়দের উপরে: অসসিয়ের ছেলে হোশেয়; মনঃশির অর্ধেক গোষ্ঠীর উপরে: পদায়ের ছেলে যোয়েল;
1CH 27:21 গিলিয়দে বসবাসকারী মনঃশির অর্ধেক গোষ্ঠীর উপর: সখরিয়ের ছেলে যিদ্দো; বিন্যামীন গোষ্ঠীর উপর: অবনেরের ছেলে যাসীয়েল;
1CH 27:22 দান গোষ্ঠীর উপর: যিরোহমের ছেলে অসরেল। এরাই ইস্রায়েলের বিভিন্ন গোষ্ঠীসম্প্রদায়ের নেতা।
1CH 27:23 দাউদ, কুড়ি বছর বা তার কমবয়সি কোনও লোকের সংখ্যা গণনা করেননি, কারণ সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে আকাশের তারার মতো বহুসংখ্যক করে দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন।
1CH 27:24 সরূয়ার ছেলে যোয়াব জনগণনা করতে শুরু করলেন কিন্তু তা শেষ করেননি। এই জনগণনার কারণে ইস্রায়েলের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে এসেছিল, এবং সেই সংখ্যাটি রাজা দাউদের ইতিহাস-গ্রন্থে নথিভুক্ত হয়নি।
1CH 27:25 রাজকীয় ভাঁড়ারঘরগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল অদীয়েলের ছেলে অসমাবৎকে। প্রত্যন্ত জেলা, নগর, গ্রাম ও নজর-মিনারগুলিতে অবস্থিত ভাঁড়ারঘরগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল উষিয়ের ছেলে যোনাথনকে।
1CH 27:26 দেশে যারা কৃষিকর্ম করত, তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল কলূবের ছেলে ইষ্রিকে।
1CH 27:27 দ্রাক্ষাক্ষেতগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল রামাথীয় শিমিয়িকে। দ্রাক্ষাক্ষেতে উৎপন্ন দ্রাক্ষারসের ভাণ্ডারগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল শিফমীয় সব্দিকে।
1CH 27:28 পশ্চিমদিকের পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকার জলপাই ও দেবদারু-ডুমুর গাছগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল গদেরীয় বায়াল-হাননকে। জলপাই তেল জোগানোর দায়িত্ব দেওয়া হল যোয়াশকে।
1CH 27:29 শারোণে চরে বেড়ানো গরু-ছাগলের পালগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল শারোণীয় সিট্রয়কে। উপত্যকাগুলিতে গরু-ছাগলের যেসব পাল ছিল, সেগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল অদলয়ের ছেলে শাফটকে।
1CH 27:30 উটগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল ইশ্মায়েলীয় ওবীলকে। গাধাগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল মেরোণোথীয় যেহদিয়কে।
1CH 27:31 মেষের পালগুলি দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া হল হাগরীয় যাসীষকে। এরা সবাই রাজা দাউদের সম্পত্তি দেখাশোনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
1CH 27:32 দাউদের কাকা যোনাথন ছিলেন এমন একজন পরামর্শদাতা, যিনি জ্ঞানবুদ্ধিতে পরিপূর্ণ একজন মানুষ ও একজন শাস্ত্রবিদও ছিলেন। হকমোনির ছেলে যিহীয়েল রাজার ছেলেদের যত্ন নিতেন।
1CH 27:33 অহীথোফল রাজার পরামর্শদাতা ছিলেন। অর্কীয় হূশয় রাজার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন।
1CH 27:34 অহীথোফলের স্থলাভিষিক্ত হলেন অবিয়াথর ও বনায়ের ছেলে যিহোয়াদা। যোয়াব ছিলেন রাজকীয় সৈন্যদলের সেনাপতি।
1CH 28:1 ইস্রায়েলের উচ্চপদস্থ সব কর্মচারীকে দাউদ জেরুশালেমে সমবেত হওয়ার জন্য ডেকে পাঠালেন: বিভিন্ন গোষ্ঠীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, রাজার সেবায় নিযুক্ত বিভিন্ন বিভাগের সেনাপতিরা, সহস্র-সেনাপতি ও শত-সেনাপতিরা, এবং রাজার ও তাঁর ছেলেদের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি ও গৃহপালিত পশুপাল দেখাশোনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, ও তাদের সাথে সাথে প্রাসাদের কর্মকর্তারা, সৈন্যরা ও বীর যোদ্ধারাও ডাক পেয়েছিলেন।
1CH 28:2 রাজা দাউদ নিজের পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: “হে আমার সহকর্মী ইস্রায়েলীরা ও আমার প্রজারা, আমার কথা শোনো। মনে মনে আমি ঠিক করে রেখেছিলাম যে আমি সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের বিশ্রাম-স্থানরূপে এমন একটি ভবন তৈরি করব, যা হবে আমাদের ঈশ্বরের পা রাখার স্থান, এবং সেটি তৈরি করার পরিকল্পনাও আমি করে রেখেছিলাম।
1CH 28:3 কিন্তু ঈশ্বর আমায় বললেন, ‘তুমি আমার নামের উদ্দেশে কোনও ভবন তৈরি করতে পারবে না, যেহেতু তুমি একজন যোদ্ধা ও তুমি রক্তপাতও করেছ।’
1CH 28:4 “তবুও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু চিরকালের জন্য ইস্রায়েলের উপর রাজা হওয়ার জন্য আমার সমগ্র পরিবারের মধ্যে থেকে আমাকেই মনোনীত করলেন। নেতারূপে তিনি যিহূদাকে মনোনীত করলেন, এবং যিহূদা গোষ্ঠী থেকে তিনি আমার পরিবারকে মনোনীত করলেন, ও আমার বাবার ছেলেদের মধ্যে থেকে আমাকেই তিনি খুশিমনে সমগ্র ইস্রায়েলের উপর রাজা করলেন।
1CH 28:5 আমার সব ছেলের মধ্যে থেকে—আর সদাপ্রভু তো আমাকে বেশ কয়েকটি ছেলে দিয়েছেন—ইস্রায়েলের উপর সদাপ্রভুর রাজ্যের সিংহাসনে বসার জন্য তিনি আমার ছেলে শলোমনকেই মনোনীত করেছেন।
1CH 28:6 তিনি আমাকে বললেন: ‘তোমার ছেলে শলোমনই সেই লোক, যে আমার ভবন ও প্রাঙ্গণ তৈরি করবে, কারণ আমার ছেলে হওয়ার জন্য আমি তাকে মনোনীত করেছি, এবং আমিই তার বাবা হব।
1CH 28:7 এখন যেমনটি হচ্ছে, ঠিক সেভাবেই যদি সে আমার আদেশ ও বিধিবিধানগুলি পালন করার জন্য অবিচল থাকতে পারে, তবে চিরতরে আমি তার রাজ্য সুস্থির করে দেব।’
1CH 28:8 “তাই এখন সমগ্র ইস্রায়েলের সাক্ষাতে ও সদাপ্রভুর জনতার সাক্ষাতে, এবং আমাদের ঈশ্বরের কর্ণগোচরে তোমাদের আমি আদেশ দিচ্ছি: তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সব আদেশ পালন করার জন্য তোমরা সতর্ক হও, যেন তোমরা এই সুন্দর দেশটির অধিকারী হতে পারো ও চিরকালের জন্য এটি তোমাদের বংশধরদের হাতে এক উত্তরাধিকাররূপে তুলে দিতে পারো।
1CH 28:9 “আর তুমি, বাছা শলোমন, তুমি তোমার বাবার ঈশ্বরকে স্বীকৃতি দিয়ো, এবং সর্বান্তঃকরণে নিষ্ঠা সমেত ও ইচ্ছুক এক মন নিয়ে তাঁর সেবা কোরো, কারণ সদাপ্রভু প্রত্যেকটি অন্তর অনুসন্ধান করলেন ও প্রত্যেকটি বাসনা ও প্রত্যেকটি চিন্তাভাবনা বোঝেন। তুমি যদি তাঁর অন্বেষণ করো, তবে তাঁকে খুঁজে পাবেই; কিন্তু যদি তাঁকে ত্যাগ করো, তবে তিনি চিরতরে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করবেন।
1CH 28:10 এখন তবে বিবেচনা করো, কারণ উপাসনার পীঠস্থানরূপে একটি ভবন তৈরি করার উদ্দেশে তিনি তোমাকেই মনোনীত করেছেন। তুমি বলবান হও ও সে কাজটি করো।”
1CH 28:11 পরে দাউদ তাঁর ছেলে শলোমনকে মন্দিরের দ্বারমণ্ডপের, সেটির নির্মাণশৈলীর, ভাঁড়ারঘরগুলির, উপরের দিকের অংশগুলির, ভিতরদিকের ঘরগুলির ও প্রায়শ্চিত্ত করার স্থানটির নকশা বুঝিয়ে দিলেন।
1CH 28:12 সদাপ্রভুর মন্দির-সংলগ্ন প্রাঙ্গণের ও তার চারপাশের ঘরগুলির, ঈশ্বরের মন্দিরের কোষাগারগুলির ও উৎসর্গীকৃত জিনিসপত্র রাখার কোষাগারগুলির বিষয়ে ঈশ্বরের আত্মা দাউদের মনে যে যে নকশা ভরে দিলেন, সেগুলি তিনি শলোমনকে জানিয়ে দিলেন।
1CH 28:13 যাজক ও লেবীয়দের বিভিন্ন বিভাগের, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের পরিচর্যামূলক সব কাজের, তথা সেই পরিচর্যাকাজে ব্যবহৃত হতে যাওয়া সব জিনিসপত্রের বিষয়েও তিনি শলোমনকে বেশ কিছু নির্দেশ দিলেন।
1CH 28:14 বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হতে যাওয়া সোনার সব জিনিসপত্রের জন্য সোনার ওজন, ও বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হতে যাওয়া রুপোর সব জিনিসপত্রের জন্য রুপোর ওজনও তিনি ঠিক করে দিলেন:
1CH 28:15 প্রত্যেকটি বাতিদানের ব্যবহার অনুসারে সোনার বাতিদানগুলির ও সেগুলিতে থাকা বাতিগুলির জন্য নিরূপিত সোনার ওজন, এবং প্রত্যেকটি বাতিদানের ও সেগুলিতে থাকা বাতিগুলির ওজন; এবং প্রত্যেকটি রুপোর বাতিদানের ও সেগুলিতে থাকা বাতিগুলির জন্য নিরূপিত রুপোর ওজন;
1CH 28:16 উৎসর্গীকৃত দর্শন-রুটির প্রত্যেকটি টেবিলের জন্য নিরূপিত সোনার ওজন; রুপোর টেবিলগুলির জন্য নিরূপিত রুপোর ওজন;
1CH 28:17 কাঁটাচামচগুলির, যেসব বাটি দিয়ে জল ছিটানো হয়, সেগুলির ও ঘটিগুলির জন্য নিরূপিত খাঁটি সোনার ওজন; সোনার প্রত্যেকটি থালার জন্য নিরূপিত সোনার ওজন; রুপোর প্রত্যেকটি থালার জন্য নিরূপিত রুপোর ওজন;
1CH 28:18 এবং ধূপবেদির জন্য নিরূপিত পরিশ্রুত সোনার ওজন তিনি স্থির করে দিলেন। এছাড়াও তিনি শলোমনকে সেই রথের নকশাটিও দিলেন, অর্থাৎ, সোনার সেই করূব দুটির নকশা, যেগুলি পাখা মেলে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটিকে ঢেকে রাখত।
1CH 28:19 “এসবই,” দাউদ বললেন, “আমার উপর সদাপ্রভুর হাত বিস্তারিত থাকার পরিণামস্বরূপ আমি লিখে রাখতে পেরেছি, এবং সেই নকশার পুঙ্খানুপুঙ্খ সব বিবরণ তিনি আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছেন।”
1CH 28:20 এছাড়াও দাউদ তাঁর ছেলে শলোমনকে বললেন, “বলবান ও সাহসী হও, আর কাজটি করে ফেলো। ভয় পেয়ো না বা হতাশ হোয়ো না, কারণ, সদাপ্রভু ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছেন। সদাপ্রভুর মন্দিরের পরিচর্যার সব কাজ যতক্ষণ না সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি তোমাকে ছাড়বেন না বা ত্যাগও করবেন না।
1CH 28:21 ঈশ্বরের মন্দির সংক্রান্ত সব কাজ করার জন্য বিভিন্ন বিভাগের অন্তর্গত যাজক ও লেবীয়রা প্রস্তুত আছেন, এবং যে কোনো শিল্পকলা হোক না কেন, সেগুলিতে নিপুণ প্রত্যেক ইচ্ছুক ব্যক্তি সব কাজে তোমাকে সাহায্য করবে। কর্মকর্তারা ও সব লোকজন তোমার প্রত্যেকটি আদেশ পালন করবে।”
1CH 29:1 পরে রাজা দাউদ সমগ্র জনসমাজকে বললেন: “যাকে ঈশ্বর মনোনীত করেছেন, আমার ছেলে সেই শলোমনের বয়স কম ও সে অনভিজ্ঞও বটে। কাজটি তো সুবিশাল, যেহেতু এই প্রাসাদোপম অট্টালিকাটি মানুষের জন্য নয়, কিন্তু সদাপ্রভু ঈশ্বরের জন্যই তৈরি হচ্ছে।
1CH 29:2 আমার সব সম্বল দিয়ে আমি আমার ঈশ্বরের মন্দিরের জন্য জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করেছি—সোনার কাজের জন্য সোনা, রুপোর কাজের জন্য রুপো, ব্রোঞ্জের কাজের জন্য ব্রোঞ্জ, লোহার কাজের জন্য লোহা ও কাঠের কাজের জন্য কাঠ, একইসাথে সাজসজ্জার জন্য স্ফটিকমণি, ফিরোজা, বিভিন্ন রংয়ের পাথর, ও সব ধরনের মসৃণ পাথর ও মার্বেল পাথর—এসবই আমি প্রচুর পরিমাণে জোগাড় করেছি।
1CH 29:3 এর পাশাপাশি, আমি এই পবিত্র মন্দিরের জন্য এখনও পর্যন্ত যা যা দিয়েছি, সেগুলি ছাড়াও আমার ঈশ্বরের মন্দিরের প্রতি সমর্পণ দেখিয়ে আমি আমার ঈশ্বরের মন্দিরের জন্য এখন আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা সোনারুপোও দিয়ে দিচ্ছি:
1CH 29:4 ঘরের দেওয়ালগুলি মুড়ে দেওয়ার জন্য 3,000 তালন্ত সোনা (ওফীরের সোনা) ও 7,000 তালন্ত পরিশ্রুত রুপো,
1CH 29:5 সোনার কাজের জন্য সোনা ও রুপোর কাজের জন্য রুপো, এবং কারুশিল্পীদের দ্বারা সম্পন্ন সব কাজের জন্যই আমি এগুলি দিচ্ছি। এখন বলো দেখি, সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করার জন্য আজ কে কে ইচ্ছুক?”
1CH 29:6 তখন বিভিন্ন বংশের নেতারা, ইস্রায়েলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কর্মকর্তারা, সহস্র-সেনাপতিরা ও শত-সেনাপতিরা, এবং রাজকার্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বেচ্ছাপূর্বক দান করলেন।
1CH 29:7 তারা ঈশ্বরের মন্দিরের কাজে 5,000 তালন্ত সোনা ও 10,000 অদর্কোন স্বর্ণমুদ্রা, 10,000 তালন্ত রুপো, 18,000 তালন্ত ব্রোঞ্জ ও 1,00,000 তালন্ত লোহা দিলেন।
1CH 29:8 যার যার কাছে দামি মণিমুক্তো ছিল, তারা সেগুলি সদাপ্রভুর মন্দিরের কোষাগারে নিয়ে গিয়ে গের্শোনীয় যিহীয়েলের হাতে তুলে দিয়েছিল।
1CH 29:9 প্রজারা তাদের নেতাদের স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিক্রিয়া দেখে আনন্দ করল, কারণ তারা মুক্তহস্তে ও সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর উদ্দেশে দান দিলেন। রাজা দাউদও খুব খুশি হলেন।
1CH 29:10 দাউদ এই বলে সমগ্র জনসমাজের উপস্থিতিতে সদাপ্রভুর প্রশংসা করলেন, “তোমার প্রশংসা হোক, হে সদাপ্রভু, হে আমাদের পূর্বপুরুষ ইস্রায়েলের ঈশ্বর, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত হোক।
1CH 29:11 হে সদাপ্রভু, মহত্ত্ব ও ক্ষমতা তোমারই আর প্রতাপ ও রাজসিকতা ও ঐশ্বর্যও তোমারই, কারণ স্বর্গে ও মর্ত্যে সবকিছু তোমারই। হে সদাপ্রভু, রাজ্য তোমারই; সবকিছুর উপরে তুমিই মস্তকরূপে উন্নত।
1CH 29:12 ধনসম্পত্তি ও সম্মান তোমারই কাছ থেকে আসে; তুমিই সবকিছুর শাসনকর্তা। সবাইকে উন্নত করার ও শক্তি জোগানোর জন্য শক্তি ও বল তোমারই হাতে আছে।
1CH 29:13 এখন, হে আমাদের ঈশ্বর, আমরা তোমায় ধন্যবাদ জানাই, ও তোমার মহিমাময় নামের প্রশংসা করি।
1CH 29:14 “কিন্তু আমি কে, আর আমার প্রজারাই বা কে, যে আমরা উদারতাপূর্বক এত কিছু দিতে পারব? সবকিছুই তোমারই কাছ থেকে আসে, এবং তোমার হাত ধরে যা এসেছে, আমরা তোমাকে শুধু সেটুকুই দিয়েছি।
1CH 29:15 আমাদের সব পূর্বপুরুষদের মতো আমরাও তোমার দৃষ্টিতে বিদেশি ও অচেনা অজানা লোক। পৃথিবীর বুকে আমাদের দিনগুলি এক ছায়ার মতো, যার কোনও আশাই নেই।
1CH 29:16 হে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার পবিত্র নামের জন্য এক মন্দির তৈরি করতে গিয়ে আমরা এই যেসব প্রচুর আয়োজন করেছি, এসবই তোমার হাত ধরেই এসেছে, এবং এসব তোমারই।
1CH 29:17 হে আমার ঈশ্বর, আমি জানি যে তুমি হৃদয়ের পরীক্ষা করো এবং সততা দেখে খুশি হও। এসব কিছু আমি স্বেচ্ছায় সৎ-উদ্দেশ্য নিয়েই দিয়েছি। আর এখন আমি আনন্দিত হয়ে দেখেছি, এখানে উপস্থিত তোমার প্রজারা কত খুশিমনে তোমাকে দান দিয়েছে।
1CH 29:18 হে সদাপ্রভু, আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তুমি চিরকাল তোমার প্রজাদের অন্তরে এইসব বাসনা ও ভাবনাচিন্তা বজায় রেখো, এবং তাদের অন্তরগুলি তোমার প্রতি অনুগত করে রোখো।
1CH 29:19 তোমার আদেশ, বিধিনিয়ম ও বিধানগুলি পালন করার এবং যে প্রাসাদোপম অট্টালিকাটি তৈরি করার জন্য আমি জিনিসপত্রের জোগান দিয়েছি, সেটি তৈরি করার সময় সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করার জন্য আমার ছেলে শলোমনকে তুমি আন্তরিক নিষ্ঠা দিয়ো।”
1CH 29:20 পরে দাউদ সমগ্র জনসমাজকে বললেন, “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।” তখন তারা সবাই তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করল; তারা নতজানু হল, সদাপ্রভুর ও রাজার সামনে তারা মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিল।
1CH 29:21 ঠিক পরের দিন তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলিদান উৎসর্গ করল এবং তাঁর কাছে এই হোমবলিগুলি নিয়ে এসেছিল: 1,000 বলদ, 1,000 মদ্দা মেষ ও মেষের 1,000 মদ্দা শাবক, একইসাথে তারা তাদের পেয়-নৈবেদ্য, ও অজস্র পরিমাণে অন্যান্য সব বলি সমস্ত ইস্রায়েলের জন্য নিয়ে এসেছিল।
1CH 29:22 সেদিন তারা মহানন্দে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে ভোজনপান করল। পরে তারা শাসনকর্তা হওয়ার জন্য দাউদের ছেলে শলোমনকে সদাপ্রভুর সামনে অভিষিক্ত করে দ্বিতীয়বার রাজারূপে ও যাজক হওয়ার জন্য সাদোককেও স্বীকৃতি দিয়েছিল।
1CH 29:23 অতএব শলোমন তাঁর বাবা দাউদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাজারূপে সদাপ্রভুর সিংহাসনে বসেছিলেন। তিনি সমৃদ্ধিলাভ করলেন ও ইস্রায়েলীরা সবাই তাঁর বাধ্য হল।
1CH 29:24 কর্মকর্তা ও যোদ্ধারা সবাই, একইসাথে রাজা দাউদের ছেলেরা সবাই রাজা শলোমনের প্রতি তাদের আনুগত্য দেখিয়েছিলেন।
1CH 29:25 সমগ্র ইস্রায়েলের দৃষ্টিতে সদাপ্রভু শলোমনকে অত্যন্ত উন্নত করলেন এবং তাঁকে এমন রাজকীয় ঐশ্বর্য দান করলেন, যা ইস্রায়েলের কোনও রাজা কখনও পাননি।
1CH 29:26 যিশয়ের ছেলে দাউদ সমগ্র ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করলেন।
1CH 29:27 তিনি চল্লিশ বছর ধরে ইস্রায়েলে শাসন চালিয়েছিলেন—সাত বছর হিব্রোণে ও তেত্রিশ বছর জেরুশালেমে।
1CH 29:28 দীর্ঘায়ু, ধনসম্পত্তি ও সম্মান উপভোগ করার পর তিনি যথেষ্ট বৃদ্ধ বয়সে মারা গেলেন। তাঁর ছেলে শলোমন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
1CH 29:29 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, রাজা দাউদের রাজত্বকালের যাবতীয় ঘটনা দর্শক শমূয়েলের, ভাববাদী নাথনের ও দর্শক গাদের লেখা নথিগুলিতে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে,
1CH 29:30 একইসাথে তাঁর রাজত্বের ও ক্ষমতার, এবং তাঁকে ও ইস্রায়েলকে তথা অন্যান্য সব দেশের রাজ্যগুলি ঘিরে যেসব পরিস্থিতি আবর্তিত হল, সেগুলিরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সেগুলিতে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।
2CH 1:1 দাউদের ছেলে শলোমন তাঁর রাজ্যের উপর নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, কারণ তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর সাথেই ছিলেন ও তিনি তাঁকে খুব উন্নত করলেন।
2CH 1:2 পরে শলোমন সমস্ত ইস্রায়েলের সাথে—সহস্র-সেনাপতিদের ও শত-সেনাপতিদের, বিচারকদের এবং ইস্রায়েলের সব নেতার, অর্থাৎ বিভিন্ন বংশের কর্তাব্যক্তিদের—সাথে কথা বললেন
2CH 1:3 এবং শলোমন ও সমগ্র জনসমাজ গিবিয়োনের উঁচু স্থানটিতে গেলেন, কারণ ঈশ্বরের সেই সমাগম তাঁবুটি সেখানেই ছিল, যেটি সদাপ্রভুর দাস মোশি মরুপ্রান্তরে তৈরি করলেন।
2CH 1:4 ইত্যবসরে দাউদ কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে ঈশ্বরের তাঁবুটি সেখানেই নিয়ে এলেন, যে স্থানটি তিনি সেটি রাখার জন্য তৈরি করলেন, কারণ জেরুশালেমেই তিনি সেটি রাখার জন্য একটি তাঁবু খাটিয়েছিলেন।
2CH 1:5 কিন্তু হূরের নাতি তথা ঊরির ছেলে বৎসলেলের তৈরি করা ব্রোঞ্জের সেই বেদিটি গিবিয়োনে সদাপ্রভুর সমাগম তাঁবুর সামনেই রাখা ছিল; তাই শলোমন ও সেই জনসমাজ সেখানেই তাঁর কাছে খোঁজখবর নিয়েছিলেন।
2CH 1:6 শলোমন সমাগম তাঁবুতে সদাপ্রভুর সামনে রাখা ব্রোঞ্জের বেদির কাছে গেলেন ও সেটির উপর এক হাজার হোমবলি উৎসর্গ করলেন।
2CH 1:7 সেরাতে ঈশ্বর শলোমনের কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “তোমার যা ইচ্ছা হয়, আমার কাছে তাই চেয়ে নাও।”
2CH 1:8 শলোমন ঈশ্বরকে উত্তর দিলেন, “আমার বাবা দাউদের প্রতি তুমি যথেষ্ট দয়া দেখিয়েছ এবং তাঁর স্থানে তুমি আমাকেই রাজা করেছ।
2CH 1:9 এখন, হে ঈশ্বর সদাপ্রভু, আমার বাবা দাউদের কাছে করা তোমার প্রতিজ্ঞাটি সুনিশ্চিত করো, কারণ তুমি আমাকে এমন এক জাতির উপরে রাজা করেছ, যারা সংখ্যায় পৃথিবীর ধূলিকণার মতো অসংখ্য।
2CH 1:10 আমাকে তুমি এমন প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দাও, যেন আমি এইসব লোককে পরিচালনা করতে পারি, কারণ কে-ই বা তোমার এই বিশাল প্রজাপালকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম?”
2CH 1:11 ঈশ্বর শলোমনকে বললেন, “যেহেতু এই তোমার অন্তরের বাসনা ও তুমি ধনসম্পদ, অধিকার বা সম্মান চাওনি, না তুমি তোমার শত্রুদের মৃত্যু কামনা করেছ, এবং যেহেতু তুমি দীর্ঘায়ু না চেয়ে যাদের উপর আমি তোমাকে রাজা করেছি, আমার সেই প্রজাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রজ্ঞা ও জ্ঞান চেয়েছ,
2CH 1:12 তাই তোমাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দেওয়া হবে। এছাড়াও আমি তোমাকে এমন ধনসম্পদ, অধিকার ও সম্মান দেব, যেমনটি না তোমার আগে রাজত্ব করে যাওয়া কোনও রাজা পেয়েছে বা তোমার পরে আসতে চলেছে, এমন কোনও রাজা কখনও পাবে।”
2CH 1:13 পরে শলোমন গিবিয়োনের সেই উঁচু স্থানটি ছেড়ে, সমাগম তাঁবুর সামনে থেকে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন। আর তিনি ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করে যেতে লাগলেন।
2CH 1:14 শলোমন প্রচুর রথ ও ঘোড়া একত্রিত করলেন; তাঁর কাছে এক হাজার চারশো রথ ও 12,000 ঘোড়া ছিল, যা তিনি বিভিন্ন রথ-নগরীতে রেখেছিলেন এবং কয়েকটিকে তিনি নিজের কাছে জেরুশালেমেও রেখেছিলেন।
2CH 1:15 জেরুশালেমে রাজা, রুপো ও সোনাকে পাথরের মতো সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনেছিলেন, এবং দেবদারু কাঠকে পর্বতমালার পাদদেশে উৎপন্ন ডুমুর গাছের মতো পর্যাপ্ত করে তুলেছিলেন।
2CH 1:16 শলোমনের ঘোড়াগুলি আমদানি করা হত মিশর ও কুই থেকে—রাজকীয় বণিকেরা বাজার দরে সেগুলি কুই থেকে কিনে আনত।
2CH 1:17 তারা মিশর থেকে এক-একটি রথ আমদানি করত ছয়শো শেকল রুপো দিয়ে, এবং এক-একটি ঘোড়া আমদানি করত একশো 50 শেকলে। এছাড়াও হিত্তীয় ও অরামীয় সব রাজার কাছে তারা সেগুলি রপ্তানিও করত।
2CH 2:1 শলোমন সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে একটি মন্দির এবং নিজের জন্য একটি রাজপ্রাসাদ তৈরি করার আদেশ দিলেন।
2CH 2:2 70,000 জনকে ভারবহন করার ও 80,000 জনকে পাহাড়ে পাথর কাটার ও 3,600 জনকে তাদের উপর সর্দার-শ্রমিকরূপে তিনি বাধ্যতামূলকভাবে কাজে লাগলেন।
2CH 2:3 সোরের রাজা হীরমের কাছে শলোমন এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “আমার বাবা দাউদের থাকার জন্য এক প্রাসাদ তৈরি করার লক্ষ্যে যেভাবে আপনি তাঁর কাছে দেবদারু কাঠ পাঠালেন, সেভাবে আমার কাছেও আপনি কিছু দেবদারু কাঠের গুঁড়ি পাঠিয়ে দিন।
2CH 2:4 আমি এখন আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে একটি মন্দির তৈরি করে তাঁর সামনে সুগন্ধি ধূপ পোড়ানোর জন্য, নিয়মিতভাবে উৎসর্গীকৃত রুটি সাজিয়ে রাখার জন্য, এবং প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ও সাব্বাথবারে, অমাবস্যায় ও আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর স্থির করে দেওয়া উৎসবের দিনগুলিতে হোমবলি উৎসর্গ করার জন্য সেটি তাঁর কাছে উৎসর্গ করতে চলেছি। এটি ইস্রায়েলের জন্য চিরস্থায়ী পালনীয় এক নিয়ম।
2CH 2:5 “যে মন্দিরটি আমি তৈরি করতে চলেছি, সেটি হবে অসামান্য, কারণ আমাদের ঈশ্বর অন্য সব দেবতার তুলনায় মহান।
2CH 2:6 কিন্তু তাঁর জন্য এক মন্দির নির্মাণ করতে কে-ই বা সক্ষম, যেহেতু আকাশমণ্ডল, এমনকি স্বর্গের স্বর্গও যে তাঁকে ধারণ করতে অপারক? তবে শুধু তাঁর সামনে বলিকৃত উপহারগুলি জ্বালানোর উপযোগী এক স্থান তৈরি করা ছাড়া আমি কি তাঁর জন্য এক মন্দির নির্মাণ করতে পারব?
2CH 2:7 “অতএব আমার কাছে এমন একজন কারিগর পাঠিয়ে দিন যে সোনার ও রুপোর, ব্রোঞ্জের ও লোহার, এবং বেগুনি, রক্তলাল ও নীল সুতোর কাজে দক্ষ, এবং সে যেন খোদাই করার কাজেও অভিজ্ঞ হয়, এবং যিহূদা ও জেরুশালেমে আমার সেইসব দক্ষ কারিগরের সাথে মিলেমিশে সে যেন কাজ করতে পারে, যাদের আমার বাবা দাউদ জোগাড় করে রেখেছিলেন।
2CH 2:8 “এছাড়াও আমার কাছে লেবানন থেকে দেবদারু, চিরহরিৎ গাছের ও আলগুম কাঠের গুঁড়িও পাঠিয়ে দিন, কারণ আমি জানি যে আপনার দাসেরা সেখানে কাঠ কাটার কাজে বেশ দক্ষ। আমার দাসেরাও আপনার দাসেদের সাথে মিলেমিশে
2CH 2:9 প্রচুর পরিমাণ তক্তা জোগানোর জন্য কাজ করবে, কারণ যে মন্দিরটি আমি তৈরি করছি, সেটি হবে বিশাল বড়ো ও দর্শনীয়।
2CH 2:10 আমি আপনার দাসেদের, যারা কাঠ কাটবে, সেইসব কাঠুরিয়াকে 20,000 কোর পেষাই করা গম, 20,000 কোর যব, 20,000 বাৎ দ্রাক্ষারস ও 20,000 বাৎ জলপাই তেল দেব।”
2CH 2:11 সোরের রাজা হীরম শলোমনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এর উত্তর দিলেন: “সদাপ্রভু যেহেতু তাঁর প্রজাদের ভালোবাসেন, তাই তিনি আপনাকে তাদের রাজা করেছেন।”
2CH 2:12 হীরম সাথে আরও বললেন: “ইস্রায়েলের সদাপ্রভু সেই ঈশ্বরের প্রশংসা হোক, যিনি স্বর্গ ও মর্ত্য তৈরি করেছেন! তিনি রাজা দাউদকে এমন এক বিচক্ষণ ছেলে দিয়েছেন, যিনি বুদ্ধিমত্তা ও দূরদৃষ্টিতে পরিপূর্ণ, এবং তিনিই সদাপ্রভুর জন্য এক মন্দির ও নিজের জন্য এক প্রাসাদ তৈরি করবেন।
2CH 2:13 “আমি আপনার কাছে সেই হূরম-আবিকে পাঠাচ্ছি, যে যথেষ্ট দক্ষ এক লোক,
2CH 2:14 যার মায়ের বাড়ি দানে ও বাবার বাড়ি সোরে। সে সোনা ও রুপোর, ব্রোঞ্জ ও লোহার, পাথর ও কাঠের, এবং বেগুনি, নীল ও রক্তলাল সুতোর এবং মিহি মসিনার কাজে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। সব ধরনের খোদাইয়ের কাজে সে অভিজ্ঞ এবং তাকে দেওয়া যে কোনো নকশা সে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। সে আপনার দক্ষ কারিগরদের ও আপনার বাবা, আমার প্রভু দাউদের দক্ষ কারিগরদের সাথেও কাজ করবে।
2CH 2:15 “এখন আপনার করা প্রতিজ্ঞানুসারেই হে আমার প্রভু, আপনি আপনার দাসদের কাছে গম ও যব এবং জলপাই তেল ও দ্রাক্ষারস পাঠিয়ে দিন,
2CH 2:16 এবং আমরাও আপনার চাহিদানুসারে লেবানন থেকে কাঠের গুঁড়িগুলি কেটে সমুদ্রপথে সেসব ভেলায় করে ভাসিয়ে জোপ্পা পর্যন্ত পৌঁছে দেব। পরে আপনি সেগুলি জেরুশালেমে উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।”
2CH 2:17 শলোমনের বাবা দাউদ জনগণনা করানোর পর আরও একবার শলোমন ইস্রায়েলে বসবাসকারী সব বিদেশি লোকের জনগণনা করিয়েছিলেন; এবং তাদের সংখ্যা হল 1,53,600 জন।
2CH 2:18 তাদের মধ্যে 70,000 জনকে তিনি ভারবহন করার ও 80,000 জনকে পাহাড়ে পাথর কাটার কাজে, তথা 3,600 জনকে তাদের উপর সর্দার-শ্রমিকরূপে নিযুক্ত করে দিলেন, যেন তারা লোকদের দিয়ে ঠিকঠাক কাজ করাতে পারে।
2CH 3:1 পরে শলোমন জেরুশালেমে সেই মোরিয়া পর্বতের উপর মন্দির নির্মাণ করতে শুরু করলেন, যেখানে সদাপ্রভু তাঁর বাবা দাউদের কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যিবূষীয় অরৌণার সেই খামারের উপরেই সেটি অবস্থিত ছিল, যে স্থানটি দাউদ জোগাড় করেছিলেন।
2CH 3:2 শলোমনের রাজত্বের চতুর্থ বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় দিনে তিনি সেই নির্মাণকাজটি শুরু করলেন।
2CH 3:3 ঈশ্বরের মন্দিরটি তৈরি করতে গিয়ে শলোমন যে ভীত গেঁথেছিলেন, তার মাপ হল সাতাশ মিটার লম্বা ও নয় মিটার চওড়া (পুরোনো দিনের হাতের মাপ অনুসারে)।
2CH 3:4 মন্দিরের সামনের দিকের বারান্দাটি ভবনের প্রস্থানুসারে নয় মিটার করে লম্বা ও উঁচু হল। ভিতরের দিকটি তিনি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 3:5 প্রধান বড়ো ঘরটিতে তিনি চিরহরিৎ গাছ থেকে উৎপন্ন কাঠের তক্তা বসিয়েছিলেন এবং খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন ও সেটি খেজুর গাছের ও শিকলের নকশা দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন।
2CH 3:6 মন্দিরটি তিনি দামি মণিমুক্তো দিয়েও সাজিয়ে তুলেছিলেন। আর যে সোনা তিনি সেখানে ব্যবহার করলেন, তা হল পর্বয়িম দেশের সোনা।
2CH 3:7 মন্দিরের ছাদের কড়িকাঠ, দরজার চৌকাঠ, দেয়াল ও দরজাগুলি তিনি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং দেয়ালের উপরে তিনি করূবের নকশা ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
2CH 3:8 তিনি মহাপবিত্র স্থানটিও তৈরি করলেন, এবং মন্দিরের প্রস্থানুসারে সেটির দৈর্ঘ্য হল—নয় মিটার করে লম্বা ও চওড়া। ভিতরের দিকটি তিনি ছয়শো তালন্ত খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 3:9 সোনার পেরেকগুলির মোট ওজন হল পঞ্চাশ শেকল। উপর দিকের ঘরগুলিও তিনি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 3:10 মহাপবিত্র স্থানের জন্য তিনি করূবাকৃতি এক জোড়া ভাস্কর্যমূর্তি তৈরি করে সেগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 3:11 করূব দুটির ডানার মোট দৈর্ঘ্য হল নয় মিটার। প্রথম করূবটির একটি ডানা ছিল 2.3 মিটার লম্বা এবং সেটি মন্দিরের দেয়াল ছুঁয়েছিল, আবার সেটির অন্য ডানাটিও ছিল 2.3 মিটার লম্বা, ও সেই ডানাটি অন্য একটি করূবের ডানা ছুঁয়েছিল।
2CH 3:12 তেমনি আবার দ্বিতীয় করূবটির একটি ডানা ছিল 2.3 মিটার লম্বা ও সেটি মন্দিরের অন্য দেয়ালটি ছুঁয়েছিল, এবং সেটির অন্য ডানাটিও ছিল 2.3 মিটার লম্বা, ও সেই ডানাটি প্রথম করূবটির ডানা ছুঁয়েছিল।
2CH 3:13 এই করূব দুটির ডানাগুলি নয় মিটার ছড়ানো ছিল। সেগুলি নিজেদের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, ও প্রধান বড়ো ঘরটির দিকে মুখ করেই দাঁড়িয়েছিল।
2CH 3:14 নীল, বেগুনি ও টকটকে লালা সুতো ও মিহি মসিনা দিয়ে তিনি একটি পর্দা তৈরি করলেন এবং সেই পর্দায় করূবের নকশা ফুটিয়ে তুললেন।
2CH 3:15 মন্দিরের সামনের দিকের জন্য তিনি এমন দুটি স্তম্ভ তৈরি করলেন, একসাথে যেগুলির দৈর্ঘ্য হল ষোলো মিটার, এবং প্রত্যেকটিতে 2.3 মিটার করে উঁচু এক-একটি স্তম্ভশীর্ষ ছিল।
2CH 3:16 তিনি একসাথে গাঁথা শেকল তৈরি করে সেগুলি স্তম্ভগুলির মাথায় পরিয়ে দিলেন। এছাড়াও তিনি একশোটি ডালিম তৈরি করে, সেগুলি শিকলের সাথে জুড়ে দিলেন।
2CH 3:17 মন্দিরের সামনের দিকে তিনি দুটি স্তম্ভ বসিয়ে দিলেন, একটি দক্ষিণ দিকে এবং অন্য একটি উত্তর দিকে। দক্ষিণ দিকের স্তম্ভটির নাম তিনি দিলেন যাখীন ও উত্তর দিকের স্তম্ভটির নাম দিলেন বোয়স।
2CH 4:1 তিনি প্রায় 9 মিটার করে লম্বা ও চওড়া ও প্রায় 4.6 মিটার উঁচু ব্রোঞ্জের একটি বেদি তৈরি করলেন।
2CH 4:2 ধাতু ছাঁচে ঢেলে তিনি গোলাকার এমন এক সমুদ্রপাত্র তৈরি করলেন, যা মাপে এক কিনারা থেকে অন্য কিনারা পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে হল প্রায় 4.6 মিটার ও উচ্চতায় হল প্রায় 2.3 মিটার। সেটি ঘিরে মাপা হলে, তা প্রায় 13.8 মিটার হল।
2CH 4:3 ঘেরের নিচের দিক ঘিরে প্রায় 45 সেন্টিমিটার এক হাতের দশ ভাগের এক ভাগ মাপের কয়েকটি বলদের আকৃতি ঢালাই করে দেওয়া হল। সমুদ্রপাত্রের সাথেই বলদগুলি একটি করে দুই দুই সারিতে ঢালাই করে দেওয়া হল।
2CH 4:4 সমুদ্রপাত্রটি বারোটি বলদের উপর দাঁড় করানো ছিল। সেগুলির মধ্যে তিনটি উত্তর দিকে, তিনটি পশ্চিমদিকে, তিনটি দক্ষিণ দিকে ও তিনটি পূর্বদিকে মুখ করে ছিল। সমুদ্রপাত্রটি সেগুলির উপরেই ভর দিয়েছিল, এবং সেগুলির শরীরের পিছনের অংশগুলি কেন্দ্রস্থলের দিকে রাখা ছিল।
2CH 4:5 সমুদ্রপাত্রটি প্রায় 75 সেন্টিমিটার পুরু ছিল, ও সেটির পরিধি ছিল একটি পেয়ালার পরিধির মতো, বা একটি লিলিফুলের মতো। সেটিতে 3,000 বাত জল রাখা যেত।
2CH 4:6 পরে তিনি ধোয়াধুয়ি করার জন্য দশটি গামলা তৈরি করলেন এবং পাঁচটি দক্ষিণ দিকে ও পাঁচটি উত্তর দিকে রেখে দিলেন। হোমবলির জন্য ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সেগুলির মধ্যে রেখে ধোয়া হত, কিন্তু সমুদ্রপাত্রটি যাজকই ধোয়াধুয়ি করার জন্য ব্যবহার করতেন।
2CH 4:7 যেমনভাবে তৈরি করতে বলা হল, ঠিক সেভাবেই তিনি সোনার দশটি বাতিদান তৈরি করলেন এবং সেগুলি মন্দিরে রেখে দিলেন—পাঁচটি দক্ষিণ দিকে ও পাঁচটি উত্তর দিকে।
2CH 4:8 তিনি দশটি টেবিল তৈরি করলেন এবং সেগুলি মন্দিরে রেখে দিলেন—পাঁচটি দক্ষিণ দিকে ও পাঁচটি উত্তর দিকে। এছাড়াও তিনি জল ছিটানোর কাজে ব্যবহারযোগ্য একশোটি সোনার বাটিও তৈরি করলেন।
2CH 4:9 তিনি যাজকদের জন্য একটি উঠোন, এবং বিশাল আর একটি উঠোন ও সেখানকার কয়েকটি দরজা তৈরি করলেন, ও দরজাগুলি ব্রোঞ্জ দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 4:10 সমুদ্রপাত্রটিকে তিনি দক্ষিণ দিকে, একেবারে দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন।
2CH 4:11 এছাড়া হূরমও আরও কয়েকটি পাত্র, বেলচা ও জল ছিটানোর বাটিও তৈরি করল। অতএব ঈশ্বরের মন্দিরে রাজা শলোমনের জন্য হূরম যা যা করার দায়িত্ব নিয়েছিল, সেগুলি সে সম্পূর্ণ করল:
2CH 4:12 দুটি স্তম্ভ; স্তম্ভের উপরে বসানোর জন্য গামলার আকারবিশিষ্ট দুটি স্তম্ভশীর্ষ; স্তম্ভের উপরে বসানো গামলার আকারবিশিষ্ট দুটি স্তম্ভশীর্ষ সাজিয়ে তোলার জন্য দুই সারি পরস্পরছেদী জাল;
2CH 4:13 দুই সারি পরস্পরছেদী জালের জন্য 400 ডালিম (স্তম্ভগুলির উপরে বসানো গামলার আকারবিশিষ্ট স্তম্ভশীর্ষ সাজিয়ে তোলার কাজে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি পরস্পরছেদী জালের জন্য দুই সারি করে ডালিম);
2CH 4:14 কয়েকটি তাক ও ধোয়াধুয়ি করার জন্য তাকের সাথে লেগে থাকা কয়েকটি গামলা;
2CH 4:15 সমুদ্রপাত্র ও সেটির নিচে থাকা বারোটি বলদ;
2CH 4:16 কয়েকটি হাঁড়ি, বেলচা, মাংস তোলার কাঁটাচামচ ও আনুষঙ্গিক বাকি সব জিনিসপত্র। সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য রাজা শলোমনের হয়ে হূরম-আবি যেসব সামগ্রী তৈরি করল, সেসবই তৈরি হল পালিশ করা ব্রোঞ্জ দিয়ে।
2CH 4:17 জর্ডন-সমভূমিতে সুক্কোৎ ও সর্তনের মাঝামাঝি এক স্থানে মাটির ছাঁচে করে রাজা সেগুলি ঢালাই করিয়েছিলেন।
2CH 4:18 শলোমন এই যেসব জিনিসপত্র তৈরি করলেন, সেগুলি পরিমাণে এত বেশি হল যে ব্রোঞ্জের ওজন হিসেব করে রাখা যায়নি।
2CH 4:19 এছাড়াও শলোমন সেইসব আসবাবপত্রাদি তৈরি করলেন, যেগুলি ঈশ্বরের মন্দিরে রাখা হল: সোনার যজ্ঞবেদি; দর্শন-রুটি রাখার টেবিলগুলি;
2CH 4:20 যেমনভাবে তৈরি করতে বলা হল, ঠিক সেভাবেই তৈরি করা বাতি সমেত খাঁটি সোনার সেই দীপাধারগুলি, যেগুলি মহাপবিত্র স্থানের সামনে জ্বালাতে হত;
2CH 4:21 সোনার ফুলের কাজ এবং প্রদীপ ও চিমটেগুলি (সেগুলি নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি হল);
2CH 4:22 খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি পলতে ছাঁটার যন্ত্র, জল ছিটানোর জন্য ব্যবহারযোগ্য বাটি, তথা থালা ও ধূপদানিগুলি; এবং মন্দিরের সোনার দরজাগুলি: মহাপবিত্র স্থানের দিকে থাকা ভিতরদিকের দরজাগুলি ও প্রধান বড়ো ঘরের দরজাগুলি।
2CH 5:1 সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য শলোমনের করা সব কাজ সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাঁর বাবা দাউদের উৎসর্গ করা জিনিসপত্র—রুপো ও সোনা এবং সব আসবাবপত্রাদি—সেখানে নিয়ে এলেন এবং ঈশ্বরের মন্দিরের কোষাগারে সেগুলি রেখে দিলেন।
2CH 5:2 পরে দাউদ-নগরী সিয়োন থেকে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসার জন্য শলোমন ইস্রায়েলের প্রাচীনদের, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সব কর্তাব্যক্তিকে ও ইস্রায়েলী বংশের প্রধান লোকজনদের জেরুশালেমে ডেকে পাঠালেন।
2CH 5:3 সপ্তম মাসে উৎসব চলাকালীন ইস্রায়েলীরা সবাই রাজার কাছে একত্রিত হল।
2CH 5:4 ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা সবাই সেখানে পৌঁছে যাওয়ার পর লেবীয়েরা সেই সিন্দুকটি উঠিয়েছিলেন,
2CH 5:5 এবং তারা সেই সিন্দুকটি ও সমাগম তাঁবুটি ও সেখানে রাখা সব পবিত্র আসবাবপত্রাদি উঠিয়ে এনেছিল। লেবীয় বংশোদ্ভুক্ত যাজকেরা সেগুলি বহন করলেন;
2CH 5:6 আর রাজা শলোমন ও তাঁর কাছে একত্রিত হওয়া ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজ সিন্দুকটির সামনে উপস্থিত হয়ে এত মেষ ও গবাদি পশুবলি দিলেন, যে সেগুলি নথিভুক্ত করে বা গুনে রাখা সম্ভব হয়নি।
2CH 5:7 যাজকেরা পরে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি মন্দিরের ভিতরদিকের পীঠস্থানে, অর্থাৎ মহাপবিত্র স্থানে সেটির জন্য ঠিক করে রাখা স্থানে নিয়ে এলেন, এবং দুটি করূবের ডানার নিচে রেখে দিলেন।
2CH 5:8 করূব দুটি সেই সিন্দুক রাখার স্থানের উপর তাদের ডানা মেলে ধরেছিল এবং সেই সিন্দুক ও সেটির হাতলগুলি ঢেকে রেখেছিল।
2CH 5:9 সেই হাতলগুলি এত লম্বা ছিল যে সিন্দুক থেকে বের হয়ে আসা হাতলের শেষপ্রান্তগুলি ভিতরদিকের পীঠস্থানের সামনে থেকে দেখা যেত, কিন্তু পবিত্রস্থানের বাইরে থেকে দেখা যেত না; আর সেগুলি আজও সেখানেই আছে।
2CH 5:10 সেই সিন্দুকে সেই দুটি পাথরের ফলক ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যেগুলি ইস্রায়েলীরা মিশর দেশ থেকে বের হয়ে আসার পর সদাপ্রভু তাদের সাথে যেখানে এক নিয়ম স্থাপন করলেন, সেই হোরেবে মোশি সিন্দুকে ভরে রেখেছিলেন।
2CH 5:11 যাজকেরা পরে পবিত্রস্থান ছেড়ে চলে গেলেন। সেখানে উপস্থিত যাজকেরা সবাই তাদের বিভাগের কথা না ভেবেই নিজেদের উৎসর্গ করে দিলেন।
2CH 5:12 যেসব লেবীয় গানবাজনা করতেন—আসফ, হেমন, যিদূথূন ও তাদের ছেলেরা ও আত্মীয়স্বজন—তারা সবাই মিহি মসিনার কাপড় গায়ে দিয়ে ও সুরবাহার, বীণা ও খঞ্জনি বাজাতে বাজাতে যজ্ঞবেদির পূর্বদিকে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সাথে ছিলেন আরও 120 জন যাজক, যারা শিঙা বাজাচ্ছিলেন।
2CH 5:13 শিঙাবাদকেরা ও বাদ্যকররা সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানানোর জন্য যুগপৎ বিভিন্ন স্কেলে একই স্বর বাজিয়ে যাচ্ছিলেন। শিঙা, সুরবাহার ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের সংগত পেয়ে গায়করাও সদাপ্রভুর উদ্দেশে প্রশংসা করতে গিয়ে গলার স্বর উচ্চগ্রামে তুলেছিল এবং তারা গেয়েছিল: “তিনি মঙ্গলময়; তাঁর প্রেম চিরস্থায়ী।” তখন সদাপ্রভুর মন্দির মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল,
2CH 5:14 এবং সেই মেঘের কারণে যাজকেরা তাদের পরিচর্যা করে উঠতে পারেননি, যেহেতু সদাপ্রভুর প্রতাপে ঈশ্বরের মন্দিরটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
2CH 6:1 তখন শলোমন বললেন, “সদাপ্রভু বলেছেন যে তিনি ঘন মেঘের মাঝে বসবাস করবেন;
2CH 6:2 আমি তোমার জন্য এক দর্শনীয় মন্দির তৈরি করেছি, সেটি এমন এক স্থান, যেখানে তুমি চিরকাল বসবাস করবে।”
2CH 6:3 ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজ যখন সেখানে দাঁড়িয়েছিল, রাজামশাই তখন তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাদের আশীর্বাদ করলেন।
2CH 6:4 পরে তিনি বললেন: “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি নিজের হাতে তাঁর সেই প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন, যেটি তিনি নিজের মুখে আমার বাবা দাউদের কাছে করলেন। কারণ তিনি বললেন,
2CH 6:5 ‘যেদিন আমি আমার প্রজাদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে না একটি মন্দির নির্মাণ করার জন্য আমি ইস্রায়েলে কোনও বংশের একটি নগর মনোনীত করেছি, যেন সেখানে আমার নাম বজায় থাকে, না আমি আমার প্রজা ইস্রায়েলের উপর শাসনকর্তারূপে কাউকে মনোনীত করেছি।
2CH 6:6 কিন্তু আমার নাম বজায় রাখার জন্য এখন আমি জেরুশালেমকে মনোনীত করেছি এবং আমার প্রজা ইস্রায়েলকে শাসন করার জন্য আমি দাউদকে মনোনীত করেছি।’
2CH 6:7 “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে একটি মন্দির নির্মাণ করার বাসনা আমার বাবা দাউদের অন্তরে ছিল।
2CH 6:8 কিন্তু সদাপ্রভু আমার বাবা দাউদকে বললেন, ‘আমার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করার কথা ভেবে তুমি ভালোই করেছ।
2CH 6:9 তবে, তুমি সেই মন্দির নির্মাণ করবে না, কিন্তু তোমার সেই ছেলে, যে তোমারই রক্তমাংস—সেই আমার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করবে।’
2CH 6:10 “সদাপ্রভু তাঁর করা প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন: আমি আমার বাবা দাউদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি এবং সদাপ্রভুর প্রতিজ্ঞানুসারে এখন আমি ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসেছি, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে আমি মন্দিরটি নির্মাণ করেছি।
2CH 6:11 সেখানে আমি সেই সিন্দুকটি রেখেছি, যেটির মধ্যে সদাপ্রভুর সেই নিয়মটি রাখা আছে, যা তিনি ইস্রায়েলী জনতার জন্য স্থাপন করলেন।”
2CH 6:12 পরে শলোমন ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজের সামনে সদাপ্রভুর উপস্থিতিতে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁর দু-হাত মেলে ধরেছিলেন।
2CH 6:13 ইত্যবসরে তিনি আবার 2.3 মিটার লম্বা, 2.3 মিটার চওড়া ও 1.4 মিটার উঁচু ব্রোঞ্জের একটি মঞ্চ তৈরি করলেন, এবং সেটি বাইরের দিকের উঠোনের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ইস্রায়েলের সমগ্র জনসমাজের সামনে নতজানু হলেন এবং স্বর্গের দিকে দু-হাত প্রসারিত করে দিলেন।
2CH 6:14 তিনি বললেন: “হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, স্বর্গে বা মর্ত্যে তোমার মতো এমন কোনও ঈশ্বর আর কেউ নেই—তুমি তোমার সেই দাসদের কাছে করা তোমার প্রেমের নিয়ম রক্ষা করে থাকো, যারা সর্বান্তঃকরণে তোমার পথে চলে।
2CH 6:15 আমার বাবা, তথা তোমার দাস দাউদের কাছে করা প্রতিজ্ঞাটি তুমি পূরণ করেছ; নিজের মুখেই তুমি সেই প্রতিজ্ঞাটি করলে এবং নিজের হাতেই তুমি তা রক্ষাও করেছ—যেমনটি কি না আজ দেখা যাচ্ছে।
2CH 6:16 “এখন হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাস ও আমার বাবা দাউদের কাছে তোমার করা সেই প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করো, যে প্রতিজ্ঞায় তুমি বললে, ‘শুধু যদি তোমার বংশধরেরা আমার নিয়মানুসারে আমার সামনে চলার জন্য একটু সতর্ক হয়ে তোমার মতো সবকিছু করে, তবে আমার সামনে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসার জন্য তোমার কোনও উত্তরাধিকারীর অভাব হবে না।’
2CH 6:17 আর এখন, হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাস দাউদের কাছে করা তোমার প্রতিজ্ঞার সেই কথাটি যেন সত্যি হয়।
2CH 6:18 “কিন্তু ঈশ্বর কি সত্যিই পৃথিবীতে মানুষের সাথে বসবাস করবেন? আকাশমণ্ডল, এমনকি স্বর্গের স্বর্গও তাঁকে ধারণ করতে পারে না। তবে আমার নির্মাণ করা এই মন্দিরই বা কেমন করে তোমাকে ধারণ করবে!
2CH 6:19 তবুও হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার দাসের প্রার্থনায় ও দয়া লাভের জন্য তার করা এই অনুরোধের প্রতি মনোযোগ দাও। তোমার উপস্থিতিতে তোমার এই দাস যে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করছে, তা তুমি শোনো।
2CH 6:20 দিনরাত এই মন্দিরের প্রতি, এই যে স্থানটির বিষয়ে তুমি বলেছ যে তুমি সেখানে তোমার নাম বজায় রাখবে, তোমার চোখদুটি যেন খোলা থাকে। এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে করা তোমার দাসের প্রার্থনা যেন তুমি শুনতে পাও।
2CH 6:21 তোমার এই দাস ও তোমার প্রজা ইস্রায়েল যখন এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে তখন তুমি তাদের মিনতি শুনো। স্বর্গ থেকে, তোমার সেই বাসস্থান থেকে তুমি তা শুনো; এবং শুনে তাদের ক্ষমাও কোরো।
2CH 6:22 “যখন কেউ তার প্রতিবেশীর প্রতি কোনও অন্যায় করবে ও তাকে শপথ করতে বলা হবে এবং সে এই মন্দিরে রাখা তোমার এই যজ্ঞবেদির সামনে এসে শপথ করবে,
2CH 6:23 তখন তুমি স্বর্গ থেকে তা শুনে সেইমতোই কাজ কোরো। তোমার দাসদের বিচার কোরো, দোষীকে শাস্তি দিয়ো ও তার কৃতকর্মের ফল তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ো, এবং নিরপরাধের পক্ষসমর্থন করে, তার নিষ্কলুষতা অনুসারে তার প্রতি আচরণ কোরো।
2CH 6:24 “তোমার প্রজা ইস্রায়েল যখন তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে শত্রুর কাছে পরাজিত হবে ও যখন তারা আবার তোমার কাছে ফিরে এসে তোমার নামের প্রশংসা করবে, এবং এই মন্দিরে তোমার সামনে এসে প্রার্থনা ও মিনতি উৎসর্গ করবে,
2CH 6:25 তখন তুমি স্বর্গ থেকে তা শুনো ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো এবং তুমি তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দিয়েছিলে, সেই দেশে তাদের ফিরিয়ে এনো।
2CH 6:26 “তোমার প্রজারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে যখন আকাশের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে ও বৃষ্টি হবে না, আর যখন তারা এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে ও তোমার নামের প্রশংসা করবে এবং তুমি যেহেতু তাদের কষ্ট দিয়েছ, তাই তারা তাদের পাপপথ থেকে ফিরে আসবে,
2CH 6:27 তখন স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো ও তোমার দাসদের, তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো। সঠিক জীবনযাপনের পথ তুমি তাদের শিক্ষা দিয়ো, এবং যে দেশটি তুমি তোমার প্রজাদের এক উত্তরাধিকাররূপে দিয়েছ, সেই দেশে তুমি বৃষ্টি পাঠিয়ো।
2CH 6:28 “যখন দেশে দুর্ভিক্ষ বা মহামারি দেখা দেবে, অথবা ফসল ক্ষেতে মড়ক লাগবে বা ছাতারোগ লাগবে, পঙ্গপাল বা ফড়িং হানা দেবে, অথবা শত্রুরা তাদের যে কোনো নগরে তাদের যখন অবরুদ্ধ করে রাখবে, যখন এরকম কোনও বিপত্তি বা রোগজ্বালার প্রকোপ পড়বে,
2CH 6:29 এবং তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মধ্যে কেউ যদি তখন প্রার্থনা বা মিনতি করে—তাদের যন্ত্রণা ও ব্যথার বিষয়ে সচেতন হয়, ও এই মন্দিরের দিকে তাদের হাতগুলি প্রসারিত করে—
2CH 6:30 তবে তখন তুমি স্বর্গ থেকে, তোমার বাসস্থান থেকে তা শুনো। তাদের ক্ষমা কোরো, ও প্রত্যেকের সাথে তাদের কৃতকর্মানুসারে আচরণ কোরো, যেহেতু তুমি তো তাদের অন্তর জানো (কারণ একমাত্র তুমিই মানুষের হৃদয়ের খবর রাখো),
2CH 6:31 যেন তারা তোমাকে ভয় করে ও যে দেশটি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে, সেই দেশে বেঁচে থাকাকালীন তারা যেন সবসময় তোমার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে চলে।
2CH 6:32 “যে তোমার প্রজা ইস্রায়েলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কোনও বিদেশি তোমার মহানামের এবং তোমার পরাক্রমী হাতের ও তোমার প্রসারিত বাহুর কথা শুনে যখন দূরদেশ থেকে আসবে—তারা যখন এসে এই মন্দিরের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে,
2CH 6:33 তখন তুমি স্বর্গ থেকে, তোমার সেই বাসস্থান থেকে তা শুনো। সেই বিদেশি তোমার কাছে যা চাইবে, তা তাকে দিয়ো, যেন পৃথিবীর সব মানুষজন তোমার নাম জানতে পারে ও তোমাকে ভয় করে, ঠিক যেভাবে তোমার নিজস্ব প্রজা ইস্রায়েল করে এসেছে, এবং তারা যেন এও জানতে পারে যে এই যে ভবনটি আমি তৈরি করেছি, তা তোমার নাম বহন করে চলেছে।
2CH 6:34 “তোমার প্রজাদের তুমি যে কোনো স্থানে পাঠাও না কেন, তারা যখন তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে, এবং যখন তারা তোমার মনোনীত এই নগরটির ও তোমার নামে আমি এই যে মন্দিরটি নির্মাণ করেছি, সেটির দিকে তাকিয়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করবে,
2CH 6:35 তখন তুমি স্বর্গ থেকে তাদের প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, এবং তাদের পক্ষসমর্থন কোরো।
2CH 6:36 “তারা যখন তোমার বিরুদ্ধে পাপ করবে—কারণ এমন কেউ নেই, যে পাপ করে না—এবং তুমি তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হবে ও তাদের সেই শত্রুদের হাতে সঁপে দেবে, যারা তাদের দূর বা নিকটবর্তী কোনও দেশে বন্দি করে নিয়ে যাবে;
2CH 6:37 এবং সেই দেশে বন্দি জীবন কাটাতে কাটাতে যদি তাদের মন পরিবর্তন হয়, ও তারা অনুতাপ করে ও তাদের সেই বন্দিদশার দেশে থাকতে থাকতেই যদি তারা তোমাকে অনুরোধ জানিয়ে বলে, ‘আমরা পাপ করেছি, আমরা অন্যায় করেছি ও দুষ্টতামূলক আচরণ করেছি’;
2CH 6:38 আর যদি তারা যেখানে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে, সেই বন্দিদশার দেশে থেকেই মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তোমার কাছে ফিরে আসে, ও তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশটি দিয়েছ, সেই দেশের দিকে তাকিয়ে, ও যে নগরটিকে তুমি মনোনীত করেছ, সেটির দিকে তাকিয়ে, এবং তোমার নামে আমি যে মন্দিরটি নির্মাণ করেছি, সেটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করে;
2CH 6:39 তবে স্বর্গ থেকে, তোমার বাসস্থান থেকে তুমি তাদের করা প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, এবং তাদের পক্ষসমর্থন কোরো। তোমার সেই প্রজাদের ক্ষমাও কোরো, যারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে।
2CH 6:40 “এখন, হে আমার ঈশ্বর, এই স্থানে যে প্রার্থনাটি উৎসর্গ করা হচ্ছে, তার প্রতি যেন তোমার চোখ খোলা থাকে ও তোমার কান সজাগ থাকে।
2CH 6:41 “হে ঈশ্বর সদাপ্রভু, এখন ওঠো ও তোমার বিশ্রামস্থানে এসো,
2CH 6:42 হে ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার অভিষিক্ত জনকে অগ্রাহ্য কোরো না।
2CH 7:1 শলোমন প্রার্থনা শেষ করার পর স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এসে হোমবলি ও নৈবেদ্যগুলি গ্রাস করে ফেলেছিল, এবং সদাপ্রভুর প্রতাপে মন্দির পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
2CH 7:2 যাজকেরা সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি, কারণ সদাপ্রভুর প্রতাপে মন্দির পরিপূর্ণ হয়েছিল।
2CH 7:3 ইস্রায়েলীরা সবাই যখন আগুন নেমে আসতে দেখেছিল ও মন্দিরের উপর সদাপ্রভুর প্রতাপও দেখতে পেয়েছিল, তখন তারা মাটিতে উবুড় হয়ে পড়ে শান-বাঁধানো চাতালে নতজানু হল, এবং তারা এই বলে সদাপ্রভুর আরাধনা করল ও তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল, “তিনি মঙ্গলময়; তাঁর প্রেম অনন্তকালস্থায়ী।”
2CH 7:4 পরে রাজা ও প্রজারা সবাই সদাপ্রভুর সামনে নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন।
2CH 7:5 রাজা শলোমন বাইশ হাজার গবাদি পশু এবং 1,20,000 মেষ ও ছাগল উৎসর্গ করলেন। এইভাবে রাজা ও প্রজারা সবাই ঈশ্বরের মন্দিরটি উৎসর্গ করলেন।
2CH 7:6 যাজকেরা তাদের স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং লেবীয়েরাও সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে বাজানোর উপযোগী সেই বাজনাগুলি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল, যেগুলি রাজা দাউদ সদাপ্রভুর প্রশংসা করার জন্য তৈরি করিয়েছিলেন এবং সেগুলি তখনই বাজানো হত, যখন এই বলে তিনি ধন্যবাদ জানাতেন, “তাঁর প্রেম চিরস্থায়ী।” লেবীয়দের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে যাজকেরা তাদের শিঙাগুলি বাজিয়েছিলেন, এবং ইস্রায়েলীরা সবাই সেখানে দাঁড়িয়েছিল।
2CH 7:7 শলোমন সদাপ্রভুর মন্দিরের সামনের দিকের উঠোনের মাঝের অংশটুকু উৎসর্গীকৃত করলেন, এবং সেখানে তিনি হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলির চর্বি উৎসর্গ করলেন, কারণ ব্রোঞ্জের যে যজ্ঞবেদিটি তিনি তৈরি করলেন, সেটি হোমবলি, ভক্ষ্য-নৈবেদ্য ও চর্বিদার অংশগুলি রাখার পক্ষে ছোটো হয়ে গেল।
2CH 7:8 অতএব শলোমন সেই সময় সাত দিন ধরে উৎসব পালন করলেন, এবং ইস্রায়েলে সবাই, অর্থাৎ লেবো-হমাৎ থেকে মিশরের মরা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার লোকেরা—বিশাল এক জনসমাজ—তাঁর সাথে মিলে উৎসব পালন করল।
2CH 7:9 অষ্টম দিনে তারা এক সভার আয়োজন করল, কারণ সাত দিন ধরে তারা যজ্ঞবেদির উৎসর্গীকরণ উদ্‌যাপন করল এবং আরও সাত দিন তারা উৎসব পালন করল।
2CH 7:10 সপ্তম মাসের তেইশতম দিনে তিনি প্রজাদের নিজের নিজের ঘরে পাঠিয়ে দিলেন। দাউদের, শলোমনের ও সদাপ্রভুর প্রজা ইস্রায়েলের যে মঙ্গল তিনি করলেন, তার জন্য আনন্দিত হয়ে ও খুশিমনে তারা ঘরে ফিরে গেল।
2CH 7:11 শলোমন যখন সদাপ্রভুর মন্দির ও রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করার কাজ সমাপ্ত করে ফেলেছিলেন, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের ও তাঁর নিজের প্রাসাদ-সংক্রান্ত যেসব ভাবনা তাঁর মনে ছিল, তা যখন তিনি সফলতাপূর্বক সম্পন্ন করলেন,
2CH 7:12 তখন সদাপ্রভু রাতের বেলায় তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন: “আমি তোমার প্রার্থনা শুনেছি এবং বলিদান উৎসর্গ করার জন্য এক মন্দিররূপে নিজের জন্য আমি এই স্থানটি মনোনীত করেছি।
2CH 7:13 “বৃষ্টি না পড়ার জন্য আমি যখন আকাশ রুদ্ধ করে দেব, বা দেশ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যখন পঙ্গপালদের আদেশ দেব বা আমার প্রজাদের মাঝে এক মহামারি পাঠাব,
2CH 7:14 তখন যদি যারা আমার নামে পরিচিত, আমার সেই প্রজারা নিজেদের নম্র করে ও প্রার্থনা করে ও আমার মুখের অন্বেষণ করে এবং তাদের পাপপথ ছেড়ে ফিরে আসে, তবে স্বর্গ থেকে আমি তা শুনব, ও আমি তাদের পাপ ক্ষমা করব এবং তাদের দেশকে সারিয়ে তুলব।
2CH 7:15 এখন এই স্থানে উৎসর্গ করা প্রার্থনার প্রতি আমার চোখ খোলা থাকবে ও আমার কানও সজাগ থাকবে।
2CH 7:16 আমি এই মন্দিরটিকে মনোনীত করেছি ও পবিত্রতায় পৃথকও করেছি, যেন চিরকাল সেখানে আমার নাম বজায় থাকে। আমার চোখ ও আমার অন্তর সবসময় সেখানে থাকবে।
2CH 7:17 “আর তোমায় বলছি, তোমার বাবা দাউদের মতো তুমিও যদি আমার সামনে বিশ্বস্ততাপূর্বক চলো, এবং আমি যা যা আদেশ দিয়েছি, সেসব করো ও আমার বিধিবিধান ও নিয়মকানুনগুলি পালন করো,
2CH 7:18 তবে ‘ইস্রায়েলকে শাসন করার জন্য তোমার বংশে কোনও উত্তরাধিকারীর অভাব হবে না,’ তোমার বাবা দাউদকে একথা বলার মাধ্যমে আমি তার সাথে যে নিয়ম স্থির করলাম, সেই নিয়মানুসারে আমি তোমার রাজসিংহাসন সুদৃঢ় করব।
2CH 7:19 “কিন্তু যদি তুমি সে পথ থেকে ফিরে গিয়ে সেইসব বিধিবিধান ও আদেশ অগ্রাহ্য করো, যেগুলি আমি তোমাকে দিয়েছিলাম এবং অন্যান্য দেবতাদের সেবা ও আরাধনা করতে থাকো,
2CH 7:20 তবে ইস্রায়েলকে আমি আমার সেই দেশ থেকে উৎখাত করে ছাড়ব, যেটি আমি তাদের দিয়েছিলাম, এবং এই মন্দিরটিকেও অগ্রাহ্য করব, আমার নামে যেটি আমি পবিত্রতায় পৃথক করে দিয়েছি। আমি এটিকে অন্যান্য সব জাতির কাছে নিন্দার ও বিদ্রুপের এক বস্তু করে তুলব।
2CH 7:21 এই মন্দিরটি ভাঙা ইটপাথরের এক স্তূপে পরিণত হবে। যারা যারা তখন এখান দিয়ে যাবে, তারা সবাই মর্মাহত হয়ে বলবে, ‘সদাপ্রভু কেন এই দেশের ও এই মন্দিরটির প্রতি এমনটি করলেন?’
2CH 7:22 লোকেরা উত্তর দেবে, ‘যেহেতু তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করল, যিনি মিশর থেকে তাদের বের করে এনেছিলেন, এবং যেহেতু তারা অন্যান্য দেবতাদের সাগ্রহে গ্রহণ করল, ও তাদের আরাধনা ও সেবা করল—তাইতো তিনি তাদের উপর এইসব দুর্বিপাক নিয়ে এসেছেন।’ ”
2CH 8:1 সদাপ্রভুর মন্দির ও শলোমনের নিজের প্রাসাদটি নির্মাণ করতে তাঁর যে কুড়ি বছর লাগল, সেই সময়কাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর
2CH 8:2 হীরম তাঁকে যে নগরগুলি দিলেন, তিনি সেগুলির পুনর্নির্মাণ করলেন, এবং সেখানে ইস্রায়েলীদের এক বসতি গড়ে দিলেন।
2CH 8:3 শলোমন পরে হমাৎ-সোবাতে গিয়ে সেটি অধিকার করলেন।
2CH 8:4 এছাড়াও তিনি মরুভূমিতে তামর নগরটি তৈরি করলেন এবং হমাতেও সবকটি ভাঁড়ার-নগর তৈরি করলেন।
2CH 8:5 সুরক্ষিত নগররূপে তিনি উপরের দিকের বেথ-হোরোণ ও নিচের দিকের বেথ-হোরোণ নগর দুটির পুনর্নির্মাণ করলেন, এবং সেগুলিতে দেয়াল, কয়েকটি দরজা ও খুঁটিও গড়ে দিলেন।
2CH 8:6 এছাড়াও বালৎ ও সেখানকার ভাঁড়ার-নগরগুলি, এবং তাঁর রথ ও ঘোড়াগুলির জন্য সবকটি নগর—জেরুশালেমে, লেবাননে ও তাঁর শাসিত গোটা এলাকা জুড়ে সর্বত্র যা যা তিনি তৈরি করতে চেয়েছিলেন, সেসব তিনি তৈরি করলেন।
2CH 8:7 হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের মধ্যে থেকে কিছু লোক তখনও সেখানে অবশিষ্ট ছিল। (এইসব লোকেরা ইস্রায়েলী ছিল না)
2CH 8:8 এইসব লোকজনের যেসব বংশধর দেশে থেকে গেল—ইস্রায়েলীরা যাদের ধ্বংস করেননি—শলোমন বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্রীতদাস-শ্রমিকরূপে কাজে লাগলেন, যে প্রথা আজও চলে আসছে।
2CH 8:9 কিন্তু শলোমন তাঁর কাজকর্ম করার জন্য ইস্রায়েলীদের কাউকে ক্রীতদাস করেননি; তারা তাঁর যোদ্ধা, সৈন্যসামন্তের সেনাপতি, এবং তাঁর রথ ও সারথিদের সেনাপতি হল।
2CH 8:10 এছাড়াও তারা রাজা শলোমনের প্রধান কর্মকর্তা—এমন 250 জন কর্মকর্তা হল, যারা লোকদের তত্ত্বাবধান করত।
2CH 8:11 ফরৌণের মেয়ের জন্য শলোমন যে প্রাসাদটি নির্মাণ করলেন, দাউদ-নগর থেকে তিনি তাঁকে সেখানে নিয়ে এলেন, কারণ তিনি বললেন, “আমার স্ত্রী ইস্রায়েলের রাজা দাউদের প্রাসাদে থাকবে না, কারণ যে যে স্থানে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক প্রবেশ করেছে, সেই সেই স্থান পবিত্র হয়ে গিয়েছে।”
2CH 8:12 দ্বারমণ্ডপের সামনের দিকে শলোমন সদাপ্রভুর যে বেদিটি তৈরি করলেন, সেটির উপরে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি উৎসর্গ করলেন।
2CH 8:13 সাব্বাথবারের, অমাবস্যার ও তিনটি বাৎসরিক উৎসবের—খামিরবিহীন রুটির উৎসব, সাত সপ্তাহের উৎসব ও কুটিরবাস-পর্ব—জন্য মোশির আদেশমতো প্রাত্যহিক নৈবেদ্যের যে চাহিদা তুলে ধরা হল, সেই অনুসারেই তিনি তা করলেন।
2CH 8:14 তাঁর বাবা দাউদের স্থির করে দেওয়া নিয়মানুসারে, কয়েকটি বিভাগে ভাগ করে যাজকের দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাদের নিযুক্ত করে দিলেন, এবং প্রশংসাগানে নেতৃত্ব দেওয়ার ও প্রাত্যহিক চাহিদানুসারে যাজকদের কাজে সাহায্য করার দায়িত্ব দিয়ে তিনি লেবীয়দেরও নিযুক্ত করলেন। এছাড়াও বিভিন্ন দরজার জন্য কয়েকটি বিভাগে ভাগ করে তিনি দ্বাররক্ষীদের নিযুক্ত করলেন, কারণ ঈশ্বরের লোক দাউদ এরকমই আদেশ দিলেন।
2CH 8:15 যাজকদের বা লেবীয়দের ক্ষেত্রে ও এমনকি কোষাগারগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য রাজার আদেশ থেকে তারা একচুলও সরে যায়নি।
2CH 8:16 সদাপ্রভুর মন্দিরের ভীত যেদিন গাঁথা হল, সেদিন থেকে শুরু করে মন্দিরটি সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শলোমনের সব কাজ ঠিকঠাকই চলেছিল। এইভাবে সদাপ্রভুর মন্দিরটি সম্পূর্ণ হল।
2CH 8:17 পরে শলোমন ইদোমের সমুদ্রতীরে অবস্থিত ইৎসিয়োন-গেবরে ও এলতে গেলেন।
2CH 8:18 হীরমও তাঁর নিজস্ব লোকজনের দ্বারা পরিচালিত কয়েকটি জাহাজ ও সমুদ্রের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল কিছু নাবিক তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এইসব লোকজন শলোমনের লোকজনের সাথে মিলে সমুদ্রপথে ওফীরে গেল ও সেখান থেকে 450 তালন্ত সোনা এনে রাজা শলোমনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
2CH 9:1 শিবা দেশের রানি যখন শলোমনের নামডাক শুনতে পেয়েছিলেন, তখন কঠিন কঠিন সব প্রশ্ন সাথে নিয়ে তিনি তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য জেরুশালেমে এলেন। বিশাল দলবল নিয়ে—উটের পিঠে মশলাপাতি চাপিয়ে, প্রচুর পরিমাণ সোনা, ও দামি মণিমুক্তো নিয়ে—তিনি শলোমনের কাছে এলেন এবং তাঁর মনে যা যা ছিল, সেসব বিষয়ে শলোমনের সাথে কথা বললেন।
2CH 9:2 শলোমন তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন; রানিকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়ার পক্ষে কোনো কিছুই তাঁর কাছে কঠিন বলে মনে হয়নি।
2CH 9:3 শিবার রানি যখন শলোমনের প্রজ্ঞা, তথা তাঁর নির্মিত প্রাসাদটি,
2CH 9:4 তাঁর টেবিলে রাখা খাদ্যসম্ভার, তাঁর কর্মকর্তাদের বসার ব্যবস্থা, জমকালো পোশাক পরা সেবাকারী দাসেদের, জমকালো পোশাক পরা পানপাত্র বহনকারীদের এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে তাঁর উৎসর্গ করা হোমবলিগুলি দেখেছিলেন, তখন তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন।
2CH 9:5 তিনি রাজাকে বললেন, “নিজের দেশে থাকার সময় আমি আপনার কীর্তির ও প্রজ্ঞার বিষয়ে যা যা শুনেছিলাম, সেসবই সত্যি।
2CH 9:6 কিন্তু যতক্ষণ না আমি এখানে এসে নিজের চোখে তা দেখলাম, লোকেরা যা বলল, আমি তাতে বিশ্বাস করিনি। সত্যি বলতে কি, আপনার যে বিশাল প্রজ্ঞা, তার অর্ধেকও আমাকে বলা হয়নি; যে খবর আমি শুনেছিলাম, আপনি তার অনেক ঊর্ধ্বে।
2CH 9:7 আপনার প্রজারা কতই না সুখী! আপনার সেই কর্মকর্তারাও কতই না সুখী, যারা অনবরত আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ও আপনার প্রজ্ঞার কথা শোনে!
2CH 9:8 আপনার ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, যিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়ে রাজারূপে আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর হয়ে রাজত্ব করার জন্য আপনাকে তাঁর সিংহাসনে বসিয়েছেন। ইস্রায়েলের প্রতি আপনার ঈশ্বরের প্রেমের ও চিরকাল তাদের সমর্থন করা সংক্রান্ত তাঁর যে এক বাসনা ছিল, তারই কারণে তিনি আপনাকে তাদের রাজা করেছেন, যেন ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা বজায় থাকে।”
2CH 9:9 পরে তিনি রাজাকে 120 তালন্ত সোনা, প্রচুর পরিমাণ মশলাপাতি, ও দামি মণিমুক্তো দিলেন। শিবা দেশের রানি রাজা শলোমনকে এত মশলাপাতি দিলেন, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
2CH 9:10 (হীরমের দাসেরা ও শলোমনের দাসেরা ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত; এছাড়াও তারা আলগুম কাঠ ও দামি মণিমুক্তোও নিয়ে আসত।
2CH 9:11 রাজা সেই আলগুম কাঠ সদাপ্রভুর মন্দিরের ও রাজপ্রাসাদের সিঁড়ি নির্মাণ করার কাজে ও বাদ্যকরদের জন্য বীণা ও খঞ্জনি তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন। যিহূদা দেশে এর আগে এত কিছু দেখা যায়নি।)
2CH 9:12 রাজা শলোমন শিবা দেশের রানিকে তাঁর বাসনা ও চাহিদামতোই সবকিছু দিলেন; রানি তাঁর কাছে যা কিছু এনেছিলেন, তিনি তার চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণ জিনিসপত্র তাঁকে দিলেন। পরে রানি তাঁর লোকলস্কর সাথে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেলেন।
2CH 9:13 প্রতি বছর শলোমন যে পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করতেন তার ওজন 666 তালন্ত,
2CH 9:14 এতে অবশ্য বণিক ও ব্যবসায়ীদের আনা রাজস্ব ধরা হয়নি। এছাড়াও আরবের সব রাজা ও বিভিন্ন প্রদেশের শাসনকর্তারাও শলোমনের কাছে সোনা ও রুপো নিয়ে আসতেন।
2CH 9:15 পিটানো সোনার পাত দিয়ে রাজা শলোমন 200-টি বড়ো বড়ো ঢাল তৈরি করলেন; প্রত্যেকটি ঢাল তৈরি করতে 600 শেকল করে পিটানো সোনা লেগেছিল।
2CH 9:16 পিটানো সোনার পাত দিয়ে তিনি আরও তিনশোটি ছোটো ছোটো ঢাল তৈরি করলেন, এবং প্রত্যেকটি ঢালে তিনশো শেকল করে সোনা ছিল। রাজা সেগুলি লেবাননের অরণ্য-প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন।
2CH 9:17 পরে রাজামশাই হাতির দাঁত দিয়ে একটি বড়ো সিংহাসন বানিয়ে, সেটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।
2CH 9:18 সিংহাসনে ওঠার জন্য সিঁড়ির ছয়টি ধাপ ছিল, ও সোনার একটি পাদানি সিংহাসনের সাথে জোড়া ছিল। বসার স্থানটির দুই দিকেই হাতল ছিল, এবং দুটিরই পাশে একটি করে সিংহমূর্তি দাঁড় করানো ছিল।
2CH 9:19 বারোটি সিংহমূর্তি সিঁড়ির ছয়টি ধাপের উপরে দাঁড় করানো ছিল, এক-একটি মূর্তি প্রত্যেকটি ধাপের এক এক পাশে রাখা ছিল। অন্য কোনও রাজ্যে আগে কখনও এরকম কিছু তৈরি করা হয়নি।
2CH 9:20 রাজা শলোমনের কাছে থাকা ভিত থেকে ওঠা ডাঁটিযুক্ত হাতলবিহীন সব পানপাত্র ছিল সোনার, এবং লেবাননের অরণ্য-প্রাসাদে রাখা সব গৃহস্থালি জিনিসপত্র খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি হল। কোনো কিছুই রুপো দিয়ে তৈরি করা হয়নি, কারণ শলোমনের রাজত্বকালে রুপোকে দামি বলে গণ্যই করা হত না।
2CH 9:21 রাজার কাছে তর্শীশের বাণিজ্যতরির এক নৌবহর ছিল, যেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল হীরমের দাসেরা। তিন বছরে একবার জাহাজগুলি সোনা, রুপো এবং হাতির দাঁত, বনমানুষ ও বেবুন নিয়ে ফিরে আসত।
2CH 9:22 পৃথিবীর অন্য সব রাজার তুলনায় রাজা শলোমন ধনসম্পদে ও প্রজ্ঞায় বৃহত্তর হলেন।
2CH 9:23 ঈশ্বর রাজা শলোমনের অন্তরে যে প্রজ্ঞা ভরে দিলেন, সেই প্রজ্ঞার কথা শোনার জন্য পৃথিবীর রাজারা সবাই তাঁর সাথে দেখা করতে চাইতেন।
2CH 9:24 বছরের পর বছর, যে কেউ তাঁর কাছে আসত, সে কোনও না কোনো উপহার—রুপো ও সোনার তৈরি জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, অস্ত্রশস্ত্র ও মশলাপাতি, এবং ঘোড়া ও খচ্চর নিয়ে আসত।
2CH 9:25 ঘোড়া ও রথের জন্য শলোমনের 4,000 আস্তাবল ছিল, এবং তাঁর কাছে 12,000 ঘোড়া ছিল, যাদের তিনি রথ-নগরীগুলিতে এবং নিজের কাছে, অর্থাৎ জেরুশালেমেও রেখেছিলেন।
2CH 9:26 ইউফ্রেটিস নদীর পার থেকে শুরু করে মিশরের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ফিলিস্তিনীদের দেশ অবধি গোটা এলাকায়, সব রাজার উপর তিনি রাজত্ব করতেন।
2CH 9:27 জেরুশালেমে রাজা রুপোকে পাথরের মতো সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনেছিলেন, এবং দেবদারু কাঠকে পর্বতমালার পাদদেশে উৎপন্ন ডুমুর গাছের মতো পর্যাপ্ত করে তুলেছিলেন।
2CH 9:28 শলোমনের ঘোড়াগুলি মিশর থেকে ও অন্যান্য সব দেশ থেকে আমদানি করা হত।
2CH 9:29 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শলোমনের রাজত্বকালের সব ঘটনা কি ভাববাদী নাথনের রচনায়, শীলোনীয় অহিয়ের ভাববাণীতে এবং নবাটের ছেলে যারবিয়ামের বিষয়ে লেখা দর্শক ইদ্দোর দর্শন-গ্রন্থে লেখা নেই?
2CH 9:30 শলোমন জেরুশালেমে সমগ্র ইস্রায়েলের উপর চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 9:31 পরে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাঁর বাবা দাউদের নগরেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে রহবিয়াম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 10:1 রহবিয়াম শিখিমে গেলেন, কারণ সমগ্র ইস্রায়েল তাঁকে রাজা করার জন্য সেখানে পৌঁছেছিল।
2CH 10:2 নবাটের ছেলে যারবিয়াম যখন সেকথা শুনলেন (রাজা শলোমনের কাছ থেকে পালিয়ে তিনি সেই যে মিশরে চলে গেলেন, তিনি সেখানেই ছিলেন), তখন তিনি মিশর থেকে ফিরে এলেন।
2CH 10:3 তাই তারা লোক পাঠিয়ে যারবিয়ামকে ডেকে এনেছিল, এবং তিনি ও সমগ্র ইস্রায়েল রহবিয়ামের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন:
2CH 10:4 “আপনার বাবা আমাদের উপর এক ভারী জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু এখন আপনি সেই কঠোর পরিশ্রম ও ভারী জোয়ালের ভার লঘু করে দিন, যা আপনার বাবা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন, আর আমরাও আপনার সেবা করব।”
2CH 10:5 রহবিয়াম উত্তর দিলেন, “তিন দিন পর তোমরা আমার কাছে আবার এসো।” তাই লোকজন চলে গেল।
2CH 10:6 পরে রাজা রহবিয়াম সেইসব প্রাচীনের সঙ্গে শলাপরামর্শ করলেন, যারা তাঁর বাবা শলোমনের জীবনকালে তাঁর সেবা করতেন। “এই লোকদের কী উত্তর দিতে হবে সে বিষয়ে আপনারা আমাকে কী পরামর্শ দিতে চান?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।
2CH 10:7 তারা উত্তর দিলেন, “আপনি যদি এই লোকদের প্রতি দয়া দেখান ও তাদের খুশি করেন এবং তাদের সন্তোষজনক এক উত্তর দেন, তবে তারা সবসময় আপনার দাস হয়েই থাকবে।”
2CH 10:8 কিন্তু সেই বয়স্ক লোকজন রহবিয়ামকে যে পরামর্শ দিলেন, তিনি তা অগ্রাহ্য করলেন এবং সেই কমবয়সি যুবকদের সাথে শলাপরামর্শ করলেন, যারা তাঁর সাথেই বেড়ে উঠেছিল ও যারা তাঁর সেবা করত।
2CH 10:9 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী পরামর্শ দিতে চাও? সেই লোকদের আমরা কী উত্তর দেব, যারা আমাকে বলেছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর যে জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, তা আপনি লঘু করে দিন’?”
2CH 10:10 তাঁর সাথে বেড়ে ওঠা যুবকেরা উত্তর দিয়েছিল, “লোকেরা আপনাকে বলেছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি এখন আমাদের জোয়াল হালকা করে দিন।’ এখন আপনি তাদের বলুন, ‘আমার কড়ে আঙুল আমার বাবার কোমরের চেয়েও মোটা।
2CH 10:11 আমার বাবা তোমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন; আমি সেটি আরও ভারী করে তুলব। আমার বাবা তোমাদের চাবুক মেরে শাস্তি দিয়েছেন; আমি তোমাদের শাস্তি দেব কাঁকড়াবিছের কামড় দিয়ে।’ ”
2CH 10:12 “তিন দিন পর আমার কাছে তোমরা ফিরে এসো,” রাজার বলা এই কথামতো তিন দিন পর যারবিয়াম ও সব লোকজন রহবিয়ামের কাছে ফিরে এলেন।
2CH 10:13 রাজা তাদের রুক্ষ ভাষায় উত্তর দিলেন। বয়স্ক লোকজনের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে,
2CH 10:14 তিনি যুবকদের পরামর্শ মতো তাদের বললেন, “আমার বাবা তোমাদের জোয়াল ভারী করে দিলেন; আমি সেটি আরও ভারী করে তুলব। আমার বাবা তোমাদের চাবুক মেরে শাস্তি দিলেন; আমি কাঁকড়াবিছের কামড় দিয়ে তোমাদের শাস্তি দেব।”
2CH 10:15 এইভাবে রাজা, প্রজাদের কথা শুনলেন না, কারণ শীলোনীয় অহিয়ের মাধ্যমে সদাপ্রভুর যে বাক্য নবাটের ছেলে যারবিয়ামের কাছে এসেছিল, সেটি পূর্ণ করার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকেই ঘটনার মোড় এভাবে ঘুরে গেল।
2CH 10:16 সমগ্র ইস্রায়েল যখন দেখেছিল যে রাজা তাদের কথা শুনতে চাইছেন না, তখন তারা রাজাকে উত্তর দিয়েছিল: “দাউদে আমাদের আর কী অধিকার আছে, যিশয়ের ছেলেই বা কী অধিকার আছে? হে ইস্রায়েল তোমাদের তাঁবুতে ফিরে যাও! হে দাউদ, তুমিও নিজের বংশ দেখাশোনা করো!” এই বলে ইস্রায়েলীরা সবাই ঘরে ফিরে গেল।
2CH 10:17 কিন্তু যেসব ইস্রায়েলী যিহূদার বিভিন্ন নগরে বসবাস করছিল, রহবিয়াম তখনও তাদের উপর রাজত্ব করে যাচ্ছিলেন।
2CH 10:18 রাজা রহবিয়াম বেগার শ্রমিকদের দেখাশোনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত অদোনীরামকে তাদের কাছে পাঠালেন, কিন্তু ইস্রায়েলীরা তার উপর পাথর ছুঁড়ে তাকে মেরে ফেলেছিল। রাজা রহবিয়াম অবশ্য, কোনোমতে রথে চড়ে জেরুশালেমে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
2CH 10:19 এইভাবে, আজও পর্যন্ত ইস্রায়েল, দাউদের বংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেই চলেছে।
2CH 11:1 জেরুশালেমে পৌঁছে রহবিয়াম যিহূদা ও বিন্যামীন থেকে এমন কিছু লোকজন—এক লাখ আশি হাজার সক্ষম যুবক—একত্রিত করলেন, যারা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও রহবিয়ামের হাতে রাজ্য ফিরিয়ে দিতে পারত।
2CH 11:2 কিন্তু সদাপ্রভুর এই বাক্য ঈশ্বরের লোক শময়িয়ের কাছে পৌঁছেছিল:
2CH 11:3 “তুমি শলোমনের ছেলে যিহূদার রাজা রহবিয়ামকে এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের সব ইস্রায়েলীকে গিয়ে বলো,
2CH 11:4 ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: তোমাদের জাতভাই ইস্রায়েলীদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করতে যেয়ো না। তোমরা প্রত্যেকে ঘরে ফিরে যাও, কারণ এ কাজটি আমিই করেছি।’ ” তাই তারা সদাপ্রভুর বাক্যের প্রতি বাধ্য হয়ে যারবিয়ামের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা না করে ফিরে গেল।
2CH 11:5 রহবিয়াম জেরুশালেমে বসবাস করতে করতে যিহূদা দেশের সুরক্ষার জন্য এই নগরগুলি তৈরি করলেন:
2CH 11:6 বেথলেহেম, ঐটম, তকোয়,
2CH 11:7 বেত-সূর, সেখো, অদুল্লম,
2CH 11:8 গাৎ, মারেশা, সীফ,
2CH 11:9 অদোরয়িম, লাখীশ, অসেকা,
2CH 11:10 সরা, অয়ালোন ও হিব্রোণ। যিহূদা ও বিন্যামীনে এই নগরগুলি সুরক্ষিত নগরে পরিণত হল।
2CH 11:11 তিনি সেই নগরগুলির সুরক্ষা-ব্যবস্থা মজবুত করলেন এবং সেগুলিতে সেনাপতি মোতায়েন করে দিলেন, ও খাবারদাবার, জলপাই তেল ও দ্রাক্ষারসও সরবরাহ করলেন।
2CH 11:12 তিনি সব নগরে ঢাল ও বর্শা রেখে দিলেন, এবং নগরগুলিকে খুবই শক্তপোক্ত করে তুলেছিলেন। অতএব যিহূদা ও বিন্যামীন তাঁর অধিকারে থেকে গেল।
2CH 11:13 গোটা ইস্রায়েল জুড়ে যাজক ও লেবীয়েরা তাদের সব জেলা থেকে এসে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল।
2CH 11:14 লেবীয়েরা এমনকি তাদের পশুচারণক্ষেত্র ও বিষয়সম্পত্তি ত্যাগ করে যিহূদা ও জেরুশালেমে এসে গেল, কারণ যারবিয়াম ও তাঁর ছেলেরা সদাপ্রভুর যাজকরূপে তাদের তখন অগ্রাহ্য করলেন,
2CH 11:15 যখন পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলির এবং তাঁর তৈরি করা ছাগল ও বাছুরের মূর্তিগুলির জন্য তিনি তাঁর নিজস্ব যাজকদের নিযুক্ত করলেন।
2CH 11:16 ইস্রায়েলের প্রত্যেকটি বংশ থেকে যারা যারা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করার জন্য তাদের অন্তর স্থির করল, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য লেবীয়দের পিছু পিছু জেরুশালেমে গেল।
2CH 11:17 তারা যিহূদা রাজ্যটিকে শক্তিশালী করল এবং তিন বছর ধরে শলোমনের ছেলে রহবিয়ামকে সমর্থন করে গেল, ও এই সময়কালে দাউদ ও শলোমনের পথে চলেছিল।
2CH 11:18 রহবিয়াম সেই মহলৎকে বিয়ে করলেন, যিনি দাউদের ছেলে যিরীমোতের এবং যিশয়ের ছেলে ইলীয়াবের মেয়ে অবীহয়িলের মেয়ে ছিলেন।
2CH 11:19 তিনি রহবিয়ামের ঔরসে এই ছেলেদের জন্ম দিলেন: যিয়ূশ, শমরিয় ও সহম।
2CH 11:20 পরে রহবিয়াম অবশালোমের মেয়ে সেই মাখাকে বিয়ে করলেন, যিনি তাঁর ঔরসে অবিয়, অত্তয়, সীষ ও শলোমীতের জন্ম দিলেন।
2CH 11:21 রহবিয়াম অবশালোমের মেয়ে মাখাকে তাঁর অন্য সব স্ত্রী ও উপপত্নীর চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর মোট আঠারো জন স্ত্রী ও ষাটজন উপপত্নী, আটাশ জন ছেলে ও ষাটজন মেয়ে ছিল।
2CH 11:22 মাখার ছেলে অবিয়কে রাজা করার কথা ভেবে, রহবিয়াম অবিয়ের দাদা-ভাইদের মধ্যে থেকে তাঁকেই যুবরাজ পদে নিযুক্ত করে দিলেন।
2CH 11:23 তিনি বিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর ছেলেদের মধ্যে থেকে কাউকে কাউকে যিহূদা ও বিন্যামীন প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ও সব সুরক্ষিত নগরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মোতায়েন করে দিলেন। তিনি তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারদাবারের আয়োজন করলেন এবং প্রচুর স্ত্রীও জোগাড় করে দিলেন।
2CH 12:1 রাজারূপে রহবিয়ামের পদ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ও তিনি শক্তিশালী হয়ে যাওয়ার পর, তিনি ও তাঁর সাথে সাথে সমগ্র ইস্রায়েল সদাপ্রভুর বিধান পরিত্যাগ করলেন।
2CH 12:2 যেহেতু তারা সদাপ্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ত হলেন, তাই মিশরের রাজা শীশক রাজা রহবিয়ামের রাজত্বকালের পঞ্চম বছরে জেরুশালেম আক্রমণ করলেন।
2CH 12:3 12,000 রথ ও 60,000 অশ্বারোহী সৈন্য এবং মিশর থেকে তাঁর সাথে আসা অসংখ্য লূবীয়, সুক্কীয় ও কূশীয় সৈন্য নিয়ে
2CH 12:4 তিনি যিহূদার সুরক্ষিত নগরগুলি দখল করে নিয়েছিলেন ও জেরুশালেম পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন।
2CH 12:5 তখন ভাববাদী শময়িয়, শীশকের ভয়ে জেরুশালেমে একত্রিত হওয়া রহবিয়াম ও যিহূদার নেতাদের কাছে এসে তাদের বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন, ‘তোমরা আমাকে পরিত্যাগ করেছ; তাই, আমি এখন শীশকের হাতে তোমাদের ছেড়ে দিলাম।’ ”
2CH 12:6 ইস্রায়েলের নেতারা ও রাজা স্বয়ং নিজেদের নত করলেন এবং বললেন, “সদাপ্রভুই ন্যায়পরায়ণ।”
2CH 12:7 সদাপ্রভু যখন দেখেছিলেন যে তারা নিজেদের নত করেছেন, তখন সদাপ্রভুর এই বাক্য শময়িয়ের কাছে পৌঁছে গেল: “যেহেতু তারা নিজেদের নত করেছে, তাই আমি আর তাদের ধ্বংস করব না, বরং অচিরেই তাদের মুক্তি দেব। শীশকের মাধ্যমে আমার ক্রোধ জেরুশালেমের উপর ঝরে পড়বে না।
2CH 12:8 তারা অবশ্য, তার শাসনাধীন হবে, যেন আমার সেবা করার ও অন্যান্য দেশের রাজাদের সেবা করার মধ্যে কী পার্থক্য আছে, তা তারা বুঝতে পারে।”
2CH 12:9 মিশরের রাজা শীশক জেরুশালেম আক্রমণ করার সময় সদাপ্রভুর মন্দিরের ও রাজপ্রাসাদের ধনসম্পদ তুলে নিয়ে গেলেন। শলোমনের তৈরি করা সোনার ঢাল সমেত তিনি সবকিছু নিয়ে চলে গেলেন।
2CH 12:10 তাই সেগুলির পরিবর্তে রাজা রহবিয়াম ব্রোঞ্জের কয়েকটি ঢাল তৈরি করলেন এবং যারা রাজপ্রাসাদের সিংহদুয়ারে মোতায়েন ফৌজি পাহারাদারদের সেনাপতি ছিলেন, তাদের হাতে সেগুলি তুলে দিলেন।
2CH 12:11 যখনই রাজা সদাপ্রভুর মন্দিরে যেতেন, ফৌজি পাহারাদাররাও সেই ঢালগুলি বহন করে তাঁর সাথে সাথে যেত, এবং পরে তারা আবার সেগুলি ফৌজি পাহারাদারদের কক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যেত।
2CH 12:12 যেহেতু রহবিয়াম নিজেকে নত করলেন, তাই সদাপ্রভুর ক্রোধ তাঁর উপর থেকে সরে গেল, এবং তিনি পুরোপুরি ধ্বংস হননি। সত্যি বলতে কি, তখনও যিহূদাতে কিছু ভালো গুণ অবশিষ্ট ছিল।
2CH 12:13 রাজা রহবিয়াম জেরুশালেমে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন এবং রাজকার্য চালিয়ে গেলেন। তিনি একচল্লিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং সদাপ্রভু নিজের নাম স্থাপন করার জন্য ইস্রায়েলের সব বংশের মধ্যে থেকে আলাদা করে যে নগরটিকে মনোনীত করলেন, সেই জেরুশালেমে তিনি সতেরো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম নয়মা; তিনি ছিলেন একজন অম্মোনীয়া।
2CH 12:14 রহবিয়াম মন্দ কাজকর্ম করলেন, কারণ সদাপ্রভুর অন্বেষণ করার জন্য তিনি তাঁর অন্তর সুস্থির করেননি।
2CH 12:15 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, রহবিয়ামের রাজত্বকালের সব ঘটনা কি ভাববাদী শময়িয় ও দর্শক ইদ্দোর সেই রচনাবলিতে লেখা নেই, যেখানে বংশাবলির কথা তুলে ধরা হয়েছে? রহবিয়াম ও যারবিয়ামের মধ্যে অনবরত যুদ্ধ লেগেই থাকত।
2CH 12:16 রহবিয়াম তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং দাউদ-নগরীতে তাঁকে কবর দেওয়া হল, ও তাঁর ছেলে অবিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 13:1 যারবিয়ামের রাজত্বকালের অষ্টাদশতম বছরে, অবিয় যিহূদার রাজা হলেন,
2CH 13:2 এবং তিনি জেরুশালেমে তিন বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম মাখা, যিনি গিবিয়ার অধিবাসী ঊরিয়েলের মেয়ে ছিলেন। অবিয় ও যারবিয়ামের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই ছিল।
2CH 13:3 অবিয় চার লাখ সক্ষম যোদ্ধার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক সৈন্যদল সাথে নিয়ে যুদ্ধ করতে গেলেন, এবং যারবিয়াম আট লাখ সক্ষম যোদ্ধা সমন্বিত এক সৈন্যদল নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
2CH 13:4 ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকার সমারয়িমে দাঁড়িয়ে অবিয় বলে উঠেছিলেন, “হে যারবিয়াম ও ইস্রায়েলের সব লোকজন, তোমরা আমার কথা শোনো!
2CH 13:5 তোমরা কি জানো না যে এক লবণ-নিয়মের মাধ্যমে ইস্রায়েলের রাজপদ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু চিরতরে দাউদ ও তাঁর বংশধরদের হাতে তুলে দিয়েছেন?
2CH 13:6 অথচ নবাটের ছেলে যারবিয়াম, যে কি না দাউদের ছেলে শলোমনের সামান্য এক কর্মচারী ছিল, সে তার মনিবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিল।
2CH 13:7 কয়েকজন অপদার্থ দুষ্টলোক তার চারপাশে একত্রিত হল এবং শলোমনের ছেলে রহবিয়াম যখন অল্পবয়স্ক ও সংশয়াপন্ন ছিলেন, এবং তাদের প্রতিরোধ করার পক্ষে খুব একটি শক্তিশালী ছিলেন না, তখনই তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করল।
2CH 13:8 “আর এখন তোমরা সদাপ্রভুর সেই রাজ্যের বিরোধিতা করতে চাইছ, যেটি দাউদের বংশধরদের হাতে রয়েছে। তোমরা তো সত্যিই বিশাল এক সৈন্যদল এবং তোমাদের সাথে সোনার সেই বাছুরগুলি আছে, যেগুলি দেবতারূপে যারবিয়াম তোমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছিল।
2CH 13:9 কিন্তু তোমরাই কি সদাপ্রভুর যাজকদের, হারোণের ছেলেদের, ও লেবীয়দের তাড়িয়ে দিয়ে, অন্যান্য দেশের লোকজনের দেখাদেখি নিজেদের ইচ্ছামতো যাজক তৈরি করে নাওনি? যে কেউ সাথে করে একটি এঁড়ে বাছুর ও সাতটি মেষ এনে নিজেকে উৎসর্গীকৃত বলে দাবি করে, সেই এমন সব বস্তুর যাজক হয়ে যায়, যেগুলি আদৌ দেবতাই নয়।
2CH 13:10 “আমাদের কাছে, সদাপ্রভুই আমাদের ঈশ্বর, এবং আমরা তাঁকে পরিত্যাগ করিনি। যেসব যাজক সদাপ্রভুর সেবা করলেন, তারা হারোণের বংশধর ও লেবীয়েরা তাদের কাজে সহযোগিতা করে।
2CH 13:11 প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তারা সদাপ্রভুর কাছে হোমবলি ও সুগন্ধি ধূপ উৎসর্গ করলেন। প্রথাগতভাবে শুচিশুদ্ধ টেবিলে তারা রুটি সাজিয়ে রাখেন এবং প্রতিদিন সকালে সোনার বাতিদানের প্রদীপগুলি তারা জ্বালিয়ে দেন। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অবশ্যপূরণীয় শর্তগুলি আমরা পূরণ করে যাচ্ছি। কিন্তু তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করেছ।
2CH 13:12 ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন; তিনিই আমাদের নেতা। তাঁর যাজকেরা তাদের শিঙাগুলি নিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-নিনাদ করবেন। হে ইস্রায়েলী জনতা, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোরো না, কারণ তোমরা কিছুতেই সফল হবে না।”
2CH 13:13 যারবিয়াম ইত্যবসরে ঘুরপথে পিছন দিকে সৈন্য পাঠিয়ে দিলেন, যেন তিনি যখন যিহূদার সামনে থাকবেন, তখন আক্রমণ যেন তাদের পিছন দিক থেকেই শানানো হয়।
2CH 13:14 যিহূদার লোকজন পিছন ফিরে দেখেছিল, তারা সামনে ও পিছনে—দুই দিক থেকেই আক্রান্ত হয়েছে। তখন তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে ফেলেছিল। যাজকেরা তাদের শিঙাগুলি বাজিয়েছিলেন
2CH 13:15 এবং যিহূদার লোকজন যুদ্ধ-নিনাদের স্বর তীব্র করে তুলেছিল। তাদের যুদ্ধ-নিনাদ শুনে ঈশ্বর যারবিয়াম ও সমগ্র ইস্রায়েলকে অবিয় ও যিহূদার সামনে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন।
2CH 13:16 ইস্রায়েলীরা যিহূদার সামনে থেকে পালিয়ে গেল, এবং ঈশ্বর ইস্রায়েলীদের তাদের হাতে সঁপে দিলেন।
2CH 13:17 অবিয় ও তাঁর সৈন্যদল ইস্রায়েলীদের এত ক্ষতিসাধন করলেন, যে ইস্রায়েলীদের মধ্যে পাঁচ লাখ সক্ষম যোদ্ধা মারা পড়েছিল।
2CH 13:18 সেবার ইস্রায়েলীরা পরাজিত হল, এবং যিহূদার লোকজন বিজয়ী হল, কারণ তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুতে নির্ভর করল।
2CH 13:19 অবিয় যারবিয়ামের পিছু ধাওয়া করে তাঁর কাছ থেকে বেথেল, যিশানা ও ইফ্রোণ ও সেই নগরগুলির চারপাশের গ্রামগুলিও ছিনিয়ে নিয়েছিলেন।
2CH 13:20 অবিয়ের সময়কালে যারবিয়াম আর শক্তি অর্জন করতে পারেননি। সদাপ্রভু তাঁকে আঘাত করলেন ও তিনি মারা গেলেন।
2CH 13:21 কিন্তু অবিয় শক্তি অর্জন করেই যাচ্ছিলেন। তিনি চোদ্দোজন স্ত্রীকে বিয়ে করলেন এবং তাঁর বাইশটি ছেলে ও ষোলোটি মেয়ে হল।
2CH 13:22 অবিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা করলেন ও যা যা বললেন, সেসব ভাববাদী ইদ্দোর টীকারচনায় লেখা আছে।
2CH 14:1 অবিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আসা রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন, এবং তাঁর রাজত্বকালে দশ বছর দেশে শান্তি বজায় ছিল।
2CH 14:2 আসা, তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো ও উপযুক্ত, তাই করলেন।
2CH 14:3 তিনি বিজাতীয় যজ্ঞবেদি ও পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি উপড়ে ফেলেছিলেন, পবিত্র পাথরগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন এবং আশেরার খুঁটিগুলি কেটে নামিয়েছিলেন।
2CH 14:4 তিনি যিহূদার লোকজনকে আদেশ দিলেন, তারা যেন তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করে এবং তাঁর বিধান ও আজ্ঞা মেনে চলে।
2CH 14:5 যিহূদার প্রত্যেকটি নগরে তিনি পূজার্চনার উঁচু স্থান ও ধূপবেদিগুলি উপড়ে ফেলেছিলেন, এবং তাঁর অধীনে রাজ্যে শান্তি বজায় ছিল।
2CH 14:6 যেহেতু দেশে শান্তি বজায় ছিল, তাই তিনি যিহূদায় কয়েকটি সুরক্ষিত নগর গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময়, কয়েক বছর কেউ তাঁর সাথে যুদ্ধ করেননি, কারণ সদাপ্রভু তাঁকে বিশ্রাম দিলেন।
2CH 14:7 “এসো, আমরা এই নগরগুলি গড়ে তুলি,” তিনি যিহূদার লোকজনকে বললেন, “আর সেগুলির চারপাশে দেয়াল গেঁথে দিই, এবং মিনার, দরজা ও খিলও গড়ে দিই। দেশ এখনও আমাদেরই অধিকারে আছে, যেহেতু আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করেছি; আমরা তাঁর অন্বেষণ করেছি এবং সবদিক থেকেই তিনি আমাদের বিশ্রাম দিয়েছেন।” অতএব তারা নগরগুলি গড়ে তুলেছিল এবং সফলও হল।
2CH 14:8 আসার কাছে যিহূদা গোষ্ঠীভুক্ত এলাকা থেকে আসা এমন তিন লাখ সৈন্য ছিল, যারা বড়ো বড়ো ঢাল ও বর্শায় সুসজ্জিত ছিল, এবং বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত এলাকা থেকে আসা এমন দুই লাখ আশি হাজার সৈন্য ছিল, যারা ছোটো ছোটো ঢাল ও ধনুকে সুসজ্জিত ছিল। এরা সবাই ছিল সাহসী যোদ্ধা।
2CH 14:9 কূশীয় সেরহ তাদের বিরুদ্ধে দশ লাখ সৈন্য এবং তিনশো রথ নিয়ে কুচকাওয়াজ করে বেরিয়ে এসেছিল, ও একেবারে মারেশা পর্যন্ত পৌঁছে গেল।
2CH 14:10 আসা তার সাথে সম্মুখসমরে নেমেছিলেন, এবং মারেশার কাছে সফাথা উপত্যকায় যুদ্ধক্ষেত্রে তারা নিজের নিজের অবস্থান নিয়েছিলেন।
2CH 14:11 তখন আসা তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ডেকে বললেন, “হে সদাপ্রভু, শক্তিশালীর বিরুদ্ধে শক্তিহীনকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে তোমার মতো আর কেউ নেই। হে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি আমাদের সাহায্য করো, কারণ আমরা তোমারই উপর নির্ভর করে আছি, এবং এই বিশাল সৈন্যদলের বিরুদ্ধে আমরা তোমার নামেই এগিয়ে এসেছি। হে সদাপ্রভু, তুমিই আমাদের ঈশ্বর; নিছক মরণশীল মানুষ যেন তোমার বিরুদ্ধে জিততে না পারে।”
2CH 14:12 আসা ও যিহূদার সামনে সদাপ্রভু সেই কূশীয়দের আঘাত করলেন। কূশীয়েরা পালিয়ে গেল,
2CH 14:13 এবং আসা ও তাঁর সৈন্যদল একেবারে গরার পর্যন্ত তাদের পিছু ধাওয়া করে গেলেন। এত বেশি সংখ্যায় কূশীয়েরা মারা পড়েছিল, যে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি; তারা সদাপ্রভুর ও তাঁর সৈন্যদলের সামনে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। যিহূদার লোকজন প্রচুর পরিমাণে লুটসামগ্রী তুলে নিয়ে এসেছিল।
2CH 14:14 গরারের চারপাশের সব গ্রাম তারা ধ্বংস করে দিয়েছিল, কারণ সদাপ্রভুর আতঙ্ক তাদের উপর এসে পড়েছিল। তারা সেইসব গ্রামে লুটপাট চালিয়েছিল, যেহেতু সেখানে প্রচুর লুটসামগ্রী পড়েছিল।
2CH 14:15 এছাড়া তারা রাখালদের শিবিরগুলিতেও আক্রমণ চালিয়েছিল এবং পালে পালে মেষ, ছাগল ও উট তুলে নিয়ে এসেছিল। পরে তারা জেরুশালেমে ফিরে গেল।
2CH 15:1 ওদেদের ছেলে অসরিয়ের উপর ঈশ্বরের আত্মা নেমে এলেন।
2CH 15:2 তিনি আসার সাথে দেখা করতে গেলেন ও তাঁকে বললেন, “হে আসা এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের সব লোকজন, আমার কথা শোনো। তোমরা যতদিন সদাপ্রভুর সাথে আছ, তিনিও তোমাদের সাথে আছেন। তোমরা যদি তাঁর অন্বেষণ করো, তবে তাঁকে খুঁজে পাবে, কিন্তু তোমরা যদি তাঁকে পরিত্যাগ করো, তবে তিনিও তোমাদের পরিত্যাগ করবেন।
2CH 15:3 দীর্ঘকাল ইস্রায়েল সত্য ঈশ্বরবিহীন, শিক্ষা দেওয়ার উপযোগী এক যাজক-বিহীন ও বিধানবিহীন হয়েই ছিল।
2CH 15:4 কিন্তু তাদের দুঃখদুর্দশার দিনে তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিকে ফিরেছিল, ও তাঁর অন্বেষণ করল, এবং তারা তাঁর খোঁজ পেয়েছিল।
2CH 15:5 সেই দিনগুলিতে নিরাপদে ঘোরাফেরা করা যেত না, কারণ দেশের সব অধিবাসী খুব গোলমেলে অবস্থায় ছিল।
2CH 15:6 এক জাতি অন্য এক জাতির দ্বারা এবং এক নগর অন্য এক নগরের দ্বারা চূর্ণবিচূর্ণ হচ্ছিল, কারণ ঈশ্বরই সব ধরনের দুঃখ দিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন করছিলেন।
2CH 15:7 কিন্তু তোমরা বলবান হও ও হাল ছেড়ে দিয়ো না, কারণ তোমাদের কাজ পুরস্কৃত হবে।”
2CH 15:8 আসা যখন এইসব কথা ও ওদেদের ছেলে ভাববাদী অসরিয়ের করা ভাববাণীটি শুনেছিলেন, তখন তিনি সাহস পেয়েছিলেন। যিহূদা ও বিন্যামীনের গোটা এলাকা থেকে এবং ইফ্রয়িমের পার্বত্য এলাকার যেসব নগর তিনি দখল করলেন, সেগুলি থেকেও ঘৃণ্য প্রতিমার মূর্তিগুলি তিনি সরিয়ে দিলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরের বারান্দার সামনে রাখা সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিটি তিনি মেরামত করে দিলেন।
2CH 15:9 পরে যিহূদা ও বিন্যামীনের সব লোকজনকে এবং ইফ্রয়িম, মনঃশি ও শিমিয়োন গোষ্ঠীভুক্ত এলাকা থেকে আসা সেইসব লোককে তিনি এক স্থানে একত্রিত করলেন, যারা তাদের মাঝখানে বসতি স্থাপন করল, কারণ ইস্রায়েল থেকে প্রচুর লোকজন তখনই তাঁর কাছে এসেছিল, যখন তারা দেখেছিল যে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর সাথে আছেন।
2CH 15:10 আসার রাজত্বকালের পঞ্চদশতম বছরের তৃতীয় মাসে তারা জেরুশালেমে একত্রিত হল।
2CH 15:11 সেই সময় যে লুটসামগ্রী তারা নিয়ে এসেছিল, সেখান থেকে তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে সাতশো গবাদি পশু এবং সাত হাজার মেষ ও ছাগল বলি দিয়েছিল।
2CH 15:12 মনেপ্রাণে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করার জন্য এক নিয়মে নিজেদের বেঁধে ফেলেছিল।
2CH 15:13 যারা যারা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ করবে না, তারা ছোটই হোক বা বড়ো, পুরুষই হোক বা মহিলা, তাদের মেরে ফেলা হবে।
2CH 15:14 জোরালো সাধুবাদ জানিয়ে, চিৎকার করে ও শিঙা বাজিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তারা এক শপথ নিয়েছিল।
2CH 15:15 যিহূদার সব লোকজন সেই শপথের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ করল, কারণ মনেপ্রাণে তারা সেই শপথ নিয়েছিল। আগ্রহী হয়ে তারা ঈশ্বরের অন্বেষণ করল, এবং তিনি তাদের কাছে ধরা দিলেন। অতএব সবদিক থেকেই সদাপ্রভু তাদের বিশ্রাম দিলেন।
2CH 15:16 এছাড়াও রাজা আসা, রাজমাতার পদ থেকে তাঁর ঠাকুমা মাখাকে সরিয়ে দিলেন, কারণ আশেরার পুজো করার জন্য মাখা জঘন্য এক মূর্তি তৈরি করেছিলেন। আসা সেটি কেটে ফেলে দিয়ে, ভেঙেও দিলেন এবং কিদ্রোণ উপত্যকায় সেটি জ্বালিয়ে দিলেন।
2CH 15:17 ইস্রায়েল থেকে যদিও তিনি পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি উপড়ে ফেলেননি, তবুও আজীবন আসার অন্তর সদাপ্রভুর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিতই ছিল।
2CH 15:18 ঈশ্বরের মন্দিরে তিনি রুপো ও সোনা এবং সেইসব জিনিসপত্র এনে রেখেছিলেন, যেগুলি তিনি ও তাঁর বাবা উৎসর্গ করলেন।
2CH 15:19 আসার রাজত্বকালের পঁয়ত্রিশতম বছর পর্যন্ত আর কোনও যুদ্ধ হয়নি।
2CH 16:1 আসার রাজত্বকালের ছত্রিশতম বছরে ইস্রায়েলের রাজা বাশা যিহূদার বিরুদ্ধে উঠে গেলেন এবং রামা নগরটি সুরক্ষিত করে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিলেন, যেন যিহূদার রাজা আসার এলাকা থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে না পারে বা সেখানে ঢুকতেও না পারে।
2CH 16:2 আসা তখন সদাপ্রভুর মন্দির থেকে ও তাঁর নিজের প্রাসাদের কোষাগার থেকে রুপো ও সোনা নিয়ে সেগুলি অরামের রাজা সেই বিন্‌হদদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, যিনি দামাস্কাসে রাজত্ব করছিলেন।
2CH 16:3 “আপনার ও আমার মধ্যে এক চুক্তি হোক,” তিনি বললেন, “যেমনটি আমার বাবা ও আপনার বাবার মধ্যে ছিল। দেখুন, আমি আপনার কাছে রুপো ও সোনা পাঠাচ্ছি। এখন আপনি ইস্রায়েলের রাজা বাশার সঙ্গে করা আপনার চুক্তিটি ভেঙে ফেলুন, তবেই সে আমার কাছ থেকে পিছিয়ে যাবে।”
2CH 16:4 বিন্‌হদদ আসার কথায় রাজি হলেন এবং ইস্রায়েলের নগরগুলির বিরুদ্ধে তাঁর সৈন্যদলের সেনাপতিদের পাঠালেন। তারা ইয়োন, দান, আবেল-ময়িম ও নপ্তালির সব ভাঁড়ার-নগর জোর করে দখল করে নিয়েছিল।
2CH 16:5 বাশা যখন একথা শুনতে পেলেন, তিনি রামা নগরটি গড়ে তোলার কাজ বন্ধ করে দিলেন এবং তাঁর কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে গেলেন।
2CH 16:6 পরে রাজা আসা যিহূদার সব লোকজনকে সেখানে নিয়ে এলেন, এবং তারা রামা থেকে সেইসব পাথর ও কাঠ বয়ে নিয়ে গেল, যেগুলি বাশা ব্যবহার করছিলেন। সেগুলি দিয়ে তিনি গেবা ও মিস্‌পা নগর দুটি গড়ে তুলেছিলেন।
2CH 16:7 সেই সময় দর্শক হনানি যিহূদার রাজা আসার কাছে এলেন এবং তাঁকে বললেন: “যেহেতু আপনি আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপর নির্ভর না করে অরামের রাজার উপর নির্ভর করেছেন, তাই অরামের রাজার সৈন্যদল আপনার হাতের নাগাল এড়িয়ে পালিয়েছে।
2CH 16:8 বিশাল সংখ্যক রথ ও অশ্বারোহী সমেত কূশীয় ও লূবীয়েরা কি বিশাল এক সৈন্যদল ছিল না? তবুও আপনি যখন সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করলেন, তখন তিনি আপনার হাতে তাদের সঁপে দিলেন।
2CH 16:9 কারণ সদাপ্রভুর চোখ তাদেরই শক্তিশালী করে তোলার জন্য গোটা পৃথিবী জুড়ে বিচরণ করে যাচ্ছে, যাদের অন্তর তাঁর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত। আপনি মূর্খের মতো কাজ করেছেন, আর এখন থেকে বারবার আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে।”
2CH 16:10 এতে আসা সেই দর্শকের উপর রেগে গেলেন; তিনি এত রেগে গেলেন যে হনানিকে জেলখানায় পুরে দিলেন। একইসাথে, কিছু কিছু লোকের প্রতি আসা নিষ্ঠুর অত্যাচারও চালিয়েছিলেন।
2CH 16:11 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আসার রাজত্বকালের সব ঘটনা যিহূদা ও ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2CH 16:12 আসার রাজত্বকালের ঊনচল্লিশ বছরে তিনি তাঁর পায়ের রোগে কাতর হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর রোগ দুঃসহ হওয়া সত্ত্বেও, এমনকি অসুস্থতার সময়েও তিনি সদাপ্রভুর কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু শুধু চিকিৎসকদের কাছেই তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন।
2CH 16:13 পরে আসার রাজত্বকালের একচল্লিশতম বছরে তিনি মারা গেলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন।
2CH 16:14 দাউদ-নগরে তিনি নিজের জন্য যে কবরটি খুঁড়িয়েছিলেন, সেখানেই লোকেরা তাঁকে কবর দিয়েছিল। মশলাপাতি ও বিভিন্ন ধরনের মিশ্রিত সুগন্ধি মাখিয়ে তাঁর দেহটি তারা একটি খাটে শুইয়ে দিয়েছিল, এবং তাঁর সম্মানে তারা আগুন জ্বালানোর এলাহি এক আয়োজন করল।
2CH 17:1 আসার ছেলে যিহোশাফট রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন এবং ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে নিজেকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
2CH 17:2 যিহূদার সব সুরক্ষিত নগরে তিনি সৈন্যদল মোতায়েন করে দিলেন এবং যিহূদাকে ও ইফ্রয়িমের সেইসব নগরকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিনি সৈন্যদল মোতায়েন করলেন, যেগুলি তাঁর বাবা আসা দখল করলেন।
2CH 17:3 সদাপ্রভু যিহোশাফটের সাথে ছিলেন, কারণ তাঁর সামনে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের পথেই চলতেন। তিনি বায়াল-দেবতাদের কাছে পরামর্শ চাইতেন না
2CH 17:4 কিন্তু তাঁর পৈতৃক ঈশ্বরের অন্বেষণ করতেন এবং ইস্রায়েলের প্রথানুসারে না চলে বরং ঈশ্বরেরই আদেশ পালন করতেন।
2CH 17:5 সদাপ্রভু যিহোশাফটের নিয়ন্ত্রণে রাজ্যটি সুস্থির করলেন; এবং যিহূদার সব লোকজন তাঁর কাছে উপহারসামগ্রী নিয়ে এসেছিল, এতে তিনি প্রচুর ধনসম্পদ ও সম্মানের অধিকারী হলেন।
2CH 17:6 সদাপ্রভুর পথের প্রতি তাঁর অন্তর সমর্পিত হয়েছিল; এছাড়াও, তিনি যিহূদা দেশ থেকে পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি ও আশেরার খুঁটিগুলিও উপড়ে ফেলে সরিয়ে দিলেন।
2CH 17:7 তাঁর রাজত্বকালের তৃতীয় বছরে যিহূদা দেশের বিভিন্ন নগরে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর কর্মকর্তা বিন-হয়িল, ওবদিয়, সখরিয়, নথনেল ও মীখায়কে পাঠালেন।
2CH 17:8 তাঁদের সাথে ছিলেন কয়েকজন লেবীয়—শময়িয়, নথনিয়, সবদিয়, অসাহেল, শমীরামোৎ, যিহোনাথন, অদোনিয়, টোবিয় ও টোব-অদোনীয়—এবং যাজক ইলীশামা ও যিহোরাম।
2CH 17:9 সদাপ্রভুর বিধানপুস্তক সাথে নিয়ে তারা গোটা যিহূদা দেশে ঘুরে ঘুরে শিক্ষা দিয়ে বেড়িয়েছিলেন; যিহূদা দেশের সব নগরে গিয়ে গিয়ে তারা লোকদের শিক্ষা দিলেন।
2CH 17:10 যিহূদা দেশের চারপাশে থাকা সব দেশের রাজ্যগুলির উপর এমনভাবে সদাপ্রভুর ভয় নেমে এসেছিল, যে তারা আর যিহোশাফটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
2CH 17:11 ফিলিস্তিনীদের মধ্যে কেউ কেউ কর-বাবদ যিহোশাফটের কাছে উপহারসামগ্রী ও রুপো নিয়ে এসেছিল, এবং আরবীয়েরা তাঁর কাছে এই পশুপাল নিয়ে এসেছিল: সাত হাজার সাতশো মদ্দা মেষ ও সাত হাজার সাতশো ছাগল।
2CH 17:12 যিহোশাফট ক্রমাগত আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন; যিহূদায় তিনি কয়েকটি দুর্গ ও ভাঁড়ার-নগর গড়ে তুলেছিলেন
2CH 17:13 এবং যিহূদার নগরগুলিতে প্রচুর জিনিসপত্র মজুদ করলেন। এছাড়াও জেরুশালেমে তিনি অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের রেখে দিলেন।
2CH 17:14 বংশানুসারে তাদের তালিকাটি এইরকম: যিহূদা থেকে, সহস্র-সেনাপতিরা হলেন: 3,00,000 যোদ্ধা সমেত সেনাপতি অদন;
2CH 17:15 তাঁর পরে, 2,80,000 যোদ্ধা সমেত সেনাপতি যিহোহানন;
2CH 17:16 তাঁর পরে, 2,00,000 যোদ্ধা সমেত সিখ্রির ছেলে সেই অমসিয়, যিনি সদাপ্রভুর সেবা করার জন্য নিজেই স্বেচ্ছাসেবক হলেন।
2CH 17:17 বিন্যামীন থেকে: ধনুক ও ঢাল নিয়ে সুসজ্জিত 2,00,000 যোদ্ধা সমেত বীর সৈনিক ইলিয়াদা;
2CH 17:18 তাঁর পরে, যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত 1,80,000 যোদ্ধা সমেত যিহোষাবদ।
2CH 17:19 রাজা যাদের গোটা যিহূদা দেশ জুড়ে বিভিন্ন সুরক্ষিত নগরে মোতায়েন করলেন, তাদের পাশাপাশি এরাও সেইসব লোক, যারা রাজার সেবা করতেন।
2CH 18:1 যিহোশাফট প্রচুর ধনসম্পদ ও সম্মানের অধিকারী হলেন, এবং বিবাহসূত্রে তিনি আহাবের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
2CH 18:2 কয়েক বছর পর তিনি শমরিয়ায় আহাবের সাথে দেখা করতে গেলেন। তাঁর জন্য ও তাঁর সাথে থাকা লোকজনের জন্য আহাব প্রচুর মেষ ও গবাদি পশু বধ করলেন এবং রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করার জন্য তাঁকে অনুরোধও জানিয়েছিলেন।
2CH 18:3 ইস্রায়েলের রাজা আহাব যিহূদার রাজা যিহোশাফটকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি আমার সাথে রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করতে যাবেন?” যিহোশাফট উত্তর দিলেন, “আমি আপনারই মতো, ও আমার প্রজারাও আপনার প্রজাদেরই মতো; যুদ্ধে আমরা আপনার সাথে যোগ দেব।”
2CH 18:4 কিন্তু যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজাকে এও বললেন, “প্রথমে সদাপ্রভুর কাছে পরামর্শ চেয়ে নিন।”
2CH 18:5 তাই ইস্রায়েলের রাজা ভাববাদীদের—চারশো জনকে—একত্রিত করলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করব, কি করব না?” “চলে যান,” তারা উত্তর দিয়েছিল, “কারণ ঈশ্বর সেটি রাজার হাতে তুলে দেবেন।”
2CH 18:6 কিন্তু যিহোশাফট জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে কি সদাপ্রভুর এমন কোনও ভাববাদী নেই, যাঁর কাছে আমরা খোঁজখবর নিতে পারব?”
2CH 18:7 ইস্রায়েলের রাজা, যিহোশাফটকে উত্তর দিলেন, “আরও একজন ভাববাদী আছেন, যার মাধ্যমে আমরা সদাপ্রভুর কাছে খোঁজখবর নিতে পারি, কিন্তু আমি তাকে ঘৃণা করি, যেহেতু সে কখনোই আমার বিষয়ে ভালো কিছু ভাববাণী করে না, কিন্তু সবসময় খারাপ ভাববাণীই করে। সে হল যিম্লের ছেলে মীখায়।” “মহারাজ এরকম কথা বলবেন না,” যিহোশাফট উত্তর দিলেন।
2CH 18:8 তখন ইস্রায়েলের রাজা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনকে ডেকে বললেন, “এক্ষুনি গিয়ে যিম্লের ছেলে মীখায়কে ডেকে আনো।”
2CH 18:9 রাজপোশাক পরে ইস্রায়েলের রাজা ও যিহূদার রাজা যিহোশাফট, দুজনেই শমরিয়ার সিংহদুয়ারের কাছে খামারবাড়িতে তাদের সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং ভাববাদীরা সবাই তাদের সামনে ভাববাণী করে যাচ্ছিল।
2CH 18:10 ইত্যবসরে কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় লোহার দুটি শিং তৈরি করল এবং সে ঘোষণা করল, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘অরামীয়রা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এগুলি দিয়েই আপনি তাদের গুঁতাবেন।’ ”
2CH 18:11 অন্যান্য সব ভাববাদীও একই ভাববাণী করল। “রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করুন এবং বিজয়ী হোন,” তারা বলল, “কারণ সদাপ্রভু সেটি রাজার হাতে তুলে দেবেন।”
2CH 18:12 যে দূত মীখায়কে ডাকতে গেল, সে তাঁকে বলল, “দেখুন, অন্যান্য ভাববাদীরা সবাই কোনও আপত্তি না জানিয়ে রাজার পক্ষে সফলতার ভাববাণী করছে। আপনার কথাও যেন তাদেরই মতো হয়, এবং আপনিও সুবিধাজনক কথাই বলুন।”
2CH 18:13 কিন্তু মীখায় বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমার ঈশ্বর যা বলবেন, আমি তাঁকে শুধু সেকথাই বলতে পারব।”
2CH 18:14 তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর রাজা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মীখায়, রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধযাত্রা করব, কি করব না?” “আক্রমণ করে আপনি বিজয়ী হোন,” তিনি উত্তর দিলেন, “কারণ সেখানকার লোকজনকে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
2CH 18:15 রাজা তাঁকে বললেন, “কতবার আমি তোমাকে দিয়ে শপথ করাব যে তুমি সদাপ্রভুর নামে আমাকে সত্যিকথা ছাড়া আর কিছুই বলবে না?”
2CH 18:16 তখন মীখায় উত্তর দিলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি, ইস্রায়েলীরা সবাই পাহাড়ের উপর পালকবিহীন মেষের পালের মতো হয়ে আছে, এবং সদাপ্রভু বলেছেন, ‘এই লোকজনের কোনও মনিব নেই। শান্তিতে যে যার ঘরে ফিরে যাক।’ ”
2CH 18:17 ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি কি আপনাকে বলিনি যে সে আমার বিষয়ে কখনও ভালো কিছু ভাববাণী করে না, কিন্তু শুধু খারাপ ভাববাণীই করে?”
2CH 18:18 মীখায় আরও বললেন, “এজন্য সদাপ্রভুর এই বাক্য শুনুন: আমি দেখলাম, সদাপ্রভু তাঁর সিংহাসনে বসে আছেন এবং স্বর্গের জনতা তাঁর ডানদিকে ও বাঁদিকে দাঁড়িয়ে আছে।
2CH 18:19 সদাপ্রভু বললেন, ‘রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করে সেখানে মরতে যাওয়ার জন্য কে ইস্রায়েলের রাজা আহাবকে প্ররোচিত করবে?’ “তখন কেউ একথা, কেউ সেকথা বলল।
2CH 18:20 শেষে, একটি আত্মা এগিয়ে এসে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিল এবং বলল, ‘আমি তাকে প্ররোচিত করব।’ “ ‘কীভাবে?’ সদাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন।
2CH 18:21 “ ‘আমি গিয়ে তার সব ভাববাদীর মুখে প্রতারণাকারী আত্মা হয়ে যাব,’ সে বলল। “ ‘তুমি তাকে প্ররোচিত করতে সফল হবে,’ সদাপ্রভু বললেন। ‘যাও, গিয়ে সে কাজটি করো।’
2CH 18:22 “তাই এখন সদাপ্রভু আপনার এই ভাববাদীদের মুখে বিভ্রান্তিকর এক আত্মা দিয়েছেন। সদাপ্রভু আপনার সর্বনাশের হুকুম জারি করেছেন।”
2CH 18:23 তখন কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় গিয়ে মীখায়ের গালে চড় মেরেছিল। “সদাপ্রভুর কাছ থেকে আসা আত্মা তোর সাথে কথা বলার জন্য কোন পথে আমার কাছ থেকে গেলেন?” সে জিজ্ঞাসা করল।
2CH 18:24 মীখায় উত্তর দিলেন, “সেদিনই তুমি তা জানতে পারবে, যেদিন তুমি ভিতরের ঘরে গিয়ে লুকাবে।”
2CH 18:25 ইস্রায়েলের রাজা তখন আদেশ দিলেন, “মীখায়কে ধরে নগরের শাসনকর্তা আমোনের ও রাজপুত্র যোয়াশের কাছে পাঠিয়ে দাও,
2CH 18:26 এবং তাদের বোলো, ‘রাজা একথাই বলেছেন: একে জেলখানায় রেখে দাও এবং যতদিন না আমি নিরাপদে ফিরে আসছি, ততদিন একে রুটি ও জল ছাড়া আর কিছুই দিয়ো না।’ ”
2CH 18:27 মীখায় ঘোষণা করলেন, “আপনি যদি নিরাপদে কখনও ফিরে আসেন, তবে জানবেন, সদাপ্রভু আমার মাধ্যমে কথা বলেননি।” পরে তিনি আরও বললেন, “ওহে লোকজন, তোমরা সবাই আমার কথাগুলি মনে গেঁথে রাখো!”
2CH 18:28 অতএব ইস্রায়েলের রাজা ও যিহূদার রাজা যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দে চলে গেলেন।
2CH 18:29 ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করব, কিন্তু আপনি আপনার রাজপোশাক পরে থাকুন।” এইভাবে ইস্রায়েলের রাজা ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধে গেলেন।
2CH 18:30 ইত্যবসরে অরামের রাজা তাঁর রথের সেনাপতিদের আদেশ দিয়ে রেখেছিলেন, “একমাত্র ইস্রায়েলের রাজা ছাড়া, ছোটো বা বড়ো, কোনো লোকের সাথে যুদ্ধ করবে না।”
2CH 18:31 রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতিরা যিহোশাফটকে দেখে ভেবেছিল, “ইনিই নিশ্চয় ইস্রায়েলের রাজা।” তাই তাঁকে আক্রমণ করার জন্য তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু যিহোশাফট চিৎকার করে উঠেছিলেন, এবং সদাপ্রভু তাঁকে সাহায্য করলেন। ঈশ্বর তাঁর কাছ থেকে তাদের সরিয়ে দিলেন,
2CH 18:32 কারণ রথের সেনাপতিরা যখন দেখেছিল যে তিনি ইস্রায়েলের রাজা নন, তখন তারা তাঁর পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করে দিয়েছিল।
2CH 18:33 কিন্তু কেউ একজন আচমকা ধনুকে টান দিয়ে ইস্রায়েলের রাজার বুক ও পেটে পরবার বর্মের মাঝখানের ফাঁকা স্থানে আঘাত করে বসেছিল। রাজা তাঁর রথের সারথিকে বললেন, “রথ ঘুরিয়ে নিয়ে আমাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বাইরে নিয়ে চলো। আমি আহত হয়ে পড়েছি।”
2CH 18:34 সারাদিন ধরে সেদিন ধুন্ধুমার যুদ্ধ চলেছিল, এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত ইস্রায়েলের রাজা অরামীয়দের দিকে মুখ করে নিজেকে রথের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। পরে সূর্যাস্তের সময় তিনি মারা গেলেন।
2CH 19:1 যিহূদার রাজা যিহোশাফট যখন নিরাপদে জেরুশালেমে তাঁর প্রসাদে ফিরে এলেন,
2CH 19:2 তখন হনানির ছেলে দর্শক যেহূ তাঁর সাথে দেখা করার জন্য বের হয়ে এলেন এবং রাজাকে তিনি বললেন, “দুষ্টকে সাহায্য করা ও যারা সদাপ্রভুকে ঘৃণা করে, তাদের ভালোবাসা কি আপনার উচিত হয়েছে? এজন্য, সদাপ্রভুর ক্রোধ আপনার উপর এসে পড়েছে।
2CH 19:3 কিছু ভালো গুণ এখনও অবশ্য আপনার মধ্যে রয়ে গিয়েছে, কারণ আপনি দেশ থেকে আশেরা-খুঁটিগুলি উৎখাত করে ছেড়েছেন এবং ঈশ্বরের অন্বেষণ করার জন্য আপনার অন্তর স্থির করেছেন।”
2CH 19:4 যিহোশাফট জেরুশালেমে বসবাস করছিলেন, এবং তিনি আবার বের-শেবা থেকে শুরু করে ইফ্রয়িমের পাহাড়ি এলাকায় যত লোক বসবাস করত, তাদের কাছে গেলেন ও তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে তাদের ফিরিয়ে এনেছিলেন।
2CH 19:5 দেশে, অর্থাৎ যিহূদার প্রত্যেকটি সুরক্ষিত নগরে তিনি বিচারক নিযুক্ত করে দিলেন।
2CH 19:6 তিনি তাদের বললেন, “সাবধান হয়ে তোমরা তোমাদের কাজকর্ম কোরো, কারণ তোমরা নিছক মরণশীল মানুষের হয়ে বিচার করছ না কিন্তু সেই সদাপ্রভুর হয়েই করছ, যিনি তোমাদের সাথেই তখন আছেন, যখন তোমরা বিচারের কোনও রায় দিচ্ছ।
2CH 19:7 এখন সদাপ্রভুর ভয় তোমাদের উপর বিরাজ করুক। সাবধান হয়ে বিচার কোরো, কারণ অন্যায়ের বা একপেশেমির বা ঘুস দেওয়া-নেওয়ার সাথে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কোনও সম্পর্ক নেই।”
2CH 19:8 জেরুশালেমেও যিহোশাফট সদাপ্রভুর বিধান প্রয়োগ করার ও মতবিরোধের মীমাংসা করার জন্য কয়েকজন লেবীয়কে, যাজককে ও ইস্রায়েল বংশোদ্ভুক্ত কর্তাব্যক্তিকে নিযুক্ত করলেন। তারা সবাই জেরুশালেমেই বসবাস করতেন।
2CH 19:9 তিনি তাদের এইসব আদেশ দিলেন: “সদাপ্রভুর ভয়ে বিশ্বস্ত হয়ে ও মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তোমাদের পরিচর্যা করতে হবে।
2CH 19:10 বিভিন্ন নগরে যারা বসবাস করে, সেইসব লোক যখন তোমাদের কাছে কোনও সমস্যা নিয়ে আসবে, তখন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই—রক্তপাত হোক বা বিধানের, আদেশের, বিধির বা নিয়মকানুনের অন্য কোনও বিষয়—তোমাদের তখন তাদের সতর্ক করে দিতে হবে, যেন তারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ না করে; তা না হলে তাঁর ক্রোধ তোমাদের উপর ও তোমাদের লোকজনের উপর নেমে আসবে। এরকমই কোরো, আর তোমরা দোষী হবে না।
2CH 19:11 “সদাপ্রভুর যে কোনো বিষয়ে প্রধান যাজক অমরিয় তোমাদের দায়িত্ব পালন করবেন, এবং যিহূদা বংশের নেতা ও ইশ্মায়েলের ছেলে সবদিয়, রাজার যে কোনো বিষয়ে তোমাদের দায়িত্ব পালন করবেন, এবং লেবীয়েরা তোমাদের সামনে কর্মকর্তা হয়ে পরিচর্যা সামলাবেন। সাহসে বুক বেঁধে কাজ করে যাও, এবং যারা ভালোভাবে কাজ করবে, সদাপ্রভু যেন তাদের সাথে থাকেন।”
2CH 20:1 পরে, মোয়াবীয় ও অম্মোনীয়রা কয়েকজন মায়োনীয়কে সাথে নিয়ে যিহোশাফটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল।
2CH 20:2 কিছু লোকজন এসে যিহোশাফটকে বলল, “ইদোম থেকে, মরুসাগরের ওপার থেকে বিশাল এক সৈন্যদল আপনার দিকে এগিয়ে আসছে। তারা ইতিমধ্যেই হৎসসোন-তামরে (অর্থাৎ ঐন-গদীতে) পৌঁছে গিয়েছে।”
2CH 20:3 এই সতর্কবার্তা পেয়ে যিহোশাফট সদাপ্রভুর অন্বেষণ করার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছিলেন, এবং তিনি সমগ্র যিহূদা দেশে উপবাস ঘোষণা করে দিলেন।
2CH 20:4 যিহূদার প্রজারা সদাপ্রভুর কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য এক স্থানে একত্রিত হল; বাস্তবিকই তাঁর খোঁজে তারা যিহূদার প্রত্যেকটি নগর থেকে চলে এসেছিল।
2CH 20:5 তখন যিহোশাফট সদাপ্রভুর মন্দিরে, নতুন উঠোনের সামনে যিহূদা ও জেরুশালেমের সমবেত জনতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে
2CH 20:6 বললেন: “হে আমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি কি স্বর্গে বিরাজমান ঈশ্বর নও? তুমিই তো জাতিদের সব রাজ্য শাসন করে থাকো। বল ও শক্তি তো তোমারই হাতে আছে, আর কেউ তোমাকে বাধাও দিতে পারে না।
2CH 20:7 হে আমাদের ঈশ্বর, তুমিই কি তোমার প্রজা ইস্রায়েলের সামনে থেকে এই দেশের অধিবাসীদের দূর করে দাওনি এবং এই দেশটি তোমার বন্ধু অব্রাহামের বংশধরদের হাতে চিরকালের জন্য তুলে দাওনি?
2CH 20:8 তারা এখানে বসবাস করেছে এবং এই বলে এখানে এক পবিত্র পীঠস্থান তৈরি করেছে,
2CH 20:9 ‘যদি বিপর্যয় আমাদের উপর এসেও পড়ে, তা সে বিচারের তরোয়াল, বা মহামারি বা দুর্ভিক্ষ, যাই হোক না কেন, আমরা তোমার উপস্থিতিতে এই মন্দিরটির সামনে এসে দাঁড়াব, যা তোমার নাম বহন করে চলেছে এবং আমাদের দুর্দশায় আমরা তোমারই কাছে কাঁদব, ও তুমি আমাদের কান্না শুনে আমাদের বাঁচাবে।’
2CH 20:10 “কিন্তু এখন এখানে অম্মোন, মোয়াব ও সেয়ীর পর্বত থেকে সেইসব লোকজন এসে পড়েছে, যাদের এলাকায় তুমি ইস্রায়েলকে তখন সশস্ত্র আক্রমণ চালাতে দাওনি, যখন তারা মিশর থেকে বের হয়ে এসেছিল; তাই ইস্রায়েলীরা তাদের কাছ থেকে ফিরে গেল ও তাদের ধ্বংসও করেননি।
2CH 20:11 তুমি দেখো, এক উত্তরাধিকাররূপে তুমি আমাদের যে স্বত্ত্বাধিকার দিয়েছ, তা থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কীভাবে তারা আমাদের প্রতিদান দিচ্ছে।
2CH 20:12 হে আমাদের ঈশ্বর, তুমি কি তাদের বিচার করবে না? কারণ এই যে বিশাল সৈন্যদল আমাদের আক্রমণ করতে আসছে, তাদের সম্মুখীন হওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। কী করব, তা আমরা জানি না, কিন্তু আমাদের চোখ তোমার উপরেই আছে।”
2CH 20:13 যিহূদার সব লোকজন তাদের স্ত্রী, সন্তান ও ছোটো ছোটো শিশুদের সাথে নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
2CH 20:14 সখরিয়ের ছেলে যহসীয়েল যখন জনতার মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন সদাপ্রভুর আত্মা তাঁর উপর নেমে এলেন। তিনি একজন লেবীয় ও আসফের এক বংশধর ছিলেন। সখরিয় বনায়ের ছেলে, বনায় যিয়েলের ছেলে, যিয়েল মত্তনিয়ের ছেলে ছিলেন।
2CH 20:15 তিনি বললেন: “হে রাজা যিহোশাফট এবং যিহূদা ও জেরুশালেমে বসবাসকারী সব লোকজন, আপনারা শুনুন! সদাপ্রভু আপনাদের একথা বলছেন: ‘এই বিশাল সৈন্যদল দেখে ভয় পেয়ো না বা নিরাশ হোয়ো না।
2CH 20:16 আগামীকাল তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করো। তারা সীস গিরিখাতের পথ বেয়ে উপরে উঠতে থাকবে, এবং তোমরা যিরূয়েল মরুভূমিতে গিরিখাতের শেষ প্রান্তে তাদের খুঁজে পাবে।
2CH 20:17 এই যুদ্ধটি তোমাদের করতে হবে না। তোমরা শুধু শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকো; হে যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকজন, শক্ত হয়ে দাঁড়াও ও দেখো, সদাপ্রভু কেমনভাবে তোমাদের উদ্ধার করছেন। তোমরা ভয় পোয়ো না; নিরাশও হোয়ো না। আগামীকাল তাদের সম্মুখীন হতে যেয়ো, এবং সদাপ্রভু তোমাদের সাথে থাকবেন।’ ”
2CH 20:18 যিহোশাফট মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করলেন, এবং যিহূদা ও জেরুশালেমের সব লোকজনও সদাপ্রভুর আরাধনা করার জন্য মাটিতে উবুড় হয়ে পড়েছিল।
2CH 20:19 পরে কহাতীয় ও কোরহীয়দের মধ্যে কয়েকজন লেবীয় উঠে দাঁড়িয়েছিল ও জোর গলায় ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করল।
2CH 20:20 ভোরবেলায় তারা তকোয় মরুভূমির দিকে রওনা হয়ে গেল। তারা রওনা হতে যাচ্ছিল, এমন সময় যিহোশাফট উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকেরা, তোমরা আমার কথা শোনো! তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপর বিশ্বাস রাখো আর তিনি তোমাদের তুলে ধরবেন; তাঁর ভাববাদীদের উপর বিশ্বাস রাখো আর তোমরা সফল হবে।”
2CH 20:21 প্রজাদের সাথে পরামর্শ করে সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাওয়ার ও তাঁর পবিত্রতার সমারোহের জন্য প্রশংসা করার লক্ষ্যে যিহোশাফট সেই সময়, বিশেষ করে যখন তারা সৈন্যদলের আগে আগে যাচ্ছিল, তখন কয়েকজন লোক নিযুক্ত করলেন। তারা বলছিল: “সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তাঁর প্রেম চিরস্থায়ী।”
2CH 20:22 যেই তারা গান গাইতে ও প্রশংসা করতে শুরু করল, অম্মোন, মোয়াব ও সেয়ীর পাহাড়ের সেই লোকজনের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে দিলেন, যারা যিহূদা দেশে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিল, এবং তারা পরাজিত হল।
2CH 20:23 অম্মোনীয় ও মোয়াবীয়েরা সেয়ীর পাহাড়ের লোকজনের বিরুদ্ধে খাড়া হয়ে তাদের ধ্বংস ও নির্মূল করে দিতে চেয়েছিল। সেয়ীরের লোকজনকে কচুকাটা করার পর, তারা একে অপরকেও ধ্বংস করে ফেলেছিল।
2CH 20:24 যিহূদার লোকজন যখন সেই উঁচু স্থানটিতে এসেছিল, যেখান থেকে নিচে মরুভূমির দৃশ্য দেখা যায়, এবং তারা যখন বিশাল সেই সৈন্যদলের দিকে তাকিয়েছিল, তারা দেখতে পেয়েছিল, মাটিতে শুধু মৃতদেহই পড়ে আছে; কেউ পালাতে পারেনি।
2CH 20:25 তাই যিহোশাফট ও তাঁর লোকজন লুটসামগ্রী সংগ্রহ করার জন্য সেখানে গেলেন, সেগুলির মাঝখানে তারা প্রচুর সাজসরঞ্জাম ও পোশাক-পরিচ্ছদ এবং মূল্যবান জিনিসপত্রও খুঁজে পেয়েছিলেন—সেগুলির পরিমাণ এত বেশি ছিল যে তারা সেগুলি বয়ে আনতে পারেননি। সেখানে এত লুটসামগ্রী ছিল যে সেগুলি সংগ্রহ করতে তাদের তিন দিন লেগে গেল।
2CH 20:26 চতুর্থ দিনে তারা সেই বরাখা উপত্যকায় একত্রিত হলেন, যেখানে তারা সদাপ্রভুর প্রশংসা করলেন। সেইজন্য আজও পর্যন্ত সেই স্থানটিকে বরাখা উপত্যকা বলে ডাকা হয়।
2CH 20:27 পরে, যিহোশাফটের নেতৃত্বে, যিহূদা ও জেরুশালেমের সব লোকজন আনন্দ করতে করতে জেরুশালেমে ফিরে গেল, যেহেতু তাদের শত্রুদের বিষয়ে আনন্দিত হওয়ার সংগত কারণ সদাপ্রভু তাদের জোগালেন।
2CH 20:28 তারা জেরুশালেমে প্রবেশ করলেন এবং বীণা, খঞ্জনি ও শিঙা নিয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরে গেলেন।
2CH 20:29 সদাপ্রভু কীভাবে ইস্রায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, ইস্রায়েলের চারপাশে অবস্থিত অন্যান্য রাজ্যের সব লোকজন যখন তা শুনতে পেয়েছিল, তখন তাদের উপর ঈশ্বরভয় নেমে এসেছিল।
2CH 20:30 যিহোশাফটের রাজ্যে অবশ্য শান্তি বিরাজ করছিল, কারণ সবদিক থেকেই তাঁর ঈশ্বর তাঁকে বিশ্রাম দিলেন।
2CH 20:31 এইভাবে যিহোশাফট যিহূদা দেশে রাজত্ব করে গেলেন। তিনি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে যিহূদার রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি পঁচিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অসূবা, যিনি শিলহির মেয়ে ছিলেন।
2CH 20:32 যিহোশাফট তাঁর বাবা আসার পথেই চলতেন এবং সেখান থেকে কখনও সরে যাননি; সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তিনি তাই করতেন।
2CH 20:33 পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি অবশ্য দূর করা হয়নি, এবং প্রজারা তখনও তাদের অন্তর, তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরে পুরোপুরি স্থির করেননি।
2CH 20:34 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, যিহোশাফটের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা ইস্রায়েলের রাজাদের গ্রন্থের অন্তর্গত হনানির ছেলে যেহূর ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2CH 20:35 পরে, যিহূদার রাজা যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজা সেই অহসিয়ের সাথে জোট গড়ে তুলেছিলেন, যিনি অন্যায় পথে চলতেন।
2CH 20:36 তর্শীশে বাণিজ্যতরির নৌবহর গড়ে তোলার বিষয়ে যিহোশাফট তাঁর কথায় রাজি হলেন। ইৎসিয়োন-গেবরে সেগুলি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর,
2CH 20:37 মারেশার অধিবাসী দোদাবাহূর ছেলে ইলীয়েষর যিহোশাফটের বিরুদ্ধে ভাববাণী করলেন। তিনি বললেন, “যেহেতু আপনি অহসিয়ের সাথে জোট গড়ে তুলেছেন, তাই আপনি যা তৈরি করেছেন, সদাপ্রভু তা ধ্বংস করে দেবেন।” সামুদ্রিক ঝড়ে জাহাজগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং ব্যবসাবাণিজ্য করার জন্য তর্শীশের উদ্দেশে রওনা হতেও পারেনি।
2CH 21:1 পরে যিহোশাফট তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাদেরই সাথে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোরাম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 21:2 যিহোরামের ভাই তথা যিহোশাফটের ছেলেরা হলেন অসরিয়, যিহীয়েল, সখরিয়, অসরিয়াহূ, মীখায়েল ও শফটিয়। এরা সবাই ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটের ছেলে।
2CH 21:3 তাদের বাবা, তাদের রুপোর ও সোনার প্রচুর উপহার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র দিলেন। এছাড়াও যিহূদাতে বেশ কয়েকটি সুরক্ষিত নগরও তিনি তাদের দিলেন, কিন্তু রাজ্যটি তিনি যিহোরামকেই দিলেন, যেহেতু তিনি তাঁর বড়ো ছেলে ছিলেন।
2CH 21:4 যিহোরাম তাঁর বাবার রাজ্যে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার পর তাঁর সব ভাইকে ও তাদের সাথে সাথে ইস্রায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও তরোয়াল দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করলেন।
2CH 21:5 যিহোরাম বত্রিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি আট বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 21:6 আহাবের বংশের মতো তিনিও ইস্রায়েলের রাজাদের পথেই চলেছিলেন, কারণ তিনি আহাবের এক মেয়েকে বিয়ে করলেন। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তাই করলেন।
2CH 21:7 তা সত্ত্বেও, দাউদের সাথে সদাপ্রভু যে নিয়ম স্থাপন করলেন, তার জন্যই সদাপ্রভু দাউদের বংশকে ধ্বংস করতে চাননি। চিরকাল তাঁর জন্য ও তাঁর বংশধরদের জন্য এক প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার প্রতিজ্ঞা সদাপ্রভু করলেন।
2CH 21:8 যিহোরামের রাজত্বকালে, ইদোমীয়েরা যিহূদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিল ও নিজেদের জন্য একজন রাজা ঠিক করে নিয়েছিল।
2CH 21:9 তাই যিহোরাম তাঁর কর্মকর্তাদের ও তাঁর সব রথ সাথে নিয়ে সেখানে গেলেন। ইদোমীয়েরা তাঁকে ও তাঁর রথের সেনাপতিদের ঘিরে ধরেছিল, কিন্তু রাতের অন্ধকারে তিনি উঠে ঘেরাও ভেদ করে পালিয়েছিলেন।
2CH 21:10 আজও পর্যন্ত ইদোম যিহূদার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েই আছে। একই সময়ে লিব্‌নাও বিদ্রোহ করে বসেছিল, কারণ যিহোরাম, তাঁর পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করলেন।
2CH 21:11 যিহূদার পাহাড়ি এলাকাগুলিতে তিনি আবার পূজার্চনার জন্য উঁচু কয়েকটি স্থান তৈরি করে দিলেন এবং জেরুশালেমের লোকজনকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করিয়েছিলেন ও যিহূদাকে বিপথে পরিচালিত করলেন।
2CH 21:12 যিহোরাম ভাববাদী এলিয়ের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন, যে চিঠিতে বলা হল: “আপনার পূর্বপুরুষ দাউদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘তুমি তোমার বাবা যিহোশাফটের বা যিহূদার রাজা আসার পথে চলোনি।
2CH 21:13 কিন্তু তুমি ইস্রায়েলের রাজাদের পথে চলেছ, এবং তুমি যিহূদাকে ও জেরুশালেমের লোকজনকে দিয়ে এমনভাবে বেশ্যাবৃত্তি করিয়েছ, যেমনটি আহাবের বংশও করত। এছাড়াও তুমি তোমার ভাইদের, তোমার নিজের পরিবারের সেই লোকদের হত্যা করেছ, যারা তোমার চেয়ে ভালো ছিল।
2CH 21:14 তাই এখন সদাপ্রভু ভয়ংকর এক যন্ত্রণায় তোমার প্রজাদের, তোমার ছেলেদের, তোমার স্ত্রীদের ও তোমার যা যা আছে, সবকিছুর উপর আঘাত হানতে চলেছেন।
2CH 21:15 তুমি নিজে, নাড়িভুঁড়ির দীর্ঘস্থায়ী এক রোগে ততদিন দারুণ অসুস্থ হয়ে ভুগতে থাকবে, যতদিন না সেই রোগে তোমার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসছে।’ ”
2CH 21:16 সদাপ্রভু যিহোরামের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনীদের শত্রুতা ও কূশীয়দের কাছাকাছি বসবাসকারী আরবীয়দের শত্রুতা খুব বাড়িয়ে তুলেছিলেন।
2CH 21:17 তারা যিহূদা আক্রমণ করল, ঝাঁকে ঝাঁকে সেখানে ঢুকে পড়েছিল এবং রাজপ্রাসাদে যত জিনিসপত্র খুঁজে পেয়েছিল, সেসব জিনিসপত্র ও তাঁর ছেলে ও স্ত্রীদেরও তুলে নিয়ে গেল। একমাত্র ছোটো ছেলে অহসিয় ছাড়া আর কোনও ছেলে অবশিষ্ট ছিল না।
2CH 21:18 এসব কিছু ঘটে যাওয়ার পর, সদাপ্রভু যিহোরামকে নাড়িভুঁড়ির দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত করলেন।
2CH 21:19 কালক্রমে, দ্বিতীয় বছরের শেষদিকে, সেই রোগের কারণে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে এসেছিল, এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণাভোগ করতে করতে তিনি মারা গেলেন। তাঁর প্রজারা তাঁর সম্মানে কোনও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত আগুন জ্বালায়নি, যেভাবে তারা তাঁর পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে করল।
2CH 21:20 বত্রিশ বছর বয়সে যিহোরাম রাজা হলেন, এবং আট বছর তিনি জেরুশালেমে রাজত্ব করলেন। তিনি মারা যাওয়ায় কেউ দুঃখ প্রকাশ করেননি, এবং তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল, কিন্তু রাজাদের কবরে তাঁকে কবর দেওয়া হয়নি।
2CH 22:1 যেহেতু আরবীয়দের সাথে যে আক্রমণকারীরা সৈন্যশিবিরে এসেছিল, তারা যিহোরামের সব বড়ো ছেলেদের হত্যা করল, তাই জেরুশালেমের লোকজন যিহোরামের ছোটো ছেলে অহসিয়কে রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করল। কাজেই যিহূদার রাজা যিহোরামের ছেলে অহসিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।
2CH 22:2 অহসিয় বাইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি এক বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অথলিয়া, তিনি অম্রির নাতনি ছিলেন।
2CH 22:3 অহসিয়ও আহাব বংশের পথেই চলতেন, কারণ তাঁর মা তাঁকে মন্দ কাজ করতে উৎসাহ দিতেন।
2CH 22:4 তিনিও আহাব বংশের মতো সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করতেন, কারণ তাঁর বাবার মৃত্যুর পর, তাঁর বিনাশার্থে তারাই তাঁর পরামর্শদাতা হল।
2CH 22:5 রামোৎ-গিলিয়দে অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রায় ইস্রায়েলের রাজা আহাবের ছেলে যোরামের সঙ্গ দেওয়ার সময়েও তিনি তাদের পরামর্শ মতোই কাজ করলেন। অরামীয়রা যোরামকে ক্ষতবিক্ষত করল;
2CH 22:6 তাই রামোৎ-এ অরামের রাজা হসায়েলের সাথে যুদ্ধ করার সময় তারা তাঁকে যে আঘাত করেছিল, সেই যন্ত্রণার ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে এলেন। পরে যিহূদার রাজা যিহোরামের ছেলে অহসিয় আহাবের ছেলে যোরামকে দেখতে যিষ্রিয়েলে নেমে গেলেন, কারণ তিনি আহত অবস্থায় পড়েছিলেন।
2CH 22:7 অহসিয় যোরামকে দেখতে গেলেন বলেই ঈশ্বর অহসিয়ের পতন ঘটিয়েছিলেন। অহসিয় সেখানে পৌঁছানোর পর, তিনি যোরামকে সাথে নিয়ে নিমশির ছেলে সেই যেহূর সাথে দেখা করতে গেলেন, যাঁকে সদাপ্রভু আহাবের বংশ ধ্বংস করার জন্য অভিষিক্ত করে রেখেছিলেন।
2CH 22:8 যেহূ যখন আহাবের বংশকে দণ্ড দিচ্ছিলেন, তখন তিনি যিহূদার কয়েকজন কর্মকর্তাকে ও অহসিয়ের আত্মীয়স্বজনের ছেলেদের মধ্যে এমন কয়েকজনকে দেখতে পেয়েছিলেন, যারা অহসিয়ের সেবা করছিল, আর তিনি তাদের হত্যা করলেন।
2CH 22:9 পরে যেহূ অহসিয়ের খোঁজে বের হলেন, এবং যখন তিনি শমরিয়ায় লুকিয়ে বসেছিলেন, তখন যেহূর লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেছিল। তাঁকে যেহূর কাছে নিয়ে এসে হত্যা করা হল। তারা তাঁকে কবর দিয়েছিল, কারণ তারা বলল, “ইনি সেই যিহোশাফটের এক সন্তান, যিনি মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে সদাপ্রভুর অন্বেষণ করলেন।” অতএব অহসিয়ের বংশে এমন শক্তিশালী আর কেউ ছিল না, যে রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে পারত।
2CH 22:10 অহসিয়ের মা অথলিয়া যখন দেখেছিলেন যে তাঁর ছেলে মারা গিয়েছেন, তখন তিনি যিহূদা বংশের গোটা রাজপরিবার ধ্বংস করার জন্য সচেষ্ট হলেন।
2CH 22:11 কিন্তু রাজা যিহোরামের মেয়ে যিহোশেবা অহসিয়ের ছেলে যোয়াশকে চুরি করে নিয়ে গিয়ে তাকে সেইসব রাজপুত্রের মধ্যে থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন, যারা নিহত হতে যাচ্ছিল। যিহোশেবা যোয়াশকে ও তাঁর ধাইমাকে শোবার ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন। যেহেতু রাজা যিহোরামের মেয়ে ও যাজক যিহোয়াদার স্ত্রী যিহোশেবা, অহসিয়ের বোন ছিলেন, তাই তিনি শিশুটিকে অথলিয়ার নাগাল এড়িয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যেন অথলিয়া তাকে হত্যা করতে না পারেন।
2CH 22:12 একদিকে অথলিয়া যখন দেশ শাসন করছিলেন, তখন যোয়াশকে ঈশ্বরের মন্দিরে ছয় বছর তাদের সাথেই লুকিয়ে রাখা হল।
2CH 23:1 সপ্তম বছরে যিহোয়াদা নিজের শক্তি দেখিয়েছিলেন। তিনি এই শত-সেনাপতিদের সাথে এক চুক্তি করলেন: যিরোহমের ছেলে অসরিয়, যিহোহাননের ছেলে ইশ্মায়েল, ওবেদের ছেলে অসরিয়, অদায়ার ছেলে মাসেয়, ও সিখ্রির ছেলে ইলীশাফট।
2CH 23:2 তারা যিহূদা দেশের সর্বত্র ঘুরে ঘুরে সবকটি নগর থেকে লেবীয়দের ও ইস্রায়েলী বংশের কর্তাব্যক্তিদের একত্রিত করলেন। তারা জেরুশালেমে আসার পর,
2CH 23:3 সমগ্র জনসমাজ ঈশ্বরের মন্দিরে রাজার সাথে এক চুক্তি করল। যিহোয়াদা তাদের বললেন, “সদাপ্রভু দাউদের বংশধরদের সম্বন্ধে যে প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেই প্রতিজ্ঞানুসারেই রাজপুত্র রাজত্ব করবেন।
2CH 23:4 এখন তোমাদের এই কাজটি করতে হবে: যারা সাব্বাথবারে দায়িত্ব পালন করো, সেই যাজক ও লেবীয়দের এক-তৃতীয়াংশকে দরজায় পাহারা দিতে হবে,
2CH 23:5 তোমাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ রাজপ্রাসাদ পাহারা দেবে ও আরও এক-তৃতীয়াংশ ভিত্তিমূলের দরজায় পাহারা দেবে, এবং অন্য আরও যারা অবশিষ্ট থাকবে, তাদের সদাপ্রভুর মন্দিরের উঠোনে থাকতে হবে।
2CH 23:6 দায়িত্ব পালনকারী যাজক ও লেবীয়েরা ছাড়া আর কেউ সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করবে না; তারা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারে, যেহেতু তারা ঈশ্বরসেবায় উৎসর্গীকৃত, কিন্তু অন্যান্য সবাইকে, মন্দিরে প্রবেশ না করা সংক্রান্ত সদাপ্রভুর আদেশ পালন করতে হবে।
2CH 23:7 লেবীয়দের প্রত্যেককে, হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজাকে ঘিরে ধরে থাকতে হবে। যে কেউ মন্দিরে প্রবেশ করবে, তাকে মেরে ফেলতে হবে। রাজা যেখানে যেখানে যাবেন, তোমরা তাঁর কাছাকাছি থেকো।”
2CH 23:8 যাজক যিহোয়াদা যে আদেশ দিলেন, লেবীয়েরা ও যিহূদার সব লোকজন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করল। প্রত্যেকে নিজের নিজের লোকজনকে সাথে রেখেছিল—যারা সাব্বাথবারে কাজে যোগ দিত ও যাদের ছুটি হয়ে যেত, তাদেরও—কারণ যাজক যিহোয়াদা কোনো বিভাগকেই ছুটি দেননি।
2CH 23:9 পরে তিনি শত-সেনাপতিদের হাতে সেইসব বর্শা ও ছোটো-বড়ো ঢাল তুলে দিলেন, যেগুলি ছিল রাজা দাউদের এবং সেগুলি ঈশ্বরের মন্দিরে রাখা ছিল।
2CH 23:10 রাজার চারপাশে—যজ্ঞবেদির ও মন্দিরের কাছে, মন্দিরের দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করে উত্তর দিক পর্যন্ত, সর্বত্র হাতে অস্ত্রশস্ত্র সমেত তিনি সব লোকজনকে মোতায়েন করে দিলেন।
2CH 23:11 যিহোয়াদা ও তাঁর ছেলেরা রাজপুত্রকে বাইরে বের করে এনে তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দিলেন; তারা তাঁকে নিয়ম-পুস্তকের একটি অনুলিপি উপহার দিয়ে তাঁকে রাজা ঘোষণা করে দিলেন। তারা তাঁকে অভিষিক্ত করে চিৎকার করে উঠেছিলেন, “রাজা দীর্ঘজীবী হোন!”
2CH 23:12 অথলিয়া লোকজনের দৌড়াদৌড়ির ও রাজার উদ্দেশে হর্ষধ্বনির শব্দ শুনে সদাপ্রভুর মন্দিরে তাদের কাছে চলে গেলেন।
2CH 23:13 তিনি তাকিয়ে দেখতে পেয়েছিলেন যে রাজা মন্দিরের প্রবেশদ্বারে তাঁর স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। কর্মকর্তারা ও শিঙাবাদকেরা রাজার পাশেই আছে, এবং দেশের সব লোকজন আনন্দ করছে ও শিঙা বাজাচ্ছে, এবং বাদ্যকরেরা তাদের বাজনাগুলি নিয়ে প্রশংসাগান পরিচালনা করছে। তখন অথলিয়া তাঁর কাপড় ছিঁড়ে চিৎকার করে উঠেছিলেন, “রাজদ্রোহ, রাজদ্রোহ!”
2CH 23:14 যাজক যিহোয়াদা, সৈন্যদলের উপরে নিযুক্ত শত-সেনাপতিদের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন, এবং তাদের বললেন: “অথলিয়াকে সৈন্যশ্রেণীর মাঝখান দিয়ে বের করে নিয়ে যাও এবং যে কেউ তার অনুগামী হয়, তার উপর তরোয়াল চালিয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করো।” কারণ যাজক এও বললেন, “সদাপ্রভুর মন্দিরে তাকে হত্যা কোরো না।”
2CH 23:15 তাই অথলিয়া যখন প্রাসাদের মাঠে, অশ্বদ্বারের প্রবেশদ্বারে পৌঁছেছিলেন, তখন তারা সেখানেই তাঁকে ধরে হত্যা করল।
2CH 23:16 যিহোয়াদা তখন এই নিয়ম স্থির করে দিলেন যে তিনি, প্রজারা ও রাজা স্বয়ং, সদাপ্রভুর প্রজা হয়েই থাকবেন।
2CH 23:17 সব লোকজন বায়ালের মন্দিরে গিয়ে সেটি ভেঙে ফেলেছিল। তারা যজ্ঞবেদি ও প্রতিমার মূর্তিগুলিও পিষে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল এবং বায়ালের পুজারী মত্তনকে সেই যজ্ঞবেদির সামনেই হত্যা করল।
2CH 23:18 পরে যিহোয়াদা সদাপ্রভুর মন্দির দেখাশোনার ভার লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত সেই যাজকদের হাতে তুলে দিলেন, মন্দিরের কাজ দাউদ আগেই যাদের হাতে তুলে দিলেন। তাদের দায়িত্ব ছিল সদাপ্রভুর হোমবলিগুলি মোশির বিধানে লেখা নিয়মানুসারে উৎসর্গ করা, এবং দাউদের আদেশ পালন করে তারা আনন্দ করতে করতে ও গান গাইতে গাইতে সে কাজ করলেন।
2CH 23:19 সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজাগুলিতেও তিনি দ্বাররক্ষী মোতায়েন করে দিলেন, যেন কোনো ধরনের অশুচি লোক সেখানে ঢুকতে না পারে।
2CH 23:20 যিহোয়াদা শত-সেনাপতিদের, অভিজাত শ্রেণীর মানুষজনকে, প্রজাদের শাসনকর্তাদের এবং দেশের সব লোকজনকে সাথে নিয়ে রাজাকে সদাপ্রভুর মন্দির থেকে বের করে এনেছিলেন। তারা উপর দিকের দরজাটি দিয়ে প্রাসাদে ঢুকেছিলেন এবং রাজাকে রাজসিংহাসনে বসিয়ে দিলেন।
2CH 23:21 দেশের প্রজারা সবাই আনন্দ করল, এবং নগরে শান্তি বিরাজ করছিল, কারণ অথলিয়ার উপর তরোয়াল চালিয়ে দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হল।
2CH 24:1 যোয়াশ সাত বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং তিনি জেরুশালেমে চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম সিবিয়া; তিনি বের-শেবার অধিবাসিনী ছিলেন।
2CH 24:2 যাজক যিহোয়াদা যতদিন বেঁচেছিলেন, যোয়াশ ততদিন সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো, তাই করে গেলেন।
2CH 24:3 যিহোয়াদা যোয়াশের সাথে দুজন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন, এবং তাঁর বেশ কয়েকটি ছেলেমেয়ে হল।
2CH 24:4 কিছুকাল পর যোয়াশ সদাপ্রভুর মন্দির মেরামত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
2CH 24:5 তিনি যাজক ও লেবীয়দের এক স্থানে ডেকে বললেন, “যিহূদার নগরগুলিতে যাও এবং তোমাদের ঈশ্বরের মন্দিরটি মেরামত করার জন্য ইস্রায়েলীদের সবার কাছ থেকে বাৎসরিক পাওনাগণ্ডা আদায় করে নিয়ে এসো। এখনই তা করো।” কিন্তু লেবীয়েরা তাড়াতাড়ি সে কাজটি করেননি।
2CH 24:6 অতএব রাজা প্রধান যাজক যিহোয়াদাকে ডেকে পাঠিয়ে তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভুর দাস মোশি ও ইস্রায়েলের জনসমাজ বিধিনিয়মের তাঁবুর জন্য যে কর ধার্য করলেন, তা যিহূদা ও জেরুশালেম থেকে আদায় করে আনার জন্য আপনি কেন লেবীয়দের বলেননি?”
2CH 24:7 সেই দুষ্ট মহিলা অথলিয়ার ছেলেরা জোর করে ঈশ্বরের মন্দিরে ঢুকে পড়েছিল এবং এমনকি সেখানকার পবিত্র জিনিসপত্রও বায়াল-দেবতাদের জন্য ব্যবহার করল।
2CH 24:8 রাজার আদেশে একটি সিন্দুক তৈরি করে সেটি বাইরে, সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজায় রাখা হল।
2CH 24:9 পরে যিহূদা ও জেরুশালেমে এই আদেশ জারি করা হল যে মরুপ্রান্তরে ঈশ্বরের দাস মোশি ইস্রায়েলের জন্য যে কর ধার্য করে দিলেন, লোকেরা সবাই যেন সদাপ্রভুর কাছে তা নিয়ে আসে।
2CH 24:10 কর্মকর্তারা ও প্রজারা সবাই তাদের উপর যে কর ধার্য হল, তা নিয়ে এসে যতক্ষণ না সেই সিন্দুক ভরে গেল, ততক্ষণ সানন্দে তাতে ফেলেই যাচ্ছিল।
2CH 24:11 যখনই লেবীয়েরা সেই সিন্দুকটি রাজার কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে আসত ও তারা দেখতেন যে সেখানে প্রচুর অর্থ জমা পড়েছে, তখন রাজ-সচিব ও প্রধান যাজকের কর্মকর্তারা এসে সেই সিন্দুকটি খালি করে আবার সেটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসতেন। নিয়মিতভাবে তারা এরকম করে গেলেন এবং প্রচুর অর্থ জমা হল।
2CH 24:12 রাজা ও যিহোয়াদা সেই অর্থ তাদেরই দিলেন, যারা সদাপ্রভুর মন্দিরের কাজ করত। সদাপ্রভুর মন্দির মেরামত করার জন্য তারা রাজমিস্ত্রি ও ছুতোর ভাড়া করল, এবং মন্দির মেরামতির জন্য লোহার ও ব্রোঞ্জের কাজ জানা লোকও তারা ভাড়া করল।
2CH 24:13 কাজের দায়িত্বে থাকা লোকজন খুব পরিশ্রমী ছিল, এবং মেরামতির কাজ তাদের তত্ত্বাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিল। মূল নকশা অনুসারে তারা ঈশ্বরের মন্দিরটি আরেকবার তৈরি করল এবং সেটি আরও মজবুত করে তুলেছিল।
2CH 24:14 তাদের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, তারা বাকি অর্থ রাজার ও যিহোয়াদার কাছে নিয়ে এসেছিল, এবং সেই অর্থ দিয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য এইসব জিনিসপত্র তৈরি করা হল: সেবাকাজের ও হোমবলির জন্য কিছু জিনিসপত্র, এবং সোনা ও রুপোর থালা ও অন্যান্য জিনিসপত্র। যতদিন যিহোয়াদা বেঁচেছিলেন, ততদিন সদাপ্রভুর মন্দিরে নিয়মিতভাবে হোমবলি উৎসর্গ করা হত।
2CH 24:15 যিহোয়াদা বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ হয়ে গেলেন, এবং 130 বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হল।
2CH 24:16 দাউদ-নগরে রাজাদের সাথেই তাঁকে কবর দেওয়া হল, কারণ ঈশ্বরের ও তাঁর মন্দিরের জন্য ইস্রায়েলে তিনি খুব ভালো কাজ করেছিলেন।
2CH 24:17 যিহোয়াদার মৃত্যুর পর, যিহূদার কর্মকর্তারা এসে রাজাকে সম্মান প্রদর্শন করল, এবং তিনি তাদের কথাই শুনতে শুরু করলেন।
2CH 24:18 তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মন্দির পরিত্যক্ত করে রেখে, আশেরা-খুঁটির ও প্রতিমার পুজো করতে শুরু করল। তাদের এই অপরাধের কারণে ঈশ্বরের ক্রোধ যিহূদা ও জেরুশালেমের উপর নেমে এসেছিল।
2CH 24:19 সদাপ্রভু যদিও লোকদের তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য ভাববাদীদের তাদের কাছে পাঠালেন, এবং যদিও তারা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন, তবুও তারা কোনো কথা শোনেনি।
2CH 24:20 তখন ঈশ্বরের আত্মা যাজক যিহোয়াদার ছেলে সখরিয়ের উপর নেমে এলেন। তিনি লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “ঈশ্বর একথাই বলেন: ‘তোমরা কেন সদাপ্রভুর আদেশ অমান্য করছ? তোমরা সফল হবে না। যেহেতু তোমরা সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করেছ, তাই তিনিও তোমাদের পরিত্যাগ করেছেন।’ ”
2CH 24:21 কিন্তু তারা সখরিয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল, এবং রাজার আদেশে তারা সদাপ্রভুর মন্দিরের উঠোনে তাঁর উপর পাথর ছুঁড়ে, তাঁকে মেরে ফেলেছিল।
2CH 24:22 সখরিয়ের বাবা যিহোয়াদা, রাজা যোয়াশের প্রতি যে দয়া দেখিয়েছিলেন, তা তিনি মনে রাখেননি কিন্তু তাঁর সেই ছেলেকে তিনি মেরে ফেলেছিলেন, যিনি মরতে মরতে বললেন, “সদাপ্রভু এসব দেখছেন আর তিনিই আপনার কাছে এর হিসেব নেবেন।”
2CH 24:23 বছর ঘুরে আসার পর, অরামের সৈন্যদল যোয়াশের বিরুদ্ধে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে এসেছিল; তারা যিহূদা ও জেরুশালেমে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে প্রজাদের সব নেতাকে মেরে ফেলেছিল। তারা সব লুটসামগ্রী দামাস্কাসে তাদের রাজার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
2CH 24:24 অরামীয় সৈন্যদল যদিও অল্প কয়েকজন লোকলস্কর নিয়ে এসেছিল, তবুও সদাপ্রভু বিশাল এক সৈন্যদল তাদের হাতে সঁপে দিলেন। যেহেতু যিহূদার প্রজারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করল, তাই যোয়াশকে দণ্ড দেওয়া হল।
2CH 24:25 অরামীয়েরা চলে যাওয়ার সময় যোয়াশকে সাংঘাতিকভাবে আহত করে ফেলে রেখে গেল। তিনি যাজক যিহোয়াদার ছেলেকে হত্যা করলেন বলে তাঁর কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল, এবং বিছানাতেই তারা তাঁকে হত্যা করল। এইভাবে তাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে দাউদ-নগরে কবর দেওয়া হল, তবে রাজাদের কবরে তাঁকে কবর দেওয়া হয়নি।
2CH 24:26 যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে শামিল হল, তারা হল অম্মোনীয় এক মহিলা শিমিয়তের ছেলে সাবদ, এবং মোয়াবীয় এক মহিলা শিম্রীতের ছেলে যিহোষাবদ।
2CH 24:27 তাঁর ছেলেদের বিবরণ, তাঁর বিষয়ে করা প্রচুর ভাববাণী, এবং ঈশ্বরের মন্দিরের মেরামতির বিবরণ, এসব রাজাদের পুস্তকের টীকায় লেখা আছে। তাঁর ছেলে অমৎসিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 25:1 অমৎসিয় পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি উনত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিহোয়দ্দন; তিনি জেরুশালেমে বসবাস করতেন।
2CH 25:2 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো, অমৎসিয় তাই করলেন, তবে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তা করেননি।
2CH 25:3 রাজপাট তাঁর হাতের মুঠোয় আসার পর তিনি সেই কর্মকর্তাদের প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করে বধ করলেন, যারা তাঁর বাবা, অর্থাৎ রাজাকে হত্যা করেছিল।
2CH 25:4 তবুও মোশির বিধানপুস্তকে লেখা সেই কথানুসারে, যেখানে সদাপ্রভু আদেশ দিয়েছিলেন: “ছেলেমেয়েদের পাপের জন্য বাবা-মাকে কিংবা বাবা-মায়ের পাপের জন্য ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলা যাবে না; প্রত্যেককেই তার নিজের পাপের জন্য মরতে হবে।” তিনি তাদের ছেলেমেয়েদের হত্যা করেননি।
2CH 25:5 অমৎসিয় যিহূদার প্রজাদের এক স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য ডেকেছিলেন এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের সব প্রজাকে, তাদের বংশানুসারে সহস্র-সেনাপতিদের ও শত-সেনাপতিদের অধীনে নিযুক্ত করে দিলেন। পরে তিনি কুড়ি বছর ও তার বেশি বয়সের বেশ কিছু লোক একত্রিত করলেন এবং দেখা গেল যে সামরিক পরিষেবা দেওয়ার উপযোগী, তথা বর্শা ও ঢাল ব্যবহার করতে সক্ষম 3,00,000 লোক আছে।
2CH 25:6 এছাড়াও তিনি একশো তালন্ত রুপো দিয়ে ইস্রায়েল থেকে 1,00,000 যোদ্ধা ভাড়া করলেন।
2CH 25:7 কিন্তু ঈশ্বরের একজন লোক তাঁর কাছে এসে বললেন, “হে মহারাজ, ইস্রায়েল থেকে আসা এই সৈন্যদল যেন আপনাদের সাথে যুদ্ধযাত্রা না করে, কারণ ইস্রায়েলের সাথে—ইফ্রয়িমের কোনও লোকের সাথেই সদাপ্রভু থাকেন না।
2CH 25:8 আপনারা যদিও নির্ভয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে যুদ্ধ করবেন, ঈশ্বর কিন্তু শত্রুদের সামনে আপনাদের পরাজিত করবেন, কারণ সাহায্য করার বা পরাজিত করার ক্ষমতা ঈশ্বর রাখেন।”
2CH 25:9 অমৎসিয় ঈশ্বরের সেই লোককে জিজ্ঞাসা করলেন, “তবে যে একশো তালন্ত আমি এই ইস্রায়েলী সৈন্যদলকে দিয়েছি, তার কী হবে?” ঈশ্বরের লোক উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু আপনাকে এর চেয়েও অনেক বেশি দিতে পারেন।”
2CH 25:10 অতএব ইফ্রয়িম থেকে তাঁর কাছে আসা সৈন্যদলকে তিনি বরখাস্ত করে ঘরে পাঠিয়ে দিলেন। তারা যিহূদার উপর খুব রেগে গেল এবং ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে তারা ঘরে ফিরে গেল।
2CH 25:11 অমৎসিয় পরে তাঁর শক্তি গুছিয়ে নিয়ে লবণ উপত্যকার দিকে তাঁর সৈন্যদল পরিচালনা করলেন। সেখানে তিনি সেয়ীরের দশ হাজার লোককে হত্যা করলেন।
2CH 25:12 এছাড়াও যিহূদার সৈন্যদল 10,000 লোককে জীবন্ত অবস্থায় ধরে, তাদের একটি খাড়া উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে এমনভাবে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল, যে তারা সবাই চুরমার হয়ে গেল।
2CH 25:13 এই ফাঁকে, যে সৈন্যদলকে অমৎসিয় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেননি, তারা শমরিয়া থেকে শুরু করে বেথ-হোরোণ পর্যন্ত যিহূদার নগরগুলিতে হানা দিয়েছিল। তারা 3,000 লোককে হত্যা করল এবং প্রচুর পরিমাণ লুটসামগ্রী তুলে নিয়ে গেল।
2CH 25:14 ইদোমীয়দের উপর হত্যালীলা চালিয়ে ফিরে আসার সময় অমৎসিয় সেয়ীরের লোকজনের আরাধ্য দেবতাদের মূর্তিগুলিও ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি সেগুলিকে তাঁর নিজের দেবতা করে নিয়ে সেগুলি প্রতিষ্ঠা করলেন, সেগুলির পুজো করলেন ও সেগুলির কাছে ধূপধুনোও জ্বালিয়েছিলেন।
2CH 25:15 সদাপ্রভুর ক্রোধ অমৎসিয়ের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিল, এবং তিনি তাঁর কাছে একজন ভাববাদী পাঠিয়ে দিলেন, যিনি বললেন, “এইসব লোকের যে দেবতারা আপনার হাত থেকে তাদের নিজেদের লোকদেরই বাঁচাতে পারেনি, আপনি তাদের কাছে কেন পরামর্শ চাইছেন?”
2CH 25:16 ভাববাদীর কথা শেষ হওয়ার আগেই রাজা তাঁকে বলে ফেলেছিলেন, “রাজার পরামর্শদাতারূপে আমরা কি তোমাকে নিযুক্ত করেছি? থামো! কেন মার খাবে?” অতএব সেই ভাববাদী থেমেছিলেন কিন্তু বলেওছিলেন, “আমি জানি, যেহেতু আপনি এ কাজটি করেছেন এবং আমার পরামর্শে কান দেননি, তাই ঈশ্বর আপনাকে বধ করার বিষয়ে মনস্থির করেই ফেলেছেন।”
2CH 25:17 যিহূদার রাজা অমৎসিয় তাঁর পরামর্শদাতাদের সাথে শলাপরামর্শ করার পর যেহূর নাতি ও যিহোয়াহসের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশের কাছে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “আসুন, যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হই।”
2CH 25:18 কিন্তু ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ যিহূদার রাজা অমৎসিয়কে উত্তর দিলেন: “লেবাননের শিয়ালকাঁটা লেবাননেরই এক দেবদারু গাছকে খবর দিয়ে পাঠিয়েছিল, ‘তুমি তোমার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দাও।’ পরে লেবাননের বুনো এক জন্তু এসে সেই শিয়ালকাঁটাকে পায়ের তলায় পিষে দিয়েছিল।
2CH 25:19 আপনি মনে মনে বলেছেন যে আপনি ইদোমকে পরাজিত করেছেন, আর এখন আপনি গর্বিতমনা ও অহংকারী হয়ে গিয়েছেন। তবে ঘরে বসে থাকুন! কেন মিছিমিছি নিজের ও সাথে সাথে যিহূদারও বিপদ ও পতন ডেকে আনতে চাইছেন?”
2CH 25:20 অমৎসিয় অবশ্য সেকথা শুনতে চাননি, কারণ ঈশ্বর এমনভাবে কাজ করলেন, যেন তিনি তাদের যিহোয়াশের হাতে সঁপে দিতে পারেন, যেহেতু তারা ইদোমের দেবতাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল।
2CH 25:21 অতএব ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ তাদের আক্রমণ করলেন। যিহূদা দেশের বেত-শেমশে তিনি ও যিহূদার রাজা অমৎসিয় পরস্পরের মুখোমুখি হলেন।
2CH 25:22 ইস্রায়েলের হাতে যিহূদা পর্যুদস্ত হল এবং প্রত্যেকে নিজের নিজের ঘরে পালিয়ে গেল।
2CH 25:23 ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ বেত-শেমশে অহসিয়ের নাতি ও যোয়াশের ছেলে যিহূদার রাজা অমৎসিয়কে বন্দি করলেন। পরে যিহোয়াশ তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে এলেন এবং ইফ্রয়িম-দ্বার থেকে কোণের দ্বার পর্যন্ত—প্রায় 180 মিটার লম্বা জেরুশালেমের প্রাচীর ভেঙে দিলেন।
2CH 25:24 ওবেদ-ইদোমের তত্ত্বাবধানে থাকা ঈশ্বরের মন্দিরের সব সোনারুপো ও সব জিনিসপত্র এবং সেগুলির সাথে সাথে প্রাসাদের ধনসম্পত্তিও হাতিয়ে নিয়ে এবং কয়েকজনকে পণবন্দি করে তিনি শমরিয়ায় ফিরে গেলেন।
2CH 25:25 যিহোয়াহসের ছেলে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশের মৃত্যুর পর যোয়াশের ছেলে যিহূদার রাজা অমৎসিয় আরও পনেরো বছর বেঁচেছিলেন।
2CH 25:26 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অমৎসিয়ের রাজত্বকালের সব ঘটনা কি যিহূদা ও ইস্রায়েলের রাজাদের পুস্তকে লেখা নেই?
2CH 25:27 যখন থেকে অমৎসিয় সদাপ্রভুর পথে চলা বন্ধ করে দিলেন, তখন থেকেই লোকেরা জেরুশালেমে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে শামিল হতে শুরু করল, এবং তিনি লাখীশে পালিয়ে গেলেন, কিন্তু তারা লাখীশে লোক পাঠিয়ে সেখানেই তাঁকে হত্যা করিয়েছিল।
2CH 25:28 তাঁর মৃতদেহ ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে ফিরিয়ে আনা হল এবং যিহূদা-নগরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথেই তাঁকে কবর দেওয়া হল।
2CH 26:1 পরে যিহূদার সব লোকজন সেই উষিয়কে এনে রাজারূপে তাঁকে তাঁর বাবা অমৎসিয়ের স্থলাভিষিক্ত করল, যাঁর বয়স তখন ষোলো বছর।
2CH 26:2 রাজা অমৎসিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হওয়ার পর এই ঊষিয়ই এলৎ নগরটি আরেকবার নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন এবং সেটি যিহূদার অধিকারের অধীনে নিয়ে এলেন।
2CH 26:3 উষিয় ষোলো বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে বাহান্ন বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিখলিয়া; তিনি জেরুশালেমে বসবাস করতেন।
2CH 26:4 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ঠিক, তিনি তাই করতেন, ঠিক যেমনটি তাঁর বাবা অমৎসিয়ও করতেন,
2CH 26:5 যিনি তাঁকে ঈশ্বরভয় শিক্ষা দিলেন, সেই সখরিয়ের জীবনকালে বরাবর তিনি ঈশ্বরের অন্বেষণ করে গেলেন। যতদিন তিনি সদাপ্রভুর অন্বেষণ করে গেলেন, ততদিন ঈশ্বর তাঁকে সাফল্যও দিলেন।
2CH 26:6 তিনি ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন এবং গাতের, যবনির ও অস্‌দোদের প্রাচীর ভেঙে দিলেন। পরে তিনি অস্‌দোদের কাছে ও ফিলিস্তিনীদের মাঝখানে অন্যান্য স্থানে নতুন করে কয়েকটি নগর গড়ে তুলেছিলেন।
2CH 26:7 ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে এবং যারা গূর-বায়ালে বসবাস করত, সেই আরবীয়দের বিরুদ্ধে ও মিয়ূনীয়দের বিরুদ্ধেও ঈশ্বর তাঁকে সাহায্য করলেন।
2CH 26:8 অম্মোনীয়েরা উষিয়ের কাছে রাজকর নিয়ে এসেছিল, এবং তাঁর খ্যাতি একেবারে মিশরের সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ তিনি খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন।
2CH 26:9 জেরুশালেমে কোণার দ্বারে, উপত্যকার দ্বারে ও প্রাচীরের কোণে উষিয় কয়েকটি মিনার তৈরি করলেন, এবং সেগুলি মজবুতও করে তুলেছিলেন।
2CH 26:10 মরুপ্রান্তরেও তিনি কয়েকটি মিনার তৈরি করলেন ও বেশ কয়েকটি কুয়ো খুঁড়েছিলেন, কারণ পাহাড়ের পাদদেশে ও সমভূমিতে তাঁর বেশ কিছু পশুপাল ছিল। পাহাড়ে ও উর্বর জমিতে অবস্থিত তাঁর ক্ষেতখামারে ও দ্রাক্ষাকুঞ্জে তিনি লোকজনকে কাজে লাগালেন, কারণ মাটির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ছিল।
2CH 26:11 উষিয়ের কাছে ভালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এমন এক সৈন্যদল ছিল, যারা রাজকীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, সেই হনানীয়ের পরিচালনায়, তাদের সংখ্যানুসারে দলে দলে বিভক্ত হয়ে সচিব যিয়ূয়েলের ও কর্মকর্তা মাসেয়ের নেতৃত্বে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।
2CH 26:12 যোদ্ধাদের উপর মোট 2,600 জন কুলপতি নিযুক্ত ছিলেন।
2CH 26:13 তাদের অধীনে 3,07,500 জন সৈন্যের সমন্বয়ে গঠিত এমন এক সৈন্যদল ছিল, যারা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, ও রাজার শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করার পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
2CH 26:14 উষিয় সমগ্র সৈন্যদলের জন্য ঢাল, বর্শা, শিরস্ত্রাণ, বর্ম, ধনুক ও পাথর ছোঁড়ার গুলতির জোগান দিলেন।
2CH 26:15 জেরুশালেমে তিনি এমন সব যন্ত্রপাতি তৈরি করিয়েছিলেন, যেন আবিষ্কৃত সেই যন্ত্রপাতিগুলি মিনারে ও প্রাচীরের কোনায় রেখে সৈনিকরা প্রাচীর থেকেই তির ছুঁড়তে ও বড়ো বড়ো পাথরের গোলা নিক্ষেপ করতে পারে। দূর দূর পর্যন্ত তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ যতদিন না তিনি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, ততদিন তিনি প্রচুর সাহায্য পেয়েছিলেন।
2CH 26:16 কিন্তু শক্তিশালী হয়ে ওঠার পর উষিয়ের অহংকারই তাঁর পতনের কারণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি তিনি অবিশ্বস্ত হলেন, এবং ধূপবেদিতে ধূপ পোড়ানোর জন্য তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করলেন।
2CH 26:17 যাজক অসরিয় ও সদাপ্রভুর আরও আশি জন সাহসী যাজক তাঁকে অনুসরণ করলেন।
2CH 26:18 তারা রাজা ঊষিয়কে বাধা দিয়ে বললেন, “হে উষিয়, সদাপ্রভুর কাছে ধূপ পোড়ানোর আপনার কোনও অধিকার নেই। এই অধিকার আছে শুধু সেই যাজকদের, যারা হারোণের বংশধর ও তাদেরই আলাদা করে উৎসর্গ করা হয়েছে, যেন তারা ধূপ পোড়াতে পারে। পবিত্র এই পীঠস্থান থেকে আপনি বের হয়ে যান, কারণ আপনি অবিশ্বস্ত হয়েছেন; এবং সদাপ্রভু ঈশ্বর আপনাকে সম্মানিত করবেন না।”
2CH 26:19 উষিয় রেগে গেলেন, তখন হাতে একটি ধুনুচি নিয়ে তিনি ধূপ পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরের মধ্যে, ধূপবেদির সামনে যাজকদের উপস্থিতিতে তিনি যখন তাদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করছিলেন, তখনই তাঁর কপালে কুষ্ঠরোগ দেখা দিয়েছিল।
2CH 26:20 প্রধান যাজক অসরিয় ও অন্যান্য সব যাজক যখন তাঁর দিকে তাকিয়েছিলেন, তখন তারা দেখতে পেয়েছিলেন যে তাঁর কপালে কুষ্ঠরোগ দেখা দিয়েছে, তাই তাড়াতাড়ি করে তারা তাঁকে বাইরে নিয়ে গেলেন। বাস্তবিক, তিনি নিজেও বাইরে বেরিয়ে যেতে উদগ্রীব হলেন, কারণ সদাপ্রভুই তাঁকে যন্ত্রণায় কাতর করে তুলেছিলেন।
2CH 26:21 আমৃত্যু, রাজা উষিয় কুষ্ঠরোগী হয়েই ছিলেন। কুষ্ঠরোগাক্রান্ত হয়ে তিনি আলাদা একটি বাড়িতে বসবাস করলেন, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে তাঁর প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হল। তাঁর ছেলে যোথম প্রাসাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং দেশের প্রজাদের শাসন করলেন।
2CH 26:22 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উষিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয় লিখে রেখে গিয়েছেন।
2CH 26:23 উষিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাদেরই কাছাকাছি এমন এক কবরস্থানে কবর দেওয়া হল, যেটি রাজাদেরই ছিল, কারণ প্রজারা বলল, “তাঁর কুষ্ঠরোগ হয়েছিল।” তাঁর ছেলে যোথম রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 27:1 যোথম পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম যিরুশা। তিনি ছিলেন সাদোকের মেয়ে।
2CH 27:2 তাঁর বাবা উষিয়ের মতো তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো, তাই করলেন, তবে তাঁর মতো তিনি কিন্তু সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করেননি। প্রজারা অবশ্য তাদের অসৎ কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল।
2CH 27:3 যোথম সদাপ্রভুর মন্দিরের উচ্চতর দ্বারটি নতুন করে আরেকবার তৈরি করলেন এবং ওফল পাহাড়ের প্রাচীরে ব্যাপক কাজ করিয়েছিলেন।
2CH 27:4 যিহূদার পাহাড়ি এলাকায় তিনি কয়েকটি নগর তৈরি করলেন এবং বনাঞ্চলেও কয়েকটি দুর্গ ও মিনার তৈরি করলেন।
2CH 27:5 অম্মোনীয়দের রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যোথম তাদের পরাজিত করলেন। সেই বছর অম্মোনীয়েরা তাঁকে একশো তালন্ত রুপো, দশ হাজার কোর গম ও দশ হাজার কোর যব দিয়েছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরেও অম্মোনীয়েরা একই পরিমাণ জিনিসপত্র তাঁর কাছে এনে দিয়েছিল।
2CH 27:6 যোথম তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর পথে অবিচলিতভাবে চলেছিলেন বলেই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
2CH 27:7 যোথমের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তাঁর সব যুদ্ধবিগ্রহ ও তিনি আরও যা যা করলেন, সেসব ইস্রায়েল ও যিহূদার রাজাদের পুস্তকে লেখা আছে।
2CH 27:8 তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 27:9 যোথম তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং দাউদ-নগরে তাঁকে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আহস রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 28:1 আহস কুড়ি বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি ষোলো বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতো তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো, তা করেননি।
2CH 28:2 তিনি ইস্রায়েলের রাজাদের পথে চলেছিলেন এবং বায়াল-দেবতাদের পূজার্চনার জন্য তিনি প্রতিমার মূর্তিও তৈরি করলেন।
2CH 28:3 বিন-হিন্নোম উপত্যকায় তিনি পশুবলি দিয়ে সেগুলি জ্বালিয়ে দিতেন এবং সদাপ্রভু যে পরজাতিদের ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে দূর করে দিলেন, তাদেরই ঘৃণ্য প্রথানুসারে তিনি তাঁর নিজের সন্তানদের বলিরূপে উৎসর্গ করলেন।
2CH 28:4 প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলিতে, পাহাড়ের চূড়ায় ও ডালপালা বিস্তার করা প্রত্যেকটি গাছের তলায় তিনি বলি উৎসর্গ করলেন ও ধূপ জ্বালিয়েছিলেন।
2CH 28:5 তাই তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁকে অরামের রাজার হাতে সঁপে দিলেন। অরামীয়েরা তাঁকে পরাজিত করল এবং তাঁর প্রজাদের মধ্যে অনেককে বন্দি করল ও তাদের দামাস্কাসে নিয়ে গেল। তাঁকে সেই ইস্রায়েলের রাজার হাতেও সঁপে দেওয়া হল, যিনি তাঁর অনেক লোকজনকে মেরে ফেলেছিলেন।
2CH 28:6 রমলিয়ের ছেলে পেকহ একদিনেই যিহূদায় 1,20,000 সৈন্যকে হত্যা করলেন—কারণ যিহূদা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করল।
2CH 28:7 ইফ্রয়িমীয় এক যোদ্ধা সিখ্রি রাজপুত্র মাসেয়কে, প্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা অস্রীকামকে, এবং রাজার পর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইল্‌কানাকে হত্যা করল।
2CH 28:8 ইস্রায়েলের লোকেরা যিহূদায় বসবাসকারী তাদেরই জাতভাই ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে মোট দুই লাখ লোককে বন্দি করল। এছাড়াও তারা প্রচুর পরিমাণে লুটসামগ্রীও দখল করে সেগুলি শমরিয়ায় বয়ে নিয়ে গেল।
2CH 28:9 কিন্তু ওদেদ নামে সদাপ্রভুর একজন ভাববাদী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এবং সৈন্যদল যখন শমরিয়ায় ফিরে এসেছিল, তখন তিনি তাদের সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি তাদের বললেন, “যেহেতু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যিহূদার উপর ক্রুদ্ধ হলেন, তাই তিনি তাদের তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু রাগের বশে তোমরা এমনভাবে তাদের কোতল করেছ যে তার রেশ স্বর্গ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
2CH 28:10 এখন আবার তোমরা যিহূদা ও জেরুশালেমের পুরুষ ও মহিলাদের ক্রীতদাস-দাসী করতে চাইছ। কিন্তু তোমরাও কি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে করা পাপের দোষে দোষী নও?
2CH 28:11 এখন আমার কথা শোনো! তোমাদের জাতভাই যেসব ইস্রায়েলীকে তোমরা বন্দি করে এনেছ, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দাও, কারণ সদাপ্রভুর ভয়ংকর ক্রোধ তোমাদের উপর অবস্থান করছে।”
2CH 28:12 তখন ইফ্রয়িমের নেতাদের মধ্যে কয়েকজন—যিহোহাননের ছেলে অসরিয়, মশিল্লোমোতের ছেলে বেরিখিয়, শল্লুমের ছেলে যিহিষ্কিয়, ও হদলয়ের ছেলে অমাসা—সেই লোকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যারা যুদ্ধ করে ফিরে এসেছিল।
2CH 28:13 “তোমরা এই বন্দিদের এখানে আনবে না,” তারা বললেন, “তা না হলে আমরাই সদাপ্রভুর কাছে দোষী হয়ে যাব। আমরা যত পাপ ও অপরাধ করেছি, তার সাথে কি তোমরা এই পাপটিও যোগ করতে চাইছ? কারণ আমাদের পাপের পরিমাণ ইতিমধ্যেই অনেক বেড়ে গিয়েছে, আর ইস্রায়েলের উপর তাঁর ক্রোধ অবস্থান করে আছে।”
2CH 28:14 অতএব সৈনিকরা বন্দিদের ও লুটসামগ্রীগুলি কর্মকর্তাদের ও সমগ্র জনসমাজের সামনে এনে রেখেছিল।
2CH 28:15 যাদের নামোল্লেখ করা হয়েছে, তারা লুটসামগ্রী থেকে কাপড়চোপড় নিয়ে বন্দিদের মধ্যে যাদের পরনে কাপড় ছিল না, তাদের উলঙ্গতা ঢেকে দিলেন। তারা তাদের কাপড়চোপড়, চটিজুতো, খাবারদাবার, ও ব্যথা কমানোর মলম দিলেন। যারা যারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল ছিল, তাদের গাধার পিঠে বসিয়ে দেওয়া হল। এইভাবে তারা খেজুর গাছের নগর যিরীহোতে, তাদের জাতভাই ইস্রায়েলীদের কাছে তাদের পৌঁছে দিলেন, এবং পরে শমরিয়ায় ফিরে এলেন।
2CH 28:16 সেই সময় রাজা আহস সাহায্য চেয়ে আসিরিয়ার রাজাদের কাছে লোক পাঠালেন।
2CH 28:17 ইদোমীয়েরা আবার এসে যিহূদাকে আক্রমণ করল এবং লোকদের বন্দি করে নিয়ে গেল,
2CH 28:18 অন্যদিকে আবার ফিলিস্তিনীরা পাহাড়ের পাদদেশে ও যিহূদার নেগেভে অবস্থিত নগরগুলিতে হানা দিয়েছিল। তারা বেত-শেমশ, অয়ালোন ও গদেরোতের সাথে সাথে সোখো, তিম্না ও গিমসো এবং সেখানকার চারপাশের গ্রামগুলিও দখল করে সেগুলিতে বসবাস করতে শুরু করল।
2CH 28:19 ইস্রায়েল-রাজ আহসের জন্যই সদাপ্রভু যিহূদাকে নত করলেন, কারণ যিহূদায় আহস অসদাচারের উদ্যোক্তা হলেন এবং সদাপ্রভুর প্রতি সবচেয়ে বেশি অবিশ্বস্ত হলেন।
2CH 28:20 আসিরিয়ার রাজা তিগ্লৎ-পিলেষর তাঁর কাছে এলেন, কিন্তু তিনি আহসকে সাহায্য না করে বরং তাঁকে কষ্টই দিলেন।
2CH 28:21 সদাপ্রভুর মন্দির থেকে এবং রাজপ্রাসাদ থেকে ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আহস বেশ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে সেগুলি আসিরিয়ার রাজাকে উপহার দিলেন, কিন্তু তাতেও তাঁর কোনও লাভ হয়নি।
2CH 28:22 তাঁর এই কষ্টের সময় রাজা আহস সদাপ্রভুর প্রতি আরও বেশি অবিশ্বস্ত হয়ে গেলেন।
2CH 28:23 তিনি দামাস্কাসের সেই দেবতাদের কাছে বলি উৎসর্গ করলেন, যারা তাঁকে পরাজিত করল; কারণ তিনি ভেবেছিলেন, “যেহেতু অরামের রাজাদের দেবতারা তাদের সাহায্য করেছে, তাই আমিও তাদের কাছে বলি উৎসর্গ করব, যেন তারা আমাকেও সাহায্য করে।” কিন্তু তারাই তাঁর ও সমগ্র ইস্রায়েলের পতনের কারণ হল।
2CH 28:24 আহস ঈশ্বরের মন্দির থেকে আসবাবপত্রাদি সংগ্রহ করে সেগুলি কেটে টুকরো টুকরো করে দিলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজা তিনি বন্ধ করে দিলেন এবং জেরুশালেমের প্রত্যেকটি রাস্তার কোনায় কোনায় তিনি যজ্ঞবেদি খাড়া করে দিলেন।
2CH 28:25 যিহূদার প্রত্যেকটি নগরে অন্যান্য দেবতাদের উদ্দেশে বলির পশু পোড়ানোর জন্য তিনি পূজার্চনার উঁচু উঁচু স্থান তৈরি করে দিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
2CH 28:26 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, তাঁর রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা ও তাঁর সব কাজকর্মের বিবরণ যিহূদা ও ইস্রায়েলের রাজাদের পুস্তকে লেখা আছে।
2CH 28:27 আহস তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন এবং তাঁকে জেরুশালেম নগরেই কবর দেওয়া হল, কিন্তু ইস্রায়েলের রাজাদের কবরে তাঁকে রাখা হয়নি। তাঁর ছেলে হিষ্কিয় রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 29:1 হিষ্কিয় পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে উনত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অবিয়। তিনি সখরিয়ের মেয়ে ছিলেন।
2CH 29:2 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, তাই করতেন।
2CH 29:3 তাঁর রাজত্বকালের প্রথম বছরের প্রথম মাসে তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজাগুলি খুলে দিলেন ও সেগুলি মেরামতও করলেন।
2CH 29:4 তিনি যাজক ও লেবীয়দের ফিরিয়ে এনেছিলেন, পূর্বদিকের চকে তাদের সমবেত করলেন
2CH 29:5 এবং তাদের বললেন: “হে লেবীয়েরা, আমার কথা শোনো! এখন তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করো এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর মন্দিরটিও উৎসর্গ করো। পবিত্র পীঠস্থান থেকে সব দূষণ দূর করো।
2CH 29:6 আমাদের পূর্বপুরুষরা অবিশ্বস্ত হলেন; আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে তারা মন্দ কাজকর্ম করলেন ও তাঁকে পরিত্যাগও করলেন। সদাপ্রভুর বাসস্থানের দিক থেকে তারা তাদের মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন ও তাঁর দিকে পিঠ ফিরিয়েছিলেন।
2CH 29:7 এছাড়াও তারা দ্বারমণ্ডপের দরজাগুলি বন্ধ করে দিলেন এবং প্রদীপগুলিও নিভিয়ে দিলেন। ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছে পবিত্র পীঠস্থানে তারা ধূপও জ্বালাননি বা কোনও হোমবলিও উৎসর্গ করেননি।
2CH 29:8 তাই, যিহূদা ও জেরুশালেমের উপর সদাপ্রভুর ক্রোধ নেমে এসেছে; তিনি তাদের আতঙ্কের ও প্রবল বিতৃষ্ণার ও অবজ্ঞার এক পাত্রে পরিণত করেছেন, যা তোমরা স্বচক্ষেই দেখতে পাচ্ছ।
2CH 29:9 এজন্যই আমাদের পূর্বপুরুষেরা তরোয়ালের আঘাতে মারা পড়েছেন এবং আমাদের ছেলেমেয়েরা ও আমাদের স্ত্রীরা বন্দি হয়েছে।
2CH 29:10 এখন আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সাথে এক নিয়ম স্থির করতে চলেছি, যেন তাঁর ভয়ংকর ক্রোধ আমাদের কাছ থেকে সরে যায়।
2CH 29:11 ওহে বাছারা, এখন আর অসতর্ক হোয়ো না, কারণ সদাপ্রভু তাঁর সামনে দাঁড়ানোর ও তাঁর সেবা করার, তাঁর সামনে পরিচর্যা করার ও ধূপ জ্বালানোর জন্য তোমাদেরই মনোনীত করেছেন।”
2CH 29:12 তখন এইসব লেবীয় কাজে লেগে গেল: কহাতীয়দের মধ্যে থেকে, অমাসয়ের ছেলে মাহৎ ও অসরিয়ের ছেলে যোয়েল; মরারীয়দের মধ্যে থেকে, অব্দির ছেলে কীশ ও যিহলিলেলের ছেলে অসরিয়; গের্শোনীয়দের মধ্যে থেকে, সিম্মের ছেলে যোয়াহ ও যোয়াহের ছেলে এদন;
2CH 29:13 ইলীষাফণের বংশধরদের মধ্যে থেকে, সিম্রি ও যিয়ূয়েল; আসফের বংশধরদের মধ্যে থেকে, সখরিয় ও মত্তনিয়;
2CH 29:14 হেমনের বংশধরদের মধ্যে থেকে, যিহূয়েল ও শিমিয়ি; যিদূথূনের বংশধরদের মধ্যে থেকে, শময়িয় ও উষীয়েল।
2CH 29:15 তারা তাদের সমগোত্রীয় লেবীয়দের এক স্থানে একত্রিত করল ও ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গও করল। পরে তারা রাজার আদেশানুসারে, সদাপ্রভুর কথার বাধ্য হয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরটিও শুচিশুদ্ধ করতে গেল।
2CH 29:16 সদাপ্রভুর পবিত্র পীঠস্থানটি শুচিশুদ্ধ করার জন্য যাজকেরা মন্দিরের ভিতরে গেলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরের মধ্যে তারা যত অশুচি জিনিসপত্র দেখতে পেয়েছিলেন, সেসব তারা সদাপ্রভুর মন্দিরের উঠোনে বের করে এনেছিলেন। লেবীয়েরা সেগুলি সংগ্রহ করে বাইরে কিদ্রোণ উপত্যকায় বয়ে নিয়ে গেল।
2CH 29:17 প্রথম মাসের প্রথম দিনে তারা এই শুদ্ধকরণের কাজ শুরু করলেন, এবং মাসের অষ্টম দিনে তারা সদাপ্রভুর দ্বারমণ্ডপে পৌঁছে গেলেন। আরও আট দিন ধরে তারা সদাপ্রভুর মন্দিরটিকেই শুচিশুদ্ধ করে গেলেন, এবং প্রথম মাসের ষোড়শতম দিনে সে কাজ তারা সমাপ্ত করলেন।
2CH 29:18 পরে তারা রাজা হিষ্কিয়ের কাছে গিয়ে এই খবর দিলেন: “হোমবলির বেদি ও সেখানকার সব বাসনপত্র, এবং উৎসর্গীকৃত রুটি সাজিয়ে রাখার টেবিল ও সেটির সব জিনিসপত্র সমেত আমরা সদাপ্রভুর গোটা মন্দিরটিই শুচিশুদ্ধ করে দিয়েছি।
2CH 29:19 রাজা আহস, রাজা থাকার সময় তাঁর অবিশ্বস্ততায় যেসব জিনিসপত্র ফেলে দিয়েছিলেন, আমরা সেগুলি ঠিকঠাক করে আবার শুচিশুদ্ধ করে দিয়েছি। সেগুলি এখন সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদির সামনে রাখা আছে।”
2CH 29:20 পরদিন ভোরবেলায় রাজা হিষ্কিয় নগরের কর্মকর্তাদের একত্রিত করে, তাদের সাথে নিয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরে গেলেন।
2CH 29:21 রাজ্যের, পবিত্র পীঠস্থানের ও যিহূদার জন্য তারা পাপার্থক বলিরূপে সাতটি বলদ, সাতটি মদ্দা মেষ, মেষের সাতটি মদ্দা শাবক ও সাতটি পাঁঠা নিয়ে এলেন। হারোণের বংশধর সেই যাজকদের রাজা আদেশ দিলেন, তারা যেন সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিতে সেগুলি বলি দেন।
2CH 29:22 অতএব তারা সেই বলদগুলি বধ করলেন, এবং যাজকেরা রক্ত নিয়ে তা বেদিতে ছিটিয়ে দিলেন; পরে তারা মদ্দা মেষগুলি বধ করলেন ও সেগুলির রক্ত বেদিতে ছিটিয়ে দিলেন; পরে তারা মেষশাবকগুলিও বধ করলেন ও সেগুলির রক্ত বেদিতে ছিটিয়ে দিলেন।
2CH 29:23 পাপার্থক বলির পাঁঠাগুলি রাজার ও জনসমাজের সামনে এনে রাখা হল, এবং সেগুলির উপর তারা হাত রেখেছিলেন।
2CH 29:24 যাজকেরা পরে সেই পাঁঠাগুলি বধ করে সেগুলির রক্ত সমগ্র ইস্রায়েলের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য পাপার্থক বলিরূপে বেদিতে উৎসর্গ করলেন, কারণ রাজা সমগ্র ইস্রায়েলের জন্য হোমবলি ও পাপার্থক বলি উৎসর্গ করার আদেশ দিলেন।
2CH 29:25 দাউদ এবং রাজার দর্শক গাদ ও ভাববাদী নাথন ঠিক যেমনটি বলে দিলেন, সেইমতোই তিনি সুরবাহার, বীণা ও খঞ্জনি নিয়ে সদাপ্রভুর মন্দিরে লেবীয়দের দাঁড় করিয়ে দিলেন; সদাপ্রভুই তাঁর ভাববাদীদের মাধ্যমে এই আদেশ দিলেন।
2CH 29:26 অতএব লেবীয়েরা দাউদের বাজনাগুলি নিয়ে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এবং যাজকেরাও তাদের শিঙাগুলি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
2CH 29:27 হিষ্কিয় যজ্ঞবেদিতে হোমবলি উৎসর্গ করার আদেশ দিলেন। বলিদান শুরু হওয়ার সাথে সাথে সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাওয়াও শুরু হল, গানের সাথে শিঙা ও ইস্রায়েলের রাজা দাউদের বাজনাগুলিও বাজানো হল।
2CH 29:28 যখন বাদ্যকরেরা বাজনা বাজাচ্ছিল ও শিঙাগুলিও বাজানো হচ্ছিল, তখন সমগ্র জনসমাজ আরাধনায় নতমস্তক হল। হোমবলি উৎসর্গ করা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব চালিয়ে যাওয়া হল।
2CH 29:29 বলিদানের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, রাজা ও তাঁর সাথে সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকে নতজানু হয়ে আরাধনা করলেন।
2CH 29:30 রাজা হিষ্কিয় ও তাঁর কর্মকর্তারা লেবীয়দের আদেশ দিলেন, তারা যেন দাউদের ও দর্শক আসফের লেখা গান গেয়ে সদাপ্রভুর প্রশংসা করে। অতএব তারা খুশিমনে প্রশংসার গান গেয়েছিল এবং মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে আরাধনা করল।
2CH 29:31 তখন হিষ্কিয় বললেন, “এখন তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছ। কাছে এসে সদাপ্রভুর মন্দিরে বলির নৈবেদ্য ও ধন্যবাদ-বলি নিয়ে এসো।” অতএব সেই জনসমাজ বলির নৈবেদ্য ও ধন্যবাদ-বলি এনেছিল, এবং যাদের যাদের অন্তরে ইচ্ছা জাগল, তারা হোমবলিও এনেছিল।
2CH 29:32 সেই জনসমাজ যে হোমবলি এনেছিল, তার সংখ্যা হল সত্তরটি বলদ, একশোটি মদ্দা মেষ ও মেষের 200-টি মদ্দা শাবক—এসবই সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলিরূপে আনা হল।
2CH 29:33 বলিরূপে যেসব পশু উৎসর্গ করা হল, সেগুলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল 600 বলদ ও 3,000 মেষ ও ছাগল।
2CH 29:34 সব হোমবলির ছাল ছাড়ানোর জন্য অবশ্য যাজকদের সংখ্যা কম পড়ে গেল; তাই যতদিন না সে কাজ সম্পূর্ণ হল ও অন্যান্য যাজকদের ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হল, ততদিন তাদের আত্মীয় সেই লেবীয়েরা তাদের সাহায্য করল, কারণ যাজকদের তুলনায় সেই লেবীয়েরাই ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করার ক্ষেত্রে বেশি ন্যায়নিষ্ঠ হল।
2CH 29:35 সেখানে অপর্যাপ্ত হোমবলি ছিল, এবং সাথে সাথে মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের চর্বি ও হোমবলির আনুষঙ্গিক পেয়-নৈবেদ্যও ছিল। অতএব সদাপ্রভুর মন্দিরের সেবাকাজ আবার নতুন করে শুরু হল।
2CH 29:36 ঈশ্বর তাঁর প্রজাদের জন্য কী ঘটিয়েছেন, তা দেখে হিষ্কিয় ও দেশের প্রজারা সবাই আনন্দ করলেন, কারণ এসব কিছুই খুব তাড়াতাড়ি করা হল।
2CH 30:1 জেরুশালেমে সদাপ্রভুর মন্দিরে আসার ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব পালন করার নিমন্ত্রণ জানিয়ে হিষ্কিয় ইস্রায়েল ও যিহূদায় সকলের কাছে খবর পাঠালেন এবং ইফ্রয়িমের ও মনঃশির প্রজাদের কাছে চিঠিও লিখেছিলেন।
2CH 30:2 রাজা ও তাঁর কর্মকর্তারা এবং জেরুশালেমের সমগ্র জনসমাজ দ্বিতীয় মাসে নিস্তারপর্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
2CH 30:3 নির্দিষ্ট সময়ে তারা সেটি পালন করতে পারেননি, কারণ যথেষ্ট পরিমাণ যাজক ঈশ্বরের উদ্দেশে তখন নিজেদের উৎসর্গ করেননি এবং প্রজারাও তখন জেরুশালেমে সমবেত হয়নি।
2CH 30:4 রাজা ও সমগ্র জনসমাজ, উভয়ের কাছেই পরিকল্পনাটি সমুচিত বলে মনে হল।
2CH 30:5 লোকজন যেন জেরুশালেমে এসে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব পালন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে তারা বের-শেবা থেকে দান পর্যন্ত, ইস্রায়েলে সর্বত্র লোক পাঠিয়ে সেকথা ঘোষণা করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই বিষয়ে যেমনটি লিখে রাখা হল, সেই নিয়মানুসারে, মানুষজনের পক্ষে একসাথে মিলিত হয়ে সেই পর্বটি পালন করা সম্ভব হয়নি।
2CH 30:6 রাজার আদেশে, রাজার ও তাঁর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চিঠিপত্র নিয়ে ডাকহরকরারা ইস্রায়েল ও যিহূদার সর্বত্র চলে গেল; সেই চিঠিপত্রের ভাষা ছিল এইরকম: “হে ইস্রায়েলী প্রজারা, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে তোমরা ফিরে এসো, যেন তোমরা যারা অবশিষ্ট আছ, যারা আসিরিয়ার রাজাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছ, তোমাদের কাছে তিনিও ফিরে আসেন।
2CH 30:7 তোমরা তোমাদের সেই পূর্বপুরুষ ও সমগোত্রীয় ইস্রায়েলীদের মতো হোয়ো না, যারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ত হল, তাই তিনি তাদের প্রবল বিতৃষ্ণার পাত্রে পরিণত করলেন, যা তোমরা দেখতেই পাচ্ছ।
2CH 30:8 তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো তোমরা একগুঁয়ে হোয়ো না; সদাপ্রভুর হাতে নিজেদের সঁপে দাও। তাঁর পবিত্র সেই পীঠস্থানে এসো, যা তিনি চিরকালের জন্য পবিত্র করে দিয়েছেন। তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করো, যেন তাঁর ভয়ংকর ক্রোধ তোমাদের কাছ থেকে দূর হয়ে যায়।
2CH 30:9 তোমরা যদি সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আস, তবে তোমাদের সমগোত্রীয় ইস্রায়েলীদের ও তোমাদের সন্তানদের প্রতি তাদের বন্দিকারীরা করুণা দেখাবে এবং তারা এই দেশে ফিরে আসবে, কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু অনুগ্রহকারী ও করুণাময়। তোমরা যদি তাঁর কাছে ফিরে আস, তবে তিনি তোমাদের দিক থেকে তাঁর মুখ ফিরিয়ে নেবেন না।”
2CH 30:10 ডাকহরকরারা ইফ্রয়িম ও মনঃশির এক নগর থেকে অন্য নগর ঘুরে সবূলূন পর্যন্ত গেল, কিন্তু লোকেরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করল।
2CH 30:11 তা সত্ত্বেও, আশের, মনঃশি ও সবূলূন থেকে কেউ কেউ নিজেদের নত করল ও জেরুশালেমে গেল।
2CH 30:12 এছাড়া যিহূদাতেও লোকজনের উপর ঈশ্বর হাত রেখে তাদের মনে একতা দিলেন, যেন তারা সদাপ্রভুর বাক্য অনুসারে, রাজার ও তাঁর কর্মকর্তাদের আদেশ পালন করতে পারে।
2CH 30:13 দ্বিতীয় মাসে খামিরবিহীন রুটির উৎসব পালন করার জন্য বিশাল জনতা জেরুশালেমে সমবেত হল।
2CH 30:14 জেরুশালেমে তারা বেদিগুলি সরিয়ে দিয়েছিল এবং ধূপবেদিগুলি পরিষ্কার করে সেখানে রাখা জিনিসপত্র কিদ্রোণ উপত্যকায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।
2CH 30:15 দ্বিতীয় মাসের চতুর্দশতম দিনে তারা নিস্তারপর্বের মেষশাবকটি বধ করল। যাজক ও লেবীয়েরা লজ্জিত হয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে হোমবলি নিয়ে এলেন।
2CH 30:16 পরে ঈশ্বরের লোক মোশির বিধান অনুসারে তারা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। লেবীয়েরা যাজকদের হাতে যে রক্ত তুলে দিয়েছিল, তারা সেই রক্ত যজ্ঞবেদিতে ছিটিয়ে দিলেন।
2CH 30:17 যেহেতু জনতার ভিড়ে অনেকেই ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করেননি, তাই প্রথাগতভাবে যারা শুচিশুদ্ধ ছিল না ও যারা তাদের আনা মেষশাবকগুলি সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করতে পারেনি, তাদের হয়ে লেবীয়দেরই নিস্তারপর্বের মেষশাবকগুলি বধ করতে হল।
2CH 30:18 যদিও যেসব লোকজন ইফ্রয়িম, মনঃশি, ইষাখর ও সবূলূন থেকে এসেছিল, তাদের মধ্যে অধিকাংশ জনই নিজেদের শুচিশুদ্ধ করেননি, তবু তারা লিখিত বিধিনিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে নিস্তারপর্বের ভোজ খেয়েছিল। কিন্তু হিষ্কিয় তাদের জন্য প্রার্থনা করে বললেন, “মঙ্গলময় সদাপ্রভু তাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করুন,
2CH 30:19 যারা তাদের অন্তর ঈশ্বরের—তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর—অন্বেষণ করার জন্য ঠিক করেছে, এমনকি পবিত্র পীঠস্থানের নিয়মানুসারে তারা যদি শুচিশুদ্ধ নাও হয়, তাও যেন তিনি তাদের ক্ষমা করলেন।”
2CH 30:20 সদাপ্রভু হিষ্কিয়ের প্রার্থনা শুনেছিলেন ও মানুষজনকে সুস্থ করলেন।
2CH 30:21 একদিকে, জেরুশালেমে উপস্থিত ইস্রায়েলীরা মহানন্দে সাত দিন ধরে খামিরবিহীন রুটির উৎসব পালন করছিল, অন্যদিকে যাজক ও লেবীয়েরা প্রতিদিন সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত দারুণ সব বাজনা বাজিয়ে সদাপ্রভুর প্রশংসাগান করে যাচ্ছিলেন।
2CH 30:22 যেসব লেবীয় সদাপ্রভুর সেবাকাজে ভালো বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগ করল, হিষ্কিয় তাদের উৎসাহ দিয়ে কথা বললেন। পর্বের সাত দিন ধরে তারা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া খাবার খেয়েছিল এবং মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করল।
2CH 30:23 সমগ্র জনসমাজ তখন আরও সাত দিন উৎসব পালন করার বিষয়ে একমত হল; অতএব আনন্দ করতে করতে আরও সাত দিন ধরে তারা উৎসব পালন করল।
2CH 30:24 জনসমাজের জন্য যিহূদার রাজা হিষ্কিয় এক হাজার বলদ এবং সাত হাজার মেষ ও ছাগল দিলেন, এবং কর্মকর্তারা তাদের জন্য এক হাজার বলদ ও দশ হাজার মেষ ও ছাগল দিলেন। অনেক যাজক ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করে দিলেন।
2CH 30:25 যিহূদার সমগ্র জনসমাজ আনন্দ করল, ও তাদের সাথে সাথে যাজক ও লেবীয়েরা এবং ইস্রায়েল থেকে এসে সেখানে সমবেত হওয়া লোকজন ও ইস্রায়েল থেকে আসা তথা যিহূদায় বসবাসকারী বিদেশিরাও আনন্দ করল।
2CH 30:26 জেরুশালেমে আনন্দের হাট বসে গেল, কারণ ইস্রায়েলের রাজা দাউদের ছেলে শলোমনের সময়ের পর থেকে, জেরুশালেমে এরকম আর কিছু কখনও হয়নি।
2CH 30:27 যাজক ও লেবীয়েরা প্রজাদের আশীর্বাদ করার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং ঈশ্বর তাদের কথা শুনেছিলেন, কারণ তাদের প্রার্থনা স্বর্গে, তাঁর সেই পবিত্র বাসস্থানে পৌঁছে গেল।
2CH 31:1 এসব কিছু সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর, সেখানে উপস্থিত ইস্রায়েলীরা যিহূদার নগরগুলিতে গিয়ে সেখানকার দেবতাদের উদ্দেশে নিবেদিত পাথরগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ও আশেরার খুঁটিগুলি কেটে নামিয়েছিল। যিহূদা ও বিন্যামীন, এবং ইফ্রয়িম ও মনঃশির সর্বত্র প্রতিমাপূজার উঁচু উঁচু স্থান ও বেদিগুলি তারা ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেগুলি সব পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলার পর ইস্রায়েলীরা তাদের নিজের নিজের নগরে ও নিজেদের বিষয়সম্পত্তির কাছে ফিরে গেল।
2CH 31:2 হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করার, পরিচর্যা করার, সদাপ্রভুর বাসস্থানের দরজায় দাঁড়িয়ে ধন্যবাদ দেওয়ার ও প্রশংসা করার জন্য হিষ্কিয় যাজক ও লেবীয়দের প্রত্যেককে, যাজকের ও লেবীয়ের করণীয় দায়িত্ব অনুসারে, কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত করে দিলেন।
2CH 31:3 সদাপ্রভুর বিধানে লেখা নিয়মানুসারে সকাল-সন্ধ্যার হোমবলির এবং সাব্বাথবারে, অমাবস্যায় ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া উৎসবের দিনগুলিতে উৎসর্গ করার উপযোগী হোমবলির জন্য রাজা নিজের বিষয়সম্পত্তি থেকে দান দিলেন।
2CH 31:4 জেরুশালেমে বসবাসকারী লোকজনকে তিনি আদেশ দিলেন, সদাপ্রভুর বিধানসংক্রান্ত বিষয়ে যাজক ও লেবীয়েরা যেন নিজেদের লিপ্ত রাখতে পারেন, তাই তাদের প্রাপ্য অংশ যেন তারা তাদের দিয়ে দেন।
2CH 31:5 যেই না সেই আদেশ জারি হল, ইস্রায়েলীরা অকাতরে তাদের শস্যের নবান্ন, নতুন দ্রাক্ষারস, জলপাই তেল ও মধু এবং ক্ষেতের সব উৎপন্ন দ্রব্য এনে দিয়েছিল। অনেক বেশি পরিমাণে তারা সবকিছুর দশমাংশ নিয়ে এসেছিল।
2CH 31:6 যিহূদার নগরগুলিতে বসবাসকারী ইস্রায়েল ও যিহূদার লোকজন তাদের গরু-ছাগলের পাল ও মেষের পাল থেকেও দশমাংশ এনেছিল এবং তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত পবিত্র জিনিসপত্রের দশমাংশও এনে গাদা করে দিয়েছিল।
2CH 31:7 তৃতীয় মাসে তারা এরকম করতে শুরু করল এবং সপ্তম মাসে শেষ করল।
2CH 31:8 হিষ্কিয় ও তাঁর কর্মকর্তারা যখন এসে জিনিসপত্রের সেই গাদা দেখেছিলেন, তারা সদাপ্রভুর প্রশংসা করলেন ও তাঁর প্রজা ইস্রায়েলকে আশীর্বাদ দিলেন।
2CH 31:9 হিষ্কিয়, যাজক ও লেবীয়দের সেই গাদার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন;
2CH 31:10 এবং সাদোকের বংশোদ্ভূত প্রধান যাজক অসরিয় উত্তর দিলেন, “যেদিন থেকে লোকেরা সদাপ্রভুর মন্দিরে তাদের দান আনতে শুরু করল, আমরা যথেষ্ট খাবার খেতে পেয়েছি এবং প্রচুর খাবার বেঁচেও গিয়েছে, কারণ সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের আশীর্বাদ করেছেন, ও এত কিছু বেঁচে গিয়েছে।”
2CH 31:11 সদাপ্রভুর মন্দিরে হিষ্কিয় কয়েকটি ভাঁড়ারঘর তৈরি করার আদেশ দিলেন, এবং তা করা হল।
2CH 31:12 পরে তারা নিষ্ঠাসহকারে দান, দশমাংশ ও উৎসর্গীকৃত জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিল। লেবীয় কনানিয়কে এইসব জিনিসপত্র দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক করে দেওয়া হল, এবং তাঁর ভাই শিমিয়ি পদাধিকারবলে তাঁর ঠিক নিচেই ছিলেন।
2CH 31:13 যিহীয়েল, অসসিয়, নহৎ, অসাহেল, যিরীমোৎ, যোষাবদ, ইলীয়েল, যিষ্মখিয়, মাহৎ ও বনায় কনানিয় ও তাঁর ভাই শিমিয়ির সহকারী ছিলেন। এরা সবাই, রাজা হিষ্কিয় ও ঈশ্বরের মন্দিরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অসরিয়ের দ্বারা কাজে নিযুক্ত হলেন।
2CH 31:14 যিম্নার ছেলে লেবীয় কোরিকে, যিনি আবার পূর্বদিকের দরজার রক্ষীও ছিলেন, ঈশ্বরকে দেওয়া স্বেচ্ছাদানগুলি দেখাশোনা করার, সদাপ্রভুর কাছে আনা দানসামগ্রী ও উৎসর্গীকৃত উপহারগুলি বিলি করার দায়িত্ব দেওয়া হল।
2CH 31:15 এদন, মিনিয়ামীন, যেশূয়, শময়িয়, অমরিয় ও শখনিয় নিষ্ঠাসহকারে যাজকদের নগরগুলিতে থেকে কোরির কাজে সাহায্য করতেন, এবং বড়ো বা ছোটো, তাদের সমগোত্রীয় যাজকদের বিভাগ অনুসারে, তাদের কাছে তাদের প্রাপ্য বিলি করে দিতেন।
2CH 31:16 এছাড়াও, তিন বছর বা তার বেশি বয়সের যেসব পুরুষের নাম বংশানুক্রমিক তালিকাতে ছিল—যারা তাদের দায়িত্ব ও বিভাগ অনুসারে তাদের বিভিন্ন কাজকর্মের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করার জন্য সদাপ্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করতেন, তাদেরও প্রাপ্য তারা বিলি করে দিতেন।
2CH 31:17 এক-একটি বংশ ধরে ধরে বংশানুক্রমিক তালিকায় নথিভুক্ত যাজকদের ও একইরকম ভাবে, কুড়ি বছর বা তার বেশি বয়সের লেবীয়দের প্রাপ্যও তারা তাদের দায়িত্ব ও বিভাগ অনুসারে বিলি করে দিতেন।
2CH 31:18 এইসব বংশানুক্রমিক তালিকায় সমগ্র সমাজের যত শিশু, স্ত্রী, এবং ছেলেমেয়ের নাম নথিভুক্ত করা ছিল, তাদের সবাইকে তারা যুক্ত করলেন। কারণ ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করার ক্ষেত্রে তারা নিষ্ঠাবান ছিলেন।
2CH 31:19 যারা নিজেদের নগরের বা অন্যান্য নগরের আশেপাশে অবস্থিত ক্ষেতজমিতে বসবাস করতেন, হারোণের বংশধর, সেইসব যাজকের মধ্যে থেকে প্রত্যেকজন পুরুষের ও যাদের নাম লেবীয়দের বংশাবলিতে নথিভুক্ত করে রাখা হল, তাদের প্রাপ্য তাদের কাছে বিলি করে দেওয়ার জন্য নাম ধরে ধরে নির্দিষ্ট করে দেওয়া কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল।
2CH 31:20 যিহূদার সব স্থানে হিষ্কিয় এরকমই করলেন, তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ভালো ও নির্ভরযোগ্য, তাই করলেন।
2CH 31:21 ঈশ্বরের মন্দিরের পরিচর্যায় এবং বিধান ও আদেশের প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে তিনি যা যা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সবেতেই তিনি তাঁর ঈশ্বরের অন্বেষণ করলেন এবং মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে কাজ করলেন। আর তাই তিনি সফলও হলেন।
2CH 32:1 নিষ্ঠাসহকারে হিষ্কিয় এত কিছু করার পর, আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব এসে যিহূদায় সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিলেন। সুরক্ষিত নগরগুলি নিজের অধিকারে আনার ভাবনাচিন্তা নিয়ে তিনি সেগুলি ঘেরাও করলেন।
2CH 32:2 হিষ্কিয় যখন দেখেছিলেন যে সন্‌হেরীব এসে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাইছেন,
2CH 32:3 তখন নগরের বাইরে থাকা জলের উৎসগুলি থেকে আসা জলের স্রোত বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাঁর কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করলেন, এবং তারা তাঁকে সাহায্য করলেন।
2CH 32:4 তারা এমন অনেক লোক একত্রিত করলেন, যারা দেশে বয়ে যাওয়া নদীনালার জলস্রোত বন্ধ করে দিয়েছিল। “আসিরিয়ার রাজারা এসে কেন প্রচুর জল পাবে?” তারা বলল।
2CH 32:5 পরে তিনি পরিশ্রম করে প্রাচীরের ভাঙা অংশগুলি মেরামত করলেন ও সেটির উপর মিনার গড়ে দিলেন। সেই প্রাচীরটির বাইরের দিকেও তিনি আরও একটি প্রাচীর তৈরি করলেন এবং দাউদ-নগরের উঁচু চাতালগুলিও আরও মজবুত করে দিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র ও ঢালও বানিয়েছিলেন।
2CH 32:6 প্রজাদের উপর তিনি সেনাপতিদের নিযুক্ত করে দিলেন এবং নগরের সিংহদুয়ারের সামনের চকে তাদের একত্রিত করে এই কথা বলে তাদের উৎসাহ দিলেন:
2CH 32:7 “তোমরা বলবান ও সাহসী হও। আসিরিয়ার রাজাকে ও তাঁর সাথে থাকা বিশাল সৈন্যদল দেখে তোমরা ভয় পেয়ো না বা হতাশ হোয়ো না, কারণ তাঁর সাথে যে বা যারা আছে, তাদের তুলনায় আমাদের সাথে যিনি আছেন, তাঁর ক্ষমতা অনেক বেশি।
2CH 32:8 তাঁর সাথে আছে শুধু মানুষের হাত, কিন্তু আমাদের সাথে আছেন আমাদের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি আমাদের সাহায্য করতে ও আমাদের হয়ে যুদ্ধ করতেও সক্ষম।” যিহূদার রাজা হিষ্কিয় প্রজাদের যে কথা বললেন, তা শুনে তারা ভরসা পেয়েছিল।
2CH 32:9 পরে, আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব ও তাঁর সব সৈন্যসামন্ত যখন লাখীশ অবরোধ করে বসেছিলেন, তখন সেখান থেকে তিনি যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের ও জেরুশালেমে উপস্থিত যিহূদার সব প্রজার কাছে এই খবর দিয়ে তাঁর কর্মকর্তাদের জেরুশালেমে পাঠালেন:
2CH 32:10 “আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব একথাই বলেন: তোমরা কীসের উপর ভরসা করে জেরুশালেমে অবরুদ্ধ হয়ে বসে আছ?
2CH 32:11 হিষ্কিয় যখন বলছে, ‘আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুই আসিরিয়ার রাজার হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করবেন,’ তখন আসলে সে তোমাদের বিভ্রান্ত করছে, যেন তোমরা ক্ষুধাতৃষ্ণায় মারা যাও।
2CH 32:12 এই হিষ্কিয়ই কি নিজে এই দেবতার পূজার্চনার উঁচু উঁচু স্থান ও বেদিগুলি যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকজনের কাছে এই কথা বলে দূর করে দেয়নি যে, ‘একটিই যজ্ঞবেদির সামনে তোমাদের আরাধনা করতে হবে ও সেটির উপরেই নৈবেদ্য উৎসর্গ করতে হবে’?
2CH 32:13 “তোমরা কি জানো না, আমি ও আমার পূর্বসূরিরা অন্যান্য দেশের সব প্রজার প্রতি কী করেছি? সেইসব দেশের দেবতারা কি আমার হাত থেকে তাদের দেশগুলি রক্ষা করতে পেরেছিল?
2CH 32:14 আমার পূর্বসূরিরা যেসব দেশ ধ্বংস করে দিলেন, সেইসব দেশের দেবতাদের মধ্যে কে তার প্রজাদের আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল? তবে তোমাদের দেবতাই বা কীভাবে আমার হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করবে?
2CH 32:15 এখন হিষ্কিয় যেন এভাবে তোমাদের ঠকাতে ও বিভ্রান্ত করতে না পারে। তাকে বিশ্বাস কোরো না, কারণ কোনও দেশের বা রাজ্যের কোনও দেবতা তার প্রজাদের আমার হাত থেকে বা আমার পূর্বসূরীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তবে তোমাদের দেবতাই বা কীভাবে আমার হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করবে!”
2CH 32:16 সন্‌হেরীবের কর্মকর্তারা সদাপ্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ও তাঁর দাস হিষ্কিয়ের বিরুদ্ধে আরও অনেক কথা বললেন।
2CH 32:17 রাজাও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে টিটকিরি দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন, এবং তাঁর বিরুদ্ধে এই কথা বললেন: “ঠিক যেভাবে অন্যান্য দেশের প্রজাদের দেবতারা, তাদের প্রজাদের আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি, সেভাবে হিষ্কিয়ের দেবতাও তার প্রজাদের আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।”
2CH 32:18 জেরুশালেম নগরটি দখল করার লক্ষ্যে প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে ভয় দেখিয়ে ও ভীতসন্ত্রস্ত করে দিয়ে তখন তারা হিব্রু ভাষায় চিৎকার করে কথা বলল।
2CH 32:19 যারা মানুষের হাতে গড়া, জগতের অন্যান্য লোকজনের সেই দেবতাদের বিষয়ে তারা যেভাবে কথা বলল, জেরুশালেমের ঈশ্বরের বিষয়েও তারা সেভাবেই কথা বলল।
2CH 32:20 রাজা হিষ্কিয় ও আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয় এই বিষয় নিয়ে স্বর্গের দিকে তাকিয়ে জোর গলায় প্রার্থনা করলেন
2CH 32:21 আর সদাপ্রভু এমন এক স্বর্গদূত পাঠিয়ে দিলেন, যিনি আসিরিয়ার রাজার সৈন্যশিবিরের সব যোদ্ধা এবং সেনাপতি ও কর্মকর্তাকে নির্মূল করে দিলেন। তাই অপমানিত হয়ে তিনি নিজের দেশে ফিরে গেলেন। তিনি যখন তাঁর দেবতার মন্দিরে গেলেন, তখন তাঁর ঔরসে জন্মানো ছেলেদের মধ্যে কয়েকজন তরোয়াল দিয়ে কেটে তাঁকে মেরে ফেলেছিল।
2CH 32:22 এইভাবে হিষ্কিয়কে ও জেরুশালেমের লোকজনকে আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীবের হাত থেকে ও অন্যান্যদেরও হাত থেকে সদাপ্রভু রক্ষা করলেন। সবদিক থেকেই তিনি তাদের যত্ন নিয়েছিলেন।
2CH 32:23 অনেকেই সদাপ্রভুর জন্য নৈবেদ্য ও যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের জন্য দামি উপহার নিয়ে জেরুশালেমে এসেছিল। তখন থেকেই সব জাতির দৃষ্টিতে তিনি খুব সম্মানের পাত্রে পরিণত হলেন।
2CH 32:24 সেই সময় হিষ্কিয় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। তিনি সেই সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, যিনি তাঁকে উত্তর দিলেন ও তাঁকে এক অলৌকিক চিহ্নও দিলেন।
2CH 32:25 কিন্তু হিষ্কিয়ের অন্তর গর্বিত হল এবং তাঁকে যে করুণা দেখানো হল, তাতে তিনি ভালো সাড়া দেননি; তাই তাঁর উপর এবং যিহূদা ও জেরুশালেমের উপর সদাপ্রভু ক্রুদ্ধ হলেন।
2CH 32:26 তখন হিষ্কিয় তাঁর অন্তরে উৎপন্ন গর্বের বিষয়ে অনুতাপ করলেন, এবং তাঁর সাথে সাথে জেরুশালেমের লোকেরাও অনুতাপ করল; তাই হিষ্কিয়ের রাজত্বকালে সদাপ্রভুর ক্রোধ তাদের উপর নেমে আসেনি।
2CH 32:27 হিষ্কিয়ের প্রচুর ধনসম্পত্তি ও সম্মান ছিল, আর তিনি তাঁর রুপো ও সোনার এবং তাঁর দামি মণিমুক্তো, মশলাপাতি, ঢাল ও সব ধরনের দামি জিনিসপত্রের জন্য কয়েকটি কোষাগার তৈরি করলেন।
2CH 32:28 এছাড়াও শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেল মজুত করে রাখার জন্য কয়েকটি গুদামঘর তৈরি করলেন; আর বিভিন্ন ধরনের গবাদি পশু রাখার জন্য গোশালা ও মেষের পাল রাখার জন্য খোঁয়াড়ও তৈরি করলেন।
2CH 32:29 তিনি বেশ কিছু গ্রাম গড়ে তুলেছিলেন এবং নিজের জন্য তিনি প্রচুর পরিমাণে মেষ ও গরু-ছাগল সংগ্রহ করলেন, কারণ ঈশ্বরই তাঁকে এত ধনসম্পত্তি দিলেন।
2CH 32:30 এই হিষ্কিয়ই গীহোন জলের উৎসের উপর দিকের মুখ বন্ধ করে দিলেন এবং জলের স্রোত দাউদ-নগরের পশ্চিমদিকে টেনে নামিয়েছিলেন। যে কোনো কাজে তিনি হাত লাগালেন, তাতেই তিনি সফল হলেন।
2CH 32:31 কিন্তু ব্যাবিলনের শাসনকর্তারা যখন প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দেশে ঠিক কী অলৌকিক চিহ্ন দেখা গিয়েছে, তখন আসলে ঈশ্বরই তাঁকে পরীক্ষা করে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর অন্তরে ঠিক কী আছে।
2CH 32:32 হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা এবং তাঁর নিষ্ঠামূলক কাজকর্মের বিবরণ যিহূদা ও ইস্রায়েলের রাজাদের পুস্তকের অন্তর্গত আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয়ের দর্শন-গ্রন্থে লেখা আছে।
2CH 32:33 হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এবং তাঁকে সেই পাহাড়ে কবর দেওয়া হল, যেখানে দাউদের সব বংশধরের কবর আছে। তিনি যখন মারা গেলেন, তখন সমগ্র যিহূদা দেশ ও জেরুশালেমের প্রজারা তাঁকে সম্মান জানিয়েছিল। তাঁর ছেলে মনঃশি রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 33:1 মনঃশি 12 বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি পঞ্চান্ন বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 33:2 ইস্রায়েলীদের সামনে থেকে সদাপ্রভু যে জাতিদের দূর করে দিলেন, তাদের ঘৃণ্য প্রথা অনুসরণ করে তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2CH 33:3 তাঁর বাবা হিষ্কিয় প্রতিমাপূজার যে উঁচু স্থানগুলি ভূমিসাৎ করলেন, তিনি সেগুলিই আবার নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন; এছাড়াও তিনি বায়াল-দেবতাদের উদ্দেশে বেদি গেঁথে তুলেছিলেন এবং আশেরার খুঁটিও তৈরি করেছিলেন। তিনি আকাশের রাশি রাশি তারার কাছে মাথা নত করতেন এবং সেগুলির পূজার্চনা করতেন।
2CH 33:4 তিনি সদাপ্রভুর সেই মন্দিরে কয়েকটি বেদি তৈরি করলেন, যেটির বিষয়ে সদাপ্রভু বললেন, “আমার নাম জেরুশালেমে চিরকাল বজায় থাকবে।”
2CH 33:5 সদাপ্রভুর মন্দিরের উভয় প্রাঙ্গণে তিনি আকাশের সব তারকাদলের জন্য কয়েকটি বেদি তৈরি করে দিলেন।
2CH 33:6 বিন-হিন্নোমের উপত্যকায় তিনি তাঁর সন্তানদের আগুনে উৎসর্গ করতেন, দৈববিচার ও ডাকিনীবিদ্যার চর্চা করতেন, শুভ-অশুভ চিহ্নের খোঁজ চালাতেন, এবং প্রেতমাধ্যম ও গুনিনদের সাথেও শলাপরামর্শ করতেন। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে প্রচুর অন্যায় করে তিনি তাঁর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
2CH 33:7 একটি মূর্তি তৈরি করে, তিনি সেটি নিয়ে গিয়ে ঈশ্বরের সেই মন্দিরে রেখেছিলেন, যেটির বিষয়ে ঈশ্বর দাউদ ও তাঁর ছেলে শলোমনকে বলে দিলেন, “এই মন্দিরে ও যে জেরুশালেমকে আমি ইস্রায়েলের সব বংশের মধ্যে থেকে আলাদা করে মনোনীত করেছি, সেখানেই আমি চিরকাল আমার নাম বজায় রাখব।
2CH 33:8 শুধু যদি ইস্রায়েলীরা একটু সতর্ক হয়ে সেই নিয়ম, বিধান ও নির্দেশগুলি মেনে চলে, যেগুলি পালন করার আদেশ মোশির মাধ্যমে আমি তাদের দিয়েছিলাম, তবে আমি আর কখনোই সেই দেশের বাইরে ইস্রায়েলীদের পা বাড়াতে দেব না, যে দেশটি আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলাম।”
2CH 33:9 কিন্তু মনঃশি এমনভাবে যিহূদাকে ও জেরুশালেমের লোকজনকে বিপথে পরিচালিত করলেন, যে তারা সেইসব জাতির চেয়েও বেশি অন্যায় করল, যে জাতিদের সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সামনে ধ্বংস করে দিলেন।
2CH 33:10 সদাপ্রভু মনঃশি ও তাঁর প্রজাদের সাথে কথা বলতেন, কিন্তু তারা সেকথায় মনোযোগ দিতেন না।
2CH 33:11 তাই তাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু আসিরিয়ার রাজার সেই সেনাপতিদের নিয়ে এলেন, যারা মনঃশিকে বন্দি করল, তাঁর নাকে বড়শি গেঁথে দিয়েছিল, ও ব্রোঞ্জের শিকলে বেঁধে তাঁকে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
2CH 33:12 দুর্দশায় পড়ে তিনি তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে অনুগ্রহ চেয়েছিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের সামনে নিজেকে অত্যন্ত নত করলেন।
2CH 33:13 আর তিনি যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেন, তখন তাঁর মিনতি সদাপ্রভুর হৃদয় স্পর্শ করল ও তিনি তাঁর সনির্বন্ধ অনুরোধ শুনেছিলেন; তাই তিনি তাঁকে জেরুশালেমে ও তাঁর রাজ্যে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তখন মনঃশি বুঝেছিলেন যে সদাপ্রভুই ঈশ্বর।
2CH 33:14 পরে একেবারে মৎস-দ্বারের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত গিয়ে ও ওফল পাহাড় ঘিরে থাকা উপত্যকায় অবস্থিত গীহোন জলের উৎসের পশ্চিমদিকে, দাউদ-নগরের বাইরের দিকের প্রাচীরটি তিনি নতুন করে গড়ে দিলেন; তিনি আবার সেটি আরও উঁচু করে দিলেন। যিহূদার সব সুরক্ষিত নগরেও তিনি সামরিক সেনাপতি মোতায়েন করে দিলেন।
2CH 33:15 সদাপ্রভুর মন্দির থেকে তিনি বিজাতীয় দেবতাদের দূর করলেন এবং প্রতিমার মূর্তিগুলিও দূর করলেন, এছাড়াও মন্দির-পাহাড়ের উপর ও জেরুশালেমে তিনি যেসব বেদি তৈরি করলেন, সেগুলিও তিনি উপড়ে ফেলেছিলেন; এবং সেগুলি নগরের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
2CH 33:16 পরে তিনি সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং সেটির উপরে মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য ও ধন্যবাদের বলি উৎসর্গ করলেন, ও যিহূদার লোকজনকেও বললেন, যেন তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করে।
2CH 33:17 প্রজারা অবশ্য তখনও পূজার্চনার উঁচু উঁচু স্থানগুলিতেই নৈবেদ্য উৎসর্গ করে যাচ্ছিল, তবে শুধুমাত্র তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশেই তারা তা করছিল।
2CH 33:18 মনঃশির রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, এবং তাঁর ঈশ্বরের কাছে করা তাঁর প্রার্থনা ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে তাঁর কাছে বলা দর্শকদের সব কথা ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা আছে।
2CH 33:19 তাঁর প্রার্থনা ও তাঁর মিনতি কীভাবে ঈশ্বরের হৃদয় স্পর্শ করল, এছাড়াও তাঁর সব পাপ ও অবিশ্বস্ততা, এবং নিজেকে নত করার আগে যেখানে যেখানে তিনি পূজার্চনার উঁচু উঁচু স্থান তৈরি করলেন এবং আশেরার খুঁটি ও প্রতিমার মূর্তি খাড়া করলেন—সেসবই দর্শকদের পুস্তকে লেখা আছে।
2CH 33:20 মনঃশি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এবং তাঁকে তাঁর প্রাসাদেই কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে আমোন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 33:21 আমোন বাইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি দুই বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 33:22 তাঁর বাবা মনঃশির মতো তিনিও সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন। আমোন, মনঃশির তৈরি করা সব প্রতিমার পুজো করতেন ও সেগুলির কাছে নৈবেদ্যও উৎসর্গ করতেন।
2CH 33:23 কিন্তু তাঁর বাবা মনঃশি যেভাবে নিজেকে সদাপ্রভুর কাছে নত করলেন, তিনি কিন্তু তা করেননি; আমোন তাঁর অপরাধ বাড়িয়েই গেলেন।
2CH 33:24 আমোনের কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁর রাজপ্রাসাদেই তাঁকে হত্যা করল।
2CH 33:25 তখন দেশের প্রজারা সেইসব লোককে হত্যা করল, যারা রাজা আমোনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল, এবং তারা তাঁর স্থানে তাঁর ছেলে যোশিয়কে রাজা করল।
2CH 34:1 যোশিয় আট বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি একত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন।
2CH 34:2 সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, যোশিয় তাই করলেন এবং তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের পথেই চলেছিলেন, ও সেখান থেকে ডাইনে বা বাঁয়ে, কোনোদিকেই সরে যাননি।
2CH 34:3 যখন তাঁর বয়স বেশ কম, অর্থাৎ তাঁর রাজত্বকালের অষ্টম বছরে, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের ঈশ্বরের অন্বেষণ করতে শুরু করলেন। দ্বাদশতম বছরে, তিনি যিহূদা ও জেরুশালেমকে পরিষ্কার করে, সেখান থেকে পূজার্চনার উঁচু উঁচু স্থানগুলি, আশেরার খুঁটিগুলি ও প্রতিমার মূর্তিগুলি দূর করতে শুরু করলেন।
2CH 34:4 তাঁর পরিচালনায় বায়াল-দেবতাদের বেদিগুলি ভেঙে ফেলা হল; সেগুলির উপরদিকে যে ধূপবেদিগুলি ছিল, সেগুলি তিনি কেটে টুকরো টুকরো করে দিলেন, এবং আশেরার খুঁটিগুলি ও প্রতিমার মূর্তিগুলিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন। সেগুলি ভেঙে গুঁড়ো করে সেই চূর্ণ তিনি তাদের কবরের উপর ছড়িয়ে দিলেন, যারা সেগুলির কাছে নৈবেদ্য উৎসর্গ করত।
2CH 34:5 তাদের বেদিতেই তিনি পূজারিদের অস্থি জ্বালিয়েছিলেন, এবং এইভাবে তিনি যিহূদা ও জেরুশালেমকে পরিষ্কার করলেন।
2CH 34:6 একেবারে নপ্তালি পর্যন্ত গিয়ে মনঃশি, ইফ্রয়িম ও শিমিয়োনের নগরগুলিতে, এবং সেগুলির আশেপাশে অবস্থিত ধ্বংসস্তূপে
2CH 34:7 তিনি বেদিগুলি ও আশেরার খুঁটিগুলি ভেঙে দিলেন এবং প্রতিমার মূর্তিগুলিও ভেঙে গুঁড়ো করে দিলেন ও ইস্রায়েলের সর্বত্র সব ধূপবেদি কেটে টুকরো টুকরো করে দিলেন। পরে তিনি জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
2CH 34:8 যোশিয়ের রাজত্বকালের অষ্টাদশতম বছরে, দেশ ও মন্দির পরিষ্কার করার লক্ষ্যে অৎসলিয়ের ছেলে শাফনকে ও নগরের শাসনকর্তা মাসেয়কে, এবং সাথে সাথে যোয়াহসের ছেলে লিপিকার যোয়াহকে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর মন্দির মেরামত করার জন্য তিনি পাঠালেন।
2CH 34:9 তারা মহাযাজক হিল্কিয়ের কাছে গেলেন এবং তাঁর হাতে সেই অর্থ তুলে দিলেন, যা ঈশ্বরের মন্দিরে আনা হল, এবং সেই অর্থ দ্বাররক্ষী লেবীয়েরা মনঃশির, ইফ্রয়িমের ও ইস্রায়েলের অবশিষ্ট সব লোকজনের, তথা যিহূদা ও বিন্যামীনের সব লোকজনের ও জেরুশালেমের অধিবাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করল।
2CH 34:10 পরে তারা সেই অর্থ সদাপ্রভুর মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত লোকজনের হাতে তুলে দিলেন। সেই লোকেরা সেইসব কর্মীকে বেতন দিয়েছিল, যারা মন্দির মেরামত ও পুনঃসংস্কার করছিল।
2CH 34:11 যিহূদার রাজারা যে ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দিলেন, সেখানকার আড়া ও কড়িকাঠ ঠিক করার জন্য মাপ করে কাটা পাথর ও কাঠ কেনার পয়সাও তারা ছুতোর ও রাজমিস্ত্রিদের দিয়েছিল।
2CH 34:12 কর্মীরা নিষ্ঠাসহকারে কাজ করল। তাদের নির্দেশ দেওয়ার জন্য মরারি বংশের যহৎ ও ওবদিয়, এবং কহাৎ বংশের সখরিয় ও মশুল্লম—এই কয়েকজন লেবীয়কে নিযুক্ত করা হল। যেসব লেবীয় বাজনা বাজাতে পারদর্শী ছিল,
2CH 34:13 তাদের দায়িত্ব দেওয়া হল, যেন তারা শ্রমিকদের দেখাশোনা করে ও বিভিন্ন কাজে লিপ্ত কর্মীদেরও তদারকি করে। এই লেবীয়দের মধ্যে কয়েকজন আবার সচিব, শাস্ত্রবিদ ও দ্বাররক্ষীও ছিল।
2CH 34:14 সদাপ্রভুর মন্দিরে যে অর্থ সংগ্রহ করা হল, সেগুলি যখন তারা বের করে আনছিল, তখন যাজক হিল্কিয় সদাপ্রভুর সেই বিধানগ্রন্থটি খুঁজে পেয়েছিলেন, যেটি মোশির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল।
2CH 34:15 হিল্কিয় সচিব শাফনকে বললেন, “সদাপ্রভুর মন্দিরে আমি বিধানগ্রন্থটি খুঁজে পেয়েছি।” এই বলে তিনি সেটি শাফনকে দিলেন।
2CH 34:16 পরে শাফন পুস্তকটি রাজার কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে এই খবর দিলেন: “আপনার কর্মকর্তাদের যা যা করতে বলা হল, তারা তা করছেন।
2CH 34:17 সদাপ্রভুর মন্দিরে যে অর্থ রাখা ছিল, তা তারা বের করে এনে তত্ত্বাবধায়ক ও কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।”
2CH 34:18 পরে সচিব শাফন রাজাকে খবর দিলেন, “যাজক হিল্কিয় আমাকে একটি পুস্তক দিয়েছেন।” এই বলে শাফন রাজার সামনে সেটি পড়ে শুনিয়েছিলেন।
2CH 34:19 বিধানের কথাগুলি শুনে রাজা নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।
2CH 34:20 হিল্কিয়কে, শাফনের ছেলে অহীকামকে, মীখার ছেলে অব্দোনকে, সচিব শাফনকে ও রাজার পরিচারক অসায়কে তিনি এই আদেশ দিলেন:
2CH 34:21 “যে পুস্তকটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, তাতে যা যা লেখা আছে, সেই বিষয়ে তোমরা সদাপ্রভুর কাছে গিয়ে আমার এবং ইস্রায়েল ও যিহূদার অবশিষ্ট লোকজনের হয়ে তাঁর কাছে খোঁজ নাও। সদাপ্রভুর মহাক্রোধ আমাদের উপর নেমে এসেছে, কারণ আমাদের পূর্বসূরিরা সদাপ্রভুর বাক্য পালন করেননি; এই পুস্তকে যা যা লেখা আছে, সেই অনুসারে তারা কাজ করেননি।”
2CH 34:22 হিল্কিয়ের সাথে রাজা আরও যাদের পাঠালেন, তাদের সাথে নিয়ে তিনি মহিলা ভাববাদী হুলদার সাথে কথা বলতে গেলেন। এই হুলদা জামাকাপড় রক্ষণাবেক্ষণকারী হস্রহের নাতি, ও তোখতের ছেলে শল্লুমের স্ত্রী ছিলেন। জেরুশালেমে নতুন পাড়ায় হুলদা বসবাস করতেন।
2CH 34:23 তিনি তাদের বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমার কাছে যিনি তোমাদের পাঠিয়েছেন, তাঁকে গিয়ে বলো,
2CH 34:24 ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি এই স্থানটির উপর ও এখানকার লোকজনের উপর সর্বনাশ ডেকে আনতে চলেছি—তা সেইসব অভিশাপ, যা যিহূদার রাজার সামনে পঠিত সেই পুস্তকে লেখা আছে।
2CH 34:25 কারণ তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছে ও অন্যান্য দেবতাদের কাছে ধূপ পুড়িয়েছে এবং তাদের হাতে গড়া সব প্রতিমার মাধ্যমে আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছে, আমার ক্রোধ এই স্থানটির উপর আমি ঢেলে দেব ও তা প্রশমিত হবে না।’
2CH 34:26 সদাপ্রভুর কাছে খোঁজ নেওয়ার জন্য যিনি তোমাদের পাঠিয়েছেন, যিহূদার সেই রাজাকে গিয়ে বলো, ‘তোমরা যা যা শুনলে, সেই বিষয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন:
2CH 34:27 যেহেতু তোমার অন্তর সংবেদনশীল ও ঈশ্বর যখন এই স্থানটির ও এখানকার লোকজনের বিরুদ্ধে কথা বললেন, তখন সেকথা শুনে তুমি ঈশ্বরের সামনে নিজেকে নত করলে, এবং যেহেতু তুমি আমার সামনে নিজেকে নত করলে ও তোমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিলে ও আমার সামনে কেঁদেছিলে, তাই আমি তোমার কথা শুনেছি, সদাপ্রভু একথাই ঘোষণা করে দিয়েছেন।
2CH 34:28 এখন আমি তোমাকে তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে পাঠিয়ে দেব, এবং শান্তিতেই তোমার কবর হবে। এই স্থানটির ও এখানকার লোকজনের উপর আমি যে সর্বনাশ ডেকে আনতে চলেছি, তা তোমাকে স্বচক্ষে দেখতে হবে না।’ ” অতএব তারা হুলদার এই উত্তর নিয়ে রাজার কাছে ফিরে গেলেন।
2CH 34:29 তখন যিহূদা ও জেরুশালেমের সব প্রাচীনকে রাজা এক স্থানে ডেকে পাঠালেন।
2CH 34:30 যিহূদার প্রজাদের, জেরুশালেমের অধিবাসীদের, যাজক ও লেবীয়দের—ছোটো থেকে বড়ো, সব লোকজনকে সাথে নিয়ে তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে গেলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরে যে নিয়ম-পুস্তকটি খুঁজে পাওয়া গেল, তার সব কথা তিনি লোকদের পড়ে শুনিয়েছিলেন।
2CH 34:31 রাজা নিজের স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে, সদাপ্রভুর সামনে নিয়মের এই নিয়ম নতুন করে নিয়েছিলেন—তিনি সদাপ্রভুর পথে চলবেন, এবং তাঁর আদেশ, আইনকানুন ও বিধিনিয়ম মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে পালন করবেন, এবং এই পুস্তকে লেখা নিয়মের কথাগুলির বাধ্য হয়েও চলবেন।
2CH 34:32 পরে জেরুশালেম ও বিন্যামীনের প্রত্যেকটি লোককে দিয়েও তিনি তা পালন করার শপথ করিয়ে নিয়েছিলেন; জেরুশালেমের লোকজন ঈশ্বরের, তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা করল।
2CH 34:33 ইস্রায়েলীদের অধিকারভুক্ত সব এলাকা থেকে যোশিয় সব ঘৃণ্য প্রতিমার মূর্তি দূর করলেন, এবং ইস্রায়েলে উপস্থিত সবাইকে তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করতে বাধ্য করলেন। তিনি যতদিন বেঁচেছিলেন, ততদিন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর পথে চলতে ব্যর্থ হয়নি।
2CH 35:1 যোশিয় জেরুশালেমে সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব পালন করলেন, এবং প্রথম মাসের চতুর্দশতম দিনে নিস্তারপর্বের মেষশাবক বধ করা হল।
2CH 35:2 যাজকদের তিনি তাদের কাজে নিযুক্ত করলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের সেবাকাজ করার জন্য তাদের উৎসাহিত করলেন।
2CH 35:3 যারা সমগ্র ইস্রায়েলকে শিক্ষা দিতেন ও সদাপ্রভুর উদ্দেশে যাদের উৎসর্গ করা হয়েছিল, সেই লেবীয়দের তিনি বললেন: “ইস্রায়েলের রাজা দাউদের ছেলে শলোমন যে মন্দিরটি তৈরি করেছেন, পবিত্র নিয়ম-সিন্দুকটি তোমরা সেই মন্দিরে নিয়ে গিয়ে রাখো। সেটি আর তোমাদের কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াতে হবে না। এখন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ও তাঁর প্রজাদের সেবা করো।
2CH 35:4 ইস্রায়েলের রাজা দাউদ ও তাঁর ছেলে শলোমন যে নির্দেশাবলি লিখে রেখে গিয়েছেন, সেই নির্দেশাবলি অনুসারে, তোমাদের বংশানুক্রমিক বিভাগ ধরে ধরে তোমরা নিজেদের প্রস্তুত করো।
2CH 35:5 “তোমাদের সমগোত্রীয় ইস্রায়েলীদের, সেই সাধারণ মানুষজনের বংশের এক-একটি শাখার জন্য একদল করে লেবীয় সাথে নিয়ে তোমরা পবিত্রস্থানে গিয়ে দাঁড়াও।
2CH 35:6 নিস্তারপর্বের মেষশাবকগুলি বধ করো, ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেদের উৎসর্গ করো ও মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু যে আদেশ দিয়েছেন, সেই আদেশানুসারে সবকিছু করে তোমরা তোমাদের সমগোত্রীয় ইস্রায়েলীদের জন্য মেষশাবকগুলি ঠিকঠাক করে রাখো।”
2CH 35:7 সেখানে উপস্থিত সব সাধারণ লোকজনের জন্য নিস্তারপর্বীয় নৈবেদ্যরূপে যোশিয় মোট 30,000 মেষশাবক ও ছাগল দিলেন এবং তিন হাজার গবাদি পশুও দিলেন—এসবই দেওয়া হল রাজার নিজের বিষয়সম্পত্তি থেকে।
2CH 35:8 তাঁর কর্মকর্তারাও প্রজাদের এবং যাজকদের ও লেবীয়দের জন্য স্বেচ্ছায় দান দিলেন। হিল্কিয়, সখরিয় ও যিহীয়েল, ঈশ্বরের মন্দিরের দায়িত্ব বহনকারী এই কর্মকর্তারাও যাজকদের 2,600 নিস্তারপর্বীয় নৈবেদ্য ও 3,000 গবাদি পশু দিলেন।
2CH 35:9 লেবীয়দের নেতৃত্বে থাকা কনানিয় এবং তাঁর সাথে সাথে শময়িয় ও নথনেল, তাঁর এই ভাইরা, এবং হশবিয়, যীয়ীয়েল ও যোশাবদও লেবীয়দের জন্য 5,000 নিস্তারপর্বীয় নৈবেদ্য ও 500 গবাদি পশু দিলেন।
2CH 35:10 রাজার আদেশানুসারে সেবাকাজের বন্দোবস্ত করা হল এবং যাজকেরা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে গেলেন ও লেবীয়েরাও তাদের বিভাগ অনুসারে দাঁড়িয়ে পড়েছিল।
2CH 35:11 নিস্তারপর্বের মেষশাবকগুলি বধ করা হল, এবং যাজকদের হাতে যে রক্ত তুলে দেওয়া হল, তারা সেই রক্ত যজ্ঞবেদিতে ছিটিয়ে দিলেন। অন্যদিকে লেবীয়েরা পশুগুলির ছাল ছাড়িয়েছিল।
2CH 35:12 মোশির পুস্তকে যেমন লেখা হয়েছিল, সেই অনুসারে তারা প্রজাদের বিভিন্ন বংশের শাখাগুলিকে দেওয়ার জন্য হোমবলি আলাদা করে রেখেছিল, যেন তারা সেগুলি সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করতে পারে। গবাদি পশুগুলির ক্ষেত্রেও তারা একই কাজ করল।
2CH 35:13 যেমন নির্দেশ দেওয়া হল, সেই নির্দেশ অনুসারেই তারা নিস্তারপর্বের পশুগুলি আগুনে ঝলসে নিয়েছিল, এবং পবিত্র নৈবেদ্যগুলি হাঁড়িতে, কড়াইয়ে ও চাটুতে সেদ্ধ করে তাড়াতাড়ি সব লোককে সেগুলি পরিবেশন করল।
2CH 35:14 পরে, তারা নিজেদের ও যাজকদের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, কারণ যাজকেরা, অর্থাৎ হারোণের বংশধরেরা, গভীর রাত পর্যন্ত হোমবলি ও চর্বিদার অংশগুলি উৎসর্গ করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই লেবীয়েরা, নিজেদের ও হারোণের বংশোদ্ভূত যাজকদের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।
2CH 35:15 আসফের বংশধর, অর্থাৎ বাদ্যকরেরা সেই স্থানগুলিতে ছিল, যেখানে থাকার নির্দেশ দাউদ, আসফ, হেমন ও রাজার দর্শক যিদূথূন, তাদের দিলেন। প্রত্যেকটি দরজায় মোতায়েন দ্বাররক্ষীদের, তাদের কাজ ছেড়ে আসার দরকার পড়েনি, কারণ তাদের সমগোত্রীয় লেবীয়েরাই তাদের হয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিল।
2CH 35:16 তাই সেই সময় রাজা যোশিয়ের আদেশানুসারে নিস্তারপর্ব পালনের জন্য সদাপ্রভুর সম্পূর্ণ সেবাকাজ ও সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদিতে হোমবলি উৎসর্গ করার কাজও সম্পন্ন হল।
2CH 35:17 সেখানে উপস্থিত ইস্রায়েলীরা সেই সময় নিস্তারপর্ব পালন করল এবং সাত দিন ধরে খামিরবিহীন রুটির উৎসব পালন করল।
2CH 35:18 ভাববাদী শমূয়েলের পর থেকে ইস্রায়েলে এভাবে আর কখনও নিস্তারপর্ব পালন করা হয়নি; এবং যাজক, লেবীয় ও জেরুশালেমের লোকজনের সাথে সেখানে যিহূদা ও ইস্রায়েলের আরও যেসব লোক উপস্থিত ছিল, তাদের সাথে নিয়ে যোশিয় যেভাবে নিস্তারপর্ব পালন করলেন, ইস্রায়েলের কোনও রাজা সেভাবে আর কখনও নিস্তারপর্ব পালন করেননি।
2CH 35:19 যোশিয়ের রাজত্বকালের অষ্টাদশ বছরে এই নিস্তারপর্বটি পালন করা হল।
2CH 35:20 এসব কিছু হয়ে যাওয়ার পর, যোশিয় যখন মন্দিরের বেহাল দশা ঠিক করে দিলেন, তখন মিশরের রাজা নখো ইউফ্রেটিস নদীতীরে কর্কমীশে যুদ্ধ করতে গেলেন, এবং যোশিয় তাঁর মুখোমুখি হওয়ার জন্য যুদ্ধযাত্রা করলেন।
2CH 35:21 কিন্তু নখো তাঁর কাছে দূত পাঠিয়ে তাঁকে বললেন, “হে যিহূদার রাজা, আপনার ও আমার মধ্যে কি কোনও ঝগড়া-বিবাদ আছে? এসময় আমি তো আপনাকে আক্রমণ করতে আসিনি, কিন্তু তাদেরই আক্রমণ করতে এসেছি, যাদের সাথে আমার যুদ্ধ চলছে। ঈশ্বর আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলেছেন; তাই যে ঈশ্বর আমার সাথে আছেন, আপনি সেই ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করা বন্ধ করুন, তা না হলে তিনি আপনাকে ধ্বংস করে দেবেন।”
2CH 35:22 যোশিয় অবশ্য, তাঁর কাছ থেকে ফিরে আসেননি, কিন্তু ছদ্মবেশ ধারণ করে তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। ঈশ্বরের আদেশে নখো তাঁকে যা বললেন, তিনি সেকথায় কান দেননি কিন্তু মগিদ্দোর সমভূমিতে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন।
2CH 35:23 তিরন্দাজরা রাজা যোশিয়ের দিকে তির ছুঁড়েছিল, এবং তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের বললেন, “আমাকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাও; আমি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছি।”
2CH 35:24 তাই তারা তাঁকে তাঁর রথ থেকে নামিয়ে এনেছিলেন, অন্য একটি রথে বসিয়ে দিলেন এবং তাঁকে জেরুশালেমে ফিরিয়ে এনেছিলেন, যেখানে তিনি মারা গেলেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরে তাঁকে কবর দেওয়া হল, এবং যিহূদা ও জেরুশালেমে সবাই তাঁর জন্য শোকপ্রকাশ করল।
2CH 35:25 যিরমিয় যোশিয়ের জন্য বিলাপ-গীত রচনা করলেন, এবং আজও পর্যন্ত গায়ক-গায়িকারা বিলাপ-গীতের মধ্যে দিয়ে যোশিয়কে স্মরণ করে। এটি ইস্রায়েলে এক ঐতিহ্য-পরম্পরায় পরিণত হয়েছে ও বিলাপ-গীতের পুস্তকে তা লেখা আছে।
2CH 35:26 যোশিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা ও সদাপ্রভুর বিধানে যা লেখা আছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি নিষ্ঠাসহকারে যা যা করলেন—
2CH 35:27 শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেসব ঘটনা ইস্রায়েল ও যিহূদার রাজাদের পুস্তকে লেখা আছে।
2CH 36:1 দেশের প্রজারা যোশিয়ের ছেলে যিহোয়াহসকে নিয়ে জেরুশালেমে তাঁকে তাঁর বাবার পদে রাজা করল।
2CH 36:2 যিহোয়াহস তেইশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি তিন মাস রাজত্ব করলেন।
2CH 36:3 মিশরের রাজা জেরুশালেমে তাঁকে সিংহাসনচ্যূত করলেন এবং যিহূদার উপর একশো তালন্ত রুপো ও এক তালন্ত সোনা কর ধার্য করলেন।
2CH 36:4 যিহোয়াহসের এক ভাই ইলিয়াকীমকে মিশরের রাজা যিহূদা ও জেরুশালেমের রাজা করলেন এবং ইলিয়াকীমের নাম পরিবর্তন করে যিহোয়াকীম রেখেছিলেন। কিন্তু নখো ইলিয়াকীমের দাদা যিহোয়াহসকে ধরে মিশরে নিয়ে গেলেন।
2CH 36:5 যিহোয়াকীম পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি এগারো বছর রাজত্ব করলেন। তিনি তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তাই করলেন।
2CH 36:6 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার তাঁকে আক্রমণ করলেন এবং ব্রোঞ্জের শিকল দিয়ে বেঁধে তাঁকে ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন।
2CH 36:7 সদাপ্রভুর মন্দির থেকে নেবুখাদনেজার জিনিসপত্রও ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন ও সেগুলি সেখানে তাঁর মন্দিরে রেখে দিলেন।
2CH 36:8 যিহোয়াকীমের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, যেসব ঘৃণ্য কাজ তিনি করলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যা কিছু বলা যেতে পারে, সেসব ইস্রায়েল ও যিহূদার রাজাদের পুস্তকে লেখা আছে। তাঁর ছেলে যিহোয়াখীন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
2CH 36:9 যিহোয়াখীন আঠারো বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি তিন মাস দশদিন রাজত্ব করলেন। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তিনি তাই করলেন।
2CH 36:10 বসন্তকালে, রাজা নেবুখাদনেজার লোক পাঠিয়ে তাঁকে, ও তাঁর সাথে সাথে সদাপ্রভুর মন্দিরের দামি দামি সব জিনিসপত্রও ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন, এবং যিহোয়াখীনের কাকা সিদিকিয়কে যিহূদা ও জেরুশালেমের রাজা করলেন।
2CH 36:11 সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজা হন। তিনি এগারো বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন।
2CH 36:12 তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা মন্দ, তিনি তাই করলেন এবং সেই ভাববাদী যিরমিয়ের সামনে নিজেকে নত করেননি, যিনি সদাপ্রভুর বাক্য বললেন।
2CH 36:13 এছাড়া তিনি সেই নেবুখাদনেজারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করলেন, যিনি ঈশ্বরের নামে তাঁকে দিয়ে শপথ করিয়েছিলেন। তিনি একগুঁয়ে হয়ে গেলেন এবং অন্তর কঠোর করলেন ও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিকে ফিরে আসেননি।
2CH 36:14 তা ছাড়া, যাজকদের সব নেতা ও প্রজারাও অন্যান্য জাতিদের ঘৃণ্য প্রথা অনুসরণ করে ও সদাপ্রভুর যে মন্দিরটিকে তিনি জেরুশালেমে নিজের উদ্দেশে উৎসর্গ করে রেখেছিলেন, সেই মন্দিরটিকে অশুচি করে আরও বেশি অবিশ্বস্ত হয়ে গেল।
2CH 36:15 তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু বারবার তাঁর দূতদের মাধ্যমে তাদের কাছে খবর দিয়ে পাঠাতেন, যেহেতু তাঁর প্রজাদের ও তাঁর বাসস্থানের প্রতি তাঁর মমতা ছিল
2CH 36:16 কিন্তু তারা তাঁর দূতদের বিদ্রুপ করত, তাঁর বাক্য অগ্রাহ্য করত ও ততদিন পর্যন্ত তাঁর ভাববাদীদের টিটকিরি দিয়ে গেল, যতদিন না তাঁর প্রজাদের প্রতি সদাপ্রভুর ক্রোধ জেগে উঠেছিল ও এর কোনও প্রতিকার হয়নি।
2CH 36:17 তাদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যাবিলনীয়দের সেই রাজাকে উঠিয়ে নিয়ে এলেন, যিনি পবিত্র পীঠস্থানের মধ্যেই তরোয়াল চালিয়ে তাদের যুবকদের হত্যা করলেন, এবং যুবক বা যুবতী, বয়স্ক বা শিশু, কাউকেই রেহাই দেননি। ঈশ্বর তাদের সবাইকে নেবুখাদনেজারের হাতে সঁপে দিলেন।
2CH 36:18 ঈশ্বরের মন্দিরের বড়ো-ছোটো, সব জিনিসপত্র, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের ধনসম্পদ ও রাজা তথা তাঁর কর্মকর্তাদের ধনসম্পদও তিনি ব্যাবিলনে তুলে নিয়ে গেলেন।
2CH 36:19 ঈশ্বরের মন্দিরে তারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং জেরুশালেমের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছিল; সব প্রাসাদ তারা জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং সেখানকার মূল্যবান সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল।
2CH 36:20 যারা তরোয়ালের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল, অবশিষ্ট সেই লোকজনকে তিনি ব্যাবিলনে তুলে নিয়ে গেলেন, এবং যতদিন না পারস্য সাম্রাজ্য ক্ষমতায় এসেছিল, ততদিন তারা তাঁর ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের দাস হয়েই ছিল।
2CH 36:21 দেশ সাব্বাথের বিশ্রাম উপভোগ করল; দেশে যতদিন উচ্ছিন্ন দশা চলেছিল, যিরমিয়ের মাধ্যমে বলা সদাপ্রভুর বাক্য পূর্ণতা পেয়ে সেই সত্তর বছর যতদিন না সম্পূর্ণ হল, ততদিন দেশ বিশ্রাম ভোগ করল।
2CH 36:22 পারস্যের রাজা কোরসের প্রথম বছরে যিরমিয়ের মাধ্যমে বলা সদাপ্রভুর বাক্য সফল করার জন্য সদাপ্রভু পারস্যের রাজা কোরসের অন্তরে এই ইচ্ছা দিলেন, যেন তাঁর সাম্রাজ্যে সর্বত্র তিনি এই কথা ঘোষণা করে দেন ও তা লিখেও রাখেন:
2CH 36:23 “পারস্য-রাজ কোরস একথাই বলেন: “ ‘স্বর্গের ঈশ্বর সদাপ্রভু পৃথিবীর সব রাজ্য আমাকে দিয়েছেন এবং তিনি আমাকে নিযুক্ত করেছেন, যেন আমি তাঁর জন্য যিহূদা প্রদেশের জেরুশালেমে এক মন্দির নির্মাণ করি। তোমাদের মধ্যে, অর্থাৎ তাঁর প্রজাদের মধ্যে যে কেউ সেখানে যেতে পারে, এবং তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেন তাদের সাথে থাকেন।’ ”
EZR 1:1 পারস্যের রাজা কোরসের প্রথম বছরে যিরমিয়ের মাধ্যমে বলা সদাপ্রভুর বাক্য সফল করার জন্য সদাপ্রভু পারস্যের রাজা কোরসের অন্তরে এই ইচ্ছা দিলেন, যেন তাঁর সাম্রাজ্যে সর্বত্র তিনি এই কথা ঘোষণা করে দেন ও তা লিখেও রাখেন:
EZR 1:2 “পারস্য-রাজ কোরস একথাই বলেন: “ ‘স্বর্গের ঈশ্বর সদাপ্রভু পৃথিবীর সব রাজ্য আমাকে দিয়েছেন এবং তিনি আমাকে নিযুক্ত করেছেন, যেন আমি তাঁর জন্য যিহূদা প্রদেশের জেরুশালেমে এক মন্দির নির্মাণ করি।
EZR 1:3 তাঁর মনোনীত, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি ইচ্ছা করে, ঈশ্বর তাঁর সহবর্তী থাকুন, তবে সে যিহূদা প্রদেশের জেরুশালেমে গিয়ে উপস্থিত হোক এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু যিনি জেরুশালেমে অবস্থান করেন, তার জন্য সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করুক।
EZR 1:4 যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তাঁর অবশিষ্ট প্রজাদের মধ্যে যে কেউ জেরুশালেমে ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণের জন্য তাঁর সোনারুপো, অন্য বস্তুসামগ্রী, গবাদি পশু ও স্বেচ্ছাদান নিবেদন করুক।’ ”
EZR 1:5 এই আদেশনামা শুনে যিহূদার ও বিন্যামীন গোষ্ঠীর প্রধানেরা, যাজকবর্গ এবং লেবীয়েরা—যাদের হৃদয় ঈশ্বর অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তারা সকলে প্রস্তুত হয়ে জেরুশালেমে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করতে গেল।
EZR 1:6 তাদের প্রতিবেশীরা সোনারুপো, অন্যান্য বস্তুসামগ্রী, গবাদি পশু এবং মূল্যবান দ্রব্যাদি দিয়ে তাদের সাহায্য করল এবং সেই সঙ্গে তারা স্বেচ্ছাদানও নিবেদন করল।
EZR 1:7 এছাড়া জেরুশালেম মন্দিরে সদাপ্রভুর জন্য নিরূপিত যে সমস্ত সামগ্রী নেবুখাদনেজার তাঁর উপাস্য দেবতার মন্দিরে এনে রেখেছিলেন সম্রাট কোরস সেগুলিও বার করে এনে দিলেন।
EZR 1:8 পারস্য রাজা কোরস রাজকোষের কর্মকর্তা মিত্রদাতের মাধ্যমে সামগ্রীগুলি আনালেন এবং সেগুলি গণনা করিয়ে যিহূদার শাসনকর্তা শেশ্‌বসরের কাছে প্রত্যার্পণ করলেন।
EZR 1:9 দ্রব্য সামগ্রীগুলির তালিকায় ছিল, সোনার থালা 30 রুপোর থালা 1,000 রুপোর পাত্র 29
EZR 1:10 সোনার গামলা 30 রুপোর বিভিন্ন প্রকারের গামলা 410 অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী 1,000
EZR 1:11 সর্বমোট, সোনার ও রুপোর দ্রব্যসামগ্রীর সংখ্যা ছিল 5,400-টি। ব্যাবিলন থেকে জেরুশালেমে যখন নির্বাসিতেরা প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তাদের সঙ্গে শেশ্‌বসর ওই সামগ্রীগুলি এনেছিলেন।
EZR 2:1 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যাদের বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সেই প্রদেশের এইসব লোকজন নির্বাসন কাটিয়ে জেরুশালেম ও যিহূদায় নিজের নিজের নগরে ফিরে এসেছিল।
EZR 2:2 তারা সরুব্বাবিল, যেশূয়, নহিমিয়, সরায়, রিয়েলায়, মর্দখয়, বিল্‌শন, মিস্পর, বিগ্‌বয়, রহূম ও বানার সঙ্গে ফিরে এসেছিল। ইস্রায়েলী পুরুষদের তালিকা:
EZR 2:3 পরোশের বংশধর, 2,172 জন;
EZR 2:4 শফটিয়ের বংশধর, 372 জন;
EZR 2:5 আরহের বংশধর, 775 জন;
EZR 2:6 (যেশূয় ও যোয়াবের সন্তানদের মধ্যে) পহৎ-মোয়াবের বংশধর, 2,812 জন;
EZR 2:7 এলমের বংশধর, 1,254 জন;
EZR 2:8 সত্তূরের বংশধর, 945 জন;
EZR 2:9 সক্কয়ের বংশধর, 760 জন;
EZR 2:10 বানির বংশধর, 642 জন;
EZR 2:11 বেবয়ের বংশধর, 623 জন;
EZR 2:12 অস্‌গদের বংশধর, 1,222 জন;
EZR 2:13 অদোনীকামের বংশধর, 666 জন;
EZR 2:14 বিগ্‌বয়ের বংশধর, 2,056 জন;
EZR 2:15 আদীনের বংশধর, 454 জন;
EZR 2:16 (হিষ্কিয়ের বংশজাত) আটেরের বংশধর, 98 জন;
EZR 2:17 বেৎসয়ের বংশধর, 323 জন;
EZR 2:18 যোরাহের বংশধর, 112 জন;
EZR 2:19 হশুমের বংশধর, 223 জন;
EZR 2:20 গিব্বরের বংশধর, 95 জন।
EZR 2:21 বেথলেহেমের লোকেরা, 123 জন;
EZR 2:22 নটোফার লোকেরা, 56 জন;
EZR 2:23 অনাথোতের লোকেরা, 128 জন;
EZR 2:24 অস্‌মাবতের লোকেরা, 42 জন;
EZR 2:25 কিরিয়ৎ-যিয়ারীম, কফীরা ও বেরোতের লোকেরা, 743 জন;
EZR 2:26 রামার ও গেবার লোকেরা, 621 জন;
EZR 2:27 মিক্‌মসের লোকেরা, 122 জন;
EZR 2:28 বেথেল ও অয়ের লোকেরা, 223 জন;
EZR 2:29 নেবোর লোকেরা, 52 জন;
EZR 2:30 মগ্‌বীশের লোকেরা, 156 জন;
EZR 2:31 অন্য এলমের লোকেরা, 1,254 জন;
EZR 2:32 হারীমের লোকেরা, 320 জন;
EZR 2:33 লোদ, হাদীদ ও ওনোর লোকেরা, 725 জন;
EZR 2:34 যিরীহোর লোকেরা, 345 জন;
EZR 2:35 সনায়ার লোকেরা, 3,630 জন।
EZR 2:36 যাজকবর্গ: (যেশূয়ের বংশের মধ্যে) যিদয়িয়ের বংশধর, 973 জন;
EZR 2:37 ইম্মেরের বংশধর, 1,052 জন;
EZR 2:38 পশ্‌হূরের বংশধর, 1,247 জন;
EZR 2:39 হারীমের বংশধর, 1,017 জন।
EZR 2:40 লেবীয়বর্গ: (হোদবিয়ের বংশজাত) যেশূয় ও কদ্‌মীয়েলের বংশধর, 74 জন।
EZR 2:41 গায়কবৃন্দ: আসফের বংশধর, 128 জন।
EZR 2:42 মন্দিরের দ্বাররক্ষীবর্গ: শল্লুম, আটের, টল্‌মোন, অক্কূব, হটীটা ও শোবয়ের বংশধর, 139 জন।
EZR 2:43 মন্দিরের পরিচারকবৃন্দ: সীহ, হসূফা, টব্বায়োত,
EZR 2:44 কেরোস, সীয়, পাদোন,
EZR 2:45 লবানা, হগাব, অক্কূব,
EZR 2:46 হাগব, শল্‌ময়, হানন,
EZR 2:47 গিদ্দেল, গহর, রায়া,
EZR 2:48 রৎসীন, নকোদ, গসম,
EZR 2:49 ঊষ, পাসেহ, বেষয়,
EZR 2:50 অস্না, মিয়ূনীম, নফূষীম,
EZR 2:51 বক্‌বূক, হকূফা, হর্হূর,
EZR 2:52 বসলূত, মহীদা, হর্শা,
EZR 2:53 বর্কোস, সীষরা, তেমহ,
EZR 2:54 নৎসীহ ও হটীফার বংশধর।
EZR 2:55 শলোমনের দাসদের বংশধর: সোটয়, হস্‌সোফেরত, পরূদা,
EZR 2:56 যালা, দর্কোন, গিদ্দেল,
EZR 2:57 শফটিয়, হটীল, পোখেরৎ-হৎসবায়ীম ও আমীর বংশধর।
EZR 2:58 মন্দিরের দাসেরা এবং শলোমনের দাসদের বংশধর 392 জন।
EZR 2:59 তেল্-মেলহ, তেল্-হর্শা, করূব, অদ্দন ও ইম্মের, এসব স্থান থেকে নিম্নলিখিত লোকেরা এসেছিল, কিন্তু তারা ইস্রায়েলী লোক কি না, এ বিষয়ে নিজ নিজ পিতৃকুলের প্রমাণ দিতে পারল না:
EZR 2:60 দলায়, টোবিয় ও নকোদের বংশধর, 652 জন।
EZR 2:61 আর যাজকদের মধ্যে: হবায়ের, হক্কোষের ও বর্সিল্লয়ের বংশধর (এই বর্সিল্লয় গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল এবং তাকে সেই নামেই ডাকা হত)।
EZR 2:62 বংশতালিকায় এই লোকেরা তাদের বংশের খোঁজ করেছিল, কিন্তু পায়নি এবং সেই কারণে তারা অশুচি বলে তাদের যাজকের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
EZR 2:63 শাসনকর্তা তাদের এই আদেশ দিয়েছিলেন, যে ঊরীম ও তুম্মীম ব্যবহারকারী কোনো যাজক না আসা পর্যন্ত যেন লোকেরা কোনও মহাপবিত্র খাদ্য ভোজন না করে।
EZR 2:64 সর্বমোট তাদের সংখ্যা ছিল 42,360 জন।
EZR 2:65 এছাড়া তাদের দাস-দাসী ছিল 7,337 জন; এবং তাদের 200 জন গায়ক-গায়িকাও ছিল।
EZR 2:66 তাদের 736-টি ঘোড়া, 245-টি খচ্চর,
EZR 2:67 435-টি উট এবং 6,720-টি গাধা ছিল।
EZR 2:68 যখন তারা জেরুশালেমে সদাপ্রভুর গৃহে এসে উপস্থিত হল, তখন পিতৃকুলপতিদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট স্থানে মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজে তাদের স্বেচ্ছাদান নিবেদন করলেন।
EZR 2:69 তাদের ক্ষমতানুযায়ী কাজের জন্য সৃষ্ট ভাণ্ডারে তারা দান দিলেন। তাদের স্বেচ্ছাদানের পরিমাণ ছিল 61,000 অদর্কোন সোনা, 5,000 মানি রুপো, এবং 100-টি যাজকীয় পরিধেয় বস্ত্র।
EZR 2:70 যাজকেরা, লেবীয়েরা, গায়কেরা, দ্বাররক্ষীরা এবং মন্দিরের দাসেরা অন্যান্য কিছু লোকের, এবং অবশিষ্ট ইস্রায়েলীদের সঙ্গে নিজের নিজের নগরে বসবাস করতে লাগল।
EZR 3:1 ইস্রায়েলীরা যখন নিজেদের নগরগুলিতে বাস করছিল, সেই সময় সপ্তম মাসে তারা সকলে একযোগে জেরুশালেম নগরে এসে মিলিত হল।
EZR 3:2 যোষাদকের পুত্র যেশূয় ও তাঁর সহ যাজক ভাইরা এবং শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল এবং তাঁর পরিজনেরা ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বরের বেদি নির্মাণের কাজ শুরু করল যেন ঈশ্বরের পরম অনুগত মোশির বিধানে যে সমস্ত কথা লিখিত আছে তদনুযায়ী তারা হোমবলি উৎসর্গ করতে পারে।
EZR 3:3 তাদের চারপাশে বসবাসকারী লোকেদের ভয়ে ভীত হওয়া সত্ত্বেও তারা পূর্বেকার স্থানেই বেদিটি নির্মাণ করল। তারা সকাল ও সন্ধ্যায় সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে হোমবলি উৎসর্গ করতে লাগল।
EZR 3:4 এরপর লিখিত বিধান অনুযায়ী তারা কুটিরবাস-পর্ব উদ্‌যাপন করল। প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক হোমবলিও তারা সেই সঙ্গে উৎসর্গ করল।
EZR 3:5 এরপর তারা নিয়মিত হোমবলি, অমাবস্যার বলি এবং সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিরূপিত পবিত্র উৎসবাদির বলিও উৎসর্গ করল। সেই সঙ্গে অনেকে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাদের স্বেচ্ছার দান আনল।
EZR 3:6 তখনও মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজ আরম্ভ না হওয়া সত্ত্বেত্ত সপ্তম মাসের প্রথম দিন থেকেই লোকেরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি উৎসর্গ করা শুরু করল।
EZR 3:7 এরপর তারা রাজমিস্ত্রি এবং ছুতোরমিস্ত্রিদের অর্থ দিল এবং সীদোন ও সোরের লোকেদের খাদ্য, পানীয় ও তেল দিল যেন পারস্য-সম্রাট কোরস যেমন অনুমোদন করেছিলেন সেইমতো লেবানন থেকে জোপ্পাতে সমুদ্রপথে তারা সিডার কাঠ নিয়ে আসে।
EZR 3:8 দ্বিতীয় বছরের দ্বিতীয় মাসে শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল ও যোষাদকের পুত্র যেশূয় এবং তাদের ভাইদের অবশিষ্টাংশ (নির্বাসন থেকে জেরুশালেমে যে যাজকবৃন্দ ও লেবীয়েরা প্রত্যাবর্তন করেছিল) তাদের কাজ আরম্ভ করল। লেবীয়দের মধ্যে কুড়ি বছর বা তাঁর ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের সকলকে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধায়করূপে নিযুক্ত করা হল।
EZR 3:9 যেশূয়, তাঁর পুত্র ও ভাইদের এবং (হোদাবিয়ের বংশজাত) কদ্‌মীয়েল ও তাঁর পুত্রগণ হেনাদদের সন্তান ও ভৃত্যগণ সকল লেবীয় একসঙ্গে ঈশ্বরের মন্দির যারা নির্মাণ করছিল তাদের তত্ত্বাবধান করতে লাগল।
EZR 3:10 সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণকারীরা যখন ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করছিল, তখন যাজকেরা নিজেদের নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে তূরী সঙ্গে নিয়ে নিজেদের নিরূপিত স্থানে এসে দাঁড়াল। সদাপ্রভুর উদ্দেশে স্তুতিগান করার জন্য ইস্রায়েলের রাজা দাউদের নির্দেশসহ লেবীয়েরাও (আসফের বংশজাত) করতাল নিয়ে তাদের নিরূপিত স্থানে এসে দাঁড়াল।
EZR 3:11 সদাপ্রভুর উদ্দেশে তারা এই ধন্যবাদ ও প্রশংসা সংগীত নিবেদন করল “তিনি মঙ্গলময়; ইস্রায়েলের প্রতি তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।” অন্য সকলে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উচ্চরবে জয়ধ্বনি করল, কারণ সদাপ্রভুর মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
EZR 3:12 কিন্তু অনেক প্রবীণ যাজক, লেবীয় গোষ্ঠীপতি, যারা পূর্বেকার মন্দিরটি দেখেছিলেন, তারা যখন দেখলেন যে মন্দিরের ভিত্তি স্থাপিত হচ্ছে, তখন তারা উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন। এই সময়ে অনেকে আবার আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়ে জয়ধ্বনি তুললেন।
EZR 3:13 কেউই ক্রন্দনধ্বনি থেকে জয়ধ্বনি পৃথক করতে পারল না, কারণ লোকেরা প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টি করেছিল, যা বহুদূর থেকে শোনা গিয়েছিল।
EZR 4:1 যিহূদা ও বিন্যামীনদের প্রতিপক্ষেরা যখন শুনল যে নির্বাসন থেকে প্রত্যাগত ব্যক্তিরা ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর, সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি মন্দির নির্মাণ করছে,
EZR 4:2 তখন তারা সরুব্বাবিল ও গোষ্ঠীপতিদের কাছে এসে বলল, “তোমাদের নির্মাণ কাজে আমরা সাহায্য করতে চাই, কারণ আমরাও তোমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের আরাধনা করি। আসিরিয়ার রাজা এসর-হদ্দোন যখন আমাদের এদেশে বসবাস করতে এনেছেন তখন থেকেই আমরা সেই ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলি উৎসর্গ করে চলেছি।”
EZR 4:3 কিন্তু সরুব্বাবিল, যেশূয় ও অন্যান্য গোষ্ঠীপতিরা উত্তরে বললেন, “আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণের কার্যে তোমাদের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। পারস্য-সম্রাট কোরসের আদেশমতো ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য আমরা নিজেরাই এই কাজ করতে পারব।”
EZR 4:4 তখন তাদের চারিদিকে যে সমস্ত লোক ছিল তারা যিহূদার লোকদের নিরুৎসাহ করতে চাইল এবং মন্দির নির্মাণের কাজে ভয় দেখাতে লাগল।
EZR 4:5 তারা অর্থের বিনিময়ে কিছু লোককে নিযুক্ত করল যাদের কাজ ছিল নির্মাণ কাজের ব্যাপারে সকলকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলা এবং এ ব্যপারে সমস্ত পরিকল্পনাই নস্যাৎ করে দেওয়া। পারস্য-সম্রাট কোরসের সময় থেকে সম্রাট দারিয়াবসের রাজত্বকাল পর্যন্ত এই চক্রান্ত চলছিল।
EZR 4:6 সম্রাট অহশ্বেরশের রাজত্বের শুরুতেই তারা যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকেদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করল।
EZR 4:7 পারস্য-সম্রাট অর্তক্ষস্তের শাসনকালেও বিশ্লম, মিত্রদাৎ, টাবেল ও তার সহযোগীরা সম্রাট অর্তক্ষস্তের কাছে একটি পত্র লিখল। পত্রটি অরামীয় অক্ষরে ও অরামীয় ভাষায় লেখা হয়েছিল।
EZR 4:8 প্রদেশপাল রহূম, সচিব শিম্‌শয় সম্রাট অর্তক্ষস্তের কাছে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেই পত্র লিখেছিল।
EZR 4:9 সেনাধিপতি রহূম, সচিব শিম্‌শয় ও তাদের সব সহযোগী—পারস্য, অর্কব ও ব্যাবিলনের বিচারক, কর্মকর্তা প্রশাসক, শূশনের এলমীয়েরা,
EZR 4:10 এবং অন্য সকল ব্যক্তি যাদের মহান ও সম্মানীয় অস্নপ্পর নির্বাসিত করেছিলেন এবং শমরিয়া ও ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন এলাকার সর্বত্র বসবাস করিয়েছেন, তাদের সকলের পক্ষে এই পত্র লেখা হয়েছিল।
EZR 4:11 (যে পত্রটি তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল এটি হল তারই অনুলিপি) সম্রাট অর্তক্ষস্ত সমীপেষু, ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন এলাকার জনগণের পক্ষে, আপনার সেবকবৃন্দ:
EZR 4:12 মহামান্য সম্রাটের জ্ঞাতার্থে আপনাকে অবহিত করি, যে সকল ইহুদিরা আপনার কাছ থেকে জেরুশালেমে গিয়েছে তারা সেই রাজদ্রোহ ও দুষ্টতায় ভরা নগরটিকে পুনরায় নির্মাণ করছে। তারা নগরের প্রাচীর পুনরুদ্ধার ও ভিত্তি পুনর্নির্মাণ করছে।
EZR 4:13 এছাড়াও, সম্রাটের জ্ঞাতার্থে জানাই যে যদি এই নগর পুনর্নির্মিত ও তাঁর প্রাচীর পুনর্গঠিত হয় তাহলে তারা কোনও রাজস্ব, প্রণামী ও মাশুল দেবে না। এর ফলে সম্রাটের রাজস্ব সংগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
EZR 4:14 যেহেতু আপনার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে এবং আমাদের উচিত হবে না সম্রাটের অসম্মান হোক এমন কিছু ঘটতে দেওয়া, সেইজন্য আপনার জ্ঞাতার্থে এই সংবাদ আপনার কাছে প্রেরণ করছি।
EZR 4:15 আপনি দয়া করে আপনার পূর্বসূরীদের নথিপত্রগুলি ভালো করে অনুসন্ধান করে দেখুন। সেই নথিগুলি দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে এই নগরটি কেমন বিদ্রোহীভাবাপন্ন এবং রাজাদের ও প্রদেশের পক্ষে কত বিপজ্জনক। প্রাচীনকাল থেকেই এই নগরটি রাজদ্রোহী মনোভাব দেখিয়েছে। এজন্যই নগরটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
EZR 4:16 আমরা মহামান্য সম্রাটকে জানাই যে যদি আপনি এই নগরটি পুনর্নির্মিত হতে এবং তাঁর প্রাচীরগুলি পুনরুদ্ধার হতে দেন তাহলে ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন কোনও স্থান আর আপনার অধীনে থাকবে না।
EZR 4:17 সম্রাট পত্রটির উত্তরে এই কথা লিখলেন: প্রদেশপাল রহূম, সচিব শিম্‌শয় এবং শমরিয়া ও ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ও তাদের সহযোগীবৃন্দ: শুভেচ্ছা।
EZR 4:18 আপনারা আমার কাছে যে পত্রখানি পাঠিয়েছেন সেটি আমার সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং অনুবাদ করা হয়েছে।
EZR 4:19 আমি একটি নির্দেশ পাঠিয়েছি এবং সেইমতো অনুসন্ধানও করা হয়েছে। সত্যিই এটি দেখা গেছে যে পূর্ব থেকেই নগরটি সম্রাটদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং নগরটি যথার্থই বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের জন্য কুখ্যাত।
EZR 4:20 জেরুশালেম থেকেই পরাক্রমী নৃপতিগণ একদিন ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকার সমস্ত ভূখণ্ডে রাজত্ব করতেন। তাদের রাজস্ব, প্রণামী এবং মাশুলও যথাযথভাবে প্রদান করা হত।
EZR 4:21 তোমরা শীঘ্রই ওই লোকদের কাছে এই আদেশ করো যেন তারা কাজ বন্ধ করে দেয় এবং আমি যতদিন না পুনরায় জানাচ্ছি ততদিন নগরটি যেন পুনর্নির্মিত না হয়।
EZR 4:22 সাবধান, এই বিষয়ে তোমরা শিথিল মনোভাব দেখিও না। কি কারণে এই বিপজ্জনক অবস্থাকে চলতে দেওয়া হবে যা রাজার স্বার্থকে বিঘ্নিত করবে?
EZR 4:23 রহূম ও সচিব শিম্‌শয়ের কাছে যে মুহূর্তে সম্রাট অর্তক্ষস্তের এই পত্রের অনুলিপি পাঠ করা হল, তারা তৎক্ষণাৎ জেরুশালেমে ইহুদিদের কাছে গেল এবং তাদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করল।
EZR 4:24 এইভাবে জেরুশালেমে ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেল। সম্রাট দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত সেই কাজ স্তব্ধ হয়ে রইল।
EZR 5:1 ভাববাদী হগয় ও ইদ্দোর বংশোদ্ভূত ভাববাদী সখরিয় ইস্রায়েলের সহবর্তী, তাদের আরাধ্য ঈশ্বরের নামে যিহূদা ও জেরুশালেমের ইহুদিদের কাছে প্রত্যাদেশ ঘোষণা করলেন।
EZR 5:2 তখন শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল ও যোষাদকের পুত্র যেশূয় জেরুশালেমে ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণ কাজে পুনরায় ব্যাপৃত হলেন। ঈশ্বরের ভাববাদীরাও তাদের সঙ্গে যোগদান করে সেই কাজে তাদের সাহায্য দান করলেন।
EZR 5:3 সেই সময় ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকার দেশসমূহের প্রদেশপাল তত্তনয় এবং শথর-বোষণয় ও তাদের সহযোগীবৃন্দ ইস্রায়েলীদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমাদের মন্দির পুনর্নির্মাণ এবং পরিকাঠামো গঠনের অনুমোদন দিয়েছে?”
EZR 5:4 তারা আরও জিজ্ঞাসা করলেন, “যে সমস্ত লোকেরা গৃহটি নির্মাণ করছে তাদের নাম কি?”
EZR 5:5 কিন্তু তাদের আরাধ্য ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি ইহুদিদের প্রাচীনবর্গের উপর ছিল। যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্রাট দারিয়াবসের কাছে কোনও লিখিত পত্র যাচ্ছে এবং তাঁর কাছ থেকে উত্তর আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কাজ বন্ধ করল না।
EZR 5:6 ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকার সমগ্র অঞ্চলের প্রদেশপাল তত্তনয়, শথর-বোষণয় এবং সহযোগীবৃন্দ ও উক্ত অঞ্চলের রাজকর্মচারীগণ সম্রাট দারিয়াবসের কাছে এই পত্রটি পাঠালেন।
EZR 5:7 পত্রটির প্রতিবেদন ছিল এই: সম্রাট দারিয়াবস সমীপে: আন্তরিক শুভেচ্ছা।
EZR 5:8 মহামান্য সম্রাটের জ্ঞাতার্থে জানাই যে আমরা যিহূদা প্রদেশে মহান ঈশ্বরের মন্দিরে গিয়েছিলাম। আমরা দেখলাম, লোকেরা খুব বড়ো বড়ো পাথর দিয়ে সেটিকে তৈরি করছে এবং দেওয়ালে কাঠ দেওয়া হচ্ছে। কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে কাজটি করা হচ্ছে এবং তাদের নেতৃত্বে কাজটি খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
EZR 5:9 আমরা তাদের প্রাচীনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, তাদের বললাম, “কে তোমাদের মন্দির পুনর্নির্মাণের এবং তাঁর পরিকাঠামো সংস্কার কাজের অনুমতি দিয়েছে?”
EZR 5:10 আমরা তাদের নামও জিজ্ঞাসা করলাম, যেন আমরা মহারাজকে তাদের নামগুলি লিখে জানাতে পারি।
EZR 5:11 তারা আমাদের এই উত্তর দিল: “আমরা, স্বর্গ ও পৃথিবীর ঈশ্বরের দাস। আমরা মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করছি মাত্র, কারণ এক সময় ইস্রায়েলের একজন মহান রাজা এটিকে নির্মাণ করে তাঁর সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করেছিলেন।
EZR 5:12 পরে আমাদের পিতৃপুরুষেরা স্বর্গের ঈশ্বরকে অসন্তুষ্ট করার জন্য তিনি তাদের ব্যাবিলনের রাজা কল্‌দীয় নেবুখাদনেজারের হাতে সমর্পণ করেছিলেন, যিনি এই মন্দিরটি ধ্বংস করে লোকেদের ব্যাবিলনে বন্দি করে নিয়ে যান।
EZR 5:13 “এরপর ব্যাবিলনের রাজা কোরস তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরে, একটি রাজাজ্ঞা দ্বারা ঈশ্বরের গৃহটি পুনর্নির্মাণের আদেশ দান করেন।
EZR 5:14 সেই সঙ্গে ঈশ্বরের গৃহের যে সমস্ত সোনা ও রুপোর দ্রব্যসামগ্রী রাজা নেবুখাদনেজার জেরুশালেমের মন্দির থেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাবিলনের মন্দিরে রেখেছিলেন, সেগুলিও তিনি ফেরৎ পাঠিয়েছেন। সম্রাট কোরস শেশ্‌বসর নামের একজন ব্যক্তিকেও পাঠালেন যাকে তিনি প্রদেশপাল পদে নিযুক্ত করলেন।
EZR 5:15 সম্রাট তাঁকে বললেন, ‘এই দ্রব্যসামগ্রীগুলি নিয়ে যাও এবং জেরুশালেমের মন্দিরে এগুলি রাখো। ঈশ্বরের গৃহটিকেও তাঁর পূর্বেকার স্থানে পুনর্নির্মাণ করো।’
EZR 5:16 “সেইমতো শেশ্‌বসর এলেন জেরুশালেমে ঈশ্বরের গৃহের ভিত্তি স্থাপন করলেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এর পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে এবং এখনও তা শেষ করা যায়নি।”
EZR 5:17 আমরা সেইজন্য মহারাজকে অনুরোধ করি যেন তিনি ব্যাবিলনে রাজকীয় নথিপত্র অনুসন্ধান করে দেখেন যে সম্রাট কোরস জেরুশালেমে ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণের জন্য সত্যি কোনও রাজাজ্ঞা দান করেছিলেন কি না। তারপর মহারাজ এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়ে দিন।
EZR 6:1 এরপর সম্রাট দারিয়াবস একটি আদেশ জারি করলেন এবং লোকেরা ব্যাবিলনে কোষাগার সংরক্ষিত নথিপত্র অনুসন্ধান করল।
EZR 6:2 মাদীয় প্রদেশের অক্‌মথা দুর্গে একটি পুঁথি পাওয়া গেল আর সেই পুঁথিটিতে এই কথা লেখা ছিল, স্মারক পত্র:
EZR 6:3 সম্রাট কোরসের রাজত্বের প্রথম বছরে জেরুশালেমে ঈশ্বরের মন্দির সম্পর্কে তিনি একটি রাজাজ্ঞা দান করেছিলেন: মন্দিরটি বলি উৎসর্গের স্থান হিসেবে পুনরায় নির্মিত হোক এবং এর ভিত্তি পুনরায় স্থাপিত হোক। এর উচ্চতা হবে নব্বই ফুট, প্রস্থ হবে নব্বই ফুট।
EZR 6:4 তিন সারি বৃহদাকার পাথরের উপর এক সারি কাঠ বসান হবে। রাজকীয় ধনকোষ থেকে এর নির্মাণ খরচ বহন করা হবে।
EZR 6:5 সেই সঙ্গে সম্রাট নেবুখাদনেজার জেরুশালেম মন্দির থেকে ঈশ্বরের গৃহের যে সমস্ত সোনা ও রুপোর দ্রব্যাদি ব্যাবিলনে এনেছিলেন সেগুলি জেরুশালেম মন্দিরে ফেরৎ পাঠানো হোক এবং ঈশ্বরের গৃহেতেই রাখা হোক।
EZR 6:6 অতএব ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকা অঞ্চলের প্রদেশপাল তত্তনয়, শথর-বোষণয় এবং সেই প্রদেশে তাদের সহরাজকর্মচারীবৃন্দ আপনারা সকলে এই বিষয় থেকে দূরে থাকুন।
EZR 6:7 ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণ কাজে কোনও রকম ব্যাঘাত সৃষ্টি করবেন না। ইহুদিদের রাজ্যপাল এবং ইহুদিদের প্রাচীনবর্গ পূর্বেকার স্থানে ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখুন।
EZR 6:8 উপরন্তু, আপনারা ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণ কাজে ইহুদি প্রাচীনদের কীভাবে সহযোগিতা করবেন আমি এই মর্মে আদেশ দিচ্ছি। এই সমস্ত ব্যক্তিদের সকল ব্যয় রাজকোষে ইউফ্রেটিস নদীর অপর পারস্থ অঞ্চল থেকে যে রাজস্ব সংগৃহীত হয় তাঁর থেকে ব্যয় করবেন, যেন কাজ বন্ধ না হয়ে যায়।
EZR 6:9 স্বর্গের ঈশ্বরের উদ্দেশে হোমবলির উৎসর্গের জন্য যা কিছু প্রয়োজন—বলদ, পুংমেষ, মদ্দা মেষশাবক, এবং গম, লবণ, দ্রাক্ষারস, তৈল প্রভৃতি জেরুশালেমের যাজকেরা যা চাইবেন—তা প্রতিদিন যেন সরবরাহ করা হয়।
EZR 6:10 তারা যেন স্বর্গের ঈশ্বরের উদ্দেশে সন্তোষজনক বলি উৎসর্গ করেন এবং রাজা ও ছেলেদের সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করেন।
EZR 6:11 আমি আরও আদেশ করছি, যদি কেউ আমার আদেশ অমান্য করে, তাহলে তাঁর ঘর থেকে কড়িকাঠ বের করে তার উপরে তাকে টাঙিয়ে দিতে হবে এবং তাঁর অপরাধের জন্য তাঁর গৃহ আবর্জনা স্তূপে পরিণত করা হবে।
EZR 6:12 কোনও রাজা বা কোনও ব্যক্তি যদি আমার এই আদেশনামাকে পরিবর্তন অথবা জেরুশালেমের মন্দির ধ্বংস করতে চায়, তাহলে ঈশ্বর, যিনি নিজ নামকে সেখানে স্থাপন করেছেন, তিনি তাদের উচ্ছিন্ন করুন। আমি দারিয়াবস এই রাজাজ্ঞা দান করছি। এই রাজাজ্ঞা যথাযথভাবে পালিত হোক।
EZR 6:13 তখন সম্রাট দারিয়াবস সেই রাজাজ্ঞা প্রেরণ করেছেন, সেইজন্য ইউফ্রেটিসের অপর পারের প্রদেশপাল তত্তনয়, শথর-বোষণয় ও তাদের সহযোগীবৃন্দ সেই রাজাজ্ঞা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেন।
EZR 6:14 এর ফলে ইহুদিদের প্রাচীনবর্গ নির্মাণ কার্য অব্যাহত রাখলেন এবং ভাববাদী হগয় ও ইদ্দোর বংশোদ্ভূত ভাববাদী সখরিয়ের প্রত্যদেশ দ্বারা সেই কাজ আরও সমৃদ্ধিলাভ করল। তারা ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বরের এবং পারস্য-সম্রাট কোরস, দারিয়াবস ও অর্তক্ষস্তের নির্দেশমতো মন্দির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করলেন।
EZR 6:15 সম্রাট দারিয়াবসের রাজত্বকালের ষষ্ঠ বছরের অদর মাসের তৃতীয় দিবসে এই কার্য সুসম্পন্ন হয়।
EZR 6:16 তখন ইস্রায়েলের লোকের অর্থাৎ যাজকবর্গ, লেবীয়েরা এবং নির্বাসিতদের অবশিষ্টাংশ, খুবই আনন্দের সঙ্গে ঈশ্বরের গৃহের উৎসর্গীকরণ অনুষ্ঠান পালন করল।
EZR 6:17 এই অনুষ্ঠানের জন্য তারা একশোটি বলদ, 200-টি পুংমেষ, 400-টি মদ্দা মেষশাবক বলিরূপে উৎসর্গ করল এবং সব ইস্রায়েলীর পাপার্থক নৈবেদ্যের উদ্দেশে বারোটি পাঁঠার এক-একটি, ইস্রায়েলের এক-একটি গোষ্ঠীর জন্য উৎসর্গ করা হল।
EZR 6:18 মোশির পুস্তকে লিখিত বিধান অনুসারে জেরুশালেমে ঈশ্বরের সেবাকার্যের জন্য যাজকদের, তাদের বিভাগ অনুসারে এবং লেবীয়দের তাদের পালা অনুসারে, ভাগ করে দেওয়া হল।
EZR 6:19 প্রথম মাসের চতুর্দশ দিবসে, নির্বাসন থেকে প্রত্যাগতেরা নিস্তারপর্ব পালন করল।
EZR 6:20 যাজক ও লেবীয়েরা নিজেদের শুচি করলে তারা সকলেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ হলেন। লেবীয়েরা সকল নির্বাসিত লোকদের এবং তাদের যাজক ভাইদের ও নিজেদের পক্ষে নিস্তারপর্বীয় মেষ বলি দিলেন।
EZR 6:21 ইস্রায়েলীরা যারা নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন করেছিল এবং সেসব লোকেরা তাদের বিজাতীয় প্রতিবেশীদের অশুচি ক্রিয়াকলাপ থেকে নিজেদের পৃথক করে ইস্রায়েলের আরাধ্য সদাপ্রভুর অনুসন্ধান করছিল, তারা একসাথে ভোজন করল।
EZR 6:22 সাত দিন ধরে তারা মহানন্দে খামিরবিহীন রুটির উৎসব উদ্‌যাপন করল, কারণ সদাপ্রভু আসিরিয়ার রাজার মনোভাব পরিবর্তন করার সুবাদে তাদের হৃদয় আনন্দে ভরিয়ে তুলেছিলেন। ইস্রায়েলের আরাধ্য, ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণে সম্রাট তাদের সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিলেন।
EZR 7:1 এই সমস্ত ঘটনার পর, পারস্য-সম্রাট অর্তক্ষস্তের রাজত্বের সময় সরায়ের পুত্র ইষ্রা, সরায় ছিলেন অসরিয়ের পুত্র, অসরিয় হিল্কিয়ের পুত্র,
EZR 7:2 হিল্কিয় শল্লুমের পুত্র, শল্লুম সাদোকের পুত্র, সাদোক অহীটূবের পুত্র,
EZR 7:3 অহীটূব অমরিয়ের পুত্র, অমরিয় অসরিয়ের পুত্র, অসরিয় মরায়োতের পুত্র
EZR 7:4 মরায়োত সরহিয়ের পুত্র, সরহিয় উষির পুত্র, উষি বুক্কির পুত্র
EZR 7:5 বুক্কি অবিশূয়ের পুত্র, অবীশূয় পীনহসের পুত্র, পীনহস ইলিয়াসরের পুত্র, ইলীয়াসর প্রধান যাজক হারোণের পুত্র।
EZR 7:6 এই ইষ্রা ব্যাবিলন থেকে সেখানে এলেন। তিনি ছিলেন ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর, প্রভু সদাপ্রভুর প্রদত্ত মোশির ব্যবস্থাপুস্তকের একজন জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক। তাঁর আরাধ্য ঈশ্বর প্রভু সদাপ্রভুর কৃপা তাঁর উপরে ছিল, সেইজন্য তিনি যা কিছু রাজার কাছে চেয়েছিলেন, রাজা তাঁকে সবকিছুই দিয়েছিলেন।
EZR 7:7 সম্রাট অর্তক্ষস্তের রাজত্বের সপ্তম বছরে কিছু ইস্রায়েলী সন্তান, তাদের মধ্যে যাজক ও লেবীয়দের, গায়ক, দারোয়ান, মন্দিরের পরিচারকবৃন্দ জেরুশালেমে এসে উপস্থিত হল।
EZR 7:8 সম্রাটের সপ্তম বছরের পঞ্চম মাসে ইষ্রা জেরুশালেমে এসে উপস্থিত হলেন।
EZR 7:9 তিনি প্রথম মাসের প্রথম দিনে ব্যাবিলন থেকে জেরুশালেমের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ঈশ্বরের মঙ্গলময় হস্ত তাঁর উপর ছিল বলে তিনি পঞ্চম মাসের প্রথম দিনে জেরুশালেমে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।
EZR 7:10 যেহেতু ইষ্রা প্রভু সদাপ্রভুর পবিত্র শাস্ত্র অধ্যয়ন এবং তাঁর বিধিকলাপ পালন করতেন, তিনি ইস্রায়েলের লোকেদের কাছে সেই বিধিনির্দেশ ও অনুশাসন সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন।
EZR 7:11 সম্রাট অর্তক্ষস্ত এই পত্রটি ইষ্রাকে পাঠিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন একজন যাজক ও শিক্ষক এবং ইস্রায়েলের প্রভু সদাপ্রভু প্রদত্ত অনুশাসন ও বিধিব্যাবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে একজন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি।
EZR 7:12 রাজাধিরাজ অর্তক্ষস্তের তরফে, স্বর্গের ঈশ্বরের একজন যাজক ও শিক্ষক ইষ্রা সমীপে: শুভেচ্ছা।
EZR 7:13 আমি এতদ্বারা এই ঘোষণা করছি যে আমার রাজ্যের ইস্রায়েলীদের মধ্যে কোনও যাজক, লেবীয় বা অন্য কেউ যদি আপনার সঙ্গে জেরুশালেমে যেতে বাসনা করেন তবে তারা অবশ্যই যেতে পারেন।
EZR 7:14 সম্রাট ও তাঁর সপ্ত মন্ত্রণাদাতা দ্বারা, যিহূদা ও জেরুশালেমে ঈশ্বরের যে বিধিবিধান আপনার অধিকারে আছে, আপনি সে সকল অনুসন্ধানের জন্য সেখানে প্রেরিত হচ্ছেন।
EZR 7:15 সেই সঙ্গে ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বরের, জেরুশালেমে যার আবাসগৃহ আছে, তাঁর উদ্দেশে ও তাঁর মন্ত্রণাদাতারা স্বেচ্ছায় যে সমস্ত সোনা ও রুপা দান করছেন সেগুলি আপনার সঙ্গে সেখানে নিয়ে যান,
EZR 7:16 এছাড়া ব্যাবিলনের সমস্ত প্রদেশ থেকে যত সোনা ও রুপা সংগ্রহ করতে পারেন ও সমস্ত যাজক ও লোকেরা জেরুশালেমে তাদের আরাধ্য ঈশ্বরের উদ্দেশে যা কিছু স্বেচ্ছাদান তারা দেবে সেগুলিও সঙ্গে নিয়ে যান।
EZR 7:17 এই সমস্ত অর্থ দিয়ে অবশ্যই বলদ, পুংমেষ, মদ্দা মেষশাবক এবং শস্য ও পেয়-নৈবেদ্য কিনবেন, ও সেগুলি জেরুশালেমে আপনাদের ঈশ্বরের মন্দিরের বেদিতে উৎসর্গ করবেন।
EZR 7:18 অবশিষ্ট সোনা রুপা দিয়ে আপনার ঈশ্বরের মনোমতো আপনার ও আপনার স্বজাতি ইহুদিদের যা ভালো মনে হয় তাই করবেন।
EZR 7:19 আপনার ঈশ্বরের গৃহে আরাধনার জন্য যে সমস্ত দ্রব্যাদি আপনার কাছে গচ্ছিত রাখা আছে সেগুলি আপনি জেরুশালেমের ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করবেন।
EZR 7:20 আপনার ঈশ্বরের গৃহের জন্য যা কিছু প্রয়োজন হবে তার জন্য রাজকোষ থেকে অর্থ সরবরাহ করা হবে।
EZR 7:21 আমি, সম্রাট অর্তক্ষস্ত, ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকাকে সমগ্র অঞ্চলের কোষাধ্যক্ষদের নির্দেশ দিচ্ছি, স্বর্গের ঈশ্বরের বিধিবিধানের শিক্ষক ও যাজক ইষ্রা আপনাদের কাছে যা কিছু চাইবেন সব যেন যত্নসহকারে তাঁকে দেওয়া হয়।
EZR 7:22 আপনারা তাঁকে একশো তালন্ত রুপা, একশো কোর গম, একশো বাৎ দ্রাক্ষারস, একশো বাৎ জলপাই-এর তৈল এবং অপরিমিত লবণ দান করবেন।
EZR 7:23 স্বর্গের ঈশ্বর যা আদেশ করেছেন তা স্বর্গের ঈশ্বরের মন্দিরের জন্য যথাযথভাবে করা হোক। সম্রাট ও তাঁর ছেলেদের উপরে কেন ক্রোধ বর্ষিত হবে?
EZR 7:24 সেই সঙ্গে এই কথাও আপনাদের জানাচ্ছি যে যাজক, গায়ক, লেবীয়, দ্বাররক্ষী, মন্দিরের পরিচারক অথবা ঈশ্বরের গৃহের জন্য কাজ করছে এমন কারোর উপর কোনো কর, প্রণামী এবং শুল্ক ধার্য করবেন না।
EZR 7:25 মহাশয় ইষ্রা, আপনি আপনার আরাধ্য ঈশ্বরের যে প্রজ্ঞা লাভ করেছেন সেইমতো ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকা অঞ্চলে যারা আপনার আরাধ্য ঈশ্বরের বিধিবিধান জানে তাদের পরিচর্যার জন্য প্রশাসক ও বিচারক নিয়োগ করুন। যারা সেই বিধিবিধান জানে না তাদেরও আপনি শিক্ষাদান করুন।
EZR 7:26 যারা আপনার আরাধ্য ঈশ্বরের বিধিবিধান ও সম্রাটের আইন বিধান মান্য করবে না তাদের মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত অথবা কারাদণ্ড দেওয়া হোক।
EZR 7:27 ধন্য আমাদের পিতৃপুরুষদের আরাধ্য ঈশ্বর, প্রভু সদাপ্রভু যিনি সম্রাটের অন্তঃকরণে জেরুশালেমে প্রভু সদাপ্রভুর মন্দিরের মর্যাদা এইভাবে পুনরুদ্ধার করার বাসনা দান করেছেন
EZR 7:28 এবং সেই সঙ্গে যিনি সম্রাট ও তাঁর মন্ত্রণাদাতা ও সম্রাটের ক্ষমতাশালী কর্মকর্তাদের সামনে আমাকে এই মহা-অনুগ্রহ দান করেছেন। আমার আরাধ্য ঈশ্বর সদাপ্রভুর হাত আমার উপরে ছিল, তাই আমি সাহস করে আমার সঙ্গে যাওয়ার জন্য ইস্রায়েলীদের মধ্যে থেকে নেতাদের সংগ্রহ করেছিলাম।
EZR 8:1 সম্রাট অর্তক্ষস্তের রাজত্বের সময়ে ব্যাবিলন থেকে যে সমস্ত গোষ্ঠীপতি ও তাদের বংশোদ্ভূতেরা আমার সঙ্গে এসেছিলেন তারা হলেন:
EZR 8:2 পীনহসের বংশজাতদের মধ্যে গের্শোম। ঈথামরের বংশজাতদের মধ্যে দানিয়েল; দাউদের বংশজাতদের মধ্যে হটূশ
EZR 8:3 শখনিয়ের বংশজাতদের মধ্যে: পরোশের বংশজাতদের মধ্য থেকে সখরিয় এবং সেই বংশের, 150 জন পুরুষ;
EZR 8:4 পহৎ-মোয়াবের বংশজাতদের মধ্যে সরহির পুত্র ইলীয়ৈনয় ও তার সঙ্গী, 200 জন পুরুষ,
EZR 8:5 যত্তু বংশজাতদের মধ্যে মহসীয়েলের পুত্র শখনিয় এবং তার সঙ্গী, 300 জন পুরুষ।
EZR 8:6 আদীনের বংশজাতদের মধ্যে যোনাথনের পুত্র এবদ ও তার সঙ্গী, 50 জন পুরুষ;
EZR 8:7 এলমের বংশজাতদের মধ্যে অথলিয়ের পুত্র যিশায়াহ ও তার সঙ্গী, 70 জন পুরুষ;
EZR 8:8 শফটিয়ের বংশজাতদের মধ্যে মীখায়েলের পুত্র সবদিয় ও তার সঙ্গী, 80 জন পুরুষ।
EZR 8:9 যোয়াবের বংশজাতদের মধ্যে যিহিয়েলের পুত্র ওবদিয় এবং তার সঙ্গী, 218 জন পুরুষ।
EZR 8:10 বানির বংশজাতদের মধ্যে যোষিফিয়ের পুত্র শলোমীত এবং তার সঙ্গী, 160 জন পুরুষ।
EZR 8:11 বেবয়ের বংশজাতদের মধ্যে বেবয়ের পুত্র সখরিয় এবং তার সঙ্গী, 28 জন পুরুষ।
EZR 8:12 অস্‌গদের বংশজাতদের মধ্যে হকাটনের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী, 110 জন পুরুষ।
EZR 8:13 অদোনীকামের বংশজাতদের মধ্যে শেষ কয়েকজন যাদের নাম ইলীফেলট, যিয়ূয়েল ও শময়িয় এবং তাদের সঙ্গী, 60 পুরুষ।
EZR 8:14 বিগ্‌বয়ের বংশজাত উথয় ও সব্বূদ এবং তাদের সঙ্গী, 70 জন পুরুষ।
EZR 8:15 আমি অহবা-মুখী নদীর কাছে তাদের সকলকে একত্রিত করলাম; সেখানে আমরা তিন দিন শিবির স্থাপন করে থাকলাম। যখন আমি সেই লোকেদের এবং যাজকদের মধ্যে অনুসন্ধান করলাম, সেখানে আমি কোনো লেবীয়কে খুঁজে পেলাম না।
EZR 8:16 সেইজন্য আমি ইলীয়েষর, অরীয়েল, শময়িয়, ইলনাথন, যারিব, ইল্‌নাথন, নাথন, সখরিয় ও মশুল্লম প্রভৃতি নেতৃবৃন্দকে ডাকলাম এবং সেই সঙ্গে যোয়ারীব ও ইল্‌নাথন নামে দুজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকেও ডেকে পাঠালাম।
EZR 8:17 আমি কাসিফিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তা ইদ্দোর কাছে তাদের পাঠালাম। আমি তাদের বললাম ইদ্দো এবং কাসিফিয়ার মন্দিরের পরিচারকবৃন্দ ও তার সকল আত্মীয়স্বজনদের কী বলতে হবে, যেন তারা ঈশ্বরের গৃহের পরিচর্যার জন্য ব্যক্তিদের আমাদের কাছে আনতে পারে।
EZR 8:18 যেহেতু ঈশ্বরের কৃপাময় হস্ত আমাদের উপর বিরাজ করছিল, সেইজন্য তারা আমাদের কাছে ইস্রায়েলের বংশজাত, লেবির ছেলে মহলির বংশোদ্ভূত একজন সুদক্ষ ব্যক্তি শেরেবিয়কে এবং তার সন্তানদের, ভাইদের ও তাদের সঙ্গী আরও আঠারোজনকে আনল।
EZR 8:19 আর হশবিয়কে ও তার সঙ্গে মরারির বংশোদ্ভূত যিশায়াহকে এবং তার ভাইদের ও ভ্রাতুষ্পুত্রদের এবং তাদের সঙ্গী কুড়ি জন পুরুষকেও আনল।
EZR 8:20 সেই সঙ্গে তারা 220 জন মন্দির-পরিচারককে আনল যাদের দাউদ ও কর্মকর্তারা লেবীয়দের সাহায্য করার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন। তাদের সকলের নাম লিপিবদ্ধ করা হল।
EZR 8:21 পরে অহবা খালের ধারে আমি উপবাস ঘোষণা করলাম যেন আমরা আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের সামনে বিনম্র হই এবং আমাদের সন্তান ও সম্পদসহ এই যাত্রা যেন নির্বিঘ্নে হয় সেইজন্য তার কাছে কৃপা ভিক্ষা করি।
EZR 8:22 আমি যাত্রাপথে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সম্রাটের কাছে সৈন্য এবং অশ্বারোহী চাইতে লজ্জাবোধ করলাম কারণ আমরা সম্রাটকে বলেছিলাম, “আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের কৃপার হাত, আমরা যারা তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখি, এমন সকলের উপর স্থাপিত আছে, কিন্তু যারা তাঁকে অমান্য করে তাদের উপর তার ক্রোধ ভয়ানক।”
EZR 8:23 সেইজন্য আমরা উপবাস করলাম এবং আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানালাম এবং তিনি আমাদের প্রার্থনা গ্রাহ্য করলেন।
EZR 8:24 এরপর বিশিষ্ট যাজকদের মধ্য থেকে শেরেবিয় ও হশবিয় এবং তাদের দশজন ভাই এই বারোজনকে পৃথক করলাম,
EZR 8:25 আর রাজা, তাঁর সব মন্ত্রণাদাতা, কর্মকর্তা ও উপস্থিত ইস্রায়েলীরা আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের গৃহের জন্য উপহারস্বরূপ যে সমস্ত সোনা, রুপো ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী দান করেছিলেন, সেগুলি পরিমাপ করে তাদের হাতে দিলাম।
EZR 8:26 আমি 650 পঞ্চাশ তালন্ত রুপো, 100 তালন্ত রুপোর সামগ্রী, 100 তালন্ত সোনা,
EZR 8:27 20-টি সোনার পাত্র যার মূল্য ছিল 1,000 দারিক এবং সোনারই মতো মূল্যবান ব্রোঞ্জের দুটি সুন্দর সামগ্রী তাদের হাতে দিলাম।
EZR 8:28 আমি তাদের বললাম, “এই সমস্ত সামগ্রী এবং সেই সঙ্গে তোমরাও সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত নৈবেদ্যস্বরূপ। এই সমস্ত সোনা এবং রুপো তোমাদের পিতৃপুরুষদের আরাধ্য ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে স্বেচ্ছাকৃত দান।
EZR 8:29 যতক্ষণ না পর্যন্ত জেরুশালেমে সদাপ্রভুর গৃহের নির্দিষ্ট কক্ষে বিশিষ্ট যাজক, লেবীয় ও ইস্রায়েলের গোষ্ঠীপতিদের সামনে এগুলি ওজন করে দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলি সাবধানে রক্ষণাবেক্ষণ করো।”
EZR 8:30 এরপর যাজক ও লেবীয়েরা সোনা, রুপো ও পবিত্র সামগ্রী, যা তাদের সামনে পরিমাপ করা হয়েছিল, সেগুলি জেরুশালেমে আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের গৃহের উদ্দেশে গ্রহণ করলেন।
EZR 8:31 প্রথম মাসে দ্বাদশ দিনে অহবা নদী থেকে জেরুশালেমের উদ্দেশে আমরা যাত্রা করলাম। ঈশ্বরের কৃপার হাত আমাদের উপরে ছিল এবং তিনি সমগ্র পথে শত্রু ও দস্যুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করলেন।
EZR 8:32 আমরা জেরুশালেমে পৌঁছানোর পর তিন দিন বিশ্রাম করলাম।
EZR 8:33 চতুর্থ দিবসে আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের গৃহে ঊরীয়ের পুত্র যাজক মরেমোৎ-এর, হাতে সোনারুপো এবং পবিত্র দ্রব্যাদি পরিমাপ করে দিলাম। তার সঙ্গে ছিলেন পীনহসের পুত্র ইলিয়াসর এবং তাদের সঙ্গে ছিলেন যেশূয়ের পুত্র যোষাবদ এবং বিন্নূয়ীর পুত্র নোয়দিয়, এই দুজন লেবীয়।
EZR 8:34 প্রত্যেকটি দ্রব্যসামগ্রীর গণনা করে ওজন করা হয়েছিল এবং সেগুলি সেই সময়ে যথাযথভাবে লেখা হয়েছিল।
EZR 8:35 এরপর যে সমস্ত নির্বাসিত লোকজন বন্দিদশা থেকে ফিরে এসেছিল তারা ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে এই হোমবলি উৎসর্গ করেছিল: সমগ্র ইস্রায়েল জাতির জন্য বারোটি ষাঁড়, ছিয়ানব্বইটি মেষ, সাতাত্তরটি মদ্দা মেষশাবক এবং পাপার্থক বলিরূপে বারোটি পাঁঠা। এগুলির সবই ছিল সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি।
EZR 8:36 তারা সেই সঙ্গে সম্রাটের আদেশনামা তার অধীনস্থ সকল প্রদেশ সহ ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকায় অবস্থিত সকল প্রদেশের শাসক ও রাজ্যপালদের প্রদান করল। সেইমতো তারা লোকেদের এবং ঈশ্বরের গৃহের জন্য সাহায্য করলেন।
EZR 9:1 এই সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন হওয়ার পর সমাজের নেতৃবর্গ আমার কাছে এসে বললেন, “ইস্রায়েলীরা, এমনকি তাদের যাজকবর্গ, লেবীয়েরা, প্রতিবেশী কনানীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, যিবূষীয়, অম্মোনীয়, মোয়াবীয়, মিশরীয় ও ইমোরীয়দের মধ্যে প্রচলিত ঘৃণ্য কাজ থেকে নিজেদের পৃথক না করে তাদেরই মতো জীবনযাপন করছে।
EZR 9:2 এসব জাতির কন্যাদের তারা নিজেদের ও তাদের সন্তানদের স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছে এবং এভাবে পবিত্র জাতিকে তাদের চতুর্দিকের অন্য জাতির লোকেদের সঙ্গে মিশ্রিত করেছে। নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারাই সর্বপ্রথম এই অবিশ্বস্ততার পথে গিয়েছে।”
EZR 9:3 আমি যখন এই কথা শুনলাম তখন, আমি আমার পরনের কাপড় ও আলখাল্লা ছিঁড়ে ফেললাম, উপড়ে ফেললাম আমার মাথার চুল ও দাড়ি এবং বিমর্ষ হয়ে বসে পড়লাম।
EZR 9:4 তারপর যারা নির্বাসন থেকে প্রত্যাগত লোকেদের অবিশ্বস্ততার কথা শুনল এবং ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বরের কথায় ভয়গ্রস্ত হল তারা আমার চতুর্দিকে এসে সমবেত হল। আমি সন্ধ্যাকালীন বলিদান পর্যন্ত বিষণ্ণ ভাবে বসে রইলাম।
EZR 9:5 সন্ধ্যাকালীন বলিদানের সময় হলে আমি সেই অবসন্নতা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। আমার ছেঁড়া গায়ের কাপড় ও আলখাল্লা পরেই আমি হাঁটু গেড়ে, আমার আরাধ্য ঈশ্বর, সদাপ্রভুর উদ্দেশে হাত প্রসারিত করে
EZR 9:6 প্রার্থনা করলাম: “হে আমার ঈশ্বর, তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে আমি অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখ বোধ করছি, কারণ আমাদের পাপ আমাদের মাথাকেও ছাপিয়ে গেছে এবং আমাদের অপরাধ স্বর্গে গিয়ে পৌঁছেছে।
EZR 9:7 আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের অপরাধ ভয়ানক হয়ে উঠেছে। আমাদের পাপের জন্য বিদেশি রাজাদের দ্বারা আমরা, আমাদের রাজারা, ও আমাদের যাজকেরা তরোয়ালের ও বন্দিদশার অধীন হয়েছি এবং উৎপাটন ও চরম অপমান লাভ করেছি, ও সেই অবস্থা আজও অব্যাহত রয়েছে।
EZR 9:8 “কিন্তু এখন অল্পদিনের জন্য আমাদের আরাধ্য ঈশ্বর, সদাপ্রভু অনুগ্রহ করে আমাদের কিছু লোককে রক্ষা করেছেন এবং তার পবিত্রস্থানে আমাদের সুদৃঢ় আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি আমাদের চোখে প্রত্যাশায় জ্যোতি দিয়েছেন এবং আমাদের বন্দিদশা থেকে কিছুকালের জন্য নিষ্কৃতি দিয়েছেন।
EZR 9:9 যদিও আমরা ক্রীতদাস, তবুও আমাদের ঈশ্বর বন্দিদশা থেকে আমাদের ত্যাগ করে যাননি। তিনি পারস্য সম্রাটদের মাধ্যমে আমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছেন। তিনি আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের মন্দির পুনর্নির্মাণ ও তার ধ্বংসাবশেষ সংস্কার করার জন্য আমাদের নতুন জীবন দান করেছেন। যিহূদায় ও জেরুশালেমে আমাদের নিরাপত্তার জন্য একটি প্রাচীর দান করেছেন।
EZR 9:10 “কিন্তু এখন, হে আমাদের ঈশ্বর, এরপর আমরা আর কি বলব? কারণ আমরা অনুশাসন লঙ্ঘন করেছি
EZR 9:11 যা তুমি তোমার সেবক-ভাববাদীদের মাধ্যমে আমাদের দিয়েছিলে এবং বলেছিলে ‘যে দেশ তোমরা অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশ সেখানকারই অধিবাসীদের দুর্নীতি দ্বারা দূষিত হয়েছে। তাদের ঘৃণ্য ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তাদের অপবিত্রতায় ভরিয়ে তুলেছে।
EZR 9:12 সেইজন্য তাদের ছেলেদের সঙ্গে তোমাদের কন্যাদের বা তাদের কন্যাদের সঙ্গে তোমাদের ছেলেদের বিয়ে সম্পাদন করো না। কোনও সময়েই তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ হোয়ো না। তোমরা তাদের চেয়েও শক্তিশালী হও যেন ভূমির উত্তম দ্রব্যসামগ্রী ভক্ষণ করতে পারো এবং তোমাদের সন্তানদের তা শাশ্বত অধিকাররূপে রেখে যেতে পারো।’
EZR 9:13 “কিন্তু আমাদের প্রতি যা ঘটেছে তা হল আমাদের অপকর্ম ও জঘন্য অপরাধের ফল কিন্তু হে আমাদের ঈশ্বর, আমাদের পাপের তুলনায় খুবই কম শাস্তি দিয়েছ এবং এই অবশিষ্টাংশের মধ্যে তুমিই আমাদের রেখেছ।
EZR 9:14 আমরা কি পুনরায় তোমার অনুশাসন লঙ্ঘন করে যারা এই প্রকার ঘৃণ্য কাজ করে তাদের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হব? আমাদের ধ্বংস করতে ও অবশিষ্টাংশের তথা জীবিতদের বিলুপ্তির জন্য তুমি কি ক্রুদ্ধ হবে না?
EZR 9:15 হে সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তুমি ধর্মময়! আমরা এই দিন পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ হয়ে আছি। আমরা তোমার সামনে দোষী অবস্থায় পড়ে আছি, সেইজন্য তোমার সান্নিধ্যে আমাদের মধ্যে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।”
EZR 10:1 ইষ্রা যখন ঈশ্বরের গৃহের সামনে প্রণত হয়ে প্রার্থনা, পাপস্বীকার ও ক্রন্দন করছিলেন, তখন ইস্রায়েলীদের পুরুষ, মহিলা ও শিশুসহ এক বিরাট জনতা তার চারিদিকে সমবেত হল। তারাও তীব্র ক্রন্দন করতে লাগল।
EZR 10:2 তখন এলম বংশজাত যিহীয়েলের পুত্র শখনিয় ইষ্রাকে বলল, “আমরা আমাদের চতুর্দিকে বিজাতীয়দের মধ্য থেকে মহিলাদের মনোনীত করে মিশ্র-বিবাহের দ্বারা ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছি। তবুও ইস্রায়েলীদের পক্ষে এখনও এক প্রত্যাশা আছে।
EZR 10:3 এখন আসুন, আমরা আমাদের প্রভুর ও যারা আমাদের ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলিকে ভয় করে, তাদের পরামর্শ অনুসারে ঈশ্বরের সামনে এক নিয়ম সম্পাদন করে ওই সমস্ত স্ত্রীলোকদের ও তাদের সন্তানদের ত্যাগ করি।
EZR 10:4 আপনি উঠুন; বিষয়টি আপনার হাতেই রয়েছে, আমরা আপনাকে সমর্থন জানাব, নির্ভয়ে এই কাজটি করুন।”
EZR 10:5 তখন ইষ্রা উঠলেন এবং সেইমতো সমস্ত বিশিষ্ট যাজক, লেবীয় ও সমস্ত ইস্রায়েলকে শপথ করালেন এবং তারা সকলে শপথও গ্রহণ করলেন।
EZR 10:6 এরপর ইষ্রা ঈশ্বরের গৃহের সামনে থেকে উঠে ইলীয়াশীবের পুত্র যিহোহাননের বাড়িতে গেলেন। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি যতক্ষণ সেখানে ছিলেন ততক্ষণ কোনও খাদ্যগ্রহণ বা জলপান করলেন না; কারণ তিনি তখনও নির্বাসিতদের অবিশ্বস্ততার জন্যে শোক পালন করছিলেন।
EZR 10:7 এরপর সমগ্র যিহূদা এবং জেরুশালেমের বসবাসকারী নির্বাসিতদের উদ্দেশে এই আজ্ঞা ঘোষিত হল যেন তারা জেরুশালেমে এসে সমবেত হয়।
EZR 10:8 তিনদিনের মধ্যে যদি কেউ না আসতে পারে তাহলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। সরকারি প্রধানদের ও প্রাচীনদের সিদ্ধান্ত মতোই একথা জানানো হল যে সেই লোককে নির্বাসিতদের সমাজ থেকে বহিষ্কারও করা হবে।
EZR 10:9 তিনদিনের মধ্যে যিহূদা ও বিন্যামীনের সমস্ত পুরুষ জেরুশালেমে সমবেত হল। নবম মাসে বিংশতিতম দিনে সকলে যখন ঈশ্বরের গৃহের সামনে চত্বরে বসে সেই বিষয়ে আলোচনা করছিল তখন এই বিষয়টি ও প্রবল বৃষ্টিপাতের জন্য তারা হতাশায় বিহ্বল হয়ে পড়ল।
EZR 10:10 তখন যাজক ইষ্রা দাড়িয়ে উঠে তাদের বললেন, “তোমরা অবিশ্বস্ত হয়েছ; তোমরা বিদেশি মহিলাদের বিয়ে করে ইস্রায়েলীদের অপরাধের বোঝা বাড়িয়ে তুলেছ।
EZR 10:11 এখন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের আরাধ্য ঈশ্বর, সদাপ্রভুর কাছে পাপস্বীকার করো এবং তাঁর অভিপ্রায় পালন করো। তোমরা তোমাদের চতুর্দিকের লোকেদের ও বিজাতীয় স্ত্রীদের সঙ্গে সব সংস্রব ত্যাগ করো।”
EZR 10:12 সমবেত সকলে উচ্চরবে ঘোষণা করল, “আপনি ঠিকই বলছেন! আপনি যা বলছেন আমাদের তাই-ই করা উচিত।
EZR 10:13 কিন্তু এখানে অনেকে সমবেত হয়েছে এবং এখন ভারী বর্ষার সময় চলছে; সেইজন্য আমরা বাইরে দাঁড়াতে পারছি না। এছাড়া বিষয়টি দুই-একদিনের মধ্যে নিষ্পন্ন করা যাবে না কারণ আমরা মহাপাপ করেছি।
EZR 10:14 অতএব আমাদের এই বিষয়টিকে যথাযথভাবে বিচার করার জন্য আমাদের কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করা হোক। এরপর আমাদের নগরগুলিতে যারা বিজাতীয় মহিলাদের বিয়ে করেছে তার এবং তাদের সঙ্গে নগরের প্রাচীনেরা ও বিচারপতিরা একটি নিরূপিত সময়ে এখানে আসুক, যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের ঈশ্বরের মহারোষ প্রশমিত হয়ে আমাদের থেকে দূরে সরে না যায়।”
EZR 10:15 এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মত রাখল কেবল অসহেলের পুত্র যোনাথন ও তিকবের পুত্র যহসিয় এবং তাদের সমর্থন জানাল মশুল্লম ও লেবীয় বংশজাত শব্বথয়।
EZR 10:16 সেই প্রস্তাব মতো নির্বাসন থেকে আগতরা এ সমস্ত কিছু যথাযথভাবে পালন করল। যাজক ইষ্রা এবং নিজ নিজ পিতৃকুল এবং নাম অনুসারে প্রত্যেক পরিবারে প্রধানকে নিযুক্ত করলেন এবং দশম মাসের প্রথম দিনে তারা সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করার কাজে ব্রতী হলেন।
EZR 10:17 প্রথম মাসের প্রথম দিনের মধ্যে যারা বিজাতীয় মহিলা বিয়ে করেছিল তাদের বিচার নিষ্পন্ন করলেন।
EZR 10:18 যাজক সম্প্রদায়ের সন্তানদের মধ্যে যারা বিজাতীয় মহিলাদের বিয়ে করেছিল: যিহোষাদকের পুত্র যেশূয় তাঁর ছেলে ও ভাইদের মধ্যে মাসেয়, ইলীয়েষর, যারিব ও গদলিয়।
EZR 10:19 (তারা সকলে তাদের স্ত্রীদের ত্যাগ করার জন্য হাত রাখল এবং তাদের অপরাধের জন্য প্রত্যেকে তাদের পালের মধ্যে থেকে একটি মেষ দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ করল)
EZR 10:20 ইম্মেরের ছেলেদের মধ্যে: হনানি ও সবদিয়,
EZR 10:21 হারীমের ছেলেদের মধ্যে: মাসেয়, এলিয়, শময়িয়, যিহীয়েল এবং উষিয়।
EZR 10:22 পশ্‌হূরের ছেলেদের মধ্যে: ইলীয়ৈনয়, মাসেয়, ইশ্মায়েল, নথনেল, যোষাবদ এবং ইলিয়াসা।
EZR 10:23 লেবীয়দের সম্প্রদায়ের মধ্যে: যোষাবদ, শিমিয়ি, কলায় (অথবা কলীট), পথাহিয়, যিহূদা এবং ইলীয়েষর।
EZR 10:24 গায়ক সম্প্রদায়ের মধ্যে: ইলীয়াশীব। দ্বাররক্ষীদের মধ্যে: শল্লুম, টেলম এবং উরি।
EZR 10:25 এবং অন্যান্য ইস্রায়েলীদের মধ্যে: পরোশের সন্তানদের মধ্যে: রমিয়, যিষিয়, মল্কিয়, মিয়ামীন, ইলিয়াসর, মল্কিয় ও বনায়।
EZR 10:26 এলমের সন্তানদের মধ্যে: মত্তনিয়, সখরিয়, যিহীয়েল, অব্দি, যিরেমোৎ এবং এলিয়।
EZR 10:27 সত্তূরের সন্তানদের মধ্যে: ইলীয়ৈনয়, ইলীয়াশীব, মত্তনিয়, যিরেমোৎ, সাবদ ও অসীসা।
EZR 10:28 বেবয়ের সন্তানদের মধ্যে: যিহোহানন, হনানিয়, সব্বয়, অৎলয়।
EZR 10:29 বানির সন্তানদের মধ্যে: মশুল্লম, মল্লূক, অদায়া, যাশূব, শাল ও যিরমোৎ।
EZR 10:30 পহৎ-মোয়াবের সন্তানদের মধ্যে: অদন, কলাল, বনায়, মাসেয়, মত্তনিয়, বৎসলেল, বিন্নূয়ী এবং মনঃশি।
EZR 10:31 হারীমের সন্তানদের মধ্যে: ইলীয়েষর, যিশিয়, মল্কিয়, শময়িয়, শিমিয়োন,
EZR 10:32 বিন্যামীন, মল্লূক, শমরিয়।
EZR 10:33 হশুমের সন্তানদের মধ্যে: মত্তনয়, মত্তত্ত, সাবদ, ইলীফেলট, যিরেময়, মনঃশি, শিমিয়ি
EZR 10:34 বানির সন্তানদের মধ্যে: মাদয়, অম্রাম, উয়েল,
EZR 10:35 বনায়, বেদিয়া, কলূহূ,
EZR 10:36 বনিয়, মরেমোৎ, ইলীয়াশীব,
EZR 10:37 মত্তনিয়, মত্তনয় এবং যাসয়,
EZR 10:38 বানি, বিন্নূয়ী, শিমিয়ি
EZR 10:39 শেলিমিয়, নাথন, অদায়া,
EZR 10:40 মক্নদ্‌বয়, শাশয়, শারয়
EZR 10:41 অসরেল, শেলিমিয়, শমরিয়
EZR 10:42 শল্লুম, অমরিয় এবং যোষেফ।
EZR 10:43 নেবোর সন্তানদের মধ্যে: যিয়ীয়েল, মত্তিথিয়, সাবদ, সবীনা, যাদয়, যোয়েল এবং বনায়।
EZR 10:44 এরা সকলে বিজাতীয় মহিলা বিয়ে করেছিল এবং এই স্ত্রীদের গর্ভজাত সন্তানেরাও আছে।
NEH 1:1 হখলিয়ের পুত্র, নহিমিয়ের কথা: বিংশতিতম বছরের কিশ্‌লেব মাসে যখন আমি শূশনের রাজধানিতে ছিলাম,
NEH 1:2 আমার এক ভাই, হনানি, যিহূদা থেকে কয়েকজন লোককে নিয়ে এসেছিল, এবং আমি তাদের জেরুশালেমে এবং সেইসব ইহুদিদের বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলাম যারা বন্দিদশায় নিজেরা রক্ষা পেয়েছিল।
NEH 1:3 তারা আমাকে বলেছিল, “যে সমস্ত লোকেরা বন্দিদশা থেকে রক্ষা পেয়েছিল এবং যিহূদায় ফিরে এসেছে, তারা ভয়ানক সংকট ও লজ্জায় রয়েছে। জেরুশালেমের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে, এবং দরজাগুলি আগুনে পুড়ে গিয়েছে।”
NEH 1:4 এসব বিষয় শোনার পর আমি বসে কাঁদলাম এবং কয়েক দিন ধরে আমি স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে শোক করলাম এবং উপবাস ও প্রার্থনা করলাম।
NEH 1:5 আর আমি বললাম: “হে সদাপ্রভু, স্বর্গের ঈশ্বর, তুমি মহান ও অসাধারণ ঈশ্বর; যারা তোমাকে প্রেম করে ও তোমার আজ্ঞাসকল পালন করে, তাদের পক্ষে তুমি নিয়ম ও দয়া পালন করে থাকো,
NEH 1:6 আমি তোমার দাস তোমার সামনে দিনরাত প্রার্থনা করছি ইস্রায়েলীদের জন্য যারা তোমার দাস, কৃপা করে তুমি এই প্রার্থনা শোনো ও উত্তর দাও। আমরা ইস্রায়েলীরা এমনকি আমি ও আমার পিতৃকুলের সকলে তোমার বিরুদ্ধে যে সকল পাপ করেছি তা আমি স্বীকার করছি।
NEH 1:7 আমরা তোমার বিরুদ্ধে খুব অন্যায় করেছি। তোমার দাস মোশিকে তুমি যে আজ্ঞা, নিয়ম ও শাসন আদেশ দিয়েছিলে তা আমরা পালন করিনি।
NEH 1:8 “তুমি তোমার দাস মোশিকে যে নির্দেশ দিয়েছিলে তা স্মরণ করো, তুমি বলেছিলে, ‘তোমরা যদি অবিশ্বস্ত হও, আমি তোমাদের অন্য জাতিগণের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করব।
NEH 1:9 কিন্তু যদি তোমরা আমার প্রতি ফেরো ও আমার আজ্ঞার বাধ্য হও, তাহলে তোমাদের বন্দিদশায় থাকা লোকেরা যদি আকাশের শেষ সীমাতেও থাকে আমি সেখান থেকে তাদের সংগ্রহ করব এবং আমার বাসস্থান হিসেবে যে জায়গা বেছে নিয়েছি সেখানে তাদের নিয়ে আসব।’
NEH 1:10 “তারা তোমার দাস এবং তোমারই লোক, যাদের তুমি তোমার মহাপরাক্রমে ও শক্তিশালী হাতে মুক্ত করেছ।
NEH 1:11 হে প্রভু, মিনতি করি, তোমার এই দাসের প্রার্থনাতে ও যারা তোমার নাম ভক্তির সঙ্গে স্মরণ করে তোমার সেই দাসদের প্রার্থনাতে কান দাও। তোমার দাসকে আজ সফলতা দাও ও এই ব্যক্তির কাছে করুণাপ্রাপ্ত করো।” আমি রাজার পানপাত্রবাহক ছিলাম।
NEH 2:1 রাজা অর্তক্ষস্তের রাজত্বের কুড়ি বছরের নীসন মাসে, যখন তাঁর কাছে দ্রাক্ষারস আনা হল, আমি সেই দ্রাক্ষারস নিয়ে রাজাকে দিলাম। এর আগে আমি তাঁর সামনে কখনও মলিন মুখে থাকিনি,
NEH 2:2 সেইজন্য রাজা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার তো অসুখ হয়নি তবে তোমার মুখ এত মলিন দেখাচ্ছে কেন? এ তো অন্তরের কষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়।” আমি খুব ভয় পেলাম,
NEH 2:3 তবুও আমি রাজাকে বললাম, “মহারাজ চিরজীবী হোন! যে নগরে আমার পিতৃপুরুষদের কবর দেওয়া হয়েছিল সেটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং তার দ্বার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তখন আমার মুখ কেন মলিন দেখাবে না?”
NEH 2:4 রাজা আমাকে বললেন, “তুমি কি চাও?” তখন আমি স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম,
NEH 2:5 আর রাজাকে বললাম, “মহারাজ যদি খুশি হয়ে থাকেন এবং আপনার দাস যদি আপনার চোখে দয়া পেয়ে থাকে, তবে আপনি যিহূদা-নগরে যেখানে আমার পিতৃপুরুষদের কবর দেওয়া হয়েছে সেখানে আমায় পাঠান যেন আমি তা আবার তৈরি করতে পারি।”
NEH 2:6 তখন রাজা, যাঁর পাশে রানিও বসেছিলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার যেতে কয়দিন লাগবে আর কবেই বা তুমি ফিরে আসবে?” রাজা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে পাঠালেন আর আমি একটি সময়ের কথা বললাম।
NEH 2:7 তাকে আমি আরও বললাম, “যদি মহারাজ খুশি হয়ে থাকেন তবে ইউফ্রেটিস নদীর ওপারের শাসনকর্তাদের কাছে তিনি যেন চিঠি দেন যাতে যিহূদায় আমি পৌঁছানো পর্যন্ত তারা আমার যাত্রায় সাহায্য করেন।
NEH 2:8 এছাড়া তিনি যেন তাঁর বনরক্ষক আসফের কাছে একটি চিঠি দেন যাতে তিনি মন্দিরের পাশের দুর্গ-দ্বার ও নগরের প্রাচীরের ও আমার থাকবার ঘরের কড়িকাঠের জন্য আমাকে কাঠ দেন।” আমার উপর আমার ঈশ্বরের মঙ্গলময় হাত থাকায় রাজা আমার সব অনুরোধ রক্ষা করলেন।
NEH 2:9 পরে আমি ইউফ্রেটিস নদীর ওপারের শাসনকর্তাদের কাছে গিয়ে রাজার চিঠি দিলাম। রাজা আমার সঙ্গে কয়েকজন সেনাপতি ও একদল ঘোড়সওয়ার সৈন্যদের পাঠিয়ে দিলেন।
NEH 2:10 এই সমস্ত বিষয় শুনে হোরোণীয় সন্‌বল্লট ও অম্মোনীয় কর্মকর্তা টোবিয় খুব অসন্তুষ্ট হল কারণ ইস্রায়েলীদের মঙ্গল করার জন্য একজন লোক এসেছে।
NEH 2:11 আমি জেরুশালেমে গিয়ে সেখানে তিন দিন থাকার পর
NEH 2:12 রাতে আমি কয়েকজন লোককে সঙ্গে নিয়ে বের হলাম। জেরুশালেমের জন্য যা করতে ঈশ্বর আমায় মনে ইচ্ছা দিয়েছিলেন তা আমি কাউকে বলিনি। আমি যে পশুর উপর চড়েছিলাম সেটি ছাড়া আর কোনও পশু আমার সঙ্গে ছিল না।
NEH 2:13 রাত্রে আমি উপত্যকার দ্বার দিয়ে বের হয়ে নাগকূপ ও সার-দ্বার পর্যন্ত গেলাম এবং জেরুশালেমের ভাঙা প্রাচীর ও আগুন দিয়ে ধ্বংস করা দ্বারগুলি দেখলাম।
NEH 2:14 তারপর আমি ফোয়ারা-দ্বার ও রাজার পুকুর পর্যন্ত গেলাম, কিন্তু আমি যে পশুর উপর চড়েছিলাম তার সেই জায়গা দিয়ে যাবার জন্য কোনও পথ ছিল না;
NEH 2:15 এজন্য আমি সেরাতে প্রাচীরের অবস্থা দেখতে উপত্যকার মধ্য দিয়ে গেলাম এবং উপত্যকা দ্বার দিয়ে আবার ফিরে আসলাম।
NEH 2:16 আমি কোথায় গিয়েছি বা কী করেছি তা উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা জানতে পারেনি, কারণ আমি তখনও ইহুদিদের অথবা যাজকদের অথবা গণ্যমান্য লোকদের অথবা উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের অথবা যারা কাজ করবে তাদের কিছুই বলিনি।
NEH 2:17 পরে আমি তাদের বললাম, “আমরা যে কি রকম দুরাবস্থায় আছি তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, জেরুশালেম ধ্বংস হয়ে রয়েছে এবং তাঁর দ্বারগুলি আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। আসুন, আমরা জেরুশালেমের প্রাচীর আবার গাঁথি, যেন আমাদের আর মর্যাদাহানি না হয়।”
NEH 2:18 আমার ঈশ্বর কীভাবে আমার মঙ্গল করেছেন ও রাজা আমাকে কী বলেছেন তাও আমি তাদের জানালাম। উত্তরে তারা বললেন, “আসুন, আমরা গাঁথতে শুরু করি।” তারা সেই ভালো কাজ শুরু করতে প্রস্তুত হলেন।
NEH 2:19 কিন্তু হোরোণীয় সন্‌বল্লট, অম্মোনীয় কর্মকর্তা টোবিয় এবং আরবীয় গেশম এই কথা শুনে আমাদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে লাগল। তারা বলল, “তোমরা এ কি করছ? তোমরা কি রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে?”
NEH 2:20 আমি উত্তরে তাদের বললাম, “স্বর্গের ঈশ্বর আমাদের সফলতা দান করবেন। আমরা তাঁর দাসেরা আবার গাঁথব, কিন্তু জেরুশালেমে আপনাদের কোনও অংশ, কোনও দাবি কিংবা কোনও অধিকার নেই।”
NEH 3:1 মহাযাজক ইলীয়াশীব ও তাঁর সঙ্গী যাজকেরা গিয়ে মেষদ্বার গাঁথলেন। তারা সেটি সমর্পণ করে তাঁর দরজা লাগালেন, তারপর তারা হম্মোয়া দুর্গ থেকে হননেলের দুর্গ পর্যন্ত গেঁথে প্রাচীরের সেই দুটি অংশ সমর্পণ করলেন।
NEH 3:2 এর পরের অংশটি যিরীহোর লোকেরা গাঁথল এবং তাঁর পরের অংশটি গাঁথল ইম্রির ছেলে সক্কূর।
NEH 3:3 হস্‌সনায়ার ছেলেরা মৎস্যদ্বার গাঁথল। তারা তাঁর কড়িকাঠগুলি এবং তাঁর দরজা, খিল আর হুড়কাগুলি লাগাল।
NEH 3:4 তাঁর পরের অংশটি মেরামত করল ঊরিয়ের ছেলে মরেমোৎ, ঊরিয় ছিল হক্কোষের ছেলে। তাঁর পরের অংশটি বেরিখিয়ের ছেলে মশুল্লম, মেরামত করল, বেরিখিয়ের ছিল মশেষবেলের ছেলে এবং তাঁর পরের অংশটি বানার ছেলে সাদোক মেরামত করল।
NEH 3:5 তাঁর পরের অংশটি মেরামত করল তকোয়ীয়েরা, কিন্তু তাদের প্রধানেরা তাদের তদারককারীদের অধীনে পরিচর্যায় রাজি হল না।
NEH 3:6 পাসেহের ছেলে যিহোয়াদা ও বসোদিয়ার ছেলে মশুল্লম যিশানা দ্বারটি মেরামত করল। তারা তাঁর কড়িকাঠগুলি এবং তাঁর দরজা, খিল আর হুড়কাগুলি লাগাল।
NEH 3:7 এর পরের অংশটি গিবিয়োনীয় মলটিয় ও মেরোণোথীয় যাদোন মেরামত করল। এরা ছিল সেই গিবিয়োন ও মিস্‌পার অধিবাসী যা ইউফ্রেটিস নদীর ওপারের শাসনকর্তাদের সিংহাসনের অধীন ছিল।
NEH 3:8 এর পরের অংশটি মেরামত করল হর্হয়ের ছেলে উষীয়েল। উষীয়েল ছিল একজন স্বর্ণকার। তাঁর পরের অংশটি মেরামত করল হনানিয় নামে একজন সুগন্ধি প্রস্তুতকারক। এইভাবে তারা চওড়া প্রাচীর পর্যন্ত জেরুশালেমের প্রাচীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনল।
NEH 3:9 জেরুশালেম প্রদেশের অর্ধেক অংশের শাসনকর্তা, হূরের ছেলে রফায় তাঁর পরের অংশটি মেরামত করল।
NEH 3:10 তার পরের অংশটি মেরামত করল হরূমফের ছেলে যিদায়। এই অংশটি তাঁর বাড়ির সামনে ছিল, এবং তাঁর পরের অংশটি হশব্‌নিয়ের ছেলে হটূশ মেরামত করল।
NEH 3:11 হারীমের ছেলে মল্কিয় ও পহৎ-মোয়াবের ছেলে হশূব অন্য এক ভাগ ও তুন্দুর দুর্গটি মেরামত করল।
NEH 3:12 জেরুশালেম প্রদেশের অর্ধেক অংশের শাসনকর্তা হলোহেশের ছেলে শল্লুম ও তার মেয়েরা তার পরের অংশটি মেরামত করল।
NEH 3:13 হানূন এবং সানোহ নিবাসীরা উপত্যকার দ্বার মেরামত করল। তারা তার দরজা, খিল আর হুড়কাগুলি লাগাল। তারা সার-দ্বার পর্যন্ত 1,000 হাত প্রাচীরও মেরামত করল।
NEH 3:14 বেথ-হক্কেরম প্রদেশের শাসনকর্তা রেখবের ছেলে মল্কিয় সার-দ্বার মেরামত করলেন। তিনি তার দরজা, খিল আর হুড়কাগুলি লাগালেন।
NEH 3:15 মিস্‌পা প্রদেশের শাসনকর্তা কল্‌হোষির ছেলে শল্লুম উনুইদ্বার মেরামত করলেন। তিনি তার উপর ছাদ দিলেন এবং তার দরজা, খিল ও হুড়কাগুলি লাগালেন। রাজার বাগানের পাশে শীলোহের পুকুরের প্রাচীর থেকে আরম্ভ করে দাউদ-নগরের থেকে যে সিঁড়ি নেমে গেছে সেই পর্যন্ত তিনি মেরামত করলেন।
NEH 3:16 বেত-সূর প্রদেশের অর্ধেক অংশের শাসনকর্তা অস্‌বুকের ছেলে নহিমিয় প্রাচীরের পরের অংশটি দাউদ বংশের কবরের কাছ থেকে কাটা পুকুর ও বীরদের বাড়ি পর্যন্ত মেরামত করলেন।
NEH 3:17 তার পরের অংশটি বানির ছেলে রহূমের অধীনে লেবীয়েরা মেরামত করল। তার পরের অংশটি কিয়ীলা প্রদেশের অর্ধেক অংশের শাসনকর্তা হশবিয় তার এলাকার হয়ে মেরামত করলেন।
NEH 3:18 তার পরের অংশটি তাদের সঙ্গের লেবীয়েরা, কিয়ীলা প্রদেশের বাকি অংশের শাসনকর্তা হেনাদদের ছেলে ববয়ের অধীনে থেকে মেরামত করল।
NEH 3:19 তাদের পরের অংশটি, মিস্‌পার শাসনকর্তা যেশূয়ের ছেলে এষর অস্ত্রশস্ত্র রাখবার ঘরে উঠবার পথের সামনের জায়গা থেকে প্রাচীরের বাঁক পর্যন্ত মেরামত করে।
NEH 3:20 তারপরে সব্বয়ের ছেলে বারূক প্রাচীরের বাঁক থেকে মহাযাজক ইলীয়াশীবের বাড়ির দ্বার পর্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে মেরামত করল।
NEH 3:21 তার পরের অংশটি ঊরিয়ের ছেলে মরেমোৎ ইলীয়াশীবের বাড়ির দ্বার থেকে শুরু করে বাড়ির শেষ পর্যন্ত মেরামত করল। ঊরিয় ছিল হক্কোষের ছেলে।
NEH 3:22 পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিবাসী যাজকেরা তার পরের অংশটি মেরামত করলেন।
NEH 3:23 বিন্যামীন ও হশূব তার পরের অংশটি মেরামত করল যেটি ছিল তাদের বাড়ির সামনে। তার পরের অংশটি মাসেয়ের ছেলে অসরিয় মেরামত করল যেটি ছিল তাদের বাড়ির পাশের অংশ। মাসেয় ছিল অননিয়ের ছেলে।
NEH 3:24 তার পাশে হেনাদদের ছেলে বিন্নূয়ী অসরিয়ের বাড়ি থেকে শুরু করে বাঁক ও কোনা পর্যন্ত আর একটি অংশ মেরামত করল।
NEH 3:25 উষয়ের ছেলে পালল বাকের অন্য দিকটি পাহারাদারদের উঠানের কাছে রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা উঁচু দুর্গটার সামনের অংশটি মেরামত করল। তারপরে পরোশের ছেলে পদায়
NEH 3:26 এবং মন্দিরের দাসেরা যারা ওফলের পাহাড়ে বাস করত তারা পূর্বদিকে জল-দ্বার এবং বেরিয়ে আসা দুর্গ পর্যন্ত মেরামত করল।
NEH 3:27 তাদের পাশে তকোয়ের লোকেরা সেই বেরিয়ে আসা বিরাট দুর্গ থেকে ওফলের প্রাচীর পর্যন্ত আর একটি অংশ মেরামত করল।
NEH 3:28 যাজকেরা অশ্বদ্বারের উপর দিকে, প্রত্যেকজন নিজ নিজ বাড়ির সামনে মেরামত করল।
NEH 3:29 তার পরের অংশটি ইম্মেরের ছেলে সাদোক তার বাড়ির সামনের দিকে মেরামত করল। তার পরের অংশটি পূব-দ্বারের রক্ষক শখনিয়ের ছেলে শময়িয় মেরামত করল।
NEH 3:30 তার পাশে শেলিমিয়ের ছেলে হনানিয় ও সালফের ষষ্ঠ ছেলে হানূন আর একটি অংশ মেরামত করল। তার পাশের অংশটি বেরিখিয়ের ছেলে মশুল্লম তার ঘরের সামনে মেরামত করল।
NEH 3:31 তার পরের অংশটি মল্কিয় নামে একজন স্বর্ণকার মেরামত করল, এটি ছিল সমাবেশ-দ্বারের সামনে উপাসনা গৃহের সেবাকারীদের ও ব্যবসায়ীদের বাড়ি পর্যন্ত এবং প্রাচীরের কোণের উপরের ঘর পর্যন্ত;
NEH 3:32 এবং স্বর্ণকার ও ব্যবসায়ীরা প্রাচীরের কোণের উপরকার ঘর আর মেষদ্বারের মাঝখানের জায়গাটি মেরামত করল।
NEH 4:1 সন্‌বল্লট যখন শুনল যে, আমরা আবার প্রাচীর গাঁথছি, তখন সে ভয়ানক রাগ করল ও ভীষণ বিরক্ত হল। সে ইহুদিদের বিদ্রুপ করল,
NEH 4:2 এবং তার সঙ্গের লোকদের ও শমরীয় সৈন্যদলের সামনে সে বলল, “এই দুর্বল ইহুদিরা কি করেছে? তারা কি তাদের প্রাচীর পুনর্নির্মাণ করবে? তারা কি যজ্ঞ করবে? একদিনের মধ্যে কি তারা শেষ করবে? ধ্বংসস্তূপ থেকে তারা কি পাথরগুলিকে সজীব করবে, ওগুলি তো পুড়ে গেছে?”
NEH 4:3 তখন অম্মোনীয় টোবিয় তার পাশে ছিল, সে বলল, “ওরা কি গাঁথছে, তার উপরে যদি একটি শিয়াল ওঠে তবে তাদের ওই পাথরের প্রাচীর ভেঙে পড়বে!”
NEH 4:4 হে আমাদের ঈশ্বর, তুমি শোনো, কেমন করে আমাদের তুচ্ছ করা হচ্ছে। তাদের এই অপমান তুমি তাদেরই মাথার উপরে ফেলো। তুমি এমন করো যেন তারা বন্দি হয়ে লুটের বস্তুর মতো অন্য দেশে থাকে।
NEH 4:5 তাদের অন্যায় তুমি ক্ষমা কোরো না কিংবা তোমার সামনে থেকে তাদের পাপ তুমি মুছে ফেলো না, কারণ তারা গাঁথকদের সামনেই তোমাকে অসন্তুষ্ট করেছে।
NEH 4:6 সমস্ত প্রাচীরটি যত উঁচু হবে তার অর্ধেকটা পর্যন্ত আমরা গাঁথলাম, কারণ লোকেরা তাদের সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করছিল।
NEH 4:7 কিন্তু যখন সন্‌বল্লট, টোবিয়, আরবীয়েরা, অম্মোনীয়েরা ও অস্‌দোদের লোকেরা শুনল যে, জেরুশালেমের প্রাচীর মেরামতের কাজ এগিয়ে গেছে এবং ফাঁকগুলি বন্ধ করা হয়েছে তখন তারা ভীষণ রেগে গেল।
NEH 4:8 তারা সকলে ষড়যন্ত্র করল যে, তারা গিয়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং গোলমাল শুরু করে দেবে।
NEH 4:9 কিন্তু আমরা আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম এবং তাদের বিরুদ্ধে দিনরাত পাহারা দেবার ব্যবস্থা করলাম।
NEH 4:10 এর মধ্যে, যিহূদার লোকেরা বলল, “শ্রমিকেরা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ এত বেশি যে, আমরা আর প্রাচীর গাঁথতে পারব না।”
NEH 4:11 এদিকে আমাদের শত্রুরা বলল, “তারা জানবার আগে কিংবা দেখবার আগেই আমরা সেখানে উপস্থিত হব এবং তাদের মেরে ফেলে কাজ বন্ধ করে দেব।”
NEH 4:12 যে ইহুদিরা তাদের কাছাকাছি বাস করত তারা এসে দশবার আমাদের বলতে লাগল, “তোমরা যেদিকেই যাবে, তারা আমাদের আক্রমণ করবে।”
NEH 4:13 অতএব আমি প্রাচীরের পিছন দিকে নিচু জায়গাগুলি যেখানে ফাঁকগুলির ছিল সেখানে বংশ অনুসারে লোকদের তরোয়াল, বড়শা ও ধনুক হাতে নিযুক্ত করলাম।
NEH 4:14 সমস্ত পরিস্থিতি দেখার পর আমি উঠে দাঁড়িয়ে প্রধান লোকেদের, উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের ও অন্য সকল লোকদের বললাম, “ওদের ভয় কোরো না। মহান ও ভয়ংকর প্রভুকে স্মরণ করো এবং নিজেদের ভাই, নিজেদের ছেলেদের ও নিজেদের মেয়েদের, নিজেদের স্ত্রীদের ও নিজেদের বাড়ির জন্য যুদ্ধ করো।”
NEH 4:15 আমাদের শত্রুরা যখন শুনল যে, আমরা তাদের ষড়যন্ত্র জানি এবং ঈশ্বর তা বিফল করে দিয়েছেন, তখন আমরা সকলে প্রাচীরের কাছে ফিরে গিয়ে যে যার কাজ করতে লাগলাম।
NEH 4:16 সেদিন থেকে আমার অর্ধেক লোক কাজ করত আর বাকি অর্ধেক বর্শা, ঢাল, ধনুক, ও বর্ম নিয়ে প্রস্তুত থাকত। যিহূদার যে সমস্ত লোক প্রাচীর গাঁথছিল তাদের পিছনে কর্মকর্তারা থাকত।
NEH 4:17 যারা মালমশলা বইত তারা এক হাতে কাজ করত আর অন্য হাতে অস্ত্র ধরত।
NEH 4:18 গাথকেরা প্রত্যেকে কোমরে তরোয়াল বেঁধে কাজ করত, আর যে তূরী বাজাত সে আমার সঙ্গে থাকত।
NEH 4:19 পরে আমি প্রধান লোকেদের, উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের ও অন্য সকল লোককে বললাম, “কাজের এলাকাটি বড়ো এবং তা অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে, আর আমরা প্রাচীর বরাবর একজনের কাছ থেকে অন্যজন আলাদা হয়ে দূরে দূরে আছি।
NEH 4:20 তোমরা যে কোনও স্থানে তূরীর শব্দ শুনবে, সেই স্থানে আমাদের কাছে জড়ো হবে। আমাদের ঈশ্বর আমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন!”
NEH 4:21 ভোর থেকে শুরু করে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক লোক বর্শা ধরে থাকত আর আমরা এইভাবেই কাজ করতাম।
NEH 4:22 সেই সময় আমি লোকেদের আরও বললাম, “প্রত্যেকে তার চাকরকে নিয়ে রাত্রে যেন জেরুশালেমে থাকে, যেন রাতে পাহারা দিতে পারে এবং দিনের বেলা কাজ করতে পারে।”
NEH 4:23 আমি কিংবা আমার ভাইরা বা আমার চাকরেরা বা আমার দেহরক্ষীরা কেউই আমরা কাপড় খুলতাম না এমনকি, জলের কাছে গেলেও আমরা প্রত্যেকে নিজের অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে নিতাম।
NEH 5:1 পরে লোকেরা ও তাদের স্ত্রীরা ইহুদি ভাইদের বিরুদ্ধে খুব হইচই করতে লাগল।
NEH 5:2 কেউ কেউ বলল, “আমরা আমাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে সংখ্যায় অনেক, খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শস্যের প্রয়োজন।”
NEH 5:3 কেউ কেউ বলল, “দুর্ভিক্ষের সময় শস্য নেওয়ার জন্য আমরা আমাদের জমি, দ্রাক্ষাক্ষেত্র ও বাড়ি বন্ধক রাখছি।”
NEH 5:4 আবার অন্যেরা বলল, “আমাদের জমি ও দ্রাক্ষাক্ষেত্রের উপর রাজার কর দেবার জন্য ধার করতে হয়েছে।
NEH 5:5 যদিও আমরা একই জাতির লোক এবং আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের মতোই তবুও আমাদের ছেলেদের এবং আমাদের মেয়েদের দাসত্বের জন্য দিয়েছি। আমাদের কিছু মেয়ে আগেই দাসী হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা ক্ষমতাহীন, কারণ আমাদের জমি ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র এখন অন্যদের হয়ে গেছে।”
NEH 5:6 আমি যখন তাদের হইচই ও নালিশ শুনলাম তখন ভীষণ রেগে গেলাম।
NEH 5:7 আমি তাদের কথাগুলি মনে মনে বিবেচনা করলাম এবং গণ্যমান্য লোকদের ও উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের ভীষণ বকাবকি করলাম। আমি তাদের বললাম, “তোমরা তোমাদের নিজের দেশের লোকদের কাছ থেকে সুদ আদায় করছ!” সেইজন্য আমি তাদের বিচার করার জন্য এক মহাসভা ডাকলাম
NEH 5:8 এবং বললাম “ওই অইহুদিদের কাছে আমাদের যেসব লোকেরা বিক্রি হয়েছিল যতদূর সম্ভব তাদের আমরা ছাড়িয়ে এনেছি। এখন তোমরা তোমাদের লোকদের বিক্রি করছ, যেন আমাদের কাছে তারা আবার বিক্রি হয়!” তারা চুপ করে থাকল, কারণ তারা উত্তর দেবার জন্য কিছুই খুঁজে পেল না।
NEH 5:9 আমি আরও বললাম, “তোমরা যা করছ তা ঠিক না। অইহুদি যাতে আমাদের বিদ্রুপ না করতে পারে সেইজন্য আমাদের ঈশ্বরের প্রতি ভয় রেখে চলা কি উচিত নয়?
NEH 5:10 আমি, আমার ভাইয়েরা ও আমার লোকেরা তাদের অর্থ এবং শস্য ধার দিই। এসো আমরা এই সুদ নেওয়া বন্ধ করি!
NEH 5:11 তোমরা এখনই তাদের শস্যক্ষেত্র, দ্রাক্ষাক্ষেত্র, জলপাইক্ষেত্র এবং গৃহ সকল ফিরিয়ে দাও। আর অর্থের, শস্যের, নতুন দ্রাক্ষারসের এবং তেলের শতকার যে বৃদ্ধি নিয়ে ঋণ দিয়েছ তা তাদের ফিরিয়ে দাও।”
NEH 5:12 তারা বলল, “আমরা তা ফিরিয়ে দেব এবং আমরা তাদের কাছে আর কিছুই দাবি করব না। আপনি যা বললেন আমরা তাই করব।” তারপর আমি যাজকদের ডেকে গণ্যমান্য লোকদের ও উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের শপথ করালাম যে তারা প্রতিজ্ঞানুসারে কাজ করবে।
NEH 5:13 আমার পোশাকের সামনের দিকটা ঝাড়া দিয়ে বললাম, “যারা এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবে না, ঈশ্বর তাদের প্রত্যেককে তাদের বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে এইভাবে ঝেড়ে ফেলবেন। এরকম লোকদের এইভাবেই ঝেড়ে ফেলা হবে এবং তাদের সবকিছু শেষ করা হবে।” এই কথা শুনে সমস্ত সমাজ বলল, “আমেন,” এবং সদাপ্রভুর গৌরব করল। আর লোকেরা তাদের প্রতিজ্ঞানুসারে কাজ করল।
NEH 5:14 এছাড়াও, রাজা অর্তক্ষস্তের বিংশতিতম বছরের সময় যখন আমি যিহূদা দেশে শাসনকর্তা পদে নিযুক্ত হয়েছিলাম, তখন থেকে তার রাজত্বের বত্রিশ বছর পর্যন্ত—বারো বছর—আমি ও আমার ভাইয়েরা দেশাধ্যক্ষর পাওনা খাবার গ্রহণ করিনি।
NEH 5:15 কিন্তু আমার আগে যে শাসনকর্তারা ছিলেন, তারা লোকদের উপর ভারী বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন এবং খাবারদাবার ও দ্রাক্ষারস ছাড়াও তাদের কাছ থেকে চল্লিশ শেকল রুপো নিতেন। তাদের চাকরেরাও লোকদের উপর কর্তৃত্ব করত। কিন্তু ঈশ্বরের প্রতি আমার ভক্তিমূলক ভয় থাকাতে আমি সেইরকম কাজ করিনি।
NEH 5:16 বরং, আমি এই প্রাচীরের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম। আমার সকল চাকরেরা কাজ করার জন্য সেখানে জড়ো হত, আমরা কেউ কোনো জমি কিনিনি।
NEH 5:17 এছাড়াও, 150 জন ইহুদি ও উচ্চপদস্থ কর্মচারী এবং আমাদের চারিদিকের জাতিগণের মধ্যে যারা আমাদের কাছে আসত তারা আমার সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করত।
NEH 5:18 প্রতিদিন একটি করে বলদ ও ছয়টি বাছাই করা মেষ ও কতগুলি পাখিও আমার জন্য রান্না করা হত, আর প্রতি দশদিন অন্তর যথেষ্ট পরিমাণ সব রকম দ্রাক্ষারস দেওয়া হত। এই সমস্ত সত্ত্বেও লোকদের উপর ভারী বোঝা থাকার দরুন আমি প্রদেশপালের কিছু দাবি করিনি।
NEH 5:19 হে আমার ঈশ্বর, আমি এই লোকদের জন্য যে সকল কাজ করেছি, তুমি আমার মঙ্গলের জন্য তা স্মরণ করো।
NEH 6:1 সন্‌বল্লট, টোবিয়, আরবীয় গেশম ও আমাদের অন্য শত্রু যখন শুনতে পেল যে, আমি প্রাচীর গেঁথেছি এবং সেখানে কোনো ফাঁক নেই, যদিও তখনও আমি নগরদ্বারগুলির দরজা লাগাইনি।
NEH 6:2 সন্‌বল্লট ও গেশম আমাকে এই কথা বলে পাঠাল “আসুন, আমরা ওনো সমস্থলীর কোনও গ্রামে মিলিত হই।” কিন্তু তারা আমার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করছিল;
NEH 6:3 সেইজন্য আমি লোক পাঠিয়ে তাদের এই উত্তর দিলাম “আমি একটি বিশেষ দরকারি কাজ করছি এবং আমি নেমে যেতে পারি না। আমি কেন কাজ বন্ধ করে আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব?”
NEH 6:4 তারা চার বার একই সংবাদ আমাকে পাঠাল আর প্রত্যেকবার আমি তাদের একই উত্তর দিলাম।
NEH 6:5 তারপর, পঞ্চমবার, সন্‌বল্লট একই সংবাদ তার চাকরকে দিয়ে আমার কাছে পাঠাল, আর তার হাতে একটি খোলা চিঠি ছিল
NEH 6:6 যাতে লেখা ছিল: “জাতিগণের মধ্যে এই কথা শোনা যাচ্ছে, আর গেশমও বলেছে সেকথা সত্যি, যে আপনি ও ইহুদিরা বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করেছেন, আর সেইজন্য প্রাচীর গাঁথছেন। এছাড়া, এসব সংবাদ অনুসারে আপনি তাদের রাজা হতে যাচ্ছেন
NEH 6:7 এবং জেরুশালেমে এই ঘোষণা করার জন্য আপনি ভাববাদীও নিযুক্ত করেছেন ‘যিহূদা দেশে একজন রাজা আছেন!’ এখন এই সংবাদ রাজার কাছে পৌঁছাবে; কাজেই আসুন, আমরা একত্র হয়ে পরামর্শ করি।”
NEH 6:8 আমি তাকে এই উত্তর পাঠালাম “আপনি যা বলছেন সেইরকম কিছুই হচ্ছে না, এটি আপনার মনগড়া কথা।”
NEH 6:9 তারা সকলে আমাদের ভয় দেখবার চেষ্টা করছিল, মনে করছিল, “এই কাজ করার জন্য ওদের হাত দুর্বল হয়ে যাবে, এবং তা সম্পূর্ণ হবে না।” কিন্তু আমি প্রার্থনা করলাম, “এখন আমার হাত শক্তিশালী করো।”
NEH 6:10 একদিন আমি দলায়ের ছেলে শময়িয়ের বাড়ি গেলাম, দলায় ছিল মহেটবেলের ছেলে। শময়িয় তার বাড়িতে বদ্ধ ছিল। সে বলল, “আসুন, আমরা ঈশ্বরের ঘরে, মন্দিরের ভিতরে একত্র হই, এবং মন্দিরের দ্বার বন্ধ করি, কারণ লোকেরা আপনাকে হত্যা করার জন্য আসছে, রাত্রেই আপনাকে হত্যা করতে আসবে।”
NEH 6:11 কিন্তু আমি বললাম, “আমার মতো লোকের কি পালিয়ে যাওয়া উচিত? কিংবা আমার মতো কারো কি তার প্রাণরক্ষা করার জন্য মন্দিরের মধ্যে যাওয়া উচিত? আমি যাব না!”
NEH 6:12 আমি বুঝতে পারলাম যে ঈশ্বর তাকে পাঠাননি, কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে ভাবোক্তি বলেছে যেহেতু টোবিয় ও সন্‌বল্লট তাকে ভাড়া করেছে।
NEH 6:13 তাকে ভাড়া করা হয়েছিল যেন ভয়ে এই কাজ করে আমি পাপ করি, এবং তারা যেন আমার দুর্নাম করার সুযোগ পেয়ে আমাকে টিট্‌কারি দিতে পারে।
NEH 6:14 হে আমার ঈশ্বর, টোবিয় ও সন্‌বল্লট যা করেছে তা স্মরণ করো: ভাববাদিনী নোয়দিয়া ও অন্য যে ভাববাদীরা আমাকে ভয় দেখাবার চেষ্টা করছিল তাদেরকেও স্মরণ করো।
NEH 6:15 ইলূল মাসের পঁচিশ তারিখে, বাহান্নতম দিন, প্রাচীর গাঁথা শেষ হল।
NEH 6:16 আমাদের সব শত্রুরা যখন এই কথা শুনল আর নিকটবর্তী সব জাতিরা তা দেখল তখন তারা ভয় পেল এবং আত্মবিশ্বাস হারাল, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, এই কাজ আমাদের ঈশ্বরের সাহায্যেই করা হয়েছে।
NEH 6:17 আবার, সেই সময় যিহূদার গণ্যমান্য লোকেরা টোবিয়ের কাছে অনেক চিঠিপত্র পাঠাতেন এবং টোবিয়ের কাছ থেকে তারা উত্তরও পেতেন।
NEH 6:18 কারণ যিহূদার অনেকে তার কাছে শপথ করেছিল, কারণ সে আরহের ছেলে শখনিয়ের জামাই ছিল, এবং তার ছেলে যিহোহানন বেরিখিয়ের ছেলে মশুল্লমের মেয়েকে বিয়ে করছিল।
NEH 6:19 এছাড়া, তারা টোবিয়ের ভালো কাজের কথা আমাকে জানাত এবং আমি যা বলতাম তারা তাকে জানাত। এবং আমাকে ভয় দেখানোর জন্য টোবিয় চিঠি পাঠাত।
NEH 7:1 প্রাচীর গাঁথা হয়ে যাবার পর আমি দরজাগুলি ঠিক জায়গায় লাগালাম, এবং দ্বাররক্ষী, গায়ক ও লেবীয়দের নিযুক্ত করা হল।
NEH 7:2 আমার ভাই হনানিকে ও দুর্গের শাসনকর্তা হনানিয়কে জেরুশালেমের উপর নিযুক্ত করলাম, কেননা হনানি বিশ্বস্ত লোক ছিলেন এবং ঈশ্বরকে অনেকের চেয়ে বেশি ভয় করতেন।
NEH 7:3 আমি তাদের বললাম, “যতক্ষণ না প্রচণ্ড রোদ হয় ততক্ষণ জেরুশালেমের দ্বার যেন খোলা না হয়। রক্ষীরা থাকার সময় তাদের দিয়ে যেন দ্বার বন্ধ করা ও হুড়কা লাগানো হয়। এবং জেরুশালেমের নিবাসীদের মধ্যে থেকে যেন প্রহরী নিযুক্ত হয়, তাদের কেউ কেউ থাকুক পাহারা দেবার জায়গায় আর কেউ কেউ নিজের বাড়ির কাছে।”
NEH 7:4 সেই সময় জেরুশালেম নগর ছিল বড়ো ও অনেক জায়গা জুড়ে, কিন্তু তার মধ্যে অল্প সংখ্যক লোক ছিল, এবং সব বাড়িও তখন তৈরি করা হয়নি।
NEH 7:5 পরে ঈশ্বর আমার মনে ইচ্ছা দিলেন যেন আমি গণ্যমান্য লোকদের, উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের ও সাধারণ লোকদের একত্র করে তাদের বংশাবলি লেখা হয়। যারা প্রথমে ফিরে এসেছিল সেই লোকদের বংশতালিকা পেলাম। তার মধ্যে আমি এই কথা লেখা পেলাম:
NEH 7:6 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যাদের বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সেই প্রদেশের এইসব লোকজন নির্বাসন কাটিয়ে জেরুশালেম ও যিহূদায় নিজের নিজের নগরে ফিরে এসেছিল।
NEH 7:7 তারা সরুব্বাবিল, যেশূয়, নহিমিয়, অসরিয়, রয়মিয়া, নহমানি, মর্দখয়, বিল্‌শন, মিস্পরৎ, বিগ্‌বয়, নহূম ও বানার সঙ্গে ফিরে এসেছিল। ইস্রায়েলী পুরুষদের তালিকা:
NEH 7:8 পরোশের বংশধর 2,172 জন,
NEH 7:9 শফটিয়ের বংশধর 372 জন,
NEH 7:10 আরহের বংশধর 652 জন,
NEH 7:11 পহৎ-মোয়াবের বংশধর (যেশূয় ও যোয়াবের সন্তানদের মধ্যে) 2,818 জন,
NEH 7:12 এলমের বংশধর 1,254 জন,
NEH 7:13 সত্তূরের বংশধর 845 জন,
NEH 7:14 সক্কয়ের বংশধর 760 জন,
NEH 7:15 বিন্নূয়ীর বংশধর 648 জন,
NEH 7:16 বেবয়ের বংশধর 628 জন,
NEH 7:17 অস্‌গদের বংশধর 2,322 জন,
NEH 7:18 অদোনীকামের বংশধর 667 জন,
NEH 7:19 বিগ্‌বয়ের বংশধর 2,067 জন,
NEH 7:20 আদীনের বংশধর 655 জন,
NEH 7:21 (হিষ্কিয়ের বংশজাত) আটেরের বংশধর 98 জন,
NEH 7:22 হশুমের বংশধর 328 জন,
NEH 7:23 বেৎসয়ের বংশধর 324 জন,
NEH 7:24 হারীফের বংশধর 112 জন,
NEH 7:25 গিবিয়োনের বংশধর 95 জন,
NEH 7:26 বেথলেহেম এবং নটোফার লোকেরা 188 জন,
NEH 7:27 অনাথোতের লোকেরা 128 জন,
NEH 7:28 বেৎ-অস্‌মাবতের লোকেরা 42 জন,
NEH 7:29 কিরিয়ৎ-যিয়ারীম, কফীরা ও বেরোতের লোকেরা 743 জন,
NEH 7:30 রামার ও গেবার লোকেরা 621 জন,
NEH 7:31 মিক্‌মসের লোকেরা 122 জন,
NEH 7:32 বেথেল ও অয়ের লোকেরা 123 জন,
NEH 7:33 অন্য নেবোর লোকেরা 52 জন,
NEH 7:34 অন্য এলমের লোকেরা 1,254 জন,
NEH 7:35 হারীমের লোকেরা 320 জন,
NEH 7:36 যিরীহোর লোকেরা 345 জন,
NEH 7:37 লোদ, হাদীদ, ও ওনোর লোকেরা 721 জন,
NEH 7:38 সনায়ার লোকেরা 3,930 জন।
NEH 7:39 যাজকবর্গ: (যেশূয়ের বংশের মধ্যে) যিদয়িয়ের বংশধর 973 জন,
NEH 7:40 ইম্মেরের বংশধর 1,052 জন,
NEH 7:41 পশ্‌হূরের বংশধর 1,247 জন,
NEH 7:42 হারীমের বংশধর 1,017 জন।
NEH 7:43 লেবীয়বর্গ: (হোদবিয়ের বংশে কদ্‌মীয়েলের মাধ্যমে) যেশূয়ের বংশধর 74 জন।
NEH 7:44 গায়কবৃন্দ: আসফের বংশধর 148 জন।
NEH 7:45 মন্দিরের দ্বাররক্ষীবর্গ: শল্লুম, আটের, টল্‌মোন, অক্কূব, হটীটা ও শোবয়ের বংশধর 138 জন।
NEH 7:46 মন্দিরের পরিচারকবৃন্দ: সীহ, হসূফা, টব্বায়োত,
NEH 7:47 কেরোস, সীয়, পাদোন,
NEH 7:48 লবানা, হগাব, শল্‌ময়,
NEH 7:49 হানন, গিদ্দেল, গহর,
NEH 7:50 রায়া, রৎসীন, নকোদ,
NEH 7:51 গসম, ঊষ, পাসেহ,
NEH 7:52 বেষয়, মিয়ূনীম, নফূষীম,
NEH 7:53 বক্‌বূক, হকূফা, হর্হূর,
NEH 7:54 বসলূত, মহীদা, হর্শা,
NEH 7:55 বর্কোস, সীষরা, তেমহ,
NEH 7:56 নৎসীহ ও হটীফার বংশধর।
NEH 7:57 শলোমনের দাসদের বংশধর: সোটয়, সোফেরত, পরীদা,
NEH 7:58 যালা, দর্কোন, গিদ্দেল,
NEH 7:59 শফটিয়, হটীল, পোখেরৎ-হৎসবায়ীম ও আমোনের বংশধর।
NEH 7:60 মন্দিরের দাসেরা এবং শলোমনের দাসদের বংশধর 392 জন।
NEH 7:61 তেল্-মেলহ, তেল্-হর্শা, করূব, অদ্দন ও ইম্মের, এসব স্থান থেকে নিম্নলিখিত লোকেরা এসেছিল, কিন্তু তারা ইস্রায়েলী লোক কি না, এ বিষয়ে নিজ নিজ পিতৃকুলের প্রমাণ দিতে পারল না:
NEH 7:62 দলায়, টোবিয় ও নকোদের বংশধর 642 জন।
NEH 7:63 আর যাজকদের মধ্যে: হবায়ের, হক্কোষের ও বর্সিল্লয়ের বংশধর (এই বর্সিল্লয় গিলিয়দীয় বর্সিল্লয়ের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল এবং তাকে সেই নামেই ডাকা হত)।
NEH 7:64 বংশতালিকায় এই লোকেরা তাদের বংশের খোঁজ করেছিল কিন্তু পায়নি, এবং সেই কারণে তারা অশুচি বলে তাদের যাজকের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
NEH 7:65 সুতরাং, শাসনকর্তা তাদের এই আদেশ দিয়েছিলেন, যে ঊরীম ও তুম্মীম ব্যবহারকারী কোনো যাজক না আসা পর্যন্ত যেন লোকেরা কোনও মহাপবিত্র খাদ্য ভোজন না করে।
NEH 7:66 সর্বমোট তাদের সংখ্যা ছিল 42,360,
NEH 7:67 এছাড়া তাদের দাস-দাসী ছিল 7,337 জন; এবং তাদের 245 জন গায়ক-গায়িকাও ছিল।
NEH 7:68 তাদের 736-টি ঘোড়া, 245-টি খচ্চর,
NEH 7:69 435-টি উট ও 6,720-টি গাধা।
NEH 7:70 পিতৃকুলপতিদের মধ্যে কেউ কেউ সেই কাজের জন্য দান করল। শাসনকর্তা ভাণ্ডারে 1,000 অদর্কোন সোনা ও পঞ্চাশটি বাটি এবং যাজকদের জন্য 530-টি পোশাক দিলেন।
NEH 7:71 কয়েকজন পিতৃকুলপতি ভাণ্ডারে এই কাজের জন্য 20,000 অদর্কোন সোনা ও 2,200 মানি রুপো দিলেন।
NEH 7:72 বাকি লোকেরা মোট 20,000 অদর্কোন সোনা ও 2,000 মানি রুপো এবং যাজকদের জন্য 67-টি পোশাক দিল।
NEH 7:73 যাজকেরা, লেবীয়েরা, দ্বাররক্ষীরা, গায়কেরা এবং মন্দিরের দাসেরা বিশেষ কিছু লোকের ও অবশিষ্ট ইস্রায়েলীদের সঙ্গে নিজের নিজের নগরে বসবাস করতে লাগল। সপ্তম মাসে ইস্রায়েলীরা নিজের নিজের নগরে বসবাস করতে লাগল।
NEH 8:1 সমস্ত লোক একসঙ্গে জল-দ্বারের সামনের চকে জড়ো হল। তারা বিধানের অধ্যাপক ইষ্রাকে মোশির বিধানপুস্তক আনতে বলল, যেখানে ইস্রায়েলের জন্য সদাপ্রভুর আদেশ দেওয়া ছিল।
NEH 8:2 সুতরাং সপ্তম মাসের প্রথম দিনে যাজক ইষ্রা সমাজের সামনে, স্ত্রী ও পুরুষ এবং যারা শুনে বুঝতে পারে, তাদের সামনে বিধানপুস্তক আনলেন।
NEH 8:3 তিনি জল-দ্বারের সামনের চকের দিকে মুখ করে পুরুষ, স্ত্রী এবং যত লোক বুঝতে পারে তাদের কাছে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তা জোরে জোরে পড়ে শোনালেন। আর সমস্ত লোক মন দিয়ে বিধানপুস্তকের কথা শুনল।
NEH 8:4 এই কাজের জন্য যে কাঠের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল তার উপর বিধানের অধ্যাপক ইষ্রা দাঁড়িয়েছিলেন। তার ডানদিকে মত্তিথিয়, শেমা, অনায়, ঊরিয়, হিল্কিয় ও মাসেয় এবং বাঁদিকে পদায়, মীশায়েল, মল্কিয়, হশুম, হশবদ্দানা, সখরিয় ও মশুল্লম দাঁড়িয়েছিলেন।
NEH 8:5 ইষ্রা পুস্তকখানি খুললেন। সমস্ত লোক তাকে দেখতে পাচ্ছিল কেননা তিনি তাদের থেকে উঁচুতে দাঁড়িয়েছিলেন, আর তিনি যখন পুস্তকটি খুললেন, সমস্ত লোক উঠে দাঁড়াল।
NEH 8:6 ইষ্রা মহান ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৌরব করলেন, আর সমস্ত লোক হাত তুলে উত্তর দিল, “আমেন! আমেন!” তারপর তারা মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে সদাপ্রভুর আরাধনা করল।
NEH 8:7 যেশূয়, বানি, শেরেবিয়, যামীন, অক্কূব, শব্বথয়, হোদিয়, মাসেয়, কলীট, অসরিয়, যোষাবদ, হানন, পলায়—এই লেবীয়েরা সেই দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের বিধানপুস্তকের মানে বুঝিয়ে দিল।
NEH 8:8 লোকেরা যেন বুঝতে পারে সেইজন্য তারা ঈশ্বরের বিধানপুস্তক স্পষ্ট করে পড়ে তার অর্থ বুঝিয়ে দিল।
NEH 8:9 তারপর শাসনকর্তা নহিমিয়, যাজক ও বিধানের অধ্যাপক ইষ্রা এবং যে লেবীয়েরা লোকদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন তারা বললেন, “আজকের এই দিনটি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র। তোমরা শোক বা কান্নাকাটি কোরো না।” কেননা সমস্ত লোকেরা বিধানপুস্তকের কথা শুনে কাঁদছিল।
NEH 8:10 নহিমিয় বললেন, “তোমরা গিয়ে ভালো ভালো খাবার খাও ও মিষ্টি রস পান করে আনন্দ করো, এবং যারা কিছু প্রস্তুত করতে পারেনি তাদের পাঠিয়ে দাও। এই দিনটি প্রভুর উদ্দেশে পবিত্র। তোমরা দুঃখ করো না, কারণ সদাপ্রভুতে যে আনন্দ, তাই তোমাদের শক্তি।”
NEH 8:11 লেবীয়েরা সমস্ত লোকদের শান্ত করে বললেন, “তোমরা নীরব হও, কারণ আজকের দিনটি পবিত্র। তোমরা দুঃখ করো না।”
NEH 8:12 তখন সমস্ত লোক খুব আনন্দের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করার জন্য ও খাবারের অংশ পাঠাবার জন্য চলে গেল, কারণ যেসব কথা তাদের জানানো হয়েছিল তা তারা বুঝতে পেরেছিল।
NEH 8:13 আর মাসের দ্বিতীয় দিনে সমস্ত লোকের পিতৃকুলপতিরা, যাজকেরা ও লেবীয়েরা বিধানের কথা ভালো করে বুঝবার জন্য অধ্যাপক ইষ্রার কাছে একত্র হল।
NEH 8:14 তারা ব্যবস্থায় দেখতে পেল মোশির মাধ্যমে সদাপ্রভু এই আজ্ঞা দিয়েছিলেন যে, সপ্তম মাসের পর্বের সময় ইস্রায়েলীরা কুঁড়ে ঘরে বাস করবে,
NEH 8:15 আর তাদের সকল নগরে ও জেরুশালেমে তারা এই কথা প্রচার ও ঘোষণা করবে “তোমরা পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে কুঁড়ে ঘর তৈরি করার জন্য জলপাই, বুনো জলপাই গাছের ডাল এবং গুলমেদির ডাল, খেজুর গাছের ডাল ও পাতাভরা গাছের ডাল নিয়ে আসবে,” যেমন লেখা আছে।
NEH 8:16 সেইজন্য লোকেরা বাইরে গিয়ে ডাল নিয়ে এসে তাদের ঘরের ছাদের উপর, উঠানে, ঈশ্বরের গৃহের উঠানে ও জল-দ্বারের কাছের চকে এবং ইফ্রয়িমের দ্বারের চকে নিজেদের জন্য কুঁড়ে ঘর তৈরি করল।
NEH 8:17 বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা গোটা দলটাই কুঁড়ে ঘর তৈরি করে সেগুলির মধ্যে বাস করল। নূনের ছেলে যিহোশূয়ের সময় থেকে সেদিন পর্যন্ত ইস্রায়েলীরা এইরকম আর করেনি। আর তাদের খুব আনন্দ হল।
NEH 8:18 প্রথম দিন থেকে শুরু করে শেষদিন পর্যন্ত ইষ্রা প্রতিদিনই ঈশ্বরের বিধানপুস্তক পড়লেন। লোকেরা সাত দিন ধরে পর্ব পালন করল আর অষ্টম দিনে নিয়ম অনুসারে শেষ দিনের বিশেষ সভা হল।
NEH 9:1 সেই একই মাসের চব্বিশ দিনের দিন ইস্রায়েলীরা একত্র হয়ে উপবাস করল, চট পরল এবং মাথায় ধুলো দিল।
NEH 9:2 ইস্রায়েলী সন্তানেরা অন্যান্য জাতির সমস্ত লোকদের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করল। তারা দাঁড়িয়ে নিজেদের পাপ ও তাদের পূর্বপুরুষদের অন্যায় স্বীকার করল।
NEH 9:3 তারা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে তিন ঘণ্টা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিধানপুস্তক পড়ল, এবং আরও তিন ঘণ্টা নিজেদের পাপস্বীকার ও ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপাসনা করল।
NEH 9:4 যেশূয়, বানি, কদ্‌মীয়েল, শবনিয়, বুন্নি, শেরেবিয়, বানি ও কনানী লেবীয়দের মাচায় দাঁড়িয়েছিলেন, তারা উচ্চস্বরে তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ডাকলেন।
NEH 9:5 আর লেবীয়দের মধ্যে যেশূয়, কদ্‌মীয়েল, বানি, হশ্‌বনিয়, শেরেবিয়, হোদিয়, শবনিয় ও পথাহিয় বললেন, “ওঠো, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, যিনি অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত আছেন।” “তোমার প্রতাপান্বিত নাম ধন্য হোক, আমাদের দেওয়া সমস্ত ধন্যবাদ ও প্রশংসার চেয়েও তুমি মহান হও।
NEH 9:6 কেবল তুমিই সদাপ্রভু। তুমিই আকাশমণ্ডল, সর্বোচ্চ আকাশমণ্ডল, তার সমস্ত তারকারাশি, পৃথিবী ও তার উপরের সবকিছু, সমুদ্র ও তার মধ্যে স্থিত সমস্ত কিছু তৈরি করেছ। তুমিই সকলের প্রাণ দিয়েছ এবং স্বর্গের বাহিনী তোমার উপাসনা করে।
NEH 9:7 “তুমিই সদাপ্রভু ঈশ্বর, তুমি অব্রামকে মনোনীত করে কলদীয় দেশের ঊর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে আর তার নাম অব্রাহাম রেখেছিলে।
NEH 9:8 তুমি তার অন্তর বিশ্বস্ত দেখে কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, যিবূষীয় ও গির্গাশীয়ের দেশ তার বংশকে দেবার জন্য, তার সঙ্গে নিয়ম স্থাপন করেছিলে। তুমি ধর্মময় বলে তোমার প্রতিজ্ঞা তুমি রক্ষা করেছিলে।
NEH 9:9 “মিশর দেশে আমাদের পূর্বপুরুষদের কষ্টভোগ তুমি দেখেছিলে; লোহিত সাগরের তীরে তাদের কান্না শুনেছিলে।
NEH 9:10 ফরৌণ, তার সমস্ত কর্মচারী ও তার দেশের সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে তুমি বিভিন্ন চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ দেখিয়েছিলে, কেননা তুমি জানতে মিশরীয়েরা তাদের বিরুদ্ধে গর্ব করত। তুমি নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছিলে, যা আজও আছে।
NEH 9:11 তুমি তাদের সামনে সাগরকে দু-ভাগ করেছিলে, যাতে তারা শুকনো জমির উপর দিয়ে পার হয়েছিল, কিন্তু প্রবল জলে যেমন পাথর ফেলা হয়, যারা তাদের তাড়া করে আসছিল তুমি তাদের তেমনি করে অগাধ জলে ফেলেছিলে।
NEH 9:12 তুমি দিনে মেঘস্তম্ভ ও রাত্রে অগ্নিস্তম্ভ দ্বারা তাদের গন্তব্য পথে আলো দিয়ে তাদের চালাতে।
NEH 9:13 “তুমি সীনয় পর্বতের উপর নেমে এসেছিলে; স্বর্গ থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলে। তুমি তাদের ন্যায্য নির্দেশ, বিধি ও বিধান দিয়েছিলে।
NEH 9:14 তোমার পবিত্র বিশ্রামবার সম্বন্ধে তুমি তাদের জানিয়েছিলে এবং তোমার দাস মোশির মাধ্যমে তাদের আজ্ঞা, বিধি ও বিধান দিয়েছিলে।
NEH 9:15 খিদে মিটাবার জন্য তুমি স্বর্গ থেকে তাদের খাবার আর পিপাসা মিটাবার জন্য পাথর থেকে জল বের করে দিয়েছিলে। যে দেশ তাদের দেবার জন্য তুমি উন্নমিত হাতে শপথ করেছিলে সেখানে গিয়ে তা অধিকার করার জন্য তুমি তাদের আদেশ দিয়েছিল।
NEH 9:16 “তবুও আমাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহার ছিল অহংকারপূর্ণ ও একগুঁয়ে, তারা তোমার আজ্ঞার বাধ্য হয়নি।
NEH 9:17 তারা শুনতে অস্বীকার করেছিল, আর তুমি তাদের মধ্যে যেসব আশ্চর্য কাজ করেছিলে তাও তারা মনে রাখেনি। তারা একগুঁয়েমি করে আবার দাসত্বে ফিরে যাবার জন্য বিদ্রোহভাবে একজন নেতাকে নিযুক্ত করেছিল। কিন্তু তুমি ক্ষমাবান ঈশ্বর, কৃপাময় ও স্নেহশীল, ক্রোধে ধীর ও দয়াতে মহান, তাই তাদের তুমি ত্যাগ করোনি,
NEH 9:18 এমনকি, তারা নিজেদের জন্য ছাঁচে ফেলে একটি বাছুরের মূর্তি তৈরি করে বলেছিল, ‘এই তোমাদের ঈশ্বর, মিশর থেকে যিনি তোমাদের বের করে এনেছেন,’ অথবা তারা যখন তোমাকে ভীষণ অপমান করেছিল।
NEH 9:19 “তোমার প্রচুর করুণায় তুমি তাদের প্রান্তরে পরিত্যাগ করোনি। দিনে তাদের পথ দেখাবার জন্য মেঘস্তম্ভ, এবং রাত্রে তাদের চলার পথে আলো দেবার জন্য অগ্নিস্তম্ভ তাদের উপর থেকে সরিয়ে নাওনি।
NEH 9:20 তুমি তাদের শিক্ষা দেবার জন্য তোমার মঙ্গলময় আত্মা দান করেছিলে। তাদের খাওয়ার জন্য যে মান্না দিয়েছিলে তা বন্ধ করোনি, আর তুমি তাদের পিপাসা মিটাবার জন্য জল দিয়েছিলে।
NEH 9:21 চল্লিশ বছর পর্যন্ত প্রান্তরে তাদের প্রতিপালন করেছিলে, তাদের অভাব হয়নি, তাদের কাপড় পুরানো হয়নি এমনকি তাদের পা-ও ফোলেনি।
NEH 9:22 “পরে তুমি অনেক রাজ্য ও জাতি তাদের হাতে দিয়েছিলে, এমনকি, তাদের সমস্ত জায়গাও তাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলে। তারা হিষ্‌বোনের রাজা সীহোনের দেশ ও বাশন-রাজ ওগের দেশ অধিকার করেছিল।
NEH 9:23 আকাশের তারার মতন তুমি তাদের অসংখ্য সন্তান দিয়েছিলে, এবং সেই দেশে তাদের নিয়ে এসেছিলে, যে দেশের বিষয় তুমি তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলেছিলে, যে তাতে ঢুকে অধিকার করবে।
NEH 9:24 তাদের সন্তানেরা সেই দেশে গিয়ে তা অধিকার করে নিয়েছিল। সেই দেশে বসবাসকারী কনানীয়দের তুমি তাদের সামনে ছোটো করেছিলে, তুমি কানানীয়দের, তাদের রাজাদের ও দেশের অন্যান্য জাতিদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলে যাতে তারা তাদের উপর যা খুশি তাই করতে পারে।
NEH 9:25 তারা প্রাচীরে ঘেরা অনেক নগর ও উর্বর জমি অধিকার করেছিল, তারা সব রকম ভালো ভালো জিনিসে ভরা বাড়িঘর ও আগেই খোঁড়া হয়েছে এমন অনেক কুয়ো, দ্রাক্ষাক্ষেত্র, জলপাইয়ের বাগান এবং অনেক ফলের গাছ অধিকার করেছিল। তারা খেয়ে তৃপ্ত ও পুষ্ট হয়েছিল, এবং তোমার দেওয়া প্রচুর মঙ্গল ভোগ করেছিল।
NEH 9:26 “তবুও তারা অবাধ্য হয়ে তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল; তোমার বিধান তারা ত্যাগ করেছিল। তোমার যে ভাববাদীরা তোমার প্রতি তাদের ফিরাবার জন্য সাক্ষ্য দিতেন, তাদের হত্যা করেছিল, তারা ভয়ানক অসন্তোষের কাজ করেছিল।
NEH 9:27 সেইজন্য তুমি তাদের শত্রুদের হাতে তুলে দিয়েছিলে, যারা তাদের উপর অত্যাচার করেছিল। কিন্তু কষ্টের সময় তারা তোমার কাছে কাঁদত। তুমি স্বর্গ থেকে সেই কান্না শুনেছিলে এবং তোমার প্রচুর করুণায় তাদের উদ্ধারকারীদের পাঠিয়ে দিয়েছিলে, যারা শত্রুদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেছিল।
NEH 9:28 “কিন্তু যেই তারা বিশ্রাম পেত অমনি আবার তারা তোমার চোখে যা মন্দ তাই করত। এরপর তুমি শত্রুদের হাতে তাদের ছেড়ে দিয়েছিলে যাতে শত্রুরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করে। কিন্তু আবার যখন তারা তোমার কাছে কাঁদত তখন স্বর্গ থেকে তা শুনে তোমার করুণায় তুমি বারে বারে তাদের উদ্ধার করতে।
NEH 9:29 “তোমার বিধানের দিকে ফিরে আসবার জন্য তুমি তাদের সতর্ক করেছিলে, কিন্তু তারা অহংকারে পূর্ণ ছিল, ও তোমার আজ্ঞা অমান্য করেছিল। তোমার যেসব নির্দেশ পালন করলে মানুষ বাঁচে তার বিরুদ্ধে তারা পাপ করেছিল। তারা একগুঁয়ে হয়ে এবং ঘাড় শক্ত করে তোমার কথা শুনতে চায়নি।
NEH 9:30 কিন্তু তবুও অনেক বছর ধরে তুমি তাদের উপর ধৈর্য ধরেছিলে। তোমার ভাববাদীদের মাধ্যমে তোমার আত্মার দ্বারা তুমি তাদের সতর্ক করেছিলে। অথচ তাতে তারা কান দেয়নি, সেইজন্য প্রতিবেশী অন্য জাতির লোকদের হাতে তুমি তাদের তুলে দিয়েছিলে।
NEH 9:31 কিন্তু তোমার প্রচুর করুণার জন্য তুমি তাদের নিঃশেষ অথবা ত্যাগ করোনি, কারণ তুমি কৃপাময় ও স্নেহশীল ঈশ্বর।
NEH 9:32 “অতএব, হে আমাদের ঈশ্বর, তুমি মহান, শক্তিশালী ও ভয়ংকর ঈশ্বর, তুমি তোমার ভালোবাসার বিধান রক্ষা করে থাকো। আসিরিয়ার রাজাদের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই যে সকল ক্লেশ আমাদের উপর এবং আমাদের রাজাদের, কর্মকর্তাদের, যাজকদের, ভাববাদীদের, পিতৃপুরুষদের ও তোমার সকল প্রজাদের উপর যে ক্লেশ ঘটেছে তা তোমার চোখে যেন সামান্য মনে না হয়।
NEH 9:33 আমাদের প্রতি যা কিছু ঘটেছে, তুমি ন্যায়পরায়ণ থেকে বিশ্বস্তভাবে কাজ করেছ, কিন্তু আমরা অন্যায় করেছি।
NEH 9:34 আমাদের রাজারা, আমাদের কর্মকর্তারা, আমাদের যাজকেরা এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরা তোমার বিধান পালন করেননি; তারা তোমার আজ্ঞায় অথবা সতর্কবাণীতে মনোযোগ দেয়নি।
NEH 9:35 আর তাদের রাজত্বকালে তোমার দেওয়া বড়ো ও উর্বর দেশে প্রচুর মঙ্গল ভোগ করেছিল, তবুও তারা তোমার সেবা করেনি কিংবা তাদের মন্দ পথ থেকে ফেরেনি।
NEH 9:36 “কিন্তু দেখো, আজ আমরা দাস, ফলে যে দেশ তুমি আমাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছিলে যেন তারা তার ফল ও ভালো জিনিস খেতে পারে, আমরা সেখানেই দাস হয়ে রয়েছি।
NEH 9:37 আমাদের পাপের জন্য যে রাজাদের তুমি আমাদের উপর রাজত্ব করতে দিয়েছ দেশের প্রচুর ফসল তাদের কাছেই যায়। তারা তাদের খুশি মতোই আমাদের শরীরের উপরে ও আমাদের পশুপালের উপরে কর্তৃত্ব করেন। আমরা মহা সংকটের মধ্যে রয়েছি।
NEH 9:38 “এসব কারণে আমরা এখন নিজেদের মধ্যে লিখিতভাবে চুক্তি করছি আর তার উপর আমাদের কর্মকর্তারা, আমাদের লেবীয়রা এবং আমাদের যাজকেরা তাদের সিলমোহর দিচ্ছেন।”
NEH 10:1 তার উপর যারা সিলমোহর দিয়েছিল: হখলিয়ের ছেলে শাসনকর্তা নহিমিয়। সিদিকিয়,
NEH 10:2 সরায়, অসরিয়, যিরমিয়
NEH 10:3 পশ্‌হূর, অমরিয়, মল্কিয়,
NEH 10:4 হটূশ, শবনিয়, মল্লূক,
NEH 10:5 হারীম, মরেমোৎ, ওবদিয়,
NEH 10:6 দানিয়েল, গিন্নথোন, বারূক,
NEH 10:7 মশুল্লম, অবিয়, মিয়ামীন
NEH 10:8 মাসিয়, বিল্‌গয়, শময়িয়, এরা সবাই যাজক ছিলেন।
NEH 10:9 লেবীয়দের মধ্যে: অসনিয়ের ছেলে যেশূয়, হেনাদদের বংশধর বিন্নূয়ী, কদ্‌মীয়েল
NEH 10:10 এবং তাদের সহকর্মী শবনিয়, হোদিয়, কলীট, পলায়, হানন,
NEH 10:11 মীখা, রাহব, হশবিয়,
NEH 10:12 সক্কূর, শেরেবিয়, শবনিয়,
NEH 10:13 হোদিয়, বানি, বনীনু।
NEH 10:14 লোকদের নেতাদের মধ্যে: পরোশ, পহৎ-মোয়াব, এলম, সত্তূ, বানি,
NEH 10:15 বুন্নি, অস্‌গদ, বেবয়,
NEH 10:16 অদোনিয়, বিগ্‌বয়, আদীন,
NEH 10:17 আটের, হিষ্কিয়, অসূর,
NEH 10:18 হোদিয়, হশুম, বেৎসয়
NEH 10:19 হারীফ, অনাথোৎ, নবয়
NEH 10:20 মগ্‌পীয়শ, মশুল্লম, হেষীর
NEH 10:21 মশেষবেল, সাদোক, যদ্দুয়,
NEH 10:22 পলটিয়, হানন, অনায়
NEH 10:23 হোশেয়, হনানিয়, হশূব
NEH 10:24 হলোহেশ, পিল্‌হ, শোবেক
NEH 10:25 রহূম, হশব্‌না, মাসেয়,
NEH 10:26 অহিয়, হানন, অনান,
NEH 10:27 মল্লূক, হারীম, বানা।
NEH 10:28 “অবশিষ্ট লোকেরা—যাজকেরা, লেবীয়েরা, দ্বাররক্ষকেরা, গায়কেরা, উপাসনা গৃহের সেবাকারীরা এবং ঈশ্বরের বিধান পালন করার জন্য যারা আশপাশের জাতিদের মধ্যে থেকে নিজেদের পৃথক করেছে, তারা সকলে, তাদের স্ত্রীরা এবং তাদের ছেলেরা ও তাদের মেয়েরা যারা বুঝতে পারে
NEH 10:29 এরা সকলে এখন ইস্রায়েলী প্রধান লোকদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিজেরা শপথপূর্বক এই শপথ করল যে ঈশ্বরের দাস মোশি দ্বারা দেওয়া ঈশ্বরের বিধান পথে চলব, আমাদের প্রভু সদাপ্রভুর আজ্ঞা, শাসন ও বিধিসকল যত্নের সঙ্গে পালন করব আর যদি না করি তবে যেন আমাদের উপর অভিশাপ নেমে আসে।
NEH 10:30 “আমরা প্রতিজ্ঞা করছি আমাদের নিকটবর্তী জাতিদের সঙ্গে আমাদের মেয়েদের বিয়ে দেব না কিংবা আমাদের ছেলেদের জন্য তাদের মেয়েদের নেব না।
NEH 10:31 “বিশ্রামবারে কিংবা অন্য কোনও পবিত্র দিনে যদি আমাদের নিকটবর্তী লোকেরা কোনও জিনিসপত্র অথবা শস্য বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে তবে তাদের কাছ থেকে আমরা তা কিনব না। প্রত্যেক সপ্তম বছরে আমরা জমি চাষ করব না এবং সমস্ত ঋণ ক্ষমা করে দেব।
NEH 10:32 “আমরা আমাদের ঈশ্বরের গৃহে পরিচর্যা করার জন্য, প্রতি বছর এক শেকলের তৃতীয়াংশ দেবার দায়িত্ব গ্রহণ করলাম
NEH 10:33 দর্শন-রুটির, প্রতিদিনের শস্য-নৈবেদ্য ও হোমের জন্য; বিশ্রামবারের; অমাবস্যার ভোজ; উৎসব সকলের; পবিত্র জিনিসের ও ইস্রায়েলের প্রায়শ্চিত্তার্থক পাপার্থক বলির জন্য এবং আমাদের ঈশ্বরের গৃহের সমস্ত কাজের জন্য।
NEH 10:34 “আমাদের ব্যবস্থায় যা লেখা আছে সেইমত আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বেদির উপরে পোড়াবার জন্য প্রত্যেক বছর নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের ঈশ্বরের গৃহে আমাদের প্রত্যেক বংশকে কখন কাঠ আনতে হবে তা স্থির করার জন্য আমরা যাজকেরা, লেবীয়েরা ও লোকেরা গুটিকাপাত করলাম।
NEH 10:35 “আর আমরা প্রতি বছর প্রথমে কাটা ফসল ও প্রত্যেকটি গাছের প্রথম ফল সদাপ্রভুর গৃহে আনার দায়িত্ব নেব।
NEH 10:36 “ব্যবস্থায় যেমন লেখা আছে, সেইমত আমরা আমাদের প্রথমজাত পুরুষসন্তান ও পশুদের, আমাদের পালের গরু, ছাগল ও মেষের প্রথম বাচ্চা আমাদের ঈশ্বরের গৃহের সেবাকারী যাজকের কাছে নিয়ে যাব।
NEH 10:37 “এছাড়া আমাদের ময়দার ও শস্য-নৈবেদ্যের প্রথম অংশ, সমস্ত গাছের প্রথম ফল ও নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেলের প্রথম অংশ আমরা আমাদের ঈশ্বরের গৃহের ভাণ্ডার ঘরে যাজকদের কাছে নিয়ে আসব। আর আমাদের ফসলের দশমাংশ লেবীয়দের কাছে নিয়ে আসব, কারণ আমরা যেসব গ্রামে কাজ করি লেবীয়েরাই সেখানে দশমাংশ গ্রহণ করে থাকেন।
NEH 10:38 লেবীয়েরা যখন দশমাংশ নেবেন তখন তাদের সঙ্গে হারোণের বংশের একজন যাজক থাকবেন। লেবীয়েরা সেইসব দশমাংশের দশমাংশ ঈশ্বরের গৃহের ভাণ্ডার ঘরে নিয়ে যাবেন।
NEH 10:39 ভাণ্ডার ঘরের যেসব ঘরে মন্দিরের পবিত্র জিনিস সকল, পরিচর্যাকারী যাজকেরা, রক্ষীরা ও গায়কেরা থাকেন সেখানে ইস্রায়েলীরা ও লেবীয়েরা তাদের শস্য-নৈবেদ্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেল নিয়ে আসবে। “আমরা আমাদের ঈশ্বরের গৃহকে অবহেলা করব না।”
NEH 11:1 লোকেদের কর্মকর্তারা জেরুশালেমে বাস করতেন। বাকি লোকেরা গুটিকাপাত করল যেন তাদের মধ্যে প্রতি দশজনের একজন পবিত্র নগর জেরুশালেমে বাস করতে পারে আর বাকি নয়জন তাদের নিজেদের নগরে থাকবে।
NEH 11:2 যে সকল লোক ইচ্ছা করে জেরুশালেমে বাস করতে চাইল লোকেরা তাদের প্রশংসা করল।
NEH 11:3 প্রদেশের এসব প্রধান লোক জেরুশালেমে বসতি করল (কিন্তু যিহূদা দেশের বিভিন্ন নগরে কিছু ইস্রায়েলী, যাজকেরা, লেবীয়েরা, উপাসনা গৃহের সেবাকারীরা ও শলোমনের দাসদের বংশধরেরা নিজের নিজের জমিতে বাস করত,
NEH 11:4 এছাড়া যিহূদা ও বিন্যামীন গোষ্ঠীর কিছু লোক জেরুশালেমে বাস করত): যিহূদা বংশধরদের মধ্য থেকে: উষিয়ের ছেলে অথায়, সেই উষিয় সখরিয়ের ছেলে, সখরিয় অমরিয়ের ছেলে অমরিয় শফটিয়ের ছেলে, শফটিয় মহললেলের ছেলে, সে পেরসের বংশধরদের মধ্যে একজন।
NEH 11:5 আর বারূকের ছেলে মাসেয়, সেই বারূক কল্‌হোষির ছেলে, কল্‌হোষি হসায়ের ছেলে, হসায় অদায়ার ছেলে, অদায়া যোয়ারীবের ছেলে, যোয়াবীর সখরিয়ের ছেলে, সখরিয় শীলোনীয়ের বংশধরদের মধ্যে একজন।
NEH 11:6 পেরসের বংশের মোট 468 শক্তিশালী লোক জেরুশালেমে বাস করত।
NEH 11:7 বিন্যামীনের বংশধরদের মধ্য থেকে: মশুল্লমের ছেলে সল্লু, সেই মশুল্লম যোয়েদের ছেলে, যোয়েদ পদায়ের ছেলে, পদায় কোলায়ার ছেলে, কোলায়া মাসেয়ের ছেলে, মাসেয় ঈথীয়েলের ছেলে, ঈথীয়েল যিশায়াহের ছেলে,
NEH 11:8 এবং তার অনুগামীরা, গব্বয় ও সল্লয় ছিল 928 জন।
NEH 11:9 সিখ্রির ছেলে যোয়েল তাদের প্রধান কর্মচারী ছিল, এবং হস্‌সনূয়ার ছেলে যিহূদা নগরের দ্বিতীয় কর্তা ছিল।
NEH 11:10 যাজকদের মধ্যে: যোয়ারীবের ছেলে যিদয়িয়, যাখীন;
NEH 11:11 হিল্কিয়ের ছেলে সরায়, সেই হিল্কিয় মশুল্লমের ছেলে, মশুল্লম সাদোকের ছেলে, সাদোক মরায়োতের ছেলে, মরায়োৎ অহীটূবের ছেলে, অহীটূব ঈশ্বরের গৃহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা
NEH 11:12 এবং তাদের আরও সহকর্মী যারা উপাসনা গৃহের কাজ করত, তারা ছিল 822 জন। যিরোহমের ছেলে অদায়া, সেই যিরোহম পললিয়ের ছেলে, পললিয় অম্‌সির ছেলে, অম্‌সি সখরিয়ের ছেলে, সখরিয় পশ্‌হূরের ছেলে, পশ্‌হূর মল্কিয়ের ছেলে,
NEH 11:13 এবং তার সহকর্মীরা, যারা পরিবারের কর্তা তারা ছিল 242 জন; অসরেলের ছেলে অমশয়, সেই অসরেল অহসয়ের ছেলে, অহসয় মশিল্লেমোতের ছেলে, মশিল্লেমোৎ ইম্মেরের ছেলে,
NEH 11:14 এবং তার সহকর্মীরা, যারা শক্তিশালী লোক ছিল 128 জন। হগ্‌গদোলীমের ছেলে সব্দীয়েল ছিল তাদের প্রধান কর্মচারী।
NEH 11:15 লেবীয়দের মধ্যে: হশূবের ছেলে শময়িয়, সেই হশূব অস্রীকামের ছেলে, অস্রীকাম হশবিয়ের ছেলে, হশবিয় বুন্নির ছেলে;
NEH 11:16 লেবীয়দের মধ্যে দুজন প্রধান, শব্বথয় ও যোষাবাদ, ঈশ্বরের গৃহের বাইরের কাজকর্মের দায়িত্বে ছিল;
NEH 11:17 মত্তনিয়ের ছেলে মীখা, মীখা সব্দির ছেলে, আসফের ছেলে সব্দি, যে ধন্যবাদ ও প্রার্থনা পরিচালনার কাজে প্রধান ছিল; তার সহকর্মীদের মধ্যে বক্‌বুকিয় ছিল দ্বিতীয়; এবং শম্মুয়ের ছেলে অব্দ, শম্মূয় গাললের ছেলে, গাললে যিদূথূনের ছেলে।
NEH 11:18 পবিত্র নগরে লেবীয়দের মোট সংখ্যা ছিল 284।
NEH 11:19 দ্বার রক্ষকদের মধ্যে: অক্কূব, টল্‌মোন ও তাদের সঙ্গীরা, যারা দ্বারগুলি পাহারা দিত তারা ছিল 172 জন।
NEH 11:20 ইস্রায়েলীদের বাকি লোকেরা, যাজকেরা ও লেবীয়েরা যিহূদার সমস্ত নগরের মধ্যে প্রত্যেকে যে যার পূর্বপুরুষের জায়গাজমিতে বাস করত।
NEH 11:21 উপাসনা গৃহের সেবাকারীরা ওফল পাহাড়ে বাস করত, এবং সীহ ও গীষ্প তাদের উপর দায়িত্বে ছিল।
NEH 11:22 বানির ছেলে উষি ছিল জেরুশালেমে লেবীয়দের প্রধান কর্মচারী, সেই বানি হশবিয়ের ছেলে, হশবিয় মত্তনিয়ের ছেলে, মত্তনিয় মীখার ছেলে। উষি ছিল আসফবংশজাত একজন, যারা ঈশ্বরের গৃহে উপাসনায় গায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করত।
NEH 11:23 গায়কেরা রাজার আদেশের অধীনে ছিল, সেই আদেশের দ্বারাই তাদের প্রতিদিনের কাজ ঠিক করা হত।
NEH 11:24 মশেষবেলের ছেলে পথাহিয়, যিহূদার ছেলে সেরহের একজন বংশজাত, সে লোকদের সমস্ত বিষয়ে রাজার অধীনে নিযুক্ত ছিল।
NEH 11:25 আর সব গ্রাম ও সেগুলির খেতখামারগুলির বিষয়; যিহূদা গোষ্ঠীর লোকেরা কেউ কেউ কিরিয়ৎ-অর্ব্বে ও তার উপনগরগুলিতে, দীবোনে ও তার উপনগরগুলিতে, যিকব্‌সেলে ও তার গ্রামগুলিতে,
NEH 11:26 যেশূয়েতে, মোলাদাতে, বেথ-পেলট,
NEH 11:27 হৎসর-শূয়ালে, বের-শেবাতে ও তার উপনগরগুলিতে,
NEH 11:28 সিক্লগে, মকোনাতে ও তার উপনগরগুলিতে,
NEH 11:29 ঐন-রিম্মোণে, সরায়, যর্মূতে
NEH 11:30 সানোহে, অদুল্লমে ও তার গ্রামগুলিতে, লাখীশে ও তার ক্ষেত্রে, এবং অসেকাতে ও তার উপনগরগুলিতে বাস করত। বস্তুত তারা বের-শেবা থেকে হিন্নোম উপত্যকা পর্যন্ত বাস করত।
NEH 11:31 বিন্যামীনের বংশধরেরা গেবা থেকে মিক্‌মসে, অয়াতে, বেথেলে ও তার উপনগরগুলিতে,
NEH 11:32 অনাথোতে, নোবে, অননিয়াতে,
NEH 11:33 হাৎসারে, রামাতে, গিত্তয়িমে,
NEH 11:34 হাদীদে, সবোয়িমে ও নবল্লাটে,
NEH 11:35 লোদে ও ওনোতে, এবং শিল্পকরদের উপত্যকাতে বাস করত।
NEH 11:36 যিহূদার লেবীয়দের কিছু দল বিন্যামীনের এলাকায় গিয়ে বাস করতে লাগল।
NEH 12:1 এই যাজকেরা ও লেবীয়েরা শল্টীয়েলের ছেলে সরুব্বাবিলের ও যেশূয়ের সঙ্গে এসেছিল: সরায়, যিরমিয়, ইষ্রা,
NEH 12:2 অমরিয়, মল্লূক, হটূশ
NEH 12:3 শখনিয়, রহূম, মরেমোৎ
NEH 12:4 ইদ্দো, গিন্নথোয়, অবিয়
NEH 12:5 মিয়ামীন, মোয়াদিয়, বিল্‌গা
NEH 12:6 শময়িয়, যোয়ারীব, যিদয়িয়,
NEH 12:7 সল্লূ, আমোক, হিল্কিয় ও যিদয়িয়। যেশূয়ের সময়ে এরা ছিলেন যাজকদের ও তাদের সহযোগীদের মধ্যে প্রধান।
NEH 12:8 লেবীয়েরা হল যেশূয়, বিন্নূয়ী, কদ্‌মীয়েল, শেরেবিয়, যিহূদা, মত্তনিয়, এই মত্তনিয় ও তার সহযোগীরা ধন্যবাদের গানের দায়িত্বে ছিল।
NEH 12:9 সেবাকাজের সময় তাদেরই সহযোগী বক্‌বুকিয় ও উন্নো তাদের মুখোমুখি দাঁড়াত।
NEH 12:10 যেশূয় ছিল যোয়াকীমের বাবা, যোয়াকীম ছিল ইলীয়াশীবের বাবা, ইলিয়াশীব ছিল যোয়াদার বাবা,
NEH 12:11 যোয়াদা ছিল যোনাথনের বাবা, এবং যোনাথন ছিল যদ্দূয়ের বাবা।
NEH 12:12 যোয়াকীমের সময়ে যাজকদের পরিবারের মধ্যে এরা প্রধান ছিলেন: সরায়ের পরিবারে মরায়; যিরমিয়ের পরিবারে হনানিয়;
NEH 12:13 ইষ্রার পরিবারে মশুল্লম; অমরিয়ের পরিবারে যিহোহানন;
NEH 12:14 মল্লূকীর পরিবারে যোনাথন; শবনিয়ের পরিবারে যোষেফ;
NEH 12:15 হারীমের পরিবারে অদ্‌ন; মরায়োতের পরিবারে হিল্কয়;
NEH 12:16 ইদ্দোর পরিবারে সখরিয়; গিন্নথোনের পরিবারে মশুল্লম;
NEH 12:17 অবিয়ের পরিবারে সিখ্রি; মিনিয়ামীনের ও মোয়দিয়ের পরিবারে পিল্টয়;
NEH 12:18 বিল্‌গার পরিবারে শম্মূয়; শময়িয়ের পরিবারে যিহোনাথন;
NEH 12:19 যোয়ারীবের পরিবারে মত্তনয়; যিদয়িয়ের পরিবারে উষি;
NEH 12:20 সল্লূয়ের পরিবারে কল্লয়; আমোকের পরিবারে এবর;
NEH 12:21 হিল্কিয়ের পরিবারে হশবিয়; যিদয়িয়ের পরিবারে নথনেল।
NEH 12:22 ইলীয়াশীবের, যোয়াদার, যোহাননের ও যদ্দূয়ের সময়ে লেবীয়দের এবং যাজকদের পরিবারের প্রধানদের নামের তালিকা পারসীক দারিয়াবসের রাজত্বকালে লেখা হয়েছিল।
NEH 12:23 লেবি বংশের প্রধানদের নাম ইলীয়াশীবের ছেলে যোহাননের সময় পর্যন্ত বংশাবলী পুস্তকের মধ্যে লেখা হয়েছিল।
NEH 12:24 লেবীয়দের প্রধান লোক হশবিয়, শেরেবিয়, ও কদ্‌মীয়েলের ছেলে যেশূয়, এবং তাদের সহযোগীরা ঈশ্বরের লোক দাউদের কথামতো অন্য দলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দলের পর দল ঈশ্বরের প্রশংসা ও ধন্যবাদ করত।
NEH 12:25 মত্তনিয়, বক্‌বুকিয়, ওবদিয়, মশুল্লম, টল্‌মোন ও অক্কূব দারোয়ান হয়ে দ্বার সকলের কাছে যে সকল ভাণ্ডার ছিল সেগুলি পাহারা দিত।
NEH 12:26 তারা যোষাদকের ছেলে যেশূয় ও তার ছেলে যোয়াকীমের সময় ও শাসনকর্তা নহিমিয়ের এবং বিধানের অধ্যাপক ও যাজক ইষ্রার সময়ে পরিচর্যা করত।
NEH 12:27 জেরুশালেমের প্রাচীর উৎসর্গ করার উপলক্ষে লেবীয়েরা যেখানে বাস করত সেখান থেকে তাদের জেরুশালেমে আনা হল যেন তারা করতাল, বীণা ও সুরবাহার বাজিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসর্গের জন্য গান গেয়ে ধন্যবাদ দিতে পারে।
NEH 12:28 গায়কদের আনা হয়েছিল জেরুশালেমের নিকটবর্তী জায়গা থেকে নটোফাতীয়দের সকল গ্রাম থেকে।
NEH 12:29 বেথ-গিল্‌গল, গেবা ও অস্‌মাবৎ এলাকা থেকেও গায়কদের এনে জড়ো করা হল, কেননা এরা জেরুশালেমের চারপাশে এসব জায়গায় নিজেদের গ্রাম স্থাপন করেছিল।
NEH 12:30 যাজকেরা ও লেবীয়েরা নিজেরা শুচি হয়ে লোকদের, দ্বারসকল ও প্রাচীর শুচি করল।
NEH 12:31 পরে আমি যিহূদার কর্মকর্তাদের প্রাচীরের উপর আনলাম এবং ধন্যবাদ দেবার জন্য দুটি বড়ো গানের দল নিযুক্ত করলাম। একটি দল প্রাচীরের উপর দিয়ে ডানদিকে সারদ্বারের দিকে গেল।
NEH 12:32 তাদের পিছনে হোশয়িয় ও যিহূদার অর্ধেক কর্মকর্তারা,
NEH 12:33 এবং অসরিয় ইষ্রা, ও মশুল্লম,
NEH 12:34 যিহূদা, বিন্যামীন, শময়িয়, যিরমিয়।
NEH 12:35 এছাড়া তূরী হাতে কয়েকজন যাজক এবং আসফের বংশের সক্কূর ছেলে, মীখার ছেলে, মত্তনিয়ের ছেলে, শময়িয়র ছেলে যোনাথন, তার ছেলে সখরিয়,
NEH 12:36 এবং তার সহযোগীরা—শময়িয়, অসরেল, মিললয়, গিলল্য, মায়য়, নথনেল, যিহূদা ও হনানি—ঈশ্বরের লোক দাউদের কথামতো তারা বিভিন্ন রকম বাজনা নিয়ে চলল, এবং বিধানের অধ্যাপক ইষ্রা তাদের আগে আগে চলল।
NEH 12:37 ফোয়ারা-দ্বারের কাছ দিয়ে যেখানে প্রাচীর উপর দিকে উঠে গেছে সেখানে তারা দাউদ-নগরে উঠবার সিঁড়ি দিয়ে দাউদের প্রাসাদের পাশ দিয়ে পূর্বদিকে জল-দ্বারে গেল।
NEH 12:38 দ্বিতীয় গানের দল উল্টোদিকে এগিয়ে গেল। আমি বাকি অর্ধেক লোক নিয়ে প্রাচীরের উপর দিয়ে তাদের পিছনে গেলাম, তন্দুরের দুর্গ থেকে প্রশস্ত প্রাচীর পর্যন্ত গেল,
NEH 12:39 তারপর ইফ্রয়িমের দ্বার, পুরাতন দ্বার, মৎস্যদ্বার, হননেলের দুর্গ ও হম্মেয়োর দুর্গ দিয়ে মেষদ্বার পর্যন্ত। তারা রক্ষীদের দ্বারে থামল।
NEH 12:40 যে দুটি গানের দল ধন্যবাদ দিয়েছিল তারা তারপর ঈশ্বরের গৃহের মধ্যে তাদের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল; এবং আমিও তাই করলাম। আমার সঙ্গে কর্মকর্তাদের অর্ধেক লোক ছিল।
NEH 12:41 আর সঙ্গে তূরী নিয়ে যে যাজকরা ছিল: ইলিয়াকীম, মাসেয় মিনিয়ামীন, মীখায়, ইলীয়ৈনয়, সখরিয়, হনানিয়।
NEH 12:42 এরা ছাড়াও সেখানে মাসেয়, শময়িয়, ইলিয়াসর, উষি, যিহোহানন, মল্কিয়, এলম ও এষর ছিল। গানের দলের লোকেরা যিষ্রহিয়ের নির্দেশমতো গান করল।
NEH 12:43 ঈশ্বর তাদের প্রচুর আনন্দ দান করেছেন বলে সেদিন লোকেরা বড়ো একটি উৎসর্গের অনুষ্ঠান করল ও খুব আনন্দ করল। স্ত্রীলোকেরা ও ছোটরাও আনন্দ করল। জেরুশালেমের আনন্দধ্বনি অনেক দূর পর্যন্ত শোনা গেল।
NEH 12:44 সেই সময় ভাণ্ডারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য লোকদের নিযুক্ত করা হল যারা সব দান, ফসলের অগ্রিমাংশ ও দশমাংশ সেখানে নিয়ে আসবে। তাদের নগরের চারিদিকের ক্ষেত্র থেকে বিধান অনুসারে যাজক ও লেবীয়দের জন্য লোকদের কাছ থেকে ফসলের অংশ নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিল। যিহূদার লোকেরা পরিচর্যাকারী যাজক ও লেবীয়দের কাজে সন্তুষ্ট হয়েছিল।
NEH 12:45 তারা তাদের ঈশ্বরের পরিচর্যা ও শুচি করার কাজ করত এবং গায়কেরা ও দারোয়ানেরা দাউদের ও তার ছেলে শলোমনের আদেশ অনুসারে কাজ করত।
NEH 12:46 অনেক কাল আগে, দাউদ ও আসফের সময়ে ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রশংসা ও ধন্যবাদের গান গাইবার জন্য গায়কদের জন্য পরিচালকদের নিযুক্ত করা হয়েছিল।
NEH 12:47 সরুব্বাবিলের ও নহিমিয়ের সময়ও ইস্রায়েলীরা সকলেই গায়ক ও দারোয়ানদের প্রতিদিনের অংশ দিত। আর তারা অন্যান্য লেবীয়দের পাওনা পৃথক করে রাখত এবং লেবীয়েরা হারোণের বংশধরদের জন্য তাদের পাওনা পৃথক করে রাখত।
NEH 13:1 সেদিন লোকদের কাছে মোশির পুস্তক জোরে পড়া হল আর দেখা গেল সেখানে লেখা আছে যে কোনও অম্মোনীয় অথবা মোয়াবীয় ঈশ্বরের লোকদের সমাজে প্রবেশ করতে পারবে না,
NEH 13:2 কারণ তারা খাবার ও জল নিয়ে ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি, বরং তাদের অভিশাপ দেবার জন্য বিলিয়মকে ভাড়া করেছিল। কিন্তু আমাদের ঈশ্বর সেই অভিশাপকে আশীর্বাদে পরিণত করেছিলেন।
NEH 13:3 লোকেরা যখন এই বিধান শুনল, তারা বিদেশিদের বংশধরদের সবাইকে ইস্রায়েলীদের সমাজ থেকে বাদ দিয়ে দিল।
NEH 13:4 এর আগে ইলীয়াশীব যাজককে আমাদের ঈশ্বরের গৃহের ভাণ্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে টোবিয়ের নিকট আত্মীয় ছিল,
NEH 13:5 যার জন্য তাকে একটি বড়ো ঘর দেওয়া হয়েছিল যা আগে শস্য-নৈবেদ্যের সামগ্রী, ধূপ ও উপাসনা গৃহের জিনিসপত্র এবং লেবীয়দের, গায়কদের ও দারোয়ানদের জন্য শস্যের, নতুন দ্রাক্ষারসের ও জলপাই তেলের দশমাংশ এবং যাজকদের যা দেওয়া হত তা রাখার জন্য ব্যবহার করা হত।
NEH 13:6 কিন্তু এসব যখন হচ্ছিল তখন আমি জেরুশালেমে ছিলাম না, কেননা ব্যাবিলনের রাজা অর্তক্ষস্তের বত্রিশ বছর রাজত্বের সময় আমি রাজার কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। কিছুদিন পর আমি রাজার কাছে ফিরে আসার অনুমতি নিলাম
NEH 13:7 আর জেরুশালেমে ফিরে এলাম। ঈশ্বরের গৃহে টোবিয়কে একটি ঘর দিয়ে ইলীয়াশীব যে মন্দ কাজ করেছে আমি তা জানলাম।
NEH 13:8 আমি খুব অসন্তুষ্ট হলাম এবং টোবিয়ের সমস্ত জিনিসপত্র সেই ঘর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম।
NEH 13:9 আমি আদেশ দিয়ে সেই ঘর শুচি করলাম আর ঈশ্বরের গৃহের শস্য উৎসর্গের জিনিস ও ধূপ আবার সেখানে এনে রাখলাম।
NEH 13:10 আমি আরও জানতে পারলাম যে লেবীয়দের পাওনা অংশ তাদের দেওয়া হয়নি, এবং তাদের উপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা পালন না করে লেবীয়েরা ও গায়কেরা নিজের নিজের জমিতে ফিরে গেছে।
NEH 13:11 তাতে আমি কর্মকর্তাদের অনুযোগ করে বললাম, “ঈশ্বরের গৃহ কেন অবহেলায় আছে?” তারপর আমি তাদের ডেকে একত্র করে নিজের নিজের পদে বহাল করলাম।
NEH 13:12 যিহূদার সমস্ত লোক তাদের শস্যের, নতুন দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেলের দশমাংশ ভাণ্ডারে আনল।
NEH 13:13 আমি শেলিমিয় যাজক, সাদোক অধ্যাপককে ও লেবীয়দের মধ্যে পদায়কে ভাণ্ডার সকলের দায়িত্ব দিলাম এবং মত্তনিয়ের ছেলে সক্কূর ও সক্কুরের ছেলে হাননকে তাদের সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত করলাম, কারণ সবাই এই লোকদের বিশ্বাসযোগ্য মনে করত। তাদের সহযোগী লেবীয়দের অংশ দেওয়ার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হল।
NEH 13:14 হে আমার ঈশ্বর, এসব কাজের জন্য আমাকে মনে রেখো, আমি আমার ঈশ্বরের গৃহের জন্য ও তার পরিচর্যা কাজের জন্য বিশ্বস্তভাবে যা করেছি তা মুছে ফেলে দিয়ো না।
NEH 13:15 ওই সময় আমি দেখলাম যিহূদার লোকেরা বিশ্রামবারে দ্রাক্ষারস মাড়াইয়ের কাজ করছে আর শস্য, দ্রাক্ষারস, আঙুর, ডুমুর এবং সকল জিনিসের বোঝা গাধার উপর চাপাচ্ছে। আর বিশ্রামবারে এসব জিনিস জেরুশালেমে নিয়ে আসছে। সেইজন্য আমি তাদের সেদিন খাবার বিক্রি না করার জন্য সাবধান করলাম।
NEH 13:16 জেরুশালেমে বাসকারী সোরের লোকেরা মাছ আর অন্যান্য জিনিস এনে বিশ্রামবারে জেরুশালেমে যিহূদার লোকদের কাছে বিক্রি করছিল।
NEH 13:17 আমি যিহূদার গণ্যমান্য লোকদের তিরস্কার করে বললাম, “তোমরা এ কেমন মন্দ কাজ করছ, বিশ্রামবারকে অপবিত্র করছ?
NEH 13:18 তোমাদের পূর্বপুরুষেরা কি সেই একই কাজ করেননি, যার দরুন আমাদের ঈশ্বর আমাদের উপর ও এই নগরের উপর এসব সর্বনাশ ঘটিয়েছেন? এখন তোমরা বিশ্রামবারের পবিত্রতা নষ্ট করে ইস্রায়েলীদের উপর ঈশ্বরের আরও ক্রোধ বাড়িয়ে তুলছ।”
NEH 13:19 আমি এই আদেশ দিলাম যে, বিশ্রামবারের আরম্ভে যখন জেরুশালেমের কবাটগুলির উপর সন্ধ্যা ছায়া নেমে আসবে তখন যেন কবাটগুলি বন্ধ করা হয় এবং বিশ্রামবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখা হয়। বিশ্রামবারে যাতে কোনও বোঝা ভিতরে আনা না হয় তা দেখবার জন্য আমি আমার নিজের কয়েকজন লোক কবাটগুলিতে নিযুক্ত করলাম।
NEH 13:20 এতে ব্যবসায়ীরা ও যারা সব রকম জিনিস বিক্রি করত তারা দু-একবার জেরুশালেমের বাইরে রাত কাটাল।
NEH 13:21 কিন্তু আমি তাদের সতর্ক করে বললাম, “তোমরা প্রাচীরের সামনে কেন রাত কাটাচ্ছ? তোমরা যদি আবার এই কাজ করো তবে আমি তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।” সেই থেকে তারা আর বিশ্রামবারে আসত না।
NEH 13:22 তারপর আমি লেবীয়দের আদেশ দিলাম যেন তারা নিজেদের শুচি করে এবং বিশ্রামবার পবিত্র রাখবার জন্য দ্বারগুলি পাহারা দেয়। হে আমার ঈশ্বর, এর জন্যও তুমি আমাকে মনে রেখো এবং তোমার মহান ভালোবাসাতে আমার প্রতি করুণা কোরো।
NEH 13:23 সেই সময় আমি এও দেখলাম যে, যিহূদার কোনও কোনও লোক অস্‌দোদ, অম্মোন ও মোয়াবের মেয়েদের বিয়ে করছে।
NEH 13:24 তাদের অর্ধেক ছেলেমেয়ে অস্‌দোদের ভাষা কিংবা অন্যান্য জাতির ভাষায় কথা বলে, কিন্তু যিহূদার ভাষায় কথা বলতে জানে না।
NEH 13:25 আমি তাদের তিরস্কার করে বললাম যেন তাদের উপর অভিশাপ নেমে আসে। কয়েকজনকে আমি মারলাম এবং চুল উপড়ে ফেললাম। আমি তাদের ঈশ্বরের নামে শপথ নিতে বাধ্য করলাম এবং বললাম: “তাদের ছেলেদের সঙ্গে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দেবে না, অথবা তোমাদের ছেলেদের জন্য কিংবা নিজেদের জন্য তাদের মেয়েদের গ্রহণ করবে না।
NEH 13:26 এরকম বিয়ে করার জন্য ইস্রায়েলের রাজা শলোমন কি পাপ করেনি? অন্য কোনও জাতির মধ্যে তার মতো রাজা কেউই ছিল না। তাঁর ঈশ্বর তাঁকে ভালোবাসতেন আর ঈশ্বর তাঁকে সমস্ত ইস্রায়েলীয়দের উপর রাজা করেছিলেন, কিন্তু বিদেশি স্ত্রীরা তাঁকে পাপ করিয়েছিল।
NEH 13:27 এখন আমাদের কি এই কথাই শুনতে হবে যে, তোমরাও এসব ভীষণ দুষ্টতার কাজ করেছ এবং বিদেশি স্ত্রীকে বিয়ে করে আমাদের ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছ?”
NEH 13:28 ইলীয়াশীব মহাযাজকের ছেলে যিহোয়াদার এক ছেলে হোরোণীয় সন্‌বল্লটের জামাই ছিল। আর আমি তাকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিলাম।
NEH 13:29 হে আমার ঈশ্বর, এদের কথা মনে রেখো, কারণ এরা যাজকদের পদ এবং যাজকের পদের ও লেবীয়দের নিয়ম কলঙ্কিত করেছে।
NEH 13:30 সুতরাং আমি বিজাতীয় সকলের থেকে যাজক ও লেবীয়দের পবিত্র করলাম, এবং তাদের কাজ অনুসারে প্রত্যেকের কাজ ভাগ করে দিলাম।
NEH 13:31 এছাড়া সময়মত কাঠ ও ফসলের অগ্রিমাংশ আনবার জন্যও আমি ব্যবস্থা করলাম। হে আমার ঈশ্বর, আমার মঙ্গল করার জন্য আমাকে মনে রেখো।
EST 1:1 সেই অহশ্বেরশের সময়ে এই ঘটনাটি ঘটেছিল, যে অহশ্বেরশ হিন্দুস্থান থেকে কূশ দেশ পর্যন্ত 127-টি প্রদেশে রাজত্ব করতেন।
EST 1:2 সেই সময় অহশ্বেরশ রাজা শূশন দুর্গে তাঁর সিংহাসনে বসে শাসন করতেন,
EST 1:3 এবং তাঁর রাজত্বের তৃতীয় বছরে অভিজাত লোকদের ও কর্মকর্তাদের জন্য এক ভোজের আয়োজন করলেন। পারস্য ও মাদিয়া দেশের সেনাপতিরা, অভিজাত লোকেরা ও রাজ্যের উঁচু পদের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
EST 1:4 একশত আশি দিন ধরে তিনি তাঁর রাজ্যের সম্পদ এবং ঐশ্বর্য ও গরিমা তাদের কাছে প্রদর্শন করলেন।
EST 1:5 এই দিনগুলি শেষ হয়ে যাবার পর তিনি শূশনে উপস্থিত ক্ষুদ্র কি মহান সমস্ত লোকের জন্য সাত দিন ধরে রাজবাড়ির বাগানের উঠানে একটি ভোজ দিলেন।
EST 1:6 সেই বাগান সাজাবার জন্য সাদা ও নীল কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা হয়েছিল যেগুলি সাদা ও বেগুনি মসিনা সুতোর দড়ি দিয়ে রুপোর কড়াতে মার্বেল পাথরের থামে আটকানো ছিল। মার্বেল পাথর, ঝিনুক এবং বিভিন্ন রংয়ের অন্যান্য দামি পাথরের করা মেঝের উপরে সোনা ও রুপোর আসন ছিল।
EST 1:7 সমস্ত পানীয় বিভিন্ন রকমের সোনার পাত্রে দেওয়া হচ্ছিল এবং রাজার মন বড়ো ছিল বলে প্রচুর পরিমাণে দ্রাক্ষারস ছিল।
EST 1:8 রাজার আদেশে নিমন্ত্রিত প্রত্যেকজনকে নিজের ইচ্ছামতো তা খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কারণ প্রত্যেকে যেমন চায় রাজা সেইভাবে পরিবেশন করার জন্য সকল দ্রাক্ষারসের পরিবেশককে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
EST 1:9 অহশ্বেরশ রাজার রাজপ্রাসাদে বষ্টী রানিও মহিলাদের জন্য একটি ভোজ দিলেন।
EST 1:10 সপ্তম দিনে রাজা অহশ্বেরশ দ্রাক্ষারস খেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন এবং যে সাতজন নপুংসক—মহূমন, বিস্থা, হর্বোণা, বিগথা, অবগথ, সেথর, কর্কস—তাঁর পরিচর্যা করত তাদের তিনি আদেশ দিলেন,
EST 1:11 যেন রানি বষ্টীকে রাজমুকুট পরিয়ে তাঁর সামনে আনা হয়। রানি দেখতে সুন্দরী ছিলেন বলে রাজা অভিজাত লোকদের ও কর্মকর্তাদের সামনে তাঁর সৌন্দর্য দেখাতে চেয়েছিলেন।
EST 1:12 কিন্তু পরিচর্যাকারীরা যখন রাজার আদেশ জানাল তখন রানি বষ্টী আসতে রাজি হলেন না। এতে রাজা ভীষণ রেগে আগুন হয়ে গেলেন।
EST 1:13 যেহেতু আইন ও বিচার সম্বন্ধে দক্ষ লোকদের সঙ্গে রাজার পরামর্শ করবার নিয়ম ছিল বলে তিনি সেই পরামর্শদাতাদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বললেন
EST 1:14 এবং যারা রাজার খুব কাছের ছিল তারা হল কর্শনা, শেথর, অদমাথা, তর্শীশ, মেরস, মর্সনা ও মমূখন, এই সাতজন পারস্য ও মাদিয়া দেশের অভিজাত কর্মকর্তাদের রাজার সামনে উপস্থিত হবার অধিকার ছিল এবং সাম্রাজ্যের মধ্যে সব বড়ো স্থান ছিল তাদের।
EST 1:15 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “বিধান অনুসারে রানি বষ্টীর প্রতি কি করা উচিত? নপুংসকদের দ্বারা রাজা অহশ্বেরশ যে আদেশ রানিকে পাঠিয়েছিলেন তা তিনি মানেননি।”
EST 1:16 তখন রাজা এবং উঁচু পদের কর্মকর্তাদের সাক্ষাতে মমূখন বললেন, “রানি বষ্টী অন্যায় করেছেন, কেবল রাজার বিরুদ্ধে নয় কিন্তু রাজা অহশ্বেরশের অধীন সমস্ত রাজ্যের উঁচু পদের কর্মকর্তাদের ও সেখানকার লোকদের বিরুদ্ধে।
EST 1:17 রানির এরকম ব্যবহার সমস্ত স্ত্রীলোকদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যাবে এবং তারা তাদের স্বামীদের তুচ্ছ করে বলবে, ‘রাজা অহশ্বেরশ আদেশ দিয়েছিলেন যেন রানি বষ্টীকে তাঁর সামনে আনা হয়, কিন্তু তিনি আসলেন না।’
EST 1:18 পারস্য ও মাদিয়ার সম্মানিতা স্ত্রীলোকেরা রানির এই ব্যবহারের কথা শুনে রাজার উঁচু পদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একইরকম ব্যবহার করবেন। এতে অসম্মান ও অনৈক্যের কোনও শেষ হবে না।
EST 1:19 “যদি রাজার অমত না থাকে, তবে তিনি যেন একটি রাজ-আদেশ দেন যে, বষ্টী আর কখনও রাজা অহশ্বেরশের সামনে আসতে পারবেন না। এই আদেশ পারস্য ও মাদিয়ার আইনে লেখা থাকুক যেন বাতিল করা না যায়। এছাড়া রাজা যেন তাঁর চেয়েও উপযুক্ত অন্য আর একজনকে রানির পদ দেন।
EST 1:20 রাজার এই আদেশ যখন তাঁর বিরাট সাম্রাজ্যের সব জায়গায় ঘোষিত হবে তখন সাধারণ থেকে সম্মানিতা সমস্ত স্ত্রীলোকেরা তাদের স্বামীদের সম্মান করবে।”
EST 1:21 এই পরামর্শ রাজা ও তাঁর উঁচু পদের কর্মকর্তাদের ভালো লাগল, রাজা সেইজন্য মমূখনের কথামতো কাজ করলেন।
EST 1:22 তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের সব জায়গায় প্রত্যেকটি রাজ্যের অক্ষরানুসারে ও প্রত্যেকটি জাতির ভাষানুসারে চিঠি পাঠিয়ে দিলেন যে, প্রত্যেক পুরুষ তার নিজের বাড়ির উপর কর্তৃত্ব করুক ও স্বজাতীয় ভাষায় তা প্রচার করুক।
EST 2:1 পরে রাজা অহশ্বেরশের রাগ পড়ে গেলে, বষ্টীকে ও তিনি কি করেছিলেন এবং তাঁর বিষয় কি আদেশ দেওয়া হয়েছিল তা স্মরণ করলেন।
EST 2:2 তখন রাজার ব্যক্তিগত কর্মচারীরা প্রস্তাব করল, “মহারাজের জন্য সুন্দরী কুমারী মেয়ের খোঁজ করা হোক।
EST 2:3 রাজা নিজের সাম্রাজ্যের সমস্ত রাজ্যে এজেন্ট নিযুক্ত করুন যেন তারা সব সুন্দরী মেয়েদের শূশন দুর্গের হারেমে পাঠিয়ে দিতে পারে। তাদেরকে রাজার যে নপুংসক হেগয়, তার হাতে সমর্পণ করুক, যার উপর স্ত্রীলোকদের ভার দেওয়া আছে, এবং তাদের সৌন্দর্য বাড়াবার জন্য যা লাগে তা দেওয়া হোক।
EST 2:4 তারপর মহারাজকে যে কুমারী মেয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবে তাকে বষ্টীর পরিবর্তে রানি করা হোক।” এই পরামর্শ রাজার কাছে ভালো লাগল, এবং তিনি সেইমতই কাজ করলেন।
EST 2:5 সেই সময় মর্দখয় নামে বিন্যামীন গোষ্ঠীর একজন ইহুদি শূশনের দুর্গে ছিলেন। তিনি যায়ীরের ছেলে, যে শিমিয়ের ছেলে, যে কীশের ছেলে,
EST 2:6 যাকে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনের সঙ্গে জেরুশালেম থেকে বন্দি করে নিয়ে এসেছিলেন।
EST 2:7 মর্দখয়ের হদসা নামে একটি সম্পর্কিত বোন ছিল যাঁকে তিনি মানুষ করেছিলেন কারণ তাঁর মা অথবা বাবা ছিল না। এই মেয়েটি ইষ্টের নামেও পরিচিত ছিল, সে খুব সুন্দরী ও ভালো গড়নের ছিল এবং তাঁর মা ও বাবা মারা যাওয়ায় মর্দখয় তাঁকে নিজের মেয়ে বলে গ্রহণ করেছিলেন।
EST 2:8 রাজার আদেশ ও নির্দেশ ঘোষণা করা হলে পর অনেক মেয়েকে শূশনের দুর্গে নিয়ে এসে হেগয়ের তদারকির অধীনে রাখা হল। ইষ্টেরকেও রাজবাড়িতে নিয়ে গিয়ে হেগয়ের কাছে রাখা হল, যাঁর উপর হারেমের দায়িত্ব ছিল।
EST 2:9 মেয়েটি তাঁকে সন্তুষ্ট করে ও তাঁর দয়া পায়। হেগয় প্রথম থেকেই তাঁকে সৌন্দর্য বাড়াবার জিনিসপত্র এবং বিশেষ খাবার দিল। সে রাজবাড়ি থেকে বেছে বেছে সাতজন দাসী তাঁর জন্য নিযুক্ত করল এবং হারেমের সবচেয়ে ভালো জায়গায় তাঁকে ও তাঁর দাসীদের রাখল।
EST 2:10 ইষ্টের তাঁর জাতি ও বংশের পরিচয় দিলেন না কারণ মর্দখয় তাঁকে বারণ করেছিলেন।
EST 2:11 ইষ্টের কেমন আছেন ও তাঁর কি হচ্ছে না হচ্ছে তা জানার জন্য মর্দখয় প্রতিদিন হারেমের উঠানের সামনে ঘোরাফেরা করতেন।
EST 2:12 রাজা অহশ্বেরশের কাছে কোনও মেয়ের যাবার পালা আসবার আগে বারো মাস ধরে তাঁকে মেয়েদের জন্য সৌন্দর্য বাড়াবার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হত, ছয় মাস গন্ধরসের তেল ও ছয় মাস সুগন্ধি ও মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রসাধনের জিনিসপত্র ব্যবহার করতে হত।
EST 2:13 আর এইভাবে সে রাজার কাছে যেতে পারত তিনি যা নিয়ে যেতে চাইতেন তাই তাঁকে রাজার প্রাসাদের হারেম থেকে দেওয়া হত।
EST 2:14 সন্ধ্যাবেলা সে সেখানে যেত এবং সকালবেলা হারেমের আরেক জায়গায় যেত যেখানে রাজার নপুংসক শাশগস উপপত্নীদের যত্ন নিতেন। সে আর রাজার কাছে যেতে পারত না যদি না রাজা তার উপর খুশি হয়ে তাকে নাম ধরে ডাকতেন।
EST 2:15 ইষ্টেরের যখন রাজার কাছে যাবার পালা এল (মর্দখয় তাঁর কাকা অবীহয়িলের যে মেয়েকে নিজের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন), তখন হারেমের তদারককারী রাজার নিযুক্ত নপুংসক হেগয় তাঁকে যা নিয়ে যেতে বলল তা ছাড়া তিনি আর কিছুই চাইলেন না। আর যে কেউ ইষ্টেরকে দেখত, সে তাঁকে অনুগ্রহ করত।
EST 2:16 রাজা অহশ্বেরশের রাজত্বের সাত বছরের দশম মাসে তার অর্থ টেবেথ মাসে ইষ্টেরকে রাজবাড়িতে রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হল।
EST 2:17 অন্যান্য স্ত্রীলোকদের চেয়ে ইষ্টেরকে রাজা বেশি ভালোবাসলেন এবং তিনি অন্যান্য কুমারী মেয়েদের চেয়ে রাজার কাছে বেশি দয়া ও ভালোবাসা পেলেন। অতএব রাজা তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দিলেন এবং বষ্টীর জায়গায় ইষ্টেরকে রানি করলেন।
EST 2:18 তারপর রাজা তাঁর উঁচু পদের লোকদের ও কর্মকর্তাদের জন্য ইষ্টেরের ভোজ নামে একটি বড়ো ভোজ দিলেন। তিনি সব রাজ্যে ছুটি ঘোষণা করলেন ও রাজকীয় উদারতায় উপহার দান করলেন।
EST 2:19 দ্বিতীয়বার কুমারী মেয়েদের যখন একত্র করা হল, মর্দখয় রাজবাড়ির দ্বারে বসেছিলেন।
EST 2:20 কিন্তু মর্দখয়ের কথামতো ইষ্টের তাঁর বংশের পরিচয় ও জাতির কথা গোপন রেখেছিলেন। ইষ্টের মর্দখয়ের কাছে প্রতিপালিত হবার সময় যেমন তাঁর কথামতো চলতেন তখনও তিনি তেমনই চলছিলেন।
EST 2:21 মর্দখয় রাজবাড়ির দ্বারে বসে থাকার সময় একদিন রাজার দ্বাররক্ষীদের মধ্যে দুজন, বিগথন ও তেরশ, রাগ করে রাজা অহশ্বেরশকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করল।
EST 2:22 কিন্তু মর্দখয় ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে রানি ইষ্টেরকে সেই কথা জানালেন। রানি মর্দখয়ের নাম করে তা রাজাকে জানালেন।
EST 2:23 সেই বিষয় খোঁজখবর নিয়ে যখন জানা গেল কথাটি সত্যি তখন সেই দুজন কর্মচারীকে ফাঁসি দেওয়া হল। এসব কথা রাজার সামনেই ইতিহাস বইতে লেখা হল।
EST 3:1 এসব ঘটনার পরে রাজা অহশ্বেরশ অগাগীয় হম্মদাথার ছেলে হামনকে সাম্রাজ্যের অন্যান্য কর্মকর্তাদের চেয়ে উঁচু পদ দিয়ে সম্মানিত করলেন।
EST 3:2 রাজবাড়ির দ্বারে থাকা রাজকর্মচারীরা হাঁটু গেড়ে হামনকে সম্মান দেখাত, কারণ রাজা তার সম্বন্ধে সেইরকমই আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মর্দখয় হাঁটুও পাততেন না কিংবা সম্মানও দেখাতেন না।
EST 3:3 এতে রাজবাড়ির দ্বারে থাকা রাজকর্মচারীরা মর্দখয়কে বলল, “রাজার আদেশ তুমি কেন অমান্য করছ?”
EST 3:4 দিনের পর দিন তারা তাঁকে বললেও তিনি তা মানতে রাজি হলেন না। সুতরাং তারা হামনকে সে বিষয় বলল দেখতে যে মর্দখয়ের এই ব্যবহার সহ্য করা হবে কি না, কারণ তিনি তাদের বলেছিলেন যে তিনি একজন ইহুদি।
EST 3:5 হামন যখন দেখল যে মর্দখয় হাঁটুও পাতবেন না কিংবা সম্মানও দেখাবেন না তখন ভীষণ রেগে গেল।
EST 3:6 কিন্তু মর্দখয়ের জাতি সম্বন্ধে জানতে পেরে কেবল মর্দখয়কে মেরে ফেলা একটি সামান্য বিষয় বলে সে মনে করল। এর বদলে সে একটি উপায় খুঁজতে লাগল যাতে অহশ্বেরশের গোটা সাম্রাজ্যের মধ্য থেকে মর্দখয়ের লোকদের, মানে ইহুদিদের ধ্বংস করতে পারে।
EST 3:7 রাজা অহশ্বেরশের রাজত্বের বারো বছরের প্রথম মাসে, তার অর্থ নীষণ মাসে একটি দিন ও মাস বেছে নেবার জন্য লোকেরা হামনের সামনে পূর, তার অর্থ গুটিকাপাত করল। তাতে গুলি বারো মাসে, অদর মাসে উঠল।
EST 3:8 হামন তখন রাজা অহশ্বেরশকে বলল, “আপনার সাম্রাজ্যের সমস্ত রাজ্যে বিভিন্ন জাতির মধ্যে একটি জাতি ছড়িয়ে রয়েছে যাদের দেশাচার অন্য জাতির থেকে আলাদা এবং তারা মহারাজের বিধান পালন করে না; অতএব তাদের সহ্য করা মহারাজের অনুপযুক্ত।
EST 3:9 মহারাজের যদি ভালো মনে হয়, তবে তাদের ধ্বংস করে ফেলার জন্য একটি হুকুম জারি করা হোক, তাতে আমি রাজভাণ্ডারে রাখার জন্য এই কাজের উদ্দেশে যারা কার্যকারী তাদের জন্য 10,000 তালন্ত রুপো দেব।”
EST 3:10 তখন রাজা তাঁর নিজের আঙুল থেকে স্বাক্ষর দেবার আংটি ইহুদিদের শত্রু অগাগীয় হম্মদাথার ছেলে হামনকে দিলেন।
EST 3:11 রাজা হামনকে বললেন, “অর্থ তুমি রাখো আর লোকদের নিয়ে তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো।”
EST 3:12 তারপর প্রথম মাসের তেরো দিনের দিন রাজার কার্যনির্বাহকদের ডাকা হল। তারা প্রত্যেক রাজ্যের অক্ষর ও প্রত্যেক জাতির ভাষা অনুসারে হামনের সমস্ত আদেশ বিভিন্ন রাজ্যের ও বিভাগের শাসনকর্তাদের এবং বিভিন্ন জাতির নেতাদের কাছে লিখে জানাল। সেগুলি রাজা অহশ্বেরশের নামে লেখা হল এবং রাজার নিজের আংটি দিয়ে সিলমোহর করা হল।
EST 3:13 এই চিঠি পত্রবাহকদের দিয়ে রাজার অধীন সমস্ত রাজ্যে পাঠানো হল। সেই চিঠিতে হুকুম দেওয়া হল যেন অদর নামে বারো মাসের তেরো দিনের দিন সমস্ত ইহুদিদের—যুবক ও বৃদ্ধ, শিশু ও স্ত্রীলোক—সমস্ত লুট করে একদিনে হত্যা করে ধ্বংস করতে হবে।
EST 3:14 এই ফরমানের নকল প্রত্যেক রাজ্যের সমস্ত জাতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হল যেন তারা সেদিনের জন্য প্রস্তুত হয়।
EST 3:15 রাজার আদেশ পেয়ে সংবাদবাহকেরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল এবং শূশনের দুর্গেও সেই ফরমান প্রচার করা হল। তারপর রাজা ও হামন পান করতে বসলেন, কিন্তু শূশন নগরের সকল লোক হতভম্ব হয়ে গেল।
EST 4:1 যখন মর্দখয় এসব বিষয় জানতে পারলেন, তিনি নিজের পরনের কাপড় ছিড়ে, চট পরে ও ছাই মেখে নগরের মধ্যে দিয়ে উচ্চস্বরে কাঁদতে কাঁদতে গেলেন।
EST 4:2 কিন্তু তিনি রাজবাড়ির দ্বার পর্যন্ত গেলেন কারণ চট পরে কাউকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
EST 4:3 প্রত্যেকটি রাজ্যে রাজার ফরমান ও আদেশ পৌঁছাল সেখানে ইহুদিদের মধ্যে মহাশোক, উপবাস, কান্নাকাটি ও বিলাপ হতে লাগল। অনেকে চট পরে ছাইয়ের মধ্যে শুয়ে পড়ল।
EST 4:4 ইষ্টেরের দাসীরা ও নপুংসকেরা যখন তাঁকে মর্দখয়ের বিষয় জানাল তখন তাঁর মনে খুব দুঃখ হল। তিনি মর্দখয়কে কাপড় পাঠালেন যেন তিনি চটের বদলে তা পরেন, কিন্তু তা তিনি নিলেন না।
EST 4:5 তখন ইষ্টের নিজের পরিচর্যাকারী রাজার নপুংসক হথককে ডাকলেন, এবং মর্দখয়ের কি হয়েছে ও কেন হয়েছে তা তাঁর কাছ থেকে জেনে আসবার জন্য হুকুম দিলেন।
EST 4:6 সেইজন্য হথক রাজবাড়ির দ্বারের সামনে নগরের চকে মর্দখয়ের কাছে গেল।
EST 4:7 মর্দখয় তাঁর প্রতি যা ঘটেছে এবং ইহুদিদের ধ্বংস করার জন্য হামন যে পরিমাণ রুপো রাজভাণ্ডারে দেবার প্রতিজ্ঞা করেছে তা সব তাকে জানালেন।
EST 4:8 তিনি তাকে তাদের ধ্বংস করার যে ফরমান শূশনে প্রকাশ করা হয়েছিল তার নকল দিলেন যেন সেটি ইষ্টেরকে দেখায় ও তাঁর কাছে ব্যাখ্যা করে এবং তিনি যেন রাজার সঙ্গে দেখা করে করুণা ভিক্ষা করেন ও তাঁর লোকদের জন্য মিনতি করেন।
EST 4:9 হথক ফিরে গিয়ে মর্দখয় যা বলেছিলেন তা ইষ্টেরকে জানাল।
EST 4:10 তখন ইষ্টের মর্দখয়কে এই কথা বলবার জন্য তাকে নির্দেশ দিলেন,
EST 4:11 “রাজার সব কর্মচারীরা এবং রাজার অধীন সব রাজ্যের লোকেরা জানে যে, কোনও পুরুষ বা স্ত্রীলোক রাজার ডাক না পেয়ে যদি ভিতরের দরবারে প্রবেশ করে তাঁর কাছে যায় তবে তার জন্য মাত্র একটিই আইন আছে, সেটি হল তার মৃত্যু। তবে যে লোকের প্রতি রাজা সোনার রাজদণ্ড বাড়িয়ে দেন কেবল তার প্রাণই বাঁচে। কিন্তু গত ত্রিশ দিনের মধ্যে রাজার কাছে যাবার জন্য আমাকে ডাকা হয়নি।”
EST 4:12 মর্দখয়কে যখন ইষ্টেরের কথা জানানো হল,
EST 4:13 তিনি তাঁকে এই উত্তর দিলেন, “রাজবাড়িতে আছ বলে মনে করো না যে ইহুদিদের মধ্যে তুমি একমাত্র রক্ষা পাবে।
EST 4:14 কারণ এসময় যদি তুমি চুপ করে থাকো তবে অন্য দিক থেকে ইহুদিরা সাহায্য ও উদ্ধার পাবে, কিন্তু তুমি তো মরবেই আর তোমার বাবার বংশও শেষ হয়ে যাবে। আর কে জানে হয়তো এরকম সময়ের জন্যই তুমি রানির পদ পেয়েছ?”
EST 4:15 তখন ইষ্টের মর্দখয়কে এই উত্তর পাঠিয়ে দিলেন,
EST 4:16 “আপনি গিয়ে শূশনে থাকা সমস্ত ইহুদিদের একত্র করুন এবং আমার জন্য সকলে উপবাস করুন। আপনারা তিন দিন ধরে রাতে কি দিনে কোনও কিছু খাওয়াদাওয়া করবেন না। আপনারা যেমন উপবাস করবেন তেমনি আমি ও আমার দাসীরা উপবাস করব। তারপর যদিও তা আইন বিরুদ্ধ তবুও আমি রাজার কাছে যাব। তাতে যদি আমাকে মরতে হয় মরব।”
EST 4:17 এতে মর্দখয় গিয়ে ইষ্টেরের সব নির্দেশমতো কাজ করলেন।
EST 5:1 তৃতীয় দিনে ইষ্টের রাজকীয় পোশাক পরে রাজার ঘরের সামনে রাজবাড়ির ভিতরের দরবারে গিয়ে দাঁড়ালেন। রাজা দরজার দিকে মুখ করে সিংহাসনে বসেছিলেন।
EST 5:2 তিনি রানি ইষ্টেরকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাঁর উপর খুশি হয়ে তাঁর হাতের সোনার রাজদণ্ডটি তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তখন ইষ্টের এগিয়ে গিয়ে সেই রাজদণ্ডটির আগাটি ছুঁলেন।
EST 5:3 রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “রানি ইষ্টের কি ব্যাপার? তুমি কি চাও? সাম্রাজ্যের অর্ধেকটা হলেও তোমাকে দেওয়া হবে।”
EST 5:4 উত্তরে ইষ্টের বললেন, “মহারাজ যদি ভালো মনে করেন তবে আপনার জন্য আজ আমি যে ভোজ প্রস্তুত করেছি তাতে মহারাজ ও হামন যেন উপস্থিত হন।”
EST 5:5 তখন রাজা বললেন, “ইষ্টেরের কথামতো যেন কাজ হয়, সেইজন্য হামনকে নিয়ে এসো।” পরে ইষ্টের যে ভোজ প্রস্তুত করেছিলেন তাতে রাজা ও হামন যোগ দিলেন।
EST 5:6 তারা যখন দ্রাক্ষারস পান করছিলেন তখন রাজা আবার ইষ্টেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি চাও? তোমাকে তা দেওয়া হবে। যদি সাম্রাজ্যের অর্ধেকও হয় তোমাকে দেওয়া হবে।”
EST 5:7 উত্তরে ইষ্টের বললেন, “আমার অনুরোধ ও ইচ্ছা এই;
EST 5:8 মহারাজ যদি আমাকে দয়ার চোখে দেখেন ও আমার অনুরোধ রাখতে চান এবং আমার ইচ্ছা পূরণ করতে চান তবে আগামীকাল আমি যে ভোজ প্রস্তুত করব তাতে মহারাজা ও হামন যেন আসেন। তখন আমি মহারাজের প্রশ্নের উত্তর দেব।”
EST 5:9 সেদিন হামন খুশি হয়ে আনন্দিত মনে বাইরে গেল। কিন্তু সে যখন মর্দখয়কে রাজবাড়ির দ্বারে দেখল আর লক্ষ করল যে মর্দখয় তাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন না কিংবা আর কোনও সম্মানও দেখালেন না তখন মর্দখয়ের উপর তার রাগ হল।
EST 5:10 তবুও হামন রাগ সংযত করে বাড়ি চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে সে তার বন্ধুদের ও তার স্ত্রী সেরশকে ডেকে আনল।
EST 5:11 তারপর সে তাদের কাছে তার বিশাল ধনসম্পদের, তার ছেলেদের সংখ্যার কথা, এবং রাজা কেমন সব বিষয়ে তাকে উঁচু পদের লোকদের ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপরে বসিয়েছেন সেইসব কথা গর্ব করে বলতে লাগল।
EST 5:12 হামন আরও বলল, “কেবল তাই নয়,” রানি ইষ্টের যে ভোজ প্রস্তুত করেছিলেন তাতে আমি ছাড়া আর কাউকে রাজার সঙ্গে নিমন্ত্রণ করা হয়নি। আবার তিনি কালকেও রাজার সঙ্গে আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন।
EST 5:13 কিন্তু যখনই ওই ইহুদি মর্দখয়কে রাজবাড়ির দ্বারে বসে থাকতে দেখি তখন এই সবেতেও আমাকে কোনও শান্তি দেয় না।
EST 5:14 তখন তার স্ত্রী সেরশ ও সমস্ত বন্ধুরা তাকে বলল, “তুমি পচাত্তর ফুট উঁচু একটি ফাঁসিকাঠ তৈরি করাও এবং সকালে রাজার অনুমতি নিয়ে মর্দখয়কে তার উপর ফাঁসি দেবার ব্যবস্থা করো। তারপর খুশি হয়ে রাজার সঙ্গে ভোজে যাও।” এই পরামর্শ হামনকে খুশি করল এবং সে ফাঁসিকাঠ তৈরি করাল।
EST 6:1 সেরাতে রাজা ঘুমাতে পারছিলেন না; সেইজন্য তিনি আদেশ দিলেন যেন তাঁর কাছে, তাঁর সময়ের ঘটনাপঞ্জী এনে পড়া হয়।
EST 6:2 সেখানে দেখা গেল যে বিগথন ও তেরশ নামে রাজার দুজন দ্বাররক্ষী রাজা অহশ্বেরশকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিল তখন মর্দখয় সেই খবর রাজাকে দিয়েছিলেন।
EST 6:3 রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “এর জন্য মর্দখয়কে কি রকম সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।” রাজার পরিচর্যাকারী বলল, “কিছুই করা হয়নি।”
EST 6:4 রাজা বললেন, “দরবারে কে আছে?” মর্দখয়ের জন্য হামন যে ফাঁসিকাঠ তৈরি করেছিল তাতে মর্দখয়কে ফাঁসি দেবার কথা রাজাকে বলবার জন্য ঠিক সেই সময়েই সে রাজবাড়ির বাইরের দরবারে এসেছিল।
EST 6:5 রাজার পরিচর্যাকারীরা বলল, “হামন দরবারে দাঁড়িয়ে আছেন।” রাজা বললেন, “তাকে ভিতরে নিয়ে এসো।”
EST 6:6 হামন ভিতরে আসলে পর রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “রাজা যাকে সম্মান দেখাতে চায় তার জন্য কি করা উচিত?” তখন হামন মনে মনে ভাবল, “আমাকে ছাড়া আর কাকেই বা রাজা সম্মান দেখাবেন?”
EST 6:7 সেইজন্য সে উত্তরে বলল, “রাজা যাকে সম্মান দেখাতে চান,
EST 6:8 তার জন্য রাজার একটি রাজপোশাক আনা হোক এবং যে ঘোড়ার মাথায় রাজকীয় মুকুট পরানো থাকে রাজার সেই ঘোড়াও আনা হোক।
EST 6:9 তারপর সেই পোশাক ও ঘোড়া রাজার উঁচু পদের লোকদের মধ্যে একজনের হাতে দেওয়া হোক। রাজা যাকে সম্মান দেখাতে চান তাঁকে সেই পোশাক পরানো হোক এবং তাঁকে সেই ঘোড়ায় চড়িয়ে নিয়ে নগরের চকে তার আগে আগে এই কথা ঘোষণা করা হোক, রাজা যাঁকে সম্মান দেখাতে চান তাঁর প্রতি এরকমই করা হয়।”
EST 6:10 রাজা হামনকে আদেশ দিলেন, “তুমি এখনই গিয়ে রাজপোশাক এবং ঘোড়া নিয়ে যেমন বললে রাজবাড়ির দ্বারে বসা সেই ইহুদি মর্দখয়ের প্রতি তেমনি করো। তুমি যা যা বললে তার কোনটাই করতে যেন অবহেলা করা না হয়।”
EST 6:11 তখন হামন রাজপোশাক এবং ঘোড়া নিল এবং মর্দখয়কে রাজপোশাক পরিয়ে ও ঘোড়ায় চড়িয়ে নিয়ে নগরের চকে তার আগে আগে এই কথা ঘোষণা করল, “রাজা যাঁকে সম্মান দেখাতে চান তাঁর প্রতি এরকমই করা হবে!”
EST 6:12 এরপর মর্দখয় আবার রাজবাড়ির দ্বারে ফিরে গেলেন। কিন্তু হামন দুঃখে মাথা ঢেকে তাড়াতাড়ি করে ঘরে গেল,
EST 6:13 এবং তার প্রতি যা ঘটেছে তা সব তার স্ত্রী সেরশ ও সমস্ত বন্ধুদের বলল। তার পরামর্শদাতারা ও তার স্ত্রী সেরশ তাকে বলল, “যার সামনে তোমার এই পতন আরম্ভ হয়েছে, সেই মর্দখয় যদি ইহুদি বংশের লোক হয় তবে তার বিরুদ্ধে তুমি দাঁড়াতে পারবে না—নিশ্চয়ই তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে!”
EST 6:14 তারা তখনও তার সঙ্গে কথা বলছে এমন সময় রাজার নপুংসকেরা এসে তাড়াতাড়ি করে হামনকে ইষ্টেরের প্রস্তুত করা ভোজে যোগ দেবার জন্য নিয়ে গেল।
EST 7:1 তারপর রাজা ও হামন রানি ইষ্টেরের ভোজে গেলেন,
EST 7:2 আর তারা যখন দ্বিতীয় দিনে দ্রাক্ষারস পান করছিলেন তখন রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “রানি ইষ্টের তুমি কি চাও? তাই তোমাকে দেওয়া হবে। তোমার অনুরোধ কি? যদি সাম্রাজ্যের অর্ধেকও হয় তোমাকে দেওয়া হবে।”
EST 7:3 রানি ইষ্টের তখন উত্তরে বললেন, “মহারাজ, আমি যদি আপনার দয়া পেয়ে থাকি এবং মহারাজ যদি খুশি হয়ে থাকেন, আমার প্রাণরক্ষা করুন এটি আমার আবেদন। এবং আমার জাতির লোকদের প্রাণরক্ষা করুন এটি আমার অনুরোধ।
EST 7:4 কারণ আমাকে ও আমার জাতির লোকদের বিক্রি করা হয়েছে ধ্বংস করার, মেরে ফেলার ও একেবারে শেষ করে দেবার জন্য। যদি আমাদের দাস ও দাসী করা হত তবে আমি চুপ করে থাকতাম, কারণ ওই রকম কষ্টের কথা মহারাজকে জানানো উচিত হত না।”
EST 7:5 তখন রাজা অহশ্বেরশ রানি ইষ্টেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে সে? সেই লোকটি কোথায় যার এই কাজ করার সাহস হয়েছে?”
EST 7:6 ইষ্টের বললেন, “সেই বিপক্ষ ও শত্রু হল এই দুষ্ট হামন।” তখন হামন রাজার ও রানির সামনে ভীষণ ভয় পেল।
EST 7:7 রাজা রেগে গিয়ে দ্রাক্ষারস রেখে উঠলেন এবং বের হয়ে রাজবাড়ির বাগানে গেলেন। কিন্তু হামন মনে করল যে রাজা তার ভাগ্য স্থির করে ফেলেছেন, সেইজন্য রানি ইষ্টেরের কাছে প্রাণ ভিক্ষার জন্য সেখানে রইল।
EST 7:8 রাজবাড়ির বাগান থেকে রাজা ভোজের ঘরে ফিরে আসলেন আর তখন ইষ্টের যে আসনে হেলান দিয়ে বসেছিলেন তার উপর হামন পড়েছিল। রাজা চেঁচিয়ে বললেন, “এই লোকটি কি আমার সামনে রানিকে উত্যক্ত করবে যখন তিনি আমার সঙ্গে আমার গৃহে আছেন?” রাজার মুখ থেকে এই কথা বের হওয়ামাত্র লোকেরা হামনের মুখ ঢেকে ফেলল।
EST 7:9 তখন হর্বোণা নামে রাজার একজন নপুংসক যে তাঁর পরিচর্যাকারী বলল, “হামনের বাড়িতে পচাত্তর ফুট উঁচু একটি ফাঁসিকাঠ তৈরি আছে। মর্দখয়, যিনি রাজার প্রাণরক্ষার জন্য খবর দিয়েছিলেন তাঁর জন্যই হামন ওটি তৈরি করেছিল।” রাজা বললেন, “ওটির উপরে ওকেই ফাঁসি দাও।”
EST 7:10 কাজেই মর্দখয়কে ফাঁসি দেওয়ার জন্য যে ফাঁসিকাঠ হামন তৈরি করেছিল সেখানেই তাকে ফাঁসি দেওয়া হল। এরপর রাজার রাগ পড়ল।
EST 8:1 সেদিনই রাজা অহশ্বেরশ ইহুদিদের শত্রু হামনের সম্পত্তি রানি ইষ্টেরকে দিলেন। এবং মর্দখয় রাজার সামনে উপস্থিত হলেন, কারণ ইষ্টের জানিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে মর্দখয়ের সম্পর্ক।
EST 8:2 রাজা তাঁর স্বাক্ষর দেওয়ার যে আংটিটি হামনের কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছিলেন সেটি নিজের হাত থেকে খুলে মর্দখয়কে দিলেন। আর ইষ্টের তাঁকে হামনের সম্পত্তির উপর নিযুক্ত করলেন।
EST 8:3 ইষ্টের রাজার পায়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে আবার তাঁর কাছে মিনতি জানালেন। ইহুদিদের বিরুদ্ধে অগাগীয় হামন যে দুষ্ট পরিকল্পনা করেছিল তা বন্ধ করার জন্য তিনি রাজাকে অনুরোধ করলেন।
EST 8:4 তখন রাজা তাঁর সোনার রাজদণ্ডটি ইষ্টেরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন আর ইষ্টের উঠে রাজার সামনে দাঁড়ালেন।
EST 8:5 ইষ্টের বললেন, “মহারাজের যদি ভালো মনে হয়, তিনি যদি আমাকে দয়ার চোখে দেখেন এবং যদি ভাবেন যে, কাজটি করা ন্যায্য আর যদি তিনি আমার উপর খুশি হয়ে থাকেন, তবে মহারাজের সমস্ত রাজ্যের ইহুদিদের ধ্বংস করবার জন্য পরিকল্পনা করে অগাগীয় হম্মদাথার ছেলে হামন যে চিঠি লিখেছিল তা বাতিল করার জন্য একটি আদেশ লেখা হোক।
EST 8:6 কারণ আমার লোকদের বিপর্যয় দেখে আমি কি করে সহ্য করব? আমার পরিবারের ধ্বংস দেখে আমি কি করে সহ্য করব?”
EST 8:7 রাজা অহশ্বেরশ রানি ইষ্টেরকে ও ইহুদি মর্দখয়কে বললেন, “যেহেতু হামন ইহুদিদের আক্রমণ করেছিল, আমি তার সম্পত্তি ইষ্টেরকে দিয়েছি আর লোকেরা তাকে ফাঁসিকাঠে ফাঁসি দিয়েছে।
EST 8:8 এখন যেভাবে তোমাদের ভালো মনে হয় সেই ইহুদিদের পক্ষে রাজার নামে আরেকটি আদেশ লিখে রাজার স্বাক্ষর করা আংটি দিয়ে সিলমোহর করো রাজার নাম করে লেখা এবং রাজার আংটি দিয়ে সিলমোহর করা কোনও আদেশ বাতিল করা যায় না।”
EST 8:9 তৃতীয় মাসে, সীবন মাসে তেইশ দিনের দিন—সঙ্গে সঙ্গে রাজার কার্যনির্বাহকদের ডাকা হল। মর্দখয়ের সমস্ত আদেশ অনুসারে হিন্দুস্থান থেকে কূশ দেশ পর্যন্ত 127-টি রাজ্যের ইহুদিদের, রাজ্যের শাসক, কর্মকর্তা ও উঁচু পদের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি লেখা হল। এই চিঠিগুলো প্রত্যেকটি রাজ্যের অক্ষর ও প্রত্যেকটি জাতির ভাষা এমনকি ইহুদিদের ভাষা অনুসারে লেখা হল।
EST 8:10 মর্দখয় রাজা অহশ্বেরশের নামে চিঠিগুলি লিখে রাজার সাক্ষরের আংটি দিয়ে সিলমোহর করলেন এবং রাজার জোরে দৌড়ানো বিশেষ ঘোড়ায় করে সংবাদ বাহকদের দিয়ে চিঠিগুলি পাঠিয়ে দিলেন।
EST 8:11 রাজার ফরমান প্রত্যেক নগরের ইহুদিদের একত্র হওয়ার ও নিজেদের রক্ষা করার অধিকার দিল। কোনও জাতির বা রাজ্যের লোকেরা ইহুদিদের ও তাদের স্ত্রীলোক ও ছেলেমেয়েদের আক্রমণ করলে তারা সেই দলকে ধ্বংস ও হত্যা করার অধিকার পেল, আর সেই শত্রুদের সম্পত্তি লুট করারও অধিকার পেল।
EST 8:12 রাজা অহশ্বেরশের সকল রাজ্যে ইহুদিদের জন্য যে দিনটি ঠিক করল তা হল অদর মাসে, মানে বারো মাসের তেরো দিনের দিন।
EST 8:13 এই ফরমানের নকল প্রত্যেক রাজ্যের ও সমস্ত জাতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হল যেন ইহুদিরা সেদিনে তাদের শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
EST 8:14 রাজার বিশেষ ঘোড়ায় চড়ে সংবাদবাহকেরা রাজার আদেশে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেল। এবং শূশনের দুর্গেও সেই আদেশ জানানো হল।
EST 8:15 মর্দখয় মসিনা সুতার বেগুনি পোশাকের উপর নীল ও সাদা রংয়ের রাজপোশাক পরে এবং সোনার একটি বড়ো মুকুট মাথায় দিয়ে রাজার সামনে থেকে বের হয়ে গেলেন। শূশন নগরের লোকেরা আনন্দ করল।
EST 8:16 ইহুদিদের জন্য সময়টি ছিল প্রসন্নতার, আনন্দের, আমোদের ও সম্মানের।
EST 8:17 প্রত্যেকটি রাজ্যে ও নগরে যেখানে যেখানে রাজার ফরমান গেল সেখানকার ইহুদিদের মধ্যে প্রসন্নতা, আমোদ, ভোজ ও আনন্দের দিন হল। আর অন্যান্য জাতির অনেক লোক ইহুদি হয়ে গেল, কারণ তারা ইহুদিদের থেকে তাদের ত্রাস জন্মেছিল।
EST 9:1 অদর মাস, মানে বারো মাসের তেরো দিনে রাজার আদেশ পালনের সময় এল। এই দিন ইহুদিদের শত্রুরা তাদের দমন করার আশা করেছিল, কিন্তু ঘটনা হল ঠিক উল্টো, ইহুদিদের যারা ঘৃণা করত ইহুদিরাই তাদের দমন করল।
EST 9:2 যারা তাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল তাদের আক্রমণ করার জন্য ইহুদিরা রাজা অহশ্বেরশের সকল রাজ্যে তাদের নিজের নিজের নগরে জড়ো হল। তাদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারলো না কারণ সব জাতির লোকেরা তাদের ভয় করতে লাগল।
EST 9:3 সকল রাজ্যের অভিজাত লোকেরা, শাসনকর্তারা, কর্মকর্তারা এবং রাজার কর্মকর্তারা ইহুদিদের সাহায্য করলেন, কারণ মর্দখয়ের ভয় তাদের গ্রাস করেছিল।
EST 9:4 মর্দখয় রাজবাড়িতে বিশিষ্ট হয়ে উঠলেন; তাঁর সুনাম সমস্ত রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল এবং তিনি দিনে দিনে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলেন।
EST 9:5 ইহুদিরা তাদের শত্রুদের তরোয়াল দিয়ে হত্যা ও ধ্বংস করল এবং যারা তাদের ঘৃণা করত তাদের প্রতি তারা যা ইচ্ছা তাই করল।
EST 9:6 শূশনের দুর্গে ইহুদিরা পাঁচশো লোককে হত্যা ও ধ্বংস করল।
EST 9:7 তারা পর্শন্দাথঃ, দলফোন, অস্পাথঃ,
EST 9:8 পোরাথ, অদলিয়, অরিদাথ,
EST 9:9 পর্মস্ত, অরীষয়, অরীদয় ও বয়িষাথ,
EST 9:10 ইহুদিদের শত্রু হম্মদাথার ছেলে হামনের দশজন ছেলেকে মেরে ফেলল। কিন্তু তারা লুটের জিনিসে হাত দিল না।
EST 9:11 শূশনের দুর্গে যাদের মেরে ফেলা হয়েছিল তাদের সংখ্যা সেদিনই রাজাকে জানানো হয়েছিল।
EST 9:12 রাজা রানি ইষ্টেরকে বললেন, “ইহুদিরা পাঁচশো লোককে হত্যা ও ধ্বংস করেছে এবং হামনের দশজন ছেলেকে শূশনের দুর্গে মেরে ফেলেছে। তারা রাজার অন্যান্য রাজ্যে কি করেছে? এখন তোমার কি অনুরোধ? তা তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি কি চাও? তাও করা হবে।”
EST 9:13 উত্তরে ইষ্টের বললেন, “মহারাজের যদি ভালো মনে হয় তবে আজকের মতো কালকেও শূশনের ইহুদিদের একই কাজ করার ফরমান দেওয়া হোক, এবং হামনের দশটি ছেলেকে ফাঁসিকাঠে ঝুলানো হোক।”
EST 9:14 তখন রাজা তাই করার জন্য আদেশ দিলেন। শূশনে এক ফরমান জারি হল আর লোকেরা হামনের দশজন ছেলেকে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দিল।
EST 9:15 শূশনের ইহুদিরা অদর মাসের চোদ্দ দিনের দিন একসঙ্গে জড়ো হয়ে সেখানে তিনশো লোককে মেরে ফেলল। কিন্তু তারা লুটের জিনিসে হাত দিল না।
EST 9:16 এর মধ্যে, রাজার রাজ্যের বাকি ইহুদিরাও নিজেদের জীবন রক্ষা করার জন্য ও তাদের শত্রুদের হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য একসঙ্গে জড়ো হল। তারা পঁচাত্তর হাজার লোককে মেরে ফেলল। কিন্তু তারা লুটের জিনিসে হাত দিল না।
EST 9:17 এই ঘটনা অদর মাসের তেরো দিনের দিন ঘটল এবং চোদ্দ দিনের দিন তারা বিশ্রাম নিল এবং সেদিনটি তারা ভোজের ও আনন্দের দিন হিসেবে পালন করল।
EST 9:18 শূশনের ইহুদিরা তেরো আর চোদ্দ দিনের দিন একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল এবং পনেরো দিনের দিন তারা বিশ্রাম নিল ও দিনটি তারা ভোজের ও আনন্দের দিন হিসেবে পালন করল।
EST 9:19 এজন্যই গ্রামের ইহুদিরা অদর মাসের চোদ্দ দিনের দিন আনন্দ ও ভোজের দিন, এবং একে অপরকে উপহার দেওয়ার দিন হিসেবে পালন করে।
EST 9:20 মর্দখয় এসব ঘটনা লিখে রাখলেন এবং রাজা অহশ্বেরশের সাম্রাজ্যের দূরের কি কাছের সমস্ত রাজ্যের ইহুদিদের কাছে চিঠি লিখে পাঠালেন,
EST 9:21 যেন তারা অদর মাসের চোদ্দ ও পনেরো দিন দুটি পালন করে।
EST 9:22 কারণ এসময় ইহুদিরা তাদের শত্রুদের হাত থেকে নিস্তার পেয়েছিল ও এই মাসে তাদের দুঃখ আনন্দে আর শোক আনন্দ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তিনি তাদের লিখলেন যেন তারা সেই দিনগুলি ভোজের ও আনন্দের দিন এবং একে অন্যের কাছে খাবার পাঠাবার ও গরিবদের কাছে উপহার দেবার দিন বলে পালন করে।
EST 9:23 কাজেই ইহুদিরা যেমন আরম্ভ করেছিল এবং মর্দখয় তাদের যেমন লিখেছিলেন সেইভাবে দিন দুটি পালন করতে তারা রাজি হল।
EST 9:24 কারণ সমস্ত ইহুদিদের শত্রু অগাগীয় হম্মদাথার ছেলে হামন ইহুদিদের সর্বনাশ ও ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র আর সেইজন্য সে পূর (যার অর্থ গুটিকাপাত) করেছিল।
EST 9:25 কিন্তু যখন সেই ষড়যন্ত্রের কথা রাজা জানতে পারলেন, তখন তিনি লিখিত আদেশ দিয়েছিলেন যেন ইহুদিদের বিরুদ্ধে হামন যে মন্দ ফন্দি এঁটেছে তা তার নিজের মাথাতেই পড়ে এবং তাকে ও তার ছেলেদের ফাঁসিকাঠে ঝুলানো হয়।
EST 9:26 (সেইজন্য পূর কথাটি থেকে এই দিনগুলিকে বলা হয় পূরীম) সেই চিঠিতে যা কিছু লেখা ছিল এবং তাদের প্রতি যা ঘটেছিল,
EST 9:27 সেইজন্য ইহুদিরা ঠিক করেছিল যে, তারা একটি প্রথা প্রতিষ্ঠা করবে যেন তারা, তাদের বংশধরেরা এবং যারা ইহুদি হয়ে গিয়েছিল তারা সকলে সেই চিঠির নির্দেশ ও নির্দিষ্ট সময় অনুসারে প্রতি বছর এই দিন দুটি অবশ্যই পালন করবে।
EST 9:28 প্রত্যেক রাজ্যের প্রত্যেকটি নগরের প্রত্যেকটি পরিবার বংশপরম্পরায় এই দুটি দিন স্মরণ ও পালন করবে। এবং পূরীমের সেই দিনগুলি ইহুদিরা যেন উপেক্ষা না করে, আর তাদের বংশের মধ্যে থেকে তার স্মৃতি লোপ না হয়।
EST 9:29 অতএব অবীহয়িলের মেয়ে রানি ইষ্টের ও ইহুদি মর্দখয় পূরীমের দিনের বিষয়ে দ্বিতীয় চিঠিটি সম্পূর্ণ ক্ষমতার নিয়ে লিখলেন।
EST 9:30 অহশ্বেরশের সাম্রাজ্যের 127-টি রাজ্যের সমস্ত ইহুদিদের কাছে মঙ্গলকামনা ও প্রতিশ্রুতির কথা চিঠিতে লিখলেন।
EST 9:31 সেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল যেন তারা নির্দিষ্ট সময়ে ইহুদি মর্দখয় ও রানি ইষ্টেরের নির্দেশমত পূরীমের এই দিন দুটি পালন করবার জন্য স্থির করতে পারে, যেমনভাবে তারা নিজেদের ও তাদের বংশধরদের জন্য অন্যান্য উপবাস ও বিলাপের সময় স্থির করেছিল।
EST 9:32 ইষ্টেরের আদেশে পূরীমের এই নিয়মগুলি স্থির করা হল এবং তা নথিতে লেখা হল।
EST 10:1 রাজা অহশ্বেরশ তাঁর গোটা রাজ্যে ও দূরের দ্বীপগুলিতে কর বসালেন।
EST 10:2 তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির সব কথা এবং মর্দখয়কে রাজা যেভাবে উঁচু পদ দিয়ে মহান করেছিলেন সেই কথা মাদিয়া ও পারস্যের রাজাদের ইতিহাস বইতে কি লেখা নেই?
EST 10:3 রাজা অহশ্বেরশের পরে মর্দখয়ের স্থান ছিল দ্বিতীয়, ইহুদিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত ইহুদিরা তাঁকে উচ্চ সম্মান দেখাত, কারণ তিনি তাঁর লোকদের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছিলেন এবং সকল ইহুদিদের কল্যাণের কথা বলতেন।
JOB 1:1 ঊষ দেশে একজন লোক বসবাস করতেন, যাঁর নাম ইয়োব। তিনি ছিলেন অনিন্দনীয় ও ন্যায়পরায়ণ; তিনি ঈশ্বরকে ভয় করতেন এবং কুকর্ম এড়িয়ে চলতেন।
JOB 1:2 তাঁর সাত ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল,
JOB 1:3 এবং 7,000 মেষ, 3,000 উট, 500 জোড়া বলদ, 500 গাধি ও প্রচুর সংখ্যক দাস-দাসী তাঁর মালিকানাধীন ছিল। প্রাচ্যদেশীয় সব লোকজনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে ধনী মানুষ।
JOB 1:4 তাঁর ছেলেরা পালা করে তাদের জন্মদিনে নিজেদের বাড়িতে ভোজের আয়োজন করত, এবং তাদের তিন বোনকেও তারা তাদের সঙ্গে ভোজনপান করার জন্য নিমন্ত্রণ করত।
JOB 1:5 ভোজপর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ইয়োব তাদের শুচিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা করতেন। ভোরবেলায় তাদের প্রত্যেকের জন্য তিনি এই ভেবে হোমবলি উৎসর্গ করতেন যে, “হয়তো আমার সন্তানেরা পাপ করেছে ও মনে মনে ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়ে বসেছে।” এই ছিল ইয়োবের বহুদিনের নিয়মিত অভ্যাস।
JOB 1:6 একদিন স্বর্গদূতেরা সদাপ্রভুর সামনে নিজেদের উপস্থিত করার জন্য এলেন, এবং শয়তানও তাদের সঙ্গে এল।
JOB 1:7 সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কোথা থেকে এলে?” শয়তান সদাপ্রভুকে উত্তর দিল, “পৃথিবীর সর্বত্র এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে এলাম।”
JOB 1:8 পরে সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “আমার দাস ইয়োবের দিকে কি তোমার নজর পড়েছে? পৃথিবীতে তার মতো আর কেউ নেই; সে অনিন্দনীয় ও ন্যায়পরায়ণ এমন এক মানুষ, যে ঈশ্বরকে ভয় করে এবং কুকর্ম এড়িয়ে চলে।”
JOB 1:9 “ইয়োব কি বিনা স্বার্থে ঈশ্বরকে ভয় করে?” শয়তান উত্তর দিল
JOB 1:10 “তুমি কি তার চারপাশে এবং তার পরিবারের ও তার সবকিছুর চারপাশে বেড়া দিয়ে রাখোনি? তুমি তার হাতের কাজে আশীর্বাদ করেছ, যেন তার মেষপাল ও পশুপাল দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
JOB 1:11 কিন্তু এখন তোমার হাত বাড়াও এবং তার কাছে থাকা সবকিছুকে আঘাত করো, আর সে নিশ্চয় তোমার মুখের উপরেই তোমাকে অভিশাপ দেবে।”
JOB 1:12 সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, তবে তার সবকিছুর উপরে তোমার অধিকার থাকল, কিন্তু স্বয়ং সেই লোকটির উপরে তুমি হস্তক্ষেপ কোরো না।” পরে শয়তান সদাপ্রভুর কাছ থেকে চলে গেল।
JOB 1:13 একদিন ইয়োবের ছেলেমেয়েরা যখন তাদের বড়দাদার বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করছিল ও দ্রাক্ষারস পান করছিল,
JOB 1:14 তখন ইয়োবের কাছে এক দূত এসে বলল, “বলদেরা জমি চাষ করছিল ও পাশেই গাধারা চরছিল,
JOB 1:15 আর শিবায়ীয়েরা এসে আক্রমণ করে সেগুলি নিয়ে চলে গেল। তারা তরোয়াল চালিয়ে দাসদের মেরে ফেলল, এবং একমাত্র আমিই আপনাকে এই খবর দেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে পেরেছি!”
JOB 1:16 সে তখনও কথা বলছিল, ইতিমধ্যে আর এক দূত এসে বলল, “আকাশ থেকে ঈশ্বরের আগুন নেমে এসে মেষপাল ও দাসদের পুড়িয়ে ছারখার করে দিল, আর একমাত্র আমিই আপনাকে এই খবর দেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে পেরেছি!”
JOB 1:17 সে তখনও কথা বলছিল, ইতিমধ্যে আর এক দূত এসে বলল, “কলদীয়রা তিনটি হানাদার দল গড়ে এসে আপনার উটগুলির উপর আক্রমণ চালাল ও সেগুলি নিয়ে চলে গেল। তারা তরোয়াল চালিয়ে দাসদের মেরে ফেলল, আর একমাত্র আমিই আপনাকে এই খবর দেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে পেরেছি!”
JOB 1:18 সে তখনও কথা বলছিল, ইতিমধ্যে আর এক দূত এসে বলল, “আপনার ছেলেমেয়েরা তাদের বড়দাদার বাড়িতে বসে খাওয়াদাওয়া করছিল ও দ্রাক্ষারস পান করছিল,
JOB 1:19 এমন সময় হঠাৎ করে মরুভূমি থেকে প্রচণ্ড এক ঝড় এসে আছড়ে পড়ল এবং সেই বাড়ির চার কোনায় আঘাত হানল। সেই বাড়িটি তাদের উপরে ভেঙে পড়ল ও তারা মারা গেল, আর একমাত্র আমিই আপনাকে এই খবর দেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে পেরেছি!”
JOB 1:20 একথা শুনে, ইয়োব উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন ও তাঁর মাথা কামিয়ে ফেললেন। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তিনি আরাধনা করে
JOB 1:21 বললেন: “মায়ের গর্ভ থেকে আমি উলঙ্গ হয়ে এসেছি, আর উলঙ্গ অবস্থাতেই আমি চলে যাব। সদাপ্রভু দিয়েছেন আর সদাপ্রভুই ফিরিয়ে নিয়েছেন; সদাপ্রভুর নাম প্রশংসিত হোক।”
JOB 1:22 এসব কিছুতে, ইয়োব অন্যায়াচরণের দোষে ঈশ্বরকে দোষী সাব্যস্ত করে পাপ করলেন না।
JOB 2:1 অন্য আর একদিন স্বর্গদূতেরা সদাপ্রভুর সামনে নিজেদের উপস্থিত করার জন্য এলেন, এবং শয়তানও তাদের সঙ্গে নিজেকে তাঁর সামনে উপস্থিত করার জন্য এল।
JOB 2:2 আর সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কোথা থেকে এলে?” শয়তান সদাপ্রভুকে উত্তর দিল, “পৃথিবীর সর্বত্র এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে এলাম।”
JOB 2:3 পরে সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “আমার দাস ইয়োবের দিকে কি তোমার নজর পড়েছে? পৃথিবীতে তার মতো আর কেউ নেই; সে অনিন্দনীয় ও ন্যায়পরায়ণ এমন এক মানুষ, যে সদাপ্রভুকে ভয় করে ও কুকর্ম এড়িয়ে চলে। আর সে এখনও তার সততা বজায় রেখেছে, যদিও বিনা কারণে তার সর্বনাশ করার জন্য তুমি তার বিরুদ্ধে আমাকে প্রণোদিত করেছ।”
JOB 2:4 “চামড়ার জন্য চামড়া!” শয়তান উত্তর দিল। “একজন মানুষ তার নিজের জীবনের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারে।
JOB 2:5 কিন্তু এখন তোমার হাত বাড়াও ও তার মাংসে ও হাড়ে আঘাত হানো, আর সে নিশ্চয় তোমার মুখের উপরেই তোমাকে অভিশাপ দেবে।”
JOB 2:6 সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, সে তোমারই হাতে রইল; কিন্তু তোমাকে তার প্রাণটি অব্যাহতি দিতে হবে।”
JOB 2:7 অতএব শয়তান সদাপ্রভুর কাছ থেকে চলে গেল এবং ইয়োবের পায়ের তলা থেকে তার মাথার তালু পর্যন্ত বেদনাদায়ক ঘা উৎপন্ন করে তাঁকে পীড়িত করল।
JOB 2:8 তখন ইয়োব এক টুকরো খাপরা তুলে নিলেন এবং ছাই-গাদায় বসে নিজের গা চুলকাতে লাগলেন।
JOB 2:9 তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, “এখনও কি তুমি তোমার সততা বজায় রাখার চেষ্টা করছ? ঈশ্বরকে অভিশাপ দাও ও মরে যাও!”
JOB 2:10 তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি একজন মূর্খ মহিলার মতো কথা বলছ। আমরা কি ঈশ্বরের কাছ থেকে মঙ্গলই গ্রহণ করব আর দুঃখকষ্ট গ্রহণ করব না?” এসব কিছুতে, ইয়োব তাঁর কথাবার্তার মাধ্যমে পাপ করেননি।
JOB 2:11 ইয়োবের তিন বন্ধু, তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল্‌দদ ও নামাথীয় সোফর যখন তাঁর উপর এসে পড়া সব বিপত্তির কথা শুনতে পেলেন, তখন তারা ঘর থেকে বেরিয়ে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে সহানুভূতি জানানোর ও সান্তনা দেওয়ার জন্য সহমত প্রকাশ করে একত্রিত হলেন।
JOB 2:12 দূর থেকে ইয়োবকে দেখে তাদের তাঁকে চিনতে খুব কষ্ট হল; তারা জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন, এবং তাদের আলখাল্লাগুলি ছিঁড়ে ফেললেন ও মাথায় ধুলো ছড়ালেন।
JOB 2:13 পরে তাঁর সাথে তারা সাত দিন, সাত রাত মাটিতে বসে থাকলেন। কেউ তাঁকে কোনও কথা বললেন না, কারণ তারা দেখলেন যে তাঁর পীড়া খুবই কষ্টদায়ক।
JOB 3:1 তারপর, ইয়োব মুখ খুললেন ও নিজের জন্মদিনকে অভিশাপ দিলেন।
JOB 3:2 তিনি বললেন:
JOB 3:3 “আমার জন্মদিনটি বিলুপ্ত হোক, আর সে রাত যা বলেছিল, ‘একটি ছেলে এসেছে গর্ভে!’
JOB 3:4 সেদিনটি—অন্ধকারাচ্ছন্ন হোক; ঊর্ধ্বস্থ ঈশ্বর যেন সেদিনের বিষয়ে চিন্তিত না হন; কোনও আলো যেন তাকে আলোকিত না করে।
JOB 3:5 আরও একবার আঁধার ও ঘন তমসা তাকে অধিকার করুক; এক মেঘ তাকে ঢেকে দিক; কালিমা তাকে আচ্ছন্ন করুক।
JOB 3:6 সেরাতটি—ঘন অন্ধকারে কবলিত হোক; বছরের দিনগুলিতে সেটি সংযুক্ত না হোক তা অন্য কোনও মাসে গণিত না হোক।
JOB 3:7 সেরাতটি বন্ধ্যা হোক; কোনও আনন্দধ্বনি তাতে শোনা না যাক।
JOB 3:8 যারা দিনগুলিকে শাপ দেয়, তারা সেদিনটিকে শাপ দিক, যারা লিবিয়াথনকে জাগাতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
JOB 3:9 সেদিনের প্রভাতি তারা অন্ধকারময় হোক; বৃথাই তা দিবালোকের জন্য অপেক্ষা করুক আর ভোরের প্রথম আলোকরশ্মি না দেখুক,
JOB 3:10 কারণ আমার দু-চোখ থেকে কষ্ট লুকাতে তারা আমার জন্য গর্ভের দুয়ার বন্ধ করেনি।
JOB 3:11 “জন্মের সময় আমি মরলাম না কেন, আর গর্ভ থেকে বেরোনোর সময়ই বা আমি মরলাম না কেন?
JOB 3:12 জানুগুলি কেন আমাকে গ্রহণ করল আর স্তনগুলিই বা কেন আমার যত্ন নিল?
JOB 3:13 তবে তো এখন আমি শান্তিতে শায়িত থাকতাম; ঘুমিয়ে থাকতাম ও নিতাম বিশ্রাম
JOB 3:14 সেই রাজা ও শাসকদের সাথে, যারা নিজেদের জন্য সেই স্থানগুলি নির্মাণ করেছিলেন যা ধ্বংসস্তূপ হয়ে পড়ে আছে,
JOB 3:15 সেই অধিপতিদের সাথে, যাদের কাছে সোনা ছিল, যারা তাদের বাড়িগুলি রুপোয় পরিপূর্ণ করেছিলেন।
JOB 3:16 অথবা কেন আমাকে জমিতে লুকানো হয়নি অজাত এক শিশুর মতো, এক সদ্যজাত শিশুর মতো যে কখনও দিনের আলো দেখেনি?
JOB 3:17 সেখানে দুষ্টেরা আন্দোলন থেকে ক্ষান্ত হয়, আর সেখানে শ্রান্তজনেরা বিশ্রাম পায়।
JOB 3:18 বন্দিরাও তাদের স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করে; তারা আর ক্রীতদাস-চালকের চিৎকার শোনে না।
JOB 3:19 ছোটো ও বড়ো—সবাই সেখানে আছে, আর ক্রীতদাসেরা তাদের প্রভুদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।
JOB 3:20 “কেন দুর্দশাগ্রস্তকে আলো দেওয়া হল, আর কেন তিক্তপ্রাণকে জীবন দেওয়া হল,
JOB 3:21 যারা কামনা করে সেই মৃত্যু যা তাদের কাছে আসে না, যারা তা গুপ্তধনের চেয়েও বেশি করে খোঁজে,
JOB 3:22 কবরে গিয়ে যারা আহ্লাদিত হয় আর যারা মহানন্দে উল্লসিত হয়?
JOB 3:23 কেন সেই মানুষকে যার পথ গুপ্ত জীবন দেওয়া হয়, যাকে ঈশ্বর ঘেরাটোপের মধ্যে রেখেছেন?
JOB 3:24 কারণ দীর্ঘশ্বাস আমার দৈনিক খাদ্য হয়েছে; আমার গভীর আর্তনাদ জলের মতো ঝরে পড়ে।
JOB 3:25 আমি যে ভয় করেছিলাম তাই হয়েছে; যে আশঙ্কা করেছিলাম তাই ঘটেছে।
JOB 3:26 আমার শান্তি নেই, বিরাম নেই; বিশ্রাম নেই, শুধু অশান্তি আছে।”
JOB 4:1 পরে তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিলেন:
JOB 4:2 “যদি কেউ তোমার সাথে কথা বলতে চায়, তুমি কি অধৈর্য হবে? কিন্তু কে কথা না বলে থাকতে পারে?
JOB 4:3 ভাবো দেখি, তুমি কীভাবে অনেককে শিক্ষা দিয়েছ, দুর্বল হাত তুমি কীভাবে শক্ত করেছ।
JOB 4:4 তোমার কথা হোঁচট খাওয়া লোকদের সাহায্য করেছে; কম্পমান জানুগুলি তুমি শক্ত করেছ।
JOB 4:5 কিন্তু এখন দুঃখকষ্ট তোমার কাছে এসেছে, আর তুমি হতাশ হয়েছ; তা তোমায় আঘাত করেছে, আর তুমি আতঙ্কিত হয়েছ।
JOB 4:6 তোমার ধর্মনিষ্ঠা কি তোমার প্রত্যয় নয় আর তোমার অনিন্দনীয় পথই কি তোমার প্রত্যাশা নয়?
JOB 4:7 “এখন বিবেচনা করো: কে নির্দোষ হয়েও বিনষ্ট হয়েছে? কোথাও কি কোনও ন্যায়পরায়ণ লোক ধ্বংস হয়েছে?
JOB 4:8 আমি লক্ষ্য করেছি, যারা অনিষ্ট চাষ করে আর যারা অস্থিরতা বোনে, তারা তাই কাটে।
JOB 4:9 ঈশ্বরের নিঃশ্বাসে তারা বিনষ্ট হয়; তাঁর ক্রোধের বিস্ফোরণে তারা বিলীন হয়ে যায়।
JOB 4:10 সিংহেরা গর্জন ও হুঙ্কার করতে পারে, তবুও মহাশক্তিশালী সিংহদেরও দাঁত ভেঙে যায়।
JOB 4:11 শিকারের অভাবে সিংহ বিনষ্ট হয়, সিংহী শাবকেরা ছত্রভঙ্গ হয়।
JOB 4:12 “গোপনে একটি কথা আমার কাছে পৌঁছাল, সেকথার ফিস্‌ফিসানি আমার কানে বাজল।
JOB 4:13 রাতের অশান্তিকর স্বপ্নের মধ্যে, যখন মানুষ গভীর নিদ্রায় মগ্ন থাকে,
JOB 4:14 ভয় ও কাঁপুনি আমায় গ্রাস করল আমার সব অস্থি কেঁপে উঠল।
JOB 4:15 এক আত্মা আমার সামনে দিয়ে ধীরে বয়ে গেল, আর আমার শরীরের লোম খাড়া হল।
JOB 4:16 তা থেমে গেল, কিন্তু আমি বলতে পারিনি সেটি কী। আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়েছিল এক অবয়ব, আর আমি মৃদু এক স্বর শুনলাম:
JOB 4:17 ‘মরণশীল মানুষ কি ঈশ্বরের চেয়েও বেশি ধার্মিক হতে পারে? এক সবল মানুষও কি তার নির্মাতার চেয়েও বেশি পবিত্র হতে পারে?
JOB 4:18 ঈশ্বর যদি তাঁর দাসেদের বিশ্বাস না করেন, তিনি যদি তাঁর স্বর্গদূতদেরও দোষারোপ করেন,
JOB 4:19 তবে মাটির বাড়িতে বসবাসকারী সেই মানুষদের, যাদের উৎপত্তি সেই ধুলোতে, এক পতঙ্গের চেয়েও সহজে যারা নিষ্পিষ্ট হয়! তাদের কী হবে?
JOB 4:20 ভোর থেকে গোধূলি বেলা পর্যন্ত তারা চূর্ণবিচূর্ণ হয়; লোকচক্ষুর অন্তরালে, তারা চিরতরে বিনষ্ট হয়।
JOB 4:21 তাদের তাঁবুর দড়াদড়ি কি উপড়ে ফেলা হয় না, যেন বিনা বিজ্ঞতায় তারা মারা যায়?’
JOB 5:1 “ডাকতে চাইলে ডাকো, কিন্তু কে তোমায় উত্তর দেবে? পবিত্রজনেদের মধ্যে তুমি কার শরণাপন্ন হবে?
JOB 5:2 বিরক্তিভাব মূর্খকে হত্যা করে, আর হিংসা সরল লোককে বধ করে।
JOB 5:3 আমি স্বয়ং এক মূর্খকে মূল বিস্তার করতে দেখেছি, কিন্তু হঠাৎ তার বাড়ি অভিশপ্ত হয়ে গেল।
JOB 5:4 তার সন্তানেরা নিরাপত্তাহীন হল, রক্ষক বিনা কাছারিতে নিষ্পেষিত হল।
JOB 5:5 ক্ষুধার্ত লোক তার ফসল খেয়ে ফেলে, কাঁটাঝোপ থেকেও সেগুলি তুলে নেয়, আর তৃষ্ণার্তরা তার সম্পত্তির জন্য আকাঙ্ক্ষিত হয়।
JOB 5:6 কারণ মাটি থেকে কষ্ট উৎপন্ন হয় না, জমি থেকেও অনিষ্ট অঙ্কুরিত হয় না।
JOB 5:7 তবুও মানুষ অসুবিধা ভোগ করার জন্যই জন্মায়, ঠিক যেভাবে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উপরের দিকে উঠে যায়।
JOB 5:8 “কিন্তু আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতাম, আমি ঈশ্বরের কাছে আবেদন জানাতাম; তাঁর কাছেই আমার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতাম।
JOB 5:9 তিনি এমন সব আশ্চর্য কাজ করেন যা অনুভব করা যায় না, এমন সব অলৌকিক কাজ করেন যা গুনে রাখা যায় না।
JOB 5:10 তিনি ধরণীতে বৃষ্টির জোগান দেন; তিনি গ্রামাঞ্চলে জল পাঠান।
JOB 5:11 সহজসরল লোককে তিনি উন্নত করেন, আর শোকার্তদের নিরাপত্তা দেন।
JOB 5:12 ধূর্তদের পরিকল্পনা তিনি ব্যর্থ করেন, যেন তাদের হাত কোনও সাফল্য লাভ না করে।
JOB 5:13 জ্ঞানীদের তিনি তাদের ধূর্ততায় ধরে ফেলেন, আর শঠের ফন্দি দ্রুত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
JOB 5:14 দিনের বেলাতেই তাদের উপর অন্ধকার নেমে আসে, মধ্যাহ্নে তারা রাতের মতো হাতড়ে বেড়ায়।
JOB 5:15 অভাবগ্রস্তকে তিনি শব্দবাণ থেকে রক্ষা করেন; তিনি তাদের শক্তিশালীদের খপ্পর থেকে রক্ষা করেন।
JOB 5:16 তাই দরিদ্র আশায় বুক বাঁধে, আর অবিচার নিজের মুখে কুলুপ আঁটে।
JOB 5:17 “ধন্য সেই জন যাকে ঈশ্বর সংশোধন করেন; তাই সর্বশক্তিমানের শাস্তি তুচ্ছজ্ঞান কোরো না।
JOB 5:18 কারণ তিনি আঘাত দেন, কিন্তু শুশ্রুষাও করেন; তিনি ক্ষতিগ্রস্ত করেন, কিন্তু তাঁর হাত সুস্থও করে তোলে।
JOB 5:19 ছয়টি বিপর্যয় থেকে তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন; সপ্তমটিতেও কোনও অনিষ্ট তোমাকে স্পর্শ করবে না।
JOB 5:20 দুর্ভিক্ষের সময় তিনি তোমাকে মৃত্যু থেকে, আর যুদ্ধের সময় তরোয়ালের আঘাত থেকে রক্ষা করবেন।
JOB 5:21 জিভের কশাঘাত থেকে তুমি সুরক্ষিত থাকবে, আর বিনাশকালেও ভয় পাবে না।
JOB 5:22 ধ্বংস ও দুর্ভিক্ষ দেখে তুমি হাসবে, আর বুনো পশুদেরও ভয় পাবে না।
JOB 5:23 কারণ জমির পাথরগুলির সঙ্গে তুমি চুক্তিবদ্ধ হবে, আর বুনো পশুরাও তোমার সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।
JOB 5:24 তুমি জানবে যে তোমার তাঁবু নিরাপদ; তুমি তোমার সম্পত্তির পরিমাণ যাচাই করবে ও দেখবে একটিও হারায়নি।
JOB 5:25 তুমি জানবে যে তোমার সন্তানেরা অসংখ্য হবে, ও তোমার বংশধরেরা মাটির ঘাসের মতো হবে।
JOB 5:26 পূর্ণ প্রাণশক্তি নিয়ে তুমি কবরে যাবে, যেভাবে শস্যের আঁটিগুলি যথাসময়ে সংগৃহীত হয়।
JOB 5:27 “আমরা এর পরীক্ষা করেছি, আর তা সত্যি। তাই একথা শোনো ও নিজের জীবনে প্রয়োগ করো।”
JOB 6:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 6:2 “শুধু যদি আমার মনস্তাপ মাপা যেত আর আমার সব দুর্দশা দাঁড়িপাল্লায় তোলা যেত!
JOB 6:3 তবে তা নিঃসন্দেহে সমুদ্রের বালুকণাকেও ছাপিয়ে যেত— এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে আমার কথাগুলি দুর্দমনীয় হয়েছে।
JOB 6:4 সর্বশক্তিমানের তিরগুলি আমাকে বিদ্ধ করেছে, আমার আত্মা সেগুলির বিষে জর্জরিত; ঈশ্বরের আতঙ্ক আমার বিরুদ্ধে শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে।
JOB 6:5 বুনো গাধা ঘাস পেয়ে কি ডাক ছাড়ে? বা বলদ জাব পেয়ে কি গর্জন করে?
JOB 6:6 বিস্বাদ খাদ্য কি বিনা লবণে খাওয়া যায়? বা ম্যালোর রসে কি কোনও স্বাদ আছে?
JOB 6:7 আমি তা স্পর্শ করতে চাই না; এ ধরনের খাদ্য আমাকে অসুস্থ করে তোলে।
JOB 6:8 “আহা, আমি যদি অনুরোধ জানাতে পারতাম, যেন আমার আশা ঈশ্বর পূরণ করেন,
JOB 6:9 যেন ঈশ্বর আমাকে চূর্ণ করতে ইচ্ছুক হয়ে, তাঁর হাত বাড়িয়ে আমার প্রাণ ধ্বংস করেন!
JOB 6:10 তবে তখনও আমি এই সান্ত্বনা পেতাম— নির্মম যন্ত্রণার মধ্যেও আনন্দিত হতাম— যে আমি সেই পবিত্রজনের কথা অগ্রাহ্য করিনি।
JOB 6:11 “আমার কী শক্তি আছে, যে এখনও আমি আশা রাখব? কী সম্ভাবনা আছে, যে আমি ধৈর্যশীল থাকব?
JOB 6:12 পাথরের মতো শক্তি কি আমার আছে? আমার দেহ কি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি?
JOB 6:13 নিজেকে সাহায্য করার কোনও শক্তি কি আমার আছে, যেহেতু সাফল্য আমার কাছ থেকে অপবাহিত হয়েছে?
JOB 6:14 “যে কেউ বন্ধুর প্রতি দয়া দেখাতে কার্পণ্য বোধ করে সে সর্বশক্তিমানের ভয় ত্যাগ করে।
JOB 6:15 কিন্তু আমার ভাইরা সবিরাম জলপ্রবাহের মতো অনির্ভরযোগ্য, সেই জলপ্রবাহের মতো যা তখনই উপচে পড়ে
JOB 6:16 যখন গলা বরফের দ্বারা তা কালো হয়ে যায় আর তরল তুষারে ফুলেফেঁপে ওঠে,
JOB 6:17 কিন্তু সুখা মরশুমে তা আর প্রবাহিত হয় না, আর গ্রীষ্মকালে খাত থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
JOB 6:18 বণিক দল তাদের গতিপথ ছেড়ে অন্য পথে সরে যায়; তারা পতিত জমিতে গিয়ে বিনষ্ট হয়।
JOB 6:19 টেমার বণিক দল জলের খোঁজ করে, শিবার ভ্রমণকারী বণিকেরা আশা নিয়ে তাকায়।
JOB 6:20 তারা আকুল হয়, কারণ তারা আত্মবিশ্বাসী হয়েছিল; তারা সেখানে পৌঁছায়, শুধু নিরাশ হওয়ার জন্য।
JOB 6:21 এখন তোমরাও প্রমাণ দিয়েছ যে তোমরা কোনও কাজের নও; তোমরা ভয়ংকর কিছু দেখে ভয় পেয়েছ।
JOB 6:22 আমি কি কখনও বলেছি, ‘আমাকে কিছু দাও, তোমাদের ধনসম্পত্তি থেকে আমার জন্য এক মুক্তিপণ দাও,
JOB 6:23 শত্রুর হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো, নিষ্ঠুর লোকের খপ্পর থেকে আমাকে মুক্ত করো’?
JOB 6:24 “আমাকে শিক্ষা দাও, ও আমি শান্ত থাকব; আমায় দেখিয়ে দাও কোথায় আমি ভুল করেছি।
JOB 6:25 সরল কথাবার্তা কতই না যন্ত্রণাদায়ক! কিন্তু তোমাদের যুক্তিতর্ক কী প্রমাণ করে?
JOB 6:26 আমি যা বলেছি তা কি তোমরা শুধরে দিতে চাও, আর আমার মরিয়া কথাবার্তাকে কি বাতাসের মতো গণ্য করতে চাও?
JOB 6:27 পিতৃহীনের জন্য তোমরা এমনকি গুটিকাপাতের দান চালবে আর তোমাদের বন্ধুকে বিক্রি করে দেবে।
JOB 6:28 “কিন্তু এখন দয়া করে আমার দিকে তাকাও। আমি কি তোমাদের মুখের উপরে মিথ্যা কথা বলব?
JOB 6:29 কঠোরতা কমাও, অন্যায় কোরো না; পুনর্বিবেচনা করো, কারণ আমার সততা বিপন্নতার সম্মুখীন।
JOB 6:30 আমার ঠোঁটে কি কোনও দুষ্টতা আছে? আমার মুখ কি বিদ্বেষ ঠাহর করতে পারে না?
JOB 7:1 “পৃথিবীতে কি নশ্বর মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় না? ভাড়াটে মানুষের মতো তার দিনগুলি কি নয়?
JOB 7:2 ক্রীতদাস যেমন সান্ধ্য ছায়ার জন্য ব্যাকুল হয়, বা দিনমজুর বেতনের অপেক্ষায় থাকে,
JOB 7:3 সেভাবে ব্যর্থতাযুক্ত মাস আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আর দুর্দশাযুক্ত রাত আমার জন্য নিরূপিত হয়েছে।
JOB 7:4 শুয়ে শুয়ে আমি ভাবি, ‘কখন উঠব?’ রাত বেড়েই গেল, আর আমি ভোর পর্যন্ত বিছানায় ছটফট করে গেলাম।
JOB 7:5 আমার শরীর পোকা ও খোস-পাঁচড়ায় ভরে উঠেছে, আমার গায়ের চামড়ায় ফাটল ধরেছে ও তা পেকে গিয়েছে।
JOB 7:6 “আমার দিনগুলি তাঁতির মাকুর চেয়েও দ্রুতগামী, আর কোনও আশা ছাড়াই সেগুলি শেষ হয়ে যায়।
JOB 7:7 হে ঈশ্বর, মনে রেখো, যে আমার জীবন এক শ্বাসমাত্র; আমার দু-চোখ আর কখনও আনন্দ দেখতে পাবে না।
JOB 7:8 যে চোখ আজ আমায় দেখতে পাচ্ছে তা আর কখনও আমায় দেখতে পাবে না; তুমি আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমি আর থাকব না।
JOB 7:9 মেঘ যেমন মুহূর্তে মিলিয়ে যায়, সেভাবে যে কবরে যায় সে আর ফিরে আসে না।
JOB 7:10 সে আর তার বাড়িতে ফিরে আসবে না; তার স্থান তাকে আর চিনতেও পারবে না।
JOB 7:11 “তাই আমি আর নীরব থাকব না; আমার আত্মার যন্ত্রণায় আমি কথা বলব, আমার প্রাণের তিক্ততায় আমি অভিযোগ জানাব।
JOB 7:12 আমি কি সমুদ্র না সমুদ্রদানব যে তুমি আমাকে পাহারা দিয়ে রেখেছ?
JOB 7:13 যখন আমি ভাবি যে আমার বিছানা আমাকে সান্ত্বনা দেবে আর আমার শয্যা আমার অসুখ দূর করবে,
JOB 7:14 তখনও তুমি বিভিন্ন স্বপ্ন দেখিয়ে আমাকে ভয় দেখাও আর বিভিন্ন দর্শন দিয়ে আমাকে আতঙ্কিত করো,
JOB 7:15 তাতে আমার এই শরীরের চেয়েও শ্বাসরোধ ও মৃত্যুও আমার কাছে বেশি পছন্দসই হয়।
JOB 7:16 আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি; আমি চিরকাল বাঁচতে চাই না। আমায় একা থাকতে দাও; আমার জীবনের দিনগুলি অর্থহীন।
JOB 7:17 “মানবজাতি কী যে তুমি তাদের এত বিরাট কিছু মনে করো, যে তুমি তাদের প্রতি এত মনোযোগ দাও,
JOB 7:18 যে প্রতিদিন সকালে তুমি তাদের পরখ করো আর প্রতি মুহূর্তে তাদের পরীক্ষা করো?
JOB 7:19 তুমি কি কখনও আমার দিক থেকে তোমার দৃষ্টি ফেরাবে না, বা ক্ষণিকের জন্যও কি আমায় একা থাকতে দেবে না?
JOB 7:20 আমি যদি পাপ করেই থাকি, আমাদের সব কাজ যাঁর দৃষ্টিগোচর, সেই তোমার প্রতি আমি কী করেছি? তুমি আমাকে কেন তোমার লক্ষ্যবস্তু করেছ? আমি কি তোমার কাছে বোঝা হয়েছি?
JOB 7:21 তুমি কেন আমার অপরাধ মার্জনা করছ না ও আমার পাপ ক্ষমা করছ না? কারণ অচিরেই আমি ধুলোয় মিশে যাব; তুমি আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমি আর থাকব না।”
JOB 8:1 পরে শূহীয় বিল্‌দদ উত্তর দিলেন:
JOB 8:2 “তুমি আর কতক্ষণ এসব কথা বলবে? তোমার কথাবার্তা তো প্রচণ্ড ঝড়ের মতো।
JOB 8:3 ঈশ্বর কি ন্যায়বিচার বিকৃত করেন? সর্বশক্তিমান কি যা ন্যায্য তা বিকৃত করেন?
JOB 8:4 তোমার সন্তানেরা যখন তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করেছিল, তখন তিনি তাদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি তাদের দিয়েছিলেন।
JOB 8:5 কিন্তু তুমি যদি আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের অন্বেষণ করো, ও সর্বশক্তিমানের কাছে সনির্বন্ধ মিনতি জানাও,
JOB 8:6 তুমি যদি পবিত্র ও সৎ হও, এখনও তিনি তোমার হয়ে উঠে দাঁড়াবেন ও তোমাকে তোমার সমৃদ্ধশালী দশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
JOB 8:7 তোমার সূত্রপাত নিরহঙ্কার বলে মনে হবে, তোমার ভবিষ্যতও খুব সমৃদ্ধশালী হবে।
JOB 8:8 “সাবেক প্রজন্মকে জিজ্ঞাসা করো ও খুঁজে বের করো তাদের পূর্বপুরুষেরা কী শিখেছিলেন,
JOB 8:9 কারণ আমরা তো মাত্র কালই জন্মেছি ও কিছুই জানি না, ও পৃথিবীতে আমাদের দিনগুলি তো এক ছায়ামাত্র।
JOB 8:10 তারা কি তোমাদের শিক্ষা দেবেন না ও বলবেন না? তারা কি তাদের বুদ্ধিভাণ্ডার থেকে বাণী বের করে আনবেন না?
JOB 8:11 যেখানে কোনও জলাভূমি নেই সেখানে কি নলখাগড়া বেড়ে ওঠে? জল ছাড়া কি নলবন মাথা চাড়া দেয়?
JOB 8:12 বাড়তে বাড়তেই ও আকাটা অবস্থাতেই, সেগুলি ঘাসের চেয়েও দ্রুত শুকিয়ে যায়।
JOB 8:13 যারা ঈশ্বরকে ভুলে যায়, তাদেরও এই গতি হয়; অধার্মিকদের আশাও এভাবে বিনষ্ট হয়।
JOB 8:14 তারা যার উপরে নির্ভর করে তা ভঙ্গুর; যার উপরে তারা ভরসা করে তা মাকড়সার এক জাল।
JOB 8:15 তারা জালের উপরে হেলান দেয়, কিন্তু তা সরে যায়; তারা তা জড়িয়ে ধরে থাকে, কিন্তু তা ধরে রাখতে পারে না।
JOB 8:16 তারা রোদ পাওয়া জলসেচিত এক চারাগাছের মতো, যা বাগানের সর্বত্র শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে;
JOB 8:17 সেটির মূল পাষাণ-পাথরের গাদায় জড়িয়ে যায় ও তা পাথরের মধ্যে এক স্থান খুঁজে নেয়।
JOB 8:18 কিন্তু যখন সেটিকে তার অকুস্থল থেকে উপড়ে ফেলা হয়, তখন সেই স্থানটিই তাকে অস্বীকার করে বলে, ‘আমি তোমাকে কখনও দেখিনি।’
JOB 8:19 নিঃসন্দেহে তার প্রাণ শুকিয়ে যায়, ও সেই মাটি থেকে অন্যান্য চারাগাছ উৎপন্ন হয়।
JOB 8:20 “নিঃসন্দেহে ঈশ্বর তাকে কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না যে অনিন্দনীয়, বা অনিষ্টকারীদের হাতও শক্তিশালী করেন না।
JOB 8:21 তিনি এখনও তোমার মুখ হাসিতে ও তোমার ঠোঁট আনন্দধ্বনিতে পূর্ণ করতে পারেন।
JOB 8:22 তোমার শত্রুরা লজ্জায় আচ্ছন্ন হবে, ও দুষ্টদের তাঁবু আর থাকবে না।”
JOB 9:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 9:2 “বাস্তবিক, আমি জানি যে তা সত্যি। কিন্তু ঈশ্বরের সামনে নিছক নশ্বর মানুষ কীভাবে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করবে?
JOB 9:3 যদিও তারা তাঁর সাথে বাদানুবাদ করতে চায়, তবুও হাজার বারের মধ্যে একবারও তারা তাঁর কথার জবাব দিতে পারে না।
JOB 9:4 তাঁর জ্ঞান অগাধ, তাঁর শক্তি অসীম। তাঁর বিরোধিতা করে কে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছে?
JOB 9:5 পর্বতগুলির অজান্তে তিনি তাদের স্থানান্তরিত করেন ও তাঁর ক্রোধে সেগুলি উচ্ছেদ করেন।
JOB 9:6 তিনি পৃথিবীকে স্বস্থান থেকে নাড়িয়ে দেন, ও তার স্তম্ভগুলিকে টলিয়ে দেন।
JOB 9:7 তিনি সূর্যকে বারণ করেন ও তা দীপ্তি দেয় না; তিনি নক্ষত্রদের আলো নিভিয়ে দেন।
JOB 9:8 তিনি একাই আকাশমণ্ডলের বিস্তার ঘটান, ও সমুদ্রের ঢেউগুলিকে পদদলিত করেন।
JOB 9:9 তিনি সপ্তর্ষি ও কালপুরুষ, কৃত্তিকা ও দক্ষিণের নক্ষত্রপুঞ্জের নির্মাতা।
JOB 9:10 তিনি এমন সব আশ্চর্য কাজ করেন যা অনুধাবন করা যায় না, এমন সব অলৌকিক কাজ করেন যা গুনে রাখা যায় না।
JOB 9:11 তিনি যখন আমাকে পার করে চলে যান, আমি তাঁকে দেখতে পাই না; তিনি যখন কাছ দিয়ে যান, আমি তাঁকে চিনতে পারি না।
JOB 9:12 তিনি যদি কেড়ে নেন, কে তাঁকে থামাতে পারবে? কে তাঁকে বলতে পারবে, ‘তুমি কী করছ?’
JOB 9:13 ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে রাখেন না; রহবের বাহিনীও তাঁর পদতলে ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকে।
JOB 9:14 “কীভাবে তবে আমি তাঁর সাথে বাদানুবাদ করব? কীভাবে আমি তাঁর সঙ্গে তর্ক করার জন্য শব্দ খুঁজে পাব?
JOB 9:15 আমি নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও, তাঁকে জবাব দিতে পারিনি; আমার বিচারকের কাছে শুধু আমি দয়াভিক্ষাই করতে পেরেছি।
JOB 9:16 আমি যদিও তাঁকে ডেকেছি ও তিনি সাড়া দিয়েছেন, তাও আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি আমার কথায় কর্ণপাত করবেন।
JOB 9:17 এক ঝড় পাঠিয়ে তিনি আমাকে চূর্ণ করবেন, ও অকারণেই আমার ক্ষতস্থানগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন।
JOB 9:18 তিনি আমাকে দম নেওয়ার সুযোগ দেবেন না কিন্তু দুর্দশা দিয়ে আমাকে আচ্ছন্ন করে তুলবেন।
JOB 9:19 এটি যদি শক্তির বিষয় হয়, তবে তিনি শক্তিমান! ও এটি যদি বিচার্য বিষয় হয়, তবে কে তাঁর বিরুদ্ধ আপত্তি তুলবে?
JOB 9:20 আমি যদি নির্দোষও হতাম, তাও আমার মুখই আমাকে দোষারোপ করত। আমি যদি অনিন্দনীয় হতাম, তাও তা আমায় দোষী সাব্যস্ত করত।
JOB 9:21 “যদিও আমি অনিন্দনীয়, আমি নিজের বিষয়ে চিন্তিত নই; আমার নিজের জীবনকেই আমি ঘৃণা করি।
JOB 9:22 এসবই সমান; তাই আমি বলি, ‘অনিন্দনীয় ও দুষ্ট উভয়কেই তিনি ধ্বংস করেন।’
JOB 9:23 এক কশা যখন আকস্মিক মৃত্যু ডেকে আনে, তিনি তখন নির্দোষের হতাশা দেখে বিদ্রুপ করেন।
JOB 9:24 দেশ যখন দুষ্টের হাতে গিয়ে পড়ে, তখন তিনি সেখানকার বিচারকদের চোখ বেঁধে দেন। যদি তিনি এ কাজ না করেন, তবে কে তা করে?
JOB 9:25 “আমার দিনগুলি একজন ডাকহরকরার চেয়েও দ্রুতগামী; সেগুলি আনন্দের কোনও আভাস ছাড়াই উড়ে যায়।
JOB 9:26 নলখাগড়ার নৌকার মতো সেগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়, যেভাবে ঈগল পাখি তার শিকারের উপরে নেমে আসে।
JOB 9:27 আমি যদি বলি, ‘আমি আমার অভিযোগ ভুলে যাব, আমি আমার অভিব্যক্তি পালটে ফেলব, ও হাসব,’
JOB 9:28 তাও আমি এখনও আমার সব দুঃখকষ্টকে ভয় করি, কারণ আমি জানি তুমি আমাকে নির্দোষ গণ্য করবে না।
JOB 9:29 যেহেতু আমি ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছি, তবে কেন আমি অনর্থক সংগ্রাম করব?
JOB 9:30 আমি যদিও সাবান দিয়ে নিজেকে ধুয়ে ফেলি ও পরিষ্কার করার সোডা দিয়ে আমার হাত পরিষ্কার করি,
JOB 9:31 তাও তুমি আমাকে পাঁকে ভরা খন্দে ডোবাবে যেন আমার পোশাকও আমায় ঘৃণা করে।
JOB 9:32 “তিনি আমার মতো নিছক এক নশ্বর মানুষ নন যে আমি তাঁকে উত্তর দেব, ও আদালতে আমরা পরস্পরের সম্মুখীন হব।
JOB 9:33 শুধু যদি আমাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার মতো কেউ থাকত, যদি আমাদের একসঙ্গে মিলিত করার মতো কেউ থাকত,
JOB 9:34 যদি আমার কাছ থেকে ঈশ্বরের লাঠি দূর করার মতো কেউ থাকত, যেন তাঁর আতঙ্ক আমাকে আর আতঙ্কিত করতে না পারে।
JOB 9:35 তবে তাঁকে ভয় না করে আমি কথা বলতে পারতাম, কিন্তু এখন আমার যা অবস্থা, আমি তা পারব না।
JOB 10:1 “আমি আমার এই জীবনকে ঘৃণা করি; তাই আমি আমার অভিযোগকে লাগামছাড়া হতে দেব ও আমার প্রাণের তিক্ততায় কথা বলব।
JOB 10:2 আমি ঈশ্বরকে বলব: আমাকে দোষী সাব্যস্ত কোরো না, কিন্তু আমাকে বলে দাও আমার বিরুদ্ধে তোমার কী অভিযোগ আছে।
JOB 10:3 আমার উপরে জুলুম চালাতে, তোমার হাতের কাজকে পদদলিত করতে কি তোমার আনন্দ হয়, যদিও দুষ্টদের পরিকল্পনা দেখে তোমার হাসি পায়?
JOB 10:4 তোমার কি মানুষের মতো চোখ আছে? তুমি কি নশ্বর মানুষের মতো দেখতে পাও?
JOB 10:5 তোমার আয়ু কি নশ্বর মানুষের মতো বা তোমার জীবনকাল কি বলশালী এক মানুষের মতো
JOB 10:6 যে তোমাকে আমার দোষ খুঁজে বেড়াতে হবে ও আমার পাপ প্রমাণ করতে হবে—
JOB 10:7 যদিও তুমি জানো যে আমি দোষী নই ও কেউই তোমার হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না?
JOB 10:8 “তোমার হাত আমাকে গড়ে তুলেছে ও আমাকে নির্মাণ করেছে। এখন কি তুমি ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাকে ধ্বংস করবে?
JOB 10:9 মনে রেখো যে তুমি মাটির মতো করে আমাকে গড়ে তুলেছ। এখন কি তুমি আবার আমাকে মাটিতে মিশিয়ে দেবে?
JOB 10:10 তুমি কি আমাকে দুধের মতো ঢেলে দাওনি ও পনিরের মতো আমাকে ঘন করোনি,
JOB 10:11 চর্ম-মাংস দিয়ে আমাকে আচ্ছাদিত করোনি এবং অস্থি ও মাংসপেশী দিয়ে আমাকে একসঙ্গে সংযুক্ত করোনি?
JOB 10:12 তুমি আমাকে জীবন দিয়েছ ও আমার প্রতি দয়া দেখিয়েছ, ও তোমার দূরদর্শিতায় আমার আত্মাকে পাহারা দিয়েছ।
JOB 10:13 “কিন্তু তোমার অন্তরে তুমি এসব গুপ্ত রেখেছিলে, ও আমি জানি যে তোমার মনে এই ছিল:
JOB 10:14 আমি যদি পাপ করি, তবে তুমি আমার প্রতি লক্ষ্য রাখবে ও আমার অপরাধ ক্ষমা করবে না।
JOB 10:15 আমি যদি দোষী—তবে আমার প্রতি হায়! আমি যদি নির্দোষও হয়ে থাকি, তাও আমি মাথা তুলতে পারব না, যেহেতু আমি লজ্জায় পরিপূর্ণ ও আমার দুঃখদুর্দশায় ডুবে আছি।
JOB 10:16 আমি যদি আমার মাথা তুলি, তবে তুমি এক সিংহের মতো চুপিসাড়ে আমাকে অনুসরণ করবে ও আবার আমার বিরুদ্ধে তোমার অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করবে।
JOB 10:17 তুমি আমার বিরুদ্ধে নতুন নতুন সাক্ষী এনেছ ও আমার প্রতি তোমার ক্রোধ বৃদ্ধি পেয়েছে; তোমার সৈন্যবাহিনী আমার বিরুদ্ধে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়েছে।
JOB 10:18 “তুমি কেন তবে আমাকে গর্ভ থেকে বের করে আনলে? কোনও চোখ আমাকে দেখার আগে আমার মৃত্যু হলেই ভালো হত।
JOB 10:19 আমি অজাত অবস্থায় থাকলেই ভালো হত, বা গর্ভ থেকে সোজা কবরে চলে যেতে পারলেই ভালো হত!
JOB 10:20 আমার জীবনের অল্প কয়েকটি দিন কি প্রায় শেষ হতে যাচ্ছে না? আমার কাছ থেকে সরে যাও যেন সেই স্থানে যাওয়ার আগে, আমি এক মুহূর্তের আনন্দ উপভোগ করতে পারি যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না, বিষাদ ও নিরেট অন্ধকারের সেই দেশ,
JOB 10:22 গভীর রাতের সেই দেশ, নিরেট অন্ধকারের ও বিশৃঙ্খলার সেই দেশ, যেখানে আলোও অন্ধকারের সমান।”
JOB 11:1 পরে নামাথীয় সোফর উত্তর দিলেন:
JOB 11:2 “এসব কথা কি উত্তর ছাড়াই থেকে যাবে? এই বাচাল লোকটি কি সমর্থন পেয়েই যাবে?
JOB 11:3 তোমার বাজে কথা কি অন্যান্য লোকদের চুপ করিয়ে রাখবে? তুমি যখন বিদ্রুপ করছ তখন কি কেউ তোমাকে তিরস্কার করবে না?
JOB 11:4 তুমি ঈশ্বরকে বলেছ, ‘আমার বিশ্বাস অটুট ও তোমার দৃষ্টিতে আমি নির্মল।’
JOB 11:5 আহা, আমি চাই ঈশ্বর কথা বলুন, তিনি তোমার বিরুদ্ধে তাঁর ঠোঁট খুলুন
JOB 11:6 ও তোমার কাছে জ্ঞানের রহস্য উন্মোচন করুন, যেহেতু প্রকৃত জ্ঞানের দুটি দিক আছে। জেনে রাখো: ঈশ্বর তোমার কয়েকটি পাপ ভুলেও গিয়েছেন।
JOB 11:7 “তুমি কি ঈশ্বরের রহস্যগুলির গভীরতা মাপতে পারো? সর্বশক্তিমানের সীমানার রহস্যভেদ করতে পারো?
JOB 11:8 সেগুলি ঊর্ধ্বস্থ আকাশের চেয়েও উঁচু—তুমি কী করতে পারো? সেগুলি নিম্নস্থ পাতালের চেয়েও গভীর—তুমি কী জানতে পারো?
JOB 11:9 তাদের মাপ পৃথিবীর চেয়েও দীর্ঘ ও সমুদ্রের চেয়েও প্রশস্ত।
JOB 11:10 “তিনি এসে যদি তোমায় জেলখানায় বন্দি করেন ও বিচারসভা বসান, তবে কে তাঁর বিরোধিতা করবে?
JOB 11:11 নিশ্চয় তিনি প্রতারকদের চিনতে পারেন; ও তিনি যখন অনিষ্ট দেখেন, তখন কি তিনি তার হিসেব রাখেন না?
JOB 11:12 কিন্তু হীনবুদ্ধি কখনোই জ্ঞানী হতে পারবে না যেভাবে বুনো গর্দভশাবক মানুষ হয়ে জন্মাতে পারে না।
JOB 11:13 “তবুও তুমি যদি তাঁর প্রতি তোমার অন্তর উৎসর্গ করো ও তাঁর দিকে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও,
JOB 11:14 তুমি যদি তোমার হাতে লেগে থাকা পাপ ঝেড়ে ফেলো ও তোমার তাঁবুতে কোনও অমঙ্গল বসবাস করতে না দাও,
JOB 11:15 তবে, দোষমুক্ত হয়ে, তুমি তোমার মুখ তুলবে; তুমি সুস্থির থাকবে ও ভয় করবে না।
JOB 11:16 নিশ্চয় তুমি তোমার দুর্দশা ভুলে যাবে, প্রবাহিত জলের মতো শুধু তা স্মরণ করবে।
JOB 11:17 জীবন মধ্যাহ্নের চেয়েও উজ্জ্বল হবে, ও অন্ধকার সকালের মতো হয়ে যাবে।
JOB 11:18 তুমি নিশ্চিন্ত হবে, যেহেতু আশা আছে; তুমি সুরক্ষিত থাকবে ও নিরাপদে বিশ্রাম ভোগ করবে।
JOB 11:19 তুমি শুয়ে পড়বে, ও কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না, ও অনেকেই তোমার সাহায্যপ্রার্থী হবে।
JOB 11:20 কিন্তু দুর্জনদের চোখ নিস্তেজ হবে, ও পরিত্রাণ তাদের কাছ থেকে দূরে পালাবে; তাদের আশা মৃত্যুকালীন খাবিতে পরিণত হবে।”
JOB 12:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 12:2 “নিঃসন্দেহে একমাত্র তোমরাই জনসাধারণ, ও প্রজ্ঞা তোমাদের সাথেই লুপ্ত হয়ে যাবে!
JOB 12:3 কিন্তু আমারও তোমাদের মতো এক মন আছে; আমি তোমাদের চেয়ে নিকৃষ্ট নই। এসব কথা কে না জানে?
JOB 12:4 “আমি আমার বন্ধুদের কাছে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছি, যদিও আমি ঈশ্বরকে ডাকতাম ও তিনি আমায় উত্তর দিতেন— ধার্মিক ও অনিন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও নিছক উপহাসের এক পাত্রে পরিণত হয়েছি!
JOB 12:5 যারা অরামে আছে, তারা দুর্ভাগ্য-পীড়িত লোকদের এত অবজ্ঞা করে যেন পা পিছলে পড়ে যাওয়াই তাদের পরিণতি।
JOB 12:6 লুঠেরাদের তাঁবু নিরুপদ্রুত থাকে, ও যারা ঈশ্বরকে জ্বালাতন করে তারা নিরাপদে থাকে— তারা ঈশ্বরের হাতেই থাকে।
JOB 12:7 “কিন্তু পশুদের জিজ্ঞাসা করো, ও তারা তোমাকে শিক্ষা দেবে, বা আকাশের পাখিদের জিজ্ঞাসা করো, ও তারাও তোমায় বলে দেবে;
JOB 12:8 বা পৃথিবীকে বলো, ও তা তোমাকে শিক্ষা দেবে, বা সমুদ্রের মাছই তোমাকে খবর দিক।
JOB 12:9 এদের মধ্যে কে জানে না যে সদাপ্রভুর হাতই এসব গড়ে তুলেছে?
JOB 12:10 তাঁর হাতেই প্রত্যেকটি প্রাণীর জীবন ও সমগ্র মানবজাতির শ্বাস গচ্ছিত আছে।
JOB 12:11 কান কি শব্দ পরখ করে না যেভাবে জিভ খাদ্যের স্বাদ চাখে?
JOB 12:12 প্রবীণেরা কি প্রজ্ঞার অধিকারী নন? সুদীর্ঘ জীবন কি বুদ্ধি নিয়ে আসে না?
JOB 12:13 “প্রজ্ঞা ও পরাক্রম ঈশ্বরের অধিকারভুক্ত বিষয়; পরামর্শ ও বুদ্ধি তাঁরই।
JOB 12:14 তিনি যা ভাঙেন তা পুনর্নির্মাণ করা যায় না; তিনি যাদের বন্দি করেন তাদের কেউ মুক্ত করতে পারে না।
JOB 12:15 তিনি যদি জলধারা আটকে রাখেন, তবে খরা হয়; তিনি যদি তা বাঁধনছাড়া হতে দেন, তবে তা দেশ প্লাবিত করে।
JOB 12:16 পরাক্রম ও অন্তর্দৃষ্টি তাঁর অধিকারভুক্ত বিষয়; প্রতারিত ও প্রতারক উভয়ই তাঁর।
JOB 12:17 তিনি শাসকদের আভরণহীন করে চালান ও বিচারকদের মূর্খে পরিণত করেন।
JOB 12:18 তিনি রাজাদের পরিধেয় বেড়ি অপসৃত করেন ও তাদের কোমরের চারপাশে কৌপিন বেঁধে দেন।
JOB 12:19 তিনি যাজকদের আভরণহীন করে চালান ও দীর্ঘকাল যাবৎ ক্ষমতায় থাকা কর্মকর্তাদের উৎখাত করেন।
JOB 12:20 তিনি বিশ্বস্ত উপদেশকদের ঠোঁট শব্দহীন করে দেন। ও প্রাচীনদের বুদ্ধিবৃত্তি হরণ করেন।
JOB 12:21 তিনি অভিজাতদের হেনস্থা করেন ও বলশালীদের নিরস্ত্র করেন।
JOB 12:22 তিনি অন্ধকারের জটিল বিষয়গুলি প্রকাশিত করেন ও নিরেট অন্ধকারকে আলোয় নিয়ে আসেন।
JOB 12:23 তিনি জাতিদের মহান করেন, ও তাদের ধ্বংসও করেন; তিনি জাতিদের সম্প্রসারিত করেন, ও তাদের বিক্ষিপ্তও করেন।
JOB 12:24 তিনি পার্থিব নেতাদের বুদ্ধি-বঞ্চিত করেন; তিনি তাদের পথহীন এক প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করেন।
JOB 12:25 আলো ছাড়াই তারা অন্ধকারে পথ হাতড়ে বেড়ায়; তিনি মাতালদের মতো তাদের টলতে বাধ্য করেন।
JOB 13:1 “আমি নিজের চোখে এসব কিছু দেখেছি, আমি তা নিজের কানে শুনেছি ও বুঝেছি।
JOB 13:2 তোমরা যা জানো, আমিও তা জানি, আমি তোমাদের চেয়ে নিকৃষ্ট নই।
JOB 13:3 কিন্তু আমি সর্বশক্তিমানের সঙ্গে কথা বলতে চাই ও ঈশ্বরের কাছে আমার মামলার স্বপক্ষে যুক্তি দেখাতে চাই।
JOB 13:4 তোমরা, অবশ্য, আমার গায়ে মিথ্যা লেপন করেছ; তোমরা, তোমরা সবাই অপদার্থ চিকিৎসক।
JOB 13:5 তোমরা যদি শুধু পুরোপুরি নীরব থাকতে! তোমাদের পক্ষে, তবে তা প্রজ্ঞা হত।
JOB 13:6 এখন আমার যুক্তি শোনো; আমার ঠোঁটের আবেদনে কর্ণপাত করো।
JOB 13:7 ঈশ্বরের হয়ে কি তোমরা গর্হিত কথাবার্তা বলবে? তাঁর হয়ে কি তোমরা প্রতারণামূলক কথাবার্তা বলবে?
JOB 13:8 তোমরা কি তাঁর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাবে? তোমরা কি ঈশ্বরের হয়ে মামলা লড়বে?
JOB 13:9 তিনি যদি তোমাদের পরীক্ষা করেন, তবে কি ভালো কিছু হবে? নশ্বর এক মানুষকে যেভাবে তোমরা প্রতারিত করো সেভাবে কি তাঁকেও প্রতারিত করতে পারবে?
JOB 13:10 তিনি নিশ্চয় তোমাদের ভর্ৎসনা করবেন যদি তোমরা গোপনে পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছিলে।
JOB 13:11 তাঁর প্রভা কি তোমাদের আতঙ্কিত করবে না? তাঁর শঙ্কা কি তোমাদের উপরে নেমে আসবে না?
JOB 13:12 তোমাদের প্রবচন ভস্মের প্রবাদ; তোমাদের দুর্গ মাটির কেল্লা।
JOB 13:13 “নীরব হও ও আমাকে কথা বলতে দাও; পরে যা হওয়ার হবে।
JOB 13:14 আমি কেন নিজের জীবন বিপন্ন করব ও আমার প্রাণ হাতে তুলে নেব?
JOB 13:15 তিনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তবুও আমি তাঁর উপরে আশা রাখব; আমি নিশ্চয় তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমার মামলাটি লড়ব।
JOB 13:16 সত্যিই, এটি আমার মুক্তিতে পরিণত হবে, যেহেতু কোনও অধার্মিক তাঁর সামনে আসতে সাহস পায় না!
JOB 13:17 আমি যা বলি তা মন দিয়ে শোনো; আমার বক্তব্য তোমাদের কানে বাজুক।
JOB 13:18 এখন আমি যখন আমার মামলাটি সাজিয়েছি, তখন আমি জানি যে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।
JOB 13:19 কেউ কি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে? যদি পারে, তবে আমি নীরব থাকব ও মৃত্যুবরণ করব।
JOB 13:20 “হে ঈশ্বর, আমাকে শুধু এই দুটি জিনিস দাও, ও তখন আর আমি নিজেকে তোমার কাছে লুকিয়ে রাখব না:
JOB 13:21 তোমার হাত আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নাও, ও তোমার আতঙ্ক দিয়ে আমাকে আর ভয় দেখিয়ো না।
JOB 13:22 তখন আমাকে ডেকো ও আমি উত্তর দেব, বা আমাকে কথা বলতে দিয়ো ও তুমি আমাকে উত্তর দিয়ো।
JOB 13:23 আমি কতগুলি অন্যায় ও পাপ করেছি? আমার অপরাধ ও আমার পাপ আমায় দেখিয়ে দাও।
JOB 13:24 তুমি কেন তোমার মুখ লুকিয়েছ ও আমাকে তোমার শত্রু বলে মনে করছ?
JOB 13:25 তুমি কি বায়ুতাড়িত একটি পাতাকে যন্ত্রণা দেবে? শুকনো তুষের পিছু ধাওয়া করবে?
JOB 13:26 কারণ তুমি আমার বিরুদ্ধে তিক্ত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছ ও আমাকে আমার যৌবনকালীন পাপের ফলভোগ করাচ্ছ।
JOB 13:27 তুমি আমার পায়ে বেড়ি পরিয়েছ; আমার পায়ের তলায় চিহ্ন এঁকে দিয়ে তুমি আমার সব পথে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছ।
JOB 13:28 “তাই মানুষ পচাগলা বস্তুর মতো, পোকায় কাটা পোশাকের মতো ক্ষয়ে যায়।
JOB 14:1 “স্ত্রী-জাত নশ্বর মানুষ, তাদের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত ও ঝামেলায় পরিপূর্ণ।
JOB 14:2 ফুলের মতো তারা ফোটে ও শুকিয়েও যায়; দ্রুতগামী ছায়ার মতো, তারা মিলিয়ে যায়।
JOB 14:3 তাদের উপরে তুমি কি তোমার চোখ স্থির করবে? বিচারের জন্য তুমি কি তাদের তোমার সামনে নিয়ে আসবে?
JOB 14:4 অশুদ্ধ থেকে শুদ্ধের উৎপত্তি কে করতে পারে? কেউ করতে পারে না!
JOB 14:5 একজন মানুষের আয়ুর দিনগুলি নির্ধারিত হয়ে আছে; তার মাসের সংখ্যা তুমি স্থির করে রেখেছ ও এমন এক সীমা স্থাপন করেছ যা সে ছাড়িয়ে যেতে পারে না।
JOB 14:6 তাই তার উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নাও ও তাকে ছেড়ে দাও, যতক্ষণ না সে এক দিনমজুরের মতো তার সময় দিচ্ছে।
JOB 14:7 “এমনকি একটি গাছেরও আশা আছে: সেটিকে কেটে ফেলা হলেও, তা আবার অঙ্কুরিত হয়, ও তার নতুন শাখার অভাব হয় না।
JOB 14:8 সেটির মূল জমির নিচে পুরোনো হয়ে যেতে পারে ও তার গুঁড়ি মাটিতে মরে যেতে পারে,
JOB 14:9 তবুও জলের গন্ধ পেলেই তা মুকুলিত হবে ও এক চারাগাছের মতো শাখাপ্রশাখা বিস্তার করবে।
JOB 14:10 কিন্তু মানুষ মরে যায় ও কবরে শায়িত হয়; সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে ও তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।
JOB 14:11 যেভাবে হ্রদের জল শুকিয়ে যায় বা নদীর খাত রোদে পোড়ে ও শুকিয়ে যায়,
JOB 14:12 সেভাবে সে শায়িত হয় ও আর ওঠে না; আকাশমণ্ডল বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, মানুষজন আর জাগবে না বা তাদের ঘুম আর ভাঙানো যাবে না।
JOB 14:13 “তুমি যদি শুধু আমাকে কবরে লুকিয়ে রাখতে ও তোমার ক্রোধ শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাকে আড়াল করে রাখতে! তুমি যদি শুধু আমার জন্য একটি সময় স্থির করে দিতে ও তারপর আমায় স্মরণ করতে!
JOB 14:14 যদি কেউ মারা যায়, সে কি আবার বেঁচে উঠবে? আমার কঠোর সেবাকাজের সবকটি দিন আমি আমার নবীকরণের জন্য অপেক্ষা করে থাকব।
JOB 14:15 তুমি ডাকবে ও আমি তোমাকে উত্তর দেব; তোমার হাত যে প্রাণীকে সৃষ্টি করেছে, তুমি তার আকাঙ্ক্ষা করবে।
JOB 14:16 নিশ্চয় তুমি তখন আমার পদক্ষেপ গুনবে, কিন্তু আমার পাপের উপর নজর দেবে না।
JOB 14:17 আমার অপরাধগুলি থলিতে কষে বন্ধ করা হবে; তুমি আমার পাপ ঢেকে দেবে।
JOB 14:18 “কিন্তু পর্বত যেভাবে ক্ষয়ে যায় ও ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ও পাষাণ-পাথর যেভাবে নিজের জায়গা থেকে সরে যায়,
JOB 14:19 জল যেভাবে পাথরকে ক্ষয় করে ও তীব্র স্রোত যেভাবে মাটি ধুয়ে নিয়ে যায়, সেভাবে তুমি একজন লোকের আশা ধ্বংস করছ।
JOB 14:20 তুমি চিরকালের জন্য তাদের দমন করেছ, ও তারা বিলুপ্ত হয়েছে; তুমি তাদের মুখের চেহারা পরিবর্তিত করেছ ও তাদের পাঠিয়ে দিয়েছ।
JOB 14:21 তাদের সন্তানেরা যদি সম্মানিত হয়, তারা তা জানতে পারে না; তাদের সন্তানেরা যদি অবনত হয়, তারা তা দেখতে পায় না।
JOB 14:22 তারা শুধু নিজেদের শরীরের ব্যথাবেদনা অনুভব করে ও শুধু নিজেদের জন্যই শোক পালন করে।”
JOB 15:1 পরে তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিলেন:
JOB 15:2 “কোনও জ্ঞানবান কি ফাঁপা ধারণা সমেত উত্তর দেবেন বা গরম পূর্বীয় বাতাস দিয়ে তিনি পেট ভরাবেন?
JOB 15:3 অনর্থক কথা বলে, মূল্যহীন বক্তৃতা দিয়ে কি তিনি তর্ক করবেন?
JOB 15:4 কিন্তু তুমি এমনকি চুপিচুপি ভক্তিরও হানি ঘটাচ্ছ ও ঈশ্বরনিষ্ঠায় বাধা দিচ্ছ।
JOB 15:5 তোমার পাপ তোমার মুখকে উত্তেজিত করছে; তুমি ধূর্ততার জিভ অবলম্বন করছ।
JOB 15:6 আমার নয়, তোমার নিজের মুখই তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করছে; তোমার নিজের ঠোঁটই তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিচ্ছে।
JOB 15:7 “মানুষের মধ্যে তুমি কি প্রথমজাত? পাহাড়ের জন্মের আগেই কি তোমার জন্ম হয়েছিল?
JOB 15:8 তুমি কি ঈশ্বরের পরামর্শ শুনেছ? প্রজ্ঞার উপরে কি তোমারই একচেটিয়া অধিকার আছে?
JOB 15:9 তুমি এমনকি জানো যা আমরা জানি না? তোমার এমন কি অন্তর্দৃষ্টি আছে যা আমাদের নেই?
JOB 15:10 পাকা চুলবিশিষ্ট লোকেরা ও বৃদ্ধেরা আমাদের পক্ষে আছেন, যারা তোমার বাবার চেয়েও বয়স্ক।
JOB 15:11 ঈশ্বরের সান্তনা কি তোমার জন্যে যথেষ্ট নয়, মৃদুভাবে বলা কথাও কি কিছুই নয়?
JOB 15:12 তোমার অন্তর কেন তোমাকে বিপথে পরিচলিত করেছে, ও তোমার চোখ কেন মিট্‌মিট্ করছে,
JOB 15:13 যার ফলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তুমি তোমার উগ্র রোষ প্রকাশ করছ ও তোমার মুখ থেকে এ ধরনের কথা উগরে দিচ্ছ।
JOB 15:14 “নশ্বর মানুষ কী, যে তারা শুচিশুদ্ধ হবে, বা স্ত্রী-জাত মানুষও কী, যে তারা ধার্মিক হবে?
JOB 15:15 ঈশ্বর যদি তাঁর পবিত্রজনদেরই বিশ্বাস করেন না, আকাশমণ্ডলও যদি তাঁর দৃষ্টিতে অকলুষিত না হয়,
JOB 15:16 তবে সেই নশ্বর মানুষ কী, যারা নীচ ও দুর্নীতিগ্রস্ত, যারা জলের মতো করে অনিষ্ট পান করে!
JOB 15:17 “আমার কথা শোনো ও আমি তোমার কাছে ব্যাখ্যা করে দেব; আমি যা দেখেছি তা তোমাকে বলতে দাও,
JOB 15:18 জ্ঞানবানেরা যা ঘোষণা করেছিলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া কোনো কিছুই লুকিয়ে রাখেননি:
JOB 15:19 (শুধু তাদেরই দেশটি দেওয়া হয়েছিল যখন কোনও বিদেশি তাদের মধ্যে ঘোরাফেরা করত না)
JOB 15:20 দুর্নীতিপরায়ণ মানুষ আজীবন যন্ত্রণাভোগ করে, নিষ্ঠুর মানুষ ক্লেশে পরিপূর্ণ বছরগুলি নিজের জন্য সঞ্চয় করে রাখে।
JOB 15:21 আতঙ্কজনক শব্দে তার কান ভরে ওঠে; যখন সবকিছু ঠিক আছে বলে মনে হয়, তখনই লুঠেরারা তাকে আক্রমণ করে।
JOB 15:22 সে অন্ধকার জগৎ থেকে পালানোর মরিয়া চেষ্টা করে; সে তরোয়ালের জন্য চিহ্নিত হয়ে যায়।
JOB 15:23 সে শকুনের মতো হন্যে হয়ে খাদ্য খুঁজে বেড়ায়; সে জানে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন এসে পড়েছে।
JOB 15:24 চরম দুর্দশা ও মনস্তাপ তাকে আতঙ্কিত করে তোলে; অস্থিরতা তাকে আচ্ছন্ন করে, যেভাবে একজন রাজা আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হন,
JOB 15:25 যেহেতু সে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করেছে ও সর্বশক্তিমানের বিরুদ্ধে নিজেকে আস্ফালিত করেছে,
JOB 15:26 বেপরোয়াভাবে এক পুরু, শক্ত ঢাল নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছে।
JOB 15:27 “যদিও তার মুখমণ্ডল চর্বিতে ঢাকা পড়েছে ও তার কোমর মাংস দিয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে,
JOB 15:28 সে ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরে ও সেইসব বাড়িতে বসবাস করবে যেখানে কেউ বসবাস করে না, যেসব বাড়ি ভেঙে গিয়ে নুড়ি-পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
JOB 15:29 সে আর ধনী হয়ে থাকতে পারবে না ও তার ধনসম্পদও স্থায়ী হবে না, তার সম্পত্তিও দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে না।
JOB 15:30 সে অন্ধকারের হাত থেকে রেহাই পাবে না; আগুনের শিখা তার মুকুলগুলি শুকিয়ে দেবে, ও ঈশ্বরের মুখনির্গত শ্বাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
JOB 15:31 মূল্যহীন কোনো কিছুতে আস্থা স্থাপন করে সে নিজেকে প্রতারিত না করুক, যেহেতু তার পরিবর্তে সে কিছুই পাবে না।
JOB 15:32 সময়ের আগেই সে শুকিয়ে যাবে, ও তার শাখাপ্রশাখাগুলি আর সতেজ থাকবে না।
JOB 15:33 সে এমন এক দ্রাক্ষালতার মতো হয়ে যাবে যেখান থেকে কাঁচা আঙুর ঝরে পড়ে, এমন এক জলপাই গাছের মতো হয়ে যাবে যেখান থেকে ফুলের কুঁড়ি খসে পড়ে।
JOB 15:34 কারণ ভক্তিহীনদের সমবেত জনসমষ্টি নির্বংশ হবে, ও যারা ঘুস নিতে ভালোবাসে তাদের তাঁবু আগুন গ্রাস করে ফেলবে।
JOB 15:35 তারা সংকট গর্ভে ধারণ করে ও অমঙ্গলের জন্ম দেয়; তাদের গর্ভ প্রতারণা তৈরি করে।”
JOB 16:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 16:2 “আমি এই ধরনের অনেক কথা শুনেছি; তোমরা শোচনীয় সান্ত্বনাকারী, তোমরা সবাই!
JOB 16:3 তোমাদের এইসব দীর্ঘ এলোমেলো বক্তৃতা কি কখনও শেষ হবে না? তোমাদের কী এমন কষ্ট যে তোমরা তর্ক করেই যাচ্ছ?
JOB 16:4 আমিও তোমাদের মতো কথা বলতে পারতাম, যদি তোমরা আমার জায়গায় থাকতে; আমিও তোমাদের বিরুদ্ধে সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিতে পারতাম ও তোমাদের দেখে মাথা নাড়াতে পারতাম।
JOB 16:5 কিন্তু আমার মুখ তোমাদের উৎসাহ দেবে; আমার ঠোঁট থেকে সান্ত্বনা বের হয়ে তোমাদের যন্ত্রণার উপশম করবে।
JOB 16:6 “তবুও আমি যদি কথা বলি, আমার ব্যথার উপশম হয় না; ও আমি যদি নীরব থাকি, তাও তা যায় না।
JOB 16:7 হে ঈশ্বর, নিশ্চয় তুমি আমাকে নিঃশেষিত করে দিয়েছ; তুমি আমার সমগ্র পরিবারকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছ।
JOB 16:8 তুমি আমাকে কুঁকড়ে দিয়েছ—ও তা এক সাক্ষী হয়েছে; আমার শীর্ণতা উঠে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
JOB 16:9 ঈশ্বর আমাকে আক্রমণ করে তাঁর ক্রোধে আমাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন ও আমার প্রতি দাঁত কড়মড় করেছেন; আমার প্রতিপক্ষ তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছেন।
JOB 16:10 আমাকে বিদ্রুপ করার জন্য লোকেরা তাদের মুখ খুলেছে; অবজ্ঞাভরে তারা আমার গালে চড় মেরেছে ও আমার বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে।
JOB 16:11 ঈশ্বর আমাকে অধার্মিক লোকদের হাতে সমর্পণ করেছেন ও দুর্জনদের খপ্পরে ছুঁড়ে দিয়েছেন।
JOB 16:12 আমার সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু তিনি আমাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন; তিনি আমার ঘাড় ধরে আমাকে আছাড় মেরেছেন। তিনি আমাকে তাঁর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন;
JOB 16:13 তাঁর তিরন্দাজরা আমাকে ঘিরে ধরেছে। দয়া না দেখিয়ে, তিনি আমার কিডনি বিদ্ধ করেছেন ও আমার পিত্ত মাটিতে ফেলে দিয়েছেন।
JOB 16:14 বারবার তিনি আমার উপরে ফেটে পড়েছেন; একজন যোদ্ধার মতো তিনি আমার দিকে ধেয়ে এসেছেন।
JOB 16:15 “আমি আমার চামড়ার উপরে চটের কাপড় বুনে নিয়েছি ও আমার ললাটটি ধুলোতে সমাধিস্থ করেছি।
JOB 16:16 কেঁদে কেঁদে আমার মুখমণ্ডল লাল হয়ে গিয়েছে, আমার চোখের চারপাশে কালি পড়েছে;
JOB 16:17 তাও আমার হাতে হিংস্রতা নেই ও আমার প্রার্থনা বিশুদ্ধ।
JOB 16:18 “হে পৃথিবী, আমার রক্ত ঢেকে রেখো না; আমার কান্না যেন কখনও বিশ্রামে শায়িত না হয়!
JOB 16:19 এখনও আমার সাক্ষী স্বর্গেই আছেন; আমার উকিল ঊর্ধ্বেই আছেন।
JOB 16:20 আমার মধ্যস্থতাকারীই আমার বন্ধু হন যখন আমার চোখ ঈশ্বরের কাছে অশ্রুপাত করে;
JOB 16:21 একজন লোকের হয়ে তিনি ঈশ্বরের কাছে ওকালতি করেন যেভাবে এক বন্ধুর জন্য একজন ওকালতি করে।
JOB 16:22 “যে পথে গিয়ে আর ফিরে আসা যায় না, আমি সেই পথটি ধরার আগে শুধু কয়েকটি বছর পার হয়ে যাবে।
JOB 17:1 আমার আত্মা ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে, আমার আয়ুর দিনগুলি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, কবর আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।
JOB 17:2 বিদ্রুপকারীরা নিশ্চয় আমাকে ঘিরে ধরেছে; তাদের বিরোধিতা আমি চাক্ষুষ দেখতে পাচ্ছি।
JOB 17:3 “হে ঈশ্বর, আমার কাছে অঙ্গীকার করো। আর কে-ই বা আমার জন্য জামিনদার হবে?
JOB 17:4 তুমি তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পেতে দিয়েছ; তাই তুমি তাদের জয়লাভ করতে দেবে না।
JOB 17:5 যদি কেউ পুরস্কার লাভের আশায় তাদের বন্ধুদের নিন্দা করে, তবে তাদের সন্তানদের চোখ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।
JOB 17:6 “ঈশ্বর সকলের কাছে আমাকে নিন্দার এক পাত্রে পরিণত করেছেন, আমি এমন এক মানুষ যার মুখে সবাই থুতু দেয়।
JOB 17:7 বিষাদে আমার চোখ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে; আমার সমগ্র শরীর নিছক এক ছায়ামাত্র।
JOB 17:8 ন্যায়পরায়ণ লোকেরা তা দেখে হতভম্ব হয়ে যায়; নিরীহ লোকেরা অধার্মিকদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
JOB 17:9 তা সত্ত্বেও, ধার্মিকেরা নিজেদের পথ ধরে এগিয়ে যাবে, ও যাদের হাত শুচিশুদ্ধ, তারা ক্রমাগত শক্তিশালী হয়েই যাবে।
JOB 17:10 “কিন্তু তোমরা সবাই এসো, আবার চেষ্টা করো! আমি তোমাদের মধ্যে কাউকেই জ্ঞানবান দেখছি না।
JOB 17:11 আমার দিন শেষ হয়েছে, আমার পরিকল্পনাগুলি ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে। তবুও আমার হৃদয়ের বাসনাগুলি
JOB 17:12 রাতকে দিনে পরিণত করে; অন্ধকার সরাসরি আলোর কাছে চলে আসে।
JOB 17:13 যদি কবরকেই আমি আমার একমাত্র ঘর বলে ধরে নিই, যদি অন্ধকারের রাজত্বেই আমি আমার বিছানা পাতি,
JOB 17:14 যদি দুর্নীতিকে আমি বলি, ‘তুমি আমার বাবা,’ ও পোকামাকড়কে বলি, ‘তুমি আমার মা’ বা ‘আমার বোন,’
JOB 17:15 তবে কোথায় আমার আশা— আমার আশা কে দেখতে পাবে?
JOB 17:16 তা কি মৃত্যুদুয়ারে নেমে যাবে? আমরা সবাই কি একসাথে ধুলোয় মিশে যাব?”
JOB 18:1 পরে শূহীয় বিল্‌দদ উত্তর দিলেন:
JOB 18:2 “তোমাদের এই বক্তৃতা কখন শেষ হবে? বিচক্ষণ হও, ও পরে আমরা কিছু বলব।
JOB 18:3 আমাদের কেন গবাদি পশুর মতো মনে করা হচ্ছে ও তোমাদের নজরে নির্বুদ্ধি বলে গণ্য করা হচ্ছে?
JOB 18:4 রাগের বশে তুমি তো নিজেকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলছ, তোমার জন্য কি এই পৃথিবীকে পরিত্যক্ত হতে হবে? বা পাষাণ-পাথরগুলিকে কি স্বস্থান থেকে সরে যেতে হবে?
JOB 18:5 “দুষ্টদের প্রদীপ তো নিবে যায়; তার আগুনের শিখা নিস্তেজ হয়।
JOB 18:6 তার তাঁবুর আলো অন্ধকার হয়ে যায়; তার পাশে থাকা প্রদীপ নিভে যায়।
JOB 18:7 তার পদধ্বনির শব্দ দুর্বল হয়; তার নিজের ফন্দি তাকে পেড়ে ফেলে।
JOB 18:8 তার পা তাকে ধাক্কা মেরে জালে ফেলে দেয়; সে রাস্তা ভুলে গিয়ে নিজেই ফাঁদে পড়ে যায়।
JOB 18:9 গোড়ালি ধরে ফাঁদ তাকে আটক করে; পাশ তাকে জোর করে ধরে রাখে।
JOB 18:10 মাটিতে তার জন্য ফাঁস লুকানো থাকে; তার পথে ফাঁদ পড়ে থাকে।
JOB 18:11 সবদিক থেকে আতঙ্ক তাকে ভয় দেখায় ও তার পায়ে পায়ে চলতে থাকে।
JOB 18:12 চরম দুর্দশা তার জন্য বুভুক্ষিত হয়; সে কখন পড়বে তার জন্য বিপর্যয় ওৎ পেতে থাকে।
JOB 18:13 তা তার ত্বকের অংশবিশেষে পচন ধরায়; মৃত্যুর প্রথমজাত সন্তান তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গ্রাস করে।
JOB 18:14 সে তার তাঁবুর নিরাপদ আশ্রয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ও আতঙ্ক-রাজের দিকে তাকে মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হয়।
JOB 18:15 তার তাঁবুতে আগুন বসবাস করে; তার বাসস্থানের উপরে জ্বলন্ত গন্ধক ছড়ানো হয়।
JOB 18:16 মাটির নিচে তার মূল শুকিয়ে যায় ও উপরে তার শাখাপ্রশাখা নির্জীব হয়।
JOB 18:17 পৃথিবী থেকে তার স্মৃতি বিলুপ্ত হয়; দেশে কেউ তার নাম করে না।
JOB 18:18 সে আলো থেকে অন্ধকারের রাজত্বে বিতাড়িত হয় ও জগৎ থেকেও নির্বাসিত হয়।
JOB 18:19 তার স্বজাতীয়দের মধ্যে তার আর কোনও সন্তানসন্ততি বা বংশধর থাকবে না, ও এক সময় যেখানে সে বসবাস করত, সেখানেও কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
JOB 18:20 পাশ্চাত্যের মানুষজন তার এই পরিণতি দেখে হতভম্ব হয়ে যাবে; প্রাচ্যের লোকজনও ভয়গ্রস্ত হয়ে পড়বে।
JOB 18:21 নিঃসন্দেহে এই হল দুষ্টলোকের বসতি; যারা ঈশ্বরকে জানে না, এই হল তাদের অবস্থানস্থল।”
JOB 19:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 19:2 “তোমরা আর কতক্ষণ আমাকে যন্ত্রণা দেবে ও কথার আঘাত দিয়ে আমাকে পিষে মারবে?
JOB 19:3 এই নিয়ে দশবার তোমরা আমাকে গঞ্জনা দিয়েছ; নির্লজ্জভাবে আমাকে আক্রমণ করেছ।
JOB 19:4 যদি সত্যিই আমি বিপথে গিয়েছি, তবে আমার ভুলভ্রান্তি শুধু আমারই উদ্বেগের বিষয়।
JOB 19:5 তোমরা যদি সত্যিই আমার উপরে নিজেদের উন্নত করবে ও আমার বিরুদ্ধে আমার এই মানহানিকে ব্যবহার করবে,
JOB 19:6 তবে জেনে রেখো যে ঈশ্বরই আমার প্রতি অন্যায় করেছেন ও আমাকে তাঁর জালে বন্দি করেছেন।
JOB 19:7 “যদিও আমি আর্তনাদ করে বলি, ‘হিংস্রতা!’ তাও আমি কোনও সাড়া পাই না; যদিও আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করি, তাও কোথাও ন্যায়বিচার নেই।
JOB 19:8 তিনি আমার পথ অবরুদ্ধ করেছেন যেন আমি পার হতে না পারি; তিনি আমার পথ অন্ধকারাবৃত করে দিয়েছেন।
JOB 19:9 তিনি আমার সম্মান হরণ করেছেন ও আমার মাথা থেকে মুকুট অপসারিত করেছেন।
JOB 19:10 আমি সর্বস্বান্ত না হওয়া পর্যন্ত চতুর্দিকে তিনি আমাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন; তিনি আমার আশা এক গাছের মতো উপড়ে ফেলেছেন।
JOB 19:11 তাঁর ক্রোধ আমার বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছে; তিনি আমাকে তাঁর শত্রুদের মধ্যে একজন বলে গণ্য করেছেন।
JOB 19:12 তাঁর সৈন্যবাহিনী বেগে ধেয়ে আসছে; আমার বিরুদ্ধে তারা এক অবরোধ-পথ নির্মাণ করেছে ও আমার তাঁবুর চারপাশে শিবির স্থাপন করেছে।
JOB 19:13 “তিনি আমার কাছ থেকে আমার পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন; আমার পরিচিত লোকজনও আমার কাছে পুরোপুরি অপরিচিত হয়ে গিয়েছে।
JOB 19:14 আমার আত্মীয়স্বজন দূরে সরে গিয়েছে; আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও আমাকে ভুলে গিয়েছে।
JOB 19:15 আমার অতিথিরা ও আমার ক্রীতদাসীরা আমাকে এক বিদেশি বলে গণ্য করছে; তারা এমনভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে যেন আমি এক আগন্তুক।
JOB 19:16 আমি আমার দাসকে ডাকছি, কিন্তু সে উত্তর দিচ্ছে না, যদিও নিজের মুখেই আমি তাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
JOB 19:17 আমার নিশ্বাস আমার স্ত্রীর কাছে বিরক্তিকর; আমার নিজের পরিবারের কাছেও আমি ঘৃণিত।
JOB 19:18 ছোটো ছোটো ছেলেরাও আমাকে অবজ্ঞা করে; আমি যখন হাজির হই, তারা আমাকে বিদ্রুপ করে।
JOB 19:19 আমার সব অন্তরঙ্গ বন্ধু আমাকে ঘৃণা করে; যাদের আমি ভালোবাসি তারাও আমার প্রতি বিমুখ হয়েছে।
JOB 19:20 অস্থিচর্ম ছাড়া আমি আর কিছুই নই; শুধু দাঁতের চর্মবিশিষ্ট হয়েই আমি বেঁচে আছি।
JOB 19:21 “আমার প্রতি দয়া করো, হে আমার বন্ধুরা, দয়া করো, যেহেতু ঈশ্বর হাত দিয়ে আমায় আঘাত করেছেন।
JOB 19:22 ঈশ্বরের মতো তোমরাও কেন আমার পশ্চাদ্ধাবন করছ? আমার মাংস কি তোমরা যথেষ্ট পরিমাণে খেয়ে ফেলোনি?
JOB 19:23 “হায়, আমার কথাগুলি যদি নথিভুক্ত করে রাখা যেত, যদি সেগুলি এক গোটানো কাগজে লিখে রাখা যেত,
JOB 19:24 যদি সেগুলি লোহার এক যন্ত্র দিয়ে সীসায় খোদাই করে রাখা যেত, বা পাষাণ-পাথরে চিরতরে অন্তর্লিখিত করে রাখা যেত!
JOB 19:25 আমি জানি যে আমার মুক্তিদাতা জীবিত আছেন, ও শেষে তিনি পৃথিবীতে উঠে দাঁড়াবেন।
JOB 19:26 আর আমার ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও, আমার এই মরদেহেই আমি ঈশ্বরের দর্শন পাব;
JOB 19:27 আমি স্বয়ং তাঁকে দেখব স্বচক্ষে দেখব—আমিই দেখব, আর কেউ নয়। মনে মনে আমার হৃদয় কত আকুলভাবে কামনা করছে!
JOB 19:28 “তোমরা যদি বলো, ‘আমরা কীভাবে তাকে জ্বালাতন করব, যেহেতু সমস্যার মূল তার মধ্যেই অবস্থান করছে,’
JOB 19:29 তরোয়ালের ভয়ে তোমাদেরই ভীত হওয়া উচিত; যেহেতু ক্রোধ তরোয়াল দ্বারাই দণ্ড নিয়ে আসবে, ও তখনই তোমরা জানতে পারবে যে বিচার আছে।”
JOB 20:1 পরে নামাথীয় সোফর উত্তর দিলেন:
JOB 20:2 “আমার বিক্ষুব্ধ চিন্তাভাবনা আমাকে উত্তর দিতে উত্তেজিত করছে যেহেতু আমি খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছি।
JOB 20:3 আমি এমন তিরস্কার শুনেছি যা আমাকে অসম্মানিত করেছে, ও আমার বুদ্ধি-বিবেচনা আমাকে উত্তর দিতে অনুপ্রাণিত করছে।
JOB 20:4 “তুমি নিশ্চয় জানো যে প্রাচীনকাল থেকে, পৃথিবীতে যখন মানবজাতিকে স্থাপন করা হয়েছিল তখন থেকেই কীভাবে,
JOB 20:5 দুষ্টদের হাসিখুশি ভাব ক্ষণস্থায়ী হয়ে আসছে, অধার্মিকদের আনন্দ শুধু এক মুহূর্তের জন্য স্থায়ী হয়ে আসছে।
JOB 20:6 অধার্মিকের গর্ব যদিও আকাশমণ্ডল পর্যন্ত পৌঁছায় ও তার মাথা মেঘ স্পর্শ করে,
JOB 20:7 তাও সে তার নিজের মলের মতো চিরতরে বিনষ্ট হবে; যারা তাকে চিনত, তারা বলবে, ‘সে কোথায় গেল?’
JOB 20:8 স্বপ্নের মতো সে অদৃশ্য হয়ে যাবে, আর কখনও তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, রাতের দর্শনের মতো তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
JOB 20:9 যে চোখ তাকে দেখেছিল তা আর তাকে দেখতে পাবে না; তার বাসস্থানও আর তার দিকে তাকাবে না।
JOB 20:10 তার সন্তানেরা দরিদ্রদের ক্ষতিপূরণ করবে; তার নিজের হাতই তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবে।
JOB 20:11 তারুণ্যে ভরপুর যে প্রাণশক্তিতে তার অস্থি পরিপূর্ণ ছিল তা তারই সাথে ধুলোয় মিশে যাবে।
JOB 20:12 “দুষ্টতা যদিও তার মুখে মিষ্টি লাগে ও তা সে তার জিভের নিচে লুকিয়ে রাখে,
JOB 20:13 সে যদিও তা বাইরে বেরিয়ে যেতে দিতে চায় না ও তার মুখেই তা দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দেয়,
JOB 20:14 তবুও তার খাদ্যদ্রব্য তার পেটে গিয়ে টকে যাবে; তার দেহের মধ্যে তা সাপের বিষে পরিণত হবে।
JOB 20:15 সে যে ঐশ্বর্য কবলিত করেছিল তা সে থু থু করে ফেলবে; ঈশ্বর তার পেট থেকে সেসব বমি করিয়ে বের করবেন।
JOB 20:16 সে সাপের বিষ চুষবে; বিষধর সাপের বিষদাঁত তাকে হত্যা করবে।
JOB 20:17 সে জলপ্রবাহ উপভোগ করবে না, মধু ও ননী-প্রবাহিত নদীও উপভোগ করবে না।
JOB 20:18 তার পরিশ্রমের ফল তাকে না খেয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে; তার বেচাকেনার লাভ সে ভোগ করবে না।
JOB 20:19 যেহেতু সে দরিদ্রদের উপর অত্যাচার করে তাদের নিঃস্ব করে ছেড়েছে; সে সেই বাড়িগুলি দখল করেছে যেগুলি সে নির্মাণ করেনি।
JOB 20:20 “সে নিশ্চয় তার তীব্র আকাঙ্ক্ষার হাত থেকে রেহাই পাবে না; সে তার ধন দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পারবে না।
JOB 20:21 গ্রাস করার জন্য তার কাছে আর কিছু অবশিষ্ট নেই; তার সমৃদ্ধি স্থায়ী হবে না।
JOB 20:22 তার প্রাচুর্যের মধ্যেই, চরম দুর্দশা তাকে ধরে ফেলবে; দুর্বিপাক সবলে তার উপরে এসে পড়বে।
JOB 20:23 তার পেট ভরে যাওয়ার পর, ঈশ্বর তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ তার উপর ঢেলে দেবেন ও তার উপর তাঁর আঘাত বর্ষণ করবেন।
JOB 20:24 যদিও সে লৌহাস্ত্র থেকে পালাবে, ব্রোঞ্জের ফলাযুক্ত তির তাকে বিদ্ধ করবে।
JOB 20:25 সে তার পিঠ থেকে সেটি টেনে বের করবে, তার যকৃৎ থেকে সেই চক্‌মকে ফলাটি বের করবে। আতঙ্ক তার উপরে নেমে আসবে;
JOB 20:26 তার ধনসম্পদের জন্য সর্বাত্মক অন্ধকার অপেক্ষা করে আছে। দাবানল তাকে গ্রাস করবে ও তার তাঁবুর অবশিষ্ট সবকিছু গিলে খাবে।
JOB 20:27 আকাশমণ্ডল তার দোষ প্রকাশ করে দেবে; পৃথিবী তার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে।
JOB 20:28 বন্যা এসে তার বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, ঈশ্বরের ক্রোধের দিনে বেগে ধাবমান জলস্রোত নেমে আসবে।
JOB 20:29 দুষ্ট লোকেদের এই হল ঈশ্বর-নিরূপিত পরিণতি, ঈশ্বর দ্বারা এই উত্তরাধিকারই তাদের জন্য নিরূপিত হয়ে আছে।”
JOB 21:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 21:2 “আমার কথা মন দিয়ে শোনো; এই হোক সেই সান্ত্বনা যা তোমরা আমাকে দিতে পারো।
JOB 21:3 আমি কথা বলার সময় তোমরা একটু সহ্য করো, ও আমি কথা বলার পর, তোমরা আমাকে বিদ্রুপ কোরো।
JOB 21:4 “আমার অভিযোগ কি কোনও মানুষের বিরুদ্ধে? আমি কেন অধৈর্য হব না?
JOB 21:5 আমার দিকে তাকাও ও তোমরা অবাক হয়ে যাবে; তোমাদের মুখে হাত চাপা দাও।
JOB 21:6 একথা চিন্তা করে আমি আতঙ্কিত হয়ে যাই; আমার শরীর কেঁপে ওঠে।
JOB 21:7 দুষ্টেরা কেন বেঁচে থাকে, কেন তারা বৃদ্ধ হয় ও তাদের ক্ষমতা বাড়ে?
JOB 21:8 তাদের চারপাশে তারা তাদের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত হতে দেখে, তাদের চোখের সামনেই তাদের বংশধরেরা প্রতিষ্ঠিত হয়।
JOB 21:9 তাদের ঘরগুলি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত; ঈশ্বরের লাঠি তাদের উপরে পড়ে না।
JOB 21:10 তাদের ষাঁড়গুলি বংশবৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হয় না; তাদের গাভীগুলি বাছুরের জন্ম দেয় ও তাদের গর্ভস্রাব হয় না।
JOB 21:11 তারা তাদের সন্তানদের মেষপালের মতো বাইরে পাঠায়; তাদের শিশুসন্তানেরা নেচে বেড়ায়।
JOB 21:12 তারা খঞ্জনি ও বীণা বাজিয়ে গান গায়; তারা বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হয়।
JOB 21:13 সমৃদ্ধশালী হয়ে দিনযাপন করে ও শান্তিতে কবরে চলে যায়।
JOB 21:14 তবুও তারা ঈশ্বরকে বলে, ‘আমাদের ছেড়ে দাও! তোমার পথ জানার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই।
JOB 21:15 সর্বশক্তিমান কে, যে আমাদের তাঁর সেবা করতে হবে? তাঁর কাছে প্রার্থনা করে আমাদের কী লাভ হবে?’
JOB 21:16 কিন্তু তাদের শ্রীবৃদ্ধি তাদের নিজেদের হাতে নেই, তাই দুষ্টদের পরিকল্পনা থেকে আমি দূরে সরে দাঁড়াই।
JOB 21:17 “তবুও দুষ্টদের প্রদীপ কতবার নিভে যায়? কতবার তাদের উপরে চরম দুর্দশা নেমে আসে, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ঈশ্বর তাদের এই পরিণতি ঘটান?
JOB 21:18 কতবার তারা বাতাসের সামনে পড়া খড়ের মতো, ও প্রবল বাতাস দ্বারা তুষের মতো উড়ে যায়?
JOB 21:19 বলা হয়, ‘দুষ্টদের প্রাপ্য শাস্তি ঈশ্বর তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত করে রাখেন।’ তিনিই দুষ্টদের পাপের প্রতিফল দেন, যেন তারা নিজেরাই তা ভোগ করে!
JOB 21:20 তাদের নিজেদের চোখই তাদের সর্বনাশ দেখুক; তারা সর্বশক্তিমানের ক্রোধ পান করুক।
JOB 21:21 কারণ তাদের জন্য নির্ধারিত মাসগুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলির কী হবে সে বিষয়ে তারা কি আদৌ চিন্তা করে?
JOB 21:22 “কেউ কি ঈশ্বরকে জ্ঞান শিক্ষা দিতে পারে, যেহেতু তিনি উচ্চতমেরও বিচার করেন?
JOB 21:23 কেউ কেউ পূর্ণ প্রাণশক্তি থাকাকালীনই মারা যায়, যখন সে পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে থাকে,
JOB 21:24 তার শরীর যথেষ্ট পুষ্ট থাকে, অস্থিও মজ্জা-সমৃদ্ধ অবস্থায় থাকে।
JOB 21:25 অন্য কেউ আবার প্রাণের তিক্ততা নিয়েই মারা যায়, কখনও ভালো কোনো কিছুর স্বাদ না পেয়েই মারা যায়।
JOB 21:26 পাশাপাশিই তারা ধুলোয় পড়ে থাকে, ও কীটপতঙ্গ তাদের উভয়কেই ঢেকে রাখে।
JOB 21:27 “আমি বেশ ভালোই জানি তোমরা কী ভাবছ, যেসব ফন্দি এঁটে তোমরা আমার প্রতি অন্যায় করবে, আমি সেগুলিও জানি।
JOB 21:28 তোমরা বলছ, ‘সেই মহামান্যের বাড়িটি কোথায়, সেই তাঁবুগুলি কোথায়, যেখানে দুষ্টেরা বসবাস করত?’
JOB 21:29 তোমরা কি কখনও পথিকদের জিজ্ঞাসা করোনি? তোমরা কি তাদের বিবরণ বিবেচনা করোনি—
JOB 21:30 যে দুষ্টেরা চরম দুর্দশাময় দিনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়, ক্রোধের দিনের হাত থেকেও তারা মুক্তি পায়?
JOB 21:31 কে তাদের মুখের উপরে তাদের আচরণের নিন্দা করবে? কে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল তাদের দেবে?
JOB 21:32 তাদের কবরে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, ও তাদের সমাধিতে পাহারা বসানো হয়।
JOB 21:33 উপত্যকার মাটি তাদের কাছে মিষ্টি লাগে; প্রত্যেকে তাদের অনুগামী হয়, ও অসংখ্য জনতা তাদের আগে আগে যায়।
JOB 21:34 “অতএব তোমরা কীভাবে তোমাদের আবোল-তাবোল কথা দিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেবে? তোমাদের উত্তরে মিথ্যাভাষণ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই!”
JOB 22:1 পরে তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিলেন:
JOB 22:2 “কোনও মানুষ কি ঈশ্বরের পক্ষে লাভজনক হবে? একজন জ্ঞানবানও কি তাঁর উপকার করতে পারবে?
JOB 22:3 তুমি ধার্মিক হলেও তা সর্বশক্তিমানকে কী আনন্দ দেবে? তোমার আচরণ অনিন্দনীয় হলেও তাতে তাঁর কী লাভ?
JOB 22:4 “তোমার ভক্তি দেখেই কি তিনি তোমাকে তিরস্কার করেন ও তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন?
JOB 22:5 তোমার দুষ্টতা কি অত্যধিক নয়? তোমার পাপগুলিও কি অপার নয়?
JOB 22:6 অকারণে তুমি তোমার আত্মীয়দের কাছ থেকে জামানত চেয়েছ; তুমি লোকদের পরনের পোশাক কেড়ে নিয়েছ, তাদের উলঙ্গ করে ছেড়েছ।
JOB 22:7 তুমি ক্লান্ত মানুষকে জল দাওনি ও ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য দিতে অসম্মত হয়েছ,
JOB 22:8 যদিও তুমি এক ক্ষমতাপরায়ণ লোক, দেশের অধিকারী ছিলে— এমন এক সম্মানিত লোক ছিলে, যে সেখানেই বসবাস করত।
JOB 22:9 আর তুমি বিধবাদের খালি হাতে বিদায় করতে, ও পিতৃহীনদের শক্তি চূর্ণ করতে।
JOB 22:10 সেইজন্যই তোমার চারপাশে ফাঁদ পাতা আছে, আকস্মিক বিপদ তোমাকে আতঙ্কিত করে,
JOB 22:11 এত অন্ধকার হয়েছে যে তুমি দেখতে পাচ্ছ না, ও জলের বন্যা তোমাকে ঢেকে ফেলেছে।
JOB 22:12 “ঈশ্বর কি স্বর্গের উচ্চতায় বিরাজমান নন? আর দেখো অতি উচ্চে অবস্থিত তারাগুলি কত উঁচু!
JOB 22:13 তবুও তুমি বলো, ‘ঈশ্বর কী-ই বা জানেন? এ ধরনের অন্ধকার দিয়ে তিনি কি বিচার করেন?
JOB 22:14 ঘন মেঘ তাঁকে আড়াল করে রাখে, তাই তিনি আমাদের দেখতে পান না যেহেতু তিনি খিলানযুক্ত আকাশমণ্ডলে বিচরণ করেন।’
JOB 22:15 তুমি কি সেই পুরানো পথই ধরবে যে পথে দুষ্টেরা পা ফেলেছিল?
JOB 22:16 তাদের তো অকালেই উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের ভিত্তিমূল বন্যায় ভেসে গিয়েছে।
JOB 22:17 তারা ঈশ্বরকে বলেছিল, ‘আমাদের ছেড়ে দাও! সর্বশক্তিমান আমাদের কী করবেন?’
JOB 22:18 অথচ তিনিই তাদের বাড়িঘর ভালো ভালো জিনিসপত্রে ভরিয়ে দিয়েছিলেন, তাই আমি দুষ্টদের পরিকল্পনা থেকে দূরে সরে দাঁড়াই।
JOB 22:19 ধার্মিকেরা তাদের বিনাশ দেখে ও আনন্দ করে; নির্দোষেরা তাদের বিদ্রুপ করে বলে,
JOB 22:20 ‘আমাদের শত্রুরা নিশ্চয় ধ্বংস হয়েছে, ও আগুন তাদের ধনসম্পদ গ্রাস করেছে।’
JOB 22:21 “ঈশ্বরের হাতে নিজেকে সমর্পণ করো ও শান্তি পাও; এভাবেই তুমি সমৃদ্ধিলাভ করবে।
JOB 22:22 তাঁর মুখ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করো ও তোমার হৃদয়ে তাঁর বাক্য সঞ্চয় করে রাখো।
JOB 22:23 তুমি যদি সর্বশক্তিমানের দিকে ফেরো, তবে তুমি পুনঃস্থাপিত হবে: তুমি যদি তোমার তাঁবু থেকে দুষ্টতা দূর করো
JOB 22:24 ও তোমার সোনার তাল ধুলোতে রাখো, তোমার ওফীরের সোনা গিরিখাতের পাষাণ-পাথরের মধ্যে রাখো,
JOB 22:25 তবে সর্বশক্তিমানই তোমার সোনা হবেন, তোমার জন্য অসাধারণ রুপো হবেন।
JOB 22:26 তখন নিশ্চয় তুমি সর্বশক্তিমানে আনন্দ খুঁজে পাবে ও তোমার মুখ ঈশ্বরের দিকে তুলে ধরবে।
JOB 22:27 তুমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে, এবং তিনি তোমার প্রার্থনা শুনবেন, ও তুমি তোমার মানতগুলি পূরণ করবে।
JOB 22:28 তুমি যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই সফল হবে, ও তোমার পথগুলি আলোয় উজ্জ্বল হবে।
JOB 22:29 মানুষকে যখন অবনত করা হয় ও তুমি বলো, ‘ওদের তুলে ধরো!’ তখন তিনি হতোদ্যমকে উদ্ধার করবেন।
JOB 22:30 যে নির্দোষ নয় তিনি তাকেও উদ্ধার করবেন, তোমার হাতের পরিচ্ছন্নতায় সে উদ্ধার পাবে।”
JOB 23:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 23:2 “আজও আমার বিলাপ তীব্র; আমি গোঙানো সত্ত্বেও তাঁর হাত ভারী হয়েছে।
JOB 23:3 কোথায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে তা যদি শুধু আমি জানতে পারি; তাঁর আবাসের কাছে যদি শুধু যেতে পারি!
JOB 23:4 তবে তাঁর সামনে আমি আমার দশা বর্ণনা করব ও আমার মুখ যুক্তিতর্কে ভরিয়ে তুলব।
JOB 23:5 তিনি আমাকে কী উত্তর দেবেন, তা আমি খুঁজে বের করব, ও তিনি আমাকে কী বলবেন, তা বিবেচনা করব।
JOB 23:6 তিনি কি সবলে আমার বিরোধিতা করবেন? না, তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না।
JOB 23:7 সেখানে তাঁর সামনে ন্যায়পরায়ণ লোকেরা তাদের সরলতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, ও সেখানেই আমি চিরতরে আমার বিচারকের হাত থেকে মুক্ত হব।
JOB 23:8 “কিন্তু আমি যদি পূর্বদিকে যাই, তিনি সেখানে নেই; আমি যদি পশ্চিমদিকে যাই, সেখানেও তাঁকে খুঁজে পাই না।
JOB 23:9 তিনি যখন উত্তর দিকে কাজ করেন, আমি তাঁর দেখা পাই না; তিনি যখন দক্ষিণ দিকে ফেরেন, আমি তাঁর কোনও ঝলক দেখতে পাই না।
JOB 23:10 কিন্তু আমি যে পথ ধরি, তিনি তা জানেন; তিনি যখন আমার পরীক্ষা করবেন, আমি তখন সোনার মতো বের হয়ে আসব।
JOB 23:11 আমার পা ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর পদচিহ্নের অনুসরণ করেছে, বিপথগামী না হয়ে আমি তাঁর পথেই চলেছি।
JOB 23:12 আমি তাঁর ঠোঁটের আদেশ অমান্য করিনি; তাঁর মুখের কথা আমি আমার দৈনিক আহারের চেয়েও বেশি যত্নসহকারে সঞ্চয় করে রেখেছি।
JOB 23:13 “কিন্তু তিনি অনুপম, ও কে তাঁর বিরোধিতা করবে? তাঁর যা খুশি তিনি তাই করেন।
JOB 23:14 আমার বিরুদ্ধে তিনি তাঁর রায়দান সম্পন্ন করেছেন, ও এ ধরনের আরও অনেক পরিকল্পনা তাঁর কাছে আছে।
JOB 23:15 সেইজন্য তাঁর সামনে আমি আতঙ্কিত হই; আমি যখন এসব কথা ভাবি, তখন আমি তাঁকে ভয় পাই।
JOB 23:16 ঈশ্বর আমার হৃদয় মূর্ছিত করেছেন; সর্বশক্তিমান আমাকে আতঙ্কিত করেছেন।
JOB 23:17 তবুও অন্ধকার দ্বারা আমি নীরব হইনি, সেই ঘন অন্ধকার দ্বারাও হইনি যা আমার মুখ ঢেকে রাখে।
JOB 24:1 “সর্বশক্তিমান কেন বিচারের সময় স্থির করেন না? যারা তাঁকে জানে তাদের কেন এ ধরনের দিনের জন্য অনর্থক অপেক্ষা করতে হবে?
JOB 24:2 এমন অনেক মানুষ আছে যারা সীমানার পাথর সরায়; তারা চুরি করা মেষপাল চরায়।
JOB 24:3 তারা অনাথদের গাধা খেদায় ও বিধবাদের বলদ বন্ধক রাখে।
JOB 24:4 তারা পথ থেকে অভাবগ্রস্তদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় ও দেশের সব দরিদ্রকে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করে।
JOB 24:5 মরুভূমির বুনো গাধাদের মতো, দরিদ্রেরা তন্নতন্ন করে খাদ্য খুঁজে বেড়ায়; পতিত জমি তাদের সন্তানদের জন্য খাদ্য জোগায়।
JOB 24:6 তারা ক্ষেতে গবাদি পশুর জাব সংগ্রহ করে ও দুষ্টদের দ্রাক্ষাক্ষেতে খুঁটে খুঁটে ফল কুড়ায়।
JOB 24:7 পোশাকের অভাবে, তারা খালি গায়ে রাত কাটায়; শীতকালে নিজেদের গা ঢাকার জন্য তাদের কাছে কিছুই থাকে না।
JOB 24:8 পাহাড়ি বর্ষায় তারা প্লাবিত হয় ও আশ্রয়ের অভাবে তারা পাষাণ-পাথরকে বুকে জড়িয়ে ধরে।
JOB 24:9 পিতৃহীন শিশুকে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নেওয়া হয়; দরিদ্রদের শিশুসন্তানকে দেনার দায়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
JOB 24:10 পোশাকের অভাবে, তারা উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়; তারা শস্যের আঁটি বহন করে, কিন্তু তাও ক্ষুধার্ত থেকে যায়।
JOB 24:11 তারা চত্বরের মধ্যে জলপাই নিংড়ানোর কাজ করে; তারা পা দিয়ে দ্রাক্ষাফল পেষাই করে, তবুও তৃষ্ণার্তই থেকে যায়।
JOB 24:12 মৃত্যুপথযাত্রীদের গোঙানি নগর থেকে ভেসে আসে, ও আহতদের প্রাণ সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করে। কিন্তু ঈশ্বর কাউকে অন্যায়াচরণের দোষে অভিযুক্ত করেন না।
JOB 24:13 “এমনও অনেকে আছে যারা আলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যারা তার পথ জানে না বা তার পথে থাকে না।
JOB 24:14 দিনের আলো যখন ফুরিয়ে যায়, তখন হত্যাকারীরা উঠে দাঁড়ায়, দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের হত্যা করে, ও রাতের বেলায় চোরের মতো চুরি করে।
JOB 24:15 ব্যভিচারীদের চোখ গোধূলি লগ্নের জন্য অপেক্ষা করে থাকে; সে ভাবে, ‘কেউ আমাকে দেখতে পাবে না,’ ও সে তার মুখ ঢেকে রাখে।
JOB 24:16 অন্ধকারে, চোরেরা বাড়িতে সিঁধ কাটে; কিন্তু দিনের বেলায় তারা ঘরে নিজেদের বন্দি করে রাখে।
JOB 24:17 তাদের সকলের জন্য, মাঝরাতই তাদের সকাল; অন্ধকারের সন্ত্রাসের সাথেই তারা বন্ধুত্ব করে।
JOB 24:18 “তবুও তারা জলের উপরে ভেসে থাকা ফেনা; দেশে তাদের বরাদ্দ অধিকার শাপগ্রস্ত হয়, তাই কেউ দ্রাক্ষাক্ষেতে যায় না।
JOB 24:19 যেভাবে উত্তাপ ও খরা গলা বরফ ছিনিয়ে নিয়ে যায়, সেভাবে কবরও যারা পাপ করেছে তাদের ছিনিয়ে নেয়।
JOB 24:20 গর্ভ তাদের ভুলে যায়, কীটপতঙ্গ তাদের দেহগুলি নিয়ে ভোজে মাতে; দুষ্টদের আর কেউ মনে রাখবে না কিন্তু তারা গাছের মতো ভেঙে যাবে।
JOB 24:21 তারা বন্ধ্যা ও নিঃসন্তান মহিলাদের শিকারে পরিণত করে, ও বিধবাদের প্রতি তারা কোনও দয়া দেখায় না।
JOB 24:22 কিন্তু ঈশ্বর তাঁর পরাক্রমে শক্তিমানদের দূরে টেনে নিয়ে যান; যদিও তারা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের জীবনের কোনও নিশ্চয়তা নেই।
JOB 24:23 তিনি নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে তাদের হয়তো বিশ্রাম নিতে দেন, কিন্তু তাদের পথের দিকে তাঁর দৃষ্টি থাকে।
JOB 24:24 অল্প কিছুকালের জন্য তারা উন্নত হয়, ও পরে তারা সর্বস্বান্ত হয়; তাদের অবনত করা হয় ও অন্য সকলের মতো সংগ্রহ করা হয়; শস্যের শিষের মতো তাদের কেটে ফেলা হয়।
JOB 24:25 “যদি এরকম না হয়, তবে কে আমাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করতে পারে ও আমার কথা নিরর্থক করে দিতে পারে?”
JOB 25:1 পরে শূহীয় বিল্‌দদ উত্তর দিলেন:
JOB 25:2 “আধিপত্য ও সম্ভ্রম ঈশ্বরের অধিকারভুক্ত বিষয়; স্বর্গের উচ্চতায় তিনি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করেন।
JOB 25:3 তাঁর বাহিনীর সংখ্যা কি গুনে রাখা যায়? এমন কে আছে যার উপর তাঁর আলো উদিত হয় না?
JOB 25:4 ঈশ্বরের সামনে নশ্বর মানুষ তবে কীভাবে ধার্মিক গণিত হবে? স্ত্রী-জাত মানুষ কীভাবে শুচিশুদ্ধ হবে?
JOB 25:5 যদি তাঁর দৃষ্টিতে চাঁদও উজ্জ্বল নয় ও তারাগুলিও বিশুদ্ধ নয়,
JOB 25:6 তবে সেই নশ্বর মানুষ কী, যে এক শূককীটমাত্র— সেই মানুষই বা কী, যে এক কীটমাত্র!”
JOB 26:1 পরে ইয়োব উত্তর দিলেন:
JOB 26:2 “তুমি কীভাবে অক্ষম মানুষকে সাহায্য করেছ! তুমি কীভাবে দুর্বল হাতকে রক্ষা করেছ!
JOB 26:3 প্রজ্ঞাবিহীন মানুষকে তুমি কী পরামর্শ দিয়েছ! আর তুমি কী মহা পরিজ্ঞান দেখিয়েছ!
JOB 26:4 এসব কথা বলতে কে তোমাকে সাহায্য করেছে? আর তোমার মুখ থেকে কার অন্তরাত্মা কথা বলেছে?
JOB 26:5 “মৃতেরা গভীর মনস্তাপ ভোগ করে, যারা জলের তলদেশে থাকে ও যারা জলের মধ্যে থাকে, তারাও করে।
JOB 26:6 পাতাল ঈশ্বরের সামনে উলঙ্গ; বিনাশস্থান অনাবৃত হয়ে আছে।
JOB 26:7 শূন্য স্থানের উপরে তিনি উত্তর অন্তরিক্ষকে প্রসারিত করেছেন; শূন্যের উপরে তিনি পৃথিবীকে ঝুলিয়ে রেখেছেন।
JOB 26:8 তাঁর মেঘে তিনি জলরাশি মুড়ে রাখেন, তবুও মেঘরাশি তাদের ভারে বিস্ফোরিত হয় না।
JOB 26:9 তিনি পূর্ণিমার চাঁদের মুখ ঢেকে রাখেন, তাঁর মেঘরাশি তার উপর প্রসারিত করেন।
JOB 26:10 আলো ও অন্ধকারের মধ্যে এক সীমানারূপে জলরাশির উপরে তিনি দিগন্তের চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন।
JOB 26:11 আকাশমণ্ডলের স্তম্ভগুলি কেঁপে ওঠে, তাঁর ভর্ৎসনায় বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে যায়।
JOB 26:12 তাঁর পরাক্রম দ্বারা তিনি সমুদ্র মন্থন করেন; তাঁর প্রজ্ঞা দ্বারা তিনি রাহবকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেন।
JOB 26:13 তাঁর নিশ্বাস দ্বারা আকাশ পরিষ্কার হয়; তাঁরই হাত পিচ্ছিল সাপকে বিদ্ধ করেছে।
JOB 26:14 আর এসবই তাঁর কর্মের বাইরের দিকের ঝালর মাত্র; তাঁর বিষয়ে আমরা যা শুনি তা যদি এত ক্ষীণ ফিস্‌ফিসানি! তবে তাঁর পরাক্রমের বজ্রধ্বনি কে-ই বা বুঝতে পারে?”
JOB 27:1 আর ইয়োব তাঁর বক্তৃতা চালিয়ে গেলেন:
JOB 27:2 “যিনি আমাকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন, সেই জীবন্ত ঈশ্বরের দিব্যি, যিনি আমার প্রাণ তিক্ত করে দিয়েছেন, সেই সর্বশক্তিমানের দিব্যি,
JOB 27:3 যতদিন আমার শরীরে প্রাণ আছে, আমার নাকে ঈশ্বরের প্রাণবায়ু আছে,
JOB 27:4 ততদিন আমার ঠোঁট খারাপ কোনও কথা বলবে না, ও আমার জিভ মিথ্যা কথা উচ্চারণ করবে না।
JOB 27:5 আমি কখনোই স্বীকার করব না যে তোমরা নির্ভুল; আমৃত্যু আমি আমার সততা অস্বীকার করব না।
JOB 27:6 আমি আমার সরলতা বজায় রাখব ও কখনোই তা ত্যাগ করব না; যতদিন আমি বেঁচে থাকব, আমার বিবেক আমাকে অনুযোগ করবে না।
JOB 27:7 “আমার শত্রু দুষ্টের মতো হোক, আমার বিপক্ষ অধার্মিকের মতো হোক।
JOB 27:8 যেহেতু অনীশ্বররা যখন বিচ্ছিন্ন হয়, যখন ঈশ্বর তাদের প্রাণ কেড়ে নেন, তখন তাদের কাছে কী প্রত্যাশা থাকে?
JOB 27:9 ঈশ্বর কি তখন তাদের আর্তনাদ শোনেন যখন তাদের উপরে চরম দুর্দশা নেমে আসে?
JOB 27:10 তারা কি সর্বশক্তিমানে আনন্দ খুঁজে পাবে? তারা কি সবসময় ঈশ্বরকে ডাকবে?
JOB 27:11 “ঈশ্বরের পরাক্রমের বিষয়ে আমি তোমাদের শিক্ষা দেব; সর্বশক্তিমানের কোনো কিছুই আমি লুকিয়ে রাখব না।
JOB 27:12 তোমরা নিজেরাই তো তা দেখেছ। তবে কেন এই অনর্থক কথা বলছ?
JOB 27:13 “ঈশ্বর দুষ্টদের এই পরিণতিই বরাদ্দ করে দিয়েছেন, নিষ্ঠুর মানুষ সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে এই উত্তরাধিকারই লাভ করে:
JOB 27:14 তাদের সন্তানদের সংখ্যা যতই বেশি হোক না কেন, তাদের পরিণতি তরোয়ালই; তাদের সন্তানসন্ততি কখনোই পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না।
JOB 27:15 যারা বেঁচে থাকবে মহামারি তাদের কবর দেবে, ও তাদের বিধবারাও তাদের জন্য কাঁদবে না।
JOB 27:16 যদিও সে ধুলোর মতো করে গাদা গাদা রুপো ও কাদার পাঁজার মতো করে পোশাক-পরিচ্ছদ জমাবে,
JOB 27:17 তবুও সে যা জমাবে ধার্মিকেরা তা গায়ে দেবে, ও নির্দোষ মানুষেরা তার রুপো ভাগাভাগি করে নেবে।
JOB 27:18 যে বাড়ি সে তৈরি করে তা পতঙ্গের গুটির মতো, চৌকিদারের তৈরি করা কুঁড়েঘরের মতো।
JOB 27:19 সে ধনবান অবস্থায় শুতে যায়, কিন্তু আর কখনও সে এরকম করতে পারবে না; সে যখন চোখ খোলে, তখন সব শেষ।
JOB 27:20 আতঙ্ক বন্যার মতো তার নাগাল ধরে ফেলে; রাতের বেলায় প্রচণ্ড ঝড় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
JOB 27:21 পূর্বীয় বাতাস তাকে তুলে নিয়ে যায়, ও সে সর্বস্বান্ত হয়; সেই বাতাস তাকে স্বস্থান থেকে উড়িয়ে দেয়।
JOB 27:22 সে যত সেই বাতাসের প্রকোপ থেকে পালায় তা নির্দয়ভাবে তাকে সজোরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
JOB 27:23 সেই বাতাস উপহাসভরে হাততালি দেয় ও শিস দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়।”
JOB 28:1 রুপোর জন্য খনি আছে ও একটি স্থান আছে যেখানে সোনা শোধন করা হয়।
JOB 28:2 ভূগর্ভ থেকে লোহা উত্তোলন করা হয়, ও আকরিক থেকে তামা বিগলিত করা হয়।
JOB 28:3 নশ্বর মানুষ অন্ধকার নিকাশ করে; তারা সবচেয়ে অন্ধকারে থাকা আকরিক পাওয়ার জন্য সর্বাধিক দূরবর্তী গর্তের খোঁজ করে।
JOB 28:4 লোকালয় থেকে বহুদূরে অবস্থিত এমন স্থানে তারা খাদ কাটে, যেখানে মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি; অন্যান্য মানুষজনের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে তারা দুলতে ও ঝুলতে থাকে।
JOB 28:5 যে মাটি থেকে খাদ্য উৎপন্ন হয়, তার তলদেশ আগুন দ্বারা রূপান্তরিত হয়ে যায়;
JOB 28:6 সেখানকার পাষাণ-পাথরগুলিতে নীলকান্তমণি পাওয়া যায়, ও সেখানকার ধুলোয় দলা দলা সোনা মিশে থাকে।
JOB 28:7 কোনও শিকারি পাখি সেই গুপ্ত পথ চেনে না, কোনও বাজপাখির চোখ তা দেখেনি।
JOB 28:8 উদ্ধত পশুরা তার উপরে পা ফেলে না, ও কোনও সিংহ সেখানে শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় না।
JOB 28:9 মানুষজন তাদের হাত দিয়ে সেই অতি কঠিন পাষাণ-পাথরে হামলা চালায় ও পর্বত-মূল উন্মুক্ত করে দেয়।
JOB 28:10 তারা পাষাণ-পাথর খুঁড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে; সেখানকার সব মণিরত্ন তাদের চোখে পড়ে।
JOB 28:11 তারা নদীর উৎসস্থলের খোঁজ করে ও লুকানো বস্তুগুলি প্রকাশ্যে আনে।
JOB 28:12 কিন্তু প্রজ্ঞা কোথায় পাওয়া যাবে? বুদ্ধি-বিবেচনা কোথায় থাকে?
JOB 28:13 কোনও নশ্বর মানুষ তার মূল্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না; জীবিতদের দেশে তা পাওয়া যায় না।
JOB 28:14 অগাধ জলরাশি বলে, “আমাতে তা নেই” সমুদ্র বলে, “আমার কাছেও তা নেই।”
JOB 28:15 খাঁটি সোনা দিয়ে তা কেনা যায় না, তার মূল্য রুপো দিয়েও মেপে দেওয়া যায় না।
JOB 28:16 ওফীরের সোনা দিয়ে, মূল্যবান গোমেদক বা নীলকান্তমণি দিয়েও তা কেনা যায় না।
JOB 28:17 তার সাথে সোনা বা স্ফটিকের তুলনা করা যায় না, সোনা-মানিকের বিনিময়ে তা পাওয়া যায় না।
JOB 28:18 প্রবাল ও জ্যাসপারের কথাই ওঠে না; প্রজ্ঞার মূল্য পদ্মরাগমণির চেয়েও বেশি।
JOB 28:19 তার সাথে কূশ দেশের পোখরাজের তুলনা করা যায় না; খাঁটি সোনা দিয়েও তা কেনা যায় না।
JOB 28:20 তবে প্রজ্ঞা কোথা থেকে আসে? বুদ্ধি-বিবেচনা কোথায় থাকে?
JOB 28:21 প্রত্যেক সজীব প্রাণীর চোখে তা অজ্ঞাত থাকে, আকাশের পাখিদের কাছেও তা অদৃশ্য থাকে।
JOB 28:22 বিনাশ ও মৃত্যু বলে, “আমাদের কানে শুধু এক গুজব পৌঁছেছে।”
JOB 28:23 ঈশ্বরই প্রজ্ঞার কাছে পৌঁছানোর রাস্তা জানেন ও একমাত্র তিনিই জানেন তা কোথায় থাকে,
JOB 28:24 যেহেতু তিনি পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত দেখেন ও আকাশমণ্ডলের নিচে যা যা আছে, তিনি সবকিছু দেখেন।
JOB 28:25 যখন তিনি বাতাসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ও জলরাশির মাপ নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন,
JOB 28:26 যখন তিনি বর্ষার জন্য এক আদেশ জারি করেছিলেন ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো বৃষ্টির জন্য এক পথ স্থির করেছিলেন,
JOB 28:27 তখন তিনি প্রজ্ঞার দিকে তাকিয়েছিলেন ও তার মূল্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন; তিনি তাকে অনুমোদন দিয়েছিলেন ও তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন।
JOB 28:28 আর তিনি মানবজাতিকে বললেন, “সদাপ্রভুর ভয়—সেটিই হল প্রজ্ঞা, ও মন্দকে এড়িয়ে চলাই হল বুদ্ধি-বিবেচনা।”
JOB 29:1 ইয়োব তাঁর বক্তৃতা চালিয়ে গেলেন:
JOB 29:2 “পার হয়ে যাওয়া মাসগুলির জন্য আমি কতই না আকাঙ্ক্ষিত, সেই দিনগুলির জন্যও আকাঙ্ক্ষিত, যখন ঈশ্বর আমার উপরে লক্ষ্য রাখতেন,
JOB 29:3 যখন তাঁর প্রদীপ আমার মাথার উপরে আলো দিত ও তাঁর আলোতে আমি অন্ধকারেও চলাফেরা করতাম!
JOB 29:4 আহা সেই দিনগুলি, যখন আমি উন্নতির শিখরে ছিলাম, ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব আমার বাড়িকে আশীর্বাদ করেছিল,
JOB 29:5 যখন সেই সর্বশক্তিমান আমার সাথেই ছিলেন ও আমার সন্তানেরা আমার চারপাশে ছিল,
JOB 29:6 আমার পথ যখন ননি প্লাবিত হত ও পাষাণ-পাথর আমার জন্য জলপাই তেলের ধারা ঢেলে দিত।
JOB 29:7 “আমি যখন নগরদ্বারে পৌঁছাতাম ও সার্বজনীন চকে আসন গ্রহণ করতাম,
JOB 29:8 যুবকেরা আমাকে দেখে সরে যেত ও প্রাচীনেরা উঠে দাঁড়াতেন;
JOB 29:9 শীর্ষস্থানীয় লোকেরা কথা বলা বন্ধ করে দিতেন ও হাত দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে নিতেন;
JOB 29:10 অভিজাতদের কণ্ঠস্বর ধামাচাপা পড়ে যেত, ও তাদের জিভ তালুতে সংলগ্ন হত।
JOB 29:11 আমার কথা শুনে সবাই সাধুবাদ জানাত, ও আমাকে দেখে সবাই আমার প্রশংসা করত,
JOB 29:12 যেহেতু আমি সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করা দরিদ্রকে, ও অসহায় পিতৃহীনকে উদ্ধার করতাম।
JOB 29:13 মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করত; বিধবার অন্তরে আমি গানের সঞ্চার করতাম।
JOB 29:14 আমি আমার ধার্মিকতা পোশাকরূপে গায়ে দিতাম; ন্যায়বিচার ছিল আমার আলখাল্লা ও আমার পাগড়ি।
JOB 29:15 অন্ধের কাছে আমি ছিলাম চোখ ও খঞ্জের কাছে পা।
JOB 29:16 অভাবগ্রস্তের কাছে আমি ছিলাম একজন বাবা; অপরিচিত লোকের মামলা আমি হাতে তুলে নিতাম।
JOB 29:17 দুষ্টদের বিষদাঁত আমি ভেঙে দিতাম ও তাদের দাঁত থেকে শিকারদের ছিনিয়ে আনতাম।
JOB 29:18 “আমি ভাবলাম, ‘নিজের বাড়িতেই আমি মারা যাব, আমার দিনগুলি হবে বালুকণার মতো অসংখ্য।
JOB 29:19 আমার মূল জলের কাছে গিয়ে পৌঁছাবে, ও আমার শাখাপ্রশাখায় গোটা রাত শিশির পড়বে।
JOB 29:20 আমার গরিমা ম্লান হবে না; ধনুক আমার হাতে চিরনতুন হয়ে থাকবে।’
JOB 29:21 “মানুষজন প্রত্যাশা নিয়ে আমার কথা শুনত, আমার পরামর্শ লাভের জন্য নীরবে অপেক্ষা করত।
JOB 29:22 আমি কথা বলার পর, তারা আর কিছুই বলত না; আমার কথাবার্তা মৃদুভাবে তাদের কানে গিয়ে পড়ত।
JOB 29:23 তারা যেমন বৃষ্টির, তেমনি আমার অপেক্ষায় থাকত ও শেষ বর্ষার মতো আমার কথাবার্তা পান করত।
JOB 29:24 আমি যখন তাদের দিকে তাকিয়ে হাসতাম, তারা পুরোপুরি বিশ্বাস করত না; আমার মুখের আলো তাদের চমৎকার লাগত।
JOB 29:25 আমি তাদের জন্য পথ মনোনীত করতাম ও তাদের নেতা হয়ে বসতাম; সৈন্যদলের মধ্যে যেমন রাজা, তেমনি থাকতাম; বিলাপকারীদের যে সান্ত্বনা দেয়, তারই মতো থাকতাম।
JOB 30:1 “কিন্তু এখন তারাই আমাকে বিদ্রুপ করে, যারা আমার থেকে বয়সে ছোটো, যাদের বাবাদের আমি আমার মেষপাল-রক্ষক কুকুরদের সাথে রাখতেও অবজ্ঞা করতাম।
JOB 30:2 তাদের হাতের শক্তি আমার কী কাজে লাগত, যেহেতু তাদের প্রাণশক্তি তো তাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছে?
JOB 30:3 অভাব ও খিদের জ্বালায় জীর্ণশীর্ণ হয়ে তারা রাতের বেলায় রৌদ্রদগ্ধ জমিতে ও জনশূন্য পতিত জমিতে ঘুরে বেড়াত।
JOB 30:4 ঝাড়-জঙ্গলে তারা লবণাক্ত শাক সংগ্রহ করত, ও খেংরা ঝোপের মূল তাদের খাদ্য হয়েছিল।
JOB 30:5 মানবসমাজ থেকে তারা বিতাড়িত হয়েছিল, লোকজন যেভাবে চোরের পিছনে চিৎকার করে, সেভাবে তাদেরও পিছনেও চিৎকার করত।
JOB 30:6 তারা শুকনো নদীখাতে, পাষাণ-পাথরের খাঁজে ও জমির ফাটলে বসবাস করতে বাধ্য হত।
JOB 30:7 ঝোপঝাড়ে তারা পশুদের মতো ডাক দিয়ে বেড়াত ও লতাগুল্মের জঙ্গলে গাদাগাদি করে থাকত।
JOB 30:8 এক হীন ও অখ্যাত কুল হয়ে, তারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে।
JOB 30:9 “আর এখন সেই যুবকেরা গান গেয়ে গেয়ে আমাকে বিদ্রুপ করে; আমি তাদের মাঝে এক জনশ্রুতিতে পরিণত হয়েছি।
JOB 30:10 তারা আমাকে ঘৃণা করে ও আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকে; আমার মুখে থুতু ছিটাতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না।
JOB 30:11 এখন যেহেতু ঈশ্বর আমার ধনুক বিতন্ত্রিত করেছেন ও আমাকে দুর্দশাগ্রস্ত করেছেন, তাই আমার সামনে তারা সংযম ঝেড়ে ফেলেছে।
JOB 30:12 আমার ডানদিকে উপজাতিরা আক্রমণ করে; তারা আমার পায়ের জন্য ফাঁদ বিছায়, আমার বিরুদ্ধে তারা তাদের অবরোধ-পথ নির্মাণ করে।
JOB 30:13 তারা আমার পথ অবরুদ্ধ করে; তারা আমাকে ধ্বংস করতে সফল হয়। ‘কেউ তাকে সাহায্য করতে পারবে না,’ তারা বলে।
JOB 30:14 তারা যেন এক প্রশস্ত ফাটলের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসে; ধ্বংসাবশেষের মাঝখান দিয়ে তারা ঘূর্ণিবেগে আসে।
JOB 30:15 আতঙ্ক আমাকে অভিভূত করে; আমার সম্মান যেন বাতাসে উড়ে গিয়েছে, আমার নিরাপত্তা মেঘের মতো অদৃশ্য হয়ে যায়।
JOB 30:16 “আর এখন আমার জীবনে ভাটার টান এসেছে; কষ্টভোগের দিন আমাকে গ্রাস করেছে।
JOB 30:17 রাতের বেলায় আমার অস্থি বিদ্ধ হয়; আমার বিরক্তিকর যন্ত্রণা কখনও বিশ্রাম নেয় না।
JOB 30:18 ঈশ্বর তাঁর মহাপরাক্রমে আমার কাছে পোশাকের মতো হয়ে গিয়েছেন; আমার জামার গলবন্ধের মতো তিনি আমাকে বেঁধে রেখেছেন।
JOB 30:19 তিনি আমাকে কাদায় ছুঁড়ে ফেলেছেন, ও আমি ধুলো ও ভস্মের মতো হয়ে গিয়েছি।
JOB 30:20 “হে ঈশ্বর, আমি তোমার কাছে আর্তনাদ করেছি, কিন্তু তুমি উত্তর দাওনি; আমি উঠে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু তুমি শুধু আমার দিকে তাকিয়েছ।
JOB 30:21 নির্মমভাবে তুমি আমার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছ; তোমার হাতের শক্তি দিয়ে তুমি আমাকে আক্রমণ করেছ।
JOB 30:22 আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে তুমি আমাকে বাতাসের সামনে চালান করেছ; তুমি আমাকে ঝড়ের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়েছ।
JOB 30:23 আমি জানি তুমি আমাকে মৃত্যুর কাছে নিয়ে যাবে, সেই স্থানে নিয়ে যাবে, যা সব জীবিতজনের জন্য নিরূপিত হয়ে আছে।
JOB 30:24 “একজন বিদীর্ণ মানুষ যখন তার চরম দুর্দশায় সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে তখন নিশ্চয় তার উপরে কেউ হস্তক্ষেপ করে না।
JOB 30:25 আমি কি বিপদগ্রস্তদের জন্য কাঁদিনি? দরিদ্রদের জন্য আমার প্রাণ কি ব্যথিত হয়নি?
JOB 30:26 অথচ আমি যখন মঙ্গলের প্রত্যাশা করেছি, তখন অমঙ্গল এসেছে; আমি যখন আলোর খোঁজ করেছি, তখন অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে।
JOB 30:27 আমার ভিতরের মন্থন কখনও থামেনি; দিনের পর দিন আমাকে যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
JOB 30:28 আমি কলঙ্কিত হয়েছি, কিন্তু সূর্যের দ্বারা নয়; জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে আমি সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছি।
JOB 30:29 আমি শিয়ালদের ভাই হয়েছি, প্যাঁচাদের সঙ্গী হয়েছি।
JOB 30:30 আমার চামড়া কালো হয়ে গিয়ে তাতে খোসা ছাড়ছে; আমার শরীর জ্বরে পুড়ছে।
JOB 30:31 আমার বীণা শোকের সুর তুলছে, ও আমার বাঁশি হাহাকারের শব্দ করছে।
JOB 31:1 “আমি আমার চোখের সাথে এক চুক্তি করেছি যেন যুবতী মেয়ের দিকে কামুক দৃষ্টি নিয়ে না তাকাই।
JOB 31:2 তবে ঊর্ধ্ববাসী ঈশ্বরের কাছে আমাদের কী প্রাপ্য, উচ্চে অবস্থিত সর্বশক্তিমানের কাছে আমাদের কী উত্তরাধিকার আছে?
JOB 31:3 দুষ্টদের জন্য কি সর্বনাশ নয়, যারা অন্যায় করে তাদের জন্য কি বিপর্যয় নয়?
JOB 31:4 তিনি কি আমার পথগুলি দেখেন না ও আমার প্রতিটি পদক্ষেপ গুনে রাখেন না?
JOB 31:5 “আমি যদি অসাধুতা নিয়ে চলেছি বা আমার পা প্রতারণার পথে চলতে ব্যতিব্যস্ত হয়েছে—
JOB 31:6 তবে ঈশ্বরই আমাকে সরল দাঁড়িপাল্লায় ওজন করুন ও তিনি জানতে পারবেন যে আমি অনিন্দনীয়—
JOB 31:7 আমার পদক্ষেপ যদি পথ থেকে বিপথে গিয়েছে, আমার হৃদয় যদি আমার চোখ দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, বা আমার হাত যদি কলঙ্কিত হয়েছে,
JOB 31:8 তবে আমি যা বুনেছি তা যেন অন্যেরা খায়, ও আমার ফসল যেন নির্মূল হয়।
JOB 31:9 “আমার অন্তর যদি রমণীতে আকৃষ্ট হয়, বা আমি যদি আমার প্রতিবেশীর দরজায় ওৎ পেতে থাকি,
JOB 31:10 তবে আমার স্ত্রী যেন অন্য লোকের শস্য পেষাই করে, ও অন্য পুরুষ যেন তার সাথে শোয়।
JOB 31:11 কারণ তা হবে জঘন্য অপরাধ, এমন এক পাপ যা দণ্ডনীয়।
JOB 31:12 এটি এমন এক আগুন যা পুড়িয়ে বিনাশে পৌঁছে দেয়; তা আমার পাকা ফসল নির্মূল করে দিতে পারত।
JOB 31:13 “আমার দাসেরা যখন আমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে, তখন সে দাসই হোক বা দাসী, আমি যদি তাদের মধ্যে কোনও একজনের প্রতি ন্যায়বিচার না করেছি,
JOB 31:14 তবে আমি যখন ঈশ্বরের সম্মুখীন হব তখন কী করব? যখন তিনি হিসেব নেবেন তখন কী উত্তর দেব?
JOB 31:15 যিনি আমাকে গর্ভের মধ্যে তৈরি করেছেন তিনি কি তাদেরও তৈরি করেননি? একই জন কি আমাদের মাতৃগর্ভে আমাদের উভয়কে গঠন করেননি?
JOB 31:16 “আমি যদি দরিদ্রদের বাসনা অস্বীকার করেছি বা বিধবাদের চোখ নিস্তেজ হতে দিয়েছি,
JOB 31:17 আমি যদি আমার খাদ্য নিজের জন্যই জমিয়ে রেখেছি, পিতৃহীনদের তা থেকে কিছু দিইনি—
JOB 31:18 কিন্তু যৌবনকাল থেকে আমি এক বাবার মতো তাদের যত্ন নিয়েছি, ও জন্ম থেকেই আমি বিধবাদের উপকার করেছি—
JOB 31:19 আমি যদি কাউকে পোশাকের অভাবে বিনষ্ট হতে দেখেছি, বা অভাবগ্রস্তদের বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখেছি,
JOB 31:20 ও তাদের অন্তর আমাকে আশীর্বাদ করেনি কারণ আমি আমার মেষের লোম দিয়ে তাদের উষ্ণতা দিইনি,
JOB 31:21 দরবারে আমার প্রভাব-প্রতিপত্তি আছে জেনেও, আমি যদি পিতৃহীনদের বিরুদ্ধে আমার হাত উঠিয়েছি,
JOB 31:22 তবে আমার হাত যেন কাঁধ থেকে খসে পড়ে, তা যেন সন্ধি থেকে খুলে যায়।
JOB 31:23 যেহেতু আমি ঐশ্বরিক বিনাশকে ভয় পেয়েছি, ও তাঁর প্রভার ভয়ে আমি এ ধরনের কাজকর্ম করতে পারিনি।
JOB 31:24 “আমি যদি সোনার উপরে আস্থা স্থাপন করেছি বা খাঁটি সোনাকে বলেছি, ‘তুমিই আমার জামানত,’
JOB 31:25 আমি যদি আমার সম্পদের প্রাচুর্যের বিষয়ে, আমার হাত যে প্রচুর ধন অর্জন করেছে, সেই ধনের বিষয়ে আনন্দ করেছি,
JOB 31:26 আমি যদি প্রভাকর সূর্যকে বা উজ্জ্বল দীপ্তি ছড়িয়ে যাওয়া চাঁদকে দেখেছি,
JOB 31:27 যেন আমার অন্তর গোপনে আকৃষ্ট হয় ও আমার হাত তাদের উদ্দেশে সম্মানের চুম্বন উৎসর্গ করে,
JOB 31:28 তবে এসবও দণ্ডনীয় পাপ হবে, যেহেতু আমি ঊর্ধ্ববাসী ঈশ্বরের কাছে অবিশ্বস্ত হয়েছি।
JOB 31:29 “আমি যদি আমার শত্রুর দুর্ভাগ্য দেখে আনন্দ করেছি, বা তার আকস্মিক দুর্দশার দিকে উল্লসিত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়েছি—
JOB 31:30 আমি তাদের জীবনের উদ্দেশে অভিশাপ আবাহন করার মাধ্যমে আমার মুখকে পাপ করতে দিইনি—
JOB 31:31 আমার পরিবারভুক্ত সবাই যদি কখনও না বলত, ‘ইয়োবের দেওয়া মাংস খেয়ে কে না তৃপ্ত হয়েছে?’
JOB 31:32 কিন্তু কোনও আগন্তুককে পথে রাত কাটাতে হয়নি, যেহেতু আমার দরজা সবসময় পথিকদের জন্য খোলা ছিল—
JOB 31:33 মানুষ যেভাবে পাপ ধামাচাপা দেয়, আমিও যদি সেভাবে তা ধামাচাপা দিয়েছি, মনে মনে আমার অপরাধ লুকিয়েছি
JOB 31:34 যেহেতু আমি জনতাকে ভয় পেয়েছিলাম ও গোষ্ঠীদের অবজ্ঞা দেখে এত আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম যে আমি নীরবতা বজায় রেখেছিলাম ও বাইরেও যাইনি—
JOB 31:35 (“হায়! আমার কথা শোনার জন্য যদি কেউ থাকত! আমার আত্মপক্ষ সমর্থনে আমি এখন সই করছি, সর্বশক্তিমানই আমাকে উত্তর দিন; আমার ফরিয়াদি লিখিত আকারে তাঁর অভিযোগপত্র লিখুন।
JOB 31:36 আমি নিশ্চয় তা আমার কাঁধে তুলে বহন করব, আমি তা মুকুটের মতো করে মাথায় দেব।
JOB 31:37 আমার প্রত্যেকটি পদক্ষেপের বিবরণ আমি তাঁকে দেব; একজন শাসককে যেভাবে উপহার দেওয়া হয়, সেভাবেই আমি তা তাঁকে উপহার দেব।)
JOB 31:38 “আমার দেশ যদি আমার বিরুদ্ধে আর্তনাদ করে ওঠে ও তার সব সীতা যদি অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে যায়,
JOB 31:39 আমি যদি দাম না দিয়েই সেই জমিতে উৎপন্ন ফসল গ্রাস করেছি বা তার ভাড়াটিয়াদের অন্তরাত্মা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছি,
JOB 31:40 তবে গমের পরিবর্তে কাঁটাঝোপ ও যবের পরিবর্তে দুর্গন্ধযুক্ত আগাছা উৎপন্ন হোক।” ইয়োবের কথাবার্তা শেষ হল।
JOB 32:1 অতএব এই তিনজন ইয়োবকে আর কোনও উত্তর দিলেন না, যেহেতু তিনি নিজের দৃষ্টিতে নিজেকে ধার্মিক বলে মনে করেছিলেন।
JOB 32:2 কিন্তু রামের পরিবারভুক্ত বূষীয় বারখেলের ছেলে ইলীহূ ইয়োবের উপরে খুব ক্রুদ্ধ হলেন, যেহেতু ইয়োব ঈশ্বরের তুলনায় নিজেকে বেশি ধার্মিক বলে মনে করেছিলেন।
JOB 32:3 তিনি ইয়োবের তিন বন্ধুর উপরেও ক্রুদ্ধ হলেন, যেহেতু তারা কোনোভাবেই ইয়োবকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারেননি, তবুও তাঁর উপরে দোষারোপ করেছিলেন।
JOB 32:4 এদিকে ইলীহূ ইয়োবের সাথে কথা বলার আগে অপেক্ষা করছিলেন, যেহেতু তারা সবাই বয়সে তাঁর চেয়ে বড়ো ছিলেন।
JOB 32:5 কিন্তু তিনি যখন দেখলেন যে সেই তিনজনের বলার আর কিছুই নেই, তখন তিনি ক্রোধে ফেটে পড়লেন।
JOB 32:6 অতএব বূষীয় বারখেলের ছেলে ইলীহূ বললেন: “আমি বয়সে তরুণ, ও আপনারা প্রবীণ; তাই আমার ভয় হয়েছিল, আমি যা জানি তা আপনাদের বলার সাহস পাইনি।
JOB 32:7 আমি ভেবেছিলাম, ‘বয়সই কথা বলুক; পরিণত বছরগুলিই প্রজ্ঞা শিক্ষা দিক।’
JOB 32:8 কিন্তু একজন ব্যক্তির মধ্যে উপস্থিত আত্মা, সর্বশক্তিমানের শ্বাসই তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা দান করে।
JOB 32:9 যারা বয়সে প্রাচীন তারাই যে শুধু জ্ঞানবান, তা নয়, বয়স্করাই যে শুধু যা সমুচিত তা বোঝেন, এরকম নয়।
JOB 32:10 “তাই আমি বলছি: আমার কথা শুনুন; আমি যা জানি তা আমিও আপনাদের বলব।
JOB 32:11 আপনারা যখন কথা বলছিলেন, আমি তখন অপেক্ষা করেছিলাম, আমি আপনাদের যুক্তি শুনছিলাম; আপনারা যখন শব্দ খুঁজছিলেন,
JOB 32:12 আমি তখন গভীর মনোযোগ দিয়ে আপনাদের কথা শুনছিলাম। কিন্তু আপনাদের মধ্যে একজনও ইয়োবকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে পারেননি; আপনাদের মধ্যে কেউই তাঁর যুক্তির উত্তর দিতে পারেননি।
JOB 32:13 বলবেন না, ‘আমরা প্রজ্ঞা খুঁজে পেয়েছি; মানুষ নয়, ঈশ্বরই তাঁকে মিথ্যা প্রমাণিত করুন।’
JOB 32:14 কিন্তু ইয়োব আমার বিরুদ্ধে তাঁর শব্দগুলি বিন্যাস সহকারে সাজাননি, ও আপনাদের যুক্তি দিয়ে আমিও তাঁকে উত্তর দেব না।
JOB 32:15 “তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন ও তাদের আর কিছুই বলার ছিল না; তাদের শব্দ হারিয়ে গিয়েছিল।
JOB 32:16 আমি কি অপেক্ষা করব, এখন তারা যখন নীরব হয়ে আছেন, এখন তারা যখন সেখানে নিরুত্তর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন?
JOB 32:17 আমারও কিছু বলার আছে; আমি যা জানি তা আমিও বলব।
JOB 32:18 যেহেতু আমি কথায় পরিপূর্ণ, ও আমার অন্তরাত্মা আমাকে বাধ্য করছে;
JOB 32:19 ভিতর থেকে আমি বোতলে ভরা দ্রাক্ষারস, দ্রাক্ষারসে ভরা নতুন মশকের মতো, যা ফেটে পড়তে চলেছে।
JOB 32:20 আমাকে কথা বলতে ও উপশম পেতে হবে; ঠোঁট খুলে আমাকে উত্তর দিতে হবে।
JOB 32:21 আমি কোনও পক্ষপাতিত্ব দেখাব না, কাউকে তোষামোদও করব না;
JOB 32:22 যেহেতু আমি যদি তোষামোদিতে পারদর্শী হতাম, তবে আমার নির্মাতা অচিরেই আমাকে নিয়ে চলে যেতেন।
JOB 33:1 “কিন্তু এখন, হে ইয়োব, আমার কথা শুনুন; আমি যা কিছু বলি, তাতে মনোযোগ দিন।
JOB 33:2 আমি আমার মুখ খুলতে যাচ্ছি; আমার কথা আমার জিভের ডগায় লেগে আছে।
JOB 33:3 আমার কথা এক ন্যায়পরায়ণ অন্তর থেকে বেরিয়ে আসে; আমি যা জানি আমার ঠোঁট সততাপূর্বক তাই বলে।
JOB 33:4 ঈশ্বরের আত্মা আমাকে সৃষ্টি করেছেন; সর্বশক্তিমানের শ্বাস আমায় জীবন দান করেছে।
JOB 33:5 যদি পারেন তবে আমার কথার উত্তর দিন; উঠে দাঁড়ান ও আমার সামনে আপনার মামলার যুক্তি সাজান।
JOB 33:6 ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আপনি যেমন আমিও তেমনই; আমিও মাটির এক টুকরো।
JOB 33:7 আমাকে ভয় করতে হবে না, বা আমার হাতও আপনার উপরে ভারী হবে না।
JOB 33:8 “কিন্তু আপনি আমার কানে কানে বলেছেন— সেকথা আমি শুনেছি—
JOB 33:9 ‘আমি শুচিশুদ্ধ, আমি কোনও অন্যায় করিনি; আমি নির্মল ও পাপমুক্ত।
JOB 33:10 তবুও ঈশ্বর আমার মধ্যে দোষ খুঁজে পেয়েছেন; তিনি আমাকে তাঁর শত্রু বলে গণ্য করেছেন।
JOB 33:11 তিনি আমার পায়ে বেড়ি পড়িয়েছেন; তিনি আমার সব পথের উপরে সজাগ দৃষ্টি রাখেন।’
JOB 33:12 “কিন্তু আমি আপনাকে বলছি, এ বিষয়ে আপনি নির্ভুল নন, যেহেতু ঈশ্বর যে কোনো নশ্বর মানুষের চেয়ে মহান।
JOB 33:13 আপনি কেন তাঁর কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন যে তিনি কারোর কথার উত্তর দেন না?
JOB 33:14 যেহেতু ঈশ্বর তো কথা বলেন—এখন একভাবে, তো তখন অন্যভাবে— যদিও কেউই তা হৃদয়ঙ্গম করে না।
JOB 33:15 স্বপ্নে, রাতে আসা দর্শনে, যখন মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে তাদের বিছানায় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে থাকে,
JOB 33:16 তখন হয়তো তিনি তাদের কানে কানে কথা বলেন ও সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের আতঙ্কিত করে তোলেন,
JOB 33:17 যেন তিনি তাদের অন্যায়াচরণ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন ও অহংকার থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন,
JOB 33:18 যেন খাত থেকে তাদের প্রাণ, তরোয়ালের আঘাত থেকে তাদের জীবন রক্ষা করতে পারেন।
JOB 33:19 “অথবা কেউ হয়তো অস্থিতে অবিরত যন্ত্রণা নিয়ে বিছানায় ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে শাস্তি পায়,
JOB 33:20 তাদের কাছে খাবার বিরক্তিকর বলে মনে হয় ও তাদের প্রাণ সুস্বাদু আহারও ঘৃণা করে।
JOB 33:21 তাদের শরীর ক্ষয়ে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, ও তাদের অস্থি, যা এক সময় অদৃশ্য ছিল, তা এখন বেরিয়ে পড়েছে।
JOB 33:22 তারা খাতের কাছে এগিয়ে যায়, ও তাদের জীবন মৃত্যুদূতদের নিকটবর্তী হয়।
JOB 33:23 তবুও যদি তাদের পাশে থেকে একথা বলার জন্য এক স্বর্গদূতকে, হাজার জনের মধ্যে থেকে একজন দূতকে পাঠানো হয়, যে কীভাবে ন্যায়পরায়ণ হওয়া যায়,
JOB 33:24 ও তিনি সেই লোকটির প্রতি অনুগ্রহকারী হয়ে ঈশ্বরকে বলেন, ‘খাদে নেমে যাওয়ার হাত থেকে তাদের রেহাই দাও; আমি তাদের জন্য মুক্তিপণ খুঁজে পেয়েছি—
JOB 33:25 তাদের শরীর এক শিশুর মতো সতেজ হয়ে যাক; তারা তাদের যৌবনের দিনগুলিতে ফিরে যাক।’
JOB 33:26 তখন সেই লোকটি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারবে ও তাঁর অনুগ্রহ লাভ করবে, তারা ঈশ্বরের মুখদর্শন করবে ও আনন্দে চিৎকার করবে; তিনি তাদের আবার পূর্ণ মঙ্গলের দশায় ফিরিয়ে আনবেন।
JOB 33:27 আর তারা অন্যদের কাছে গিয়ে বলবে, ‘আমি পাপ করেছি, আমি সত্য বিকৃত করেছি, কিন্তু আমার যা প্রাপ্য আমি তা পাইনি।
JOB 33:28 ঈশ্বর আমাকে খাদে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন, ও আমি জীবনের আলো উপভোগ করার জন্য বেঁচে থাকব।’
JOB 33:29 “ঈশ্বর একজন লোকের সঙ্গে এসব কিছু করেন— দু-বার, এমনকি তিনবারও করেন—
JOB 33:30 খাত থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য, যেন তাদের উপরে জীবনের আলো উদ্ভাসিত হয়।
JOB 33:31 “হে ইয়োব, মনোযোগ দিন, ও আমার কথা শুনুন; নীরব থাকুন, ও আমাকে বলতে দিন।
JOB 33:32 আপনার যদি কিছু বলার থাকে, তবে আমাকে উত্তর দিন; কথা বলুন, কারণ আমি আপনাকে সমর্থন করতে চাই।
JOB 33:33 কিন্তু যদি না থাকে, তবে আমার কথা শুনুন; নীরব থাকুন, ও আমি আপনাকে জ্ঞান শিক্ষা দেব।”
JOB 34:1 পরে ইলীহূ বললেন:
JOB 34:2 “হে জ্ঞানীগুণীরা, আমার কথা শুনুন; হে পণ্ডিত ব্যক্তিরা, আমার কথায় কর্ণপাত করুন।
JOB 34:3 জিভ যেভাবে খাদ্যের স্বাদ যাচাই করে কানও সেভাবে কথার পরীক্ষা করে।
JOB 34:4 আসুন, যা ন্যায্য আমরা তা আমাদের জন্য ঠিক করে নিই; আসুন, যা ভালো আমরা তা একসাথে শিখে নিই।
JOB 34:5 “ইয়োব বলছেন, ‘আমি নির্দোষ, কিন্তু ঈশ্বর আমার প্রতি ন্যায়বিচার করেননি।
JOB 34:6 আমি যদিও ন্যায়বান, তাও আমাকে মিথ্যাবাদীরূপে গণ্য করা হয়েছে; আমি যদিও নিরপরাধ, তাও তাঁর তির এক দুরারোগ্য আঘাত দিয়েছে।’
JOB 34:7 ইয়োবের মতো আর কেউ কি আছেন, যিনি জলের মতো অবজ্ঞা পান করেন?
JOB 34:8 তিনি দুর্বৃত্তদের সঙ্গ দেন; তিনি দুর্জনদের সহযোগী হন।
JOB 34:9 কারণ তিনি বলেছেন, ‘ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে কোনও লাভ নেই।’
JOB 34:10 “তাই হে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা, আমার কথা শুনুন। এ হতেই পারে না যে ঈশ্বর অমঙ্গল করবেন, সর্বশক্তিমান অন্যায় করবেন।
JOB 34:11 মানুষের কর্মের ফলই তিনি প্রত্যেককে দেন; তাদের আচরণ অনুসারে তাদের যা প্রাপ্য তিনি তাদের তাই দেন।
JOB 34:12 চিন্তাও করা যায় না যে ঈশ্বর অন্যায় করবেন, সর্বশক্তিমান ন্যায়বিচার বিকৃত করবেন।
JOB 34:13 পৃথিবীর উপরে কে তাঁকে নিযুক্ত করেছে? সমগ্র জগতের দায়িত্ব কে তাঁর হাতে সঁপে দিয়েছে?
JOB 34:14 যদি তাঁর ইচ্ছা হত এবং তিনি তাঁর আত্মা ও শ্বাসবায়ু ফিরিয়ে নিতেন,
JOB 34:15 তবে সমগ্র মানবজাতি একসাথে ধ্বংস হয়ে যেত ও মানবসমাজ ধুলোতে ফিরে যেত।
JOB 34:16 “আপনার যদি বোধশক্তি থাকে, তবে শুনুন; আমি যা বলছি তাতে কর্ণপাত করুন।
JOB 34:17 যে ন্যায়বিচার ঘৃণা করে সে কি শাসন করবে? আপনি কি ন্যায়পরায়ণ ও পরাক্রমী ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করবেন?
JOB 34:18 তিনিই কি সেই ব্যক্তি নন, যিনি রাজাদের বলেন, ‘তোমরা অপদার্থ,’ ও অভিজাত লোকজনকে বলেন, ‘তোমরা দুষ্ট,’
JOB 34:19 যিনি রাজপুরুষদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখান না এবং দরিদ্রদের তুলনায় ধনীদের বেশি প্রশ্রয় দেন না, কারণ তারা সবাই তাঁরই হাতের কর্ম?
JOB 34:20 এক পলকে, মাঝরাতেই তাদের মৃত্যু হয়; মানুষজন প্রকম্পিত হয় ও তারা মারা যায়; পরাক্রমীরা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অপসারিত হয়।
JOB 34:21 “নশ্বর মানুষের পথের প্রতি তাঁর দৃষ্টি আছে; তিনি তাদের প্রত্যেকটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করেন।
JOB 34:22 এমন কোনও গভীর অন্ধকার, গাঢ় ছায়া নেই, যেখানে দুর্বৃত্তেরা গিয়ে লুকাতে পারে।
JOB 34:23 ঈশ্বরকে আর মানুষের পরীক্ষা করতে হবে না, যেন বিচারিত হওয়ার জন্য তাদের তাঁর সামনে আসতে হয়।
JOB 34:24 বিনা তদন্তে তিনি পরাক্রমীদের চূর্ণবিচূর্ণ করেন ও তাদের স্থানে তিনি অন্যদের নিযুক্ত করেন।
JOB 34:25 কারণ তিনি তাদের কাজকর্ম লক্ষ্য করেন, রাতারাতি তিনি তাদের উৎখাত করেন ও তারা চূর্ণ হয়।
JOB 34:26 তাদের দুষ্টতার জন্য তিনি এমন এক স্থানে তাদের দণ্ড দেন যেখানে সবাই তাদের দেখতে পায়,
JOB 34:27 কারণ তারা তাঁর অনুগমন করা থেকে ফিরে গিয়েছে ও তাঁর কোনো পথের প্রতি তাদের মনে কোনো কদর নেই।
JOB 34:28 তাদের কারণে দরিদ্রদের আর্তনাদ তাঁর কাছে পৌঁছেছে, ও অভাবগ্রস্তদের কান্না তিনি শুনে ফেলেছেন।
JOB 34:29 কিন্তু তিনি যদি নীরব থাকেন, কে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করবে? তিনি যদি তাঁর মুখ ঢেকে রাখেন, কে তাঁকে দেখতে পাবে? তবুও তিনি ব্যক্তিবিশেষ ও জাতি উভয়ের উপরেই বিরাজমান,
JOB 34:30 যেন অধার্মিকেরা শাসন করতে না পারে, ও প্রজাদের জন্য ফাঁদ বিছাতে না পারে।
JOB 34:31 “ধরুন কেউ ঈশ্বরকে বলছে, ‘আমি দোষী কিন্তু আমি আর অপরাধ করব না।
JOB 34:32 আমি যা দেখতে পাই না তা আমাকে শিক্ষা দাও; আমি যদি অন্যায় করে থাকি, তবে আমি আর তা করব না।’
JOB 34:33 যখন আপনি অনুতাপ করতে রাজি হচ্ছেন না তখন ঈশ্বর কি আপনার শর্তে আপনাকে পুরস্কৃত করবেন? আমাকে নয়, আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে; তাই বলুন আপনি কী জানেন।
JOB 34:34 “বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা ঘোষণা করবেন, যারা আমার কথা শুনেছেন সেই জ্ঞানবানেরা আমায় বলবেন,
JOB 34:35 ‘ইয়োব অজ্ঞের মতো কথা বলছেন; তাঁর কথায় অন্তর্দৃষ্টির অভাব আছে।’
JOB 34:36 ওহো, একজন দুষ্টলোকের মতো উত্তর দেওয়ার জন্য যদি ইয়োবের চরম পরীক্ষা নেওয়া যেত!
JOB 34:37 তাঁর পাপে তিনি বিদ্রোহও যোগ করেছেন; ঘৃণাপূর্ণভাবে তিনি আমাদের মধ্যে হাততালি দিয়েছেন ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন।”
JOB 35:1 পরে ইলীহূ বললেন:
JOB 35:2 “আপনার কি মনে হয় এটি যথাযথ? আপনি বলছেন, ‘ঈশ্বর নন, আমিই ঠিক।’
JOB 35:3 তাও আপনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘এতে আমার কী লাভ হবে, ও পাপ না করেই বা আমি কী পাব?’
JOB 35:4 “আমি আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের উত্তর দিতে চাই।
JOB 35:5 আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন; আপনার এত উপরে অবস্থিত মেঘরাশির দিকে একদৃষ্টিতে তাকান।
JOB 35:6 আপনি যদি পাপ করেন, তবে তা কীভাবে তাঁকে প্রভাবিত করে? আপনার পাপ যদি অসংখ্যও হয় তাতেও বা তাঁর কী আসে-যায়?
JOB 35:7 আপনি ধার্মিক হয়ে তাঁকে কী দিতে পারবেন, অথবা আপনার হাত থেকে তিনি কী গ্রহণ করবেন?
JOB 35:8 আপনার দুষ্টতা শুধু আপনার মতো মানুষদেরই প্রভাবিত করে, ও আপনার ধার্মিকতাও শুধু অন্যান্য লোকজনকেই প্রভাবিত করে।
JOB 35:9 “অত্যাচারের ভার দুঃসহ হলে লোকজন আর্তনাদ করে; শক্তিশালীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা সনির্বন্ধ মিনতি জানায়।
JOB 35:10 কিন্তু কেউ বলে না, ‘আমার সৃষ্টিকর্তা সেই ঈশ্বর কোথায়, যিনি রাতের বেলায় গান দান করেন,
JOB 35:11 যিনি পার্থিব পশুদের যত না শিক্ষা দেন, তার চেয়েও বেশি আমাদের শিক্ষা দেন ও আকাশের পাখিদের চেয়েও আমাদের বেশি জ্ঞানী করে তোলেন?’
JOB 35:12 দুষ্টদের দাম্ভিকতার কারণে লোকজন যখন আর্তনাদ করে তখন তিনি উত্তর দেন না।
JOB 35:13 বাস্তবিক, ঈশ্বর তাদের শূন্যগর্ভ অজুহাত শোনেন না; সর্বশক্তিমান তাতে মনোযোগ দেন না।
JOB 35:14 তাঁর পক্ষে কি শোনা সম্ভব যখন আপনি বলছেন যে আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন না, এই যে আপনার মামলাটি তাঁর সামনে আছে ও আপনাকে তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে হবে,
JOB 35:15 আর এছাড়াও, এই যে তাঁর ক্রোধ কখনও শাস্তি দেয় না ও তিনি আদৌ দুষ্টতার প্রতি মনোযোগ দেন না।
JOB 35:16 তাই ইয়োব শূন্যগর্ভ কথায় তাঁর মুখ খুলেছেন; জ্ঞান ছাড়াই তিনি অনেক কথা বলেছেন।”
JOB 36:1 ইলীহূ আরও বললেন;
JOB 36:2 “আপনি আমার প্রতি আরও একটু ধৈর্য ধরুন ও আমি আপনাকে দেখিয়ে দেব যে ঈশ্বরের হয়ে আরও অনেক কিছু বলার আছে।
JOB 36:3 আমি বহুদূর থেকে আমার জ্ঞান লাভ করেছি; আমি আমার সৃষ্টিকর্তার উপরে ন্যায়পরায়ণতা আরোপ করব।
JOB 36:4 নিশ্চিত হতে পারেন যে আমার কথা মিথ্যা নয়; নিখুঁত জ্ঞানবিশিষ্ট একজন আপনার সহবর্তী।
JOB 36:5 “ঈশ্বর পরাক্রমী, কিন্তু তিনি কাউকে অবজ্ঞা করেন না; তিনি পরাক্রমী, ও তাঁর অভীষ্টে অটল।
JOB 36:6 তিনি দুষ্টদের বাঁচিয়ে রাখেন না কিন্তু নিপীড়িতদের তাদের অধিকার দান করেন।
JOB 36:7 তিনি ধার্মিকদের উপর থেকে তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নেন না; রাজাদের সঙ্গে তিনি তাদের সিংহাসনে বসান ও চিরকাল তাদের মহিমান্বিত করেন।
JOB 36:8 কিন্তু লোকেরা যদি শিকলে বাঁধা পড়ে, দুঃখের দড়ি দিয়ে তাদের কষে বাঁধা হয়,
JOB 36:9 ঈশ্বর তখন তাদের বলে দেন যে তারা কী করেছে— যে তারা অহংকারভরে পাপ করেছে।
JOB 36:10 তিনি তাদের সংশোধনমূলক কথা শুনতে বাধ্য করেন ও তাদের দুষ্টতার বিষয়ে তাদের মন ফিরানোর আদেশ দেন।
JOB 36:11 তারা যদি তাঁর বাধ্য হয়ে তাঁর সেবা করে, তবে তারা তাদের জীবনের বাকি দিনগুলি সমৃদ্ধিতে ও তাদের বছরগুলি সন্তোষযুক্ত হয়ে কাটাবে।
JOB 36:12 কিন্তু যদি তারা তাঁর কথা না শোনে, তবে তারা তরোয়ালের আঘাতে ধ্বংস হবে ও জ্ঞানের অভাবে মারা যাবে।
JOB 36:13 “অধার্মিকেরা অন্তরে অসন্তোষ পুষে রাখে; এমনকি যখন তিনি তাদের শিকলে বাঁধেন, তখনও তারা সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করে না।
JOB 36:14 যৌবনকালেই তারা মারা যায় মন্দিরের দেবদাসদের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
JOB 36:15 কিন্তু যারা কষ্টভোগ করে, কষ্ট চলাকালীনই তিনি তাদের উদ্ধার করেন; তাদের দুঃখের মধ্যেই তিনি তাদের সাথে কথা বলেন।
JOB 36:16 “ঈশ্বর আপনাকে যন্ত্রণার মুখ থেকে বের করে বিধিনিষেধ-মুক্ত এক প্রশস্ত স্থানে, পছন্দসই খাদ্যদ্রব্যে সুসজ্জিত আপনার টেবিলের স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে এনেছেন।
JOB 36:17 কিন্তু এখন আপনি দুষ্টদের উপযুক্ত বিচারে বিচারিত হতে যাচ্ছেন; বিচার ও ন্যায় আপনাকে ধরে ফেলেছে।
JOB 36:18 সাবধান, কেউ যেন ধন দ্বারা আপনাকে প্রলুব্ধ করতে না পারে; বিপুল পরিমাণ ঘুস যেন আপনাকে বিপথগামী করে না তোলে।
JOB 36:19 আপনার ধনসম্পদ বা আপনার সব মহৎ প্রচেষ্টাও কি আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে, যেন আপনি যন্ত্রণাভোগ না করেন?
JOB 36:20 সেরাতের জন্য অপেক্ষা করবেন না, যখন লোকজনকে তাদের ঘর থেকে টেনে বের করা হয়।
JOB 36:21 সাবধান, অনিষ্টের দিকে ফিরে যাবেন না, আপনি তো দুঃখের পরিবর্তে সেটিকেই মনোনীত করেছেন।
JOB 36:22 “ঈশ্বর তাঁর পরাক্রমে উন্নত। তাঁর মতো শিক্ষক আর কে আছে?
JOB 36:23 কে তাঁর গন্তব্যপথ নিরূপিত করেছে, বা তাঁকে বলেছে, ‘তুমি অন্যায় করেছ’?
JOB 36:24 মনে রাখবেন, তাঁর সেই কাজের উচ্চপ্রশংসা করতে হবে, যাঁর প্রশংসা লোকেরা গানের মাধ্যমে করেছিল।
JOB 36:25 সমগ্র মানবজাতি তা দেখেছে; নশ্বর মানুষও দূর থেকে সেদিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছে।
JOB 36:26 ঈশ্বর কত মহান—আমাদের বোধশক্তির ঊর্ধ্বে! তাঁর বছর-সংখ্যার খোঁজ পাওয়া যায় না।
JOB 36:27 “তিনি জলবিন্দু টেনে নেন, ও তা বৃষ্টিরূপে পরিশুদ্ধ করে জলধারায় ফিরিয়ে দেন;
JOB 36:28 মেঘরাশি তাদের আর্দ্রতা ঢেলে দেয় ও প্রচুর বৃষ্টি মানবজাতির উপরে বর্ষিত হয়।
JOB 36:29 কে বুঝতে পারে কীভাবে তিনি মেঘরাশি ছড়িয়ে দেন, কীভাবে তিনি তাঁর শামিয়ানা থেকে বজ্রধ্বনি করেন?
JOB 36:30 দেখুন কীভাবে তিনি তাঁর চারপাশে বিজলি নিক্ষেপ করেন, সমুদ্রগর্ভকে স্নান করান।
JOB 36:31 এভাবেই তিনি জাতিদের নিয়ন্ত্রণ করেন ও প্রচুর পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য জোগান।
JOB 36:32 তাঁর হাত তিনি বিজলিতে পরিপূর্ণ করেন ও তাকে লক্ষ্যে আঘাত হানার আদেশ দেন।
JOB 36:33 তাঁর বজ্রধ্বনি আসন্ন ঝড়ের সংকেত দেয়; এমনকি পশুপালও সেটির আগমনবার্তা দেয়।
JOB 37:1 “এতে আমার হৃদয় চূর্ণ হচ্ছে ও স্বস্থান থেকে লাফিয়ে উঠছে।
JOB 37:2 শুনুন! তাঁর কণ্ঠস্বরের গর্জন শুনুন, সেই হুংকার শুনুন যা তাঁর মুখ থেকে বের হয়।
JOB 37:3 সমগ্র আকাশের নিচে তিনি তাঁর বিজলি ছেড়ে দেন ও পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত তা পাঠিয়ে দেন।
JOB 37:4 তারপরে আসে তাঁর গর্জনের শব্দ; তাঁর সৌম্য স্বর দিয়ে তিনি বজ্রধ্বনি করেন। তাঁর স্বর যখন প্রতিধ্বনিত হয়, তখন তিনি কিছুই আটকে রাখেন না।
JOB 37:5 ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর অবিশ্বাস্যভাবে বজ্রধ্বনি করে; তিনি এমন সব মহৎ কাজ করেন যা আমাদের বোধের অগম্য।
JOB 37:6 তিনি তুষারকে বলেন, ‘পৃথিবীতে পতিত হও,’ ও বৃষ্টিধারাকে বলেন, ‘প্রবল বর্ষণে পরিণত হও।’
JOB 37:7 যেন তাঁর নির্মিত সবাই তাঁর কাজকর্ম জানতে পারে, তিনি সব মানুষজনকে তাদের পরিশ্রম থেকে অব্যাহতি দেন।
JOB 37:8 পশুরা আশ্রয়স্থলে প্রবেশ করে; তারা নিজেদের গুহার মধ্যে থেকে যায়।
JOB 37:9 প্রবল ঝড় তার কক্ষ থেকে ধেয়ে আসে, শীত আসে ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে।
JOB 37:10 ঈশ্বরের শ্বাস বরফ উৎপন্ন করে, ও প্রশস্ত জলরাশি হিমায়িত হয়ে যায়।
JOB 37:11 মেঘরাশিতে তিনি আর্দ্রতা ভরে দেন; তাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর বিজলি ছড়িয়ে দেন।
JOB 37:12 তাঁরই পরিচালনায় তারা সমগ্র পৃথিবীর বুকে ঘুরপাক খেতে খেতে তাঁর দেওয়া নির্দেশ পালন করে।
JOB 37:13 তিনি মেঘরাশি সঞ্চার করে লোকজনকে শাস্তি দেন, বা তাঁর পৃথিবীকে জলসিক্ত করেন ও তাঁর প্রেম দেখান।
JOB 37:14 “হে ইয়োব, আপনি একথা শুনুন; একটু থেমে ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজকর্ম বিবেচনা করুন।
JOB 37:15 আপনি কি জানেন কীভাবে ঈশ্বর মেঘরাশি নিয়ন্ত্রণ করেন ও তাঁর বিজলি চমকান?
JOB 37:16 আপনি কি জানেন কীভাবে মেঘরাশি শূন্যে ঝুলে থাকে, যিনি নিখুঁত জ্ঞানবিশিষ্ট, তাঁর আশ্চর্য কাজগুলি জানেন কি?
JOB 37:17 দখিনা বাতাসের চাপে জমি যখন ধামাচাপা পড়ে যায় তখন তো আপনি পোশাক গায়ে দিয়েও গরমে হাঁসফাঁস করেন,
JOB 37:18 আপনি কি তাঁর সঙ্গে মিলে সেই আকাশমণ্ডলের প্রসার ঘটাতে পারেন, যা ঢালাই করা ব্রোঞ্জের আয়নার মতো নিরেট?
JOB 37:19 “আমাদের বলে দিন আমরা তাঁকে কী বলব; আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা আমাদের মামলাটি সাজাতে পারছি না।
JOB 37:20 তাঁকে কি বলতে হবে যে আমি কথা বলতে চাই? কেউ কি কবলিত হতে চাইবে?
JOB 37:21 এখন কেউ সূর্যের দিকে তাকাতে পারে না, যেহেতু তখনই তা আকাশে উজ্জ্বল হয় যখন বাতাস বয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়।
JOB 37:22 উত্তর দিক থেকে তিনি সোনালি ঔজ্জ্বল্য নিয়ে আসেন; ঈশ্বর অসাধারণ মহিমা নিয়ে আসেন।
JOB 37:23 সেই সর্বশক্তিমান আমাদের নাগালের বাইরে ও তিনি পরাক্রমে উন্নত; তাঁর ন্যায়ে ও মহা ধার্মিকতায়, তিনি অত্যাচার করেন না।
JOB 37:24 তাই, লোকজন তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা করে, কারণ যারা অন্তরে জ্ঞানী, তাদের জন্য কি তাঁর মনে কদর নেই?”
JOB 38:1 পরে সদাপ্রভু ঝড়ের মধ্যে থেকে ইয়োবের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন:
JOB 38:2 “এ কে যে অজ্ঞানের মতো কথা বলে আমার পরিকল্পনাগুলি ম্লান করে দিচ্ছে?
JOB 38:3 পুরুষমানুষের মতো নিজেকে মজবুত করো; আমি তোমাকে প্রশ্ন করব, ও তুমি আমাকে উত্তর দেবে।
JOB 38:4 “আমি যখন পৃথিবীর ভিত্তিমূল স্থাপন করেছিলাম তুমি তখন কোথায় ছিলে? যদি বুঝেছো, তবে আমায় বলো।
JOB 38:5 পৃথিবীর মাত্রা কে চিহ্নিত করল? তুমি নিশ্চয় তা জানো! তার উপরে কে সীমারেখা টানলো?
JOB 38:6 কীসের উপরে তার অবস্থান খাড়া হল, বা কে তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলো—
JOB 38:7 যখন শুকতারারা একসাথে গেয়ে উঠল ও স্বর্গদূতেরা সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠল?
JOB 38:8 “কে দরজার আড়ালে সমুদ্রকে অবরুদ্ধ করল যখন তা গর্ভ থেকে বের হয়ে এল,
JOB 38:9 যখন আমি মেঘরাশিকে তার পোশাক বানালাম ও তা ঘন অন্ধকারে ঢেকে দিলাম,
JOB 38:10 যখন আমি তার জন্য সীমা নির্দিষ্ট করলাম এবং তার দরজা ও খিল যথাস্থানে লাগালাম।
JOB 38:11 যখন আমি বললাম, ‘এই পর্যন্তই তুমি আসতে পারবে, আর নয়; এখানেই তোমার তরঙ্গের গর্ব থেমে যাবে’?
JOB 38:12 “তুমি কি কখনও সকালকে আদেশ দিয়েছ, বা ভোরবেলাকে তার স্থান দেখিয়ে দিয়েছ
JOB 38:13 যেন তা পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ও সেখান থেকে দুষ্টদের ঝেড়ে ফেলে?
JOB 38:14 পৃথিবী সিলমোহরের তলায় লেগে থাকা মাটির মতো আকার নেয়; তার বৈশিষ্ট্য এক পোশাকের মতো ফুটে ওঠে।
JOB 38:15 দুষ্টদের আলো দেওয়া হয় না, ও তারা যে হাত উঁচুতে তুলে ধরে তা ভেঙে যায়।
JOB 38:16 “তুমি কি সমুদ্রের উৎসে যাত্রা করেছ বা সমুদ্রতলবর্তী গর্তে হাঁটাহাঁটি করেছ?
JOB 38:17 মৃত্যুর দরজা কি তোমার কাছে প্রকাশিত হয়েছে? তুমি কি গাঢ় অন্ধকারের দরজা দেখেছ?
JOB 38:18 পৃথিবীর সুবিশাল বিস্তারের বিষয়টি কি তুমি বুঝে ফেলেছ? এসব কিছু যদি তুমি জানো, তবে আমায় বলো।
JOB 38:19 “আলোর বাসস্থানে যাওয়ার পথ কোনটি? আর অন্ধকার কোথায় বসবাস করে?
JOB 38:20 তুমি কি তাদের স্বস্থানে নিয়ে যেতে পারো? তুমি কি তাদের ঘরের পথ জান?
JOB 38:21 নিশ্চয় জানো, কারণ তখন তো তোমার জন্ম হয়ে গিয়েছিল! তুমি তো বহু বছর ধরে বেঁচে আছ!
JOB 38:22 “তুমি কি তুষারের আড়তে প্রবেশ করেছ বা শিলাবৃষ্টির গুদাম দেখেছ,
JOB 38:23 যা আমি সংকটকালের জন্য, যুদ্ধবিগ্রহের দিনের জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছি?
JOB 38:24 কোনও পথ ধরে সেখানে যাওয়া যায়, যেখান থেকে বিজলি বিচ্ছুরিত হয়, বা যেখান থেকে পূর্বীয় বাতাস সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে?
JOB 38:25 প্রবল বৃষ্টিপাতের জন্য কে খাল খুঁড়েছে, ও বজ্রঝড়ের জন্য কে পথ তৈরি করে দিয়েছে,
JOB 38:26 যেন জনমানবহীন দেশ, বসতিহীন মরুভূমি জলসিক্ত হয়,
JOB 38:27 যেন ঊষর পতিত জমি তৃপ্ত হয় ও সেখানে কচি ঘাস অঙ্কুরিত হয়?
JOB 38:28 বৃষ্টির কি বাবা আছে? কে শিশিরকণার জন্ম দিয়েছে?
JOB 38:29 কার গর্ভ থেকে বরফ বের হয়েছে? আকাশ থেকে ঝড়ে পড়া তুষারের জন্মই বা কে দিয়েছে
JOB 38:30 যখন জল জমে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়, যখন জলরাশির উপরের স্তর জমাট বেঁধে যায়?
JOB 38:31 “তুমি কি কৃত্তিকার হার গাঁথতে পারো? তুমি কি কালপুরুষের বাঁধন আলগা করতে পারো?
JOB 38:32 তুমি কি নক্ষত্রপুঞ্জকে তাদের নিজস্ব ঋতুতে চালাতে পার বা শাবকসুদ্ধ ভালুককে তার পথ দেখাতে পারো?
JOB 38:33 তুমি কি আকাশমণ্ডলের বিধান জানো? তুমি কি পৃথিবীতে ঈশ্বরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে পারো?
JOB 38:34 “তুমি কি মেঘ পর্যন্ত তোমার আওয়াজ তুলতে পারো ও নিজেকে জলপ্লাবন দিয়ে ঢেকে ফেলতে পারো?
JOB 38:35 তুমি কি বজ্রবিদ্যুৎ ঝলসাতে পারবে? সেগুলি কি জবাবে তোমাকে বলবে, ‘আমরা এখানে’?
JOB 38:36 কে দোচরাকে বিজ্ঞতা দিয়েছে বা মোরগকে বোধশক্তি দিয়েছে?
JOB 38:37 কার কাছে মেঘরাশি গণনা করার বিজ্ঞতা আছে? কে তখন আকাশের জলে ভরা ঘড়াগুলি উল্টাতে পারে
JOB 38:38 যখন ধুলো শক্ত হয়ে যায় ও মাটির ঢেলা একসঙ্গে জুড়ে যায়?
JOB 38:39 “তুমি কি সিংহীর জন্য শিকারের খোঁজ করবে ও সিংহদের খিদে মিটাবে
JOB 38:40 যখন তারা গুহায় গুড়ি মেরে পড়ে থাকে বা ঘন ঝোপে অপেক্ষা করে বসে থাকে?
JOB 38:41 কে দাঁড়কাকের জন্য খাবার জোগায় যখন তার শাবকেরা ঈশ্বরের কাছে আর্তনাদ করে ও খাবারের অভাবে উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
JOB 39:1 “তুমি কি জানো পাহাড়ি ছাগলেরা কখন শাবকের জন্ম দেয়? তুমি কি দেখেছ হরিণী কখন তার হরিণশিশু প্রসব করে?
JOB 39:2 তুমি কি গুনে দেখেছ কয় মাস ধরে তারা গর্ভধারণ করে? তুমি কি তাদের প্রসবকাল জান?
JOB 39:3 তারা হেঁট হয় ও শাবকের জন্ম দেয়; তাদের প্রসববেদনার অবসান হয়।
JOB 39:4 তাদের শাবকেরা বেড়ে ওঠে ও ঊষর মরুভূমিতে বলবান হয়ে উঠতে থাকে; তারা সেখান থেকে চলে যায় ও আর ফিরে আসে না।
JOB 39:5 “বুনো গাধাকে কে স্বাধীন হয়ে যেতে দিয়েছে? কে তাদের দড়ি খুলে দিয়েছে?
JOB 39:6 পতিত জমিকে আমি তার ঘর বানিয়েছি, লবণাক্ত সমতল ভূমিকে তার আবাস করেছি।
JOB 39:7 সে নগরের গোলমাল দেখে উপহাস করে; সে চালকের শব্দ শোনে না।
JOB 39:8 সে পাহাড়-পর্বতকে চারণভূমি করে সেখানে চরে ও সবুজ ঘাসপাতা খুঁজে বেড়ায়।
JOB 39:9 “বুনো বলদ কি তোমার সেবা করতে রাজি হবে? সে কি রাতের বেলায় তোমার জাবপাত্রের পাশে থাকবে?
JOB 39:10 তুমি কি জিন পরিয়ে তাকে সীতায় আটকে রাখতে পারবে? সে কি তোমার পিছু পিছু উপত্যকায় চাষ করবে?
JOB 39:11 তুমি কি তার মহাশক্তির উপর নির্ভর করবে? তুমি কি তোমার কাজের ভার তার উপর চাপিয়ে দেবে?
JOB 39:12 তুমি কি তোমার শস্য টেনে আনার ও তা খামারে একত্রিত করার জন্য তার উপরে ভরসা রাখতে পারবে?
JOB 39:13 “উটপাখি আনন্দের সঙ্গে তার ডানা ঝাপটায়, যদিও সারসের ডানা ও পালকের সাথে সেগুলির তুলনা করা যায় না।
JOB 39:14 সে মাটিতে ডিম পাড়ে ও বালির তলায় সেগুলি গরম হতে দেয়।
JOB 39:15 তার মনে থাকে না যে পায়ের চাপে হয়তো সেগুলি ভেঙে যাবে, বা কোনো বুনো পশু সেগুলি পদদলিত করে ফেলবে।
JOB 39:16 সে তার শাবকদের সঙ্গে এমন রূঢ় ব্যবহার করে, যেন সেগুলি তার আপন নয়; তার পরিশ্রম ব্যর্থ হলেও তার কিছু যায় আসে না,
JOB 39:17 কারণ ঈশ্বর তাকে বিজ্ঞতা দ্বারা ভূষিত করেননি বা তাকে এক ফোঁটা সৎ জ্ঞানও দেননি।
JOB 39:18 তাও সে যখন দৌড়ানোর জন্য পাখা মেলে দেয়, তখন ঘোড়া ও সওয়ারকেও উপহাস করে।
JOB 39:19 “তুমি কি ঘোড়াকে বল দান করেছ বা তার ঘাড়ে সাবলীল কেশর বিছিয়েছ?
JOB 39:20 তুমি কি তাকে পঙ্গপালের মতো লাফানোর, সদর্প হ্রেষাধ্বনি সমেত আকর্ষণীয় সন্ত্রাস উৎপন্ন করার ক্ষমতা দিয়েছ?
JOB 39:21 সে হিংস্রভাবে মাটিতে ক্ষুর ঘষে, নিজের শক্তিতে আনন্দ প্রকাশ করে, ও সংঘর্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
JOB 39:22 সে ভয়কে উপহাস করে, কিছুতেই ভয় পায় না; সে তরোয়ালের সামনে থেকে পালিয়ে যায় না।
JOB 39:23 তূণীর তার বিরুদ্ধে ঝংকার তোলে, বর্শা ও বল্লমও ঝলসে ওঠে।
JOB 39:24 প্রমত্ত উত্তেজনায় সে মাটি খেয়ে ফেলে; যখন শিঙা বাজে তখন সে আর স্থির থাকতে পারে না।
JOB 39:25 শিঙার ঝঙ্কারে সে হ্রেষাধ্বনি করে, ‘আহা!’ সে দূর থেকে যুদ্ধের গন্ধ পায়, সেনাপতিদের ও যুদ্ধরবের হুঙ্কার শোনে।
JOB 39:26 “তোমার বিজ্ঞতা অনুসারেই কি বাজপাখি উড়ে যায় ও দক্ষিণ দিকে তার ডানা মেলে দেয়?
JOB 39:27 তোমার আদেশানুসারেই কি ঈগল পাখি উঁচুতে ওড়ে ও উঁচুতে বাসা বাঁধে?
JOB 39:28 সে খাড়া উঁচু পাহাড়ে বসবাস করে ও সেখানেই রাত কাটায়; পাথরে ভরা এবড়োখেবড়ো খাড়া এক পাহাড় তার সুরক্ষিত আশ্রয়।
JOB 39:29 সেখান থেকে সে খাবারের খোঁজ করে; তার চোখ বহুদূর থেকে তা খুঁজে নেয়।
JOB 39:30 তার শাবকেরা রক্ত পান করে তৃপ্ত হয়, ও যেখানে মৃতদেহ, সেও সেখানেই থাকে।”
JOB 40:1 সদাপ্রভু ইয়োবকে আরও বললেন:
JOB 40:2 “যে সর্বশক্তিমানের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করে সে কি তাঁকে সংশোধন করবে? যে ঈশ্বরকে অভিযুক্ত করেছে সেই তাঁকে জবাব দিক!”
JOB 40:3 পরে ইয়োব সদাপ্রভুকে উত্তর দিলেন:
JOB 40:4 “আমি অযোগ্য—আমি কীভাবে তোমাকে জবাব দেব? এই আমি আমার মুখে হাত দিলাম।
JOB 40:5 আমি একবার কথা বলেছি, কিন্তু আমার কাছে কোনও উত্তর নেই— দু-বার বলেছি, কিন্তু আমি আর কিছু বলব না।”
JOB 40:6 পরে ঝড়ের মধ্যে থেকে সদাপ্রভু ইয়োবের সঙ্গে কথা বললেন:
JOB 40:7 “পুরুষমানুষের মতো নিজেকে মজবুত করো; আমি তোমাকে প্রশ্ন করব, ও তুমি আমাকে উত্তর দেবে।
JOB 40:8 “তুমি কি আমার ন্যায়বিচার অগ্রাহ্য করবে? নিজেকে ধার্মিক প্রতিপন্ন করার জন্য কি তুমি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবে?
JOB 40:9 ঈশ্বরের মতো তোমারও কি হাত আছে, ও তাঁর মতো তুমিও কি বজ্রধ্বনি করতে পারো?
JOB 40:10 তবে নিজেকে প্রতাপ ও উজ্জ্বল দীপ্তি দিয়ে ঢেলে সাজাও, এবং সম্মান ও মর্যাদার পোশাক গায়ে দিয়ে নাও।
JOB 40:11 তোমার ক্রোধের উন্মত্ততা নিয়ন্ত্রণমুক্ত করো, যারা অহংকারী তাদের দিকে তাকাও ও তাদের নিচে টেনে নামাও,
JOB 40:12 যারা অহংকারী তাদের দিকে তাকাও ও তাদের নত করো, দুষ্টেরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই তাদের দমন করো।
JOB 40:13 তাদের সবাইকে একসাথে ধুলোয় পুঁতে ফেলো; কবরে তাদের মুখ আবৃত করো।
JOB 40:14 তখনই আমি তোমার কাছে স্বীকার করব যে তোমার নিজের ডান হাত তোমাকে উদ্ধার করতে পারবে।
JOB 40:15 “বহেমোতের দিকে তাকাও, তাকে আমি তোমার সাথেই তৈরি করেছি ও বলদের মতো সেও তৃণভোজী।
JOB 40:16 তার কোমরে কত শক্তি আছে, তার পেটের পেশিতে কত ক্ষমতা আছে!
JOB 40:17 তার লেজ দেবদারু গাছের মতো দোলে; তার ঊরুর পেশিতন্তু আঁটোসাঁটোভাবে সংলগ্ন।
JOB 40:18 তার অস্থি ব্রোঞ্জের নলের মতো, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ লোহার ছড়ের মতো।
JOB 40:19 ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের মধ্যে সেই প্রথম স্থান পেয়েছে, তবুও তার সৃষ্টিকর্তা তাঁর তরোয়াল নিয়ে তার কাছে যেতে পারেন।
JOB 40:20 পাহাড়গুলি তার কাছে তাদের উৎপন্ন দ্রব্য আনে, ও সব বুনো পশু তার কাছাকাছি খেলে বেড়ায়।
JOB 40:21 পদ্মবনের তলায় সে শুয়ে থাকে, জলাভূমির নলবনের মধ্যে সে লুকিয়ে থাকে।
JOB 40:22 পদ্মবন তার ছায়ায় তাকে আড়াল করে রাখে; জলস্রোতের ধারে থাকা ঝাউ গাছ তাকে ঘিরে রাখে।
JOB 40:23 ফুলেফেঁপে ওঠা নদী তাকে ভয় দেখাতে পারে না; জর্ডন নদীর ঢেউ তার মুখের উপর আছড়ে পড়লেও সে সুরক্ষিত থাকে।
JOB 40:24 কেউ কি চোখ দিয়ে তাকে ধরতে পারে, বা তাকে ফাঁদে ফেলে তার নাক ফুঁড়তে পারে?
JOB 41:1 “তুমি কি বড়শি দিয়ে লিবিয়াথনকে টেনে তুলতে পারো বা দড়ি দিয়ে তার জিভ বাঁধতে পারো?
JOB 41:2 তুমি তার নাকে কি দড়ি পরাতে পারো বা বড়শি দিয়ে তার চোয়াল বিঁধতে পারো?
JOB 41:3 সে কি তোমার কাছে অনবরত দয়া ভিক্ষা করবে? সে কি কোমল স্বরে তোমার সঙ্গে কথা বলবে?
JOB 41:4 জীবনভোর তোমার দাসত্ব করার জন্য সে কি তোমার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবে?
JOB 41:5 তুমি কি পাখির মতো তাকে পোষ মানাবে বা তোমার বাড়ির যুবতীদের জন্য তাকে শিকলে বেঁধে রাখবে?
JOB 41:6 ব্যবসায়ীরা কি তাকে নিয়ে ব্যবসা করবে? তারা কি সওদাগরদের মধ্যে তাকে ভাগ করে দেবে?
JOB 41:7 তুমি কি হারপুন দিয়ে তার চামড়া বা মাছ ধরার বর্শা দিয়ে তার মাথা বিঁধতে পারো?
JOB 41:8 তুমি যদি তার গায়ে হাত দাও, তবে সেই সংগ্রাম তোমার মনে থাকবে ও তুমি আর কখনও তা করবে না!
JOB 41:9 তাকে বশে আনার যে কোনো আশা মিথ্যা; তাকে দেখামাত্রই মানুষ কাহিল হয়ে যায়।
JOB 41:10 কেউ সাহস করে তাকে জাগাতে যায় না। তবে আমার সামনে কে দাঁড়াতে পারবে?
JOB 41:11 কে দাবি করে বলতে পারে যে আমাকেই দিতে হবে? আকাশের নিচে যা যা আছে, সবই তো আমার।
JOB 41:12 “লিবিয়াথনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিষয়ে, তার শক্তি ও তার শ্রীমণ্ডিত গঠনের বিষয়ে আমি কথা না বলে থাকতে পারব না।
JOB 41:13 কে তার বাইরের আচ্ছাদন খুলে নিতে পারে? কে তার বর্মের জোড়া আচ্ছাদন ভেদ করতে পারে?
JOB 41:14 কে তার সেই মুখের দরজা খোলার সাহস করতে পারে, যা ভয়ংকর দাঁতের সারি দিয়ে সাজানো?
JOB 41:15 তার পিঠে সারি সারি ঢাল আছে যা একসাথে আঁটোসাঁটোভাবে বাঁধা থাকে;
JOB 41:16 প্রত্যেকটি ঢাল পরবর্তীটির সাথে এমন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত যে মাঝখান দিয়ে একটুও বাতাস বইতে পারে না।
JOB 41:17 সেগুলি পরস্পরের সঙ্গে অটলভাবে জুড়ে আছে; সেগুলি একসাথে আটকে আছে ও সেগুলি আলাদা করা যায় না।
JOB 41:18 সে হ্রেষাধ্বনি করলে আলোর ঝলক বের হয়; তার চোখদুটি ভোরের আলোকরশ্মির মতো।
JOB 41:19 তার মুখ থেকে আগুনের শিখা প্রবাহিত হয়; সবেগে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিক্ষিপ্ত হয়।
JOB 41:20 তার নাক থেকে ধোঁয়া বের হয় যেভাবে ফুটন্ত পাত্র থেকে তা জ্বলন্ত নলখাগড়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
JOB 41:21 তার নিঃশ্বাসে কয়লা জ্বলে ওঠে, ও তার মুখ থেকে আগুনের শিখা উড়ে আসে।
JOB 41:22 তার ঘাড়ে শক্তির বাস; আতঙ্ক তার সামনে সামনে যায়।
JOB 41:23 তার শরীরের ভাঁজ আঁটোসাঁটোভাবে যুক্ত; সেগুলি মজবুত ও অনড়।
JOB 41:24 তার বুক পাষাণ-পাথরের মতো কঠিন, জাঁতার নিচের পাটের মতো নিরেট।
JOB 41:25 যখন সে জেগে ওঠে, তখন শক্তিমানেরাও ভয় পায়; তারা আতঙ্কিত হয়ে তার সামনে থেকে পশ্চাদপসরণ করে।
JOB 41:26 তার দিকে এগিয়ে আসা তরোয়াল কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, বর্শা বা বাণ বা বল্লমও করতে পারে না।
JOB 41:27 সে লোহাকে খড়ের মতো ও ব্রোঞ্জকে পচা কাঠের মতো মনে করে।
JOB 41:28 তির ছুঁড়ে তাকে তাড়ানো যায় না; গুল্‌তির নুড়ি-পাথর তার কাছে তুষের সমান।
JOB 41:29 গদা তার কাছে নিছক এক টুকরো খড়মাত্র; বর্শার ঝন্‌ঝনানিকে সে উপহাস করে।
JOB 41:30 তার বগলগুলি খাঁজকাটা খাপরাবিশেষ, শস্য ঝাড়ার হাতুড়ির মতো সে কাদায় লম্বা সারি টেনে দেয়।
JOB 41:31 অগাধ জলকে সে ফুটন্ত কড়ায় রাখা জলের মতো মন্থন করে ও এক পাত্রে রাখা মলমের মতো করে সমুদ্রকে নাড়ায়।
JOB 41:32 সে তার পিছনে এক ঝকঝকে ছাপ ছেড়ে যায়; যে কেউ দেখে ভাববে যে অগাধ সমুদ্রের বুঝি পাকা চুল আছে।
JOB 41:33 পৃথিবীর কোনো কিছুই তার সমতুল্য নয়— সে এক নির্ভীক প্রাণী।
JOB 41:34 সব উদ্ধত প্রাণীকে সে অবজ্ঞার চোখে দেখে; সব অহংকারী প্রাণীর উপরে সে রাজত্ব করে।”
JOB 42:1 পরে ইয়োব সদাপ্রভুকে উত্তর দিলেন:
JOB 42:2 “আমি জানি যে তুমি সবকিছু করতে পার; তোমার কোনও অভিষ্ট খর্ব করা যায় না।
JOB 42:3 তুমি জিজ্ঞাসা করলে, ‘এ কে যে জ্ঞান ছাড়াই আমার পরিকল্পনাগুলি ম্লান করে দিচ্ছে?’ নিশ্চয় আমি যা বুঝিনি, আমার জানার পক্ষে যা খুবই অদ্ভুত, তাই বলেছি।
JOB 42:4 “তুমি বললে, ‘এখন শোনো, আমি কথা বলব; আমি তোমাকে প্রশ্ন করব, ও তুমি আমাকে উত্তর দেবে।’
JOB 42:5 তোমার কথা আমি কানে শুনেছিলাম কিন্তু এখন আমি স্বচক্ষে তোমাকে দেখলাম।
JOB 42:6 তাই নিজেকে আমি ঘৃণা করছি এবং ধুলোয় ও ছাইভস্মে বসে অনুতাপ করছি।”
JOB 42:7 ইয়োবকে এসব কথা বলার পর, সদাপ্রভু তৈমনীয় ইলীফসকে বললেন, “তোমার উপরে এবং তোমার দুই বন্ধুর উপরে আমি ক্রুদ্ধ হয়েছি, কারণ আমার দাস ইয়োবের মতো তোমরা আমার সম্পর্কে সত্যিকথা বলোনি।
JOB 42:8 অতএব এখন তোমরা সাতটি বলদ ও সাতটি মেষ নিয়ে আমার দাস ইয়োবের কাছে যাও এবং নিজেদের জন্য হোমবলি উৎসর্গ করো। আমার দাস ইয়োব তোমাদের জন্য প্রার্থনা করবে, ও আমি তার প্রার্থনা স্বীকার করব এবং তোমাদের মূর্খতা অনুসারে তোমাদের প্রতি আচরণ করব না। আমার দাস ইয়োবের মতো তোমরা আমার সম্পর্কে সত্যিকথা বলোনি।”
JOB 42:9 তাই তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল্‌দদ এবং নামাথীয় সোফর তাই করলেন, যা সদাপ্রভু তাদের করার আদেশ দিয়েছিলেন; এবং সদাপ্রভু ইয়োবের প্রার্থনা স্বীকার করলেন।
JOB 42:10 ইয়োব তাঁর বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করার পর, সদাপ্রভু তাঁর অবস্থা ফিরিয়ে দিলেন এবং আগে তাঁর যে পরিমাণ ধনসম্পত্তি ছিল, তাঁকে তার দ্বিগুণ সম্পত্তি দিলেন।
JOB 42:11 ইয়োবের সব ভাইবোন এবং পূর্বপরিচিত সবাই তাঁর বাড়িতে এসে তাঁর সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করলেন। সদাপ্রভু তাঁর জীবনে যেসব দুঃখদুর্দশা এনেছিলেন সেগুলির বিষয়ে তারা তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন ও সহানুভূতি জানালেন, এবং তারা প্রত্যেকে তাঁকে একটি করে রুপোর টুকরো ও সোনার আংটি দিলেন।
JOB 42:12 সদাপ্রভু ইয়োবের জীবনের প্রথম অবস্থার চেয়ে শেষ অবস্থাকে আরও বেশি আশীর্বাদযুক্ত করলেন। ইয়োব 14,000 মেষ, 6,000 উট, 1,000 জোড়া বলদ এবং 1,000 গাধির মালিক হলেন।
JOB 42:13 তার আরও সাত ছেলে ও তিন মেয়ে জন্মাল।
JOB 42:14 তিনি তার প্রথম মেয়ের নাম দিলেন যিমীমা, দ্বিতীয়জনের নাম দিলেন কৎসীয়া এবং তৃতীয় জনের নাম দিলেন কেরণহপ্পূক।
JOB 42:15 সারা দেশে কোথাও ইয়োবের মেয়েদের মতো সুন্দরী মেয়ে খুঁজে পাওয়া যেত না, এবং তাদের বাবা তাদের দাদাদের সঙ্গে তাদেরও উত্তরাধিকার দিলেন।
JOB 42:16 এরপর, ইয়োব আরও 140 বছর বেঁচেছিলেন; চার পুরুষ পর্যন্ত তিনি তাঁর সন্তানদের ও তাদের সন্তানদেরও দেখলেন।
JOB 42:17 এইভাবে ইয়োব বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ূ মানুষরূপে মারা গেলেন।
PSA 1:1 ধন্য সেই ব্যক্তি যে দুষ্টদের মন্ত্রণায় চলে না পাপীদের পথে দাঁড়ায় না, নিন্দুকদের আসরে বসে না,
PSA 1:2 কিন্তু সদাপ্রভুর বিধানে আমোদ করে, তাঁর বিধান দিনরাত ধ্যান করে।
PSA 1:3 সেই ব্যক্তি জলস্রোতের তীরে লাগানো গাছের মতো, যা যথাসময়ে ফল দেয়, এবং যার পাতা শুকিয়ে যায় না, সে যা কিছু করে তাতে উন্নতি লাভ করে।
PSA 1:4 কিন্তু দুষ্টরা সেরকম নয়! তারা তুষের মতো যা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়।
PSA 1:5 তাই বিচারদিনে দুষ্টরা দাঁড়াতে পারবে না, পাপীরাও ধার্মিকদের সমাবেশে স্থান পাবে না।
PSA 1:6 সদাপ্রভু ধার্মিকদের পথে দৃষ্টি রাখেন, কিন্তু দুষ্টদের সকল পথ ধ্বংসের দিকে যায়।
PSA 2:1 কেন জাতিরা চক্রান্ত করে আর লোকেরা কেন বৃথাই সংকল্প করে?
PSA 2:2 পৃথিবীর রাজারা উদিত হয় এবং শাসকেরা সংঘবদ্ধ হয় সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ও তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে, এই বলে,
PSA 2:3 “এসো আমরা তাদের শিকল ভেঙে ফেলি ও তাদের হাতকড়া ফেলে দিই।”
PSA 2:4 যিনি স্বর্গের সিংহাসনে উপবিষ্ট তিনি হাসেন; প্রভু তাদের প্রতি বিদ্রুপ করেন।
PSA 2:5 রাগে তিনি তাদের তিরস্কার করেন ও তাঁর ক্রোধে তিনি তাদের আতঙ্কিত করেন।
PSA 2:6 কারণ প্রভু ঘোষণা করেন, “আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে আমি আমার রাজাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।”
PSA 2:7 আমি সদাপ্রভুর আদেশ ঘোষণা করব: তিনি আমায় বললেন, “তুমি আমার পুত্র; আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি।
PSA 2:8 আমাকে জিজ্ঞাসা করো, আর আমি জাতিদের তোমার অধিকার করব, পৃথিবীর শেষ প্রান্ত তোমার অধীনস্থ হবে।
PSA 2:9 তুমি তাদের লোহার দণ্ড দিয়ে চূর্ণ করবে; মাটির পাত্রের মতো তুমি তাদের ভেঙে টুকরো করবে।”
PSA 2:10 অতএব, হে রাজারা, তোমরা বিচক্ষণ হও; হে পৃথিবীর শাসকবর্গ, সাবধান হও।
PSA 2:11 সম্ভ্রমে সদাপ্রভুর আরাধনা করো আর কম্পিত হৃদয়ে তাঁর শাসন উদ্‌যাপন করো।
PSA 2:12 তাঁর পুত্রকে চুম্বন করো, নতুবা তিনি ক্রুদ্ধ হবেন এবং তোমার পথ তোমাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, কারণ তাঁর ক্রোধ মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারে। ধন্য তারা, যারা তাঁর শরণাপন্ন।
PSA 3:1 দাউদের গীত। যখন তিনি তাঁর ছেলে অবশালোমের হাত থেকে পালিয়েছিলেন। হে সদাপ্রভু, আমার শত্রু কতজন! কতজন আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে!
PSA 3:2 অনেকে আমার সম্বন্ধে বলছে, “ঈশ্বর তাকে উদ্ধার করবেন না।”
PSA 3:3 কিন্তু, হে সদাপ্রভু, তুমি আমার চারপাশের ঢাল, আমার গৌরব, তিনি আমার মাথা উঁচু করেন।
PSA 3:4 আমি স্বরবে সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করি, আর তিনি তাঁর পবিত্র পর্বত থেকে আমাকে উত্তর দেন।
PSA 3:5 আমি শুয়ে থাকি এবং ঘুমিয়ে পড়ি; আমি আবার জেগে উঠি, কারণ সদাপ্রভু আমায় ধারণ করেন।
PSA 3:6 যে শত সহস্র লোক আমাকে চতুর্দিকে ঘিরে রেখেছে আমি তাদের ভয় করব না।
PSA 3:7 হে সদাপ্রভু, জেগে ওঠো! আমার ঈশ্বর, আমাকে উদ্ধার করো! আমার সব শত্রুর মুখে আঘাত করো; দুষ্টদের দাঁত ভেঙে দাও।
PSA 3:8 সদাপ্রভুর কাছ থেকে পরিত্রাণ আসে। তোমার আশীর্বাদ তোমার লোকেদের উপর বর্তাক।
PSA 4:1 দাউদের গীত। প্রধান পরিচালকের জন্য। তারের যন্ত্র। হে আমার ধার্মিক ঈশ্বর, আমি ডাকলে আমাকে উত্তর দিয়ো। সংকটে আমায় অব্যাহতি দিয়ো; আমার প্রতি দয়া করো ও আমার প্রার্থনা শোনো।
PSA 4:2 হে মানুষেরা, কত কাল আমার সম্মান অপমানে পরিণত করবে? আর কত কাল তোমরা অলীকতা ভালোবাসবে ও ভুয়ো দেবতার সন্ধান করবে
PSA 4:3 জানো যে সদাপ্রভু তাঁর বিশ্বস্ত ভক্তদের নিজের জন্য পৃথক করে রেখেছেন; আমি ডাকলেই সদাপ্রভু আমার কথা শোনেন।
PSA 4:4 কম্পিত হও কিন্তু পাপ কোরো না; যখন নিজের বিছানায় শুয়ে থাকো, নিজের হৃদয় অনুসন্ধান করো ও নীরব থাকো।
PSA 4:5 ধার্মিকতার বলি উৎসর্গ করো এবং সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করো।
PSA 4:6 সদাপ্রভু, অনেকে প্রশ্ন করছে, “কে আমাদের উন্নতি ঘটাবে?” তোমার মুখের জ্যোতি আমাদের উপর উজ্জ্বল হোক।
PSA 4:7 তাদের ফসল ও নতুন দ্রাক্ষারসের প্রাচুর্য থেকেও তুমি আমার হৃদয় আনন্দে পূর্ণ করেছ।
PSA 4:8 শান্তিতে আমি শুয়ে থাকব ও ঘুমাব, কারণ একমাত্র তুমিই, হে সদাপ্রভু, আমায় নিরাপদে বসবাস করতে দিয়েছ।
PSA 5:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। বাঁশি সহযোগে দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমার কথা শোনো, আমার বিলাপে কর্ণপাত করো।
PSA 5:2 আমার সাহায্যের আর্তনাদ শোনো, হে আমার রাজা আমার ঈশ্বর, তোমার কাছেই আমি প্রার্থনা করি।
PSA 5:3 সকালে, হে সদাপ্রভু, তুমি আমার কণ্ঠস্বর শোনো; সকালে আমার প্রার্থনা আমি তোমার সামনে রাখি এবং আগ্রহভরে অপেক্ষা করি।
PSA 5:4 কারণ তুমি এমন ঈশ্বর নও যিনি দুষ্টতায় সন্তুষ্ট হন; কারণ তুমি দুষ্টদের পাপ সহ্য করতে পারো না।
PSA 5:5 দাম্ভিকেরা তোমার সামনে দাঁড়াতে পারে না। যারা অধর্ম করে তাদের তুমি ঘৃণা করো;
PSA 5:6 মিথ্যাবাদীদের তুমি ধ্বংস করো। যারা রক্তপিপাসু ও ছলনাকারী তুমি, হে সদাপ্রভু, তাদের ঘৃণা করো।
PSA 5:7 কিন্তু আমি, তোমার মহান প্রেমের গুণে, তোমার ভবনে প্রবেশ করতে পারি; তোমার পবিত্র মন্দিরের সামনে শ্রদ্ধায় আমি নত হই।
PSA 5:8 হে সদাপ্রভু, তোমার ধার্মিকতায় আমাকে চালনা করো, নতুবা আমার শত্রুগণ আমার উপরে জয়লাভ করবে। তোমার পথ আমার সামনে সরল করো যেন অনুসরণ করতে পারি।
PSA 5:9 তাদের মুখের কোনও কথাই বিশ্বাসযোগ্য নয়; হিংসায় ওদের অন্তর পূর্ণ। তাদের কণ্ঠ অনাবৃত সমাধির মতো, তারা জিভ দিয়ে মিথ্যা কথা বলে।
PSA 5:10 হে ঈশ্বর, তুমি ওদের অপরাধী ঘোষণা করো! ওদের চক্রান্ত ওদের পতন ডেকে আনুক। ওদের পাপের জন্য ওদের বিতাড়িত করো, কারণ ওরা তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
PSA 5:11 কিন্তু যারা তোমাতে আশ্রয় নেয় তারা আনন্দ করুক; তারা চিরকাল আনন্দগান করুক। তোমার সুরক্ষা তাদের উপর বিছিয়ে দাও, যেন যারা তোমার নাম ভালোবাসে, তারা তোমাতে উল্লাস করে।
PSA 5:12 নিশ্চয়, হে সদাপ্রভু, তুমি ধার্মিকদের আশীর্বাদ করো; সুরক্ষা ঢালের মতো তোমার অনুগ্রহ দিয়ে তাদের ঘিরে রাখো।
PSA 6:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। আট-তারের যন্ত্র সহযোগে। শমীনীৎ অনুসারে। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, রাগে আমায় তিরস্কার কোরো না তোমার ক্রোধে আমায় শাসন কোরো না।
PSA 6:2 আমার প্রতি দয়া করো, হে সদাপ্রভু, কারণ আমি দুর্বল; আমায় সুস্থ করো, হে সদাপ্রভু, কারণ আমার হাড়গোড় ব্যথায় পূর্ণ।
PSA 6:3 আমার প্রাণ গভীর বেদনায় পূর্ণ, কত কাল, হে সদাপ্রভু, আর কত কাল?
PSA 6:4 হে সদাপ্রভু, আমার দিকে দেখো, ও আমায় রক্ষা করো; তোমার অবিচল প্রেমের গুণে আমায় রক্ষা করো।
PSA 6:5 মৃতদের মধ্যে কেউ তোমাকে স্মরণ করে না। পাতাল থেকে কে তোমার প্রশংসা করে?
PSA 6:6 আমি আর্তনাদ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সারারাত ধরে কেঁদে আমি বিছানা ভিজিয়েছি এবং চোখের জলে আমার খাট ভিজিয়েছি।
PSA 6:7 গভীর দুঃখে আমার দৃষ্টি দুর্বল হয়; আমার সব শত্রুদের নির্যাতনে চোখ জীর্ণ হয়।
PSA 6:8 তোমরা সবাই যারা অধর্ম করো, আমার কাছ থেকে দূর হও, কারণ সদাপ্রভু আমার কান্না শুনেছেন।
PSA 6:9 সদাপ্রভু আমার বিনতি শুনেছেন; সদাপ্রভু আমার প্রার্থনা গ্রহণ করেন।
PSA 6:10 আমার সব শত্রু লজ্জিত ও বিহ্বল হবে; তারা পিছু ফিরবে এবং হঠাৎ লজ্জিত হবে।
PSA 7:1 দাউদের শিগায়োন, যা তিনি বিন্যামীন বংশধর কূশের সম্বন্ধে সদাপ্রভুর প্রতি রচনা করেছিলেন। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি তোমাতে শরণ নিই; যারা আমার পিছু নেয় তাদের হাত থেকে আমায় রক্ষা করো ও উদ্ধার করো,
PSA 7:2 নতুবা তারা সিংহের মতো আমাকে ছিঁড়ে ফেলবে আর খণ্ডবিখণ্ড করবে এবং আমাকে উদ্ধার করার মতো কেউ থাকবে না।
PSA 7:3 হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, যদি আমি অন্যায় কাজ করেছি ও আমার হাতে অপরাধ আছে,
PSA 7:4 যদি আমি বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি যদি অকারণে আমার শত্রুকে লুট করেছি;
PSA 7:5 তবে আমার শত্রু আমাকে তাড়া করে বন্দি করুক; আমার প্রাণ মাটিতে পদদলিত করুক এবং আমার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিক।
PSA 7:6 হে সদাপ্রভু, তুমি ক্রোধে জেগে ওঠো; আমার শত্রুদের কোপের বিরুদ্ধে জেগে ওঠো। হে ঈশ্বর, তুমি জাগো, তোমার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।
PSA 7:7 তোমার চারপাশে জাতিরা সমবেত হোক, ঊর্ধ্বলোক থেকে তুমি তাদের শাসন করো।
PSA 7:8 সদাপ্রভু সব মানুষের বিচার করুক। আমার ধার্মিকতা অনুযায়ী, হে সদাপ্রভু, আমার সততার বলে, হে পরাৎপর, আমাকে নির্দোষ মান্য করো।
PSA 7:9 দুষ্টদের অত্যাচার তুমি বন্ধ করো এবং ধার্মিকদের সুরক্ষিত করো তুমি, হে ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বর, সকলের হৃদয় ও মন অনুসন্ধান করো।
PSA 7:10 পরাৎপর ঈশ্বর আমার ঢাল, যিনি ন্যায়পরায়ণদের রক্ষা করেন।
PSA 7:11 ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ বিচারক, এমন ঈশ্বর যিনি প্রতিনিয়ত তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করেন।
PSA 7:12 যদি সে ক্ষান্ত না হয়, তিনি তাঁর তরোয়ালে ধার দেবেন; ধনুক প্রস্তুত করবেন ও তির লাগাবেন।
PSA 7:13 তিনি তাঁর ভয়ংকর অস্ত্র প্রস্তুত করেছেন; তিনি তাঁর জ্বলন্ত তির প্রস্তুত করেন।
PSA 7:14 যে ব্যক্তি গর্ভে অধর্ম ধারণ করে সে বিনাশের পরিকল্পনায় পূর্ণগর্ভ হয় ও মিথ্যার জন্ম দেয়।
PSA 7:15 যে অন্যদের ফাঁদে ফেলার জন্য গর্ত করে, সে নিজের তৈরি গর্তেই পতিত হয়।
PSA 7:16 তারা যে সমস্যা সৃষ্টি করে তা তাদের উপর ফিরে আসে; তাদের অত্যাচার তাদের মাথার উপরেই ফিরে আসে।
PSA 7:17 আমি সদাপ্রভুকে তাঁর ধার্মিকতার জন্য ধন্যবাদ দেব; আমি সদাপ্রভু পরাৎপরের নামের স্তুতিগান করব।
PSA 8:1 সংগীত পরিচালকের উদ্দেশ্যে। স্বর, গিত্তীৎ। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমার প্রভু, সমস্ত পৃথিবীতে তোমার নাম মহিমান্বিত! তুমি আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে তোমার মহিমা স্থাপন করেছ!
PSA 8:2 তোমার শত্রু ও বিপক্ষদের স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে, তুমি ছেলেমেয়েদের ও শিশুদের মাধ্যমে, তোমার শত্রুদের বিরুদ্ধে দুর্গ স্থাপন করেছ।
PSA 8:3 যখন আমি তোমার আকাশমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করি, তোমার হাতের কাজ, চাঁদ ও তারার দিকে দেখি যা তুমি নিজস্ব স্থানে রেখেছ,
PSA 8:4 মানবজাতি কি যে, তাদের কথা তুমি চিন্তা করো? মানুষ কি যে, তার তুমি যত্ন করো?
PSA 8:5 তুমি তাদের স্বর্গদূতদের চেয়ে সামান্য ছোটো করেছ এবং তাদের গৌরব ও সম্মানের মুকুটে ভূষিত করেছ।
PSA 8:6 তোমার হাতের সকল সৃষ্টির উপর তাদের কর্তৃত্ব দিয়েছ; এসব কিছু তাদের পায়ের নিচে রেখেছ:
PSA 8:7 সব মেষপাল ও গোপাল, ও যত বন্যপশু;
PSA 8:8 আকাশের যত পাখি, সমুদ্রের যত মাছ, যা সমুদ্র প্রবাহে সাঁতার কাটে।
PSA 8:9 হে সদাপ্রভু, আমাদের প্রভু, সমস্ত পৃথিবীতে তোমার নাম মহিমান্বিত!
PSA 9:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। সুর: “পুত্রের মৃত্যু” দাউদের গীত। আমার সমস্ত অন্তর দিয়ে, হে সদাপ্রভু, আমি তোমার স্তব করব; আমি তোমার আশ্চর্য কাজসকল ঘোষণা করব।
PSA 9:2 আমি আনন্দ করব ও তোমাতে উল্লাস করব; হে পরাৎপর, আমি তোমার নামের প্রশংসাগান করব।
PSA 9:3 আমার শত্রুরা পরাজয়ে ফিরে যায়; তোমার সামনে তারা হোঁচট খায় ও বিনষ্ট হয়।
PSA 9:4 কারণ তুমি আমার অধিকার ও বিচার নিষ্পন্ন করেছ, সিংহাসনে বসে তুমি ন্যায়বিচার করেছ।
PSA 9:5 জাতিদের তুমি তিরস্কার করেছ ও দুষ্টদের বিনষ্ট করেছ; তুমি তাদের নাম চিরতরে নিশ্চিহ্ন করেছ।
PSA 9:6 অন্তহীন ধ্বংস আমার শত্রুদের উপরে এসেছে, তুমি তাদের নগর ধূলিসাৎ করেছ; এমনকি তাদের সমস্ত স্মৃতিও মুছে ফেলেছ।
PSA 9:7 সদাপ্রভু যুগে যুগে শাসন করেন; তিনি বিচার করার জন্য তাঁর সিংহাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
PSA 9:8 ধার্মিকতায় তিনি জগৎ শাসন করেন এবং মানুষের ন্যায়বিচার করেন।
PSA 9:9 সদাপ্রভু পীড়িতদের আশ্রয়, সংকটকালে তিনি নিরাপদ আশ্রয় দুর্গ।
PSA 9:10 যারা তোমার নাম জানে তারা তোমাতেই আস্থা রাখে, কারণ, হে সদাপ্রভু, যারা তোমার অন্বেষণ করে, তাদের তুমি কখনও পরিত্যাগ করোনি।
PSA 9:11 সিয়োন পর্বতে অধিষ্ঠিত সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, সকল জাতির মাঝে তাঁর কাজসকল ঘোষণা করো।
PSA 9:12 কারণ যিনি হত্যার প্রতিশোধ নেন, তিনি মনে রাখেন, তিনি পীড়িতদের আর্তনাদ অবহেলা করেন না।
PSA 9:13 দেখো, হে সদাপ্রভু, আমার শত্রুরা কেমন আমাকে অত্যাচার করে! আমাকে দয়া করো ও মৃত্যুর দ্বার থেকে আমাকে উত্তোলন করো,
PSA 9:14 যেন সিয়োন-কন্যার দুয়ারে আমি তোমার প্রশংসা ঘোষণা করতে পারি, এবং সেখানে তোমার পরিত্রাণে উল্লাস করতে পারি।
PSA 9:15 জাতিরা নিজেদের তৈরি গর্তে নিজেরাই পড়েছে; নিজেদের ছড়ানো গোপন জালে তাদের পা আটকে গেছে।
PSA 9:16 সদাপ্রভু ন্যায়বিচার স্থাপন করতে খ্যাত; দুষ্টরা নিজেদের কাজের ফাঁদে ধরা পড়েছে।
PSA 9:17 দুষ্টরা পাতালের গর্ভে যায়, যেসব জাতি ঈশ্বরকে ভুলেছে তারাও যায়।
PSA 9:18 কিন্তু, ঈশ্বর দরিদ্রদের কখনও ভুলবেন না; পীড়িতদের আশা কখনও বিফল হবে না।
PSA 9:19 জাগ্রত হও, হে সদাপ্রভু, মর্ত্য যেন বিজয়ী না হয়; তোমার সামনে সমস্ত জাতিদের বিচার হোক।
PSA 9:20 হে সদাপ্রভু, ভয়ে তাদের কম্পিত করো; সমস্ত লোক জানুক যে তারা কেবল মরণশীল।
PSA 10:1 হে সদাপ্রভু, কেন তুমি দূরে আছ? সংকটকালে কেন তুমি নিজেকে লুকিয়ে রাখো?
PSA 10:2 অহংকারে দুষ্ট ব্যক্তি দুর্বলকে শিকার করে, নিজের ছলনার জালে সে নিজেই ধরা পরে।
PSA 10:3 সে নিজের অন্যায় মনোবাসনার গর্ব করে; লোভীকে প্রশংসা করে, কিন্তু সদাপ্রভুকে অপমান করে।
PSA 10:4 অহংকারে দুষ্ট ব্যক্তি ঈশ্বরের অনুসন্ধান করে না; তার সব চিন্তায় ঈশ্বরের কোনও স্থান নেই।
PSA 10:5 তার পথ সর্বদা সফল হয়; সে তোমার বিধান অবজ্ঞা করে; সে তার সব শত্রুকে ব্যঙ্গ করে।
PSA 10:6 সে মনে মনে বলে, “আমাকে কোনও কিছুই বিচলিত করবে না।” সে শপথ করে, “কখনও কেউ আমার ক্ষতি করবে না।”
PSA 10:7 তার মুখ মিথ্যা ও হুমকিতে পূর্ণ; উপদ্রব ও অন্যায় তার জিভে লেগে রয়েছে।
PSA 10:8 সে গ্রামের অদূরে লুকিয়ে অপেক্ষা করে; আড়াল থেকে নির্দোষকে হত্যা করে। গোপনে তার চোখ অসহায়দের অনুসন্ধান করে;
PSA 10:9 সিংহ যেমন গুহায়, সে তেমন গোপনে ওৎ পেতে থাকে, অসহায়কে ধরবে বলে ওৎ পেতে থাকে; সে অসহায়কে ধরে তাকে টেনে নিজের জালে নিয়ে যায়।
PSA 10:10 সে নির্দোষদের চূর্ণ করে, আর তারা পতিত হয়; সেই ব্যক্তির শক্তিতে তারা ধরাশায়ী হয়।
PSA 10:11 সে মনে মনে বলে, “ঈশ্বর কখনও লক্ষ্য করবেন না; তিনি মুখ ঢেকে থাকেন ও কখনও দেখেন না।”
PSA 10:12 হে সদাপ্রভু, জাগ্রত হও, হে ঈশ্বর, তোমার হাত তোলো। অসহায়কে ভুলে যেয়ো না।
PSA 10:13 দুষ্ট ব্যক্তি কেন ঈশ্বরের অপমান করে? কেন সে মনে মনে বলে, “তিনি আমার হিসেব চাইবেন না?”
PSA 10:14 কিন্তু তুমি, হে ঈশ্বর, পীড়িতদের কষ্ট সবই দেখো; তুমি তাদের দুর্দশা দেখো ও নিজের হাতে তার প্রতিকার করো। অসহায় মানুষ তোমারই শরণ নেয়; তুমিই অনাথের আশ্রয়।
PSA 10:15 দুষ্টলোকের হাত ভেঙে দাও; অনিষ্টকারীদের কাছে তাদের কাজের হিসেব চাও যতক্ষণ তার লেশমাত্র অবশিষ্ট না থাকে।
PSA 10:16 সদাপ্রভু নিত্যকালের রাজা; অধার্মিক জাতিরা তাঁর দেশ থেকে বিনষ্ট হবে।
PSA 10:17 হে সদাপ্রভু, তুমি পীড়িতদের মনোবাসনার কথা শোনো; তুমি তাদের উৎসাহিত করো এবং তাদের কাতর প্রার্থনা শোনো।
PSA 10:18 তুমি অনাথ ও পীড়িতদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে, যেন সামান্য মানুষ আর কোনোদিন আঘাত না করতে পারে।
PSA 11:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমি সদাপ্রভুতে শরণ নিয়েছি। তুমি কেমন করে আমায় বলো: “পাখির মতো তোমার পাহাড়ের দিকে উড়ে যাও।
PSA 11:2 কারণ দেখো, ন্যায়পরায়ণদের হৃদয় বিদ্ধ করার জন্য ছায়া থেকে তির নিক্ষেপ করতে তারা ধনুকের দড়িতে তির লাগিয়েছে দুষ্টরা তাদের ধনুকে গুণ পরিয়েছে।
PSA 11:3 যখন ভিত্তিপ্রস্তর ধ্বংস হচ্ছে, তখন ধার্মিকেরা কী করতে পারে?”
PSA 11:4 সদাপ্রভু তাঁর পবিত্র মন্দিরে আছেন; সদাপ্রভু স্বর্গের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত। তিনি পৃথিবীর সকলকে নিরীক্ষণ করেন; তাঁর দৃষ্টি তাদের পরীক্ষা করে।
PSA 11:5 সদাপ্রভু ধার্মিকদের পরীক্ষা করেন, কিন্তু যারা দুষ্ট, যারা হিংসা ভালোবাসে, তাদের তিনি হৃদয় দিয়ে ঘৃণা করেন।
PSA 11:6 দুষ্টদের উপর তিনি জ্বলন্ত কয়লা আর গন্ধক বর্ষণ করবেন; উত্তপ্ত বায়ু দিয়ে তাদের শাস্তি দেবেন।
PSA 11:7 কারণ সদাপ্রভু ধার্মিক, তিনি ন্যায় ভালোবাসেন; ন্যায়পরায়ণ লোক তাঁর মুখদর্শন করবে।
PSA 12:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। শমীনীৎ অনুসারে। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, সাহায্য করো, কারণ কেউ আর বিশ্বস্ত নয়; যারা অনুগত তারা মানুষের মধ্য থেকে হারিয়ে গেছে।
PSA 12:2 সবাই প্রতিবেশীদের কাছে মিথ্যা কথা বলে; তাদের মুখ দিয়ে তারা তোষামোদ করে কিন্তু হৃদয়ে প্রতারণা ধারণ করে।
PSA 12:3 সদাপ্রভু সব তোষামোদকারীর মুখ নীরব করেন এবং সব অহংকারী জিভ—
PSA 12:4 যারা বলে, “আমাদের জিভ দিয়েই আমাদের জয় হবে; আমাদের মুখ আমাদের রক্ষা করবে—কে আমাদের উপর প্রভু হবে?”
PSA 12:5 “দীনহীনদের লুটপাট করা হচ্ছে ও দরিদ্ররা আর্তনাদ করছে, সেই কারণে আমি এবার জাগ্রত হব,” সদাপ্রভু বলেন। “অনিষ্টকারীদের হাত থেকে আমি তাদের রক্ষা করব।”
PSA 12:6 ধাতু গলাবার পাত্রে পরিষ্কৃত রুপোর মতো, সাতবার শোধিত সোনার মতো, সদাপ্রভুর বাক্যসকল নিখুঁত।
PSA 12:7 হে সদাপ্রভু, তুমি দরিদ্রদের নিরাপদে রাখবে এবং দুষ্টদের হাত থেকে চিরকাল আমাদের রক্ষা করবে,
PSA 12:8 যদিও দুষ্টরা অবাধে ঘুরে বেড়ায় এবং মানবজাতির মধ্যে অধর্মের প্রশংসা করা হয়।
PSA 13:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আর কত কাল, হে সদাপ্রভু? তুমি কি চিরকাল আমাকে ভুলে থাকবে? আর কত কাল তুমি তোমার মুখ আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখবে?
PSA 13:2 আর কত কাল আমি আমার ভাবনার সঙ্গে যুদ্ধ করব এবং দিনের পর দিন আমার হৃদয়ে দুঃখ রইবে? আর কত দিন আমার শত্রু আমার উপর বিজয়ী হবে?
PSA 13:3 আমার দিকে চেয়ে দেখো ও উত্তর দাও, হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর। আমার চোখে আলো দাও, নয়তো আমি মৃত্যুতে ঘুমিয়ে পড়ব,
PSA 13:4 এবং আমার শত্রু বলবে, “আমি ওকে পরাজিত করেছি,” এবং আমার বিপক্ষরা আমার পতনে উল্লাস করবে।
PSA 13:5 কিন্তু আমি তোমার অবিচল প্রেমে বিশ্বাস করি, আমার প্রাণ তোমার পরিত্রাণে উল্লাস করে।
PSA 13:6 আমি সদাপ্রভুর প্রশংসা করব, কারণ তিনি আমার মঙ্গল করেছেন।
PSA 14:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। মূর্খ নিজের হৃদয়ে বলে, “ঈশ্বর নেই।” তারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের কাজ ভ্রষ্ট; সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই।
PSA 14:2 সদাপ্রভু স্বর্গ থেকে মানবজাতির দিকে চেয়ে দেখেন, তিনি দেখেন সুবিবেচক কেউ আছে কি না, ঈশ্বরের অন্বেষণ করে এমন কেউ আছে কি না!
PSA 14:3 সকলেই বিপথগামী হয়েছে, সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে; সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই, একজনও নেই।
PSA 14:4 এসব অনিষ্টকারীর কি কিছুই জ্ঞান নেই? তারা আমার ভক্তদের রুটি খাওয়ার মতো গ্রাস করে; সদাপ্রভুর কাছে তারা কখনও সাহায্য প্রার্থনা করে না।
PSA 14:5 নিদারুণ আতঙ্কে তারা বিহ্বল হয়েছে, কারণ ঈশ্বর ধার্মিকদের সভায় উপস্থিত থাকেন।
PSA 14:6 তোমরা অনিষ্টকারীরা অসহায়দের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করো, কিন্তু সদাপ্রভু তাদের আশ্রয়।
PSA 14:7 আহা, ইস্রায়েলের পরিত্রাণ আসবে সিয়োন থেকে! যখন সদাপ্রভু তাঁর ভক্তজনদের পুনরুদ্ধার করবেন, তখন যাকোব উল্লসিত হবে আর ইস্রায়েল আনন্দ করবে।
PSA 15:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, কে তোমার পবিত্র তাঁবুতে বসবাস করবে? তোমার পুণ্য পর্বতে কে বসবাস করবে?
PSA 15:2 সেই করবে যে আচরণে নির্দোষ, যে নিয়মিত সঠিক কাজ করে, যে অন্তর থেকে সত্য কথা বলে;
PSA 15:3 যার জিভ কোনও অপবাদ করে না, প্রতিবেশীর প্রতি কোনও অন্যায় করে না, এবং অপরের কোনও নিন্দা করে না;
PSA 15:4 যে দুষ্ট ব্যক্তিকে অবজ্ঞা করে কিন্তু তাদের শ্রদ্ধা করে যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে, লোকসান হলেও সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, এবং তার মন পরিবর্তন করে না;
PSA 15:5 যে বিনা সুদে দরিদ্রদের অর্থ ধার দেয়; যে নির্দোষের বিরুদ্ধে ঘুস নেয় না। যে এসব করে সে কখনোই বিচলিত হবে না।
PSA 16:1 দাউদের মিকতাম। হে আমার ঈশ্বর, তুমি আমাকে নিরাপদে রাখো, কারণ আমি তোমাতেই আশ্রয় নিয়েছি।
PSA 16:2 আমি সদাপ্রভুকে বললাম, “তুমিই আমার প্রভু; তুমি ছাড়া আমার কোনো মঙ্গল নেই।”
PSA 16:3 জগতে যত পবিত্রজন আছেন তাঁদের সম্বন্ধে আমি বলি, “তাঁরা বিশিষ্ট ব্যক্তিসকল, আর আমি তাঁদের নিয়ে আমোদ করি।”
PSA 16:4 যারা অন্য দেবতাদের পিছনে ছোটে তারা আরও বেশি কষ্ট পাবে; আমি সেই দেবতাদের উদ্দেশে রক্তের নৈবেদ্য উৎসর্গ করব না এমনকি তাদের নামও উচ্চারণ করব না।
PSA 16:5 হে সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই আমার উত্তরাধিকার ও আশীর্বাদের পানপাত্র; তুমি আমার অধিকার সুরক্ষিত করেছ।
PSA 16:6 যে দেশ তুমি আমাকে দিয়েছ তা মনোরম দেশ; সত্যিই কত সুন্দর আমার উত্তরাধিকার।
PSA 16:7 আমি সদাপ্রভুর প্রশংসা করি, যিনি আমায় সুমন্ত্রণা দেন; রাত্রিতেও আমার হৃদয় আমায় উপদেশ দেয়।
PSA 16:8 আমি সর্বদা আমার চোখ সদাপ্রভুতে স্থির রাখি। তিনি আমার ডানপাশে আছেন, তাই আমি কখনও বিচলিত হব না।
PSA 16:9 তাই আমার হৃদয় আনন্দিত এবং আমার জিভ উল্লাস করে; আমার দেহ নিরাপদে বিশ্রাম নেবে,
PSA 16:10 কারণ তুমি কখনও আমাকে পাতালের গর্ভে পরিত্যাগ করবে না, তুমি তোমার বিশ্বস্তদের ক্ষয় দেখতে দেবে না।
PSA 16:11 তুমি আমাকে জীবনের পথ দেখাও; তোমার সান্নিধ্য আমাকে আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করবে, তোমার ডান হাতে আছে অনন্ত সুখ।
PSA 17:1 দাউদের প্রার্থনা। হে সদাপ্রভু, আমার প্রার্থনা শোনো, আমার আবেদন ন্যায্য; আমার আর্তনাদ শোনো। আমার প্রার্থনা শোনো, যা ছলনায় মুখ থেকে নির্গত হয় না।
PSA 17:2 তুমি আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করো; যা সঠিক সেদিকে তোমার দৃষ্টি পড়ুক।
PSA 17:3 যদিও তুমি আমার অন্তর অনুসন্ধান করেছ, রাত্রে আমায় পরখ করেছ ও পরীক্ষা করেছ, তুমি খুঁজে পাবে না যে আমি কোনও মন্দ সংকল্প করেছি; আমার মুখ অপরাধ করেনি।
PSA 17:4 যদিও লোকেরা আমাকে ঘুস দিতে চেয়েছিল, তোমার মুখের বাক্য দিয়ে আমি নিজেকে অত্যাচারীদের পথ থেকে দূরে রেখেছি।
PSA 17:5 আমার পদক্ষেপ তোমার পথে স্থির রেখেছি, এবং আমি হোঁচট খাইনি।
PSA 17:6 আমি তোমাকে ডাকি, হে ঈশ্বর, কারণ তুমি আমায় সাড়া দেবে; আমার দিকে কর্ণপাত করো ও আমার প্রার্থনা শোনো।
PSA 17:7 তোমার মহান প্রেমের আশ্চর্য কাজগুলি আমাকে দেখাও, যারা শত্রুর কবল থেকে বাঁচতে তোমাতে আশ্রয় নেয় তুমি তোমার ডান হাত দিয়ে তাদের উদ্ধার করো।
PSA 17:8 আমাকে তোমার চোখের মণি করে রাখো; তোমার ডানার ছায়ায় আমাকে লুকিয়ে রাখো।
PSA 17:9 দুষ্ট ব্যক্তি যারা আমাকে ধ্বংস করতে চায় ও হত্যাকারী শত্রু যারা আমাকে ঘিরে রেখেছে, তাদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 17:10 তারা তাদের উদাসীন হৃদয় রুদ্ধ করে রেখেছে, এবং তাদের মুখ উদ্ধতভাবে কথা বলে।
PSA 17:11 তারা আমার পথ অনুসরণ করেছে ও আমায় চতুর্দিকে ঘিরে ফেলেছে; আমাকে ধরাশায়ী করার জন্য তাদের দৃষ্টি স্থির রেখেছে।
PSA 17:12 ওরা শিকারের জন্য ক্ষুধার্ত সিংহের মতো, হিংস্র সিংহের মতো যারা আড়ালে ওৎ পেতে থাকে।
PSA 17:13 জেগে ওঠো, হে সদাপ্রভু, ওদের মোকাবিলা করো, ওদের ধ্বংস করো; তোমার তরোয়াল দিয়ে দুষ্টদের কবল থেকে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 17:14 হে সদাপ্রভু, তোমার হাতের শক্তি দিয়ে ওইসব লোক থেকে আমাকে বাঁচাও, জাগতিক মানুষদের থেকে, যাদের পুরস্কার এই জগতেই। কিন্তু তোমার প্রিয়জনদের ক্ষুধা তুমি মেটাও। তাদের সন্তানদের যেন প্রচুর থাকে, তাদের বংশধরদের জন্য যেন অধিকারের অংশ থাকে।
PSA 17:15 কিন্তু আমি ধার্মিকতায় তোমার মুখদর্শন করব; যখন আমি জেগে উঠব, আমি তোমার মুখদর্শন করব আর সন্তুষ্ট হব।
PSA 18:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। সদাপ্রভুর দাস দাউদের। সদাপ্রভু যেদিন তাঁর দাস দাউদকে সমস্ত শত্রু এবং শৌলের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন সেদিন দাউদ সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই গীত গেয়েছিলেন। দাউদ বলেছিলেন: হে সদাপ্রভু, আমি তোমায় ভালোবাসি, তুমি আমার শক্তি।
PSA 18:2 সদাপ্রভু আমার শৈল, আমার উচ্চদুর্গ, আমার উদ্ধারকর্তা; আমার ঈশ্বর আমার শৈল, আমি তাঁর শরণাগত, আমার ঢাল, আমার পরিত্রাণের শিং, আমার আশ্রয় দুর্গ।
PSA 18:3 আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম, যিনি প্রশংসার যোগ্য, এবং আমি শত্রুদের হাত থেকে উদ্ধার পেয়েছি।
PSA 18:4 মৃত্যুর বাঁধন আমাকে আবদ্ধ করেছিল; ধ্বংসের স্রোত আমাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
PSA 18:5 পাতালের বাঁধন আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল; মৃত্যুর ফাঁদ আমার সম্মুখীন হয়েছিল।
PSA 18:6 আমার সংকটে আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম; আমার ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য কেঁদে উঠলাম। তাঁর মন্দির থেকে তিনি আমার গলার স্বর শুনলেন, আমার আর্তনাদ তাঁর সামনে এল, তাঁর কানে পৌঁছাল।
PSA 18:7 তখন পৃথিবী টলে উঠল, কেঁপে উঠল, এবং পর্বতের ভিত নড়ে উঠল; কেঁপে উঠল তাঁর ক্রোধের কারণে।
PSA 18:8 তাঁর নাক থেকে ধোঁয়া উঠল; মুখ থেকে গ্রাসকারী আগুন বেরিয়ে এল, জ্বলন্ত কয়লা প্রজ্বলিত হল।
PSA 18:9 তিনি আকাশমণ্ডল ভেদ করলেন ও নেমে এলেন; তাঁর পায়ের তলায় অন্ধকার মেঘ ছিল।
PSA 18:10 করূবের পিঠে চড়ে তিনি উড়ে গেলেন; বাতাসের ডানায় তিনি উড়ে এলেন।
PSA 18:11 তিনি অন্ধকারকে তাঁর আবরণ করলেন, তাঁর চারপাশের আচ্ছাদন করলেন; আকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘ চতুর্দিকে ঘিরে রাখল তাঁকে।
PSA 18:12 তাঁর উপস্থিতির উজ্জ্বলতা থেকে মেঘের ঘনঘটা সরে গেল, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ নেমে এল।
PSA 18:13 আকাশ থেকে সদাপ্রভু বজ্রনাদ করলেন; শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের মাঝে প্রতিধ্বনিত হল পরাৎপরের কণ্ঠস্বর।
PSA 18:14 তিনি তাঁর তির ছুঁড়লেন ও শত্রুদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেন, বজ্রবিদ্যুতের সাথে তাদের পর্যুদস্ত করলেন।
PSA 18:15 তোমার আদেশে, হে সদাপ্রভু, তোমার নাকের নিঃশ্বাসের বিস্ফোরণে, সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হল, আর পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হল।
PSA 18:16 তিনি আকাশ থেকে হাত বাড়ালেন ও আমাকে ধারণ করলেন; গভীর জলরাশি থেকে আমাকে টেনে তুললেন।
PSA 18:17 আমার শক্তিশালী শত্রুর কবল থেকে তিনি আমাকে রক্ষা করলেন, যারা আমাকে ঘৃণা করত তাদের হাত থেকে, আর তারা আমার জন্য খুবই শক্তিশালী ছিল।
PSA 18:18 আমার বিপদের দিনে তারা আমার মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু সদাপ্রভু আমার সহায় ছিলেন।
PSA 18:19 তিনি আমায় মুক্ত করে এক প্রশস্ত স্থানে আনলেন, তিনি আমায় উদ্ধার করলেন, কারণ তিনি আমাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।
PSA 18:20 আমার ধার্মিকতা অনুযায়ী সদাপ্রভু আমায় প্রতিফল দিলেন, আমার হাতের পরিচ্ছন্নতা অনুযায়ী আমাকে পুরস্কৃত করলেন।
PSA 18:21 কারণ আমি সদাপ্রভুর নির্দেশিত পথে চলেছি, আমার ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করার অপরাধী আমি নই।
PSA 18:22 তাঁর সব বিধান আমার সামনে রয়েছে, তাঁর আদেশ থেকে আমি কখনও দূরে সরে যাইনি।
PSA 18:23 তাঁর সামনে আমি নিজেকে নির্দোষ রেখেছি আর পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি।
PSA 18:24 যা ন্যায়পরায়ণ তা পালন করার জন্য সদাপ্রভু আমায় পুরস্কার দিয়েছেন, এবং তাঁর দৃষ্টিতে আমার নির্মল হাতের সততা অনুসারে দিয়েছেন।
PSA 18:25 যারা বিশ্বস্ত, তাদের প্রতি তুমি বিশ্বস্ত, যারা নির্দোষ, তাদের প্রতি তুমি সিদ্ধ।
PSA 18:26 যারা শুদ্ধ, তাদের প্রতি তুমি শুদ্ধ, কিন্তু যারা কুটিল, তাদের প্রতি তুমি চতুর আচরণ করো।
PSA 18:27 তুমি নম্রকে উদ্ধার করে থাকো কিন্তু যাদের দৃষ্টি উদ্ধত তাদের তুমি নত করে থাকো।
PSA 18:28 তুমি, হে সদাপ্রভু, আমার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখো; আমার ঈশ্বর আমার অন্ধকার আলোতে পরিণত করেন।
PSA 18:29 তোমার সাহায্যে আমি বিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে পারি, আমার ঈশ্বর সহায় হলে আমি প্রাচীর অতিক্রম করতে পারি।
PSA 18:30 ঈশ্বরের সমস্ত পথ সিদ্ধ: সদাপ্রভুর বাক্য নিখুঁত; যারা তাঁতে শরণ নেয় তিনি তাদের ঢাল।
PSA 18:31 কারণ সদাপ্রভু ছাড়া আর ঈশ্বর কে আছে? আমাদের ঈশ্বর ছাড়া আর শৈল কে আছে?
PSA 18:32 ঈশ্বর আমায় শক্তি জোগান আর আমার পথ সুরক্ষিত রাখেন।
PSA 18:33 তিনি আমার পা হরিণের পায়ের মতো করেন; উঁচু স্থানে দাঁড়াতে আমাকে সক্ষম করেন।
PSA 18:34 তিনি আমার হাত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত করেন; আমার বাহু পিতলের ধনুক বাঁকাতে পারে।
PSA 18:35 তুমি আমাকে তোমার বিজয়ের ঢাল দিয়েছ, তোমার ডান হাত আমায় সহায়তা করে; তোমার সাহায্য আমায় মহান করেছে।
PSA 18:36 তুমি আমার চলার পথ প্রশস্ত করেছ, যেন আমার পা পিছলে না যায়।
PSA 18:37 আমি শত্রুদের পিছনে ধাওয়া করে তাদের ধরে ফেলেছি; তারা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছু হটিনি।
PSA 18:38 আমি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করেছি, যেন তারা আর উঠে দাঁড়াতে না পারে; তারা আমার পায়ের তলায় পতিত হয়েছে।
PSA 18:39 যুদ্ধের জন্য তুমি আমাকে শক্তি দিয়েছ; আমার সামনে আমার বিপক্ষদের তুমি নত করেছ।
PSA 18:40 তুমি আমার শত্রুদের পালাতে বাধ্য করেছ, আর আমি আমার শত্রুদের ধ্বংস করেছি।
PSA 18:41 তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেছে, কিন্তু কেউ তাদের রক্ষা করেনি, তারা সদাপ্রভুকে ডেকেছে কিন্তু তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেননি।
PSA 18:42 বাতাসে ওড়া ধুলোর মতো আমি তাদের চূর্ণ করি; রাস্তার কাদার মতো আমি তাদের পদদলিত করি।
PSA 18:43 তুমি আমাকে লোকেদের আক্রমণ থেকে বাঁচিয়েছ, তুমি আমাকে জাতিদের প্রধান নিযুক্ত করেছ। আমার অপরিচিত লোকেরাও এখন আমার সেবা করে।
PSA 18:44 অইহুদিরা আমার সামনে মাথা নত হয়ে থাকে; যে মুহূর্তে তারা আমার আদেশ শোনে, তা পালন করে।
PSA 18:45 তারা সবাই সাহস হারায়; কাঁপতে কাঁপতে তারা তাদের দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।
PSA 18:46 সদাপ্রভু জীবিত! আমার শৈলের প্রশংসা হোক! ঈশ্বর, আমার পরিত্রাতার, গৌরব হোক!
PSA 18:47 তিনিই সেই ঈশ্বর যিনি আমার হয়ে প্রতিশোধ নেন, তিনি জাতিদের আমার অধীনস্থ করেন,
PSA 18:48 তিনি আমার শত্রুদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেন। আমার প্রতিপক্ষদের থেকে তুমি আমাকে উন্নত করেছ; মারমুখী লোকের কবল থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করেছ।
PSA 18:49 তাই, হে সদাপ্রভু, আমি জাতিদের মাঝে তোমার প্রশংসা করব; আমি তোমার নামের প্রশংসাগান করব।
PSA 18:50 তিনি তাঁর রাজাকে মহান বিজয় প্রদান করেন; তাঁর অভিষিক্ত দাউদ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি তিনি চিরকাল তাঁর অবিচল প্রেম প্রদর্শন করেন।
PSA 19:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আকাশমণ্ডল ঈশ্বরের মহিমা বর্ণনা করে; গগন তাঁর হাতের কাজ ঘোষণা করে।
PSA 19:2 তারা দিনের পর দিন বার্তা প্রকাশ করে; তারা রাতের পর রাত জ্ঞান ব্যক্ত করে।
PSA 19:3 তাদের কোনও বক্তব্য নেই, তারা কোনও শব্দ ব্যবহার করে না; তাদের থেকে কোনও শব্দ শোনা যায় না।
PSA 19:4 অথচ তাদের কণ্ঠস্বর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের বাক্য পৃথিবীর প্রান্তসীমায় পৌঁছায়। ঈশ্বর আকাশমণ্ডলে সূর্যের জন্য এক তাঁবু খাটিয়েছেন।
PSA 19:5 সূর্য্য জ্যোতির্ময় বরের মতো বাসরঘর থেকে বেরিয়ে আসে; বিজয়ী বীরের মতো আনন্দে ছুটে চলে আপন পথে।
PSA 19:6 আকাশের এক প্রান্তে সে উদিত হয় এবং অপর প্রান্তে পৌঁছে আবর্তন শেষ করে; তার উত্তাপ থেকে কোনও কিছুই বঞ্চিত হয় না।
PSA 19:7 সদাপ্রভুর বিধিবিধান সিদ্ধ, যা আমার প্রাণ সঞ্জীবিত করে; সদাপ্রভুর অনুশাসন নির্ভরযোগ্য, তা অল্পবুদ্ধিকেও জ্ঞানবান করে।
PSA 19:8 সদাপ্রভুর সমস্ত বিধি সত্য, হৃদয়কে আনন্দিত করে। সদাপ্রভুর আজ্ঞাসকল সুস্পষ্ট, চোখে আলো দান করে।
PSA 19:9 সদাপ্রভুর ভয় নির্মল, চিরকাল স্থায়ী। সদাপ্রভুর আদেশ দৃঢ়, এবং পুরোপুরি ন্যায্য।
PSA 19:10 তা সোনার চেয়েও বেশি, এমনকি বিশুদ্ধ সোনার চেয়েও বেশি আকাঙ্ক্ষিত। এবং মধুর চেয়েও বেশি, এমনকি মৌচাক থেকে ঝরে পড়া মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি।
PSA 19:11 সেগুলি তোমার দাসের প্রতি সতর্কবাণী; যারা মান্য করে, তারা মহা পুরস্কার পায়।
PSA 19:12 কিন্তু কে তার নিজের ত্রুটি উপলব্ধি করতে পারে? আমার গোপন অপরাধ ক্ষমা করো।
PSA 19:13 তোমার দাসকে ইচ্ছাকৃত পাপ থেকে দূরে রেখো; তা যেন আমার উপর শাসন না করে। তখন আমি নির্দোষ হব, মহা অপরাধ থেকে নির্দোষ হব।
PSA 19:14 হে সদাপ্রভু, আমার শৈল ও আমার মুক্তিদাতা আমার মুখের এই বাক্যসকল ও আমার মনের ধ্যান, তোমার দৃষ্টিতে মনোরম হোক।
PSA 20:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। সদাপ্রভু সংকটের দিনে তোমাকে উত্তর দেবেন; যাকোবের ঈশ্বরের নাম তোমাকে রক্ষা করবেন।
PSA 20:2 তিনি পবিত্রস্থান থেকে তোমাকে সাহায্য করবেন, আর সিয়োন থেকে তোমাকে শক্তি জোগাবেন।
PSA 20:3 তিনি তোমার সমস্ত বলি স্মরণে রাখবেন ও তোমার হোমবলি গ্রহণ করবেন।
PSA 20:4 তিনি তোমার হৃদয়ের সমস্ত অভিলাষ পূর্ণ করবেন, এবং তোমার সকল পরিকল্পনা সার্থক করবেন।
PSA 20:5 তোমার জয়ে আমরা আনন্দগান করব আর আমাদের ঈশ্বরের নামে আমরা বিজয় পতাকা উড়াব। সদাপ্রভু তোমার সমস্ত নিবেদন মঞ্জুর করুন।
PSA 20:6 এখন আমি জানি: যে, সদাপ্রভু তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে বিজয় প্রদান করেন। তিনি নিজের ডান হাতের বিজয়ী শক্তিতে স্বর্গীয় পবিত্রস্থান থেকে তাকে উত্তর দেন।
PSA 20:7 কেউ রথে এবং কেউ ঘোড়ায় আস্থা রাখে, কিন্তু আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে আস্থা রাখি।
PSA 20:8 তাদের নতজানু করা হবে ও পতন ঘটবে; কিন্তু আমরা উঠে দাঁড়াব ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব।
PSA 20:9 হে সদাপ্রভু, রাজাকে বিজয় প্রদান করো! যখন আমরা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করি, আমাদের উত্তর দিয়ো!
PSA 21:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, তোমার পরাক্রমে রাজা উল্লাস করেন, তিনি আনন্দে চিৎকার করেন কারণ তুমি তাঁকে বিজয়ী করেছ।
PSA 21:2 তুমি তাঁর মনোবাসনা পূর্ণ করেছ, এবং তাঁর মুখের অনুরোধ অগ্রাহ্য করোনি।
PSA 21:3 তুমি প্রচুর আশীর্বাদ দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছ এবং তাঁর মাথায় সোনার মুকুট পরিয়েছ।
PSA 21:4 তিনি তোমার কাছে জীবন ভিক্ষা করেছেন, আর তুমি তাঁকে তাই দিয়েছ, তাঁকে অনন্তকালস্থায়ী পরমায়ু দিয়েছ।
PSA 21:5 তোমার দেওয়া বিজয়ে তাঁর গৌরব বিপুল; তুমি তাঁকে মহিমা ও প্রতিপত্তিতে আবৃত করেছ।
PSA 21:6 নিশ্চয় তুমি তাঁকে চিরস্থায়ী আশীর্বাদ দিয়েছ তোমার সান্নিধ্যের আনন্দ তাঁকে উল্লসিত করেছে।
PSA 21:7 কারণ রাজা সদাপ্রভুতে আস্থা রাখেন; পরাৎপরের অবিচল প্রেমের গুণে তিনি বিচলিত হবেন না।
PSA 21:8 তোমার হাত তোমার সব শত্রুকে বন্দি করবে; তোমার ডান হাত তোমার সব বিপক্ষকে দখল করবে।
PSA 21:9 যখন যুদ্ধে তোমার আবির্ভাব হবে, তুমি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মতো তাদের পুড়িয়ে দেবে। ক্রোধে সদাপ্রভু তাদের গ্রাস করবেন, আর তাঁর আগুন তাদের দগ্ধ করবে।
PSA 21:10 তুমি তাদের বংশধরদের পৃথিবী থেকে ও মানবসমাজ থেকে তাদের উত্তরপুরুষদের ধ্বংস করবে।
PSA 21:11 যদিও তারা তোমার বিরুদ্ধে দুষ্ট চক্রান্ত করে, এবং মন্দ পরিকল্পনা করে, তারা কখনোই সফল হবে না।
PSA 21:12 যখন তারা দেখবে যে তোমার ধনুক তাদের দিকে লক্ষ্য করে আছে তখন তারা পিছনে ফিরবে ও পালাবে।
PSA 21:13 হে সদাপ্রভু, নিজের পরাক্রমে মহিমান্বিত হও; আমরা তোমার শক্তির জয়গান ও প্রশংসা করব।
PSA 22:1 প্রধান সংগীত পরিচালকের জন্য। সুর: “প্রভাতের হরিণী।” দাউদের গীত। ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ? আমাকে রক্ষা করা থেকে কেন দূরে আছ, আমার বেদনার আর্তনাদ থেকে কেন অত দূরে?
PSA 22:2 হে আমার ঈশ্বর, আমি দিনে তোমাকে ডাকি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না, রাতেও ডাকি, কিন্তু কোনও অব্যাহতি পাই না।
PSA 22:3 তথাপি তুমিই পবিত্র; ইস্রায়েলের প্রশংসায় তুমিই অধিষ্ঠিত।
PSA 22:4 আমাদের পূর্বপুরুষেরা তোমাতে আস্থা রেখেছিলেন; তাঁরা আস্থা রেখেছিলেন, আর তুমি তাঁদের উদ্ধার করেছিলে।
PSA 22:5 তোমার কাছেই তাঁরা কেঁদেছিলেন ও পরিত্রাণ পেয়েছিলেন; তোমার উপরেই তাঁরা নির্ভর করেছিলেন আর তাঁরা লজ্জিত হননি।
PSA 22:6 কিন্তু আমি মানুষ নই, একটি কীটমাত্র, সব মানুষের কাছে আমি অবজ্ঞা ও ঘৃণার পাত্র।
PSA 22:7 যারা আমায় দেখে, তারা উপহাস করে; তারা অপমান করে, ও মাথা নেড়ে বলে,
PSA 22:8 “সে সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করে, অতএব, সদাপ্রভুই তাকে রক্ষা করুন। যদি সদাপ্রভু তাকে এতই ভালোবাসেন, তবে তিনিই ওকে উদ্ধার করুন।”
PSA 22:9 তবুও তুমি আমার মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে নিরাপদে এনেছ; এমনকি যখন আমি মায়ের বুকে ছিলাম, তখন তুমি আমায় তোমার প্রতি বিশ্বাস করতে সাহায্য করেছ।
PSA 22:10 জন্ম থেকে আমি তোমার হাতেই সমর্পিত হয়েছি; মাতৃগর্ভ থেকেই তুমি আমার ঈশ্বর রয়েছ।
PSA 22:11 আমার কাছ থেকে তুমি এত দূরে থেকো না, কারণ বিপদ আসন্ন আর কেউ আমাকে সাহায্য করার নেই।
PSA 22:12 আমার শত্রুরা আমাকে বলদের পালের মতো ঘিরে ধরেছে; বাশনের শক্তিশালী বলদগুলি আমার চারপাশে রয়েছে।
PSA 22:13 গর্জনকারী সিংহ যেমন শিকার ছিঁড়ে খায় তেমনই তারা আমার দিকে মুখ হাঁ করে রয়েছে।
PSA 22:14 আমাকে জলের মতো ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, এবং আমার সব হাড় জোড়া থেকে খুলে যাচ্ছে। আমার হৃদয় মোমের মতো; যা আমার অন্তরে গলে গেছে।
PSA 22:15 রোদে পোড়া মাটির মতো আমার শক্তি শুকিয়ে গেছে, এবং আমার জিভ মুখের মধ্যে তালুতে লেগে রয়েছে; তুমি আমাকে মৃত্যুর জন্য ধুলোতে শুইয়ে দিয়েছ।
PSA 22:16 আমার শত্রুরা কুকুরের মতো আমাকে ঘিরে ধরেছে, দুর্বৃত্তের দল চারিদিকে বেষ্টন করেছে, ওরা আমার হাত ও পা বিদ্ধ করেছে।
PSA 22:17 আমি আমার সব হাড় গুনতে পারি; লোকেরা আমার দিকে দেখে ও কৌতুকের দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে।
PSA 22:18 তারা আমার পোশাক তাদের মধ্যে ভাগ করে নেয় আর আমার আচ্ছাদনের জন্য গুটিকাপাতের দান ফেলে।
PSA 22:19 কিন্তু তুমি, হে সদাপ্রভু, আমার কাছ থেকে দূরে থেকো না, তুমি আমার শক্তি, আমাকে সাহায্য করতে তাড়াতাড়ি এসো।
PSA 22:20 আমাকে তরোয়ালের আঘাত থেকে বাঁচাও, এই কুকুরগুলির কবল থেকে আমার মূল্যবান জীবন উদ্ধার করো।
PSA 22:21 সিংহের মুখ থেকে আমাকে উদ্ধার করো; বন্য ষাঁড়ের শিং থেকে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 22:22 তোমার নাম আমি আমার লোকেদের কাছে প্রচার করব, সভার মাঝে আমি তোমার জয়গান গাইব।
PSA 22:23 তোমরা যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করো, তাঁর প্রশংসা করো! যাকোবের বংশধর সকল, তাঁর সম্মান করো! ইস্রায়েলের বংশধর সকল, তাঁকে শ্রদ্ধা করো।
PSA 22:24 কারণ তিনি পীড়িতদের যন্ত্রণা অবজ্ঞা বা ঘৃণা করেননি; তিনি তাদের কাছ থেকে তাঁর মুখ লুকাননি কিন্তু তাদের সাহায্যের কান্না শুনেছেন।
PSA 22:25 মহাসমাবেশে আমি তোমার প্রশংসা করব; যারা তোমার আরাধনা করে তাদের উপস্থিতিতে আমি আমার শপথ পূরণ করব।
PSA 22:26 যারা দরিদ্র তারা ভোজন করবে ও তৃপ্ত হবে; যারা সদাপ্রভুর অন্বেষণ করে তারা তাঁর জয়গান করবে, তাদের হৃদয় চিরস্থায়ী আনন্দে উল্লসিত হবে।
PSA 22:27 পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষ সদাপ্রভুকে স্মরণ করবে ও তাঁর দিকে ফিরবে, এবং জাতিদের সব পরিবার তাঁর সামনে নতজানু হবে,
PSA 22:28 কারণ আধিপত্য সদাপ্রভুরই আর তিনি জাতিদের উপর শাসন করেন।
PSA 22:29 পৃথিবীর ধনীরা সবাই ভোজন করবে ও তাঁর আরাধনা করবে; যাদের জীবন ধুলোতে শেষ হবে তারা সবাই তাঁর সামনে নতজানু হবে— তারা যারা নিজেদের প্রাণ বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
PSA 22:30 বংশধরেরা তাঁর সেবা করবে; আগামী প্রজন্মকে বলা হবে সদাপ্রভুর কথা।
PSA 22:31 তারা তাঁর ধার্মিকতা প্রচার করবে, যারা অজাত তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে: তিনি এই কাজ করেছেন!
PSA 23:1 দাউদের গীত। সদাপ্রভু আমার পালক, আমার অভাব হবে না।
PSA 23:2 তিনি সবুজ চারণভূমিতে আমাকে শয়ন করান, তিনি শান্ত জলের ধারে আমাকে নিয়ে যান,
PSA 23:3 তিনি আমার প্রাণ সঞ্জীবিত করেন। নিজের নামের মহিমায় তিনি আমাকে সঠিক পথে পরিচালনা করেন।
PSA 23:4 যদিও আমি হেঁটে যাই অন্ধকারাচ্ছন্ন উপত্যকার মধ্য দিয়ে, আমি কোনও অমঙ্গলের ভয় করব না, কারণ তুমি আমার সঙ্গে আছ; তোমার লাঠি ও তোমার ছড়ি, সেগুলি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
PSA 23:5 আমার শত্রুদের উপস্থিতিতে তুমি আমার সামনে এক ভোজসভায় আয়োজন করেছ। তুমি আমার মাথা তেল দিয়ে অভিষিক্ত করেছ; আমার পানপাত্র উপচে পড়ে।
PSA 23:6 নিশ্চয় তোমার মঙ্গল ও প্রেম আমার পিছু নেবে আমার জীবনের সব দিন পর্যন্ত, এবং চিরকাল আমি সদাপ্রভুর গৃহে বসবাস করব।
PSA 24:1 দাউদের গীত। এই জগৎ, তার মধ্যে থাকা সবকিছু, এই পৃথিবী, আর যা কিছু এতে আছে, সব সদাপ্রভুরই;
PSA 24:2 কারণ তিনি তা সমুদ্রের উপর স্থাপন করেছেন আর জলধির উপর তা নির্মাণ করেছেন।
PSA 24:3 কে সদাপ্রভুর পর্বতে আরোহণ করবে? কে তাঁর পুণ্যস্থানে দাঁড়াবে?
PSA 24:4 সে, যার হাত পরিষ্কার ও হৃদয় নির্মল, যে প্রতিমায় আস্থা রাখে না অথবা মিথ্যা দেবতার নামে শপথ করে না।
PSA 24:5 তারা সদাপ্রভুর কাছ থেকে আশীর্বাদ লাভ করবে এবং তাদের ঈশ্বর উদ্ধারকর্তার কাছ থেকে সমর্থন পাবে।
PSA 24:6 এই সেই প্রজন্ম, যারা তোমাকে অন্বেষণ করে, তারা তোমার মুখ অন্বেষণ করে, হে যাকোবের ঈশ্বর।
PSA 24:7 হে দ্বারসকল, মাথা তুলে দেখো; হে প্রাচীন দরজা, উত্থিত হও, যেন গৌরবের রাজা প্রবেশ করতে পারেন।
PSA 24:8 কে এই গৌরবের রাজা? সদাপ্রভু শক্তিশালী ও বলবান, সদাপ্রভু যুদ্ধে বলবান।
PSA 24:9 হে দ্বারসকল, মাথা তুলে দেখো; হে প্রাচীন দরজা, তাদের তুলে ধরো, যেন গৌরবের রাজা প্রবেশ করতে পারেন।
PSA 24:10 কে এই গৌরবের রাজা? তিনি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তিনি গৌরবের রাজা।
PSA 25:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি তোমাতেই আস্থা রাখি।
PSA 25:2 আমি তোমাতে আস্থা রাখি; আমাকে লজ্জিত হতে দিয়ো না। আমার উপর আমার শত্রুদের জয়লাভ করতে দিয়ো না।
PSA 25:3 যারা তোমার উপর আশা রাখে, তারা কখনও লজ্জিত হবে না, কিন্তু যারা অকারণে বিশ্বাসঘাতকতা করে তারা লজ্জার পাত্র হবে।
PSA 25:4 হে সদাপ্রভু, তোমার পথসকল আমাকে দেখাও, তোমার পন্থাসকল আমায় শেখাও।
PSA 25:5 তোমার সত্যের পথে আমাকে চালাও ও শিক্ষা দাও, কারণ তুমিই আমার ঈশ্বর, আমার পরিত্রাতা, এবং সারাদিন আমি তোমারই প্রত্যাশায় থাকি।
PSA 25:6 হে সদাপ্রভু, তোমার মহান দয়া ও প্রেম স্মরণ করো, যা অনাদিকাল থেকে অবিচল।
PSA 25:7 আমার যৌবনের পাপসকল স্মরণে রেখো না, মনে রেখো না আমার বিদ্রোহী আচরণ; তোমার অবিচল প্রেমের গুণে আমায় মনে রেখো; কারণ, হে সদাপ্রভু, তুমি উত্তম।
PSA 25:8 সদাপ্রভু উত্তম ও ন্যায়পরায়ণ; তাই তিনি পাপীদের তাঁর পথে চলার উপদেশ দেন।
PSA 25:9 যারা নম্র তাদের তিনি সঠিক পথে চালনা করেন; এবং তাঁর পথ তাদের তিনি শিক্ষা দেন।
PSA 25:10 যারা তাঁর নিয়মের শর্তসকল পালন করে তাদের প্রতি সদাপ্রভুর সব পথ প্রেমময় ও বিশ্বস্ত।
PSA 25:11 তোমার নামের গুণে, হে সদাপ্রভু, আমার অপরাধ ক্ষমা করো, যদিও সেসব গুরুতর।
PSA 25:12 তাহলে কে তারা, যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে? তাদের যে পথে চলা উচিত সেই পথ সদাপ্রভু তাদের দেখাবেন।
PSA 25:13 তারা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের জীবন কাটাবে, এবং তাদের বংশধরেরা দেশের অধিকার পাবে।
PSA 25:14 যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে সদাপ্রভু গুপ্ত বিষয় তাদের কাছে ব্যক্ত করেন; তিনি তাঁর নিয়ম তাদের কাছে প্রকাশ করেন।
PSA 25:15 আমার চোখ সর্বদা সদাপ্রভুর দিকে স্থির, কারণ তিনিই কেবল শত্রুদের ফাঁদ থেকে আমায় উদ্ধার করবেন।
PSA 25:16 আমার প্রতি ফিরে চাও ও আমায় কৃপা করো, কারণ আমি একাকী ও পীড়িত।
PSA 25:17 আমার হৃদয়ের কষ্ট মোচন করো ও মনের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করো।
PSA 25:18 আমার দুর্দশা ও বেদনার প্রতি দৃষ্টিপাত করো এবং আমার সমস্ত পাপ দূর করো।
PSA 25:19 দেখো আমার শত্রুরা কত অসংখ্য এবং কী উগ্রভাবে তারা আমায় ঘৃণা করে।
PSA 25:20 আমার জীবন সুরক্ষিত করো ও উদ্ধার করো; আমাকে লজ্জায় পড়তে দিয়ো না, কারণ আমি তোমাতে আশ্রয় নিয়েছি।
PSA 25:21 সততা ও ন্যায়পরায়ণতা আমায় রক্ষা করুক, কারণ, হে সদাপ্রভু, আমি তোমাতেই আশা রাখি।
PSA 25:22 হে ঈশ্বর, ইস্রায়েলকে মুক্ত করো, তাদের সব সংকট থেকে!
PSA 26:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমাকে নির্দোষ মান্য করো, কারণ আমি নির্দোষ জীবনযাপন করেছি; আমি সদাপ্রভুতে আস্থা রেখেছি এবং বিপথে যাইনি।
PSA 26:2 হে সদাপ্রভু, আমাকে পরখ করো ও যাচাই করো, আমার হৃদয় ও মন পরীক্ষা করো;
PSA 26:3 কেননা তোমার চিরস্থায়ী প্রেমে আমি সর্বদা মনযোগী এবং তোমার বিশ্বস্ততায় নির্ভর করে বেঁচে রয়েছি।
PSA 26:4 আমি প্রতারকদের সঙ্গে বসি না, ভণ্ডদের সঙ্গে আমি পথ চলি না।
PSA 26:5 অনিষ্টকারীদের সমাবেশ আমি ঘৃণা করি এবং দুষ্টদের সাথে বসতে অস্বীকার করি।
PSA 26:6 আমি নির্দোষিতায় আমার হাত পরিষ্কার করি, এবং তোমার যজ্ঞবেদিতে আসি, হে সদাপ্রভু,
PSA 26:7 উচ্চস্বরে তোমার প্রশংসা করি এবং তোমার অপূর্ব কীর্তিকাহিনি ঘোষণা করি।
PSA 26:8 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার পবিত্রস্থান আর যেখানে তোমার মহিমা বিরাজ করে, সেই স্থানটি ভালোবাসি।
PSA 26:9 পাপীদের সাথে তুমি আমার প্রাণ নিয়ো না, হত্যাকারীদের সাথে আমার জীবন নিয়ো না,
PSA 26:10 তাদের হাতে আছে দুষ্কর্মের ফন্দি, তাদের ডান হাত ঘুসে পরিপূর্ণ।
PSA 26:11 আমি নির্দোষ জীবনযাপন করি; আমাকে রক্ষা করো ও আমার প্রতি দয়া করো।
PSA 26:12 আমার পা সমতল জমিতে দাঁড়িয়ে আছে, এবং মহাসমাবেশে আমি সদাপ্রভুর প্রশংসা করব।
PSA 27:1 দাউদের গীত। সদাপ্রভু আমার জ্যোতি ও আমার পরিত্রাণ, তাই আমি কেন ভীত হব? সদাপ্রভু আমার জীবনের আশ্রয় দুর্গ, তাই আমি কেন কম্পিত হব?
PSA 27:2 আমায় গ্রাস করতে যখন দুষ্টরা আমার দিকে এগিয়ে আসে, আমার শত্রুরা ও আমার বিপক্ষরা হোঁচট খাবে ও পতিত হবে।
PSA 27:3 যদিও এক সৈন্যদল আমাকে ঘিরে ধরে, আমার হৃদয় ভয় করবে না; আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষিত হলেও, আমি আত্মবিশ্বাসী রইব।
PSA 27:4 সদাপ্রভুর কাছে আমার একটিই নিবেদন, যা আমি একান্তভাবে চাই, সদাপ্রভুর সৌন্দর্য দেখবার জন্য তাঁর মন্দিরে তাঁকে অন্বেষণের উদ্দেশে, যেন আমি জীবনের সবকটি দিন সদাপ্রভুর গৃহে বসবাস করি।
PSA 27:5 কারণ সংকটের দিনে তিনি নিজের আবাসে আমায় সুরক্ষিত রাখবেন; তাঁর পবিত্র তাঁবুর আশ্রয়ে আমাকে লুকিয়ে রাখবেন, ও উঁচু পাথরের উপরে আমাকে স্থাপন করবেন।
PSA 27:6 তখন যেসব শত্রু আমাকে ঘিরে রয়েছে আমার মাথা তাদের উপরে উন্নত হবে; তাঁর পবিত্র তাঁবুতে আমি জয়ধ্বনির সাথে বলি উৎসর্গ করব; সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমি গান করব ও সংগীত রচনা করব।
PSA 27:7 আমার কণ্ঠস্বর শ্রবণ করো, হে সদাপ্রভু, যখন আমি প্রার্থনা করি; আমার প্রতি করুণা করো ও আমায় উত্তর দাও।
PSA 27:8 তোমাকে নিয়ে আমার অন্তর বলে “তাঁর মুখ অন্বেষণ করো!” তোমার মুখ, হে সদাপ্রভু, আমি অন্বেষণ করি।
PSA 27:9 আমার সামনে থেকে তোমার মুখ লুকিয়ে রেখো না, ক্রোধে তোমার দাসকে ফিরিয়ে দিয়ো না; তুমিই আমার সহায়। আমায় প্রত্যাখ্যান কোরো না বা পরিত্যাগ কোরো না, ঈশ্বর আমার পরিত্রাতা।
PSA 27:10 যদিও আমার বাবা-মা আমায় পরিত্যাগ করে, সদাপ্রভু আমায় গ্রহণ করবেন।
PSA 27:11 হে সদাপ্রভু, তোমার উপায় আমাকে শেখাও; আমার শত্রুদের কারণে, আমাকে সোজা পথে চালাও।
PSA 27:12 আমার শত্রুদের ইচ্ছায় আমাকে সমর্পণ কোরো না, দেখো, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষীরা মাথা তুলছে, নিশ্বাসে তারা আমাকে হিংসার ভয় দেখাচ্ছে।
PSA 27:13 আমি এই বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, আমি জীবিতদের দেশে সদাপ্রভুর মঙ্গল কাজ দেখব।
PSA 27:14 সদাপ্রভুর অপেক্ষায় থাকো; শক্ত হও ও সাহস করো এবং সদাপ্রভুর অপেক্ষায় থাকো।
PSA 28:1 দাউদের গীত। তোমার প্রতি, হে সদাপ্রভু, আমি প্রার্থনা করি; তুমি আমার শৈল, তুমি আমার প্রতি বধির হোয়ো না। কারণ তুমি যদি নীরব থাকো, আমার দশা তাদের মতো হবে যারা গর্তে পতিত হয়েছে।
PSA 28:2 যখন আমি সাহায্যের আশায় তোমাকে ডাকি, যখন তোমার মহাপবিত্র আবাসের দিকে আমি হাত তুলি তুমি আমার বিনতি শ্রবণ করো।
PSA 28:3 দুষ্টদের ও অধর্মাচারীদের সঙ্গে, আমাকে টেনে নিয়ো না, ওরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলে অথচ অন্তরে তারা বিদ্বেষভাব পোষণ করে।
PSA 28:4 তুমি তাদের কাজের ফল দান করো তাদের দুষ্কর্মের প্রতিফল তাদের দাও; তাদের হাতের কাজের প্রতিদান তাদের দাও এবং তাদের যা প্রাপ্য সেইসব তাদের উপর নিয়ে এসো।
PSA 28:5 সদাপ্রভুর সব কাজ আর তাঁর হাত যা সাধন করেছে সেইসব তারা সমাদর করে না, তাই তিনি তাদের ধ্বংস করবেন এবং কখনও আর তাদের গড়ে তুলবেন না।
PSA 28:6 সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ তিনি আমার বিনতি শুনেছেন।
PSA 28:7 সদাপ্রভু আমার শক্তি ও আমার ঢাল; আমার হৃদয় তাঁর উপর আস্থা রাখে এবং তিনি আমাকে সাহায্য করেন। আমার হৃদয় আনন্দে উল্লসিত এবং গানের মাধ্যমে আমি তাঁর প্রশংসা করব।
PSA 28:8 সদাপ্রভু তাঁর লোকদের শক্তি, তাঁর অভিষিক্ত-জনের মুক্তিদুর্গ।
PSA 28:9 তোমার লোকদের রক্ষা করো ও তোমার অধিকারকে আশীর্বাদ করো; তুমি তাদের পালক হও এবং তাদের চিরকাল বহন করো।
PSA 29:1 দাউদের গীত। হে ঈশ্বরের সন্তানেরা, সদাপ্রভুর কীর্তন করো, তাঁর মহিমা ও পরাক্রম কীর্তন করো।
PSA 29:2 তাঁর নামের মহিমার কীর্তন করো, পবিত্র শোভায় সদাপ্রভুর আরাধনা করো।
PSA 29:3 জলের উপর সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর শোনা যায়; মহিমার ঈশ্বর বজ্রধ্বনি করেন, মহাজলরাশির উপরে সদাপ্রভু বজ্রধ্বনি করেন।
PSA 29:4 সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী; সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর মহিমান্বিত।
PSA 29:5 সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর দেবদারু গাছ ভেঙে দেয়; লেবাননের দেবদারুবন ছিন্নভিন্ন করেন।
PSA 29:6 তিনি লেবাননের পর্বতমালাকে বাছুরের মতো নাচিয়ে তোলেন, বন্য ষাঁড়ের মতো সিরিয়োণকে করেন।
PSA 29:7 সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর বজ্রবিদ্যুতের ঝলকের সাথে আঘাত করে।
PSA 29:8 সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর মরুভূমি কাঁপিয়ে দেয়; সদাপ্রভু কাদেশের মরুভূমি কাঁপিয়ে তোলে।
PSA 29:9 সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর ওক গাছ দুমড়ে-মুচড়ে দেয় এবং অরণ্য অনাবৃত করে। এবং তাঁর মন্দিরে সকলে বলে “মহিমা!”
PSA 29:10 সদাপ্রভু মহাপ্লাবনের উপর অধিষ্ঠিত; সদাপ্রভু চিরকালের জন্য অধিষ্ঠিত রাজা।
PSA 29:11 সদাপ্রভু তাঁর লোকদের শক্তি দেন; সদাপ্রভু তাঁর লোকদের শান্তি দিয়ে আশীর্বাদ করেন।
PSA 30:1 একটি গীত। একটি সংগীত। মন্দির উৎসর্গ উপলক্ষ্যে দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমি তোমার প্রশংসা করি, কারণ তুমি আমাকে পাতাল থেকে তুলে ধরেছ এবং আমার শত্রুদের আমাকে নিয়ে উল্লাস করতে দাওনি।
PSA 30:2 হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি সাহায্যের জন্য তোমাকে ডেকেছি, এবং তুমি আমাকে সুস্থ করেছ।
PSA 30:3 তুমি, হে সদাপ্রভু, আমাকে পাতালের গর্ভ থেকে উত্তোলন করেছ; তুমি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছ যেন মৃত্যুর গর্তে পড়ে না যাই।
PSA 30:4 হে সদাপ্রভুর সব বিশ্বস্ত লোকজন, তাঁর উদ্দেশে প্রশংসা করো; তাঁর পুণ্যনামের প্রশংসা করো।
PSA 30:5 কারণ তাঁর ক্রোধ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তাঁর অনুগ্রহ সারা জীবন স্থায়ী; অশ্রু রাত্রিব্যাপী হয়, কিন্তু উল্লাস সকালে উপস্থিত হয়।
PSA 30:6 যখন আমি নিরাপদ বোধ করেছিলাম, আমি বলেছিলাম, “আমি কখনও বিচলিত হব না।”
PSA 30:7 তোমার করুণা, হে সদাপ্রভু, আমাকে পর্বতের মতো সুরক্ষিত করেছিল; কিন্তু যখন তুমি তোমার মুখ লুকালে, তখন আমি বিহ্বল হলাম।
PSA 30:8 হে সদাপ্রভু, আমি তোমাকেই ডাকলাম; সদাপ্রভুর কাছে আমি বিনতি করলাম,
PSA 30:9 “আমার মৃত্যু হলে কী লাভ, আর যদি আমি পাতালে চলে যাই? ধূলিকণা কি তোমার জয়গান করবে? তা কি তোমার বিশ্বস্ততা ঘোষণা করবে?
PSA 30:10 হে সদাপ্রভু, শোনো, আর আমার প্রতি কৃপা করো; হে সদাপ্রভু, আমার সহায় হও।”
PSA 30:11 তুমি আমার বিলাপ নৃত্যে পরিণত করেছ; আমার চট খুলে আমাকে আনন্দ দিয়ে আবৃত করেছ,
PSA 30:12 যেন আমার হৃদয় চুপ করে না থাকে, কিন্তু তোমার জয়গান করে। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি চিরকাল তোমার প্রশংসা করব।
PSA 31:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমি তোমাতে আশ্রয় নিয়েছি; আমাকে কখনও লজ্জিত হতে দিয়ো না; তোমার ধার্মিকতায় আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 31:2 আমার দিকে তোমার কান দাও, সত্বর আমাকে উদ্ধার করতে এসো; তুমি আমার আশ্রয় শৈল হও, আমাকে রক্ষা করার এক শক্ত উচ্চদুর্গ।
PSA 31:3 যেহেতু তুমি আমার শৈল ও উচ্চদুর্গ, তোমার নামের সম্মানে আমাকে পথ দেখাও ও চালনা করো।
PSA 31:4 আমার জন্য পাতা ফাঁদ থেকে আমাকে উদ্ধার করো, কারণ তুমিই আমার আশ্রয়।
PSA 31:5 তোমার হাতে আমি আমার আত্মা সমর্পণ করি; আমাকে উদ্ধার করো, হে সদাপ্রভু, আমার বিশ্বস্ত ঈশ্বর।
PSA 31:6 যারা অলীক মূর্তির আরাধনা করে আমি তাদের ঘৃণা করি; কিন্তু আমি সদাপ্রভুতে আস্থা রাখি।
PSA 31:7 আমি খুশি হব ও তোমার প্রেমে আনন্দ করব, কারণ তুমি আমার সংকট দেখেছ ও আমার প্রাণের যন্ত্রণা অনুভব করেছ।
PSA 31:8 তুমি আমাকে শত্রুদের হাতে তুলে দাওনি কিন্তু প্রশস্ত স্থানে আমার পা স্থাপন করেছ।
PSA 31:9 হে সদাপ্রভু, আমাকে দয়া করো, কারণ আমি দুর্দশায় জীর্ণ; দুঃখে আমার দৃষ্টি, বিষাদে আমার প্রাণ ও দেহ ক্ষীণ হয়েছে।
PSA 31:10 আমার জীবন যন্ত্রণায় পূর্ণ হয়েছে আর দীর্ঘশ্বাসে আমার দিন কাটছে, পাপ আমার শক্তি নিঃশেষ করেছে, আর আমার হাড়গোড় সব দুর্বল হয়েছে।
PSA 31:11 আমার সব শত্রুর কারণে, আমি আমার প্রতিবেশীদের ঘৃণার পাত্র, আর আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে ভয়ংকর হয়েছি— যারা পথে আমাকে দেখে তারা আমার কাছ থেকে পালিয়ে যায়।
PSA 31:12 মৃত ব্যক্তির মতো আমাকে ভুলে যাওয়া হয়েছে; আমি মাটির ভাঙা পাত্রের মতো হয়েছি।
PSA 31:13 কারণ আমি অনেককে চুপিচুপি কথা বলতে শুনি, “চারিদিকে সন্ত্রাস!” ওরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং আমার জীবন নেওয়ার চক্রান্ত করে।
PSA 31:14 কিন্তু হে সদাপ্রভু, আমি তোমাতে আস্থা রাখি; আমি বলি, “তুমিই আমার ঈশ্বর।”
PSA 31:15 আমার সময় তোমারই হাতে; আমার শত্রুদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো, যারা আমাকে তাড়া করে।
PSA 31:16 তোমার দাসের প্রতি তোমার মুখ উজ্জ্বল করো; তোমার অবিচল প্রেমে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 31:17 হে সদাপ্রভু, আমাকে লজ্জিত হতে দিয়ো না, কারণ আমি তোমার কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করেছি; কিন্তু দুষ্টদের লজ্জিত হতে দিয়ো আর তারা পাতালের গর্ভে নীরব হয়ে থাকুক।
PSA 31:18 তাদের মিথ্যাবাদী মুখ নির্বাক হোক, কারণ অহংকারে ও ঘৃণায় তারা ধার্মিকদের বিরুদ্ধে উদ্ধতভাবে কথা বলে।
PSA 31:19 যারা তোমাকে সম্ভ্রম করে আর যারা তোমার শরণাগত তাদের প্রতি তোমার সঞ্চিত কল্যাণ কত মহৎ, যা তুমি সকলের সাক্ষাতে তাদের উপর প্রদান করো।
PSA 31:20 মানুষের সব চক্রান্ত থেকে তুমি তোমার সান্নিধ্যের ছায়ায় তাদের লুকিয়ে রাখো; অভিযোগের জিভ থেকে তুমি তোমার আবাসে তাদের নিরাপদে রাখো।
PSA 31:21 সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ যখন আমি অবরুদ্ধ নগরীতে ছিলাম তিনি তাঁর প্রেমের আশ্চর্য ক্রিয়াসকল আমাকে দেখিয়েছেন।
PSA 31:22 আতঙ্কে আমি বলেছিলাম, “আমি তোমার দৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি!” তবুও যখন আমি তোমার কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করেছিলাম, তুমি আমার বিনতি শুনেছিলে।
PSA 31:23 সদাপ্রভুকে ভালোবাসো, তোমরা যারা তাঁর ভক্তজন! সদাপ্রভু তাদের বাঁচিয়ে রাখেন যারা তাঁর প্রতি অনুগত, কিন্তু অহংকারী ব্যক্তিদের তিনি পূর্ণ প্রতিফল দেন।
PSA 31:24 তোমরা যারা সদাপ্রভুর উপর আশা রাখো, তোমরা বলবান হও ও সাহস করো।
PSA 32:1 দাউদের গীত। মস্কীল। ধন্য সেই ব্যক্তি যার অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে, যার পাপ আচ্ছাদিত হয়েছে।
PSA 32:2 ধন্য সেই ব্যক্তি যার পাপ সদাপ্রভু তার বিরুদ্ধে গণ্য করেন না এবং যার অন্তর ছলনাবিহীন।
PSA 32:3 যখন আমি চুপ করেছিলাম, আমার হাড়গোড় ক্ষয় হয়েছিল এবং সারাদিন আমি আর্তনাদ করেছিলাম।
PSA 32:4 কারণ দিনে এবং রাতে তোমার শাসনের হাত আমার উপর দুর্বহ ছিল; যেমন গ্রীষ্মের উত্তাপে জল শুকিয়ে যায় তেমনই আমার শক্তি নিঃশেষ হয়েছিল।
PSA 32:5 তখন আমি তোমার কাছে আমার পাপস্বীকার করলাম আর আমার কোনও অপরাধ আমি গোপন করলাম না। আমি বললাম, “সদাপ্রভুর কাছে আমার সব অপরাধ আমি স্বীকার করব।” আর তুমি আমার পাপের দোষ ক্ষমা করলে।
PSA 32:6 তাই সময় থাকতে সব বিশ্বস্ত লোক তোমার কাছে প্রার্থনা করুক; তারা যেন বিচারের বন্যার জলে ডুবে না যায়।
PSA 32:7 তুমি আমার আশ্রয়স্থল; তুমি আমাকে বিপদ থেকে সুরক্ষিত করবে এবং মুক্তির গানে আমাকে চারপাশে ঘিরে রাখবে।
PSA 32:8 সদাপ্রভু বলেন, “আমি তোমাকে উপদেশ দেব এবং উপযুক্ত পথে চলতে তোমাকে শিক্ষা দেবো; তোমার উপর প্রেমময় দৃষ্টি রেখে আমি তোমাকে পরামর্শ দেবো।
PSA 32:9 তোমরা ঘোড়া বা খচ্চরের মতো হোয়ো না, যাদের বোধশক্তি নেই কিন্তু যাদের বল্গা ও লাগাম দিয়ে বশে রাখতে হয়, নইলে তারা তোমার কাছে আসে না।”
PSA 32:10 দুষ্টের অনেক দুর্দশা হয়, কিন্তু সদাপ্রভুর অবিচল প্রেম সেই ব্যক্তিকে ঘিরে রাখে যে তাঁর উপর নির্ভর করে।
PSA 32:11 হে ধার্মিক, সদাপ্রভুতে আনন্দ করো ও উল্লাস করো; তোমরা যারা অন্তরে ন্যায়পরায়ণ, আনন্দধ্বনি করো।
PSA 33:1 হে ধার্মিকেরা, সদাপ্রভুর আনন্দধ্বনি করো; তাঁর প্রশংসা করা ন্যায়পরায়ণদের উপযুক্ত।
PSA 33:2 তোমরা বীণাতে সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; দশতন্ত্রী সুরবাহারে তাঁর উদ্দেশে সংগীত করো।
PSA 33:3 তাঁর উদ্দেশে নতুন গান গাও; নিপুণ হাতে বাজাও ও আনন্দধ্বনি করো।
PSA 33:4 সদাপ্রভুর বাক্য সঠিক ও সত্য; তিনি যা কিছু করেন সবকিছুতেই বিশ্বস্ত।
PSA 33:5 সদাপ্রভু ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা ভালোবাসেন; পৃথিবী তাঁর অবিচল প্রেমে পূর্ণ।
PSA 33:6 সদাপ্রভুর বাক্যে আকাশমণ্ডল সৃষ্টি হয়েছিল, তাঁর মুখের নিঃশ্বাসে তারকারাশি তৈরি হয়েছিল।
PSA 33:7 তিনি সমুদ্রের সীমানা নির্দিষ্ট করেন এবং মহাসমুদ্রের জলরাশি জলাধারে সঞ্চিত করেন।
PSA 33:8 সমস্ত পৃথিবী সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করুক; জগতের সব লোক তাঁর সমাদর করুক।
PSA 33:9 কারণ তিনি কথা বললেন, আর সৃষ্টি হল; তিনি আদেশ দিলেন আর স্থিতি হল।
PSA 33:10 জাতিদের পরিকল্পনা সদাপ্রভু ব্যর্থ করেন; মানুষের সব সংকল্প তিনি বিফল করেন।
PSA 33:11 কিন্তু সদাপ্রভুর পরিকল্পনা চিরস্থায়ী হয়, তাঁর হৃদয়ের উদ্দেশ্য বংশের পর বংশ স্থায়ী হয়।
PSA 33:12 ধন্য সেই জাতি, যার ঈশ্বর সদাপ্রভু, সেই সমাজ যাকে তিনি তাঁর অধিকারের জন্য মনোনীত করেছেন।
PSA 33:13 স্বর্গ থেকে সদাপ্রভু দৃষ্টিপাত করেন এবং সমগ্র মানবজাতিকে দেখেন;
PSA 33:14 যারা পৃথিবীতে বসবাস করে তাদের তিনি নিজের বাসস্থান থেকে লক্ষ্য করেন।
PSA 33:15 তিনি তাদের হৃদয় তৈরি করেছেন, তাই তারা যা কিছু করে তিনি সব বুঝতে পারেন।
PSA 33:16 কোনো রাজা তার সৈন্যদলের আকারে রক্ষা পায় না; কোনো যোদ্ধা নিজের শক্তিবলে পালাতে পারে না।
PSA 33:17 জয়লাভের জন্য নিজের ঘোড়ার উপর নির্ভর কোরো না, বিপুল সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা তোমাকে রক্ষা করতে পারে না।
PSA 33:18 কিন্তু সদাপ্রভুর দৃষ্টি তাদের প্রতি আবদ্ধ যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে আর যারা তাঁর অবিচল প্রেমে আস্থা রাখে,
PSA 33:19 তিনি মৃত্যু থেকে তাদের উদ্ধার করেন, এবং দুর্ভিক্ষের সময় তাদের প্রাণরক্ষা করেন।
PSA 33:20 আমরা সদাপ্রভুর প্রতীক্ষায় আছি; তিনি আমাদের সহায় ও আমাদের ঢাল।
PSA 33:21 আমাদের হৃদয় সদাপ্রভুতে আনন্দ করে, কারণ আমরা তাঁর পবিত্র নামে আস্থা রাখি।
PSA 33:22 হে সদাপ্রভু, তোমার অবিচল প্রেম আমাদের উপর বিরাজ করুক, কারণ তোমার উপরেই আমরা আশা করি।
PSA 34:1 দাউদের গীত। যখন তিনি অবীমেলকের সামনে পাগলামির ভান করেছিলেন তখন অবীমেলক তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর দাউদ চলে গিয়েছিলেন। আমি সর্বদা সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করব; তাঁর প্রশংসা সর্বদা আমার মুখে থাকবে।
PSA 34:2 আমি সদাপ্রভুতে গর্ব করব; যারা পীড়িত তারা শুনুক ও আনন্দ করুক।
PSA 34:3 আমার সঙ্গে সদাপ্রভুর মহিমাকীর্তন করো; এসো, আমরা সবাই তাঁর নামের জয়গান করি।
PSA 34:4 আমি সদাপ্রভুর অন্বেষণ করেছি আর তিনি আমাকে উত্তর দিয়েছেন; আমার সব আশঙ্কা থেকে তিনি আমাকে মুক্ত করেছেন।
PSA 34:5 যারা তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে, তারা দীপ্তিমান হয়; তাদের মুখ কখনও লজ্জায় আবৃত হবে না।
PSA 34:6 এই দুঃখী ডাকল, আর সদাপ্রভু শুনলেন; তিনি তাকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করলেন।
PSA 34:7 কারণ সদাপ্রভুর দূত এক পাহারাদার; তিনি ঘিরে রাখেন এবং তাদের সবাইকে রক্ষা করেন যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে।
PSA 34:8 আস্বাদন করো ও দেখো, সদাপ্রভু মঙ্গলময়; ধন্য সেই ব্যক্তি যে তাঁতে আশ্রয় নেয়।
PSA 34:9 হে তাঁর পবিত্র মানুষজন, সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করো, কারণ যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে তাদের কোনও কিছুর অভাব হয় না।
PSA 34:10 সিংহও দুর্বল ও ক্ষুধার্ত হয়, কিন্তু যারা সদাপ্রভুর অন্বেষণ করে, তাদের কোনো মঙ্গলের অভাব হয় না।
PSA 34:11 এসো আমার সন্তানেরা, আমার কথা শোনো; আমি তোমাকে সদাপ্রভুর সম্ভ্রম শিক্ষা দেবো।
PSA 34:12 তোমাদের মধ্যে যে জীবন ভালোবাসে এবং বিস্তর ভালো দিন দেখতে চায়,
PSA 34:13 তোমার জিভ মন্দ থেকে সংযত রাখো এবং মিথ্যা বাক্য থেকে মুখ সাবধানে রাখো।
PSA 34:14 মন্দ থেকে মন ফেরাও আর সৎকর্ম করো; শান্তির সন্ধান করো ও তা অনুসরণ করো।
PSA 34:15 সদাপ্রভুর দৃষ্টি ধার্মিকদের প্রতি রয়েছে, এবং তাদের আর্তনাদে তিনি কর্ণপাত করেন;
PSA 34:16 কিন্তু সদাপ্রভুর মুখ তাদের বিরুদ্ধে যারা দুষ্কর্ম করে, তিনি তাদের স্মৃতি পৃথিবী থেকে মুছে ফেলবেন।
PSA 34:17 ধার্মিকরা কেঁদে ওঠে, আর সদাপ্রভু শোনেন; তিনি তাদের সব সংকট থেকে মুক্ত করেন।
PSA 34:18 সদাপ্রভু ভগ্নচিত্তদের নিকটবর্তী, এবং যারা অন্তরে চূর্ণবিচূর্ণ, তাদের তিনি উদ্ধার করেন।
PSA 34:19 ধার্মিক ব্যক্তি অনেক দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়, কিন্তু সদাপ্রভু তাকে সেইসব থেকে মুক্ত করেন;
PSA 34:20 তিনি ধার্মিকের হাড়গোড় রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে একটিও ভাঙে না।
PSA 34:21 দুষ্কর্মই দুষ্টকে বিনাশ করবে; ধার্মিকের শত্রুরা শাস্তি পাবে।
PSA 34:22 সদাপ্রভু তাঁর দাসদের মুক্ত করবেন; যারা তাঁর শরণাগত, তাদের কেউই দোষী সাব্যস্ত হবে না।
PSA 35:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, যারা আমার সঙ্গে বিবাদ করে, তাদের সঙ্গে তুমি বিবাদ করো; যারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদের বিরুদ্ধে তুমি যুদ্ধ করো।
PSA 35:2 ঢাল ও বর্ম পরিধান করো; ওঠো, আর আমার সাহায্যের জন্য এসো।
PSA 35:3 যারা আমাকে ধাওয়া করে তাদের বিরুদ্ধে বর্শা ও বল্লম তুলে নাও। আমাকে বলো, “আমিই তোমার পরিত্রাণ।”
PSA 35:4 যারা আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করে তারা অপমানিত হোক ও লজ্জায় নত হোক; যারা আমার ধ্বংসের চক্রান্ত করে তারা হতাশায় ফিরে যাক।
PSA 35:5 বাতাসে তুষের মতো ওদের অবস্থা হোক, সদাপ্রভুর দূত তাদের বিতাড়িত করুক;
PSA 35:6 তাদের চলার পথ অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পিচ্ছিল হোক, আর সদাপ্রভুর দূত তাদের পিছনে ধাওয়া করুক।
PSA 35:7 যেহেতু ওরা অকারণে আমার জন্য গোপন ফাঁদ পেতেছে, আর অকারণেই আমার জন্য গর্ত খুঁড়েছে,
PSA 35:8 অতর্কিতে তাদের উপর যেন ধ্বংস নেমে আসে— ওদের পাতা গোপন ফাঁদে যেন ওরা নিজেরাই ধরা পড়ে, ওদের খোঁড়া গর্তে যেন ওরা পড়ে আর ধ্বংস হয়।
PSA 35:9 তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমার প্রাণ আনন্দিত হবে, আর তাঁর পরিত্রাণে উল্লসিত হবে।
PSA 35:10 আমার সমগ্র সত্তা বলবে, “তোমার মতো কে আছে, হে সদাপ্রভু? তুমি শক্তিমানের হাত থেকে দুর্বলকে রক্ষা করো, লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে দুর্বল ও দরিদ্রদের রক্ষা করো।”
PSA 35:11 দুষ্ট সাক্ষীর দল এগিয়ে আসছে; আমার অজানা বিষয় নিয়ে তারা আমাকে প্রশ্ন করে।
PSA 35:12 উপকারের প্রতিদানে ওরা আমার অপকার করে, আমি শোকার্ত হয়ে রইলাম।
PSA 35:13 কিন্তু ওরা যখন পীড়িত ছিল, আমি দুঃখে তখন চট পরেছিলাম, উপবাস করে নিজেকে নম্র করেছিলাম, কিন্তু আমার প্রার্থনা নিরুত্তর হয়ে আমার কাছে ফিরে এল।
PSA 35:14 আমি শোকার্ত হয়ে রইলাম, যেন তারা আমার বন্ধু বা পরিবার ছিল, বিষাদে আমি মাথা নত করেছিলাম যেন আমি নিজের মায়ের শোকে বিলাপ করছিলাম।
PSA 35:15 কিন্তু যখন আমি হোঁচট খেলাম, তখন ওরা আনন্দে সমবেত হল, আক্রমণকারীরা আমার অজান্তে আমার বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হল। ক্ষান্ত না হয়ে তারা আমাকে বিদীর্ণ করল।
PSA 35:16 অধার্মিকের মতো তারা আমাকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে, তারা আমার প্রতি দন্তঘর্ষণ করে।
PSA 35:17 আর কত কাল, হে প্রভু, তুমি নীরবে দেখবে? ওদের হিংস্র আক্রমণ থেকে আমাকে রক্ষা করো, ওইসব সিংহের গ্রাস থেকে আমার জীবন বাঁচাও।
PSA 35:18 মহাসমাবেশে আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাব; অগণিত মানুষের মাঝে আমি তোমার প্রশংসা করব।
PSA 35:19 যারা অকারণে আমার শত্রু হয়েছে তারা যেন আমার পরাজয়ে উল্লসিত না হয়; যারা অকারণে আমায় ঘৃণা করে তারা যেন পরহিংসায় আমার প্রতি কটাক্ষ না করে।
PSA 35:20 তারা শান্তির কথা বলে না; কিন্তু যারা জগতে শান্তিতে বসবাস করে তাদেরই বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রচনা করে।
PSA 35:21 তারা আমার প্রতি অবজ্ঞা করে আর বলে, “হা! হা! আমরা নিজেদের চোখে এসব দেখেছি।”
PSA 35:22 হে সদাপ্রভু, তুমি সবই দেখেছ, তুমি নীরব থেকো না। হে প্রভু, তুমি আমার কাছ থেকে দূরে থেকো না।
PSA 35:23 জেগে ওঠো এবং আমায় সমর্থন করো! আমার পক্ষে দাঁড়াও, হে আমার ঈশ্বর ও প্রভু।
PSA 35:24 তোমার ধার্মিকতায় আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করো, হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর; আমাকে নিয়ে তাদের উল্লাস করতে দিয়ো না।
PSA 35:25 তাদের ভাবতে দিয়ো না, “আহা! আমরা যা চেয়েছি, তাই ঘটেছে!” অথবা না বলে, “আমরা ওকে গ্রাস করেছি।”
PSA 35:26 যারা আমার দুর্দশায় উল্লসিত হয় তারা যেন লজ্জিত ও অপমানিত হয়; যারা আমার উপরে নিজেদের উন্নত করে তারা সবাই যেন লজ্জায় ও অসম্মানে আবৃত হয়।
PSA 35:27 যারা আমার নির্দোষিতা প্রমাণে আনন্দ পায়, তারা আনন্দধ্বনি করুক, আহ্লাদিত হোক; তারা সর্বক্ষণ বলুক, “সদাপ্রভু মহিমান্বিত হোন, যিনি তাঁর দাসের কল্যাণে নিত্য আনন্দিত।”
PSA 35:28 আমার জিভ তোমার ধার্মিকতা প্রচার করবে, সারাদিন তোমার প্রশংসাগান গাইবে।
PSA 36:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। সদাপ্রভুর দাস দাউদের গীত। দুষ্টদের অপরাধ সম্পর্কে আমার হৃদয়ে এক প্রত্যাদেশ আছে: তাদের চোখে ঈশ্বরভয় নেই।
PSA 36:2 তারা নিজেদের দৃষ্টিতে নিজেদের তোষামোদ করে, ভাবে যে তাদের অপরাধ ধরা পড়বে না বা নিন্দিত হবে না।
PSA 36:3 তাদের মুখের কথা দুষ্টতা ও ছলনায় ভরা, তারা জ্ঞান ও সদাচরণ ত্যাগ করেছে।
PSA 36:4 এমনকি তাদের বিছানায় শুয়েও তারা মন্দ পরিকল্পনা করে, অসৎ পথে তারা নিজেদের চালনা করে এবং যা মন্দ তা পরিত্যাগ করে না।
PSA 36:5 হে সদাপ্রভু, তোমার প্রেম গগনচুম্বী, তোমার বিশ্বস্ততা গগনস্পর্শী।
PSA 36:6 তোমার ধার্মিকতা মহান পর্বতের তুল্য, তোমার ন্যায়বিচার অতল জলধির মতো। তুমি, হে সদাপ্রভু, মানুষ ও পশুকে বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 36:7 হে ঈশ্বর, তোমার অবিচল প্রেম কত অমূল্য! মানুষ তোমার পক্ষছায়ায় আশ্রয় নেয়।
PSA 36:8 তোমার গৃহের প্রাচুর্যে তারা পরিতৃপ্ত হয়, তোমার আনন্দ-নদীর জল তুমি তাদের পান করিয়ে থাকো।
PSA 36:9 কারণ তোমাতেই আছে জীবনের উৎস, তোমার আলোতে আমরা আলো দেখি।
PSA 36:10 যারা তোমাকে জানে, তাদের প্রতি তোমার প্রেম, এবং ন্যায়পরায়ণদের প্রতি তোমার ধর্মশীলতা, স্থায়ী করো।
PSA 36:11 অহংকারীর চরণ যেন আমার বিরুদ্ধে না আসে, দুষ্টদের হাত যেন আমাকে বিতাড়িত না করে।
PSA 36:12 দেখো, অনিষ্টকারীদের দল লুটিয়ে পড়েছে ভূমিতে পতিত হয়েছে, তাদের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি নেই।
PSA 37:1 দাউদের গীত। যারা দুষ্ট তাদের দিকে তাকিয়ে বিচলিত হোয়ো না যারা মন্দ কাজ করে তাদের দেখে ঈর্ষা কোরো না;
PSA 37:2 কারণ ঘাসের মতো তারা অচিরেই শুকিয়ে যাবে, সবুজ লতার মতো তারা অচিরেই বিনষ্ট হবে।
PSA 37:3 সদাপ্রভুতে আস্থা রাখো আর সদাচরণ করো; এই দেশে বসবাস করো আর নিরাপদ আশ্রয় উপভোগ করো।
PSA 37:4 সদাপ্রভুতে আনন্দ করো, তিনিই তোমার মনের অভিলাষ পূর্ণ করবেন।
PSA 37:5 তোমার চলার পথ সদাপ্রভুতে সমর্পণ করো; তাঁর উপর নির্ভর করো আর তিনি এসব করবেন:
PSA 37:6 তিনি তোমার ধার্মিকতার পুরস্কার ভোরের মতো, আর তোমার সততা মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো উজ্জ্বল করবেন।
PSA 37:7 সদাপ্রভুর সামনে নীরব হও, ধৈর্য ধরে তাঁর প্রতীক্ষায় থাকো; যখন দুষ্ট ব্যক্তিরা তাদের জীবনে সফল হয়, যখন তারা তাদের মন্দ পরিকল্পনা কার্যকর করে, তখন বিচলিত হোয়ো না।
PSA 37:8 রাগ থেকে দূরে থাকো আর ক্রোধ থেকে মুখ ফেরাও; বিচলিত হোয়ো না, তা কেবল মন্দের দিকে নিয়ে যায়।
PSA 37:9 কারণ যারা দুষ্ট তারা ধ্বংস হবে, কিন্তু যারা সদাপ্রভুতে আশা রাখে তারা দেশের অধিকারী হবে।
PSA 37:10 আর কিছুকাল পরেই দুষ্টদের অস্তিত্ব লোপ পাবে; তুমি তাদের খোঁজ করতে পারো কিন্তু তাদের পাওয়া যাবে না।
PSA 37:11 কিন্তু যারা নম্র তারা দেশের অধিকারী হবে, এবং শান্তি ও প্রাচুর্য উপভোগ করবে।
PSA 37:12 যারা দুষ্ট তারা ধার্মিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে আর তাদের প্রতি ক্রোধে দন্তঘর্ষণ করে;
PSA 37:13 কিন্তু সদাপ্রভু দুষ্টদের দিকে তাকিয়ে হাসেন কারণ তিনি জানেন যে তাদের দিন ঘনিয়ে আসছে।
PSA 37:14 দুষ্টেরা তরোয়াল বের করে, আর ধনুকে গুণ পরায় কারণ তারা দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের বিনাশ করতে চায়, যারা ন্যায়পরায়ণ তাদের হত্যা করতে চায়।
PSA 37:15 কিন্তু তাদের তরোয়ালগুলি তাদের নিজেদের হৃদয় বিদ্ধ করবে, আর তাদের ধনুকও চূর্ণ হবে।
PSA 37:16 বহু দুষ্টের ঐশ্বর্যের চেয়ে ধার্মিকের সামান্য সম্বল শ্রেয়;
PSA 37:17 কারণ দুষ্টদের ক্ষমতা চূর্ণ হবে, কিন্তু সদাপ্রভু ধার্মিকদের ধারণ করেন।
PSA 37:18 দিনের পর দিন সদাপ্রভু নির্দোষদের রক্ষা করেন আর তারা এমন এক অধিকার পাবে যা চিরস্থায়ী হবে।
PSA 37:19 সংকটকালে তারা শুকিয়ে যাবে না; দুর্ভিক্ষের দিনে তারা প্রাচুর্য উপভোগ করবে।
PSA 37:20 কিন্তু দুষ্টেরা বিনষ্ট হবে: যদিও সদাপ্রভুর শত্রুরা মাঠের ফুলের মতো, তাদের গ্রাস করা হবে, আর তারা ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যাবে।
PSA 37:21 দুষ্টেরা ঋণ নেয় কিন্তু পরিশোধ করে না, কিন্তু ধার্মিকেরা উদারতার সাথে দান করে;
PSA 37:22 যাদের সদাপ্রভু আশীর্বাদ করেন তারা দেশের অধিকারী হবে, কিন্তু যাদের তিনি অভিশাপ দেন তারা ধ্বংস হবে।
PSA 37:23 যে ব্যক্তি সদাপ্রভুতে আমোদ করে সদাপ্রভু তার পদক্ষেপ সুদৃঢ় করেন;
PSA 37:24 হোঁচট খেলেও তার পতন হবে না, কারণ সদাপ্রভু তাকে স্বহস্তে ধরে রাখেন।
PSA 37:25 আমি তরুণ ছিলাম এবং এখন প্রবীণ হয়েছি, কিন্তু আমি দেখিনি যে ধার্মিকদের পরিত্যাগ করা হয়েছে অথবা তাদের ছেলেমেয়েরা ভিক্ষা করছে।
PSA 37:26 তারা সর্বদা উদার ও মুক্তহস্তে ঋণ দান করে, তাদের ছেলেমেয়েরা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়।
PSA 37:27 মন্দতা বর্জন করো আর সৎকাজ করো; তাহলে চিরকাল তোমরা দেশে বসবাস করবে।
PSA 37:28 কারণ সদাপ্রভু ন্যায়পরায়ণকে ভালোবাসেন আর তিনি তাঁর বিশ্বস্তজনেদের পরিত্যাগ করবেন না। তারা চিরতরে রক্ষিত হবে; কিন্তু দুষ্টদের ছেলেমেয়েরা বিনষ্ট হবে।
PSA 37:29 ধার্মিকেরাই দেশের অধিকারী হবে এবং তারা চিরকাল সেখানে বসবাস করবে।
PSA 37:30 ধার্মিকদের মুখ জ্ঞানের কথা বলে, তাদের জিভ যা ন্যায্য তাই বলে।
PSA 37:31 তাদের ঈশ্বরের বিধান তাদের অন্তরে আছে; আর তাদের পা পিছলায় না।
PSA 37:32 যে দুষ্ট সে ধার্মিকদের পথ গোপনে লক্ষ্য রাখে, সে তাদের হত্যা করার চেষ্টা করে,
PSA 37:33 কিন্তু সদাপ্রভু তাদের দুষ্টদের হাতে ছেড়ে দেবেন না বা তাদের বিচারে নিয়ে আসা হলে দোষী সাব্যস্ত হতে দেবেন না।
PSA 37:34 সদাপ্রভুর আশায় থাকো আর তাঁর পথে অগ্রসর হও। তিনি তোমাকে দেশের অধিকার দেবার জন্য উন্নীত করবেন; যখন দুষ্টেরা ধ্বংস হবে, তোমরা দেখতে পাবে।
PSA 37:35 আমি দুষ্ট ও নিষ্ঠুর ব্যক্তিদের দেখেছি স্বভূমিতে সতেজ গাছের মতো প্রসারিত হতে দেখেছি,
PSA 37:36 কিন্তু আবার যখন দৃষ্টিপাত করেছি, তারা নিশ্চিহ্ন হয়েছে; আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
PSA 37:37 নির্দোষদের কথা ভাবো, ন্যায়পরায়ণদের প্রতি দৃষ্টিপাত করো; যারা শান্তি খোঁজে তাদের এক ভবিষ্যৎ আছে,
PSA 37:38 কিন্তু পাপীরা সবাই ধ্বংস হবে; দুষ্টদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই।
PSA 37:39 ধার্মিকদের পরিত্রাণ সদাপ্রভুর কাছ থেকেই আসে; সংকটকালে তিনিই তাদের আশ্রয় দুর্গ।
PSA 37:40 সদাপ্রভু তাদের সাহায্য করেন ও তাদের উদ্ধার করেন; তিনি তাদের দুষ্টদের কবল থেকে উদ্ধার করেন ও মুক্ত করেন, কারণ তারা যে তাঁরই শরণাগত।
PSA 38:1 দাউদের গীত। একটি প্রার্থনা। হে সদাপ্রভু, তোমার রাগে আমাকে তিরস্কার কোরো না ক্রোধে আমাকে শাসন কোরো না।
PSA 38:2 তোমার তিরগুলি আমাকে বিদ্ধ করেছে, এবং তোমার হাত আমার উপর নেমে এসেছে।
PSA 38:3 তোমার রোষে আমার সারা শরীর জীর্ণ হয়েছে; আমার পাপের জন্য আমার হাড়গোড়ে কোনো শক্তি নেই।
PSA 38:4 আমার দোষভার আমাকে বিচলিত করেছে তা এমন এক বোঝা যা বহন করা খুবই কষ্টকর।
PSA 38:5 আমার পাপের মূর্খতায় আমার দেহের ক্ষতস্থানগুলি আজ দূষিত ও দুর্গন্ধময় হয়েছে।
PSA 38:6 আমি আজ অবনত হয়েছি ও অত্যন্ত মনমরা হয়ে পড়েছি; বিষণ্ণতায় আমার সারাদিন কাটছে।
PSA 38:7 এক তীব্র যন্ত্রণা আমার দেহকে জীর্ণ করেছে; আমার প্রাণে কোনও স্বাস্থ্য নেই।
PSA 38:8 আমি জীর্ণ ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছি, তীব্র মনোবেদনায় আমি হাহাকার করছি।
PSA 38:9 হে প্রভু, আমার সমস্ত কামনা তোমার সামনে উন্মুক্ত, আমার দীর্ঘশ্বাস তোমার কাছে গুপ্ত নয়।
PSA 38:10 আমার হৃদয় কম্পিত, আমার শক্তি নিঃশেষ হয়েছে, আমার চোখ থেকে আমার দৃষ্টি হারিয়েছে।
PSA 38:11 আমার রোগের জন্য আমার বন্ধু ও প্রিয়জনেরা আমাকে ত্যাগ করেছে, আমার প্রতিবেশীরাও আমার থেকে দূরে থাকে।
PSA 38:12 যারা আমার প্রাণ নিতে চায় তারা আমার জন্য ফাঁদ পেতেছে, যারা আমার অনিষ্ট করতে চায় তারা আমার ধ্বংসের কথা বলে; সারাদিন ধরে তারা ছলনার ষড়যন্ত্র করে।
PSA 38:13 আমি বধিরের মতো হয়েছি যে কানে শুনতে পারে না, বোবার মতো হয়েছি যে কথা বলতে পারে না।
PSA 38:14 আমি এমন এক ব্যক্তির মতো হয়েছি যে কিছুই শুনতে পারে না, যার মুখ কোনো উত্তর দিতে পারে না।
PSA 38:15 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার অপেক্ষায় আছি; তুমি আমায় উত্তর দেবে, হে প্রভু আমার ঈশ্বর।
PSA 38:16 আমি প্রার্থনা করি, “আমার শত্রুরা যেন আমার পতনে আমাকে নিয়ে উল্লাস না করে বা আনন্দ না করে।”
PSA 38:17 আমার পতন আসন্ন, আর যন্ত্রণা প্রতিনিয়ত আমার সঙ্গী।
PSA 38:18 আমি আমার অপরাধ স্বীকার করি; আমার পাপের জন্য আমি অত্যন্ত অনুতপ্ত।
PSA 38:19 অনেকে অকারণে আমার শত্রু হয়েছে, অসংখ্য লোক অকারণে আমাকে ঘৃণা করে।
PSA 38:20 যারা আমার উপকারের বিনিময়ে অপকার করে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসে, যদিও আমি ভালো করারই চেষ্টা করি।
PSA 38:21 হে সদাপ্রভু, আমাকে পরিত্যাগ কোরো না; হে আমার ঈশ্বর, তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে থেকো না।
PSA 38:22 হে আমার প্রভু ও আমার রক্ষাকর্তা, তাড়াতাড়ি এসে আমাকে সাহায্য করো।
PSA 39:1 যিদূথূন, সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমি নিজেকে বললাম, “আমি আমার চলার পথে সতর্ক হব আর নিজের জিভকে পাপ থেকে সংযত রাখব; দুষ্টদের উপস্থিতিতে নিজের মুখ সংবরণ করে রাখব।”
PSA 39:2 তাই আমি সম্পূর্ণ নীরব রইলাম, এমনকি সৎকথাও উচ্চারণ করলাম না। কিন্তু আমার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেল;
PSA 39:3 আমার হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে উঠল। আমি যত এই বিষয় নিয়ে ভাবলাম আমার মনের আগুন ততই জ্বলে উঠল; তখন আমি জিভ দিয়ে বললাম:
PSA 39:4 “হে সদাপ্রভু, আমার জীবনের সমাপ্তি আমাকে দেখাও আমাকে মনে করিয়ে দাও যে আমার জীবনের দিনগুলি সীমিত; আমাকে বোঝাও আমার জীবন কত ক্ষণস্থায়ী।
PSA 39:5 তুমি আমার জীবনের আয়ু আমার হাতের মুঠোর মতো ছোটো করেছ; আমার সম্পূর্ণ জীবনকাল তোমার কাছে কিছুই নয়। সবাই তোমার কাছে নিঃশ্বাসের সমান, এমনকি তারাও যাদের সুরক্ষিত মনে হয়।
PSA 39:6 “সবাই সামান্য চলমান ছায়ার মতো; বৃথাই তারা ব্যস্ত, সম্পদ সঞ্চয়ে ব্যতিব্যস্ত কিন্তু জানে না, কে এই সম্পদ ভোগ করবে।
PSA 39:7 “কিন্তু এখন, হে সদাপ্রভু, আমি কীসের আশায় থাকব? আমার আশা একমাত্র তোমাতেই।
PSA 39:8 আমার সব অপরাধ থেকে আমায় মুক্ত করো, আমাকে মূর্খদের উপহাসের পাত্র কোরো না।
PSA 39:9 আমি তোমার সামনে নীরব রইলাম; মুখ খুললাম না, কারণ আমার শাস্তি তোমার কাছ থেকেই আসে।
PSA 39:10 আমার প্রতি তোমার আঘাত ক্ষান্ত করো; তোমার হাতের আঘাতে আমি জর্জরিত।
PSA 39:11 যখন তুমি কাউকে তার পাপের জন্য তিরস্কার ও শাসন করো, কীটের মতো তাদের সম্পত্তি তুমি গ্রাস করো, সত্যি সকলে নিঃশ্বাসের মতোই ক্ষণস্থায়ী।
PSA 39:12 “হে সদাপ্রভু, আমার প্রার্থনা শোনো, আমার সাহায্যের প্রার্থনায় কর্ণপাত করো; আমার চোখের জলে বধির হয়ে থেকো না। কারণ আমি তোমার কাছে বিদেশির মতো, আমার পিতৃপুরুষদের মতোই আমি প্রবাসী।
PSA 39:13 আমার জীবন শেষ হওয়ার আগে আমার উপর থেকে তোমার ক্রোধের দৃষ্টি সরাও, যেন আমি আবার জীবন উপভোগ করতে পারি।”
PSA 40:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমি ধৈর্যসহ সদাপ্রভুর প্রতীক্ষায় ছিলাম; তিনি আমার প্রতি মনোযোগ দিলেন আর আমার প্রার্থনা শুনলেন।
PSA 40:2 তিনি হতাশার গহ্বর থেকে আমাকে টেনে তুললেন, কাদা এবং পাঁক থেকে; তিনি এক শৈলের উপর আমার পা স্থাপন করলেন এবং আমাকে দাঁড়াবার জন্য এক সুদৃঢ় স্থান দিলেন।
PSA 40:3 তিনি আমার মুখে এক নতুন গান দিলেন, আমাদের ঈশ্বরের জন্য এক প্রশংসার গীত দিলেন। অনেকে এসব দেখবে আর সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করবে আর তাঁর উপর আস্থা স্থাপন করবে।
PSA 40:4 ধন্য সেই ব্যক্তি যে সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখে, যে দাম্ভিকের উপর নির্ভর করে না, বা ভুয়ো দেবতার আরাধনাকারীদের উপর নির্ভর করে না।
PSA 40:5 হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, প্রচুর তোমার অলৌকিক কাজ, প্রচুর তোমার পরিকল্পনা আমাদের জন্য। তোমার মতো কেউ নেই; যদি আমি তোমার সব কাজ বলতে শুরু করি, কিন্তু সে সব কোনোভাবেই গোনা যাবে না।
PSA 40:6 তুমি বলিদানে ও নৈবেদ্যে প্রীত নও, কিন্তু তুমি আমার কান খুলে দিয়েছ, আর আমি বুঝতে পেরেছি— হোমবলি বা পাপার্থক বলি তুমি চাওনি।
PSA 40:7 তখন আমি বললাম, “এই দেখো, আমি এসেছি, শাস্ত্রে আমার বিষয়ে লেখা আছে।
PSA 40:8 আমি তোমার ইচ্ছা পালন করতে চাই, হে ঈশ্বর; তোমার বিধিনিয়ম আমার হৃদয়ে আছে।”
PSA 40:9 তোমার সব লোককে আমি তোমার ন্যায়বিচারের কথা বলেছি, আমি আমার মুখ বন্ধ করিনি, হে সদাপ্রভু, এসব তুমি জানো।
PSA 40:10 তোমার ধর্মশীলতার কথা আমি হৃদয়ে লুকিয়ে রাখিনি; আমি তোমার বিশ্বস্ততা ও পরিত্রাণ ঘোষণা করেছি। তোমার প্রেম ও বিশ্বস্ততা মহাসমাবেশ থেকে আমি লুকিয়ে রাখিনি।
PSA 40:11 হে সদাপ্রভু, তোমার করুণা থেকে আমাকে বঞ্চিত কোরো না, তোমার প্রেম ও বিশ্বস্ততা আমাকে সর্বদা সুরক্ষিত করুক।
PSA 40:12 দেখো, অগণিত অশান্তি আমাকে চারিদিকে ঘিরে রেখেছে; আমার সব অপরাধ আমাকে ধরেছে, আমি কোনো পথ দেখতে পাই না, সেগুলি আমার মাথার চুলের থেকেও বেশি, এবং আমি সমস্ত সাহস হারিয়েছি।
PSA 40:13 প্রসন্ন হও, হে সদাপ্রভু, আর আমাকে উদ্ধার করো; তাড়াতাড়ি এসো, হে সদাপ্রভু, আর আমাকে সাহায্য করো।
PSA 40:14 যারা আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করে তারা যেন লজ্জিত ও অপমানিত হয়; যারা আমার ধ্বংস কামনা করে, তারা যেন লাঞ্ছনায় পিছু ফিরে যায়।
PSA 40:15 যারা আমাকে বলে, “হা! হা!” তারা যেন নিজেদের লজ্জাতে হতভম্ব হয়।
PSA 40:16 কিন্তু যারা তোমার অন্বেষণ করে তারা তোমাতে আনন্দ করুক ও খুশি হোক; যারা তোমার পরিত্রাণ ভালোবাসে, তারা সর্বদা বলুক, “সদাপ্রভু মহান!”
PSA 40:17 কিন্তু দেখো, আমি দরিদ্র ও অভাবী; প্রভু আমার কথা চিন্তা করুক; তুমি আমার সহায় ও আমার রক্ষাকর্তা; তুমি আমার ঈশ্বর, দেরি কোরো না।
PSA 41:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। ধন্য সেই ব্যক্তি, যে দীনহীনদের জন্য চিন্তা করে; সংকটের দিনে সদাপ্রভু তাদের উদ্ধার করেন।
PSA 41:2 সদাপ্রভু তাকে রক্ষা করেন আর জীবিত রাখেন— তিনি তাদের দেশে তাদের সমৃদ্ধি দেন— সদাপ্রভু তাকে তার শত্রুদের ইচ্ছায় সমর্পণ করেন না।
PSA 41:3 সদাপ্রভু রোগশয্যায় তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং অসুস্থতার বিছানা থেকে তাকে সুস্থ করবেন।
PSA 41:4 আমি বলি “হে সদাপ্রভু, আমার প্রতি দয়া করো; আমাকে সুস্থ করো, কারণ আমি তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি।”
PSA 41:5 আক্রোশে আমার শত্রুরা আমার সম্বন্ধে বলে, “কখন তার মৃত্যু হবে ও তার নাম লুপ্ত হবে?”
PSA 41:6 যখন তাদের মধ্যে কেউ আমাকে দেখতে আসে, সে হৃদয়ে আমার সম্বন্ধে কুৎসা সঞ্চয় করে এবং মুখে মিথ্যা বলে, পরে সে চলে যায় এবং এসব সর্বত্র রটিয়ে দেয়।
PSA 41:7 আমার শত্রুরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ফিসফিস করে; তারা আমার অনিষ্ট কল্পনা করে, আর বলে,
PSA 41:8 “সর্বনাশা এক ব্যাধি তাকে আক্রমণ করেছে; সে তার রোগশয্যা ছেড়ে কখনও উঠতে পারবে না?”
PSA 41:9 এমনকি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, এবং যে আমার খাবার ভাগ করে খেয়েছিল, সে আমার বিপক্ষে গেছে!
PSA 41:10 কিন্তু তুমি, হে সদাপ্রভু, আমার প্রতি দয়া করো, আবার আমাকে সুস্থ করো, যেন আমি তাদের প্রতিফল দিতে পারি।
PSA 41:11 আমি জানি যে তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন, কারণ আমার শত্রু আমার উপর বিজয়ী হয় না।
PSA 41:12 আমার সততার কারণে তুমি আমার জীবন বাঁচিয়ে রেখেছ, আমাকে তোমার উপস্থিতিতে চিরকালের জন্য নিয়ে এসেছ।
PSA 41:13 ধন্য সদাপ্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
PSA 42:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের মস্কীল। হরিণী যেমন জলস্রোতের আকাঙ্ক্ষা করে, হে ঈশ্বর, তেমনি আমার প্রাণ তোমার আকাঙ্ক্ষা করে।
PSA 42:2 ঈশ্বরের জন্য, জীবিত ঈশ্বরের জন্য, আমার প্রাণ তৃষ্ণার্ত। কখন আমি গিয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি?
PSA 42:3 দিনে ও রাতে আমার চোখের জল আমার খাবার হয়েছে কারণ লোকেরা সারাদিন আমাকে বলে, “তোমার ঈশ্বর কোথায়?”
PSA 42:4 যখন আমি আমার প্রাণ ঢেলে দিই তখন আমি এইসব স্মরণ করি: আমি উপাসকদের ভিড়ের মধ্যে হাঁটতাম, আনন্দের গানে ও ধন্যবাদ দিয়ে, মহা গুণকীর্তনের আনন্দধ্বনিতে এক শোভাযাত্রাকে ঈশ্বরের গৃহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতাম।
PSA 42:5 হে আমার প্রাণ, কেন তুমি অবসন্ন? কেন তুমি অন্তরে এত হতাশ? ঈশ্বরে তুমি আশা রাখো, কারণ আমি আবার তাঁর প্রশংসা করব যিনি আমার পরিত্রাতা ও আমার ঈশ্বর।
PSA 42:6 আমার প্রাণ আমার অন্তরে অবসন্ন; কিন্তু জর্ডনের দেশ থেকে, হর্মোণের উচ্চতা—মিৎসিয়র পর্বত থেকে, আমি তোমাকে স্মরণ করব।
PSA 42:7 তোমার জলপ্রপাতের গর্জনে অতল অতলকে ডাকে; তোমার সমস্ত ঢেউ ও তরঙ্গ আমার উপর দিয়ে বয়ে গেছে।
PSA 42:8 কিন্তু সদাপ্রভু প্রতিদিন তাঁর অবিচল প্রেম আমার উপর ঢেলে দেন, এবং প্রত্যেক রাত্রে আমি তাঁর গান করি, ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যিনি আমাকে জীবন দেন।
PSA 42:9 আমার শৈল ঈশ্বরকে আমি বলি, “কেন তুমি আমায় ভুলে গিয়েছ? কেন আমি আমার শত্রুর অত্যাচারে বিষণ্ণ মনে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াব?”
PSA 42:10 যখন আমার বিপক্ষ আমাকে ব্যঙ্গ করে আমার হাড়গোড় সব চূর্ণ হয় তারা সারাদিন আমাকে অবজ্ঞা করে বলে, “তোমার ঈশ্বর কোথায়?”
PSA 42:11 হে আমার প্রাণ, কেন তুমি অবসন্ন? কেন তুমি অন্তরে এত হতাশ? ঈশ্বরে তুমি আশা রাখো, কারণ আমি আবার তাঁর প্রশংসা করব যিনি আমার পরিত্রাতা ও আমার ঈশ্বর।
PSA 43:1 হে ঈশ্বর, আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করো, এক অবিশ্বস্ত জাতির বিরুদ্ধে, আমার পক্ষসমর্থন করো। যারা ছলনাকারী ও দুর্নীতিপরায়ণ তাদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 43:2 তুমিই আমার ঈশ্বর, আমার আশ্রয় দুর্গ, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ? কেন আমি আমার শত্রুর অত্যাচারে বিষণ্ণ মনে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াব?
PSA 43:3 তোমার জ্যোতি ও তোমার সত্য আমার কাছে পাঠাও, তারা আমাকে পথ দেখাক; তারা তোমার পবিত্র পর্বতে আমাকে নিয়ে যাক সেই স্থানে যেখানে তুমি বসবাস করো।
PSA 43:4 তখন আমি ঈশ্বরের বেদির কাছে যাব, ঈশ্বরের সান্নিধ্যে—যিনি আমার সব আনন্দের উৎস। হে ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর সুরবাহারের ঝংকারে আমি তোমার স্তুতি করব।
PSA 43:5 হে আমার প্রাণ, কেন তুমি অবসন্ন? কেন তুমি অন্তরে এত হতাশ? ঈশ্বরে তুমি আশা রাখো, কারণ আমি আবার তাঁর প্রশংসা করব যিনি আমার পরিত্রাতা ও আমার ঈশ্বর।
PSA 44:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের মস্কীল। হে ঈশ্বর, পূর্বকালে, আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ে তুমি যা কিছু করেছ তা আমরা আমাদের কানে শুনেছি।
PSA 44:2 তুমি নিজের হাতে অইহুদিদের তাড়িয়েছ আর আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত করেছ; তুমি তাদের শত্রুদের পদদলিত করেছ আর আমাদের পূর্বপুরুষদের সমৃদ্ধি দিয়েছ।
PSA 44:3 তাঁরা তাঁদের তরোয়াল দিয়ে এই দেশ অধিকার করেননি, তাঁদের বাহুবলে তাঁরা জয়লাভ করেননি; কিন্তু তোমার শক্তিশালী ডান হাত, তোমার বাহু, আর তোমার মুখের জ্যোতি সেইসব করেছে।
PSA 44:4 তুমি আমার রাজা আমার ঈশ্বর, যাকোবকে বিজয়ী করতে আদেশ দিয়েছ।
PSA 44:5 তোমার দ্বারা আমরা শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করি; তোমার নামের দ্বারা আমরা আমাদের বিপক্ষদের পদদলিত করি।
PSA 44:6 আমি আমার ধনুকে আস্থা রাখি না, আমার তরোয়াল আমাকে বিজয়ী করে না;
PSA 44:7 কিন্তু আমাদের শত্রুদের উপরে তুমি আমাদের বিজয়ী করেছ, তুমি আমাদের বিপক্ষদের লজ্জিত করেছ।
PSA 44:8 ঈশ্বরে আমরা সারাদিন গর্ব করি, আর আমরা চিরকাল তোমার নামের প্রশংসা করব।
PSA 44:9 কিন্তু এখন তুমি আমাদের পরিত্যাগ করেছ ও অবনত করেছ; আমাদের সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে তুমি আর যুদ্ধে যাও না।
PSA 44:10 আমাদের শত্রুদের সামনে তুমি আমাদের পিছু ফিরতে বাধ্য করেছ, আর আমাদের প্রতিপক্ষরা আমাদের লুট করেছে।
PSA 44:11 তুমি আমাদের ত্যাগ করেছ যেন আমরা মেষের মতো গ্রাস হয়ে যাই আর আমাদের বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছ।
PSA 44:12 তুমি তোমার প্রজাদের সামান্য মূল্যে বিক্রি করেছ, তাদের বিক্রি করে কিছুই পাওনি।
PSA 44:13 তুমি আমাদের প্রতিবেশীদের কাছে আমাদের নিন্দাস্পদ আর আমাদের চারপাশের লোকেদের কাছে ঘৃণা ও উপহাসের পাত্র করেছ।
PSA 44:14 অইহুদিদের আছে তুমি আমাদের রসিকতার বস্তু করে তুলেছ; তারা অবজ্ঞায় আমাদের প্রতি তাদের মাথা নাড়ায়।
PSA 44:15 সারাদিন আমি মর্যাদাহীনতার সাথে বেঁচে আছি, আর আমার মুখ লজ্জায় আবৃত।
PSA 44:16 আমি কেবল বিদ্রুপকারী উপহাস শুনতে পাই; আমি কেবল আমার প্রতিহিংসাপরায়ণ শত্রুদের দেখতে পাই।
PSA 44:17 এসব আমাদের প্রতি ঘটেছে যদিও আমরা তোমাকে ভুলে যাইনি; আমরা তোমার নিয়ম ভঙ্গ করিনি।
PSA 44:18 আমাদের হৃদয় তোমাকে ত্যাগ করেনি, আমাদের পদক্ষেপ তোমার পথ থেকে দূরে সরে যায়নি।
PSA 44:19 কিন্তু তুমি আমাদের চূর্ণ করেছ আর শিয়ালের বাসভূমিতে পরিণত করেছ; মৃত্যুর অন্ধকারে তুমি আমাদের আবৃত করেছ।
PSA 44:20 যদি আমরা আমাদের ঈশ্বরকে ভুলে গিয়েছি অথবা আমাদের হাত অন্য দেবতাদের প্রতি বাড়িয়ে দিয়েছি,
PSA 44:21 ঈশ্বর নিশ্চয়ই তা জানতে পারতেন। কারণ তিনি হৃদয়ের গুপ্ত বিষয় জানেন।
PSA 44:22 তবুও তোমার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হই; বলির মেষের মতো আমাদের গণ্য করা হয়।
PSA 44:23 ওঠো, হে সদাপ্রভু! কেন তুমি ঘুমিয়ে? জাগ্রত হও! চিরকাল আমাদের ত্যাগ কোরো না।
PSA 44:24 কেন তুমি তোমার মুখ লুকিয়ে রাখো আর আমাদের দুর্দশা ও নির্যাতন ভুলে যাও?
PSA 44:25 আমাদের প্রাণ ধুলোতে অবনত; উপুড় হয়ে মাটিতে শুয়ে।
PSA 44:26 উঠে দাঁড়াও আর আমাদের সাহায্য করো; তোমার অবিচল প্রেমের গুণে আমাদের উদ্ধার করো।
PSA 45:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের মস্কীল। সুর: “লিলিফুলের গান।” বিবাহ সংগীত। যখন আমি রাজার কাছে শ্লোক পাঠ করি সুন্দর বাক্য আমার হৃদয়কে আলোড়িত করে; আমার জিভ সুদক্ষ লেখকের কলমের মতো।
PSA 45:2 তুমি পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন, মঙ্গলময় বাক্য তোমার মুখ থেকে নির্গত হয়, কেননা ঈশ্বর নিজেই তোমাকে চিরকালের জন্য আশীর্বাদ করেছেন।
PSA 45:3 হে বলশালী যোদ্ধা, তোমার তরোয়াল বেঁধে নাও; প্রভা ও মহিমায় নিজেকে সজ্জিত করো।
PSA 45:4 সত্য, নম্রতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করে নিজস্ব মহিমায় জয়লাভের দিকে অগ্রসর হও; তোমার ডান হাত ভয়াবহ ক্রিয়াকলাপ করুক।
PSA 45:5 তোমার ধারালো সব তির রাজার শত্রুদের হৃদয় বিদ্ধ করুক; আর সমস্ত জাতি তোমার পায়ের তলায় পতিত হোক।
PSA 45:6 হে ঈশ্বর, তোমার সিংহাসন, অনন্তকালস্থায়ী; ধার্মিকতার রাজদণ্ড হবে তোমার রাজ্যের রাজদণ্ড।
PSA 45:7 তুমি ধার্মিকতা ভালোবাসো আর অধর্মকে ঘৃণা করে আসছ; সেই কারণে ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর, আনন্দের তেল দিয়ে অভিষিক্ত করে, তোমাকে তোমার সহচরদের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন।
PSA 45:8 গন্ধরস, অগুরু আর দারুচিনি তোমার সমস্ত রাজবস্ত্রকে গন্ধময় করে; আর হাতির দাঁতের রাজপ্রাসাদে তারের সুরযন্ত্র তোমাকে আনন্দিত করে।
PSA 45:9 তোমার সম্মানিত মহিলাদের মধ্যে রাজকন্যারা আছে; তোমার ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছে রাজবধূ, ওফীরের সোনায় সজ্জিত।
PSA 45:10 হে কন্যা, শোনো, আমার কথায় কর্ণপাত করো: তোমার স্বজাতি ও তোমার বাবার বংশ ভুলে যাও।
PSA 45:11 তোমার সৌন্দর্যতায় রাজা মুগ্ধ হোক; তাঁর সমাদর করো, কেননা তিনি তোমার প্রভু।
PSA 45:12 সোরের নগরী এক উপহার নিয়ে আসবে, ধনী লোকেরা তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে।
PSA 45:13 রাজকন্যা, তার কক্ষে সম্পূর্ণরূপে অপূর্ব তার পোশাক সোনায় খচিত।
PSA 45:14 অলংকৃত পোশাকে তাকে রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হবে; তার কুমারী সঙ্গিনীরা, যাদের তার সঙ্গে থাকার জন্য আনা হয়েছে, রাজকন্যাকে অনুসরণ করবে।
PSA 45:15 আনন্দ ও উল্লাসে অগ্রসর হয়ে, তারা রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করবে।
PSA 45:16 তোমার সন্তানেরা তোমার বাবাদের স্থান নেবে; তুমি তাদের সমস্ত দেশের অধিপতি করবে।
PSA 45:17 আমি তোমার স্মৃতি বংশপরম্পরায় চিরস্থায়ী করব; সেইজন্য জাতিরা যুগে যুগে তোমার প্রশংসা করবে।
PSA 46:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের গীত। অলামোৎ অনুসারে। ঈশ্বর আমাদের আশ্রয় ও বল, সংকটকালে সদা উপস্থিত সহায়।
PSA 46:2 অতএব আমরা ভয় করব না, যদিও পৃথিবী কম্পিত হয় এবং সমুদ্রের বুকে পর্বতসকল পতিত হয়,
PSA 46:3 যদিও সমুদ্র গর্জন করে ও প্রচণ্ড হয়, এবং উথাল জলে পর্বতসকল কেঁপে উঠে।
PSA 46:4 এক নদী আছে যার জলস্রোত ঈশ্বরের নগরীকে, পরাৎপরের আবাসের পবিত্র স্থানকে আনন্দিত করে।
PSA 46:5 ঈশ্বর সেই নগরীর মধ্যে আছেন, তার পতন হবে না; দিনের শুরুতেই ঈশ্বর তাকে সাহায্য করবেন।
PSA 46:6 জাতিরা বিশৃঙ্খলতায় পূর্ণ এবং তাদের রাজ্যগুলি পতিত হয়; ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর গর্জন করে এবং পৃথিবী গলে যায়!
PSA 46:7 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাদের সঙ্গে আছেন; যাকোবের ঈশ্বর আমাদের উচ্চদুর্গ।
PSA 46:8 এসো এবং দেখো, সদাপ্রভু কী করেন, দেখো, কীভাবে তিনি এই জগতে ধ্বংস নিয়ে আসেন।
PSA 46:9 তিনি পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করেন। তিনি ধনুক ভেঙে দেন ও বর্শা চূর্ণ করেন; তিনি ঢালগুলি আগুনে পুড়িয়ে দেন।
PSA 46:10 তিনি বলেন, “শান্ত হও, আর জানো, আমিই ঈশ্বর; সমস্ত জাতিতে আমি মহিমান্বিত হব, সমস্ত পৃথিবীতে আমি মহিমান্বিত হব।”
PSA 46:11 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাদের সঙ্গে আছেন; যাকোবের ঈশ্বর আমাদের উচ্চদুর্গ।
PSA 47:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের একটি গীত। হে জাতিসকল, করতালি দাও; মহানন্দে ঈশ্বরের উদ্দেশে জয়ধ্বনি করো।
PSA 47:2 কারণ পরাৎপর সদাপ্রভু ভয়ংকর, সমস্ত জগতের উপর তিনিই রাজা।
PSA 47:3 বিভিন্ন লোকেদের তিনি আমাদের অধীন করেছেন, আমাদের শত্রুদের আমাদের পদানত করেছেন।
PSA 47:4 তিনি আমাদের অধিকার আমাদের জন্য বেছে নিয়েছেন, তা যাকোবের গর্বের বিষয়, যাকে তিনি ভালোবেসেছিলেন।
PSA 47:5 ঈশ্বর আনন্দের জয়ধ্বনিতে ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছেন। সদাপ্রভু তূরীধ্বনিতে ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছেন।
PSA 47:6 ঈশ্বরের উদ্দেশে স্তব করো, স্তব করো; আমাদের রাজার উদ্দেশে স্তব করো, স্তব করো।
PSA 47:7 কারণ ঈশ্বরই সমস্ত পৃথিবীর রাজা; গীত সহযোগে তাঁর উদ্দেশে স্তব করো।
PSA 47:8 ঈশ্বর সমস্ত জাতির উপর শাসন করেন, ঈশ্বর তাঁর পবিত্র সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।
PSA 47:9 সমস্ত জাতির প্রধানেরা সম্মিলিত হয়, অব্রাহামের ঈশ্বরের প্রজাদের সঙ্গে, কারণ পৃথিবীর সব রাজা ঈশ্বরের; তিনি সর্বত্র অতিশয় গৌরবান্বিত।
PSA 48:1 একটি সংগীত। কোরহ বংশের সন্তানদের একটি গীত। আমাদের ঈশ্বরের নগরীতে এবং তাঁর পবিত্র পর্বতে, সদাপ্রভু মহান, আর তিনি সর্বোচ্চ প্রশংসার যোগ্য।
PSA 48:2 কী সুন্দর সেই উচ্চভূমি, যা সারা পৃথিবীর আনন্দস্থল, সাফোনের উচ্চতার মতো সিয়োন পর্বত, যা মহান রাজার নগরী।
PSA 48:3 ঈশ্বর, সেই নগরীর অট্টালিকা সমূহের মধ্যে উচ্চদুর্গ বলে নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
PSA 48:4 পৃথিবীর রাজারা দলে দলে যোগ দিয়েছে এবং নগরীর বিরুদ্ধে অভিযান করেছে।
PSA 48:5 কিন্তু তারা যখন তাকে দেখেছে, তারা বিস্মিত হয়েছে, আতঙ্কিত হয়েছে আর পালিয়ে গেছে।
PSA 48:6 আতঙ্ক তাদের সেখানে গ্রাস করেছিল, এবং প্রসববেদনায় ক্লিষ্ট মহিলার মতো যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়েছিল।
PSA 48:7 পূবের বাতাসে চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া তর্শীশের জাহাজের মতো তুমি তাদের ধ্বংস করেছিলে।
PSA 48:8 আমরা যেমন শুনেছি, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নগরীতে, আমাদের ঈশ্বরের নগরীতে তেমন দেখেছি: ঈশ্বর চিরকাল তাকে সুরক্ষিত রাখেন।
PSA 48:9 তোমার মন্দিরে, হে ঈশ্বর, আমরা তোমার অবিচল প্রেমে ধ্যান করি।
PSA 48:10 তোমার নামের মতো, হে ঈশ্বর, তোমার প্রশংসা পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়; তোমার শক্তিশালী ডান হাত ধার্মিকতায় পূর্ণ।
PSA 48:11 তোমার ন্যায়বিচারে, সিয়োন পর্বত উল্লাস করে, যিহূদার গ্রামগুলি আনন্দিত হয়।
PSA 48:12 যাও, জেরুশালেম নগরী পরিদর্শন করো, তার দুর্গসকল গণনা করো;
PSA 48:13 তার দৃঢ় প্রাচীর লক্ষ্য করো, তার অট্টালিকাগুলি দেখো, যেন তুমি আগামী প্রজন্মের কাছে এই সবের বর্ণনা করতে পারো।
PSA 48:14 কারণ এই ঈশ্বর অনন্তকাল ধরে আমাদের ঈশ্বর; তিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের পথপ্রদর্শক হবেন।
PSA 49:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের একটি গীত। হে লোকসকল, তোমরা শোনো; সকল পৃথিবীবাসীরা, কর্ণপাত করো,
PSA 49:2 অভিজাত ও নীচ, ধনী এবং দরিদ্র, শোনো:
PSA 49:3 আমার মুখ প্রজ্ঞার কথা বলবে; আমার হৃদয়ের ধ্যান তোমাকে বোধশক্তি দেবে।
PSA 49:4 আমি নীতিবাক্যের প্রতি কর্ণপাত করব; বীণা সহযোগে আমি আমার ধাঁধা ব্যাখ্যা করব:
PSA 49:5 যখন অমঙ্গলের দিন আসে, যখন দুষ্ট ছলনাকারী আমাকে ঘিরে ধরে, তখন আমি কেন ভীত হব?
PSA 49:6 তারা তাদের সম্পত্তিতে আস্থা রাখে আর নিজেদের মহা ঐশ্বর্যে গর্ব করে।
PSA 49:7 কেউ অপরের জীবন মুক্ত করতে পারে না অথবা তাদের জন্য ঈশ্বরকে মুক্তিপণ দিতে পারে না।
PSA 49:8 জীবনের মুক্তিপণ বহুমূল্য; চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য
PSA 49:9 এবং মৃত্যু না দেখার জন্য কেউ যথেষ্ট পারিশ্রমিক দিতে পারে না।
PSA 49:10 কারণ সবাই দেখে যে জ্ঞানীর মৃত্যু হয়, অচেতন ও মূর্খও বিনষ্ট হয়, তাদের সম্পত্তি অপরের জন্য রেখে যায়।
PSA 49:11 যদিও তাদের ভূসম্পত্তি তাদেরই নামে ছিল, তাদের সমাধিই তাদের অনন্ত গৃহ, যেখানে তারা চিরকালের জন্য বসবাস করবে।
PSA 49:12 মানুষ, তাদের ধনসম্পত্তি সত্ত্বেও, স্থায়ী হয় না; তারা পশুর মতো বিনষ্ট হয়।
PSA 49:13 যারা নিজেদের উপর আস্থা রাখে তাদের এই পরিণাম হয়, এবং তাদেরও হয়, যারা তাদের অনুগামী এবং তাদের কথা সমর্থন করে।
PSA 49:14 তারা মেষের মতো মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত; মৃত্যু তাদের পালক হবে কিন্তু সকালে ন্যায়পরায়ণেরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করবে। নিজেদের রাজকীয় অট্টালিকা থেকে দূরে তাদের দেহ সমাধির মধ্যে ক্ষয় হবে।
PSA 49:15 কিন্তু ঈশ্বর আমাকে পাতালের গর্ভ থেকে মুক্ত করবেন; আমাকে তিনি নিশ্চয় তাঁর কাছে নিয়ে যাবেন।
PSA 49:16 যখন দুষ্টরা ধনের প্রাচুর্যে বৃদ্ধি পায় আর তাদের গৃহের শোভা বৃদ্ধি পায়, তখন শঙ্কিত হোয়ো না;
PSA 49:17 কারণ যখন তাদের মৃত্যু হবে তারা তাদের সাথে কিছুই নিয়ে যাবে না, তাদের ঐশ্বর্য তাদের সঙ্গে সমাধি পর্যন্ত যাবে না।
PSA 49:18 এই জীবনে তারা নিজেদের ধন্য মনে করে এবং তাদের সাফল্যে তারা অপরের প্রশংসা পায়।
PSA 49:19 কিন্তু তাদের মৃত্যু হবে, যেমন তাদের আগেও সবার হয়েছে, এবং আর কোনোদিন জীবনের আলো দেখবে না।
PSA 49:20 যাদের ধনসম্পত্তি আছে কিন্তু বোধশক্তি নেই তারা পশুদের মতো, যারা বিনষ্ট হয়।
PSA 50:1 আসফের গীত। সদাপ্রভু, পরাক্রমী জন, তিনিই ঈশ্বর, তিনি কথা বলেন সূর্যের উদয় থেকে অস্ত যাওয়ার স্থান পর্যন্ত তিনি পৃথিবীর সব মানুষকে তলব করেন।
PSA 50:2 সিয়োন থেকে, পরম সৌন্দর্যের স্থান থেকে, ঈশ্বর দীপ্তিমান রয়েছেন।
PSA 50:3 আমাদের ঈশ্বর আসছেন আর তিনি নীরব রইবেন না; এক সর্বগ্রাসী আগুন তাঁর অগ্রবর্তী, এবং এক প্রচণ্ড ঝড় তাঁর চতুর্দিকে বইছে।
PSA 50:4 তিনি আকাশমণ্ডলকে তলব করলেন, এবং পৃথিবীকেও, যেন তিনি তাঁর ভক্তজনের বিচার করেন:
PSA 50:5 “আমার পবিত্র লোকেদের আমার কাছে একত্রিত করো, যারা বলিদানসহ আমার সঙ্গে এক নিয়ম স্থাপন করেছিল।”
PSA 50:6 আকাশমণ্ডল তাঁর ধার্মিকতা প্রচার করে, কারণ ঈশ্বর স্বয়ং বিচারক।
PSA 50:7 “শোনো, আমার ভক্তজন, আর আমি কথা বলব; ইস্রায়েল, আমি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেব: আমি ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর।
PSA 50:8 তোমার নিবেদিত নৈবেদ্য সম্পর্কে আমি তোমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনব না অথবা তোমার হোমবলি সম্পর্কে, যা সর্বক্ষণ আমার সামনে আছে।
PSA 50:9 তোমার গোশালা থেকে আমার বলদের প্রয়োজন নেই অথবা তোমার খোঁয়াড় থেকে ছাগলের প্রয়োজন নেই,
PSA 50:10 কারণ অরণ্যের সব প্রাণী আমার, এবং হাজার পর্বতের উপর গবাদি পশুও আমার।
PSA 50:11 পর্বতমালার সব পাখি আমার পরিচিত, আর প্রান্তরের সব কীটপতঙ্গ আমার।
PSA 50:12 যদি আমি ক্ষুধার্ত হই আমি তোমাকে কিছু বলব না, কারণ এই পৃথিবী আমার, আর যা কিছু এতে আছে, তাও আমার।
PSA 50:13 আমি কি বলদের মাংস খাই বা ছাগলের রক্ত পান করি?
PSA 50:14 “ঈশ্বরের উদ্দেশে ধন্যবাদের নৈবেদ্য উৎসর্গ করো, পরাৎপরের কাছে তোমার শপথ পূর্ণ করো,
PSA 50:15 এবং সংকটের দিনে আমাকে ডেকো; আমি তোমাকে উদ্ধার করব, আর তুমি আমার গৌরব করবে।”
PSA 50:16 কিন্তু দুষ্ট ব্যক্তিকে ঈশ্বর বলেন: “আমার বিধি পাঠ করার বা আমার নিয়ম তোমার মুখে আনার অধিকার কি তোমার আছে?
PSA 50:17 তুমি আমার নির্দেশ ঘৃণা করো আর আমার সমস্ত আদেশ অগ্রাহ্য করো।
PSA 50:18 যখন তুমি এক চোর দেখো, তুমি তার সঙ্গে যুক্ত হও; আর তুমি ব্যভিচারীদের সঙ্গে সময় কাটাও।
PSA 50:19 তুমি তোমার মুখ অসৎ কাজে ব্যবহার করো আর তোমার জিভ ছলনায় সাজিয়ে রাখো।
PSA 50:20 তুমি বসে থাকো আর তোমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাও এবং তোমার নিজের মায়ের সন্তানের নিন্দা করো।
PSA 50:21 যখন তুমি এসব করেছিলে আর আমি নীরব ছিলাম, তুমি ভেবেছিলে যে আমি ঠিক তোমারই মতো। কিন্তু এখন আমি তোমাকে তিরস্কার করব এবং আমার সব অভিযোগ তোমার সামনে রাখব।
PSA 50:22 “তোমরা যারা ঈশ্বরকে ভুলে যাও, এখন বিবেচনা করো, নতুবা আমি তোমাদের ছিন্নভিন্ন করব, কেউ তোমাদের রক্ষা করবে না:
PSA 50:23 যারা ধন্যবাদের নৈবেদ্য নিবেদন করে, তারা আমাকে সম্মান করে, আর যে নির্দোষ তাকে আমি আমার পরিত্রাণ দেখাব।”
PSA 51:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। বৎশেবার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার পরে যখন ভাববাদী নাথন দাউদের কাছে গিয়েছিলেন। হে ঈশ্বর, তোমার অবিচল প্রেম অনুযায়ী আমার উপর দয়া করো; তোমার অপার করুণা অনুযায়ী আমার সমস্ত অপরাধ মার্জনা করো।
PSA 51:2 আমার সমস্ত অন্যায় মুছে দাও আর আমার পাপ থেকে আমাকে শুচি করো।
PSA 51:3 কারণ আমি আমার অপরাধসকল জানি, আর আমার পাপ সর্বদা আমার সামনে আছে।
PSA 51:4 তোমার বিরুদ্ধে, তোমারই বিরুদ্ধে, আমি পাপ করেছি আর তোমার দৃষ্টিতে যা অন্যায় তাই করেছি; অতএব তুমি তোমার বাক্যে ধর্মময় আর যখন বিচার করো তখন ন্যায়পরায়ণ।
PSA 51:5 নিশ্চয়ই অপরাধে আমার জন্ম হয়েছে, পাপে আমার মা আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
PSA 51:6 তবুও মাতৃগর্ভে তুমি বিশ্বস্ততা কামনা করেছিলে; সেই গোপন স্থানে তুমি আমাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দিয়েছিলে।
PSA 51:7 আমার পাপ থেকে আমাকে শুদ্ধ করো, আর আমি নির্মল হব; আমাকে পরিষ্কার করো, আর আমি বরফের থেকেও সাদা হব।
PSA 51:8 আমাকে আনন্দ ও উল্লাসের বাক্য শোনাও; আমার হাড়গোড়, যা তুমি পিষে দিয়েছ, এখন আমোদ করুক।
PSA 51:9 আমার পাপ থেকে তোমার মুখ লুকাও আর আমার সব অন্যায় মার্জনা করো।
PSA 51:10 হে ঈশ্বর, আমার মধ্যে এক বিশুদ্ধ হৃদয় সৃষ্টি করো, আর এক অবিচল আত্মা আমার মধ্যে সঞ্জীবিত করো।
PSA 51:11 আমাকে তোমার সান্নিধ্য থেকে দূর কোরো না আর তোমার পবিত্র আত্মাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিয়ো না।
PSA 51:12 তোমার পরিত্রাণের আনন্দ আবার আমাকে ফিরিয়ে দাও আর আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে এক ইচ্ছুক আত্মা দাও।
PSA 51:13 তখন আমি অপরাধীদের তোমার পথ শিক্ষা দেব, যেন পাপীরা তোমার দিকে ফিরে আসে।
PSA 51:14 রক্তপাতের দোষ থেকে আমাকে উদ্ধার করো, হে ঈশ্বর, তুমি আমার ঈশ্বর আমার রক্ষাকর্তা, আর আমার জিভ তোমার ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে গান করবে।
PSA 51:15 হে সদাপ্রভু, আমার ঠোঁট খুলে দাও, আর আমার মুখ তোমার প্রশংসা ঘোষণা করবে।
PSA 51:16 তুমি নৈবেদ্যতে আমোদ করো না, করলে আমি নিয়ে আসতাম; তুমি হোমবলি চাওনি।
PSA 51:17 ভগ্ন আত্মা আমার নৈবেদ্য, হে ঈশ্বর; ভগ্ন ও অনুতপ্ত হৃদয় হে ঈশ্বর, তুমি তুচ্ছ করবে না।
PSA 51:18 তুমি আপন অনুগ্রহে সিয়োনের মঙ্গল করো, জেরুশালেমের প্রাচীর নির্মাণ করো।
PSA 51:19 তখন তুমি ধার্মিকদের নৈবেদ্যে আর সম্পূর্ণ হোমবলিতে আমোদ করবে; তখন লোকে তোমার বেদিতে বলদ উৎসর্গ করবে।
PSA 52:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মস্কীল। যখন ইদোমীয় দোয়েগ শৌলের কাছে গিয়ে বলেছিল: “দাউদ অহীমেলকের গৃহে গিয়েছে।” ওহে মহাবীর, কেন তুমি অপকর্মের দম্ভ করো? কেন তুমি সারাদিন দম্ভ করো, তুমি যে ঈশ্বরের চোখে এক অবজ্ঞার বস্তু?
PSA 52:2 তুমি মিথ্যা কথা বলতে দক্ষ, তোমার জিভ ধ্বংসের পরিকল্পনা করে; এবং তা ধারালো ক্ষুরের মতো।
PSA 52:3 তুমি ভালোর চেয়ে মন্দ, আর সত্য বলার চেয়ে মিথ্যা বলতে বেশি ভালোবাসো।
PSA 52:4 তুমি মিথ্যাবাদী! তোমার বাক্য দিয়ে তুমি অপরকে বিনাশ করতে ভালোবাসো।
PSA 52:5 নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাকে চিরকালীন ধ্বংসে অবনত করবেন: তিনি তোমাকে ছিনিয়ে নিয়ে তোমার তাঁবু থেকে উপড়ে ফেলবেন; আর তোমাকে জীবিতদের দেশ থেকে নির্মূল করবেন।
PSA 52:6 ধার্মিকেরা এসব দেখবে ও ভীত হবে; তারা তোমায় পরিহাস করবে, আর বলবে,
PSA 52:7 “এই যে সেই লোক, যে কখনও ঈশ্বরকে নিজের আশ্রয় দুর্গ করেনি, কিন্তু নিজের মহা ঐশ্বর্যে আস্থা রেখেছে, এবং অপরদের ধ্বংস করে নিজে শক্তিশালী হয়েছে।”
PSA 52:8 কিন্তু আমি, ঈশ্বরের গৃহে, উদীয়মান জলপাই গাছের মতো; যুগ যুগান্ত ধরে ঈশ্বরের অবিচল প্রেমে আস্থা রাখি।
PSA 52:9 তুমি যা কিছু করেছ, তার জন্য আমি, তোমার বিশ্বস্ত প্রজাদের সামনে, সর্বদা তোমার ধন্যবাদ করব। এবং আমি তোমার নামে আশা রাখব কারণ তোমার নাম মঙ্গলময়।
PSA 53:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। মহলৎ অনুসারে। দাউদের মস্কীল। মূর্খ নিজের হৃদয়ে বলে, “ঈশ্বর নেই।” তারা দুর্নীতিগ্রস্ত, আর তাদের চলার পথ ভ্রষ্ট; সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই।
PSA 53:2 ঈশ্বর স্বর্গ থেকে মানবজাতির দিকে চেয়ে দেখেন, তিনি দেখেন সুবিবেচক কেউ আছে কি না, ঈশ্বরের অন্বেষণ করে এমন কেউ আছে কি না!
PSA 53:3 প্রত্যেকে বিপথগামী হয়েছে, সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে; সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই, একজনও নেই।
PSA 53:4 এসব অনিষ্টকারীর কি কিছুই জ্ঞান নেই? তারা আমার ভক্তদের রুটি খাওয়ার মতো গ্রাস করে; ঈশ্বরের কাছে তারা কখনও সাহায্য প্রার্থনা করে না।
PSA 53:5 নিদারুণ আতঙ্কে তারা বিহ্বল হয়েছে, এমন আতঙ্ক যা তারা আগে জানেনি। ঈশ্বর তোমার শত্রুদের হাড়গোড় চারিদিকে ছড়িয়ে দেবেন। তুমি তাদের লজ্জিত করবে কারণ ঈশ্বর তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
PSA 53:6 আহা, ইস্রায়েলের পরিত্রাণ আসবে সিয়োন থেকে! যখন ঈশ্বর তাঁর ভক্তজনদের পুনরুদ্ধার করবেন, তখন যাকোব উল্লসিত হবে আর ইস্রায়েল আনন্দ করবে।
PSA 54:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। তারযন্ত্র সহযোগে দাউদের মস্কীল। যখন সীফীয়েরা শৌলের কাছে এসে বলেছিল, “দাউদ কি আমাদের মাঝেই লুকিয়ে নেই?” হে ঈশ্বর, তোমার নামে আমাকে রক্ষা করো; তোমার পরাক্রমে আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করো।
PSA 54:2 হে ঈশ্বর, আমার প্রার্থনা শোনো; আমার মুখের কথায় কর্ণপাত করো।
PSA 54:3 দাম্ভিক প্রতিপক্ষরা আমাকে আক্রমণ করে; নিষ্ঠুর লোকেরা, যারা ঈশ্বরকে মানে না আমাকে হত্যা করতে চায়।
PSA 54:4 কিন্তু ঈশ্বর আমার সহায়; সদাপ্রভুই আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন।
PSA 54:5 যারা আমাকে অপবাদ দেয়, অমঙ্গল তাদের উপর ফিরে আসুক, তোমার বিশ্বস্ততায় তাদের ধ্বংস করো।
PSA 54:6 আমি তোমার প্রতি স্বেচ্ছাদত্ত নৈবেদ্য নিবেদন করব, হে সদাপ্রভু, আমি তোমার নামের প্রশংসা করব কারণ তা মঙ্গলময়।
PSA 54:7 আমার সব সংকট থেকে তুমি আমাকে উদ্ধার করেছ, এবং বিজয়ীর দৃষ্টিতে আমার চোখ আমার শত্রুদের দিকে দেখেছে।
PSA 55:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। তারযন্ত্র সহযোগে দাউদের মস্কীল। হে ঈশ্বর, আমার প্রার্থনা শোনো, আমার নিবেদন উপেক্ষা কোরো না;
PSA 55:2 আমার কথা শোনো আর আমাকে উত্তর দাও। আমার ভাবনা আমাকে কষ্ট দেয় আর আমি ক্ষিপ্ত হয়েছি কারণ
PSA 55:3 আমার শত্রুরা আমার প্রতি চিৎকার করে, উচ্চস্বরে অন্যায় হুমকি দেয়। তারা আমার উপর কষ্ট নিয়ে আসে আর রাগে আমার পশ্চাদ্ধাবন করে।
PSA 55:4 আমার হৃদয় দুঃখে জর্জরিত; মৃত্যুর সন্ত্রাস আমার উপর এসে পড়েছে।
PSA 55:5 ভয় আর কাঁপুনি আমাকে আচ্ছন্ন করেছে; আতঙ্ক আমাকে অভিভূত করেছে।
PSA 55:6 আমি বলি, “হ্যাঁ! যদি আমার ঘুঘুর মতো ডানা থাকত! আমি উড়ে চলে যেতাম আর বিশ্রাম পেতাম।
PSA 55:7 আমি দূরে চলে যেতাম আর মরুভূমিতে বসবাস করতাম।
PSA 55:8 প্রচণ্ড বায়ু আর ঝড় থেকে, আমার আশ্রয়স্থানে তাড়াতাড়ি চলে যেতাম।”
PSA 55:9 হে সদাপ্রভু, দুষ্টদের বিহ্বল করো, তাদের বাক্য হতবুদ্ধি করো, কেননা আমি নগরে হিংসা আর শত্রুতা দেখি।
PSA 55:10 দিনরাত তারা প্রাচীরের উপর দিয়ে নগর প্রদক্ষিণ করে; আক্রোশ আর অবমাননা তার মধ্যে।
PSA 55:11 বিধ্বংসী শক্তি নগরের মধ্যে কাজ করে চলেছে; হুমকি আর মিথ্যা কখনও তার রাস্তা ছেড়ে যায় না।
PSA 55:12 যদি কোনও শত্রু আমাকে অপমান করত, তা আমি সহ্য করতে পারতাম; যদি কোনও বিপক্ষ আমার বিরোধিতা করত, আমি তা লুকাতে পারতাম;
PSA 55:13 কিন্তু এত তুমিই, আমার সমকক্ষ মানুষ, আমার সঙ্গী, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু,
PSA 55:14 যার সঙ্গে, ঈশ্বরের গৃহে, একদিন আমি মধুর সহভাগিতা উপভোগ করেছি, উপাসকদের মধ্যে আমরা হেঁটে বেড়িয়েছি।
PSA 55:15 মৃত্যু আমার শত্রুদের বিস্মিত করুক; তারা জীবিত অবস্থায় পাতালের গর্ভে নেমে যাক, কারণ অন্যায় তাদের গৃহে ও তাদের অন্তরে আছে।
PSA 55:16 কিন্তু আমি ঈশ্বরকে ডাকব, এবং সদাপ্রভু আমাকে রক্ষা করেন।
PSA 55:17 সন্ধ্যা, সকাল আর দুপুরে, আমি আমার যন্ত্রণায় কাঁদি, আর তিনি আমার কণ্ঠস্বর শোনেন।
PSA 55:18 আমার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা থেকে তিনি আমাকে অক্ষত অবস্থায় মুক্ত করেন, যদিও অনেকে এখনও আমার বিরোধিতা করে।
PSA 55:19 ঈশ্বর, যিনি পূর্বকাল থেকে শাসন করেন, যার কোনও পরিবর্তন নেই, তিনি তাদের কথা শুনবেন আর তাদের নম্র করবেন, কারণ তাদের ঈশ্বরভয় নেই।
PSA 55:20 আমার সঙ্গী তার বন্ধুদের আক্রমণ করে; সে তার নিয়ম ভঙ্গ করে।
PSA 55:21 মাখনের মতো তার কথা মসৃণ, কিন্তু তার হৃদয়ে রয়েছে যুদ্ধ; তার কথা তেলের চেয়েও মনোরম, কিন্তু সে সকল উন্মুক্ত তরোয়ালের মতো।
PSA 55:22 সদাপ্রভুতে নিজের ভার অর্পণ করো আর তিনি তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন; তিনি কখনও ধার্মিকদের বিচলিত হতে দেবেন না।
PSA 55:23 কিন্তু তুমি, হে ঈশ্বর, দুষ্টদের পতনের গর্তে নামিয়ে দেবে; যারা রক্তপিপাসু আর প্রতারক জীবনের অর্ধেক দিনও তারা বাঁচবে না। কিন্তু আমি তোমাতে আস্থা রাখি।
PSA 56:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মিকতাম। সুর: “সুদূর ওক বৃক্ষের উপর ঘুঘু।” যখন ফিলিস্তিনীরা গাত নগরে দাউদকে বন্দি করেছিল। হে ঈশ্বর, আমার প্রতি কৃপা করো, কারণ আমার শত্রুরা আমার পশ্চাদ্ধাবন করে; সারাদিন তারা তাদের আক্রমণ চালিয়ে যায়।
PSA 56:2 আমার প্রতিপক্ষরা সারাদিন আমাকে অনুসরণ করে; তাদের অহংকারে অনেকে আমাকে আক্রমণ করছে।
PSA 56:3 যখন আমি ভীত, আমি তোমার উপর আস্থা রাখি।
PSA 56:4 ঈশ্বরে, আমি যার বাক্যের প্রশংসা করি— আমি ঈশ্বরে আস্থা রাখি এবং ভীত হই না। সামান্য মানুষ আমার কী করতে পারে?
PSA 56:5 সারাদিন তারা আমার কথা বিকৃত করে; তাদের সমস্ত পরিকল্পনা আমার পক্ষে ক্ষতিসাধক।
PSA 56:6 তারা ষড়যন্ত্র করে, তারা ওৎ পেতে থাকে, আমার জীবন নেওয়ার জন্য, তারা আমার পদক্ষেপের উপর লক্ষ্য রাখে।
PSA 56:7 তাদের দুষ্টতার কারণে তাদের পালাতে দিয়ো না; হে ঈশ্বর, তোমার ক্রোধে, এদের সবাইকে নিপাত করো।
PSA 56:8 আমার বিলাপ লিপিবদ্ধ করে; তোমার নথিতে আমার চোখের জলের হিসেব রাখো— তা কি তোমার লিপিতে লেখা নেই?
PSA 56:9 যখন আমি তোমার কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করব তখন আমার শত্রুরা পিছু ফিরবে। এতে আমি জানব যে ঈশ্বর আমার পক্ষে আছেন।
PSA 56:10 ঈশ্বরে, আমি যার বাক্যের প্রশংসা করি, সদাপ্রভুতে, আমি যার বাক্যের প্রশংসা করি—
PSA 56:11 ঈশ্বরে আমি আস্থা রাখি আর ভীত হই না। মানুষ আমার কী করতে পারে?
PSA 56:12 হে ঈশ্বর, তোমার প্রতি আমার শপথ পূর্ণ করতে আমি বাধ্য; আমি তোমার কাছে ধন্যবাদের নৈবেদ্য নিবেদন করব।
PSA 56:13 কারণ মৃত্যুর কবল থেকে তুমি আমাকে উদ্ধার করেছ এবং হোঁচট খাওয়া থেকে আমার পা সাবধানে রেখেছ, যেন জীবনের আলোতে আমি ঈশ্বরের সামনে চলতে পারি।
PSA 57:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মিকতাম। সেই সময়ে রচিত যখন তিনি শৌলের হাত থেকে পালিয়ে গুহায় লুকিয়েছিলেন। সুর “ধ্বংস কোরো না।” আমার প্রতি কৃপা করো, হে আমার ঈশ্বর, আমার প্রতি কৃপা করো, কারণ আমি তোমাতে আশ্রয় নিয়েছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিপদ কেটে যায় আমি তোমার ডানার ছায়ায় আশ্রয় নেবো।
PSA 57:2 আমি পরাৎপর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব, ঈশ্বরের কাছে যিনি আমার প্রতি তাঁর সংকল্প পূর্ণ করেন।
PSA 57:3 যারা আমার পশ্চাদ্ধাবন করে তাদের তিরস্কার করে তিনি স্বর্গ থেকে সাহায্য পাঠিয়ে আমাকে রক্ষা করেন; ঈশ্বর তাঁর অবিচল প্রেম ও বিশ্বস্ততা প্রেরণ করেন।
PSA 57:4 আমি সিংহদের মধ্যে রয়েছি; ক্ষুধার্ত বন্যপশুদের মাঝে বসবাস করতে আমি বাধ্য হয়েছি— মানুষ যাদের দাঁত বর্শা ও তির, যাদের জিভ ধারালো তরোয়াল।
PSA 57:5 হে ঈশ্বর, আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে গৌরবান্বিত হও; তোমার মহিমা সারা পৃথিবীতে ব্যাপ্ত হোক।
PSA 57:6 আমার শত্রুরা আমার জন্য এক ফাঁদ পেতেছে— আমি হতাশায় নত হয়েছিলাম। আমার চলার পথে তারা এক গর্ত খুঁড়েছিল— কিন্তু সেই গর্তে তারা নিজেরাই পড়ে গেল।
PSA 57:7 হে ঈশ্বর, আমার হৃদয় তোমাতে অবিচল, আমার হৃদয় অবিচল; আমি গান গাইব ও সংগীত রচনা করব।
PSA 57:8 জেগে ওঠো, হে আমার প্রাণ! জেগে ওঠো, বীণা ও সুরবাহার! আমি প্রত্যুষকে জাগিয়ে তুলব।
PSA 57:9 হে সদাপ্রভু, জাতিদের মাঝে আমি তোমার প্রশংসা করব; লোকেদের মাঝে আমি তোমার স্তব করব।
PSA 57:10 কারণ তোমার অবিচল প্রেম আকাশমণ্ডল ছুঁয়েছে; তোমার বিশ্বস্ততা গগনচুম্বী।
PSA 57:11 হে ঈশ্বর, আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে গৌরবান্বিত হও; তোমার মহিমা সারা পৃথিবীতে ব্যাপ্ত হোক।
PSA 58:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মিকতাম। সুর “ধ্বংস কোরো না।” শাসকেরা, তোমরা কি সত্যিই ন্যায্যভাবে কথা বলো? তোমরা কি সমতার সঙ্গে লোকেদের বিচার করো?
PSA 58:2 না, তোমাদের হৃদয়ে তোমরা অন্যায় পরিকল্পনা করো, আর তোমাদের হাত দিয়ে তোমরা পৃথিবীতে হিংসা ছড়াও।
PSA 58:3 জন্ম থেকেই দুষ্টরা বিপথে যায়; মাতৃগর্ভ থেকেই তারা বিপথগামী ও মিথ্যাবাদী।
PSA 58:4 সাপের বিষের মতোই তাদের বিষ, ওরা কালসাপের মতো, যা শুনতে চায় না,
PSA 58:5 এবং সাপুড়েদের সুর উপেক্ষা করে যতই তারা দক্ষতার সঙ্গে বাজাক না কেন।
PSA 58:6 হে ঈশ্বর, তাদের মুখের দাঁতগুলি ভেঙে দাও; হে সদাপ্রভু, সেই সিংহদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলো।
PSA 58:7 শুকনো জমিতে জলের মতো তারা যেন মিলিয়ে যায়; তাদের অস্ত্রশস্ত্র তাদের হাতেই ব্যর্থ করে তোলো।
PSA 58:8 পথে চলার সময় তারা যেন শামুকের মতো গলে পাঁকে পরিণত হয়; মৃতাবস্থায় জাত শিশুর মতো হোক যে কখনও সূর্যের মুখ দেখেনি।
PSA 58:9 ঈশ্বর, তরুণ কি প্রবীণ, সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন কাঁটাগাছের আগুনের আঁচ তোমাদের পাত্রের গায়ে লাগার আগেই।
PSA 58:10 অন্যায়ের প্রতিকার দেখে ধার্মিকেরা উল্লসিত হবে। দুষ্টদের রক্তে তারা তাদের পা ধুয়ে নেবে।
PSA 58:11 তখন সবাই বলবে, “ধার্মিকেরা নিশ্চয় পুরস্কার পায়; নিশ্চয় ঈশ্বর আছেন, যিনি জগতের বিচার করেন।”
PSA 59:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মিকতাম। সুর “ধ্বংস কোরো না।” দাউদকে হত্যা করার জন্য শৌল যখন দাউদের গৃহে লোক পাঠিয়ে গোপনে পাহারা বসিয়েছিলেন। হে ঈশ্বর, আমার শত্রুদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করো; যারা আমাকে আক্রমণ করে তাদের বিরুদ্ধে আমার উচ্চদুর্গ হও।
PSA 59:2 অনিষ্টকারীদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করো রক্তপিপাসু লোকদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 59:3 দেখো, কেমন তারা আমার জন্য গোপনে অপেক্ষা করে! নিষ্ঠুর লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমার অন্যায়ের জন্য নয়, আমার পাপের জন্য নয়, হে সদাপ্রভু।
PSA 59:4 আমি কোনও অন্যায় করিনি, তবুও তারা আমাকে আক্রমণ করতে প্রস্তুত। ওঠো, আর আমাকে সাহায্য করো; আমার দুর্দশার দিকে তাকাও!
PSA 59:5 তুমি, সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তুমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর, জাগ্রত হও আর সমস্ত জাতিকে শাস্তি দাও; যারা দুষ্ট দেশদ্রোহী তাদের প্রতি দয়া কোরো না।
PSA 59:6 তারা সন্ধ্যাবেলায় ফিরে আসে, কুকুরের মতো দাঁত খিচিয়ে, আর নগরের চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়।
PSA 59:7 দেখো, তারা মুখ দিয়ে কী অশ্লীল কথা বলে, তাদের মুখের বাক্য তরোয়ালের থেকেও ধারালো, আর তারা ভাবে, “কে আমাদের কথা শুনতে পায়?”
PSA 59:8 কিন্তু, হে সদাপ্রভু, তুমি তাদের কথায় উপহাস করবে; তুমি সেইসব জাতিকে বিদ্রুপ করবে।
PSA 59:9 তুমি আমার শক্তি, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করি; তুমি, ঈশ্বর, আমার উচ্চদুর্গ,
PSA 59:10 আমার ঈশ্বর যার উপর আমি নির্ভর করতে পারি। ঈশ্বর আমার সামনে অগ্রসর হবেন আর যারা আমার নিন্দা করে তাদের উপর তিনি আমাকে উল্লাস করতে দেবেন।
PSA 59:11 কিন্তু তাদের হত্যা কোরো না, হে সদাপ্রভু, আমার ঢাল, নয়তো আমার লোকেরা ভুলে যাবে। তোমার পরাক্রমে তাদের উৎখাত করো আর তাদের নত করো।
PSA 59:12 তাদের মুখের পাপের জন্য, তাদের ঠোঁটের বাক্যের জন্য, তারা তাদের গর্বে ধরা পড়ুক। তাদের অভিশাপ ও মিথ্যা উচ্চারণে,
PSA 59:13 তুমি তোমার ক্রোধে তাদের গ্রাস করো, গ্রাস করো যেন তারা নিশ্চিহ্ন হয়। তখন পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত জানা যাবে যে যাকোবের ঈশ্বর শাসন করেন।
PSA 59:14 তারা সন্ধ্যাবেলায় ফিরে আসে, কুকুরের মতো দাঁত খিচিয়ে, আর নগরের চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়।
PSA 59:15 তারা খাবারের খোঁজে এদিক-ওদিক যায় আর পরিতৃপ্ত না হলে চিৎকার করে।
PSA 59:16 কিন্তু আমি তোমার পরাক্রমের গান গাইব, সকালে আমি তোমার দয়ার গান গাইব; কারণ তুমি আমার উচ্চদুর্গ, সংকটকালে আমার সহায়।
PSA 59:17 তুমি আমার বল, আমি তোমার প্রশংসাগান করব; তুমি, হে ঈশ্বর, আমার উচ্চদুর্গ, আমার ঈশ্বর, আমি যার উপর নির্ভর করতে পারি।
PSA 60:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের মিকতাম। যখন অরাম-নহরয়িমের এবং অরাম-সোবার সঙ্গে তার যুদ্ধ হয় এবং যোয়াব যখন ফিরে এসে লবণ উপত্যকায় বারো হাজার ইদোমীয়দের হত্যা করেছিলেন, তখন দাউদ এই শিক্ষামূলক গীতটি রচনা করেন। সুর: “নিয়মের কমল।” হে ঈশ্বর, তুমি আমাদের পরিত্যাগ করেছ আর আমাদের প্রতিরক্ষা ভগ্ন করেছ; তুমি ক্রুদ্ধ হয়েছ—এবার আমাদের পুনরুদ্ধার করো!
PSA 60:2 তুমি আমাদের দেশ ঝাঁকিয়ে তুলেছ এবং বিদীর্ণ করেছ, দেশের ভাঙনের প্রতিকার করো কারণ দেশ কাঁপছে।
PSA 60:3 তুমি তোমার প্রজাদের দুর্দশার সময় দেখিয়েছ, তুমি আমাদের এমন সুরা দিয়েছ যাতে আমরা টলমল হয়েছি।
PSA 60:4 কিন্তু যারা তোমাকে সম্ভ্রম করে, তুমি তাদের জন্য একটি পতাকা তুলেছ, যেন তা সত্যের পক্ষে তুলে ধরা যায়।
PSA 60:5 তোমার ডান হাত দিয়ে তুমি আমাদের রক্ষা করো ও সাহায্য করো, যেন তারা উদ্ধার পায় যাদের তুমি ভালোবাসো।
PSA 60:6 ঈশ্বর তাঁর পবিত্রস্থান থেকে কথা বলেছেন: “জয়ধ্বনিতে আমি শিখিম বিভক্ত করব, সুক্কোতের উপত্যকা আমি পরিমাপ করে দেব।
PSA 60:7 গিলিয়দ আমার, ও মনঃশিও আমার; ইফ্রয়িম আমার শিরস্ত্রাণ, যিহূদা আমার রাজদণ্ড।
PSA 60:8 মোয়াব আমার হাত ধোয়ার পাত্র, ইদোমের উপরে আমি আমার চটি নিক্ষেপ করব; ফিলিস্তিয়ার উপরে আমি জয়ধ্বনি করব।”
PSA 60:9 কে আমাকে সুরক্ষিত নগরের মধ্যে নিয়ে যাবে? কে ইদোম পর্যন্ত আমাকে পথ দেখাবে?
PSA 60:10 হে ঈশ্বর, তুমি কি এখন আমাদের ত্যাগ করেছ? তুমি কি আমাদের সৈন্যদলের সাথে আর যাবে না?
PSA 60:11 আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করো, কারণ মানুষের সাহায্য নিষ্ফল।
PSA 60:12 ঈশ্বরের সাথে আমরা জয়লাভ করব, এবং তিনি আমাদের শত্রুদের পদদলিত করবেন।
PSA 61:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। তারযন্ত্র সহযোগে দাউদের গীত। হে ঈশ্বর, আমার কান্না শোনো; আমার প্রার্থনায় কর্ণপাত করো।
PSA 61:2 পৃথিবীর সুদূর প্রান্ত থেকে আমি তোমাকে ডাকি, আমি তোমাকে ডাকি যখন আমার হৃদয় নিস্তেজ হয়; আমার থেকে সুরক্ষিত উচ্চ শৈলের উপরে আমাকে নিয়ে চলো।
PSA 61:3 কারণ তুমি আমার আশ্রয় হয়েছ, বিপক্ষের বিরুদ্ধে তুমি আমার সুদৃঢ় দুর্গ।
PSA 61:4 আমি চিরকাল তোমার তাঁবুতে বসবাস করার আকাঙ্ক্ষা করি এবং তোমার ডানার ছায়াতে আশ্রয় নিই।
PSA 61:5 হে ঈশ্বর, তুমি আমার প্রতিটি শপথ শুনেছ; যারা তোমার নাম ভয় করে তাদের উত্তরাধিকার তুমি আমাকে দিয়েছ।
PSA 61:6 রাজার জীবনের দিনগুলি, বহু প্রজন্ম ধরে তাঁর আয়ু বৃদ্ধি করো।
PSA 61:7 তিনি চিরকাল ঈশ্বরের সামনে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকুন; তোমার দয়া ও বিশ্বস্ততা তাঁকে সুরক্ষিত রাখুক।
PSA 61:8 তখন আমি চিরকাল তোমার নামের স্তুতিগান গাইব এবং দিনের পর দিন আমার শপথ পালন করব।
PSA 62:1 যিদূথূন, সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমার প্রাণ নীরবে ঈশ্বরের অপেক্ষায় রয়েছে; আমার পরিত্রাণ তাঁর কাছ থেকেই আসে।
PSA 62:2 সত্যিই তিনি আমার শৈল ও আমার পরিত্রাণ; তিনি আমার আশ্রয় দুর্গ, আমি কখনও বিচলিত হব না।
PSA 62:3 আর কত কাল শত্রুরা আমাকে লাঞ্ছনা করবে? তোমরা সকলে কি আমাকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেবে? তাদের কাছে আমি এক ভাঙা প্রাচীর ও নড়বড়ে বেড়ার মতো!
PSA 62:4 তারা নিশ্চয় আমাকে আমার উঁচু স্থান থেকে বিচ্যুত করতে চায়; তারা মিথ্যা কথায় আমোদ করে। তারা মুখ দিয়ে আশীর্বাদ করে, কিন্তু অন্তরে অভিশাপ দেয়।
PSA 62:5 হে আমার প্রাণ, ঈশ্বরে বিশ্রাম খুঁজে নাও; কারণ তাঁতেই আমি আশা রেখেছি।
PSA 62:6 সত্যিই তিনি আমার শৈল ও আমার পরিত্রাণ; তিনি আমার আশ্রয় দুর্গ, আমি কখনও বিচলিত হব না।
PSA 62:7 আমার পরিত্রাণ ও আমার সম্মান ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে; তিনি আমার শক্তিশালী শৈল, আমার আশ্রয়।
PSA 62:8 হে আমার ভক্তেরা, তাঁর উপর নিয়ত আস্থা রাখো; তাঁরই কাছে তোমাদের হৃদয় ঢেলে দাও, কারণ ঈশ্বর আমাদের আশ্রয়।
PSA 62:9 সাধারণ মানুষ নিঃশ্বাসমাত্র, সম্ভ্রান্ত মানুষ মিথ্যাতুল্য। যদি দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায়, তারা কিছুই নয়; একত্রে তারা সামান্য নিঃশ্বাস।
PSA 62:10 তোমরা শোষণে নির্ভর কোরো না, অথবা লুন্ঠিত দ্রব্যে ব্যর্থ আশা রেখো না; তোমার ধনসম্পদ বৃদ্ধি পেলেও, তোমার হৃদয় যেন তাতে আসক্ত না হয়।
PSA 62:11 ঈশ্বর একবার বলেছেন, আমি দু-বার এই কথা শুনেছি: “হে ঈশ্বর, পরাক্রম তোমারই,
PSA 62:12 আর, হে সদাপ্রভু, অবিচল প্রেম তোমারই” এবং, “তুমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের কাজ অনুসারে পুরস্কার দাও।”
PSA 63:1 দাউদের গীত। যখন তিনি যিহূদার মরুভূমিতে ছিলেন। হে ঈশ্বর, তুমিই আমার ঈশ্বর, আমি সম্পূর্ণ অন্তর দিয়ে তোমার অন্বেষণ করি, কেউ যেমন শুষ্ক ও দগ্ধ ভূমিতে জলের জন্য ব্যাকুল হয়, সেইরকম আমার প্রাণ তোমার জন্য তৃষ্ণার্ত, আমার সম্পূর্ণ সত্তা তোমার জন্য ব্যাকুল।
PSA 63:2 তোমার পবিত্রস্থানে আমি তোমাকে দেখেছি এবং তোমার পরাক্রম ও মহিমা আমি দেখেছি।
PSA 63:3 আমার মুখ তোমার মহিমা করবে, কারণ তোমার প্রেম জীবনের থেকে উত্তম।
PSA 63:4 যতদিন বাঁচব ততদিন আমি তোমার নামের প্রশংসা করব, এবং তোমার প্রতি প্রার্থনায় আমি দু-হাত তুলব।
PSA 63:5 সুস্বাদু খাবার খেয়ে আমি পরিতৃপ্ত হব, আনন্দধ্বনি গেয়ে আমি তোমার স্তব করব।
PSA 63:6 বিছানায় শুয়ে আমি তোমাকে স্মরণ করি; রাত্রির প্রহরে আমি তোমার কথা চিন্তা করি।
PSA 63:7 তোমার ডানার ছায়ায় আমি গান করি কারণ তুমিই আমার সহায়।
PSA 63:8 আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরে থাকি তোমার শক্তিশালী ডান হাত আমাকে ধারণ করে।
PSA 63:9 যারা আমাকে হত্যা করতে চায় তাদের সর্বনাশ হবে, তারা পৃথিবীর গভীরস্থানে নেমে যাবে।
PSA 63:10 তরোয়ালের কোপে তাদের মৃত্যু হবে, এবং শিয়ালের খাবারে পরিণত হবে।
PSA 63:11 কিন্তু রাজা, ঈশ্বরে আনন্দ করবেন; যারা সবাই ঈশ্বরে আস্থা রাখে তারা তাঁর স্তব করবে, সেই সময় মিথ্যাবাদীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হবে।
PSA 64:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমার কথা শোনো, হে আমার ঈশ্বর, আমার অভিযোগ শোনো; শত্রুর হুমকি থেকে আমার জীবন রক্ষা করো।
PSA 64:2 দুষ্টদের ষড়যন্ত্র থেকে আর অনিষ্টকারীদের চক্রান্ত থেকে, আমার জীবনকে লুকিয়ে রাখো।
PSA 64:3 তারা তরোয়ালের মতো নিজেদের জিভে ধার দিয়েছে আর বিষাক্ত তিরের মতো নির্মম বাক্য দিয়ে তাদের লক্ষ্যস্থির করেছে।
PSA 64:4 তারা আড়াল থেকে নির্দোষ মানুষের উপর তির ছোঁড়ে; হঠাৎ তির ছোঁড়ে, ভয় করে না।
PSA 64:5 তারা একে অপরকে কুটিল মন্ত্রণায় প্ররোচিত করে, এবং কীভাবে গোপনে ফাঁদ পাতা যায় তার সংকল্প করে; তারা বলে, “কে এটি দেখবে?”
PSA 64:6 তারা অন্যায় ষড়যন্ত্র করে আর বলে, “আমরা এক নিখুঁত পরিকল্পনা করেছি!” নিশ্চয়, মানুষের মন ও হৃদয় ধূর্ত!
PSA 64:7 কিন্তু ঈশ্বর তাঁর তির তাদের দিকে নিক্ষেপ করবেন, হঠাৎ আঘাতে তারা ভূপতিত হবে।
PSA 64:8 তিনি তাদের জিভ তাদের বিরুদ্ধেই চালনা করবেন এবং তাদের ধ্বংস করবেন; তাদের এই দশা দেখে সকলে উপহাসে মাথা নাড়াবে।
PSA 64:9 সব মানুষ ভীত হবে; তারা ঈশ্বরের ক্রিয়াকলাপ ঘোষণা করবে এবং তাঁর কর্মসকলে মনোনিবেশ করবে।
PSA 64:10 ধার্মিক সদাপ্রভুতে আনন্দ করবে ও তাঁতে শরণ নেবে; যারা হৃদয়ে ন্যায়পরায়ণ তারা তাঁর জয়গান করবে।
PSA 65:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। একটি সংগীত। হে ঈশ্বর, সিয়োনে তোমার জন্য প্রশংসা অপেক্ষা করে; তোমার উদ্দেশে আমরা আমাদের শপথ পূর্ণ করব
PSA 65:2 কারণ তুমি প্রার্থনার উত্তর দিয়েছ। সব মানুষ তোমার কাছে আসবে।
PSA 65:3 আমরা যখন আমাদের পাপে ভারাক্রান্ত ছিলাম, তুমি আমাদের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেছিলে।
PSA 65:4 ধন্য সেই ব্যক্তি যাকে তুমি মনোনীত করেছ এবং কাছে এনেছ যেন তোমার প্রাঙ্গণে বসবাস করতে পারে! তোমার গৃহের ও তোমার পবিত্র মন্দিরের উত্তম সম্পদে আমরা পরিতৃপ্ত হয়েছি।
PSA 65:5 হে ঈশ্বর, আমাদের ত্রাণকর্তা, তুমি অসাধারণ ও ধার্মিক ক্রিয়াসকলের মাধ্যমে আমাদের প্রার্থনার উত্তর দিয়েছ। পৃথিবীর সকলের আশা তুমি এমনকি যারা সুদূর সমুদ্রে যাত্রা করে তাদেরও।
PSA 65:6 তোমার পরাক্রমে তুমি পর্বতমালাকে নির্মাণ করেছ, এবং মহা শক্তিবলে নিজেকে সজ্জিত করেছ।
PSA 65:7 তুমি গর্জনশীল সমুদ্র ও তাদের উত্তাল ঢেউ শান্ত করেছ, এবং জাতিদের কোলাহল চুপ করিয়েছ।
PSA 65:8 যারা পৃথিবীর দূর প্রান্তে বাস করে তারা তোমার আশ্চর্য ক্রিয়ায় ভীত; সূর্য ওঠার স্থান থেকে অস্ত যাওয়ার স্থান পর্যন্ত, তুমি আনন্দধ্বনি জাগিয়েছ।
PSA 65:9 তুমি এই পৃথিবীকে যত্ন করছ ও জল সেচন করছ, সমৃদ্ধ ও উর্বর করে তুলছ। ঈশ্বরের নদী জলে পূর্ণ; যা সবাইকে প্রচুর শস্যের সম্ভার দেয়; কারণ এইভাবেই তুমি আদেশ দিয়েছ।
PSA 65:10 তুমি চষা জমির লাঙলরেখা ভিজিয়ে রাখছ এবং ঢাল সমান করছ; তুমি বৃষ্টি দিয়ে তা নরম করছ এবং তার ফসলে আশীর্বাদ করছ।
PSA 65:11 ফসলের সম্ভারে তুমি বছরকে মুকুটে ভূষিত করছ, আর তোমার ঠেলাগাড়ি প্রাচুর্যে উপচে পড়ে।
PSA 65:12 মরুপ্রান্তরের তৃণভূমি উপচে পড়ে; আর সব পাহাড় আনন্দে সজ্জিত হয়।
PSA 65:13 পশুপালে চারণভূমি পরিপূর্ণ হয়, উপত্যকাগুলি শস্যসম্ভারে আবৃত হয়; তারা জয়ধ্বনি করে ও গান গায়।
PSA 66:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। একটি সংগীত। একটি গীত। সমস্ত পৃথিবী, ঈশ্বরের উদ্দেশে আনন্দধ্বনি করো!
PSA 66:2 তাঁর নামের গৌরব কীর্তন করো; তাঁর প্রশংসা গৌরবান্বিত করো।
PSA 66:3 ঈশ্বরকে বলো, “কী অসাধারণ তোমার কার্যসকল! এমন তোমার পরাক্রম যে তোমার শত্রুরা তোমার সামনে কুঁকড়ে যায়।
PSA 66:4 সমস্ত পৃথিবী তোমার সামনে অবনত হয়; তারা তোমার প্রশংসাগান গায়, তারা তোমার নামের প্রশংসাগান গায়।”
PSA 66:5 এসো আর দেখো ঈশ্বর কী করেছেন, মানুষের জন্য তাঁর অসাধারণ কীর্তি!
PSA 66:6 তিনি সমুদ্র শুষ্ক জমিতে পরিণত করেন, তারা পায়ে হেঁটে জলের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল— এসো, আমরা ঈশ্বরে আনন্দ করি।
PSA 66:7 তিনি তাঁর পরাক্রমে চিরকাল শাসন করেন, তাঁর চোখ জাতিদের লক্ষ্য করে; বিদ্রোহীরা যেন তাঁর বিরুদ্ধে মাথা তুলে না দাঁড়ায়।
PSA 66:8 সমস্ত লোক, তোমরা আমাদের ঈশ্বরের প্রশংসা করো, তাঁর প্রশংসার ধ্বনি শোনা যাক;
PSA 66:9 তিনি আমাদের জীবন সুরক্ষিত করেছেন আর আমাদের পা পিছলে যাওয়া থেকে আমাদের আগলে রেখেছেন।
PSA 66:10 কারণ তুমি ঈশ্বর, আমাদের পরীক্ষা করেছ; তুমি আমাদের রুপোর মতো পরীক্ষাসিদ্ধ করেছ।
PSA 66:11 তুমি আমাদের কারাগারে বন্দি করেছ আর আমাদের পিঠে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছ।
PSA 66:12 লোকজন দ্বারা আমাদের মাথা তুমি পিষে ফেলতে দিয়েছ; আমরা আগুন ও জলের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, কিন্তু তুমি আমাদের প্রাচুর্যের স্থানে নিয়ে এসেছ।
PSA 66:13 হোমবলি নিয়ে আমি তোমার মন্দিরে প্রবেশ করব আর আমার শপথ পূর্ণ করব—
PSA 66:14 আমার বিপদের সময় যে শপথ আমার ঠোঁট অঙ্গীকার করেছিল আর আমার মুখ উচ্চারণ করেছিল।
PSA 66:15 আমি তোমার উদ্দেশে হৃষ্টপুষ্ট পশুবলি দেব, আর মদ্দা মেষ উপহার দেব; আমি বলদ ও ছাগল উৎসর্গ করব।
PSA 66:16 তোমরা যারা ঈশ্বরকে ভয় করো, এসো আর শোনো; তিনি আমার জন্য কী করেছেন তা আমি তোমাদের বলছি।
PSA 66:17 আমি তাঁর প্রতি কেঁদেছিলাম আর মুখ দিয়ে প্রার্থনা করেছিলাম; তাঁর প্রশংসা আমার জিভে ছিল।
PSA 66:18 যদি আমি আমার হৃদয়ে পাপ পুষে রাখতাম, সদাপ্রভু আমার প্রার্থনা গ্রাহ্য করতেন না;
PSA 66:19 কিন্তু ঈশ্বর নিশ্চয় শুনেছেন আর আমার প্রার্থনায় কর্ণপাত করেছেন।
PSA 66:20 ঈশ্বরের প্রশংসা হোক, যিনি আমার প্রার্থনা অস্বীকার করেননি এবং তাঁর অবিচল প্রেম থেকে আমাকে বঞ্চিত করেননি।
PSA 67:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। তারযুক্ত যন্ত্র সহযোগে একটি গীত। একটি সংগীত। ঈশ্বর আমাদের প্রতি করুণা করুন ও আমাদের আশীর্বাদ করুন তাঁর মুখ আমাদের উপর উজ্জ্বল করুন—
PSA 67:2 যেন তোমার পথসকল জগতে আর তোমার পরিত্রাণ সমস্ত জাতির মধ্যে জ্ঞাত হয়।
PSA 67:3 হে ঈশ্বর, লোকেরা তোমার স্তব করুক; সমস্ত লোকজন তোমার প্রশংসা করুক।
PSA 67:4 সমস্ত জাতি আনন্দ করুক আর উল্লসিত হোক, কারণ তুমি লোকেদের ন্যায়সংগতভাবে শাসন করছ এবং পৃথিবীর জাতিদের পরিচালনা করছ।
PSA 67:5 হে ঈশ্বর, লোকেরা তোমার স্তব করুক, সমস্ত লোকজন তোমার প্রশংসা করুক।
PSA 67:6 তখন এই পৃথিবী ফসল উৎপন্ন করবে; এবং ঈশ্বর, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের বিপুলভাবে আশীর্বাদ করবেন।
PSA 67:7 হ্যাঁ, ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করবেন, তাতে এই পৃথিবীর সব মানুষ তাঁকে ভয় করবে।
PSA 68:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। একটি সংগীত। হে ঈশ্বর, ওঠো, তোমার শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করো; যারা ঈশ্বরকে ঘৃণা করে তারা তাদের জীবন নিয়ে পালিয়ে যাক।
PSA 68:2 তুমি তাদের ধোঁয়ার মতো উড়িয়ে দিয়েছ— যেমন আগুনে মোম গলে যায়, ঈশ্বরের সামনে দুষ্টরা সেভাবে বিনষ্ট হোক।
PSA 68:3 কিন্তু ধার্মিক আনন্দিত হোক আর ঈশ্বরের সামনে উল্লসিত হোক; তারা খুশি হোক আর আহ্লাদিত হোক।
PSA 68:4 ঈশ্বরের উদ্দেশে গান করো, তাঁর নামের উদ্দেশে প্রশংসাগান গাও, যিনি মেঘের উপর চড়ে যাত্রা করেন তাঁর উচ্চপ্রশংসা করো; তাঁর সামনে উল্লাস করো—তাঁর নাম সদাপ্রভু।
PSA 68:5 ঈশ্বর অনাথদের বাবা আর বিধবাদের পক্ষসমর্থনকারী; তাঁর আবাস পবিত্র।
PSA 68:6 যারা একা থাকে ঈশ্বর তাদের পরিবার দেন, তিনি বন্দিদের মুক্ত করেন আর তাদের আনন্দ দেন; কিন্তু বিদ্রোহীরা দগ্ধ ভূমিতে বসবাস করে।
PSA 68:7 হে ঈশ্বর, যখন তুমি তোমার প্রজাদের মিশর দেশ থেকে বের করলে, যখন তুমি মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হলে,
PSA 68:8 পৃথিবী কেঁপে উঠল, আকাশমণ্ডল বৃষ্টি ঢেলে দিল, সীনয়ের ঈশ্বর, ঈশ্বরের সামনে, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, ঈশ্বরের সামনে।
PSA 68:9 তুমি প্রচুর বৃষ্টিধারা দিলে, হে ঈশ্বর; তোমার পরিশ্রান্ত অধিকারকে তুমি সতেজ করে তুললে।
PSA 68:10 তোমার প্রজারা সেই দেশে বসতি স্থাপন করল, আর হে ঈশ্বর, তোমার প্রাচুর্য থেকে তুমি দরিদ্রদের জোগান দিলে।
PSA 68:11 সদাপ্রভু বাক্য ঘোষণা করেন, আর শুভবার্তার প্রচারিকারা এক মহান বাহিনী:
PSA 68:12 “রাজারা আর সৈন্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়; মহিলারা লুট করা দ্রব্য বাড়িতে ভাগ করে।
PSA 68:13 এমনকি যারা মেষের খোঁয়াড়ে বাস করত তারাও ধনসম্পদ খুঁজে পেল— রুপোর ডানাসহ ঘুঘু আর সোনার পালক।”
PSA 68:14 সল্‌মন পর্বতে তুষারপাতের মতো সর্বশক্তিমান সেই দেশে রাজাদের ছিন্নভিন্ন করলেন।
PSA 68:15 বাশনের পর্বতমালা মহিমান্বিত, অনেক উঁচু শৃঙ্গ গগনচুম্বী।
PSA 68:16 হে রুক্ষ পর্বত, কেন তুমি সেই পর্বতের দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকাও যে পর্বত ঈশ্বর শাসন করার জন্য বেছে নিয়েছেন, আর যে পর্বতে সদাপ্রভু চিরকাল বসবাস করবেন।
PSA 68:17 ঈশ্বরের রথ অযুত অযুত এবং লক্ষ লক্ষ; সদাপ্রভু সীনয় পর্বত থেকে তাঁর পবিত্রস্থানে এসেছেন।
PSA 68:18 যখন তুমি ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছিলে তুমি বন্দিদের বন্দি করেছিলে; তুমি লোকেদের কাছ থেকে উপহার পেয়েছ, এমনকি যারা বিদ্রোহী তাদের কাছ থেকেও— যেন তুমি, হে সদাপ্রভু ঈশ্বর, সেখানে বসবাস করো।
PSA 68:19 প্রভু ঈশ্বর, আমাদের রক্ষাকর্তার প্রশংসা হোক, যিনি প্রতিদিন আমাদের বোঝা বহন করেন।
PSA 68:20 আমাদের ঈশ্বর এমন ঈশ্বর যিনি পরিত্রাণ দেন; সার্বভৌম সদাপ্রভু মৃত্যু থেকে আমাদের উদ্ধার করেন।
PSA 68:21 নিশ্চয় ঈশ্বর তাঁর শত্রুদের মাথা, এবং তাদের চুলের মুকুট চূর্ণ করবেন যারা পাপের পথ ভালোবাসে।
PSA 68:22 সদাপ্রভু বলেন, “আমি তাদের বাশন থেকে নিয়ে আসব; সমুদ্রের অতল থেকে আমি তাদের নিয়ে আসব,
PSA 68:23 যেন তোমার পা তোমার বিপক্ষদের রক্তের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে পারে, এবং তোমার কুকুরদের জিভ যেন তাদের ভাগ পায়।”
PSA 68:24 তোমার শোভাযাত্রা, হে ঈশ্বর, আমাদের চোখে পড়েছে, আমার ঈশ্বর ও রাজার পবিত্রস্থানে যাওয়ার শোভাযাত্রা।
PSA 68:25 সবার সামনে গায়কেরা, তারপর সুরকারেরা; তাদের সঙ্গে খঞ্জনি বাজিয়ে যুবতী মহিলারা।
PSA 68:26 মহা ধর্মসভায় ঈশ্বরের প্রশংসা হোক; ইস্রায়েলের সমাবেশে সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক।
PSA 68:27 ক্ষুদ্র বিন্যামীন গোষ্ঠী সবার আগে আগে চলেছে, যিহূদা গোষ্ঠীর শাসকেরা এক বিরাট দল, এবং আছে সবূলূন আর নপ্তালি গোষ্ঠীর শাসকগণ।
PSA 68:28 তোমার পরাক্রমকে তলব করো, হে ঈশ্বর; যেমন তুমি আগে করেছ সেভাবে তোমার শক্তি আমাদের দেখাও, হে আমাদের ঈশ্বর।
PSA 68:29 জেরুশালেমে তোমার মন্দিরের কারণে রাজারা তোমার উদ্দেশে উপহার নিয়ে আসবেন।
PSA 68:30 নলবনের মধ্যে বন্যপশুকে তিরস্কার করো, জাতিদের বাছুরদের মধ্যে বলদের পালকে তিরস্কার করো। নম্র হয়ে, বন্যপশুরা রুপোর দণ্ড নিয়ে আসুক। যারা যুদ্ধ ভালোবাসে তাদের ছিন্নভিন্ন করে দাও।
PSA 68:31 মিশর থেকে রাজদূতের দল আসবে; কূশ নিজেদেরকে ঈশ্বরের সামনে সমর্পণ করবে।
PSA 68:32 পৃথিবীর সব রাজ্য, তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে গান করো, প্রভুর উদ্দেশে প্রশংসাগান করো,
PSA 68:33 তাঁর প্রতি করো যিনি সর্বোচ্চ আকাশমণ্ডল, প্রাচীন আকাশমণ্ডল দিয়ে যাত্রা করেন, যিনি পরাক্রমের কণ্ঠস্বরে গর্জন করেন।
PSA 68:34 ঈশ্বরের শক্তির প্রচার করো, যাঁর মহিমা ইস্রায়েলের উপরে উজ্জ্বল হয়, যাঁর শক্তি আকাশমণ্ডলে মহৎ।
PSA 68:35 হে ঈশ্বর, তোমার পবিত্রস্থানে তুমি ভয়াবহ; ইস্রায়েলের ঈশ্বর তাঁর ভক্তদের শক্তি আর সামর্থ্য প্রদান করেন। ঈশ্বরের প্রশংসা হোক!
PSA 69:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। সুর: “লিলি ফুল।” হে ঈশ্বর, আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমার গলা পর্যন্ত জল উঠে এসেছে।
PSA 69:2 আমি গভীর পাঁকে ডুবেছি, যেখানে দাঁড়াবার স্থান নেই। আমি গভীর জলে আছি; আর বন্যা আমাকে ঢেকে ফেলেছে।
PSA 69:3 সাহায্যের প্রার্থনা করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়েছি; আমার গলা শুকিয়ে গেছে। আমার ঈশ্বরের খোঁজ করতে করতে আমার দৃষ্টি ব্যর্থ হয়েছে।
PSA 69:4 যারা আমাকে অকারণে ঘৃণা করে আমার মাথার চুলের থেকেও তারা সংখ্যায় বেশি; অকারণে অনেকে আমার শত্রু হয়েছে, যারা আমাকে ধ্বংস করতে চায়। যা আমি চুরি করিনি তা ফিরিয়ে দিতে আমাকে বাধ্য করা হয়।
PSA 69:5 হে ঈশ্বর, তুমি আমার মূর্খতা জানো; আমার দোষ তোমার কাছে ঢাকা নেই।
PSA 69:6 প্রভু, হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, যারা তোমাতে আশা রাখে তারা যেন আমার জন্য অপমানিত না হয়; হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, যারা তোমার অন্বেষণ করে তারা যেন আমার জন্য লজ্জিত না হয়।
PSA 69:7 তোমার কারণে আমি ঘৃণা সহ্য করি, এবং লজ্জা আমার মুখ ঢেকে দেয়।
PSA 69:8 আমার নিজের পরিবারের কাছে আমি এক বিদেশি, আমার নিজের মায়ের ছেলেমেয়েদের কাছে আমি অপরিচিত;
PSA 69:9 তোমার গৃহের জন্য আবেগ আমাকে গ্রাস করেছে, আর যারা তোমাকে অপমান করে তাদের অপমান আমার উপরে এসে পড়েছে।
PSA 69:10 যখন আমি ঘুমাই আর উপবাস করি, তারা আমাকে উপহাস করে;
PSA 69:11 যখন আমি চট পরি, লোকেরা আমাকে নিয়ে মজা করে।
PSA 69:12 যারা প্রবেশপথে বসে তারা আমাকে উপহাস করে, আর সব মাতাল আমাকে নিয়ে গান গায়।
PSA 69:13 কিন্তু, হে সদাপ্রভু, তোমার অনুগ্রহের সময়ে আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি; হে ঈশ্বর, তোমার মহান প্রেমে তোমার নিশ্চিত পরিত্রাণে আমাকে উত্তর দাও।
PSA 69:14 আমাকে পাঁক থেকে উদ্ধার করো, আমাকে ডুবে যেতে দিয়ো না; যারা আমাকে ঘৃণা করে তাদের থেকে আর গভীর জল থেকে আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 69:15 বন্যার জল যেন আমাকে আচ্ছন্ন না করে গভীর জল যেন আমাকে গ্রাস না করে মৃত্যুর গর্ত যেন আমাকে গিলে না ফেলে।
PSA 69:16 হে সদাপ্রভু, তোমার প্রেমের উত্তমতায় আমাকে উত্তর দাও; তোমার মহান দয়াতে আমার দিকে ফেরো।
PSA 69:17 তোমার দাসের কাছ থেকে তোমার মুখ লুকিয়ে রেখো না; আমাকে তাড়াতাড়ি উত্তর দাও, কারণ আমি বিপদে রয়েছি।
PSA 69:18 আমার কাছে এসো আর আমাকে উদ্ধার করো; আমার শত্রুদের হাত থেকে আমাকে মুক্ত করো।
PSA 69:19 তুমি জানো আমি কীভাবে তুচ্ছ, অপমানিত আর লজ্জিত হয়েছি; আমার সব শত্রু তোমার সামনে।
PSA 69:20 উপহাস আমার হৃদয় ভেঙেছে আর আমাকে অসহায় করেছে; আমি সহানুভূতি খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না, সান্ত্বনাকারীদের খুঁজলাম কিন্তু কাউকে পেলাম না।
PSA 69:21 তারা আমার খাবারে পিত্তরস মিশিয়েছে আর আমার তৃষ্ণা মেটাতে অম্লরস দিয়েছে।
PSA 69:22 তাদের সাজানো মেজ তাদের জন্য জাল হয়ে উঠুক; এবং তাদের সুরক্ষা ফাঁদ হয়ে উঠুক।
PSA 69:23 তাদের চোখ অন্ধকারে পূর্ণ হোক যেন তারা দেখতে না পায়, এবং তাদের পিঠ চিরকাল বেঁকে থাকুক।
PSA 69:24 তোমার ক্রোধ তাদের উপর ঢেলে দাও; তোমার প্রচণ্ড রাগ তাদের গ্রাস করুক।
PSA 69:25 তাদের বাসস্থান শূন্য হোক; তাদের তাঁবুতে বসবাস করার জন্য যেন কেউ না থাকে।
PSA 69:26 তুমি যাদের আঘাত দিয়েছ তাদের প্রতি ওরা অত্যাচার করে আর যাদের তুমি আহত করেছ তাদের সম্বন্ধে ওরা কথা বলে।
PSA 69:27 অপরাধের পর অপরাধ দিয়ে তাদের অভিযুক্ত করো; ওরা যেন তোমার পরিত্রাণের অংশীদার না হয়।
PSA 69:28 তাদের নাম যেন জীবনপুস্তক থেকে মুছে দেওয়া হয় আর ধার্মিকদের সাথে যেন তাদের গণ্য করা না হয়।
PSA 69:29 কিন্তু আমি পীড়িত, আর ব্যথায় আছি— হে ঈশ্বর, তোমার পরিত্রাণ আমাকে রক্ষা করুক।
PSA 69:30 গানের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরের নামের প্রশংসা করব ধন্যবাদ সহকারে আমি তাঁকে গৌরবান্বিত করব।
PSA 69:31 বলদ বলি দেওয়ার থেকেও এসব সদাপ্রভুকে তুষ্ট করবে, এমনকি শিং ও খুর সহ ষাঁড়ের বলি অপেক্ষাও।
PSA 69:32 দরিদ্রেরা এসব দেখবে আর আনন্দিত হবে— তোমরা যারা ঈশ্বরের অন্বেষণ করো, তোমাদের হৃদয় বেঁচে থাকুক!
PSA 69:33 সদাপ্রভু দরিদ্রদের কান্না শোনেন এবং তাঁর বন্দি লোকেদের তুচ্ছ করেন না।
PSA 69:34 স্বর্গ ও পৃথিবী, সমুদ্র ও যা কিছু তাতে জীবিত, তাঁর প্রশংসা করুক,
PSA 69:35 কারণ ঈশ্বর সিয়োনকে রক্ষা করবেন এবং যিহূদার নগরসকল পুনর্গঠন করবেন। তখন লোকেরা সেখানে বসবাস করবে আর তা দখল করবে;
PSA 69:36 তাঁর সেবকদের সন্তানসন্ততিরা তা অধিকার করবে, আর যারা তাঁর নাম ভালোবাসে তারা সেখানে বসবাস করবে।
PSA 70:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। একটি নিবেদন। হে ঈশ্বর, আমাকে তাড়াতাড়ি উদ্ধার করো! হে সদাপ্রভু, তুমি তাড়াতাড়ি এসো আর আমাকে সাহায্য করো।
PSA 70:2 যারা আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করে, তারা যেন লজ্জিত ও অপমানিত হয়; যারা আমার ধ্বংস কামনা করে তারা যেন লাঞ্ছনায় পিছু ফিরে যায়।
PSA 70:3 যারা আমাকে বলে, “হা! হা!” তারা যেন লজ্জায় পিছু ফিরে যায়।
PSA 70:4 কিন্তু যারা তোমার অন্বেষণ করে তারা তোমাতে আনন্দ করুক ও খুশি হোক; যারা তোমার পরিত্রাণ ভালোবাসে তারা সর্বদা বলুক, “সদাপ্রভু মহান!”
PSA 70:5 কিন্তু আমি দরিদ্র ও অভাবী; হে ঈশ্বর, আমাকে সাহায্য করতে তাড়াতাড়ি এসো, তুমিই আমার সহায় এবং আমার মুক্তিদাতা, হে সদাপ্রভু, দেরি কোরো না।
PSA 71:1 হে সদাপ্রভু, আমি তোমাতে আশ্রয় নিয়েছি; আমাকে কখনও লজ্জিত হতে দিয়ো না।
PSA 71:2 তোমার ধার্মিকতায়, আমাকে রক্ষা করো আর উদ্ধার করো; আমার দিকে কর্ণপাত করো আর আমাকে রক্ষা করো।
PSA 71:3 তুমি আমার আশ্রয় শৈল হও, যেখানে আমি সর্বদা যেতে পারি; আমাকে রক্ষা করার জন্য আদেশ দাও, কারণ তুমি আমার শৈল ও আমার উচ্চদুর্গ।
PSA 71:4 হে আমার ঈশ্বর, দুষ্টদের হাত থেকে, মন্দ ও নিষ্ঠুরদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 71:5 কারণ, হে সার্বভৌম ঈশ্বর, তুমিই আমার আশা, আমার যৌবনকাল থেকে তুমি আমার আত্মবিশ্বাস।
PSA 71:6 জন্ম থেকে আমি তোমার উপর নির্ভর করেছি; তুমি আমাকে আমার মাতৃগর্ভ থেকে বের করে এনেছ। আমি চিরকাল তোমার প্রশংসা করব।
PSA 71:7 আমি অনেকের কাছে নিদর্শন হয়েছি; তুমি আমার শক্তিশালী আশ্রয়।
PSA 71:8 আমার মুখ তোমার প্রশংসায় পূর্ণ, আর সারাদিন তোমার মহিমা প্রচার করে।
PSA 71:9 যখন আমি বৃদ্ধ হব আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না; যখন আমার শক্তি ক্ষয় হবে তখন আমাকে পরিত্যাগ কোরো না।
PSA 71:10 কারণ আমার শত্রুরা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে; যারা আমাকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করে তারা একত্রে ষড়যন্ত্র করে।
PSA 71:11 তারা বলে, “ঈশ্বর তাকে পরিত্যাগ করেছেন; ওর পশ্চাদ্ধাবন করো আর ওকে বন্দি করো, কারণ কেউ তাকে উদ্ধার করবে না।”
PSA 71:12 হে আমার ঈশ্বর, আমার থেকে দূরে থেকো না; তাড়াতাড়ি এসো, হে ঈশ্বর, আমাকে সাহায্য করো।
PSA 71:13 আমার অভিযোগকারীরা লজ্জায় বিনষ্ট হোক; যারা আমার ক্ষতি করতে চায় তারা অবজ্ঞা আর ঘৃণায় আবৃত হোক।
PSA 71:14 কিন্তু আমি, সর্বদা আশা রাখব; আমি উত্তর উত্তর তোমার প্রশংসা করব।
PSA 71:15 যদিও আমি বাক্যে সুদক্ষ নই তবুও আমার মুখ তোমার ধর্মশীলতা আর সারাদিন তোমার পরিত্রাণ কার্যাবলি প্রচার করবে।
PSA 71:16 হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমি এসে তোমার পরাক্রমী কার্যাবলি প্রচার করব; তোমার, কেবল তোমারই, ধার্মিক ক্রিয়াকলাপের কথা আমি প্রচার করব।
PSA 71:17 আমার যৌবনকাল থেকে, হে ঈশ্বর, তুমি আমাকে শিক্ষা দিয়েছ, আর এই দিন পর্যন্ত আমি তোমার চমৎকার কার্যাবলি ঘোষণা করি।
PSA 71:18 যখন আমি বৃদ্ধ হই আর আমার চুল ধুসর হয়, হে আমার ঈশ্বর, আমাকে পরিত্যাগ কোরো না; যতদিন না পর্যন্ত আমি তোমার শক্তি আগামী প্রজন্মের কাছে আর যারা আসবে তাদের কাছে তোমার পরাক্রম ঘোষণা করতে পারি।
PSA 71:19 হে ঈশ্বর, তোমার ধার্মিকতা আকাশমণ্ডল পর্যন্ত পৌঁছায়, তুমি মহান কর্ম সাধন করেছ। হে ঈশ্বর, তোমার মতো কে আছে?
PSA 71:20 যদিও তুমি আমাকে অনেক তিক্ত কষ্ট দেখিয়েছ, তুমি আমার জীবন পুনরুদ্ধার করবে; তুমি আমাকে পৃথিবীর গভীরস্থান থেকে আবার বের করে আনবে।
PSA 71:21 আর একবার তুমি আমার সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করবে।
PSA 71:22 হে ঈশ্বর, তোমার বিশ্বস্ততার জন্য আমি বীণা সহযোগে তোমার প্রশংসা করব; হে ইস্রায়েলের পবিত্রজন, সুরবাহার দিয়ে আমি তোমার প্রশংসা করব।
PSA 71:23 আমার ঠোঁট উচ্চধ্বনি করবে আর তোমার প্রশংসা করবে কারণ তুমি আমাকে মুক্ত করেছ।
PSA 71:24 সারাদিন আমার জিভ তোমার ধর্মশীলতার কথা বলবে, কারণ যারা আমার ক্ষতি করতে চেয়েছিল তারা লজ্জিত ও অপমানিত হয়েছে।
PSA 72:1 শলোমনের গীত। হে ঈশ্বর, তুমি রাজাকে ন্যায়পরায়ণতা আর রাজপুত্রকে ধার্মিকতা প্রদান করো।
PSA 72:2 তিনি ধার্মিকতায় তোমার ভক্তদের আর ন্যায়পরায়ণতায় তোমার পীড়িতদের বিচার করবেন।
PSA 72:3 পর্বতগুলি সবার জন্য সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক, আর পাহাড়গুলি ধার্মিকতার ফল প্রদান করুক।
PSA 72:4 তিনি লোকেদের মাঝে পীড়িতদের বিচার করুন আর অভাবীদের ছেলেমেয়েদের রক্ষা করুন; তিনি অত্যাচারীকে চূর্ণ করুন।
PSA 72:5 যতদিন সূর্য থাকবে ততদিন আর যতদিন চন্দ্রের অস্তিত্ব রইবে, তিনি স্থায়ী হবেন, বংশপরম্পরায় হবেন।
PSA 72:6 কাটা ঘাসের প্রান্তরে তিনি বৃষ্টির মতো নেমে আসবেন, জলধারার মতো যা পৃথিবীকে সেচন করে।
PSA 72:7 তাঁর সময়ে ধার্মিক উন্নতি লাভ করবে আর চন্দ্রের শেষকাল পর্যন্ত সমৃদ্ধি উপচে পড়বে।
PSA 72:8 তিনি সমুদ্র থেকে সমুদ্র পর্যন্ত আর নদী থেকে পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত শাসন করুন।
PSA 72:9 মরুভূমির গোষ্ঠীসকল তাঁর সামনে নত হবে এবং তাঁর শত্রুরা মাটির ধুলো চাটবে।
PSA 72:10 তর্শীশ আর সুদূর উপকূলবর্তী দেশের রাজারা তাঁর উদ্দেশে নৈবেদ্য নিয়ে আসুক। শিবা ও সবার রাজারা তাঁর জন্য উপহার নিয়ে আসুক।
PSA 72:11 রাজারা সবাই তাঁর সামনে নত হোক আর সমস্ত জাতি তাঁর সেবা করুক।
PSA 72:12 তিনি আর্তনাদকারী অভাবীদের আর অসহায় পীড়িতদের উদ্ধার করবেন।
PSA 72:13 তিনি দরিদ্র ও অভাবীদের প্রতি দয়া করবেন এবং অভাবীদের মৃত্যু থেকে রক্ষা করবেন।
PSA 72:14 তিনিই তাদের অত্যাচার ও হিংসা থেকে মুক্ত করবেন, কারণ তাঁর দৃষ্টিতে তাদের রক্ত মূল্যবান।
PSA 72:15 রাজা দীর্ঘজীবী হোন! শিবা দেশের সোনা তাঁকে দেওয়া হোক। লোকেরা তাঁর জন্য চিরকাল প্রার্থনা করুক এবং তাঁকে সর্বদা আশীর্বাদ করুক।
PSA 72:16 দেশে শস্যের প্রাচুর্য হোক; পাহাড়ের উপরে সেসব দুলে উঠুক। লেবাননের গাছের মতো ফলের গাছ উন্নতি লাভ করুক আর মাঠের ঘাসের মতো সমৃদ্ধ হোক।
PSA 72:17 তাঁর নাম চিরস্থায়ী হোক; ততদিন হোক যতদিন সূর্য আলো দেবে। সমুদয় জাতি তাঁর মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে, এবং তারা তাঁকে ধন্য বলবে।
PSA 72:18 সদাপ্রভু ঈশ্বর, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা হোক, কেবলমাত্র তিনিই চমৎকার কার্যাবলি সাধন করেন।
PSA 72:19 চিরকাল তাঁর মহানামের প্রশংসা হোক; আর সমস্ত পৃথিবী তাঁর মহিমায় পূর্ণ হোক।
PSA 72:20 যিশয়ের ছেলে দাউদের প্রার্থনা শেষ হল।
PSA 73:1 আসফের গীত। নিশ্চয়, ঈশ্বর ইস্রায়েলের পক্ষে মঙ্গলময়, যারা হৃদয়ে শুদ্ধ তাদের পক্ষে।
PSA 73:2 কিন্তু আমার পা প্রায় পিছলে গিয়েছিল; আমার পা রাখার জায়গা আমি প্রায় হারিয়েছিলাম।
PSA 73:3 আমি যখন দুষ্টদের সমৃদ্ধি দেখলাম, তখন দাম্ভিকের প্রতি ঈর্ষা করলাম।
PSA 73:4 তাদের জীবনে কোনো কষ্ট নেই; তাদের শরীর সুস্থ আর শক্তিশালী।
PSA 73:5 মানুষের সাধারণ বোঝা থেকে তারা মুক্ত; মানবিক সমস্যার দ্বারা তারা জর্জরিত হয় না।
PSA 73:6 সেইজন্য অহংকার তাদের গলার হার; তারা হিংসায় নিজেদের আবৃত করে।
PSA 73:7 তাদের অনুভূতিহীন হৃদয় থেকে অন্যায় বেরিয়ে আসে; তাদের দুষ্ট কল্পনার কোনো সীমা নেই।
PSA 73:8 তারা উপহাস করে, আক্রোশে কথা বলে; দাম্ভিকতায় তারা অত্যাচারের হুমকি দেয়।
PSA 73:9 তাদের মুখ স্বর্গের বিরুদ্ধে গর্ব করে, আর তাদের জিভ জগতের অধিকার নেয়।
PSA 73:10 সেইজন্য তাদের লোকেরা তাদের দিকে ফেরে আর প্রচুর জলপান করে।
PSA 73:11 তারা বলে, “ঈশ্বর কীভাবে জানবে? পরাৎপর কি কিছু জানে?”
PSA 73:12 দুষ্ট লোকেদের দিকে দেখো— সর্বদা তারা আরামে জীবনযাপন করে আর তাদের ধনসম্পত্তি বৃদ্ধি পায়।
PSA 73:13 বৃথাই আমি আমার হৃদয় বিশুদ্ধ রেখেছি আর সরলতায় আমার হাত পরিষ্কার করেছি।
PSA 73:14 সারাদিন ধরে আমি পীড়িত হয়েছি, আর প্রতিটি সকাল নতুন শাস্তি নিয়ে এসেছে।
PSA 73:15 যদি আমি এভাবে অপরদের প্রতি কথা বলতাম, তোমার ছেলেমেয়েদের প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতাম।
PSA 73:16 যখন আমি এসব বোঝার চেষ্টা করলাম, তা আমাকে গভীর কষ্ট দিল
PSA 73:17 যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের পবিত্রস্থানে প্রবেশ করলাম; তখন আমি তাদের শেষ পরিণতি বুঝতে পারলাম।
PSA 73:18 নিশ্চয়ই তুমি তাদের পিচ্ছিল জমিতে রেখেছ; তুমি তাদের বিনাশের উদ্দেশে নিক্ষেপ করেছ।
PSA 73:19 হঠাৎ তারা ধ্বংস হয়, সন্ত্রাসে সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে যায়!
PSA 73:20 ঘুম ভাঙলে যেমন স্বপ্ন তুচ্ছ হয়; তেমনি, হে প্রভু, তুমি জেগে উঠলে তাদের কল্পনাকে তুচ্ছ করবে।
PSA 73:21 যখন আমার হৃদয় ক্ষুণ্ণ হয়েছিল আর আমার আত্মা তিক্ত হয়েছিল,
PSA 73:22 আমি অচেতন আর অজ্ঞ ছিলাম; তোমার সামনে আমি নিষ্ঠুর বন্যপশু ছিলাম।
PSA 73:23 তবুও আমি সর্বদা তোমার সঙ্গে আছি; তুমি আমার ডান হাত ধরে রেখেছ।
PSA 73:24 তোমার উপদেশে তুমি আমাকে পথ দেখাবে, এবং অবশেষে আমাকে মহিমায় নিয়ে যাবে।
PSA 73:25 তুমি ছাড়া স্বর্গে আমার আর কে আছে? তুমি ছাড়া জগতে আর কিছুই আমি কামনা করি না।
PSA 73:26 আমার মাংস আর আমার অন্তর ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু ঈশ্বর আমার হৃদয়ের শক্তি আর আমার চিরকালের উত্তরাধিকার।
PSA 73:27 যারা তোমার থেকে দূরবর্তী তারা বিনষ্ট হবে; যারা তোমার প্রতি অবিশ্বস্ত তাদের সবাইকে তুমি ধ্বংস করবে।
PSA 73:28 কিন্তু ঈশ্বরের কাছে থাকা আমার জন্য ভালো। সার্বভৌম সদাপ্রভুকে আমি আমার আশ্রয় করেছি; আমি তোমার সমস্ত কাজের প্রচার করব।
PSA 74:1 আসফের মস্কীল। হে ঈশ্বর কেন তুমি আমাদের চিরকালের জন্য পরিত্যাগ করেছ? তোমার চারণভূমির মেষদের প্রতি কেন তোমার ক্রোধ জ্বলে ওঠে?
PSA 74:2 তুমি সেই জাতিকে মনে রেখো, যাদের তুমি প্রাচীনকালে কিনেছ, তোমার অধিকারের লোকেদের, যাদের তুমি মুক্ত করেছ— সিয়োন পর্বত, যেখানে তুমি বসবাস করেছিলে।
PSA 74:3 চিরস্থায়ী এই ধ্বংসের দিকে তুমি এবার পা বাড়াও, দেখো, শত্রুরা পবিত্রস্থানে কেমন ধ্বংস নিয়ে এসেছে।
PSA 74:4 তোমার বিপক্ষেরা সেই স্থানে গর্জন করল যেখানে তুমি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলে; তারা তাদের যুদ্ধের মানদণ্ড নিদর্শনরূপে স্থাপন করল।
PSA 74:5 তারা এমন মানুষের মতো আচরণ করল যারা ঘন বনজঙ্গল কুড়ুল দিয়ে শাসন করে।
PSA 74:6 কুড়ুল ও হাতুড়ি দিয়ে তারা সেইসব খাঁজকাটা কাজ ধ্বংস করল।
PSA 74:7 তারা তোমার পবিত্রস্থান পুড়িয়ে ধুলোতে মিলিয়ে দিল; তোমার নামের আবাসস্থল অশুচি করল।
PSA 74:8 তারা নিজেদের হৃদয়ে বলল, “আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ করব!” দেশের যে স্থানে ঈশ্বরের আরাধনা হত সেইসব স্থান তারা পুড়িয়ে দিল।
PSA 74:9 ঈশ্বরের কাছ থেকে আমাদের কোনো নিদর্শন দেওয়া হয়নি; কোনো ভাববাদী আর বেঁচে নেই, আর আমাদের কেউ জানে না এসব কতকালের জন্য।
PSA 74:10 হে ঈশ্বর, আর কত কাল শত্রুরা তোমাকে উপহাস করবে? তারা কি চিরকাল তোমার নামের অসম্মান করবে?
PSA 74:11 কেন তুমি তোমার শক্তিশালী ডান হাত আটকে রেখেছ? তা তোমার পোশাকের ভিতর থেকে বের করে শত্রুদের ধ্বংস করো!
PSA 74:12 কিন্তু ঈশ্বর বহুকাল থেকেই আমার রাজা তিনি জগতে পরিত্রাণ নিয়ে আসেন।
PSA 74:13 তুমি তোমার শক্তি দিয়ে সমুদ্র দুভাগে ভাগ করেছ; আর সামুদ্রিক দৈত্যের মাথাগুলি পিষে দিয়েছ।
PSA 74:14 তুমিই লিবিয়াথনের মাথাগুলি চূর্ণ করেছ আর মরুভূমির জন্তুদের তা খাবার জন্য দিয়েছ।
PSA 74:15 তুমি ঝরনা আর জলপ্রবাহ খুলে দিয়েছ; চিরকাল বয়ে যাওয়া নদীকে তুমি শুকনো করেছ।
PSA 74:16 দিন তোমার এবং রাতও তোমার তুমি সূর্য আর চাঁদ সৃষ্টি করেছ।
PSA 74:17 তুমি জগতের সমস্ত প্রান্তসীমা নির্ণয় করেছ; তুমি গ্রীষ্মকাল আর শীতকাল উভয় তৈরি করেছ।
PSA 74:18 হে সদাপ্রভু, মনে রেখো, শত্রুরা কেমন তোমাকে উপহাস করেছে, মূর্খ লোকেরা কীভাবে তোমার নামের অসম্মান করেছে।
PSA 74:19 তোমার ঘুঘুর প্রাণ বন্যপশুর হাতে তুলে দিয়ো না; চিরকালের জন্য তোমার পীড়িত লোকেদের জীবন ভুলে যেয়ো না।
PSA 74:20 তোমার নিয়মের প্রতিশ্রুতি মনে রেখো, কেননা পৃথিবী অন্ধকার আর অত্যাচারে পরিপূর্ণ।
PSA 74:21 পীড়িত ব্যক্তি যেন লজ্জিত হয়ে ফিরে না যায়; দরিদ্র আর অভাবী তোমার নামের প্রশংসা করুক।
PSA 74:22 হে ঈশ্বর, ওঠো, তোমার উদ্দেশ্য রক্ষা করো; মনে রেখো, সারাদিন মূর্খরা কীভাবে তোমাকে উপহাস করে।
PSA 74:23 তোমার প্রতিপক্ষদের চিৎকার উপেক্ষা কোরো না; তোমার শত্রুদের শোরগোল, যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পায়।
PSA 75:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। সুর: “ধ্বংস কোরো না।” আসফের গীত। একটি সংগীত। হে ঈশ্বর, আমরা তোমার প্রশংসা করি, আমরা তোমার প্রশংসা করি, কারণ তুমি নিকটবর্তী; লোকেরা তোমার আশ্চর্য ক্রিয়াকলাপ বর্ণনা করে।
PSA 75:2 ঈশ্বর বলেন, “আমার নির্ধারিত সময়ে আমি ন্যায়বিচার করব।
PSA 75:3 যখন পৃথিবী কাঁপে এবং সব মানুষ অশান্তিতে বাঁচে, আমি তার সব স্তম্ভ সুদৃঢ় রাখি।
PSA 75:4 আমি দাম্ভিককে সতর্ক করি, ‘অহংকার কোরো না,’ দুষ্টকে বলি, ‘তোমার শিং উঁচু কোরো না।
PSA 75:5 স্বর্গের বিরুদ্ধে তোমার শিং উঁচু কোরো না; এত উদ্ধতভাবে কথা বোলো না।’ ”
PSA 75:6 কেউ, পূর্ব বা পশ্চিম থেকে, অথবা মরুভূমি থেকে, নিজেকে উন্নত করতে পারে না।
PSA 75:7 ঈশ্বর একমাত্র বিচার করেন: তিনি কাউকে নত করেন বা কাউকে উন্নীত করেন।
PSA 75:8 সদাপ্রভুর হাতে এক পানপাত্র আছে, যা মশলা মিশ্রিত ফেনিয়ে ওঠা সুরাতে পূর্ণ; তিনি তা ঢেলে দেন, আর পৃথিবীর সমস্ত দুষ্টলোক পাত্রের তলানি পর্যন্ত পান করে।
PSA 75:9 কিন্তু আমি একথা চিরকাল ঘোষণা করে যাব; যাকোবের ঈশ্বরের উদ্দেশে স্তুতিগান করব।
PSA 75:10 কারণ ঈশ্বর বলেন, “আমি সব দুষ্টের শক্তি চূর্ণ করব, কিন্তু আমি ধার্মিকদের শক্তিবৃদ্ধি করব।”
PSA 76:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। তারযন্ত্র সহযোগে। আসফের গীত। একটি সংগীত। ঈশ্বর যিহূদাতে সুপরিচিত; ইস্রায়েলে তাঁর নাম মহান।
PSA 76:2 তাঁর তাঁবু শালেম নগরীতে আছে, তাঁর বাসস্থান সিয়োনে।
PSA 76:3 সেখানে তিনি শত্রুর জ্বলন্ত তির, ঢাল, তরোয়াল, ও যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র চূর্ণ করেছেন।
PSA 76:4 চিরস্থায়ী পর্বতমালা থেকে তুমি উজ্জ্বল এবং অতি মহিমান্বিত।
PSA 76:5 সাহসী শত্রুরা লুন্ঠিত হয়েছে তারা আমাদের সামনে মৃত্যুর ঘুমে আচ্ছন্ন। কোনো যোদ্ধা আমাদের বিরুদ্ধে হাত তুলতে পারেনি।
PSA 76:6 হে যাকোবের ঈশ্বর, তোমার তিরস্কারে ঘোড়া ও রথ, সবই অনড় হয়ে পড়ে আছে।
PSA 76:7 শুধু তুমিই এর যোগ্য যে সকলে তোমাকে সম্ভ্রম করবে। তুমি ক্রুদ্ধ হলে কে তোমার সামনে দাঁড়াতে পারে?
PSA 76:8 স্বর্গ থেকে তুমি রায় ঘোষণা করেছ, পৃথিবী কেঁপে উঠল আর নিঃশব্দে তোমার সামনে দাঁড়াল—
PSA 76:9 যখন তুমি হে ঈশ্বর, অন্যায়কারীদের বিচার ও জগতের নিপীড়িতদের উদ্ধার করার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছ।
PSA 76:10 নিশ্চয় মানুষের অবাধ্যতা তোমার মহিমা বৃদ্ধি করে কেননা তুমি তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করো।
PSA 76:11 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে শপথ করো ও তা পূর্ণ করো; প্রতিবেশী দেশবাসীরা তাঁর কাছে উপহার নিয়ে আসুক যিনি সকলের কাছে ভয়াবহ।
PSA 76:12 তিনি শাসকদের আত্মা চূর্ণ করেন; এবং পৃথিবীর রাজারা তাঁকে সম্ভ্রম করে।
PSA 77:1 যিদূথূন, সংগীত পরিচালকের জন্য। আসফের গীত। আমি ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করলাম; আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি কর্ণপাত করেন।
PSA 77:2 যখন আমি দুর্দশায় ছিলাম, আমি প্রভুর খোঁজ করলাম; আমার হাত স্বর্গের দিকে তুলে আমি সারারাত প্রার্থনা করলাম, আর আমার প্রাণ স্বস্তি পেল না।
PSA 77:3 আমি তোমাকে স্মরণ করলাম, হে ঈশ্বর, আর আমি আর্তনাদ করলাম; আমি ধ্যান করলাম আর আমার আত্মা ক্রমশ ক্ষীণ হল।
PSA 77:4 তুমি আমার চোখ বন্ধ হতে দিলে না; আমি এত বেদনায় ছিলাম যে প্রার্থনা করতে পারলাম না।
PSA 77:5 আমি পূর্ববর্তী দিনের কথা চিন্তা করলাম, বহু বছর আগের কথা;
PSA 77:6 রাতের বেলায় আমার গান আমার মনে এল। আমার হৃদয় ধ্যান করল আর আমার আত্মা প্রশ্ন করল:
PSA 77:7 “প্রভু কি চিরকালের জন্য পরিত্যাগ করবেন? তিনি কি তাঁর অনুগ্রহ আর দেখাবেন না?
PSA 77:8 তাঁর অবিচল প্রেম কি চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়েছে? সর্বকালের জন্য কি তাঁর প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে?
PSA 77:9 ঈশ্বর কি দয়াশীল হতে ভুলে গেছেন? রাগে কি তিনি তাঁর করুণা দূরে সরিয়ে রেখেছেন?”
PSA 77:10 তখন আমি ভাবলাম, “এই আমার পরিণতি; পরাৎপরের হাত আমার বিরুদ্ধে গিয়েছে।
PSA 77:11 আমি সদাপ্রভুর কাজগুলি স্মরণ করব; হ্যাঁ! আমি তোমার পূর্বকালের আশ্চর্য কাজসকল মনে করব।
PSA 77:12 আমি তোমার সমস্ত কাজ বিবেচনা করব আর তোমার পরাক্রমের সব কাজকর্মে ধ্যান করব।”
PSA 77:13 হে ঈশ্বর, তোমার সব পথ পবিত্র। আমাদের ঈশ্বরের মতো কোন দেবতা এত মহান?
PSA 77:14 তুমি সেই ঈশ্বর যিনি আশ্চর্য কাজ করেন; লোকেদের মাঝে তুমি তোমার শক্তিপ্রদর্শন করে থাকো।
PSA 77:15 তোমার পরাক্রমী বাহু দিয়ে তুমি তোমার লোকেদের, যাকোব এবং যোষেফের বংশধরদের মুক্ত করেছ।
PSA 77:16 জলধি তোমাকে দেখল, হে ঈশ্বর, জলধি তোমাকে দেখল আর কুঁকড়ে গেল; মহা অতল কম্পিত হল।
PSA 77:17 মেঘ বৃষ্টি নিয়ে এল, আকাশমণ্ডল বজ্রধ্বনি প্রতিধ্বনিত করল; তোমার বিদ্যুতের তির এদিক-ওদিক চমকে উঠল।
PSA 77:18 ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে তোমার বজ্রধ্বনি শোনা গেল, তোমার বিদ্যুৎ পৃথিবী আলোকিত করল; জগৎ কম্পিত হল আর টলমল করে উঠল।
PSA 77:19 সমুদ্রের মধ্যে তোমার পথ ছিল, মহাজলরাশির মধ্যে তোমার গতিপথ ছিল, যদিও তোমার পায়ের ছাপ দেখা গেল না।
PSA 77:20 মোশি আর হারোণের হাত দ্বারা তুমি তোমার লোকেদের মেষপালের মতো পরিচালিত করেছ।
PSA 78:1 আসফের মস্কীল। হে আমার লোকসকল, আমার উপদেশ শোনো; আমার মুখের বাক্যে কর্ণপাত করো।
PSA 78:2 আমি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমার মুখ খুলব; আমি পূর্বকালের গুপ্ত শিক্ষার কথা উচ্চারণ করব—
PSA 78:3 যা আমরা শুনেছি আর জেনেছি, সেসব আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের বলেছেন।
PSA 78:4 তাঁদের বংশধরদের কাছে আমরা সেসব লুকিয়ে রাখব না; আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে সদাপ্রভুর প্রশংসনীয় কাজের কথা বলব, তাঁর পরাক্রম, আর তাঁর আশ্চর্য কাজ।
PSA 78:5 তিনি যাকোবের জন্য বিধি দিয়েছিলেন আর তিনি তাঁর আইন ইস্রায়েলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের আদেশ দিয়েছিলেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য,
PSA 78:6 যেন পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলি জানতে পারে, এমনকি তারাও পারে যাদের জন্ম হয়নি, এবং তারা যেন পরে নিজের নিজের ছেলেমেয়েদের বলতে পারে।
PSA 78:7 তখন তারা ঈশ্বরে আস্থা রাখবে আর তাঁর কার্যাবলি ভুলে যাবে না কিন্তু তাঁর আজ্ঞাসকল পালন করবে।
PSA 78:8 তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো হবে না— একগুঁয়ে এবং বিদ্রোহী এক প্রজন্ম, যাদের হৃদয় ঈশ্বরের প্রতি অনুগত ছিল না, যাদের আত্মা তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না।
PSA 78:9 ইফ্রয়িম বংশের যোদ্ধারা, যদিও ধনুকে সজ্জিত, যুদ্ধের দিনে পিছু ফিরল;
PSA 78:10 তারা ঈশ্বরের নিয়ম রক্ষা করল না আর তাঁর আইন অনুসারে বাঁচতে অস্বীকার করল।
PSA 78:11 তারা ভুলে গেল যে তিনি কী করেছিলেন, যে আশ্চর্য কাজগুলি তিনি তাদের দেখিয়েছিলেন।
PSA 78:12 মিশর দেশে, আর সোয়নের অঞ্চলে, তাদের পূর্বপুরুষদের দৃষ্টিতে তিনি অলৌকিক কাজ করেছিলেন।
PSA 78:13 তিনি সমুদ্র ভাগ করেছিলেন আর তাদেরকে মাঝখান দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেলেন; প্রাচীরের মতো তিনি জলকে দাঁড় করালেন।
PSA 78:14 তিনি দিনে তাদের মেঘ আর রাতে আগুনের আলো দ্বারা পথ দেখালেন।
PSA 78:15 তিনি মরুপ্রান্তরে শৈল বিভক্ত করলেন আর সমুদ্রের মতো অফুরন্ত জল দিলেন;
PSA 78:16 শৈল থেকে তিনি জলস্রোত নির্গত করলেন আর নদীর মতো জল প্রবাহিত করলেন।
PSA 78:17 কিন্তু তারা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করেই গেল, মরুপ্রান্তরে পরাৎপরের প্রতি বিদ্রোহ করল।
PSA 78:18 তাদের আকাঙ্ক্ষিত খাদ্য দাবি করে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরের পরীক্ষা করল।
PSA 78:19 তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কথা বলল; তারা বলল, “ঈশ্বর কি সত্যিই মরুপ্রান্তরে মেজ সাজাতে পারেন?
PSA 78:20 সত্যিই, তিনি শৈলকে আঘাত করলেন, আর জল বেরিয়ে এল, বিপুল জলস্রোত প্রবাহিত হল, কিন্তু তিনি কি আমাদের রুটি দিতে পারেন? তিনি কি তাঁর লোকেদের খাবার জন্য মাংস দিতে পারেন?”
PSA 78:21 যখন সদাপ্রভু তাদের কথা শুনলেন তিনি রাগে অগ্নিশর্মা হলেন; যাকোবের বিরুদ্ধে তাঁর আগুন জ্বলে উঠল, আর তাঁর ক্রোধ ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে প্রজ্জ্বলিত হল,
PSA 78:22 কেননা তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনি এবং তাঁর উদ্ধারে আস্থা রাখেনি।
PSA 78:23 তবুও তিনি উপরের আকাশকে আজ্ঞা দিলেন এবং স্বর্গের দরজা খুলে দিলেন;
PSA 78:24 লোকেদের খাদ্যের জন্য তিনি বৃষ্টির মতো মান্না নিয়ে এলেন, তিনি তাদের স্বর্গের শস্য দিলেন।
PSA 78:25 মানুষ দূতদের রুটি খেল; তারা যত খেতে পারে সেইমতো তিনি তাদের খাদ্য পাঠালেন।
PSA 78:26 তিনি পূবের বাতাস স্বর্গ থেকে পাঠালেন আর তাঁর পরাক্রমে দক্ষিণের বাতাস প্রবাহিত করলেন।
PSA 78:27 তিনি ধুলোর মতো মাংস বৃষ্টি করলেন, আর সমুদ্রতীরে বালির মতো পাখি দিলেন।
PSA 78:28 তাদের শিবিরের মধ্যে, আর তাদের তাঁবুর চারপাশে নামিয়ে আনলেন।
PSA 78:29 তারা গলা পর্যন্ত খাবার খেয়ে তৃপ্ত হল— তাদের আকাঙ্ক্ষা তিনি পূর্ণ করলেন।
PSA 78:30 কিন্তু তারা আকাঙ্ক্ষিত খাদ্য খেয়ে শেষ করার আগেই, এমনকি যখন খাবার তাদের মুখেই ছিল,
PSA 78:31 ঈশ্বরের ক্রোধ তাদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠল; তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তপোক্ত লোকদেরও তিনি হত্যা করলেন, ইস্রায়েলের যুবকদের আঘাত করলেন।
PSA 78:32 এসব কিছু দেখেও, তারা পাপ করতেই থাকল; তাঁর আশ্চর্য কাজ সত্ত্বেও, তারা বিশ্বাস করল না।
PSA 78:33 তাই তিনি তাদের আয়ু ব্যর্থতায় আর তাদের বছর আতঙ্কে শেষ করলেন।
PSA 78:34 যখনই ঈশ্বর তাদের নাশ করতেন, তারা তাঁর অন্বেষণ করত; তারা অনুতাপ করল আর পুনরায় ঈশ্বরের দিকে ফিরল।
PSA 78:35 তারা মনে রাখল যে ঈশ্বর তাদের শৈল, যে পরাৎপর ঈশ্বর তাদের মুক্তিদাতা।
PSA 78:36 কিন্তু তারা তাদের মুখ দিয়ে তাঁকে তোষামোদ করল, তাদের জিভ দিয়ে তাঁর প্রতি মিথ্যা কথা বলল;
PSA 78:37 তাদের হৃদয় তাঁর প্রতি অনুগত ছিল না, তাঁর নিয়মের প্রতি তারা বিশ্বস্ত ছিল না।
PSA 78:38 তবুও তিনি কৃপাময় ছিলেন; তিনি তাদের অপরাধ ক্ষমা করলেন এবং তাদের ধ্বংস করলেন না। অনেকবার তিনি তাঁর রাগ সংযত করলেন তাঁর সম্পূর্ণ ক্রোধ জাগিয়ে তুললেন না।
PSA 78:39 তিনি মনে রাখলেন যে তারা মাংসমাত্র, বায়ুর মতো, যা বয়ে গেলে আর ফিরে আসে না।
PSA 78:40 তারা মরুপ্রান্তরে কতবার তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল আর পতিত জমিতে তাঁকে শোকাহত করল!
PSA 78:41 বারবার তারা ঈশ্বরকে পরীক্ষায় ফেলল; তারা ইস্রায়েলের পবিত্রজনকে উত্ত্যক্ত করল।
PSA 78:42 তারা তাঁর পরাক্রম মনে রাখল না— যেদিন তিনি তাদের অত্যাচারীদের হাত থেকে মুক্ত করলেন,
PSA 78:43 যেদিন মিশরে তিনি তাঁর চিহ্নগুলি, সোয়নের অঞ্চলে তাঁর আশ্চর্য কাজগুলি দেখালেন।
PSA 78:44 তিনি তাদের নদীগুলি রক্তে পরিণত করলেন; তাদের জলস্রোত থেকে তারা পান করতে পারল না।
PSA 78:45 তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি পাঠালেন যা তাদের গ্রাস করল, আর ব্যাঙদের পাঠালেন যা তাদের বিধ্বস্ত করল।
PSA 78:46 তিনি তাদের শস্য ফড়িংদের দিলেন, তাদের ফসল পঙ্গপালদের দিলেন।
PSA 78:47 তিনি তাদের দ্রাক্ষালতা শিলা দিয়ে নষ্ট করলেন আর তাদের ডুমুর গাছ শিলাবৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করলেন।
PSA 78:48 তিনি তাদের গবাদি পশুদের শিলার কাছে, আর তাদের গৃহপালিত পশুপালকে বজ্রবিদ্যুতের কাছে সমর্পণ করলেন।
PSA 78:49 তিনি তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচণ্ড রাগ পাঠালেন, তাঁর ক্রোধ, উন্মাদনা এবং শত্রুতা— ধ্বংসকারী দূতের একদল।
PSA 78:50 তিনি তাঁর ক্রোধ তাদের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করলেন; মৃত্যু থেকে তিনি তাদের বাঁচালেন না কিন্তু মহামারির হাতে তুলে দিলেন।
PSA 78:51 তিনি মিশরের সব প্রথমজাতকে আঘাত করলেন, হামের তাঁবুতে পুরুষত্বের প্রথম ফলকে।
PSA 78:52 কিন্তু তিনি মেষপালের মতো তাঁর প্রজাদের বের করে আনলেন; মরুপ্রান্তরে মেষের মতো তিনি তাদের পরিচালনা করলেন।
PSA 78:53 তিনি তাদের সুরক্ষিতভাবে পথ দেখালেন, তাই তারা ভীত হল না; কিন্তু সমুদ্র তাদের শত্রুদের ঘিরে ফেলল।
PSA 78:54 আর তিনি তাঁর নিজের পবিত্র সীমায় নিয়ে এলেন, পাহাড়ের সেই দেশে যেখানে তাঁর ডান হাত তাদের নিয়ে গিয়েছিল।
PSA 78:55 তিনি তাদের সামনে সমস্ত জাতিকে তাড়িয়ে দিলেন আর তাদের জমি ইস্রায়েলীদের মধ্যে অধিকারস্বরূপ ভাগ করে দিলেন; ইস্রায়েলের গোষ্ঠীদের তাদের গৃহে বসবাস করতে দিলেন।
PSA 78:56 কিন্তু তারা ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেই চলল আর পরাৎপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল; তাঁর বিধিবিধান তারা পালন করল না।
PSA 78:57 তাদের পূর্বপুরুষদের মতো তারা ছিল বিশ্বাসঘাতক আর বিশ্বাসহীন, ত্রুটিযুক্ত ধনুকের মতো অনির্ভরযোগ্য।
PSA 78:58 তাদের উঁচু পীঠস্থানগুলি দিয়ে তারা তাঁকে রাগিয়ে তুলল; তাদের প্রতিমা দিয়ে তাঁর ঈর্ষা জাগ্রত করল।
PSA 78:59 ঈশ্বর সেসব শুনে অগ্নিশর্মা হলেন; তিনি ইস্রায়েলকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করলেন।
PSA 78:60 তিনি শীলোতে সমাগম তাঁবু পরিত্যাগ করলেন, সেই তাঁবু যা তিনি মানুষদের মধ্যে স্থাপন করেছিলেন।
PSA 78:61 তিনি তাঁর পরাক্রমের সিন্দুক বন্দিদশায় পাঠালেন, তাঁর শত্রুদের হাতে তাঁর প্রভা।
PSA 78:62 তিনি তাঁর প্রজাদের তরোয়ালের কোপে তুলে দিলেন; তিনি তাঁর অধিকারের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।
PSA 78:63 আগুন তাদের যুবকদের গ্রাস করল, এবং তাদের যুবতীদের বিয়েতে কোনো গান হল না;
PSA 78:64 তাদের যাজকদের তরোয়ালে নাশ করা হোলো আর তাদের বিধবারা কাঁদতে পারল না।
PSA 78:65 তারপর সদাপ্রভু, ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো, জেগে উঠলেন, যেমন এক যোদ্ধা সুরার অসাড়তা থেকে জেগে ওঠে।
PSA 78:66 তিনি তাঁর শত্রুদের প্রহার করলেন; তাদের চিরস্থায়ী লজ্জার পাত্র করলেন।
PSA 78:67 তারপর তিনি যোষেফের তাঁবুগুলি পরিত্যাগ করলেন, তিনি ইফ্রয়িম গোষ্ঠীকে মনোনীত করলেন না;
PSA 78:68 কিন্তু যিহূদার গোষ্ঠীকে মনোনীত করলেন, সিয়োন পর্বত, যা তিনি ভালোবাসতেন।
PSA 78:69 উচ্চ শিখরের মতো তাঁর পবিত্রস্থান তিনি নির্মাণ করলেন, জগতের মতো যা তিনি চিরকালের জন্য স্থাপন করেছেন।
PSA 78:70 তিনি তাঁর দাস দাউদকে মনোনীত করলেন আর তাকে মেষের খোঁয়াড় থেকে ডেকে নিলেন;
PSA 78:71 মেষের পরিচর্যা থেকে তিনি তাকে নিয়ে এলেন আর যাকোব গোষ্ঠীর লোকেদের এবং আপন অধিকার ইস্রায়েলের উপর তাকে পালক করলেন।
PSA 78:72 এবং হৃদয়ের সততায় দাউদ পালকরূপে তাদের যত্ন নিলেন; এবং দক্ষ হাতের সাহায্যে তাদের পরিচালনা করলেন।
PSA 79:1 আসফের গীত। হে ঈশ্বর, জাতিরা তোমার অধিকারে হানা দিয়েছে; তারা তোমার পবিত্র মন্দিরকে অশুচি করেছে, তারা জেরুশালেমকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
PSA 79:2 তারা তোমার দাসদের মৃতদেহ আকাশের পাখিদের খাওয়ার জন্য ফেলে দিয়েছে, তোমার লোকেদের মাংস বন্যপশুদের জন্য দিয়েছে।
PSA 79:3 জেরুশালেমের সর্বত্র তারা জলের মতো রক্ত ছড়িয়েছে, এবং মৃতদেহ সৎকারের জন্য কেউ নেই।
PSA 79:4 আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের মাঝে ঘৃণ্য হয়েছি, চারপাশে লোকেদের কাছে অবজ্ঞা আর উপহাসের পাত্র হয়েছি।
PSA 79:5 হে সদাপ্রভু, আর কত কাল? তুমি কি চিরকাল ক্রুদ্ধ থাকবে? কত কাল তোমার ঈর্ষা আগুনের মতো জ্বলবে?
PSA 79:6 যারা তোমার নাম স্বীকার করে না, সেসব লোকের উপর তোমার ক্রোধ ঢেলে দাও, সেইসব জাতির উপর যারা তোমার নাম ধরে ডাকে না,
PSA 79:7 কারণ তারা যাকোবের কুলকে গ্রাস করেছে এবং তাদের আবাসভূমি বিধ্বস্ত করেছে।
PSA 79:8 আমাদের পূর্বপুরুষদের পাপ আমাদের উপর আরোপ কোরো না; তোমার দয়া তাড়াতাড়ি এসে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুক, কারণ আমরা মরিয়া হয়ে আছি।
PSA 79:9 হে ঈশ্বর আমাদের পরিত্রাতা, তোমার নামের গৌরবার্থে আমাদের সাহায্য করো, তোমার নামের গুণে আমাদের উদ্ধার করো ও আমাদের পাপ ক্ষমা করো।
PSA 79:10 জাতিরা উপহাস করে কেন বলবে, “তাদের ঈশ্বর কোথায়?” আমাদের চোখের সামনে, জাতিদের মাঝে, সবাইকে জ্ঞাত করো যে তুমি তোমার ভক্তদাসদের রক্তের প্রতিশোধ নিয়ে থাকো।
PSA 79:11 বন্দিদের আর্তনাদ তোমার কাছে পৌঁছাক, তোমার বলবান বাহু দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে রাখো যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
PSA 79:12 হে প্রভু, আমাদের প্রতিবেশীরা, যারা উপহাসে তোমার প্রতি বিদ্রুপ করেছে তার সাতগুণ তুমি তাদের কোলে ফিরিয়ে দাও।
PSA 79:13 তখন আমরা, তোমার ভক্তজন ও তোমার চারণভূমির মেষপাল চিরকাল তোমার প্রশংসা করব; যুগে যুগে আমরা তোমার স্তবগান করব।
PSA 80:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। সুর: “নিয়মের লিলি ফুল।” আসফের গীত। হে ইস্রায়েলের মেষপালক, আমাদের কথায় কর্ণপাত করো, তুমি মেষপালের মতো যোষেফকে পরিচালনা করেছ। তুমি করূবের মাঝে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত, দীপ্ত হও
PSA 80:2 ইফ্রয়িম, বিন্যামীন আর মনঃশির সামনে। তোমার পরাক্রম জাগিয়ে তোলো; এসো আর আমাদের রক্ষা করো।
PSA 80:3 হে ঈশ্বর, আমাদের পুনরুদ্ধার করো; তোমার মুখ আমাদের উপর উজ্জ্বল করো, যেন আমরা রক্ষা পাই।
PSA 80:4 আর কত কাল, হে সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমার লোকেদের প্রার্থনার বিরুদ্ধে তুমি ক্রোধে জ্বলবে?
PSA 80:5 তুমি তাদের চোখের জল খেতে দিয়েছ; তুমি তাদের বাটিভর্তি চোখের জল পান করিয়েছ।
PSA 80:6 তুমি আমাদের প্রতিবেশীদের কাছে আমাদের উপহাসের পাত্র করে তুলেছ, আর আমাদের শত্রুরা আমাদের বিদ্রুপ করে।
PSA 80:7 হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, আমাদের পুনরুদ্ধার করো; তোমার মুখ আমাদের উপর উজ্জ্বল করো, যেন আমরা রক্ষা পাই।
PSA 80:8 তুমি মিশর দেশ থেকে এক দ্রাক্ষালতা নিয়ে এসেছ; অইহুদিদের দূর করে তুমি তা পুঁতেছো।
PSA 80:9 তুমি তার জন্য জমি পরিষ্কার করেছ, আর তার শিকড় বেরিয়ে দেশ ছেয়ে গেল।
PSA 80:10 তার ছায়ায় পর্বতসকল, তার ডালপালায় সর্বোচ্চ দেবদারুবন ঢাকা পড়ল।
PSA 80:11 সমুদ্র পর্যন্ত তার শাখাপ্রশাখা, আর নদী পর্যন্ত তার কাণ্ড প্রসারিত হল।
PSA 80:12 কেন তুমি তার প্রাচীর ভেঙে ফেলেছ যেন যেতে আসতে সব লোকেরা তার আঙুর ছেঁড়ে?
PSA 80:13 বন্য শূকর তা ছারখার করে, আর মাঠের কীটপতঙ্গ সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করে।
PSA 80:14 হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, আমাদের কাছে ফিরে এসো! স্বর্গ থেকে চেয়ে দেখো! এই দ্রাক্ষালতার দিকে খেয়াল রাখো,
PSA 80:15 তোমার ডান হাত যার শিকড় বুনেছে, এই ছেলেকে তুমি নিজের জন্য বড়ো করে তুলেছ।
PSA 80:16 তোমার দ্রাক্ষালতাকে কেটে ফেলা হয়েছে, আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; তোমার তিরস্কারে তোমার লোকেরা বিনষ্ট হয়।
PSA 80:17 তোমার হাত তোমার ডানদিকের পুরুষের উপরে, মনুষ্যপুত্রের উপরে থাকুক যাকে নিজের জন্য বড়ো করেছ।
PSA 80:18 তখন আমরা তোমার কাছ থেকে দূরে যাব না; আমাদের সঞ্জীবিত করো, আর আমরা তোমার নামে ডাকব।
PSA 80:19 হে সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমাদের পুনরুদ্ধার করো, তোমার মুখ আমাদের উপর উজ্জ্বল করো, যেন আমরা রক্ষা পাই।
PSA 81:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। গিত্তীৎ অনুসারে। আসফের গীত। ঈশ্বর, যিনি আমাদের বল, তাঁর উদ্দেশে আনন্দগান করো; যাকোবের ঈশ্বরের উদ্দেশে জয়ধ্বনি করো!
PSA 81:2 সংগীত শুরু করো, খঞ্জনিতে তালি দাও, সুমধুর বীণা আর সুরবাহার বাজাও।
PSA 81:3 অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়, আমাদের উৎসবের দিনে, শিঙার সুদীর্ঘ শব্দ করো;
PSA 81:4 ইস্রায়েলের জন্য এই হল ঈশ্বরের রায়, যাকোবের ঈশ্বরের আদেশ।
PSA 81:5 যখন ঈশ্বর মিশরের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলেন, তিনি যোষেফের মধ্যে এসব বিধিবিধানরূপে সাক্ষ্য স্থাপন করলেন। আমি এক অচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম:
PSA 81:6 “আমি তাদের কাঁধ থেকে বোঝা সরিয়ে নিলাম; ঝুড়ি থেকে তাদের হাতকে নিষ্কৃতি দেওয়া হল।
PSA 81:7 তোমার সংকটে তুমি প্রার্থনা করলে আর আমি তোমাকে উদ্ধার করলাম, বজ্রবিদ্যুৎসহ মেঘের অন্তরাল থেকে আমি তোমাকে উত্তর দিলাম; মরীবার জলের ধারে আমি তোমাকে পরীক্ষা করলাম।
PSA 81:8 হে আমার ভক্তেরা, আমার কথা শোনো, আর আমি তোমাদের সতর্ক করব— হে ইস্রায়েল, যদি তুমি আমার কথা শুনতে!
PSA 81:9 তোমার মধ্যে আর অন্য কোনও দেবতা রইবে না; আমি ছাড়া আর কোনো দেবতার আরাধনা তুমি করবে না।
PSA 81:10 আমি সদাপ্রভু, তোমার ঈশ্বর, যে তোমাদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছে। তোমার মুখ বড়ো করে খোলো আর আমি তা পূর্ণ করব।
PSA 81:11 “কিন্তু আমার লোকেরা আমার কথা শোনেনি; ইস্রায়েল আমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেনি।
PSA 81:12 তাই আমি তাদের একগুঁয়ে হৃদয়ের হাতে তাদের ছেড়ে দিলাম যেন তারা নিজেদের মন্ত্রণায় চলে।
PSA 81:13 “যদি আমার লোকেরা আমার কথা শুনত, যদি ইস্রায়েল আমার পথ অনুসরণ করত,
PSA 81:14 কত দ্রুত আমি তাদের শত্রুদের দমন করতাম আর আমার হাত তাদের বিপক্ষদের বিরুদ্ধে তুলতাম!
PSA 81:15 যারা সদাপ্রভুকে ঘৃণা করে তারা তাঁর সামনে অবনত হবে, আর তাদের শাস্তি চিরকাল স্থায়ী হবে।
PSA 81:16 কিন্তু আমি সর্বোত্তম গম দিয়ে তাদের খাবার জোগাব; আমি শৈলের মধু দিয়ে তাদের তৃপ্ত করব।”
PSA 82:1 আসফের গীত। ঈশ্বর মহাসভায় নিজের স্থান গ্রহণ করেছেন; তিনি “দেবতাদের” মাঝে বিচার সম্পন্ন করেন:
PSA 82:2 কত কাল তুমি যারা অসৎ তাদের পক্ষ নেবে আর দুষ্টদের পক্ষপাতিত্ব করবে?
PSA 82:3 যারা দুর্বল আর অনাথ তাদের প্রতি তুমি সুবিচার করো, যারা দরিদ্র আর পীড়িত তাদের অধিকার রক্ষা করো।
PSA 82:4 যারা দুর্বল আর অভাবী তাদের মুক্ত করো; দুষ্টদের দেশ থেকে তাদের উদ্ধার করো।
PSA 82:5 “সেই ‘দেবতারা’ কিছুই জানে না, তারা কিছুই বোঝে না তারা অন্ধকারে হেঁটে বেড়ায়; আর জগতের ভিত্তি কেঁপে ওঠে।
PSA 82:6 “আমি বলি, ‘তোমরা “ঈশ্বর” তোমরা সবাই পরাৎপরের সন্তান।’
PSA 82:7 কিন্তু সামান্য মানুষের মতো তোমাদের মৃত্যু হবে; অন্যান্য সব শাসকের মতো তোমাদেরও পতন হবে।”
PSA 82:8 ওঠো, হে ঈশ্বর, এই জগতের বিচার করো, কারণ সমস্ত জাতি তোমার উত্তরাধিকার।
PSA 83:1 একটি গান। আসফের গীত। হে ঈশ্বর, তুমি নীরব থেকো না; আমার প্রতি বধির হোয়ো না, হে ঈশ্বর, তুমি আমার কাছ থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থেকো না।
PSA 83:2 দেখো, আমার শত্রুরা কেমন গর্জন করে, দেখো, আমার বিপক্ষরা কেমন তাদের মাথা তোলে।
PSA 83:3 তারা ধূর্ততায় তোমার প্রজাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে; তারা তোমার প্রিয়জনদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে।
PSA 83:4 “এসো,” তারা বলে, “আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করি, আর যেন ইস্রায়েলের নাম মনে না রাখা হয়।”
PSA 83:5 তারা এক মনে চক্রান্ত করে; তোমার বিরুদ্ধে তারা একজোট গঠন করে—
PSA 83:6 ইদোমের তাঁবুগুলি আর ইশ্মায়েলীয়রা, মোয়াব আর হাগরীয়রা,
PSA 83:7 গিব্‌লীয়, অম্মোন আর অমালেকীয়রা, সোরের বাসিন্দাদের সঙ্গে, ফিলিস্তিয়া।
PSA 83:8 এমনকি আসিরিয়া তাদের সঙ্গে একজোট হয়েছে আর লোটের উত্তরপুরুষদের সঙ্গে একজোট হয়েছে।
PSA 83:9 তাদের বিরুদ্ধে সেইরূপ করো যেমন মিদিয়নদের প্রতি করেছিলে, কীশোন নদীতে যেমন সীষরা আর যাবীনের প্রতি করেছিলে,
PSA 83:10 ঐনদোরে যারা বিনষ্ট হয়েছিল আর মাটিতে পরে থাকা আবর্জনার মতো হয়েছিল।
PSA 83:11 বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ওরেব ও সেবের মতো আর তাদের অধিপতিরা সেবহ ও সল্‌মুন্নার মতো মরে যাক,
PSA 83:12 কেননা তারা বলেছিল, “এসো, আমরা ঈশ্বরের চারণভূমি অধিকার করি।”
PSA 83:13 হে ঈশ্বর, তাদের ঘূর্ণীয়মান ধুলোর মতো, বাতাসের সামনে তুষের মতো করো।
PSA 83:14 আগুন যেমন জঙ্গল গ্রাস করে অথবা আগুনের শিখা যা পর্বতসকল জ্বালিয়ে দেয়,
PSA 83:15 সেইরকম তোমার প্রচণ্ড ঝড়ে তাদের তাড়া করো আর তোমার ঝড়ে তাদের আতঙ্কিত করো।
PSA 83:16 হে সদাপ্রভু, তাদের মুখ লজ্জায় ঢেকে দাও, যেন তারা তোমার নাম অন্বেষণ করে।
PSA 83:17 তারা চিরকাল যেন লজ্জিত আর আতঙ্কিত হয়; তারা যেন অপমানে বিনষ্ট হয়।
PSA 83:18 তারা জানুক যে একমাত্র তোমারই নাম সদাপ্রভু, আর একমাত্র তুমিই সমগ্র জগতের উপর পরাৎপর।
PSA 84:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। স্বর, গিত্তীৎ। কোরহ বংশের সন্তানদের একটি গীত। হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, তোমার আবাস কত মনোরম!
PSA 84:2 আমার প্রাণ সদাপ্রভুর প্রাঙ্গণের জন্য আকুল হয়, এমনকি মূর্চ্ছিতপ্রায় হয়; জীবন্ত ঈশ্বরের জন্য আমার হৃদয় আর আমার দেহ কেঁদে ওঠে।
PSA 84:3 এমনকি চড়ুইপাখিও আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে, দোয়েল নিজের জন্য বাসা পেয়েছে, যেখানে সে তার শাবকদের জন্ম দিতে পারে— এমন স্থান, যা তোমার বেদির নিকটে, হে সদাপ্রভু, আমার রাজা, আমার ঈশ্বর।
PSA 84:4 ধন্য সেই ব্যক্তি, যে তোমার গৃহে বসবাস করে, সে সর্বক্ষণ তোমার গুণকীর্তন করে।
PSA 84:5 ধন্য সেই ব্যক্তি, যার শক্তি সদাপ্রভু থেকে আসে, যে সদাপ্রভুর গৃহে যাওয়ার জন্য তার হৃদয় স্থির রেখেছে।
PSA 84:6 যখন তারা অশ্রুর উপত্যকার মধ্য দিয়ে যায়, তারা সেই স্থান জলধারায় পরিণত করে; প্রথম বৃষ্টি সেই প্রান্তরকে আশীর্বাদে আবৃত করে।
PSA 84:7 তারা ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে উঠবে, এবং সিয়োনে ঈশ্বরের সামনে প্রত্যেকে হাজির হবে।
PSA 84:8 হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, আমার প্রার্থনা শোনো; হে যাকোবের ঈশ্বর, আমার কথা শোনো।
PSA 84:9 দেখো, হে ঈশ্বর, আমাদের ঢাল; তোমার অভিষিক্ত-জনের প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখো।
PSA 84:10 তোমার প্রাঙ্গণে একদিন অন্যত্র হাজার দিনের চেয়েও শ্রেয়; দুষ্টদের তাঁবুতে বাস করার থেকে আমি আমার ঈশ্বরের গৃহের দ্বাররক্ষী হয়ে থাকতে চাই।
PSA 84:11 কারণ সদাপ্রভু ঈশ্বর ঢাল ও সূর্যের মতো; তিনি দয়া ও সম্মান দান করেন; যাদের চলার পথ সিদ্ধ তাদের তিনি কোনো প্রকার মঙ্গল থেকে বঞ্চিত করেন না।
PSA 84:12 হে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, ধন্য সেই ব্যক্তি যে তোমার উপর আস্থা রাখে।
PSA 85:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ বংশের সন্তানদের একটি গীত। হে সদাপ্রভু, তুমি তোমার দেশের প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়েছ; তুমি যাকোবের বংশের সমৃদ্ধি ফিরিয়ে এনেছ।
PSA 85:2 তুমি তোমার প্রজাদের অপরাধ ক্ষমা করেছ এবং তাদের সব পাপ আবৃত করেছ।
PSA 85:3 তুমি তোমার সব ক্রোধ দূরে সরিয়ে রেখেছ এবং তোমার প্রচণ্ড রাগ থেকে ফিরেছ।
PSA 85:4 হে ঈশ্বর, আমাদের পরিত্রাতা, আমাদের পুনরুদ্ধার করো এবং আমাদের প্রতি তোমার অসন্তোষ দূরে সরিয়ে রাখো।
PSA 85:5 তুমি কি চিরদিন আমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ থাকবে? তুমি কি যুগে যুগে তোমার রাগ স্থায়ী করবে?
PSA 85:6 তুমি কি আবার আমাদের সঞ্জীবিত করবে না, যেন তোমার প্রজারা তোমাতে আনন্দে উল্লসিত হয়?
PSA 85:7 হে সদাপ্রভু, তোমার অবিচল প্রেম আমাদের দেখাও, এবং তোমার পরিত্রাণ আমাদের প্রদান করো।
PSA 85:8 ঈশ্বর সদাপ্রভু যা বলেন আমি তা শুনব; তিনি তাঁর প্রজাদের, তাঁর বিশ্বস্ত দাসদের, শান্তির অঙ্গীকার করেন; কিন্তু তারা তাদের মূর্খতার পথে ফিরে না যাক।
PSA 85:9 নিশ্চয়, যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে তাঁর পরিত্রাণ তাদের নিকটবর্তী, যেন তাঁর মহিমা আমাদের দেশে বাস করে।
PSA 85:10 প্রেম ও বিশ্বস্ততা একত্রে মিলিত হয়, ধার্মিকতা ও শান্তি পরস্পরকে চুম্বন করে।
PSA 85:11 বিশ্বস্ততা পৃথিবী থেকে উত্থাপিত হয় এবং ধার্মিকতা স্বর্গ থেকে দৃষ্টিপাত করে।
PSA 85:12 সদাপ্রভু যা উত্তম তা অবশ্যই দান করবেন, এবং আমাদের দেশ শস্য উৎপাদন করবে।
PSA 85:13 ন্যায়পরায়ণতা তাঁর অগ্রগামী হয় এবং তাঁর চলার পথ প্রস্তুত করে।
PSA 86:1 দাউদের একটি প্রার্থনা। হে সদাপ্রভু কর্ণপাত করো এবং আমাকে উত্তর দাও, কেননা আমি দরিদ্র এবং অভাবী।
PSA 86:2 আমার জীবন সুরক্ষিত করো, কারণ আমি তোমার প্রতি বিশ্বস্ত; আমাকে রক্ষা করো কারণ আমি তোমার সেবা করি আর তোমাতে আস্থা রাখি। তুমি আমার ঈশ্বর;
PSA 86:3 হে প্রভু আমার প্রতি দয়া করো, কেননা সারাদিন আমি তোমাকে ডাকি।
PSA 86:4 তোমার দাসকে আনন্দ দাও, হে প্রভু, কারণ আমি তোমার উপর আস্থা রাখি।
PSA 86:5 হে প্রভু, তুমি, ক্ষমাশীল আর মঙ্গলময়, যারা তোমাকে ডাকে তাদের সকলের প্রতি অবিচল প্রেমে পূর্ণ।
PSA 86:6 আমার প্রার্থনা শোনো, হে সদাপ্রভু; আমার বিনতি প্রার্থনা শোনো।
PSA 86:7 সংকটের দিনে আমি তোমাকে ডাকি, কারণ তুমি আমাকে উত্তর দেবে।
PSA 86:8 হে প্রভু, দেবতাদের মধ্যে তোমার মতো আর কেউ নেই; তোমার কর্মসকলের সঙ্গে কারও তুলনা হয় না।
PSA 86:9 সমস্ত জাতি যাদের তুমি তৈরি করেছ, হে প্রভু, তারা আসবে আর তোমার সামনে আরাধনা করবে, তারা তোমার নামের মহিমা করবে।
PSA 86:10 কেননা তুমি মহান আর তুমি আশ্চর্য কাজ করে থাকো, একমাত্র তুমিই ঈশ্বর।
PSA 86:11 হে সদাপ্রভু, আমাকে তোমার পথসকল শিক্ষা দাও, যেন আমি তোমার বিশ্বস্ততায় নির্ভর করতে পারি; আমাকে এক অখণ্ড হৃদয় দাও, যেন আমি তোমার নাম সম্ভ্রম করতে পারি।
PSA 86:12 হে প্রভু আমার ঈশ্বর, আমি আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমার প্রশংসা করব; চিরদিন আমি তোমার নামের মহিমা করব।
PSA 86:13 কেননা আমার প্রতি তোমার প্রেম মহান; তুমি আমাকে অতল থেকে, পাতালের গর্ভ থেকে উদ্ধার করেছ।
PSA 86:14 দাম্ভিক শত্রুরা আমাকে আক্রমণ করছে, হে ঈশ্বর; নিষ্ঠুর লোকেরা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে, তারা তোমাকে মান্য করে না।
PSA 86:15 কিন্তু, হে প্রভু, তুমি স্নেহশীল এবং কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর, দয়া আর বিশ্বস্ততায় মহান।
PSA 86:16 আমার দিকে ফেরো আর আমার প্রতি দয়া করো; তোমার দাসের পক্ষ হয়ে তোমার পরাক্রম দেখাও; আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমার সেবা করি, ঠিক যেমন আমার মা করেছিলেন।
PSA 86:17 তোমার মঙ্গলভাবের নিদর্শন আমাকে দেখাও, যেন আমার শত্রুরা সেসব দেখে ও লজ্জিত হয়, কারণ তুমি, হে সদাপ্রভু, আমাকে সাহায্য করেছ আর সান্ত্বনা দিয়েছ।
PSA 87:1 কোরহ বংশের সন্তানদের গীত। একটি সংগীত। পবিত্র পর্বতে তিনি তাঁর নগর স্থাপন করেছেন।
PSA 87:2 যাকোবের কুলের অন্য সমস্ত বাসস্থান থেকে সদাপ্রভু সিয়োনের দ্বারসকল ভালোবাসেন।
PSA 87:3 হে ঈশ্বরের নগরী, তোমার বিষয়ে গৌরবের কথা বলা হয়:
PSA 87:4 “যারা আমাকে স্বীকার করে তাদের মধ্যে আমি রহব এবং ব্যাবিলনের উল্লেখ করব, এমনকি ফিলিস্তিয়া, সোর ও কূশ— এবং বলব, ‘এই সবের জন্ম সিয়োনে হয়েছে।’ ”
PSA 87:5 সত্যিই, সিয়োন সম্পর্কে ঘোষণা করা হবে, “এর জন্ম সিয়োনে হয়েছে, ওরও জন্ম হয়েছে, এবং পরাৎপর স্বয়ং তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।”
PSA 87:6 সদাপ্রভু লোকেদের সম্বন্ধে গণনা করার গ্রন্থে লিখবেন: “এর জন্ম সিয়োনে হয়েছে।”
PSA 87:7 সবাই যারা গান ও নাচ করবে, তারা বলবে, “সিয়োন আমার জীবনের উৎস।”
PSA 88:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। কোরহ সন্তানদের একটি গীত। সুর: মহলৎ লিয়ান্নোৎ। ইষ্রাহীয় হেমনের মস্কীল। হে সদাপ্রভু, আমার পরিত্রাণের ঈশ্বর; দিনরাত আমি তোমার কাছে কেঁদে প্রার্থনা করি।
PSA 88:2 আমার প্রার্থনা তোমার সামনে আসুক; আমার কান্নার প্রতি কর্ণপাত করো।
PSA 88:3 কেননা আমার প্রাণ কষ্টে জর্জরিত আর আমার জীবন মৃত্যুর নিকটবর্তী।
PSA 88:4 যারা মৃত্যুর গর্তে নেমে যায় আমি তাদের মধ্যে একজন; আমি শক্তিহীনের মতো হয়েছি।
PSA 88:5 আমি মৃতদের মধ্যে পরিত্যক্ত, আমি কবরে শুয়ে থাকা নিহতদের মতো, যাদের তুমি আর মনে রাখো না, আর যারা তোমার যত্ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
PSA 88:6 তুমি আমাকে সবচেয়ে নিচের গর্তে ছুঁড়ে ফেলেছ, সবচেয়ে অন্ধকারের অতলে।
PSA 88:7 তোমার ক্রোধ আমাকে ভারাক্রান্ত করেছে; ঢেউয়ের পর ঢেউ দিয়ে তুমি আমাকে আচ্ছন্ন করেছ।
PSA 88:8 তুমি আমার প্রিয় বন্ধুদের আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়েছ আর তাদের মাঝে আমাকে ঘৃণ্য করেছ। আমি অবরুদ্ধ, পালাতে পারি না;
PSA 88:9 দুঃখে আমার চোখ ক্ষীণ হয়েছে। হে সদাপ্রভু, আমি প্রতিদিন তোমাকে ডাকি; তোমার প্রতি আমি আমার হাত উঠিয়েছি।
PSA 88:10 তুমি কি তোমার আশ্চর্য কাজ মৃতদের দেখাও? তাদের মৃত আত্মা কি জেগে ওঠে ও তোমার প্রার্থনা করে?
PSA 88:11 কবরের মধ্যে তোমার প্রেম আর ধ্বংসে তোমার বিশ্বস্ততা কি প্রচারিত হয়?
PSA 88:12 অন্ধকারের স্থানে কি তোমার আশ্চর্য কাজ অথবা বিস্মৃতির দেশে কি তোমার ধার্মিক কার্যাবলি জানা যায়?
PSA 88:13 হে সদাপ্রভু আমি তোমার কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করি; সকালে আমার প্রার্থনা তোমার সামনে রাখি।
PSA 88:14 কেন, হে সদাপ্রভু তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ আর তোমার মুখ আমার কাছ থেকে ঢেকে রেখেছ?
PSA 88:15 আমার যৌবনকাল থেকে আমি কষ্ট পেয়েছি আর মৃত্যুর কাছে থেকেছি; আমি তোমার ত্রাস বহন করেছি আর হতাশায় রয়েছি।
PSA 88:16 তোমার ক্রোধ আমাকে বিহ্বল করেছে; তোমার ত্রাস সকল আমাকে ধ্বংস করেছে।
PSA 88:17 বন্যার মতো তা সারাদিন আমাকে ঘিরে রাখে; সম্পূর্ণভাবে তা আমাকে গ্রাস করেছে।
PSA 88:18 বন্ধু ও প্রতিবেশীকে তুমি আমার কাছ থেকে দূর করেছ, অন্ধকার আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
PSA 89:1 ইষ্রাহীয় এথনের মস্কীল। আমি চিরকাল সদাপ্রভুর মহান প্রেমের গান গাইব; আমার মুখ দিয়ে আমি তোমার বিশ্বস্ততার কথা সব বংশপরম্পরার কাছে প্রকাশ করব।
PSA 89:2 আমি ঘোষণা করব যে তোমার প্রেম চিরকাল সুদৃঢ়, তোমার বিশ্বস্ততা তুমি স্বর্গে প্রতিষ্ঠা করেছ।
PSA 89:3 তুমি বলেছ, “আমি আমার মনোনীত ব্যক্তির সঙ্গে নিয়ম করেছি, আমার দাস দাউদের কাছে আমি শপথ করেছি,
PSA 89:4 ‘আমি তোমার বংশ চিরতরে স্থাপন করব এবং বংশের পর বংশ তোমার সিংহাসন সুদৃঢ় করব।’ ”
PSA 89:5 হে সদাপ্রভু, আকাশমণ্ডল তোমার আশ্চর্য কাজের প্রশংসা করে, পবিত্রজনদের সমাবেশে তোমার বিশ্বস্ততার প্রশংসা করে।
PSA 89:6 কারণ, হে সদাপ্রভু, আকাশের কার সঙ্গে তোমার তুলনা হয়? স্বর্গীয় সব সত্তার মধ্যে কে সদাপ্রভুর তুল্য?
PSA 89:7 পবিত্রজনদের পরিষদে সব তাঁকে সম্ভ্রম করে; যারা তাঁকে চারিদিকে ঘিরে রেখেছে তিনি তাদের থেকেও ভয়াবহ।
PSA 89:8 হে সদাপ্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, কে তোমার মতো? তুমি, হে সদাপ্রভু, শক্তিশালী, তোমার বিশ্বস্ততা তোমাকে ঘিরে রেখেছে।
PSA 89:9 তুমি উত্তাল সমুদ্রের উপর শাসন করো; যখন তার ঢেউ উঁচুতে ওঠে, তুমি তাদের শান্ত করে থাকো।
PSA 89:10 তুমি রহবকে চূর্ণ করে এক হত ব্যক্তির সমান করলে; তোমার শক্তিশালী বাহু দিয়ে তুমি তোমার শত্রুদের ছিন্নভিন্ন করলে।
PSA 89:11 আকাশমণ্ডল তোমার, এই জগৎও তোমার; পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সমস্ত তোমারই সৃষ্টি।
PSA 89:12 তুমি উত্তর ও দক্ষিণ সৃষ্টি করেছ; তাবোর ও হর্মোণ তোমার নামে আনন্দগান করে।
PSA 89:13 তোমার বাহু পরাক্রমে পূর্ণ; তোমার হাত বলবান, তোমার ডান হাত মহিমান্বিত।
PSA 89:14 ধার্মিকতা আর ন্যায় তোমার সিংহাসনের ভিত্তি; প্রেম আর বিশ্বস্ততা তোমার সম্মুখবর্তী হয়।
PSA 89:15 ধন্য তারা যারা তোমার জয়ধ্বনি করতে শিখেছে, যারা তোমার সান্নিধ্যের আলোতে চলাফেরা করে, হে সদাপ্রভু।
PSA 89:16 সারাদিন তারা তোমার নামে আনন্দ করে; তোমার ধর্মশীলতায় উল্লাস করে।
PSA 89:17 কারণ তুমি তাদের মহিমা আর শক্তি, আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাদের শিং বলশালী করেছ।
PSA 89:18 প্রকৃতপক্ষে, আমাদের সুরক্ষা সদাপ্রভু থেকে আসে, এবং তিনি, ইস্রায়েলের পবিত্রতম, আমাদেরকে রাজা দিয়েছেন।
PSA 89:19 একবার তুমি দর্শনে কথা বলেছিলে, তোমার ভক্তজনদের প্রতি তুমি বলেছিলে: “আমি এক যোদ্ধাকে শক্তি দিয়েছি; মানুষের মধ্যে থেকে আমি এক যুবককে রাজা হিসেবে মনোনীত করেছি।
PSA 89:20 আমার দাস দাউদকে আমি খুঁজে পেয়েছি; আমার পবিত্র তেল দিয়ে আমি তাকে অভিষিক্ত করেছি।
PSA 89:21 আমার হাত তার প্রাণ বাঁচিয়ে রাখবে; নিশ্চয় আমার বাহু তাকে শক্তি দেবে।
PSA 89:22 কোনো শত্রু তাকে পরাজিত করবে না; কোনো দুষ্ট তাকে নির্যাতন করবে না।
PSA 89:23 তার সামনে আমি তার বিপক্ষদের চূর্ণ করব আর তার প্রতিপক্ষদের আঘাত করব।
PSA 89:24 আমার বিশ্বস্ত প্রেম তার সঙ্গে রইবে, আর আমার নামের মধ্য দিয়ে তার শিং গৌরবান্বিত হবে।
PSA 89:25 সমুদ্রের উপরে আমি তার শাসন প্রসারিত করব, তার আধিপত্য নদীর উপরে।
PSA 89:26 সে আমাকে ডেকে বলবে, ‘তুমি আমার পিতা, আমার ঈশ্বর, শৈল আমার উদ্ধারকর্তা।’
PSA 89:27 এবং আমি তাকে প্রথমজাতরূপে মনোনীত করব, জগতের বুকে সবচেয়ে পরাক্রমী রাজা।
PSA 89:28 আমি চিরদিন তাকে ভালোবাসবো আর তার প্রতি দয়া করব, এবং তার প্রতি আমার নিয়ম কোনোদিন ব্যর্থ হবে না।
PSA 89:29 আমি তার বংশ চিরস্থায়ী করব, আকাশমণ্ডলের মতো তার সিংহাসন স্থায়ী করব।
PSA 89:30 “যদি তার সন্তানেরা আমার বিধিনিয়ম পরিত্যাগ করে আর আমার অনুশাসন পালন না করে,
PSA 89:31 তারা যদি আমার আজ্ঞা লঙ্ঘন করে আর যদি আমার আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়,
PSA 89:32 আমি দণ্ড দিয়ে তাদের পাপের শাস্তি দেবো, তাদের অপরাধের জন্য চাবুক মারব;
PSA 89:33 কিন্তু আমার প্রেম আমি তার কাছ থেকে সরিয়ে নেব না, এবং আমি আমার বিশ্বস্ততা কখনও ভঙ্গ করব না।
PSA 89:34 আমি আমার নিয়ম লঙ্ঘন করব না অথবা আমার মুখ যা উচ্চারণ করেছে তা পরিবর্তন করব না।
PSA 89:35 আমার পবিত্রতায় আমি একবারই শপথ করেছি— আর আমি দাউদকে মিথ্যা বলব না—
PSA 89:36 যে তার বংশ চিরস্থায়ী হবে এবং তার সিংহাসন আমার সামনে সূর্যের মতো স্থির রইবে
PSA 89:37 আকাশে বিশ্বস্ত সাক্ষী চন্দ্রের মতো চিরকাল তা প্রতিষ্ঠিত হবে।”
PSA 89:38 কিন্তু তুমি তাকে পরিত্যাগ করেছ, তুমি তাকে দূর করেছ, তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতি তুমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছ।
PSA 89:39 তোমার দাসের সঙ্গে স্থাপিত তোমার নিয়ম তুমি অস্বীকার করেছ এবং তার মুকুট তুমি ধুলোতে মিশিয়ে অপবিত্র করেছ।
PSA 89:40 তার সুরক্ষার সব প্রাচীর তুমি ভেঙে দিয়েছ এবং দুর্গ ধ্বংসাবশেষে পরিণত করেছ।
PSA 89:41 সব পথিকেরা তাকে লুট করেছে; সে তার প্রতিবেশীর অবজ্ঞার বস্তু হয়েছে।
PSA 89:42 তুমি তার বিপক্ষদের শক্তিশালী করেছ; তুমি তার সব শত্রুকে আনন্দিত করেছ।
PSA 89:43 বস্তুত, তুমি তার তরোয়ালের ধার নষ্ট করেছ আর যুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছ।
PSA 89:44 তুমি তার প্রভা শেষ করেছ এবং তার সিংহাসন মাটিতে নিক্ষেপ করেছ।
PSA 89:45 তুমি তার যৌবনকাল সংক্ষিপ্ত করেছ; তুমি তাকে লজ্জার আচ্ছাদনে আবৃত করেছ।
PSA 89:46 হে সদাপ্রভু, কত কাল? তুমি কি চিরকাল নিজেকে লুকিয়ে রাখবে? কত কাল তোমার ক্রোধ আগুনের মতো জ্বলবে?
PSA 89:47 মনে রেখো আমার জীবন কত স্বল্পস্থায়ী। কত শূন্য ও ব্যর্থ এই মানবজীবন!
PSA 89:48 কে জীবিত থাকবে অথচ মৃত্যু দেখবে না, অথবা কে পাতালের কবল থেকে পালাতে পারে?
PSA 89:49 হে প্রভু, তোমার পূর্বকালীন মহান প্রেম কোথায়? তুমি বিশ্বস্ততায় দাউদের প্রতি যে শপথ করেছিলে।
PSA 89:50 মনে রেখো, প্রভু, কীভাবে তোমার দাস অবজ্ঞার পাত্র হয়েছে, কীভাবে আমি সব জাতির উপহাস নিজের হৃদয়ে সহ্য করি,
PSA 89:51 হে সদাপ্রভু, যেসব উপহাস নিয়ে তোমার শত্রুরা আমাকে বিদ্রুপ করেছে, সেসব দিয়ে তারা তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপকে বিদ্রুপ করেছে।
PSA 89:52 চিরকাল সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক!
PSA 90:1 ঈশ্বর মনোনীত ব্যক্তি মোশির প্রার্থনা। হে সদাপ্রভু, বংশপরম্পরায় তুমি আমার বাসস্থান হয়ে এসেছ।
PSA 90:2 পর্বতগুলির জন্মের আগে এমনকি, তুমি পৃথিবী ও জগৎকে জন্ম দেওয়ার আগে, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত, তুমিই ঈশ্বর।
PSA 90:3 তুমি এই বলে লোকেদের ধুলোয় ফিরিয়ে দিয়ে থাকো, “ধুলোয় ফিরে এসো, হে মরণশীল তোমরা।”
PSA 90:4 তোমার দৃষ্টিতে এক হাজার বছর একদিনের সমান যা এইমাত্র কেটেছে, অথবা রাতের প্রহরের মতো।
PSA 90:5 তুমি মানুষকে মৃত্যুর ঘুমে নিশ্চিহ্ন করো— তারা সকালের নতুন ঘাসের মতো:
PSA 90:6 সকালে তারা নতুন করে গজিয়ে ওঠে, কিন্তু সন্ধ্যায় তা শুকিয়ে যায় আর বিবর্ণ হয়।
PSA 90:7 তোমার রাগে আমরা ক্ষয়ে যাই আর তোমার ক্রোধে আমরা আতঙ্কিত হই।
PSA 90:8 তুমি আমাদের অন্যায়গুলি আমাদের সামনে রেখেছ, আমাদের গোপন পাপগুলি তোমার সান্নিধ্যের আলোতে রেখেছ।
PSA 90:9 তোমার ক্রোধে আমাদের সব দিন কেটে যায়; বিলাপে আমরা আমাদের বছরগুলি কাটাই।
PSA 90:10 আমাদের আয়ু হয়তো সত্তর বছর পর্যন্ত হবে, অথবা আশি, যদি আমাদের ক্ষমতা স্থায়ী হয়; তবুও সবচেয়ে ভালো দিনও কষ্টে আর দুঃখে পরিপূর্ণ, কেননা সেগুলি তাড়াতাড়ি অদৃশ্য হয় আর আমরা উড়ে যাই।
PSA 90:11 তোমার রাগের পরাক্রম কে বুঝতে পারে? তোমার ক্রোধ ভয়াবহ যেমন তুমি সম্ভ্রমের যোগ্য।
PSA 90:12 আমাদের দিন গুনতে আমাদের শিক্ষা দাও, যেন আমরা প্রজ্ঞার হৃদয় লাভ করি।
PSA 90:13 হে সদাপ্রভু, ফিরে এসো! আর কত কাল দেরি করবে? তোমার সেবাকারীদের প্রতি করুণা করো।
PSA 90:14 সকালে তোমার অবিচল প্রেম দিয়ে আমাদের তৃপ্ত করো, যেন আমরা আনন্দের গান করতে পারি আর জীবনের সব দিন খুশি হতে পারি।
PSA 90:15 যতদিন তুমি আমাদের পীড়িত করেছিলে যত বছর আমরা বিপদ দেখেছি, তেমনই আমাদের আনন্দিত করো।
PSA 90:16 আমরা, তোমার দাস, যেন তোমার কার্যাবলি আবার দেখতে পাই, যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা তোমার মহিমা দেখতে পায়।
PSA 90:17 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অনুগ্রহ আমাদের উপরে বিরাজ করুক; আর তুমি আমাদের জন্য আমাদের হাতের প্রচেষ্টা স্থায়ী করো, হ্যাঁ! আমাদের হাতের প্রচেষ্টা স্থায়ী করো।
PSA 91:1 যে ব্যক্তি পরাৎপরের আশ্রয়ে বসবাস করে সে সর্বশক্তিমানের ছায়ায় বিশ্রাম পাবে।
PSA 91:2 আমি সদাপ্রভু সম্বন্ধে বলব, “তিনিই আমার আশ্রয় এবং আমার উচ্চদুর্গ, আমার ঈশ্বর, যার উপর আমি আস্থা রাখি।”
PSA 91:3 নিশ্চয় তিনিই তোমাকে শিকারির ফাঁদ আর মারাত্মক মহামারি থেকে রক্ষা করবেন।
PSA 91:4 তিনি নিজের পালকে তোমাকে আবৃত করবেন, এবং তাঁর ডানার তলায় তুমি আশ্রয় পাবে; তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিশ্রুতি হবে তোমার ঢাল ও সুরক্ষা।
PSA 91:5 তুমি রাতের আতঙ্ক থেকে ভয় পাবে না, অথবা দিনে উড়ন্ত তির থেকে,
PSA 91:6 অথবা মহামারি থেকে যা অন্ধকারে আক্রমণ করে, অথবা সংক্রামক ব্যাধি থেকে যা দুপুরে ধ্বংস করে।
PSA 91:7 তোমার পাশে হাজার জনের পতন হতে পারে, তোমার ডানপাশে দশ হাজার জনের, কিন্তু তা তোমার কাছে আসবে না।
PSA 91:8 তুমি তোমার চোখ দিয়ে কেবল লক্ষ্য করবে আর দুষ্টদের শাস্তি পেতে দেখবে।
PSA 91:9 যদি তুমি বলো, “সদাপ্রভু আমার আশ্রয়,” আর তুমি পরাৎপরকে নিজের বাসস্থান করো,
PSA 91:10 তোমার কোনও অনিষ্ট হবে না, কোনও বিপর্যয় তোমার তাঁবুর কাছে আসবে না।
PSA 91:11 কারণ তিনি তাঁর দূতদের তোমার বিষয়ে তোমার চলার সব পথে তোমাকে রক্ষা করার আদেশ দেবেন;
PSA 91:12 তাঁরা তোমাকে তাঁদের হাতে তুলে নেবেন, যেন তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।
PSA 91:13 তুমি সিংহ ও কালসাপের উপর পা দিয়ে চলবে; তুমি হিংস্র সিংহ আর সাপকে পদদলিত করবে।
PSA 91:14 “যেহেতু সে আমাকে ভালোবাসে,” সদাপ্রভু বলেন, “আমি তাকে উদ্ধার করব; আমি তাকে রক্ষা করব কারণ সে আমার নাম স্বীকার করে।
PSA 91:15 সে আমার নামে ডাকবে, আর আমি তাকে উত্তর দেব; সংকটে আমি তার সঙ্গে রইব, আমি তাকে উদ্ধার করব আর সম্মানিত করব।
PSA 91:16 দীর্ঘ জীবন দিয়ে আমি তাকে তৃপ্ত করব আর আমার পরিত্রাণ তাকে দেখাব।”
PSA 92:1 একটি গীত। বিশ্রামবারের জন্য রচিত। সদাপ্রভুর প্রশংসা করা এবং, হে পরাৎপর, তোমার নামের উদ্দেশে গান করা, উত্তম।
PSA 92:2 দশ-তারের সুরবাহার এবং বীণার সুর সহযোগে
PSA 92:3 সকালে তোমার অবিচল প্রেম এবং রাতে তোমার বিশ্বস্ততা প্রচার করা, উত্তম।
PSA 92:4 কারণ হে সদাপ্রভু, তোমার কাজ দ্বারা তুমি আমাকে আনন্দিত করেছ। তোমার হাতের কাজ দেখে আমি আনন্দে গান করি
PSA 92:5 হে সদাপ্রভু, তোমার কাজগুলি কত মহান, কত গভীর তোমার ভাবনা!
PSA 92:6 অচেতন লোকেরা জানে না, মূর্খরা বুঝতে পারে না,
PSA 92:7 যে যদিও দুষ্টরা ঘাসের মতো গজিয়ে ওঠে আর সব অনিষ্টকারী বৃদ্ধি পায়, তারা চিরকালের জন্য ধ্বংস হবে।
PSA 92:8 কিন্তু তুমি, হে সদাপ্রভু, চিরকালের জন্য মহিমান্বিত।
PSA 92:9 হে সদাপ্রভু, নিশ্চয় আমাদের শত্রুরা নিশ্চয়ই আমাদের শত্রুরা বিনষ্ট হবে; সব অনিষ্টকারী ছিন্নভিন্ন হবে।
PSA 92:10 তুমি আমার শিং বন্য ষাঁড়ের মতো উন্নীত করেছ; খাঁটি তেল আমার মাথায় ঢেলে দিয়েছ।
PSA 92:11 আমার চোখ আমার প্রতিপক্ষদের পরাজয় দেখেছে; আমার কান আমার দুষ্ট বিপক্ষদের পতনের কথা শুনেছে।
PSA 92:12 ধার্মিক তাল গাছের মতো সমৃদ্ধ হবে, লেবাননের দেবদারু গাছের মতো তারা বৃদ্ধি পাবে;
PSA 92:13 যাদের সদাপ্রভুর গৃহে লাগানো হয়েছে, তারা আমাদের ঈশ্বরের প্রাঙ্গণে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
PSA 92:14 বৃদ্ধ বয়সেও তারা ফল প্রদান করবে, তারা সতেজ ও সবুজ হয়ে রইবে,
PSA 92:15 এই প্রচার করবে, “সদাপ্রভু ন্যায়পরায়ণ; তিনি আমার শৈল এবং তাতে কোনও অন্যায় নেই।”
PSA 93:1 সদাপ্রভু রাজত্ব করেন, তিনি মহিমায় সজ্জিত; সদাপ্রভু গৌরবে আবৃত ও পরাক্রমে সজ্জিত; সত্যিই, এই পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত, সুদৃঢ় ও সুরক্ষিত।
PSA 93:2 তোমার সিংহাসন প্রাচীনকাল থেকে বিদ্যমান; তুমি স্বয়ং অনন্তকাল থেকে।
PSA 93:3 হে সদাপ্রভু, সমুদ্রেরা উঠেছে, সমুদ্রেরা তাদের আওয়াজ তুলেছে; সমুদ্রেরা তাদের উত্তাল ঢেউ তুলেছে।
PSA 93:4 মহাজলধির গর্জন থেকেও, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ থেকেও উচ্চে অবস্থিত সদাপ্রভু বলবান।
PSA 93:5 হে সদাপ্রভু, তোমার বিধিবিধান, সুদৃঢ়; অনন্তকাল ধরে পবিত্রতাই তোমার গৃহের শোভা।
PSA 94:1 সদাপ্রভু, এমন ঈশ্বর, যিনি প্রতিফল দেন। হে প্রতিফলদাতা ঈশ্বর, তোমার ন্যায়বিচার দেদীপ্যমান হোক।
PSA 94:2 ওঠো, হে জগতের বিচারকর্তা; দাম্ভিকদের কাজের প্রতিফল তাদের দাও।
PSA 94:3 দুষ্টরা কত কাল, হে সদাপ্রভু, দুষ্টরা কত কাল উল্লাস করবে?
PSA 94:4 তারা অহংকারের বাক্য ঢেলে দেয়; অনিষ্টকারীরা সবাই গর্বে পরিপূর্ণ।
PSA 94:5 তারা তোমার লোকেদের চূর্ণ করে, হে সদাপ্রভু; তারা তোমার অধিকারের উপর অত্যাচার করে।
PSA 94:6 তারা বিধবা আর বিদেশিদের নাশ করে; তারা অনাথদের হত্যা করে।
PSA 94:7 তারা বলে, “সদাপ্রভু দেখেন না; যাকোবের ঈশ্বর বিবেচনা করেন না।”
PSA 94:8 হে লোকেদের মধ্যে বসবাসকারী শুভ বুদ্ধিহীনেরা, বিবেচনা করো; হে মূর্খেরা, কবে তোমাদের সুবুদ্ধি হবে?
PSA 94:9 যিনি কান তৈরি করেছেন তিনি কি শুনবেন না? যিনি চোখ নির্মাণ করেছেন তিনি কি দেখবেন না?
PSA 94:10 যিনি সমস্ত জাতিকে শাসন করেন তিনি কি শাস্তি দেবেন না? যিনি মানবজাতিকে শিক্ষা দেন তাঁর কি জ্ঞানের অভাব?
PSA 94:11 সদাপ্রভু মানুষের সব সংকল্প জানেন; তিনি জানেন যে তারা তুচ্ছ।
PSA 94:12 হে সদাপ্রভু, ধন্য সেই ব্যক্তি যাকে তুমি শাসন করেছ, যাকে তুমি তোমার বিধান থেকে শিক্ষা দিয়েছ;
PSA 94:13 তুমি তাদের বিপদের দিন থেকে মুক্তি দিয়েছ, যতদিন না পর্যন্ত দুষ্টদের বন্দি করার জন্য এক গর্ত খোঁড়া হচ্ছে।
PSA 94:14 কারণ সদাপ্রভু তাঁর ভক্তজনদের পরিত্যাগ করবেন না; তিনি কখনও তাঁর অধিকার পরিত্যাগ করবেন না।
PSA 94:15 ন্যায়ের উপর ভিত্তি করে বিচার আবার স্থাপিত হবে, যারা হৃদয়ে ন্যায়পরায়ণ তারা সকলে তা অনুসরণ করবে।
PSA 94:16 কে আমার পক্ষ নিয়ে দুষ্টদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে? কে অনিষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমার পক্ষ নেবে?
PSA 94:17 সদাপ্রভু যদি আমাকে সাহায্য না করতেন, তবে হয়তো আমি অচিরেই মৃত্যুর নীরবতায় বাস করতাম।
PSA 94:18 যখন আমি বলেছিলাম, “আমার পা পিছলে যাচ্ছে,” তোমার অবিচল প্রেম, হে সদাপ্রভু, আমার সহায়তা করেছিল,
PSA 94:19 যখন দুশ্চিন্তা আমার অন্তরে গভীর হয়েছিল, তোমার সান্ত্বনা আমাকে আনন্দ দিয়েছিল।
PSA 94:20 অসৎ সিংহাসন কি তোমার সঙ্গী হতে পারে— এমন সিংহাসন যা নিজের আদেশে দুর্দশা নিয়ে আসে?
PSA 94:21 দুষ্টরা ধার্মিকদের বিরুদ্ধে দল বাঁধে আর নির্দোষদের মৃত্যুদণ্ড দেয়।
PSA 94:22 কিন্তু সদাপ্রভু আমার উচ্চদুর্গ হয়েছেন, এবং আমার ঈশ্বর আমার আশ্রয় শৈল হয়েছেন।
PSA 94:23 তাদের পাপের প্রতিফল তিনি তাদের দেবেন আর তাদের দুষ্টতার জন্য তাদের ধ্বংস করবেন; সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বর তাদের ধ্বংস করবেন।
PSA 95:1 এসো, আমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে আনন্দগান করি; আমাদের পরিত্রাণের শৈলের উদ্দেশে উচ্চস্বরে গান গাই।
PSA 95:2 আমরা ধন্যবাদের সঙ্গে তাঁর সামনে যাই সংগীত ও গান দিয়ে তাঁর উচ্চপ্রশংসা করি।
PSA 95:3 কারণ সদাপ্রভু মহান ঈশ্বর, সব দেবতার উপর মহান রাজা।
PSA 95:4 পৃথিবীর গভীরস্থান তাঁর হস্তগত, এবং পর্বতগুলির চূড়া তাঁরই অধীন।
PSA 95:5 সমুদ্র তাঁরই কেননা তিনি তা তৈরি করেছেন, আর তাঁর হাত শুষ্ক জমি নির্মাণ করেছে।
PSA 95:6 এসো, আরাধনায় আমরা তাঁর সামনে নত হই, সদাপ্রভু আমাদের সৃষ্টিকর্তার সামনে আমরা হাঁটু পেতে বসি;
PSA 95:7 কারণ তিনি আমাদের ঈশ্বর আর আমরা তাঁর চারণভূমির প্রজা, ও মেষ যাদের তিনি যত্ন করেন। আজই, যদি তোমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পাও,
PSA 95:8 “যেমন মরীবায় করেছিলে, তেমন নিজেদের হৃদয় কঠিন কোরো না, মরুপ্রান্তরে মঃসার দিনে যেমন করেছিলে,
PSA 95:9 যেখানে তোমার পূর্বপুরুষেরা আমার পরীক্ষা করেছিল; আমাকে যাচাই করেছিল, যদিও আমি যা করেছিলাম তারা সব দেখেছিল।
PSA 95:10 চল্লিশ বছর পর্যন্ত সেই প্রজন্মের প্রতি আমি ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম; এবং আমি বলেছিলাম, ‘তারা এমন ধরনের লোক যাদের হৃদয় বিপথগামী হয়, আর তারা আমার পথগুলি জানে না।’
PSA 95:11 তাই আমার ক্রোধে আমি এক শপথ নিয়েছিলাম, ‘আমার বিশ্রামে তারা আর কোনোদিন প্রবেশ করবে না।’ ”
PSA 96:1 তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন গান গাও; সমস্ত পৃথিবী, সদাপ্রভুর উদ্দেশে গীত গাও।
PSA 96:2 সদাপ্রভুর উদ্দেশে গীত গাও; তাঁর নামের প্রশংসা করো; দিনের পর দিন তাঁর পরিত্রাণ ঘোষণা করো।
PSA 96:3 সমস্ত জাতির মধ্যে তাঁর মহিমা আর সব লোকের মাঝে তাঁর বিস্ময়কর কাজের কথা প্রচার করো।
PSA 96:4 সদাপ্রভু মহান এবং সর্বোচ্চ প্রশংসার যোগ্য; সব দেবতার উপরে তিনি সম্ভ্রমের যোগ্য।
PSA 96:5 কারণ, জাতিগণের সমস্ত দেবতা কেবল প্রতিমা মাত্র, কিন্তু সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন।
PSA 96:6 দীপ্তি ও প্রতাপ তাঁকে ঘিরে রেখেছে; পরাক্রম ও মহিমা তাঁর পবিত্রস্থান পূর্ণ করে।
PSA 96:7 জাতিগণের সমস্ত কুল সদাপ্রভুকে স্বীকার করো, স্বীকার করো যে সদাপ্রভু মহিমান্বিত ও পরাক্রমী।
PSA 96:8 সদাপ্রভুকে তাঁর যোগ্য মহিমায় মহিমান্বিত করো! নৈবেদ্য সাজিয়ে তাঁর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করো।
PSA 96:9 তাঁর পবিত্র শোভায় সদাপ্রভুর আরাধনা করো, সমস্ত পৃথিবী, তাঁর সামনে কম্পিত হও;
PSA 96:10 জাতিগণের মধ্যে বলো, “সদাপ্রভু রাজত্ব করেন।” পৃথিবী দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, তা বিচলিত হবে না; তিনি ন্যায়ে সব মানুষের বিচার করবেন।
PSA 96:11 আকাশমণ্ডল আনন্দ করুক, পৃথিবী উল্লসিত হোক; সমুদ্র ও যা কিছু তার মধ্যে আছে, গর্জন করুক।
PSA 96:12 সমস্ত ময়দান ও সেখানকার সবকিছু উল্লসিত হোক; জঙ্গলের সব গাছ আনন্দ সংগীত করুক।
PSA 96:13 সমস্ত সৃষ্টি সদাপ্রভুর সামনে আনন্দ করুক, কারণ তিনি আসছেন, এই জগতের বিচার করার জন্য তিনি আসছেন। তিনি ধার্মিকতায় এই পৃথিবীর বিচার করবেন এবং তাঁর সত্য অনুযায়ী সব মানুষের বিচার করবেন।
PSA 97:1 সদাপ্রভু রাজত্ব করেন, পৃথিবী উল্লসিত হোক; সুদূর উপকূলবর্তী দেশ আনন্দিত হোক।
PSA 97:2 মেঘ ও ঘন অন্ধকার তাঁর চতুর্দিক ঘিরে রেখেছে, ধর্মশীলতা ও ন্যায়বিচার তাঁর সিংহাসনের ভিত্তি।
PSA 97:3 আগুন তাঁর অগ্রগামী হয়, এবং চারিদিকে তাঁর বিপক্ষদের দগ্ধ করে।
PSA 97:4 তাঁর বিদ্যুতের আলোতে পৃথিবী আলোকিত হয়, জগৎ এসব দেখে আর কম্পিত হয়।
PSA 97:5 সদাপ্রভুর সামনে, সমস্ত জগতের সদাপ্রভুর সামনে, পর্বতগুলি মোমের মতো গলে যায়।
PSA 97:6 আকাশমণ্ডল তাঁর ধার্মিকতা প্রচার করে, এবং সব লোক তাঁর মহিমা দেখে।
PSA 97:7 যারা সবাই প্রতিমার আরাধনা করে, যারা মূর্তিতে গর্ব করে, তারা লজ্জিত হয়; দেবতারা সবাই, তোমরা সদাপ্রভুর আরাধনা করো।
PSA 97:8 তোমার বিচার হে সদাপ্রভু, সিয়োন শোনে আর আনন্দিত হয় আর যিহূদার সকল গ্রাম উল্লসিত হয়।
PSA 97:9 কারণ, হে সদাপ্রভু, তুমি সমস্ত জগতের ঊর্ধ্বে পরাৎপর; সব দেবতার ঊর্ধ্বে তুমি মহিমান্বিত।
PSA 97:10 যারা সদাপ্রভুকে ভালোবাসে তারা অধর্মকে ঘৃণা করুক, কারণ তিনি তাঁর বিশ্বস্তজনেদের প্রাণরক্ষা করেন, এবং দুষ্টদের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করেন।
PSA 97:11 ধার্মিকের জন্য আলো আর হৃদয়ে ন্যায়পরায়ণের জন্য আনন্দ, উদিত হয়।
PSA 97:12 তোমরা যারা ধার্মিক, সদাপ্রভুতে আনন্দ করো, আর তাঁর পবিত্র নামের প্রশংসা করো।
PSA 98:1 একটি গীত। সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন গান গাও, কারণ তিনি অবিশ্বাস্য কাজ করেছেন; তাঁর ডান হাত ও তাঁর পবিত্র বাহু তাঁর পক্ষে পরিত্রাণ সাধন করেছেন।
PSA 98:2 সদাপ্রভু তাঁর পরিত্রাণ ঘোষণা করেছেন এবং তাঁর ধার্মিকতা জাতিদের কাছে প্রকাশ করেছেন।
PSA 98:3 ইস্রায়েলের প্রতি তাঁর প্রেম ও বিশ্বস্ততা তিনি স্মরণে রেখেছেন; আমাদের ঈশ্বরের পরিত্রাণ পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত প্রত্যক্ষ করেছে।
PSA 98:4 সমস্ত পৃথিবী, সদাপ্রভুর উদ্দেশে জয়ধ্বনি করো, প্রশংসায় মেতে ওঠো ও আনন্দগান করো;
PSA 98:5 বীণা সহযোগে সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান গাও, বীণা সহযোগে ও গানের শব্দে,
PSA 98:6 তূরীধ্বনির শব্দে এবং শিঙার সুদীর্ঘ শব্দে— রাজা সদাপ্রভুর উদ্দেশে জয়ধ্বনি করো।
PSA 98:7 সমুদ্র ও তার মধ্যে যা কিছু আছে গর্জন করুক, পৃথিবী ও তাঁর মধ্যে যারা সবাই বসবাস করে।
PSA 98:8 নদীরা হাততালি দিক, পর্বতগুলি একসঙ্গে আনন্দগান করুক;
PSA 98:9 সদাপ্রভুর সামনে তারা গান করুক; কারণ তিনি জগতের বিচার করতে আসছেন। তিনি ধার্মিকতায় এই পৃথিবী এবং ন্যায়ে জাতিগণের বিচার করবেন।
PSA 99:1 সদাপ্রভু রাজত্ব করেন, জাতিরা কম্পিত হোক; করূবের মাঝে তিনি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত, পৃথিবী কেঁপে উঠুক।
PSA 99:2 সদাপ্রভু সিয়োনে মহান; সব জাতির ঊর্ধ্বে তিনি উন্নীত।
PSA 99:3 তারা তোমার মহান ও ভয়াবহ নামের প্রশংসা করুক— তিনি পবিত্র।
PSA 99:4 রাজা শক্তিশালী, তিনি ন্যায় ভালোবাসেন— তুমি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছ; তুমি যাকোবের মধ্যে ন্যায় ও ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করেছ।
PSA 99:5 সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বরের গৌরব করো, তাঁর পাদপীঠে আরাধনা করো; তিনি পবিত্র।
PSA 99:6 মোশি ও হারোণ তাঁর যাজকদের মধ্যে ছিলেন, শমূয়েল তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন যাঁরা সদাপ্রভুর নামে ডাকতেন তাঁরা সদাপ্রভুর কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করতেন, এবং তিনি তাঁদের উত্তর দিতেন।
PSA 99:7 তিনি মেঘস্তম্ভের আড়াল থেকে তাঁদের উদ্দেশে কথা বলতেন, তিনি যে বিধিবিধান এবং আদেশ তাঁদের দিয়েছিলেন সেসব তাঁরা মেনে চলতেন।
PSA 99:8 হে সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর, তুমি তাঁদের উত্তর দিয়েছিলে; যদিও তুমি তাঁদের দুষ্কর্মের শাস্তি দিয়েছিলে, ইস্রায়েলের প্রতি তুমি ক্ষমাশীল ঈশ্বর।
PSA 99:9 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে মহিমান্বিত করো এবং তাঁর পবিত্র পর্বতে আরাধনা করো, কারণ আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, পবিত্র।
PSA 100:1 ধন্যবাদের সংগীত। সমস্ত পৃথিবী! সদাপ্রভুর উদ্দেশে জয়ধ্বনি করো।
PSA 100:2 মহানন্দে সদাপ্রভুর আরাধনা করো; আনন্দগান সহকারে তাঁর সামনে এসো।
PSA 100:3 তোমরা জানো, সদাপ্রভুই ঈশ্বর। তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আর আমরা তাঁরই; আমরা তাঁর প্রজা, তাঁর চারণভূমির মেষ।
PSA 100:4 ধন্যবাদ সহকারে তাঁর দ্বারে এবং প্রশংসা সহকারে তাঁর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করো; তাঁকে ধন্যবাদ জানাও, আর তাঁর নামের প্রশংসা করো।
PSA 100:5 কারণ সদাপ্রভু মঙ্গলময় এবং তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী; তাঁর বিশ্বস্ততা বংশপরম্পরায় স্থায়ী।
PSA 101:1 দাউদের গীত। আমি তোমার প্রেম ও ন্যায়পরায়ণতার সম্পর্কে গাইব; তোমার উদ্দেশে, হে সদাপ্রভু, আমি স্তবগান করব।
PSA 101:2 সতর্ক হয়ে আমি নির্দোষ জীবন কাটাব— কখন তুমি আমার কাছে আসবে? আমি নিজের গৃহে সততার সঙ্গে জীবন কাটাব।
PSA 101:3 যা কিছু জঘন্য ও কুরুচিপূর্ণ তা দেখতে আমি অস্বীকার করব। আমি ভ্রষ্টাচারীদের কাজকর্ম ঘৃণা করি; তাদের সঙ্গে আমি কোনও সম্বন্ধ রাখব না।
PSA 101:4 যে হৃদয়ে বিকৃত সে আমার কাছ থেকে দূরে থাকবে; আমি সব ধরনের মন্দ থেকে দূরে সরে থাকব।
PSA 101:5 যে কেউ গোপনে প্রতিবেশীর অপবাদ করে, আমি তাকে উচ্ছেদ করব; যার দৃষ্টি উদ্ধত ও হৃদয় অহংকারী, আমি তাকে সহ্য করব না।
PSA 101:6 দেশের বিশ্বস্তদের প্রতি আমার দৃষ্টি থাকবে, যেন তারা আমার সঙ্গে বসবাস করতে পারে; যে সিদ্ধ পথে চলে সে আমার পরিচর্যা করবে।
PSA 101:7 যারা প্রতারক তারা কেউ আমার গৃহে বসবাস করবে না; যারা মিথ্যা কথা বলে তারা আমার সামনে দাঁড়াবে না।
PSA 101:8 প্রতি সকালে, দেশের সব দুষ্টকে আমি নাশ করব; সদাপ্রভুর নগর থেকে আমি সব অনিষ্টকারীকে উচ্ছেদ করব।
PSA 102:1 এক পীড়িত ব্যক্তির প্রার্থনা যে দুর্বল হয়েছিল আর সদাপ্রভুর কাছে তার বিলাপের কথা মন খুলে বলেছিল। হে সদাপ্রভু, আমার প্রার্থনা শোনো; আমার সাহায্যের প্রার্থনা তোমার কাছে উপস্থিত হোক।
PSA 102:2 যখন আমি সংকটে আছি তোমার মুখ আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখো না। আমার দিকে কর্ণপাত করো; যখন আমি তোমাকে ডাকি, তাড়াতাড়ি আমাকে উত্তর দিয়ো।
PSA 102:3 আমার দিনগুলি ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়; আমার হাড়গোড় কয়লার মতো জ্বলছে।
PSA 102:4 আমার হৃদয় ক্ষয় হয়েছে আর ঘাসের মতো শুকিয়ে গিয়েছে; আমি খাবার খেতে ভুলে যাই।
PSA 102:5 আমার দুর্দশায় আমি আর্তনাদ করি আর আমি চামড়া ও হাড়ে পরিণত হয়েছি।
PSA 102:6 আমি মরুভূমির প্যাঁচার মতো, ধ্বংসের মাঝে প্যাঁচার মতো হয়েছি।
PSA 102:7 আমি সজাগ থাকি; ছাদের উপরে একা এক পাখির মতো হয়েছি।
PSA 102:8 দিনের পর দিন আমার শত্রুরা আমাকে বিদ্রুপ করে; যারা আমার প্রতি ক্রুদ্ধ তারা আমার নামে অভিশাপ দেয়।
PSA 102:9 কেননা আমি খাবারের পরিবর্তে ছাই খেয়েছি আর আমার পানীয়র সঙ্গে চোখের জল মিশিয়েছি
PSA 102:10 তোমার মহা ক্রোধের কারণে, কেননা তুমি আমাকে তুলে ছুঁড়ে ফেলেছ।
PSA 102:11 আমার দিন সন্ধ্যার ছায়ার মতো হয়েছে; আমি ঘাসের মতো শুকিয়ে যাই।
PSA 102:12 কিন্তু তুমি, হে সদাপ্রভু, চিরকাল সিংহাসনে অধিষ্ঠিত; তোমার সুখ্যাতি বংশপরম্পরায় স্থায়ী।
PSA 102:13 তুমি জাগ্রত হবে আর জেরুশালেমের প্রতি করুণা করবে, কারণ এখন তার প্রতি অনুগ্রহ দেখানোর সময়; নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়েছে।
PSA 102:14 কারণ তোমার সেবকেরা তার প্রাচীরের প্রত্যেকটি পাথর ভালোবাসে; এমনকি তার ধুলোর প্রতি যত্ন করে।
PSA 102:15 সমস্ত জাতি সদাপ্রভুর নামে সম্ভ্রম করবে, জগতের রাজারা সবাই তোমার মহিমায় গভীর শ্রদ্ধা করবে।
PSA 102:16 কারণ সদাপ্রভু আবার জেরুশালেম নির্মাণ করবেন এবং তাঁর মহিমায় আবির্ভূত হবেন।
PSA 102:17 যে নিঃস্ব তার প্রার্থনায় সদাপ্রভু উত্তর দেবেন; তাদের নিবেদন তিনি অবজ্ঞা করবেন না।
PSA 102:18 ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব লেখা হোক, যারা সৃষ্ট হবে তারা সদাপ্রভুর প্রশংসা করবে:
PSA 102:19 “সদাপ্রভু উচ্চ পবিত্রস্থান থেকে নিচে দেখলেন, স্বর্গ থেকে তিনি জগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন,
PSA 102:20 বন্দিদের আর্তনাদ শোনার জন্য, আর যারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত তাদের মুক্ত করার জন্য।”
PSA 102:21 তাই সদাপ্রভুর নাম সিয়োনে এবং তাঁর প্রশংসা জেরুশালেমে প্রচার করা হবে,
PSA 102:22 যখন সব লোকজন আর সব দেশ সদাপ্রভুর আরাধনা করতে একত্রিত হয়।
PSA 102:23 জীবনে চলার পথে তিনি আমার শক্তি ক্ষয় করেছেন; তিনি আমার আয়ু কমিয়েছেন।
PSA 102:24 তাই আমি বলেছি: “হে ঈশ্বর, আমার যৌবনকালে আমাকে তুলে নিয়ো না; তোমার বছরগুলি বংশপরম্পরায় স্থায়ী।
PSA 102:25 আদিকালে তুমি এই পৃথিবীর ভিত্তিমূল স্থাপন করেছ, আর আকাশমণ্ডলও তোমারই হাতের রচনা
PSA 102:26 সেসব বিনষ্ট হবে, কিন্তু তুমি স্থায়ী হবে; ছেঁড়া কাপড়ের মতো সেসব শেষ হয়ে যাবে। পোশাকের মতো তুমি তাদের পরিবর্তন করবে আর তাদের পরিত্যাগ করা হবে।
PSA 102:27 কিন্তু তোমার পরিবর্তন নেই, আর তোমার বছরগুলি কখনও শেষ হবে না।
PSA 102:28 তোমার দাসদের সন্তানসন্ততিরা তোমার সান্নিধ্যে বসবাস করবে; তাদের বংশধরেরা তোমার সামনে প্রতিষ্ঠিত হবে।”
PSA 103:1 দাউদের গীত। হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; হে আমার অন্তিম সত্তা, তাঁর পবিত্র নামের প্রশংসা করো।
PSA 103:2 হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, এবং তাঁর সব উপকার ভুলে যেয়ো না—
PSA 103:3 যিনি তোমার সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন আর তোমার সব রোগ ভালো করেন,
PSA 103:4 যিনি তোমার জীবন মৃত্যু থেকে মুক্ত করেন আর তোমাকে প্রেম ও করুণার মুকুটে ভূষিত করেন,
PSA 103:5 তিনি উত্তম দ্রব্যে তোমার মনোবাসনা পূর্ণ করেন যেন ঈগল পাখির মতো তোমার যৌবন নতুন হয়।
PSA 103:6 সদাপ্রভু ধার্মিকতার কাজ করেন আর পীড়িতদের পক্ষে ন্যায়বিচার করেন।
PSA 103:7 তিনি মোশিকে জানিয়েছিলেন তাঁর পথগুলি, ইস্রায়েলের লোকদের তাঁর কাজকর্ম:
PSA 103:8 সদাপ্রভু কৃপাময় ও স্নেহশীল, ক্রোধে ধীর, দয়াতে মহান।
PSA 103:9 তিনি ক্রমাগত আমাদের অভিযুক্ত করবেন না, তিনি চিরকাল তাঁর ক্রোধ মনে পুষে রাখবেন না;
PSA 103:10 তিনি আমাদের প্রতি আমাদের পাপ অনুযায়ী আচরণ করেন না অথবা আমাদের অপরাধ অনুযায়ী আমাদের প্রতিফল দেন না।
PSA 103:11 কারণ জগতের ঊর্ধ্বে আকাশমণ্ডল যত উচ্চ, যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে তাদের প্রতি তাঁর প্রেম ততটাই মহান;
PSA 103:12 পূর্ব থেকে পশ্চিম যত দূরে, ততটাই আমাদের অপরাধ তিনি আমাদের থেকে দূর করেছেন।
PSA 103:13 বাবা যেমন তার সন্তানসন্ততিদের প্রতি করুণা করেন, যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে তিনি ততটাই তাদের প্রতি করুণা করেন;
PSA 103:14 কারণ তিনি জানেন আমরা কীভাবে নির্মিত হয়েছি, তিনি স্মরণে রাখেন যে আমরা কেবল ধুলো।
PSA 103:15 মরণশীল মানুষের জীবন ঘাসের মতো, মাঠের ফুলের মতো তারা ফুটে ওঠে;
PSA 103:16 তাদের উপর দিয়ে বায়ু বয়ে যায় আর তারা নিশ্চিহ্ন হয়, আর সেই স্থান তাদের আর মনে রাখে না।
PSA 103:17 কিন্তু অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত সদাপ্রভুর প্রেম তাদের সঙ্গে আছে যারা তাকে সম্ভ্রম করে, এবং তাঁর ধার্মিকতা তাদের সন্তানসন্ততিদের প্রতি বর্তায়—
PSA 103:18 তাদের প্রতি যারা তাঁর নিয়ম পালন করে এবং তাঁর অনুশাসন পালন করার কথা মনে রাখে।
PSA 103:19 সদাপ্রভু তাঁর সিংহাসন স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর তাঁর রাজ্য সবকিছুর উপরে শাসন করে।
PSA 103:20 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, হে তাঁর দূতেরা, তোমরা যারা পরাক্রমী তাঁর পরিকল্পনা সম্পন্ন করো, তোমরা যারা তাঁর আদেশ পালন করো।
PSA 103:21 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, হে তাঁর স্বর্গের সমস্ত বাহিনী, তোমরা তাঁর সেবাকারী যারা তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করো।
PSA 103:22 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, হে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি, তাঁর আধিপত্যের সমস্ত স্থানে। হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 104:1 হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি কত মহান; তুমি প্রভা আর পরাক্রমে ভূষিত।
PSA 104:2 তিনি আলোর পোশাকে সজ্জিত; তিনি আকাশমণ্ডল তাঁবুর মতো প্রসারিত করেন
PSA 104:3 আর তিনি জলধিতে তাঁর উচ্চকক্ষের কড়িকাঠ স্থাপন করেন। তিনি মেঘরাশিকে তাঁর রথ করেন আর বায়ুর ডানায় চড়ে ভেসে চলেন।
PSA 104:4 তিনি বায়ুপ্রবাহকে তাঁর দূত করেন, আগুনের শিখাকে নিজের দাস করেন।
PSA 104:5 তিনি এই জগতকে ভিত্তিমূলের উপর স্থাপন করেন; তা কোনোদিন বিচলিত হবে না।
PSA 104:6 আচ্ছাদনের মতো অতল জলধি দিয়ে তুমি এই জগৎ আবৃত করেছ; জলপ্রবাহ পর্বতগুলির উপর দাঁড়াল।
PSA 104:7 কিন্তু তোমার তিরস্কারে জলধি পালিয়ে গেল, তোমার গর্জনের শব্দে তা দ্রুত প্রস্থান করল;
PSA 104:8 জলধি পর্বতগুলির উপর দিয়ে প্রবাহিত হল, তা উপত্যকায় নেমে গেল, এবং তার নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত পৌঁছাল।
PSA 104:9 তুমি জলধির সীমা স্থির করেছ যা তারা অতিক্রম করতে পারে না; আবার কখনও জলধি জগৎকে আচ্ছন্ন করবে না।
PSA 104:10 তুমি গিরিখাতে ঝরনাকে জল ঢালতে দিয়েছ; পর্বতগুলির মধ্য দিয়ে তা প্রবাহিত হয়।
PSA 104:11 তারা মাঠের সব বন্যপশুকে জল দেয়; বুনো গাধারা নিজেদের তৃষ্ণা মেটায়।
PSA 104:12 আকাশের পাখিরা জলপ্রবাহের ধারে বাসা বানায়; তারা ডালপালার মধ্যে গান করে।
PSA 104:13 তাঁর উচ্চকক্ষ থেকে তিনি পর্বতগুলিকে জল দেন; তাঁর কাজের ফলাফলে দেশ তৃপ্ত হয়।
PSA 104:14 তিনি গবাদি পশুদের জন্য ঘাস, আর মানুষের চাষের জন্য চারাগাছ বৃদ্ধি করেন— জমি থেকে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন করেন:
PSA 104:15 সুরা যা মানুষের হৃদয়কে উৎফুল্ল করে, তেল যা তাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে, এবং খাবার যা মানুষের জীবন বাঁচিয়ে রাখে।
PSA 104:16 সদাপ্রভুর সব গাছপালা পর্যাপ্ত যত্নে আছে, লেবাননের দেবদারুবন যা তিনি লাগিয়েছিলেন।
PSA 104:17 সেখানে পাখিরা তাদের বাসা বানিয়েছে; সারস পাখি চিরসবুজ গাছে বসবাস করছে।
PSA 104:18 উঁচু পর্বতগুলি বুনো ছাগলের; দুর্গম পাহাড় খরগোশের আশ্রয়।
PSA 104:19 তিনি ঋতুর জন্য চাঁদ নির্মাণ করেছেন, আর সূর্য জানে কখন অস্ত যেতে হয়।
PSA 104:20 তুমি অন্ধকার নিয়ে আস, আর রাত্রি হয়, আর জঙ্গলের বন্যজন্তুরা গর্জন করে।
PSA 104:21 সিংহরা তাদের শিকারের জন্য গর্জন করে আর ঈশ্বরের কাছ থেকে তাদের খাবার খোঁজে।
PSA 104:22 সূর্য ওঠে, আর তারা লুকিয়ে পড়ে; তারা ফিরে আসে এবং নিজের গুহাতে শুয়ে পড়ে।
PSA 104:23 তারপর মানুষ তাদের কাজের জন্য বাইরে যায় সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রমে রত থাকে।
PSA 104:24 হে সদাপ্রভু, তোমার কাজ কত বিচিত্র! প্রজ্ঞায় তুমি তাদের সব তৈরি করেছ; জগৎ তোমার জীবজন্তুতে পূর্ণ।
PSA 104:25 ওই দেখো সুবিশাল, বিস্তীর্ণ জলধি, অগণিত কত প্রাণীতে পরিপূর্ণ— ছোটো ও বড়ো বহু জীব।
PSA 104:26 তার উপর দিয়ে জাহাজ যাতায়াত করে, আর সেখানে খেলার জন্য তুমি লিবিয়াথনদের সৃষ্টি করেছ।
PSA 104:27 উপযুক্ত সময়ে তাদের খাবার পাওয়ার জন্য সব জীবজন্তু তোমার দিকে চেয়ে থাকে।
PSA 104:28 যখন তুমি তাদের খাবার দাও তারা তা সংগ্রহ করে; যখন তুমি তোমার হাত খুলে দাও, তারা উত্তম দ্রব্যে পরিতৃপ্ত হয়।
PSA 104:29 যখন তুমি তোমার মুখ ঢেকে দাও, তারা আতঙ্কিত হয়; যখন তুমি তাদের শ্বাস নিয়ে নাও, তাদের মৃত্যু হয় আর তারা ধুলোতে ফিরে যায়।
PSA 104:30 যখন তুমি তোমার আত্মা পাঠাও, তারা সৃষ্ট হয়, আর তুমি জগতের মুখমণ্ডল নতুন করে তোলো।
PSA 104:31 সদাপ্রভুর গৌরব চিরকাল স্থায়ী হোক; সদাপ্রভু তাঁর সৃষ্টির কাজে আনন্দিত হোন—
PSA 104:32 তাঁর দৃষ্টিতে জগৎ কেঁপে ওঠে, তাঁর স্পর্শে পর্বতগুলি থেকে ধোঁয়া বের হয়।
PSA 104:33 আমার সারা জীবন আমি সদাপ্রভুর জয়গান করব; আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি আমার ঈশ্বরের প্রশংসা করব।
PSA 104:34 আমার ধ্যান তাঁর কাছে যেন সুমধুর হয়, কেননা আমি সদাপ্রভুতে উল্লাস করি।
PSA 104:35 পাপীরা সবাই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হোক আর দুষ্ট চিরকালের জন্য উধাও হোক। হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 105:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, তাঁর নাম ঘোষণা করো; জাতিদের জানাও তিনি কী করেছেন।
PSA 105:2 তাঁর উদ্দেশে গান গাও, তাঁর উদ্দেশে প্রশংসাগীত গাও; তাঁর সুন্দর সুন্দর সব কাজের কথা বলো।
PSA 105:3 তাঁর পবিত্র নামের মহিমা করো; যারা সদাপ্রভুর খোঁজ করে তাদের অন্তর উল্লসিত হোক।
PSA 105:4 সদাপ্রভুর ও তাঁর শক্তির দিকে চেয়ে দেখো; সর্বদা তাঁর শ্রীমুখের খোঁজ করো।
PSA 105:5 মনে রেখো তাঁর করা আশ্চর্য কাজগুলি, তাঁর অলৌকিক কার্যাবলি ও তাঁর ঘোষণা করা শাস্তি,
PSA 105:6 তোমরা তাঁর দাস, হে অব্রাহামের বংশধরেরা, তাঁর মনোনীত লোকেরা, হে যাকোবের সন্তানেরা।
PSA 105:7 তিনিই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; তাঁর বিচার সমগ্র পৃথিবীতে বিরাজমান।
PSA 105:8 তিনি চিরকাল তাঁর নিয়ম মনে রাখেন, যে প্রতিজ্ঞা তিনি করেছেন, হাজার বংশ পর্যন্ত,
PSA 105:9 যে নিয়ম তিনি অব্রাহামের সাথে স্থাপন করলেন, যে শপথ তিনি ইস্‌হাকের কাছে করলেন।
PSA 105:10 তা তিনি যাকোবের কাছে এক বিধানরূপে সুনিশ্চিত করলেন, ইস্রায়েলের কাছে করলেন এক চিরস্থায়ী নিয়মরূপে:
PSA 105:11 “তোমাকেই আমি সেই কনান দেশ দেব সেটিই হবে তোমার উত্তরাধিকারের অংশ।”
PSA 105:12 তারা যখন সংখ্যায় ছিল অতি নগণ্য, সত্যিই নগণ্য, ও সেখানে ছিল তারা বিদেশি,
PSA 105:13 তারা এক জাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ঘুরে বেড়ালো।
PSA 105:14 তিনি কাউকে তাদের উপর অত্যাচার করতে দেননি; তাদের সুবিধার্থে তিনি রাজাদের তিরস্কার করলেন:
PSA 105:15 “আমার অভিষিক্ত জনেদের স্পর্শ কোরো না; আমার ভাববাদীদের কোনও ক্ষতি কোরো না।”
PSA 105:16 তিনি দেশে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনলেন আর তাদের খাবারের সব জোগান ধ্বংস করলেন;
PSA 105:17 আর তাদের আগে এক ব্যক্তিকে পাঠালেন— যোষেফকে ক্রীতদাসরূপে বিক্রি করা হল।
PSA 105:18 তারা শিকল দিয়ে তাঁর পায়ে আঘাত করল, তাঁর ঘাড় লোহাতে আবদ্ধ করা হল,
PSA 105:19 যতক্ষণ না পর্যন্ত তার আগাম কথা পূর্ণ হল, যতক্ষণ না পর্যন্ত সদাপ্রভুর বাক্য তাঁকে সত্য প্রমাণিত করল।
PSA 105:20 রাজা তাঁকে মুক্ত করার জন্য আদেশ দিলেন, আর প্রজাদের শাসক তাঁকে মুক্ত করলেন।
PSA 105:21 তিনি তাঁকে নিজের ভবনের প্রধান আর তাঁর সম্পূর্ণ সম্পত্তির শাসক করলেন,
PSA 105:22 তার ইচ্ছামতো অধিপতিগণদের আদেশ দিতে এবং তার মন্ত্রীদের প্রজ্ঞা শেখাতে।
PSA 105:23 তারপর ইস্রায়েল মিশর দেশে প্রবেশ করল; হামের দেশে যাকোব বিদেশি হয়ে বসবাস করল।
PSA 105:24 সদাপ্রভু তাঁর লোকেদের অনেক গুণে বৃদ্ধি করলেন; তাঁর বিপক্ষদের থেকে তিনি তাদের অনেক বেশি শক্তিশালী করলেন,
PSA 105:25 তারপর মিশরীয়দের হৃদয় ইস্রায়েলীদের প্রতি ঘৃণায় পূর্ণ করলেন, আর তারা সদাপ্রভুর সেবকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল।
PSA 105:26 কিন্তু সদাপ্রভু তাঁর দাস মোশিকে, আর তাঁর সঙ্গে সেই হারোণকে পাঠালেন, যাঁকে তিনি মনোনীত করেছিলেন।
PSA 105:27 তাঁরা মিশরীয়দের মধ্যে অনেক চিহ্নকাজ, আর হামের দেশে তাঁর আশ্চর্য কাজ দেখালেন।
PSA 105:28 তিনি অন্ধকার পাঠালেন আর সেই দেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হল— কেননা তারা তাঁর আদেশ অমান্য করেছিল।
PSA 105:29 তিনি তাদের জল রক্তে পরিণত করলেন, তাতে তাদের মাছগুলি মরে গেল।
PSA 105:30 তাদের দেশ ব্যাঙে পূর্ণ হল, যা তাদের শাসকদের শোবার ঘর পর্যন্ত পৌঁছাল।
PSA 105:31 তিনি কথা বললেন, আর ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি এল, আর সারা দেশ ডাঁশ-মশায় ভর্তি হয়ে গেল।
PSA 105:32 তিনি বৃষ্টির পরিবর্তে তাদের শিলা দিলেন, সারা দেশে নেমে এল বজ্রবিদ্যুৎ;
PSA 105:33 তিনি তাদের দ্রাক্ষালতা আর ডুমুর গাছে আঘাত করলেন আর দেশের সব গাছ ধ্বংস করলেন।
PSA 105:34 তিনি কথা বললেন, আর পঙ্গপাল এল, আর অসংখ্য ফড়িং এল;
PSA 105:35 তারা দেশের যা কিছু সবুজ ছিল তা খেয়ে ফেলল, আর জমির ফসল গ্রাস করল।
PSA 105:36 তারপর তিনি তাদের দেশের সব প্রথমজাতকে হত্যা করলেন, তাদের পুরুষত্বের প্রথম ফলকে আঘাত করলেন।
PSA 105:37 তিনি ইস্রায়েলকে মিশর দেশ থেকে বের করে আনলেন, তাদের সঙ্গে এল প্রচুর রুপো আর সোনা, আর তাদের গোষ্ঠীদের মধ্যে একজনও হোঁচট খেল না।
PSA 105:38 যখন তারা চলে গেল তখন মিশর আনন্দ করল, কেননা ইস্রায়েলের ত্রাস মিশরের উপর নেমে এসেছিল।
PSA 105:39 তিনি আবরণের মতো মেঘ ছড়িয়ে দিলেন, আর রাতে আলো দেওয়ার জন্য আগুন দিলেন।
PSA 105:40 তারা মাংস চাইল, আর তিনি তাদের ভারুই পাখি দিলেন; স্বর্গের রুটি দিয়ে তাদের তৃপ্ত করলেন।
PSA 105:41 তিনি শৈল খুলে দিলেন আর জল বেরিয়ে এল; মরুভূমিতে নদীর মতো তা প্রবাহিত হল।
PSA 105:42 কেননা তাঁর দাস অব্রাহামের প্রতি দেওয়া পবিত্র প্রতিশ্রুতি তিনি মনে রাখলেন।
PSA 105:43 নিজের প্রজাদের আনন্দের সাথে আর তাঁর মনোনীতদের আনন্দধ্বনির সাথে বের করে আনলেন;
PSA 105:44 তিনি তাদের অইহুদিদের জমি দিলেন, আর অন্যরা যা বপন করেছিল তারা সেই ফসল পেল—
PSA 105:45 যেন তারা তাঁর অনুশাসন পালন করে এবং তাঁর বিধিনিয়ম মেনে চলে। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 106:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।
PSA 106:2 কে সদাপ্রভুর পরাক্রমী কাজকর্ম প্রচার করতে পারে অথবা তাঁর প্রশংসা সম্পূর্ণ ঘোষণা করতে পারে?
PSA 106:3 ধন্য তারা, যারা ন্যায় কাজ করে, এবং যা সঠিক তা সর্বদা পালন করে।
PSA 106:4 আমাকে মনে রেখো, হে সদাপ্রভু, যখন তুমি তোমার প্রজাদের উপর অনুগ্রহ করো, যখন তুমি তাদের রক্ষা করো, আমাকে সাহায্য করো,
PSA 106:5 যেন আমি তোমার মনোনীতদের সমৃদ্ধি দেখতে পাই, যেন তোমার জাতির আনন্দে অংশীদার হতে পারি এবং তোমার অধিকারের সঙ্গে যোগ দিয়ে ধন্যবাদ দিতে পারি।
PSA 106:6 আমরা পাপ করেছি, যেমন আমাদের পূর্বপুরুষেরাও করেছে; আমরা অপরাধ করেছি এবং অধর্মাচরণ করেছি।
PSA 106:7 আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন মিশরে ছিল, তারা তোমার আশ্চর্য কাজগুলি বিবেচনা করেনি, তারা তোমার অপার দয়ার কথা মনে রাখেনি, বরং সাগরের তীরে, লোহিত সাগরের তীরে, তারা বিদ্রোহী হয়েছিল।
PSA 106:8 তবুও তাঁর নামের গুণে এবং তাঁর মহাপরাক্রম প্রকাশ করার উদ্দেশে, তিনি তাদের রক্ষা করেছিলেন।
PSA 106:9 তিনি লোহিত সাগরকে তিরস্কার করলেন আর তা শুকিয়ে গেল; মরুভূমির মতো সমুদ্রতলের মধ্য দিয়ে তিনি তাদের নিয়ে গেলেন।
PSA 106:10 তিনি বিপক্ষদের কবল থেকে তাদের রক্ষা করলেন; শত্রুদের হাত থেকে তিনি তাদের মুক্ত করলেন।
PSA 106:11 জলধিস্রোত তাদের প্রতিপক্ষদের গ্রাস করল একজনও বেঁচে রইল না।
PSA 106:12 তখন তারা তাঁর প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করল এবং তাঁর প্রশংসা করল।
PSA 106:13 কিন্তু তারা অবিলম্বে তাঁর কাজগুলি ভুলে গেল, এবং তাঁর সুমন্ত্রণার অপেক্ষাতেও রইল না।
PSA 106:14 মরুভূমিতে তারা তাদের আকাঙ্ক্ষায় আসক্ত হল; মরুপ্রান্তরে তারা ঈশ্বরের পরীক্ষা করল।
PSA 106:15 তাই তিনি তাদের প্রার্থিত বস্তু দিলেন, কিন্তু তার সঙ্গে তাদের মধ্যে ক্ষয়রোগ পাঠালেন।
PSA 106:16 তারা শিবিরের মধ্যে মোশির প্রতি আর সদাপ্রভুর পবিত্র লোক হারোণের প্রতি ঈর্ষা করল।
PSA 106:17 পৃথিবী বিভক্ত হয়ে দাথনকে গ্রাস করল; অবীরাম ও তার দলবলকে সমাধিস্থ করল।
PSA 106:18 তাদের অনুসরণকারীদের মাঝে আগুন জ্বলে উঠল; আগুনের শিখা দুষ্টদের দগ্ধ করল।
PSA 106:19 সীনয় পর্বতে তারা এক বাছুর নির্মাণ করল এবং ধাতু নির্মিত সেই মূর্তির আরাধনা করল।
PSA 106:20 এভাবে তারা তাদের গৌরবের ঈশ্বরের সাথে তৃণভোজী এক বলদের প্রতিমা বিনিময় করল।
PSA 106:21 যে ঈশ্বর তাদের রক্ষা করেছিলেন তারা তাঁকে ভুলে গেল, যিনি মিশরে মহান কাজ করেছিলেন,
PSA 106:22 হামের দেশে বিভিন্ন আশ্চর্য কাজ, আর লোহিত সাগরতীরে ভয়াবহ কাজকর্ম করেছিলেন,
PSA 106:23 তাই তিনি বললেন যে তিনি তাদের ধ্বংস করবেন; কিন্তু মোশি, তাঁর মনোনীত সেবক, সদাপ্রভু ও তাঁর লোকেদের মাঝে দাঁড়ালেন, তিনি তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তাঁর ক্রোধ থেকে মুখ ফেরান এবং তাদের ধ্বংস না করেন।
PSA 106:24 এরপর তারা সেই মনোরম দেশটিকে তুচ্ছ করল; তারা তাঁর প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করল না।
PSA 106:25 নিজেদের তাঁবুতে তারা অভিযোগ জানালো, আর সদাপ্রভুর আদেশ পালন করল না।
PSA 106:26 তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে হাত তুলে শপথ করলেন, যে তিনি তাদের মরুপ্রান্তরে বিনাশ করবেন,
PSA 106:27 যে তিনি তাদের বংশধরদের বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিক্ষিপ্ত করবেন, এবং তাদের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেবেন।
PSA 106:28 তারপর তারা পিয়োরের বায়াল-দেবতার আরাধনায় যুক্ত হল এবং প্রাণহীন দেবতাদের প্রতি নিবেদিত বলি ভোজন করল;
PSA 106:29 তাদের সব অনাচারে তারা সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত করল, আর তাদের মধ্যে এক মহামারি নেমে এল।
PSA 106:30 তখন পীনহস উঠে দাঁড়িয়ে মধ্যস্থতা করলেন, আর মহামারি বন্ধ হল।
PSA 106:31 এই কাজ তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে পুরুষানুক্রমে চিরকালের জন্য গণ্য হল।
PSA 106:32 মরীবার জলস্রোতের কাছে তারা সদাপ্রভুকে ক্রুদ্ধ করল, আর তাদেরই জন্য মোশির বিপদ ঘটল;
PSA 106:33 কেননা তারা ঈশ্বরের আত্মার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, আর তাই বেপরোয়া কথা মোশির মুখে উচ্চারিত হল।
PSA 106:34 তারা জাতিদের বিনষ্ট করল না যেমন সদাপ্রভু তাদের আদেশ দিয়েছিলেন,
PSA 106:35 বরং তারা অন্যান্য জাতিদের সঙ্গে মিলেমিশে গেল আর তাদের রীতিনীতি গ্রহণ করল।
PSA 106:36 তাদের প্রতিমাগুলির আরাধনা করল, আর সেইসব তাদের ফাঁদ হয়ে উঠল।
PSA 106:37 এমনকি তারা তাদের ছেলেমেয়েদের মিথ্যা দেবতাদের উদ্দেশে বলি দিল।
PSA 106:38 তারা নির্দোষের রক্তপাত করল, নিজেদের ছেলেমেয়েদের রক্ত, যাদের তারা কনান দেশের প্রতিমাদের উদ্দেশে বলি দিল, আর তাদের রক্তে সারা দেশ কলুষিত হল।
PSA 106:39 আপন কর্মের ফলে তারা নিজেদের অশুচি করল, নিজেদের ক্রিয়াকলাপে তারা ব্যভিচারী হল।
PSA 106:40 তাই সদাপ্রভু নিজের প্রজাদের উপর ক্রুদ্ধ হলেন তিনি নিজের অধিকারকে ঘৃণা করলেন।
PSA 106:41 তাদের তিনি জাতিদের হাতে সমর্পণ করলেন, এবং তাদের বিপক্ষরা তাদের উপর শাসন করল।
PSA 106:42 তাদের শত্রুরা তাদের উপর অত্যাচার করল এবং তাদের শত্রুদের শক্তির সামনে তারা নত হল।
PSA 106:43 বহুবার তিনি তাদের উদ্ধার করলেন, কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হল, আর শেষে তারা নিজেদের পাপে ধ্বংস হল।
PSA 106:44 কিন্তু যখন তিনি তাদের কান্না শুনলেন, তিনি তাদের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন;
PSA 106:45 তাদের সুবিধার্থে তিনি নিজের নিয়ম স্মরণ করলেন এবং তাঁর মহান প্রেমের কারণে তিনি নরম হলেন।
PSA 106:46 যারা তাদের দাসত্বে বন্দি করেছিল, তিনি তাদের অন্তরে করুণার সঞ্চার করলেন।
PSA 106:47 হে সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের রক্ষা করো, জাতিদের মধ্য থেকে আমাদের একত্রিত করো, যেন আমরা তোমার পবিত্র নামের ধন্যবাদ করতে পারি, এবং তোমার প্রশংসায় মহিমা করতে পারি।
PSA 106:48 ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত, সব লোকজন বলুক, “আমেন!” সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক।
PSA 107:1 সদাপ্রভুর উদ্দেশে ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।
PSA 107:2 যারা সদাপ্রভু দ্বারা মুক্ত হয়েছে তারা একথা বলুক— যাদের তিনি শত্রুদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন,
PSA 107:3 পূর্ব ও পশ্চিম থেকে, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে, যাদের তিনি অন্যান্য দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন।
PSA 107:4 তারা বসবাস করার জন্য নগরের সন্ধান না পেয়ে মরুপ্রান্তরের নির্জন পথে ঘুরে বেড়ালো।
PSA 107:5 তারা ক্ষুধিত আর তৃষ্ণার্ত হল, আর তাদের জীবন প্রায় শেষ হয়েছিল।
PSA 107:6 তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে উদ্ধার করলেন।
PSA 107:7 সোজা পথে তিনি তাদের এক নগরীর দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা বসবাস করতে পারে।
PSA 107:8 তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কাজকর্মের জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।
PSA 107:9 কেননা তিনি তৃষ্ণার্তকে তৃপ্ত করেন এবং ক্ষুধার্তকে উত্তম দ্রব্য দিয়ে পূর্ণ করেন।
PSA 107:10 লোকেরা অন্ধকারে আর মৃত্যুছায়ায় বসেছিল, দুর্দশার লোহার শিকলে বন্দি ছিল,
PSA 107:11 কারণ তারা ঈশ্বরের আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল আর পরাৎপরের পরিকল্পনা অবমাননা করেছিল।
PSA 107:12 তাই তিনি তাদের তিক্ত পরিশ্রমের অধীন করেছিলেন; তাদের পতন হল, আর তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না।
PSA 107:13 তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করলেন।
PSA 107:14 তিনি অন্ধকার ও মৃত্যুছায়া থেকে তাদের বের করলেন, এবং তাদের শিকল ভেঙে দিলেন।
PSA 107:15 তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কাজকর্মের জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক,
PSA 107:16 কারণ তিনি পিতলের দরজা ভেঙে দেন এবং লোহার খিল দু-ভাগ করেন।
PSA 107:17 কেউ কেউ তাদের বিদ্রোহী ব্যবহারে মূর্খ হয়ে উঠল আর তাদের অপরাধের কারণে কষ্টভোগ করল।
PSA 107:18 তারা খাদ্যদ্রব্য ঘৃণা করল আর মৃত্যুর দরজা পর্যন্ত পৌঁছাল।
PSA 107:19 তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করলেন।
PSA 107:20 তিনি তাঁর বাক্য পাঠিয়ে তাদের সুস্থ করলেন; তিনি মৃত্যুর কবল থেকে তাদের উদ্ধার করলেন।
PSA 107:21 তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কাজকর্মের জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।
PSA 107:22 তারা ধন্যবাদের নৈবেদ্য উৎসর্গ করুক এবং আনন্দের গানে তাঁর ক্রিয়াকলাপ বলুক।
PSA 107:23 কেউ কেউ জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা করল; তারা মহা জলধিতে ব্যবসা করল।
PSA 107:24 তারা সদাপ্রভুর কাজগুলি দেখল, গভীর জলরাশিতে তাঁর আশ্চর্য কাজগুলি দেখল।
PSA 107:25 তিনি কথা বললেন আর প্রচণ্ড ঝড় উঠল যা ঢেউ জাগিয়ে তুলল।
PSA 107:26 যা আকাশমণ্ডল পর্যন্ত উঠল আর অতল পর্যন্ত নেমে এল; বিপদে তাদের সাহস ক্ষয় হল।
PSA 107:27 মাতালের মতো তারা ঘুরপাক খেলো আর টলতে থাকল; তাদের বুদ্ধি বিলুপ্ত হল।
PSA 107:28 তখন তাদের কষ্টে তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদে উঠল, এবং তিনি তাদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করলেন।
PSA 107:29 তাঁর আদেশে ঝড় শান্ত হল; সমুদ্রের ঢেউ নিস্তব্ধ হল।
PSA 107:30 যখন তা শান্ত হল তখন তারা আনন্দ করল, এবং তিনি তাদের আশ্রয়স্থল পর্যন্ত পথ দেখালেন।
PSA 107:31 তাঁর অবিচল প্রেম এবং মানুষের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কাজকর্মের জন্য, তারা সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দিক।
PSA 107:32 তারা লোকেদের সমাবেশে তাঁকে গৌরবান্বিত করুক এবং প্রবীণদের পরিষদে তাঁর প্রশংসা করুক।
PSA 107:33 তিনি নদীকে মরুভূমিতে, প্রবাহমান নদীকে শুষ্ক-ভূমিতে পরিণত করেন,
PSA 107:34 আর ফলবান দেশকে লবণ প্রান্তর করেন, সেখানকার নিবাসীদের দুষ্টতার কারণে।
PSA 107:35 মরুভূমিকে তিনি জলাশয়ে আর শুকনো জমিকে জলপ্রবাহে পরিণত করেন;
PSA 107:36 সেখানে তিনি ক্ষুধার্তদের বসবাস করার জন্য নিয়ে এলেন, এবং তারা এক নগর স্থাপন করল আর সেখানে তারা বসবাস করল।
PSA 107:37 তারা মাঠে বীজবপন করল আর দ্রাক্ষাক্ষেত্র রোপণ করল যা প্রচুর ফসল উৎপন্ন করল;
PSA 107:38 তিনি তাদের আশীর্বাদ করলেন আর তাদের সংখ্যা প্রচুর বৃদ্ধি পেল, আর তিনি তাদের পশুপাল কমতে দিলেন না।
PSA 107:39 তারপর তাদের সংখ্যা হ্রাস পেল এবং নির্যাতন, বিপদ এবং দুঃখে তারা অবনত হল;
PSA 107:40 যিনি বিশিষ্টদের উপরে অবজ্ঞা ঢেলে দেন তিনি তাদের দিশাহীন প্রান্তরে ভ্রমণ করালেন।
PSA 107:41 কিন্তু তিনি অভাবীদের কষ্ট থেকে বের করলেন আর তাদের পরিবারগুলিকে মেষপালের মতো বৃদ্ধি করলেন।
PSA 107:42 যারা ন্যায়পরায়ণ তারা দেখে আর আনন্দ করে, কিন্তু দুষ্টেরা সবাই তাদের মুখ বন্ধ করে।
PSA 107:43 যে জ্ঞানী সে এই সবে মনোযোগ দিক আর সদাপ্রভুর প্রেমময় কাজ বিবেচনা করুক।
PSA 108:1 দাউদের সংগীত। হে ঈশ্বর, আমার হৃদয় তোমাতে অবিচল; আমি আমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে গান গাইব ও সংগীত রচনা করব।
PSA 108:2 জেগে ওঠো, বীণা ও সুরবাহার! আমি প্রত্যুষকে জাগিয়ে তুলব।
PSA 108:3 হে সদাপ্রভু, জাতিদের মাঝে আমি তোমার প্রশংসা করব; লোকেদের মাঝে আমি তোমার স্তব করব।
PSA 108:4 কারণ তোমার অবিচল প্রেম আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে; তোমার বিশ্বস্ততা গগনচুম্বী।
PSA 108:5 হে ঈশ্বর, আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে গৌরবান্বিত হও; তোমার মহিমা সারা পৃথিবীতে ব্যাপ্ত হোক।
PSA 108:6 তোমার ডান হাত দিয়ে তুমি আমাদের রক্ষা করো ও সাহায্য করো, যেন তারা উদ্ধার পায় যাদের তুমি ভালোবাসো।
PSA 108:7 ঈশ্বর তাঁর পবিত্রস্থান থেকে কথা বলেছেন: “জয়ধ্বনিতে আমি শিখিম বিভক্ত করব, সুক্কোতের উপত্যকা আমি পরিমাপ করে দেব।
PSA 108:8 গিলিয়দ আমার, মনঃশিও আমার; ইফ্রয়িম আমার শিরস্ত্রাণ, যিহূদা আমার রাজদণ্ড।
PSA 108:9 মোয়াব আমার হাত ধোয়ার পাত্র, ইদোমের উপরে আমি আমার চটি নিক্ষেপ করব; ফিলিস্তিয়ার উপরে আমি জয়ধ্বনি করব।”
PSA 108:10 কে আমাকে সুরক্ষিত নগরের মধ্যে নিয়ে যাবে? কে ইদোম পর্যন্ত আমাকে পথ দেখাবে?
PSA 108:11 হে ঈশ্বর, তুমি কি আমাদের ত্যাগ করেছ? তুমি কি আমাদের সৈন্যদলের সাথে আর যাবে না?
PSA 108:12 আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করো, কারণ মানুষের সাহায্য নিষ্ফল।
PSA 108:13 ঈশ্বরের সাথে আমরা জয়লাভ করব, এবং তিনি আমাদের শত্রুদের পদদলিত করবেন।
PSA 109:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। আমার ঈশ্বর, আমার প্রশংসার পাত্র, নীরব থেকো না,
PSA 109:2 দেখো, যারা দুষ্ট ও প্রতারক তারা আমার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে; ওদের মিথ্যাবাদী জিভ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলেছে।
PSA 109:3 ঘৃণার বাক্য দিয়ে তারা আমাকে ঘিরে ফেলেছে; অকারণে তারা আমাকে আক্রমণ করে।
PSA 109:4 আমার বন্ধুত্বের বিনিময়ে তারা আমাকে অভিযুক্ত করেছে, কিন্তু আমি প্রার্থনায় রত থেকেছি।
PSA 109:5 তারা আমার উপকারের পরিবর্তে অপকার, এবং আমার বন্ধুত্বের বিনিময়ে ঘৃণা করেছে।
PSA 109:6 আমার শত্রুর বিরুদ্ধে একজন দুষ্টকে নিয়োগ করো; একজন অভিযোগকারী তার ডানদিকে দাঁড়িয়ে থাকুক।
PSA 109:7 বিচারে সে যেন দোষী সাব্যস্ত হয়, আর তার প্রার্থনা পাপের তুল্য গণ্য হোক।
PSA 109:8 তার জীবনের আয়ু যেন স্বল্প হয়; অন্য কেউ যেন তার নেতৃত্বের পদে নিযুক্ত হয়।
PSA 109:9 তার সন্তানেরা পিতৃহীন হোক আর তার স্ত্রী বিধবা হোক।
PSA 109:10 তার সন্তানেরা ঘুরে বেড়ানো ভিখারি হোক; তাদের ভাঙা ঘর থেকে তারা বিতাড়িত হোক।
PSA 109:11 এক পাওনাদার তার সর্বস্ব কেড়ে নিক, অচেনা লোকেরা তার শ্রমের ফল লুট করে নিক।
PSA 109:12 কেউ যেন তার প্রতি দয়া না করে, অথবা তার পিতৃহীন ছেলেমেয়েদের প্রতি কৃপা না করে।
PSA 109:13 তার উত্তরপুরুষদের যেন মৃত্যু হয়, আগামী প্রজন্ম থেকে যেন তাদের নাম মুছে যায়।
PSA 109:14 সদাপ্রভু যেন তার পূর্বপুরুষদের অপরাধ স্মরণে রাখেন; তার মায়ের পাপ যেন কখনও মুছে না যায়।
PSA 109:15 সদাপ্রভু যেন তাদের সব পাপ সর্বদা স্মরণে রাখেন, যেন তিনি তাদের নাম পৃথিবী থেকে মুঝে দেন।
PSA 109:16 কেননা সে অপরের প্রতি দয়া দেখাতে অস্বীকার করেছিল, এবং দরিদ্র, অভাবী এবং ভগ্নহৃদয়কে মৃত্যুর দিকে চালিত করেছিল।
PSA 109:17 সে অভিশাপ দিতে ভালোবাসত— তা যেন তার দিকেই ফিরে আসে। আশীর্বাদ দানে তার ইচ্ছা ছিল না— তা যেন তার কাছ থেকে দূরে থাকে।
PSA 109:18 অভিশাপ সে নিজের পোশাকের মতো পরেছিল; তা জলের মতো তার শরীরে আর তেলের মতো তার হাড়গোড়ে প্রবেশ করেছিল।
PSA 109:19 তার অভিশাপ তার পরনের পোশাকের মতো হোক, কোমরবন্ধের মতো তার দেহে চিরকাল জড়ানো হোক।
PSA 109:20 সেই অভিশাপ সদাপ্রভুর প্রতিফল হোক, আমার অভিযোগকারীদের প্রতি হোক যারা আমার সম্বন্ধে মন্দ কথা বলে।
PSA 109:21 কিন্তু তুমি, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তোমার নামের গুণে আমাকে সাহায্য করো, তোমার প্রেমের মহিমায় আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 109:22 কারণ আমি দরিদ্র ও অভাবী, এবং আমার হৃদয় ঘায়েল হয়েছে।
PSA 109:23 সান্ধ্য ছায়ার মতো আমি বিলীন হয়ে যাই; পঙ্গপালের মতো আমাকে দূর করা হয়।
PSA 109:24 উপবাসে আমার হাঁটু দুর্বল হয়েছে, আমার দেহ শীর্ণ ও শুষ্ক হয়েছে।
PSA 109:25 আমার অভিযোগকারীদের কাছে আমি অবজ্ঞার পাত্র হয়েছি; যখন তারা আমাকে দেখে তখন তারা ঘৃণায় মাথা নাড়ায়।
PSA 109:26 হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমাকে সাহায্য করো; তোমার অবিচল প্রেমের গুণে আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 109:27 যেন তারা জানতে পারে যে, এ তোমার হাতের কাজ, তুমিই, হে সদাপ্রভু, এসব করেছ।
PSA 109:28 তারা অভিশাপ দিক, কিন্তু তুমি আশীর্বাদ দিয়ো; যারা আমাকে আক্রমণ করে, তারা যেন লজ্জায় পড়ে, কিন্তু তোমার দাস আনন্দ করুক।
PSA 109:29 আমার অভিযোগকারীরা অপমানে আবৃত হোক, এবং আলখাল্লার মতো লজ্জায় আচ্ছাদিত হোক।
PSA 109:30 আমার মুখ দিয়ে আমি সদাপ্রভুর উচ্চপ্রশংসা করব; আরাধনাকারীদের মহাসভায় আমি তোমার প্রশংসা করব।
PSA 109:31 কারণ যারা দরিদ্রদের শাস্তি দিতে উদ্যত তাদের কবল থেকে রক্ষা করার উদ্দেশে তিনি দরিদ্রদের ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছেন।
PSA 110:1 দাউদের গীত। সদাপ্রভু আমার প্রভুকে বলেন: “যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের, তোমার পাদপীঠ করি তুমি আমার ডানদিকে বসো।”
PSA 110:2 সদাপ্রভু জেরুশালেম থেকে তোমার শক্তিশালী রাজ্য বিস্তার করবেন; আর তুমি তোমার শত্রুদের উপর রাজত্ব করবে।
PSA 110:3 যখন তুমি যুদ্ধে যাবে, তোমার লোকেরা স্বেচ্ছায় তোমার সেবা করবে। তুমি পবিত্র পোশাকে সজ্জিত হবে, আর ভোরের শিশিরের মতো তোমার শক্তি প্রতিদিন নতুন হবে।
PSA 110:4 সদাপ্রভু শপথ করেছেন, আর তিনি মন পরিবর্তন করবেন না: “মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী, তুমি চিরকালীন যাজক।”
PSA 110:5 প্রভু তোমার ডানদিকে আছেন; তিনি তাঁর ক্রোধের দিনে রাজাদের চূর্ণ করবেন।
PSA 110:6 তিনি জাতিদের বিচার করবেন, আর শবদেহ দিয়ে দেশ পূর্ণ করবেন, এবং সমস্ত পৃথিবীর শাসকদের চূর্ণ করবেন।
PSA 110:7 তিনি পথের মধ্যে স্রোতের জলপান করবেন, এবং বিজয়ের কারণে তিনি ঊর্ধ্বে মাথা তুলবেন।
PSA 111:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। ন্যায়পরায়ণ লোকেদের সমাবেশে ও মণ্ডলীতে সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমার স্তব করব।
PSA 111:2 সদাপ্রভুর কাজগুলি মহান; যারা সেসবে আমোদ করে তারা সেগুলি বিবেচনা করে।
PSA 111:3 তাঁর কাজকর্ম কত গৌরবান্বিত ও মহিমাময়, আর তাঁর ধার্মিকতা চিরস্থায়ী।
PSA 111:4 তিনি তাঁর আশ্চর্য কাজগুলি স্মরণীয় করেছেন; সদাপ্রভু কৃপাময় ও স্নেহশীল।
PSA 111:5 যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে তিনি তাদের আহার দেন; তিনি তাঁর নিয়ম চিরকাল স্মরণে রাখেন।
PSA 111:6 অন্যান্য জাতিদের দেশ তাদের দান করে তিনি তাঁর কর্মের পরাক্রম তাঁর প্রজাদের কাছে প্রকাশ করেছেন।
PSA 111:7 তাঁর হাতের কাজগুলি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ; তাঁর সব অনুশাসন নির্ভরযোগ্য।
PSA 111:8 সেগুলি চিরকালের জন্য প্রতিষ্ঠিত, যা বিশ্বস্ততায় ও ন্যায়পরায়ণতায় রচিত হয়েছে।
PSA 111:9 তিনি তাঁর লোকেদের মুক্তি দিয়েছেন; তিনি চিরতরে নিজের নিয়ম স্থির করেছেন, তাঁর নাম পবিত্র ও ভয়াবহ।
PSA 111:10 সদাপ্রভুর ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ; যারা তাঁর অনুশাসন মান্য করে, তাদের ভালো বোধশক্তি আছে। তাঁর প্রশংসা নিত্যস্থায়ী।
PSA 112:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। ধন্য সেই ব্যক্তি, যে সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে, যে তাঁর আজ্ঞা পালনে মহা আনন্দ পায়।
PSA 112:2 তাদের সন্তানসন্ততিরা এ জগতে শক্তিশালী হবে, ন্যায়পরায়ণদের প্রজন্ম ধন্য হবে।
PSA 112:3 ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্য তার গৃহে আছে, এবং তার ধার্মিকতা চিরস্থায়ী হয়।
PSA 112:4 ন্যায়পরায়ণের জন্য অন্ধকারের মাঝে আলো উদয় হয়, সে কৃপাময়, স্নেহশীল ও ধার্মিক।
PSA 112:5 যে উদার ও মুক্তহস্তে দান করে, তার মঙ্গল হবে, সে নিজের বিষয়গুলি ন্যায়ের সঙ্গে নিষ্পত্তি করে।
PSA 112:6 নিশ্চয় সে কখনও বিচলিত হবে না; কিন্তু ধার্মিককে চিরকাল মনে রাখা হবে।
PSA 112:7 অশুভ সংবাদে সে ভয় করবে না; তার হৃদয় অবিচল, তা সদাপ্রভুতে আস্থা রাখে।
PSA 112:8 তার হৃদয় সুস্থির, সে ভয় করবে না; অবশেষে সে বিজয়ীর মতো তার শত্রুদের দিকে তাকাবে।
PSA 112:9 সে অবাধে দরিদ্রদের মাঝে দান বিতরণ করেছে, তার ধার্মিকতা চিরস্থায়ী; তার শিং গৌরবে উন্নত হবে।
PSA 112:10 দুষ্টলোক এসব দেখবে আর উত্ত্যক্ত হবে, সে ক্রোধে দন্তঘর্ষণ করবে আর নিঃশেষ হবে; দুষ্টদের আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট হবে।
PSA 113:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। তোমরা যারা তাঁর ভক্তদাস, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো;
PSA 113:2 এখন ও অনন্তকাল, সদাপ্রভুর নামের প্রশংসা হোক।
PSA 113:3 সূর্যের উদয়স্থান থেকে অস্তস্থান পর্যন্ত সদাপ্রভুর নামের প্রশংসা হোক।
PSA 113:4 সদাপ্রভু সব জাতির ঊর্ধ্বে, এবং তাঁর মহিমা আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে গৌরবান্বিত।
PSA 113:5 আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি ঊর্ধ্বে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত, তাঁর সঙ্গে কার তুলনা হয়!
PSA 113:6 তিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর দিকে অবনত হয়ে দৃষ্টিপাত করেন।
PSA 113:7 তিনি ধুলো থেকে দরিদ্রদের তোলেন, আর ছাইয়ের স্তূপ থেকে অভাবীদের ওঠান;
PSA 113:8 তিনি তাদের অধিপতিদের সঙ্গে, এমনকি তাঁর ভক্তদের অধিপতিদের সঙ্গে বসান।
PSA 113:9 তিনি নিঃসন্তান মহিলাকে এক পরিবার দেন, তাকে ছেলেমেয়েদের সুখী মা করেন। সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক।
PSA 114:1 ইস্রায়েল যখন মিশর ছেড়ে বের হয়ে এল, যাকোবের গোষ্ঠী পরভাষী লোকেদের ছেড়ে,
PSA 114:2 যিহূদা ঈশ্বরের পবিত্রস্থান হয়ে উঠল, আর ইস্রায়েল হল তাঁর আধিপত্য।
PSA 114:3 সমুদ্র দেখল আর পালিয়ে গেল, জর্ডন পিছু ফিরল;
PSA 114:4 পর্বতমালা মেষের মতো, পাহাড়গুলি মেষশাবকের মতো লাফিয়ে উঠল।
PSA 114:5 হে সমুদ্র, কেন তুমি পালিয়ে গেলে? হে জর্ডন, কেন তুমি পিছু ফিরলে?
PSA 114:6 হে পর্বতমালা, কেন তোমরা মেষের মতো, তোমরা পাহাড়গুলি, মেষশাবকের মতো লাফিয়ে উঠলে?
PSA 114:7 হে পৃথিবী, প্রভুর সামনে, আর যাকোবের ঈশ্বরের সামনে কম্পিত হও।
PSA 114:8 তিনি শৈলকে জলাশয়ে, কঠিন শৈলকে জলের উৎসে পরিণত করলেন।
PSA 115:1 আমাদের নয়, হে সদাপ্রভু, আমাদের নয়, কিন্তু তোমারই নাম গৌরবান্বিত করো, তোমার প্রেম ও বিশ্বস্ততার কারণে।
PSA 115:2 জাতিরা কেন বলে, “তাদের ঈশ্বর কোথায়?”
PSA 115:3 আমাদের ঈশ্বর স্বর্গে আছেন; তিনি তাঁর ইচ্ছামতোই কাজ করেন।
PSA 115:4 কিন্তু তাদের প্রতিমাগুলি রুপো ও সোনা দিয়ে তৈরি, মানুষের হাতে গড়া।
PSA 115:5 তাদের মুখ আছে, কিন্তু তারা কথা বলতে পারে না, চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখতে পায় না।
PSA 115:6 তাদের কান আছে, কিন্তু তারা শুনতে পায় না, নাক আছে, কিন্তু তারা গন্ধ পায় না।
PSA 115:7 হাত আছে, কিন্তু তারা অনুভব করতে পারে না, পা আছে, কিন্তু তারা চলতে পারে না, এমনকি তারা মুখ দিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারে না।
PSA 115:8 যারা প্রতিমা তৈরি করে তারা তাদের মতোই হবে, আর যারা সেগুলির উপর আস্থা রাখে তারাও তেমনই হবে।
PSA 115:9 হে ইস্রায়েল, সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখো— তিনি তাদের সহায় ও ঢাল।
PSA 115:10 হে হারোণের কুল, সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখো— তিনি তাদের সহায় ও ঢাল।
PSA 115:11 তোমরা যারা তাঁকে সম্ভ্রম করো, সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখো— তিনি তাদের সহায় ও ঢাল।
PSA 115:12 সদাপ্রভু আমাদের মনে রাখেন আর আমাদের আশীর্বাদ করবেন: তিনি তাঁর ইস্রায়েল কুলকে আশীর্বাদ করবেন, তিনি হারোণের কুলকে আশীর্বাদ করবেন,
PSA 115:13 তিনি তাদের আশীর্বাদ করবেন যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে— ক্ষুদ্র বা মহান সবাইকে করবেন।
PSA 115:14 সদাপ্রভু তোমাদের সমৃদ্ধি করুন, তোমাদের ও তোমাদের ছেলেমেয়েদের প্রতি।
PSA 115:15 তোমরা সদাপ্রভুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত, তিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা।
PSA 115:16 সর্বোচ্চ আকাশমণ্ডল সদাপ্রভুর, কিন্তু তিনি এই পৃথিবী মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন।
PSA 115:17 যারা মৃত, যারা নীরবতার স্থানে নেমেছে তারা সদাপ্রভুর প্রশংসা করে না।
PSA 115:18 কিন্তু আমরা সদাপ্রভুর উচ্চপ্রশংসা করব, এখন ও অনন্তকাল পর্যন্ত। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 116:1 আমি সদাপ্রভুকে ভালোবাসি, কারণ তিনি আমার কণ্ঠস্বর শুনেছেন; তিনি আমার বিনতি প্রার্থনা শুনেছেন।
PSA 116:2 তিনি আমার প্রতি কর্ণপাত করেছেন, সেই কারণে আমি সারা জীবন তাঁর কাছে প্রার্থনা করব।
PSA 116:3 মৃত্যুর দড়ি আমাকে বেঁধে ফেলল, পাতালের যন্ত্রণা আমার উপর নেমে এল, দুর্দশায় ও দুঃখে আমি জর্জরিত হলাম।
PSA 116:4 তখন আমি সদাপ্রভুর নামে ডাকলাম: “হে সদাপ্রভু, আমাকে রক্ষা করো!”
PSA 116:5 সদাপ্রভু কৃপাবান ও ধর্মময়, আমাদের ঈশ্বর করুণায় পরিপূর্ণ।
PSA 116:6 যারা সরলচিত্ত, সদাপ্রভু তাদের রক্ষা করেন; গভীর সংকটকালে তিনি আমাকে রক্ষা করেছিলেন।
PSA 116:7 হে আমার প্রাণ, তুমি বিশ্রামে ফিরে যাও, কারণ সদাপ্রভু তোমার মঙ্গল করেছেন।
PSA 116:8 কারণ তুমি, হে সদাপ্রভু, মৃত্যু থেকে আমাকে উদ্ধার করেছ, চোখের জল থেকে আমার চোখ, পতন থেকে আমার পা, উদ্ধার করেছ,
PSA 116:9 যেন আমি জীবিতদের দেশে সদাপ্রভুর সামনে গমনাগমন করি।
PSA 116:10 আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম যখন আমি বলেছিলাম, “হে সদাপ্রভু, আমি অত্যন্ত পীড়িত”
PSA 116:11 উদ্বেগে আমি বলেছিলাম, “সবাই মিথ্যাবাদী।”
PSA 116:12 আমি সদাপ্রভুর কাছ থেকে যেসব মঙ্গল পেয়েছি তার প্রতিদানে তাঁকে কী ফিরিয়ে দেবো?
PSA 116:13 আমি পরিত্রাণের পাত্রখানি তুলে নেবো আর সদাপ্রভুর নামে ডাকব।
PSA 116:14 সদাপ্রভুর সব প্রজার সমাবেশে তাঁর প্রতি আমার শপথ আমি পূর্ণ করব।
PSA 116:15 সদাপ্রভুর বিশ্বস্ত সেবাকারীদের মৃত্যু তাঁর চোখে বহুমূল্য।
PSA 116:16 সত্যিই আমি তোমার দাস, হে সদাপ্রভু; যেমন আমার মা করেছিলেন, আমিও তোমার সেবা করব; আমার শিকল থেকে তুমি আমাকে মুক্ত করেছ।
PSA 116:17 আমি তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদের নৈবেদ্য নিবেদন করব, আর সদাপ্রভুর নামে ডাকব।
PSA 116:18 সদাপ্রভুর সব প্রজার সমাবেশে তাঁর প্রতি আমার শপথ আমি পূর্ণ করব,
PSA 116:19 সদাপ্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে— হে জেরুশালেম, তোমারই মাঝে করব। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 117:1 হে সমস্ত জাতি, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; সমস্ত লোকজন, তাঁর সংকীর্তন করো।
PSA 117:2 কারণ আমাদের প্রতি তাঁর প্রেম মহান, এবং সদাপ্রভুর বিশ্বস্ততা অনন্তকালস্থায়ী। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 118:1 সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।
PSA 118:2 ইস্রায়েল বলুক: “তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।”
PSA 118:3 হারোণের কুল বলুক: “তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।”
PSA 118:4 যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে তারা বলুক: “তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।”
PSA 118:5 মনোবেদনায় আমি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলাম, তিনি আমাকে প্রশস্ত স্থানে নিয়ে এলেন।
PSA 118:6 সদাপ্রভু আমার সঙ্গে আছেন; আমি ভীত হব না। সামান্য মানুষ আমার কী করতে পারে?
PSA 118:7 সদাপ্রভু আমার সঙ্গে আছেন; তিনি আমার সহায়। আমি বিজয়ীর দৃষ্টিতে আমার শত্রুদের দিকে দেখব।
PSA 118:8 মানুষের উপর আস্থা রাখার চেয়ে সদাপ্রভুর কাছে শরণ নেওয়া শ্রেয়।
PSA 118:9 অধিপতিদের উপর আস্থা রাখার চেয়ে সদাপ্রভুর কাছে শরণ নেওয়া শ্রেয়।
PSA 118:10 সব জাতি আমাকে ঘিরে ধরেছিল, কিন্তু সদাপ্রভুর নামে আমি তাদের উচ্ছেদ করেছি।
PSA 118:11 তারা আমাকে চতুর্দিকে ঘিরে ধরেছিল, কিন্তু সদাপ্রভুর নামে আমি তাদের উচ্ছেদ করেছি।
PSA 118:12 তারা মৌমাছির মতো আমাকে ছেঁকে ধরেছিল, কিন্তু কাঁটার আগুনের মতো অচিরেই তারা নিভে গেল; সদাপ্রভুর নামে আমি তাদের উচ্ছেদ করেছি।
PSA 118:13 আমার শত্রুরা আমাকে হত্যা করার জন্য প্রবল চেষ্টা করেছিল কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে সাহায্য করেছিলেন।
PSA 118:14 সদাপ্রভু আমার বল ও আমার সুরক্ষা; তিনি আমার পরিত্রাণ হয়েছেন।
PSA 118:15 ধার্মিকের শিবিরে শোনা গেল আনন্দের জয়ধ্বনি আর বিজয়ের উল্লাস: “সদাপ্রভুর ডান হাত মহান কাজ সম্পন্ন করেছে!
PSA 118:16 সদাপ্রভুর ডান হাত উন্নত হয়েছে; সদাপ্রভুর ডান হাত মহান কাজ সম্পন্ন করেছে!”
PSA 118:17 আমি মরব না, বরং জীবিত থাকব, আর সদাপ্রভু যা করেছেন তা ঘোষণা করব।
PSA 118:18 সদাপ্রভু আমাকে কঠোরভাবে শাসন করেছেন, তবুও তিনি আমাকে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করেননি।
PSA 118:19 আমার জন্য ধার্মিকদের দরজাগুলি খুলে দাও; আমি প্রবেশ করব আর সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করব।
PSA 118:20 এটি সদাপ্রভুর দরজা, ধার্মিকরা যার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করবে।
PSA 118:21 আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাব কারণ তুমি আমাকে সাড়া দিয়েছ; তুমি আমার পরিত্রাণ হয়েছ।
PSA 118:22 গাঁথকেরা যে পাথরটি অগ্রাহ্য করেছিল তাই হয়ে উঠল কোণের প্রধান পাথর।
PSA 118:23 সদাপ্রভু এটি করেছেন আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য।
PSA 118:24 আজকের এই দিন সদাপ্রভু সৃষ্টি করেছেন; আমরা আনন্দ করব এবং খুশি হব।
PSA 118:25 হে সদাপ্রভু, আমাদের রক্ষা করো! হে সদাপ্রভু, আমাদের সফলতা দাও।
PSA 118:26 ধন্য সেই ব্যক্তি যিনি সদাপ্রভুর নামে আসেন। সদাপ্রভুর গৃহ থেকে আমরা তোমাদের আশীর্বাদ করি।
PSA 118:27 সদাপ্রভুই ঈশ্বর, এবং তিনি তাঁর জ্যোতি আমাদের উপর দিয়েছেন। বলির পশু নাও, আর দড়ি দিয়ে তা বেদির উপর বেঁধে রাখো।
PSA 118:28 তুমি আমার ঈশ্বর, আর আমি তোমার প্রশংসা করব; তুমি আমার ঈশ্বর, আর আমি তোমার মহিমা করব।
PSA 118:29 সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়; তাঁর দয়া অনন্তকালস্থায়ী।
PSA 119:1 ধন্য তারা, যারা আচরণে নির্দোষ, যারা সদাপ্রভুর নিয়ম অনুযায়ী পথ চলে।
PSA 119:2 ধন্য তারা, যারা তাঁর বিধিবিধান পালন করে এবং সমস্ত হৃদয় দিয়ে তাঁর অনুসন্ধান করে—
PSA 119:3 তারা অন্যায় করে না কিন্তু তাঁর নির্দেশিত পথে চলে।
PSA 119:4 তুমি তোমার অনুশাসন দিয়েছ, যেন আমরা সযত্নে তা পালন করি।
PSA 119:5 আমার আচরণ যেন সুসংগত হয় যেন তোমার নির্দেশমালা পালন করতে পারি।
PSA 119:6 যখন আমি তোমার সব আদেশ বিবেচনা করব তখন আমাকে লজ্জিত হতে হবে না।
PSA 119:7 যখন আমি তোমার ন্যায়সংগত শাসনবিধি শিক্ষা লাভ করব আমি সরল চিত্তে তোমার প্রশংসা করব।
PSA 119:8 আমি তোমার আদেশ পালন করব; আমাকে তুমি পরিত্যাগ কোরো না।
PSA 119:9 যুবক কেমন করে জীবনে চলার পথ বিশুদ্ধ রাখবে? তোমার বাক্য অনুযায়ী জীবনযাপন করেই রাখবে।
PSA 119:10 আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমার অন্বেষণ করি; আমাকে তোমার আদেশ লঙ্ঘন করে ভ্রান্তপথে যেতে দিয়ো না।
PSA 119:11 আমি তোমার বাক্য আমার হৃদয়ে লুকিয়ে রেখেছি যেন আমি তোমার বিরুদ্ধে পাপ না করি।
PSA 119:12 হে সদাপ্রভু, তোমার ধন্যবাদ হোক; তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:13 তোমার মুখের সমস্ত শাসন আমি ঠোঁট দিয়ে উচ্চারণ করব।
PSA 119:14 তোমার বিধিবিধান পালন করতে আমি আনন্দ করি যেমন কেউ অতুল ধনসম্পদে আনন্দ করে।
PSA 119:15 আমি তোমার অনুশাসনে ধ্যান করি; এবং তোমার পথের বিবেচনা করি।
PSA 119:16 আমি তোমার নির্দেশাবলিতে আমোদ করি; আমি তোমার বাক্য অবহেলা করব না।
PSA 119:17 তোমার দাসের মঙ্গল করো যেন আমি জীবিত থাকি, তাহলে আমি তোমার বাক্য পালন করব।
PSA 119:18 আমার চোখ খুলে দাও যেন আমি তোমার নিয়মকানুনের আশ্চর্য বিষয়াদি দেখতে পাই।
PSA 119:19 এই পৃথিবীতে আমি এক প্রবাসী; তোমার অনুশাসন আমার কাছে গোপন রেখো না।
PSA 119:20 সবসময় তোমার বিধানের জন্য, আমার প্রাণ আকাঙ্ক্ষায় আকুল হয়।
PSA 119:21 যারা উদ্ধত, তারা অভিশপ্ত, তাদের তুমি তিরস্কার করো, তারা তোমার অনুশাসন লঙ্ঘন করে বিপথে যায়।
PSA 119:22 অবজ্ঞা ও ঘৃণা আমার কাছ থেকে দূর করো, কারণ আমি তোমার বিধিবিধান পালন করি।
PSA 119:23 যদিও শাসকেরা একত্রে বসে আমার নিন্দা করে, তোমার দাস তোমার বিধিনির্দেশে ধ্যান করে।
PSA 119:24 তোমার বিধিবিধান আমার আমোদের বিষয়; সেগুলি আমাকে সুমন্ত্রণা দেয়।
PSA 119:25 আমার প্রাণ ধুলোয় লুটিয়ে আছে; তোমার বাক্য অনুযায়ী আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:26 আমি তোমাকে আমার পরিকল্পনা বলেছি আর তুমি আমাকে উত্তর দিয়েছ; তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:27 তোমার অনুশাসন আমাকে বুঝতে সাহায্য করো, যেন আমি তোমার আশ্চর্য কাজে ধ্যান করতে পারি।
PSA 119:28 আমার প্রাণ দুঃখে অবসন্ন; তোমার বাক্য অনুযায়ী আমাকে শক্তি দাও।
PSA 119:29 প্রতারণার পথ থেকে আমাকে দূরে রাখো; আমার প্রতি দয়া করো এবং আমাকে তোমার নিয়মকানুন শেখাও।
PSA 119:30 আমি বিশ্বস্ততার পথ বেছে নিয়েছি; আমার হৃদয় তোমার আইনকানুনে স্থির রেখেছি।
PSA 119:31 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার বিধিবিধান আঁকড়ে ধরেছি; আমাকে লজ্জিত হতে দিয়ো না।
PSA 119:32 আমি তোমার আদেশের পথে ছুটে চলি, কারণ তুমি আমার বোধশক্তিকে প্রশস্ত করেছ।
PSA 119:33 হে সদাপ্রভু, তোমার বিধি নির্দেশিত পথে চলতে আমাকে শিক্ষা দাও, যেন আমি শেষদিন পর্যন্ত সেগুলি পালন করতে পারি।
PSA 119:34 আমাকে বোধশক্তি দাও, যেন আমি তোমার আইনকানুন পালন করতে পারি এবং সমস্ত হৃদয় দিয়ে বাধ্য হতে পারি।
PSA 119:35 তোমার আদেশের পথে আমাকে পরিচালিত করো, কারণ সেখানে আমি আনন্দ খুঁজে পাই।
PSA 119:36 আমার হৃদয়কে তোমার বিধিবিধানের দিকে ফেরাও বরং স্বার্থপর লাভের দিকে নয়।
PSA 119:37 মূল্যহীন বস্তু থেকে আমার দৃষ্টি ফেরাও, তোমার বাক্য অনুযায়ী আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:38 তোমার দাসের প্রতি তোমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো, যেন তোমাকে সকলে সম্ভ্রম করে।
PSA 119:39 আমার লাঞ্ছনা দূর করো যা আমি ভয় করি, কারণ তোমার আইনকানুন উত্তম।
PSA 119:40 তোমার অনুশাসন পালনে আমি কত আগ্রহী! তোমার ধার্মিকতায় আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:41 হে সদাপ্রভু, তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তোমার অবিচল প্রেম, আর তোমার পরিত্রাণ আমার উপর আসুক,
PSA 119:42 তখন তাদের আমি সদুত্তর দিতে পারব যারা আমাকে ব্যঙ্গ করে, কারণ আমি তোমার বাক্যে আস্থা রাখি।
PSA 119:43 তোমার সত্যের বাক্য আমার মুখ থেকে কখনও নিয়ে নিয়ো না, কারণ তোমার অনুশাসনে আমি আশা রেখেছি।
PSA 119:44 আমি চিরকাল তোমার বিধান পালন করব, যুগে যুগে চিরকাল করব।
PSA 119:45 জীবনে আমি স্বাধীনভাবে চলব, কারণ আমি তোমার অনুশাসন অন্বেষণ করেছি।
PSA 119:46 রাজাদের সামনে আমি তোমার সাক্ষ্যকলাপের কথা বলব এবং আমি লজ্জিত হব না।
PSA 119:47 আমি তোমার আদেশে আমোদ করি কারণ আমি সে সকল ভালোবাসি।
PSA 119:48 আমি তোমার নির্দেশাবলি সম্মান করি ও ভালোবাসি, আমি তোমার বিধিনিয়মে ধ্যান করি।
PSA 119:49 তোমার দাসের প্রতি তোমার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করো, কারণ তুমি আমাকে আশা দিয়েছ।
PSA 119:50 কষ্টে আমার সান্ত্বনা এই যে, তোমার প্রতিশ্রুতিই আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখে।
PSA 119:51 দাম্ভিকেরা নির্মমভাবে আমাকে বিদ্রুপ করে, কিন্তু আমি তোমার বিধিবিধান থেকে মুখ ফিরাই না।
PSA 119:52 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার প্রাচীন শাসনব্যবস্থা স্মরণ করি, এবং তাতেই আমি সান্ত্বনা পাই।
PSA 119:53 আমি দুষ্টদের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হই, কারণ তারা তোমার বিধিবিধান পরিত্যাগ করেছে।
PSA 119:54 আমি যেখানেই বসবাস করি না কেন, তোমার নির্দেশাবলিই আমার গানের বিষয়বস্তু।
PSA 119:55 হে সদাপ্রভু, রাতের বেলায় আমি তোমার নাম স্মরণ করি, যেন আমি তোমার বিধিবিধান পালন করতে পারি।
PSA 119:56 এই আমার অভ্যাস যে, আমি তোমার অনুশাসন পালন করি।
PSA 119:57 হে সদাপ্রভু, তুমি আমার অধিকার, আমি তোমার আজ্ঞা পালন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
PSA 119:58 আমি সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমার মুখের অন্বেষণ করেছি; তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাকে কৃপা করো।
PSA 119:59 আমি আমার চলার পথ বিবেচনা করে দেখেছি, এবং তোমারই বিধিবিধানের পথে আমার পা রেখেছি।
PSA 119:60 আমি দ্রুত তোমার আদেশ পালন করব, দেরি করব না।
PSA 119:61 যদিও দুষ্টরা আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে, আমি তোমার শাসনব্যবস্থা ভুলে যাব না।
PSA 119:62 তোমার ন্যায়সংগত শাসনবিধির জন্য আমি মাঝরাতে তোমাকে ধন্যবাদ দিতে জেগে উঠি।
PSA 119:63 আমি তাদের সকলের বন্ধু যারা তোমাকে সম্ভ্রম করে, আর যারা তোমার অনুশাসন পালন করে।
PSA 119:64 হে সদাপ্রভু, এই পৃথিবী তোমার প্রেমে পূর্ণ, তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:65 হে সদাপ্রভু, তোমার বাক্য অনুসারে তোমার দাসের প্রতি মঙ্গল করো।
PSA 119:66 আমাকে জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দাও, কারণ আমি তোমার আদেশে আস্থা রাখি।
PSA 119:67 পীড়িত হবার আগে আমি বিপথে গিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমি তোমার আদেশ পালন করি।
PSA 119:68 তুমি মঙ্গলময় এবং তুমি যা করো তাও মঙ্গলময়, তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:69 যদিও দাম্ভিকরা মিথ্যায় আমাকে কলঙ্কিত করেছে, আমি তোমার বিধিসকল সমস্ত হৃদয় দিয়ে পালন করি।
PSA 119:70 তাদের হৃদয় কঠোর ও অনুভূতিহীন, কিন্তু আমি তোমার আইনগুলিতে আমোদ করি।
PSA 119:71 পীড়িত হওয়া আমার জন্য মঙ্গলজনক হয়েছে যেন আমি তোমার আদেশগুলি শিখতে পারি।
PSA 119:72 তোমার মুখের বিধিবিধান হাজার হাজার রুপো ও সোনার চেয়ে আমার কাছে বেশি মূল্যবান।
PSA 119:73 তোমার হাত আমাকে সৃষ্টি করেছে ও গঠন করেছে; তোমার আদেশ বুঝতে আমাকে বোধশক্তি দাও।
PSA 119:74 যারা তোমাকে সম্ভ্রম করে তারা যেন আমাকে দেখলে আনন্দিত হয়, কারণ তোমার বাক্যে আমি আশা রেখেছি।
PSA 119:75 হে সদাপ্রভু, আমি জানি যে তোমার বিধিনিয়ম ন্যায়সংগত, আর তুমি বিশ্বস্ততায় আমাকে পীড়িত করেছ।
PSA 119:76 তোমার অবিচল প্রেম যেন আমার সান্ত্বনা হয়, যেমন তুমি তোমার দাসের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ।
PSA 119:77 তোমার অসীম করুণা আমাকে ঘিরে রাখুক যেন আমি বাঁচতে পারি, কারণ তোমার নিয়মবিধান আমার আনন্দের বিষয়।
PSA 119:78 দাম্ভিকরা লজ্জিত হোক কেননা তারা অকারণে আমার সর্বনাশ করেছে; কিন্তু আমি তোমার অনুশাসনে ধ্যান করব।
PSA 119:79 যারা তোমাকে সম্ভ্রম করে এবং যারা তোমার বিধিবিধান বোঝে, তাদের সঙ্গে আমি মিলিত হই।
PSA 119:80 আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে যেন তোমার আদেশ পালন করতে পারি, যেন আমাকে লজ্জিত না হতে হয়।
PSA 119:81 তোমার পরিত্রাণের প্রতীক্ষায় আমার প্রাণ দুর্বল হয়, কিন্তু আমি তোমার বাক্যে আশা রেখেছি।
PSA 119:82 তোমার প্রতিশ্রুতি পূরণের আশায় আমার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়, আমি বলি, “কখন তুমি আমায় সান্ত্বনা দেবে?”
PSA 119:83 যদিও আমি ধোঁয়ার মধ্যে রাখা সংকুচিত সুরাধারের মতো, কিন্তু আমি তোমার নির্দেশাবলি ভুলে যাইনি।
PSA 119:84 কত কাল তোমার দাস প্রতীক্ষায় থাকবে? কবে তুমি আমার নির্যাতনকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে?
PSA 119:85 দাম্ভিকেরা গর্ত খুঁড়ে আমাকে ফাঁদে ফেলতে চায়, তারা তোমার নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ করে।
PSA 119:86 তোমার সব আদেশ নির্ভরযোগ্য; আমাকে সাহায্য করো, কারণ লোকে অকারণে আমাকে নির্যাতন করে।
PSA 119:87 তারা আমাকে প্রায় পৃথিবী থেকে মুছে দিয়েছে, কিন্তু আমি তোমার অনুশাসন ত্যাগ করিনি।
PSA 119:88 তোমার অবিচল প্রেমে আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো, যেন আমি তোমার মুখের বিধিবিধান পালন করতে পারি।
PSA 119:89 হে সদাপ্রভু, তোমার বাক্য চিরন্তন; আকাশমণ্ডলে তা প্রতিষ্ঠিত।
PSA 119:90 তোমার বিশ্বস্ততা বংশপরম্পরায় স্থায়ী; তুমি এই পৃথিবী স্থাপন করেছ এবং তা স্থির রয়েছে।
PSA 119:91 তোমার আইনব্যবস্থা আজও অটল রয়েছে, কারণ সবকিছুই তোমার সেবা করে।
PSA 119:92 যদি তোমার বিধিবিধান আমার আনন্দের বিষয় না হত, আমি হয়তো নিজের দুঃখে বিনষ্ট হতাম।
PSA 119:93 আমি কখনও তোমার অনুশাসন ভুলে যাব না, কারণ তা দিয়েই তুমি আমার জীবন বাঁচিয়ে রেখেছ।
PSA 119:94 আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমারই; আমি তোমার বিধিগুলির অন্বেষণ করেছি।
PSA 119:95 দুষ্ট আমাকে ধ্বংস করার অপেক্ষায় আছে, কিন্তু আমি তোমার অনুশাসনে মনঃসংযোগ করব।
PSA 119:96 প্রত্যেক সিদ্ধতার এক সীমা আছে, কিন্তু তোমার আজ্ঞাগুলি সীমাহীন।
PSA 119:97 আহা, আমি তোমার বিধিবিধান কতই না ভালোবাসি! তা আমার সারাদিনের ধ্যানের বিষয়।
PSA 119:98 তোমার নির্দেশাবলি আমাকে আমার শত্রুদের থেকে বুদ্ধিমান করে কারণ সেসব সবসময় আমার সঙ্গে আছে।
PSA 119:99 আমি তোমার আইনগুলিতে ধ্যান করি, তাই আমার শিক্ষকদের চেয়ে আমার অন্তর্দৃষ্টি বেশি।
PSA 119:100 প্রবীণদের চেয়ে আমার বোধশক্তি বেশি, কারণ আমি তোমার বিধিগুলি পালন করি।
PSA 119:101 প্রত্যেকটি কুপথ থেকে আমার পা আমি দূরে রেখেছি যেন আমি তোমার বাক্য পালন করতে পারি।
PSA 119:102 আমি তোমার নিয়মব্যবস্থা থেকে বিপথে যাইনি, কারণ তুমি স্বয়ং আমাকে শিক্ষা দিয়েছ।
PSA 119:103 তোমার বাক্য আমার মুখে আস্বাদন করা কত মিষ্টি, আমার মুখে তা মধুর চেয়েও বেশি মধুর!
PSA 119:104 আমি তোমার বিধিগুলি থেকে বোধশক্তি লাভ করি, তাই আমি সব অন্যায় পথ ঘৃণা করি।
PSA 119:105 তোমার বাক্য আমার চরণের প্রদীপ, এবং আমার চলার পথের আলো।
PSA 119:106 আমি শপথ করেছি ও স্থির করেছি, যে আমি তোমার ন্যায়সংগত শাসনবিধি পালন করব।
PSA 119:107 হে সদাপ্রভু, আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি; তোমার বাক্য অনুযায়ী আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:108 হে সদাপ্রভু, আমার মুখের প্রশংসার অর্ঘ্য গ্রহণ করো, এবং আমাকে তোমার বিধিনিয়ম শিক্ষা দাও।
PSA 119:109 যদিও আমি আমার প্রাণ প্রতিনিয়ত আমার হাতে নিয়ে চলি, আমি তোমার বিধিবিধান ভুলে যাব না।
PSA 119:110 দুষ্টরা আমার জন্য ফাঁদ পেতেছে, কিন্তু আমি তোমার অনুশাসন থেকে বিপথে যাইনি।
PSA 119:111 তোমার আইনগুলি আমার চিরকালের উত্তরাধিকার, সেগুলি আমার হৃদয়ের আনন্দ।
PSA 119:112 তোমার বিধিনির্দেশ শেষ পর্যন্ত পালন করার উদ্দেশে আমার হৃদয় দৃঢ়সংকল্প।
PSA 119:113 দ্বিমনা চরিত্রের লোকেদের আমি ঘৃণা করি, কিন্তু আমি তোমার নিয়মব্যবস্থা ভালোবাসি।
PSA 119:114 তুমি আমার আশ্রয় ও আমার ঢাল; তোমার বাক্য আমার আশার উৎস।
PSA 119:115 হে অনিষ্টকারীদের দল, আমার কাছ থেকে দূর হও, যেন আমি আমার ঈশ্বরের আদেশ পালন করতে পারি।
PSA 119:116 হে ঈশ্বর, তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাকে সামলে রাখো এবং তাতে আমি বাঁচব; আমার প্রত্যাশা বিফল হতে দিয়ো না।
PSA 119:117 আমাকে তুলে ধরো, তাহলে আমি রক্ষা পাব; আমি চিরকাল তোমার আদেশগুলির উপর ভরসা করব।
PSA 119:118 যারা তোমার আদেশ অগ্রাহ্য করে বিপথে যায় তাদের সবাইকে তুমি ত্যাগ করো, কারণ তারা কেবল নিজেদেরই ঠকায়।
PSA 119:119 পৃথিবীর সব দুষ্টকে তুমি আবর্জনার মতো পরিত্যাগ করো; তাই তোমার বিধিবিধান আমার কাছে এত প্রিয়।
PSA 119:120 তোমার প্রতি সম্ভ্রমে আমার শরীর কাঁপে, তোমার বিধিনিয়মে আমি ভীত।
PSA 119:121 যা কিছু সঠিক ও ন্যায়সংগত সে সব আমি পালন করেছি, আমাকে আমার অত্যাচারীদের হাতে সমর্পণ কোরো না।
PSA 119:122 তোমার দাসের মঙ্গলের ভার তুমি নাও; দাম্ভিকেরা যেন আমার উপর নির্যাতন না করে।
PSA 119:123 তোমার পরিত্রাণের অপেক্ষায়, তোমার ন্যায়সংগত প্রতিশ্রুতির প্রতীক্ষায়, আমার চোখ দুর্বল হয়েছে।
PSA 119:124 তোমার প্রেম অনুযায়ী তোমার দাসের প্রতি ব্যবহার করো, আর তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:125 আমি তোমার দাস; আমাকে বিচক্ষণতা দাও যেন আমি তোমার বিধিবিধান বুঝতে পারি।
PSA 119:126 হে সদাপ্রভু, এবার তোমার সক্রিয় হওয়ার সময় এসেছে; কারণ তোমার আইনব্যবস্থা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
PSA 119:127 সোনার চেয়ে, বিশুদ্ধ সোনার চেয়েও আমি তোমার আজ্ঞাগুলি বেশি ভালোবাসি।
PSA 119:128 তোমার সব অনুশাসনবিধি আমি ন্যায্য মনে করি তাই আমি সমস্ত অন্যায় পথ ঘৃণা করি।
PSA 119:129 তোমার বিধিবিধান কত আশ্চর্য; তাই আমি সেগুলি মান্য করি।
PSA 119:130 তোমার বাক্যের শিক্ষা আলো দেয়; যারা সরলচিত্ত তাদের বোধশক্তি দেয়।
PSA 119:131 আমি প্রত্যাশায় শ্বাস ফেলি, তোমার আদেশের অপেক্ষায়।
PSA 119:132 যারা তোমার নাম ভালোবাসে তাদের প্রতি তুমি সর্বদা যেমন করো, তেমনই আমার প্রতি ফিরে চাও ও আমাকে দয়া করো।
PSA 119:133 তোমার বাক্য অনুযায়ী আমার পদক্ষেপ পরিচালিত করো; পাপ যেন আমার উপর কর্তৃত্ব না করে।
PSA 119:134 লোকেদের নির্যাতন থেকে আমাকে মুক্ত করো, যেন আমি তোমার অনুশাসন মেনে চলতে পারি।
PSA 119:135 তোমার দাসের প্রতি তোমার মুখ উজ্জ্বল করো, এবং তোমার নির্দেশাবলি আমাকে শিক্ষা দাও।
PSA 119:136 আমার চোখ থেকে অশ্রুপ্রবাহ হচ্ছে, কারণ লোকেরা তোমার আইনব্যবস্থা পালন করছে না।
PSA 119:137 হে সদাপ্রভু, তুমি ন্যায়পরায়ণ, আর তোমার আইনব্যবস্থা ন্যায্য।
PSA 119:138 যেসব বিধিবিধান তুমি দিয়েছ তা ধর্মময়, এবং সেগুলি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য।
PSA 119:139 আমার উদ্যম আমাকে ক্লান্ত করেছে, কারণ আমার বিপক্ষরা তোমার বাক্য অবহেলা করে।
PSA 119:140 তোমার প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষাসিদ্ধ হয়েছে, আর তোমার দাস সেগুলি ভালোবাসে।
PSA 119:141 যদিও আমি ক্ষুদ্র ও অবজ্ঞাত, আমি তোমার অনুশাসন ভুলে যাইনি।
PSA 119:142 তোমার ন্যায়পরায়ণতা চিরস্থায়ী আর তোমার আইনব্যবস্থা সত্য।
PSA 119:143 সংকট ও দুর্দশা আমার উপরে উপস্থিত, কিন্তু তোমার আজ্ঞাগুলি আমাকে আনন্দ দেয়।
PSA 119:144 তোমার বিধিবিধান চিরকালীন সত্য; আমাকে বোধশক্তি দাও যেন বাঁচতে পারি।
PSA 119:145 হে সদাপ্রভু, আমি সমস্ত অন্তর দিয়ে তোমাকে ডাকি, আমাকে উত্তর দাও, এবং আমি তোমার আজ্ঞাগুলি পালন করব।
PSA 119:146 আমি তোমাকে ডেকেছি, আমাকে রক্ষা করো আর আমি তোমার বিধিবিধান পালন করব।
PSA 119:147 আমি ভোর হওয়ার আগে উঠি আর সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করি; তোমার বাক্যে আমি আশা রেখেছি।
PSA 119:148 সারারাত আমি চোখ খুলে জেগে থাকি, যেন তোমার প্রতিশ্রুতিতে আমি ধ্যান করতে পারি।
PSA 119:149 তোমার প্রেম অনুযায়ী আমার কণ্ঠস্বর শোনো; হে সদাপ্রভু, তোমার আইনব্যবস্থা অনুযায়ী আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:150 যারা মন্দ সংকল্প করে তারা আমাকে আক্রমণ করার জন্য কাছে এসেছে, কিন্তু তারা তোমার আইনব্যবস্থা থেকে অনেক দূরে আছে।
PSA 119:151 তবুও হে সদাপ্রভু, তুমি কাছেই আছ, আর তোমার আজ্ঞাগুলি সত্য।
PSA 119:152 অনেক বছর আগে আমি তোমার বিধিবিধান থেকে শিখেছি যে তুমি এগুলি চিরকালের জন্য স্থাপন করেছ।
PSA 119:153 আমার দুঃখকষ্টের দিকে চেয়ে দেখো ও আমাকে উদ্ধার করো, কারণ আমি তোমার শাসনব্যবস্থা ভুলে যাইনি।
PSA 119:154 আমার পক্ষসমর্থন করে আমাকে মুক্ত করো, তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার প্রাণরক্ষা করো।
PSA 119:155 দুষ্টরা তোমার পরিত্রাণ থেকে অনেক দূরে, কারণ তারা তোমার বিধিবিধান অন্বেষণ করে না।
PSA 119:156 হে সদাপ্রভু, তোমার করুণা মহান, তোমার আইনব্যবস্থা অনুযায়ী আমাকে বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:157 অনেক আমার বিপক্ষ যারা আমাকে নির্যাতন করে, কিন্তু আমি তোমার বিধিবিধান থেকে বিপথে যাইনি।
PSA 119:158 যারা বিশ্বাসঘাতক আমি তাদের ঘৃণার চোখে দেখি, কারণ তারা তোমার আদেশ পালন করে না।
PSA 119:159 দেখো, আমি তোমার অনুশাসন কত ভালোবাসি, তোমার অবিচল প্রেমের গুণে, হে সদাপ্রভু, আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো।
PSA 119:160 তোমার সব বাক্য সত্য; তোমার সব ন্যায়সংগত শাসনবিধি চিরস্থায়ী।
PSA 119:161 শাসকবর্গ অকারণে আমাকে নির্যাতন করে, কিন্তু আমার হৃদয় তোমার বাক্যে কম্পিত হয়।
PSA 119:162 আমি তোমার প্রতিশ্রুতিতে আনন্দ করি যেমন লোকেরা লুট করা সম্পদে করে।
PSA 119:163 অসত্যকে আমি ঘৃণা ও অবজ্ঞা করি, কিন্তু আমি তোমার আইনব্যবস্থাকে ভালোবাসি।
PSA 119:164 তোমার ন্যায়সংগত শাসনবিধির জন্য আমি দিনে সাতবার তোমার প্রশংসা করি।
PSA 119:165 যারা তোমার এই আইনব্যবস্থা ভালোবাসে তাদের অন্তরে পরম শান্তি থাকে, আর কোনও কিছুতে তারা হোঁচট খায় না।
PSA 119:166 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার পরিত্রাণের প্রতীক্ষায় আছি, আর আমি তোমার আদেশগুলি পালন করি।
PSA 119:167 আমি তোমার বিধিবিধান মান্য করি, কারণ আমি সেসব অত্যন্ত ভালোবাসি।
PSA 119:168 আমি তোমার অনুশাসন ও তোমার বিধিবিধান পালন করি, কারণ আমার চলার সকল পথ তোমার জানা।
PSA 119:169 হে সদাপ্রভু, আমার কাতর প্রার্থনা শোনো; তোমার বাক্য অনুযায়ী আমাকে বোধশক্তি দাও।
PSA 119:170 আমার নিবেদন শোনো; তোমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাকে উদ্ধার করো।
PSA 119:171 আমার ঠোঁট দুটি যেন প্রশংসায় উপচে পড়ে; কারণ তুমি আমাকে তোমার নির্দেশাবলি শিক্ষা দাও।
PSA 119:172 আমার জিভ যেন তোমার বাক্যের গান গাইতে থাকে, কারণ তোমার সমস্ত আদেশ ন্যায়সংগত।
PSA 119:173 তোমার হাত আমাকে সাহায্য করার জন্য যেন প্রস্তুত থাকে, কারণ আমি তোমার বিধিগুলি বেছে নিয়েছি।
PSA 119:174 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার পরিত্রাণের প্রতীক্ষায় আছি, আর তোমার আইনব্যবস্থা আমাকে আনন্দ দেয়।
PSA 119:175 আমাকে বাঁচতে দাও যেন আমি তোমার প্রশংসা করতে পারি, এবং তোমার আইনব্যবস্থা যেন আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।
PSA 119:176 আমি হারিয়ে যাওয়া মেষের মতো বিপথে গিয়েছি। তোমার দাসের অন্বেষণ করো, কারণ আমি তোমার আদেশগুলি ভুলে যাইনি।
PSA 120:1 একটি আরোহণ সংগীত। আমি সংকটকালে সদাপ্রভুকে ডাকলাম, আর তিনি আমার ডাকে সাড়া দিলেন।
PSA 120:2 হে সদাপ্রভু, মিথ্যাবাদী মুখ, ও ধাপ্পাবাজ জিভের কবল থেকে আমাকে রক্ষা করো।
PSA 120:3 ধাপ্পাবাজ মুখ, ঈশ্বর তোমার প্রতি কী করবেন? তিনি কেমনভাবে তোমার শাস্তি বৃদ্ধি করবেন?
PSA 120:4 যোদ্ধার ধারালো তিরের আঘাতে তুমি বিদ্ধ হবে, আর জ্বলন্ত কয়লায় তুমি দগ্ধ হবে।
PSA 120:5 হায় কী দুর্দশা আমার, আমি মেশকে বসবাস করছি, কেদরের তাঁবুর মধ্যে আমি বসবাস করছি।
PSA 120:6 যারা শান্তি ঘৃণা করে, তাদের মাঝে আমি বহুকাল বসবাস করেছি।
PSA 120:7 আমি শান্তির পক্ষে; কিন্তু আমি যখন কথা বলি, ওরা তখন যুদ্ধ চায়।
PSA 121:1 একটি আরোহণ সংগীত। আমি পর্বতমালার দিকে চেয়ে দেখি— কোথা থেকে আমার সাহায্য আসে?
PSA 121:2 স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, সদাপ্রভুর কাছ থেকে আমার সাহায্য আসে।
PSA 121:3 তিনি তোমাকে হোঁচট খেতে দেবেন না, তোমার রক্ষক তন্দ্রাচ্ছন্ন হবেন না;
PSA 121:4 সত্যিই, যিনি ইস্রায়েলের রক্ষক, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন বা নিদ্রামগ্ন হবেন না।
PSA 121:5 সদাপ্রভু তোমার রক্ষক, সদাপ্রভু তোমার ডানদিকে তোমার ছায়া;
PSA 121:6 দিনে সূর্য তোমার ক্ষতি করবে না, এমনকি রাতে চাঁদও করবে না।
PSA 121:7 সদাপ্রভু তোমাকে সব অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন আর তিনি তোমার প্রাণরক্ষা করবেন;
PSA 121:8 তোমার যাওয়া-আসার পথে সদাপ্রভু তোমাকে রক্ষা করবেন এখন থেকে চিরকাল পর্যন্ত।
PSA 122:1 একটি আরোহণ সংগীত। দাউদের গীত। আমি আনন্দিত হলাম, যখন লোকে আমাকে বলল, “চলো, আমরা সদাপ্রভুর গৃহে যাই।”
PSA 122:2 এখন, হে জেরুশালেম নগরী, তোমার প্রবেশদ্বারের ভিতরে আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি।
PSA 122:3 জেরুশালেম সেই নগরীর মতো নির্মিত যা সংগঠিতরূপে তৈরি হয়েছে।
PSA 122:4 ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠীগুলি— সদাপ্রভুর লোকসকল—এখানে আরাধনা করতে আসে, ইস্রায়েলের বিধিনিয়ম অনুযায়ী তারা সদাপ্রভুর নামের ধন্যবাদ করতে আসে।
PSA 122:5 এই স্থানেই স্থাপিত হয়েছে বিচারের সিংহাসন, এখানেই দাউদ কুলের সব সিংহাসন স্থাপিত।
PSA 122:6 তোমরা জেরুশালেমের শান্তির জন্য প্রার্থনা করো, “যারা তোমাকে ভালোবাসে, তারা সুরক্ষিত থাকুক।
PSA 122:7 তোমার প্রাচীরের মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক, আর তোমার দুর্গগুলির মধ্যে সুরক্ষা থাকুক।”
PSA 122:8 আমার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য, আমি বলব “তোমার মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক।”
PSA 122:9 সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বরের গৃহের কারণে হে জেরুশালেম, আমি তোমার সমৃদ্ধি কামনা করব।
PSA 123:1 একটি আরোহণ সংগীত। আমি তোমার দিকে চোখ তুলে দেখি, তোমার দিকেই দেখি, যিনি স্বর্গের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।
PSA 123:2 যেমন কর্তার হাতের দিকে দাসের দৃষ্টি থাকে, যেমন কর্ত্রীর হাতের দিকে দাসীর দৃষ্টি থাকে, তেমনই আমাদের দৃষ্টি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দিকে থাকে, যতদিন না পর্যন্ত তিনি আমাদের প্রতি দয়া করেন।
PSA 123:3 আমাদের প্রতি দয়া করো, হে সদাপ্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো, কেননা আমরা অবজ্ঞায় পূর্ণ হয়েছি।
PSA 123:4 দাম্ভিকের বিদ্রুপ ও অহংকারীর অবজ্ঞা আমরা শেষ পর্যন্ত সহ্য করেছি।
PSA 124:1 একটি আরোহণ সংগীত। দাউদের গীত। সদাপ্রভু যদি আমাদের পক্ষে না থাকতেন— সমগ্র ইস্রায়েল বলুক—
PSA 124:2 সদাপ্রভু যদি আমাদের পক্ষে না থাকতেন, যখন লোকেরা আমাদের আক্রমণ করেছিল,
PSA 124:3 যখন তাদের ক্রোধ আমাদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিল, তখন হয়তো তারা আমাদের জীবন্তই গ্রাস করে ফেলত;
PSA 124:4 বন্যার জলরাশি হয়তো চারিদিক প্লাবিত করত, জলস্রোত হয়তো আমাদের উপর দিয়ে বয়ে যেত,
PSA 124:5 উত্তাল জলরাশি হয়তো ভাসিয়ে নিয়ে যেত আমাদের।
PSA 124:6 সদাপ্রভুর ধন্যবাদ হোক, তিনি তাদের দাঁতের আঘাতে আমাদের ছিন্নভিন্ন হতে দেননি।
PSA 124:7 আমরা পাখির মতো পালিয়েছি শিকারির ফাঁদ থেকে; ফাঁদ ছিন্ন করা হয়েছে, এবং আমরা পালিয়েছি।
PSA 124:8 সদাপ্রভু, যিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আমাদের সাহায্য তাঁর কাছ থেকে আসে।
PSA 125:1 একটি আরোহণ সংগীত। যারা সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখে তারা সিয়োন পর্বতের মতো হয়, তারা পরাজিত হয় না অথচ চিরস্থায়ী হয়।
PSA 125:2 পর্বতমালা যেমন জেরুশালেমকে ঘিরে আছে, সদাপ্রভু তেমনই তাঁর প্রজাদের চারিদিকে আছেন এখন থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত।
PSA 125:3 দুষ্টরা ধার্মিকদের দেশে রাজত্ব করবে না, কারণ তাহলে ধার্মিকেরা হয়তো মন্দ কাজ করার জন্য প্রলোভিত হতে পারে।
PSA 125:4 হে সদাপ্রভু, যারা ভালো কাজ করে, যারা হৃদয়ে ন্যায়পরায়ণ, তুমি তাদের মঙ্গল করো।
PSA 125:5 কিন্তু যারা ভুল পথে পা বাড়ায় সদাপ্রভু তাদের অনিষ্টকারীদের সাথে দূর করে দেবেন। ইস্রায়েলে শান্তি বিরাজ করুক।
PSA 126:1 একটি আরোহণ সংগীত। সদাপ্রভু যখন জেরুশালেমের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন, তখন যেন আমরা স্বপ্ন দেখছিলাম!
PSA 126:2 আমাদের মুখ হাসিতে পূর্ণ ছিল, আনন্দের গানে আমাদের জিভ মুখর ছিল। সেই সময় জাতিদের মাঝে লোকেরা বলেছিল, “দেখো, সদাপ্রভু তাদের জন্যে কত মহৎ কাজ করেছেন।”
PSA 126:3 যথার্থই, সদাপ্রভু আমাদের জন্য মহৎ কাজ করেছেন, এবং আমরা আনন্দে পূর্ণ হয়েছি।
PSA 126:4 হে সদাপ্রভু, আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আনো, নেগেভ মরুভূমির জলধারার মতো ফিরিয়ে আনো।
PSA 126:5 যারা চোখের জলে বীজবপন করে, তারা আনন্দগান গেয়ে শস্য কাটবে।
PSA 126:6 যারা চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাইরে যায় বোনার জন্য বীজ বয়ে নিয়ে যায়, আনন্দগান গাইতে গাইতে ফিরে আসবে, সঙ্গে আঁটি নিয়ে ফিরে আসবে।
PSA 127:1 একটি আরোহণ সংগীত। শলোমনের গীত। যদি সদাপ্রভু গৃহ নির্মাণ না করেন, তবে নির্মাতারা বৃথাই পরিশ্রম করে। যদি সদাপ্রভু নগর রক্ষা না করেন, তবে নগররক্ষীরা বৃথাই রাতে জেগে থাকে।
PSA 127:2 বৃথাই তোমরা খুব সকালে ওঠো আর অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকো, অন্ন-সংস্থানের জন্য পরিশ্রম করো— কারণ তিনি যাদের ভালোবাসেন তাদের চোখে ঘুম দেন।
PSA 127:3 সন্তানসন্ততি সদাপ্রভুর দেওয়া অধিকার, তাঁর দেওয়া পুরস্কার।
PSA 127:4 যেমন বীরযোদ্ধার হাতে তির তেমনি যৌবনে জাত সন্তানসন্ততি।
PSA 127:5 ধন্য সেই ব্যক্তি যার তূণ সেইরকম তিরে পূর্ণ, তারা লজ্জিত হবে না যখন তারা নগরদ্বারে বিপক্ষদের সঙ্গে বিরোধ করে।
PSA 128:1 একটি আরোহণ সংগীত। ধন্য তারা সবাই যারা সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে, যারা তাঁর নির্দেশিত পথে চলে।
PSA 128:2 তুমি তোমার পরিশ্রমের ফলভোগ করবে; আশীর্বাদ ও সমৃদ্ধি তোমার হবে।
PSA 128:3 তোমার স্ত্রী তোমার গৃহে ফলবতী এক দ্রাক্ষালতার মতো হবে; তোমার মেজের চারিদিকে তোমার সন্তানেরা জলপাই গাছের চারার মতো হবে।
PSA 128:4 হ্যাঁ, যে ব্যক্তি সদাপ্রভুকে সম্ভ্রম করে সে এই আশীর্বাদ পাবে।
PSA 128:5 সিয়োন থেকে সদাপ্রভু তোমাকে আশীর্বাদ করুন; তোমার জীবনের প্রতিটি দিন, তুমি যেন জেরুশালেমের সমৃদ্ধি দেখতে পাও।
PSA 128:6 তুমি তোমার সন্তানদের বংশধর দেখার জন্য বেঁচে থাকো— ইস্রায়েলে শান্তি বিরাজ করুক।
PSA 129:1 একটি আরোহণ সংগীত। “আমার যৌবনকাল থেকে তারা আমাকে অনেক নির্যাতন করেছে,” ইস্রায়েল বলুক;
PSA 129:2 “আমার যৌবনকাল থেকে তারা আমাকে অনেক নির্যাতন করেছে, কিন্তু তারা আমার উপর জয়লাভ করতে পারেনি।
PSA 129:3 চাষিরা আমার পিঠে লাঙল চালিয়েছে এবং তারা লম্বা লাঙলরেখা টেনেছে।
PSA 129:4 কিন্তু সদাপ্রভু ধর্মময়; তিনি দুষ্টদের দড়ি কেটে আমাকে মুক্ত করেছেন।”
PSA 129:5 যারা সিয়োনকে ঘৃণা করে তারা সবাই লজ্জিত হয়ে ফিরে যাক।
PSA 129:6 তারা ছাদের উপর জন্মানো ঘাসের মতো হোক যা বেড়ে ওঠার আগেই শুকিয়ে যায়;
PSA 129:7 শস্যচ্ছেদক এসব দিয়ে তার হাত ভর্তি করতে পারে না, যে আঁটি বাঁধে সেও এসব দিয়ে তার কোল ভরাতে পারে না।
PSA 129:8 পথিকেরা যেন তাদের একথা না বলে, “সদাপ্রভুর আশীর্বাদ তোমাদের উপর হোক; সদাপ্রভুর নামে আমরা তোমাদের আশীর্বাদ করি।”
PSA 130:1 একটি আরোহণ সংগীত। হে সদাপ্রভু, আমি অতল থেকে তোমার সাহায্য চেয়েছি;
PSA 130:2 হে সদাপ্রভু, আমার কণ্ঠস্বর শোনো। আমার বিনতি প্রার্থনার প্রতি তোমার কান মনযোগী হোক।
PSA 130:3 হে সদাপ্রভু, যদি তুমি পাপের হিসেব রাখতে, তবে প্রভু, কে বাঁচতে পারত?
PSA 130:4 কিন্তু তোমার কাছে ক্ষমা আছে, যেন আমরা, সম্ভ্রমে তোমার সেবা করতে পারি।
PSA 130:5 আমি সদাপ্রভুর প্রতীক্ষায় থাকি, আমার সমস্ত অন্তর প্রতীক্ষা করে, এবং তাঁর বাক্যে আমি আশা রাখি।
PSA 130:6 প্রত্যুষের জন্য প্রহরী যেমন প্রতীক্ষায় থাকে হ্যাঁ, প্রত্যুষের জন্য প্রহরী যেমন প্রতীক্ষায় থাকে, আমার প্রাণ, প্রভুর জন্য, তার থেকেও বেশি প্রতীক্ষায় থাকে।
PSA 130:7 হে ইস্রায়েল, সদাপ্রভুর উপর আশা রাখো, কারণ সদাপ্রভুর কাছে অবিচল প্রেম আছে, এবং তাঁর কাছে পূর্ণ মুক্তি আছে।
PSA 130:8 তিনি নিজেই ইস্রায়েলকে সব পাপ থেকে মুক্ত করবেন।
PSA 131:1 একটি আরোহণ সংগীত। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমার হৃদয় অহংকারী নয়, আমার দৃষ্টি উদ্ধত নয়; নিজের থেকে বড় কোনও বিষয় নিয়ে আমি ভাবি না আমার বোধের অতীত কোনও আশ্চর্য বিষয়ে সংযুক্ত থাকি না।
PSA 131:2 কিন্তু আমি নিজেকে শান্ত ও নীরব করেছি, স্তন্য-ত্যাগ করা শিশুর মতো করেছি যে মায়ের দুধের জন্য আর কাঁদে না, স্তন্যপানে বিরত শিশুর মতো আমি তৃপ্ত।
PSA 131:3 হে ইস্রায়েল, সদাপ্রভুর উপরে আশা রাখো এখন এবং চিরকালের জন্য রাখো।
PSA 132:1 একটি আরোহণ সংগীত। হে সদাপ্রভু, দাউদকে আর তার সব আত্মত্যাগ মনে রেখো।
PSA 132:2 তিনি সদাপ্রভুর কাছে এক শপথ করেছিলেন, তিনি যাকোবের পরাক্রমী ব্যক্তির কাছে মানত করেছিলেন:
PSA 132:3 “আমি নিজের গৃহে প্রবেশ করব না অথবা নিজের বিছানায় শয়ন করব না,
PSA 132:4 আমি নিজের চোখে ঘুম আসতে দেব না অথবা চোখের পাতায় তন্দ্রা আসতে দেব না,
PSA 132:5 যতদিন না পর্যন্ত আমি সদাপ্রভুর জন্য এক স্থান, যাকোবের পরাক্রমী ব্যক্তির জন্য এক আবাস খুঁজে পাই।”
PSA 132:6 দেখো, আমরা ইফ্রাথায় তাঁর সংবাদ শুনেছিলাম জায়ারের ক্ষেতে তাঁর সন্ধান পেয়েছিলাম:
PSA 132:7 “চলো, আমরা তাঁর আবাসে যাই, তাঁর পাদপীঠে এই বলে আমরা তাঁর আরাধনা করি,
PSA 132:8 ‘হে সদাপ্রভু, ওঠো, আর তোমার বিশ্রামস্থানে এসো, তুমি ও তোমার পরাক্রমের সিন্দুক।
PSA 132:9 তোমার পুরোহিতবৃন্দ যেন তোমার ধার্মিকতায় বিভূষিত হয়, তোমার বিশ্বস্ত লোকেরা তোমার আনন্দগান করুক।’ ”
PSA 132:10 তোমার দাস দাউদের কারণে তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তিকে পরিত্যাগ কোরো না।
PSA 132:11 সদাপ্রভু দাউদের কাছে এক শপথ, এক সুনিশ্চিত শপথ করেছিলেন, যা তিনি ভাঙবেন না: “তোমার বংশে জাত এক সন্তানকে আমি তোমার সিংহাসনে বসাব।
PSA 132:12 যদি তোমার সন্তানেরা আমার নিয়ম এবং বিধিবিধান মান্য করে যা আমি তাদের শিক্ষা দিয়েছি, তবে তাদের সন্তানেরা চিরকাল ধরে তোমার সিংহাসনে বসবে।”
PSA 132:13 সদাপ্রভু জেরুশালেমকে মনোনীত করেছেন, তিনি তাঁর নিবাসের জন্য তা এই বলে বাসনা করেছেন যে,
PSA 132:14 “এই আমার চিরকালের বিশ্রামস্থান; আমি এই স্থানেই অধিষ্ঠিত রইব, কারণ আমি এই বাসনা করেছি।
PSA 132:15 আমি এই স্থানকে আশীর্বাদ করব আর সমৃদ্ধশালী করব; তার দরিদ্রদের আমি খাবার দিয়ে পরিতৃপ্ত করব।
PSA 132:16 আমি তার যাজকদের পরিত্রাণ দিয়ে আবৃত করব, আর তার বিশ্বস্ত দাসেরা আনন্দগান গাইবে।
PSA 132:17 “আমি এখানে দাউদের জন্য এক শিং উত্থাপন করব এবং আমার অভিষিক্ত ব্যক্তির জন্য একটি প্রদীপ জ্বেলে দেবো।
PSA 132:18 আমি তাঁর শত্রুদের লজ্জায় আবৃত করব, কিন্তু তাঁর মাথা উজ্জ্বল মুকুটে সুশোভিত হবে।”
PSA 133:1 একটি আরোহণ সংগীত। দাউদের গীত। যখন ঈশ্বরের লোকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করে তা কত উত্তম ও মনোহর হয়!
PSA 133:2 তা মূল্যবান সেই তেলের মতো যা মাথায় ঢেলে দেওয়া হয়, যা দাড়িতে গড়িয়ে পরে, যা হারোণের দাড়িতে গড়িয়ে পরে, যা তাঁর পোশাকের গলাবন্ধে গড়িয়ে পরে।
PSA 133:3 মনে হয় এ যেন হর্মোণ পাহাড়ের শিশির যা সিয়োন পর্বতে ঝরে পড়ছে। কারণ সেখানে সদাপ্রভু তাঁর আশীর্বাদ দিলেন, এমনকি অনন্তকালের জন্য জীবন দিলেন।
PSA 134:1 একটি আরোহণ সংগীত। হে সদাপ্রভুর সকল দাস, তোমরা সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, তোমরা যারা রাত্রিকালে সদাপ্রভুর গৃহে পরিচর্যা করো।
PSA 134:2 প্রার্থনায় তোমার দু-হাত পবিত্রস্থানের দিকে তুলে ধরো এবং সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো।
PSA 134:3 সদাপ্রভু, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, জেরুশালেম থেকে তোমাদের আশীর্বাদ করুন।
PSA 135:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর নামের প্রশংসা করো; সদাপ্রভুর সেবকেরা, তাঁর স্তুতিগান করো,
PSA 135:2 তোমরা যারা সদাপ্রভুর গৃহে পরিচর্যা করো, আমাদের ঈশ্বরের গৃহের প্রাঙ্গণে।
PSA 135:3 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো কারণ সদাপ্রভু মঙ্গলময়; তাঁর নামের উদ্দেশে স্তুতিগান করো কারণ তা মনোরম।
PSA 135:4 সদাপ্রভু নিজের জন্য যাকোবকে, আর তাঁর অমূল্য সম্পদরূপে ইস্রায়েলকে মনোনীত করেছেন।
PSA 135:5 আমি জানি সদাপ্রভু মহান, আমাদের প্রভু সব দেবতার ঊর্ধ্বে।
PSA 135:6 আকাশমণ্ডলে ও পৃথিবীতে, সমুদ্রে ও সমস্ত জলধির মধ্যে, সদাপ্রভুর যা ইচ্ছা তাই করেন।
PSA 135:7 তিনি পৃথিবীর প্রান্তদেশ থেকে মেঘ উত্থাপন করেন; তিনি বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ প্রেরণ করেন, আর তাঁর ভাণ্ডার থেকে বায়ু বের করে আনেন।
PSA 135:8 তিনি মিশরের প্রথমজাতদের বিনাশ করেছিলেন, মানুষ ও পশুর প্রথমজাতদের।
PSA 135:9 হে মিশর, ফরৌণ ও তার অনুচরদের বিপক্ষে, তিনি তোমার মাঝে চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ পাঠিয়েছিলেন।
PSA 135:10 তিনি বহু জাতিকে আঘাত করেছিলেন এবং শক্তিশালী রাজাদের বধ করেছিলেন—
PSA 135:11 ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে, বাশনের রাজা ওগকে এবং কনানের সমস্ত রাজাকে—
PSA 135:12 এবং তিনি তাদের দেশ অধিকারস্বরূপ দিলেন, তাঁর প্রজা ইস্রায়েলকে অধিকার দিলেন।
PSA 135:13 তোমার নাম, হে সদাপ্রভু, অনন্তকালস্থায়ী, তোমার খ্যাতি, হে সদাপ্রভু, সব প্রজন্মের কাছে পরিচিত।
PSA 135:14 সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের ন্যায়বিচার করবেন আর তাঁর দাসদের প্রতি করুণা করবেন।
PSA 135:15 জাতিদের প্রতিমাগুলি রুপো ও সোনা দিয়ে তৈরি, মানুষের হাতে গড়া।
PSA 135:16 তাদের মুখ আছে, কিন্তু তারা কথা বলতে পারে না, চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখতে পায় না।
PSA 135:17 তাদের কান আছে, কিন্তু তারা শুনতে পায় না, এমনকি তাদের মুখে প্রাণের নিঃশ্বাস নেই।
PSA 135:18 যারা প্রতিমা তৈরি করে তারা তাদের মতোই হবে, আর যারা সেগুলির উপর আস্থা রাখে তারাও তেমনই হবে।
PSA 135:19 হে ইস্রায়েলের কুল, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; হে হারোণের কুল, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো;
PSA 135:20 হে লেবীয় কুল, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; তোমরা যারা তাঁকে সম্ভ্রম করো, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 135:21 সিয়োন থেকে সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ তিনি জেরুশালেমে বসবাস করেন। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 136:1 সদাপ্রভুর ধন্যবাদ করো, কারণ তিনি মঙ্গলময়।
PSA 136:2 দেবতাদের ঈশ্বরের ধন্যবাদ করো।
PSA 136:3 প্রভুদের প্রভুর ধন্যবাদ করো,
PSA 136:4 তাঁর প্রশংসা করো যিনি একাই মহৎ ও আশ্চর্য কাজ করেন,
PSA 136:5 যিনি নিজের প্রজ্ঞাবলে এই আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন,
PSA 136:6 যিনি জলধির উপরে পৃথিবী বিস্তার করেছেন,
PSA 136:7 যিনি বড়ো বড়ো জ্যোতি সৃষ্টি করেছেন—
PSA 136:8 দিনের উপর শাসন করতে সূর্য,
PSA 136:9 রাত্রির উপর শাসন করতে চাঁদ ও তারকামালা;
PSA 136:10 যিনি মিশরের প্রথমজাতদের আঘাত করেছিলেন,
PSA 136:11 যিনি ইস্রায়েলকে তাদের মধ্য থেকে মুক্ত করলেন
PSA 136:12 তাঁর শক্তিশালী হাত ও প্রসারিত বাহু দিয়ে;
PSA 136:13 যিনি লোহিত সাগর দু-ভাগ করলেন
PSA 136:14 যিনি ইস্রায়েলীদের তার মধ্যে দিয়ে বার করে আনলেন,
PSA 136:15 কিন্তু ফরৌণ ও তার সেনাবাহিনীকে যিনি লোহিত সাগরে নিক্ষেপ করলেন;
PSA 136:16 যিনি তাঁর প্রজাদের মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে পরিচালিত করলেন,
PSA 136:17 যিনি মহান রাজাদের আঘাত করলেন,
PSA 136:18 এবং শক্তিশালী রাজাদের বধ করলেন—
PSA 136:19 ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে,
PSA 136:20 বাশনের রাজা ওগকে
PSA 136:21 এবং তাদের দেশ অধিকারস্বরূপ বণ্টন করলেন,
PSA 136:22 নিজের দাস ইস্রায়েলকে অধিকার দিলেন,
PSA 136:23 আমাদের দৈন্য দশায় তিনি আমাদের স্মরণ করলেন
PSA 136:24 আমাদের শত্রুদের কবল থেকে আমাদের উদ্ধার করলেন,
PSA 136:25 তিনি সব প্রাণীকে খাবার দেন,
PSA 136:26 স্বর্গের ঈশ্বরের ধন্যবাদ করো।
PSA 137:1 যখন সিয়োনের কথা আমাদের মনে পড়ত ব্যাবিলনের নদীতীরে বসে আমরা কাঁদতাম।
PSA 137:2 আমরা সেখানে চিনার গাছে বীণাগুলি ঝুলিয়ে রাখতাম,
PSA 137:3 কারণ সেখানে আমাদের বন্দিকারীরা গান শুনতে চাইত, আমাদের অত্যাচারীরা আনন্দগানের দাবি করত; তারা বলত “সিয়োনের গান, একটি গান আমাদের শোনাও!”
PSA 137:4 কিন্তু কীভাবে আমরা সদাপ্রভুর গান গাইব যখন আমরা বিদেশে বসবাস করছি?
PSA 137:5 হে জেরুশালেম, আমি যদি তোমাকে ভুলে যাই, তবে যেন আমার ডান হাত তার দক্ষতা হারিয়ে ফেলে।
PSA 137:6 যদি আমি তোমাকে ভুলে যাই, আর যদি আমি জেরুশালেমকে আমার সর্বাধিক আনন্দ বলে গণ্য না করি, তবে যেন আমার জিভ মুখের তালুতে আটকে যায়।
PSA 137:7 হে সদাপ্রভু, মনে রেখো, যেদিন জেরুশালেমকে বন্দি করা হয়েছিল সেদিন ইদোমীয়রা যা করেছিল। তারা জোর গলায় বলেছিল, “উপড়ে ফেলো, সমূলে উপড়ে ফেলো!”
PSA 137:8 হে ব্যাবিলনের কন্যা, তুমি ধ্বংস হবে, ধন্য সেই যে তোমাকে সেরকম প্রতিফল দেবে যে রকম তুমি আমাদের প্রতি করেছিলে।
PSA 137:9 ধন্য সেই যে তোমাদের শিশুদের ধরে আর পাথরের উপরে আছড়ায়।
PSA 138:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমি আমার সমস্ত অন্তর দিয়ে তোমার প্রশংসা করব; “দেবতাদের” সাক্ষাতে আমি তোমার প্রশংসাগান করব।
PSA 138:2 তোমার পবিত্র মন্দিরের উদ্দেশে আমি নত হব এবং তোমার অবিচল প্রেম ও তোমার বিশ্বস্ততার কারণে তোমার নামের প্রশংসা করব, কারণ তুমি তোমার বিধিসম্মত নিয়মাবলি উচ্চে স্থাপন করেছ; যেন তোমার খ্যাতি ছাপিয়ে যায়।
PSA 138:3 আমি যখন ডেকেছি, তুমি আমাকে উত্তর দিয়েছ; আমার প্রাণে শক্তি দিয়ে আমাকে অতিশয় উৎসাহিত করেছ।
PSA 138:4 হে সদাপ্রভু, পৃথিবীর সব রাজা তোমার প্রশংসা করবে, কারণ তারা সবাই তোমার বাক্য শুনবে।
PSA 138:5 তারা সদাপ্রভুর পথগুলির বিষয়ে গান করবে, কারণ সদাপ্রভুর গৌরব মহান।
PSA 138:6 সদাপ্রভু মহিমান্বিত হলেও তিনি অবনতদের দিকে দয়ালু দৃষ্টি রাখেন; কিন্তু দাম্ভিকদের তিনি দূর থেকে বুঝতে পারেন।
PSA 138:7 যদিও আমি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাই, তুমি আমার প্রাণ বাঁচিয়ে রাখো। আমার বিপক্ষদের ক্রোধের বিরুদ্ধে তুমি তোমার হাত প্রসারিত করো; তোমার ডান হাত দিয়ে তুমি আমাকে রক্ষা করো।
PSA 138:8 সদাপ্রভু আমার জন্য তাঁর সব পরিকল্পনা সফল করবেন, কারণ তোমার বিশ্বস্ত প্রেম, হে সদাপ্রভু, অনন্তকালস্থায়ী। আমাকে পরিত্যাগ কোরো না, কারণ তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ।
PSA 139:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, তুমি আমার অনুসন্ধান করেছ, আর তুমি আমাকে জানো।
PSA 139:2 তুমি জানো আমি কখন বসি আর কখন উঠি; দূর থেকেও তুমি আমার মনের ভাবনা বুঝতে পারো।
PSA 139:3 তুমি জানো আমি কোথায় যাই আর আমি কোথায় শয়ন করি; আমার চলার সব পথ তোমার পরিচিত।
PSA 139:4 আমার জিভে কোনও কথা উচ্চারিত হবার আগেই তুমি, হে সদাপ্রভু, তা সম্পূর্ণভাবে জানো।
PSA 139:5 তুমি আমাকে সামনে ও পিছনে ঘিরে রেখেছ, এবং আমার উপর তোমার হাত রেখেছ।
PSA 139:6 এই জ্ঞান আমার কাছে খুব আশ্চর্যজনক, এত উঁচু যে তা আমার বোধের অগম্য।
PSA 139:7 আমি তোমার আত্মাকে এড়িয়ে কোথায় যাব? আমি তোমার সামনে থেকে কোথায় পালাব?
PSA 139:8 যদি আমি আকাশমণ্ডলে উঠে যাই, সেখানে তুমি আছ; যদি আমি পাতালে বিছানা পাতি, সেখানেও তুমি রয়েছ।
PSA 139:9 যদি আমি প্রত্যুষের ডানায় ভর করে উড়ে যাই, যদি আমি সমুদ্রের সুদূর সীমায় বসতি স্থাপন করি,
PSA 139:10 এমনকি সেখানেও তোমার হাত আমাকে পথ দেখাবে, তোমার ডান হাত আমাকে ধরে রাখবে।
PSA 139:11 যদি আমি বলি, “নিশ্চয় অন্ধকার আমাকে আচ্ছন্ন করবে আর আলো আমার চারিদিকে অন্ধকারে পরিণত হবে,”
PSA 139:12 এমনকি, আঁধারও তোমার কাছে অন্ধকার নয়; রাত্রিও দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল, কারণ অন্ধকার তোমার কাছে আলোর সমান।
PSA 139:13 কারণ তুমি আমার অন্তরের সত্তা নির্মাণ করেছ; এবং মাতৃগর্ভে তুমি আমার দেহকে বুনেছ,
PSA 139:14 আমি তোমার স্তব করি, কারণ আমি ভয়াবহরূপে ও আশ্চর্যরূপে নির্মিত; তোমার সব কাজকর্ম বিস্ময়কর তা আমি যথার্থভাবে জানি।
PSA 139:15 আমার পরিকাঠামো তোমার কাছে লুকানো ছিল না, যখন আমি গোপন স্থানে নির্মিত হয়েছিলাম, যখন পৃথিবীর অধঃস্থানে আমাকে একসাথে বোনা হয়েছিল।
PSA 139:16 তোমার চোখ আমার অগঠিত দেহটি দেখেছিল; আমার জীবনের নির্ধারিত দিনগুলি তোমার বইতে লেখা ছিল জীবনে একদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই।
PSA 139:17 হে ঈশ্বর, তোমার ভাবনাগুলি আমার কাছে কত মূল্যবান! সেগুলির সমষ্টি কী বিপুল!
PSA 139:18 যদি আমি সেগুলি গুনতে যেতাম, তবে সেগুলি বালুকণার চেয়েও সংখ্যায় বেশি হত, যখন আমি জেগে উঠি, তখনও তুমি আমার সঙ্গে আছ।
PSA 139:19 হে ঈশ্বর, যদি তুমি দুষ্টদের ধ্বংস করতে! আমার কাছ থেকে দূর হও, তোমরা যারা রক্তপিপাসু!
PSA 139:20 তোমার সম্বন্ধে তারা মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলে, তোমার বিপক্ষরা তোমার নামের অপব্যবহার করে।
PSA 139:21 হে সদাপ্রভু, আমি কি তাদের ঘৃণা করি না যারা তোমাকে ঘৃণা করে? এবং তাদের কি অবজ্ঞা করি না যারা তোমার বিপক্ষে বিদ্রোহ করে?
PSA 139:22 তাদের জন্য কেবল আমার ঘৃণাই রয়েছে; আমি তাদের আমার শত্রু বলেই গণ্য করি।
PSA 139:23 হে ঈশ্বর, তুমি আমার অনুসন্ধান করো আর আমার হৃদয়ের কথা জানো; আমাকে পরীক্ষা করো আর জানো আমার উদ্বেগের ভাবনা।
PSA 139:24 দেখো, আমার মধ্যে দুষ্টতার পথ পাওয়া যায় কি না, আর আমাকে অনন্ত জীবনের পথে চালাও।
PSA 140:1 সংগীত পরিচালকের জন্য। দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, অনিষ্টকারীদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো; হিংস্র লোকদের কবল থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখো,
PSA 140:2 যারা অন্তরে অনিষ্টের পরিকল্পনা করে, এবং প্রতিদিন যুদ্ধ প্ররোচিত করে,
PSA 140:3 তারা সাপের মতো তাদের জিভ তীক্ষ্ণ করে; কালসাপের বিষ তাদের মুখে।
PSA 140:4 হে সদাপ্রভু, দুষ্টদের হাত থেকে আমাকে সুরক্ষিত রাখো; দুরাচারীদের কবল থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখো, কারণ তারা আমার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
PSA 140:5 অহংকারীরা আমার জন্য গোপনে জাল পেতেছে; তারা সেই জালের দড়ি চারিদিকে বিছিয়েছে, আমার চলার পথে তারা ফাঁদ পেতেছে।
PSA 140:6 আমি সদাপ্রভুকে বলি, “তুমিই আমার ঈশ্বর।” হে সদাপ্রভু, আমার বিনীত প্রার্থনা শোনো।
PSA 140:7 হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমার শক্তিশালী মুক্তিদাতা, যুদ্ধের দিনে তুমি আমার মস্তক আচ্ছাদন করেছ।
PSA 140:8 হে সদাপ্রভু, দুষ্টদের মনোবাসনা পূর্ণ হতে দিয়ো না; তাদের সংকল্প সফল হতে দিয়ো না।
PSA 140:9 আমার জন্য আমার শত্রুরা যে দুষ্ট সংকল্প করেছে তা দিয়েই আমার শত্রুরা ধ্বংস হোক।
PSA 140:10 জ্বলন্ত কয়লা তাদের উপর পড়ুক; আগুনে নিক্ষিপ্ত হোক তারা, নিক্ষিপ্ত হোক কর্দমাক্ত গর্তে, যেন আর উঠতে না পারে।
PSA 140:11 নিন্দুকরা যেন দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে; দুর্ভোগ যেন বিনষ্টকারীদের তাড়া করে বেড়ায়।
PSA 140:12 আমি জানি, সদাপ্রভু দরিদ্রদের পক্ষ অবশ্যই নেন আর অভাবীদের প্রতি ন্যায়বিচার করেন।
PSA 140:13 ধার্মিকেরা নিশ্চয়ই তোমার নামের প্রশংসা করবে, এবং ন্যায়পরায়ণেরা তোমার সান্নিধ্যে বসবাস করবে।
PSA 141:1 দাউদের সংগীত। হে সদাপ্রভু, আমি তোমায় ডাকি, তুমি তাড়াতাড়ি আমার কাছে এসো; আমি যখন ডাকি তখন আমার প্রার্থনায় কর্ণপাত করো।
PSA 141:2 তোমার উদ্দেশে আমার প্রার্থনা সুগন্ধি ধূপের মতো, আর আমার প্রসারিত দু-হাত সান্ধ্য নৈবেদ্যের মতো গ্রহণ করো।
PSA 141:3 হে সদাপ্রভু, আমি যা বলি তা তুমি নিয়ন্ত্রণ করো, আর আমার ঠোঁট দুটিকে পাহারা দাও।
PSA 141:4 আমার হৃদয় যেন মন্দের দিকে আকর্ষিত না হয়, বা অপরাধে অংশ না নেয়। যারা অন্যায় করে তাদের সুস্বাদু খাবারে আমি যেন ভাগ না নিই।
PSA 141:5 ধার্মিক ব্যক্তি আমাকে আঘাত করুক—তা আমার জন্য কৃপা; সে আমাকে তিরস্কার করুক—তা আমার মাথার তেল। আমার মাথা তা অগ্রাহ্য করবে না, কারণ অনিষ্টকারীদের দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে আমি নিত্য প্রার্থনা জানাব।
PSA 141:6 যখন তাদের শাসকদের উঁচু পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করা হবে, দুষ্টরা আমার কথা শুনবে আর তা সঠিক বলে উপলব্ধি করবে।
PSA 141:7 তখন তারা বলবে, “একজন যেমন জমিতে লাঙল দেয় ও চাষ করে, তেমনই আমাদের হাড়গোড় কবরের মুখে ছড়িয়ে আছে।”
PSA 141:8 কিন্তু হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, দেখো আমার দৃষ্টি সাহায্যের জন্য তোমার প্রতি স্থির রয়েছে; আমি তোমাতে শরণ নিয়েছি, আমাকে মৃত্যুর হাতে তুলে দিয়ো না।
PSA 141:9 অনিষ্টকারীদের ফাঁদ থেকে আমাকে সুরক্ষিত রাখো, তাদের জাল থেকে যা তারা আমার জন্য ছড়িয়ে রেখেছে।
PSA 141:10 দুষ্টরা নিজেদের জালেই জড়িয়ে পড়ুক, কিন্তু আমাকে নিরাপদে পার হতে দাও।
PSA 142:1 দাউদের মস্কীল। যখন তিনি গুহার মধ্যে ছিলেন। একটি প্রার্থনা। আমি জোর গলায় সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করি; সদাপ্রভুর দয়ার জন্য আমি অনুনয় করি।
PSA 142:2 আমি তাঁর কাছে আমার অভিযোগের কথা প্রকট করি; তোমার সামনে আমার সংকটের কথা বলি।
PSA 142:3 যখন আমার আত্মা আমার অন্তরে ক্ষীণ হয়, তখন তুমিই আমার চলার পথে লক্ষ্য রাখো। যে পথে আমি চলি, লোকেরা সেই পথে আমার জন্য এক ফাঁদ পেতেছে।
PSA 142:4 তুমি চেয়ে দেখো, আমার ডানদিকে কেউ নেই; আমার জন্য কারও ভাবনা নেই, আমার কোনও আশ্রয় নেই; কেউই আমার জীবনের জন্য চিন্তা করে না।
PSA 142:5 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার কাছে কাঁদি, আমি বলি, “তুমিই আমার আশ্রয়, জীবিতদের দেশে তুমিই আমার অধিকার।”
PSA 142:6 আমার কাতর প্রার্থনা শোনো, কারণ আমি নিদারুণ প্রয়োজনে রয়েছি; যারা আমাকে তাড়না করে, তাদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করো, কারণ তারা আমার থেকেও বেশি শক্তিশালী।
PSA 142:7 আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করো, যেন আমি তোমার নামের প্রশংসা করতে পারি। তখন ধার্মিকেরা আমাকে ঘিরে ধরবে কারণ তুমি আমার প্রতি মঙ্গলময়।
PSA 143:1 দাউদের গীত। হে সদাপ্রভু, আমার প্রার্থনা শোনো, আমার বিনতিতে কর্ণপাত করো; তোমার বিশ্বস্ততায় ও ধার্মিকতায় আমার সহায় হও।
PSA 143:2 তোমার দাসকে বিচারে নিয়ে এসো না, কারণ জীবিত কেউ তোমার দৃষ্টিতে ধার্মিক নয়।
PSA 143:3 আমার শত্রু আমার পশ্চাদ্ধাবন করে, সে আমাকে ভূমিতে চূর্ণ করে, অতীতের মৃত ব্যক্তিদের মতো সে আমাকে অন্ধকারে বাস করায়।
PSA 143:4 তাই আমার আত্মা আমার অন্তরে ক্ষীণ হয়; আমার হৃদয় আমার অন্তরে হতাশাগ্রস্ত হয়।
PSA 143:5 আমি সুদূর অতীতের দিনগুলি স্মরণ করি; আমি তোমার সব কাজে ধ্যান করি, আর তোমার হাত যেসব কাজ করেছে তা বিবেচনা করি।
PSA 143:6 আমি তোমার উদ্দেশে আমার হাত প্রসারিত করি; শুকনো জমির মতো আমার প্রাণ তোমার জন্য তৃষ্ণার্ত।
PSA 143:7 হে সদাপ্রভু, আমাকে তাড়াতাড়ি উত্তর দাও; কারণ আমার আত্মা ক্ষীণ হচ্ছে। তোমার মুখ আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখো না নতুবা আমি তাদের মতো হব যাদের মৃত্যু হয়েছে।
PSA 143:8 প্রতিদিন সকালে তোমার অবিচল প্রেমের বাক্য শোনাও, কারণ আমি তোমার উপর আস্থা রেখেছি। যে পথে আমার চলা উচিত তা আমাকে দেখাও, কারণ আমি তোমাতে আমার জীবন গচ্ছিত রেখেছি।
PSA 143:9 হে সদাপ্রভু, আমার শত্রুদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমি নিজেকে তোমাতেই লুকিয়ে রেখেছি।
PSA 143:10 তোমার ইচ্ছা পূরণ করতে আমাকে শেখাও, কারণ তুমিই আমার ঈশ্বর; তোমার আত্মা দয়ালু আর আমাকে সমতল জমিতে চালাও।
PSA 143:11 তোমার নামের মহিমায়, হে সদাপ্রভু, আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখো; তোমার ধার্মিকতায় আমাকে দুর্দশা থেকে মুক্ত করো।
PSA 143:12 তোমার অবিচল প্রেমের গুণে আমার শত্রুদের চুপ করাও; আমার সব বিপক্ষকে বিনষ্ট করো, কারণ আমি তোমার ভক্তদাস।
PSA 144:1 দাউদের গীত। সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, যিনি আমার শৈল; তিনি আমার হাতকে যুদ্ধ শেখান, আমার আঙুলকে সংগ্রাম শেখান।
PSA 144:2 তিনি আমার প্রেমময় ঈশ্বর ও আমার উচ্চদুর্গ, আমার নিরাপদ আশ্রয় ও রক্ষাকর্তা, আমার ঢাল, আমি তাঁর শরণাগত, যিনি জাতিদের আমার অধীনস্থ করেন।
PSA 144:3 হে সদাপ্রভু, মানুষ কে যে তুমি তাদের যত্ন নাও, সামান্য মানুষ কে যে তুমি তাদের কথা চিন্তা করো?
PSA 144:4 মানুষ নিঃশ্বাসের মতো; তাদের আয়ু ছায়ার মতো যা মিলিয়ে যায়।
PSA 144:5 তোমার আকাশমণ্ডল উন্মুক্ত করো, হে সদাপ্রভু, আর নেমে এসো; পর্বতশ্রেণীকে স্পর্শ করো আর তারা ধোঁয়া নির্গত করবে।
PSA 144:6 বিদ্যুৎ প্রেরণ করো আর শত্রুদের বিক্ষিপ্ত করো; তোমার তির নিক্ষেপ করো আর তাদের ছত্রভঙ্গ করো।
PSA 144:7 ঊর্ধ্বলোক থেকে তোমার হাত প্রসারিত করো; মহা জলরাশি থেকে আর অইহুদিদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করো আর রক্ষা করো;
PSA 144:8 তাদের মুখ মিথ্যায় পরিপূর্ণ, তাদের ডান হাত ছলনায় ভরা।
PSA 144:9 হে আমার ঈশ্বর, আমি তোমার উদ্দেশে এক নতুন গান গাইব; দশ-তারের বীণায় আমি তোমার জন্য সংগীত রচনা করব।
PSA 144:10 তিনি রাজাদের বিজয় দেন এবং তাঁর দাস দাউদকে উদ্ধার করেন। মারাত্মক তরোয়াল থেকে
PSA 144:11 উদ্ধার করো; অইহুদিদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করো, যাদের মুখ মিথ্যায় পূর্ণ, যাদের ডান হাত ছলনায় ভরা।
PSA 144:12 তখন আমাদের ছেলেরা তাদের যৌবনে বেড়ে ওঠা সতেজ গাছের সদৃশ হবে, আর আমাদের মেয়েরা খোদাই করা স্তম্ভস্বরূপ হবে যা প্রাসাদের শোভা বর্ধনকারী।
PSA 144:13 আমাদের শস্যাগার বিবিধ খোরাকে পূর্ণ থাকবে। আমাদের মেষ হাজার গুণ বৃদ্ধি পাবে; এমনকি দশ হাজার গুণ বৃদ্ধি পাবে আমাদের মাঠে;
PSA 144:14 আমাদের বলদগুলি অনেক ভারবহন করবে। কোনও শত্রুপক্ষ দেওয়াল ভেঙে আক্রমণ করবে না, কেউ বন্দিদশায় যাবে না, আমাদের পথে পথে দুর্দশার ক্রন্দন উঠবে না।
PSA 144:15 ধন্য সেই লোকেরা, যাদের পক্ষে এসব সত্য; ধন্য সেই লোকেরা, সদাপ্রভু যাদের ঈশ্বর।
PSA 145:1 দাউদের প্রশংসাগীত। হে আমার ঈশ্বর, আমার রাজা, আমি তোমাকে মহিমান্বিত করব; চিরকাল আমি তোমার নামের প্রশংসা করব।
PSA 145:2 প্রতিদিন আমি প্রশংসা করব আর চিরকাল তোমার নামের উচ্চপ্রশংসা করব।
PSA 145:3 সদাপ্রভু মহান ও অতীব প্রশংসার যোগ্য; কেউ তাঁর মহানতার পরিমাপ করতে পারে না।
PSA 145:4 এক প্রজন্ম তাদের সন্তানসন্ততিদের কাছে তোমার কাজের প্রশংসা করবে; আর তোমার পরাক্রমী কাজকর্ম বর্ণনা করবে।
PSA 145:5 তারা তোমার মহিমার গৌরব ও প্রভা ঘোষণা করবে আর আমি তোমার আশ্চর্য কাজ ধ্যান করব।
PSA 145:6 আর লোকে তোমার ভয়াবহ কাজের কথা বলবে, আর আমি তোমার মহিমা বর্ণনা করব।
PSA 145:7 তারা তোমার অজস্র ধার্মিকতা প্রচার করবে, আর মহানন্দে তোমার ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে গান করবে।
PSA 145:8 সদাপ্রভু কৃপাময় ও স্নেহশীল, ক্রোধে ধীর ও দয়াতে মহান।
PSA 145:9 সদাপ্রভু সকলের প্রতি মঙ্গলময়; নিজের সব সৃষ্টির প্রতি তাঁর করুণা অপার।
PSA 145:10 হে সদাপ্রভু, তোমার সব কাজকর্ম তোমার প্রশংসা করে; তোমার বিশ্বস্ত লোকেরা তোমার উচ্চপ্রশংসা করে।
PSA 145:11 তোমার রাজ্যের মহিমা তারা প্রচার করে, আর তোমার পরাক্রমের কথা বলে,
PSA 145:12 যেন সব মানুষ তোমার পরাক্রমী কাজকর্ম আর তোমার রাজ্যের অপরূপ প্রতাপের কথা জানতে পারে।
PSA 145:13 তোমার রাজত্ব অনন্তকালস্থায়ী রাজত্ব, আর তোমার আধিপত্য বংশপরম্পরায় স্থায়ী। সদাপ্রভু তাঁর সব প্রতিশ্রুতিতে অবিচল, এবং তিনি যা করেন সবকিছুতেই নির্ভরযোগ্য।
PSA 145:14 যারা পতনের সম্মুখীন, সদাপ্রভু তাদের সবাইকে ধরে রাখেন আর যারা অবনত তাদের সবাইকে তিনি তুলে ধরেন।
PSA 145:15 সবার চোখ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে, আর যথাসময়ে তুমি তাদের খাবার জোগাও।
PSA 145:16 তুমি তোমার হাত উন্মুক্ত করো, আর সব জীবন্ত প্রাণীর অভিলাষ পূর্ণ করো।
PSA 145:17 সদাপ্রভু তাঁর সব কাজে ন্যায়পরায়ণ আর যা করেন সবকিছুতেই বিশ্বস্ত।
PSA 145:18 সদাপ্রভু তাদের সবার কাছে আছেন যারা তাঁকে ডাকে, সবার কাছে আছেন যারা তাঁকে সত্যে আহ্বান করে।
PSA 145:19 যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে তিনি তাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেন; তিনি তাদের কান্না শোনেন আর তাদের রক্ষা করেন।
PSA 145:20 যারা তাঁকে ভালোবাসে, তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন, কিন্তু দুষ্টদের সবাইকে তিনি ধ্বংস করবেন।
PSA 145:21 আমার মুখ সদাপ্রভুর প্রশংসা করবে, আর প্রত্যেকটি প্রাণী যুগে যুগে ও চিরকাল তাঁর পবিত্র নামের প্রশংসা করবে।
PSA 146:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 146:2 আমি সারা জীবন সদাপ্রভুর প্রশংসা করব। আমি যতদিন বাঁচব ততদিন আমার ঈশ্বরের প্রশংসা করব।
PSA 146:3 তোমরা অধিপতিদের উপর আস্থা রেখো না, মানুষের উপর রেখো না, যারা রক্ষা করতে পারে না।
PSA 146:4 যখন তাদের প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায় তখন তারা ধুলোতে ফিরে আসে, সেই দিনই তাদের সব পরিকল্পনার অবসান ঘটে।
PSA 146:5 ধন্য সেই ব্যক্তি, যার সহায় যাকোবের ঈশ্বর, ঈশ্বর সদাপ্রভুতেই তার সব প্রত্যাশা।
PSA 146:6 তিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সাগর ও তাদের মধ্যে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা— তিনি চিরকাল বিশ্বস্ত থাকেন।
PSA 146:7 তিনি অত্যাচারিতদের পক্ষে ন্যায়বিচার করেন, আর ক্ষুধার্তদের খাবার জোগান দেন। সদাপ্রভু বন্দিদের মুক্ত করেন।
PSA 146:8 সদাপ্রভু দৃষ্টিহীনকে দৃষ্টি দান করেন, সদাপ্রভু অবনতদের উত্থাপন করেন, সদাপ্রভু ধার্মিকদের প্রেম করেন।
PSA 146:9 সদাপ্রভু বিদেশিদের রক্ষা করেন অনাথ ও বিধবাদের তিনি বহন করেন, কিন্তু তিনি দুষ্টদের সংকল্প ব্যর্থ করেন।
PSA 146:10 সদাপ্রভু চিরকাল রাজত্ব করেন, তোমার ঈশ্বর, হে সিয়োন, বংশানুক্রমে করেন। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 147:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো, আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রশংসা করা কত উত্তম, তাঁর প্রশংসা করা কত মনোরম ও যথাযোগ্য।
PSA 147:2 সদাপ্রভু জেরুশালেমকে গড়ে তোলেন, তিনি নির্বাসিত ইস্রায়েলকে একত্র করেছেন।
PSA 147:3 তিনি ভগ্নচিত্তদের সুস্থ করেন, এবং তাদের সব ক্ষতস্থান তিনি বেঁধে দেন।
PSA 147:4 আকাশের তারাদের সংখ্যা তিনি নির্ণয় করেন, এবং তাদের প্রত্যেককে তিনি নাম ধরে ডাকেন।
PSA 147:5 মহান আমাদের প্রভু ও অতিশয় শক্তিমান, তার বোধশক্তির কোনও সীমা নেই।
PSA 147:6 সদাপ্রভু নম্রচিত্তদের বাঁচিয়ে রাখেন কিন্তু দুষ্টদের ভূমিতে নিক্ষেপ করেন।
PSA 147:7 স্তবসহ সদাপ্রভুর উদ্দেশে ধন্যবাদ করো; বীণার ঝঙ্কারে আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে গান গাও।
PSA 147:8 তিনি মেঘরাশি দিয়ে আকাশকে আচ্ছন্ন করেন; তিনি পৃথিবীতে বৃষ্টি দেন, এবং তিনি পর্বতে ঘাস বৃদ্ধি করেন।
PSA 147:9 তিনি পশুপালের জন্য খাবারের জোগান দেন এবং দাঁড়কাকের শাবকগুলিকে দেন, যখন তারা ডাকে।
PSA 147:10 তিনি ঘোড়ার শক্তিতে আনন্দ করেন না, যোদ্ধার বলে তিনি সন্তুষ্ট হন না;
PSA 147:11 সদাপ্রভু তাদের উপর সন্তুষ্ট যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে, যারা তাঁর অবিচল প্রেমে আস্থা রাখে।
PSA 147:12 হে জেরুশালেম, সদাপ্রভুর গুণকীর্তন করো; হে সিয়োন, তোমার ঈশ্বরের প্রশংসা করো।
PSA 147:13 কারণ তিনি তোমার দরজার খিল দৃঢ় করেন, এবং তিনি তোমার মধ্যে তোমার লোকেদের আশীর্বাদ করেন।
PSA 147:14 তিনি তোমার সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, এবং সেরা গম দিয়ে তোমাকে পরিতৃপ্ত করেন।
PSA 147:15 তিনি তাঁর আদেশ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন; এবং তার বাক্য দ্রুতবেগে ছুটে যায়।
PSA 147:16 তিনি সাদা পশমের মতো বরফ ছড়িয়ে দেন এবং ছাইয়ের মতো তুষার ছিটিয়ে দেন।
PSA 147:17 তিনি নুড়ি-পাথরের মতো শিলা নিক্ষিপ্ত করেন। তাঁর হাড় কাঁপানো শীত কে সহ্য করতে পারে?
PSA 147:18 তিনি তাঁর বাক্য পাঠিয়ে সেই সমস্ত গলিয়ে দেন; তিনি তাঁর বায়ু জাগিয়ে তোলেন আর জল প্রবাহিত হয়।
PSA 147:19 তিনি যাকোবের কাছে তাঁর বাক্য, ইস্রায়েলের কাছে তাঁর বিধি ও অনুশাসন প্রকাশ করেছেন।
PSA 147:20 তিনি অন্য কোনও জাতির জন্য এসব করেননি; কারণ তাঁর বিধিনিয়ম তারা জানে না। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 148:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। আকাশমণ্ডল থেকে সদাপ্রভুর প্রশংসা করো; ঊর্ধ্বলোকে তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 148:2 হে তাঁর সমস্ত স্বর্গদূত, তাঁর প্রশংসা করো; হে তাঁর সমস্ত স্বর্গীয় বাহিনী, তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 148:3 হে সূর্য ও চন্দ্র, তাঁর প্রশংসা করো; হে উজ্জ্বল সব তারা, তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 148:4 হে ঊর্ধ্বতম স্বর্গলোক, তাঁর প্রশংসা করো হে আকাশের ঊর্ধ্বস্থিত জলরাশি, তোমরাও করো।
PSA 148:5 সব সৃষ্টবস্তু সদাপ্রভুর নামের প্রশংসা করুক, কারণ তিনি আদেশ করেছিলেন, আর সেসব সৃষ্টি হয়েছিল,
PSA 148:6 এবং তিনি তাদের চিরকালের জন্য স্থাপন করেছেন, তিনি এক বিধি দিয়েছেন, যা কখনও লুপ্ত হবে না।
PSA 148:7 পৃথিবী থেকে সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, হে বিশাল সব সামুদ্রিক জীব এবং অতল মহাসাগর,
PSA 148:8 বিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টি, তুষার ও মেঘরাশি, বায়ু ও আবহাওয়া, যারা তাঁকে মান্য করে,
PSA 148:9 পর্বত ও সব পাহাড়, ফলের গাছ আর সব দেবদারু গাছ,
PSA 148:10 বন্যপশু আর গবাদি পশু, ক্ষুদ্র প্রাণী এবং উড়ন্ত পাখি,
PSA 148:11 পৃথিবীর রাজারা আর সব জাতি, অধিপতিরা আর পৃথিবীর সব শাসক,
PSA 148:12 যুবকেরা আর যুবতীরা, প্রবীণ লোকেরা আর সব ছেলেমেয়ে।
PSA 148:13 তারা সবাই সদাপ্রভুর নামের প্রশংসা করুক, কারণ শুধু তাঁরই নাম মহিমান্বিত; তাঁর প্রতিপত্তি পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে।
PSA 148:14 তিনি তাঁর প্রজাদের শক্তিশালী করেছেন, তাঁর বিশ্বস্ত লোকেদের সম্মান প্রদান করেছেন, ইস্রায়েলকে করেছেন, যারা তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 149:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। সদাপ্রভুর উদ্দেশে নতুন গান গাও, তাঁর বিশ্বস্ত ভক্তজনের সমাবেশে তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 149:2 ইস্রায়েল তার সৃষ্টিকর্তায় আনন্দ করুক; সিয়োনের লোকেরা তাদের রাজাতে উল্লাস করুক।
PSA 149:3 তারা নৃত্যসহকারে তাঁর নামের প্রশংসা করুক আর খঞ্জনি ও বীণা দিয়ে তাঁর উদ্দেশে সংগীত করুক।
PSA 149:4 কারণ সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের প্রতি প্রসন্ন; তিনি নম্রচিত্তদের বিজয় মুকুটে ভূষিত করেন।
PSA 149:5 তাঁর বিশ্বস্ত ভক্তবৃন্দ তাঁর সম্মানে উল্লাস করুক তারা যখন নিজেদের বিছানায় শুয়ে থাকে তখনও যেন আনন্দগান করে।
PSA 149:6 ঈশ্বরের প্রশংসা তাদের মুখে ধ্বনিত হোক আর তাদের হাতে উভয় দিকে ধারবিশিষ্ট তরোয়াল,
PSA 149:7 জাতিগণের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে আর জাতিদের শাস্তি দিতে,
PSA 149:8 তাদের রাজাদের শিকল দিয়ে বাঁধতে, তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের লোহার শিকল দিয়ে বাঁধতে,
PSA 149:9 তাদের বিরুদ্ধে লিখিত বিচার নিষ্পন্ন করতে— এসব তাঁর সমস্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তির গৌরব। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PSA 150:1 সদাপ্রভুর প্রশংসা করো। ঈশ্বরের পবিত্রস্থানে তাঁর প্রশংসা করো; বিশাল ঊর্ধ্বলোকে তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 150:2 তাঁর পরাক্রমের কীর্তির জন্য তাঁর প্রশংসা করো; তাঁর অতিক্রমকারী মহিমার জন্য তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 150:3 তূরীধ্বনির শব্দে তাঁর প্রশংসা করো, বীণা ও সুরবাহারে তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 150:4 খঞ্জনি ও নৃত্যের তালে তাঁর প্রশংসা করো, তারের যন্ত্রে ও সানাই বাজিয়ে তাঁর প্রশংসা করো,
PSA 150:5 করতাল বাজিয়ে তাঁর প্রশংসা করো, করতালের উচ্চধ্বনিতে তাঁর প্রশংসা করো।
PSA 150:6 শ্বাসবিশিষ্ট সবকিছু সদাপ্রভুর প্রশংসা করুক। সদাপ্রভুর প্রশংসা করো।
PRO 1:1 দাউদের ছেলে, ইস্রায়েলের রাজা শলোমনের হিতোপদেশ:
PRO 1:2 প্রজ্ঞা ও শিক্ষা অর্জনের জন্য; অন্তর্দৃষ্টিমূলক কথা বোঝার জন্য;
PRO 1:3 বিচক্ষণ ব্যবহারের সম্বন্ধে শিক্ষালাভের জন্য, যা কিছু যথার্থ, ন্যায্য ও সুন্দর, তা করার জন্য;
PRO 1:4 অনভিজ্ঞ মানুষদের দূরদর্শিতা, অল্পবয়স্কদের জ্ঞান ও বিচক্ষণতা দানের জন্য—
PRO 1:5 জ্ঞানবানেরা শুনুক ও তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি হোক, এবং বিচক্ষণেরা পথনির্দেশনা লাভ করুক—
PRO 1:6 যেন তারা নীতিবচন ও দৃষ্টান্ত, জ্ঞানবানদের বাণী ও হেঁয়ালি বুঝতে পারে।
PRO 1:7 সদাপ্রভুর ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ, কিন্তু মূর্খেরা প্রজ্ঞা ও শিক্ষা তুচ্ছ করে।
PRO 1:8 হে আমার বাছা, তোমার বাবার উপদেশ শোনো, আর তোমার মায়ের শিক্ষা ত্যাগ কোরো না।
PRO 1:9 এগুলি এক ফুলমালা হয়ে তোমার মাথার শোভা বাড়াবে ও এক হার হয়ে তোমার গলাকে সাজিয়ে তুলবে।
PRO 1:10 হে আমার বাছা, পাপীরা যদি তোমাকে প্রলুব্ধ করে, তুমি তাদের কথায় সম্মত হোয়ো না।
PRO 1:11 তারা যদি বলে, “আমাদের সঙ্গে এসো; নির্দোষের রক্তপাত করার জন্য আমরা ওৎ পেতে থাকি, কয়েকটি নিরীহ মানুষকে মারার জন্য ঘাপটি মেরে থাকি;
PRO 1:12 কবরের মতো আমরা ওদের জীবন্ত গ্রাস করি, ও মৃত্যুর খাদে পড়া মানুষের মতো তাদের পুরোপুরি গ্রাস করি;
PRO 1:13 আমরা সব ধরনের মূল্যবান সামগ্রী পাব ও লুন্ঠিত দ্রব্যে আমাদের বাড়িগুলি ভরিয়ে তুলব;
PRO 1:14 আমাদের সঙ্গে গুটিকাপাতের দান চালো; আমরা সবাই লুটের অর্থ ভাগাভাগি করে নেব”—
PRO 1:15 হে আমার বাছা, তাদের সঙ্গে যেয়ো না, তাদের পথে পা বাড়িয়ো না;
PRO 1:16 কারণ তাদের পা মন্দের দিকে ধেয়ে যায়, তারা রক্তপাত করার জন্য দ্রুতগতিতে দৌড়ায়।
PRO 1:17 যেখানে প্রত্যেকটি পাখি দেখতে পায় সেখানে জাল পাতার কোনো অর্থই হয় না!
PRO 1:18 এইসব লোক নিজেদের রক্তপাত করার জন্যই ওৎ পেতে থাকে; তারা শুধু নিজেদের মারার জন্যই ঘাপটি মেরে থাকে!
PRO 1:19 বাঁকা পথে যারা ধন উপার্জন করতে চায় তাদের সবার এই গতিই হয়; যারা সেই ধন পায় তাদের প্রাণ সেই ধন ছিনিয়ে নেয়।
PRO 1:20 পথে পথে প্রজ্ঞা চিৎকার করে বেড়ায়, প্রকাশ্য চকে সে তার সুর চড়ায়;
PRO 1:21 প্রাচীরের মাথায় উঠে সে ডাক ছাড়ে, নগরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে সে বক্তৃতা দেয়:
PRO 1:22 “তোমরা যারা অনভিজ্ঞ মানুষ, আর কত দিন তোমরা তোমাদের সরলতা ভালোবাসবে? আর কত দিন ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীরা ঠাট্টা করে আনন্দ পাবে ও মূর্খেরা জ্ঞানকে ঘৃণা করবে?
PRO 1:23 আমার ভর্ৎসনা দ্বারা অনুতপ্ত হও! তখন আমি তোমাদের কাছে আমার ভাবনাচিন্তা ঢেলে দেব, আমি তোমাদের কাছে আমার শিক্ষামালা জ্ঞাত করব।
PRO 1:24 কিন্তু যখন আমি ডাকলাম তোমরা সে ডাক প্রত্যাখ্যান করেছ, ও আমি হাত বাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কেউ মনোযোগ দাওনি,
PRO 1:25 যেহেতু তোমরা আমার সব পরামর্শ উপেক্ষা করেছ ও আমার ভর্ৎসনা শুনতে চাওনি,
PRO 1:26 তাই বিপর্যয় যখন তোমাদের আঘাত করবে তখন আমি হাসব; চরম দুর্দশা যখন তোমাদের নাগাল ধরে ফেলবে তখন আমি বিদ্রুপ করব—
PRO 1:27 চরম দুর্দশা যখন ঝড়ের মতো তোমাদের নাগাল ধরে ফেলবে, বিপর্যয় যখন ঘূর্ণিঝড়ের মতো তোমাদের উপরে ধেয়ে আসবে, মর্মান্তিক যন্ত্রণা ও দুঃখকষ্ট যখন তোমাদের আচ্ছন্ন করবে।
PRO 1:28 “তখন তারা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি উত্তর দেব না; তারা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় খুঁজে পাবে না,
PRO 1:29 যেহেতু তারা জ্ঞানকে ঘৃণা করেছে ও সদাপ্রভুকে ভয় করতে চায়নি।
PRO 1:30 যেহেতু তারা আমার পরামর্শ নিতে চায়নি ও আমার ভর্ৎসনা পদদলিত করেছে,
PRO 1:31 তাই তারা নিজেদের আচরণের ফলভোগ করবে ও তাদের ষড়যন্ত্রের ফলে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
PRO 1:32 কারণ অনভিজ্ঞ লোকদের খামখেয়ালীপনাই তাদের হত্যা করবে, ও মূর্খদের আত্মপ্রসাদই তাদের ধ্বংস করবে;
PRO 1:33 কিন্তু যে আমার কথা শোনে সে নিরাপদে বেঁচে থাকবে ও অনিষ্টের ভয় না করে স্বচ্ছন্দে থাকবে।”
PRO 2:1 হে আমার বাছা, তুমি যদি আমার কথা শোনো ও আমার আদেশগুলি হৃদয়ে সঞ্চয় করে রাখো,
PRO 2:2 প্রজ্ঞার প্রতি কর্ণপাত করো ও বুদ্ধিতে মনোনিবেশ করো—
PRO 2:3 সত্যিই, তুমি যদি অন্তর্দৃষ্টিকে ডাক দাও ও বুদ্ধি লাভের জন্য জোর গলায় কাকুতিমিনতি করো,
PRO 2:4 ও যদি রুপোর মতো তার খোঁজ করো ও গুপ্তধনের মতো তা খুঁজে বেড়াও,
PRO 2:5 তবেই তুমি সদাপ্রভুর ভয় বুঝতে পারবে ও ঈশ্বরের জ্ঞান খুঁজে পাবে।
PRO 2:6 কারণ সদাপ্রভুই প্রজ্ঞা দান করেন; তাঁর মুখ থেকেই জ্ঞান ও বুদ্ধি বের হয়।
PRO 2:7 ন্যায়পরায়ণদের জন্য তিনি সাফল্য সঞ্চয় করে রাখেন, যাদের চলন অনিন্দনীয়, তাদের জন্য তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়ান,
PRO 2:8 কারণ তিনি ধার্মিকের পথ পাহারা দেন ও তাঁর বিশ্বস্তজনেদের গতিপথ রক্ষা করেন।
PRO 2:9 তখন তুমি বুঝবে ন্যায্য ও যথাযথ ও উপযুক্ত—প্রত্যেক সঠিক পথ কী।
PRO 2:10 কারণ তোমার হৃদয়ে প্রজ্ঞা প্রবেশ করবে, ও জ্ঞান তোমার প্রাণের পক্ষে আনন্দদায়ক হবে।
PRO 2:11 বিচক্ষণতা তোমাকে রক্ষা করবে, ও বুদ্ধি তোমাকে পাহারা দেবে।
PRO 2:12 প্রজ্ঞা তোমাকে দুষ্টলোকের পথ থেকে উদ্ধার করবে, সেইসব লোকের হাত থেকে করবে যারা বিকৃত কথা বলে,
PRO 2:13 যারা অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে চলার জন্য সোজা পথ ত্যাগ করেছে,
PRO 2:14 যারা অন্যায় করে আনন্দ পায় ও মন্দের বিকৃতমনস্কতায় আনন্দিত হয়,
PRO 2:15 যাদের পথ কুটিল ও যারা তাদের আচরণে প্রতারণাপূর্ণ।
PRO 2:16 প্রজ্ঞা তোমাকে ব্যভিচারিণীর হাত থেকেও উদ্ধার করবে, সম্মোহনী কথা বলা স্বৈরিণী মহিলার হাত থেকেও করবে,
PRO 2:17 যে তার যৌবনাবস্থাতেই স্বামীকে ত্যাগ করেছে ও ঈশ্বরের সামনে করা তার চুক্তি উপেক্ষা করেছে।
PRO 2:18 নিশ্চয় তার বাড়ি মৃত্যুর দিকে পা বাড়ায় ও তার পথ মৃত মানুষের আত্মাদের দিকে এগিয়ে যায়।
PRO 2:19 যারা তার কাছে যায় তারা কেউ আর ফিরে আসে না বা জীবনের পথও অর্জন করে না।
PRO 2:20 এইভাবে তুমি সুশীলদের পথে চলবে ও ধার্মিকদের পথ অবলম্বন করবে।
PRO 2:21 কারণ ন্যায়পরায়ণরাই দেশে বসবাস করবে, ও অনিন্দনীয়রাই সেখানে অবশিষ্ট থাকবে;
PRO 2:22 কিন্তু দুষ্টেরা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, ও অবিশ্বস্ত লোকেরা সেখান থেকে নির্মূল হবে।
PRO 3:1 হে আমার বাছা, তুমি আমার শিক্ষা ভুলে যেয়ো না, কিন্তু তোমার হৃদয়ে আমার আদেশগুলি সঞ্চয় করে রেখো,
PRO 3:2 কারণ সেগুলি তোমার আয়ু বহু বছর বাড়িয়ে তুলবে ও তোমার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।
PRO 3:3 ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা যেন কখনও তোমাকে ত্যাগ করে না যায়; সেগুলি তোমার গলায় বেঁধে রাখো, সেগুলি তোমার হৃদয়-ফলকে লিখে রাখো।
PRO 3:4 তবেই তুমি ঈশ্বরের ও মানুষের দৃষ্টিতে অনুগ্রহ ও সুখ্যাতি লাভ করবে।
PRO 3:5 তুমি সর্বান্তঃকরণে সদাপ্রভুর উপর আস্থা রাখো ও নিজের বিচক্ষণতার উপর নির্ভর কোরো না;
PRO 3:6 তোমার সমস্ত পথে তাঁর বশ্যতাস্বীকার করো, ও তিনি তোমার পথগুলি সোজা করে দেবেন।
PRO 3:7 নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান হোয়ো না; সদাপ্রভুকে ভয় করো ও কুকর্ম এড়িয়ে চলো।
PRO 3:8 এটি তোমার দেহে স্বাস্থ্য ফিরাবে ও তোমার অস্থির পুষ্টিসাধন করবে।
PRO 3:9 সদাপ্রভুর সম্মান করো তোমার ধনসম্পদ ও তোমার সমস্ত ফসলের অগ্রিমাংশ দিয়ে;
PRO 3:10 তবেই তোমার গোলাঘরগুলি শস্যে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, ও ভাঁটিগুলি নতুন দ্রাক্ষারসে উপচে পড়বে।
PRO 3:11 হে আমার বাছা, সদাপ্রভুর শাসন তুচ্ছ কোরো না, ও তাঁর ভর্ৎসনা ক্ষতিকর বলে মনে কোরো না,
PRO 3:12 কারণ সদাপ্রভু যাদের প্রেম করেন, তাদেরই শাস্তি দেন, যেভাবে একজন বাবা তাঁর প্রিয় ছেলেকে দেন।
PRO 3:13 তারাই আশীর্বাদধন্য যারা প্রজ্ঞা খুঁজে পায়, যারা বিচক্ষণতা লাভ করে,
PRO 3:14 কারণ প্রজ্ঞা রুপোর চেয়েও বেশি লাভজনক ও সোনার চেয়েও ভালো প্রতিদান দেয়।
PRO 3:15 প্রজ্ঞা পদ্মরাগমণির চেয়েও বেশি মূল্যবান; তোমার আকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছুকেই তার সাথে তুলনা করা যায় না।
PRO 3:16 প্রজ্ঞার ডান হাতে দীর্ঘ পরমায়ু আছে; বাঁ হাতে ধন ও সম্মান আছে।
PRO 3:17 তার পথগুলি সুখকর পথ, ও তার সব পথে শান্তি আছে।
PRO 3:18 যারা প্রজ্ঞাকে ধরে রাখে তাদের কাছে সে এক জীবনবৃক্ষ; যারা তাকে অটলভাবে ধরে রাখে তারা আশীর্বাদধন্য হবে।
PRO 3:19 সদাপ্রভু প্রজ্ঞা দ্বারাই পৃথিবীর ভিত্তিমূল স্থাপন করেছেন, বিচক্ষণতা দ্বারাই তিনি আকাশমণ্ডলকে যথাস্থানে রেখেছেন;
PRO 3:20 তাঁর জ্ঞানের দ্বারাই গভীর জলরাশি বিভক্ত হয়েছিল, ও মেঘরাশি শিশির বর্ষণ করে।
PRO 3:21 হে আমার বাছা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা যেন তোমার দৃষ্টি-বহির্ভূত না হয়, সূক্ষ্ম বিচার ও বিচক্ষণতা অক্ষুণ্ণ রেখো;
PRO 3:22 তোমার জন্য সেগুলি জীবনস্বরূপ হবে, তোমার গলার শোভাবর্ধক এক অলংকার হবে।
PRO 3:23 তখন তুমি নিরাপদে তোমার পথে চলে যাবে, ও তোমার পায়ে হোঁচট লাগবে না।
PRO 3:24 তুমি যখন শুয়ে থাকবে, তখন তুমি ভয় পাবে না; তুমি যখন শুয়ে থাকবে, তখন তোমার ঘুমও তৃপ্তিদায়ক হবে।
PRO 3:25 আকস্মিক বিপর্যয় দেখে ভয় পাবে না বা দুষ্টদের সর্বনাশ হতে দেখেও ভয় পাবে না,
PRO 3:26 কারণ সদাপ্রভু তোমার পাশে দাঁড়াবেন ও তোমার পা-কে ফাঁদে পড়া থেকে তিনিই রক্ষা করবেন।
PRO 3:27 যাদের মঙ্গল করা উচিত তাদের মঙ্গল করতে অসম্মত হোয়ো না, যখন তা করার ক্ষমতা তোমার আছে।
PRO 3:28 তোমার প্রতিবেশীকে বোলো না, “আগামীকাল আবার এসো ও আমি তোমাকে তা দেব”— যখন তোমার কাছেই তা আছে।
PRO 3:29 তোমার সেই প্রতিবেশীর অনিষ্ট করার ষড়যন্ত্র কোরো না, যে তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার পাশেই বসবাস করছে।
PRO 3:30 অকারণে কাউকে দোষারোপ কোরো না— যখন সে তোমার কোনও ক্ষতি করেনি।
PRO 3:31 হিংস্র প্রকৃতির মানুষকে হিংসা কোরো না বা তাদের কোনও পথ মনোনীত কোরো না।
PRO 3:32 কারণ সদাপ্রভু উচ্ছৃঙ্খলদের ঘৃণা করেন কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের সাথে তিনি ঘনিষ্ঠতা বাড়ান।
PRO 3:33 দুষ্টের বাড়ির উপরে সদাপ্রভুর অভিশাপ নেমে আসে, কিন্তু ধার্মিকের ঘরকে তিনি আশীর্বাদ করেন।
PRO 3:34 অহংকারী ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের তিনি বিদ্রুপ করেন কিন্তু নম্র ও নিপীড়িতদের প্রতি তিনি অনুগ্রহ দেখান।
PRO 3:35 জ্ঞানবানেরা সম্মানের অধিকারী হয়, কিন্তু মূর্খেরা শুধু লজ্জাই পায়।
PRO 4:1 হে আমার বাছারা, একজন বাবার উপদেশ শোনো; মনোযোগ দাও ও বিচক্ষণতা লাভ করো।
PRO 4:2 আমি তোমাদের নির্ভরযোগ্য শিক্ষা দিচ্ছি, তাই আমার দেওয়া শিক্ষা পরিত্যাগ কোরো না।
PRO 4:3 কারণ আমিও এক সময় আমার বাবার ছেলে ছিলাম, তখনও সুকুমার ছিলাম, ও আমার মায়ের দ্বারা লালিত হয়েছিলাম।
PRO 4:4 তখন বাবা আমাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, ও বলেছিলেন, “সর্বান্তঃকরণে আমার বলা কথাগুলি ধরে রেখো; আমার আদেশগুলি পালন কোরো, ও তুমি বেঁচে যাবে।
PRO 4:5 প্রজ্ঞা অর্জন করো, বিচক্ষণতা অর্জন করো; আমার কথাগুলি ভুলে যেয়ো না বা সেগুলি থেকে সরে যেয়ো না।
PRO 4:6 প্রজ্ঞাকে পরিত্যাগ কোরো না, ও সে তোমাকে রক্ষা করবে; তাকে ভালোবেসো, ও সে তোমাকে পাহারা দেবে।
PRO 4:7 প্রজ্ঞার আরম্ভ এইরকম: প্রজ্ঞা অর্জন করো। এর মূল্যরূপে তোমার যথাসর্বস্য দিতে হলেও, বিচক্ষণতা অর্জন করো।
PRO 4:8 তাকে লালনপালন করো, ও সে তোমাকে উন্নত করবে; তাকে সাগ্রহে গ্রহণ করো, ও সে তোমাকে সম্মানিত করবে।
PRO 4:9 সে তোমার মাথার শোভাবর্ধন করার জন্য এক ফুলমালা দেবে ও তোমাকে চমৎকার এক মুকুট উপহার দেবে।”
PRO 4:10 হে আমার বাছা, শোনো, আমি যা বলি তা গ্রহণ করো, ও তোমার জীবনের আয়ু সুদীর্ঘ হবে।
PRO 4:11 আমি তোমাকে প্রজ্ঞার পথের বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি ও সোজা পথে চালাচ্ছি।
PRO 4:12 তুমি যখন চলবে, তোমার পদক্ষেপ ব্যাহত হবে না; তুমি যখন দৌড়াবে, তখন হোঁচট খাবে না।
PRO 4:13 উপদেশ ধরে রেখো, তা ছেড়ে দিয়ো না; তা ভালোভাবে পাহারা দাও, কারণ তাই তোমার জীবন।
PRO 4:14 দুষ্টদের পথে পা বাড়িয়ো না বা অনিষ্টকারীদের পথে হেঁটো না।
PRO 4:15 সে পথ এড়িয়ে চলো, সে পথে ভ্রমণ কোরো না; সেখান থেকে ফিরে এসো ও নিজের পথে চলে যাও।
PRO 4:16 কারণ অনিষ্ট না করা পর্যন্ত তারা বিশ্রাম নিতে পারে না; কাউকে হোঁচট না খাওয়ানো পর্যন্ত তাদের চোখে ঘুম আসে না।
PRO 4:17 তারা দুষ্টতার রুটি খায় ও হিংস্রতার দ্রাক্ষারস পান করে।
PRO 4:18 ধার্মিকদের পথ প্রভাতি সূর্যের মতো, যা মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ক্রমাগত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতেই থাকে।
PRO 4:19 কিন্তু দুষ্টদের পথ ঘন অন্ধকারের মতো; তারা জানেই না কীসে তারা হোঁচট খায়।
PRO 4:20 হে আমার বাছা, আমি যা বলি তাতে মনোযোগ দাও; আমার কথায় কর্ণপাত করো।
PRO 4:21 সেগুলি তোমার দৃষ্টির অগোচর হতে দিয়ো না, সেগুলি তোমার হৃদয়ে গেঁথে রাখো;
PRO 4:22 কারণ যারা সেগুলি খুঁজে পায় তাদের পক্ষে সেগুলি জীবন ও তাদের সারা শরীরের স্বাস্থ্যস্বরূপ।
PRO 4:23 সর্বোপরি, তোমার হৃদয়কে পাহারা দিয়ে রাখো, কারণ তুমি যাই কিছু করো না কেন, তা সেখান থেকেই প্রবাহিত হয়।
PRO 4:24 তোমার মুখকে নষ্টামি-মুক্ত রাখো; তোমার ঠোঁট থেকে নীতিভ্রষ্ট কথাবার্তা দূরে সরিয়ে রাখো।
PRO 4:25 তোমার চোখ সোজা সামনে তাকিয়ে থাকুক; স্থিরদৃষ্টিতে সরাসরি সামনের দিকে তাকাও।
PRO 4:26 তোমার হাঁটা পথের দিকে সতর্ক নজর দাও ও তোমার সমস্ত পথে অবিচল হও।
PRO 4:27 ডাইনে বা বাঁয়ে ফিরো না; মন্দ থেকে তোমার পা দূরে সরিয়ে রাখো।
PRO 5:1 হে আমার বাছা, আমার প্রজ্ঞায় মনোযোগ দাও, আমার দূরদর্শী কথাবার্তায় কর্ণপাত করো,
PRO 5:2 যেন তুমি বিচক্ষণতা বজায় রাখতে পারো ও তোমার ঠোঁট যেন জ্ঞান অক্ষুণ্ণ রাখে।
PRO 5:3 কারণ ব্যভিচারিণীর ঠোঁট থেকে মধু ঝরে, ও তার কথাবার্তা তেলের চেয়েও মসৃণ;
PRO 5:4 কিন্তু শেষে দেখা যায় সে পিত্তের মতো তেতো, দুদিকে ধারবিশিষ্ট তরোয়ালের মতো ধারালো।
PRO 5:5 তার পা মৃত্যুর দিকে নেমে যায়; তার পদক্ষেপ সোজা কবরে গিয়ে পৌঁছায়।
PRO 5:6 সে জীবনের পথের বিষয়ে কিছুই ভাবে না; সে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু সে তা বুঝতেও পারে না।
PRO 5:7 এখন তবে, হে আমার বাছারা, আমার কথা শোনো; আমি যা বলছি তা থেকে মুখ ফিরিয়ো না।
PRO 5:8 সেই মহিলা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলো, তার বাড়ির দরজার কাছে যেয়ো না,
PRO 5:9 পাছে তুমি অন্যান্য লোকজনের কাছে তোমার সম্মান হারাও ও নিষ্ঠুর মানুষের কাছে তোমার মর্যাদা হারাও,
PRO 5:10 পাছে অপরিচিত লোকেরা তোমার ধনসম্পদ ভোগ করে ও তোমার পরিশ্রম অন্যের বাড়িঘর সমৃদ্ধ করে।
PRO 5:11 জীবনের শেষকালে পৌঁছে তুমি গভীর আর্তনাদ করবে, যখন তোমার মাংস ও শরীর ক্ষয়ে যাবে।
PRO 5:12 তুমি বলবে, “আমি শৃঙ্খলাপরায়ণতাকে কতই না ঘৃণা করতাম! আমার হৃদয় সংশোধনকে কতই না পদদলিত করত!
PRO 5:13 আমি আমার শিক্ষকদের বাধ্য হইনি বা আমার উপদেশকদের কথায় কর্ণপাত করিনি।
PRO 5:14 আর আমি ঈশ্বরের লোকদের সমাজে অচিরেই চরম অসুবিধায় পড়েছিলাম।”
PRO 5:15 নিজের জলাধার থেকেই তুমি জলপান করো, নিজের কুয়ো থেকেই প্রবাহমান জলপান করো।
PRO 5:16 তোমার ঝরনা কি পথঘাট ভাসিয়ে দেবে, তোমার জলপ্রবাহ কি নগরের চকে বয়ে যাবে?
PRO 5:17 তা শুধু তোমারই হোক, অপরিচিত লোকেরা যেন কখনও তাতে ভাগ না বসায়।
PRO 5:18 তোমার ফোয়ারা আশীর্বাদধন্য হোক, ও তুমি তোমার যৌবনাবস্থার স্ত্রীতে আনন্দ উপভোগ করো।
PRO 5:19 সে এক প্রেমময় হরিণী, এক সুতনু মৃগ— তার স্তন দুটি সর্বদা তোমাকে তৃপ্তি দিক, তার প্রেমে তুমি সর্বক্ষণ মত্ত হয়ে থাকো।
PRO 5:20 কেন, হে আমার বাছা, অন্য একজনের স্ত্রীতে মত্ত হবে? কেন এক স্বৈরিণী নারীর বক্ষ আলিঙ্গন করবে?
PRO 5:21 কারণ তোমার সব চালচলন সদাপ্রভু লক্ষ্য রাখেন, ও তিনি তোমার সব গতিবিধি পরীক্ষা করেন।
PRO 5:22 দুষ্টদের দুষ্কর্মগুলি তাদের ফাঁদে ফেলে; তাদের পাপের দড়িগুলি তাদেরই শক্ত করে বেঁধে ফেলে।
PRO 5:23 শৃঙ্খলাপরায়ণতার অভাবে তারা মারা যায়, নিজেদের মহামূর্খতার দরুন তারা বিপথগামী হয়।
PRO 6:1 হে আমার বাছা, তুমি যদি তোমার প্রতিবেশীর জামিনদার হয়েছ, যদি অপরিচিত কোনও লোকের ঋণ শোধ করার দায়িত্ব নিয়েছ,
PRO 6:2 তবে তুমি তোমার বলা কথার জালেই ধরা পড়েছ, তোমার মুখের কথাই তোমাকে ফাঁদে ফেলেছে।
PRO 6:3 তাই হে আমার বাছা, নিজেকে মুক্ত করার জন্য তুমি এরকম করো, যেহেতু তুমি তোমার প্রতিবেশীর হাতে গিয়ে পড়েছ: যাও—অবসন্ন হয়ে না পড়া পর্যন্ত— ও তোমার প্রতিবেশীকে বিশ্রাম নিতে দিয়ো না!
PRO 6:4 তোমার চোখে ঘুম নেমে আসতে দিয়ো না, তোমার চোখের পাতাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হতে দিয়ো না।
PRO 6:5 শিকারির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া গজলা হরিণের মতো, পাখি-শিকারির ফাঁদ থেকে মুক্ত পাখির মতো তুমি নিজেকে মুক্ত করো।
PRO 6:6 হে অলস, তুমি পিঁপড়েদের কাছে যাও; তাদের চালচলন বিবেচনা করো ও জ্ঞানবান হও!
PRO 6:7 তাদের কোনও সেনাপতি নেই, কোনও তত্ত্বাবধায়ক বা শাসনকর্তাও নেই,
PRO 6:8 তবুও তারা গ্রীষ্মকালে রসদ মজুত করে রাখে, ও ফসল কাটার মরশুমে খাদ্য সংগ্রহ করে রাখে।
PRO 6:9 হে অলস, আর কতক্ষণ তুমি সেখানে শুয়ে থাকবে? কখন তুমি ঘুম থেকে উঠবে?
PRO 6:10 আর একটু ঘুম, আর একটু তন্দ্রা, হাত পা গুটিয়ে আরও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া—
PRO 6:11 ও দারিদ্র এক চোরের মতো ও অভাব এক সশস্ত্র সৈনিকের মতো তোমার উপরে এসে পড়বে।
PRO 6:12 এক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি ও এক দুর্জন, যারা অশুদ্ধ ভাষা মুখে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়,
PRO 6:13 যারা তাদের চোখ দিয়ে বিদ্বেষপূর্ণভাবে ইশারা করে, পা দিয়ে সংকেত দেয় ও আঙুল দিয়ে ইশারা করে,
PRO 6:14 যারা হৃদয়ে প্রতারণা পুষে রেখে কুচক্রান্ত করে— তারা সর্বক্ষণ মতবিরোধ উৎপন্ন করে।
PRO 6:15 তাই এক পলকেই তাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে; আচমকাই তারা ধ্বংস হয়ে যাবে—এর কোনও বিহিত হবে না।
PRO 6:16 ছটি জিনিস সদাপ্রভু ঘৃণা করেন, সাতটি জিনিস তাঁর কাছে ঘৃণিত;
PRO 6:17 উদ্ধত দৃষ্টি, মিথ্যাবাদী জিভ, নির্দোষের রক্তপাতকারী হাত,
PRO 6:18 দুষ্ট ফন্দি আঁটা হৃদয়, অনিষ্টের দিকে বেগে ধাবমান পা,
PRO 6:19 মিথ্যা কথা উগরে দেওয়া মিথ্যাসাক্ষী ও এমন এক লোক যে সমাজে মতবিরোধ উৎপন্ন করে।
PRO 6:20 হে আমার বাছা, তোমার বাবার আদেশ পালন করো ও তোমার মায়ের শিক্ষা পরিত্যাগ কোরো না।
PRO 6:21 সেগুলি সর্বক্ষণ তোমার হৃদয়ে গেঁথে রেখো; তোমার গলার চারপাশে বেঁধে রেখো।
PRO 6:22 তুমি যখন চলাফেরা করবে, তখন সেগুলি তোমাকে পথ দেখাবে; তুমি যখন ঘুমাবে, তখন সেগুলি তোমাকে পাহারা দেবে; তুমি যখন জেগে উঠবে, তখন সেগুলি তোমার সাথে কথা বলবে।
PRO 6:23 কারণ এই আদেশটি এক প্রদীপ, এই শিক্ষাটি এক আলো, এবং সংশোধন ও উপদেশ— এগুলি হল জীবনের পথ,
PRO 6:24 যা তোমাকে প্রতিবেশীর স্ত্রী থেকে, স্বৈরিণী স্ত্রীর স্নিগ্ধ কথাবার্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে।
PRO 6:25 তার সৌন্দর্য দেখে তুমি অন্তরে কামভাব জাগিয়ে তুলো না বা সে যেন তার চোখের মায়ায় তোমাকে বন্দি না করে ফেলে।
PRO 6:26 কারণ এক টুকরো রুটির বিনিময়ে বেশ্যাকে পাওয়া যায়, কিন্তু পরস্ত্রী তোমার প্রাণটিই শিকার করে বসবে।
PRO 6:27 একজন মানুষ কোলে আগুন রাখবে আর তার পোশাক পুড়বে না, এও কি সম্ভব?
PRO 6:28 একজন মানুষ জ্বলন্ত কয়লার উপর দিয়ে হাঁটবে আর তার পা ঝলসাবে না, এও কি সম্ভব?
PRO 6:29 যে পরস্ত্রীর সাথে শোয় তার দশাও এরকমই হয়; যে সেই স্ত্রীকে স্পর্শ করে তাকে শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় না।
PRO 6:30 যে চোর খিদের জ্বালায় ভুগে খিদে মেটানোর জন্য চুরি করে তাকে লোকেরা ঘৃণা করে না।
PRO 6:31 অথচ সে যদি ধরা পড়ে, তাকেও সাতগুণ ফিরিয়ে দিতে হবে, এর জন্য যদিও বা তার বাড়ির সব ধনসম্পদ হারাতে হয়, তাও তাকে তা দিতেই হবে।
PRO 6:32 কিন্তু যে ব্যভিচার করে তার কোনও বোধবুদ্ধি নেই; যে কেউ এরকম করে সে নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলে।
PRO 6:33 আঘাত ও অপমানই তার প্রাপ্য, ও তার লজ্জা কখনোই ঘুচবে না।
PRO 6:34 কারণ ঈর্ষা একজন স্বামীর ক্ষিপ্ততা জাগিয়ে তোলে, ও প্রতিশোধ নেওয়ার সময় সে কোনও দয়া দেখাবে না।
PRO 6:35 সে কোনও ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবে না; সে ঘুস প্রত্যাখ্যান করবে, পরিমাণে তা যতই বেশি হোক না কেন।
PRO 7:1 হে আমার বাছা, আমার কথাগুলি মেনে চলো ও তোমার অন্তরে আমার আদেশগুলি মজুত করে রাখো।
PRO 7:2 আমার আদেশগুলি পালন করো ও তুমি বেঁচে থাকবে; চোখের মণির মতো করে আমার শিক্ষামালা রক্ষা করো।
PRO 7:3 তোমার আঙুলে সেগুলি বেঁধে রেখো; তোমার হৃদয়-ফলকে সেগুলি লিখে রেখো।
PRO 7:4 প্রজ্ঞাকে বলো, “তুমি আমার বোন,” ও দূরদর্শিতাকে বলো, “তুমি আমার আত্মীয়।”
PRO 7:5 তারা তোমাকে ব্যভিচারিণীর কাছ থেকে, ও সম্মোহনী কথা বলা স্বৈরিণী নারীর কাছ থেকেও দূরে সরিয়ে রাখবে।
PRO 7:6 আমার বাড়ির জানালায় জাফরি দিয়ে আমি নিচের দিকে তাকালাম।
PRO 7:7 অনভিজ্ঞ লোকদের দিকে আমার নজর গেল, যুবকদের মধ্যে আমি লক্ষ্য করলাম, এমন একজন যুবককে, যার কোনও বোধবুদ্ধি নেই।
PRO 7:8 সে ওই মহিলার বাড়ির পাশের গলি দিয়ে যাচ্ছিল, তার বাড়ির দিকেই হেঁটে যাচ্ছিল
PRO 7:9 গোধূলিবেলায়, দিন যখন ঢলে পড়ছিল, ও রাতের অন্ধকারও নেমে আসছিল।
PRO 7:10 তখন একজন মহিলা তার সাথে দেখা করার জন্য বেরিয়ে এল, সে এক বেশ্যার মতো পোশাক পরেছিল ও তার উদ্দেশ্য ধূর্ত ছিল।
PRO 7:11 (সে অদম্য ও বেপরোয়া, তার পা কখনও ঘরে থাকে না;
PRO 7:12 সে কখনও রাস্তায় যায়, আবার কখনও চকে, কোনায় কোনায় সে ওৎ পেতে থাকে)
PRO 7:13 সে সেই যুবককে জড়িয়ে ধরে চুমু দিল ও নির্লজ্জ মুখে বলল:
PRO 7:14 “আজ আমি আমার ব্রত পূরণ করেছি, ও ঘরে আমার মঙ্গলার্থক বলি থেকে খাবার সরিয়ে রেখেছি।
PRO 7:15 তাই তোমার সাথে দেখা করার জন্য আমি বের হয়ে এসেছি; আমি তোমার খোঁজ করেছিলাম ও তোমাকে খুঁজে পেয়েছি!
PRO 7:16 আমার বিছানায় আমি মিশর থেকে আনা রঙিন মসিনার চাদর পেতেছি।
PRO 7:17 আমার বিছানাটি আমি গন্ধরস, অগুরু ও দারুচিনি দিয়ে সুবাসিত করেছি।
PRO 7:18 এসো, সকাল পর্যন্ত আমরা ভালোবাসার গভীর রসে মত্ত হই; নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা উপভোগ করি!
PRO 7:19 আমার স্বামী ঘরে নেই; সে দীর্ঘ যাত্রায় গিয়েছে।
PRO 7:20 সে অর্থে ভরা থলি নিয়ে গিয়েছে ও পূর্ণিমার আগে সে ঘরে ফিরছে না।”
PRO 7:21 প্ররোচনামূলক কথা বলে সে যুবকটিকে বিপথে পরিচালিত করল; সে তার স্নিগ্ধ কথাবার্তা দিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করল।
PRO 7:22 তখনই সে মহিলাটির অনুগামী হল যেভাবে বলদ জবাই হওয়ার জন্য এগিয়ে যায়, যেভাবে হরিণ ফাঁসে পা গলায়
PRO 7:23 যতক্ষণ না তির তার যকৃৎ বিদ্ধ করে, ঠিক যেভাবে পাখি উড়ে গিয়ে ফাঁদে পড়ে, আর জানতেও পারে না যে এতে তার প্রাণহানি হবে।
PRO 7:24 তবে এখন, হে আমার বাছারা, আমার কথা শোনো; আমি যা বলি তাতে মনোযোগ দাও।
PRO 7:25 তোমাদের হৃদয় যেন সেই মহিলার পথের দিকে না ফেরে বা পথভ্রষ্ট হয়ে তার পথে চলে না যায়।
PRO 7:26 অনেকেই তার আঘাতের শিকার হয়েছে; তার দ্বারা নিহত লোকের সংখ্যা প্রচুর।
PRO 7:27 তার বাড়িটি হল কবরে যাওয়ার রাজপথ, যা মৃত্যুলোকের দিকে এগিয়ে দেয়।
PRO 8:1 প্রজ্ঞা কি ডাক দেয় না? বিচক্ষণতা কি তার সুর চড়ায় না?
PRO 8:2 পথ বরাবর সবচেয়ে উঁচু জায়গায়, পথগুলি যেখানে মিলিত হয়, সেখানে গিয়ে সে দাঁড়ায়;
PRO 8:3 যে দরজা দিয়ে নগরে ঢোকা হয়, তার পাশে দাঁড়িয়ে, প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে, সে জোরে চিৎকার করে:
PRO 8:4 “ওহে জনতা, আমি তোমাদেরই ডাকছি; সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশে আমি সুর চড়াচ্ছি।
PRO 8:5 তোমরা যারা অনভিজ্ঞ, তোমরা দূরদর্শিতা অর্জন করো; তোমরা যারা মূর্খ, তোমরা এতে মন দাও।
PRO 8:6 শোনো, কারণ আমার কিছু নির্ভরযোগ্য কথা বলার আছে; যা সঠিক তা বলার জন্য আমি আমার ঠোঁট খুলেছি।
PRO 8:7 যা সত্যি আমার মুখ তাই বলে, কারণ আমার ঠোঁট দুষ্টতা ঘৃণা করে।
PRO 8:8 আমার মুখের সব কথা ন্যায্য; সেগুলির মধ্যে একটিও কুটিল বা বিকৃত নয়।
PRO 8:9 বিচক্ষণের কাছে সেসব কথা সঠিক; যারা জ্ঞান লাভ করেছে তাদের কাছে সেগুলি ন্যায্য।
PRO 8:10 রুপোর পরিবর্তে আমার নির্দেশ, উৎকৃষ্ট সোনার পরিবর্তে বরং জ্ঞান মনোনীত করো,
PRO 8:11 কারণ প্রজ্ঞা পদ্মরাগমণির চেয়েও বেশি মূল্যবান, ও তোমার আকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছুর সাথেই তার তুলনা হয় না।
PRO 8:12 “আমি, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতার সঙ্গেই বসবাস করি; আমিই জ্ঞান ও বিচক্ষণতার অধিকারী।
PRO 8:13 সদাপ্রভুকে ভয় করার অর্থ মন্দকে ঘৃণা করা; আমি অহংকার ও দাম্ভিকতাকে ঘৃণা করি, মন্দ আচরণ ও সত্যভ্রষ্ট কথাবার্তাকেও করি।
PRO 8:14 পরামর্শ ও সুবিচার আমার অধিকারভুক্ত; আমার কাছে দূরদর্শিতা ও ক্ষমতা আছে।
PRO 8:15 আমার দ্বারাই রাজারা রাজত্ব করেন ও শাসনকর্তারা ন্যায়সংগত হুকুম জারি করেন;
PRO 8:16 আমার দ্বারাই অধিপতিরা প্রভুত্ব করেন, ও সেই গণ্যমান্য ব্যক্তিরা—যারা সবাই পৃথিবীতে শাসন করেন।
PRO 8:17 যারা আমাকে ভালোবাসে আমিও তাদের ভালোবাসি, ও যারা আমার খোঁজ করে তারা আমাকে খুঁজে পায়।
PRO 8:18 আমার কাছেই আছে ধনসম্পত্তি ও সম্মান, চিরস্থায়ী সম্পদ ও সমৃদ্ধি।
PRO 8:19 আমার ফল খাঁটি সোনার চেয়েও সেরা; আমি যা উৎপাদন করি তা অসাধারণ রুপোকেও ছাপিয়ে যায়।
PRO 8:20 আমি ধার্মিকতার পথে চলি, ন্যায়ের পথ ধরে চলি,
PRO 8:21 যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের আমি প্রচুর উত্তরাধিকার দান করি ও তাদের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করে দিই।
PRO 8:22 “সদাপ্রভু তাঁর কর্মের প্রথম ফলরূপে, প্রাচীনকালে তাঁর করা সব কাজকর্মের আগেই আমাকে উৎপন্ন করেছিলেন;
PRO 8:23 বহুকাল আগেই আমাকে তৈরি করা হয়েছিল, একেবারে শুরুতেই, যখন এই জগৎ পত্তন হয়েছিল তখনই হয়েছিল।
PRO 8:24 যখন অতল জলের কোনো অস্তিত্বও ছিল না, তখন আমাকে জন্ম দেওয়া হয়েছিল, যখন জলে উপচে পড়া কোনো জলের উৎসের অস্তিত্ব ছিল না;
PRO 8:25 পর্বতগুলি স্বস্থানে স্থাপিত হওয়ার আগে, পাহাড়গুলি উৎপন্ন হওয়ার আগেই,
PRO 8:26 সদাপ্রভু এই জগৎ বা এখানকার মাঠঘাট বা পৃথিবীর একমুঠো ধুলোবালি তৈরি করার আগেই আমাকে জন্ম দেওয়া হয়েছিল।
PRO 8:27 যখন তিনি আকাশমণ্ডলকে স্বস্থানে স্থাপন করলেন, তখন আমি সেখানে ছিলাম, যখন তিনি অতল জলরাশির বুকে দিগন্তের চিহ্ন এঁকে দিলেন,
PRO 8:28 যখন তিনি ঊর্ধ্বস্থ মেঘরাশি স্থাপন করলেন ও অতল জলরাশির উৎসগুলি শক্ত করে বেঁধে দিলেন,
PRO 8:29 যখন তিনি সমুদ্রের সীমা স্থির করলেন যেন জলরাশি তাঁর আদেশ লঙ্ঘন না করে, ও যখন তিনি পৃথিবীর ভিত্তিমূল চিহ্নিত করলেন।
PRO 8:30 তখন আমি প্রতিনিয়ত তাঁর পাশেই ছিলাম। দিনের পর দিন আমি আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে থাকতাম, সর্বক্ষণ তাঁর উপস্থিতিতে আনন্দ উপভোগ করতাম,
PRO 8:31 তাঁর সমগ্র এই জগৎ নিয়ে আনন্দ করতাম ও মানবজাতিকে নিয়েও আনন্দে মেতে উঠতাম।
PRO 8:32 “তবে এখন, হে আমার বাছারা, আমার কথা শোনো; যারা আমার পথে চলে তারা ধন্য।
PRO 8:33 আমার নির্দেশ শোনো ও জ্ঞানবান হও; তা উপেক্ষা কোরো না।
PRO 8:34 যারা আমার কথা শোনে, যারা প্রতিদিন আমার দরজায় দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করে, আমার দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে তারা ধন্য।
PRO 8:35 কারণ যারা আমাকে খুঁজে পায় তারা জীবন খুঁজে পায় ও সদাপ্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করে।
PRO 8:36 কিন্তু যারা আমাকে খুঁজে পায় না তারা নিজেদেরই ক্ষতিসাধন করে; যেসব লোক আমাকে ঘৃণা করে তারা মৃত্যু ভালোবাসে।”
PRO 9:1 প্রজ্ঞা তার বাড়ি নির্মাণ করেছে; সে তার সাতটি স্তম্ভ খাড়া করেছে।
PRO 9:2 সে ভূরিভোজনের ব্যবস্থা করেছে ও দ্রাক্ষারস মিশিয়ে রেখেছে সে তার টেবিলও সাজিয়ে রেখেছে।
PRO 9:3 সে তার দাসীদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে, ও নগরের সবচেয়ে উঁচু জায়গা থেকে ডাক দিয়ে বলেছে,
PRO 9:4 “যারা অনভিজ্ঞ মানুষ, তারা সবাই আমার বাড়িতে আসুক!” যাদের কোনও জ্ঞানবুদ্ধি নেই তাদের সে বলেছে,
PRO 9:5 “এসো, আমার খাদ্যদ্রব্য ভোজন করো ও যে দ্রাক্ষারস আমি মিশিয়ে রেখেছি তা পান করো।
PRO 9:6 তোমাদের অনভিজ্ঞতার পথ পরিত্যাগ করো ও তোমরা বেঁচে যাবে; দূরদর্শিতার পথে চলো।”
PRO 9:7 যে কেউ বিদ্রুপকারীকে সংশোধন করতে যায় সে অপমান ডেকে আনে; যে কেউ দুষ্টকে ভর্ৎসনা করে সে কলঙ্কের ভাগী হয়।
PRO 9:8 বিদ্রুপকারীদের ভর্ৎসনা কোরো না পাছে তারা তোমাকে ঘৃণা করে; জ্ঞানবানদের ভর্ৎসনা করো ও তারা তোমাকে ভালোবাসবে।
PRO 9:9 জ্ঞানবানদের উপদেশ দাও ও তারা আরও জ্ঞানী হবে; ধার্মিকদের শিক্ষা দাও ও তাদের পাণ্ডিত্য বৃদ্ধি পাবে।
PRO 9:10 সদাপ্রভুর ভয় প্রজ্ঞার আরম্ভ, ও পবিত্রতম সম্বন্ধীয় জ্ঞানই হল বোধশক্তি।
PRO 9:11 কারণ প্রজ্ঞার মাধ্যমেই তোমার আয়ু বাড়বে, ও তোমার জীবনে বেশ কিছু বছর যুক্ত হবে।
PRO 9:12 তুমি যদি জ্ঞানবান হও, তোমার প্রজ্ঞা তোমাকে পুরস্কৃত করবে; তুমি যদি একজন বিদ্রুপকারী, তবে তুমি একাই কষ্টভোগ করবে।
PRO 9:13 মূর্খতা এক দুর্বিনীত নারী; সে অনভিজ্ঞ ও কিছুই জানে না।
PRO 9:14 সে তার বাড়ির দরজায় বসে থাকে, নগরের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় গিয়ে আসন পেতে বসে,
PRO 9:15 সে পথচারীদের ডাক দেয়, যারা সোজা পথ ধরে যায় সে তাদের ডেকে বলে,
PRO 9:16 “যারা অনভিজ্ঞ তারা সবাই আমার বাড়িতে আসুক!” যাদের কোনও জ্ঞানবুদ্ধি নেই সে তাদের বলে,
PRO 9:17 “চুরি করা জল মিষ্টি; লুকোছাপা করে খাওয়া খাদ্য পরম উপাদেয়!”
PRO 9:18 কিন্তু তারা আদৌ জানে না যে মৃতেরা সেখানেই আছে, তার অতিথিরা পাতালের গর্তে পড়ে আছে।
PRO 10:1 শলোমনের হিতোপদেশ: জ্ঞানবান ছেলে তার বাবার জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে, কিন্তু মূর্খ ছেলে তার মায়ের জীবনে দুঃখ নিয়ে আসে।
PRO 10:2 অসৎ উপায়ে অর্জিত ধনসম্পত্তির দীর্ঘস্থায়ী কোনও মূল্য নেই, কিন্তু ধার্মিকতা মৃত্যু থেকে উদ্ধার করে।
PRO 10:3 সদাপ্রভু ধার্মিককে ক্ষুধার্ত থাকতে দেন না, কিন্তু তিনি দুষ্টের অভিলাষ ব্যর্থ করেন।
PRO 10:4 অলসতার হাত দারিদ্র ডেকে আনে, কিন্তু পরিশ্রমী হাত ধনসম্পত্তি নিয়ে আসে।
PRO 10:5 যে গ্রীষ্মকালে ফসল সংগ্রহ করে সে বিচক্ষণ ছেলে, কিন্তু যে ফসল কাটার মরশুমে ঘুমিয়ে থাকে সে মর্যাদাহানিকর ছেলে।
PRO 10:6 আশীর্বাদ ধার্মিকের মাথার মুকুট হয়, কিন্তু হিংস্রতা দুষ্টের মুখ ঢেকে রাখে।
PRO 10:7 ধার্মিকের নাম আশীর্বাদ করার সময় ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দুষ্টের নামে পচন ধরবে।
PRO 10:8 অন্তরে যে জ্ঞানবান সে আজ্ঞা গ্রহণ করে, কিন্তু বাচাল মূর্খের সর্বনাশ হবে।
PRO 10:9 যে কেউ সততা নিয়ে চলে সে নিরাপদে চলে, কিন্তু যে কেউ বাঁকা পথ ধরে সে ধরা পড়ে যাবে।
PRO 10:10 যে কেউ বিদ্বেষপূর্ণভাবে ইশারা করে সে দুঃখ জন্মায়, ও বাচাল মূর্খের সর্বনাশ হবে।
PRO 10:11 ধার্মিকের মুখ জীবনের উৎস, কিন্তু দুষ্টের মুখ হিংস্রতা ঢেকে রাখে।
PRO 10:12 ঘৃণা বিবাদ জাগিয়ে তোলে, কিন্তু ভালোবাসা সব অপরাধ ঢেকে দেয়।
PRO 10:13 বিচক্ষণ লোকের ঠোঁটে প্রজ্ঞা পাওয়া যায়, কিন্তু যার কোনও বোধবুদ্ধি নেই তার পিঠের জন্য লাঠি রাখা থাকে।
PRO 10:14 জ্ঞানবানেরা জ্ঞান সঞ্চয় করে রাখে, কিন্তু মূর্খের মুখ সর্বনাশ ডেকে আনে।
PRO 10:15 ধনবানের ধনসম্পত্তিই তাদের সুরক্ষিত নগর, কিন্তু দারিদ্রই দরিদ্রের সর্বনাশ।
PRO 10:16 ধার্মিকের বেতন হল জীবন, কিন্তু দুষ্টের উপার্জন হল পাপ ও মৃত্যু।
PRO 10:17 যে কেউ শৃঙ্খলা মানে সে জীবনের পথ দেখায়, কিন্তু যে কেউ সংশোধন উপেক্ষা করে সে অন্যদের বিপথে পরিচালিত করে।
PRO 10:18 যে কেউ মিথ্যাবাদী ঠোঁট দিয়ে ঘৃণা লুকিয়ে রাখে ও অপবাদ ছড়ায় সে মূর্খ।
PRO 10:19 প্রচুর কথা বলে পাপের অবসান ঘটানো যায় না, কিন্তু বিচক্ষণ লোকজন তাদের জিভকে সংযত রাখে।
PRO 10:20 ধার্মিকের জিভ ভালো মানের রুপো, কিন্তু দুষ্টের অন্তর নেহাতই কমদামি।
PRO 10:21 ধার্মিকের ঠোঁট অনেককে পুষ্টি জোগায়, কিন্তু মূর্খেরা বোধবুদ্ধির অভাবে মারা যায়।
PRO 10:22 সদাপ্রভুর আশীর্বাদ ধনসম্পত্তি এনে দেয়, আর এর জন্য যন্ত্রণাদায়ক পরিশ্রমও করতে হয় না।
PRO 10:23 মূর্খ দুষ্ট ফন্দি এঁটে আনন্দ পায়, কিন্তু বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ প্রজ্ঞায় আনন্দ করে।
PRO 10:24 দুষ্টেরা যা ভয় করে তাদের প্রতি তাই ঘটবে; ধার্মিকদের বাসনা মঞ্জুর হবে।
PRO 10:25 যখন ঝড় বয়ে যায়, তখন দুষ্টের অস্তিত্ব লোপ পায়, কিন্তু ধার্মিক চিরকাল অবিচলিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
PRO 10:26 দাঁতের পক্ষে সিরকা ও চোখের পক্ষে ধোঁয়া যেমন, অলসরাও তাদের যারা পাঠায় তাদের পক্ষে ঠিক তেমনই।
PRO 10:27 সদাপ্রভুর ভয় আয়ু বৃদ্ধি করে, কিন্তু দুষ্টদের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত করা হয়।
PRO 10:28 ধার্মিকদের প্রত্যাশা হল আনন্দ, কিন্তু দুষ্টদের আশাগুলি নিষ্ফল হয়ে যায়।
PRO 10:29 সদাপ্রভুর পথ অনিন্দনীয়দের জন্য এক আশ্রয়স্থল, কিন্তু যারা অনিষ্ট করে তাদের পক্ষে তা সর্বনাশ।
PRO 10:30 ধার্মিকেরা কখনোই উৎখাত হবে না, কিন্তু দুষ্টেরা দেশে অবশিষ্ট থাকবে না।
PRO 10:31 ধার্মিকের মুখ থেকে প্রজ্ঞার ফল বেরিয়ে আসে, কিন্তু বিকৃত জিভকে নিরুত্তর করে দেওয়া হবে।
PRO 10:32 ধার্মিকের ঠোঁট জানে কীসে অনুগ্রহ লাভ করা যায়, কিন্তু দুষ্টের মুখ শুধু বিকৃতিই জানে।
PRO 11:1 সদাপ্রভু অসাধু দাঁড়িপাল্লা ঘৃণা করেন, কিন্তু সঠিক বাটখারা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
PRO 11:2 যখন অহংকার আসে, তখন অপমানও আসে, কিন্তু নম্রতার সঙ্গে আসে প্রজ্ঞা।
PRO 11:3 ন্যায়পরায়ণদের সততাই তাদের পথ দেখায়, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকেরা তাদের ছলনা দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়।
PRO 11:4 ক্রোধের দিনে ধনসম্পত্তি মূল্যহীন হয়ে যায়, কিন্তু ধার্মিকতা মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।
PRO 11:5 অনিন্দনীয়দের ধার্মিকতা তাদের পথগুলি সোজা করে, কিন্তু দুষ্টেরা তাদের দুষ্টতা দ্বারাই পতিত হয়।
PRO 11:6 ন্যায়পরায়ণদের ধার্মিকতাই তাদের উদ্ধার করে, কিন্তু অবিশ্বস্তেরা মন্দ বাসনা দ্বারা ফাঁদে পড়ে।
PRO 11:7 নশ্বর মানুষে স্থাপিত আশা তাদের সাথেই নষ্ট হয়; তাদের ক্ষমতার সব প্রতিজ্ঞা নিষ্ফল হয়।
PRO 11:8 ধার্মিকেরা সংকট থেকে উদ্ধার পায়, ও তা তাদের পরিবর্তে দুষ্টদের উপরেই গিয়ে পড়ে।
PRO 11:9 অধার্মিকরা তাদের মুখ দিয়ে তাদের প্রতিবেশীদের সর্বনাশ করে, কিন্তু জ্ঞানের মাধ্যমে ধার্মিকেরা অব্যাহতি পায়।
PRO 11:10 ধার্মিকেরা যখন উন্নতি লাভ করে, তখন নগরে আনন্দ হয়, দুষ্টেরা যখন বিনষ্ট হয়, তখনও আনন্দের রব ওঠে।
PRO 11:11 ন্যায়পরায়ণদের আশীর্বাদে নগর উন্নত হয়, কিন্তু দুষ্টদের মুখের কথা দ্বারা তা ধ্বংস হয়।
PRO 11:12 যারা তাদের প্রতিবেশীকে ঠাট্টা করে তাদের কোনও বোধবুদ্ধি নেই, কিন্তু যাদের বুদ্ধি আছে তারা তাদের জিভকে সংযত রাখে।
PRO 11:13 পরনিন্দা পরচর্চা আস্থা ভঙ্গ করে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য মানুষ গোপনীয়তা বজায় রাখে।
PRO 11:14 নেতৃত্বের অভাবে জাতির পতন হয়, কিন্তু উপদেশকদের সংখ্যা বেশি হলে জয় সুনিশ্চিত হয়।
PRO 11:15 যে অপরিচিত লোকের জামিনদার হয় সে নিশ্চয় কষ্টভোগ করবে, কিন্তু যে অন্যের ঋণ শোধ করার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে সে নিরাপদে থাকে।
PRO 11:16 সহৃদয়া নারী সম্মান অর্জন করে, কিন্তু নির্মম লোকেরা শুধু ধনসম্পত্তিই লাভ করে।
PRO 11:17 যারা দয়ালু তারা নিজেদের উপকার করে, কিন্তু নিষ্ঠুর লোকেরা নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে।
PRO 11:18 দুষ্টলোক অসৎ প্রতারণাপূর্ণ বেতন উপার্জন করে, কিন্তু যে ধার্মিকতা বোনে সে নিশ্চিত প্রতিদান কাটে।
PRO 11:19 প্রকৃতপক্ষে ধার্মিক মানুষ জীবন লাভ করে, কিন্তু যে কেউ মন্দের পশ্চাদ্ধাবন করে সে মৃত্যুর সন্ধান পায়।
PRO 11:20 যাদের মন উচ্ছৃঙ্খল সদাপ্রভু তাদের ঘৃণা করেন, কিন্তু যারা অনিন্দনীয় পথে চলে তাদের নিয়ে তিনি আনন্দ করেন।
PRO 11:21 তুমি এই বিষয়ে নিশ্চিত থেকো: দুষ্ট অদণ্ডিত থাকবে না, কিন্তু যারা ধার্মিক তারা রক্ষা পাবে।
PRO 11:22 যেমন শূকরের নাকে সোনার নথ তেমনি সেই সুন্দরী নারী যে কোনো বিচক্ষণতা দেখায় না।
PRO 11:23 ধার্মিকদের বাসনা শুধু মঙ্গলের কাছে গিয়ে শেষ হয়, কিন্তু দুষ্টদের প্রত্যাশা শেষ হয় শুধু ক্রোধের কাছে গিয়ে।
PRO 11:24 কেউ একজন মুক্তহস্তে দান করে, অথচ সে আরও বেশি লাভবান হয়; অন্য কেউ অযথা কৃপণতা করে, কিন্তু দারিদ্রে পৌঁছে যায়।
PRO 11:25 অকৃপণ ব্যক্তি উন্নতি লাভ করবে; যে কেউ অন্যান্য লোকদের পুনরুজ্জীবিত করে সেও পুনরুজ্জীবিত হবে।
PRO 11:26 যে শস্য মজুত করে রাখে লোকে তাকে অভিশাপ দেয়, কিন্তু যে তা বিক্রি করতে চায় তার জন্য তারা ঈশ্বরের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে।
PRO 11:27 যে কেউ মঙ্গলকামনা করে সে অনুগ্রহ পায়, কিন্তু যে অমঙ্গল খুঁজে বেড়ায় তার জীবনেই অমঙ্গল নেমে আসে।
PRO 11:28 যারা তাদের ধনদৌলতের উপর নির্ভর করে তাদের পতন হবে, কিন্তু ধার্মিকেরা গাছের সবুজ পাতার মতো উন্নতি লাভ করবে।
PRO 11:29 যারা তাদের পরিবারে সর্বনাশ ডেকে আনে তারা উত্তরাধিকারসূত্রে শুধু বাতাসই পাবে, ও মূর্খেরা জ্ঞানবানের দাস হবে।
PRO 11:30 ধার্মিকের ফল জীবনবৃক্ষ, ও যে জ্ঞানবান সে প্রাণরক্ষা করে।
PRO 11:31 ধার্মিকেরা যদি এই পৃথিবীতেই তাদের প্রাপ্য পেয়ে যায়, তবে অধার্মিকরা ও পাপীরা আরও কত না বেশি পাবে!
PRO 12:1 যে শৃঙ্খলা ভালোবাসে সে জ্ঞানও ভালোবাসে, কিন্তু যে সংশোধন ঘৃণা করে সে বোকা।
PRO 12:2 সৎলোক সদাপ্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করে, কিন্তু যারা দুষ্ট ফন্দি আঁটে তিনি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
PRO 12:3 কেউই দুষ্টতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, কিন্তু ধার্মিকদের নির্মূল করা যায় না।
PRO 12:4 উদারস্বভাব বিশিষ্ট স্ত্রী তার স্বামীর মুকুট, কিন্তু মর্যাদাহানিকর স্ত্রী স্বামীর অস্থির পচনস্বরূপ।
PRO 12:5 ধার্মিকদের পরিকল্পনাগুলি ন্যায়সংগত, কিন্তু দুষ্টদের পরামর্শ প্রতারণাপূর্ণ।
PRO 12:6 দুষ্টদের কথাবার্তা রক্তপাতের জন্য লুকিয়ে থাকে, কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের কথাবার্তা তাদের রক্ষা করে।
PRO 12:7 দুষ্টেরা পর্যুদস্ত হয় ও তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, কিন্তু ধার্মিকদের বাড়ি অটল থাকে।
PRO 12:8 একজন মানুষ তার দূরদর্শিতা অনুসারেই প্রশংসিত হয়, ও যার মন পক্ষপাতদুষ্ট সে অবজ্ঞাত হয়।
PRO 12:9 কেউকেটা হওয়ার ভান করে নিরন্ন হয়ে থাকার চেয়ে বরং নগণ্য মানুষ হয়ে দাস রাখা ভালো।
PRO 12:10 ধার্মিকেরা তাদের পশুদের যত্ন নেয়, কিন্তু দুষ্টদের সদয় ব্যবহারও নিষ্ঠুরতামাত্র।
PRO 12:11 যারা নিজেদের জমি চাষ করে তারা প্রচুর খাদ্য পাবে, কিন্তু যারা উদ্ভট কল্পনার পিছনে ছুটে বেড়ায় তাদের কোনও বোধবুদ্ধি নেই।
PRO 12:12 দুষ্টেরা অনিষ্টকারীদের সুরক্ষিত আশ্রয় কামনা করে, কিন্তু ধার্মিকদের মূল স্থায়ী হয়।
PRO 12:13 অনিষ্টকারীরা তাদের পাপে পরিপূর্ণ কথাবার্তা দ্বারাই ফাঁদে পড়ে, ও সেভাবেই নির্দোষ লোকজন বিপত্তি থেকে রক্ষা পায়।
PRO 12:14 মানুষ তাদের ঠোঁটের ফল দ্বারা মঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়, ও তাদের হাতের কাজই তাদের পুরস্কৃত করে।
PRO 12:15 মূর্খদের পথ তাদের কাছে ঠিক বলে মনে হয়, কিন্তু জ্ঞানবানেরা পরামর্শ শোনে।
PRO 12:16 মূর্খেরা অবিলম্বে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করে, কিন্তু বিচক্ষণ লোকেরা অপমান উপেক্ষা করে।
PRO 12:17 একজন সত্যবাদী সাক্ষী সত্যিকথা বলে, কিন্তু একজন মিথ্যাসাক্ষী মিথ্যা কথা বলে।
PRO 12:18 অবিবেচকের কথা তরোয়ালের মতো বিদ্ধ করে, কিন্তু জ্ঞানবানের জিভ সুস্থতা নিয়ে আসে।
PRO 12:19 সত্যবাদী ঠোঁট চিরকাল স্থায়ী হয়, কিন্তু মিথ্যাবাদী জিভ শুধু এক মুহূর্তের জন্য স্থায়ী হয়।
PRO 12:20 যারা অমঙ্গলের চক্রান্ত করে তাদের অন্তরে ছলনা থাকে, কিন্তু যারা শান্তির উদ্যোক্তা হয় তারা আনন্দ পায়।
PRO 12:21 কোনও অনিষ্টই ধার্মিকদের আতঙ্কগ্রস্ত করে না, কিন্তু দুষ্টদের অসুবিধা ভোগ করতে হয়।
PRO 12:22 সদাপ্রভু মিথ্যাবাদী ঠোঁট ঘৃণা করেন, কিন্তু যারা নির্ভরযোগ্য তাদের নিয়ে তিনি আনন্দ করেন।
PRO 12:23 বিচক্ষণ লোকেরা তাদের জ্ঞান নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, কিন্তু মূর্খদের অন্তর মূর্খতা ফাঁস করে দেয়।
PRO 12:24 পরিশ্রমী হাত শাসন করবে, কিন্তু অলসতা শেষ পর্যন্ত বেগার শ্রমিকে পরিণত হয়।
PRO 12:25 দুশ্চিন্তার ভারে অন্তর অবনত হয়, কিন্তু সৌজন্যমূলক একটি কথা সেটিকে উৎসাহিত করে।
PRO 12:26 ধার্মিকেরা সতর্কতার সঙ্গে তাদের বন্ধু মনোনীত করে, কিন্তু দুষ্টেরা তাদের বিপথগামী করে।
PRO 12:27 অলসেরা শিকার করা কোনো কিছু উনুনে সেঁকে না, কিন্তু পরিশ্রমীরা শিকারের ধন উপভোগ করে।
PRO 12:28 ধার্মিকতার পথে জীবন আছে; সেই পথ বরাবর অমরতা আছে।
PRO 13:1 জ্ঞানবান ছেলে বাবার নির্দেশ মানে, কিন্তু বিদ্রুপকারী ভর্ৎসনায় কান দেয় না।
PRO 13:2 মানুষ তাদের মুখের ফল দ্বারাই মঙ্গল উপভোগ করে, কিন্তু বিশ্বাসঘাতক হিংস্রতার প্রবৃত্তি রাখে।
PRO 13:3 যারা ঠোঁট নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা তাদের প্রাণরক্ষা করে, কিন্তু যারা বেপরোয়াভাবে কথাবার্তা বলে তাদের সর্বনাশ হয়।
PRO 13:4 অলসের খিদে কখনও মেটে না, কিন্তু পরিশ্রমীদের বাসনাগুলি পুরোপুরি চরিতার্থ হয়।
PRO 13:5 ধার্মিকেরা মিথ্যাচারিতা ঘৃণা করে, কিন্তু দুষ্টেরা নিজেদের এক দুর্গন্ধে পরিণত করে ও নিজেদের উপরে লজ্জা ডেকে আনে।
PRO 13:6 ধার্মিকতা ন্যায়পরায়ণ মানুষদের রক্ষা করে, কিন্তু দুষ্টতা পাপীদের উৎখাত করে।
PRO 13:7 কেউ ধনী হওয়ার ভান করে, অথচ তার কাছে কিছুই নেই; অন্যজন দরিদ্র হওয়ার ভান করে, অথচ তার কাছে মহাধন আছে।
PRO 13:8 মানুষের ধন হয়তো তাদের প্রাণের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে, কিন্তু দরিদ্রকে ভয় দেখানো যায় না।
PRO 13:9 ধার্মিকদের আলো উজ্জ্বলভাবে জ্বলজ্বল করে, কিন্তু দুষ্টদের প্রদীপ নিভে যায়।
PRO 13:10 যেখানে বিবাদ থাকে, সেখানে অহংকারও থাকে, কিন্তু যারা পরামর্শ নেয় তাদের অন্তরে প্রজ্ঞা পাওয়া যায়।
PRO 13:11 অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ কমে যায়, কিন্তু যে অল্প অল্প করে অর্থ সংগ্রহ করে, তার অর্থ বাড়তে থাকে।
PRO 13:12 বিলম্বিত আশা হৃদয়কে অসুস্থ করে তোলে, কিন্তু পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এক জীবনবৃক্ষ।
PRO 13:13 যে নির্দেশ অবজ্ঞা করে তাকে এর মূল্য চোকাতে হয়, কিন্তু যে আজ্ঞাকে সম্মান করে সে পুরস্কৃত হয়।
PRO 13:14 জ্ঞানবানের শিক্ষা জীবনের উৎস, তা মানুষকে মৃত্যুর ফাঁদ থেকে ফিরিয়ে আনে।
PRO 13:15 সুবিবেচনা অনুগ্রহজনক হয়, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের পথ তাদের বিনাশের দিকে নিয়ে যায়।
PRO 13:16 যারা বিচক্ষণ তারা সবাই জ্ঞানপূর্বক কাজ করে, কিন্তু মূর্খেরা তাদের মূর্খতাই প্রকাশ করে ফেলে।
PRO 13:17 দুষ্ট দূত অসুবিধায় পড়ে, কিন্তু বিশ্বস্ত দূত আরোগ্য দান করে।
PRO 13:18 যে শাসন উপেক্ষা করে তাকে দারিদ্র ও লজ্জা ভোগ করতে হয়, কিন্তু যে সংশোধনে মনোযোগ দেয় সে সম্মানিত হয়।
PRO 13:19 পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা প্রাণের পক্ষে তৃপ্তিদায়ক, কিন্তু মূর্খেরা মন্দ পথ থেকে ফিরতে চায় না।
PRO 13:20 জ্ঞানবানদের সঙ্গে সঙ্গে চলো ও জ্ঞানবান হও, কারণ মূর্খদের সহচর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
PRO 13:21 বিপত্তি পাপীর পশ্চাদ্ধাবন করে, কিন্তু ধার্মিককে মঙ্গল দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
PRO 13:22 সৎলোক তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য উত্তরাধিকার ছেড়ে যায়, কিন্তু পাপীর ধন ধার্মিকদের জন্য মজুত হয়।
PRO 13:23 অকর্ষিত জমি দরিদ্রদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করে, কিন্তু অবিচার তা নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
PRO 13:24 যারা লাঠির ব্যবহার করে না, তারা তাদের সন্তানদের ঘৃণা করে, কিন্তু যারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসে, তারা সযত্নে তাদের শাসনও করে।
PRO 13:25 ধার্মিকেরা তাদের প্রাণের তৃপ্তি পর্যন্ত খাবার খায়, কিন্তু দুষ্টেরা ক্ষুধার্ত পেটেই থেকে যায়।
PRO 14:1 জ্ঞানবতী মহিলা তার বাড়ি গেঁথে তোলে, কিন্তু মূর্খ মহিলা নিজের হাতে তার বাড়ি ভেঙে ফেলে।
PRO 14:2 যে সদাপ্রভুকে ভয় করে সে সৎভাবে চলে, কিন্তু যারা তাঁকে অবজ্ঞা করে তারা তাদের পথে সর্পিল।
PRO 14:3 মূর্খের মুখ দিয়ে অহংকারের বাক্যবাণ বর্ষিত হয়, কিন্তু জ্ঞানবানদের ঠোঁট তাদের রক্ষা করে।
PRO 14:4 বলদ না থাকলে জাবপাত্রও পরিষ্কার থাকে, কিন্তু বলদের ক্ষমতাতেই প্রচুর ফসল উৎপাদন হয়।
PRO 14:5 বিশ্বস্ত সাক্ষী প্রতারণা করে না, কিন্তু মিথ্যাসাক্ষী মিথ্যা কথা উগরে দেয়।
PRO 14:6 বিদ্রুপকারীরা প্রজ্ঞার খোঁজ করে ও কিছুই খুঁজে পায় না, কিন্তু বিচক্ষণদের কাছে জ্ঞান সহজলভ্য হয়।
PRO 14:7 মূর্খের কাছ থেকে দূরে সরে থাকো, কারণ তাদের ঠোঁটে তুমি জ্ঞান খুঁজে পাবে না।
PRO 14:8 বিচক্ষণ ব্যক্তিদের প্রজ্ঞাই তাদের পথের দিশা নির্দেশ দেয়, কিন্তু মূর্খদের মূর্খতাই হল প্রতারণা।
PRO 14:9 পাপের জন্য কাউকে ক্ষতিপূরণ করতে দেখে মূর্খ ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে, কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের কাছে মঙ্গলকামনা পাওয়া যায়।
PRO 14:10 প্রত্যেক অন্তঃকরণ তার নিজের জ্বালা জানে, আর কেউ তার আনন্দের ভাগী হতে পারে না।
PRO 14:11 দুষ্টদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের তাঁবু উন্নতি লাভ করবে।
PRO 14:12 একটি পথ আছে যা সঠিক বলে মনে হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
PRO 14:13 অট্টহাসির মধ্যেও হৃদয়ে ব্যথা হতে পারে, ও আনন্দ শেষ পর্যন্ত বিষাদে পরিণত হতে পারে।
PRO 14:14 অবিশ্বাসীরা তাদের আচরণের জন্য প্রাপ্য ফলভোগ করবে, ও সৎলোকেরা তাদের আচরণের জন্য পুরস্কৃত হবে।
PRO 14:15 অনভিজ্ঞ মানুষ সব কথাই বিশ্বাস করে, কিন্তু বিচক্ষণ লোকেরা খুব ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেয়।
PRO 14:16 জ্ঞানবানেরা সদাপ্রভুকে ভয় করে ও মন্দকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু মূর্খেরা উগ্রস্বভাব অথচ নিরাপদ বোধ করে।
PRO 14:17 বদরাগি লোক মূর্খের মতো কাজ করে, ও যে দুষ্ট ফন্দি আঁটে সে ঘৃণিত হয়।
PRO 14:18 অনভিজ্ঞ লোকেরা উত্তরাধিকারসূত্রে মূর্খতা লাভ করে, কিন্তু বিচক্ষণেরা জ্ঞান-মুকুটে বিভূষিত হয়।
PRO 14:19 অনিষ্টকারীরা সুজনদের সামনে, এবং দুষ্টেরা ধার্মিকদের দরজায় এসে মাথা নত করবে।
PRO 14:20 দরিদ্রেরা তাদের প্রতিবেশীদের দ্বারাও অবজ্ঞাত হয়, কিন্তু ধনবানদের প্রচুর বন্ধু থাকে।
PRO 14:21 প্রতিবেশীকে অবজ্ঞা করা হল পাপ, কিন্তু ধন্য সেই জন যে অভাবগ্রস্তদের প্রতি দয়া দেখায়।
PRO 14:22 যারা অনিষ্টের চক্রান্ত করে তারা কি বিপথগামী হয় না? কিন্তু যারা মঙ্গলের পরিকল্পনা করে তারা ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা লাভ করে।
PRO 14:23 সব কঠোর পরিশ্রমই লাভের মুখ দেখে, কিন্তু নিছক কথাবার্তা শুধু দারিদ্রই নিয়ে আসে।
PRO 14:24 জ্ঞানবানদের ধন তাদের মুকুট, কিন্তু মূর্খদের মূর্খতা মূর্খতাই উৎপন্ন করে।
PRO 14:25 সত্যবাদী সাক্ষী প্রাণরক্ষা করে, কিন্তু মিথ্যাসাক্ষী বিশ্বাসঘাতক হয়।
PRO 14:26 যারা সদাপ্রভুকে ভয় করে তাদের কাছে এক নিরাপদ দুর্গ আছে, ও তাদের সন্তানদের জন্যও তা এক আশ্রয়স্থান হবে।
PRO 14:27 সদাপ্রভুর ভয় জীবনের উৎস, যা মানুষকে মৃত্যুর ফাঁদ থেকে ফিরিয়ে আনে।
PRO 14:28 বিশাল জনসংখ্যা রাজার গরিমা, কিন্তু প্রজার অভাবে রাজপুরুষের সর্বনাশ হয়।
PRO 14:29 যে ধৈর্যশীল সে অত্যন্ত বিচক্ষণ, কিন্তু যে বদরাগি সে মূর্খতাই প্রকাশ করে ফেলে।
PRO 14:30 শান্ত হৃদয় দেহকেও সুস্থ রাখে, কিন্তু ঈর্ষা অস্থির পচনস্বরূপ।
PRO 14:31 যে দরিদ্রদের শোষণ করে সে তাদের সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করে, কিন্তু যে দরিদ্রদের প্রতি দয়া দেখায় সে ঈশ্বরকে সম্মানিত করে।
PRO 14:32 যখন চরম দুর্দশা ঘনিয়ে আসে, তখন দুষ্টেরা পতিত হয়, কিন্তু মরণকালেও ধার্মিকেরা ঈশ্বরেই আশ্রয় খোঁজে।
PRO 14:33 বিচক্ষণদের অন্তরে প্রজ্ঞা বিশ্রাম করে, ও মূর্খদের মধ্যেও সে নিজের আত্মপরিচয় দেয়।
PRO 14:34 ধার্মিকতা জাতিকে উন্নত করে, কিন্তু পাপ যে কোনো লোককে নিন্দা করে।
PRO 14:35 রাজা জ্ঞানবান দাসকে নিয়ে আনন্দ করেন, কিন্তু লজ্জাজনক দাস তাঁর প্রকোপ জাগিয়ে তোলে।
PRO 15:1 বিনীত উত্তর ক্রোধ প্রশমিত করে, কিন্তু রূঢ় কথাবার্তা ক্রোধ জাগিয়ে তোলে।
PRO 15:2 জ্ঞানবানদের জিভে জ্ঞান শোভা পায়, কিন্তু মূর্খদের মুখ থেকে মূর্খতা প্রবাহিত হয়।
PRO 15:3 সদাপ্রভুর চোখ সর্বত্র আছে, দুষ্ট ও সুজন, উভয়ের উপরেই তাঁর দৃষ্টি আছে।
PRO 15:4 তুষ্টিকর জিভ জীবনবৃক্ষ, কিন্তু স্বেচ্ছাচারী জিভ আত্মাকে পিষে ফেলে।
PRO 15:5 মূর্খ তার মা-বাবার শাসন পদদলিত করে, কিন্তু যে সংশোধনে মনযোগ দেয় সে বিচক্ষণতা দেখায়।
PRO 15:6 ধার্মিকদের বাড়িতে মহাধন থাকে, কিন্তু দুষ্টদের উপার্জন সর্বনাশ ডেকে আনে।
PRO 15:7 জ্ঞানবানদের ঠোঁট জ্ঞান ছড়ায়, কিন্তু মূর্খদের হৃদয় ন্যায়নিষ্ঠ নয়।
PRO 15:8 সদাপ্রভু দুষ্টদের বলিদান ঘৃণা করেন, কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের প্রার্থনা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
PRO 15:9 সদাপ্রভু দুষ্টদের পথ ঘৃণা করেন, কিন্তু যারা ধার্মিকতার পশ্চাদ্ধাবন করে তিনি তাদের ভালোবাসেন।
PRO 15:10 যে সঠিক পথ ত্যাগ করেছে তার জন্য কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করে আছে; যে সংশোধন ঘৃণা করে সে মারা যাবে।
PRO 15:11 মৃত্যু ও বিনাশ সদাপ্রভুর দৃষ্টিগোচর— তবে মানবমন আরও কত না বেশি দৃষ্টিগোচর!
PRO 15:12 বিদ্রুপকারীরা সংশোধন ক্ষতিকর মনে করে, তাই তারা জ্ঞানবানদের এড়িয়ে চলে।
PRO 15:13 আনন্দিত অন্তর মুখকে প্রসন্ন করে তোলে, কিন্তু মানসিক যন্ত্রণা আত্মাকে পিষে ফেলে।
PRO 15:14 বিচক্ষণ অন্তর জ্ঞানের খোঁজ করে, কিন্তু মূর্খের মুখ মূর্খতার ক্ষেতে চরে।
PRO 15:15 নিপীড়িতদের পক্ষে জীবনের সব দিনই বাজে, কিন্তু আনন্দিত অন্তর সর্বদাই ভোজে মেতে থাকে।
PRO 15:16 অশান্তি নিয়ে মহাধন ভোগ করার চেয়ে সদাপ্রভুর ভয়ের সঙ্গে অল্প কিছু থাকাই ভালো।
PRO 15:17 ঘৃণার মনোভাব নিয়ে আমিষ খাবার পরিবেশন করার চেয়ে ভালোবাসা দেখিয়ে সামান্য পরিমাণে নিরামিষ খাবার খাওয়ানো ভালো।
PRO 15:18 বদরাগি লোক বিরোধ বাধিয়ে দেয়, কিন্তু ধৈর্যশীল লোক বিবাদ শান্ত করে।
PRO 15:19 অলসদের পথে কাঁটার বাধা থাকে, কিন্তু ন্যায়পরায়ণদের পথ রাজপথবিশেষ।
PRO 15:20 জ্ঞানবান ছেলে তার বাবার মনে আনন্দ এনে দেয়, কিন্তু মূর্খ মানুষ তার মাকে অবজ্ঞা করে।
PRO 15:21 যার কোনও বুদ্ধি নেই, মূর্খতাই তাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু যে বিচক্ষণ সে সোজা পথে চলে।
PRO 15:22 পরামর্শের অভাবে সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, কিন্তু মন্ত্রণাদাতাদের সংখ্যা বেশি হলে সেগুলি সফল হয়।
PRO 15:23 সঠিক উত্তর দিয়ে মানুষ আনন্দ পায়, ও সঠিক সময়ে বলা কথা কতই না প্রশংসনীয়।
PRO 15:24 বিচক্ষণদের জন্য জীবনের পথ ঊর্ধ্বগামী যেন তাদের পাতালে যেতে না হয়।
PRO 15:25 সদাপ্রভু অহংকারীদের বাড়ি ধূলিসাৎ করে দেন, কিন্তু বিধবাদের সীমানার পাথর তিনি স্বস্থানে অটুট রাখেন।
PRO 15:26 সদাপ্রভু দুষ্টদের ভাবনাচিন্তাকে ঘৃণা করেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে অনুগ্রহকারী কথাবার্তা বিশুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়।
PRO 15:27 লোভী মানুষেরা তাদের পরিবারে সর্বনাশ ডেকে আনে, কিন্তু যে ঘুস দেওয়া-নেওয়া ঘৃণা করে, সে জীবিত থাকে।
PRO 15:28 ধার্মিকদের অন্তর এর উত্তর মাপে, কিন্তু দুষ্টদের মুখ দিয়ে অনিষ্ট প্রবাহিত হয়।
PRO 15:29 সদাপ্রভু দুষ্টদের থেকে দূরে সরে থাকেন, কিন্তু তিনি ধার্মিকদের প্রার্থনা শোনেন।
PRO 15:30 দূতের চোখের আলো হৃদয়ে আনন্দ এনে দেয়, ও শুভ সংবাদ অস্থির পক্ষে স্বাস্থ্যস্বরূপ।
PRO 15:31 যে জীবনদানকারী সংশোধনে মনোযোগ দেয় সে জ্ঞানবানদের সঙ্গে বসবাস করবে।
PRO 15:32 যারা শাসন অমান্য করে তারা নিজেদেরই ঘৃণা করে, কিন্তু যে সংশোধনে মনোযোগ দেয় সে বুদ্ধি-বিবেচনা লাভ করে।
PRO 15:33 প্রজ্ঞার নির্দেশ হল সদাপ্রভুকে ভয় করা, ও সম্মানের আগে আসে নম্রতা।
PRO 16:1 মানুষ মনে মনে অনেক পরিকল্পনা করে, কিন্তু জিভের সঠিক উত্তর সদাপ্রভুর কাছ থেকেই আসে।
PRO 16:2 মানুষের সব পথ তাদের দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ বলেই মনে হয়, কিন্তু অভিসন্ধি সদাপ্রভুই মেপে রাখেন।
PRO 16:3 তোমার কাজের ভার সদাপ্রভুর হাতে সমর্পণ করো, ও তিনি তোমার পরিকল্পনাগুলি সফল করবেন।
PRO 16:4 সদাপ্রভু সবকিছু সঠিক লক্ষ্য সামনে রেখেই করেন— দুষ্টদের জন্যও বিপর্যয়ের দিন স্থির করে রাখেন।
PRO 16:5 গর্বিতমনা সব লোককে সদাপ্রভু ঘৃণা করেন। নিশ্চিত জেনে রাখো: তারা অদণ্ডিত থাকবে না।
PRO 16:6 ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার মাধ্যমেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়; সদাপ্রভুর ভয়ের মাধ্যমেই অমঙ্গল এড়ানো যায়।
PRO 16:7 সদাপ্রভু যখন কোনও মানুষের জীবনযাত্রার ধরন দেখে খুশি হন, তখন তিনি তাদের শত্রুদেরও তাদের সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য করেন।
PRO 16:8 অন্যায় পথে প্রচুর লাভ করার চেয়ে ধার্মিকতার সঙ্গে সামান্য কিছু পাওয়া ভালো।
PRO 16:9 মানুষ মনে মনে তাদের গতিপথের বিষয়ে পরিকল্পনা করে, কিন্তু সদাপ্রভুই তাদের পদক্ষেপ স্থির করেন।
PRO 16:10 রাজা ঠোঁট দিয়ে যা বলেন তা এক ঐশ্বরিক বাণীর সমতুল্য, ও তাঁর মুখ সুবিচারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে না।
PRO 16:11 খাঁটি দাঁড়িপাল্লা ও নিক্তি সদাপ্রভুরই অধীনে থাকে; থলির সব বাটখারা তাঁর দ্বারাই নির্মিত।
PRO 16:12 রাজারা অন্যায়াচরণ ঘৃণা করেন, কারণ ধার্মিকতা দ্বারাই সিংহাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
PRO 16:13 সততাপরায়ণ ঠোঁট রাজাদের পক্ষে আনন্দজনক; যে সঠিক কথাবার্তা বলে তারা তার কদর করেন।
PRO 16:14 রাজার ক্রোধ এক মৃত্যুদূত, কিন্তু জ্ঞানবান তা শান্ত করবে।
PRO 16:15 যখন রাজার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়, তখন তার অর্থ জীবন; তাঁর অনুগ্রহ বসন্তকালের সজল মেঘের মতো।
PRO 16:16 সোনার চেয়ে প্রজ্ঞা লাভ করা কতই না ভালো, রুপোর পরিবর্তে দূরদর্শিতা অর্জন করা শ্রেয়!
PRO 16:17 ন্যায়পরায়ণদের রাজপথ অমঙ্গল এড়িয়ে যায়; যারা তাদের জীবনযাত্রার ধরন সুরক্ষিত রাখে তারা তাদের প্রাণ বাঁচায়।
PRO 16:18 অহংকার বিনাশের আগে আগে যায়, পতনের সামনেই থাকে উদ্ধত মনোভাব।
PRO 16:19 অহংকারীদের সঙ্গে লুন্ঠিত সামগ্রীর অংশীদার হওয়ার চেয়ে নিপীড়িতদের সঙ্গে নম্র মনোভাবাপন্ন হয়ে থাকা ভালো।
PRO 16:20 যে শিক্ষায় মনোযোগ দেয় সে উন্নতি লাভ করে, ও ধন্য সে, যে সদাপ্রভুতে নির্ভর করে।
PRO 16:21 যারা অন্তরে জ্ঞানবান তারা বিচক্ষণ বলে পরিচিত হয়, ও সহৃদয় কথাবার্তা শিক্ষাবর্ধন করে।
PRO 16:22 বিচক্ষণদের কাছে বিচক্ষণতাই জীবনের উৎস, কিন্তু মূর্খতা মূর্খদের কাছে দণ্ড এনে উপস্থিত করে।
PRO 16:23 জ্ঞানবানদের অন্তর তাদের মুখগুলিকে বিচক্ষণ করে তোলে, ও তাদের ঠোঁটগুলি শিক্ষাবর্ধন করে।
PRO 16:24 সহৃদয় কথাবার্তা মৌচাকের মতো, তা প্রাণের পক্ষে মিষ্টিমধুর ও অস্থির পক্ষে আরোগ্যদায়ক।
PRO 16:25 একটি পথ আছে যা সঠিক বলে মনে হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
PRO 16:26 শ্রমিকদের খোরাক তাদের হয়ে কাজ করে; তাদের খিদেই তাদের চালিয়ে নিয়ে যায়।
PRO 16:27 নীচমনা লোকেরা অনিষ্টের চক্রান্ত করে, ও তাদের মুখে যেন জ্বলন্ত আগুন থাকে।
PRO 16:28 বিকৃতমনা লোক বিবাদ বাধায়, ও পরনিন্দা পরচর্চা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
PRO 16:29 হিংসাত্মক লোকেরা তাদের প্রতিবেশীদের প্রলুব্ধ করে, ও তাদের এমন এক পথে নিয়ে যায় যা ভালো নয়।
PRO 16:30 যারা চোখ দিয়ে ইশারা করে তারা নষ্টামির চক্রান্ত করছে; যারা তাদের ঠোঁট বাঁকায় তাদের মধ্যে ক্ষতিসাধনের প্রবণতা আছে।
PRO 16:31 পাকা চুল প্রভার মুকুট; ধার্মিকতার পথে চলেই তা অর্জন করা যায়।
PRO 16:32 যোদ্ধার চেয়ে একজন ধৈর্যশীল মানুষ হওয়া ভালো, যে নগর জয় করে তার চেয়ে আত্মসংযমী মানুষ হওয়া ভালো।
PRO 16:33 গুটিকাপাতের দান কোলেই চালা হয়, কিন্তু তার প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত আসে সদাপ্রভুর কাছ থেকেই।
PRO 17:1 যে ভোজবাড়িতে শত্রুতার পরিবেশ আছে সেখানকার চেয়ে শান্তি ও নিরূপদ্রব পরিবেশে এক মুঠি শুকনো খাবার ও ভালো।
PRO 17:2 বিচক্ষণ দাস মর্যাদাহানিকর ছেলের উপরে কর্তৃত্ব করবে ও পরিবারভুক্ত একজনের মতো সেও উত্তরাধিকারের অংশীদার হবে।
PRO 17:3 রুপোর জন্য গলনপাত্র ও সোনার জন্য হাপর, কিন্তু সদাপ্রভুই অন্তরের পরীক্ষা করেন।
PRO 17:4 দুষ্টলোক প্রতারণাপূর্ণ ঠোঁটের কথাই শোনে; মিথ্যাবাদী মানুষ ধ্বংসাত্মক জিভের কথায় মনোযোগ দেয়।
PRO 17:5 যে দরিদ্রদের উপহাস করে সে তাদের নির্মাতার প্রতিই অসম্মান দেখায়; যে বিপর্যয় দেখে আনন্দ পায় সে অদণ্ডিত থাকবে না।
PRO 17:6 নাতিপুতিরা বয়স্ক মানুষদের মুকুট, ও মা-বাবারা তাদের সন্তানদের গৌরব।
PRO 17:7 বাক্‌পটু ঠোঁট যদি মূর্খের পক্ষে অনুপযোগী— তবে একজন শাসকের পক্ষে মিথ্যাবাদী ঠোঁট কতই না বেশি মন্দ!
PRO 17:8 যারা ঘুস দেয় তাদের দৃষ্টিতে তা এক দামি মণিবিশেষ; তারা মনে করে প্রত্যেকটি বাঁক ধরেই সাফল্য আসবে।
PRO 17:9 যে ভালোবাসা লালনপালন করে সে অপরাধ ঢেকে রাখে, কিন্তু যে বারবার সেকথার পুনরাবৃত্তি করে সে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
PRO 17:10 একশো কশাঘাত মূর্খকে যত না প্রভাবিত করে ভর্ৎসনা বিচক্ষণ মানুষকে তার চেয়েও অনেক বেশি প্রভাবিত করে।
PRO 17:11 অনিষ্টকারীরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ লালনপালন করে; তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদূত পাঠানো হবে।
PRO 17:12 মূর্খতার ভারে ন্যুব্জ মূর্খের সাথে দেখা হওয়ার চেয়ে বরং শাবক হারানো মাদি ভালুকের সম্মুখীন হওয়া ভালো।
PRO 17:13 যে মঙ্গলের প্রতিদানে অমঙ্গল ফিরিয়ে দেয় অমঙ্গল কখনোই তার বাড়িছাড়া হবে না।
PRO 17:14 বিবাদের সূত্রপাত হল বাঁধে ফাটল ধরার মতো বিষয়; অতএব বিতর্ক দানা বাঁধার আগেই বিষয়টিতে ইতি টানো।
PRO 17:15 দোষীকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া ও নির্দোষকে দোষী সাব্যস্ত করা— দুটি বিষয়কেই সদাপ্রভু ঘৃণা করেন।
PRO 17:16 প্রজ্ঞা কেনার জন্য মূর্খদের হাতে অর্থ থাকবে কেন, যখন তা বোঝার ক্ষমতাই তাদের নেই?
PRO 17:17 বন্ধু সবসময় ভালোবেসে যায়, ও দুর্দশা কালের জন্যই ভাই জন্ম নেয়।
PRO 17:18 বুদ্ধি-বিবেচনাহীন মানুষ জামিনদার হয়ে হাতে হাত মিলায় ও প্রতিবেশীর হয়ে বন্ধক রাখে।
PRO 17:19 যে বিবাদ ভালোবাসে সে পাপও ভালোবাসে; যে উঁচু দরজা নির্মাণ করে সে সর্বনাশ ডেকে আনে।
PRO 17:20 যার অন্তর দুর্নীতিগ্রস্ত সে উন্নতি লাভ করে না; যার জিভ কলুষিত সে বিপদে পড়ে।
PRO 17:21 মূর্খকে সন্তানরূপে লাভ করার অর্থ জীবনে বিষাদ নেমে আসা; মূর্খের মা-বাবার মনে আনন্দ থাকে না।
PRO 17:22 আনন্দিত হৃদয় ভালো ওষুধ, কিন্তু ভগ্নচূর্ণ আত্মা অস্থি শুকনো করে দেয়।
PRO 17:23 বিচারের গতিপথ বিকৃত করার জন্য দুষ্টেরা গোপনে ঘুস নেয়।
PRO 17:24 বিচক্ষণ মানুষ প্রজ্ঞাকে সামনে রেখে চলে, কিন্তু মূর্খের দৃষ্টি পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ায়।
PRO 17:25 মূর্খ ছেলে তার বাবার জীবনে বিষাদ ও যে মা তাকে জন্ম দিয়েছে তার জীবনে তিক্ততা উৎপন্ন করে।
PRO 17:26 নির্দোষ লোকের জরিমানা করা যদি ভালো কাজ না হয়, তবে সৎ কর্মকর্তাদের কশাঘাত করাও নিশ্চয় ঠিক নয়।
PRO 17:27 যার জ্ঞান আছে সে সংযমী হয়ে শব্দ ব্যবহার করে, ও যার বুদ্ধি-বিবেচনা আছে সে মেজাজের রাশ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
PRO 17:28 মূর্খরাও যদি নীরবতা বজায় রাখে তবে তাদের জ্ঞানবান বলে মনে করা হয়, ও যদি তারা তাদের জিভ নিয়ন্ত্রণে রাখে তবে তাদের বিচক্ষণ বলে মনে করা হয়।
PRO 18:1 অবন্ধুজনোচিত মানুষ স্বার্থপর আখেরের পিছনে ছোটে ও সমস্ত যুক্তিসংগত রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদ শুরু হয়।
PRO 18:2 মূর্খেরা বুদ্ধি-বিবেচনায় আনন্দ উপভোগ করে না কিন্তু তাদের নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করে তারা আনন্দ পায়।
PRO 18:3 যখন দুষ্টতা আসে, তার সাথে সাথে অবজ্ঞাও আসে, ও লজ্জার সঙ্গে আসে কলঙ্ক।
PRO 18:4 মুখের কথা গভীর জলরাশি, কিন্তু প্রজ্ঞার ফোয়ারা এক খরস্রোতা জলপ্রবাহ।
PRO 18:5 দুষ্টদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো ঠিক নয় ও নির্দোষদের ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করাও ভালো নয়।
PRO 18:6 মূর্খদের ঠোঁট তাদের কাছে বিবাদ নিয়ে আসে, ও তাদের মুখ প্রহারকে আমন্ত্রণ জানায়।
PRO 18:7 মূর্খদের মুখই তাদের সর্বনাশের কারণ, ও তাদের ঠোঁট তাদেরই জীবনের পক্ষে এক ফাঁদবিশেষ।
PRO 18:8 পরনিন্দা পরচর্চার কথাবার্তা সুস্বাদু খাদ্যের মতো লাগে; সেগুলি মানুষের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে।
PRO 18:9 যে তার কাজে শিথিল সে বিনাশকারীর সহোদর ভাই।
PRO 18:10 সদাপ্রভুর নাম এক সুরক্ষিত মিনার; ধার্মিকেরা সেখানে দৌড়ে যায় ও নিরাপদ বোধ করে।
PRO 18:11 ধনবানদের ধনসম্পত্তিই তাদের সুরক্ষিত নগর; তারা ভাবে, তা এমন এক উঁচু প্রাচীর যা মাপা যায় না।
PRO 18:12 পতনের আগে অন্তর উদ্ধত হয়, কিন্তু সম্মানের আগে আসে নম্রতা।
PRO 18:13 শোনার আগেই উত্তর দেওয়া— হল মূর্খতার ও লজ্জার বিষয়।
PRO 18:14 মানবাত্মা অসুস্থতা সহ্য করতে পারে, কিন্তু ভগ্নচূর্ণ আত্মা কে বহন করতে পারে?
PRO 18:15 বিচক্ষণ মানুষদের অন্তর জ্ঞানার্জন করে, কারণ জ্ঞানবানদের কান তা খুঁজে বের করে।
PRO 18:16 উপহার পথ খুলে দেয় ও উপহারদাতাকে বিশিষ্টজনেদের সান্নিধ্যে উপস্থিত করে।
PRO 18:17 মামলা-মকদ্দমায় যে প্রথমে কথা বলে তাকেই ততক্ষণ ঠিক বলে মনে করা হয়, যতক্ষণ না অন্য কেউ এগিয়ে আসে ও তাকে জেরা করে।
PRO 18:18 গুটিকাপাতের দান বাদবিবাদ নিষ্পত্তি করে ও বলবান মানুষ প্রতিপক্ষদের দূরে সরিয়ে রাখে।
PRO 18:19 বিক্ষুব্ধ ভাই সুরক্ষিত নগরের চেয়েও বেশি অনমনীয়; বাদানুবাদ হল দুর্গের বন্ধ দরজার মতো।
PRO 18:20 মানুষের মুখ থেকে উৎপন্ন ফল দিয়েই তাদের পেট ভরে; তাদের ঠোঁটের ফসল দিয়েই তারা তৃপ্ত হয়।
PRO 18:21 জীবন ও মৃত্যুর ক্ষমতা জিভের হস্তগত, ও যারা তা ভালোবাসে, তারা তার ফল খায়।
PRO 18:22 যে এক স্ত্রী খুঁজে পায় সে ভালোই কিছু পায় ও সদাপ্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করে।
PRO 18:23 দরিদ্রেরা দয়া পাওয়ার জন্য সনির্বন্ধ মিনতি জানায়, কিন্তু ধনবানেরা ধমকে উত্তর দেয়।
PRO 18:24 যার বন্ধুরা অনির্ভরযোগ্য সে অচিরেই সর্বনাশের সম্মুখীন হয়, কিন্তু এমন একজন বন্ধু আছেন যিনি ভাইয়ের চেয়েও বেশি অন্তরঙ্গ।
PRO 19:1 যে মূর্খের ঠোঁট উচ্ছৃঙ্খল তার চেয়ে সেই দরিদ্রই ভালো যার জীবনযাত্রার ধরন অনিন্দনীয়।
PRO 19:2 জ্ঞানবিহীন বাসনা ভালো নয়— হঠকারী পদযুগল আরও কত না বেশি পথ হারাবে!
PRO 19:3 মানুষের নিজেদের মূর্খামিই তাদের সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়, অথচ তাদের অন্তর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
PRO 19:4 ধনসম্পদ অনেক বন্ধু আকর্ষণ করে, কিন্তু দরিদ্র লোকজনের বন্ধুরাও তাদের পরিত্যাগ করে।
PRO 19:5 মিথ্যাসাক্ষী অদণ্ডিত থাকবে না, ও যে মিথ্যা কথার স্রোত বইয়ে দেয় সে নিষ্কৃতি পাবে না।
PRO 19:6 অনেকেই শাসকের তোষামুদি করে, ও যিনি উপহার দান করেন সবাই তাঁর বন্ধু হয়।
PRO 19:7 দরিদ্রদের সব আত্মীয়স্বজন যখন তাদের এড়িয়ে চলে— তখন তাদের বন্ধুরাও তো আরও বেশি করে তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে! যদিও দরিদ্রেরা অনুনয়-বিনয় করে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে, তাদের কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
PRO 19:8 যে জ্ঞানার্জন করে সে জীবন ভালোবাসে; যে বিচক্ষণতা পোষণ করে সে অচিরেই উন্নতি লাভ করবে।
PRO 19:9 মিথ্যাসাক্ষী অদণ্ডিত থাকবে না, ও যে মিথ্যা কথার স্রোত বইয়ে দেয় তার সর্বনাশ হবে।
PRO 19:10 মূর্খের পক্ষে যখন বিলাসিতার জীবনযাপন করা বাঞ্ছনীয় নয়— তখন ক্রীতদাসের পক্ষে অধিপতিদের উপরে প্রভুত্ব করা আরও কত না মন্দ বিষয়।
PRO 19:11 মানুষের প্রজ্ঞা ধৈর্য উৎপন্ন করে; অপরাধ মার্জনা করা তার পক্ষে গৌরবের বিষয়।
PRO 19:12 রাজার ক্রোধ সিংহের গর্জনের মতো, কিন্তু তাঁর অনুগ্রহ ঘাসের উপরে পড়া শিশিরের মতো।
PRO 19:13 মূর্খ সন্তান বাবার সর্বনাশের কারণ, ও কলহপ্রিয়া স্ত্রী ফাটা ছাদ থেকে একটানা পড়তে থাকা জলের সমতুল্য।
PRO 19:14 বাড়িঘর ও ধনসম্পদ মা-বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়, কিন্তু বিচক্ষণ স্ত্রী সদাপ্রভুর কাছ থেকেই পাওয়া যায়।
PRO 19:15 অলসতা অগাধ ঘুম নিয়ে আসে, ও অপারদর্শী মানুষ ক্ষুধার্তই থেকে যায়।
PRO 19:16 যারা আজ্ঞা পালন করে তারা তাদের প্রাণরক্ষা করে, কিন্তু যারা তাদের জীবনযাত্রার ধরনকে উপেক্ষা করে তারা মারা যাবে।
PRO 19:17 যারা দরিদ্রদের প্রতি দয়া দেখায় তারা সদাপ্রভুকেই ঋণ দেয়, ও তারা যা করেছে সেজন্য সদাপ্রভু তাদের পুরস্কৃত করবেন।
PRO 19:18 তোমার সন্তানদের শাসন করো, কারণ এতে আশা আছে, তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী হোয়ো না।
PRO 19:19 উগ্রস্বভাব বিশিষ্ট মানুষকে অবশ্যই দণ্ড পেতে হবে; তাদের উদ্ধার করো, ও তোমাকে আবার তা করতে হবে।
PRO 19:20 পরামর্শ শোনো ও শৃঙ্খলা গ্রহণ করো, ও শেষ পর্যন্ত তুমি জ্ঞানবানদের মধ্যে গণ্য হবে।
PRO 19:21 মানুষের অন্তরে অনেক পরিকল্পনা থাকে, কিন্তু সদাপ্রভুর অভীষ্টই প্রবল হয়।
PRO 19:22 একজন মানুষ যা চায় তা হল অফুরান ভালোবাসা; মিথ্যাবাদী হওয়ার চেয়ে দরিদ্র হওয়া ভালো।
PRO 19:23 সদাপ্রভুর ভয় জীবনের দিকে নিয়ে যায়; তখন একজন মানুষ সন্তুষ্ট থাকে, আকস্মিক দুর্দশা তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
PRO 19:24 অলস তার হাত থালায় ডুবিয়ে রাখে; সে এতই অলস যে তা মুখেও তোলে না।
PRO 19:25 বিদ্রুপকারীকে কশাঘাত করো, ও অনভিজ্ঞ লোকেরা বিচক্ষণতার শিক্ষা পাবে; বিচক্ষণদের ভর্ৎসনা করো, ও তারা জ্ঞানার্জন করবে।
PRO 19:26 যারা তাদের বাবার সম্পদ লুট করে ও তাদের মাকে তাড়িয়ে দেয় তারা এমন এক সন্তান যে লজ্জা ও অপমান বয়ে আনে।
PRO 19:27 হে আমার বাছা, তুমি যদি শিক্ষা নেওয়া বন্ধ করে দাও, তবে তুমি জ্ঞানের বাক্য থেকে দূরে সরে যাবে।
PRO 19:28 বিকৃতমনা সাক্ষী ন্যায়বিচারকে বিদ্রুপ করে, ও দুষ্টদের মুখ অমঙ্গল গ্রাস করে নেয়।
PRO 19:29 বিদ্রুপকারীদের জন্য শাস্তিবিধান তৈরি হয়, ও মূর্খদের পিঠের জন্য তৈরি হয় মারধর।
PRO 20:1 দ্রাক্ষারস বিদ্রুপকারী ও সুরা কলহকারী; যে এগুলির দ্বারা বিপথগামী হয় সে জ্ঞানবান নয়।
PRO 20:2 রাজার ক্রোধ সিংহের গর্জনের মতো আতঙ্ক ছড়ায়; যারা তাঁকে ক্রুদ্ধ করে তোলে তারা তাদের প্রাণ খোয়ায়।
PRO 20:3 বিবাদ এড়িয়ে চলা মানুষের পক্ষে সম্মানজনক বিষয়, কিন্তু মূর্খমাত্রই চট্‌জলদি বিবাদ করে ফেলে।
PRO 20:4 অলসেরা যথাসময়ে লাঙ্গল চষে না; অতএব ফসল কাটার সময় তারা চেয়ে দেখে কিন্তু কিছুই পায় না।
PRO 20:5 মানুষের অন্তরের অভিপ্রায় গভীর জলরাশি, কিন্তু যে বিচক্ষণ সেই তা তুলে আনে।
PRO 20:6 অনেকেই দাবি করে যে তাদের ভালোবাসা অফুরান, কিন্তু বিশ্বস্ত লোক কে খুঁজে পায়?
PRO 20:7 ধার্মিকেরা অনিন্দনীয় জীবনযাপন করে; তাদের পরে তাদের সন্তানেরাও আশীর্বাদধন্য হয়।
PRO 20:8 রাজা যখন বিচার করার জন্য তাঁর সিংহাসনে বসেন, তখন তিনি তাঁর চোখ দিয়ে সব অমঙ্গল উড়িয়ে দেন।
PRO 20:9 কে বলতে পারে, “আমি আমার অন্তর বিশুদ্ধ রেখেছি; আমি শুচিশুদ্ধ ও নিষ্পাপ”?
PRO 20:10 বিসদৃশ বাটখারা ও বিসদৃশ মাপ— সদাপ্রভু উভয়ই ঘৃণা করেন।
PRO 20:11 ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরাও তাদের কাজকর্মের দ্বারা পরিচিত হয়, তাই তাদের আচরণ কি সত্যিই বিশুদ্ধ ও ন্যায্য?
PRO 20:12 যে কান শোনে ও যে চোখ দেখে— সদাপ্রভু উভয়ই তৈরি করেছেন।
PRO 20:13 ঘুম ভালোবেসো না পাছে তুমি দরিদ্র হয়ে যাও; জেগে থাকো ও তোমার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকবে।
PRO 20:14 “এটি ভালো নয়, এটি ভালো নয়!” ক্রেতা বলে— পরে ফিরে যায় ও সংগৃহীত বস্তুটি নিয়ে গর্ববোধ করে।
PRO 20:15 সেখানে সোনা আছে, ও প্রচুর পরিমাণে মণিমুক্তো আছে, কিন্তু যে ঠোঁট জ্ঞানের কথা বলে তা দুর্লভ এক রত্ন।
PRO 20:16 যে এক আগন্তুকের জামিনদার হয়েছে তার পোশাকটি নিয়ে নাও; তা যদি এক বহিরাগতের জন্য করা হয়েছে, তবে সেটি বন্ধকরূপে রেখে দাও।
PRO 20:17 প্রতারণার দ্বারা অর্জিত খাদ্যদ্রব্য সুস্বাদু লাগে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের মুখ কাঁকরে ভরে যায়।
PRO 20:18 পরামর্শ খোঁজ করার দ্বারাই পরিকল্পনা সফল হয়; অতএব তুমি যদি যুদ্ধ শুরু করেছ, তবে পরিচালনা লাভ করো।
PRO 20:19 পরনিন্দা পরচর্চা আস্থা ভঙ্গ করে; অতএব সেই লোককে এড়িয়ে চলো যে অতিরিক্ত কথাবার্তা বলে।
PRO 20:20 যদি কেউ তাদের মা-বাবাকে অভিশাপ দেয়, তবে ঘোর অন্ধকারে তাদের প্রদীপ নিভে যাবে।
PRO 20:21 যে উত্তরাধিকার খুব তাড়াতাড়ি অর্জন করা যায় তা শেষ পর্যন্ত আর আশীর্বাদধন্য হবে না।
PRO 20:22 একথা বোলো না, “আমি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেব!” সদাপ্রভুর অপেক্ষা করো, ও তিনিই তোমার হয়ে প্রতিশোধ নেবেন।
PRO 20:23 সদাপ্রভু বিসদৃশ বাটখারা ঘৃণা করেন, ও অসাধু দাঁড়িপাল্লা তাঁকে সন্তুষ্ট করে না।
PRO 20:24 মানুষের পদক্ষেপ সদাপ্রভু দ্বারাই পরিচালিত হয়। তবে মানুষ কীভাবে তাদের নিজস্ব পথ বুঝতে পারবে?
PRO 20:25 হঠাৎ করে কোনো কিছু উৎসর্গ করে পরে নিজের করা প্রতিজ্ঞার বিষয়ে বিবেচনা করলে, তা এক ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়।
PRO 20:26 জ্ঞানবান রাজা দুষ্টদের ঝেড়ে ফেলেন; তিনি তাদের উপর দিয়ে শস্য মাড়াই কলের চাকা চালিয়ে দেন।
PRO 20:27 মানবাত্মা সদাপ্রভুর সেই প্রদীপ যা মানুষের অন্তরের অন্তস্থলে আলোকপাত করে।
PRO 20:28 ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা রাজাকে নিরাপদ রাখে; ভালোবাসার মাধ্যমেই তাঁর সিংহাসন দৃঢ় হয়।
PRO 20:29 যুবকদের গৌরব হল তাদের শক্তি, পাকা চুলই হল বৃদ্ধদের ঐশ্বর্য।
PRO 20:30 আঘাত ও ক্ষত অনিষ্ট ধুয়ে দেয়, ও মারধর অন্তরের অন্তস্থলকে বিশোধিত করে।
PRO 21:1 রাজার হৃদয় সদাপ্রভুর হাতে ধরা এমন এক জলপ্রবাহ যা তিনি তাদের সবার দিকে প্রবাহিত হতে দেন যারা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
PRO 21:2 মানুষ মনে করতে পারে যে তাদের পথই ঠিক, কিন্তু সদাপ্রভুই অন্তর মাপেন।
PRO 21:3 বলিদানের পরিবর্তে যা যথার্থ ও ন্যায্য, তা করাই সদাপ্রভুর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
PRO 21:4 উদ্ধত দৃষ্টি ও গর্বিত হৃদয়— দুষ্টদের অকর্ষিত জমি—পাপ উৎপন্ন করে।
PRO 21:5 পরিশ্রমীদের পরিকল্পনা লাভের মুখ দেখে ঠিক যেভাবে হঠকারিতা দারিদ্র নিয়ে আসে।
PRO 21:6 মিথ্যাবাদী জিভ দ্বারা যে প্রচুর ধন অর্জিত হয় তা অস্থায়ী বাষ্প ও সাংঘাতিক ফাঁদবিশেষ।
PRO 21:7 দুষ্টদের হিংস্রতা তাদেরই টেনে নিয়ে যাবে, কারণ তারা যা ন্যায্য তা করতে অস্বীকার করে।
PRO 21:8 অপরাধীদের পথ সর্পিল, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের আচরণ ন্যায়নিষ্ঠ।
PRO 21:9 কলহপ্রিয়া স্ত্রীর সঙ্গে এক বাড়িতে থাকার চেয়ে ছাদের এক কোনায় বসবাস করা ভালো।
PRO 21:10 দুষ্টেরা অনিষ্টের আকাঙ্ক্ষা করে; তাদের প্রতিবেশীরা তাদের কাছ থেকে কোনও দয়া পায় না।
PRO 21:11 যখন বিদ্রুপকারী শাস্তি পায়, অনভিজ্ঞ লোকেরা জ্ঞানার্জন করে; জ্ঞানবানদের প্রতি মনোযোগ দিয়ে তারা জ্ঞান লাভ করে।
PRO 21:12 ধর্মময় জন দুষ্টদের বাড়ির দিকে নজর রাখেন ও দুষ্টদের সর্বনাশ করেন।
PRO 21:13 যারা দরিদ্রদের কান্না শুনেও কান বন্ধ করে রাখে তারাও কাঁদবে ও কোনও উত্তর পাবে না।
PRO 21:14 গোপনে দত্ত উপহার ক্রোধ প্রশমিত করে, ও আলখাল্লার নিচে লুকিয়ে রাখা ঘুস প্রচণ্ড ক্রোধ শান্ত করে।
PRO 21:15 যখন ন্যায়বিচার করা হয়, তা ধার্মিকদের জীবনে আনন্দ এনে দেয় কিন্তু অনিষ্টকারীদের জীবনে আতঙ্ক জাগায়।
PRO 21:16 যে দূরদর্শিতার পথ থেকে দূরে সরে যায় সে মৃত মানুষদের সমাজে এসে বিশ্রাম নেয়।
PRO 21:17 যে তুচ্ছ আমোদ-প্রমোদ ভালোবাসে সে দরিদ্র হয়ে যাবে; যে দ্রাক্ষারস ও জলপাই তেল ভালোবাসে সে কখনও ধনবান হবে না।
PRO 21:18 দুষ্টেরা ধার্মিকদের জন্য, ও বিশ্বাসঘাতকেরা ন্যায়পরায়ণদের জন্য মুক্তিপণ হবে।
PRO 21:19 কলহপ্রিয়া ও খুঁতখুঁতে স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করার চেয়ে বরং মরুভূমিতে বসবাস করা ভালো।
PRO 21:20 জ্ঞানবানেরা পছন্দসই খাদ্যদ্রব্য ও জলপাই তেল সঞ্চয় করে রাখে, কিন্তু মূর্খেরা তাদের কাছে যা কিছু থাকে সেসব গ্রাস করে ফেলে।
PRO 21:21 যে ধার্মিকতা ও ভালোবাসার পশ্চাদ্ধাবন করে সে জীবন, সমৃদ্ধি ও সম্মান পায়।
PRO 21:22 যে জ্ঞানবান সে বলশালীদের নগর আক্রমণ করতে পারে ও সেই বলশালীরা যে দুর্গের উপরে নির্ভর করে থাকে, সেগুলিও চূর্ণ করে দিতে পারে।
PRO 21:23 যারা তাদের মুখ ও জিভ সংযত রাখে তারা নিজেদেরকে চরম দুর্দশা থেকে রক্ষা করে।
PRO 21:24 অহংকারী ও দাম্ভিক মানুষ—তার নাম “বিদ্রুপকারী”— অশিষ্ট উন্মত্ততাপূর্ণ আচরণ করে।
PRO 21:25 অলসের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার মৃত্যু ডেকে আনে, কারণ তার হাত দুটি কাজ করতে অস্বীকার করে।
PRO 21:26 সারাটি দিন ধরে সে আরও বেশি কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু ধার্মিকেরা অকাতরে দান করে।
PRO 21:27 দুষ্টদের বলিদান ঘৃণার্হ— মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে যখন তা আনা হয় তখন তা আরও কত না বেশি ঘৃণার্হ হয়ে যায়!
PRO 21:28 মিথ্যাসাক্ষী ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু মনোযোগী শ্রোতা সফলতাপূর্বক সাক্ষ্য দেবে।
PRO 21:29 দুষ্টেরা দুঃসাহসিক ধৃষ্টতা খাড়া করে, কিন্তু ন্যায়পরায়ণরা তাদের জীবনযাত্রার ধরনের কথা ভেবে চলে।
PRO 21:30 এমন কোনও প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা বা পরিকল্পনা নেই যা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে সফল হতে পারে।
PRO 21:31 ঘোড়াকে যুদ্ধের দিনের জন্য তৈরি করে রাখা হয়। কিন্তু বিজয় নির্ভর করে সদাপ্রভুর উপরে।
PRO 22:1 প্রচুর ধনসম্পদের চেয়ে সুনাম বেশি কাম্য; রুপো ও সোনার চেয়ে সম্মান পাওয়া ভালো।
PRO 22:2 ধনবান ও দরিদ্রের মধ্যে একটিই মিল আছে; সদাপ্রভু তাদের উভয়েরই নির্মাতা।
PRO 22:3 বিচক্ষণ মানুষেরা বিপদ দেখে কোথাও আশ্রয় নেয়, কিন্তু অনভিজ্ঞ লোকেরা এগিয়ে যায় ও শাস্তি পায়।
PRO 22:4 নম্রতাই সদাপ্রভুর ভয়; এর বেতন হল ধনসম্পদ ও সম্মান ও জীবন।
PRO 22:5 দুষ্টদের চলার পথে ফাঁদ ও চোরা খাদ থাকে, কিন্তু যারা নিজেদের জীবন রক্ষা করে তারা সেগুলি থেকে দূরে সরে থাকে।
PRO 22:6 সন্তানদের এমন এক পথে চলার শিক্ষা দাও যে পথে তাদের চলা উচিত, ও তারা বৃদ্ধ হয়ে গেলেও সেখান থেকে ফিরে আসবে না।
PRO 22:7 ধনবানেরা দরিদ্রদের উপর কর্তৃত্ব করে, ও যারা ধার করে তারা মহাজনের দাস হয়।
PRO 22:8 যারা অধর্মের বীজ বোনে তাদের চরম দুর্দশারূপী ফসল কাটতে হয়, ও তারা রাগের বশে যে লাঠি চালায় তা ভেঙে যাবে।
PRO 22:9 উদার প্রকৃতির মানুষেরা স্বয়ং আশীর্বাদধন্য হবে, কারণ তারা তাদের খাদ্য দরিদ্রদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।
PRO 22:10 বিদ্রুপকারীদের তাড়িয়ে দাও, আর বিবাদও দূর হয়ে যাবে; বিবাদ ও অপমানও মিটে যাবে।
PRO 22:11 যে বিশুদ্ধ হৃদয় ভালোবাসে ও যে অনুগ্রহকারী কথাবার্তা বলে সে রাজাকে বন্ধু রূপে পায়।
PRO 22:12 সদাপ্রভুর চোখ জ্ঞান পাহারা দেয়, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের কথা তিনি বিফল করে দেন।
PRO 22:13 অলস বলে, “বাইরে সিংহ আছে! নগরের চকে গেলেই আমি নিহত হব!”
PRO 22:14 ব্যভিচারী মহিলার মুখ এক গভীর খাত; যে সদাপ্রভুর ক্রোধের অধীন সে সেই খাদে গিয়ে পড়ে।
PRO 22:15 শিশুর অন্তরে মূর্খতা বাঁধা থাকে, কিন্তু শৃঙ্খলাপরায়ণতার লাঠি তা বহুদূরে সরিয়ে দেয়।
PRO 22:16 যে নিজের ধনসম্পত্তি বাড়িয়ে তোলার জন্য দরিদ্রদের উপরে অত্যাচার করে ও যে ধনবানদের উপহার দেয়—উভয়েই দারিদ্রের সম্মুখীন হবে।
PRO 22:17 মনোযোগ দাও ও জ্ঞানবানদের নীতিবচনে কর্ণপাত করো; আমার শিক্ষায় মনোনিবেশ করো,
PRO 22:18 কারণ তুমি যখন এগুলি অন্তরে রাখবে তখন তা আনন্দদায়ক হবে ও সবকটি তোমার ঠোঁটে প্রস্তুত হয়ে থাকবে।
PRO 22:19 যেন সদাপ্রভুতে তোমার নির্ভরতা স্থির হয়, তাই আজ আমি তোমাকে, তোমাকেই শিক্ষা দিচ্ছি।
PRO 22:20 তোমার জন্য আমি কি সেই ত্রিশটি নীতিবচন লিখিনি, যেগুলি পরামর্শ ও জ্ঞানমূলক নীতিবচন,
PRO 22:21 যা তোমাকে সৎ হতে ও সত্যিকথা বলতে শিক্ষা দেবে, যেন তুমি যাদের সেবা করছ তাদের কাছে তুমি সত্যনিষ্ঠ খবর নিয়ে আসতে পারো?
PRO 22:22 দরিদ্রদের এজন্যই শোষণ কোরো না যেহেতু তারা দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের দরবারে পিষে মেরো না,
PRO 22:23 কারণ সদাপ্রভু তাদের হয়ে মামলা লড়বেন ও প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ দাবি করবেন।
PRO 22:24 উগ্রস্বভাব বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না, এমন কোনও লোকের সহযোগী হোয়ো না যে সহজেই ক্রুদ্ধ হয়,
PRO 22:25 পাছে তুমিও তাদের জীবনযাত্রার ধরন শিখে ফেলো ও নিজেই ফাঁদে জড়িয়ে পড়ো।
PRO 22:26 এমন কোনও মানুষের মতো হোয়ো না যে বন্ধক রেখেছে বা যে ঋণগ্রহীতার হয়ে জামিনদার হয়েছে;
PRO 22:27 যদি তুমি ঋণ শোধ করতে না পারো, তবে তোমার গায়ের তলা থেকে তোমার বিছানাটিও কেড়ে নেওয়া হবে।
PRO 22:28 সীমানার যে প্রাচীন পাথরটি তোমার পূর্বপুরুষেরা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সেটি স্থানান্তরিত কোরো না।
PRO 22:29 কাউকে কি তাদের কাজে সুদক্ষ দেখছ? তারা রাজাদের সামনে দাঁড়িয়ে সেবাকাজ করবে; তারা কোনও নিম্নস্তরীয় কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে সেবাকাজ করবে না।
PRO 23:1 যখন তুমি কোনও শাসকের সঙ্গে খাবার খেতে বসবে, তখন ভালো করে লক্ষ্য কোরো তোমার সামনে কী রাখা আছে,
PRO 23:2 ও যদি তোমার ভোজনবিলাসিতার বদভ্যাস থাকে তবে তুমি গলায় ছুরি বেঁধে রেখো।
PRO 23:3 তাঁর সুস্বাদু খাদ্যের প্রতি আকাঙ্ক্ষিত হোয়ো না, কারণ সেই খাদ্য বিভ্রান্তিকর।
PRO 23:4 ধনসম্পত্তি অর্জনের জন্য নিজেকে অবসন্ন করে তুলো না; নিজের চালাকির উপরে ভরসা কোরো না।
PRO 23:5 ধনসম্পত্তির দিকে শুধু এক পলক দেখো, আর তা অদৃশ্য হয়ে যাবে, কারণ ঈগল পাখির মতো নিশ্চয় তার ডানা গজাবে ও তা আকাশে উড়ে যাবে।
PRO 23:6 কোনও রুষ্টমনা নিমন্ত্রণকর্তার দেওয়া খাদ্য খেয়ো না, তার সুস্বাদু খাদ্যের প্রতি আকাঙ্ক্ষিত হোয়ো না;
PRO 23:7 কারণ সে এমন এক ধরনের লোক যে সবসময় অর্থব্যয়ের কথা ভাবে। সে তোমাকে বলবে “ভোজনপান করো,” কিন্তু সে তোমার প্রতি আন্তরিক নয়।
PRO 23:8 তুমি অল্প যেটুকু খেয়েছ তা বমি করে ফেলবে ও তোমার সাধুবাদ অপচয় করে ফেলবে।
PRO 23:9 মূর্খদের কাছে কথা বোলো না, কারণ তারা তোমার বিচক্ষণ কথাবার্তা অবজ্ঞা করবে।
PRO 23:10 সীমানার প্রাচীন পাথরটি স্থানান্তরিত কোরো না বা পিতৃহীনদের জমি বলপূর্বক দখল কোরো না,
PRO 23:11 কারণ তাদের রক্ষক বলবান; তাদের হয়ে তিনি তোমার বিরুদ্ধে মামলা লড়বেন।
PRO 23:12 শিক্ষার প্রতি আন্তরিক মনোনিবেশ করো ও জ্ঞানের কথায় কর্ণপাত করো।
PRO 23:13 শিশুকে শাসন করতে পিছপা হোয়ো না; তুমি যদি তাদের লাঠি দিয়ে মেরে শাস্তি দাও, তবে তারা মারা যাবে না।
PRO 23:14 লাঠি দিয়ে মেরে তাদের শাস্তি দাও ও মৃত্যুর হাত থেকে তাদের রক্ষা করো।
PRO 23:15 হে আমার বাছা, তোমার অন্তর যদি জ্ঞানে পরিপূর্ণ হয়, তবে সত্যিই আমি আন্তরিকভাবে আনন্দিত হব;
PRO 23:16 ঠোঁট দিয়ে তুমি যখন যা সঠিক তা বলবে তখন আমার হৃদয় উল্লসিত হবে।
PRO 23:17 তোমার হৃদয় যেন পাপীদের হিংসা না করে, কিন্তু সবর্দা তুমি সদাপ্রভুকে ভয় করার জন্য তৎপর থেকো।
PRO 23:18 নিশ্চয় তোমার জন্য ভবিষ্যতের এক আশা আছে, ও তোমার আশা বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
PRO 23:19 হে আমার বাছা, তুমি শোনো ও জ্ঞানবান হও, ও ন্যায়পথে তোমার অন্তর স্থির রাখো:
PRO 23:20 যারা সুরা পান করে বা গাণ্ডেপিণ্ডে খাওয়াদাওয়া করে তাদের সঙ্গী হোয়ো না,
PRO 23:21 কারণ মদ্যপ ও পেটুকেরা দরিদ্র হয়ে যায়, ও তন্দ্রাচ্ছন্নভাব তাদের ছেঁড়া জামাকাপড় পরিয়ে ছাড়ে।
PRO 23:22 তোমার সেই বাবার কথা শোনো, যিনি তোমাকে জীবন দিয়েছেন, ও তোমার মায়ের বৃদ্ধাবস্থায় তাঁকে হেয় জ্ঞান কোরো না।
PRO 23:23 সত্য কিনে নাও ও তা বিক্রি কোরো না— প্রজ্ঞা, শিক্ষা ও দূরদর্শিতাও কিনে নাও।
PRO 23:24 ধার্মিক সন্তানের বাবা খুব আনন্দ পান; জ্ঞানবান ছেলের জন্মদাতা তাকে নিয়ে আনন্দ করেন।
PRO 23:25 তোমার বাবা ও মা আনন্দ করুন; যিনি তোমাকে জন্ম দিয়েছেন তিনি উল্লসিতা হোন!
PRO 23:26 হে আমার বাছা, তোমার অন্তর আমাকে দিয়ে দাও ও তোমার চোখদুটি আমার পথে আহ্লাদিত হোক,
PRO 23:27 কারণ ব্যভিচারিণী মহিলা এক গভীর খাত, ও স্বৈরিণী স্ত্রী এক অগভীর কুয়ো।
PRO 23:28 দস্যুর মতো সে ওৎ পেতে থাকে ও পুরুষদের মধ্যে সে বিশ্বাসঘাতকতা বৃদ্ধি করে।
PRO 23:29 কে দুর্দশাগ্রস্ত? কে দুঃখিত? কে বিবাদ করে? কে অভিযোগ জানায়? কে অকারণে ক্ষতবিক্ষত হয়? কার চোখ রক্তরাঙা হয়?
PRO 23:30 তারাই, যারা সুরাপানে আসক্ত, যারা মিশ্রিত সুরা ভর্তি বাটির দিকে যায়।
PRO 23:31 তুমি সুরার দিকে তখন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকো না যখন তার রং লাল থাকে, যখন তা পানপাত্রের মধ্যে ঝকঝক করে, যখন তা সহজেই গলায় নেমে যায়!
PRO 23:32 শেষে তা সাপের মতো দংশন করে ও বিষধর সাপের মতো বিষ উগরে দেয়।
PRO 23:33 তোমার চোখদুটি অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখবে, ও তোমার মন বিভ্রান্তিকর সব বিষয় কল্পনা করবে।
PRO 23:34 তুমি এমন একজনের মতো হয়ে যাবে যে উঁচু সমুদ্রের উপরে ঘুমিয়ে আছে, জাহাজের মাস্তুলের চূড়ায় শুয়ে আছে।
PRO 23:35 “ওরা আমাকে মেরেছে,” তুমি বলবে, “কিন্তু আমি ব্যথা পাইনি! ওরা আমায় মারধর করেছে, কিন্তু আমি তা অনুভব করিনি! আমি কখন জেগে উঠব যেন আরও একটু পান করতে পারি?”
PRO 24:1 দুষ্টদের প্রতি হিংসা কোরো না, তাদের সঙ্গলাভের বাসনা রেখো না;
PRO 24:2 কারণ তাদের হৃদয় হিংস্রতার চক্রান্ত করে, ও তাদের ঠোঁট অশান্তি উৎপন্ন করার কথা বলে।
PRO 24:3 প্রজ্ঞা দ্বারাই গৃহ নির্মাণ হয়, ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়;
PRO 24:4 জ্ঞানের মাধ্যমে সেটির ঘরগুলি দুষ্প্রাপ্য ও সুন্দর সুন্দর সম্পদে পরিপূর্ণ হয়।
PRO 24:5 জ্ঞানবানেরা মহাশক্তির মাধ্যমে জয়ী হয়, ও যাদের জ্ঞান আছে তারা তাদের শক্তিবৃদ্ধি করে।
PRO 24:6 নিশ্চয় যুদ্ধ শুরু করার জন্য তোমার জ্ঞানগর্ভ পরিচালনা প্রয়োজন, ও অনেক পরামর্শদাতার মাধ্যমেই যুদ্ধজয় করা যায়।
PRO 24:7 মূর্খদের জন্য প্রজ্ঞা খুবই গুরুভার; নগরদ্বারে নেতাদের সমাজে উপস্থিত থাকাকালীন তারা যেন মুখ না খোলে।
PRO 24:8 যে অনিষ্টের চক্রান্ত করে সে এক কুচক্রী বলে পরিচিত হবে।
PRO 24:9 মূর্খের চক্রান্তগুলি পাপময়, ও মানুষজন বিদ্রুপকারীকে ঘৃণা করে।
PRO 24:10 সংকটকালে তুমি যদি ভয়ে পশ্চাদগামী হও, তবে তোমার শক্তি কতই না কম!
PRO 24:11 যারা মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে তাদের উদ্ধার করো; যারা টলতে টলতে বধ্যভূমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের আটকে রাখো।
PRO 24:12 তুমি যদি বলো, “আমার তো এই বিষয়ে কিছুই জানা নেই,” তবে যিনি অন্তর মাপেন তিনি কি তা বুঝবেন না? যিনি তোমার জীবন পাহারা দেন তিনি কি জানতে পারবেন না? তিনি কি প্রত্যেককে তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেবেন না?
PRO 24:13 হে আমার বাছা, মধু খাও, কারণ তা উপকারী; মৌচাকের মধুর স্বাদ তোমার কাছে মিষ্টি লাগবে।
PRO 24:14 একথাও মনে রেখো যে প্রজ্ঞা তোমার পক্ষে মধুর মতো: তুমি যদি তা খুঁজে পাও, তবে তোমার জন্য ভবিষ্যৎকালীন এক আশা আছে, ও তোমার আশা বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
PRO 24:15 ধার্মিকদের বাড়ির কাছে চোরের মতো ওৎ পেতে থেকো না, তাদের বাসস্থানে লুটপাট চালিয়ো না;
PRO 24:16 কারণ ধার্মিকেরা সাতবার পড়লেও, তারা আবার উঠে দাঁড়াবে, কিন্তু যখন চরম দুর্দশা আঘাত হানে তখন দুষ্টেরা হোঁচট খায়।
PRO 24:17 তোমার শত্রুর পতনে উল্লসিত হোয়ো না; তারা যখন হোঁচট খায়, তখন তোমার অন্তরকে আনন্দিত হতে দিয়ো না।
PRO 24:18 পাছে সদাপ্রভু দেখেন ও অসন্তুষ্ট হন ও তাদের দিক থেকে তাঁর ক্রোধ ফিরিয়ে নেন।
PRO 24:19 অনিষ্টকারীদের কারণে ধৈর্যচ্যুত হোয়ো না, বা দুষ্টদের প্রতি হিংসা কোরো না।
PRO 24:20 কারণ অনিষ্টকারীদের ভবিষ্যৎকালীন কোনো আশা নেই, ও দুষ্টদের প্রদীপ নিভিয়ে ফেলা হবে।
PRO 24:21 হে আমার বাছা, সদাপ্রভুকে ও রাজাকেও ভয় করো, ও বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের দলে যোগ দিয়ো না,
PRO 24:22 কারণ তারা উভয়েই তাদের উপরে আকস্মিক বিনাশ পাঠাবেন, ও কে জানে, তারা কী চরম দুর্দশা নিয়ে আসবেন?
PRO 24:23 এগুলিও জ্ঞানবানদের বলা নীতিবচন: বিচারে পক্ষপাতিত্ব দেখানো উচিত নয়:
PRO 24:24 যে অপরাধীদের বলে, “তুমি নির্দোষ,” সে লোকজনের দ্বারা অভিশপ্ত হবে ও জাতিদের দ্বারা নিন্দিত হবে।
PRO 24:25 কিন্তু যারা অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মঙ্গল হবে, ও তাদের উপরে প্রচুর আশীর্বাদ বর্ষিত হবে।
PRO 24:26 সরল উত্তর ঠোঁটে লেগে থাকা এক চুমুর মতো।
PRO 24:27 তোমার বাইরের কাজকর্ম সেরে ফেলো ও ক্ষেতজমি তৈরি করে রাখো; তারপর, তোমার গৃহ নির্মাণ করো।
PRO 24:28 অকারণে তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ো না— বিপথে চালিত করার জন্য তুমি কি তোমার ঠোঁট ব্যবহার করবে?
PRO 24:29 একথা বোলো না, “তারা আমার প্রতি যা করেছে আমিও তাদের প্রতি তাই করব; তাদের কর্মের প্রতিফল আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।”
PRO 24:30 আমি অলসের ক্ষেতজমির পাশ দিয়ে গেলাম, এমন একজনের দ্রাক্ষাক্ষেতের পাশ দিয়ে গেলাম যার কোনও বোধশক্তি নেই;
PRO 24:31 সর্বত্র কাঁটাগাছ জন্মেছে, জমি আগাছায় ভরে গিয়েছে, ও পাথরের প্রাচীর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
PRO 24:32 আমি যা লক্ষ্য করেছিলাম তা নিয়ে একটু ভাবলাম ও যা দেখেছিলাম তা থেকে এই শিক্ষা পেলাম:
PRO 24:33 আর একটু ঘুম, আর একটু তন্দ্রা, হাত পা গুটিয়ে আরও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া—
PRO 24:34 ও দারিদ্র এক চোরের মতো ও অভাব এক সশস্ত্র সৈনিকের মতো তোমার উপরে এসে পড়বে।
PRO 25:1 এগুলি শলোমনের লেখা আরও কিছু হিতোপদেশ, যেগুলি যিহূদারাজ হিষ্কিয়ের লোকজন সংকলিত করেছিলেন:
PRO 25:2 কোনও বিষয় গোপন রাখা ঈশ্বরের পক্ষে গৌরবজনক; কোনও বিষয় খুঁজে বের করা রাজাদের পক্ষে গৌরবজনক।
PRO 25:3 আকাশমণ্ডল যত উঁচু ও পৃথিবী যত গভীর, রাজাদের অন্তরও তেমনই অজ্ঞেয়।
PRO 25:4 রুপো থেকে খাদ বের করে দাও, ও রৌপ্যকার এক পাত্র তৈরি করতে পারবে;
PRO 25:5 রাজার উপস্থিতি থেকে দুষ্ট কর্মকর্তাদের দূর করে দাও, ও তাঁর সিংহাসন ধার্মিকতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
PRO 25:6 রাজার সামনে নিজেকে মহিমান্বিত কোরো না, ও তাঁর বিশিষ্টজনেদের মধ্যে স্থান পাওয়ার দাবি জানিয়ো না;
PRO 25:7 তাঁর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তোমাকে খেলো করার চেয়ে ভালো হয়, যদি তিনি তোমাকে বলেন, “এখানে উঠে এসো।” তুমি স্বচক্ষে যা দেখেছ
PRO 25:8 তাড়াহুড়ো করে দরবারে তা নিয়ে এসো না, কারণ তোমার প্রতিবেশী যদি তোমায় লজ্জায় ফেলে দেয়, তবে শেষে তুমি কী করবে?
PRO 25:9 তোমার প্রতিবেশীকে যদি তুমি দরবারে টেনে নিয়ে যাও, তবে অন্য কারোর আস্থা ভঙ্গ কোরো না,
PRO 25:10 তা না হলে যে একথা শুনবে সে তোমাকে অপমান করবে ও তোমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বজায় থাকবে।
PRO 25:11 ন্যায়সংগতভাবে দেওয়া রায় রুপোর ডালিতে সাজানো সোনার আপেলের মতো।
PRO 25:12 শ্রবণশীল কানের কাছে জ্ঞানবান বিচারকের ভর্ৎসনা কানের সোনার দুল বা খাঁটি সোনার এক অলংকারের মতো।
PRO 25:13 যারা নির্ভরযোগ্য দূত পাঠায়, তাদের কাছে সে ফসল কাটার মরশুমে পাওয়া হিমশীতল পানীয়ের মতো: সে তার মালিকের প্রাণ জুড়ায়।
PRO 25:14 যে সেইসব উপহারের বিষয়ে অহংকার করে যা কখনও দেওয়া হয়নি সে বৃষ্টিবিহীন মেঘ ও বাতাসের মতো।
PRO 25:15 ধৈর্যের মাধ্যমে শাসককে প্ররোচিত করা যায়, ও অমায়িক জিভ অস্থি ভেঙে দিতে পারে।
PRO 25:16 যদি তুমি মধু পাও, তবে যথেষ্ট পরিমাণে খাও— প্রচুর পরিমাণে খেলে তুমি তা বমি করে ফেলবে।
PRO 25:17 তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে কদাচিৎ পা রেখো— ঘনঘন সেখানে যাও, ও তারা তোমাকে ঘৃণা করবে।
PRO 25:18 যে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় সে গদা বা তরোয়াল বা ধারালো তিরের মতো।
PRO 25:19 সংকটকালে বিশ্বাসঘাতকের উপর নির্ভর করা ভাঙা দাঁত বা খোঁড়া পায়ের উপর নির্ভর করার মতো বিষয়।
PRO 25:20 যার অন্তর ভারাক্রান্ত, তার কাছে যে গান গায় সে সেই মানুষটির মতো, যে শীতকালে অন্যের কাপড় কেড়ে নেয়, বা ক্ষতস্থানে সিরকা ঢেলে দেয়।
PRO 25:21 তোমার শত্রু যদি ক্ষুধার্ত, তবে খাওয়ার জন্য তাকে খাদ্য দাও; সে যদি তৃষ্ণার্ত, তবে পান করার জন্য তাকে জল দাও।
PRO 25:22 এরকম করলে, তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লার স্তূপ চাপিয়ে দেবে ও সদাপ্রভু তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।
PRO 25:23 যে চাতুর্যপূর্ণ জিভ সন্ত্রাসিত দৃষ্টি উৎপন্ন করে তা এমন উত্তুরে বাতাসের মতো, যা অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি নিয়ে আসে।
PRO 25:24 কলহপ্রিয়া স্ত্রীর সঙ্গে এক বাড়িতে থাকার চেয়ে ছাদের এক কোনায় বসবাস করা ভালো।
PRO 25:25 দূরবর্তী দেশ থেকে আসা সুসংবাদ সেই ঠান্ডা জলের মতো, যা পরিশ্রান্ত মানুষকে দেওয়া হয়েছে।
PRO 25:26 দুষ্টদের হাতে যারা নিজেদের সঁপে দেয়, সেই ধার্মিকেরা ঘোলাটে জলের উৎস বা দূষিত কুয়োর মতো।
PRO 25:27 অতিরিক্ত মধু খাওয়া ভালো নয়, খুব জটিল সব বিষয়ের খোঁজ করতে যাওয়াও সম্মানজনক নয়।
PRO 25:28 যার আত্মসংযমের অভাব আছে সে এমন এক নগরের মতো, যেখানকার প্রাচীরগুলি ভেঙে গিয়েছে।
PRO 26:1 গ্রীষ্মকালের তুষারপাত বা ফসল কাটার মরশুমের বৃষ্টিপাতের মতো, মূর্খের পক্ষেও সম্মান মানানসই নয়।
PRO 26:2 উড়ে যাওয়া চড়ুইপাখি বা ক্ষিপ্রগতিবিশিষ্ট ফিঙে জাতীয় পাখির মতো অযাচিত অভিশাপও শান্ত হয় না।
PRO 26:3 ঘোড়ার জন্য চাবুক, গাধার জন্য লাগাম, ও মূর্খদের পিঠের জন্য লাঠি!
PRO 26:4 মূর্খের মূর্খতা অনুসারে তাকে উত্তর দিয়ো না, পাছে তুমিও তার মতো হয়ে যাও।
PRO 26:5 মূর্খের মূর্খতা অনুসারে তাকে উত্তর দাও, পাছে সে নিজের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান হয়।
PRO 26:6 যে মূর্খের হাত দিয়ে খবর পাঠায় তার দশা পা কেটে ফেলার বা বিষ পান করার মতো হয়।
PRO 26:7 মূর্খের মুখের হিতোপদেশ খঞ্জের অনুপযোগী পায়ের মতো হয়।
PRO 26:8 মূর্খকে যে সম্মান দেয় তার দশা গুলতিতে নুড়ি-পাথর বেঁধে দেওয়ার মতো হয়।
PRO 26:9 মূর্খের মুখের হিতোপদেশ মাতালের হাতে ধরা কাঁটাগুল্মের মতো হয়।
PRO 26:10 কোনো মূর্খকে বা পথিককে যে ভাড়া খাটায় সে সেই তিরন্দাজের মতো যে এলোমেলোভাবে মানুষকে আঘাত করে।
PRO 26:11 কুকুর যেভাবে তার বমির কাছে ফিরে যায় মূর্খরাও বারবার বোকামি করে।
PRO 26:12 এমন মানুষদের কি দেখেছ যারা নিজেদের দৃষ্টিতে জ্ঞানবান? তাদের চেয়ে মূর্খের জীবনে অনেক বেশি আশা আছে।
PRO 26:13 অলস বলে, “রাস্তায় সিংহ আছে, হিংস্র এক সিংহ পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে!”
PRO 26:14 দরজা যেভাবে কবজাগুলিতে ঘোরে, অলসও সেভাবে তার বিছানাতে ঘোরে।
PRO 26:15 অলস তার হাত থালায় ডুবিয়ে রাখে; সে এতই অলস যে তা মুখেও তোলে না।
PRO 26:16 যারা বুদ্ধিপূর্বক উত্তর দেয় সেই সাতজন লোকের চেয়েও অলস নিজের দৃষ্টিতে বেশি জ্ঞানবান।
PRO 26:17 যে অন্যদের বিবাদে নাক গলায় সে এমন একজনের মতো যে কান ধরে দলছুট কুকুরকে পাকড়াও করে।
PRO 26:18 যে পাগল লোক মৃত্যুজনক জ্বলন্ত তির ছোঁড়ে সে তেমনই,
PRO 26:19 যে তার প্রতিবেশীকে প্রতারণা করে ও বলে, “আমি শুধু একটু মশকরা করছিলাম!”
PRO 26:20 কাঠের অভাবে আগুন নিভে যায়; পরনিন্দা পরচর্চার অভাবেও বিবাদ থেমে যায়।
PRO 26:21 জ্বলন্ত অঙ্গারের ক্ষেত্রে কাঠকয়লা যেমন ও আগুনের ক্ষেত্রে কাঠ যেমন, বিবাদে ইন্ধন জোগানোর ক্ষেত্রে কলহপ্রিয় মানুষও তেমন।
PRO 26:22 পরনিন্দা পরচর্চার কথাবার্তা সুস্বাদু খাদ্যের মতো লাগে; সেগুলি মানুষের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে।
PRO 26:23 দুষ্ট হৃদয় সমেত মধুভাষী ঠোঁট মাটির পাত্রের উপর দেওয়া রুপোর প্রলেপের মতো।
PRO 26:24 শত্রুরা তাদের ঠোঁট দিয়ে নিজেদের আড়াল করে রাখে, কিন্তু মনে মনে তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয়।
PRO 26:25 যদিও তাদের কথাবার্তা মনোমোহিনী, তাদের বিশ্বাস কোরো না, কারণ তাদের অন্তর সাতটি জঘন্য বিষয়ে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
PRO 26:26 প্রতারণা দ্বারা তাদের আক্রোশ লুকিয়ে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তাদের দুষ্টতা লোকসমাজে প্রকাশিত হয়ে যাবে।
PRO 26:27 যারা খাত খনন করে তারা তাতেই গিয়ে পড়ে; যারা পাথর গড়িয়ে দেয়, সেটি তাদেরই উপর গড়িয়ে এসে পড়বে।
PRO 26:28 মিথ্যাবাদী জিভ যাদের আহত করে তাদের ঘৃণাও করে, ও তোষামোদকারী মুখ সর্বনাশ করে ছাড়ে।
PRO 27:1 আগামীকালের বিষয়ে গর্ব কোরো না, কারণ একদিন কী নিয়ে আসবে তা তুমি জানো না।
PRO 27:2 অন্য কেউ তোমার প্রশংসা করুক, ও তোমার নিজের মুখ তা না করুক; একজন বহিরাগত মানুষই করুক, ও তোমার নিজের ঠোঁট তা না করুক।
PRO 27:3 পাথর ভারী ও বালি এক বোঝা, কিন্তু মূর্খের প্ররোচনা উভয়ের চেয়েও বেশি ভারী।
PRO 27:4 ক্রোধ নিষ্ঠুর ও ক্ষিপ্ততা অপ্রতিরোধ্য, কিন্তু ঈর্ষার সামনে কে দাঁড়াতে পারে?
PRO 27:5 গুপ্ত ভালোবাসার চেয়ে প্রকাশ্য ভর্ৎসনা ভালো।
PRO 27:6 বন্ধুর আঘাতকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু শত্রু চুমুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
PRO 27:7 যার পেট ভরা আছে সে মৌচাকের মধু ঘৃণা করে, কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে তেতো জিনিসও মিষ্টি লাগে।
PRO 27:8 যে ঘর ছেড়ে পালায় তার দশা নীড় ছেড়ে উড়ে যাওয়া পাখির মতো।
PRO 27:9 সুগন্ধি ও ধূপ হৃদয়ে আনন্দ নিয়ে আসে, ও বন্ধুর মধুরতা তাদের আন্তরিক পরামর্শ থেকে উৎপন্ন হয়।
PRO 27:10 তোমার নিজের বন্ধুকে বা তোমার পারিবারিক বন্ধুকে পরিত্যাগ কোরো না, ও যখন দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে তখন তোমার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যেয়ো না— দূরবর্তী আত্মীয়ের চেয়ে নিকটবর্তী প্রতিবেশী ভালো।
PRO 27:11 হে আমার বাছা, জ্ঞানবান হও, ও আমার হৃদয়কে আনন্দিত করে তোলো; তবেই তো আমি তাকে উত্তর দিতে পারব যে আমাকে অবজ্ঞা করেছে।
PRO 27:12 বিচক্ষণ মানুষেরা বিপদ দেখে কোথাও আশ্রয় নেয়, কিন্তু অনভিজ্ঞ লোকেরা এগিয়ে যায় ও শাস্তি পায়।
PRO 27:13 যে আগন্তুকের হয়ে জামিন রাখে তার কাপড়চোপড় নিয়ে নাও; যদি কোনও বহিরাগতের জন্য তা করা হয়েছে তবে তা বন্ধক রেখে নাও।
PRO 27:14 যদি কেউ ভোরবেলায় তাদের প্রতিবেশীকে জোর গলায় আশীর্বাদ করে, তবে তা অভিশাপরূপেই গণ্য হবে।
PRO 27:15 কলহপ্রিয়া স্ত্রী ঝড়বৃষ্টির দিনে ফুটো ছাদ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া জলের মতো;
PRO 27:16 তাকে সংযত করার অর্থ বাতাসকে সংযত করা বা হাতের মুঠোয় তেল ধরে রাখা।
PRO 27:17 লোহা যেভাবে লোহাকে শান দেয়, মানুষও সেভাবে অন্যজনকে শান দেয়।
PRO 27:18 যে ডুমুর গাছ পাহারা দেয় সে তার ফল খাবে, যারা তাদের প্রভুকে রক্ষা করে তারা সম্মানিত হবে।
PRO 27:19 জল যেভাবে মুখমণ্ডল প্রতিফলিত করে, মানুষের জীবনও সেভাবে অন্তর প্রতিফলিত করে।
PRO 27:20 মৃত্যু ও বিনাশ কখনোই তৃপ্ত হয় না, ও মানুষের চোখও হয় না।
PRO 27:21 রুপোর জন্য গলনপাত্র ও সোনার জন্য হাপর, কিন্তু মানুষ তাদের প্রশংসা দ্বারাই প্রমাণিত হয়।
PRO 27:22 তুমি যতই মূর্খকে হামানদিস্তায় ফেলে পেষাই করো, মুষল দিয়ে শস্যমর্দন করার মতো তাদের পেষাই করো, তুমি তাদের জীবন থেকে মূর্খতা দূর করতে পারবে না।
PRO 27:23 তোমার মেষপালের দশা জানার বিষয়ে নিশ্চিত থেকো, যত্নসহকারে তোমার পশুপালের প্রতি মনোযোগ দিয়ো;
PRO 27:24 কারণ ধনসম্পত্তি চিরকাল স্থায়ী হয় না, ও মুকুটও পুরুষানুক্রমে নিরাপদ থাকে না।
PRO 27:25 যখন খড় সরিয়ে নেওয়া হবে ও নতুন চারা আবির্ভূত হবে এবং পাহাড়ের গা থেকে ঘাস সংগ্রহ করা হবে,
PRO 27:26 তখন মেষশাবকেরা তোমার পোশাকের জোগান দেবে, ও ছাগলেরা ক্ষেতের দাম চোকাবে।
PRO 27:27 তোমার পরিবারের লোকজনকে খাওয়ানোর জন্য ও তোমার দাসীদের পুষ্টি জোগানোর জন্য তুমি যথেষ্ট পরিমাণ ছাগলের দুধ পাবে।
PRO 28:1 কেউ পশ্চাদ্ধাবন না করলেও দুষ্টেরা পালায়, কিন্তু ধার্মিকেরা সিংহের মতো সাহসী।
PRO 28:2 কোনও দেশ যখন বিদ্রোহী হয়, তখন সেখানে বহু শাসক উৎপন্ন হয়, কিন্তু বিচক্ষণতা ও জ্ঞানসম্পন্ন শাসক শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।
PRO 28:3 যে শাসক দরিদ্রদের নিগৃহীত করে সে সেই প্রবল বৃষ্টিপাতের মতো যা কোনও শস্য বাদ দেয় না।
PRO 28:4 যারা শিক্ষা পরিত্যাগ করে তারা দুষ্টদের প্রশংসা করে, কিন্তু যারা তাতে মনোযোগ দেয় তারা তাদের প্রতিরোধ করে।
PRO 28:5 অনিষ্টকারীরা যা উচিত তা বোঝে না, কিন্তু যারা সদাপ্রভুর খোঁজ করে তারা তা পুরোপুরি বুঝতে পারে।
PRO 28:6 যে ধনবানদের জীবনযাত্রার ধরন উচ্ছৃঙ্খল তাদের চেয়ে সেই দরিদ্রেরা ভালো যাদের জীবনযাত্রার ধরন অনিন্দনীয়।
PRO 28:7 বিচক্ষণ ছেলে শিক্ষায় মনোযোগ দেয়, কিন্তু যে পেটুকদের সহচর সে তার বাবার মর্যাদাহানি করে।
PRO 28:8 যে দরিদ্রদের কাছ থেকে সুদ নিয়ে বা লাভ করে সম্পত্তি বৃদ্ধি করে সে অন্য এমন একজনের জন্য তা জমিয়ে রাখে যে দরিদ্রদের প্রতি দয়ালু হবে।
PRO 28:9 যদি কেউ আমার দেওয়া শিক্ষার প্রতি কান বন্ধ করে রাখে, তবে তাদের প্রার্থনাও ঘৃণার্হ।
PRO 28:10 যারা ন্যায়পরায়ণদের কুপথে পরিচালিত করে তারা নিজেদের ফাঁদেই গিয়ে পড়বে, কিন্তু অনিন্দনীয়রা এক উপযুক্ত উত্তরাধিকার লাভ করবে।
PRO 28:11 ধনবানেরা নিজেদের দৃষ্টিতেই জ্ঞানবান; যারা দরিদ্র ও বিচক্ষণ তারা দেখতে পায় তারা কত বিভ্রান্ত।
PRO 28:12 ধার্মিকেরা যখন বিজয়ী হয়, তখন মহোল্লাস হয়; কিন্তু দুষ্টেরা যখন ক্ষমতাসীন হয়, তখন মানুষ আড়ালে গিয়ে লুকায়।
PRO 28:13 যারা নিজেদের পাপগুলি লুকায় তারা উন্নতি লাভ করতে পারে না, কিন্তু যারা সেগুলি স্বীকার ও ত্যাগ করে তারা দয়া লাভ করে।
PRO 28:14 ধন্য তারাই যারা সবসময় ঈশ্বরের সামনে ভীত হয়, কিন্তু যারা তাদের হৃদয় কঠোর করে তারা বিপদে পড়বে।
PRO 28:15 অসহায় প্রজাদের উপর কর্তৃত্বকারী দুষ্ট শাসক গর্জনকারী সিংহ বা আক্রমণকারী ভালুকের মতো।
PRO 28:16 অত্যাচারী শাসক অবৈধ জুলুম চালায়, কিন্তু যিনি অসৎ উপায়ে অর্জিত লাভ ঘৃণা করেন তিনি সুদীর্ঘকাল ধরে রাজত্ব করবেন।
PRO 28:17 যে হত্যার অপরাধবোধ দ্বারা নির্যাতিত হয় সে কবরে গিয়ে আশ্রয় নেয়; যেন কেউ তাকে ধরতে না পারে।
PRO 28:18 যার চলন অনিন্দনীয় সে সুরক্ষিত থাকে, কিন্তু যার জীবনযাত্রার ধরন উচ্ছৃঙ্খল সে খাদে গিয়ে পড়বে।
PRO 28:19 যারা নিজেদের জমি চাষ করে তারা প্রচুর খাদ্য পাবে, কিন্তু যারা উদ্ভট কল্পনার পিছনে ছুটে বেড়ায় দারিদ্র তাদের সঙ্গী হয়।
PRO 28:20 বিশ্বস্ত লোক প্রচুর আশীর্বাদ লাভ করবে, কিন্তু যে ধনবান হওয়ার জন্য আগ্রহী হয় সে অদণ্ডিত থাকবে না।
PRO 28:21 মুখাপেক্ষা করা ভালো নয়— অথচ মানুষ এক টুকরো রুটির জন্যও অন্যায় করে।
PRO 28:22 কৃপণেরা ধনসম্পত্তি অর্জনের জন্য আগ্রহী হয় ও তারা জানেও না যে দারিদ্র তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে।
PRO 28:23 যে জিভ দিয়ে চাটুকারিতা করে তার তুলনায় বরং কোনো মানুষকে যে ভর্ৎসনা করে, শেষ পর্যন্ত সেই অনুগ্রহ লাভ করবে।
PRO 28:24 যে মা-বাবার ধনসম্পদ চুরি করে ও বলে, “এ তো অন্যায় নয়,” সে তাদেরই অংশীদার, যারা ধ্বংসসাধন করে।
PRO 28:25 লোভী মানুষেরা বিবাদ জাগিয়ে তোলে, কিন্তু যারা সদাপ্রভুতে নির্ভর করে তারা উন্নতি লাভ করবে।
PRO 28:26 যারা নিজেদের উপর নির্ভর করে তারা মূর্খ, কিন্তু যারা জ্ঞানের পথে চলে তারা নিরাপদ থাকবে।
PRO 28:27 যারা দরিদ্রদের দান করে তাদের কোনো কিছুর অভাব হয় না, কিন্তু যারা তাদের দেখে চোখ বন্ধ করে থাকে তারা প্রচুর অভিশাপ কুড়ায়।
PRO 28:28 দুষ্টেরা যখন ক্ষমতাসীন হয়, মানুষ তখন আড়ালে গিয়ে লুকায়, কিন্তু দুষ্টেরা যখন বিনষ্ট হয়, তখন ধার্মিকেরা সমৃদ্ধশালী হয়।
PRO 29:1 বহুবার ভর্ৎসিত হওয়ার পরও যে ঘাড় শক্ত করে রাখে সে হঠাৎ করে বিনষ্ট হয়ে যাবে—এর কোনও প্রতিকার নেই।
PRO 29:2 ধার্মিকেরা যখন সমৃদ্ধশালী হয়, জনগণ তখন আনন্দ করে; দুষ্টেরা যখন শাসন করে, জনগণ তখন গভীর আর্তনাদ করে।
PRO 29:3 যে মানুষ প্রজ্ঞাকে ভালোবাসে সে তার বাবাকে আনন্দিত করে, কিন্তু বেশ্যাদের দোসর তার ধনসম্পত্তি অপচয় করে ফেলে।
PRO 29:4 ন্যায়বিচার দ্বারা রাজা দেশকে স্থিরতা দেন, কিন্তু যারা ঘুষের প্রতি প্রলুব্ধ তারা দেশ লণ্ডভণ্ড করে ফেলে।
PRO 29:5 যারা তাদের প্রতিবেশীদের স্তাবকতা করে তারা নিজেদের পায়ের জন্যই ফাঁদ পাতে।
PRO 29:6 অনিষ্টকারীরা তাদের নিজেদের পাপ দ্বারাই ফাঁদে পড়ে, কিন্তু ধার্মিকেরা আনন্দে চিৎকার করে ও খুশি থাকে।
PRO 29:7 ধার্মিকেরা দরিদ্রদের ন্যায়বিচার দেওয়ার কথা ভাবে, কিন্তু দুষ্টদের এই ধরনের কোনও উদ্বেগ নেই।
PRO 29:8 বিদ্রুপকারীরা নগরে উত্তেজনা ছড়ায়, কিন্তু জ্ঞানবানেরা ক্রোধ প্রশমিত করে।
PRO 29:9 জ্ঞানবান মানুষ যদি মূর্খকে দরবারে নিয়ে যায়, তবে মূর্খ তর্জনগর্জন ও উপহাস করে, ও সেখানে শান্তি বজায় থাকে না।
PRO 29:10 রক্তপিপাসু লোকেরা সৎলোককে ঘৃণা করে ও ন্যায়পরায়ণ মানুষদের হত্যা করতে চায়।
PRO 29:11 মূর্খেরা তাদের সব ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলে, কিন্তু জ্ঞানবানেরা শেষ পর্যন্ত তা প্রশমিত করে।
PRO 29:12 শাসক যদি মিথ্যা কথা শোনেন, তবে তাঁর কর্মকর্তারা দুষ্ট হয়ে পড়ে।
PRO 29:13 দরিদ্রদের ও অত্যাচারীদের মধ্যে এই সাদৃশ্য আছে: সদাপ্রভুই উভয়ের চোখে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন।
PRO 29:14 রাজা যদি দরিদ্রদের প্রতি সুবিচার করেন, তবে তাঁর সিংহাসন চিরকালের জন্য স্থির থাকবে।
PRO 29:15 লাঠি ও তীব্র ভর্ৎসনা প্রজ্ঞা দান করে, কিন্তু সন্তানকে যদি শাসন না করে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে সে তার মায়ের মর্যাদাহানি ঘটায়।
PRO 29:16 দুষ্টেরা যখন সমৃদ্ধশালী হয়, তখন পাপও বৃদ্ধি পায়, কিন্তু ধার্মিকেরা তাদের সর্বনাশ দেখতে পাবে।
PRO 29:17 তোমার সন্তানদের শাসন করো, ও তারা তোমাকে শান্তি দেবে; তারা তোমার জীবনে প্রত্যাশিত আনন্দ নিয়ে আসবে।
PRO 29:18 যেখানে কোনও প্রত্যাদেশ নেই, সেখানে জনগণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়; কিন্তু ধন্য তারাই যারা প্রজ্ঞার শিক্ষায় মনোযোগ দেয়।
PRO 29:19 শুধু কথা বলে দাসেদের সংশোধন করা যায় না; যদিও তারা বোঝে, তবুও তারা মনোযোগ দেয় না।
PRO 29:20 এমন কাউকে কি দেখেছ যে তাড়াহুড়ো করে কথা বলে? তাদের চেয়ে বরং একজন মূর্খের বেশি আশা আছে।
PRO 29:21 যে দাসকে ছেলেবেলা থেকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে সে শেষ সময় শোক নিয়ে আসবে।
PRO 29:22 ক্রুদ্ধ লোক বিবাদ বাধায়, উগ্রস্বভাব বিশিষ্ট লোক প্রচুর পাপ করে বসে।
PRO 29:23 অহংকার একজন লোককে নিচে নামিয়ে আনে, কিন্তু নম্রাত্মা মানুষ সম্মান লাভ করে।
PRO 29:24 চোরেদের সহযোগীরা তাদের নিজেদেরই শত্রু; তাদের শপথ করতে বলা হয় ও তারা সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার সাহস পায় না।
PRO 29:25 মানুষের ভয় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু যে সদাপ্রভুতে নির্ভর করে সে নিরাপদ থাকে।
PRO 29:26 অনেকেই শাসকের প্রিয়পাত্র হয়ে থাকতে চায়, কিন্তু সদাপ্রভুর কাছেই মানুষ ন্যায়বিচার পায়।
PRO 29:27 ধার্মিকেরা অসাধুদের ঘৃণা করে; দুষ্টেরা ন্যায়পরায়ণদের ঘৃণা করে।
PRO 30:1 যাকির ছেলে আগুরের নীতিবচন—যা এক অনুপ্রাণিত ভাষণ। ঈথীয়েলের প্রতি, ঈথীয়েলের ও উকলের প্রতি এই লোকটির ভাষণ: “হে ঈশ্বর, আমি ক্লান্ত, কিন্তু আমি বিজয়লাভ করতে পারব।
PRO 30:2 আমি নিশ্চয় মানুষ নই, আমি এক মূঢ়মাত্র; আমার মানবিক বোধবুদ্ধি নেই।
PRO 30:3 আমি প্রজ্ঞার শিক্ষা পাইনি, আমি সেই মহাপবিত্র ঈশ্বর সম্পর্কীয় জ্ঞানও অর্জন করিনি।
PRO 30:4 কে স্বর্গে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন? কার হাত বাতাস সংগ্রহ করেছে? কে জলরাশিকে আলখাল্লায় মুড়ে রেখেছেন? কে পৃথিবীর সব প্রান্ত স্থাপন করেছেন? তাঁর নাম কী, ও তাঁর ছেলের নামই বা কী? নিশ্চয় তুমি তা জানো!
PRO 30:5 “ঈশ্বরের প্রত্যেকটি বাক্য নিখুঁত; যারা তাঁতে আশ্রয় নেয় তাদের কাছে তিনি এক ঢাল।
PRO 30:6 তাঁর বাক্যে কিছু যোগ কোরো না, পাছে তিনি তোমাকে ভর্ৎসনা করেন ও তোমাকে এক মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেন।
PRO 30:7 “হে সদাপ্রভু, আমি তোমার কাছে দুটি জিনিস চাইছি; আমি মারা যাওয়ার আগে আমাকে প্রত্যাখ্যান কোরো না:
PRO 30:8 ছলনা ও মিথ্যা কথা আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখো; আমাকে দারিদ্র বা ধনসম্পত্তি কিছুই দিয়ো না, কিন্তু আমার দৈনিক আহারটুকুই শুধু আমাকে দাও।
PRO 30:9 পাছে, অনেক কিছু পেয়ে আমি তোমাকে অস্বীকার করে বসি ও বলে ফেলি, ‘সদাপ্রভু কে?’ বা দরিদ্র হয়ে গিয়ে চুরি করে বসি, ও এভাবে আমার ঈশ্বরের নামের অসম্মান করে ফেলি।
PRO 30:10 “মনিবের কাছে তার কোনো দাসের নিন্দা কোরো না, পাছে তারা তোমাকে অভিশাপ দেয় ও তোমাকে এর জন্য শাস্তি পেতে হয়।
PRO 30:11 “এমন অনেক লোক আছে যারা তাদের বাবাদের অভিশাপ দেয় ও তাদের মা-দের মহিমান্বিত করে না;
PRO 30:12 যারা তাদের নিজেদের দৃষ্টিতেই বিশুদ্ধ অথচ তারা তাদের মালিন্য থেকে শুচিশুদ্ধই হয়নি;
PRO 30:13 যাদের দৃষ্টি চিরকাল খুব উদ্ধত, যাদের চাহনি খুব তাচ্ছিল্যপূর্ণ;
PRO 30:14 যাদের দাঁত তরোয়ালের মতো ও যাদের চোয়ালে ছুরি গাঁথা আছে যেন পৃথিবীর বুক থেকে দরিদ্রদের ও মানবজাতির মধ্যে থেকে অভাবগ্রস্তদের তারা গ্রাস করে ফেলতে পারে।
PRO 30:15 “জোঁকের দুটি কন্যা আছে। তারা চিৎকার করে বলে, ‘দাও, দাও!’ “তিনটি বিষয় আছে যেগুলিকে কখনও তৃপ্ত করা যায় না, চারটি বিষয় আছে যেগুলি কখনও বলে না, ‘যথেষ্ট হয়েছে!’:
PRO 30:16 কবর ও বন্ধ্যা জঠর; জমি, যা কখনও জলে তৃপ্ত হয় না, ও আগুন, যা কখনও বলে না, ‘যথেষ্ট হয়েছে!’
PRO 30:17 “যে চোখ একজন বাবাকে বিদ্রুপ করে, যা বৃদ্ধা এক মাকে অবজ্ঞা করে, সেটিকে উপত্যকার কাকেরা ঠুকরে ঠুকরে বের করে ফেলবে, শকুনেরা সেটি খেয়ে ফেলবে।
PRO 30:18 “তিনটি বিষয় আমার আছে খুবই বিস্ময়কর, চারটি বিষয় আমি বুঝে উঠতে পারি না:
PRO 30:19 আকাশে ওড়া ঈগল পাখির গতিপথ, পাষাণ-পাথরের উপরে চলা সাপের গতিপথ, মাঝসমুদ্রে ভেসে যাওয়া জাহাজের গতিপথ, ও যুবতীর সঙ্গে পুরুষের প্রেমের সম্পর্ক।
PRO 30:20 “ব্যভিচারিণী মহিলার জীবনযাত্রার ধরন এরকম: সে খাওয়াদাওয়া করে ও মুখ মুছে নেয় ও বলে, ‘আমি কোনও অন্যায় করিনি।’
PRO 30:21 “তিনটি বিষয়ের ভারে পৃথিবী কম্পিত হয়, চারটি বিষয়ের ভার তা সহ্য করতে পারে না:
PRO 30:22 এক দাস যে রাজা হয়ে বসেছে, এক মূর্খ যে খাওয়ার জন্য প্রচুর খাদ্যদ্রব্য পেয়েছে,
PRO 30:23 এক নীচ মহিলা যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, ও এক দাসী যে তার কর্ত্রীকে স্থানচ্যূত করেছে।
PRO 30:24 “পৃথিবীর বুকে চারটি প্রাণী ছোটো, অথচ সেগুলি অত্যন্ত জ্ঞানী:
PRO 30:25 পিঁপড়েরা অল্প শক্তিবিশিষ্ট প্রাণী, অথচ গ্রীষ্মকালে তারা তাদের খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে;
PRO 30:26 পাহাড়ি খরগোশ সামান্যই শক্তি ধরে, অথচ তারা পাষাণ-পাথরের চূড়ায় তাদের ঘর বাঁধে;
PRO 30:27 পঙ্গপালদের কোনও রাজা নেই, অথচ তারা সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যায়;
PRO 30:28 টিকটিকিকে হাত দিয়ে ধরা যায়, অথচ তাকে রাজপ্রাসাদে দেখতে পাওয়া যায়।
PRO 30:29 “তিনটি প্রাণী আছে যারা তাদের চলাফেরায় রাজসিক, চারজন আছে যারা রাজকীয় ভঙ্গিতে নড়াচড়া করে:
PRO 30:30 সিংহ, যে পশুদের মধ্যে বলশালী, যে কোনো কিছুর সামনেই পশ্চাদগামী হয় না;
PRO 30:31 নির্ভীক মোরগ, পাঁঠা, ও রাজা, যিনি বিদ্রোহের আশঙ্কা থেকে মুক্ত।
PRO 30:32 “তুমি যদি মূর্খামি করো ও নিজেই নিজের প্রশংসা করো, বা অনিষ্ট করার ফন্দি আঁটো, তবে তোমার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখো!
PRO 30:33 কারণ ননি মন্থনে যেভাবে মাখন উৎপন্ন হয়, ও নাকে মোচড় পড়লে যেভাবে রক্ত বের হয়, সেভাবে ক্রোধ নাড়াচাড়া করলে বিবাদ উৎপন্ন হয়।”
PRO 31:1 রাজা লমূয়েলের নীতিবচন—সেই অনুপ্রাণিত ভাষণ যা তাঁর মা তাঁকে শিখিয়েছিলেন।
PRO 31:2 হে আমার বাছা, শোনো! হে আমার গর্ভজাত পুত্র, শোনো! হে আমার বাছা, হে আমার প্রার্থনার উত্তর, শোনো!
PRO 31:3 নারীদের পিছনে তোমার শক্তি ব্যয় কোরো না, যারা রাজাদের সর্বনাশ করে তাদের পিছনে তোমার প্রাণশক্তি নষ্ট কোরো না।
PRO 31:4 হে লমূয়েল, রাজাদের জন্য নয়— দ্রাক্ষারস পান করা রাজাদের জন্য উপযুক্ত নয়, সুরাপানে আসক্ত হওয়া শাসকদের জন্য অনুচিত,
PRO 31:5 পাছে তারা পান করেন ও ভুলে যান তারা কী আদেশ দিয়েছেন, ও সব নিপীড়িতকে তাদের অধিকার বঞ্চিত করে ছাড়েন।
PRO 31:6 সুরা তাদের জন্যই রাখা থাক যারা মরতে চলেছে, দ্রাক্ষারস তাদের জন্যই রাখা থাক যারা মনোবেদনায় ভুগছে!
PRO 31:7 তারা পান করুক ও তাদের দারিদ্র ভুলে যাক ও তাদের দুর্দশা আর মনে না রাখুক।
PRO 31:8 তাদের হয়ে কথা বলো যারা নিজেদের কথা নিজেরা বলতে পারে না, সেইসব লোকের অধিকারের স্বপক্ষে কথা বলো যারা সর্বস্বান্ত।
PRO 31:9 উচ্চকণ্ঠে বলো ও ন্যায়বিচার করো: দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের অধিকারের স্বপক্ষে ওকালতি করো।
PRO 31:10 কে উন্নত চরিত্রবিশিষ্ট এক স্ত্রী পেতে পারে? তাঁর মূল্য পদ্মরাগমণির চেয়েও অনেক বেশি।
PRO 31:11 তাঁর উপর তাঁর স্বামীর পূর্ণ আস্থা বজায় থাকে ও তিনি তাঁর স্বামীর জীবনে ভালো কোনো কিছুর অভাব হতে দেন না।
PRO 31:12 তিনি তাঁর জীবনের সমস্ত দিন স্বামীর অনিষ্ট নয়, কিন্তু মঙ্গলই সাধন করেন।
PRO 31:13 তিনি পশম ও মসিনা মনোনীত করেন ও আগ্রহী হাতে কাজকর্ম করেন।
PRO 31:14 তিনি বণিকদের জাহাজগুলির মতো, বহুদূর থেকে তাঁর খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসেন।
PRO 31:15 তিনি অন্ধকার থাকতেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন; তিনি তাঁর পরিবারের জন্য খাদ্যের জোগান দেন ও তাঁর দাসীদেরও অংশ বরাদ্দ করে দেন।
PRO 31:16 তিনি জমির মান বিচার করেন ও তা কিনে নেন; নিজের আয় দিয়ে তিনি দ্রাক্ষাক্ষেত গড়ে তোলেন।
PRO 31:17 তিনি সবলে তাঁর কাজে লেগে পড়েন; তাঁর কাজকর্মের পক্ষে তাঁর হাত দুটি বেশ শক্তিশালী।
PRO 31:18 তিনি সুনিশ্চিত হন যে তাঁর কেনাবেচা বেশ লাভজনক হয়েছে, ও তাঁর প্রদীপ রাতেও নিভে যায় না।
PRO 31:19 তাঁর হাতে তিনি তকলি ধরে থাকেন ও সুতো কাটার টাকু তাঁর আঙুল দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকেন।
PRO 31:20 তিনি দরিদ্রদের প্রতি মুক্তহস্ত হন ও অভাবগ্রস্তদের দিকে তাঁর হাত বাড়িয়ে দেন।
PRO 31:21 তুষারপাতের সময় তাঁর পরিবারের লোকদের জন্য তাঁর কোনও ভয় হয় না; কারণ তারা সকলেই টকটকে লাল রংয়ের কাপড় পরে থাকে।
PRO 31:22 তিনি তাঁর বিছানার জন্য চাদর তৈরি করেন; তিনি মিহি মসিনা দিয়ে তৈরি বেগুনি রংয়ের কাপড় গায়ে দিয়ে থাকেন।
PRO 31:23 তাঁর স্বামী সেই নগরদ্বারে সম্মানিত হন, যেখানে দেশের প্রাচীনদের মধ্যে তিনি তাঁর আসন গ্রহণ করেন।
PRO 31:24 তিনি মসিনার পোশাক তৈরি করে সেগুলি বিক্রি করেন, ও বণিকদের উত্তরীয় সরবরাহ করেন।
PRO 31:25 তিনি শক্তি ও সম্মানে আচ্ছাদিত হন; আগামী দিনগুলির কথা ভেবে তিনি সশব্দে হাসতে পারেন।
PRO 31:26 তিনি প্রজ্ঞামূলক কথাবার্তা বলেন, ও তাঁর জিভের ডগায় আন্তরিক নির্দেশ থাকে।
PRO 31:27 তিনি তাঁর পরিবারের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখেন ও অলসতার রুটি খান না।
PRO 31:28 তাঁর সন্তানেরা উঠে তাঁকে আশীর্বাদধন্যা বলে ডাকে; তাঁর স্বামীও একই কথা বলেন ও তাঁর প্রশংসা করে বলেন:
PRO 31:29 “অনেক মহিলাই মহৎ মহৎ কাজ করেন, কিন্তু তুমি সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছ।”
PRO 31:30 লাবণ্য বিভ্রান্তিকর, ও সৌন্দর্য অস্থায়ী; কিন্তু যে নারী সদাপ্রভুকে ভয় করেন তাঁরই প্রশংসা করতে হবে।
PRO 31:31 তাঁর হাত যা কিছু করেছে, সেসবের জন্য তাঁকে সম্মান জানাও, ও তাঁর কাজকর্মই নগরদ্বারে তাঁর কাছে প্রশংসা এনে দিক।
ECC 1:1 উপদেশকের কথা; তিনি দাউদের ছেলে, জেরুশালেমের রাজা:
ECC 1:2 উপদেশক বলেন, “অসার! অসার! অসারের অসার! সকলই অসার।”
ECC 1:3 সূর্যের নিচে মানুষ যে পরিশ্রম করে সেইসব পরিশ্রমে তার কী লাভ?
ECC 1:4 এক পুরুষ চলে যায় এবং আর এক পুরুষ আসে, কিন্তু পৃথিবী চিরকাল থাকে।
ECC 1:5 সূর্য ওঠে এবং সূর্য অস্ত যায়, আর তাড়াতাড়ি নিজের জায়গায় ফিরে যায়।
ECC 1:6 বাতাস দক্ষিণ দিকে বয় তারপর ঘুরে যায় উত্তরে; এইভাবে সেটা ঘুরতে থাকে, আর নিজের পথে ফিরে আসে।
ECC 1:7 সমস্ত নদী সাগরে গিয়ে পড়ে, তবুও সাগর কখনও পূর্ণ হয় না। যেখান থেকে সব নদী বের হয়ে আসে, আবার সেখানেই তার জল ফিরে যায়।
ECC 1:8 সবকিছুই ক্লান্তিকর, এত যে বলা যায় না। যথেষ্ট দেখে চোখ তৃপ্ত হয় না, কিংবা কান শুনে তৃপ্ত হয় না।
ECC 1:9 যা হয়ে গেছে তা আবার হবে, যা করা হয়েছে তা আবার করা হবে, সূর্যের নিচে নতুন কিছুই নেই।
ECC 1:10 এমন কিছু কি আছে যার বিষয়ে লোকে বলবে, “দেখো! এটি নতুন”? ওটি অনেক দিন আগে থেকেই ছিল; আমাদের কালের আগেই ছিল।
ECC 1:11 আগেকার কালের লোকদের বিষয় কেউ মনে রাখে না, যারা ভবিষ্যতে আসবে তাদের কথাও মনে রাখবে না যারা তাদের পরে আসবে।
ECC 1:12 আমি, উপদেশক, জেরুশালেমে ইস্রায়েলের উপরে রাজা ছিলাম।
ECC 1:13 আকাশের নিচে যা কিছু করা হয় তা জ্ঞান দ্বারা পরীক্ষা ও খোঁজ করতে মনোযোগ করলাম। ঈশ্বর মানুষের উপরে কী ভারী কষ্ট চাপিয়ে দিয়েছেন!
ECC 1:14 সূর্যের নিচে যা কিছু হয় তা সবই আমি দেখেছি; সে সকলই অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 1:15 যা বাঁকা তা সোজা করা যায় না; যা অসম্পূর্ণ তা গণনা করা যায় না।
ECC 1:16 আমি মনে মনে বললাম, “দেখো, আমার আগে যারা জেরুশালেমে রাজত্ব করে গেছেন তাদের সকলের চেয়ে আমি প্রজ্ঞায় অনেক বৃদ্ধিলাভ করেছি; আমার অনেক প্রজ্ঞা ও বিদ্যা অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে।”
ECC 1:17 তারপর আমি প্রজ্ঞা এবং উন্মত্ততা ও মূর্খতা বুঝবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম যে তাও বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 1:18 কারণ প্রজ্ঞা বাড়লে তার সঙ্গে দুঃখও বৃদ্ধি পায়; যত বেশি বিদ্যা, তত বেশি বিষাদ।
ECC 2:1 আমি মনে মনে বললাম, “এখন এসো, আমি তোমাকে আমোদ দিয়ে পরীক্ষা করব যে কী ভালো।” কিন্তু তাও পরীক্ষা করে দেখা গেল যে তা অসার।
ECC 2:2 আমি বললাম, “হাসিও উন্মত্ততা। আর আমোদ কী করে?”
ECC 2:3 আমি মদ্যপান দ্বারা নিজেকে আনন্দ দেবার চেষ্টা করলাম এবং মূর্খতাকে আলিঙ্গন করলাম প্রজ্ঞা তখনও আমার মনকে পরিচালিত করছিল। আমি দেখতে চাইলাম, আকাশের নিচে মানুষের জীবনকালে তার জন্য কোনটা ভালো।
ECC 2:4 আমি কতগুলি বড়ো বড়ো কাজ করলাম আমি নিজের জন্য অনেক ঘরবাড়ি তৈরি করলাম আর আমি দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করলাম।
ECC 2:5 আমি বাগান ও পার্ক তৈরি করে সেখানে সব রকমের ফলের গাছ লাগালাম।
ECC 2:6 বেড়ে ওঠা গাছে জল দেবার জন্য আমি কতগুলি পুকুর কাটালাম।
ECC 2:7 আমি অনেক দাস ও দাসী কিনলাম আর অনেক দাস-দাসী আমার বাড়িতে জন্মেছিল। আমার আগে যারা জেরুশালেমে ছিলেন তাদের চেয়েও আমার অনেক বেশি গরু-মেষ ছিল।
ECC 2:8 আমি অনেক রুপো ও সোনা এবং অন্যান্য দেশের রাজাদের ও বিভিন্ন প্রদেশের সম্পদ নিজের জন্য জড়ো করলাম। আমি অনেক গায়ক গায়িকা এবং মানুষের হৃদয়ের আনন্দ অনুসারে হারেমও অর্জন করলাম।
ECC 2:9 আমার আগে যারা জেরুশালেমে ছিলেন তাদের চেয়েও আমি অনেক বড়ো হলাম। এই সবে আমার প্রজ্ঞা আমার সঙ্গে ছিল।
ECC 2:10 আমার চোখে যা ভালো লাগত আমি তা অস্বীকার করতাম না; আমার হৃদয়ের কোনো আনন্দ আমি প্রত্যাখ্যান করতাম না। আমার সবকাজেই আমার মন খুশি হত, আর এটাই ছিল আমার সব পরিশ্রমের পুরস্কার।
ECC 2:11 তবুও আমি যা কিছু করেছি আর যা পাওয়ার জন্য পরিশ্রম করেছি তার দিকে যখন তাকিয়াছি, সবকিছুই অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো; সূর্যের নিচে কোনো কিছুতেই লাভ নেই।
ECC 2:12 তারপর আমি প্রজ্ঞা, এবং উন্মত্ততা ও মূর্খতার কথা চিন্তা করলাম। যা কিছু আগেই করা হয়ে গেছে তার থেকে রাজার উত্তরাধিকারী আর বেশি কী করতে পারে?
ECC 2:13 আমি দেখলাম প্রজ্ঞা মূর্খতার থেকে ভালো, যেমন আলো অন্ধকারের থেকে ভালো।
ECC 2:14 জ্ঞানবানের মাথাতেই চোখ থাকে, কিন্তু বোকা অন্ধকারে চলাফেরা করে; তবুও আমি বুঝতে পারলাম যে ওই দুজনের শেষ দশা একই।
ECC 2:15 তারপর আমি নিজের মনে মনে বললাম, “বোকার যে দশা হয় তা তো আমার প্রতি ঘটে। তাহলে জ্ঞানবান হয়ে আমার কী লাভ?” আমি নিজের মনে মনে বললাম, “এটাও তো অসার।”
ECC 2:16 বোকাদের মতো জ্ঞানবানদেরও লোকে বেশি দিন মনে রাখবে না; সেদিন উপস্থিত যখন উভয়কেই ভুলে যাবে। বোকাদের মতো জ্ঞানবানদেরও মরতে হবে!
ECC 2:17 সুতরাং আমি জীবনকে ঘৃণা করলাম, কারণ সূর্যের নিচে যে কাজ করা হয় সেগুলি আমার কাছে দুঃখজনক মনে হল। সবকিছুই অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 2:18 সূর্যের নিচে যেসব জিনিসের জন্য আমি পরিশ্রম করেছি সেগুলি আমি এখন ঘৃণা করতে লাগলাম, কারণ আমার পরে যে আসবে তার জন্যই আমাকে সেইসব রেখে যেতে হবে।
ECC 2:19 আর কে জানে সেই লোক জ্ঞানী না বুদ্ধিহীন হবে? তবুও সেই আমার পরিশ্রমের সব ফল নিয়ন্ত্রণ করবে, যার জন্য আমি সূর্যের নিচে সমস্ত প্রচেষ্টা ও দক্ষতা ঢেলেছি। এটাও অসার।
ECC 2:20 অতএব সূর্যের নিচে যেসব পরিশ্রমের কাজ করেছি তার জন্য আমার অন্তর নিরাশ হতে লাগল।
ECC 2:21 কেননা জ্ঞান, বুদ্ধি ও দক্ষতা দিয়ে একজন পরিশ্রম করতে পারে, কিন্তু তারপরে তার সবকিছু অধিকার হিসেবে এমন একজনের জন্য রেখে যেতে হয় যে লোক তার জন্য কোনো পরিশ্রম করেনি। এটাও অসার এবং দুর্ভাগ্যের বিষয়।
ECC 2:22 সূর্যের নিচে মানুষের যে সকল পরিশ্রম ও উদ্বেগ হয়, তাতে তার কী লাভ হয়?
ECC 2:23 সারাদিন তার কাজে থাকে মনস্তাপ ও ব্যথা; রাতেও তার মন বিশ্রাম পায় না। এটাও অসার।
ECC 2:24 মানুষের পক্ষে খাওয়াদাওয়া করা এবং নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকা ছাড়া ভালো আর কিছুই নেই। এটাও আমি দেখলাম, এসব ঈশ্বরের হাত থেকে আসে,
ECC 2:25 কেননা তাঁকে ছাড়া কে খেতে পায় কিংবা আনন্দ উপভোগ করে?
ECC 2:26 যে তাঁকে সন্তুষ্ট করে, ঈশ্বর তাকে প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও আনন্দ দান করেন, কিন্তু পাপীকে তিনি ধনসম্পদ জোগাড় করবার ও তা জমাবার কাজ দেন, যেন সে তা সেই লোককে দিয়ে যায় যে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে। এটাও অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 3:1 সবকিছুর জন্য একটি সময় আছে, আকাশের নিচে প্রত্যেকটি কাজেরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে:
ECC 3:2 জন্মের সময় ও মরণের সময়, বুনবার সময় ও উপড়ে ফেলবার সময়,
ECC 3:3 মেরে ফেলবার সময় ও সুস্থ করবার সময়, ভেঙে ফেলবার সময় ও গড়বার সময়,
ECC 3:4 কাঁদবার সময় ও হাসবার সময়, শোক করবার সময় ও নাচবার সময়,
ECC 3:5 পাথর ছড়াবার সময় ও সেগুলি জড়ো করবার সময়, ভালোবেসে জড়িয়ে ধরবার সময় ও জড়িয়ে না ধরবার সময়,
ECC 3:6 খুঁজে পাওয়ার সময় ও হারাবার সময়, রাখবার সময় ও ফেলে দেবার সময়,
ECC 3:7 ছিঁড়ে ফেলবার সময় ও সেলাই করবার সময়, চুপ করবার সময় ও কথা বলবার সময়,
ECC 3:8 ভালোবাসার সময় ও ঘৃণা করবার সময়, যুদ্ধের সময় ও শান্তির সময়।
ECC 3:9 শ্রমিক পরিশ্রমের কী ফল পায়?
ECC 3:10 ঈশ্বর মানুষের উপরে যে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন তা আমি দেখেছি।
ECC 3:11 তিনি সবকিছু তার সময়ে সুন্দর করেছেন। তিনি মানুষের অন্তরে অনন্তকাল সম্বন্ধে বুঝবার ইচ্ছা দিয়েছেন; কিন্তু ঈশ্বর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কী করেছেন তা মানুষ বুঝতে পারে না।
ECC 3:12 আমি জানি মানুষের জীবনকালে আনন্দ করা ও ভালো কাজ করা ছাড়া তার জন্য আর ভালো কিছু নেই।
ECC 3:13 প্রত্যেক মানুষ খাওয়াদাওয়া করবে ও তার পরিশ্রমের ফলে সন্তুষ্ট হবে—এটি ঈশ্বরের দান।
ECC 3:14 আমি জানি ঈশ্বর যা কিছু করেন তা চিরকাল থাকে; কিছুই তার সঙ্গে যোগ করা যায় না কিংবা তার থেকে নেওয়া যায় না। ঈশ্বর তা করেন যেন মানুষ তাঁকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করে।
ECC 3:15 যা কিছু আছে তা আগে থেকেই ছিল, আর যা হবে তাও আগে ছিল; আর যা হয়ে গেছে ঈশ্বর তার হিসেব নেন।
ECC 3:16 এবং আমি সূর্যের নিচে আরও একটি বিষয় দেখলাম বিচারের জায়গায়—দুষ্টতা ছিল, সততার জায়গায়—দুষ্টতা ছিল।
ECC 3:17 আমি নিজে মনে মনে বললাম, “ঈশ্বর ধার্মিকের ও দুষ্টের দুজনেরই বিচার করবেন, কারণ সেখানে সমস্ত কাজের জন্য সময় আছে, সমস্ত কাজের বিচারের জন্য সময় আছে।”
ECC 3:18 আমি আরও নিজে মনে মনে বললাম, “মানুষের ক্ষেত্রে, ঈশ্বর তাদের পরীক্ষা করেন যেন তারা দেখতে পায় তারা পশুদেরই মতো।
ECC 3:19 কেননা মানুষের প্রতি যা ঘটে পশুর প্রতিও তাই ঘটে; উভয়ের জন্য একই পরিণতি অপেক্ষা করে এ যেমন মরে সেও তেমন মরে। তাদের সবার প্রাণবায়ু একই রকমের; পশুর থেকে মানুষের কোনো প্রাধান্য নেই। সবই অসার।
ECC 3:20 সকলেই এক জায়গায় যায়; সবাই মাটি থেকে তৈরি, আর মাটিতেই ফিরে যায়।
ECC 3:21 মানুষের আত্মা যে উপরে যায় আর পশুর আত্মা মাটির তলায় যায় তা কে জানে?”
ECC 3:22 অতএব আমি দেখলাম যে নিজের কাজে আনন্দ করা ছাড়া আর ভালো কিছু মানুষের জন্য নেই, কারণ ওটিই তার পাওনা। কারণ তাদের মৃত্যুর পরে কি ঘটবে তা কে তাদের দেখাতে পারে?
ECC 4:1 পরে আমি তাকালাম আর দেখলাম সূর্যের নিচে যেসব অত্যাচার হয় আমি নিপীড়িতদের চোখের জল দেখলাম— আর তাদের কোনো সান্ত্বনাকারী নেই; সমস্ত ক্ষমতা তাদের নিপীড়নকারীদের পক্ষে— আর তাদের কোনো সান্ত্বনাকারী নেই।
ECC 4:2 এবং আমি ঘোষণা করলাম যে মৃতেরা, যারা আগেই মারা গেছে, তারা জীবিতদের থেকে আনন্দে আছে, যারা এখনও জীবিত।
ECC 4:3 কিন্তু উভয়ের চেয়েও ভালো হল যার এখনও জন্ম হয়নি, যে কখনও মন্দ দেখেনি যা কিছু সূর্যের নিচে করা হয়।
ECC 4:4 আর আমি দেখলাম একজনের প্রতি হিংসার দরুনই মানুষ সব পরিশ্রম করে এবং সফলতা লাভ করে। এটাও অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 4:5 বোকারা হাত গুটিয়ে রাখে এবং নিজেদের ধ্বংস করে।
ECC 4:6 দুই মুঠো পরিশ্রম পাওয়া এবং কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানোর চেয়ে এক হাত শান্তি পাওয়া ভালো।
ECC 4:7 আবার আমি সূর্যের নিচে অসারতা দেখতে পেলাম
ECC 4:8 কোনো একজন লোক একেবারে একা; তার ছেলেও নেই কিংবা ভাইও নেই, তার পরিশ্রমের শেষ নেই, তবুও তার ধনসম্পদে তার চোখ তৃপ্ত নয়। সে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কার জন্য পরিশ্রম করছি, আর আমি কেন নিজেকে আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছি?” এটাও অসার— ভারী কষ্টজনক!
ECC 4:9 একজনের চেয়ে দুজন ভালো, কারণ তাদের কাজে অনেক ভালো ফল হয়
ECC 4:10 যদি একজন পড়ে যায়, তবে তার সঙ্গী তাকে উঠাতে পারে। কিন্তু হায় সেই লোক যে পড়ে যায় আর কেউ তাকে উঠাবার জন্য নেই।
ECC 4:11 আরও, যদি দুজন শুয়ে থাকে, তারা উষ্ণ থাকে। কিন্তু একজন কী করে নিজেকে একা উষ্ণ রাখতে পারবে?
ECC 4:12 যদিও একা ব্যক্তি হেরে যেতে পারে, দুজন নিজেদের প্রতিরোধ করতে পারে। তিনটে দড়ি একসঙ্গে পাকানো হলে তাড়াতাড়ি ছেঁড়ে না।
ECC 4:13 একজন বুড়ো বোকা রাজা, যিনি আর পরামর্শ গ্রহণ করতে চান না তাঁর চেয়ে গরিব অথচ বুদ্ধিমান যুবক ভালো।
ECC 4:14 সেই যুবক হয়তো কারাগার থেকে এসে রাজা হয়েছে, কিংবা সে হয়তো সেই রাজ্যে অভাবের মধ্যে জন্মেছে।
ECC 4:15 আমি দেখলাম যারা সূর্যের নিচে বসবাস করত ও চলাফেরা করত তারা সেই যুবককে অনুসরণ করল, সেই রাজার উত্তরাধিকারী।
ECC 4:16 সেই লোকদের কোনো সীমা ছিল না যারা তাদের আগে ছিল। কিন্তু যারা পরে এসেছিল তারা সেই উত্তরাধিকারীর উপরে সন্তুষ্ট হল না। এটাও অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 5:1 ঈশ্বরের ঘরে যাবার সময় তোমার পা সাবধানে ফেলো। যারা নিজেদের অন্যায় বোঝে না সেই বোকা লোকদের মতো উৎসর্গের অনুষ্ঠান করবার চেয়ে বরং ঈশ্বরের বাধ্য হওয়া ভালো।
ECC 5:2 তোমার মুখ তাড়াতাড়ি করে কোনো কথা না বলুক, ঈশ্বরের কাছে তাড়াতাড়ি করে হৃদয় কোনো কথা উচ্চারণ না করুক। ঈশ্বর স্বর্গে আছেন আর তুমি পৃথিবীতে আছ অতএব তোমার কথা যেন অল্প হয়।
ECC 5:3 অনেক চিন্তাভাবনা থাকলে লোকে যেমন স্বপ্ন দেখে, তেমনি অনেক কথা বললে বোকামি বেরিয়ে আসে।
ECC 5:4 ঈশ্বরের কাছে কোনো মানত করলে তা পূর্ণ করতে দেরি কোরো না। বোকা লোকদের নিয়ে তিনি কোনো আনন্দ পান না; তোমাদের মানত পূর্ণ কোরো।
ECC 5:5 মানত করে তা পূরণ না করবার চেয়ে বরং মানত না করাই ভালো।
ECC 5:6 তোমার মুখকে তোমাকে পাপের পথে নিয়ে যেতে দিয়ো না। এবং মন্দিরের দূতের কাছে বোলো না, “আমি ভুল করে মানত করেছি।” তোমার কথার জন্য কেন ঈশ্বর অসন্তুষ্ট হয়ে তোমার হাতের কাজ নষ্ট করে ফেলবেন?
ECC 5:7 অনেক স্বপ্ন দেখা এবং অনেক কথা বলা অসার। সেইজন্য ঈশ্বরকে ভয় করো।
ECC 5:8 তোমার এলাকায় যদি কোনো গরীবকে অত্যাচারিত হতে দেখো কিংবা কাউকে ন্যায্যবিচার ও তার ন্যায্য অধিকার না পেতে দেখো তবে অবাক হোয়ো না; কারণ এক কর্মচারীর উপরে বড়ো আর এক কর্মচারী আছেন এবং তাদের দুজনের উপরে আরও বড়ো বড়ো কর্মকর্তা আছেন।
ECC 5:9 দেশের ফল সকলের জন্য; ক্ষেত্রের লাভ রাজা নিজে পায়।
ECC 5:10 যে লোক অর্থ ভালোবাসে সে কখনও তৃপ্ত হয় না; যে লোক ধনসম্পদ ভালোবাসে সে তার আয়ে কখনও সন্তুষ্ট হয় না। এটাও অসার।
ECC 5:11 পণ্য যখন বাড়ে, তা ভোগ করবার লোকও বাড়ে। কেবল দেখবার সুখ ছাড়া সেই সম্পত্তিতে মালিকের কী লাভ?
ECC 5:12 একজন শ্রমিকের ঘুম মিষ্টি, তারা কম খাক কিংবা বেশি খাক, কিন্তু ধনবানের ক্ষেত্রে, তাদের প্রাচুর্য তাদের ঘুমাতে দেয় না।
ECC 5:13 সূর্যের নিচে আমি একটি ভীষণ মন্দতা দেখেছি ধনী অনেক ধনসম্পদ জমা করে কিন্তু শেষে তার ক্ষতি হয়,
ECC 5:14 কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে তা ধ্বংস হয়ে যায়, সেইজন্য তার যখন সন্তান হয় উত্তরাধিকারসূত্রে তার কিছু থাকে না।
ECC 5:15 সকলেই মায়ের গর্ভ থেকে উলঙ্গ হয়ে আসে, সে যেমন আসে তেমনই চলে যায়। তারা তাদের পরিশ্রমের কিছুই নেয় না যা তারা হাতে করে নিতে পারবে।
ECC 5:16 এটাও একটি ভীষণ মন্দতা সকলে যেমন আসে, তেমনি চলে যায়, কারণ তারা বাতাসের জন্য পরিশ্রম করে তাতে তাদের লাভ কী?
ECC 5:17 তারা সারা জীবন অন্ধকারে আহার করে, আর ভীষণ বিরক্তি, যন্ত্রণা ও রাগ উপস্থিত হয়।
ECC 5:18 ভালো হলে কী হয় তা আমি লক্ষ্য করলাম ঈশ্বর সূর্যের নিচে মানুষকে যে কয়টা দিন বাঁচতে দিয়েছেন তাতে খাওয়াদাওয়া করা এবং কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে তৃপ্ত হওয়াই তার পক্ষে ভালো এবং উপযুক্ত কারণ ওটিই তার পাওনা।
ECC 5:19 এছাড়া, ঈশ্বর যখন কোনো মানুষকে ধন ও সম্পত্তি দেন তখন তাকে তা ভোগ করতে দেন, তার নিজের জন্য একটি অংশগ্রহণ করতে দেন ও নিজের কাজে আনন্দ করতে দেন—এটাই ঈশ্বরের দান।
ECC 5:20 তারা কদাচিৎ তাদের জীবনের দিনগুলির দিকে ফিরে তাকায়, কারণ ঈশ্বর তার মনে আনন্দ দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখেন।
ECC 6:1 সূর্যের নিচে আমি আরও একটি মন্দতা দেখলাম, আর তা মানুষের জন্য বড়ো কষ্টের
ECC 6:2 ঈশ্বর কিছু মানুষকে এত ধন, সম্পত্তি ও সম্মান দান করেন যে, তাদের হৃদয়ে আর কোনো বাসনা থাকে না, কিন্তু ঈশ্বর তাদের তা ভোগ করবার ক্ষমতা দেন না, অপরিচিতেরা তা ভোগ করে। এটি অসার, এক ভীষণ মন্দতা।
ECC 6:3 কোনো লোকের একশো জন ছেলেমেয়ে থাকতে পারে; তবুও যতদিন সে বাঁচে, সে যদি তার সমৃদ্ধি উপভোগ করতে না পারে এবং উপযুক্তভাবে কবর না হয়, তবে আমি বলি তার চেয়ে মৃত সন্তানের জন্ম হওয়া অনেক ভালো।
ECC 6:4 তার আসা অর্থহীন, সে অন্ধকারে বিদায় নেয়, আর অন্ধকারেই তার নাম ঢাকা পড়ে যায়।
ECC 6:5 যদিও সে কখনও সূর্য দেখেনি কিংবা কিছু জানেনি, তবুও সেই লোকের চেয়ে সে অনেক বিশ্রাম পায়—
ECC 6:6 সেই লোক যদিও বা দুই হাজার বছরের বেশি বাঁচে কিন্তু তার সমৃদ্ধি উপভোগ করতে পারে না। সবাই কি একই জায়গায় যায় না?
ECC 6:7 প্রত্যেকের পরিশ্রম তার মুখের জন্য, তবুও তাদের আকাঙ্ক্ষা তৃপ্ত হয় না।
ECC 6:8 বোকার চেয়ে জ্ঞানীর সুবিধা কী? অন্যদের সামনে কীভাবে চলতে হবে তা জানলে একজন গরিবের কী লাভ হয়?
ECC 6:9 আরও পাবার ইচ্ছার চেয়ে বরং চোখ যা দেখতে পায় তাতে সন্তুষ্ট থাকা ভালো। এটাও অসার, কেবল বাতাসের পিছনে দৌড়ানো।
ECC 6:10 যা কিছু আছে তার নামকরণ আগেই হয়ে গেছে, আর মানুষ যে কী, তাও জানা গেছে; নিজের চেয়ে যে শক্তিশালী তাঁর সঙ্গে কেউ তর্কাতর্কি করতে পারে না।
ECC 6:11 যত বেশি কথা বলা হয়, ততই অসারতা বাড়ে, আর তাতে মানুষের কী লাভ হয়?
ECC 6:12 সেই অল্প ও অর্থহীন দিনগুলি ছায়ার মতো কাটাবার সময় মানুষের জীবনকালে তার জন্য কী ভালো তা কে জানে? সেগুলি চলে গেলে সূর্যের নিচে কী ঘটবে তা কে তাদের বলতে পারবে?
ECC 7:1 ভালো সুগন্ধির চেয়ে সুনাম ভালো, জন্মের দিনের চেয়ে মৃত্যুর দিন ভালো।
ECC 7:2 ভোজের বাড়ি যাওয়ার চেয়ে শোকের বাড়ি যাওয়া ভালো, কারণ সকলেরই নিয়তি হল মৃত্যু; জীবিতদের এই কথা মনে রাখা উচিত।
ECC 7:3 আনন্দ করার চেয়ে কষ্টভোগ করা ভালো, কারণ মুখের বিষণ্ণতা হৃদয়ের জন্য ভালো।
ECC 7:4 জ্ঞানবানদের হৃদয় শোকের বাড়িতে থাকে, কিন্তু বোকাদের হৃদয় আমোদের বাড়িতে থাকে।
ECC 7:5 বোকাদের গান শোনার চেয়ে জ্ঞানী লোকের বকুনি শোনা ভালো।
ECC 7:6 যেমন হাঁড়ির নিচে কাঁটার শব্দ, বোকাদের হাসিও ঠিক তেমনি। এটাও অসার।
ECC 7:7 জ্ঞানী লোক যদি জুলুম করে সে বোকা হয়ে যায়, আর ঘুস হৃদয় নষ্ট করে।
ECC 7:8 কোনো কাজের শুরুর চেয়ে শেষ ভালো, আর অহংকারের চেয়ে ধৈর্য ভালো।
ECC 7:9 তোমার অন্তরকে তাড়াতাড়ি রেগে উঠতে দিয়ো না, কারণ ক্রোধ বোকাদেরই কোলে বাস করে।
ECC 7:10 বোলো না যে, “এখনকার চেয়ে আগেকার কাল কেন ভালো ছিল?” কারণ এই প্রশ্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ECC 7:11 প্রজ্ঞা, উত্তরাধিকারের মতো, যা ভালো এবং যারা সূর্য দেখে তাদের উপকার করে।
ECC 7:12 প্রজ্ঞা এক আশ্রয়স্থল যেমন অর্থও এক আশ্রয়স্থল, কিন্তু জ্ঞানের সুবিধা হল এই যে প্রজ্ঞা তার অধিকারীর জীবন রক্ষা করে।
ECC 7:13 ঈশ্বরের কাজ ভেবে দেখো তিনি যা বাঁকা করেছেন কে তা সোজা করতে পারে?
ECC 7:14 যখন সুখের সময়, তখন সুখী হও; কিন্তু যখন দুঃখের সময়, এই কথা ভেবে দেখো ঈশ্বর একটি সৃষ্টি করেছেন পাশাপাশি আরেকটিও করেছেন। কিন্তু, কেউ আবিষ্কার করতে পারবে না তাদের ভবিষ্যতের কিছুই।
ECC 7:15 আমার এই অসার জীবনকালে আমি এই দুটোই দেখেছি কোনো ধার্মিক লোক নিজের ধার্মিকতায় ধ্বংস হয়, এবং কোনো দুষ্টলোক নিজের দুষ্টতায় অনেক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
ECC 7:16 অতি ধার্মিক হোয়ো না, কিংবা অতি জ্ঞানবান হোয়ো না— কেন নিজেকে ধ্বংস করবে?
ECC 7:17 অতি দুষ্ট হোয়ো না, আর বোকামিও কোরো না— কেন তুমি অসময়ে মারা যাবে?
ECC 7:18 একটি ধরে রাখা আর অন্যটা না ছাড়া ভালো। যে ঈশ্বরকে ভয় করে সে কোনো কিছুই অতিরিক্ত করে না।
ECC 7:19 প্রজ্ঞা একজন জ্ঞানবান লোককে নগরের দশজন শাসকের থেকে বেশি শক্তিশালী করে।
ECC 7:20 বাস্তবিক, পৃথিবীতে একজনও ধার্মিক নেই, কেউ নেই যে সঠিক কাজ করে এবং কখনও পাপ করে না।
ECC 7:21 লোকে যা বলে তার সব কথায় কান দিয়ো না, হয়তো শুনবে যে, তোমার চাকর তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছে—
ECC 7:22 কারণ তুমি তোমার নিজের হৃদয় জানো অনেকবার তুমি নিজেই অন্যকে অভিশাপ দিয়েছ।
ECC 7:23 এসব আমি প্রজ্ঞা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখে বললাম, “আমি জ্ঞানী হবই হব”— কিন্তু তা আমার নাগালের বাইরে।
ECC 7:24 যা কিছু আছে তা দূরে আছে এবং খুবই গভীরে— কে তা খুঁজে পেতে পারে?
ECC 7:25 সেইজন্য বুঝবার জন্য আমি আমার মনস্থির করলাম, যাতে প্রজ্ঞা ও সবকিছুর পিছনে যে পরিকল্পনা আছে তা জানতে পারি আর বুঝতে পারি দুষ্টতার বোকামি আর মূর্খতার উন্মত্ততা।
ECC 7:26 আমি দেখলাম মৃত্যুর চেয়েও তেতো হল সেই স্ত্রীলোক যে একটি ফাঁদ, তার হৃদয় একটি জাল এবং তার হাত হল শিকল। যে লোক ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে সে তা থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু পাপীকে সে ফাঁদে ফেলবে।
ECC 7:27 উপদেশক বলছেন, “দেখো, আমি এটি আবিষ্কার করেছি “সব জিনিসের পরিকল্পনা আবিষ্কার করার জন্য একটির সঙ্গে একটি যোগ করে—
ECC 7:28 যখন আমি তখনও খুঁজছিলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না— আমি হাজার জনের মধ্যে একজন খাঁটি পুরুষকে পেলাম, কিন্তু তাদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোককেও খাঁটি দেখতে পাইনি।
ECC 7:29 আমি কেবল এই জানতে পারলাম যে ঈশ্বর মানুষকে খাঁটিই তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তারা অনেক কল্পনার অন্বেষণ করেছে।”
ECC 8:1 কে জ্ঞানী লোকের মতো? যা ঘটে কে তার অর্থ বুঝতে পারে? জ্ঞান মানুষের মুখ উজ্জ্বল করে এবং তার মুখের কঠিনতা পরিবর্তন করে।
ECC 8:2 আমার উপদেশ এই যে, তুমি তোমার রাজার আদেশ পালন করো, কেননা ঈশ্বরের সামনে তুমি এই শপথ করেছ।
ECC 8:3 তাড়াতাড়ি রাজার উপস্থিতি থেকে চলে যেয়ো না। মন্দ কিছুর সঙ্গে যুক্ত হোয়ো না, কারণ তিনি তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করেন।
ECC 8:4 রাজার কথাই যখন সবচেয়ে বড়ো তখন কে তাঁকে বলবে, “আপনি কী করছেন?”
ECC 8:5 যে তাঁর আদেশ পালন করে তার কোনো ক্ষতি হবে না, আর জ্ঞানবানের হৃদয় উপযুক্ত সময় ও কাজের নিয়ম জানে।
ECC 8:6 কারণ প্রত্যেক ব্যাপারের জন্য উপযুক্ত সময় ও কাজের নিয়ম আছে, যদিও মানুষের দৈন্য তার জন্য অতিমাত্র।
ECC 8:7 যেহেতু কেউ ভবিষ্যৎ জানে না, তাকে কে বলতে পারবে যে কী ঘটবে?
ECC 8:8 বাতাসকে যেমন ধরে রাখবার ক্ষমতা কারও নেই, তেমনি মৃত্যুর সময়ের উপরে কারও হাত নেই। যুদ্ধের সময় যেমন কেউ ছুটি পায় না, তেমনি দুষ্টতা কাউকে ছাড়ে না যে তা অভ্যাস করে।
ECC 8:9 সূর্যের নিচে যা কিছু করা হয় তার দিকে মনোযোগ দিয়ে আমি এসবই দেখেছি। কোনো কোনো সময়ে একজন অন্যের উপরে তার অমঙ্গলের জন্য কর্তৃত্ব করে।
ECC 8:10 তারপর, আমি এও দেখলাম দুষ্টদের কবর দেওয়া হল—যারা পবিত্রস্থানে যাতায়াত করত এবং যে নগরে তারা তা করত সেখানে তারা প্রশংসা পেত। এটাও অসার।
ECC 8:11 অন্যায় কাজের শাস্তি যদি তাড়াতাড়ি দেওয়া না হয় তাহলে লোকদের হৃদয় অন্যায় করবার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়।
ECC 8:12 যদিও দুষ্টলোক একশোটি দুষ্কর্ম করে অনেক দিন বেঁচে থাকে তবুও আমি জানি ঈশ্বরকে যারা ভয় করে তাদের মঙ্গল হবে।
ECC 8:13 কিন্তু দুষ্টরা ঈশ্বরকে ভয় করে না বলে তাদের মঙ্গল হবে না এবং তাদের আয়ু ছায়ার মতো হবে।
ECC 8:14 পৃথিবীতে আরও একটি অসার বিষয় ঘটে দুষ্টের যা পাওনা তা ধার্মিক লোক পায় এবং ধার্মিক লোকের যা পাওনা তা দুষ্টলোক পায়। এটাও আমি বলি অসার।
ECC 8:15 সেইজন্য আমি জীবনে আমোদের প্রশংসা করছি, কারণ সূর্যের নিচে খাওয়াদাওয়া ও আমোদ করা ছাড়া মানুষের জন্য ভালো আর কিছুই নেই। তাহলে সূর্যের নিচে ঈশ্বরের দেওয়া মানুষের জীবনের সমস্ত দিনগুলিতে তার কাজে আনন্দই হবে তার সঙ্গী।
ECC 8:16 প্রজ্ঞা পাবার জন্য এবং পৃথিবীতে যা হয় তা বুঝবার জন্য যখন আমি মনোযোগ দিলাম—দিনে কিংবা রাতে মানুষের ঘুম হয় না—
ECC 8:17 তখন আমি ঈশ্বরের সমস্ত কাজ দেখলাম। সূর্যের নিচে যে কাজ হয় তা কেউ বুঝতে পারে না। যদিও তা খুঁজে পাবার জন্য তাদের প্রচেষ্টা থাকে তবুও কেউ তার অর্থ খুঁজে পায় না। এমনকি জ্ঞানবানেরা দাবি করে যে তারা জানে, কিন্তু তারা সত্যিই সম্পূর্ণ বুঝতে পারে না।
ECC 9:1 সেইজন্য আমি এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করলাম এবং দেখলাম যে, ধার্মিক ও জ্ঞানবান লোকেরা এবং তাদের কাজ সবই ঈশ্বরের হাতে, কিন্তু কেউ জানে না তাদের জন্য প্রেম না ঘৃণা অপেক্ষা করছে।
ECC 9:2 সকলের শেষ অবস্থা একই—ধার্মিক ও দুষ্ট, ভালো ও মন্দ, শুচি ও অশুচি, যারা উৎসর্গ অনুষ্ঠান করে ও যারা তা করে না। ভালো লোকের জন্যও যা, পাপীর জন্যও তা; যারা শপথ করে তাদের জন্যও যা, যারা তা করতে ভয় পায় তাদের জন্যও তা।
ECC 9:3 সূর্যের নিচে যা কিছু ঘটে তার মধ্যে দুঃখের বিষয় হল: সকলের একই দশা ঘটে। এছাড়া মানুষের হৃদয় মন্দে পরিপূর্ণ এবং যতদিন তারা বেঁচে থাকে ততদিন তাদের হৃদয়ে বিচারবুদ্ধিহীনতা থাকে, আর তারপরে সে মারা যায়।
ECC 9:4 জীবিত লোকদের আশা আছে—এমনকি, মরা সিংহের চেয়ে জীবিত কুকুরও ভালো!
ECC 9:5 কারণ জীবিত লোকেরা জানে যে তাদের মরতে হবে, কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না; তাদের আর কোনো পুরস্কার নেই, আর তাদের কথাও লোকে ভুলে গেছে।
ECC 9:6 তাদের ভালোবাসা, তাদের ঘৃণা এবং তাদের হিংসা অনেক আগেই অদৃশ্য হয়ে গেছে; সূর্যের নিচে যা কিছু ঘটবে তাতে তাদের আর কখনও কোনো অংশ থাকবে না।
ECC 9:7 তুমি যাও, আনন্দের সঙ্গে তোমার খাবার খাও, আনন্দিত হৃদয়ে দ্রাক্ষারস পান করো, কারণ তোমার এসব কাজ ঈশ্বর আগেই গ্রাহ্য করেছেন।
ECC 9:8 সবসময় সাদা কাপড় পরবে আর মাথায় তেল দেবে।
ECC 9:9 সূর্যের নিচে ঈশ্বর তোমাকে যে অসার জীবন দিয়েছেন, তোমার জীবনের সেইসব দিনগুলি তোমার স্ত্রী, যাকে তুমি ভালোবাসো, তার সঙ্গে আনন্দে তোমার সকল অসার দিনগুলি কাটাও। কারণ সূর্যের নিচে যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হচ্ছো তা তোমার জীবনের পাওনা।
ECC 9:10 তোমার হাতে যে কোনো কাজ আসুক না কেন তা তোমার সমস্ত শক্তি দিয়েই কোরো, কারণ তুমি যে জায়গায় যাচ্ছ, সেই মৃতস্থানে, সেখানে কোনো কাজ বা পরিকল্পনা বা বৃদ্ধি কিংবা বিদ্যা বা প্রজ্ঞা বলে কিছুই নেই।
ECC 9:11 আমি সূর্যের নিচে আরও একটি ব্যাপার দেখলাম দ্রুতগামীদের জন্য দৌড় নয় বা শক্তিশালীদের জন্য যুদ্ধ নয় কিংবা জ্ঞানবানদের জন্য খাবার কিংবা বুদ্ধিদীপ্তদের জন্য ধনসম্পদ বা বিজ্ঞদের জন্য অনুগ্রহ আসে না; কিন্তু সকলের জন্য সময় ও সুযোগ আসে।
ECC 9:12 আবার, কেউ জানে না তাদের সময় কখন উপস্থিত হবে মাছ যেমন নিষ্ঠুর জালে ধরা পড়ে, কিংবা পাখিরা ফাঁদে পড়ে, তেমনি মানুষ অশুভকালে ধরা পড়ে যা তাদের উপরে হঠাৎ এসে পড়ে।
ECC 9:13 আমি সূর্যের নিচে প্রজ্ঞা সম্বন্ধে আর একটি ব্যাপার দেখলাম যা আমার মনে গভীরভাবে দাগ কাটল
ECC 9:14 একবার একটি ছোটো নগর ছিল যেখানে অল্প লোক বাস করত। আর একজন শক্তিশালী রাজা তার বিরুদ্ধে এসে, তার চারিদিকে বিরাট অবরোধ নির্মাণ করল।
ECC 9:15 সেই নগরে একজন জ্ঞানবান গরিব লোক বাস করত, এবং সে তার প্রজ্ঞা দিয়ে নগরটি রক্ষা করল। কিন্তু কেউ সেই গরিব লোকটাকে মনে রাখল না।
ECC 9:16 তাই আমি বললাম, “শক্তির চেয়ে প্রজ্ঞা ভালো।” কিন্তু সেই গরিব লোকের প্রজ্ঞাকে তুচ্ছ করা হয় এবং তার কথা কেউ শোনে না।
ECC 9:17 বোকাদের শাসনকর্তার চিৎকারের চেয়ে বরং জ্ঞানবানের শান্তিপূর্ণ কথা শোনা ভালো।
ECC 9:18 যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্রের চেয়ে প্রজ্ঞা ভালো, কিন্তু একজন পাপী অনেক ভালো কাজ নষ্ট করে।
ECC 10:1 মরা মাছি যেমন সুগন্ধি তেল দুর্গন্ধ করে তোলে, তেমনি একটু নির্বুদ্ধিতা প্রজ্ঞা ও সম্মানকে মুছে ফেলে।
ECC 10:2 জ্ঞানবানের হৃদয় তার ডানদিকে ফেরে, কিন্তু বোকাদের হৃদয় তার বাঁদিকে ফেরে,
ECC 10:3 এমনকি, বোকারা যখন পথ চলে, তাদের বুদ্ধির অভাব হয় এবং প্রকাশ করে যে সে কত বোকা।
ECC 10:4 শাসনকর্তা যদি তোমার উপর রেগে যান, তুমি তোমার পদ ত্যাগ কোরো না; শান্তভাব থাকলে বড়ো বড়ো অন্যায় অতিক্রম করা যায়।
ECC 10:5 আমি সূর্যের নিচে এক মন্দ বিষয় দেখেছি, শাসনকর্তারা এইরকম ভুল করে থাকে
ECC 10:6 বড়ো বড়ো পদে বুদ্ধিহীনেরা নিযুক্ত হয়, যেখানে ধনীরা নিচু পদে নিযুক্ত হয়।
ECC 10:7 আমি দাসেদের ঘোড়ার পিঠে দেখেছি, যেখানে উঁচু পদের কর্মচারীরা দাসের মতো পায়ে হেঁটে চলে।
ECC 10:8 যে গর্ত খোঁড়ে সে তার মধ্যে পড়তে পারে; যে দেয়াল ভাঙে তাকে সাপে কামড়াতে পারে।
ECC 10:9 যে পাথর কাটে সে তার দ্বারাই আঘাত পেতে পারে; যে কাঠ কাটে সে তার দ্বারাই বিপদে পড়তে পারে।
ECC 10:10 কুড়ুল যদি ভোঁতা হয় আর তাতে ধার দেওয়া না হয়, তা ব্যবহার করতে বেশি শক্তি লাগে, কিন্তু দক্ষতা সাফল্য আনে।
ECC 10:11 সাপকে মুগ্ধ করার আগেই যদি সে কামড় দেয়, সাপুড়ে কোনো পারিশ্রমিক পায় না।
ECC 10:12 জ্ঞানবানের মুখের কথা অনুগ্রহজনক, কিন্তু বোকারা তাদের মুখের কথা দিয়ে নিজেদের ধ্বংস করে।
ECC 10:13 মুখের কথার আরম্ভই মূর্খতা; শেষে তা হল দুষ্টদায়ক প্রলাপ—
ECC 10:14 এবং বুদ্ধিহীনেরা অনেক কথা বলে। ভবিষ্যতে কী হবে কেউ জানে না— তারপর কী হবে তা তাদের কে জানাতে পারে?
ECC 10:15 বোকাদের পরিশ্রম তাদের ক্লান্ত করে; তারা নগরে যাবার রাস্তা জানে না।
ECC 10:16 ধিক্ সেই দেশ যার রাজা আগে দাস ছিলেন এবং সেখানকার রাজপুরুষেরা সকাল বেলাতেই ভোজ খায়।
ECC 10:17 ধন্য সেই দেশ যার রাজা সম্ভ্রান্তবংশীয় এবং সেখানকার রাজপুরুষেরা সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করে—শক্তির জন্য, মাতলামির জন্য নয়।
ECC 10:18 আলস্যে ঘরের ছাদ ধসে যায়; অলসতার জন্য ঘরে জল পড়ে।
ECC 10:19 হাসিখুশির জন্য ভোজের ব্যবস্থা করা হয়, দ্রাক্ষারস জীবনে আনন্দ আনে, এবং অর্থ সবকিছু যোগায়।
ECC 10:20 মনে মনেও রাজাকে অভিশাপ দিয়ো না, কিংবা নিজের শোবার ঘরে ধনীকে অভিশাপ দিয়ো না, কারণ আকাশের পাখিও তোমার কথা বয়ে নিয়ে যেতে পারে, এবং পাখি উড়ে গিয়ে তোমার কথা বলে দিতে পারে।
ECC 11:1 তুমি জলের উপরে তোমার শস্য ছড়িয়ে দাও; অনেক দিন পরে তুমি হয়তো তার ফল পাবে।
ECC 11:2 সাতটি উদ্যোগে বিনিয়োগ করো, হ্যাঁ আটটিতে; কারণ তুমি জানো না পৃথিবীতে কী বিপদ আসবে।
ECC 11:3 মেঘ যদি জলে পূর্ণ থাকে, তারা পৃথিবীতে বৃষ্টি ঢালে। গাছ দক্ষিণে কী উত্তরে পড়ুক, যেখানে পড়বে, সেখানেই পড়ে থাকবে।
ECC 11:4 যে বাতাসের দিকে তাকায় তার বীজ বোনা হয় না; যে মেঘ দেখে তার শস্য কাটা হয় না।
ECC 11:5 তুমি যেমন বাতাসের পথ জানো না, কিংবা মায়ের গর্ভে কেমন করে শরীর গঠন হয়, তেমনি তুমি ঈশ্বরের কাজও বুঝতে পারবে না, যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা।
ECC 11:6 তোমার বীজ সকালে বোনো, আর বিকালে তোমার হাতকে অলস হতে দিয়ো না, কারণ তুমি জানো না কোনটি কৃতকার্য হবে, এটি না ওটি, কিংবা দুটোই সমানভাবে ভালো হবে।
ECC 11:7 আলো মিষ্ট, আর সূর্য দেখলে চোখ সন্তুষ্ট হয়।
ECC 11:8 কোনো একজন অনেক দিন বাঁচতে পারে, সে যেন সেই দিনগুলিতে আনন্দ ভোগ করে। কিন্তু অন্ধকারের দিনগুলির কথা যেন সে মনে রাখে, কারণ সেগুলি হবে অনেক। যা কিছু ঘটে তা সবই অসার।
ECC 11:9 হে যুবক, তোমার যৌবনকালে তুমি সুখী হও, আর তোমার যৌবনে তোমার হৃদয় তোমাকে আনন্দ দিক। তোমার হৃদয়ের ইচ্ছামতো পথে চলো এবং তোমার চোখ যা কিছু দেখে, তুমি কিন্তু জেনে রাখো এসব বিষয়ের জন্য ঈশ্বর তোমার বিচার করবেন।
ECC 11:10 সেইজন্য, তোমার হৃদয় থেকে উদ্বেগ দূর করো আর তোমার শরীর থেকে দুঃখ সরিয়ে ফেলো, কারণ যৌবন ও তেজ অসার।
ECC 12:1 তোমার যৌবনকালে তোমার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করো, দুঃখের দিনগুলি আসার আগে আর সেই বছর সকল কাছে আসার সময় তুমি যখন বলবে, “এই সবে আমার কোনো আনন্দ নেই”—
ECC 12:2 তখন সূর্য ও আলো আর চাঁদ ও তারা যখন অন্ধকার হবে, আর বৃষ্টির পরে মেঘ ফিরে আসে;
ECC 12:3 সেদিনে বাড়ির রক্ষাকারীরা কাঁপবে, আর শক্তিশালী লোকেরা নত হবে, যারা পেষণ করে তারা অল্প সংখ্যক বলে কাজ ছেড়ে দেবে। আর যারা জানালার ভিতর থেকে দেখে তাদের দৃষ্টি অস্পষ্ট হবে;
ECC 12:4 যখন রাস্তার দিকের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে আর জাঁতার আওয়াজ কমে যাবে; যখন পাখির আওয়াজে লোকে উঠবে, কিন্তু তাদের সব গান ক্ষীণ হয়ে যাবে;
ECC 12:5 যখন লোকেরা উঁচু জায়গাকে আর রাস্তার বিপদকে ভয় পাবে; যখন কাঠবাদাম গাছে ফুল ফুটবে আর ফড়িং টেনে টেনে হাঁটবে এবং বাসনা আর উত্তেজিত হবে না। তখন লোকে তাদের অনন্তকালের বাড়িতে চলে যাবে আর বিলাপকারীরা পথে পথে ঘুরবে।
ECC 12:6 রুপোর তার ছিঁড়ে যাওয়ার আগে, কিংবা সোনার পাত্র ভেঙে যাওয়ার আগে; ফোয়ারার কাছে কলশি চুরমার করার আগে, কিংবা কুয়োর জল তোলার চাকা ভেঙে যাওয়ার আগে—তাকে স্মরণ করো।
ECC 12:7 আর ধুলো মাটিতেই ফিরে যাবে যেখান থেকে সে এসেছে, এবং আত্মা যাঁর দান, সেই ঈশ্বরের কাছেই ফিরে যাবে।
ECC 12:8 উপদেশক বললেন, “অসার! অসার! সবকিছুই অসার!”
ECC 12:9 উপদেশক নিজেই কেবল জ্ঞানবান ছিলেন না, কিন্তু তিনি লোকদের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি চিন্তা করে ও পরীক্ষা করে অনেক প্রবাদ সাজিয়েছেন।
ECC 12:10 উপদেশক উপযুক্ত শব্দের খোঁজ করেছেন, আর তিনি যা লিখেছেন তা খাঁটি ও সত্যিকথা।
ECC 12:11 জ্ঞানবান লোকদের কথা রাখালের অঙ্কুশের মতো, তাদের কথাগুলি একত্র করলে মনে হয় যেন সেগুলি সব শক্ত করে গাঁথা পেরেক—যা একজন রাখাল বলেছেন।
ECC 12:12 হে আমার সন্তান, এর সঙ্গে কিছু যোগ করা হচ্ছে কি না সেই বিষয় সতর্ক থেকো। বই লেখার শেষ নেই আর অনেক পড়াশোনায় শরীর ক্লান্ত হয়।
ECC 12:13 এখন সবকিছু তো শোনা হল; তবে শেষ কথা এই যে ঈশ্বরকে ভয় করো এবং তাঁর আজ্ঞাসকল পালন করো, কেননা এটাই সমস্ত মানুষের কর্তব্য।
ECC 12:14 কারণ ঈশ্বর প্রত্যেকটি কাজের বিচার করবেন, এমনকি সমস্ত গুপ্ত বিষয়, তা ভালো হোক বা মন্দ হোক।
SOL 1:1 শলোমনের পরমগীত।
SOL 1:2 তাঁর মুখের চুম্বনে তিনি আমাকে চুম্বন করুন, কেননা তোমার প্রেম দ্রাক্ষারসের চেয়েও বেশি চিত্তাকর্ষক ও মধুর।
SOL 1:3 তোমার সুগন্ধির ছড়ানো সুবাস প্রফুল্লদায়ক; তোমার নামটিও যেন ঢেলে দেওয়া আতর। ফলে কুমারী মেয়েরা যে তোমাকে প্রেম করবে, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই!
SOL 1:4 আমাকে নিয়ে চলো তোমার সঙ্গে দূরে—চলো, আমরা শীঘ্র যাই! আমার রাজা আমাকে নিয়ে যাবেন তাঁর অন্তঃপুরে। বান্ধবীদের দল আমরা তোমাতে আনন্দিত ও উল্লসিত হব; দ্রাক্ষারসের চেয়েও আমরা তোমার প্রেমের বেশি বন্দনা করব। প্রেমিকা তোমার প্রতি লোকদের ভক্তি ভালোবাসা একেবারে ন্যায্য!
SOL 1:5 হে জেরুশালেমের কন্যারা, আমি ঘন কালো হলেও সুন্দরী, ঠিক যেন কেদরের তাঁবু আমি, যেন শলোমনের তাঁবুর যবনিকা।
SOL 1:6 আমি ঘন কালো বলে ওভাবে তাকিও না আমার দিকে, কেননা রোদে পুড়েই আজ আমি ঘন কালো। আমার মাতৃপুত্রগণ আমার প্রতি ক্রুদ্ধ ছিল এবং তারা আমাকে দ্রাক্ষাক্ষেত্র দেখভাল করতে পাঠাত; ফলে আমার নিজের দ্রাক্ষাক্ষেত্রকে আমায় উপেক্ষা করতে হয়েছে।
SOL 1:7 ওগো প্রেমিক আমার, এবার বলত, তোমার মেষপালকে তুমি কোথায় চরাও এবং দ্বিপ্রহরকালে তোমার মেষদের কোথায় বিশ্রাম করাও। তোমার বন্ধুদের পালের পাশে আমাকে কেন ঘোমটা দেওয়া মহিলার মতো হতে হবে?
SOL 1:8 হে, নারীদের মধ্যে সেরা সুন্দরী, তা যদি তুমি না-জানো, তবে মেষদের পদচিহ্ন ধরে যাও, এবং পালকদের তাঁবুগুলির কাছে তোমার ছাগবৎসদের চরাও।
SOL 1:9 প্রিয়তমা আমার, আমি তোমাকে তুলনা করেছি ফরৌণের অন্যতম এক রথের সঙ্গে যুক্ত এক অশ্বিনীর সঙ্গে।
SOL 1:10 কানের দুলগুলি তোমার দুই গালকে আর রত্নখচিত মালা তোমার গলাকে করে তুলেছে অপূর্ব।
SOL 1:11 আমরা তোমাকে করে তুলব যেন সোনার তৈরি কানের দুল, যা হবে রৌপ্যখচিত।
SOL 1:12 রাজা যখন তাঁর মেজের নিকটে উপস্থিত, তখন আমার সুগন্ধি তার সৌরভ ছড়াল।
SOL 1:13 আমার প্রেমিক আমার কাছে এক থলি গন্ধরসের মতো যা আমার স্তনযুগলের উপত্যকায় মিশে থাকে।
SOL 1:14 আমার প্রেমিক আমার কাছে মেহেদি গুল্মের একগুচ্ছ কুঁড়ির মতো, যা জন্মায় ঐন-গদীর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে।
SOL 1:15 প্রিয়তমা আমার, অনিন্দ্যসুন্দরী তুমি! আহা, কি অপরূপ তুমি! তোমার দু-নয়ন কপোতের মতো।
SOL 1:16 ওগো আমার প্রিয়তম, সুদর্শন তুমি! আহা, কী মনোহর তুমি! আমাদের শয্যাও কেমন শ্যামল।
SOL 1:17 আমাদের ঘরের কড়িকাঠ তৈরি সিডার গাছের কাঠ দিয়ে, আর বরগা দেবদারু দিয়ে।
SOL 2:1 আমি শারোণের গোলাপ, উপত্যকায় ফুটে থাকা লিলি।
SOL 2:2 তরুণীদের মধ্যে আমার প্রেমিকা ঠিক যেন কাঁটাগাছের মধ্যে ফুটে থাকা লিলি ফুল।
SOL 2:3 তরুণদের মধ্যে আমার প্রেমিক ঠিক যেন অরণ্যের বৃক্ষরাজির মধ্যে একটি আপেল গাছ। তাঁর ছায়ায় বসলে আমার আনন্দ হয়, তাঁর ফলের স্বাদ আমার মুখে মিষ্টি লাগে।
SOL 2:4 তিনি আমাকে ভোজসভায় নিয়ে গেলেন, তখন যেন তাঁর পতাকাই হয়ে উঠল প্রেম।
SOL 2:5 তোমরা আমাকে কিশমিশ দিয়ে সবল করো, আপেল দিয়ে চনমনে করে তোল, কেননা প্রেম আমাকে মূর্চ্ছিত করেছে।
SOL 2:6 তাঁর বাম বাহু আমার মস্তকের নিচে, আর তাঁর ডান বাহু আমাকে আলিঙ্গন করে।
SOL 2:7 জেরুশালেমের কন্যারা, মাঠের গজলা হরিণীদের এবং হরিণশাবকদের দিব্যি দিয়ে আমি তোমাদের বলছি, যতক্ষণ না বাসনা জেগে উঠছে, ততক্ষণ প্রেমকে জাগিও না বা তাকে উত্তেজিত কোরো না।
SOL 2:8 ওই শোনো! এ যে আমার প্রেমিক! ওই দেখো, পর্বতমালা পেরিয়ে, লম্ফঝম্প সহকারে পাহাড় টপকে তিনি আসছেন।
SOL 2:9 আমার প্রেমিক গজলা হরিণের বা হরিণশাবকের মতো। ওই দেখো! উনি দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের প্রাচীরের পশ্চাতে, গবাক্ষ দিয়ে অপলকে দেখছেন, জাফরির মধ্যে দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
SOL 2:10 আমার প্রেমিক মুখ খুললেন এবং আমাকে বললেন, “প্রিয়তমা আমার, ওগো আমার সুন্দরীশ্রেষ্ঠা, উঠে পড়ো এবং আমার সঙ্গে চলো।
SOL 2:11 চেয়ে দেখো! শীতকাল চলে গেছে; বারিধারাও সমাপ্ত হয়েছে এবং বিদায় নিয়েছে।
SOL 2:12 মাঠে মাঠে ফুল ফুটেছে; গান গাওয়ার ঋতু এসেছে, আমাদের দেশে এখন ঘুঘুর ডাক শোনা যাচ্ছে।
SOL 2:13 ডুমুর গাছের ফল পুষ্ট হয়েছে; মুকুলিত দ্রাক্ষালতা বাতাসে তার সৌরভ ছড়াচ্ছে। উঠে এসো, চলো, প্রিয়া আমার। আমার সুন্দরীশ্রেষ্ঠা, চলে এসো আমার সঙ্গে।”
SOL 2:14 আমার কপোতের অবস্থান যেন শৈলের ফাটলে, যেন পাহাড়ি এলাকার গুপ্ত স্থানে, আমাকে দেখতে দাও তোমার মুখশ্রী, আমাকে শুনতে দাও তোমার কণ্ঠস্বর; কেননা তোমার মুখশ্রী লাবণ্যময়, তোমার কণ্ঠস্বর মধুর।
SOL 2:15 তোমরা আমাদের জন্য সেইসব শিয়ালদের ধরো, সেইসব ক্ষুদ্র শিয়ালদের, যারা দ্রাক্ষাক্ষেত্রকে, আমাদের মুকুলিত দ্রাক্ষাক্ষেত্রকে তছনছ করে দেয়।
SOL 2:16 আমার প্রেমিক শুধু আমার এবং আমিও শুধু তাঁর; লিলিফুলের মাঝে তাঁর পদচারণ।
SOL 2:17 দিন শেষ হওয়ার আগে এবং ছায়া মুছে যাওয়ার আগে, ওগো আমার প্রিয়তম, ফিরে এসো এবং রুক্ষ পর্বতের গজলা হরিণ বা হরিণশাবকের মতো হয়ে ওঠো।
SOL 3:1 সারারাত আমার শয্যায় আমি একজনের প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে বসেছিলাম, যাঁকে আমার হৃদয় ভালোবাসে; তাঁর জন্য পথ চেয়ে বসে থাকলাম কিন্তু তাঁর দেখা পেলাম না।
SOL 3:2 আমি এখন উঠব এবং নগরে যাব, সেখানকার পথে-ঘাটে ও উন্মুক্ত চত্বরে তাঁকে অন্বেষণ করব, যাঁকে আমার হৃদয় ভালোবাসে। এইভাবে আমি তাঁকে অন্বেষণ করলাম কিন্তু তাঁর দেখা পেলাম না।
SOL 3:3 নগররক্ষীরা রাতপাহারা দেবার সময় আমাকে দেখতে পেল। “তোমরা কি তাঁকে দেখেছ, যাঁকে আমার হৃদয় ভালোবাসে?”
SOL 3:4 তাদের ছেড়ে আমি যখন এগিয়ে গেলাম ঠিক তখনই তাঁর দেখা পেলাম, যাঁকে আমার হৃদয় ভালোবাসে। আমি তাঁকে আঁকড়ে ধরলাম, তাঁকে কিছুতেই ছাড়লাম না, যতক্ষণ না তাঁকে আমার মায়ের বাড়িতে, আমার জন্মদাত্রীর বাড়িতে নিয়ে গেলাম।
SOL 3:5 জেরুশালেমের কন্যারা, মাঠের গজলা হরিণীদের এবং হরিণশাবকদের দিব্যি দিয়ে আমি তোমাদের বলছি, যতক্ষণ না বাসনা জেগে উঠছে, ততক্ষণ প্রেমকে জাগিও না বা তাকে উত্তেজিত কোরো না।
SOL 3:6 বণিকদের বিভিন্ন মশলাপাতি সহযোগে তৈরি গন্ধরস ও কুন্দুরুর সুবাস ছড়িয়ে, মরুপ্রান্তর পেরিয়ে ধোঁয়ার স্তম্ভের মতো কে আসে ওই?
SOL 3:7 ও মা! দেখো, দেখো! এ যে শলোমনের ঘোড়ার গাড়ী, যাকে ষাটজন যোদ্ধা পাহারা দিচ্ছে, যারা ইস্রায়েলের সর্বোত্তম বীর,
SOL 3:8 এরা প্রত্যেকেই সশস্ত্র, প্রত্যেকেই রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতালব্ধ, এদের প্রত্যেকের কটিদেশে নিজ নিজ তরবারি সংলগ্ন, রাত্রিকালীন সন্ত্রাসের মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত।
SOL 3:9 রাজা শলোমন তাঁর নিজের জন্য এই ঘোড়ার গাড়ীটি তৈরি করেছেন, লেবাননের কাঠ দিয়ে তিনি এটি নির্মাণ করেছেন।
SOL 3:10 তিনি এর স্তম্ভগুলি রুপো দিয়ে, আর তলার অংশ সোনা দিয়ে তৈরি করেছেন, এর বসার গদিটি বেগুনিয়া বস্ত্রে সুসজ্জিত, এর অন্দরসজ্জায় জেরুশালেমের কন্যাদের প্রীতিপূর্ণ কারুকাজ।
SOL 3:11 ওগো সিয়োন-কন্যারা, তোমরা বাইরে বেরিয়ে এসো, দেখো, রাজা শলোমনকে, তিনি মাথায় মুকুট পরছেন, সেই মুকুট যা তাঁর বিবাহের দিন তাঁর মা মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলেন, যেদিন তাঁর হৃদয় আনন্দিত হয়ে উঠেছিল।
SOL 4:1 প্রিয়তমা আমার, অপূর্ব সুন্দরী তুমি! আহা, কী অপরূপ তুমি! তোমার ঘোমটার আড়ালে তোমার দুটি চোখ কপোতের মতো। তোমার কেশরাশি একপাল ছাগলের মতো, যারা গিলিয়দ পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে আসে।
SOL 4:2 তোমার দন্তপঙক্তি যেন সদ্য পশম ছাঁটা মেষপালের মতো, যাদের সদ্য ধৌত করা হয়েছে, ওরা কেউ একা নয়, প্রত্যেকের সঙ্গে তার যমজ শাবক রয়েছে।
SOL 4:3 তোমার ওষ্ঠাধর রক্তিম ফিতের মতো; তোমার মুখশ্রী চমৎকার। ঘোমটা আবৃত তোমার কপোল অর্ধ কর্তিত ডালিম ফলের মতো।
SOL 4:4 তোমার গলা দাউদের দুর্গের মতো, অসামান্য সুষমামণ্ডিত যার পাথরের নির্মাণসৌকর্য, যার উপরে টাঙানো থাকে এক হাজার ঢাল, যেগুলির প্রত্যেকটি যোদ্ধাদের ঢাল।
SOL 4:5 তোমার দুটি স্তন যেন দুটি হরিণশাবক, যেন গজলা হরিণীর যমজ শাবক, যারা লিলি ফুলে ভরা মাঠে নেচে বেড়ায়।
SOL 4:6 বেলা শেষ হওয়ার আগে এবং ছায়া মুছে যাওয়ার আগে আমি গন্ধরসের পর্বতে এবং কুন্দুরুর পাহাড়ে যাব।
SOL 4:7 আমার প্রিয়া, সর্বাঙ্গ সুন্দরী তুমি; তোমাতে কোনও খুঁত নেই।
SOL 4:8 ও আমার বধূ লেবানন ছেড়ে আমার সঙ্গে চলো, লেবানন ছেড়ে আমার সঙ্গে চলো। অমানার শৃঙ্গ থেকে, শনীর চূড়া থেকে, হর্মোণের শীর্ষদেশ থেকে, সিংহদের গুহা থেকে এবং পর্বতে বাসা বাঁধা চিতাবাঘদের আস্তানা থেকে অবতরণ করো।
SOL 4:9 তুমি আমার হৃদয় হরণ করেছ, মম ভগিনী, মম বধূ; তোমার এক মুহূর্তের চাহনি, তোমার জড়োয়ার একটিমাত্র রত্ন আমার হৃদয় হরণ করেছে।
SOL 4:10 কী মধুর তোমার প্রেম, মম ভগিনী, মম বধূ! তোমার প্রেম সুরার চেয়েও এবং তোমার সুগন্ধির সৌরভ যে কোনও সুগন্ধি মশলার চেয়েও কত বেশি আনন্দদায়ক!
SOL 4:11 ওগো মোর বধূ, তোমার ওষ্ঠাধর থেকে মৌচাকের মতো মধু ঝরে পড়ে, তোমার জিহ্বার নিচে দুধ ও মধু আছে। তোমার পোশাকের সুবাস লেবাননের মতো।
SOL 4:12 মম ভগিনী, মম বধূ, তুমি অর্গলবদ্ধ এক বাগিচা; এক মুদ্রাঙ্কিত, অবরুদ্ধ ঝরনা।
SOL 4:13 তোমার চারাগাছগুলি ডালিমের উপবন, যেখানে আছে উৎকৃষ্ট ফল, আছে মেহেদি ও জটামাংসী
SOL 4:14 জটামাংসী আর জাফরান, বচ, দারুচিনি ও সর্বপ্রকার সুগন্ধি ধুনোর গাছ, আছে গন্ধরস, অগুরু ও উৎকৃষ্ট মশলার গাছ।
SOL 4:15 তুমি বাগিচায় ঘেরা এক ঝরনা, প্রবাহিত জলের এক উৎস, যার স্রোত সেই লেবানন থেকে বইছে।
SOL 4:16 জাগো, হে উত্তুরে বায়ু, এসো হে দখিনা বাতাস! বয়ে যাও আমার এই বাগিচায়, যাতে এর সৌরভ চারদিকে ছড়িয়ে যায়। আমার প্রেমিককে আসতে দাও তাঁর আপন বাগিচায় এবং তাঁর পছন্দসই ফলের স্বাদ গ্রহণ করতে দাও।
SOL 5:1 মম ভগিনী, মম বধূ, আমি এসেছি আমার কাননে; আমার গন্ধরস ও আমার সুগন্ধি সঙ্গে এনেছি। আমি আমার মধু ও আমার মধুর চাক চুষেছি, আমার দ্রাক্ষারস এবং আমার দুধ পান করেছি। বান্ধবীদের দল হে বন্ধুরা, আহার করো এবং পান করো; আকণ্ঠ তোমাদের প্রেমসুধা পান করো।
SOL 5:2 আমি ঘুমাচ্ছিলাম কিন্তু আমার হৃদয় জেগে ছিল। ওই শোনো! আমার প্রেমিক দরজায় করাঘাত করছেন: “দরজা খোলো, আমার ভগিনী, আমার প্রিয়া, আমার কপোত, আমার নিখুঁত সৌন্দর্য। আমার মস্তক শিশিরে ভিজে গেছে, রাতের আর্দ্রতায় সিক্ত হয়েছে আমার কেশরাশি।”
SOL 5:3 আমি তো আমার অঙ্গাবরণ খুলে ফেলেছি— তা কি আবার আমায় পরিধান করতে হবে? আমার দুই পা ধুয়েছি— তা কি আবার ধূলিমলিন করব?
SOL 5:4 আমার প্রেমিক দুয়ারের ছিদ্র দিয়ে অর্গল খোলার জন্য তাঁর হাত বাড়ালেন; তাঁর জন্য আমার হৃৎস্পন্দনের গতি বাড়তে শুরু করল।
SOL 5:5 আমার প্রেমিকের জন্য দরজা খোলার জন্য আমি উঠলাম, আর দরজার অর্গলে লেগে থাকা গন্ধরসে আমার দু-হাত ভিজে গেল, তরল গন্ধরসে আমার আঙুলগুলি সিক্ত হল।
SOL 5:6 আমার প্রেমিকের জন্য আমি দরজা খুললাম, কিন্তু আমার প্রেমিক ফিরে গেছেন, চলে গেছেন তিনি। তাঁর প্রস্থানে আমার হৃদয় ম্রিয়মাণ হয়ে গেল। তাঁকে কত খুঁজলাম, কিন্তু কোথাও তাঁর দেখা পেলাম না, তাঁকে কত ডাকলাম, কিন্তু তিনি সাড়া দিলেন না।
SOL 5:7 নগররক্ষীরা পাহারা দেবার সময় দেখতে আমাকে পেল। ওরা আমাকে প্রহার করল, ক্ষতবিক্ষত করল; পাঁচিলের ধারের ওই নগররক্ষীগুলি আমার কাপড়জামাও ছিনিয়ে নিল!
SOL 5:8 হে জেরুশালেমের কন্যারা, আমি তোমাদের দিব্যি দিয়ে বলছি, তোমরা যদি আমার প্রেমিকের দেখা পাও, তাহলে, কী বলবে তাঁকে? বলবে যে, তাঁর প্রেমে আমি অচৈতন্যপ্রায়।
SOL 5:9 হে পরমাসুন্দরী, অন্য প্রেমিকদের তুলনায় তোমার প্রেমিক কী কারণে অনন্য? আমাদের যে তুমি এত দিব্যি দিচ্ছ, অন্য প্রেমিকদের তুলনায় তোমার প্রেমিক কী কারণে অসাধারণ?
SOL 5:10 আমার প্রেমিক দীপ্যমান ও রক্তিম, দশ হাজার জনের মধ্যেও সেরা।
SOL 5:11 তাঁর মস্তক খাঁটি সোনার মতো; তাঁর কেশ কোঁকড়ানো ও দাঁড়কাকের মতো কুচকুচে কালো।
SOL 5:12 তাঁর নয়নযুগল যেন জলস্রোতের তীরের কপোত, যারা দুগ্ধস্নাত ও অলংকারখচিত মণির মতো।
SOL 5:13 তাঁর কপোল সুগন্ধি মশলার কেয়ারির মতো সুবাসিত। তাঁর ওষ্ঠাধর লিলিফুলের মতো, যা গন্ধরসের সৌরভ ছড়ায়।
SOL 5:14 তাঁর বাহুযুগল বৈদূর্যমণিতে খচিত সোনার আংটির মতো; তাঁর দেহ নীলকান্তমণিতে খচিত মসৃণ গজদন্তের মতো।
SOL 5:15 তাঁর ঊরুদ্বয় খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি তলদেশের উপরে বসানো মার্বেল পাথরের স্তম্ভ। তাঁর আকৃতি লেবাননের মতো, উৎকৃষ্ট সিডার গাছের মতো।
SOL 5:16 তাঁর মুখের নিজস্ব মাধুর্য আছে; সব মিলিয়ে তিনি ভারী সুন্দর। হে জেরুশালেমের কন্যারা, ইনিই আমার প্রেমিক, ইনিই আমার বন্ধু।
SOL 6:1 হে পরমাসুন্দরী, তোমার প্রেমিক কোথায় চলে গেছেন? তোমার প্রেমিক কোনও দিকে গেছেন, তোমার সঙ্গে আমরাও তো তাঁকে সেখানে খুঁজতে যেতে পারি?
SOL 6:2 আমার প্রেমিক তাঁর বাগানে, সুগন্ধি মশলার কেয়ারিতে নেমে গেছেন, বাগানগুলিতে পদচারণা করতে আর লিলি ফুল চয়ন করতে।
SOL 6:3 আমি আমার প্রেমিকের এবং আমার প্রেমিক আমারই; তিনি লিলিফুলের বাগিচায় পদচারণা করেন।
SOL 6:4 ওগো মোর প্রিয়া, তুমি তির্সার মতো রূপসী, জেরুশালেমের মতো লাবণ্যময়, পতাকাবাহী সেনাবাহিনীর মতো জমকালো।
SOL 6:5 আমার দিক থেকে তোমার দুই নয়ন সরাও; ওরা আমাকে বিহ্বল করে দেয়; তোমার কেশরাশি এমন ছাগপালের মতো, যারা গিলিয়দের ঢাল বেয়ে নেমে আসে
SOL 6:6 তোমার দন্তপঙক্তি যেন একপাল মেষ, যাদের সদ্য ধৌত করা হয়েছে, ওরা কেউ একা নয়, প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছে তার যমজ শাবক।
SOL 6:7 ঘোমটায় আবৃত তোমার কপোল অর্ধ কর্তিত ডালিম ফলের মতো।
SOL 6:8 রানি সম্ভবত ষাটজন, আর উপপত্নী আশি জন, আর কুমারীর সংখ্যা অগণ্য;
SOL 6:9 কিন্তু আমার কবুতর, আমার নিখুঁত প্রিয়া অনন্যা, সে তাঁর মায়ের একমাত্র দুহিতা, তাঁর জন্মদাত্রীর প্রিয়পাত্রী। কুমারীরা তাঁকে দেখে ধন্যা বলে সম্বোধন করেছে; রানি ও উপপত্নীরা তাঁর প্রশংসা করেছে।
SOL 6:10 উনি কে, যিনি ভোরের আলোর মতো আবির্ভূত হচ্ছেন, যিনি চন্দ্রের মতো শুভ্র, সূর্যের মতো উজ্জ্বল, নক্ষত্রদের শোভাযাত্রার মতো ঐশ্বর্যময়?
SOL 6:11 আমি আখরোটের বাগিচায় নেমে গেছিলাম দেখতে যে, উপত্যকায় নবীন কোনও তরু অঙ্কুরিত হল কি না, দ্রাক্ষালতা কতটা কুঁড়ি হল কিংবা ডালিম গাছে ফুল এল কি না।
SOL 6:12 বিষয়টি ভালো করে বোঝার আগেই আমার বাসনা আমাকে বসিয়ে দিল আমার জাতির রাজকীয় রথরাজির মধ্যে।
SOL 6:13 ফিরে এসো, ফিরে এসো, হে শূলম্মীয়ে; ফিরে এসো, ফিরে এসো, যাতে আমরা অপলকে তোমাকে দেখতে পাই। প্রেমিক মহনয়িমের নৃত্যের মতো করে তোমরা কেন শূলম্মীয়েকে অপলকে দেখতে চাইছ?
SOL 7:1 হে রাজদুহিতা! পাদুকা পরিহিত তোমার দুটি চরণ কী মনোহর! তোমার রম্য ঊরুদ্বয় রত্ন সদৃশ, যেন এক দক্ষ কারিগরের উত্তম শিল্পসৌকর্য।
SOL 7:2 তোমার নাভিদেশ সুডৌল পানপাত্রের মতো, যার মিশ্রিত সুরা কখনও ফুরায় না। তোমার কটিদেশ যেন লিলি ফুলে ঘেরা স্বর্ণ নির্মিত গমের স্তূপ।
SOL 7:3 তোমার দুটি স্তন যেন দুটি হরিণশাবক, যেন গজলা হরিণীর যমজ শাবক।
SOL 7:4 তোমার গলা হাতির দাঁতের নির্মিত মিনার। তোমার দুই নয়ন বৎ-রব্বীম দ্বারের পাশে অবস্থিত হিষ্‌বোনের সরোবরগুলির মতো। তোমার নাক যেন দামাস্কাসের দিকে চেয়ে থাকা লেবাননের মিনার।
SOL 7:5 তোমার মস্তক যেন কর্মিল পাহাড়ের মুকুট। তোমার কেশরাশি যেন জমকালো নকশা খচিত রাজকীয় পর্দা, যে অসামান্য অলকগুচ্ছে রাজাও বন্দি হয়ে যান।
SOL 7:6 হে মোর প্রেম, তুমি কত সুন্দর এবং তোমার মাধুর্যের কারণে কী মনোহর তোমার ব্যক্তিত্ব!
SOL 7:7 তোমার দীর্ঘাঙ্গী চেহারা খেজুর গাছের মতো আর তোমার দুটি স্তন একগুচ্ছ ফলের মতো।
SOL 7:8 আমি বললাম, “আমি এই খেজুর গাছে আরোহণ করব; এর ফল আমি শক্ত হাতে অধিকার করব।” তোমার স্তনদ্বয় হয়ে উঠুক দ্রাক্ষাগুচ্ছস্বরূপ, তোমার নিঃশ্বাস ভরে উঠুক আপেলের গন্ধে,
SOL 7:9 আর তোমার মুখ হয়ে উঠুক উৎকৃষ্ট সুরাসম। প্রেমিকা এই সুরা কেবলমাত্র আমার প্রেমিকের কাছে পৌঁছাক, যা তাঁর দন্তশ্রেণী ও ওষ্ঠাধর বেয়ে ধীরে প্রবাহিত হবে।
SOL 7:10 আমি কেবলমাত্র আমার প্রেমিকের এবং আমার প্রতি তিনি আসক্ত।
SOL 7:11 ওগো মোর প্রেমিক, এসো, আমরা পল্লীগ্রামের দিকে যাই, চলো আমরা গ্রামদেশে গিয়ে নিশিযাপন করি।
SOL 7:12 ভোরবেলা চলো আমরা দ্রাক্ষাক্ষেত্রে যাই, দেখি দ্রাক্ষালতায় কুঁড়ি এল কি না, তা মঞ্জরিত হল কি না, আর ডালিম গাছে ফুল ফুটল কি না—ওখানেই আমি তোমায় আমার প্রেম নিবেদন করব।
SOL 7:13 চারপাশে এখন দূদাফলের সৌরভ, আর আমাদের দোরগোড়াতেই আছে নতুন ও পুরোনো বিভিন্ন উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য, হে প্রিয়, যেগুলি আমি তোমার জন্য সংরক্ষণ করেছি।
SOL 8:1 তুমি যদি আমার মায়ের স্তন্যপান করা হতে আমার সহোদর ভাইয়ের মতো! তাহলে তোমাকে ঘরের বাইরে দেখতে পেলে, আমি তোমাকে চুম্বন করতাম, তখন আর কেউ আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারত না।
SOL 8:2 আমি তোমাকে পথ দেখাতাম আর নিয়ে যেতাম আমার মায়ের ঘরে— যে মা আমার শিক্ষাদাত্রী। আমি তোমাকে পান করার জন্য সুগন্ধি মশলা মিশ্রিত সুরা দিতাম, দিতাম আমার ডালিম ফলের নির্যাস।
SOL 8:3 তাঁর বাম বাহু আমার মস্তকের নিচে, আর তাঁর ডান বাহু আমাকে আলিঙ্গন করে।
SOL 8:4 জেরুশালেমের কন্যারা, আমি তোমাদের দিব্যি দিয়ে বলছি, যতক্ষণ না বাসনা জেগে উঠছে, ততক্ষণ প্রেমকে জাগিও না বা তাকে উত্তেজিত কোরো না।
SOL 8:5 মরুপ্রান্তর পার হয়ে আপন প্রেমিকার কাঁধে মাথা রেখে ওই কে আসে? প্রেমিকা যেখানে তোমার মা তোমাকে প্রসব করেছিলেন সেই আপেল গাছের তলায় আমি তোমাকে জাগালাম; ওখানে তোমার মা তোমার জন্মকালীন প্রসববেদনা সয়েছিলেন।
SOL 8:6 তোমার হৃদয়ে আমাকে অভিজ্ঞানস্বরূপ করে রাখো, তোমার বাহুর উপরে আমাকে অভিজ্ঞানস্বরূপ করে রাখো; কেননা প্রেম মৃত্যুর মতোই শক্তিশালী, এর অর্ন্তজ্বালা কবরের মতো নিষ্ঠুর সত্য। এ যেন এক জ্বলন্ত আগুন, এক লেলিহান আগুনের শিখা।
SOL 8:7 অজস্র জলও প্রেমের তৃষ্ণা মিটাতে পারে না; নদীরাও তাকে মুছে দিতে পারে না। কেউ যদি প্রেমের বিনিময়ে তাঁর ঘরের যাবতীয় ধনসম্পদ দিয়ে দেয়, তবে তা ধিক্কারজনক হবে।
SOL 8:8 আমাদের একটি অল্পবয়সি বোন আছে, তার বক্ষদেশ এখনও প্রস্ফুটিত হয়নি। আমাদের এই বোনটির জন্য আমরা কী যে করি, কারণ একদিন তো তাকে সর্বসমক্ষে তার কথা বলতে হবে?
SOL 8:9 সে যদি প্রাচীরস্বরূপা হয়, তাহলে আমরা তার উপরে রুপোর মিনার নির্মাণ করব, সে যদি দুয়ারস্বরূপা হয়, তাহলে আমরা সিডার কাঠ দিয়ে তার ভিত্তিমূলকে ঘিরে দেব।
SOL 8:10 আমি প্রাচীরস্বরূপা এবং আমার দুটি স্তন গম্বুজের মতো। এভাবেই আমি তাঁর চোখে পরম তৃপ্তিদায়ক হয়ে উঠলাম।
SOL 8:11 বায়াল-হামনে শলোমনের এক দ্রাক্ষাক্ষেত্র ছিল; যা তিনি তার ভাগচাষিদের চাষ করতে দিয়েছেন। এর ফলের জন্য তাদের মাথাপিছু দিতে হবে এক সহস্র রৌপ্যমুদ্রা।
SOL 8:12 কিন্তু আমার নিজের দ্রাক্ষাকুঞ্জ দিতে পারি শুধু আমিই; হে শলোমন, এই 1,000 শেকল রৌপ্যমুদ্রা তোমার জন্য, আর আমার দ্রাক্ষাকুঞ্জের উৎপাদিত ফলের পরিচর্যাকারী কৃষকেরা পাবে মাথাপিছু 200 শেকল রৌপ্যমুদ্রা।
SOL 8:13 প্রতীক্ষারত বন্ধুদের নিয়ে ওগো কাননচারিনী, তোমার কণ্ঠস্বর আমাকে শুনতে দাও!
SOL 8:14 ওগো মোর প্রেমিক, চলে এসো, এবং সুগন্ধি মশলায় ছেয়ে যাওয়া পর্বতমালায় বিচরণরত হরিণী কিংবা হরিণশাবক সদৃশ হও।
ISA 1:1 এই দর্শন যিহূদা ও জেরুশালেমের বিষয়ে, যা আমোষের পুত্র যিশাইয়, যিহূদার রাজা উষিয়, যোথম, আহস ও হিষ্কিয়ের সময়ে দেখতে পান।
ISA 1:2 আকাশমণ্ডল শোনো! পৃথিবী কর্ণপাত করো! কারণ এই কথা সদাপ্রভু বলেছেন, “আমি ছেলেমেয়েদের লালনপালন ও ভরণ-পোষণ করেছি, কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
ISA 1:3 গরু তার মনিবকে জানে, গর্দভ তার মালিকের জাবপাত্র চেনে, কিন্তু ইস্রায়েল তার মনিবকে জানে না, আমার প্রজারা কিছু বোঝে না।”
ISA 1:4 আহা পাপিষ্ঠ জাতি, এমন এক প্রজাসমাজ যারা অপরাধে ভারগ্রস্ত, তারা কুকর্মীদের বংশ, যত ভ্রষ্টাচারীর সন্তান! তারা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করেছে; তারা ইস্রায়েলের পবিত্রতমকে অবজ্ঞা করেছে, এবং তাঁর প্রতি তারা পিঠ ফিরিয়েছে।
ISA 1:5 তোমরা আর কেন মার খাবে? কেন তোমরা বিদ্রোহ করেই চলেছ? মাথার সমস্ত অংশ তোমাদের আহত হয়েছে, তোমাদের হৃদয় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ISA 1:6 তোমাদের পায়ের পাতা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত, কোথাও কোনো সুস্থ স্থান নেই, কেবলমাত্র ক্ষত আর প্রহারের চিহ্ন এবং টাটিয়ে ওঠা ঘা, তা পরিষ্কার করা কিংবা ব্যাণ্ডেজ বাঁধাও হয়নি, বা জলপাই তেল দিয়ে তা কোমলও করা হয়নি।
ISA 1:7 তোমাদের দেশ পরিত্যক্ত, তোমাদের নগরগুলি অগ্নিদগ্ধ হয়েছে; তোমাদের মাঠগুলি বিদেশিরা তোমাদের চোখের সামনেই লুট করেছে, তারা পর্যুদস্ত করা মাত্র সেগুলি ছারখার হয়ে গেছে।
ISA 1:8 দ্রাক্ষাকুঞ্জের কুটিরের মতো, শসা ক্ষেতের পাহারা দেওয়া কুঁড়েঘরের মতো, কোনো অবরুদ্ধ নগরীর মতো, সিয়োন-কন্যা পরিত্যক্ত পড়ে আছে।
ISA 1:9 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু যদি আমাদের জন্য কয়েকজন অবশিষ্ট মানুষ না রাখতেন, তাহলে আমাদের অবস্থা হত সদোমের মতো, আমরা হতাম ঘমোরার মতো।
ISA 1:10 তোমরা যারা সদোমের শাসক, তোমরা সদাপ্রভুর বাণী শোনো; তোমরা যারা ঘমোরার মানুষ, তোমরা আমাদের ঈশ্বরের বিধান শোনো!
ISA 1:11 “কী তোমাদের ভাবিয়েছে যে, তোমাদের অগণ্য সব বলি উৎসর্গ আমার প্রয়োজন?” সদাপ্রভু একথা বলেন। “আমার কাছে প্রয়োজনেরও বেশি হোমের পশু আছে, সব মেষ ও নধর পশুদের চর্বি আছে; ষাঁড়, মেষশাবক ও ছাগলের রক্তে আমার কোনও আনন্দ নেই।
ISA 1:12 তোমরা যখন আমার সামনে উপস্থিত হও, কে তোমাদের কাছে এরকম চেয়েছে যে, তোমরা আমার প্রাঙ্গণ পা দিয়ে মাড়াও?
ISA 1:13 অর্থহীন সব বলিদান আমার কাছে আর এনো না! তোমাদের ধূপদাহ আমার কাছে ঘৃণ্য মনে হয়। অমাবস্যা, সাব্বাথের দিন ও ধর্মীয় সভাগুলি— আমি তোমাদের এসব মন্দ জমায়েত সহ্য করতে পারি না।
ISA 1:14 তোমাদের অমাবস্যার উৎসবগুলি ও নির্ধারিত সব পর্ব, আমার প্রাণ ঘৃণা করে। সেগুলি আমার পক্ষে এক বোঝাস্বরূপ, যেগুলির ভার বয়ে বয়ে আমি ক্লান্ত হয়েছি।
ISA 1:15 তোমরা প্রার্থনার উদ্দেশে যখন হাত প্রসারিত করো, তোমাদের কাছ থেকে আমি আমার দৃষ্টি লুকাব; তোমরা যদিও বহু প্রার্থনা উৎসর্গ করো, আমি তা শুনব না। কারণ তোমাদের হাত রক্তে পূর্ণ!
ISA 1:16 তোমরা সেইসব ধুয়ে ফেলো ও নিজেদের শুচিশুদ্ধ করো। তোমাদের সব মন্দ কর্ম আমার দৃষ্টিপথ থেকে দূর করো! অন্যায় সব কর্ম করা থেকে নিবৃত্ত হও।
ISA 1:17 যা ন্যায়সংগত, তাই করতে শেখো; ন্যায়বিচার অনুধাবন করো। অত্যাচারিত লোকেদের পাশে দাঁড়াও। পিতৃহীনদের পক্ষসমর্থন করো, বিধবাদের সপক্ষে ওকালতি করো।
ISA 1:18 “এবারে এসো, আমরা পরস্পর যুক্তিবিচার করি,” সদাপ্রভু একথা বলেন। “তোমাদের পাপের রং টকটকে লাল হলেও সেগুলি বরফের মতো সাদা হবে; যদিও তা গাঢ় লাল রংয়ের হয়, সেগুলি পশমের মতোই শুভ্র হবে।
ISA 1:19 যদি তোমরা ইচ্ছুক ও বাধ্য হও, তোমরা দেশের উৎকৃষ্ট সব ফল ভোজন করবে;
ISA 1:20 কিন্তু যদি তোমরা প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ করো, তরোয়াল তোমাদের গ্রাস করবে,” কারণ সদাপ্রভুর মুখ একথা বলেছে।
ISA 1:21 দেখো, একদা বিশ্বস্ত জেরুশালেম নগরী, কেমন বেশ্যার মতো হয়েছে! এক সময়, সে ন্যায়বিচারে পূর্ণ ছিল; তার মধ্যে অবস্থান করত ধার্মিকতা, কিন্তু এখন যত খুনির দল আছে!
ISA 1:22 তোমাদের রুপোয় এখন খাদ ধরেছে, তোমাদের পছন্দসই দ্রাক্ষারসে জল মেশানো হয়েছে।
ISA 1:23 তোমাদের শাসকেরা বিদ্রোহী হয়েছে, তারা হয়েছে চোরদের সঙ্গী; তারা সবাই ঘুস খেতে ভালোবাসে এবং পারিতোষিকের পিছনে দৌড়ায়। তারা পিতৃহীনের পক্ষসমর্থন করে না; বিধবার মোকদ্দমা তাদের সামনে আসে না।
ISA 1:24 তাই প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, যিনি ইস্রায়েলের পরাক্রমী জন, তিনি ঘোষণা করেন: “আহা! আমি আমার বিপক্ষদের হাত থেকে নিস্তার পাব, আমার শত্রুদের কাছে প্রতিশোধ নেব।
ISA 1:25 আমি তোমার বিরুদ্ধে আমার মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলব; আমি তোমার খাদ আগাগোড়া পরিষ্কার করব এবং তোমার সব অশুদ্ধতা দূর করব।
ISA 1:26 আমি পুরোনো দিনের মতো তোমার বিচারকদের পুনঃস্থাপিত করব, যেমন প্রথমে ছিল, তেমনই নিয়ে আসব পরামর্শদাতাদের। পরে তোমাকে বলা হবে ধার্মিকতার পুরী, এক বিশ্বাসভাজন নগরী।”
ISA 1:27 সিয়োনকে ন্যায়বিচারের দ্বারা ও তার অনুতপ্ত জনেদের ধার্মিকতার দ্বারা উদ্ধার করা হবে।
ISA 1:28 কিন্তু বিদ্রোহী ও পাপীরা, উভয়েই ভগ্ন হবে, যারা সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করে, তারা বিনষ্ট হবে।
ISA 1:29 “তোমরা তোমাদের পবিত্র ওক গাছগুলির জন্য লজ্জিত হবে, যেগুলির জন্য তোমরা আনন্দিত হতে; তোমাদের মনোনীত পূজার উদ্যানগুলির জন্য তোমরা অপমানিত হবে।
ISA 1:30 তোমরা সেই ওক গাছের মতো হবে, যার পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, তোমরা জলহীন কোনো উদ্যানের মতো হবে।
ISA 1:31 শক্তিশালী মানুষ যেন খড়কুটোর মতো হবে, তার কাজ অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো হবে; সেগুলি উভয়েই একত্র দগ্ধ হবে, সেই আগুন নিভানোর জন্য কেউই থাকবে না।”
ISA 2:1 যিহূদা ও জেরুশালেম সম্পর্কে আমোষের পুত্র যিশাইয় এই দর্শন পান:
ISA 2:2 শেষের সময়ে সদাপ্রভুর মন্দিরের পর্বত অন্য সব পর্বতের উপরে প্রধানরূপে প্রতিষ্ঠিত হবে; তাকে সব পাহাড়ের উপরে তুলে ধরা হবে এবং সমস্ত জাতি তার দিকে স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে।
ISA 2:3 অনেক লোক এসে বলবে, “চলো, আমরা সদাপ্রভুর পর্বতে উঠে যাই, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে যাই। তিনি আমাদের তাঁর পথের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন, যেন আমরা তাঁর পথসমূহে চলতে পারি।” সিয়োন থেকে বিধান নির্গত হবে, জেরুশালেম থেকে সদাপ্রভুর বাণী নির্গত হবে।
ISA 2:4 তিনি অনেক জাতির মধ্যে বিচার করবেন এবং অনেক লোকেদের বিবাদ মীমাংসা করবেন। তারা নিজের তরোয়াল পিটিয়ে চাষের লাঙল এবং বল্লমগুলিকে কাস্তেতে পরিণত করবে। এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর তরোয়াল ব্যবহার করবে না, তারা আর যুদ্ধ করতেও শিখবে না।
ISA 2:5 ওহে যাকোবের কুল, তোমরা এসো, এসো, আমরা সদাপ্রভুর আলোয় পথ চলি।
ISA 2:6 সদাপ্রভু, তুমি তো তোমার প্রজা, যাকোবের কুলকে ত্যাগ করেছ। তারা প্রাচ্যদেশীয় কুসংস্কারের অভ্যাসে পূর্ণ; তারা ফিলিস্তিনীদের মতো গণকবিদ্যা ব্যবহার করে এবং পৌত্তলিকদের সঙ্গে হাতে হাত মেলায়।
ISA 2:7 তাদের দেশ সোনা ও রুপোয় পূর্ণ তাদের ঐশ্বর্যের যেন কোনও শেষ নেই। তাদের দেশ অশ্বেও পরিপূর্ণ, তাদের রথেরও যেন কোনো শেষ নেই।
ISA 2:8 তাদের দেশ প্রতিমায় পূর্ণ; নিজেদের হাতে তৈরি জিনিসের কাছে তারা প্রণিপাত করে, যেগুলি তাদেরই আঙুল নির্মাণ করেছে।
ISA 2:9 ইতর মানুষ তাদের কাছে প্রণত হয়, মহৎ যারা, তারাও অধোমুখ হয়, তাই তুমি তাদের ক্ষমা কোরো না।
ISA 2:10 তোমরা পাথরের ফাটলে যাও, মাটিতে লুকাও সদাপ্রভুর ভয়ংকরতা থেকে ও তাঁর মহিমার ঔজ্জ্বল্য থেকে!
ISA 2:11 উদ্ধত মানুষের দৃষ্টি নত করা হবে, গর্বিত মানুষেরা অবনত হবে; সেদিন কেবলমাত্র সদাপ্রভুই উন্নীত হবেন।
ISA 2:12 যত গর্বিত ও উদ্ধত মানুষ, যত লোক নিজেদের উচ্চ করে, তাদের জন্য সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু একটি দিন স্থির করে রেখেছেন, (তাদের সবাইকে নত করা হবে),
ISA 2:13 সব লেবাননের যত উঁচু ও লম্বা সিডার গাছ এবং বাশনের সমস্ত ওক গাছকে,
ISA 2:14 সব উঁচু পর্বত এবং সমস্ত উঁচু পাহাড়কে,
ISA 2:15 প্রত্যেকটি উঁচু মিনার ও প্রত্যেকটি দৃঢ় প্রাচীরকে,
ISA 2:16 প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রত্যেকটি চমৎকার শিল্পকর্মকে।
ISA 2:17 মানুষের ঔদ্ধত্যকে নত করা হবে, সব মানুষের অহংকার অবনত হবে; সেদিন, কেবলমাত্র সদাপ্রভুই উচ্চ হবেন,
ISA 2:18 আর যত প্রতিমা সেদিন অন্তর্হিত হবে।
ISA 2:19 মানুষেরা সেদিন পালিয়ে পাহাড়ের গুহাগুলিতে ও মাটির গর্তগুলিতে গিয়ে লুকাবে, সদাপ্রভুর ভয়ংকরতা থেকে এবং তাঁর রাজকীয় প্রতাপের শৌর্য থেকে, যখন তিনি পৃথিবীকে কম্পান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়াবেন।
ISA 2:20 সেদিন লোকেরা, ইঁদুর ও বাদুড়ের কাছে ফেলে দেবে, তাদের রুপোর ও সোনার প্রতিমাগুলি যেগুলি তারা পুজো করার জন্য নির্মাণ করেছিল।
ISA 2:21 তারা পাহাড়-পর্বতের গুহাগুলিতে ও ঝুলে থাকা পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে গিয়ে লুকাবে, সদাপ্রভুর ভয়ংকরতা থেকে এবং তাঁর রাজকীয় প্রতাপের শৌর্য থেকে, যখন তিনি পৃথিবীকে কম্পান্বিত করার জন্য উঠে দাঁড়াবেন।
ISA 2:22 তোমরা মানুষের উপরে নির্ভর করা ছেড়ে দাও, যার নাকে তো কেবলমাত্র প্রাণবায়ু বয়। সে কীসের মধ্যে গণ্য?
ISA 3:1 এখন দেখো, প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, জেরুশালেম ও যিহূদা থেকে জোগান ও সহায়তা প্রদান, উভয়ই দূর করতে চলেছেন: খাদ্যের সব জোগান ও জলের সব জোগান,
ISA 3:2 বীর ও যোদ্ধা, বিচারক ও ভাববাদী, গণক ও প্রাচীন,
ISA 3:3 পঞ্চাশ-সেনাপতি ও পদস্থ ব্যক্তি, পরামর্শদাতা, নিপুণ কারিগর ও চতুর জাদুকর সবাইকে।
ISA 3:4 “আমি বালকদের তাদের নেতা করব, সামান্য শিশুরা তাদের শাসন করবে।”
ISA 3:5 লোকেরা পরস্পরের প্রতি অত্যাচার করবে, মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে, প্রতিবেশী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। যুবকেরা বৃদ্ধদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে, ইতরজনেরা উঠবে সম্মানিতদের বিরুদ্ধে।
ISA 3:6 কোনো মানুষ তার বাবার গৃহে, কোনো একজন ভাইকে ধরে বলবে, “তোমার একটি আলখাল্লা আছে, তুমি আমাদের নেতা হও; এই ধ্বংসস্তূপের তুমিই তত্ত্বাবধান করো!”
ISA 3:7 কিন্তু সেদিন, সে চিৎকার করে বলবে, “আমার কাছে প্রতিকার নেই। আমার বাড়িতে খাবার বা পরার কাপড় নেই; আমাকে লোকদের নেতা কোরো না।”
ISA 3:8 কারণ জেরুশালেম হোঁচট খেয়েছে, যিহূদা পতিত হচ্ছে; তাদের কথা ও সমস্ত কাজ সদাপ্রভুরই বিরুদ্ধে, তারা তাঁর মহিমাময় উপস্থিতিকে অগ্রাহ্য করে।
ISA 3:9 তাদের মুখমণ্ডলের দৃষ্টি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়; তারা সদোমের মতো তাদের পাপের প্রদর্শন করে; তারা তা ঢেকে রাখে না। ধিক্ তাদের! তারা নিজেদেরই উপরে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ISA 3:10 তোমরা ধার্মিক লোকদের বলো, তাদের মঙ্গল হবে, কারণ তারা তাদের কৃতকর্মের সুফল ভোগ করবে।
ISA 3:11 দুষ্টদের ধিক্! তাদের উপরে বিপর্যয় নেমে আসবে! তারা যা করেছে, তার প্রতিফল তাদের দেওয়া হবে।
ISA 3:12 যুবকেরা আমার প্রজাদের প্রতি অত্যাচার করে, স্ত্রীলোকেরা তাদের উপরে শাসন করে। ওহে আমার প্রজারা, তোমাদের পথপ্রদর্শকেরাই তোমাদের বিপথে চালিত করে; প্রকৃত পথ থেকে তারা তোমাদের বিপথগামী করে।
ISA 3:13 সদাপ্রভু তাঁর দরবারে অবস্থান গ্রহণ করেছেন; তিনি জাতিসমূহের বিচার করার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছেন।
ISA 3:14 সদাপ্রভু প্রাচীনদের ও তাঁর প্রজাদের নেতৃগণের বিরুদ্ধে বিচার করতে চলেছেন: “তোমরাই আমার দ্রাক্ষাকুঞ্জ নষ্ট করেছ; দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে লুট করা জিনিস তোমাদেরই বাড়িতে আছে।
ISA 3:15 আমার প্রজাদের চূর্ণ করে এবং দরিদ্রদের মুখ ঘষে দিয়ে তোমরা কী বলতে চাইছ?” প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 3:16 সদাপ্রভু বলেন, “সিয়োনের নারীরা উদ্ধত, তারা ঘাড় উঁচু করে চোখের ইশারায় পথে পথে চোখ দিয়ে প্রেমের ভান করে। তারা ছোটো ছোটো পা ফেলে চলে, পায়ের নূপুরের রিনিঝিনি শব্দ তোলে।
ISA 3:17 সেই কারণে, সিয়োনের নারীদের মাথায় প্রভু দুষ্টক্ষত সৃষ্টি করবেন; সদাপ্রভু তাদের মাথার খুলি টাকপড়া করবেন।”
ISA 3:18 সেদিন, প্রভু তাদের জমকালো বেশভূষা কেড়ে নেবেন: হাতের চুড়ি ও মাথার টায়রা এবং চন্দ্রহার,
ISA 3:19 কানের দুল, বালা ও জালি আবরণ,
ISA 3:20 কপালের আভূষণ, পায়ের মল ও কোমরবন্ধনী, সুগন্ধি আতরের শিশি ও বাজু,
ISA 3:21 সিলমোহর আঁকা আংটি ও নাকের নোলক,
ISA 3:22 সুন্দর সব পোশাক, উপরের হাতহীন জামা ও ওড়না, টাকার থলি
ISA 3:23 ও আয়না, মসিনার অন্তর্বাস, উষ্ণীষ ও শাল।
ISA 3:24 সুগন্ধের পরিবর্তে হবে দুর্গন্ধ, কোমর বন্ধনীর পরিবর্তে দেওয়া হবে দড়ি; কায়দা করা কেশবিন্যাসের পরিবর্তে টাক; দামি পোশাকের পরিবর্তে চটের পোশাক, সৌন্দর্যের পরিবর্তে পোড়া দাগ।
ISA 3:25 তোমার পুরুষেরা তরোয়ালের দ্বারা পতিত হবে, তোমার যোদ্ধাদের যুদ্ধে পতন হবে।
ISA 3:26 সিয়োনের তোরণদ্বারগুলি বিলাপ ও শোক করবে; একা পরিত্যক্ত হয়ে সে মাটিতে বসে থাকবে।
ISA 4:1 সেদিন, সাতজন নারী একজন পুরুষকে ঘিরে ধরবে এবং বলবে, “আমরা নিজেদেরই খাবার খাব এবং নিজেরাই পরনের কাপড় জোগাব; তুমি কেবলমাত্র তোমার নামে আমাদের পরিচিত হতে দাও। তুমি আমাদের অপমান দূর করো!”
ISA 4:2 সেদিন, সদাপ্রভুর পল্লব হবেন সুন্দর ও মহিমাময় এবং দেশের ফল হবে ইস্রায়েলের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা লোকদের জন্য গর্বের ও মহিমার বিষয়।
ISA 4:3 সিয়োনে যাদের ছেড়ে যাওয়া হয়েছে, যারা জেরুশালেমে থেকে গেছে, তারা পবিত্র নামে আখ্যাত হবে। জেরুশালেমে তাদের সবার নাম জীবিত বলে নথিভুক্ত থাকবে।
ISA 4:4 প্রভু সিয়োনের নারীদের নোংরামি পরিষ্কার করে দেবেন; তিনি বিচারের আত্মা ও দহনের আত্মার দ্বারা জেরুশালেম থেকে সমস্ত রক্তপাতের কলঙ্ক শুচিশুদ্ধ করবেন।
ISA 4:5 তারপর, সদাপ্রভু সমস্ত সিয়োন পর্বতের উপরে এবং যারা সেখানে সমবেত হয়, তাদের সকলের উপরে দিনের বেলা এক ধোঁয়ার মেঘ ও রাতের বেলা এক প্রদীপ্ত আগুনের শিখা সৃষ্টি করবেন; সে সকলের উপরে চাঁদোয়ার মতো ঐশ-মহিমা বিরাজমান হবে।
ISA 4:6 তা হবে দিনের বেলার উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার এক আশ্রয় ও ছায়ায় ঢাকা স্থান এবং ঝড় ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার এক শরণস্থান ও লুকানোর জায়গা।
ISA 5:1 আমি আমার প্রিয়তমের উদ্দেশে একটি গান গাইব, তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেত্রের বিষয়ে গান গাইব: আমার প্রিয়তমের একটি দ্রাক্ষাক্ষেত্র ছিল এক উর্বরা পাহাড়ের গায়ে।
ISA 5:2 তিনি তা খুঁড়ে সব পাথর পরিষ্কার করলেন এবং উৎকৃষ্ট সব দ্রাক্ষার চারা তার মধ্যে রোপণ করলেন। তিনি তার মধ্যে এক নজরমিনার নির্মাণ করলেন এবং একটি দ্রাক্ষামাড়াই কুণ্ড খনন করলেন। তারপর তিনি অপেক্ষা করলেন উৎকৃষ্ট দ্রাক্ষাফলের, কিন্তু তাতে কেবলই বুনো আঙুর ধরল।
ISA 5:3 “এখন জেরুশালেমের অধিবাসী তোমরা ও যিহূদার লোকেরা, আমার ও আমার দ্রাক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে বিচার করো।
ISA 5:4 আমি আমার দ্রাক্ষাক্ষেত্রের জন্য যা করেছি, তার থেকে বেশি আর কী করা যেত? যখন আমি উৎকৃষ্ট দ্রাক্ষার অপেক্ষা করলাম, তাতে কেবলই বুনো আঙুর কেন ধরল?
ISA 5:5 এবার আমি তোমাদের বলি, আমার দ্রাক্ষাক্ষেত্রের প্রতি আমি কী করতে চলেছি: আমি এর বেড়াগুলি তুলে ফেলব, আর তা ধ্বংস হয়ে যাবে; আমি এর প্রাচীরগুলি ভেঙে দেব, তখন তা পদদলিত হবে।
ISA 5:6 আমি তা এক পরিত্যক্ত ভূমি করব, তার লতা পরিষ্কার বা ভূমি কর্ষণও করা হবে না; সেখানে শেয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপ উৎপন্ন হবে। আমি মেঘমালাকে আদেশ দেব যেন সেখানে জল বর্ষণ না করে।”
ISA 5:7 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর দ্রাক্ষাক্ষেত্র হল ইস্রায়েলের সমস্ত কুল, আর যিহূদার লোকেরা হল তাঁর মনোরম উদ্যান। তিনি ন্যায়বিচারের আশা করলেন, কিন্তু রক্তপাত দেখলেন; ধার্মিকতার আশা করলেন, কিন্তু দুর্দশার আর্তনাদ শুনলেন।
ISA 5:8 ধিক্ তোমাদের, যারা গৃহের সঙ্গে গৃহ এবং মাঠের সঙ্গে মাঠ যোগ করো যতক্ষণ না আর কোনো স্থান শূন্য থাকে আর তোমরা একা দেশের মধ্যে বসবাস করো।
ISA 5:9 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমার কর্ণগোচরে একথা ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চিতরূপে বড়ো বড়ো সব গৃহ জনশূন্য হবে, সুন্দর সব অট্টালিকায় বাস করার জন্য কেউ থাকবে না।
ISA 5:10 ত্রিশ বিঘা দ্রাক্ষাকুঞ্জে মাত্র বাইশ লিটার দ্রাক্ষারস পাওয়া যাবে, আর দশ ঝুড়ি বীজে মাত্র এক ঝুড়ি শস্য উৎপন্ন হবে।”
ISA 5:11 ধিক্ তাদের, যারা খুব সকালে ওঠে যেন সুরার অন্বেষণে দৌড়ায়, যারা রাত পর্যন্ত জেগে থাকে যতক্ষণ না সুরা তাদের উত্তপ্ত করে।
ISA 5:12 তাদের ভোজসভায় থাকে বীণা ও নেবল, খঞ্জনি, বাঁশি ও সুরা, কিন্তু সদাপ্রভুর কাজের প্রতি তাদের কোনো সম্ভ্রম নেই, তাঁর হাতের কাজকে তারা সম্মান করে না।
ISA 5:13 সেই কারণে, আমার প্রজাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য, তারা নির্বাসনে যাবে; তাদের পদস্থ ব্যক্তিরা খিদেতে মারা যাবে, এবং তাদের আপামর জনসাধারণ পিপাসায় মারা যাবে।
ISA 5:14 তাই, পাতাল তার উদর প্রশস্ত করেছে, সীমাহীন গ্রাসের জন্য তার মুখ খুলে দিয়েছে; তার মধ্যে যত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও জনসাধারণ নেমে যাবে, তাদের সঙ্গে যত কলহকারী ও উচ্ছৃঙ্খল মানুষ থাকবে।
ISA 5:15 তাই, মানুষকে নত করা হবে, মানবজাতি অবনত হবে, উদ্ধত লোকের দৃষ্টি নতনম্র হবে।
ISA 5:16 কিন্তু সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চে উন্নত হবেন, এবং পবিত্র ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতার দ্বারা নিজেকে ধার্মিক দেখাবেন।
ISA 5:17 তখন মেষেরা যেন নিজেদের চারণভূমিতে চরে বেড়াবে; ধনীদের ধ্বংসাবশেষে মেষশাবকেরা তাদের খাদ্য ভোজন করবে।
ISA 5:18 ধিক্ তাদের যারা প্রতারণার দড়ি দিয়ে পাপ টেনে আনে, দুষ্টতাকে টেনে আনে তাদের শকটের দড়ি দিয়ে।
ISA 5:19 যারা বলে, “ঈশ্বর ত্বরা করুন, তিনি দ্রুত তাঁর কাজ করে দেখান যেন আমরা তা দেখতে পাই। ইস্রায়েলের পবিত্রতমের পরিকল্পনা কাছে আসুক, তা দৃশ্যমান হোক, যেন আমরা তা জানতে পারি।”
ISA 5:20 ধিক্ তাদের যারা মন্দকে ভালো ও ভালোকে মন্দ বলে, যারা অন্ধকারকে আলো ও আলোকে অন্ধকার বলে তুলে ধরে, যারা মিষ্টিকে তেতো ও তেতোকে মিষ্টি বলে।
ISA 5:21 ধিক্ তাদের, যারা নিজেদের দৃষ্টিতেই জ্ঞানবান, যারা নিজেদের দৃষ্টিতে নিজেদের চতুর মনে করে।
ISA 5:22 ধিক্ তাদের যারা সুরা পান করায় দক্ষ ও সুরা মিশ্রিত করায় নিপুণ,
ISA 5:23 যারা ঘুষের বিনিময়ে অপরাধীকে মুক্ত করে, কিন্তু নির্দোষের ন্যায়বিচার অন্যথা করে।
ISA 5:24 তাই, অগ্নিজিহ্বা যেমন খড়কুটো গ্রাস করে এবং শুকনো ঘাস আগুনের শিখায় দগ্ধ হয়, তেমনই তাদের মূল পচে যাবে এবং তাদের সব ফুল ধুলোর মতোই উড়ে যাবে; কারণ তারা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর বিধানকে অগ্রাহ্য করেছে এবং ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের বাণীকে অবজ্ঞা করেছে।
ISA 5:25 তাই সদাপ্রভুর ক্রোধ তাঁর প্রজাদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছে; তিনি হাত তুলে তাদের আঘাত করেছেন। পর্বতগুলি কম্পিত হয়, মৃতদেহগুলি যেন আবর্জনার মতো রাস্তায় পড়ে থাকে। তবুও, এ সকলের জন্য, তাঁর ক্রোধ ফেরেনি, তাঁর হাত এখনও উপরে উঠে আছে।
ISA 5:26 দূরের জাতিদের উদ্দেশে তিনি একটি পতাকা তুলেছেন, পৃথিবীর প্রান্তসীমার লোকেদের তিনি শিস্ দিয়ে ডেকেছেন। ওই তারা আসছে, দ্রুত ও মহাবেগে!
ISA 5:27 তাদের মধ্যে কেউই ক্লান্ত হয় না বা হোঁচট খায় না, কেউই ঢুলে পড়ে না বা ঘুমিয়ে যায় না; তাদের কোমরের কারও বেল্ট খসে পড়ে না, জুতো-চটির একটি ফিতেও ছিঁড়ে যায় না।
ISA 5:28 তাদের তিরগুলি ধারালো, তাদের সব ধনুকে চাড়া দেওয়া আছে; তাদের অশ্বগুলির খুর চকমকি পাথরের মতো, তাদের রথগুলির চাকা যেন ঘূর্ণিবায়ুর মতো ঘোরে।
ISA 5:29 তাদের গর্জন সিংহনাদের মতো, তাদের চিৎকার যুবসিংহের মতো; শিকার ধরা মাত্র তারা গর্জন করে, ও ধরে নিয়ে যায়, কেউ তাদের উদ্ধার করতে পারে না।
ISA 5:30 সেদিন তারা তার উপরে গর্জন করবে, যেমন সমুদ্রের জলরাশি গর্জন করে। আর কেউ যদি দেশের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, সে কেবলই অন্ধকার ও দুর্দশা দেখবে; এমনকি আলোও মেঘমালায় ঢাকা পড়ে অন্ধকার হয়ে যাবে।
ISA 6:1 যে বছরে রাজা উষিয় মারা যান, আমি প্রভুকে এক উচ্চ ও উন্নত সিংহাসনে বসে থাকতে দেখলাম। তাঁর রাজপোশাকের প্রান্তভাগে মন্দির পরিপূর্ণ ছিল।
ISA 6:2 তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলেন ছয় ডানাবিশিষ্ট সরাফেরা। দুটি ডানা দিয়ে তারা মুখ ঢেকেছিলেন, দুটি ডানা দিয়ে তারা তাদের পা ঢেকেছিলেন এবং দুটি ডানা দিয়ে তারা উড়ছিলেন।
ISA 6:3 আর তারা পরস্পরকে ডেকে বলছিলেন, “পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, সমস্ত পৃথিবী তাঁর মহিমায় পরিপূর্ণ।”
ISA 6:4 তাদের কণ্ঠস্বরের শব্দে দরজার চৌকাঠগুলি কেঁপে উঠল এবং মন্দির ধোঁয়ায় পূর্ণ হল।
ISA 6:5 আমি চিৎকার করে উঠলাম, “ধিক্ আমাকে! আমি শেষ হয়ে গেলাম! আমি অশুচি ওষ্ঠাধরবিশিষ্ট মানুষ। আর আমার দুই চোখ মহারাজকে, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুকে দেখেছে।”
ISA 6:6 তখন সরাফদের মধ্যে একজন, তাঁর হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আমার কাছে উড়ে এলেন। সেই অঙ্গার তিনি বেদির মধ্য থেকে চিমটা দিয়ে নিয়েছিলেন।
ISA 6:7 তা দিয়ে তিনি আমার মুখ স্পর্শ করলেন এবং বললেন, “দেখো, এটি তোমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করেছে; তোমার অপরাধ অপসারিত এবং তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা হয়েছে।”
ISA 6:8 তখন আমি প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। তিনি বলছিলেন, “আমি কাকে পাঠাব? কে আমাদের জন্য যাবে?” আমি বললাম, “এই যে আমি। আমাকে পাঠান!”
ISA 6:9 তিনি বললেন, “তুমি যাও ও গিয়ে এই লোকদের বলো: “ ‘তোমরা সবসময় শুনতে থাকো, কিন্তু কখনও বোঝো না; সবসময় দেখতে থাকো, কিন্তু কখনও উপলব্ধি করো না।’
ISA 6:10 তুমি এই জাতির লোকদের হৃদয় অসাড় করে দাও; তাদের কানগুলি উপড়ে ফেলো ও চোখগুলি বন্ধ করে দাও। নতুবা তারা তাদের চোখে দেখতে পাবে, তারা কানে শুনতে পাবে, তারা তাদের হৃদয়ে বুঝতে পারবে এবং আরোগ্যলাভের জন্য আমার কাছে ফিরে আসবে।”
ISA 6:11 তখন আমি বললাম, “ও প্রভু, তা কত দিন ধরে হবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “যতদিন না নগরগুলি ধ্বংস হয়, তাদের মধ্যে জনপ্রাণী না থাকে, যতদিন না ঘরবাড়িগুলি জনশূন্য হয় ও মাঠগুলি ধ্বংস হয়ে ছারখার না হয়,
ISA 6:12 যতক্ষণ না সদাপ্রভু সবাইকে দূরে প্রেরণ করেন এবং এই ভূমির কথা সকলে ভুলে যায়।
ISA 6:13 আর যদিও দেশের এক-দশমাংশ লোক অবশিষ্ট থাকে, তা পুনরায় জনশূন্য পড়ে থাকবে। কিন্তু তার্পিন ও ওক গাছ কেটে ফেললেও যেমন তাদের গুঁড়ি থেকেই যায়, তেমনই এই দেশে সেই গুঁড়ির মতো এক পবিত্র বংশ থেকেই যাবে।”
ISA 7:1 যখন উষিয়ের পুত্র যোথম, তার পুত্র আহস যিহূদার রাজা ছিলেন, তখন অরামের রাজা রৎসীন ও রমলিয়ের পুত্র ইস্রায়েলের রাজা পেকহ জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমরাভিযান করলেন, কিন্তু তারা তা জয় করতে পারলেন না।
ISA 7:2 এসময় দাউদের কুলকে বলা হল, “অরাম ইফ্রয়িমের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করেছে” তাই আহস ও তাঁর প্রজাদের হৃদয় কেঁপে উঠল, যেভাবে বাতাসে বনের গাছপালা কেঁপে ওঠে।
ISA 7:3 তখন সদাপ্রভু যিশাইয়কে বললেন, “তুমি ও তোমার পুত্র শার-যাশূব বাইরে যাও ও রজকদের মাঠ অভিমুখী রাস্তায়, উচ্চতর পুষ্করিণীর জলপ্রণালীর মুখে, আহসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করো।
ISA 7:4 তাকে বলো, ‘আপনি সাবধান হোন, শান্ত থাকুন এবং ভয় পাবেন না। এই দুই ধোঁয়া ওঠা কাঠের অবশিষ্ট অংশ, অর্থাৎ রৎসীন ও অরামের এবং রমলিয়ের পুত্রের ভয়ংকর ক্রোধের জন্য আপনি সাহস হারাবেন না।
ISA 7:5 অরাম, ইফ্রয়িম ও রমলিয়ের পুত্র আপনাকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। তারা বলেছে,
ISA 7:6 “এসো আমরা যিহূদাকে আক্রমণ করি; এসো আমরা এই দেশকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করি ও টাবিলের পুত্রকে এর উপরে রাজা করি।”
ISA 7:7 তবুও, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘এরকম অবস্থা হবে না, এই ঘটনা ঘটবেও না,
ISA 7:8 কারণ অরামের মস্তক হল দামাস্কাস, আর দামাস্কাসের মস্তক হল কেবলমাত্র রৎসীন। পঁয়ষট্টি বছরের মধ্যে ইফ্রয়িম এমন ধ্বংস হবে যে, আর জাতি থাকবে না।
ISA 7:9 ইফ্রয়িমের মস্তক হল শমরিয়া, আর শমরিয়ার মস্তক হল কেবলমাত্র রমলিয়ের পুত্র। তোমরা যদি বিশ্বাসে অবিচল না থাকো, তোমরা আদৌ দাঁড়াতে পারবে না।’ ”
ISA 7:10 সদাপ্রভু আবার আহসের সঙ্গে কথা বললেন,
ISA 7:11 “তুমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে একটি চিহ্ন দেখতে চাও, হয় অধোলোকের নিম্নতম স্থানে অথবা ঊর্ধ্বলোকের ঊর্ধ্বতম স্থানে।”
ISA 7:12 কিন্তু আহস বললেন, “আমি কোনো চিহ্ন দেখতে চাইব না; আমি সদাপ্রভুর কোনো পরীক্ষা নেব না।”
ISA 7:13 তখন যিশাইয় বললেন, “দাউদের কুলের লোকেরা, এখন তোমরা শোনো! মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়াই কি যথেষ্ট নয়? তোমরা কি আমার ঈশ্বরেরও ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে?
ISA 7:14 সেই কারণে প্রভু স্বয়ং তোমাদের এক চিহ্ন দেবেন: এক কুমারী-কন্যা গর্ভবতী হবে ও এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবে এবং তাঁর নাম ইম্মানুয়েল রাখবে।
ISA 7:15 মন্দকে অগ্রাহ্য করার ও ভালোকে বেছে নেওয়ার পর্যাপ্ত জ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত, সেই বালকটি দুধ ও দই খাবে,
ISA 7:16 কিন্তু সে মন্দকে অগ্রাহ্য করার ও ভালোকে বেছে নেওয়ার জ্ঞান হওয়ার পূর্বেই, যাদের আপনি ভয় করেন, ওই দুই রাজার দেশ জনশূন্য হয়ে পড়ে থাকবে।
ISA 7:17 ইফ্রয়িম যিহূদা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় অবধি, যা কখনও হয়নি, সদাপ্রভু তোমার প্রতি, তোমার প্রজাদের প্রতি ও তোমার পিতৃকুলের প্রতি সেরকম সময় উপস্থিত করবেন—তিনি আসিরিয়ার রাজাকে নিয়ে আসবেন।”
ISA 7:18 সেদিন, সদাপ্রভু মিশরে নীল অববাহিকা থেকে মাছি ও আসিরীয়দের দেশ থেকে মৌমাছিদের শিস্ দিয়ে ডাকবেন।
ISA 7:19 তারা এসে সমস্ত খাড়া উপত্যকার মধ্যে, পাহাড়ের ফাটলের মধ্যে, সমস্ত কাঁটাঝোপ ও মাঠে মাঠে বসবে।
ISA 7:20 সেদিন, প্রভু তোমার মাথার চুল ও পায়ের লোম কামানোর জন্য এবং তোমার দাড়িও কামিয়ে দেওয়ার জন্য ইউফ্রেটিস নদীর ওপার থেকে একটি ক্ষুর, অর্থাৎ আসিরীয় রাজাকে ব্যবহার করবেন।
ISA 7:21 সেদিন, এমন হবে যে, কোনো মানুষ যদি একটি বকনা-বাছুর ও দুটি মেষ পোষে,
ISA 7:22 তাহলে তারা এত বেশি দুধ দেবে যে, তারা সেই দুধের আধিক্যে দই খাবে। দেশে অবশিষ্ট যারাই থাকবে, তারা দই ও মধু খাবে।
ISA 7:23 সেদিন, যেখানে যেখানে এক হাজার রৌপ্যমুদ্রা মূল্যের এক হাজারটি দ্রাক্ষালতা ছিল, সেখানে হবে কেবলমাত্র কাঁটাগাছ ও শেয়ালকাঁটার জঙ্গল।
ISA 7:24 লোকেরা সেখানে তিরধনুক নিয়ে যাবে, কারণ সমস্ত দেশ শেয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপের জঙ্গলে ভরে থাকবে।
ISA 7:25 যে সমস্ত পাহাড়ি এলাকা কোদাল দিয়ে চাষ করা হবে, তোমার সেখানকার শেয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপের ভয়ে সেখানে যাবে না; সেগুলি হবে গৃহপালিত পশুর চারণভূমি ও মেষাদির ছুটে বেড়ানোর স্থান।
ISA 8:1 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তুমি একটি বড়ো আকারের ফলক নাও এবং তার উপরে সাধারণ কলম দিয়ে লেখো: মহের-শালল-হাশ-বস।”
ISA 8:2 আর আমার নির্ভরযোগ্য সাক্ষী হওয়ার জন্য আমি যাজক ঊরিয় ও যিবেরিখিয়ের পুত্র সখরিয়কে ডেকে নেব।
ISA 8:3 তারপর আমি আমার ভাববাদিনী, অর্থাৎ আমার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলাম। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন। সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “ওর নাম রাখো মহের-শালল-হাশ-বস।
ISA 8:4 কারণ ছেলেটি ‘আমার বাবা’ বা ‘আমার মা’ বলতে শেখার আগেই দামাস্কাসের ধনসম্পদ ও শমরিয়ার লুট আসিরীয় রাজা বহন করে নিয়ে যাবে।”
ISA 8:5 সদাপ্রভু আবার আমাকে বললেন:
ISA 8:6 “যেহেতু এই লোকেরা অগ্রাহ্য করেছে শীলোহের ধীরগামী স্রোত রৎসীন ও রমলিয়ের পুত্রে আনন্দ করেছে,
ISA 8:7 সেই কারণে প্রভু তাদের বিরুদ্ধে নিয়ে আসতে চলেছেন ইউফ্রেটিস নদীর প্রবল প্লাবনকারী জলরাশি—সমস্ত সমারোহের সঙ্গে আসিরীয় রাজাকে। তা তার সমস্ত খালগুলিতে প্রবাহিত হবে, এবং তাদের দুই কুল ছাপিয়ে যাবে।
ISA 8:8 তা যিহূদা প্রদেশে প্রবাহিত হবে, ঘূর্ণিপাক খাবে, তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তার জল লোকদের ঘাড় পর্যন্ত উঠবে। হে ইম্মানুয়েল! তার প্রসারিত দুই ডানা তোমার দেশের বিস্তার পর্যন্ত আবৃত করবে।”
ISA 8:9 জাতিসমূহ তোমরা রণহুঙ্কার করো ও ভগ্ন হও! দূরবর্তী দেশগুলি, তোমরাও শোনো। তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ও ভগ্ন হও! তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ও ভগ্ন হও!
ISA 8:10 তোমরা কৌশল পরিকল্পনা করবে, কিন্তু তা নিষ্ফল হবে; তোমরা পরিকল্পনার প্রস্তাব দাও, তা কিন্তু দাঁড়াবে না, কারণ ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।
ISA 8:11 সদাপ্রভু তাঁর শক্তিশালী হাত আমার উপরে রেখে এই কথা বললেন। তিনি সতর্ক করে দিলেন, যেন আমি এই জাতির জীবনাচরণ অবলম্বন না করি। তিনি বললেন:
ISA 8:12 “এই সমস্ত লোকে যাকে চক্রান্ত বলে, তার সবগুলিকেই তুমি চক্রান্ত বোলো না; তারা যাকে ভয় করে, তুমি তাতে ভয় পেয়ো না এবং তার জন্য আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না।
ISA 8:13 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুকেই তুমি পবিত্র বলে মান্য করবে, কেবলমাত্র তাঁকেই তুমি ভয় করবে, কেবলমাত্র তাঁরই কারণে তুমি আতঙ্কগ্রস্ত হবে।
ISA 8:14 আর তিনিই হবেন তোমার ধর্মধাম; কিন্তু ইস্রায়েলের ও যিহূদার উভয় কুলের পক্ষে তিনি হবেন এক পাথর, যাতে মানুষ হোঁচট খাবে এবং এক শিলা, যার কারণে তাদের পতন হবে। আর জেরুশালেমের লোকদের জন্য তিনি এক ফাঁদ ও এক জালস্বরূপ হবেন।
ISA 8:15 তাদের মধ্যে অনেকেই হোঁচট খাবে; তারা পতিত হয়ে ভগ্ন হবে, তারা ফাঁদে ধৃত হয়ে বন্দি হবে।”
ISA 8:16 এই সতর্কীকরণের সাক্ষ্য বদ্ধ করো এবং ঈশ্বরের বিধান মোহরাঙ্কিত করো আমার শিষ্যদের কাছে।
ISA 8:17 আমি সদাপ্রভুর জন্য অপেক্ষা করব, যিনি যাকোবের কুলের কাছ থেকে তাঁর মুখ লুকিয়েছেন। আমি তাঁরই উপরে আমার আস্থা রাখব।
ISA 8:18 এই আমি ও আমার সন্তানেরা, সদাপ্রভু যাদের আমাকে দিয়েছেন। সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, যিনি সিয়োন পর্বতে বাস করেন, তাঁর পক্ষ থেকে আমরা ইস্রায়েলের কাছে চিহ্ন ও প্রতীকস্বরূপ।
ISA 8:19 যখন লোকেরা তোমাদের প্রেতমাধ্যম ও ভুতুড়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিড়বিড় ও ফিসফিস করতে বলে, তখন কোনো জাতি কি তাদের ঈশ্বরের কাছে অনুসন্ধান করবে না? জীবিতদের পক্ষে কেন মৃতদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে?
ISA 8:20 তোমরা ঈশ্বরের বিধান ও সতর্কীকরণের সাক্ষ্য অন্বেষণ করো! যদি তারা এই বাক্য অনুযায়ী কথা না বলে, তাহলে তারা ভোরের আলো দেখবে না।
ISA 8:21 বিপর্যস্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে তারা দেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে। চরম খিদেতে কষ্ট পেয়ে তারা ভীষণ ক্রুদ্ধ হবে এবং ঊর্ধ্বদৃষ্টি করে তারা তাদের রাজা ও তাদের ঈশ্বরকে অভিশাপ দেবে।
ISA 8:22 তারপর তারা পৃথিবীর দিকে তাকাবে ও কেবলমাত্র বিপর্যয়, অন্ধকার ও ভয়ংকর যন্ত্রণা দেখতে পাবে; তারা ঘোর অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হবে।
ISA 9:1 তবুও, যারা বিপর্যস্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে বিষাদ আর থাকবে না। অতীতকালে তিনি সবূলূনের ভূমি ও নপ্তালির ভূমিকে অবনত করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি সমুদ্রের নিকটবর্তী সেই পথ থেকে, জর্ডন নদীর তীরে স্থিত পরজাতিদের গালীলকে সম্মানিত করবেন।
ISA 9:2 যে জাতি অন্ধকারে বসবাস করত, তারা এক মহাজ্যোতি দেখতে পেয়েছে; যারা মৃত্যুচ্ছায়ার দেশে বসবাস করত, তাদের উপরে এক জ্যোতির উদয় হয়েছে।
ISA 9:3 তুমি সেই জাতির বৃদ্ধি করেছ এবং তাদের আনন্দ বর্ধিত হয়েছে; তারা তোমার সামনে আনন্দিত হয় যেমন লোকে শস্যচয়নের সময়ে করে, যেমন যোদ্ধারা আনন্দ করে, যখন তারা লুন্ঠিত বস্তু বিভাগ করে।
ISA 9:4 যেমন তোমরা মিদিয়নকে পরাস্ত করার সময়ে করেছিলে, তাদের দাসত্বের জোয়াল তোমরা ভেঙে ফেলবে, তাদের কাঁধ থেকে ভারী বোঝা তুলে ফেলবে, তোমরা নিপীড়নকারীদের লাঠি ভেঙে ফেলবে।
ISA 9:5 যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রত্যেক যোদ্ধার জুতো ও রক্তে ভেজা প্রত্যেকটি পোশাক অবশ্য দগ্ধ করা হবে, সেগুলি আগুনের জ্বালানিস্বরূপ হবে।
ISA 9:6 কারণ আমাদের জন্য এক শিশুর জন্ম হয়েছে, আমাদের কাছে এক পুত্রসন্তান দেওয়া হয়েছে, শাসনভার তাঁরই কাঁধে দেওয়া হবে। আর তাঁকে বলা হবে আশ্চর্য পরামর্শদাতা, পরাক্রমী ঈশ্বর, চিরন্তন পিতা, শান্তিরাজ।
ISA 9:7 তাঁর শাসনক্ষমতা বৃদ্ধির ও শান্তির কোনো সীমা থাকবে না। তিনি দাউদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে তাঁর রাজ্যের উপরে কর্তৃত্ব করবেন, ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতার সঙ্গে তিনি তা প্রতিষ্ঠিত করে সুস্থির করবেন, সেই সময় থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত করবেন। সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্যোগই তা সম্পাদন করবে।
ISA 9:8 প্রভু যাকোবের বিরুদ্ধে একটি বার্তা প্রেরণ করেছেন; তা ইস্রায়েলের উপরে পতিত হবে।
ISA 9:9 ইফ্রয়িম ও শমরিয়ায় বসবাসকারী সব লোকই তা জানতে পারবে, যারা গর্বিত মনে ও উদ্ধত হৃদয়ের সঙ্গে একথা বলে,
ISA 9:10 “ইটগুলি তো পতিত হয়েছে, কিন্তু আমরা তক্ষিত পাথরে তা আবার গাঁথব; ডুমুর গাছগুলি কেটে ফেলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলির জায়গায় আমরা সিডার গাছ লাগাব।”
ISA 9:11 কিন্তু সদাপ্রভু রৎসীনের বিরুদ্ধে, তার শত্রুদের শক্তিশালী করেছেন, আর তার বিরুদ্ধে তাদের উদ্দীপিত করেছেন।
ISA 9:12 পূর্বদিক থেকে অরামীয়রা ও পশ্চিমদিক থেকে ফিলিস্তিনীরা মুখ হা করে ইস্রায়েলকে গ্রাস করেছে। তবুও, এ সকলের জন্য তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হয়নি, তাঁর হাত এখনও উপরে উঠে আছে।
ISA 9:13 কিন্তু, যিনি তাদের আঘাত করেছেন, তাঁর কাছে তারা ফিরে আসেনি, তারা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর অন্বেষণও করেনি।
ISA 9:14 তাই সদাপ্রভু ইস্রায়েল থেকে মাথা ও লেজ, দুটিই কেটে ফেলবেন, খেজুরডাল ও নলখাগড়া মাত্র একদিনে কেটে দেবেন;
ISA 9:15 প্রাচীনেরা ও প্রমুখ লোকেরা হলেন মস্তক, আর যে ভাববাদীরা মিথ্যা কথা শিক্ষা দেয়, তারা হল লেজ।
ISA 9:16 যারা লোকদের পথ প্রদর্শন করে, তারাই তাদের বিপথে চালিত করে, আর যারা চালিত হয়, তারা বিপথগামী হয়ে পড়ে।
ISA 9:17 সেই কারণে প্রভু যুবকদের জন্য আর আনন্দ করবেন না, পিতৃহীন ও বিধবাদের প্রতি তিনি মমতা প্রদর্শন করবেন না, কারণ তারা সবাই ভক্তিহীন ও দুষ্ট, তারা প্রত্যেকেই অশালীন কথা বলে। তবুও, এ সকলের জন্য তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হয়নি, তাঁর হাত এখনও উপরে উঠে আছে।
ISA 9:18 সত্যিই দুষ্টতা আগুনের মতো প্রজ্বলিত হয়; তা শিয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপকে পুড়িয়ে ফেলে, তা বনের ঘন জঙ্গলকে দাউদাউ করে প্রজ্বলিত করে, ফলে উপরের দিকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠে যায়।
ISA 9:19 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর ক্রোধে সমস্ত দেশ আগুনে ঝলসে যাবে, আর লোকেরা হবে সেই আগুনের জ্বালানিস্বরূপ; কেউ তার ভাইকেও অব্যাহতি দেবে না।
ISA 9:20 ডানদিকে তারা গ্রাস করবে, তবুও তারা ক্ষুধার্ত থেকে যাবে; বাঁদিকে তারা খেতে থাকবে, তবুও তারা তৃপ্ত হবে না। প্রত্যেকে তার নিজের সন্তানের মাংস খাবে:
ISA 9:21 মনঃশি ইফ্রয়িমের মাংস খাবে এবং ইফ্রয়িম খাবে মনঃশিকে; তারা উভয়ে একত্রে যিহূদার বিরুদ্ধে উঠবে। তবুও, এ সকলের জন্য তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হয়নি, তাঁর হাত এখনও উপরে উঠে আছে।
ISA 10:1 ধিক্ তাদের, যারা অন্যায় সব বিধান তৈরি করে, যারা অত্যাচার করার জন্য রায় ঘোষণা করে,
ISA 10:2 যেন নিজস্ব অধিকার থেকে দরিদ্রদের বঞ্চিত করে এবং আমার জাতির অত্যাচারিত লোকদের থেকে ন্যায়বিচার হরণ করে, যারা বিধবাদের তাদের শিকার বানায় এবং পিতৃহীনদের সর্বস্ব লুট করে।
ISA 10:3 হিসেব নেওয়ার দিনে তোমরা কী করবে, যখন দূর থেকে তোমাদের উপরে বিপর্যয় নেমে আসবে? সাহায্যের জন্য কার কাছে তোমরা দৌড়ে যাবে? তোমাদের ধনসম্পদ সব কোথায় রাখবে?
ISA 10:4 বন্দিদের মধ্যে ভয়ে কুঁকড়ে থাকা অথবা নিহতদের পতিত হওয়া ছাড়া আর কিছু থাকবে না। তবুও, এ সকলের জন্য তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হয়নি, তাঁর হাত এখনও উপরে উঠে আছে।
ISA 10:5 “আসিরিয়াকে ধিক্, সে আমার ক্রোধের লাঠি, যার হাতে আছে আমার রোষের মুগুর!
ISA 10:6 আমি তাকে এক ভক্তিহীন জাতির বিরুদ্ধে পাঠাব, আমি তাকে এক জাতির বিরুদ্ধে প্রেরণ করব, যারা আমাকে ক্রুদ্ধ করেছে, যেন সে লুট করে ও লুণ্ঠনের দ্রব্য কেড়ে নেয়, আর পথের কর্দমের মতো তাদের পদদলিত করে।
ISA 10:7 কিন্তু এরকম তিনি করতে চান না, এরকম কিছু তাঁর মনে আসেনি; তাঁর অভিপ্রায় হল ধ্বংস করা, অনেক জাতির পরিসমাপ্তি ঘটানো।
ISA 10:8 তিনি বলেন, ‘আমার সেনাপতিরা কি সবাই রাজা নয়?
ISA 10:9 আমার হাতে কল্‌নো কি কর্কমীশের মতো, হমাৎ কি অর্পদের মতো এবং শমরিয়া কি দামাস্কাসের মতো মন্দ বরাত হয়নি?
ISA 10:10 আমার হাত যেমন প্রতিমায় পূর্ণ রাজ্যগুলিকে অবরুদ্ধ করেছে, সেইসব রাজ্য, যাদের মূর্তিগুলি জেরুশালেম ও শমরিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে,
ISA 10:11 আমি কি জেরুশালেম ও তার মূর্তিগুলির তেমনই অবস্থা করব না, যেমন আমি করেছি শমরিয়া ও তার প্রতিমাদের?’ ”
ISA 10:12 প্রভু যখন সিয়োন পর্বত ও জেরুশালেমের বিরুদ্ধে তাঁর সব কর্ম সমাপ্ত করবেন, তিনি বলবেন, “অহংকারে পূর্ণ হৃদয় ও উদ্ধত দৃষ্টির জন্য আমি আসিরীয় রাজাকে শাস্তি দেব।
ISA 10:13 কারণ সে বলে: “ ‘আমার হাতের শক্তিতে ও আমার প্রজ্ঞার দ্বারা আমি এই কাজ করেছি, কারণ আমার বুদ্ধি আছে। আমি জাতিসমূহের সীমানাগুলি অপসারিত করেছি, আমি তাদের ধনসম্পদ লুট করেছি; এক পরাক্রমী ব্যক্তির মতো তাদের রাজাদের আমি পদানত করেছি।
ISA 10:14 যেমন কেউ পাখির বাসায় হাত দেয়, তেমনই জাতিসমূহের ঐশ্বর্যে আমার হাত পৌঁছেছে; লোকে যেমন পরিত্যক্ত ডিম সংগ্রহ করে, তেমনই আমি সব দেশকে একত্র করেছি; কেউ তার একটিও ডানা ঝাপটায়নি, বা মুখে চিঁ চিঁ শব্দ করেনি।’ ”
ISA 10:15 কুড়াল কি কাষ্ঠচ্ছেদকের উপরে আস্ফালন করতে পারে? অথবা করাত কি কাঠমিস্ত্রীর বিরুদ্ধে নিজেকে বড়ো মনে করতে পারে? কেউ না চালালে লাঠি কি কাউকে যন্ত্রণা দিতে পারে? কোনো কাঠের মুগুর কি নিজে নিজেই চালিত হয়?
ISA 10:16 সেই কারণে, প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, তাঁর বলবান যোদ্ধাদের মধ্যে একটি ক্ষয়ে যাওয়া রোগ পাঠিয়ে দেবেন; তার সমারোহের মধ্যে একটি আগুন, একটি প্রজ্বলিত আগুনের শিখা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
ISA 10:17 ইস্রায়েলের জ্যোতি আগুনের মতো হবেন, তাদের সেই পবিত্রতম জন এক আগুনের শিখা হবেন; একদিনের মধ্যে তার শিয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপ দগ্ধ হয়ে গ্রাসিত হবে।
ISA 10:18 তার অরণ্যগুলির শোভা ও উর্বরা মাঠগুলি তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে, যেভাবে কোনো অসুস্থ মানুষ ক্ষয় পায়।
ISA 10:19 আর অরণ্যের অবশিষ্ট গাছগুলি সংখ্যায় এত অল্প হবে যে একজন শিশু তাদের গণনা করে লিখে ফেলবে।
ISA 10:20 সেদিন, ইস্রায়েলের অবশিষ্ট লোকেরা, যাকোবের কুলে যারা বেঁচে থাকবে তারা, তারা আর তার উপরে নির্ভর করবে না যে তাদের আঘাত করে পতিত করেছিল, কিন্তু তারা প্রকৃতই সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করবে, যিনি ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন।
ISA 10:21 এক অবশিষ্ট অংশ ফিরে আসবে; যাকোব কুলের এক অবশিষ্ট অংশ, পরাক্রমী ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসবে।
ISA 10:22 যদিও তোমার লোকেরা ও ইস্রায়েল সমুদ্রতীরের বালির মতো হয়, তবুও, এক অবশিষ্টাংশই ফিরে আসবে। ধ্বংসের রায় ঘোষিত হয়েছে, তা হবে প্রবল এবং ন্যায়বিচার অনুযায়ী।
ISA 10:23 প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, সমস্ত দেশের উপরে ঘোষিত ধ্বংসের রায় কার্যকর করবেন।
ISA 10:24 সেই কারণে, প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সিয়োনে বসবাসকারী, ও আমার প্রজারা, তোমরা আসিরীয়দের থেকে ভীত হোয়ো না, যারা মিশরের মতোই তোমাদের লাঠি দিয়ে প্রহার করেছিল ও তোমাদের বিরুদ্ধে মুগুর তুলেছিল।
ISA 10:25 খুব শীঘ্রই তোমাদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধের পরিসমাপ্তি হবে, আর আমার রোষ তাদের ধ্বংসের প্রতি চালিত হবে।”
ISA 10:26 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের এক চাবুক দিয়ে প্রহার করবেন, যেভাবে তিনি ওরেব-শৈলে মিদিয়নকে যন্ত্রণা দিয়েছিলেন; তিনি তাঁর লাঠি জলরাশির উপরে তুলবেন, যেমন তিনি মিশরে করেছিলেন।
ISA 10:27 সেদিন, তোমাদের কাঁধে দেওয়া তাদের বোঝা ও তোমাদের ঘাড় থেকে তাদের জোয়াল তুলে নেওয়া হবে; সেই জোয়াল ভেঙে ফেলা হবে, কারণ তোমরা ভীষণ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছ।
ISA 10:28 তারা অয়াতে প্রবেশ করেছে; তারা মিগ্রোণের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে; তারা মিক্‌মসে তাদের দ্রব্যসামগ্রী সঞ্চয় করেছে।
ISA 10:29 তারা গিরিপথ অতিক্রম করে ও বলে, “আমরা রাত্রির মধ্যে গেবাতে শিবির স্থাপন করব।” রামা ভয়ে কম্পিত হয়; শৌলের গিবিয়া পলায়ন করে।
ISA 10:30 গল্লীমের কন্যারা, তোমরা ক্রন্দন করো! ও লয়িশার লোকেরা, তোমরা শ্রবণ করো! হায়! দুঃখী অনাথোৎ!
ISA 10:31 মদ্‌মেনার লোকেরা পালিয়ে যাচ্ছে; গেবীমের লোকেরা নিজেদের লুকাচ্ছে।
ISA 10:32 আজকের দিনে তারা নোবে গিয়ে স্থগিত হবে; সে সিয়োন-কন্যার পর্বতের দিকে, জেরুশালেমের পাহাড়ের দিকে তার মুষ্টি আন্দোলিত করছে।
ISA 10:33 দেখো, প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, মহাপরাক্রমে বৃক্ষশাখাগুলি কেটে ফেলবেন। উঁচু সব গাছ পতিত হবে, লম্বা গাছগুলিকে মাটিতে ফেলা হবে।
ISA 10:34 বনের ঘন জঙ্গলকে তিনি কুড়াল দিয়ে কেটে ফেলবেন সেই পরাক্রমী জনের সামনে লেবানন পতিত হবে।
ISA 11:1 যিশয় কুলের মূলকাণ্ড থেকে একটি শাখা নির্গত হবে; তার মূল থেকে উৎপন্ন এক শাখায় ফল ধরবে।
ISA 11:2 সদাপ্রভুর আত্মা তাঁর উপরে অবস্থিতি করবেন, তা হল প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির আত্মা, পরামর্শদানের ও পরাক্রমের আত্মা, জ্ঞানের আত্মা ও সদাপ্রভুর ভয়ের আত্মা
ISA 11:3 আর তিনি সদাপ্রভুর ভয়ে আনন্দিত হবেন। তিনি চোখের দৃষ্টি অনুযায়ী বিচার করবেন না, কিংবা কানে যা শোনেন, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন না;
ISA 11:4 কিন্তু ধার্মিকতায় তিনি নিঃস্ব ব্যক্তির বিচার করবেন, ন্যায়ের সঙ্গে তিনি পৃথিবীর দরিদ্রদের বিচার নিষ্পত্তি করবেন। তিনি তাঁর মুখের লাঠি দিয়ে পৃথিবীকে আঘাত করবেন; তাঁর ওষ্ঠাধরের শ্বাসে তিনি দুষ্টদের সংহার করবেন।
ISA 11:5 ধার্মিকতা হবে তাঁর কোমরবন্ধনী এবং বিশ্বস্ততা হবে তাঁর কোমরে জড়ানো পটুকা।
ISA 11:6 নেকড়েবাঘ মেষশাবকের সঙ্গে একত্র থাকবে, চিতাবাঘ ছাগশাবকের সঙ্গে শুয়ে থাকবে, বাছুর, সিংহ ও নধর পশু একত্র থাকবে; একটি ছোটো শিশু তাদের চালিয়ে বেড়াবে।
ISA 11:7 গরু ভালুকের কাছে একসঙ্গে চরে বেড়াবে, তাদের বাছুরেরা একসঙ্গে শুয়ে থাকবে, আর সিংহ বলদের মতোই বিচালি খাবে।
ISA 11:8 স্তন্যপায়ী শিশু কেউটে সাপের গর্তের কাছে খেলা করবে, ছোটো শিশু বিষধর সাপের গর্তে হাত দেবে।
ISA 11:9 সেই সাপেরা আমার পবিত্র পর্বতের কোথাও কোনো ক্ষতি বা বিনাশ করবে না, কারণ সমুদ্র যেমন জলরাশিতে আচ্ছন্ন, পৃথিবী তেমনই সদাপ্রভুর জ্ঞানে পরিপূর্ণ হবে।
ISA 11:10 সেদিন যিশয়ের মূল, জাতিসমূহের পতাকারূপে দাঁড়াবেন; সব জাতি তাঁর প্রতি ধাবিত হবে এবং তাঁর বিশ্রামের স্থান প্রতাপান্বিত হবে।
ISA 11:11 সেদিন প্রভু দ্বিতীয়বার সেই অবশিষ্টাংশকে পুনরুদ্ধার করবেন, অর্থাৎ আসিরিয়া, মিশরের নিম্নাঞ্চল ও উচ্চতর অঞ্চল, ও কূশ থেকে, এলম, ব্যাবিলনিয়া, হমাৎ ও সমুদ্রের দ্বীপগুলি থেকে অবশিষ্ট লোকদের উদ্ধার করবেন।
ISA 11:12 তিনি জাতিসমূহের উদ্দেশে একটি পতাকা তুলে ধরবেন এবং ইস্রায়েলের নির্বাসিতদের একত্র করবেন; তিনি পৃথিবীর চার কোণে ছড়িয়ে পড়া যিহূদার লোকদের সমবেত করবেন।
ISA 11:13 ইফ্রয়িমের ঈর্ষা বিলীন হবে, আর যিহূদার শত্রুরা উৎখাত হবে; ইফ্রয়িম যিহূদার প্রতি ঈর্ষা করবে না, যিহূদাও ইফ্রয়িমের প্রতি হিংস্র হবে না।
ISA 11:14 তারা পশ্চিম প্রান্তে ফিলিস্তিয়ার ঢালে ছোঁ মারবে; একত্র তারা পূর্বদিকের লোকেদের দ্রব্য লুণ্ঠন করবে। তারা ইদোম ও মোয়াবের উপরে হস্তক্ষেপ করবে, আর অম্মোনীয়েরা তাদের বশ্যতাধীন হবে।
ISA 11:15 সদাপ্রভু মিশরীয় সমুদ্রের খাড়িকে শুকিয়ে ফেলবেন; উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত করে তিনি ইউফ্রেটিস নদীর উপরে হাত চালাবেন। তিনি সাতটি শাখায় তা বিভক্ত করবেন, যেন লোকেরা চটি পায়েই তা পার হতে পারে।
ISA 11:16 আসিরিয়া থেকে যারা অবশিষ্ট থাকবে, তাঁর প্রজাদের বাকি লোকদের জন্য একটি রাজপথ তৈরি হবে, যেমন মিশর থেকে বের হয়ে আসার সময়ে ইস্রায়েলীদের জন্য তৈরি হয়েছিল।
ISA 12:1 সেদিন তুমি বলবে: “হে সদাপ্রভু, আমি তোমার প্রশংসা করব। তুমি যদিও আমার উপরে ক্রুদ্ধ ছিলে, তোমার ক্রোধ কিন্তু ফিরে গেছে, আর তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছ।
ISA 12:2 নিশ্চয়ই ঈশ্বর আমার পরিত্রাণ; আমি আস্থা রাখব ও ভয় পাব না। সদাপ্রভু, সদাপ্রভুই আমার শক্তি ও আমার গান; তিনি আমার পরিত্রাণ হয়েছেন।”
ISA 12:3 তোমরা পরিত্রাণের কুয়োগুলি থেকে আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে।
ISA 12:4 সেদিন তোমরা বলবে: “সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ দাও, তাঁর নামে ডাকো; তাঁর কৃত সমস্ত কর্ম জাতিসমূহকে জানাও, তাঁর নাম উচ্চ বলে ঘোষণা করো।
ISA 12:5 সদাপ্রভুর উদ্দেশে গীত গাও, কারণ তিনি মহিমাময় অনেক কাজ করেছেন; সমস্ত জগৎকে একথা জানাও।
ISA 12:6 সিয়োনের লোকেরা, তোমরা চিৎকার করো ও আনন্দে গান গাও, কারণ ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন তোমাদের মধ্যে মহান।”
ISA 13:1 ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, যা আমোষের পুত্র যিশাইয় এক দর্শনের মাধ্যমে জানতে পান:
ISA 13:2 তোমরা বৃক্ষশূন্য এক গিরিচূড়ায় পতাকা তোলো, তাদের প্রতি চিৎকার করে বলো; অভিজাত ব্যক্তিদের তোরণদ্বারগুলি দিয়ে প্রবেশের জন্য তাদের ইশারা করো।
ISA 13:3 আমি আমার পবিত্রজনেদের আদেশ দিয়েছি; আমার ক্রোধ চরিতার্থ করার উদ্দেশে আমি আমার যোদ্ধাদের ডেকে পাঠিয়েছি, তারা আমার বিজয়ে উল্লাস করবে।
ISA 13:4 শোনো, পর্বতগুলির উপরে এক কলরব শোনা যাচ্ছে, তা যেন এক মহা জনসমারোহের রব! শোনো, রাজ্যগুলির মধ্যে এক হট্টগোলের শব্দ, তা যেন বিভিন্ন জাতির একত্র হওয়ার কোলাহল! সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু যুদ্ধের জন্য এক সৈন্যবাহিনী রচনা করছেন।
ISA 13:5 তারা বহু দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আসছে, আকাশমণ্ডলের প্রান্তসীমা থেকে সদাপ্রভু ও তাঁর ক্রোধের সব অস্ত্র সমস্ত দেশকে ধ্বংস করার জন্য আসছে।
ISA 13:6 তোমরা বিলাপ করো, কারণ সদাপ্রভুর দিন এসে পড়েছে; সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে ধ্বংসের জন্যই তা আসবে।
ISA 13:7 এই কারণে সবার হাত ঝুলে পড়বে, প্রত্যেকের হৃদয় গলে যাবে।
ISA 13:8 আতঙ্ক তাদের গ্রাস করবে, ব্যথা ও মনস্তাপ তাদের কবলিত করবে; প্রসববেদনাগ্রস্ত নারীর মতো তারা যন্ত্রণায় ছটফট করবে। অসহায়ের মতো তারা পরস্পরের দিকে তাকাবে, ভয়ে তাদের মুখ আগুনের শিখার মতো হবে।
ISA 13:9 দেখো, সদাপ্রভুর দিন আসছে, এক নির্মম দিন, তা হবে ক্রোধ ও প্রচণ্ড রোষ সমন্বিত, যেন দেশ নির্জন পরিত্যক্ত হয় এবং এর মধ্যেকার পাপীদের ধ্বংস করে।
ISA 13:10 আকাশের তারকারাজি ও তাদের নক্ষত্রপুঞ্জ আর তাদের দীপ্তি দেবে না। উদীয়মান সূর্য হবে অন্ধকারময়, আর চাঁদ তার জ্যোৎস্না দেবে না।
ISA 13:11 আমি মন্দতার জন্য জগৎকে শাস্তি দেব, দুষ্টদের তাদের পাপের জন্য দেব। আমি উদ্ধতদের দর্পের অন্ত ঘটাব এবং অহংকারীদের নিষ্ঠুরতাকে নতনম্র করব।
ISA 13:12 আমি মানুষকে বিশুদ্ধ সোনার চেয়ে, ওফীরের সোনার চেয়েও দুর্লভ করব।
ISA 13:13 সেই কারণে, আমি আকাশমণ্ডলকে কম্পান্বিত করব; পৃথিবী তার স্থান থেকে সরে যাবে, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর ক্রোধের জন্যই এরকম হবে, যেদিন তাঁর ক্রোধ প্রজ্বলিত হবে।
ISA 13:14 শিকারের জন্য তাড়িত গজলা হরিণের মতো, পালকহীন কোনো মেষের মতো, প্রত্যেকেই তার আপনজনের কাছে ফিরে যাবে, সকলেই তাদের স্বদেশে পালিয়ে যাবে।
ISA 13:15 যে বন্দি হয়, তাকে অস্ত্রবিদ্ধ করা হবে; যারা ধৃত হবে, তারা তরোয়াল দ্বারা পতিত হবে।
ISA 13:16 তাদের চোখের সামনে তাদের শিশুদের আছড়ে মারা হবে; তাদের গৃহগুলি লুন্ঠিত হবে ও তাদের স্ত্রীরা হবে ধর্ষিত।
ISA 13:17 দেখো, আমি তাদের বিরুদ্ধে মাদীয়দের উত্তেজিত করব, যারা রুপোর পরোয়া করে না, সোনায় যাদের কোনো আনন্দ নেই।
ISA 13:18 তাদের ধনুর্ধরেরা যুবকদের সংহার করবে; শিশুদের প্রতি তাদের কোনো করুণা থাকবে না, ছেলেমেয়েদের প্রতি তারা কোনো সহানুভূতি দেখাবে না।
ISA 13:19 রাজ্যগুলির মণিরত্নস্বরূপ ব্যাবিলন, ব্যাবিলনীয়দের অহংকারের সেই গৌরব, ঈশ্বর তা উৎখাত করবেন, যেমন সদোম ও ঘমোরার প্রতি করেছিলেন।
ISA 13:20 তার মধ্যে আর কোনো জনবসতি হবে না, বা বংশপরম্পরায় কেউ বসবাস করবে না; কোনো যাযাবর সেখানে তাঁবু খাটাবে না, কোনো মেষপালকের পশুপালও সেখানে বিশ্রাম করবে না।
ISA 13:21 কিন্তু মরুপ্রাণীরা সেখানে শুয়ে থাকবে, শিয়ালেরা তাদের গৃহগুলি পূর্ণ করবে; সেখানে থাকবে যত প্যাঁচা, বন্য ছাগলেরা সেখানে লাফিয়ে বেড়াবে।
ISA 13:22 তার দৃঢ় দুর্গগুলিতে হায়েনারা চিৎকার করবে, শিয়ালেরা ডাকবে তার বিলাসবহুল প্রাসাদগুলি থেকে। তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, তার দিনগুলি আর বাড়ানো হবে না।
ISA 14:1 সদাপ্রভু যাকোব কুলের প্রতি সহানুভূতি দেখাবেন; আর একবার তিনি ইস্রায়েলকে বেছে নেবেন এবং তাদের স্বদেশে তাদের অধিষ্ঠিত করবেন। বিদেশিরা তাদের সঙ্গে যোগ দেবে এবং যাকোব কুলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
ISA 14:2 অন্যান্য জাতি তাদের নিয়ে তাদের স্বদেশে পৌঁছে দেবে। আর ইস্রায়েল কুল সদাপ্রভুর দেশে জাতিসমূহকে তাদের দাস-দাসীরূপে অধিকার করবে। তারা তাদের বন্দিকারীদের বন্দি করবে এবং তাদের পীড়নকারীদের উপরে শাসন করবে।
ISA 14:3 যেদিন সদাপ্রভু তোমাদের কষ্টভোগ, উদ্বেগ ও নির্মম দাসত্ব থেকে মুক্তি দেবেন,
ISA 14:4 তোমরা ব্যাবিলনের রাজার বিরুদ্ধে এই ধিক্কারবাণী উচ্চারণ করবে: পীড়নকারীর শেষ সময় কেমন ঘনিয়ে এসেছে! কীভাবে তার ভয়ংকরতা সমাপ্ত হয়েছে!
ISA 14:5 সদাপ্রভু দুষ্টদের লাঠি ও শাসকদের রাজদণ্ড ভেঙে ফেলেছেন,
ISA 14:6 যা একদিন অনবরত আঘাত দ্বারা লোকেদের নিধন করত; এবং ক্রোধে নিরন্তর আগ্রাসনের দ্বারা তারা জাতিসমূহকে বশ্যতাধীন করত।
ISA 14:7 সমস্ত দেশ বিশ্রাম ও শান্তি ভোগ করছে; তারা গান গেয়ে আনন্দ করছে।
ISA 14:8 এমনকি, লেবাননের দেবদারু ও সিডার গাছগুলিও এই আনন্দ সংগীত গেয়ে বলে, “এখন যেহেতু তোমাকে নত করা হয়েছে, আর কোনো কাঠুরে আমাদের কাটতে আসে না।”
ISA 14:9 নিম্নস্থ পাতাল তোমার আগমনে, তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অস্থির হয়েছে; তোমাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ তার মৃতজনেদের আত্মাকে তুলে পাঠায় তারা প্রত্যেকেই ছিল এই জগতের এক একজন নেতা। যারা জাতিসমূহের উপরে রাজা ছিল, এ তাদের সিংহাসন থেকে তুলে দাঁড় করায়।
ISA 14:10 তারা সকলেই প্রত্যুত্তর করবে, তারা সবাই তোমাকে বলবে, “তুমিও আমাদেরই মতো দুর্বল হয়েছ; তুমি আমাদের সদৃশ হয়েছ।”
ISA 14:11 তোমার বীণাগুলির কোলাহল সমেত তোমার সমস্ত সমারোহ কবরে নামানো হয়েছে; শূককীট তোমার নিচে ছড়ানো হয়েছে, আর কীটেরা তোমাকে আবৃত করে।
ISA 14:12 ওহে প্রভাতি তারা, ঊষাকালের সন্তান, তুমি কেমন স্বর্গ থেকে পতিত হয়েছ! তুমি একদিন বিভিন্ন জাতিকে নিপাতিত করেছ, সেই তোমাকেই পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে!
ISA 14:13 তুমি মনে মনে বলেছিলে, “আমি স্বর্গে আরোহণ করব; ঈশ্বরের নক্ষত্রপুঞ্জেরও ঊর্ধ্বে, আমি আমার সিংহাসন তুলে ধরব; আমি সমাগম পর্বতে, উত্তর দিকের দূরতম প্রান্তে, আমার সিংহাসনে উপবিষ্ট হব।
ISA 14:14 আমি মেঘমালার উপরে আরোহণ করব, আমি নিজেকে পরাৎপরের তুল্য করব।”
ISA 14:15 কিন্তু তোমাকে নামানো হয়েছে কবরের মধ্যে, পাতালের গভীরতম তলে।
ISA 14:16 যারা তোমার দিকে তাকায়, তারা কটাক্ষ করে, তারা তোমার অবস্থা দেখে চিন্তা করে: “এ কি সেই লোক, যে পৃথিবীকে কাঁপিয়ে তুলত, রাজ্যগুলি যার ভয়ে কাঁপত?
ISA 14:17 সেই লোক, যে জগৎকে মরুভূমি করে তুলেছিল, যে তার নগরগুলিকে উৎখাত করেছিল ও তার বন্দিদের স্বগৃহে ফিরে যেতে দেয়নি?”
ISA 14:18 জাতিসমূহের সমস্ত রাজা রাজকীয় মহিমায় নিজের নিজের কবরে শুয়ে আছেন।
ISA 14:19 কিন্তু তুমি প্রত্যাখ্যাত বৃক্ষশাখার মতো তোমার কবর থেকে বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়েছ। যারা তরোয়ালের দ্বারা বিদ্ধ হয়েছিল, তুমি সেই নিহতদের শবে ঢাকা পড়েছ, যাদের পাথরের স্তূপের মধ্যে গর্তে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে কোনো মৃতদেহকে পদদলিত করা হয়।
ISA 14:20 তাদের মতো তোমাকে কবর দেওয়া হবে না, কারণ তুমি তোমার দেশ ধ্বংস করেছ এবং তোমার প্রজাদের হত্যা করেছ। দুষ্টদের বংশধরদের কথা আর কখনও উল্লেখ করা হবে না।
ISA 14:21 তাদের পিতৃপুরুষদের পাপসমূহের জন্য, তার সন্তানদের হত্যা করার জন্য স্থান প্রস্তুত করো; দেশের অধিকার ভোগ করার জন্য তারা আর উঠবে না, নগর পত্তনের দ্বারা তারা আর পৃথিবী আচ্ছন্ন করবে না।
ISA 14:22 “আমি তাদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াব,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন। “আমি ব্যাবিলন থেকে তার ও তার বেঁচে থাকা লোকদের নাম, তার সন্তানসন্ততি ও বংশধরদের নাম মুছে ফেলব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 14:23 “আমি তাকে প্যাঁচাদের নিবাসস্থান করব, এবং তা হবে এক জলাভূমির মতো; আমি বিনাশরূপ ঝাড়ু দিয়ে তাকে ঝাঁট দেব,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ISA 14:24 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু শপথ করে বলেছেন: “আমি যেমন পরিকল্পনা করেছি, নিশ্চিতরূপে সেইরকমই হবে, আর আমার অভিপ্রায় যে রকম, তাই স্থির থাকবে।
ISA 14:25 আমি স্বদেশে আসিরীয়দের চূর্ণ করব; আমার পর্বতগুলির উপরে, আমি তাকে পদদলিত করব। আমার প্রজাদের উপর থেকে তার জোয়াল সরিয়ে ফেলা হবে, তাদের কাঁধ থেকে তার বোঝা অপসারিত হবে।”
ISA 14:26 সমস্ত জগতের জন্য এই পরিকল্পনা স্থির করা হয়েছে; এই হাত সব জাতির উপরে প্রসারিত হয়েছে।
ISA 14:27 কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু যে সংকল্প করেছেন, কে তা নাকচ করবে? তাঁর হাত প্রসারিত হয়েছে, কে তা ফিরাতে পারবে?
ISA 14:28 রাজা আহসের মৃত্যু বছরে এই ভবিষ্যদ্‌বাণী উপস্থিত হয়েছিল:
ISA 14:29 ফিলিস্তিনীরা, যে লাঠি দ্বারা তোমাদের আঘাত করেছিল, তা ভেঙেছে বলে তোমরা উল্লসিত হোয়ো না; কারণ সেই মূল-সাপ থেকে এক কালসাপ নির্গত হবে, জ্বলন্ত উড়ন্ত নাগই হবে তার গর্ভফল।
ISA 14:30 দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্রতম চারণভূমি পাবে, আর নিঃস্ব-অভাবী মানুষেরা নিরাপদে বিশ্রাম করবে। কিন্তু তোমার মূল আমি দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করব; তোমার বেঁচে থাকা লোকদের ধ্বংস করব।
ISA 14:31 ওহে তোরণদ্বার, বিলাপ করো! ওহে নগর, একটানা আর্তনাদ করো! ফিলিস্তিনী তোমরা সবাই গলে যাও! উত্তর দিক থেকে এক ধোঁয়ার মেঘ আসছে, তাদের সৈন্যশ্রেণীর একজনও স্থানচ্যূত হয় না।
ISA 14:32 সেই জাতির দূতদের কী উত্তর দেওয়া হবে? “সদাপ্রভু সিয়োনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁর ক্লিষ্ট প্রজারা তার মধ্যে আশ্রয়স্থান পাবে।”
ISA 15:1 মোয়াবের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, মোয়াবের আর্ নগরী বিনষ্ট হল, এক রাত্রির মধ্যে তা ধ্বংস হল! মোয়াবের কীর্ নগরীও বিনষ্ট হল, এক রাত্রির মধ্যে সেটিও ধ্বংস হল!
ISA 15:2 দীবোনের লোকেরা তার মন্দিরে গিয়েছে, কাঁদবার জন্য উঁচু স্থানগুলিতে গিয়েছে; মোয়াব নেবো ও মেদ্‌বার জন্য বিলাপ করছে। প্রত্যেকের মস্তক মুণ্ডিত হয়েছে ও প্রত্যেকের দাড়ি কামানো হয়েছে।
ISA 15:3 পথে পথে তারা শোকের বস্ত্র পরে; সব ছাদের উপরে ও প্রকাশ্য চকগুলিতে তারা সকলে বিলাপ করে, কাঁদতে কাঁদতে তারা দণ্ডবৎ হয়।
ISA 15:4 হিষ্‌বোন ও ইলিয়ালী ক্রন্দন করে, তাদের কণ্ঠস্বর যহস পর্যন্ত শোনা যায়। তাই সশস্ত্র মোয়াবের লোকেরা চিৎকার করে, তাদের হৃদয় মূর্ছিত হয়।
ISA 15:5 আমার হৃদয় মোয়াবের জন্য কেঁদে ওঠে; তার পলাতকেরা সোয়র পর্যন্ত, এমনকি, ইগ্লৎ-শলিশীয়া পর্যন্ত পলায়ন করে। তারা লূহীতের আরোহণ পথে উঠে যায়, যাওয়ার সময় তারা কাঁদতে থাকে; হোরোণয়িমে যাওয়ার পথে তারা নিজেদের ধ্বংসের বিষয়ে বিলাপ করে।
ISA 15:6 নিম্রীমের জলরাশি শুকিয়ে গেছে সেখানকার সব ঘাস শুকনো হয়েছে; শাকসবজি সব শেষ, সবুজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
ISA 15:7 তাই যে ঐশ্বর্য তারা আহরণ ও সঞ্চিত করেছে, তারা তা ঝাউবন-গিরিখাতের ওপারে নিয়ে যায়।
ISA 15:8 তাদের হাহাকার-ধ্বনি মোয়াবের সীমানায় প্রতিধ্বনিত হয়; তাদের বিলাপের স্বর সুদূর ইগ্লয়িম পর্যন্ত ও তাদের হা-হুতাশের শব্দ বের্-এলীম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
ISA 15:9 দীমোনের জলরাশি রক্তে পূর্ণ, কিন্তু আমি আরও বিপর্যয় দীমোনের উপরে নিয়ে আসব, মোয়াবের পলাতকদের উপরে এবং যারা দেশে অবশিষ্ট থাকে, তাদের উপরে একটি সিংহ নিয়ে আসব।
ISA 16:1 দেশের শাসনকর্তার কাছে উপহাররূপে কতগুলি মেষশাবক পাঠাও, মরুভূমির ওপারে, সেলা থেকে সিয়োন-কন্যার পর্বতে পাঠাও।
ISA 16:2 বাসা থেকে ফেলে দেওয়া পাখির পালিয়ে যাওয়া শব্দের মতো, অর্ণোন নদীর পারঘাটাগুলিতে মোয়াবের নারীদের অবস্থা তেমনই হবে।
ISA 16:3 “আমাদের পরামর্শ দাও, এক সিদ্ধান্তের কথা বিবেচনা করো। মধ্যাহ্নে তোমাদের ছায়াকে রাত্রির মতো অন্ধকারময় করো। পলাতকদের লুকিয়ে রাখো, শরণার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কোরো না।
ISA 16:4 মোয়াবের পলাতকেরা তোমাদের সঙ্গে বসবাস করুক; ধ্বংসকারীর হাত থেকে তোমরা তাদের আশ্রয়স্বরূপ হও।” অত্যাচারীদের সময় শেষ হয়ে আসবে, বিনাশের সময় নিবৃত্ত হবে; আক্রমণকারী দেশ থেকে উধাও হবে।
ISA 16:5 ভালোবাসায় এক সিংহাসন স্থাপিত হবে; বিশ্বস্ততায় একজন তার উপরে উপবিষ্ট হবেন— দাউদের কুল থেকে একজন তার উপরে বসবেন। তিনি ন্যায়পরায়ণতায় বিচার করবেন এবং দ্রুততার সঙ্গে ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করবেন।
ISA 16:6 আমরা মোয়াবের অহংকারের কথা শুনেছি, তার অতি ঔদ্ধত্য ও অহমিকার কথা, তার গর্ব ও তার দাম্ভিকতার বিষয় কিন্তু তার দর্প নিতান্তই শূন্যগর্ভ।
ISA 16:7 সেই কারণে, মোয়াবীয়েরা বিলাপ করে, তারা মোয়াবের জন্য একসঙ্গে বিলাপ করে। তারা কীর্-হেরসের কিশমিশের পিঠের জন্য বিলাপ ও ক্রন্দন করে।
ISA 16:8 হিষ্‌বোনের মাঠগুলি শুকিয়ে যায়, সিব্‌মার আঙুর গাছগুলিও শুকিয়ে যায়। জাতিসমূহের শাসকেরা উৎকৃষ্ট আঙুরগাছগুলিকে পদদলিত করেছে, যেগুলি একদিন যাসের পর্যন্ত ও মরুভূমির দিকে ছড়িয়ে যেত। তাদের শাখাগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল, আর সুদূর সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
ISA 16:9 তাই সিব্‌মার আঙুর গাছগুলির জন্য আমি কাঁদি, যেমন যাসেরও কাঁদে। হিষ্‌বোন ও ইলিয়ালী, আমি চোখের জলে তোমাদের ভেজাব! তোমাদের পাকা ফল ও তোমাদের শস্যচয়নের জন্য আনন্দের স্বর আমি স্তব্ধ করব।
ISA 16:10 ফলবাগিচাগুলি থেকে আনন্দ ও খুশি সরিয়ে নেওয়া হবে; আঙুরক্ষেতে কেউই গান বা হৈ-হল্লা করবে না। কুণ্ডগুলিতে কেউই দ্রাক্ষারস মাড়াই করবে না, কারণ আনন্দের চিৎকার আমি একেবারেই বন্ধ করেছি।
ISA 16:11 বীণার করুণ সুরের মতো আমার হৃদয় মোয়াবের জন্য বিলাপ করে, আমার অন্তর কীর্-হেরসের জন্য করে।
ISA 16:12 মোয়াব যখন তার উঁচু স্থানে দেখা দেয়, সে কেবলমাত্র নিজেকে ক্লান্ত করে তোলে; সে যখন তার অর্চনার স্থানে প্রার্থনা করতে যায়, তা কোনও কাজে আসে না।
ISA 16:13 সদাপ্রভু এই বাণী ইতিমধ্যে মোয়াবের সম্পর্কে বলেছেন।
ISA 16:14 কিন্তু এখন সদাপ্রভু বলেন: “চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ দাস যেমন দিন গোণে, তিন বছরের মধ্যে তেমনই মোয়াবের সমারোহ ও তার বহুসংখ্যক লোক তুচ্ছীকৃত হবে এবং তার অবশিষ্ট বেঁচে থাকা লোকেরা সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল হবে।”
ISA 17:1 দামাস্কাসের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী আমার কাছে উপস্থিত হল: “দেখো, দামাস্কাস আর কোনো নগররূপে থাকবে না, কিন্তু তা হবে একটি ধ্বংসস্তূপ।
ISA 17:2 অরোয়েরের নগরগুলি জনশূন্য হবে, তা পশুপালের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে, যারা সেখানে শুয়ে বিশ্রাম করবে, কেউ তাদের কোনো ভয় দেখাবে না।
ISA 17:3 ইফ্রয়িম থেকে দুর্গ-নগরীগুলি অদৃশ্য হবে, দামাস্কাস থেকে উধাও হবে রাজকীয় পরাক্রম; অরাম দেশের অবশিষ্ট লোকেরা হবে ইস্রায়েলের অন্তর্হিত গৌরবের মতো,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 17:4 “সেদিন যাকোব কুলের মহিমা ম্লান হয়ে যাবে; তার শরীরের মেদ ঝরে যাবে।
ISA 17:5 তা হবে লোকেদের মাঠ থেকে পাকা শস্য সংগ্রহের মতো, যখন তারা হাত বাড়িয়ে শিষ কাটে—তা হবে রফায়ীমের উপত্যকায় পতিত শিষ কুড়িয়ে নেওয়ার মতো।
ISA 17:6 তবুও কুড়িয়ে নেওয়ার মতো কিছু শস্য অবশিষ্ট থাকবে, যেমন কোনো জলপাই গাছকে ঝেড়ে ফেলা হয় এবং উপরের ডালগুলিতে দুটি কি তিনটি জলপাই থেকেই যায়, ফলন্ত শাখায় যেমন চারটি কি পাঁচটি ফল থেকে যায়,” সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন।
ISA 17:7 সেদিন লোকেরা তাদের স্রষ্টার দিকে তাকাবে, তারা তাদের দৃষ্টি ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের প্রতি ফিরাবে।
ISA 17:8 তারা আর বেদিগুলির দিকে তাকাবে না, যেগুলি তাদেরই হাতের তৈরি করা, আর তাদের হাতে তৈরি আশেরার খুঁটিগুলি ও ধূপবেদিগুলির প্রতি তাদের কোনো সমীহ থাকবে না।
ISA 17:9 সেদিন, দৃঢ় নগরগুলি, যেগুলি ইস্রায়েলীদের ভয়ে তারা পরিত্যাগ করেছিল, সেগুলি ঘন জঙ্গল ও লতাগুল্মের জন্য পরিত্যক্ত হবে। সমস্ত দেশটিই জনশূন্য হবে।
ISA 17:10 তোমরা তোমাদের পরিত্রাতা ঈশ্বরকে ভুলে গিয়েছ; তোমরা তোমাদের শৈল, তোমাদের দুর্গকে মনে রাখোনি। তাই, যদিও তোমরা উৎকৃষ্ট সব বৃক্ষচারা রোপণ করো, বিদেশ থেকে আনা দ্রাক্ষালতা লাগাও,
ISA 17:11 যদিও যেদিন তোমরা সেগুলি লাগাও, সেদিনই সেগুলিকে বাড়িয়ে তোলো, সকালবেলা যখন তোমরা তাদের লাগাও, তোমরা সেগুলি পুষ্পিত করো, তবুও রোগ ও অনিরাময়যোগ্য ব্যথাবেদনার দিনে, তোমরা কিছুই শস্যচয়ন করতে পারবে না।
ISA 17:12 আহা, অনেক জাতি কেমন গর্জন করছে, সমুদ্রগর্জনের মতোই তাদের গর্জনের শব্দ! আহ্, জাতিগুলির ভীষণ কোলাহল, মহাজলরাশির মতোই তারা গর্জন করছে!
ISA 17:13 যদিও লোকেরা সফেন জলরাশির মতো গর্জন করে, যখন তিনি তাদের তিরস্কার করেন, তারা বহুদূরে পালিয়ে যায়, তারা পাহাড়ের উপরে তুষের মতো বাতাসে উড়ে যায়, ঝড়ের মুখে ঘূর্ণায়মান ধুলির মতো হয়।
ISA 17:14 সন্ধ্যাবেলা আকস্মিক সন্ত্রাসের মতো হবে! সকালবেলা সেগুলি অন্তর্হিত হবে! এই হবে তাদের অধিকার যারা আমাদের লুট করে, যারা আমাদের লুণ্ঠন করে, এই হবে তাদের পাওনা।
ISA 18:1 হায়! ইথিয়োপিয়ার নদীগুলির ওপারে, ঝিঁঝি শব্দকারী ডানার দেশ।
ISA 18:2 যে দেশ সমুদ্রপথে নলখাগড়ায় তৈরি নৌকাতে তার দূতদের প্রেরণ করে। দ্রুত বার্তাবহনকারীরা, তোমরা যাও, এক জাতির কাছে, যারা দীর্ঘকায় ও মসৃণ চামড়াবিশিষ্ট, যে জাতিকে দূরে বা নিকটে সকলেই ভয় করে, তারা এক আক্রামক জাতি, যারা অদ্ভুত ভাষা বলে, যাদের দেশ বহু নদনদীর দ্বারা বিভক্ত।
ISA 18:3 তোমরা, জগতের সমস্ত জাতি, তোমরা, যারা পৃথিবীতে বসবাস করো, যখন পর্বতসমূহের উপরে পতাকা তোলা হয়, তোমরা তা দেখতে পাবে। আর যখন তূরী বাজানো হয়, তোমরা তা শুনতে পাবে।
ISA 18:4 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বলেন: “আমি নীরবে আমার নিবাসস্থান থেকে লক্ষ্য করব, যেমন গ্রীষ্মের দিনে উত্তাপ নিশ্চুপ বাড়তে থাকে, বা যেমন শস্যচয়নের সময়ে ভোরবেলা শিশির পতন হয়।”
ISA 18:5 কারণ শস্যচয়নের পূর্বে, যখন কুঁড়ি ঝরে যায়, ফুলগুলি যখন পাকা আঙুরে পরিণত হয়, তিনি কাস্তে দিয়ে তার ডালপালা ছেঁটে দেবেন, তার প্রসারিত ডালপালা কেটে অপসারিত করবেন।
ISA 18:6 তাদের শিকারি পাখি ও বন্য জন্তুদের কাছে, সবাইকে পর্বতের উপরে ফেলে রাখা হবে; পাখিরা সমস্ত গ্রীষ্মকাল ধরে ও বন্যজন্তুরা সমস্ত শীতকাল তাদের ভোজন করবে।
ISA 18:7 সেই সময়, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর কাছে উপহার নিয়ে আসা হবে এক জাতির কাছ থেকে, যারা দীর্ঘকায় ও মসৃণ চামড়াবিশিষ্ট, যে জাতিকে দূরে বা নিকটে সকলেই ভয় করে, তারা এক আক্রামক জাতি, যারা অদ্ভুত ভাষা বলে, যাদের দেশ বহু নদনদীর দ্বারা বিভক্ত, সেই উপহারগুলি সিয়োন পর্বতে আনীত হবে, যে স্থান সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর নামে আখ্যাত।
ISA 19:1 মিশরের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, দেখো, সদাপ্রভু এক দ্রুতগামী মেঘে আরোহণ করে মিশরে আসছেন। মিশরের প্রতিমাগুলি তাঁর সামনে কম্পিত হবে, আর মিশরীয়দের হৃদয় তাদের অন্তরেই দ্রবীভূত হবে।
ISA 19:2 “আমি মিশরীয়দের বিরুদ্ধে মিশরীয়দের উত্তেজিত করব, ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে, প্রতিবেশী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে, নগর নগরের বিরুদ্ধে, রাজ্য রাজ্যের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করবে।
ISA 19:3 মিশরীয়েরা সাহস হারিয়ে ফেলবে, আর আমি তাদের পরিকল্পনাগুলি নিষ্ফল করে দেব; তারা প্রতিমাদের ও মৃত লোকেদের আত্মার সঙ্গে, প্রেতমাধ্যম ও গুনিনদের সঙ্গে পরামর্শ করবে।
ISA 19:4 আমি এক নিষ্ঠুর মনিবের হাতে মিশরীয়দের সমর্পণ করব, এক উগ্র রাজা তাদের উপরে শাসন করবে,” প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ISA 19:5 নদীর সমস্ত জলরাশি শুকিয়ে যাবে, নদীতট চরা পড়ে শুকনো হয়ে যাবে।
ISA 19:6 খালগুলি থেকে দুর্গন্ধ বের হবে; মিশরের স্রোতোধারাগুলি ক্ষয় পেতে পেতে শুকিয়ে যাবে। নলবন ও খাগড়াও শুকনো হবে,
ISA 19:7 শুকনো হবে নীলনদের তীরে, নদীমুখের ধারে স্থিত সব গাছপালা। নীলনদের তীরে সমস্ত বীজ লাগানো মাঠ শুকনো হয়ে যাবে, সেগুলি বাতাসে উড়ে যাবে, আর থাকবে না।
ISA 19:8 জেলেরা আর্তনাদ ও বিলাপ করবে, যারা নীলনদে বড়শি ফেলে, যারা জলের মধ্যে তাদের জাল ফেলে, তারা সব দুঃখে শীর্ণ হবে।
ISA 19:9 যারা পরিষ্কার করা শণ দিয়ে কাজ করে, তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, যারা সূক্ষ্ম মসিনার কাপড় বোনে, তারা নিরাশ হবে।
ISA 19:10 তাঁতিরা নিরুৎসাহ হবে, বেতনজীবীরা তাদের প্রাণে দুঃখ পাবে।
ISA 19:11 সোয়নের রাজকর্মচারীরা মূর্খ ছাড়া কিছু নয়; ফরৌণের বিজ্ঞ পরামর্শদাতারা অর্থহীন পরামর্শ দেয়। তোমরা কেমন করে ফরৌণকে বলতে পারো, “আমি বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম, প্রাচীন রাজগণের এক শিষ্য?”
ISA 19:12 তোমার বিজ্ঞ ব্যক্তিরা এখন কোথায়? তারা তোমাকে দেখাক ও জ্ঞাত করুক সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু মিশরের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করেছেন।
ISA 19:13 সোয়নের কর্মচারীরা মূর্খ হয়েছে, মেম্ফিসের নেতারা প্রতারিত হয়েছে; তাদের জাতির কোণের পাথরগুলি মিশরকে বিপথে চালিত করেছে।
ISA 19:14 সদাপ্রভু তাদের উপরে এক হতবুদ্ধিকর আত্মা ঢেলে দিয়েছেন; মত্ত ব্যক্তি যেমন তার বমির উপরে গড়াগড়ি দেয়, তারাও মিশরকে তার সব কাজে টলোমলো করেছে।
ISA 19:15 মিশর আর কিছুই করতে পারে না, তাদের মাথা বা লেজ, খেজুরডাল বা নলখাগড়া, কেউই না।
ISA 19:16 সেদিন মিশরীয়েরা স্ত্রীলোকের মতো হবে। সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের বিরুদ্ধে যে হাত তুলবেন, তা দেখে তারা ভয়ে শিউরে উঠবে।
ISA 19:17 যিহূদার দেশ মিশরীয়দের উপরে আতঙ্ক নিয়ে আসবে; যার কাছেই যিহূদার কথা উল্লেখ করা হবে, সে আতঙ্কগ্রস্ত হবে, কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করেছেন।
ISA 19:18 সেদিন, মিশরের পাঁচটি নগর কনান দেশের ভাষা বলবে ও সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর প্রতি আনুগত্যের শপথ নেবে। সেগুলির মধ্যে একটির নাম হবে, ধ্বংসের নগর।
ISA 19:19 সেদিন, মিশর দেশের কেন্দ্রস্থলে সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি বেদি নির্মিত হবে এবং তার সীমানায় সদাপ্রভুর এক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হবে।
ISA 19:20 মিশর দেশে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্দেশে এটি হবে একটি নিদর্শন ও সাক্ষ্যস্বরূপ। তাদের নিপীড়নকারীদের জন্য যখন তারা সদাপ্রভুর কাছে কাঁদবে, তিনি তখন তাদের কাছে একজন পরিত্রাতা ও রক্ষককে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি তাদের উদ্ধার করবেন।
ISA 19:21 এভাবে সদাপ্রভু মিশরীয়দের কাছে নিজের পরিচয় দেবেন, আর সেদিন তারা সদাপ্রভুকে স্বীকার করবে। তারা বিভিন্ন বলি ও ভক্ষ্য-নৈবেদ্য নিয়ে তাঁর উপাসনা করবে; তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে শপথ করে তা পালন করবে।
ISA 19:22 সদাপ্রভু এক মহামারির দ্বারা মিশরকে আঘাত করবেন; তিনি তাদের আঘাত করবেন ও আরোগ্যতা দেবেন। তারা সদাপ্রভুর প্রতি ফিরে আসবে, আর তিনি তাদের আবেদন শুনে তাদের রোগনিরাময় করবেন।
ISA 19:23 সেদিন মিশর থেকে আসিরিয়া পর্যন্ত এক রাজপথ নির্মিত হবে। আসিরীয়েরা মিশরে যাবে ও মিশরীয়েরা আসিরিয়া যাবে। মিশরীয়েরা ও আসিরীয়েরা একসঙ্গে উপাসনা করবে।
ISA 19:24 সেদিন মিশর ও আসিরিয়ার সঙ্গে তৃতীয় দেশরূপে ইস্রায়েল পৃথিবীর আশীর্বাদস্বরূপ হবে।
ISA 19:25 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের একথা বলে আশীর্বাদ করবেন, “আমার প্রজা মিশর, আমার হাতে গড়া আসিরিয়া ও আমার অধিকারস্বরূপ ইস্রায়েল আশীর্বাদধন্য হোক।”
ISA 20:1 যে বছর আসিরীয় রাজা সর্গোনের পাঠানো প্রধান সেনাপতি অস্‌দোদে এসে, তা আক্রমণ করে অধিকার করেন,
ISA 20:2 সেই সময়ে সদাপ্রভু আমোষের পুত্র যিশাইয়ের মাধ্যমে কথা বললেন। তিনি তাঁকে বললেন, “তোমার শরীর থেকে ওই শোকবস্ত্র ও পায়ের চটিজুতো খুলে নাও।” তিনি সেরকমই করলেন। তিনি নগ্ন হয়ে খালি পায়ে এদিক-ওদিক ঘুরতে লাগলেন।
ISA 20:3 তারপরে সদাপ্রভু বললেন, “আমার দাস যিশাইয় যেমন তিন বছর নগ্ন শরীরে খালি পায়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, তা হল এক চিহ্নস্বরূপ, আমি মিশর ও ইথিয়োপিয়ার উপরে যে ভয়ংকর কষ্টের সময় নিয়ে আসব, এ তারই নিদর্শন।
ISA 20:4 আসিরীয় রাজা এভাবেই মিশরীয় ও ইথিয়োপীয় বন্দিদের নগ্ন শরীরে ও খালি পায়ে নির্বাসনে নিয়ে যাবে। যুবা-বৃদ্ধ নির্বিশেষে, মিশরের লজ্জার জন্য, তাদের নিতম্বদেশ অনাবৃত থাকবে।
ISA 20:5 যারা ইথিয়োপিয়াকে বিশ্বাস করেছিল ও মিশরের জন্য গর্ব করেছিল, তারা ভীত ও লজ্জিত হবে।
ISA 20:6 সেদিন, যে লোকেরা এই উপকূল অঞ্চলে বসবাস করবে, তারা বলবে, ‘দেখো, আমরা যাদের উপরে নির্ভর করেছিলাম, তাদের কী অবস্থা হয়েছে। আসিরীয় রাজার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাহায্য ও উদ্ধারলাভের আশায়, আমরা তাদেরই কাছে পলায়ন করেছিলাম! তাহলে আমরাই বা কী করে নিষ্কৃতি পাব?’ ”
ISA 21:1 সমুদ্রের তীরবর্তী মরুপ্রান্তর সম্পর্কিত এক ভবিষ্যদ্‌বাণী: দক্ষিণাঞ্চল থেকে যেমন ঘূর্ণিবায়ু প্রবল বেগে বয়ে যায়, মরুপ্রান্তর থেকে, এক আতঙ্কস্বরূপ দেশ থেকে তেমনই এক আক্রমণকারী উঠে আসছে।
ISA 21:2 এক নিদারুণ দর্শন আমাকে দেখানো হয়েছে: বিশ্বাসঘাতক বিশ্বাসঘাতকতা করে, লুণ্ঠনকারী লুট গ্রহণ করে। এলম, আক্রমণ করো! মাদিয়া, তোমরা অবরোধ করো! তার দেওয়া যত শোকবিলাপের আমি নিবৃত্তি ঘটাব।
ISA 21:3 এতে আমার শরীর বেদনায় জর্জরিত হল, প্রসববেদনাগ্রস্ত নারীর মতো আমার শরীরে ব্যথা হল; আমি যা শুনি, তাতে হত-বিহ্বল হই, আমি যা শুনি, তাতে চমকিত হই।
ISA 21:4 আমার হৃদয় ধুকধুক করে, ভয়ে আমি কাঁপতে থাকি; যে গোধূলিবেলার আমি অপেক্ষা করি, তা আমার কাছে হয়েছে বিভীষিকার মতো।
ISA 21:5 তারা টেবিলে খাবার সাজায়, তারা বসার জন্য মাদুর বিছিয়ে দেয়, তারা প্রত্যেকেই ভোজনপান করতে থাকে! ওহে সেনাপতিরা, তোমরা ওঠো, ঢালগুলিতে তেল মাখাও!
ISA 21:6 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বলেন: “তুমি যাও ও গিয়ে একজন প্রহরী নিযুক্ত করো, সে যা দেখে, তার সংবাদ দিতে বলো।
ISA 21:7 যখন সে অনেক রথ দেখে যেগুলির সঙ্গে পাল পাল অশ্ব থাকে, গর্দভ বা উটের পিঠে আরোহীদের যখন সে দেখে, সে যেন সজাগ থাকে, সম্পূর্ণরূপে সজাগ থাকে।”
ISA 21:8 সেই সিংহরূপী প্রহরী চিৎকার করে বলল, “দিনের পর দিন, আমার প্রভু, আমি প্রহরীদুর্গে দাঁড়িয়ে থাকি; রোজ রাত্রে আমি আমার প্রহরাস্থানেই থাকি।
ISA 21:9 দেখুন, একজন মানুষ রথে চড়ে আসছে, তার সঙ্গে আছে অশ্বের পাল। আর সে প্রত্যুত্তরে বলছে, ‘ব্যাবিলনের পতন হয়েছে, পতন হয়েছে! তার সব দেবদেবীর মূর্তিগুলি মাটিতে যেখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে!’ ”
ISA 21:10 ও আমার প্রজারা, তোমাদের খামারে মাড়াই করে চূর্ণ করা হয়েছে, আমি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাই তোমাদের বলি।
ISA 21:11 দূমার বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, কেউ আমাকে সেয়ীর থেকে ডেকে বলছে, “প্রহরী, রাতের আর কত বাকি আছে? প্রহরী, রাতের আর কত বাকি আছে?”
ISA 21:12 প্রহরী উত্তর দিল, “সকাল হয়ে আসছে, কিন্তু রাতও আসছে। তুমি যদি জিজ্ঞাসা করতে চাও, তো জিজ্ঞাসা করো এবং আবার ফিরে এসো।”
ISA 21:13 আরবের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, দদানের মরুযাত্রী তোমরা, যারা আরবীয় ঘন জঙ্গল এলাকায় তাঁবু স্থাপন করো,
ISA 21:14 তোমরা তৃষ্ণার্ত মানুষদের জন্য জল নিয়ে এসো; আর তোমরা যারা টেমায় বসবাস করো, তোমরা পলাতকদের জন্য খাবার নিয়ে এসো।
ISA 21:15 তারা তরোয়াল থেকে পলায়ন করে, নিষ্কোষ তরোয়াল থেকে পলায়ন করে, তারা পলায়ন করে চাড়া দেওয়া ধনুক থেকে এবং রণভূমির উত্তাপ থেকে।
ISA 21:16 প্রভু আমাকে এই কথা বললেন: “যেভাবে কোনো দাস তার চুক্তির মেয়াদ গুনতে থাকে, তেমনই এক বছরের মধ্যে কেদরের সমস্ত সমারোহের অন্ত হবে।
ISA 21:17 ধনুর্ধারীদের অবশিষ্ট লোকেরা, কেদরের যোদ্ধারা সংখ্যায় অল্পই হবে।” একথা সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন।
ISA 22:1 দর্শন-উপত্যকার বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী: তোমাদের এখন সমস্যাটা কী যে তোমরা সবাই ছাদের উপরে উঠেছ?
ISA 22:2 ওহে বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ নগর, ওহে কোলাহল ও হৈ হট্টগোলে পূর্ণ নগরী? তোমার নিহতেরা তরোয়ালের দ্বারা মারা যায়নি, তারা কেউ যুদ্ধেও মরেনি।
ISA 22:3 তোমাদের সব নেতা একসঙ্গে পলায়ন করেছে; ধনুক ব্যবহার না করেই তাদের ধরা হয়েছে। তোমাদের মধ্যে যারা ধৃত হয়েছে, তারা একসঙ্গে বন্দি হয়েছে, যদিও শত্রু দূরে থাকতেই তারা পালিয়ে গিয়েছিল।
ISA 22:4 তাই আমি বললাম, “আমার কাছ থেকে ফিরে যাও, আমাকে তীব্র রোদন করতে দাও। আমার জাতির বিনাশের জন্য আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা কোরো না।”
ISA 22:5 প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর একটি দিন আছে, দর্শন-উপত্যকায় বিশৃঙ্খলার, পদদলিত করার ও বিভীষিকার, প্রাচীর ভেঙে ফেলার একটি দিন ও পর্বতগুলির কাছে কাঁদার।
ISA 22:6 এলম তার রথারোহীদের ও অশ্বের সঙ্গে তার তির রাখার তূণ তুলে নিয়েছে; কীরের লোকেরা ঢালগুলি অনাবৃত করেছে।
ISA 22:7 তোমাদের বাছাই করা উপত্যকাগুলি রথে পরিপূর্ণ, সমস্ত নগরদ্বারে অশ্বারোহীদের নিযুক্ত করা হয়েছে।
ISA 22:8 যিহূদার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে আর তুমি সেদিন অরণ্যের প্রাসাদে রাখা অস্ত্রশস্ত্রগুলির দিকে তাকিয়েছিলে;
ISA 22:9 তুমি দেখেছিলে যে, দাউদ-নগরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ফাটল ছিল, তুমি নিম্নতর পুষ্করিণীতে জল সঞ্চয় করেছিলে।
ISA 22:10 তুমি জেরুশালেমের ভবনগুলি গণনা করেছিলে ও অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ালগুলি শক্ত করেছিলে।
ISA 22:11 তুমি পুরাতন পুষ্করিণীর জলের জন্য দুই প্রাচীরের মধ্যে জলাধার তৈরি করেছিলে, কিন্তু যিনি এই ঘটনা ঘটতে দিয়েছেন, তোমরা তাঁর দিকে দৃষ্টি করলে না, বা যিনি বহুপূর্বে এর পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁকে ভক্তি প্রদর্শন করলে না।
ISA 22:12 প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, সেদিন তোমাকে আহ্বান করেছিলেন যেন তোমরা কাঁদো ও বিলাপ করো, যেন তোমরা মাথার চুল ছিঁড়ে শোকবস্ত্র পরে নাও।
ISA 22:13 কিন্তু দেখো, কেবলই আনন্দ ও হৈ হট্টগোল, গৃহপালিত পশুর নিধন ও মেষ হত্যা, মাংস ভোজন ও দ্রাক্ষারস পান! তোমরা বলেছ, “এসো, আমরা ভোজন ও পান করি, কারণ আগামীকাল আমরা মারা যাব!”
ISA 22:14 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমার কানে এই কথা প্রকাশ করলেন: “তোমাদের মৃত্যুদিন পর্যন্ত, এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা যাবে না,” একথা বলেন প্রভু, যিনি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু।
ISA 22:15 প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, এই কথা বলেন: “তুমি শিব্‌ন, যে প্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক, ওই পরিচারকের কাছে গিয়ে বলো:
ISA 22:16 তুমি এখানে কী করছ আর কে-ই বা তোমাকে অনুমতি দিয়েছে তোমার কবর এখানে কেটে রাখার, পাহাড়ের উপরে তোমার কবর খোদাই করার, শৈলের মধ্যে তোমার বিশ্রামস্থান বাটালি দিয়ে নির্মাণ করার?
ISA 22:17 “তুমি সাবধান হও, ওহে শক্তিশালী মানুষ, সদাপ্রভু তোমাকে শক্ত হাতে ধরে নিক্ষেপ করতে চলেছেন।
ISA 22:18 তিনি তোমাকে শক্ত করে গুটিয়ে বলের মতো করবেন এবং বৃহৎ এক দেশে তোমাকে ছুঁড়ে দেবেন। সেখানে তোমার মৃত্যু হবে আর তোমার অহংকারের রথগুলি সেখানেই থাকবে, যেগুলি তোমার মনিবের গৃহের কলঙ্কস্বরূপ হবে!
ISA 22:19 আমি তোমার কার্যালয় থেকে তোমাকে বরখাস্ত করব, তোমার পদ থেকে তুমি বহিষ্কৃত হবে।
ISA 22:20 “সেদিন, আমি আমার দাস, হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীমকে আহ্বান করব।
ISA 22:21 আমি তাকে তোমার পোশাক পরিয়ে দেব এবং তোমার কোমরবন্ধনী তার কোমরে জড়াব ও তোমার শাসনপদ তার হাতে দেব। যারা জেরুশালেমে থাকে ও যিহূদা কুলে বসবাস করে, আমি তাকে তাদের পিতৃস্বরূপ করব।
ISA 22:22 আমি দাউদ কুলের চাবি তার স্কন্ধে ন্যস্ত করব; সে যা খুলবে, কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না এবং সে যা বন্ধ করবে, কেউ তা খুলতে পারবে না।
ISA 22:23 আমি এক সুদৃঢ় স্থানে তাকে গোঁজের মতো স্থাপন করব; সে তার পিতৃকুলে এক সম্মানের আসনস্বরূপ হবে।
ISA 22:24 তার বংশের সব গরিমা তারই উপরে ঝুলবে: তার সন্তানসন্ততি ও বংশধরেরা, যেমন কোনো গোঁজের উপরে ছোটো-বড়ো নির্বিশেষে সব পাত্র ঝুলতে থাকে।”
ISA 22:25 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “সেদিন, সেই দৃঢ় স্থানে স্থাপিত গোঁজ আলগা হয়ে যাবে; তা উপড়ে নিচে পড়ে যাবে এবং তার মধ্যে ঝুলে থাকা সমস্ত ভার কেটে ফেলা হবে।” কারণ সদাপ্রভু স্বয়ং এই কথা বলেছেন।
ISA 23:1 সোরের বিরুদ্ধে এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, তর্শীশের জাহাজগুলি, তোমরা বিলাপ করো! কারণ সোর ধ্বংস হয়েছে, সেখানে আর ঘরবাড়ি নেই, বন্দরও নেই। সাইপ্রাসের দেশ থেকে তাদের কাছে এই সংবাদ এসে পৌঁছেছে।
ISA 23:2 ওহে দ্বীপনিবাসীরা, তোমরা এবং সীদোনের বণিকেরা, সমুদ্র পারাপারকারীরা যাদের সমৃদ্ধ করেছে, তোমরা নীরব হও।
ISA 23:3 কারণ মহাজলরাশির উপরে এসেছে শীহোর নদীর শস্য; নীলনদের ফসল ছিল সোরের রাজস্ব, সে হয়েছিল জাতিসমূহের বাজারসদৃশ।
ISA 23:4 ওহে সীদোন, তোমরা লজ্জিত হও, আর সমুদ্রের দুর্গ, তোমরাও হও, কারণ সমুদ্র কথা বলেছে: “আমি কখনও প্রসবযন্ত্রণা ভোগ করিনি, কাউকে জন্মও দিইনি; আমি পুত্রদের প্রতিপালন করিনি, কন্যাদেরও মানুষ করিনি।”
ISA 23:5 যখন মিশরের কাছে সংবাদ আসে, সোরের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংবাদে তাদের মনস্তাপ হবে।
ISA 23:6 তোমরা তর্শীশে পার হয়ে যাও; দ্বীপনিবাসী তোমরা বিলাপ করো।
ISA 23:7 এই কি তোমাদের কোলাহলপূর্ণ নগরী, পুরোনো, সেই প্রাচীন পুরী, যার পাগুলি তাকে দূরবর্তী দেশগুলিতে বসতি করার জন্য নিয়ে গেছে?
ISA 23:8 যে অন্যদের মাথায় মুকুট পরাত, সেই সোরের বিরুদ্ধে কে এমন পরিকল্পনা করেছে? যার বণিকেরা সবাই সম্ভ্রান্ত জন, যার ব্যবসায়ীরা পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল?
ISA 23:9 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই পরিকল্পনা করেছেন, তার সমস্ত প্রতাপের গর্ব খর্ব করার জন্য এবং পৃথিবীতে বিখ্যাত লোকদের অবনমিত করার জন্য।
ISA 23:10 ওহে তর্শীশের কন্যা, নীলনদের তীরে ভূমি কর্ষণ করো, কারণ তোমার বন্দরটি আর নেই।
ISA 23:11 সদাপ্রভু সমুদ্রের উপরে তাঁর হাত প্রসারিত করেছেন এবং তার রাজ্যগুলিকে প্রকম্পিত করেছেন। তিনি ফিনিসিয়া সম্পর্কে এক আদেশ দিয়েছেন, যে তার দুর্গগুলি ধ্বংস হবে।
ISA 23:12 তিনি বলেছেন, “ওহে মানভ্রষ্ট কুমারী সীদোন-কন্যা, তুমি আর উল্লসিত হোয়ো না! “তুমি ওঠো, সাইপ্রাসে পার হয়ে যাও; এমনকি, সেখানেও তুমি কোনো বিশ্রাম পাবে না।”
ISA 23:13 ব্যাবিলনীয়দের দেশের দিকে তাকাও, এই লোকেরা আর হিসেবের মধ্যে আসে না! আসিরীয়রা এই দেশকে মরুপ্রাণীদের বাসভূমি করেছে; তারা তাদের অবরোধ-মিনার গড়ে তুলেছিল, তারা এর দুর্গগুলিকে অনাবৃত করেছে এবং ব্যাবিলনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
ISA 23:14 তর্শীশের জাহাজগুলি, তোমরা বিলাপ করো, কারণ তোমাদের দুর্গগুলি ধ্বংস হয়েছে!
ISA 23:15 সেই সময়ে, সোর একজন রাজার জীবনকাল, অর্থাৎ সত্তর বছরের জন্য বিস্মৃত হবে। কিন্তু এই সত্তর বছরের শেষে বেশ্যাদের এই গানের মতো সোরের অবস্থা হবে:
ISA 23:16 “ওহে ভুলে যাওয়া বেশ্যা, তোমার বীণা তুলে নগরের মধ্য দিয়ে যাও; ভালো করে বীণা বাজাও, অনেক গান গাও, যেন তোমাকে স্মরণ করা হয়।”
ISA 23:17 সত্তর বছরের শেষে সদাপ্রভু সোরের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন। সে পূর্বের মতোই বেশ্যাবৃত্তির পথে ফিরে যাবে এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে তার ব্যবসা চালাবে।
ISA 23:18 তবুও তার লাভ ও উপার্জন সদাপ্রভুর উদ্দেশে পৃথক করে রাখা হবে; সেগুলি সঞ্চয় বা মজুত করে রাখা হবে না। তার লাভের টাকা সদাপ্রভুর সাক্ষাতে বসবাসকারী লোকদের কাছে যাবে; তাদের খাদ্যদ্রব্য ও সুন্দর পোশাকের প্রাচুর্য হবে।
ISA 24:1 দেখো, সদাপ্রভু পৃথিবীকে পরিত্যক্ত করে তা ধ্বংস করতে চলেছেন; তিনি ভূপৃষ্ঠ ধ্বংস করে এবং তার অধিবাসীদের ছিন্নভিন্ন করবেন,
ISA 24:2 সবার অবস্থা একইরকম হবে যাজকদের ও সাধারণ লোকদের, মনিব ও দাসদের, কর্ত্রী ও দাসীর, বিক্রয়কারী ও ক্রেতার, ঋণগ্রহীতার ও ঋণদাতার, উত্তমর্ণ ও অধমর্ণ, সকলের।
ISA 24:3 পৃথিবী সম্পূর্ণ জন পরিত্যক্ত হবে ও সম্পূর্ণরূপে লুন্ঠিত হবে। সদাপ্রভু এই কথা বলেছেন।
ISA 24:4 পৃথিবী শুকিয়ে যাবে ও নিস্তেজ হবে, জগৎ অবসাদগ্রস্ত হয়ে নিস্তেজ হবে, পৃথিবীর মহিমান্বিত ব্যক্তিরা অবসন্ন হবে।
ISA 24:5 পৃথিবী তার অধিবাসীদের দ্বারা কলুষিত হয়েছে; তারা বিধান অমান্য করেছে, তারা বিধিবিধান লঙ্ঘন করে চিরস্থায়ী চুক্তির অবমাননা করেছে।
ISA 24:6 সেই কারণে, এক অভিশাপ পৃথিবীকে গ্রাস করেছে; এর লোকেরা অবশ্য তাদের অপরাধ বহন করবে। তাই পৃথিবীর অধিবাসীরা দগ্ধ হয়, অতি অল্প মানুষই বেঁচে থাকে।
ISA 24:7 নতুন দ্রাক্ষারস শুকিয়ে যায় ও দ্রাক্ষালতা নিস্তেজ হয়; আমোদ-আহ্লাদকারী সকলে আর্তনাদ করে।
ISA 24:8 খঞ্জনির উচ্চশব্দ শান্ত হয়ে গেছে, ফূর্তিবাজদের হৈ হট্টগোল স্তব্ধ হয়েছে, আনন্দমুখর বীণার রব শোনা যায় না।
ISA 24:9 আর তারা গান গেয়ে সুরা পান করে না, পানকারীদের মুখে সুরা তেঁতো লাগে।
ISA 24:10 ধ্বংসিত নগরটি জনশূন্য পড়ে আছে; প্রত্যেকটি গৃহের দুয়ারের প্রবেশপথে দরজা লাগানো আছে।
ISA 24:11 পথে পথে তারা সুরার জন্য চিৎকার করে; সমস্ত আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়, পৃথিবী থেকে সমস্ত হৈ-হল্লা দূর হয়ে গেছে।
ISA 24:12 নগর ধ্বংসস্তূপ হয়ে পড়ে আছে, এর তোরণদ্বারগুলি টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে।
ISA 24:13 পৃথিবীতে ও জাতিসমূহের মধ্যে এরকমই ঘটনা ঘটবে, যেমন, যখন কোনো জলপাই গাছ ঝাড়ার পরে হয় কিংবা দ্রাক্ষাচয়নের পরে কিছু ফল অবশিষ্ট পড়ে থাকে।
ISA 24:14 তারা তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তোলে, তারা আনন্দে চিৎকার করে; পশ্চিমদিক থেকে তারা সদাপ্রভুর মহিমাকীর্তন করবে।
ISA 24:15 সেই কারণে, পূর্বদিকের লোকেরা সদাপ্রভুর মহিমা করুক; সমুদ্রের দ্বীপগুলির মধ্যে, তারা সদাপ্রভুর, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নামের প্রশংসা করুক।
ISA 24:16 পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে আমরা গানের শব্দ শুনছি: “সেই ধার্মিক ব্যক্তির মহিমা হোক।” কিন্তু আমি বললাম, “আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি, আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি, ধিক্ আমাকে! বিশ্বাসঘাতকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করছে! হ্যাঁ, বিশ্বাসঘাতকেরা নিদারুণ বিশ্বাসঘাতকতা করছে!”
ISA 24:17 ওহে পৃথিবীর জনগণ, সন্ত্রাস, গর্ত ও ফাঁদ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ISA 24:18 সন্ত্রাসের চিৎকারে যে পলায়ন করবে, সে কোনো গর্তে পতিত হবে; আর যে কেউ গর্ত থেকে উঠে আসে, সে ফাঁদে ধৃত হবে। ঊর্ধ্বাকাশের জলধির উৎস সকল মুক্ত হয়েছে, পৃথিবীর ভিত্তিমূলগুলি কেঁপে উঠছে।
ISA 24:19 পৃথিবী ভগ্ন হয়েছে, পৃথিবী ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে, পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে প্রকম্পিত হয়েছে।
ISA 24:20 পৃথিবী যেন কোনো মাতালের মতো টলোমলো করছে, প্রবল বাতাসে যেমন কুঁড়ে ঘর, এ তেমনই দোদুল্যমান হচ্ছে; এর বিদ্রোহের মাত্রা এতই গুরুভার যে, এর পতন হবে আর কখনও উঠে দাঁড়াতে পারবে না।
ISA 24:21 সেদিন সদাপ্রভু, ঊর্ধ্বস্থ আকাশমণ্ডলের সমস্ত পরাক্রমকে ও নিচে পৃথিবীর সমস্ত রাজাকে দণ্ড দেবেন।
ISA 24:22 অন্ধকূপে যেমন বন্দিদের আবদ্ধ রাখা হয়, তাদেরও তেমনই একত্র করে রাখা হবে; তাদের কারাগারে রুদ্ধ করে রাখা হবে, আর অনেক দিন পরে তাদের মুক্ত করা হবে।
ISA 24:23 তখন চাঁদ মলিন হবে, সূর্য লজ্জিত হবে; কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু রাজত্ব করবেন সিয়োন পর্বতে ও জেরুশালেমে এবং তার প্রাচীনদের সাক্ষাতে—মহান মহিমার সঙ্গে।
ISA 25:1 হে সদাপ্রভু, তুমিই আমার ঈশ্বর; আমি তোমার নাম উঁচুতে তুলে ধরব ও তোমার নামের প্রশংসা করব, কারণ নিখুঁত বিশ্বস্ততায়, তুমি বিস্ময়কর সব কাজ করেছ, যেগুলির পরিকল্পনা তুমি বহুপূর্বেই করেছিলে।
ISA 25:2 তুমি নগরকে এক পাথরের ঢিবিতে এবং সুরক্ষিত নগরীকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছ, বিদেশিদের দুর্গ আর নগর নয়; তা আর কখনও পুনর্নির্মিত হবে না।
ISA 25:3 সেই কারণে, শক্তিশালী লোকেরা তোমাকে সম্মান করবে; নির্মম জাতিদের নগরগুলি তোমার প্রতি সম্ভ্রম প্রদর্শন করবে।
ISA 25:4 তুমি দরিদ্রদের জন্য এক আশ্রয়স্থান হয়েছ, দুর্দশায় হয়েছ নিঃস্ব ব্যক্তির শরণস্থান, প্রবল ঝড়ে রক্ষা পাওয়ার জায়গা ও উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার ছায়াসদৃশ। কারণ নির্মম ব্যক্তিদের শ্বাসপ্রশ্বাস, যেমন কোনো দেওয়ালে প্রতিহত হওয়া হল্কার মতো
ISA 25:5 এবং যেন মরুভূমির উত্তাপের মতো। তুমি বিদেশিদের চিৎকার থামিয়ে থাকো; যেমন মেঘের ছায়ায় উত্তাপ কমে আসে, সেভাবেই নির্মম লোকদের গীত স্তব্ধ হয়েছে।
ISA 25:6 এই পর্বতের উপরে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু প্রস্তুত করবেন সমস্ত জাতির জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্যের মহাভোজ, পুরোনো দ্রাক্ষারসের এক পানসভা, সর্বোৎকৃষ্ট মাংস ও উৎকৃষ্টতম দ্রাক্ষারস সমন্বিত ভোজ।
ISA 25:7 এই পর্বতের উপরে তিনি ধ্বংস করবেন সব জাতিকে ঢেকে রাখা সেই চাদর, সেই আচ্ছাদন, যা সব জাতিকে রেখেছিল আবৃত;
ISA 25:8 তিনি চিরকালের জন্য মৃত্যুকে গ্রাস করবেন। সার্বভৌম সদাপ্রভু সকলের মুখ থেকে চোখের জল মুছিয়ে দেবেন; তিনি সমস্ত পৃথিবী থেকে তাঁর প্রজাদের দুর্নাম ঘুচিয়ে দেবেন। সদাপ্রভু একথা বলেছেন।
ISA 25:9 সেদিন তারা বলবে, “নিশ্চয়ই ইনিই আমাদের ঈশ্বর; আমরা তাঁর উপরে আস্থা রেখেছি, আর তিনি আমাদের রক্ষা করেছেন। ইনিই সদাপ্রভু, আমরা তাঁর উপরে বিশ্বাস করেছি; এসো আমরা তাঁর দেওয়া পরিত্রাণে আনন্দ করি ও উল্লসিত হই।”
ISA 25:10 সদাপ্রভুর হাত এই পর্বতের উপরে স্থির থাকবে; কিন্তু মোয়াবকে তাঁর নিচে তিনি পদদলিত করবেন যেমন সারের মধ্যে খড় পদদলিত করা হয়।
ISA 25:11 তারা এর উপরে তাদের হাত প্রসারিত করবে, যেভাবে সাঁতারু সাঁতার কাটার জন্য হাত প্রসারিত করে। ঈশ্বর তাদের অহংকার অবনমিত করবেন যদিও তাদের হাত চতুরতার চেষ্টা করে।
ISA 25:12 তিনি তোমার উঁচু প্রাচীর সমন্বিত দৃঢ় দুর্গকে ভেঙে ফেলে ধ্বংস করবেন; তিনি সেগুলি মাটিতে নামিয়ে আনবেন, ধূলিসাৎ করবেন।
ISA 26:1 সেদিন যিহূদার দেশে এই গীত গাওয়া হবে: আমাদের আছে এক দৃঢ় নগর; আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণস্বরূপ প্রাচীর ও প্রাকার-বেষ্টিত আছি।
ISA 26:2 এর তোরণদ্বারগুলি তোমরা খুলে দাও যেন সেই ধার্মিক জাতি এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে, সেই জাতি, যারা বিশ্বাস রক্ষা করেছে।
ISA 26:3 তাকে তুমি পূর্ণ শান্তিতেই রাখবে, যার মন সুস্থির, কারণ সে তোমার উপরে নির্ভর করে।
ISA 26:4 তোমরা চিরকাল সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করো, কারণ সদাপ্রভু, সেই সদাপ্রভুই হলেন শাশ্বত শৈল।
ISA 26:5 যারা উচ্চ স্থানে বসবাস করে, তিনি তাদের অবনত করেন, তিনি উঁচুতে থাকা সেই নগরীকে নামিয়ে আনেন; তিনি তাকে ধরাশায়ী করেন, এমনকি, তাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।
ISA 26:6 অত্যাচারী ব্যক্তিদের পা, দরিদ্রদের পদক্ষেপ সেই নগরকে পদদলিত করছে।
ISA 26:7 ধার্মিক ব্যক্তির পথ সমতল পথ; ও ন্যায়বান ব্যক্তি, তুমি ধার্মিকের পথ মসৃণ করো।
ISA 26:8 হ্যাঁ সদাপ্রভু, তোমার বিচারের বিধানগুলি পালনের জন্য আমরা অপেক্ষা করে আছি; তোমার নাম ও সুখ্যাতিই আমাদের মনের আকাঙ্ক্ষা।
ISA 26:9 রাত্রে আমার প্রাণ তোমার জন্য আকুল হয়; সকালে আমার আত্মা তোমার অপেক্ষা করে। তোমার ন্যায়বিচার যখন পৃথিবীর উপরে নেমে আসে, জগতের লোকেরা তখন ধার্মিকতা শিক্ষা করে।
ISA 26:10 যদিও দুষ্টদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শিত হয়, তারা ধার্মিকতা শিক্ষা করে না; এমনকি, সততার দেশেও তারা মন্দ কর্ম করে যায় এবং সদাপ্রভুর মাহাত্ম্যকে মর্যাদা দেয় না।
ISA 26:11 হে সদাপ্রভু, তোমার হাত উত্তোলিত হয়েছে, কিন্তু তারা তা দেখতে পায় না। তোমার প্রজাদের জন্য তারা তোমার উদ্যম দেখুক ও লজ্জিত হোক; তোমার শত্রুদের জন্য সংরক্ষিত আগুন তাদের গ্রাস করুক।
ISA 26:12 হে সদাপ্রভু, তুমি আমাদের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত করো; আমরা যা কিছু করতে পেরেছি, সবই তুমি আমাদের জন্য করেছ।
ISA 26:13 হে সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর, তুমি ছাড়া অন্য প্রভুরা আমাদের শাসন করেছে, কিন্তু আমরা কেবলমাত্র তোমার নামকেই সম্মান করি।
ISA 26:14 তারা তো এখন মৃত, তারা আর জীবিত নেই; ওই মৃত আত্মাগুলি আর উত্থিত হবে না। তুমি তাদের শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেছ; তুমি তাদের সমস্ত স্মৃতি লোপ করেছ।
ISA 26:15 হে সদাপ্রভু, তুমি এই জাতিকে বর্ধিত করেছ, তুমি এই জাতিকে বর্ধিত করেছ। তুমি নিজের জন্য গৌরব অর্জন করেছ, তুমি দেশের চারদিকের সীমানা বর্ধিত করেছ।
ISA 26:16 হে সদাপ্রভু, তারা তাদের দুর্দশায় তোমার কাছে এসেছিল; তুমি যখন তাদের শাস্তি দিয়েছিলে, তারা ফিসফিস করে কোনো প্রার্থনাও করতে পারেনি।
ISA 26:17 আসন্নপ্রসবা নারী শিশু জন্ম দেওয়ার সময় যেমন ব্যথায় মোচড় খায় ও ক্রন্দন করে, তোমার সামনে, হে সদাপ্রভু, আমরাও তেমনই করেছি।
ISA 26:18 আমরা গর্ভধারণ করেছি, আমরা ব্যথায় আর্তনাদ করেছি, কিন্তু আমরা যেন বাতাস প্রসব করেছি। আমরা পৃথিবীর কাছে পরিত্রাণ আনয়ন করিনি, আমরা জগতের লোকদের কাছে জীবনও আনতে পারিনি।
ISA 26:19 হে সদাপ্রভু, কিন্তু তোমার মৃত লোকেরা জীবন পাবে; তাদের শরীর উত্থিত হবে। তোমরা যারা ধুলিতে বসবাস করো, তোমরা জেগে ওঠো ও আনন্দে চিৎকার করো। তোমাদের শিশির সকালের শিশিরের মতো; কিন্তু পৃথিবী তার মৃতদের প্রসব করবে।
ISA 26:20 আমার প্রজারা, তোমরা যাও, তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করো এবং তোমাদের পিছনে দরজা বন্ধ করো; যতক্ষণ না তাঁর ক্রোধ অতিক্রান্ত হয়, তোমরা একটু সময় নিজেদের লুকিয়ে রাখো।
ISA 26:21 দেখো, জগতের লোকদের পাপের জন্য শাস্তি দিতে সদাপ্রভু নিজের আবাস থেকে বেরিয়ে আসছেন। পৃথিবী তার উপরে সংঘটিত রক্তপাতের কথা প্রকাশ করবে, তার মধ্যে নিহত লোকেদের সে আর আচ্ছন্ন রাখবে না।
ISA 27:1 সেদিন, সদাপ্রভু তাঁর তরোয়াল দিয়ে, তাঁর ভয়ংকর, বিশাল ও শক্তিশালী তরোয়াল দিয়ে সড়সড় করে চলা সেই সাপ লিবিয়াথনকে, কুণ্ডলী পাকানো সাপ লিবিয়াথনকে শাস্তি দেবেন; তিনি সেই সামুদ্রিক দানবকে হনন করবেন।
ISA 27:2 সেদিন, “তোমরা এক ফলবান দ্রাক্ষাকুঞ্জ সম্বন্ধে গান করবে:
ISA 27:3 আমি সদাপ্রভু, তার উপরে দৃষ্টি রাখি; আমি তাতে নিয়মিতরূপে জল সেচন করি। আমি দিবারাত্র তাকে পাহারা দিই, যেন কেউই তার ক্ষতি করতে না পারে।
ISA 27:4 আমি আর ক্রুদ্ধ নই। কেবলমাত্র যদি শিয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপ আমার বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করত! আমি তাদের বিরুদ্ধে সমরাভিযান করতাম; আমি সেসবই আগুনে পুড়িয়ে দিতাম।
ISA 27:5 নয়তো, তারা আমার কাছে আশ্রয় গ্রহণের জন্য আসুক; তারা আমার সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্থাপন করুক, হ্যাঁ, তারা আমার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুক।”
ISA 27:6 আগামী সময়ে, যাকোবের বংশধরেরা শিকড় প্রতিষ্ঠিত করবে, ইস্রায়েল জাতি মুকুলিত হয়ে প্রস্ফুটিত হবে এবং সমস্ত জগৎ ফলে পরিপূর্ণ করবে।
ISA 27:7 সদাপ্রভু কি তাকে আঘাত করেছেন, যেমন তাকে যারা আঘাত করেছে, তিনি তাদের আঘাত করেছিলেন? তাকে কি হত্যা করা হয়েছে, যেমন যারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তাদের তিনি হত্যা করেছিলেন?
ISA 27:8 যুদ্ধ ও নির্বাসনের মাধ্যমে তুমি তার সঙ্গে বিবাদ করেছ— পুবালি ঝোড়ো বাতাস যেদিন বয়ে গেলে যেমন হয়, তাঁর প্রবল ফুৎকারে তিনি তেমনই তাদের বের করে দিয়েছেন।
ISA 27:9 এভাবেই তখন, যাকোব কুলের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হবে, তাদের পাপের সম্পূর্ণ অপসারণের এই হবে তার পূর্ণ পরিণাম: যখন তিনি বেদির সব পাথরকে চুনা পাথরের মতো চূর্ণ করবেন, তখন আশেরা দেবীর কোনো খুঁটি বা ধূপবেদি আর দাঁড়িয়ে থাকবে না।
ISA 27:10 সুরক্ষিত নগরটি তখন নির্জন পড়ে থাকবে, এক পরিত্যক্ত নিবাসস্থানরূপে, যা মরুভূমির মতোই বিস্মৃত হবে; সেখানে বাছুরেরা চরে বেড়াবে, সেখানে তারা শুয়ে বিশ্রাম করবে; তারা তার শাখাসমূহের ছাল ছিলে ফেলবে।
ISA 27:11 গাছপালার কচি পাতা শুকিয়ে গেলে সেগুলি ভেঙে ফেলা হবে, আর স্ত্রীলোকেরা সেগুলি নিয়ে আগুন জ্বালাবে। কারণ এই এক জাতি, যাদের বুদ্ধি নেই; তাই তাদের নির্মাতা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল নন, এবং তাদের স্রষ্টা তাদের প্রতি কোনো কৃপা প্রদর্শন করেন না।
ISA 27:12 সেদিন, সদাপ্রভু প্রবাহিত ইউফ্রেটিস নদী থেকে মিশরের জলস্রোত পর্যন্ত হাতে চয়ন করা শস্যের মতো তাদের সংগ্রহ করবেন। আর ইস্রায়েলীরা, তোমাদের এক একজন করে একত্র করা হবে।
ISA 27:13 সেদিন একটি বৃহৎ তূরী বাজানো হবে। যারা আসিরিয়ায় বিনষ্ট হচ্ছিল ও যারা মিশরে নির্বাসিত হয়েছিল, তারা জেরুশালেমের পবিত্র পর্বতে এসে সদাপ্রভুর উপাসনা করবে।
ISA 28:1 ইফ্রয়িমের মত্ত ব্যক্তিদের অহংকার, সেই মুকুটকে ধিক্, যে ফুলের শোভা ও যার মহিমার সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে, যা এক উর্বর উপত্যকার মাথায় অবস্থিত, সেই নগর, যাদের অহংকার সুরার কারণে অবনমিত হয়েছে!
ISA 28:2 দেখো, প্রভুর এক পরাক্রমী ও শক্তিশালী ব্যক্তি আছেন। শিলাবৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক ঝড়ের মতো, মুষলধারায় বৃষ্টি ও প্লাবনকারী বারিধারার মতো, তিনি একে সবলে মাটিতে নিক্ষেপ করবেন।
ISA 28:3 সেই মুকুট, যা ইফ্রয়িমের মত্ত ব্যক্তিদের গর্ব, পায়ের নিচে দলিত হবে।
ISA 28:4 সেই ম্লানপ্রায় ফুল, তার মহিমার সৌন্দর্য, যা এক উর্বর উপত্যকার মাথায় অবস্থিত, যা চয়ন করার আগে পাকা ডুমুরের মতো হবে— তাকে দেখামাত্র যেমন কেউ তা পেড়ে হাতে নেয়, আর তা খেয়ে ফেলে, তেমনই।
ISA 28:5 সেইদিন, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এক গৌরবের মুকুটস্বরূপ হবেন, তাঁর প্রজাদের অবশিষ্টাংশের জন্য তিনি হবেন এক সুন্দর শিরোভূষণ।
ISA 28:6 যিনি বিচারকের আসনে বসেন, তিনি তাঁকে ন্যায়বিচারের প্রেরণা দেবেন, যারা নগর-দুয়ারে আক্রমণ রোধ করে, তিনি হবেন তাদের কাছে শক্তির উৎস।
ISA 28:7 এরাও সুরার কারণে টলোমলো হয় এবং সুরা পানের কারণে এলোমেলো চলে: যাজকেরা ও ভাববাদীরা সুরা পান করে টলোমলো হয় সুরা পান করে তারা চুর হয়ে থাকে; তারা সুরা পানের জন্য এলোমেলো চলে, দর্শন দেখামাত্র তারা টলটলায়মান হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তারা হোঁচট খায়।
ISA 28:8 খাবারের সব টেবিল বমিতে পূর্ণ, নোংরা নয়, এমন কোনো স্থান নেই।
ISA 28:9 “সে কাকে শিক্ষা দিতে চাইছে? কার কাছে সে তার বার্তার ব্যাখ্যা করছে? সেই শিশুদের কাছে কি, যাদের স্তন্যপান ত্যাগ করানো হচ্ছে, না তাদের কাছে, যাদের স্তন থেকে সরানো হচ্ছে?
ISA 28:10 কারণ, এ যেন: এরকম করো, সেইরকম করো, নিয়মের উপরে নিয়ম, তার উপরে নিয়ম, এখানে একটু আর ওখানে একটু।”
ISA 28:11 তাহলে ভালোই তো, বিদেশি ওষ্ঠাধর ও অদ্ভুত ভাষার দ্বারা ঈশ্বর এই জাতির সঙ্গে কথা বলবেন।
ISA 28:12 যাদের কাছে তিনি বলেছেন, “এই হল বিশ্রামের স্থান, ক্লান্ত ব্যক্তি এখানে বিশ্রাম করুক” এবং “এই হল প্রাণ জুড়ানোর স্থান”— কিন্তু তারা তা শুনতে চাইলো না।
ISA 28:13 সেই কারণে, সদাপ্রভুর বাণী তাদের কাছে এরকম হল: এরকম করো, সেইরকম করো, নিয়মের উপরে নিয়ম, তার উপরে নিয়ম, এখানে একটু আর ওখানে একটু— যেন তারা যায় ও পিছন দিকে পড়ে, আহত হয়ে ফাঁদে পড়ে ও ধৃত হয়।
ISA 28:14 সেই কারণে নিন্দুকেরা ও জেরুশালেমে স্থিত এই জাতির শাসকেরা, তোমরা সদাপ্রভুর বাণী শোনো।
ISA 28:15 তোমরা অহংকার করে বলো, “আমরা মৃত্যুর সঙ্গে একটি সন্ধিচুক্তি করেছি, কবরের সঙ্গে আমাদের একটি নিয়ম হয়েছে। যখন কোনো অপ্রতিরোধ্য কশা আছড়ে পড়ে, তা আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না, কারণ এক মিথ্যাকে আমরা আশ্রয়স্থল করেছি, আর মিথ্যাচারই হল আমাদের লুকানোর স্থান।”
ISA 28:16 তাই সার্বভৌম সদাপ্রভু একথা বলেন: “দেখো, আমি সিয়োনে এক পাথর স্থাপন করি, সেটি এক পরীক্ষিত পাথর, সুদৃঢ় ভিত্তির জন্য তা এক মহামূল্যবান কোণের পাথর; যে বিশ্বাস করে, সে কখনও আতঙ্কগ্রস্ত হবে না।
ISA 28:17 আমি ন্যায়বিচারকে মানদণ্ড ও ধার্মিকতাকে করব ওলন-দড়ি; শিলাবৃষ্টি তোমাদের আশ্রয়স্থান, অর্থাৎ মিথ্যাচারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, আর জল তোমার লুকানোর স্থানের উপর দিয়ে বইবে।
ISA 28:18 মৃত্যুর সঙ্গে কৃত তোমাদের সন্ধিচুক্তি বাতিল করা হবে; কবরের সঙ্গে তোমাদের চুক্তিনিয়ম স্থির থাকবে না। যখন সেই অপ্রতিরোধ্য কশা আছড়ে পড়বে, তোমরা তার দ্বারা প্রহারিত হবে।
ISA 28:19 যেই তা আসবে, তা তোমাদের বহন করে নিয়ে যাবে; সকালের পর সকাল, দিনে বা রাত্রে, তা ক্রমাগত আছড়ে পড়বে।” এই বার্তা বুঝতে পারলে তা প্রচণ্ড বিভীষিকা নিয়ে আসবে।
ISA 28:20 পা ছড়ানোর জন্য বিছানা ভীষণ খাটো, তোমাদের গায়ে জড়ানোর জন্য কম্বলও ছোটো।
ISA 28:21 সদাপ্রভু উঠে দাঁড়াবেন, যেমন পরাসীম পর্বতে করেছিলেন, গিবিয়োনের উপত্যকায় যেমন করেছিলেন, তেমনই তিনি নিজেকে তুলে ধরবেন, যেন তিনি তাঁর কাজ করতে পারেন, তাঁর অদ্ভুত কাজ, তাঁর করণীয় কাজ সম্পন্ন করেন, তাঁর রহস্যময় সেই করণীয় কাজ।
ISA 28:22 এখন তোমাদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা বন্ধ করো, নইলে তোমাদের শৃঙ্খল আরও ভারী হবে; প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাকে বলেছেন, সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে ধ্বংসের পরোয়ানা জারি হয়ে গেছে।
ISA 28:23 তোমরা শোনো ও আমার কথায় কান দাও; মনোযোগ দাও ও আমি যা বলি তা শোনো।
ISA 28:24 কৃষক যখন বীজ বপনের জন্য জমি চাষ করে, সে কি তা চাষ করেই যায়? সে কি ক্রমাগত পাথর ভাঙ্গে ও মাটিতে মই দেয়?
ISA 28:25 সে যখন ভূমির উপরিভাগ সমান করে, সে কি মৌরি ও জিরের বীজ বোনে না? সে কি যথাস্থানে গম ও যব ও খেতের সীমানায় ভুট্টা যথা উপায়ে বপন করে না?
ISA 28:26 তার ঈশ্বর তাকে নির্দেশ দেন ও তাকে যথার্থ নিয়মের শিক্ষা দেন।
ISA 28:27 মৌরি হাতগাড়ির দ্বারা মাড়াই করা হয় না, জিরের উপরে গোরুগাড়ির চাকাও চালানো হয় না; মৌরি লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, জিরে একটি ছড়ির দ্বারা।
ISA 28:28 রুটি তৈরি করার জন্য গম অবশ্যই চূর্ণ করতে হয়, তাই কেউই গম অনবরত মাড়াই করে না। যদিও মাড়াই করা গাড়ির চাকা তার উপরে চালানো হয়, ঘোড়ার খুরে তা কিন্তু চূর্ণ হয় না।
ISA 28:29 এই সমস্ত জ্ঞান আসে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর কাছ থেকে, যাঁর পরিকল্পনা অপূর্ব, যাঁর প্রজ্ঞা চমৎকার।
ISA 29:1 অরীয়েল, অরীয়েল, যে নগরে দাউদ বসবাস করতেন, ধিক্ তোমাকে! বছরের পর বছর ধরে তোমার উৎসবগুলি ঘুরে ফিরে আসে।
ISA 29:2 তবুও, আমি অরীয়েল অবরোধ করব; সে শোকবিলাপ ও হাহাকার করবে, সে আমার কাছে বেদির চুল্লির মতো হবে।
ISA 29:3 আমি তোমার চারপাশে শিবির স্থাপন করব; আমি উঁচু সব মিনার দিয়ে তোমাকে ঘিরে রাখব এবং তোমার বিরুদ্ধে আমার জাঙ্গাল প্রস্তুত করব।
ISA 29:4 নিচে নামানো হলে তুমি ভূমি থেকে কথা বলবে; ধুলোর মধ্য থেকে তোমার অস্পষ্ট কথা শোনা যাবে। ভূপৃষ্ঠ থেকে তোমার স্বর হবে যেন প্রেতাত্মার মতো; ধুলোর মধ্য থেকে তুমি ফিসফিস করে কথা বলবে।
ISA 29:5 কিন্তু তোমার বহু শত্রু হবে মিহি ধুলোর মতো, নির্মম নিপীড়নকারীদের বিপুল দল হবে তাড়িত তুষের মতো। হঠাৎই, এক মুহূর্তের মধ্যে,
ISA 29:6 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এসে উপস্থিত হবেন, তাঁর সঙ্গী হবে বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও প্রচণ্ড কোলাহল, তাঁর সঙ্গী হবে ঘূর্ণিঝড়, ঝঞ্ঝা ও সর্বগ্রাসী আগুনের শিখা।
ISA 29:7 তখন অরীয়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী সব জাতির পাল পাল লোকেরা, যারা তাকে ও তার দুর্গকে আক্রমণ করে ও তাকে অবরুদ্ধ করে, তারা হবে ঠিক যেন স্বপ্নের মতো, যেমন রাত্রিবেলা কেউ দর্শন পায়,
ISA 29:8 যে ক্ষুধার্ত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, সে অন্ন ভোজন করছে, কিন্তু জেগে উঠলে তার ক্ষুধা থেকেই যায়; পিপাসিত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে সে জলপান করছে, কিন্তু জেগে উঠলে সে মূর্ছিত হয়, কারণ তার পিপাসা নিবারিত হয়নি। এরকমই হবে সব জাতির বিপুল সংখ্যক লোকের প্রতি, যারা সিয়োন পর্বতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
ISA 29:9 তোমরা স্তম্ভিত হও, বিস্ময় প্রকাশ করো, নিজেদের চোখ ঢেকে ফেলো, রুদ্ধদৃষ্টি হও; মত্ত হও, কিন্তু সুরা পান করে নয়, টলোমলো করো, কিন্তু সুরা পানের জন্য নয়।
ISA 29:10 সদাপ্রভু তোমাদের উপরে এক গভীর নিদ্রা নিয়ে এসেছেন: তিনি তোমাদের দৃষ্টি রুদ্ধ করেছেন (অর্থাৎ ভাববাদীদের); তিনি তোমাদের মস্তক আবৃত করেছেন (অর্থাৎ দর্শকদের)।
ISA 29:11 তোমাদের কাছে এই দর্শনের সমস্তটাই সিলমোহরাঙ্কিত পুঁথির বাণী ছাড়া আর কিছুই নয়। যে পাঠ করতে পারে, তাকে যদি তোমরা ওই পুঁথিটি দাও ও তাকে বলো, “দয়া করে তুমি এটি পড়ে দাও,” সে উত্তর দেবে, “আমি পড়তে পারব না, কারণ এতে সিলমোহর দেওয়া আছে।”
ISA 29:12 অথবা যে পড়তে জানে না, এমন কাউকে যদি পুঁথিটি দাও ও বলো, “দয়া করে এটি পড়ে দাও,” সে উত্তর দেবে, “আমি পড়তে জানি না।”
ISA 29:13 সদাপ্রভু বলেন: “এই লোকেরা কেবল মুখেরই কথায় আমার কাছে এগিয়ে আসে, তারা কেবলমাত্র ওষ্ঠাধরে আমার সম্মান করে, কিন্তু তাদের হৃদয় থাকে আমার থেকে বহুদূরে। তারা আমার যে উপাসনা করে, তা মানুষের শিখিয়ে দেওয়া কিছু নিয়মবিধি মাত্র।
ISA 29:14 সেই কারণে, আমি আর একবার পরপর আশ্চর্য কর্ম করে এদের চমৎকৃত করব; জ্ঞানীদের জ্ঞান বিনষ্ট হবে, বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি উধাও হবে।”
ISA 29:15 ধিক্ তাদের, যারা সদাপ্রভুর কাছে তাদের পরিকল্পনা লুকাবার জন্য গভীর জলে নেমে যায়, যারা অন্ধকারে নিজেদের কাজ করে ও ভাবে, “কে আমাদের দেখতে পাচ্ছে? কে এসব জানতে পারবে?”
ISA 29:16 তোমরা সমস্ত বিষয়কে উল্টোপাল্টা করছ, যেন কুমোর ও মাটি, একই সমান! নির্মিত বস্তু কি নির্মাতাকে বলবে, “সে আমাকে নির্মাণ করেনি?” পাত্র কি কুমোরকে বলতে পারে, “ও কিছুই জানে না?”
ISA 29:17 অল্প সময়ের মধ্যে, লেবানন কি উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হবে না? আর উর্বর জমি কি অরণ্যের মতো মনে হবে না?
ISA 29:18 সেদিন, বধিরেরা সেই পুঁথির বাণীগুলি শুনতে পাবে, হতাশা ও অন্ধকার থেকে অন্ধ লোকদের চোখ দেখতে পাবে।
ISA 29:19 পুনরায় নতনম্র লোকেরা সদাপ্রভুর কারণে আনন্দিত হবে; নিঃস্ব ব্যক্তিরা ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের কারণে আনন্দ করবে।
ISA 29:20 নির্মম লোকেরা অদৃশ্য হবে, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকারীদের আর দেখা যাবে না, যারা অন্যায় কাজের জন্য ষড়যন্ত্র করে, তারা উচ্ছিন্ন হবে—
ISA 29:21 অর্থাৎ, যারা নির্দোষকে অপরাধী সাব্যস্ত করে, যারা আদালতে প্রতিবাদীকে ফাঁদে ফেলে এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্যের দ্বারা নির্দোষ ব্যক্তিকে ন্যায়বিচার পেতে বঞ্চিত করে।
ISA 29:22 অতএব, অব্রাহামের মুক্তিদাতা সদাপ্রভু, যাকোব কুলকে এই কথা বলেন: “যাকোবের বংশধরেরা আর লজ্জিত হবে না, তাদের মুখমণ্ডল আর ফ্যাকাশে থাকবে না।
ISA 29:23 যখন তারা তাদের ছেলেমেয়েদের, অর্থাৎ আমার হাতের কাজ তাদের মধ্যে দেখবে, তারা আমার নামের পবিত্রতা বজায় রাখবে; তারা যাকোব কুলের পবিত্রতমজনের পবিত্রতাকে স্বীকার করবে, তারা সম্ভ্রমে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াবে।
ISA 29:24 যাদের আত্মা বিভ্রান্ত, তারা বুদ্ধিলাভ করবে, যারা অভিযোগ করে, তারা নির্দেশনা গ্রহণ করবে।”
ISA 30:1 সদাপ্রভু ঘোষণা করছেন, “ধিক্ সেই একগুঁয়ে ছেলেমেয়েরা, যারা বিভিন্ন পরিকল্পনা করে, যেগুলি আমার নয়, তারা এক মৈত্রীচুক্তি করে, যা আমার নিজের নয়, তারা পাপের উপরে পাপ ডাঁই করে।
ISA 30:2 তারা আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে মিশরে নেমে যায়; যারা ফরৌণের সহায়তার অপেক্ষায় থাকে, মিশরের ছত্রচ্ছায়ায় খোঁজে আশ্রয়স্থান।
ISA 30:3 কিন্তু ফরৌণের সুরক্ষা-ব্যবস্থা তোমাদের লজ্জার কারণ হবে, মিশরের ছত্রচ্ছায়া তোমাদের অপমানস্বরূপ হবে।
ISA 30:4 যদিও তাদের সম্ভ্রান্তজনেরা সোয়নে আছে, তাদের দূতবাহিনী হানেষে এসে পৌঁছেছে,
ISA 30:5 তারা প্রত্যেকেই লজ্জিত হবে, সেই জাতির কারণে, যারা কোনও উপকারে আসবে না, যারা কোনো সাহায্য বা সুবিধা, কিছুই আনতে পারবে না, কেবলমাত্র আনবে লজ্জা ও অপমান।”
ISA 30:6 নেগেভের পশুদের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্‌বাণী: যদিও সেই দেশ কঠোর পরিশ্রমের ও দুর্দশার, যেখানে থাকে সিংহ ও সিংহী, বিষধর সাপ ও উড়ন্ত সর্প, দূতবাহিনী গাধার পিঠে নিয়ে যাবে তাদের ঐশ্বর্য, উটের কুঁজে বইবে তাদের সব ধনসম্পদ। আর নিয়ে যাবে অলাভজনক সেই দেশে,
ISA 30:7 অর্থাৎ মিশরে, যার সাহায্য সম্পূর্ণ নিরর্থক। তাই আমি তাকে ডাকি রহব নামে, অর্থাৎ, যে কোনো কাজের নয়।
ISA 30:8 এবার তুমি যাও, তাদের জন্য একথা পাথরের ফলকে লেখো, একটি পুঁথিতে তা লিপিবদ্ধ করো, যেন আগামী সময়ে তা এক চিরন্তন সাক্ষ্যস্বরূপ হয়।
ISA 30:9 এরা বিদ্রোহী জাতি, প্রতারণাকারী সন্তান, যারা সদাপ্রভুর নির্দেশবাণী শুনতে অনিচ্ছুক।
ISA 30:10 তারা দর্শকদের বলে, “আর কোনো দর্শন দেখবেন না!” আর ভাববাদীদের বলে, “যা ন্যায়সংগত, তা আর আমাদের বলবেন না! আমাদের মনোরম সব কথা বলুন, মায়াময় বিভ্রান্তির কথা বলুন।
ISA 30:11 এই পথ ছেড়ে দিন, এই রাস্তা থেকে সরে যান, আর ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের সঙ্গে সংঘর্ষ করা থেকে আমাদের অব্যাহতি দিন!”
ISA 30:12 সেই কারণে, ইস্রায়েলের পবিত্রতম জন এই কথা বলেন: “তোমরা যেহেতু এই বার্তা অগ্রাহ্য করেছ, অত্যাচারের উপরে নির্ভর করেছ এবং প্রতারণায় আস্থা রেখেছ,
ISA 30:13 তাই এই পাপ তোমাদের জন্য হবে এক উঁচু প্রাচীরের মতো, যার মধ্যে ফাটল ধরেছে ও স্থানে স্থানে ফুলে উঠেছে, যার পতন যে কোনো সময়, মুহূর্তমধ্যে হতে পারে।
ISA 30:14 মাটির পাত্রের মতোই এ চূর্ণবিচূর্ণ হবে, এমন নির্মমরূপে তা ছড়িয়ে পড়বে যে তার মধ্যে থেকে এমন একটি টুকরাও পাওয়া যাবে না যা দিয়ে চুল্লি থেকে আগুন তোলা যেতে পারে, কিংবা চৌবাচ্চা থেকে জল তোলা যেতে পারে।”
ISA 30:15 সার্বভৌম সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন একথা বলেন: “মন পরিবর্তন করে শান্ত থাকলেই তোমরা পরিত্রাণ পাবে, সুস্থির থেকে বিশ্বাস করলে তোমরা শক্তি পাবে, কিন্তু তোমরা তাতে রাজি হলে না।
ISA 30:16 তোমরা বললে, ‘না, আমরা ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে যাব।’ তাই তোমরা পালিয়ে যাবে! তোমরা বললে, ‘আমরা দ্রুতগামী ঘোড়ায় চেপে পালিয়ে যাব!’ তাই তোমাদের তাড়নাকারীরা দ্রুতগামী হবে!
ISA 30:17 একজন ভয় দেখালে তোমাদের এক হাজার জন পালিয়ে যাবে; পাঁচজনের ভীতি প্রদর্শনে তোমরা সবাই পালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না তোমরা অবশিষ্ট থাকো কোনো পর্বতশীর্ষের উপরে একটি পতাকার মতো বা পাহাড়ের উপরে কোনো নিশানের মতো।”
ISA 30:18 তবুও সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের প্রতীক্ষায় আছেন, তোমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য তিনি উত্থিত হয়েছেন। কারণ সদাপ্রভু ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বর, ধন্য তারা সবাই যারা তাঁর অপেক্ষায় থাকে!
ISA 30:19 জেরুশালেমে বসবাসকারী, ওহে সিয়োনের লোকেরা, তোমরা আর কাঁদবে না। তোমরা সাহায্যের জন্য কাঁদলে তিনি কত না করুণাবিষ্ট হবেন! শোনামাত্র তিনি তোমাদের উত্তর দেবেন।
ISA 30:20 প্রভু যদিও তোমাদের বিপক্ষতার খাবার ও কষ্টের জল দেন, তোমাদের শিক্ষকেরা আর গুপ্ত রইবেন না; তোমরা স্বচক্ষে তাদের দেখতে পাবে।
ISA 30:21 ডানদিকে বা বাঁদিকে, তোমরা যেদিকেই ফেরো, তোমাদের পিছন দিক থেকে তোমরা একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে, “এই হল পথ; তোমরা এই পথেই চলো।”
ISA 30:22 তখন তোমরা রুপোয় মোড়ানো তোমাদের প্রতিমাগুলি ও সোনায় মোড়ানো তোমাদের মূর্তিগুলিকে অশুচি করবে; তোমরা সেগুলি ঋতুমতী নারীর বস্ত্রখণ্ডের মতো ফেলে দিয়ে বলবে, “তোমরা দূর হও!”
ISA 30:23 তোমরা মাটিতে যে বীজবপন করবে, সেগুলির জন্য তিনি বৃষ্টিও প্রেরণ করবেন। জমি থেকে যে ফসল আসবে, তা হবে পুষ্ট ও প্রাচুর্যপূর্ণ। সেদিন তোমাদের পশুপাল প্রশস্ত চারণভূমিতে চরে বেড়াবে।
ISA 30:24 যে সমস্ত বলদ ও গর্দভগুলি জমিতে কাজ করে, তারা কাঁটা ও বেলচা দ্বারা ছড়ানো জাব ও ভূষি খাবে।
ISA 30:25 মহা হত্যালীলার দিনে, যখন মিনারগুলি পতিত হবে, প্রত্যেক উঁচু পর্বতের উপরে ও উঁচু পাহাড়ের উপরে জলের স্রোত প্রবাহিত হবে।
ISA 30:26 যখন সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের ক্ষতসকল বেঁধে দেবেন এবং তাঁর দেওয়া যন্ত্রণাগুলি নিরাময় করবেন, তখন চাঁদ সূর্যের মতো দীপ্তি দেবে এবং সূর্যরশ্মি সাতগুণ বেশি উজ্জ্বল হবে, অর্থাৎ সাত দিনের সম্মিলিত দীপ্তির মতো হবে।
ISA 30:27 দেখো, সদাপ্রভুর নাম বহুদূর থেকে ভেসে আসছে, তা আসছে প্রজ্বলিত ক্রোধ ও ধোঁয়ার ঘন মেঘের সঙ্গে; তাঁর ওষ্ঠাধর রোষে পূর্ণ এবং তাঁর জিভ যেন গ্রাসকারী আগুন।
ISA 30:28 তাঁর শ্বাসবায়ু যেন প্রবল বেগে প্রবাহিত স্রোতোধারা, যা গলা পর্যন্ত উঠে যায়। ধ্বংস করার জন্য জাতিগুলিকে তিনি চালুনি দিয়ে ছেঁকে নেবেন; তিনি বিভিন্ন জাতির চোয়ালে বলগা দেবেন, যা তাদের বিপথে চালিত করবে।
ISA 30:29 আর তোমরা তখন গান গাইবে যেমন কোনো পবিত্র উৎসব উদ্‌যাপনের সময় তোমরা করে থাকো; তোমাদের হৃদয় উল্লসিত হবে, যেমন লোকেরা যখন বাঁশি বাজিয়ে উঠে যাবে সদাপ্রভুর পর্বতে, ইস্রায়েলের শৈলের কাছে।
ISA 30:30 সদাপ্রভু লোকেদের তাঁর রাজকীয় মহিমার স্বর শোনাবেন তারা দেখবে তাঁর বাহু নেমে আসছে প্রচণ্ড ক্রোধ ও সর্বগ্রাসী আগুনের সঙ্গে, মেঘগর্জন, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে।
ISA 30:31 সদাপ্রভুর স্বর আসিরিয়াকে ছিন্নভিন্ন করবে; তাঁর রাজদণ্ড দিয়ে তিনি তাদের আঘাত করবেন।
ISA 30:32 তাঁর শাস্তির দণ্ড দিয়ে সদাপ্রভু যে প্রতিটি আঘাত তাদের করবেন, তা হবে খঞ্জনি ও বীণার ধ্বনির সঙ্গে, যখন তিনি রণভূমিতে তাঁর হাতের আঘাতে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন।
ISA 30:33 তোফৎ তো বহুপূর্বেই প্রস্তুত হয়ে আছে; এ রাজার জন্য প্রস্তুত আছে। এর আগুনের গর্ত গভীর ও প্রশস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে আগুনের জন্য প্রচুর কাঠ; সদাপ্রভুর শ্বাসবায়ু, প্রজ্বলিত গন্ধকের স্রোতের মতো, যা তাতে আগুন ধরাবে।
ISA 31:1 ধিক্ তাদের, যারা সাহায্যের জন্য মিশরে নেমে যায়, যারা অশ্বদের উপরে নির্ভর করে, যারা তাদের রথবাহুল্যের উপরে এবং তাদের অশ্বারোহীদের মহাশক্তির উপর আস্থা রাখে, কিন্তু ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের প্রতি দৃষ্টি করে না, অথবা সদাপ্রভুর কাছে সাহায্য নেয় না।
ISA 31:2 কিন্তু সদাপ্রভু জ্ঞানবান, তিনিও বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারেন, তিনি তাঁর কথা ফেরত নেন না। তিনি দুষ্টদের বংশের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, যারা অন্যায় কর্মকারীদের সাহায্য করে।
ISA 31:3 কিন্তু ওই মিশরীয়েরা মানুষ, তারা ঈশ্বর নয়; তাদের অশ্বেরা মাংসবিশিষ্ট, তারা আত্মা নয়। সদাপ্রভু যখন তাঁর হাত বাড়ান, যে সাহায্য করে, সে হোঁচট খাবে, যারা সাহায্য পায়, তাদের পতন হবে; তারা একইসঙ্গে বিনষ্ট হবে।
ISA 31:4 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বলেন: “যেভাবে সিংহ গর্জন করে, মহাসিংহ তার শিকার ধরলে যেমন করে, তখন যদিও মেষপালকদের সমস্ত দলকে তার বিরুদ্ধে একত্র ডাকা হয়, তাদের চিৎকারে সেই সিংহ ভয় পায় না, কিংবা তাদের গোলমালে বিরক্ত হয় না, এভাবেই সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু নেমে আসবেন সিয়োন পর্বত ও অন্যান্য উঁচু স্থানে যুদ্ধ করতে।
ISA 31:5 মাথার উপরে পাখিরা যেমন উড়তে থাকে, সেভাবেই সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু জেরুশালেমকে রক্ষা করবেন; তিনি তার ঢালস্বরূপ হয়ে তাকে উদ্ধার করবেন, তিনি তাকে ‘অতিক্রম করে’ তাকে উদ্ধার করবেন।”
ISA 31:6 ওহে ইস্রায়েলীরা, তোমরা যাঁর বিরুদ্ধে এত মহা বিদ্রোহ করেছ, তাঁর কাছে ফিরে এসো।
ISA 31:7 সেদিন, তোমাদের প্রত্যেকেই তোমাদের পাপিষ্ঠ হাতে গড়া রুপোর ও সোনার প্রতিমাগুলিকে অগ্রাহ্য করবে।
ISA 31:8 “মানুষের তৈরি নয়, এমন তরোয়ালের আঘাতে আসিরিয়ার পতন হবে; মরণশীল নয়, এমন এক তরোয়াল তাদের গ্রাস করবে। তারা তরোয়ালের সামনে পলায়ন করবে, আর তাদের যুবশক্তিকে জোর করে কাজে লাগানো হবে।
ISA 31:9 প্রচণ্ড ভীতির কারণে তাদের দৃঢ় দুর্গের পতন হবে; যুদ্ধনিশান দেখে তাদের সেনাপতিরা আতঙ্কগ্রস্ত হবে,” একথা বলেন সদাপ্রভু, যার আগুন আছে সিয়োনে, যার চুল্লি আছে জেরুশালেমে।
ISA 32:1 দেখো, একজন রাজা ধার্মিকতায় রাজত্ব করবেন এবং শাসকেরা ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন করবেন।
ISA 32:2 প্রত্যেকজন মানুষ বাতাসের বিরুদ্ধে রক্ষা পাওয়ার স্থান হবে এবং হবে ঝড়ের বিরুদ্ধে রক্ষা পাওয়ার আশ্রয়স্থান। তারা হবে মরুভূমিতে জলস্রোতের মতো এবং তৃষ্ণার্তদের দেশে এক মহাশৈলের ছায়ার মতো।
ISA 32:3 তখন যাদের চোখ দেখতে পায়, তারা সত্য দেখবে এবং যারা শুনতে পায় তাদের কান আর বন্ধ করা হবে না।
ISA 32:4 হঠকারী মানুষের মন আমাকে জানতে ও বুঝতে পারবে, তোতলানো জিভ অনর্গল স্পষ্ট কথা বলবে।
ISA 32:5 মূর্খ লোককে আর অভিজাত বলা হবে না, আবার খল লোকদেরও উচ্চ সম্মান আর দেওয়া হবে না।
ISA 32:6 কারণ মূর্খ মূর্খামির কথাই বলে, তার মন মন্দ নিয়েই ব্যস্ত থাকে: সে ভক্তিহীনতা অভ্যাস করে এবং সদাপ্রভু সম্পর্কে ভ্রান্তির গুজব রটায়; ক্ষুধার্তকে সে খাদ্যহীন রেখে দেয়, পিপাসিতকে পান করার জল দেয় না।
ISA 32:7 খল লোকদের কাজের ধারা মন্দ, সে মন্দতার পরিকল্পনা করে, যেন মিথ্যার দ্বারা দরিদ্রকে ধ্বংস করে, এমনকি তখনও, যখন নিঃস্বের আবেদন ন্যায্য হয়।
ISA 32:8 কিন্তু মহান মানুষ মহান পরিকল্পনা করে, এবং মহান কাজের দ্বারাই সে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ISA 32:9 আত্মতৃপ্ত নারী তোমরা, তোমরা ওঠো ও আমার কথা শোনো; নিশ্চিন্তমনা কন্যা তোমরা, তোমরা শোনো আমি কী কথা বলি!
ISA 32:10 এক বছরের একটু বেশি সময় অতিক্রান্ত হলে, নিশ্চিন্তমনা তোমরা ভয়ে কাঁপবে; দ্রাক্ষাচয়ন ব্যর্থ হবে, ফল সংগ্রহের সময় আর আসবে না।
ISA 32:11 আত্মতৃপ্ত নারী তোমরা ভয়ে কাঁপো, নিশ্চিন্তমনা কন্যা, তোমরা শিউরে ওঠো! তোমাদের কাপড়জামা খুলে ফেলো, কোমরে শোকবস্ত্র জড়িয়ে নাও।
ISA 32:12 মনোরম মাঠগুলির জন্য তোমরা বুক চাপড়াও, ফলবতী দ্রাক্ষালতাগুলির জন্য
ISA 32:13 এবং আমার প্রজাদের দেশের জন্য, যে দেশ কাঁটাঝোপ ও শিয়ালকাঁটায় ভরে গেছে— হ্যাঁ, তোমরা আমোদ-স্ফূর্তিপূর্ণ গৃহগুলির জন্য এবং হৈ-হল্লাপূর্ণ এই নগরীর জন্য শোক করো।
ISA 32:14 এই দুর্গ পরিত্যাক্ত হবে, কোলাহলপূর্ণ নগরীকে ছেড়ে যাওয়া হবে; নগরদুর্গ ও নজরমিনার চিরকালের জন্য মানববর্জিত হবে, যা ছিল একদিন গর্দভদের আনন্দ ও পশুপালের চারণভূমি,
ISA 32:15 যতক্ষণ না আমাদের উপরে পবিত্র আত্মাকে ঢেলে দেওয়া হয় এবং মরুভূমি উর্বর ক্ষেত্র হয় ও উর্বর ক্ষেত্র যেন অরণ্যের মতো মনে হয়।
ISA 32:16 মরুভূমিতে সদাপ্রভুর ন্যায়বিচার অধিষ্ঠিত হবে এবং তাঁর ধার্মিকতা উর্বর ক্ষেত্রে বিরাজমান হবে।
ISA 32:17 শান্তি হবে ধার্মিকতার ফল, আর ধার্মিকতার প্রতিক্রিয়া হবে চিরকালের জন্য প্রশান্তি ও নির্ভরতা।
ISA 32:18 আমার প্রজারা শান্তিপূর্ণ বসতবাড়িতে বসবাস করবে, তাদের গৃহ হবে নিরাপদ, তা হবে বাধাহীন বিশ্রামের স্থান।
ISA 32:19 যদিও শিলাবৃষ্টি অরণ্যকে ধরাশায়ী করে এবং নগর সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়,
ISA 32:20 তবুও, তোমরা প্রতিটি জলস্রোতের তীরে বীজবপন করে, তোমাদের গৃহপালিত পশুপাল ও গাধাদের মুক্ত ভাবে চরতে দিয়ে তোমরা কতই না ধন্য হবে!
ISA 33:1 তুমি যে এখনও বিনষ্ট হওনি ওহে বিনাশক, ধিক্ তোমাকে! তোমার সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়নি, ওহে সেই বিশ্বাসঘাতক, ধিক্ তোমাকেও! তুমি যখন ধ্বংস করা বন্ধ করবে, তখন তোমাকে ধ্বংস করা হবে; তুমি যখন বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করবে, তখন তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
ISA 33:2 হে সদাপ্রভু, আমাদের প্রতি দয়ালু হও; আমরা তোমার প্রতীক্ষায় আছি। প্রতি প্রভাতে তুমি আমাদের শক্তি হও, বিপর্যয়ের সময়ে আমাদের পরিত্রাণ হও।
ISA 33:3 তোমার কণ্ঠস্বরের বজ্রধ্বনিতে, জাতিরা পলায়ন করে; তুমি যখন উঠে দাঁড়াও, সব দেশ ছিন্নভিন্ন হয়।
ISA 33:4 যেমন শুঁয়োপোকা ও পঙ্গপাল মাঠের ফসল ও দ্রাক্ষালতা শূন্য করে দেয়, তেমনই পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ISA 33:5 সদাপ্রভু মহিমান্বিত হয়েছেন, কারণ তিনি ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠান করেন; তিনি ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতায় সিয়োন পরিপূর্ণ করবেন।
ISA 33:6 তিনি তোমার সমস্ত কালে নিশ্চিত ভিত্তিমূলস্বরূপ হবেন, তিনি হবেন পরিত্রাণ ও প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার; সদাপ্রভুর প্রতি ভয়ই এই বৈভবের চাবিকাঠি।
ISA 33:7 দেখো, তাদের সাহসী লোকেরা পথে পথে জোরে কাঁদছে; শান্তিদূতেরা তীব্র রোদন করছে।
ISA 33:8 রাজপথ সব পরিত্যক্ত হয়েছে, পথিমধ্যে কোনও পথিক নেই। মৈত্রীচুক্তি ভগ্ন হয়েছে, এর সাক্ষীরা অবজ্ঞাত হয়েছে, কাউকেই সম্মান প্রদর্শন করা হয় না।
ISA 33:9 দেশ শোকবিলাপ করে ক্ষয়ে যাচ্ছে, লেবানন লজ্জিত হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে; শারোণ হয়েছে মরুভূমির মতো, বাশন ও কর্মিল লুন্ঠিত হয়েছে।
ISA 33:10 সদাপ্রভু বলছেন, “এবার আমি উঠে দাঁড়াব, এবারে আমি মহিমান্বিত হব; এবারে আমাকে উঁচুতে তুলে ধরা হবে।
ISA 33:11 তোমরা তুষ গর্ভে ধারণ করছ, তোমরা খড়ের জন্ম দাও; তোমাদের নিশ্বাস যেন আগুনের মতো, যা তোমাদেরই গ্রাস করে।
ISA 33:12 চুনের মতোই সব জাতিকে পুড়িয়ে ফেলা হবে; কাঁটাঝোপের মতো তারা দাউদাউ করে জ্বলবে।”
ISA 33:13 তোমরা যারা দূরে থাকো, তোমরা শোনো আমি কী করেছি; তোমরা যারা কাছে থাকো, তোমরা আমার পরাক্রম স্বীকার করে নাও!
ISA 33:14 সিয়োনের পাপীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে; ভক্তিহীন লোকেদের মধ্যে কাঁপুনি ধরেছে: “গ্রাসকারী আগুনে আমাদের মধ্যে কে বসবাস করতে পারে? আমাদের মধ্যে কে পারে সেই চিরস্থায়ী আগুনে বসবাস করতে?”
ISA 33:15 যে ধার্মিকতার পথে জীবনযাপন করে, যা ন্যায়সংগত, যে সেই কথা বলে, যে দমনপীড়নের মাধ্যমে হৃত লাভ ঘৃণা করে এবং উৎকোচ নেওয়া থেকে নিজের হাত গুটিয়ে রাখে, যে খুনের ষড়যন্ত্র থেকে নিজের কান ফিরিয়ে নেয় এবং মন্দ করার পরিকল্পনার প্রতি নিজের চোখ বন্ধ রাখে—
ISA 33:16 এই ধরনের মানুষই উচ্চ স্থানে বসবাস করবে, পার্বত্য দুর্গই যার আশ্রয়স্থান হবে। তাকে খাবারের জোগান দেওয়া হবে, তার কাছে থাকবে জলের প্রাচুর্য।
ISA 33:17 তোমার দুই চোখ রাজাকে তাঁর সৌন্দর্যসহ দেখবে, সে নিরীক্ষণ করবে একটি দেশ, যা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
ISA 33:18 তোমার চিন্তাভাবনায় তুমি বিগত আতঙ্কের কথা ভাববে: “সেই প্রধান কর্মচারী কোথায়? যে রাজস্ব আদায় করত, সেই ব্যক্তি কোথায়? দুর্গপ্রাকারগুলির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোথায়?”
ISA 33:19 সেই উদ্ধত লোকগুলিকে তুমি আর দেখতে পাবে না, তাদের, যারা অজানা ভাষায় কথা বলত, তাদের অদ্ভুত, দুর্বোধ্য সব ভাষায়।
ISA 33:20 আমাদের সব উৎসব পালনের নগরী, সিয়োনের দিকে তাকাও তোমার চোখ জেরুশালেমকে দেখবে, তা এক শান্তির আবাস, এক অটল তাঁবুসদৃশ; এর কাঠের গোঁজগুলি কখনও উপড়ে ফেলা হবে না, এর কোনো দড়িও ছিঁড়ে যাবে না।
ISA 33:21 সেখানে সদাপ্রভুই হবেন আমাদের পরাক্রমী জন। এই স্থান হবে প্রশস্ত নদী ও স্রোতোধারার স্থানের মতো। দাঁড়ওয়ালা কোনো রণতরী তাদের উপরে থাকবে না, কোনো শক্তিশালী জাহাজ তাদের উপরে চলবে না।
ISA 33:22 কারণ সদাপ্রভুই আমাদের ন্যায়বিচারক, সদাপ্রভুই আমাদের আইনদাতা, সদাপ্রভু আমাদের মহারাজ; তিনিই আমাদের পরিত্রাণ করবেন।
ISA 33:23 তিমার জাহাজের দড়িদড়া ঢিলে হয়ে গেছে: মাস্তুলের অবস্থা নিরাপদ নয়, পাল তার মধ্যে খাটানো নেই। তখন প্রচুর লুঠদ্রব্য ভাগ করে দেওয়া হবে, এমনকি, খঞ্জ ব্যক্তিরাও লুটের দ্রব্য বহন করে নিয়ে যাবে।
ISA 33:24 সিয়োনে বসবাসকারী কেউই বলবে না, “আমি অসুস্থ”; যারা সেখানে বসবাস করে, তাদের সব পাপ ক্ষমা করা হবে।
ISA 34:1 ওহে জাতিসমূহ, তোমরা কাছে এসে শোনো; ওহে সমস্ত জাতির লোকেরা, তোমরা কর্ণপাত করো! পৃথিবী ও তার মধ্যস্থ সকলে শুনুক, জগৎ ও তার অভ্যন্তরস্থ সকলেই শুনুক!
ISA 34:2 সদাপ্রভু সব জাতির উপরে ক্রুদ্ধ হয়েছেন; তাদের সব সৈন্যদলের উপরে তাঁর রোষ রয়েছে। তিনি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন, ঘাতকদের হাতে তিনি তাদের সমর্পণ করবেন।
ISA 34:3 তাদের নিহতদের বাইরে নিক্ষেপ করা হবে, তাদের শবগুলি থেকে দুর্গন্ধ বের হবে; পর্বতগুলি তাদের রক্তে সিক্ত হবে।
ISA 34:4 আকাশের সমস্ত তারা দ্রবীভূত হবে, আর আকাশকে পুঁথির মতো গুটিয়ে ফেলা হবে; আকাশের নক্ষত্রবাহিনীর পতন হবে যেমন দ্রাক্ষালতা থেকে শুকনো পাতা ঝরে যায়, যেভাবে ডুমুর গাছ থেকে শুকিয়ে যাওয়া ডুমুর ঝরে যায়।
ISA 34:5 আমার তরোয়াল আকাশমণ্ডলে পরিতৃপ্ত হয়েছে; দেখো, তা ইদোমের বিচারের জন্য নেমে এসেছে, যে জাতিকে আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি।
ISA 34:6 সদাপ্রভুর তরোয়াল রক্তে স্নাত হয়েছে, তা মেদে আবৃত হয়েছে—মেষশাবক ও ছাগলদের রক্তে স্নাত, মেষদের কিডনির মেদে আবৃত হয়েছে। কারণ সদাপ্রভু বস্রাতে এক বলিদান করবেন, ইদোমে এক মহা হত্যালীলা করবেন।
ISA 34:7 তাদের সঙ্গে পতিত হবে বন্য ষাঁড়েরা, পতিত হবে বাছুর-বলদ ও বড়ো বড়ো বলদ। তাদের ভূমিতে রক্ত বয়ে যাবে, আর ধুলি মেদে আবৃত হবে।
ISA 34:8 কারণ সদাপ্রভুর প্রতিশোধ গ্রহণের একটি দিন আছে, সিয়োনের পক্ষ সমর্থনের জন্য আছে একটি প্রতিফল দানের সময়।
ISA 34:9 ইদোমের নদীগুলি আলকাতরায় পরিণত হবে, তার ধুলো সব হবে প্রজ্বলিত গন্ধকের মতো, তার জমি হবে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আলকাতরার মতো!
ISA 34:10 দিনে বা রাত্রে তা কখনও নিভে যাবে না; চিরকাল তার মধ্য থেকে ধোঁয়া উঠবে। বংশপরম্পরায় তা পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে; তার মধ্য দিয়ে আর কেউ পথ অতিক্রম করবে না।
ISA 34:11 মরু-প্যাঁচা ও লক্ষ্মী-প্যাঁচা তা অধিকার করবে, হুতুম-প্যাঁচা ও দাঁড়কাকেরা সেখানে বাসা বাঁধবে। ঈশ্বর ইদোমের উপরে বিছিয়ে দেবেন বিশৃঙ্খলার মাপকাঠি ও ধ্বংসের ওলন-দড়ি।
ISA 34:12 তার সম্ভ্রান্তজনেদের পক্ষে রাজ্য বলার মতো কিছুই থাকবে না, তার সমস্ত রাজবংশীয়রা অন্তর্হিত হবে।
ISA 34:13 তার দুর্গগুলিতে কাঁটাঝোপ ছেয়ে যাবে, তার সুরক্ষিত স্থানগুলি ভরে যাবে বিছুটি ও কাঁটাবনে। সে হবে শিয়ালের বিচরণস্থান, প্যাঁচাদের বাসস্থান।
ISA 34:14 মরুপ্রাণীরা সেখানে হায়েনাদের সঙ্গে মিলিত হবে, বন্য ছাগলেরা সেখানে শব্দ করে পরস্পরকে ডাকবে। নিশাচর প্রাণীরা সেখানে গা এলিয়ে দেবে, সেখানে তারা খুঁজে পাবে তাদের বিশ্রামের স্থান।
ISA 34:15 প্যাঁচা সেখানে বাসা বেঁধে ডিম পাড়বে, ডিম ফুটিয়ে সে তার শাবকদের পালন করবে ও ডানার তলে তাদের ছায়া দেবে; সেখানে সমবেত হবে বড়ো সব চিল, প্রত্যেকে আসবে তাদের সঙ্গিনীর সাথে।
ISA 34:16 সদাপ্রভুর পুঁথিটির দিকে তাকাও ও পড়ো: এগুলির কোনোটিই হারিয়ে যাবে না, একটিরও সঙ্গিনীর অভাব হবে না। কারণ তাঁর মুখ এই আদেশ দিয়েছে, তাঁর আত্মা তাদের সবাইকে একত্র করবে।
ISA 34:17 তিনি তাদের অংশ বিভাগ করে দেন; পরিমাপ করে তাঁর হাত তাদের মধ্যে বিতরণ করে। তারা চিরকাল তা অধিকার করে থাকবে ও বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করবে।
ISA 35:1 সেদিন মরুভূমি ও শুকনো জমি হবে আনন্দিত; মরুপ্রান্তর উল্লসিত হবে এবং বসন্তের প্রথম ফুল সেখানে প্রস্ফুটিত হবে।
ISA 35:2 হ্যাঁ, সেখানে ফুলের প্রাচুর্য হবে, তা ভীষণভাবে উল্লসিত হয়ে আনন্দে চিৎকার করবে। তাকে দেওয়া হবে লেবাননের প্রতাপ, দেওয়া হবে কর্মিল ও শারোণের শোভা; তারা সদাপ্রভুর মহিমা দেখতে পাবে, তারা দেখবে আমাদের ঈশ্বরের সৌন্দর্য।
ISA 35:3 যাদের দুর্বল হস্ত, তাদের সবল করো, যাদের হাঁটু দুর্বল, তাদের সুস্থির করো।
ISA 35:4 যাদের হৃদয় ভয়ে ভীত, তাদের বলো, “সবল হও, ভয় কোরো না; তোমাদের ঈশ্বর আসবেন, তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আসবেন; তিনি তোমাদের উদ্ধার করার জন্য তাদের প্রাপ্য শাস্তি দিতে আসবেন।”
ISA 35:5 তখন অন্ধদের চোখ খুলে যাবে, বধিরদের কান আর বন্ধ থাকবে না।
ISA 35:6 সেই সময় খঞ্জেরা হরিণের মতো লাফ দেবে এবং বোবাদের জিভ আনন্দে চিৎকার করবে। জল তোড়ে বেরিয়ে আসবে প্রান্তর থেকে এবং জলপ্রবাহ মরুভূমি থেকে।
ISA 35:7 তপ্ত বালুকা পুকুরের মতো হবে, তৃষিত ভূমি হবে উচ্ছলিত ফোয়ারার মতো। যে আস্তানায় একদিন শিয়ালরা শুয়ে থাকত, সেখানে উৎপন্ন হবে ঘাস ও নলখাগড়া।
ISA 35:8 সেখানে প্রস্তুত হবে এক রাজপথ; সেই পথকে বলা হবে, “পবিত্রতার সরণি।” কোনো অশুচি মানুষ সেই পথে যাবে না; যারা ঈশ্বরের পথে চলে, এ পথ হবে কেবলমাত্র তাদের জন্য; দুষ্ট ও মূর্খেরা সেই পথ অতিক্রম করবে না।
ISA 35:9 সেখানে কোনো সিংহ থাকবে না, কোনো হিংস্র জন্তুও সেই পথে হাঁটবে না, তাদের সেখানে দেখাই যাবে না। কেবলমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত লোকেরাই সেই পথে চলবে,
ISA 35:10 আর মুক্তিপণ দেওয়া সদাপ্রভুর লোকেরা প্রত্যাবর্তন করবে। তারা গান গাইতে গাইতে সিয়োনে প্রবেশ করবে; তাদের মাথায় থাকবে চিরস্থায়ী আনন্দ-মুকুট। আমোদ ও আনন্দে তারা প্লাবিত হবে, দুঃখ ও দীর্ঘশ্বাস দূরে পলায়ন করবে।
ISA 36:1 রাজা হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের চর্তুদশ বছরে আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব যিহূদার সব সুরক্ষিত নগর আক্রমণ করে সেগুলি দখল করে নিয়েছিলেন।
ISA 36:2 তারপর আসিরিয়ার রাজা তাঁর সৈন্যদলের কর্মকর্তা রব্‌শাকিকে বড়ো এক সৈন্যদলের সঙ্গে লাখীশ থেকে জেরুশালেমে, রাজা হিষ্কিয়ের কাছে প্রেরণ করলেন। যখন সেই সৈন্যাধ্যক্ষ রজকদের ভূমি অভিমুখে, উচ্চতর পুষ্করিণীর জলপ্রণালীর কাছে এসে থামলেন,
ISA 36:3 তখন রাজপ্রাসাদের পরিচালক হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও আসফের পুত্র লিপিকার যোয়াহ বের হয়ে তাঁর কাছে গেলেন।
ISA 36:4 সেই সৈন্যাধ্যক্ষ তাদের বললেন, “তোমরা গিয়ে হিষ্কিয়কে বলো, “ ‘মহান রাজাধিরাজ, আসিরিয়ার রাজা এই কথা বলেন: তোমাদের এই আত্মনির্ভরতা কীসের উপরে প্রতিষ্ঠিত?
ISA 36:5 তোমরা বলছ যে তোমাদের কাছে যুদ্ধ করার বুদ্ধিপরামর্শ ও শক্তি আছে—কিন্তু তোমরা আসলে শুধু শূন্যগর্ভ কথাই বলছ। কার উপর তুমি নির্ভর করছ, যে আমার বিরুদ্ধেই তুমি বিদ্রোহ করে বসেছ?
ISA 36:6 এখন দেখো, আমি জানি তোমরা মিশরের উপরে নির্ভর করেছ। সে হল থ্যাঁৎলানো নলখাগড়ার মতো লাঠি, যা কোনো মানুষের হাতকে বিদ্ধ করে! তেমনি মিশরের রাজা ফরৌণ যারা তার উপরে নির্ভর করে।
ISA 36:7 আর যদি তোমরা আমাকে বলো, “আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করি,” তাহলে তিনি কি সেই ঈশ্বর নন, যার উঁচু পীঠস্থানগুলি ও বেদিগুলি হিষ্কিয় অপসারণ করেছেন এবং যিহূদা ও জেরুশালেমকে এই কথা বলেছেন, “তোমরা অবশ্যই এই যজ্ঞবেদির সামনে উপাসনা করবে”?
ISA 36:8 “ ‘এবারে এসো, আমার মনিব আসিরিয়ার রাজার সাথে একটি চুক্তি করো: আমি তোমাদের দুই হাজার অশ্ব দেব, যদি তোমরা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অশ্বারোহী দিতে পারো!
ISA 36:9 তা যদি না হয়, তাহলে কীভাবে তোমরা আমার মনিবের নগণ্যতম কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র একজনকেও হঠিয়ে দিতে পারবে, যদিও তোমরা রথ ও অশ্বারোহীদের জন্য মিশরের উপর নির্ভর করছ?
ISA 36:10 এছাড়াও, আমি কি সদাপ্রভুর অনুমতি ছাড়াই এই দেশ আক্রমণ করে ধ্বংস করতে এসেছি? সদাপ্রভু স্বয়ং আমাকে বলেছেন, এই দেশের বিরুদ্ধে সমরাভিযান করে তা ধ্বংস করতে।’ ”
ISA 36:11 তখন ইলিয়াকীম, শিব্‌ন ও যোয়াহ সেই সৈন্যাধ্যক্ষকে বললেন, “দয়া করে আপনি আপনার দাসদের কাছে অরামীয় ভাষায় কথা বলুন, কারণ আমরা তা বুঝতে পারি। প্রাচীরের উপরে বসে থাকা লোকদের কর্ণগোচরে আমাদের সঙ্গে হিব্রু ভাষায় কথা বলবেন না।”
ISA 36:12 কিন্তু সেই সৈন্যাধ্যক্ষ উত্তর দিলেন, “আমার মনিব কি এই সমস্ত কথা কেবলমাত্র তোমাদের মনিব ও তোমাদের কাছে বলতে পাঠিয়েছেন, কিন্তু প্রাচীরের উপরে ওই বসে থাকা লোকদের কাছে নয়—যারা তোমাদেরই মতো নিজেদের মল ভোজন ও নিজেদেরই মূত্র পান করবে?”
ISA 36:13 তারপরে সেই সৈন্যাধ্যক্ষ দাঁড়িয়ে জোরে জোরে হিব্রু ভাষায় বলতে লাগলেন, “তোমরা মহান রাজাধিরাজ, আসিরীয় রাজার কথা শোনো!
ISA 36:14 সেই মহারাজ এই কথা বলেন: হিষ্কিয় তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করুক। সে তোমাদের উদ্ধার করতে পারবে না!
ISA 36:15 হিষ্কিয় তোমাদের এই কথা বলে যেন বিশ্বাস না জন্মায় যে, ‘সদাপ্রভু অবশ্যই আমাদের উদ্ধার করবেন; এই নগর আসিরিয়ার রাজার হাতে সমর্পিত হবে না।’
ISA 36:16 “তোমরা হিষ্কিয়ের কথা শুনবে না। আসিরীয় রাজা এই কথা বলেন: আমার সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করে তোমরা আমার কাছে বেরিয়ে এসো। তাহলে তোমরা তখন প্রত্যেকে নিজের নিজের আঙুর ও ডুমুর গাছ থেকে ফল পেড়ে খাবে ও নিজের নিজের কুয়ো থেকে জলপান করবে,
ISA 36:17 যতক্ষণ না আমি এসে তোমাদেরই স্বদেশের মতো এক দেশে তোমাদের নিয়ে যাই—যে দেশ শস্যের ও নতুন দ্রাক্ষারসের, যে দেশ রুটির ও দ্রাক্ষাক্ষেত্রের।
ISA 36:18 “হিষ্কিয় একথা বলে তোমাদের বিভ্রান্ত না করুক যে, ‘সদাপ্রভু আমাদের উদ্ধার করবেন।’ কোনো দেশের দেবতা কি আসিরীয় রাজের হাত থেকে তাদের দেশ রক্ষা করতে পেরেছে?
ISA 36:19 হমাৎ ও অর্পদের দেবতারা কোথায়? সফর্বয়িমের দেবতারা কোথায়? তারা কি আমার হাত থেকে শমরিয়াকে রক্ষা করতে পেরেছে?
ISA 36:20 এই সমস্ত দেশের কোন সব দেবতা তাদের দেশ আমার হাত থেকে রক্ষা করেছে? তাহলে সদাপ্রভু কীভাবে আমার হাত থেকে জেরুশালেমকে রক্ষা করবেন?”
ISA 36:21 লোকেরা কিন্তু নীরব রইল। প্রত্যুত্তরে তারা কিছুই বলল না, কারণ রাজা আদেশ দিয়েছিলেন, “ওর কথার কোনো উত্তর দিয়ো না।”
ISA 36:22 তখন হিল্কিয়ের পুত্র, রাজপ্রসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও আসফের পুত্র লিপিকার যোয়াহ, নিজের নিজের কাপড় ছিঁড়ে হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন। সেই সৈন্যাধ্যক্ষ যেসব কথা বলেছিলেন, তারা সেসবই তাঁকে বললেন।
ISA 37:1 রাজা হিষ্কিয় একথা শুনে নিজের কাপড় ছিঁড়লেন। তিনি শোকের পোশাক পরে সদাপ্রভুর মন্দিরে গেলেন।
ISA 37:2 তিনি রাজপ্রাসাদের পরিচালক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন ও গুরুত্বপূর্ণ যাজকদের, আমোষের পুত্র, ভাববাদী যিশাইয়ের কাছে প্রেরণ করলেন। তারা সবাই শোকের পোশাক পরেছিলেন।
ISA 37:3 তারা গিয়ে তাঁকে বললেন, “হিষ্কিয় একথাই বলেন: আজকের এই দিনটি হল মর্মান্তিক যন্ত্রণা, তিরস্কার ও কলঙ্কময় একদিন, ঠিক যেমন সন্তান প্রসবের সময় এসে গিয়েছে, অথচ যেন সন্তান প্রসবের শক্তিই নেই।
ISA 37:4 হয়তো সদাপ্রভু, আপনার ঈশ্বর সেই সৈন্যাধ্যক্ষের কথা শুনে থাকবেন, যাকে তার মনিব, আসিরীয় রাজা, জীবন্ত ঈশ্বরকে বিদ্রুপ করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। সদাপ্রভু, আপনার ঈশ্বর, যে কথা শুনেছেন, তার জন্য তিনি হয়তো তাঁকে তিরস্কার করবেন। সেই কারণে, যারা এখনও বেঁচে আছে, আপনি অবশিষ্ট তাদের জন্য প্রার্থনা করুন।”
ISA 37:5 যখন রাজা হিষ্কিয়ের কর্মচারীরা যিশাইয়ের কাছে গেলেন,
ISA 37:6 যিশাইয় তাদের বললেন, “তোমরা গিয়ে তোমাদের মনিবকে বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আসিরীয় রাজার অধীন ব্যক্তিরা আমার সম্পর্কে যেসব নিন্দার উক্তি করেছে, যেগুলি তোমরা শুনেছ, সে সম্পর্কে ভয় পেয়ো না।
ISA 37:7 তোমরা শোনো! আমি তার মধ্যে এমন এক মনোভাব দেব, যার ফলে সে যখন এক সংবাদ শুনবে, সে তার স্বদেশে ফিরে যাবে। সেখানে আমি তাকে তরোয়ালের দ্বারা বিনষ্ট করব।’ ”
ISA 37:8 সেই সৈন্যাধ্যক্ষ যখন শুনতে পেলেন যে, আসিরীয় রাজার লাখীশ ত্যাগ করে চলে গেছেন, তিনি ফিরে গেলেন এবং দেখলেন, রাজা লিব্‌নার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।
ISA 37:9 পরে সন্‌হেরীব একটি সংবাদ শুনতে পেলেন যে, মিশরের কূশ দেশের রাজা তির্হক তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমরাভিযান শুরু করেছেন। সেকথা শুনতে পেয়ে, তিনি এই কথা বলে হিষ্কিয়ের কাছে দূতদের পাঠালেন:
ISA 37:10 “যিহূদার রাজা হিষ্কিয়কে গিয়ে বলো: যে দেবতার উপর আপনি নির্ভর করে আছেন, তিনি যেন এই কথা বলে আপনাকে না ঠকান যে, ‘আসিরিয়ার রাজার হাতে জেরুশালেমকে সমর্পণ করা হবে না।’
ISA 37:11 তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ, সব দেশের প্রতি আসিরীয় রাজা কী করেছেন। তিনি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছেন। আর তোমরা কি তাঁর হাত থেকে রক্ষা পাবে?
ISA 37:12 ওইসব জাতির দেশগুলি, যাদের আমার পিতৃপুরুষেরা ধ্বংস করেছিলেন, কেউ কি তাদের উদ্ধার করতে পেরেছে—অর্থাৎ গোষণ, হারণ, রেৎসফ ও তেল-অৎসরে বসবাসকারী এদনের লোকেদের দেবতারা?
ISA 37:13 হমাতের রাজা বা অর্পদের রাজা কোথায় গেল? লায়ীর, সফর্বয়িম, হেনা ও ইব্বার রাজারাই বা কোথায় গেল?”
ISA 37:14 সেই দূতদের কাছ থেকে পত্রখানি গ্রহণ করে হিষ্কিয় পাঠ করলেন। তারপর তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে গেলেন এবং সদাপ্রভুর সামনে তা মেলে ধরলেন।
ISA 37:15 আর হিষ্কিয় এই বলে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন:
ISA 37:16 “দুই করূবের মাঝে বিরাজমান হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই পৃথিবীর সব রাজ্যের ঈশ্বর। তুমিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছ।
ISA 37:17 হে সদাপ্রভু, তুমি কর্ণপাত করো ও শোনো; হে সদাপ্রভু, তুমি তোমার দৃষ্টি উন্মোচন করো ও দেখো; জীবন্ত ঈশ্বরকে অপমান করে সন্‌হেরীব যেসব কথা বলেছে, তা তুমি শ্রবণ করো।
ISA 37:18 “একথা সত্যি, হে সদাপ্রভু, যে আসিরীয় রাজারা এই সমস্ত মানুষজন ও তাদের দেশগুলিকে বিনষ্ট করেছে।
ISA 37:19 তারা তাদের দেবতাদের আগুনে নিক্ষেপ করে তাদের ধ্বংস করেছে, কারণ তারা দেবতা নয়, কিন্তু ছিল কেবলমাত্র কাঠ ও পাথরের তৈরি, মানুষের হাতে তৈরি শিল্প।
ISA 37:20 এখন হে সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর, তার হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করো, যেন পৃথিবীর সমস্ত রাজ্য জানতে পারে যে, হে সদাপ্রভু, কেবলমাত্র তুমিই ঈশ্বর।”
ISA 37:21 তারপর আমোষের পুত্র যিশাইয়, হিষ্কিয়ের কাছে একটি বার্তা প্রেরণ করলেন: “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: তুমি যেহেতু আসিরীয় রাজা সন্‌হেরীব সম্পর্কে আমার কাছে প্রার্থনা করেছ,
ISA 37:22 তার বিরুদ্ধে বলা সদাপ্রভুর বাণী হল এই: “কুমারী-কন্যা সিয়োন তোমাকে অবজ্ঞা ও উপহাস করে। জেরুশালেম-কন্যা তার মাথা নাড়ায় যখন তোমরা পলায়ন করো।
ISA 37:23 তুমি কাকে অপমান ও কার নিন্দা করেছ? তুমি কার বিরুদ্ধে তোমার কণ্ঠস্বর তুলেছ ও গর্বিত চক্ষু উপরে তুলেছ? তা করেছ ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতমের বিরুদ্ধেই।
ISA 37:24 তোমার দূতদের দ্বারা তুমি প্রভুর উপরে অপমানের বোঝা চাপিয়েছ। আবার তুমি বলেছ, ‘আমার বহুসংখ্যক রথের দ্বারা আমি পর্বতসমূহের শিখরে, লেবাননের সর্বোচ্চ চূড়াগুলির উপরে আরোহণ করেছি। আমি তার দীর্ঘতম সিডার গাছগুলিকে, তার উৎকৃষ্টতম দেবদারু গাছগুলিকে কেটে ফেলেছি। আমি তার দুর্গম উচ্চ স্থানে, তার সুন্দর বনানীতে পৌঁছে গেছি।
ISA 37:25 আমি বিজাতীয় ভূমিতে কুয়ো খনন করেছি এবং সেখানকার জলপান করেছি। আমার পায়ের তলা দিয়ে আমি মিশরের সব স্রোতোধারা শুকিয়ে দিয়েছি।’
ISA 37:26 “তুমি কি শুনতে পাওনি? বহুপূর্বে আমি তা স্থির করেছিলাম। পুরাকালে আমি তার পরিকল্পনা করেছিলাম; কিন্তু এখন আমি তা ঘটতে দিয়েছি, সেই কারণে তুমি সুরক্ষিত নগরগুলিকে পাথরের ঢিবিতে পরিণত করেছ।
ISA 37:27 সেইসব জাতির লোকেরা ক্ষমতাহীন হয়েছে, তারা হতাশ হয়ে লজ্জিত হয়েছে। তারা হল মাঠের গাছগুলির মতো, গজিয়ে ওঠা কোমল অঙ্কুরের মতো, যেমন ছাদের উপরে ঘাস গজিয়ে ওঠে, কিন্তু বেড়ে ওঠার আগেই তাপে শুকিয়ে যায়।
ISA 37:28 “কিন্তু আমি জানি তোমার অবস্থান কোথায়, কখন তুমি আস ও যাও, আর কীভাবে তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করো।
ISA 37:29 যেহেতু তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করো, আর যেহেতু তোমার অভব্য আচরণের কথা আমার কানে পৌঁছেছে, আমি তোমার নাকে আমার বড়শি ফোটাব, তোমার মুখে দেব আমার বলগা, আর যে পথ দিয়ে তুমি এসেছ, সেই পথেই তোমাকে ফিরিয়ে দেব।
ISA 37:30 “আর ওহে হিষ্কিয়, এই হবে তোমার পক্ষে চিহ্নস্বরূপ: “এই বছরে তোমরা আপনা-আপনি উৎপন্ন শস্য, আর দ্বিতীয় বছরে তা থেকে যা উৎপন্ন হবে, তোমরা তাই ভোজন করবে। কিন্তু তৃতীয় বছরে তোমরা বীজবপন ও শস্যচ্ছেদন করবে, দ্রাক্ষাকুঞ্জ রোপণ করে তার ফল খাবে।
ISA 37:31 আরও একবার যিহূদা রাজ্যের অবশিষ্ট লোকেরা পায়ের নিচে মূল খুঁজে পাবে ও তাদের উপরে ফল ধরবে।
ISA 37:32 কারণ জেরুশালেম থেকে আসবে এক অবশিষ্টাংশ, আর সিয়োন পর্বত থেকে আসবে বেঁচে থাকা লোকের একদল। সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্যোগই তা সুসম্পন্ন করবে।
ISA 37:33 “সেই কারণে, আসিরীয় রাজা সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সে এই নগরে প্রবেশ করবে না, কিংবা এখানে কোনো তির নিক্ষেপ করবে না। সে এই নগরের সামনে ঢাল নিয়ে আসবে না, কিংবা কোনো জাঙ্গাল নির্মাণ করবে না।
ISA 37:34 যে পথ দিয়ে সে আসবে, সে পথেই যাবে ফিরে; সে এই নগরে প্রবেশ করবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 37:35 “আমি আমার জন্য ও আমার দাস দাউদের জন্য এই নগর রক্ষা করে তা উদ্ধার করব!”
ISA 37:36 পরে সদাপ্রভুর দূত আসিরীয়দের সৈন্যশিবিরে গিয়ে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার সৈন্য মেরে ফেলেছিলেন। পরদিন সকালে যখন লোকজন ঘুম থেকে উঠেছিল—দেখা গেল সর্বত্র শুধু মৃতদেহ ছড়িয়ে পড়ে আছে!
ISA 37:37 তাই আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব সৈন্যশিবির ভেঙে দিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েছিলেন। তিনি নীনবীতে ফিরে গিয়ে সেখানেই থেকে গেলেন।
ISA 37:38 একদিন, যখন তিনি তাঁর দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে পুজো করছিলেন, তাঁর দুই ছেলে অদ্রম্মেলক ও শরেৎসর তরোয়াল দিয়ে তাঁকে হত্যা করল, এবং আরারট দেশে পালিয়ে গেল। তাঁর ছেলে এসর-হদ্দোন রাজারূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ISA 38:1 সেই সময় হিষ্কিয় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তা মৃত্যুজনক হয়ে গেল। আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয় তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: তুমি বাড়ির সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করে রাখো, কারণ তুমি মরতে চলেছ; তুমি আর সেরে উঠবে না।”
ISA 38:2 হিষ্কিয় দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনা করলেন,
ISA 38:3 “হে সদাপ্রভু, স্মরণ করো, আমি কীভাবে তোমার সামনে বিশ্বস্ততায় ও সম্পূর্ণ হৃদয়ে ভক্তি প্রকাশ করেছি। তোমার দৃষ্টিতে যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি তাই করেছি।” এই বলে হিষ্কিয় অত্যন্ত রোদন করতে লাগলেন।
ISA 38:4 তখন সদাপ্রভুর বাণী যিশাইয়ের কাছে উপস্থিত হল:
ISA 38:5 “তুমি ফিরে গিয়ে হিষ্কিয়কে এই কথা বলো, ‘সদাপ্রভু, তোমার পিতৃপুরুষ দাউদের ঈশ্বর এই কথা বলেন, আমি তোমার প্রার্থনা শ্রবণ করেছি ও তোমার অশ্রু দেখেছি; আমি তোমার জীবনের আয়ুর সঙ্গে আরও পনেরো বছর যোগ করব।
ISA 38:6 এছাড়াও আমি তোমাকে ও এই নগরটিকে আসিরীয় রাজার হাত থেকে উদ্ধার করব। আমি এই নগরকে রক্ষা করব।
ISA 38:7 “ ‘সদাপ্রভু যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূর্ণ করার জন্য এই হবে সদাপ্রভুর চিহ্নস্বরূপ:
ISA 38:8 আহসের সিড়িতে সূর্যের ছায়া যতটা নেমে গিয়েছে, আমি তার থেকে দশ ধাপ সেই ছায়া পিছনে ফিরিয়ে দেব।’ ” তাই সূর্যের আলো যতটা নেমেছিল, তার থেকে দশ ধাপ পিছিয়ে গেল।
ISA 38:9 যিহূদার রাজা হিষ্কিয় তাঁর অসুস্থতা ও রোগনিরাময়ের পরে যা লিখেছিলেন, তা হল এই:
ISA 38:10 আমি বললাম, “আমার জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়ে আমাকে কি অবশ্যই মৃত্যুর দুয়ারগুলির মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং আমার আয়ুষ্কালের অবশিষ্ট সময় থেকে বঞ্চিত হতে হবে?”
ISA 38:11 আমি বললাম, “আমি সদাপ্রভুকে আর দেখতে পাব না, জীবিতদের দেশে সদাপ্রভুকে দেখতে পাব না; আমি আর মানবকুলকে দেখতে পাব না, কিংবা যারা এই জগতে বসবাস করে, তাদের সঙ্গে থাকব না।
ISA 38:12 আমার কাছ থেকে আমার আবাস মেষশাবকের তাঁবুর মতো তুলে নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁতির মতো আমি আমার জীবন গুটিয়ে ফেলেছি এবং তিনি তাঁত থেকে আমাকে ছিন্ন করেছেন; দিনে ও রাতে তুমি আমার জীবন শেষ করেছ।
ISA 38:13 আমি প্রভাত পর্যন্ত ধৈর্যসহ অপেক্ষা করেছি, কিন্তু সিংহের মতোই তিনি আমার হাড়গুলি চূর্ণ করেছেন; দিনে ও রাতে তুমি আমার জীবন শেষ করেছ।
ISA 38:14 আমি ফিঙে বা সারসের মতো চিঁ চিঁ শব্দ করেছি, আমি বিলাপকারী ঘুঘুর মতোই বিলাপ করেছি। আকাশমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হল। আমি উপদ্রুত হয়েছি; ও প্রভু, তুমি আমার সাহায্যের জন্য এসো!”
ISA 38:15 কিন্তু আমার কী বলার আছে? তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি স্বয়ং এ কাজ করেছেন। আমার প্রাণের এই নিদারুণ যন্ত্রণার জন্য আমার সমস্ত জীবনকাল আমি নতনম্র হয়ে চলব।
ISA 38:16 প্রভু, এই সমস্ত বিষয়ের জন্যই মানুষ বাঁচে; আবার আমার আত্মাও সেগুলির মধ্যে জীবন খুঁজে পায়। তুমি আমার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দিয়েছ এবং আমাকে বাঁচতে দিয়েছ।
ISA 38:17 নিশ্চিতরূপে এ ছিল আমার উপকারের জন্য যে আমি এ ধরনের মর্মযন্ত্রণা ভোগ করেছি। ধ্বংসের গহ্বর থেকে তুমি তোমার ভালোবাসায় আমাকে রক্ষা করেছ; আমার সমস্ত পাপ নিয়ে তুমি তোমার পিছন দিকে ফেলে দিয়েছ।
ISA 38:18 কারণ কবর তোমার প্রশংসা করতে পারে না, মৃত্যু করতে পারে না তোমার স্তব; যারা সেই গহ্বরে নেমে যায়, তারা তোমার বিশ্বস্ততার প্রত্যাশা করতে পারে না।
ISA 38:19 জীবন্ত, কেবলমাত্র জীবন্ত লোকেরাই তোমার প্রশংসা করবে, যেমন আজ আমি তোমার প্রশংসা করছি; বাবারা তাদের সন্তানদের তোমার বিশ্বস্ততার কথা বলেন।
ISA 38:20 সদাপ্রভু আমাকে রক্ষা করবেন, আমরা জীবনের সমস্ত দিন সদাপ্রভুর মন্দিরে তারের বাদ্যযন্ত্রে গান গাইব।
ISA 38:21 যিশাইয় বলেছিলেন, “ডুমুরফল ছেঁচে একটি প্রলেপ তৈরি করে সেই ফোঁড়ার উপরে লাগাতে, তাহলে তিনি আরোগ্য লাভ করবেন।”
ISA 38:22 হিষ্কিয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমি যে সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে যাব, তার চিহ্ন কী?”
ISA 39:1 ওই সময়ে বলদনের পুত্র, ব্যাবিলনের রাজা মরোদক-বলদন হিষ্কিয়ের কাছে পত্র ও উপহার পাঠালেন, কারণ তিনি হিষ্কিয়ের অসুস্থতা ও আরোগ্যলাভের কথা শুনেছিলেন।
ISA 39:2 হিষ্কিয় আনন্দের সঙ্গে ওইসব প্রতিনিধিকে গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর ভাণ্ডারগৃহের সবকিছুই তাদের দেখালেন—রুপো, সোনা, সুগন্ধি মশলা, বহুমূল্য তেল, তাঁর সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র ও তাঁর ধনসম্পদের সমস্ত কিছু তাদের দেখালেন। তাঁর রাজপ্রাসাদে বা তাঁর সমস্ত রাজ্যের মধ্যে এমন কিছুই ছিল না, যা হিষ্কিয় তাদের দেখাননি।
ISA 39:3 তখন ভাববাদী যিশাইয় রাজা হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন ও তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ওই লোকেরা কী বলল এবং ওরা কোথা থেকে এসেছিল?” হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “বহু দূরের এক দেশ থেকে। ওরা ব্যাবিলন থেকে আমার কাছে এসেছিল।”
ISA 39:4 ভাববাদী জিজ্ঞাসা করলেন, “ওরা আপনার প্রাসাদে কী কী দেখল?” হিষ্কিয় বললেন, “ওরা আমার প্রাসাদের সবকিছুই দেখেছে। আমার ঐশ্বর্যভাণ্ডারে এমন কিছুই নেই, যা আমি ওদের দেখাইনি।”
ISA 39:5 তখন যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন, “আপনি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণ করুন:
ISA 39:6 সেই সময় অবশ্যই উপস্থিত হবে, যখন আপনার প্রাসাদে যা কিছু আছে এবং আপনার পিতৃপুরুষেরা এ পর্যন্ত যা কিছু সঞ্চয় করেছেন, সে সমস্তই ব্যাবিলনে বহন করে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, বলেন সদাপ্রভু।
ISA 39:7 আর আপনার কিছু সংখ্যক বংশধর, যারা আপনারই রক্তমাংস, যাদের আপনি জন্ম দেবেন, তাদেরও সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদে নপুংসক হয়ে সেবা করবে।”
ISA 39:8 হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভুর যে বাক্য আপনি বললেন, তা ভালোই।” কারণ তিনি ভাবলেন, তাঁর নিজের জীবনকালে তো শান্তি আর নিরাপত্তা থাকবে!
ISA 40:1 সান্ত্বনা দাও, আমার প্রজাদের সান্ত্বনা দাও তোমাদের ঈশ্বর বলছেন।
ISA 40:2 কোমলভাবে জেরুশালেমের সঙ্গে কথা বলো ও তার কাছে ঘোষণা করো যে, তার কঠোর পরিশ্রমের সময় সম্পূর্ণ হয়েছে, আর তার পাপের মূল্য চোকানো হয়েছে, কারণ সে সদাপ্রভুর হাত থেকে তার সমস্ত পাপের দ্বিগুণ শাস্তি পেয়েছে।
ISA 40:3 একজনের কণ্ঠস্বর ঘোষণা করছে: তোমরা মরুভূমিতে সদাপ্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করো; তোমরা মরুপ্রান্তরে আমাদের ঈশ্বরের জন্য রাজপথগুলি সরল করো।
ISA 40:4 প্রত্যেক উপত্যকাকে উপরে তোলা হবে, প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বতকে নিচু করা হবে; এবড়োখেবড়ো জমিকে সমান করা হবে, অমসৃণ স্থানগুলি সমতল হবে।
ISA 40:5 তখন সদাপ্রভুর মহিমা প্রকাশিত হবে, সমস্ত মানবকুল একসঙ্গে তা প্রত্যক্ষ করবে। কারণ সদাপ্রভুর মুখ একথা বলেছেন।
ISA 40:6 একজনের কণ্ঠস্বর বলছে, “ঘোষণা করো।” আমি বললাম, “আমি কী ঘোষণা করব?” “সব মানুষই ঘাসের মতো আর তাদের সমস্ত বিশ্বস্ততা মাঠের ফুলের মতো।
ISA 40:7 ঘাস শুকিয়ে যায় আর ফুল ঝরে পড়ে, কারণ সদাপ্রভুর নিশ্বাস তাদের উপরে বয়ে যায়। সত্যিই সব মানুষ ঘাসের মতো।
ISA 40:8 ঘাস শুকিয়ে যায় ও ফুলগুলি ঝরে পড়ে, কিন্তু আমাদের ঈশ্বরের বাক্য থাকে চিরকাল।”
ISA 40:9 যারা সিয়োনের কাছে সুসংবাদ বয়ে আনো, তোমরা উঁচু পাহাড়ে উঠে যাও। যারা জেরুশালেমের কাছে সুসংবাদ বয়ে আনো, তোমরা জোর গলায় চিৎকার করো, কণ্ঠস্বর উচ্চে তোলো, ভয় পেয়ো না; যিহূদার নগরগুলিকে বলো, “তোমাদের ঈশ্বর এখানে!”
ISA 40:10 দেখো, সার্বভৌম সদাপ্রভু পরাক্রমের সঙ্গে আসছেন, তাঁর বাহু তাঁর হয়ে শাসন করে। দেখো, তাঁর দেয় পুরস্কার তাঁর কাছে আছে, তাঁর দেয় প্রতিদান তাঁর সঙ্গেই থাকে।
ISA 40:11 মেষপালকের মতোই তিনি তাঁর পালকে চরান: মেষশাবকদের তিনি তাঁর কোলে একত্র করেন ও তাঁর বুকের কাছে তিনি তাদের বহন করেন; যাদের ছোটো বাচ্চা আছে, তাদের তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যান।
ISA 40:12 কে তার করতলে সমুদ্রের জলরাশি পরিমাপ করেছে, কিংবা তার বিঘত দিয়ে আকাশমণ্ডল নিরূপণ করেছে? কে বালতিতে ধারণ করেছে পৃথিবীর সব ধুলো, কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করেছে পর্বতসকল এবং তরাজুতে যত পাহাড়?
ISA 40:13 সদাপ্রভুর মন কে বুঝতে পেরেছে, কিংবা মন্ত্রণাদাতা হয়ে তাঁকে পরামর্শ দিয়েছে?
ISA 40:14 উপদেশ গ্রহণের জন্য তিনি কার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন এবং কে তাঁকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছে? কে তাঁকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে কিংবা দেখিয়েছে বিচারবুদ্ধির পথ?
ISA 40:15 জাতিগুলি নিশ্চয়ই কলসের এক ফোঁটা জলের মতো; তাদের মনে করা হয় দাঁড়িপাল্লায় লাগা ধূলিকণার মতোই; তিনি সূক্ষ্ম ধূলিকণার মতোই ওজন করেন সব দ্বীপ।
ISA 40:16 বেদির আগুনের জন্য লেবাননের সব কাঠ, কিংবা হোমবলির জন্য তার পশুসকল পর্যাপ্ত নয়।
ISA 40:17 তাঁর সামনে সব জাতি কোনো কিছুর মধ্যেই গণ্য নয়; তিনি তাদের নিকৃষ্ট এবং সবকিছু থেকে অসার মনে করেন।
ISA 40:18 তাহলে, তোমরা কার সঙ্গে ঈশ্বরের তুলনা করবে? কোন মূর্তির সঙ্গে তাঁর তুলনা দেবে?
ISA 40:19 কোনো মূর্তির তৈরির সময়, শিল্পকর তা ছাঁচে ঢালে, স্বর্ণকার তার উপরে সোনার প্রলেপ দেয় এবং রুপোর শৃঙ্খল দিয়ে তাকে সুশোভিত করে।
ISA 40:20 যে মানুষ ভীষণ দরিদ্র ও এরকম উপহার দিতে পারে না, সে এমন কাঠ বেছে নেয়, যা সহজে পচে যায় না; সে, টলবে না এমন এক প্রতিমার জন্য, এক কুশলী শিল্পকারের অন্বেষণ করে।
ISA 40:21 তোমরা কি একথা জানো না? তোমরা কি তা কখনও শোনোনি? প্রথম থেকেই কি একথা তোমাদের বলা হয়নি? পৃথিবীর গোড়াপত্তন থেকে তোমরা কি তা বুঝতে পারোনি?
ISA 40:22 তিনি পৃথিবীর সীমাচক্রের উপরে উপবেশন করেন, এর অধিবাসীরা সকলে ফড়িংয়ের মতো। তিনি চন্দ্রাতপের মতো আকাশমণ্ডলকে প্রসারিত করেন, বসবাসের জন্য সেগুলিকে তাঁবুর মতো খাটিয়ে দেন।
ISA 40:23 তিনি রাজন্যবর্গকে বিলুপ্ত করেন এবং জগতের শাসকদের শূন্য করেন।
ISA 40:24 তাদের রোপণ করা মাত্র এবং যেই তাদের বপন করা হয়, যে মুহূর্তে তারা মাটিতে মূল বিস্তার করে, তিনি তাদের উপরে ফুঁ দেন ও তারা শুকিয়ে যায়, ঘূর্ণিঝড় তুষের মতোই তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়।
ISA 40:25 “তোমরা কার সঙ্গে আমার তুলনা করবে? কিংবা, আমার সমতুল্য কে?” বলেন সেই পবিত্রতম জন।
ISA 40:26 তোমরা চোখ তুলে আকাশমণ্ডলের দিকে তাকাও: এগুলি কে সৃষ্টি করেছে? তিনি তারকারাজিকে এক এক করে বের করে আনেন এবং তাদের প্রত্যেকটির নাম ধরে ডাকেন। তাঁর মহাপরাক্রম ও প্রবল শক্তির কারণে তাদের একটিও হারিয়ে যায় না।
ISA 40:27 ওহে যাকোব, তুমি কেন অভিযোগ করো? ওহে ইস্রায়েল, তুমি কেন বলো, “আমার পথ সদাপ্রভুর কাছ থেকে গুপ্ত; আমার অধিকার আমার ঈশ্বরের কাছে অবজ্ঞার বিষয়?”
ISA 40:28 তুমি কি জানো না? তুমি কি কখনও শোনোনি? সদাপ্রভুই সনাতন ঈশ্বর, তিনি পৃথিবীর প্রান্তসীমার সৃষ্টিকর্তা। তিনি শ্রান্ত হবেন না, ক্লান্ত হবেন না, তাঁর বুদ্ধির গভীরতা কেউ পরিমাপ করতে পারে না।
ISA 40:29 তিনি ক্লান্ত ব্যক্তিকে শক্তি দেন, দুর্বলের শক্তিবৃদ্ধি করেন।
ISA 40:30 এমনকি, যুবকেরাও শ্রান্ত ও ক্লান্ত হয়, তরুণেরা হোঁচট খেয়ে পতিত হয়;
ISA 40:31 কিন্তু যারা সদাপ্রভুতে প্রত্যাশা রাখে, তারা তাদের শক্তি নবায়িত করবে। তারা ঈগল পাখির মতোই ডানা মেলবে, তারা দৌড়াবে, কিন্তু ক্লান্ত হবে না, তারা চলাফেরা করবে, কিন্তু মূর্ছিত হবে না।
ISA 41:1 “দ্বীপনিবাসী তোমরা, আমার সামনে নীরব হও! জাতিসমূহ তাদের শক্তি নবায়িত করুক! তারা সামনে এগিয়ে এসে কথা বলুক; এসো, আমরা বিচারের স্থানে পরস্পর মিলিত হই।
ISA 41:2 “পূর্বদিক থেকে একজনকে কে উত্তেজিত করেছে, যাকে তাঁর সেবার জন্য ন্যায়সংগতভাবে আহ্বান করা হয়েছে? তিনি জাতিসমূহকে তাঁর হাতে সমর্পণ করেন এবং রাজাদের তাঁর সামনে অবনত করেন। তাঁর তরোয়ালের দ্বারা তিনি তাদের ধুলায় মেশান, তাঁর ধনুকের দ্বারা উড়ে যাওয়া তুষের মতো করেন।
ISA 41:3 তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে অক্ষত গমন করেন, এমন এক পথে, যেখানে তাঁর চরণ পূর্বে গমন করেনি।
ISA 41:4 কে এই কাজ করেছেন এবং তা করে গিয়েছেন, প্রথম থেকেই প্রজন্ম পরম্পরাকে কে আহ্বান করেছেন? এ আমি, সেই সদাপ্রভু, প্রথম ও শেষ, কেবলমাত্র আমিই তিনি।”
ISA 41:5 দ্বীপসমূহ তা দেখেছে এবং ভয় পায়; পৃথিবীর প্রান্তসীমাসকল ভয়ে কম্পিত হয়। তারা সম্মুখীন হয় ও এগিয়ে আসে;
ISA 41:6 একে অপরকে সাহায্য করে এবং তার প্রতিবেশীকে বলে, “বলবান হও!”
ISA 41:7 শিল্পকর স্বর্ণকারকে উৎসাহ দেয়, আর যে হাতুড়ি দিয়ে সমান করে, সে নেহাইয়ের উপরে যন্ত্রণাকারীকে উদ্দীপিত করে। সে জোড় দেওয়া ধাতুর বিষয়ে বলে, “ভালো হয়েছে।” সে প্রতিমায় পেরেক ঠোকে, যেন তা নড়ে না যায়।
ISA 41:8 “কিন্তু তুমি, আমার দাস ইস্রায়েল, তুমি যাকোব, যাকে আমি মনোনীত করেছি, তুমি আমার বন্ধু অব্রাহামের বংশ,
ISA 41:9 আমি তোমাকে পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে এনেছি, তার সুদূরতম প্রান্ত থেকে আমি তোমাকে আহ্বান করেছি। আমি বলেছি, ‘তুমি আমার দাস’; আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অগ্রাহ্য করিনি।
ISA 41:10 তাই ভয় কোরো না, কারণ আমি তোমার সঙ্গে আছি; হতাশ হোয়ো না, কারণ আমি তোমার ঈশ্বর। আমি তোমাকে শক্তি দেব ও তোমাকে সাহায্য করব; আমার ধর্মময় ডান হাত দিয়ে তোমাকে ধরে রাখব।
ISA 41:11 “যারা তোমার বিরুদ্ধে রেগে ওঠে, তারা অবশ্যই লজ্জিত ও অপমানিত হবে; যারা তোমার বিরোধিতা করে, তারা অসার প্রতিপন্ন হয়ে ধ্বংস হবে।
ISA 41:12 তুমি যদিও তোমার শত্রুদের খুঁজবে, তুমি তাদের সন্ধান পাবে না। যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তাদের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ISA 41:13 কারণ আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যিনি ধারণ করেন তোমার ডান হাত এবং তোমাকে বলেন, ভয় কোরো না; আমি তোমাকে সাহায্য করব।
ISA 41:14 ওহে কীটসদৃশ যাকোব, ওহে নগণ্য ইস্রায়েল, তোমরা ভয় কোরো না, কারণ আমি স্বয়ং তোমাকে সাহায্য করব,” যিনি তোমাদের মুক্তিদাতা, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
ISA 41:15 “দেখো, আমি তোমাকে এক শস্য মাড়াই কল বানাব, নতুন এবং ধারালো, যার মধ্যে অনেক দাঁত থাকবে। তুমি পর্বতসমূহকে মাড়াই করে সেগুলি চূর্ণ করবে এবং পাহাড়গুলিকে তুষের মতো করবে।
ISA 41:16 তুমি তাদের ঝাড়াই করে তাদের তুলে নেবে আর এক ঘূর্ণিবায়ু তাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তুমি কিন্তু সদাপ্রভুতে উল্লসিত হবে, ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের উপরে মহিমা করবে।
ISA 41:17 “দরিদ্র ও নিঃস্ব লোকেরা জলের অন্বেষণ করে, কিন্তু কোনো জল পাওয়া যায় না; তাদের জিভ পিপাসায় শুকিয়ে গেছে। কিন্তু আমি সদাপ্রভু তাদের উত্তর দেব; আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তাদের পরিত্যাগ করব না।
ISA 41:18 আমি বৃক্ষহীন পর্বতশ্রেণীতে নদী প্রবাহিত করব, উপত্যকাগুলিতে উৎপন্ন করব জলের ফোয়ারা। মরুভূমিকে আমি পরিণত করব জলাশয়ে, শুষ্ক-ভূমিতে আমি বইয়ে দেব ঝর্ণাধারা।
ISA 41:19 আমি মরুভূমিতে স্থাপন করব সিডার ও বাবলা, মেদি গাছ ও জলপাই গাছ। পরিত্যক্ত স্থানে আমি রোপণ করব দেবদারু, একইসঙ্গে ঝাউ ও চিরহরিৎ সব বৃক্ষ,
ISA 41:20 যেন লোকেরা দেখে ও জানতে পায়, বিবেচনা করে ও বুঝতে পারে, যে সদাপ্রভুরই হাত এসব করেছে, ইস্রায়েলের পবিত্রতম জন এ সকল সৃষ্টি করেছেন।
ISA 41:21 “সদাপ্রভু বলেন, তোমাদের মামলা উপস্থাপিত করো,” যাকোবের রাজা বলেন, “তোমাদের তর্কবিতর্কসকল উত্থাপন করো।
ISA 41:22 কী সব ঘটবে, তা আমাদের কাছে বলার জন্য তোমাদের প্রতিমাগুলিকে নিয়ে এসো। আমাদের বলো, পূর্বের বিষয়গুলি সব কী কী, যেন আমরা সেগুলি বিবেচনা করি ও তাদের শেষ পরিণতি জানতে পারি। অথবা, ভাবী ঘটনাসমূহ আমাদের কাছে ঘোষণা করো,
ISA 41:23 আমাদের বলো, ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে, যেন আমরা বুঝতে পারি যে তোমরাই দেবতা। ভালো হোক বা মন্দ, তোমরা কিছু করে দেখাও, যেন আমরা অবাক হয়ে ভীত হই।
ISA 41:24 দেখো তোমরা কিছুরই মধ্যে গণ্য নও, তোমাদের সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ মূল্যহীন; যে তোমাদের মনোনীত করে সে ঘৃণ্য।
ISA 41:25 “আমি উত্তর দিক থেকে একজনকে উত্তেজিত করেছি, আর সে আসছে, সূর্যোদয়ের দিক থেকে সে আমার নামে আহ্বান করে। চুনসুরকির মতো, অথবা মাটির তাল নিয়ে কুমোরের মতো, সে যত শাসককে দলাইমলাই করে।
ISA 41:26 পূর্ব থেকে কে একথা বলেছে, যেন আমরা জানতে পারি, অথবা আগেভাগে বলেছে যেন আমরা বলতে পারি, ‘তার কথা সঠিক ছিল?’ এ সম্পর্কে কেউই কিছু বলেনি, কেউই এ বিষয়ের পূর্বঘোষণা করেনি, তোমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো কথা শোনেনি।
ISA 41:27 আমিই সর্বপ্রথম সিয়োনকে বলেছি, ‘এই দেখো, ওরা এখানে!’ আমি জেরুশালেমকে সুসংবাদের এক দূত দিয়েছি।
ISA 41:28 আমি তাকালাম, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না, পরামর্শ দেওয়ার জন্য ঈশ্বরদের মধ্যে কেউ ছিল না, আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কেউ ছিল না।
ISA 41:29 দেখো, ওরা সকলে ভ্রান্ত! ওদের কাজগুলি সমস্তই অসার; ওদের মূর্তিগুলি যেন বাতাস ও বিভ্রান্তিস্বরূপ।
ISA 42:1 “এই আমার দাস, যাঁকে আমি ধরে রাখি, আমার মনোনীত জন, যাঁর কারণে আমি আনন্দ পাই; আমি তাঁর উপরে আমার আত্মা স্থাপন করব, তিনি জাতিসমূহের জন্য ন্যায়বিচার নিয়ে আসবেন।
ISA 42:2 তিনি চিৎকার বা উচ্চশব্দ করবেন না, কিংবা পথে পথে নিজের কণ্ঠস্বর শোনাবেন না।
ISA 42:3 তিনি দলিত নলখাগড়া ভেঙে ফেলবেন না, এবং ধূমায়িত সলতে নির্বাপিত করবেন না। বিশ্বস্ততায় তিনি ন্যায়বিচার আনয়ন করবেন;
ISA 42:4 তিনি মনোবল হারাবেন না বা হতাশ হবেন না, যতক্ষণ না পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করেন। দ্বীপপুঞ্জ তাঁর বিধিবিধানে আস্থা রাখবে।”
ISA 42:5 সদাপ্রভু ঈশ্বর এই কথা বলেন, সেই সদাপ্রভু, যিনি আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করে তা প্রসারিত করেছেন, যিনি পৃথিবী ও তার অভ্যন্তরস্থ সবকিছুই বিছিয়ে দিয়েছেন, যিনি তাঁর লোকেদের মধ্যে শ্বাসবায়ু সঞ্চার করেন ও তার মধ্যে জীবনযাপনকারী সকলকে জীবন দেন:
ISA 42:6 “আমি সদাপ্রভু ধার্মিকতায় তোমাকে আহ্বান করেছি; আমি তোমার হাত ধরে থাকব। আমি তোমাকে রক্ষা করব এবং তোমাকে প্রজাদের জন্য এক চুক্তি এবং অইহুদি জাতিদের জন্য এক জ্যোতিস্বরূপ করব,
ISA 42:7 যেন অন্ধদের দৃষ্টি উন্মোচন করা হয়, কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্ত করা হয় এবং যারা কারাকূপের অন্ধকারে বসে থাকে, তাদের মুক্ত করা হয়।
ISA 42:8 “আমি সদাপ্রভু; এই আমার নাম! আমার মহিমা আমি অন্য কাউকে দেব না, বা আমার প্রশংসা ক্ষোদিত প্রতিমাদের দেব না।
ISA 42:9 দেখো, পূর্বের বিষয়গুলি পূর্ণ হয়েছে এবং নতুন সব বিষয় আমি ঘোষণা করছি; সেগুলি ঘটবার পূর্বেই আমি সেগুলি তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি।”
ISA 42:10 সমুদ্রযাত্রী ও সমুদ্রের অভ্যন্তরস্থ সবকিছু, দ্বীপপুঞ্জ ও সেগুলির মধ্যে বসবাসকারী সকলে, তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এক নতুন গীত গাও, পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে তাঁর প্রশংসা ধ্বনিত হোক।
ISA 42:11 মরুভূমি ও তার নগরগুলি তাদের কণ্ঠস্বর তুলুক, কেদরের উপনিবেশগুলিতে বসবাসকারী লোকেরা উল্লসিত হোক। সেলা-র লোকেরা আনন্দে গান করুক; পর্বতশিখরগুলি থেকে তারা চিৎকার করুক।
ISA 42:12 তারা সদাপ্রভুকে মহিমা প্রদান করুক, দ্বীপগুলিতে তাঁর প্রশংসা ঘোষণা করুক।
ISA 42:13 পরাক্রান্ত বীরের মতো সদাপ্রভু অভিযান করবেন, যোদ্ধার মতোই তাঁর উদ্যম আলোড়িত হবে; রণনাদে তিনি মহা চিৎকার করবেন এবং তাঁর সব শত্রুর উপরে তিনি বিজয়ী হবেন।
ISA 42:14 “দীর্ঘ সময় ধরে আমি নিশ্চুপ আছি, আমি শান্ত থেকে নিজেকে দমন করেছি। কিন্তু এখন, প্রসববেদনাতুরা স্ত্রীর মতো, আমি চিৎকার করছি, হাঁপাচ্ছি ও দীর্ঘশ্বাস ফেলছি।
ISA 42:15 আমি পাহাড় ও পর্বতগুলিকে বৃক্ষহীন করব এবং তাদের সব গাছপালাকে শুকিয়ে ফেলব; আমি নদীগুলিকে দ্বীপপুঞ্জে পরিণত করব ও পুকুরগুলিকে শুকিয়ে ফেলব।
ISA 42:16 আমি অন্ধদের, তাদের অজানা পথে চালাব, অপরিচিত পথগুলিতে আমি তাদের পরিচালিত করব; আমি তাদের সামনে অন্ধকারকে আলোয় পরিণত ও অসমতল স্থানকে মসৃণ করে দেব। আমি এসব কাজ করব; আমি তাদের পরিত্যাগ করব না।
ISA 42:17 কিন্তু যারা প্রতিমাদের উপরে নির্ভর করে, যারা প্রতিমাদের কাছে বলে, ‘তোমরা আমাদের দেবতা,’ চরম লজ্জায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ISA 42:18 “ওহে বধির সব, তোমরা শোনো; ওহে যারা অন্ধ, তোমরা দেখতে থাকো!
ISA 42:19 আমার দাস ছাড়া আর অন্ধ কে? আমার প্রেরিত দূত ছাড়া আর বধির কে? যে আমার প্রতি সমর্পিত, তার থেকে আর অন্ধ কে? সদাপ্রভুর দাসের মতো অন্ধ আর কে আছে?
ISA 42:20 তুমি অনেক কিছু দেখে থাকলেও কোনো মনোযোগ করোনি; তোমার কান তো খোলা, কিন্তু তুমি কিছুই শুনতে পাও না।”
ISA 42:21 সদাপ্রভু প্রীত হলেন, তাঁর ধার্মিকতার গুণে তাঁর বিধানকে মহৎ ও গৌরবান্বিত করতে।
ISA 42:22 কিন্তু এই জাতির লোকেদের লুণ্ঠন করে সবকিছু নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা সকলেই গর্তের ফাঁদে পড়েছে অথবা তাদের কারাগারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তারাই লুণ্ঠনের বস্তু হয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী কেউই ছিল না; তাদের লুণ্ঠনের বস্তু করা হয়েছে, কেউ বলে না, “ওদের ফেরত পাঠাও।”
ISA 42:23 তোমাদের মধ্যে কে একথা শুনবে? মনোযোগ দিয়ে কে ভবিষ্যতের জন্য শুনে রাখবে?
ISA 42:24 কে যাকোবকে লুণ্ঠনের বিষয় হওয়ার জন্য সমর্পণ করেছেন এবং ইস্রায়েলকে লুণ্ঠনকারীদের হাতে সমর্পণ করেছেন? তিনি কি সদাপ্রভু নন, যাঁর বিরুদ্ধে আমরা পাপ করেছি? কারণ তারা তাঁর পথসকলে চলতে চায়নি, তারা তাঁর বিধান মান্য করেনি।
ISA 42:25 তাই তিনি তাঁর প্রজ্বলিত ক্রোধ, যুদ্ধের হিংস্রতা তাদের উপরে ঢেলে দিয়েছেন। তা তাদের আগুনের শিখায় আবৃত করল, তবুও তারা বুঝতে পারল না; তা তাদের গ্রাস করল, তবুও তারা শিক্ষা নিল না।
ISA 43:1 কিন্তু এখন, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ওহে যাকোব, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, ওহে ইস্রায়েল, যিনি তোমাকে গঠন করেছেন, “তুমি ভয় পেয়ো না, কারণ আমি তোমাকে মুক্ত করেছি; আমি নাম ধরে তোমাকে ডেকেছি; তুমি আমার।
ISA 43:2 তুমি যখন জলরাশির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে, আমি তোমার সঙ্গে থাকব; তুমি যখন নদনদীর মধ্য দিয়ে যাবে, সেগুলি তোমাকে মগ্ন করতে পারবে না। যখন তুমি আগুনের মধ্য দিয়ে যাবে, তুমি দগ্ধ হবে না; সেই আগুনের শিখা তোমাকে পুড়িয়ে ফেলবে না।
ISA 43:3 কারণ আমি সদাপ্রভু, তোমার ঈশ্বর, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, তোমার পরিত্রাতা; তোমার মুক্তিমূল্যরূপে আমি মিশরকে, তোমার পরিবর্তে আমি কূশ ও সবাকে দিয়েছি।
ISA 43:4 তুমি যেহেতু আমার দৃষ্টিতে বহুমূল্য ও মর্যাদার পাত্র, আর আমি যেহেতু তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমার পরিবর্তে অপর মানুষজনকে দেব, তোমার জীবনের পরিবর্তে বিভিন্ন জাতিকে দেব।
ISA 43:5 তুমি ভয় পেয়ো না, কারণ আমি তোমার সঙ্গে আছি; আমি পূর্বদিক থেকে তোমার সন্তানদের নিয়ে আসব এবং পশ্চিমদিক থেকে তোমাকে সংগ্রহ করব।
ISA 43:6 আমি উত্তর দিককে বলব, ‘ওদের ছেড়ে দাও!’ দক্ষিণ দিককে বলব, ওদের আটকে রেখো না। দূর থেকে আমার পুত্রদের এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে আমার কন্যাদের নিয়ে এসো,
ISA 43:7 যারা আমার নামে আখ্যাত, যাদের আমি আমার গৌরবের জন্য সৃষ্টি করেছি, যাদের আমি গঠন করে তৈরি করেছি, তাদের নিয়ে এসো।”
ISA 43:8 তাদের বের করে আনো, যারা চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির।
ISA 43:9 সব দেশ এক জায়গায় সমবেত হও এবং জাতিসমূহ জড়ো হও এক স্থানে। তাদের মধ্যে কে পূর্ব থেকে একথা বলেছিল এবং পূর্বেকার বিষয়গুলি আমাদের কাছে ঘোষণা করেছিল? নিজেদের সঠিক প্রমাণ করার জন্য তারা সাক্ষীদের নিয়ে আসুক, যেন অন্যেরা তা শুনে বলতে পারে, “একথা সত্যি।”
ISA 43:10 সদাপ্রভু বলেন, “তোমরা আমার সাক্ষী এবং আমার দাস, যাদের আমি মনোনীত করেছি, যেন তোমরা আমাকে জানতে ও বিশ্বাস করতে পারো ও বুঝতে পারো যে, আমিই তিনি। আমার পূর্বে কোনো দেবতা গঠিত হয়নি, আমার পরেও কেউ আর হবে না।
ISA 43:11 আমি, হ্যাঁ আমিই সদাপ্রভু, আমি ছাড়া আর কোনো পরিত্রাতা নেই।
ISA 43:12 আমিই প্রকাশ করেছি, উদ্ধার করেছি ও ঘোষণা করেছি— হ্যাঁ, আমিই করেছি, তোমাদের মধ্যে স্থিত কোনো বিজাতীয় দেবতা নয়।” সদাপ্রভু বলেন, “তোমরাই আমার সাক্ষী, যে আমি ঈশ্বর।
ISA 43:13 হ্যাঁ তাই, পুরাকাল থেকে আমিই তিনি। আমার হাত থেকে কেউ নিস্তার করতে পারে না। যখন আমি সক্রিয় হই, তখন কে তা অন্যথা করবে?”
ISA 43:14 সদাপ্রভু, যিনি তোমার মুক্তিদাতা, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন এই কথা বলেন: “তোমাদের জন্য আমি ব্যাবিলনে সৈন্যদল প্রেরণ করব এবং যে জাহাজগুলির জন্য ব্যাবিলনিয়েরা গর্ব করত, আমি সেগুলিতে সমস্ত ব্যাবিলনীয়কে পলাতক করব।
ISA 43:15 আমিই সদাপ্রভু, তোমাদের সেই পবিত্রজন, আমি ইস্রায়েলের সৃষ্টিকর্তা, তোমাদের রাজাধিরাজ।”
ISA 43:16 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যিনি সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে চলাচলের পথ ও মহাজলরাশির মধ্য দিয়ে অতিক্রমের পথ তৈরি করেছিলেন,
ISA 43:17 যিনি রথ ও অশ্ব, সৈন্যদল ও বীর যোদ্ধাদের একত্র বের করে এনেছিলেন, তারা সেখানেই পড়ে থাকল, আর কখনও না ওঠার জন্য, তারা সলতের মতো নিভে গেল, বিনষ্ট হল:
ISA 43:18 “তোমরা পুরোনো বিষয় সব ভুলে যাও; অতীতের মধ্যে আর বিচরণ কোরো না।
ISA 43:19 দেখো, আমি নতুন এক কাজ করতে চলেছি! তা এখনই শুরু হবে; তোমরা কি তা বুঝতে পারবে না? আমি মরুভূমির মধ্য দিয়ে পথ ও প্রান্তরের মধ্য দিয়ে নদনদী তৈরি করব।
ISA 43:20 বন্যপশুরা আমার গৌরব করবে, শিয়াল ও প্যাঁচারাও করবে, কারণ আমি মরুভূমিতে জল জোগাই ও প্রান্তরের মধ্যে নদনদী বইয়ে দিই, যেন আমার প্রজারা, আমার মনোনীত জনেরা জলপান করতে পারে,
ISA 43:21 যে প্রজাদের আমি নিজের জন্য গঠন করেছি, যেন তারা আমার প্রশংসা করে।
ISA 43:22 “তবুও, ওহে যাকোব, তুমি এখনও আমাকে ডাকোনি, ওহে ইস্রায়েল, আমাকে নিয়ে তুমি যেন ক্লান্ত হয়েছ।
ISA 43:23 হোমবলির জন্য তুমি আমার কাছে মেষ আনোনি, তোমার বলিদান সকলের দ্বারা আমার সম্মানও করোনি। আমি শস্য-নৈবেদ্যর জন্য তোমাকে ভারগ্রস্ত করিনি, আবার ধূপ উৎসর্গ দাবি করে তোমাকে বিব্রত করিনি।
ISA 43:24 তুমি আমার জন্য কোনো সুগন্ধি বচ কেনোনি, কিংবা তোমার বলি সকলের মেদে আমাকে পরিতৃপ্ত করোনি। বরং তোমাদের পাপসকলের কারণে আমাকে ভারগ্রস্ত করেছ এবং তোমাদের সব অপরাধের কারণে আমাকে ক্লান্ত করেছ।
ISA 43:25 “আমি, হ্যাঁ আমিই আমার নিজের স্বার্থে, তোমাদের অধর্ম সকল মুছে ফেলি, তোমাদের পাপসকল আর স্মরণে আনব না।
ISA 43:26 পূর্বের বিষয় সকল আমার জন্য পর্যালোচনা করো, এসো, আমরা সেই বিষয়ে পরস্পর তর্কবিতর্ক করি; তোমাদের নির্দোষিতার পক্ষে কারণ ব্যক্ত করো।
ISA 43:27 তোমাদের আদিপিতা পাপ করেছিল; তোমাদের মুখপাত্রেরা আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছিল।
ISA 43:28 তাই, তোমাদের মন্দিরের বিশিষ্টজনেদের আমি অপমান করব, আমি যাকোবকে ধ্বংসের জন্য ও ইস্রায়েলকে বিদ্রুপ করার জন্য সমর্পণ করব।
ISA 44:1 “কিন্তু এখন, ওহে আমার দাস যাকোব, আমার মনোনীত ইস্রায়েল, তোমরা শোনো।
ISA 44:2 যিনি তোমাকে নির্মাণ করেছেন, যিনি মায়ের গর্ভে তোমাকে গঠন করেছেন এবং যিনি তোমাকে সাহায্য করবেন, সেই সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ওহে আমার দাস যাকোব, আমার মনোনীত যিশুরূণ, তুমি ভয় কোরো না।
ISA 44:3 কারণ আমি তৃষিত ভূমিতে জল ঢেলে দেব, শুষ্ক মাটিতে বইয়ে দেব নদীর স্রোত; আমি তোমার বংশধরদের উপরে ঢেলে দেব আমার আত্মা, তোমার সন্তানদের উপরে ঢেলে দেব আমার আশীর্বাদ।
ISA 44:4 যেমন জলস্রোতের তীরে ঝাউ গাছ, তেমনই চারণভূমিতে তৃণের মতো তারা উৎপন্ন হবে।
ISA 44:5 কেউ একজন বলবে, ‘আমি সদাপ্রভুর’; অন্য একজন যাকোবের নামে নিজের পরিচয় দেবে; আরও একজন তার হাতে লিখবে, ‘সদাপ্রভুর,’ আর তারা ইস্রায়েল নামে পদবি গ্রহণ করবে।
ISA 44:6 “ইস্রায়েলের রাজা ও মুক্তিদাতা, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমিই প্রথম ও আমিই শেষ: আমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নেই।
ISA 44:7 তাহলে আমার মতো আর কে আছে? সে সেকথা ঘোষণা করুক। সে তা বলুক ও আমার সামনে উপস্থাপন করুক; আমার পুরাকালের লোকদের স্থাপন করার সময় কী ঘটেছিল, আর ভবিষ্যতেই বা কী ঘটবে, হ্যাঁ, সে আগাম বলুক, ভাবীকালে কী ঘটবে।
ISA 44:8 তোমরা ভয়ে কেঁপো না, ভয় কোরো না। একথা আমি কি ঘোষণা করিনি ও বহুপূর্বেই তা বলে দিইনি? তোমরাই আমার সাক্ষী। আমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর কি আছে? না, আর কোনো শৈল নেই; আমি তেমন কাউকে জানি না।”
ISA 44:9 যারা প্রতিমা নির্মাণ করে, তারা কিছুই নয়, তাদের নির্মিত মনোহর বস্তুগুলি কোনো উপকারে আসে না। যারা তাদের হয়ে কথা বলে, তারা অন্ধ; নিজেদেরই লজ্জা উদ্রেকের জন্য তারা অজ্ঞ প্রতিপন্ন হয়।
ISA 44:10 কে কোনো প্রতিমার আকার দেয় ও কোনো মূর্তি ছাঁচে ঢালে, যা তার কোনো উপকারে আসে না?
ISA 44:11 সে ও তার অনুগামী সকলে লজ্জিত হবে; শিল্পকরেরা মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সকলে এসে নিজের অবস্থান গ্রহণ করুক; তাদের সকলকে আতঙ্কগ্রস্ত ও নীচ প্রতিপন্ন করা হবে।
ISA 44:12 কামার একটি যন্ত্র গ্রহণ করে ও জ্বলন্ত কয়লায় তা নিয়ে কাজ করে; হাতুড়ি পিটিয়ে সে এক মূর্তি তৈরি করে, সে তার শক্তিশালী হাতে তার আকৃতি দেয়। সে ক্ষুধার্ত হয়ে তার শক্তি হারায়; জলপান না করে সে মূর্ছিত হয়।
ISA 44:13 ছুতোর একটি সুতো দিয়ে মাপে ও কম্পাস দিয়ে তার রূপরেখা তৈরি করে; ছেনি দিয়ে সে তা খোদাই করে ও কম্পাস দিয়ে তার আকার ঠিক করে। সে তাতে পুরুষের আকৃতি দেয়, যার মধ্যে থাকে মানুষের সব সৌন্দর্য, যেন তা কোনো দেবালয়ে স্থান পেতে পারে।
ISA 44:14 সে সিডার গাছ কেটে ফেলে, কিংবা বেছে নেয় কোনো সাইপ্রেস বা ওক গাছ। সে বনের গাছপালার সঙ্গে সেটিকে বাড়তে দেয়, কিংবা রোপণ করে পাইন গাছ, বৃষ্টি যাকে বাড়িয়ে তোলে।
ISA 44:15 পরে তা মানুষের জ্বালানি কাঠ হয়; তার একটি অংশ নিয়ে সে আগুন পোহায়, একটি অংশে আগুন জ্বালিয়ে রুটি সেঁকে। আবার তা দিয়ে সে এক দেবতাও নির্মাণ করে ও তার উপাসনা করে, একটি প্রতিমা নির্মাণ করে তার কাছে সে প্রণত হয়।
ISA 44:16 অর্ধেক কাঠ দিয়ে সে আগুন জ্বালায়, তার উত্তাপে সে রান্না খাবার করে, মাংস ঝলসে নিয়ে সে তা দিয়ে উদরপূর্তি করে। আবার সে আগুনের তাপ নেয় ও বলে, “আহা! আমি উষ্ণ হয়েছি, আগুনের তাপ নিচ্ছি।”
ISA 44:17 কাঠের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে সে এক দেবতা, তার আরাধ্য মূর্তি নির্মাণ করে; সে তার কাছে প্রণত হয়ে উপাসনা করে। সে তার কাছে প্রার্থনা করে ও বলে, “আমাকে রক্ষা করো; তুমি আমার দেবতা!”
ISA 44:18 তারা কিছু জানে না, কিছু বোঝে না; তাদের চোখে প্রলেপ থাকে, তাই তারা দেখতে পায় না, তাদের মন থাকে অবরুদ্ধ, তাই তারা বুঝতে পারে না।
ISA 44:19 কেউ থেমে একটু চিন্তা করে না, কারও তেমন জ্ঞান বা বোধবুদ্ধি নেই যে বলে, “কাঠের অর্ধেক আমি জ্বালানিরূপে ব্যবহার করেছি; এর অঙ্গারে আমি এমনকি খাবার তৈরি করেছি, মাংস রান্না করে আমি তা খেয়েছি। তাহলে এর অবশিষ্ট অংশ নিয়ে আমি কি কোনো ঘৃণ্য বস্তু তৈরি করব? একটি কাঠের টুকরোর কাছে আমি কি প্রণত হব?”
ISA 44:20 সে যেন ছাই ভোজন করে, এক মোহগ্রস্ত হৃদয় তাকে বিপথগামী করে; সে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, কিংবা বলে না, “আমার ডান হাতে রাখা এই বস্তুটি কি মিথ্যা নয়?”
ISA 44:21 “ওহে যাকোব, এসব কথা স্মরণে রেখো, কারণ ওহে ইস্রায়েল, তুমি আমার দাস। আমি তোমাকে গঠন করেছি, তুমি আমার দাস; ওহে ইস্রায়েল, আমি তোমাকে ভুলে যাব না।
ISA 44:22 আমি তোমার সব অপরাধ মেঘের মতো সরিয়ে ফেলেছি, তোমার সব পাপ সকালের কুয়াশার মতো দূর করেছি। তুমি আমার কাছে ফিরে এসো, কারণ আমি তোমাকে মুক্ত করেছি।”
ISA 44:23 আকাশমণ্ডল, আনন্দে গান গাও, কারণ সদাপ্রভু এ কাজ করেছেন; পৃথিবীর গভীরতম স্থান সকল, তোমরাও জয়ধ্বনি করো। যত পাহাড়-পর্বত, সমস্ত অরণ্য ও সেগুলির মধ্যে স্থিত সব গাছপালা, তোমরা আনন্দ সংগীতে ফেটে পড়ো, কারণ সদাপ্রভু যাকোবকে মুক্ত করেছেন, তিনি ইস্রায়েলে তাঁর গৌরব প্রকাশ করেন।
ISA 44:24 “সদাপ্রভু, যিনি তোমাকে মায়ের গর্ভে গঠন করেছেন, তোমার সেই মুক্তিদাতা একথা বলেন: “আমিই সদাপ্রভু, যিনি এই সমস্ত নির্মাণ করেছেন, যিনি একা আকাশমণ্ডল বিস্তার করেছেন, যিনি স্বয়ং পৃথিবীকে প্রসারিত করেছেন,
ISA 44:25 যিনি ভণ্ড ভাববাদীদের চিহ্নসকল ব্যর্থ করেন এবং গণকদের মূর্খ প্রতিপন্ন করেন, যিনি জ্ঞানবানদের শিক্ষা বিফল করেন ও তা অসারতায় পরিণত করেন,
ISA 44:26 যিনি তাঁর দাসেদের কথা সফল করেন ও তাঁর দূতদের পূর্বঘোষণা পূর্ণ করেন, “যিনি জেরুশালেমের বিষয়ে বলেন, ‘এতে লোকেদের বসতি হবে,’ যিহূদার নগরগুলির বিষয়ে বলেন, ‘সেগুলি পুনর্নির্মিত হবে,’ তার ধ্বংসাবশেষকে বলেন, ‘আমি তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব,’
ISA 44:27 যিনি অগাধ জলরাশিকে বলেন, ‘শুষ্ক হও, আমি তোমার স্রোতোধারাগুলি শুকিয়ে ফেলব,’
ISA 44:28 যিনি কোরস সম্পর্কে বলেন, ‘সে হবে আমার মেষদের পালক এবং আমি যা চাই, সে তা পূর্ণ করবে; সে জেরুশালেম সম্পর্কে বলবে, “তা পুনর্নির্মিত হোক,” এবং তার মন্দির সম্পর্কে বলবে, “এর ভিত্তিপ্রস্তরগুলি স্থাপিত হোক।” ’
ISA 45:1 “সদাপ্রভু তাঁর অভিষিক্ত জন কোরস সম্পর্কে এই কথা বলেন, আমি তার ডান হাত ধরে আছি, যেন সব জাতিকে তার সামনে নত করি এবং সব রাজার রণসাজ খুলে ফেলি, যেন তার সামনে সব দরজা উন্মুক্ত হয়, যেন কোনও দুয়ার বন্ধ না থাকে।
ISA 45:2 আমি তোমার আগে আগে যাব এবং সব পাহাড়-পর্বতকে সমভূমি করব; আমি পিতলের সব দুয়ার ভেঙে ফেলব ও লোহার সব অর্গল কেটে দেব।
ISA 45:3 আমি অন্ধকারে রাখা সব ঐশ্বর্য তোমাকে দেব, দেব সেইসব সম্পদ, যেগুলি গুপ্ত স্থানে রাখা আছে, যেন তুমি জানতে পারো যে, আমিই সদাপ্রভু, আমি ইস্রায়েলের ঈশ্বর, যিনি তোমার নাম ধরে ডাকেন।
ISA 45:4 আমার দাস যাকোব ও আমার মনোনীত ইস্রায়েলের কারণে, আমি তোমার নাম ধরে তোমাকে ডাকি ও তুমি আমাকে না জানলেও আমি তোমাকে সম্মানের উপাধি দিয়েছি।
ISA 45:5 আমিই সদাপ্রভু, অন্য আর কেউ নয়; আমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নেই। তুমি আমাকে না জানা সত্ত্বেও আমি তোমাকে শক্তিশালী করব।
ISA 45:6 যেন সূর্যোদয়ের স্থান থেকে তার অস্তস্থান পর্যন্ত, লোকেরা জানতে পারে যে, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমিই সদাপ্রভু, আর কেউ নয়।
ISA 45:7 আমিই আলো গঠন ও অন্ধকার সৃষ্টি করি, আমি সমৃদ্ধি নিয়ে আসি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করি; আমি সদাপ্রভুই এই সমস্ত কাজ করি।
ISA 45:8 “ঊর্ধ্বাকাশ, তুমি ধার্মিকতা বর্ষণ করো; মেঘমালা তা নিচে বর্ষণ করুক। পৃথিবীর ভূমি উন্মুক্ত হোক, অঙ্কুরিত হোক পরিত্রাণ, তার সঙ্গে ধার্মিকতা বৃদ্ধি পাক; আমি সদাপ্রভু তা সৃষ্টি করেছি।
ISA 45:9 “ধিক্ সেই লোককে যে তার নির্মাতার সঙ্গে বিবাদ করে, যার কাছে সে মাটির খাপরাগুলির মধ্যে একটি খাপরা মাত্র। মাটি কি কুমোরকে বলতে পারে, ‘তুমি কী তৈরি করছ?’ তোমার কর্ম কি বলতে পারে, ‘তোমার কোনো হাত নেই?’
ISA 45:10 ধিক্ সেই মানুষ, যে তার বাবাকে বলে, ‘তুমি কী জন্ম দিয়েছ?’ কিংবা তার মাকে বলে, ‘তুমি কী প্রসব করেছ?’
ISA 45:11 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, যিনি তার স্রষ্টা, তিনি এই কথা বলেন, ভাবীকালে যা ঘটবে, আমার সন্তানদের প্রসঙ্গে তোমরা কি প্রশ্ন করছ, অথবা, আমার হাতের কাজ সম্পর্কে তোমরা আমাকে আদেশ দিচ্ছ?
ISA 45:12 আমি পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছি, তার উপরে সৃষ্টি করেছি সমস্ত মানুষ। আমার নিজের হাত আকাশমণ্ডলকে প্রসারিত করেছে, আমি তাদের নক্ষত্রবাহিনীকে বিন্যস্ত করেছি।
ISA 45:13 আমি আমার ধার্মিকতায় সাইরাসকে তুলে ধরব: আমি তার সব পথ সরল করব। সে আমার নগর পুনর্নির্মাণ করবে এবং আমার নির্বাসিতদের মুক্ত করে দেবে, কিন্তু কোনো মূল্য বা পুরস্কারের জন্য নয়, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
ISA 45:14 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “মিশরের সমস্ত উৎপন্ন দ্রব্য ও কূশের পণ্যসামগ্রী, আর সেই দীর্ঘকায় সবায়িয়েরা, তারা তোমার কাছে আসবে এবং তারা তোমারই হবে; তারা তোমার পিছনে ক্লান্ত পায়ে আসবে, শৃঙ্খলিত অবস্থায় তোমার কাছে আসবে। তারা তোমার সামনে প্রণত হবে এবং এই কথা বলে তোমার কাছে অনুনয় করবে, ‘ঈশ্বর নিশ্চয়ই তোমার সঙ্গে আছেন, তিনি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নেই।’ ”
ISA 45:15 ও ঈশ্বর এবং ইস্রায়েলের পরিত্রাতা, সত্যিই তুমি নিজেকে লুকিয়ে রাখো।
ISA 45:16 যারা প্রতিমা নির্মাণকারী, তারা সকলেই লজ্জিত ও অপমানিত হবে, তারা একসঙ্গে অপমানিত হয়ে বিদায় নেবে।
ISA 45:17 কিন্তু সদাপ্রভু চিরস্থায়ী পরিত্রাণের দ্বারা ইস্রায়েলের পরিত্রাণ করবেন; তোমরা অনন্তকালেও আর কখনও লজ্জিত বা অপমানিত হবে না।
ISA 45:18 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যিনি আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনি ঈশ্বর; যিনি পৃথিবীকে আকার দিয়ে নির্মাণ করেছেন, তিনি তার প্রতিষ্ঠা করেছেন; তিনি তা শূন্য রাখার জন্য সৃষ্টি করেননি, কিন্তু তা বসতিস্থান হওয়ার জন্যই গঠন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সদাপ্রভু, আর অন্য কেউই নয়।
ISA 45:19 আমি গোপনে কথা বলিনি, কোনো অন্ধকারময় দেশের কোনো প্রান্ত থেকে; আমি যাকোবের বংশধরদের বলিনি, ‘বৃথাই আমার অন্বেষণ করো।’ আমি সদাপ্রভু, আমি সত্যিকথা বলি; যা ন্যায়সংগত, সেকথাই ঘোষণা করি।
ISA 45:20 “তোমরা একসঙ্গে জড়ো হও ও এসো; বিভিন্ন দেশ থেকে পলাতকেরা, তোমরা সমবেত হও। তারা অজ্ঞ, যারা কাঠের মূর্তি বয়ে নিয়ে বেড়ায়, যারা সেই দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করে, যারা রক্ষা করতে পারে না।
ISA 45:21 কী ঘটবে তা ঘোষণা করো, উপস্থাপিত করো— তারা সবাই একসঙ্গে মন্ত্রণা করুক। কে পূর্ব থেকে একথা বলেছে, কে সুদূর অতীতকালে তা ঘোষণা করেছে? আমি সদাপ্রভু, তা কি করিনি? আর আমি ছাড়া অন্য কোনো ঈশ্বর নেই, আমিই ধর্মময় ঈশ্বর ও পরিত্রাতা; আমি ছাড়া আর কেউ নেই।
ISA 45:22 “ওহে পৃথিবীর প্রান্তনিবাসী সকলে, আমার দিকে ফেরো ও পরিত্রাণ পাও; কারণ আমিই ঈশ্বর, আর কেউ নয়।
ISA 45:23 আমি নিজেই শপথ নিয়েছি, সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে আমার মুখ তা উচ্চারণ করেছে, এমন এক বাণী যা প্রত্যাহৃত হবে না: প্রত্যেকের জানু আমার সামনে পাতিত হবে; আমার নামে সমস্ত জিভ শপথ করবে।
ISA 45:24 তারা আমার বিষয়ে বলবে, ‘কেবলমাত্র সদাপ্রভুতেই আছে ধার্মিকতা ও শক্তি।’ ” যারাই তাঁর বিরুদ্ধে ক্রুদ্ধ হয়েছে, তারা তাঁর কাছে এসে লজ্জিত হবে।
ISA 45:25 কিন্তু সদাপ্রভুতে ইস্রায়েলের সমস্ত বংশধর ধার্মিক গণিত হবে ও গৌরব লাভ করবে।
ISA 46:1 বেল নত হয়েছে, নেবো উপুড় হয়ে পড়েছে; তাদের প্রতিমারা ভারবাহী পশুদের উপরে বাহিত হচ্ছে। যে মূর্তিগুলি বহন করা হচ্ছে, সেগুলি পীড়াদায়ক, শ্রান্ত-ক্লান্ত লোকেদের পক্ষে তারা বোঝাস্বরূপ।
ISA 46:2 তারা একসঙ্গে উপুড় হয়ে নত হয়েছে; তারা সেই বোঝা বহন করতে অক্ষম, তারা নিজেরাই বন্দি হওয়ার জন্য নির্বাসিত হয়।
ISA 46:3 “ওহে যাকোবের কুল, আমার কথা শোনো, তোমরাও শোনো, যারা ইস্রায়েল কুলে এখনও অবশিষ্ট আছ, গর্ভাবস্থা থেকে আমি তোমাদের ধারণ করেছি, তোমাদের জন্ম হওয়ার সময় থেকে আমি তোমাদের বহন করছি।
ISA 46:4 তোমাদের বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত, আমি সেই একই থাকব, তোমাদের চুল পেকে যাওয়া পর্যন্ত, আমিই তোমাদের বহন করব। আমিই সৃষ্টি করেছি, আমিই তোমাদের বহন করব; আমি তোমাদের ধরে রাখব ও তোমাদের উদ্ধার করব।
ISA 46:5 “তোমরা কার সঙ্গে আমার তুলনা করবে বা আমাকে কার সমতুল্য মনে করবে? তোমরা কার সদৃশ আমাকে মনে করবে যে আমাদের পরস্পর তুলনা করা হবে?
ISA 46:6 কেউ কেউ তাদের থলি থেকে সোনা ঢালে এবং দাঁড়িপাল্লায় রুপো ওজন করে; তারা তা থেকে দেবতা নির্মাণের জন্য স্বর্ণকারকে বানি দেয়, পরে তারা তার সামনে প্রণত হয়ে তার উপাসনা করে।
ISA 46:7 তারা তা কাঁধে তুলে নিয়ে বহন করে; তারা স্বস্থানে তাকে স্থাপন করে এবং তা সেখানেই অবস্থান করে। সেই স্থান থেকে তা আর নড়তে পারে না। কেউ তার কাছে আর্তক্রন্দন করলেও, সে উত্তর দেয় না; তার ক্লেশ থেকে সে তাকে রক্ষা করতে পারে না।
ISA 46:8 “একথা স্মরণ করো, ভুলে যেয়ো না, ওহে বিদ্রোহীকুল, এগুলি হৃদয়ে উপলব্ধি করো।
ISA 46:9 পূর্বের বিষয়গুলি, যা বহুপূর্বে ঘটে গিয়েছে, স্মরণ করো; আমিই ঈশ্বর, অন্য আর কেউ নয়; আমিই ঈশ্বর এবং আমার মতো আর কেউ নেই।
ISA 46:10 আমি শুরু থেকেই শেষের কথা বলে দিই, যা এখনও ঘটেনি, তা পুরাকাল থেকেই আমি ঘোষণা করি। আমি বলি, ‘আমার সংকল্প অবশ্যই স্থির থাকবে, আর আমি যা চাই, তা অবশ্যই পূর্ণ করব।’
ISA 46:11 পূর্বদেশ থেকে আমি এক শিকারি পাখিকে ডেকে আনব; বহু দূরবর্তী দেশ থেকে একজন মানুষকে, যে আমার সংকল্প সাধন করবে। আমি যা বলেছি, তা আমি অবশ্যই করে দেখাব, আমি যা পরিকল্পনা করেছি, তা আমি অবশ্য করব।
ISA 46:12 ওহে অনমনীয় হৃদয়ের মানুষ, তোমরা আমার কথা শোনো, তোমরা শোনো, যারা ধার্মিকতা থেকে বহুদূরে থাকো।
ISA 46:13 আমি আমার ধর্মশীলতা কাছে নিয়ে আসছি, তা আর বেশি দূরে নেই; আমার পরিত্রাণ দেওয়ার বিলম্ব আর হবে না। আমি সিয়োনকে আমার পরিত্রাণ দেব, ইস্রায়েলকে আমার জৌলুস দেব।
ISA 47:1 “ওহে ব্যাবিলনের কুমারী-কন্যা, তুমি নিচে নেমে ধুলোয় বসো; ওহে কলদীয়দের কন্যা, সিংহাসন ছাড়াই তুমি মাটিতে বসো। আর তোমাকে বলা হবে না কোমল ও সুখভোগী।
ISA 47:2 তুমি জাঁতা নিয়ে শস্য পেষণ করো, তোমার ঘোমটা খুলে ফেলো। তোমার পরনের কাপড় তুলে নাও, তোমার দুই পা অনাবৃত করো, আর নদনদীর মধ্য দিয়ে হেঁটে পার হয়ে যাও।
ISA 47:3 তোমার নগ্নতা প্রকাশিত হবে, তোমার লজ্জা আবৃত থাকবে না। আমি প্রতিশোধ গ্রহণ করব, কাউকে রেহাই দেব না।”
ISA 47:4 আমাদের মুক্তিদাতা—সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম— তিনিই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন।
ISA 47:5 “ওহে ব্যাবিলনীয়দের কন্যা, তুমি নীরব হয়ে বসো, অন্ধকারে যাও; আর তোমাকে বলা যাবে না রাজ্যসমূহের রানি।
ISA 47:6 আমি আমার প্রজাদের প্রতি ক্রুদ্ধ ছিলাম, আমার অধিকারকে অপবিত্র করেছিলাম; আমি তোমার হাতে তাদের সমর্পণ করেছিলাম, কিন্তু তুমি তাদের প্রতি কোনো করুণা প্রদর্শন করোনি। এমনকি, বয়স্ক মানুষদের উপরেও তুমি অত্যন্ত ভারী জোয়াল চাপিয়েছ।
ISA 47:7 তুমি বলেছ, ‘আমি চিরন্তন রানি, চিরকালের জন্য আমি তাই থাকব!’ কিন্তু এসব বিষয় তুমি বিবেচনা করোনি, কিংবা যা ঘটতে চলেছে তার প্রতি মনোযোগ দাওনি।
ISA 47:8 “তাহলে এখন, ওহে বিলাসিনী শোনো, তোমার নিশ্চিন্ত আসনে বসে তুমি মনে মনে ভাবছ, ‘একা আমি, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি কখনও বিধবা হব না, কিংবা আমার ছেলেমেয়েরা মারা যাবে না।’
ISA 47:9 এক মুহূর্তে, একদিনের মধ্যে, এই উভয়ই তোমার প্রতি ঘটবে: সন্তান হারানো ও বিধবা হওয়া। সেগুলি পূর্ণমাত্রায় তোমার উপরে নেমে আসবে, তা যতই তুমি জাদু কিংবা মন্ত্রতন্ত্র ব্যবহার করে থাকো না কেন।
ISA 47:10 তুমি তোমার দুষ্টতার উপরে নির্ভর করেছ, তুমি বলেছ, ‘কেউ আমাকে দেখতে পায় না।’ তোমার জ্ঞান ও বুদ্ধি তোমাকে বিপথগামী করেছে যখন তুমি নিজেই নিজেকে বলেছ, ‘একা আমি, আমি ছাড়া আর কেউ নেই।’
ISA 47:11 বিপর্যয় তোমার উপরে নেমে আসবে, মন্ত্রবলে তা তুমি দূর করতে পারবে না। এক দুর্যোগ তোমার উপরে পতিত হবে, মুক্তিপণ দিয়ে তা তুমি ঝেড়ে ফেলতে পারবে না। এক সর্বনাশ তোমার উপরে হঠাৎ এসে উপস্থিত হবে, যা তুমি আগাম জানতেও পারবে না।
ISA 47:12 “তাহলে তুমি তোমার মন্ত্রতন্ত্র ও বহু জাদুবিদ্যা চালিয়ে যাও, যা বাল্যকাল থেকে তুমি পরিশ্রম করে অভ্যাস করেছ। হয়তো তুমি সফল হবে, হয়তো তুমি আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে।
ISA 47:13 তোমার পাওয়া যত পরামর্শ তোমাকে কেবলই বিধ্বস্ত করেছে! তোমার জ্যোতিষীরা সব এগিয়ে আসুক, ওইসব জ্যোতিষী, যারা মাসের পর মাস ধরে পূর্বঘোষণা করে যায়, তোমার প্রতি যা ঘটতে চলেছে, তা থেকে তারা তোমাকে রক্ষা করুক।
ISA 47:14 তারা প্রকৃতই খড়কুটোর মতো, আগুন তাদের পুড়িয়ে ফেলবে। আগুনের শিখার ক্ষমতা থেকে তারা তো নিজেদেরও রক্ষা করতে পারে না। কাউকে উত্তপ্ত করার মতো এখানে কোনো অঙ্গার নেই; পাশে বসার মতো এখানে কোনো আগুন নেই।
ISA 47:15 তারা তো সব থেকে বেশি এইমাত্র তোমার প্রতি করতে পারে, এগুলির জন্য তুমি পরিশ্রম করেছ, বাল্যকাল থেকে তুমি লেনদেন করেছ। তাদের প্রত্যেকেই নিজের নিজের ভ্রান্তপথে চলছে; এমন কেউ নেই, যে তোমাকে রক্ষা করতে পারে।
ISA 48:1 “ওহে যাকোবের কুল, তোমরা একথা শোনো, তোমাদের ইস্রায়েল নামে ডাকা হয়, তোমাদের উদ্ভব যিহূদার বংশ থেকে, তোমরা সদাপ্রভুর নামে শপথ নিয়ে থাকো ও ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছে মিনতি করে থাকো, কিন্তু সত্যে বা ধার্মিকতায় তা করো না।
ISA 48:2 তোমরা নিজেদের সেই পবিত্র নগরের নাগরিক বলো এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বরের উপরে নির্ভর করো, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম,
ISA 48:3 আমি পূর্বকার বিষয়গুলি বহুপূর্বেই বলেছি, আমার মুখ সেগুলি ঘোষণা করেছে এবং আমি সেগুলি জানিয়ে দিয়েছি; তারপরে হঠাৎই আমি সক্রিয় হয়েছি এবং সেগুলি সংঘটিত হয়েছে।
ISA 48:4 কারণ আমি জানতাম, তোমরা কেমন অনমনীয়; তোমাদের ঘাড়ের পেশিগুলি সব লোহার, তোমাদের কপাল ছিল পিতলের মতো।
ISA 48:5 সেই কারণে এসব বিষয় আমি বহুপূর্বেই তোমাদের বলেছিলাম; সেগুলি ঘটার পূর্বেই আমি তোমাদের কাছে ঘোষণা করেছিলাম, যেন তোমরা বলতে না পারো, ‘আমার তৈরি প্রতিমারা সেগুলি করেছে; আমার কাঠের মূর্তি ও ধাতব দেবতা সেগুলি নির্ধারণ করেছে।’
ISA 48:6 তোমরা এসব কথা শুনেছ; সেই সমস্তের দিকে তোমরা তাকাও। তোমরা কি সেগুলি স্বীকার করবে না? “এখন থেকে আমি তোমাদের নতুন সব বিষয় বলব, সেইসব গুপ্ত বিষয়, যেগুলি তোমাদের অজানা।
ISA 48:7 সেগুলির সৃষ্টি এখনই হয়েছে, বেশি দিন আগে নয়; আজকের পূর্বে সেগুলির কথা তোমরা শোনোনি। তাই তোমরা বলতে পারো না, ‘হ্যাঁ, আমরা সেগুলির কথা জানতাম।’
ISA 48:8 তোমরা কিছুই শোনোনি, বোঝোওনি; প্রাচীনকাল থেকেই তোমাদের কান খোলা থাকেনি। তোমরা যে কেমন বিশ্বাসঘাতক, তা আমি ভালোভাবেই জানি; জন্ম থেকেই তোমরা বিদ্রোহী নামে আখ্যাত।
ISA 48:9 আমার নিজেরই নামের অনুরোধে আমি আমার ক্রোধ চরিতার্থ করায় বিলম্ব করেছি; আমার নামের প্রশংসার জন্য আমি তা মুলতুবি রেখেছি, যেন তোমাদের উচ্ছেদসাধন না করি।
ISA 48:10 দেখো, আমি তোমাদের আগুনে বিশুদ্ধ করেছি, যদিও রুপোর মতো নয়; আমি তোমাদের কষ্টের চুল্লিতে পরখ করেছি।
ISA 48:11 আমার নিজের জন্য, হ্যাঁ, আমার নিজেরই জন্য, আমি এরকম করি। কেমন করে আমি আমার নামের অপমান হতে দিতে পারি? আমার মহিমা আমি আর অন্য কাউকে দিতে পারি না।
ISA 48:12 “ওহে যাকোব, আমার কথা শোনো, শোনো ইস্রায়েল, যাকে আমি আহ্বান করেছি: আমিই তিনি; আমিই প্রথম ও আমিই শেষ।
ISA 48:13 আমার নিজের হাত পৃথিবীর ভিত্তিমূলগুলি স্থাপন করেছে, আমার ডান হাত আকাশমণ্ডলকে প্রসারিত করেছে; যখন আমি তাদের তলব করি, তারা একসঙ্গে উঠে দাঁড়ায়।
ISA 48:14 “তোমরা সকলে একসঙ্গে এসো ও শোনো, প্রতিমাগুলির মধ্যে কে আগাম এসব বিষয়ের কথা বলেছে? সদাপ্রভুর মনোনীত সহায়ক, ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করবে; তাঁর বাহু ব্যাবিলনীয়দের বিরুদ্ধে উঠবে।
ISA 48:15 আমি, হ্যাঁ আমিই, একথা বলেছি, হ্যাঁ, আমিই তাকে আহ্বান করেছি। আমি তাকে নিয়ে আসব, আর সে তার লক্ষ্যে সফল হবে।
ISA 48:16 “তোমরা আমার কাছে এসো ও একথা শোনো: “আদি থেকে আমি কোনো কথা গোপনে বলিনি; যখন তা ঘটে, আমি সেখানে উপস্থিত থাকি।” আর এখন সার্বভৌম সদাপ্রভু তাঁর আত্মা সহ আমাকে প্রেরণ করেছেন।
ISA 48:17 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যিনি তোমাদের মুক্তিদাতা, ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, “আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পক্ষে যা সর্বোৎকৃষ্ট, তিনি তাই তোমাদের শেখান, যে পথে তোমাদের চলা উচিত, তিনি তোমাদের সেই পথ প্রদর্শন করেন।
ISA 48:18 কেবলমাত্র যদি তোমরা আমার আদেশগুলির প্রতি মনোযোগ দিতে, তোমাদের শান্তি হত নদীর প্রবাহিত স্রোতের মতো, তোমাদের ধার্মিকতা হত সমুদ্রতরঙ্গের মতো।
ISA 48:19 তোমাদের বংশধরেরা হত বালুকার মতো, তোমাদের সন্তানেরা হত বালুকণার মতো অসংখ্য; তাদের নাম কখনও মুছে ফেলা হত না, কিংবা আমার সামনে থেকে তারা কখনও বিলুপ্ত হত না।”
ISA 48:20 তোমরা ব্যাবিলন ত্যাগ করো, ব্যাবিলনীয়দের কাছ থেকে পলায়ন করো! আনন্দরবের সঙ্গে একথা প্রচার করো, ঘোষণা করো সেই বার্তা। পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত তা পৌঁছে দাও; বলো, “সদাপ্রভু তাঁর দাস যাকোবকে মুক্ত করেছেন।”
ISA 48:21 মরুভূমির মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় তারা পিপাসিত হয়নি; তাদের জন্য তিনি শিলাপ্রস্তর বিদীর্ণ করে জল প্রবাহিত করেছিলেন; তিনি শিলা বিদীর্ণ করেছিলেন আর জল প্রবাহিত হয়েছিল।
ISA 48:22 সদাপ্রভু বলেন, “দুষ্ট লোকেদের কোনো শান্তি নেই।”
ISA 49:1 ওহে দ্বীপনিবাসীরা, আমার কথা শোনো; দূরবর্তী জাতিসমূহ, তোমরা একথা শোনো: আমার জন্ম হওয়ার পূর্বে সদাপ্রভু আমাকে আহ্বান করেছেন; আমার জন্ম হওয়া থেকে তিনি আমার নামের উল্লেখ করেছেন।
ISA 49:2 তিনি আমার মুখকে করেছেন ধারালো তরোয়ালের মতো, তাঁর হাতের ছায়ায় তিনি আমাকে লুকিয়ে রেখেছেন; তিনি আমাকে গঠন করেছেন এক শাণিত তিরের মতো এবং আবৃত রেখেছেন তাঁর তূণের মধ্যে।
ISA 49:3 তিনি আমাকে বলেছেন, “তুমি আমার দাস, তুমি ইস্রায়েল, তোমার মাধ্যমেই আমি মহিমান্বিত হব।”
ISA 49:4 কিন্তু আমি বললাম, “আমি উদ্দেশ্যহীনভাবে পরিশ্রম করেছি; বৃথাই আমার শক্তি অসারতার জন্য নিঃশেষিত হয়েছে। তবুও, আমার যা প্রাপ্য, তা সদাপ্রভুর হাতে আছে, আমার পুরস্কার আছে আমার ঈশ্বরের কাছে।”
ISA 49:5 আর এখন সদাপ্রভু বলেন, যিনি তাঁর দাস হওয়ার জন্য আমাকে মাতৃগর্ভে গঠন করেছিলেন, যেন যাকোব কুলকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনা হয় ও ইস্রায়েলকে তাঁর কাছে সংগ্রহ করা হয়, কারণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে আমি সম্মানিত হয়েছি, আমার ঈশ্বরই হয়েছেন আমার শক্তিস্বরূপ।
ISA 49:6 তিনি বলেন, “যাকোবের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে পুনঃস্থাপিত করার এবং আমার সংরক্ষিত ইস্রায়েলের লোকদের ফিরিয়ে আনার জন্য তুমি যে আমার দাস হবে, তা অতি সামান্য ব্যাপার। আমি তোমাকে অইহুদিদের কাছে দীপ্তিস্বরূপ করব, যেন পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত তুমি আমার পরিত্রাণ নিয়ে আসতে পারো।”
ISA 49:7 যে ব্যক্তি অবজ্ঞাত ও জাতিসমূহের কাছে ঘৃণাস্পদ, যে শাসকদের দাসানুদাস, তার প্রতি সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের মুক্তিদাতা ও সেই পবিত্রতম জন, এই কথা বলেন, “রাজারা তোমাকে দেখে উঠে দাঁড়াবে, সম্ভ্রান্ত মানুষেরা তোমাকে দেখে প্রণত হবে, তা হবে সদাপ্রভুর জন্য, যিনি বিশ্বাসভাজন, তিনি ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, যিনি তোমাকে মনোনীত করেছেন।”
ISA 49:8 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমার অনুগ্রহ প্রদর্শনকালে আমি তোমাকে উত্তর দেব, পরিত্রাণের দিনে আমি তোমাকে সাহায্য করব; আমি তোমাকে রক্ষা করব এবং প্রজাদের কাছে তোমাকে আমার চুক্তিস্বরূপে দেব, যেন তুমি দেশের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করো এবং এর পরিত্যক্ত অধিকারকে পুনরায় ফিরিয়ে আনো,
ISA 49:9 যেন বন্দিদের বলতে পারো, ‘বেরিয়ে এসো,’ ও যারা অন্ধকারে আছে তাদের বলতে পারো, ‘মুক্ত হও!’ “তারা পথের ধারে খাবার খাবে এবং প্রত্যেক বৃক্ষহীন পর্বতে চারণভূমি পাবে।
ISA 49:10 তারা আর ক্ষুধিত কি তৃষ্ণার্ত হবে না, মরুভূমির উত্তাপ বা সূর্যের প্রখর তাপ তাদের যন্ত্রণা করবে না। যে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে তাদের পথ দেখাবে, এবং তাদের নিয়ে যাবে জলস্রোতের কিনারায়।
ISA 49:11 আমি আমার সমস্ত পর্বতকে পথে পরিণত করব, আমার রাজপথগুলি সব উন্নত হবে।
ISA 49:12 দেখো, তারা আসবে বহুদূর থেকে— কেউ উত্তর দিক থেকে, কেউ পশ্চিমদিক থেকে, আবার কেউ বা আসবে সীনীম দেশ থেকে।”
ISA 49:13 আকাশমণ্ডল, আনন্দে চিৎকার করো; পৃথিবী, উল্লসিত হও; পর্বতমালা সকলে, আনন্দগানে ফেটে পড়ো! কারণ সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন, তাঁর অত্যাচারিত লোকেদের তিনি সহানুভূতি দেখাবেন।
ISA 49:14 কিন্তু সিয়োন বলল, “সদাপ্রভু আমাকে পরিত্যাগ করেছেন, প্রভু আমাকে ভুলে গিয়েছেন।”
ISA 49:15 “দুধের শিশুকে কোনো মা কি ভুলতে পারে? তার গর্ভজাত সন্তানের প্রতি সে কি মমতা করবে না? সে তাকে ভুলে যেতেও পারে, কিন্তু আমি তোমাকে ভুলে যাব না!
ISA 49:16 দেখো, তোমার আকৃতি আমার হাতের তালুতে খোদাই করা আছে; তোমার প্রাচীরগুলি সবসময়ই আমার সামনে আছে।
ISA 49:17 তোমার সন্তানেরা ফিরে আসার জন্য তাড়াতাড়ি করছে, যারা তোমাকে পরিত্যক্ত স্থান করেছিল, তারা তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ISA 49:18 তোমার দুই চোখ তোলো ও চারপাশে তাকাও; তোমার সব সন্তান একত্র হয়ে তোমার কাছে আসছে।” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “আমার অস্তিত্বের মতোই এ বিষয় নিশ্চিত, তুমি তাদের সবাইকে অলংকারের মতো পরে নেবে; বিয়ের কনের মতোই তুমি তাদের নিয়ে অঙ্গসজ্জা করবে।
ISA 49:19 “তুমি যদিও ধ্বংসিত ও পরিত্যক্ত হয়েছিলে, যদিও তোমার ভূমি উৎসন্ন পড়েছিল, এখন তোমার লোকজনেদের জন্য তুমি বেশ সংকীর্ণ হবে, যারা তোমাকে গ্রাস করেছিল, তারা দূরে চলে যাবে।
ISA 49:20 তোমার দুঃখশোকের কালে যে ছেলেমেয়েদের জন্ম দিয়েছিলে, তাদের কাছ থেকে তুমি শুনতে পাবে, ‘এই স্থান আমাদের পক্ষে ভীষণ সংকীর্ণ; বসবাস করার জন্য আমাদের আরও জায়গা দাও।’
ISA 49:21 তখন তুমি মনে মনে বলবে, ‘এসব বংশধরকে কে আমাকে দিয়েছে? আমি তো শোকাহত ও বন্ধ্যা ছিলাম; আমি নির্বাসিত ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলাম। তাহলে কে এদের প্রতিপালন করল? আমাকে তো একা ফেলে রাখা হয়েছিল, কিন্তু এরা, কোথা থেকে এরা এসেছে?’ ”
ISA 49:22 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “দেখো, আমি হাতের ইশারায় অইহুদি জাতিদের ডাকব, লোকসমূহের উদ্দেশে আমি আমার পতাকা তুলে ধরব; তারা তোমার সন্তানদের কোলে নিয়ে আসবে, তোমার কন্যাদের কাঁধে বহন করে আনবে।
ISA 49:23 রাজারা হবে তোমার প্রতিপালক বাবা, তাদের রানিরা তোমাদের পালিকা মা হবে। তারা ভূমিতে অধোমুখে তোমার কাছে প্রণত হবে, তারা তোমার পদধূলি চেটে খাবে। তখন তুমি জানতে পারবে যে, আমিই সদাপ্রভু; যারা আমার উপরে আশা রাখে, তারা কখনও লজ্জিত হবে না।”
ISA 49:24 যোদ্ধাদের কাছ থেকে কি লুটের জিনিস হরণ করা যায় কিংবা ন্যায়সংগত বন্দিকে কি মুক্ত করা যায়?
ISA 49:25 কিন্তু সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “হ্যাঁ, যোদ্ধাদের কাছ থেকে বন্দিদের নিয়ে নেওয়া হবে, হিংস্র ব্যক্তির লুটের জিনিস কেড়ে নেওয়া হবে। যারা তোমাদের সঙ্গে বিরোধ করে, আমি তাদের বিরোধ করব, আর তোমার ছেলেমেয়েদের আমি রক্ষা করব।
ISA 49:26 তোমার প্রতি অত্যাচারকারীদের আমি তাদেরই মাংস খেতে বাধ্য করব; দ্রাক্ষারসের মতোই তারা নিজেদের রক্ত পান করবে। তখন সমস্ত মানবজাতি জানতে পারবে যে, আমি সদাপ্রভু, তোমাদের পরিত্রাতা, তোমাদের মুক্তিদাতা, যাকোবের সেই পরাক্রমী জন।”
ISA 50:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তোমার মায়ের সেই বিবাহবিচ্ছেদ পত্র কোথায়, যা দিয়ে আমি তাকে দূর করেছিলাম? কিংবা আমার কোন পাওনাদারের কাছে আমি তোমাদের বিক্রি করেছিলাম? তোমাদের পাপের কারণে তোমরা বিক্রীত হয়েছিলে; তোমাদের অধর্মের জন্য তোমাদের মাকে দূর করা হয়েছিল।
ISA 50:2 আমি যখন এলাম, তখন কেউ সেখানে ছিল না কেন? আমি যখন ডাকলাম, কেউ তখন উত্তর দিল না কেন? তোমাদের মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য আমার হাত কি খুবই খাটো ছিল? তোমাদের উদ্ধার করার জন্য আমার কি শক্তির অভাব ছিল? সামান্য একটি ধমকে আমি সমুদ্রকে শুষ্ক করি, নদনদীকে আমি মরুভূমিতে পরিণত করি; জলের অভাবে সেখানকার মাছ পচে দুর্গন্ধ হয়, তারা পিপাসায় প্রাণত্যাগ করে।
ISA 50:3 আমি আকাশকে অন্ধকারে আবৃত করি, চটবস্ত্রকে তার পরিধেয় করি।”
ISA 50:4 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে শিক্ষা গ্রহণকারীর জিভ দিয়েছেন, যেন বুঝতে পারি কথার দ্বারা কীভাবে ক্লান্ত ব্যক্তিকে সুস্থির করতে হয়। তিনি রোজ সকালে আমাকে জাগিয়ে তোলেন, আমার কানকে জাগান যেন শিক্ষার্থীর মতো শুনি।
ISA 50:5 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমার দুই কান খুলে দিয়েছেন, আমি বিদ্রোহী আচরণ করিনি; আর আমি পিছনে ফিরেও যাইনি।
ISA 50:6 আমার প্রহারকদের কাছে আমি আমার পিঠ পেতে দিয়েছিলাম, দাড়ি উপড়ানোর জন্য আমার গাল পেতে দিয়েছিলাম; বিদ্রুপ ও থুতু নিক্ষেপ থেকে আমি আমার মুখ লুকাইনি।
ISA 50:7 কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে সাহায্য করেন, আমি অপমানিত হব না। তাই আমি চকমকি পাথরের মতোই আমার মুখমণ্ডল শক্ত করেছি, আর আমি জানি, আমি লজ্জিত হব না।
ISA 50:8 যিনি আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন, তিনি নিকটেই আছেন। তাহলে কে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে? এসো আমরা পরস্পর মুখোমুখি হই! কে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী? সে আমার সামনে আসুক!
ISA 50:9 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে সাহায্য করেন। তাহলে কে আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করবে? তারা পোশাকের মতো সবাই জীর্ণ হবে; কীট তাদের সকলকে খেয়ে ফেলবে।
ISA 50:10 তোমাদের মধ্যে কে সদাপ্রভুকে ভয় করে এবং তাঁর দাসের বাণীর প্রতি বাধ্য হয়? যে অন্ধকারে পথ চলে, যার কাছে আলো নেই, সে সদাপ্রভুর নামে বিশ্বাস করুক এবং তার ঈশ্বরের উপরে আস্থা স্থাপন করুক।
ISA 50:11 কিন্তু এখন, তোমরা যারা আগুন জ্বালাও ও নিজেদের জন্য প্রজ্বলিত মশাল জোগাও, তোমরা যাও, নিজেদের আগুনের আলোয় ও তোমাদের জ্বালানো মশালের আলোয় পথ চলো। আমার হাত থেকে তোমরা এই ফল লাভ করবে: তোমরা নির্যাতনে শুয়ে পড়বে।
ISA 51:1 “তোমরা যারা ধার্মিকতার পিছনে ছুটে চলো ও সদাপ্রভুর অন্বেষণ করো, তোমরা আমার কথা শোনো, সেই শৈলের দিকে তাকাও, যা থেকে তোমাদের কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই পাথরের খাদের দিকে তাকাও, যেখান থেকে তোমাদের তক্ষণ করা হয়েছে;
ISA 51:2 তোমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহামের দিকে তাকাও ও সারার দিকে, যিনি তোমাদের জাতিকে জন্ম দিয়েছেন। আমি যখন তাকে ডেকেছিলাম, সে মাত্র একজন ছিল, আমি তাকে আশীর্বাদ করে বহুসংখ্যক করেছি।
ISA 51:3 সদাপ্রভু নিশ্চয়ই সিয়োনকে সান্ত্বনা দেবেন ও তার সমস্ত ধ্বংসস্তূপগুলির প্রতি সহানুভূতি দেখাবেন; তিনি তার মরুপ্রান্তরগুলিকে এদন উদ্যানের মতো করবেন, তার জনশূন্য ভূমিকে সদাপ্রভুর উদ্যানের ন্যায় করবেন। তার মধ্যে পাওয়া যাবে আনন্দ ও উৎফুল্লতা, পাওয়া যাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সংগীতের ঝংকার।
ISA 51:4 “আমার প্রজারা, আমার কথা শোনো; আমার জাতির লোকেরা, আমার কথায় কান দাও: আমার কাছ থেকে বিধান নির্গত হবে; আমার ন্যায়বিচার সব জাতির কাছে আলোস্বরূপ হবে।
ISA 51:5 আমার ধর্মশীলতা দ্রুত নিকটে আসছে, আমার পরিত্রাণ সন্নিকট হল, আমারই বাহু জাতিসমূহের কাছে ন্যায়বিচার নিয়ে আসবে। দ্বীপসমূহ আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে এবং আমার শক্তি প্রদর্শনের প্রত্যাশায় থাকবে।
ISA 51:6 তোমাদের চোখ আকাশমণ্ডলের দিকে তোলো, নিচে পৃথিবীর দিকে তাকাও; ধোঁয়ার মতোই আকাশমণ্ডল অন্তর্হিত হবে, পোশাকের মতোই পৃথিবী জীর্ণ হবে এবং মাছির মতো এর অধিবাসীরা মারা যাবে। কিন্তু আমার দেওয়া পরিত্রাণ চিরস্থায়ী হবে, আমার ধর্মশীলতার শাসন কখনও ব্যর্থ হবে না।
ISA 51:7 “যা ন্যায়সংগত, তোমরা যারা তা জানো, আমার কথা শোনো, আমার বিধান তোমাদের মধ্যে যাদের অন্তরে আছে, তারা শোনো: মানুষের করা দুর্নাম থেকে ভয় পেয়ো না, কিংবা তাদের করা অপমান থেকে আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না।
ISA 51:8 কারণ পোশাকের মতোই কীটপতঙ্গ তাদের খেয়ে ফেলবে; পশমের মতো কীট তাদের গ্রাস করবে। কিন্তু আমার ধার্মিকতা চিরকাল থাকবে, আমার পরিত্রাণ বংশপরম্পরায় অস্তিত্বমান থাকবে।”
ISA 51:9 জাগো, জাগো! হে সদাপ্রভুর বাহু, তুমি স্বয়ং শক্তি পরিহিত হও; অতীতকালের মতোই তুমি জেগে ওঠো, যেমন পূর্বে বংশপরম্পরায় তুমি করেছিলে। তুমিই কি রহবকে খণ্ডবিখণ্ড করোনি, যিনি সেই বিরাট দানবকে বিদ্ধ করেছিলেন?
ISA 51:10 তুমিই কি সমুদ্রকে, সেই মহাজলধির জলরাশিকে শুষ্ক করোনি? যিনি সমুদ্রের গভীরে একটি পথ প্রস্তুত করেছিলেন, যেন মুক্তিপ্রাপ্ত লোকেরা তা পার হয়ে যায়?
ISA 51:11 মুক্তিপণ দেওয়া সদাপ্রভুর লোকেরা প্রত্যাবর্তন করবে। তারা গান গাইতে গাইতে সিয়োনে প্রবেশ করবে; তাদের মাথায় থাকবে চিরস্থায়ী আনন্দ-মুকুট। আমোদ ও আনন্দে তারা প্লাবিত হবে, দুঃখ ও দীর্ঘশ্বাস দূরে পলায়ন করবে।
ISA 51:12 “আমি, হ্যাঁ আমিই, তোমাদের সান্ত্বনা দিই। তোমরা কেন মর্ত্যমানবকে ভয় করছ, তারা তো মানবসন্তান, সবাই তৃণের মতো।
ISA 51:13 তোমরা, তোমাদের সৃষ্টিকর্তা, সদাপ্রভুকে ভুলে যাচ্ছ, তিনিই আকাশমণ্ডলকে প্রসারিত করেছেন এবং পৃথিবীর ভিত্তিমূল সকল স্থাপন করেছেন। তোমরা প্রতিদিন অবিরত আতঙ্কে বাস করো উপদ্রবীর ক্রোধের কারণে, যারা বিনাশ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? কারণ উপদ্রবীর ক্রোধ কোথায়?
ISA 51:14 ভয়ে জড়োসড়ো বন্দিরা শীঘ্রই মুক্তি পাবে; তারা তাদের অন্ধকূপে আর মৃত্যুবরণ করবে না, তাদের খাদ্যের অভাবও আর হবে না।
ISA 51:15 কারণ আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, আমি সমুদ্রকে তোলপাড় করলে তার তরঙ্গসমূহ গর্জন করে— সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম।
ISA 51:16 আমি আমার বাক্য তোমার মুখে দিয়েছি, আর তোমাকে আমার হাতের ছায়ায় আবৃত করেছি— আমিই আকাশমণ্ডলকে যথাস্থানে স্থাপন করেছি, যিনি পৃথিবীর ভিত্তিমূলসমূহ স্থাপন করেছেন, যিনি সিয়োনকে বলেন, ‘তুমি আমার প্রজা।’ ”
ISA 51:17 জাগো, জাগো! ওহে জেরুশালেম, উঠে দাঁড়াও, সদাপ্রভুর ক্রোধের পানপাত্র, যারা তাঁর হাত থেকে পান করেছ, যে পানপাত্র মানুষকে টলোমলো করে, যারা তার তলানি পর্যন্ত চেটে খেয়েছ।
ISA 51:18 তার জন্ম দেওয়া সব পুত্রের মধ্যে কেউই তাকে পথ প্রদর্শন করেনি; তার লালনপালন করা সব সন্তানের মধ্যে কেউই তার হাত ধরে চালায়নি।
ISA 51:19 এই দুই ধরনের দুর্যোগ তোমার উপরে এসে পড়েছে, কে তোমাকে সান্ত্বনা দেবে? ধ্বংস ও বিনাশ, দুর্ভিক্ষ ও তরোয়াল, আমি কী করে তোমাকে আশ্বাস দিতে পারি?
ISA 51:20 তোমার সন্তানেরা সব মূর্ছিত হয়েছে; তারা প্রত্যেকটি পথের মাথায় মাথায় পড়ে আছে, যেভাবে কোনো কৃষ্ণসার হরিণ জালে ধরা পড়ে। তারা সদাপ্রভুর ক্রোধে, তোমার ঈশ্বরের তিরস্কারে পূর্ণ।
ISA 51:21 সেই কারণে, তোমরা যারা কষ্ট পেয়েছ, একথা শোনো, তোমাকে মত্ত করা হয়েছে, কিন্তু দ্রাক্ষারসে নয়।
ISA 51:22 তোমার সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমার ঈশ্বর বলেন, যিনি তাঁর প্রজাদের পক্ষসমর্থন করেন: “দেখো, আমি তোমার হাত থেকে ওই পানপাত্র ছিনিয়ে নিয়েছি, যা পান করলে তুমি টলোমলো হও; সেই পেয়ালা, যা আমার ক্রোধের বড়ো পানপাত্র, তুমি আর কখনও তা পান করবে না।
ISA 51:23 আমি তোমার অত্যাচারীদের হাতে তা দেব, যারা তোমাকে বলেছিল, ‘উপুড় হয়ে পড়ো, যেন তোমাদের উপর দিয়ে আমরা হেঁটে যাই।’ আর তোমরা তোমাদের পিঠ ভূমির মতো, পথিকদের কাছে সড়কের মতো করেছ।”
ISA 52:1 জাগো, জাগো, ওহে সিয়োন, তুমি নিজেকে শক্তি পরিহিত করো! ওহে পবিত্র নগরী জেরুশালেম, তোমার সৌন্দর্যের পোশাকগুলি পরে নাও। ত্বকছেদহীন ও কলুষিত লোকেরা আর তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে না।
ISA 52:2 তোমার গায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলো; ওহে জেরুশালেম, ওঠো, সিংহাসনে বসো। ওহে সিয়োনের বন্দি কন্যা, তোমার ঘাড়ের শৃঙ্খল থেকে নিজেকে মুক্ত করো।
ISA 52:3 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তোমাকে বিনামূল্যে বিক্রি করা হয়েছে, অর্থ ছাড়াই তোমাকে মুক্ত করা হবে।”
ISA 52:4 কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমার প্রজারা প্রথমে মিশরে প্রবাস করতে গিয়েছিল; পরে আসিরিয়া তাদের উপরে অত্যাচার করেছে।
ISA 52:5 “আর এখন এখানে আমার আর কী আছে?” বলেন সদাপ্রভু। “কারণ আমার প্রজারা বিনামূল্যে নীত হয়েছে, যারা তাদের শাসন করে, তারা উপহাস করে,” একথা বলেন সদাপ্রভু। “সমস্ত দিন ধরে, আমার নাম প্রতিনিয়ত নিন্দিত হয়।
ISA 52:6 সেই কারণে আমার প্রজারা আমার নাম জানতে পারবে; সেই কারণে সেদিন তারা জানতে পারবে যে আমিই একথা পূর্বঘোষণা করেছিলাম, হ্যাঁ, আমিই একথা বলেছিলাম।”
ISA 52:7 আহা, পর্বতগণের উপরে যারা সুসমাচার প্রচার করে, তাদের চরণ কতই না সুন্দর, যে শান্তির বার্তা ঘোষণা করে, যে মঙ্গলের সমাচার নিয়ে আসে, যে পরিত্রাণের বার্তা ঘোষণা করে, যে সিয়োনকে বলে, “তোমার ঈশ্বর রাজত্ব করেন!”
ISA 52:8 শোনো! তোমার প্রহরীরা তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তুলেছে; তারা একসঙ্গে আনন্দে চিৎকার করে। যখন সদাপ্রভু সিয়োনে ফিরে আসবেন, তারা স্বচক্ষে তা দেখতে পাবে।
ISA 52:9 জেরুশালেমের ধ্বংসস্তূপগুলি, তোমরা একসঙ্গে আনন্দগানে ফেটে পড়ো, কারণ সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন, তিনি জেরুশালেমকে মুক্ত করেছেন।
ISA 52:10 সদাপ্রভু সমস্ত জাতির দৃষ্টিতে, তাঁর পবিত্র হাত অনাবৃত করবেন, আর পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত আমাদের ঈশ্বরের পরিত্রাণ দেখতে পাবে।
ISA 52:11 বের হও, বের হও, ওই স্থান ছেড়ে চলে যাও! কোনো অশুচি বস্তু স্পর্শ কোরো না! তোমরা যারা সদাপ্রভুর পাত্রসকল বহন করো, তোমরা ওর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসো ও পবিত্র হও।
ISA 52:12 কিন্তু তোমরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করবে না বা সেখান থেকে পালিয়ে যাবে না; কারণ সদাপ্রভু তোমাদের সামনে সামনে যাবেন, ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাদের পিছনে প্রহরা দেবেন।
ISA 52:13 দেখো, আমার দাস প্রজ্ঞাপূর্বক ব্যবহার করবেন; তিনি উন্নীত হবেন, তাঁকে উচ্চে তুলে ধরা হবে ও তিনি হবেন অপার মহিমান্বিত।
ISA 52:14 তাঁর অবয়ব এমন বিকৃত করা হয়েছিল, যেমন কোনো মানুষের করা হয়নি, তাঁকে এমন শ্রীভ্রষ্ট করা হয়েছিল যে, মানুষ বলে চেনা যাচ্ছিল না, তাই, অনেকে তাঁকে দেখে মর্মাহত হয়েছিল।
ISA 52:15 সেই কারণে, তিনি অনেক জাতিকে হতচকিত করবেন, তার কারণে রাজারা তাদের মুখ বন্ধ করবে। কারণ যা তাদের বলা হয়নি, তা তারা দেখবে এবং যা তারা শোনেননি, তা তারা বুঝতে পারবে।
ISA 53:1 আমাদের দেওয়া সংবাদ কে বিশ্বাস করেছে? সদাপ্রভুর শক্তি কার কাছেই বা প্রকাশিত হয়েছে?
ISA 53:2 তিনি তাঁর সামনে কোমল চারার মতো, শুকনো মাটিতে উৎপন্ন মূলের মতো বেড়ে উঠলেন। আমাদের আকৃষ্ট করার মতো তাঁর কোনো সৌন্দর্য বা রূপ ছিল না, আমরা কামনা করতে পারি, তাঁর চেহারায় এমন কিছুই ছিল না।
ISA 53:3 তিনি অবজ্ঞাত, মানুষদের কাছে অগ্রাহ্য হলেন, তিনি দুঃখভোগকারী মানুষ ও কষ্টভোগকারীরূপে পরিচিত হলেন। মানুষ যা দেখে তাদের মুখ লুকায়, তার ন্যায় তিনি অবজ্ঞাত হলেন, আর আমরা তাঁর মর্যাদা তাঁকে দিইনি।
ISA 53:4 সত্যিই তিনি আমাদের দুর্বলতা সকল তুলে নিয়েছেন এবং আমাদের সকল দুঃখ বহন করেছেন, তবুও, আমরা মনে করলাম, ঈশ্বর তাঁকে শাস্তি দিয়েছেন, তিনি আহত ও নিপীড়িত হয়েছেন।
ISA 53:5 কিন্তু তিনি আমাদের অপরাধের জন্য বিদ্ধ, আমাদের অধর্ম সকলের জন্য চূর্ণ হয়েছেন; আমাদের শান্তিলাভের জন্য তাঁকে শাস্তি ভোগ করতে হল, আর তাঁর ক্ষতসকলের দ্বারা আমরা আরোগ্য লাভ করলাম।
ISA 53:6 আমরা সবাই মেষদের মতো বিপথগামী হয়েছিলাম, প্রত্যেকেই নিজের নিজের পথে চলে গিয়েছিলাম; আর সদাপ্রভু আমাদের সকলের অপরাধ তাঁর উপরে অর্পণ করেছেন।
ISA 53:7 তিনি অত্যাচারিত হয়ে কষ্টভোগ স্বীকার করলেন, তবুও, তিনি তাঁর মুখ খোলেননি; যেমন ঘাতকের কাছে নিয়ে যাওয়া মেষশাবককে, ও লোমচ্ছেদকদের কাছে নিয়ে যাওয়া মেষ নীরব থাকে, তেমনই তিনি তাঁর মুখ খোলেননি।
ISA 53:8 অত্যাচার ও অন্যায় বিচার করে তাঁকে দূর করা হল। তাঁর বংশধরদের মধ্যে কে এরকম বিবেচনা করল, যে তিনি জীবিতদের দেশ থেকে উচ্ছিন্ন হলেন; কারণ আমার জাতির অধর্ম প্রযুক্তই তিনি যন্ত্রণাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
ISA 53:9 তাঁকে দুষ্টজনেদের সঙ্গে সমাধি দেওয়া হল, মৃত্যুতে তিনি ধনী ব্যক্তির সঙ্গী হলেন, যদিও তিনি কোনও অপকর্ম করেননি, তাঁর মুখে ছলনার কথাও পাওয়া যায়নি।
ISA 53:10 তবুও, তাঁকে চূর্ণ করা সদাপ্রভুরই ইচ্ছা ছিল, তিনি তাঁকে যন্ত্রণাগ্রস্ত হতে দিলেন, আর যদিও তাঁর প্রাণ দোষার্থক-নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গীকৃত হল, তিনি তাঁর বংশ দেখবেন এবং দীর্ঘায়ু হবেন, আর তাঁরই হাতে সদাপ্রভুর ইচ্ছা সফলকাম হবে।
ISA 53:11 তাঁর প্রাণের কষ্টভোগের পরিণামে, তিনি জীবনের জ্যোতি দেখবেন ও পরিতৃপ্ত হবেন; আমার ধার্মিক দাস তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞানের দ্বারা অনেককে নির্দোষ গণ্য করবেন, কারণ তিনিই তাদের অপরাধসকল বহন করেছেন।
ISA 53:12 সেই কারণে আমি মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁকে একটি অংশ দেব, তিনি শক্তিশালী লোকেদের সঙ্গে লুট বিভাগ করবেন, কারণ তিনি মৃত্যুর জন্য নিজের প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন, এবং অধর্মীদের সঙ্গে গণিত হয়েছেন। কারণ তিনি অনেকের পাপ বহন করেছেন এবং অধর্মীদের জন্য অনুরোধ করে চলেছেন।
ISA 54:1 “গান গাও, ওগো বন্ধ্যা নারী, তুমি, যে কখনও সন্তানের জন্ম দাওনি; সংগীতে ফেটে পড়ো, আনন্দে চিৎকার করো, যারা কখনও প্রসবযন্ত্রণা ভোগ করোনি; কারণ যার স্বামী আছে, সেই নারীর চেয়ে, যে নারী পরিত্যক্তা, তার সন্তান বেশি,” সদাপ্রভু একথা বলেন।
ISA 54:2 “তোমার তাঁবুর স্থান আরও প্রশস্ত করো, তোমার তাঁবুর পর্দাগুলি আরও প্রসারিত করো, খরচের ভয় কোরো না; তোমার তাঁবুর দড়িগুলি আরও লম্বা করো, তোমার গোঁজগুলি আরও শক্ত করো।
ISA 54:3 কারণ তুমি ডান ও বাঁ, উভয় দিকে প্রসারিত হবে; তোমার বংশধরেরা জাতিসমূহকে অধিকারচ্যুত করবে ও তাদের পরিত্যক্ত নগরগুলিতে বসবাস করবে।
ISA 54:4 “তুমি ভয় পেয়ো না, তুমি লজ্জিত হবে না। তুমি অপমানের ভয় কোরো না; তোমাকে অসম্মানিত করা হবে না। তুমি তোমার যৌবনকালের লজ্জা ভুলে যাবে, তোমার বৈধব্যের দুর্নাম আর কখনও স্মরণ করবে না।
ISA 54:5 কারণ তোমার নির্মাতাই তোমার স্বামী— সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম— ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন তোমার মুক্তিদাতা; তিনি সমস্ত পৃথিবীর ঈশ্বর নামে আখ্যাত।
ISA 54:6 সদাপ্রভু তোমাকে আবার ডাকবেন, তুমি যেন এক পরিত্যক্ত ও আত্মায় বিপর্যস্ত এক স্ত্রীর মতো— এক স্ত্রী, যার যৌবনকালে বিবাহ হয়েছিল কেবলমাত্র অগ্রাহ্য হওয়ার জন্য,” বলেন তোমার ঈশ্বর।
ISA 54:7 “ক্ষণিক মুহূর্তের জন্য আমি তোমাকে পরিত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু গভীর মমতায় আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনব।
ISA 54:8 ক্রোধের আবেশে আমি তোমার কাছ থেকে ক্ষণিকের জন্য আমার মুখ লুকিয়েছিলাম, কিন্তু চিরন্তন করুণায় আমি তোমার প্রতি মমতা করব,” বলেন সদাপ্রভু, তোমার মুক্তিদাতা।
ISA 54:9 “আমার কাছে এ যেন নোহের সময়ের মতো, যখন আমি শপথ করেছিলাম যে, নোহের সময়কালীন জলরাশি আর কখনও পৃথিবীকে প্লাবিত করবে না। সেরকমই, এখন আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তোমার উপরে আর ক্রুদ্ধ হব না, তোমাকে আর কখনও তিরস্কার করব না।
ISA 54:10 যদিও পর্বতসকল কম্পিত হয়, পাহাড়গুলি অপসারিত হতে থাকে, তবুও তোমার প্রতি আমার অফুরান ভালোবাসা কখনও সরে যাবে না, আমার শান্তিচুক্তিও অপসারিত হবে না,” একথা বলেন সদাপ্রভু, যিনি তোমার প্রতি অনুকম্পা করেন।
ISA 54:11 ওহে দুর্দশাগ্রস্ত, ঝড়ে আহত, সান্ত্বনাবিহীন নগরী, আমি ফিরোজা মণি দিয়ে তোমাকে গেঁথে তুলব, তোমার ভিত্তিমূলগুলি হবে নীলকান্তমণির।
ISA 54:12 আমি পদ্মরাগমণি দিয়ে তোমার প্রাচীরের আলিসা, তোমার তোরণদ্বারগুলি ঝকমকে মণি দিয়ে গাঁথব, তোমার প্রাচীরগুলি সব বহুমূল্য মণি দিয়ে গাঁথা হবে।
ISA 54:13 তোমার সন্তানেরা সকলে সদাপ্রভুর কাছ থেকে শিক্ষা পাবে, তোমার ছেলেমেয়েরা মহাশান্তি ভোগ করবে।
ISA 54:14 ধার্মিকতায় তুমি প্রতিষ্ঠিত হবে: উপদ্রব থেকে তুমি দূরে থাকবে; তোমার ভয় করার কিছু থাকবে না। আতঙ্ক বহুদূরে সরিয়ে ফেলা হবে, তা তোমার কাছে আসবে না।
ISA 54:15 কেউ যদি তোমাকে আক্রমণ করে, তা আমার থেকে হবে না; যে কেউই তোমাকে আক্রমণ করুক, সে তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
ISA 54:16 “দেখো, আমি সেই কর্মকারকে সৃষ্টি করেছি, যে হাপরে বাতাস দিয়ে অঙ্গার প্রজ্বলিত করে ও কাজের উপযুক্ত এক অস্ত্র গঠন করে। বিনাশককে ধ্বংস করার জন্য আমিই সৃষ্টি করেছি;
ISA 54:17 তোমার বিরুদ্ধে গঠিত কোনো অস্ত্র সফল হবে না, তোমার বিরুদ্ধে প্রত্যেক জিহ্বার অভিযোগ তুমি খণ্ডন করবে। সদাপ্রভুর দাসেদের এই হল অধিকার, আমার কাছে তারা এভাবেই নির্দোষ প্রতিপন্ন হবে,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ISA 55:1 “পিপাসিত যারা, তোমরা সকলে এসো, তোমরা জলের কাছে এসো; যাদের কাছে অর্থ নেই, তারাও এসো, ক্রয় করে পান করো! এসো, বিনা অর্থে ও বিনামূল্যে দ্রাক্ষারস ও দুধ ক্রয় করো।
ISA 55:2 যা খাবার নয়, তার জন্য কেন তোমরা পয়সা ব্যয় করো? যা তোমাদের তৃপ্তি দেয় না, তার জন্য কেন পরিশ্রম করো? শোনো, তোমরা আমার কথা শোনো, যা উৎকৃষ্ট, তাই ভোজন করো, এতে তোমাদের প্রাণ পুষ্টিকর খাদ্যে আনন্দিত হবে।
ISA 55:3 আমার কথায় কান দাও ও আমার কাছে এসো; আমার কথা শোনো যেন তোমরা প্রাণে বাঁচতে পারো। আমি তোমাদের সঙ্গে এক চিরস্থায়ী চুক্তি সম্পাদন করব, দাউদের কাছে প্রতিজ্ঞাত আমার বিশ্বস্ততা পূর্ণ ভালোবাসার জন্যই তা করব।
ISA 55:4 দেখো, আমি তাকে জাতিসমূহের কাছে সাক্ষীস্বরূপ করেছি, তাকে সব জাতির উপরে নায়ক ও সৈন্যাধ্যক্ষ করেছি।
ISA 55:5 তুমি নিশ্চয়ই সেইসব দেশকে ডেকে আনবে, যাদের তুমি জানো না, যে দেশগুলি তোমাকে জানে না, তারা দ্রুত তোমার কাছে আসবে, এ হবে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য, তিনিই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, কারণ তিনিই তোমাকে মহিমান্বিত করেছেন।”
ISA 55:6 সদাপ্রভুর অন্বেষণ করো, যতক্ষণ তাঁকে পাওয়া যায়, তিনি কাছে থাকতে থাকতেই তাঁকে আহ্বান করো।
ISA 55:7 দুষ্টলোক তার পথ, মন্দ ব্যক্তি তার চিন্তাধারা পরিত্যাগ করুক। সে সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আসুক, তাহলে তিনি তার প্রতি করুণা প্রদর্শন করবেন, সে আমাদের ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসুক, তাহলে তিনি অবাধে ক্ষমা করবেন।
ISA 55:8 “কারণ আমার চিন্তাধারা তোমাদের চিন্তাধারার মতো নয়, আবার আমার পথসকল তোমাদের পথসকলের মতো নয়,” একথা বলেন সদাপ্রভু।
ISA 55:9 “আকাশমণ্ডল যেমন পৃথিবী থেকে উঁচুতে, তেমনই আমার পথসকল তোমাদের পথসকলের চেয়ে এবং আমার চিন্তাধারা তোমাদের চিন্তাধারার চেয়ে উঁচুতে।
ISA 55:10 যেমন বৃষ্টি ও তুষার আকাশ থেকে নেমে আসে, আর সেখানে ফিরে যায় না, বরং তা মাটিকে জলসিক্ত করে তাতে ফুল ও ফল উৎপন্ন করে, যেন তা বপনকারীকে বীজ ও মানুষকে খাদ্য দান করতে পারে,
ISA 55:11 তেমনই আমার বাক্য, যা আমার মুখ থেকে নির্গত হয়: তা নিষ্ফল হয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে না, কিন্তু আমি যেমন চাই, তেমনই তা সম্পন্ন করবে এবং যে উদ্দেশ্যে তা প্রেরণ করি, তা সাধন করবে।
ISA 55:12 তোমরা আনন্দের সঙ্গে বাইরে যাবে এবং শান্তির সঙ্গে তোমাদের নিয়ে যাওয়া হবে; পাহাড় ও পর্বতেরা তোমাদের সামনে আনন্দ সংগীতে ফেটে পড়বে, আর মাঠের সমস্ত গাছপালা তাদের করতালি দেবে।
ISA 55:13 কাঁটাগাছের বদলে দেবদারু এবং শিয়ালকাঁটার বদলে গুলমেদি উৎপন্ন হবে। এ হবে সদাপ্রভুর সুনামের জন্য, তা হবে এক চিরস্থায়ী নিদর্শনস্বরূপ, যা কখনও ধ্বংস হবে না।”
ISA 56:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা ন্যায়বিচার মেনে চলো এবং যা ন্যায়সংগত, তাই করো, কারণ আমার পরিত্রাণ অতি নিকটবর্তী, আমার ধার্মিকতা সত্বর প্রকাশিত হবে।
ISA 56:2 ধন্য সেই মানুষ, যে এইরকম করে, সেই মানুষ, যে তা আঁকড়ে ধরে রাখে, যে সাব্বাথ-দিন অপবিত্র না করে তা পালন করে, যে মন্দ কাজ করা থেকে তার হাত সরিয়ে রাখে।”
ISA 56:3 সদাপ্রভুর প্রতি সমর্পিত কোনো বিদেশি না বলুক, “সদাপ্রভু নিশ্চয়ই তাঁর প্রজাদের মধ্য থেকে আমাকে বাদ দেবেন।” আবার কোনো নপুংসকও অভিযোগ না করুক যে, “আমি তো একটি শুষ্ক বৃক্ষ মাত্র।”
ISA 56:4 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যে নপুংসকেরা আমার সাব্বাথ-দিন পালন করে, যা আমার প্রীতিজনক, তাই বেছে নেয় এবং আমার নিয়মের প্রতি অবিচল থাকে,
ISA 56:5 তাদের আমি আমার মন্দির ও তার প্রাচীরগুলির মধ্যে পুত্রকন্যাদের থেকেও উৎকৃষ্ট এক স্মারক চিহ্ন ও একটি নাম দেব; আমি তাদের মধ্যে এক চিরস্থায়ী নাম দেব, যা কখনও মুছে ফেলা হবে না।
ISA 56:6 যে বিদেশিরা সদাপ্রভুর সেবা করার জন্য, তাঁকে ভালোবাসার জন্য ও তাঁর আরাধনা করার জন্য তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, যারাই সাব্বাথ-দিন অপবিত্র না করে তা পালন করে ও যারা আমার নিয়ম অবিচলভাবে পালন করে—
ISA 56:7 তাদের আমি আমার পবিত্র পর্বতে নিয়ে আসব এবং আমার প্রার্থনা-গৃহে তাদের আনন্দ দেব। তাদের দেওয়া হোমবলি ও অন্যান্য নৈবেদ্য আমার বেদিতে গ্রহণ করা হবে; কারণ আমার গৃহ আখ্যাত হবে সর্বজাতির প্রার্থনা-গৃহ বলে।”
ISA 56:8 সার্বভৌম সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, যিনি ইস্রায়েলের নির্বাসিতদের সংগ্রহ করেন: “যাদের সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের ছাড়াও, আমি আরও অন্যদের সংগ্রহ করব।”
ISA 56:9 মাঠের সমস্ত পশু, তোমরা এসো, বনের সমস্ত পশু, তোমরা এসে গ্রাস করো!
ISA 56:10 ইস্রায়েলের প্রহরীরা অন্ধ, তাদের প্রত্যেকের জ্ঞানের অভাব আছে; তারা সকলেই বোবা কুকুর, তারা ঘেউ ঘেউ করতে জানে না; তারা শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখে, তারা ঘুমাতে ভালোবাসে।
ISA 56:11 তারা প্রবল ক্ষুধাবিশিষ্ট কুকুর, তাদের কখনও তৃপ্তি হয় না। তারা বুদ্ধিবিহীন মেষপালক; তারা সবাই নিজের নিজের পথের দিকে ফেরে, প্রত্যেকেই নিজের নিজের লাভের চেষ্টা করে।
ISA 56:12 প্রত্যেকে চিৎকার করে বলে, “এসো, আমি দ্রাক্ষারস আনি! এসো আমরা সুরাপানে মত্ত হই! আগামীকালও আজকের মতো হবে, এমনকি, এর থেকেও ভালো হবে।”
ISA 57:1 ধার্মিক ব্যক্তিরা বিনষ্ট হয়, কেউ তা বিবেচনা করে না; ভক্তিমান লোকেরা অপসারিত হচ্ছে, কেউ তা বুঝতে পারছে না যে, মন্দ থেকে রক্ষা করার জন্যই ধার্মিক লোকেদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ISA 57:2 যারা ন্যায়সংগত জীবনযাপন করে, তারা শান্তিতে প্রবেশ করবে; মৃত্যুশয্যায় তারা বিশ্রাম লাভ করবে।
ISA 57:3 “কিন্তু তোমরা, যারা মায়াবিনীর সন্তান, যারা ব্যভিচারী ও বেশ্যাদের বংশ, তোমরা এখানে এসো!
ISA 57:4 তোমরা কাকে উপহাস করছ? কাকে দেখে তোমরা মুখ বাঁকাও ও তোমাদের জিভ বের করো? তোমরা কি বিদ্রোহীদের সন্তান ও মিথ্যাবাদীদের বংশ নও?
ISA 57:5 তোমরা তো ওক গাছগুলির তলে ও প্রত্যেক ঝোপাল গাছপালার তলে দেবকামে জ্বলতে থাকো; তোমরা তো গিরিখাতে ও উপরে ঝুলে থাকা শৈলের ফাটলে, তোমাদের ছেলেমেয়েদের বলি দিয়ে থাকো।
ISA 57:6 গিরিখাতের মসৃণ পাথরের দেবদেবীর মধ্যেই রয়েছে তোমাদের প্রাপ্য অংশ; সেগুলিতে, হ্যাঁ সেগুলিতেই রয়েছে তোমাদের স্বত্ব। তাদের কাছেই তোমরা ঢেলে দিয়েছ পেয়-নৈবেদ্য এবং উৎসর্গ করেছ যত শস্য-নৈবেদ্য। এগুলির পরিপ্রেক্ষিতে আমার মন কি কোমল হবে?
ISA 57:7 তুমি উঁচু ও উন্নত এক পাহাড়ের উপরে তোমার শয্যা পেতেছ; সেখানে তোমার বলিদান উৎসর্গের জন্য তুমি উঠে গিয়েছিলে।
ISA 57:8 তোমার দরজা ও চৌকাঠের পিছনে তুমি তোমার পৌত্তলিক স্মৃতিচিহ্নগুলি রেখেছ। আমাকে ভুলে গিয়ে, তুমি তোমার বিছানার চাদর তুলেছ, তুমি তার উপরে উঠে বিছানাটি চওড়া করেছ; তুমি যাদের বিছানা ভালোবাসো, তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছ, সেই সঙ্গে তুমি তাদের নগ্নতা দেখেছ।
ISA 57:9 তুমি জলপাই তেল মেখে রাজার কাছে গিয়েছ ও প্রচুর সুগন্ধিদ্রব্য ব্যবহার করেছ। তুমি তোমার রাজদূতদের বহুদূরে পাঠিয়েছ; তুমি স্বয়ং পাতাল পর্যন্ত নেমে গিয়েছ!
ISA 57:10 তোমার সমস্ত জীবনাচরণে তুমি ক্লান্ত হয়েছিলে, কিন্তু তবুও তুমি বলোনি, ‘এসব অর্থহীন।’ তুমি তোমার শক্তি নবায়িত হতে দেখেছ, তাই তুমি মূর্ছিত হওনি।
ISA 57:11 “কার প্রতি তুমি এত ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছ যে আমার কাছে মিথ্যা কথা বলেছ, তুমি আমাকে স্মরণও করোনি কিংবা নিজের মনে এসব বিষয় বিবেচনাও করোনি? এজন্য নয় যে আমি দীর্ঘ সময় নীরব থেকেছি, তাই কি তুমি আমাকে ভয় করো না?
ISA 57:12 আমি তোমার ধার্মিকতা ও তোমার কাজগুলি প্রকাশ করে দেব, সেগুলি তোমার কোনো উপকারে আসবে না।
ISA 57:13 যখন তুমি সাহায্যের জন্য কাঁদতে থাকবে, তখন তোমার সঞ্চিত প্রতিমারাই যেন তোমাকে রক্ষা করে! বাতাস তাদের সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, সামান্য এক শ্বাসের ফুৎকারে তারা উড়ে যাবে। কিন্তু যে মানুষ আমার শরণাপন্ন হয়, সে দেশের অধিকার পাবে এবং আমার পবিত্র পর্বতের অধিকারী হবে।”
ISA 57:14 আর এরকম বলা হবে, “তৈরি করো, তৈরি করো, তোমরা রাস্তা তৈরি করো! আমার প্রজাদের চলা পথ থেকে সমস্ত বাধা অপসারিত করো।”
ISA 57:15 কারণ যিনি উচ্চ ও উন্নত, যিনি চিরকাল জীবিত থাকেন ও যাঁর নাম পবিত্র, তিনি এই কথা বলেন, “আমি এক উচ্চ ও পবিত্রস্থানে বাস করি, আবার যে ভগ্নচূর্ণ ও নতনম্র আত্মা বিশিষ্ট, তার মধ্যেও বাস করি, যেন নম্র ব্যক্তিদের আত্মা সঞ্জীবিত করি এবং ভগ্নচূর্ণমনা ব্যক্তিদের হৃদয়কেও সঞ্জীবিত করি।
ISA 57:16 আমি চিরকাল অভিযোগ করব না, আবার সবসময় ক্রুদ্ধও হব না, তা না হলে, মানুষের আত্মা, যে মানুষের শ্বাসবায়ু আমি সৃষ্টি করেছি, সে আমারই সামনে মূর্ছিত হবে।
ISA 57:17 আমি তার পাপিষ্ঠ লোভের জন্য ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম; আমি তাকে শাস্তি দিয়েছিলাম এবং ক্রোধে আমার মুখ লুকিয়েছিলাম, তবুও সে তার ইচ্ছামতো জীবনযাপন করা ছাড়েনি।
ISA 57:18 আমি তার জীবনাচরণ দেখেছি, কিন্তু আমি তাকে সুস্থ করব; আমি তাকে পথ দেখাব ও পুনরায় ইস্রায়েলে শোককারীদের সান্ত্বনা দেব,
ISA 57:19 তাদের মুখে প্রশংসার স্তব সৃষ্টি করব। শান্তি, শান্তি হোক যারা দূরে বা নিকটে থাকে, আর আমি তাদের রোগনিরাময় করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 57:20 কিন্তু দুষ্ট মানুষেরা তরঙ্গবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মতো, যা কখনও স্থির থাকে না, যার তরঙ্গগুলি কেবলই পঙ্ক ও কর্দম নিক্ষেপ করে।
ISA 57:21 আমার ঈশ্বর বলেন, “দুষ্ট লোকেদের কোনো কিছুতেই শান্তি নেই।”
ISA 58:1 “জোরে চিৎকার করে বলো, রব সংযত কোরো না, তূরীধ্বনির মতোই তোমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তোলো। আমার প্রজাদের কাছে তাদের বিদ্রোহের কথা ঘোষণা করো, যাকোবের কুলের কাছে তাদের পাপের কথা জানাও।
ISA 58:2 কারণ দিনের পর দিন তারা আমার অন্বেষণ করে, মনে হয় তারা যেন আমার পথগুলি জানার বিষয়ে আগ্রহী, তারা এমন জাতি, যারা ন্যায়সংগত কাজ করে এবং তাদের ঈশ্বরের আদেশগুলি পরিত্যাগ করেনি। তারা আমার কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের কথা জানতে চায় এবং মনে হয় তারা যেন ঈশ্বরকে কাছে পেতে আগ্রহী।
ISA 58:3 তারা বলে, ‘কেন আমরা উপবাস করেছি, আর তুমি তা লক্ষ্য করোনি? কেন আমরা নিজেদের নতনম্র করেছি, অথচ তুমি তা দেখতে পাওনি?’ “তবুও, তোমরা উপবাসের দিনে, তোমাদের ইচ্ছামতো যা খুশি তাই করো, আর তোমাদের শ্রমিকদের শোষণ করো।
ISA 58:4 তোমাদের উপবাস ঝগড়া ও বিবাদে শেষ হয়, দুষ্টতাপূর্ণ মুষ্টাঘাতে পরস্পরকে আঘাত করো। আজকের মতো তোমরা উপবাস করলে ঊর্ধ্বে তোমাদের রব শোনার আশা করতে পারবে না।
ISA 58:5 আমি কি এই ধরনের উপবাস মনোনীত করেছি? কেবলমাত্র একদিনের জন্য কি মানুষ নিজেকে নম্র করবে? এ কি কেবলমাত্র নলখাগড়ার মতো নিজের মাথা নত করা এবং চটে ও ভস্মে শয়ন করা? একেই কি তোমরা উপবাস বলো, সদাপ্রভুর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি দিন বলো?
ISA 58:6 “আমি কি এই ধরনের উপবাস মনোনীত করিনি: অন্যায় বিচারের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা ও জোয়ালের দড়িগুলি খুলে ফেলা, অত্যাচারিত ব্যক্তিদের মুক্ত করা ও প্রত্যেক জোয়াল ভেঙে ফেলা?
ISA 58:7 এই কি নয়, যে ক্ষুধার্ত লোকেদের কাছে তোমার খাবার বণ্টন করা এবং দরিদ্র ভবঘুরে ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া— যখন তুমি উলঙ্গ ব্যক্তিকে দেখো, তাকে পোশাক পরিহিত করা, আর নিজের আপনজনদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেওয়া?
ISA 58:8 তখন তোমার আলো প্রত্যূষকালের মতো প্রকাশ পাবে, আর তুমি সত্বর আরোগ্যতা লাভ করবে, তখন তোমার ধার্মিকতা তোমার অগ্রগামী হবে, আর সদাপ্রভুর মহিমা তোমার পিছন দিকের রক্ষক হবেন।
ISA 58:9 তখন তুমি ডাকলে সদাপ্রভু উত্তর দেবেন; তুমি সাহায্যের জন্য কাঁদলে তিনি বলবেন: এই যে আমি। “তুমি যদি অত্যাচারের জোয়াল, অর্থাৎ অঙ্গুলিতর্জন ও বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তা দূর করো,
ISA 58:10 যদি তুমি ক্ষুধার্তকে নিজের অন্ন দাও এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির সব প্রয়োজন মিটিয়ে দাও, তখন তোমার জ্যোতি অন্ধকারে উদিত হবে এবং তোমার রাত্রি দুপুরবেলার মতো হবে।
ISA 58:11 আর সদাপ্রভু সবসময়ই তোমাকে পথ প্রদর্শন করবেন; তিনি শুষ্ক-ভূমিতে তোমার প্রাণ তৃপ্ত করবেন ও তোমার অস্থিকাঠামো শক্তিশালী করবেন। তুমি ভালোভাবে জল-সিঞ্চিত একটি বাগানের মতো হবে, তুমি হবে এমন এক উৎসের মতো, যার জল কখনও শুকায় না।
ISA 58:12 তোমার লোকেরা প্রাচীনকালের ধ্বংসাবশেষকে পুনর্নির্মাণ করবে, এবং বহুকাল পূর্বের ভিত্তিমূলগুলি আবার গেঁথে তুলবে; তোমাকে বলা হবে ভগ্ন প্রাচীরগুলির মেরামতকারী, পথসমূহ ও বসবাসের স্থানগুলির পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী।
ISA 58:13 “তুমি যদি সাব্বাথ-দিন লঙ্ঘন করা থেকে পা ফিরাও, আমার পবিত্র দিনে নিজের ইচ্ছামতো কাজ না করো, তুমি যদি সাব্বাথ-দিনকে আনন্দদায়ক ও সদাপ্রভুর পবিত্র দিনকে সম্মাননীয় আখ্যা দাও, আর যদি তুমি নিজের মনমতো পথে না গিয়ে সেদিনকে সম্মান করো, নিজের ইচ্ছামতো কিছু না করো ও অসার কথাবার্তা না বলো,
ISA 58:14 তাহলে তুমি সদাপ্রভুতে তোমার আনন্দ খুঁজে পাবে, আর আমি তোমাকে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে আরোহণ করাব এবং তোমার পিতৃপুরুষ যাকোবের অধিকারে উৎসব করতে দেব,” সদাপ্রভুর মুখ এই কথা বলেছেন।
ISA 59:1 নিশ্চয়ই সদাপ্রভুর হাত এত ছোটো নয়, যে তিনি ত্রাণ করতে পারেন না, বা তাঁর কান এমন বধির নয়, যে তিনি শুনতে পান না।
ISA 59:2 কিন্তু তোমাদের অপরাধগুলিই তোমাদের পৃথক করেছে তোমাদের ঈশ্বর থেকে; তোমাদের পাপগুলি তোমাদের কাছ থেকে তাঁর শ্রীমুখকে লুকিয়েছে, তাই তিনি শোনেন না।
ISA 59:3 কারণ তোমাদের হাতগুলি রক্তে ও তোমাদের আঙুলগুলি অপরাধে কলুষিত হয়েছে। তোমাদের মুখ মিথ্যা কথা বলেছে, আর তোমাদের জিভ কেবলই দুষ্টতার কথা বলে।
ISA 59:4 কেউ ন্যায্য বিচারের আহ্বান করে না; কেউই তার মামলা সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে উপস্থাপিত করে না। তারা অসার তর্কযুক্তিতে নির্ভর করে এবং মিথ্যা কথা বলে; তারা সমস্যা গর্ভে ধারণ করে মন্দতার জন্ম দেয়।
ISA 59:5 তারা কালসাপের ডিম ফোটায় এবং মাকড়সার জাল বোনে। কেউ যদি তাদের ডিম খায়, সে মারা যাবে, সেই ডিম যখন ফোটে, বিষাক্ত সাপ বের হয়।
ISA 59:6 তাদের জালের সুতোয় পোশাক তৈরি হয় না; তাদের তৈরি পোশাকে তারা নিজেদের আবৃত করতে পারে না। তাদের সমস্ত কাজ মন্দ, তাদের হাতে রয়েছে সমস্ত হিংস্রতার কাজ।
ISA 59:7 তাদের পাগুলি পাপের পথে দৌড়ায়; নির্দোষের রক্তপাত করার জন্য তারা দ্রুত ছুটে যায়। তাদের সমস্ত চিন্তাধারা কেবলই মন্দ; তাদের পথে পথে রয়েছে ধ্বংস ও বিনাশ।
ISA 59:8 তারা শান্তির পথ জানে না; তাদের পথে কোনো ন্যায়বিচার নেই। তারা নিজেদের আঁকাবাঁকা পথে ফিরিয়েছে; সেই পথ যে অতিক্রম করে, সে শান্তির সন্ধান পায় না।
ISA 59:9 তাই ন্যায়বিচার আমাদের কাছ থেকে দূরে থাকে, ধার্মিকতা আমাদের কাছে পৌঁছায় না। আমরা আলোর অপেক্ষা করি, কিন্তু সবই অন্ধকার অপেক্ষা করি উজ্জ্বলতার, কিন্তু গহন ছায়ায় পথ চলি।
ISA 59:10 দৃষ্টিহীনের মতো আমরা দেওয়াল ধরে পথ হাঁতড়াই, চক্ষুহীন মানুষের মতোই আমরা পথ অনুমান করি। মধ্যাহ্নেই সন্ধ্যা হয়েছে ভেবে আমরা হোঁচট খাই, শক্তিশালী লোকেদের মাঝে, আমরা যেন মৃত মানুষ।
ISA 59:11 আমরা সবাই ভালুকের মতো গর্জন করি; ঘুঘুর মতোই আমরা করুণ আর্তস্বর করি। আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করি, কিন্তু পাই না; মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকি, কিন্তু তা দূরে থাকে।
ISA 59:12 কারণ তোমার দৃষ্টিতে আমাদের অপরাধ প্রচুর, আমাদের পাপগুলি আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। আমাদের অপরাধগুলি আমাদের নিত্যসঙ্গী, আমরা আমাদের সব অধর্ম স্বীকার করি:
ISA 59:13 সেগুলি হল: সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা, আমাদের ঈশ্বরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন, অত্যাচার ও বিপ্লব করার জন্য প্ররোচিত করা, আমাদের হৃদয়ে সঞ্চিত মিথ্যা কথা উগরে দেওয়া।
ISA 59:14 তাই ন্যায়বিচার পিছু হটে যায়, ধার্মিকতা দূরে দাঁড়িয়ে থাকে; সত্য পথে পথে হোঁচট খেয়েছে, সততা প্রবেশ করতেই পারে না।
ISA 59:15 সত্যের সন্ধান কোথাও পাওয়া যায় না, আর কেউ যদি মন্দতাকে ত্যাগ করে, সে অত্যাচারের শিকার হয়ে যায়। সেখানে ন্যায়বিচার নেই লক্ষ্য করে সদাপ্রভু অসন্তুষ্ট হলেন।
ISA 59:16 তিনি দেখলেন, সেখানে একজনও নেই, অবাক হলেন দেখে যে, মধ্যস্থতা করার জন্য একজনও নেই; তাই তাঁর নিজেরই বাহু তাঁর হয়ে মুক্তিসাধন করল, তাঁর নিজের ধার্মিকতা তাঁকে তুলে ধরল।
ISA 59:17 তিনি ধার্মিকতাকে তার বুকপাটারূপে ও মাথার উপরে পরিত্রাণকে শিরস্ত্রাণরূপে পরিধান করলেন; তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের সব পোশাক পরে নিলেন, পরিচ্ছদরূপে গায়ে জড়িয়ে নিলেন উদ্যোগ।
ISA 59:18 তারা যে রকম কাজ করেছে, সেইরকমভাবেই তিনি তাদের প্রতিশোধ দেবেন, শত্রুদের প্রতি ক্রোধ ও বিপক্ষদের প্রতি তাঁর দণ্ড; দ্বীপনিবাসীদের কাছে তিনি তাদের প্রাপ্য দেবেন।
ISA 59:19 পশ্চিমদিক থেকে, লোকেরা সদাপ্রভুর নামকে ভয় করবে, সূর্যোদয়ের দিক থেকে, তারা তাঁর মহিমাকে সম্ভ্রম করবে। কারণ তিনি বাঁধ ভাঙা বন্যার মতো আসবেন, যা সদাপ্রভুর নিশ্বাসে প্রবাহিত হবে।
ISA 59:20 “যাকোব কুলে যারা তাদের পাপসমূহের জন্য অনুতপ্ত হবে, মুক্তিদাতা তাদের কাছে সিয়োন থেকে আসবেন,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ISA 59:21 “আমার দিক থেকে, এ হল তাদের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমার আত্মা, যা তোমার উপরে আছে এবং আমার বাক্য, যা আমি তোমার মুখে দিয়েছি, তা তোমার মুখ থেকে বা তোমার ছেলেমেয়েদের মুখ থেকে, এবং তাদের বংশধরদের মুখ থেকে, এখন থেকে চিরকাল পর্যন্ত, কখনও দূর করা যাবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 60:1 “ওঠো, প্রদীপ্ত হও, কারণ তোমার দীপ্তি উপস্থিত হয়েছে, সদাপ্রভুর গৌরব তোমার উপরে উদিত হল।
ISA 60:2 দেখো, অন্ধকার পৃথিবীতে ছেয়ে গেছে, ঘন অন্ধকার জাতিসমূহকে আবৃত করেছে, কিন্তু সদাপ্রভু তোমার উপরে উদিত হয়েছেন, তাঁর মহিমা তোমার উপরে প্রত্যক্ষ হয়েছে।
ISA 60:3 বিভিন্ন জাতি তোমার দীপ্তির কাছে আসবে, রাজারা আসবে তোমার ভোরের উজ্জ্বলতার কাছে।
ISA 60:4 “তোমার দু-চোখ তুলে চারপাশে তাকিয়ে দেখো: সবাই একসঙ্গে তোমার কাছে এসেছে; তোমার ছেলেরা দূর থেকে আসছে, তোমার মেয়েদের কোলে বহন করে আনা হচ্ছে।
ISA 60:5 তখন তুমি তা দেখে দীপ্যমান হবে, তোমার হৃদয় স্পন্দিত হয়ে আনন্দে স্ফীত হবে; সমুদ্রের ঐশ্বর্য তোমার কাছে আনা হবে, তোমার কাছেই আনীত হবে জাতিসমূহের সব সম্পদ।
ISA 60:6 উটের পাল তোমার দেশে ছেয়ে যাবে, মিদিয়ন ও ঐফার উটে দেশ ভরে যাবে। আর শিবা থেকে সবাই বহন করে আনবে সোনা ও ধূপ, তারা সদাপ্রভুর স্তব ঘোষণা করবে।
ISA 60:7 কেদরের সমস্ত পশুপাল তোমার কাছে সংগৃহীত হবে, নবায়োতের মেষেরা তোমার সেবা করবে; সেগুলি আমার বেদিতে নৈবেদ্যরূপে গৃহীত হবে, আর আমি আমার মহিমাময় মন্দির সুশোভিত করব।
ISA 60:8 “এরা কারা, যারা মেঘের মতো উড়ে আসছে, নিজেদের বাসার প্রতি ঘুঘুর মতো আসছে?
ISA 60:9 নিশ্চয়ই দ্বীপগুলি আমার প্রতি দৃষ্টি করে, তাদের নেতৃত্ব দেয় তর্শীশের সব জাহাজ। সেগুলি তোমার সন্তানদের দূর থেকে আনবে, সঙ্গে থাকবে তাদের রুপো আর সোনা, তা হবে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের জন্য, তিনিই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতম জন, কারণ তিনিই তোমাকে বিভূষিত করেছেন।
ISA 60:10 “বিজাতিয়েরা তোমার প্রাচীরগুলি পুনর্নির্মাণ করবে, তাদের রাজারা তোমার সেবা করবে। যদিও ক্রোধে আমি তোমাকে আঘাত করেছিলাম, অনুগ্রহে আমি তোমার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করব।
ISA 60:11 তোমার তোরণদ্বারগুলি সবসময়ই খোলা থাকবে, দিনে বা রাতে, সেগুলি কখনও বন্ধ করা হবে না, যেন লোকেরা তোমার কাছে জাতিসমূহের ঐশ্বর্য নিয়ে আসে— তাদের রাজারা বিজয় মিছিলের সামনে সামনে চলবে।
ISA 60:12 কারণ যে দেশ বা রাজ্য তোমার সেবা করবে না, তা ধ্বংস হবে; তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
ISA 60:13 “লেবাননের গৌরব তোমার কাছে আসবে, দেবদারু, ঝাউ ও চিরহরিৎ গাছ একসঙ্গে আসবে, যেন আমার পবিত্র ধামকে সুশোভিত করতে পারে; আর আমি আমার পা রাখার স্থানকে গৌরব দান করব।
ISA 60:14 তোমার প্রতি অত্যাচারকারী লোকেদের সন্তানেরা প্রণত হয়ে তোমার কাছে আসবে; যারাই তোমাকে অবজ্ঞা করেছিল, তারা তোমার পায়ে প্রণিপাত করবে এবং তোমার উদ্দেশে বলবে, এ সদাপ্রভুর নগরী, ইস্রায়েলের পবিত্রতমজনের সিয়োন।
ISA 60:15 “যদিও তুমি পরিত্যক্ত ও ঘৃণিত হয়েছিলে, কেউ তোমার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত না, আমি তোমাকে চিরকালীন গর্বের স্থান এবং বংশপরম্পরায় সকলের আনন্দের কারণ করব।
ISA 60:16 তুমি জাতিসমূহের দুধ পান করবে, রাজাদের ঐশ্বর্য গ্রাস করবে। তখন তুমি জানতে পারবে যে, আমি সদাপ্রভুই তোমার পরিত্রাতা, তোমার মুক্তিদাতা, যাকোবের সেই পরাক্রমী জন।
ISA 60:17 আমি তোমার কাছে পিতলের পরিবর্তে সোনা ও লোহার পরিবর্তে রুপো নিয়ে আসব। আমি কাঠের পরিবর্তে পিতল এবং পাথরের পরিবর্তে লোহা নিয়ে আসব। আমি শান্তিকে তোমার নিয়ন্ত্রণকারী করব, ধার্মিকতা হবে তোমার প্রশাসক।
ISA 60:18 তোমার দেশে উপদ্রবের কথা, তোমার সীমানার মধ্যে ধ্বংস বা বিনাশের কথা, আর শোনা যাবে না; কিন্তু তুমি তোমার প্রাচীরগুলিকে বলবে পরিত্রাণ এবং তোরণদ্বারগুলিকে বলবে প্রশংসা।
ISA 60:19 দিনের বেলা সূর্য আর তোমার জ্যোতিস্বরূপ হবে না, চাঁদের জ্যোৎস্নাও আর তোমাকে আলো দেবে না, কারণ সদাপ্রভু হবেন তোমার চিরস্থায়ী জ্যোতি, তোমার ঈশ্বরই হবেন তোমার গৌরব।
ISA 60:20 তোমার সূর্য আর অস্তমিত হবে না, তোমার চাঁদের আলো আর ক্ষীণ হবে না; সদাপ্রভুই হবেন তোমার চিরজ্যোতি, আর তোমার দুঃখকষ্টের দিন শেষ হবে।
ISA 60:21 তখন তোমার সমস্ত প্রজা ধার্মিক হবে, তারা চিরকালের জন্য দেশের অধিকারী হবে। তারাই সেই চারাগাছ, যা আমি রোপণ করেছিলাম, তারা আমার নিজের হাতের কাজ, যেন আমার সৌন্দর্যের বিভব প্রদর্শিত হয়।
ISA 60:22 তোমার মধ্যে নগণ্যতম জন এক সহস্রের সমান হবে, ক্ষুদ্রতম জন হবে এক শক্তিশালী জাতিস্বরূপ। আমিই সদাপ্রভু; যথাসময়ে আমি তা দ্রুত সম্পন্ন করব।”
ISA 61:1 সার্বভৌম সদাপ্রভুর আত্মা আমার উপরে আছেন, কারণ সদাপ্রভু আমাকে অভিষিক্ত করেছেন, যেন দরিদ্রদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি। তিনি আমাকে ভগ্নহৃদয় মানুষকে সারিয়ে তুলতে প্রেরণ করেছেন, বন্দিদের কাছে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে এবং কারারুদ্ধ মানুষদের অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে,
ISA 61:2 সদাপ্রভুর কৃপা প্রদর্শনের বছর ও আমাদের ঈশ্বরের প্রতিশোধ গ্রহণের দিন ঘোষণা করতে, সমস্ত বিলাপকারীকে সান্ত্বনা দিতে,
ISA 61:3 ও যেন সিয়োনের শোকার্তজনেদের জন্য ব্যবস্থা করি— ভস্মের পরিবর্তে সৌন্দর্যের মুকুট, শোকবিলাপের পরিবর্তে আনন্দের তেল, এবং অবসন্ন হৃদয়ের পরিবর্তে প্রশংসার পোশাক। তাদের বলা হবে ধার্মিকতার ওক গাছ, শোভা ও সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য যা সদাপ্রভু রোপণ করেছেন।
ISA 61:4 তারা পুরাকালের ধ্বংসাবশেষকে পুনর্নির্মাণ করবে এবং দীর্ঘ দিনের ধ্বংসিত স্থানগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে; বংশপরম্পরায় উচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরগুলিকে তারা নবরূপ দান করবে।
ISA 61:5 বিদেশিরা তোমাদের পশুপাল চরাবে; বিজাতীয় লোকেরা তোমাদের মাঠগুলিতে ও দ্রাক্ষাকুঞ্জে কাজ করবে।
ISA 61:6 আর তোমাদের বলা হবে সদাপ্রভুর যাজকবৃন্দ, তোমরা আমাদের ঈশ্বরের পরিচারকরূপে আখ্যাত হবে। তোমরা জাতিসমূহের ঐশ্বর্য ভোগ করবে, আর তাদেরই ধনসম্পদে তোমরা গর্ব করবে।
ISA 61:7 লজ্জার পরিবর্তে আমার প্রজারা দ্বিগুণ অংশের অধিকার লাভ করবে; আর অপমানের পরিবর্তে তারা তাদের উত্তরাধিকারে উল্লসিত হবে; এভাবেই তারা নিজেদের দেশে দ্বিগুণ অংশের অধিকার পাবে আর চিরস্থায়ী আনন্দ হবে তাদের অধিকার।
ISA 61:8 “কারণ আমি সদাপ্রভু, আমি ন্যায়বিচার ভালোবাসি; আমি দস্যুবৃত্তি ও অধর্ম ঘৃণা করি। আমার বিশ্বস্ততায় আমি তাদের পুরস্কৃত করব এবং তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করব এক চিরস্থায়ী নিয়ম।
ISA 61:9 তাদের বংশধরেরা জাতিসমূহের মধ্যে ও তাদের সন্তানেরা লোকবৃন্দের মধ্যে পরিচিত হবে। যারাই তাদের দেখবে, স্বীকার করবে যে, তারা এমন জাতি, যাদের সদাপ্রভু আশীর্বাদ করেছেন।”
ISA 61:10 আমি সদাপ্রভুতে মহা আনন্দ করি; আমার প্রাণ আমার ঈশ্বরে উল্লসিত হয়। যেভাবে বর শোভার জন্য যাজকের মতো মাথায় উষ্ণীষ দেয়, যেভাবে কন্যা তার রত্নরাজি দিয়ে নিজেকে সুশোভিত করে, সেভাবেই তিনি আমাকে পরিত্রাণের পোশাক পরিয়েছেন, আমাকে তাঁর ধার্মিকতার বসনে সুসজ্জিত করেছেন।
ISA 61:11 কারণ ভূমি যেমন অঙ্কুর নির্গত করে, যেভাবে উদ্যানে উপ্ত বীজ অঙ্কুরিত হয়, তেমনই সার্বভৌম সদাপ্রভু সমস্ত জাতির সাক্ষাতে ধার্মিকতা ও প্রশংসা অঙ্কুরিত করবেন।
ISA 62:1 সিয়োনের কারণে আমি চুপ করে থাকব না, জেরুশালেমের জন্য আমি শান্ত থাকব না, যতক্ষণ না তার ধার্মিকতা ভোরের মতো উজ্জ্বল হয়, তার পরিত্রাণ জ্বলন্ত মশালের মতো হয়।
ISA 62:2 সব জাতি তোমার ধর্মশীলতা দেখবে, সব রাজা তোমার মহিমা দেখবে; তুমি এক নতুন নামে আখ্যাত হবে, যে নাম সদাপ্রভুরই মুখ নির্ণয় করবে।
ISA 62:3 তুমি হবে সদাপ্রভুর হাতে এক সৌন্দর্যের মুকুট, তোমার ঈশ্বরের হাতে এক রাজকীয় কিরীট।
ISA 62:4 তারা আর তোমাকে পরিত্যক্ত বলবে না, কিংবা তোমার দেশকে জনশূন্য বলবে না। কিন্তু তোমাকে ডাকা হবে হিফ্‌সীবা বলে, তোমার দেশকে বলা হবে বিউলা; কারণ সদাপ্রভু তোমাকে নিয়ে আনন্দ করবেন, আর তোমার ভূমি বিবাহিত হবে।
ISA 62:5 যেভাবে কোনো যুবক একজন কুমারীকে বিবাহ করে, তোমার নির্মাতা তেমনই তোমায় বিবাহ করবেন; বর যেমন কনেকে নিয়ে উল্লসিত হয়, তেমনই ঈশ্বর তোমাকে নিয়ে উল্লাস করবেন।
ISA 62:6 জেরুশালেম, আমি তোমার প্রাচীরগুলিতে প্রহরী নিয়োগ করেছি, তারা দিনে বা রাতে, কখনও নীরব থাকবে না। তোমরা যারা সদাপ্রভুকে ডাকো, তোমরা নিজেদের বিশ্রাম দিয়ো না,
ISA 62:7 আর তাঁকেও দিয়ো না, যতক্ষণ না তিনি জেরুশালেমকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাকে পৃথিবীতে প্রশংসার পাত্র করেন।
ISA 62:8 সদাপ্রভু তাঁর ডান হাত ও তাঁর শক্তিশালী বাহু তুলে শপথ করেছেন: “আর কখনও আমি তোমার শস্যদানা নিয়ে তোমার শত্রুদের হাতে খাবারের জন্য দেব না, বিজাতিয়েরা আর কখনও নতুন দ্রাক্ষারস পান করবে না, যার জন্য তুমি পরিশ্রম করেছ।
ISA 62:9 কিন্তু যারা সেই ফসল সঞ্চয় করবে, তারাই তা ভোজন করবে ও সদাপ্রভুর প্রশংসা করবে, আর যারা দ্রাক্ষাচয়ন করবে, তারা তা পান করবে, আমার পবিত্র ধামের প্রাঙ্গণেই করবে।”
ISA 62:10 পার হও, তোমরা তোরণদ্বারগুলি দিয়েই পার হও! প্রজাদের জন্য পথ প্রস্তুত করো। নির্মাণ করো, রাজপথ নির্মাণ করো! সব পাথর সরিয়ে ফেলো। সমস্ত জাতির জন্য একটি পতাকা তোলো।
ISA 62:11 সদাপ্রভু পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত একটি ঘোষণা করেছেন: “তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বলো, ‘দেখো, তোমার পরিত্রাতা আসছেন! দেখো, তাঁর প্রাপ্য বেতন আছে তাঁর হাতে, তাঁর পুরস্কার আছে তাঁর সঙ্গে।’ ”
ISA 62:12 তারা আখ্যাত হবে পবিত্র প্রজা, এবং সদাপ্রভুর মুক্তিপ্রাপ্ত লোক বলে; আর তোমাকে বলা হবে, অন্বেষিতা, এমন নগরী যা আর পরিত্যক্ত নয়।
ISA 63:1 ইদোম থেকে আসছেন, উনি কে? বস্রা থেকে রক্তরঞ্জিত পোশাক পরে আসছেন, কে তিনি? বাহারি পোশাক পরিহিত, ইনি কে? কে তিনি আপন শক্তির পূর্ণতায় এগিয়ে আসছেন? “এ আমি, যিনি ধর্মশীলতায় কথা বলেন, যিনি পরিত্রাণ সাধন করার জন্য শক্তিশালী।”
ISA 63:2 আপনার পোশাক রক্তরাঙা কেন, দ্রাক্ষামাড়াইকারী লোকদের মতো কেন?
ISA 63:3 “দ্রাক্ষামাড়াই কুণ্ডে আমি একাই দ্রাক্ষা দলন করেছি; সমস্ত জাতির মধ্য থেকে একজনও আমার সঙ্গে ছিল না। আমি ক্রোধে তাদের পদদলিত করেছি, মহাকোপে তাদের মর্দন করেছি; তাদের রক্তের ছিটে আমার পোশাকে লেগেছে, আমার সমস্ত পরিচ্ছদ আমি কলঙ্কিত করেছি।
ISA 63:4 কারণ প্রতিশোধের দিন আমার মনে ছিল, আর আমার মুক্তিদানের বছর এসে পড়েছে।
ISA 63:5 আমি চেয়ে দেখলাম, কিন্তু আমাকে সাহায্য করার জন্য কেউ নেই, আমি বিস্মিত হলাম যে কেউ আমাকে সমর্থন করেনি; তাই আমার নিজেরই হাত আমার জন্য পরিত্রাণ সাধন করল, আমার নিজের ক্রোধই আমাকে তুলে ধরল।
ISA 63:6 আমি ক্রোধে সব জাতিকে পদদলিত করলাম; আমার কোপবশে আমি তাদের মত্ত করলাম আর তাদের রক্ত মাটিতে ঢেলে দিলাম।”
ISA 63:7 আমি সদাপ্রভুর বিভিন্ন করুণার কীর্তন করব, প্রশংসা করব তাঁর বহু কীর্তির কথা, তিনি আমাদের জন্য যা কিছু করেছেন, তার জন্য, হ্যাঁ, তিনি ইস্রায়েল কুলের জন্য বহু উৎকৃষ্ট কাজ করেছেন, তাঁর মহা করুণা ও বহুবিধ দয়ার গুণে করেছেন।
ISA 63:8 তিনি বলেছেন, “অবশ্যই তারা আমার প্রজা, তারা এমন সন্তান, যারা মিথ্যা আচরণ করবে না”; এভাবেই তিনি তাদের পরিত্রাতা হলেন।
ISA 63:9 তাদের সমস্ত দুর্দশায় তিনি নিজেও দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁর সান্নিধ্যে থাকা স্বর্গদূত তাদের রক্ষা করল। তাঁর ভালোবাসা ও করুণাগুণে তিনি তাদের মুক্ত করলেন; পুরাকালের সেই দিনগুলিতে তিনি কোলে তুলে তাদের বহন করতেন।
ISA 63:10 তবুও তারা বিদ্রোহী হল ও তাঁর পবিত্র আত্মাকে দুঃখ দিল। তাই তিনি মুখ ফিরিয়ে তাদের শত্রু হলেন, আর তিনি স্বয়ং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
ISA 63:11 তারপর তাঁর প্রজারা পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করল, মোশি ও তাঁর প্রজাদের সময়কাল— তিনি কোথায়, যিনি সমুদ্রের মধ্য দিয়ে তাদের উত্তীর্ণ করেছিলেন, তাঁর পালের এক রক্ষকের দ্বারা? তিনি কোথায়, যিনি তাদের মধ্যে তাঁর পবিত্র আত্মাকে স্থাপন করেছিলেন?
ISA 63:12 যিনি তাঁর পরাক্রমের মহিমাময় বাহু মোশির ডান হাতরূপে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি তাদের সামনে জলরাশিকে বিভক্ত করেছিলেন যেন নিজের জন্য চিরস্থায়ী খ্যাতি লাভ করতে পারেন?
ISA 63:13 খোলা মাঠে ধাবমান অশ্বের মতো, কে সমুদ্রের গভীরে তাদের চালিত করল? তাদের মধ্যে কেউই হোঁচট খায়নি।
ISA 63:14 পশুপাল যেমন সমভূমিতে নেমে যায়, সদাপ্রভুর আত্মা তেমনই তাদের বিশ্রাম দিলেন। তুমি এভাবেই তোমার প্রজাদের পথ প্রদর্শন করেছিলে, যেন তুমি নিজের জন্য এক মহিমান্বিত নাম স্থাপন করতে পারো।
ISA 63:15 তুমি স্বর্গ থেকে নিচে তাকাও ও দেখো, তোমার উন্নত, পবিত্র ও মহিমাপূর্ণ সিংহাসন থেকে দেখো। তোমার সেই উদ্যম ও তোমার পরাক্রম কোথায়? তোমার কোমলতা ও সহানুভূতি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে রেখেছ।
ISA 63:16 কিন্তু তুমি আমাদের বাবা, যদিও অব্রাহাম আমাদের জানেন না, কিংবা ইস্রায়েল আমাদের স্বীকার করে না; তুমি সদাপ্রভু, তুমিই আমাদের বাবা, পুরাকাল থেকে আমাদের মুক্তিদাতা, এই তোমার নাম।
ISA 63:17 হে সদাপ্রভু, কেন তুমি তোমার পথ ছেড়ে আমাদের যেতে দিচ্ছ? কেন তোমার হৃদয় কঠিন করছ, যেন আমরা তোমাকে সম্ভ্রম না করি? তুমি ফিরে এসো তোমার দাসদের অনুরোধে, তোমার অধিকারস্বরূপ গোষ্ঠীসমূহের কারণে।
ISA 63:18 অল্প সময়ের জন্য তোমার প্রজারা তোমার পবিত্রস্থান অধিকারে রেখেছিল, কিন্তু এখন আমাদের শত্রুরা তোমার পবিত্রধাম পদদলিত করেছে।
ISA 63:19 প্রাচীনকাল থেকে আমরা তোমারই; কিন্তু আমরা হয়েছি তাদের মতো, যাদের উপরে তুমি কখনও শাসন করোনি, তাদের মতো, যাদের কখনও তোমার নামে ডাকা হয়নি।
ISA 64:1 আহা! যদি তুমি আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করে নেমে আসতে, তাহলে পর্বতগুলি তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হত!
ISA 64:2 আগুন যেমন ঝোপ প্রজ্বলিত করে ও জল ফোটায়, তেমন ভাবেই নেমে এসে তোমার শত্রুদের কাছে তোমার নাম জ্ঞাত করো এবং জাতিসমূহকে তোমার সাক্ষাতে কম্পমান করো!
ISA 64:3 কারণ আমরা যেমন আশা করিনি, তুমি তখন তেমনই ভয়ংকর সব কাজ করেছিলে, তুমি নেমে এসেছিলে এবং পর্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হয়েছিল।
ISA 64:4 পুরাকাল থেকে কেউ শোনেনি, কোনো কান তা উপলব্ধি করেনি, তুমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বরকে কোনো চোখ দেখেনি, তিনি তাদের পক্ষে সক্রিয় হন, যারা তাঁর অপেক্ষায় থাকে।
ISA 64:5 তুমি তাদের সাহায্য করার জন্য উপস্থিত হও যারা আনন্দের সঙ্গে ন্যায়সংগত কাজ করে, যারা তোমার পথসমূহের কথা স্মরণ করে। কিন্তু যখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাপ করে চলেছিলাম, তুমি ক্রুদ্ধ হয়েছিলে। তাহলে কীভাবে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি?
ISA 64:6 আমরা সবাই অশুচি মানুষের মতো হয়েছি, আমাদের ধার্মিকতার যত কাজ, সব নোংরা কাপড়ের মতো; আমরা সবাই পাতার মতো শুকিয়ে যাই, আমাদের পাপগুলি বাতাসের মতো আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়।
ISA 64:7 কোনো মানুষ তোমার নামে ডাকে না অথবা তোমাকে ধরার জন্য প্রাণপণ করে না; কারণ তুমি আমাদের কাছ থেকে তোমার মুখ লুকিয়েছ এবং আমাদের পাপের কারণে আমাদের ক্ষয়ে যেতে দিচ্ছ।
ISA 64:8 তবুও, হে সদাপ্রভু, তুমি আমাদের বাবা। আমরা সবাই মাটি, আর তুমি কুমোর; আমরা সবাই তোমার হাতের রচনা।
ISA 64:9 হে সদাপ্রভু, মাত্রাতিরিক্ত ক্রুদ্ধ হোয়ো না; চিরকাল আমাদের পাপগুলি মনে রেখো না। আহা, মিনতি করি, আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করো, কারণ আমরা সবাই তোমার প্রজা।
ISA 64:10 তোমার পবিত্র নগরগুলি মরুভূমি হয়েছে; এমনকি, সিয়োনও মরুভূমি ও জেরুশালেম ভাববাদী বর্জিত হয়েছে।
ISA 64:11 আমাদের পিতৃপুরুষেরা যেখানে তোমার স্তব করতেন, সেই পবিত্র ও সুশোভিত মন্দির অগ্নিদগ্ধ হয়েছে, যা কিছু আমরা সঞ্চয় করেছিলাম, সব পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
ISA 64:12 এসব সত্ত্বেও, হে সদাপ্রভু, তুমি কি নিজেকে গুটিয়ে রাখবে? তুমি কি নীরব থেকে অতিমাত্রায় আমাদের শাস্তি দেবে?
ISA 65:1 “যারা আমাকে চায়নি, আমি তাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছি; যারা আমার অন্বেষণ করেনি, তারা আমাকে খুঁজে পেয়েছে। যে জাতি আমার নামে ডাকেনি, তাদের আমি বলেছি, ‘এই আমি, এই যে আমি এখানে।’
ISA 65:2 সমস্ত দিন, আমি এক বিদ্রোহী প্রজাবৃন্দের উদ্দেশে আমার দু-হাত বাড়িয়ে রেখেছিলাম, তারা এমন সব জীবনযাপন করে, যা ভালো নয়, তারা নিজেদের কল্পনা অনুযায়ী কাজ করে।
ISA 65:3 তারা এমন এক জাতি, যারা আমার মুখের উপরেই নিত্য আমাকে প্ররোচিত করে, বিভিন্ন উদ্যানের মধ্যে বলি দেয় ও ইটের তৈরি বেদির উপরে ধূপদাহ করে;
ISA 65:4 তারা কবরের স্থানগুলিতে বসে গুপ্ত স্থানে রাত জেগে কাটায়; তারা শূকরের মাংস ভোজন করে ও তাদের পাত্রে অশুচি মাংসের ঝোল থাকে।
ISA 65:5 তারা বলে, ‘দূরে থাকো; আমার কাছে এসো না, কারণ আমি তোমাদের চেয়ে বেশি পবিত্র!’ এই লোকেরা আমার নাকের কাছে ধোঁয়ার মতো, সমস্ত দিন তারা যেন প্রজ্বলিত আগুন।
ISA 65:6 “দেখো, এ আমার সামনে লিখিত আছে: আমি নীরব থাকব না, কিন্তু পূর্ণ প্রতিফল দেব; আমি তাদের কোলেই তা ফিরিয়ে দেব—
ISA 65:7 তোমাদের পাপ ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের কৃত যত পাপ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “যেহেতু তারা পর্বতে পর্বতে ধূপ জ্বালিয়েছে এবং পাহাড়গুলির উপরে আমাকে অপমান করেছে, আমি তাদের পূর্বেকার কৃতকর্ম অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় তাদের প্রতিশোধ দেব।”
ISA 65:8 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যেমন দ্রাক্ষাফলের গুচ্ছে রস পূর্ণ দেখে, লোকেরা বলে, ‘এটি নষ্ট কোরো না, কারণ এতে এখনও আশীর্বাদ আছে,’ তেমনই আমি আমার দাসদের পক্ষে করব; আমি তাদের সবাইকে ধ্বংস করব না।
ISA 65:9 আমি যাকোবের কুল থেকে এক বংশের, এবং যিহূদা থেকে আমার পর্বতগুলির এক উত্তরাধিকারীকে তুলে ধরব; আমার মনোনীত প্রজারা তা অধিকার করবে, সেখানে আমার দাসেরা বসবাস করবে।
ISA 65:10 আমার অন্বেষী প্রজাদের জন্য, শারোণ মেষপালের এক চারণভূমি হবে, আর আখোর উপত্যকা হবে পশুপালের এক বিশ্রামস্থান।
ISA 65:11 “কিন্তু তোমরা যারা সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করো, ও আমার পবিত্র পর্বতকে ভুলে যাও, যারা ভাগ্যদেবের জন্য মেজ সাজাও ও নিয়তিদেবের উদ্দেশে মিশ্রিত সুরার পাত্র পূর্ণ করো,
ISA 65:12 আমি তাদের জন্য তরোয়াল নিরূপণ করব, তখন তোমরা ঘাতকদের কাছে মাথা নিচু করবে; কারণ আমি ডাকলে তোমরা উত্তর দিতে না, আমি কথা বললে তোমরা শুনতে না। তোমরা আমার দৃষ্টিতে অন্যায় করেছ, যা আমাকে অসন্তুষ্ট করে, তোমরা তাই করেছ।”
ISA 65:13 সেই কারণে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমার দাসেরা ভোজন করবে, কিন্তু তোমরা ক্ষুধার্ত থাকবে; আমার দাসেরা পান করবে, কিন্তু তোমরা তৃষ্ণার্ত থাকবে; আমার দাসেরা আনন্দ করবে, কিন্তু তোমরা লজ্জিত হবে।
ISA 65:14 আমার দাসেরা গান গাইবে তাদের মনের আনন্দে, কিন্তু তোমাদের মনস্তাপের জন্য তোমরা কাঁদতে থাকবে ও ভগ্ন আত্মার জ্বালায় হাহাকার করবে।
ISA 65:15 তোমরা আমার মনোনীত লোকদের মাঝে তোমাদের নাম অভিশাপরূপে রেখে যাবে; সার্বভৌম সদাপ্রভু তোমাদের মৃত্যুতে সমর্পণ করবেন, কিন্তু তাঁর দাসেদের তিনি অন্য এক নাম দেবেন।
ISA 65:16 কেউ যদি দেশে কোনো আশীর্বাদের জন্য মিনতি করে, সে সত্যময় ঈশ্বরের নামেই তা করবে; যে দেশে কোনো শপথ গ্রহণ করে, সে সত্যময় ঈশ্বরের নামেই তা করবে। কারণ অতীতের সব দুঃখকষ্ট বিস্মৃত হবে, আমার চোখ থেকে তা গুপ্ত থাকবে।
ISA 65:17 “দেখো, আমি নতুন আকাশমণ্ডল ও এক নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করি। পূর্বের বিষয়গুলি আর স্মরণ করা হবে না, সেগুলি আর মনেও আসবে না।
ISA 65:18 কিন্তু আমি যা সৃষ্টি করব, তার জন্য আনন্দিত ও চিরকালের জন্য উল্লসিত হও, কারণ আমি জেরুশালেমকে হর্ষের জন্য ও তার লোকেদের আনন্দের জন্য সৃষ্টি করব।
ISA 65:19 আমি জেরুশালেমের জন্য উল্লসিত হব ও আমার প্রজাদের জন্য হর্ষিত হব; ক্রন্দন কিংবা বিলাপের ধ্বনি আর কখনও সেখানে শোনা যাবে না।
ISA 65:20 “আর কখনও তার মধ্যে কোনো শিশু কিছুকাল বেঁচে থেকে কিংবা কোনো বৃদ্ধ পূর্ণবয়স্ক না হয়ে মারা যাবে না; যে একশো বছর বয়সে মারা যায়, তাকে নিতান্তই যুবক বলা হবে; আর যে পাপীর একশো বছর পরমায়ু হয় না, সে অভিশপ্ত বিবেচিত হবে।
ISA 65:21 তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে সেগুলির মধ্যে বসবাস করবে; তারা দ্রাক্ষাকুঞ্জ রোপণ করে তার ফল ভক্ষণ করবে।
ISA 65:22 তারা গৃহ নির্মাণ করলে, আর কখনও তার মধ্যে অন্য কেউ বাস করবে না, বা বৃক্ষরোপণ করলে, অন্য কেউ তার ফল খাবে না। কারণ কোনো বৃক্ষের আয়ুর মতোই আমার প্রজাদের পরমায়ু হবে; আমার মনোনীত লোকেরা দীর্ঘদিন তাদের হস্তকৃত কর্মফল উপভোগ করবে।
ISA 65:23 তারা বৃথা পরিশ্রম করবে না, বা দুর্ভাগ্যের জন্য সন্তানদের জন্ম দেবে না; কারণ তারা এবং তাদের বংশধরেরা সদাপ্রভুর আশীর্বাদধন্য এক জাতি হবে।
ISA 65:24 তারা ডাকবার আগেই আমি উত্তর দেব; তারা কথা বলতে না বলতেই আমি তা শুনব।
ISA 65:25 নেকড়েবাঘ ও মেষশাবক একসঙ্গে চরে বেড়াবে, সিংহ বলদের মতোই বিচালি খাবে এবং ধুলোই হবে সাপের খাবার। আমার পবিত্র পর্বতের কোনো স্থানে তারা কোনো ক্ষতি বা ধ্বংস করতে পারবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 66:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “স্বর্গ আমার সিংহাসন, আর পৃথিবী আমার পা রাখার স্থান। আমার জন্য তোমরা কোথায় বাসগৃহ নির্মাণ করবে? আমার বিশ্রামস্থানই বা হবে কোথায়?
ISA 66:2 আমার হস্তই কি এই সমস্ত নির্মাণ করেনি, সেকারণেই তো এগুলি অস্তিত্বপ্রাপ্ত হয়েছে?” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন। “এই ধরনের মানুষকে আমি মূল্যবান জ্ঞান করব, যে নতনম্র ও চূর্ণ আত্মা বিশিষ্ট, যে আমার বাক্যে কম্পিত হয়।
ISA 66:3 কিন্তু যে কেউ ষাঁড় বলিদান করে, সে এক নরঘাতকের তুল্য, যে কেউ মেষশাবক উৎসর্গ করে, সে যেন কুকুরের ঘাড় ভাঙে; যে কেউ শস্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, সে শূকরের রক্ত উপহার দেয়, আর যে কেউ সুগন্ধি ধূপ উৎসর্গ করে, সে যেন প্রতিমাপুজো করে। তারা সবাই নিজের নিজের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের ঘৃণ্য বস্তুগুলিতে তাদের প্রাণ আমোদিত হয়;
ISA 66:4 সেই কারণে, আমিও তাদের প্রতি কঠোর আচরণ করব, তাদের আতঙ্কের বিষয়ই তাদের উপরে নিয়ে আসব। কারণ আমি ডাকলে একজনও উত্তর দেয়নি, আমি কথা বললে কেউই শোনেনি। তারা আমার দৃষ্টিতে কেবলই অন্যায় করেছে, আমার অসন্তুষ্টিজনক যত কাজ করেছে।”
ISA 66:5 তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণ করো, তোমরা তাঁর বাক্যে কাঁপতে থাকো: “তোমাদের যে ভাইয়েরা তোমাদের ঘৃণা করে, আমার নামের জন্য যারা তোমাদের সমাজচ্যুত করে, তারা বলেছে, ‘সদাপ্রভু মহিমান্বিত হোন যেন আমরা তোমাদের আনন্দ দেখতে পাই!’ তবুও তারা লজ্জিত হবে।
ISA 66:6 নগর থেকে ওই হট্টগোলের শব্দ শোনো, মন্দির থেকে গণ্ডগোলের শব্দ শোনো! এ হল সদাপ্রভুর রব, তাঁর শত্রুদের প্রাপ্য প্রতিফল তিনি তাদের দিচ্ছেন।
ISA 66:7 “প্রসব ব্যথা ওঠার আগেই সে প্রসব করল; গর্ভযন্ত্রণা আসার পূর্বেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিল।
ISA 66:8 কেউ কি এরকম কথা কখনও শুনেছে? কে এরকম বিষয় কখনও দেখেছে? কোনো দেশের জন্ম কি একদিনে হতে পারে, কিংবা এক মুহূর্তের মধ্যে কোনো জাতির উদ্ভব কি হতে পারে? তবুও, সিয়োনের গর্ভযন্ত্রণা হতে না হতেই, সে তার ছেলেমেয়েদের জন্ম দিল।”
ISA 66:9 সদাপ্রভু বলেন, “প্রসবকাল উপস্থিত করে, আমি কি প্রসব হতে দেব না? প্রসব হওয়ার সময় উপস্থিত করে আমি কি গর্ভ রুদ্ধ করব?” তোমার ঈশ্বর একথা বলেন।
ISA 66:10 “জেরুশালেমের সঙ্গে উল্লসিত হও ও তার সঙ্গে আনন্দ করো; তোমরা যারা তাকে ভালোবাসো; তোমরা যারা তার জন্য শোক করেছ, তার সঙ্গে অতিমাত্রায় উল্লাস করো।
ISA 66:11 তোমরা তার সান্ত্বনাদায়ী স্তনযুগল থেকে দুধ পান করে তৃপ্ত হবে; তোমরা গভীরভাবে সেই স্তন চুষে খাবে ও তার উপচে পড়া প্রাচুর্যে আনন্দিত হবে।”
ISA 66:12 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি নদীস্রোতের মতো তার প্রতি শান্তি প্রবাহিত করব, জাতিসমূহের ঐশ্বর্য বন্যার স্রোতের মতো নিয়ে আসব; তার স্তনযুগল থেকে তার সন্তানেরা পুষ্টি লাভ করবে, তাদের দুই হাতে বহন করা হবে, কোলে তুলে তাদের খেলানো হবে।
ISA 66:13 যেভাবে মা তার শিশুকে সান্ত্বনা দেয়, তেমনই আমি তোমাদের সান্ত্বনা দেব; আর তোমরা জেরুশালেমেই সান্ত্বনা লাভ করবে।”
ISA 66:14 এসব দেখে তোমাদের অন্তর আনন্দিত হবে, আর তোমরা ঘাসের মতোই বেড়ে উঠবে; সদাপ্রভুর হাত তাঁর দাসদের কাছে নিজের পরিচয় দেবে, কিন্তু তাঁর ক্রোধ তাঁর শত্রুদের কাছে প্রদর্শিত হবে।
ISA 66:15 দেখো, সদাপ্রভু আগুন নিয়ে আসছেন, তার রথগুলি আসছে ঘূর্ণিবায়ুর মতো; তিনি সক্রোধে তাঁর কোপ ঢেলে দেবেন, আগুনের শিখায় ঢেলে দেবেন তাঁর তিরস্কার।
ISA 66:16 কারণ আগুন ও তাঁর তরোয়াল নিয়ে সদাপ্রভু সব মানুষের বিচার করবেন, অনেকেই সদাপ্রভুর দ্বারা নিহত হবে।
ISA 66:17 “যারা নিজেদের পবিত্র ও শুচিশুদ্ধ করে, পবিত্র উদ্যানের মধ্যে প্রতিমার পিছনে যায়—শূকর, ইঁদুর ও অন্যান্য ঘৃণ্য মাংস খায়—একসঙ্গে তাদের ভয়ংকর পরিসমাপ্তি হবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 66:18 “আর আমি, তাদের ক্রিয়াকলাপ ও তাদের কল্পনার জন্য আসতে চলেছি। আমি সব দেশ ও ভাষাভাষীকে সংগ্রহ করব। তারা এসে আমার মহিমা দেখবে।
ISA 66:19 “আমি তাদের মধ্যে এক চিহ্ন স্থাপন করব। অবশিষ্ট যারা বেঁচে থাকবে, তাদের কয়েকজনকে আমি বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করব—তর্শীশে, লিবিয়ায়, লূদে (যারা তিরন্দাজির জন্য বিখ্যাত), তূবল ও গ্রীসে ও দূরবর্তী দ্বীপগুলিতে, যারা আমার খ্যাতির কথা শোনেনি বা আমার মহিমা দেখেনি। তারা জাতিসমূহের কাছে আমার মহিমার কথা ঘোষণা করবে।
ISA 66:20 তারা সমস্ত দেশ থেকে তোমার ভাইদের সদাপ্রভুর কাছে উপহাররূপে জেরুশালেমে আমার পবিত্র পর্বতে নিয়ে আসবে—ঘোড়ায়, রথে ও শকটে, খচ্চরে ও উটের উপরে চাপিয়ে তাদের নিয়ে আসা হবে,” একথা সদাপ্রভু বলেন। “তারা তাদের নিয়ে আসবে, যেভাবে ইস্রায়েলীরা তাদের শস্য-নৈবেদ্য সংস্কারগতভাবে শুচিশুদ্ধ পাত্রে সদাপ্রভুর মন্দিরে নিয়ে আসে।
ISA 66:21 আর আমি তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে যাজক ও লেবীয় হওয়ার জন্য মনোনীত করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 66:22 সদাপ্রভু বলেন, “যেভাবে নতুন আকাশমণ্ডল ও নতুন পৃথিবী আমার সাক্ষাতে অটল থাকবে, তেমনই তোমার নাম ও তোমার সন্তানেরা চিরস্থায়ী হবে।
ISA 66:23 এক অমাবস্যা থেকে অন্য অমাবস্যা ও এক সাব্বাথ-দিন থেকে অন্য সাব্বাথ-দিন পর্যন্ত সমস্ত মানবজাতি এসে আমার সামনে প্রণিপাত করবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ISA 66:24 “তারা গিয়ে, যারা আমার বিদ্রোহী হয়েছিল, তাদের মৃতদেহ দেখবে; যে কীট তাদের খেয়েছিল তারা কখনও মরবে না, তাদের আগুন কখনও নিভবে না। তারা সমস্ত মানবজাতির কাছে বিতৃষ্ণার পাত্র হবে।”
JER 1:1 এগুলি হিল্কিয়ের পুত্র যিরমিয়ের কথিত বাক্য, তিনি ছিলেন বিন্যামীন প্রদেশে অবস্থিত অনাথোৎ নগরের যাজকদের একজন।
JER 1:2 আমোনের পুত্র যিহূদার রাজা যোশিয়ের রাজত্বকালের ত্রয়োদশ বছরে সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে
JER 1:3 এবং যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র যিহোয়াকীমের রাজত্বকাল থেকে, যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র সিদিকিয়ের রাজত্বকালের একাদশ বছরের পঞ্চম মাসে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হল, যখন, জেরুশালেমের লোকেদের বন্দিরূপে নির্বাসিত করা হয়।
JER 1:4 আর সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
JER 1:5 “মাতৃগর্ভে তোমাকে গঠন করার পূর্বে আমি তোমাকে জানতাম, তোমার জন্মের পূর্ব থেকে আমি তোমাকে পৃথক করেছি; জাতিগণের কাছে আমি তোমাকে আমার ভাববাদীরূপে নিযুক্ত করেছি।”
JER 1:6 তখন আমি বললাম, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু, দেখো, আমি কথা বলতেই পারি না; কারণ আমি নিতান্ত বালকমাত্র।”
JER 1:7 কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তুমি এরকম কথা বোলো না যে ‘আমি বালক।’ আমি যাদের কাছে তোমাকে পাঠাব, তুমি তাদের প্রত্যেকের কাছে যাবে এবং আমি যা তোমাকে বলব, তুমি তাদের সেই কথাই বলবে।
JER 1:8 তুমি তাদের ভয় পেয়ো না, কারণ আমি তোমার সঙ্গে থাকব ও তোমাকে রক্ষা করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন!
JER 1:9 এরপর, সদাপ্রভু তাঁর হাত বাড়িয়ে আমার মুখ স্পর্শ করলেন ও বললেন, “আমি আমার বাক্য তোমার মুখে দিয়েছি।
JER 1:10 দেখো, আমি আজ তোমাকে বিভিন্ন জাতি ও রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য নিযুক্ত করছি, যাদের তুমি উৎপাটন করবে ও ভেঙে ফেলবে, ধ্বংস ও পরাস্ত করবে, গঠন ও রোপণ করবে।”
JER 1:11 এরপর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল, “যিরমিয়, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ?” আমি উত্তর দিলাম, “আমি কাঠবাদাম গাছের একটি শাখা দেখতে পাচ্ছি।”
JER 1:12 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “ঠিকই দেখেছ, কেননা, আমি লক্ষ্য করছি যে, আমার বাক্য সফল হবে।”
JER 1:13 সদাপ্রভুর বাক্য পুনরায় আমার কাছে উপস্থিত হল, “তুমি এখন কী দেখতে পাচ্ছ?” আমি উত্তর দিলাম, “আমি ফুটন্ত জলের একটি পাত্র দেখতে পাচ্ছি, যা উত্তর দিক থেকে আমাদের দিকে হেলে আছে।”
JER 1:14 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “উত্তর দিক থেকে ধ্বংস এই দেশের লোকদের উপরে আছড়ে পড়বে।
JER 1:15 আমি উত্তর রাজ্যের সব লোকজনকে জেরুশালেমে আসার জন্য আহ্বান করতে চলেছি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “তাদের রাজারা আসবে এবং তাদের সিংহাসনগুলি জেরুশালেমের নগরদ্বারে স্থাপন করবে; তারা সকলে দল বেঁধে এসে এই নগরের প্রাচীর ও যিহূদার অন্য সব নগর আক্রমণ করবে।
JER 1:16 আমি আমার প্রজাদের উপরে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করব কেননা তারা আমাকে পরিত্যাগ করার মতো মন্দ কাজ করেছে, তারা অন্য সব দেবদেবীর উদ্দেশে ধূপদাহ করেছে এবং নিজেদেরই হাতে তৈরি প্রতিমাদের আরাধনা করেছে!
JER 1:17 “তুমি প্রস্তুত হও! উঠে দাঁড়াও এবং আমি তোমাকে যা কিছু আদেশ দেব, সেগুলি তাদের গিয়ে বলো। তুমি তাদের ভয়ে আতঙ্কিত হোয়ো না, নইলে তাদের সামনে আমি তোমাকেই আতঙ্কিত করে তুলব।
JER 1:18 আজ আমি তোমাকে সুদৃঢ় নগরস্বরূপ, লোহার স্তম্ভ এবং পিতলের প্রাচীরস্বরূপ করেছি। যাতে তুমি সমগ্র দেশের সব রাজা, রাজকর্মচারী, যাজকবৃন্দ ও যিহূদার লোকেদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারো।
JER 1:19 তারা তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করবে, কিন্তু তোমার উপরে বিজয়লাভ করতে পারবে না, কেননা আমি তোমার সহবর্তী এবং আমি তোমায় রক্ষা করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:1 সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
JER 2:2 “যাও এবং জেরুশালেমের কর্ণগোচরে গিয়ে এই কথা ঘোষণা করো: “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘আমার মনে পড়ে, তোমার যৌবনকালের ভক্তি, তখন কীভাবে বিবাহের কনেরূপে তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, এবং প্রান্তরে আমার পশ্চাতে গিয়েছিলে, এমন দেশে যেখানে বীজবপন করা হয়নি।
JER 2:3 ইস্রায়েল ছিল সদাপ্রভুর কাছে পবিত্র, তাঁর শস্যের অগ্রিমাংশ; যারা তার অনিষ্ট সাধন করেছিল তারা অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিল, এবং তাদের উপরে নেমে এসেছিল বিপর্যয়,’ ” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:4 যাকোব কুলের লোকেরা, ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠী, তোমরা সদাপ্রভুর কথা শোনো!
JER 2:5 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার মধ্যে কী এমন অন্যায় খুঁজে পেয়েছিল, যে তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল? তারা অসার সব প্রতিমার অনুসারী হয়েছিল ফলে নিজেরাই অসার প্রতিপন্ন হয়েছিল।
JER 2:6 তারা জিজ্ঞাসা করেনি, ‘কোথায় সেই সদাপ্রভু, যিনি মিশর দেশ থেকে আমাদের মুক্ত করে এনেছিলেন, এবং অনুর্বর প্রান্তরের মধ্য দিয়ে আমাদের চালিত করেছিলেন, সেই দেশ মরুভূমিতে ও গর্তে পূর্ণ, খরা ও গাঢ় অন্ধকারে সেই দেশ, যে দেশে কেউ যায় না এবং কেউ বাস করে না?’
JER 2:7 আমি তোমাদের এক উর্বর দেশে নিয়ে এলাম, যাতে তোমরা তার ফল ও উৎকৃষ্ট সামগ্রী ভোজন করতে পারো। কিন্তু তোমরা সেখানে এসে আমার ভূমিকে কলুষিত করলে, এবং আমার অধিকারকে করে তুললে ঘৃণাস্পদ।
JER 2:8 যাজকেরা জিজ্ঞাসা করে না, ‘সদাপ্রভু কোথায়?’ যারা আমার বিধান শিক্ষা দেয়, তারা আমাকে জানে না; শাসকেরা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছে, ভাববাদীরা বায়াল-দেবতার নামে ভাববাণী বলেছে, তারা অসার দেবদেবীর অনুসারী হয়েছে।
JER 2:9 “সুতরাং আমি তোমাদের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “এবং তোমাদের সন্তানদের ও তাদের সন্তানদের বিপক্ষেও অভিযোগ দায়ের করব,
JER 2:10 তোমরা পার হয়ে সাইপ্রাসের উপকূলগুলিতে যাও এবং চেয়ে দেখো, কেদরে লোক পাঠাও এবং ভালো করে খোঁজখবর করো; দেখো তো সেখানে কোনোদিন এমন কিছু হয়েছে কি না:
JER 2:11 কোনও দেশ কি তাদের দেবদেবীদের পরিবর্তন করেছে? (যদিও তারা আদৌ কোনও দেবতাই নয়।) কিন্তু আমার প্রজারা তাদের ঈশ্বরের গৌরব অসার সব প্রতিমার সঙ্গে পরিবর্তন করেছে।
JER 2:12 হে আকাশমণ্ডল, এই ঘটনায় স্তম্ভিত হও এবং প্রচণ্ড আতঙ্কে শিহরিত হও,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:13 “কারণ আমার প্রজারা দুটি পাপ করেছে: আমি যে জীবন্ত জলের উৎস, সেই আমাকে তারা পরিত্যাগ করেছে, আর নিজেদের জন্য খনন করেছে ভাঙা জলাধার, যা জল ধরে রাখতে পারে না!
JER 2:14 ইস্রায়েল কি একজন দাস, সে কি জন্ম থেকেই একজন ক্রীতদাস? তাহলে কেন সে আজ লুন্ঠিত বস্তুতে পরিণত হয়েছে?
JER 2:15 সিংহেরা গর্জন করেছে; তারা হুঙ্কার করেছে তার বিরুদ্ধে। তার দেশে তারা ধ্বংস করেছে; তার নগরগুলি হয়েছে ভস্মীভূত ও জনশূন্য।
JER 2:16 এছাড়াও, মেম্ফিস ও তহপ্‌নেষ নগরের লোকেরা তোমার মাথা মুড়িয়েছে।
JER 2:17 তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করার ফলে তোমরা নিজেরাই কি নিজেদের উপরে এইসব কিছু ডেকে আনোনি, যখন কি না তিনি অগ্রগামী হয়ে তোমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন?
JER 2:18 এখন কেন মিশরে যাচ্ছ নীলনদের জলপান করার জন্য? এবং কেন আসিরিয়াতে যাচ্ছ ইউফ্রেটিস নদীর জলপান করার জন্য?
JER 2:19 তোমাদের দুষ্টতাই তোমাদের শাস্তি দেবে; তোমাদের বিপথগামিতার জন্য তোমাদের তিরস্কার করবে। তখন দেখবে ও উপলব্ধি করবে যে, তোমাদের পক্ষে এটি কতখানি মন্দ ও তিক্ত বিষয় যখন তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে পরিত্যাগ করো এবং আমার প্রতি তোমাদের সম্ভ্রম থাকে না,” প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:20 “বহুপূর্বে তোমরা তোমাদের জোয়াল ভেঙেছিলে এবং তোমাদের বন্ধন ছিঁড়ে ফেলেছিলে। তোমরা বলেছিলে, ‘আমরা তোমার সেবা করব না!’ বাস্তবিকই, প্রত্যেকটি উঁচু পাহাড়-চূড়ায় ও প্রত্যেকটি সবুজ গাছের তলায়, তোমরা বেশ্যাদের মতো মাটিতে প্রণত হয়েছ।
JER 2:21 আমি তোমাকে উৎকৃষ্ট দ্রাক্ষালতারূপে রোপণ করেছিলাম, সর্বোত্তম প্রজাতি নির্বাচন করার মতো করে। তোমরা কীভাবে আমার বিরুদ্ধে এক বিকৃত, বন্য দ্রাক্ষালতা হয়ে বেড়ে উঠলে?
JER 2:22 তুমি যতই পরিষ্কারক দিয়ে নিজেকে ধৌত করো এবং প্রচুর পরিমাণে সোডা ব্যবহার করো, তোমার অপরাধের কলঙ্ক এখনও আমার সামনে রয়েছে,” সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:23 “কীভাবে তুমি বলো যে, ‘আমি অশুচি নই; আমি বায়াল-দেবতার পিছনে দৌড়াইনি’? উপত্যকায় যেসব আচরণ করেছ, সেগুলি মনে করো। তুমি এক চঞ্চল মাদি উট, যে যেখানে সেখানে দৌড়ে বেড়ায়,
JER 2:24 যেন মরুভূমিতে চরে বেড়ানো এক বন্য গর্দভী, যে তার বাসনা পূরণের জন্য বাতাস শুঁকে বেড়ায়, তার তীব্র কামনাকে কে রোধ করতে পারে? যে গাধাগুলি তার খোঁজ করে, তাদের আর হন্যে হয়ে তাকে খুঁজে বেড়াতে হবে না, মিলনঋতুতে ওরা ঠিক ওই গর্দভীকে খুঁজে নেবে।
JER 2:25 তোমার পা জুতো-বিহীন এবং গলা শুকনো না হওয়া পর্যন্ত দৌড়িয়ো না। কিন্তু তুমি বললে, ‘ওসব কথা বলে কোনো লাভ নেই! আমি বিজাতীয় দেবদেবীদের ভালোবাসি, এবং আমি অবশ্যই তাদের অনুগামী হব।’
JER 2:26 “চোর ধরা পড়লে যেমন অপমানিত বোধ করে ঠিক তেমনি ইস্রায়েল জাতিও অপমানিত হবে, তারা, তাদের রাজারা, তাদের রাজকর্মচারিবৃন্দ, তাদের যাজকেরা ও তাদের ভাববাদীরা।
JER 2:27 তারা কাঠের টুকরোকে বলে, ‘তুমি আমার বাবা,’ এবং পাথরের খণ্ডকে বলে, ‘তুমি আমার জন্মদাত্রী।’ তারা আমার দিকে তাদের মুখ নয়, তাদের পিঠ ফিরিয়েছে; কিন্তু সংকট-সমস্যার সময় তারা বলে, ‘তুমি এসে আমাদের বাঁচাও!’
JER 2:28 তখন তোমাদের হাতে গড়া ওইসব দেবদেবী কোথায় থাকে? ওরা যদি তোমাদের রক্ষা করতে পারে, তবে তোমাদের সংকটকালে ওরা আসুক! কারণ হে যিহূদা, তোমার মধ্যে যতগুলি নগর আছে, তোমার দেবদেবীর সংখ্যাও ঠিক ততগুলি।
JER 2:29 “তোমরা আমাকে দোষারোপ করছ? তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 2:30 “আমি বৃথাই তোমার প্রজাদের শাস্তি দিয়েছি; তারা আমার শাসনে কর্ণপাত করেনি। তোমাদের তরোয়াল তোমাদের ভাববাদীদের হত্যা করেছে যেভাবে বিনাশকারী সিংহ করে।
JER 2:31 “হে বর্তমানকালের লোকসকল, তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য বিবেচনা করো: “আমি কি ইস্রায়েলের কাছে মরুপ্রান্তর বা ভয়ংকর অন্ধকারময় এক দেশের মতো ছিলাম? তাহলে আমার প্রজারা কেন বলে, ‘আমরা এখন ইচ্ছামতো যত্রতত্র বিচরণ করব; তোমার কাছে আর আমরা আসব না’?
JER 2:32 কোনো যুবতী কি তার অলংকারগুলিকে, কোনো কনে কি তার বিয়ের অলংকারকে ভুলে যেতে পারে? কিন্তু কত অসংখ্য বছর হয়ে গেল, আমার প্রজারা আমাকে ভুলে রয়েছে।
JER 2:33 প্রেমের অনুসন্ধান করার জন্য, তুমি কত দক্ষতা অর্জন করেছ! এমনকি সবচেয়ে খারাপ মহিলাও তোমার পথ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
JER 2:34 তোমার পোশাকে দেখা যাচ্ছে নির্দোষ দরিদ্রদের রক্তের দাগ, যদিও তোমার ঘরে তুমি তাদের সিঁধ কাটতে দেখনি। এত কিছু সত্ত্বেও
JER 2:35 তুমি বলছ, ‘আমি নিরপরাধ; তিনি আমার উপরে রাগ করেননি।’ কিন্তু আমি তোমার বিরুদ্ধে দণ্ডাজ্ঞা ঘোষণা করব, কেননা তুমি বলেছ, ‘আমি কোনো পাপ করিনি।’
JER 2:36 তুমি কেন এত দূরে দূরে চলে যাও, কেন বারবার তোমার পথ পরিবর্তন করো? কিন্তু তোমার মিশরীয় বন্ধুদের ব্যাপারে তোমার আশাভঙ্গ হবে, ঠিক যেভাবে আসিরিয়া তোমার আশাভঙ্গ করেছিল।
JER 2:37 এছাড়া তোমাকে মাথার উপর দু-হাত তুলে সেই স্থান ছেড়ে চলে যেতে হবে কারণ যাদের উপর তুমি নির্ভর করেছিলে তাদের সদাপ্রভু অগ্রাহ্য করেছেন, তাদের কাছ থেকে কোনো সাহায্যই তুমি পাবে না।
JER 3:1 “কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করে, এবং সেই স্ত্রী তাকে ত্যাগ করে গিয়ে অন্য কোনও পুরুষকে বিয়ে করে, তাহলে পূর্বের সেই পুরুষ কি পুনরায় সেই স্ত্রীর কাছে ফিরে যাবে? এই দেশ কি সম্পূর্ণরূপে কলুষিত হবে না? কিন্তু তুমি বহু প্রেমিকের সঙ্গে বেশ্যার মতো বাস করেছ, তুমি কি আমার কাছে ফিরে আসবে না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 3:2 “প্রত্যেকটি বৃক্ষশূন্য পর্বতগুলির দিকে তাকাও। ওখানে কি এমন কোনো স্থান আছে, যেখানে তুমি ধর্ষিতা হওনি? পথের ধারে বসে তুমি প্রেমিকদের জন্য প্রতীক্ষা করতে, যেভাবে মরুপ্রান্তরে কোনো যাযাবর বসে থাকে। তোমার বেশ্যাবৃত্তি ও তোমার দুষ্টতার কারণে, তুমি সমস্ত দেশকে কলুষিত করেছ।
JER 3:3 সেই কারণে বৃষ্টি নিবারিত হয়েছে এবং শেষ বর্ষাও ঝরেনি। তা সত্ত্বেও তোমার চেহারা এক বেশ্যার মতো; লজ্জিত হতে তুমি চাও না।
JER 3:4 তুমি কি আমাকে ডেকে এখন বলবে না, ‘হে আমার বাবা, আমার যৌবনকাল থেকে তুমিই মিত্র?
JER 3:5 তুমি কি সবসময় রেগে থাকবে? তোমার রোষ কি চিরকাল থাকবে?’ তোমার কথা এই ধরনের হলেও, যতরকম দুষ্টতার কাজ তোমার পক্ষে করা সম্ভব সেগুলি সবই তুমি করেছ।”
JER 3:6 রাজা যোশিয়ের রাজত্বকালে, সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “অবিশ্বস্ত ইস্রায়েল যে কাজ করেছে, তা কি তুমি দেখেছ? সে প্রত্যেকটি উচ্চ পর্বতের উপরে উঠেছে এবং প্রত্যেকটি সবুজ বৃক্ষের তলায় গিয়েছে এবং সেখানে ব্যভিচার করেছে।
JER 3:7 আমি ভেবেছিলাম, এসব কিছু করার পরে, সে আমার কাছে ফিরে আসবে, কিন্তু সে ফিরে এল না এবং তার অবিশ্বস্ত বোন যিহূদা তা দেখল।
JER 3:8 অবিশ্বস্ত ইস্রায়েলের ব্যভিচারের জন্য তাকে আমি ত্যাগপত্র দিয়ে দূর করে দিয়েছি। কিন্তু তাতেও তার অবিশ্বস্তা বোন যিহূদার মধ্যে কোনো ভয় আমি দেখতে পেলাম না; সেও চলে গেল এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হল।
JER 3:9 যেহেতু ইস্রায়েলের নীতিভ্রষ্টতা তার কাছে গুরুত্বহীন তাই, সে দেশকে কলুষিত করেছে এবং কাঠ ও পাথরের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
JER 3:10 কিন্তু এসব সত্ত্বেও, তার অবিশ্বস্ত বোন যিহূদা আন্তরিকতার সঙ্গে আমার কাছে ফিরে আসেনি, সে শুধু দুঃখিত হওয়ার ভান করেছে মাত্র,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 3:11 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “অবিশ্বস্ত ইস্রায়েল বিশ্বাসঘাতিনী যিহূদার চেয়ে বেশি ধার্মিক!
JER 3:12 যাও, উত্তর দিকে গিয়ে এই কথা ঘোষণা করো। “ ‘অবিশ্বস্ত ইস্রায়েল, ফিরে এসো,’ সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, ‘আমি আর তোমার প্রতি বিরাগ ভাব দেখাব না, কারণ আমি বিশ্বস্ত,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন। ‘আমি তোমার প্রতি চিরকাল ক্রোধী থাকব না।
JER 3:13 তুমি কেবল তোমার দোষগুলি স্বীকার করো, যে তুমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছ, প্রত্যেকটি সবুজ গাছের তলায় বিজাতীয় দেবদেবীদের প্রতি বিছিয়ে দিয়েছ তোমার আনুগত্য এবং আমার আজ্ঞাবহ হওনি,’ ” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 3:14 সদাপ্রভু বলেন, “অবিশ্বস্ত লোকেরা, ফিরে এসো তোমরা, কারণ আমি তোমাদের স্বামী। আমি নগর থেকে তোমাদের একজন এবং গোষ্ঠী থেকে দুজন করে নির্বাচন করব ও সিয়োনে তোমাদের ফিরিয়ে আনব।
JER 3:15 এরপর আমি আমার মনের মতো পালকদের তোমাদের দেব, যারা জ্ঞান ও বিচক্ষণতার সঙ্গে তোমাদের পথ দেখাবে।
JER 3:16 সেই সময়ে দেশে তোমাদের সংখ্যা যখন প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে, তখন লোকেরা আর ‘সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক’ কথাটা বলবে না। সেকথা তাদের মনে আর প্রবেশ করবে না বা তা তাদের স্মরণেও আসবে না; তার বিরহে তারা দুঃখিত হবে না বা আর একটা সিন্দুকও তৈরি হবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 3:17 সেই সময়ে তারা জেরুশালেমকে, সদাপ্রভুর সিংহাসনরূপে অভিহিত করবে এবং সর্বজাতির লোক সদাপ্রভুর নামের সমাদর করার জন্য জেরুশালেমে একত্রিত হবে। তারা আর তাদের হৃদয়ের কঠিনতা অনুসারে চলবে না।
JER 3:18 সেই দিনগুলিতে যিহূদা কুল ইস্রায়েল কুলের সঙ্গে সম্মিলিত হবে এবং তারা একসঙ্গে উত্তর দেশ থেকে ফিরে আসবে সেই দেশে, যে দেশ তোমাদের পূর্বপুরুষদের আমি অধিকারস্বরূপ দিয়েছিলাম।
JER 3:19 “আমি নিজেই বলেছিলাম, “ ‘আমি সানন্দে তোমাদের সঙ্গে নিজের সন্তানের মতো ব্যবহার করব এবং তোমাদের একটি সুন্দর দেশ দেব, যা জাতিগণের মধ্যে সবচেয়ে মনোরম অধিকার।’ আমি ভেবেছিলাম, তোমরা আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকবে, এবং আমার অনুসরণ করা থেকে বিরত হবে না।
JER 3:20 কিন্তু হে ইস্রায়েল, স্বামীর প্রতি বিশ্বাসঘাতিনী একজন স্ত্রীর মতো তোমরাও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 3:21 বৃক্ষশূন্য গিরিমালার উপরে কে যেন উচ্চকণ্ঠে কাঁদছে, এই কান্না ও সনির্বন্ধ মিনতি ইস্রায়েল জাতির সন্তানদের। কারণ তারা তাদের পথ কলুষিত করেছে এবং তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভুলে গেছে।
JER 3:22 “আমার অবিশ্বস্ত সন্তানরা, ফিরে এসো; আমি তোমাদের বিপথগামিতার প্রতিকার করব।” “হ্যাঁ, আমরা তোমার কাছে ফিরে আসব, কেননা তুমিই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।
JER 3:23 সত্যিই পাহাড়ের উপরে এবং উপপর্বতসমূহের উপরে কৃত প্রতিমাপূজার উচ্ছৃঙ্খলতা বিভ্রান্তিকর; সত্যিই, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুতে ইস্রায়েলের পরিত্রাণ।
JER 3:24 লজ্জাজনক দেবদেবীরা আমাদের যৌবনকাল থেকে গ্রাস করেছে আমাদের পূর্বপুরুষদের পরিশ্রমের ফল, তাদের গোমেষাদি ও পশুপাল, তাদের পুত্র ও কন্যাদের।
JER 3:25 এসো, আমরা এখন লজ্জায় শয়ন করি এবং আমাদের অপমান আমাদের আচ্ছাদিত করুক। আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষ উভয়েই আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি; আমাদের যৌবনকাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত, আমরা ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হইনি।”
JER 4:1 সদাপ্রভু বলেন, “হে ইস্রায়েল, তোমরা যদি ফিরতে চাও, তবে ফিরে এসো আমার কাছে।” “তোমরা যদি আমার চোখের সামনে থেকে তোমাদের ওইসব ঘৃণ্য প্রতিমাকে ছুঁড়ে ফেলো, এবং আর কখনোই বিপথগামী না হও,
JER 4:2 এবং সত্যে, ন্যায়পরায়ণতায় ও ধার্মিকতায় তোমরা শপথ করে বলো, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,’ তাহলে জগতের জাতিগুলি তাঁর আশীর্বাদ যাচ্ঞা করবে, এবং তাঁর নামের প্রশংসা করবে।”
JER 4:3 যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকদের কাছে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা পতিত ভূমি কর্ষণ করো এবং কাঁটাঝোপে বীজবপন কোরো না।
JER 4:4 তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে ছিন্নত্বক হও, তোমাদের হৃদয়ের ত্বক দূর করে ফেলো, হে যিহূদার লোকসকল ও জেরুশালেম নিবাসীরা, তা না হলে তোমাদের কৃত যাবতীয় পাপের জন্য, আমার ক্রোধ জ্বলে উঠবে আগুনের মতো হবে, যে আগুন কেউ নেভাতে পারবে না।
JER 4:5 “যিহূদায় প্রচার করো এবং জেরুশালেমে ঘোষণা করে বলো: ‘তোমরা সমগ্র দেশে তূরীধ্বনি করো!’ চিৎকার করে বলো: ‘তোমরা একত্রিত হও! চলো, আমরা সুরক্ষিত নগরগুলিতে পলায়ন করি!’
JER 4:6 সিয়োনের দিকে যাওয়ার জন্য পতাকা তুলে ধরো! রক্ষা পাওয়ার জন্য এক্ষুনি পালাও, দেরি কোরো না! কেননা আমি উত্তর দিক থেকে ধ্বংস নিয়ে আসছি, তা এক ভয়ংকর বিনাশ।”
JER 4:7 এক সিংহ তার গুহা থেকে বেরিয়ে এসেছে; জাতিদের ধ্বংসকারী একজন যাত্রা শুরু করেছে। সে তার স্বস্থান থেকে বের হয়েছে তোমার দেশকে ধ্বংস করার জন্য। তোমার নগরগুলি পরিণত হবে ধ্বংসস্তূপে, সেগুলি হবে জনবসতিহীন।
JER 4:8 তাই শোকপ্রকাশের চটবস্ত্র পরে নাও এবং বিলাপ ও হাহাকার করো, কেননা সদাপ্রভুর ভয়ংকর ক্রোধ আমাদের দিক থেকে ফেরেনি।
JER 4:9 সদাপ্রভু বলেন, “সেদিন, রাজার ও তাঁর কর্মচারীদের হৃদয় ভয়ে কাঁপবে, যাজকেরা আতঙ্কিত হবে এবং ভাববাদীরা স্তম্ভিত হবে।”
JER 4:10 তখন আমি বললাম, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু! তুমি এই লোকেদের এবং জেরুশালেমকে এই কথা বলে পুরোপুরি প্রতারণা করলে যে, ‘তোমরা শান্তি পাবে,’ অথচ তরোয়াল এখন একেবারে আমাদের গলার কাছে!”
JER 4:11 সেই সময়ে এই লোকেদের এবং জেরুশালেমকে বলা হবে, “এক উষ্ণ বায়ু মরুপ্রান্তরের বৃক্ষশূন্য পর্বতের দিক থেকে বয়ে আসছে আমার জাতির দিকে, কিন্তু তা শস্য ঝাড়াই বা পরিষ্কার করার জন্য নয়;
JER 4:12 এ আমার পাঠানো তার চেয়েও প্রচণ্ড শক্তিশালী এক বায়ু। এবার আমি তাদের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করব!”
JER 4:13 দেখো! সে এগিয়ে আসছে মেঘের মতো, তার রথগুলি আসছে ঘূর্ণিবায়ুর মতো। তাদের অশ্বেরা ঈগলের চেয়েও বেগবান, হায়, হায়! আমরা আজ ধ্বংস হয়ে গেলাম!
JER 4:14 হে জেরুশালেম, রক্ষা পাওয়ার জন্য তোমার হৃদয় থেকে দুষ্টতা ধুয়ে তা পরিষ্কার করো। কত কাল তুমি তোমার মন্দ চিন্তাগুলি মনে পুষে রাখবে?
JER 4:15 দান নগর থেকে কোনও প্রচারকের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, যা ইফ্রয়িমের পর্বতমালা থেকে ধ্বংসের বার্তা ঘোষণা করছে।
JER 4:16 “এই কথা চারপাশের জাতিগুলিকে বলো, জেরুশালেমের বিষয়ে ঘোষণা করো: ‘বহু দূরবর্তী দেশ থেকে অবরোধকারী এক সেনাবাহিনী আসছে, যিহূদার নগরগুলির বিরুদ্ধে তারা রণহুঙ্কার দিচ্ছে।
JER 4:17 কোনো মাঠের চারপাশে পাহারাদার যেমন, ঠিক তেমনই তারা জেরুশালেমকে ঘিরে ধরেছে, কেননা সে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছে,’ ” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 4:18 “তোমার পথ ও তোমার কৃতকর্ম তোমার উপরে এসব নিয়ে এসেছে। এই তোমার শাস্তি। কী তিক্ত এই শাস্তি! যা বিদ্ধ করে হৃদয়কে!”
JER 4:19 আহ্, এ আমার কি নিদারুণ মনোবেদনা, কী নিদারুণ মনোবেদনা! আমি যন্ত্রণায় ছটফট করছি। আহা, আমার হৃদয়ে এ এক নিদারুণ যন্ত্রণা! আমার হৃদয় উদ্বেগে ধকধক করছে, আমি নীরব থাকতে পারছি না। কেননা আমি তূরীর শব্দ শুনেছি; আমি রণহুঙ্কারের শব্দ শুনেছি।
JER 4:20 একের পর এক বিপর্যয় আছড়ে পড়ছে; সমগ্র দেশ আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এক নিমেষে আমার তাঁবুগুলি এবং এক মুহূর্তে আমার আশ্রয়স্থানগুলি ধ্বংস হয়ে গেল।
JER 4:21 আর কত দিন যুদ্ধের পতাকা আমাকে দেখতে হবে এবং তূরীর ধ্বনি শুনতে হবে?
JER 4:22 “আমার প্রজারা মূর্খ; তারা আমাকে জানে না। তারা নির্বোধ সন্তান; তাদের কোনো বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। অন্যায় করতে তারা পটু, কিন্তু উত্তম কাজ কীভাবে করতে হয়, তা তারা জানে না।”
JER 4:23 আমি পৃথিবীর দিকে তাকালাম এবং তা ছিল নিরাকার ও শূন্য; আমি তাকালাম আকাশের দিকে এবং সেখানকার আলো ছিল নির্বাপিত।
JER 4:24 আমি পর্বতমালার দিকে তাকালাম, এবং সেগুলি কাঁপছিল; সকল উপপর্বতগুলি টলছিল।
JER 4:25 আমি তাকালাম এবং দেখলাম কোথাও জনমানব নেই; উড়ে গেছে আকাশের সব কটা পাখি।
JER 4:26 আমি তাকালাম এবং দেখলাম উর্বর দেশটি এখন একটি মরুভূমি; তার প্রতিটি নগর সদাপ্রভুর সামনে, তাঁর ভয়ংকর রোষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
JER 4:27 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সমস্ত দেশ বিধ্বস্ত হবে, কিন্তু তবুও তা আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব না।
JER 4:28 এজন্য পৃথিবী শোক করবে এবং আকাশমণ্ডল অন্ধকার হবে, কেননা একথা আমি বলেছি এবং আমি নরম হব না, আমি মনস্থির করেছি এবং তার কোনও পরিবর্তন করব না।”
JER 4:29 অশ্বারোহী ও ধনুর্ধারীদের চিৎকারে প্রতিটি নগর পলায়ন করে। তাদের কেউ ঘন ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ে; কেউ বা পাহাড়-পর্বতে উঠে পড়ে। প্রতিটি নগর পরিত্যক্ত; কোনও মানুষ সেখানে আর বাস করে না।
JER 4:30 ওহে ছারখার হয়ে যাওয়া পুরী, তুমি কী করছ? কেন তুমি লাল রংয়ের পোশাক পরিধান করছ এবং স্বর্ণালংকারে নিজেকে সাজাচ্ছো? কেন তুমি তোমার দুই চোখে রূপটান দিচ্ছ? এইভাবে তোমার নিজেকে পরিপাটি করে তোলা অসার। তোমার প্রেমিকেরা তোমাকে অবজ্ঞা করে; তারা তোমাকে হত্যা করতে চায়।
JER 4:31 প্রসববেদনাগ্রস্ত স্ত্রীর কান্নার মতো আমি একটি কান্না শুনতে পাচ্ছি, সেই গোঙানি এমন, যেন কেউ তার প্রথম সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, এই কান্না আসলে সিয়োন-কন্যার, যে শ্বাস নেওয়ার জন্য হাঁপাচ্ছে, দু-হাত বিস্তার করছে এবং বলছে, “হায়! আমি মূর্চ্ছিতপ্রায়, কারণ আমার প্রাণকে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
JER 5:1 সদাপ্রভু বলেন, “তোমরা জেরুশালেমের পথে পথে এই মাথা থেকে ওই মাথায় যাও, চারপাশে তাকিয়ে দেখো ও বিবেচনা করো, নগরের চকে চকে অনুসন্ধান করো। যদি তোমরা একজন ব্যক্তিকেও খুঁজে পাও যে ন্যায্য আচরণ করে ও সত্য মেনে চলতে চায়, তাহলে আমি এই নগরকে ক্ষমা করব।
JER 5:2 তারা যদিও বলে, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,’ তবুও, তারা তা মিথ্যাই শপথ করে।”
JER 5:3 হে সদাপ্রভু, আমাদের চোখ কি সত্যের প্রতি দৃষ্টি করে না? তুমি তাদের আঘাত করেছ, কিন্তু তাদের কোনো বেদনাবোধ নেই; তুমি তাদের চূর্ণ করেছ, কিন্তু তারা সংশোধিত হতে চায়নি। তারা নিজেদের মুখ পাথরের চেয়েও কঠিন করেছে এবং তারা মন পরিবর্তন করতে চায়নি।
JER 5:4 আমি ভেবেছিলাম, “এরা তো দরিদ্র শ্রেণীর; এরা মূর্খও, কারণ এরা জানে না সদাপ্রভুর পথ, তাদের ঈশ্বরের চাহিদাগুলি।
JER 5:5 তাই আমি নেতাদের কাছে যাব ও তাদের সঙ্গে কথা বলব; তারা নিশ্চয়ই সদাপ্রভুর পথ ও তাদের ঈশ্বরের চাহিদাগুলি জানে।” কিন্তু তারাও একযোগে জোয়াল ভেঙে ফেলেছে এবং তাদের বাঁধন ছিঁড়ে ফেলেছে।
JER 5:6 সেই কারণে বন থেকে একটি সিংহ এসে তাদের আক্রমণ করবে, মরুপ্রান্তর থেকে একটি নেকড়ে এসে তাদের ধ্বংস করবে, একটি চিতাবাঘ তাদের গ্রামগুলির কাছে এসে ওৎ পেতে থাকবে, যেন কেউ যদি বের হয়ে আসে তো তাকে ছিঁড়ে খণ্ড খণ্ড করে ফেলতে পারে, কারণ তাদের বিদ্রোহের মাত্রা অনেক বেশি এবং তাদের বিপথগমনের সংখ্যা অনেক।
JER 5:7 “আমি কেন তোমাদের ক্ষমা করব? তোমাদের ছেলেমেয়েরা আমাকে পরিত্যাগ করেছে এবং বিভিন্ন দেবদেবীর নামে শপথ করেছে, যারা দেবতা নয়। আমি তাদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছি, তবুও তারা ব্যভিচার করেছে, দলে দলে গিয়েছে বেশ্যাদের বাড়ি।
JER 5:8 তারা পেট পুরে খাওয়া কামুক অশ্বের মতো, প্রত্যেকে পরস্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য ডাক দেয়।
JER 5:9 এর জন্য আমি কি তাদের শাস্তি দেব না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “এই ধরনের এক জাতির প্রতি আমি স্বয়ং কি প্রতিশোধ নেব না?
JER 5:10 “তোমরা যাও, তার দ্রাক্ষাকুঞ্জগুলির মধ্য দিয়ে গিয়ে তাদের সর্বনাশ করো, কিন্তু তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস কোরো না। তার ডালপালা সব কেটে ফেলো, কারণ এই লোকেরা সদাপ্রভুর অনুগত নয়।
JER 5:11 ইস্রায়েলের গোষ্ঠী ও যিহূদার গোষ্ঠীর লোকেরা, আমার বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 5:12 তারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলেছে; তারা বলেছে, “তিনি কিছুই করবেন না! আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না; তরোয়াল বা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন আমরা কখনও হব না।
JER 5:13 ভাববাদীরা বাতাসের মতো, ঈশ্বরের বাক্য তাদের কাছে নেই; তাই তারা যা বলেন, তা তাদেরই প্রতি ঘটুক।”
JER 5:14 অতএব, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “যেহেতু প্রজারা এসব কথা বলেছে, আমি তোমার মুখে আগুনের মতো আমার বাক্য দেব এবং এই লোকেরা হবে কাঠের মতো, যা দগ্ধ হয়ে যাবে।”
JER 5:15 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “ওহে ইস্রায়েল গোষ্ঠীর লোকেরা, আমি দূরে স্থিত এক জাতিকে তোমার বিরুদ্ধে নিয়ে আসছি, তারা অতি প্রাচীন ও শক্তিমান এক জাতি; সেই জাতির ভাষা তোমরা জানো না, তাদের কথা তোমরা বুঝতে পারবে না।
JER 5:16 তাদের তূণগুলি যেন খোলা কবর; তারা সবাই শক্তিশালী যোদ্ধা।
JER 5:17 তারা তোমাদের সব শস্য ও খাবার খেয়ে ফেলবে, তারা তোমাদের ছেলেমেয়েদের গ্রাস করবে; তারা তোমাদের মেষ ও ছাগল-গোরুর পাল গ্রাস করবে, গ্রাস করবে তোমাদের সব আঙুর ও ডুমুর গাছের ফল। তরোয়াল দিয়ে তারা ধ্বংস করবে তোমাদের সুরক্ষিত নগরগুলি, যেগুলির উপরে তোমরা নির্ভর করে থাকো।”
JER 5:18 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “এমনকি, সেই সমস্ত দিনেও আমি তোমাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব না।
JER 5:19 আর লোকেরা যখন জিজ্ঞাসা করবে, ‘কেন সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের প্রতি এরকম আচরণ করেছেন?’ তুমি তাদের বোলো, ‘তোমরা যেমন আমাকে পরিত্যাগ করেছ এবং স্বদেশে বিজাতীয় দেবদেবীর উপাসনা করেছ, তেমনই এবার তোমরা সেই দেশে গিয়ে বিদেশিদের সেবা করবে, যে দেশ তোমাদের নয়।’
JER 5:20 “যাকোবের কুলে গিয়ে একথা বলো, যিহূদায় গিয়ে ঘোষণা করো:
JER 5:21 মূর্খ ও বুদ্ধিহীন জাতির লোকেরা, তোমরা একথা শ্রবণ করো, তোমাদের চোখ আছে, কিন্তু দেখতে পাও না, কান আছে, কিন্তু শুনতে পাও না।”
JER 5:22 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তোমরা কি আমাকে ভয় করবে না? আমার সামনে তোমরা কি ভয়ে কাঁপবে না? বালুকাবেলাকে আমি সমুদ্রের জন্য সীমারেখা তৈরি করেছি, তা এক চিরকালীন সীমা, যা কখনও সে উল্লঙ্ঘন করতে পারে না। তরঙ্গ আছড়ে পড়তে পারে, কিন্তু সফল হবে না, তারা গর্জন করতে পারে, কিন্তু অতিক্রম করতে পারবে না।
JER 5:23 কিন্তু এই লোকদের এক জেদি ও বিদ্রোহী হৃদয় আছে; তারা পিছন ফিরে আমাকে ত্যাগ করে চলে গিয়েছে।
JER 5:24 তারা মনে মনেও বলে না, ‘এসো, আমরা আমাদের ঈশ্বর, সদাপ্রভুকে ভয় করি, যিনি যথাসময়ে আমাদের শরৎ ও বসন্তকালের বৃষ্টি দেন, যিনি আমাদের ফসল কাটার জন্য নিয়মিত সময়ের আশ্বাস দেন।’
JER 5:25 তোমাদের অন্যায়ের সব কাজ এগুলি দূরে সরিয়ে রেখেছে, তোমাদের সমস্ত পাপের জন্য কোনো মঙ্গল তোমাদের হয় না।
JER 5:26 “আমার প্রজাদের মধ্যে রয়েছে দুষ্ট লোকেরা, ফাঁদ পেতে পাখি শিকারীদের মতো তারা ওৎ পেতে থাকে, তারা তাদের মতো, যারা ফাঁদ পেতে মানুষ ধরে।
JER 5:27 পাখিতে ভরা খাঁচার মতো, তাদের গৃহ প্রতারণায় পূর্ণ; তারা ধনী ও শক্তিশালী হয়েছে
JER 5:28 এবং তারা হয়েছে সুপুষ্ট, চিকণ চেহারা সদৃশ। তাদের অন্যায় কর্মের কোনো সীমা নেই; তারা ন্যায়বিচার করে না। তারা অনাথদের কল্যাণের জন্য বিচার করে না, দরিদ্রের ন্যায়সংগত অধিকার তারা সমর্থন করে না।
JER 5:29 এই সবের জন্য আমি কি তাদের শাস্তি দেব না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “এই ধরনের জাতির কাছ থেকে আমি স্বয়ং কি প্রতিশোধ গ্রহণ করব না?
JER 5:30 “এক রোমহর্ষক ও ভয়ংকর ঘটনা এই দেশে ঘটেছে;
JER 5:31 ভাববাদীরা মিথ্যা ভাববাণী বলে, যাজকেরা নিজেদের অধিকারবশত কর্তৃত্ব ফলায়, আর আমার প্রজারা এরকমই ভালোবাসে। কিন্তু শেষে তোমরা কী করবে?
JER 6:1 “ওহে বিন্যামীন গোষ্ঠীর লোকেরা, তোমরা সুরক্ষার জন্য পলায়ন করো! তোমরা জেরুশালেম থেকে পালিয়ে যাও! তকোয় নগরে তূরী বাজাও! বেথ-হক্কেরম থেকে সংকেত দেখাও! কারণ বিপর্যয় ও বিধ্বংসের জন্য উত্তর দিক থেকে আসছে এক ভয়ংকর ত্রাস।
JER 6:2 কমনীয় ও সুন্দরী সিয়োন-কন্যাকে আমি ধ্বংস করব।
JER 6:3 মেষপালকেরা তাদের পশুপাল নিয়ে তার বিরুদ্ধে আসবে; তারা তার চারপাশে তাদের তাঁবু স্থাপন করবে, প্রত্যেকে নিজের নিজের অংশে তাদের পশুপাল চরাবে।”
JER 6:4 “তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। ওঠো, আমরা মধ্যাহ্নেই তাদের আক্রমণ করি। কিন্তু হায়, দিনের আলো ম্লান হয়ে আসছে, আর সন্ধ্যের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে।
JER 6:5 তাই ওঠো, চলো আমরা রাত্রিবেলা আক্রমণ করি এবং তার দুর্গগুলি ধ্বংস করে দিই!”
JER 6:6 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সব গাছ কেটে ফেলো আর জেরুশালেমের বিরুদ্ধে অবরোধ সৃষ্টি করো। এই নগরকে অবশ্য শাস্তি দিতে হবে; এরা উপদ্রবে পূর্ণ হয়েছে।
JER 6:7 যেভাবে কোনো উৎস বেগে জল নির্গত করে, তেমনই সে ক্রমাগত দুষ্টতা বের করে থাকে। তার মধ্যে হিংস্রতা ও ধ্বংসের বাক্য প্রতিধ্বনিত হয়, তার রোগব্যাধি ও ক্ষতগুলি সবসময়ই আমার সামনে থাকে।
JER 6:8 ওহে জেরুশালেম, সতর্ক হও, নইলে আমি তোমার কাছ থেকে ফিরে যাব এবং তোমার ভূমিকে উৎসন্ন করব, যেন কেউ এর মধ্যে বসবাস করতে না পারে।”
JER 6:9 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “যেভাবে আঙুর খুঁটে খুঁটে চয়ন করা হয়, ইস্রায়েলের অবশিষ্ট লোকদেরও তারা তেমনই চয়ন করবে; আঙুর শাখাগুলিতে তোমরা আবার হাত দাও, যেন অবশিষ্ট আঙুরগুলিও তুলে নেওয়া যায়।”
JER 6:10 কার সঙ্গে আমি কথা বলব, কাকে সতর্কবাক্য দেব? কে শুনবে আমার কথা? তাদের কান বন্ধ হয়েছে তাই তারা পায় না শুনতে। সদাপ্রভুর বাক্য তাদের কাছে আপত্তিকর; তারা তাতে কোনও আনন্দ পায় না।
JER 6:11 কিন্তু আমি সদাপ্রভুর ক্রোধে পূর্ণ, আমি আর তা ধরে রাখতে পারছি না। “রাস্তায় জড়ো হওয়া ছেলেমেয়েদের উপরে এবং একসঙ্গে একত্র হওয়া যুবকদের উপরে তা ঢেলে দাও। ঢেলে দাও তা স্বামী-স্ত্রীর উপরে এবং তাদের উপরে, যারা বৃদ্ধ ও বয়সের ভারে জর্জরিত।
JER 6:12 তাদের খেতের জমি ও স্ত্রীদের সঙ্গে তাদের বসতবাড়িগুলিও আমি অন্যদের হাতে তুলে দেব, যখন আমি আমার হাত প্রসারিত করব, তাদের বিরুদ্ধে, যারা দেশের মধ্যে করবে বসবাস,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 6:13 “নগণ্যতম জন থেকে মহান ব্যক্তি পর্যন্ত, সকলেই লোভ-লালসায় লিপ্ত; ভাববাদী ও যাজকেরা সব এক রকম, তারা সকলেই প্রতারণার অনুশীলন করে।
JER 6:14 তারা আমার প্রজাদের ক্ষত এভাবে নিরাময় করে, যেন তা একটুও ক্ষতিকর নয়। যখন কোনো শান্তি নেই, তখন ‘শান্তি, শান্তি,’ বলে তারা আশ্বাস দেয়।
JER 6:15 তাদের এই জঘন্য আচরণের জন্য তারা কি লজ্জিত? না, তাদের কোনও লজ্জা নেই; লজ্জারুণ হতে তারা জানেই না। তাই, পতিতদের মধ্যে তারাও পতিত হবে; আমি যখন তাদের শাস্তি দেব, তখন তাদেরও ভূপাতিত করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 6:16 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা চৌমাথায় গিয়ে দাঁড়াও ও তাকিয়ে দেখো; পুরোনো পথের কথা জিজ্ঞাসা করো, জেনে নাও, উৎকৃষ্ট পথ কোন দিকে এবং সেই পথে চলো, তাহলে তোমরা নিজের নিজের প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাবে। কিন্তু তোমরা বললে, ‘আমরা এই পথ মাড়াব না।’
JER 6:17 আমি তোমাদের উপরে প্রহরী নিযুক্ত করে বললাম, ‘তোমরা তূরীর ধ্বনি শোনো!’ কিন্তু তোমরা বললে, ‘আমরা শুনব না।’
JER 6:18 সেই কারণে ওহে জাতিবৃন্দের লোকেরা, তোমরা শোনো, সাক্ষীরা, তোমরা লক্ষ্য করো তাদের প্রতি কী ঘটবে।
JER 6:19 ও পৃথিবী শোনো, আমি এই জাতির উপরে বিপর্যয় নামিয়ে আনছি, তা হবে তাদের পরিকল্পনার ফল, কারণ তারা আমার কথা শোনেনি এবং তারা আমার বিধান অগ্রাহ্য করেছে।
JER 6:20 আমার কাছে শিবা দেশ থেকে আনা ধূপ বা দূরবর্তী দেশ থেকে আনা মিষ্টি বচ উৎসর্গ করা অর্থহীন। আমি তোমাদের হোমবলি সব গ্রাহ্য করব না, তোমাদের বলিদানগুলি আমাকে সন্তুষ্ট করে না।”
JER 6:21 সেই কারণে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমি এই লোকেদের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করব। বাবারা ও পুত্রেরা একসঙ্গে তাতে হোঁচট খাবে; প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবেরা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
JER 6:22 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো, উত্তরের দেশ থেকে এক সৈন্যদল আসছে; পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে এক মহাজাতিকে উত্তেজিত করা হয়েছে।
JER 6:23 তাদের হাতে আছে ধনুক ও বর্শা; তারা নিষ্ঠুর, মায়ামমতা প্রদর্শন করে না। তারা ঘোড়ায় চড়লে সমুদ্রগর্জনের মতো শব্দ শোনায়; সিয়োন-কন্যা, তোমাকে আক্রমণ করার জন্য তারা যুদ্ধের সাজ পরে আসছে।”
JER 6:24 আমরা তাদের বিষয়ে সংবাদ শুনেছি, আমাদের হাত যেন অবশ হয়ে ঝুলে পড়ছে। প্রসববেদনাগ্রস্ত নারীর মতো মনস্তাপে আমরা জর্জরিত হয়েছি।
JER 6:25 তোমরা মাঠে যেয়ো না, বা রাস্তায়ও হাঁটাচলা কোরো না, কারণ শত্রুর কাছে অস্ত্র আছে, আর চতুর্দিকেই আছে আতঙ্কের পরিবেশ।
JER 6:26 আমার প্রজারা, চটের পোশাক পরে নাও এবং ছাইয়ের মধ্যে গড়াগড়ি দাও; একমাত্র পুত্রবিয়োগের মতো শোক ও তিক্ত বিলাপ করো, কারণ ধ্বংসকারী হঠাৎই আমাদের উপরে এসে পড়বে।
JER 6:27 “আমি তোমাকে ধাতু যাচাইকারীর পরীক্ষক এবং আমার প্রজাদের আকরিক করেছি, যেন তুমি তাদের পথসকল নিরীক্ষণ ও পরীক্ষা করতে পারো।
JER 6:28 তারা হল কঠিন হৃদয় বিশিষ্ট বিদ্রোহী, তারা কেবলই নিন্দা করে বেড়ায়। তারা পিতল আর লোহার মতো; তারা সবাই ভ্রষ্টাচার করে।
JER 6:29 হাপরগুলি ভীষণভাবে বাতাস দিচ্ছে, যেন আগুনে সীসা গলে যায়, কিন্তু এই পরিশোধন প্রক্রিয়া বিফল হয়, দুষ্টদের শোধন হয় না।
JER 6:30 তাদের বাতিল করা রুপো বলা হয়, কারণ সদাপ্রভু তাদের বাতিল গণ্য করেছেন।”
JER 7:1 সদাপ্রভুর কাছ থেকে যিরমিয়ের কাছে এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 7:2 “তুমি সদাপ্রভুর গৃহের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াও এবং সেখানে এই বার্তা ঘোষণা করো: “ ‘যিহূদার সমস্ত লোক, তোমরা যারা এসব দরজা দিয়ে সদাপ্রভুর উপাসনা করতে আস, তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো।
JER 7:3 ইস্রায়েলের ঈশ্বর, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমাদের আচার-আচরণ ও ক্রিয়াকলাপ সংশোধন করো, তাহলে আমি তোমাদের এই দেশে বসবাস করতে দেব।
JER 7:4 কোনো মিথ্যা কথাবার্তায় তোমরা বিশ্বাস কোরো না এবং বোলো না, “এই হল সদাপ্রভুর মন্দির, সদাপ্রভুর মন্দির, সদাপ্রভুর মন্দির!”
JER 7:5 তোমরা যদি প্রকৃতই ন্যায়পরায়ণতায় পরস্পরের সঙ্গে তোমাদের জীবনাচরণ, তোমাদের কার্যকলাপ ও আচার-আচরণের পরিবর্তন ঘটাও,
JER 7:6 যদি তোমরা বিদেশি, পিতৃহীন ও বিধবাদের প্রতি অত্যাচার না করো এবং এই স্থানে নির্দোষ মানুষদের রক্তপাত না করো, আর তোমরা যদি নিজেদেরই ক্ষতির জন্য অন্যান্য দেবদেবীর অনুসারী না হও,
JER 7:7 তাহলে আমি এই স্থানে তোমাদের বসবাস করতে দেব, যে দেশ আমি তোমাদের পিতৃপুরুষদের যুগে যুগে চিরকালের জন্য দান করেছি।
JER 7:8 কিন্তু দেখো, তোমরা প্রতারণামূলক কথাবার্তায় বিশ্বাস করছ, যা নিতান্তই অসার।
JER 7:9 “ ‘তোমরা কি চুরি ও নরহত্যা করবে, ব্যভিচার ও ভ্রান্ত দেবদেবীর নামে শপথ করবে, বায়াল-দেবতার উদ্দেশে ধূপদাহ করবে এবং তোমাদের অপরিচিত দেবতাদের অনুসারী হবে,
JER 7:10 তারপর আমার নামে আখ্যাত এই গৃহে, আমার সামনে এসে দাঁড়াবে ও বলবে, “আমরা নিরাপদ,” এই সমস্ত ঘৃণ্য কাজগুলি করার জন্য নিরাপদ?
JER 7:11 এই গৃহ, যা আমার নামে আখ্যাত, তোমাদের কাছে কি দস্যুদের গহ্বরে পরিণত হয়েছে? আমি কিন্তু সব লক্ষ্য করে যাচ্ছি! সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 7:12 “ ‘এখন তোমরা শীলোতে যাও, যেখানে আমি প্রথমে আমার নামের জন্য একটি আবাস তৈরি করেছিলাম, আর দেখো, আমার প্রজা ইস্রায়েলের দুষ্টতার জন্য, আমি তার প্রতি কী করেছি।
JER 7:13 সদাপ্রভু বলেন, তোমরা যখন এসব কাজ করছিলে, আমি তোমাদের সঙ্গে বারবার কথা বলেছি, কিন্তু তোমরা শুনতে চাওনি; আমি তোমাদের ডাকলেও তোমরা উত্তর দাওনি।
JER 7:14 সেই কারণে, আমি শীলোর প্রতি যা করেছিলাম, এখন আমার নামে আখ্যাত এই গৃহের প্রতি, যে মন্দিরে তোমরা আস্থা রাখো, যা আমি তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছিলাম, তার প্রতিও সেরকমই করব।
JER 7:15 যেমন আমি তোমাদের ভাইদের, ইফ্রয়িমের সব লোকের প্রতি করেছি, তেমনই তোমাদেরও আমার উপস্থিতি থেকে দূর করে দেব।’
JER 7:16 “তাই এসব লোকের জন্য প্রার্থনা কোরো না, এদের জন্য কোনো অনুনয় বা আবেদন আমার কাছে কোরো না; আমার কাছে কোনো অনুরোধ কোরো না, কারণ আমি তোমার কথা শুনব না।
JER 7:17 যিহূদার গ্রামগুলিতে এবং জেরুশালেমের পথে পথে তারা কী করছে, তুমি কি তা দেখতে পাও না?
JER 7:18 ছেলেমেয়েরা কাঠ সংগ্রহ করে, বাবারা আগুন জ্বালায় এবং স্ত্রীলোকেরা ময়দা মাখায় ও আকাশ-রানির উদ্দেশে পিঠে তৈরি করে। আমার ক্রোধ উদ্রেক করার জন্য তারা অন্য সব দেবদেবীর উদ্দেশে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে।
JER 7:19 কিন্তু তারা কি কেবলমাত্র আমাকেই ক্রুদ্ধ করছে? সদাপ্রভু এই কথা বলেন। তারা কি নিজেদেরই লজ্জার জন্য নিজেদের ক্ষতি করছে না?
JER 7:20 “ ‘অতএব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমার ক্রোধ ও আমার রোষ এই স্থানের উপরে, মানুষ ও পশুর উপরে, মাঠের গাছপালার উপরে এবং ভূমির ফসলের উপরে ঢেলে দেওয়া হবে। তা অগ্নিদগ্ধ হবে, আগুন নিভে যাবে না।
JER 7:21 “ ‘ইস্রায়েলের ঈশ্বর, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমরা যাও, তোমাদের অন্যান্য বলিদানের সঙ্গে তোমাদের হোমবলিও মিশিয়ে দাও ও সেই মাংস তোমরাই খেয়ে ফেলো!
JER 7:22 কারণ তোমাদের পিতৃপুরুষদের আমি যখন মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছিলাম ও তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমি তাদের কেবলমাত্র হোমবলি ও অন্যান্য বলিদান উৎসর্গের আদেশ দিইনি,
JER 7:23 কিন্তু আমি তাদের এই আদেশও দিয়েছিলাম, আমার কথা মেনে চলো, তাহলে আমি তোমাদের ঈশ্বর হব ও তোমরা আমার প্রজা হবে। আমি তোমাদের যে সমস্ত আদেশ দিই, তোমরা সেই অনুযায়ী জীবনযাপন কোরো, যেন এতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
JER 7:24 কিন্তু তারা শোনেনি ও আমার কথায় মনোযোগ করেনি; বরং তারা নিজেদের মন্দ হৃদয়ের একগুঁয়ে প্রবৃত্তির অনুসারী হয়েছে। তারা পিছিয়ে গিয়েছে, এগিয়ে যায়নি।
JER 7:25 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা যখন থেকে মিশর ত্যাগ করেছিল, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত, দিনের পর দিন, আমি বারবার আমার সেবক-ভাববাদীদের তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছি।
JER 7:26 কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি, কোনো মনোযোগও দেয়নি। তারা একগুঁয়ে মনোবৃত্তি দেখিয়ে তাদের পিতৃপুরুষদের চেয়েও বেশি অন্যায় করেছে।’
JER 7:27 “তুমি যখন গিয়ে তাদের এসব কথা বলবে, তারা তোমার কথা শুনবে না। তুমি যখন তাদের ডাকবে, তারা কোনো সাড়া দেবে না।
JER 7:28 সেই কারণে তুমি তাদের বোলো, ‘এই হল সেই জাতি, যে তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথা শোনেনি বা সংশোধনের জন্য সাড়া দেয়নি। সত্যের বিনাশ হয়েছে; তা তাদের ওষ্ঠাধর থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।
JER 7:29 “ ‘তোমার চুল কেটে ফেলে দাও; গাছপালাহীন পাহাড়ে গিয়ে বিলাপ করো, কারণ সদাপ্রভুর ক্রোধের অধীনে থাকা এই প্রজন্মকে তিনি অগ্রাহ্য ও পরিত্যাগ করেছেন।
JER 7:30 “ ‘সদাপ্রভু বলেন, যিহূদার লোকেরা আমার চোখের সামনে পাপ করেছে। তারা আমার নামে আখ্যাত মন্দিরের মধ্যে তাদের ঘৃণ্য সব প্রতিমা স্থাপন করে তা কলুষিত করেছে।
JER 7:31 তারা বিন-হিন্নোমে আবর্জনা ফেলার স্থান তোফতে মূর্তিপূজার পীঠস্থান নির্মাণ করেছে, যেন নিজেদের পুত্রকন্যাদের সেখানে অগ্নিদগ্ধ করে—যা আমি তাদের আদেশ দিইনি বা আমার মনেও আসেনি।
JER 7:32 তাই, সদাপ্রভু বলেন, সাবধান হও, এমন দিন আসছে যখন লোকেরা তাকে আর তোফৎ বা বিন-হিন্নোমের উপত্যকা বলবে না, কিন্তু হত্যালীলার উপত্যকা বলবে, কারণ সেখানে যে পর্যন্ত আর স্থান অবশিষ্ট না থাকে, তারা মৃতদের কবর দেবে।
JER 7:33 তখন এই লোকেদের মৃতদেহ আকাশের পাখিদের এবং বুনো পশুদের আহার হবে, সেগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়া জন্য কেউ আর থাকবে না।
JER 7:34 আমি যিহূদার সমস্ত গ্রাম ও জেরুশালেমের পথগুলি থেকে আনন্দ ও আমোদের শব্দ, বর ও কনের আনন্দরবের পরিসমাপ্তি ঘটাব, কারণ সেই দেশ জনমানবহীন স্থানে পরিণত হবে।
JER 8:1 “ ‘সদাপ্রভু বলেন, সেই সময় যিহূদার রাজা ও রাজকর্মচারীদের হাড়, যাজক ও ভাববাদীদের হাড় এবং জেরুশালেমের লোকদের হাড়, তাদের কবর থেকে অপসারিত করা হবে।
JER 8:2 সেগুলি সূর্য, চাঁদ ও আকাশের সেইসব তারার সাক্ষাতে খোলা পড়ে থাকবে, যাদের তারা ভালোবাসত ও সেবা করত, যাদের অনুসারী হয়ে তারা তাদের সঙ্গে পরামর্শ করত ও উপাসনা করত। সেই হাড়গুলি আর একত্র সংগ্রহ করা হবে না বা কবর দেওয়া হবে না, কিন্তু আবর্জনার মতো মাটিতে পড়ে থাকবে।
JER 8:3 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি যেখানেই তাদের নির্বাসিত করি, সেখানে এই মন্দ জাতির অবশিষ্ট জীবিত লোকেরা জীবনের চেয়ে মৃত্যুই বেশি পছন্দ করবে।’
JER 8:4 “তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘মানুষ যখন পড়ে যায়, তখন তারা কি ওঠে না? কোনো মানুষ বিপথগামী হলে, সে কি ফিরে আসে না?
JER 8:5 তাহলে কেন এসব লোক বিপথে গিয়েছে? কেন জেরুশালেম সবসময় বিপথগামী হয়? তারা ছলনার বাক্যকে আঁকড়ে ধরে, তারা ফিরে আসতে চায় না।
JER 8:6 আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি, কিন্তু সঠিক বিষয় কি, তারা তা বলে না। কেউই তার দুষ্টতার জন্য অনুতাপ করে না, বলে, “আমি কী করেছি?” অশ্ব যেমন যুদ্ধের জন্য দৌড়ায়, তারা সবাই তেমনই নিজের নিজের পথে যায়।
JER 8:7 এমনকি, আকাশের সারসও তার নির্ধারিত সময় জানে, এবং ঘুঘু, ফিঙে ও ময়না তাদের গমনকাল রক্ষা করে। কিন্তু আমার প্রজারা জানে না তাদের সদাপ্রভুর বিধিনিয়ম।
JER 8:8 “ ‘তোমরা কীভাবে বলো, “আমরা জ্ঞানবান, কারণ আমাদের কাছে আছে সদাপ্রভুর বিধান,” যখন শাস্ত্রবিদদের মিথ্যা লেখনী, তা মিথ্যা করে লিখেছে?
JER 8:9 জ্ঞানবানেরা লজ্জিত হবে; তারা হতাশ হয়ে ফাঁদে ধরা পড়বে। তারা যেহেতু সদাপ্রভুর বাক্য অগ্রাহ্য করেছে, তাহলে তাদের কী ধরনের প্রজ্ঞা আছে?
JER 8:10 সেই কারণে, আমি তাদের স্ত্রীদের নিয়ে অন্য লোকদের দেব, তাদের খেতগুলি নতুন সব মালিককে দেব। নগণ্যতম জন থেকে মহান ব্যক্তি পর্যন্ত, সকলেই লোভ-লালসায় লিপ্ত; ভাববাদী ও যাজকেরা সব এক রকম, তারা সকলেই প্রতারণার অনুশীলন করে।
JER 8:11 তারা আমার প্রজাদের ক্ষত এভাবে নিরাময় করে, যেন তা একটুও ক্ষতিকর নয়। যখন কোনো শান্তি নেই, তখন “শান্তি, শান্তি,” বলে তারা আশ্বাস দেয়।
JER 8:12 তাদের এই জঘন্য আচরণের জন্য তারা কি লজ্জিত? না, তাদের কোনও লজ্জা নেই; লজ্জাবনত হতে তারা জানেই না। তাই, পতিতদের মধ্যে তারাও পতিত হবে; আমি যখন তাদের শাস্তি দিই, তখন তাদেরও ভূপতিত করব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 8:13 “ ‘আমি তাদের সব শস্য শেষ করে দেব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। তাদের দ্রাক্ষালতায় কোনো আঙুর থাকবে না। ডুমুর গাছে থাকবে না কোনো ডুমুর, তাদের পাতাগুলি শুকিয়ে যাবে। আমি যা কিছু তাদের দিয়েছিলাম, সব তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেব।’ ”
JER 8:14 কেন আমরা এখানে বসে আছি? এসো, সবাই একত্র হই! এসো আমরা সুরক্ষিত নগরগুলিতে পালিয়ে যাই এবং সেখানে ধ্বংস হই! কারণ আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের ধ্বংস হওয়ার জন্য নিরূপণ করেছেন এবং আমাদের পান করার জন্য বিষাক্ত জল দিয়েছেন, কারণ আমরা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করেছি।
JER 8:15 আমরা শান্তির আশা করলাম কিন্তু কোনো মঙ্গল হল না, আমরা রোগনিরাময়ের অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু কেবলমাত্র আতঙ্কের সম্মুখীন হলাম।
JER 8:16 দান অঞ্চল থেকে শত্রুদের অশ্বের নাসারব শোনা যাচ্ছে; তাদের অশ্বগুলির হ্রেষারবে সমস্ত দেশ কম্পিত হচ্ছে। এই দেশ ও এর ভিতরের সবকিছু, এই নগর ও এর মধ্যে বসবাসকারী সবাইকে, তারা গ্রাস করার জন্য এসেছে।
JER 8:17 “দেখো, আমি তোমাদের মধ্যে বিষধর সাপ প্রেরণ করব, সেই কালসাপগুলিকে মন্ত্রমুগ্ধ করা যাবে না, আর তারা তোমাদের দংশন করবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 8:18 আমার দুঃখ নিরাময়ের ঊর্ধ্বে, আমার অন্তর ভগ্নচূর্ণ হয়েছে।
JER 8:19 এক দূরবর্তী দেশ থেকে আমার প্রজাদের কান্না শ্রবণ করো: “সদাপ্রভু কি সিয়োনে নেই? তার রাজা কি আর সেখানে থাকেন না?” “তাদের দেবমূর্তিগুলির দ্বারা, তাদের সেই অসার বিজাতীয় দেবপ্রতিমাগুলির দ্বারা, তারা কেন আমার ক্রোধের উদ্রেক করেছে?”
JER 8:20 “শস্যচয়নের কাল অতীত হয়েছে, গ্রীষ্মকাল শেষ হয়েছে, কিন্তু আমাদের উদ্ধারলাভ হয়নি।”
JER 8:21 আমার জাতির লোকেরা যেহেতু চূর্ণ হয়েছে, আমিও চূর্ণ হয়েছি; আমি শোক করি, আতঙ্ক আমাকে ঘিরে ধরেছে।
JER 8:22 গিলিয়দে কি কোনো ব্যথার মলম নেই? সেখানে কি কোনো চিকিৎসক নেই? তাহলে কেন আমার জাতির লোকেদের ক্ষত নিরাময় হয় না?
JER 9:1 আহ্, আমার মাথা যদি জলের এক উৎস হত আমার চোখ যদি অশ্রুর স্রোতোধারা হত! তাহলে আমার জাতির নিহত লোকদের জন্য আমি দিনরাত্রি কাঁদতাম।
JER 9:2 আহ্, মরুপ্রান্তরে পথিকদের রাত কাটানোর কুটিরের মতো আমার যদি থাকার একটি স্থান থাকত, তাহলে আমার জাতির লোকদের ছেড়ে আমি তাদের কাছ থেকে চলে যেতাম; কারণ তারা সকলে ব্যভিচারী, এক অবিশ্বস্ত জনতার ভিড়।
JER 9:3 “তাদের জিভ প্রস্তুত রাখে ধনুকের মতো, মিথ্যা কথার তির ছোড়ার জন্য; তারা সত্য অবলম্বন না করে দেশে বিজয়লাভ করে। তারা একটির পর অন্য একটি পাপ করতে থাকে, তারা আমাকে স্বীকার করে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 9:4 “তোমার বন্ধুদের থেকে সাবধানে থেকো; তোমার গোষ্ঠীর কাউকে বিশ্বাস কোরো না। কারণ প্রত্যেকেই এক একজন প্রতারক, আর প্রত্যেক বন্ধু নিন্দা করে বেড়ায়।
JER 9:5 বন্ধু বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণা করে, তারা কেউই সত্যিকথা বলে না। তারা নিজেদের জিভকে মিথ্যা বলা শিখিয়েছে; ক্রমাগত পাপ করে তারা নিজেদের ক্লান্ত করেছে।
JER 9:6 তুমি ছলনার মধ্যে বসবাস করছ; তাদের ছলনার কারণে তারা আমাকে স্বীকার করতে অগ্রাহ্য করে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 9:7 সেই কারণে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “দেখো, আমি তাদের পরিশোধন করে যাচাই করব, কারণ আমার প্রজাদের পাপের জন্য আমি আর কী করতে পারি?
JER 9:8 তাদের জিভ যেন প্রাণঘাতী বাণ, তা ছলনার কথা বলে। প্রত্যেকে মুখে তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলে, কিন্তু অন্তরে সে তার বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতে।
JER 9:9 এজন্য কি আমি তাদের শাস্তি দেব না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “এরকম জাতির বিরুদ্ধে আমি কি স্বয়ং প্রতিশোধ নেব না?”
JER 9:10 পর্বতগুলির জন্য আমি কাঁদব ও বিলাপ করব, প্রান্তরের চারণভূমিগুলির জন্য আমি শোক করব। সেগুলি জনশূন্য ও পথিকবিহীন হয়েছে, গবাদি পশুর রব সেখানে আর শোনা যায় না। আকাশের পাখিরা পলায়ন করেছে এবং পশুরা সব চলে গিয়েছে।
JER 9:11 “আমি জেরুশালেমকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করব, তা হবে শিয়ালদের বাসস্থান; আমি যিহূদার গ্রামগুলিকে এমন ধ্বংসস্থান করব, যেন কেউই সেখানে বসবাস করতে না পারে।”
JER 9:12 একথা বোঝার জন্য কে এমন জ্ঞানবান? কাকে সদাপ্রভু বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেন সে তা ব্যাখ্যা করতে পারে? কেন দেশ এরকম ধ্বংস হয়ে মরুভূমির মতো পড়ে আছে যে, কেউই তার মধ্য দিয়ে যেতে পারে না?
JER 9:13 সদাপ্রভু বলেছেন, “এর কারণ হল, আমি তাদের যে বিধান দিয়েছিলাম, তারা তা ত্যাগ করেছে; তারা আমার কথা শোনেনি এবং আমার বিধানও পালন করেনি।
JER 9:14 পরিবর্তে, তারা তাদের হৃদয়ের একগুঁয়েমি মনোভাবের অনুসারী হয়েছে; তারা তাদের পিতৃপুরুষদের শিক্ষা অনুযায়ী বায়াল-দেবতার অনুগমন করেছে।”
JER 9:15 সেই কারণে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেন, “দেখো, আমি এই লোকদের তেঁতো খাবার ও বিষাক্ত জলপান করতে দেব।
JER 9:16 আমি তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের অপরিচিত বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করব, আর তাদের ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত, তাদের পিছনে তরোয়াল প্রেরণ করব।”
JER 9:17 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা এখন বিবেচনা করো! বিলাপকারী স্ত্রীদের আসার জন্য ডেকে পাঠাও; তাদের মধ্যে যারা এই ব্যাপারে নিপুণ, তাদের আসতে বলো।
JER 9:18 তারা দ্রুত এসে আমাদের জন্য বিলাপ করুক, যতক্ষণ না আমাদের চোখের জল গড়িয়ে পড়ে, আমাদের চোখের পাতা থেকে অশ্রুধারা বয়ে যায়।
JER 9:19 সিয়োন থেকে শোনা যাচ্ছে বিলাপের আওয়াজ: ‘আমরা কেমন ধ্বংস হয়ে গেলাম! আমাদের লজ্জা কেমন ব্যাপক! আমাদের অবশ্যই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে, কারণ আমাদের বাড়িগুলি হয়েছে ধ্বংস।’ ”
JER 9:20 এখন, হে স্ত্রীলোকেরা, তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো; তোমরা তাঁর মুখের কথার প্রতি কান খোলা রাখো। কীভাবে বিলাপ করতে হয়, তোমাদের কন্যাদের শেখাও, তোমরা পরস্পরকে বিলাপ করতে শিক্ষা দাও।
JER 9:21 আমাদের জানালাগুলি দিয়ে মৃত্যু আরোহণ করে যেন আমাদের দুর্গগুলিতে প্রবেশ করেছে; রাস্তা থেকে ছেলেমেয়েদের এবং প্রকাশ্য চক থেকে যুবকদের তা উচ্ছিন্ন করেছে।
JER 9:22 তোমরা বলো, “সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন: “ ‘খোলা মাঠে মানুষদের মৃতদেহ আবর্জনার মতো পড়ে থাকবে, যেমন শস্যচ্ছেদকদের পিছনে কাটা শস্য পড়ে থাকে, যা সংগ্রহ করার জন্য কেউ থাকে না।’ ”
JER 9:23 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “জ্ঞানী ব্যক্তি তার জ্ঞানের জন্য গর্ব না করুক বা শক্তিশালী মানুষ তার শক্তির জন্য গর্ব না করুক বা ধনী ব্যক্তি তার ঐশ্বর্যের জন্য গর্ব না করুক।
JER 9:24 কিন্তু যে গর্ব করে, সে এই বিষয়ে গর্ব করুক: যে সে আমাকে জানে ও বোঝে, যে আমিই সদাপ্রভু, যিনি পৃথিবীতে তাঁর করুণা, ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা প্রদর্শন করেন, কারণ এসব বিষয়ে আমি প্রীত হই,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 9:25 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সময় আসছে, যারা কেবলমাত্র শরীরে ত্বকচ্ছেদ করেছে, আমি তাদের সবাইকে শাস্তি দেব—
JER 9:26 মিশর, যিহূদা, ইদোম, অম্মোন, মোয়াব এবং বহু দূরবর্তী স্থানে যারা বসবাস করে, তাদের দেব। কারণ এসব জাতি প্রকৃতই অচ্ছিন্নত্বকবিশিষ্ট, এমনকি ইস্রায়েলের সমস্ত কুল অন্তরে অচ্ছিন্নত্বক।”
JER 10:1 ওহে ইস্রায়েল কুলের লোকেরা, শোনো সদাপ্রভু তোমাদের কী কথা বলেন।
JER 10:2 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা জাতিগণের আচার-আচরণ শিখো না, কিংবা আকাশের বিভিন্ন চিহ্ন দেখে ভয় পেয়ো না, যদিও জাতিগুলি সেগুলির জন্য আতঙ্কগ্রস্ত হয়।
JER 10:3 কারণ সেই লোকদের ধর্মীয় প্রথা সব অসার; তারা বন থেকে একটি গাছ কেটে আনে, কারুশিল্পী তার বাটালি দিয়ে তাতে আকৃতি দেয়।
JER 10:4 তারা সোনা ও রুপো দিয়ে তা অলংকৃত করে, হাতুড়ি ও পেরেক দিয়ে তারা সুদৃঢ় করে, যেন তা নড়ে না যায়।
JER 10:5 কোনো শসা ক্ষেতে যেমন কাকতাড়ুয়া, তাদের মূর্তিগুলিও তেমনই কথা বলতে পারে না; তাদের বহন করে নিয়ে যেতে হয়, কারণ তারা চলতে পারে না। তোমরা তাদের ভয় পেয়ো না; তারা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, ভালো কিছুও তারা করতে পারে না।”
JER 10:6 হে সদাপ্রভু, তোমার তুল্য আর কেউ নেই; তুমি তো মহান, তোমার নামও পরাক্রমে শক্তিশালী।
JER 10:7 কে না তোমাকে সম্ভ্রম করবে, হে জাতিগণের রাজা? এ তো তোমার প্রাপ্য। সমস্ত জাতির জ্ঞানী লোকদের মধ্যে এবং তাদের সব রাজ্যে, তোমার সদৃশ আর কেউ নেই।
JER 10:8 তারা সবাই জ্ঞানহীন ও মূর্খ; অসার কাঠের মূর্তিগুলি তাদের শিক্ষা দেয়।
JER 10:9 তর্শীশ থেকে নিয়ে আসা হয় রুপোর পাত এবং উফস থেকে সোনা। কারুশিল্পী ও স্বর্ণকারেরা যখন কাজ সমাপ্ত করে, সেগুলিতে নীল ও বেগুনি কাপড় পরানো হয়, সেসবই নিপুণ শিল্পীদের কাজ।
JER 10:10 কিন্তু সদাপ্রভুই হলেন প্রকৃত ঈশ্বর, তিনি জীবন্ত ঈশ্বর, চিরকালীন রাজা। তিনি যখন ক্রুদ্ধ হন, সমস্ত পৃথিবী ভয়ে কাঁপে; জাতিসমূহ তাঁর ক্রোধ সহ্য করতে পারে না।
JER 10:11 “তাদের একথা বলো, ‘এসব দেবতা, যারা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেনি, তারা পৃথিবী থেকে ও আকাশমণ্ডলের নিচে সব স্থান থেকে বিলুপ্ত হবে।’ ”
JER 10:12 কিন্তু ঈশ্বর নিজের পরাক্রমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; তিনি নিজের প্রজ্ঞায় জগৎ স্থাপন করেছেন এবং তাঁরই বুদ্ধিতে আকাশমণ্ডল প্রসারিত করেছেন।
JER 10:13 তিনি যখন বজ্রনাদ করেন, আকাশমণ্ডলের জলরাশি গর্জন করে; পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে তিনি মেঘমালাকে উত্থিত করেন। তিনি বৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ গঠন করেন এবং তাঁর ভাণ্ডার-কক্ষ থেকে বাতাস বের করে আনেন।
JER 10:14 সব মানুষই জ্ঞানহীন ও বুদ্ধিরহিত; সব স্বর্ণকার তার প্রতিমাগুলির জন্য লজ্জিত হয়। তাদের মূর্তিগুলি তো প্রতারণা মাত্র; সেগুলির মধ্যে কোনো শ্বাসবায়ু নেই।
JER 10:15 সেগুলি মূল্যহীন, বিদ্রুপের পাত্র; বিচারের সময় সেগুলি বিনষ্ট হবে।
JER 10:16 যিনি যাকোবের অধিকারস্বরূপ, তিনি এরকম নন, কারণ তিনিই সব বিষয়ের স্রষ্টা, যার অন্তর্ভুক্ত হল ইস্রায়েল ও তাঁর প্রজাবৃন্দ, তাঁর নিজস্ব বিশেষ অধিকার— সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম।
JER 10:17 তোমরা যারা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছ, দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের সব জিনিস গুছিয়ে নাও।
JER 10:18 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “এই সময়ে যারা এখানে থেকে যাবে, আমি তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেব; আমি তাদের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসব যেন তারা ধৃত হয়ে বন্দি হয়।”
JER 10:19 আমার ক্ষতের কারণে আমাকে ধিক্! আমার ক্ষত নিরাময়ের অযোগ্য! তবুও আমি মনে মনে বলেছি, “এ আমার অসুস্থতা, আমাকে অবশ্যই সহ্য করতে হবে।”
JER 10:20 আমার তাঁবু ধ্বংস হয়েছে, এর সব দড়ি ছিঁড়ে গেছে। আমার ছেলেরা আমার কাছ থেকে চলে গেছে, তারা আর নেই; আমার তাঁবু স্থাপন করার জন্য বা আমার আশ্রয়স্থান প্রতিষ্ঠা করার জন্য কেউই আর নেই।
JER 10:21 পালকেরা সব বুদ্ধিহীন, তারা সদাপ্রভুর কাছে অনুসন্ধান করে না। তাই তাদের উন্নতি নেই এবং তাদের সমস্ত পাল ছিন্নভিন্ন হয়েছে।
JER 10:22 শোনো! সংবাদ আসছে— উত্তর দিক থেকে শোনা যাচ্ছে এক ভীষণ কলরব! এ যিহূদার গ্রামগুলিকে নির্জন স্থান করবে, তা হবে শিয়ালদের বাসস্থান।
JER 10:23 হে সদাপ্রভু, আমি জানি মানুষের জীবন তার নিজের নয়; মানুষ তার পাদবিক্ষেপ স্থির করতে পারে না।
JER 10:24 হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে সংশোধন করো, কেবলমাত্র ন্যায়বিচার অনুসারে করো, তোমার ক্রোধে নয়, তা না হলে তুমি আমাকে নিঃস্ব করে ফেলবে।
JER 10:25 তোমার ক্রোধ জাতিসমূহের উপরে ঢেলে দাও, যারা তোমাকে স্বীকার করে না; সেইসব জাতির উপরে, যারা তোমার নামে ডাকে না। কারণ তারা যাকোবের বংশধরদের গ্রাস করেছে; তারা তাদের সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করেছে, এবং তাদের জন্মভূমি ধ্বংস করেছে।
JER 11:1 সদাপ্রভুর কাছ থেকে যিরমিয়ের কাছে এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 11:2 “তুমি এই নিয়মের শর্তাবলির কথা শোনো এবং সেগুলি যিহূদার লোকেদের ও যারা জেরুশালেমে বসবাস করে, তাদের গিয়ে বলো।
JER 11:3 তাদের বলো যে, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘অভিশপ্ত সেই মানুষ, যে এই নিয়মের শর্তাবলি পালন না করে,
JER 11:4 এই নিয়মের কথা আমি তোমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলেছিলাম, যখন আমি তাদের মিশর থেকে, লোহা গলানো চুল্লি থেকে বের করে এনেছিলাম।’ আমি বলেছিলাম, ‘আমার কথা মেনে চলো ও আমি তোমাদের যা আদেশ দিই, সেগুলি সব পালন করো, তাহলে তোমরা আমার প্রজা হবে এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর হব।
JER 11:5 তাহলেই তোমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে কৃত আমার শপথ আমি পূর্ণ করব, যেন আমি তাদের দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশ দিতে পারি,’ যে দেশটি তোমরা এখন অধিকার করে আছ।” উত্তরে আমি বললাম, “আমেন, সদাপ্রভু।”
JER 11:6 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তুমি এই সমস্ত বাক্যের কথা যিহূদার নগরগুলিতে ও জেরুশালেমের পথে পথে গিয়ে ঘোষণা করো: ‘তোমরা এই নিয়মের শর্তাবলির কথা শোনো ও সেগুলি পালন করো।
JER 11:7 তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে বের করে আনার সময় থেকে আজ পর্যন্ত, আমি তাদের বারবার সাবধান করে বলেছিলাম, “আমার বাধ্য হও।”
JER 11:8 তারা কিন্তু শোনেনি বা আমার কথায় মনোযোগ দেয়নি; পরিবর্তে তারা নিজেদের মন্দ হৃদয়ের একগুঁয়ে মনোভাবের অনুসারী হয়েছিল। তাই আমি যে রকম আদেশ করেছিলাম, তারা তা পালন করেনি বলে আমি নিয়মে উল্লিখিত সব শাস্তি তাদের উপরে নিয়ে এসেছি।’ ”
JER 11:9 তারপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “যিহূদার লোকদের ও যারা জেরুশালেমে বসবাস করে তাদের মধ্যে একটি ষড়যন্ত্র চলছে।
JER 11:10 যারা আমার বাক্য পালন করা অগ্রাহ্য করেছিল, তারা তাদের সেই পূর্বপুরুষদের পাপের পথে ফিরে গিয়েছে, যারা অন্যান্য দেবদেবীর সেবা করার জন্য তাদের অনুসারী হয়েছিল। ইস্রায়েল ও যিহূদা, এই উভয় কুলের লোকেরা সেই চুক্তি ভেঙে ফেলেছে, যা আমি তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করেছিলাম।
JER 11:11 সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘আমি তাদের উপরে যে বিপর্যয় নিয়ে আসব, তা তারা এড়াতে পারবে না। তারা যদিও আমার কাছে কাঁদবে, আমি কিন্তু তাদের কথা শুনব না।
JER 11:12 যিহূদার নগরগুলি ও জেরুশালেমের লোকেরা গিয়ে তাদের দেবদেবীর কাছে কাঁদবে, যাদের উদ্দেশে তারা ধূপদাহ করেছিল, কিন্তু যখন বিপর্যয় এসে পড়বে, তারা তাদের কোনো সাহায্যই করতে পারবে না।
JER 11:13 হে যিহূদা, তোমার যত নগর, তত দেবতা; আর জেরুশালেমে রাস্তার যত সংখ্যা, তোমরা লজ্জাকর দেবতা বায়ালের উদ্দেশে ধূপদাহ করার জন্য তত সংখ্যক বেদি স্থাপন করেছ।’
JER 11:14 “তুমি এই সমস্ত লোকের জন্য প্রার্থনা কোরো না। তাদের জন্য কোনো অনুনয় বা আবেদন উৎসর্গ কোরো না, কারণ বিপর্যয়ের সময়ে তারা যখন আমাকে ডাকবে, আমি তাদের কথা শুনব না।
JER 11:15 “আমার প্রিয়তমা আমার মন্দিরে কী করছে, যখন সে অনেকের সঙ্গে তার মন্দ পরিকল্পনার ছক কষেছে? উৎসর্গীকৃত মাংসের জন্য কি তোমাদের শাস্তি এড়াবে? যখন তোমরা তোমাদের দুষ্টতায় মেতে পড়ো, তখনও তোমরা আনন্দ করো।”
JER 11:16 সদাপ্রভু তোমাকে সমৃদ্ধিশালী এক জলপাই গাছ বলে ডেকেছিলেন, যার ফল দেখতে ছিল অতি মনোহর। কিন্তু এক প্রবল ঝড়ের গর্জনে, তিনি তাতে আগুন দেবেন, তার শাখাগুলি সব ভেঙে যাবে।
JER 11:17 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তিনি তোমাকে রোপণ করেছিলেন, তিনি তোমার বিপর্যয়ের রায় ঘোষণা করেছেন। এর কারণ হল, ইস্রায়েল ও যিহূদা কুলের লোকেরা কেবলই মন্দ কাজ করেছে এবং বায়াল-দেবতার কাছে ধূপদাহ করে আমার ক্রোধের উদ্রেক করেছে।
JER 11:18 সদাপ্রভু আমাকে তাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে দিয়েছিলেন, তাই আমি তা জানতে পেরেছিলাম। তিনি সেই সময় আমাকে দেখিয়েছিলেন, তারা কী করছিল।
JER 11:19 আমি একটি কোমল মেষশাবকের মতো হয়েছিলাম, যাকে ঘাতকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি বুঝতে পারিনি যে, তারা আমারই বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রচনা করেছে। তারা বলছিল, “এসো আমরা গাছ ও তার ফলগুলি কেটে ফেলি, এসো জীবিতদের দেশ থেকে আমরা তাকে উচ্ছিন্ন করে ফেলি, যেন তার নাম আর কখনও স্মরণে না আসে।”
JER 11:20 কিন্তু হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তুমি ন্যায়পরায়ণতায় বিচার করে থাকো এবং হৃদয় ও মনের পরীক্ষা করে থাকো, তাদের উপরে তোমার প্রতিশোধ গ্রহণ আমাকে দেখতে দাও, কারণ তোমারই কাছে আমি আমার পক্ষসমর্থন করেছি।
JER 11:21 সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যারা তোমার প্রাণ হরণ করতে চায়, সেই অনাথোতের লোকদের, যারা বলছিল, “সদাপ্রভুর নামে তুমি কোনো ভাববাণী বলবে না, বললে আমাদের হাতে তোমাকে মরতে হবে,”
JER 11:22 অতএব তাদের সম্পর্কে বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি তাদের শাস্তি দেব। তাদের যুবকেরা তরোয়ালের আঘাতে এবং তাদের পুত্রকন্যারা দুর্ভিক্ষে মারা যাবে।
JER 11:23 তাদের মধ্যে অবশিষ্ট কেউই বেঁচে থাকবে না, কারণ তাদের শাস্তির বছরে, আমি অনাথোতের লোকদের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসব।”
JER 12:1 হে সদাপ্রভু, আমি যখন তোমার সামনে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসি, তুমি সবসময়ই নির্দোষ প্রতিপন্ন হও। তবুও আমি তোমার ন্যায়বিচার সম্পর্কে কথা বলতে চাই: দুষ্ট লোকদের পথ কেন সমৃদ্ধ হয়? বিশ্বাসহীন সব লোক কেন স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করে?
JER 12:2 তুমি তাদের রোপণ করেছ, তাদের শিকড় ধরেছ, তারা বৃদ্ধি পেয়ে ফল উৎপন্ন করে। তুমি সবসময় তাদের ওষ্ঠাধরে থাকো, কিন্তু তাদের অন্তর তোমার থেকে অনেক দূরে থাকে।
JER 12:3 তবুও, হে সদাপ্রভু, তুমি তো আমাকে জানো; তুমি আমাকে দেখে থাকো এবং তোমার সম্পর্কে আমার চিন্তাধারা পরীক্ষা করে থাকো। মেষের মতো নিহত হওয়ার জন্য তুমি ওদের টেনে নাও! হত্যার দিনের জন্য তুমি তাদের পৃথক করে রাখো!
JER 12:4 এই দেশ কত দিন শোক করবে এবং মাঠের প্রতিটি তৃণ শুকনো হবে? কারণ এই দেশে বসবাসকারীরা দুষ্ট, পশুরা ও সব পাখি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, লোকেরা বলছে, “আমাদের প্রতি কী ঘটছে, তা তিনি দেখবেন না।”
JER 12:5 “যদি তুমি মানুষের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নাও, আর তারা তোমাকে ক্লান্ত করে দেয়, তাহলে অশ্বদের সঙ্গে তুমি কীভাবে দৌড়াতে পারবে? তুমি যদি নিরাপদ ভূমিতে হোঁচট খাও, তাহলে জর্ডন নদীর তীরে, জঙ্গলে কী করবে?
JER 12:6 তোমার ভাইয়েরা, তোমার নিজের পরিবার, এমনকি, তারাও তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে; তারা তোমার বিরুদ্ধে এক তীব্র শোরগোল তুলেছে। তুমি তাদের বিশ্বাস কোরো না, যদিও তারা তোমার সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলে।
JER 12:7 “আমি আমার গৃহ ত্যাগ করব, আমার উত্তরাধিকার ছেড়ে চলে যাব; আমার ভালোবাসার পাত্রীকে আমি শত্রুদের হাতে তুলে দেব।
JER 12:8 আমার উত্তরাধিকার আমার কাছে জঙ্গলের এক সিংহের মতো হয়েছে। সে আমার প্রতি গর্জন করে; সেই কারণে, আমি তাকে ঘৃণা করি।
JER 12:9 আমার উত্তরাধিকার কি আমার কাছে এক বিচিত্র রংয়ের শিকারি পাখির মতো হয়নি যেন অন্যান্য শিকারি পাখিরা এসে তার চারপাশে জড়ো হয় ও আক্রমণ করে? যাও, গিয়ে সব বন্যপশুকে একত্র করো; গ্রাস করার জন্য তাদের নিয়ে এসো।
JER 12:10 বহু পালরক্ষক আমার দ্রাক্ষাকুঞ্জকে ধ্বংস করবে, তারা আমার মাঠ পদদলিত করবে; তারা আমার মনোরম ক্ষেত্রকে জনশূন্য পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত করবে।
JER 12:11 এ হবে এক পরিত্যক্ত স্থান, আমার চোখের সামনে হবে শুকনো ও নির্জন; সমস্ত দেশই পড়ে থাকবে পরিত্যক্ত হয়ে, কারণ তা তত্ত্বাবধান করার জন্য কেউই নেই।
JER 12:12 মরুপ্রান্তরে বৃক্ষহীন উঁচু ভুমিগুলির উপরে, ধ্বংসকারী সৈন্যেরা গিজগিজ করবে, কারণ দেশে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সদাপ্রভুর তরোয়াল সবাইকে গ্রাস করবে; নিরাপদ কেউই থাকবে না।
JER 12:13 তারা গম রোপণ করবে কিন্তু কাটবে কাঁটাগাছ, তারা কঠোর পরিশ্রম করবে কিন্তু লাভ হবে না কিছুই। তাই, সদাপ্রভুর প্রচণ্ড ক্রোধের কারণে তোমাদের ফসল কাটার লজ্জা বহন করো।”
JER 12:14 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমার প্রজা ইস্রায়েলকে আমি অধিকাররূপে যে দেশ দিয়েছি, আমার দুষ্ট প্রতিবেশীরা তা অবরুদ্ধ করেছে। তাদের ভূমি থেকে আমি সেই শত্রুদের উৎখাত করব এবং তার মধ্য থেকে যিহূদা কুলের লোকদেরও আমি উৎপাটন করব।
JER 12:15 কিন্তু উৎপাটন করার পর, আমি ফিরে তাদের প্রতি মমতা করব, আর তাদের প্রত্যেকজনকে তাদের স্বদেশে, নিজস্ব অধিকারে ফিরিয়ে আনব।
JER 12:16 তারা যদি ভালোভাবে আমার প্রজাদের জীবনাচরণ শেখে এবং আমার নামে এই কথা বলে শপথ করে, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,’ যেভাবে একদিন তারা বায়াল-দেবতার নামে আমার প্রজাদের শপথ করতে শিখিয়েছিল, তাহলে তখন তারা আমার প্রজাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে।
JER 12:17 কিন্তু কোনো জাতি যদি তা না শেখে, আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে উৎপাটন করে তাদের ধ্বংস করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 13:1 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বললেন, “তুমি যাও, গিয়ে মসিনার একটি কোমরবন্ধ ক্রয় করো এবং তোমার কোমরে তা জড়াও, কিন্তু সেটি জলে ভেজাবে না।”
JER 13:2 তাই আমি সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারে একটি কোমরবন্ধ কিনলাম ও আমার কোমরে জড়িয়ে নিলাম।
JER 13:3 তারপর, সদাপ্রভুর বাক্য দ্বিতীয়বার আমার কাছে উপস্থিত হল:
JER 13:4 “যে কোমরবন্ধ কিনে তুমি কোমরে জড়িয়েছ, তা নিয়ে তুমি ইউফ্রেটিস নদীর কাছে যাও এবং সেখানে কোনো পাথরের ফাটলে তুমি তা লুকিয়ে রাখো।”
JER 13:5 অতএব, সদাপ্রভুর কথামতো আমি ইউফ্রেটিস নদীর কাছে গিয়ে সেটি লুকিয়ে রাখলাম।
JER 13:6 অনেক দিন পরে সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “তুমি এখনই ইউফ্রেটিস নদীর কাছে যাও, আর যে কোমরবন্ধটি আমি তোমাকে সেখানে লুকিয়ে রাখতে বলেছিলাম, সেটি নিয়ে এসো।”
JER 13:7 তাই আমি ইউফ্রেটিস নদীর তীরে গেলাম এবং কোমরবন্ধটি যেখানে লুকিয়ে রেখেছিলাম, সেখান থেকে মাটি খুঁড়ে তা বের করলাম। কিন্তু সেটি তখন নষ্ট ও সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।
JER 13:8 তখন সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
JER 13:9 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘এভাবেই আমি যিহূদার অহংকার ও জেরুশালেমের মহা অহংকার চূর্ণ করব।
JER 13:10 এই দুষ্ট প্রজারা, যারা আমার কথা শুনতে চায় না, যারা নিজেদের অন্তরের একগুঁয়েমি অনুযায়ী চলে এবং অন্যান্য দেবদেবীর অনুসারী হয়ে তাদের উপাসনা করে, তারা এই কোমরবন্ধের মতো, সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অযোগ্য হবে!
JER 13:11 কারণ যেভাবে কোনো কোমরবন্ধ মানুষের কোমরে জড়ানো হয়, তেমনই আমি ইস্রায়েলের সমস্ত কুল ও যিহূদার সমস্ত কুলের লোকদের জড়িয়ে রেখেছিলাম, যেন তারা আমার প্রজা হয়ে আমার সুনাম, প্রশংসা ও সমাদর করে, কিন্তু তারা শোনেনি,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 13:12 “তুমি গিয়ে তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, প্রতিটি সুরাধার আঙুররসে পূর্ণ করা হবে।’ আর তারা যদি তোমাকে বলে, ‘আমরা কি জানি না যে, প্রতিটি সুরাধার আঙুররসে পূর্ণ করা হবে?’
JER 13:13 তাহলে তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যারা এই দেশে বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকজনকে আমি মাতলামিতে পূর্ণ করব। এদের মধ্যে থাকবে দাউদের সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজারা, যাজকেরা, ভাববাদীরা এবং জেরুশালেমে বসবাসকারী সব মানুষ।
JER 13:14 আমি তাদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে চূর্ণবিচূর্ণ করব, এমনকি, পিতা-পুত্র নির্বিশেষে চূর্ণ করব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। তাদের যেন ধ্বংস না করি, এজন্য আমি কোনো দয়া বা করুণা বা মমতাবোধকে মনে স্থান দেব না।’ ”
JER 13:15 তোমরা শোনো ও মনোযোগ দাও, উদ্ধত হোয়ো না, কারণ সদাপ্রভু কথা বলেছেন।
JER 13:16 তোমাদের উপরে তিনি অন্ধকার নিয়ে আসার পূর্বে, অন্ধকারময় পর্বতমালায় তোমাদের চরণ স্খলিত হওয়ার পূর্বে, তোমরা তোমাদের ঈশ্বর, সদাপ্রভুকে মহিমা অর্পণ করো। তোমরা আলোর আশা করেছিলে, কিন্তু তিনি তা গাঢ় অন্ধকারে পরিণত করবেন, ঘোর অন্ধকারে তা বদলে দেবেন।
JER 13:17 কিন্তু তোমরা যদি না শোনো, তোমাদের গর্বের কারণে আমি গোপনে কাঁদতে থাকব; আমার চোখদুটি তীব্র অশ্রুপাত করবে, চোখের জল উপচে পড়বে সেখান থেকে, কারণ সদাপ্রভুর লোকেরা বন্দি হবে।
JER 13:18 রাজাকে ও রাজমাতাকে বলো, “আপনারা সিংহাসন থেকে নেমে আসুন, কারণ আপনাদের মহিমার মুকুট খসে পড়বে আপনাদের মাথা থেকে।”
JER 13:19 নেগেভের নগর-দুয়ারগুলি বন্ধ হয়ে যাবে, সেগুলি খোলার জন্য কেউ সেখানে থাকবে না। সমস্ত যিহূদাকে নির্বাসিত করা হবে, সম্পূর্ণভাবে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হবে।
JER 13:20 চোখ তোলো এবং দেখো যারা উত্তর দিক থেকে আসছে। সেই মেষপাল কোথায়, যার দায়িত্ব তোমাকে দেওয়া হয়েছিল, যে মেষের জন্য তুমি গর্ববোধ করতে?
JER 13:21 যাদের সঙ্গে তুমি বিশেষ মিত্রতা গড়ে তুলেছিলে, তাদের যখন সদাপ্রভু তোমার উপরে বসাবেন, তখন তুমি কী বলবে? প্রসববেদনাগ্রস্ত স্ত্রীর মতো তুমিও কি যন্ত্রণাগ্রস্ত হবে না?
JER 13:22 আর যদি তুমি মনে মনে প্রশ্ন করো, “আমার প্রতি এসব কেন ঘটেছে?” এর উত্তর হল, তোমার বহু পাপের জন্য তোমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তোমার শরীরের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে।
JER 13:23 কূশ দেশের লোক কি তার চামড়ার রং কিংবা চিতাবাঘ কি তার শরীরের ছোপ বদলাতে পারে? তোমরাও তেমনই ভালো কিছু করতে পারো না, কারণ মন্দ কাজ করায় তোমরা অভ্যস্ত হয়েছ।
JER 13:24 “মরুভূমির বাতাসে উড়ে যাওয়া তুষের মতো আমি তোমার লোকদের ছড়িয়ে ফেলব।
JER 13:25 এই তোমার নির্দিষ্ট পাওনা, তোমার জন্য আমার দেওয়া নিরূপিত অংশ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “কারণ তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছ এবং ভ্রান্ত দেবদেবীকে বিশ্বাস করেছ।
JER 13:26 আমি তোমার পরনের কাপড় মুখের উপরে তুলে দেব, যেন তোমার লজ্জা দেখতে পাওয়া যায়,
JER 13:27 তা হল তোমার ব্যভিচার ও কামনাপূর্ণ আহ্বান, তোমার নির্লজ্জ গণিকাবৃত্তি! পাহাড়ে পাহাড়ে ও মাঠে মাঠে আমি তোমার ঘৃণ্য কাজগুলি দেখেছি। ধিক্ তোমাকে, জেরুশালেম! তুমি আর কত কাল অশুচি থাকবে?”
JER 14:1 ভারী অনাবৃষ্টির সময়ে যিরমিয় সদাপ্রভুর কাছ থেকে এই বাক্য লাভ করেন:
JER 14:2 “যিহূদা শোক করছে, তার নগরগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে; তার লোকেরা দেশের জন্য বিলাপ করছে, জেরুশালেম থেকে উঠে যাচ্ছে এক কান্নার রোল।
JER 14:3 সম্ভ্রান্ত মানুষেরা জলের জন্য তাদের দাসদের পাঠায়; তারা জলাধারের কাছে যায়, কিন্তু জল পায় না। তারা শূন্য কলশি নিয়ে ফিরে আসে; আশাহত ও নিরুপায় হয়ে তারা নিজের নিজের মাথা ঢেকে ফেলে।
JER 14:4 জমি ফেটে চৌচির হয়েছে কারণ দেশে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি; কৃষকেরা আশাহত হয়ে তারাও নিজেদের মাথা ঢেকে ফেলেছে।
JER 14:5 এমনকি, মাঠের হরিণীও, ঘাস নেই বলে তার নবজাত শাবককে ফেলে চলে যায়।
JER 14:6 বন্য গর্দভেরা গাছপালাহীন উঁচু স্থানগুলিতে দাঁড়ায় ও শিয়ালের মতো হাঁপাতে থাকে; ঘাসের অভাবে তাদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়।”
JER 14:7 যদিও আমাদের পাপসকল আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়, হে সদাপ্রভু, তোমার শ্রীনামের জন্য তুমি কিছু করো। কারণ আমরা অনেকভাবে বিপথগামী হয়েছি; আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি।
JER 14:8 ইস্রায়েলের আশাভূমি, তার বিভিন্ন দুর্দশার পরিত্রাতা, কেন তুমি দেশে এক অচেনা মানুষের মতো হয়েছ, সেই পথিকের মতো হয়েছ, যে এক রাত্রিমাত্র অবস্থান করে?
JER 14:9 কেন তুমি বিভ্রান্ত এক মানুষের মতো, উদ্ধার করতে না পারা যোদ্ধার মতো হও? হে সদাপ্রভু, তুমি আমাদের মধ্যেই আছ, আর আমরা তোমার পরিচয় বহন করি; আমাদের পরিত্যাগ কোরো না!
JER 14:10 এই জাতির লোকদের সম্বন্ধে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তারা এরকমই বিপথগামী হতে ভালোবাসে; তারা তাদের চরণ সংযত করে না। সেই কারণে, সদাপ্রভু তাদের গ্রহণ করেন না; এবার তিনি তাদের দুষ্টতা স্মরণ করবেন, তাদের পাপসকলের জন্য তাদের শাস্তি দেবেন।”
JER 14:11 এরপর সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বললেন, “এই লোকদের মঙ্গলের জন্য তুমি প্রার্থনা কোরো না।
JER 14:12 তারা যদিও উপবাস করে, আমি তাদের কান্না শুনব না; তারা যদিও হোমবলি ও শস্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, আমি সেগুলি গ্রাহ্য করব না। পরিবর্তে, আমি তাদের তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির দ্বারা ধ্বংস করব।”
JER 14:13 কিন্তু আমি বললাম, “আহ্, সার্বভৌম সদাপ্রভু, ভাববাদীরা নিরন্তর তাদের বলে এসেছে, ‘তোমরা তরোয়ালের সম্মুখীন হবে না বা দুর্ভিক্ষেও কষ্ট পাবে না। প্রকৃতপক্ষে, আমি তোমাদের এই স্থানে চিরস্থায়ী শান্তি ভোগ করতে দেব।’ ”
JER 14:14 তখন সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “ভাববাদীরা আমার নামে মিথ্যা ভাববাণী বলে। আমি তাদের পাঠাইনি বা নিযুক্ত করিনি বা তাদের সঙ্গে কথা বলিনি। তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা দর্শন, অসার দৈব বাক্য ও তাদের মনগড়া ভ্রান্তির কথা বলে।
JER 14:15 অতএব, যারা তাঁর নাম ব্যবহার করে ভাববাণী বলেছে, সদাপ্রভু সেইসব ভাববাদীর উদ্দেশে এই কথা বলেন, আমি তাদের পাঠাইনি, অথচ তারা বলছে, ‘কোনো যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ এই দেশকে স্পর্শ করবে না।’ ওই ভাববাদীরাই যুদ্ধে ও দুর্ভিক্ষে ধ্বংস হবে।
JER 14:16 আর যে লোকদের কাছে তারা ভাববাণী বলেছে, যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের কারণে তাদের জেরুশালেমের পথে পথে নিক্ষেপ করা হবে। তাদের, কিংবা তাদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের কবর দেওয়ার জন্য কেউ থাকবে না। তাদের প্রাপ্য যে দুর্দশা, তা আমি তাদের উপরে ঢেলে দেব।
JER 14:17 “তুমি এসব কথা ওদের বলো: “ ‘আমার চোখের জল উপচে পড়ুক, রাতদিন না থেমে তা বয়ে যাক; কারণ আমার কুমারী কন্যাস্বরূপ আমার প্রজারা এক ভয়ংকর ক্ষত, এক চূর্ণকারী আঘাত পেয়েছে।
JER 14:18 আমি যদি গ্রামে যাই, আমি তরোয়ালের আঘাতে নিহতদের দেখি; যদি আমি নগরে যাই, আমি দুর্ভিক্ষের ধ্বংসাত্মক পরিণাম দেখি। ভাববাদী ও যাজকেরা সকলেই, তাদের অপরিচিত এক দেশে চলে গেছে।’ ”
JER 14:19 তুমি কি সম্পূর্ণরূপে যিহূদাকে প্রত্যাখ্যান করেছ? তুমি কি সিয়োনকে অবজ্ঞা করো? তুমি কেন আমাদের এমন দুর্দশাগ্রস্ত করেছ যে আমাদের অবস্থার প্রতিকার হয় না? আমরা শান্তির আশায় ছিলাম, কোনো মঙ্গল আমাদের হয়নি, অবস্থার প্রতিকারের আশায় আমরা ছিলাম, কিন্তু কেবলমাত্র আতঙ্কেরই সম্মুখীন হয়েছি।
JER 14:20 হে সদাপ্রভু, আমরা স্বীকার করি আমাদের দুষ্টতার কথা এবং আমাদের পিতৃপুরুষদের অপরাধের কথা; আমরা প্রকৃতই তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি।
JER 14:21 তোমার নিজের নামের অনুরোধে, তুমি আমাদের ঘৃণা কোরো না; তোমার গৌরবের সিংহাসনকে অসম্মানিত কোরো না। আমাদের সঙ্গে কৃত তোমার চুক্তির কথা স্মরণ করো, এবং তা ভেঙে ফেলো না।
JER 14:22 কোনো জাতির অসার দেবমূর্তিরা কি বৃষ্টি আনতে পারে? আকাশমণ্ডল কি স্বয়ং বারিধারা বর্ষণ করে? না, কিন্তু তুমিই তা করতে পারো, হে সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর। সেই কারণে আমরা তোমার উপরে প্রত্যাশা রাখি, কারণ কেবলমাত্র তুমিই এসব করে থাকো।
JER 15:1 এরপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “যদিও মোশি ও শমূয়েল আমার সামনে দাঁড়াত, তবুও আমার মন এই লোকদের প্রতি কোমল হত না। আমার উপস্থিতি থেকে তাদের দূর করে দাও, তাদের চলে যেতে দাও।
JER 15:2 আর তারা যদি জিজ্ঞাসা করে, ‘আমরা কোথায় যাব?’ তাহলে তাদের বোলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘যারা মৃত্যুর পাত্র, তারা মৃত্যুর স্থানে; যারা তরোয়ালের আঘাতের জন্য নির্দিষ্ট, তারা তরোয়ালের স্থানে; যারা দুর্ভিক্ষের জন্য নির্দিষ্ট, তারা দুর্ভিক্ষের স্থানে; যারা বন্দিত্বের জন্য নির্দিষ্ট, তারা বন্দিত্বের স্থানে চলে যাক।’
JER 15:3 “আমি চার ধরনের ধ্বংসকারীকে তাদের বিরুদ্ধে পাঠাব,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “হত্যা করার জন্য তরোয়াল, টানাটানি করার জন্য কুকুর এবং গ্রাস ও ধ্বংস করার জন্য আকাশের সব পাখি ও যাবতীয় বুনো পশুও পাঠাব।
JER 15:4 যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের পুত্র মনঃশি জেরুশালেমে যা করেছে, সেই কারণে পৃথিবীর সব রাজ্যের কাছে আমি তাদের ঘৃণ্য করে তুলব।
JER 15:5 “হে জেরুশালেম, কে তোমার প্রতি করুণা করবে? কে তোমার জন্য শোক করবে? কে থেমে জিজ্ঞাসা করবে, তুমি কেমন আছ?
JER 15:6 তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছ,” সদাপ্রভু বলেন। “তুমি বারবার বিপথগামী হয়ে থাকো। তাই আমি তোমার উপরে হস্তক্ষেপ করে তোমাকে ধ্বংস করব; তোমার প্রতি আর কোনো মমতা দেখাব না।
JER 15:7 আমি দেশের নগরদ্বারগুলিতে তাদের বেলচা দিয়ে ঝাড়ব। আমি আমার প্রজাদের উপরে মৃত্যুর শোক ও ধ্বংস নিয়ে আসব, কারণ তারা তাদের জীবনাচরণের পরিবর্তন করেনি।
JER 15:8 আমি সমুদ্রের বালির চেয়েও তাদের বিধবাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। তাদের যুবকদের মায়েদের বিরুদ্ধে আমি দুপুরবেলা এক ধ্বংসকারী নিয়ে আসব; হঠাৎই আমি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ে আসব নিদারুণ উদ্বেগ ও ভয়।
JER 15:9 সাত সন্তানের জননী মূর্ছা গিয়ে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে; সময় থাকতে থাকতেই তার জীবনসূর্য অস্ত যাবে; সে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে। যারা অবশিষ্ট বেঁচে থাকবে, তাদের সমর্পণ করব শত্রুদের তরোয়ালের সামনে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 15:10 হায়, মা আমার, তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছ, আমি এমন মানুষ, যার সঙ্গে সমস্ত দেশ ঝগড়া-বিবাদ করে। আমি ঋণ করিনি বা কাউকে ঋণও দিইনি, তবুও সবাই আমাকে অভিশাপ দেয়।
JER 15:11 সদাপ্রভু বললেন, “নিশ্চয়ই আমি এক উত্তম অভিপ্রায়ে তোমাকে মুক্ত করব; নিশ্চিতরূপে বিপর্যয় ও দুর্দশার সময়ে তোমার শত্রুরা তোমার কাছে অনুনয় করবে।
JER 15:12 “কোনো মানুষ কি লোহা ভাঙতে পারে, উত্তর দেশের লোহা বা পিতল?
JER 15:13 “তোমাদের ঐশ্বর্য ও তোমাদের সম্পদ আমি বিনামূল্যে লুন্ঠিত বস্তুরূপে দেব। এর কারণ হল, তোমাদের সমস্ত দেশে কৃত তোমাদের সব পাপ।
JER 15:14 আমি তোমাদের শত্রুদের কাছে দাসত্ব করাব, তোমাদের অপরিচিত এক দেশে, কারণ আমার ক্রোধ এক আগুনের শিখা প্রজ্বলিত করবে, যা তোমাদের বিরুদ্ধে থাকবে।”
JER 15:15 হে সদাপ্রভু, তুমি তো সব বোঝো; আমাকে স্মরণ করো ও আমার তত্ত্বাবধান করো। আমার পীড়নকারীদের উপরে তুমিই প্রতিশোধ নাও। তুমি তো দীর্ঘসহিষ্ণু, আমাকে হরণ কোরো না; ভেবে দেখো, তোমার কারণে আমি কত দুর্নাম সহ্য করে থাকি।
JER 15:16 যখন তোমার বাক্যসকল এল, আমি তা অন্তরে গ্রহণ করলাম, সেগুলি ছিল আমার আনন্দ ও প্রাণের হর্ষজনক, কারণ হে সদাপ্রভু, বাহিনীগণের ঈশ্বর, আমি তোমার নাম ধারণ করি।
JER 15:17 উচ্ছৃঙ্খল লোকদের দলে আমি কখনও বসিনি, আমি কখনও তাদের সঙ্গে ফুর্তি করিনি; আমি একা বসেছিলাম, কারণ তোমার হাত আমার উপরে ছিল, আর তুমি আমাকে ঘৃণামিশ্রিত ক্রোধে পূর্ণ করেছিলে।
JER 15:18 কেন আমার বেদনা অন্তহীন এবং আমার ক্ষতসকল এত মারাত্মক ও নিরাময়ের অযোগ্য? তুমি আমার কাছে এক ছলনাময়ী ঝর্ণা, নির্জলা জলের উৎসের মতো।
JER 15:19 এই কারণে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তুমি অনুতাপ করলে আমি তোমাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব, যেন তুমি আমার সেবা করতে পারো; যদি তুমি মূল্যহীন কথাবার্তার চেয়ে উৎকৃষ্ট সব কথা বলো, তাহলে তুমি আমার মুখপাত্র হবে। এই লোকেরা তোমার প্রতি ফিরুক, কিন্তু তুমি তাদের প্রতি ফিরবে না।
JER 15:20 আমি তোমাকে এই লোকদের কাছে প্রাচীরস্বরূপ করব, পিতলের সুদৃঢ় দেওয়ালের মতো করব; তারা তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করবে, কিন্তু তোমাকে জয় করতে পারবে না, কারণ তোমাকে উদ্ধার ও রক্ষা করার জন্য আমি তোমার সঙ্গে আছি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 15:21 “আমি দুষ্টদের হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করব, আর নিষ্ঠুর লোকদের কবল থেকে তোমাকে উদ্ধার করব।”
JER 16:1 এরপর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে এসে উপস্থিত হল:
JER 16:2 “তুমি এই স্থানে বিয়ে কোরো না এবং এখানে তোমার ছেলেমেয়েও যেন না হয়।”
JER 16:3 কারণ এখানে জন্ম নেওয়া ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে এবং তাদের মায়েদের ও বাবাদের সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন:
JER 16:4 “তারা মারাত্মক রোগে মারা যাবে। তাদের জন্য শোকবিলাপ করা হবে না ও তাদের কবর দেওয়া হবে না, কিন্তু আবর্জনার মতো তাদের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে থাকবে। তারা তরোয়ালের আঘাতে ও দুর্ভিক্ষে ধ্বংস হবে এবং তাদের মৃতদেহ আকাশের পাখিদের ও বুনো পশুদের আহার হবে।”
JER 16:5 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তুমি মৃতদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভোজ খেতে কোনো গৃহে প্রবেশ কোরো না; সেখানে শোক করতে বা সহানুভূতি দেখাতে যেয়ো না, কারণ এই লোকদের উপর থেকে আমি আমার আশীর্বাদ, আমার ভালোবাসা ও আমার অনুকম্পা তুলে নিয়েছি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 16:6 “উঁচু বা নীচ নির্বিশেষে সবাই এই দেশে মারা যাবে। তাদের কবর দেওয়া কিংবা তাদের জন্য শোক করা হবে না, কেউ নিজের শরীরে কাটাকুটি বা তাদের মস্তক মুণ্ডন করবে না।
JER 16:7 যারা মৃতদের উদ্দেশ্যে বিলাপ করে, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কেউ খাবার পাঠাবে না—এমনকি, তাদের কারও মা বা বাবার জন্যও নয়—কিংবা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কেউ কোনো পানীয়ও দেবে না।
JER 16:8 “আবার কোনো ভোজ-উৎসবের গৃহে তুমি প্রবেশ করে, সেখানে ভোজন ও পান করার জন্য বসে পড়বে না।
JER 16:9 কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমাদের চোখের সামনে ও তোমাদের জীবনকালেই আমি আনন্দ ও উল্লাসের রব, বর-কন্যার আনন্দরবের পরিসমাপ্তি ঘটাব।
JER 16:10 “তুমি যখন লোকেদের এই সমস্ত কথা বলবে, আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘সদাপ্রভু কেন আমাদের জন্য এই ধরনের বিপর্যয়ের কথা ঘোষণা করেছেন? আমরা কি অন্যায় করেছি? আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে আমরা কি পাপ করেছি?’
JER 16:11 তাহলে তুমি তাদের বোলো, ‘এর কারণ হল, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে ত্যাগ করেছে,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘এবং অন্যান্য দেবদেবীর অনুসারী হয়ে তাদের সেবা করেছে ও তাদের উপাসনা করেছে। তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছে ও আমার বিধান পালন করেনি।
JER 16:12 এছাড়া তোমরা, তোমাদের পিতৃপুরুষদের চেয়েও বেশি দুষ্টতার কাজ করেছ। দেখো, তোমরা প্রত্যেকে আমার আদেশ পালন না করে কেমনভাবে নিজেদের মন্দ হৃদয়ের অনুসারী হয়েছ।
JER 16:13 তাই, আমি এই দেশ থেকে তোমাদের এমন এক দেশে ছুঁড়ে ফেলে দেব, যে দেশের কথা তোমরা জানো না বা তোমাদের পিতৃপুরুষেরা জানত না। সেখানে তোমরা দিনরাত অন্যান্য দেবদেবীর সেবা করবে, কারণ আমি তোমাদের প্রতি কোনো কৃপা প্রদর্শন করব না।’
JER 16:14 “তবুও, এমন দিন আসন্ন,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যখন লোকেরা আর ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, যিনি ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন একথা বলবে না,’
JER 16:15 বরং তারা বলবে, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, যিনি উত্তরের দেশ থেকে এবং যে সমস্ত দেশে তিনি তাদের নির্বাসিত করেছিলেন, সেখান থেকে ইস্রায়েলীদের মুক্ত করে এনেছেন।’ কারণ তাদের পিতৃপুরুষদের আমি যে দেশ দিয়েছিলাম, সেখানেই তাদের আবার ফিরিয়ে আনব।
JER 16:16 “কিন্তু এবারে আমি বহু জেলেকে পাঠাব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তারা তাদের ধরবে। তারপর আমি পাঠাব বহু শিকারিকে, যারা তাদের প্রত্যেক পাহাড় ও পর্বতের ফাটল ও বড়ো বড়ো পাথরের খাঁজ থেকে শিকার করে আনবে।
JER 16:17 আমার চোখ তাদের সমস্ত জীবনাচরণের প্রতি নিবদ্ধ থাকবে, তাদের কোনো পাপ আমার কাছ থেকে গুপ্ত থাকবে না।
JER 16:18 তাদের দুষ্টতা ও তাদের পাপের জন্য আমি তাদের দ্বিগুণ প্রতিফল দেব, কারণ তারা তাদের অসার সব দেবমূর্তির প্রাণহীন আকৃতির দ্বারা আমার দেশ অশুচি করেছে এবং তাদের জঘন্য সব প্রতিমার দ্বারা আমার অধিকারকে পূর্ণ করেছে।”
JER 16:19 হে সদাপ্রভু, আমার শক্তি ও আমার দুর্গ, দুর্দশার সময়ে আমার আশ্রয়স্থান, তোমার কাছেই সমস্ত জাতি আসবে, পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে এসে তারা বলবে, “মিথ্যা দেবতা ছাড়া আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে আর কিছুই ছিল না, অসার প্রতিমারা তাদের কোনো উপকারই করতে পারেনি।
JER 16:20 লোকেরা কি নিজেদের দেবদেবী তৈরি করতে পারে? হ্যাঁ পারে, কিন্তু আসলে তারা দেবতাই নয়!”
JER 16:21 “সেই কারণে, আমি তাদের শিক্ষা দেব, এবার আমার পরাক্রম ও আমার শক্তি সম্পর্কে তাদের শিক্ষা দেব। তখন তারা জানতে পারবে যে, আমার নাম সদাপ্রভু।”
JER 17:1 “যিহূদার পাপ লোহার এক যন্ত্র দিয়ে খোদিত ও হীরার কাঁটা দিয়ে লেখা হয়েছে, তা খোদিত হয়েছে তাদের হৃদয়ের ফলকে এবং তাদের বেদির শৃঙ্গগুলির উপরে।
JER 17:2 এমনকি তাদের ছেলেমেয়েরাও স্মরণ করতে পারে তাদের বেদিগুলি ও আশেরা-মূর্তির খুঁটিগুলির কথা, যেগুলি স্থাপিত ছিল ডালপালা ছড়ানো গাছগুলির তলে ও উঁচু সব পাহাড়ের উপরে।
JER 17:3 দেশের সর্বত্র তোমাদের পাপের কারণে, তোমাদের উঁচু স্থানগুলি সমেত দেশের মধ্যে অবস্থিত আমার পর্বত আর তোমাদের ঐশ্বর্য ও সমস্ত ধনসম্পদ, আমি লুটের বস্তু বলে বিলিয়ে দেব।
JER 17:4 যে অধিকার আমি তোমাদের দিয়েছিলাম, তোমাদের দোষেই তোমরা তা হারাবে। তোমাদের অপরিচিত এক দেশে, আমি তোমাদের, তোমাদেরই শত্রুদের দাস করব, কারণ তোমরা আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত করেছ এবং চিরকাল তা জ্বলতে থাকবে।”
JER 17:5 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “অভিশপ্ত সেই জন, যে মানুষের উপরে নির্ভর করে, যে তার শক্তির জন্য নিজের শরীরের উপরে আস্থা রাখে এবং যার হৃদয় সদাপ্রভুর কাছ থেকে বিমুখ হয়।
JER 17:6 সে হবে পতিত জমিতে কোনো ঝাউ গাছের মতো; সমৃদ্ধির সময় এলে সে তা দেখতে পাবে না। মরুভূমির শুকনো স্থানগুলিতে, এক লবণাক্ত ভূমিতে, সে বসবাস করবে, যেখানে কেউ থাকে না।
JER 17:7 “কিন্তু ধন্য সেই মানুষ, যে সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করে, যার আস্থা থাকে তাঁরই উপর।
JER 17:8 সে জলের তীরে রোপিত বৃক্ষের মতো হবে, যার শিকড় ছড়িয়ে যায় জলের দিকে। গ্রীষ্মের আগমনে সে ভয় পায় না, তার পাতাগুলি সবসময়ই সবুজ থাকে। খরার বছরে তার দুশ্চিন্তা হয় না ফল উৎপন্ন করতে সে কখনও ব্যর্থ হয় না।”
JER 17:9 হৃদয় সব বিষয়ের চেয়ে বেশি প্রবঞ্চক, তার রোগের নিরাময় হয় না। কে বা তা বুঝতে পারে?
JER 17:10 “আমি সদাপ্রভু, হৃদয়ের অনুসন্ধান করি এবং মন যাচাই করি, যেন মানুষকে তার আচরণ ও কাজকর্মের জন্য উপযুক্ত পুরস্কার দিতে পারি।”
JER 17:11 অন্যের ডিমে তিতির পাখি তা দিয়ে যেমন বাচ্চা তোলে, অসৎ উপায়ে যে ধন উপার্জন করে, সে তেমনই। তার জীবনের মাঝামাঝি বয়সে, ধন তাকে ছেড়ে যাবে, পরিশেষে সে এক মূর্খ প্রতিপন্ন হবে।
JER 17:12 আদি থেকে উন্নত স্থানে অবস্থিত, সেই গৌরবের সিংহাসন হল আমাদের ধর্মধামের স্থান।
JER 17:13 ইস্রায়েলের আশা, হে সদাপ্রভু, যারা তোমাকে ত্যাগ করে, তারা লজ্জিত হবে। যারা তোমার কাছ থেকে বিমুখ হয়, তাদের নাম ধুলোয় লেখা হবে, কারণ তারা জীবন্ত জলের উৎস, সদাপ্রভুকে ত্যাগ করেছে।
JER 17:14 হে সদাপ্রভু, আমাকে সুস্থ করো, তাহলে আমি সুস্থ হব; আমাকে উদ্ধার করো, তাহলে আমি উদ্ধার পাব, কারণ আমি কেবলই তোমার প্রশংসা করি।
JER 17:15 লোকেরা নিন্দা করে আমাকে বলতে থাকে, “সদাপ্রভুর বাক্য কোথায়? তা এখনই পূর্ণ হোক!”
JER 17:16 তোমার প্রজাদের পালকের দায়িত্ব ছেড়ে আমি পালিয়ে যাইনি; তুমি জানো, আমি এই হতাশার দিন দেখতে চাইনি। আমার মুখ দিয়ে যে কথা বের হয়, তা তোমার কাছে প্রকাশ্য আছে।
JER 17:17 আমার কাছে আতঙ্কস্বরূপ হোয়ো না, বিপর্যয়ের দিনে তুমিই আমার আশ্রয়স্থান।
JER 17:18 আমার নিপীড়নকারীদের তুমি লজ্জায় ফেলো, কিন্তু আমাকে লজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা করো। তাদের আতঙ্কিত করো, কিন্তু আমার আতঙ্ক দূরে করো। তাদের উপরে বিপর্যয়ের দিন নিয়ে এসো; দ্বিগুণ বিনাশ দ্বারা তাদের ধ্বংস করো।
JER 17:19 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বললেন, “যিহূদার রাজারা যে ফটক দিয়ে ভিতরে আসে ও বাইরে যায়, তুমি জনসাধারণের সেই দুয়ারে গিয়ে দাঁড়াও; আবার জেরুশালেমের অন্য সব ফটকেও গিয়ে দাঁড়াও।
JER 17:20 তাদের বলো, ‘হে যিহূদার রাজগণ ও যিহূদার সব লোক এবং জেরুশালেমে বসবাসকারী প্রত্যেকে যারা এসব ফটক দিয়ে প্রবেশ করো, তোমরা সদাপ্রভুর এই কথা শোনো।
JER 17:21 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমরা সাবধান হও, সাব্বাথ-দিনে তোমরা কোনো বোঝা বইবে না, অথবা জেরুশালেমের ফটকগুলি দিয়ে কোনো বোঝা ভিতরে আনবে না।
JER 17:22 তোমাদের ঘরের বাইরে কোনো বোঝা আনবে না, কিংবা সাব্বাথ-দিনে তোমরা কোনো কাজ করবে না, কিন্তু সাব্বাথ-দিন পবিত্ররূপে পালন করবে, যেমন আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের আদেশ দিয়েছিলাম।
JER 17:23 তারা কিন্তু শোনেনি এবং কোনো মনোযোগও দেয়নি। তারা ছিল একগুঁয়ে এবং আমার কথা শুনতে চায়নি বা আমার শাসনে সাড়া দেয়নি।
JER 17:24 কিন্তু তোমরা যদি যত্নের সঙ্গে আমার আদেশ পালন করো, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আর তোমরা সাব্বাথ-দিনে এই নগরের ফটকগুলি দিয়ে কোনো বোঝা ভিতরে না নিয়ে এসো এবং কোনো কাজ না করে সাব্বাথ-দিনকে পবিত্র বলে মান্য করো,
JER 17:25 তাহলে রাজারা, যারা দাউদের সিংহাসনে বসে, তারা তাদের কর্মচারীদের সঙ্গে এই নগরের ফটকগুলি দিয়ে প্রবেশ করবে। তারা ও তাদের কর্মচারীরা ঘোড়ায় ও রথ চড়ে আসবে। তারা যিহূদার লোকদের ও জেরুশালেমে বসবাসকারী লোকদের সঙ্গে আসবে এবং এই নগরে চিরকালের জন্য লোকেদের বসবাস থাকবে।
JER 17:26 লোকেরা যিহূদার বিভিন্ন নগর থেকে ও জেরুশালেমের নিকটবর্তী গ্রামগুলি থেকে আসবে, বিন্যামীনের এলাকা ও পশ্চিমাঞ্চলের ছোটো ছোটো পাহাড়তলি থেকে, পার্বত্য অঞ্চল ও নেগেভ থেকে আসবে এবং সদাপ্রভুর গৃহে হোমবলি ও বিভিন্ন বলিদান, শস্য-নৈবেদ্য, ধূপ ও ধন্যবাদ-দানের বলি নিয়ে আসবে।
JER 17:27 কিন্তু সাব্বাথ-দিন যদি তোমরা পবিত্র না রাখো এবং সাব্বাথ-দিনে জেরুশালেমের ফটকগুলি দিয়ে বোঝা বহন করে ভিতরে নিয়ে এসে আমার আদেশ পালন না করো, তাহলে জেরুশালেমের ফটকগুলিতে আমি এমন আগুন জ্বালিয়ে দেব, যা নিভানো যাবে না। সেই আগুন তার দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।’ ”
JER 18:1 সদাপ্রভুর কাছ থেকে যিরমিয়ের কাছে এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 18:2 “তুমি কুমোরের গৃহে নেমে যাও। আমি সেখানে তোমাকে আমার বাক্য দেব।”
JER 18:3 তাই আমি কুমোরের গৃহে নেমে গেলাম। আমি তাকে চাকায় কাজ করতে দেখলাম।
JER 18:4 সে যে পাত্রটি মাটি দিয়ে তৈরি করছিল, তা তার হাতে বিকৃত হয়ে গেল; তখন কুমোর তা নিয়ে অন্য একটি পাত্র তৈরি করল। সে তাতে নিজের ইচ্ছামতো আকৃতি দিল।
JER 18:5 তখন সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
JER 18:6 “হে ইস্রায়েল কুলের লোকেরা, এই কুমোর যেমন করছে, আমি কি তোমাদের প্রতি তেমনই করতে পারি না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “হে ইস্রায়েল কুল, কুমোরের হাতে যেমন মাটি, আমার হাতে তোমরাও তেমনই।
JER 18:7 কোনও সময়ে যদি আমি কোনো জাতি বা রাজ্যকে উৎপাটন করা, উপড়ে ফেলা বা ধ্বংসের কথা ঘোষণা করি,
JER 18:8 কিন্তু সেই যে জাতিকে আমি সতর্ক করলাম, তারা যদি তাদের মন্দ কাজের জন্য অনুতাপ করে, তাহলে আমি কোমল হব এবং তাদের প্রতি যে বিপর্যয় আনার পরিকল্পনা করেছিলাম, তা নিয়ে আসব না।
JER 18:9 আবার অন্য কোনো সময় যদি আমি ঘোষণা করি যে, কোনো জাতি বা রাজ্যকে গড়ে তুলব ও প্রতিষ্ঠিত করব,
JER 18:10 আর যদি তারা আমার দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করে ও আমার কথা না শোনে, তাহলে যে মঙ্গল করার পরিকল্পনা আমি করেছিলাম, তা না করার জন্য পুনর্বিবেচনা করব।
JER 18:11 “তাহলে এবার তুমি যিহূদার লোকেদের ও জেরুশালেমের অধিবাসীদের এই কথা বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: দেখো, আমি তোমাদের জন্য এক বিপর্যয় এবং তোমাদের বিরুদ্ধে এক পরিকল্পনা রচনা করছি। তাই তোমরা প্রত্যেকে, তোমাদের মন্দ জীবনাচরণ থেকে ফেরো এবং তোমাদের জীবনাচরণ ও তোমাদের কার্যকলাপের সংশোধন করো।’
JER 18:12 কিন্তু তারা উত্তর দেবে, ‘এতে কোনো লাভ নেই। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে থাকব; আমাদের প্রত্যেকেই নিজের নিজের মন্দ হৃদয়ের একগুঁয়েমি অনুসারে চলব।’ ”
JER 18:13 সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “জাতিসমূহের মধ্যে খোঁজ করে দেখো, তাদের মধ্যে কারা এই ধরনের কথা শুনেছে? এক অত্যন্ত ভয়ংকর কাজ কুমারী-ইস্রায়েল করেছে।
JER 18:14 লেবাননের তুষার কি তার ঢালু পাহাড় থেকে কখনও অন্তর্হিত হয়? দূর থেকে বয়ে আসা এর শীতল জলের স্রোত কখনও কি নিবৃত্ত হয়?
JER 18:15 আমার প্রজারা কিন্তু আমাকে ভুলে গেছে; তারা অসার প্রতিমাদের উদ্দেশে ধূপদাহ করে, যে প্রতিমারা তাদের বিভিন্ন পথে ও পুরাতন পথগুলিতে চলার জন্য প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তারা বিভিন্ন গলিপথে ও যে পথ নির্মিত হয়নি, সেই পথে তাদের চালিত করে।
JER 18:16 তাদের দেশ পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে, যা হবে চিরন্তন নিন্দার বিষয়; এর পাশ দিয়ে যাওয়া পথিকেরা বিস্ময়ে তাদের মাথা নাড়বে।
JER 18:17 পুবালি বাতাসের মতো, আমি শত্রুদের সামনে তাদের ছিন্নভিন্ন করব; তাদের বিপর্যয়ের দিনে, আমি তাদের আমার পিঠ দেখাব, মুখ নয়।”
JER 18:18 তখন তারা বলল, “এসো, আমরা যিরমিয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি; কারণ যাজকদের দ্বারা দেওয়া বিধানের শিক্ষা, জ্ঞানী ব্যক্তিদের পরামর্শ বা ভাববাদীদের দেওয়া বাক্য নষ্ট হবে না। তাই এসো, আমরা মুখের কথায় তাকে আক্রমণ করি এবং সে যা বলে, তার কোনো কথায় আমরা মনোযোগ না দিই।”
JER 18:19 হে সদাপ্রভু, আমার কথা শোনো; আমার অভিযোগকারীরা কী কথা বলছে, তাতে কর্ণপাত করো!
JER 18:20 ভালোর শোধ কি মন্দ দিয়ে করা হবে? তবুও দেখো, তারা আমার জন্য গর্ত খনন করেছে। তুমি স্মরণ করো, আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে কথা বলেছিলাম, যেন তাদের উপর থেকে তোমার ক্রোধ সরে যায়।
JER 18:21 তাই তাদের সন্তানদের দুর্ভিক্ষের মুখে ফেলে দাও; তাদের তরোয়ালের শক্তির মুখে সমর্পণ করো। তাদের স্ত্রীরা সন্তানহীন ও বিধবা হোক; তাদের পুরুষদের মৃত্যু হোক, তাদের যুবকেরা যুদ্ধে তরোয়ালের আঘাতে নিহত হোক।
JER 18:22 যখন তুমি হঠাৎ তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণকারীদের আনয়ন করো, তাদের গৃহগুলি থেকে শোনা যাক কান্নার রোল, কারণ আমাকে ধরার জন্য তারা গর্ত খুঁড়েছে, আমার পায়ের জন্য ফাঁদ পেতেছে।
JER 18:23 কিন্তু হে সদাপ্রভু, তুমি জানো আমাকে হত্যা করার জন্য তাদের সব ষড়যন্ত্রের কথা। তোমার দৃষ্টিপথ থেকে তাদের পাপগুলি মুছে ফেলার জন্য তুমি তাদের অপরাধসকল ক্ষমা কোরো না। তারা তোমার সামনে নিক্ষিপ্ত হোক; তোমার ক্রোধের সময়ে তুমি তাদের প্রতি যথোপযুক্ত আচরণ কোরো।
JER 19:1 সদাপ্রভু এই কথা বললেন, “তুমি যাও, গিয়ে কুমোরের কাছ থেকে একটি মাটির পাত্র কেনো। তুমি লোকদের মধ্যে থেকে কয়েকজন প্রাচীন ও যাজকদের তোমার সঙ্গে নিয়ো।
JER 19:2 তারপর তোমরা খোলামকুচি ফটকের প্রবেশদুয়ারের কাছে স্থিত বিন-হিন্নোমের উপত্যকায় যাও। সেখানে আমি তোমাকে যে কথা বলি, তা ঘোষণা কোরো।
JER 19:3 তুমি তাদের বোলো, ‘হে যিহূদার রাজা ও জেরুশালেমের অধিবাসীরা, তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো। বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, একথা বলেন: তোমরা শোনো, আমি এই স্থানের উপরে এমন এক বিপর্যয় নিয়ে আসব, তা যে কেউ শুনবে, তার কান শিউরে উঠবে।
JER 19:4 কারণ তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছে এবং এই স্থানকে বিজাতীয় দেবদেবীর আবাসে পরিণত করেছে। তারা এমন সব দেবতার উদ্দেশ্যে ধূপদাহ করেছে, যার কথা তারা নিজেরা, তাদের পিতৃপুরুষেরা, না তো যিহূদার রাজারা কখনও জানত। আবার তারা এই স্থানকে নির্দোষের রক্তে পরিপূর্ণ করেছে।
JER 19:5 তারা বায়াল-দেবতার উদ্দেশ্যে পূজা করার উঁচু স্থানগুলি তৈরি করেছে, যেন বায়াল-দেবতার নৈবেদ্যর জন্য নিজের নিজের সন্তানদের আগুনে দগ্ধ করে। এ এমন এক বিষয়, যা আমি তাদের আদেশ দিইনি বা উল্লেখ করিনি, কিংবা তা কখনও আমার মনে উদয় হয়নি।
JER 19:6 তাই সদাপ্রভু বলেন, সাবধান হও, সময় আসন্ন, যখন লোকেরা এই স্থানকে আর তোফৎ বা বিন-হিন্নোমের উপত্যকা বলবে না, কিন্তু বলবে, হত্যালীলার উপত্যকা।
JER 19:7 “ ‘এই স্থানে, আমি যিহূদা ও জেরুশালেমের পরিকল্পনাকে ধ্বংস করব। যারা তাদের প্রাণ নিতে চায়, আমি তাদের সেইসব শত্রুর হাতে তরোয়ালের আঘাতে তাদের প্রাণনাশ করব। আমি তাদের মৃতদেহ আকাশের পাখিদের ও ভূমির পশুদের আহার হিসেবে দেব।
JER 19:8 আমি এই নগরকে বিধ্বস্ত করব এবং এই স্থান উপহাসের আস্পদস্বরূপ হবে। যে কেউ এই স্থানের পাশ দিয়ে যাবে, সে বিস্ময়ে এর সব যন্ত্রণা দেখে নিন্দা করবে।
JER 19:9 যারা তাদের প্রাণ নিতে চায়, তারা যখন এই নগর অবরোধ করে তাদের চাপ বৃদ্ধি করবে, তখন আমি তাদের নিজেদেরই পুত্রকন্যাদের মাংস তাদের খেতে বাধ্য করব। তারা তখন পরস্পর নিজেদেরই মাংস খাবে।’
JER 19:10 “তারপর, তোমার সঙ্গীদের চোখের সামনেই তুমি সেই পাত্রটি ভেঙে ফেলবে।
JER 19:11 তুমি তাদের বলবে, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: কুমোরের এই পাত্রটি যেমন ভেঙে ফেলা হয়েছে, আমি তেমনই এই জাতি ও এই নগরকে ভেঙে চুরমার করব, তা আর কখনও মেরামত করা যাবে না। তারা তোফতে মৃত লোকেদের কবর দেবে, যে পর্যন্ত সেখানে আর কোনো স্থান না থাকে।
JER 19:12 এই স্থান ও এখানকার লোকেদের প্রতি আমি এরকমই করব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। আমি এই নগরকে তোফতের মতো করব।
JER 19:13 জেরুশালেমের সমস্ত ঘরবাড়ি এবং যিহূদার রাজাদের প্রাসাদগুলি আমি এই স্থান, তোফতের মতো অশুচি করব, সেইসব গৃহকে করব যাদের ছাদে তারা নক্ষত্রবাহিনীর উদ্দেশে ধূপদাহ ও অন্যান্য দেবদেবীর উদ্দেশ্যে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করেছিল।’ ”
JER 19:14 সদাপ্রভু যেখানে ভাববাণী বলার জন্য যিরমিয়কে পাঠিয়েছিলেন, সেই তোফৎ থেকে তিনি ফিরে এলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরের উঠানে দাঁড়িয়ে সব লোককে বললেন,
JER 19:15 “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘শোনো, আমি এই নগর ও এর চারপাশে স্থিত গ্রামগুলির উপরে সেই সমস্ত বিপর্যয় নিয়ে আসব, যা আমি তাদের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছিলাম, কারণ তারা ছিল একগুঁয়ে এবং তারা আমার কোনো কথা শুনতে চায়নি।’ ”
JER 20:1 যিরমিয় যখন এসব ভাববাণী বলছিলেন, তখন ইম্মেরের পুত্র, যাজক পশ্‌হূর, যিনি সদাপ্রভুর মন্দিরের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন,
JER 20:2 তিনি ভাববাদী যিরমিয়কে প্রহার করে সদাপ্রভুর মন্দিরের বিন্যামীনের উচ্চতর ফটকে হাড়িকাঠে বদ্ধ করে রাখলেন।
JER 20:3 পরের দিন, পশ্‌হূর যখন তাঁকে হাড়িকাঠ থেকে মুক্ত করলেন, যিরমিয় তাঁকে বললেন, “সদাপ্রভু তোমার নাম পশ্‌হূর রাখেননি, কিন্তু মাগোরমিষাবীব রেখেছেন।
JER 20:4 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘আমি তোমাকে তোমার নিজেরই কাছে ও তোমার সমস্ত বন্ধুর কাছে আতঙ্কস্বরূপ করব; তুমি নিজের চোখে শত্রুদের তরোয়ালের আঘাতে তাদের পতন দেখতে পাবে। আমি সমস্ত যিহূদাকে ব্যাবিলনের রাজার হাতে সমর্পণ করব, সে তাদের ব্যাবিলনে নির্বাসিত করবে, অথবা তরোয়াল দ্বারা মেরে ফেলবে।
JER 20:5 আমি এই নগরের সমস্ত ঐশ্বর্য তাদের শত্রুদের হাত তুলে দেব—এর সমস্ত উৎপন্ন দ্রব্য, এর সমস্ত মূল্যবান জিনিস এবং যিহূদার রাজাদের সমস্ত ধনসম্পদ তুলে দেব। তারা লুন্ঠিত বস্তুরূপে সেগুলি বহন করে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবে।
JER 20:6 আর পশ্‌হূর তুমি ও তোমার গৃহে বসবাসকারী প্রত্যেকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত হবে। সেখানেই তোমার ও তোমার বন্ধুদের, যাদের কাছে তুমি মিথ্যা ভাববাণী বলেছ, তাদের সকলের মৃত্যু ও কবর হবে।’ ”
JER 20:7 হে সদাপ্রভু, তুমি আমার বিশ্বাস উৎপন্ন করেছ, তাই আমি বিশ্বাস করেছি; তুমি আমার উপরে শক্তি প্রয়োগ করে বিজয়ী হয়েছ। সমস্ত দিন আমাকে উপহাস করা হয়; প্রত্যেকে আমাকে বিদ্রুপ করে।
JER 20:8 যখনই আমি কথা বলি, আমি চিৎকার করে উঠি, আমি হিংস্রতা ও ধ্বংসের কথা ঘোষণা করি। তাই সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে সমস্ত দিন অপমান ও দুর্নাম নিয়ে আসে।
JER 20:9 কিন্তু আমি যদি বলি, “আমি তাঁর কথা উল্লেখ করব না বা তাঁর নামে আর কিছু বলব না,” তাঁর বাক্য আমার হৃদয়ে যেন আগুনের মতো হয়, যেন আমার হাড়গুলির মধ্যে দাহকারী আগুন বদ্ধ হয়। আমি তা অন্তরে রেখে ক্লান্ত হই, সত্যিসত্যিই আমি তা ধরে রাখতে পারি না।
JER 20:10 আমি অনেক ফিসফিস ধ্বনি শুনি, “সবদিকেই আতঙ্কের পরিবেশ! নালিশ করো! এসো তার নামে নালিশ করি!” আমার সব বন্ধু আমার স্খলনের অপেক্ষায় আছে। তারা বলে, “হয়তো সে প্রতারিত হবে; তখন আমরা তার উপরে জয়ী হব, আর তার উপরে আমাদের প্রতিশোধ নেব।”
JER 20:11 কিন্তু এক পরাক্রান্ত বীরের মতো সদাপ্রভু আমার সঙ্গে আছেন; তাই আমার নির্যাতনকারীরা হোঁচট খাবে, তারা জয়ী হবে না। তারা ব্যর্থ হবে এবং সম্পূর্ণভাবে অপমানিত হবে; তাদের অসম্মান কখনও ভোলা যাবে না।
JER 20:12 হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তুমি যে ধার্মিকদের পরীক্ষা করে থাকো এবং তাদের হৃদয় ও মনের অনুসন্ধান করো, শত্রুদের উপরে তোমার প্রতিশোধ নেওয়া আমাকে দেখতে দাও, কারণ তোমারই কাছে আমি আমার অভিযোগের বিষয় জানিয়েছি।
JER 20:13 সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে গান গাও! সদাপ্রভুরই উদ্দেশ্যে প্রশংসা করো! তিনি দুষ্টদের হাত থেকে অভাবগ্রস্তদের প্রাণ উদ্ধার করেন।
JER 20:14 আমার যেদিন জন্ম হয়েছিল, সেদিনটি অভিশপ্ত হোক! যেদিন আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন, সেদিনটি আশীর্বাদবিহীন হোক!
JER 20:15 সেই মানুষ অভিশপ্ত হোক, যে আমার বাবার কাছে সংবাদ বহন করেছিল, যে তাঁকে এই কথা বলে ভীষণ আনন্দ দিয়েছিল, “আপনার এক সন্তানের জন্ম হয়েছে—এক পুত্রসন্তান!”
JER 20:16 সে মানুষ সেই নগরগুলির মতো হোক, সদাপ্রভু যাদের নির্মমরূপে উৎপাটিত করেছেন। সে সকালে শুনুক বিলাপের রব, দুপুরবেলা শুনুক রণহুঙ্কার।
JER 20:17 কারণ তিনি আমাকে গর্ভের মধ্যে মেরে ফেলেননি, তাহলে আমার মা-ই হতেন আমার কবরস্থান, তাঁর জঠর নিত্য গুরুভার থাকত।
JER 20:18 কষ্টসমস্যা ও দুঃখ দেখার জন্য, লজ্জায় আমার জীবন কাটানোর জন্য, কেন আমি গর্ভ থেকে নির্গত হয়েছি?
JER 21:1 সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল, যখন রাজা সিদিকিয় মল্কিয়ের পুত্র পশ্‌হূরকে ও মাসেয়ের পুত্র যাজক সফনিয়কে তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। তারা বলল,
JER 21:2 “আমাদের জন্য সদাপ্রভুর কাছে জিজ্ঞাসা করুন, কারণ ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার আমাদের আক্রমণ করছেন। হয়তো সদাপ্রভু আমাদের পক্ষে বিস্ময়কর কাজ করবেন, যেমন তিনি পূর্বেও করেছিলেন, তাহলে নেবুখাদনেজার আমাদের কাছ থেকে চলে যাবেন।”
JER 21:3 কিন্তু যিরমিয় তাদের উত্তর দিলেন, “তোমরা সিদিকিয়কে বলো,
JER 21:4 ‘ইস্রায়েলের ঈশ্বর, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমাদের হাতে যুদ্ধের যেসব অস্ত্র আছে, যেগুলি তোমরা ব্যাবিলনের রাজা ও কলদীয়দের, যারা নগর-প্রাচীরের বাইরে অবরোধ করে আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাও, আমি সেগুলি এই নগরের অভিমুখে ফেরাব। সেই তাদের আমি এই নগরে সংগ্রহ করব।
JER 21:5 আমি প্রসারিত হাত ও পরাক্রমী বাহু দ্বারা, প্রচণ্ড ক্রোধে ও মহারোষে তোমাদের বিরুদ্ধে স্বয়ং যুদ্ধ করব।
JER 21:6 যারা এই নগরে বসবাস করে, মানুষ ও পশু নির্বিশেষে তাদের সবাইকে আমি আঘাত করব, আর তারা এক ভয়ংকর মহামারিতে প্রাণত্যাগ করবে।
JER 21:7 তারপরে, সদাপ্রভু বলেন, যারা মহামারি, তরোয়ালের আঘাত ও দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পাবে, অর্থাৎ যিহূদার রাজা সিদিকিয়, তার সমস্ত কর্মচারী ও এই নগরের লোকেদের আমি ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার এবং তাদের শত্রুদের হাতে সমর্পণ করব, যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায়। নেবুখাদনেজার তাদের তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করবে; সে তাদের প্রতি কোনো করুণা, মমতা বা সহানুভূতি প্রদর্শন করবে না।’
JER 21:8 “এছাড়াও, তোমরা লোকদের বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: দেখো, আমি তোমাদের সামনে জীবনের পথ ও মৃত্যুর পথ রাখছি।
JER 21:9 যারাই এই নগরে থাকবে, তারা তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ বা মহামারিতে মারা যাবে। কিন্তু যারা বের হয়ে অবরোধকারী ব্যাবিলনীয়দের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, তারা বেঁচে থাকবে। তারা তাদের প্রাণরক্ষা করবে।
JER 21:10 আমি এই নগরের মঙ্গল নয়, ক্ষতি করার জন্য মনস্থির করেছি, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। এই নগর ব্যাবিলনের রাজার হাতে তুলে দেওয়া হবে, আর সে এই নগর আগুন দিয়ে ধ্বংস করবে।’
JER 21:11 “এছাড়া, যিহূদার রাজপরিবারকে বলো, ‘তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো;
JER 21:12 দাউদ কুলের লোকেরা, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘রোজ সকালে ন্যায়বিচারের অনুশীলন করো; যার সর্বস্ব হরণ করা হয়েছে, তার অত্যাচারীদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করো, তা না হলে আমার ক্রোধ আছড়ে পড়বে ও আগুনের মতো জ্বলবে, তা এমনভাবে জ্বলবে যে কেউ তা নিভাতে পারবে না; তোমাদের কৃত সব মন্দ কাজ হল এর কারণ।
JER 21:13 হে জেরুশালেম, আমি তোমার বিরুদ্ধে, যদিও তুমি এই উপত্যকার উপরে, পাথুরে মালভূমির উপরে প্রতিষ্ঠিত আছ, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। তোমরা বলে থাকো, “কে আমাদের বিরুদ্ধে আসতে পারে? আমাদের আশ্রয়স্থানে কে প্রবেশ করতে পারে?”
JER 21:14 যেমন তোমাদের কাজ, তার যোগ্য প্রতিফল আমি তোমাদের দেব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন। আমি তোমাদের বনগুলিতে এক আগুনে প্রজ্বলিত করব, তা তোমাদের চারপাশের সবকিছুকে গ্রাস করবে।’ ”
JER 22:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তুমি যিহূদার রাজার প্রাসাদে নেমে যাও ও সেখানে এই বার্তা ঘোষণা করো।
JER 22:2 ‘হে যিহূদার রাজা, তুমি যে দাউদের সিংহাসনে বসে থাকো, তুমি সদাপ্রভুর এই বাক্য শ্রবণ করো—তুমি, তোমার কর্মচারীরা এবং তোমার সব প্রজা, যারা এই দুয়ারগুলি দিয়ে প্রবেশ করো, সকলে শোনো।
JER 22:3 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যা কিছু যথার্থ ও ন্যায়সংগত, তোমরা তাই করো। যাদের সবকিছু হরণ করা হয়েছে, তাদের অত্যাচারীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করো। বিদেশি, পিতৃহীন বা বিধবাদের প্রতি কোনো অন্যায় বা হিংস্রতার কাজ কোরো না এবং এই স্থানে কোনো নির্দোষ ব্যক্তির রক্তপাত কোরো না।
JER 22:4 কারণ, যদি তোমরা এসব আদেশ যত্নের সঙ্গে পালন করো, তাহলে দাউদের সিংহাসনে যারা বসে, সেইসব রাজা রথে বা অশ্বদের উপরে আরোহণ করে এই প্রাসাদের দুয়ারগুলি দিয়ে ভিতরে আসবে। তাদের কর্মচারীরা ও তাদের লোকজন তাদের সঙ্গে থাকবে।
JER 22:5 কিন্তু যদি তোমরা এসব আদেশ পালন না করো, সদাপ্রভু বলেন, আমি নিজের নামেই শপথ করে বলছি যে, এই স্থান এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।’ ”
JER 22:6 কারণ সদাপ্রভু যিহূদার রাজার এই প্রাসাদ সম্পর্কে এই কথা বলেন: “তুমি যদিও আমার কাছে গিলিয়দের মতো, লেবাননের শিখরচূড়ার মতো, আমি তোমাকে নিশ্চয়ই পতিত জমির তুল্য করব, তুমি হবে জনবসতিহীন নগরের মতো।
JER 22:7 আমি তোমার বিরুদ্ধে বিনাশকদের প্রেরণ করব, প্রত্যেক ব্যক্তি তার অস্ত্র নিয়ে আসবে, তারা তোমাদের মনোরম সিডার গাছগুলি কেটে আগুনে নিক্ষেপ করবে।
JER 22:8 “বহু দেশ থেকে আগত লোকেরা, এই নগরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘সদাপ্রভু কেন এই মহানগরের প্রতি এরকম আচরণ করেছেন?’
JER 22:9 তাদের এই উত্তর দেওয়া হবে: ‘কারণ তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম ত্যাগ করেছিল এবং অন্যান্য দেবদেবীর উপাসনা ও সেবা করেছিল।’ ”
JER 22:10 তোমরা মৃত রাজার জন্য কেঁদো না বা তাঁর চলে যাওয়ার জন্য বিলাপ কোরো না; বরং তার জন্য তীব্র রোদন করো, যে নির্বাসিত হয়েছে, কারণ সে আর কখনও ফিরে আসবে না, বা তার জন্মভূমি আর দেখতে পাবে না।
JER 22:11 কারণ, যোশিয়ের পুত্র শল্লুম, যে যিহূদার রাজারূপে তার বাবার উত্তরসূরি হয়েছিল, কিন্তু এই স্থান থেকে যাকে চলে যেতে হয়েছে, তার সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সে আর কখনও ফিরে আসবে না।
JER 22:12 তাকে যেখানে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে; সে এই দেশ আর কখনও দেখতে পাবে না।”
JER 22:13 “ধিক্ সেই মানুষকে, যে অধার্মিকতায় তার প্রাসাদ নির্মাণ করে, অন্যায়ের সঙ্গে তার উপরতলার কক্ষ তৈরি করে, যে বিনামূল্যে তার স্বদেশি লোকদের কাজ করায়, তাদের পরিশ্রমের কোনো মজুরি দেয় না।
JER 22:14 সে বলে, ‘আমি নিজের জন্য এক বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করব, যার উপরতলার ঘরগুলিতে যথেষ্ট প্রশস্ত স্থান থাকবে।’ তাই সে তার মধ্যে বড়ো বড়ো জানালা বসায়, তার তক্তাগুলি হয় সিডার-কাঠের এবং লাল রং দিয়ে সে তা রাঙিয়ে দেয়।
JER 22:15 “কিন্তু সুন্দর সিডার-কাঠের প্রাসাদ থাকলেই কেউ মহান রাজা হয় না! তোমার বাবা কি যথেষ্ট ভোজনপান করত না? যা যথার্থ ও ন্যায়সংগত, সে তাই করত, তাই তার পক্ষে সবকিছু ভালোই হয়েছিল।
JER 22:16 সে দরিদ্র ও নিঃস্বদের পক্ষসমর্থন করত, তাই সবকিছু ভালোই হয়েছিল। আমাকে জানার অর্থ কি তাই নয়?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 22:17 “কিন্তু তোমাদের চোখ ও তোমাদের মন কেবলমাত্র অন্যায্য লাভের প্রতি নিবদ্ধ থাকে, তোমরা নির্দোষের রক্তপাত করে থাকো, অত্যাচার ও অন্যায় শোষণ।”
JER 22:18 সেই কারণে, যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র যিহোয়াকীম সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘হায়, আমার ভাই! হায়, আমার বোন!’ বলে তার জন্য তারা বিলাপ করবে না; তারা তার জন্য এই বলে শোক করবে না, ‘হায়, আমার মনিব! হায়, তার চোখ ঝলসানো জৌলুস!’
JER 22:19 গাধার মতো তার কবর হবে, লোকে তাকে টেনে নিয়ে নিক্ষেপ করবে জেরুশালেমের ফটকগুলির বাইরে।”
JER 22:20 “তুমি লেবাননে উঠে যাও ও গিয়ে চিৎকার করো, বাশনে তোমার কণ্ঠস্বর শোনা যাক, তুমি অবারীম থেকে চিৎকার করো, কারণ তোমার সমস্ত মিত্রপক্ষ চূর্ণ হয়েছে।
JER 22:21 তুমি যখন নিজেকে নিরাপদ মনে করছিলে, আমি তোমাকে সাবধান করেছিলাম, কিন্তু তুমি বলেছিলে, ‘আমি শুনব না!’ তোমার যৌবনকাল থেকে এই ছিল তোমার অভ্যাস, তুমি আমার কথা শোনোনি।
JER 22:22 বাতাস তোমার সমস্ত পালককে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, তোমার মিত্রশক্তি সকলে নির্বাসিত হবে। তখন তোমার সব দুষ্টতার জন্য, তুমি লজ্জিত ও অপমানিত হবে।
JER 22:23 তোমরা যারা লেবাননে বসবাস করো, যারা সিডার-কাঠের অট্টালিকায় বাসা বেঁধে থাকো, স্ত্রীলোকের প্রসববেদনার মতো বেদনা যখন তোমাদের ঘিরে ধরবে, তখন তোমরা কেমন আর্তনাদ করবে!
JER 22:24 “আমারই প্রাণের দিব্যি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যদি তুমি যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের পুত্র যিহোয়াখীন, আমার ডান হাতের সিলমোহর দেওয়ার আংটি হতে, তাহলেও আমি তোমাকে খুলে ফেলে দিতাম।
JER 22:25 যারা তোমার প্রাণনাশ করতে চায়, যাদের তুমি ভয় করো, সেই ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার ও ব্যাবিলনীয়দের হাতে আমি তোমাকে সমর্পণ করব।
JER 22:26 আমি তোমাকে ও তোমার মাকে, যে তোমার জন্ম দিয়েছিল, অন্য এক দেশে নিক্ষেপ করব, যেখানে তোমাদের কারও জন্ম হয়নি, অথচ সেখানে তোমরা উভয়েই মরবে।
JER 22:27 যে দেশে তোমরা ফিরে আসতে চাও, সেখানে কখনও তোমরা আর ফিরে আসতে পারবে না।”
JER 22:28 এই যিহোয়াখীন কি অবজ্ঞাত, ভাঙা পাত্র, এমন এক জিনিস যা কেউ চায় না? কেন তাকে ও তার সন্তানদের নিক্ষেপ করা হবে, এমন এক দেশে, যা তাদের অপরিচিত?
JER 22:29 এই দেশ, দেশ, দেশ, তুমি সদাপ্রভুর বাক্য শোনো!
JER 22:30 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “এরকম লিখে নাও, এই লোকটি যেন সন্তানহীন, এমন মানুষ, যে তার জীবনকালে সমৃদ্ধিলাভ করবে না, কারণ তার কোনো সন্তান কৃতকার্য হবে না, তাদের কেউই দাউদের সিংহাসনে বসবে না বা যিহূদায় আর শাসন করবে না।”
JER 23:1 সদাপ্রভু বলেন, “ধিক্ সেই পালকদের, যারা আমার চারণভূমির মেষদের ছিন্নভিন্ন ও ধ্বংস করে!”
JER 23:2 সেই কারণে, যারা আমার প্রজাদের চরায়, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন: “তোমরা যেহেতু আমার মেষদের ছিন্নভিন্ন করেছ, তাদের বিতাড়িত করেছ এবং তাদের প্রতি কোনো যত্ন করোনি, তোমরা তাদের প্রতি যে অন্যায় করেছ, তার জন্য আমি তোমাদের শাস্তি দেব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:3 “আমি যে সমস্ত দেশে আমার প্রজাপালকে বিতাড়িত করেছি, আমি স্বয়ং সেখান থেকে তাদের অবশিষ্টাংশকে সংগ্রহ করে তাদের চারণভূমিতে ফিরিয়ে আনব। সেখানে তারা ফলবান হবে ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে।
JER 23:4 আমি তাদের উপরে পালকদের নিযুক্ত করব। তারা তাদের তত্ত্বাবধান করবে। তারা আর ভীত বা আতঙ্কগ্রস্ত হবে না, কেউ হারিয়েও যাবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:5 সদাপ্রভু বলেন, “সেদিন আসন্ন,” যখন দাউদের বংশ থেকে আমি এক ধার্মিক পল্লবকে তুলে ধরব, সেই রাজা জ্ঞানপূর্বক রাজত্ব করবে এবং সেদেশে যথার্থ ও ন্যায়সংগত কাজ করবে।
JER 23:6 তার সময়ে যিহূদা পরিত্রাণ পাবে এবং ইস্রায়েল নিরাপদে বসবাস করবে। আর এই নামে সে আখ্যাত হবে, সদাপ্রভু আমাদের ধার্মিক ত্রাণকর্তা।
JER 23:7 সদাপ্রভু বলেন, “তাহলে সেই দিনগুলি আসছে, যখন লোকেরা আর বলবে না, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, যিনি ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছেন,’
JER 23:8 কিন্তু তারা বলবে, ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, যিনি ইস্রায়েলের বংশধরদের উত্তরের দেশ থেকে এবং যে সমস্ত দেশে তাদের নির্বাসিত করেছিলেন, সেখান থেকে তাদের নিয়ে এসেছেন।’ তখন তারা স্বদেশে বসবাস করবে।”
JER 23:9 ভাববাদীদের সম্পর্কিত বিষয়: আমার অন্তর আমার মধ্যে ভেঙে পড়েছে, আমার সব হাড় কাঁপতে থাকে; আমি এক মাতাল ব্যক্তির মতো হয়েছি, দ্রাক্ষারসে পরাভূত কোনো লোকের মতো, সদাপ্রভু ও তাঁর পবিত্র বাক্যের কারণে।
JER 23:10 দেশ সব ব্যভিচারীতে পূর্ণ; অভিশাপের কারণে দেশ শুকনো হয়ে পড়ে আছে, মরুপ্রান্তের সব চারণভূমি শুকিয়ে গেছে। ভাববাদীরা এক মন্দ উপায় অবলম্বন করে, তারা তাদের ক্ষমতার অন্যায় ব্যবহার করে।
JER 23:11 “ভাববাদী ও যাজক, উভয়েই ভক্তিহীন; এমনকি, আমার মন্দিরেও আমি তাদের দুষ্টতা দেখি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:12 “সেই কারণে তাদের পথ পিচ্ছিল হবে, তাদের অন্ধকারে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং সেখানেই তাদের পতন হবে। যে বছরে তারা শাস্তি পাবে, আমি তাদের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:13 “শমরিয়ার ভাববাদীদের মধ্য আমি এই বিরক্তিকর ব্যাপার দেখেছি, তারা বায়াল-দেবতার নামে ভাববাণী করে আমার প্রজা ইস্রায়েলকে বিপথগামী করেছে।
JER 23:14 আবার জেরুশালেমের ভাববাদীদের মধ্যে, আমি এই ভয়ংকর ব্যাপার দেখেছি, তারা ব্যভিচার করে ও মিথ্যাচারের জীবন কাটায়। তারা অন্যায়কারীদের হাত শক্ত করে, যেন কেউই তার দুষ্টতার পথ থেকে না ফেরে। তারা সবাই আমার কাছে সদোমের লোকদের মতো; জেরুশালেমের লোকেরা ঘমোরার মতো।”
JER 23:15 অতএব, ভাববাদীদের সম্পর্কে বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমি তাদের খেতে দেব তেতো আহার, পান করার জন্য বিষাক্ত জল, কারণ জেরুশালেমের সব ভাববাদীর কাছ থেকে ভক্তিহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে সমস্ত দেশে।”
JER 23:16 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ভাববাদীরা তোমাদের কাছে যে ভাববাণী বলে, তোমরা সেই কথা শুনো না; তারা মিথ্যা আশা তোমাদের মনে ভরায়। তাদের মনগড়া দর্শনের কথা তারা বলে, যা সদাপ্রভুর মুখ থেকে নির্গত হয়নি।
JER 23:17 যারা আমাকে অবজ্ঞা করে, তারা তাদের কাছে বলে যায়, ‘সদাপ্রভু বলেন: তোমাদের শান্তি হবে।’ আর যারাই তাদের হৃদয়ের একগুঁয়েমির অধীনে চলে, তারা বলে, ‘তোমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।’
JER 23:18 কিন্তু তাদের মধ্যে কে সদাপ্রভুর সভায় দাঁড়িয়েছে তাঁকে দেখার বা তাঁর কথা শোনার জন্য? কে তাঁর বাক্য শুনে তা অবধান করেছে?
JER 23:19 দেখো, সদাপ্রভুর ক্রোধ ঝড়ের মতো আছড়ে পড়বে, তা ঘূর্ণিবায়ুর মতো ঘুরে ঘুরে দুষ্টদের মাথায় পড়বে।
JER 23:20 সদাপ্রভুর ক্রোধ ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তা তাঁর হৃদয়ের অভিপ্রায় পূর্ণরূপে সাধন করে। আগামী দিনগুলিতে তোমরা তা স্পষ্ট বুঝতে পারবে।
JER 23:21 আমি এসব ভাববাদীকে প্রেরণ করিনি, তবুও তারা নিজেদেরই বার্তা আমার বলে দাবি করেছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলিনি, তবুও তারা ভাববাণী বলেছে।
JER 23:22 কিন্তু, যদি তারা আমার দরবারে দাঁড়াত, তারা আমার কথা আমার প্রজাদের কাছে ঘোষণা করত এবং তাদের মন্দ পথ ও সব মন্দ কর্ম করা থেকে ফেরাত।
JER 23:23 “আমি কি কেবলমাত্র নিকটের ঈশ্বর,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি কি দূরের ঈশ্বর নই?
JER 23:24 কেউ কি এমন কোনো গোপন স্থানে লুকাতে পারে, যেখানে আমি তাকে দেখতে পাব না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমি কি স্বর্গ ও মর্ত্য জুড়ে থাকি না?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:25 “যে ভাববাদীরা আমার নামে মিথ্যা ভাববাণী বলে, সেই ভাববাদীরা কী বলে, আমি তা শুনেছি। তারা বলে, ‘আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি! আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি!’
JER 23:26 এসব ভণ্ড ভাববাদীর মনে কত কাল এসব থাকবে, যারা নিজেদের ভ্রান্ত মন থেকে উৎপন্ন এসব ভাববাণী বলে?
JER 23:27 তারা মনে করে, পরস্পরের কাছে তারা যে স্বপ্নের কথা বলে, তার ফলে আমার প্রজারা আমার নাম ভুলে যাবে, যেভাবে তাদের পূর্বপুরুষেরা বায়াল-দেবতার উপাসনার মাধ্যমে আমার নাম ভুলে গিয়েছিল।
JER 23:28 যে ভাববাদী স্বপ্ন দেখেছে, সে তার স্বপ্নের কথা বলুক, কিন্তু যার কাছে আমার বাক্য আছে, সে তা বিশ্বস্তভাবে বলুক। কারণ শস্যদানার সঙ্গে খড়ের কী সম্পর্ক?” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:29 “আমার বাক্য কি আগুনের মতো নয়,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “এবং তা কি কোনো হাতুড়ির মতো নয়, যা পাথরকে খণ্ড খণ্ড করে?
JER 23:30 “সেই কারণে,” সদাপ্রভু বলেন, “আমি সেইসব ভাববাদীর বিরুদ্ধে, যারা পরস্পরের কাছ থেকে বাক্য চুরি করে ও দাবি করে যে সেই বাক্যগুলি আমার কাছ থেকে পেয়েছে।”
JER 23:31 সদাপ্রভু বলেন, “হ্যাঁ, আমি সেইসব ভাববাদীর বিরুদ্ধে, যারা নিজেরা নিজেদের জিভ নাড়ায়, অথচ বলে, ‘সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।’
JER 23:32 প্রকৃতপক্ষে, আমি তাদের বিরুদ্ধে, যারা আমার নামে মিথ্যা স্বপ্নের ভাববাণী বলে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “তারা তাদের সেগুলি বলে এবং তাদের ভাবনাচিন্তাহীন মিথ্যার দ্বারা আমার প্রজাদের বিপথগামী করে, যদিও আমি তাদের পাঠাইনি বা নিয়োগ করিনি। তারা এই লোকদের বিন্দুমাত্রও উপকার করতে পারে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 23:33 “মনে করো, কোনো প্রজা বা ভাববাদীদের বা যাজকদের মধ্যে কোনো একজন তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘সদাপ্রভু কোনও ভাববাণী দিয়ে এখন তোমাকে ভারগ্রস্ত করেছেন?’ তাহলে তাদের বোলো, ‘তোমরাই হলে সেই ভার। সদাপ্রভু বলেছেন, তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করবেন।’
JER 23:34 কোনো ভাববাদী বা যাজক বা অন্য কেউ যদি দাবি করে, ‘এই হল সদাপ্রভুর কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যাদেশ,’ তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে এবং তার পরিজনদের শাস্তি দেব।
JER 23:35 তোমাদের প্রত্যেকে তার বন্ধু বা আপনজনকে এই কথা বলতে থাকো: ‘সদাপ্রভু কি উত্তর দিয়েছেন?’ অথবা ‘সদাপ্রভু কী কথা বলেছেন?’
JER 23:36 কিন্তু তোমরা আর ‘সদাপ্রভুর ভাববাণী’ বলে উল্লেখ করবে না, কারণ সব মানুষের নিজেরই কথা তার পক্ষে ভারস্বরূপ হবে এবং এইভাবে তোমরা জীবন্ত ঈশ্বরের সব বাক্যকে বিকৃত করে থাকো, যিনি হলেন বাহিনীগণের সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর।
JER 23:37 তোমরা এই কথা কোনো ভাববাদীকে বলতে থাকো, ‘আপনাকে সদাপ্রভু কী উত্তর দিয়েছেন?’ বা ‘সদাপ্রভু কী কথা বলেছেন?’
JER 23:38 তোমরা যদিও দাবি করো, ‘এই হল সদাপ্রভুর ভাববাণী,’ একথা সদাপ্রভু বলেন: তোমরা এই কথাগুলি ব্যবহার করো, ‘এই হল সদাপ্রভুর ভাববাণী,’ যদিও আমি তোমাদের বলেছি, তোমরা ‘এই হল সদাপ্রভুর ভাববাণী,’ একথা অবশ্যই আর বলবে না।
JER 23:39 অতএব, আমি নিশ্চিতরূপে তোমাদের ভুলে যাব এবং যে নগর আমি তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছিলাম, তা আমার উপস্থিতি থেকে দূরে নিক্ষেপ করব।
JER 23:40 আমি তোমাদের উপরে চিরস্থায়ী দুর্নাম নিয়ে আসব—এক চিরকালীন লজ্জা, যা লোকেরা ভুলে যাবে না।”
JER 24:1 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের পুত্র যিহোয়াখীনকে, যিহূদার সমস্ত রাজকর্মচারী, শিল্পকার ও কারুকর্মীদের জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করার পর, সদাপ্রভু আমাকে সদাপ্রভুর মন্দিরের সামনে রাখা দুই ঝুড়ি ডুমুরফল দেখালেন।
JER 24:2 একটি ঝুড়িতে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ধরনের ডাঁসা ডুমুর ছিল; অন্য ঝুড়িটিতে ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট মানের ডুমুর, সেগুলি এত খারাপ যে মুখে দেওয়া যায় না।
JER 24:3 তারপর সদাপ্রভু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যিরমিয়, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ?” আমি উত্তর দিলাম, “ডুমুর, ভালো ডুমুরগুলি বেশ ভালো, কিন্তু খারাপ ডুমুরগুলি এত খারাপ যে মুখে দেওয়া যায় না।”
JER 24:4 তারপর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
JER 24:5 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘এই ভালো ডুমুরগুলির মতো আমি যিহূদা থেকে নির্বাসিত লোকদের মনে করি, যাদের আমি এই স্থান থেকে দূরে, ব্যাবিলনীয়দের দেশে পাঠিয়েছি।
JER 24:6 তাদের মঙ্গলের জন্য আমার চোখ দৃষ্টি রাখবে, আর আমি তাদের এই দেশে আবার ফিরিয়ে আনব। আমি তাদের গড়ে তুলব, ভেঙে ফেলব না; আমি তাদের রোপণ করব, উৎপাটন নয়।
JER 24:7 আমিই সদাপ্রভু, এই কথা জানার জন্য আমি তাদের এক মন দেব। তারা আমার প্রজা হবে এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব, কারণ তারা সম্পূর্ণ মনেপ্রাণে আমার কাছে ফিরে আসবে।
JER 24:8 “ ‘কিন্তু ওই খারাপ ডুমুরগুলি, যেগুলি এত খারাপ যে খাওয়া যায় না,’ সদাপ্রভু বলেন, ‘তেমনই আমি যিহূদার রাজা সিদিকিয়, তার কর্মচারীদের এবং জেরুশালেমের অবশিষ্ট রক্ষাপ্রাপ্ত লোকদের সঙ্গে ব্যবহার করব, তা তারা এদেশেই থাকুক বা মিশরে চলে যাক।
JER 24:9 তাদের যেখানেই নির্বাসিত করি, আমি পৃথিবীর সেইসব রাজ্যের কাছে তাদের ঘৃণার পাত্র করব, তাদের দুর্নাম ও অবজ্ঞার, নিন্দার ও অভিশাপের পাত্র করব।
JER 24:10 আমি তাদের বিরুদ্ধে তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি প্রেরণ করব, যতক্ষণ না তারা এই দেশ থেকে ধ্বংস হয়, যে দেশ আমি তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছিলাম।’ ”
JER 25:1 যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র যিহোয়াকীমের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের রাজত্বের প্রথম বছরে, যিহূদার লোকদের জন্য সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল।
JER 25:2 তাই ভাববাদী যিরমিয় যিহূদার সব লোকের কাছে এবং জেরুশালেমে বসবাসকারী সকলের কাছে এই কথা বললেন:
JER 25:3 যিহূদার রাজা আমোনের পুত্র যোশিয়ের রাজত্বের তেরোতম বছর থেকে আজ পর্যন্ত, এই তেইশ বছর, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হয়েছে এবং আমি বারবার তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তোমরা তা শোনোনি।
JER 25:4 আর সদাপ্রভু যদিও তাঁর দাস ভাববাদীদের বারবার তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন, তোমরা কিন্তু তাদের কথা শোনোনি বা তাতে মনোযোগও দাওনি।
JER 25:5 তারা বলেছিলেন, “তোমাদের প্রত্যেকে এখন তোমাদের মন্দ পথ থেকে ও তোমাদের মন্দ সব অভ্যাস থেকে ফেরো, তাহলে সদাপ্রভু তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের এই যে দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে তোমরা চিরকাল বসবাস করতে পারবে।
JER 25:6 অন্য দেবদেবীর অনুসারী হয়ে তোমরা তাদের সেবা ও উপাসনা করবে না। তোমাদের হাতের তৈরি সব দেবমূর্তি দিয়ে আমার ক্রোধ উত্তেজিত কোরো না। তাহলে আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি করব না।”
JER 25:7 সদাপ্রভু বলেন, “তোমরা কিন্তু আমার কথা শোনোনি এবং তোমাদের হাতে তৈরি ওইসব বিগ্রহের দ্বারা তোমরা আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছ। এভাবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছ।”
JER 25:8 সেই কারণে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমরা যেহেতু আমার কথা শোনোনি,
JER 25:9 আমি উত্তর দিকের সমস্ত জাতিকে ও আমার দাস, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারকে ডেকে পাঠাব,” একথা সদাপ্রভু বলেন। “আমি এই দেশ ও এর অধিবাসীদের এবং এর চারপাশের সব জাতির বিরুদ্ধে তাদের নিয়ে আসব। আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব। আমি তাদের বিভীষিকা ও নিন্দার পাত্র করব। তারা চিরকালের জন্য ধ্বংস হবে।
JER 25:10 আমি তাদের মধ্য থেকে আমোদ ও আনন্দের রব, বর ও কনের আনন্দরব নিবৃত্ত করব। সেখানে জাঁতার শব্দ আর শোনা যাবে না এবং তাদের গৃহের সমস্ত প্রদীপ আমি নিভিয়ে ফেলব।
JER 25:11 সমস্ত দেশই এক জনশূন্য পতিত ভূমি হয়ে যাবে, আর এই জাতিগুলি সত্তর বছর ধরে ব্যাবিলনের রাজার দাসত্ব করবে।
JER 25:12 “কিন্তু সেই সত্তর বছর সম্পূর্ণ হলে পর, আমি ব্যাবিলনের রাজা ও তার জাতি এবং ব্যাবিলনীয়দের দেশকে তাদের অপরাধের জন্য শাস্তি দেব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “এবং চিরকালের জন্য তা জনমানবহীন স্থানে পরিণত করব।
JER 25:13 আমি সেই দেশের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিশাপের কথা বলেছি, যে কথাগুলি এই পুস্তকে লিখিত হয়েছে এবং সব জাতির বিরুদ্ধে যিরমিয় যে সকল ভাববাণী করেছে, সেই সমস্তই তাদের উপরে নিয়ে আসব।
JER 25:14 তারা নিজেরাই বহু জাতি ও মহান রাজাদের দাসত্ব করবে; তাদের সমস্ত কাজ ও তাদের হাত যা করেছে, সেই অনুযায়ী আমি তাদের প্রতিফল দেব।”
JER 25:15 ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বললেন: “তুমি আমার হাত থেকে আমার ক্রোধের দ্রাক্ষারসে পূর্ণ এই পেয়ালা নাও এবং আমি যে জাতিদের কাছে তোমাকে পাঠাই, তুমি তা থেকে তাদের পান করাও।
JER 25:16 তা থেকে পান করলে পর তারা টলমল করবে এবং তাদের মধ্যে আমি যে তরোয়াল প্রেরণ করব, তার দরুন তারা উন্মাদ হয়ে যাবে।”
JER 25:17 তাই আমি সদাপ্রভুর হাত থেকে সেই পানপাত্র নিলাম এবং যাদের কাছে তিনি আমাকে প্রেরণ করেছিলেন, সেই সমস্ত জাতিকে তা পান করালাম।
JER 25:18 জেরুশালেম ও যিহূদার সব নগর, তার রাজাদের ও রাজকর্মচারীদের, যেন তারা আজও যেমন আছে, সেইরকম বিভীষিকা ও নিন্দা ও অভিশাপের পাত্র হয়;
JER 25:19 মিশরের রাজা ফরৌণকে, তাঁর পরিচারকদের ও রাজকর্মচারীদের ও তাঁর সমস্ত প্রজাকে,
JER 25:20 আর যে সমস্ত বিদেশি সেখানে বসবাস করে; ঊষ দেশের সব রাজাকে; ফিলিস্তিনী সব রাজাকে (অর্থাৎ অস্কিলোন, গাজা, ইক্রোণ এবং অস্‌দোদের অবশিষ্ট পরিত্যক্ত লোকদের);
JER 25:21 ইদোম, মোয়াব ও অম্মোনকে;
JER 25:22 সোর ও সীদোনের সব রাজাকে; সমুদ্র-উপকূল বরাবর সমস্ত রাজাকে;
JER 25:23 দদান, টেমা, বূষ ও দূরবর্তী স্থানের লোককে;
JER 25:24 আরবের সমস্ত রাজা এবং প্রান্তের দেশগুলিতে বসবাসকারী বিদেশিদের সব রাজাকে
JER 25:25 সিম্রি, এলম ও মাদীয় সব রাজাকে;
JER 25:26 দূরে ও নিকটে স্থিত উত্তর দিকের সব রাজাকে এবং ভূপৃষ্ঠের উপরে স্থিত সমস্ত রাজ্যকে, একের পর অন্য একজনকে পান করালাম। তাদের সবার পান করার পর শেশকের রাজাকেও তা পান করতে হবে।
JER 25:27 “তারপর তুমি তাদের বোলো, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: পান করো, মত্ত হও ও বমি করো। আর আমি যে বিপক্ষের তরোয়াল প্রেরণ করব, তার জন্য পতিত হও, আর উঠো না।’
JER 25:28 কিন্তু তারা যদি তোমার হাত থেকে ওই পানপাত্র নিয়ে পান করতে না চায়, তাদের বোলো, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমাদের অবশ্যই পান করতে হবে!
JER 25:29 দেখো আমার নামে আখ্যাত এই নগরের উপরে আমার বিপর্যয় নিয়ে আসা শুরু করলাম, আর তোমরা কি প্রকৃতই অদণ্ডিত থাকবে? না, তোমরা অদণ্ডিত থাকবে না, কারণ পৃথিবীনিবাসী সকলের উপরে আমি এক তরোয়াল আহ্বান করেছি, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’
JER 25:30 “এখন তাদের বিরুদ্ধে এই ভাববাণী করো এবং তাদের বলো: “ ‘সদাপ্রভু ঊর্ধ্ব থেকে গর্জন করবেন; তাঁর পবিত্র বাসস্থান থেকে তিনি বজ্রধ্বনি করবেন এবং তাঁর দেশের বিরুদ্ধে প্রবল গর্জন করবেন। তিনি দ্রাক্ষাপেষণকারীদের মতো চিৎকার করবেন, পৃথিবীনিবাসী সকলের বিরুদ্ধে চিৎকার করবেন।
JER 25:31 সেই কলরব পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হবে, কারণ সদাপ্রভু সব জাতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন; তিনি সব জাতির বিচার করবেন এবং দুষ্টদের তরোয়ালের মুখে ফেলবেন,’ ” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 25:32 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো! এক জাতি থেকে অন্য জাতির উপরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে; পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে উঠে আসছে এক শক্তিশালী ঝড়।”
JER 25:33 সেই সময়ে সদাপ্রভুর দ্বারা নিহতেরা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত, সর্বত্র পড়ে থাকবে। তাদের জন্য শোক করা হবে না বা তাদের সংগ্রহ করে কবর দেওয়া হবে না, কিন্তু মাটিতে পতিত আবর্জনার মতো তারা পড়ে থাকবে।
JER 25:34 হে পালকেরা, তোমরা কাঁদো ও বিলাপ করো; পালের নেতারা, তোমরা ধুলোয় গড়াগড়ি দাও। কারণ তোমাদের হত্যা করার সময় এসে পড়েছে; তোমরা পড়ে চুরমার হওয়া কোনো সুন্দর পাত্রের মতো চারদিকে পড়ে থাকবে।
JER 25:35 পালকদের পালানোর কোনো স্থান থাকবে না, পালের নেতাদের পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না।
JER 25:36 ওই পালকদের কান্নার রব শোনো, পালের নেতাদের বিলাপের রব শোনো, কারণ সদাপ্রভু তাদের পালের চারণভূমি ধ্বংস করছেন।
JER 25:37 সদাপ্রভুর প্রচণ্ড ক্রোধের জন্য শান্তিপূর্ণ পশুচারণভূমিগুলি পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে।
JER 25:38 অত্যাচারীদের তরোয়ালের জন্য হে সদাপ্রভুর প্রচণ্ড ক্রোধের জন্য, সিংহের মতোই তিনি তাঁর আবাস ত্যাগ করে আসবেন, তাদের দেশ জনশূন্য পড়ে থাকবে।
JER 26:1 যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র যিহোয়াকীমের রাজত্বের প্রথমদিকে, সদাপ্রভুর এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 26:2 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তুমি সদাপ্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে গিয়ে দাঁড়াও এবং যারা সদাপ্রভুর গৃহে উপাসনা করতে আসে, যিহূদার নগরগুলির সেই সমস্ত লোকদের কাছে কথা বলো। আমি তোমাকে যা আদেশ দিই, সেসবই তাদের বলো; একটি কথাও বাদ দেবে না।
JER 26:3 হয়তো তারা শুনবে এবং প্রত্যেকে তাদের কুপথ থেকে ফিরবে। তখন আমি কোমল হব এবং তারা যে সমস্ত অন্যায় করেছে, সেগুলির জন্য তাদের উপরে যে বিপর্যয় আনার পরিকল্পনা আমি করেছিলাম, তা আমি করব না।
JER 26:4 তাদের বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমরা যদি আমার কথা না শোনো এবং আমার যে বিধান তোমাদের দিয়েছি, তা যদি পালন না করো,
JER 26:5 এবং যাদের আমি বারবার তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছি, আমার সেই দাস ভাববাদীদের কথা তোমরা যদি না শোনো (যদিও তোমরা তাদের কথা শোনোনি),
JER 26:6 তাহলে এই গৃহকে আমি শীলোর মতো করব এবং এই নগর পৃথিবীর সব জাতির কাছে অভিশাপের পাত্রস্বরূপ হবে।’ ”
JER 26:7 যাজকেরা, ভাববাদীরা এবং সমস্ত লোক সদাপ্রভুর গৃহে যিরমিয়কে এই সমস্ত কথা বলতে শুনল।
JER 26:8 কিন্তু যিরমিয় যেই সমস্ত লোককে সদাপ্রভু তাঁকে যে কথা বলার আদেশ দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত বলা সমাপ্ত করলেন, যাজকেরা, ভাববাদীরা ও সমস্ত লোক তাঁকে ধরল ও বলল, “তোমাকে অবশ্যই মরতে হবে!
JER 26:9 তুমি কেন ঈশ্বরের নামে এরকম ভাববাণী বলেছ যে, এই গৃহ শীলোর মতো হবে এবং এই নগর জনমানবহীন ও পরিত্যক্ত হবে?” এই বলে সমস্ত লোক সদাপ্রভুর গৃহে যিরমিয়কে ঘিরে ধরল।
JER 26:10 যিহূদার রাজকর্মচারীরা যখন এই সমস্ত কথা শুনল, তারা রাজপ্রাসাদ থেকে সদাপ্রভুর গৃহে গেল। তারা সদাপ্রভুর গৃহের নতুন-দ্বারের প্রবেশপথে গিয়ে তাদের স্থান গ্রহণ করল।
JER 26:11 তখন যাজকেরা ও ভাববাদীরা রাজকর্মচারী ও অন্যান্য সব লোককে বললেন, “এই লোকটি যেহেতু এই নগরের বিরুদ্ধে ভাববাণী বলেছে, তাই একে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তোমরা নিজেদেরই কানে সেই কথা শুনেছ!”
JER 26:12 তখন যিরমিয় রাজকর্মচারীদের ও অন্যান্য সব লোকদের বললেন: “সদাপ্রভু আমাকে এই গৃহ ও এই নগর সম্বন্ধে ভাববাণী বলার জন্য প্রেরণ করেছেন, যে সকল কথা আপনারা শুনেছেন।
JER 26:13 এবার আপনারা আপনাদের জীবনাচরণ ও আপনাদের কার্যকলাপের সংশোধন করুন এবং আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আদেশ পালন করুন। তাহলে সদাপ্রভু আপনাদের প্রতি কোমল হবেন এবং আপনাদের বিরুদ্ধে যে বিপর্যয় আনার কথা ঘোষণা করেছেন, তা আর নিয়ে আসবেন না।
JER 26:14 আমার কথা বলতে গেলে, আমি তো আপনাদেরই হাতে আছি; যা কিছু ভালো ও ন্যায়সংগত, আপনারা আমার প্রতি তাই করুন।
JER 26:15 তবুও, আপনারা নিশ্চয় জানবেন, আপনারা যদি আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেন, আপনারা নির্দোষের রক্তপাতের অপরাধ নিজেদের, এই নগরের এবং এর মধ্যে বসবাসকারী সব মানুষের উপরে নিয়ে আসবেন। কারণ সদাপ্রভু সত্যিই এসব কথা আপনাদের কর্ণগোচরে বলার জন্য আমাকে প্রেরণ করেছেন।”
JER 26:16 এরপর রাজকর্মচারীরা ও অন্য সব লোক যাজকদের ও ভাববাদীদের এই কথা বললেন, “এই মানুষটির মৃত্যুদণ্ড হবে না! সে আমাদের কাছে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে কথা বলেছে।”
JER 26:17 দেশের কোনো কোনো প্রাচীন সামনে এগিয়ে এসে জমায়েত হওয়া সব লোককে বললেন,
JER 26:18 “মোরেশৎ নিবাসী মীখা যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের সময়ে ভাববাণী করেছিলেন। তিনি যিহূদার সব লোককে বলেছিলেন, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘সিয়োনকে মাঠের মতো চাষ করা হবে, জেরুশালেম এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে, মন্দিরের পাহাড় কাঁটাঝোপে ঢাকা পড়বে।’
JER 26:19 যিহূদার রাজা হিষ্কিয় বা যিহূদার অন্য কোনো লোক কি তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন? হিষ্কিয় কি সদাপ্রভুকে ভয় করে তাঁর কৃপা যাচ্ঞা করেননি? আর সদাপ্রভুও কি কোমল হননি? তিনি তাদের বিরুদ্ধে যে বিপর্যয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তা আর নিয়ে এলেন না। আমরা তো নিজেদের উপরে এক ভয়ংকর বিপর্যয় প্রায় নিয়ে এসেছি!”
JER 26:20 (সেই সময় কিরিয়ৎ-যিয়ারীম নিবাসী শময়িয়ের পুত্র ঊরিয় সদাপ্রভুর নামে ভাববাণী বলতেন। তিনিও যিরমিয়ের মতোই এই নগর ও এই দেশের বিরুদ্ধে একই ভাববাণী বলেছিলেন।
JER 26:21 যখন রাজা যিহোয়াকীম, তাঁর সব বীর যোদ্ধা ও রাজকর্মচারীরা এসব কথা শুনলেন, রাজা ঊরিয়কে মেরে ফেলতে চাইলেন। ঊরিয় সেই কথা শুনে প্রাণভয়ে মিশরে পলায়ন করলেন।
JER 26:22 রাজা যিহোয়াকীম তখন অক্‌বোরের পুত্র ইল্‌নাথনকে অন্য কয়েকজনের সঙ্গে মিশরে প্রেরণ করলেন।
JER 26:23 তারা ঊরিয়কে মিশর থেকে এনে রাজা যিহোয়াকীমের কাছে উপস্থিত করল। রাজা তাঁকে তরোয়াল দিয়ে মেরে ফেললেন এবং সাধারণ লোকদের কবরস্থানে তাঁর দেহ নিক্ষেপ করলেন।)
JER 26:24 এছাড়া, শাফনের পুত্র অহীকাম যিরমিয়কে সমর্থন করায়, তাঁকে মৃত্যুর জন্য লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হল না।
JER 27:1 যিহূদার রাজা যোশিয়ের পুত্র সিদিকিয়ের রাজত্বের প্রথমদিকে, সদাপ্রভুর কাছ থেকে যিরমিয়ের কাছে এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 27:2 সদাপ্রভু আমাকে এই কথা বললেন: “তুমি চামড়ার ফালি ও কাঠের দণ্ড দিয়ে একটি জোয়াল তৈরি করো এবং তা তোমার ঘাড়ে রাখো।
JER 27:3 তারপর জেরুশালেমে যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের কাছে আসা ইদোম, মোয়াব, অম্মোন, টায়ার ও সীদোনের প্রতিনিধিদের কাছে এই বার্তা পাঠও।
JER 27:4 তাদের মনিবদের জন্য এই বার্তা পাঠিয়ে তাদের বলো, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: “তোমরা তোমাদের মনিবদের কাছে গিয়ে এই কথা বলো:
JER 27:5 আমার মহাপরাক্রম ও প্রসারিত বাহু দ্বারা আমি পৃথিবী, তার অধিবাসী ও তার উপরে স্থিত পশুদের সৃষ্টি করেছি। আমি যাকে যা দেওয়া উপযুক্ত মনে করেছি, তাকে তা দিয়েছি।
JER 27:6 এখন আমি তোমাদের সব দেশকে, আমার সেবক, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারকে দেব; আমি বন্য পশুদেরও তার বশ্যতাধীন করব।
JER 27:7 সব জাতি তার, তার পুত্র ও তার পৌত্রের সেবা করবে, যতদিন না তাদের সময় সম্পূর্ণ হয়; তারপর বহু জাতি ও মহান রাজারা তাকে তাদের আয়ত্তাধীনে আনবে।” ’
JER 27:8 “ ‘ “কিন্তু, কোনো জাতি বা রাজ্য যদি ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের সেবা না করে কিংবা তার জোয়ালের নিচে কাঁধ না দেয়, আমি তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহমারীর দ্বারা সেই জাতিকে শাস্তি দেব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যতক্ষণ না সেই জাতিকে আমি তার হাত দিয়ে ধ্বংস করি।
JER 27:9 তাই তোমাদের ভাববাদীদের, তোমাদের গণকদের, তোমাদের স্বপ্ন অনুবাদকদের, তোমাদের প্রেতমাধ্যম ও তোমাদের জাদুকরদের কথা তোমরা শুনবে না, যারা বলে, ‘তোমাদের ব্যাবিলনের রাজার সেবা করতে হবে না।’
JER 27:10 তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা ভাববাণী বলে, যার ফলে তা কেবলমাত্র তোমাদের স্বদেশ থেকে দূরে অপসারিত করবে; আমি তোমাদের নির্বাসিত করব ও তোমরা বিনষ্ট হবে।
JER 27:11 কিন্তু কোনো জাতি যদি ব্যাবিলনের রাজার জোয়ালের নিচে কাঁধ পাতে ও তাঁর সেবা করে, সেই দেশকে আমি স্বস্থানে থাকতে দেব, তারা তা কর্ষণ ও চাষ করে সেখানে বসবাস করতে পারবে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন।” ’ ”
JER 27:12 আমি যিহূদার রাজা সিদিকিয়কেও এই একই বাক্য দিয়েছি। আমি বলেছি, “তোমার কাঁধ ব্যাবিলনের রাজার জোয়ালের নিচে পেতে দাও, তাঁর ও তাঁর প্রজাদের সেবা করো, তাহলে তুমি বেঁচে থাকবে।
JER 27:13 কেন তুমি ও তোমার প্রজারা তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করবে, যা দিয়ে সদাপ্রভু সেইসব জাতিকে ভয় দেখিয়েছেন, যারা ব্যাবিলনের রাজার সেবা করবে না?
JER 27:14 তোমরা ওইসব ভাববাদীর কথা বিশ্বাস কোরো না, যারা তোমাদের বলে, ‘ব্যাবিলনের রাজার সেবা তোমাদের করতে হবে না,’ কারণ তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা ভাববাণী বলছে।
JER 27:15 ‘আমি তাদের প্রেরণ করিনি,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘তারা আমার নামে মিথ্যা ভাববাণী বলছে। সেই কারণে আমি তোমাদের নির্বাসিত করব। এতে তোমরা এবং যারা তোমাদের কাছে ভাববাণী বলে, সেই ভাববাদীরা, উভয়েই বিনষ্ট হবে।’ ”
JER 27:16 তারপর আমি যাজকদের ও এই সমস্ত লোককে বললাম, “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ওইসব ভাববাদীর কথা শুনো না, যারা বলে, ‘খুব শীঘ্র সদাপ্রভুর গৃহ থেকে নিয়ে যাওয়া পাত্রগুলি ব্যাবিলন থেকে ফেরত আনা হবে।’ তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা ভাববাণী বলেছে।
JER 27:17 তোমরা তাদের কথা শুনো না। তোমরা ব্যাবিলনের রাজার সেবা করো, তাহলে বেঁচে থাকবে। কেন এই নগর এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে?
JER 27:18 তারা যদি ভাববাদীই হয়ে থাকে এবং সদাপ্রভুর বাক্য তাদের কাছে থাকে, তাহলে তারা বাহিনীগণের সদাপ্রভুর কাছে মিনতি করুক যেন, সদাপ্রভুর গৃহে, যিহূদার রাজার গৃহে ও জেরুশালেমে অবশিষ্ট যেসব জিনিসপত্র আছে, সেগুলি ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়া না হয়।
JER 27:19 কারণ বাহিনীগণের সদাপ্রভু ওই জিনিসগুলি সম্বন্ধে এই কথা বলেন, যেমন পিতলের স্তম্ভ, সমুদ্রপাত্র, স্থানান্তরযোগ্য তাকগুলি এবং অন্যান্য আসবাব, যেগুলি এই নগরে ছেড়ে যাওয়া হয়েছে,
JER 27:20 যেগুলি ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার সঙ্গে নিয়ে যাননি, যখন তিনি যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের পুত্র যিহোয়াখীনকে, যিহূদা ও জেরুশালেমের সমস্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে নিয়ে যান—
JER 27:21 হ্যাঁ, একথা বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভুর গৃহে ও যিহূদার রাজার প্রাসাদে ও জেরুশালেমে যেসব জিনিস অবশিষ্ট রয়ে গেছে, সেগুলির সম্পর্কে বলেন:
JER 27:22 ‘সেগুলি ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেগুলি সেখানেই থাকবে, যতদিন না আমি সেগুলির জন্য ফিরে আসি,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন। ‘পরে আমি সেগুলি ফিরিয়ে আনব এবং এই স্থানে পুনরায় স্থাপন করব।’ ”
JER 28:1 সেই একই বছরে, যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের প্রথমদিকে, অর্থাৎ চতুর্থ বছরের পঞ্চম মাসে, গিবিয়োন-নিবাসী অসূরের পুত্র ভাববাদী হনানিয়, সদাপ্রভুর গৃহে যাজকদের ও অন্য সব লোকের উপস্থিতিতে আমাকে এই কথা বলল:
JER 28:2 “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘আমি ব্যাবিলনের রাজার জোয়াল ভেঙে ফেলব।
JER 28:3 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার সদাপ্রভুর গৃহের যেসব আসবাবপত্র এখান থেকে অপসারিত করে ব্যাবিলনে নিয়ে যায়, দুই বছরের মধ্যে সেই সবই আমি এই স্থানে ফিরিয়ে আনব।
JER 28:4 আমি যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের পুত্র যিহোয়াখীনকে এবং যিহূদা থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত হওয়া সব ব্যক্তিকে এই স্থানে ফিরিয়ে আনব,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘কারণ আমি ব্যাবিলনের রাজার জোয়াল ভেঙে ফেলব।’ ”
JER 28:5 তখন ভাববাদী যিরমিয় সদাপ্রভুর গৃহে যাজকদের ও অন্য সব লোক যারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের উপস্থিতিতে ভাববাদী হনানিয়কে উত্তর দিলেন।
JER 28:6 তিনি বললেন, “আমেন! সদাপ্রভু সেইরকমই করুন! সদাপ্রভুর গৃহের সব আসবাবপত্র ও ব্যাবিলনে নির্বাসিত সব মানুষকে এখানে ফিরিয়ে এনে সদাপ্রভু তোমার কথিত ভাববাণী পূর্ণ করুন।
JER 28:7 তবুও, আমি তোমার ও সব লোকের কর্ণগোচরে যা বলতে চাই, তা তোমরা শোনো:
JER 28:8 প্রাচীনকাল থেকে ভাববাদীরা, যারা তোমাদের ও আমার পূর্বে ছিলেন, তারা বহু দেশ ও মহান সব রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, বিপর্যয় ও মহামারির ভাববাণী বলেছিলেন।
JER 28:9 কিন্তু যে ভাববাদী শান্তির ভাববাণী বলেন, তিনি প্রকৃতই সদাপ্রভু দ্বারা প্রেরিত হয়েছেন বলে বোঝা যাবে, যদি তাঁর আগাম ঘোষণা পূর্ণ হয়।”
JER 28:10 তারপর ভাববাদী হনানিয় ভাববাদী যিরমিয়ের কাঁধ থেকে জোয়ালটি নিয়ে ভেঙে ফেলল।
JER 28:11 সে সব লোকের সাক্ষাতে বলল, “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘এই একইভাবে, দুই বছরের মধ্যে, আমি ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের জোয়াল সব জাতির কাঁধ থেকে নামিয়ে ভেঙে ফেলব।’ ” পরে ভাববাদী যিরমিয় সেখান থেকে চলে গেলেন।
JER 28:12 ভাববাদী হনানিয় ভাববাদী যিরমিয়ের কাঁধ থেকে সেই জোয়ালটি নিয়ে ভেঙে ফেলার কিছু সময় পর, সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 28:13 “তুমি যাও, গিয়ে হনানিয়কে বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তুমি কাঠের এক জোয়াল ভেঙে ফেলেছ ঠিকই, কিন্তু এর পরিবর্তে তোমাকে একটি লোহার জোয়াল দেওয়া হবে।
JER 28:14 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: আমি এসব জাতির কাঁধে লোহার জোয়াল দেব, যেন তারা ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের দাসত্ব করে, আর তারা তার সেবা করবে। আমি তাকে, এমনকি, বন্য পশুদেরও উপরে নিয়ন্ত্রণ দেব।’ ”
JER 28:15 তারপর ভাববাদী যিরমিয় ভাববাদী হনানিয়েকে বললেন, “হনানিয়, তুমি শোনো! সদাপ্রভু তোমাকে প্রেরণ করেননি, তবুও তুমি চেষ্টা করেছ এই জাতিকে মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করাতে।
JER 28:16 অতএব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘আমি তোমাকে ভূপৃষ্ঠ থেকে সরিয়ে ফেলতে চলেছি। এই বছরেই তোমার মৃত্যু হবে, কারণ তুমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বাক্য প্রচার করেছ।’ ”
JER 28:17 সেই বছরের সপ্তম মাসে, ভাববাদী হনানিয়ের মৃত্যু হল।
JER 29:1 নির্বাসিতদের মধ্যে অবশিষ্ট বেঁচে থাকা প্রাচীনদের, যাজকদের ও অন্য সব মানুষকে, যাদের নেবুখাদনেজার জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করেন, তাদের কাছে ভাববাদী যিরমিয় যে পত্র প্রেরণ করেন, তার নির্যাস এরকম।
JER 29:2 (রাজা যিহোয়াখীন ও রাজমাতা, রাজদরবারের কর্মকর্তারা এবং যিহূদা ও জেরুশালেমের নেতারা, কারুশিল্পী ও সুদক্ষ মিস্ত্রিরা যখন জেরুশালেম থেকে নির্বাসনে যান, এ সেই সময়কার ঘটনা)
JER 29:3 তিনি ওই পত্রখানি শাফনের পুত্র এলাসা ও হিল্কিয়ের পুত্র গমরিয়ের হাতে সমর্পণ করেন, যাদের যিহূদার রাজা সিদিকিয়, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের কাছে প্রেরণ করেন। সেই পত্রে লেখা ছিল:
JER 29:4 জেরুশালেম থেকে আমি যাদের ব্যাবিলনে নির্বাসিত করেছি, তাদের প্রতি বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন:
JER 29:5 “তোমরা বাসগৃহ নির্মাণ করে সেখানে বসতি করো; উদ্যানে সব গাছপালা রোপণ করো ও সেগুলিতে উৎপন্ন ফল খাও।
JER 29:6 সেখানে আমোদ-আনন্দ করো এবং পুত্রকন্যার জন্ম দাও; তোমাদের পুত্রদের জন্য স্ত্রীর অন্বেষণ করো ও কন্যাদের বিবাহ দাও, যেন তারাও পুত্রকন্যাদের জন্ম দেয়। সেখানে সংখ্যায় বৃদ্ধি পাও, হ্রাস পেয়ো না।
JER 29:7 সেই সঙ্গে ওই নগরের শান্তি ও সমৃদ্ধির অন্বেষণ করো, যেখানে আমি তোমাদের নির্বাসিত করেছি। সদাপ্রভুর কাছে সেই নগরের জন্য প্রার্থনা করো, কারণ সেই নগরের সমৃদ্ধি হলে তোমরাও সমৃদ্ধ হবে।”
JER 29:8 হ্যাঁ, এই কথাই বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেন: “তোমাদের মধ্যে স্থিত ভাববাদীরা ও গণকেরা তোমাদের বিভ্রান্ত না করুক। তোমরা তাদের স্বপ্নের কথায় বিশ্বাস কোরো না।
JER 29:9 তারা আমার নামে তোমাদের কাছে মিথ্যা ভাববাণী বলে। আমি তাদের প্রেরণ করিনি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 29:10 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ব্যাবিলন সম্বন্ধে যে সত্তর বছরের কথা বলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ হলে, আমি তোমাদের কাছে আসব এবং এই স্থানে ফিরিয়ে আনার মূল্যবান প্রতিশ্রুতি আমি পূর্ণ করব।
JER 29:11 কারণ তোমাদের জন্য কৃত পরিকল্পনার কথা আমি জানি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “তা হল তোমাদের সমৃদ্ধির পরিকল্পনা, তোমাদের ক্ষতি করার নয়, তোমাদের এক আশা ও ভবিষ্যৎ মঙ্গলদানের পরিকল্পনা।
JER 29:12 তখন তোমরা আমার নামে ডাকবে ও আমার কাছে এসে প্রার্থনা করবে। আর আমি তোমাদের কথা শুনব।
JER 29:13 তোমরা যখন সম্পূর্ণ মনেপ্রাণে আমার অন্বেষণ করবে, তখন আমাকে খুঁজে পাবে।
JER 29:14 তোমরা আমার সন্ধান পাবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি তোমাদের বন্দিত্ব থেকে ফিরিয়ে আনব। আমি তোমাদের যেখানে যেখানে নির্বাসিত করেছিলাম, সেই সমস্ত জাতি ও স্থান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করব এবং যে দেশ থেকে তোমাদের নির্বাসনে পাঠিয়েছিলাম, সেই দেশে ফিরিয়ে আনব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 29:15 তোমরা হয়তো বলবে, “সদাপ্রভু আমাদের জন্য ব্যাবিলনে ভাববাদীদের উৎপন্ন করেছেন,”
JER 29:16 কিন্তু দাউদের সিংহাসনে উপবেশনকারী রাজা ও অন্য সব লোক, তোমাদের স্বদেশবাসী যারা নির্বাসনে যায়নি, যারা এই নগরে থেকে গেছে, তাদের উদ্দেশে সদাপ্রভু এই কথা বলেন—
JER 29:17 হ্যাঁ, তাদেরই উদ্দেশে বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমি তাদের বিরুদ্ধে তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি প্রেরণ করব। আমি তাদের অতি নিকৃষ্ট ডুমুরফলের মতো করব, যা এত খারাপ যে মুখে দেওয়া যায় না।
JER 29:18 আমি তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করব ও জগতের সমস্ত রাজ্যের কাছে তাদের ঘৃণ্য করে তুলব। আমি যেখানেই তাদের বিতাড়িত করি, সেইসব জাতির কাছে অভিশাপ ও বিভীষিকার, নিন্দা ও দুর্নামের পাত্র করব।
JER 29:19 কারণ তারা আমার কথা শোনেনি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমি তাদের কাছে আমার যে দাস ভাববাদীদের মাধ্যমে বারবার যেসব বার্তা প্রেরণ করেছিলাম, তা তারা শোনেনি। আর নির্বাসিত যে তোমরা, তোমরাও আমার কথা শোনোনি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 29:20 সেই কারণে, আমি যাদের জেরুশালেম থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসনে প্রেরণ করেছি, সেই তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো।
JER 29:21 কোলায়ের পুত্র আহাব ও মাসেয়ের পুত্র সিদিকিয় সম্বন্ধে, যারা আমার নামে তোমাদের কাছে মিথ্যা ভাববাণী বলেছে, তাদের সম্বন্ধে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, “আমি তাদের ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের হাতে সমর্পণ করব। সে তোমাদের চোখের সামনে তাদের মেরে ফেলবে।
JER 29:22 তাদের কারণে, যিহূদা থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত সকলে এই অভিশাপের বাক্য ব্যবহার করবে: ‘সদাপ্রভু তোমার প্রতি সিদিকিয় ও আহাবের মতো আচরণ করুন, যাদের ব্যাবিলনের রাজা অগ্নিদগ্ধ করেছেন।’
JER 29:23 কারণ তারা ইস্রায়েলের মধ্যে জঘন্য সব কাজ করেছে; তারা প্রতিবেশীদের স্ত্রীদের সঙ্গে ব্যভিচার করেছে এবং আমার নাম করে মিথ্যা কথা বলেছে। যে কথা আমি তাদের বলবার অধিকার দিইনি। আমি একথা জানি এবং আমি এই বিষয়ের সাক্ষী,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 29:24 তুমি নিহিলামীয় শময়িয়কে এই কথা বলো,
JER 29:25 “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: তুমি মাসেয়ের পুত্র যাজক সফনিয় ও জেরুশালেমের সমস্ত লোকের কাছে তোমার নিজের নামে বিভিন্ন পত্র প্রেরণ করেছ। তুমি সফনিয়কে বলেছ,
JER 29:26 ‘সদাপ্রভু তোমাকে যিহোয়াদার স্থানে সদাপ্রভুর গৃহের তত্ত্বাবধায়ক করে যাজকরূপে নিযুক্ত করেছেন; কোনো পাগল যদি ভাববাদীর মতো অভিনয় করে, তাহলে তুমি তাকে হাড়িকাঠে ও গলায় লোহার বেড়ি দিয়ে বদ্ধ করবে।
JER 29:27 কাজেই তুমি কেন অনাথোতীয় যিরমিয়কে কঠোরভাবে তিরস্কার করোনি, যে তোমাদের মধ্যে একজন ভাববাদীর মতো ভান করে?
JER 29:28 সে আমাদের কাছে ব্যাবিলনে এই বার্তা প্রেরণ করেছে: এখনও অনেক দিন আমাদের এখানে থাকতে হবে। তাই ঘরবাড়ি তৈরি করে তোমরা সেখানে বসবাস করো; উদ্যান তৈরি করে তার ফল খাও।’ ”
JER 29:29 যাজক সফনিয় অবশ্য চিঠিখানি ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে পাঠ করলেন।
JER 29:30 তখন সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 29:31 “নির্বাসিত সকলের কাছে তুমি এই বার্তা প্রেরণ করো: ‘নিহিলামীয় শময়িয় সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমি শময়িয়কে প্রেরণ না করলেও, সে যেহেতু তোমাদের কাছে ভাববাণী বলেছে এবং তোমাদের মিথ্যা কথা বিশ্বাস করার জন্য চালিত করেছে,
JER 29:32 সেই কারণে সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমি নিহিলামীয় শময়িয় ও তার বংশধরদের অবশ্যই শাস্তি দেব। এই লোকদের মধ্যে তার কেউই অবশিষ্ট থাকবে না। আমার প্রজাদের জন্য আমি যে মঙ্গলসাধন করব, তাও সে দেখতে পাবে না, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, কারণ সে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা ঘোষণা করেছে।’ ”
JER 30:1 সদাপ্রভুর কাছ থেকে এই বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 30:2 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘আমি তোমাকে যে সমস্ত কথা বলেছি, সেগুলি একটি পুস্তকে লিখে নাও।
JER 30:3 সেদিন আসন্ন,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আমি যখন বন্দিদশা থেকে আমার প্রজা ইস্রায়েল ও যিহূদাকে ফিরিয়ে আনব এবং এই দেশে তাদের পুনরায় প্রতিষ্ঠা করব, যে দেশ আমি তাদের পূর্বপুরুষদের অধিকারের জন্য দিয়েছিলাম,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
JER 30:4 ইস্রায়েল ও যিহূদা সম্পর্কে সদাপ্রভু এই সমস্ত কথা বললেন:
JER 30:5 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘ভয়ের চিৎকার শোনা যাচ্ছে, ভীষণ আতঙ্কের, শান্তির নয়।
JER 30:6 তোমরা জিজ্ঞাসা করে দেখো: কোনো পুরুষ কি সন্তান প্রসব করতে পারে? তাহলে কেন আমি প্রত্যেকজন শক্তিশালী পুরুষকে, পেটের উপরে তাদের হাত রাখতে দেখছি, যেমন কোনো প্রসবযন্ত্রণাগ্রস্ত নারী রেখে থাকে? প্রত্যেকের মুখ যেন মৃত্যুভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।
JER 30:7 সেদিন কত না ভয়ংকর হবে! তার সঙ্গে আর কোনো দিনের তুলনা করা যাবে না। এ হবে যাকোব কুলের জন্য এক সংকটের সময়, কিন্তু তাকে এর মধ্য থেকে উদ্ধার করা হবে।
JER 30:8 “ ‘সেদিন,’ বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আমি তাদের কাঁধের জোয়াল ভেঙে ফেলব এবং তাদের বাঁধন সব ছিঁড়ে ফেলব; বিদেশিরা আর তাদের দাসত্ব করাবে না।
JER 30:9 বরং, তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর এবং তাদের রাজা দাউদের সেবা করবে, যাঁকে আমি তাদের জন্য তুলে ধরব।
JER 30:10 “ ‘তাই, হে যাকোবের কুল, আমার দাস, তোমরা ভয় কোরো না; হে ইস্রায়েল কুল, তোমরা নিরাশ হোয়ো না,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন। ‘আমি নিশ্চিতরূপে তোমার এক দূরবর্তী স্থান থেকে তোমাকে ও নির্বাসনের দেশ থেকে তোমার বংশধরদের রক্ষা করব। যাকোব পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে, আর কেউ তাদের ভয় দেখাবে না।
JER 30:11 আমি তোমার সঙ্গে আছি ও তোমাকে রক্ষা করব,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন। ‘আমি যেসব দেশে তোমাকে নির্বাসিত করেছিলাম, যদিও আমি সেইসব জাতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করি, আমি তোমাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব না। আমি কেবলমাত্র ন্যায়পরায়ণতায় তোমার বিচার করব; আমি সম্পূর্ণরূপে তোমাকে অদণ্ডিত রাখব না।’
JER 30:12 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘তোমার ক্ষত অনিরাময়যোগ্য, তোমার যন্ত্রণা নিরাময়ের ঊর্ধ্বে।
JER 30:13 তোমার জন্য কেউ মিনতি করে না, তোমার ঘায়ের কোনো প্রতিকার নেই, তোমার জন্য কোনো রোগনিরাময় নেই।
JER 30:14 তোমার সব প্রেমিক তোমাকে ভুলে গেছে; তারা তোমার জন্য কোনো চিন্তা করে না। আমি তোমাকে শত্রুর মতো আঘাত করেছি এবং নিষ্ঠুর ব্যক্তির মতো তোমাকে শাস্তি দিয়েছি, কারণ তোমার অপরাধ অত্যন্ত বেশি তোমার পাপসকল অনেক।
JER 30:15 তোমার ক্ষতসকলের জন্য কেন কাঁদছ তোমার ব্যথার কোনো নিরাময় নেই? তোমার মহা অপরাধ ও বহু পাপের জন্য, আমি এই সমস্ত তোমার প্রতি করেছি।
JER 30:16 “ ‘কিন্তু যারা তোমাকে গ্রাস করে, তাদের সবাইকে গ্রাস করা হবে; তোমার সব শত্রু নির্বাসিত হবে। যারা তোমাকে লুণ্ঠন করে, তাদের লুন্ঠিত করা হবে; যারা তোমার দ্রব্য হরণ করছে, তাদের দ্রব্যসকল আমিও হরণ করব।
JER 30:17 কিন্তু তোমার স্বাস্থ্য আমি ফিরিয়ে দেব ও তোমার ক্ষতসকলের নিরাময় করব,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘কারণ তোমাকে জাতিভ্রষ্ট বলা হয়, সিয়োনের তত্ত্বাবধান কেউ করে না।’
JER 30:18 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘আমি যাকোবের তাঁবুগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব এবং তার আবাসগুলির প্রতি মমতা করব; ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সেই নগর পুনর্নির্মিত হবে এবং রাজপ্রাসাদ পুনরায় যথাস্থানে নির্মিত হবে।
JER 30:19 তাদের মধ্য থেকে উঠে আসবে ধন্যবাদের গান, আর শোনা যাবে আনন্দোল্লাসের স্বর। আমি তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব, তাদের সংখ্যা হ্রাস হবে না; আমি তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেব, তারা আর কখনও উপেক্ষিত হবে না।
JER 30:20 তাদের ছেলেমেয়েরা পুরোনো দিনের মতো হবে, তাদের সমাজ আমার সামনে প্রতিষ্ঠিত হবে; আমি তাদের অত্যাচারীদের শাস্তি দেব।
JER 30:21 তাদের নেতা তাদেরই মধ্যে একজন হবে; তাদের শাসক তাদেরই মধ্য থেকে উঠে আসবে। আমি তাকে কাছে ডেকে নেব, আর সে আমার কাছে আসবে, কারণ আমি না ডাকলে, কে সাহস করে আমার কাছে আসতে পারে?’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 30:22 ‘তাই, তোমরা আমার প্রজা হবে, আর আমি তোমাদের ঈশ্বর হব।’ ”
JER 30:23 ওই দেখো সদাপ্রভুর ঝড়, তা ক্রোধে ফেটে পড়বে, এক তাড়িত ঝঞ্ঝা নেমে আসছে ঘুরে ঘুরে, তা আছড়ে পড়বে দুষ্টদের মাথায়।
JER 30:24 সদাপ্রভুর ভয়ংকর ক্রোধ ফিরে যাবে না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর অন্তরের উদ্দেশ্য পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করেন। আগামী সময়ে তোমরা তা উপলব্ধি করবে।
JER 31:1 সদাপ্রভু বলেন, “সেই সময়ে আমি হব ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠীর ঈশ্বর, আর তারা হবে আমার প্রজা।”
JER 31:2 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যারা তরোয়ালের আঘাত থেকে রক্ষা পাবে, তারা মরুপ্রান্তরে কৃপা লাভ করবে; আর আমি এসে ইস্রায়েলকে বিশ্রাম দেব।”
JER 31:3 বহুদিন পূর্বে, সদাপ্রভু আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়ে বলেছিলেন, “আমি এক চিরস্থায়ী প্রেমে তোমাদের প্রেম করেছি; আমি স্নেহময় দয়ায় তোমাদের কাছে টেনেছি।
JER 31:4 আমি তোমাদের আবার গড়ে তুলব এবং হে কুমারী-ইস্রায়েল, তোমরা পুনর্নির্মিত হবে। তোমরা আবার তোমাদের তম্বুরা তুলে নেবে এবং আনন্দকারীদের সঙ্গে নৃত্য করতে যাবে।
JER 31:5 তোমরা শমরিয়ার পাহাড়গুলির উপরে আবার দ্রাক্ষাক্ষেত্র প্রস্তুত করবে; কৃষকেরা চারা রোপণ করে তার ফল উপভোগ করবে।
JER 31:6 একদিন আসবে যখন ইফ্রয়িমের পাহাড়গুলির উপর থেকে প্রহরী চিৎকার করবে ‘এসো, আমরা সিয়োনে উঠে যাই, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে।’ ”
JER 31:7 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যাকোব কুলের জন্য আনন্দগান করো; সব জাতি থেকে অগ্রগণ্যের জন্য আনন্দধ্বনি করো। তোমাদের প্রশংসা-রব শ্রুত হোক, তোমরা বলো, ‘হে সদাপ্রভু, তোমার প্রজাদের রক্ষা করো, যারা ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশ।’
JER 31:8 দেখো, আমি তাদের উত্তর দিকের দেশ থেকে নিয়ে আসব, পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে তাদের সংগ্রহ করব। তাদের মধ্যে থাকবে অন্ধ ও খঞ্জেরা, আসন্নপ্রসবা মা ও প্রসববেদনাগ্রস্ত নারীরা; এক মহাসমাজ এখানে ফিরে আসবে।
JER 31:9 তারা রোদন করতে করতে আসবে; তাদের আমি ফিরিয়ে আনা মাত্র তারা প্রার্থনা করবে। আমি তাদের জলস্রোতের তীরে চালিত করব, তারা চলবে এমন এক সমান পথে, যেখানে হোঁচট খাবে না, কারণ আমিই ইস্রায়েলের বাবা, আর ইফ্রয়িম আমার প্রথমজাত সন্তান।
JER 31:10 “হে জাতিগণ, তোমরা সদাপ্রভুর বাক্য শোনো; দূরবর্তী উপকূলগুলিতে এই কথা ঘোষণা করো, ‘যিনি ইস্রায়েলকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন, তিনি তাদের সংগ্রহ করবেন, এবং পালকের মতো তাঁর পালের উপরে দৃষ্টি রাখবেন।’
JER 31:11 কারণ সদাপ্রভু যাকোবকে উদ্ধার করবেন এবং তিনি তাদের চেয়েও শক্তিশালী লোকদের হাত থেকে তাদের মুক্ত করবেন।
JER 31:12 তারা সিয়োনের উঁচু স্থানগুলিতে এসে আনন্দে চিৎকার করবে; সদাপ্রভুর দেওয়া প্রাচুর্যের কারণে তারা উল্লসিত হবে, শস্যদানা, নতুন দ্রাক্ষারস ও তেল, পালের মেষশাবক ও গোবৎসদের জন্য। তারা হবে উত্তমরূপে সেচিত উদ্যানের মতো, তারা আর দুঃখ পাবে না।
JER 31:13 তখন কুমারী-কন্যারা নৃত্য করবে ও আনন্দিত হবে, যুবকেরা ও বৃদ্ধেরাও তা করবে। আমি তাদের বিলাপ আনন্দে পরিণত করব; দুঃখের পরিবর্তে আমি তাদের সান্ত্বনা ও আনন্দ দেব।
JER 31:14 প্রাচুর্য দান করে আমি যাজকদের পরিতৃপ্ত করব, আমার প্রজারা আমার প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ হবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 31:15 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “রামা-নগরে এক স্বর শোনা যাচ্ছে, হাহাকার ও তীব্র রোদনের শব্দ, রাহেল তার সন্তানদের জন্য কাঁদছেন, তিনি সান্ত্বনা পেতে চান না, কারণ তারা আর বেঁচে নেই।”
JER 31:16 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তোমার কান্নার রব থামাও ও তোমার চোখের জল মুছে ফেলো, কারণ তোমার কাজ পুরস্কৃত হবে,” একথা সদাপ্রভু বলেন। “তারা শত্রুদের দেশ থেকে ফিরে আসবে।
JER 31:17 তাই তোমার ভবিষ্যতের আশা আছে,” একথা সদাপ্রভু বলেন। “তোমার ছেলেমেয়েরা স্বদেশে ফিরে যাবে।
JER 31:18 “আমি নিশ্চিতরূপে ইফ্রয়িমের কাতরধ্বনি শুনেছি: ‘কোনো অবাধ্য বাছুরের মতো তুমি আমাকে শাসন করেছ, আর আমি শাস্তি পেয়েছি। আমাকে ফিরাও, তাহলে আমি ফিরে আসব, কারণ তুমিই হলে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর।
JER 31:19 আমি বিপথগামী হওয়ার পর, আমি অনুতাপ করেছি; আমি সব বুঝতে পারলে আমার বুক চাপড়ালাম। আমি লজ্জিত ও অপমান বোধ করছিলাম কারণ আমি আমার যৌবনের অপমান সহ্য করেছি।’
JER 31:20 ইফ্রয়িম কি আমার প্রিয় পুত্র নয়? সেই বালক কি আমাকে আনন্দ দান করে না? যদিও আমি প্রায়ই তার বিরুদ্ধে কথা বলি, আমি তবুও তাকে এখনও স্মরণ করি। সেই কারণে আমার হৃদয় তার জন্য ব্যাকুল হয়; তার জন্য আমার রয়েছে বিশাল সহানুভূতি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 31:21 “তোমরা পথনির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করো; পথনির্দেশের ফলকগুলি লাগাও। তোমরা যে রাজপথ ধরে যাবে, সেই পথ স্মরণে রাখো। হে কুমারী-ইস্রায়েল, ফিরে এসো, তোমার নিজের নগরগুলিতে ফিরে এসো।
JER 31:22 বিপথগামী ইস্রায়েল কন্যা, তুমি কত কাল উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াবে? সদাপ্রভু এক নতুন বিষয় পৃথিবীতে সৃষ্টি করবেন, একজন নারী একজন পুরুষকে রক্ষা করবে।”
JER 31:23 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন, “আমি যখন তাদের বন্দিত্ব থেকে ফিরিয়ে আনি, যিহূদা ও তার নগরগুলির লোকেরা পুনরায় এই কথাগুলি ব্যবহার করবে, ‘হে ধার্মিকতার নিবাস, হে পবিত্র পর্বত, সদাপ্রভু তোমাকে আশীর্বাদ করুন।’
JER 31:24 যিহূদা ও তার সমস্ত নগরে, লোকেরা একসঙ্গে বসবাস করবে, কৃষকেরা ও যারা তাদের পশুপাল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা সকলে করবে।
JER 31:25 আমি ক্লান্তদের সতেজ করব এবং অবসন্ন প্রাণকে তৃপ্ত করব।”
JER 31:26 এতে আমি জেগে উঠে চারপাশে তাকালাম। আমার নিদ্রা আমার কাছে আরামদায়ক ছিল।
JER 31:27 সদাপ্রভু বলেন, “সেই দিনগুলি আসন্ন, যখন আমি মানুষের বংশধর ও পশুদের দিয়ে ইস্রায়েলের কুল ও যিহূদার কুলকে প্রতিষ্ঠিত করব।
JER 31:28 যেভাবে আমি তাদের উপর দৃষ্টি রেখে তাদের উৎপাটন করেছি ও ছিঁড়ে ফেলেছি, তাদের ছুঁড়ে ফেলেছি, ধ্বংস ও বিপর্যয় নিয়ে এসেছি, সেভাবেই আমি তাদের রোপণ ও গঠন করার প্রতিও দৃষ্টি দেব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 31:29 “ওই সমস্ত দিনে লোকেরা আর বলবে না, “ ‘বাবারা টক আঙুর খেয়েছিলেন, তাই সন্তানদের দাঁত টকে গেছে।’
JER 31:30 পরিবর্তে, সকলে তাদের নিজের নিজের পাপের জন্যই মরবে; যে টক আঙুর খাবে, তারই দাঁত টকে যাবে।
JER 31:31 “সময় আসছে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যখন আমি ইস্রায়েলের কুল ও যিহূদার বংশধরদের সঙ্গে, একটি নতুন নিয়ম স্থাপন করব।
JER 31:32 তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে স্থাপন করা নিয়মের মতো হবে না, যখন আমি তাদের হাত ধরে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, কারণ তারা আমার নিয়ম ভেঙেছিল, যদিও তাদের কাছে আমি এক স্বামীর মতো ছিলাম,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 31:33 “সেই সময়ের পরে, আমি ইস্রায়েল কুলের সঙ্গে এই নিয়ম স্থাপন করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি তাদের মনে আমার বিধান দেব এবং তাদের হৃদয়ে তা লিখে দেব। আমি তাদের ঈশ্বর হব আর তারা আমার প্রজা হবে।
JER 31:34 কোনো মানুষ তার প্রতিবেশীকে শেখাবে না বা একে অপরকে বলবে না, ‘তুমি সদাপ্রভুকে জেনে নাও,’ কারণ নগণ্যতম জন থেকে মহত্তম ব্যক্তি পর্যন্ত, তারা সবাই আমার পরিচয় পাবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “কারণ আমি তাদের পাপ ক্ষমা করব এবং তাদের অনাচারগুলি আর কোনোদিন স্মরণ করব না।”
JER 31:35 সেই সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যিনি দিনের বেলা সূর্যকে আলো দেওয়ার জন্য নিয়োগ করেন, এবং রাতের বেলায় করেন চাঁদ ও নক্ষত্রপুঞ্জকে, যিনি সমুদ্রকে আলোড়িত করলে তার তরঙ্গমালা গর্জন করে— বাহিনীগণের সদাপ্রভু তাঁর নাম:
JER 31:36 “কেবলমাত্র এসব বিধিবিধান যদি আমার দৃষ্টিপথ থেকে অন্তর্হিত হয়,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “তাহলে ইস্রায়েলের বংশধরেরাও আমার সামনে আর জাতিরূপে অবশিষ্ট থাকবে না।”
JER 31:37 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “যদি ঊর্ধ্বস্থিত আকাশমণ্ডলের পরিমাপ করা যায় এবং পৃথিবীর ভিত্তিমূলগুলির অনুসন্ধান করা যায়, তাহলেই ইস্রায়েলের বংশধরেরা যা কিছু করেছে, তার জন্য আমি তাদের অগ্রাহ্য করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 31:38 “সেই দিনগুলি আসন্ন,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “যখন হননেলের দুর্গ থেকে কোণের ফটক পর্যন্ত আমার জন্য এই নগরটি পুনর্নির্মিত হবে।
JER 31:39 পরিমাপের দড়ি সেখান থেকে সোজা গারেব পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং তারপর গোয়ার দিকে ঘুরে যাবে।
JER 31:40 সমস্ত উপত্যকাটি, যেখানে মৃতদেহ ও ভস্ম নিক্ষেপ করা হয় এবং পূর্বদিকে কিদ্রোণ উপত্যকা থেকে অশ্ব-ফটকের কোণ পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রটি সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্র হবে। এই নগর আর কখনও উৎপাটিত বা ধ্বংস করা হবে না।”
JER 32:1 নেবুখাদনেজারের রাজত্বের আঠারোতম বছরে, যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের দশম বছরে, যিরমিয়ের কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য উপস্থিত হল।
JER 32:2 ব্যাবিলনের রাজার সৈন্যেরা তখন জেরুশালেম অবরোধ করেছিল। আর ভাববাদী যিরমিয় যিহূদার রাজপ্রাসাদে রক্ষীদের প্রাঙ্গণে বন্দি ছিলেন।
JER 32:3 যিহূদার রাজা সিদিকিয় সেই সময় যিরমিয়কে এই কথা বলে বন্দি করেছিলেন, “আপনি যেসব কথা বলে ভাববাণী করেন, সেইরকম কেন করেছেন? আপনি বলেন, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি এই নগর ব্যাবিলনের রাজার হাতে সমর্পণ করতে চলেছি, আর সে এই নগর দখল করবে।
JER 32:4 যিহূদার রাজা সিদিকিয় ব্যাবিলনীয়দের হাত এড়াতে পারবে না, কিন্তু সে নিশ্চিতরূপে ব্যাবিলনের রাজার হাতে সমর্পিত হবে। সে ব্যাবিলনের রাজার মুখোমুখি হয়ে তাকে স্বচক্ষে দেখবে ও তার সঙ্গে কথা বলবে।
JER 32:5 সে সিদিকিয়কে ব্যাবিলনে নিয়ে যাবে। আমি তার তত্ত্বাবধান না করা পর্যন্ত সে সেখানেই থাকবে, একথা সদাপ্রভু বলেন। তুমি যদি ব্যাবিলনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তাহলে তুমি সফল হবে না।’ ”
JER 32:6 যিরমিয় বললেন, “সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হয়েছে:
JER 32:7 তোমার কাকা শল্লুমের পুত্র হনমেল তোমার কাছে এসে বলবে, ‘অনাথোতে আমার যে ক্ষেতটি আছে, তা তুমি ক্রয় করো, কারণ নিকটতম আত্মীয়রূপে তা ক্রয় করা তোমার ন্যায়সংগত অধিকার ও কর্তব্য।’
JER 32:8 “তারপর, সদাপ্রভু যেমন বলেছিলেন, আমার কাকাতো ভাই হনমেল রক্ষীদের প্রাঙ্গণে আমার কাছে এসে বলল, ‘বিন্যামীনের এলাকায় স্থিত অনাথোতে আমার যে ক্ষেতটি আছে, তা তুমি ক্রয় করো। কারণ তা মুক্ত ও দখল করার জন্য তোমার ন্যায়সংগত অধিকার আছে, তাই তুমি নিজের জন্য তা ক্রয় করো।’ “আমি জানতাম যে, এ ছিল সদাপ্রভুর বাক্য;
JER 32:9 তাই আমার কাকাতো ভাই হনমেলের কাছ থেকে আমি অনাথোতে ওই ক্ষেত্রটি ক্রয় করলাম এবং তাকে সতেরো শেকল রুপো ওজন করে দিলাম।
JER 32:10 আমি সেই দলিল স্বাক্ষর করে সিলমোহর দিলাম, সাক্ষী রাখলাম এবং দাঁড়িপাল্লায় সেই রুপো ওজন করলাম।
JER 32:11 আমি সেই ক্রয়ের দলিলটি নিলাম, সিলমোহরাঙ্কিত প্রতিলিপি, যার মধ্যে নিয়ম ও শর্ত লেখা ছিল এবং সিলমোহরাঙ্কিত না করা একটি প্রতিলিপিও নিলাম,
JER 32:12 আর আমি সেই দলিলটি আমার কাকাতো ভাই হনমেল ও যে সাক্ষীরা দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাদের এবং যে সমস্ত ইহুদি রক্ষীদের প্রাঙ্গণে বসেছিল তাদের সাক্ষাতে মাসেয়ের পৌত্র নেরিয়ের পুত্র বারূককে দিলাম।
JER 32:13 “তাদের উপস্থিতিতে আমি বারূককে এই সমস্ত আদেশ দিলাম:
JER 32:14 ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, তুমি সিলমোহরাঙ্কিত ও সিলমোহর না করা, ক্রয় করা উভয় দলিলই নাও। সেগুলি তুমি একটি মাটির পাত্রে রাখো, যেন দীর্ঘদিন তা অবিকৃত থাকে।
JER 32:15 কারণ বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন, ঘরবাড়ি, ক্ষেত্র ও দ্রাক্ষাকুঞ্জ, এই দেশে আবার কেনাবেচা করা হবে।’
JER 32:16 “নেরিয়ের পুত্র বারূককে জমি ক্রয়ের দলিলটি দেওয়ার পর, আমি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলাম:
JER 32:17 “অহো, সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমি তোমার মহাপরাক্রমে ও প্রসারিত বাহু দিয়ে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছ। তোমার পক্ষে কোনো কিছুই করা কঠিন নয়।
JER 32:18 তুমি সহস্র-অযুত জনকে তোমার ভালোবাসা প্রদর্শন করে থাকো, কিন্তু বাবাদের পাপের প্রতিফল, তাদের পরে তাদের সন্তানদের কোলে দিয়ে থাকো। মহান ও পরাক্রমী ঈশ্বর, তোমার নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু,
JER 32:19 তোমার অভিপ্রায় সকল মহান এবং তোমার কাজগুলি শক্তিশালী। তোমার দৃষ্টি মানুষের সমস্ত জীবনাচরণের প্রতি থাকে; তুমি প্রত্যেকের আচরণ ও তার যেমন কর্ম, সেই অনুযায়ী তাকে প্রতিফল দিয়ে থাকো।
JER 32:20 তুমি মিশরে যেসব চিহ্নকাজ ও বিস্ময়কর সব কাজ করেছিলে, তা ইস্রায়েল ও সমস্ত মানবসমাজে আজও করে যাচ্ছ। তার দ্বারা তুমি তোমার সুনাম আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছ।
JER 32:21 তুমি তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে বিভিন্ন চিহ্ন ও বিস্ময়কর সব কাজ, এক পরাক্রমী বাহু ও প্রসারিত বাহুর দ্বারা মহা আতঙ্কের সঙ্গে মিশর থেকে বের করে এনেছিলে।
JER 32:22 তুমি তাদের এই দেশ দান করেছিলে, যে দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে।
JER 32:23 তারা এখানে এসে এই দেশের অধিকার নিয়েছে, তবুও তারা তোমার কথা শোনেনি বা তোমার বিধান পালন করেনি। তুমি তাদের যা করার আদেশ দিয়েছিলে, তা তারা পালন করেনি। তাই তুমি সব ধরনের বিপর্যয় তাদের উপরে নিয়ে এসেছ।
JER 32:24 “দেখো, নগরের অধিকার নেওয়ার জন্য কী রকম ঢালু জঙ্গল তৈরি করা হয়েছে। তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির কারণে, যারা এই নগর আক্রমণ করেছে, সেই ব্যাবিলনীয়দের হাতে এই নগর তুলে দেওয়া হবে। তুমি যা বলেছিলে, তুমি দেখতে পাচ্ছ, এখন তাই ঘটছে।
JER 32:25 আর যদিও এই নগর ব্যাবিলনীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তুমি, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমাকে বলেছ, ‘ওই ক্ষেত্রটি রুপোর টাকার বিনিময়ে কিনে নাও এবং আদানপ্রদানের সাক্ষী রেখো।’ ”
JER 32:26 তারপর সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 32:27 “আমি সদাপ্রভু, সর্বমানবের ঈশ্বর। আমার পক্ষে কোনো কিছু করা কি খুব কঠিন?
JER 32:28 সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমি ব্যাবিলনীয়দের কাছে ও ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের কাছে এই নগর সমর্পণ করতে চলেছি, তারা তা অধিকার করবে।
JER 32:29 যে ব্যাবিলনীয়েরা এই নগর আক্রমণ করেছে, তারা ভিতরে প্রবেশ করে এই নগরে আগুন লাগিয়ে দেবে; তারা সেইসব গৃহের সঙ্গে তা অগ্নিদগ্ধ করবে, যেগুলির ছাদের উপরে লোকেরা বায়াল-দেবতার উদ্দেশে ধূপদাহ ও অন্যান্য দেবদেবীর উদ্দেশে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করে আমার ক্রোধের সঞ্চার করেছে।
JER 32:30 “ইস্রায়েল ও যিহূদার লোকেরা তাদের যৌবনকাল থেকে অন্য কিছু নয়, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে কেবলই মন্দ কাজ করেছে; প্রকৃতপক্ষে, ইস্রায়েলের লোকেরা অন্য কিছু করেনি, কিন্তু তাদের হাত দিয়ে তৈরি জিনিসগুলি দিয়ে আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছে, একথা সদাপ্রভু বলেন।
JER 32:31 যেদিন থেকে এই নগরের গোড়াপত্তন হয়েছে, সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই নগর আমার রোষ ও ক্রোধ এত জাগিয়ে তুলেছে যে, আমি অবশ্যই এই নগরকে আমার দৃষ্টিপথ থেকে অপসারিত করব।
JER 32:32 ইস্রায়েল ও যিহূদার লোকেরা, তারা নিজেরা, তাদের রাজা ও রাজকর্মচারীরা, তাদের যাজক ও ভাববাদীরা, যিহূদার ও জেরুশালেমের লোকেরা যে সমস্ত অন্যায় করেছে, তার দ্বারা আমার ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছে।
JER 32:33 তারা তাদের পিঠ আমার প্রতি ফিরিয়েছে, তাদের মুখ নয়। যদিও আমি বারবার তাদের উপদেশ দিয়েছি, তারা কিন্তু শোনেনি ও আমার শাসনে সাড়া দেয়নি।
JER 32:34 তারা তাদের ঘৃণ্য প্রতিমাগুলি আমার নামে আখ্যাত গৃহে স্থাপন করেছে এবং তা কলুষিত করেছে।
JER 32:35 তারা বিন-হিন্নোমের উপত্যকায় বায়াল-দেবতার জন্য উঁচু সব স্থান নির্মাণ করেছে, যেন তাদের পুত্রকন্যাদের মোলক দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দেয়। সেকথা আমি তাদের আদেশ দিইনি বা তা আমার মনেও আসেনি, যেন তারা এরকম ঘৃণ্য কাজ করে যিহূদাকে পাপ করায়।
JER 32:36 “তোমরা এই নগর সম্বন্ধে বলছ, ‘তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির দ্বারা এই নগর ব্যাবিলনের রাজার হাতে তুলে দেওয়া হবে’; কিন্তু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, সদাপ্রভু এই কথা বলেন,
JER 32:37 আমার ভয়ংকর ক্রোধে ও প্রচণ্ড রোষে, আমি যে সমস্ত দেশে তাদের নির্বাসিত করেছিলাম, সেই সমস্ত দেশ থেকে তাদের নিশ্চয়ই সংগ্রহ করব; আমি তাদের পুনরায় এই দেশে ফিরিয়ে আনব এবং তারা নিরাপদে এখানে বসবাস করবে।
JER 32:38 তারা আমার প্রজা হবে ও আমি তাদের ঈশ্বর হব।
JER 32:39 আমি তাদের মঙ্গলের জন্য ও তাদের পরে তাদের সন্তানদের মঙ্গলের জন্য তাদের একনিষ্ঠ হৃদয় ও এক উদ্দেশ্য দেব, যেন তারা সবসময়ই আমাকে ভয় করে।
JER 32:40 আমি তাদের সঙ্গে এক চিরস্থায়ী নিয়ম করব; তাদের মঙ্গল করায় আমি কখনও নিবৃত্ত হব না, আমাকে ভয় করার জন্য আমি তাদের প্রেরণা দেব, যেন তারা কখনও আমার কাছ থেকে ফিরে না যায়।
JER 32:41 তাদের মঙ্গলসাধন করে আমি আনন্দিত হব এবং আমার সম্পূর্ণ মনেপ্রাণে নিশ্চিতরূপে তাদের এই দেশে রোপণ করব।
JER 32:42 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি যে রকম সব মহা বিপর্যয় এসব লোকের উপরে এনেছি, সেইরকমই আমার প্রতিশ্রুত সব সমৃদ্ধি তাদের দেব।
JER 32:43 আর একবার এই দেশে জমি কেনাবেচা হবে, যে দেশ সম্বন্ধে তোমরা বলো, ‘এই দেশ নির্জন পরিত্যক্ত স্থান, যেখানে কোনো মানুষ বা পশু থাকে না, কারণ এই দেশ ব্যাবিলনীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
JER 32:44 জমি রুপো দিয়ে ক্রয় করা হবে, দলিল সব স্বাক্ষরিত হবে, সিলমোহরাঙ্কিত করা হবে ও সাক্ষী রাখা হবে, বিন্যামীন গোষ্ঠীর এলাকায়, জেরুশালেমের চারপাশের গ্রামগুলিতে, যিহূদার সমস্ত নগরে এবং পার্বত্য অঞ্চলের নগরগুলিতে, পশ্চিমের পাহাড়তলিতে এবং নেগেভের দেশগুলিতে, কারণ আমি তাদের বন্দিদশা থেকে ফিরিয়ে আনব, একথা সদাপ্রভু বলেন।”
JER 33:1 যিরমিয় তখনও রক্ষীদের প্রাঙ্গণে বন্দি ছিলেন, এমন সময় সদাপ্রভুর বাক্য দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে উপস্থিত হল,
JER 33:2 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, সেই সদাপ্রভু তা গঠন করেছেন ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সদাপ্রভু হল তাঁর নাম;
JER 33:3 ‘তুমি আমাকে আহ্বান করো, আমি তোমাকে উত্তর দেব। আমি তোমাকে সেই সমস্ত মহৎ ও অনুসন্ধান করা যায় না, এমন সব বিষয় জানাব, যা তুমি জানো না।’
JER 33:4 কারণ সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেন, এই নগরের গৃহগুলি এবং যিহূদার রাজাদের যে সকল প্রাসাদ ব্যাবিলনীয়দের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন জঙ্গল ও তরোয়ালের দ্বারা উৎপাটিত হবে,
JER 33:5 লোকেরা কলদীয়দের সাথে যুদ্ধ করার সময় সেগুলি নিহতদের শবে পরিপূর্ণ হবে, যাদের আমি আমার ক্রোধে ও রোষে সংহার করব। এর সমস্ত দুষ্টতার কারণে এই নগর থেকে আমি আমার মুখ লুকাব।
JER 33:6 “ ‘তবুও, এই নগরের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা আমি ফিরিয়ে আনব; আমি আমার লোকেদের রোগনিরাময় করব এবং তাদের প্রচুর শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করতে দেব।
JER 33:7 আমি বন্দিত্ব থেকে যিহূদা ও ইস্রায়েলকে আবার ফিরিয়ে আনব এবং পূর্বের মতোই তাদের পুনর্নির্মাণ করব।
JER 33:8 তারা আমার বিরুদ্ধে যে সকল পাপ করেছিল, সেগুলি থেকে আমি তাদের শুচিশুদ্ধ করব এবং আমার বিরুদ্ধে কৃত তাদের সব পাপ ও বিদ্রোহের কাজগুলি ক্ষমা করব।
JER 33:9 তখন এই নগরটি পৃথিবীর সব জাতির কাছে আমার সুনাম, আনন্দ, প্রশংসা ও সম্মানের কারণস্বরূপ হবে। আমি যে সমস্ত ভালো কাজ এই নগরের জন্য করেছি, সেই জাতিগুলি তা শুনতে পাবে; আমি এর জন্য যে সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রাচুর্য এই নগরকে দান করব, তা দেখে অন্য জাতিরা ভয়ে কাঁপতে থাকবে।’
JER 33:10 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘তোমরা এই স্থানের বিষয়ে বলে থাকো, “এ নির্জন পরিত্যক্ত স্থান, এখানে কোনো মানুষ বা পশু থাকে না।” তবুও যিহূদার যে সমস্ত নগর ও জেরুশালেমের পথগুলি পরিত্যক্ত, মানুষ ও পশুবিহীন হয়েছে, সেখানে পুনরায় শোনা যাবে
JER 33:11 আমোদ ও আনন্দের শব্দ, বর ও কনের আনন্দস্বর এবং তাদের কণ্ঠস্বর, যারা সদাপ্রভুর গৃহে ধন্যবাদের বলি নিয়ে আসবে। তারা বলবে, “ ‘ “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, কারণ সদাপ্রভু মঙ্গলময়; তাঁর ভালোবাসা চিরকাল বিরাজমান থাকে।” কারণ আমি এই দেশের অবস্থা পূর্বের মতোই ফিরিয়ে আনব,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 33:12 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘এই মানুষ ও পশুহীন পরিত্যক্ত স্থানে, এর সমস্ত গ্রামগুলিতে, মেষপালকদের পশুপালকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য পুনরায় চারণভূমি হবে।
JER 33:13 পাহাড়ি এলাকার গ্রামগুলিতে, পশ্চিমের পাহাড়তলিতে ও নেগেভে, বিন্যামীন গোষ্ঠীর এলাকায়, জেরুশালেমের চারপাশের গ্রামগুলিতে এবং যিহূদার সমস্ত গ্রামে, পশুপাল যারা গণনা করে, আবার তাদের হাতের নিচে দিয়ে যাবে,’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 33:14 “ ‘সেই দিনগুলি আসছে,’ সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, ‘যখন আমি ইস্রায়েলের কুল ও যিহূদার কুলের কাছে যে মঙ্গলকর প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তা পূর্ণ করব।
JER 33:15 “ ‘সেই দিনগুলিতে ও সেই সময়ে আমি দাউদের বংশে এক ধার্মিক পল্লবকে অঙ্কুরিত করব; দেশের জন্য যা যথার্থ ও ন্যয়সংগত, সে তাই করবে।
JER 33:16 সেই দিনগুলিতে যিহূদা পরিত্রাণ পাবে এবং জেরুশালেম নিরাপদে বসবাস করবে। এই নগর তখন এই নামে আখ্যাত হবে, সদাপ্রভু আমাদের ধার্মিক ত্রাণকর্তা।’
JER 33:17 কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘ইস্রায়েলের কুলে সিংহাসনে বসার জন্য দাউদের বংশে লোকের অভাব হবে না।
JER 33:18 আবার যাজকদের, লেবীয়দের মধ্যেও আমার উদ্দেশে হোমবলি, শস্য-নৈবেদ্য ও অন্যান্য বলি নিবেদনের উদ্দেশে আমার সামনে দাঁড়ানোর জন্য লোকের অভাব হবে না।’ ”
JER 33:19 পরে সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল,
JER 33:20 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘তোমরা যদি দিনের সঙ্গে কৃত বা রাত্রির সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম ভেঙে ফেলতে পারো, যে কারণে যথাসময়ে দিন বা রাত্রি না হয়,
JER 33:21 তাহলে আমার দাস দাউদের সঙ্গে কৃত আমার নিয়ম এবং আমার সাক্ষাতে পরিচর্যা করার উদ্দেশে লেবীয় যাজকদের সঙ্গে কৃত নিয়মও ভাঙা যাবে এবং দাউদের সিংহাসনে বসে রাজত্ব করার জন্য তার বংশে কোনো লোক থাকবে না।
JER 33:22 আমি, আমার দাস দাউদের বংশধরদের ও আমার সামনে পরিচর্যাকারী লেবীয়দের সংখ্যা আকাশের তারা ও সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো অসংখ্য করব।’ ”
JER 33:23 সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল,
JER 33:24 “তুমি কি লক্ষ্য করোনি যে এই লোকেরা বলছে, ‘সদাপ্রভু যে দুটি রাজ্য মনোনীত করেছিলেন, তাদের তিনি অগ্রাহ্য করেছেন’? এভাবে তারা আমার প্রজাদের অবজ্ঞা করে এবং তাদের আর জাতিরূপে স্বীকার করে না।
JER 33:25 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যদি আমি দিন ও রাত্রি হওয়ার জন্য আমার নিয়ম প্রতিষ্ঠিত না করে থাকি এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সঙ্গে কৃত নির্ধারিত বিধান আমার না থাকে,
JER 33:26 তাহলে আমি যাকোব ও আমার দাস দাউদের বংশধরদের অগ্রাহ্য করব এবং অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের বংশধরদের উপরে শাসন করার জন্য তার বংশ থেকে কাউকে মনোনীত করব না। কারণ আমি তাদের অবশ্যই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনব এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হব।’ ”
JER 34:1 যখন ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার, তাঁর সব সৈন্য এবং তাঁর শাসনাধীন সমস্ত রাজ্য ও প্রজারা জেরুশালেম ও তার চারপাশের নগরগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল, তখন যিরমিয়ের কাছে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হল:
JER 34:2 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: তুমি যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের কাছে যাও ও তাকে গিয়ে বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি এই নগর ব্যাবিলনের রাজার হাতে তুলে দিতে চলেছি। সে এই নগর অগ্নিদগ্ধ করবে।
JER 34:3 তুমি তার হাত এড়াতে পারবে না, কিন্তু নিশ্চয়ই ধৃত হয়ে তার হাতে সমর্পিত হবে। তুমি নিজের চোখে ব্যাবিলনের রাজাকে দেখবে এবং সে মুখোমুখি তোমার সঙ্গে কথা বলবে। আর তুমি ব্যাবিলনে যাবে।
JER 34:4 “ ‘তবুও, হে যিহূদার রাজা সিদিকিয়, তুমি সদাপ্রভুর প্রতিজ্ঞার কথা শোনো। তোমার সম্পর্কে সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি তরোয়ালের আঘাতে মৃত্যুবরণ করবে না;
JER 34:5 তুমি শান্তিতে মৃত্যুবরণ করবে। তোমার পূর্বপুরুষেরা, অর্থাৎ পূর্বতন রাজাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যেমন দাহ-সংস্কার করা হত, তোমার ক্ষেত্রেও তারা তেমনই দাহ-সংস্কার করবে ও “হায় প্রভু!” এই বলে বিলাপ করবে। আমি স্বয়ং এই প্রতিজ্ঞা করছি, একথা সদাপ্রভু বলেন।’ ”
JER 34:6 তারপর ভাববাদী যিরমিয় এই সমস্ত কথা জেরুশালেমে, যিহূদার রাজা সিদিকিয়কে গিয়ে বললেন।
JER 34:7 সেই সময়, ব্যাবিলনের রাজার সৈন্যদল জেরুশালেম ও যিহূদার অন্যান্য নগরের বিরুদ্ধে, লাখীশ ও অসেকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল। কেবলমাত্র প্রাচীর-ঘেরা এই দুটি নগর অবশিষ্ট ছিল।
JER 34:8 ক্রীতদাসদের প্রতি মুক্তি ঘোষণার জন্য রাজা সিদিকিয় জেরুশালেমের সমস্ত লোকের সঙ্গে এক চুক্তি সম্পাদন করেন। তারপরেই সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল।
JER 34:9 প্রত্যেকজনকে, পুরুষ-স্ত্রী নির্বিশেষে সমস্ত হিব্রু ক্রীতদাসকে মুক্তি দিতে হবে; কেউই কোনো সহ-ইহুদিকে দাসত্বে আবদ্ধ রাখবে না।
JER 34:10 তাই, প্রত্যেকজন রাজকর্মচারী ও লোকেরা, যারা এই চুক্তিতে প্রবেশ করল, তারা সম্মত হল যে, তারা সমস্ত পুরুষ ও স্ত্রী দাসদাসীকে মুক্তি দেবে এবং আর তাদের ক্রীতদাসত্বে আবদ্ধ করবে না। তারা সম্মত হয়ে তাদের মুক্তি দিল।
JER 34:11 কিন্তু পরে তারা তাদের মন পরিবর্তন করল এবং যাদের মুক্তি দিয়েছিল, সেইসব দাসদাসীকে ফিরিয়ে আনল ও পুনরায় তাদের ক্রীতদাসত্বে আবদ্ধ করল।
JER 34:12 তারপর সদাপ্রভু বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 34:13 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের, ক্রীতদাসত্বের দেশ মিশর থেকে মুক্ত করে এনে তাদের সঙ্গে এক চুক্তি করেছিলাম। আমি বলেছিলাম,
JER 34:14 ‘প্রত্যেক সপ্তম বছরে, তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে, অবশ্যই তার সহ-হিব্রু ভাইকে, যে নিজেকে তোমার কাছে বিক্রি করেছে, মুক্ত হয়ে চলে যেতে দেবে। ছয় বছর তোমার সেবা করার পর, তুমি তাকে মুক্ত করে দেবে।’ তোমাদের পূর্বপুরুষেরা অবশ্য আমার কথা শোনেনি বা আমার বাক্যের প্রতি মনোযোগও দেয়নি।
JER 34:15 সম্প্রতি তোমরা অনুতাপ করেছিলে ও আমার দৃষ্টিতে যা ভালো, তাই করেছিলে। তোমাদের প্রত্যেকেই তোমাদের স্বদেশি ভাইদের মুক্ত করেছিলে। তোমরা এমনকি, আমার নামে আখ্যাত গৃহে একটি নিয়মও করেছিলে।
JER 34:16 কিন্তু এখন তোমরা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়েছ এবং আমার নামের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছ; তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে সেই পুরুষ ও স্ত্রী ক্রীতদাসেদের আবার ফিরিয়ে এনেছ, যাদের তোমরা যেখানে ইচ্ছা, চলে যেতে দিয়েছিলে। তোমরা তাদের পুনরায় তোমাদের ক্রীতদাস হতে বাধ্য করেছ।
JER 34:17 “সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তোমরা আমার কথা শোনোনি; তোমাদের সহ স্বদেশবাসীদের প্রতি তোমরা মুক্তি ঘোষণা করোনি। তাই, এখন আমি তোমাদের জন্য ‘মুক্তি’ ঘোষণা করছি, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তরোয়াল, মহামারি ও দুর্ভিক্ষে পতিত হওয়ার জন্য ‘মুক্তি।’ পৃথিবীর সব রাজ্যের কাছে আমি তোমাদের ঘৃণার পাত্র করব।
JER 34:18 যে সকল মানুষ আমার নিয়ম ভেঙে ফেলেছে এবং ওই নিয়মগুলি পালন করেনি, যা তারা আমার সামনে স্থাপন করেছিল, আমি তাদের সেই বাছুরের মতো করব, যেটি তারা দু-টুকরো করে সেগুলির মাঝখান দিয়ে পার হয়েছিল।
JER 34:19 যিহূদা ও জেরুশালেমের নেতৃবর্গ, রাজদরবারের কর্মকর্তারা, যাজকেরা ও দেশের অন্য সমস্ত লোক, যারা ওই দ্বিখণ্ডিত বাছুরটির মাঝখান দিয়ে পার হয়েছিল,
JER 34:20 আমি তাদের সেইসব শত্রুর হাতে সমর্পণ করব, যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায়। তাদের মৃতদেহগুলি আকাশের পাখিদের ও বনের পশুদের আহার হবে।
JER 34:21 “আমি যিহূদার রাজা সিদিকিয় ও তার রাজকর্মচারীদের, তাদের সেইসব শত্রুর হাতে সমর্পণ করব, যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায়। ব্যাবিলনের-রাজের যে সৈন্যেরা তোমাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছিল, তাদেরই হাতে সমর্পণ করব।
JER 34:22 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, আমি তাদের আদেশ দেব ও এই নগরে নিয়ে আসব। তারা এই নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তা অধিকার করে আগুনে পুড়িয়ে দেবে। আমি যিহূদার নগরগুলি নিবাসী-বিহীন করব, যেন কেউ সেখানে বসবাস করতে না পারে।”
JER 35:1 যোশিয়ের পুত্র, যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বকালে, যিরমিয়ের কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 35:2 “তুমি রেখবীয় বংশের লোকদের কাছে যাও। তুমি তাদের সদাপ্রভুর গৃহের পাশের একটি কক্ষে আমন্ত্রণ করো। তাদের পান করার জন্য দ্রাক্ষারস দাও।”
JER 35:3 তখন আমি হবৎসিনিয়ের পুত্র যিরমিয়ের পুত্র যাসনিয়, তার ভাইদের ও তার সব পুত্রের, রেখবীয়দের সমস্ত পরিজনের কাছে গেলাম।
JER 35:4 আমি তাদের সদাপ্রভুর গৃহে, ঈশ্বরের লোক যিগ্দলিয়ের পুত্র হাননের সন্তানদের কক্ষে নিয়ে এলাম। এই কক্ষটি ছিল কর্মকর্তাদের ঘরের পাশে, শল্লুমের পুত্র দ্বাররক্ষী মাসেয়ের ঘরের ঠিক উপরে।
JER 35:5 তারপর আমি একটি পাত্রে দ্রাক্ষারস পূর্ণ করে ও কয়েকটি পেয়ালা নিয়ে রেখবীয়দের সামনে রাখলাম। আমি তাদের বললাম, “তোমরা একটু দ্রাক্ষারস পান করো।”
JER 35:6 কিন্তু তারা উত্তর দিল, “আমরা দ্রাক্ষারস পান করি না, কারণ আমাদের পূর্বপুরুষ রেখবের পুত্র যিহোনাদব আমাদের এই আদেশ দিয়েছেন: ‘তোমরা কিংবা তোমাদের বংশধরেরা, কেউই দ্রাক্ষারস পান করবে না।
JER 35:7 সেই সঙ্গে তোমরা কোনো ঘরবাড়ি নির্মাণ করবে না, বীজবপন বা দ্রাক্ষাকুঞ্জ তৈরি করে চারা রোপণ করবে না; তোমরা অবশ্যই কখনও এসব জিনিসের কোনোটিই পেতে চাইবে না, কিন্তু সবসময়ই তাঁবুতে বসবাস করবে। তাহলে তোমরা যে দেশে ভবঘুরের মতো বাস করো, সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারবে।’
JER 35:8 আমাদের পূর্বপুরুষ, রেখবের পুত্র যিহোনাদব আমাদের যে আদেশ দিয়েছেন, তার সবই আমরা পালন করেছি। আমরা বা আমাদের স্ত্রীরা বা আমাদের ছেলেমেয়েরা, আমরা কেউই কখনও দ্রাক্ষারস পান করিনি।
JER 35:9 আমরা গৃহ নির্মাণ করে তার মধ্যে বসবাসও করিনি, কিংবা দ্রাক্ষাকুঞ্জ, শস্যের ক্ষেত বা বীজও আমাদের নেই।
JER 35:10 আমরা তাঁবুতে বসবাস করে এসেছি এবং আমাদের পূর্বপুরুষ যিহোনাদব আমাদের যা আদেশ দিয়েছিলেন, আমরা পূর্ণরূপে তা পালন করে এসেছি।
JER 35:11 কিন্তু যখন ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার এই দেশ আক্রমণ করে, আমরা বললাম, ‘এসো, ব্যাবিলনীয় ও অরামীয় সৈন্যদলের হাত এড়ানোর জন্য আমরা জেরুশালেমে যাই।’ এভাবেই আমরা জেরুশালেমে থেকে গেছি।”
JER 35:12 তারপর সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল। তিনি বললেন,
JER 35:13 “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: তুমি যাও, গিয়ে যিহূদার মানুষদের ও জেরুশালেমের লোকেদের এই কথা বলো, ‘তোমরা কি এর থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমার বাক্য পালন করবে না?’ সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 35:14 ‘রেখবের পুত্র যিহোনাদব তার বংশধরদের দ্রাক্ষারস পান না করার আদেশ দিয়েছিল। তার সেই আদেশ পালন করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত তারা দ্রাক্ষারস পান করে না, কারণ তারা তাদের পূর্বপুরুষের আদেশ পালন করে। কিন্তু আমি যদিও বারবার তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তবুও তোমরা আমার কথা শোনোনি।
JER 35:15 বারবার আমি আমার দাস ভাববাদীদের তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছি। তারা বলেছে, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে, তোমাদের দুষ্টতার পথ থেকে ফিরে আসবে এবং তোমাদের কার্যকলাপের সংশোধন করবে। অন্যান্য দেবদেবীর অনুসারী হয়ে তাদের সেবা করবে না। তাহলে এই যে দেশ আমি তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের দিয়েছি, সেখানে তোমরা বসবাস করতে পারবে।” কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনোনি বা তাতে মনোযোগও দাওনি।
JER 35:16 রেখবের পুত্র যিহোনাদবের বংশধরেরা, তাদের পূর্বপুরুষ যে আদেশ দিয়েছিল, তা পালন করে এসেছে, কিন্তু এই লোকেরা আমার কথার বাধ্য হয়নি।’
JER 35:17 “এই কারণে, বাহিনীগণের ঈশ্বর সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেন, ‘তোমরা শোনো! আমি যিহূদার উপরে এবং যতজন জেরুশালেমে বসবাস করে, তাদের উপরে আমি যেসব বিপর্যয়ের কথা বলেছিলাম, তা সমস্তই নিয়ে আসব। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। আমি তাদের আহ্বান করেছি, তারা কিন্তু সাড়া দেয়নি।’ ”
JER 35:18 তারপর যিরমিয় রেখবের বংশধরদের বললেন, “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: ‘তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ যিহোনাদবের আদেশ পালন করেছ, তার সমস্ত নির্দেশ মেনে চলেছ এবং সে যে সমস্ত আদেশ দিয়েছিল, সব পালন করেছ।’
JER 35:19 সেই কারণে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন: ‘রেখবের পুত্র যিহোনাদবের বংশে আমার সেবা করার জন্য লোকের কোনো অভাব হবে না।’ ”
JER 36:1 যোশিয়ের পুত্র, যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের চতুর্থ বছরে, সদাপ্রভুর এই বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 36:2 “তুমি একটি গুটানো চামড়ার পুঁথি নাও ও তাতে আমি তোমাকে ইস্রায়েল, যিহূদা এবং অন্যান্য জাতিদের সম্পর্কে যোশিয়ের রাজত্বকাল থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছু বলেছি, সেসবই লিপিবদ্ধ করো।
JER 36:3 হয়তো যিহূদার জনগণ সেইসব বিপর্যয়, যা আমি তাদের উপর ঘটাব বলে স্থির করেছি, তার কথা শুনে, তাদের মধ্যে প্রত্যেকে তাদের দুষ্টতার জীবনাচরণ ত্যাগ করবে; তখন আমি তাদের দুষ্টতা ও তাদের পাপ ক্ষমা করব।”
JER 36:4 তাই যিরমিয় নেরিয়ের পুত্র বারূককে ডেকে পাঠালেন। সদাপ্রভু যে সমস্ত কথা যিরমিয়কে বলেছিলেন, তিনি সেগুলি মুখে বলে গেলেন। বারূক সেগুলি পুঁথিতে লিখলেন।
JER 36:5 তারপর যিরমিয় বারূককে বললেন, “আমি অবরুদ্ধ আছি, আমি সদাপ্রভুর মন্দিরে যেতে পারি না।
JER 36:6 তাই এক উপবাসের দিনে তুমি সদাপ্রভুর গৃহে যাও এবং লোকদের কাছে পুঁথিতে লেখা সদাপ্রভুর বাক্য পাঠ করো, যেগুলি আমি মুখে বলেছিলাম ও তুমি লিখেছিলে। সেগুলি যিহূদার নগরগুলি থেকে আসা সব লোকের কাছে পাঠ করো।
JER 36:7 হয়তো তারা তাদের আবেদন সদাপ্রভুর সামনে নিয়ে আসবে এবং প্রত্যেকে তার দুষ্ট জীবনাচরণ থেকে ফিরে আসবে। কারণ সদাপ্রভু এই লোকদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ক্রোধ ও রোষের কথা ঘোষণা করেছেন।”
JER 36:8 ভাববাদী যিরমিয় নেরিয়ের পুত্র বারূককে যা যা করতে বলেছিলেন, তিনি সমস্তই করলেন। সদাপ্রভুর মন্দিরে তিনি সেই পুঁথি থেকে সদাপ্রভুর বাক্যগুলি পড়লেন।
JER 36:9 যোশিয়ের পুত্র যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বকালের পঞ্চম বছরের নবম মাসে, জেরুশালেমের ও যিহূদার নগরগুলি থেকে আসা সমস্ত লোকের উদ্দেশে সদাপ্রভুর সাক্ষাতে এক উপবাসের সময় ঘোষণা করা হল।
JER 36:10 তখন বারূক সদাপ্রভুর গৃহে, উপরের প্রাঙ্গণে, সদাপ্রভুর গৃহের নতুন-দ্বারের প্রবেশস্থানে, শাফনের পুত্র সচিব গমরিয়ের কক্ষে সমস্ত লোকের কর্ণগোচরে ওই পুঁথি নিয়ে যিরমিয়ের সব কথা পাঠ করলেন।
JER 36:11 যখন শাফনের পুত্র গমরিয়ের পুত্র মীখায়া ওই পুঁথিতে লেখা সদাপ্রভুর বাক্যগুলি শুনলেন,
JER 36:12 তিনি রাজপ্রাসাদের সচিবের কক্ষে গেলেন, যেখানে সব রাজকর্মচারী বসেছিলেন: সচিব ইলীশামা, শময়িয়ের পুত্র দলায়, অক্‌বোরের পুত্র ইল্‌নাথন, শাফনের পুত্র গমরিয়, হনানিয়ের পুত্র সিদিকিয় এবং অন্যান্য সব কর্মচারী।
JER 36:13 বারূক সেই পুঁথি থেকে লোকদের কাছে যা পাঠ করেছিলেন, সে সমস্তই মীখায়া তাদের কাছে বললে পর,
JER 36:14 রাজকর্মচারীরা কূশির প্রপৌত্র শেলেমিয়ের পৌত্র নথনিয়ের পুত্র যিহূদীকে বারূকের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, “লোকদের কাছে তুমি যে পুঁথি থেকে পাঠ করেছ, সেটি নিয়ে এখানে এসো।” তাই নেরিয়ের পুত্র বারূক সেই পুঁথিটি হাতে নিয়ে তাদের কাছে গেলেন।
JER 36:15 তারা তাঁকে বলল, “আপনি দয়া করে বসুন এবং এই পুঁথি থেকে আমাদের পড়ে শোনান।” বারূক তাদের কাছে তা পড়ে শোনালেন।
JER 36:16 তারা যখন সেইসব বাক্য শুনল, তারা ভয়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বারূককে বলল, “আমরা অবশ্যই এই সমস্ত কথা রাজাকে জানাব।”
JER 36:17 তারপর তারা বারূককে জিজ্ঞাসা করল, “আমাদের বলুন, আপনি কীভাবে এই সমস্ত বিষয় লিখলেন? যিরমিয় কি আপনাকে এই সমস্ত বলেছিলেন?”
JER 36:18 বারূক উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, তিনিই এসব কথা আমাকে বলেছেন এবং আমি কালি দিয়ে এই সমস্ত কথা এই পুঁথিতে লিখেছি।”
JER 36:19 তখন রাজকর্মচারীরা বারূককে বলল, “আপনি ও যিরমিয় গিয়ে লুকিয়ে থাকুন। কাউকে জানতে দেবেন না, আপনারা কোথায় আছেন।”
JER 36:20 সচিব ইলীশামার কক্ষে পুঁথিটি রাখার পরে, তারা রাজদরবারে রাজার কাছে গেল এবং সমস্তই তাঁকে বলে শোনাল।
JER 36:21 পুঁথিটি আনার জন্য রাজা যিহূদীকে প্রেরণ করলে, যিহূদী সেটি সচিব ইলীশামার কক্ষ থেকে নিয়ে এল। সে রাজার কাছে ও তাঁর পাশে দাঁড়ানো রাজকর্মচারীদের কাছে তা পড়ে শোনাল।
JER 36:22 তখন ছিল বছরের নবম মাস। রাজা তাঁর শীতকালীন কক্ষে বসেছিলেন। তাঁর সামনে চুল্লিতে আগুন জ্বালানো ছিল।
JER 36:23 যিহূদী সেই পুঁথি থেকে তিন-চারটি স্তম্ভ পাঠ করলে, রাজা সচিবের ছুরি দিয়ে তা কেটে চুল্লির আগুনে নিক্ষেপ করলেন। এভাবে সমস্ত পুঁথিটিই আগুনে ভস্মীভূত হল।
JER 36:24 রাজা ও তাঁর পরিচারকেরা, যারাই এই সমস্ত কথা শুনল, তারা ভীত হল না বা তাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলল না।
JER 36:25 যদিও ইল্‌নাথন, দলায় ও গমরিয় পুঁথিটি না পোড়ানোর জন্য রাজাকে অনুরোধ করেছিল, তিনি তাদের কথা শোনেননি।
JER 36:26 বরং তিনি রাজার এক পুত্র যিরহমেলকে, অস্রীয়েলের পুত্র সরায় ও অব্দিলের পুত্র শেলেমিয়কে আদেশ দিলেন, লেখক বারূক ও ভাববাদী যিরমিয়কে গ্রেপ্তার করতে। কিন্তু সদাপ্রভু তাদের লুকিয়ে রেখেছিলেন।
JER 36:27 যিরমিয়ের বলা কথাগুলি শুনে বারূক যে পুঁথিতে সেগুলি লিখেছিলেন, রাজা তা পুড়িয়ে ফেলার পর, সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 36:28 “তুমি অন্য একটি পুঁথি নাও ও যিহূদার রাজা যিহোয়াকীম যে পুঁথিটি পুড়িয়ে ফেলেছে, সেই প্রথম পুঁথিতে বলা কথাগুলি সব এর মধ্যে লেখো।
JER 36:29 সেই সঙ্গে যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমকে এই কথাও বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি ওই পুঁথিটি দগ্ধ করে বলেছ, “কেন তুমি এর মধ্যে লিখেছ যে ব্যাবিলনের রাজা নিশ্চিতরূপে এসে এই দেশ ধ্বংস করবে এবং এর মধ্য থেকে মানুষ ও পশু, উভয়কেই বিনষ্ট করবে?”
JER 36:30 সেই কারণে, যিহূদার রাজা যিহোয়াকীম সম্বন্ধে সদাপ্রভু এই কথা বলেন, দাউদের সিংহাসনে বসার জন্য তার বংশে কেউ থাকবে না; তার মৃতদেহ বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে, তার মধ্যে দিনের উত্তাপ ও রাত্রির হিম লাগবে।
JER 36:31 আমি তাকে, তার সন্তানদের ও তার পরিচারকদের দুষ্টতার জন্য তাদের শাস্তি দেব; আমি যে সমস্ত বিপর্যয়ের কথা তাদের ও জেরুশালেমে বসবাসকারী লোকদের ও যিহূদার লোকদের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছিলাম, সে সমস্তই নিয়ে আসব, কারণ তারা আমার কথা শোনেনি।’ ”
JER 36:32 সেইজন্য যিরমিয় অন্য একটি পুঁথি নিলেন। তিনি সেটি নেরিয়ের পুত্র লেখক বারূককে দিলেন। আর যিরমিয় যেভাবে বলে গেলেন, বারূক প্রথম পুঁথি, যে পুঁথিটি যিহূদার রাজা যিহোয়াকীম পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, তার সব কথা তার মধ্যে লিখলেন। এর অতিরিক্ত আরও অন্য অনুরূপ কথা এর মধ্যে সংযোজিত হল।
JER 37:1 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার, যোশিয়ের পুত্র সিদিকিয়কে যিহূদার রাজা করেন। তিনি যিহোয়াকীমের পুত্র যিহোয়াখীনের স্থানে রাজত্ব করেন।
JER 37:2 তিনি, তাঁর পরিচারকেরা বা দেশের অন্য কোনো লোক, ভাববাদী যিরমিয়ের মাধ্যমে কথিত সদাপ্রভুর বাক্যের প্রতি কোনো মনোযোগ দেননি।
JER 37:3 তবুও, রাজা সিদিকিয়, শেলেমিয়ের পুত্র যিহূখলকে, মাসেয়ের পুত্র যাজক সফনিয়কে, এই বার্তা দিয়ে ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে প্রেরণ করলেন: “অনুগ্রহ করে আপনি, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন।”
JER 37:4 সেই সময় যিরমিয় লোকদের কাছে যাওয়া-আসার জন্য মুক্ত ছিলেন, কারণ তখনও পর্যন্ত তিনি কারাগারে বদ্ধ হননি।
JER 37:5 ফরৌণের সৈন্যদল মিশর থেকে সমরাভিযানে বের হয়েছে, জেরুশালেম অবরোধকারী ব্যাবিলনীয়েরা যখন এই কথা শুনল, তারা জেরুশালেম ছেড়ে চলে গেল।
JER 37:6 তারপর, ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হল:
JER 37:7 “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন: যে আমার কাছে অনুসন্ধান করতে পাঠিয়েছে, সেই যিহূদার রাজাকে তুমি বলো, ‘ফরৌণের যে সৈন্যদল তোমাকে সাহায্য করার জন্য সমরাভিযান করেছে, তারা তাদের স্বদেশ মিশরে ফিরে যাবে।
JER 37:8 তারপর ব্যাবিলনীয়েরা ফিরে আসবে এবং এই নগর আক্রমণ করবে; তারা এই নগর অধিকার করে আগুনে পুড়িয়ে দেবে।’
JER 37:9 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা এই কথা বলে নিজেদের ঠকিয়ো না, ‘ব্যাবিলনীয়েরা নিশ্চয়ই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।’ না, তারা যাবে না!
JER 37:10 যদিও তোমরা সমস্ত ব্যাবিলনীয় সৈন্যদলকে পরাস্ত করতে, যারা তোমাদের আক্রমণ করছে এবং কেবলমাত্র আহত লোকেরা তাদের শিবিরে অবস্থান করত, তবুও তারাই বের হয়ে এসে এই নগর পুড়িয়ে দিত।”
JER 37:11 ফরৌণের সৈন্যদলের কারণে ব্যাবিলনীয় সৈন্যেরা জেরুশালেম ছেড়ে চলে গেলে পর,
JER 37:12 যিরমিয় নগর ত্যাগ করে বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত এলাকায় তাঁর সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য সেখানকার লোকদের কাছে রওনা হলেন।
JER 37:13 কিন্তু যখন তিনি বিন্যামীন-দ্বারে পৌঁছালেন, তখন হনানিয়ের পুত্র, শেলিমিয়ের পুত্র, রক্ষীদলের সেনাপতি যিরিয় তাঁকে গ্রেপ্তার করলেন এবং বললেন, “আপনি ব্যাবিলনীয়দের পক্ষে যোগ দিতে যাচ্ছেন!”
JER 37:14 যিরমিয় বললেন, “সেই কথা সত্যি নয়। আমি ব্যাবিলনীয়দের পক্ষে যোগ দিতে যাচ্ছি না।” কিন্তু যিরিয় তাঁর কথা শুনতে চাইলেন না; পরিবর্তে, তিনি যিরমিয়কে গ্রেপ্তার করে রাজকর্মচারীদের কাছে নিয়ে গেলেন।
JER 37:15 তারা যিরমিয়ের প্রতি ক্রুদ্ধ হল। তারা তাঁকে প্রহার করে সচিব যোনাথনের গৃহে কারাবন্দি করল। তারা সেই গৃহকে কারাগারে পরিণত করেছিল।
JER 37:16 যিরমিয়কে এক ভূগর্ভস্থ অন্ধকূপে রাখা হল। সেখানে তিনি অনেক দিন থাকলেন।
JER 37:17 তারপর, রাজা সিদিকিয় লোক পাঠিয়ে তাঁকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে এলেন। সেখানে তিনি তাঁকে গোপনে জিজ্ঞাসা করলেন, “সদাপ্রভুর কাছ থেকে কোনো বাক্য আছে কি?” যিরমিয় উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, আপনি ব্যাবিলনের রাজার হাতে সমর্পিত হবেন।”
JER 37:18 তারপর যিরমিয়, রাজা সিদিকিয়কে বললেন, “আমি আপনার বা আপনার কর্মচারীদের বা এই লোকদের বিরুদ্ধে কী অপরাধ করেছি যে, আপনি আমাকে কারারুদ্ধ করেছেন?
JER 37:19 আপনার সেই ভাববাদীরা কোথায়, যারা ভাব বাক্য করেছিল, ‘ব্যাবিলনের রাজা আপনাকে বা এই দেশকে আক্রমণ করবেন না’?
JER 37:20 কিন্তু এখন, আমার প্রভু রাজা, আপনি দয়া করে শুনুন। আপনার কাছে আমাকে এই অনুরোধ রাখতে দিন, আপনি আমাকে সচিব যোনাথনের গৃহে আর ফেরত পাঠাবেন না, নইলে আমি সেখানে মারা পড়ব।”
JER 37:21 রাজা সিদিকিয় তখন আদেশ দিলেন, যিরমিয়কে রক্ষীদের প্রাঙ্গণে রাখার জন্য এবং বললেন, তাকে যেন রুটিওয়ালাদের সরণি থেকে প্রতিদিন রুটি দেওয়া হয়, যতক্ষণ না নগর থেকে সমস্ত রুটি শেষ হয়। এইভাবে যিরমিয় রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থেকে গেলেন।
JER 38:1 যিরমিয় সব লোকের কাছে যে কথা বলছিলেন, তা মত্তনের পুত্র শফটিয়, পশ্‌হূরের পুত্র গদলিয়, শেলেমিয়ের পুত্র যিহূখল ও মল্কিয়ের পুত্র পশ্‌হূর শুনল। তিনি বলছিলেন,
JER 38:2 “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যে কেউ এই নগরে অবস্থান করবে, সে তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মারা যাবে, কিন্তু যে কেউ ব্যাবিলনীয়দের কাছে যাবে, সে বেঁচে থাকবে। সে তার প্রাণ বাঁচাতে পারবে; সে বেঁচে থাকবে।’
JER 38:3 আর সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘এই নগর অবশ্য ব্যাবিলনের রাজার সৈন্যদের হাতে সমর্পিত হবে। তারা নগরটি অধিকার করবে।’ ”
JER 38:4 তখন রাজকর্মচারীরা রাজাকে বললেন, “এই লোকটিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সে যেসব কথা বলছে, তার দ্বারা এ নগরে অবশিষ্ট সৈন্যদের ও সেই সঙ্গে সব প্রজাকেও নিরাশ করছে। এই লোকটি এদের কোনো মঙ্গল চায় না, বরং তাদের বিনাশ দেখতে চায়।”
JER 38:5 রাজা সিদিকিয় উত্তর দিলেন, “সে তোমাদেরই হাতে আছে। তোমাদের বিরুদ্ধে রাজা কিছুই করতে পারেন না।”
JER 38:6 তাই তারা যিরমিয়কে নিয়ে রাজপুত্র মল্কিয়ের কুয়োতে রেখে দিল। সেই কুয়ো রক্ষীদের প্রাঙ্গণে ছিল। তারা দড়ি দিয়ে যিরমিয়কে নিচে নামিয়ে দিল। সেই কুয়োতে কোনো জল ছিল না, কেবলমাত্র কাদা ছিল। যিরমিয় সেই কাদায় প্রায় ডুবতে বসেছিলেন।
JER 38:7 কিন্তু কূশীয় এবদ-মেলক, একজন রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তা, শুনতে পেলেন যে, তারা যিরমিয়কে সেই কুয়োর মধ্যে ফেলে দিয়েছে। রাজা যখন বিন্যামীন-দ্বারে বসেছিলেন,
JER 38:8 এবদ-মেলক প্রাসাদের বাইরে রাজার কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন,
JER 38:9 “হে আমার প্রভু মহারাজা, এই লোকেরা ভাববাদী যিরমিয়ের প্রতি যা করেছে, তা দুষ্টতার কাজ। তারা তাঁকে কুয়োর মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেখানে তিনি অনাহারে মারা যাবেন, যখন নগরে কোনো রুটি থাকবে না।”
JER 38:10 রাজা তখন কূশীয় এবদ-মেলককে আদেশ দিলেন, “এখান থেকে তোমার সঙ্গে ত্রিশজন লোককে নিয়ে যাও এবং ভাববাদী যিরমিয়কে, তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই কুয়ো থেকে তুলে বের করো।”
JER 38:11 তাই এবদ-মেলক সেই লোকদের সঙ্গে নিয়ে প্রাসাদের ভাণ্ডারগৃহের নিচে একটি কক্ষে গেলেন। তিনি সেখান থেকে কিছু পুরোনো ন্যাক্‌ড়া ও ছেঁড়া কাপড় নিলেন এবং দড়ির সাহায্যে সেগুলি কুয়োর মধ্যে যিরমিয়ের কাছে নামিয়ে দিলেন।
JER 38:12 কূশীয় এবদ-মেলক যিরমিয়কে বললেন, “এসব পুরোনো ন্যাকড়া ও ছেঁড়া কাপড় আপনার বগলে দিন, তা দড়ির যন্ত্রণা থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।” যিরমিয় তাই করলেন,
JER 38:13 আর তারা সেই দড়ির সাহায্যে যিরমিয়কে টেনে কুয়োর বাইরে তুলে আনলেন। যিরমিয় রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থেকে গেলেন।
JER 38:14 তারপর রাজা সিদিকিয়, ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাঁকে সদাপ্রভুর মন্দিরের তৃতীয় প্রবেশপথে ডেকে আনলেন। রাজা যিরমিয়কে বললেন, “আমি আপনার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাই। আমার কাছ থেকে কোনো কিছু লুকাবেন না।”
JER 38:15 যিরমিয় সিদিকিয়কে বললেন, “আমি যদি আপনাকে উত্তর দিই, আপনি কি আমাকে হত্যা করবেন না? আমি যদিও আপনাকে পরামর্শ দিই, আপনি আমার কথা শুনবেন না।”
JER 38:16 কিন্তু রাজা সিদিকিয় গোপনে যিরমিয়ের কাছে এই শপথ করলেন, “যিনি আমাদের শ্বাসবায়ু দিয়েছেন, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, আমি আপনাকে হত্যা করব না বা যারা আপনার প্রাণনাশ করতে চায়, তাদের হাতেও আপনাকে সমর্পণ করব না।”
JER 38:17 তখন যিরমিয় সিদিকিয়কে বললেন, “বাহিনীগণের ঈশ্বর সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, ‘তুমি যদি ব্যাবিলনের রাজার কর্মাধ্যক্ষদের কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমার জীবন রক্ষা পাবে ও এই নগর অগ্নিদগ্ধ হবে না; তুমি ও তোমার পরিবার বেঁচে থাকবে।
JER 38:18 কিন্তু যদি তুমি ব্যাবিলনের রাজার কর্মাধ্যক্ষদের কাছে আত্মসমর্পণ না করো, এই নগর ব্যাবিলনীয়দের হাতে সমর্পিত হবে ও তারা এই নগর আগুনে পুড়িয়ে দেবে। আপনি নিজেও তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন না।’ ”
JER 38:19 রাজা সিদিকিয় যিরমিয়কে বললেন, “আমি সেই ইহুদিদের ভয় পাই, যারা ব্যাবিলনীয়দের পক্ষে যোগ দিয়েছে, কারণ ব্যাবিলনীয়েরা হয়তো আমাকে তাদের হাতে সমর্পণ করবে ও তারা আমার প্রতি দুর্ব্যবহার করবে।”
JER 38:20 উত্তরে যিরমিয় বললেন, “তারা আপনাকে সমর্পণ করবে না। আমি আপনাকে যা বলি, তা পালন করে আপনি সদাপ্রভুর আদেশ মান্য করুন। তাহলে আপনার মঙ্গল হবে ও আপনার প্রাণরক্ষা পাবে।
JER 38:21 কিন্তু যদি আপনি আত্মসমর্পণ করা অগ্রাহ্য করেন, তাহলে শুনুন, সদাপ্রভু আমার কাছে কী প্রকাশ করেছেন:
JER 38:22 যিহূদার রাজার প্রাসাদে অবশিষ্ট যে সমস্ত স্ত্রীলোক আছে, তাদের ব্যাবিলনের রাজার কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই স্ত্রীলোকেরা আপনার সম্বন্ধে বলবে, “ ‘তোমার নির্ভরযোগ্য সব বন্ধু, তোমাকে বিপথে চালিত করে পরাস্ত করেছে, তোমার পা কাদায় নিমজ্জিত হয়েছে; তোমার বন্ধুরা তোমাকে ত্যাগ করেছে।’
JER 38:23 “তোমার সব স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ব্যাবিলনীয়দের কাছে নিয়ে আসা হবে। তুমি নিজেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাবে না, কিন্তু ব্যাবিলনের রাজার হাতে ধৃত হবে; আর এই নগরকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।”
JER 38:24 তারপর সিদিকিয় যিরমিয়কে বললেন, “আমাদের এই বার্তালাপের কথা কেউ যেন জানতে না পারে, তা না হলে আপনার মৃত্যু হবে।
JER 38:25 যদি কর্মচারীরা শোনে যে, আমি আপনার সঙ্গে কথা বলেছি, আর তারা আপনার কাছে এসে বলে, ‘আমাদের বলুন, আপনি রাজাকে কী বলেছেন এবং রাজা আপনাকে কী বলেছেন; কোনো কথা আমাদের কাছে গোপন করবেন না, নইলে আমরা আপনাকে হত্যা করব,’
JER 38:26 তাহলে তাদের বলবেন, ‘আমি রাজার কাছে মিনতি করছিলাম, তিনি যেন আমাকে পুনরায় যোনাথনের গৃহে মরবার জন্য না পাঠান।’ ”
JER 38:27 সমস্ত কর্মচারী যিরমিয়ের কাছে এল ও তাঁকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। রাজা যিরমিয়কে যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, তিনি তাদের সে সমস্তই বললেন। তাই তারা তাঁকে আর কিছু বলল না, কারণ রাজার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন আর কেউই শুনতে পায়নি।
JER 38:28 আর জেরুশালেম অধিকৃত না হওয়া পর্যন্ত যিরমিয় রক্ষীদের প্রাঙ্গণে থেকে গেলেন। এভাবেই জেরুশালেমকে অধিকার করা হয়।
JER 39:1 যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের নবম বছরের দশম মাসে, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার তাঁর সমস্ত সৈন্য নিয়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে সমরাভিযান করেন ও তা অবরোধ করেন।
JER 39:2 সিদিকিয়ের রাজত্বের এগারোতম বছরের চতুর্থ মাসের নবম দিনে, নগরের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হল।
JER 39:3 তারপর ব্যাবিলনের রাজার সমস্ত কর্মকর্তা এসে মধ্যম-দ্বারে আসন গ্রহণ করল। তারা ছিল সমগরের নের্গল-শরেৎসর, একজন প্রধান আধিকারিক নেবো-সার্সেকিম, একজন উচ্চ পদাধিকারী নের্গল-শরেৎসর এবং ব্যাবিলনের রাজার অন্যান্য সমস্ত কর্মচারী।
JER 39:4 যখন যিহূদার রাজা সিদিকিয় ও সমস্ত সৈন্য তাদের দেখলেন, তারা পলায়ন করলেন। রাজার উদ্যানের পথ দিয়ে তারা রাত্রিবেলা নগর ত্যাগ করলেন। সেই ফটকটি ছিল দুটি প্রাচীরের মাঝখানে এবং পথ ছিল অরাবা অভিমুখী।
JER 39:5 কিন্তু ব্যাবিলনীয় সৈন্যেরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং যিরীহোর সমভূমিতে সিদিকিয়ের নাগাল পেল। তারা তাঁকে বন্দি করল এবং হমাৎ দেশের রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের কাছে তাঁকে নিয়ে গেল। সেখানে তিনি তাঁর দণ্ডাদেশ ঘোষণা করলেন।
JER 39:6 সেখানে ব্যাবিলনের রাজা রিব্‌লায়, সিদিকিয়ের চোখের সামনেই তাঁর পুত্রদের হত্যা করলেন এবং যিহূদার সমস্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকেও হত্যা করলেন।
JER 39:7 তারপর তিনি সিদিকিয়ের দুই চোখ উপড়ে নিলেন এবং তাঁকে ব্যাবিলনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পিতলের শিকল দিয়ে বাঁধলেন।
JER 39:8 ব্যাবিলনীয়েরা রাজপ্রাসাদে ও লোকদের সমস্ত গৃহে আগুন লাগিয়ে দিল এবং জেরুশালেমের প্রাচীরগুলি ভেঙে ফেলল।
JER 39:9 রাজরক্ষীবাহিনীর সেনাপতি নবূষরদন নগরের অবশিষ্ট লোকেদের এবং যারা তাদের পক্ষ অবলম্বন করেছিল তাদের ও অবশিষ্ট অন্য সব লোককে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করলেন।
JER 39:10 কিন্তু রক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন যিহূদায় কিছু দীনদরিদ্র ব্যক্তিকে ছেড়ে দিলেন, তাদের কাছে কিছুই ছিল না। সেই সময় তিনি তাদের দ্রাক্ষাকুঞ্জ ও কৃষিজমি দান করলেন।
JER 39:11 এরপর, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার তাঁর রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদনের মাধ্যমে যিরমিয়ের জন্য এই আদেশ দিলেন,
JER 39:12 “তাঁকে গ্রহণ করো ও তাঁর তত্ত্বাবধান করো। তাঁর কোনো ক্ষতি করবে না, বরং তিনি যা চান, তাঁর প্রতি তাই করবে।”
JER 39:13 তাই রক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, একজন প্রধান আধিকারিক নবুশাস্‌বন, একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী নের্গল-শরেৎসর ও ব্যাবিলনের রাজার অন্যান্য সমস্ত কর্মচারীকে
JER 39:14 যিরমিয়ের কাছে প্রেরণ করে, তাঁকে রক্ষীদের প্রাঙ্গণ থেকে মুক্ত করে আনলেন। তারা তাঁকে শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের হাতে সমর্পণ করলেন, যেন তিনি তাঁকে তাঁর গৃহে ফেরত নিয়ে যান। এভাবেই তিনি তাঁর আপনজনদের কাছে থেকে গেলেন।
JER 39:15 যখন যিরমিয় রক্ষীদের প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ ছিলেন, সদাপ্রভুর বাক্য তাঁর কাছে উপস্থিত হল:
JER 39:16 “তুমি যাও ও গিয়ে কূশীয় এবদ-মেলককে বলো, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, আমি এই নগরের বিরুদ্ধে আমার বচন, সমৃদ্ধির নয়, কিন্তু বিপর্যয়ের মাধ্যমে পূর্ণ করতে চলেছি। সেই সময়, সেগুলি তোমার চোখের সামনে পূর্ণ হবে।
JER 39:17 কিন্তু সেদিন, আমি তোমাকে উদ্ধার করব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন; তুমি যাদের ভয় করো, তাদের হাতে তোমাকে সমর্পণ করা হবে না।
JER 39:18 আমি তোমাকে রক্ষা করব; তুমি তরোয়ালের আঘাতে পতিত হবে না, কিন্তু তোমার প্রাণরক্ষা পাবে, কারণ তুমি আমাকে বিশ্বাস করেছ, সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
JER 40:1 রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, যিরমিয়কে রামা-নগরে মুক্তি দেওয়ার পর, সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল। নবূষরদন জেরুশালেম ও যিহূদার যে সমস্ত বন্দিকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের মাঝে যিরমিয়কে শৃঙ্খলে বদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।
JER 40:2 রক্ষীদলের সেনাপতি যখন যিরমিয়কে দেখতে পেলেন, তিনি তাঁকে বললেন, “আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু এই স্থানের বিরুদ্ধে এই বিপর্যয়ের কথাই ঘোষণা করেছিলেন।
JER 40:3 এখন সদাপ্রভু তাই ঘটতে দিয়েছেন। তিনি যেমন করবেন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই করেছেন। এই সমস্তই এজন্য ঘটেছে, কারণ আপনারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছেন ও তাঁর আদেশ পালন করেননি।
JER 40:4 কিন্তু আমি আজ আপনার কব্জির শৃঙ্খল থেকে আপনাকে মুক্ত করছি। আপনি যদি চান, তাহলে আমার সঙ্গে ব্যাবিলনে যেতে পারেন, আমি আপনার তত্ত্বাবধান করব। কিন্তু আপনি যদি যেতে না চান, তাহলে যাবেন না। দেখুন, সমস্ত দেশ আপনার সামনে পড়ে আছে; আপনি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যান।”
JER 40:5 কিন্তু, যিরমিয় সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার আগেই নবূষরদন আরও বললেন, “আপনি শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে যান। ব্যাবিলনের রাজা তাঁকেই যিহূদার নগরগুলির উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করেছেন। তাঁরই সঙ্গে আপনি লোকদের মাঝে বসবাস করুন, অথবা অন্যত্র যেখানে আপনি যেতে চান, চলে যান।” তারপর সেই সেনাপতি তাঁকে বিভিন্ন পাথেয় ও একটি উপহার দিয়ে তাঁকে বিদায় দিলেন।
JER 40:6 অতএব, যিরমিয় মিস্‌পায় অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে, দেশের ছেড়ে দেওয়া লোকদের মাঝে অবস্থিতি করলেন।
JER 40:7 যখন খোলা মাঠে ছড়িয়ে থাকা যিহূদার সমস্ত সৈন্যাধ্যক্ষ ও তাদের লোকেরা শুনতে পেল যে, ব্যাবিলনের রাজা অহীকামের পুত্র গদলিয়কে দেশের উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করেছেন এবং সব পুরুষ, নারী ও ছেলেমেয়েদের, যারা ছিল দেশের মধ্যে দরিদ্রতম এবং যাদের ব্যাবিলনে নির্বাসিত করা হয়নি, তাদের তত্ত্বাবধানের জন্য তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন,
JER 40:8 তারা তখন মিস্‌পাতে গদলিয়ের কাছে এল। এদের মধ্যে ছিল নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল, কারেহের দুই পুত্র যোহানন ও যোনাথন, তন্‌হূমতের পুত্র সরায়, নটোফাতীয় এফয়ের পুত্রেরা এবং মাখাতীয়ের পুত্র যাসনিয় ও তাদের লোকেরা।
JER 40:9 শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয় এক শপথ গ্রহণ করে তাদের ও তাদের লোকেদের পুনরায় আশ্বস্ত করলেন। তিনি বললেন, “ব্যাবিলনীয়দের সেবা করতে তোমরা ভয় পেয়ো না। তোমরা দেশের মধ্যে বসবাস করো এবং ব্যাবিলনের রাজার সেবা করো, তাহলে তোমাদের মঙ্গল হবে।
JER 40:10 আমি স্বয়ং আমাদের কাছে আসা ব্যাবিলনীয়দের কাছে তোমাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মিস্‌পায় থাকব। কিন্তু তোমাদের দ্রাক্ষারস, গ্রীষ্মকালের ফল ও তেল সংগ্রহ করতে হবে। তোমরা সেগুলি সঞ্চয় করার পাত্রে রাখবে ও যে সমস্ত নগর তোমরা হস্তগত করবে, সেখানে বসবাস করবে।”
JER 40:11 যখন মোয়াব, অম্মোন, ইদোম ও অন্যান্য দেশগুলিতে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা শুনতে পেল যে, ব্যাবিলনের রাজা কিছু সংখ্যক অবশিষ্ট লোককে যিহূদায় রেখে গিয়েছেন ও শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে তাদের উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করেছেন,
JER 40:12 তখন তারা যেসব দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই সমস্ত দেশ থেকে সবাই যিহূদা প্রদেশের মিস্‌পায়, গদলিয়ের কাছে ফিরে এল। তারা এসে প্রচুররূপে দ্রাক্ষারস ও গ্রীষ্মকালীন ফল সংগ্রহ করল।
JER 40:13 কারেহের পুত্র যোহানন ও সমস্ত সৈন্যদলের সেনাপতিরা, যারা তখনও পর্যন্ত খোলা মাঠে ছিল, তারা মিস্‌পায় গদলিয়ের কাছে এল।
JER 40:14 তারা তাঁকে বলল, “আপনি কি জানেন না, অম্মোনীয়দের রাজা বালিস্, নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েলকে, আপনাকে হত্যা করার জন্য পাঠিয়েছেন?” কিন্তু অহীকামের পুত্র গদলিয় তাদের কথায় বিশ্বাস করলেন না।
JER 40:15 তখন কারেহের পুত্র যোহানন মিস্‌পায় গোপনে গদলিয়কে বলল, “আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েলকে হত্যা করি। কেউ সেই কথা জানতে পারবে না। সে কেন আপনার প্রাণ হরণ করবে এবং আপনার চারপাশে জড়ো হওয়া ইহুদিদের ছড়িয়ে পড়তে ও যিহূদার অবশিষ্টাংশকে ধ্বংস হতে দেবেন?”
JER 40:16 কিন্তু অহীকামের পুত্র গদলিয়, কারেহের পুত্র যোহাননকে বললেন, “তুমি এরকম কাজ করবে না। তুমি ইশ্মায়েল সম্পর্কে যে কথা বলছ, তা সত্যি নয়।”
JER 41:1 ইলীশামার পৌত্র নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল ছিল রাজবংশীয় এবং রাজার প্রধান কর্মচারীদের মধ্যে অন্যতম। আর এরকম হল, সপ্তম মাসে সে ও তার সঙ্গে আরও দশজন লোক মিস্‌পায় অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে এল। তারা যখন সেখানে একসঙ্গে আহার করছিল,
JER 41:2 তখন নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল ও তার সঙ্গী দশজন লোক উঠে শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করল। এভাবে তারা ব্যাবিলনের রাজা দ্বারা নিযুক্ত দেশের প্রশাসককে হত্যা করল।
JER 41:3 ইশ্মায়েল মিস্‌পায় গদলিয়ের সঙ্গে থাকা সমস্ত ইহুদিকেও হত্যা করল, সেই সঙ্গে সেখানে থাকা সমস্ত ব্যাবিলনীয় সৈন্যকেও মেরে ফেলল।
JER 41:4 গদলিয়ের হত্যার পরের দিন, কেউ কিছু জানার আগেই,
JER 41:5 শিখিম, শীলো ও শমরিয়া থেকে আশি জন লোক মন্দিরে সদাপ্রভুর উপাসনা করার জন্য উপস্থিত হল। তারা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছিল, পরনের পোশাক ছিঁড়েছিল ও নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করেছিল। তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল শস্য-নৈবেদ্য ও ধূপ।
JER 41:6 নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল কাঁদতে কাঁদতে মিস্‌পা থেকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেল। যখন সে তাদের সাক্ষাৎ পেল, সে বলল, “চলো, আমরা অহীকামের পুত্র গদলিয়ের কাছে যাই।”
JER 41:7 যখন তারা নগরে প্রবেশ করল, নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল ও তার সঙ্গী লোকেরা তাদের হত্যা করল এবং একটি কুয়োয় তাদের নিক্ষেপ করল।
JER 41:8 কিন্তু তাদের মধ্যে দশজন ইশ্মায়েলকে বলল, “আমাদের হত্যা করবেন না! আমরা মাঠের মধ্য গম ও যব, তেল ও মধু লুকিয়ে রেখেছি।” তাই সে তাদের ছেড়ে দিল, অন্যদের সঙ্গে তাদের হত্যা করল না।
JER 41:9 এখন ইশ্মায়েল যে সমস্ত লোককে হত্যা করেছিল, তাদের শবগুলিকে গদলিয়ের শবের সঙ্গে সে সেই কুয়োর মধ্যে নিক্ষেপ করেছিল, যেটি রাজা আসা, ইস্রায়েলের রাজা বাশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করিয়েছিলেন। এখন নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল তা শবে পরিপূর্ণ করল।
JER 41:10 মিস্‌পায় যারা অবশিষ্ট ছিল, ইশ্মায়েল তাদের সবাইকে বন্দি করল। তাদের মধ্যে ছিল রাজকন্যারা এবং অবশিষ্ট অন্য সব লোক। তাদেরই উপরে রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, অহীকামের পুত্র গদলিয়কে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করেছিলেন। নথনিয়ের পুত্র তাদেরই বন্দি করে অম্মোনীয়দের কাছে পার হয়ে যাওয়ার জন্য যাত্রা করলেন।
JER 41:11 যখন কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সমস্ত সৈন্যাধ্যক্ষেরা নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েলের কৃত অপরাধের কথা শুনতে পেল,
JER 41:12 তারা নিজেদের সমস্ত লোককে সঙ্গে নিয়ে নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল। তারা গিবিয়োনের বড়ো পুকুরের কাছে তার নাগাল পেল।
JER 41:13 ইশ্মায়েলের কাছে থাকা সব লোক যখন কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সৈন্যাধ্যক্ষদের দেখতে পেল, তারা ভীষণ খুশি হল।
JER 41:14 মিস্‌পায় যত লোককে ইশ্মায়েল বন্দি করেছিল, তারা ফিরে কারেহের পুত্র যোহাননের সঙ্গে যোগ দিল।
JER 41:15 কিন্তু নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল তার আটজন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে যোহাননের কাছ থেকে অম্মোনীয়দের দেশে পালিয়ে গেল।
JER 41:16 নথনিয়ের পুত্র যে ইশ্মায়েল, অহীকামের পুত্র গদলিয়কে হত্যা করেছিল, তার কাছ থেকে কারেহের পুত্র যোহানন ও তার সঙ্গী সেনাপতিরা যেসব অবশিষ্ট লোককে মিস্‌পা থেকে ফিরিয়ে এনেছিল, তাদের সঙ্গে নিল: বীর সৈন্যদের এবং গিবিয়োন থেকে আনীত সমস্ত স্ত্রীলোক, ছেলেমেয়েদের ও রাজদরবারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিল।
JER 41:17 তারা মিশরে যাওয়ার পথে বেথলেহেমের কাছে গেরুৎ-কিম্‌হমে গিয়ে থামল,
JER 41:18 যেন ব্যাবিলনীয়দের হাত এড়াতে পারে। তারা তাদের থেকে ভীত হয়েছিল, কারণ নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল অহীকামের পুত্র গদলিয়কে হত্যা করেছিল, যাঁকে ব্যাবিলনের রাজা দেশের উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করেছিলেন।
JER 42:1 তারপর কারেহের পুত্র যোহানন ও হোশয়িয়ের পুত্র যাসনিয় সমেত সমস্ত সৈন্যাধ্যক্ষ এবং ক্ষুদ্র ও মহান নির্বিশেষে সমস্ত লোক
JER 42:2 ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে এসে তাঁকে বলল, “দয়া করে আমাদের আবেদন শুনুন এবং এই অবশিষ্ট লোকদের সবার জন্য আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন। কারণ, যেমন আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন, এক সময় আমরা যদিও অনেকে ছিলাম, কিন্তু এখন অল্প কয়েকজন মাত্র অবশিষ্ট আছি।
JER 42:3 আপনি প্রার্থনা করুন যেন, আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের বলে দেন, আমরা কোথায় যাব ও আমরা কী করব?”
JER 42:4 ভাববাদী যিরমিয় উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের কথা শুনেছি। তোমরা যেমন অনুরোধ করেছ, আমি নিশ্চয়ই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করব। সদাপ্রভু আমাকে যা বলেন, সে সমস্তই আমি তোমাদের বলব এবং তোমাদের কাছ থেকে কিছুই গোপন রাখব না।”
JER 42:5 তারপর তারা যিরমিয়কে বলল, “সদাপ্রভুই একজন প্রকৃত ও বিশ্বস্ত সাক্ষীস্বরূপ হন, যদি আমরা সেইমতো কাজ না করি, আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদের বলার জন্য আপনাকে প্রেরণ করেন।
JER 42:6 তা আমাদের অনুকূলে হোক বা না হোক, আমরা আমাদের সেই ঈশ্বর, সদাপ্রভুর আদেশ পালন করব, যাঁর কাছে আমরা আপনাকে প্রেরণ করছি, যেন তা আমাদের পক্ষে মঙ্গলস্বরূপ হয়, কারণ আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথা অবশ্যই পালন করব।”
JER 42:7 দশদিন পরে, সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল।
JER 42:8 তাই তিনি কারেহের পুত্র যোহানন, তার সঙ্গী সমস্ত সৈন্যাধ্যক্ষ ও ক্ষুদ্র ও মহান নির্বিশেষে সব লোককে ডেকে পাঠালেন।
JER 42:9 তিনি তাদের বললেন, “সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, যাঁর কাছে তোমাদের নিবেদন রাখতে তোমরা আমাকে পাঠিয়েছিলে, তিনি এই কথা বলেন,
JER 42:10 ‘তোমরা যদি এই দেশে থেকে যাও, আমি তোমাদের গড়ে তুলব, ভেঙে ফেলব না; আমি তোমাদের রোপণ করব, উৎপাটন করব না, কারণ আমি তোমাদের উপরে যে বিপর্যয় এনেছিলাম, তার জন্য আমি দুঃখ পেয়েছি।
JER 42:11 তোমরা এখন যাকে ভয় পাও, সেই ব্যাবিলনের রাজাকে ভয় পেয়ো না। সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা তাকে ভয় পেয়ো না, কারণ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। আমি তোমাদের রক্ষা করব ও তার হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করব।
JER 42:12 আমি তোমাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করব তাই সে তোমাদের প্রতি করুণা করবে এবং তোমাদের দেশে আবার তোমাদের নিয়ে বসাবে।’
JER 42:13 “কিন্তু, যদি তোমরা বলো, ‘আমরা এই দেশে অবস্থান করব না,’ আর এভাবে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথার অবাধ্য হও,
JER 42:14 আর যদি তোমরা বলো, ‘না, আমরা গিয়ে মিশরে বসবাস করব, যেখানে আমরা যুদ্ধ দেখতে পাব না বা তূরীর শব্দ শুনব না বা রুটির জন্য ক্ষুধার্ত হব না,’
JER 42:15 তাহলে যিহূদার অবশিষ্ট লোকেরা, তোমরা সদাপ্রভুর কথা শোনো। বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, ‘তোমরা যদি মিশরে যাওয়ার জন্য দৃঢ়সংকল্প হও আর সেখানে গিয়ে বসবাস করো,
JER 42:16 তাহলে যে তরোয়ালকে তোমরা ভয় করছ, সেই তরোয়াল সেখানে তোমাদের নাগাল পাবে। আর যে দুর্ভিক্ষের জন্য তোমরা আতঙ্কগ্রস্ত, তা মিশরে তোমাদের পিছু নেবে, আর সেখানে তোমরা মারা যাবে।
JER 42:17 বস্তুত, যারাই মিশরে গিয়ে বসবাস করার জন্য দৃঢ়সংকল্প, তারা তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দ্বারা মৃত্যুবরণ করবে। তাদের মধ্যে একজনও বেঁচে থাকবে না বা তাদের উপরে আমি যে বিপর্যয় আনয়ন করব, তা তারা এড়াতে পারবে না।’
JER 42:18 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, ‘আমার রোষ ও ক্রোধ যেমন জেরুশালেম নিবাসীদের উপরে আমি ঢেলে দিয়েছিলাম, তেমনই, যখন তোমরা মিশরে যাবে, তোমাদের উপরে আমি আমার ক্রোধ ঢেলে দেব। তোমরা অভিশাপ ও বিভীষিকার পাত্র হবে, তোমরা হবে মৃত্যুদণ্ডের ও দুর্নামের পাত্র। তোমরা এই স্থান আর কখনও দেখতে পাবে না।’
JER 42:19 “হে যিহূদার অবশিষ্ট লোকেরা, সদাপ্রভু তোমাদের বলেছেন, ‘তোমরা মিশরে যেয়ো না।’ এই বিষয়ে নিশ্চিত হও, আমি তোমাদের আজ সাবধান করে দিই,
JER 42:20 তোমরা আমাকে তোমাদের ঈশ্বর, সদাপ্রভুর কাছে পাঠিয়ে এক সাংঘাতিক ভুল করেছিলে। তোমরা বলেছিলে, ‘আপনি আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি যা বলেন, আমাদের কাছে বলুন, আমরা সেসবই পালন করব।’
JER 42:21 আমি আজ তা তোমাদের বলে দিয়েছি, কিন্তু তোমরা তবুও সেইসব কথা পালন করছ না, যা সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের কাছে বলার জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।
JER 42:22 সেই কারণে, এখন এই বিষয়ে নিশ্চিত হও, তোমরা যেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাও, সেখানে তোমরা তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করবে।”
JER 43:1 যিরমিয় যখন তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সব কথা বলা শেষ করলেন, সেই সকল কথা, যা সদাপ্রভু তাদের কাছে বলার জন্য তাঁকে পাঠিয়েছিলেন,
JER 43:2 তখন হোশয়িয়ের পুত্র অসরিয় ও কারেহের পুত্র যোহানন অন্য সব উদ্ধত মানুষের সঙ্গে যিরমিয়কে বলল, “আপনি মিথ্যা কথা বলছেন! আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনাকে এই কথা বলার জন্য পাঠাননি যে, ‘অবশ্যই তোমরা মিশরে গিয়ে বসবাস করার জন্য যাবে না।’
JER 43:3 কিন্তু নেরিয়ের পুত্র বারূক আমাদের বিরুদ্ধে আপনাকে প্ররোচনা দিচ্ছে, ব্যাবিলনীয়দের হাতে আমাদের সমর্পণ করার জন্য, যেন তারা আমাদের হত্যা করে বা ব্যাবিলনে নির্বাসিত করে।”
JER 43:4 তাই কারেহের পুত্র যোহানন, অন্য সব সৈন্যাধ্যক্ষ ও লোকেরা যিহূদা প্রদেশে থেকে যাওয়ার জন্য সদাপ্রভুর যে আদেশ, তা অগ্রাহ্য করল।
JER 43:5 পরিবর্তে, কারেহের পুত্র যোহানন ও সমস্ত সৈন্যাধ্যক্ষ যিহূদার অবশিষ্ট লোকেদের মিশরের পথে চালিত করল, যারা বিভিন্ন স্থানে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল, কিন্তু যিহূদা প্রদেশে বসবাস করার জন্য এসেছিল।
JER 43:6 তারা সমস্ত পুরুষ, নারী ও ছেলেমেয়েদের এবং রাজকন্যাদের নিয়ে গেল, যাদের রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন শাফনের পুত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়ের হাতে সমর্পণ করেছিল। সেই সঙ্গে তারা ভাববাদী যিরমিয় ও নেরিয়ের পুত্র বারূককেও সঙ্গে নিয়ে গেল।
JER 43:7 এভাবে তারা সদাপ্রভুর বাক্যের প্রতি অবাধ্য হয়ে মিশরে প্রবেশ করল এবং তফন্‌হেষ পর্যন্ত গেল।
JER 43:8 তফন্‌হেষে সদাপ্রভুর বাক্য যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল,
JER 43:9 “তুমি ইহুদিদের চক্ষুগোচরে কতগুলি বড়ো বড়ো পাথর সঙ্গে নাও এবং তফন্‌হেষে ফরৌণের প্রাসাদের প্রবেশপথে যে ইট বাঁধানো পায়ে চলার পথ আছে, সেখানে মাটির নিচে সেগুলি পুঁতে রাখো।
JER 43:10 তারপর তাদের বলো, ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, আমি আমার দাস, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারকে ডেকে পাঠাব। আর যে সমস্ত পাথর আমি এখানে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছি, সেগুলির উপরে তার সিংহাসন স্থাপন করব। সেগুলির উপরে সে তার রাজকীয় চন্দ্রাতপ বিস্তার করবে।
JER 43:11 সে এসে মিশর আক্রমণ করবে। যারা মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত, তাদের মৃত্যু হবে, যারা বন্দিত্বের জন্য নির্ধারিত, তারা বন্দি হবে এবং যারা তরোয়ালের আঘাতের জন্য নির্ধারিত, তারা তরোয়ালের আঘাতে মরবে।
JER 43:12 সে মিশরের সব দেবদেবীর মন্দিরে আগুন লাগাবে। সে তাদের মন্দিরগুলি অগ্নিদগ্ধ করবে এবং তাদের দেবমূর্তিগুলি লুট করে নিয়ে যাবে। যেভাবে মেষপালক তার শরীরের চারপাশে কাপড় জড়ায়, সেভাবেই সে মিশরকে তার চারপাশে জড়াবে ও অক্ষত এখান থেকে প্রস্থান করবে।
JER 43:13 সেখানে মিশরের সূর্যমন্দিরে সে পবিত্র স্তম্ভগুলি ভেঙে ফেলবে এবং মিশরের সব দেবদেবীর মন্দিরগুলি পুড়িয়ে ফেলবে।’ ”
JER 44:1 সদাপ্রভুর বাক্য সেইসব ইহুদির উদ্দেশে যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল, যারা উত্তর মিশরের নিম্নাঞ্চলে মিগ্‌দোল, তফন্‌হেষ ও মেম্ফিসে এবং দক্ষিণ মিশরের উচ্চতর স্থানগুলিতে বসবাস করত।
JER 44:2 “বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন, জেরুশালেমে ও যিহূদার সব নগরে আমি যে বিপর্যয় নিয়ে এসেছিলাম, তা তোমরা দেখেছ। সেগুলি আজও জনমানবহীন ও ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে।
JER 44:3 তারা যে সমস্ত অন্যায় করেছিল, সেগুলির কারণেই এরকম হয়েছে। তারা অন্যান্য দেবদেবীর উদ্দেশে ধূপদাহ করে তাদের উপাসনা করেছিল, যাদের কথা তোমরা বা তোমাদের পিতৃপুরুষেরা কেউই কখনও জানত না।
JER 44:4 বারবার আমি তাদের কাছে আমার দাস ভাববাদীদের পাঠিয়েছি, যারা বলত, ‘আমি যা ঘৃণা করি, তোমরা সেইসব ঘৃণ্য কর্ম কোরো না!’
JER 44:5 কিন্তু তারা সেই কথা শোনেনি, তাতে মনোযোগও দেয়নি। তারা নিজেদের দুষ্টতার আচরণ থেকে বিমুখ হয়নি বা অন্য সব দেবদেবীর কাছে ধূপদাহ করতেও নিবৃত্ত হয়নি।
JER 44:6 সেই কারণে আমার প্রচণ্ড ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে, যা যিহূদার নগরগুলি ও জেরুশালেমের পথে পথে প্রজ্বলিত হয়েছিল। আর সেগুলি এখন যেমন আছে, তেমনই পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ হয়ে রয়েছে।
JER 44:7 “এখন, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন, তোমরা কেন তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় ঘটতে দিচ্ছ? এরকম করলে তো তোমরা স্ত্রী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে ও দুগ্ধপোষ্য শিশুসমেত সবাইকেই যিহূদার মধ্য থেকে এমনভাবে উচ্ছিন্ন করবে যে, তোমাদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
JER 44:8 কেন তোমরা তোমাদের হাতে তৈরি বিগ্রহগুলির জন্য আমার ক্রোধ উদ্রেক করছ? যে মিশরে তোমরা বসবাসের জন্য এসেছ, সেখানে কেন অন্য সব দেবদেবীর উদ্দেশে ধূপদাহ করছ? তোমরা নিজেদের ধ্বংস করবে এবং পৃথিবীর সব জাতির কাছে নিজেদের এক অভিশাপ ও দুর্নামের পাত্র করবে।
JER 44:9 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা যে দুষ্টতার কাজগুলি করেছিল, যিহূদার রাজা ও রানিরা এবং দুষ্টতার যে কাজগুলি তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা যিহূদায় ও জেরুশালেমের পথে পথে করেছিলে, সেগুলি কি তোমরা ভুলে গিয়েছ?
JER 44:10 আজও পর্যন্ত তারা নিজেদের নতনম্র করেনি বা ভয়ও করেনি। তারা আমার বিধান ও তোমাদের সামনে আমি যে বিধিনিয়ম তোমাদের ও তোমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে স্থাপন করেছিলাম, তা তারা পালন করেনি।
JER 44:11 “সেই কারণে, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন, আমি তোমাদের উপরে বিপর্যয় এনে সমস্ত যিহূদাকে ধ্বংস করার জন্য মনস্থির করেছি।
JER 44:12 যারা মিশরে গিয়ে বসবাস করার জন্য দৃঢ়সংকল্প হয়েছিল, আমি তাদের অপসারিত করব। তারা সবাই মিশরে বিনষ্ট হবে। তারা তরোয়ালের আঘাতে অথবা দুর্ভিক্ষে মৃত্যুবরণ করবে। ক্ষুদ্র-মহান নির্বিশেষে, তারা তরোয়ালের আঘাতে অথবা দুর্ভিক্ষে মারা যাবে। তারা অভিশাপ ও বিভীষিকার, বিনাশ ও দুর্নামের পাত্রস্বরূপ হবে।
JER 44:13 আমি যেভাবে জেরুশালেমকে শাস্তি দিয়েছিলাম, তেমনই যারা মিশরে বসবাস করবে, তাদের তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারির আঘাতে শাস্তি দেব।
JER 44:14 যিহূদার অবশিষ্ট লোকেরা, যারা মিশরে বসবাস করার জন্য গিয়েছে, তারা কেউই যিহূদার দেশে, যে দেশে তারা ফিরে আসতে ও বসবাস করতে চায়, সেই দেশে ফিরে আসার জন্য শাস্তি এড়াতে বা বেঁচে থাকতে পারবে না। কয়েকজন পলাতক ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই ফিরে আসতে পারবে না।”
JER 44:15 তখন যে সকল পুরুষ জানত যে, তাদের স্ত্রীরা অন্য দেবদেবীর উদ্দেশ্যে ধূপদাহ করেছে, সেখানে উপস্থিত অন্য স্ত্রীলোকদের সঙ্গে, নিম্নতর ও উচ্চতর মিশরে বসবাসকারী সব মানুষ, এক বিশাল জনতা যিরমিয়কে বলল,
JER 44:16 “আপনি সদাপ্রভুর নামে আমাদের কাছে যে কথা বলেছেন, আমরা সেকথা শুনব না।
JER 44:17 আমরা যা বলেছি, সেসবই নিশ্চিতরূপে করব। আমরা আকাশ-রানির উদ্দেশ্যে ধূপদাহ করব এবং তার উদ্দেশ্যে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করব, ঠিক যেভাবে আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা, আমাদের রাজারা ও আমাদের রাজকর্মচারীরা যিহূদার নগরগুলিতে ও জেরুশালেমের পথে পথে করতাম। সেই সময় আমাদের কাছে প্রচুর খাদ্যদ্রব্য ছিল। আমাদের অবস্থাও বেশ ভালো ছিল এবং আমরা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হইনি।
JER 44:18 কিন্তু যখন থেকে আমরা আকাশ-রানির উদ্দেশে ধূপদাহ ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করা বন্ধ করেছি, তখন থেকে আমাদের সব বস্তুর অভাব হচ্ছে এবং আমরা তরোয়ালের আঘাতে ও দুর্ভিক্ষের কারণে ধ্বংস হচ্ছি।”
JER 44:19 সেই স্ত্রীলোকেরা আরও বলল, “যখন আমরা আকাশ-রানির উদ্দেশে ধূপদাহ ও তার উদ্দেশে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করতাম, আমাদের স্বামীরা কি জানতেন না যে আমরা আকাশ-রানির প্রতিকৃতিতে পিঠে তৈরি করতাম ও তার উদ্দেশ্যে পানীয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করতাম?”
JER 44:20 তখন যিরমিয়, যারা তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেছিল, সেই স্ত্রী ও পুরুষ সকলের উদ্দেশে বললেন,
JER 44:21 “সদাপ্রভু কি স্মরণ করেননি এবং সেই বিষয়ে চিন্তা করেননি, যে তোমরা, তোমাদের পিতৃপুরুষেরা, তোমাদের রাজারা ও তোমাদের রাজকর্মচারীরা ও দেশের অন্যান্য সমস্ত লোক যিহূদার নগরগুলিতে ও জেরুশালেমের পথে পথে ধূপদাহ করতে?
JER 44:22 সদাপ্রভু যখন তোমাদের দুষ্টতার ক্রিয়াকলাপ ও তোমাদের ঘৃণ্য সব কাজকর্ম সহ্য করতে পারলেন না, তখন তোমাদের দেশ এক অভিশাপের পাত্র ও জনমানবহীন পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হল, যেমন তা আজও আছে।
JER 44:23 যেহেতু তোমরা বিভিন্ন দেবদেবীর উদ্দেশে ধূপদাহ করে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছ এবং তাঁর কথা শোনোনি বা তাঁর বিধান, বিধিনিয়ম বা তাঁর বিধিনিষেধ মান্য করোনি, এই বিপর্যয় তোমাদের উপরে নেমে এসেছে, যেমন আজ তোমরা দেখতে পাচ্ছ।”
JER 44:24 তারপর যিরমিয় সব পুরুষ এবং সব স্ত্রীলোকদের বললেন, “মিশরে বসবাসকারী যিহূদার লোকেরা, তোমরা সবাই সদাপ্রভুর এই বাক্য শোনো।
JER 44:25 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন, তোমরা ও তোমাদের স্ত্রীরা এই বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, ‘আমরা নিশ্চয়ই আকাশ-রানির উদ্দেশ্যে ধূপদাহ ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার শপথ পূর্ণ করব, তা তোমাদের কাজের মধ্য দিয়ে তোমরা দেখিয়েছ।’ “এখন তাহলে যাও, তোমাদের প্রতিজ্ঞা অনুসারে কাজ করো! তোমাদের শপথ পূর্ণ করো!
JER 44:26 কিন্তু মিশরে বসবাসকারী সমস্ত ইহুদি সদাপ্রভুর এই বাক্য শোনো: সদাপ্রভু বলেন, ‘আমি আমারই মহৎ নামের শপথ করে বলছি, মিশরের মধ্যে বসবাসকারী কোনও ইহুদি আমার নাম নিয়ে শপথ করে আর বলবে না, “জীবন্ত সার্বভৌম সদাপ্রভুর দিব্যি।”
JER 44:27 কারণ তাদের ক্ষতিসাধনের জন্য আমি তাদের উপরে দৃষ্টি রেখেছি, তাদের মঙ্গলের জন্য নয়। মিশরে স্থিত ইহুদিরা তরোয়াল ও দুর্ভিক্ষে বিনষ্ট হবে, যতক্ষণ না তাদের সবাই ধ্বংস হয়।
JER 44:28 যারা তরোয়ালের আঘাত এড়িয়ে মিশর থেকে যিহূদার দেশে ফিরে আসবে, তারা সংখ্যায় অতি অল্পই হবে। তখন যিহূদার অবশিষ্ট সকলে যারা মিশরে বসবাস করার জন্য এসেছে, জানতে পারবে, কার কথা ঠিক থাকবে, আমার না তাদের।’
JER 44:29 “সদাপ্রভু বলেন, ‘আমি তোমাদের এই স্থানে শাস্তি দেব, তার চিহ্ন এরকম হবে, যেন তোমরা জানতে পারো যে তোমাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিসাধনের জন্য আমার ভীতিপ্রদর্শন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।’
JER 44:30 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আমি মিশরের রাজা ফরৌণ-হফ্রাকে, যারা তার প্রাণনাশ করতে চায়, তার সেই শত্রুদের হাতে সমর্পণ করতে চলেছি, যেমন আমি যিহূদার রাজা সিদিকিয়কে, তার শত্রু ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের হাতে সমর্পণ করেছিলাম, যে তার প্রাণনাশ করতে চেয়েছিল।’ ”
JER 45:1 যোশিয়ের পুত্র যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, যখন নেরিয়ের পুত্র বারূক এসব কথা যিরমিয়ের কাছে শুনে পুঁথিতে লিখলেন, তখন ভাববাদী যিরমিয় বারূককে এই কথা বললেন:
JER 45:2 “বারূক, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তোমাকে এই কথা বলেন:
JER 45:3 তুমি বলেছ, ‘ধিক্ আমাকে! সদাপ্রভু আমার মর্মবেদনার সঙ্গে দুঃখও যুক্ত করেছেন। আমি আর্তনাদ করতে করতে নিঃশেষিত হলাম, আমি কোনো বিশ্রাম পাই না।’
JER 45:4 সদাপ্রভু আমাকে বলেছেন, তুমি তাকে এই কথা বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি সমস্ত দেশে যা নির্মাণ করেছি, তা উৎপাটন করব এবং যা রোপণ করেছি, তা উপড়ে ফেলব।
JER 45:5 তাহলে তুমি কি নিজের জন্য মহৎ সব বিষয়ের চেষ্টা করবে? সেগুলির অন্বেষণ কোরো না। কারণ আমি সব লোকের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসব, একথা সদাপ্রভু বলেন। কিন্তু তুমি যেখানেই যাবে, সেখানে তোমার প্রাণ বাঁচাতে আমি তোমাকে সাহায্য করব।’ ”
JER 46:1 বিভিন্ন জাতি সম্পর্কে সদাপ্রভুর এই বাক্য, ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল:
JER 46:2 মিশর সম্পর্কে: যোশিয়ের পুত্র যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার, মিশরের রাজা ফরৌণ নখোর যে সৈন্যদলকে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে কর্কমীশে পরাস্ত করেন, তাদের সম্পর্কে এই বাক্য,
JER 46:3 “বড়ো বা ছোটো, তোমাদের ঢালগুলি প্রস্তুত করো ও সমরাভিযানে বের হও!
JER 46:4 অশ্বগুলিকে সজ্জিত করো, যুদ্ধাশ্বে আরোহণ করো! শিরস্ত্রাণ পরে তোমরা অবস্থান নাও! তোমাদের বর্শাগুলি ঝকঝকে করো, সব রণসাজ পরে নাও!
JER 46:5 আমি কী দেখতে পাচ্ছি? তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে, তারা পিছনে অপসারণ করছে, তাদের বীর যোদ্ধারা পরাস্ত হয়েছে। পিছন দিকে না ফিরে তারা দ্রুত পলায়ন করে, তাদের চারদিকে কেবলই ভয়ের পরিবেশ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 46:6 “দ্রুতগামী লোক পলায়ন করতে পারছে না, শক্তিশালী লোকেরাও নিষ্কৃতি পাচ্ছে না। উত্তর দিকে, ইউফ্রেটিস নদীর তীরে, তারা হোঁচট খেয়ে পতিত হচ্ছে।
JER 46:7 “নীলনদের মতো, নদীর উপচে পড়া জলরাশির মতো, ওই যে উঠে আসছে, ও কে?
JER 46:8 মিশর নীলনদের মতো উঠে আসছে, যেমন নদীগুলিতে জলরাশি ফেঁপে ওঠে। সে বলছে, ‘আমি উঠে সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করব, আমি লোকসমেত সব নগর ধ্বংস করব।’
JER 46:9 হে অশ্বেরা, তোমরা আক্রমণ করো! ওহে রথারোহীরা, তোমরা উন্মত্তের মতো রথ চালাও! হে যোদ্ধারা, তোমরা সমরাভিযান করো, কূশ ও পূটের লোকেরা, যারা ঢাল বহন করে, লূদের লোকেরা, যারা ধনুকে শরসন্ধান করে।
JER 46:10 কিন্তু সেদিনটি হল প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভুর, এক প্রতিশোধের দিন, তাঁর শত্রুদের উপরে প্রতিশোধ নেওয়ার দিন। তরোয়াল তৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্রাস করে যাবে, যতক্ষণ না রক্তে তার পিপাসা নিবারিত হয়। কারণ প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, উত্তরের দেশে, ইউফ্রেটিস নদীর তীরে, বলি উৎসর্গ করবেন।
JER 46:11 “হে মিশরের কুমারী-কন্যা, তুমি গিলিয়দে গিয়ে মলম নিয়ে এসো। কিন্তু তুমি বৃথাই অনেক ওষুধ ব্যবহার করছ, তোমার রোগের কোনো প্রতিকার নেই।
JER 46:12 জাতিগণ তোমার লজ্জার কথা শুনবে; তোমার কান্নায় পৃথিবী পূর্ণ হবে। এক যোদ্ধা অন্য যোদ্ধার উপরে পড়বে, তারা উভয়েই একসঙ্গে পতিত হবে।”
JER 46:13 মিশরকে আক্রমণ করার জন্য ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের আগমন সম্পর্কে, সদাপ্রভু ভাববাদী যিরমিয়কে এই বার্তা দিলেন:
JER 46:14 “তোমরা মিশরে ঘোষণা করো, মিগ্‌দোলে একথা প্রচার করো; মেম্ফিস ও তফন্‌হেষেও একথা গিয়ে বলো: ‘তোমরা নিজেদের অবস্থান নাও ও প্রস্তুত হও, কারণ তরোয়াল তোমাদের চারপাশের সবাইকে গ্রাস করবে।’
JER 46:15 কেন তোমার যোদ্ধারা ভূপাতিত হবে? তারা দাঁড়াতে পারে না, কারণ সদাপ্রভু তাদের মাটিতে ফেলে দেবেন।
JER 46:16 তারা বারবার হোঁচট খাবে; তারা পরস্পরের উপরে গিয়ে পড়বে। তারা বলবে, ‘ওঠো, চলো আমরা ফিরে যাই, স্বদেশে, আমাদের আপনজনদের কাছে, অত্যাচারীদের তরোয়াল থেকে অনেক দূরে।’
JER 46:17 সেখানে তারা চিৎকার করে বলবে, ‘মিশরের রাজা ফরৌণ এক উচ্চশব্দ মাত্র; সে তার সুযোগ হারিয়েছে।’
JER 46:18 “আমার জীবনের দিব্যি,” রাজা ঘোষণা করেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু, “একজন আসবেন, যিনি পর্বতগুলির মধ্যে তাবোরের তুল্য, সমুদ্রতীরের কর্মিল পাহাড়ের মতো।
JER 46:19 তোমরা যারা মিশরে বসবাস করো, নির্বাসনের জন্য তোমাদের জিনিসপত্র তুলে নাও, কারণ মেম্ফিস নগরী পরিত্যক্ত হবে, নিবাসীহীন ধ্বংসস্তূপ হয়ে পড়ে থাকবে।
JER 46:20 “মিশর এক সুন্দরী বকনা-বাছুর, কিন্তু উত্তর দিক থেকে তার বিরুদ্ধে এক ডাঁশ-মাছি আসছে।
JER 46:21 তার সৈন্যশ্রেণীরা বেতনভোগী, তারা সব নধর বাছুরের মতো। তারাও পিছন ফিরে একসঙ্গে পালাবে, তারা তাদের স্থানে স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ বিপর্যয়ের দিন তাদের উপরে নেমে আসছে, সেই সময়টি হল তাদের শাস্তি পাওয়ার।
JER 46:22 মিশর পালিয়ে যাওয়া সাপের মতো হিস্‌হিস্ করবে, যেভাবে সৈন্যদল সামনের দিকে এগিয়ে যায়; তারা কুড়ুল নিয়ে তার বিরুদ্ধে আসবে, যেমন লোকেরা গাছপালা কেটে নেয়।
JER 46:23 তারা তার অরণ্য কেটে ফেলবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তা যতই গহন হোক না কেন। তারা পঙ্গপাল অপেক্ষাও বহুসংখ্যক, যাদের সংখ্যা গণনা করা যায় না।
JER 46:24 মিশর-কন্যাকে লজ্জা দেওয়া হবে, উত্তরের লোকদের হাতে সে সমর্পিত হবে।”
JER 46:25 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন: “আমি শাস্তি দিতে চলেছি থিব্‌স-নগরের আমোন-দেবের উপরে, ফরৌণের উপরে, মিশরের উপরে ও তার দেবদেবী ও রাজাদের উপরে, এবং তাদের উপরে, যারা মিশরের উপরে নির্ভর করে।
JER 46:26 যারা তাদের প্রাণ হরণ করতে চায়, আমি তাদের হাতে তাদের সমর্পণ করব। তারা হল ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার ও তার সৈন্যেরা। পরবর্তী সময়ে, মিশর অবশ্য লোক অধ্যূষিত হবে, যেমন তারা পূর্বে ছিল,” একথা সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
JER 46:27 “আমার দাস যাকোব, তোমরা ভয় কোরো না; ও ইস্রায়েল, তোমরা নিরাশ হোয়ো না। আমি নিশ্চয়ই তোমাকে দূরবর্তী দেশ থেকে রক্ষা করব, তোমার বংশধরদের নির্বাসনের দেশ থেকে উদ্ধার করব। যাকোব পুনরায় শান্তি ও সুরক্ষা লাভ করবে, আর কেউ তাকে ভয় দেখাতে পারবে না।
JER 46:28 হে যাকোব, আমার দাস, তুমি ভয় কোরো না, কারণ আমি তোমার সঙ্গে আছি,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “যাদের মধ্যে আমি তোমাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম, সেই অন্য সব জাতিকে যদিও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করি, আমি তোমাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব না। আমি কেবলমাত্র বিচার করে তোমাকে শাস্তি দেব, আমি কোনোমতেই তোমাকে অদণ্ডিত রাখব না।”
JER 47:1 ফরৌণ গাজা আক্রমণ করার পূর্বে, ফিলিস্তিনীদের সম্পর্কে ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে সদাপ্রভুর এই বাক্য উপস্থিত হল:
JER 47:2 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “দেখো, উত্তর দিকের জলরাশি কেমন ফেঁপে উঠছে; তা এক উপচে পড়া স্রোতে পরিণত হবে। তা সেই দেশ, তার নগরগুলি ও সেগুলির মধ্যে বসবাসকারী সব কিছুকেই প্লাবিত করবে। লোকেরা চিৎকার করে উঠবে, দেশে বসবাসকারী সকলেই বিলাপ করবে
JER 47:3 দ্রুততম গতিতে ছুটে আসা অশ্বদের খুরের শব্দে, শত্রুপক্ষের রথসমূহের কোলাহলে ও তাদের চাকাগুলির ঘরঘরানিতে। বাবারা তাদের সন্তানদের সাহায্য করতে ফিরে আসবে না, তাদের হাতগুলি অবশ হয়ে ঝুলে থাকবে।
JER 47:4 কারণ সব ফিলিস্তিনীকে ধ্বংস করার, যারা সোর ও সীদোনের সাহায্য করত, সেই সমস্ত অবশিষ্ট লোককে উচ্ছিন্ন করার দিন, এসে পড়েছে। সদাপ্রভু ফিলিস্তিনীদের ধ্বংস করতে চলেছেন, কপ্তোরের উপকূল থেকে আসা অবশিষ্টদের তিনি ধ্বংস করবেন।
JER 47:5 গাজা বিলাপ করে তার মস্তক মুণ্ডন করবে; অস্কিলোন নীরব হবে। হে সমতলভূমির অবশিষ্ট লোকেরা, তোমরা কত কাল নিজেদের শরীর কাটাকুটি করবে?
JER 47:6 “ ‘আহ্, সদাপ্রভুর তরোয়াল, আর কত কাল পরে তুমি ক্ষান্ত হবে? তুমি নিজের কোষে প্রবেশ করো, নিবৃত্ত হও ও শান্ত হও।’
JER 47:7 কিন্তু তা কেমন করে ক্ষান্ত হবে, যখন সদাপ্রভু তাকে আদেশ দিয়েছেন? যখন তাঁর আদেশ নির্গত হয়েছে অস্কিলোন ও উপকূল এলাকা আক্রমণ করার?”
JER 48:1 মোয়াব সম্পর্কে: বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা বলেন: “ধিক্ নেবোকে, কারণ তা ধ্বংস হবে। কিরিয়াথয়িম অপমানিত ও পরহস্তগত হবে; সেই দুর্গ অবনমিত ও ভেঙে ফেলা হবে।
JER 48:2 মোয়াবের আর প্রশংসা করা হবে না; হিষ্‌বোনে লোকেরা তার পতনের ষড়যন্ত্র করবে: ‘এসো, আমরা ওই জাতিকে শেষ করে দিই।’ ম্যাদমেন, তোমারও মুখ বন্ধ করা হবে; তরোয়াল তোমার পশ্চাদ্ধাবন করবে।
JER 48:3 হোরোণয়িম থেকে কান্নার শব্দ শোনো, সর্বনাশ ও মহাবিনাশের কান্না।
JER 48:4 মোয়াবকে ভেঙে ফেলা হবে; তার ছোটো শিশুরা কেঁদে উঠবে।
JER 48:5 তারা লূহীতের আরোহণ পথে উঠে যায়, ওঠার সময় তারা তীব্র রোদন করে; হোরোণয়িমের নেমে যাওয়ার পথে বিনাশের জন্য মনস্তাপের কান্না শোনা যাচ্ছে।
JER 48:6 তোমরা পালাও! তোমাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াও; তোমরা প্রান্তরের ঝোপঝাড়ের মতো হও।
JER 48:7 তোমাদের নির্ভরতা ছিল তোমাদের কৃতকর্ম ও ঐশ্বর্যের উপর, তোমাদেরও বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হবে, কমোশ-দেবতা নির্বাসনে যাবে তার পুরোহিত ও কর্মকর্তা সমেত।
JER 48:8 বিনাশক সব নগরের বিরুদ্ধে আসবে, কোনো নগরই রক্ষা পাবে না, তলভূমি বিনষ্ট হবে এবং সমভূমি উচ্ছিন্ন হবে, কারণ সদাপ্রভু এই কথা বলেছেন।
JER 48:9 মোয়াবের ভূমিতে লবণ ছড়িয়ে দাও, কারণ সে পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে; তার নগরগুলি হবে জনমানবহীন, আর কেউই তার মধ্যে বসবাস করবে না।
JER 48:10 “অভিশপ্ত হোক সেই মানুষ, যে শিথিলভাবে সদাপ্রভুর কাজ করে! অভিশপ্ত হোক সেই জন, যে তার তরোয়ালকে রক্তপাত করতে না দেয়!
JER 48:11 “মোয়াব তার যৌবনকাল থেকে বিশ্রাম ভোগ করেছে, যেভাবে দ্রাক্ষারস তার তলানির উপরে স্থির থাকে, যখন এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে তা ঢালা হয় না, সে কখনও নির্বাসনে যায়নি। তাই তার স্বাদ পূর্বের মতোই থেকে গেছে, তার সুগন্ধের পরিবর্তন হয়নি।”
JER 48:12 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “কিন্তু সেদিন আসন্ন, আমি তাদের প্রেরণ করব, যারা পাত্র থেকে ঢেলে দেয়, আর তারা তাকে ঢেলে দেবে; তারা তার পাত্রগুলি খালি করবে ও ঢালবার জগগুলি চুরমার করবে।
JER 48:13 তখন মোয়াব কমোশ-দেবতার জন্য লজ্জিত হবে, যেমন ইস্রায়েলের কুল লজ্জিত হয়েছিল যখন তারা বেথেলে স্থাপিত দেবতায় নির্ভর করেছিল।
JER 48:14 “তোমরা কেমন করে বলতে পারো, ‘আমরা যোদ্ধা, যুদ্ধে আমরা বীরত্ব দেখিয়েছি’?
JER 48:15 মোয়াব ধ্বংস করা হবে ও তার নগরগুলি আক্রান্ত হবে; তাদের সেরা যুবকেরা বধ্যস্থানে নেমে যাবে,” রাজা এই কথা বলেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু।
JER 48:16 “মোয়াবের পতন এসে পড়েছে; দ্রুত এসে পড়বে তার দুর্যোগ।
JER 48:17 তার চারপাশে থাকা লোকেরা, যারা তার খ্যাতির কথা জানো, তোমরা সবাই মোয়াবের জন্য বিলাপ করো। বলো, ‘পরাক্রমী রাজদণ্ড কেমন ভেঙে গেছে, সেই মহিমাময় কর্তৃত্ব কেমন ভেঙে পড়েছে!’
JER 48:18 “দীবোন-কন্যার অধিবাসীরা, তোমরা মহিমার আসন থেকে নেমে এসো ও শুকনো মাটির উপরে বসে পড়ো, কারণ যিনি মোয়াবকে ধ্বংস করেন, তিনি তোমাদের বিরুদ্ধে আসবেন ও তোমাদের সুরক্ষিত নগরগুলি ধ্বংস করবেন।
JER 48:19 তোমরা, যারা অরোয়েরে বসবাস করো, তোমরা রাস্তায় এসে দাঁড়াও ও দেখো। পলায়মান পুরুষ ও পলাতক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করো, তাদের কাছে জানতে চাও, ‘কী হয়েছে?’
JER 48:20 মোয়াব অপমানিত হয়েছে, কারণ সে ভেঙে পড়েছে। তোমরা বিলাপ করো ও কান্নায় ভেঙে পড়ো! অর্ণোন নদীর তীরে ঘোষণা করো, মোয়াব ধ্বংস হয়েছে।
JER 48:21 সমভূমিতে বিচারদণ্ড এসে গেছে— হোলন, যহস ও মেফাতে,
JER 48:22 দীবোন, নেবো ও বেথ-দিব্লাথয়িমে,
JER 48:23 কিরিয়াথয়িম, বেথ-গামূল ও বেথ-মিয়োনে,
JER 48:24 করিয়োৎ ও বস্রায়— দূরে ও নিকটে, মোয়াবের সব নগরে।
JER 48:25 মোয়াবের শৃঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে; তার হাত ভেঙে গেছে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 48:26 “তাকে মত্ত করো, কারণ সে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বড়াই করেছে। মোয়াব তার বমিতে গড়াগড়ি দিক, সে সকলের বিদ্রুপের পাত্র হোক।
JER 48:27 ইস্রায়েল কি তোমার বিদ্রুপের পাত্র ছিল না? সে কি চোরদের মধ্যে ধরা পড়েছিল যে নিন্দাসূচক অবজ্ঞায় তুমি মাথা নাড়িয়েছিলে, যখনই তার সম্পর্কে বলতে কোনও কথা?
JER 48:28 তোমরা যারা মোয়াবে বসবাস করো, তোমরা নগরগুলি ছেড়ে বড়ো বড়ো পাথরের মধ্যে গিয়ে থাকো। তোমরা কপোতের মতো হও, যে তার বাসা গুহার মুখে তৈরি করে।
JER 48:29 “আমরা মোয়াবের অহংকারের কথা শুনেছি, তার লাগামছাড়া দম্ভ ও কল্পনার কথা, তার অশিষ্টতা, অহংকার ও ঔদ্ধত্য এবং তার তাচ্ছিল্যপূর্ণ মনোভাবের কথা।
JER 48:30 আমি তার অশিষ্টতার কথা জানি, কিন্তু তা কিছুই নয়,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তার দর্প কোনো কাজের নয়।
JER 48:31 তাই আমি মোয়াবের জন্য বিলাপ করি, সমস্ত মোয়াবের জন্য আর্তনাদ করি, কীর্-হেরসের লোকদের জন্য কাতরোক্তি করি।
JER 48:32 ওহে সিব্‌মার দ্রাক্ষালতা সব, আমি তোমার জন্য কাঁদি, যেমন যাসের কাঁদে। তোমার শাখাগুলি তো সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত; সেগুলি যাসের সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিনাশকারীরা হামলে পড়েছে তোমার পাকা ফল ও আঙুরগুলির উপর।
JER 48:33 মোয়াবের ফলের বাগান ও মাঠ থেকে আনন্দ ও আমোদ অন্তর্হিত হয়েছে। আমি মাড়াই যন্ত্রগুলি থেকে আঙুররসের প্রবাহ বন্ধ করেছি; কেউই তা আনন্দরবের সঙ্গে মাড়াই করে না। যদিও সেখানে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়, সেগুলি কিন্তু আনন্দের ধ্বনি নয়।
JER 48:34 “তাদের কান্নার শব্দ বৃদ্ধি পাচ্ছে হিষ্‌বোন থেকে ইলিয়ালী ও যহস পর্যন্ত, সোয়র থেকে হোরোণয়িম ও ইগ্লৎ-শলিশীয়া পর্যন্ত, কারণ এমনকি, নিম্রীমের জলও শুকিয়ে গেছে।
JER 48:35 মোয়াবে যারা উঁচু স্থানগুলিতে নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, যারা তাদের দেবদেবীর উদ্দেশ্যে ধূপদাহ করে, আমি তাদের শেষ করে দেব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 48:36 “তাই আমার প্রাণ মোয়াবের জন্য বাঁশির সুরের মতো বিলাপ করে; তা কীর্-হেরসের লোকদের জন্য বাঁশির সুরের মতো বিলাপ করে। তাদের আহরিত ঐশ্বর্য শেষ হয়েছে।
JER 48:37 সবার মস্তক মুণ্ডন করা, প্রত্যেকের দাড়ি কামানো হয়েছে; প্রত্যেকের হাত অস্ত্রের আঘাতে ফালাফালা করা হয়েছে, তাদের সবার কোমরে রয়েছে শোকের কাপড় জড়ানো।
JER 48:38 মোয়াবের সমস্ত গৃহের ছাদে এবং প্রকাশ্য স্থানের চকগুলিতে, কেবলমাত্র শোকের ধ্বনি ছাড়া আর কিছু নেই, কারণ আমি মোয়াবকে ভেঙে ফেলেছি, কোনো পাত্রের মতো, যা আর কেউ চায় না,” একথা সদাপ্রভু বলেন।
JER 48:39 “সে কেমন চূর্ণ হয়েছে! তারা কেমন বিলাপ করে! মোয়াব কেমন লজ্জায় তার পিঠ ফেরায়! মোয়াব হয়েছে এক উপহাসের পাত্র, তার চারপাশের লোকদের কাছে এক বিভীষিকার মতো।”
JER 48:40 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো, মোয়াবের উপরে ডানা বিস্তার করে এক ঈগল নিচে নেমে আসছে।
JER 48:41 এর নগরগুলি অধিকৃত হবে, এর দুর্গগুলির দখল নেওয়া হবে। সেদিন মোয়াবের যোদ্ধাদের হৃদয় প্রসববেদনাগ্রস্ত নারীর মতো হবে।
JER 48:42 মোয়াব জাতিগতভাবে বিনষ্ট হবে, কারণ সে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে বড়াই করেছে।
JER 48:43 ওহে মোয়াবের জনগণ, আতঙ্ক, গর্ত ও ফাঁদ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 48:44 “আতঙ্ক থেকে যে পালায়, সে গর্তে পড়ে যাবে, যে গর্ত থেকে উঠে আসে, সে ফাঁদে ধরা পড়বে; কারণ আমি মোয়াবের উপরে তার শাস্তির বছর নিয়ে আসব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 48:45 “পলাতকেরা হিষ্‌বোনের ছায়াতলে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে, কারণ হিষ্‌বোন থেকে একটি আগুন বের হয়েছে, সীহোনের মধ্য থেকে নির্গত হয়েছে এক আগুনের শিখা; তা দগ্ধ করবে মোয়াবের কপাল ও কোলাহলকারী দাম্ভিকদের মাথার খুলি।
JER 48:46 হে মোয়াব, ধিক্ তোমাকে! কমোশ-দেবতার লোকেরা ধ্বংস হয়েছে; তোমার পুত্রেরা নির্বাসিত হয়েছে ও তোমার কন্যারা বন্দি হয়েছে।
JER 48:47 “তবুও, ভবিষ্যৎকালে আমি মোয়াবের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। মোয়াবের বিচারদণ্ডের কথা এই পর্যন্ত।
JER 49:1 অম্মোনীয়দের সম্পর্কে: সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ইস্রায়েলের কি কোনো পুত্র নেই? তার কি কোনো উত্তরাধিকারী নেই? তাহলে মোলক-দেবতা কেন গাদের এলাকা হস্তগত করেছে? কেন তার লোকেরা এর নগরগুলিতে বসবাস করে?
JER 49:2 কিন্তু সেই দিনগুলি আসছে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যখন অম্মোনীয়দের রব্বা নগরের বিরুদ্ধে আমি রণহুঙ্কার শোনাব; তা তখন এক ধ্বংসস্তূপ হবে, আর চারপাশের গ্রামগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। তখন ইস্রায়েল তাদের তাড়িয়ে দেবে, একদিন যারা তাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:3 “হে হিষ্‌বোন, বিলাপ করো, কারণ অয় নগর ধ্বংস হল! ওহে রব্বার অধিবাসীরা, তোমরা হাহাকার করো! শোকবস্ত্র পরে তোমরা শোকপ্রকাশ করো; প্রাচীরগুলির ভিতরে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করো, কারণ মোলক-দেবতা তার যাজক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাসনে যাবে।
JER 49:4 কেন তোমরা তোমাদের উপত্যকাগুলির জন্য, তোমাদের উর্বর উপত্যকাগুলির জন্য গর্ব করো? হে অবিশ্বস্ত অম্মোন কন্যা, তুমি তোমার ঐশ্বর্যে নির্ভর করে বলো, ‘কে আমাকে আক্রমণ করবে?’
JER 49:5 তোমার চারপাশে যারা আছে, তাদের কাছ থেকে আমি তোমার উপরে আতঙ্ক সৃষ্টি করব,” প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “তোমাদের সবাইকেই তাড়িয়ে দেওয়া হবে, কেউই আর পলাতকদের সংগ্রহ করবে না।
JER 49:6 “তবুও পরবর্তী সময়ে, আমি অম্মোনীয়দের দুর্দশার পরিবর্তন করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:7 ইদোম সম্পর্কে: বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “তৈমনে কি আর প্রজ্ঞা নেই? বিচক্ষণেরা কি পরামর্শ দেওয়া শেষ করেছেন? তাদের প্রজ্ঞা কি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে?
JER 49:8 তোমরা যারা দদানে বসবাস করো, পিছন ফিরে পালাও, গভীর গুহায় গিয়ে লুকাও, কারণ আমি এষৌকে শাস্তি দেওয়ার সময়, তার কুলে বিপর্যয় নিয়ে আসব।
JER 49:9 যদি আঙুর চয়নকারীরা তোমার কাছে আসত, তারা কি কয়েকটি আঙুর রেখে যেত না? যদি চোরেরা রাত্রিবেলা আসত, তাদের যতটা প্রয়োজন, তারা ততটাই কি চুরি করত না?
JER 49:10 আমি কিন্তু এষৌর এলাকা জনমানবহীন করব; আমি তার লুকানোর জায়গাগুলি প্রকাশ করে দেব, যেন সে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে না পারে। তার সহযোগীরা ও প্রতিবেশীরা এবং তার সশস্ত্র পুরুষেরা বিনষ্ট হবে, আর তার বিষয় বলার আর কেউ থাকবে না।
JER 49:11 ‘তোমার অনাথ ছেলেমেয়েদের ছেড়ে যাও; আমি তাদের প্রাণরক্ষা করব। তোমার বিধবারাও আমার উপরে নির্ভর করতে পারে।’ ”
JER 49:12 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “যদি নির্দোষ মানুষরা কষ্টভোগ করে, তাহলে তোমরা অবশ্যই আরও কত না কষ্টভোগ করবে? বিচারদণ্ডের এই পেয়ালা তোমাদের নিশ্চয়ই পান করতে হবে।”
JER 49:13 সদাপ্রভু বলেন, “আমি নিজের নামেই শপথ করে বলছি, বস্রা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। তা হবে বিভীষিকার, দুর্নামের ও অভিশাপের আস্পদ। এর সব নগর চিরকালের জন্য ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকবে।”
JER 49:14 আমি সদাপ্রভুর কাছ থেকে এক বাক্য শুনেছি: জাতিগুলির কাছে এক দূত একথা বলার জন্য প্রেরিত হয়েছে, “ইদোমের বিরুদ্ধে এক মিত্রবাহিনী গড়ে তোলো! তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও!”
JER 49:15 “এবার আমি তোমাকে সব জাতির মধ্যে ক্ষুদ্র করব, তুমি মানবসমাজে অবজ্ঞাত হবে।
JER 49:16 তুমি যে বড়ো বড়ো পাথরের ফাটলে বসবাস করো, তোমরা যারা পাহাড়ের উঁচু উঁচু স্থানের অধিকারী, তোমরা অন্যদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকো সেই কারণে ও তোমার অহংকারের জন্য, তুমি নিজেই প্রতারিত হয়েছ। যদিও তুমি ঈগলের মতো অনেক উঁচুতে তোমার বাসস্থান নির্মাণ করো, সেখান থেকে আমি তোমাকে নামিয়ে আনব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:17 “ইদোম হবে এক বিভীষিকার পাত্র; যারাই তার পাশ দিয়ে যাবে, তারা তার ক্ষতসকলের জন্য বিস্মিত হয়ে তার নিন্দা করবে।
JER 49:18 যেমন সদোম ও ঘমোরা তাদের চারপাশের নগরগুলি সমেত উৎপাটিত হয়েছিল,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সেইরকম, ইদোমেও কেউ বেঁচে থাকবে না, কোনো মানুষই সেখানে বসবাস করবে না।
JER 49:19 “জর্ডনের জঙ্গলের মধ্য থেকে সিংহের মতো সে সমৃদ্ধ চারণভূমির উপরে আসবে। আমি ইদোমকে এক নিমেষে তারই দেশে তাড়া করব, কে সেই মনোনীত জন যাকে আমি তার উপরে নিযুক্ত করব? আমার মতো আর কে আছে? কে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে? কোনো মেষপালক আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে?”
JER 49:20 সেই কারণে শোনো, সদাপ্রভু ইদোমের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করেছেন, যারা তৈমনে বসবাস করে, তাদের জন্য তাঁর অভিপ্রায় কী: পালের শাবকদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তাদের কারণেই তিনি তাদের চারণভূমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হবে।
JER 49:21 তাদের পতনের কারণে সমস্ত পৃথিবী কম্পিত হবে; তাদের কান্না লোহিত সাগর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হবে।
JER 49:22 দেখো! একটি ঈগল উঁচুতে উড়বে ও চকিতে আক্রমণ হানবে, সে তার ডানা বস্রার উপরে মেলে ধরবে। সেদিন, ইদোমের যোদ্ধাদের হৃদয়, প্রসববেদনাগ্রস্ত স্ত্রীর হৃদয়ের মতো হবে।
JER 49:23 দামাস্কাস সম্পর্কে: “হমাৎ ও অর্পদ ভয়ে ব্যাকুল হয়েছে, কারণ তারা মন্দ সংবাদ শুনেছে। তারা হতাশ হয়েছে, অশান্ত সমুদ্রের মতো তারা অধীর হয়েছে।
JER 49:24 দামাস্কাস অক্ষম হয়েছে, সে পিছন ফিরে পালিয়েছে কারণ আতঙ্ক তাকে ঘিরে ধরেছে; মনস্তাপ ও মর্মবেদনায় সে আচ্ছন্ন হয়েছে যেমন কোনো প্রসববেদনাগ্রস্ত নারী হয়।
JER 49:25 সুখ্যাতিপূর্ণ এই নগর, যে আমার আনন্দের কারণস্বরূপ, কেন এ পরিত্যক্ত হয়নি?
JER 49:26 নিশ্চয়ই, তার যুবকেরা পথে পথে পড়ে থাকবে, সেদিন তার সব সৈন্য নিথর পড়ে থাকবে,” বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:27 “আমি দামাস্কাসের সব প্রাচীরে আগুন লাগাব; তা বিন্‌হদদের দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।”
JER 49:28 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার যাদের আক্রমণ করেছিলেন, সেই কেদর ও হাৎসোরের রাজ্যগুলি সম্পর্কে: সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ওঠো, ও কেদরকে আক্রমণ করো এবং পূর্বদিকের সব লোককে ধ্বংস করো।
JER 49:29 তাদের তাঁবুগুলি ও তাদের পশুপাল হরণ করা হবে; তাদের সব জিনিসপত্র ও উটগুলি সমেত তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে যাবে। লোকেরা চিৎকার করে তাদের বলবে, ‘চারদিকেই ভয়ের পরিবেশ!’
JER 49:30 “তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাও! হাৎসোরে বসবাসকারী তোমরা দুর্গম গুহাগুলিতে গিয়ে থাকো,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে; সে তোমার বিরুদ্ধে এক পরিকল্পনা রচনা করেছে।
JER 49:31 “ওঠো ও সেই নিশ্চিন্ত জাতিকে আক্রমণ করো, যে নির্ভয়ে বসবাস করে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সেই জাতির নগরে কোনো ফটক নেই, অর্গলও নেই, তার লোকেরা নিরিবিলিতে বসবাস করে।
JER 49:32 তাদের উটগুলি হবে লুটের বস্তু, তাদের বিশাল পশুপাল লুট করা হবে। দূরবর্তী স্থানে থাকা লোকেদের আমি চারপাশে ছড়িয়ে দেব, সবদিক থেকে আমি তাদের উপরে বিপর্যয় নিয়ে আসব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:33 “হাৎসোর হবে শিয়ালদের বাসস্থান, চিরকালের জন্য পরিত্যক্ত এক স্থান। কেউ সেখানে থাকবে না; কোনো মানুষই সেখানে বসবাস করবে না।”
JER 49:34 যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের প্রথমদিকে, এলম সম্পর্কে সদাপ্রভুর এই বাক্য ভাববাদী যিরমিয়ের কাছে উপস্থিত হল।
JER 49:35 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো, আমি এলমের শক্তির মুখ্য অবলম্বন, তাদের ধনুক ভেঙে ফেলব।
JER 49:36 আমি আকাশমণ্ডলের চার প্রান্ত থেকে এলমের বিরুদ্ধে চার বায়ু প্রেরণ করব; আমি চার বায়ুর উদ্দেশে তাদের ছড়িয়ে ফেলব, এমন কোনো জাতি থাকবে না, যেখানে এলমের নির্বাসিত কেউ যাবে না।
JER 49:37 আমি এলমের শত্রুদের সামনে, যারা তাদের প্রাণনাশ করতে চায়, তাদের সামনে আমি তাদের চূর্ণ করব; আমি তাদের উপরে বিপর্যয়, এমনকি, আমার ভয়ংকর ক্রোধ বর্ষণ করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমি তরোয়াল নিয়ে তাদের পিছনে তাড়া করে যাব, যতক্ষণ না আমি তাদের শেষ করে দিই।
JER 49:38 আমি এলমে আমার সিংহাসন স্থাপন করব, তাদের রাজা ও সব কর্মচারীকে ধ্বংস করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 49:39 “তবুও, ভবিষ্যৎকালে আমি এলমের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 50:1 ব্যাবিলন ও ব্যাবিলনীয়দের দেশ সম্পর্কে সদাপ্রভু, ভাববাদী যিরমিয়কে এই কথা বলেন:
JER 50:2 “তোমরা বিভিন্ন জাতির মধ্যে প্রচার ও ঘোষণা করো, পতাকা তুলে ধরো ও ঘোষণা করো; কিছুই গোপন রেখো না, কিন্তু বলো, ‘ব্যাবিলন পরহস্তগত হবে; বেলকে লজ্জিত করা হবে, মরোদক আতঙ্কগ্রস্ত হবে। তার প্রতিমাগুলি লজ্জিত হবে, তার বিগ্রহগুলি ভয়ে পরিপূর্ণ হবে।’
JER 50:3 উত্তর দিক থেকে আসা এক জাতি তাকে আক্রমণ করবে, তার দেশ পরিত্যক্ত হবে; তার মধ্যে কেউই বসবাস করবে না; মানুষ ও পশু, সকলেই পলায়ন করবে।
JER 50:4 “সেই সমস্ত দিনে ও সেই সময়ে,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “ইস্রায়েল কুল ও যিহূদা কুলের লোকেরা একত্রে চোখের জলে তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণে যাবে।
JER 50:5 তারা সিয়োনে যাওয়ার পথের কথা জিজ্ঞাসা করবে ও সেই দিকে তাদের মুখ ফিরাবে। তারা এসে এক চিরস্থায়ী চুক্তির বাঁধনে সদাপ্রভুর সঙ্গে নিজেদের আবদ্ধ করবে, সেই চুক্তি লোকে কখনও ভুলে যাবে না।
JER 50:6 “আমার প্রজারা হারানো মেষের মতো; তাদের পালকেরা তাদের বিপথে চালিত করেছে, তারা তাদের পাহাড়-পর্বতে পরিভ্রমণ করিয়েছে। তারা পাহাড়ে ও পর্বতে উদ্‌ভ্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছে, তারা নিজেদের বিশ্রামের স্থান ভুলে গেছে।
JER 50:7 যে তাদের সন্ধান পেয়েছে, সেই তাদের গ্রাস করেছে; তাদের শত্রুরা বলেছে, ‘আমরা অপরাধী নই, কারণ তারা তাদের প্রকৃত চারণভূমি, সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছে, যে সদাপ্রভু ছিলেন তাদের পিতৃপুরুষদের আশাভূমি।’
JER 50:8 “তোমরা ব্যাবিলন থেকে পলায়ন করো; ব্যাবিলনীয়দের দেশ ত্যাগ করো এবং পালের সামনে চলা ছাগলের মতো হও।
JER 50:9 কারণ আমি উত্তর দিকের দেশগুলি থেকে, বড়ো বড়ো জাতির এক জোটকে উত্তজিত করব এবং ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে নিয়ে আসব। তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অবস্থান গ্রহণ করবে, উত্তর দিক থেকে তার দেশ অধিকৃত হবে। তাদের তিরগুলি সুনিপুণ যোদ্ধাদের মতো হবে, যা লক্ষ্য বিদ্ধ না করে ফিরে আসে না।
JER 50:10 এভাবে ব্যাবিলনিয়া লুন্ঠিত হবে, তাদের লুণ্ঠনকারীরা সকলে পরিতৃপ্ত হবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 50:11 “আমার উত্তরাধিকারকে লুট করে যেহেতু তোমরা উল্লাস করেছ ও আনন্দিত হয়েছ, শস্য মাড়াইকারী বকনা-বাছুরের মতো নাচানাচি করেছ ও যুদ্ধের অশ্বের মতো হ্রেষাধ্বনি করেছ,
JER 50:12 তাই তোমার স্বদেশ ভীষণ লজ্জিত হবে; তোমার জন্মদায়িনী অসম্মানিত হবে। জাতিগণের মধ্যে সে নগণ্যতম হবে, এক মরুপ্রান্তর, এক শুকনো ভূমি, এক মরুভূমির মতো।
JER 50:13 সদাপ্রভুর ক্রোধের জন্য, তার মধ্যে কেউ বসবাস করবে না, সে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হবে। ব্যাবিলনের পাশ দিয়ে যাওয়া যে কোনো মানুষ বিস্মিত হবে এবং তার ক্ষতগুলি দেখে বিদ্রুপ করবে।
JER 50:14 “যারা ধনুকে চাড়া দাও, তোমরা সকলে ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে তোমাদের অবস্থান গ্রহণ করো। তার দিকে তির নিক্ষেপ করো! একটিও তির রেখে দিয়ো না, কারণ সে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছে।
JER 50:15 সবদিক থেকে তার বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দাও! সে আত্মসমর্পণ করছে, তার দুর্গগুলি পতিত হচ্ছে, তার প্রাচীরগুলি ভেঙে পড়ছে। যেহেতু এ হল সদাপ্রভুর প্রতিশোধ গ্রহণের সময়, তোমরা তার উপরে প্রতিশোধ নাও; অন্যদের প্রতি সে যেমন করেছে, তার প্রতি তেমনই করো।
JER 50:16 ব্যাবিলন থেকে বীজবপককে ও যারা ফসল কাটার সময় কাস্তে ধরে, তোমরা তাদের উচ্ছিন্ন করো। অত্যাচারীর তরোয়ালের জন্য প্রত্যেকেই তার আপনজনের কাছে ফিরে যাক, প্রত্যেকেই পালিয়ে যাক তার নিজের নিজের দেশে।
JER 50:17 “ইস্রায়েল যেন এক ছিন্নভিন্ন মেষপাল, যাদের সিংহেরা তাড়িয়ে দিয়েছে। আসিরিয়া-রাজ তাকে সর্বপ্রথম গ্রাস করেছে, সবশেষে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার তার হাড়গুলি চূর্ণ করেছে।”
JER 50:18 সেই কারণে, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: “আমি যেমন আসিরীয় রাজাকে দণ্ড দিয়েছি, তেমনই ব্যাবিলনের রাজা ও তার দেশকে দণ্ড দেব।
JER 50:19 কিন্তু ইস্রায়েলকে আমি তার চারণভূমিতে ফিরিয়ে আনব, সে বাশন ও কর্মিলের উপরে চরে বেড়াবে; ইফ্রয়িম ও গিলিয়দের পাহাড়গুলির উপরে, তার ক্ষুধার পরিতৃপ্তি হবে।
JER 50:20 সেই দিনগুলিতে, সেই সময়ে,” সদাপ্রভু বলেন, “ইস্রায়েলের অপরাধের অন্বেষণ করা হবে, কিন্তু একটিও পাওয়া যাবে না, যিহূদারও পাপের অন্বেষণ করা হবে, কিন্তু কোনো একটিও পাওয়া যাবে না, কারণ অবশিষ্ট যাদের আমি রেহাই দেব, তাদের পাপ ক্ষমা করব।
JER 50:21 “মরাথয়িম ও পকোদের বসবাসকারী লোকেদের দেশ তোমরা আক্রমণ করো। তাদের তাড়া করে হত্যা করো, সম্পূর্ণরূপে তাদের ধ্বংস করো,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমি তোমাদের যা আদেশ দিয়েছি, তার প্রত্যেকটি পালন করো।
JER 50:22 যুদ্ধের কোলাহল দেশে শোনা যাচ্ছে, শোনা যাচ্ছে মহাবিনাশের রব!
JER 50:23 সমস্ত পৃথিবীর শক্তিশালী হাতুড়ি ব্যাবিলন কীভাবে ভগ্ন ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে! সব জাতির মধ্যে ব্যাবিলন কেমন পরিত্যক্ত হয়েছে!
JER 50:24 হে ব্যাবিলন, আমি তোমার জন্য একটি ফাঁদ পেতেছি, তুমি বুঝবার আগেই তার মধ্যে ধরা পড়েছ; তোমার সন্ধান পাওয়া গেছে, তুমি ধৃত হয়েছ, কারণ তুমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করেছিলে।
JER 50:25 সদাপ্রভু তাঁর অস্ত্রাগার খুলেছেন আর বের করেছেন তাঁর ক্রোধের সব অস্ত্র, কারণ ব্যাবিলনীয়দের দেশে সার্বভৌম সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর কাজ করার আছে।
JER 50:26 তোমরা সুদূর দেশ থেকে তার বিরুদ্ধে এসো। তার গোলাঘরগুলি খুলে ফেলো, শস্যস্তূপের মতো তাকে স্তূপীকৃত করো। তোমরা তাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করো, তার কেউই যেন অবশিষ্ট না থাকে।
JER 50:27 তার সমস্ত এঁড়ে বাছুরকে মেরে ফেলো; তাদের ঘাতকের কাছে নিয়ে যাওয়া হোক! ধিক্ তাদের! কারণ তাদের শেষের দিন সমাগত, শেষের সময় যখন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।
JER 50:28 ব্যাবিলন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের কথা শোনো, তারা সিয়োনে ঘোষণা করছে, সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বর কেমনই না প্রতিশোধ নিয়েছেন, তাঁর মন্দিরের উপরে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
JER 50:29 “ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে তিরন্দাজদের তলব করো, যারা ধনুকে চাড়া দেয় তাদের ডাকো। তার চারপাশে শিবির স্থাপন করো, কেউ যেন পালাতে না পারে। তার কৃতকর্মের প্রতিফল তাকে দাও; সে যেমন করেছে, তার প্রতি তেমনই করো। কারণ সে ইস্রায়েলের পবিত্রতম জন, সেই সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে দর্প করেছে।
JER 50:30 সেই কারণে, তার যুবকেরা পথে পথে পতিত হবে; তার সব সৈন্যকে সেদিন মেরে ফেলা হবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 50:31 “হে উদ্ধত জন, দেখো, আমি তোমার বিরোধী,” প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “কারণ তোমার শেষের দিন সমাগত, যখন তোমাকে দণ্ডিত করা হবে।
JER 50:32 সেই উদ্ধত জন হোঁচট খেয়ে পতিত হবে, কেউ তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবে না; আমি তার নগরগুলিতে অগ্নি সংযোগ করব, তা তার চারপাশের সবাইকে গ্রাস করবে।”
JER 50:33 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ইস্রায়েলের লোকেরা অত্যাচারিত হয়েছে, হয়েছে যিহূদা কুলেরও সব মানুষ। বন্দিকারীরা তাদের শক্ত করে ধরে রাখে, তাদের কাউকে চলে যেতে দেয় না।
JER 50:34 তবুও তাদের মুক্তিদাতা শক্তিশালী; তাঁর নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু। তিনি প্রবলভাবে তাদের পক্ষে ওকালতি করবেন, যেন তিনি তাদের দেশে সুস্থিতি নিয়ে আসেন, কিন্তু ব্যাবিলনবাসীদের প্রতি অস্থিরতা আনবেন।
JER 50:35 “ব্যাবিলনীয়দের জন্যে রয়েছে একটি তরোয়াল!” সদাপ্রভু এই কথা বলেন— “তাদের বিরুদ্ধে, যারা ব্যাবিলনে বসবাস করে, এবং তার যত রাজকর্মচারী ও জ্ঞানী লোকের বিরুদ্ধে!
JER 50:36 তরোয়াল রয়েছে তার ভণ্ড ভাববাদীদের বিরুদ্ধে! তারা সবাই মূর্খ প্রতিপন্ন হবে। তার যোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে একটি তরোয়াল! তারা আতঙ্কে পূর্ণ হবে।
JER 50:37 তরোয়াল রয়েছে তার অশ্বদের ও রথসমূহের এবং যত মিত্রশক্তি তাদের সঙ্গে আছে, তাদের বিরুদ্ধে! তারা সবাই হবে স্ত্রীলোকের মতো। তার সব ধনসম্পদের বিরুদ্ধেও রয়েছে তরোয়াল! সেগুলি সবই লুন্ঠিত হবে।
JER 50:38 তার জলাধার সকলের উপরেও রয়েছে তরোয়াল! সেগুলি সব শুকিয়ে যাবে। এর কারণ হল, সমস্ত দেশটি প্রতিমায় পরিপূর্ণ, যেগুলি আতঙ্কে পাগল হয়ে যাবে।
JER 50:39 “তাই সেখানে থাকবে মরুভূমির পশু ও হায়েনারা, সেখানে থাকবে রাজ্যের যত প্যাঁচা। এখানে আর কখনও জনবসতি হবে না, কিংবা বংশপরম্পরায় আর কেউ থাকবে না।
JER 50:40 আমি যেমন চারপাশের নগরগুলি সমেত সদোম ও ঘমোরাকে উৎপাটিত করেছিলাম, তেমনই আর কেউ সেখানে বেঁচে থাকবে না, কোনো মানুষই সেখানে বসবাস করবে না,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 50:41 “দেখো! উত্তর দিক থেকে এক সৈন্যদল আসছে; এক মহাজাতি ও অনেক রাজা উত্তেজিত হয়ে পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে উঠে আসছে।
JER 50:42 তাদের হাতে আছে ধনুক ও বর্শা; তারা নিষ্ঠুর ও মায়ামমতা প্রদর্শন করে না। তারা ঘোড়ায় চড়লে সমুদ্রগর্জনের মতো শব্দ শোনায়; হে ব্যাবিলনের কন্যা, তোমাকে আক্রমণ করার জন্য তারা যুদ্ধের সাজ পরে আসছে।
JER 50:43 ব্যাবিলনের রাজা তাদের বিষয়ে সংবাদ পেয়েছে, তার হাত দুটি অবশ হয়ে ঝুলে গেছে। মনস্তাপে সে কবলিত হয়েছে, তার যন্ত্রণা যেন প্রসববেদনাগ্রস্ত স্ত্রীর মতো।
JER 50:44 জর্ডনের জঙ্গলের মধ্য থেকে সিংহের মতো সে সমৃদ্ধ চারণভূমির উপরে আসবে। আমি ব্যাবিলনকে এক নিমেষে তারই দেশে তাড়া করব, কে সেই মনোনীত জন যাকে আমি তার উপরে নিযুক্ত করব? আমার মতো আর কে আছে? কে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে? কোনো মেষপালক আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে?”
JER 50:45 সেই কারণে শোনো, সদাপ্রভু ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করেছেন, ব্যাবিলনীয়দের দেশ সম্পর্কে তাঁর অভিপ্রায় কী: পালের শাবকদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে; তাদের চারণভূমি তাদের কারণেই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হবে।
JER 50:46 ব্যাবিলনের পরহস্তগত হওয়ার শব্দে সমস্ত পৃথিবী কম্পিত হবে; এর আর্তস্বর সমস্ত জাতির মধ্যে প্রতিধ্বনিত হবে।
JER 51:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো, আমি এক ধ্বংসকারী আত্মাকে প্রেরণ করব ব্যাবিলনের ও লেব-কামাইয়ের লোকদের বিরুদ্ধে।
JER 51:2 আমি ব্যাবিলনকে ঝাড়াই করা তুষের মতো উড়িয়ে দেওয়ার জন্য তার মধ্যে বিদেশিদের প্রেরণ করব; তার বিপর্যয়ের দিনে, তারা চারপাশ থেকেই তার বিরোধিতা করবে।
JER 51:3 তিরন্দাজদের ধনুকে ছিলা পরাতে দিয়ো না, তারা যেন তাদের বর্ম পরতে না পারে। তাদের যুবকদের প্রতি মমতা কোরো না, তার সৈন্যদলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ো।
JER 51:4 তারা নিহত হয়ে ব্যাবিলনে পড়ে থাকবে, মারাত্মকরূপে আহত হয়ে পথে পথে পড়ে থাকবে।
JER 51:5 কারণ ইস্রায়েল ও যিহূদাকে তাদের ঈশ্বর, বাহিনীগণের সদাপ্রভু পরিত্যাগ করেননি, যদিও তাদের দেশ ইস্রায়েলের পবিত্রজনের সামনে অপরাধে পরিপূর্ণ হয়েছিল।
JER 51:6 “ব্যাবিলন থেকে পলায়ন করো! তোমাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াও! ব্যাবিলনের পাপের জন্য তোমরা ধ্বংস হোয়ো না। এ হল সদাপ্রভুর প্রতিশোধ গ্রহণের সময়; তার উপযুক্ত প্রাপ্য প্রতিফল তিনি তাকে দেবেন।
JER 51:7 সদাপ্রভুর হাতে ব্যাবিলন ছিল সোনার পানপাত্রের মতো; এমন পানপাত্র, যার মধ্যে সমস্ত পৃথিবী পান করেছিল। জাতিগণ তার সুরা পান করেছিল; সেই কারণে, তারা এখন উন্মত্ত হয়ে গেছে।
JER 51:8 ব্যাবিলনের হঠাৎই পতন হবে, সে ভগ্ন হবে। তার কারণে বিলাপ করো! তার ব্যথার জন্য মলম নিয়ে এসো, হয়তো তার ক্ষতের নিরাময় হবে।
JER 51:9 “ ‘আমরা ব্যাবিলনকে সুস্থ করতে পারতাম, কিন্তু সে নিরাময়ের অযোগ্য হয়ে পড়েছে; এসো আমরা তাকে ত্যাগ করে প্রত্যেকে স্বদেশে ফিরে যাই, কারণ তার বিচার গগনস্পর্শী, তা মেঘ পর্যন্ত উঁচুতে উঠে যায়।’
JER 51:10 “ ‘সদাপ্রভু আমাদের নির্দোষিতা প্রকাশ করেছেন; সদাপ্রভু, আমাদের ঈশ্বর যা করেছেন, এসো, আমরা সিয়োনে গিয়ে তা বলি।’
JER 51:11 “তোমরা তিরের ফলায় ধার দাও, সব ঢাল হাতে তুলে নাও! সদাপ্রভু মাদীয় রাজাদের উত্তেজিত করেছেন, কারণ ব্যাবিলনকে ধ্বংস করাই হল তাঁর অভিপ্রায়। সদাপ্রভু প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন, তাঁর মন্দির ধ্বংসের জন্য প্রতিশোধ নেবেন।
JER 51:12 ব্যাবিলনের প্রাচীরগুলির বিরুদ্ধে পতাকা তোলো! রক্ষীবাহিনীকে আরও মজবুত করো, স্থানে স্থানে প্রহরী নিযুক্ত করো, গোপনে ওত পাতা সৈন্যদের তৈরি রাখো! ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে তাঁর রায়, তাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু তাঁর অভিপ্রায় পূর্ণ করবেন।
JER 51:13 তোমরা যারা জলরাশির তীরে বসবাস করো, আর যারা ধনসম্পদে ঐশ্বর্যবান, তোমাদের শেষের দিন এসে পড়েছে, সময় এসে গেছে তোমাদের উচ্ছিন্ন হওয়ার।
JER 51:14 বাহিনীগণের সদাপ্রভু নিজের নামেই শপথ করেছেন: আমি নিশ্চয়ই ঝাঁক ঝাঁক পঙ্গপালের মতো তোমার দেশ লোকে পরিপূর্ণ করব, তারা তোমার বিরুদ্ধে সিংহনাদ করবে।
JER 51:15 “সদাপ্রভু নিজের পরাক্রমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; এবং তাঁরই বুদ্ধিতে আকাশমণ্ডল প্রসারিত করেছেন। তিনি নিজের প্রজ্ঞায় জগৎ স্থাপন করেছেন এবং তাঁরই বুদ্ধিতে আকাশমণ্ডল প্রসারিত করেছেন।
JER 51:16 তিনি যখন বজ্রনাদ করেন, আকাশমণ্ডলের জলরাশি গর্জন করে; পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে তিনি মেঘমালাকে উত্থিত করেন। তিনি বৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ গঠন করেন এবং তাঁর ভাণ্ডার-কক্ষ থেকে বাতাস বের করে আনেন।
JER 51:17 “সব মানুষই জ্ঞানহীন ও বুদ্ধিরহিত; সব স্বর্ণকার তার প্রতিমাগুলির জন্য লজ্জিত হয়। তাদের মূর্তিগুলি তো প্রতারণা মাত্র; সেগুলির মধ্যে কোনো শ্বাসবায়ু নেই।
JER 51:18 সেগুলি মূল্যহীন, বিদ্রুপের পাত্র; বিচারের সময় সেগুলি বিনষ্ট হবে।
JER 51:19 যিনি যাকোবের অধিকারস্বরূপ, তিনি এরকম নন, কারণ তিনিই সব বিষয়ের স্রষ্টা, যার অন্তর্ভুক্ত হল তাঁর প্রজাবৃন্দ, তাঁর নিজস্ব বিশেষ অধিকার— সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর নাম।
JER 51:20 “তুমিই আমার যুদ্ধের মুগুর, যুদ্ধের জন্য আমার অস্ত্র। তোমাকে দিয়েই আমি জাতিগুলিকে চূর্ণ করি, তোমার দ্বারাই আমি রাজ্যগুলিকে ধ্বংস করি,
JER 51:21 তোমার দ্বারা আমি অশ্ব ও অশ্বারোহীকে চূর্ণ করি, তোমার দ্বারা আমি রথ ও তার চালককে চূর্ণ করি,
JER 51:22 তোমার দ্বারা আমি নারী ও পুরুষকে চূর্ণ করি, তোমাকে দিয়েই আমি বৃদ্ধ ও যুবকদের চূর্ণ করি, তোমাকে দিয়ে আমি যুবক ও যুবতীকে চূর্ণ করি।
JER 51:23 তোমার দ্বারা আমি পালরক্ষক ও তার পালকে চূর্ণ করি তোমার দ্বারা আমি কৃষক ও বৃষদের চূর্ণ করি, তোমার দ্বারা আমি প্রদেশপাল ও রাজকর্মচারীদের চূর্ণ করি।
JER 51:24 “সিয়োনে ব্যাবিলন ও ব্যাবিলনের নিবাসীরা যে অন্যায় করেছে, তার জন্য আমি তোমাদের চোখের সামনে তাদের সবাইকে প্রতিফল দেব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 51:25 “হে ধ্বংসকারী পর্বত, তুমি যে সমস্ত পৃথিবীকে ধ্বংস করো, আমি তোমার বিপক্ষ,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “আমি তোমার উপরে আমার হাত প্রসারিত করব, খাড়া উঁচু পাথর থেকে তোমাকে গড়িয়ে দেব, তুমি একটি পুড়ে যাওয়া পর্বতের মতো হবে।
JER 51:26 কোণের পাথর করার জন্য তোমার মধ্য থেকে কোনো পাথর আর কেউ নেবে না, কিংবা ভিত্তিমূলের জন্য তোমার কোনো পাথর নেওয়া হবে না, কারণ তুমি চিরকালের জন্য পরিত্যক্ত হবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 51:27 “তোমরা দেশের মধ্যে পতাকা তোলো! জাতিগণের মধ্যে তূরী বাজাও! ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য জাতিগণকে প্রস্তুত করো; আরারট, মিন্নি ও অস্কিনস্, এই রাজ্যগুলিকে তার বিরুদ্ধে ডেকে পাঠাও। তার বিরুদ্ধে এক সেনাপতিকে নিয়োগ করো, পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো অশ্বদের পাঠিয়ে দাও।
JER 51:28 তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য জাতিগণকে প্রস্তুত করো— মাদীয় রাজাদের, তাদের প্রদেশপাল ও রাজকর্মচারীদের ও তাদের শাসনাধীনে থাকা যত দেশকে।
JER 51:29 সেই দেশ কাঁপছে ও যন্ত্রণায় মোচড় খাচ্ছে, কারণ ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর অভিপ্রায়গুলি স্থির রয়েছে— যেন ব্যাবিলন পরিত্যক্ত পড়ে থাকে, আর কেউই তার মধ্যে বসবাস করবে না।
JER 51:30 ব্যাবিলনের যোদ্ধারা যুদ্ধ করা থামিয়েছে; তারা নিজেদের দুর্গগুলির মধ্যে আছে। তাদের শক্তি নিঃশেষিত হয়েছে; তারা সব এক-একটি নারীর মতো হয়েছে। তাদের বাড়িগুলিতে আগুন দেওয়া হয়েছে; তাদের সব নগরদ্বারের স্তম্ভগুলি ভেঙে গেছে।
JER 51:31 একের পর এক সংবাদদাতারা আসছে, এক দূতের পিছনে আর এক দূত আসছে, যেন ব্যাবিলনের রাজাকে সংবাদ দিতে পারে, যে তার সমগ্র রাজ্য অধিকৃত হয়েছে।
JER 51:32 নদীর পারঘাটগুলি পরহস্তগত হয়েছে, নলখাগড়ার বনে আগুন ধরানো হয়েছে এবং সব সৈন্য আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে।”
JER 51:33 বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা বলেন: “ব্যাবিলন-কন্যা শস্য মাড়াই করা খামারের মতো হয়েছে, উপযুক্ত সময়ে সে পদদলিত হয়েছে; তার মধ্য থেকে ফসল কাটার সময় শীঘ্র উপস্থিত হবে।”
JER 51:34 “ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার আমাদের গ্রাস করেছেন, তিনি আমাদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছেন, তিনি আমাদের শূন্য কলশির মতো করেছেন। সাপের মতো তিনি আমাদের গ্রাস করেছেন এবং আমাদের পুষ্টিকর আহারে নিজের উদরপূর্তি করেছেন, তারপর আমাদের বমন করেছেন।
JER 51:35 আমাদের শরীরের উপরে যে অত্যাচার করা হয়েছে, তা ব্যাবিলনের প্রতিও করা হোক,” একথা সিয়োনের অধিবাসীরা বলুক। জেরুশালেম বলুক, “যারা ব্যাবিলনিয়ায় বসবাস করে, আমাদের রক্তের জন্য তারা দায়ী হোক।”
JER 51:36 সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দেখো, আমি তোমাদের পক্ষসমর্থন করব ও তোমাদের পক্ষে প্রতিশোধ নেব; আমি তার সমুদ্রকে জলশূন্য করব ও তার জলের উৎসগুলিকে শুকনো করব।
JER 51:37 ব্যাবিলন হবে এক ধ্বংসের স্তূপ, শিয়ালদের থাকার আস্তানা, সে হবে এক বিভীষিকা ও বিদ্রুপের পাত্র, এমন স্থান, যেখানে কেউ বসবাস করবে না।
JER 51:38 তার লোকেরা যুবসিংহদের মতো গর্জন করবে, তারা সিংহশাবকদের মতো তর্জন করবে।
JER 51:39 কিন্তু যখন তারা উত্তেজিত হবে, আমি তাদের জন্য এক ভোজের ব্যবস্থা করব এবং তাদের মত্ত করব, যেন তারা হেসে হেসে চিৎকার করে, তারপর চিরনিদ্রায় শয়ন করে, কখনও জেগে না ওঠার জন্য,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 51:40 “আমি তাদের নিচে টেনে নামাব, যেভাবে মেষশাবকদের, মেষ ও ছাগলদের ঘাতকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
JER 51:41 “শেশক কেমন অধিকৃত হবে, সমস্ত পৃথিবীর গর্ব পরহস্তগত হবে। জাতিগণের মধ্য ব্যাবিলন কত না বিভীষিকার পাত্র হবে!
JER 51:42 সমুদ্র ব্যাবিলনকে আচ্ছন্ন করবে; তার গর্জনকারী তরঙ্গমালা ব্যাবিলনের উপরে এসে পড়বে।
JER 51:43 তার নগরগুলি পরিত্যক্ত হবে, সেগুলি হবে শুকনো ও মরুপ্রান্তরের দেশ, এমন দেশ, যেখানে কেউ বসবাস করে না, যার মধ্য দিয়ে কেউ পথযাত্রা করে না।
JER 51:44 আমি ব্যাবিলনের বেল-দেবতাকে শাস্তি দেব, সে যা গলার্ধঃকরণ করেছে, তা বমি করতে তাকে বাধ্য করব। জাতিগুলি আর তার দিকে স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে না, আর ব্যাবিলনের প্রাচীর পতিত হবে।
JER 51:45 “আমার প্রজারা, তোমরা ওর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো! তোমরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালাও! সদাপ্রভুর প্রচণ্ড ক্রোধ থেকে পালাও।
JER 51:46 দেশে যখন জনরব শোনা যাবে, তোমরা নিরুৎসাহ হোয়ো না বা ভয় পেয়ো না; এক ধরনের জনরব এই বছরে, পরের বছর অন্য জনরব উঠে আসবে, তা হবে দেশের মধ্যে দৌরাত্ম্যের গুজব, যা এক শাসক অন্য শাসকের প্রতি করছে।
JER 51:47 কারণ সেই সময় নিশ্চিতরূপে আসবে, যখন আমি ব্যাবিলনের প্রতিমাগুলিকে শাস্তি দেব; তার সমস্ত দেশ অপমানগ্রস্ত হবে, তার সমস্ত নিহতেরা তারই এলাকায় পড়ে থাকবে।
JER 51:48 তখন আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং সেগুলির মধ্যস্থিত সবকিছু ব্যাবিলনের বিষয়ে আনন্দে চিৎকার করবে, কারণ উত্তর দিক থেকে বিনাশকেরা তাকে আক্রমণ করবে,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 51:49 “ইস্রায়েলকে হত্যা করার জন্য ব্যাবিলনের অবশ্যই পতন হবে, যেমন সমস্ত পৃথিবীর নিহতেরা ব্যাবিলনের কারণে পতিত হয়েছিল।
JER 51:50 তোমরা যারা তরোয়ালের যন্ত্রণা এড়িয়ে গিয়েছ, তোমরা চলে এসো দেরি কোরো না! দূরদেশে সদাপ্রভুকে স্মরণ করো এবং জেরুশালেমের কথা ভাবো।”
JER 51:51 লোকেরা বলছে, “আমরা লাঞ্ছিত হয়েছি, কারণ আমাদের অপমান করা হয়েছে এবং লজ্জা আমাদের মুখ আচ্ছন্ন করেছে, কারণ বিদেশিরা সদাপ্রভুর গৃহে, পবিত্র স্থানগুলিতে প্রবেশ করেছে।”
JER 51:52 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “কিন্তু সেইসব দিন আসছে, যখন আমি ব্যাবিলনের প্রতিমাগুলিকে শাস্তি দেব। তার সমস্ত দেশ জুড়ে আহতেরা আর্তনাদ করবে।
JER 51:53 ব্যাবিলন যদিও গগন স্পর্শ করে এবং তার শক্তিশালী দুর্গগুলিকে অগম্য করে, তবুও তার বিরুদ্ধে আমি বিনাশকদের প্রেরণ করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
JER 51:54 “কান্নার এক হাহাকার শব্দ ব্যাবিলন থেকে আসছে, তা এক মহাবিনাশের শব্দ, যা আসছে ব্যাবিলনীয়দের দেশ থেকে।
JER 51:55 সদাপ্রভু ব্যাবিলনকে ধ্বংস করবেন; তিনি তার হৈ-হল্লাকে স্তব্ধ করে দেবেন। মহাজলরাশির মতো শত্রুদের গর্জনের ঢেউ আছড়ে পড়বে; তাদের গর্জনের শব্দ ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হবে।
JER 51:56 ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে একজন বিনাশক আসবে; তার যোদ্ধারা সবাই বন্দি হবে, তাদের ধনুকগুলি ভেঙে ফেলা হবে। কারণ সদাপ্রভু হলেন প্রতিফলদাতা ঈশ্বর, তিনি পূর্ণরূপে প্রতিশোধ নেবেন।
JER 51:57 আমি তাদের রাজকর্মচারী ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের মত্ত করব, মত্ত করব তার প্রদেশপালদের, আধিকারিক ও যোদ্ধাদেরও; তারা চিরকালের জন্য নিদ্রিত হবে, কখনও উঠবে না,” রাজা এই কথা ঘোষণা করেন, যাঁর নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু।
JER 51:58 বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ব্যাবিলনের প্রশস্ত প্রাচীর ভেঙে সমান করে দেওয়া হবে এবং তার উঁচু তোরণদ্বারগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হবে; লোকেরা মিথ্যাই নিজেদের ক্লান্ত করে, জাতিগুলির পরিশ্রম কেবলমাত্র আগুনের শিখায় জ্বালানি দেওয়ার মতো।”
JER 51:59 যিহূদার রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, মাসেয়ের পৌত্র নেরিয়ের পুত্র সরায়, যে সময়ে রাজার সঙ্গে ব্যাবিলনে যান, সেই সময় ভাববাদী যিরমিয় সরাইকে এই বার্তা দেন।
JER 51:60 যিরমিয় একটি পুঁথিতে সেই সমস্ত বিপর্যয়ের কথা লিখেছিলেন, যা ব্যাবিলনের উপরে নেমে আসতে চলেছিল, অর্থাৎ, ব্যাবিলন সম্পর্কে নথিভুক্ত সমস্ত কথা।
JER 51:61 তিনি সরায়কে বললেন, “তুমি যখন ব্যাবিলনে পৌঁছাবে, তখন দেখো, এ সমস্তই যেন সেখানে জোরে জোরে পাঠ করা হয়।
JER 51:62 তারপরে বোলো, ‘হে সদাপ্রভু, তুমি তো বলেছিলে যে, তুমি এই স্থান ধ্বংস করবে, যেন কোনো মানুষ বা পশু এখানে থাকতে না পারে; এ চিরকালের জন্য পরিত্যক্ত থাকবে।’
JER 51:63 তুমি যখন এই পুঁথিতে লেখা কথাগুলি পড়ে শেষ করবে, তখন এর সঙ্গে একটি পাথর বেঁধে, এটি ইউফ্রেটিস নদীতে ডুবিয়ে দেবে।
JER 51:64 তারপর বলবে, ‘আমি যে সমস্ত বিপর্যয় ব্যাবিলনের উপরে নিয়ে আসব, সেই কারণে ব্যাবিলন এভাবে ডুবে যাবে, আর কখনও উঠতে পারবে না। আর তার সমস্ত অধিবাসীর পতন হবে।’ ” যিরমিয়ের সমস্ত কথার সমাপ্তি এখানেই।
JER 52:1 সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে রাজা হন। তিনি এগারো বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। তাঁর মা ছিলেন লিব্‌না নিবাসী যিরমিয়ের কন্যা হমূটল।
JER 52:2 তিনি সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে কেবলই মন্দ কাজ করতেন, যেমন যিহোয়াকীমও করেছিলেন।
JER 52:3 সদাপ্রভুর ক্রোধের কারণেই জেরুশালেম ও যিহূদার প্রতি এসব কিছু ঘটেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের তাঁর উপস্থিতি থেকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিলেন। ইত্যবসরে সিদিকিয় ব্যাবিলনের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেছিলেন।
JER 52:4 তাই, সিদিকিয়ের রাজত্বের নবম বছরে, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার, তাঁর সমস্ত সৈন্য নিয়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন। তারা নগরের বাইরে শিবির স্থাপন করে তার চারপাশে অবরোধ গড়ে তুললেন।
JER 52:5 রাজা সিদিকিয়ের রাজত্বের এগারোতম বছর পর্যন্ত নগর অবরুদ্ধ রইল।
JER 52:6 চতুর্থ মাসের নবম দিনে নগরের দুর্ভিক্ষ এত চরম আকার নিয়েছিল, যে সেখানকার লোকজনের কাছে কোনও খাবারদাবার ছিল না।
JER 52:7 পরে নগরের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হল, এবং রাতের বেলায় গোটা সৈন্যদল রাজার বাগানের কাছে থাকা দুটি প্রাচীরের মাঝখানে অবস্থিত দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল, যদিও ব্যাবিলনের সৈন্যসামন্ত কিন্তু নগরটি ঘিরে রেখেছিল। তারা অরাবার দিকে পালিয়ে গেল,
JER 52:8 কিন্তু ব্যাবিলনের সৈন্যদল রাজা সিদিকিয়ের পিছনে তাড়া করে গেল এবং যিরীহোর সমভূমিতে তাঁর নাগাল পেল। তাঁর সমস্ত সৈন্য তাঁর কাছ থেকে পৃথক হয়ে ছড়িয়ে পড়ল,
JER 52:9 আর তিনি ধৃত হলেন। তাঁকে ধরে হমাৎ দেশের রিব্‌লায় ব্যাবিলনের রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে তিনি তাঁর শাস্তি ঘোষণা করলেন।
JER 52:10 সেখানে রিব্‌লায়, ব্যাবিলনের রাজা সিদিকিয়ের চোখের সামনেই তাঁর পুত্রদের হত্যা করলেন; তিনি যিহূদার রাজকর্মচারীদেরও হত্যা করলেন।
JER 52:11 তারপর তিনি সিদিকিয়ের দুই চোখ উপড়ে নিলেন, তাঁকে পিতলের শিকলে বাঁধলেন এবং ব্যাবিলনে নিয়ে গেলেন। সেখানে তিনি তাঁকে আমরণ পর্যন্ত কারাগারে নিক্ষেপ করলেন।
JER 52:12 ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের রাজত্বের উনিশতম বছরের পঞ্চম মাসের দশম দিনে, রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, যিনি ব্যাবিলনের রাজার সেবা করতেন, জেরুশালেমে এলেন।
JER 52:13 তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে, রাজপ্রাসাদে এবং জেরুশালেমের সব বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলেন। প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘরবাড়ি তিনি পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন।
JER 52:14 রাজরক্ষীদলের সেনাপতির অধীনস্থ সমস্ত ব্যাবিলনীয় সৈন্য জেরুশালেমের চারপাশের প্রাচীরগুলি ভেঙে ফেলল।
JER 52:15 রক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, নগরের অবশিষ্ট দরিদ্রতম ব্যক্তিদের কয়েকজনকে, ইতর শ্রেণীর মানুষদের ও যারা ব্যাবিলনের রাজার পক্ষ নিয়েছিল, তাদের সবাইকে ব্যাবিলনে নির্বাসিত করলেন।
JER 52:16 কিন্তু দেশের অবশিষ্ট দীনদরিদ্র ব্যক্তিদের নবূষরদন দ্রাক্ষাকুঞ্জ ও মাঠগুলিতে কৃষিকর্ম করার জন্য রেখে দিলেন।
JER 52:17 ব্যাবিলনীয়েরা সদাপ্রভুর মন্দিরের পিতলের দুটি স্তম্ভ, স্থানান্তরযোগ্য গামলা বসাবার পাত্রগুলি ও পিতলের সমুদ্রপাত্রটি ভেঙে খণ্ড খণ্ড করল, আর তারা সেগুলির সব পিতল ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
JER 52:18 এছাড়াও তারা হাঁড়ি, বেলচা, সলতে ছাঁটার যন্ত্র, রক্ত ছিটানোর বাটিগুলি, থালা ও মন্দিরের সেবাকাজে যেগুলি ব্যবহৃত হত, ব্রোঞ্জের সেইসব জিনিসপত্রও তুলে নিয়ে গেল।
JER 52:19 রাজরক্ষীদলের সেনাপতি সব গামলা, ধুনুচি, রক্ত ছিটানোর গামলাগুলি, বিভিন্ন পাত্র, দীপবৃক্ষগুলি, থালাগুলি এবং পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করার পাত্রগুলি—যত সোনা ও রুপোর তৈরি জিনিস ছিল, তাঁর সঙ্গে নিয়ে গেলেন।
JER 52:20 দুটি পিতলের থাম, সমুদ্রপাত্র ও তার নিচে অবস্থিত বারোটি পিতলের বলদ, স্থানান্তরযোগ্য গামলা রাখার জিনিসগুলি, যেগুলি রাজা শলোমন সদাপ্রভুর মন্দিরের জন্য নির্মাণ করেছিলেন, সেগুলির পিতল অপরিমেয় ছিল।
JER 52:21 প্রত্যেকটি স্তম্ভ ছিল আঠারো হাত উঁচু এবং পরিধি ছিল বারো হাত; প্রত্যেকটি ছিল চার আঙুল পুরু এবং ফাঁপা।
JER 52:22 স্তম্ভের উপরে মাথার দিকটি ছিল পাঁচ হাত উঁচু এবং সেটি চারপাশে ব্রোঞ্জের জালি ও ব্রোঞ্জের ডালিম দিয়ে সুসজ্জিত ছিল। অন্য স্তম্ভটিও, এটির মতোই একই ধরনের ছিল।
JER 52:23 চারপাশের ডালিমের সংখ্যা ছিল ছিয়ানব্বই এবং উপরের দিকের মোট ডালিমের সংখ্যা ছিল একশো।
JER 52:24 রক্ষীদলের সেনাপতি মহাযাজক সরায়কে, পদাধিকারবলে তাঁর পরে যিনি ছিলেন, সেই যাজক সফনিয়কে ও তিনজন দারোয়ানকে বন্দি করে নিয়ে গেলেন।
JER 52:25 যারা তখনও নগরে থেকে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে যোদ্ধাদের উপরে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে ও সাতজন রাজকীয় পরামর্শদাতাদের ধরলেন। এছাড়া তিনি সচিবকে ধরলেন, যিনি ছিলেন দেশের লোকদের সৈন্যদলে নিযুক্ত করার জন্য ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাঁর অধীনস্থ ষাটজন লোক, যাদের নগরে পাওয়া গেল, তাদেরও নিয়ে গেলেন।
JER 52:26 সেনাপতি নবূষরদন তাদের সবাইকে ধরে রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজার কাছে নিয়ে এলেন।
JER 52:27 হমাৎ দেশের রিব্‌লাতে ব্যাবিলনের রাজা প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত এই লোকদের বধ করলেন। অতএব যিহূদা তার দেশ থেকে নির্বাসিত হল।
JER 52:28 নেবুখাদনেজার যাদের নির্বাসনে নিয়ে যান, তাদের সংখ্যা এরকম: সপ্তম বছরে 3,023 জন ইহুদি;
JER 52:29 নেবুখাদনেজারের রাজত্বের আঠারোতম বছরে জেরুশালেম থেকে 832 জন;
JER 52:30 তাঁর রাজত্বের তেইশতম বছরে, রাজরক্ষীদলের সেনাপতি নবূষরদন, 745 জন ইহুদিকে নির্বাসনে নিয়ে যান। লোকদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল 4,600 জন।
JER 52:31 যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনের বন্দিত্বের সাঁইত্রিশতম বছরে, দ্বাদশ মাসের পঁচিশতম দিনে, ইবিল-মরোদক যে বছরে ব্যাবিলনের রাজা হন, তিনি যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনকে মুক্তি দিলেন। তিনি তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করলেন।
JER 52:32 তিনি যিহোয়াখীনের সাথে সদয় ভঙ্গিতে কথা বললেন এবং ব্যাবিলনে তাঁর সাথে অন্যান্য যেসব রাজা ছিলেন, তাদের তুলনায় তিনি যিহোয়াখীনকে বেশি সম্মানীয় এক আসন দিলেন।
JER 52:33 তাই যিহোয়াখীন তাঁর কয়েদির পোশাক একদিকে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলি তিনি নিয়মিতভাবে রাজার টেবিলেই বসে ভোজনপান করলেন।
JER 52:34 যিহোয়াখীন যতদিন বেঁচেছিলেন, ব্যাবিলনের রাজা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত, তাঁকে নিয়মিতরূপে একটি ভাতা দিতেন।
LAM 1:1 হায়! যে নগরী একদিন ছিল মানুষজনে পরিপূর্ণ, সে আজ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে! যে ছিল একদিন জাতিসমূহের মধ্যে মহান, তার দশা আজ বিধবার মতো! একদিন যে ছিল প্রদেশগুলির রানি, সে আজ পরিণত হয়েছে ক্রীতদাসীতে।
LAM 1:2 রাত্রিবেলা সে তীব্র রোদন করে, তার দুই গাল বেয়ে অশ্রু বয়ে যায়। তার সব প্রেমিকের মধ্যে, তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউই নেই। তার সব বন্ধু তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে; তারা আজ সবাই তার শত্রু হয়েছে।
LAM 1:3 যন্ত্রণাভোগ ও কঠোর পরিশ্রমের পর, যিহূদা নির্বাসিত হয়েছে। সে জাতিসমূহের মধ্যে বাস করে; সে কোনো বিশ্রামের স্থান খুঁজে পায় না। যারা তাকে তাড়া করছিল, তার বিপর্যয়ের মাঝে তারা তাকে ধরে ফেলেছে।
LAM 1:4 সিয়োনগামী পথগুলি শোকে ম্রিয়মাণ, কারণ নির্ধারিত উৎসবগুলিতে আর কেউ আসে না। তার সবকটি তোরণদ্বারের প্রবেশপথ নির্জন, তার যাজকেরা আর্তনাদ করে। তার কুমারী-কন্যারা শোকার্ত, এবং সে নিজে তিক্ত মনোবেদনায় আচ্ছন্ন।
LAM 1:5 তার প্রতিপক্ষরা তার মনিব হয়েছে; তার শত্রুরা আজ নিশ্চিন্ত। তার অনেক অনেক পাপের জন্য সদাপ্রভু তাকে ক্লিষ্ট করেছেন। তার ছেলেমেয়েরা নির্বাসনে গেছে, শত্রুদের চোখের সামনে তারা বন্দি হয়েছে।
LAM 1:6 সিয়োন-কন্যার মধ্য থেকে সমস্ত জৌলুস অন্তর্হিত হয়েছে। তার রাজপুরুষেরা এমন সব হরিণ হয়েছেন, যারা কোনো চারণভূমির সন্ধান পায় না। তারা শক্তিহীন হয়ে বিতাড়কদের আগে আগে পলায়ন করে।
LAM 1:7 তার ক্লেশ ও অস্থির বিচরণের দিনগুলিতে, জেরুশালেম তার সব ঐশ্বর্যের কথা স্মরণ করে যা পুরোনো দিনে তার ছিল। যখন তার লোকেরা শত্রুদের হাতে ধরা পড়ল, তখন তাকে সাহায্য করার জন্য কেউই ছিল না। তার শত্রুরা তার দিকে তাকিয়েছিল এবং তার বিনাশের জন্য ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেছিল।
LAM 1:8 জেরুশালেম প্রচুর পাপ করেছে, এবং তাই সে অশুচি হয়েছে। যারা তাকে সম্মান করত, তারা তাকে অবজ্ঞা করছে, কারণ তারা সবাই তাকে উলঙ্গ দেখেছে; সে নিজেও আর্তনাদ করে ও উল্টোদিকে মুখ ফিরায়।
LAM 1:9 তার জঘন্যতা তার বসনপ্রান্তে লেগে আছে; সে তার ভবিষ্যতের কথা ভাবেনি। তার পতন ছিল হতবুদ্ধিকর, তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কেউই ছিল না। “হে সদাপ্রভু, আমার দুঃখ দেখো, কারণ শত্রু বিজয়ী হয়েছে।”
LAM 1:10 তার সমস্ত ধনসম্পদের উপরে শত্রু হাত দিয়েছে; সে দেখেছে, পৌত্তলিক জাতিগুলি তার ধর্মধামে প্রবেশ করেছে— তোমার সমাজে প্রবেশ করতে যাদের তুমি নিষেধ করেছিলে।
LAM 1:11 তার সব লোকজন খাদ্যের খোঁজে আর্তনাদ করে; নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা তাদের সম্পদ বিনিময় করেছে। “হে সদাপ্রভু, দেখো ও বিবেচনা করো, কেননা আমি অবজ্ঞাত হয়েছি।”
LAM 1:12 “ওহে পথিকেরা, এতে কি তোমাদের কিছু এসে যায় না? চারপাশে তাকিয়ে দেখো, আমাকে যে ধরনের যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে, তার মতো যন্ত্রণা আর কি কোথাও আছে, যা সদাপ্রভু তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধের দিনে আমার উপরে নিয়ে এসেছেন?
LAM 1:13 “ঊর্ধ্ব থেকে তিনি অগ্নিপ্রদাহ প্রেরণ করেছেন, তিনি তা প্রেরণ করেছেন আমার হাড়গুলির মধ্যে। আমার পা দুটির জন্য তিনি জাল পেতেছেন এবং আমাকে পিছন-পানে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, তিনি আমাকে জনশূন্য করেছেন, যে সমস্ত দিন মূর্ছিত হয়ে পড়ে থাকে।
LAM 1:14 “আমার পাপগুলিকে একটি জোয়ালে বাঁধা হয়েছে; তাঁর দুটি হাত সেগুলি একত্র বুনেছে। সেগুলি আমার ঘাড় থেকে ঝুলছে, এবং প্রভু আমার জীবনীশক্তি নিঃশেষ করেছেন। যাদের আমি সহ্য করতে পারি না, তাদের হাতেই তিনি আমাকে সমর্পণ করেছেন।
LAM 1:15 “আমার মধ্যে যেসব যোদ্ধা ছিল, প্রভু তাদের অগ্রাহ্য করেছেন; তিনি আমার বিরুদ্ধে এক সৈন্যদল তলব করেছেন, যেন আমার যুবকদের চূর্ণ করেন। প্রভু তাঁর আঙুর মাড়াই-কল, কুমারী-কন্যা যিহূদাকে মর্দন করেছেন।
LAM 1:16 “এই কারণে আমি ক্রন্দন করি, এবং আমার চোখদুটি অশ্রুপ্লাবিত হয়। আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কাছে কেউই নেই, কেউ আমার প্রাণ সঞ্জীবিত করে না। আমার ছেলেমেয়েরা আজ সহায়সম্বলহীন, কারণ শত্রুরা বিজয়ী হয়েছে।”
LAM 1:17 সিয়োন তার দু-হাত প্রসারিত করেছে, কিন্তু তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। সদাপ্রভু যাকোব কুলের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন যে, তার প্রতিবেশীরাই তার শত্রু হবে; তাদের মধ্যে জেরুশালেম এক অশুচি বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
LAM 1:18 “সদাপ্রভু ধর্মময়, তা সত্ত্বেও আমি তাঁর আজ্ঞার বিদ্রোহী হয়েছি। সমস্ত জাতিগণ, তোমরা শোনো; আমার কষ্টভোগের প্রতি দৃষ্টি দাও। আমার যুবকেরা ও কুমারী-কন্যারা নির্বাসনে চলে গেছে।
LAM 1:19 “আমি আমার মিত্রবাহিনীকে ডেকেছিলাম, কিন্তু তারা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমার যাজকেরা ও প্রাচীনবর্গ নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য, যখন খাদ্যদ্রব্যের অন্বেষণ করেছে, তখন তারা নগরের মধ্যে বিনষ্ট হয়েছে।
LAM 1:20 “হে সদাপ্রভু, দেখো, আমি কতটা যাতনাগ্রস্ত! আমার অন্তরে মর্মবেদনা প্রবল, এবং অন্তরে আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, কারণ আমি প্রচণ্ড বিদ্রোহী ছিলাম। বাইরে, তরোয়াল শোকাহত করছে, ভিতরে, কেবলই মৃত্যু।
LAM 1:21 “লোকেরা আমার আর্তনাদ শুনেছে, কিন্তু আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউই নেই। আমার প্রতিটি শত্রু আমার দুর্দশার কথা শুনেছে; তুমি যা করেছ, তার জন্য তারা উল্লসিত। তোমার ঘোষিত সেদিনকে তুমি নিয়ে এসো, যাতে তাদের অবস্থাও যেন আমারই মতো হয়।
LAM 1:22 “তাদের সমস্ত দুষ্টতা তোমার দৃষ্টিগোচর হোক; তুমি তাদের সঙ্গে তেমনই আচরণ করো যেমনটি আমার কৃত সব পাপের জন্য তুমি আমার সঙ্গে করেছ। আমার দীর্ঘশ্বাস অসংখ্য এবং আমার হৃদয় মূর্ছিত।”
LAM 2:1 প্রভু সিয়োন-কন্যাকে তাঁর আপন ক্রোধের মেঘে কেমন আবৃত করেছেন! তিনি ইস্রায়েলের জৌলুসকে আকাশ থেকে ভূতলে নিক্ষেপ করেছেন; তাঁর ক্রোধের দিনে, তাঁর পাদপীঠের কথা তিনি মনে রাখেননি।
LAM 2:2 কোনো মমতা ছাড়াই প্রভু যাকোবের সমগ্র আবাস গ্রাস করেছেন; তিনি সক্রোধে যিহূদা-কন্যার দুর্গগুলি উৎপাটন করেছেন। তার রাজ্য ও তার রাজপুরুষদের অসম্মানের সঙ্গে তিনি ভূলুণ্ঠিত করেছেন।
LAM 2:3 তিনি প্রচণ্ড ক্রোধে ইস্রায়েলের প্রতিটি শৃঙ্গকে ছিন্ন করেছেন। শত্রু অগ্রসর হওয়ার সময় তিনি তাঁর দক্ষিণ হস্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি যাকোবকে এক লেলিহান আগুনের শিখার মতো ভস্মীভূত করেছেন যা তার চারপাশের সবকিছুকে গ্রাস করে নেয়।
LAM 2:4 শত্রুর মতো তিনি তাঁর ধনুকে চাড়া দিয়েছেন; তাঁর ডান হাত প্রস্তুত। যারা নয়নরঞ্জন ছিল, তিনি তাদের শত্রুর মতোই বধ করেছেন। তিনি তাঁর রোষ আগুনের মতো সিয়োন-কন্যার শিবিরের উপরে ঢেলে দিয়েছেন।
LAM 2:5 প্রভু যেন এক শত্রু; তিনি ইস্রায়েলকে গ্রাস করেছেন। তিনি তার সব প্রাসাদ গ্রাস করেছেন এবং তার দুর্গসকল ধ্বংস করেছেন। যিহূদা-কন্যার শোকগাথা ও বিলাপ তিনি বহুগুণে বৃদ্ধি করেছেন।
LAM 2:6 বাগানের মতো তাঁর আবাসকে তিনি বিধ্বস্ত করেছেন; তাঁর আপন সমাগম-স্থান তিনি ধ্বংস করেছেন। সদাপ্রভু সিয়োনকে বিস্মৃত করিয়ে দিয়েছেন তার নির্ধারিত সব পার্বণ-উৎসব ও সাব্বাথের দিনগুলি; তিনি তাঁর ভয়ংকর ক্রোধে রাজা ও যাজক উভয়কেই অবজ্ঞা করেছেন।
LAM 2:7 প্রভু তাঁর বেদিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর ধর্মধামকে পরিত্যাগ করেছেন। তিনি জেরুশালেমের প্রাসাদগুলির প্রাচীর তার শত্রুদের হাতে তুলে দিয়েছেন; কোনও নির্ধারিত উৎসব-দিনের মতো তারা সদাপ্রভুর গৃহে চিৎকার করেছে।
LAM 2:8 সদাপ্রভু দৃঢ়সংকল্প করেছেন, তিনি সিয়োন-কন্যার চারপাশের প্রাচীর ভেঙে ফেলবেন। তিনি একটি মাপকাঠি বিস্তৃত করেছেন, এবং তাঁর হাতকে ধ্বংসকার্য থেকে নিবৃত্ত করেননি। তিনি পরিখা ও প্রাচীরগুলিকে বিলাপ করিয়েছেন; সেগুলি একসঙ্গে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।
LAM 2:9 তার তোরণদ্বারগুলি মাটিতে ঢাকা পড়েছে; সেগুলির অর্গলগুলি তিনি ভেঙেছেন ও ধ্বংস করেছেন। তার রাজা ও রাজপুরুষেরা জাতিগণের মধ্যে নির্বাসিত হয়েছে, বিধান আর নেই, এবং তার ভাববাদীরা সদাপ্রভুর কাছ থেকে কোনো দর্শন পান না।
LAM 2:10 সিয়োন-কন্যার সমস্ত প্রাচীন নীরবে মাটিতে বসে রয়েছেন; তাদের মাথায় তারা ধুলো নিক্ষেপ করেছেন এবং শোকবস্ত্র পরিধান করেছেন। জেরুশালেমের যুবতী নারীরা মাটিতে অধোমুখ হয়েছে।
LAM 2:11 কাঁদতে কাঁদতে আমার চোখ ঝাপসা হয়েছে, আমার অন্তরে প্রচণ্ড মর্মবেদনা, আমার হৃদয় যেন গলে গিয়ে মাটিতে বয়ে যাচ্ছে কেননা আমার লোকেরা ধ্বংস হচ্ছে, কেননা ছেলেমেয়ে ও দুগ্ধপোষ্য শিশুরা নগরের পথে পথে মূর্ছিত হচ্ছে।
LAM 2:12 তারা তাদের মায়েদের বলে, “আমাদের জন্য খাবার ও দ্রাক্ষারস কোথায়?” কেননা তারা নগরের পথে পথে আহত মানুষের মতো মূর্ছিত হয়, তাদের মায়েদের কোলে তাদের প্রাণ ঢলে পড়ে।
LAM 2:13 আমি তোমাকে কী বলব? হে, জেরুশালেম-কন্যা, তোমাকে কার সঙ্গে আমি তুলনা করব? হে সিয়োনের কুমারী-কন্যা, কার সঙ্গে আমি তোমার তুলনা করব, যাতে আমি তোমাকে সান্ত্বনা দিতে পারি? তোমার ক্ষত সমুদ্রের মতোই গভীর। কে তোমায় আরোগ্য করতে পারে?
LAM 2:14 তোমার ভাববাদীদের দর্শনগুলি মিথ্যা ও অসার ছিল; নির্বাসন থেকে তোমাকে মুক্ত করার জন্য তারা তোমার পাপকে প্রকাশ করেনি। যে প্রত্যাদেশ তারা তোমাকে দিয়েছিল, সেগুলি ছিল মিথ্যা ও ভ্রান্ত পথ-নির্দশক।
LAM 2:15 যারাই তোমার পাশ দিয়ে যায়, তারাই তোমাকে দেখে হাততালি দেয়; তারা জেরুশালেম-কন্যাকে টিটকিরি দেয় ও মাথা নেড়ে বলে: “এই কি সেই নগর, যাকে বলা হত ‘পরম সৌন্দর্যের স্থান,’ ও ‘সমস্ত পৃথিবীর আনন্দস্থল’?”
LAM 2:16 তোমার সব শত্রু তোমার বিপক্ষে মুখ খুলে বড়ো হাঁ করে; তারা টিটকিরি দেয় ও দাঁতে দাঁত ঘষে, আর বলে, “আমরা ওকে গিলে ফেলেছি। এই দিনটির জন্যই আমরা এতদিন অপেক্ষা করছিলাম; এটি দেখার জন্যই আমরা বেঁচেছিলাম।”
LAM 2:17 সদাপ্রভু তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন; তিনি তাঁর কথা রেখেছেন, যে কথা তিনি বহুপূর্বে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি মমতা না করে তোমাকে নিপাত করেছেন, তিনি শত্রুকে তোমার বিরুদ্ধে আনন্দ করতে দিয়েছেন, তিনি তোমার বিপক্ষের শৃঙ্গকে উন্নত করেছেন।
LAM 2:18 লোকদের হৃদয় প্রভুর কাছে কেঁদে ওঠে। হে সিয়োন-কন্যার প্রাচীর, দিনরাত তোমার চোখ দিয়ে নদীস্রোতের মতো অশ্রু বয়ে যাক; তোমার কোনও ছাড় নেই, তোমার চোখের কোনও বিশ্রাম নেই।
LAM 2:19 রাতের প্রহর শুরু হলে পর ওঠো, রাত্রিকালে কাঁদতে থাকো; প্রভুর সামনে জলের মতো তোমার হৃদয় ঢেলে দাও তাঁর উদ্দেশ্যে তোমার দু-হাত তুলে ধরো, তোমার ছেলেমেয়েদের প্রাণরক্ষার জন্য, যারা প্রত্যেকটি পথের মোড়ে ক্ষুধায় মূর্ছিত হয়।
LAM 2:20 “হে সদাপ্রভু, তুমি দেখো ও বিবেচনা করো: তুমি এমন আচরণ আগে কার সঙ্গে করেছ? যে নারীরা তাদের ছেলেমেয়েদের জন্ম দিয়েছে, তাদের সন্তানদের প্রতিপালন করেছে, তারা কি তাদের মাংস খাবে? প্রভুর ধর্মধামের ভিতরে কি যাজক ও ভাববাদীদের হত্যা করা হবে?
LAM 2:21 “পথে পথে ধুলোর মধ্যে যুবক ও বৃদ্ধ সকলেই লুটিয়ে পড়ে আছে; আমার যুবকেরা ও কুমারী-কন্যারা তরোয়ালের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে। তোমার ক্রোধের দিনে তুমি তাদের বধ করেছ; কোনো মমতা ছাড়াই তুমি তাদের কেটে ফেলেছ।
LAM 2:22 “উৎসবের দিনে তুমি যেভাবে লোকদের আহ্বান করো, ঠিক তেমনই তুমি আমার জন্য চারদিক থেকে ত্রাসকে আহ্বান করেছ। সদাপ্রভুর ক্রোধের দিনে কেউই পালাতে বা বেঁচে থাকতে পারেনি; যাদের আমি প্রতিপালন ও যত্ন করেছি, আমার শত্রু তাদের সংহার করেছে।”
LAM 3:1 আমিই সেই ব্যক্তি, যে সদাপ্রভুর ক্রোধের দণ্ড দ্বারা কৃত দুঃখকষ্ট দেখেছে।
LAM 3:2 তিনি আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছেন এবং আলোতে নয় অন্ধকারে গমন করিয়েছেন;
LAM 3:3 সত্যিই, তিনি সমস্ত দিন, বারংবার আমার বিরুদ্ধে তাঁর হাত তুলেছেন।
LAM 3:4 তিনি আমার চামড়া ও আমার মাংস জীর্ণ হতে দিয়েছেন, তিনি আমার হাড়গুলি ভেঙে ফেলেছেন।
LAM 3:5 তিনি তিক্ততা ও দুর্দশা দিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করেছেন ও ঘিরে ধরেছেন।
LAM 3:6 যারা অনেক দিন আগে মারা গেছে, তাদের মতো তিনি আমাকে অন্ধকারে বসতি করান।
LAM 3:7 তিনি আমার চারপাশে বেড়া দিয়েছেন, যেন আমি পালাতে না পারি; তিনি শিকল দিয়ে আমাকে ভারাক্রান্ত করেছেন।
LAM 3:8 এমনকি, যখন আমি সাহায্যের জন্য তাঁকে ডাকি বা কাঁদি, তিনি আমার প্রার্থনা শোনেন না।
LAM 3:9 বিশাল সব পাথর দিয়ে তিনি আমার পথ অবরুদ্ধ করেছেন, তিনি আমার সব পথ বাঁকা করেছেন।
LAM 3:10 ভালুক যেমন লুকিয়ে ওৎ পাতে, যেভাবে সিংহ গোপনে লুকিয়ে থাকে,
LAM 3:11 সেইভাবে তিনি আমাকে পথ থেকে টেনে এনে খণ্ডবিখণ্ড করেছেন এবং আমাকে সহায়হীন করেছেন।
LAM 3:12 তিনি তাঁর ধনুকে চাড়া দিয়েছেন, এবং আমাকে তাঁর তিরগুলির লক্ষ্যবস্তু করেছেন।
LAM 3:13 তাঁর তূণের তির দিয়ে তিনি বিদ্ধ করেছেন আমার হৃদয়।
LAM 3:14 আমার সব লোকজনদের কাছে আমি হাসির খোরাক হয়েছি; তারা সারাদিন আমাকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক গান গায়।
LAM 3:15 তিনি আমাকে তিক্ততায় পূর্ণ করেছেন, এবং পান করার জন্য আমাকে এক বিষপূর্ণ পানপাত্র দিয়েছেন।
LAM 3:16 তিনি কাঁকর দিয়ে আমার দাঁত ভেঙেছেন; তিনি ধুলিতে আমাকে পদদলিত করেছেন।
LAM 3:17 আমি শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছি, আমি ভুলে গিয়েছি সমৃদ্ধি কাকে বলে।
LAM 3:18 তাই আমি বলি, “আমার জৌলুস শেষ হয়ে গেছে, এবং সদাপ্রভুর কাছ থেকে আমার সব প্রত্যাশার অবসান হয়েছে।”
LAM 3:19 আমি আমার কষ্ট ও অস্থির বিচরণ স্মরণ করি, আমার তিক্ততা ও পিত্তের কথা।
LAM 3:20 সেগুলি আমার ভালোভাবেই স্মরণে আছে, এবং আমার প্রাণ আমারই মধ্যে অবসন্ন হয়েছে।
LAM 3:21 তবুও আমি আবার একথা স্মরণ করি, আর তাই আমার আশা জেগে আছে:
LAM 3:22 সদাপ্রভুর মহৎ প্রেমের জন্য আমরা নষ্ট হইনি, কেননা তাঁর সহানুভূতি কখনও শেষ হয় না।
LAM 3:23 প্রতি প্রভাতে তা নতুন করে দেখা দেয়; তোমার বিশ্বস্ততা মহৎ।
LAM 3:24 আমি নিজেকে বলি, “সদাপ্রভু আমার অধিকার; এজন্য আমি তাঁর প্রতীক্ষায় থাকব।”
LAM 3:25 যারা সদাপ্রভুর উপরে তাদের আশা রাখে, এবং যারা তাঁর অন্বেষণ করে, তিনি তাদের পক্ষে মঙ্গলময়;
LAM 3:26 সদাপ্রভুর পরিত্রাণের জন্য শান্তভাবে অপেক্ষা করা ভালো।
LAM 3:27 মানুষের যৌবনকালে জোয়াল বহন করা উত্তম।
LAM 3:28 নীরবে সে একা বসে থাকুক, কেননা সেই জোয়াল সদাপ্রভু তার উপরে দিয়েছেন।
LAM 3:29 সে ধুলোয় নিজের মুখ ঢেকে রাখুক— হয়তো তখনও আশা থাকতে পারে।
LAM 3:30 যে তাকে আঘাত করেছে, তার প্রতি সে গাল পেতে দিক, এবং সে অপমানে পূর্ণ হোক।
LAM 3:31 কারণ প্রভু মানুষকে চিরকালের জন্য পরিত্যাগ করেন না।
LAM 3:32 যদিও তিনি তাকে দুঃখ দেন, তাহলেও তিনি করুণা প্রদর্শন করবেন, তাঁর অব্যর্থ ভালোবাসা এমনই মহান।
LAM 3:33 কারণ তিনি ইচ্ছা করে মানবসন্তানদের কষ্ট বা মনোদুঃখ দেন না।
LAM 3:34 দেশের সব বন্দিকে যদি লোকেরা পদতলে দলিত করে,
LAM 3:35 পরাৎপর ঈশ্বরের সামনে যদি মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে,
LAM 3:36 তারা যদি ন্যায়বিচার না পায়— তাহলে প্রভু কি এসব বিষয় দেখবেন না?
LAM 3:37 প্রভু যদি অনুমতি না দেন তাহলে কে কিছু বলে তা ঘটাতে পারে?
LAM 3:38 পরাৎপর ঈশ্বরের মুখ থেকে কি বিপর্যয় ও উত্তমতা দুই-ই নির্গত হয় না?
LAM 3:39 তাহলে তাদের পাপের জন্য শাস্তি পেলে জীবিত মানুষমাত্র কেন অভিযোগ করে?
LAM 3:40 এসো আমরা নিজেদের জীবনাচরণ যাচাই ও পরীক্ষা করি, আর এসো, আমরা সদাপ্রভুর পথে ফিরে যাই।
LAM 3:41 এসো, আমরা স্বর্গের ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে আমাদের হৃদয় ও আমাদের হাতগুলি তুলে ধরি, এবং বলি:
LAM 3:42 “আমরা পাপ করেছি ও বিদ্রোহী হয়েছি, এবং তুমি আমাদের ক্ষমা করোনি।
LAM 3:43 “তুমি ক্রোধে নিজেকে আচ্ছাদন করে আমাদের তাড়া করেছ; কোনো মমতা ছাড়াই তুমি হত্যা করেছ।
LAM 3:44 তুমি মেঘ দ্বারা নিজেকে ঢেকেছ, ফলে কোনো প্রার্থনা তা ভেদ করতে পারে না।
LAM 3:45 তুমি জাতিগণের মধ্যে আমাদের আবর্জনা ও বর্জ্যপদার্থের মতো অবস্থা করেছ।
LAM 3:46 “আমাদের সব শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে তাদের মুখ হাঁ করে খুলে আছে।
LAM 3:47 আমরা ত্রাস ও ফাঁদ, ধ্বংস ও বিনাশের মুখে পড়েছি।”
LAM 3:48 আমার দু-চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বয়ে যাচ্ছে কেননা আমার লোকেরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
LAM 3:49 আমার অশ্রু অবিরাম বয়ে যায়, তার কোনো উপশম হয় না,
LAM 3:50 যতক্ষণ না সদাপ্রভু স্বর্গ থেকে নিচে দৃষ্টিপাত করেন।
LAM 3:51 আমার নগরের সমস্ত নারীর যে দশা আমি দেখি, তা আমার প্রাণকে দুঃখ দেয়।
LAM 3:52 যারা বিনা কারণে আমার শত্রু হয়েছিল, তারা পাখির মতো আমাকে শিকার করেছে।
LAM 3:53 তারা গর্তে ফেলে আমার প্রাণ শেষ করতে চেয়েছে, তারা আমার দিকে পাথর ছুঁড়েছে;
LAM 3:54 জলরাশি আমার মাথার উপরে উঠেছে, এবং আমি ভেবেছিলাম, আমি প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছি।
LAM 3:55 গর্তের গভীর তলদেশ থেকে হে সদাপ্রভু, আমি তোমার নামে ডেকেছি।
LAM 3:56 তুমি আমার এই বিনতি শুনেছ: “উপশম লাভের জন্য আমার কান্নার প্রতি তুমি তোমার কান রুদ্ধ কোরো না।”
LAM 3:57 আমি তোমাকে ডাকলে তুমি নিকটে এলে, আর তুমি বললে, “ভয় কোরো না।”
LAM 3:58 হে সদাপ্রভু, তুমি আমার পক্ষ নিয়েছ; তুমি আমার জীবন মুক্ত করেছ।
LAM 3:59 হে সদাপ্রভু, আমার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে, তা তুমি দেখেছ। আমার বিচার করে তুমি আমাকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করো!
LAM 3:60 তাদের প্রতিশোধ গ্রহণের গভীরতা, আমার বিরুদ্ধে তাদের সব ষড়যন্ত্র তুমি দেখেছ।
LAM 3:61 হে সদাপ্রভু, তুমি তাদের টিটকিরি, আমার বিরুদ্ধে তাদের সব ষড়যন্ত্রের কথা শুনেছ,
LAM 3:62 যা আমার শত্রুরা আমার বিরুদ্ধে সারাদিন ফিসফিস ও বিড়বিড় করে বলে।
LAM 3:63 ওদের দেখো! ওরা দাঁড়িয়ে থাকুক বা বসে থাকুক, ওরা গান গেয়ে আমাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে।
LAM 3:64 হে সদাপ্রভু, তাদের হস্তকৃত কাজের যোগ্য প্রতিফল তাদের দাও।
LAM 3:65 তাদের হৃদয়ের উপরে তুমি একটি আবরণ দাও, তোমার অভিশাপ তাদের উপরে বর্তাক।
LAM 3:66 সক্রোধে তাদের পিছনে তাড়া করো ও সদাপ্রভুর স্বর্গের নিচে তাদের ধ্বংস করো।
LAM 4:1 হায়! সোনা কেমন তার উজ্জ্বলতা হারিয়েছে, উজ্জ্বল সোনা মলিন হয়েছে! পবিত্র মণিরত্নগুলি ছত্রাকার হয়ে প্রতি পথের মোড়ে পড়ে আছে।
LAM 4:2 বহুমূল্য সিয়োন-সন্তানেরা, যারা একদিন সোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এখন তাদের অবস্থা মাটির পাত্রের মতো, যা কুমোরের হাতে নির্মিত!
LAM 4:3 এমনকি শিয়ালেরাও তাদের শাবকদের প্রতিপালনের জন্য স্তন্যপান করায়, কিন্তু আমার প্রজারা মরুভূমির উটপাখির মতো হৃদয়হীন হয়েছে।
LAM 4:4 পিপাসিত হওয়ার কারণে কোলের শিশুদের জিভ মুখের তালুতে আটকে যায়; শিশুরা রুটি ভিক্ষা চায়, কিন্তু কেউই তাদের তা দেয় না।
LAM 4:5 একদিন যারা উৎকৃষ্ট আহার্য গ্রহণ করত আজ তারা পথে পথে অসহায় হয়ে পড়ে আছে। যারা রাজকীয় বেগুনিয়া পোশাক পরে প্রতিপালিত হয়েছে, তারা এখন ভস্মস্তূপে শুয়ে আছে।
LAM 4:6 আমার প্রজাদের শাস্তি সদোমের লোকদের চেয়েও বেশি, যারা মুহূর্তমধ্যে উৎপাটিত হয়েছিল, একটি সাহায্যকারী হাতও তারা পায়নি।
LAM 4:7 তাদের অমাত্যরা ছিল তুষারের চেয়েও উজ্জ্বল এবং দুধের চেয়েও শুভ্র, তাদের অঙ্গ ছিল প্রবালের চেয়েও লাল, তাদের কান্তি ছিল নীলকান্তমণির মতো।
LAM 4:8 কিন্তু এখন তারা হয়েছে ভুষোকালির চেয়েও কালো; পথে পথে তাদের চেনা যায় না। তাদের চামড়া কুঁচকে হাড়ের সঙ্গে লেগে রয়েছে, তা কাঠির মতোই শুকনো হয়ে গেছে।
LAM 4:9 যারা তরোয়ালের আঘাতে নিহত হয় তারা বরং দুর্ভিক্ষের কারণে মৃতদের চেয়ে ভালো; মাঠ থেকে কোনো শস্য না পেয়ে, তারা ক্ষুধার জ্বালায় ক্ষয় পেয়ে উৎখাত হচ্ছে।
LAM 4:10 স্নেহশীলা নারীরা তাদের নিজেদের হাতে, তাদেরই ছেলেমেয়েদের রান্না করেছে, তারা তখন তাদের খাদ্যে পরিণত হয়েছে, যখন আমার প্রজারা ধ্বংস হয়েছে।
LAM 4:11 সদাপ্রভু তাঁর ক্রোধ পূর্ণরূপে সম্পন্ন করেছেন; তিনি তাঁর ভয়ংকর ক্রোধ ঢেলে দিয়েছেন। তিনি সিয়োনে এক আগুন প্রজ্বলিত করেছেন, যা গ্রাস করেছে তার সমস্ত ভিত্তিমূলকে।
LAM 4:12 পৃথিবীর রাজারা বা জগতের কোনো লোকও বিশ্বাস করেনি যে, বিপক্ষেরা ও শত্রুরা জেরুশালেমের তোরণদ্বারগুলি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।
LAM 4:13 কিন্তু তার ভাববাদীদের পাপের জন্য এইরকম ঘটেছে, এবং তার যাজকদের শঠতার জন্য, যারা তারই মধ্যে বসে ধার্মিক লোকদের রক্তপাত করেছে।
LAM 4:14 এখন তারা অন্ধ লোকদের মতো পথে পথে হাতড়ে বেড়ায়। রক্তে তারা এমনভাবে কলুষিত যে, কেউই তাদের পোশাক ছুঁতে চায় না।
LAM 4:15 লোকেরা চিৎকার করে তাদের বলে, “দূর হও! তোমরা অশুচি! দূর হও! দূর হও! আমাদের স্পর্শ কোরো না!” যখন তারা পালিয়ে এবং ঘুরে বেড়ায়, তখন অন্যান্য জাতির লোকেরা বলে, “ওরা এখানে কখনও থাকতে পারবে না।”
LAM 4:16 সদাপ্রভু স্বয়ং তাদের ছিন্নভিন্ন করেছেন; তিনি আর তাদের দেখেন না। যাজকদের কেউ আর সম্মান করে না, প্রাচীনদের কেউ আর কৃপা করে না।
LAM 4:17 এছাড়া, মিথ্যা সাহায্যের প্রত্যাশায় আমাদের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়েছে; আমাদের উচ্চগৃহগুলি থেকে এক জাতির দিকে তাকিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের রক্ষা করতে পারেনি।
LAM 4:18 লোকেরা চুপিসাড়ে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, তাই আমরা পথে হাঁটতে পারি না। আমাদের শেষকাল নিকটবর্তী, আমাদের আয়ু সম্পূর্ণ, কেননা আমাদের শেষকাল উপস্থিত।
LAM 4:19 আকাশের ঈগল পাখিদের চেয়েও আমাদের পশ্চাদ্ধাবনকারীরা দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিল; তারা পর্বতগুলির উপরেও আমাদের তাড়া করে গেছে, আর মরুভূমিতে আমাদের জন্য ওৎ পেতে থেকেছে।
LAM 4:20 যিনি সদাপ্রভুর অভিষিক্ত, আমাদের জাতির প্রাণস্বরূপ, তিনি তাদের ফাঁদে ধরা পড়েছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম যে তাঁরই ছায়ায় আমরা জাতিগুলির মধ্যে জীবনযাপন করব।
LAM 4:21 ঊষ দেশে বসবাসকারী, ইদোম-কন্যা, আনন্দ করো ও উল্লসিত হও। কিন্তু তোমার কাছেও সেই পানপাত্র আসবে; তুমিও মত্ত হবে ও নগ্ন হবে।
LAM 4:22 সিয়োন-কন্যা, তোমার শাস্তির দিন শেষ হবে; তোমার নির্বাসনের দিন তিনি আর বিলম্বিত করবেন না। কিন্তু ইদোম-কন্যা, তোমার পাপের শাস্তি তিনি দেবেন ও তোমার সমস্ত দুষ্টতা অনাবৃত করবেন।
LAM 5:1 হে সদাপ্রভু, আমাদের প্রতি যা ঘটেছে, তা স্মরণ করো, এদিকে তাকাও, দেখো আমাদের অসম্মান।
LAM 5:2 আমাদের অধিকার বিজাতীয় লোকদের হাতে, আমাদের ঘরবাড়ি বিদেশিদের দখলে চলে গেছে।
LAM 5:3 আমরা অনাথ ও পিতৃহীন হয়েছি, আমাদের মায়েরা বিধবা হয়েছে।
LAM 5:4 পান করার জলটুকুও আমাদের কিনে খেতে হয়; অর্থ দিলে তবেই আমরা জ্বালানির কাঠ পাই।
LAM 5:5 যারা আমাদের তাড়া করে, তারা আমাদের ঠিক পিছনেই; আমরা শ্রান্ত-ক্লান্ত এবং এতটুকু বিশ্রাম পাই না।
LAM 5:6 পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্য পাওয়ার জন্য আমরা মিশর ও আসিরিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি।
LAM 5:7 আমাদের পিতৃপুরুষেরা পাপ করেছিলেন, কিন্তু তারা আর নেই, তাই আমরা তাদের শাস্তি বহন করছি।
LAM 5:8 ক্রীতদাসেরা আমাদের উপরে কর্তৃত্ব করে, এবং তাদের হাত থেকে আমাদের উদ্ধার করার জন্য কেউ নেই।
LAM 5:9 মরুপ্রান্তরে তরোয়ালের আক্রমণের মধ্যে জীবন বিপন্ন করে আমাদের খাদ্য সংগ্রহ করতে হয়।
LAM 5:10 আমাদের চামড়া উনুনের মতো তপ্ত, খিদেয় আমাদের জ্বর জ্বর বোধ হয়।
LAM 5:11 সিয়োনে নারীদের অপবিত্র করা হয়েছে, এবং যিহূদার নগরগুলিতে কুমারী-কন্যারা ধর্ষিতা হয়েছে।
LAM 5:12 রাজপুরুষদের হাত বেঁধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, প্রাচীন ব্যক্তিদের প্রতি কোনো সম্মান দেখানো হয়নি।
LAM 5:13 যুবকেরা জাঁতা ঘুরিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে; বালকেরা কাঠের ভারী বোঝায় টলমল করে।
LAM 5:14 প্রাচীনেরা নগরদ্বার থেকে চলে গেছেন; যুবকেরা তাদের বাজনার শব্দ থামিয়ে দিয়েছে।
LAM 5:15 আমাদের হৃদয় থেকে আনন্দ চলে গেছে, আমাদের নৃত্য শোকে পরিণত হয়েছে।
LAM 5:16 আমাদের মস্তক থেকে মুকুট খসে পড়েছে। ধিক্ আমাদের, কেননা আমরা পাপ করেছি!
LAM 5:17 এইসব কারণে আমাদের হৃদয় মূর্ছিত হয়েছে, এইসব কারণে আমাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়েছে।
LAM 5:18 কারণ সিয়োন পর্বত পরিত্যক্ত পড়ে আছে, শিয়ালেরা তার উপরে বিচরণ করে।
LAM 5:19 হে সদাপ্রভু, তোমার রাজত্ব অনন্তকালীন; তোমার সিংহাসন পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী।
LAM 5:20 তুমি কেন সবসময় আমাদের ভুলে যাও? কেন তুমি এত দীর্ঘকাল যাবৎ আমাদের পরিত্যাগ করে আছ?
LAM 5:21 হে সদাপ্রভু, তোমার কাছে আমাদের ফিরিয়ে নাও, যেন আমরা ফিরে আসতে পারি; পুরোনো দিনের মতোই আমাদের অবস্থা নবায়িত করো।
LAM 5:22 কিন্তু তুমি যে আমাদের একেবারেই অগ্রাহ্য করেছ, এবং আমাদের উপরে তোমার মাত্রাহীন ক্রোধ রয়েছে।
EZE 1:1 ত্রিশতম বছরের চতুর্থ মাসের পঞ্চম দিনে আমি যখন কবার নদীর ধারে বন্দিদের মধ্যে ছিলাম তখন আকাশ খুলে গেল আর আমি ঈশ্বরের দর্শন পেলাম।
EZE 1:2 সেই মাসের পঞ্চম দিনে, সেটি রাজা যিহোয়াখীনের নির্বাসনের পঞ্চম বছর ছিল,
EZE 1:3 ব্যাবিলনীয়দের দেশে কবার নদীর ধারে বুষির ছেলে যাজক যিহিষ্কেলের কাছে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হল। সেখানে সদাপ্রভুর হাত তাঁর উপর ছিল।
EZE 1:4 আমি তাকিয়ে দেখলাম উত্তর দিক থেকে ঝড় আসছে—একটি বিরাট মেঘের সঙ্গে বিদ্যুৎ আর উজ্জ্বল আলো। আগুনের মাঝখানে উজ্জ্বল ধাতুর মতো কিছু ঝকমক করছিল,
EZE 1:5 আর আগুনে মধ্যে চারটি জীবন্ত প্রাণীর মতো কিছু দেখা গেল। তাদের চেহারা দেখতে ছিল মানুষের মতো
EZE 1:6 কিন্তু তাদের প্রত্যেকের চারটি করে মুখ ও চারটি করে ডানা ছিল।
EZE 1:7 তাদের পা সোজা; তাদের পায়ের পাতা বাছুরের খুরের মতো; আর সেগুলি পালিশ করা ব্রোঞ্জের মতো চকচক করছিল।
EZE 1:8 তাদের চারপাশের ডানার নিচে মানুষের মতো হাত ছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ ও ডানা ছিল,
EZE 1:9 এবং তাদের ডানাগুলি একটির সঙ্গে অন্যটি ছুঁয়েছিল। তারা প্রত্যেকে সোজা এগিয়ে যেতেন; যাবার সময় ফিরতেন না।
EZE 1:10 তাদের মুখগুলি এইরকম দেখতে ছিল: চারজনের প্রত্যেকের একটি করে মানুষের মুখ ছিল এবং প্রত্যেকের ডানদিকের মুখ সিংহের ও বাঁদিকের ষাঁড়ের; প্রত্যেকের আবার একটি করে ঈগলের মুখও ছিল।
EZE 1:11 তাদের মুখগুলি এরকম ছিল। তাদের ডানাগুলি উপরদিকে মেলে দেওয়া ছিল; প্রত্যেকের দুই ডানা তাঁর দুই পাশের প্রাণীর দেহ ছুঁয়েছিল, আর দুই ডানা দিয়ে সেই দেহ ঢাকা ছিল।
EZE 1:12 তারা প্রত্যেকে সামনের দিকে যেতেন। আত্মা যেদিকে যেতেন তারাও না ঘুরে সেদিকে যেতেন।
EZE 1:13 এই জীবন্ত প্রাণীদের মধ্যে জ্বলন্ত কয়লা কিংবা মশালের মতো আগুন জ্বলছিল এবং তা সেই প্রাণীদের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছিল; সেই আগুন উজ্জ্বল এবং তার মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ বেরিয়ে আসছিল।
EZE 1:14 প্রাণীগুলি বিদ্যুৎ চমকাবার মতো যাতায়াত করছিলেন।
EZE 1:15 আমি যখন ওই জীবন্ত প্রাণীগুলির দিকে তাকালাম তখন দেখলাম প্রত্যেক প্রাণী যাদের চারটে করে মুখ ছিল তাদের পাশে মাটিতে একটি করে চাকা পড়ে আছে।
EZE 1:16 সেই চাকাগুলির আকার ও গঠন এইরকম সেগুলি বৈদূর্যমণির মতো ঝকমক করছিল এবং চারটে চাকাই এক রকম দেখতে ছিল। একটি চাকার ভিতরে যেন আর একটি চাকা এইভাবে প্রত্যেকটি চাকা তৈরি ছিল।
EZE 1:17 চাকাগুলি চারিদিকের একদিকে চলত যেদিকে প্রাণীগুলির মুখ থাকত; প্রাণীগুলি চলবার সময় চাকাগুলি দিক পরিবর্তন করত না।
EZE 1:18 সেগুলির বেড় ছিল উঁচু ও ভয়ংকর এবং চারটে বেড়ের চারিদিকে চোখে ভরা ছিল।
EZE 1:19 জীবন্ত প্রাণীগুলি যখন চলত তাদের পাশের চাকাগুলিও চলত; আর যখন জীবন্ত প্রাণীগুলি মাটি থেকে উঠত, চাকাগুলিও উঠত।
EZE 1:20 আত্মা যখন যেদিকে যেতেন, তারাও সেদিকে যেত, এবং চাকাগুলি তাদের সঙ্গে উঠত, কারণ জীবন্ত প্রাণীদের আত্মা সেই চাকার মধ্যে ছিল।
EZE 1:21 প্রাণীরা যখন চলতেন চাকাগুলিও চলত; প্রাণীগুলি স্থির হয়ে দাঁড়ালে চাকাগুলিও স্থির হয়ে দাঁড়াত, আর যখন প্রাণীরা মাটি থেকে উঠতেন, চাকাগুলি তাদের সঙ্গে উঠত, কারণ জীবন্ত প্রাণীদের আত্মা সেই চাকার মধ্যে ছিল।
EZE 1:22 সেই জীবন্ত প্রাণীদের মাথার উপরে উন্মুক্ত এলাকার মতো কিছু একটি বিছানো ছিল, সেটি স্ফটিকের মতো ঝকমক করছিল এবং ভয়ংকর ছিল।
EZE 1:23 সেই খিলানের নিচে তাদের ডানাগুলি ছড়ানো ছিল এবং একজনের ডানা অন্যজনের ছুঁয়েছিল, আর প্রত্যেকের দেহ দুই ডানা দিয়ে ঢাকা ছিল।
EZE 1:24 প্রাণীগুলি চললে আমি তাদের ডানার শব্দ শুনতে পেলাম, যেন জলস্রোতের শব্দের মতো, যেন সর্বশক্তিমানের গলার স্বরের মতো, যেন সৈন্যবাহিনীর শোরগোলের মতো। তারা স্থির হয়ে দাঁড়ালে তাদের ডানা নামিয়ে নিতেন।
EZE 1:25 তারা যখন ডানা নামিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তখন তাদের মাথার উপরকার সেই উন্মুক্ত এলাকার উপর থেকে একটি গলার স্বর শোনা গেল।
EZE 1:26 তাদের মাথার উপরকার সেই উন্মুক্ত এলাকার উপরে নীলকান্তমণির সিংহাসনের মতো কিছু একটি ছিল এবং তার উপরে মানুষের আকারের একজনকে দেখা গেল।
EZE 1:27 আমি দেখলাম কোমর থেকে উপর পর্যন্ত তিনি দেখতে ছিলেন উজ্জ্বল ধাতুর মতো, যেন সেটি আগুনে পূর্ণ, আর কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত তাঁকে আগুনের মতো দেখতে লাগছিল; তাঁর চারপাশে ছিল উজ্জ্বল আলো।
EZE 1:28 বৃষ্টির দিনে মেঘের মধ্যে মেঘধনুকের মতোই তাঁর চারপাশে সেই আলো দেখা যাচ্ছিল। যা দেখা গেল তা ছিল সদাপ্রভুর মহিমার মতো। আমি যখন তা দেখলাম, আমি মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লাম, এবং আমি একজনের রব শুনতে পেলাম।
EZE 2:1 তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও, আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব।”
EZE 2:2 তিনি যখন কথা বলছিলেন তখন ঈশ্বরের আত্মা আমার মধ্যে এসে আমাকে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করালেন আর আমি শুনলাম তিনি আমার সঙ্গে কথা বলছেন।
EZE 2:3 তিনি বললেন “হে মানবসন্তান, আমি তোমাকে ইস্রায়েলীদের কাছে পাঠাচ্ছি, সেই বিদ্রোহী জাতি যারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে; তারা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা আজ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে।
EZE 2:4 যে লোকদের কাছে আমি তোমাকে পাঠাচ্ছি তারা একগুঁয়ে ও জেদি। তাদের বলবে, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’
EZE 2:5 আর তারা শুনুক বা না শুনুক—কারণ তারা বিদ্রোহীকুল—তারা জানতে পারবে যে একজন ভাববাদী তাদের মধ্যে আছেন।
EZE 2:6 আর তুমি, মানবসন্তান, তুমি তাদের ও তাদের কথায় ভয় পেয়ো না। যদিও তারা শিয়ালকাঁটা ও কাঁটাঝোপের মতো তোমার চারপাশে থাকবে এবং তুমি কাঁকড়াবিছের মধ্যে বাস করবে। তাদের কথা শুনে বা তাদের দেখে ভয় পেয়ো না, যদিও তারা বিদ্রোহীকুল।
EZE 2:7 তুমি তাদের কাছে আমার কথা বলবে, তারা শুনুক বা না শুনুক, কারণ তারা বিদ্রোহী।
EZE 2:8 কিন্তু তুমি, মানবসন্তান, আমি যা বলছি তা শোনো। সেই বিদ্রোহীকুলের মতন বিদ্রোহী হোয়ো না; তোমার মুখ খোলো আর আমি যা তোমাকে দিচ্ছি তা খাও।”
EZE 2:9 তখন আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার দিকে একটি হাত বাড়ানো রয়েছে। তাতে রয়েছে একটি গুটিয়ে রাখা বই,
EZE 2:10 যেটি তিনি আমার সামনে খুলে ধরলেন। তার দুদিকেই লেখা ছিল বিলাপ, শোক ও দুঃখের কথা।
EZE 3:1 আর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তোমার সামনে যা রয়েছে তা খাও, এই গুটানো বইটি খাও; তারপর ইস্রায়েল কুলের কাছে গিয়ে কথা বলো।”
EZE 3:2 তখন আমি মুখ খুললাম, আর তিনি আমাকে সেই গুটানো বইটি খেতে দিলেন।
EZE 3:3 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, আমি তোমাকে যে গুটানো বই দিচ্ছি তা খেয়ে তোমার পেট ভর।” কাজেই আমি তা খেলাম, আর তা আমার মুখে মধুর মতো মিষ্টি লাগল।
EZE 3:4 তিনি তারপর আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি এখন ইস্রায়েলীদের কাছে যাও আর আমার বাক্য তাদের বলো।
EZE 3:5 তোমাকে তো এমন লোকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে না যাদের ভাষা তোমার অজানা ও কঠিন, কিন্তু পাঠানো হচ্ছে ইস্রায়েল কুলের কাছে
EZE 3:6 যাদের কথা তুমি বোঝো না সেইরকম অজানা ও কঠিন ভাষা বলা অনেক জাতির কাছে তোমাকে পাঠানো হচ্ছে না। যদি তাদের কাছে আমি তোমাকে পাঠাতাম তাহলে নিশ্চয় তারা তোমার কথা শুনত।
EZE 3:7 কিন্তু ইস্রায়েলীরা তোমার কথা শুনতে চাইবে না, যেহেতু তারা আমার কথা শুনতে চায় না, কারণ ইস্রায়েল কুল কঠিন-মনা ও একগুঁয়ে।
EZE 3:8 কিন্তু আমি তোমাকে তাদেরই মতো জেদি ও একগুঁয়ে করব।
EZE 3:9 আমি তোমার কপাল সব থেকে চকমকি পাথরের চেয়েও শক্ত, হিরের থেকেও শক্ত করব। যদিও তারা এক বিদ্রোহী জাতি তবুও তুমি তাদের ভয় পেয়ো না বা তাদের দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না।”
EZE 3:10 তিনি আমাকে আরও বললেন, “হে মানবসন্তান, আমি তোমাকে যে সকল কথা বলব তা তুমি মন দিয়ে শোনো ও অন্তরে গ্রহণ করো।
EZE 3:11 এখন তুমি বন্দিদশায় থাকা তোমার দেশের লোকদের কাছে গিয়ে কথা বলো। তারা শুনুক বা না শুনুক, তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 3:12 তারপর ঈশ্বরের আত্মা আমাকে তুলে নিলেন, আর আমার পিছনে আমি মহা-গজরানির শব্দ শুনতে পেলাম যখন আমি যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম সেখান থেকে সদাপ্রভুর মহিমা উঠল।
EZE 3:13 সেই জীবন্ত প্রাণীদের ডানা একে অন্যের সঙ্গে ঘসার শব্দ ও তাদের পাশের চাকার শব্দ, এক গজরানির শব্দ।
EZE 3:14 তারপর ঈশ্বরের আত্মা আমাকে তুলে নিয়ে গেলে আমি মনে দুঃখ ও আমার আত্মায় রাগ নিয়ে গেলাম, আর সদাপ্রভুর শক্তিশালী হাত আমার উপর ছিল।
EZE 3:15 যে বন্দিরা কবার নদীর কাছে তেল-আবীবে ছিল তাদের কাছে গেলাম। আর সেখানে, যেখানে তারা বাস করছিল, আমি তাদের মধ্যে—বিহ্বল হয়ে—সাত দিন বসে থাকলাম।
EZE 3:16 সাত দিন কেটে গেলে পর সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল
EZE 3:17 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল কুলের জন্য আমি তোমাকে পাহারাদার নিযুক্ত করেছি; সুতরাং আমি যা বলছি তা শোনো এবং আমার হয়ে তাদের সতর্ক করো।
EZE 3:18 আমি যখন একজন দুষ্ট লোককে বলি, ‘তুমি নিশ্চয় মরবে,’ তখন তুমি যদি তাকে সাবধান না করো, কিংবা তার প্রাণ বাঁচাতে মন্দ পথ থেকে ফিরবার জন্য কিছু না বলো, তবে সেই দুষ্টলোক তার পাপের জন্য মরবে, কিন্তু তার রক্তের জন্য আমি তোমাকে দায়ী করব।
EZE 3:19 কিন্তু সেই দুষ্ট লোককে তুমি সাবধান করার পরেও যদি সে তার দুষ্টতা থেকে কিংবা তার মন্দ পথ থেকে না ফেরে, তবে তার পাপের জন্য সে মরবে, কিন্তু তুমি নিজে রক্ষা পাবে।
EZE 3:20 “আবার, যখন কোনও ধার্মিক লোক তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে মন্দ কাজ করে, আর আমি তার সামনে বিঘ্ন রাখি, তবে সে মরবে। যেহেতু তুমি তাকে সাবধান করোনি বলে সে তার পাপের জন্য মরবে। তার ধর্মের কাজ মনে রাখা হবে না, এবং তার রক্তের জন্য আমি তোমাকে দায়ী করব।
EZE 3:21 কিন্তু তুমি যদি কোনও ধার্মিক ব্যক্তিকে পাপ না করার জন্য সতর্ক করো এবং তারা পাপ না করে, তারা নিশ্চয় বাঁচবে কেননা তারা সাবধানবাণী গ্রহণ করেছে, এবং তুমি নিজেকে বাঁচাবে।”
EZE 3:22 সেখানে সদাপ্রভুর হাত আমার উপর ছিল, আর তিনি আমাকে বললেন, “তুমি উঠে সমতলভূমিতে যাও, সেখানে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব।”
EZE 3:23 কাজেই আমি উঠে সমতলভূমিতে গেলাম। কবার নদীর ধারে সদাপ্রভুর যে মহিমা দেখেছিলাম সেইরকম মহিমাই সেখানে দেখলাম, আর আমি উবুড় হয়ে পড়লাম।
EZE 3:24 তখন ঈশ্বরের আত্মা আমার মধ্যে প্রবেশ করে আমায় দাড় করালেন। তিনি আমাকে বললেন, “তুমি তোমার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ভিতরে থাকো।
EZE 3:25 আর হে মানবসন্তান, তারা তোমাকে দড়ি দিয়ে বাঁধবে; তাতে তুমি বাইরে লোকজনের মধ্যে যেতে পারবে না।
EZE 3:26 তুমি যাতে চুপ করে থাকো ও তাদের বকাবকি করতে না পার সেইজন্য আমি তোমার জিভ মুখের তালুতে আটকে দেব, যদিও তারা বিদ্রোহীকুল।
EZE 3:27 কিন্তু যখন আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব, আমি তোমার মুখ খুলে দেব এবং তুমি তাদের বলবে, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ যে শোনে সে শুনুক, আর যে না শোনে সে না শুনুক; কেননা তারা বিদ্রোহীকুল।
EZE 4:1 “এখন, হে মানবসন্তান, একটি মাটির ফলক নাও, সেটি তোমার সামনে রাখো এবং তার উপর জেরুশালেম নগরের ছবি আঁকো।
EZE 4:2 আর সেটি সৈন্য দিয়ে ঘিরে ফেলো; তার বিরুদ্ধে একটি উঁচু ঢিবি বানাও, তার বিরুদ্ধে শিবির তৈরি করো এবং দেয়ালের চারপাশে দেয়াল ভাঙার যন্ত্র বসাও।
EZE 4:3 একটি লোহার তাওয়া নিয়ে সেটি তোমার এবং নগরের মাঝখানে লোহার দেওয়ালের মতো রাখো এবং তোমার মুখ সেই দিকে ফিরিয়ে রাখো। তাতে নগর অবরুদ্ধ হবে, ও তুমি তা অবরোধ করবে। এটি ইস্রায়েল কুলের কাছে চিহ্ন হবে।
EZE 4:4 “তারপর তুমি বাঁ পাশ ফিরে শোবে এবং ইস্রায়েলের পাপের শাস্তি তোমার নিজের উপরে নেবে। যে কয়দিন তুমি পাশ ফিরে শুয়ে থাকবে সেই কয়দিন তাদের শাস্তি তুমি বহন করবে।
EZE 4:5 তাদের শাস্তি পাবার বছরের সংখ্যা হিসেব করে ততদিন আমি তোমাকে তা বহন করতে দিলাম। কাজেই 390 দিন ইস্রায়েল কুলের শাস্তি তুমি বহন করবে।
EZE 4:6 “এটি শেষ হলে, তুমি আবার শোবে, এবারে ডান পাশ ফিরে শোবে এবং যিহূদা কুলের শাস্তি বহন করবে। আমি তোমার জন্য 40 দিন নির্ধারণ করলাম, প্রত্যেক বছরের জন্য একদিন।
EZE 4:7 তোমার মুখ জেরুশালেমের অবরোধের দিকে রাখবে আঢাকা হাতে তার বিরুদ্ধে ভাববাণী বলবে।
EZE 4:8 আমি তোমাকে দড়ি দিয়ে বাঁধব যেন তোমার অবরোধের দিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফিরতে না পারো।
EZE 4:9 “তুমি গম ও যব, শিম ও মশুর ডাল, বাজরা ও জনরা নিয়ে একটি পাত্রে রাখবে এবং সেগুলি দিয়ে তোমার জন্য রুটি তৈরি করবে। যে 390 দিন তুমি পাশ ফিরে থাকবে তখন তা খাবে।
EZE 4:10 কুড়ি শেকল খাবার প্রত্যেক দিনের জন্য ওজন করবে এবং নির্ধারিত সময় তা খাবে।
EZE 4:11 এছাড়াও এক হিনের ছয় ভাগের এক ভাগ জল পরিমাপ করবে এবং নির্ধারিত সময় তা খাবে।
EZE 4:12 যবের পিঠের মতো করে সেই খাবার খাবে; লোকদের চোখের সামনে তা তৈরি করবে এবং মানুষের বিষ্ঠা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে।”
EZE 4:13 সদাপ্রভু বললেন, “এরকম করে ইস্রায়েলীরা সেইসব জাতির মধ্যে অশুচি খাবার খাবে যেখানে আমি তাদের তাড়িয়ে দেব।”
EZE 4:14 আমি তখন বললাম, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, এমন না হোক! আমি কখনও অশুচি হইনি। ছেলেবেলা থেকে এই পর্যন্ত আমি মরা বা বুনো পশুর মেরে ফেলা কোনও কিছু খাইনি। কোনও অশুচি মাংস আমার মুখে কখনও ঢোকেনি।”
EZE 4:15 তিনি বললেন, “খুব ভালো, আমি তোমাকে মানুষের বিষ্ঠার পরিবর্তে গোবরের ঘুঁটে পুড়িয়ে তোমার রুটি সেঁকবার অনুমতি দিলাম।”
EZE 4:16 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, আমি জেরুশালেমে খাবারের যোগান বন্ধ করে দেব। লোকেরা দুশ্চিন্তা নিয়ে মেপে খাবার খাবে এবং হতাশা নিয়ে মেপে জল খাবে,
EZE 4:17 কারণ খাবার ও জলের অভাব হবে। তারা একে অন্যকে দেখে হতভম্ব হবে এবং তাদের পাপের জন্য তারা ক্ষয় হয়ে যেতে থাকবে।”
EZE 5:1 “এখন, হে মানবসন্তান, তোমার চুল ও দাড়ি কামাবার জন্য তুমি একটি ধারালো তরবার নিয়ে তা নাপিতের ক্ষুরের মতো ব্যবহার করবে। তারপর দাঁড়িপাল্লা নিয়ে চুলগুলি ভাগ করবে।
EZE 5:2 যখন অবরোধ দিন শেষ হবে তখন সেই চুলের তিন ভাগের এক ভাগ নিয়ে নগরের মধ্যে পুড়িয়ে দেবে। তিন ভাগের এক ভাগ চুল তরোয়াল দিয়ে নগরের চারিদিকে তা কুচি কুচি করে কাটবে। আর তিন ভাগের এক ভাগ চুল নিয়ে বাতাসে উড়িয়ে দেবে। কারণ আমি তাদের খোলা তরোয়াল নিয়ে তাড়া করব।
EZE 5:3 তবে কিছু চুল রেখে দিয়ে তা তোমার পোশাকের ভাঁজে গুঁজে রাখবে।
EZE 5:4 পরে আরও কিছু চুল নিয়ে আগুনে ফেলে পুড়িয়ে দেবে। সেখান থেকে আগুন সমস্ত ইস্রায়েল কুলের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে।
EZE 5:5 “অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, এই হল জেরুশালেম, যাকে আমি জাতিদের মাঝে স্থাপন করেছি, এবং বিভিন্ন দেশ তার চারিদিকে রয়েছে।
EZE 5:6 কিন্তু সে তার মন্দতার জন্য আমার আইনকানুন ও নিয়মের বিরুদ্ধে তার চারপাশের বিভিন্ন জাতি ও দেশের চেয়েও বেশি বিদ্রোহ করেছে। সে আমার আইনকানুন অগ্রাহ্য করেছে এবং আমার নিয়ম মেনে চলেনি।
EZE 5:7 “অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমার চারপাশের জাতিদের চেয়ে তুমি আরও বেশি অবাধ্য হয়েছ। তুমি আমার নিয়ম মেনে চলোনি ও আমার আইনকানুন পালন করোনি। এমনকি, তোমার চারপাশের জাতিদের শাসন অনুসারে চলোনি।
EZE 5:8 “এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, জেরুশালেম, আমি নিজেই তোমার বিরুদ্ধে, আর আমি জাতিদের চোখের সামনেই তোমাকে শাস্তি দেব।
EZE 5:9 তোমার সব ঘৃণিত প্রতিমাগুলির জন্য আমি তোমার প্রতি যা করব তা আমি আগে কখনও করিনি এবং কখনও আবার করব না।
EZE 5:10 এই জন্য তোমার মধ্যে মা-বাবারা সন্তানদের মাংস খাবে আর সন্তানেরা মা-বাবার মাংস খাবে। আমি তোমাকে শাস্তি দেব এবং তোমার বেঁচে থাকা লোকদের চারিদিকে বাতাসে উড়িয়ে দেব।
EZE 5:11 অতএব, সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, তোমার সব ঘৃণ্য মূর্তি ও ঘৃণিত কাজকর্মের দ্বারা তুমি আমার উপাসনার স্থান অশুচি করেছ বলে আমি নিজেই তোমাদের ধ্বংস করব; আমি তোমার উপর মমতা করে তাকাব না কিংবা তোমাকে রেহাই দেব না।
EZE 5:12 তোমার এক-তৃতীয়াংশ লোক হয় মহামারিতে নয়তো দুর্ভিক্ষে মরবে; এক-তৃতীয়াংশ প্রাচীরের বাইরে তরোয়ালে মারা পড়বে; এবং এক-তৃতীয়াংশকে আমি বাতাসে চারিদিকে ছড়িয়ে দেব ও খোলা তরোয়াল নিয়ে তাদের তাড়া করব।
EZE 5:13 “এসব করবার পর তাদের উপর আমার ভীষণ ক্রোধ প্রশমিত হবে, আর আমি সন্তুষ্ট হব। তাদের উপর আমার ভীষণ ক্রোধ ঢেলে দেবার পর তারা জানতে পারবে যে, আমার অন্তরের জ্বালায় আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি।
EZE 5:14 “তোমার চারপাশের জাতিদের মধ্যে যারা তোমার পাশ দিয়ে যায় আমি তাদের চোখের সামনে তোমাকে একটি ধ্বংসস্থান ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র করব।
EZE 5:15 আমি যখন ভীষণ অসন্তোষ, ক্রোধ ও ভীষণ বকুনি দ্বারা তোমাকে শাস্তি দেব তখন তোমার চারপাশের জাতিদের কাছে ভয়ের বস্তু হবে; তুমি তাদের কাছে ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র এবং সাবধানবাণীর মতো। আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম।
EZE 5:16 আমি যখন তোমার প্রতি মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক দুর্ভিক্ষের তির ছুড়ব, আমি ছুড়ব তোমাকে ধ্বংস করার জন্য। আমি তোমার প্রতি আরও দুর্ভিক্ষ আনব এবং তোমার খাবারের যোগান বন্ধ করে দেব।
EZE 5:17 আমি তোমার বিরুদ্ধে দুর্ভিক্ষ ও হিংস্র পশু পাঠিয়ে দেব, তারা তোমাকে নিঃসন্তান করবে। মহামারি ও রক্তপাত তোমার মধ্যে দিয়ে যাবে, আর আমি তোমার বিরুদ্ধে তরোয়াল নিয়ে আসব। আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম।”
EZE 6:1 সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 6:2 “হে মানবসন্তান, তুমি ইস্রায়েলের পর্বতের দিকে মুখ করে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো
EZE 6:3 এবং বলো: ‘হে ইস্রায়েলের পর্বত, সার্বভৌম সদাপ্রভুর বাক্য শোনো। পাহাড় ও পর্বত, খাদ ও উপত্যকার প্রতি সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি তোমার বিরুদ্ধে তরোয়াল নিয়ে আসব এবং তোমাদের উচ্চ স্থানগুলি ধ্বংস করে দেব।
EZE 6:4 তোমাদের বেদি সব ধ্বংস করা হবে এবং তোমাদের ধূপবেদিগুলি ভেঙে ফেলা হবে; আর তোমাদের প্রতিমাগুলির সামনে তোমাদের লোকদের আমি মেরে ফেলব।
EZE 6:5 আমি ইস্রায়েলীদের মৃতদেহগুলি তাদের প্রতিমাদের সামনে রাখব এবং তোমাদের বেদির চারপাশে তোমাদের হাড়গুলি ছড়িয়ে দেব।
EZE 6:6 তোমরা যেখানেই বসবাস করো না কেন সেখানকার নগরগুলি খালি পড়ে থাকবে এবং পূজার্চনার উঁচু স্থানগুলি ধ্বংস হবে, তার ফলে তোমাদের বেদিগুলি জনশূন্য ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে, তোমাদের প্রতিমাগুলি চুরমার ও ধ্বংস হবে, তোমাদের ধূপবেদিগুলি ভেঙে পড়ে যাবে এবং তোমাদের তৈরি সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
EZE 6:7 তোমাদের মধ্যে তোমাদের লোকেরা মরে পড়ে থাকবে, আর তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 6:8 “ ‘কিন্তু আমি কিছু লোককে বাঁচিয়ে রাখব, তোমাদের কিছু যখন বিভিন্ন দেশে ও জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে তখন সেই লোকেরা তরোয়াল থেকে মৃত্যুর হাত এড়াতে পারবে।
EZE 6:9 আর যে সকল জাতির মধ্যে তাদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হবে, যারা রক্ষা পাবে তারা আমায় মনে রাখবে—তাদের ব্যভিচারী হৃদয় আমাকে কেমন দুঃখ দিয়েছে, যার কারণে আমাকে ত্যাগ করেছে, এবং তাদের চোখ, যা তাদের প্রতিমাদের প্রতি কামনা করেছ। তাদের সব মন্দ ও জঘন্য কাজের জন্য তারা নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করবে।
EZE 6:10 আর তারা জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু; তাদের উপর এই বিপদ আনতে আমি অনর্থক বলিনি।
EZE 6:11 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি করাঘাত ও মাটিতে পদাঘাত করো আর চেঁচিয়ে বলো “হায়!” কারণ ইস্রায়েল কুল তাদের মন্দ ও জঘন্য কাজের জন্য যুদ্ধে, দুর্ভিক্ষে ও মহামারিতে মারা পড়বে।
EZE 6:12 যে দূরে আছে সে মহামারিতে মরবে, এবং যে কাছে আছে সে যুদ্ধে মারা পড়বে, আর যে বেঁচে যাবে সে দুর্ভিক্ষে মরবে। এইভাবে আমার ক্রোধ আমি তাদের উপর সম্পূর্ণভাবে ঢেলে দেব।
EZE 6:13 আর তারা জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু, তাদের লোকেরা যখন বেদির চারপাশে প্রতিমাগুলির মধ্যে, সমস্ত বড়ো বড়ো পাহাড়ের উপরে, ডালপালা ছড়ানো প্রত্যেকটি গাছের নিচে এবং পাতাভরা এলা গাছের তলায়—যেখানে তারা তাদের প্রতিমাগুলি উদ্দেশ্যে ধূপ জ্বালাত সেইসব জায়গায় তারা মরে পড়ে থাকবে।
EZE 6:14 আর আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়াব এবং মরুএলাকা থেকে দিব্‌লা পর্যন্ত জনশূন্য ও ধ্বংসস্থান করব—তারা যেখানেই থাকুক। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 7:1 সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 7:2 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল দেশের প্রতি সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘শেষ সময়! দেশের চার কোনায় শেষ সময় উপস্থিত হয়েছে!
EZE 7:3 এখন সেই সময় তোমার উপর এসে পড়েছে এবং তোমার বিরুদ্ধে আমি আমার ক্রোধ ঢেলে দেব। তোমার আচরণ অনুসারে আমি তোমার বিচার করব এবং তোমার সমস্ত জঘন্য কাজের জন্য তোমাকে শাস্তি দেব।
EZE 7:4 আমি তোমার প্রতি করুণা দেখাব না; ক্ষমা করব না। আমি নিশ্চয়ই তোমার আচরণ ও তোমার মধ্যেকার জঘন্য কাজের জন্য তোমাকে শাস্তি দেব। “ ‘তখন তুমি জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’
EZE 7:5 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘বিপর্যয়! যে বিপর্যয়ের কথা শোনা যায়নি! দেখো, তা আসছে!
EZE 7:6 শেষ সময় এসে পড়েছে! শেষ সময় এসে পড়েছে! তোমাদের বিরুদ্ধে তা জেগে উঠেছে। দেখো, তা আসছে!
EZE 7:7 তোমাদের উপর সর্বনাশ এসে পড়েছে, তোমরা যারা এই দেশে বসবাস করো। সময় উপস্থিত! সেদিন কাছে এসেছে! পর্বতের উপরে আনন্দ নেই, আছে আতঙ্ক।
EZE 7:8 আমি তোমার উপর আমার ক্রোধ ঢালতে যাচ্ছি ও আমার রাগ তোমার উপর ব্যয় করব; তোমার আচরণ অনুসারে আমি তোমার বিচার করব এবং তোমার সমস্ত জঘন্য কাজের জন্য তোমাকে শাস্তি দেব।
EZE 7:9 আমি তোমার প্রতি করুণা দেখাব না; আমি ক্ষমা করব না। আমি তোমার আচরণ ও তোমার মধ্যেকার জঘন্য কাজের পাওনা তোমাকে দেব। “ ‘তখন তুমি জানবে যে আমি সদাপ্রভুই তোমাকে আঘাত করি।
EZE 7:10 “ ‘দেখো, দিন এসেছে! তা এসে পড়েছে! সর্বনাশ ফেটে বেরিয়েছে, লাঠিতে কুঁড়ি ধরেছে, অহংকারের ফুল ফুটেছে!
EZE 7:11 হিংস্রতা উঠে এসেছে অন্যায়কারীদের লাঠি দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে; কোনও মানুষ বাদ যাবে না, কোনও জনসাধারণও না, তাদের কোনও ধনসম্পদ, মূল্যবান কিছুই না।
EZE 7:12 সময় হয়েছে! সেদিন এসে গেছে! ক্রেতা আনন্দ না করুক বা বিক্রেতা শোক না করুক, কারণ আমার ক্রোধ সমস্ত জনসাধারণের উপরে।
EZE 7:13 বিক্রেতা ফেরত পাবে না যে জমি বিক্রি হয়েছে, যতক্ষণ বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই বেঁচে থাকে। কারণ সমস্ত লোকের জন্য এই দর্শনে পরিবর্তন হবে না। তাদের পাপের জন্য একজনও তার জীবন রক্ষা করতে পারবে না।
EZE 7:14 “ ‘যদিও তারা তূরী বাজিয়ে সবকিছু প্রস্তুত করেছে, কিন্তু কেউ যুদ্ধে যাবে না, কারণ সমস্ত জনসাধারণের উপরে আমার ক্রোধ আছে।
EZE 7:15 বাইরে তরোয়াল; ভিতরে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি, যারা দেশের ভিতরে থাকবে তারা তরোয়াল দ্বারা মারা পড়বে, যারা নগরের ভিতরে থাকবে তাদের দুর্ভিক্ষ ও মহামারি গ্রাস করবে।
EZE 7:16 যারা পালাতে পারবে তারা পাহাড়ে পালাবে। উপত্যকার ঘুঘুর মতো, তারা বিলাপ করবে, প্রত্যেকে নিজেদের পাপের জন্য।
EZE 7:17 প্রত্যেকের হাত অবশ হয়ে যাবে; প্রত্যেকের হাঁটু জলের মতো দুর্বল হয়ে পড়বে।
EZE 7:18 তারা চট পরবে ও ভীষণ ভয়ে কাঁপবে। লজ্জায় তাদের প্রত্যেকের মুখ ঢাকা পড়বে ও তাদের প্রত্যেকের মাথা কামানো হবে।
EZE 7:19 “ ‘তারা রাস্তায় তাদের রুপো ফেলে দেবে এবং তাদের সোনা অশুচি জিনিস হবে। সদাপ্রভুর ক্রোধের দিন তাদের রুপো ও সোনা তাদের রক্ষা করতে পারবে না। তা দিয়ে তাদের খিদে মিটবে না বা পেট ভরবে না, কারণ সেগুলিই তাদের পাপের মধ্যে ফেলেছে।
EZE 7:20 তাদের সুন্দর গহনার জন্য তারা গর্ববোধ করত এবং সেগুলি ব্যবহার করে ঘৃণ্য প্রতিমা। তারা সেগুলি দিয়ে জঘন্য মূর্তি তৈরি করত; সুতরাং আমি তাদের জন্য সেগুলি অশুচি করে দেব।
EZE 7:21 আমি তাদের সম্পদ লুট হিসেবে বিদেশিদের হাতে দেব এবং লুটের জিনিস হিসেবে পৃথিবীর দুষ্ট লোকদের হাতে তুলে দেব, তারা সেগুলি অপবিত্র করবে।
EZE 7:22 আমি তাদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেব, এবং যে স্থান আমি ধন বলে মনে করি চোরেরা তা অপবিত্র করবে, তারা সেখানে ঢুকবে এবং তা অপবিত্র করবে।
EZE 7:23 “ ‘শিকল প্রস্তুত করো! কেননা দেশ রক্তপাতে পূর্ণ এবং নগর হিংস্রতায় পরিপূর্ণ।
EZE 7:24 তাদের ঘরবাড়ি দখল করার জন্য আমি জাতিদের মধ্যে সবচেয়ে দুষ্ট জাতিকে নিয়ে আসব; আমি শক্তিশালীদের অহংকার ভেঙে দেব, আর তাদের পবিত্র জায়গাগুলি অপবিত্র হবে।
EZE 7:25 সন্ত্রাস আসলে, তারা বৃথা শান্তির খোঁজ করবে।
EZE 7:26 বিপদের উপর বিপদ আসবে, এবং গুজবের উপর গুজব। তারা ভাববাদীর কাছ থেকে দর্শন পাবার জন্য যাবে; প্রাচীন লোকদের উপদেশের মতন যাজকদের বিধান সম্বন্ধে শিক্ষা হারিয়ে যাবে।
EZE 7:27 রাজা বিলাপ করবে, রাজকুমার হতাশাগ্রস্ত হবে, আর দেশের লোকদের হাত কাঁপবে। আমি তাদের আচরণ অনুযায়ী তাদের সঙ্গে ব্যবহার করব, আর তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী আমি তাদের বিচার করব। “ ‘তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 8:1 ষষ্ঠ বছরের ষষ্ঠ মাসের পঞ্চম দিনে, আমি যখন আমার বাড়িতে বসেছিলাম আর যিহূদার বৃদ্ধ নেতারা আমার সামনে বসেছিলেন তখন সেখানে সার্বভৌম সদাপ্রভুর হাত আমার উপরে আসল।
EZE 8:2 আমি তাকিয়ে মানুষের মতো একজনকে দেখতে পেলাম। তাঁর কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত আগুনের মতো লাগছিল, আর কোমর থেকে উপর পর্যন্ত চকচকে ধাতুর মতো উজ্জ্বল ছিল।
EZE 8:3 তিনি হাতের মতো কিছু বাড়ালেন ও আমার মাথার চুল ধরলেন। তখন ঈশ্বরের আত্মা আমাকে পৃথিবী ও স্বর্গের মাঝে নিয়ে গেলেন এবং ঈশ্বরীয় দর্শনে আমাকে জেরুশালেমের ভিতরের প্রাঙ্গণের উত্তর দিকের দরজার ভিতরে ঢুকবার পথে নিয়ে গেলেন যেখানে সেই প্রতিমা ছিল যে ঈর্ষায় প্ররোচনা দিত।
EZE 8:4 আর সেখানে আমার সামনে ছিল ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মহিমা, যা আমি সমভূমিতে দর্শনের মধ্যে দেখেছিলাম।
EZE 8:5 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, উত্তর দিকে তাকাও।” সুতরাং আমি তাকালাম, আর ঈর্ষার প্রতিমাকে বেদির দরজার উত্তরের ভিতরে ঢুকবার জায়গায় দেখলাম।
EZE 8:6 আর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তারা কি করছে তা কি তুমি দেখতে পাচ্ছ—ইস্রায়েল কুল এখানে কি ভীষণ ঘৃণ্য কাজ করছে, যার ফলে আমাকে আমার উপাসনার জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে? কিন্তু এর পরেও তুমি আরও ঘৃণ্য কাজ দেখতে পাবে।”
EZE 8:7 তারপর তিনি আমাকে প্রাঙ্গণের ঢুকবার পথে নিয়ে গেলেন। আমি তাকিয়ে দেয়ালে একটি গর্ত দেখতে পেলাম।
EZE 8:8 তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, দেয়ালের ওই গর্তটি আরও বড়ো করো।” সেইজন্য আমি গর্তটি আরও বড়ো করলাম আর সেখানে একটি দরজা দেখতে পেলাম।
EZE 8:9 আর তিনি আমাকে বললেন, “ভিতরে যাও এবং দেখো তারা এখানে কি মন্দ ও ঘৃণ্য কাজ করছে।”
EZE 8:10 সুতরাং আমি ভিতরে গিয়ে তাকালাম, আর দেয়ালের সমস্ত জায়গায় সব রকম বুকে হাঁটা প্রাণী ও ঘৃণ্য জীবজন্তু এবং ইস্রায়েল কুলের সমস্ত প্রতিমা।
EZE 8:11 তাদের সামনে ইস্রায়েল কুলের সত্তরজন প্রাচীন লোক দাড়িয়ে রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দাড়িয়ে আছে শাফনের ছেলে যাসনিয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে ধুনুচি ছিল এবং তা থেকে ধূপের ধূমমেঘ উপরদিকে উঠছিল।
EZE 8:12 তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি কি দেখেছ ইস্রায়েল কুলের প্রাচীন লোকেরা অন্ধকারে নিজের নিজের ঘরে প্রতিমার সামনে কি করছে? তারা বলছে, ‘সদাপ্রভু আমাদের দেখেন না; সদাপ্রভু আমাদের দেশ ত্যাগ করেছেন।’ ”
EZE 8:13 তিনি আবার বললেন, “এর চেয়েও বেশি ঘৃণ্য কাজ তুমি তাদের করতে দেখবে।”
EZE 8:14 তারপর তিনি আমাকে সদাপ্রভুর গৃহের উত্তর দিকের দরজার ঢুকবার পথে আনলেন, আর আমি দেখলাম স্ত্রীলোকেরা সেখানে বসে তম্মুষ দেবতার জন্য কাঁদছে।
EZE 8:15 তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি কি দেখলে? এর চেয়েও বেশি ঘৃণ্য কাজ তুমি দেখতে পাবে।”
EZE 8:16 তারপর তিনি আমাকে সদাপ্রভুর গৃহের ভিতরের প্রাঙ্গণে নিয়ে গেলেন, আর মন্দিরের ঢুকবার পথে, বারান্দা ও বেদির মাঝখানে প্রায় পঁচিশজন লোক ছিল। সদাপ্রভুর মন্দিরের দিকে পিছন ফিরে পূর্বদিকে মুখ করে তারা সূর্যের কাছে প্রণাম করছিল।
EZE 8:17 তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি এটি দেখলে? যিহূদার লোকেরা যে ঘৃণ্য কাজ এখানে করছে তা করা তাদের পক্ষে কি সামান্য ব্যাপার? সারা দেশ হিংস্রতায় পরিপূর্ণ করা এবং অবিরত আমার অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলা তাদের কি উচিত? দেখো, তারা নিজেদের নাকের কাছে গাছের শাখা ধরছে!
EZE 8:18 অতএব তাদের প্রতি আমার আচরণ হবে রাগের; আমি তাদের প্রতি করুণা দেখাব না অথবা ক্ষমা করব না। যদিও তারা আমার কানের কাছে চেঁচায়, আমি তাদের কথা শুনব না।”
EZE 9:1 তারপর উঁচু স্বরে তাঁকে বলতে শুনলাম, “নগরের বিচার করার জন্য যারা নিযুক্ত তাদের কাছে নিয়ে এসো, প্রত্যেকে হাতে অস্ত্র নিয়ে আসুক।”
EZE 9:2 আর আমি ছ-জন লোককে উপরের দরজার দিক দিয়ে আসতে দেখলাম, যেটির মুখ উত্তর দিকে ছিল, প্রত্যেকের হাতে মারাত্মক অস্ত্র ছিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন মসিনা কাপড় পরা একজন লোক আর তাঁর কোমরের পাশে ছিল লেখালেখির সরঞ্জাম। তারা এসে ব্রোঞ্জের বেদির পাশে দাঁড়ালেন।
EZE 9:3 তখন ইস্রায়েলের ঈশ্বরের যে মহিমা করূবের উপর ছিল তা সেখান থেকে উঠে উপাসনা গৃহের চৌকাঠের কাছে গেল। সদাপ্রভু মসিনার কাপড় পরা সেই লোকটিকে ডাকলেন, যাঁর কোমরের পাশে লেখালেখির সরঞ্জাম ছিল
EZE 9:4 আর তাঁকে বললেন, “তুমি জেরুশালেম নগরের মধ্যে দিয়ে যাও এবং তার মধ্যে যেসব ঘৃণ্য কাজ হচ্ছে সেইজন্য যারা শোক ও বিলাপ করছে তাদের কপালে একটি করে চিহ্ন দাও।”
EZE 9:5 আমি যখন শুনছিলাম, তিনি অন্যদের বললেন, “তোমরা নগরের মধ্যে ওর পিছনে পিছনে যাও এবং কোনও মায়ামমতা না দেখিয়ে লোকদের মেরে ফেলতে থাকো, কাউকে রেহাই দিয়ো না।
EZE 9:6 বুড়ো, যুবক, যুবতী, স্ত্রীলোকদের ও ছোটো ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলো, কিন্তু যাদের চিহ্ন আছে তাদের ছুঁয়ো না। আমার উপাসনা গৃহ থেকে শুরু করো।” তাতে তারা মন্দিরের সামনে প্রাচীন লোকদের দিয়ে শুরু করল।
EZE 9:7 তারপর তিনি তাদের বললেন, “যাও! মন্দির অশুচি করো এবং নিহত লোকদের দিয়ে প্রাঙ্গণ ভরে ফেলো।” তাতে তারা নগরের মধ্যে গিয়ে লোকদের মেরে ফেলতে লাগলেন।
EZE 9:8 তারা যখন হত্যা করছিলেন আর আমি একা ছিলাম তখন আমি উপুড় হয়ে পড়ে কাঁদলাম আর বললাম, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু! জেরুশালেমের উপরে তোমার ক্রোধ ঢেলে দিয়ে তুমি কি ইস্রায়েলের বাকি সবাইকে ধ্বংস করে ফেলবে?”
EZE 9:9 তিনি উত্তরে আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল ও যিহূদা কুলের পাপ অত্যন্ত ভয়ানক; দেশ রক্তপাতে ভরা এবং নগরটি অবিচারে ডুবে গেছে। তারা বলে, ‘সদাপ্রভু দেশ ত্যাগ করেছেন; সদাপ্রভু আমাদের দেখেন না।’
EZE 9:10 সেইজন্য আমি তাদের প্রতি করুণা দেখাব না অথবা ক্ষমা করব না, কিন্তু তারা যা করেছে তার ফল আমি তাদের উপর ঢেলে দেব।”
EZE 9:11 তখন মসিনা কাপড় পরা সেই লোকটি যার কোমরের কাছে লেখালেখির সরঞ্জাম ছিল তিনি এই খবর দিলেন, “আপনি যেমন আদেশ দিয়েছিলেন আমি সেই অনুসারে কাজ করেছি।”
EZE 10:1 তারপর আমি চেয়ে দেখলাম আর করূবদের মাথার উপর দিকে সেই উন্মুক্ত এলাকা ছিল তার উপরে নীলকান্তমণির সিংহাসনের মতো কিছু একটি দেখতে পেলাম।
EZE 10:2 সদাপ্রভু মসিনা কাপড় পরা লোকটিকে বললেন, “করূবদের নিচে যে চাকাগুলি আছে তুমি সেগুলির মধ্যে যাও। সেই করূবদের মাঝখান থেকে তুমি দু-হাত ভরে জ্বলন্ত কয়লা নিয়ে নগরের উপর ছড়িয়ে দাও।” আমার চোখের সামনে লোকটি সেখানে ঢুকলেন।
EZE 10:3 যখন সেই লোকটি ভিতরে ঢুকলেন, তখন করূবেরা মন্দিরের দক্ষিণ দিকে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং ভিতরের প্রাঙ্গণ মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
EZE 10:4 সেই সময় সদাপ্রভুর মহিমা করূবদের উপর থেকে উঠে মন্দিরের গোবরাটের উপর দাড়াল। মন্দির মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, এবং প্রাঙ্গণ সদাপ্রভুর মহিমার ঔজ্জ্বল্যে ভরা ছিল।
EZE 10:5 করূবদের ডানার আওয়াজ বাইরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল, সেই আওয়াজ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কথা বলার আওয়াজের মতো।
EZE 10:6 সদাপ্রভু যখন মসিনা কাপড় পরা লোকটিকে এই আদেশ দিয়েছিলেন, “তুমি করূবদের মাঝখানে চাকার মধ্য থেকে আগুন নাও,” তখন লোকটি ভিতরে গিয়ে একটি চাকার পাশে দাঁড়ালেন।
EZE 10:7 তখন করূবদের মধ্যে একজন তাদের মধ্যকার আগুনের দিকে হাত বাড়ালেন। তিনি কিছু আগুন নিয়ে সেই মসিনা কাপড় পরা লোকটির হাতে দিলেন, যিনি তা নিয়ে বের হয়ে গেলেন।
EZE 10:8 (করূবদের ডানার নিচে মানুষের হাতের মতো কিছু দেখা গেল।)
EZE 10:9 পরে আমি তাকিয়ে করূবদের প্রত্যেকের পাশে একটি করে মোট চারটি চাকা দেখতে পেলাম; চাকাগুলি বৈদূর্যমণির মতো চকমক করছিল।
EZE 10:10 সেগুলির আকৃতি এইরকম, সেই চারটি চাকা দেখতে একইরকম ছিল; একটি চাকার মধ্যচ্ছেদ করে যেন আর একটি চাকা।
EZE 10:11 চলবার সময় সেই চাকাগুলি চারদিকের যে কোনও দিকে সোজা চলত, অন্য কোনও দিকে ফিরত না। করূবদের মাথা যেদিকে থাকত তারা সেদিকেই চলতেন, চলবার সময় ফিরতেন না।
EZE 10:12 তাদের চারটি চাকাতে, গোটা দেহে, পিঠে, হাতে এবং ডানার চারপাশে চোখে ভরা ছিল।
EZE 10:13 আমি শুনলাম চাকাগুলিকে “ঘুরন্ত চাকা” বলে ডাকা হচ্ছে।
EZE 10:14 প্রত্যেকটি করূবের চারটি করে মুখ ছিল; প্রথমটি করূবের, দ্বিতীয়টি মানুষের, তৃতীয়টি সিংহের, চতুর্থটি ঈগল পাখির।
EZE 10:15 তখন করূবেরা উপরের দিকে উঠলেন। এরাই সেই জীবন্ত প্রাণী যাদের আমি কবার নদীর ধারে দেখতে পেয়েছিলাম।
EZE 10:16 করূবেরা চললে তাদের পাশে চাকাগুলি চলত; আর করূবেরা মাটি ছেড়ে উঠবার জন্য ডানা মেললে চাকাগুলি তাদের পাশ ছাড়ত না।
EZE 10:17 করূবেরা থামলে সেগুলিও থামত আর করূবেরা উঠলে তাদের সঙ্গে তারা উঠত, কারণ সেই জীবন্ত প্রাণীদের আত্মা সেগুলির মধ্যেই ছিল।
EZE 10:18 তারপর সদাপ্রভুর মহিমা মন্দিরের গোবরাটের উপর থেকে চলে গিয়ে করূবদের উপরে থামল।
EZE 10:19 আমি যখন দেখছিলাম, করূবেরা তাদের ডানা মেলে মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে লাগলেন, আর তারা যখন যাচ্ছিলেন চাকাগুলিও তাদের সঙ্গে চলল। তারা সদাপ্রভুর গৃহের পূর্বদিকের দ্বারে ঢুকবার পথে গিয়ে থামল, আর ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মহিমা তাদের উপরে ছিল।
EZE 10:20 এই জীবন্ত প্রাণীদেরই আমি কবার নদীর ধারে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নিচে দেখেছিলাম, আর আমি বুঝতে পারলাম যে তারা ছিলেন করূব।
EZE 10:21 প্রত্যেকের চারটি করে মুখ ও চারটি করে ডানা ছিল এবং তাদের ডানার নিচে মানুষের হাতের মতো দেখতে কিছু ছিল।
EZE 10:22 কবার নদীর ধারে আমি যেমন দেখেছিলাম তাদের মুখের চেহারা তেমনই ছিল। তারা প্রত্যেকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতেন।
EZE 11:1 তারপর ঈশ্বরের আত্মা আমাকে তুলে নিয়ে সদাপ্রভুর গৃহের পূর্বদিকের দ্বারের কাছে আনলেন। সেখানে দ্বারে ঢুকবার জায়গায় পঁচিশজন পুরুষ ছিল আর তাদের মধ্যে লোকদের নেতা অসূরের ছেলে যাসনিয় ও বনায়ের ছেলে প্লটিয়কে দেখলাম।
EZE 11:2 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, এরাই সেই লোক যারা এই নগরের মধ্যে মন্দ পরিকল্পনা এবং খারাপ পরামর্শ দিচ্ছে।
EZE 11:3 তারা বলছে, ‘ঘরবাড়ি তৈরি করবার সময় কি হয়নি? এই নগরটি যেন রান্নার হাঁড়ি আর আমরা হচ্ছি মাংস।’
EZE 11:4 অতএব হে মানবসন্তান, ভাববাণী বলো; সুতরাং এদের বিরুদ্ধে ভাববাণী বলো।”
EZE 11:5 তারপর সদাপ্রভুর আত্মা আমার উপরে আসলেন, আর তিনি আমাকে বলতে বললেন, “সদাপ্রভুর এই কথা বলেন, তোমরা এই কথা বলছ, তোমরা ইস্রায়েলের নেতারা, কিন্তু আমি জানি তোমাদের মনে কি আছে।
EZE 11:6 তোমরা এই নগরে অনেক লোককে মেরে ফেলেছ এবং মরা মানুষ দিয়ে রাস্তাগুলি ভরেছ।
EZE 11:7 “সেইজন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমাদের যে মরা লোকদের তোমরা নগরে ফেলেছ সেগুলিই মাংস এবং এই নগরটি হাঁড়ি, কিন্তু সেখান থেকে তোমাদের তাড়িয়ে দেব।
EZE 11:8 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন; তোমরা তরোয়ালকে ভয় করো, আর আমি তোমাদের বিরুদ্ধে তরোয়ালই আনব।
EZE 11:9 আমি নগর থেকে তোমাদের তাড়িয়ে বের করে বিদেশিদের হাতে তুলে দেব এবং তোমাদের শাস্তি দেব।
EZE 11:10 তোমরা তরোয়াল দ্বারা মারা পড়বে, আর ইস্রায়েলের সীমানায় আমি তোমাদের বিচার করব। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 11:11 এই নগর তোমাদের জন্য হাঁড়ি হবে না, আর তোমরা তার মধ্যেকার মাংস হবে না; ইস্রায়েলের সীমানায় আমি তোমাদের বিচার করব।
EZE 11:12 আর তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু, কারণ তোমরা আমার নিয়ম ও শাসন পালন করোনি বরং তোমাদের চারপাশের জাতিদের অনুরূপ হয়েছ।”
EZE 11:13 এখন আমি যখন ভাববাণী বলছিলাম, বনায়ের ছেলে প্লটিয় মারা গেল। আমি তখন উবুড় হয়ে পড়ে উঁচু স্বরে কেঁদে কেঁদে বললাম, “হায়, সার্বভৌম সদাপ্রভু! তুমি কি ইস্রায়েলের বাকি লোকদের সবাইকে শেষ করে দেবে?”
EZE 11:14 সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে প্রকাশ পেল,
EZE 11:15 “হে মানবসন্তান, জেরুশালেমের লোকেরা তোমার নির্বাসিত ভাইদের এবং অন্যান্য ইস্রায়েলীদের সম্বন্ধে বলছে, ‘তারা সদাপ্রভু থেকে অনেক দূরে চলে গেছে; এই দেশ তো আমাদের অধিকারের জন্য দেওয়া হয়েছে।’
EZE 11:16 “সুতরাং বলো ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যদিও আমি তাদের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি, তবুও কিছু সময়ের জন্য সেই সমস্ত দেশে আমি তাদের পবিত্রস্থান হয়েছি।’
EZE 11:17 “সুতরাং বলো ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন আমি যদিও তোমাদের অন্যান্য জাতিগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি, আমি সেখান থেকে তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসব, আর আবার আমি তোমাদের ইস্রায়েল দেশ ফিরিয়ে দেব।’
EZE 11:18 “তারা সেখানে ফিরে গিয়ে সব জঘন্য মূর্তি ও ঘৃণ্য প্রতিমাগুলি দূর করে দেবে।
EZE 11:19 আমি তাদের একই হৃদয় দেব ও সেখানে এক নতুন আত্মা স্থাপন করব; আমি তাদের মধ্যে থেকে কঠিন হৃদয় সরিয়ে এক মাংসময় হৃদয় দেব।
EZE 11:20 তখন তারা আমার নিয়ম সকল অনুসরণ করবে এবং আমার শাসন পালন করতে যত্নবান হবে। তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব।
EZE 11:21 কিন্তু যাদের হৃদয় জঘন্য মূর্তি ও ঘৃণ্য প্রতিমার প্রতি অনুগত, তাদের কাজের ফল আমি তাদেরই মাথায় ঢেলে দেব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।”
EZE 11:22 এরপর করূবেরা তাদের ডানা মেলে দিলেন, তাদের পাশে সেই চাকাগুলি ছিল, আর ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মহিমা তাদের উপরে ছিলেন।
EZE 11:23 সদাপ্রভুর মহিমা নগরের মধ্য থেকে উঠে তার পূর্বদিকের পাহাড়ের উপরে গিয়ে থামল।
EZE 11:24 ঈশ্বরের আত্মা আমাকে তুলে নিলেন এবং তাঁর দেওয়া দর্শনের মধ্য দিয়ে আবার ব্যাবিলনে নির্বাসিতদের কাছে নিয়ে গেলেন। তখন যে দর্শন আমি দেখেছিলাম তা আমার কাছ থেকে উপরে উঠে গেল,
EZE 11:25 আর সদাপ্রভু আমাকে যে সকল বিষয় দেখিয়েছিলেন, সে সমস্তই আমি নির্বাসিত লোকদের বললাম।
EZE 12:1 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 12:2 “হে মানবসন্তান, তুমি বিদ্রোহী জাতির মধ্যে বাস করছ। তাদের দেখার চোখ আছে কিন্তু দেখে না আর শোনার কান আছে কিন্তু শোনে না, কারণ তারা বিদ্রোহী জাতি।
EZE 12:3 “অতএব, হে মানবসন্তান, তুমি যেন নির্বাসনে যাচ্ছ সেইভাবে তোমার জিনিসপত্র বেঁধে নাও এবং তাদের চোখের সামনে দিনের বেলাতেই তুমি যেখানে আছ সেখান থেকে আরেকটি জায়গায় রওনা হও। হয়তো তারা বুঝতে পারবে, যদিও তারা বিদ্রোহীকুল।
EZE 12:4 দিনের বেলা যখন তারা দেখবে, নির্বাসনে যাবার জন্য তোমার জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসবে। তারপর সন্ধ্যায় নির্বাসনে যাবার মতন করে তাদের চোখের সামনে দিয়ে যাবে।
EZE 12:5 তারা যখন দেখবে, দেয়ালে গর্ত করে তোমার জিনিসপত্র তার মধ্যে দিয়ে বাইরে বের করবে।
EZE 12:6 তাদের চোখের সামনেই জিনিসপত্র তোমার কাঁধে তুলে নেবে এবং অন্ধকারের মধ্যে সেগুলি বের করে নিয়ে যাবে। তোমার মুখ ঢাকবে যেন তুমি তোমার দেশের মাটি দেখতে না পাও, কারণ ইস্রায়েল কুলের কাছে আমি তোমাকে চিহ্নস্বরূপ করেছি।”
EZE 12:7 আমাকে যেমন আদেশ করা হয়েছিল আমি তেমনই করলাম। নির্বাসনে যাবার জিনিসপত্রের মতন আমি আমার জিনিসপত্র দিনের বেলাতেই বের করে নিয়ে আসলাম। তারপর সন্ধ্যায় আমি হাত দিয়ে দেয়ালে গর্ত করলাম। তাদের চোখের সামনেই অন্ধকারের মধ্যে আমার জিনিসপত্র কাঁধে তুলে রওনা দিলাম।
EZE 12:8 সকালবেলায় সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 12:9 “হে মানবসন্তান, বিদ্রোহী ইস্রায়েল কুল কি তোমায় জিজ্ঞাসা করেনি, ‘তুমি কি করছ?’
EZE 12:10 “তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, এই চিহ্ন জেরুশালেমের শাসনকর্তা এবং ইস্রায়েল কুলের জন্য যারা সেখানে আছে।’
EZE 12:11 তাদের বলো, ‘আমি তোমাদের কাছে চিহ্ন।’ “আমি যেমন করেছি, তেমনই তাদের প্রতি করা হবে। তারা বন্দি হয়ে নির্বাসনে যাবে।
EZE 12:12 “তাদের শাসনকর্তা সন্ধ্যায় তার জিনিসপত্র কাঁধে নিয়ে বের হবে এবং দেয়ালে গর্ত খোঁড়া হবে যেন সে তার মধ্যে দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। সে তার মুখ ঢেকে রাখবে যেন দেশের মাটি দেখতে না পায়।
EZE 12:13 আমি তার জন্য জাল পাতব আর সে আমার ফাঁদে ধরা পড়বে; আমি তাকে কলদীয়দের দেশ, ব্যাবিলনে নিয়ে আসব, কিন্তু সে তা দেখতে পাবে না, আর সেখানেই সে মারা যাবে।
EZE 12:14 আমি তার চারিদিকে যারা আছে—তার কর্মচারী ও সৈন্যদল—তাদের সকলকে চারদিকে ছড়িয়ে দেব এবং খোলা তরোয়াল নিয়ে আমি তাদের তাড়া করব।
EZE 12:15 “যখন আমি তাদের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেব, তখন তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 12:16 কিন্তু আমি তাদের মধ্যে কিছু লোককে তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি থেকে রক্ষা করব, যেন তারা যেখানেই যাক না কেন সেখানকার সমস্ত জাতির মধ্যে তাদের সব ঘৃণ্য অভ্যাসের কথা স্বীকার করে। তখন তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।”
EZE 12:17 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 12:18 “হে মানবসন্তান, তুমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তোমার খাবার খাবে, আর উদ্বেগ ও চিন্তায় তোমার জলপান করবে।
EZE 12:19 তুমি দেশের লোকদের এই কথা বলো: ‘ইস্রায়েল দেশের জেরুশালেমে বসবাসকারীদের বিষয় সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন তারা উদ্বেগের সঙ্গে খাবার খাবে আর হতাশায় জলপান করবে, কারণ সেখানকার লোকদের দৌরাত্ম্যের জন্য তাদের দেশের ও তার মধ্যের সবকিছু ধ্বংস হবে।
EZE 12:20 লোকজন ভরা নগরগুলি ধ্বংসস্থান হয়ে থাকবে এবং জনশূন্য হবে। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 12:21 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 12:22 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল দেশে এ কেমন প্রবাদ ‘দিন চলে যায় আর প্রত্যেক দর্শনই বিফল হয়’?
EZE 12:23 তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন আমি এই প্রবাদ লোপ করব, আর তারা ইস্রায়েলের মধ্যে সেই প্রবাদ কখনও বলবে না।’ তাদের বলো, ‘দিন এসে গেছে যখন প্রত্যেকটি দর্শন ফলবে।
EZE 12:24 কারণ ইস্রায়েলের লোকদের মধ্যে মিথ্যা দর্শন ও খুশি করার ভবিষ্যদ্‌বাণী আর বলবে না।
EZE 12:25 কেননা আমি সদাপ্রভু যা বলার তাই বলব আর তা সফল হবে, দেরি হবে না। হে বিদ্রোহীকুল, আমি যা বলছি তা তোমাদের সময়ই সফল হবে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’ ”
EZE 12:26 আবার সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 12:27 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল কুল বলছে, ‘তুমি যে দর্শন দেখছ তা এখন থেকে অনেক বছর পরের কথা, আর যে ভবিষ্যদ্‌বাণী বলছ তা দূর ভবিষ্যতের বিষয়ে।’
EZE 12:28 “এই জন্য তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমার কোনো কথা সফল হতে আর দেরি হবে না; আমি যা বলব তা সফল হবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।’ ”
EZE 13:1 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 13:2 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েলের যে ভাববাদীরা ভাববাণী বলে, তুমি তাদের বিরুদ্ধে ভাববাণী বলো। যারা নিজেদের মনগড়া কথা বলছে তুমি তাদের বলো যে: ‘সদাপ্রভুর বাক্য শোনো!
EZE 13:3 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন ধিক্ সেই নির্বোধ ভাববাদীরা যারা কোনও দর্শন না পেয়ে তাদের মনগড়া কথা বলে!
EZE 13:4 হে ইস্রায়েল, তোমার ভাববাদীরা ধ্বংসস্থানের শিয়ালদের মতো।
EZE 13:5 তোমরা ইস্রায়েল কুলের দেয়ালের ফাটল মেরামত করতে ওঠোনি যেন সদাপ্রভুর দিনে যুদ্ধের সময়ে সেটি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
EZE 13:6 তাদের দর্শন অলীক ও তাদের ভবিষ্যৎ-কথন মিথ্যা। তারা বলে, “সদাপ্রভু বলেন,” অথচ সদাপ্রভু তাদের পাঠাননি; তবুও তারা আশা করে যে তাদের কথা সফল হবে।
EZE 13:7 তোমরা কি অলীক দর্শন দেখোনি এবং মিথ্যা ভবিষ্যদ্‌বাণী উচ্চারণ করোনি যখন তোমরা বলো, “সদাপ্রভু বলেন,” যদিও আমি বলিনি?
EZE 13:8 “ ‘সুতরাং সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমাদের অলীক কথা ও মিথ্যা দর্শনের জন্য, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 13:9 আমার হাত সেই ভাববাদীদের বিরুদ্ধে যারা অলীক দর্শন দেখে এবং মিথ্যা ভবিষ্যদ্‌বাণী উচ্চারণ করে। তারা আমার প্রজাদের সভায় থাকবে না এবং ইস্রায়েল কুলের বংশতালিকায় তাদের নাম থাকবে না আর তারা ইস্রায়েল দেশে ঢুকবে না। তখন তারা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম সদাপ্রভু।
EZE 13:10 “ ‘কারণ যখন কোনও শান্তি নেই তখন তারা “শান্তি” বলে আমার প্রজাদের বিপথে চালায় এবং তারা যেন লোকদের গাঁথা এমন দেয়ালের উপর চুনকাম করে যা শক্ত নয়,
EZE 13:11 সেইজন্য, যারা চুনকাম করছে তুমি তাদের বলো যে, সেই দেয়াল পড়ে যাবে। প্রবল বৃষ্টি পড়বে ও আমি বড়ো বড়ো শিলা পাঠাব এবং ঝোড়ো বাতাস সজোরে বইবে।
EZE 13:12 দেয়াল যখন ভেঙে পড়বে তখন লোকেরা কি তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে না, “তোমরা যে চুনকাম করেছিলে তার কি হল?”
EZE 13:13 “ ‘এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার ভীষণ ক্রোধে ঝোড়ো বাতাস মুক্ত করব, আমার অসন্তোষে আমি বড়ো বড়ো শিলা ও প্রবল বৃষ্টি ধ্বংসাত্মক উন্মত্ততায় পড়বে।
EZE 13:14 যে দেয়াল তোমরা চুনকাম করেছিলে তা আমি ধ্বংস করব ও মাটিতে মিশিয়ে দেব যেন তার ভিত্তি খোলা পড়ে থাকবে। সেটি যখন পড়বে তখন তোমরাও তার সঙ্গে ধ্বংস হবে, এবং তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 13:15 সুতরাং আমি আমার ভীষণ ক্রোধ দেয়ালের ও যারা সেটি চুনকাম করেছিল তাদের উপর ব্যয় করব। আমি তোমাদের বলব, “দেয়াল ও যারা সেটি চুনকাম করেছিল তারা কেউ আর নেই,
EZE 13:16 যে ইস্রায়েলের ভাববাদীরা জেরুশালেমকে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিল ও শান্তি না থাকলে তারা শান্তির দর্শন দেখেছিল তারাও নেই, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।” ’
EZE 13:17 “এখন, হে মানবসন্তান, তোমার জাতির যে মেয়েরা ভাববাদিনী হিসেবে নিজেদের কল্পনার কথা বলে এখন তুমি তাদের বিরুদ্ধে দাড়াও। তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো,
EZE 13:18 আর বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন ধিক্ সেই মহিলারা যারা লোকদের হাতের জন্য তাবিজ এবং মাথা ঢাকবার জন্য বিভিন্ন মাপের কাপড় তৈরি করো যাতে তোমরা সেই লোকদের ফাঁদে ফেলতে পারো। তোমরা কি আমার লোকদের প্রাণ শিকার করে নিজেদের প্রাণরক্ষা করবে?
EZE 13:19 কয়েক মুঠো যব আর কয়েক টুকরো রুটির জন্য তোমরা আমার লোকদের সামনে আমাকে অসম্মানিত করেছ। আমার লোকেরা, যারা মিথ্যা কথা শোনে, তোমরা তাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে যারা মরবার উপযুক্ত নয় তাদের মেরে ফেলেছ এবং যারা বাঁচবার উপযুক্ত নয় তাদের বাঁচিয়ে রেখেছ।
EZE 13:20 “ ‘এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন তোমরা যে তাবিজ দিয়ে পাখির মতো করে লোকদের ধরো আমি তার বিপক্ষে আর আমি তোমাদের হাত থেকে সেগুলি ছিঁড়ে ফেলে দেব; পাখির মতো করে যে লোকদের তোমরা ধরো তাদের আমি মুক্ত করব।
EZE 13:21 তোমাদের মাথা ঢাকবার কাপড়গুলি ছিঁড়ে ফেলে আমি তোমাদের হাত থেকে আমার লোকদের উদ্ধার করব, তারা আর তোমাদের হাতে শিকারের মতো ধরা পড়বে না। তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 13:22 যেহেতু ধার্মিকদের তোমরা তোমাদের মিথ্যা কথা দিয়ে দুঃখ দিয়েছ, যখন আমি তাদের জন্য কোনও দুর্দশা আনিনি, এবং দুষ্ট লোকদের তোমরা অনুপ্রাণিত করেছ যাতে তারা প্রাণ বাঁচাবার জন্য কুপথ থেকে না ফেরে,
EZE 13:23 সেইজন্য তোমরা আর অলীক দর্শন দেখবে না ও ভবিষ্যৎ-কথনের চর্চা করবে না। তোমাদের হাত থেকে আমি আমার লোকদের উদ্ধার করব। আর তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 14:1 ইস্রায়েলের কয়েকজন প্রাচীন আমার কাছে এসে আমার সামনে বসলেন।
EZE 14:2 তখন সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 14:3 “হে মানবসন্তান, এই লোকেরা তাদের অন্তরের মধ্যে প্রতিমা স্থাপন করে নিজেদের সামনে মন্দ প্রতিবন্ধক রেখেছে। আমি কি তাদের কখনও আমার কাছে অনুসন্ধান করতে দেব?
EZE 14:4 অতএব তুমি তাদের সঙ্গে কথা বলে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যখন কোনও ইস্রায়েলী তার অন্তরের মধ্যে প্রতিমা স্থাপন করে নিজেদের সামনে মন্দ প্রতিবন্ধক রাখে এবং ভাববাদীর কাছে যায়, আমি সদাপ্রভু নিজেই তার অনেক প্রতিমাপূজা অনুসারে তাকে উত্তর দেব।
EZE 14:5 ইস্রায়েলীদের অন্তর আবার জয় করার জন্যই আমি এটা করব, কারণ তারা সবাই তাদের প্রতিমাগুলির জন্য আমাকে ত্যাগ করেছে।’
EZE 14:6 “অতএব ইস্রায়েল কুলকে তুমি বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা মন ফিরাও! তোমাদের প্রতিমাগুলি থেকে ফেরো এবং সকল ঘৃণ্য কাজ ত্যাগ করো!
EZE 14:7 “ ‘কোনও ইস্রায়েলী কিংবা ইস্রায়েল দেশে বাসকারী কোনও বিদেশি যদি আমার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তার অন্তরের মধ্যে প্রতিমা স্থাপন করে নিজেদের সামনে মন্দ প্রতিবন্ধক রাখে এবং আমার কাছে জিজ্ঞাসা করার জন্য ভাববাদীর কাছে যায়, আমি সদাপ্রভু নিজেই তাকে উত্তর দেব।
EZE 14:8 আমি সেই লোকের বিপক্ষে দাঁড়াব এবং তাকে একটি দৃষ্টান্ত ও একটি চলতি কথার মতো করব। আমার লোকদের মধ্য থেকে আমি তাকে ছেঁটে ফেলব। তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 14:9 “ ‘আর যে ভাববাদী প্ররোচিত হয়ে ভাববাণী বলে, আমি, সদাপ্রভুই সেই ভাববাদীকে প্ররোচিত করেছি, এবং আমি আমার হাত তার বিরুদ্ধে বাড়াব এবং আমার লোক ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে তাকে ধ্বংস করব।
EZE 14:10 তারা তাদের অন্যায়ের শাস্তি পাবে—সেই ভাববাদী এবং যে তার সঙ্গে পরামর্শ করবে সেও দোষী হবে।
EZE 14:11 তখন ইস্রায়েল কুল আর আমার কাছ থেকে বিপথে যাবে না, এবং তাদের সব পাপ দিয়ে নিজেদের আর অশুচি করবে না। তারা আমার লোক হবে এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’ ”
EZE 14:12 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 14:13 “হে মানবসন্তান, যদি কোনও দেশ আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে পাপ করে আমি তাদের বিরুদ্ধে হাত বিস্তার করে তাদের খাবারের যোগান বন্ধ করে দিই এবং দুর্ভিক্ষ পাঠিয়ে সেখানকার মানুষ ও তাদের পশুদের মেরে ফেলি,
EZE 14:14 এমনকি এই তিনজন লোক—নোহ, দানিয়েল ও ইয়োব—যদি সেখানে থাকত, তারা তাদের ধার্মিকতার জন্য কেবল নিজেদের রক্ষা করতে পারত, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 14:15 “আমি যদি দেশে বুনো পশু পাঠাই আর তারা লোকদের নিঃসন্তান করে এবং দেশকে জনশূন্য করে যেন সেই পশুদের ভয়ে কেউ দেশের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত না করতে পারে,
EZE 14:16 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য, যদি তিনজন লোক সেখানে থাকত, তারা তাদের নিজেদের ছেলে অথবা মেয়েদেরও রক্ষা করতে পারত না। তারা শুধু নিজেদের বাঁচাতে পারত, কিন্তু দেশ জনশূন্য হত।
EZE 14:17 “অথবা আমি যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে তরোয়াল এনে বলি, ‘দেশের মধ্যে দিয়ে তরোয়াল যাক,’ এবং আমি সেখানকার মানুষ ও তাদের পশুদের মেরে ফেলি,
EZE 14:18 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য, যদি তিনজন লোক সেখানে থাকত, তারা তাদের নিজেদের ছেলে অথবা মেয়েদেরও রক্ষা করতে পারত না। তারা শুধু নিজেদের বাঁচাতে পারত।
EZE 14:19 “অথবা আমি যদি দেশের মধ্যে মহামারি পাঠাই এবং সেখানকার মানুষ ও তাদের পশুদের মেরে ফেলার জন্য আমার ক্রোধ ঢেলে রক্ত বহাই,
EZE 14:20 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য, এমনকি যদি সেখানে নোহ, দানিয়েল ও ইয়োব থাকত, তারা তাদের ছেলে অথবা মেয়েদেরও রক্ষা করতে পারত না। তারা তাদের ধার্মিকতার জন্য কেবল নিজেদের রক্ষা করতে পারত।
EZE 14:21 “কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন এমন যদি হয় তবে আমি মানুষ ও পশুদের মেরে ফেলার জন্য জেরুশালেমের বিরুদ্ধে আমার চারটে ভয়ংকর শাস্তি পাঠাই—তরোয়াল ও দুর্ভিক্ষ ও বুনো পশু ও মহামারি!
EZE 14:22 তবুও সেখানকার কয়েকজন বেঁচে যাবে—ছেলে ও মেয়ে যাদের সেখান থাকে বের করে আনা হবে। তারা তোমাদের কাছে আসবে, এবং যখন তোমরা তাদের কাজ ও আচরণ দেখবে, জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যে বিপর্যয় আমি নিয়ে এসেছি সে বিষয় তোমরা সান্ত্বনা পাবে—প্রত্যেক বিপর্যয় যা আমি তার উপরে নিয়ে এসেছি।
EZE 14:23 তাদের কাজ ও আচরণ দেখে তোমরা সান্ত্বনা পাবে, কারণ তোমরা জানতে পারবে যে অকারণে আমি কিছুই করিনি, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।”
EZE 15:1 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 15:2 “হে মানবসন্তান, কেমন করে দ্রাক্ষালতার ডাল অন্য সকল বনের গাছের ডালের থেকে আলাদা?
EZE 15:3 দরকারি কোনও কিছু তৈরি করবার জন্য কি তা থেকে কাঠ নেওয়া হয়? জিনিসপত্র ঝুলিয়ে রাখার জন্য কি তা দিয়ে গোঁজ তৈরি করে?
EZE 15:4 আর যখন সেটি জ্বালানি হিসেবে আগুনে ফেলা হয় এবং কাঠের দুই দিক পুড়ে যায় ও মাঝখানটা কালো হয়ে যায় তখন কি সেটি কোনও কাজে লাগে?
EZE 15:5 আগুনে ফেলার আগে অক্ষত অবস্থায় যদি সেটি কোনো কাজে না লেগে থাকে তবে আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেলে কি তা দিয়ে কোনো দরকারি কিছু তৈরি করা যেতে পারে?
EZE 15:6 “অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন বনের গাছপালার মধ্যে দ্রাক্ষালতার কাঠকে আমি যেমন জ্বালানি কাঠ হিসেবে আগুনে দিয়েছি, তেমনি জেরুশালেমে বসবাসকারী লোকদেরও আগুনে দেব।
EZE 15:7 আমি তাদের বিরুদ্ধে মুখ রাখব। আগুন থেকে তারা বের হয়ে আসলেও আগুনই তাদের পুড়িয়ে ফেলবে। আমি যখন তাদের বিরুদ্ধে মুখ রাখব, তোমরা তখন জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 15:8 আমি দেশকে জনশূন্য করব কারণ তারা অবিশ্বস্ত হয়েছে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।”
EZE 16:1 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 16:2 “হে মানবসন্তান, জেরুশালেমের ঘৃণ্য কাজ সকলের বিষয় তার কাছে ঘোষণা করো
EZE 16:3 আর বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু জেরুশালেমকে এই কথা বলেন, তোমার পিতৃপুরুষগণ ও জন্মস্থান কনানীয়দের দেশে; তোমার বাবা ইমোরীয় এবং তোমার মা হিত্তীয়।
EZE 16:4 তুমি যেদিন জন্মেছিলে তোমার নাড়ি কাটা হয়নি, তোমাকে পরিষ্কার করার জন্য ধোয়া হয়নি, তোমার গায়ে নুন মাখানো হয়নি কিংবা তোমাকে কাপড় দিয়ে জড়ানো হয়নি।
EZE 16:5 কেউ তোমাকে মমতার চোখে দেখেনি কিংবা এসব করার জন্য সহানুভূতি দেখায়নি। তোমাকে বরং খোলা মাঠে ফেলে রাখা হয়েছিল, কারণ যেদিন তুমি জন্মেছিলে সেদিন তোমাকে ঘৃণা করা হয়েছিল।
EZE 16:6 “ ‘আর আমি কাছ দিয়ে যাবার সময় তোমাকে তোমার রক্তের মধ্যে শুয়ে ছটফট করতে দেখলাম এবং আমি তোমাকে বললাম, “জীবিত হও!”
EZE 16:7 আমি তোমাকে ক্ষেত্রের চারার মতো বড়ো করে তুললাম। তুমি বৃদ্ধি পেয়ে বড়ো হয়ে উঠে সব থেকে সুন্দর রত্ন হলে। তোমার বুক গড়ে উঠল, লোম গজাল, কিন্তু তুমি উলঙ্গিনী ও কাপড় ছাড়াই ছিলে।
EZE 16:8 “ ‘পরে আমি তোমার পাশ দিয়ে যাবার সময় তোমার দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে তোমার এখন প্রেম করবার সময় হয়েছে। আমি আমার পোশাকের কোনা তোমার উপরে ছড়িয়ে দিলাম ও তোমার উলঙ্গ শরীর ঢাকলাম। আমি শপথ করে তোমার সঙ্গে নিয়ম স্থির করলাম, আর তুমি আমার হলে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 16:9 “ ‘আমি তোমাকে জলে স্নান করালাম, তোমার গা থেকে সমস্ত রক্ত ধুয়ে দিলাম এবং গায়ে তেল লাগিয়ে দিলাম।
EZE 16:10 আমি তোমার গায়ে নকশা তোলা কাপড় দিলাম, ও পায়ে সূক্ষ্ম চামড়ার চটি পরালাম। আমি মিহি মসিনার কাপড় তোমাকে পরালাম এবং দামি কাপড় দিয়ে তোমাকে ঢাকলাম।
EZE 16:11 আমি তোমাকে গহনা দিয়ে সাজালাম তোমার হাতে চুড়ি ও গলায় হার,
EZE 16:12 নাকে নোলক, কানে দুল ও মাথায় একটি সুন্দর মুকুট দিলাম।
EZE 16:13 এইভাবে সোনা ও রুপো দিয়ে তোমাকে সাজানো হল; তোমার কাপড় ছিল মিহি মসিনার, ব্যয়বহুল বস্ত্র ও নকশা তোলা কাপড়ের। তোমার খাবার ছিল মধু, জলপাই তেল ও মিহি ময়দা। তুমি খুব সুন্দরী হয়ে অবশেষে রানি হলে।
EZE 16:14 আর তোমার সৌন্দর্যের জন্য তোমার খ্যাতি জাতিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল, কারণ তোমাকে আমি যে শোভা দিয়েছিলাম তা তোমার সৌন্দর্য নিখুঁত হয়েছিল, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 16:15 “ ‘কিন্তু তুমি তোমার সৌন্দর্যের উপর নির্ভরশীল হয়েছ ও বেশ্যা হওয়ার জন্য তোমার সুনাম ব্যবহার করেছ। যে কেউ তোমার পাশ দিয়ে যেত তার সঙ্গে তুমি ব্যভিচার করতে এবং সে তোমাকে ভোগ করত।
EZE 16:16 তুমি তোমার কোনও কোনও কাপড় নিয়ে পূজার উঁচু জায়গায় সাজিয়ে সেখানে তোমার বেশ্যার কাজ করতে। তুমি তার কাছে যেতে এবং সে তোমার সৌন্দর্য অধিকার করত।
EZE 16:17 আমার সোনা ও রুপো দিয়ে তৈরি গয়না, যা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, সেই সুন্দর গয়না নিয়ে তুমি নিজের জন্য পুরুষ প্রতিমা করে সেগুলির সঙ্গে ব্যভিচার করতে।
EZE 16:18 আর তুমি তোমার নকশা তোলা কাপড় নিয়ে সেগুলিকে পরাতে এবং তাদের সামনে আমার তেল ও ধূপ রাখতে।
EZE 16:19 আর যে খাবার আমি তোমাকে দিয়েছিলাম—মিহি ময়দা, জলপাই তেল ও মধু যা আমি তোমাকে খেতে দিয়েছিলাম—তুমি সেগুলি তাদের সামনে সুগন্ধি হিসেবে রাখতে। এসবই ঘটেছে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 16:20 “ ‘আর তোমার যে ছেলে এবং মেয়েদের আমার জন্য গর্ভে ধরেছিলে তাদের মূর্তিদের কাছে তুমি খাবার হিসেবে বলিদান করেছিলে। তোমার বেশ্যাবৃত্তি কি যথেষ্ট ছিল না?
EZE 16:21 তুমি আমার সন্তানদের হত্যা করে মূর্তিদের কাছে উৎসর্গ করেছিলে।
EZE 16:22 তোমার সব ঘৃণ্য অভ্যাস এবং তোমার বেশ্যাবৃত্তিতে তুমি তোমার যৌবন স্মরণ করোনি, যখন তুমি উলঙ্গিনী ও খালি গায়ে নিজের রক্তের মধ্যে ছটফট করছিলে।
EZE 16:23 “ ‘ধিক্! ধিক্ তোমাকে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন। তোমার অন্য সব দুষ্টতার পরেও,
EZE 16:24 তুমি নিজের জন্য ঢিবি তৈরি করেছ ও প্রত্যেকটি খোলা জায়গায় উঁচু প্রতিমার আসন প্রস্তুত করেছ।
EZE 16:25 রাস্তার মোড়ে মোড়েও প্রতিমার আসন তৈরি করে তোমার সৌন্দর্যকে তুমি অপমান করেছ, বাছবিচারহীনভাবে যে কেউ তোমার পাশ দিয়ে গেছে তুমি তাদের সঙ্গে ব্যভিচার করেছ।
EZE 16:26 তোমার কামুক প্রতিবেশী মিশরীয়দের সঙ্গে তুমি ব্যভিচার করেছ, এবং আমাকে অসন্তুষ্ট করার জন্য তোমার ব্যভিচারের কাজ আরও বাড়িয়েছ।
EZE 16:27 সেইজন্য আমি তোমার বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে তোমার এলাকা কমিয়ে দিয়েছি; ফিলিস্তিয়ার মেয়েরা, যারা তোমার শত্রু তারা তোমার কামুক স্বভাবের জন্য লজ্জা পেয়েছে, আমি তাদের হাতে তোমাকে তুলে দিয়েছি।
EZE 16:28 আসিরীয়দের সঙ্গেও তুমি ব্যভিচার করেছ, কারণ তুমি অতৃপ্ত ছিলে, কিন্তু তারপরেও তোমার তৃপ্তি হয়নি।
EZE 16:29 তারপরে তুমি তোমার ব্যভিচারের কাজ বাড়িয়ে বণিকদের দেশ ব্যাবিলনের সঙ্গেও ব্যভিচার করেছ, কিন্তু এতেও তোমার তৃপ্তি হয়নি।
EZE 16:30 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, যখন তুমি এই সমস্ত করো, নির্লজ্জ বেশ্যার মতো ব্যবহার করো তখন তোমার বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ পূর্ণ হয়েছে!
EZE 16:31 যখন তুমি নিজের জন্য রাস্তার কোণে ঢিবি তৈরি করেছ ও প্রত্যেকটি খোলা জায়গায় উঁচু প্রতিমার আসন প্রস্তুত করেছ, তখন বেশ্যার মতো কাজ করোনি কারণ তুমি তোমার পাওনা টাকে অগ্রাহ্য করেছ।
EZE 16:32 “ ‘তুমি ব্যভিচারিণী স্ত্রী! তুমি তোমার স্বামীর চেয়ে অপরিচিতদের পছন্দ করেছ!
EZE 16:33 প্রত্যেক বেশ্যা পারিশ্রমিক পায়, কিন্তু তুমি তোমার সব প্রেমিকদের উপহার দিয়ে থাকো, তোমার কাছ থেকে অবৈধ অনুগ্রহ পাবার জন্য যাতে তারা সব জায়গা থেকে তোমার কাছে আসে সেইজন্য তুমি তাদের ঘুস দিয়ে থাকো।
EZE 16:34 অন্যান্য স্ত্রীদের থেকে তোমার বেশ্যাবৃত্তি ঠিক উল্টো; তোমার অনুগ্রহ পাবার জন্য কেউ তোমার পিছনে দৌড়ায় না। তুমি একেবারে আলাদা, কারণ তুমি টাকা নাও না বরং টাকা দিয়ে থাকো।
EZE 16:35 “ ‘অতএব, হে বেশ্যা, সদাপ্রভুর বাক্য শোনো!
EZE 16:36 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: যেহেতু তুমি তোমার লালসা ঢেলে দিয়েছ ও বাছবিচার না করে তোমার প্রেমিকদের কাছে তোমার নিজের উলঙ্গতা প্রকাশ করেছ, এবং তোমার ঘৃণ্য মূর্তির কারণে ও তোমার সন্তানদের রক্ত তাদের দেওয়ার জন্য,
EZE 16:37 সেই কারণে আমি তোমার প্রেমিকদের জড়ো করব, যাদের সঙ্গে তুমি আনন্দ উপভোগ করেছ, যাদের তুমি প্রেম করেছ ও যাদের তুমি ঘৃণা করেছ। আমি চারিদিক থেকে তোমার বিরুদ্ধে তাদের জড়ো করব ও তাদের সামনেই তোমার সব কাপড় খুলে ফেলব যাতে তারা তোমার উলঙ্গতা দেখতে পায়।
EZE 16:38 যে স্ত্রীলোকেরা ব্যভিচার করে এবং যারা রক্তপাত করে তাদের যে শাস্তি দেওয়া হয় সেই শাস্তিই আমি তোমাকে দেব; আমার ক্রোধ ও অন্তর্জ্বলনের জন্য আমি তোমার উপরে রক্তের প্রতিহিংসা নিয়ে আসব।
EZE 16:39 তারপর আমি তোমাকে তোমার প্রেমিকদের হাতে তুলে দেব, আর তারা তোমার ঢিবি ও উঁচু প্রতিমার আসনগুলি ধ্বংস করবে। তারা তোমাকে বিবস্ত্রা করবে ও তোমার সুন্দর গহনাগুলি নিয়ে নেবে আর তোমাকে একেবারে উলঙ্গ করে রেখে যাবে।
EZE 16:40 তারা তোমার বিরুদ্ধে একদল লোককে উত্তেজিত করবে, যারা তোমাকে পাথর মারবে এবং তরোয়াল দিয়ে তোমাকে টুকরো টুকরো করে কাটবে।
EZE 16:41 তারা তোমার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে এবং অনেক স্ত্রীলোকের চোখের সামনে তোমাকে শাস্তি দেবে। আমি তোমার বেশ্যাবৃত্তি বন্ধ করে দেব, তোমার প্রেমিকদের তুমি আর অর্থ দেবে না।
EZE 16:42 তারপর তোমার উপর আমার ক্রোধ ও অন্তরের জ্বালা থেমে যাবে; আমি শান্ত হব, আর অসন্তুষ্ট হব না।
EZE 16:43 “ ‘যেহেতু তুমি তোমার যৌবনের কথা মনে রাখোনি, কিন্তু এসব বিষয় দিয়ে আমাকে ক্রুদ্ধ করেছ, সেইজন্য আমিও তোমার কাজের ফল তোমাকে দেব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন। তোমার অন্য সমস্ত কুকর্মের সঙ্গে কি তুমি এই ঘৃণ্য কাজও যোগ করোনি?
EZE 16:44 “ ‘যে কেউ প্রবাদ ব্যবহার করে, সে তোমার বিরুদ্ধে এই প্রবাদ ব্যবহার করবে, “যেমন মা, তেমনি মেয়ে।”
EZE 16:45 তুমি তোমার মায়ের উপযুক্ত মেয়ে, যে তার স্বামী ও ছেলেমেয়েদের ঘৃণা করত; এবং তুমি তোমার বোনদের উপযুক্ত বোন, যারা তাদের স্বামী ও সন্তানদের ঘৃণা করত। তোমার মা হিত্তীয়া আর বাবা ইমোরীয়।
EZE 16:46 তোমার দিদি শমরিয়া, যে তার মেয়েদের নিয়ে তোমার উত্তর দিকে বাস করে; আর তোমার বোন, যে তার মেয়েদের নিয়ে তোমার দক্ষিণে বাস করে, সে সদোম।
EZE 16:47 তুমি যে কেবল তাদের পথে চলেছ ও তাদের ঘৃণ্য কাজ অনুসরণ করেছ তাই নয়, কিন্তু বরং তোমার সমস্ত আচার-ব্যবহারে তুমি অল্প সময়ের মধ্যে তাদের চেয়ে আরও চরিত্রহীন হয়েছ।
EZE 16:48 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য, তোমার মেয়েরা ও তুমি যা করেছ তোমার বোন সদোম ও তার মেয়েরা কখনও তা করেনি।
EZE 16:49 “ ‘তোমার বোন সদোমের এই পাপ ছিল: সে ও তার মেয়েরা ছিল অহংকারী, প্রচুর খেতো ও নিশ্চিন্তে বাস করত; তারা গরিব ও অভাবীদের সাহায্য করত না।
EZE 16:50 তারা অহংকারী ছিল ও আমার সামনে ঘৃণ্য কাজ করত। অতএব তুমি যেমন দেখেছ সেইভাবেই আমি তাদের দূর করে দিয়েছি।
EZE 16:51 তুমি যেসব পাপ করেছ তার অর্ধেক শমরিয়া করেনি। তুমি তাদের চেয়ে আরও ঘৃণ্য কাজ করেছ। তুমি এই যেসব কাজ করেছ তা দেখে তোমার বোনদের বরং ধার্মিক মনে হয়েছে।
EZE 16:52 তোমার অপমান তোমাকেই বহন করতে হবে, কারণ তোমার কাজগুলি তোমার বোনদের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে। যেহেতু তোমার পাপ তাদের থেকে জঘন্য, তাদের দেখায় যে তারা তোমার থেকে ধার্মিক। সেইজন্য, লজ্জিত হও ও তোমার অপমান বহন করো, কারণ তোমার কাজগুলি তাদের তোমার থেকে বেশি ধার্মিক প্রতিপন্ন করেছে।
EZE 16:53 “ ‘যাহোক, আমি সদোম ও তার মেয়েদের, শমরিয়া ও তার মেয়েদের এবং তাদের সঙ্গে তোমারও অবস্থা ফিরাব,
EZE 16:54 যেন তুমি তোমার অপমান বহন করো এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে যা করেছ তার জন্য লজ্জিত হও।
EZE 16:55 আর তোমার বোনেরা, সদোম তার মেয়েদের ও শমরিয়া তার মেয়েদের সঙ্গে আগে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় ফিরে যাবে; এবং তুমি তোমার মেয়েদের নিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
EZE 16:56 তোমার অহংকারের দিনে তুমি তোমার বোন সদোমের নাম মুখে আনতে না,
EZE 16:57 যখন তোমার দুষ্টতা প্রকাশ পায়নি। তবুও অরামের মেয়েরা ও তার প্রতিবেশীরা, ফিলিস্তিনীদের মেয়েরা তোমাকে অবজ্ঞা করে—তোমার চারিদিকে যারা আছে তারা তোমাকে ঘৃণা করে।
EZE 16:58 তুমি তোমার কুকর্ম ও ঘৃণ্য কাজের ফলভোগ করবে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 16:59 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন তোমার কাজ অনুসারে আমি তোমার সঙ্গে ব্যবহার করব, কারণ তুমি আমার শপথ অবজ্ঞা করে বিধান ভেঙেছ।
EZE 16:60 তবুও তোমার যৌবনকালে তোমার সঙ্গে আমার যে বিধান ছিল, তা আমি মনে করব এবং তোমার জন্য একটি চিরস্থায়ী বিধান স্থাপন করব।
EZE 16:61 তখন তুমি নিজের আচার-ব্যবহার স্মরণ করে লজ্জিতা হবে, যখন তুমি তোমার বোনদের, বড়ো ও ছোটো, তাদের তুমি গ্রহণ করবে। তোমার মেয়ে হিসেবে আমি তাদেরকে তোমাকে দেব, যদিও তারা তোমার সঙ্গে আমার বিধানের মধ্যে নেই।
EZE 16:62 অতএব আমি তোমার জন্য আমার বিধান স্থাপন করব, আর তুমি জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 16:63 আমি যখন তোমার সব অন্যায় ক্ষমা করব তখন তুমি সেইসব অন্যায় কাজের জন্য লজ্জিত হবে এবং তোমার অপমানের জন্য আর কখনও মুখ খুলবে না, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’ ”
EZE 17:1 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 17:2 “হে মানবসন্তান, তুমি ইস্রায়েল কুলের সামনে একটি ধাঁধা রেখে দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে বলো।
EZE 17:3 তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন বিভিন্ন রংয়ের লম্বা পালকে ভরা খুব শক্তিশালী ডানাযুক্ত একটি বিশাল ঈগল লেবাননে এসে সিডার গাছের উপরের ডাল ধরে
EZE 17:4 সেটি ভাঙল ও ব্যবসায়ীদের দেশে বয়ে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায়ীদের নগরে লাগিয়ে দিল।
EZE 17:5 “ ‘সে তোমার দেশের কিছু চারাগাছ নিল ও উর্বর মাটিতে লাগিয়ে দিল। প্রচুর জলের ধারে উইলো গাছের মতো করে সে তা লাগিয়ে দিল,
EZE 17:6 সেটি মাটিতে ছড়িয়ে পড়া একটি দ্রাক্ষালতা হল। তার ডালগুলি ওই ঈগলের দিকে ফিরল আর তার শিকড়গুলি পাখির নিচে রইল। এইভাবে সেই দ্রাক্ষালতা বড়ো হল এবং তাতে পাতাভরা অনেক ডাল বের হল।
EZE 17:7 “ ‘কিন্তু সেখানে পালকে ঢাকা বড়ো ডানাযুক্ত আর একটি প্রকাণ্ড ঈগল ছিল। সেই দ্রাক্ষালতা জল পাবার জন্য যেখানে সেটি লাগানো হয়েছিল সেখান থেকে তার শিকড় ও ডালগুলি সেই ঈগলের দিকে বাড়িয়ে দিল।
EZE 17:8 প্রচুর জলের পাশে ভালো মাটিতে তাকে লাগানো হয়েছিল যাতে সে অনেক ডাল বের করতে পারে, ফল ধরাতে পারে ও সুন্দর দ্রাক্ষালতা হয়ে উঠতে পারে।’
EZE 17:9 “তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, সে কি বেড়ে উঠবে? সে যাতে শুকিয়ে যায় সেইজন্য কি তাকে উপড়ে ফেলে তার ফল ছিড়ে নেওয়া হবে না? সব নতুন গজানো ডগা শুকিয়ে যাবে। তার শিকড় ধরে তুলে ফেলার জন্য কোনও শক্তিশালী হাত বা অনেক লোক লাগবে না।
EZE 17:10 তাকে লাগানো হয়েছে, কিন্তু সে কি বাঁচবে? সে কি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে না যখন পূর্বদিকের বাতাস তাকে আঘাত করবে—যেখানে তাকে লাগানো হয়েছিল সেখানেই সে কি শুকিয়ে যাবে না?’ ”
EZE 17:11 আর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 17:12 “তুমি এই বিদ্রোহী কুলকে বলো, ‘তোমরা কি জানো না এই সবের অর্থ কি?’ তাদের বলো, ‘ব্যাবিলনের রাজা জেরুশালেমে এসে তার রাজা ও গণ্যমান্য লোকদের ধরে তাঁর সঙ্গে ব্যাবিলনে নিয়ে গেল।
EZE 17:13 তারপর সে রাজপরিবারের একজনের সঙ্গে চুক্তি করে তাকে তার বাধ্য থাকবার শপথ করাল। সে দেশের প্রধান প্রধান লোকদেরও ধরে নিয়ে গেল,
EZE 17:14 যেন সেই রাজ্যকে অধীনে রাখা যায় এবং তা শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে কিন্তু চুক্তি রক্ষা করে টিকে থাকতে পারে।
EZE 17:15 কিন্তু সেই রাজা ঘোড়া ও সৈন্যদল পাবার জন্য মিশরে দূত পাঠিয়ে ব্যাবিলনের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। সে কি সফল হবে? এমন কাজ যে করে সে কি রক্ষা পাবে? চুক্তি ভেঙে ফেললে কি সে রক্ষা পাবে?
EZE 17:16 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য, তাকে যে রাজা সিংহাসনে বসাল, যার শপথ সে অবজ্ঞা করল, আর যার চুক্তি সে ভেঙে ফেলল সে সেই রাজার দেশ ব্যাবিলনে মারা যাবে।
EZE 17:17 যুদ্ধের সময় যখন অনেক জীবন ধ্বংস করার জন্য উঁচু ঢিবি ও ঢালু পথ তৈরি করা হবে তখন ফরৌণের শক্তিশালী মস্ত বড়ো সৈন্যদল তাকে সাহায্য করবে না।
EZE 17:18 সে শপথ অবজ্ঞা করে চুক্তি ভেঙেছে। সে অধীনতার চুক্তি করেও এসব কাজ করেছে বলে রক্ষা পাবে না।
EZE 17:19 “ ‘অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য, সে আমার শপথ অবজ্ঞা করেছে ও আমার চুক্তি ভেঙেছে, অতএব তার ফল তাকে দেব।
EZE 17:20 আমি তার জন্য আমার জাল পাতব এবং সে আমার ফাঁদে ধরা পড়বে। সে আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছে বলে আমি তাকে ব্যাবিলনে নিয়ে যাব আর সেখানে তার বিচার আমি করব।
EZE 17:21 তার সব সৈন্যরা তরোয়ালে মারা যাবে আর বাদবাকি সৈন্যরা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। তখন তোমরা জানবে যে আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি।
EZE 17:22 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি নিজেই সিডার গাছের মাথা থেকে একটি কচি ডাল নিয়ে সেটি লাগাব; আমি তার সব থেকে উঁচু ডালের একটি কচি অংশ ভেঙে পাহাড়ের উঁচু চুড়ার উপরে লাগিয়ে দেব।
EZE 17:23 ইস্রায়েলের উঁচু পাহাড়ের উপরে তা থেকে ডালপালা বের হয়ে ফল ধরবে এবং সেটি একটি বিশাল সিডার গাছ হয়ে উঠবে। সব রকমের পাখি তার ডালপালার মধ্যে বাসা করবে; তারা আশ্রয় পাবে এবং তার ছায়ায় বাস করবে।
EZE 17:24 এতে মাঠের সব গাছপালা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু উঁচু গাছকে নিচু করি এবং নিচু গাছকে উঁচু করি। আমি সবুজ গাছকে শুকনো করি এবং শুকনো গাছকে জীবিত করি। “ ‘আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি, এবং আমি তা করব।’ ”
EZE 18:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
EZE 18:2 “ইস্রায়েল দেশ সম্বন্ধে প্রচলিত প্রবাদটি উদ্ধৃত করার দ্বারা লোকেরা কী অর্থ প্রকাশ করে: “ ‘বাবারা টক আঙুর খেয়েছিলেন, আর সন্তানদের দাঁত টকে গেছে’?
EZE 18:3 “আমার জীবনের দিব্য, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা এই প্রবাদ ইস্রায়েলে আর বলবে না।
EZE 18:4 জীবিত সব লোকই আমার, বাবা ও সন্তান উভয়ই আমার। যে পাপ করবে সেই মরবে।
EZE 18:5 “মনে করো, একজন ধার্মিক লোক আছে যে ন্যায় ও ঠিক কাজ করে।
EZE 18:6 সে পাহাড়ের উপরের কোনো পূজার স্থানে খাওয়াদাওয়া করে না কিংবা ইস্রায়েলীদের কোনো প্রতিমার পূজা করে না। সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে কলুষিত করে না কিংবা ঋতুমতী স্ত্রীলোকের সঙ্গে মিলিত হয় না।
EZE 18:7 সে কারও উপরে অত্যাচার করে না, বরং ঋণীকে বন্ধকি জিনিস ফিরিয়ে দেয়। সে চুরি করে না কিন্তু যাদের খিদে পেয়েছে তাদের খাবার দেয় এবং উলঙ্গদের কাপড় দেয়।
EZE 18:8 সে সুদে টাকা ধার দেয় না কিংবা বাড়তি সুদ নেয় না। সে অন্যায় করা থেকে হাত সরিয়ে রাখে ও লোকদের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার করে।
EZE 18:9 সে আমার নিয়মকানুন মেনে চলে ও বিশ্বস্তভাবে আমার বিধান পালন করে। সেই লোক ধার্মিক; সে নিশ্চয় বাঁচবে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 18:10 “মনে করো যদি সেই লোকের এক হিংস্র ছেলে আছে, যে রক্তপাত করে অথবা এগুলির মধ্যে যে কোনও একটি করে
EZE 18:11 (যদিও তার বাবা এর কোনোটিই করেনি), “সে পাহাড়ের উপরের পূজার স্থানগুলিতে খাওয়াদাওয়া করে। সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে কলুষিত করে।
EZE 18:12 সে গরিব ও অভাবীদের উপর অত্যাচার করে। সে চুরি করে। সে বন্ধকি জিনিস ফিরিয়ে দেয় না। সে মূর্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করে। সে ঘৃণ্য কাজ করে।
EZE 18:13 সে সুদে টাকা ধার দেয় ও বাড়তি সুদ নেয়। সেই লোক কি বাঁচবে? সে বাঁচবে না! কারণ সে এসব ঘৃণ্য কাজ করেছে, সে মরবেই মরবে এবং তার মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী হবে।
EZE 18:14 “কিন্তু মনে করো এই ছেলের একটি ছেলে আছে যে তার বাবাকে এসব পাপ করতে দেখেছে, এবং যদিও সেসব দেখেও সে তা করে না:
EZE 18:15 “সে পাহাড়ের উপরের পূজার স্থানগুলিতে খাওয়াদাওয়া করে না কিংবা ইস্রায়েলীদের কোনও প্রতিমার পূজা করে না। সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে কলুষিত করে না।
EZE 18:16 সে কারও উপরে অত্যাচার করে না কিংবা ঋণীকে বন্ধকি জিনিস ফিরিয়ে দেয়। সে চুরি করে না কিন্তু যাদের খিদে পেয়েছে তাদের খাবার দেয় এবং উলঙ্গদের কাপড় দেয়।
EZE 18:17 সে গরিবদের প্রতি খারাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকে এবং সে সুদে টাকা ধার দেয় না কিংবা বাড়তি সুদ নেয় না। সে আমার নিয়মকানুন মেনে চলে ও আমার বিধান পালন করে। সে তার বাবার পাপের জন্য মরবে না; সে নিশ্চয় বাঁচবে।
EZE 18:18 কিন্তু তার বাবা নিজের পাপের জন্য মরবে, কারণ সে জোর করে টাকা আদায় করত, ভাইয়ের জিনিস চুরি করত এবং তার লোকদের মধ্যে অন্যায় কাজ করত।
EZE 18:19 “তবুও তোমরা বলছ, ‘বাবার দোষের জন্য কেন ছেলে শাস্তি পাবে না?’ যেহেতু সেই ছেলে তো ন্যায় ও ঠিক কাজ করেছে এবং যত্নের সঙ্গে আমার নিয়ম পালন করেছে, তাই সে নিশ্চয় বাঁচবে।
EZE 18:20 যে পাপ করবে সেই মরবে। ছেলে বাবার দোষের জন্য শাস্তি পাবে না আর বাবাও ছেলের দোষের জন্য শাস্তি পাবে না। ধার্মিক ধার্মিকতার ফল পাবে আর দুষ্ট দুষ্টতার ফল পাবে।
EZE 18:21 “কিন্তু যদি একজন দুষ্টলোক তার সব পাপ থেকে ফিরে আমার নিয়ম সকল পালন করে আর ন্যায় ও ঠিক কাজ করে তবে সে নিশ্চয়ই বাঁচবে; সে মরবে না।
EZE 18:22 যে সকল অপরাধ সে আগে করেছে তার কোনটাই মনে রাখা হবে না। তার ধার্মিক আচরণের জন্য, সে বাঁচবে।
EZE 18:23 দুষ্টলোকের মরণে কি আমি খুশি হই? এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন। বরং তারা তাদের কুপথ থেকে ফিরে বাঁচে, এতে কি আমি খুশি হই না?
EZE 18:24 “কিন্তু যদি একজন ধার্মিক লোক নিজের ধার্মিকতা থেকে ফিরে পাপ করে এবং সেই একই ঘৃণ্য কাজ করে যা দুষ্টলোক করে, তবে সে কি বাঁচবে? তার সব ধার্মিকতার কাজ যা সে আগে করেছে তা মনে রাখা হবে না। কারণ তার অবিশ্বস্ততার জন্য সে দোষী এবং যে পাপ সে করেছে, তার জন্য সে মরবে।
EZE 18:25 “তবুও তোমরা বলছ, ‘প্রভুর পথ ঠিক নয়।’ হে ইস্রায়েল কুল, শোনো, আমার পথ কি অন্যায়ের? তোমাদের পথ কি অন্যায়ের না?
EZE 18:26 যদি একজন ধার্মিক লোক নিজের ধার্মিকতা থেকে ফিরে পাপ করে, সে তার জন্য মরবে; কারণ যে পাপ সে করেছে, সে মরবে।
EZE 18:27 কিন্তু যদি একজন দুষ্টলোক তার দুষ্টতা থেকে ফেরে এবং যা ন্যায্য ও সঠিক তাই করে, সে তার জীবন রক্ষা করবে।
EZE 18:28 যেহেতু সে তার অপরাধের বিষয় বিবেচনা করে তার থেকে ফিরেছে, সে নিশ্চয়ই বাঁচবে; সে মরবে না।
EZE 18:29 অথচ ইস্রায়েল কুল বলছে, ‘প্রভুর পথ ঠিক নয়।’ হে ইস্রায়েল কুল, আমার পথ কি সঠিক নয়? তোমাদের পথ কি অন্যায়ের নয়?
EZE 18:30 “অতএব, হে ইস্রায়েল কুল, আমি তোমাদের প্রত্যেকের আচার-ব্যবহার অনুসারে বিচার করব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন। মন ফেরাও! তোমাদের অপরাধ থেকে ফেরো; তাহলে পাপ তোমাদের পতনের কারণ হবে না।
EZE 18:31 তোমাদের সমস্ত অন্যায় তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে দূর করো এবং তোমাদের অন্তর ও মন নতুন করে গড়ে তোলো। হে ইস্রায়েল কুল, তুমি কেন মরবে?
EZE 18:32 কারণ আমি কারোর মৃত্যুতে খুশি হই না, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন। মন ফেরাও এবং বাঁচো!
EZE 19:1 “তুমি ইস্রায়েলের শাসনকর্তাদের জন্য বিলাপ
EZE 19:2 করে বলো, “ ‘সিংহদের মধ্যে তোমার মা ছিল সেরা সিংহী! সে যুবসিংহদের মধ্যে শুয়ে থাকত; তার শাবকদের সে লালনপালন করত।
EZE 19:3 তার একটি শাবক বড়ো হয়ে শক্তিশালী সিংহ হয়ে উঠল। সে পশু শিকার করতে শিখল আর মানুষ খেতে লাগল।
EZE 19:4 জাতিরা তার বিষয় শুনতে পেল, আর সে তাদের গর্তে ধরা পড়ল। তারা তার নাকে বড়শি পরিয়ে মিশর দেশে নিয়ে গেল।
EZE 19:5 “ ‘যখন সে দেখল তার আশা পূর্ণ হল না, তার প্রত্যাশা চলে গেছে, সে আর তার একটি শাবক নিয়ে তাকে শক্তিশালী সিংহ করে তুলল।
EZE 19:6 সেই শাবক সিংহদের মধ্যে ঘোরাঘুরি করে কারণ সে একটি শক্তিশালী সিংহ হয়ে উঠেছিল। সে পশু শিকার করতে শিখল আর মানুষ খেতে লাগল।
EZE 19:7 সে তাদের দুর্গগুলি ভাঙল আর নগর সব ধ্বংস করে ফেলল। সেই দেশ ও সেখানে যারা বাস করত তারা তার গর্জনে ভয় পেল।
EZE 19:8 তখন তার চারপাশের জাতিরা তার বিরুদ্ধে দাড়াল। তার উপরে তাদের জাল পাতল, আর সে তাদের গর্তে ধরা পড়ল।
EZE 19:9 তাকে বড়শি পরিয়ে খাঁচায় পুরল আর তাকে ব্যাবিলনের রাজার কাছে নিয়ে গেল। তাকে কারাগারে রাখল যেন তার গর্জন আর শোনা না যায় ইস্রায়েলের কোনও পাহাড়ে।
EZE 19:10 “ ‘তোমার দ্রাক্ষাক্ষেত্রে তোমার মা জলের ধারে লাগানো একটি দ্রাক্ষালতার মতো ছিল, প্রচুর জল পাবার দরুন তা ছিল ফল ও ডালপালায় ভরা।
EZE 19:11 তার ডালগুলি ছিল শক্ত শাসনকর্তার রাজদণ্ড হওয়ার উপযুক্ত। সে খুব উঁচু এবং ডালপালায় ভরা সেইজন্য তাকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় তার বহু শাখার জন্য।
EZE 19:12 কিন্তু ক্রোধের প্রকোপে সেটিকে নির্মূল করে মাটিতে ফেলা হল। পূবের বাতাসে সেটি কুঁকড়ে গেল, তার ফল পড়ে গেল; তার শক্ত ডালগুলি শুকিয়ে গেল এবং আগুন সেগুলিকে গ্রাস করল।
EZE 19:13 এখন সেটি কে মরুভূমিতে, শুকনো, জলহীন দেশে লাগানো হয়েছে।
EZE 19:14 তার একটি ডাল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ল এবং তার ফল আগুন গ্রাস করল। শাসনকর্তার রাজদণ্ড হওয়ার উপযুক্ত কোনও শক্ত ডাল আর রইল না।’ এটি একটি বিলাপ এবং এটি বিলাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”
EZE 20:1 সপ্তম বছরের পঞ্চম মাসের দশ দিনের দিন, ইস্রায়েলের কয়েকজন প্রাচীন সদাপ্রভুর ইচ্ছা জানবার জন্য আমার সামনে বসলেন।
EZE 20:2 তখন সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল
EZE 20:3 “হে মানবসন্তান, তুমি ইস্রায়েলের প্রাচীনদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা কি আমার ইচ্ছা জানতে এসেছ? সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য, আমি তোমাদের আমার ইচ্ছা জানতে দেব না।’
EZE 20:4 “তুমি কি তাদের বিচার করবে? হে মানবসন্তান, তুমি কি তাদের বিচার করবে? তবে তাদের পূর্বপুরুষদের ঘৃণ্য কাজের কথা তাদের জানাও
EZE 20:5 আর তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি যেদিন ইস্রায়েলকে বেছে নিয়েছিলাম, সেইদিন হাত তুলে যাকোবের বংশের লোকদের কাছে শপথ করেছিলাম ও মিশরে তাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছিলাম। হাত তুলে তাদের বলেছিলাম, “আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।”
EZE 20:6 সেইদিন আমি তাদের কাছে শপথ করেছিলাম যে আমি তাদের মিশর দেশ থেকে বার করে তাদের জন্য যে দেশ আমি খুঁজেছি সেখানে নিয়ে যাব, দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশে, সেটি সব দেশের মধ্যে সুন্দর।
EZE 20:7 আমি তাদের বলেছিলাম, “তোমরা প্রত্যেকে যেসব ঘৃণ্য মূর্তি তোমাদের ভালো লেগেছে সেগুলি দূর করো, এবং মিশরের প্রতিমাগুলি দিয়ে নিজেদের অশুচি করো না। আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।”
EZE 20:8 “ ‘কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল আর আমার কথা শুনতে রাজি হল না; যেসব ঘৃণ্য মূর্তি তাদের ভালো লাগত তা তারা দূর করেনি এবং মিশরের প্রতিমাগুলিও ত্যাগ করেনি। সেইজন্য আমি বলেছিলাম মিশরে আমি তাদের উপর আমার ক্রোধ ও ভীষণ অসন্তোষ ঢেলে দেব।
EZE 20:9 কিন্তু আমার সুনাম রক্ষার জন্য আমি তা করিনি, যাতে তারা যে জাতিগণের মধ্যে বাস করছিল তাদের কাছে আমার নাম যেন অপবিত্র না হয় ও যাদের সামনে আমি তাদের মিশর থেকে বের করে এনে ইস্রায়েলীদের কাছে আমি আমার পরিচয় দিয়েছি।
EZE 20:10 অতএব তাদের মিশর দেশ থেকে বের করে মরুভূমিতে আনলাম।
EZE 20:11 আমি তাদের আমার নিয়ম দিলাম ও আমার আইনকানুন তাদের জানালাম, যে তা পালন করবে সে তার মধ্যে দিয়ে বাঁচবে।
EZE 20:12 আরও আমার ও তাদের মধ্যে চিহ্ন হিসেবে আমার বিশ্রাম দিনগুলি তাদের দিলাম যেন তারা জানতে পারে যে, আমি সদাপ্রভু তাদের পবিত্র করেছি।
EZE 20:13 “ ‘কিন্তু ইস্রায়েলের লোকেরা মরুভূমিতে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। তারা আমার নিয়ম অনুসারে চলেনি, আমার আইনকানুন অগ্রাহ্য করেছে যদিও তা পালন করলে মানুষ তার মধ্যে দিয়ে বাঁচবে এবং তারা আমার বিশ্রামবারকে ভীষণভাবে অপবিত্র করেছে। তখন আমি বলেছিলাম যে আমার ক্রোধ তাদের উপর ঢেলে দেব ও মরুভূমিতে তাদের ধ্বংস করব।
EZE 20:14 কিন্তু আমার সুনাম রক্ষার জন্য আমি তা করিনি, যাতে যে জাতিদের সামনে আমি তাদের বের করে এনেছিলাম তাদের কাছে আমার নাম অপবিত্র না হয়।
EZE 20:15 এছাড়া সেই মরুভূমিতে আমি হাত তুলে তাদের কাছে শপথ করেছিলাম তাদের যে দেশ দিয়েছি সেই দেশে নিয়ে যাব দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশে, সেটি সব দেশের মধ্যে সুন্দর
EZE 20:16 কারণ তারা আমার আইনকানুন অগ্রাহ্য করেছে ও আমার নিয়ম অনুসারে চলেনি এবং আমার বিশ্রামবারকে অপবিত্র করেছে। কেননা তাদের অন্তর তাদের প্রতিমাগুলির অনুগত।
EZE 20:17 তবুও আমি তাদের করুণার চোখে দেখে মরুভূমিতে তাদের একেবারে ধ্বংস করিনি।
EZE 20:18 আমি মরুভূমিতে তাদের সন্তানদের বললাম, “তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো চলো না, তাদের আইনকানুন রক্ষা কোরো না ও তাদের প্রতিমাগুলি দ্বারা নিজেদের অশুচি কোরো না।
EZE 20:19 আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু; আমার নিয়মগুলি পালন করো ও আমার আইনকানুন রক্ষা করতে যত্ন নিও।
EZE 20:20 আমার বিশ্রামবার পবিত্র রেখো, যেন তা আমাদের মধ্যে চিহ্নস্বরূপ হয়। তখন তোমরা জানবে আমিই তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।”
EZE 20:21 “ ‘তবুও সেই সন্তানেরা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল তারা আমার নিয়মগুলি পালন করেনি ও আমার আইনকানুন রক্ষা করতে যত্ন নেয়নি “যদিও তা পালন করলে মানুষ তার মধ্যে দিয়ে বাঁচবে” এবং তারা আমার বিশ্রামবারকে অপবিত্র করেছে। তখন আমি বলেছিলাম যে আমার ক্রোধ তাদের উপর ঢেলে দেব ও মরুভূমিতে আমার অসন্তোষ তাদের উপর ব্যয় করব।
EZE 20:22 কিন্তু আমি আমার হাত বাড়ালাম না, এবং আমার সুনাম রক্ষার জন্য আমি তা করিনি, যাতে যে জাতিদের সামনে আমি তাদের বের করে এনেছিলাম তাদের কাছে আমার নাম অপবিত্র না হয়।
EZE 20:23 এছাড়া সেই মরুভূমিতে আমি হাত তুলে তাদের কাছে শপথ করেছিলাম যে আমি তাদের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব,
EZE 20:24 কারণ তারা আইনকানুনের বাধ্য হয়নি অথচ নিয়মগুলি অগ্রাহ্য করেছে এবং আমার বিশ্রামবারকে অপবিত্র করেছে ও অগ্রাহ্য করেছে এবং তাদের চোখের লোলুপ দৃষ্টি ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের পূজিত মূর্তির প্রতি।
EZE 20:25 যেসব নিয়ম ভালো না এবং যে আইনকানুন মধ্য দিয়ে তারা বাঁচতে পারবে না সেইসব তাদের দিলাম।
EZE 20:26 আমি তাদের উপহারকে অশুচি হতে দিলাম—তাদের প্রথমজাতকে উৎসর্গ যেন আমি আতঙ্কিত করতে পারি আর তারা জানতে পারবে যে আমিই সদাপ্রভু।’
EZE 20:27 “অতএব, হে মানবসন্তান, তুমি ইস্রায়েল কুলের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে আমার নিন্দা করেছে
EZE 20:28 আমি তাদের যে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সেই দেশে যখন তাদের নিয়ে এলাম আর তারা যে কোনও উঁচু পাহাড় বা ডালপালা ছড়ানো সবুজ গাছ দেখল সেখানে তারা তাদের পশুবলি দিত, আমার অসন্তোষ বাড়াতে সেখানে নৈবেদ্য দিত, সুগন্ধি ধূপ রাখত এবং পেয়-নৈবেদ্য ঢালত।
EZE 20:29 তখন আমি তাদের বললাম তোমরা যে উঁচু স্থানে উঠে যাও, ওটি কি?’ ” (আজ পর্যন্ত সেই জায়গাকে বামা বলে ডাকা হয়।)
EZE 20:30 “অতএব ইস্রায়েল কুলকে বলো ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন তোমরা কি তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো করে নিজেদের অশুচি করবে এবং তাদের ঘৃণ্য মূর্তিগুলির প্রতি লালসা করবে?
EZE 20:31 যখন তোমরা তোমাদের উপহার অর্পণ করো—তোমাদের সন্তানদের আগুনের মধ্য বলিদান করো—এই দিন পর্যন্ত তোমরা তোমাদের প্রতিমা দ্বারা নিজেদের অশুচি করছ। হে ইস্রায়েল কুল, আমি কি তোমাদের আমার কাছে অনুসন্ধান করতে দেব? এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য, আমি তোমাদের আমার কাছে অনুসন্ধান করতে দেব না।
EZE 20:32 “ ‘তোমরা বলে থাকো, “আমরা জগতের অন্যান্য জাতির লোকদের মতো হতে চাই যারা কাঠ ও পাথরের পূজা করে।” কিন্তু তোমাদের মনে যা আছে তা কখনও হবে না।
EZE 20:33 এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য, আমার শক্তিশালী হাত ও বিস্তারিত বাহু বাড়িয়ে ক্রোধ ঢেলে তোমাদের উপরে রাজত্ব করব।
EZE 20:34 আমার শক্তিশালী হাত ও বিস্তারিত বাহু বাড়িয়ে ক্রোধ ঢেলে—বিভিন্ন জাতির মধ্য থেকে আমি তোমাদের নিয়ে আসব এবং যেসব দেশে তোমাদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে তোমাদের একত্র করব।
EZE 20:35 আমি তোমাদের জাতিদের মরুভূমিতে নিয়ে এসে সেখানে তোমাদের, মুখোমুখি হয়ে, বিচার করব।
EZE 20:36 মিশর দেশের মরুভূমিতে আমি যেমন তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিচার করেছিলাম, তেমনি তোমাদেরও বিচার করব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 20:37 তোমরা যখন আমার লাঠির নিচ দিয়ে যাবে তখন আমি তোমাদের পরীক্ষা করব, আমার বিধানের বাঁধন দিয়ে আমি তোমাদের বাঁধব।
EZE 20:38 তোমাদের মধ্যে যারা আমার বিরুদ্ধে থাকে ও বিদ্রোহ করে আমি তাদের দূর করে দেব। তারা যে দেশে বাস করত যদিও সেখান থেকে আমি তাদের বের করে আনব তবুও তারা ইস্রায়েল দেশে ঢুকতে পারবে না। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 20:39 “ ‘হে ইস্রায়েল কুল, তোমাদের জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা যাও আর প্রত্যেকে নিজের নিজের প্রতিমাগুলির সেবা করো! কিন্তু পরে আমার কথা তোমরা অবশ্যই শুনবে এবং তখন তোমরা তোমাদের উপহার ও প্রতিমা দিয়ে আমার পবিত্র নাম আর অপবিত্র করবে না।
EZE 20:40 কারণ, তখন দেশের মধ্যে আমার পবিত্র পাহাড়ের উপরে, ইস্রায়েলের উঁচু পাহাড়ের উপরে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, ইস্রায়েলের সমস্ত লোক আমার সেবা করবে এবং সেখানে আমি তাদের গ্রহণ করব। সেখানে আমি তোমাদের সব পবিত্র নৈবেদ্য, দান ও ভালো ভালো উপহার দাবি করব।
EZE 20:41 আমি যখন জাতিদের মধ্য থেকে তোমাদের বের করে আনব এবং যেসব দেশে তোমরা ছড়িয়ে পড়েছ সেখান থেকে একত্র করব তখন সুগন্ধি ধূপের মতো আমি তোমাদের গ্রহণ করব। আমার পবিত্রতা তোমাদের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হবে এবং সেটি সমস্ত জাতি দেখবে।
EZE 20:42 আমি তোমাদের যে দেশ দেব বলে হাত তুলে তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শপথ করেছিলাম, সেই ইস্রায়েল দেশে যখন তোমাদের নিয়ে আসব, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 20:43 সেখানে তোমাদের আগের আচার ব্যবহারের কথা ও যেসব কাজের দ্বারা তোমরা নিজেদের অশুচি করেছিলে তা মনে করবে এবং তোমাদের সমস্ত মন্দ কাজের জন্য নিজেরা নিজেদের ঘৃণা করবে।
EZE 20:44 হে ইস্রায়েল কুল, সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমি যখন তোমাদের মন্দ আচার-ব্যবহার ও মন্দ কাজ অনুসারে তোমাদের সঙ্গে ব্যবহার করব না, কিন্তু নিজের সুনাম রক্ষার জন্য তোমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব, তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 20:45 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 20:46 “হে মানবসন্তান, তোমার মুখ তুমি দক্ষিণ দিকে রেখে সেই দেশে বিরুদ্ধে কথা বলো এবং সেখানকার বনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী বলো।
EZE 20:47 দক্ষিণের বনকে তুমি বলো ‘সদাপ্রভুর বাক্য শোনো। সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন আমি তোমার মধ্যে আগুন জ্বালাব, আর তা তোমার সব কাঁচা ও শুকনো গাছপালা পুড়িয়ে ফেলবে। সেই গনগনে আগুন তৃপ্ত হবে না এবং দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত সমস্ত লোক তাতে ঝলসে যাবে।
EZE 20:48 প্রত্যেকে দেখবে যে আমি সদাপ্রভুই তা জ্বালিয়েছি; তা নিভবে না।’ ”
EZE 20:49 তখন আমি বললাম, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু! তারা আমাকে বলছে, ‘সে কি কেবল দৃষ্টান্ত বলছে না?’ ”
EZE 21:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল
EZE 21:2 “হে মানবসন্তান, তুমি জেরুশালেমের দিকে মুখ করে পবিত্রস্থানের বিরুদ্ধে প্রচার করো। ইস্রায়েল দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো
EZE 21:3 আর তাকে বলো ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন আমি তোমার বিপক্ষে। আমি খাপ থেকে আমার তরোয়াল বের করে তোমার মধ্য থেকে ধার্মিক ও দুষ্ট সবাইকে মেরে ফেলব।
EZE 21:4 দক্ষিণ থেকে উত্তরের সকলকে মেরে ফেলার জন্য আমার তরোয়াল খাপ থেকে বের হবে কারণ আমি ধার্মিক ও দুষ্ট সবাইকে মেরে ফেলব।
EZE 21:5 তখন সব লোক জানবে যে, আমি সদাপ্রভুই খাপ থেকে তরোয়াল বের করেছি; তা আর ফিরবে না।’
EZE 21:6 “সেইজন্য হে মানবসন্তান, তুমি কোঁকাও, ভগ্ন হৃদয়ে ও গভীর দুঃখে তাদের সামনে কোঁকাও।
EZE 21:7 আর তারা যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তুমি কেন কোঁকাচ্ছ?’ তুমি বলবে, ‘খবরের জন্য, কারণ তা আসছে। প্রত্যেক হৃদয় গলে যাবে ও প্রত্যেক হাত দুর্বল হবে; প্রত্যেক আত্মা নিস্তেজ হবে ও প্রত্যেক হাঁটু জলের মতো দুর্বল হয়ে যাবে।’ তা আসছে! তা নিশ্চয় ঘটবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 21:8 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
EZE 21:9 “হে মানবসন্তান, ভাববাণী বলো, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘একটি তরোয়াল, একটি তরোয়াল, ধার দেওয়া ও পালিশ করা,
EZE 21:10 ধার দেওয়া হয়েছে কেটে ফেলার জন্য, পালিশ করা হয়েছে যেন বিদ্যুতের মতো ঝকমক করে! “ ‘আমার ছেলে যিহূদার রাজদণ্ডের জন্য কি আনন্দ করব? সেই তরোয়াল সেইরকম প্রত্যেক লাঠিকে তুচ্ছ করে।
EZE 21:11 “ ‘তরোয়াল পালিশ করার জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে যেন হাতে ধরা যায়; হত্যাকারীর হাতে দেবার জন্য এটি ধার দেওয়া ও পালিশ করা হয়েছে।
EZE 21:12 হে মানবসন্তান, কাঁদো ও বিলাপ করো, কারণ এটি আমার প্রজাদের বিরুদ্ধে; এটি ইস্রায়েলের সমস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আর আমার প্রজাদের সঙ্গে তাদেরও তরোয়ালেতে ফেলা হবে। কাজেই তুমি বুক চাপড়াও।
EZE 21:13 “ ‘পরীক্ষা নিশ্চয়ই আসবে। যিহূদার রাজদণ্ড, যা তরোয়াল তুচ্ছ করে, যদি আর না থাকে তাতে কি? এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’
EZE 21:14 “অতএব, হে মানবসন্তান, ভাববাণী বলো আর হাততালি দাও। সেই তরোয়াল দু-বার, এমনকি, তিনবার আঘাত করুক। এটি হত্যা করার সেই তরোয়াল, মহাহত্যা করার এই তরোয়াল, যা তাদের উপর চারিদিক থেকে আসবে।
EZE 21:15 কেটে ফেলার জন্য তাদের সব দ্বারে দ্বারে আমি তরোয়াল বসিয়েছি যেন তাদের হৃদয় সব গলে যায় এবং অনেকে পড়ে। দেখো! সেই তরোয়াল বিদ্যুতের মতো ঝকমক করে, এটি হত্যার জন্য ধার দেওয়া হয়েছে।
EZE 21:16 হে তরোয়াল, ডানদিকে আঘাত করো, তারপর বাঁদিকে করো, যেদিকে তোমার ফলা ঘুরানো যায়।
EZE 21:17 আমিও হাততালি দেব, আর আমার ক্রোধ শান্ত হবে। আমি সদাপ্রভুই এই কথা বলেছি।”
EZE 21:18 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
EZE 21:19 “হে মানবসন্তান, ব্যাবিলনের রাজার তরোয়ালের জন্য দুটি রাস্তায় চিহ্ন দাও, সেই দুটি রাস্তাই এক দেশ থেকে বের হবে। যেখানে রাস্তা ভাগ হয়ে নগরের দিকে গেছে সেখানে পথনির্দেশ করার খুঁটি দাও।
EZE 21:20 তরোয়ালের জন্য অম্মোনীয়দের রব্বা নগরের বিরুদ্ধে যাবার একটি রাস্তা এবং যিহূদা ও প্রাচীর দিয়ে ঘেরা জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যাবার অন্য একটি রাস্তায় চিহ্ন দাও।
EZE 21:21 কারণ ব্যাবিলনের রাজা পূর্বলক্ষণ জানার জন্য যেখানে দুটি রাস্তা মিশেছে সেখানে দাঁড়াবে; সে তির ছুড়বে, তার দেবতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবে ও যকৃত পরীক্ষা করবে।
EZE 21:22 তার ডান হাতে আসবে জেরুশালেমের গণনা, যেখানে সে প্রাচীর ও দ্বার ভাঙবার যন্ত্র বসাবে, হত্যা করার হুকুম দেবে, ঢালু ঢিবি ও উঁচু ঢিবি তৈরি করবে।
EZE 21:23 যারা তার আনুগত্য স্বীকার করেছে তাদের কাছে এই লক্ষণ মিথ্যা মনে হবে, কিন্তু তাদের দোষের কথা সে তাদের মনে করিয়ে দেবে এবং তাদের বন্দি করে নিয়ে যাবে।
EZE 21:24 “এজন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘তোমরা খোলাখুলিভাবে পাপ করে তোমাদের দোষ দেখিয়ে দিয়েছ, তোমাদের সব কাজে তোমাদের অন্যায় প্রকাশ পাচ্ছে—তার ফলে তোমাদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হবে।
EZE 21:25 “ ‘ওহে অপবিত্র ও দুষ্ট ইস্রায়েলের রাজপুত্র, তোমার দিন উপস্থিত হয়েছে, তোমার শাস্তির সময় চরমসীমায় পৌঁছেছে,
EZE 21:26 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন তোমার পাগড়ি খোলো, মুকুট নামিয়ে ফেলো। যেমন ছিল তেমন আর হবে না; ছোটোকে বড়ো আর বড়োকে ছোটো করা হবে।
EZE 21:27 ধ্বংস! ধ্বংস! আমি এসব ধ্বংস করে দেব! যাঁর সত্যিকারের অধিকার আছে তিনি না আসা পর্যন্ত এগুলি আর পুনরুদ্ধার হবে না; আমি তাঁকেই এসব কিছু দেব।’
EZE 21:28 “আর তুমি, হে মানবসন্তান, ভাববাণী বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু অম্মোনীয়দের ও তাদের অপমানের বিষয়ে এই কথা বলেন: “ ‘একটি তরোয়াল, একটি তরোয়াল, খোলা হয়েছে হত্যা করার জন্য, পালিশ করা হয়েছে গ্রাস করার জন্য ও যেন তা বিদ্যুতের মতো ঝকমক করে!
EZE 21:29 এদিকে লোকেরা তোমার বিষয়ে মিথ্যা দর্শন পেলেও এবং মিথ্যা ভবিষ্যৎ-কথনের চর্চা করলেও যাদের মেরে ফেলা হবে সেই দুষ্টদের গলার উপর তোমাকে রাখা হবে, তাদের দিন এসে পড়েছে, তাদের শাস্তির সময় চরমসীমায় পৌঁছেছে।
EZE 21:30 “ ‘তরোয়াল খাপে ফিরিয়ে নাও। যে জায়গায় তোমাদের সৃষ্টি, তোমাদের সেই পূর্বপুরুষদের দেশে আমি তোমাদের বিচার করব।
EZE 21:31 আমার ক্রোধ আমি তোমার উপর ঢেলে দেব এবং তোমাদের বিরুদ্ধে আমার ভীষণ অসন্তোষের আগুনে ফুঁ দেব; আমি তোমাদের এমন নিষ্ঠুর লোকদের হাতে তুলে দেব যারা ধ্বংস করতে দক্ষ।
EZE 21:32 তোমরা আগুনের জন্য কাঠের মতো হবে, তোমাদের রক্ত তোমাদের দেশের মধ্যেই পড়বে, তোমাদের আর স্মরণ করা হবে না, কারণ আমি সদাপ্রভুই এই কথা বলছি।’ ”
EZE 22:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 22:2 “হে মানবসন্তান, তুমি কি তার বিচার করবে? তুমি কি এই রক্তপাতের নগরের বিচার করবে? তাহলে তার জঘন্য কাজকর্মের বিষয় নিয়ে তার মুখোমুখি হও
EZE 22:3 এবং বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে নগর যে নিজের মধ্যে রক্তপাত করে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে এবং প্রতিমা তৈরি করে নিজেকে অশুচি করে,
EZE 22:4 রক্তপাত করে তুমি দোষী হয়েছ এবং প্রতিমা তৈরি করে তুমি অশুচি হয়েছ। তুমি তোমার দিন কাছে নিয়ে এসেছ এবং তোমার শেষকাল উপস্থিত হয়েছে। সেইজন্য জাতিগণের কাছে তোমাকে ঘৃণ্য করব এবং সমস্ত দেশের কাছে তোমাকে হাসির পাত্র করব।
EZE 22:5 হে জঘন্য নগর, যা অশান্তিতে পূর্ণ, যারা কাছে আছে আর যারা দূরে আছে তারা তোমাকে বিদ্রুপ করবে।
EZE 22:6 “ ‘দেখ ইস্রায়েলের প্রত্যেক শাসনকর্তা রক্তপাত করবার জন্য কেমন করে তার ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
EZE 22:7 তোমাদের মধ্যেই লোকে মা-বাবাকে তুচ্ছ করেছে; বিদেশিদের অত্যাচার করেছে আর অনাথ ও বিধবাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে।
EZE 22:8 তুমি আমার পবিত্র জিনিসগুলি অশ্রদ্ধা করেছ এবং আমার বিশ্রামবারগুলিকে অপবিত্র করেছ।
EZE 22:9 তোমার মধ্যে এমন এমন লোক আছে যারা অন্যের বদনাম রটিয়ে তাদের রক্তপাত করায়; পাহাড়ের উপরের পূজার জায়গায় খাওয়াদাওয়া করে ও ঘৃণ্য কাজ করে।
EZE 22:10 তোমার মধ্যে এমন এমন লোক আছে যারা বাবার বিছানাকে অসম্মান করে; ঋতুমতী মহিলার সঙ্গে মিলিত হয়, যখন তারা অশুচি।
EZE 22:11 তোমার মধ্যে কেউ তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ঘৃণ্য কাজ করে, আরেকজন নির্লজ্জভাবে তার ছেলের বৌকে অশুচি করে, এবং আরেকজন তার বোনের সঙ্গে ব্যভিচার করে, যে তার নিজের বাবার মেয়ে।
EZE 22:12 তোমার মধ্যে রক্তপাত করার জন্য লোকে ঘুস নেয়; তারা বাড়তি সুদ নিয়ে থাকে এবং জুলুম করে প্রতিবেশীর কাছ থেকে অন্যায় লাভ করে। এবং তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছ, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 22:13 “ ‘তুমি যে অন্যায় লাভ করেছ এবং তোমার মধ্যে যে রক্তপাত করেছ তার জন্য আমি নিশ্চয়ই হাততালি দেব।
EZE 22:14 আমি যেদিন তোমার কাছ থেকে হিসেব নেব সেদিন কি তোমার সাহস থাকবে? আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম এবং আমি তা করবই।
EZE 22:15 আমি তোমার লোকদের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেব এবং তোমার অশুচিতা দূর করব।
EZE 22:16 জাতিগণের চোখে তুমি যখন অপবিত্র হবে, তুমি জানবে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 22:17 তারপর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল:
EZE 22:18 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল কুল আমার কাছে খাদের মতো হয়েছে; তারা সবাই যেন রুপো খাঁটি করবার সময় হাপরের মধ্যে খাদ হিসেবে পড়ে থাকা পিতল, দস্তা, লোহা ও সীসা।
EZE 22:19 অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: ‘তোমরা সবাই খাদ হয়ে গিয়েছ বলে আমি জেরুশালেমে তোমাদের জড়ো করব।
EZE 22:20 লোকে যেমন রুপো, পিতল, লোহা, সীসা ও দস্তা গলাবার জন্য হাপরের মধ্যে একত্র করে, তেমনি করে আমার ভীষণ অসন্তোষ ও ক্রোধে আমি তোমাদের নগরের মধ্যে রেখে গলাব।
EZE 22:21 আমি তোমাদের জড়ো করে আমার জ্বলন্ত ক্রোধে ফুঁ দেব আর তোমরা নগরের মধ্যে গলে যাবে।
EZE 22:22 হাপরের মধ্যে যেমন রুপো গলে যায় তোমরাও তেমনি তার মধ্যে গলে যাবে, আর তোমরা জানবে যে, আমি সদাপ্রভুই তোমাদের উপর আমার ক্রোধ ঢেলে দিয়েছি।’ ”
EZE 22:23 আবার সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 22:24 “হে মানবসন্তান, তুমি দেশকে বলো, ‘তুমি একটি দেশ যার উপর আমার ক্রোধের দিনে পরিষ্কার বা বৃষ্টি হয়নি।’
EZE 22:25 তাদের শাসনকর্তারা সেখানে ষড়যন্ত্র করে; তারা গর্জনকারী সিংহের মতো শিকার ছেঁড়ে; তারা লোকদের গ্রাস করে, ধনসম্পদ ও দামি দামি জিনিস নিয়ে নেয় এবং দেশের মধ্যে অনেক স্ত্রীলোককে বিধবা করে।
EZE 22:26 তার যাজকেরা আমার বিধানের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং আমার পবিত্র জিনিসগুলিকে অপবিত্র করে; তারা পবিত্র ও যা সাধারণ তাদের মধ্যে কোনও তফাৎ রাখে না; তারা শিক্ষা দেয় যে পবিত্র ও অপবিত্রের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই; এবং তারা আমার বিশ্রামদিন পালন করার ব্যাপারে চোখ বুজে থাকে সেইজন্য আমি তাদের মধ্যে অপবিত্র হচ্ছি।
EZE 22:27 সেখানকার কর্মকর্তারা নেকড়ের মতন শিকার ছেঁড়ে; তারা রক্তপাত করে এবং অন্যায় লাভের জন্য মানুষ খুন করে।
EZE 22:28 তার ভাববাদীরা মিথ্যা দর্শন এবং মিথ্যা ভবিষ্যদ্‌বাণী করে এই কাজের উপর চুনকাম করে। তারা বলে, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন,’ যখন সদাপ্রভু কোনও কথা বলেননি।
EZE 22:29 দেশের লোকেরা অন্যায় দাবি করে অত্যাচার এবং চুরি করে, তারা গরিব এবং অভাবীদের উপর অন্যায় করে এবং ন্যায়বিচার না করে বিদেশিদের উপর অত্যাচার করে।
EZE 22:30 “আমি তাদের মধ্যে এমন একজন লোকের খোঁজ করলাম, যে প্রাচীর গাঁথবে এবং দেশের পক্ষ হয়ে আমার সামনে প্রাচীরের ফাটলে দাঁড়াবে যেন আমাকে দেশটা ধ্বংস করতে না হয়, কিন্তু কাউকে পেলাম না।
EZE 22:31 এই জন্য আমার ক্রোধ আমি তাদের উপর ঢেলে দেব এবং আমার জ্বলন্ত ক্রোধের আগুনে তাদের পুড়িয়ে ফেলব, তারা যা করেছে তার ফল তাদের মাথার উপর দেব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।”
EZE 23:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 23:2 “হে মানবসন্তান, দুজন স্ত্রীলোক ছিল যারা একই মায়ের মেয়ে।
EZE 23:3 যৌবনকাল থেকেই তারা মিশরে গণিকা হয়েছিল। সেই দেশে তাদের বুক ধরে সোহাগ করা হত এবং তাদের কুমারী স্তন টিপত।
EZE 23:4 তাদের মধ্যে বড়টির নাম অহলা ও তার বোনের নাম ছিল অহলীবা। তারা আমার হল এবং ছেলেমেয়েদের জন্ম দিল। অহলা হল শমরিয়া এবং অহলীবা হল জেরুশালেম।
EZE 23:5 “অহলা আমার থাকাতেই ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল; এবং তার প্রেমিকদের প্রতি তার কামনা ছিল, আসিরীয়—সৈন্য
EZE 23:6 পরনে নীল কাপড়, শাসনকর্তা ও সেনাপতি, সকলেই সুন্দর যুবক এবং ঘোড়াসওয়ার।
EZE 23:7 সে অভিজাত আসিরীয়দের কাছে নিজেকে বেশ্যারূপে দান করেছিল এবং যাদের সে কামনা করত তাদের সমস্ত দেবতা দ্বারা নিজেকে অশুচি করেছিল।
EZE 23:8 সে মিশরে যে বেশ্যাবৃত্তি শুরু করেছিল তা ত্যাগ করেনি, যখন তার যৌবনকালে পুরুষেরা তার কাছে শুত, তার কুমারী স্তন টিপত এবং তাদের কামনা তার উপর ঢেলে দিত।
EZE 23:9 “সেইজন্য আমি তাকে তার প্রেমিকদের হাতে ছেড়ে দিলাম, সেই আসিরীয়দের, যাদের সে কামনা করত।
EZE 23:10 তারা তাকে উলঙ্গ করে, তার ছেলেমেয়েদের কেড়ে নিয়ে তরোয়াল দিয়ে তাকে মেরে ফেলল। সে স্ত্রীলোকদের আলোচনার বিষয় হল, কারণ তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
EZE 23:11 “তার বোন অহলীবা এসব দেখেছিল, তবুও তার কামনা এবং বেশ্যাবৃত্তির কারণে সে তার বোনের চেয়ে আরও বেশি চরিত্রহীন ছিল।
EZE 23:12 তারও আসিরীয়—শাসনকর্তা ও সেনাপতি, সম্পূর্ণ পোশাকে যোদ্ধা, ঘোড়াসওয়ার, সকল সুন্দর যুবকদের প্রতি কামনা ছিল।
EZE 23:13 আমি দেখলাম সেও নিজেকে অশুচি করল; দুজনই একই পথে গেল।
EZE 23:14 “কিন্তু সে তার বেশ্যাবৃত্তি আরও বাড়াল। সে দেয়ালের উপর লাল রংয়ে আঁকা কলদীয় পুরুষদের ছবি দেখত,
EZE 23:15 তাদের কোমর বাঁধনি এবং মাথায় উড়ন্ত পাগড়ি; তারা সবাই দেখতে ব্যাবিলীয় রথের সেনাপতিদের মতো, যারা কলদীয় দেশের অধিবাসী।
EZE 23:16 তাদের দেখামাত্র তাদের প্রতি তার কামনা জাগত, এবং কলদীয় দেশে তাদের কাছে দূত পাঠাত।
EZE 23:17 তারপর ব্যাবিলীয়রা তার কাছে এসে তার সঙ্গে বিছানায় যেত এবং ব্যভিচার করে তাকে অশুচি করত। তাদের দ্বারা অশুচি হবার পর সে তাদের ঘৃণা করতে লাগল।
EZE 23:18 সে খোলাখুলিভাবে যখন তার বেশ্যার কাজ চালাতে লাগল এবং তার উলঙ্গতা প্রকাশ করল তখন আমি তাকে ঘৃণা করলাম, যেমন আমি তার বোনকে ঘৃণা করেছিলাম।
EZE 23:19 যৌবনে সে যখন মিশরে গণিকা ছিল তখনকার দিনগুলির কথা মনে করে সে আরও বেশি ব্যভিচার করতে লাগল।
EZE 23:20 সেখানে সে তার প্রেমিকদের সাথে এমন যৌনাচার করত যাদের যৌনাঙ্গগুলি ছিল গাধার মতো ও নিঃসরণ ছিল ঘোড়ার মতো।
EZE 23:21 তোমার যৌবনকালে মিশরে যেমন তোমার বুক ধরে আদর করত এবং টিপত, তুমি আবার সেই যৌবনকালীন ব্যভিচারের আকাঙ্ক্ষা করছ।
EZE 23:22 “এই জন্য, অহলীবা, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমার যেসব প্রেমিকদের তুমি ঘৃণা করেছ, আমি তাদেরই তোমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করব এবং চারিদিক থেকে আমি তাদের তোমার বিরুদ্ধে নিয়ে আসব,
EZE 23:23 তারা হল ব্যাবিলীয়রা এবং কলদীয়েরা, পকোদ, শোয়া ও কোয়ার লোকেরা, এবং সমস্ত আসিরীয়রা, সুন্দর যুবকেরা, সকলেই শাসনকর্তা ও সেনাপতি, রথের কর্মচারী, উঁচু পদের লোক এবং ঘোড়াসওয়ার।
EZE 23:24 তারা তোমার বিরুদ্ধে অস্ত্র, রথ ও মালবাহী শকট এবং লোকজনের মস্ত বড়ো একটি দল নিয়ে আসবে; তারা ছোটো ও বড়ো ঢাল নিয়ে মাথা ঢাকার টুপি পরে তোমাকে ঘেরাও করবে। শাস্তি পাবার জন্য আমি তোমাকে তাদের হাতে তুলে দেব এবং তারা তাদের বিচারের নিয়ম অনুসারে তোমাকে শাস্তি দেবে।
EZE 23:25 আমার অন্তর্জ্বালা আমি তোমার বিরুদ্ধেই কাজে লাগাব বলে তারা তাদের প্রকোপ তোমার প্রতি ব্যবহার করবে। তারা তোমার নাক ও কান কেটে দেবে এবং তোমার বাকি লোকদের তরোয়াল দিয়ে মেরে ফেলবে। তারা তোমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাবে, আর তোমার বাকি লোকেরা আগুনে পুড়ে মরবে।
EZE 23:26 তারা তোমাকে বিবস্ত্র করবে এবং তোমার সুন্দর গহনা নিয়ে নেবে।
EZE 23:27 যে ব্যভিচার ও গণিকাবৃত্তি তুমি মিশরে শুরু করেছিলে তা আমি এইভাবে বন্ধ করে দেব। তাতে তুমি এই জিনিসগুলির প্রতি আকৃষ্ট হবে না অথবা মিশরকে আর মনেও রাখবে না।
EZE 23:28 “কেননা সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি যাদের ঘৃণা করো, যাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে তুমি তাড়িয়ে দিয়েছ আমি তোমাকে তাদের হাতেই তুলে দেব।
EZE 23:29 তারা তোমার প্রতি ঘৃণার সঙ্গে ব্যবহার করবে এবং তুমি যা কিছু উপার্জন করেছ তার সবকিছু নিয়ে নেবে। তারা তোমাকে উলঙ্গিনী ও বিবস্ত্রা করে ছেড়ে চলে যাবে, এবং তোমার গণিকাবৃত্তির লজ্জা প্রকাশ পাবে। তোমার ব্যভিচার ও কুকর্মের জন্য
EZE 23:30 এই সমস্ত তোমার উপরে পড়েছে, কারণ জাতিগণের সঙ্গে ব্যভিচার করেছ এবং তাদের প্রতিমাগুলি দিয়ে নিজেকে অশুচি করেছ।
EZE 23:31 তুমি তোমার বোনের পথ অনুসরণ করেছ; এই জন্য আমি তার পানপাত্র তোমার হাতে দেব।
EZE 23:32 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তুমি তোমার বোনের পাত্রে পান করবে, সেই পাত্র বড়ো ও গভীর; এটি অপমান এবং উপহাস নিয়ে আসবে, কারণ এতে অনেক ধরে।
EZE 23:33 তুমি মাতলামিতে ও দুঃখে পূর্ণ হবে, ধ্বংসের ও নির্জনতার পানপাত্র, তোমার বোন শমরিয়ার পানপাত্র।
EZE 23:34 তুমি তাতে পান করবে এবং চেটেপুটে পান করবে; তা তুমি ভেঙে চুরমার করবে এবং নিজের বুক ছিঁড়ে ফেলবে। সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমি বলছি।
EZE 23:35 “সুতরাং সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন যেহেতু তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছ এবং আমার দিকে পিঠ ফিরিয়েছ বলে তোমাকে তোমার ঘৃণ্য কাজের ও বেশ্যাবৃত্তির ফলভোগ করতে হবে।”
EZE 23:36 সদাপ্রভু আমাকে বললেন “হে মানবসন্তান, তুমি কি অহলা এবং অহলীবার বিচার করবে? তাহলে তাদের ঘৃণ্য কাজের বিষয় তাদের সম্মুখীন হও,
EZE 23:37 কারণ তারা ব্যভিচার করেছে এবং তাদের হাতে রক্ত রয়েছে। তাদের প্রতিমাগুলির সঙ্গে ব্যভিচার করেছে; যে সন্তানদের আমার জন্য জন্ম দিয়েছিলে তাদের প্রতিমাদের খাদ্যের জন্য উৎসর্গ করেছে।
EZE 23:38 তারা এই কাজ আমার প্রতিও করেছে সেই একই সময় তারা আমার পবিত্রস্থান অশুচি করেছে এবং আমার সাব্বাথের পবিত্রতা রক্ষা করেনি।
EZE 23:39 যেদিন তারা তাদের প্রতিমাদের কাছে তাদের সন্তানদের উৎসর্গ করেছিল সেদিনই তারা আমার পবিত্রস্থানে গিয়ে তা অপবিত্র করেছে। তারা আমার গৃহের মধ্যেই এই কাজ করেছে।
EZE 23:40 “তারা দূর থেকে পুরুষদের নিয়ে আসার জন্য সংবাদদাতাদের পাঠিয়েছিল, আর যখন তারা এল তোমরা তাদের জন্য স্নান করেছিলে, চোখে কাজল দিয়েছিলে এবং তোমাদের অলংকার পরেছিলে।
EZE 23:41 তোমরা সুন্দর বিছানায় শুয়ে তার সামনে একটি টেবিল রেখে আমারই সুগন্ধি এবং জলপাই তেল তার উপরে রেখেছিলে।
EZE 23:42 “তার চারিদিকে ছিল চিন্তাহীন লোকেদের কোলাহল; উচ্ছৃঙ্খল জনতার সঙ্গে মরুভূমি থেকে মদ্যপায়ীদের আনা হয়েছিল, তারা সেই দুই বোনের হাতে চুড়ি এবং তাদের মাথায় সুন্দর মুকুট পরিয়েছিল।
EZE 23:43 তখন ব্যভিচার করে দুর্বল হয়ে যাওয়া এক স্ত্রীলোকের বিষয় আমি বলেছিলাম, ‘এখন লোকেরা গণিকা হিসেবে তার সঙ্গে ব্যবহার করুক, কারণ সে তাই।’
EZE 23:44 আর তারা তার সঙ্গে শয়ন করল। একজন গণিকার সঙ্গে যেমন লোকে শয়ন করে, তেমনি করে তারা সেই কামুক স্ত্রীলোক, অহলা ও অহলীবার সঙ্গে শয়ন করেছিল।
EZE 23:45 কিন্তু ধার্মিক বিচারকেরা ব্যভিচার ও রক্তপাতের পাওনা শাস্তি সেই স্ত্রীলোকদের দেবে, কারণ তারা ব্যভিচারিণী আর তাদের হাতে রক্ত রয়েছে।
EZE 23:46 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি তাদের বিরুদ্ধে একদল লোক নিয়ে যাও এবং আতঙ্ক ও লুটের হাতে তাদের তুলে দাও।
EZE 23:47 সেই জনতা তাদের পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে এবং তরোয়াল দিয়ে তাদের টুকরো টুকরো করে কাটবে; তারা তাদের ছেলেদের ও মেয়েদের মেরে ফেলবে এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে।
EZE 23:48 “এইভাবে আমি দেশের মধ্যে কুকাজ শেষ করব, যেন সমস্ত স্ত্রীলোকেরা এটাকে সাবধানবাণী হিসেবে নেয় এবং তোমাদের অনুকরণ না করে।
EZE 23:49 তোমাদের কুকাজের ফল তোমাদেরই ভোগ করতে হবে এবং প্রতিমাপুজোর পাপের ফল বহন করতে হবে। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সার্বভৌম সদাপ্রভু।”
EZE 24:1 নবম বছরের দশম মাসের দশম দিনে, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 24:2 “হে মানবসন্তান, তুমি আজকের, আজকেরই তারিখ লিখে রাখো, কারণ আজকেই ব্যাবিলনের রাজা জেরুশালেম অবরোধ করবে।
EZE 24:3 এই বিদ্রোহী জাতির কাছে একটি দৃষ্টান্তের কথা বলো: ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘হাঁড়ি চড়াও, হাঁড়ি চড়াও এবং তার মধ্যে জল দাও।
EZE 24:4 তার মধ্যে মাংসের টুকরো দাও, প্রত্যেকটা ভালো টুকরো—ঊরু এবং কাঁধের। ভালো ভালো হাড় দিয়ে তা ভর্তি করো;
EZE 24:5 পাল থেকে সেরা ভেড়াটা নাও। হাড়গুলির জন্য হাঁড়ির নিচে কাঠ সাজাও; তা ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে হাড়গুলি তাতে রান্না করো।
EZE 24:6 “ ‘কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘ধিক্ সেই রক্তপাতকারী নগরকে, সে যেন একটি হাঁড়ি যাতে ময়লার স্তর পড়ে গেছে, যা পরিষ্কার হবে না! তাদের বিষয় গুটিকাপাত না করে একটি একটি করে মাংস বের করে খালি করো।
EZE 24:7 “ ‘কেননা তাদের মধ্যে তার রক্তপাত করা হয়েছে সেই রক্ত পাথরের উপর ঢালা হয়েছে; তা মাটিতে ঢালা হয়নি, যেখানে ধুলোয় তা ঢাকা পড়বে।
EZE 24:8 ক্রোধ খুঁচিয়ে তুলে যেন প্রতিশোধ নেওয়া হয় সেইজন্য আমি সেই রক্ত পাথরের উপরে রেখেছি যেন সেটি ঢাকা না পড়ে।
EZE 24:9 “ ‘অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘ধিক্ সেই রক্তপাতকারী নগরকে! আমিও কাঠ জড়ো করে উঁচু করব।
EZE 24:10 অনেক কাঠ সাজাও এবং আগুন জ্বালাও। ভালো করে মশলা মিশিয়ে মাংস রান্না করো; এবং হাড়গুলি পুড়তে দাও।
EZE 24:11 তারপর খালি হাঁড়ি কয়লার উপরে রাখো যতক্ষণ না সেটি গরম হয় আর তামা পুড়ে লাল হয় যেন তার অশুচিতা সব গলে যায় এবং ময়লার স্তর পুড়ে যায়
EZE 24:12 সব চেষ্টার কোনও ফল হয়নি; তার ময়লার পুরু স্তর পরিষ্কার করা যায়নি, এমনকি আগুন দিয়েও নয়।
EZE 24:13 “ ‘এখন তোমার অশুচিতা হল ব্যভিচার। কারণ আমি তোমাকে পরিষ্কার করার জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু তুমি তোমার অশুচিতা থেকে পরিষ্কার হলে না, তুমি আবার পরিষ্কার হবে না যতক্ষণ না আমার ক্রোধ তোমার উপরে ঢেলে আমি শান্ত হব।
EZE 24:14 “ ‘আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম। আমার কাজ করার জন্য সময় এসে গেছে। আমি নিজেকে আটকাব না; মমতা করব না কিংবা নরম হব না। তোমার আচরণ এবং তোমার কাজ অনুসারে তোমার বিচার করা হবে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’ ”
EZE 24:15 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 24:16 “হে মানবসন্তান, আমি এক আঘাতেই তোমার কাছ থেকে তোমার স্ত্রী যাকে তুমি ভীষণ ভালোবাসো তাকে নিয়ে নেব। তবুও তুমি বিলাপ করো না, কেঁদো না কিংবা চোখের জল ফেলো না।
EZE 24:17 নীরবে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলো, মৃতের জন্য শোকপ্রকাশ করো না। তুমি পাগড়ি বেঁধো ও পায়ে চটি দিয়ো; শোককারীদের স্বাভাবিক রীতি মেনো না অথবা তোমার সান্ত্বনাকারী বন্ধুদের দেওয়া কোনও খাবার গ্রহণ করো না।”
EZE 24:18 তখন আমি সকালবেলায় লোকদের সঙ্গে কথা বললাম, আর সন্ধ্যাবেলায় আমার স্ত্রী মারা গেলেন। পরদিন সকালে আমাকে যেমন আদেশ করা হয়েছিল তেমনই করলাম।
EZE 24:19 তখন লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করল, “আপনি কি আমাদের বলবেন না এসব বিষয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কি? আপনি কেন এরকম অভিনয় করছেন?”
EZE 24:20 তখন আমি তাদের বললাম, “সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে এসেছে
EZE 24:21 ইস্রায়েল কুলকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার পবিত্রস্থান—যা তোমাদের শক্তির অহংকার, যা তোমাদের চোখে সুখ ও তোমাদের মমতার জিনিস, সেটিকেই আমি অপবিত্র করব। তোমাদের যেসব ছেলেমেয়েদের তোমরা ফেলে গিয়েছ তারা তরোয়ালের আঘাতে মারা যাবে।
EZE 24:22 তখন আমি যা করেছি তোমরাও তাই করবে। শোককারীদের স্বাভাবিক রীতি মেনো না অথবা তোমার সান্ত্বনাকারী বন্ধুদের দেওয়া কোনও খাবার গ্রহণ করো না।
EZE 24:23 তোমরা তোমাদের মাথায় পাগড়ি বাঁধবে এবং পায়ে চটি পরবে। তোমরা শোক করবে না অথবা কাঁদবে না কিন্তু নিজের নিজের পাপের জন্য দুর্বল হয়ে যাবে এবং একজন অন্যজনের কাছে কোঁকাবে।
EZE 24:24 তোমাদের কাছে যিহিষ্কেল একটি চিহ্নের মতো হবে; সে যা করেছে তোমরা ঠিক তাই করবে। যখন এটি হবে, তখন তোমরা জানবে যে আমিই সার্বভৌম সদাপ্রভু।’
EZE 24:25 “আর তুমি, হে মানবসন্তান, যেদিন আমি তাদের সেই দুর্গ, তাদের আনন্দ ও গৌরব, তাদের চোখের সুখ, তাদের অন্তরের চাওয়া এবং তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে নেব,
EZE 24:26 সেদিন একজন পালিয়ে আসা লোক তোমাকে খবর দিতে আসবে।
EZE 24:27 সেই সময় তোমার মুখ খুলে যাবে; তুমি তার সঙ্গে কথা বলবে আর নীরব থাকবে না। এইভাবে তুমি তাদের কাছে একটি চিহ্ন হবে, এবং তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।”
EZE 25:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 25:2 “হে মানবসন্তান, তুমি অম্মোনীয়দের দিকে তোমার মুখ রেখে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী বলো।
EZE 25:3 তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভুর এই কথা শোনো। সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যেহেতু তোমরা আমার পবিত্রস্থানের উপর “বাহবা!” বলেছিলে যখন সেই জায়গা অপবিত্র হতে দেখেছিলে ও ইস্রায়েল দেশকে পতিত জমি হতে দেখেছিলে এবং যিহূদার লোকদের বন্দি হয়ে নির্বাসনে যেতে দেখেছিলে,
EZE 25:4 এই জন্য আমি তোমাদের অধিকার করার জন্য পূর্বদেশের লোকদের হাতে তুলে দেব। তারা তোমাদের দেশে তাদের তাঁবু খাটিয়ে তোমাদের মধ্যে বাস করবে; তারা তোমাদের ফল খাবে ও দুধ পান করবে।
EZE 25:5 আমি রব্বাকে উটের চারণভূমি ও অম্মোনকে মেষের বিশ্রামস্থান করব। তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 25:6 কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, কারণ তোমরা ইস্রায়েল দেশের অবস্থা দেখে হাততালি দিয়েছ, নেচেছ এবং অন্তরের সঙ্গে তাকে হিংসা করে আনন্দ করেছ,
EZE 25:7 এই জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে আমি আমার হাত বাড়াব এবং লুটের জিনিস হিসেবে অন্য জাতিদের হাতে তোমাদের তুলে দেব। জাতিগণের মধ্যে থেকে তোমাকে কেটে ফেলব এবং সকল দেশের মধ্যে থেকে তোমাকে উচ্ছিন্ন করব। আমি তোমাকে ধ্বংস করব, তাতে তুমি জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 25:8 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যেহেতু মোয়াব এবং সেয়ীর বলেছে, “দেখো, যিহূদা কুল অন্যান্য জাতিদের মতো হয়ে গেছে,”
EZE 25:9 এই জন্য আমি মোয়াবের সীমানা খুলে দেব, তার সামনের নগর থেকে শুরু করে, তাদের গৌরবের নগর—বেথ-যিশীমোৎ, বায়াল-মিয়োন ও কিরিয়াথয়িম।
EZE 25:10 আমি অম্মোনীয়দের সঙ্গে মোয়াবকেও পূর্বদেশের লোকদের হাতে তুলে দেব, যেন জাতিদের মধ্যে অম্মোনীয়দের কথা লোকে ভুলে যায়;
EZE 25:11 আর আমি মোয়াবকেও শাস্তি দেব। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 25:12 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যেহেতু ইদোম যিহূদা কুলের উপর প্রতিশোধ নিয়ে খুব অন্যায় করেছে,
EZE 25:13 এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি ইদোমের বিরুদ্ধে আমার হাত বাড়াব এবং সেখানকার মানুষ ও পশুকে মেরে ফেলব। আমি সেটি ধ্বংসস্থান করে রাখব এবং তৈমন থেকে দদান পর্যন্ত তরোয়ালে মারা পড়বে।
EZE 25:14 আমি আমার লোক ইস্রায়েলের হাত দিয়ে ইদোমের উপর প্রতিশোধ নেব, আর তারা আমার ভীষণ অসন্তোষ ও ক্রোধ অনুসারে ইদোমের বিরুদ্ধে কাজ করবে; তখন তারা আমার প্রতিশোধ জানতে পারবে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।’ ”
EZE 25:15 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যেহেতু ফিলিস্তিনীরা হিংসার মনোভাব নিয়ে যিহূদার উপর প্রতিশোধ নিয়েছে, এবং পুরানো শত্রুতার মনোভাব নিয়ে যিহূদাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে,
EZE 25:16 এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে আমি আমার হাত বাড়াব, আর আমি করেথীয়দের কেটে ফেলব এবং সাগরের কিনারা বরাবর বাকি লোকদের ধ্বংস করব।
EZE 25:17 আমি তাদের উপর ভীষণ প্রতিশোধ নেবার জন্য আমার ক্রোধে তাদের শাস্তি দেব। আমি যখন তাদের উপর প্রতিশোধ নেব তখন তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 26:1 একাদশ বছরে, এগারো মাসের প্রথম দিনে, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 26:2 “হে মানবসন্তান, যেহেতু জেরুশালেম সম্বন্ধে সোর বলেছিল, ‘বাহবা! অন্যান্য জাতিগণের কাছে যাবার প্রধান ফটক ভেঙে গেছে, এবং তার দরজাগুলি আমার কাছে পুরোপুরি খুলে গেছে; এখন যখন সে ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে আমার উন্নতি হবে,’
EZE 26:3 সেইজন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে সোর, আমি তোমার বিরুদ্ধে, আর সমুদ্র যেমন তার ঢেউ উঠায় তেমনি করে আমি অনেক জাতিকে তোমার বিরুদ্ধে নিয়ে আসব।
EZE 26:4 তারা সোরের প্রাচীর এবং উঁচু দুর্গগুলি ধ্বংস করবে; আমি তার ধুলা ময়লা চেঁচে ফেলে তাকে পাথরের মতো করে দেব।
EZE 26:5 সে সমুদ্রের বুকে জাল শুকাবার জায়গা হবে, কারণ আমি বলেছি, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন। সে জাতিদের লুটের জিনিস হবে,
EZE 26:6 তার মূল ভূখণ্ডে বসতিগুলি তরোয়াল দ্বারা ধ্বংসিত হবে। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 26:7 “কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে সোর, আমি উত্তর দিক থেকে ঘোড়া, রথ, ঘোড়সওয়ার ও বিরাট সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে রাজাদের রাজা ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারকে নিয়ে আসব।
EZE 26:8 সে তোমার মূল ভূখণ্ডের বসতিগুলি তরোয়াল দ্বারা ধ্বংস করবে; তোমাদের বিরুদ্ধে অবরোধ তৈরি করবে, তোমার দেওয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে একটি ঢালু ঢিবি বানাবে আর তোমার বিরুদ্ধে তার ঢাল উঁচু করবে।
EZE 26:9 সে প্রাচীর ভাঙার যন্ত্র দিয়ে তোমার প্রাচীরে আঘাত করবে তার অস্ত্রগুলি দিয়ে তোমার উঁচু দুর্গগুলি ধ্বংস করবে।
EZE 26:10 তার এত বেশি ঘোড়া থাকবে যে, সেগুলি তোমাকে ধুলোয় ঢেকে দেবে। ভাঙা প্রাচীরের মধ্য দিয়ে লোকে যেমন নগরে ঢোকে তেমনি করে সে যখন যুদ্ধের ঘোড়া, গাড়ি ও রথ নিয়ে তোমার দ্বারগুলির মধ্য দিয়ে ঢুকবে তখন তার শব্দে তোমার প্রাচীরগুলি কাঁপবে।
EZE 26:11 তার ঘোড়াগুলির খুর তোমার সব রাস্তা মাড়াবে; সে তোমার লোকদের তরোয়াল দিয়ে মেরে ফেলবে, এবং তোমার শক্ত শক্ত থামগুলি মাটিতে পড়ে যাবে।
EZE 26:12 তারা তোমার সম্পত্তি ও তোমার বাণিজ্যের জিনিসপত্র লুট করবে; তারা তোমার প্রাচীর ভেঙে ফেলবে ও তোমার সুন্দর বাড়িগুলি ধ্বংস করবে এবং তোমার পাথর, কাঠ ও ধুলো সমুদ্রে ফেলে দেবে।
EZE 26:13 আমি তোমার গানের শব্দ থামিয়ে দেব এবং তোমার বীণার সংগীত আর শোনা যাবে না।
EZE 26:14 আমি তোমাকে শুষ্ক পাথর করব, আর তুমি হবে জাল শুকানোর জায়গা। তোমাকে আর তৈরি করা হবে না, কেননা আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 26:15 “সার্বভৌম সদাপ্রভু সোরকে এই কথা বলেন, তোমার পতনের শব্দে, তোমার মধ্যে আহত লোকদের কোঁকানিতে এবং তোমার মধ্যে যে নরহত্যা হয়েছে তাতে কি উপকূল সকল কেঁপে উঠবে না?
EZE 26:16 তখন উপকূলের সমস্ত শাসনকর্তারা তাদের সিংহাসন থেকে নেমে তাদের রাজপোশাক ও কারুকাজ করা পোশাকগুলি খুলে ফেলবে। ভীষণ ভয়ে তারা মাটিতে বসবে, সবসময় কাঁপতে থাকবে, ও তোমাকে দেখে হতভম্ব হবে।
EZE 26:17 তখন তারা তোমার বিষয়ে বিলাপ করে তোমাকে বলবে: “ ‘হে নাম করা নগর, তুমি কেমন করে ধ্বংস হয়ে গেলে, তোমার লোকেরা তো সমুদ্রে চলাচল করত! সমুদ্রে তোমরা শক্তিশালী ছিলে, তুমি এবং তোমার অধিবাসীরা; যারা সেখানে বাস করত তুমি তাদের ভয় দেখাতে।
EZE 26:18 এখন তোমার পতনের দিনে উপকূল কাঁপছে; সমুদ্রের দ্বীপ সকল তোমার পতনে আতঙ্কগ্রস্ত।’
EZE 26:19 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি যখন তোমাকে জনশূন্য নগর করব, অন্যান্য নগরের মতো যেখানে কেউ বাস করে না, আর যখন মহাসমুদ্রের জল তোমার উপরে আনব ও তার জলের রাশি তোমাকে ঢেকে দেবে,
EZE 26:20 তখন আমি তোমাকে মৃতস্থানে যাওয়া লোকদের সঙ্গে পুরানো দিনের লোকদের কাছে নিচে নামিয়ে দেব। আমি তোমাকে পৃথিবীর গভীরে পুরানো দিনের ধ্বংসস্থানের মধ্যে মৃতস্থানে যাওয়া লোকদের সঙ্গে বাস করাব, তুমি আর ফিরে আসবে না অথবা জীবিতদের দেশে তোমার স্থান হবে না।
EZE 26:21 আমি তোমাকে ভয়ংকরভাবে শেষ করে দেব এবং তুমি আর থাকবে না। লোকেরা তোমার খোঁজ করবে, কিন্তু তোমাকে আর কখনও পাওয়া যাবে না, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 27:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 27:2 “হে মানবসন্তান, তুমি সোরের বিষয়ে বিলাপ করো।
EZE 27:3 সোরকে বলো, সমুদ্রে ঢুকবার মুখে যে রয়েছে, অনেক উপকূলে জাতিগণের বণিক, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘হে সোর, তুমি বলো, “আমি সৌন্দর্যে নিখুঁত।”
EZE 27:4 সমুদ্রের মধ্যে তোমার রাজ্য; তোমার নির্মাণকারীরা তোমার সৌন্দর্যে সম্পূর্ণতা এনেছে।
EZE 27:5 তারা সনীর থেকে দেবদারু গাছ দিয়ে তোমার সমস্ত তক্তা তৈরি করেছে; লেবাননের সিডার গাছ নিয়ে তোমার জন্য মাস্তুল তৈরি করেছে।
EZE 27:6 বাশন দেশের ওক কাঠ দিয়ে তোমার দাঁড়গুলি তৈরি করেছে; সাইপ্রাসের উপকূল থেকে চিরহরিৎ গাছের কাঠ এনে তারা তোমার পাটাতন বানিয়ে হাতির দাঁত দিয়ে সাজিয়েছে।
EZE 27:7 মিশরের সুন্দর নকশা তোলা মসিনার কাপড় দিয়ে তোমার পাল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি তোমার পতাকা হিসেবে ব্যবহার হত; ইলীশা থেকে আনা নীল আর বেগুনি কাপড় ছিল তোমার চাঁদোয়া।
EZE 27:8 সীদোন ও অর্বদের লোকেরা তোমার দাঁড় বাইত; হে সোর, দক্ষ লোকেরা তোমার নাবিক ছিল।
EZE 27:9 গবালের প্রাচীনেরা দক্ষ লোক হিসেবে তোমার মধ্যে মেরামতের কাজ করত। সমুদ্রের সব জাহাজ ও তাদের নাবিকেরা তোমার জিনিসপত্র দেওয়া-নেওয়া করার জন্য তোমার পাশে ভিড়ত।
EZE 27:10 “ ‘পারস্য, লূদ ও পূট দেশের লোকেরা তোমার সৈন্যদলে যোদ্ধার কাজ করত। তারা তাদের ঢাল ও মাথা রক্ষার টুপি তোমার দেয়ালে টাঙিয়ে তোমার জাঁকজমক বাড়িয়ে তুলত।
EZE 27:11 অর্বদ ও হেলেকের লোকেরা তোমার চারপাশের প্রাচীরের উপর পাহারা দিত; গাম্মাদের লোকেরা তোমার উঁচু দুর্গ চৌকি দিত। তোমার চারপাশের দেয়ালে তারা তাদের ঢাল টাঙিয়ে রাখত; তোমার সৌন্দর্যের সম্পূর্ণতা তারাই এনেছিল।
EZE 27:12 “ ‘তোমার প্রচুর ধনসম্পদের জন্য তর্শীশ তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত; রুপো, লোহা, দস্তা ও সীসার বদলে তারা তোমার জিনিস নিত।
EZE 27:13 “ ‘গ্রীস, তূবল ও মেশক তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত; তারা তোমার জিনিসপত্রের বদলে দিত দাস-দাসী ও ব্রোঞ্জের পাত্র।
EZE 27:14 “ ‘তোমার জিনিসপত্রের বদলে বৈৎ-তোগর্মের লোকেরা দিত ঘোড়া, যুদ্ধের ঘোড়া ও খচ্চর।
EZE 27:15 “ ‘দদানের লোকেরা তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত, এবং উপকূলের অনেকেই তোমার ক্রেতা ছিল; তারা হাতির দাঁত ও আবলুস কাঠ দিয়ে তোমার দাম মিটাত।
EZE 27:16 “ ‘তোমার তৈরি অনেক জিনিসের জন্য অরাম তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত; তোমার জিনিসপত্রের বদলে তারা দিত ফিরোজা মণি, বেগুনি কাপড়, নকশা তোলা কাপড়, মসিনা কাপড়, প্রবাল ও পদ্মরাগমণি।
EZE 27:17 “ ‘যিহূদা ও ইস্রায়েল তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত; তারা তোমার জিনিসের বদলে মিন্নীতের গম, খাবার জিনিস, মধু, তেল ও সুগন্ধি মলম দিত।
EZE 27:18 “ ‘তোমার তৈরি অনেক জিনিস ও প্রচুর ধনসম্পদের জন্য দামাস্কাস তোমার বণিক ছিল, তারা হিলবোনের দ্রাক্ষারস এবং জাহার থেকে পশম এনে ব্যবসা করত
EZE 27:19 এবং বদান ও যবন উষল থেকে লোকেরা এসে তোমার জিনিসপত্রের বদলে নিয়ে যেত পিটানো লোহা, নীরসে ধরনের দারুচিনি ও বচ।
EZE 27:20 “ ‘দদান তোমার সঙ্গে ঘোড়ার পিঠের গদির কাপড়ের ব্যবসা করত।
EZE 27:21 “ ‘আরব ও কেদরের শাসনকর্তারা ছিল তোমার ক্রেতা; তারা তোমার জিনিসের বদলে মেষের বাচ্চা, মেষ ও ছাগল দিত।
EZE 27:22 “ ‘শিবা ও রয়মার ব্যবসায়ীরা তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত; তোমার জিনিসপত্রের বদলে তারা দিত সব রকমের ভালো ভালো মশলা, দামি পাথর ও সোনা।
EZE 27:23 “ ‘হারণ, কন্নী, এদন ও শিবার ব্যবসায়ীরা এবং আসিরিয়া ও কিলমদ তোমার সঙ্গে ব্যবসা করত।
EZE 27:24 তারা তোমার বাজারে সুন্দর সুন্দর পোশাক, নীল কাপড়, নকশা তোলা কাপড় এবং বিভিন্ন রংয়ের গালিচা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে আনত।
EZE 27:25 “ ‘তর্শীশের জাহাজগুলি তোমার জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে আসত। সমুদ্রের মাঝখানে ভারী জিনিসপত্র নিয়ে তুমি পূর্ণ ছিলে।
EZE 27:26 যারা দাঁড় বাইত তারা তোমাকে দূর সমুদ্রে নিয়ে যাবে। কিন্তু সমুদ্রের মাঝখানে পূবের বাতাসে তোমাকে টুকরো টুকরো করে দেবে।
EZE 27:27 তোমার ধনসম্পদ, ব্যবসার জিনিস ও অন্যান্য জিনিস, তোমার নাবিকেরা, মেরামতকারীরা, তোমার ব্যবসায়ীরা ও তোমার সব সৈন্যেরা এবং তোমার জাহাজে থাকা অন্য সকলে সমুদ্রের মাঝখানে ডুবে যাবে যেদিন তোমার জাহাজডুবি হবে।
EZE 27:28 তোমার নাবিকদের চিৎকারে সমুদ্রের পাড়ের জায়গাগুলি কেঁপে উঠবে।
EZE 27:29 যারা দাঁড় টানে তারা সবাই তাদের জাহাজ ছেড়ে চলে যাবে; নাবিকেরা সকলে সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
EZE 27:30 তারা তোমার জন্য চিৎকার করে খুব কান্নাকাটি করবে; তারা তাদের মাথায় ধুলা দেবে ও ছাইয়ের মধ্যে গড়াগড়ি দেবে।
EZE 27:31 তোমার জন্য তারা তাদের মাথা কামিয়ে ফেলবে এবং ছালার চট পরবে। তারা মনের দুঃখে তোমার জন্য বিলাপ করে করে কাঁদবে।
EZE 27:32 তারা তোমার জন্য জোরে জোরে কাঁদবে ও শোক করবে, তোমাকে নিয়ে তারা এই বিলাপ করবে “সমুদ্রে ঘেরা সোরের মতো করে আর কাউকে কি চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে?”
EZE 27:33 তোমার ব্যবসার জিনিসপত্র যখন সমুদ্রে বের হত তখন তুমি অনেক জাতিকে তৃপ্ত করতে; তোমার প্রচুর ধনসম্পদ ও জিনিসপত্র দিয়ে তুমি পৃথিবীর রাজাদের ধনী করতে।
EZE 27:34 তুমি এখন সমুদ্রের আঘাতে গভীর জলের মধ্যে চুরমার হয়েছ; তোমার জিনিসপত্র ও তোমার সব লোক তোমার সঙ্গে ডুবে গেছে।
EZE 27:35 যারা উপকূলে বাস করে তারা তোমার অবস্থা দেখে হতভম্ব; তাদের রাজারা ভয়ে কেঁপে উঠছে এবং তাদের মুখ ভয়ে বিকৃত হয়ে গেছে।
EZE 27:36 জাতিগণের মধ্যের ব্যবসায়ীরা তোমাকে দেখে টিটকারি দেয়; তুমি ভয়ংকরভাবে শেষ হয়ে গিয়েছ আর তুমি থাকবে না।’ ”
EZE 28:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 28:2 “হে মানবসন্তান, তুমি সোরের শাসনকর্তাকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘তোমার অন্তরের অহংকারে তুমি বলো, “আমি দেবতা; সমুদ্রের মাঝখানে আমি ঈশ্বরের সিংহাসনে বসে আছি।” কিন্তু তুমি একজন মানুষ, দেবতা নও, যদিও তুমি মনে করো যে তুমি ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী।
EZE 28:3 তুমি কি দানিয়েলের থেকেও জ্ঞানী? তোমার কাছে কি কোনও গুপ্ত বিষয় লুকানো হয়নি?
EZE 28:4 তোমার জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে তুমি নিজের জন্য সম্পদ লাভ করেছ এবং তোমার কোষাগারে সোনা ও রুপো জমা করেছ।
EZE 28:5 ব্যবসায়ে তোমার দারুণ দক্ষতায় তুমি তোমার সম্পদ বাড়িয়েছ, এবং তোমার সম্পদের কারণে তোমার হৃদয় অহংকারে ভরে গিয়েছে।
EZE 28:6 “ ‘এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন “ ‘যেহেতু তুমি নিজেকে মনে করো, ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী,
EZE 28:7 আমি তোমার বিরুদ্ধে বিদেশিদের নিয়ে আসব, জাতিদের মধ্যে সবচেয়ে নির্মম; তারা তোমার সৌন্দর্য এবং জ্ঞানের বিরুদ্ধে তাদের তরোয়াল উঠাবে এবং তোমার উজ্জ্বল ঐশ্বর্যকে বিদ্ধ করবে।
EZE 28:8 তারা তোমাকে কুয়োতে নামাবে, এবং তুমি সমুদ্রের গভীরে এক ভয়ংকর মৃত্যু ভোগ করবে।
EZE 28:9 তোমার বধকারীদের সাক্ষাতে, তুমি কি তখন বলবে, “আমি ঈশ্বর”? যাদের হাতে তুমি বধ হয়েছ, তুমি কেবল একজন মানুষ, ঈশ্বর নও।
EZE 28:10 তুমি বিদেশিদের হাতে অচ্ছিন্নত্বকের মতো মরবে। আমি বলেছি, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 28:11 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 28:12 “হে মানবসন্তান, সোরের রাজার জন্য তুমি বিলাপ করে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘তুমি ছিলে নিখুঁতের মুদ্রাংক, জ্ঞানে পূর্ণ এবং সৌন্দর্যে নিখুঁত।
EZE 28:13 তুমি ঈশ্বরের বাগান এদনে ছিলে; প্রত্যেক মূল্যবান পাথরে তুমি সজ্জিত ছিলে: পোখরাজ, পীতমণি, হীরা, বৈদূর্যমণি, গোমেদ, সূর্যকান্তমণি, নীলকান্তমণি, ফিরোজা ও পান্না। তোমার অলংকার এবং কারুকার্য সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল; তুমি যেদিন সৃষ্টি হয়েছিলে সেইদিন এগুলি তৈরি করা হয়েছিল।
EZE 28:14 রক্ষাকারী করূব হিসেবে তোমাকে অভিষেক করা হয়েছিল, কারণ সেইভাবেই আমি তোমাকে অভিষিক্ত করেছিলাম। তুমি ঈশ্বরের পবিত্র পাহাড়ে ছিলে; তুমি অগ্নিময় পাথরের মধ্যে দিয়ে হাঁটাচলা করতে।
EZE 28:15 তোমার সৃষ্টির দিন থেকে তোমার চালচলনে তুমি নির্দোষ ছিলে যতক্ষণ না তোমার মধ্যে মন্দতা পাওয়া গেল।
EZE 28:16 তোমার অনেক ব্যবসার দরুন তুমি অত্যাচারী হয়ে উঠলে এবং পাপ করলে। সেইজন্য আমি তোমাকে লজ্জিত করে ঈশ্বরের পাহাড় থেকে বের করেছিলাম, এবং হে রক্ষাকারী করূব, আমি তোমাকে অগ্নিময় পাথরের মধ্যে থেকে তাড়িয়ে দিলাম।
EZE 28:17 তোমার সৌন্দর্যের কারণে তোমার হৃদয় অহংকারী হয়েছিল, এবং তোমার জাঁকজমকের জন্য তোমার জ্ঞানকে দূষিত করেছিলে। এই জন্য আমি তোমাকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম; রাজাদের সামনে আমি তোমাকে রাখলাম যেন তারা তোমাকে দেখতে পায়।
EZE 28:18 তোমার অনেক পাপ ও অসৎ ব্যবসা দিয়ে তুমি নিজের উপাসনার জায়গাগুলি অপবিত্র করেছ। এই জন্য আমি তোমার মধ্যে থেকে আগুন বের করলাম আর তা তোমাকে পুড়িয়ে দিল, এবং যারা দেখছিল তাদের চোখের সামনে আমি তোমাকে মাটির উপরে ছাই করে দিলাম।
EZE 28:19 যে সমস্ত জাতি তোমাকে জানত তারা তোমার বিষয় হতভম্ব হল; তুমি ভয়ংকরভাবে শেষ হয়ে গিয়েছ আর তুমি থাকবে না।’ ”
EZE 28:20 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 28:21 “হে মানবসন্তান, তুমি সীদোনের দিকে মুখ রাখো; তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো
EZE 28:22 এবং বলো ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘হে সীদোন, আমি তোমার বিপক্ষে, এবং আমি তোমার মধ্যে মহিমান্বিত হব। তাতে তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু, যখন আমি তোমাকে শাস্তি দেব এবং তোমার মধ্যে আমার পবিত্রতা প্রকাশ করব।
EZE 28:23 আমি তোমার মধ্যে মহামারি পাঠাব এবং তোমার রাস্তায় রক্ত বহাব। চারিদিক থেকে তরোয়ালের আক্রমণের ফলে, আহত লোকেরা তার মধ্যে পতিত হবে। তখন তোমরা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 28:24 “ ‘ইস্রায়েল কুলের জন্য ব্যথা দেওয়া কোনও কাঁটাগাছ এবং সূচালো কাঁটার মতো বিদ্বেষী প্রতিবেশী আর থাকবে না। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 28:25 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ইস্রায়েলীদের আমি যখন জড়ো করব, তখন জাতিদের সামনে তাদের মধ্যে আমি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করব। তারা নিজেদের সেই দেশে বাস করবে, যে দেশ আমি আমার দাস যাকোবকে দিয়েছিলাম।
EZE 28:26 তারা সেখানে নিরাপদে বাস করবে এবং ঘরবাড়ি বানাবে ও আঙুর ক্ষেত করবে; তাদের বিদ্বেষী প্রতিবেশী সকল জাতিদের যখন আমি শাস্তি দেব তখন তারা নিরাপদে বাস করবে। তখন তারা জানবে যে আমিই তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু।’ ”
EZE 29:1 দশম বছরের, দশম মাসের বারো দিনের দিন, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 29:2 “হে মানবসন্তান, তুমি তোমার মুখ মিশরের রাজা ফরৌণের দিকে রেখে তার ও সারা মিশর দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী বলো।
EZE 29:3 তুমি এই কথা তাকে বলো: ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘হে মিশরের রাজা ফরৌণ, আমি তোমার বিপক্ষে, তুমি নিজের নদীর মধ্যে শুয়ে থাকা এক প্রকাণ্ড দানব। তুমি বলো, “এই নীলনদ আমার; আমি নিজের জন্য এটি তৈরি করেছি।”
EZE 29:4 আমি তোমার চোয়ালে বড়শি পরাব এবং তোমার স্রোতোধারার মাছগুলিকে তোমার আঁশের সঙ্গে লাগিয়ে দেব। তোমার স্রোতের মধ্যে থেকে আমি তোমাকে টেনে তুলব, তখনও তোমার স্রোতের মাছগুলি তোমার আঁশের সঙ্গে লেগে থাকবে।
EZE 29:5 তোমাকে ও তোমার স্রোতোধারার মাছগুলিকে আমি প্রান্তরে ফেলে রাখব। তুমি খোলা মাঠে পড়ে থাকবে এবং কেউ তোমাকে জড়ো করবে না বা তুলবে না। আমি খাবার হিসেবে তোমাকে ভূমির পশু এবং আকাশের পাখিদের দেব।
EZE 29:6 তখন মিশরে যারা বাস করে তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু। “ ‘তুমি ইস্রায়েল কুলের জন্য নলের লাঠি হয়েছিলে।
EZE 29:7 যখন তারা তোমাকে হাতে ধরত, তুমি ফেটে গিয়ে তাদের কাঁধে আঘাত করতে; যখন তারা তোমার উপর ভর দিত তখন তুমি ভেঙে যেতে এবং তাদের পিঠ তাতে মুচড়ে যেত।
EZE 29:8 “ ‘সেইজন্য, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি তোমার বিরুদ্ধে তরোয়াল নিয়ে এসে তোমার লোকদের ও পশুদের মেরে ফেলব।
EZE 29:9 মিশর হবে একটি জনশূন্য ধ্বংসস্থান। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু। “ ‘কারণ তুমি বলেছিলে, “এই নীলনদ আমার; আমি এটি তৈরি করেছি,”
EZE 29:10 এই জন্য আমি তোমার ও তোমার স্রোতোধারা সকলের বিপক্ষে, এবং আমি মিগ্‌দোল থেকে সিবেনী পর্যন্ত, অর্থাৎ কূশের সীমানা পর্যন্ত, মিশর দেশকে জনশূন্য ও ধ্বংসস্থান করব।
EZE 29:11 তার মধ্যে দিয়ে কোনও মানুষ বা পশু যাতায়াত করবে না; চল্লিশ বছর কেউ সেখানে বাস করবে না।
EZE 29:12 ধ্বংস হয়ে যাওয়া সমস্ত দেশগুলির মধ্যে আমি মিশর দেশের অবস্থা আরও বেশি খারাপ করে দেব; ধ্বংস হয়ে যাওয়া নগরগুলির মধ্যে তার নগরগুলির চল্লিশ বছর ধরে জনশূন্য হয়ে থাকবে। এবং আমি মিস্রীয়দের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।
EZE 29:13 “ ‘কেননা সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, চল্লিশ বছরের শেষে আমি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মিশরীয়দের জড়ো করব।
EZE 29:14 আমি তাদের বন্দিদশা থেকে ফিরিয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ মিশরের উপরের এলাকাটি দেব। সেখানে তারা এক দুর্বল রাজ্য হবে।
EZE 29:15 সে দুর্বল রাজ্য হবে এবং অন্যান্য জাতিদের উপরে সে কখনও নিজেকে উঁচু করবে না। আমি তাকে এত দুর্বল করব যে সে আর কখনও অন্যান্য জাতিদের উপরে রাজত্ব করবে না।
EZE 29:16 ইস্রায়েলীরা আর কখনও মিশরের উপর নির্ভর করবে না, কিন্তু মিশরের অবস্থা দেখে তারা বুঝতে পারবে যে সাহায্যের জন্য মিশরের দিকে ফিরে তারা পাপ করেছিল। তখন তারা জানতে পারবে যে আমিই সার্বভৌম সদাপ্রভু।’ ”
EZE 29:17 সাতাশ বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 29:18 “হে মানবসন্তান, ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার সোরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় তার সৈন্যদলকে এত বেশি পরিশ্রম করিয়েছে যে; প্রত্যেকের মাথার চুল উঠে গিয়েছে ও কাঁধের ছালচামড়া উঠে গিয়েছে। তবুও সোরের বিরুদ্ধে সে যে যুদ্ধ চালিয়েছে তাতে তার বা তার সৈন্যদলের কোনো লাভ হয়নি।
EZE 29:19 এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারকে মিশর দেশটা দেব, আর সে তার ধনসম্পদ নিয়ে যাবে। তার সৈন্যদলের বেতনের জন্য সে সেই দেশ লুটপাট করবে।
EZE 29:20 সে ও তার সৈন্যদল আমার জন্য যে পরিশ্রম করেছে তার পুরস্কার হিসেবে আমি তাকে মিশর দেশটা দিয়েছি, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 29:21 “সেদিন আমি ইস্রায়েল জাতিকে শক্তিশালী করব, এবং তাদের মধ্যে কথা বলার জন্য আমি তোমার মুখ খুলে দেব। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।”
EZE 30:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 30:2 “হে মানবসন্তান, ভাববাণী বলো: ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘বিলাপ করো এবং বলো, “হায়, সে কেমন দিন!”
EZE 30:3 কারণ সেদিনটি নিকটবর্তী, সদাপ্রভুর দিনটি নিকটবর্তী, সেটি মেঘে ঢাকা দিন, জাতিদের শেষ সময়।
EZE 30:4 মিশরের উপর যুদ্ধ আসবে, আর কূশের উপর আসবে দারুণ যন্ত্রণা। যখন মিশরে লোকেরা মরে পড়ে থাকবে, তার ধনসম্পদ নিয়ে যাওয়া হবে তার ভিত্তি ধ্বংস হবে।
EZE 30:5 কূশ ও পূট, লূদ ও সমস্ত আরব দেশ, লিবিয়া এবং নিয়মের অধীন দেশের লোকেরা যুদ্ধে মিশরের সঙ্গে মারা পড়বে।
EZE 30:6 “ ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘মিশরের বন্ধু দেশের লোকেরা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তার শক্তির গর্ব অকৃতকার্য হবে। মিগ্‌দোল থেকে সিবেনী পর্যন্ত লোকেরা তার মধ্যেই যুদ্ধে মারা পড়বে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 30:7 তারা জনশূন্য হবে জনশূন্য দেশের মধ্যে আর তাদের নগরগুলি পড়ে থাকবে ধ্বংস হওয়া নগরগুলি মধ্যে।
EZE 30:8 তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু, যখন আমি মিশরে আগুন লাগাব এবং তার সমস্ত সাহায্যকারী চুরমার হয়ে যাবে।
EZE 30:9 “ ‘সেদিন নিশ্চিন্তে থাকা কূশকে ভয় দেখাবার জন্য সংবাদ বহনকারীরা আমার আদেশে জাহাজে করে বের হয়ে যাবে। মিশরের শেষ দিনে কূশের যন্ত্রণা হবে, কারণ সেদিন তার উপরেও নিশ্চয় আসবে।
EZE 30:10 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজারের হাত দিয়ে মিশরের মস্ত বড়ো দলকে আমি শেষ করে দেব।
EZE 30:11 সে এবং তার সৈন্যদলকে—জাতিগণের মধ্যে যারা সবচেয়ে নিষ্ঠুর, আনা হবে দেশকে ধ্বংস করার জন্য। তারা মিশরের বিরুদ্ধে তাদের তরোয়াল ধরবে আর নিহত লোকদের দিয়ে দেশ ভরিয়ে দেবে।
EZE 30:12 আমি নীলনদের স্রোত শুকিয়ে ফেলব এবং মন্দ জাতির কাছে দেশটা বিক্রি করে দেব; বিদেশিদের হাত দিয়ে দেশ ও তার মধ্যেকার সবকিছুকে আমি ধ্বংস করব। আমি সদাপ্রভু এই কথা বললাম।
EZE 30:13 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন “ ‘আমি প্রতিমাগুলি ধ্বংস করব এবং মেম্ফিস থেকে অবস্তু-প্রতিমাগুলি শেষ করে দেব। মিশরে আর কোনও শাসনকর্তা থাকবে না, এবং দেশের সর্বত্র আমি ভয় ছড়িয়ে দেব।
EZE 30:14 আমি মিশরের উপরের এলাকাটিকে পতিত জমি করে ফেলে রাখব, সোয়নে আগুন লাগাব এবং থিব্‌সকে শাস্তি দেব।
EZE 30:15 আমি মিশরের দুর্গ, সীন নগরের উপর আমার ক্রোধ ঢেলে দেব, এবং থিব্‌সের সমস্ত লোককে ছেঁটে ফেলে দেব।
EZE 30:16 আমি মিশরে আগুন লাগাব; সীন নগর যন্ত্রণায় ছটফট করবে। থিব্‌সের বিরুদ্ধে লোকেরা হঠাৎ আসবে; মেম্ফিসের নিয়মিত যন্ত্রণায় থাকবে।
EZE 30:17 আবেন ও পী-বেশতের যুবকেরা যুদ্ধে মারা যাবে, এবং নগরগুলি নিজেরাই বন্দিদশায় যাবে।
EZE 30:18 তফন্‌হেষে দিনের বেলা অন্ধকার হয়ে যাবে যখন আমি মিশরের জোয়াল ভাঙব; সেখানে তার শক্তির গর্ব শেষ হয়ে যাবে। সে মেঘে ঢেকে যাবে, তার গ্রামগুলি বন্দিদশায় যাবে।
EZE 30:19 এইভাবে আমি মিশরকে শাস্তি দেব, আর তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 30:20 দশম বছরের, দশম মাসের সাত দিনের দিন, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 30:21 “হে মানবসন্তান, আমি মিশরের রাজা ফরৌণের হাত ভেঙে দিয়েছি। ভালো হবার জন্য সেই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়নি যাতে সেটি তরোয়াল ধরার জন্য উপযুক্ত শক্তি পায়।
EZE 30:22 এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি মিশরের রাজা ফরৌণের বিরুদ্ধে। আমি তার দুই হাতই ভেঙে দেব, ভালো ও ভাঙা উভয় হাতই, এবং তার হাত থেকে তরোয়াল ফেলে দেব।
EZE 30:23 আমি মিশরীয়দের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।
EZE 30:24 আমি ব্যাবিলনের রাজার হাত শক্তিশালী করব এবং আমার তরোয়াল তার হাতে দেব, কিন্তু আমি ফরৌণের হাত ভেঙে দেব, তাতে সে ব্যাবিলনের রাজার সামনে আহত লোকের মতো কাতরাবে।
EZE 30:25 আমি ব্যাবিলনের রাজার হাত শক্তিশালী করব, কিন্তু ফরৌণের হাত ঝুলে পড়বে। আমি যখন আমার তরোয়াল ব্যাবিলনের রাজার হাতে দেব আর সে মিশরের বিরুদ্ধে তা চালাবে, তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 30:26 আর আমি মিশরীয়দের বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।”
EZE 31:1 এগারো বছরের, তৃতীয় মাসের প্রথম দিন, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 31:2 “হে মানবসন্তান, মিশরের রাজা ফরৌণ ও তার সমস্ত লোকদের বলো, “ ‘মহিমার দিক থেকে তুমি কার তুল্য?
EZE 31:3 আসিরিয়ার কথা চিন্তা করো, সে এক সময় লেবাননের সিডার গাছ ছিল, সুন্দর ডালপালা বনে ঘন ছায়া ফেলত; সে খুব উঁচু ছিল, তার মাথা যেন আকাশ ছুঁতো।
EZE 31:4 প্রচুর জল তাকে পুষ্ট করেছিল, গভীর ফোয়ারা তাকে লম্বা করেছিল; তাদের স্রোত বইত তার গোড়ার চারিদিকে এবং তার নালাগুলি বনের সব গাছকে জল দিত।
EZE 31:5 এইভাবে বনের সব গাছের চেয়ে সে উঁচু হয়ে উঠল; তার ডাল ছড়িয়ে পড়ল আর সেগুলি লম্বা হল, প্রচুর জল পাওয়ার কারণে চারিদিকে ছড়িয়ে গেল।
EZE 31:6 আকাশের সব পাখি তার ডালে বাসা বাঁধল, মাঠের সব পশু তার ডালপালা নিচে বাচ্চা দিত; সকল মহান জাতি তার ছায়ায় বাস করত।
EZE 31:7 সে ছিল সৌন্দর্যে মহিমান্বিত তার ছড়ানো ডালপালার জন্য, কারণ তার শেকড় গভীরে গিয়েছিল প্রচুর জলের কাছে।
EZE 31:8 ঈশ্বরের বাগানের সিডার গাছগুলিও তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারত না, দেবদারু গাছের সকল ডালপালা তার সমান ছিল না, প্লেইন গাছের ডালপালাগুলি তার ডালপালার সঙ্গে তুলনা করা যেত না, ঈশ্বরের বাগানের কোনও গাছই সৌন্দর্যে তার মতন ছিল না।
EZE 31:9 আমি তাকে সুন্দর করেছিলাম প্রচুর ডালপালা দিয়ে, সে ছিল এদনে ঈশ্বরের বাগানের সব গাছের হিংসার পাত্র।
EZE 31:10 “ ‘এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, সে উঁচু হয়েছে, ঘন বনের উপরে তার মাথা উঠেছে, এবং যেহেতু সে উঁচু বলে তার অহংকার,
EZE 31:11 আমি তাকে জাতিগণের শাসনকর্তার হাতে তুলে দিয়েছি, যেন তার মন্দতা অনুসারে সে তার সঙ্গে ব্যবহার করবে। আমি তাকে অগ্রাহ্য করেছি,
EZE 31:12 এবং বিদেশি জাতিদের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর জাতির লোকেরা তাকে কেটে ফেলে রেখে গেছে। পাহাড় সকলের উপরে ও উপত্যকাগুলিতে তার শাখাগুলি পড়েছে; তার ডালপালাগুলি ভেঙে দেশের সব জলের স্রোতের মধ্যে পড়ে আছে। পৃথিবীর সব জাতি তার ছায়া থেকে বের হয়ে তাকে ফেলে চলে গেছে।
EZE 31:13 সেই পড়ে যাওয়া গাছে আকাশের সব পাখিরা বাস করছে, এবং বনের সব পশুরা তার ডালপালার কাছে থাকছে।
EZE 31:14 এই জন্য জলের ধারের অন্য কোনো গাছ অহংকারে উঁচু হবে না, তাদের মাথা ঘন বনের উপরে উঠবে না। আর কোনো গাছ এত ভালো জল পেয়েও কখনও এত উঁচুতে পৌঁছাবে না; তারা সবাই মানুষের মতো মৃত্যুর অধীন, তারা পৃথিবীর গভীরে পাতালে নেমে যাওয়ার জন্য ঠিক হয়ে আছে।
EZE 31:15 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যেদিন সে পাতালে নেমে গেল সেদিন তার জন্য শোকের চিহ্ন হিসেবে সেই গভীর ফোয়ারা আমি ঢেকে দিলাম; আমি তার সব স্রোত থামিয়ে দিলাম, তাতে তার অফুরন্ত জল বন্ধ হয়ে গেল। এই জন্য আমি লেবাননকে শোক করালাম আর তার মাঠের প্রত্যেকটা গাছ শুকিয়ে গেল।
EZE 31:16 মৃত লোকদের সঙ্গে আমি যখন তাকে পাতালে নামিয়ে দিলাম তখন তার পড়ে যাবার শব্দে জাতিরা কেঁপে উঠল। তখন এদনের সব গাছ, লেবাননের বাছাই করা ও সেরা গাছ এবং ভালোভাবে জল পাওয়া সব গাছ, পৃথিবীর গভীরে সান্ত্বনা পেল।
EZE 31:17 যারা তার ছায়াতে বাস করত, জাতিদের মধ্যে তার বন্ধুরা, তার সঙ্গে পাতালে যুদ্ধে নিহত লোকদের কাছে নেমে গেল।
EZE 31:18 “ ‘এদনের কোনও গাছকে তোমার প্রতাপ ও মহত্ত্বের সঙ্গে তুলনা করা যাবে? তবুও তোমাকেও এদনের গাছপালার সঙ্গে পৃথিবীর গভীরে নামিয়ে দেওয়া হবে; যারা তরোয়ালে মারা গেছে, অচ্ছিন্নত্বক লোকদের মধ্যে তুমি শুয়ে থাকবে। “ ‘এ সেই ফরৌণ ও তার সমস্ত লোকেরা, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 32:1 বারো বছরের, বারো মাসের প্রথম দিন, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 32:2 “হে মানবসন্তান, মিশরের রাজা ফরৌণের জন্য বিলাপ করো আর তাকে বলো, “ ‘তুমি জাতিগণের মধ্যে একটি সিংহের মতো; তুমি সমুদ্রের মধ্যে একটি দানবের মতো নদীর মধ্যে দাপাদাপি করতে, পা দিয়ে জল তোলপাড় করতে, এবং নদীর জল ঘোলা করতে।
EZE 32:3 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘লোকদের একটি বড়ো দল নিয়ে আমি তোমার উপর জাল ফেলব, তারা আমার জালে তোমাকে টেনে তুলবে।
EZE 32:4 আমি তোমাকে ডাঙায় ছেড়ে দেব এবং খোলা মাঠে ছুঁড়ে ফেলব। আকাশের সব পাখিদের তোমার উপর বসাব এবং পৃথিবীর সব পশুরা তোমাকে খেয়ে তৃপ্ত হবে।
EZE 32:5 আমি পাহাড়ের উপরে তোমার মাংস ফেলব আর তোমার অবশিষ্টাংশ দিয়ে উপত্যকা সকল ভরাব।
EZE 32:6 তোমার রক্ত দিয়ে আমি সেই দেশ ভিজাব এমনকি পাহাড়-পর্বত পর্যন্ত, এবং গিরিখাতগুলি তোমার মাংসে ভরে যাবে।
EZE 32:7 তোমাকে শেষ করার সময়, আমি আকাশ ঢেকে দেব এবং তারাগুলি কালো করে দেব; আমি সূর্য মেঘ দিয়ে ঢেকে দেব এবং চাঁদ আর তার আলো দেবে না।
EZE 32:8 আকাশের সকল উজ্জ্বল আলো আমি তোমার উপরে কালো করে দেব; আমি তোমার দেশের উপর অন্ধকার নিয়ে আসব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 32:9 আমি বহু মানুষের মনে ত্রাস নিয়ে আসব যখন তোমাকে ধ্বংস করব জাতিগণের মধ্যে, এবং যে সকল দেশের বিষয় তুমি জানো না।
EZE 32:10 আমি এমন করব যে বহু মানুষ তোমাকে দেখে হতভম্ব হবে, এবং তাদের রাজারা তোমার কারণে ভয়ে কাঁপবে যখন আমি তাদের সামনে আমার তরোয়াল ঘুরাব। তোমার পতনের দিনে তারা প্রত্যেকে কাঁপবে তাদের জীবনের প্রতি ক্ষণে।
EZE 32:11 “ ‘কেননা সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “ ‘ব্যাবিলনের রাজার তরোয়াল তোমার বিরুদ্ধে আসবে।
EZE 32:12 আমি তোমার লোকদের পতন ঘটাব বীরদের তরোয়াল দ্বারা, জাতিগণের মধ্যে যারা সবচেয়ে নিষ্ঠুর। তারা মিশরের অহংকার খর্ব করবে, এবং তার সব লোকদের ধ্বংস করবে।
EZE 32:13 প্রচুর জলের কাছে থাকা সমস্ত গবাদি পশুকে আমি ধ্বংস করব সেই জল আর মানুষের পায়ে অথবা গবাদি পশুর খুরে আর ঘোলা হবে না।
EZE 32:14 তখন আমি তার জল থিতাতে দেব এবং স্রোত তেলের মতো বহাব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 32:15 আমি যখন মিশরকে জনশূন্য করব এবং দেশের মধ্যেকার সবকিছু খালি করে ফেলব, আর সেখানকার বাসিন্দাদের আঘাত করব, তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’
EZE 32:16 “তারা তার জন্য এই বিলাপ-গীত করবে। বিভিন্ন জাতির মেয়েরাও এই গান করবে; তারা মিশর ও তার সব লোকদের জন্য তা গাইবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 32:17 বারো বছরের, মাসের পনেরো দিনের দিন, সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 32:18 “হে মানবসন্তান, মিশরের লোকদের জন্য বিলাপ করো এবং যারা পাতালে নেমে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে তাকে ও অন্যান্য শক্তিশালী জাতিগণের লোকদের পৃথিবীর গভীরে পাঠিয়ে দাও।
EZE 32:19 তাদের বলো, ‘তুমি কি অন্যদের থেকে আরও পক্ষপাতদুষ্ট? তুমি নেমে যাও এবং অচ্ছিন্নত্বকদের সঙ্গে শুয়ে থাকো।’
EZE 32:20 যুদ্ধে যারা মারা পড়েছে তাদের মধ্যেই তার লোকেরা পড়ে থাকবে। তরোয়ালের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হবে; তার সব লোকদের সঙ্গে তাকেও টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
EZE 32:21 পাতালের মধ্যে থেকে পরাক্রমী নেতারা মিশর ও তার মিত্রশক্তিদের সম্বন্ধে বলবে, ‘তারা নিচে নেমে এসেছে এবং যাদের সুন্নত হয়নি তাদের ও যারা তরোয়াল দ্বারা মারা পড়েছে, তাদের সঙ্গে শুয়ে আছে।’
EZE 32:22 “আসিরিয়া তার সমস্ত সৈন্যদলের সঙ্গে সেখানে আছে; তাকে ঘিরে রয়েছে তার সব নিহত লোকদের কবর, এরা সবাই যুদ্ধে মারা পড়েছিল।
EZE 32:23 গর্তের গভীরে তাদের কবর দেওয়া হয়েছে এবং তার সৈন্যদল তার কবরের চারপাশে শুয়ে আছে। জীবিতদের দেশে যারা ভয় ছড়িয়েছিল তাদের সকলকে যুদ্ধে মেরে ফেলা হয়েছে।
EZE 32:24 “এলম সেখানে আছে, তার কবরের চারপাশে রয়েছে তার সমস্ত লোক। তারা সকলে যুদ্ধে মারা গেছে। যারা জীবিতদের দেশে ভয় ছড়িয়েছিল তারা অচ্ছিন্নত্বক অবস্থায় পৃথিবীর গভীরে নেমে গেছে। তারা পাতালবাসীদের সঙ্গেই নিজেদের অসম্মান ভোগ করছে।
EZE 32:25 নিহত লোকদের মধ্যে তার বিছানা পাতা হয়েছে, তার কবরের চারপাশে তার সঙ্গে রয়েছে তার সমস্ত লোক। তারা সকলেই অচ্ছিন্নত্বক অবস্থায় যুদ্ধে মারা গেছে। যেহেতু তারা জীবিতদের দেশে ভয় ছড়িয়েছিল, কিন্তু তারা পাতালবাসীদের সঙ্গেই নিজেদের অপমান ভোগ করছে; নিহত লোকদের মধ্যে তাদের শোয়ানো হয়েছে।
EZE 32:26 “মেশক ও তূবল সেখানে আছে, তাদের কবরের চারপাশে রয়েছে তাদের সমস্ত লোক। তারা সকলেই অচ্ছিন্নত্বক অবস্থায় যুদ্ধে মারা গেছে কারণ তারা জীবিতদের দেশে ভয় ছড়িয়েছিল।
EZE 32:27 কিন্তু তারা শুয়ে নেই তাদের সঙ্গে যারা যুদ্ধে মারা গেছে, যারা যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কবরে গিয়েছে—যাদের তরোয়াল তাদের মাথার নিচে রাখা হয়েছে? তাদের অপরাধ তাদের হাড়গোড়ের উপর রয়েছে—যদিও এই সৈন্যরা জীবিতদের দেশে ভয় ছড়িয়েছিল।
EZE 32:28 “হে ফরৌণ, তোমাকেও ভাঙা হবে এবং তুমি অচ্ছিন্নত্বক লোকদের মধ্যে শুয়ে থাকবে, যাদের যুদ্ধে মেরে ফেলা হয়েছে।
EZE 32:29 “ইদোম সেখানে আছে, তার রাজারা ও তার সব শাসনকর্তারা সেখানে আছে; শক্তি থাকলেও যুদ্ধে নিহত লোকদের সঙ্গে তাদের শোয়ানো হয়েছে। তারা অচ্ছিন্নত্বকদের মধ্যে শুয়ে আছে যারা পাতালে নেমে গেছে।
EZE 32:30 “উত্তর দেশের সব শাসনকর্তারা ও সীদোনীয়েরা সকলেই সেখানে আছে; তাদের পরাক্রম ভয়ানক হলেও তারা লজ্জিত হয়ে নিহত লোকদের সঙ্গে নিচে নেমেছে। যারা যুদ্ধে মারা গেছে তাদের সঙ্গে অচ্ছিন্নত্বক অবস্থায় শুয়ে আছে এবং যারা পাতালে নেমে গেছে তাদের সঙ্গে অসম্মান ভোগ করছে।
EZE 32:31 “ফরৌণ—সে ও তার সৈন্যদল—তাদের দেখবে এবং তাকে সান্ত্বনা দেওয়া হবে তার লোকদের জন্য যারা যুদ্ধে নিহত হয়েছে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 32:32 যদিও আমি তাকে জীবিতদের দেশে ভয় ছড়াতে দিয়েছি, ফরৌণ ও তার লোকেরা অচ্ছিন্নত্বকদের মধ্যে শুয়ে থাকবে, যারা যুদ্ধে মারা গেছে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 33:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 33:2 “হে মানবসন্তান, তোমার জাতির লোকদের বলো ‘আমি যখন কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আসি, আর দেশের লোকেরা একজনকে মনোনীত করে তাকে তাদের পাহারাদার নিযুক্ত করে,
EZE 33:3 সে তরোয়ালকে আসতে দেখে লোকদের সতর্ক করবার জন্য তূরী বাজায়,
EZE 33:4 তখন যদি কেউ তূরীর আওয়াজ শুনেও সতর্ক না হয় আর সৈন্যেরা এসে তাকে মেরে ফেলে তবে তার মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী থাকবে।
EZE 33:5 তূরীর আওয়াজ শুনেও সে সতর্ক হয়নি বলে তার মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী থাকবে। সে যদি সতর্ক হত তবে নিজেকে রক্ষা করতে পারত।
EZE 33:6 কিন্তু সেই পাহারাদার যদি সৈন্যদলকে আসতে দেখেও লোকদের সতর্ক করবার জন্য তূরী না বাজায় এবং সৈন্যদল এসে একজনকে মেরে ফেলে, তাহলে বুঝতে হবে সেই মানুষ তার নিজের পাপের জন্যই মারা গেছে, কিন্তু তার মৃত্যুর জন্য আমি সেই পাহারাদারকে দায়ী করব।’
EZE 33:7 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল কুলের জন্য আমি তোমাকে পাহারাদার নিযুক্ত করেছি; সুতরাং আমি যা বলছি তা শোনো এবং আমার হয়ে তাদের সতর্ক করো।
EZE 33:8 আমি যখন কোনও দুষ্ট লোককে বলি, ‘হে দুষ্টলোক, তুমি নিশ্চয়ই মরবে,’ আর তুমি তাকে তার মন্দ পথ থেকে ফিরবার জন্য সতর্ক না করো, তবে সেই দুষ্টলোক তার পাপের জন্য মারা যাবে, কিন্তু তার মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে দায়ী করব।
EZE 33:9 কিন্তু তুমি যদি সেই দুষ্ট লোককে তার পথ থেকে ফিরবার জন্য সতর্ক করো আর যদি সে না ফেরে তবে সে তার পাপের জন্য মরবে, কিন্তু তুমি নিজের প্রাণরক্ষা করবে।
EZE 33:10 “হে মানবসন্তান, তুমি ইস্রায়েল কুলকে বলো, ‘তোমরা এই কথা বলছ: “আমাদের অন্যায় আর পাপের ভার আমাদের উপর চেপে আছে, তাতেই আমরা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছি। তাহলে আমরা কেমন করে বাঁচব?” ’
EZE 33:11 তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, দুষ্টলোকের মৃত্যুতে আমি কোনও আনন্দ পাই না, বরং তারা যেন কুপথ থেকে ফিরে বাঁচে তাতেই আমি আনন্দ পাই। হে ইস্রায়েল কুল, তোমরা ফেরো, তোমাদের মন্দ পথ থেকে তোমরা ফেরো! কেন তোমরা মারা যাবে?’
EZE 33:12 “সেইজন্য, হে মানবসন্তান, তুমি তোমার জাতির লোকদের বলো, ‘ধার্মিকের ধার্মিকতা তার অবাধ্যের দিনে তাকে রক্ষা করবে না, আর দুষ্টলোক যদি তার দুষ্টতা থেকে ফেরে তবে সে তার দুষ্টতার শাস্তি পাবে না। ধার্মিক লোক যদি পাপ করে তবে তার আগের ধার্মিকতা তাকে বাঁচাতে পারবে না।’
EZE 33:13 আমি যদি ধার্মিক লোককে বলি যে সে নিশ্চয় বাঁচবে, কিন্তু পরে তার ধার্মিকতার উপর নির্ভর করে মন্দ কাজ করে, তবে সে আগে যেসব ধর্মকর্ম সে আগে করেছে তার কোনটাই মনে করা হবে না; সে যে অন্যায় করেছে তার জন্যই সে মরবে।
EZE 33:14 আর আমি যদি সেই দুষ্ট লোককে বলি, ‘তুমি নিশ্চয় মরবে,’ কিন্তু সে পরে তার পাপ থেকে ফিরে ন্যায় ও ঠিক কাজ করে।
EZE 33:15 সেই দুষ্ট যদি বন্ধক রাখা জিনিস ফিরিয়ে দেয়, সে যা চুরি করেছিল তা ফিরিয়ে দেয়, জীবনদায়ী নিয়মকানুন পালন করে এবং অন্যায় না করে—সে নিশ্চয়ই বাঁচবে; সে মারা যাবে না।
EZE 33:16 সে যেসব পাপ করেছে তার কোনটাই তার বিরুদ্ধে মনে রাখা হবে না। সে ন্যায় ও ঠিক কাজ করেছে বলে; সে নিশ্চয়ই বাঁচবে।
EZE 33:17 “তবুও তোমার জাতির লোকেরা বলে, ‘সদাপ্রভুর পথ ঠিক নয়।’ কিন্তু তাদের পথই ঠিক নয়।
EZE 33:18 একজন ধার্মিক লোক যদি তার ধার্মিকতা থেকে ফিরে অন্যায় করে, সে তার জন্য মরবে।
EZE 33:19 আর যদি একজন দুষ্টলোক তার দুষ্টতা থেকে ফিরে ন্যায় ও ঠিক কাজ করে তবে সে তার জন্য বাঁচবে।
EZE 33:20 তবুও, হে ইস্রায়েল কুল, তোমরা বলো, ‘সদাপ্রভুর পথ ঠিক নয়।’ সেইজন্য তোমরা যেভাবে চলছ সেই অনুসারে আমি তোমাদের প্রত্যেকের বিচার করব।”
EZE 33:21 আমাদের নির্বাসনের বারো বছর দশ মাসের পাঁচ দিনের দিন, একজন লোক জেরুশালেম থেকে পালিয়ে আমার কাছে এসে বলল, “শত্রুরা নগর অধিকার করেছে!”
EZE 33:22 সেই লোক আমার কাছে পৌঁছাবার আগের বিকালে, সদাপ্রভুর হাত আমার উপরে ছিল, এবং সেই লোক সকালে আমার কাছে আসার আগেই তিনি আমার মুখ খুলে দিলেন। সেই কারণে আমার মুখ খুলে গিয়েছিল এবং আমি আর নীরব থাকতে পারলাম না।
EZE 33:23 পরে সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 33:24 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল দেশের ধ্বংসস্থানে যারা বাস করছে তারা বলছে, ‘অব্রাহাম মাত্র একজন মানুষ হয়েও দেশের অধিকার পেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তো অনেকজন; নিশ্চয়ই দেশটা আমাদের অধিকারের জন্য দেওয়া হয়েছে।’
EZE 33:25 অতএব তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা রক্তশুদ্ধ মাংস খাচ্ছ, প্রতিমাগুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করছ এবং রক্তপাত করছ, তাহলে কি তোমরা দেশের অধিকারী হবে?
EZE 33:26 তোমরা তো তরোয়ালের উপর নির্ভর করছ, তোমরা ঘৃণ্য কাজ করছ ও প্রত্যেকে নিজের প্রতিবাসীর স্ত্রীকে অশুচি করছ। তাহলে কি তোমরা দেশের অধিকারী হবে?’
EZE 33:27 “তাদের এই কথা বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, যারা সেই ধ্বংসস্থানে আছে তারা যুদ্ধে মারা পড়বে, যারা মাঠে আছে তাদের খেয়ে ফেলার জন্য আমি বন্যপশুদের কাছে তাদের দেব এবং যারা দুর্গে ও গুহায় আছে তারা মহামারিতে মারা যাবে।
EZE 33:28 আমি দেশটাকে একটি জনশূন্য পতিত জায়গা করব, তার শক্তির গর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং ইস্রায়েলের পাহাড়গুলি এত জনশূন্য হবে যে সেখান দিয়ে কেউ যাওয়া-আসা করবে না।
EZE 33:29 তাদের ঘৃণ্য কাজের জন্য আমি যখন দেশকে জনশূন্য করব তখন তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’
EZE 33:30 “আর, হে মানবসন্তান, তোমার জাতির লোকেরা দেয়ালের পাশে ও ঘরের দরজায় একত্র হয়ে তোমার বিষয়ে বলাবলি করছে এবং একে অন্যকে বলছে, ‘সদাপ্রভুর কাছ থেকে যে সংবাদ এসেছে চলো, আমরা গিয়ে তা শুনি।’
EZE 33:31 আমার লোকেরা তোমার কাছে আসে, যেমন তারা সাধারণত এসে থাকে, এবং তারা তোমার সামনে বসে ও তোমার কথা শোনে, কিন্তু তারা তা কাজে লাগায় না। মুখে তারা ভালোবাসার কথা বলে কিন্তু তাদের অন্তরে অন্যায় লাভের জন্য লোভ থাকে।
EZE 33:32 এই কথা সত্যি যে, তুমি তাদের কাছে কেবল মিষ্টি সুরে সুন্দরভাবে বাজনা বাজিয়ে ভালোবাসার গান গাওয়া একজন লোক ছাড়া আর কিছু নও, কারণ তারা তোমার কথা শোনে, কিন্তু তা পালন করে না।
EZE 33:33 “যখন এসব সত্যিই ঘটবে—আর তা নিশ্চয়ই ঘটবে—তখন তারা জানবে যে তাদের মধ্যে একজন ভাববাদী আছে।”
EZE 34:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 34:2 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েলের পালকদের বিরুদ্ধে তুমি ভাববাণী বলো; ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ধিক্ ইস্রায়েলের সেই পালকদের যারা শুধু নিজেদেরই দেখাশোনা করে! মেষপালের দেখাশোনা করা কি পালকের কর্তব্য নয়?
EZE 34:3 তোমরা তো দই খাও, পশম দিয়ে কাপড় বানিয়ে পর এবং বাছাই করা মেষ বলিদান করো, কিন্তু মেষদের যত্ন নাও না।
EZE 34:4 তোমরা দুর্বলদের সবল করোনি, অসুস্থদের সুস্থ করোনি, আহতদের ক্ষত বেঁধে দাওনি। যারা বিপথে গেছে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসোনি কিংবা যারা হারিয়ে গেছে তাদের খোঁজ করোনি। তোমরা তাদের কড়া ও নিষ্ঠুরভাবে শাসন করেছ।
EZE 34:5 তারা ছড়িয়ে পড়েছে কারণ তাদের পালক নেই আর ছড়িয়ে পড়ার দরুন তারা বন্যপশুদের খাবার হয়েছে।
EZE 34:6 আমার মেষেরা সমস্ত পাহাড় ও উচ্চ গিরির উপরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তাদের খোঁজ করেনি।
EZE 34:7 “ ‘অতএব, হে পালকেরা, সদাপ্রভুর কথা শোনো।
EZE 34:8 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, পালকের অভাবে আমার পাল লুটের জিনিস হয়েছে এবং বন্যপশুর খাবার হয়েছে, আর যেহেতু আমার পালকেরা আমার পালের খোঁজ করেনি বরং তারা নিজেদেরই দেখাশোনা করেছে আমার পালের যত্ন নেয়নি,
EZE 34:9 অতএব, হে পালকেরা, সদাপ্রভুর কথা শোনো:
EZE 34:10 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি পালকদের বিপক্ষে এবং আমার পালের জন্য তাদের কাছ থেকে হিসেব নেব। আমি তাদের পালের দেখাশোনা করা থেকে সরিয়ে দেব যেন পালকেরা আর নিজেদের জন্য খাবার না পায়। আমিই আমার পালকে তাদের গ্রাস থেকে উদ্ধার করব, এবং তাদের খাবার হতে দেব না।
EZE 34:11 “ ‘কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি নিজেই আমার মেষদের খুঁজব এবং তাদের যত্ন নেব।
EZE 34:12 পালক যেমন তার ছড়িয়ে পড়া পালের খোঁজ করে যখন সে তাদের সঙ্গে থাকে তেমনি আমি আমার মেষকে খুঁজব। মেঘ ও অন্ধকারের দিনে তারা যেসব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে আমি সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করব।
EZE 34:13 আমি তাদের জাতিগণের মধ্যে থেকে বের করে আনব ও বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করব এবং আমি তাদের নিজের দেশে নিয়ে আসব। আমি তাদের ইস্রায়েলের পাহাড়ে, গিরিখাতে এবং দেশের সব বসতিস্থানগুলিতে চরাব।
EZE 34:14 তাদের আমি ভালো চরানিতে চরাব, এবং ইস্রায়েলের পাহাড়গুলি তাদের চরানিস্থান হবে। ভালো চরানিতে তারা শোবে, এবং তারা ইস্রায়েলের পাহাড়ে ভালো চরানিতে খাবে।
EZE 34:15 আমিই নিজের মেষদের চরাব এবং তাদের শোয়াব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 34:16 যারা হারিয়ে গেছে তাদের আমি খোঁজ করব এবং যারা বিপথে গেছে তাদের ফিরিয়ে আনব। আমি আহতদের ক্ষত বেঁধে দেব এবং দুর্বলদের বলযুক্ত করব, কিন্তু মোটাসোটা ও বলবানদের ধ্বংস করব। আমি ন্যায়বিচারে সেই পালের যত্ন নেব।
EZE 34:17 “ ‘আর তোমাদের বিষয়, হে আমার পাল, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি ভালো ও খারাপ মেষদের মধ্যে বিচার করব, আবার মেষ ও ছাগলের মধ্যে বিচার করব।
EZE 34:18 তোমাদের পক্ষে ভালো চারণভূমিতে খাওয়া কি যথেষ্ট নয়? আবার বাকি ঘাসগুলিও পা দিয়ে মাড়াতে হবে? তোমাদের পক্ষে পরিষ্কার জল খাওয়া কি যথেষ্ট নয়? আবার বাকি জলও কি পা দিয়ে ঘোলা করতে হবে?
EZE 34:19 তোমরা পা দিয়ে যা মাড়িয়েছ এবং যে জল ঘোলা করেছ তাই কি আমার মেষগুলিকে খেতে হবে?
EZE 34:20 “ ‘অতএব সার্বভৌম সদাপ্রভু তাদের এই কথা বলেন, দেখো, আমি নিজেই মোটা আর রোগা মেষের মধ্যে বিচার করব।
EZE 34:21 যেহেতু তোমরা দেহ এবং কাঁধ দিয়ে তাদের ঠেলছ, শিং দিয়ে দুর্বলদের গুঁতিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছ,
EZE 34:22 আমি আমার পালকে রক্ষা করব, এবং তারা আর লুটের জিনিস হবে না। আমি এক মেষের সঙ্গে আরেক মেষের বিচার করব।
EZE 34:23 আমি তাদের উপর এক পালককে নিযুক্ত করব, আমার দাস দাউদকে, যে তাদের পালন করবে; সে তাদেরকে চরাবে এবং তাদের পালক হবে।
EZE 34:24 আমি সদাপ্রভু তাদের ঈশ্বর হব, এবং আমার দাস দাউদ তাদের মধ্যে শাসনকর্তা হবে, আমি সদাপ্রভু এই কথা বলছি।
EZE 34:25 “ ‘আমি তাদের সঙ্গে শান্তির এক বিধান স্থাপন করব এবং দেশ থেকে হিংস্র পশুদের শেষ করব যেন তারা নিরাপদে প্রান্তরে বাস করতে পারে এবং বনে ঘুমাতে পারে।
EZE 34:26 আমি তাদের এবং আমার পাহাড়ের চারপাশের জায়গাগুলিকে আশীর্বাদ করব। আমি ঠিক সময়ে বৃষ্টি পাঠাব; সেখানে আশীর্বাদের ধারা বর্ষাবে।
EZE 34:27 মাঠের গাছে গাছে ফল ধরবে এবং মাটি ফসল দেবে; লোকেরা তাদের জায়গায় নিরাপদে থাকবে। তারা জানবে যে আমিই সদাপ্রভু, যখন আমি তাদের জোয়ালের খিল ভেঙে ফেলব এবং যারা তাদের দাসত্ব করাচ্ছে তাদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করব।
EZE 34:28 তারা আর জাতিগণের লুটের জিনিস হবে না কিংবা বন্যপশুরা তাদের খেয়ে ফেলবে না। তারা নিরাপদে বাস করবে আর কেউ তাদের ভয় দেখাবে না।
EZE 34:29 আমি তাদের উর্বর জমি দেব, আর দেশের মধ্যে তারা দুর্ভিক্ষের হাতে পড়বে না কিংবা অন্যান্য দেশের অসম্মানের পাত্র হবে না।
EZE 34:30 তখন তারা জানবে যে আমি, সদাপ্রভু তাদের ঈশ্বর, তাদের সহবর্তী এবং তারা, ইস্রায়েল কুল, আমার প্রজা, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 34:31 তোমরা আমার মেষ, আমার চরাণির মেষ এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 35:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 35:2 “হে মানবসন্তান, তুমি তোমার মুখ সেয়ীয় পাহাড়ের বিরুদ্ধে রাখো; তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী বলো,
EZE 35:3 এবং বলো: ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে সেয়ীর পাহাড়, আমি তোমার বিরুদ্ধে, আমার হাত বাড়িয়ে তোমাকে একটি জনশূন্য পতিত জমি করে রাখব।
EZE 35:4 আমি তোমার নগরগুলি ধ্বংসস্থান করব এবং তুমি হবে জনশূন্য। তখন তুমি জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 35:5 “ ‘কারণ তোমার প্রাচীন শত্রুভাব আছে এবং ইস্রায়েলীদের বিপদের সময় যখন তাদের শাস্তি সম্পূর্ণভাবে দেওয়া হয়েছে তখন তুমি তরোয়ালের হাতে তাদের তুলে দিয়েছ,
EZE 35:6 এজন্য, সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, আমি তোমাকে রক্তপাতের হাতে তুলে দেব এবং তা তোমার পিছনে তাড়া করবে। যেহেতু তুমি রক্তপাত ঘৃণা করোনি, রক্তপাতই তোমার পিছনে তাড়া করবে।
EZE 35:7 আমি সেয়ীর পাহাড়কে জনশূন্য করব এবং যারা সেখানে যাওয়া-আসা করে তাদের উচ্ছিন্ন করব।
EZE 35:8 আমি তোমার পাহাড়গুলিকে নিহত লোকদের দিয়ে ভরে দেব; যারা যুদ্ধে মারা গেছে তারা তোমার পাহাড়গুলিতে, উপত্যকাগুলিতে এবং তোমার সব জলের স্রোতে পড়ে থাকবে।
EZE 35:9 চিরকালের জন্য আমি তোমাকে জনশূন্য করে রাখব; তোমার নগরগুলিতে কেউ বাস করবে না। তখন তুমি জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।
EZE 35:10 “ ‘কারণ তুমি বলেছ, “এই দুই জাতি এবং দেশ আমাদের হবে আর আমরা সেগুলির অধিকারী হব,” যদিও আমি সদাপ্রভু সেখানে ছিলাম,
EZE 35:11 এজন্য, সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, আমার জীবনের দিব্য দিয়ে বলছি, তাদের প্রতি ঘৃণায় তুমি যেমন রাগ ও হিংসা দেখিয়েছ সেই অনুসারেই আমি তোমার সঙ্গে ব্যবহার করব এবং আমি যখন তোমার বিচার করব তখন তাদের মধ্যে আমি নিজেকে প্রকাশ করব।
EZE 35:12 তখন তুমি জানবে যে, তুমি ইস্রায়েলের সব পাহাড়ের বিরুদ্ধে যেসব অপমানের কথা বলেছ তা আমি সদাপ্রভু শুনেছি। তুমি বলেছ, “সেগুলি ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে এবং তা গ্রাস করার জন্য আমাদের দেওয়া হয়েছে।”
EZE 35:13 তুমি আমার বিরুদ্ধে গর্ব করে অনেক কথা বলেছ, আর আমি সেইসব শুনেছি।
EZE 35:14 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন সমস্ত পৃথিবী যখন আনন্দ করবে তখন আমি তোমাকে জনশূন্য করব।
EZE 35:15 ইস্রায়েল কুলের অধিকার হিসেবে যে দেশ পেয়েছে তা জনশূন্য দেখে তুমি যেমন আনন্দ করেছ তেমনি করে আমি তোমার সঙ্গে ব্যবহার করব। হে সেয়ীর পাহাড়, তুমি এবং ইদোমের বাকি সমস্ত জায়গা জনশূন্য হবে। তখন লোকে জানবে যে আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 36:1 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েলের সমস্ত পাহাড়ের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং বলো, ‘হে ইস্রায়েলের সমস্ত পাহাড়, সদাপ্রভুর বাক্য শোনো।
EZE 36:2 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে বলেছে, “বাঃ! পুরানো উঁচু জায়গাগুলি আমাদের দখলে এসে গেছে।” ’
EZE 36:3 এজন্য ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তোমরা যাতে অন্যান্য জাতিগুলির দখলে আস এবং লোকদের হিংসার ও নিন্দার পাত্র হও সেইজন্য তারা চারিদিক থেকে তোমাদের ধ্বংস ও গ্রাস করেছে,
EZE 36:4 এই জন্য, হে ইস্রায়েলের পাহাড়েরা, সার্বভৌম সদাপ্রভুর বাক্য শোনো: সার্বভৌম সদাপ্রভু পাহাড় ও ছোটো পাহাড়, খাদ ও উপত্যকাগুলি, জনশূন্য ধ্বংসস্থান ও পরিত্যক্ত নগর সকলকে এই কথা বলেন, তোমরা চারিদিকের জাতিগণের বাকি অংশের লুট ও হাসির পাত্র হয়েছ।
EZE 36:5 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমার অন্তরের জ্বালায় আমি অন্যান্য জাতিদের ও সমস্ত ইদোমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, কারণ তাদের মনের আনন্দে ও হিংসায় তারা আমার দেশকে নিজেদের দখলে এনেছে যেন তারা তার চারণভূমি লুট করতে পারে।’
EZE 36:6 অতএব তুমি ইস্রায়েল দেশ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং পাহাড় ও ছোটো পাহাড়, খাদ ও উপত্যকাগুলিকে বলো ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমার জ্বালাপূর্ণ ক্রোধে আমি এই কথা বলছি, কারণ তোমরা অন্যান্য জাতির কাছ থেকে অপমান ভোগ করেছ।
EZE 36:7 এই জন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি হাত তুলে শপথ করে বলছি যে, তোমাদের চারপাশের জাতিরাও অপমান ভোগ করবে।
EZE 36:8 “ ‘কিন্তু তোমরা, হে ইস্রায়েলের পাহাড়েরা, তোমাদের গাছের ডালপালা ছড়িয়ে দিয়ে আমার লোক ইস্রায়েলীদের অনেক ফল দেবে, কারণ তারা শীঘ্রই ফিরে আসবে।
EZE 36:9 আমি তোমাদের পক্ষে আছি এবং তোমাদের দিকে মনোযোগ দেব; তাতে তোমাদের উপর চাষ করা ও বীজ বোনা হবে,
EZE 36:10 হ্যাঁ, সমস্ত ইস্রায়েল—আমি তোমার উপরে অসংখ্য মানুষকে থাকতে দেব। নগরগুলিতে লোকজন বাস করবে এবং ধ্বংসস্থানগুলি আবার গড়া হবে।
EZE 36:11 আমি তোমার উপরে বসবাসকারী মানুষ ও পশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেব এবং তারা ফলবান ও সংখ্যায় অনেক হবে। আমি তোমাদের উপরে আগের মতোই লোকজন বাস করাব এবং আগের চেয়েও তোমাদের বেশি সফলতা দান করব। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 36:12 আমি তোমার উপর লোকজনকে, আমার লোক ইস্রায়েলকে, বসবাস করাব। তারা তোমাদের অধিকার করবে, এবং তোমরা তাদের উত্তরাধিকারের জায়গা হবে; তোমরা আর কখনও তাদের সন্তানহারা করবে না।
EZE 36:13 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যেহেতু কিছু লোক তোমাদের বলে, “তুমি মানুষকে গ্রাস করো এবং নিজের জাতিকে সন্তানহারা করো,”
EZE 36:14 সেইহেতু তুমি মানুষকে আর গ্রাস করবে না কিংবা তোমার জাতিকে সন্তানহারা করবে না, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 36:15 আমি তোমাকে আর জাতিগণের ঠাট্টা-বিদ্রুপ শোনাব না, এবং তাদের করা অপমান আর তোমাকে সহ্য করতে হবে না অথবা তোমার জাতি আর বিঘ্ন পাবে না, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 36:16 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে আবার উপস্থিত হল:
EZE 36:17 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েলীরা নিজেদের দেশে বাস করার সময়ে তাদের আচার-ব্যবহার ও কাজকর্ম দিয়ে দেশটা অশুচি করেছিল। আমার চোখে তাদের আচার-ব্যবহার ছিল এক ঋতুকালীন স্ত্রীলোকের মতন।
EZE 36:18 সেইজন্য আমি তাদের উপর আমার ক্রোধ ঢেলে দিয়েছিলাম কারণ তারা দেশের মধ্যে রক্তপাত করেছিল আর তাদের প্রতিমাগুলি দিয়ে দেশটা অশুচি করেছিল।
EZE 36:19 আমি তাদের জাতিদের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করেছি আর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি; আমি তাদের আচার-ব্যবহার ও কাজকর্ম অনুসারে বিচার করেছি।
EZE 36:20 আর তারা জাতিদের মধ্যে যেখানেই গেছে সেখানেই আমার পবিত্র নাম অপবিত্র করেছে, কারণ লোকে তাদের সম্বন্ধে বলেছে, ‘এরা সদাপ্রভুর লোক, অথচ তাঁর দেশ তাদের ছাড়তে হয়েছে।’
EZE 36:21 আমার নামের পবিত্রতা রক্ষার দিকে আমার মনোযোগ ছিল, যা ইস্রায়েল জাতি যা সব জাতির মধ্যে গেছে সেখানেই আমার নাম অপবিত্র করেছে।
EZE 36:22 “অতএব ইস্রায়েল কুলকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে ইস্রায়েল কুল, আমি যে তোমাদের জন্য এই কাজ করতে যাচ্ছি তা নয়, কিন্তু আমার সেই পবিত্র নামের জন্যিই করব, যা তোমরা যেখানে গিয়েছ সেখানেই জাতিগণের মধ্যে অপবিত্র করেছ।
EZE 36:23 আমি আমার মহান নামের পবিত্রতা দেখাব, যা জাতিগণের মধ্যে অপবিত্র করা হয়েছে, যে নাম তুমি তাদের মধ্যে অপবিত্র করেছ। আর জাতিগণ জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু, যখন আমি তাদের চোখের সামনে তোমাদের মধ্য দিয়ে নিজের পবিত্রতা দেখাব, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 36:24 “ ‘আমি জাতিগণের মধ্যে দিয়ে তোমাদের বের করে আনব; সমস্ত দেশ থেকে আমি তোমাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনব।
EZE 36:25 আমি তোমাদের উপর পরিষ্কার জল ছিটিয়ে দেব, আর তাতে তোমরা শুচি হবে; তোমাদের সমস্ত নোংরামি ও প্রতিমা থেকে আমি তোমাদের শুচি করব।
EZE 36:26 আমি তোমাদের এক নতুন হৃদয় দেব ও তোমাদের অন্তরে এক নতুন আত্মা দেব। আমি তোমাদের ভিতর থেকে পাথরের হৃদয় বের করে মাংসের হৃদয় দেব।
EZE 36:27 আর আমি তোমার মধ্যে আমার আত্মা স্থাপন করব এবং এমন করব যাতে তোমরা আমার সব নিয়ম পালন করো ও আমার বিধানের বিষয়ে যত্নবান হও।
EZE 36:28 তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ আমি দিয়েছিলাম সেখানে তোমরা বাস করবে; তোমরা আমারই লোক হবে, আর আমি তোমাদের ঈশ্বর হব।
EZE 36:29 আমি তোমাদের সব অশুচিতা থেকে তোমাদের রক্ষা করব। আমি তোমাদের প্রচুর ফসল দেব এবং তোমাদের দেশে আর দুর্ভিক্ষ আনব না।
EZE 36:30 আমি গাছের ফল ও ক্ষেতের ফসল বৃদ্ধি করব, যেন দুর্ভিক্ষের দরুন তোমরা জাতিগণের মধ্যে আর অসম্মান ভোগ না করো।
EZE 36:31 তখন তোমরা তোমাদের মন্দ আচরণ ও অসৎ কাজের কথা স্মরণ করবে এবং নিজেদের পাপ ও জঘন্য কাজকর্মের জন্য নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করবে।
EZE 36:32 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, তোমরা জেনে রাখো যে, আমি তোমাদের জন্য এই কাজ করছি তা নয়। হে ইস্রায়েল কুল, তোমাদের আচরণের জন্য তোমরা লজ্জিত ও দুঃখিত হও!
EZE 36:33 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যেদিন আমি সব পাপ থেকে তোমাদের পরিষ্কার করব সেদিনই আমি নগরগুলিতে লোকদের বাস করাব এবং ধ্বংসস্থানগুলি আবার তৈরি করা হবে।
EZE 36:34 পথিকেরা যে দেশ ধ্বংস অবস্থায় দেখত সেখানে কৃষিকাজ হবে।
EZE 36:35 তারা বলবে, “এই দেশটা আগে ধ্বংস হয়ে পড়েছিল সেটি এখন এদন উদ্যানের মতো হয়েছে; নগরগুলি ধ্বংস অবস্থায় পড়েছিল, জনশূন্য ও ভাঙাচোরা হয়েছিল, এখন সেগুলি প্রাচীরে ঘেরা ও লোকেরা সেখানে বাস করছে।”
EZE 36:36 তখন তোমাদের চারপাশের বেঁচে থাকা জাতিরা জানবে যে, আমি সদাপ্রভুই ভাঙা জায়গা আবার গড়েছি এবং পতিত জায়গায় আবার গাছ লাগিয়েছি। আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি এবং আমি তাই করব।’
EZE 36:37 “সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি আর একবার ইস্রায়েল কুলকে আমার কাছে অনুরোধ জানাতে দেব এবং এই কাজ তাদের জন্য করব: আমি তাদের লোকসংখ্যা মেষপালের মতো বৃদ্ধি করব,
EZE 36:38 যেমন জেরুশালেমে পর্বের সময় উৎসর্গের জন্য মেষে ভরে যায়। তেমনি ধ্বংস হওয়া নগরগুলি মানুষে ভরে যাবে। তখন তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।”
EZE 37:1 সদাপ্রভুর হাত আমার উপরে ছিল এবং তিনি সদাপ্রভুর আত্মায় আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি উপত্যকার মাঝখানে রাখলেন; সেটি হাড়ে ভর্তি ছিল।
EZE 37:2 তিনি আমাকে তার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করালেন, আর আমি সেই উপত্যকার মধ্যে অসংখ্য হাড় দেখলাম, হাড়গুলি ছিল খুব শুকনো।
EZE 37:3 তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে মানবসন্তান, এই হাড়গুলি কি বেঁচে উঠতে পারে?” আমি বললাম, “হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, তুমিই কেবল তা জান।”
EZE 37:4 তখন তিনি আমাকে বললেন, “এই হাড়গুলির উদ্দেশ্যে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং তাদের বলো, ‘হে শুকনো হাড়, সদাপ্রভুর বাক্য শোনো!
EZE 37:5 এই হাড়গুলিকে সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে নিঃশ্বাস ঢুকিয়ে দেব আর তোমরা জীবিত হবে।
EZE 37:6 আমি তোমাদের উপরে শিরা দেব, তোমাদের উপরে মাংস তৈরি করব এবং চামড়া দিয়ে তা ঢেকে দেব; আমি তোমাদের মধ্যে নিঃশ্বাস দেব আর তোমরা জীবিত হবে। তখন তোমরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।’ ”
EZE 37:7 আমাকে যেমন আদেশ করা হয়েছিল তেমনই আমি ভবিষ্যদ্‌বাণী করলাম। আর আমি যখন ভবিষ্যদ্‌বাণী করছিলাম, তখন একটি আওয়াজ হল, একটি ঘর্ঘর শব্দ, আর হাড়গুলি প্রত্যেকটা নিজের নিজের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হল।
EZE 37:8 আমি দেখলাম, আর তাদের উপরে শিরা হল ও মাংস উৎপন্ন হল এবং চামড়া দিয়ে তা ঢাকা পড়ল, কিন্তু তাদের মধ্যে শ্বাস ছিল না।
EZE 37:9 তখন তিনি আমাকে বললেন, “বাতাসের উদ্দেশ্যে ভাববাণী বলো; হে মনুষের সন্তান, ভাববাণী বলো আর তাকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে বাতাস, তুমি চারদিক থেকে এসো এবং এসব নিহত লোকদের মধ্যে শ্বাস দাও যেন তারা জীবিত হয়।’ ”
EZE 37:10 সেইজন্য তাঁর আদেশমতোই আমি ভবিষ্যদ্‌বাণী বললাম আর তখন তাদের মধ্যে শ্বাস ঢুকল; তারা জীবিত হয়ে পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল, তারা ছিল এক বিরাট সৈন্যদল।
EZE 37:11 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, এই হাড়গুলি হল সমস্ত ইস্রায়েল কুল। তারা বলছে, ‘আমাদের হাড়গুলি শুকিয়ে গেছে আর আমাদের আশাও চলে গেছে; আমরা মরে গেছি।’
EZE 37:12 এজন্য তুমি ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে আমার লোকসকল, আমি তোমাদের কবর খুলে দেব এবং তোমাদের সেখান থেকে বার করে আনব; তোমাদের আমি আবার ইস্রায়েল দেশে ফিরিয়ে আনব।
EZE 37:13 আমি যখন তোমাদের কবর খুলে তোমাদের বের করে আনব তখন আমার লোকেরা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 37:14 আমি তোমাদের মধ্যে আমার আত্মা দেব এবং তোমরা জীবিত হবে ও আমি তোমাদের নিজেদের দেশে বাস করাব। তখন তোমরা জানবে যে, আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি এবং সেইমতো কাজ করেছি, সদাপ্রভু এই কথা বলেন।’ ”
EZE 37:15 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 37:16 “হে মানবসন্তান, একটি কাঠের লাঠি নিয়ে তুমি তার উপর এই কথা লেখ, ‘যিহূদা ও তাঁর সঙ্গের ইস্রায়েলীদের জন্য।’ তারপর আরও একটি কাঠের লাঠি নিয়ে তার উপর লেখ, ‘যোষেফের লাঠি (মানে ইফ্রয়িমের) ও তাঁর সঙ্গের সমস্ত ইস্রায়েলীদের জন্য।’
EZE 37:17 সেই দুটো লাঠি জোড়া দিয়ে একটি লাঠি বানাও যেন তোমার হাতে সেই দুটো একটি লাঠিই হয়।
EZE 37:18 “তোমার জাতির লোকেরা যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তুমি কি এর মানে আমাদের বলবে না?’
EZE 37:19 তাদের বোলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমি যোষেফের লাঠি গ্রহণ করব—যেটি ইফ্রয়িমের হাতে আছে—এবং ইস্রায়েলীদের গোষ্ঠীগুলির যে লাঠিটি আছে আমি সেটি নিয়ে যিহূদার লাঠির সঙ্গে জোড়া দিয়ে একটি কাঠের লাঠিই বানাব, আর সেই দুই লাঠি আমার হাতে একটিই হবে।’
EZE 37:20 যে লাঠির উপর তুমি লিখেছ সেগুলি তোমার চোখের সামনে তুলে ধরো
EZE 37:21 আর তাদের বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ইস্রায়েলীরা যেসব জাতিদের মধ্যে আছে সেখান থেকে আমি তাদের বার করে আনব এবং চারদিক থেকে তাদের জড়ো করে তাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।
EZE 37:22 ইস্রায়েলের পাহাড়গুলির উপরে আমি তাদের একই জাতি করব। তাদের সকলের উপরে একজনই রাজা হবে এবং তারা কখনও দুই জাতি হবে না কিংবা দুই রাজ্যে বিভক্ত হবে না।
EZE 37:23 তাদের সব প্রতিমা, ঘৃণ্য মূর্তি কিংবা তাদের কোনও অন্যায় দিয়ে তারা আর নিজেদের অশুচি করবে না, কারণ আমি তাদের সব পাপ ও বিপথে যাওয়া থেকে তাদের রক্ষা করব এবং শুচি করব। তারা আমার প্রজা হবে, এবং আমি তাদের ঈশ্বর হব।
EZE 37:24 “ ‘আমার দাস দাউদ তাদের রাজা হবে এবং তাদের পালক একজনই হবে। তারা আমার নিয়ম পালন করবে ও আমার বিধানের বিষয় যত্নবান হবে।
EZE 37:25 যে দেশ আমি আমার দাস যাকোবকে দিয়েছি, যে দেশে তাদের পূর্বপুরুষেরা বাস করেছে সেখানেই তারা বাস করবে। তারা, তাদের ছেলেমেয়েরা ও নাতিপুতিরা সেখানে চিরকাল বাস করবে এবং আমার দাস দাউদ চিরকাল তাদের রাজা হবে।
EZE 37:26 আমি তাদের সঙ্গে এক শান্তির নিয়ম স্থাপন করব; সেটি হবে একটি চিরস্থায়ী বিধান। আমি তাদের বসাব ও সংখ্যায় বাড়াব এবং আমি আমার পবিত্রস্থান চিরকালের জন্য তাদের মধ্যে স্থাপন করব।
EZE 37:27 আমার বাসস্থান তাদের মধ্যে হবে; আমি তাদের ঈশ্বর হব এবং তারা আমার প্রজা হবে।
EZE 37:28 তখন জাতিগণ জানবে যে আমিই সদাপ্রভু যে ইস্রায়েলকে পবিত্র করেছে, যখন আমার পবিত্রস্থান চিরকাল তাদের মধ্যে থাকবে।’ ”
EZE 38:1 সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
EZE 38:2 “হে মানবসন্তান, তুমি মাগোগ দেশের মেশক ও তূবলের প্রধান শাসনকর্তা গোগের দিকে মুখ করে তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো
EZE 38:3 এবং বলো: ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে গোগ, মেশক ও তূবলের প্রধান শাসনকর্তা, আমি তোমার বিপক্ষে।
EZE 38:4 আমি তোমাকে পিছন ঘুরিয়ে তোমার চোয়ালে বড়শি পরাব এবং তোমার গোটা সৈন্যদলের সঙ্গে—তোমার ঘোড়া সকল, সম্পূর্ণ যুদ্ধের সজ্জা পরা অশ্বারোহী সকল, বড়ো ও ছোটো ঢালধারী বিরাট সৈন্যদল যারা তরোয়াল ঘোরাচ্ছে সকলকে বাইরে আনব।
EZE 38:5 পারস্য, কূশ ও পূট তাদের সঙ্গে থাকবে, তারা সকলে ঢাল ও শিরস্ত্রাণধারী,
EZE 38:6 আর গোমর ও তার সৈন্যদল, এবং উত্তর দিকের শেষ সীমার বেৎ-তোগর্মের সব সৈন্য—ও অনেক জাতি তোমার সঙ্গী হবে।
EZE 38:7 “ ‘প্রস্তুত হও, তুমি ও তোমার সমস্ত লোকজন যারা তোমার চারপাশে আছে, নিজেদের প্রস্তুত করো, এবং তুমি তাদের সেনাপতি হও।
EZE 38:8 অনেক দিনের পর তোমাকে যুদ্ধের জন্য ডাকা হবে। ভবিষ্যতে তুমি এমন একটি দেশ আক্রমণ করবে যে দেশ যুদ্ধ থেকে রেহাই পেয়েছে, যার লোকেরা অনেক জাতির মধ্য থেকে ইস্রায়েলের পাহাড়গুলিও জড়ো হবে, যে জায়গা অনেক দিন ধরে জনশূন্য ছিল। তাদের জাতিগণের মধ্যে থেকে বের করে আনা হয়েছে, এবং এখন তারা সকলে নিরাপদে বাস করছে।
EZE 38:9 তুমি ও তোমার সব সৈন্যেরা এবং তোমার সঙ্গের অনেক জাতি সেই দেশ আক্রমণ করতে ঝড়ের মতো এগিয়ে যাবে; তোমরা মেঘের মতো করে দেশটাকে ঢেকে ফেলবে।
EZE 38:10 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, সেদিন তোমার মনে বিভিন্ন চিন্তা আসবে এবং তুমি একটি খারাপ মতলব আঁটবে।
EZE 38:11 তুমি বলবে, “আমি এমন একটি দেশ আক্রমণ করব যার গ্রামগুলিতে প্রাচীর নেই; আমি শান্তিতে এবং সন্দেহ করে না এমন লোকদের আক্রমণ করব—যারা সকলে এমন জায়গায় বাস করে যেখানে প্রাচীর, ফটক ও অর্গল নেই।
EZE 38:12 আমি জিনিস কেড়ে নেব ও লুট করব এবং ধ্বংসস্থান ঠিক করে নেওয়া জায়গাগুলির বিরুদ্ধে আর জাতিগণের মধ্য থেকে জড়ো হওয়া লোকদের বিরুদ্ধে আমার হাত উঠাব, যারা পশুপালে ও জিনিসপত্রে ধনী, এবং দেশটা হবে পৃথিবীর কেন্দ্র।”
EZE 38:13 শিবা, দদান এবং তর্শীশ ও তার সব গ্রামের ব্যবসায়ীরা এবং সেখানকার সব যুবসিংহরা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে, “তোমরা কি লুটপাট করতে এসেছ? তোমরা কি দলবল জড়ো করেছ সোনা ও রুপো, পশুপাল ও জিনিসপত্র নিয়ে যাবার জন্য আর অনেক জিনিস কেড়ে নেবার জন্য?” ’
EZE 38:14 “অতএব, হে মানবসন্তান, ভবিষ্যদ্‌বাণী করো এবং গোগকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, সেদিন যখন আমার লোক ইস্রায়েল নিরাপদে বাস করবে তখন তুমি খেয়াল করবে না?
EZE 38:15 তুমি উত্তর দিকের শেষ সীমা থেকে আসবে, তোমার সঙ্গে থাকবে অনেক জাতির লোকেরা যারা ঘোড়ায় চড়ে এক বিরাট দল ও এক শক্তিশালী সৈন্যদল হয়ে আসবে।
EZE 38:16 দেশটা মেঘের মতো করে ঢেকে ফেলবার জন্য তুমি আমার লোক ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসবে। হে গোগ, ভবিষ্যতে আমি আমার দেশের বিরুদ্ধে তোমাকে আনব, তখন আমি জাতিগণের চোখের সামনে তোমার মধ্য দিয়ে নিজেকে পবিত্র বলে দেখাব যেন তারা আমাকে জানতে পারে।
EZE 38:17 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি কি সেই সেই লোক নও যার বিষয়ে আমি আগে আমার দাসদের যারা ইস্রায়েলী ভাববাদীদের মাধ্যমে বলেছি? সেই সময় বছরের পর বছর ভাববাদীরা বলেছিল যে, আমি তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে আনব।
EZE 38:18 সেদিন যখন গোগ ইস্রায়েল দেশের বিরুদ্ধে আসবে তখন আমার ভীষণ ক্রোধ জ্বলে উঠবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 38:19 আমার আগ্রহে ও জ্বলন্ত ক্রোধে আমি ঘোষণা করছি যে, সেই সময়ে ইস্রায়েল দেশে ভীষণ ভূমিকম্প হবে।
EZE 38:20 তাতে সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখি, বনের পশু, মাটির উপরের চলমান প্রত্যেকটা প্রাণী আর পৃথিবীর সমস্ত লোক আমার সামনে কাঁপতে থাকবে। পাহাড়গুলি উল্টে যাবে, খাঁড়া উঁচু পাহাড় টুকরো টুকরো হয়ে পড়বে এবং সব প্রাচীর মাটিতে পড়ে যাবে।
EZE 38:21 আমার সমস্ত পাহাড়ে আমি গোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ডেকে আনব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন। প্রত্যেক মানুষের তরোয়াল তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থাকবে।
EZE 38:22 আমি মহামারি ও রক্তপাত দিয়ে তাকে শাস্তি দেব; আমি ভীষণ বৃষ্টি, শিলা ও জ্বলন্ত গন্ধক তার উপর, তার সৈন্যদলের উপর ও তার সঙ্গের সমস্ত জাতির উপর ঢেলে দেব।
EZE 38:23 আর আমি আমার মহত্ত্ব ও পবিত্রতা প্রকাশ করব, আর আমি অনেক জাতির সামনে নিজের পরিচয় দেব। তখন তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।’
EZE 39:1 “হে মানবসন্তান, তুমি গোগের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো আর বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে গোগ, রোশ, মেশক ও তূবলের প্রধান শাসনকর্তা, আমি তোমার বিপক্ষে।
EZE 39:2 আমি তোমাকে পিছনে ঘুরিয়ে টেনে নিয়ে যাব। আমি তোমাকে উত্তর দিকের শেষ সীমা থেকে নিয়ে এসে ইস্রায়েলের পাহাড়গুলির বিরুদ্ধে পাঠাব।
EZE 39:3 তারপর আমি আঘাত করে বাঁ হাত থেকে তোমার ধনুক ও ডান হাত থেকে তোমার তিরগুলি ফেলে দেব।
EZE 39:4 ইস্রায়েলের পাহাড়গুলির উপরে তুমি, তোমার সব সৈন্যেরা ও তোমার সঙ্গের জাতিরা পড়ে থাকবে। আমি তোমাকে হিংস্র পাখি ও বুনো পশুদের খাবার হিসেবে দেব।
EZE 39:5 তুমি খোলা মাঠে পড়ে থাকবে, কারণ আমি সদাপ্রভু এই কথা বলেছি, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 39:6 আমি মাগোগের উপরে এবং যারা দূরের দেশগুলিতে নিরাপদে বাস করছে তাদের উপরে আগুন পাঠাব, আর তারা জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু।
EZE 39:7 “ ‘আমার লোক ইস্রায়েলীদের মধ্যে আমি আমার পবিত্রতা প্রকাশ করব। আমি আর আমার পবিত্র নাম অপবিত্র হতে দেব না, তাতে জাতিগণ জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের মধ্যে পবিত্রতম।
EZE 39:8 এটি আসছে! এটি নিশ্চয়ই হবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন। এই দিনের কথাই আমি বলেছি।
EZE 39:9 “ ‘তখন যারা ইস্রায়েলের নগরে বাস করছে তারা বাইরে গিয়ে জ্বালানি কাঠ হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র পোড়াবে—ছোটো ও বড়ো ঢাল, তির ও ধনুক, যুদ্ধের গদা ও বল্লম। সাত বছর ধরে তারা জ্বালানি হিসেবে এগুলি ব্যবহার করবে।
EZE 39:10 তারা মাঠ থেকে কাঠ আনবে না, বনের গাছ কাটবে না, কারণ তারা সেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই আগুন জ্বালাবে। এবং তাদের লুটকারীদের ধন লুট করবে ও যারা তাদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল তাদের সম্পত্তি কেড়ে নেবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 39:11 “ ‘সেদিন গোগকে আমি ইস্রায়েলের মধ্যে একটি কবরস্থান দেব, সেটি সমুদ্রের পূর্বদিকে পথিকদের উপত্যকা এবং এটি তাদের পথ বন্ধ করে দেবে কারণ সেখানে গোগ ও তার সমস্ত লোকদের কবর দেওয়া হবে। সেইজন্য এটাকে বলা হবে হা্মোন গোগের উপত্যকা।
EZE 39:12 “ ‘সাত মাস ধরে ইস্রায়েল কুল তাদের কবর দিয়ে দেশটা পরিষ্কার করবে।
EZE 39:13 দেশের সব লোক তাদের কবর দেবে, এবং যেদিন আমি গৌরবান্বিত হব সেদিন তাদের কাছে স্মরণীয় হবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 39:14 দেশ পরিষ্কার করার জন্য নিয়মিত লোকদের নিয়োগ করা হবে। কিছু দেশের চারিদিকে যাবে, আর তার অতিরিক্ত লোক, যা কিছু মাঠে পড়ে থাকবে তাদের কবর দেবে। “ ‘সাত মাস শেষ হলে তারা তাদের বিশদ খোঁজ শুরু করবে।
EZE 39:15 তারা যখন দেশের মধ্যে দিয়ে যাবে এবং একজন মানুষের হাড় দেখবে, সে তার পাশে একটি চিহ্ন গাঁথবে যতক্ষণ না কবর খোঁড়ার লোকেরা সেটি হা্মোন গোগের উপত্যকায় কবর দিচ্ছে,
EZE 39:16 হামোনা নামে এক নগরের কাছে। এইভাবে তারা দেশ পরিষ্কার করবে।’
EZE 39:17 “হে মানবসন্তান, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, তুমি সব রকম পাখি ও সব রকম বন্যপশুদের ডাক দিয়ে বলো, ‘তোমাদের জন্য যে বলিদানের ব্যবস্থা করছি তার জন্য তোমরা সবদিক থেকে জড়ো হও, কেননা আমি ইস্রায়েলের পাহাড়গুলির উপরে মহান বলিদানের ব্যবস্থা করেছি। সেখানে তোমরা মাংস খাবে ও রক্ত পান করবে।
EZE 39:18 তোমরা শক্তিশালী লোকদের মাংস খাবে এবং পৃথিবীর শাসনকর্তাদের রক্ত পান করবে যেন তারা পুরুষ মেষ, মেষশাবক, পাঁঠা ও ষাঁড়—এরা সবাই বাশনের নধর পশু।
EZE 39:19 তোমাদের জন্য যে বলিদানের ব্যবস্থা করেছি, সেখানে তোমরা পেট না ভরা পর্যন্ত চর্বি খাবে এবং মাতাল না হওয়া পর্যন্ত রক্ত পান করবে।
EZE 39:20 আমার টেবিলে তোমরা পেট ভরে ঘোড়া, রথচালক, শক্তিশালী লোক ও সব রকম সৈন্যদের মাংস খাবে,’ সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 39:21 “আমি জাতিদের মধ্যে আমার মহিমা প্রকাশ করব, এবং আমার হাত দিয়ে তাদের যে শাস্তি দেব তা সমস্ত জাতিই দেখবে।
EZE 39:22 সেদিন থেকে ইস্রায়েল কুল জানবে যে, আমিই সদাপ্রভু তাদের ঈশ্বর।
EZE 39:23 এবং জাতিরা জানবে যে ইস্রায়েল কুল তাদের পাপের জন্য নির্বাসিত হয়েছিল, কারণ তারা আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছিল। সেইজন্য আমার মুখ আমি তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে রেখেছিলাম ও শত্রুদের হাতে তাদের তুলে দিয়েছিলাম আর তারা সকলে যুদ্ধে মারা পড়েছিল।
EZE 39:24 তাদের অশুচিতা ও পাপ অনুসারে আমি তাদের সঙ্গে ব্যবহার করেছিলাম এবং তাদের কাছ থেকে আমার মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলাম।
EZE 39:25 “এজন্য সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, আমি এখন যাকোবকে বন্দিদশা থেকে ফিরিয়ে আনব ও সমস্ত ইস্রায়েল কুলের প্রতি করুণা করব এবং আমার নামের পবিত্রতার জন্য আগ্রহী হব।
EZE 39:26 তারা যখন তাদের দেশে নিরাপদে বাস করবে এবং কেউ তাদের ভয় দেখাবে না তখন আমার প্রতি অবিশ্বস্ততার দরুন তাদের লজ্জার কথা তারা ভুলে যাবে।
EZE 39:27 জাতিগণের মধ্য থেকে আমি যখন তাদের ফিরিয়ে আনব শত্রুদের দেশ থেকে তাদের জড়ো করব তখন অনেক জাতির চোখের সামনে আমি তাদের মধ্য দিয়ে আমার পবিত্রতা প্রকাশ করব।
EZE 39:28 তখন তারা জানবে যে, আমিই তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, কারণ বিভিন্ন জাতির মধ্যে তাদের বন্দিদশায় পাঠালেও আমি তাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনব, কাউকে ফেলে রাখব না।
EZE 39:29 তাদের কাছ থেকে আমি আর আমার মুখ ফিরিয়ে রাখব না, কারণ ইস্রায়েল কুলের উপরে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 40:1 আমাদের বন্দিদশার পঁচিশ বছরে, বছরের শুরুতে, মাসের দশ দিনের দিন, নগরের পতনের চৌদ্দ বছরে, সেদিনে সদাপ্রভুর হাত আমার উপরে ছিল এবং তিনি আমাকে সেখানে নিয়ে গেলেন।
EZE 40:2 ঈশ্বরীয় দর্শনে, তিনি আমাকে ইস্রায়েল দেশে নিয়ে গিয়ে একটি উঁচু পাহাড়ের উপরে রাখলেন, যার দক্ষিণ পাশে কতগুলি দালান ছিল যেগুলি দেখতে নগরের মতো।
EZE 40:3 তিনি আমাকে সেখানে নিয়ে গেলেন, আর আমি এক পুরুষকে দেখলাম যার চেহারা পিতলের মতো; হাতে মসিনার দড়ি ও মাপকাঠি নিয়ে তিনি দ্বারে দাঁড়িয়েছিল।
EZE 40:4 সেই পুরুষ আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, তুমি চোখ দিয়ে দেখো ও কান দিয়ে শোনো এবং আমি তোমাকে যা দেখাব তার সব কিছুতে মনোযোগ দাও, কারণ সেইজন্যই তোমাকে এখানে আনা হয়েছে। তুমি যা কিছু দেখবে সবই ইস্রায়েল কুলকে বলবে।”
EZE 40:5 আমি একটি প্রাচীর দেখলাম যা মন্দিরের চারিদিক ঘিরে ছিল। লোকটির হাতের মাপের দণ্ডটি লম্বায় ছয় হাত, প্রত্যেক হাত এক হাত চার আঙুল করে লম্বা। তিনি প্রাচীরটি মাপলেন; সেটি এক মাপকাঠি মোটা আর এক মাপকাঠি উঁচু।
EZE 40:6 পরে তিনি পূর্বমুখী দ্বারের কাছে গেলেন। তিনি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে দ্বারের ঢুকবার মুখটা মাপলেন; সেটির প্রস্থ ছিল এক মাপকাঠি।
EZE 40:7 দ্বারের পাহারাদারদের ঘরগুলি এক মাপকাঠি লম্বা ও এক মাপকাঠি চওড়া এবং এক ঘর থেকে আর এক ঘরের মধ্যেকার দেয়াল পাঁচ হাত মোটা ছিল। আর দ্বারের বারান্দার পাশে মন্দিরের দ্বারের ঢুকবার মুখটা ছিল এক মাপকাঠি লম্বা।
EZE 40:8 তারপর তিনি দ্বারের বারান্দা মাপলেন;
EZE 40:9 সেটি ছিল আট হাত লম্বা এবং তার থামগুলি দু-হাত চওড়া। দ্বারের বারান্দা মন্দিরের দিকে ছিল।
EZE 40:10 পূর্বদিকের দ্বারের ভিতরের দুই পাশে তিনটি করে ঘর ছিল; তিনটির মাপ একই ছিল, এবং সেগুলির মধ্যেকার দেয়ালগুলির প্রত্যেকটার মাপ একই ছিল।
EZE 40:11 তারপর তিনি দ্বারের ঢুকবার পথটা মাপলেন; সেটি লম্বায় তেরো হাত আর চওড়ায় দশ হাত ছিল।
EZE 40:12 ঘরগুলির সামনে দেয়াল এক হাত উঁচু ছিল এবং ঘরগুলি লম্বায় ও চওড়ায় ছিল ছয় হাত।
EZE 40:13 তারপর তিনি একটি ঘরের বাইরের দিক থেকে তার সামনের ঘরের বাইরের দিক পর্যন্ত মাপলেন; একটি ঘরের দেয়ালের খোলা জায়গা থেকে তার সামনের ঘরের দেয়ালের খোলা জায়গার দূরত্ব ছিল পঁচিশ হাত।
EZE 40:14 দ্বারের থাম দুটোর উচ্চতা তিনি মাপলেন—ষাট হাত। থাম দুটো থেকে দ্বারের উঠানের শুরু হয়েছে।
EZE 40:15 দ্বারে ঢুকবার মুখ থেকে দ্বারের শেষ সীমার ঘর পর্যন্ত দূরত্ব ছিল পঞ্চাশ হাত।
EZE 40:16 ঘরগুলির বাইরের দেয়ালে এবং থাম দুটোর পাশের দেয়ালে জালি দেওয়া জানালা ছিল, আর দ্বারের শেষে যে ঘর ছিল তার দেয়ালেও তাই ছিল; এইভাবে দ্বারের দেয়ালগুলিতে ওই রকম জানালা ছিল। এছাড়া থাম দুটোর গায়ে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল।
EZE 40:17 তারপর তিনি আমাকে বাইরের উঠানে আনলেন। সেখানে আমি দেখলাম কিছু ঘর এবং উঠানের চারিদিকে বাঁধানো জায়গা তৈরি করা হয়েছে; বাঁধানো জায়গার ধারে ত্রিশটা ঘর ছিল।
EZE 40:18 সেই বাঁধানো জায়গা প্রত্যেকটি দ্বারের দুই পাশেও ছিল এবং দ্বারের লম্বার সমান ছিল; এটি ছিল নিচের বাঁধানো জায়গা।
EZE 40:19 তারপর তিনি পূর্বদিকের বাইরের উঠানের দ্বারের শেষ সীমা থেকে ভিতরের উঠানের দ্বারে ঢুকবার মুখ পর্যন্ত মাপলেন; তার দূরত্ব ছিল একশো হাত। সেইভাবে উত্তর দিকের দূরত্বও ছিল একশো হাত।
EZE 40:20 তারপর তিনি বাইরের উঠানের উত্তরমুখী দ্বারের লম্বা ও চওড়া মাপলেন।
EZE 40:21 তার ঘরের—দুই পাশে তিনটি করে—মাপ ও তার থামগুলি এবং তার শেষের ঘরের মাপ প্রথম দ্বারের সবকিছুর মাপের মতোই ছিল। সেটি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা ও পঁচিশ হাত চওড়া।
EZE 40:22 তার জানালাগুলি, বারান্দা ও খোদাই করা খেজুর গাছ পূর্বমুখী দ্বারের মতোই ছিল। সেখানে উঠবার সিঁড়ির সাতটি ধাপ ছিল আর তার উল্টোদিকে বারান্দা ছিল।
EZE 40:23 ভিতরের উঠানের পূর্বমুখী দ্বারের মতোই তার উত্তরমুখী একটি দ্বার ছিল, আর তিনি বাইরের উঠানের দ্বার থেকে ভিতরের উঠানের দ্বার পর্যন্ত মাপলেন, তা একশো হাত হল।
EZE 40:24 তারপর তিনি আমাকে দক্ষিণ দিকে নিয়ে গেলেন আর আমি বাইরের উঠানের দক্ষিণমুখী একটি দ্বার দেখলাম। তিনি চৌকাঠের বাজু এবং তার বারান্দা মাপলেন, আর তার মাপ অন্যগুলির মতো একই ছিল।
EZE 40:25 প্রবেশদ্বার এবং তার বারান্দার চারিদিকে সরু জানালা ছিল যেমন অন্যদের ছিল। এটি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা ও পঁচিশ হাত চওড়া।
EZE 40:26 সেখানে উঠবার সিঁড়ির সাতটি ধাপ ছিল, আর তার উল্টোদিকে হোমবলি দানের মণ্ডপ ছিল; দ্বারের ভিতরের দুই পাশের থামগুলিতে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল।
EZE 40:27 ভিতরের উঠানেরও একটি দক্ষিণমুখী দ্বার ছিল, আর তিনি সেই দ্বার থেকে বাইরের উঠানের দক্ষিণমুখী দ্বার পর্যন্ত মাপলেন, তা একশো হাত হল।
EZE 40:28 তারপর তিনি ভিতরের উঠানের দক্ষিণমুখী দ্বারের মধ্য দিয়ে আমাকে নিয়ে গেলেন, এবং তিনি দক্ষিণ দ্বার মাপলেন; সেটি অন্যগুলির মতো একই মাপের হল।
EZE 40:29 তার ঘর, থামগুলি এবং বারান্দার মাপ অন্যগুলির মতো একই হল। প্রবেশদ্বার এবং তার বারান্দার চারিদিকে সরু জানালা ছিল। এটি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা ও পঁচিশ হাত চওড়া।
EZE 40:30 (ভিতরের উঠানের প্রবেশদ্বারের বারান্দার মাপ ছিল পঁচিশ হাত লম্বা ও পাঁচ হাত চওড়া)
EZE 40:31 তার বারান্দার মুখ ছিল বাইরের উঠানের দিকে; চৌকাঠের বাজুতে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল, সেখানে উঠবার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
EZE 40:32 তারপর তিনি আমাকে ভিতরের উঠানের পূর্বদিকে নিয়ে গেলেন, এবং তিনি সেখানকার দ্বার মাপলেন; সেটি অন্যগুলির মতো একই মাপের হল।
EZE 40:33 তার ঘর, থামগুলি এবং বারান্দার মাপ অন্যগুলির মতো একই হল। প্রবেশদ্বার এবং তার বারান্দার চারিদিকে সরু জানালা ছিল। এটি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা ও পঁচিশ হাত চওড়া।
EZE 40:34 তার বারান্দার মুখ বাইরের উঠানের দিকে ছিল; চৌকাঠের বাজুর দুই পাশে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল, সেখানে উঠবার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
EZE 40:35 তারপর তিনি আমাকে উত্তর দিকের দ্বারে নিয়ে গেলেন এবং তিনি সেটি মাপলেন। তার মাপ অন্যগুলির মতো একই হল,
EZE 40:36 যেমন তার ঘর, থামগুলি এবং বারান্দার চারিদিকে সরু জানালা ছিল। এটি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা ও পঁচিশ হাত চওড়া।
EZE 40:37 তার বারান্দার মুখ বাইরের উঠানের দিকে ছিল; চৌকাঠের বাজুর দুই পাশে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল, সেখানে উঠবার সিঁড়ির আটটি ধাপ ছিল।
EZE 40:38 বাইরের উঠানের মধ্যে ভিতরের দ্বারের থামের পাশে একটি ঘর ছিল, যেখানে হোমবলি ধোয়া হত।
EZE 40:39 দ্বারের বারান্দায় দুদিকে দুটি করে টেবিল ছিল, তার উপরে হোমার্থক, পাপার্থক ও দোষার্থক-নৈবেদ্য বধ করা হত।
EZE 40:40 দ্বারের বারান্দার বাইরের দেয়ালের পাশে, উত্তরমুখী দ্বারের ঢুকবার পথের সিঁড়ির কাছে দুটি টেবিল এবং সিঁড়ির অন্য পাশে দুটি টেবিল ছিল।
EZE 40:41 অতএব দ্বারের এক পাশে চারটি ও অন্য পাশে চারটি টেবিল ছিল—মোট আটটি—যার উপরে বলি বধ করা হত।
EZE 40:42 হোমবলির জন্য চারটি টেবিল ছিল যেগুলি পাথর কেটে তৈরি করা, প্রত্যেকটি দেড় হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া এবং এক হাত উঁচু। তার উপরে হোমবলি ও অন্যান্য বলি বধ করার অস্ত্র রাখা হত।
EZE 40:43 চার আঙুল লম্বা দুই কাঁটার আঁকড়া দেয়ালের গায়ে চারিদিকে লাগানো ছিল। টেবিলগুলির উপরে নৈবেদ্যের মাংস রাখা হত।
EZE 40:44 ভিতরের দ্বারের বাইরে, ভিতরের উঠানের মধ্যে দুটো ঘর ছিল, একটি উত্তর দ্বারের পাশে দক্ষিণমুখী এবং অন্যটি দক্ষিণ-দ্বারের পাশে উত্তরমুখী।
EZE 40:45 তিনি আমাকে বললেন, “দক্ষিণমুখী ঘর যাজকদের জন্য যারা মন্দিরের দায়িত্বে আছে,
EZE 40:46 এবং উত্তরমুখী ঘর সেই যাজকদের জন্য যারা বেদির দায়িত্বে আছে। এরা হল সাদোকের ছেলেরা, কেবল তারাই একমাত্র লেবীয় যারা সদাপ্রভুর সামনে তাঁর সেবাকাজের জন্য যেতে পারে।”
EZE 40:47 তারপর তিনি উঠানটা মাপলেন সেটি—একশো হাত লম্বা ও একশো হাত চওড়া একটি চারকোণা জায়গা। আর বেদিটি মন্দিরের সামনে ছিল।
EZE 40:48 তিনি আমাকে মন্দিরের বারান্দায় আনলেন এবং বারান্দার চৌকাঠের বাজু মাপলেন; উভয় দিকের সেগুলি পাঁচ হাত চওড়া ছিল। প্রবেশদ্বার চোদ্দ হাত এবং উভয় দিকের থামগুলি তিন হাত চওড়া ছিল।
EZE 40:49 বারান্দা কুড়ি হাত চওড়া ছিল এবং সামনে থেকে পিছন পর্যন্ত বারো হাত ছিল। সেখানে উঠবার একটি সিঁড়ি ছিল এবং সেই দুটো বাজুর সামনে ছিল একটি করে থাম।
EZE 41:1 তারপর সেই ব্যক্তি মূল হল ঘরে নিয়ে গিয়ে চৌকাঠের বাজু মাপলেন; দুই দিকের বাজু চওড়ায় ছয় হাত ছিল।
EZE 41:2 প্রবেশস্থান ছিল দশ হাত চওড়া, এবং তার দুই পাশে পাঁচ হাত করে ছিল। তিনি মূল হল ঘরেও মাপলেন; সেটি চল্লিশ হাত লম্বা ও কুড়ি হাত চওড়া ছিল।
EZE 41:3 তারপর তিনি মন্দিরের ভিতরে ঘরে গেলেন এবং প্রবেশস্থানের বাজু মাপলেন; প্রতিটি দু-হাত চওড়া ছিল। প্রবেশস্থান ছিল ছয় হাত চওড়া, এবং তার দুই পাশে সাত হাত করে ছিল।
EZE 41:4 আর তিনি ভিতরে উপাসনার স্থানের মাপ নিলেন; সেটি কুড়ি হাত লম্বা এবং মূল হলঘর পর্যন্ত চওড়ায় কুড়ি হাত ছিল। তিনি আমাকে বললেন, “এটাই মহাপবিত্র স্থান।”
EZE 41:5 তারপর তিনি মন্দিরের দেয়াল মাপলেন; সেটি ছিল ছয় হাত মোটা এবং সেই দেয়ালের চারিদিকে ঘর প্রত্যেকটা চওড়ায় চার হাত ছিল।
EZE 41:6 সেই পাশের ঘরগুলি একটির উপরে আর একটি করে তিনতলা ছিল, প্রত্যেক তলাতে ত্রিশটা করে ঘর ছিল। ঘরগুলির ভার বইবার জন্য মন্দিরের দেয়ালের চারপাশে থাকো ছিল, কিন্তু সেগুলি মন্দিরের দেয়ালের মধ্যে ঢুকানো ছিল না।
EZE 41:7 মন্দিরের পাশের ঘরগুলি চওড়ায় নিচের তলা থেকে উপরের তলা পর্যন্ত পরপর বেড়ে গিয়েছিল। নিচের তলা থেকে মাঝের তলার মধ্য দিয়ে উপর তলা পর্যন্ত একটি সিঁড়ি উঠেছিল।
EZE 41:8 আমি দেখলাম মন্দিরটা একটি উঁচু সমান জায়গার উপরে রয়েছে, যা মন্দিরের ও পাশের ঘরগুলির ভিত্তি। সেই ভিত্তি একটি মাপকাঠি সমান ছিল যা ছয় হাত লম্বা।
EZE 41:9 ঘরগুলির বাইরের দেয়াল ছিল পাঁচ হাত মোটা। যে খোলা জায়গা মন্দিরের পাশের ঘর থেকে
EZE 41:10 যাজকদের ঘর পর্যন্ত ছিল সেটি মন্দিরের চারিদিকে ছিল কুড়ি হাত।
EZE 41:11 খোলা জায়গা থেকে পাশের ঘরগুলিতে ঢোকার পথ ছিল, একটি উত্তর দিকে আরেকটা দক্ষিণ দিকে; আর খোলা জায়গার চারিদিকের ভিত্তি পাঁচ হাত চওড়া ছিল।
EZE 41:12 মন্দিরের পশ্চিমদিকে খোলা জায়গার শেষ সীমায় একটি দালান ছিল যেটা সত্তর হাত চওড়া। দালানের দেয়াল চারিদিক পাঁচ হাত মোটা এবং লম্বা নব্বই হাত ছিল।
EZE 41:13 তারপর তিনি মন্দির মাপলেন; সেটি লম্বায় একশো হাত এবং মন্দিরের উঠান আর দালানের দেয়াল পর্যন্তও একশো হাত।
EZE 41:14 পূর্বদিকে মন্দিরের উঠান থেকে মন্দিরের সামনে পর্যন্ত চওড়া ছিল একশো হাত।
EZE 41:15 তারপর তিনি মন্দিরের পিছনে উঠানের দিকে মুখ করে যে দালান ছিল, লম্বা বারান্দা সমেত মাপলেন; সেটি ছিল একশো হাত। মূল হলঘর, ভিতরের পবিত্রস্থান এবং উঠানের দিকে মুখ করা বারান্দা,
EZE 41:16 এমনকি তিনটি জায়গায় ঢুকবার মুখের দুই পাশের বাজুগুলি এবং জালি দেওয়া সরু জানালাগুলি তক্তা দিয়ে ঢাকা ছিল। মেঝে ও জানালা পর্যন্ত দেয়ালও তক্তা দিয়ে ঢাকা ছিল।
EZE 41:17 প্রবেশস্থানের বাইরে থেকে পবিত্রস্থানের ভিতর পর্যন্ত এবং পবিত্রস্থানের বাইরের ও ভিতরের দেয়ালে পরপর
EZE 41:18 করূব ও খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল। খেজুর গাছের পর করূব। প্রত্যেক করূবের দুটি করে মুখ ছিল:
EZE 41:19 এক পাশের খেজুর গাছের দিকে মানুষের মুখ এবং অন্য পাশের খেজুর গাছের দিকে সিংহের মুখ। সেগুলি সম্পূর্ণ মন্দিরের চারিদিকে খোদাই করা ছিল।
EZE 41:20 মূল হলঘরের মেঝে থেকে প্রবেশস্থানের উপরের অংশের দেয়াল পর্যন্ত করূব ও খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল।
EZE 41:21 মূল হলঘরের দ্বারের গঠন চতুষ্কোণ ছিল, এবং মহাপবিত্র স্থানের দ্বারটিও একইরকম ছিল।
EZE 41:22 সেখানে তিন হাত উঁচু, দু-হাত লম্বা ও দু-হাত চওড়া কাঠের একটি বেদি ছিল, তার কোনা, পায়া ও চারপাশ ছিল কাঠ দিয়ে তৈরি। সেই ব্যক্তি আমাকে বললেন, “এটি হচ্ছে সেই টেবিল যা সদাপ্রভুর সামনে রয়েছে।”
EZE 41:23 উভয় মূল হলঘর এবং মহাপবিত্র স্থানে একটি করে দুই পাল্লার দ্বার ছিল।
EZE 41:24 প্রত্যেক দ্বারে দুটি কবাট ছিল—দুটি দ্বারে দুটি করে কবাট।
EZE 41:25 এবং মূল হলঘরের দ্বারের কবাটে দেয়ালের মতোই করূব ও খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল আর বারান্দার সামনে কাঠের একটি ঝিলিমিলি ছিল।
EZE 41:26 বারান্দার পাশের দেয়ালে ছিল সরু জানালা যার প্রত্যেক দিকে খেজুর গাছ খোদাই করা ছিল। মন্দিরের পাশের ঘরগুলিতেও এইরকম ঝিলিমিলি ছিল।
EZE 42:1 পরে সেই ব্যক্তি আমাকে মন্দিরের উত্তর দিকের বাইরের উঠানে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের উঠানের ও উত্তর দিকের বাইরের দেয়ালের উল্টো দিকের ঘরগুলিতে নিয়ে গেলেন।
EZE 42:2 উত্তরমুখী দালান ছিল একশো হাত লম্বা এবং পঞ্চাশ হাত চওড়া।
EZE 42:3 ভিতরের উঠানের সামনে কুড়ি হাতের সেই খোলা জায়গা এবং বিপরীত অংশে বাইরের উঠানের বাঁধানো জায়গার মধ্যে দালানটা তিনতলা ছিল।
EZE 42:4 এই ঘরগুলির সামনে ভিতরের দিকে একটি পথ ছিল দশ হাত চওড়া ও একশো হাত লম্বা। তাদের সকলের দ্বার উত্তর দিকের ছিল।
EZE 42:5 উপরের ঘরগুলি সরু ছিল, কেননা লম্বা বারান্দা দালানের নিচের ও মাঝের তলার তুলনায় সেই ঘরগুলির থেকে বেশি জায়গা নিয়েছিল।
EZE 42:6 তৃতীয় তলার ঘরগুলির কোনও থাম ছিল না, যেমন উঠানের ছিল; সেই কারণে নিচের ও মাঝের তলার তুলনায় তাদের মেঝের জায়গা সংকুচিত ছিল।
EZE 42:7 সেখানে একটি বাইরের দেয়াল ছিল যেটা ঘরগুলি ও বাইরের উঠানের সমান্তরাল; এটা ঘরগুলির সামনে পঞ্চাশ হাত বাড়ান ছিল।
EZE 42:8 বাইরের উঠানের পাশে যে ঘরগুলি ছিল পঞ্চাশ হাত লম্বা, যে সারি পবিত্রস্থানের সবচেয়ে কাছে ছিল সেটি একশো হাত লম্বা।
EZE 42:9 বাইরের উঠানে থেকে কেউ যখন ভিতরে ঢোকে নিচের ঘরগুলির প্রবেশপথ পূর্বদিকে ছিল।
EZE 42:10 বাইরের উঠানের দেওয়াল বরাবর দক্ষিণ দিকে মন্দিরের উঠানের পাশে এবং বাইরের দেয়ালের উল্টোদিকে, ঘর ছিল
EZE 42:11 যেখানে তাদের সামনে একটি পথ ছিল। সেগুলি উত্তর দিকের ঘরগুলির মতন; সেগুলি লম্বায় ও চওড়ায় সমান, আর একইরকম বাইরে যাওয়ার পথ ও মাপ। উত্তরের দ্বারের পথের মতোই
EZE 42:12 দক্ষিণের ঘরগুলির দ্বারের পথ। দালানটার পূর্বদিকের আর একটি সমান্তরাল ঢুকবার পথ ছিল এবং তার সামনেও একটি দেয়াল ছিল।
EZE 42:13 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “মন্দিরের খোলা জায়গার উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দালান দুটো যাজকদের, যেখানে যাজকেরা সদাপ্রভুর কাছে যায় তারা সেই জায়গার অতি পবিত্রস্থানের উৎসর্গিত জিনিস ভোজন করবে। সেখানে তারা অতি পবিত্রস্থানের উৎসর্গিত জিনিসগুলি রাখবে—শস্য-নৈবেদ্য, পাপার্থক বলি ও দোষার্থক-নৈবেদ্য—কারণ জায়গাটি পবিত্র।
EZE 42:14 যাজকেরা সেবাকাজের জন্য পবিত্রস্থানে যে পোশাকগুলি পরে ঢুকবে সেগুলি এই দালান দুটিতে খুলে রাখবে এবং তারপরে বাইরের উঠানে যেতে পারবে, কারণ সেগুলি পবিত্র পোশাক। সাধারণ লোকদের জায়গায় যাবার আগে তাদের অন্য কাপড় পরতে হবে।”
EZE 42:15 মন্দিরের চারপাশের দেওয়ালের ভিতরের সবকিছু মাপা শেষ করার পর তিনি আমাকে পূর্বদিকের দ্বার দিয়ে বাইরে আনলেন এবং বাইরের চারপাশের এলাকাটা মাপলেন।
EZE 42:16 তিনি পূর্বদিক মাপকাঠি দিয়ে মাপলেন; সেটি ছিল পাঁচশো হাত।
EZE 42:17 তিনি উত্তর দিক মাপলেন; মাপকাঠিতে সেটি পাঁচশো হাত ছিল।
EZE 42:18 তিনি দক্ষিণ দিক মাপলেন; মাপকাঠিতে সেটি পাঁচশো হাত ছিল।
EZE 42:19 তারপর তিনি পশ্চিমদিকে ঘুরলেন এবং মাপলেন; মাপকাঠিতে সেটি পাঁচশো হাত ছিল।
EZE 42:20 এইভাবে তিনি তার চারদিক মাপলেন। সাধারণ লোকদের থেকে পবিত্রস্থান আলাদা করার জন্য তার চারিদিকে একটি প্রাচীর ছিল, যেটা পাঁচশো হাত লম্বা এবং পাঁচশো হাত চওড়া।
EZE 43:1 তারপর সেই ব্যক্তি আমাকে পূর্বমুখী দ্বারের কাছে আনলেন,
EZE 43:2 এবং আমি পূর্বদিক থেকে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মহিমা দেখলাম। তাঁর গলার স্বর ছিল জোরে বয়ে যাওয়া জলের গর্জনের মতো, এবং তাঁর মহিমায় পৃথিবী উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
EZE 43:3 যে দর্শন আমি দেখলাম সেটি সেই দর্শনের মতো যা আমি দেখেছিলাম যখন তিনি নগর ধ্বংস করতে এসেছিলেন এবং কবার নদীর তীরে সেই দর্শনের মতো, আর আমি উপুড় হয়ে পড়লাম।
EZE 43:4 পূর্বমুখী দ্বারের মধ্যে দিয়ে সদাপ্রভুর মহিমা মন্দিরে ঢুকল।
EZE 43:5 পরে ঈশ্বরের আত্মা আমাকে তুলে ভিতরের উঠানে নিয়ে গেলেন, আর সদাপ্রভুর মহিমায় মন্দির ভরে গেল।
EZE 43:6 সেই ব্যক্তি যখন আমার পাশে দাড়িয়েছিলেন, আমি শুনলাম মন্দিরের মধ্যে থেকে কেউ যেন আমার সঙ্গে কথা বলছেন।
EZE 43:7 তিনি বললেন, “হে মানবসন্তান, এটাই আমার সিংহাসনের স্থান ও আমার পা রাখবার জায়গা। আমি এখানেই ইস্রায়েলীদের সঙ্গে চিরকাল বাস করব। ইস্রায়েল কুল—তারাও না বা তাদের রাজারাও না—তাদের ব্যভিচারের এবং উচ্চস্থলীতে তাদের রাজাদের মৃতদেহ দ্বারা আর কখনও আমার পবিত্র নাম অশুচি করবে না।
EZE 43:8 তারা আমার প্রবেশস্থলের পাশে তাদের প্রবেশস্থল করেছিল আর আমার চোকাঠের পাশে তাদের চৌকাঠ করেছিল এবং আমার ও তাদের মধ্যে কেবল একটি দেয়াল ছিল, তাদের ঘৃণ্য কাজ দ্বারা তারা আমার পবিত্র নাম কলঙ্কিত করেছিল। সেইজন্য আমি ক্রোধে তাদের ধ্বংস করেছিলাম।
EZE 43:9 এখন তারা তাদের ব্যভিচার এবং তাদের রাজাদের মৃতদেহ আমার সামনে থেকে দূর করুক, তাতে আমি চিরকাল তাদের মধ্যে বাস করব।
EZE 43:10 “হে মানবসন্তান, ইস্রায়েল কুলের কাছে এই মন্দিরের বর্ণনা করো, যেন তারা তাদের পাপের জন্য লজ্জিত হয়। এর নকশাটার বিষয় চিন্তা করে দেখতে বলো,
EZE 43:11 আর তারা যদি তাদের সব কাজের জন্য লজ্জিত হয়, তবে মন্দিরের নকশার খুঁটিনাটি তাদের জানাও—তার ব্যবস্থা, তার বাইরে যাবার ও ভিতরে ঢুকবার পথ—তার সম্পূর্ণ নকশা এবং তার নিয়ম ও আইনকানুন। তার সবকিছু তাদের সামনে লেখ যাতে তারা তার নকশা অনুসারে কাজ করতে পারে এবং তার সব নিয়ম মেনে চলতে পারে।
EZE 43:12 “এই হল মন্দিরের ব্যবস্থা, পাহাড়ের উপরকার চারিদিকের সব এলাকা হবে মহাপবিত্র। এটাই মন্দিরের ব্যবস্থা।
EZE 43:13 “মন্দিরের বেদির মাপ হাতের মাপ অনুসারে এইরকম, প্রত্যেক হাত ছিল এক হাত চার আঙুল করে। তার ভিত্তিটা এক হাত গভীর এবং এক হাত চওড়া, যার চারিদিকে এগারো ইঞ্চি এক চক্রবেড় হবে। আর এটাই বেদির উচ্চতা।
EZE 43:14 নিচের অংশটি ভিত্তি থেকে দু-হাত উঁচু ও এক হাত চওড়া, এবং ছোটো সোপানাকৃতি থেকে বড়ো সোপানাকৃতি পর্যন্ত চার হাত উঁচু ও এক হাত চওড়া।
EZE 43:15 বেদির উপরের যে অংশের উনুন চার হাত উঁচু, এবং তার উপরে চারটে শিং থাকবে।
EZE 43:16 বেদির উনুন চারকোণা হবে, বারো হাত লম্বা ও বারো হাত চওড়া।
EZE 43:17 উপরের শেলফও চারকোণা হবে, চোদ্দ হাত লম্বা ও চোদ্দ হাত চওড়া, যার চারিদিকে এক হাত বাড়ানো একটি বেড় থাকবে তার কিনারা আধ হাত উঁচু থাকবে। বেদির সিড়িগুলি হবে পূর্বমুখী।”
EZE 43:18 তারপর তিনি আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, বেদিটা তৈরি হলে যেদিন সেটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে যেন তার উপরে হোমবলি ও রক্ত প্রক্ষেপ করা হয়, সেদিন এই নিয়ম পালন করা হবে।
EZE 43:19 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, সাদোকের বংশের যে লেবীয় যাজকেরা আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার কাছে আসে তাদের তুমি পাপার্থক বলিদানের জন্য একটি যুবা ষাঁড় দেবে।
EZE 43:20 তুমি তার কিছু রক্ত নিয়ে বেদির চারটে শিংয়ে, মাঝখানের অংশের চার কোনায় ও কিনারার সব দিকে লাগাবে, যেন বেদি শুদ্ধ হয় ও তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।
EZE 43:21 পরে তুমি ওই পাপার্থক ষাঁড়টি নিয়ে যাবে এবং সেটি উপাসনার স্থানের বাইরে মন্দিরের নিরূপিত জায়গায় পুড়িয়ে দেবে।
EZE 43:22 “দ্বিতীয় দিনে তুমি পাপার্থক বলির জন্য একটি নিখুঁত পাঁঠা উৎসর্গ করবে, এবং বেদিটা শুচি করবে যেমন করে ষাঁড় দিয়ে করা হয়েছিল।
EZE 43:23 তোমার যখন সেটি শুচি করা হয়ে যাবে, তোমাকে একটি যুবা ষাঁড় ও পাল থেকে একটি মেষ উৎসর্গ করতে হবে, দুটোই নিখুঁত হতে হবে।
EZE 43:24 তুমি সেগুলি সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত করবে, এবং যাজকেরা তাদের উপরে নুন ছিটাবে আর সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমার্থে সেগুলি বলি দেবে।
EZE 43:25 “সাত দিন ধরে তুমি পাপার্থক বলির জন্য প্রতিদিন একটি করে পাঁঠা উৎসর্গ করবে; এছাড়াও তোমাকে একটি ষাঁড় ও পাল থেকে একটি মেষ দিতে হবে, দুটোই নিখুঁত হতে হবে।
EZE 43:26 সাত দিন ধরে বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে ও শুচি করবে; এইভাবে সেটি উৎসর্গ করবে।
EZE 43:27 এই দিনগুলি শেষ হলে পর, আট দিনের দিন থেকে, যাজকেরা সেই বেদির উপরে তোমাদের হোমার্থক ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করবে। তখন আমি তোমাদের গ্রহণ করব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।”
EZE 44:1 পরে সেই ব্যক্তি আমাকে উপাসনার স্থানের পূর্বমুখী বাইরের দ্বারের কাছে ফিরিয়ে আনলেন, এবং সেটি বন্ধ ছিল।
EZE 44:2 সদাপ্রভু আমাকে বলেন, “এই দ্বার বন্ধই থাকবে। এটি খোলা যাবে না; কেউ এটি দিয়ে ভিতরে ঢুকবে না। এটি বন্ধ থাকবে, কারণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু এর মধ্যে দিয়ে ঢুকেছেন।
EZE 44:3 কেবলমাত্র শাসনকর্তাই দ্বারের মধ্যে বসে সদাপ্রভুর সামনে খেতে পারবে। তিনি দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে ভিতরে আসবেন এবং একই পথ দিয়ে বাইরে যাবেন।”
EZE 44:4 তারপর সেই ব্যক্তি উত্তর দ্বারের পথে আমাকে মন্দিরের সামনে আনলেন। আমি দেখলাম সদাপ্রভুর মহিমায় সদাপ্রভুর মন্দির পরিপূর্ণ, আর আমি উবুড় হয়ে পড়লাম।
EZE 44:5 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “হে মানবসন্তান, ভালো করে দেখো, ধ্যান দিয়ে শোনো এবং আমি তোমাকে সদাপ্রভুর মন্দিরের বিষয়ে সমস্ত নিয়মের কথা বলব তার প্রতি মনোযোগ দাও। মন্দিরে ঢোকার এবং উপাসনা স্থান থেকে বাইরে যাবার বিষয়ে মনোযোগ দাও।
EZE 44:6 বিদ্রোহী ইস্রায়েল কুলকে বলো, ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে ইস্রায়েল কুল! তোমাদের ঘৃণ্য কাজ যথেষ্ট হয়েছে।
EZE 44:7 তোমাদের সমস্ত ঘৃণ্য কাজের অতিরিক্ত, তোমরা আমার উপাসনার স্থানে মাংসে ও হৃদয়ে অচ্ছিন্নত্বক বিদেশিদের নিয়ে এসেছ, আমার মন্দিরকে অপবিত্র করেছ, তোমরা আমার উদ্দেশে খাবার, চর্বি ও রক্ত উৎসর্গ করেছ আর আমার নিয়ম ভেঙেছ।
EZE 44:8 আমার পবিত্র জিনিসগুলির প্রতি তোমাদের যে কর্তব্য করবার কথা তা না করে আমার উপাসনার স্থানের দায়িত্ব তোমরা অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছ।
EZE 44:9 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, মাংসে ও হৃদয়ে অচ্ছিন্নত্বক কোনও বিদেশি আমার উপাসনার স্থানে ঢুকতে পারবে না, এমনকি, ইস্রায়েলীদের মধ্যে বাস করা বিদেশিরাও পারবে না।
EZE 44:10 “ ‘ইস্রায়েলীরা যখন বিপথে গিয়েছিল তখন তাদের সঙ্গে যে লেবীয়েরা আমাকে ছেড়ে তাদের প্রতিমাগুলির পিছনে ঘুরে বেরিয়ে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল তাদের পাপের ফল তাদের বহন করতেই হবে।
EZE 44:11 তবুও তারা আমার উপাসনার স্থানের পরিচারক হবে, মন্দিরের দ্বারের দায়িত্বে থাকবে ও পরিচারক হবে; তারা লোকদের জন্য হোমবলি ও অন্য বলির পশু বধ করবে এবং তাদের পরিচর্যার জন্য তাদের সামনে দাঁড়াবে।
EZE 44:12 কিন্তু তারা প্রতিমাগুলির সামনে লোকদের সেবা করেছে এবং ইস্রায়েল কুলকে পাপে ফেলছে, সেইজন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার হাত তুলেছি যেন তারা নিজেদের পাপের ফলভোগ করে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 44:13 তারা যাজক হিসেবে আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার কাছে আসবে না কিংবা আমার কোনও পবিত্র অথবা মহাপবিত্র জিনিসের কাছে আসতে পারবে না, তাদের ঘৃণ্য কাজের লজ্জা তাদের বহন করতেই হবে।
EZE 44:14 তবুও মন্দির পাহারা দেবার জন্য ও সেখানকার সমস্ত কাজের ভার আমি তাদের উপর দেব।
EZE 44:15 “ ‘কিন্তু ইস্রায়েল সন্তানগণ যখন আমাকে ছেড়ে বিপথে গিয়েছিল, তখন সাদোকের সন্তান যে লেবীয় যাজকেরা আমার উপাসনার স্থানে বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাদের কর্তব্য করেছে, তারাই আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার কাছে আসতে পারবে; আমার উদ্দেশে চর্বি ও রক্ত উৎসর্গ করার জন্য আমার সামনে দাঁড়াতে পারবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 44:16 তারাই কেবল আমার উপাসনার স্থানে ঢুকতে পারবে; তারাই কেবল আমার পরিচর্যা করার জন্য আমার টেবিলের কাছে আসতে পারবে ও আমার রক্ষণীয় রক্ষা করবে।
EZE 44:17 “ ‘ভিতরের উঠানের দ্বারগুলি দিয়ে তারা যখন ঢুকবে তখন তাদের মসিনার পোশাক পরতে হবে; ভিতরের উঠানের দ্বারগুলির কাছে কিংবা মন্দিরের মধ্যে পরিচর্যা করার সময় তারা কোনও পশমের পোশাক পরতে পারবে না।
EZE 44:18 তাদের মাথায় মসিনার পাগড়ি থাকবে এবং তারা মসিনার জাঙিয়া পরবে। যাতে ঘাম হয় এমন কোনও কাপড় তারা পরবে না।
EZE 44:19 তারা যখন বাইরের উঠানে থাকা লোকদের কাছে যাবে তখন পরিচর্যার জন্য তারা যে পোশাক পরেছিল তা খুলে পবিত্র ঘরে রেখে অন্য পোশাক পরবে, যাতে তাদের পোশাকের ছোঁয়ায় লোকেরা আমার উদ্দেশ্যে আলাদা না হয়ে যায়।
EZE 44:20 “ ‘তাদের মাথার চুল তারা কামিয়ে ফেলবে না কিংবা চুল বড়ো রাখবে না কিন্তু চুল ছোটো করে কাটবে।
EZE 44:21 ভিতরের উঠানে ঢুকবার সময় কোনও যাজক যেন সুরা পান না করে।
EZE 44:22 তারা বিধবাকে কিংবা পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করবে না; তারা কেবল ইস্রায়েল কুলের কুমারীকে অথবা যাজকের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারবে।
EZE 44:23 তারা আমার লোকদের পবিত্র ও সাধারণের পার্থক্যের বিষয়ে শিক্ষা দেবে এবং শুচি ও অশুচির মধ্যে কেমন করে পার্থক্য করতে হয় তা দেখিয়ে দেবে।
EZE 44:24 “ ‘কোনও বিতর্ক হলে, যাজকেরা বিচারকের ভূমিকা পালন করবে এবং আমার বিধান অনুসারে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার সমস্ত পর্বগুলির জন্য তারা আমার বিধান ও বিধিসকল পালন করবে, এবং আমার বিশ্রামদিনগুলির পবিত্রতা রক্ষা করবে।
EZE 44:25 “ ‘যাজক কোনও মৃত ব্যক্তির কাছে গিয়ে নিজেকে অশুচি করবে না; কিন্তু যদি সেই মৃত ব্যক্তি তার মা অথবা বাবা, ছেলে অথবা মেয়ে, ভাই অথবা অবিবাহিত বোন হয়, তাহলে সে নিজেকে অশুচি করতে পারে।
EZE 44:26 শুচি হবার পর তাকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে।
EZE 44:27 পরে যেদিন সে পরিচর্যা করার জন্য মন্দিরের ভিতরের উঠানে যাবে সেদিন তাকে নিজের জন্য পাপার্থক বলি উৎসর্গ করতে হবে, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 44:28 “ ‘যাজকদের সম্পত্তি বলতে কেবল আমিই থাকব। তোমরা ইস্রায়েলের মধ্যে তাদের কোনও সম্পত্তি দেবে না; আমিই তাদের সম্পত্তি হব।
EZE 44:29 শস্য-নৈবেদ্য, পাপার্থক-নৈবেদ্য ও দোষার্থক-নৈবেদ্য তাদের খাবার হবে, এবং ইস্রায়েল দেশে সদাপ্রভুর উদ্দেশে দেওয়া প্রত্যেকটি জিনিসই তাদের হবে।
EZE 44:30 সব ফসলের অগ্রিমাংশের সবচেয়ে ভালো অংশ এবং তোমাদের সমস্ত বিশেষ উপহারগুলি যাজকদের হবে। তোমাদের নতুন ময়দার অগ্রিমাংশ তোমরা তাদের দেবে যেন তোমাদের পরিবারের উপর আশীর্বাদ থাকে।
EZE 44:31 মরে গেছে কিংবা বুনো জানোয়ার ছিঁড়ে ফেলেছে এমন কোনও পাখি অথবা পশু যাজকেরা খাবে না।
EZE 45:1 “ ‘তোমরা যখন সম্পত্তি হিসেবে দেশের জমি ভাগ করে দেবে তখন 25,000 মাপকাঠি লম্বা ও 20,000 মাপকাঠি চওড়া একখণ্ড জমি সদাপ্রভুকে উপহার দেবে, সেই পুরো এলাকাটাই হবে পবিত্র।
EZE 45:2 এর মধ্যে, 500 মাপকাঠি লম্বা ও 500 মাপকাঠি চওড়া একটি অংশ উপাসনার স্থানের জন্য থাকবে, তার চারপাশে 50 মাপকাঠি খোলা জায়গা থাকবে।
EZE 45:3 সেই পুরো পবিত্র এলাকার মধ্য থেকে 25,000 মাপকাঠি লম্বা ও 10,000 মাপকাঠি চওড়া একটি অংশ মেপে রাখবে। এর মধ্যেই হবে উপাসনার স্থান, অর্থাৎ মহাপবিত্র স্থান।
EZE 45:4 এটি হবে দেশের পবিত্র অংশ যেটা যাজকদের জন্য, যারা উপাসনার স্থানের পরিচর্যা করে এবং সদাপ্রভুর সেবা করার জন্য তাঁর সামনে এগিয়ে যায়। এই জায়গাতেই হবে তাদের বাসস্থান এবং উপাসনার স্থানের পবিত্রস্থান।
EZE 45:5 আবার 25,000 মাপকাঠি লম্বা ও 10,000 মাপকাঠি চওড়া জায়গা সেই লেবীয়দের অধিকারে থাকবে, যারা মন্দিরে পরিচর্যা করে, তাদের অধিকারে এই নগর থাকবে যেখানে তারা বাস করবে।
EZE 45:6 “ ‘পবিত্র এলাকার পাশে 5,000 মাপকাঠি চওড়া ও 25,000 মাপকাঠি লম্বা একটি অংশ নগরের জন্য উপহার রূপে রাখতে হবে; এটি সমস্ত ইস্রায়েল কুলের জন্য হবে।
EZE 45:7 “ ‘পবিত্র এলাকা ও নগরের সীমানার উভয় পাশের জমি শাসনকর্তার হবে। শাসনকর্তার এই দুই জায়গা দেশের পশ্চিম প্রান্তের পশ্চিমে ও পূর্ব প্রান্তের পূর্বে এবং লম্বায় পশ্চিম সীমা থেকে পূর্ব সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশ হবে।
EZE 45:8 এই জায়গা ইস্রায়েল দেশের শাসনকর্তার অধিকারে থাকবে। এবং আমার শাসনকর্তারা আমার লোকদের উপর আর অত্যাচার করবে না কিন্তু ইস্রায়েল কুলকে তার নিজের নিজের বংশানুসারে দেশ দেবে।
EZE 45:9 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, হে ইস্রায়েলের শাসনকর্তারা! তোমাদের যথেষ্ট হয়েছে। এখন দৌরাত্ম্য ও নিপীড়ন করা ছেড়ে দিয়ে তোমরা যথাযথ ও ন্যায্য কাজ করো। আমার লোকদের অধিকারচ্যুত করা বন্ধ করো, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 45:10 তোমরা ন্যায্য দাঁড়িপাল্লা, ন্যায্য ঐফা ও ন্যায্য বাৎ ব্যবহার করো।
EZE 45:11 ঐফা ও বাৎ-এর মাপ সমান হবে, এক বাৎ হোমরের দশ ভাগের এক ভাগ এবং এক ঐফা হোমরের দশ ভাগের এক ভাগ; এই দুটোই মাপা হবে হোমরের অনুসারে।
EZE 45:12 এক শেকলে থাকবে কুড়ি গেরা। কুড়ি শেকল, পঁচিশ শেকল ও পনেরো শেকলে এক মানি হবে।
EZE 45:13 “ ‘তোমরা এই বিশেষ উপহার উৎসর্গ করবে: গমের হোমর থেকে ঐফার ষষ্ঠাংশ এবং যবের হোমর থেকে ঐফার ষষ্ঠাংশ।
EZE 45:14 তেলের পরিমাণ মাপবার জন্য বাৎ-এর মাপ ব্যবহার করতে হবে যা এক কোর থেকে বাৎ-এর দশমাংশ। (দশ বাৎ-এর সমান এক হোমর আর এক হোমরের সমান এক কোর)
EZE 45:15 ইস্রায়েল দেশের মধ্যে ভালো জমিতে চরে এমন প্রতি দুশো মেষের মধ্যে একটি মেষ দেবে। লোকদের পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য এগুলি শস্য-নৈবেদ্যের, হোমবলির ও মঙ্গলার্থক বলির জন্য ব্যবহার করা হবে, এই কথা সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
EZE 45:16 দেশের সব লোক ইস্রায়েলের শাসনকর্তাকে এই বিশেষ উপহার দেবে।
EZE 45:17 শাসনকর্তার কর্তব্য হবে অমাবস্যায় ও বিশ্রামবারে, সমস্ত উৎসবে হোমবলি, শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করা। তিনি ইস্রায়েল কুলের পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য পাপার্থক বলি, শস্য-নৈবেদ্য এবং হোম ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করবেন।
EZE 45:18 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, প্রথম মাসের প্রথম দিনে তুমি একটি নিখুঁত যুবা ষাঁড় নিয়ে উপাসনার স্থানকে শুচি করবে।
EZE 45:19 আর যাজক সেই পাপার্থক বলির রক্তের কিছুটা নিয়ে মন্দিরের চৌকাঠে, বেদির উপরের অংশের চার কোণে এবং ভিতরের উঠানের দ্বারের বাজুতে দেবে।
EZE 45:20 যারা ভুল করে বা অজ্ঞানতাবশত মন্দিরের বিরুদ্ধে কোনো পাপ করে ফেলে তোমরা তাদের জন্য মাসের সপ্তম দিনে ওই একই কাজ করবে; অতএব তোমরা মন্দিরের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।
EZE 45:21 “ ‘প্রথম মাসের চোদ্দ দিনের দিন তোমরা নিস্তারপর্ব পালন করবে, এই পর্বটা সাত দিনের, সেই সময় তোমাদের তাড়ীশূন্য রুটি খেতে হবে।
EZE 45:22 সেদিন শাসনকর্তা তার নিজের ও ইস্রায়েল দেশের সব লোকদের জন্য পাপার্থক বলি হিসেবে একটি ষাঁড় উৎসর্গ করবে।
EZE 45:23 সেই পর্বের সাত দিনের প্রত্যেকদিন নিখুঁত সাতটা ষাঁড় ও সাতটা মেষ দিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাকে হোমার্থক বলি, এবং প্রতিদিন একটি পুরুষ ছাগল পাপার্থক বলি জন্য উৎসর্গ করবে।
EZE 45:24 তাকে শস্য-নৈবেদ্যের জন্য প্রতি ষাঁড়ের জন্য এক ঐফা ও প্রতি মেষের জন্য এক ঐফা, ও প্রতি ঐফার জন্য এক হিন জলপাই তেল উৎসর্গ করতে হবে।
EZE 45:25 “ ‘সাত মাসের পনেরো দিনের দিন যে সাত দিনের পর্ব আরম্ভ হয় সেই সময় শাসনকর্তা পাপার্থক বলি, হোমার্থক বলি, শস্য-নৈবেদ্য এবং তেল উৎসর্গ করবে।
EZE 46:1 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ভিতরের উঠানের পূর্বমুখী দ্বার কাজের ছয় দিন বন্ধ থাকবে, কিন্তু বিশ্রামদিনে ও অমাবস্যার দিনে সেটি খোলা হবে।
EZE 46:2 শাসনকর্তা বাইরে থেকে দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে ঢুকে চৌকাঠের কাছে দাঁড়াবেন। যাজকেরা তাঁর হোমার্থক বলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করবেন। সে দ্বারে ঢুকবার মুখে উপাসনা করবেন এবং তারপর বের হয়ে যাবেন, কিন্তু সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত দ্বার বন্ধ করা যাবে না।
EZE 46:3 দেশের লোকেরা বিশ্রামবার ও অমাবস্যাতে সেই দ্বারের বাইরে সদাপ্রভুর উপাসনা করবে।
EZE 46:4 বিশ্রামদিনে শাসনকর্তাকে সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি উৎসর্গের জন্য ছয়টা পুরুষ মেষশাবক ও একটি মেষ আনতে হবে, সবগুলিই যেন নিখুঁত হয়।
EZE 46:5 শস্য-নৈবেদ্যরূপে মেষের জন্য এক ঐফা ও মেষশাবকের জন্য তার হাতে যতটা উঠবে এবং প্রতি ঐফার জন্য এক হিন জলপাই তেল।
EZE 46:6 অমাবস্যার দিনে তাকে একটি যুবা ষাঁড়, ছয়টা মেষশাবক ও একটি মেষ উৎসর্গ করতে হবে, সবগুলিই যেন নিখুঁত হয়।
EZE 46:7 শস্য-নৈবেদ্যরূপে সে ষাঁড়ের জন্য এক ঐফা, মেষের জন্য এক ঐফা ও মেষশাবকের জন্য তার হাতে যতটা উঠবে এবং প্রতি ঐফার জন্য এক হিন তেল দেবে।
EZE 46:8 শাসনকর্তা যখন আসবে, তখন দ্বারের বারান্দার পথ দিয়ে আসবে, এবং সেই একই পথ দিয়ে বের হয়ে আসতে হবে।
EZE 46:9 “ ‘নির্দিষ্ট সব পর্বের সময়ে দেশের লোকেরা যখন উপাসনার জন্য সদাপ্রভুর সামনে আসবে তখন যে কেউ উত্তরের দ্বার দিয়ে ঢুকবে সে দক্ষিণের দ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে আর যে দক্ষিণের দ্বার দিয়ে ঢুকবে সে উত্তরের দ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে। লোকে যে দ্বার দিয়ে ঢুকবে সেই দ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাবে না, কিন্তু প্রত্যেককে ঢুকবার দ্বারের উল্টো দিকের দ্বার দিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।
EZE 46:10 শাসনকর্তাকে লোকদের সঙ্গে ভিতরে যেতে হবে এবং বাইরে যাবার সময় লোকদের সঙ্গেই বের হয়ে যেতে হবে।
EZE 46:11 উৎসবে ও নির্দিষ্ট পর্বে, শস্য-নৈবেদ্য একটি ষাঁড়ের জন্য এক ঐফা, মেষের জন্য এক ঐফা ও মেষশাবকের জন্য তার হাতে যতটা উঠবে এবং প্রতি ঐফার জন্য এক হিন তেল দিতে হবে।
EZE 46:12 “ ‘শাসনকর্তা যখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিজের ইচ্ছায় কোনও উৎসর্গ করতে চায়—সেটি হোমবলি অথবা মঙ্গলার্থক বলি—তখন তার জন্য পূর্বমুখী দ্বারটা খুলে দিতে হবে। বিশ্রামদিনের মতো করেই সে তার হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করবে। তারপর সে বাইরে গেলে দ্বারটা বন্ধ করা হবে।
EZE 46:13 “ ‘প্রতিদিন তুমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলির জন্য একটি এক বছরের নিখুঁত মেষশাবক উৎসর্গ করবে; প্রতিদিন সকালে তোমাদের তা করতে হবে।
EZE 46:14 এছাড়া এর সঙ্গে রোজ সকালে তোমাদের শস্য-নৈবেদ্যের জিনিসও দিতে হবে, এতে থাকবে ঐফার ষষ্ঠাংশ এবং ময়দা ভিজানোর জন্য হিনের তৃতীয়াংশ তেল। সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই শস্য-নৈবেদ্যের অনুষ্ঠান একটি স্থায়ী নির্দেশ।
EZE 46:15 এইভাবে প্রত্যেকদিন সকালে সেই মেষশাবক ও শস্য-নৈবেদ্য এবং তেল নিয়মিত হোমবলি জন্য যোগান দিতে হবে।
EZE 46:16 “ ‘সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, যদি শাসনকর্তা তার সম্পত্তি থেকে তার কোনও ছেলেকে কোনও জায়গা দান করে, তবে তা তার বংশধরদেরও অধিকারে থাকবে; তারা সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
EZE 46:17 কিন্তু যদি সে তার সম্পত্তি থেকে তার কোনও দাসকে কোনও জায়গা দান করে, তবে তা মুক্তিবছর পর্যন্ত তার থাকবে; পরে সেটি আবার শাসনকর্তার দখলে আসবে। শাসনকর্তার সম্পত্তি কেবল তার ছেলেরাই পাবে; সেটি তাদেরই হবে।
EZE 46:18 লোকদের তাড়িয়ে দিয়ে শাসনকর্তা তাদের কোনও সম্পত্তিই দখল করতে পারবে না। সে কেবল তার নিজের সম্পত্তি থেকেই তার ছেলেদের দিতে পারবে, যাতে আমার লোকদের মধ্য থেকে কেউই তার সম্পত্তির মালিকানা না হারায়।’ ”
EZE 46:19 তারপর সেই ব্যক্তি দ্বারের পাশের ঢুকবার পথ দিয়ে যাজকদের উত্তরমুখী ঘরগুলির সামনে আনলেন, এবং পশ্চিমদিকে পিছনে একটি জায়গা দেখালেন।
EZE 46:20 তিনি আমাকে বললেন, “এটা সেই জায়গা যেখানে যাজকেরা দোষার্থক-নৈবেদ্য ও পাপার্থক বলি রান্না করবে এবং শস্য-নৈবেদ্য সেঁকে নেবে যেন সেই পবিত্র জিনিসগুলি বাইরের উঠানে আনতে না হয় এবং লোকেরা পবিত্র হয়ে যায়।”
EZE 46:21 তারপর তিনি আমাকে বাইরের উঠানে এনে তার চারটি কোনা ঘুরিয়ে নিয়ে আসলেন, আর আমি প্রত্যেকটা কোনায় আরেকটা করে ছোটো উঠান দেখতে পেলাম।
EZE 46:22 উঠানের চার কোনায় চল্লিশ হাত লম্বা ও ত্রিশ হাত চওড়া প্রাচীর দিয়ে ঘেরা উঠান ছিল আর সেগুলি একই মাপের ছিল।
EZE 46:23 সেই চারটি উঠানের প্রত্যেকটির ভিতরের চারপাশে দেয়ালের সঙ্গে লাগানো পাথরের তাক ছিল, যেখানে তার নিচে চারপাশে উনুন ছিল।
EZE 46:24 তখন তিনি আমাকে বললেন, “এগুলি হল রান্নাঘর যেখানে মন্দিরের পরিচারকেরা লোকদের উৎসর্গ করা বলি রান্না করবে।”
EZE 47:1 তারপর সেই ব্যক্তি আমাকে মন্দিরের ঢুকবার মুখের কাছে ফিরিয়ে আনলেন, আর আমি দেখলাম মন্দিরের ঢুকবার মুখের তলা থেকে জল বের হয়ে পূর্বদিকে বইছে। (কারণ মন্দির পূর্বমুখী ছিল) সেই জল মন্দিরের দক্ষিণ পাশের তলা থেকে বেদির দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল।
EZE 47:2 পরে তিনি উত্তর দ্বারের মধ্য দিয়ে আমাকে বের করে আনলেন এবং বাইরের পথ দিয়ে ঘুরিয়ে পূর্বমুখী বাইরের দ্বারের কাছে নিয়ে গেলেন, আর সেই জল-দ্বারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল।
EZE 47:3 মাপের দড়ি হাতে নিয়ে তিনি মাপতে মাপতে 1,000 হাত পূর্বদিকে গেলেন আর আমাকে গোড়ালি-ডোবা জলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেলেন।
EZE 47:4 তারপর তিনি আর 1,000 হাত মেপে আমাকে হাঁটু জলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেলেন। তারপর তিনি আর 1,000 হাত মেপে কোমর পর্যন্ত জলের মধ্য দিয়ে আমাকে নিয়ে গেলেন।
EZE 47:5 তারপর তিনি আর 1,000 হাত মাপলেন, কিন্তু জল তখন নদী হয়ে যাওয়াতে আমি পার হতে পারলাম না, কারণ জল বেড়ে গিয়েছিল এবং সাঁতার দেবার মতো গভীর হয়েছিল, এমন নদী হয়েছিল যা কেউ হেঁটে পার হতে পারে না।
EZE 47:6 তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে মানবসন্তান, তুমি কি এটি দেখলে?” তারপর তিনি আমাকে আবার নদীর তীরে নিয়ে গেলেন।
EZE 47:7 সেখানে পৌঁছে আমি নদীর দুই ধারেই অনেক গাছপালা দেখতে পেলাম।
EZE 47:8 তিনি আমাকে বললেন, “এই জল পূর্বদিকে বয়ে যাচ্ছে এবং অরাবার মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। যখন সেটি গিয়ে সমুদ্রে পড়ে তখন সেখানকার নোনতা জল মিষ্টি হয়ে যায়।
EZE 47:9 যেখান দিয়ে এই নদীটা বয়ে যাবে সেখানে সব রকমের ঝাঁক বাঁধা জীবন্ত প্রাণী ও প্রচুর মাছ বাস করবে, কারণ এই জল যেখান দিয়ে বয়ে যাবে সেখানকার জল মিষ্টি করে তুলবে; সেইজন্য যেখান দিয়ে নদীটা বয়ে যাবে সেখানকার সবকিছুই বাঁচবে।
EZE 47:10 জেলেরা নদীর তীরে দাঁড়াবে; ঐন-গদী থেকে ঐন-ইগ্লয়িম পর্যন্ত জাল মেলে দেবার জায়গা হবে। ভূমধ্যসাগরের মাছের মতো সেখানেও বিভিন্ন রকমের অনেক মাছ পাওয়া যাবে।
EZE 47:11 কিন্তু জলা জায়গা ও বিলের জল মিষ্টি হবে না; সেগুলি নুনের জন্য থাকবে।
EZE 47:12 নদীর দুই ধারেই সব রকমের ফলের গাছ জন্মাবে। সেগুলির পাতা শুকিয়ে যাবে না, ফলও শেষ হবে না। প্রতি মাসেই তাতে ফল ধরবে, কারণ উপাসনার স্থান থেকে জল তার মধ্যে বয়ে আসছে। সেগুলির ফল খাবার জন্য আর পাতা সুস্থ হবার জন্য ব্যবহার করা হবে।”
EZE 47:13 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “তোমরা ইস্রায়েলের বারো গোষ্ঠীর মধ্যে যে দেশটি ভাগ করে দেবে, তার সীমা এইরকম, যোষেফের দুই অংশ হবে।
EZE 47:14 তোমরা তা সমান ভাগে ভাগ করে নেবে। কারণ এই দেশটি আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেব বলে হাত তুলে শপথ করেছিলাম; এই দেশটি তোমাদেরই সম্পত্তি হবে।
EZE 47:15 “দেশের সীমানা হবে এই: “উত্তর দিকের সীমানা হবে ভূমধ্যসাগর থেকে লেবোহমাৎ ছাড়িয়ে হিৎলোনের রাস্তা বরাবর সদাদ পর্যন্ত,
EZE 47:16 বরোথা এবং সিব্রয়িম (যা দামাস্কাসের ও হমাতের সীমানার মধ্যে) হৌরণের সীমানার কাছে হৎসর-হত্তীকোন পর্যন্ত।
EZE 47:17 এই সীমানা চলে যাবে ভূমধ্যসাগর থেকে দামাস্কাসের উত্তর সীমার পাশে হৎসর-ঐনন পর্যন্ত, অর্থাৎ উত্তর দিকের হমাতের সীমানা পর্যন্ত। এটাই হবে উত্তর দিকের সীমানা।
EZE 47:18 পূর্বদিকের সীমানা, হৌরণ ও দামাস্কাসের মধ্য দিয়ে গিলিয়দ ও ইস্রায়েল দেশের মধ্যেকার জর্ডন নদী বরাবর গিয়ে মরুসাগরের তামার পর্যন্ত। এটাই হবে পূর্বদিকের সীমানা।
EZE 47:19 দক্ষিণ দিকের সীমানা মরুসাগরের তামর থেকে কাদেশের মরীবার জল পর্যন্ত গিয়ে মিশরের মরা নদী বরাবর ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত চলে যাবে। এটিই হবে দক্ষিণের সীমানা।
EZE 47:20 পশ্চিমদিকের সীমানা হবে ভূমধ্যসাগর বরাবর লেবো হমাতের উল্টো দিক পর্যন্ত। এটিই হবে পশ্চিমদিকের সীমানা।
EZE 47:21 “ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলি অনুসারে তোমরা নিজেদের মধ্যে দেশটা ভাগ করে নেবে।
EZE 47:22 তোমাদের মধ্যে যেসব বিদেশি তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে তাদের জন্য ও তোমাদের জন্য দেশটি সম্পত্তি হিসেবে ভাগ করে দেবে। তাদের তোমরা দেশে জন্মানো ইস্রায়েলী হিসেবে ধরবে; তোমাদের সঙ্গে তারাও ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে জমির ভাগ পাবে।
EZE 47:23 যে গোষ্ঠীর মধ্যে সেই বিদেশি বসবাস করবে সেখানেই তোমরা তাকে জমির অধিকার দেবে,” সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 48:1 “এসব গোষ্ঠী, নাম অনুসারে তালিকা দেশের উত্তর সীমায় দান একটি অংশ পাবে; “সেটি ভূমধ্যসাগর থেকে হিৎলোনের রাস্তা বরাবর লেবো-হমাৎ পর্যন্ত যাবে; হৎসর-ঐনন পর্যন্ত দামাস্কাসের সীমাতে, উত্তর দিকে হমাতের পাশে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:2 আশের একটি অংশ পাবে; সেটি দানের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:3 নপ্তালি একটি অংশ পাবে; সেটি আশেরের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:4 মনঃশি একটি অংশ পাবে; সেটি নপ্তালির সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:5 ইফ্রয়িম একটি অংশ পাবে; সেটি মনঃশির সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:6 রূবেণ একটি অংশ পাবে; সেটি ইফ্রয়িমের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:7 যিহূদা একটি অংশ পাবে; সেটি রূবেণের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:8 “যিহূদার সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত থাকবে সেই জায়গাটা যা তোমরা বিশেষ এক উপহার রূপে আলাদা করে রাখবে। সেটি চওড়ায় হবে 25,000 হাত এবং লম্বায় হবে অন্যান্য গোষ্ঠীর অংশের মতো দেশের পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত; সেই জায়গার মাঝখানে থাকবে উপাসনার স্থান।
EZE 48:9 “সেই আলাদা করা জায়গা থেকে তোমরা একটি অংশ সদাপ্রভুকে উপহার দেবে যেটা লম্বায় হবে 25,000 হাত এবং চওড়ায় 10,000 হাত।
EZE 48:10 এটি হবে যাজকদের জন্য পবিত্র অংশ। এটি উত্তর দিকে 25,000 মাপকাঠি, পশ্চিমদিকে 10,000 হাত, পূর্বদিকে 10,000 হাত এবং দক্ষিণ দিকে 25,000 হাত। তার মাঝখানে থাকবে সদাপ্রভুর উপাসনার স্থান।
EZE 48:11 এই অংশটি সাদোক-সন্তানদের মধ্যে পবিত্রকৃত যাজকদের জন্য হবে, তারা আমার সেবায় বিশ্বস্ত ছিল এবং ইস্রায়েলীদের সঙ্গে বিপথে যাওয়া লেবীয়দের মতো তারা বিপথে যায়নি।
EZE 48:12 দেশের পবিত্র অংশ থেকে এটি হবে তাদের জন্য এক বিশেষ উপহার, এক মহাপবিত্র অংশ, যা লেবীয়দের সীমানার পাশে।
EZE 48:13 “যাজকদের সীমানার পাশে, লেবীয়েরা 25,000 হাত লম্বা ও 10,000 হাত চওড়া একটি জায়গা পাবে। সম্পূর্ণ অংশ লম্বায় 25,000 হাত ও চওড়ায় 10,000 হাত।
EZE 48:14 তারা তার কিছু যেন বিক্রি অথবা বদল না করে। সেটি সবচেয়ে ভালো জমি এবং তা অন্যদের হাতে দিয়ে দেওয়া চলবে না, কারণ সেটি সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র।
EZE 48:15 “বাকি অংশ, 5,000 হাত চওড়া ও 25,000 হাত লম্বা, নগরের সাধারণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে, বাসস্থান ও পশু চরানোর জন্য। নগরটি তার মাঝখানে থাকবে
EZE 48:16 আর তার মাপ এই হবে উত্তর দিকে 4,500 হাত, দক্ষিণ দিকে 4,500 হাত, পূর্বদিকে 4,500 হাত এবং পশ্চিমদিকে 4,500 হাত।
EZE 48:17 নগরে পশু চরাবার জায়গা থাকবে যা হবে উত্তর দিকে 250 হাত, দক্ষিণ দিকে 250 হাত, পূর্বদিকে 250 হাত এবং পশ্চিমদিকে 250 হাত।
EZE 48:18 আর পবিত্র অংশের সামনে অবশিষ্ট জায়গা লম্বায় পূর্বদিকে 10,000 হাত এবং পশ্চিমদিকে 10,000 হাত। সেই জায়গায় যে ফসল ফলবে তা নগরের কর্মচারীদের জন্য হবে।
EZE 48:19 ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠী থেকে যারা এই নগরে কাজ করবে তারা এই জমি চাষ করবে।
EZE 48:20 সেই পুরো জায়গাটা হবে 25,000 হাত করে একটি চৌকো জায়গা। পবিত্র উপহার রূপে তোমরা নগরের সম্পত্তির সঙ্গে পবিত্র অংশ আলাদা করবে।
EZE 48:21 “নগরের সম্পত্তির এবং পবিত্র অংশের দুই পাশের যে বাকি অংশ থাকবে তা শাসনকর্তার জন্য। সেটি পূর্বদিকের পবিত্র অংশ থেকে 25,000 হাত পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত, এবং পশ্চিমদিক থেকে 25,000 হাত পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত। অন্য সকলের অংশের সামনে শাসনকর্তার অংশ হবে, এবং পবিত্র অংশ ও মন্দিরের উপাসনার স্থান তার মাঝখানে হবে।
EZE 48:22 এইভাবে শাসনকর্তার জায়গার মাঝখানে থাকবে লেবীয়দের জায়গা এবং নগরের জায়গা। শাসনকর্তার এই জায়গাটা যিহূদার সীমানা এবং বিন্যামীনের সীমানার মধ্যে থাকবে।
EZE 48:23 “বাকি গোষ্ঠীগুলির এসব অংশ হবে বিন্যামীন একটি অংশ পাবে; “সেটি পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:24 শিমিয়োন একটি অংশ পাবে; সেটি বিন্যামীনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:25 ইষাখর একটি অংশ পাবে; সেটি শিমিয়োনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:26 সবূলূন একটি অংশ পাবে; সেটি ইষাখরের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:27 গাদ একটি অংশ পাবে; সেটি সবূলূনের সীমার কাছে পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত।
EZE 48:28 গাদের অংশের দক্ষিণের সীমানার কাছে দক্ষিণপ্রান্তের দিকে তামর থেকে কাদেশের মরীবার জল পর্যন্ত গিয়ে মিশরের মরা নদী বরাবর ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত চলে যাবে।
EZE 48:29 “এই দেশ ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলিকে সম্পত্তি হিসেবে তোমরা ভাগ করে দেবে, আর এগুলি হবে তাদের অংশ,” সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
EZE 48:30 “এইগুলি হবে নগর থেকে বাইরে যাবার দ্বার উত্তর দিক থেকে শুরু, “যেটা 4,500 হাত লম্বা,
EZE 48:31 ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির নাম অনুসারে নগরের দ্বারগুলির নামকরণ হবে। উত্তর দিকের তিনটি দ্বারের নাম হবে রূবেণের দ্বার, যিহূদার দ্বার ও লেবির দ্বার।
EZE 48:32 পূর্বদিকে, মাপ হবে 4,500 হাত, তিনটি দ্বার থাকবে যোষেফের দ্বার, বিন্যামীনের দ্বার ও দানের দ্বার।
EZE 48:33 দক্ষিণ দিকে, মাপ হবে 4,500 হাত, তিনটি দ্বার থাকবে শিমিয়োনের দ্বার, ইষাখরের দ্বার ও সবূলূনের দ্বার।
EZE 48:34 পশ্চিমদিকে, মাপ হবে 4,500 হাত, তিনটি দ্বার থাকবে গাদের দ্বার, আশেরের দ্বার ও নপ্তালির দ্বার।
EZE 48:35 “পরিধি হবে 18,000 হাত। “সেই সময় থেকে নগরের নাম হবে: সদাপ্রভু সেখানে আছেন।”
DAN 1:1 যিহূদার রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বের তৃতীয় বছরে ব্যাবিলনের রাজা নেবুখাদনেজার জেরুশালেমে এসে নগর অবরোধ করলেন।
DAN 1:2 আর প্রভু, যিহূদার রাজা যিহোয়াকীম এবং ঈশ্বরের মন্দিরের কিছু মূল্যবান পাত্র রাজা নেবুখাদনেজারের হাতে সঁপে দিলেন। এবং নেবুখাদনেজার সেই মূল্যবান পাত্রগুলি নিয়ে ব্যাবিলনে তার দেবতার মন্দিরে গেলেন ও দেবতার ভাণ্ডার ঘরে রাখলেন।
DAN 1:3 তারপর রাজা তার কর্মচারীদের প্রধান অস্পনসকে ইস্রায়েলী বন্দিদের মধ্যে থেকে রাজবংশ ও উচ্চবংশের এমন কয়েকজন যুবককে বাছাই করতে বললেন,
DAN 1:4 যাদের কোনো শারীরিক খুঁত থাকবে না, তারা সুদর্শন, সমস্ত বিষয় শিখতে আগ্রহী, বিচক্ষণ, জ্ঞানে নিপুণ এবং রাজপ্রাসাদে থাকবার যোগ্য হবে; আর তিনি তাদের ব্যাবিলনীয়দের ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা দেবেন।
DAN 1:5 রাজা নিজের আহারের খাদ্য ও পানীয় দ্রাক্ষারস থেকে তাদের জন্য প্রতিদিনের অংশ দিতে আদেশ দিলেন। এইভাবে তাদের তিন বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সেই সময়ের শেষে তারা রাজকাজে নিযুক্ত হবে।
DAN 1:6 বাছাই করা এই যুবকদের মধ্যে যিহূদা বংশের দানিয়েল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয় ছিলেন।
DAN 1:7 কর্মচারীদের প্রধান তাদের নতুন নাম দিলেন; দানিয়েলকে বেল্টশৎসর, হনানিয়কে শদ্রক, মীশায়েলকে মৈশক এবং অসরিয়কে অবেদনগো।
DAN 1:8 কিন্তু দানিয়েল স্থির করলেন রাজার দেওয়া খাদ্য ও পানীয় দ্রাক্ষারস গ্রহণ করে তিনি নিজেকে অশুচি করবেন না এবং তিনি এইভাবে নিজেকে অশুচি না করার বিষয়ে কর্মচারীদের প্রধানের অনুমতি চাইলেন।
DAN 1:9 ঈশ্বর সেই প্রধান কর্মচারীর কাছে দানিয়েলকে দয়া ও করুণার পাত্র করলেন।
DAN 1:10 কিন্তু সেই প্রধান কর্মচারী দানিয়েলকে বললেন, “আমি আমার প্রভু মহারাজকে ভয় করি, তিনিই তোমাদের খাদ্য ও পানীয় নিরূপণ করেছেন। অন্য সমবয়স্ক যুবকদের থেকে কেন তিনি তোমাদের রুগ্ন দেখবেন? তখন তোমাদের জন্য রাজা আমার গলা কেটে নেবেন।”
DAN 1:11 সেই সময় দানিয়েল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়কে দেখাশোনার দায়িত্ব কর্মচারীদের প্রধান যে প্রহরীকে দিয়েছিলেন, দানিয়েল তাকে বললেন,
DAN 1:12 “আপনি অনুগ্রহ করে দশদিন আপনার দাসদের পরীক্ষা করুন এবং আমাদের শুধুমাত্র সবজি ও জল খেতে দিন।
DAN 1:13 তারপর রাজপ্রাসাদের অন্য যুবকেরা, যারা রাজকীয় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করবে, তাদের চেহারার সঙ্গে আমাদের মিলিয়ে দেখুন এবং সেই অনুসারে আপনার দাসদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা নিন।”
DAN 1:14 একথায় সেই প্রহরী রাজি হলেন ও তাদের দশদিন পরীক্ষা করলেন।
DAN 1:15 দশদিন পরে যারা রাজকীয় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেছিল তাদের থেকে এই চারজনকে বেশি স্বাস্থ্যবান ও হৃষ্টপুষ্ট দেখা গেল।
DAN 1:16 তাই সেই প্রহরী রাজকীয় খাদ্য ও পানীয় দ্রাক্ষারসের পরিবর্তে তাদের শুধু সবজি খেতে দিলেন।
DAN 1:17 ঈশ্বর এই চারজন যুবককে সমস্ত গ্রন্থে ও বিদ্যায়, জ্ঞান ও পারদর্শিতা দিলেন। আর দানিয়েল সমস্ত দর্শন ও স্বপ্ন বুঝে ব্যাখ্যা করতে পারতেন।
DAN 1:18 রাজার নির্ধারিত সময়ের শেষে কর্মচারীদের প্রধান এই যুবকদের নেবুখাদনেজারের কাছে উপস্থিত করলেন।
DAN 1:19 রাজা তাদের সঙ্গে কথা বললেন এবং দানিয়েল, হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়দের সমতুল্য কাউকে পেলেন না; তাই তারা রাজার সেবা করতে শুরু করলেন।
DAN 1:20 সমস্ত রকম জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধির বিষয়ে রাজা দেখলেন যে রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রবেত্তা ও মায়াবীদের চেয়ে তারা দশগুণ বেশি বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন।
DAN 1:21 এবং দানিয়েল রাজা কোরসের রাজত্বের প্রথম বছর পর্যন্ত রাজসভায় ছিলেন।
DAN 2:1 নেবুখাদনেজারের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে, তিনি স্বপ্ন দেখলেন; তার মন অস্থির হয়ে উঠল এবং তিনি ঘুমাতে পারলেন না।
DAN 2:2 তিনি রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রবেত্তা, মায়াবী, জাদুকর ও জ্যোতিষীদের ডেকে পাঠালেন এবং তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে তিনি কী স্বপ্ন দেখেছেন। যখন তারা এলেন ও রাজার সামনে দাঁড়ালেন,
DAN 2:3 তিনি তাদের বললেন, “আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি যা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে এবং আমি এর মানে জানতে চাই।”
DAN 2:4 জ্যোতিষীগণ রাজাকে অরামীয় ভাষায় উত্তর দিলেন, “মহারাজ দীর্ঘজীবী হোন। আপনার দাসদের বলুন আপনি কী স্বপ্ন দেখেছেন, আমরা তার মানে ব্যাখ্যা করব।”
DAN 2:5 কিন্তু রাজা জ্যোতিষীদের বললেন, “আমি দৃঢ়ভাবে স্থির করেছি যে, যদি তোমরা আমার স্বপ্ন ও তার মানে বলতে না পারো তবে তোমাদের কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হবে এবং তোমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হবে।
DAN 2:6 কিন্তু যদি তোমরা আমার স্বপ্ন ও তার মানে বলতে পারো, তবে তোমরা অনেক উপহার, পুরস্কার ও মহা সম্মান পাবে। তাই তোমরা আমার স্বপ্নটি ও তার মানে বলো।”
DAN 2:7 তারা আবার বললেন, “মহারাজ, আপনি শুধু স্বপ্নটি বলুন, আমরা তার মানে বলে দেব।”
DAN 2:8 তখন রাজা উত্তর দিলেন, “আমি নিশ্চিত যে তোমরা বেশি সময় নেবার চেষ্টা করছ, কারণ তোমরা বুঝেছ যে আমি এটি দৃঢ়ভাবে স্থির করেছি:
DAN 2:9 যদি তোমরা আমার স্বপ্নটি বলতে না পারো, তাহলে তোমাদের জন্য একটিই শাস্তি হবে। তোমরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ও বঞ্চনাবাক্য বলার মন্ত্রণা করেছ, এই ভেবে যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। অতএব তোমরা আমার স্বপ্নটি বলো, তাতে আমি বুঝব যে তার মানেও তোমরা বলতে পারবে।”
DAN 2:10 জ্যোতিষীরা রাজাকে উত্তর দিলেন, “মহারাজ, আপনি যা জানতে চাইছেন তা বলবার মতো লোক সারা পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না! আজ পর্যন্ত কোনো রাজা, যত মহান ও ক্ষমতাশালী হোন না কেন, এরকম কথা মন্ত্রবেত্তা, মায়াবী বা জ্যোতিষীদের কাছে জানতে চাননি।
DAN 2:11 মহারাজ, যে কথা আপনি জানতে চাইছেন তা খুব কঠিন। দেবতারা ব্যতিরেকে আর কেউ রাজার কাছে এই কথা প্রকাশ করতে পারবেন না এবং দেবতারা মানুষের মধ্যে বাস করে না।”
DAN 2:12 এটি শুনে রাজা এতটাই ক্রুদ্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন যে তিনি ব্যাবিলনের সব জ্ঞানীদের হত্যা করার আদেশ দিলেন।
DAN 2:13 তাই আদেশ দেওয়া হল যেসব জ্ঞানীদের হত্যা করা হবে এবং রাজা লোকেদের পাঠালেন যেন তারা দানিয়েল ও তার বন্ধুদের খুঁজে তাদের হত্যা করতে পারে।
DAN 2:14 রাজার প্রহরীদের সেনাপতি অরিয়োক, যখন ব্যাবিলনের জ্ঞানীদের হত্যা করতে গেল, দানিয়েল তার সঙ্গে জ্ঞান ও কৌশলের সাথে কথা বললেন।
DAN 2:15 তিনি রাজার কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন রাজা এমন কঠোর আদেশ দিয়েছেন?” অরিয়োক তখন দানিয়েলকে সমস্ত বিষয় ব্যাখ্যা করলেন।
DAN 2:16 এতে দানিয়েল রাজার কাছে গেলেন এবং সময় চেয়ে নিলেন যাতে তিনি রাজার স্বপ্নের মানে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
DAN 2:17 দানিয়েল তখন বাড়ি ফিরে এলেন ও তার বন্ধু হনানিয়, মীশায়েল ও অসরিয়কে সব কথা ব্যাখ্যা করলেন।
DAN 2:18 দানিয়েল তাদের স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে এই স্বপ্নের রহস্য জানার জন্য করুণা ভিক্ষা করতে বললেন, যেন সে ও তার বন্ধুরা ব্যাবিলনের অন্য জ্ঞানীদের সঙ্গে বিনষ্ট না হয়।
DAN 2:19 সেরাতেই স্বপ্নের রহস্য দানিয়েলের কাছে এক দর্শনের মাধ্যমে প্রকাশ পেল। তখন দানিয়েল স্বর্গের ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন।
DAN 2:20 তিনি বললেন: “ঈশ্বরের নামের চিরকাল প্রশংসা হোক; কারণ জ্ঞান ও শক্তি তাঁরই।
DAN 2:21 তিনি সময় ও ঋতু পরিবর্তন করেন; তিনি রাজাদের অপসারণ করেন ও অন্য রাজাদের উত্থাপন করেন। তিনি জ্ঞানীকে জ্ঞান দেন, আর বিচক্ষণকে বুদ্ধি দেন।
DAN 2:22 তিনি গভীর ও লুকানো বিষয় ব্যক্ত করেন; তিনি জানেন অন্ধকারে কী লুকিয়ে আছে, আর আলো ঈশ্বরেই বাস করে।
DAN 2:23 হে আমার পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, আমি তোমার ধন্যবাদ ও প্রশংসা করি; তুমি আমায় জ্ঞান ও শক্তি দিয়েছ, আমরা তোমার কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম তা তুমি আমার কাছে প্রকাশ করেছ, তুমি আমাদের কাছে রাজার সেই স্বপ্নের রহস্য প্রকাশ করেছ।”
DAN 2:24 তখন দানিয়েল অরিয়োকের কাছে গেলেন, যাকে রাজা ব্যাবিলনের সব জ্ঞানীদের হত্যা করার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন। দানিয়েল তাকে বললেন, “ব্যাবিলনের সব জ্ঞানীদের হত্যা করবেন না। আমাকে মহারাজের কাছে নিয়ে চলুন, আমি তার স্বপ্নের মানে ব্যাখ্যা করব।”
DAN 2:25 অরিয়োক তখনই দানিয়েলকে রাজার কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, “মহারাজ, যিহূদার বন্দিদের মধ্যে এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছি যে আপনার স্বপ্নের মানে বলে দিতে পারবে।”
DAN 2:26 রাজা দানিয়েলকে, যাকে বেল্টশৎসর নামেও ডাকা হত, জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি স্বপ্নে কী দেখেছি তা কি বলতে ও মানে ব্যাখ্যা করতে পারবে?”
DAN 2:27 দানিয়েল উত্তরে বললেন, “কোনো জ্ঞানী, মায়াবী, মন্ত্রবেত্তা বা গনকের পক্ষে আপনার স্বপ্নের রহস্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
DAN 2:28 কিন্তু স্বর্গে এক ঈশ্বর আছেন যিনি রহস্য প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা রাজা নেবুখাদনেজারকে দেখিয়েছেন। আপনি যখন বিছানায় শুয়েছিলেন তখন যে স্বপ্ন ও দর্শন দেখেছেন তা এই:
DAN 2:29 “হে মহারাজ, যখন আপনি শুয়েছিলেন, আপনি স্বপ্নে আগত ঘটনাসকল দেখলেন। ঈশ্বর যিনি রহস্য প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা আপনাকে দেখিয়েছেন।
DAN 2:30 অন্য কোনো জীবিত মানুষের থেকে আমার বেশি জ্ঞান আছে বলে যে আপনার স্বপ্নের রহস্য আমার কাছে প্রকাশিত হয়েছে এমন নয়; কিন্তু উদ্দেশ্য এই, যেন আপনি মহারাজ এর মানে বুঝতে পারেন এবং আপনার মনের মধ্যে কী হয়েছিল তা বুঝতে পারেন।
DAN 2:31 “মহারাজ, আপনি দেখলেন যে আপনার সামনে একটি প্রকাণ্ড মূর্তি; বৃহৎ, অতিশয় তেজোবিশিষ্ট ও দেখতে ভয়ংকর।
DAN 2:32 মূর্তিটির মাথা ছিল বিশুদ্ধ সোনার, বুক ও বাহু রুপোর, পেট ও ঊরু পিতলের,
DAN 2:33 পা-দুটি লোহার, আর পায়ের পাতা লোহা ও মাটি দিয়ে তৈরি ছিল।
DAN 2:34 আপনি যখন মূর্তিটির দিকে তাকিয়েছিলেন, তখন একটি বিরাট পাথরখণ্ড কাটা হল কিন্তু মানুষের হাত দিয়ে নয়; যা মূর্তিটির লোহা ও মাটি দিয়ে গঠিত পায়ের পাতায় আঘাত করে চূর্ণ করল।
DAN 2:35 এরপরে লোহা, মাটি, পিতল, রুপো ও সোনা সবকিছুই চূর্ণবিচূর্ণ হল ও গ্রীষ্মকালে খামারের তুষের মতো গুঁড়ো হল। বাতাস সেগুলি সব উড়িয়ে নিয়ে গেল, কিছুই পড়ে রইল না। কিন্তু ওই পাথরখণ্ডটি, যেটি মূর্তিটিকে আঘাত করেছিল, ক্রমে এক বিশাল পাহাড়ে পরিণত হয়ে সারা পৃথিবী পূর্ণ করল।
DAN 2:36 “এটিই ছিল সেই স্বপ্ন এবং এখন আমরা এর মানে রাজাকে ব্যাখ্যা করব।
DAN 2:37 মহারাজ, আপনি রাজাদের রাজা। স্বর্গের ঈশ্বর আপনাকে আধিপত্য, শক্তি, প্রতাপ ও মহিমা দিয়েছেন;
DAN 2:38 এমনকি তিনি সমস্ত মানবজাতি, মাঠের পশু ও আকাশের পাখি আপনার অধীন করেছেন। তাদের সকলের উপরে আপনাকে কর্তৃত্ব দিয়েছেন। সেই সোনার মাথা হলেন আপনিই।
DAN 2:39 “আপনার পর আরেকটি রাজ্য আসবে, তবে তা আপনার থেকে নিকৃষ্ট হবে। তারপর, তৃতীয় এক রাজ্য, পিতলের তৈরি, জগতে আধিপত্য করবে।
DAN 2:40 অবশেষে, চতুর্থ এক রাজ্য আসবে তা হবে লোহার মতো কঠিন। লোহা যেমন সমস্ত কিছু চূর্ণ করে ও পিষে ফেলে তেমনই এই রাজ্যও আগের সব রাজ্যগুলিকে চূর্ণ করবে ও পিষে ফেলবে।
DAN 2:41 আপনি যেমন দেখেছেন, মূর্তিটির পায়ের পাতা ও আঙুলগুলি লোহা ও মাটি মিশিয়ে তৈরি সেইরূপ এটি একটি বিভক্ত রাজ্য হবে; অথচ লোহার মতো কিছুটা শক্ত হবে, কেননা আপনি দেখেছিলেন লোহার সঙ্গে মাটি মিশানো ছিল।
DAN 2:42 পায়ের আঙুলগুলি যেমন লোহা ও মাটি মিশিয়ে তৈরি করা ছিল, তাই এই রাজ্য লোহার মতো শক্ত হবে আর মাটির মতো দুর্বল হবে।
DAN 2:43 এবং আপনি যেমন দেখেছেন লোহার সঙ্গে মাটি মিশানো ছিল, সেইরূপ এই রাজ্যের সকলে মিশ্রিত হবে এবং একত্রে থাকবে না; লোহা যেমন মাটির সঙ্গে কখনোই মিশে যায় না, তেমনই তারাও এক হতে পারবে না।
DAN 2:44 “এসব রাজাদের শাসনকালে স্বর্গের ঈশ্বর এমন একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করবেন, যা কেউ ধ্বংস করতে পারবে না বা কেউ অধিকার করতে পারবে না। কিন্তু এই রাজ্য অন্য সব রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে চিরস্থায়ী হবে।
DAN 2:45 মানুষের সাহায্য ছাড়াই যেভাবে পাহাড় থেকে একটি পাথর কেটে লোহা, পিতল, মাটি, রুপো ও সোনা ধ্বংস করা হল, আপনার সেই দর্শনের অর্থ এই। “এ সবকিছুর মাধ্যমে মহান ঈশ্বর ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আপনাকে দেখিয়েছেন। মহারাজ, আপনার স্বপ্ন সত্য ও তার ব্যাখ্যা নিশ্চিত।”
DAN 2:46 তারপর রাজা নেবুখাদনেজার উপুড় হয়ে দানিয়েলকে প্রণাম ও আরাধনা করলেন এবং তার উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য ও সুগন্ধিদ্রব্য উৎসর্গ করতে আদেশ দিলেন।
DAN 2:47 রাজা দানিয়েলকে বললেন, “তোমার ঈশ্বর সব দেবতাগনের ঊর্ধ্বে শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর ও রাজাদের ঊর্ধ্বে প্রভু এবং রহস্য প্রকাশকারী, কারণ তুমি এই রহস্য প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছ।”
DAN 2:48 তখন রাজা দানিয়েলকে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং অনেক মূল্যবান উপহার দিলেন। রাজা তাকে ব্যাবিলন প্রদেশের শাসক করলেন এবং সব জ্ঞানী লোকেদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করলেন।
DAN 2:49 এছাড়াও, দানিয়েলের অনুরোধে রাজা শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোকে ব্যাবিলনের বিভিন্ন প্রদেশের প্রশাসক নিযুক্ত করলেন, যদিও দানিয়েল রাজসভাতেই রইলেন।
DAN 3:1 রাজা নেবুখাদনেজার 27 মিটার উঁচু এবং 2.7 মিটার চওড়া একটি সোনার মূর্তি তৈরি করলেন এবং ব্যাবিলন প্রদেশের দূরা সমভূমিতে স্থাপন করলেন।
DAN 3:2 তারপর রাজা দেশের সমস্ত রাজ্যপাল, উপরাজ্যপাল, প্রদেশপাল, উপদেষ্টা, কোষাধ্যক্ষ, বিচারক, উপবিচারক এবং প্রদেশসমুহের সমস্ত শাসনকর্তাদের এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে সমবেত হতে আদেশ জারি করলেন।
DAN 3:3 তখন রাজ্যপাল, উপরাজ্যপাল, প্রদেশপাল, উপদেষ্টা, কোষাধ্যক্ষ, বিচারক, উপবিচারক এবং প্রদেশসমুহের সমস্ত শাসনকর্তাগণ রাজা নেবুখাদনেজারের স্থাপিত সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা উৎসবে একত্র হলেন এবং মূর্তির সামনে দাঁড়ালেন।
DAN 3:4 তখন রাজঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন, “প্রত্যেক বংশ, জাতি ও ভাষার মানুষগণ, আপনাদের প্রতি এই আদেশ দেওয়া হয়েছে:
DAN 3:5 যখনই আপনারা শিঙ্গা, বাঁশি, সেতার, সুরবাহার, বীণা, সানাই ও সর্বপ্রকার যন্ত্রের বাজনা শুনবেন আপনারা উপুড় হয়ে রাজা নেবুখাদনেজারের স্থাপিত সোনার মূর্তিকে আরাধনা করবেন।
DAN 3:6 কেউ যদি উপুড় হয়ে আরাধনা না করে, তাকে তৎক্ষণাৎ জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেওয়া হবে।”
DAN 3:7 অতএব প্রত্যেক বংশ, জাতি ও ভাষার মানুষগণ যখন শিঙ্গা, বাঁশি, সেতার, সুরবাহার, বীণা ও সর্বপ্রকার যন্ত্রের বাজনা শুনলেন, তারা উপুড় হলেন ও রাজা নেবুখাদনেজারের প্রতিষ্ঠিত সোনার মূর্তিকে আরাধনা করল।
DAN 3:8 এসময় কিছু জ্যোতিষীগণ সামনে এগিয়ে এসে ইহুদিদের দোষারোপ করল।
DAN 3:9 তারা রাজা নেবুখাদনেজারকে বলল, “মহারাজ, চিরজীবী হোন!
DAN 3:10 মহারাজ, আপনি আদেশ জারি করেছেন, যে কেউ শিঙ্গা, বাঁশি, সেতার, সুরবাহার, বীণা, সানাই ও সর্বপ্রকার যন্ত্রের বাজনা শুনবে সে এই সোনার মূর্তিকে উপুড় হয়ে আরাধনা করবে,
DAN 3:11 আর কেউ যদি উপুড় হয়ে আরাধনা না করে তাকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেওয়া হবে।
DAN 3:12 কিন্তু মহারাজ, আপনি কয়েকজন ইহুদিকে ব্যাবিলনের রাজকাজে নিযুক্ত করেছেন যাদের নাম শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগো, যারা আপনাকে গ্রাহ্য করে না। তারা আপনার দেবতাদের সেবা করে না, এমনকি আপনার স্থাপিত সোনার মূর্তিরও আরাধনা করে না।”
DAN 3:13 রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে, নেবুখাদনেজার আদেশ দিলেন শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোকে তার সামনে আনতে, তাই তাদের রাজার সামনে হাজির করা হল।
DAN 3:14 নেবুখাদনেজার তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগো, একথা কি সত্য যে তোমরা আমার দেবতাদের ও আমার স্থাপিত সোনার মূর্তিকে আরাধনা করো না?
DAN 3:15 এখন যদি তোমরা শিঙ্গা, বাঁশি, সেতার, সুরবাহার, বীণা, সানাই ও সর্বপ্রকার যন্ত্রের বাজনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপুড় হও এবং সেই মূর্তিকে আরাধনা করো, তবে ভালো। কিন্তু যদি তোমরা আরাধনা না করো, তোমাদের তৎক্ষণাৎ জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেওয়া হবে। তখন কোনও দেবতা আমার হাত থেকে তোমাদের উদ্ধার করতে পারবে?”
DAN 3:16 শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগো রাজাকে উত্তর দিলেন, “হে নেবুখাদনেজার, আপনার এই কথার জবাব দেওয়ার কোনো দরকার আমাদের নেই
DAN 3:17 যদি আমাদের জলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেওয়া হয়, আমাদের ঈশ্বর যাকে আমরা সেবা করি, তিনি আমাদের রক্ষা করতে পারবেন এবং হে রাজা, আপনার হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করবেন।
DAN 3:18 কিন্তু তিনি যদি আমাদের রক্ষা নাও করেন, আপনি জেনে রাখুন হে মহারাজ যে, আমরা আপনার দেবতাদের সেবা করব না অথবা আপনার স্থাপিত সোনার মূর্তিকেও আরাধনা করব না।”
DAN 3:19 নেবুখাদনেজার তখন শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোর প্রতি রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন এবং তার মুখ লাল হয়ে উঠল; এবং তিনি আদেশ দিলেন অগ্নিকুণ্ড যেমন থাকে, তার থেকেও সাতগুণ বেশি উত্তপ্ত করতে।
DAN 3:20 তারপর তিনি কয়েকজন বলবান সৈন্যদের আদেশ দিলেন শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোকে শক্ত করে বাঁধতে ও অগ্নিকুণ্ডে ছুঁড়ে ফেলতে।
DAN 3:21 অতএব তাদেরকে পরনের পোশাক, আচ্ছাদন, মাথার কাপড় ও অন্যান্য বস্ত্র সহ বেঁধে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেওয়া হল।
DAN 3:22 রাজার কঠোর আদেশের ফলে অগ্নিকুণ্ড এতটাই উত্তপ্ত করা হল এবং সেই আগুনের তাপে যারা শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোকে আগুনে ফেলতে গিয়েছিল, সেই সৈন্যদের মৃত্যু হল।
DAN 3:23 আর এই তিনজন, হাত পা বাঁধা অবস্থায়, জলন্ত আগুনের মধ্যে পড়ল।
DAN 3:24 তখন রাজা নেবুখাদনেজার অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং উপদেষ্টাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা কি তিনজনকে বেঁধে অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দিলাম না?” তারা উত্তর দিলেন, “নিশ্চই, মহারাজ।”
DAN 3:25 তিনি বললেন, “দেখো! আমি চারজনকে আগুনের মধ্যে মুক্ত ও অক্ষত অবস্থায় চারপাশে হাঁটতে দেখছি। এবং চতুর্থ জনকে দেবতার পুত্র বলে মনে হচ্ছে।”
DAN 3:26 তারপর নেবুখাদনেজার অগ্নিকুণ্ডের প্রবেশপথের দিকে গেলেন ও চিৎকার করে বললেন, “পরাৎপর ঈশ্বরের সেবক শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগো বের হয়ে এসো! এখানে এসো!” তখন শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগো আগুন থেকে বের হয়ে এল।
DAN 3:27 সকল রাজ্যপাল, উপরাজ্যপাল, প্রদেশপাল, ও রাজ উপদেষ্টাবর্গ তাদেরকে ঘিরে ধরল। তারা দেখল যে আগুন তাদের দেহে কোনও ক্ষতি করেনি, আগুনে তাদের চুলও পোড়েনি, পরনের পোশাক আগুনে পুড়ে যায়নি, এমনকি তাদের গায়ে আগুনের পোড়া গন্ধও নেই।
DAN 3:28 তখন নেবুখাদনেজার বললেন, “শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোর ঈশ্বরের প্রশংসা হোক, যিনি নিজের দূত পাঠিয়ে তাঁর দাসদের রক্ষা করেছেন! তারা তাদের ঈশ্বরে আস্থা রেখেছে এবং রাজার আদেশ অমান্য করেছে। এমনকি নিজেদের আরাধ্য ঈশ্বর ছাড়া অন্য দেবতাদের সেবা ও আরাধনা না করে নিজেদের জীবন দিতেও তারা প্রস্তুত ছিল।
DAN 3:29 অতএব, আমি আদেশ জারি করছি, কোনো জাতি ও ভাষাভাষীর কেউ যদি শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোর আরাধ্য ঈশ্বরের বিপক্ষে কোনো কথা বলে তবে তাদের টুকরো টুকরো করা হবে, তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ধ্বংসাস্তূপে পরিণত করা হবে, কারণ অন্য কোনো দেবতা এইভাবে রক্ষা করতে পারে না।”
DAN 3:30 এরপর রাজা শদ্রক, মৈশক ও অবেদনগোকে ব্যাবিলন প্রদেশে আরও উঁচু পদে নিযুক্ত করলেন।
DAN 4:1 রাজা নেবুখাদনেজার, সমস্ত পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রত্যেক জাতি ও ভাষার মানুষের প্রতি: তোমাদের অনেক উন্নতি হোক!
DAN 4:2 পরাৎপর ঈশ্বর আমার জন্য যে অলৌকিক চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ করেছেন তা সব তোমাদের জানানো আমি উচিত মনে করছি।
DAN 4:3 তাঁর চিহ্নসকল কত মহান,
DAN 4:4 আমি, নেবুখাদনেজার, পরিতৃপ্তি ও সমৃদ্ধিতে রাজপ্রাসাদে বাস করছিলাম।
DAN 4:5 কিন্তু একদিন এক স্বপ্ন দেখলাম যা আমাকে ভীত করল। যখন আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম, তখন যেসব চিন্তা ও দর্শন মনে এল তা আমাকে আতঙ্কিত করল।
DAN 4:6 তাই আদেশ দিলাম যে এই স্বপ্নের মানে আমাকে ব্যাখ্যা করবার জন্য ব্যাবিলনের সমস্ত জ্ঞানীদের আমার সামনে হাজির করা হোক।
DAN 4:7 যখন সব মন্ত্রবেত্তা, যাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকেরা এসে হাজির হল, আমি স্বপ্নটি তাদের বললাম কিন্তু তারা কেউ এর মানে আমাকে ব্যাখ্যা করতে পারল না।
DAN 4:8 অবশেষে, দানিয়েল আমার সামনে এল এবং আমি স্বপ্নটি তাকে বললাম। আমার দেবতার নামানুসারে তাকে বেল্টশৎসর বলা হত কারণ পুণ্য দেবতাদের আত্মা তার অন্তরে ছিল।
DAN 4:9 আমি বললাম, “হে মন্ত্রবেত্তাদের প্রধান বেল্টশৎসর, আমি জানি পুণ্য দেবতাদের আত্মা তোমার অন্তরে আছে এবং কোনো রহস্যই তোমার অসাধ্য নয়। এই হল আমার স্বপ্ন; আমাকে এর মানে বুঝিয়ে দাও।
DAN 4:10 বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় আমি এসব দর্শন পেলাম: আমি তাকিয়ে দেখলাম, পৃথিবীর মাঝখানে আমার সামনে একটি গাছ, যা ছিল উচ্চতায় প্রকাণ্ড।
DAN 4:11 গাছটি ক্রমাগত বেড়ে বৃহৎ ও শক্তিশালী হয়ে উঠল, উচ্চতায় আকাশ ছুঁল এবং পৃথিবীর সব প্রান্ত পর্যন্ত দৃশ্যমান হল।
DAN 4:12 তার সুন্দর পাতা ছিল ও পর্যাপ্ত ফল ছিল এবং তার মধ্যে সকলের আহার ছিল। মাঠের বন্যপশুরা এই গাছের তলায় আশ্রয় খুঁজে পেল এবং পাখিরা ডালপালায় বাস করল; সকল প্রাণী এই গাছটি থেকে খাবার পেল।
DAN 4:13 “পরে আমি বিছানায় শুয়ে দর্শনে দেখলাম, আমার সামনে এক পবিত্র ব্যক্তি, এক দূত, যিনি স্বর্গ থেকে নেমে আসছিলেন।
DAN 4:14 তিনি জোর গলায় ঘোষণা করলেন: ‘গাছটি কেটে ফেলো ও তার ডালপালাগুলি ছেঁটে দাও, পাতাগুলি ঝেড়ে ফেলো এবং ফলগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাও। এই গাছের আশ্রয় থেকে পশুরা এবং ডালপালা থেকে পাখিরা পালিয়ে যাক।
DAN 4:15 কিন্তু শুধু মূলকাণ্ড ও শিকড়, লোহা ও পিতলের শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায়, মাটিতে পড়ে থাক; ও মাঠের ঘাসের মধ্যে পড়ে থাক। “ ‘সে আকাশের শিশিরে ভিজুক এবং পশুদের সঙ্গে পৃথিবীর গাছপালার মধ্যে তার বাসস্থান হোক।
DAN 4:16 সাত কাল পর্যন্ত তার মানুষের মন নিয়ে তাকে পশুর মন দেওয়া হোক।
DAN 4:17 “ ‘এই সিদ্ধান্ত দূতদের মাধ্যমে ঘোষিত হল, পবিত্র ব্যক্তিগণ এই রায় ঘোষণা করলেন, যেন সব জীবিত মানুষ জানতে পারে যে পরাৎপর ঈশ্বর পৃথিবীর সব রাজ্যের উপর সার্বভৌম এবং যে ব্যক্তিকে চান তার হাতে তিনি সেই রাজত্বভার অর্পণ করেন এবং ঈশ্বর এই রাজ্যগুলি শাসনের জন্য বিনয়ী লোকেদের মনোনীত করেন।’
DAN 4:18 “আমি, রাজা নেবুখাদনেজার এই স্বপ্নই দেখেছিলাম। এখন, বেল্টশৎসর, আমাকে এর মানে কি তা বুঝিয়ে বলো কেননা আমার রাজ্যের কোনো জ্ঞানী এর মানে আমাকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। কিন্তু তুমি পারবে, কারণ পবিত্র দেবতাদের আত্মা তোমার মধ্যে উপস্থিত।”
DAN 4:19 তখন দানিয়েল, যাকে বেল্টশৎসর বলা হত, কিছুক্ষণের জন্য খুব হতবুদ্ধি হয়ে রইল; স্বপ্নের মানে তাকে আতঙ্কিত করল। তাই রাজা বললেন, “বেল্টশৎসর, এই স্বপ্ন বা তার অর্থ যেন তোমাকে ভীত না করে।” বেল্টশৎসর উত্তর দিলেন, “হে আমার প্রভু, শুধু যদি এই স্বপ্ন আপনার পরিবর্তে আপনার শত্রুদের উপর বর্তাত ও এর অর্থ আপনার বিপক্ষের প্রতি ঘটত!
DAN 4:20 যে গাছটি আপনি দেখেছিলেন, যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ও শক্তিশালী হয়েছিল, যার উচ্চতা আকাশ ছুঁয়েছিল, সমস্ত পৃথিবীতে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল,
DAN 4:21 যার পাতা সুন্দর ও প্রচুর ফল ছিল, সকলকে আহার দিয়েছিল, বন্যপশুদের আশ্রয় দিয়েছিল এবং যার ডালে পাখিরা বাসা বেঁধেছিল,
DAN 4:22 হে মহারাজ, আপনিই সেই গাছ! আপনি মহান এবং শক্তিশালী হয়েছেন; আপনার গৌরব বৃদ্ধি পেয়ে আকাশ ছুঁয়েছে এবং আপনার আধিপত্য পৃথিবীর দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
DAN 4:23 “হে মহারাজ আপনি এক পবিত্র ব্যক্তিকে দেখলেন, এক দূত, যিনি স্বর্গ থেকে নেমে আসছিলেন; তিনি বললেন, ‘গাছটি কেটে একেবারে নষ্ট করে দাও, শুধু মূল কাণ্ডটি রেখে দাও, লোহা ও পিতলের শিকল দিয়ে ওটাকে বেঁধে রাখো, ঘাসের মধ্যে থাক, আর শিকড় মাটিতে পড়ে থাক। সে আকাশের শিশিরে ভিজুক, বন্যপশুদের সঙ্গে বাস করুক, যতদিন না পর্যন্ত তার জন্য সাত কাল অতিক্রম হচ্ছে।’
DAN 4:24 “হে মহারাজ, স্বপ্নের মানে এই এবং পরাৎপর ঈশ্বর আমার প্রভু মহারাজের বিরুদ্ধে এই আদেশ জারি করেছেন:
DAN 4:25 মানুষের সমাজ থেকে আপনাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং আপনি বন্যপশুদের সঙ্গে বাস করবেন; বলদের মতো আপনি ঘাস খাবেন ও আকাশের শিশিরে ভিজবেন। সাত কাল পার হবে যতদিন না পর্যন্ত আপনি স্বীকার করবেন যে পরাৎপর ঈশ্বর পৃথিবীর সমস্ত রাজ্যের উপর সার্বভৌম এবং যাকে তাঁর খুশি তার হাতে তিনি রাজত্বভার অর্পণ করেন।
DAN 4:26 আদেশ অনুযায়ী মূলকাণ্ড ও শিকড় অক্ষত রাখার অর্থ হল যে, আপনি যখন স্বর্গের কর্তৃত্বের কথা স্বীকার করবেন, তখন আপনার রাজত্ব আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
DAN 4:27 অতএব, হে মহারাজ, আমার পরামর্শ গ্রহণ করুন: ন্যায় আচরণ করে পাপের জীবন পরিত্যাগ করুন ও পীড়িতদের প্রতি দয়া করে দুষ্ট জীবন বর্জন করুন। তাতে হয়তো আপনার সমৃদ্ধি বজায় থাকবে।”
DAN 4:28 এসবই রাজা নেবুখাদনেজারের জীবনে ঘটেছিল।
DAN 4:29 বারো মাস পরে, রাজা যখন ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদের ছাদে হাঁটছিলেন,
DAN 4:30 তিনি বললেন, “এই কি সেই মহান ব্যাবিলন নয়, যা আমি আপন পরাক্রমে নিজের মহিমা প্রকাশের উদ্দেশে রাজকীয় ভবন রূপে গড়ে তুলেছি?”
DAN 4:31 কথাগুলি যখন তার মুখেই ছিল, স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “তোমার জন্য এই আদেশ জারি করা হয়েছে, রাজা নেবুখাদনেজার, তোমার রাজকীয় কর্তৃত্ব তোমার কাছে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
DAN 4:32 মানুষের সমাজ থেকে তোমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং বন্যপশুদের সঙ্গে তুমি বাস করবে; তুমি বলদের মতো ঘাস খাবে। সাত কাল এভাবেই কেটে যাবে যতদিন না পর্যন্ত তুমি স্বীকার করবে যে পরাৎপর ঈশ্বর পৃথিবীর সমস্ত রাজ্যের উপর সার্বভৌম এবং যাকে তাঁর খুশি তার হাতে তিনি রাজত্বভার অর্পণ করেন।”
DAN 4:33 তৎক্ষণাৎ নেবুখাদনেজারের সম্বন্ধে যা বলা হয়েছিল তা পূর্ণ হল। মানুষের সমাজ থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল এবং বলদের মতো সে ঘাস খেল। আকাশের নিচে তার সারা শরীর শিশিরে ভিজল যতদিন না পর্যন্ত তার চুল ঈগল পাখির পালকের মতো বেড়ে উঠল ও তার নখ পাখির নখের মতো হয়ে উঠল।
DAN 4:34 সেই সময় শেষ হওয়ার পরে, আমি, নেবুখাদনেজার, স্বর্গের দিকে চোখ তুলে দেখলাম এবং আমার সুবুদ্ধি ফিরিয়ে দেওয়া হল; তখন আমি পরাৎপর ঈশ্বরের ধন্যবাদ করলাম; যিনি নিত্যস্থায়ী তাঁর প্রশংসা ও সমাদর করলাম।
DAN 4:35 পৃথিবীর সব মানুষেরা
DAN 4:36 যে সময়ে আমার সুবুদ্ধি ফিরিয়ে দেওয়া হল, আমার রাজ্যের গৌরবার্থে, সেই সময়েই আমার সম্মান ও প্রতিপত্তিও আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। আমার উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি সকলে আমাকে খুঁজে বের করল। আমাকে রাজসিংহাসনে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হল এবং আমার মহিমা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেল।
DAN 4:37 এখন, আমি, নেবুখাদনেজার, স্বর্গের রাজার প্রশংসা, গৌরব ও সমাদর করি কারণ তিনি যা করেন তা সঠিক ও তাঁর সমস্ত পথ ন্যায্য। আর যারা অহংকারে জীবন কাটায় তাদের তিনি নম্র করতে সক্ষম।
DAN 5:1 রাজা বেলশৎসর এক হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এক মহাভোজ দিলেন ও তাদের সঙ্গে দ্রাক্ষারস পান করলেন।
DAN 5:2 বেলশৎসর যখন দ্রাক্ষারস পান করছিলেন, তিনি আদেশ দিলেন সেইসব সোনারুপোর পানপাত্র সেখানে আনা হোক যেগুলি তার বাবা নেবুখাদনেজার জেরুশালেমের মন্দির থেকে নিয়েছিলেন, যেন রাজা ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, তার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ সকলে সেইসব পাত্রে দ্রাক্ষারস পান করতে পারেন।
DAN 5:3 তখন তারা সোনার পানপাত্রগুলি নিয়ে এল যেগুলি জেরুশালেমে অবস্থিত ঈশ্বরের মন্দির থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং রাজা ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, রাজার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ সেই পাত্রগুলিতে দ্রাক্ষারস পান করলেন।
DAN 5:4 তারা দ্রাক্ষারস পান করতে করতে সোনা, রুপো, পিতল, লোহা, কাঠ ও পাথরের দেবতাদের জয়গান করলেন।
DAN 5:5 হঠাৎ একটি মানুষের হাতের আঙুল দেখা গেল ও সেই আঙুলগুলি রাজপ্রাসাদের দেওয়ালে, বাতিদানের কাছে কিছু লিখতে শুরু করল। যে হাত লিখছিল রাজা সেই হাত দেখলেন।
DAN 5:6 রাজার মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল ও রাজা এতটাই ভীত হলেন যে তার পা দুর্বল হয়ে উঠল এবং তার হাঁটু কাঁপতে লাগল।
DAN 5:7 রাজা চিৎকার করে মায়াবী, জ্যোতিষী ও গণকদের ডেকে পাঠালেন। তিনি ব্যাবিলনের সেইসব জ্ঞানীদের বললেন, “এই লেখাগুলি যে পড়তে পারবে ও আমাকে এর মানে বলতে পারবে, তাকে বেগুনি রংয়ের রাজপোশাক পরানো হবে, গলায় সোনার হার পরানো হবে এবং তাকে রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক করা হবে।”
DAN 5:8 তখন রাজার সকল জ্ঞানী ব্যক্তিরা এগিয়ে এল কিন্তু কেউ সেই লেখা পড়তে পারল না বা রাজাকে তার মানেও বলতে পারল না।
DAN 5:9 তখন রাজা বেলশৎসর আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন এবং তার মুখ আরও বিবর্ণ হয়ে উঠল। তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ হতবুদ্ধি হলেন।
DAN 5:10 মহারানি, যখন রাজার ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গলা শুনলেন, মহাভোজের স্থানে এলেন, ও বললেন, “মহারাজ চিরজীবী হোন! আতঙ্কিত হবেন না! আপনার মুখ বিবর্ণ হতে দেবেন না!
DAN 5:11 আপনার রাজ্যে এক ব্যক্তি আছে যার অন্তরে পবিত্র দেবতাদের আত্মা অবস্থান করে। আপনার বাবার রাজত্বকালে তার মধ্যে দেবতাদের ন্যায় অন্তর্দৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। আপনার বাবা, রাজা নেবুখাদনেজার, তাকে সমস্ত মন্ত্রবেত্তা, মায়াবী, জ্যোতিষী ও গণকদের প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন।
DAN 5:12 আপনার বাবা এই কাজ করেছিলেন কারণ দানিয়েলের, যাকে রাজা বেল্টশৎসর নাম দিয়েছিলেন, মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনা, জ্ঞান, বোধশক্তি, এমনকি স্বপ্নের মানে বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা, ধাঁধা বুঝিয়ে বলা ও কঠিন সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা ছিল। আপনি তাকে ডেকে পাঠান এবং তিনি এই লেখার মানে আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন।”
DAN 5:13 তখন দানিয়েলকে রাজার সামনে হাজির করা হল এবং রাজা তাকে বললেন, “তুমি কি দানিয়েল, যাকে আমার বাবা যিহূদা থেকে এখানে নির্বাসনে এনেছিলেন?
DAN 5:14 আমি শুনেছি যে তোমার অন্তরে দেবতাদের আত্মা বাস করেন, তাই তোমার মধ্যে অন্তর্দৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ জ্ঞান রয়েছে।
DAN 5:15 দেওয়ালের এই লেখাটি পড়ে মানে বলবার জন্য রাজ্যের সব জ্ঞানী ও মায়াবীদের এখানে আনা হয়েছিল কিন্তু তারা কেউই এর মানে বলতে পারেনি।
DAN 5:16 আমি এমনও শুনেছি যে তুমি রহস্য ব্যাখ্যা করতে ও কঠিন সমস্যা সমাধান করতে পারো। যদি তুমি এই লেখাটি পড়তে পারো ও আমাকে তার মানে বলতে পারো, তাহলে তোমাকে বেগুনি রংয়ের রাজপোশাক পরানো হবে, গলায় সোনার হার পরানো হবে এবং রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক হিসেবে তোমাকে নিযুক্ত করা হবে।”
DAN 5:17 তখন দানিয়েল রাজাকে উত্তর দিলেন, আপনার উপহার আপনি নিজের কাছেই রাখুন ও আপনার পুরস্কার আপনি অন্য কাউকে দিন। কিন্তু আমি মহারাজের কাছে এই লেখাটি পড়ব এবং তার মানে আপনাকে বলব।
DAN 5:18 “হে মহারাজ, পরাৎপর ঈশ্বর আপনার বাবা নেবুখাদনেজারকে আধিপত্য, মাহাত্ম্য, মহিমা ও প্রতিপত্তি দিয়েছিলেন।
DAN 5:19 তিনি তাকে যে মহিমা দিয়েছিলেন তা দেখে প্রত্যেক জাতি ও ভাষাভাষীর মানুষেরা তার সাক্ষাতে কাঁপত ও ভয় করত। রাজা যাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইতেন, তাকে হত্যা করতেন, যাকে বাঁচাতে চাইতেন তাকে জীবন দিতেন; যার উন্নতি চাইতেন তার উন্নতি হত আবার যার অবনতি চাইতেন তার পতন হত।
DAN 5:20 কিন্তু যখন তার হৃদয় অহংকারী হল এবং গর্বে কঠিন হল, তিনি আপন সিংহাসন হারালেন এবং সব গৌরব থেকে বিচ্যুত হলেন।
DAN 5:21 মানুষের সমাজ থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, তাকে বন্যপশুর মন দেওয়া হল; বুনো গাধার সঙ্গে বাস করলেন, বলদের মতো ঘাস খেলেন; আকাশের শিশিরে তার শরীর ভিজল, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি স্বীকার করলেন যে পরাৎপর ঈশ্বর জগতের সমস্ত রাজ্যের উপর সার্বভৌম এবং তিনি যাকে ভালো মনে করেন তার হাতে রাজত্বভার তুলে দেন।
DAN 5:22 “কিন্তু আপনি, বেলশৎসর, তার পুত্র, এসব জেনেও নিজেকে ঈশ্বরের সামনে নম্র করেননি।
DAN 5:23 বরং আপনি স্বর্গের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নিজেকে তুলে ধরেছেন। ঈশ্বরের মন্দির থেকে আনা পবিত্র পাত্রগুলিতে আপনি, আপনার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, আপনার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ দ্রাক্ষারস পান করেছেন। রুপো, সোনা, পিতল, লোহা, কাঠ ও পাথরের দেবতাদের, যারা দেখতে, শুনতে বা বুঝতে পারে না, আপনি তাদের আরাধনা করছেন। কিন্তু আপনি সেই ঈশ্বরের আরাধনা করেননি যিনি আপনাকে জীবন দেন এবং আপনার নিয়তি নিয়ন্ত্রণ করেন!
DAN 5:24 তাই তিনি সেই হাত পাঠিয়েছেন যা এই লেখা লিখেছে।
DAN 5:25 “এই বার্তা লেখা হয়েছে: মেনে, মেনে, তেকেল, পারসিন
DAN 5:26 “এই শব্দগুলির মানে হল: “মেনে: ঈশ্বর আপনার রাজত্বের দিনগুলি গুনেছেন এবং তা শেষ করেছেন।
DAN 5:27 “তেকেল: আপনাকে দাড়িপাল্লায় ওজন করা হয়েছে এবং ওজনে ঘাটতি রয়েছে।
DAN 5:28 “পারসিন: আপনার রাজ্য বিভক্ত হয়েছে এবং মাদীয় ও পারসিকদেরকে দেওয়া হয়েছে।”
DAN 5:29 তখন বেলশৎসরের আদেশে, দানিয়েলকে বেগুনি রংয়ের রাজকীয় পোশাক ও গলায় সোনার হার পরান হল এবং তাকে রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক ঘোষণা করা হল।
DAN 5:30 ঠিক সেরাতেই ব্যাবিলনীয়দের রাজা বেলশৎসর নিহত হলেন,
DAN 5:31 এবং মাদীয়বাসী দারিয়াবস, বাষট্টি বছর বয়েসে, রাজ্য দখল করলেন।
DAN 6:1 সম্রাট দারিয়াবস তার রাজ্যে একশো কুড়ি জন রাজ্যপাল নিয়োগ করলেন, যারা তার রাজত্ব জুড়ে শাসন করবে
DAN 6:2 তাদের উপরে তিনজন শাসককে নিয়োগ করলেন, দানিয়েল ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। এই রাজ্যপালেরা শাসকদের কাছে জবাবদিহি করত যাতে রাজার কোনো লোকসান না হয়।
DAN 6:3 এখন দানিয়েল তার ব্যতিক্রমী গুণাবলির দ্বারা শাসকদের এবং রাজ্যপালদের মধ্যে নিজেকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে রাজা তাকে সমগ্র রাজ্যের উপর নিয়োগ করার পরিকল্পনা করলেন।
DAN 6:4 এতে শাসকেরা ও রাজ্যপালেরা রাজকার্যে দানিয়েলের ভুল ত্রুটি খুঁজতে লাগলেন কিন্তু তারা কোনো দোষই খুঁজে পেলেন না কেননা দানিয়েল ছিলেন বিশ্বস্ত; তিনি অসৎ বা অবহেলাকারী ছিলেন না।
DAN 6:5 শেষে তারা বললেন, “ঈশ্বরের বিধানসংক্রান্ত বিষয় ছাড়া দানিয়েলকে অভিযুক্ত করবার মতো কোনও ত্রুটি পাওয়া যাবে না।”
DAN 6:6 তখন সেই শাসকগণ ও রাজ্যপালরা সকলে মিলে রাজার কাছে গেলেন ও বললেন, “রাজা দারিয়াবস চিরজীবী হোন!
DAN 6:7 রাজ্যের সকল শাসক, উপরাজ্যপাল, রাজ্যপাল, উপদেষ্টা এবং প্রদেশপাল সম্মত হয়েছে যে, মহারাজ একটি আদেশ জারি করুন ও বলবৎ করুন যে আগামী তিরিশ দিনে কেউ যদি মহারাজ ছাড়া অন্য কোনো দেবতা বা মানুষের কাছে প্রার্থনা করে, তবে হে মহারাজ, তাকে সিংহের গুহায় ফেলে দেওয়া হবে।
DAN 6:8 তাই, হে মহারাজ, এই আদেশনামা জারি করুন ও লিখিত আকারে বলবৎ করুন, যেন কেউ তা পরিবর্তন করতে না পারে, যেমন মাদীয় ও পারসিকদের ব্যবস্থানুসারে কোনো আদেশনামা বতিল হয় না।”
DAN 6:9 তাই রাজা দারিয়াবস ওই আদেশনামা লিখিত আকারে জারি করলেন।
DAN 6:10 দানিয়েল যখন শুনলেন যে আদেশনামা জারি হয়েছে, তিনি তার বাড়ির উপরের ঘরে ফিরে গেলেন, যে ঘরের জানালা জেরুশালেমের দিকে খুলত। দিনে তিনবার অভ্যাসমতো নতজানু হলেন ও প্রার্থনা করলেন এবং ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন।
DAN 6:11 তখন এই লোকেরা মিলিতভাবে গেলেন ও দেখলেন দানিয়েল ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন ও সাহায্য চাইছেন।
DAN 6:12 তখন তারা রাজার কাছে গেলেন ও রাজার আদেশনামার বিষয়ে বললেন, “মহারাজ, আপনি কি এই আদেশনামা জারি করেননি, যে তিরিশ দিনের মধ্যে কেউ যদি মহারাজ ছাড়া অন্য কোনো দেবতা বা মানুষের আরাধনা করে তবে তাকে সিংহের গুহায় ফেলে দেওয়া হবে?” রাজা বললেন, “সে আদেশ এখনও জারি রয়েছে; মাদীয় ও পারসিকদের রীতি অনুসারে তা বাতিল হবার নয়।”
DAN 6:13 তখন তারা রাজাকে বললেন, “হে মহারাজ, দানিয়েল নামে যিহূদা দেশের বন্দিদের মধ্যে একজন আপনাকে গ্রাহ্য করে না বা আপনার জারি করা লিখিত আদেশ মান্য করে না। সে এখনও দিনে তিনবার নিয়মিত প্রার্থনা করে।”
DAN 6:14 রাজা যখন একথা শুনলেন তখন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হলেন; তিনি দানিয়েলকে রক্ষা করতে দৃঢ়সংকল্প ছিলেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করলেন।
DAN 6:15 তখন সেই লোকেরা আবার মিলিতভাবে রাজা দারিয়াবসের কাছে গেলেন ও তাকে বললেন, “মহারাজ, মনে রাখবেন, যে মাদীয় ও পারসিকদের রীতি অনুসারে রাজার আদেশনামা কখনও পরিবর্তন হয় না।”
DAN 6:16 তখন রাজা আদেশ দিলেন এবং তারা দানিয়েলকে ধরে আনলেন এবং তাকে সিংহের গুহায় ফেলে দিলেন। রাজা দানিয়েলকে বললেন, “তোমার ঈশ্বর, যাকে তুমি নিয়মিত সেবা করো, সেই তোমাকে রক্ষা করুক।”
DAN 6:17 একটি বড়ো পাথর আনা হল ও গুহার মুখ বন্ধ করা হল এবং রাজা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সিলমোহর তার উপর বসানো হল যেন দানিয়েলের অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হয়
DAN 6:18 তখন রাজা প্রাসাদে ফিরে গেলেন কিন্তু কিছু খাওয়াদাওয়া না করে ও কোনো আমোদ-প্রমোদ না করে, রাত্রি কাটালেন; এবং সারারাত ঘুমাতে পারলেন না।
DAN 6:19 রাজা খুব ভোরে উঠলেন ও সিংহের গুহার দিকে ছুটে গেলেন।
DAN 6:20 যখন তিনি সিংহের গুহার কাছে এলেন, তখন উদ্বেগের সঙ্গে চিৎকার করলেন, “দানিয়েল, জীবন্ত ঈশ্বরের সেবক; যে ঈশ্বরকে তুমি নিষ্ঠার সঙ্গে আরাধনা করো, তিনি কি তোমাকে সিংহের মুখ থেকে রক্ষা করতে পেরেছেন?”
DAN 6:21 দানিয়েল উত্তরে দিলেন, “মহারাজ চিরজীবী হোন!
DAN 6:22 আমার ঈশ্বর তাঁর দূত পাঠিয়েছেন এবং সিংহের মুখ বন্ধ করেছেন। তারা আমার কোনো ক্ষতি করেনি কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমাকে নির্দোষ পাওয়া গেছে। এবং, মহারাজ, আপনার সামনেও আমি কোনো অপরাধ করিনি।”
DAN 6:23 তখন রাজা আনন্দে আত্মহারা হলেন এবং সিংহের গুহা থেকে দানিয়েলকে তুলতে আদেশ দিলেন। যখন দানিয়েলকে গুহা থেকে তোলা হল, দেখা গেল যে তার গায়ে কোনও ক্ষত ছিল না কারণ সে তার ঈশ্বরে সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিল।
DAN 6:24 রাজার আদেশে, যারা দানিয়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল, তাদের ধরে আনা হল এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তানসহ সিংহের গুহায় ফেলে দেওয়া হল। তারা গুহার মেঝেতে পড়ার আগেই সিংহেরা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের সমস্ত হাড়গোড় নিশ্চিহ্ন করল।
DAN 6:25 তখন রাজা দারিয়াবস পৃথিবীর সমস্ত দেশ ও ভাষাভাষী মানুষের কাছে লিখলেন: “তোমাদের মঙ্গল হোক!
DAN 6:26 “আমি এই আদেশ জারি করলাম যে আমার রাজ্যের চতুর্দিকে সমস্ত মানুষ দানিয়েলের ঈশ্বরকে ভয় ও ভক্তি করবে।
DAN 6:27 তিনি রক্ষা করেন, পরিত্রাণ দেন;
DAN 6:28 এবং দানিয়েল, পারস্য-রাজ দারিয়াবস ও কোরসের রাজত্বকালে সমৃদ্ধিলাভ করল।
DAN 7:1 ব্যাবিলনের রাজা বেলশৎসরের রাজত্বের প্রথম বছরে দানিয়েল যখন শুয়েছিলেন তখন একটি স্বপ্ন দেখলেন এবং অনেক দর্শন তার মনে এল। তিনি স্বপ্নে যা দেখেছিলেন তার সারমর্ম লিখলেন।
DAN 7:2 দানিয়েল বললেন: “রাতের সেই দর্শনে আমি দেখলাম, আকাশের চারদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়ে মহাসমুদ্রকে উত্তাল করল।
DAN 7:3 এসময় চারটি বৃহৎ পশু, যারা একে অপরের থেকে ভিন্ন, সমুদ্র থেকে উঠে এল।
DAN 7:4 “প্রথমটি দেখতে ছিল সিংহের মতো এবং তার ঈগল পাখির ডানা ছিল। তখন আমি দেখলাম ওর ডানাগুলি উপড়ে ফেলা হল এবং পশুটিকে মাটি থেকে তোলা হল ও পেছনের পায়ে ভর দিয়ে মানুষের মতো দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল আর মানুষের মন তাকে দেওয়া হল।
DAN 7:5 “আমার সামনে দ্বিতীয় এক পশুকে দেখলাম যা ছিল ভাল্লুকের মতো। পশুটিকে এক পাশে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড় করান হল এবং সেই পশু মুখে দাঁতের মাঝখানে তিনটি পাঁজরের হাড় কামড়ে ধরেছিল। তাকে বলা হল, ‘ওঠো, অনেক লোকের মাংস খাও!’
DAN 7:6 “এরপর, আমি দেখলাম, আমার সামনে অন্য একটি পশু ছিল, এটি ছিল চিতাবাঘের মতো দেখতে এবং তার পিঠে পাখির মতো চারটি ডানা ছিল। সেই পশুটির চারটি মাথা ছিল এবং শাসন করার কর্তৃত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল।
DAN 7:7 “তারপরে, রাতের দর্শনে আমি দেখলাম, আমার সামনে চতুর্থ একটি পশু, সেটি ছিল আতঙ্কজনক, ভয়ংকর ও প্রচণ্ড শক্তিশালী। তার বড়ো লোহার দাঁত ছিল; সে তার শিকারকে চূর্ণ ও ভক্ষণ করল এবং বাকি অংশ পা দিয়ে পিষে ফেলল। এটি আগের সব পশুগুলির থেকে ভিন্ন এবং তার দশটি শিং ছিল।
DAN 7:8 “যখন আমি শিংগুলির কথা ভাবছিলাম, তখন সেগুলির মাঝে একটি ছোটো শিং গজিয়ে উঠল এবং আগের তিনটি শিং তার সামনে উপড়ে ফেলা হল। এই ছোটো শিংটির মানুষের মতো চোখ ছিল ও মুখ ছিল, যা দিয়ে সদর্পে কথা বলল।
DAN 7:9 “আমি তখন দেখলাম, “কয়েকটি সিংহাসন স্থাপিত হল, এবং অতি প্রাচীন ব্যক্তি নিজের স্থান গ্রহণ করলেন। তাঁর পরনের কাপড় ছিল বরফের মতো সাদা; মাথার চুল ছিল পশমের মতো সাদা। তাঁর সিংহাসন ছিল আগুনের শিখাময়, ও তাঁর সব চাকাগুলি ছিল জলন্ত আগুন।
DAN 7:10 এক আগুনের নদী প্রবাহিত হচ্ছিল, তাঁর উপস্থিতি থেকে নির্গত হচ্ছিল। হাজার হাজার তাঁর পরিচর্যা করছিল; সেবা করার জন্য লক্ষ লক্ষ তাঁর সামনে দাঁড়িয়েছিল। বিচারসভা শুরু হল, এবং বইগুলি খোলা হল।
DAN 7:11 “আমি দেখতে থাকলাম কারণ ছোটো শিংটির অহংকারী কথা শুনতে পেলাম। আমি দেখতে থাকলাম যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই পশুটিকে বধ করা হল, তার শরীর ধ্বংস করা হল ও জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দেওয়া হল।
DAN 7:12 অন্যান্য পশুগুলির কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়া হল কিন্তু তাদের কিছুদিন বাঁচতে দেওয়া হল।
DAN 7:13 “রাতের দর্শনে আমি মনুষ্যপুত্রের মতো একজনকে দেখলাম যিনি স্বর্গের মেঘের সঙ্গে আসছিলেন। তিনি অতি প্রাচীন ব্যক্তির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে আনীত হলেন।
DAN 7:14 তাঁকে কর্তৃত্ব, গৌরব ও সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হল; এবং প্রত্যেক জাতি ও ভাষার মানুষ তাঁর আরাধনা করল। তাঁর আধিপত্য চিরস্থায়ী আধিপত্য যা কোনোদিন শেষ হবে না এবং তাঁর রাজ্য কোনোদিন বিনষ্ট হবে না।
DAN 7:15 “আমি, দানিয়েল, আত্মায় অস্থির হলাম এবং আমার সব দর্শন আমাকে বিহ্বল করল।
DAN 7:16 যারা দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজনের দিকে এগিয়ে গিয়ে আমি এই সবের মানে জিজ্ঞাসা করলাম। “তখন তিনি আমাকে এসব বললেন এবং মানে বুঝিয়ে দিলেন:
DAN 7:17 ‘এই চারটি বৃহৎ পশু হল চার রাজা, যারা পৃথিবী থেকে উদিত হবে।
DAN 7:18 কিন্তু পরাৎপর ঈশ্বরের পবিত্রগণকে এই রাজ্যের অধিকার দেওয়া হবে এবং চিরদিন সেই রাজ্য তাদের অধীনে থাকবে, হ্যাঁ, চিরদিনই থাকবে।’
DAN 7:19 “তখন আমি সেই চতুর্থ পশুটির মানে জানতে চাইলাম, যা অন্য পশুগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল, দেখতে ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। সেই পশুটি তার লোহার দাঁত ও পিতলের নখ দিয়ে শিকারকে চূর্ণ ও ভক্ষণ করেছিল এবং অবশিষ্ট অংশ পা দিয়ে পিষে ফেলেছিল।
DAN 7:20 আমি সেই পশুটির মাথার দশটি শিং এবং সেই ছোটো শিং যেটা গজিয়ে উঠেছিল, তাদের সম্বন্ধে জানতে চাইলাম। এই ছোটো শিং, যা অন্যদের তুলনায় ভয়ংকর ছিল, অন্য তিনটে শিংকে ধ্বংস করল। তার দুটি চোখ আর একটি মুখ ছিল যা দিয়ে সে সদর্পে কথা বলছিল।
DAN 7:21 আমি তখন দেখলাম, এই শিংটি পবিত্রগণদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল ও তাদের পরাস্ত করছিল,
DAN 7:22 যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই অতি প্রাচীন ব্যক্তি—পরাৎপর ঈশ্বর—এসে পবিত্রগণদের পক্ষে রায় দিলেন। তারপর পবিত্রগণদের রাজত্ব গ্রহণ করার সময় উপস্থিত হল।
DAN 7:23 “তিনি আমাকে এই ব্যাখ্যা দিলেন: ‘চতুর্থ পশুটি ছিল চতুর্থ রাজ্য যা পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে। এই রাজ্য অন্যান্য সব রাজ্য থেকে ভিন্ন হবে এবং তা সমস্ত পৃথিবীকে চূর্ণ করে, পায়ের তলায় পিষে দিয়ে গ্রাস করবে।
DAN 7:24 সেই দশটি শিং হল দশ রাজা যারা এই রাজ্য থেকে আসবে। তাদের পর আরেকজন রাজা আসবে, যে আগের রাজাদের থেকে ভিন্ন হবে এবং সে তিন রাজাকে দমন করবে।
DAN 7:25 সে পরাৎপর ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কথা বলবে এবং তাঁর পবিত্রগণদের অত্যাচার করবে, এমনকি নিরূপিত সময় ও ব্যবস্থা বদলাতে চাইবে। তার হাতে পবিত্রগণদের এক কাল, দু-কাল ও অর্ধ কালের জন্য দেওয়া হবে।
DAN 7:26 “ ‘কিন্তু তারপর বিচারসভা বসবে এবং তার সব শক্তি কেড়ে নেওয়া হবে ও তাকে সম্পূর্ণভাবে চিরকালের জন্য ধ্বংস করা হবে।
DAN 7:27 তখন আকাশের নিচে সব রাজ্যের আধিপত্য, ক্ষমতা ও মহিমা পরাৎপর ঈশ্বরের পবিত্রগণদের দেওয়া হবে। তাঁর রাজ্য অনন্তকালস্থায়ী রাজ্য হবে এবং পৃথিবীর সব শাসক তাঁকে আরাধনা করবে ও তাঁর বাধ্য হবে।’
DAN 7:28 “এখানেই দর্শনের শেষ। আমি, দানিয়েল, ভাবনায় অস্থির হয়ে উঠলাম, আমার মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল, কিন্তু এসব কথা আমি নিজের মনেই রাখলাম।”
DAN 8:1 রাজা বেলশৎসরের রাজত্বের তৃতীয় বছরে আমি, দানিয়েল, প্রথম দর্শনের পরে আর একটি দর্শন পেলাম।
DAN 8:2 দর্শনে দেখলাম আমি ব্যাবিলনের এলম প্রদেশে শূশন নগরীর দুর্গে ছিলাম; দর্শনে আমি উলয় নদীর তীরে ছিলাম।
DAN 8:3 আমি চোখ তুলে দেখলাম, নদীতীরে একটি পুরুষ মেষ দাঁড়িয়ে আছে, যার দুটি লম্বা শিং ছিল। একটি শিং অন্যটির তুলনায় লম্বা, যদিও এটি অন্য শিংটির পরে গজিয়ে উঠেছিল।
DAN 8:4 দেখলাম শিং উঁচিয়ে সেই পুরুষ মেষটি পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে তেড়ে যাচ্ছে। তাকে প্রতিরোধ করার মতো কোনও পশু ছিল না, এমনকি তার শক্তি থেকে রক্ষা করতে পারে এমন কেউ ছিল না। তার যেমন ইচ্ছা তাই করল এবং উদ্ধত হয়ে উঠল।
DAN 8:5 এসব যখন ভাবছিলাম, হঠাৎ একটি ছাগল, যার দু-চোখের মাঝখানে বিশিষ্ট এক শিং ছিল, পশ্চিমদিকে থেকে এত তীব্র গতিতে ছুটে পৃথিবী অতিক্রম করল যে তার পা পর্যন্ত মাটিতে ঠেকল না।
DAN 8:6 নদীর ধারে যে দুই শিংযুক্ত পুরুষ মেষকে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম এই ছাগলটি সক্রোধে তার দিকে তেড়ে গেল।
DAN 8:7 আমি আরও দেখলাম ছাগলটি ক্ষিপ্তভাবে তেড়ে গিয়ে পুরুষ মেষটিকে ধাক্কা মারল ও তার শিং দুটি ভেঙে দিল। তাকে প্রতিরোধ করার মতো পুরুষ মেষটির ক্ষমতা ছিল না; তারপর ছাগলটি পুরুষ মেষটিকে সজোরে মাটিতে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাড়াতে লাগল এবং কেউ তাকে ছাগলটির কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না।
DAN 8:8 এরপর ছাগলটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল কিন্তু ক্ষমতার শিখরে তার প্রকাণ্ড শিংটি ভেঙে দেওয়া হল এবং তার বদলে চারটি শিং আকাশের চারদিকে গজিয়ে উঠল।
DAN 8:9 আর তাদের মধ্য থেকে একটি শিং, যা প্রথমে ছোটো ছিল কিন্তু পরে, শক্তিশালী হয়ে উঠল; সেটি ক্ষমতায় দক্ষিণে, পূর্বে ও সেই মনোরম দেশের দিকে বৃদ্ধি পেল।
DAN 8:10 শিংটি আকাশের তারামণ্ডল পর্যন্ত বেড়ে উঠল, এমনকি কয়েকটি তারাকে মাটিতে ফেলে দিল ও পা দিয়ে পিষতে লাগল।
DAN 8:11 সেই শিংটি এত শক্তিশালী হয়ে উঠল যে সদাপ্রভুর সেনাবাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করল, সদাপ্রভুকে নিবেদিত দৈনিক নৈবেদ্য ছিনিয়ে নিল এবং তাঁর পবিত্রস্থান অপবিত্র করে তুলল।
DAN 8:12 বিদ্রোহের কারণে সদাপ্রভুর লোকদের এবং দৈনিক উৎসর্গ তার হাতে সঁপে দেওয়া হল; সে যা কিছু করল সবকিছুতেই সফল হল এবং সত্য বর্জিত হল।
DAN 8:13 এরপর আমি শুনলাম, এক পবিত্র ব্যক্তি কথা বলছেন এবং অন্য এক পবিত্র ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করছেন, “এই দর্শন কত কাল পরে পূর্ণ হবে; দৈনিক উৎসর্গ, ধ্বংসাত্মক অধর্ম, পবিত্রস্থানের সমর্পণ এবং সদাপ্রভুর লোকদের পদদলিত করার দর্শন?”
DAN 8:14 তিনি আমাকে বললেন, “সব মিলিয়ে 2,300 সকাল ও সন্ধ্যা কাটলে পর এই পবিত্রস্থান পুনরায় পবিত্রকৃত হবে।”
DAN 8:15 যখন আমি, দানিয়েল, এই দর্শনটি দেখছিলাম ও বোঝার চেষ্টা করছিলাম, তখন আমার সামনে মানুষের মতো একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।
DAN 8:16 এবং উলয় নদী থেকে এক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, তিনি বললেন, “গ্যাব্রিয়েল, ওকে এই দর্শনের মানে বুঝিয়ে দাও।”
DAN 8:17 আমি যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম সেখানে যখন গ্যাব্রিয়েল এলেন, আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লাম। তিনি আমায় বললেন, “মনুষ্যপুত্র, তুমি বুঝে নাও, যেসব ঘটনাবলি এই দর্শনে দেখেছ তা সব জগতের অন্তিমকাল সম্পর্কিত।”
DAN 8:18 যখন তিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমি গভীর ঘুমে মাটিতে উপুড় হয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে স্পর্শ করলেন ও আমাকে আমার পায়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
DAN 8:19 তিনি বললেন: “এবার আমি তোমাকে বলব যে পরবর্তীকালে ঈশ্বরের ক্রোধের সময় কি হবে, কারণ এই দর্শনটি নির্ধারিত অন্তিমকাল সম্পর্কিত।
DAN 8:20 দুই শিংযুক্ত পুরুষ মেষ মাদীয় ও পারস্য রাজাদের প্রতীক।
DAN 8:21 কুৎসিত ছাগলটি গ্রীস রাজার প্রতীক এবং তার দু-চোখের মাঝে বড়ো শিংটি প্রথম রাজার প্রতীক।
DAN 8:22 প্রথম শিংটি ভেঙে দেওয়ার পরে যে চারটি শিং গজিয়ে উঠেছিল সেগুলি চারটি বিভক্ত রাজ্যের প্রতীক। তার রাজ্য বিভক্ত হয়ে এসব রাজ্য গড়ে উঠবে কিন্তু এসব রাজ্য প্রথম রাজ্যের মতো শক্তিশালী হবে না।
DAN 8:23 “তাদের রাজত্বের পরবর্তী সময়ে, যখন বিদ্রোহীরা কদাচারে চরমে উঠবে তখন ভয়াবহ, কুচক্রান্তে দক্ষ, এক রাজার উদয় হবে।
DAN 8:24 সে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠবে কিন্তু তার নিজের শক্তিতে হবে না। সে সবকিছু ভেঙে তছনছ ও ধ্বংস করে দেবে, সে যা কিছু করবে সবকিছুতেই সফল হবে। সে শক্তিশালী ব্যক্তিদের ও পবিত্র ব্যক্তিদেরও হত্যা করবে।
DAN 8:25 সে মিথ্যা ছলনার বিস্তার ঘটাবে এবং সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে। যারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করবে, তাদের হঠাৎ সে আক্রমণ করে বহুজনকে বিনষ্ট করবে এবং অধিপতিগণের অধিপতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। অথচ তার ধ্বংস অবশ্যই ঘটবে কিন্তু তা কোনো মানুষের শক্তিতে হবে না।
DAN 8:26 “তোমাকে যে 2,300 সন্ধ্যা ও সকালের দর্শন দেওয়া হয়েছে তা সত্য, কিন্তু তুমি এই দর্শন সিলমোহর দিয়ে বন্ধ করে রাখো, কেননা এসব বিষয় সুদূর ভবিষ্যতের।”
DAN 8:27 আমি, দানিয়েল, বিধ্বস্ত হলাম ও কয়েক দিন অসুস্থ হয়ে শুয়ে থাকলাম। পরে আমি উঠলাম ও রাজার কাছে আমার দায়িত্ব পালন করলাম। দর্শনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম; যা ছিল বোধশক্তির অতীত।
DAN 9:1 দারিয়াবস, মাদীয় বংশজাত এবং অহশ্বেরশের পুত্র, ব্যাবিলনীয়দের রাজা হয়েছিলেন।
DAN 9:2 তার রাজত্বের প্রথম বছরে, আমি, দানিয়েল ভাববাদী যিরমিয়কে সদাপ্রভুর দেওয়া বাক্য থেকে বুঝলাম যে, জেরুশালেমের পতন সত্তর বছর স্থায়ী হবে।
DAN 9:3 তাই আমি প্রভু ঈশ্বরের মুখ অন্বেষণ করলাম ও চটের কাপড় পড়ে, ছাই মেখে, উপবাসে, তাঁর কাছে প্রার্থনা ও বিনতি করলাম।
DAN 9:4 আমি সদাপ্রভু আমার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, স্বীকার করলাম: “প্রভু, মহান ও ভয়াবহ ঈশ্বর, যারা তাঁকে প্রেম করে ও তাঁর আজ্ঞাসকল মেনে চলে, তাদের প্রতি তিনি তাঁর প্রেমের নিয়ম রক্ষা করেন,
DAN 9:5 আমরা পাপ করেছি, অন্যায় আচরণ করেছি। আমরা দুষ্ট পথে চলেছি, বিদ্রোহী হয়েছি; তোমার আজ্ঞা ও বিধান থেকে বিপথে গিয়েছি।
DAN 9:6 আমরা তোমার ভক্তদাস ভাববাদীদের কথায় কর্ণপাত করিনি, যারা তোমার মহানামে আমাদের রাজা, অধিপতি, পূর্বপুরুষ এবং দেশের সকলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
DAN 9:7 “প্রভু, তুমি ন্যায়পরায়ণ, কিন্তু আজকের দিনে আমরা লজ্জায় আবৃত; যিহূদার লোকসকল, জেরুশালেমের সব নিবাসী এবং সমস্ত ইস্রায়েল, যারা কাছে এবং দূরে, তোমার প্রতি আমাদের অবিশ্বস্ততার কারণে তুমি আমাদের সমস্ত দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছ।
DAN 9:8 আমরা ও আমাদের রাজাগণ, আমাদের অধিপতিগণ ও আমাদের পূর্বপুরুষেরা, আমরা সকলে লজ্জাতে আবৃত কারণ হে সদাপ্রভু, আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি।
DAN 9:9 আমরা তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়া সত্ত্বেও হে প্রভু আমাদের ঈশ্বর, তুমি দয়ালু ও ক্ষমাশীল;
DAN 9:10 সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বরের আমরা অবাধ্য হয়েছি, এমনকি তাঁর পাঠান ভক্তদাস ভাববাদীদের মাধ্যমে যে বিধান আমাদের দেওয়া হয়েছিল তাও অমান্য করেছি।
DAN 9:11 সমগ্র ইস্রায়েল তোমার বিধান অমান্য করেছে ও বিপথে গেছে, তোমার বাধ্য হতে অস্বীকার করেছে। “তাই ঈশ্বরের দাস মোশির ব্যবস্থায় যেসব অভিশাপ ও বিচারের কথা লেখা আছে তা আমাদের উপর ঢেলে দেওয়া হয়েছে কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি।
DAN 9:12 আমাদের ও আমাদের শাসকবর্গের বিরুদ্ধে যে বাক্য বলা হয়েছিল, আমাদের উপর মহা দুর্ভোগ এনে তুমি তা পূরণ করেছ। জেরুশালেমের প্রতি যা ঘটেছে তা সমস্ত আকাশের নিচে কখনও ঘটেনি।
DAN 9:13 মোশির ব্যবস্থায় যেমন লেখা আছে সেই অনুসারে এসব বিপর্যয় আমাদের উপরে এসেছে, তবুও পাপ থেকে মন ফিরিয়ে ও তোমার সত্যের দিকে মনোযোগ দিয়ে আমরা সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহ বিনতি করিনি।
DAN 9:14 সদাপ্রভু আমাদের উপর বিপর্যয় আনতে পিছপা হননি কারণ সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বর যা করেন তাতেই তিনি ন্যায়পরায়ণ, তবুও আমরা তাঁর আজ্ঞা পালন করিনি।
DAN 9:15 “এখন হে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, তুমি মহান বাহুবলে মিশর দেশ থেকে তোমার লোকদের উদ্ধার করেছ এবং আপন মহানাম আজকের দিন পর্যন্ত বিখ্যাত করেছ, তবুও আমরা পাপ করেছি, অন্যায় করেছি।
DAN 9:16 হে প্রভু, তোমার ধার্মিকতা অনুসারে জেরুশালেমের প্রতি তোমার রাগ ও ক্রোধ থেকে নিবৃত্ত হও, জেরুশালেম তো তোমারই নগরী, তোমারই পবিত্র পর্বত। আমাদের পাপ ও আমাদের পূর্বপুরুষদের অনাচার, জেরুশালেম ও তোমার লোকেদের চারপাশের সকলের চোখে উপহাসের বস্তু করে তুলেছে।
DAN 9:17 “এখন, আমাদের ঈশ্বর, তোমার দাসের প্রার্থনা ও বিনতি শোনো। তোমার জন্য, হে প্রভু, তোমার পরিত্যক্ত পবিত্রস্থানের দিকে অনুগ্রহের দৃষ্টি দাও।
DAN 9:18 হে আমাদের ঈশ্বর, কর্ণপাত করো ও শোনো; চোখ খুলে দেখো, তোমার নামাঙ্কিত নগরীর কী দুরাবস্থা। আমাদের ধার্মিকতার বলে নয় কিন্তু তোমার মহান করুণার বলে আমরা তোমার কাছে এই বিনতি করছি।
DAN 9:19 হে প্রভু, শোনো! হে প্রভু, ক্ষমা করো! হে প্রভু, এদিকে মন দাও ও আমাদের অনুরোধে কাজ করো! তোমার জন্য, হে আমার ঈশ্বর, দেরি কোরো না, কারণ তোমার নগর ও তোমার নগরবাসীরা তোমার নাম বহন করে।”
DAN 9:20 আমি কথা বলছিলাম ও প্রার্থনা করছিলাম, আমার পাপ ও স্বজাতি ইস্রায়েলীদের পাপস্বীকার করছিলাম এবং সদাপ্রভু আমার ঈশ্বরের কাছে তাঁর পবিত্র পর্বতের জন্য বিনতি করছিলাম।
DAN 9:21 যখন আমি প্রার্থনায় রত ছিলাম, তখন গ্যাব্রিয়েল, যে ব্যক্তিকে আমি আগের দর্শনে দেখেছিলাম, সান্ধ্যকালীন উৎসর্গের সময় দ্রুতগতিতে আমার কাছে এলেন।
DAN 9:22 তিনি আমাকে বুঝিয়ে বললেন, “দানিয়েল, এখন আমি তোমাকে অন্তর্দৃষ্টি ও বোধশক্তি দিতে এসেছি।
DAN 9:23 তুমি যে মুহূর্তে প্রার্থনা শুরু করেছিলে সেই মুহূর্তে এক আদেশ দেওয়া হয়েছিল যা আমি তোমাকে বলতে এসেছি কারণ তুমি ঈশ্বরের চোখে খুব মূল্যবান। তাই আমার কথা মন দিয়ে শোনো, যেন সেই দর্শন বুঝতে পারো:
DAN 9:24 “তোমার স্বজাতি ও পবিত্র নগরীর জন্য সত্তরের ‘সাত’ নির্ধারিত হয়েছে তাদের অপরাধ সমাপ্ত করার জন্য, পাপ কাজ বন্ধ করার জন্য, দুষ্টতার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য, চিরস্থায়ী ধার্মিকতা আনার জন্য, দর্শন ও ভাববাণী সুনিশ্চিত করার জন্য এবং মহাপবিত্র স্থান অভিষিক্ত করার জন্য।
DAN 9:25 “মন দিয়ে শোনো ও বুঝে নাও: জেরুশালেমের পুনরুদ্ধার ও পূর্ণগঠনের আদেশ জারি হওয়ার সময় থেকে অভিষিক্ত ব্যক্তি, শাসক আসা পর্যন্ত সত্তরের ‘সাত’ এবং বাষট্টির ‘সাত’ অতিবাহিত হবে। জেরুশালেম রাস্তা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহ পুনর্গঠিত হবে, যদিও সেই সময় সংকটময় হবে
DAN 9:26 পরে বাষট্টির ‘সাত’ পূর্ণ হলে সেই অভিষিক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে এবং তার কিছুই থাকবে না। তারপর এক শাসকের আবির্ভাব হবে যার সৈন্যবাহিনী নগর ও মন্দির ধ্বংস করবে। বন্যার মতো শেষ সময় ঘনিয়ে আসবে: অন্তিমকাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে কারণ প্রবল তাণ্ডব নির্ধারিত হয়েছে।
DAN 9:27 সেই শাসক এক ‘সাতের’ জন্য অনেকের সঙ্গে নিয়ম স্থাপন করবে। কিন্তু সেই ‘সাতের’ মাঝে সে উৎসর্গ ও বলিদান প্রথা বন্ধ করে দেবে। এবং মন্দিরে ধ্বংস-আনয়নকারী সেই ঘৃণ্য বস্তু স্থাপন করবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ সময় যা নির্ধারিত হয়েছিল, তার উপর ঘনিয়ে আসবে।”
DAN 10:1 পারস্য-রাজ কোরসের রাজত্বের তৃতীয় বছরে যাকে বেল্টশৎসর নামে ডাকা হত সেই দানিয়েলের কাছে একটি দর্শন প্রকাশিত হল। তার বার্তা ছিল সত্য ও এক মহাযুদ্ধ সম্পর্কিত। দর্শনের মাধ্যমে সেই বার্তার মানে তার কাছে এল।
DAN 10:2 সেই সময় আমি, দানিয়েল, তিন সপ্তাহ ধরে শোক পালন করলাম।
DAN 10:3 আমি কোনো সুস্বাদু খাবার খেলাম না; মাংস ও সুরা আমি মুখে তুললাম না; এবং তিন সপ্তাহ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সুগন্ধি তেল মাখলাম না।
DAN 10:4 প্রথম মাসের চব্বিশতম দিনে, আমি টাইগ্রিস মহানদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলাম।
DAN 10:5 আমি চোখ তুলে দেখলাম যে আমার সামনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন, যার পরনে ছিল লিনেন, তাঁর কোমরে ছিল উফসের খাঁটি সোনার কটিবন্ধ।
DAN 10:6 তাঁর শরীর ছিল বৈদূর্যমণির মতো, তাঁর মুখমণ্ডল বিদ্যুতের মতো, তাঁর চোখ জ্বলন্ত মশালের মতো, তাঁর হাত ও পা পালিশ করা পিতলের কিরণের মতো এবং তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল জনসমুদ্রের মতো।
DAN 10:7 কেবলমাত্র আমি, দানিয়েল, সেই দর্শন দেখেছিলাম; যারা আমার সঙ্গে ছিল তারা কিছুই দেখতে পেল না কিন্তু আতঙ্ক তাদের এতটাই গ্রাস করল যে তারা পালিয়ে গেল ও লুকিয়ে পড়ল।
DAN 10:8 তাই আমি একাই রইলাম এবং এই মহা দর্শনের দিকে তাকিয়ে রইলাম; আমার কোনো শক্তি বাকি রইল না, আমার মুখমণ্ডল মৃতের মতো বিবর্ণ হয়ে উঠল এবং আমি অসহায় হয়ে পড়লাম।
DAN 10:9 এরপর আমি সেই ব্যক্তিকে কথা বলতে শুনলাম; যখন আমি তাঁর কণ্ঠস্বর শুনলাম তখন আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লাম।
DAN 10:10 তখন একটি হাত আমাকে স্পর্শ করল ও আমাকে হাতের ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসিয়ে দিল; আমি কাঁপছিলাম।
DAN 10:11 তিনি আমাকে বললেন, “দানিয়েল, তুমি ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র, আমি তোমাকে যা বলতে যাচ্ছি তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং উঠে দাঁড়াও, কারণ আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে।” যখন তিনি আমাকে এই কথা বললেন, তখন আমি কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালাম।
DAN 10:12 তিনি আরও বললেন, “দানিয়েল, ভয় কোরো না। তুমি প্রথম যেদিন জ্ঞান অর্জন করতে মনোযোগ দিয়েছিলে ও তোমার ঈশ্বরের সামনে নিজেকে নম্র করেছিলে, সেইদিনই ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা শুনেছিলেন এবং আমি তার উত্তরে তোমার সামনে হাজির হয়েছি।
DAN 10:13 কিন্তু পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতি আমাকে একুশদিন প্রতিরোধ করেছিল। তখন মীখায়েল, প্রধান অধিপতিগণদের একজন আমাকে সাহায্য করতে আসলেন, কারণ পারস্য রাজার কাছে আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল।
DAN 10:14 তোমার স্বজাতিদের প্রতি ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা ব্যাখ্যা করতে এখন আমি এসেছি, কারণ এই দর্শন আসন্ন সময়ের কথা।”
DAN 10:15 তিনি যখন আমাকে এসব কথা বলছিলেন তখন আমি মাথা নিচু করে উপুড় হয়ে মাটির দিকে চেয়ে রইলাম, কিছুই বলতে পারলাম না।
DAN 10:16 তখন যিনি মানুষের মতো দেখতে তিনি আমার ঠোঁট দুটি স্পর্শ করলেন এবং আমি মুখ খুললাম ও কথা বলতে শুরু করলাম। যিনি আমার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁকে আমি বললাম, “হে আমার প্রভু, দর্শনের কারণে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা আমাকে গ্রাস করেছে এবং নিজেকে অত্যন্ত দুর্বল বোধ করছি।
DAN 10:17 হে প্রভু, আমি, তোমার ভক্তদাস, কী করে তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারি? আমার সব শক্তি শেষ হয়ে গেছে এবং ঠিক ভাবে নিশ্বাসও নিতে পারছি না।”
DAN 10:18 পুনরায় তিনি, যাকে মানুষের মতো দেখতে, আমাকে স্পর্শ করলেন ও আমাকে শক্তি দিলেন।
DAN 10:19 তিনি বললেন, “ভয় কোরো না কারণ তুমি ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র। তোমার শান্তি হোক! সাহস করো ও শক্তিশালী হও।” যখন তিনি আমাকে এসব বললেন তখন আমি শক্তি পেলাম এবং বললাম, “হে প্রভু, বলুন, কারণ আপনি আমাকে শক্তি দিয়েছেন।”
DAN 10:20 তখন তিনি বললেন, “তুমি কি জানো যে কেন আমি তোমার কাছে এসেছি? শীঘ্রই আমি পারস্য সাম্রাজ্যের অধিপতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ফিরে যাব এবং যখন আমি যাব, গ্রীসের অধিপতিও আসবে;
DAN 10:21 কিন্তু প্রথমে আমি তোমাকে বলব সত্যের বইতে কি লেখা আছে। (তাদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে একমাত্র মীখায়েল, তোমার অধিপতি ছাড়া কেউ আমাকে সাহায্য করে না।
DAN 11:1 মাদীয় দারিয়াবসের রাজত্বের প্রথম বছরে, আমি তাকে শক্তি দেবার ও রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।)
DAN 11:2 “আমি, এখন, তোমাকে সত্যি বলছি: পারস্যে আরও তিনজন রাজা রাজত্ব করবে, তারপরে চতুর্থ একজন রাজা আসবে যে অন্যদের থেকে অনেক বেশি ঐশ্বর্যশালী হবে। ঐশ্বর্যের বলে ক্ষমতার শিখরে উঠে সে গ্রীস রাজ্যের বিরুদ্ধে সকলকে প্ররোচিত করবে।
DAN 11:3 পরে এক শক্তিশালী রাজার উত্থান হবে যে মহাশক্তিতে এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী শাসন করবে।
DAN 11:4 কিন্তু উত্থানের পরে তার সাম্রাজ্য ভেঙে দেওয়া হবে ও আকাশের চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই ভাগ তার বংশধরদের দেওয়া হবে না; এমনকি তার মতো প্রচণ্ড প্রতাপ তাদের থাকবে না কারণ তার সাম্রাজ্য উপড়ে ফেলা হবে ও অন্যদের দেওয়া হবে।
DAN 11:5 “এরপর দক্ষিণের রাজার শক্তিবৃদ্ধি পাবে কিন্তু তার একজন সেনাপতি তার তুলনায় বেশি শক্তিশালী হবে এবং সে মহাশক্তিতে নিজের রাজ্য শাসন করবে।
DAN 11:6 কয়েক বছর পরে, উত্তরের রাজা ও দক্ষিণের রাজার মধ্যে মিত্রতা স্থাপন হবে। দক্ষিণের রাজার কন্যা উত্তরের রাজার সঙ্গে নিয়ম স্থাপন করতে যাবে কিন্তু সেই কন্যা তার শক্তি ধরে রাখতে পারবে না এবং সেই রাজাও তার ক্ষমতায় স্থায়ী হবে না। তারপর সেই কন্যা, তার রাজকীয় সহচর, তার বাবা ও যে তাকে সমর্থন করেছিল সকলেই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হবে।
DAN 11:7 “কিন্তু যখন সেই কন্যার এক আত্মীয় দক্ষিণের রাজা হবে তখন সে উত্তরের রাজার সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করবে ও তার দুর্গে প্রবেশ করবে; তাদের বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ করবে ও বিজয়ী হবে।
DAN 11:8 বিজয়ী এই রাজা তাদের দেবতাদের, তাদের ধাতুর তৈরি বিগ্রহ এবং তাদের রুপো ও সোনার মূল্যবান বস্তুসকল দখল করে মিশরে নিয়ে যাবে। কয়েক বছর সে উত্তরের রাজার বিরোধিতা করবে না।
DAN 11:9 তারপর উত্তরের রাজা দক্ষিণের রাজার রাজত্ব আক্রমণ করবে কিন্তু পরাজিত হয়ে নিজের দেশে ফিরে যাবে।
DAN 11:10 তার পুত্রেরা যুদ্ধের প্রস্তুতি করবে ও এক মহা সৈন্যদল একত্রিত করবে। তারা ভীষণ বন্যার মতো অগ্রসর হবে ও যুদ্ধ করতে করতে দক্ষিণের রাজার দুর্গ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
DAN 11:11 “তখন দক্ষিণের রাজা প্রচণ্ড ক্ষোভে উত্তরের রাজার বিরুদ্ধে যাত্রা করবে ও যুদ্ধ করবে। উত্তরের রাজা বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করলেও পরাজিত হবে।
DAN 11:12 যখন সৈন্যদের বন্দি করা হবে তখন দক্ষিণের রাজা অহংকারে মত্ত হয়ে উঠবে এবং হাজার হাজার জনকে হত্যা করবে অথচ সে বিজয়ী রইবে না।
DAN 11:13 কারণ উত্তরের রাজা আগের তুলনায় আরও বিশাল এক সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করবে এবং কয়েক বছর পরে সম্পূর্ণ সুসজ্জিত এক বিশাল বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করবে।
DAN 11:14 “সেই সময়ে অনেকে দক্ষিণের রাজার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবে। তোমার স্বজাতির মধ্যে যারা উগ্র তারা বিদ্রোহ করবে; এতে দর্শন সম্পূর্ণ হবে কিন্তু তারা সফল হবে না।
DAN 11:15 এসময় উত্তরের রাজা আসবে, আক্রমণ করে এক সুরক্ষিত নগর অবরোধ করবে এবং দখল করে নেবে। দক্ষিণের সেনাবাহিনী প্রতিরোধ করতে শক্তিহীন হয়ে পড়বে; তাদের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারাও প্রতিরোধ করার শক্তি পাবে না।
DAN 11:16 সেই আক্রমণকারী যেমন খুশি তেমনই করবে; কেউই তার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সে মনোরম দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে ও সেটিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে।
DAN 11:17 সে তার রাজ্যের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আসবার পরিকল্পনা করবে ও দক্ষিণের রাজার সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করবে। এবং সেই রাজা দক্ষিণের রাজার সঙ্গে তার এক মেয়ের বিয়ে দেবে এবং তার সাম্রাজ্য উৎখাত করতে চাইবে। কিন্তু তার এই অভিসন্ধি সফল হবে না।
DAN 11:18 এরপর সেই রাজা উপকূলের অঞ্চলের দিকে দৃষ্টি দেবে ও তাদের অনেক অংশ নিজের হস্তগত করবে, কিন্তু এক সেনানায়ক তার ঔদ্ধত্য শেষ করবে এবং লজ্জায় তাকে পিছু ফিরতে বাধ্য করবে।
DAN 11:19 তারপর সে নিজের দেশের দুর্গে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু হোঁচট খাবে এবং তার পতন হবে, তাকে পরবর্তীকালে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
DAN 11:20 “তার উত্তরাধিকারী রাজ্যের প্রতিপত্তি বজায় রাখতে এক কর আদায়কারীকে পাঠাবে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সেও ধ্বংস হবে, যদিও তার মৃত্যু ক্রোধে বা যুদ্ধে ঘটবে না।
DAN 11:21 “তার স্থানে এক তুচ্ছ ব্যক্তি রাজা হবে, যার রাজকীয় সম্মান পাবার কোনো অধিকার নেই। যখন লোকেরা সুরক্ষিত বোধ করবে তখন সে আক্রমণ করবে এবং ছলনায় রাজপদ অধিকার করবে।
DAN 11:22 তখন অদম্য এক সেনাবাহিনী তার সামনে বহিষ্কৃত হবে; সেই সেনাবাহিনী ও নিয়মের অধিপতি উভয়েই ধ্বংস হবে।
DAN 11:23 তার সাথে নিয়ম স্থাপন করে সে ছলনা করবে ও অল্প কয়েকজনকে নিয়ে সে ক্ষমতায় আসবে।
DAN 11:24 যখন ঐশ্বর্যশালী অঞ্চলগুলি সুরক্ষিত বোধ করবে, সে তখন সেইসব অঞ্চল আক্রমণ করবে এবং এমন সবকিছু হস্তগত করবে যা তার পিতৃপুরুষ বা পূর্বপুরুষেরাও পারেনি। যুদ্ধে লুন্ঠিত দ্রব্য ও লুট করা ধনসম্পদ তার অনুচরদের মধ্যে সে ভাগ করে দেবে। সে অনেক সামরিক দুর্গ দখল করার পরিকল্পনা করবে কিন্তু সীমিত সময়ের জন্যই তা স্থায়ী হবে।
DAN 11:25 “এক বিশাল বাহিনী নিয়ে সে দক্ষিণের রাজার বিরুদ্ধে নিজের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি করবে। দক্ষিণের রাজা বিশাল ও শক্তিশালী এক সেনাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করবে কিন্তু ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে টিকতে পারবে না।
DAN 11:26 তার রাজকীয় আদালতের সদস্যরা তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে; তার সেনাবাহিনী পরাজিত হবে এবং অনেকে যুদ্ধে প্রাণ হারাবে।
DAN 11:27 দুই রাজা, হিংসায় পূর্ণ হয়ে, এক টেবিলে বসে আহার করবে অথচ পরস্পরকে মিথ্যা কথা বলবে, কিন্তু তাদের অভিসন্ধি সফল হবে না, কারণ নির্ধারিত সময়েই বিনাশ ঘটবে।
DAN 11:28 উত্তরের রাজা প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে স্বদেশে ফিরে যাবে। কিন্তু তার হৃদয় পবিত্র নিয়মের বিপক্ষে যাবে এবং তার বিরুদ্ধে কাজ করবে; পরে সে দেশে ফিরে যাবে।
DAN 11:29 “নির্ধারিত সময়ে আবার সে দক্ষিণ দেশ আক্রমণ করবে কিন্তু আগের তুলনায় ফলাফল এবার ভিন্ন হবে।
DAN 11:30 পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের যুদ্ধজাহাজগুলি তার অভিযান প্রতিরোধ করবে এবং সে সাহস হারাবে। তখন সে ফিরে যাবে এবং পবিত্র নিয়মের বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করবে। সে ফিরে গিয়ে যারা পবিত্র নিয়ম পরিত্যাগ করেছে তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবে।
DAN 11:31 “তার সশস্ত্র সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়ে সুরক্ষিত পবিত্রস্থান অশুচি করবে এবং নিত্য-নৈবেদ্য উৎসর্গ বন্ধ করে দেবে। তারপর তারা ধ্বংস-আনয়নকারী সেই ঘৃণ্য বস্তুকে স্থাপন করবে।
DAN 11:32 যারা সেই পবিত্র নিয়ম লঙ্ঘন করেছে তাদের সে তোষামোদ করবে ও নিজের দলে করবে কিন্তু যেসব মানুষ তাদের ঈশ্বরকে জানে তারা দৃঢ়ভাবে তার প্রতিরোধ করবে।
DAN 11:33 “এসময় যারা জ্ঞানী তারা অনেককে সুপরামর্শ দেবে, কিন্তু পরিণামে তাদের তরোয়াল দিয়ে বধ করা হবে, অথবা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, অথবা বন্দি করা হবে, অথবা তাদের সর্বস্ব লুট করে নেওয়া হবে।
DAN 11:34 যখন তাদের পতন হবে, তারা স্বল্প সাহায্য পাবে, কিন্তু অনেকে যারা নিষ্ঠাহীন তাদের সঙ্গে যোগদান করবে।
DAN 11:35 জ্ঞানী লোকদের মধ্যে কেউ কেউ কষ্ট পাবে; এভাবে তারা পরীক্ষাসিদ্ধ, পরিষ্কৃত ও শুচিশুদ্ধ হয়ে উঠবে যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে কারণ নির্ধারিত সময়েই তা উপস্থিত হবে।
DAN 11:36 “রাজা নিজের ইচ্ছামতো কাজ করবে। সব দেবতাদের ঊর্ধ্বে সে নিজেকে উন্নত ও মহিমান্বিত করবে এবং দেবতাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে এমন কথা বলবে যা আগে কখনও শোনা যায়নি। ক্রোধের সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সে সফল হবে, যা নির্ধারিত হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে।
DAN 11:37 তার পূর্বপুরুষদের আরাধ্য দেবতাদের ও নারীদের কাম্য দেবতাকে সে মানবে না, এমনকি সে কোনো দেবতাকেই মানবে না, কিন্তু সব দেবতাদের উপরে নিজেকে মহিমান্বিত করবে।
DAN 11:38 তাদের পরিবর্তে সে এক দুর্গ দেবতার সম্মান করবে, যে দেবতা তার পিতৃপুরুষদের অজ্ঞাত ছিল; কিন্তু সেই দেবতাকে সোনা, রুপো, মণিমাণিক্য ও উৎকৃষ্ট উপহার দিয়ে সম্মান করবে।
DAN 11:39 অইহুদি দেবতার সাহায্যে সে শক্তিশালী দুর্গসকল আক্রমণ করবে এবং যারা তাকে স্বীকার করবে তাদের অনেক সম্মানিত করবে। অনেক লোকেদের উপরে সে তাদের শাসক রূপে প্রতিষ্ঠা করবে ও মূল্যের বিনিময়ে তাদের মধ্যে জমি ভাগ করে দেবে।
DAN 11:40 “শেষ সময়ে দক্ষিণের রাজা তাকে যুদ্ধে রত করবে এবং উত্তরের রাজা মহাবিক্রমে তার রথ, ঘোড়া ও নৌবাহিনী নিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। সে অনেক দেশ আক্রমণ করবে ও জলস্রোতের মতো তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে।
DAN 11:41 সে মনোরম দেশও আক্রমণ করবে। অনেক দেশ তার হাতে পরাস্ত হবে কিন্তু ইদোম, মোয়াব এবং অম্মোনের রাজারা তার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
DAN 11:42 এইভাবে বিভিন্ন দেশের উপর সে ক্ষমতা বিস্তার করবে; মিশরও রক্ষা পাবে না।
DAN 11:43 মিশরে সুরক্ষিত সোনা, রুপো ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী তার হস্তগত হবে; এমনকি লিবিয়া ও কূশকেও সে পদানত করবে।
DAN 11:44 কিন্তু পূর্ব ও উত্তর থেকে আগত সংবাদ তাকে আতঙ্কিত করে তুলবে এবং মহাক্রোধে সে অনেককে ধ্বংস ও বিনাশ করবে।
DAN 11:45 সমুদ্র ও পবিত্র পর্বতের মাঝখানে সে রাজকীয় তাঁবু স্থাপন করবে। অথচ তার শেষকাল উপস্থিত হবে এবং কেউ তাকে সাহায্য করবে না।
DAN 12:1 “সেই সময় মীখায়েল, সেই মহান অধিপতি যে তোমার স্বজাতিকে রক্ষা করে, উঠে দাঁড়াবে। আর এক সংকটের সময় উপস্থিত হবে, এমন সময় যা জগতের বিভিন্ন জাতির উত্থান থেকে আজ পর্যন্ত কখনও ঘটেনি। কিন্তু সেই সময়ে তোমার লোকেরা, যাদের নাম বইতে পাওয়া যাবে, কেবল তারাই রক্ষা পাবে।
DAN 12:2 পৃথিবীর ধুলোর মধ্যে যারা ঘুমিয়ে আছে, তাদের অনেকে বেঁচে উঠবে, কেউ চিরস্থায়ী জীবন লাভ করার উদ্দেশে আবার কেউ লজ্জা ও চিরস্থায়ী ঘৃণার উদ্দেশে।
DAN 12:3 যারা জ্ঞানী তারা স্বর্গের উজ্জ্বলতার মতো জ্বলবে, ও যারা বহুজনকে ধার্মিকতার পথ দেখিয়েছে, তারা চিরকাল তারার মতো জ্বলবে।
DAN 12:4 কিন্তু তুমি, দানিয়েল, শেষ সময় পর্যন্ত এসব কথা গোপন করে রাখো এবং পুঁথির কথা সিলমোহর দিয়ে বন্ধ করে রাখো। জ্ঞানের সন্ধানে অনেকে এখানে ওখানে ছুটবে।”
DAN 12:5 তখন আমি, দানিয়েল, তাকিয়ে দেখলাম এবং আমার সামনে অন্য দুজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, একজন নদীর এপারে, অন্যজন ওপারে।
DAN 12:6 তাদের মধ্যে একজন লিনেন কাপড় পরিহিত ব্যক্তিকে, যিনি নদীর জলের উপর দাঁড়িয়েছিলেন, জিজ্ঞাসা করলেন, “এইসব আশ্চর্য বিষয় কবে পূর্ণ হবে?”
DAN 12:7 সেই লিনেন কাপড় পরিহিত ও নদীর জলের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি নিজের ডান হাত ও বাঁ হাত স্বর্গের দিকে তুললেন এবং আমি শুনলাম যে তিনি নিত্যজীবির নামে শপথ করে বললেন, “এটি এক কাল, দুই কাল এবং অর্ধেক কাল পর্যন্ত হবে। যখন পবিত্রজনদের শক্তি সবশেষে চূর্ণ হবে, তখন এইসব বিষয় সম্পূর্ণ হবে।”
DAN 12:8 আমি শুনলাম কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না। তাই আমি প্রশ্ন করলাম, “হে আমার প্রভু, এই সবকিছুর শেষে কী ফলাফল হবে?”
DAN 12:9 তিনি উত্তর দিলেন, “দানিয়েল, তুমি এবার যাও, কারণ জগতের শেষ সময় পর্যন্ত এই কথাগুলি গোপন রাখা হয়েছে এবং সিলমোহর দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
DAN 12:10 অনেকে পরিষ্কৃত, শুচিশুদ্ধ ও পরীক্ষাসিদ্ধ হবে কিন্তু দুষ্টরা দুষ্টই থাকবে। আর দুষ্টদের মধ্যে কেউ বুঝবে না কেবল যারা জ্ঞানী তারাই এসব বুঝতে পারবে।
DAN 12:11 “নিত্য-নৈবেদ্য উচ্ছেদ হওয়া থেকে ধ্বংস-আনয়নকারী সেই ঘৃণ্য বস্তু স্থাপিত হওয়া পর্যন্ত 1,290 দিন হবে।
DAN 12:12 ধন্য তারা যারা অপেক্ষা করবে এবং 1,335 দিনের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে।
DAN 12:13 “কিন্তু, তুমি শেষদিন পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো। এরপর তুমি বিশ্রাম নেবে এবং কালের শেষ সময়ে তোমার নির্ধারিত অধিকার গ্রহণ করতে বেঁচে উঠবে।”
HOS 1:1 যিহূদার রাজা উষিয়, যোথম, আহস ও হিষ্কিয়ের সময়ে এবং যিহোয়াশের পুত্র ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের সময়ে সদাপ্রভুর এই বাক্য বেরির পুত্র হোশেয়ের কাছে উপস্থিত হল:
HOS 1:2 সদাপ্রভু যখন হোশেয়ের মাধ্যমে কথা বলা শুরু করলেন, তখন সদাপ্রভু তাঁকে বললেন, “তুমি যাও, এক ব্যভিচারী স্ত্রী ও অবিশ্বস্ততার সন্তানদের গ্রহণ করো, কারণ এই দেশ সদাপ্রভুর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এক ভয়ংকর ব্যভিচার করেছে।”
HOS 1:3 তাই তিনি গিয়ে দিবলায়িমের কন্যা গোমরকে বিবাহ করলেন, এবং সে গর্ভবতী হয়ে তাঁর জন্য এক পুত্র প্রসব করল।
HOS 1:4 এরপর সদাপ্রভু হোশেয়কে বললেন, “ওর নাম রাখো যিষ্রিয়েল, কারণ যিষ্রিয়েলে হত্যালীলা সংঘটিত করার অপরাধে আমি যেহূর কুলকে সত্বর শাস্তি দেব এবং আমি ইস্রায়েল রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটাব।
HOS 1:5 সেদিন, আমি যিষ্রিয়েল উপত্যকায় ইস্রায়েলের ধনুক ভেঙে ফেলব।”
HOS 1:6 গোমর আবার গর্ভবতী হয়ে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিল। তখন সদাপ্রভু হোশেয়কে বললেন, “ওর নাম রাখো লো-রুহামা, কারণ আমি আর ইস্রায়েল কুলের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করব না। আমি তাদের আর ক্ষমা করব না।
HOS 1:7 কিন্তু যিহূদা কুলের প্রতি আমি আমার ভালোবাসা প্রদর্শন করব। আমি তাদের উদ্ধার করব, তির, তরোয়াল বা যুদ্ধের দ্বারা নয়, অশ্ব বা অশ্বারোহীদের দ্বারাও নয়, কিন্তু তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দ্বারা।”
HOS 1:8 গোমর লো-রুহামাকে স্তন্যপান ত্যাগ করানোর পরে তার আর একটি পুত্র হল।
HOS 1:9 তখন সদাপ্রভু বললেন, “ওর নাম রাখো লো-অম্মি, কারণ তোমরা আমার প্রজা নও এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর নই।
HOS 1:10 “তবুও ইস্রায়েল-সন্তানদের সংখ্যা হবে সমুদ্রতটের সেই বালুকণার মতো, যার পরিমাপ করা বা গণনা করা যায় না। যেখানে তাদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা আমার প্রজা নও,’ সেখানে তাদের বলা হবে, ‘জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।’
HOS 1:11 কারণ যিহূদা কুল ও ইস্রায়েল কুলের লোকেরা পুনরায় সংযুক্ত হবে; তারা একজন নেতাকে নিযুক্ত করে সেই দেশ থেকে বের হয়ে আসবে, এবং যিষ্রিয়েলের সেদিন মহান হবে।”
HOS 2:1 “তোমাদের ভাইদের বলো, ‘আমার প্রজা’ এবং তোমাদের বোনেদের বলো, ‘আমার প্রিয়পাত্রী।’
HOS 2:2 “তোমাদের মাকে তিরস্কার করো, তিরস্কার করো তাকে, কারণ সে আমার স্ত্রী নয়, এবং আমিও তার স্বামী নই। সে তার মুখমণ্ডল থেকে ব্যভিচারী চাউনি এবং তার স্তনযুগলের মধ্য থেকে অবিশ্বস্ততা দূর করুক।
HOS 2:3 তা না হলে আমি তাকে বিবস্ত্র করব এবং জন্মক্ষণে সে যেমন ছিল, তেমনই তাকে উলঙ্গ রেখে দেব; আমি তাকে এক মরুপ্রান্তর সদৃশ করব, তাকে এক শুষ্ক-ভূমিতে পরিণত করব এবং পিপাসায় তার প্রাণ হরণ করব।
HOS 2:4 আমি তার ছেলেমেয়েদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করব না, কারণ তারা ব্যভিচারের সন্তান।
HOS 2:5 তাদের মা অবিশ্বস্ত হয়েছে ও কলঙ্কিত হয়ে তাদের গর্ভে ধারণ করেছে। সে বলেছে, ‘আমি আমার প্রেমিকদের পশ্চাদগামী হব, যারা আমার অন্নজল, আমার পশম ও মসিনার পোশাক, আমার তেল ও আমার পানীয় যুগিয়ে দেয়।’
HOS 2:6 তাই আমি কাঁটাঝোপে তার পথ রুদ্ধ করব; আমি তাকে প্রাচীরের মধ্যে অবরুদ্ধ করব, যেন সে তার সেই পথ খুঁজে না পায়।
HOS 2:7 সে তার প্রেমিকদের পশ্চাদ্ধাবন করবে, কিন্তু তাদের নাগাল পাবে না; সে তাদের অন্বেষণ করবে, কিন্তু তাদের সন্ধান পাবে না। তখন সে বলবে, ‘আমি আমার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাব, কারণ তখন আমি এখনকার চেয়ে ভালো ছিলাম।’
HOS 2:8 সে স্বীকার করেনি যে, আমিই সেই জন যে তাকে শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও তেল দিতাম, তাকে অপরিমিত পরিমাণে সোনা ও রুপো দিতাম, যা তারা বায়াল-দেবতার উদ্দেশে ব্যবহার করেছে।
HOS 2:9 “অতএব, আমার শস্য পরিপক্ব হলে ও আমার নতুন দ্রাক্ষারস তৈরি হলে, আমি সেগুলি অপসারিত করব। তার নগ্নতা নিবারণের জন্য দেওয়া, আমার পশম ও মসিনার পোশাক আমি ফেরত নেব।
HOS 2:10 তাই এখন আমি তার প্রেমিকদের সামনে তার চরিত্রহীনতার কথা প্রকাশ করব; আমার হাত থেকে কেউ তাকে নিস্তার করতে পারবে না।
HOS 2:11 আমি তার সমস্ত আনন্দ উদ্‌যাপন, তার বাৎসরিক উৎসব-অনুষ্ঠান, তার অমাবস্যা, সাব্বাথদিনগুলি ও তার নিরূপিত পালাপার্বনগুলি আমি বন্ধ করে দেব।
HOS 2:12 আমি তার সব দ্রাক্ষালতা, তার ডুমুর গাছগুলি আমি ধ্বংস করব, কারণ সে বলেছিল যে, সেগুলি তার প্রেমিকদের কাছ থেকে পাওয়া বেতনস্বরূপ; আমি সেগুলিকে ঘন ঝোপঝাড়ে পরিণত করব, বন্যপশুরা সেগুলি গ্রাস করবে।
HOS 2:13 বায়াল-দেবতাদের উদ্দেশে সে যতদিন ধূপদাহ করেছিল, তার জন্য আমি তাকে শাস্তি দেব; সে আংটি ও বিভিন্ন অলংকারে নিজেকে সজ্জিত করত এবং তার প্রেমিকদের পশ্চাদগামী হত, কিন্তু আমাকে সে ভুলে গিয়েছিল,” সদাপ্রভু একথা ঘোষণা করেন।
HOS 2:14 “অতএব আমি এখন তাকে বিমোহিত করব; তাকে মরুপ্রান্তরের পথে চালিত করব, ও তার সঙ্গে কোমল স্বরে কথা বলব।
HOS 2:15 সেখানে আমি তাকে তার দ্রাক্ষাকুঞ্জ ফিরিয়ে দেব এবং আখোর উপত্যকাকে তৈরি করব এক আশার দুয়ারে। সেখানে সে তার যৌবনকালের দিনগুলির মতো প্রতিক্রিয়া করবে, যেমন যেদিন সে মিশর ছেড়ে বের হয়ে এসেছিল।”
HOS 2:16 সদাপ্রভু বলেন, “সেদিন, তুমি আমাকে ‘আমার স্বামী’ বলে সম্বোধন করবে; তুমি আর আমাকে ‘আমার প্রভু’ বলে সম্বোধন করবে না।
HOS 2:17 আমি তার ওষ্ঠাধর থেকে যাবতীয় বায়াল-দেবতার নাম মুছে দেব; তাদের নাম আর কখনও উচ্চারণ করা হবে না।
HOS 2:18 সেদিন আমি তাদের হয়ে মাঠের সমস্ত পশু, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটিতে বিচরণকারী যাবতীয় সরীসৃপের সঙ্গে একটি চুক্তি করব। আমি দেশ থেকে লোপ করব ধনুক, তরোয়াল ও যুদ্ধ যেন সকলে নিরাপদে শয়ন করতে পারে।
HOS 2:19 আমি তোমাকে চিরকালের জন্য আমার আপন করার জন্য বাগ্‌দান করব; আমি তোমাকে ধার্মিকতায়, ন্যায়বিচারে, প্রেমে ও করুণায় বাগ্‌দান করব।
HOS 2:20 আমি বিশ্বস্ততার সঙ্গে তোমাকে বাগ্‌দান করব, এর ফলে তুমি সদাপ্রভুকে জানতে পারবে।”
HOS 2:21 সদাপ্রভু বলেন, “সেদিন আমি সাড়া দেব, আমি আকাশমণ্ডলের ডাকে সাড়া দেব আর তারা ধরিত্রীর আহ্বানে সাড়া দেবে;
HOS 2:22 এবং ধরিত্রী তখন শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও তেলের ডাকে সাড়া দেবে এবং তারা সকলে যিষ্রিয়েলকে সাড়া দেবে।
HOS 2:23 আমি আমারই জন্য তাকে দেশের মধ্যে রোপণ করব; তাঁর প্রতি আমি আমার প্রেম প্রদর্শন করব, যাকে এক সময় বলেছিলাম, ‘তুমি আমার প্রিয়পাত্রী নও।’ যাদের আমি এক সময় বলেছিলাম, ‘আমার প্রজা নও,’ তাদের আমি বলব, ‘তোমরা আমার প্রজা’; আর তারা বলবে, ‘তুমি আমার ঈশ্বর।’ ”
HOS 3:1 সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “যাও, তোমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে তাকে আবার ভালোবাসো, যদিও তার প্রেমিক অন্য একজন এবং সে ব্যভিচারিণী। তাকে তেমনই ভালোবাসো, যেমন সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের ভালোবাসেন, যদিও তারা অন্য দেবতাদের প্রতি মুখ ফিরায় এবং কিশমিশের পিঠে ভালোবাসে।”
HOS 3:2 তাই আমি তাকে 170 গ্রাম ওজনের রৌপ্যমুদ্রা ও প্রায় 195 কিলোগ্রাম যব দিয়ে কিনে আনলাম।
HOS 3:3 তারপর আমি তাকে বললাম, “তোমাকে অনেক দিনের জন্য আমার কাছে থাকতে হবে; তুমি অবশ্যই আর বেশ্যাবৃত্তি করবে না বা কোনো পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং আমি তোমার সঙ্গে বাস করব।”
HOS 3:4 কারণ ইস্রায়েলীরা বহুদিন রাজা বা শাসনকর্তা ছাড়া, বলি উৎসর্গ বা পবিত্র পাথরের খণ্ড ছাড়া, এফোদ বা প্রতিমা ছাড়াই বসবাস করবে।
HOS 3:5 এরপর ইস্রায়েলীরা ফিরে আসবে ও তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ও তাদের রাজা দাউদের অন্বেষণ করবে। উত্তরকালে তারা সভয়ে সদাপ্রভুর কাছে ও তাঁর আশীর্বাদ লাভের জন্য আসবে।
HOS 4:1 হে ইস্রায়েলীরা, তোমরা সদাপ্রভুর বাণী শোনো, কারণ তোমরা যারা দেশে বাস করো, সেই তোমাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভু একটি অভিযোগ আনতে চান: “দেশে কোনো বিশ্বস্ততা, কোনো ভালোবাসা নেই এবং ঈশ্বরকে কেউ স্বীকৃতি দেয় না।
HOS 4:2 এদেশে আছে কেবলই অভিশাপ, মিথ্যাচার ও নরহত্যা, চুরি ও ব্যভিচার; এরা সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে, এবং রক্তপাতের উপরে রক্তপাত করে।
HOS 4:3 এই কারণে এ দেশ শোকবিলাপ করে, এবং সেখানে বসবাসকারী সকলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে; মাঠের পশুরা ও আকাশের সব পাখি এবং সমুদ্রের সব মাছ মরে যাচ্ছে।
HOS 4:4 “কিন্তু কোনো মানুষ যেন কোনো অভিযোগ না করে, কেননা মানুষ যেন পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ না করে, কারণ তোমার প্রজারা তাদেরই মতো, যারা যাজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
HOS 4:5 তোমরা দিনে ও রাতে হোঁচট খাও, আর ভাববাদীরাও তোমাদের সঙ্গে হোঁচট খায়। সুতরাং আমি তোমাদের জননীকে ধ্বংস করব,
HOS 4:6 আমার প্রজারা জ্ঞানের অভাবে ধ্বংস হয়। “যেহেতু তোমরা জ্ঞান অগ্রাহ্য করেছ, ফলে আমিও আমার যাজকরূপে তোমাদের অগ্রাহ্য করছি; যেহেতু তোমরা তোমাদের ঈশ্বরের বিধান অবজ্ঞা করেছ, ফলে আমিও তোমাদের ছেলেমেয়েদের অবজ্ঞা করব।
HOS 4:7 যাজকেরা যত সমৃদ্ধ হয়েছে, তারা ততই আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে; তারা ঐশ গৌরবের বিনিময়ে গ্রহণ করেছে কলঙ্ককে।
HOS 4:8 তারা আমার প্রজাদের পাপে নিজেদের পুষ্ট করে এবং তাদের দুষ্টতাকে উপভোগ করে।
HOS 4:9 আর এরকমই হবে: যেমন প্রজা, তেমনই যাজকেরা। আমি উভয়কেই তাদের জীবনাচরণের জন্য শাস্তি দেব, এবং তাদের সব কাজের প্রতিফল দেব।
HOS 4:10 “তারা ভোজন করবে, কিন্তু তৃপ্ত হবে না, তারা বেশ্যাবৃত্তিতে লিপ্ত হবে, কিন্তু বহুবংশ হবে না, কারণ তারা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করেছে নিজেদেরকে দিতে
HOS 4:11 বেশ্যাবৃত্তিতে; সুরা ও নতুন দ্রাক্ষারসে মত্ত হওয়ার জন্য, যেগুলি আমার প্রজাদের বুদ্ধি-বিবেচনা হরণ করে।
HOS 4:12 আমার লোকেরা কাঠের প্রতিমার কাছে পরামর্শ খোঁজে, এবং কাঠের তৈরি একটি লাঠি তাদের উত্তর দেয়। বেশ্যাবৃত্তির মানসিকতা তাদের ধ্বংসের পথে চালিত করে; তাদের ঈশ্বরের কাছে তারা অবিশ্বস্ত হয়েছে।
HOS 4:13 তারা পর্বতশীর্ষের উপরে বলিদান করে এবং বিভিন্ন পাহাড়ে হোমবলি উৎসর্গ করে, ওক, ঝাউ ও তার্পিন গাছের তলে যেখানে ছায়া বেশ মনোরম। সেই কারণে, তোমাদের কন্যারা বেশ্যাবৃত্তিতে ও তোমাদের পুত্রবধূরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।
HOS 4:14 “তোমাদের কন্যারা বেশ্যাবৃত্তি গ্রহণ করলে, বা তোমাদের পুত্রবধূরা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে, আমি তাদের শাস্তি দেব না, কারণ পুরুষেরা স্বেচ্ছায় দেবদাসদের সঙ্গে গোপন স্থানে যায় ও দেবদাসীদের সঙ্গে নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, এই নির্বোধ জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে!
HOS 4:15 “হে ইস্রায়েল, তুমি ব্যভিচার করলেও, যিহূদা যেন অপরাধী সাব্যস্ত না হয়। “তোমরা গিল্‌গলে পদার্পণ কোরো না, বেথ-আবনে উঠে যেয়ো না। এবং ‘জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি,’ বলে শপথ কোরো না।
HOS 4:16 একগুঁয়ে বকনা-বাছুরের মতোই ইস্রায়েলীরা অনমনীয়। সুতরাং সদাপ্রভু কীভাবে তাদের মেষশাবকদের মতো চারণভূমিতে চরাবেন?
HOS 4:17 ইফ্রয়িম প্রতিমা সমূহে আসক্ত হয়েছে; তাকে একা ছেড়ে দাও!
HOS 4:18 এমনকি, যখন তাদের মদ্যপান সমাপ্ত হয়, তখনও তারা ব্যভিচার করে চলে; তাদের শাসকেরা লজ্জাকর জীবনাচরণ ভীষণ ভালোবাসে।
HOS 4:19 এক ঘূর্ণিবায়ু তাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে, এবং তাদের নৈবেদ্যগুলি তাদের জন্য বয়ে আনবে লজ্জা।
HOS 5:1 “যাজকেরা, তোমরা শোনো! ইস্রায়েলীরা, তোমরা মনোযোগ দাও! ওহে রাজকুল, তোমরাও শোনো! তোমাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাজ্ঞা এই: তোমরা মিস্‌পাতে ফাঁদস্বরূপ ও তাবোরে পাতা জালস্বরূপ হয়েছ।
HOS 5:2 বিদ্রোহীদের হত্যাকাণ্ডের মাত্রা অত্যন্ত গভীর, আমি তাদের সকলকে শাস্তি দেব।
HOS 5:3 ইফ্রয়িম সম্পর্কে আমি সবকিছু জানি; ইস্রায়েলও আমার কাছে গুপ্ত নয়। ইফ্রয়িম, তুমি এখন বেশ্যাবৃত্তির গ্রহণ করেছ, আর ইস্রায়েল হয়েছে কলুষিত।
HOS 5:4 “এদের কীর্তিকলাপ এদের ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসার জন্য এদের বাধা দেয়। কারণ তাদের অন্তরে রয়েছে বেশ্যাবৃত্তির মনোভাব, তারা সদাপ্রভুকে স্বীকার করে না।
HOS 5:5 ইস্রায়েলের ঔদ্ধত্য তাদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেয়; ইস্রায়েলীরা, এমনকি ইফ্রয়িমও তাদের পাপে হোঁচট খায়; এদের সঙ্গে যিহূদাও হোঁচট খেয়ে পড়ে।
HOS 5:6 তারা যখন তাদের গোপাল ও মেষপাল নিয়ে সদাপ্রভুর অন্বেষণে যাবে, তখন তারা তাঁর সন্ধান পাবে না; তিনি তাদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
HOS 5:7 তারা সদাপ্রভুর কাছে অবিশ্বস্ত হয়েছে, তারা অবৈধ সন্তানদের জন্ম দিয়েছে। এখন তাদের অমাবস্যার উৎসবগুলি তিনি তাদের ক্ষেত্রগুলিকে গ্রাস করবে।
HOS 5:8 “তোমরা গিবিয়াতে তূরীধ্বনি করো, রামাতে বাজাও শিঙা। বেথ-আবনে তোমরা রণনাদ করো; বিন্যামীন, তুমি নেতৃত্ব দাও।
HOS 5:9 হিসেব চোকানোর দিনে ইফ্রয়িম হবে জনশূন্য ও ধ্বংসস্থান পরিত্যক্ত। আমি ইস্রায়েলের গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে যা নিশ্চিতরূপে ঘটবে তা ঘোষণা করেছি।
HOS 5:10 যিহূদার নেতারা তাদের মতো, যারা সীমানার পাথরগুলি সরিয়ে ফেলে। বন্যার স্রোতের মতোই আমি তাদের উপরে ঢেলে দেব আমার ক্রোধ।
HOS 5:11 ইফ্রয়িম অত্যাচারিত হয়েছে, বিচারে পদদলিত হয়েছে, প্রতিমাদের পিছনে ধাওয়া করায় সে নিবিষ্ট।
HOS 5:12 ইফ্রয়িমের কাছে আমি পোকার মতো, যিহূদার লোকেদের কাছে পচনের মতো।
HOS 5:13 “ইফ্রয়িম যখন তার অসুস্থতা ও যিহূদা তার ক্ষতগুলি দেখতে পেল, তখন ইফ্রয়িম আসিরিয়ার দিকে ফিরে তাকালো তাদের মহারাজের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠাল। কিন্তু সে তোমাদের আরোগ্য সাধন বা তোমাদের ক্ষতগুলি নিরাময় করতে অক্ষম।
HOS 5:14 কেননা আমি ইফ্রয়িমের কাছে সিংহের মতো হব, যিহূদার কাছে হব যুবসিংহের মতো। আমি তাদের বিদীর্ণ করে চলে যাব; আমি তাদের তুলে নিয়ে যাব, কেউ পারবে না তাদের উদ্ধার করতে।
HOS 5:15 তারপর আমি স্বস্থানে ফিরে যাব, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। আর তারা আমার শ্রীমুখের অন্বেষী হবে তাদের চরম দুর্দশায় তারা আগ্রহভরে আমার অন্বেষণ করবে।”
HOS 6:1 “এসো, আমরা সদাপ্রভুর কাছে ফিরে যাই। তিনি আমাদের খণ্ড খণ্ড করেছেন, কিন্তু তিনিই আমাদের আরোগ্য করবেন; তিনি আমাদের জখম করেছেন, কিন্তু তিনিই আমাদের ক্ষতসকল বেঁধে দেবেন।
HOS 6:2 দু-দিন পরে তিনি আমাদের পুনরুজ্জীবিত করবেন; তৃতীয় দিনে তিনি আমাদের করবেন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত, যেন আমরা তাঁর সান্নিধ্যে বসবাস করি।
HOS 6:3 এসো, আমরা সদাপ্রভুকে জ্ঞাত হই, তাঁকে জানার জন্য স্থিরসংকল্প নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাই। অরুণোদয়ের মতোই সুনিশ্চিত তাঁর আবির্ভাব; তিনি আসবেন আমাদের কাছে বৃষ্টির বারিধারার মতো, আসবেন ভূমি-সেচনকারী শেষ বর্ষার মতো।”
HOS 6:4 “ইফ্রয়িম, আমি তোমাকে নিয়ে কী করব? যিহূদা, আমি তোমাকে নিয়েই বা কী করব? তোমাদের ভালোবাসা তো সকালের কুয়াশার মতো, ভোরের শিশির, যা প্রত্যুষেই অন্তর্হিত হয়।
HOS 6:5 তাই, আমি ভাববাদীদের দ্বারা তোমাদের খণ্ডবিখণ্ড করেছি, আমার মুখের বাক্য দ্বারা আমি তোমাদের হত্যা করেছি; আমার দণ্ডাজ্ঞা বিদ্যুতের মতো তোমাদের উপরে আছড়ে পড়েছে।
HOS 6:6 কারণ আমি দয়া চাই, বলিদান নয়, এবং হোমবলির চেয়ে চাই ঈশ্বরকে স্বীকৃতি দান।
HOS 6:7 আদমের মতো তারা নিয়ম ভেঙে ফেলেছে; তারা ওখানেও আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছিল।
HOS 6:8 গিলিয়দ হল দুষ্ট ও অধর্মাচারীদের নগর, তা রক্তাক্ত পদচিহ্নে কলঙ্কিত।
HOS 6:9 লুণ্ঠনকারী ব্যক্তিরা যেমন কোনো মানুষের অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে, তেমনই করে থাকে যাজকের দল; তারা শিখিমের পথে লোকেদের হত্যা করে, তারা লজ্জাকর অপরাধ সংঘটিত করে।
HOS 6:10 আমি ইস্রায়েল কুলে এক ভয়ংকর ব্যাপার দেখেছি। সেখানে ইফ্রয়িম বেশ্যাবৃত্তিতে জড়িয়েছে, আর ইস্রায়েল হয়েছে কলুষিত।
HOS 6:11 “এবং যিহূদা, তোমার জন্যও, নিরূপিত আছে এক শস্যচয়নের কাল। “আমি যখনই আমার লোকেদের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করব,
HOS 7:1 যখনই আমি ইস্রায়েলের রোগনিরাময় করি, তখনই ইফ্রয়িমের পাপসকল উন্মোচিত হয় এবং শমরিয়ার অপরাধসকল প্রকাশিত হয়ে পড়ে। তারা ছলনা করা চর্চা করে, চোরের মতো সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকে, দস্যুর মতো পথে পথে ডাকাতি করে।
HOS 7:2 কিন্তু তারা বুঝতে পারে না, তাদের সব দুষ্কর্ম আমার স্মরণে থাকে। তাদের পাপগুলি তাদের ঘিরে রেখেছে; সেগুলি সবসময়ই আমার সামনে আছে।
HOS 7:3 “তারা তাদের দুষ্টতার দ্বারা রাজাকে এবং মিথ্যা কথা দ্বারা তাদের সম্মানিত লোকদের খুশি করে।
HOS 7:4 তারা সবাই ব্যভিচারী, তারা উনুনের মতো জ্বলতে থাকে, ময়দার তাল মেখে তা ফেঁপে না ওঠা পর্যন্ত পাচককে সেই আগুন খোঁচাতে হয় না।
HOS 7:5 আমাদের রাজার উৎসবের দিনে সম্মানিত লোকেরা সুরাপানে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, আর সে বিদ্রুপকারীদের সঙ্গে হাত মেলায়।
HOS 7:6 তাদের হৃদয় চুল্লির মতো, তারা গোপন উদ্দেশ্যে তার কাছে উপস্থিত হয়। সমস্ত রাত্রি তাদের কামনাবাসনা ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে, সকালে তা আগুনের শিখার মতো প্রজ্বলিত হয়।
HOS 7:7 তারা সকলেই চুল্লির মতো উত্তপ্ত, তারা তাদের শাসকদের গ্রাস করে। তাদের সব রাজার পতন হয়, এবং তারা কেউই আমাকে আহ্বান করে না।
HOS 7:8 “ইফ্রয়িম অন্য জাতিদের সঙ্গে মিশ্রিত হয়; ইফ্রয়িম এক পিঠ সেঁকা পিঠের মতো, যা ওল্টানো হয়নি।
HOS 7:9 বিদেশিরা তার শক্তি শুষে নেয়, কিন্তু সে তা বুঝতে পারে না। তার কেশরাশি ক্রমেই পেকে গেছে, সে কিন্তু তা খেয়াল করেনি।
HOS 7:10 ইস্রায়েলের ঔদ্ধত্য তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, কিন্তু এসব সত্ত্বেও সে তার ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রতি ফেরেনি কিংবা করেনি তাঁর অন্বেষণ।
HOS 7:11 “ইফ্রয়িম ঘুঘুর মতো, যে নির্বোধ ও সহজেই প্রতারিত হয়। এই সে মিশরকে আহ্বান করে, পরক্ষণেই আবার সে আসিরিয়ার প্রতি ফেরে।
HOS 7:12 তাদের গমনকালে, আমি তাদের উপরে আমার জাল নিক্ষেপ করব; আকাশের পাখিদের মতো আমি তাদের নিচে টেনে নামাব। তাদের এক জায়গায় জড়ো হওয়ার কথা যখন আমি শুনব, আমি তাদের ধরে ফেলব।
HOS 7:13 ধিক্ তাদের, কারণ তারা আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে! তারা বিনষ্ট হবে, কারণ তারা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছে! বহুদিন যাবৎ আমি তাদের উদ্ধার করতে চেয়েছি, কিন্তু তারা আমারই বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলেছে।
HOS 7:14 তারা অন্তর থেকে আমার কাছে কাঁদেনি, কিন্তু নিজ নিজ শয্যায় বিলাপ করেছে। তারা শস্য ও নতুন দ্রাক্ষারসের জন্য একসঙ্গে সম্মিলিত হয়, কিন্তু আমার দিক থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে থাকে।
HOS 7:15 আমি তাদের প্রশিক্ষিত করেছি, শক্তিশালী করেছি, কিন্তু তারা আমারই বিরুদ্ধে কুকল্পনার ষড়যন্ত্র করে।
HOS 7:16 তারা পরাৎপরের প্রতি ফিরে আসে না; তারা ত্রুটিপূর্ণ ধনুকের মতো। তাদের নেতৃবর্গ তরোয়ালের আঘাতে পতিত হবে, এর কারণ তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা। এই কারণে মিশরের ভূমিতে তাদের উপহাস করা হবে।
HOS 8:1 “তোমরা মুখে তূরী দাও! সদাপ্রভুর গৃহের উপরে এক ঈগল উদীয়মান, কারণ লোকেরা আমার সঙ্গে কৃত চুক্তিভঙ্গ করেছে এবং আমার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
HOS 8:2 ইস্রায়েল আমার কাছে কেঁদে বলে, ‘হে আমাদের ঈশ্বর, আমরা তোমাকে স্বীকার করি!’
HOS 8:3 কিন্তু যা কিছু ভালো, ইস্রায়েল তা অগ্রাহ্য করেছে; তাই এক শত্রু তার পশ্চাদ্ধাবন করবে।
HOS 8:4 আমার সম্মতি ছাড়াই তারা রাজাদের প্রতিষ্ঠিত করে; আমার অনুমোদন ছাড়াই তারা মনোনীত করে সম্মানীয়দের। তাদের সোনা ও রুপোর দ্বারা তারা বিভিন্ন প্রতিমা নির্মাণ করে এবং নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনে।
HOS 8:5 শমরিয়া, তোমাদের বাছুর-প্রতিমাগুলি ছুঁড়ে ফেলে দাও! তাদের প্রতি আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হচ্ছে। আর কত দিন শুচিশুদ্ধ হওয়ার কাজে তারা অক্ষম থাকবে?
HOS 8:6 ওই প্রতিমাগুলি ইস্রায়েল থেকেই সৃষ্ট! ওই বাছুর-প্রতিমাটি একজন কারিগর নির্মাণ করেছে; ওটি ঈশ্বর নয়। শমরিয়ার ওই বাছুর-প্রতিমাকে খণ্ড খণ্ড করে ফেলা হবে।
HOS 8:7 “তারা বায়ুস্বরূপ বীজবপন করে এবং ঘূর্ণিবায়ুস্বরূপ শস্য কাটে। সেগুলির শিষের মাথায় শস্যদানা থাকে না, তাই তাতে কোনো ময়দা তৈরি হবে না। যদি তাতে শস্যদানা উৎপন্ন হত, তাহলে বিদেশিরা তা খেয়ে ফেলত।
HOS 8:8 ইস্রায়েলকে গ্রাস করা হয়েছে; এখন এক অসার বস্তুর মতো জাতিসমূহের মধ্যে তাঁর অবস্থান।
HOS 8:9 যেমন কোনো বুনো গর্দভ একা একা বিচরণ করে, সেভাবেই তারা আসিরিয়ায় গিয়েছিল। ইফ্রয়িম প্রেমিকদের কাছে নিজেকে বিক্রি করেছে।
HOS 8:10 যদিও তারা নিজেদের অন্য জাতিদের কাছে বিক্রি করেছে, কিন্তু আমি এখন তাদের একত্রিত করব। পরাক্রান্ত রাজার অত্যাচারে তারা ক্রমশ ক্ষয়ে যাবে।
HOS 8:11 “যদিও ইফ্রয়িম পাপবলির উদ্দেশে বহু বেদি নির্মাণ করেছে, কিন্তু সেগুলি পরিণত হয়েছে পাপ করার বেদিতে।
HOS 8:12 আমি তাদের জন্য আমার বিধানে বহু বিষয় লিখেছিলাম, কিন্তু তারা সেগুলিকে বিজাতীয় বিষয় মনে করল।
HOS 8:13 তারা আমার কাছে বলি-উপহার উৎসর্গ করে, এবং সেই মাংস তারা ভক্ষণও করে; কিন্তু সদাপ্রভু তাদের প্রতি সন্তুষ্ট নন। এবারে তিনি তাদের সব দুষ্টতার কথা স্মরণ করবেন এবং তাদের পাপের শাস্তি দেবেন; তারা আবার মিশরে ফিরে যাবে।
HOS 8:14 ইস্রায়েল তার নির্মাতাকে ভুলে গেছে এবং বহু প্রাসাদ নির্মাণ করেছে; যিহূদা বহু নগরকে প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করেছে। কিন্তু তাদের নগরগুলির উপরে আমি অগ্নিবর্ষণ করব, যা তাদের দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।”
HOS 9:1 ইস্রায়েল, তুমি আনন্দিত হোয়ো না; অন্যান্য জাতিদের মতো উল্লাসে মেতে উঠো না। কারণ তোমার ঈশ্বরের কাছে তুমি অবিশ্বস্ত হয়েছ; প্রত্যেকটি শস্য মাড়াইয়ের খামারে বেশ্যাবৃত্তির পারিশ্রমিক তোমার প্রীতিজনক।
HOS 9:2 শস্য মাড়াইয়ের খামার কিংবা দ্রাক্ষাপেষাই কল লোকেদের খাদ্য জোগাবে না; নতুন দ্রাক্ষারস লোকেদের জন্য অপ্রতুল হবে।
HOS 9:3 তারা সদাপ্রভুর দেশে থাকতে পারবে না; ইফ্রয়িম মিশরে ফিরে যাবে এবং আসিরিয়ায় গিয়ে অশুচি খাবার খাবে।
HOS 9:4 তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে পেয়-নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে না, কিংবা তাদের দেওয়া বিভিন্ন বলিও তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। এসব বলি তাদের কাছে বিলাপকারীদের খাদ্যের মতো হবে; যারাই সেগুলি খাবে, তারাই অশুচি হবে। এই খাবার হবে তাদের নিজেদের জন্য; এগুলি সদাপ্রভুর মন্দিরে আসবে না।
HOS 9:5 তোমাদের নির্ধারিত উৎসবগুলির দিনে যেগুলি সদাপ্রভুর উৎসবের দিন, সেই দিনগুলিতে তোমরা কী করবে?
HOS 9:6 তারা যদিও বিনাশ এড়িয়ে যায়, মিশর তাদের একত্র করবে এবং মোফ তাদের কবর দেবে। তাদের রুপোর পাত্রগুলি হবে বিছুটি গাছের অধিকার, তাদের তাঁবুগুলি ছেয়ে যাবে কাঁটাঝোপে।
HOS 9:7 তাদের দণ্ডদানের দিন এগিয়ে আসছে, হিসেব নেওয়ার দিনও সমাগত; ইস্রায়েল জানুক একথা। যেহেতু তোমার পাপসকল অত্যন্ত বেশি এবং তোমার হিংস্রতা এত বিশাল যে, ভাববাদীও মূর্খ বিবেচিত হয়, অনুপ্রাণিত মানুষকে বাতিকগ্রস্ত মনে হয়।
HOS 9:8 ভাববাদী, আমাদের ঈশ্বরের সঙ্গে ইফ্রয়িমের উপরে প্রহরা দেন, তা সত্ত্বেও তার সমস্ত পথে ফাঁদ পাতা থাকে, আর তার ঈশ্বরের গৃহে বিদ্বেষ বিরাজ করে।
HOS 9:9 তারা ডুবে গেছে দুর্নীতির গভীরে, যা এক সময় গিবিয়াতে হত। ঈশ্বর তাদের দুষ্টতার কথা স্মরণ করবেন এবং তাদের পাপের জন্য তাদের শাস্তি দেবেন।
HOS 9:10 “আমি যখন ইস্রায়েলকে খুঁজে পেয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল মরুপ্রান্তরে আঙুর খুঁজে পেয়েছি; আমি যখন তোমাদের পূর্বপুরুষদের দেখেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল ডুমুর গাছে অগ্রিম ফল এসেছে। কিন্তু তারা যখন বায়াল-পিয়োরে উপস্থিত হল, তখন তারা সেই ন্যক্কারজনক মূর্তির কাছে নিজেদের উৎসর্গ করল এবং তাদের সেই প্রিয়পাত্রের মতোই জঘন্য হয়ে উঠল।
HOS 9:11 ইফ্রয়িমের গৌরব পাখির মতো উড়ে যাবে, প্রসব, গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণ কিছুই হবে না।
HOS 9:12 তা সত্ত্বেও যদি তারা শিশুদের লালনপালন করে, তাহলে আমি তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুশোক দেব। ধিক্ তাদের, যখন আমি তাদের পরিত্যাগ করি!
HOS 9:13 আমি ইফ্রয়িমকে সোরের মতো দেখেছি, যে এক মনোরম স্থানে রোপিত। কিন্তু ইফ্রয়িম তার ছেলেমেয়েদের ঘাতকের কাছে নিয়ে আসবে।”
HOS 9:14 হে সদাপ্রভু, তুমি তাদের দাও— তুমি তাদের কী দেবে? তুমি তাদের গর্ভস্রাবী জঠর ও শুষ্ক স্তন দাও।
HOS 9:15 “গিল্‌গলে তাদের প্রতিটি দুষ্টতার জন্য, আমি সেখানে তাদের ঘৃণা করেছিলাম। তাদের পাপপূর্ণ সমস্ত কাজের জন্য আমার গৃহ থেকে আমি তাদের বিতাড়িত করব। আমি আর তাদের ভালোবাসব না; কারণ তাদের নেতারা সবাই বিদ্রোহী।
HOS 9:16 ইফ্রয়িম ব্যাধিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শিকড় শুকিয়ে গেছে; তাই তারা কোনো ফল উৎপন্ন করে না। এমনকি তারা যদি সন্তানের জন্মও দেয়, তাহলে আমি তাদের স্নেহচ্ছায়ায় লালিত বংশধরদের মেরে ফেলব।”
HOS 9:17 আমার ঈশ্বর তাদের অগ্রাহ্য করবেন, কারণ তারা তাঁর আদেশ পালন করেনি; তাই বিভিন্ন জাতির মধ্যে তারা ইতস্তত ঘুরে বেড়াবে।
HOS 10:1 ইস্রায়েল ছিল শাখাপ্রশাখা সমন্বিত এক দ্রাক্ষালতা; সে নিজের জন্যই ফল উৎপন্ন করত। তার ফল যখন বৃদ্ধি পেল, সে তখন আরও বেশি যজ্ঞবেদি নির্মাণ করল; তার দেশ যেই সমৃদ্ধ হল, সে তার পবিত্র পাথর স্তম্ভগুলি সুশোভিত করল।
HOS 10:2 তাদের হৃদয় প্রবঞ্চনায় পূর্ণ, তাই এখন তারা অবশ্যই তাদের অপরাধ বহন করবে। সদাপ্রভু তাদের যজ্ঞবেদিগুলি ভেঙে ফেলবেন ও তাদের পবিত্র পাথরের স্তম্ভগুলি ধ্বংস করবেন।
HOS 10:3 তখন তারা বলবে, “আমাদের কোনো রাজা নেই, তাই আমরা সদাপ্রভুকে ভয় করিনি। আর যদিও আমাদের কোনো রাজা থাকতেন, তাহলে তিনিই বা আমাদের জন্য কী করতেন?”
HOS 10:4 তারা বহু প্রতিশ্রুতি দেয়, চুক্তি করার সময় তারা মিথ্যা শপথ করে; সেই কারণে মোকদ্দমা গজিয়ে ওঠে চাষ করা জমিতে বিষাক্ত আগাছার মতো।
HOS 10:5 শমরিয়ায় বসবাসকারী লোকদের কাছে বেথ-আবনের বাছুর-প্রতিমা ভীতিপ্রদ। কিন্তু এর অধিবাসীরা তার জন্য বিলাপ করবে, যেমনটা করবে তার মূর্তিপূজক যাজকেরা, যারা তার আড়ম্বরে আনন্দিত হয়েছিল, কেননা সেই গৌরবকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হবে।
HOS 10:6 তা আসিরিয়ার মহারাজের কাছে উপঢৌকন স্বরূপ তা বহন করে নিয়ে যাওয়া হবে। ইফ্রয়িম অপমানিত হবে; ইস্রায়েল তার বিদেশি জোটের জন্য লজ্জিত হবে।
HOS 10:7 জলরাশির উপরে কচি শাখার মতো শমরিয়া ও তার রাজা ভেসে যাবে।
HOS 10:8 দুষ্টতার উচ্চ স্থানগুলি ধ্বংস করা হবে, কারণ এ হল ইস্রায়েলের পাপ। সেখানে কাঁটাগাছ ও শিয়ালকাঁটার জন্ম হবে, এবং সেগুলি তাদের যজ্ঞবেদিগুলিকে ঢেকে ফেলবে। তখন তারা পর্বতসকলের উদ্দেশে বলবে, “আমাদের ঢেকে ফেলো!” আর পাহাড়গুলিকে বলবে, “আমাদের উপরে পড়ো!”
HOS 10:9 “হে ইস্রায়েল, গিবিয়ার সময় থেকে তোমরা পাপ করেছ, আর তোমরা সেখানেই থেকে গিয়েছ। তাই যুদ্ধ গিবিয়ার দুষ্কর্মকারীদের নাগাল কি পাবে না?
HOS 10:10 আমার যখন ইচ্ছা হবে, আমি তাদের শাস্তি দেব; তাদের দ্বিগুণ পাপের জন্য তাদের বেঁধে ফেলতে। জাতিসমূহ তাদের বিরুদ্ধে একত্র হবে,
HOS 10:11 ইফ্রয়িম এক প্রশিক্ষিত বকনা-বাছুর, সে শস্যমর্দন করতে ভালোবাসে; তাই আমি তার সুন্দর ঘাড়ে একটি জোয়াল দেব। আমি ইফ্রয়িমকে বিতাড়িত করব, যিহূদাকে অবশ্যই ভূমি কর্ষণ করতে হবে, আর যাকোব অবশ্যই মাটির ঢেলা ভাঙবে।
HOS 10:12 তোমরা নিজেদের জন্য ধার্মিকতার বীজবপন করো, অনিঃশেষ ভালোবাসার ফসল তোলো, তোমাদের পতিত জমি চাষ করো; কারণ এখনই সদাপ্রভুকে অন্বেষণ করার সময়, যতক্ষণ তিনি এসে তোমাদের উপরে ধার্মিকতা বর্ষণ না করেন।
HOS 10:13 কিন্তু তোমরা তো দুষ্টতার বীজবপন করেছ, তোমরা মন্দতার শস্যচয়ন করেছ, তোমরা প্রতারণার ফল ভক্ষণ করেছ। এসবের কারণ, তোমরা নিজেদের শক্তি ও তোমাদের অসংখ্য বীর যোদ্ধাদের উপর নির্ভর করেছিলে।
HOS 10:14 তোমার প্রজাদের বিরুদ্ধে রণনাদ গর্জিত হবে, যাতে তোমাদের সব দুর্গ বিধ্বস্ত হয়; ঠিক যেভাবে শল্‌মন যুদ্ধের সময় বেথ-অর্বেলকে ধ্বংস করেছিল, সন্তানসহ মায়েদের আছাড় মেরে খণ্ড খণ্ড করেছিল।
HOS 10:15 ওহে বেথেল, তোমার প্রতি এরকমই করা হবে, কারণ তোমার দুষ্টতা বিপুল। সেদিন যখন ঘনিয়ে আসবে, তখন ইস্রায়েলের রাজা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হবে।
HOS 11:1 “ইস্রায়েল যখন শিশু ছিল, আমি তাকে ভালোবাসলাম, এবং মিশর থেকে আমি আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম।
HOS 11:2 কিন্তু আমি ইস্রায়েলকে যতবার ডেকেছি, তারা তত বেশি আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেল। তারা বায়াল-দেবতাদের সামনে বলি উৎসর্গ করল এবং তারা প্রতিমাদের সামনে ধূপদাহ করল।
HOS 11:3 আমিই ইফ্রয়িমকে হাঁটতে শিখিয়েছিলাম, তাদের কোলে নিতাম; তারা কিন্তু বুঝলো না। যে আমিই তাদের সুস্থ করেছিলাম।
HOS 11:4 আমি মানবিক সদিচ্ছা ও স্নেহের দড়ি দিয়ে তাদের চালিত করতাম; তাদের ঘাড় থেকে জোয়াল তুলে নিতাম এবং ঝুঁকে পড়ে তাদের খাবার খাওয়াতাম।
HOS 11:5 “তারা কি মিশরে ফিরে যাবে না এবং আসিরিয়া কি তাদের উপরে রাজত্ব করবে না, যেহেতু তারা অনুতপ্ত হতে চায়নি?
HOS 11:6 তাদের নগরগুলিতে তরোয়াল ঝলসে উঠবে, যা ভেঙে ফেলবে তাদের নগরদ্বারগুলির খিল এবং পরিসমাপ্তি ঘটাবে তাদের পরিকল্পনাসমূহের।
HOS 11:7 আমার প্রজারা আমার কাছ থেকে মুখ ফেরাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছে। তাই যতই তারা পরাৎপর ঈশ্বরকে ডাকুক, তিনি কিন্তু কোনোভাবেই তাদের তুলে ধরবেন না।
HOS 11:8 “ইফ্রয়িম, আমি কীভাবে তোমাকে ত্যাগ করতে পারি? ইস্রায়েল, আমি কীভাবে তোমাকে অন্যের হাতে সমর্পণ করব? আমি কীভাবে তোমার প্রতি অদ্‌মার মতো আচরণ করব? কীভাবেই বা আমি তোমাকে সবোয়িমের তুল্য করে তুলবো? তোমার জন্য আমার অন্তর ব্যাকুল হচ্ছে; আমার সমস্ত অনুকম্পা উথলে উঠছে।
HOS 11:9 আমার ভয়ংকর ক্রোধ আমি কার্যকর করব না, কিংবা ইফ্রয়িমের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাঁকে ছারখার করব না। কারণ আমি ঈশ্বর, মানুষ নই, তোমাদের মধ্যবর্তী আমি সেই এক ও অদ্বিতীয় পবিত্রজন। তাই আমি সক্রোধে উপস্থিত হব না।
HOS 11:10 তারা সদাপ্রভুর অনুসরণ করবে; তিনি সিংহের মতো গর্জন করবেন। এবং যখন তিনি গর্জন করেন, তখন তাঁর সন্তানেরা পশ্চিমদিক থেকে কম্পিত হয়ে আসবে।
HOS 11:11 মিশর থেকে পাখির মতো তারা কাঁপতে কাঁপতে আসবে, আসিরিয়া থেকে ঘুঘুর মতো আসবে। আমি তাদের গৃহে তাদের প্রতিষ্ঠিত করব,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
HOS 11:12 ইফ্রয়িম মিথ্যা কথায় ও ইস্রায়েল ছলনায় আমাকে ঘিরে আছে। এবং যিহূদা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অবাধ্য এমনকি বিশ্বস্ত পবিত্রজনের বিরুদ্ধেও।
HOS 12:1 ইফ্রয়িম বাতাস খায়; সে সারাদিন পুবালি বাতাসের পিছু ধাওয়া করে, এবং মিথ্যাচার ও সহিংসতার বৃদ্ধি ঘটায়। সে আসিরিয়ার সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করে ও মিশরে জলপাইয়ের তেল পাঠায়।
HOS 12:2 সদাপ্রভু যিহূদার বিরুদ্ধে এক অভিযোগ আনবেন; তিনি যাকোবকে তার জীবনাচরণ অনুযায়ী দণ্ড দেবেন তার কর্ম অনুযায়ী তাকে প্রতিফল দেবেন।
HOS 12:3 মায়ের গর্ভে সে তার অগ্রজের গোড়ালি ধরেছিল; প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে সে ঈশ্বরের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করেছিল।
HOS 12:4 সে স্বর্গদূতের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছিল; সে সজল নয়নে তাঁর কৃপা ভিক্ষা করেছিল। সে বেথেলে তাঁর সন্ধান পেয়েছিল এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে করেছিল কথোপকথন।
HOS 12:5 তিনি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, সদাপ্রভুই তাঁর স্মরণীয় নাম!
HOS 12:6 কিন্তু তোমাকে অবশ্যই তোমার ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসতে হবে; তাই ভালোবাসা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করো এবং সবসময় তোমার ঈশ্বরের প্রতীক্ষায় থাকো।
HOS 12:7 ব্যবসায়ী ছলনাপূর্ণ দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করে, সে প্রতারণা করতে ভালোবাসে।
HOS 12:8 ইফ্রয়িম গর্ব করে, “আমি অত্যন্ত ধনী; আমি বিস্তর ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছি। আমার এইসব ধনসম্পদের ঐশ্বর্যের মধ্যে তারা কোনো অধর্ম বা পাপ খুঁজে পাবে না।”
HOS 12:9 “আমি সদাপ্রভু, তোমার ঈশ্বর, যে তোমাকে মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছে; আমি তোমাকে আবার তাঁবুতে বসবাস করাব, যেমন তুমি তোমার নির্ধারিত উৎসবের দিনগুলিতে করতে।
HOS 12:10 আমি ভাববাদীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের বহু দর্শন দিয়েছি ও তাদের মাধ্যমে বহু রূপক কাহিনি বর্ণনা করেছি।”
HOS 12:11 গিলিয়দ কি দুর্জন? এর বাসিন্দারা অপদার্থ! তারা কি গিল্‌গলে ষাঁড় বলিদান করে? তাদের বেদিগুলি হবে মাঠের আল বরাবর স্থাপিত পাথর খণ্ডের মতো।
HOS 12:12 যাকোব অরাম দেশে পলায়ন করেছিল; ইস্রায়েল স্ত্রী পাওয়ার জন্য সেবাকর্ম করেছিল, এবং তার জন্য কন্যাপণ দিতে সে পশুপালনের কাজ করেছিল।
HOS 12:13 সদাপ্রভু মিশর থেকে ইস্রায়েলকে মুক্ত করে আনার জন্য এক ভাববাদীকে ব্যবহার করলেন; এক ভাববাদীর দ্বারা তিনি তাদের তত্ত্বাবধান করলেন।
HOS 12:14 কিন্তু ইফ্রয়িম ভীষণভাবে তাঁর ক্রোধের উদ্রেক করেছে; তার প্রভু তার রক্তপাতের অপরাধ তাঁর উপরেই বর্তাবেন ও তার উপেক্ষার কারণে তাকে শাস্তি দেবেন।
HOS 13:1 ইফ্রয়িম কথা বললে লোকেরা শিহরিত হত; সে ইস্রায়েলে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু বায়াল-দেবতার পূজার্চনা করে সে অপরাধী সাব্যস্ত হল ও মৃত্যুবরণ করল।
HOS 13:2 কিন্তু এখন তারা আরও বেশি পাপ করছে; তাদের রুপো দিয়ে তারা নিজেদের জন্য প্রতিমা নির্মাণ করে, যেগুলি কুশলী হাতে নির্মিত সুন্দর সব দেবমূর্তি, সেগুলি সবই কারিগরদের শিল্পকর্ম। এসব লোকেদের সম্পর্কে বলা হয়, “তারা নর বলি দেয়! এবং বাছুর-প্রতিমাদের চুম্বন করে!”
HOS 13:3 সুতরাং তারা হবে সকালের কুয়াশার মতো, প্রত্যুষের শিশিরের মতো, যা অন্তর্হিত হয়, তুষের মতো, যা শস্য মাড়াইয়ের খামার থেকে উড়ে যায়, ধোঁয়ার মতো, যা জানালা দিয়ে নির্গত হয়।
HOS 13:4 “কিন্তু আমিই সদাপ্রভু, তোমার ঈশ্বর, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন। আমাকে ছাড়া আর কোনো ঈশ্বরকে তোমরা জানো না, আমি ছাড়া আর কোনো পরিত্রাতা নেই।
HOS 13:5 প্রখর উত্তপ্ত সেই মরুপ্রান্তরে আমি তোমাদের তত্ত্বাবধান করেছিলাম।
HOS 13:6 আমি তাদের আহার যোগালে তারা পরিতৃপ্ত হয়েছিল; কিন্তু পরিতৃপ্ত হওয়ার পরে তারা অহংকারী হয়ে উঠল; তারপর তারা আমাকে ভুলে গেল।
HOS 13:7 তাই আমি তাদের উপরে সিংহের মতো আসব, চিতাবাঘের মতো আমি পথে ওৎ পেতে থাকব।
HOS 13:8 শাবক কেড়ে নেওয়া ভালুকের মতো, আমি তাদের আক্রমণ করব এবং তাদের হৃৎপিণ্ড বিদীর্ণ করব। সিংহের মতো আমি তাদের গ্রাস করব; বন্যপশু তাদের খণ্ড খণ্ড করবে।
HOS 13:9 “ইস্রায়েল, তুমি তো বিধ্বস্ত হয়েছ, কারণ তুমি আমার, তোমার সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে গিয়েছ।
HOS 13:10 কোথায় তোমার রাজা, যে তোমাকে রক্ষা করতে পারে? তোমার প্রত্যেক নগরে সেই শাসকেরা কোথায়, যাদের সম্পর্কে তুমি বলেছিলে, ‘আমাকে একজন রাজা ও শাসনকর্তাদের দাও’?
HOS 13:11 তাই আমার ক্রোধে আমি তোমাকে এক রাজা দিলাম, এবং আমার ভয়ংকর ক্রোধে আমি তাকে অপসারিত করলাম।
HOS 13:12 ইফ্রয়িমের অপরাধ সঞ্চিত আছে, তার পাপসকল নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
HOS 13:13 প্রসববেদনায় কাতর নারীর মতোই সে যাতনা হবে, কিন্তু সে এক নির্বোধ সন্তান; প্রসবের সময় হয়ে এলেও, সে গর্ভদ্বারে উপস্থিত হয় না।
HOS 13:14 “পাতালের পরাক্রম থেকে আমি তাদের উদ্ধার করব; মৃত্যু থেকে আমি তাদের মুক্ত করব। ওহে মৃত্যু, তোমার মহামারি সকল কোথায়? ওহে পাতাল, তোমারই বা বিনাশক শক্তি কোথায়? “সে তার ভাইদের মধ্যে সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠলেও।
HOS 13:15 আমি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হব না, সদাপ্রভুর কাছ থেকে আসবে এক পুবালি বাতাস, মরুপ্রান্তরের মধ্যে তা প্রবাহিত হবে; তার ঝরনার স্রোতোধারা রুদ্ধ হবে, এবং তার কুয়োগুলি শুকিয়ে যাবে। তার ভাণ্ডারগৃহ, তাঁর সমস্ত সম্পদ লুন্ঠিত হবে।
HOS 13:16 শমরিয়ার লোকেরা তাদের অপরাধ অবশ্য বহন করবে, কারণ তারা তাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশ করেছে। তারা তরোয়ালতে পতিত হবে; তাদের শিশুদের মাটিতে আছড়ে চূর্ণ করা হবে, তাদের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের উদর বিদীর্ণ করা হবে।”
HOS 14:1 হে ইস্রায়েল, তোমরা ফিরে এসো তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে। তোমাদের পাপ সমূহই তোমাদের পতনের কারণ!
HOS 14:2 তোমাদের বক্তব্য সঙ্গে নাও ও সদাপ্রভুর কাছে ফিরে এসো। তাঁকে বলো: “আমাদের সব পাপ ক্ষমা করো, আর অনুগ্রহ করে আমাদের ফিরিয়ে নাও, যাতে আমরা আমাদের ঠোঁটের ফল উৎসর্গ করতে পারি।
HOS 14:3 আসিরিয়া আমাদের রক্ষা করতে পারে না, আমরা যুদ্ধের ঘোড়ায় চড়ব না। আমাদের হাতে তৈরি প্রতিমাগুলিকে আমরা আর কখনও ‘আমাদের দেবতা’ বলব না, কারণ তোমার মধ্যেই পিতৃহীনেরা অনুকম্পা লাভ করে।”
HOS 14:4 “আমি তাদের বিপথগমনের রোগ প্রতিকার করব, এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভালোবাসব, কেননা আমার ক্রোধ তাদের উপর থেকে সরে গেছে।
HOS 14:5 আমি ইস্রায়েলের কাছে হব শিশিরের মতো: সে প্রস্ফুটিত হবে লিলিফুলের মতো। লেবাননের সিডার গাছের মতো, যার শিকড় গভীরে প্রোথিত হবে;
HOS 14:6 তা থেকে কোমল পল্লব নির্গত হবে। তার জৌলুস হবে জলপাই গাছের মতো, তার সুগন্ধ হবে লেবাননের সিডার গাছের মতো।
HOS 14:7 মানুষেরা আবার তার ছায়ায় বসবাস করবে; সে শস্যদানার মতো বিকশিত হবে, সে দ্রাক্ষালতার মতো মুকুলিত হবে, এবং তার খ্যাতি হবে লেবানন থেকে আনা দ্রাক্ষারসের মতো।
HOS 14:8 হে ইফ্রয়িম, প্রতিমাগুলি নিয়ে আমি আর কি করব? আমি তাকে উত্তর দেব ও তার তত্ত্বাবধান করব। আমি এখন এক সবুজ-সতেজ দেবদারু গাছের মতো; তোমার ফলবান হওয়ার কারণ আমি।”
HOS 14:9 কে জ্ঞানবান? তাদের এসব বিষয় উপলব্ধি করতে দাও। বিচক্ষণ কে? তাদের এগুলি বুঝতে দাও। সদাপ্রভুর পথসকল ন্যায়সংগত; ধার্মিক ব্যক্তি সেইসব পথেই হাঁটে, কিন্তু বিদ্রোহীরা সেইসব পথে হোঁচট খায়।
JOE 1:1 সদাপ্রভুর এই বাক্য পথূয়েলের পুত্র যোয়েলের কাছে উপস্থিত হল।
JOE 1:2 আপনারা যারা প্রাচীন, একথা শুনুন; দেশে বসবাসকারী তোমরা সকলেই শোনো। তোমাদের সময়কালে, কিংবা তোমাদের পিতৃপুরুষদের সময়ে, এরকম ঘটনা কখনও কি ঘটেছে?
JOE 1:3 তোমাদের সন্তানদের কাছে একথা বলো, তোমাদের সন্তানেরা তাদের সন্তানদের কাছে একথা বলুক, আর তাদের সন্তানেরা বলুক পরবর্তী প্রজন্মের কাছে।
JOE 1:4 পঙ্গপালের ঝাঁক যা ছেড়ে গিয়েছে, তা বড়ো পঙ্গপালেরা খেয়ে ফেলেছে; বড়ো পঙ্গপালের যা ছেড়ে দিয়েছে, তরুণ পঙ্গপালেরা তা খেয়ে ফেলেছে; আর তরুণ পঙ্গপালেরা যা ছেড়ে দিয়েছে, তা অন্য পঙ্গপালেরা খেয়ে ফেলেছে।
JOE 1:5 ওহে মাতাল ব্যক্তিরা, তোমরা ওঠো ও কাঁদো! যারা সুরা পান করো, তোমরা বিলাপ করো; নতুন দ্রাক্ষারসের জন্য বিলাপ করো, কারণ তা তোমাদের মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
JOE 1:6 এক জাতি আমার দেশকে আক্রমণ করেছে, তারা শক্তিশালী ও সংখ্যায় অগণ্য; তার আছে সিংহের মতো দাঁত, আছে সিংহীর মতো কশের দাঁত।
JOE 1:7 সে আমার দ্রাক্ষালতা নষ্ট করেছে, আমার ডুমুর গাছগুলি ধ্বংস করেছে। সে তাদের ছালগুলি খুলে দূরে ফেলে দিয়েছে, তাদের শাখাপ্রশাখা ত্বকশূন্য সাদা দেখা যায়।
JOE 1:8 তোমরা শোকবস্ত্র পরে যুবতী নারীর মতো বিলাপ করো, যে যৌবনেই তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক করে।
JOE 1:9 শস্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য সকল সদাপ্রভুর গৃহ থেকে অপহৃত হয়েছে। যারা সদাপ্রভুর সামনে পরিচর্যা করেন, সেই যাজকেরা সবাই শোক করছেন।
JOE 1:10 মাঠগুলি সব বিধ্বস্ত হয়েছে, জমি শুকিয়ে গেছে; শস্যরাশি ধ্বংস করা হয়েছে, নতুন দ্রাক্ষারস শুকিয়ে গেছে, তেল সব শেষ হতে চলেছে।
JOE 1:11 ওহে কৃষকেরা, তোমরা হতাশ হও, দ্রাক্ষাচাষিরা, তোমরা বিলাপ করো; তোমরা গম ও যবের জন্য দুঃখ প্রকাশ করো, কারণ মাঠের সব উৎপন্ন শস্য ধ্বংস হয়েছে।
JOE 1:12 দ্রাক্ষালতা শুকিয়ে গেছে ও ডুমুর গাছ জীর্ণ হয়েছে; ডালিম, খেজুর ও আপেল গাছ— মাঠের যত গাছপালা—শুকিয়ে গেছে। সত্যিই মানবজাতির সব আনন্দ ফুরিয়ে গেছে।
JOE 1:13 ওহে যাজকেরা, তোমরা শোকের বস্ত্র পরে বিলাপ করো; যারা বেদির সামনে পরিচর্যা করো, তোমরা হাহাকার করো। তোমরা, যারা আমার ঈশ্বরের সামনে পরিচর্যা করো, তোমরাও এসো, সমস্ত রাত্রি শোকের বস্ত্র পরে কাটাও; কারণ ভক্ষ্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য তোমাদের ঈশ্বরের গৃহে আনা হয়নি।
JOE 1:14 এক পবিত্র উপবাস-পর্ব ঘোষণা করো, এক পবিত্র সভার আহ্বান করো। প্রাচীনদের ও যারা দেশে বসবাস করে, তাদের সবাইকে তলব করো, তারা যেন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে আসে ও সদাপ্রভুর কাছে ক্রন্দন করে।
JOE 1:15 হায় হায়, সে কেমন দিন! কারণ সদাপ্রভুর দিন সন্নিকট; এ যেন সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে বিনাশের মতো আসছে।
JOE 1:16 আমাদের চোখের সামনে থেকেই কি খাবার, আনন্দ ও উল্লাস আমাদের ঈশ্বরের গৃহ থেকে নিয়ন্ত্রিত করা হয়নি?
JOE 1:17 যত শস্যবীজ মাটির ঢেলার নিচে পচে গেছে। শস্যভাণ্ডারের গৃহগুলি ধ্বংস হয়েছে, গোলাঘরগুলি ভেঙে ফেলা হয়েছে, কারণ শস্য সব শুকিয়ে গেছে।
JOE 1:18 পশুপাল কেমন আর্তস্বর করছে! বলদের পাল দিশেহারা হয়ে পড়েছে, কারণ তাদের জন্য কোনো চারণভূমি নেই।
JOE 1:19 হে সদাপ্রভু, আমি তোমাকেই ডাকি, কারণ আগুন খোলা চারণভূমিকে গ্রাস করেছে আর আগুনের শিখা মাঠের সমস্ত গাছপালা দগ্ধ করেছে।
JOE 1:20 এমনকি, বুনো পশুরাও হাঁপাতে হাঁপাতে তোমার দিকে চেয়ে আছে; জলের সমস্ত উৎস শুকিয়ে গেছে আর আগুন খোলা চারণভূমিগুলি ধ্বংস করেছে।
JOE 2:1 তোমরা সিয়োনে তূরী বাজাও; আমার পবিত্র পর্বতে সিংহনাদ তোলো। দেশে বসবাসকারী সকলে ভয়ে কাঁপুক, কারণ সদাপ্রভুর দিন এসে পড়েছে। হ্যাঁ, সেদিন কাছে এসে পড়েছে—
JOE 2:2 তা অন্ধকার ও নিরানন্দের দিন, মেঘের ও গাঢ় অন্ধকারের দিন।
JOE 2:3 তাদের সামনে আগুন গ্রাস করে, তাদের পিছনে আগুনের শিখা জ্বলে। তাদের সামনে দেশ হয় যেন এদন উদ্যানের মতো, তাদের পিছনে থাকে এক পরিত্যক্ত মরুপ্রান্তর— কোনো কিছুই তাদের কাছ থেকে রেহাই পায় না।
JOE 2:4 তাদের আকার অশ্বের মতো, তারা অশ্বারোহী সৈন্যদের মতো ছুটে চলে।
JOE 2:5 বহু রথের শব্দের মতো ধ্বনি তুলে, নাড়া গ্রাসকারী আগুনের মতো শব্দ তুলে, তারা পাহাড়ের চূড়ায় লাফ দেয়, তারা যেন যুদ্ধের উদ্দেশে শ্রেণীভূত পরাক্রমী সৈন্যদলের মতো।
JOE 2:6 তাদের দেখামাত্র জাতিসমূহ মনস্তাপে দগ্ধ হয়; প্রত্যেকের মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়।
JOE 2:7 তারা বীর যোদ্ধাদের মতো দৌড়ায়, সৈন্যদের মতো তারা প্রাচীর পরিমাপ করে। তারা সুশৃঙ্খলভাবে সমরাভিযান করে, কেউই তার স্থান থেকে বিচ্যুত হয় না।
JOE 2:8 তারা একে অন্যের উপরে চাপাচাপি করে পড়ে না, প্রত্যেকেই সোজা চলাপথে অগ্রসর হয়। প্রতিরোধ ব্যবস্থা তারা ভেদ করে, কেউই তার লাইন ভেঙে ফেলে না।
JOE 2:9 তারা নগরের মধ্যে দ্রুত দৌড়ে যায়, তারা প্রাচীরের উপরে দৌড়াতে থাকে। তারা ঘরবাড়ির উপরে চড়ে, চোরের মতো জানালা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।
JOE 2:10 তাদের সামনে পৃথিবী কম্পিত হয়, আকাশমণ্ডল কাঁপতে থাকে, সূর্য ও চাঁদ অন্ধকার হয়ে যায়, নক্ষত্রেরা আর দীপ্তি দেয় না।
JOE 2:11 সদাপ্রভু তাঁর সৈন্যদলের পুরোভাগে বজ্রধ্বনি করেন; তাঁর সৈন্যসংখ্যা গণনার অতীত, যারা তাঁর আদেশ পালন করে, তারা পরাক্রমী বীর। সদাপ্রভুর দিন অতি মহৎ; তা ভয়ংকর। কে তা সহ্য করতে পারে?
JOE 2:12 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “তোমরা এখনই, তোমাদের সম্পূর্ণ মনেপ্রাণে আমার কাছে ফিরে এসো, তোমরা উপবাস ও কান্নার সঙ্গে, শোক করতে করতে ফিরে এসো।”
JOE 2:13 তোমাদের পোশাক নয়, কিন্তু তোমরা নিজের নিজের হৃদয় বিদীর্ণ করো। তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ফিরে এসো, কারণ তিনি অনুগ্রহকারী ও সহানুভূতিশীল, বিলম্বে ক্রোধ করেন ও সীমাহীন তাঁর ভালোবাসা। তিনি বিপর্যয় প্রেরণ করে দয়ার্দ্র হন।
JOE 2:14 কে জানে? তিনি ফিরে আবার করুণা করবেন এবং পিছনে আশীর্বাদ রেখে যাবেন— ভক্ষ্য-নৈবেদ্য ও পেয়-নৈবেদ্য, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য।
JOE 2:15 তোমরা সিয়োনে তূরী বাজাও, পবিত্র উপবাস-পর্ব ঘোষণা করো, এক পবিত্র সভার করো আহ্বান।
JOE 2:16 লোকেদের সমবেত করো, জনসমাজকে পবিত্র করো; প্রবীণদের এক স্থানে নিয়ে এসো, স্তন্যপায়ী শিশুদেরও এক স্থানে সমবেত করো। বর তার বাসগৃহ ও কনে তার নিবাস-কক্ষ ত্যাগ করুক।
JOE 2:17 সদাপ্রভুর সাক্ষাতে পরিচর্যাকারী যাজকেরা, মন্দিরের বারান্দা ও বেদির মাঝখানে ক্রন্দন করুক। তারা বলুক, “হে সদাপ্রভু, তোমার প্রজাদের নিষ্কৃতি দাও। তোমার অধিকারকে নিন্দার পাত্র হতে ও জাতিসমূহের মধ্যে প্রবাদের আস্পদ হতে দিয়ো না। তারা কেন জাতিবৃন্দের কাছে বলবে, ‘তোমার ঈশ্বর কোথায়?’ ”
JOE 2:18 তারপরে সদাপ্রভু তাঁর দেশের বিষয়ে উদ্যোগী হলেন এবং তাঁর প্রজাদের প্রতি দয়া করলেন।
JOE 2:19 সদাপ্রভু তাদের প্রত্যুত্তর করবেন: “আমি তোমাদের কাছে শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস ও তেল প্রেরণ করতে চলেছি, যা তোমাদের পরিতৃপ্ত করার জন্য পর্যাপ্ত হবে; আমি আর কখনও তোমাদের অন্যান্য জাতির কাছে নিন্দার পাত্র করব না।
JOE 2:20 “উত্তরের সৈন্যদলকে আমি তোমাদের কাছ থেকে তাড়িয়ে দেব, তাদের এক শুকনো ও অনুর্বর দেশে নিক্ষেপ করব, পূর্ব সমুদ্রের দিকে তার সামনের ভাগ ও পশ্চিম সমুদ্রের দিকে তার পেছনের ভাগ নিক্ষেপ করব। তার দুর্গন্ধ উপরে উঠে যাবে, তার পূতিগন্ধ উঠতে থাকবে।”
JOE 2:21 ওহে দেশ, ভয় কোরো না; আনন্দিত হও ও উল্লাস করো। সদাপ্রভু নিশ্চয়ই মহৎ সব কাজ করেছেন।
JOE 2:22 ওহে বুনো পশুরা, তোমরা ভয় কোরো না, কারণ খোলা চারণভূমিগুলি সবুজ হয়ে উঠছে। গাছগুলি তাদের ফল উৎপন্ন করছে, ডুমুর গাছ ও দ্রাক্ষালতা তাদের ফলভারে সমৃদ্ধ হচ্ছে।
JOE 2:23 ওহে সিয়োনের অধিবাসীরা, তোমরা আনন্দিত হও, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুতে আনন্দিত হও, কারণ তিনি তাঁর ধর্মশীলতায় তোমাদের অগ্রিম বৃষ্টি দান করবেন। তিনি তোমাদের কাছে প্রচুর বৃষ্টি প্রেরণ করবেন, পূর্বের মতোই প্রথম ও শেষ বর্ষা প্রেরণ করবেন।
JOE 2:24 খামারগুলি শস্যে পরিপূর্ণ হবে; ভাঁটিগুলি নতুন দ্রাক্ষারসে ও তেলে উপচে পড়বে।
JOE 2:25 “বছর বছর ধরে পঙ্গপালে যা খেয়েছে, তা আমি ফিরিয়ে দেব— অর্থাৎ বড়ো পঙ্গপাল, ও অল্পবয়স্ক পঙ্গপাল, অন্যান্য পঙ্গপাল ও পঙ্গপালের ঝাঁক— আমার মহা সৈন্যদল, যাদের আমি প্রেরণ করেছিলাম।
JOE 2:26 যতক্ষণ না তোমরা তৃপ্ত হবে, তোমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে আহার করবে, আর তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর প্রশংসা করবে, যিনি তোমাদের জন্য বিস্ময়কর সব কর্ম করেছেন; আমার প্রজারা আর কখনও লজ্জিত হবে না।
JOE 2:27 তখন তোমরা জানতে পারবে যে আমি ইস্রায়েলের মধ্যবর্তী আছি, যে আমিই সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, আর কোনো ঈশ্বর নেই; আমার প্রজারা আর কখনও লজ্জিত হবে না।
JOE 2:28 “আর তারপর, আমি সমস্ত মানুষের উপরে আমার আত্মা ঢেলে দেব। তোমাদের ছেলে ও মেয়েরা ভাববাণী বলবে, তোমাদের প্রবীণেরা স্বপ্ন দেখবে, তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে।
JOE 2:29 এমনকি, আমার দাস-দাসীদেরও উপরে, সেইসব দিনে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব।
JOE 2:30 আমি আকাশমণ্ডলে ও পৃথিবীর উপরে আশ্চর্য সব নিদর্শন দেখাব, রক্ত ও আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখাব।
JOE 2:31 সদাপ্রভুর সেই মহৎ ও ভয়ংকর দিনের আগমনের পূর্বে, সূর্য অন্ধকার ও চাঁদ রক্তবর্ণ হয়ে যাবে।
JOE 2:32 আর যে কেউ সদাপ্রভুর নামে ডাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে; কারণ সদাপ্রভুর কথামতো সিয়োন পর্বত ও জেরুশালেমে, কিছু মুক্তিপ্রাপ্ত লোকের দল থাকবে; আর অবশিষ্ট লোকেদের মধ্যেও থাকবে, যাদের সদাপ্রভু আহ্বান করেছেন।”
JOE 3:1 “সেইসব দিনে ও সেই সময়ে, যখন আমি যিহূদা ও জেরুশালেমের বন্দিদশা ফিরাব,
JOE 3:2 আমি সমস্ত জাতিকে একত্র করব ও তাদের যিহোশাফট উপত্যকায় নামিয়ে আনব। সেখানে আমি আমার অধিকার ও আমার প্রজা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে তাদের বিচার করব, কারণ তারা বিভিন্ন জাতির মধ্যে আমার প্রজাদের ছিন্নভিন্ন করেছিল এবং আমার দেশকে বিভাগ করেছিল।
JOE 3:3 তারা আমার প্রজাদের জন্য গুটিকাপাত করেছিল এবং বেশ্যার বিনিময়ে বালককে দিয়েছিল; দ্রাক্ষারসের জন্য তারা বালিকাদের বিক্রি করেছিল, যেন তারা তা পান করতে পারে।
JOE 3:4 “এখন ওহে সোর ও সীদোন এবং ফিলিস্তিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, আমার বিরুদ্ধে তোমাদের কী বলার আছে? আমি কিছু করেছি বলে, তোমরা কি তারই প্রতিফল দিচ্ছ? যদি তোমরা আমাকে প্রতিফল দিচ্ছ, তাহলে আমি দ্রুত ও অতি সত্বর তোমাদের মাথায় তাই ফিরিয়ে দেব, যা তোমরা করেছ।
JOE 3:5 কারণ তোমরা আমার রুপো ও আমার সোনা এবং আমার ভাণ্ডারের উৎকৃষ্ট রত্নরাজি নিয়ে বহন করে তোমাদের মন্দিরগুলিতে নিয়ে গিয়েছ।
JOE 3:6 তোমরা যিহূদা ও জেরুশালেম থেকে আমার প্রজাদের নিয়ে গ্রিকদের কাছে বিক্রি করেছ, যেন তোমরা তাদের স্বদেশ থেকে বহুদূরে তাড়িয়ে দিতে পারো।
JOE 3:7 “দেখো, তোমরা তাদের যে যে স্থানে বিক্রি করেছ, সেখান থেকে আমি তাদের জাগিয়ে তুলে আনব, আর তোমরা যেসব অপকর্ম করেছ, তা আমি তোমাদেরই মাথায় ফিরিয়ে দেব।
JOE 3:8 আমি তোমাদের পুত্রকন্যাদের যিহূদার লোকেদের কাছে বিক্রি করব; তারা তাদের বহুদূরে অবস্থানকারী এক জাতি, শিবায়ীয়দের কাছে বিক্রি করবে।” সদাপ্রভু একথা বলেছেন।
JOE 3:9 তোমরা জাতিবৃন্দের কাছে একথা ঘোষণা করো: তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও! যত বীরযোদ্ধাকে জাগিয়ে তোলো! সমস্ত লড়াকু মানুষ সামনে এসে আক্রমণ করো।
JOE 3:10 তোমাদের লাঙলের ফাল ভেঙে তরোয়াল তৈরি করো ও তোমাদের কাস্তেগুলি ভেঙে বর্শা তৈরি করো। দুর্বল মানুষও বলুক, “আমি বলবান!”
JOE 3:11 সমস্ত দিক থেকে সব জাতির লোকেরা, তোমরা তাড়াতাড়ি এসো এবং ওই জায়গায় সমবেত হও। হে সদাপ্রভু, তোমারও যোদ্ধাদের ওখানে নামিয়ে আনো।
JOE 3:12 “জাতিগণ জেগে উঠুক; তারা যিহোশাফট উপত্যকার দিকে এগিয়ে যাক, কারণ আমি সেখানেই সব দিকের সমস্ত জাতির বিচার করতে বসব।
JOE 3:13 তোমরা কাস্তে চালাও, কারণ শস্য পেকে গেছে। এসো, আঙুর মাড়াই করো, কারণ আঙুর মাড়াই-কল পূর্ণ হয়েছে ও ভাঁটিগুলি রসে উপচে পড়ছে— তাদের দুষ্টতা এতই ব্যাপক!”
JOE 3:14 বিচারের উপত্যকায় অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছে! কারণ বিচারের উপত্যকায় সদাপ্রভুর দিন সন্নিকট হয়েছে।
JOE 3:15 সূর্য ও চাঁদ অন্ধকার হয়ে যাবে, নক্ষত্রগুলি দীপ্তি বিকিরণ বন্ধ করবে।
JOE 3:16 সদাপ্রভু সিয়োন থেকে গর্জন করবেন এবং জেরুশালেম থেকে করবেন বজ্রধ্বনি; পৃথিবী ও আকাশ কম্পিত হবে। কিন্তু সদাপ্রভু তাঁর প্রজাদের জন্য আশ্রয়স্থান হবেন, ইস্রায়েলের জন্য হবেন এক দৃঢ় দুর্গ।
JOE 3:17 “তখন তোমরা জানতে পারবে যে, আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, আমি আমার পবিত্র পর্বত সিয়োনে বসবাস করি। জেরুশালেম পবিত্র হবে; বিদেশিরা আর কখনও তা আক্রমণ করবে না।
JOE 3:18 “সেদিন পর্বতগুলি থেকে নতুন দ্রাক্ষারস ক্ষরে পড়বে, আর পাহাড়গুলি থেকে প্রবাহিত হবে দুধ; যিহূদার গিরিখাতগুলি থেকে জল প্রবাহিত হবে। সদাপ্রভুর গৃহ থেকে এক উৎস প্রবাহিত হবে, তা বাবলা-উপত্যকাকে জলসিক্ত করবে।
JOE 3:19 কিন্তু মিশর জনশূন্য হবে, ইদোম হবে এক পতিত মরুপ্রান্তর, যেহেতু তারা যিহূদার লোকেদের প্রতি হিংস্র আচরণ করেছিল, সেইসব ভূমিতে তারা নির্দোষের রক্তপাত করেছিল।
JOE 3:20 যিহূদা চিরকালের জন্য ও জেরুশালেম বংশপরম্পরায় জনঅধ্যুষিত হবে।
JOE 3:21 তাদের রক্তপাতের যে অপরাধ আমি ক্ষমা করিনি, তা আমি ক্ষমা করব।”
AMO 1:1 আমোষের বাণী। তিনি ছিলেন তকোয়ের একজন মেষপালক। তিনি যিহূদার রাজা উষিয়ের সময়ে ও যিহোয়াশের পুত্র ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের রাজত্বকালে, ভূমিকম্পের দুই বছর আগে ইস্রায়েল সম্পর্কে এই দর্শন পান।
AMO 1:2 তিনি বললেন, “সদাপ্রভু সিয়োন থেকে গর্জন করছেন, তিনি জেরুশালেম থেকে শোনাচ্ছেন বজ্রধ্বনি; মেষপালকদের চারণভূমিগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে, কর্মিলের শিখরস্থান শুকনো হচ্ছে।”
AMO 1:3 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “দামাস্কাসের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। কারণ সে লোহার দাঁতযুক্ত শস্য মাড়াই কল দিয়ে গিলিয়দকে চূর্ণ করেছে।
AMO 1:4 আমি হসায়েল কুলের উপরে আগুন পাঠাব, তা বিন্‌হদদের দুর্গগুলি গ্রাস করবে।
AMO 1:5 আমি দামাস্কাসের তোরণদ্বার ভেঙে ফেলব; আমি আবন-উপত্যকায় স্থিত রাজাকে ধ্বংস করব এবং তাকেও করব, যে বেথ-এদনে রাজদণ্ড ধারণ করে। অরাম দেশের লোকেরা কীরে নির্বাসিত হবে,” সদাপ্রভু বলেন।
AMO 1:6 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “গাজার তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। কারণ সে সমস্ত সমাজকে বন্দি করে ইদোমের কাছে তাদের বিক্রি করেছিল।
AMO 1:7 আমি গাজার প্রাচীরগুলির উপরে আগুন পাঠাব, তা তার দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।
AMO 1:8 আমি অস্‌দোদের রাজাকে ধ্বংস করব, অস্কিলোনের রাজদণ্ডধারীকেও করব। আমি ইক্রোণের বিপক্ষে আমার হাত প্রসারিত করব, যতক্ষণ না শেষতম ফিলিস্তিনীর মৃত্যু হয়,” সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন।
AMO 1:9 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সোরের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। যেহেতু সে ভ্রাতৃত্বের চুক্তি অগ্রাহ্য করে বন্দিদের সবাইকে ইদোমের কাছে বিক্রি করেছিল,
AMO 1:10 তাই আমি সোরের প্রাচীরগুলিতে আগুন পাঠাব, তা তার দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।”
AMO 1:11 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ইদোমের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। যেহেতু সে তরোয়াল নিয়ে তার ভাইকে তাড়া করেছিল এবং দেশের মহিলাদের হত্যা করেছিল, কারণ তার ক্রোধ অবিরাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, তার কোপ অবারিতভাবে জ্বলে উঠেছিল।
AMO 1:12 আমি তৈমনের উপরে আগুন পাঠাব, তা বস্রার সমস্ত দুর্গকে গ্রাস করবে।”
AMO 1:13 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “অম্মোনের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। যেহেতু সে গিলিয়দের গর্ভবতী নারীদের উদর বিদীর্ণ করেছিল, যেন সে নিজের সীমানা বৃদ্ধি করতে পারে,
AMO 1:14 তাই আমি রব্বার প্রাচীরগুলিতে আগুন পাঠাব, তা তার সমস্ত দুর্গকে গ্রাস করবে যুদ্ধের দিনে রণনাদের কালে, ঝড়ের সময়ে প্রবল ঘূর্ণিবায়ুর কালে,
AMO 1:15 তার রাজা নির্বাসিত হবে, একইসঙ্গে নির্বাসিত হবে তার কর্মকর্তারাও,” সদাপ্রভু বলেন।
AMO 2:1 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “মোয়াবের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। যেহেতু সে ইদোমের রাজার অস্থি পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল,
AMO 2:2 তাই আমি মোয়াবের উপরে আগুন প্রেরণ করব, তা করিয়োতের দুর্গগুলি গ্রাস করবে। মোয়াব রণনাদ ও তূরীধ্বনির সঙ্গে মহা কোলাহলে প্রাণত্যাগ করবে।
AMO 2:3 আমি তার শাসককে ধ্বংস করব, তার সঙ্গে হত্যা করব তার সব কর্মচারীকে,” সদাপ্রভু বলেন।
AMO 2:4 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “যিহূদার তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। যেহেতু তারা সদাপ্রভুর বিধান অগ্রাহ্য করেছে এবং তাঁর বিধিবিধান পালন করেনি, যেহেতু তারা ভ্রান্ত দেবদেবীর দ্বারা বিপথে চালিত হয়েছে, যে দেবদেবীকে তাদের পূর্বপুরুষেরা অনুসরণ করত,
AMO 2:5 তাই আমি যিহূদার উপরে আগুন পাঠাব, তা জেরুশালেমের দুর্গগুলিকে গ্রাস করবে।”
AMO 2:6 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ইস্রায়েলের তিনটি পাপের জন্য, এমনকি, চারটির জন্য, আমি আমার ক্রোধ ফিরিয়ে নেব না। তারা রুপোর মুদ্রার বিনিময়ে ধার্মিক ব্যক্তিকে এবং অভাবী মানুষকে এক জোড়া জুতোর বিনিময়ে বিক্রি করেছে।
AMO 2:7 তারা দীনদরিদ্র ব্যক্তির মাথা পায়ে মাড়ায়, যেমন মাটির উপরে ধুলোকে করা হয় এবং নিপীড়িত ব্যক্তির ন্যায়বিচার অন্যথা করে। বাবা ও ছেলে একই মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচার করে, এভাবে তারা আমার পবিত্র নামের অসম্মান করে।
AMO 2:8 বন্ধকের বিনিময়ে রাখা পোশাকের উপরে, তারা প্রত্যেকটি বেদির পাশে শুয়ে থাকে। তারা তাদের দেবতার গৃহে জরিমানারূপে গৃহীত দ্রাক্ষারস পান করে।
AMO 2:9 “তবুও আমি তাদের সামনে সেই ইমোরীয়কে ধ্বংস করেছি, যদিও সে সিডার গাছের মতো লম্বা ছিল এবং ওক গাছের মতো শক্ত ছিল। আমি উপরে তার ফল ও নিচে তার মূল ধ্বংস করেছি।
AMO 2:10 আমি তোমাদের মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছি, আর চল্লিশ বছর মরুপ্রান্তরে চালিত করেছি, যেন তোমাদের ইমোরীয়দের দেশ দিতে পারি।
AMO 2:11 “আমি তোমাদের পুত্রদের মধ্যে বিভিন্ন ভাববাদীকে ও তোমাদের যুবকদের মধ্য থেকে নাসরীয়দের উৎপন্ন করেছি। ওহে ইস্রায়েলের জনগণ, একথা কি সত্যি নয়?” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 2:12 “কিন্তু তোমরা নাসরীয়দের দ্রাক্ষারস পান করাতে, আর ভাববাদীদের আদেশ দিতে, তারা যেন ভবিষ্যদ্‌বাণী না করে।
AMO 2:13 “তাহলে এখন, আমি তোমাদের পেষণ করব, যেভাবে শস্যরাশিতে পরিপূর্ণ শকট পিষ্ট করে।
AMO 2:14 দ্রুতগামী মানুষও পালাতে পারবে না, শক্তিশালী মানুষ নিজের শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না, আর বীর যোদ্ধা তার প্রাণরক্ষা করতে পারবে না।
AMO 2:15 তিরন্দাজ দাঁড়াতে পারবে না, দ্রুতগামী সৈন্য পালাতে পারবে না, আর অশ্বারোহী তার প্রাণরক্ষা করতে পারবে না।
AMO 2:16 এমনকি, সব থেকে সাহসী যোদ্ধারাও সেদিন নগ্ন হয়ে পলায়ন করবে,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 3:1 ওহে ইস্রায়েলের লোকেরা, সদাপ্রভু তোমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তোমরা সেই বাক্য শোনো। আমি যাদের মিশর থেকে মুক্ত করে এনেছি, সেই সমস্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বলা বাক্য শোনো:
AMO 3:2 “পৃথিবীর সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে, আমি কেবলমাত্র তোমাদেরই মনোনীত করেছি; তাই তোমাদের সব পাপের জন্য, আমি তোমাদের শাস্তি দেব।”
AMO 3:3 দুজন মানুষ এক পরামর্শ না হলে তারা কি পথে একসঙ্গে চলতে পারে?
AMO 3:4 ঘন জঙ্গলে শিকার না পেলে কোনো সিংহ কি গর্জন করে? কোনো শিকার না ধরে সে কি তার গহ্বরে হুংকার দেয়?
AMO 3:5 কোনো ফাঁসকল পাতা না থাকলে, পাখি কি মাটিতে ফাঁদে ধরা পড়ে? কিছু না ধরা পড়লে, মাটি থেকে কোনো কল কি আপনা-আপনি ছোটে?
AMO 3:6 নগরের মধ্যে তূরী বাজলে, লোকেরা কি ভয়ে কাঁপে না? যখন কোনো নগরে বিপর্যয় উপস্থিত হয়, তা কি সদাপ্রভু থেকে হয় না?
AMO 3:7 নিশ্চয়ই সদাপ্রভু, তাঁর দাস ভাববাদীদের কাছে নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ না করে, সার্বভৌম সদাপ্রভু কিছুই করেন না।
AMO 3:8 সিংহ গর্জন করলে— কে না ভয় করবে? সার্বভৌম সদাপ্রভু কথা বলেন— কে না ভবিষ্যদ্‌বাণী করবে?
AMO 3:9 তোমরা অস্‌দোদের দুর্গগুলিতে, ও মিশরের দুর্গগুলির কাছে এই বার্তা ঘোষণা করো: “তোমরা শমরিয়ার পাহাড়গুলির কাছে সমবেত হও; আর তার মধ্যে মহা অস্থিরতা দেখো, তার প্রজাদের মধ্যে সংঘটিত নিপীড়ন দেখো।”
AMO 3:10 “তারা জানে না ন্যায়সংগত কাজ কীভাবে করতে হয়,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন, “তারা তাদের দুর্গগুলিতে অত্যাচার ও লুটের জিনিস সঞ্চিত করেছে।”
AMO 3:11 অতএব, সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “এক শত্রু দেশকে ছারখার করে দেবে, সে তোমার ঘাঁটিগুলি ভেঙে ফেলবে ও তোমার দুর্গগুলি লুট করবে।”
AMO 3:12 সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “মেষপালক যেমন সিংহের মুখ থেকে দুটি পায়ের হাড় বা একটি কানের টুকরো উদ্ধার করে, তেমনই ইস্রায়েলীরাও রক্ষা পাবে, যারা শমরিয়ায় তাদের বিছানার প্রান্তে বা দামাস্কাসে তাদের পালঙ্কের কোণে বসে থাকে।”
AMO 3:13 “তোমরা এই কথা শোনো ও যাকোবের কুলের বিপক্ষে সাক্ষ্য দাও,” বলেন প্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু।
AMO 3:14 “যেদিন আমি ইস্রায়েলের সব পাপের জন্য তাদের শাস্তি দিই, আমি বেথেলের সব বেদি ধ্বংস করব; বেদির শৃঙ্গগুলি কেটে ফেলা হবে ও সেগুলি মাটিতে পতিত হবে।
AMO 3:15 আমি শীতযাপনের গৃহ ও গ্রীষ্মযাপনের গৃহকে ভেঙে ফেলব; হাতির দাঁতে সুসজ্জিত গৃহগুলি ধ্বংস হবে এবং অট্টালিকাগুলি ভূমিসাৎ করা হবে,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:1 শমরিয়ার পর্বতের উপরে বিচরণ করা বাশনের গাভীসকল, তোমরা এই বাণী শ্রবণ করো, তোমরা সেই নারীরা যারা দরিদ্রদের নিপীড়ন ও নিঃস্বদের চূর্ণ করো, যারা নিজের নিজের স্বামীকে বলো, “আমাদের জন্য কিছু পান করার সুরা এনে দাও!”
AMO 4:2 সার্বভৌম সদাপ্রভু তাঁর পবিত্রতায় শপথ করেছেন: “সেই সময় অবশ্যই আসবে, যখন তোমাদের কড়া লাগিয়ে, তোমাদের শেষতম ব্যক্তিকে বড়শি গেঁথে নিয়ে যাওয়া হবে।
AMO 4:3 তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে প্রাচীরের ভাঙা স্থান দিয়ে সোজা বের হয়ে যাবে, আর তোমাদের হর্মোণের দিকে নিক্ষেপ করা হবে,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:4 “তোমরা বেথেলে যাও ও পাপ করো; তোমরা গিল্‌গলে যাও ও আরও বেশি পাপ করো। রোজ সকালে তোমাদের নৈবেদ্য নিয়ে এসো, প্রত্যেক তিন বছর পরপর তোমাদের দশমাংশ উৎসর্গ করো।
AMO 4:5 ধন্যবাদের বলিরূপে খামিরযুক্ত রুটি পোড়াও, আর স্বেচ্ছাকৃত দান ঘোষণা করো, তোমরা ইস্রায়েলীরা, সেগুলির জন্য গর্ব করো, কারণ তোমরা এরকমই করতে ভালোবাসো,” সার্বভৌম সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:6 “প্রত্যেকটি নগরে আমি তোমাদের শূন্য উদরে রেখেছি, প্রত্যেকটি নগরে রয়েছে খাদ্যের অভাব, তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসোনি,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:7 “আমি তোমাদের কাছ থেকে বৃষ্টিও ধরে রেখেছি, যখন শস্যচয়নের সময় তখনও তিন মাস দূরে ছিল। আমি একটি নগরে বৃষ্টি পাঠিয়েছি, অথচ, অন্য নগরে তা নিবারণ করেছি। একটি মাঠে বৃষ্টি হয়েছে, অন্য মাঠে তা না-হওয়ায় সব শুকিয়ে গেছে।
AMO 4:8 লোকেরা নগর থেকে নগরে জলের জন্য টলতে টলতে যেত, কিন্তু পান করার জন্য যথেষ্ট জল পেত না, তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসোনি,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:9 “অনেকবার আমি তোমাদের উদ্যানগুলিতে ও দ্রাক্ষাকুঞ্জগুলিতে আঘাত করেছি, কুঁকড়ে যাওয়া ও ছাতারোগে আমি সেগুলিতে আঘাত করেছি। পঙ্গপালেরা তোমাদের ডুমুর ও জলপাইগাছগুলি গ্রাস করেছে, তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসোনি,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:10 “আমি তোমাদের মধ্যে মহামারি পাঠিয়েছি, যেমন মিশরে করেছিলাম, আমি তরোয়ালের দ্বারা তোমাদের যুবকদের হত্যা করেছি, সেই সঙ্গে হত্যা করেছি অধিকৃত সব ঘোড়াদেরও। আমি তোমাদের নাসারন্ধ্রে তোমাদের শিবিরের দুর্গন্ধ প্রবেশ করিয়েছি, তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসোনি,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:11 “আমি তোমাদের কাউকে কাউকে উৎপাটন করেছি, যেমন আমি সদোম ও ঘমোরাকে উৎপাটন করেছিলেন। তোমরা ছিলে আগুন থেকে কেড়ে নেওয়া জ্বলন্ত কাঠের টুকরোর মতো, তবুও তোমরা আমার কাছে ফিরে আসোনি,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 4:12 “সেই কারণে, ওহে ইস্রায়েল, আমি তোমাদের প্রতি এইরকম ব্যবহার করব, আর যেহেতু আমি এইরকম ব্যবহার করব, ওহে ইস্রায়েল, তুমি তোমার ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রস্তুত হও।”
AMO 4:13 যিনি পর্বতসকলের নির্মাতা, যিনি বাতাস সৃষ্টি করেন, যিনি তাঁর চিন্তাধারা মানুষের কাছে প্রকাশ করেন, যিনি প্রত্যূষকালকে অন্ধকারে পরিণত করেন ও পৃথিবীর উঁচু স্থানগুলির উপর দিয়ে চলেন— সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু, এই তাঁর নাম।
AMO 5:1 ওহে ইস্রায়েল কুল, তোমরা এই বাণী শোনো। এই বিলাপ-গীতি আমি তোমাদের সম্পর্কে করতে চলেছি:
AMO 5:2 “কুমারী-ইস্রায়েল পতিত হয়েছে, সে আর কখনও উঠতে পারবে না; সে তার নিজের দেশেই পরিত্যক্ত হয়েছে, তাকে তুলে ধরার জন্য কেউই নেই।”
AMO 5:3 সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা ইস্রায়েলকে বলেন: “তোমার নগরের লোকেরা সহস্র হয়ে সমরাভিযান করে, তাদের কেবলমাত্র শতজন অবশিষ্ট থাকবে; তোমার নগর একশত জন হয়ে যুদ্ধযাত্রা করে, তারা কেবলমাত্র দশজন অবশিষ্ট থাকবে।”
AMO 5:4 সদাপ্রভু এই কথা ইস্রায়েলকে বলেন: “আমার অন্বেষণ করো ও বাঁচো;
AMO 5:5 বেথেলের অন্বেষণ কোরো না, তোমরা গিল্‌গলে যেয়ো না, বের-শেবা পর্যন্ত যাত্রা কোরো না। কারণ গিল্‌গল অবশ্যই নির্বাসিত হবে, বেথেল অসার প্রতিপন্ন হবে।”
AMO 5:6 তোমরা সদাপ্রভুর অন্বেষণ করো ও বাঁচো, নইলে, তিনি আগুনের মতো যোষেফের কুল বিনষ্ট করবেন, তা তাকে গ্রাস করবে, আর তা নির্বাপিত করার জন্য বেথেলে কেউই থাকবে না।
AMO 5:7 তোমরা যারা ন্যায়বিচারকে তিক্ততায় পরিণত করো, ও ধার্মিকতাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করো,
AMO 5:8 যিনি কৃত্তিকা ও কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলী নির্মাণ করেছেন, যিনি মধ্য রাত্রিকে প্রভাতে পরিণত করেন ও দিনকে রাতের মতো অন্ধকারময় করেন, যিনি সমুদ্রের জলরাশিকে আহ্বান করেন ও ভূপৃষ্ঠের উপরে তাদের ঢেলে দেন— সদাপ্রভু তাঁর নাম।
AMO 5:9 তিনি দৃঢ় দুর্গের উপরে দ্রুত সর্বনাশ নামিয়ে আনেন ও সুরক্ষিত নগরীকে ধ্বংস করে থাকেন,
AMO 5:10 তোমরা তাকে ঘৃণা করো, যে ন্যায়ালয়ে তিরস্কার করে ও যে সত্যিকথা বলে, তাকে অবজ্ঞা করো।
AMO 5:11 তোমরা দরিদ্রদের পদদলিত করো ও জোর করে তাদের কাছ থেকে শস্য কেড়ে নাও। তাই, তোমরা যদিও পাথরের অট্টালিকা নির্মাণ করেছ, তোমরা সেগুলির মধ্যে বসবাস করতে পারবে না; তোমরা যদিও রম্য দ্রাক্ষাকুঞ্জ রোপণ করেছ, তা থেকে উৎপন্ন দ্রাক্ষারস তোমরা পান করতে পারবে না।
AMO 5:12 কারণ আমি তোমাদের অপরাধের মাত্রা ও তোমাদের পাপসকল কত ব্যাপক, তা জানি। তোমরা ধার্মিক ব্যক্তিকে নিপীড়ন করো ও ঘুস নাও, তোমরা ন্যায়ালয়ে দরিদ্রদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করো।
AMO 5:13 সেই কারণে বিচক্ষণ মানুষ এসব সময়ে চুপ করে থাকে, কারণ সময় সব মন্দ।
AMO 5:14 তোমরা মঙ্গলের অন্বেষণ করো, মন্দের নয়, যেন তোমরা বাঁচতে পারো। তখন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সঙ্গে থাকবেন, যেমন তোমরা বলে থাকো যে তিনি থাকেন।
AMO 5:15 তোমরা মন্দকে ঘৃণা করো, উত্তমতাকে ভালোবাসো; ন্যায়ালয়ে ন্যায়বিচার রক্ষা করো। হয়তো সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু, যোষেফের অবশিষ্টাংশের উপরে করুণা করবেন।
AMO 5:16 অতএব প্রভু, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সমস্ত পথে পথে শোকবিলাপ হবে, প্রত্যেক চকে প্রকাশ্যে মনস্তাপের কান্না শোনা যাবে। কৃষকদের কাঁদবার জন্য তলব করা হবে, বিলাপকারীদের বিলাপ করার জন্য ডাকা হবে।
AMO 5:17 সমস্ত দ্রাক্ষাকুঞ্জে সেদিন বিলাপ করা হবে, কারণ আমি তোমাদের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
AMO 5:18 ধিক্ তোমাদের, যারা সদাপ্রভুর দিনের অপেক্ষায় থাকো! কেন তোমরা সদাপ্রভুর দিনের অপেক্ষায় থাকো? সেদিন হবে অন্ধকারের, আলোর নয়।
AMO 5:19 তা এইরকম হবে, কেউ যেন সিংহ থেকে পালিয়ে বাঁচল তো গিয়ে ভালুকের সামনে পড়ল, অথবা বাড়িতে প্রবেশ করল আর দেওয়ালে হাত রাখল, তখন সাপ তাকে দংশন করল।
AMO 5:20 সদাপ্রভুর দিন কি আলো, তা অন্ধকার কি হবে না— তা হবে গাঢ় অন্ধকার, আলোর রেশও কি কোথাও থাকবে?
AMO 5:21 “আমি তোমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলি ঘৃণা করি, অগ্রাহ্য করি; তোমাদের সভাগুলি আমি সহ্য করতে পারি না।
AMO 5:22 তোমরা যদিও আমার কাছে হোমবলি ও শস্য-নৈবেদ্যগুলি উপস্থিত করো, আমি সেগুলি গ্রহণ করব না। তোমরা যদিও নধর পশুর মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করো, আমি সেগুলি চেয়েও দেখব না।
AMO 5:23 তোমাদের গানবাজনার শব্দ দূর করো! আমি তোমাদের বীণার ঝংকার শুনতে চাই না।
AMO 5:24 কিন্তু ন্যায়বিচার নদীর মতো প্রবাহিত হোক, ধার্মিকতা কখনও শুকিয়ে না যাওয়া স্রোতের মতো হোক!
AMO 5:25 “হে ইস্রায়েলের কুল, তোমরা কি মরুভূমিতে চল্লিশ বছর, আমার কাছে বিভিন্ন বলিদান ও নৈবেদ্য নিয়ে এসেছিলে?
AMO 5:26 না, তোমরা বরং তোমাদের রাজা সিক্কুৎ ও কীয়ুন নামের প্রতিমাদের, তোমাদের দেবতাদের তারা— যা নিজেদের জন্য নির্মাণ করেছিলে, তাই তুলে বহন করেছিলে।
AMO 5:27 তাই আমি তোমাদের দামাস্কাসের ওপারে নির্বাসিত করব,” বলেন সদাপ্রভু, যাঁর নাম সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।
AMO 6:1 ধিক্ তোমাদের, যারা সিয়োনে আত্মতৃপ্ত বসে আছ, ধিক্ তোমাদেরও, যারা শমরিয়া পর্বতে নিজেদের নিরাপদ মনে করছ, যারা অগ্রগণ্য জাতির বিশিষ্ট লোক, যাদের কাছে ইস্রায়েল জাতি শরণাপন্ন হয়েছে!
AMO 6:2 তোমরা কল্‌নীতে যাও ও তার প্রতি দৃষ্টিপাত করো, সেখান থেকে তোমরা বড়ো হমাতে যাও, তারপরে ফিলিস্তিয়ার গাতে নেমে যাও। তোমাদের দুই রাজ্য থেকে তারা কি উৎকৃষ্ট? তাদের দেশ কি তোমাদের থেকে বৃহত্তর?
AMO 6:3 তোমরা অন্যায়ের দিনকে ত্যাগ করে থাকো, অথচ এক সন্ত্রাসের রাজত্বকে কাছে নিয়ে আস।
AMO 6:4 তোমরা হাতির দাঁতে তৈরি বিছানায় শুয়ে থাকো ও নিজের নিজের পালঙ্কে শরীর এলিয়ে দাও। তোমাদের পছন্দমতো মেষশাবক ও নধর বাছুর দিয়ে তোমার আহার সেরে থাকো।
AMO 6:5 তোমরা মনে করো দাউদের মতো, অথচ এলোপাথাড়ি বীণা বাজাও, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে তাৎক্ষণিক গীত রচনা করো।
AMO 6:6 তোমরা বড়ো বড়ো পাত্রে ভরা দ্রাক্ষারস পান করো, উৎকৃষ্ট তেল গায়ে মাখো, কিন্তু তোমরা যোষেফের দুর্দশায় দুঃখার্ত হও না।
AMO 6:7 সেই কারণে, তোমরাই সর্বপ্রথমে নির্বাসিত হবে, তোমাদের ভোজপর্ব ও আলস্য শয়নের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
AMO 6:8 সার্বভৌম সদাপ্রভু শপথ করেছেন—সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “আমি যাকোবের অহংকার ঘৃণা ও তার দুর্গগুলিকে প্রচণ্ড ঘৃণা করি; এই কারণে আমি নগর ও তার মধ্যে স্থিত সমস্ত কিছু পরের হাতে সমর্পণ করব।”
AMO 6:9 যদি কোনো গৃহে দশজন মানুষও অবশিষ্ট থাকে, তারাও মারা যাবে।
AMO 6:10 আর শবদাহকারী কোনো আত্মীয় তাদের গৃহ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে এবং সেখানে অবশিষ্ট তখনও লুকিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে, “তোমার সঙ্গে আরও কেউ কি আছে?” সে বলবে, “না নেই।” তখন সে বলবে, “চুপ করো! আমরা সদাপ্রভুর নাম আদৌ উল্লেখ করব না।”
AMO 6:11 কারণ সদাপ্রভু এই আদেশ দিয়েছেন, তিনি বৃহৎ গৃহকে খণ্ডবিখণ্ড ও ক্ষুদ্র গৃহকে টুকরো টুকরো করবেন।
AMO 6:12 ঘোড়ারা কি খাড়া পাহাড়ে দৌড়ায়? লাঙল দিয়ে কি কেউ সমুদ্রে চাষ করে? কিন্তু তোমরা ন্যায়বিচারকে বিষবৃক্ষে ও ধার্মিকতার ফলকে তিক্ততায় পরিণত করেছ।
AMO 6:13 তোমরা করেছ, যারা লো-দবারের বিজয়ে উল্লসিত হয়েছ ও বলেছ, “আমরা কি নিজের শক্তিতে কর্ণয়িম দখল করিনি?”
AMO 6:14 কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “ওহে ইস্রায়েলের কুল, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে এক জাতিকে উত্তেজিত করব, তারা লেবো-হমাৎ থেকে অরাবা উপত্যকা পর্যন্ত সমস্ত পথে তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে।”
AMO 7:1 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে এই বিষয় দেখালেন: রাজার ভাগের শস্যচয়নের পরে যখন দ্বিতীয়বার শস্য পেকে আসছিল, তিনি পঙ্গপালের ঝাঁক তৈরি করছিলেন।
AMO 7:2 তারা যখন ভূমিজাত ফল নিঃশেষে খেয়ে ফেলল, আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম, “সার্বভৌম সদাপ্রভু, ক্ষমা করো! কীভাবে যাকোব বেঁচে থাকবে? সে কত ছোটো!”
AMO 7:3 তাই সদাপ্রভু অনুশোচনা করলেন। সদাপ্রভু বললেন, “এরকম হবে না।”
AMO 7:4 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে এই জিনিস দেখালেন: সার্বভৌম সদাপ্রভু আগুনের দ্বারা বিচার আহ্বান করলেন; তা মহা জলধিকে শুকিয়ে ফেলল ও ভূমি গ্রাস করল।
AMO 7:5 তখন আমি কেঁদে চিৎকার করে উঠলাম, “সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমি তোমার কাছে অনুনয় করছি, তুমি ক্ষান্ত হও! যাকোব কীভাবে বেঁচে থাকবে? সে কত ছোটো!”
AMO 7:6 তাই সদাপ্রভু অনুশোচনা করলেন। সার্বভৌম সদাপ্রভু বললেন, “না এরকমও ঘটবে না।”
AMO 7:7 তারপর তিনি আমাকে দেখালেন: সদাপ্রভু একটি ওলন-সুতো হাতে ধরে ওলন-সুতোর সাহায্যে তৈরি একটি দেওয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।
AMO 7:8 সদাপ্রভু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমোষ, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ?” আমি উত্তর দিলাম, “একটি ওলন-সুতো।” তখন সদাপ্রভু বললেন, “দেখো, আমি আমার প্রজা ইস্রায়েলের মধ্যে একটি ওলন-সুতো স্থাপন করছি; আমি আর তাদের ছেড়ে কথা বলব না।
AMO 7:9 “ইস্‌হাকের উঁচু স্থানগুলি ধ্বংস করা হবে, ইস্রায়েলের পুণ্যধামগুলি বিধ্বস্ত হবে; আমি আমার তরোয়াল নিয়ে যারবিয়ামের কুলের বিপক্ষে উঠব।”
AMO 7:10 এরপর, বেথেলের যাজক অমৎসিয়, ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের কাছে একটি বার্তা পাঠালেন: “আমোষ ইস্রায়েলের একেবারে কেন্দ্রস্থলে, আপনার বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত গড়ে তুলেছেন। দেশ তাঁর সব কথা সহ্য করতে পারে না।
AMO 7:11 কারণ আমোষ এরকম কথা বলছেন: “ ‘যারবিয়াম তরোয়ালের আঘাতে নিহত হবে, আর ইস্রায়েল অবশ্যই তাদের স্বদেশ থেকে দূরে নির্বাসিত হবে।’ ”
AMO 7:12 তারপর অমৎসিয় আমোষকে বললেন, “ওহে দর্শক, তুমি এখান থেকে চলে যাও। তুমি যিহূদা দেশে ফিরে যাও। তুমি সেখানে তোমার রুটি রোজগার করো এবং সেখানেই তোমার ভবিষ্যদ্‌বাণী করো।
AMO 7:13 তুমি বেথেলে আর ভবিষ্যদ্‌বাণী কোরো না, কারণ এ হল রাজার নির্মিত পুণ্যধাম এবং এই রাজ্যের মন্দির।”
AMO 7:14 আমোষ অমৎসিয়কে উত্তর দিলেন, “আমি তো ভাববাদী ছিলাম না, ভাববাদীর সন্তানও নয়। আমি ছিলাম একজন পশুপালক। আমি সেই সঙ্গে ডুমুর গাছেরও দেখাশোনা করতাম।
AMO 7:15 কিন্তু সদাপ্রভু আমাকে পশুপাল চরানোর পিছন থেকে তুলে নিয়ে বললেন, ‘তুমি যাও, গিয়ে আমার প্রজা ইস্রায়েলের কাছে ভবিষ্যদ্‌বাণী করো।’
AMO 7:16 এখন তাহলে আপনি সদাপ্রভুর বাণী শুনুন। আপনি বলছেন, “ ‘ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী কোরো না, ইস্‌হাক কুলের বিরুদ্ধে প্রচার করা বন্ধ করো।’
AMO 7:17 “সেই কারণে, সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “ ‘আপনার স্ত্রী নগরের মধ্যে বেশ্যা হবে, আপনার পুত্রকন্যারা তরোয়ালে পতিত হবে। আপনার ভূমি পরিমাপ করে বিভক্ত করা হবে, আর আপনি নিজেও এক অশুচি দেশে মৃত্যুবরণ করবেন। আর ইস্রায়েল অবশ্যই তাদের স্বদেশ থেকে দূরে নির্বাসিত হবে।’ ”
AMO 8:1 সার্বভৌম সদাপ্রভু আমাকে এই জিনিস দেখালেন: পাকা ফলের একটি ঝুড়ি।
AMO 8:2 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আমোষ, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ?” আমি উত্তর দিলাম, “পাকা ফলের একটি ঝুড়ি।” তারপর সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “আমার প্রজা ইস্রায়েলের পেকে ওঠার সময় হয়ে এসেছে। আমি আর তাদের ছেড়ে কথা বলব না।”
AMO 8:3 সেদিন সার্বভৌম সদাপ্রভু ঘোষণা করলেন, “মন্দিরে গীত গানগুলি বিলাপে পরিণত হবে। অনেক, অনেক মৃতদেহ সেখানে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তোমরা নীরব হও!”
AMO 8:4 তোমরা যারা দরিদ্রদের পদদলিত করো ও দেশের দীনদরিদ্র লোকেদের নিকেশ করো, তোমরা এই কথা শোনো।
AMO 8:5 তোমরা বলে থাকো, “অমাবস্যা কখন শেষ হবে যে, আমরা শস্য বিক্রি করতে পারব? সাব্বাথবার কখন সমাপ্ত হবে যে, আমরা গমের ব্যবসা করতে পারব?” তা করা হবে বাটখারার ওজন কমিয়ে, দাম বৃদ্ধি করে ও অন্যায্য দাঁড়িপাল্লায় ঠকানোর মাধ্যমে,
AMO 8:6 দরিদ্রদের রুপোর টাকায় কিনে নিয়ে, এক জোড়া জুতোর বিনিময়ে অভাবীকে ক্রয় করে এবং গমের ছাঁটকে পর্যন্ত বিক্রি করে।
AMO 8:7 সদাপ্রভু যাকোবের অহংকারের নাম নিয়ে শপথ করেছেন: “তারা যা করেছে, তা আমি কোনোদিনই ভুলে যাব না।
AMO 8:8 “এর জন্যই কি সেই দেশ ভয়ে কাঁপবে না? তার মধ্যে বসবাসকারী সকলে কি শোক করবে না? সমস্ত দেশ নীলনদের মতো স্ফীত হয়ে উঠবে; তাকে আলোড়িত করা হবে ও তা মিশরের নদীর মতোই আবার নেমে যাবে।”
AMO 8:9 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, “সেদিন আমি মধ্যাহ্নকালে সূর্যাস্ত ঘটাব, দিনের প্রখর আলোয় পৃথিবীকে তমসাচ্ছন্ন করব।
AMO 8:10 আমি তোমাদের সমস্ত ধর্মীয় উৎসবকে শোকে ও তোমাদের সমস্ত গীতকে বিলাপে পরিণত করব। আমি তোমাদের সবাইকে শোকের পোশাক পরাব ও তোমাদের মস্তক মুণ্ডন করব। সেদিন হবে একমাত্র পুত্রের বিয়োগ-ব্যথার মতো, তার সমাপ্তি হবে তীব্র দুঃখের মাধ্যমে।”
AMO 8:11 সার্বভৌম সদাপ্রভু বলেন, “সময় আসছে, যখন আমি দেশের মধ্যে দুর্ভিক্ষ পাঠাব— তা খাবারের দুর্ভিক্ষ বা জলের পিপাসার নয়, কিন্তু সদাপ্রভুর বাক্য শোনার দুর্ভিক্ষ।
AMO 8:12 লোকেরা এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্রে টলতে টলতে যাবে, উত্তর থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিচরণ করবে, তারা সদাপ্রভুর বাক্য অন্বেষণ করবে, কিন্তু তার সন্ধান পাবে না।
AMO 8:13 “সেদিন, “সুন্দর সব যুবতী ও শক্তিশালী যুবকেরা, পিপাসার কারণে মূর্ছিত হবে।
AMO 8:14 যারা শমরিয়ার পাপ নিয়ে শপথ করে— যারা বলে, ‘ওহে দান, তোমার জীবিত দেবতার দিব্যি,’ বা, ‘বের-শেবার জীবিত দেবতার দিব্যি,’ তারা সবাই পতিত হবে, তারা আর কখনও উঠতে পারবে না।”
AMO 9:1 আমি দেখলাম, সদাপ্রভু বেদির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আর তিনি বললেন: “তুমি স্তম্ভগুলির মাথায় আঘাত করো, যেন দুয়ারের চৌকাঠগুলি কেঁপে ওঠে। সেগুলি সব লোকের মাথায় ভেঙে ফেলো; যারা অবশিষ্ট থাকবে, তাদের আমি তরোয়ালের আঘাতে মেরে ফেলব। তাদের কেউই নিষ্কৃতি পাবে না, একজনও পালাতে পারবে না।
AMO 9:2 তারা পাতালের গভীরে খুঁড়ে নেমে গেলেও, সেখান থেকে আমার হাত তাদের টেনে তুলবে। তারা আকাশ পর্যন্ত উঠে গেলেও, সেখান থেকে আমি তাদের নামিয়ে আনব।
AMO 9:3 তারা যদি নিজেদের কর্মিল পর্বতের শিখরেও লুকিয়ে ফেলে, সেখানেও আমি তাদের ধরে নিয়ে বন্দি করব। তারা যদি সমুদ্রের গভীরে গিয়ে আমার কাছ থেকে লুকায়, সেখানে তাদের দংশন করার জন্য আমি সাপকে আদেশ দেব।
AMO 9:4 যদিও তাদের শত্রুরা তাদের নির্বাসিত করে, সেখানে আমি তরোয়ালকে আদেশ দেব, যেন তাদের হত্যা করে। “আমি আমার দৃষ্টি তাদের উপরে নিবদ্ধ রাখব, তা কেবল অমঙ্গলের জন্য, মঙ্গলের জন্য নয়।”
AMO 9:5 প্রভু, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, তিনি পৃথিবীকে স্পর্শ করলে তা দ্রবীভূত হয়, এবং তার মধ্যে বসবাসকারী সকলে শোক করে; সমস্ত দেশ নীলনদের মতো স্ফীত হয়, পরে মিশরের নদীর মতো নেমে যায়;
AMO 9:6 তিনি আকাশমণ্ডলে নিজের প্রাসাদ নির্মাণ করেন, ও তার ভিত্তিমূল পৃথিবীতে স্থাপন করেন, তিনি সমুদ্রের জলরাশিকে আহ্বান করেন স্থলের উপরে ঢেলে দেন— সদাপ্রভু তাঁর নাম।
AMO 9:7 সদাপ্রভু বলেন, “ওহে ইস্রায়েলীরা, আমার কাছে কি তোমরা কূশীয়দের মতো নও?” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন। আমিই কি মিশর থেকে ইস্রায়েলীদের, কপ্তোর থেকে ফিলিস্তিনীদের ও কীর থেকে অরামীয়দের নিয়ে আসিনি?
AMO 9:8 “নিশ্চিতরূপে সার্বভৌম সদাপ্রভুর দৃষ্টি এই পাপিষ্ঠ জাতির উপরে আছে। আমি ভূপৃষ্ঠ থেকে একে ধ্বংস করব। তবুও আমি যাকোবের কুলকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব না,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
AMO 9:9 “কারণ আমি আদেশ দেব ও সমস্ত জাতির মধ্যে আমি ইস্রায়েলের কুলকে নাড়া দেব, যেমন শস্যদানা চালুনিতে চালা হয়, তার একটি দানাও নিচে মাটিতে পড়বে না।
AMO 9:10 আমার প্রজাদের মধ্যে সব পাপী মানুষ তরোয়ালের আঘাতে মারা যাবে, যারা সবাই বলে, ‘বিপর্যয় আমাদের নাগাল পাবে না বা আমাদের দেখা পাবে না।’
AMO 9:11 “সেদিন “আমি দাউদের পতিত তাঁবু পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব— আমি তার ভাঙা দেয়ালগুলি মেরামত করব, আর তার বিধ্বস্ত স্থানগুলি পুনরায় দাঁড় করাব— পূর্বে যেমন ছিল, তেমনই তা পুনর্নির্মাণ করব,
AMO 9:12 যেন তারা ইদোমের অবশিষ্টাংশকে অধিকার করে ও যত জাতির উপরে আমার নাম কীর্তিত হয়েছে,” একথা সেই সদাপ্রভু বলেন, যিনি এই সমস্ত কাজ করবেন।
AMO 9:13 “এমন সময় আসছে,” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “যখন চাষি শস্যচ্ছেদকের সঙ্গে ও দ্রাক্ষাফল মাড়াইকারী বীজবপনকারীর সঙ্গে মিলিত হবে। পর্বতগুলি থেকে নতুন দ্রাক্ষারস ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়বে ও সব পাহাড় থেকে তা প্রবাহিত হবে।
AMO 9:14 আমি আমার নির্বাসিত প্রজা ইস্রায়েলকে আবার ফিরিয়ে আনব। “তারা ধ্বংসিত নগরগুলিকে পুনর্নির্মাণ করে সেগুলির মধ্যে বসবাস করবে। তারা দ্রাক্ষাক্ষেত রোপণ করে সেগুলি থেকে উৎপন্ন দ্রাক্ষারস পান করবে; তারা বিভিন্ন উদ্যান তৈরি করে সেগুলির ফল ভোজন করবে।
AMO 9:15 আমি ইস্রায়েলকে তাদের স্বদেশে রোপণ করব, আমি তাদের যে দেশ দিয়েছি, সেখান থেকে তারা আর কখনও উৎপাটিত হবে না,” তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
OBA 1:1 ওবদিয়ের দর্শন। ইদোম সম্পর্কে সার্বভৌম সদাপ্রভু এই কথা বলেন: আমরা সদাপ্রভুর কাছ থেকে এক বার্তা শুনেছি, জাতিসমূহের কাছে বলার জন্য এক দূত প্রেরিত হয়েছিল, “তোমরা ওঠো, চলো আমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাই।”
OBA 1:2 “দেখো, আমি জাতিসমূহের কাছে তোমাকে ক্ষুদ্র করব; তুমি নিতান্তই অবজ্ঞার পাত্র হবে।
OBA 1:3 তোমরা যারা পাথরের ফাটলে বসবাস করো এবং উঁচু স্থানগুলিতে নিজেদের বসতি স্থাপন করো, তোমরা যারা মনে মনে বলো, ‘কে আমাদের মাটিতে নামিয়ে আনবে?’ তোমাদের মনের অহংকার তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
OBA 1:4 যদিও তোমরা ঈগল পাখির মতো উপরে গিয়ে ওঠো, এবং তারকারাজির মধ্যে নিজেদের বাসা স্থাপন করো, সেখান থেকে আমি তোমাদের টেনে নামাব,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
OBA 1:5 “যদি চোরেরা তোমাদের কাছে আসত, যদি রাত্রে দস্যুরা আসত, তাহলে কী বিপর্যয়ের সম্মুখীনই না তোমরা হতে!— তাদের যতটা প্রয়োজন, তারা ততটাই কি চুরি করত না? যদি আঙুর চয়নকারীরা তোমাদের কাছে আসত, তারা কি কয়েকটি আঙুর রেখে যেত না?
OBA 1:6 কিন্তু এষৌকে কেমন তন্নতন্ন করে খোঁজা হবে, তার গুপ্তধন সব লুঠতরাজ করা হয়েছে!
OBA 1:7 তোমার সমস্ত মিত্রশক্তি তোমাকে সীমানা পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, তোমার বন্ধুরা তোমার সঙ্গে প্রতারণা করে তোমাকে পরাস্ত করবে; যারা তোমার অন্ন ভোজন করে, তারা তোমার জন্য এক ফাঁদ পাতবে, কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারবে না।”
OBA 1:8 সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, “সেদিন, আমি কি ইদোমের জ্ঞানী লোকেদের বিনষ্ট করব না, এষৌর পর্বতগুলিতে কি বুদ্ধিমানদের ধ্বংস করব না?
OBA 1:9 ওহে তৈমন, তোমার যোদ্ধারা আতঙ্কগ্রস্ত হবে, আর এষৌর পর্বতগুলিতে বসবাসকারী প্রত্যেকে হত্যালীলায় উচ্ছিন্ন হবে।
OBA 1:10 এর কারণ হল, তোমার ভাই যাকোবের বিরুদ্ধে তোমার হিংস্রতা, তুমি লজ্জায় আচ্ছন্ন হবে; তুমি চিরকালের জন্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
OBA 1:11 যেদিন তুমি দূরে দাঁড়িয়েছিলে, যখন বিজাতীয় লোকেরা তার ধনসম্পদ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, বিদেশিরা তার তোরণদ্বারগুলিতে প্রবেশ করে জেরুশালেমের জন্য গুটিকাপাত করেছিল, তুমিও তাদের একজনের মতো হয়েছিলে।
OBA 1:12 তোমার ভাই-এর দুর্ভাগ্যের দিনে, তার প্রতি তোমার হীনদৃষ্টি করা উচিত ছিল না, তাদের বিনাশের দিনে যিহূদার লোকদের সম্পর্কে তোমার উল্লসিত হওয়া উচিত ছিল না, না তো তাদের কষ্ট-সংকটের সময়ে তোমাদের এত বেশি দর্প করা উচিত হয়েছিল।
OBA 1:13 আমার প্রজাদের তোরণদ্বারগুলি দিয়ে তোমাদের সমরাভিযান করা উচিত হয়নি তাদের বিপর্যয়ের দিনে, তাদের দুর্ভোগের জন্য তোমাদের তাদেরকে ঘৃণা করা উচিত হয়নি তাদের বিপর্যয়ের দিনে, না তাদের ধনসম্পদ কেড়ে নেওয়া তোমাদের উচিত হয়েছিল তাদের বিপর্যয়ের দিনে।
OBA 1:14 তাদের পলাতকদের হত্যা করার জন্য রাস্তার সংযোগস্থানগুলিতে তোমাদের দাঁড়ানো উচিত হয়নি, না তো তাদের কষ্ট-সংকটের সময়ে অবশিষ্ট লোকেদের সমর্পণ করা তোমাদের উচিত হয়েছে।
OBA 1:15 “সমস্ত জাতির জন্য সদাপ্রভুর দিন সন্নিকট হয়েছে। তোমরা যেমন করেছ, তোমাদের প্রতিও তেমনই করা হবে; তোমাদের কাজগুলির প্রতিফল তোমাদেরই মাথার উপরে ফিরে আসবে।
OBA 1:16 তোমরা যেমন আমার পবিত্র পর্বতে পান করেছিলে, তেমনই সব জাতি অবিরত পান করবে; তারা পান করবে ও করেই যাবে, এবং এমন হবে, যেন তেমন কখনও হয়নি।
OBA 1:17 কিন্তু সিয়োন পর্বতে উদ্ধারপ্রাপ্ত লোকেরা থাকবে; তা পবিত্র হবে, আর যাকোবের কুল তার উত্তরাধিকার ভোগ করবে।
OBA 1:18 যাকোবের কুল হবে আগুনের মতো আর যোষেফের কুল হবে আগুনের শিখার মতো; এষৌর কুল হবে খড়কুটোর মতো, তারা তাকে দাহ করে গ্রাস করবে। এষৌর কুল থেকে অবশিষ্ট রক্ষাপ্রাপ্ত কেউই থাকবে না।” সদাপ্রভু একথা বলেছেন।
OBA 1:19 নেগেভ থেকে লোকেরা এসে এষৌর পাহাড়গুলি দখল করবে। নিচু পাহাড়ি অঞ্চলের লোকেরা ফিলিস্তিনীদের দেশ অধিকার করবে। তারা এসে ইফ্রয়িম ও শমরিয়ার ক্ষেত্রের দখল নেবে এবং বিন্যামীন গিলিয়দ অধিকার করবে।
OBA 1:20 এই ইস্রায়েলী নির্বাসিতের দল, যারা কনানে আছে, তারা সারিফত পর্যন্ত দেশ অধিকার করবে; জেরুশালেম থেকে নির্বাসিতের দল, যারা সফারদে আছে, তারা নেগেভের নগরগুলি অধিকার করবে।
OBA 1:21 উদ্ধারকারীদের দল সিয়োন পর্বতে উঠে যাবে, যেন এষৌর পর্বতগুলি শাসন করতে পারে। আর সেই রাজ্য সদাপ্রভুরই হবে।
JON 1:1 সদাপ্রভুর বাণী অমিত্তয়ের পুত্র যোনার কাছে এসে উপস্থিত হল:
JON 1:2 “ওঠো ও নীনবী মহানগরে যাও এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচার করো, কারণ তাদের দুষ্টতার কথা আমার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।”
JON 1:3 কিন্তু যোনা সদাপ্রভুর কাছ থেকে পালিয়ে গেলেন এবং তর্শীশের পথ ধরলেন। তিনি জোপ্পা বন্দর-নগরে গেলেন এবং সেখান থেকে তর্শীশে যাবে, এমন একটি জাহাজের সন্ধান পেলেন। তিনি জাহাজের ভাড়া দিয়ে তাতে চড়লেন এবং সদাপ্রভুর কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তর্শীশের পথে সমুদ্রযাত্রা করলেন।
JON 1:4 তারপর সদাপ্রভু সমুদ্রে এক প্রচণ্ড বাতাস পাঠালেন, এমনই প্রবল এক ঝড় উঠল যে, জাহাজ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হল।
JON 1:5 সমস্ত নাবিক ভয়ভীত হয়ে উঠল ও নিজের নিজের দেবতার কাছে কাঁদতে লাগল। এবং জাহাজ হালকা করার জন্য তারা জাহাজের মালপত্র সমুদ্রে ফেলে দিল। কিন্তু যোনা জাহাজের খোলে নেমে গেলেন। সেখানে শুয়ে পড়ে তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন।
JON 1:6 তখন নাবিকদের কর্মকর্তা তার কাছে গিয়ে বললেন, “ওহে, তুমি কি করে ঘুমিয়ে আছ? উঠে পড়ো ও তোমার দেবতাকে ডাকো! হয়তো তিনি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দেবেন এবং আমরা ধ্বংস হব না।”
JON 1:7 এরপর নাবিকেরা পরস্পরকে বলল, “এসো, আমরা গুটিকাপাত করে দেখি, এই দুর্যোগের জন্য আমাদের মধ্যে কে দায়ী।” তারা যখন গুটিকাপাত করল, যোনার নামে গুটি উঠল।
JON 1:8 তাই তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “আমাদের বলো, আমাদের উপর এই সমস্ত সংকট আনার জন্য কে দায়ী? তুমি কী করো? তুমি এসেছই বা কোথা থেকে? তোমার দেশের নাম কী? তোমার জাতি কী?”
JON 1:9 যোনা উত্তর দিলেন, “আমি একজন হিব্রু এবং আমি সদাপ্রভুর উপাসনা করি। তিনি স্বর্গের ঈশ্বর, যিনি সমুদ্র ও ভূমি নির্মাণ করেছেন।”
JON 1:10 এতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হল ও জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কী করেছ?” কারণ তারা জানতে পেরেছিল যে তিনি সদাপ্রভুর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন এবং যোনা ইতিমধ্যে সেকথা তাদের বলেছিলেন।
JON 1:11 সমুদ্র ক্রমেই উত্তাল ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল। তাই, তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “সমুদ্রকে শান্ত করার জন্য তোমার প্রতি আমাদের কী করা উচিত?”
JON 1:12 তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকে তুলে তোমরা সমুদ্রে ফেলে দাও। তখন তা শান্ত হয়ে যাবে। আমি জানি যে, আমার দোষের জন্যই এই মহা ঝড় তোমাদের উপরে এসে পড়েছে।”
JON 1:13 তা না করে সেই লোকেরা প্রাণপণ চেষ্টা করল, যেন তারা জাহাজটিকে ডাঙায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তারা পেরে উঠল না, বরং সমুদ্র আগের থেকেও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল।
JON 1:14 তারা তখন সদাপ্রভুর কাছে কাঁদতে লাগল আর বলল, “হে সদাপ্রভু, এই লোকটির প্রাণ নেওয়ার জন্য তুমি আমাদের মরতে দিয়ো না। এক নির্দোষ মানুষকে হত্যা করার জন্য আমাদের দোষী সাব্যস্ত কোরো না। কারণ হে সদাপ্রভু, তোমার যেমন ইচ্ছা, তুমি তেমনই করেছ।”
JON 1:15 তারপর তারা যোনাকে ধরে সমুদ্রে ফেলে দিল; এতে উত্তাল সমুদ্র শান্ত হল।
JON 1:16 এর ফলে জাহাজের লোকেরা সদাপ্রভুকে অত্যন্ত ভয় করল এবং তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলি উৎসর্গ ও বিভিন্ন প্রকার মানত করল।
JON 1:17 এদিকে সদাপ্রভু যোনাকে গিলে ফেলার জন্য একটি বিশাল মাছ পাঠালেন এবং যোনা তিন দিন ও তিনরাত সেই মাছের পেটে রইলেন।
JON 2:1 সেই মাছের পেটের মধ্যে থেকে যোনা, তার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনা করলেন।
JON 2:2 তিনি বললেন: “আমার দুর্দশার সময়ে আমি সদাপ্রভুকে ডাকলাম, আর তিনি আমাকে উত্তর দিলেন। পাতালের গভীরতম স্থান থেকে আমি সাহায্য চাইলাম, আর তুমি আমার কান্না শুনলে।
JON 2:3 তুমি আমাকে গভীর জলে, সমুদ্রের গর্ভে নিক্ষেপ করলে, আর প্রকাণ্ড জলস্রোত আমাকে ঘিরে ধরল; তোমার সকল ঢেউ, তোমার সমস্ত তরঙ্গ, আমাকে বয়ে নিয়ে গেল।
JON 2:4 আমি বললাম, ‘আমাকে তোমার দৃষ্টি থেকে দূর করা হয়েছে; তবুও আমি আবার তোমার পবিত্র মন্দিরের দিকে তাকাব।’
JON 2:5 আমার চারপাশের জলরাশি আমাকে ভীত করল, অগাধ জলরাশি আমাকে ঘিরে ধরল; সাগরের আগাছা আমার মাথায় জড়িয়ে গেল।
JON 2:6 আমি সমুদ্রে পর্বতসমূহের তলদেশ পর্যন্ত ডুবে গেলাম; নিচের পৃথিবী চিরতরে আমাকে বন্দি করল। কিন্তু হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, তুমি গভীর গর্ত থেকে আমার প্রাণকে তুলে ধরলে।
JON 2:7 “আমার প্রাণ যখন আমার মধ্যে ক্ষীণ হচ্ছিল, সদাপ্রভু, আমি তোমাকে স্মরণ করলাম, আর আমার প্রার্থনা তোমার কাছে গেল তোমার পবিত্র মন্দিরে উপস্থিত হল।
JON 2:8 “যারা অসার প্রতিমাদের প্রতি আসক্ত থাকে, নিজেদের প্রতি ঈশ্বরের প্রেম তারা পরিত্যাগ করে।
JON 2:9 কিন্তু আমি, ধন্যবাদের গান গেয়ে, তোমার কাছে নৈবেদ্য উৎসর্গ করব। আমি যা মানত করেছি, তা আমি পূর্ণ করব। আমি বলব, পরিত্রাণ সদাপ্রভুর কাছ থেকেই আসে।”
JON 2:10 পরে সদাপ্রভু সেই মাছকে আদেশ দিলে, তা যোনাকে বমি করে শুকনো ভূমিতে ফেলে দিল।
JON 3:1 তারপর, সদাপ্রভুর বাণী দ্বিতীয়বার যোনার কাছে উপস্থিত হল:
JON 3:2 “তুমি মহানগরী নীনবীতে যাও ও আমি যে বার্তা তোমাকে দেব, তা গিয়ে তুমি ঘোষণা করো।”
JON 3:3 যোনা সদাপ্রভুর কথার বাধ্য হয়ে নীনবীতে গেলেন। সেই সময়, নীনবী ছিল একটি অত্যন্ত বৃহৎ নগর যার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে তিন দিন সময় লাগত।
JON 3:4 যোনা নগরে প্রবেশ করে একদিনের পথ গেলেন এবং ঘোষণা করলেন, “আজ থেকে চল্লিশ দিন পার হলে নীনবী ধ্বংস হবে।”
JON 3:5 নীনবীবাসীরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করল। তারা উপবাস ঘোষণা করল এবং সকলে তাদের মহত্তম জন থেকে শুরু করে নগণ্যতম জন পর্যন্ত, প্রত্যেকে চট পরল।
JON 3:6 যোনার সতর্কবাণী যখন নীনবীর রাজার কাছে পৌঁছাল, তিনি তার সিংহাসন থেকে উঠলেন, তার রাজকীয় পোশাক খুলে ফেলে চট পরলেন ও ভস্মের উপরে বসলেন।
JON 3:7 রাজা নীনবীতে ঘোষণা করলেন: “রাজা ও তাঁর বিশিষ্ট ব্যক্তি সকলের আদেশ হল এই: “মানুষ অথবা পশু, গোপাল বা মেষপাল, কেউই যেন কোনও কিছুর স্বাদ গ্রহণ না করে; তারা যেন কেউ কিছু ভোজন বা পান না করে।
JON 3:8 কিন্তু মানুষ বা পশু, সকলকেই চট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হোক। সকলেই আগ্রহভরে ঈশ্বরকে ডাকুক। তারা তাদের মন্দ আচরণ ও তাদের হিংস্রতা ত্যাগ করুক।
JON 3:9 কে জানে? ঈশ্বর হয়তো নরমচিত্ত হবেন এবং করুণাবিশিষ্ট হয়ে তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ থেকে মন পরিবর্তন করবেন, যেন আমরা বিনষ্ট না হই।”
JON 3:10 ঈশ্বর যখন দেখলেন যে তারা কী করেছে এবং কীভাবে তারা তাদের মন্দ আচরণ থেকে মন ফিরিয়েছে, ঈশ্বর মন পরিবর্তন করলেন এবং যে ধ্বংস করার ভয় তাদের দেখিয়েছিলেন তা করলেন না।
JON 4:1 কিন্তু যোনার কাছে এটি খুব অন্যায় মনে হল এবং তাঁর ক্রোধ উৎপন্ন হল।
JON 4:2 তিনি সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে সদাপ্রভু, আমি যখন বাড়িতে ছিলাম তখনই কি আমি একথা বলিনি? সেই কারণেই তর্শীশে পালিয়ে গিয়ে আমি এটা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম। আমি জানতাম যে, তুমি এক কৃপাময় ও স্নেহশীল ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর ও প্রেমে মহান। তুমি এমন ঈশ্বর, যে শাস্তি দিতে উদ্যত হয়েও মন পরিবর্তন করো।
JON 4:3 এখন, হে সদাপ্রভু, তুমি আমার প্রাণ নিয়ে নাও, কারণ বেঁচে থাকার চেয়ে আমার মরে যাওয়া ভালো।”
JON 4:4 কিন্তু সদাপ্রভু উত্তরে বললেন, “তোমার রাগ করা কি ঠিক হচ্ছে?”
JON 4:5 যোনা তখন বাইরে গেলেন ও নগরের পূর্বদিকে এক স্থানে বসলেন। সেখানে তিনি নিজের জন্য একটি ছাউনি নির্মাণ করে, তার ছায়ায় বসলেন এবং নগরের প্রতি কী ঘটবে, তা দেখার অপেক্ষায় রইলেন।
JON 4:6 তারপর সদাপ্রভু ঈশ্বর সেখানে একটি দ্রাক্ষালতা উৎপন্ন করলেন এবং সেটিকে যোনার মাথার উপর পর্যন্ত বৃদ্ধি করালেন, যেন সেটি তার মাথায় ছায়া দেয় ও তার অস্বস্তির আরাম হয়। দ্রাক্ষালতাটির জন্য যোনা ভীষণ আনন্দিত হলেন।
JON 4:7 কিন্তু পরের দিন ভোরবেলায়, ঈশ্বর একটি কীট পাঠালেন যা দ্রাক্ষালতাটিকে দংশন করলে সেটি শুকিয়ে গেল।
JON 4:8 সূর্য ওঠার পরে, ঈশ্বর এক উষ্ণ পূবের বাতাস পাঠালেন এবং সূর্য যোনার মাথায় এমন প্রখর তাপ দিতে লাগল যে, যোনা বিবর্ণ হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে বললেন, “বেঁচে থাকার চেয়ে আমার মরে যাওয়া ভালো।”
JON 4:9 কিন্তু ঈশ্বর যোনাকে বললেন, “দ্রাক্ষালতাটির জন্য তোমার রাগ করা কি ঠিক হচ্ছে?” যোনা বললেন, “হ্যাঁ ঠিক হচ্ছে, আমি এত রেগে আছি যে, আমি মরে গেলেই ভালো হত।”
JON 4:10 কিন্তু সদাপ্রভু বললেন, “তুমি এই দ্রাক্ষালতাটি সম্পর্কে চিন্তিত হয়েছ, যদিও তুমি এটি রোপণ করোনি বা তা বেড়ে উঠতে সাহায্য করোনি। এক রাত্রির মধ্যে এটি অঙ্কুরিত হল ও এক রাত্রির মধ্যেই এটি শুকিয়ে গেল।
JON 4:11 কিন্তু নীনবীতে 1,20,000 এরও বেশি মানুষ আছে, যারা জানে না কোনটা ডান হাত ও কোনটা বাঁ হাত। তেমনই অনেক পশুও আছে। তাহলে, আমিও কি সেই নীনবী মহানগরীর জন্য চিন্তিত হব না?”
MIC 1:1 যিহূদার রাজগণ যোথম, আহস এবং হিষ্কিয়ের শাসনকালে সদাপ্রভুর বাক্য মোরেষৎ-নিবাসী মীখার কাছে আসে—তিনি শমরিয়া এবং জেরুশালেমের উদ্দেশে এক দর্শন পান।
MIC 1:2 শোনো, হে জাতিগণ, তোমরা সকলে, হে পৃথিবী ও যারা সেখানে বাস করে, শোনো, সদাপ্রভু তাঁর পবিত্র মন্দির থেকে, সার্বভৌম সদাপ্রভু তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।
MIC 1:3 দেখো! সদাপ্রভু নিজ বাসস্থান থেকে আসছেন; তিনি নেমে এসে পৃথিবীর সব উচ্চস্থানের উপর দিয়ে গমনাগমন করবেন।
MIC 1:4 যেমন মোম আগুনের সংস্পর্শে গলে যায়, পাহাড়গুলি তাঁর নিচে গলে যায় এবং উপত্যকায় ফাটল ধরে, ঢালু জায়গায় জল গড়িয়ে পড়ে।
MIC 1:5 এইসবই যাকোবের অপরাধের জন্য এবং ইস্রায়েলের পরিবারের পাপের কারণেই ঘটেছে। যাকোবের অপরাধ কি? কি সেইসব শমরিয়ার নয়? যিহূদার উঁচু স্থান কি? সেইসব কি জেরুশালেমের নয়?
MIC 1:6 “সুতরাং আমি সদাপ্রভু শমরিয়াকে পাথরের স্তূপ, দ্রাক্ষালতা রোপণের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত করব। সেখানকার পাথরগুলি উপত্যকায় বইয়ে দেব এবং তার ভিত্তিমূল খোলা রাখব।
MIC 1:7 তার সব প্রতিমাগুলি টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলা হবে; তার সকল মন্দিরের উপহার আগুনে পোড়ানো হবে; আমি তার সমস্ত প্রতিমাগুলি ধ্বংস করব। কারণ বেশ্যাবৃত্তির মজুরির থেকে সে তার উপহার সঞ্চয় করেছে, বেশ্যাবৃত্তির মজুরির মতোই সেইগুলি ব্যবহার করা হবে।”
MIC 1:8 এই কারণেই আমি কাঁদব আর বিলাপ করব; আমি উলঙ্গ হয়ে খালি পায়ে ঘুরে বেড়াব। আমি শিয়ালের মতো চিৎকার করব এবং প্যাঁচার মতো বিলাপ করব।
MIC 1:9 কেননা শমরিয়ার ক্ষত আর ভালো হবে না; তা যিহূদার কাছে এসে গেছে। তা আমার লোকদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, এমনকি জেরুশালেম পর্যন্ত।
MIC 1:10 গাতে এই কথা জানিও না, একটুও কান্নাকাটি করো না। বেথ-লি-অফ্রাতে ধুলোয় গড়াগড়ি দাও।
MIC 1:11 হে শাফীরের বাসকারী লোকেরা, তোমরা উলঙ্গ ও লজ্জিত হয়ে চলে যাও। যারা সাননে বাস করে তারা বের হয়ে আসতে পারবে না। বেথ-এৎসল শোক করছে; সে আর তোমাদের পক্ষে দাঁড়াবে না।
MIC 1:12 যারা মারোতে বাস করে তারা ব্যাকুল হয়ে, রেহাই পাবার জন্য অপেক্ষা করছে, কারণ সদাপ্রভুর কাছে থেকে বিপদ এসে গেছে, এমনকি জেরুশালেমের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
MIC 1:13 তোমরা যারা লাখীশে বসবাস করো, দ্রুতগামী ঘোড়াগুলি তোমরা রথের সঙ্গে বেঁধে দাও। ইস্রায়েলের অন্যায় প্রথমে তোমাদের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল, সেইজন্য সিয়োন-কন্যাকে তোমরাই পাপের পথে নিয়ে গিয়েছিলে।
MIC 1:14 সুতরাং মোরেষৎ-গাৎকে নিজের বিদায়ের উপহার তুমি নিজেই দেবে। ইস্রায়েলের রাজাদের জন্য অক্‌ষীব নগর প্রতারক হবে।
MIC 1:15 তোমরা যারা মারেশায় বসবাস করো, আমি তোমাদের বিরুদ্ধে এক দখলকারীকে নিয়ে আসব। ইস্রায়েলের গণ্যমান্য লোকেরা অদুল্লমে পালিয়ে যাবে।
MIC 1:16 তোমাদের সন্তানদের যাদের তোমরা ভালোবাসো তাদের শোকে ন্যাড়া হও; নিজেকে শকুনের মতো ন্যাড়া করো, কেননা তারা তোমাদের কাছ থেকে নির্বাসনে যাবে।
MIC 2:1 ধিক্ তাদের যারা অন্যায় পরিকল্পনা করে, যারা নিজেদের বিছানায় মন্দের চক্রান্ত করে! প্রত্যুষেই তারা সেইসব কাজ করে কারণ এই সকল করার জন্য ক্ষমতা তাদের কাছে আছে।
MIC 2:2 তারা ক্ষেত্রের প্রতি লোভ করে তা কেড়ে নেয়, তারা বাড়ির প্রতি লোভ করে তা অধিকার করে। তারা মানুষকে প্রতারণা করে তাদের ঘরবাড়ি নেয়, তাদের উত্তরাধিকার চুরি করে।
MIC 2:3 সুতরাং, সদাপ্রভু বলেন, “আমি এইসব লোকের বিরুদ্ধে বিপর্যয় পরিকল্পনা করছি, যা থেকে তোমরা নিজেকে বাঁচাতে পারবে না। তোমরা আর অহংকারের সঙ্গে চলাফেরা করবে না, কারণ সেই সময়টা হবে চরম দুর্দশার।
MIC 2:4 সেই সময়ে লোকেরা তোমাদের উপহাস করবে; তারা তোমাদের ব্যঙ্গ করে এই দুঃখের গান গাইবে; ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত; আমাদের লোকেদের অধিকার ভাগ করা হয়েছে। তিনি তা আমার কাছ থেকে নিয়েছেন! তিনি আমাদের জমির বিশ্বাসঘাতকদের দিয়ে দিয়েছেন।’ ”
MIC 2:5 সেইজন্য গুটিকাপাত করে ভাগ করার জন্য তোমরা কেউ সদাপ্রভুর লোকেদের সঙ্গে থাকবে না।
MIC 2:6 তাদের ভাববাদীরা বলে “ভাববাণী বোলো না। এইসব বিষয়ে ভাববাণী বোলো না; আমদের উপরে অসম্মান আসবে না।”
MIC 2:7 হে যাকোবের বংশ, এই কথা কি বলা হবে, “সদাপ্রভু কি অসহিষ্ণু হয়েছেন? তিনি কি এমন কাজ করেন?” “আমার বাক্য কি তাদের মঙ্গল করে না যারা ন্যায়পথে চলে?
MIC 2:8 সম্প্রতি আমার লোকেরা জেগে উঠেছে যেন তারা শত্রু। যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা লোকদের মতো যারা নিশ্চিন্তে পথ চলছে তাদের গা থেকে কাপড় খুলে নিচ্ছ।
MIC 2:9 আমার লোকদের স্ত্রীদের তোমরা তাড়িয়ে দিচ্ছ তাদের সুখের ঘর থেকে। তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আমার আশীর্বাদ চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়ে নিচ্ছ।
MIC 2:10 ওঠো, চলে যাও! কারণ এটি তোমার বিশ্রামের জায়গা নয়, কারণ তুমি তা অশুচি করেছ, সেইজন্য তা ভীষণভাবে ধ্বংস হবে।
MIC 2:11 যদি কোনও মিথ্যাবাদী ও প্রতারক আসে এবং বলে, ‘আমি বলছি যে, তোমাদের প্রচুর সুরা এবং দ্রাক্ষারস হবে,’ তবে সেই হবে এই জাতির জন্য উপযুক্ত ভাববাদী!
MIC 2:12 “হে যাকোব, আমি নিশ্চয় তোমাদের সবাইকে জড়ো করব; আমি নিশ্চয় ইস্রায়েলের অবশিষ্ট লোকদের একত্র করব। আমি তাদের খোঁয়াড়ের মেষদের মতো একত্র করব, যেমন চারণভূমিতে মেষপাল চরে, সেই স্থান লোকে ভরে যাবে।
MIC 2:13 বন্দিদশা থেকে ফিরে আসবার জন্য যিনি পথ খুলে দেবেন তিনি তাদের আগে আগে যাবেন; তারা দ্বার ভেঙে বের হয়ে আসবে। সদাপ্রভু তাদের রাজা তাদের মধ্য দিয়ে আগে আগে যাবেন।”
MIC 3:1 তখন আমি বললাম, “হে যাকোবের নেতারা, ইস্রায়েলের শাসকেরা শোনো। তোমাদের কি ন্যায়বিচার সমন্ধে জানা উচিত নয়,
MIC 3:2 তোমরা যারা সঠিক কাজ ঘৃণা করো এবং দুষ্কার্যকে পছন্দ করো; যারা আমার নিজ প্রজাদের গায়ের চামড়া এবং তাদের হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে নিচ্ছ;
MIC 3:3 যারা আমার প্রজার মাংস খাচ্ছে, গায়ের চামড়া তুলে নিয়ে হাড়গুলি টুকরো টুকরো করছে যারা সেগুলি কড়াইয়ের জন্য মাংসের মতো টুকরো টুকরো করছে, যেন পাত্রের মধ্যে মাংস?”
MIC 3:4 তখন তারা সদাপ্রভুর কাছে কাঁদবে, কিন্তু তিনি উত্তর দেবেন না। সেই সময় তিনি তাঁর মুখ তাদের থেকে ফিরিয়ে রাখবেন কেননা তারা মন্দ কাজ করেছে।
MIC 3:5 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “যেসব ভাববাদী আমার লোকদের বিপথে নিয়ে যায়, যদি তারা কিছু খেতে পায় তো ‘শান্তি’ ঘোষণা করে, কিন্তু যারা তাদের খাবার দিতে অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হয়।
MIC 3:6 সুতরাং তোমাদের উপর রাত্রি আসবে, তোমরা দর্শন পাবে না, অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, ভবিষ্যৎ-কথন করতে পারবে না। ভাববাদীদের উপর সূর্য অস্ত যাবে, আর দিন তাদের জন্য অন্ধকার হবে।
MIC 3:7 দর্শনকারীরা লজ্জা পাবে এবং গণকেরা অসম্মানিত হবে। তারা সবাই মুখ ঢাকবে কারণ ঈশ্বর কোনও উত্তর দেবেন না।”
MIC 3:8 কিন্তু আমি যাকোবকে তার অপরাধ, এবং ইস্রায়েলকে তাদের পাপ জানাবার জন্য, সদাপ্রভুর আত্মার দ্বারা, ন্যায়বিচার এবং শক্তিতে আমি পূর্ণ হয়েছি।
MIC 3:9 হে যাকোবের বংশের প্রধানেরা এবং ইস্রায়েলের শাসকেরা, শোনো, যারা ন্যায়বিচার ঘৃণা করে এবং যা কিছু সরল তা বিকৃত করে;
MIC 3:10 যারা রক্তপাতের দ্বারা সিয়োনকে এবং অন্যায় দ্বারা জেরুশালেমকে গড়ে তোলে।
MIC 3:11 তাদের প্রধানেরা ঘুস নিয়ে বিচার করে, তাদের যাজকেরা পারিশ্রমিক নিয়ে শিক্ষা দেয়, এবং তাদের ভাববাদীরা অর্থের বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বলে দেয়। তবুও তারা সদাপ্রভুর সাহায্যের আশা করে বলে, “সদাপ্রভু কি আমাদের মধ্যে নেই? আমাদের উপর কোনও বিপদ আসবে না।”
MIC 3:12 সেই কারণেই তোমাদের জন্য, সিয়োনকে মাঠের মতো চাষ করা হবে, জেরুশালেম এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে, মন্দিরের পাহাড় কাঁটাঝোপে ঢাকা পড়বে।
MIC 4:1 শেষের সময়ে সদাপ্রভুর মন্দিরের পর্বত অন্য সব পর্বতের উপরে প্রধানরূপে প্রতিষ্ঠিত হবে; তাকে সব পাহাড়ের উপরে তুলে ধরা হবে এবং লোকেরা তার দিকে স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে।
MIC 4:2 অনেক জাতির লোক এসে বলবে, “চলো, আমরা সদাপ্রভুর পর্বতে উঠে যাই, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে যাই। তিনি আমাদের তাঁর পথের বিষয়ে শিক্ষা দেবেন, যেন আমরা তাঁর পথসমূহে চলতে পারি।” সিয়োন থেকে বিধান নির্গত হবে, জেরুশালেম থেকে সদাপ্রভুর বাণী নির্গত হবে।
MIC 4:3 তিনি অনেক জাতির মধ্যে বিচার করবেন এবং দূর-দূরান্তের শক্তিশালী জাতিদের বিবাদ মীমাংসা করবেন। তারা নিজের তরোয়াল পিটিয়ে চাষের লাঙল এবং বল্লমগুলিকে কাস্তেতে পরিণত করবে। এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর তরোয়াল ব্যবহার করবে না, তারা আর যুদ্ধ করতেও শিখবে না।
MIC 4:4 প্রত্যেকে নিজের নিজের দ্রাক্ষালতার ও নিজেদের ডুমুর গাছের নিচে বসবে, এবং কেউ তাদের ভয় দেখাবে না, কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেছেন।
MIC 4:5 সব জাতির লোকেরা তাদের নিজস্ব দেবতার নামে চলতে পারে, কিন্তু আমরা চিরকাল আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামে চলব।
MIC 4:6 সদাপ্রভু বলেন, “সেইদিন, আমি খোঁড়াদের একত্র করব; যারা বন্দি হয়ে অন্য দেশে আছে, যাদের আমি দুঃখ দিয়েছি, তাদের এক জায়গায় একত্র করব।
MIC 4:7 আমি খোঁড়াদের আমার অবশিষ্টাংশকে, যাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের এক শক্তিশালী জাতি করব। সদাপ্রভু সেদিন থেকে চিরকাল সিয়োন পাহাড়ে তাদের উপরে রাজত্ব করবেন।
MIC 4:8 আর তুমি, হে পালের দুর্গ, সিয়োন-কন্যার দুর্গ, আগের রাজ্য তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে; জেরুশালেমের কন্যার উপর রাজপদ অধিষ্ঠিত হবে।”
MIC 4:9 কেন তুমি এখন জোরে জোরে কাঁদছ? তোমার কি রাজা নেই? তোমার শাসক কি ধ্বংস হয়ে গেছে, সেইজন্য কি প্রসব ব্যথায় কষ্ট পাওয়া মহিলার মতো ব্যথা তোমাকে ধরেছে?
MIC 4:10 হে সিয়োন-কন্যা, নিদারুণ যন্ত্রণায় কাতর হও, প্রসব ব্যথায় কষ্ট পাওয়া স্ত্রীলোকের মতো, কারণ এখন তোমাকে নগর ত্যাগ করে খোলা মাঠে বাস করতে হবে। তুমি ব্যাবিলনে যাবে; সেখানে তুমি উদ্ধার পাবে। সদাপ্রভু সেখানেই তোমাকে মুক্ত করবেন তোমার শত্রুদের হাত থেকে।
MIC 4:11 কিন্তু এখন অনেক জাতি তোমার বিরুদ্ধে জড়ো হয়েছে। তারা বলছে, “তাকে অশুচি করা হোক, আমাদের চোখ আগ্রহ সহকারে সিয়োনকে দেখুক!”
MIC 4:12 কিন্তু তারা জানে না সদাপ্রভুর চিন্তাসকল; তারা বুঝতে পারে না তাঁর পরিকল্পনা, যা তিনি জড়ো করেছেন শস্যের আঁটির মতো খামারে মাড়াই করার জন্য।
MIC 4:13 “হে সিয়োন-কন্যা, তুমি উঠে শস্য মাড়াই করো, কারণ আমি তোমাকে লোহার শিং দেব; আমি তোমাকে ব্রোঞ্জের খুর দেব, আর তুমি অনেক জাতিকে চুরমার করবে।” তুমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাদের অন্যায়ভাবে লাভ করা জিনিস, সমস্ত পৃথিবীর প্রভুর উদ্দেশে তাদের সম্পদ দিয়ে দেবে।
MIC 5:1 ওহে সৈন্যদলের নগর, এখন তোমার সৈন্যদল নিয়ে যাও, কারণ আমাদের বিরুদ্ধে অবরোধ হচ্ছে। ইস্রায়েলের শাসনকর্তার গালে লাঠি দিয়ে আঘাত করবে।
MIC 5:2 “কিন্তু তুমি, হে বেথলেহেম ইফ্রাথা, যদিও তুমি যিহূদার শাসকদের মধ্যে ছোটো, তোমার মধ্যে দিয়ে আমার জন্যে ইস্রায়েলের এক শাসক বেরিয়ে আসবে, যাঁর শুরু প্রাচীনকাল থেকে অনাদিকাল থেকে।”
MIC 5:3 সুতরাং ইস্রায়েল পরিত্যক্ত হবে যতক্ষণ না প্রসবকারিণীর সন্তান হচ্ছে, এবং অবশিষ্ট ভাইয়েরা ফিরে আসে ইস্রায়েলীদের সঙ্গে যুক্ত হবার জন্য।
MIC 5:4 তিনি দাঁড়িয়ে সদাপ্রভুর শক্তিতে তাঁর ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের মহিমাতে, রাখালের মতো তাঁর লোকদের চালাবেন। এবং তারা নিরাপদে বাস করবে, কারণ তখন তাঁর মহত্ত্ব পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছাবে।
MIC 5:5 আর তিনি আমাদের পক্ষে শান্তি হবেন যখন আসিরীয়রা আমাদের দেশ আক্রমণ করবে এবং আমাদের দুর্গগুলি পদদলিত করবে তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাতজন মেষপালক, এমনকি আটজন দলপতি নিযুক্ত করব।
MIC 5:6 সেই সময় তারা আসিরিয়ার দেশ তরোয়াল দ্বারা, নিম্রোদের দেশকে খোলা তরোয়াল দ্বারা শাসন করবে। তারা যখন আমাদের দেশ আক্রমণ করবে এবং আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে দিয়ে যাবে তিনি আমাদের আসিরীয়দের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
MIC 5:7 অনেক জাতির মধ্যে যাকোবের বেঁচে থাকা লোকেরা সদাপ্রভুর কাছ থেকে আসা শিশিরের মতো হবে, ঘাসের উপরে পড়া বৃষ্টির মতো, যা মানুষের আদেশে পড়ে না কিংবা তার উপর নির্ভর করে না।
MIC 5:8 অনেক জাতির মধ্যে যাকোবের বেঁচে থাকা লোকেরা হবে জঙ্গলের বুনো পশুর মধ্যে সিংহের মতো, মেষপালের মধ্যে যুবক সিংহের মতো, সে যখন পালের মধ্যে দিয়ে যায় তখন তাদের টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে, কেউ তাদের উদ্ধার করতে পারে না।
MIC 5:9 তোমরা তোমাদের শত্রুদের উপর জয়লাভ করবে, এবং তোমার সমস্ত শত্রু ধ্বংস হবে।
MIC 5:10 “সেইদিন,” সদাপ্রভুর বলেন, “আমি তোমাদের ঘোড়াদের তোমাদের মধ্যে থেকে বিনাশ করব এবং তোমাদের রথগুলি ধ্বংস করব।
MIC 5:11 আমি তোমাদের দেশের নগরগুলি ধ্বংস করব আর তোমার সব দুর্গগুলি ভেঙে ফেলব।
MIC 5:12 আমি তোমার জাদুবিদ্যা নষ্ট করব মায়াবিদ্যা ব্যবহারকারীরা তোমার মধ্যে আর থাকবে না।
MIC 5:13 আমি তোমার মধ্যে থেকে তোমার ক্ষোদিত মূর্তিগুলি এবং তোমার পবিত্র পাথরগুলি ধ্বংস করব; যাতে তুমি আর কখনও নিজের হাতে নির্মিত বস্তুসকলের কাছে নত না হও।
MIC 5:14 যখন তোমার নগরগুলি ধ্বংস করব, আমি তোমার মধ্যে থেকে তোমার আশেরার খুঁটিগুলি উপড়ে ফেলব।
MIC 5:15 যে জাতিগণ আমার বাধ্য হয়নি আমি ভীষণ ক্রোধে তাদের উপর প্রতিশোধ নেব।”
MIC 6:1 সদাপ্রভু কি বলছেন তা শোনো, “ওঠো, পর্বতের সামনে আমার কথা পেশ করো; তুমি যা বলছ তা পাহাড়গুলি শুনুক।
MIC 6:2 “হে পর্বতসকল, সদাপ্রভুর অভিযোগ শোনো; হে পৃথিবীর চিরস্থায়ী ভিত্তিমূলগুলি, তোমরাও শোনো। তাঁর নিজের লোকদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর কিছু বলার আছে; তিনি ইস্রায়েলীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনছেন।
MIC 6:3 “হে আমার লোকেরা, আমি তোমাদের কি করেছি? কীভাবে আমি তোমাদের কষ্ট দিয়েছি? আমাকে উত্তর দাও।
MIC 6:4 আমি তোমাদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছি এবং দাসত্বের দেশ থেকে উদ্ধার করেছি। তোমাদের পরিচালনা করার জন্য আমি মোশি, হারোণ আর মরিয়মকে পাঠিয়েছি।
MIC 6:5 হে আমার লোকেরা, স্মরণ করো মোয়াবের রাজা বালাক তোমাদের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা করেছিল, এবং বিয়োরের পুত্র বিলিয়ম কি উত্তর দিয়েছিল। শিটিম থেকে গিল্‌গল পর্যন্ত তোমাদের যাত্রার কথা মনে করো, যেন তোমরা সদাপ্রভুর ধার্মিকতার কাজগুলি জানতে পারো।”
MIC 6:6 আমি কি নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে যাব এবং স্বর্গের ঈশ্বরের উপাসনা করব? আমি কি হোমবলির জন্য তাঁর সামনে যাব, কয়েকটি এক বছরের বাছুর নিয়ে?
MIC 6:7 সদাপ্রভু কি হাজার হাজার মেষ, কিংবা দশ হাজার নদী ভরা জলপাই তেলে খুশি হবেন? আমার অন্যায়ের জন্য কি আমি আমার প্রথম সন্তান, আমার পাপের জন্য নিজের শরীরের ফল উৎসর্গ করব?
MIC 6:8 হে মানুষ, যা ভালো তা তো তিনি তোমাকে দেখিয়েছেন। সদাপ্রভু তোমার কাছ থেকে কী চাইছেন জানো? শুধুমাত্র এইটা যে, ন্যায্য কাজ করা ও ভালোবাসা এবং তোমার সদাপ্রভুর সঙ্গে নম্র হয়ে চলা।
MIC 6:9 শোনো! সদাপ্রভু নগরের লোকদের ডাকছেন, আর তোমার নামের ভয় করা হল প্রজ্ঞা, “শাস্তির লাঠি এবং সেটিকে যিনি নিযুক্ত করেছেন তাঁর দিকে মনোযোগ দাও!
MIC 6:10 হে দুষ্ট ঘর, আমি কি ভুলে যাব অসৎ উপায়ে পাওয়া তোমার ধনসম্পদ এবং কম মাপের ঐফা, যা অভিশপ্ত?
MIC 6:11 আমি কি তাকে নির্দোষ মানব যার কাছে অসাধু দাঁড়িপাল্লা এবং থলিতে কম ওজনের বাটখারা আছে?
MIC 6:12 তোমাদের ধনী লোকেরা অত্যাচারী; তোমাদের অধিবাসীরা মিথ্যাবাদী এবং তাদের জিভ ছলনার কথা বলে।
MIC 6:13 সুতরাং, আমি তোমাদের পাপের জন্য ভীষণভাবে শাস্তি দেব ও তোমাদের ধ্বংস করব।
MIC 6:14 তোমরা খাবে কিন্তু তৃপ্ত হবে না; তোমাদের পেট তখনও খালি থাকবে। তোমরা সঞ্চয় করার চেষ্টা করবে কিন্তু হবে না, কারণ তোমরা যা কিছু রক্ষা করবে তা আমি তরোয়ালকে দেব।
MIC 6:15 তোমরা বীজ বুনবে কিন্তু ফসল কাটতে পারবে না; তোমরা জলপাই মাড়াই করবে কিন্তু তার তেল ব্যবহার করতে পারবে না, তোমরা দ্রাক্ষামাড়াই করবে কিন্তু তার রস পান করতে পারবে না।
MIC 6:16 তোমরা অম্রির নিয়ম পালন করেছ এবং আহাবের পরিবারের সব অভ্যাসমতো চলেছ; তোমরা তাদের প্রথা অনুসরণ করেছ। সুতরাং, আমি তোমাদের ধ্বংসের হাতে তুলে দেব আর তোমাদের লোকদের ঠাট্টার পাত্র করব; তোমরা পরজাতিদের অবজ্ঞা ভোগ করবে।”
MIC 7:1 কি দুর্দশা আমার! আমি সেইরকম হয়েছি যে গ্রীষ্মকালে ফল সংগ্রহ করে আর দ্রাক্ষাক্ষেতে কুড়ায়; খাবার জন্য আঙুরের গুচ্ছ নেই, আমার আকাঙ্ক্ষিত এমন কোনো ডুমুরও নেই যা পাকতে চলেছে।
MIC 7:2 দেশ থেকে ভক্তদের মুছে ফেলা হয়েছে; সৎলোক একজনও নেই। রক্তপাত করার জন্য সবাই ওৎ পেতে আছে; প্রত্যেকে তার নিজের জালে অন্যকে আটকাতে চায়।
MIC 7:3 দুষ্কর্ম করার জন্য দু-হাতই দক্ষ; শাসকেরা উপহার দাবি করে, বিচারকেরা ঘুস নেয়, ক্ষমতাশালীরা তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তারা একসঙ্গে চক্রান্ত করে।
MIC 7:4 তাদের মধ্যে সব থেকে ভালো লোকেরা কাঁটাঝোপের মতো, সবচেয়ে সৎলোকেরা কাঁটাগাছের বেড়ার চেয়েও খারাপ। তোমার কাছে ঐশ্বরিক দণ্ডের দিন এসে গেছে, যেদিন তোমার প্রহরীরা ঘোষণা করবে। এখনই তোমাদের বিশৃঙ্খল হওয়ার সময়।
MIC 7:5 তোমাদের প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করো না; তোমাদের মিত্রদের উপরও নির্ভর করো না। যে স্ত্রী তোমার বুকের মধ্যে শুয়ে থাকে তার কাছে সাবধানতার সঙ্গে কথা বোলো।
MIC 7:6 কারণ ছেলে তার নিজের বাবাকে অসম্মান করে, মেয়ে নিজের মায়ের বিরুদ্ধে, ছেলের বৌ নিজের শ্বাশুড়ীর বিরুদ্ধে উঠে মানুষের নিজের পরিবারের লোকেরাই তার শত্রু।
MIC 7:7 কিন্তু আমি সদাপ্রভুর উপর আশা রাখব, আমি উদ্ধারকারী ঈশ্বরের জন্য অপেক্ষা করব; আমার সদাপ্রভু আমার কথা শুনবেন।
MIC 7:8 হে আমার শত্রু, আমাকে নিয়ে খুশি হোয়ো না! আমি পড়ে গেলেও, আমি আবার উঠব। যদি আমি অন্ধকারেও বসি, সদাপ্রভু আমার জ্যোতি হবেন।
MIC 7:9 যেহেতু আমি সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি, তাই আমি তাঁর ক্রোধ বহন করছি, যতক্ষণ না তিনি আমাদের পক্ষে কথা বলেন এবং আমার উদ্দেশ্য সমর্থন করেন। তিনি আমাকে জ্যোতিতে নিয়ে আসবেন; আমি তাঁর ধার্মিকতা দেখব।
MIC 7:10 তখন আমার শত্রুরা তা দেখবে এবং লজ্জিত হয়ে নিজেকে ঢাকবে, সে আমাকে বলেছিল, “তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু কোথায়?” আমি নিজের চোখে তার পতন দেখব; এমনকি রাস্তার কাদার মতো তাকে পা দিয়ে দলন করা হবে।
MIC 7:11 তোমার প্রাচীর গাঁথার দিন আসবে, তোমার সীমানা বৃদ্ধি করার দিন।
MIC 7:12 সেদিন আসিরিয়া এবং মিশরের নগরগুলি থেকে লোকেরা তোমার কাছে আসবে, এমনকি মিশর থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত এবং এক সমুদ্র থেকে আর এক সমুদ্র পর্যন্ত, আর এক পাহাড় থেকে আর এক পাহাড় পর্যন্ত।
MIC 7:13 পৃথিবীর বাসিন্দাদের কাজের ফলে পৃথিবী জনশূন্য হবে।
MIC 7:14 তোমার লাঠি দিয়ে তোমার লোকেদের তত্ত্বাবধান করো, সেই পাল তোমার উত্তরাধিকার, যারা নিজেরা একা অরণ্যে বাস করে, উর্বর চারণভূমিতে। অনেক দিন আগে যেমন চরে বেড়াত তেমনি বাশনে ও গিলিয়দে তারা চরে খাক।
MIC 7:15 “মিশর দেশ থেকে বের হয়ে আসার দিনগুলির মতো, আমি তাদের আমার আশ্চর্য কাজ দেখাব।”
MIC 7:16 জাতিগণ দেখবে ও লজ্জিত হবে, তাদের সমস্ত শক্তি থেকে তারা বঞ্চিত হবে। তারা নিজেদের মুখ হাত দিয়ে বন্ধ করবে, এবং তাদের কান বধির হবে।
MIC 7:17 তারা সাপের মতো ধুলো চাটবে, সেই প্রাণীদের মতো যারা সরীসৃপ। তারা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তাদের গর্ত থেকে বেরিয়ে আসবে; তারা ভয়ে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আসবে, এবং তোমাকে ভয় করবে।
MIC 7:18 কে তোমার মতো ঈশ্বর, যিনি তাঁর অধিকারভুক্ত অবশিষ্ট লোকদের পাপ ও অপরাধ ক্ষমা করেন? তুমি চিরকাল ক্রুদ্ধ হয়ে থেকো না কিন্তু দয়া দেখিয়ে আনন্দ পাও।
MIC 7:19 তুমি আমাদের উপর আবার করুণা করবে; তুমি আমাদের সব পাপ পায়ের তলায় মাড়াবে এবং আমাদের সব অন্যায় সমুদ্রের গভীর জলে ফেলে দেবে।
MIC 7:20 তুমি যাকোবের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে এবং অব্রাহামকে তোমার ভালোবাসা দেখাবে, যেমন তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ করেছিলে অনেক দিন আগে।
NAH 1:1 নীনবী সংক্রান্ত এক ভবিষ্যদ্‌বাণী। ইল্‌কোশীয় নহূমের দর্শন সম্বলিত পুস্তক।
NAH 1:2 সদাপ্রভু ঈর্ষান্বিত এবং প্রতিফলদাতা ঈশ্বর; সদাপ্রভু প্রতিশোধ নেন এবং তিনি ক্রোধে পরিপূর্ণ। সদাপ্রভু তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেন এবং তাঁর প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্রোধ ঢেলে দেন।
NAH 1:3 সদাপ্রভুর ক্রোধে ধীর কিন্তু পরাক্রমে মহান; সদাপ্রভু দোষীদের অদণ্ডিত অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না। ঘূর্ণিঝড় ও ঝটিকাই তাঁর পথ, ও মেঘরাশি তাঁর পদধূলি।
NAH 1:4 তিনি র্ভৎসনা করে সমুদ্রকে শুকনো করে দেন; তিনি সব নদনদী জলশূন্য করে দেন। বাশন ও কর্মিল শুকিয়ে যায় এবং লেবাননের ফুলগুলিও ম্লান হয়ে যায়।
NAH 1:5 তাঁর সামনে পর্বতমালা কেঁপে ওঠে এবং পাহাড়গুলি গলে যায়। তাঁর উপস্থিতিতে পৃথিবী কম্পিত হয়, জগৎ এবং সব জগৎবাসীও হয়।
NAH 1:6 তাঁর ঘৃণামিশ্রিত ক্রোধের প্রতিরোধ কে করতে পারে? তাঁর প্রচণ্ড ক্রোধ কে সহ্য করতে পারে? তাঁর ক্রোধ আগুনের মতো ঢালা হয়েছে; তাঁর সামনে পাষাণপাথরগুলি চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে।
NAH 1:7 সদাপ্রভু মঙ্গলময়, সংকটকালে এক আশ্রয়স্থল। যারা তাঁতে নির্ভরশীল হয় তিনি তাদের যত্ন নেন,
NAH 1:8 কিন্তু এক অপ্রতিরোধ্য বন্যা পাঠিয়ে তিনি নীনবীকে ধ্বংস করে দেবেন; তাঁর শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করে তিনি অন্ধকারের রাজ্যে নিয়ে যাবেন।
NAH 1:9 সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে তারা যে চক্রান্তই করুক না কেন তিনি তা নষ্ট করে দেবেন; দ্বিতীয়বার আর বিপত্তি আসবে না।
NAH 1:10 তারা কাঁটাঝোপে আটকে যাবে এবং মদের নেশায় মাতাল হবে; শুকনো নাড়ার মতো তারা ক্ষয়ে যাবে।
NAH 1:11 হে নীনবী, এমন একজন তোমার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছে যে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে অনিষ্টের চক্রান্ত করে এবং দুষ্ট পরিকল্পনা উদ্ভাবন করে।
NAH 1:12 সদাপ্রভু একথাই বলেন: “যদিও তারা বন্ধুত্ব করেছে ও সংখ্যায় তারা অনেক, তাও তারা ধ্বংস হয়ে মারা যাবে। হে যিহূদা, আমি যদিও তোমাকে দুর্দশাগ্রস্ত করেছিলাম, আমি আর তোমাকে নিগৃহীত করব না।
NAH 1:13 এখন আমি তোমার ঘাড় থেকে তাদের জোয়াল ভেঙে ফেলব ও তোমার শিকল ছিন্ন করব।”
NAH 1:14 হে নীনবী, তোমার বিষয়ে সদাপ্রভু এক আদেশ দিয়েছেন: “তোমার নাম ধারণ করার জন্য তোমার আর কোনও বংশধর থাকবে না। তোমার দেবতাদের মন্দিরে রাখা প্রতিমা ও মূর্তিগুলি আমি ধ্বংস করে দেব। আমি তোমার কবর প্রস্তুত করব, কারণ তুমি নীচ।”
NAH 1:15 দেখো, সেই পর্বতের উপর, তারই পা পড়েছে, যে সুসমাচার প্রচার করে, যে শান্তি ঘোষণা করে! হে যিহূদা, তোমার উৎসবগুলি পালন করো, তোমার প্রতিজ্ঞা পূরণ করো। দুষ্টেরা আর কখনও তোমাকে আক্রমণ করবে না; তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হবে।
NAH 2:1 হে নীনবী, তোমার বিরুদ্ধে এক আক্রমণকারী এগিয়ে আসছে। দুর্গ পাহারা দাও, পথে নজরদারি চালাও, কোমর বাঁধো, তোমার সব শক্তি একত্রিত করো।
NAH 2:2 ইস্রায়েলের সমারোহের মতো সদাপ্রভু যাকোবের সমারোহও ফিরিয়ে আনবেন, যদিও বিনাশকারীরা তাদের ধ্বংস করেছে এবং তাদের দ্রাক্ষালতাগুলি নষ্ট করে দিয়েছে।
NAH 2:3 সৈনিকদের ঢালগুলির রং লাল; যোদ্ধারা টকটকে লাল রংয়ের পোশাকে সুসজ্জিত। রথ সাজিয়ে তোলার দিনে রথের ধাতু চকচক করে উঠেছে; দেবদারু কাঠে তৈরি বর্শাগুলি আস্ফালিত হয়েছে।
NAH 2:4 রথগুলি জোর কদমে রাস্তায় ছুটে বেড়ায়, চকের এদিক-ওদিক তীব্র গতিতে এগিয়ে যায়। সেগুলি দেখে মনে হয় সেগুলি বুঝি জ্বলন্ত মশাল; সেগুলি বজ্রের মতো আছড়ে পড়ে।
NAH 2:5 নীনবী তার শ্রেষ্ঠ সৈন্যদলকে তলব করল, তাও তারা পথে হোঁচট খেলো। তারা নগর-প্রাচীরে ধাক্কা খেলো; প্রতিরক্ষামূলক ঢাল স্বস্থানে রাখা হল।
NAH 2:6 নদীমুখ খুলে গেল এবং রাজপ্রাসাদের পতন হল।
NAH 2:7 হুকুম দেওয়া হল যে নীনবী নির্বাসিত ও দূরে নীত হবে। তার দাসীরা ঘুঘুর মতো বিলাপ করবে ও বুক চাপড়াবে।
NAH 2:8 নীনবী এমন এক পুকুরের মতো যার জল শুকিয়ে যাচ্ছে। “দাঁড়াও! দাড়াও!” তারা চিৎকার করে, কিন্তু কেউই পিছু ফেরে না।
NAH 2:9 রুপো লুট করো! সোনা লুট করো! সরবরাহ অসীম! তার সব কোষাগারের ধনসম্পদ প্রাচুর্যময়!
NAH 2:10 সে লুন্ঠিত, অপহৃত, নগ্ন হয়েছে! তার হৃদয় গলে গিয়েছে, হাঁটু ঠকঠক করেছে, শরীর কেঁপে উঠেছে, প্রত্যেকের মুখ ম্লান হয়ে গিয়েছে।
NAH 2:11 এখন কোথায় সিংহদের সেই গুহা, সেই স্থান যেখানে তারা যুবসিংহদের খাওয়াতো, যেখানে সিংহ ও সিংহী চলে যেত, ও শাবকেরা নির্ভয়ে বসবাস করত?
NAH 2:12 সিংহ তার শাবকদের জন্য পর্যাপ্ত পশু হত্যা করত ও তার সঙ্গিনীর জন্য শিকার করা পশুদের শ্বাসরোধ করত, তার ডেরাগুলি নিহত পশুদের দিয়ে ও গুহাগুলি শিকার করা পশু দিয়ে পরিপূর্ণ করে রাখত।
NAH 2:13 “আমি তোমার বিপক্ষ,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু ঘোষণা করছেন। “আমি তোমার রথগুলি পুড়িয়ে ধোঁয়ায় পরিণত করব, ও তরোয়াল তোমার যুবসিংহদের গ্রাস করবে। পৃথিবীতে আমি তোমার জন্য কোনও শিকার ছেড়ে রাখব না। তোমার দূতদের রব আর কখনও শোনা যাবে না।”
NAH 3:1 ধিক্ সেই রক্তপাতকারী নগর, যা মিথ্যায় পরিপূর্ণ, যা লুঠতরাজে পরিপূর্ণ, যেখানে কখনোই ক্ষতিগ্রস্তের অভাব হয় না!
NAH 3:2 চাবুকের জোরালো শব্দ, চাকার ঝনঝনানি, দ্রুতগতি ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ ও ধুলো ওড়ানো রথের শব্দ!
NAH 3:3 অশ্বারোহী সৈন্যদলের আক্রমণ! তরোয়ালের ঝলকানি ও বর্শার ঝনঝনানি! প্রচুর মানুষের মৃত্যু, মৃতদেহের স্তূপ, অসংখ্য মৃতদেহ, মানুষজন শবে হোঁচট খায়—
NAH 3:4 এসবই সেই এক বেশ্যার উচ্ছৃঙ্খল লালসার, লোভনীয়, ডাকিনীবিদ্যায় নিপুণ মহিলার কারণে হয়েছে, যে তার বেশ্যাবৃত্তি দ্বারা জাতিদের এবং তার জাদুবিদ্যা দ্বারা মানুষজনকে বন্দি করে রেখেছে।
NAH 3:5 “আমি তোমার বিপক্ষ,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু ঘোষণা করেন। “আমি তোমার মুখের উপর তোমার ঘাঘরা তুলে ধরব। আমি জাতিদের তোমার উলঙ্গতা দেখাব ও রাজ্যগুলির কাছে তোমার লজ্জা প্রকাশ করব।
NAH 3:6 আমি অশ্লীলতা দিয়ে তোমাকে আঘাত করব, আমি তোমাকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখব এবং তোমাকে এক প্রদর্শনীতে পরিণত করব।
NAH 3:7 যারা তোমাকে দেখবে তারা সবাই তোমার কাছ থেকে পালাবে ও বলবে, ‘নীনবী ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে—তার জন্যে কে বিলাপ করবে?’ তোমাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য আমি কোথায় লোক খুঁজে পাব?”
NAH 3:8 তুমি কি সেই থিব্‌সের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যা নীলনদের তীরে অবস্থিত, ও যার চতুর্দিক জলে ঘেরা? নদী তার সুরক্ষাবলয়, জলরাশি তার প্রাচীর ছিল।
NAH 3:9 কূশ ও মিশর ছিল তার অপার শক্তি; পূট ও লিবিয়া তার মিত্রশক্তির মধ্যে গণ্য হত।
NAH 3:10 তাও তাকে বন্দি করা হল ও সে নির্বাসনে গেল। তার শিশু সন্তানদের প্রত্যেকটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হল। তার গণ্যমান্য লোকদের জন্য গুটিকাপাত করা হল, এবং তার সব মহান লোককে শিকল দিয়ে বাঁধা হল।
NAH 3:11 তুমিও মাতাল হয়ে যাবে; তুমি আত্মগোপন করবে ও শত্রুর নাগাল এড়িয়ে থাকার জন্য আশ্রয়স্থল খুঁজবে।
NAH 3:12 তোমার সব দুর্গ এমন ডুমুর গাছের মতো, যেগুলির ফল পাকতে চলেছে; যখন সেগুলিকে নাড়ানো হয়, তখন ডুমুরগুলি ভক্ষকদের মুখে গিয়ে পড়ে।
NAH 3:13 তোমার সৈন্যদলের দিকে তাকাও— তারা সবাই দুর্বল প্রাণী। তোমার দেশের প্রবেশদ্বারগুলি তোমার শত্রুদের জন্য হাট করে খুলে রাখা হয়েছে; তোমার ফটকের খিলগুলি আগুন গ্রাস করে নিয়েছে।
NAH 3:14 অবরোধকালের জন্য জল তুলে রাখো, তোমার দুর্গগুলি অভেদ্য করো! কাদা মেখে রাখো, চুন বালির মিশ্রণ তৈরি করো, ইটের গাঁথনি মেরামত করো!
NAH 3:15 সেখানেই আগুন তোমাকে গ্রাস করবে; তরোয়াল তোমাকে কেটে ফেলবে— সেগুলি তোমাকে পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো গিলে খাবে। গঙ্গাফড়িং-এর মতো সংখ্যায় বৃদ্ধি পাও, পঙ্গপালের মতো সংখ্যায় বৃদ্ধি পাও!
NAH 3:16 তোমার বণিকদের সংখ্যা তুমি বাড়িয়েই গিয়েছ যতক্ষণ না তারা আকাশের তারাদের চেয়েও সংখ্যায় বেশি হয়েছে, কিন্তু পঙ্গপালের মতো তারা দেশকে ন্যাড়া করে দেয় ও পরে উড়ে চলে যায়।
NAH 3:17 তোমার রক্ষীবাহিনী পঙ্গপালের মতো, তোমার কর্মকর্তারা পঙ্গপালের সেই ঝাঁকের মতো যা এক শীতল দিনে প্রাচীরের উপর এসে বসে— কিন্তু যখন সূর্য ওঠে তখন তারা উড়ে চলে যায়, ও কেউ জানে না তারা কোথায় যায়।
NAH 3:18 হে আসিরিয়ার রাজা, তোমার মেষপালকেরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছে; তোমার গণ্যমান্য লোকেরা শুয়ে বিশ্রাম করছে। তোমার প্রজারা পর্বতমালায় ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে ও তাদের একত্রিত করার কেউ নেই।
NAH 3:19 কোনো কিছুই তোমাকে সুস্থ করতে পারবে না; তোমার আঘাতটি মারাত্মক। যতজন তোমার খবর শোনে তারা সবাই তোমার পতনের খুশিতে হাততালি দেয়, যেহেতু তোমার অপার নিষ্ঠুরতার আঁচ কে না পেয়েছে?
HAB 1:1 হবক্‌কূক ভাববাদী যিনি ভাববাণী পেয়েছিলেন।
HAB 1:2 হে সদাপ্রভু, আর কত কাল আমি সাহায্য চাইব, কিন্তু তুমি শোনো না? অথবা তোমাকে কেঁদে বলি, “অত্যাচার সর্বত্রই!” কিন্তু তুমি উদ্ধার করো না?
HAB 1:3 কেন তুমি আমাকে অন্যায় দেখতে বাধ্য করছ? আর কেন তুমি অপরাধ সহ্য করছ? ধ্বংস আর অত্যাচার আমার সামনে ঘটছে; বিবাদ আর মতবিরোধ চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।
HAB 1:4 সুতরাং, বিধান শক্তিহীন হয়েছে, এবং ন্যায়বিচার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। দুষ্টরা বিচার নিয়ন্ত্রণ করছে, যেন ন্যায়বিচার বিকৃত হয়।
HAB 1:5 “জাতিগণদের দিকে তাকিয়ে দেখো এবং সম্পূর্ণরূপে আশ্চর্য হও। কারণ আমি তোমাদের দিনে এমন কিছু করব যা তোমাদের বলা হলেও, তোমরা বিশ্বাস করবে না।
HAB 1:6 দেখো আমি ব্যাবিলনীয়দের উত্থান ঘটাচ্ছি, এক নিষ্ঠুর ও দুর্দমনীয় জাতি, যারা অন্যদের বাসস্থান অধিকার করার জন্য সমগ্র পৃথিবীতে অগ্রসর হয়।
HAB 1:7 তারা ভয়ানক এবং ভয়ংকর প্রকৃতির লোক; তারা নিজেরাই আইন তৈরি করে এবং নিজেদের গৌরব নিজেরাই করে।
HAB 1:8 তাদের ঘোড়া চিতাবাঘের থেকেও দ্রুতগামী, সন্ধ্যাকালের নেকড়ের থেকেও ভয়ানক। তাদের অশ্বারোহী বাহিনী গর্বের সঙ্গে এগিয়ে যায়; তাদের ঘোড়সত্তয়ার অনেক দূরদূরান্ত থেকে আসে। তারা তাদের শিকারকে গ্রাস করতে ঈগল পাখির মতো ছোঁ মারে,
HAB 1:9 তারা সবাই অত্যাচার করতে আসে, তাদের দলবল মরুভূমির বায়ুর মতো অগ্রসর হয় তারা বন্দিদের বালির কণার মতো একত্রিত করে।
HAB 1:10 তারা রাজাদের বিদ্রুপ করে আর শাসকদের অবজ্ঞা করে। তারা সব উঁচু প্রাচীরে সুরক্ষিত নগরের উপহাস করে; মাটি স্তূপ করে সেইসব নগর অধিকার করে।
HAB 1:11 তখন তারা প্রচণ্ড বাতাসের মতো বয়ে যায় ও এগিয়ে চলে, কিন্তু তারা অপরাধী; কারণ তাদের শক্তিই তাদের দেবতা।”
HAB 1:12 হে সদাপ্রভু, তুমি কি অনন্তকাল থেকে নও? আমার ঈশ্বর, আমার পবিত্র ঈশ্বর, তোমার কখনও মৃত্যু নেই। তুমি, হে সদাপ্রভু, বিচার করার জন্য এই ব্যাবিলনীয়দের নিযুক্ত করেছ; তুমি, হে আমার শৈল, শাস্তি দেবার জন্য তাদের নিরূপিত করেছ।
HAB 1:13 তোমার চোখ এত পবিত্র যে মন্দ দেখতে পারে না; তুমি দুষ্কর্ম সহ্য করতে পারো না। তবে কেন তুমি বিশ্বাসঘাতকদের সহ্য করছ? কেন তুমি নীরব রয়েছ যখন দুষ্টরা তাদের থেকে যারা ধার্মিক তাদের গ্রাস করছে?
HAB 1:14 তুমি মানুষদের সমুদ্রের মাছের মতো করেছ, সামুদ্রিক জীবের মতো যাদের কোনও শাসক নেই।
HAB 1:15 দুষ্ট শত্রু তাদের সকলকে বড়শিতে তোলে, সে তাদেরকে নিজের জালে ধরে, তারপর টানা-জালে তাদের একত্রিত করে; তাই সে আনন্দ করে ও উল্লসিত হয়।
HAB 1:16 সেই কারণে সে তার জালের উদ্দ্যেশ্যে বলি উৎসর্গ করে এবং টানা-জালের প্রতি ধূপ জ্বালায়, কারণ তার জালের কারণেই সে বিলাসিতায় বাস করে এবং পছন্দতম খাবার উপভোগ করে।
HAB 1:17 এই জন্য কি সে নিজের জাল খালি করতে থাকবে, নির্দয়ভাবে জাতিগণকে ধ্বংস করতে থাকবে?
HAB 2:1 আমি নিজের নজর-ঘাঁটিতে দাঁড়াব এবং দুর্গের উপর অবস্থান করব; সেখানে অপেক্ষা করে দেখব যে সদাপ্রভু আমাকে কী বলছেন, এবং আমি কীভাবে এই নালিশের উত্তর দেব।
HAB 2:2 তখন সদাপ্রভু উত্তর দিলেন: “এই দর্শন লেখো স্পষ্ট করে ফলকের উপর লেখো যাতে একজন দৌড়বাজ অন্যদের কাছে সঠিক বার্তা বহন করতে পারে।
HAB 2:3 কারণ এই দর্শন নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে; এটা শেষ সময়ের কথা বলে এবং মিথ্যা প্রমাণিত হবে না। এটা ঘটতে দেরি হলেও, অপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই এটা ঘটবে এবং দেরি হবে না।
HAB 2:4 “দেখো, শত্রু অহংকারে ফুলে উঠেছে; তার ইচ্ছাসকল ন্যায্য নয়, কিন্তু ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের দ্বারাই জীবিত থাকবে,
HAB 2:5 প্রকৃতপক্ষে, সুরা তাকে প্রতারণা করে; সে দাম্ভিক এবং কখনও বিশ্রাম করে না। কারণ পাতালের মতো সে লোভী এবং মৃত্যুর মতো কখনোই সন্তুষ্ট হয় না, সমগ্র জাতিগণদের সে নিজের কাছে একত্রিত করে এবং সকলকে বন্দি করে।
HAB 2:6 “কিন্তু তাদের সকলে কি তাকে বিদ্রুপ ও অবজ্ঞার সঙ্গে, এই বলে, উপহাস করবে না, “ ‘ধিক্ তাকে, যে চুরি করা সম্পত্তি জমিয়ে রাখে এবং জোর করে আদায় করে নিজেকে ধনী করে! এইভাবে আর কত দিন চলবে?’
HAB 2:7 তোমার পাওনাদাররা কি হঠাৎ তোমার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠবে না? তারা কি সজাগ হয়ে তোমাকে ভীত করবে না? তখন তোমরা ওদের শিকার হবে।
HAB 2:8 যেহেতু তোমরা বহু জাতিগণদের লুট করেছ, তাই অবশিষ্ট ব্যক্তিরা তোমাদের লুট করবে। কারণ তোমরা মানুষের রক্তপাত করেছ; তোমরা দেশ, নগর এবং তার সমস্ত মানুষদের ধ্বংস করেছ।
HAB 2:9 “ধিক্ তাকে, যে দুষ্কর্মের লাভে নিজের ঘর তৈরি করে, বিপর্যয়ের কবল থেকে বাঁচবার জন্য উঁচু স্থানে বসতি স্থাপন করে!
HAB 2:10 তুমি বহু জাতির পতনের পরিকল্পনা করেছ, নিজের ঘরকে লজ্জিত এবং নিজের জীবন নষ্ট করেছ।
HAB 2:11 প্রাচীরের পাথরগুলি কেঁদে উঠবে, এবং ছাদের কড়িকাঠ তা প্রতিধ্বনিত করবে।
HAB 2:12 “ধিক্ তাকে, যে রক্তপাতের মাধ্যমে নগর নির্মাণ করে, আর দুষ্কর্মের সাথে নগর স্থাপন করে!
HAB 2:13 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু কি নির্ধারণ করেননি যে জাতিগণের পরিশ্রম আগুনের কেবল ইন্ধনমাত্র, এবং তারা এত পরিশ্রম করে কিন্তু সবকিছুই ব্যর্থ হয়!
HAB 2:14 কারণ সমুদ্র যেমন জলরাশিতে আচ্ছন্ন, পৃথিবী তেমনই সদাপ্রভুর মহিমার জ্ঞানে পরিপূর্ণ হবে।
HAB 2:15 “ধিক্ তাকে, যে তার প্রতিবেশীদের সুরা পান করায়, সুরাপাত্র থেকে ঢেলে যায় যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা মত্ত হয়ে ওঠে, যেন সে তাদের নগ্ন শরীরের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে উপভোগ করতে পারে!
HAB 2:16 মহিমাতে নয় তুমি লজ্জায় পরিপূর্ণ হবে। এখন তোমার পালা! সুরা পান করো এবং তোমার নগ্নতা প্রকাশ পাক। সদাপ্রভুর বিচারের পানপাত্র থেকে পান করো এবং তোমার সব গৌরব লাঞ্ছনায় রূপান্তরিত হবে।
HAB 2:17 লেবাননের প্রতি তুমি যা অত্যাচার করেছ তা তোমাকে অভিভূত করবে, তুমি বন্যপশুদের ধ্বংস করেছ, আর তাদের আতঙ্ক তোমার হবে। কারণ তুমি মানুষের রক্তপাত করেছ; তোমরা দেশ, নগর এবং তার সমস্ত মানুষদের ধ্বংস করেছ।
HAB 2:18 “কারিগরের তৈরি খোদিত মূর্তির কি মূল্য? অথবা এক প্রতিমূর্তি যে মিথ্যা শেখায়? কারণ যে সেটা বানায় সে নিজের সৃষ্টিতেই আস্থা রাখে; সে মূর্তি নির্মাণ করে যা কথা বলতে পারে না।
HAB 2:19 ধিক্ তাকে, যে কাঠকে বলে, ‘জীবিত হও!’ আর নির্জীব পাথরকে বলে ‘ওঠো!’ সেটা কি পথ দেখাতে পারে? এটা সোনা ও রুপো দিয়ে আবৃত; এর মধ্যে কোনো শ্বাস নেই।”
HAB 2:20 কিন্তু সদাপ্রভু আপন পবিত্র মন্দিরে আছেন; সমস্ত পৃথিবী তাঁর সামনে নীরব থাকুক।
HAB 3:1 ভাববাদী হবক্‌কূকের প্রার্থনা। স্বর, শিগিয়োনোৎ
HAB 3:2 হে সদাপ্রভু, আমি তোমার খ্যাতি শুনেছি; আমি তোমার আশ্চর্য কাজে সম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে আছি, হে সদাপ্রভু। আমাদের দিনে এই সবের পুনরাবৃত্তি করো, আমাদের সময়ে তা প্রকাশিত করো; তোমার ক্রোধে করুণা স্মরণ করো।
HAB 3:3 ঈশ্বর তৈমন থেকে এসেছেন, পবিত্রতম এসেছেন পারণ পর্বত থেকে। স্বর্গ তার মহিমায় আচ্ছাদিত আর পৃথিবী তার প্রশংসায় পরিপূর্ণ।
HAB 3:4 তাঁর প্রভা সূর্যোদয়ের মতো; তাঁর হাত থেকে আলোকরশ্মি নির্গত হয়, যেখানে তাঁর শক্তি লুকিয়ে ছিল।
HAB 3:5 মহামারি তাঁর সামনে গেল; সংক্রামক ব্যাধি তার পথ অনুসরণ করল।
HAB 3:6 তিনি দাঁড়ালেন এবং পৃথিবী নাড়িয়ে দিলেন; তিনি দৃষ্টিপাত করলেন এবং সমগ্র জাতিদের কাঁপিয়ে দিলেন। তিনি প্রাচীন পর্বতসকল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং পুরাতন পাহাড় ধ্বংস করেন; কিন্তু তিনি অনন্তকালস্থায়ী।
HAB 3:7 আমি দেখলাম কুশানের তাঁবুসকল দৈন্য, মিদিয়নের ঘরবাড়ি দুর্দশায় পূর্ণ।
HAB 3:8 হে সদাপ্রভু, তুমি কি নদনদীর প্রতি ক্রুদ্ধ ছিলে? তোমার ক্রোধ কি জলধারার প্রতি? তুমি কি সমুদ্রের বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করেছ যখন তুমি তোমার ঘোড়ায় চড়লে এবং বিজয় রথে জয়লাভ করলে?
HAB 3:9 তুমি নিজের ধনুক অনাবৃত করলে, আর অনেক তির দাবি করলে। তুমি নদীর দ্বারা পৃথিবী ভাগ করেছ;
HAB 3:10 পর্বতমালা তোমাকে দেখল ও ভয়ে কাঁপল। প্রচণ্ড জলরাশি প্রবাহিত হল; গভীর সমুদ্র গর্জে উঠল আর নিজের ঢেউ উত্তোলন করল।
HAB 3:11 সূর্য ও চন্দ্র আকাশে স্থির হয়ে রইল যখন তোমার উজ্জ্বল তির উড়ল, এবং তোমার বজ্ররূপ বর্শা ঝলক দিল।
HAB 3:12 ক্রোধে তুমি পৃথিবীতে অগ্রবর্তী হলে এবং কোপে তুমি জাতিগণকে মাড়িয়ে দিলে।
HAB 3:13 তুমি তোমার প্রজাগণের উদ্ধারের জন্য বাইরে গেলে, তোমার অভিষিক্ত-জনের উদ্ধারের জন্য। তুমি দুষ্টদেশের রাজাকে ধ্বংস করলে, তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকে অনাবৃত করলে।
HAB 3:14 তুমি তার বর্শা দিয়ে তার নিজের মাথা বিদ্ধ করলে যখন তার যোদ্ধারা আমাদের ছিন্নভিন্ন করতে ঘূর্ণিবায়ুর মতো আক্রমণ করেছিল, গ্রাস করার অপেক্ষায় উল্লসিত ছিল হতভাগ্য যারা লুকিয়ে ছিল।
HAB 3:15 তোমার ঘোড়াদের দিয়ে তুমি সমুদ্র মাড়িয়ে গেলে, আর মহা জলরাশিকে তোলপাড় করলে।
HAB 3:16 আমি শুনলাম এবং আমার হৃদয় কাঁপল, শব্দ শুনে আমার ঠোঁট কাঁপল; আমার শরীরের হাড়গুলি ক্ষয় হতে শুরু করল, এবং আমার পা কাঁপতে লাগল। তবুও আমি সেই বিপত্তির দিনের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করব যেদিন বিপত্তি আমাদের আক্রমণকারী জাতির উপরে নেমে আসবে।
HAB 3:17 যদিও ডুমুর গাছে কুঁড়ি ধরবে না এবং আঙুর লতায় কোনো আঙুর ধরবে না, যদিও জলপাই গাছ ফলহীন হবে এবং ক্ষেতে খাবারের জন্য শস্য ধরবে না, যদিও মেষের খোঁয়াড়ে কোনো মেষ থাকবে না এবং গোয়ালঘরে গবাদি পশুরা থাকবে না,
HAB 3:18 তবুও আমি সদাপ্রভুতে আনন্দ করব, আমার ঈশ্বর উদ্ধারকর্তায় উল্লসিত হব।
HAB 3:19 সার্বভৌম সদাপ্রভুই আমার শক্তি; তিনি আমার পা হরিণীর পায়ের মতো করেন, তিনি আমাকে উচ্চ স্থানে চলতে ক্ষমতা দেন। প্রধান বাদকের জন্য; আমার তারযুক্ত যন্ত্রে।
ZEP 1:1 যিহূদার রাজা, আমোনের পুত্র যোশিয়ের রাজত্বকালে সদাপ্রভুর বাক্য কূশির পুত্র সফনিয়ের কাছে আসে, কূশি গদলিয়ের পুত্র, গদলিয় অমরিয়ের পুত্র, অমরিয় হিষ্কিয়ের পুত্র:
ZEP 1:2 “আমি পৃথিবীর বুক থেকে সবকিছু নষ্ট করে দেব,” সদাপ্রভু বলেন।
ZEP 1:3 “আমি মানুষ এবং পশু উভয়কেই নষ্ট করে দেব; আকাশের পাখিদেরকেও আমি নষ্ট করে দেব আর সমুদ্রের মাছেদের— আর যে মূর্তিরা দুষ্টদের হোঁচট করাবে।” “তখন পৃথিবীর বুক থেকে সমগ্র মানবজাতিকে আমি ধ্বংস করব,” সদাপ্রভু বলেন,
ZEP 1:4 “আমি যিহূদার বিরুদ্ধে আমার হাত উঠাব আর জেরুশালেমবাসীদের বিরুদ্ধেও। আমি এই দেশ থেকে অবশিষ্ট বায়াল-দেবতার প্রতিমা এবং সমস্ত পৌত্তলিক পুরোহিতদের নাম ধ্বংস করে দেব—
ZEP 1:5 যারা ছাদের উপর উঠে আকাশ-বাহিনীর উপাসনা করে, যারা সদাপ্রভুর নামে নত হয়ে প্রতিশ্রুতি নেয় এবং মালাকামের নামেও শপথ করে,
ZEP 1:6 যারা সদাপ্রভুকে অনুসরণ করা ছেড়ে দিয়েছে না তারা সদাপ্রভুকে অন্বেষণ করে, না তাঁর অনুসন্ধান করে।”
ZEP 1:7 সার্বভৌম সদাপ্রভুর সামনে নীরব হও, কারণ সদাপ্রভুর দিন সন্নিকট। সদাপ্রভু একটি উৎসর্গের আয়োজন করেছেন; তিনি নিমন্ত্রিত জনদের শুচিশুদ্ধ করেছেন।
ZEP 1:8 “সদাপ্রভুর সেই বলিদানের দিনে আমি কর্মকর্তাদের রাজপুত্রদের এবং যারা বিদেশি রীতিনীতি মানে তাদের শাস্তি দেব।
ZEP 1:9 সেদিন আমি তাদের শাস্তি দেব যারা পরজাতিদের দেবতাদের উপাসনায় সম্মিলিত হয়, যারা নিজের দেবতার মন্দির অত্যাচার আর ছলনার দ্বারা লুন্ঠিত দ্রব্যে পূর্ণ করে।
ZEP 1:10 “সেদিনে,” সদাপ্রভু বলেন, “মাছ-ফটকের থেকে কান্নার শব্দ, নগরের নতুন অংশ থেকে বিলাপের ধ্বনি, এবং পাহাড়ের চারদিক সশব্দে ভেঙে পড়ার আওয়াজ শোনা যাবে।
ZEP 1:11 হে ব্যবসাকেন্দ্রের বসবাসকারীরা তোমরা বিলাপ করো, কারণ তোমাদের সমস্ত বণিকেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যারা রুপোর ব্যবসায়ী, তারাও বিনষ্ট হবে।
ZEP 1:12 তখন আমি বাতি নিয়ে জেরুশালেমেতে অন্বেষণ করব যারা সন্তুষ্ট থাকে তাদের শাস্তি দেব, যারা দ্রাক্ষারসের তলানির মতো, আর ‘যারা মনে করে সদাপ্রভু কিছুই করবেন না, ভালো বা মন্দ।’
ZEP 1:13 তাদের ধনসম্পত্তি লুট করা হবে, তাদের ঘরগুলি ধ্বংস করা হবে। তারা নতুন ঘর নির্মাণ করলেও, তাতে তারা বসবাস করতে পারবে না; তারা দ্রাক্ষালতা লাগালেও, তার রস পান করতে পারবে না।”
ZEP 1:14 সদাপ্রভুর মহান বিচারের দিন নিকটে— সন্নিকট আর শীঘ্রই আসছে। সদাপ্রভুর সেদিনে ক্রন্দনের শব্দ খুবই তিক্ত; যুদ্ধে বীর যোদ্ধারা যন্ত্রণায় কাতর।
ZEP 1:15 সেদিন হবে ক্রোধের দিন— ভীষণ দুর্দশা ও কষ্টের দিন, ধ্বংস এবং বিনাশের দিন, দিন ঘন অন্ধকারের, কালো মেঘাচ্ছন্ন দিন—
ZEP 1:16 চারদিকে ঘেরা নগরের বিরুদ্ধে আর কোণের সব উঁচু জায়গায় পাহারা এবং ঘরের বিরুদ্ধে শিঙার রব ও যুদ্ধের হাঁকের দিন।
ZEP 1:17 “আমি সমস্ত লোকেদের উপর এমন বিপত্তি আনব ফলে তারা অন্ধ লোকের মতো হাঁটবে, কারণ তারা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছে। তাদের রক্ত ধুলোর মতো ফেলা হবে আর দেহ গোবরের মতো পড়ে থাকবে।
ZEP 1:18 সদাপ্রভুর ক্রোধের দিনে তাদের রুপো বা তাদের সোনা কোনো কিছুই তাদের বাঁচাতে পারবে না।” তার অগ্নিময় ক্রোধে সমগ্র পৃথিবী পুড়ে যাবে, তিনি জগতে বসবাসকারী সকলকে হঠাৎ নষ্ট করে দেবেন।
ZEP 2:1 হে লজ্জাবিহীন জাতি, একত্রিত হও, নিজেদের একত্রিত করো,
ZEP 2:2 সেই আদেশের সময় কার্যকর হওয়ার আগে যখন দিন তুষের মতো উড়ে যাবে, সদাপ্রভুর জ্বলন্ত ক্রোধ তোমাদের উপর আসার আগেই, সদাপ্রভুর ভীষণ ক্রোধের দিন তোমাদের উপর আসার আগেই।
ZEP 2:3 সদাপ্রভুকে খোঁজ হে দেশের নম্র জনেরা সদাপ্রভুর আজ্ঞা পালনকারীরা। ধার্মিকতার অনুসন্ধান করো, নম্রতার অনুসন্ধান করো; তবেই সদাপ্রভুর ক্রোধের দিনে তোমরা আশ্রয় পাবে।
ZEP 2:4 গাজা পরিত্যাক্ত হবে অস্কিলোন ধ্বংস হবে। দিনের বেলার মধ্যেই অস্‌দোদকে খালি করে দেওয়া হবে এবং ইক্রোণবাসিদের উপড়ে ফেলা হবে।
ZEP 2:5 ধিক্ তোমাদের হে করেথীয়বাসীরা, যারা সমুদ্রের ধারে বসবাস করো; ফিলিস্তিনীদের দেশ কনান, তোমাদের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর বাণী। তিনি বলেন, “আমি তোমাদের নষ্ট করব, কেউই রেহাই পাবে না।”
ZEP 2:6 সমুদ্রের ধারের তোমাদের এলাকা চারণভূমি হবে যেখানে মেষপালকদের জন্য কুয়ো এবং মেষদের জন্য খোঁয়াড় থাকবে।
ZEP 2:7 সেই এলাকা যিহূদা বংশের বেঁচে থাকা লোকেরা অধিকার করবে; সেখানে তারা চারণভূমি পাবে। সন্ধ্যায় তারা বিশ্রাম করবে অস্কিলোনবাসীদের বাসায়। তখন থেকে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের যত্ন করবেন; তিনি তাদের অবস্থা ফিরাবেন।
ZEP 2:8 “আমি মোয়াবের অপমানের এবং অম্মোনীয়দের ঠাট্টার কথা শুনেছি, যারা আমার প্রজাদের অপমান করে তাদের দেশের বিরুদ্ধে ভীতিপ্রদর্শন করেছে।
ZEP 2:9 অতএব, আমার জীবনের দিব্য যে,” বাহিনীগণের সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, যিনি ইস্রায়েলের ঈশ্বর, “নিশ্চয় মোয়াব সদোমের মতো, অম্মোনীয়রা ঘমোরার মতো হবে— যা আগাছার জায়গা ও লবণের গর্তে, চিরকালের জন্য পতিত জমি হয়ে থাকবে। আমার অবশিষ্ট লোকেরা তাদের লুটবে; আমার জাতির বেঁচে থাকা লোকেরা তাদের দেশ অধিকার করবে।”
ZEP 2:10 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর প্রজাদের ওপর অপমানে ও ঠাট্টার কারণে এভাবে তারা তাদের অহংকারের জন্য শাস্তি পাবে।
ZEP 2:11 তখন সদাপ্রভু তাদের প্রতি ভয়ংকর হবেন যখন তিনি পৃথিবীর সমস্ত দেবতাদের ধ্বংস করবেন। দূর দেশের জাতিরা তাঁর কাছে নত হবে, তাদের নিজের দেশে তাঁর উপাসনা করবে।
ZEP 2:12 “হে কূশীয়েরা, তোমরাও, আমার তরোয়ালের দ্বারা মারা যাবে।”
ZEP 2:13 তিনি উত্তর দিকের বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে আসিরিয়াকে ধ্বংস করবেন, নীনবীকে একেবারে জনশূন্য এবং মরুভূমির মতো শুকনো করবেন।
ZEP 2:14 সেখানে গরু ও মেষের পাল এবং সব ধরনের প্রাণী শুয়ে থাকবে। মরু-প্যাঁচা ও ভুতুম-প্যাঁচারা তার থামগুলির উপরে ঘুমাবে। জানলার মধ্যে দিয়ে তাদের ডাক শোনা যাবে, পুরোনো বাড়ির ভাঙার ধ্বংসস্তূপ দরজার পথ ভরিয়ে দেবে সিডার গাছের তক্তাগুলিও খোলা পড়ে থাকবে।
ZEP 2:15 এই সেই নগর যা হৈচৈপূর্ণ এবং নিরাপদে ছিল। সে নিজেকে বলত, “আমিই একমাত্র! আমাকে ছাড়া আর কেউই নেই।” সে কেমন ধ্বংস হয়ে গেছে, বন্যপশুদের আশ্রয়স্থান! যারা তার পাশ দিয়ে যায় হাত নেড়ে বিদ্রুপ করতে করতে যায়।
ZEP 3:1 ধিক্ সেই অত্যাচারী, বিদ্রোহী এবং অপবিত্র নগর!
ZEP 3:2 সে কারোর আদেশ মানে না, কোনও অনুশাসনও গ্রহণ করে না। সে সদাপ্রভুতে আস্থা রাখে না, সে তার ঈশ্বরের কাছে যায় না।
ZEP 3:3 তার মধ্যবর্তী রাজকর্মচারীরা যেন গর্জনকারী সিংহ; তার শাসকেরা সন্ধ্যাবেলার নেকড়ে, তারা সকালের জন্য কিছুই ফেলে রাখে না।
ZEP 3:4 তাদের ভাববাদীরা অনাচারী; তারা বিশ্বাসঘাতক। তাদের পুরোহিতরা পবিত্র বস্তুকে অপবিত্র করে এবং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কাজ করে।
ZEP 3:5 তার মাঝে সদাপ্রভু ন্যায়পরায়ণ; তিনি কোনও অন্যায় করেন না। সকালের পর সকাল তিনি ন্যায়বিচার করেন, আর প্রত্যেক নতুন দিনে তিনি ভুল করেন না, তবুও সেই অন্যায়কারীদের কোনও লজ্জা নেই।
ZEP 3:6 “আমি জাতিদের শেষ করেছি; তাদের বলিষ্ঠ দুর্গগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি তাদের নগরের রাস্তাগুলি নির্জন করে দিয়েছি, সেখান থেকে আর কেউই যাতায়াত করে না। তাদের নগরসকল ধ্বংস হয়ে গেছে; সেগুলি খালি এবং নির্জন।
ZEP 3:7 জেরুশালেমের বিষয় আমি চিন্তা করলাম, ‘তুমি নিশ্চয় আমায় ভয় করবে এবং অনুশাসন গ্রাহ্য করবে!’ তাতে তার আশ্রয়স্থান ধ্বংস হবে না, কিংবা আমার সকল শাস্তিও তার উপর আসবে না। কিন্তু তাদের তখনও আগ্রহ ছিল দুষ্কর্ম করার জন্য যেমন তারা আগে করত।
ZEP 3:8 সুতরাং আমার জন্য অপেক্ষা করো,” সদাপ্রভু বলেন, “যেদিন আমি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াবো। আমি জাতিদের একত্র করার জন্য মনস্থির করেছি, আর রাজ্যগুলিকে একত্রিত করব এবং আমার ক্রোধ তাদের উপর ঢেলে দেব— আমার সকল প্রচণ্ড ক্রোধ। সমগ্র পৃথিবী ভস্ম হবে আমার ঈর্ষান্বিত ক্রোধের আগুনে।
ZEP 3:9 “তখন আমি লোকেদের ওষ্ঠ শুচি করব, যাতে তারা সদাপ্রভুর নাম স্মরণ করে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁর সেবা করে।
ZEP 3:10 কূশ দেশের নদীর ওপার থেকে আমার উপাসনাকারী আমার ছড়িয়ে যাওয়া লোকেরা, আমার জন্য উৎসর্গের বস্তু নিয়ে আসবে।
ZEP 3:11 হে জেরুশালেম আমার প্রতি তুমি যা ভুল করেছিলে তার জন্য তুমি সেদিন লজ্জিত হবে না, কারণ তোমাদের মধ্যে থেকে অহংকারী ও গর্বিত লোকেদের বের করে দেব। আমার পবিত্র পাহাড়ে তারা আর কখন আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে না।
ZEP 3:12 কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে ছেড়ে দেব দীন ও নম্রদের। অবশিষ্টাংশ ইস্রায়েলীরা সদাপ্রভুর নামে আস্থা রাখবে।
ZEP 3:13 তারা কোনো দুষ্কর্ম করবে না; তারা মিথ্যা কথা বলবে না, ছলনার জিহ্বা তাদের মুখে আর পাওয়া না। তারা খাবে আর ঘুমাবে আর কেউই তাদের ভয় দেখাবে না।”
ZEP 3:14 হে সিয়োন-কন্যা, গান করো; হে ইস্রায়েল, জয়ধ্বনি করো! হে জেরুশালেম-কন্যা, তুমি খুশি হও ও অন্তর দিয়ে আনন্দ করো!
ZEP 3:15 সদাপ্রভু তোমার শাস্তি দূর করে দিয়েছেন, তোমার শত্রুদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের রাজা, তোমার সঙ্গে আছেন; তুমি আর কখনও অমঙ্গলের ভয় করবে না।
ZEP 3:16 সেইদিন তারা জেরুশালেমকে বলবে, “হে সিয়োন, ভয় করো না; তোমার হাত পঙ্গু হতে দিয়ো না।
ZEP 3:17 তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার সঙ্গে আছেন, সেই মহাযোদ্ধা যিনি তোমাকে বাঁচান। তিনি তোমাকে নিয়ে খুবই আনন্দিত হবেন; তাঁর ভালোবাসায় তিনি তোমাকে আর তিরস্কার করবেন না, কিন্তু গান দ্বারা তোমার বিষয়ে উল্লাস করবেন।”
ZEP 3:18 “তোমার নির্দিষ্ট উৎসব পালন না করতে পারার জন্য যারা শোক করে তা আমি তোমার থেকে দূর করে দেব, যা তোমার কাছে বোঝা এবং নিন্দা।
ZEP 3:19 যারা তোমাদের উপর নিপীড়িন করেছে সেই সময় আমি তাদের শাস্তি দেব। আমি খোঁড়াদের উদ্ধার করব; আমি নির্বাসিতদের একত্রিত করব। প্রত্যেক দেশে যেখানে তারা লজ্জা সহ্য করেছে আমি তাদের প্রশংসা ও সম্মান দান করব।
ZEP 3:20 সেই সময় আমি তোমাদের একত্রিত করব; সেই সময় আমি তোমাদের ফিরিয়ে আনব। পৃথিবীর সমগ্র জাতিদের মধ্যে আমি তোমাদের সম্মান ও প্রশংসা দান করব তোমাদের চোখের সামনেই আমি তোমাদের অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব,” সদাপ্রভু বলেন।
HAG 1:1 রাজা দারিয়াবসের দ্বিতীয়বর্ষের রাজত্বকালে ষষ্ঠ মাসের প্রথম দিনে সদাপ্রভুর বাক্য ভাববাদী হগয়ের দ্বারা শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল, যিহূদার শাসনকর্তা এবং যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়ের কাছে উপস্থিত হল।
HAG 1:2 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “এই লোকেরা বলে, ‘সদাপ্রভুর গৃহ নির্মাণের সময় এখনও আসেনি।’ ”
HAG 1:3 তখন ভাববাদী হগয়ের মাধ্যমে সদাপ্রভুর বাক্য এল,
HAG 1:4 “এটি কি ঠিক, যে তোমরা নিজের কারুকার্য করা বাড়িতে রয়েছো, যেখানে সদাপ্রভুর গৃহ বিনষ্ট?”
HAG 1:5 এখন সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সযত্নে নিজের পথের বিচার করো।
HAG 1:6 তোমরা অনেক ফসল রোপণ করো, কিন্তু পাও অল্প। তোমরা খাও, কিন্তু তাতে কখনও তৃপ্ত হও না। সুরা পান করো তাও যথেষ্ট হয় না। কাপড় পড়ো কিন্তু তাতে গরম হয় না। কাজের মজুরি ফুটা থলিতে রাখো।”
HAG 1:7 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সযত্নে নিজের পথের বিষয় বিচার করো।
HAG 1:8 আমার গৃহ নির্মাণ করার জন্য পাহাড়ে পাহাড়ে যাও এবং কাঠ নিয়ে এসো, যাতে আমি সন্তুষ্ট এবং সম্মানিত হই,” সদাপ্রভু বলেন।
HAG 1:9 “তোমরা প্রাচুর্যের প্রত্যাশা করো, কিন্তু দেখো, তা অল্পে পরিণত হয়। যা ঘরে নিয়ে আস, আমি তা উড়িয়ে দিই। কেন?” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন। “কারণ তোমরা সব নিজের নিজের ঘর নিয়ে ব্যস্ত এবং আমার ঘর বিনষ্ট।
HAG 1:10 সেই কারণে পৃথিবীতে শিশির পড়া বন্ধ, ফলে ফসলও হচ্ছে না।
HAG 1:11 ক্ষেতখামার আর পাহাড়ের উপর, শস্যের উপর, নতুন দ্রাক্ষারস, জলপাই তেল সবকিছু যা মাটিতে জন্মায়, মনুষ্য আর প্রাণী এবং তোমাদের সকলের হাতের পরিশ্রমের উপর আমি সদাপ্রভু খরার আহ্বান করেছি।”
HAG 1:12 আর তখন শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল, যিহোষাদকের পুত্র মহাপুরোহিত যিহোশূয়, ও অবশিষ্ট লোকেরা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এবং ভাববাদী হগয়ের আদেশ মানল। আর তারা সদাপ্রভুকে ভয় করতে লাগল।
HAG 1:13 তখন সদাপ্রভুর দূত হগয়, লোকদের সদাপ্রভুর এই বার্তা দিলেন, “আমি তোমাদের সঙ্গে আছি,” এই কথা সদাপ্রভু বলেন।
HAG 1:14 এরপর সদাপ্রভু শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল, যিহূদার শাসনকর্তা, যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়, অবশিষ্ট লোকদের অন্তরাত্মাকে উত্তেজিত করলেন। তখন তারা ফিরে এসে একত্রে তাদের ঈশ্বর সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করলেন,
HAG 1:15 ষষ্ঠ মাসের চব্বিশতম দিনে। রাজা দারিয়াবসের দ্বিতীয় বছরের রাজত্বকালে,
HAG 2:1 সপ্তম মাসের একুশ দিনের দিন, সদাপ্রভু বাক্য ভাববাদী হগয়ের মাধ্যমে এল,
HAG 2:2 “শল্টীয়েলের ছেলে যিহূদার শাসনকর্তা সরুব্বাবিলকে, যিহোষাদকের ছেলে মহাযাজক যিহোশূয়কে এবং অবশিষ্ট লোকদের জিজ্ঞাসা করো,
HAG 2:3 ‘তোমাদের মধ্যে কেউ বাকি আছে যে সদাপ্রভুর গৃহের পূর্বের শোভা দেখেছে? এখন তা কেমন দেখাচ্ছে? দেখে মনে হয় না আগেকার তুলনায় এটি এখন কিছুই নয়?
HAG 2:4 কিন্তু এখন, সরুব্বাবিল, বলবান হও,’ এই কথা সদপ্রভু বলেন, ‘যিহোষাদকের ছেলে মহাযাজক যিহোশূয় এবং দেশের অবশিষ্ট লোকেরা বলবান হও, কাজ করে যাও কারণ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি,’ এই কথা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
HAG 2:5 ‘মিশর দেশ থেকে বেরিয়ে আসার সময় আমি তোমাদের সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম যে, আমার আত্মা তোমাদের সঙ্গে থাকবে। তাই ভয় করো না।’
HAG 2:6 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি আবার আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং ভূমিকে প্রকম্পিত করব।
HAG 2:7 আমি সমগ্র জাতিকে নাড়া দেব, ও সব জাতির মনোরঞ্জনকারী আসবেন, এবং এই গৃহ প্রতাপে পরিপূর্ণ করব,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু একথাই বলেন।
HAG 2:8 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, ‘সোনা আমার ও রুপোও আমার,
HAG 2:9 ভবনের বর্তমানের শোভা অতীতের শোভার চেয়ে মহান হবে।’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন। ‘আর এখানেই আমি শান্তি প্রদান করব,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।”
HAG 2:10 নবম মাসের চব্বিশ দিনে, রাজা দারিয়াবসের দ্বিতীয় বছরের রাজত্বকালে ভাববাদী হগয়ের কাছে সদাপ্রভুর বাক্য উপস্থিত হল।
HAG 2:11 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘বিধান সমন্ধে পুরোহিতদের জিজ্ঞাসা করো,
HAG 2:12 যদি কেউ নিজের কাপড়ের ভাঁজে পবিত্র মাংস বহন করে, এবং সেই ভাঁজ করা কাপড় কোনো রুটি বা সিদ্ধ করা খাবার, দ্রাক্ষারস, জলপাই তেল বা অন্যান্য খাদ্যবস্তুকে স্পর্শ করে, কি সেই বস্তুসমগ্র পবিত্র হবে?’ ” পুরোহিতরা উত্তর দিল, “না।”
HAG 2:13 তারপর হগয় জিজ্ঞাসা করলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি মৃতদেহ স্পর্শ করে অশুচি হয়ে, এইসব বস্তুর মধ্যে কাউকে স্পর্শ করে, কি তা অশুচি হবে?” পুরোহিতরা উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, সেটি অশুচি হয়ে যাবে।”
HAG 2:14 তখন হগয় বললেন, সদাপ্রভুর বলছেন, “ ‘আমার দৃষ্টিতে এই জাতি ও দেশ এমনই, তারা সেখানে যেসব কাজকর্ম করে এবং যা কিছু উৎসর্গ করে সেসব অশুচি।’
HAG 2:15 “ ‘এখন থেকে সযত্নে চিন্তা করো—সদাপ্রভুর গৃহ স্থাপিত হওয়ার আগে যখন একটি পাথরের উপরে আরেকটি পাথর ছিল না তখন কি অবস্থা ছিল।
HAG 2:16 কেউ যখন কুড়ি কাঠা শস্যরাশির কাছে আসত, তখন শুধুমাত্র দশ কাঠা পেত। কেউ যখন দ্রাক্ষারসের ভাঁটি থেকে পঞ্চাশ পাত্র দ্রাক্ষারস নেওয়ার জন্য যেত, তখন শুধুমাত্র কুড়ি পাত্রই থাকত।
HAG 2:17 আমি তোমাদের হাতের কাজকে ক্ষয়রোগ, ছাতারোগ আর শিলাবৃষ্টি দিয়ে আঘাত করেছি, তা সত্ত্বেও তোমরা আমার দিকে ফেরোনি,’ সদাপ্রভু বলেন।
HAG 2:18 ‘সযত্নে চিন্তা করো আজ নবম মাসের চব্বিশ দিন থেকে সদাপ্রভুর মন্দিরের ভিত্তিমূল স্থাপনের দিন পর্যন্ত। সযত্নে চিন্তা করো,
HAG 2:19 এখনও কি গোলাঘরে কোনো বীজ আছে? এখনও পর্যন্ত দ্রাক্ষালতা, ডুমুর, ডালিম ও জলপাই গাছে ফলও ভালো করে ধরেনি। “ ‘এখন থেকে আমি সদাপ্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করব।’ ”
HAG 2:20 সেই মাসের চব্বিশতম দিনে দ্বিতীয়বার সদাপ্রভুর বাক্য হগয়ের কাছে এল,
HAG 2:21 “যিহূদার শাসক সরুব্বাবিলকে বলো যে আমি আকাশ আর পৃথিবীকে নাড়াবো।
HAG 2:22 আমি রাজাদের সিংহাসন উল্টে দেব এবং বিজাতীয় রাজ্যের ক্ষমতা শেষ করে দেব। আমি রথ ও তার চালকদের উল্টে দেব; ঘোড়া এবং ঘোড়সওয়ারেরা প্রত্যকে তার ভাইদের তরোয়ালের দ্বারা মারা যাবে।
HAG 2:23 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, ‘সেইদিন, শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল, আমার দাসকে গ্রহণ করব এবং আমার সিলমোহরের আংটির মতো করব কারণ আমি তোমাকে মনোনীত করেছি,’ সর্বশক্তিমান সদপ্রভু এই কথা বলেন।”
ZEC 1:1 দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরের অষ্টম মাসে, সদাপ্রভুর বাক্য বেরিখিয়ের ছেলে ভাববাদী সখরিয়ের কাছে এল, বেরিখিয় ছিল ইদ্দোর ছেলে।
ZEC 1:2 “সদাপ্রভু তোমার পূর্বপুরুষদের উপর ভীষণ রেগে ছিলেন।
ZEC 1:3 অতএব লোকদের বলো, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন ‘আমার দিকে ফেরো,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, ‘আর আমিও তোমাদের দিকে ফিরব,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
ZEC 1:4 তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো হোয়ো না, যাদের কাছে আগেকার ভাববাদীরা ঘোষণা করেছিল সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন ‘তোমাদের মন্দ পথ এবং তোমাদের মন্দ অভ্যাস থেকে ফেরো।’ কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি বা মনোযোগ দেয়নি, এই কথা সদাপ্রভু ঘোষণা করেন।
ZEC 1:5 তোমাদের পূর্বপুরুষেরা এখন কোথায়? তারা এবং ভাববাদীরা কি চিরকাল বেঁচে থাকে?
ZEC 1:6 কিন্তু আমি আমার দাস ভাববাদীদের যেসব আদেশ দিয়েছিলাম, আমার সেই বাক্য এবং আদেশ অনুসারে কি তোমাদের পূর্বপুরুষেরা করেনি? “তখন তারা মন ফিরিয়ে বলেছিল, ‘সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাদের পথ এবং অভ্যাসের জন্য যা প্রাপ্য তাই তিনি আমাদের প্রতি করেছেন, যেমন তিনি করতে মনস্থির করেছিলেন।’ ”
ZEC 1:7 দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরের এগারো মাসের, অর্থাৎ শবাট মাসের, চব্বিশ দিনের দিন সদাপ্রভুর বাক্য বেরিখিয়ের ছেলে ভাববাদী সখরিয়ের কাছে এল, বেরিখিয় ছিল ইদ্দোর ছেলে।
ZEC 1:8 রাতের বেলায় আমি একটি দর্শন দেখলাম, এবং আমি দেখলাম একজন লোক একটি লাল ঘোড়ায় চড়ে আছে। সে একটি খাদের ভিতরে মেদি গাছগুলির মধ্যে দাঁড়িয়েছিল। তার পিছনে লাল, বাদামি এবং সাদা ঘোড়া ছিল।
ZEC 1:9 আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আমার প্রভু, এগুলি কী?” যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি আমাকে বললেন, “সেগুলি কী তা আমি তোমাকে দেখাব।”
ZEC 1:10 তখন যে লোকটি মেদি গাছগুলির মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি ব্যাখ্যা করলেন, “সারা পৃথিবীতে ঘুরে দেখবার জন্য সদাপ্রভু এগুলিকে পাঠিয়েছেন।”
ZEC 1:11 আর সদাপ্রভুর যে দূত মেদি গাছগুলির মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁকে ঘোড়াসওয়ারেরা বলল, “আমরা সারা পৃথিবীতে ঘুরে দেখলাম যে, সমগ্র জগতে সুস্থিরতা ও শান্তি বিরাজমান।”
ZEC 1:12 তখন সদাপ্রভুর দূত বললেন, “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু, তুমি জেরুশালেম ও যিহূদার নগরগুলির উপর এই যে সত্তর বছর অসন্তুষ্ট হয়ে রয়েছ তাদের উপর আর কত কাল তুমি মমতা না করে থাকবে?”
ZEC 1:13 তখন যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন সদাপ্রভু তাঁকে অনেক মঙ্গলের ও সান্ত্বনার কথা বললেন।
ZEC 1:14 তখন যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এই কথা ঘোষণা করো: সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন ‘জেরুশালেম ও সিয়োনের জন্য আমি অন্তরে খুব উদ্যোগী হয়েছি,
ZEC 1:15 কিন্তু নিশ্চিন্তে থাকা জাতিগুলির উপরে আমি ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়েছি। আমি কেবল অল্প অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম, কিন্তু জাতিরা তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।’
ZEC 1:16 “অতএব, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আমি জেরুশালেমকে মমতা করার জন্য ফিরে আসব, এবং সেখানে আবার আমার গৃহ পুনর্নির্মিত হবে। আর জেরুশালেম নির্মাণের জন্য মাপ নেওয়া হবে,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 1:17 “আরও ঘোষণা করো: সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘আমার নগরগুলি আবার মঙ্গলে উপচে পড়বে, এবং সদাপ্রভু আবার সিয়োনকে সান্ত্বনা দেবেন এবং জেরুশালেমকে মনোনীত করবেন।’ ”
ZEC 1:18 তারপর আমি চোখ তুলে দেখলাম, আর সেখানে আমার সামনে চারটি শিং ছিল!
ZEC 1:19 যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এগুলি কি?” তিনি উত্তর দিলেন, “এগুলি সেই শিং যা যিহূদা, ইস্রায়েল এবং জেরুশালেমকে ছিন্নভিন্ন করেছে।”
ZEC 1:20 সদাপ্রভু তারপর আমাকে চারজন কারিগরকে দেখালেন।
ZEC 1:21 আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “এরা কী করতে আসছে?” তিনি উত্তর দিলেন, “সেই শিংগুলি হল সেইসব জাতির শক্তি যারা যিহূদার লোকদের এমনভাবে ছিন্নভিন্ন করেছে যে, তারা কেউ মাথা তুলতে পারেনি, কিন্তু সেইসব জাতিকে ভয় দেখাবার জন্য ও তাদের শক্তি ধ্বংস করবার জন্য এই কারিগরেরা এসেছে।”
ZEC 2:1 তারপর আমি চোখ তুলে দেখলাম, আর সেখানে আমার সামনে মাপের দড়ি হাতে একজন লোক ছিল!
ZEC 2:2 আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” তিনি উত্তর দিলেন, “জেরুশালেমকে মাপতে, সেটা কত চওড়া আর কত লম্বা তা দেখতে যাচ্ছি।”
ZEC 2:3 তারপর যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি চলে যাচ্ছিলেন, এমন সময় আর একজন স্বর্গদূত তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেন
ZEC 2:4 এবং তাঁকে বললেন, “আপনি দৌড়ে গিয়ে ওই যুবককে বলুন, ‘জেরুশালেমের মধ্যে মানুষ ও পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ার দরুন তাতে কোনও প্রাচীর থাকবে না।
ZEC 2:5 এবং আমি নিজেই তার চারপাশে আগুনের প্রাচীর হব আর তার মধ্যে মহিমাস্বরূপ হব,’ সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 2:6 “এসো! এসো! উত্তর দেশ থেকে পালাও,” সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “কেননা আমি তোমাদের আকাশে বাতাসের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছি,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 2:7 “এসো, হে সিয়োন! তোমরা যারা ব্যাবিলনে বাস করছ, পালাও!”
ZEC 2:8 কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন: “সেই প্রতাপান্বিত জন যারা তোমাদের লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে পাঠানোর পরে—কারণ যে কেউ তোমাদের স্পর্শ করে সে আমার চোখের মণি স্পর্শ করে—
ZEC 2:9 আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে আমার হাত উঠাব যাতে তাদের দাসেরা তাদের লুট করবে। তখন তারা জানতে পারবে যে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাকে পাঠিয়েছেন।
ZEC 2:10 “হে সিয়োন-কন্যা, আনন্দগান করো এবং খুশি হও। কেননা আমি আসছি, এবং আমি তোমাদের মধ্যে বাস করব,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 2:11 “সেদিন অনেক জাতি সদাপ্রভুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমার লোক হবে। আমি তোমাদের মধ্যে বাস করব আর তোমরা জানবে যে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
ZEC 2:12 সদাপ্রভু পবিত্র দেশে নিজের অংশ বলে যিহূদাকে অধিকার করবেন ও জেরুশালেমকে আবার মনোনীত করবেন।
ZEC 2:13 সমস্ত মানুষ, সদাপ্রভুর সামনে নীরব হও, কেননা তিনি নিজের পবিত্র বাসস্থানের মধ্য থেকে বের হয়ে এসেছেন।”
ZEC 3:1 তারপর তিনি আমাকে দেখালেন মহাযাজক যিহোশূয় সদাপ্রভুর দূতের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁকে দোষ দেবার জন্য শয়তান তাঁর ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছে।
ZEC 3:2 সদাপ্রভু শয়তানকে বললেন, “শয়তান, সদাপ্রভু তোমাকে ভীষণ তিরস্কার করুন! যিনি জেরুশালেমকে মনোনীত করেছেন, সেই সদাপ্রভু তোমাকে ভীষণ তিরস্কার করুন! এই লোকটি কি আগুন থেকে বের করে নেওয়া কাঠ নয়?”
ZEC 3:3 তখন যিহোশূয় নোংরা কাপড় পরা অবস্থায় সেই স্বর্গদূতের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
ZEC 3:4 যারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়েছিল তাদের সেই স্বর্গদূত বললেন, “তার নোংরা কাপড় খুলে ফেলো।” তারপর তিনি যিহোশূয়কে বললেন, “দেখো, আমি তোমার পাপ দূর করে দিয়েছি, এবং আমি তোমাকে দামি পোশাক পরাব।”
ZEC 3:5 তখন আমি বললাম, “তাঁর মাথায় পরিষ্কার পাগড়ি দাও।” সেইজন্য তারা তাঁর মাথায় একটি পরিষ্কার পাগড়ি দিলেন এবং কাপড় পরালেন, তখনও সদাপ্রভুর দূত তাদের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন।
ZEC 3:6 সদাপ্রভুর দূত যিহোশূয়কে এই দায়িত্ব দিলেন:
ZEC 3:7 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন ‘তুমি যদি আমার পথে চলো ও আমার ইচ্ছা অনুসারে কাজ করো, তাহলে তুমি আমার গৃহের পরিচালনা করবে ও আমার উঠানের দায়িত্ব পাবে, এবং যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে আমি তাদের মতোই আমার সামনে আসবার অধিকার তোমাকে দেব।
ZEC 3:8 “ ‘হে মহাযাজক যিহোশূ্‌য় এবং তোমার সহযোগীরা যারা তোমার সামনে বসে আছে শোনো, কেননা তারা অদ্ভুত লক্ষণের লোক; আমি আমার দাস, সেই চারাকে, নিয়ে আসব।
ZEC 3:9 দেখো, আমি যিহোশূয়ের সামনে এই পাথর স্থাপন করেছি! সেই পাথরের উপরে সাতটা চোখ আছে, আর আমি তার উপরে একটি কথা খোদাই করব, এবং এই দেশের পাপ একদিনেই দূর করব,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ZEC 3:10 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু ঘোষণা করেন, ‘সেদিনে তোমরা প্রত্যেকে নিজের প্রতিবেশীকে তোমাদের দ্রাক্ষালতার তলায় ও ডুমুর গাছের তলায় বসবার জন্য নিমন্ত্রণ করবে।’ ”
ZEC 4:1 পরে যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি ফিরে আসলেন এবং ঘুম থেকে জাগাবার মতো করে আমাকে জাগালেন।
ZEC 4:2 তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী দেখছ?” আমি উত্তর দিলাম, “আমি একটি সোনার বাতিদান দেখতে পাচ্ছি যার মাথার উপরে একটি পাত্র ও তার উপরে সাতটি প্রদীপ এবং সেই প্রদীপগুলির জন্য সাতটি নল।
ZEC 4:3 এছাড়াও তার পাশে দুটি জলপাই গাছ আছে, একটি পাত্রের ডানদিকে আর অন্যটি তার বাঁদিকে।”
ZEC 4:4 আমার সঙ্গে যে স্বর্গদূত কথা বলছিলেন তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আমার প্রভু, এগুলি কী?”
ZEC 4:5 তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি কি জানো না এগুলি কী?” আমি উত্তর দিলাম, “হে প্রভু, না।”
ZEC 4:6 তখন তিনি আমাকে বললেন, “সদাপ্রভু সরুব্বাবিলকে এই কথা বলছেন: ‘বল দ্বারা নয় শক্তি দ্বারাও নয়, কিন্তু আমার আত্মা দ্বারা,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ZEC 4:7 “হে বিরাট পাহাড়, কে তুমি? সরুব্বাবিলের সামনে তুমি হবে সমভূমি। তারপর মস্তকস্বরূপ পাথরটা বের করে আনবার সময় তারা চিৎকার করে বলবে ‘ঈশ্বর একে আশীর্বাদ করো! ঈশ্বর একে আশীর্বাদ করো!’ ”
ZEC 4:8 তারপর সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল
ZEC 4:9 “সরুব্বাবিলের হাত এই মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করেছে; তাঁরই হাত এটি শেষ করবে। তখন তোমরা জানতে পারবে যে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুই আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
ZEC 4:10 “সামান্য বিষয়ের দিনকে কে তুচ্ছজ্ঞান করেছে? লোকেরা আনন্দ করবে যখন তারা সরুব্বাবিলের হাতে ওলন-দড়ি দেখবে, যেহেতু এগুলি হল সদাপ্রভুর সাতটা চোখ, যেগুলি সারা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করে।”
ZEC 4:11 তখন আমি স্বর্গদূতকে জিজ্ঞাসা করলাম, “বাতিদানের ডানদিকে ও বামদিকে এই জলপাই গাছগুলি কী?”
ZEC 4:12 আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম, “দুটো সোনার নল যেগুলি সোনার তেল ঢালে তার দুদিকে এই দুটো জলপাই ডাল কী?”
ZEC 4:13 তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি কি জানো না এগুলি কী?” আমি উত্তর দিলাম, “হে প্রভু, না।”
ZEC 4:14 তখন তিনি বললেন, “এই দুটি হল সেই দুজন যারা সমগ্র জগতে প্রভুর সেবা করার জন্য অভিষিক্ত হয়েছে।”
ZEC 5:1 পরে আমি আবার তাকালাম, আর দেখলাম আমার সামনে একটি উড়ন্ত গুটানো চামড়ার পুঁথি!
ZEC 5:2 তিনি আমায় জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী দেখছ?” আমি উত্তর দিলাম, “আমি ত্রিশ ফুট লম্বা ও পনেরো ফুট চওড়া একটি উড়ন্ত গুটানো চামড়ার পুঁথি দেখছি।”
ZEC 5:3 তিনি আমাকে আবার বললেন, “এটি হল সেই অভিশাপ যা সমস্ত দেশের উপর পড়বে; কারণ একদিকে যা লেখা আছে সেই অনুসারে, সব চোরেরা নির্বাসিত হবে, এবং অন্য দিকের কথা অনুসারে, মিথ্যা শপথকারীরা নির্বাসিত হবে।
ZEC 5:4 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, ‘আমি তাকে বের করে আনব, এবং সে চোরেদের বাড়িতে ও আমার নামে মিথ্যা শপথকারীদের বাড়িতে ঢুকবে। সে সেই বাড়িতে থেকে কাঠ ও পাথর শুদ্ধ বাড়ি ধ্বংস করবে।’ ”
ZEC 5:5 পরে সেই স্বর্গদূত যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি এগিয়ে এসে আমাকে বললেন, “তুমি উপরে তাকিয়ে দেখো কী আসছে।”
ZEC 5:6 আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “ওটি কী?” তিনি উত্তর দিলেন, “এটি ঐফা।” আর তিনি আরও বললেন, “এটি সমস্ত দেশে তাদের অধর্ম।”
ZEC 5:7 তারপর সীসার ঢাকনি তোলা হল, আর ঐফার মধ্যে একজন স্ত্রীলোক বসেছিল!
ZEC 5:8 তিনি বললেন, “এ হল দুষ্টতা,” এই বলে তিনি সেই স্ত্রীলোকটিকে ঐফার মধ্যে ঠেলে দিয়ে ঐফার মুখে সীসার ঢাকনিটা চেপে দিলেন।
ZEC 5:9 তারপর আমি উপরে তাকালাম, আর দেখলাম আমার সামনে দুজন স্ত্রীলোক, তাদের ডানায় বাতাস ছিল! তাদের ডানা ছিল সারস পাখির ডানার মতো, এবং তারা পৃথিবী ও আকাশের মাঝখানে সেই ঐফাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল।
ZEC 5:10 যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “তারা ঐফা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?”
ZEC 5:11 তিনি উত্তর দিলেন, “তার জন্য বাড়ি তৈরি করতে ব্যাবিলন দেশে নিয়ে যাচ্ছে। সেটা যখন প্রস্তুত হবে; ঐফাকে তার জায়গায় বসানো হবে।”
ZEC 6:1 পরে আমি আবার উপরদিকে তাকালাম, আর দেখলাম চারটে রথ দুটো পাহাড়ের মাঝখান থেকে বের হয়ে আসছিল, পাহাড় দুটো ছিল ব্রোঞ্জের।
ZEC 6:2 প্রথম রথে ছিল লাল ঘোড়া, দ্বিতীয়টাতে ছিল কালো,
ZEC 6:3 তৃতীয়টাতে ছিল সাদা, এবং চতুর্থটাতে ছিল বিভিন্ন রংয়ের ঘোড়া, সব ঘোড়াই ছিল শক্তিশালী।
ZEC 6:4 যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আমার প্রভু, এগুলি কী?”
ZEC 6:5 স্বর্গদূত আমাকে উত্তর দিলেন, “এগুলি স্বর্গের চারটি আত্মা সমস্ত জগতের প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকবার পরে এগুলি বের হয়ে আসছে।
ZEC 6:6 কালো ঘোড়ার রথটা উত্তর দেশের দিকে যাচ্ছে, সাদা ঘোড়ার রথটা যাচ্ছে পশ্চিমদিকে এবং বিভিন্ন রংয়ের ছাপের ঘোড়ার রথটা যাচ্ছে দক্ষিণ দিকে।”
ZEC 6:7 শক্তিশালী ঘোড়াগুলি যখন বের হল, তারা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। তখন তিনি বললেন, “পৃথিবীর সমস্ত জায়গা ঘুরে দেখো!” তাতে তারা পৃথিবী সমস্ত জায়গা ঘুরে দেখতে গেল।
ZEC 6:8 তারপর তিনি আমাকে ডেকে বললেন, “দেখো, যারা উত্তর দেশের দিকে যাচ্ছে তারা উত্তর দেশে আমার আত্মাকে সুস্থির করেছে।”
ZEC 6:9 পরে সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
ZEC 6:10 “ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা হিল্‌দয়, টোবিয় ও যাদায়ের কাছ থেকে তুমি সোনা ও রুপো নাও। সেদিনই সফনিয়ের ছেলে যোশিয়ের বাড়ি যাও।
ZEC 6:11 তুমি সোনা ও রুপো নিয়ে একটি মুকুট তৈরি করো, সেটা যিহোষাদকের ছেলে যিহোশূয় মহাযাজকের মাথায় পরিয়ে দাও।
ZEC 6:12 তাঁকে বলো সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘এই সেই লোক যার নাম পল্লব, তিনি নিজের জায়গা থেকে বেড়ে উঠবেন এবং সদাপ্রভুর মন্দির গাঁথবেন।
ZEC 6:13 হ্যাঁ, তিনিই সদাপ্রভুর মন্দির গাঁথবেন, এবং তাঁকে রাজার সম্মান দেওয়া হবে আর তিনি নিজের সিংহাসনে বসে শাসন করবেন। তিনি একজন যাজক হিসেবে সিংহাসনে বসবেন ও এই দুই পদের মধ্যে কোনও অমিল থাকবে না।’
ZEC 6:14 এই মুকুট হেলেমের, টোবিয়ের, যিদায়ের ও সফনিয়ের ছেলে হেনকে স্মারক হিসেবে সদাপ্রভুর মন্দিরে দেওয়া হবে।
ZEC 6:15 যারা দূরে আছে তারা এসে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করতে সাহায্য করবে, আর তোমরা জানবে যে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তোমরা যদি যত্নের সঙ্গে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাক্য পালন করো তবেই এসব হবে।”
ZEC 7:1 রাজা দারিয়াবসের রাজত্বের চতুর্থ বছরের কিশ্‌লেব নামক নবম মাসের চতুর্থ দিন সদাপ্রভুর বাক্য সখরিয়ের কাছে উপস্থিত হল।
ZEC 7:2 বেথেলের লোকেরা শরেৎসরকে, রেগম্মেলককে ও তাদের লোকদের সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করতে পাঠিয়েছিল
ZEC 7:3 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর গৃহের যাজকদের ও ভাববাদীদের একথা জিজ্ঞাসা করার দ্বারা, “আমি এত বছর যেমন করে এসেছি সেভাবে কি পঞ্চম মাসেও শোকপ্রকাশ ও উপবাস করব?”
ZEC 7:4 পরে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল,
ZEC 7:5 “তুমি দেশের সব লোকদের ও যাজকদের জিজ্ঞাসা করো, ‘তোমরা গত সত্তর বছর ধরে পঞ্চম ও সপ্তম মাসে যে শোকপ্রকাশ ও উপবাস করেছ, তা কি সত্যিই আমার উদ্দেশে করেছ?
ZEC 7:6 আর যখন তোমরা খেয়েছ ও পান করেছ, তোমরা কি নিজেদের জন্যই তা করোনি?
ZEC 7:7 যখন জেরুশালেম ও তার চারপাশের নগরগুলিতে লোকজন বাস করছিল ও সেগুলির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল আর নেগেভ ও পশ্চিমের নিচু পাহাড়ি এলাকায় যখন লোকদের বসতি ছিল তখনও কি সদাপ্রভু এসব কথা পূর্বতন ভাববাদীদের মাধ্যমে বলেননি?’ ”
ZEC 7:8 আর সদাপ্রভুর বাক্য সখরিয়ের কাছে উপস্থিত হল,
ZEC 7:9 “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘তোমরা ন্যায়ভাবে বিচার করো, একে অন্যের প্রতি করুণা করো ও সহানুভূতি দেখাও।
ZEC 7:10 তোমরা বিধবাদের বা অনাথদের, বিদেশিদের বা গরিবদের উপর অত্যাচার কোরো না। একে অন্যের বিষয় হৃদয়ে মন্দ চিন্তা কোরো না।’
ZEC 7:11 “কিন্তু তারা তা শুনতে চায়নি; একগুঁয়েমি করে তারা পিছন ফিরে তাদের কান বন্ধ করে রেখেছিল।
ZEC 7:12 তারা তাদের হৃদয় চকমকি পাথরের মতো শক্ত করেছিল এবং বিধানের কথা অথবা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাঁর আত্মা দ্বারা আগেকার ভাববাদীদের মাধ্যমে যে বাক্য পাঠিয়েছিলেন তা যেন শুনতে না হয়। এই জন্য তাদের উপর সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর মহাক্রোধ উপস্থিত হয়েছিল।
ZEC 7:13 “ ‘আমি যখন ডেকেছিলাম, তারা শোনেনি; সেইজন্য তারা যখন ডাকবে, আমিও শুনব না,’ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন।
ZEC 7:14 ‘আমি তাদের ঘূর্ণিঝড় দিয়ে অপরিচিত জাতিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। এরপরে তাদের দেশ এত জনশূন্য হয়ে পড়েছিল যে, সেখানে কেউ যাওয়া-আসা করত না। এইভাবে তারা সেই সুন্দর দেশটাকে জনশূন্য করেছিল।’ ”
ZEC 8:1 পরে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর এই বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হল।
ZEC 8:2 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন. “সিয়োনের জন্য আমার খুব ঈর্ষা আছে; আমি তার জন্য ঈর্ষায় জ্বলছি।”
ZEC 8:3 সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি সিয়োনে ফিরে যাব এবং জেরুশালেমে বাস করব। তখন জেরুশালেমকে বিশ্বস্ততার নগর বলা হবে, এবং সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর পাহাড়কে বলা হবে পবিত্র পাহাড়।”
ZEC 8:4 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ও স্ত্রীলোকেরা আবার জেরুশালেমের খোলা জায়গায় বসবে আর বেশি বয়সের দরুন তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি থাকবে।
ZEC 8:5 নগরের খোলা জায়গা পূর্ণ করে বালক ও বালিকারা খেলা করবে।”
ZEC 8:6 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “এসব যে ঘটবে তা এই জাতির বেঁচে থাকা লোকদের কাছে অসম্ভব বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে কি তা অসম্ভব বলে মনে হবে?” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 8:7 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি পূর্বদেশ এবং পশ্চিম দেশ থেকে আমার লোকদের উদ্ধার করব।
ZEC 8:8 জেরুশালেমে বাস করার জন্য আমি তাদের ফিরিয়ে আনব; তারা আমার লোক হবে, এবং আমি তাদের প্রতি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ থেকে তাদের ঈশ্বর হব।”
ZEC 8:9 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর গৃহের ভিত্তি স্থাপনের সময় ভাববাদীদের মুখের কথা এখন যে তোমরা শুনতে পাচ্ছ, তোমাদের হাত সবল হোক যেন মন্দির নির্মাণ করা হয়।
ZEC 8:10 সেই কাজ আরম্ভ করার আগে কোনও মানুষের বেতন কিংবা পশুর ভাড়া ছিল না। শত্রুর দরুন কেউ নিরাপদে নিজের কাজ করার জন্য চলাফেরা করতে পারত না, কারণ আমি প্রত্যেকজনকে নিজের নিজের প্রতিবেশীর বিরোধী করে তুলেছিলাম।
ZEC 8:11 কিন্তু এখন আমি এই জাতির বেঁচে থাকা লোকদের সঙ্গে আগেকার মতো ব্যবহার করব না,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 8:12 “বীজ থেকে গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠবে, দ্রাক্ষালতায় ফল ধরবে, মাটিতে ফসল ফলবে, আর আকাশ থেকে শিশির পড়বে। এই জাতির বেঁচে থাকা লোকেদের আমি এসবের উত্তরাধিকারী করব।
ZEC 8:13 হে যিহূদা ও ইস্রায়েল, জাতিগণের মধ্যে তোমরা যেমন অভিশাপস্বরূপ ছিলে, কিন্তু এখন আমি তোমাদের উদ্ধার করব, আর তোমরা আশীর্বাদস্বরূপ হবে। ভয় কোরো না, বরং শক্তিশালী হও।”
ZEC 8:14 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “আমি যেমন তোমার বিরুদ্ধে বিপর্যয় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এবং তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে ক্রুদ্ধ করাতে আমি তাদের প্রতি কোনও করুণা দেখাইনি,” এই কথা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন,
ZEC 8:15 “সুতরাং এখন আমি আবার যিহূদা ও জেরুশালেমের প্রতি মঙ্গল করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভয় কোরো না।
ZEC 8:16 এসব কাজ তোমাদের করতে হবে: একে অন্যের কাছে সত্যিকথা বলবে এবং তোমাদের আদালতে সত্য ও ন্যায়বিচার করবে;
ZEC 8:17 তোমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অনিষ্ট পরিকল্পনা করবে না, এবং মিথ্যা শপথ ভালোবেসো না। আমি এগুলি ঘৃণা করি,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 8:18 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর বাক্য আবার আমার কাছে উপস্থিত হল।
ZEC 8:19 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও দশম মাসের উপবাস যিহূদার জন্য আনন্দের, খুশির ও মঙ্গলের উৎসব হয়ে উঠবে। অতএব তোমরা সত্য ও শান্তি ভালোবেসো।”
ZEC 8:20 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “অনেক মানুষ এবং অনেক নগরের বাসিন্দারা জেরুশালেমে আসবে,
ZEC 8:21 আর এক নগরের বাসিন্দা অন্য নগরে গিয়ে বলবে, ‘চলো, আমরা সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করতে ও সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর অন্বেষণ করতে এখনই যাই। আমিও যাব।’
ZEC 8:22 আর অনেক জাতির লোক ও শক্তিশালী জাতিরা সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করতে জেরুশালেমে আসবে।”
ZEC 8:23 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা বলেন, “সেই সময় বিভিন্ন ভাষা ও জাতির দশজন লোক একজন ইহুদির পোশাকের আঁচল ধরে বলবে, ‘চলো, আমরা তোমার সঙ্গে যাই, কারণ আমরা শুনেছি যে, ঈশ্বর তোমাদেরই সঙ্গে আছেন।’ ”
ZEC 9:1 এক ভাববাণী: হদ্রক দেশের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর বাক্য এবং দামাস্কাসের উপরে তা অবস্থান করবে— কেননা ইস্রায়েলের গোষ্ঠীগুলির ও অন্য সব মানুষের চোখ সদাপ্রভুর উপরে রয়েছে—
ZEC 9:2 আর হমাৎ-এর উপরেও, যে তার সীমানার কাছে, এবং সোর ও সীদোনের উপরে, যদিও তারা খুবই দক্ষ।
ZEC 9:3 সোর তার জন্য একটি দৃঢ় দুর্গ তৈরি করেছে; সে ধুলোর মতো রুপোর স্তূপ করেছে, এবং রাস্তার কাদার মতো সোনা জড়ো করেছে।
ZEC 9:4 কিন্তু প্রভু তার সবকিছু দূর করে দেবেন আর তার সমুদ্রের শক্তিকে ধ্বংস করবেন, এবং আগুন তাকে গ্রাস করবে।
ZEC 9:5 অস্কিলোন তা দেখে ভয় পাবে; গাজা নিদারুণ যন্ত্রণায় কষ্ট পাবে, এবং ইক্রোণের দশাও তাই হবে, কারণ তার আশা পূর্ণ হবে না। গাজা তার রাজাকে হারাবে আর অস্কিলোনে কেউ বাস করবে না।
ZEC 9:6 বিদেশিরা অস্‌দোদ দখল করবে, এবং আমি ফিলিস্তিনীদের অহংকার শেষ করে দেব।
ZEC 9:7 আমি তাদের মুখ থেকে রক্ত, দাঁতের মধ্যে থেকে নিষিদ্ধ খাবার বের করব। যারা অবশিষ্ট থাকবে তারা আমাদের ঈশ্বরের লোক হবে আর তারা হবে যিহূদার একটি পরিবার গোষ্ঠী, এবং ইক্রোণ হবে যিবূষীয়ের মতো।
ZEC 9:8 কিন্তু আমি আমার গৃহ রক্ষা করব অনুপ্রবেশকারী বাহিনী থেকে। কোনো অত্যাচারী আর কখনও আমার লোকদের ধরবে না, কারণ এখন আমি পাহারা দিচ্ছি।
ZEC 9:9 হে সিয়োন-কন্যা, খুব আনন্দ করো! হে জেরুশালেম-কন্যা, জয়ধ্বনি করো! দেখো, তোমার রাজা তোমার কাছে আসছেন, তিনি ধর্মময় ও বিজয়ী, নম্র ও গাধার পিঠে চড়ে আসছেন, গাধির বাচ্চার উপরে চড়ে আসছেন।
ZEC 9:10 আমি ইফ্রয়িমের কাছ থেকে রথ নিয়ে নেব ও জেরুশালেমের যুদ্ধের ঘোড়া, এবং যুদ্ধের ধনুক ভেঙে ফেলা হবে। তিনি জাতিগণের মধ্যে শান্তি ঘোষণা করবেন। তাঁর শাসন এক সমুদ্র থেকে অপর সমুদ্র পর্যন্ত প্রসারিত হবে এবং নদী থেকে পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত হবে।
ZEC 9:11 তোমার ক্ষেত্রে, তোমার সঙ্গে স্থাপিত আমার নিয়মের রক্তের কারণে, আমি তোমার বন্দিদের নির্জলা গর্ত থেকে মুক্ত করে দেব।
ZEC 9:12 হে আশায় পূর্ণ বন্দিরা, তোমরা তোমাদের দুর্গে ফিরে যাও; আমি আজই প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি তোমাদের দুই গুণ আশীর্বাদ করব।
ZEC 9:13 আমি যেমন ধনুক নত করি তেমনি যিহূদাকে নত করব এবং ইফ্রয়িমকে তিরের মতো ব্যবহার করব। হে সিয়োন, আমি তোমার ছেলেদের উত্তেজিত করে তুলব, হে গ্রীস, তোমার ছেলেদের বিরুদ্ধে, এবং তোমাকে যোদ্ধার তরোয়ালের মতো করব।
ZEC 9:14 তারপর সদাপ্রভু তাদের ঊর্ধ্বে দর্শন দেবেন; তাঁর তির বিদ্যুতের মতো চমকাবে। সার্বভৌম সদাপ্রভু তূরী বাজাবেন; তিনি দক্ষিণের ঝোড়ো বাতাসের মতো এগিয়ে যাবেন,
ZEC 9:15 এবং সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের রক্ষা করবেন। তারা ধ্বংস করবে এবং গুলতি দ্বারা জয়লাভ করবে। তারা মত্ত হবে এবং দ্রাক্ষারসে মত্ত লোকের মতো শব্দ করবে; তারা বড়ো পানপাত্রের মতো পূর্ণ হবে যা যজ্ঞবেদির কোণে ছিটাবার জন্য ব্যবহার করা হয়।
ZEC 9:16 সেদিন তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তাদের রক্ষা করবেন যেমন মেষপালক তার মেষদের রক্ষা করেন। তারা মুকুটের মণির মতো তাঁর দেশে ঝকমক করবে।
ZEC 9:17 তারা কেমন আকর্ষণীয় এবং সুন্দর হবে! শস্য খেয়ে যুবকেরা সতেজ হয়ে উঠবে, এবং নতুন দ্রাক্ষারস পান করে যুবতীরা।
ZEC 10:1 বসন্তকালে সদাপ্রভুর কাছে বর্ষা চাও; সদাপ্রভুই ঝড়ের মেঘ তৈরি করেন। তিনি লোকদের প্রচুর বৃষ্টি দেন, আর সকলের ক্ষেতে উদ্ভিদ জন্মান।
ZEC 10:2 প্রতিমাগুলি ছলনার কথা বলে, গণকেরা মিথ্যা দর্শন দেখে; তারা যে স্বপ্নের কথা বলে তা মিথ্যা, তারা বৃথাই সান্ত্বনা দেয়। সেইজন্য লোকেরা মেষপালের মতো ঘুরে বেড়ায় মেষপালকের অভাবে তারা অত্যাচারিত।
ZEC 10:3 “পালকদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ জ্বলে উঠছে, এবং আমি নেতাদের শাস্তি দেব; কারণ সার্বভৌম সদাপ্রভু যত্ন নেন তাঁর পালের, যিহূদা কুলের, এবং তাদের যুদ্ধের অহংকারী ঘোড়ার মতো করব।
ZEC 10:4 কারণ যিহূদা থেকে আসবে কোণার পাথর, তাঁর থেকে আসবে তাঁবু-খুটা, তাঁর থেকে আসবে যুদ্ধের ধনুক, তাঁর থেকে আসবে প্রত্যেক শাসনকর্তা।
ZEC 10:5 একসঙ্গে তারা হবে যুদ্ধের যোদ্ধাদের মতো যারা কাদা ভরা রাস্তায় শত্রুদের পায়ে মাড়াবে। তারা যুদ্ধ করবে কারণ সদাপ্রভু তাদের সঙ্গে আছেন, তারা শত্রুর অশ্বারোহীদের লজ্জিত করবে।
ZEC 10:6 “আমি যিহূদা কুলকে শক্তিশালী করব আর যোষেফ-কুলকে রক্ষা করব। আমি তাদের ফিরিয়ে আনব কেননা তাদের প্রতি আমার করুণা আছে। তারা এমন হবে যেন আমি তাদের অগ্রাহ্য করিনি। কারণ আমি সদাপ্রভু তাদের ঈশ্বর এবং আমি তাদের উত্তর দেব।
ZEC 10:7 ইফ্রয়িমীয়েরা যোদ্ধাদের মতো হবে, দ্রাক্ষারস পান করার মতো তাদের অন্তর খুশি হবে। তা দেখে তাদের সন্তানেরা আনন্দিত হবে; তাদের অন্তর সদাপ্রভুতে আনন্দ করবে।
ZEC 10:8 আমি তাদের সংকেত দেব এবং তাদের একসঙ্গে জড়ো করব। তাদের আমি নিশ্চয়ই মুক্ত করব; তারা আগের মতোই সংখ্যায় অনেক হবে।
ZEC 10:9 আমি যদিও তাদের লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেব, তবুও দূরদেশে তারা আমাকে মনে করবে। তারা ও তাদের সন্তানেরা বেঁচে থাকবে, এবং তারা ফিরে আসবে।
ZEC 10:10 মিশর দেশ থেকে আমি তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসব এবং আসিরিয়া থেকে তাদের একত্র করব। আমি তাদের গিলিয়দ ও লেবাননে নিয়ে আসব, এবং সেখানে তাদের জায়গা কুলাবে না।
ZEC 10:11 তারা কষ্টের-সাগরের মধ্যে দিয়ে যাবে; সাগরের ঢেউকে দমন করা হবে এবং নীলনদের সমস্ত গভীর জায়গা শুকিয়ে যাবে। আসিরিয়ার অহংকার ভেঙে দেওয়া হবে এবং মিশরের রাজদণ্ড দূর হয়ে যাবে।
ZEC 10:12 আমি তাদের সদাপ্রভুতে শক্তিশালী করব এবং তাঁর নামে তারা নিরাপদে বাস করবে,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন।
ZEC 11:1 হে লেবানন, তোমার দরজাগুলি খুলে দাও, যাতে আগুন তোমার দেবদারু গাছগুলি গ্রাস করতে পারে!
ZEC 11:2 হে সবুজ-সতেজ দেবদারু গাছ, বিলাপ করো, কেননা সিডার গাছ পড়ে গেছে; সেরা গাছগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে! হে বাশনের ওক গাছ, বিলাপ করো, কারণ গভীর বনের সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে!
ZEC 11:3 মেষপালকদের বিলাপ শোনো; তাদের ভালো ভালো চারণভূমি নষ্ট হয়ে গেছে! সিংহদের গর্জন শোনো; জর্ডনের গভীর জঙ্গল নষ্ট হয়ে গেছে!
ZEC 11:4 আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন যে মেষপাল বধ করার জন্য ঠিক হয়ে আছে তুমি সেই পাল চরাও।
ZEC 11:5 “তাদের ক্রেতারা তাদের বধ করে কিন্তু তাদের শাস্তি হয় না। যারা তাদের বিক্রি করে তারা বলে, ‘সদাপ্রভুর গৌরব হোক, আমি ধনী হয়েছি!’ তাদের নিজেদের মেষপালক তাদের উপর দয়া করে না।”
ZEC 11:6 কারণ, সদাপ্রভু বলেন, “দেশের লোকদের প্রতি আমি আর দয়া করব না। আমি প্রত্যেকজনকে তার প্রতিবেশী ও রাজার হাতে তুলে দেব। তারা দেশ নষ্ট করবে, আর আমি তাদের হাত থেকে কাউকে উদ্ধার করব না।”
ZEC 11:7 বধ করার জন্য যে মেষপাল ঠিক হয়ে আছে, বিশেষ করে সেই পালের দুঃখীদের আমি মেষপালক হিসেবে চরাতে লাগলাম। তারপর আমি দুটো লাঠি নিলাম এবং একটির নাম দিলাম দয়া ও অন্যটির নাম দিলাম মিলন, আর আমি সেই মেষপাল চরালাম।
ZEC 11:8 এক মাসের মধ্যে আমি তিনজন মেষপালককে দূর করে দিলাম। পরে মেষপাল আমাকে ঘৃণা করতে লাগল, আর আমি তাদের নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম
ZEC 11:9 এবং বললাম, “আমি তোমাদের মেষপালক হব না। যে মরে সে মরুক, যে উচ্ছিন্ন হয় সে উচ্ছিন্ন হোক। বাকিরা একে অন্যের মাংস খাক।”
ZEC 11:10 তারপর আমি দয়া নামে সেই লাঠিটা নিয়ে ভেঙে ফেলে সমস্ত জাতির সঙ্গে আমার যে চুক্তি ছিল তা বাতিল করলাম।
ZEC 11:11 সেই দিনই তা বাতিল হল, তাই পালের মধ্যে যে সকল দুঃখী আমাকে লক্ষ্য করছিল তারা জানতে পারল যে, এটি সদাপ্রভুর বাক্য।
ZEC 11:12 আমি তাদের বললাম, “আপনারা যদি ভালো মনে করেন, তবে আমার বেতন দিন; কিন্তু যদি ভালো মনে না করেন, তবে তা রেখে দিন।” তখন তারা আমাকে ত্রিশটি রুপোর টুকরো দিল।
ZEC 11:13 পরে সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “ওটি কুম্ভকারের কাছে ফেলে দাও,” তাদের চোখে আমি এইরকমই মূল্যবান ছিলাম! সুতরাং আমি সেই ত্রিশটি রুপোর টুকরো নিয়ে সদাপ্রভুর গৃহে কুমোরের কাছে ফেলে দিলাম।
ZEC 11:14 তারপর আমি মিলন নামে দ্বিতীয় লাঠিটা ভেঙে যিহূদা ও ইস্রায়েলের মধ্যে ভাইয়ের যে সম্বন্ধ ছিল তা নষ্ট করলাম।
ZEC 11:15 পরে সদাপ্রভু আমাকে বললেন, “এবার তুমি একজন নির্বোধ মেষপালকের জিনিস নাও।
ZEC 11:16 কেননা আমি দেশের মধ্যে এমন একজন মেষপালককে তুলব যে হারিয়ে যাওয়াদের যত্ন নেবে না, বা যুবাদের খুঁজবে না, বা যারা আঘাত পেয়েছে তাদের সুস্থ করবে না, বা স্বাস্থ্যবানদের খাওয়াবে না, কিন্তু সে বাছাই করা মেষগুলির মাংস খাবে, তাদের খুর থেকে মাংস ছিড়ে খাবে।
ZEC 11:17 “ধিক্ সেই অপদার্থ মেষপালক, যে সেই পাল ছেড়ে চলে যায়! তরোয়াল যেন তার হাত ও ডান চোখ আঘাত করে! তার হাত যেন সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়, তার ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়!”
ZEC 12:1 এক ভাববাণী: এই হল ইস্রায়েল সম্বন্ধে সদাপ্রভুর বাক্য। সদাপ্রভু, যিনি আকাশকে মেলে দিয়েছেন, যিনি পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যিনি ব্যক্তির ভিতরে মানুষের আত্মা সৃষ্টি করেছেন, তিনি বলেন
ZEC 12:2 “আমি জেরুশালেমকে এমন এক পানপাত্রের মতো করব যা থেকে পান করে নিকটবর্তী সব জাতিরা টলবে। জেরুশালেমের সঙ্গে যিহূদাও অবরুদ্ধ হবে।
ZEC 12:3 সেদিন, যখন সমস্ত জাতি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে জড়ো হবে, তখন আমি তাকে সব জাতির জন্য একটি ভারী পাথরের মতো করব। যারা সেটা সরাবার চেষ্টা করবে তারা নিজেরাই আহত হবে।
ZEC 12:4 সেদিন, আমি প্রত্যেকটা ঘোড়াকে আতঙ্কে আঘাত করব এবং তার আরোহীকে পাগল করব,” সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন। “আমি যিহূদা কুলের উপর সতর্ক নজর রাখব, কিন্তু আমি অন্যান্য জাতির সব ঘোড়াকে অন্ধ করব।
ZEC 12:5 তখন যিহূদার নেতৃবর্গ মনে মনে বলবে, ‘জেরুশালেমের লোকেরা শক্তিশালী, কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু তাদের ঈশ্বর।’
ZEC 12:6 “সেদিন যিহূদার নেতৃবর্গকে আমি কাঠের বোঝার মধ্যে আগুনের পাত্রের মতো ও শস্যের আঁটির মধ্যে জ্বলন্ত মশালের মতো করব। তারা তাদের ডানদিক ও বাঁদিকের চারিদিকের সমস্ত জাতিদের গ্রাস করবে, কিন্তু জেরুশালেম তার নিজের জায়গায় স্থির থাকবে।
ZEC 12:7 “সদাপ্রভু প্রথমে যিহূদার বাসস্থানগুলি রক্ষা করবেন, যেন দাউদ কুল ও জেরুশালেমের বাসিন্দাদের সম্মান যিহূদার অন্যান্য লোকদের চেয়ে বেশি না হয়।
ZEC 12:8 সেদিন সদাপ্রভু জেরুশালেমের বসবাসকারীদের রক্ষা করবেন, যেন তাদের মধ্যেকার সবচেয়ে দুর্বল লোকও দাউদের মতো হয়, এবং দাউদ কুল ঈশ্বরের মতো হয়, সদাপ্রভুর যে দূত তাদের আগে আগে চলবে তাঁর মতো হবে।
ZEC 12:9 সেদিন যে সমস্ত জাতি জেরুশালেমকে আক্রমণ করতে আসবে আমি তাদের ধ্বংস করব।
ZEC 12:10 “আর দাউদ কুল ও জেরুশালেমের বাসিন্দাদের উপরে আমি অনুগ্রহের ও বিনতির আত্মা ঢেলে দেব। তাতে তারা আমার প্রতি, অর্থাৎ তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে, তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখবে, এবং একমাত্র সন্তানের জন্য বিলাপ করার মতো করে তারা তাঁর জন্য বিলাপ করবে এবং প্রথম সন্তানের জন্য যেমন শোক করে তেমনি ভীষণভাবে শোক করবে।
ZEC 12:11 সেদিন জেরুশালেমে ভীষণ বিলাপ হবে, যেমন মগিদ্দোন সমভূমির হদদ্-রিম্মোণে হয়েছিল।
ZEC 12:12 দেশ বিলাপ করবে, গোষ্ঠীগুলি আলাদা আলাদাভাবে বিলাপ করবে, নিজেদের স্ত্রীদের সঙ্গে দাউদ কুলের গোষ্ঠী ও তাদের স্ত্রীরা, নাথন কুলের গোষ্ঠী ও তাদের স্ত্রীরা,
ZEC 12:13 লেবি কুলের গোষ্ঠী ও তাদের স্ত্রীরা, শিমিয়ির গোষ্ঠী ও তাদের স্ত্রীরা,
ZEC 12:14 এবং অবশিষ্ট সমস্ত গোষ্ঠী ও তাদের স্ত্রীরা।
ZEC 13:1 “সেদিন দাউদ কুলের ও জেরুশালেমের বাসিন্দাদের পাপ ও অশুচিতা ধুয়ে ফেলবার জন্য একটি ফোয়ারা খোলা হবে।
ZEC 13:2 “সেদিন, দেশ থেকে প্রতিমাগুলি দূর করে দেওয়া হবে এবং তাদের নাম পর্যন্ত আর কারও মনে থাকবে না,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন। “আমি দেশ থেকে ভাববাদীদের ও অশুচিতার আত্মাকে দূর করে দেব।
ZEC 13:3 আর যদি কেউ ভাববাণী বলে, তবে তার জন্মদাতা মা ও বাবা, তাকে বলবে, ‘তোমাকে মরতে হবে, কারণ তুমি সদাপ্রভুর নাম করে মিথ্যা কথা বলেছ।’ সে ভাববাণী বললে, তার নিজের মা ও বাবা তাকে অস্ত্রবিদ্ধ করবে।
ZEC 13:4 “সেদিন প্রত্যেক ভাববাদী তাদের ভাববাণীমূলক দর্শনের বিষয়ে লজ্জা পাবে। প্রতারণা করার জন্য তারা ভাববাদীদের লোমের পোশাক আর পরবে না।
ZEC 13:5 সে বলবে, ‘আমি ভাববাদী নই। আমি একজন কৃষক; যুবাকাল থেকে জমিই আমার জীবিকা।’
ZEC 13:6 তাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার শরীরের এই ক্ষতগুলি কীসের?’ সে উত্তর দেবে, ‘আমার বন্ধুর বাড়িতে এসব আঘাত পেয়েছি।’
ZEC 13:7 “হে তরোয়াল, আমার মেষপালকের বিরুদ্ধে জাগো, যে ব্যক্তি আমার কাছে তার বিরুদ্ধে!” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু এই কথা ঘোষণা করেন। “মেষপালককে আঘাত করো, তাতে মেষেরা ছড়িয়ে পড়বে, আর আমি মেষশাবকদের বিরুদ্ধে আমার হাত উঠাব।”
ZEC 13:8 সদাপ্রভু বলেন, “সমস্ত দেশে দুই-তৃতীয়াংশকে আঘাত করে ধ্বংস করব; তবুও এক-তৃতীয়াংশ বেঁচে থাকবে।
ZEC 13:9 এই এক-তৃতীয়াংশকে আমি আগুনের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাব; রুপোকে খাঁটি করার মতো আমি তাদের খাঁটি করব এবং সোনা যাচাই করার মতো তাদের যাচাই করব। তারা আমার নামে ডাকবে এবং আমি তাদের উত্তর দেব; আমি বলব, ‘এরা আমার লোক,’ এবং তারা বলবে, ‘সদাপ্রভুই আমার ঈশ্বর।’ ”
ZEC 14:1 সদাপ্রভুর একটি দিন আসছে যেদিন, জেরুশালেম, তোমার প্রাচীরের মধ্যে তোমার সম্পত্তি লুট হয়ে ভাগ করা হবে।
ZEC 14:2 জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্য আমি সমস্ত জাতিকে জড়ো করব; নগর দখল করা হবে, ঘরবাড়ি লুটপাট করা হবে, ও স্ত্রীলোকেরা ধর্ষিত হবে। নগরের অর্ধেক লোক নির্বাসিত হবে, কিন্তু বাকি লোকদের নগরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে না।
ZEC 14:3 তখন সদাপ্রভু বের হবেন এবং যুদ্ধের সময় যেমন করেন সেইভাবে তিনি জাতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে করবেন।
ZEC 14:4 সেদিন তিনি এসে জেরুশালেমের পূর্বদিকে জৈতুন পাহাড়ের উপরে দাঁড়াবেন, তাতে জৈতুন পাহাড় পূর্ব থেকে পশ্চিমে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং অর্ধেক উত্তরে ও অর্ধেক দক্ষিণে সরে গিয়ে একটি বড়ো উপত্যকা সৃষ্টি করবে।
ZEC 14:5 তোমরা আমার পাহাড়ের সেই উপত্যকা দিয়ে পালিয়ে যাবে, কারণ সেই উপত্যকা আৎসল পর্যন্ত চলে যাবে। যিহূদার রাজা উষিয়ের রাজত্বকালে ভূমিকম্পের সময়ে যেভাবে তোমরা পালিয়ে গিয়েছিলে সেইভাবেই পালিয়ে যাবে। তারপর আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তাঁর সব পবিত্রগণকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন।
ZEC 14:6 সেদিন কোনও সূর্যের আলো, ঠান্ডা অথবা তুষারপাতের অন্ধকার হবে না।
ZEC 14:7 সেটা অদ্বিতীয় দিন হবে, দিনও হবে না অথবা রাতও হবে না—দিনটার কথা কেবল সদাপ্রভুই জানেন—সন্ধ্যাকালে আলো হবে।
ZEC 14:8 সেদিন গ্রীষ্মকালে ও শীতকালে জেরুশালেম থেকে জীবন্ত জল বের হবে, অর্ধেক পূর্বদিকে মরুসাগর ও অর্ধেক পশ্চিমদিকে ভূমধ্যসাগরে যাবে।
ZEC 14:9 সদাপ্রভুই হবেন সারা পৃথিবীর রাজা। সেদিন কেবল একজনই সদাপ্রভু হবেন, এবং তাঁর নামই একমাত্র নাম হবে।
ZEC 14:10 গেবা থেকে জেরুশালেমের দক্ষিণের রিম্মোণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ অরাবা সমভূমির মতো হবে। কিন্তু জেরুশালেমকে উঠানো হবে এবং তার নিজের জায়গায় থাকবে, বিন্যামীনের দ্বার থেকে প্রথম দ্বার পর্যন্ত, কোণের দ্বার পর্যন্ত, এবং হননেলের দুর্গ থেকে রাজকীয় দ্রাক্ষাপেষাই কল পর্যন্ত সেই স্থানেই থাকবে।
ZEC 14:11 তার মধ্যে লোকেরা বসবাস করবে; কখনোই সেটি ধ্বংস হবে না। জেরুশালেম সুরক্ষিত থাকবে।
ZEC 14:12 যেসব জাতি জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সদাপ্রভু এসব মহামারি দিয়ে তাদের আঘাত করবেন: তারা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই তাদের গায়ের মাংস পচে যাবে, তাদের চোখের গর্তের মধ্যে চোখ পচে যাবে, এবং মুখের মধ্যে তাদের জিভ পচে যাবে।
ZEC 14:13 সেদিন সদাপ্রভু আতঙ্ক দিয়ে লোকদের আঘাত করবেন। তারা প্রত্যেকজন প্রত্যেকের হাত ধরবে, এবং একে অপরকে আক্রমণ করবে।
ZEC 14:14 যিহূদাও জেরুশালেমে যুদ্ধ করবে। চারিদিকের সমস্ত জাতির ধনসম্পদ জড়ো করা হবে—প্রচুর পরিমাণে সোনা, রুপো ও কাপড়চোপড়।
ZEC 14:15 একইরকম মহামারি সেনা-ছাউনির ঘোড়া ও খচ্চর, উট ও গাধা, এবং অন্যান্য সব পশুকে আঘাত করবে।
ZEC 14:16 পরে জেরুশালেমকে যে সমস্ত জাতি আক্রমণ করেছিল তাদের বেঁচে থাকা লোকেরা সেই রাজার, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর, উপাসনা করার জন্য এবং কুটিরবাস-পর্ব পালন করতে বছরের পর বছর আসবে।
ZEC 14:17 যদি পৃথিবীর জাতিদের মধ্যে কেউ সেই রাজার, সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর আরাধনা করার জন্য জেরুশালেমে না যায়, তবে সেই দেশে বৃষ্টি হবে না।
ZEC 14:18 যদি মিশরীয়েরা না যায় এবং উপাসনায় অংশ না নেয় তবে তাদের দেশেও বৃষ্টি হবে না। যে সকল জাতি কুটিরবাস-পর্ব পালন করতে আসবে না সদাপ্রভু তাদের উপরে মহামারি আনবেন।
ZEC 14:19 মিশর ও অন্যান্য যেসব জাতি কুটিরবাস-পর্ব পালন করার জন্য যাবে না তাদের এই শাস্তিই দেওয়া হবে।
ZEC 14:20 সেদিন “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র” এই কথা ঘোড়ার গলার ঘণ্টার উপরে খোদাই করা থাকবে, এবং সদাপ্রভুর গৃহের রান্নার হাঁড়িগুলি বেদির সামনের পবিত্র পাত্রগুলির মতো পবিত্র হবে।
ZEC 14:21 জেরুশালেমের ও যিহূদার সমস্ত হাঁড়ি সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র হবে, এবং যারা পশু উৎসর্গ করতে আসবে তারা সেইসব পাত্রের কয়েকটা নিয়ে সেগুলিতে রান্না করবে। সেদিন সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর গৃহে কোনও কনানীয় আর থাকবে না।
MAL 1:1 একটি ভাববাণী: ইস্রায়েলের প্রতি সদাপ্রভুর বাক্য যা মালাখির মাধ্যমে দেওয়া হল।
MAL 1:2 “আমি তোমাদের ভালোবেসেছি,” সদাপ্রভু বলেন। “কিন্তু তোমরা জিজ্ঞাসা করো, ‘কীভাবে তুমি আমাদের ভালোবেসেছ?’ “এষৌ কি যাকোবের ভাই ছিল না?” সদাপ্রভু ঘোষণা করেন। “তা সত্ত্বেও যাকোবকে আমি ভালোবেসেছি,
MAL 1:3 কিন্তু এষৌকে আমি ঘৃণা করেছি, আমি তার পর্বতমালাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছি ও তার বসতিজমি মরুভূমির শিয়ালদের দিয়েছি।”
MAL 1:4 ইদোম বলতে পারে, “আমাদের চূর্ণ করা হলেও আমরা আবার সেই ধ্বংসস্তূপ নতুন করে গড়ে তুলব।” কিন্তু সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন: “তারা গড়ে তুলতে পারে কিন্তু আমি তা ধ্বংস করব। তাদের বলা হবে ‘দুষ্টদের দেশ’ এবং ‘এক জাতি যারা সর্বদা সদাপ্রভুর ক্রোধের অধীন।’
MAL 1:5 তোমরা তা নিজের চোখে দেখবে ও বলবে, ‘সদাপ্রভু মহান, এমনকি ইস্রায়েলের সীমার বাইরেও মহান!’ ”
MAL 1:6 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “একজন ছেলে তার বাবাকে সম্মান করে, ও একজন দাস তার মালিককে সম্মান করে। আমি যদি বাবা হই, তবে আমার প্রাপ্য সম্মান কোথায়? আর আমি যদি প্রভু হই, তবে আমার প্রাপ্য শ্রদ্ধা কোথায়? “যাজকেরা, তোমরাই আমার নামকে অবজ্ঞা করেছ। “কিন্তু তোমরা জিজ্ঞাসা করো, ‘আমরা কীভাবে তোমার নাম অবজ্ঞা করেছি?’
MAL 1:7 “আমার বেদিতে অশুচি খাদ্য নিবেদন করে। “কিন্তু তোমরা জিজ্ঞাসা করো, ‘আমরা কীভাবে তোমাকে অশুচি করেছি?’ “এটা বলে যে সদাপ্রভুর মেজ তুচ্ছ।
MAL 1:8 যখন তোমরা অন্ধ পশুবলি দাও, তা কি অন্যায় নয়? যখন তোমরা খোঁড়া বা অসুস্থ পশুবলি দাও, তা কি অন্যায় নয়? তোমাদের প্রদেশপালের কাছে এই ধরনের বলি দেওয়ার চেষ্টা করো! তিনি কি তোমাদের প্রতি তুষ্ট হবেন? তিনি কি তোমাকে গ্রহণ করবেন?” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 1:9 “তোমরা এখন ঈশ্বরের কাছে বিনতি করো, যেন তিনি আমাদের প্রতি সদয় হন। তোমাদের হাত থেকে এই ধরনের নৈবেদ্য, তিনি কি তোমাদের গ্রহণ করবেন?” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 1:10 “আহা! আমি কামনা করি যে তোমাদের মধ্যে কোনো একজন যদি মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দিত, তবে হয়তো কেউ আমার বেদিতে বৃথা বাতি জ্বালাত না! আমি তোমাদের প্রতি খুশি নই,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “এবং আমি তোমাদের হাত থেকে কোনও রকম নৈবেদ্য গ্রহণ করব না।
MAL 1:11 আমার নাম জাতিগণের মধ্যে মহান হবে, সূর্য উদয়ের স্থান থেকে অস্ত যাওয়ার স্থান পর্যন্ত। প্রত্যেক স্থানে আমার নামের উদ্দেশ্যে ধূপ ও শুচি নৈবেদ্য উৎসর্গ করা হবে, কারণ আমার নাম জাতিগণের মধ্যে হবে মহান,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 1:12 “কিন্তু তোমরা তা অপবিত্র করো, এই বলে, ‘সদাপ্রভুর মেজ অশুচি,’ এবং, ‘তাঁর খাদ্যও তুচ্ছ।’
MAL 1:13 আর তোমরা বলো, ‘এ কি ধরনের বোঝা!’ এবং তোমরা আমার আদেশ সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করো,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন। “যখন তোমরা আহত, খোঁড়া অথবা অসুস্থ পশু নিয়ে আস এবং আমার প্রতি উৎসর্গ করো, তোমাদের হাত থেকে কি তা আমার গ্রহণ করা উচিত?” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 1:14 “অভিশপ্ত সেই প্রতারক, যার পালে উপযুক্ত পুরুষ পশু আছে এবং তা উৎসর্গ করার জন্য শপথ করে, কিন্তু পরে ত্রুটিপূর্ণ পশু ঈশ্বরের প্রতি বলিদান করে। কারণ আমি মহান রাজা,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “এবং জাতিগণ আমার নামে ভয় পাবে।
MAL 2:1 “তবে এখন, যাজকেরা, তোমরা শোনো, এই সতর্কবাণী তোমাদেরই জন্য।
MAL 2:2 যদি তোমরা না শোনো এবং যদি তোমরা আমার নামের মহিমা করতে মনস্থ না করো,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “আমি তোমাদের ওপর অভিশাপ পাঠাব, ও তোমাদের সকল আশীর্বাদকে অভিশাপ দেব। হ্যাঁ, আমি সেই সবকিছুকে ইতিমধ্যে অভিশাপ দিয়েছি, কারণ তোমরা আমার নামের মহিমা করতে মনস্থ করোনি।
MAL 2:3 “তোমাদের জন্য, আমি তোমাদের বংশধরদের তিরস্কার করব; তোমাদের উৎসবের বলি থেকে সার নিয়ে তা তোমাদের মুখে মাখিয়ে দেব এবং তোমাদের সেইভাবেই নিয়ে যাওয়া হবে।
MAL 2:4 আর তোমরা জানবে যে, আমি তোমাদের কাছে এই সতর্কবাণী পাঠিয়েছি যাতে লেবীয়দের সঙ্গে আমার নিয়ম স্থায়ী হয়,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 2:5 “তার সঙ্গে আমার নিয়ম হয়েছিল, জীবন ও শান্তির নিয়ম, আর আমি উভয়ই তাকে দিয়েছিলাম; যেন সে আমাকে শ্রদ্ধা করে এবং সে আমাকে সত্যিই ভয় করেছিল এবং আমার নামে ভয়ে কেঁপেছিল।
MAL 2:6 তার মুখে সত্যের বিধান ছিল এবং কোনও প্রকার মিথ্যা তার ঠোঁটে খুঁজে পাওয়া যেত না। শান্তিতে ও ন্যায়পরায়ণতায় সে আমার সঙ্গে পথ চলেছে এবং পাপ থেকে মন ফিরিয়েছে।
MAL 2:7 “প্রকৃতপক্ষে যাজকদের মুখ ঈশ্বরের জ্ঞানের সম্ভার হওয়া উচিত, কারণ সে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর দূত এবং লোকেরা যাজকদের মুখ থেকেই উপদেশ চায়।
MAL 2:8 কিন্তু তুমি বিপথে গিয়েছ এবং তোমার শিক্ষার মাধ্যমে অনেককে বিভ্রান্ত করেছ; লেবির সঙ্গে নিয়ম তুমি লঙ্ঘন করেছ,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 2:9 “এজন্য আমি সমস্ত লোকের সামনে তোমাদেরকে অবজ্ঞা ও অপদস্থ করেছি, কারণ তোমরা আমার পথে চলোনি, উপরন্তু বিধানের বিষয়ে তোমরা পক্ষপাতিত্ব করেছ।”
MAL 2:10 আমাদের সকলের কি একই বাবা নয়? একজন ঈশ্বরই কি আমাদের সৃষ্টি করেননি? তবে কেন আমরা একে অপরের প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ম অপবিত্র করি?
MAL 2:11 যিহূদা অবিশ্বস্ত হয়েছে। ইস্রায়েলে ও জেরুশালেমে জঘন্য এক কাজ করা হয়েছে: যিহূদা, সেই মেয়েদের বিয়ে করেছে যারা অইহুদি এক দেবতার আরাধনা করে এবং এভাবে সদাপ্রভুর প্রেমের পবিত্রস্থান কলুষিত করেছে।
MAL 2:12 যে ব্যক্তি এমন কাজ করেছে, সে যেই হোক না কেন, যদিও সে সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর কাছে এক নৈবেদ্য নিয়ে আসে, তবুও যেন সদাপ্রভু যাকোবের তাঁবু থেকে তাকে উৎখাত করে।
MAL 2:13 আরেকটি কাজ তোমরা করো: তোমরা চোখের জলে সদাপ্রভুর বেদি ভাসিয়ে দাও। তোমরা কান্নাকাটি করো ও বিলাপ করো কারণ তিনি তোমাদের নৈবেদ্যর প্রতি আর অনুগ্রহপূর্বক দৃষ্টি দেন না বা তোমাদের হাত থেকে তা খুশিমনে গ্রহণ করেন না।
MAL 2:14 তবুও তোমরা জিজ্ঞাসা করো, “কেন?” কারণ সদাপ্রভু তোমার ও তোমার যৌবনের স্ত্রীর মধ্যে সাক্ষী হয়েছেন; তুমি তার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছ; যদিও সে তোমার সঙ্গী, তোমার বিবাহ নিয়মের স্ত্রী।
MAL 2:15 একই ঈশ্বর কি তোমাদের সৃষ্টি করেননি? দেহ এবং আত্মাতে তো তোমরা তাঁরই। আর সেই এক ঈশ্বর কি চান? ঈশ্বরভক্ত সন্তানসন্ততি। সুতরাং নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক হও এবং তোমাদের যৌবনের স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ত হোয়ো না।
MAL 2:16 “যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে ঘৃণা করে ও বিবাহবিচ্ছেদ করে,” সদাপ্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেন, “যাকে তার রক্ষা করা উচিত তার প্রতি সে অত্যাচার করে,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন। সুতরাং নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক হও এবং অবিশ্বস্ত হোয়ো না।
MAL 2:17 তোমরা তোমাদের কথার মাধ্যমে সদাপ্রভুকে ক্লান্ত করেছ। “আমরা কীভাবে তাঁকে ক্লান্ত করেছি?” তোমরা জিজ্ঞাসা করো। এই বলে, “সবাই যারা মন্দ কাজ করে তারা সদাপ্রভুর চোখে ভালো এবং তিনি তাদের উপর খুশি” অথবা এই বলে, “ন্যায়ের ঈশ্বর কোথায়?”
MAL 3:1 “আমি আমার বার্তাবাহককে পাঠাব, যে আমার আগে পথ তৈরি করবে। তারপর, প্রভু, যাঁকে তোমরা খুঁজছ, হঠাৎ তিনি নিজের মন্দিরে আসবেন; যিনি নিয়মের দূত, যাঁকে তোমরা চাও, তিনি আসবেন,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 3:2 কিন্তু তাঁর আসবার দিন কে সহ্য করতে পারবে? যখন তিনি আবির্ভূত হবেন কে তাঁর সামনে দাঁড়াবে? কারণ তিনি হবেন জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো যা ধাতুকে পরীক্ষাসিদ্ধ করে অথবা কড়া সাবানের মতো কাপড় পরিষ্কার করে।
MAL 3:3 রুপোকে পরিশোধন ও পবিত্র করার মতো তিনি বসবেন; তিনি লেবীয়দের পবিত্র করবেন এবং তাদের সোনা ও রুপোর মতো পরিশোধন করবেন, যেন তারা পুনরায় সদাপ্রভুর কাছে গ্রহণযোগ্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করতে পারে,
MAL 3:4 তখন যিহূদার ও জেরুশালেমের নৈবেদ্য সদাপ্রভুর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যেমন আগেকার সময়ে, পূর্ববর্তী বছরে তিনি গ্রহণ করতেন।
MAL 3:5 সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “তাই আমি তোমাদের বিচার করতে আসব। আর জাদুকর, ব্যভিচারী এবং মিথ্যাশপথকারী, যারা শ্রমিকদের বেতনে ঠকায় এবং বিধবা ও অনাথদের অত্যাচার করে, বিদেশিদের ন্যায় থেকে বঞ্চিত করে, অথচ আমাকে ভয় করে না, তাদের সকলের বিপক্ষে আমি দ্রুত সাক্ষী দেব।”
MAL 3:6 “আমি সদাপ্রভু, আমার পরিবর্তন নেই। সেই কারণেই হে যাকোবের বংশধর, তোমরা ধ্বংস হওনি।
MAL 3:7 তোমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই তোমরা আমার আদেশ থেকে বিপথে গিয়েছ এবং সেগুলি পালন করোনি। আমার কাছে ফিরে এসো এবং আমিও তোমাদের কাছে ফিরে যাব,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন। “কিন্তু তোমরা বলো, ‘আমরা কীভাবে ফিরব?’
MAL 3:8 “মরণশীল মানুষ কি কখনও ঈশ্বরকে ঠকাতে পারে? তবুও তোমরা আমাকে ঠকাও। “কিন্তু তোমরা জিজ্ঞাসা করো, ‘আমরা কীভাবে তোমাকে ঠকাচ্ছি?’ “দশমাংশে ও উপহারে।
MAL 3:9 তোমরা অভিশাপের মধ্যে আছ, তোমার সমস্ত জাতি, কারণ তোমরা আমাকে ঠকাচ্ছো
MAL 3:10 তোমরা সমস্ত দশমাংশ আমার ভাণ্ডারে নিয়ে এসো যেন আমার গৃহে খাদ্য থাকে।” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, “এবং দেখো আমি স্বর্গের সব দরজা তোমাদের জন্য খুলে দিয়ে অনেক আশীর্বাদ ঢেলে দিই কি না যা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা হবে না।
MAL 3:11 সমস্ত কীটপতঙ্গদের হাত থেকে আমি তোমাদের ফসল রক্ষা করব এবং তোমার জমির আঙুরগাছের ফল পেকে ওঠার আগে ঝরে পরবে না,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 3:12 “তখন সব জাতি তোমাদের ধন্য বলবে, কারণ তোমাদের দেশ এক আনন্দময় দেশ হবে,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 3:13 “তোমরা আমার বিরুদ্ধে অহংকারের সাথে কথা বলেছ,” সদাপ্রভু বলেন। “তবুও তোমরা জিজ্ঞাসা করো, ‘আমরা তোমার বিরুদ্ধে কি বলেছি?’
MAL 3:14 “তোমরা বলেছ, ‘ঈশ্বরের সেবা করা অর্থহীন। তাঁর আদেশ পালন করে কী লাভ হয় এবং সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর সাক্ষাতে শোকে যাওয়া-আসা করে আমাদের কী লাভ?
MAL 3:15 কিন্তু এখন আমরা অহংকারীকে ধন্য বলি। নিশ্চয়ই দুষ্ট আচরণকারী সমৃদ্ধিলাভ করে, এমনকি যখন তারা ঈশ্বরকে পরীক্ষায় ফেলে, তারা তা করেও রক্ষা পায়।’ ”
MAL 3:16 তারপর যারা সদাপ্রভুকে ভয় করত তারা একে অপরের সাথে কথা বলল এবং সদাপ্রভু তাদের কথা মন দিয়ে শুনলেন। যারা সদাপ্রভুকে ভয় ও তাঁর নাম সম্মান করত, তাদের সম্মন্ধে স্মরণীয় পুঁথি তাঁর সামনে লেখা হল।
MAL 3:17 “সেদিন যখন আমি আমার কাজ করব,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন, তারা আমার প্রিয় অধিকার হবে। আমি তাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হব, যেমন একজন বাবা তার সেবায় রত ছেলেকে করুণার চোখে দেখে এবং তার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়।
MAL 3:18 আর তোমরা আবার ধার্মিক ও দুষ্টদের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবে, যারা ঈশ্বরের সেবা করে ও যারা করে না তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবে।
MAL 4:1 “নিশ্চয়ই সেদিন আসছে; যা এক অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্বলবে। সব অহংকারী ও দুষ্টগণ খড়ের মতো হবে এবং সেদিনে সকলে আগুনে পুড়বে।” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন। “কোনও শিকড় বা ডালপালা বাঁচবে না।
MAL 4:2 কিন্তু তোমরা যারা আমার নাম সম্মান করো, তোমাদের উপরে ধার্মিকতার সূর্য উঠবে এবং সেই রশ্মিতে তোমরা আরোগ্য পাবে। আর যেভাবে পালের হৃষ্টপুষ্ট বাছুর লাফিয়ে খোঁয়াড়ের বাইরে যায় ঠিক সেরকম তোমরাও বাইরে যাবে এবং আনন্দে লাফাবে।
MAL 4:3 তখন তোমরা দুষ্টদের পদদলিত করবে; আর আমার কাজ করার দিনে তারা তোমাদের পায়ের তলায় পড়ে থাকা ছাইয়ের মতো হবে,” সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু বলেন।
MAL 4:4 “তোমরা আমার দাস মোশির বিধান মনে করো, যে আদেশ ও আইন আমি তাকে হোরেব পাহাড়ে সমস্ত ইস্রায়েলের জন্য দিয়েছিলাম।
MAL 4:5 “দেখো, সদাপ্রভুর সেই মহান ও ভয়ংকর দিন আসার আগে আমি তোমাদের কাছে ভাববাদী এলিয়কে পাঠাব।
MAL 4:6 তিনি বাবার মন সন্তানের দিকে ফেরাবেন; এবং সন্তানের মন বাবার দিকে ফেরাবেন, নয়তো আমি আসব এবং তোমাদের দেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করব।”
MAT 1:1 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বংশতালিকা, তিনি ছিলেন দাউদের বংশধর ও অব্রাহামের বংশধর।
MAT 1:2 অব্রাহামের পুত্র ইস্‌হাক, ইস্‌হাকের পুত্র যাকোব, যাকোবের পুত্র যিহূদা ও তাঁর ভাইয়েরা,
MAT 1:3 যিহূদার পুত্র পেরস ও সেরহ, যাঁদের মা ছিলেন তামর, পেরসের পুত্র হিষ্রোণ, হিষ্রোণের পুত্র রাম।
MAT 1:4 রামের পুত্র অম্মীনাদব, অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন, নহশোনের পুত্র সলমন।
MAT 1:5 সলমনের পুত্র বোয়স, তাঁর মা ছিলেন রাহব, বোয়সের পুত্র ওবেদ, তাঁর মা ছিলেন রূত। ওবেদের পুত্র যিশয়,
MAT 1:6 ও যিশয়ের পুত্র রাজা দাউদ। দাউদের পুত্র শলোমন, তাঁর মা ছিলেন ঊরিয়ের বিধবা স্ত্রী।
MAT 1:7 শলোমনের পুত্র রহবিয়াম, রহবিয়ামের পুত্র অবিয়, অবিয়ের পুত্র আসা।
MAT 1:8 আসার পুত্র যিহোশাফট, যিহোশাফটের পুত্র যিহোরাম, যিহোরামের পুত্র উষিয়।
MAT 1:9 উষিয়ের পুত্র যোথম, যোথমের পুত্র আহস, আহসের পুত্র হিষ্কিয়।
MAT 1:10 হিষ্কিয়ের পুত্র মনঃশি, মনঃশির পুত্র আমোন, আমোনের পুত্র যোশিয়,
MAT 1:11 আর যোশিয়ের পুত্র যিকনিয় ও তাঁর ভাইয়েরা, ব্যাবিলনে নির্বাসনকালে এঁদের জন্ম হয়।
MAT 1:12 ব্যাবিলনে নির্বাসনের পরে জাত: যিকনিয়ের পুত্র শল্টীয়েল, শল্টীয়েলের পুত্র সরুব্বাবিল।
MAT 1:13 সরুব্বাবিলের পুত্র অবীহূদ, অবীহূদের পুত্র ইলিয়াকীম, ইলিয়াকীমের পুত্র আসোর।
MAT 1:14 আসোরের পুত্র সাদোক, সাদোকের পুত্র আখীম, আখীমের পুত্র ইলিহূদ।
MAT 1:15 ইলিহূদের পুত্র ইলিয়াসর, ইলিয়াসরের পুত্র মত্তন, মত্তনের পুত্র যাকোব,
MAT 1:16 যাকোবের পুত্র যোষেফ যিনি মরিয়মের স্বামী, এই মরিয়মের গর্ভে যীশুর জন্ম হয়, যাঁকে খ্রীষ্ট বলে।
MAT 1:17 এভাবে অব্রাহাম থেকে দাউদ পর্যন্ত মোট চোদ্দো পুরুষ; দাউদ থেকে ব্যাবিলনে নির্বাসন যাওয়া পর্যন্ত চোদ্দো পুরুষ এবং ব্যাবিলনে নির্বাসন থেকে খ্রীষ্ট পর্যন্ত চোদ্দো পুরুষ।
MAT 1:18 যীশু খ্রীষ্টের জন্ম এভাবে হয়েছিল। তাঁর মা মরিয়ম যোষেফের সঙ্গে বিবাহের জন্য বাগদত্তা হলে, তাঁদের সহবাসের পূর্বে জানা গেল, তিনি পবিত্র আত্মার মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।
MAT 1:19 যেহেতু তাঁর স্বামী যোষেফ একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রকাশ্যে তাঁকে কলঙ্কের পাত্র করতে না চাওয়াতে, তিনি গোপনে বাগদান ভেঙে দেওয়া স্থির করলেন।
MAT 1:20 কিন্তু একথা বিবেচনার পরে, স্বপ্নে প্রভুর এক দূত তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “দাউদ-সন্তান যোষেফ, মরিয়মকে তোমার স্ত্রীরূপে ঘরে নিতে ভয় পেয়ো না, কারণ তাঁর গর্ভধারণ পবিত্র আত্মা থেকে হয়েছে।
MAT 1:21 তিনি এক পুত্রের জন্ম দেবেন ও তুমি তাঁর নাম যীশু রাখবে, কারণ তিনিই তাঁর প্রজাদের তাদের সব পাপ থেকে পরিত্রাণ দেবেন।”
MAT 1:22 এই সমস্ত ঘটনা ঘটল, যেন ভাববাদীর মুখ দিয়ে প্রভু যা বলেছিলেন, তা পূর্ণ হয়:
MAT 1:23 “সেই কুমারী-কন্যা গর্ভবতী হবে ও এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবে, এবং তারা তাঁকে ইম্মানুয়েল” বলে ডাকবে, যার অর্থ, “ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।”
MAT 1:24 প্রভুর দূত যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, ঘুম থেকে উঠে যোষেফ সেইমতো মরিয়মকে ঘরে তাঁর স্ত্রীরূপে গ্রহণ করলেন।
MAT 1:25 কিন্তু পুত্র প্রসব না করা পর্যন্ত তিনি মরিয়মের সঙ্গে মিলিত হলেন না। আর তিনি পুত্রের নাম রাখলেন যীশু।
MAT 2:1 হেরোদ রাজার সময় যিহূদিয়া প্রদেশের বেথলেহেমে যীশুর জন্ম হলে পর, পূর্বদেশ থেকে কয়েকজন পণ্ডিত ব্যক্তি জেরুশালেমে এসে জিজ্ঞাসা করলেন,
MAT 2:2 “ইহুদিদের যে রাজা জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি কোথায়? আমরা পূর্বদেশে তাঁর তারা দেখতে পেয়ে তাঁকে প্রণাম করতে এসেছি।”
MAT 2:3 একথা শুনে রাজা হেরোদ সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলেন ও তাঁর সঙ্গে সমস্ত জেরুশালেমের মানুষেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল।
MAT 2:4 তিনি সমগ্র জনসাধারণের প্রধান যাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদদের একত্রে ডেকে তাঁদের কাছে জানতে চাইলেন, খ্রীষ্ট কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?
MAT 2:5 তাঁরা উত্তর দিলেন, “যিহূদিয়ার বেথলেহেমে, কারণ ভাববাদী এরকম লিখেছেন:
MAT 2:6 “কিন্তু তুমি, যিহূদা দেশের বেথলেহেম, যিহূদার শাসকদের মধ্যে তুমি কোনো অংশে ক্ষুদ্র নও; কারণ তোমার মধ্য থেকেই আসবেন এক শাসক, যিনি হবেন আমার প্রজা ইস্রায়েলের পালক।”
MAT 2:7 এরপর হেরোদ সেই পণ্ডিতদের গোপনে ডেকে, সেই তারাটি সঠিক কখন উদিত হয়েছিল, তা তাঁদের কাছ থেকে জেনে নিলেন।
MAT 2:8 তিনি তাঁদের এই বলে বেথলেহেমে পাঠিয়ে দিলেন, “যাও, গিয়ে সযত্নে শিশুটির অনুসন্ধান করো। তাঁর সন্ধান পাওয়া মাত্র আমাকে সংবাদ দিয়ো, যেন আমিও গিয়ে তাঁকে প্রণাম করতে পারি।”
MAT 2:9 রাজার এই কথা শুনে তাঁরা তাঁদের পথে চলে গেলেন। আর তাঁরা যে তারাটিকে পূর্বদেশে দেখেছিলেন, সেটি তাঁদের আগে আগে চলতে লাগল এবং শিশুটি যেখানে ছিলেন, সেই স্থানের উপরে স্থির হয়ে রইল।
MAT 2:10 তারাটি দেখতে পেয়ে তাঁরা মহা আনন্দে উল্লসিত হলেন।
MAT 2:11 ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে তাঁরা শিশুটিকে তাঁর মা মরিয়মের সঙ্গে দেখতে পেলেন। তাঁরা সকলে ভূমিষ্ঠ হয়ে শিশুটিকে প্রণাম করলেন ও তাঁর উপাসনা করলেন। তারপর তাঁরা তাদের রত্নপেটিকা খুলে তাঁকে সোনা, কুন্দুরু ও গন্ধরস উপহার দিলেন।
MAT 2:12 তাঁরা যেন হেরোদের কাছে ফিরে না যান, স্বপ্নে এই সতর্কবাণী পেয়ে তাঁরা অন্য এক পথ ধরে তাঁদের দেশে ফিরে গেলেন।
MAT 2:13 তাঁরা চলে যাওয়ার পরে প্রভুর এক দূত স্বপ্নে যোষেফের কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “ওঠো, শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যাও। আমি যতক্ষণ না বলি, সেখানেই থেকো, কারণ শিশুটিকে হত্যা করার জন্য হেরোদ তাঁর অনুসন্ধান করবে।”
MAT 2:14 অতএব, যোষেফ উঠে শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে সেই রাত্রিতেই মিশরের উদ্দেশে রওনা হলেন।
MAT 2:15 হেরোদের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকলেন। আর এভাবেই, ভাববাদীর মাধ্যমে প্রভু যা ব্যক্ত করেছিলেন, তা পূর্ণ হল: “মিশর থেকে আমি আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম।”
MAT 2:16 পণ্ডিতেরা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন উপলব্ধি করে হেরোদ ক্রোধে উন্মত্ত হলেন। পণ্ডিতদের কাছে জেনে নেওয়া সময় হিসেব করে, তিনি বেথলেহেম ও তার সন্নিহিত অঞ্চলের দু-বছর ও তার কমবয়সি সমস্ত শিশুকে হত্যা করার আদেশ দিলেন।
MAT 2:17 তখন ভাববাদী যিরমিয়ের দ্বারা কথিত এই বচন পূর্ণ হল।
MAT 2:18 “রামা-নগরে এক স্বর শোনা যাচ্ছে, এক ক্রন্দন ও মহাবিলাপের রব, রাহেল তাঁর সন্তানদের জন্য কাঁদছেন, তিনি সান্ত্বনা পেতে চান না, কারণ তারা আর বেঁচে নেই।”
MAT 2:19 হেরোদের মৃত্যুর পর, মিশরে প্রভুর এক দূত স্বপ্নে যোষেফের কাছে আবির্ভূত হয়ে বললেন,
MAT 2:20 “ওঠো, শিশুটি ও তাঁর মাকে নিয়ে তুমি ইস্রায়েল দেশে ফিরে যাও। কারণ, যারা শিশুটির প্রাণ নিতে চাইছিল, তাদের মৃত্যু হয়েছে।”
MAT 2:21 তাই তিনি উঠে শিশুটি ও তাঁর মা মরিয়মকে নিয়ে ইস্রায়েল দেশে গেলেন।
MAT 2:22 কিন্তু যখন তিনি শুনলেন, আর্খিলায় তাঁর পিতা হেরোদের পদে যিহূদিয়ায় রাজত্ব করছেন, তিনি সেখানে যেতে ভয় পেলেন। তিনি স্বপ্নে এক সতর্কবাণী পেয়ে গালীল প্রদেশে চলে গেলেন।
MAT 2:23 তিনি বসবাস করার জন্য নাসরৎ নামের এক নগরে গেলেন। এভাবেই ভাববাদীদের দ্বারা কথিত বাণী পূর্ণ হল, “তিনি নাসরতীয় বলে আখ্যাত হবেন।”
MAT 3:1 ওইসব দিনগুলিতে বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, যিহূদিয়ার মরুপ্রান্তরে উপস্থিত হয়ে প্রচার করতে লাগলেন,
MAT 3:2 “মন পরিবর্তন করো, কারণ স্বর্গরাজ্য এসে পড়ল।”
MAT 3:3 ইনিই সেই মানুষ, যাঁর সম্পর্কে ভাববাদী যিশাইয় বলেছিলেন: “মরুপ্রান্তরে একজনের কণ্ঠস্বর আহ্বান করছে, ‘তোমরা প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করো, তাঁর জন্য রাজপথগুলি সরল করো।’ ”
MAT 3:4 যোহনের পোশাক ছিল উটের লোমে তৈরি এবং তার কোমরে এক চামড়ার বেল্ট জড়ানো থাকত। তিনি পঙ্গপাল ও বনমধু খেতেন।
MAT 3:5 লোকেরা জেরুশালেম, সমস্ত যিহূদিয়া ও জর্ডনের সমগ্র অঞ্চল থেকে তাঁর কাছে যেতে লাগল।
MAT 3:6 তারা নিজের নিজের পাপস্বীকার করে জর্ডন নদীতে তাঁর কাছে বাপ্তিষ্ম নিতে লাগল।
MAT 3:7 তিনি যেখানে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছিলেন, সেখানে যখন বহু ফরিশী ও সদ্দূকীদের আসতে দেখলেন, তিনি তাদের বললেন, “তোমরা বিষধর সাপের বংশ! সন্নিকট ক্রোধ থেকে পালিয়ে যেতে কে তোমাদের চেতনা দিল?
MAT 3:8 তোমরা এমন সব কাজ করো যেন তার দ্বারা বোঝা যায় যে তোমাদের মন পরিবর্তন হয়েছে।
MAT 3:9 আর ভেবো না, মনে মনে নিজেদের বলতে পারবে, ‘অব্রাহাম আমাদের পিতা।’ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বর এই পাথরগুলি থেকেও অব্রাহামের জন্য সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন।
MAT 3:10 গাছগুলির শিকড়ে ইতিমধ্যেই কুড়ুল লাগানো আছে। যে গাছে উৎকৃষ্ট ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
MAT 3:11 “তোমরা মন পরিবর্তন করেছ বলে আমি তোমাদের জলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু আমার পরে একজন আসবেন, তিনি আমার চেয়েও পরাক্রমশালী; আমি তাঁর চটিজুতো বওয়ারও যোগ্য নই। তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মায় ও আগুনে বাপ্তিষ্ম দেবেন।
MAT 3:12 শস্য ঝাড়াই করার কুলো তাঁর হাতেই আছে এবং তিনি তাঁর খামার পরিষ্কার করবেন। তিনি তাঁর গম গোলাঘরে সংগ্রহ করবেন এবং তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।”
MAT 3:13 এরপর যীশু যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম গ্রহণের জন্য গালীল প্রদেশ থেকে জর্ডনে এলেন।
MAT 3:14 কিন্তু যোহন তাঁকে বারণ করার চেষ্টা করে বললেন, “আপনার কাছে আমারই বাপ্তিষ্ম নেওয়া প্রয়োজন, আর আপনি কি না আমার কাছে আসছেন?”
MAT 3:15 উত্তরে যীশু বললেন, “এখন সেইরকমই হোক; সমস্ত ধার্মিকতা পূরণের জন্য আমাদের এরকম করা উপযুক্ত।” তখন যোহন সম্মত হলেন।
MAT 3:16 বাপ্তাইজিত হওয়ার পরে পরেই যীশু জল থেকে উঠে এলেন। সেই মুহূর্তে স্বর্গলোক উন্মুক্ত হল, আর তিনি দেখলেন, ঈশ্বরের আত্মা কপোতের আকারে তাঁর উপরে নেমে এসে অধিষ্ঠান করছেন।
MAT 3:17 তখন স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, যাঁর উপরে আমি পরম প্রসন্ন।”
MAT 4:1 এরপর যীশু পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে মরুপ্রান্তরে গেলেন, যেন দিয়াবলের দ্বারা প্রলোভিত হতে পারেন।
MAT 4:2 চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত উপোস করার পর তিনি ক্ষুধার্ত হলেন।
MAT 4:3 তখন প্রলুব্ধকারী তাঁর কাছে এসে বলল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, এই পাথরগুলিকে রুটি হয়ে যেতে বলো।”
MAT 4:4 যীশু উত্তর দিলেন, “এরকম লেখা আছে, ‘মানুষ কেবলমাত্র রুটিতে বাঁচে না, বরং ঈশ্বরের মুখ থেকে নির্গত প্রত্যেকটি বাক্য দ্বারাই জীবনধারণ করবে।’ ”
MAT 4:5 তখন দিয়াবল তাঁকে পবিত্র নগরে নিয়ে গেল এবং মন্দিরের শীর্ষদেশে তাঁকে দাঁড় করালো।
MAT 4:6 সে বলল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এখান থেকে নিচে ঝাঁপ দাও, কারণ এরকম লেখা আছে: “ ‘তিনি তাঁর দূতদের তোমার বিষয়ে আদেশ দেবেন, আর তাঁরা তোমাকে তাঁদের হাতে তুলে নেবেন, যেন তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।’ ”
MAT 4:7 যীশু তাকে উত্তর দিলেন, “আবার একথাও লেখা আছে, ‘তোমার ঈশ্বর প্রভুকে পরীক্ষা কোরো না।’ ”
MAT 4:8 দিয়াবল পুনরায় তাঁকে অতি উচ্চ এক পর্বতে নিয়ে গেল এবং জগতের সমস্ত রাজ্য ও সেগুলির সমারোহ তাঁকে দেখিয়ে বলল,
MAT 4:9 “তুমি যদি ভূমিষ্ঠ হয়ে আমার উপাসনা করো, এ সমস্ত আমি তোমাকে দেব।”
MAT 4:10 যীশু তাকে বললেন, “আমার কাছ থেকে দূর হও শয়তান! কারণ এরকম লেখা আছে, ‘তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুরই আরাধনা করবে, কেবলমাত্র তাঁরই সেবা করবে।’”
MAT 4:11 তখন দিয়াবল তাঁকে ছেড়ে চলে গেল, আর স্বর্গদূতেরা এসে তাঁর পরিচর্যা করতে লাগলেন।
MAT 4:12 যীশু যখন শুনলেন যে যোহনকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে, তিনি গালীলে ফিরে গেলেন।
MAT 4:13 তিনি নাসরৎ ত্যাগ করে কফরনাহূমে গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন। সেই স্থানটি ছিল সবূলূন ও নপ্তালি অঞ্চলে, হ্রদের উপকূলে।
MAT 4:14 এরকম ঘটল, যেন ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে কথিত বচন পূর্ণ হয়:
MAT 4:15 “সমুদ্রের অভিমুখে, জর্ডনের অপর পারে, সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশ, গালীলের অইহুদি জাতিবৃন্দের—
MAT 4:16 যে জাতি অন্ধকারে বসবাস করত, তারা এক মহাজ্যোতি দেখতে পেল; মৃত্যুচ্ছায়ার দেশে যাদের বসবাস ছিল, তাদের উপরে এক জ্যোতির উদয় হল।”
MAT 4:17 সেই সময় থেকে যীশু প্রচার করা শুরু করলেন, “মন পরিবর্তন করো, কারণ স্বর্গরাজ্য সন্নিকট।”
MAT 4:18 গালীল সাগরের তীর ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় যীশু দুই ভাইকে দেখতে পেলেন, শিমোন যাঁকে পিতর নামে ডাকা হত ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয়। তাঁরা সাগরের জলে জাল ফেলছিলেন, কারণ তাঁরা ছিলেন মৎস্যজীবী।
MAT 4:19 যীশু বললেন, “এসো, আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের মানুষ-ধরা জেলে করব।”
MAT 4:20 সেই মুহূর্তেই তাঁরা জাল ফেলে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
MAT 4:21 সেখান থেকে এগিয়ে গিয়ে তিনি অপর দুই ভাইকে, সিবদিয়ের ছেলে যাকোব ও তাঁর ভাই যোহনকে দেখতে পেলেন। তাঁরা তাঁদের বাবা সিবদিয়ের সঙ্গে একটি নৌকায় তাঁদের জাল মেরামত করছিলেন। যীশু তাঁদের আহ্বান করলেন।
MAT 4:22 সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা নৌকা ও তাঁদের বাবাকে পরিত্যাগ করে তাঁর অনুসারী হলেন।
MAT 4:23 যীশু সমস্ত গালীল পরিক্রমা করে তাদের সমাজভবনগুলিতে শিক্ষা দিলেন ও স্বর্গরাজ্যের সুসমাচার প্রচার করলেন। তিনি লোকদের সমস্ত রকমের রোগব্যাধি ও পীড়া থেকে সুস্থ করলেন।
MAT 4:24 তাঁর সংবাদ সমস্ত সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল। লোকেরা তাঁর কাছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অসুস্থদের, যারা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিল তাদের, ভূতগ্রস্তদের, মৃগী-রোগীদের ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এল। তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
MAT 4:25 গালীল, ডেকাপলি, জেরুশালেম, যিহূদিয়া ও জর্ডন নদীর অপর পারের অঞ্চল থেকে আগত বিস্তর লোক তাঁকে অনুসরণ করল।
MAT 5:1 যীশু অনেক লোক দেখে একটি পর্বতের উপরে উঠে বসলেন। তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এলেন।
MAT 5:2 আর তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতে লাগলেন। তিনি বললেন:
MAT 5:3 “ধন্য তারা, যারা আত্মায় দীনহীন, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
MAT 5:4 ধন্য তারা, যারা শোক করে, কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে।
MAT 5:5 ধন্য তারা, যারা নতনম্র, কারণ তারা পৃথিবীর অধিকার লাভ করবে।
MAT 5:6 ধন্য তারা, যারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, কারণ তারা পরিতৃপ্ত হবে।
MAT 5:7 ধন্য তারা, যারা দয়াবান, কারণ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শিত হবে।
MAT 5:8 ধন্য তারা, যাদের অন্তঃকরণ নির্মল, কারণ তারা ঈশ্বরের দর্শন পাবে।
MAT 5:9 ধন্য তারা, যারা মিলন করিয়ে দেয়, কারণ তাদের ঈশ্বরের পুত্র বলা হবে।
MAT 5:10 ধন্য তারা, যারা ধার্মিকতার কারণে তাড়িত, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
MAT 5:11 “ধন্য তোমরা, যখন লোকে আমার জন্য তোমাদের অপমান করে, নির্যাতন করে ও মিথ্যা অভিযোগে তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার মন্দ কথা বলে।
MAT 5:12 উল্লসিত হোয়ো, আনন্দ কোরো; কারণ স্বর্গে তোমাদের পুরস্কার প্রচুর। কারণ পূর্বে ভাববাদীদেরও তারা একই উপায়ে নির্যাতন করত।
MAT 5:13 “তোমরা পৃথিবীর লবণ। কিন্তু লবণ যদি তার লবণত্ব হারায়, তাহলে কীভাবে তা পুনরায় লবণের স্বাদযুক্ত করা যাবে? তা আর কোনো কাজেরই উপযুক্ত থাকে না, কেবলমাত্র তা বাইরে নিক্ষেপ করার ও লোকদের পদদলিত হওয়ার যোগ্য হয়।
MAT 5:14 “তোমরা জগতের জ্যোতি। পাহাড়ের উপরে অবস্থিত নগর কখনও গুপ্ত থাকতে পারে না।
MAT 5:15 আবার লোকে কোনো প্রদীপ জ্বেলে তা গামলা দিয়ে ঢেকে রাখে না, বরং তা বাতিদানের উপরেই রাখে। তখন তা ঘরে উপস্থিত সকলকেই আলো দান করে।
MAT 5:16 একইভাবে, তোমাদের দীপ্তি মানুষের সাক্ষাতে উদ্দীপ্ত হোক, যেন তারা তোমাদের সৎ কাজগুলি দেখে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার প্রশংসা কীর্তন করে।
MAT 5:17 “এরকম মনে কোরো না যে, বিধান বা ভাববাদীদের গ্রন্থগুলি আমি লোপ করতে এসেছি; সেগুলি লোপ করার জন্য আমি আসিনি, কিন্তু পূর্ণ করার জন্যই এসেছি।
MAT 5:18 আমি তোমাদের প্রকৃতই বলছি, যতদিন পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত না হয়, ততদিন পর্যন্ত বিধানের ক্ষুদ্রতম একটি বর্ণ, বা কলমের সামান্যতম কোনো আঁচড়ও লুপ্ত হবে না, সমস্ত কিছু পূর্ণরূপে সফল হবে।
MAT 5:19 যে কেউ এইসব আদেশের ক্ষুদ্রতম কোনো আদেশ লঙ্ঘন করে ও অপর মানুষদের সেইমতো শিক্ষা দেয়, সে স্বর্গরাজ্যে ক্ষুদ্রতম বলে গণ্য হবে; কিন্তু যে কেউ এই আদেশগুলি অনুশীলন করে ও সেইরূপ শিক্ষা দেয়, সে স্বর্গরাজ্যে মহান বলে গণ্য হবে।
MAT 5:20 কারণ আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের ধার্মিকতা যদি ফরিশী ও শাস্ত্রবিদদের থেকে অধিক না হয়, তোমরা নিশ্চিতরূপে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
MAT 5:21 “তোমরা শুনেছ, পূর্বেকার মানুষদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা নরহত্যা কোরো না, আর যে নরহত্যা করবে, সে বিচারের দায়ে পড়বে।’
MAT 5:22 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে তার ভাইয়ের উপরে ক্রোধ করে, সে বিচারের দায়ে পড়বে। এছাড়াও, কেউ যদি তার ভাইকে বলে, ‘ওরে অপদার্থ,’ তাকে মহাসভায় জবাবদিহি করতে হবে। আবার, কেউ যদি বলে, ‘তুই মূর্খ,’ সে নরকের আগুনের দায়ে পড়বে।
MAT 5:23 “সুতরাং, তুমি যখন তোমার নৈবেদ্য বেদিতে উৎসর্গ করতে যাচ্ছ, সেই সময় যদি তোমার মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাইয়ের কোনো অভিযোগ আছে,
MAT 5:24 তোমার নৈবেদ্য সেই বেদির সামনে রেখে চলে যাও। প্রথমে গিয়ে তোমার ভাইয়ের সঙ্গে পুনর্মিলিত হও, তারপর এসে তোমার নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।
MAT 5:25 “তোমার যে প্রতিপক্ষ তোমাকে আদালতে নিয়ে যায়, তার সঙ্গে দ্রুত বিবাদের মীমাংসা কোরো। পথে থাকতে থাকতেই তার সঙ্গে এ কাজ কোরো, না হলে সে হয়তো তোমাকে বিচারকের হাতে তুলে দেবে, বিচারক তোমাকে পেয়াদার হাতে তুলে দেবেন ও তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে।
MAT 5:26 আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, তোমার দেনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তুমি বাইরে আসতে পারবে না।
MAT 5:27 “তোমরা শুনেছ, এরকম বলা হয়েছিল, ‘তোমরা ব্যভিচার কোরো না।’
MAT 5:28 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি যে, কেউ যদি কোনো নারীর প্রতি কামলালসা নিয়ে দৃষ্টিপাত করে, সে তক্ষুনি মনে মনে তার সঙ্গে ব্যভিচার করে।
MAT 5:29 তোমার ডান চোখ যদি তোমার পাপের কারণ হয়, তা উপড়ে ফেলে দাও। তোমার সমস্ত শরীর নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং শরীরের একটি অঙ্গহানি হওয়া তোমার পক্ষে ভালো।
MAT 5:30 আর যদি তোমার ডান হাত তোমার পাপের কারণ হয়, তা কেটে ফেলে দাও। তোমার সমস্ত শরীর নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং শরীরের একটি অঙ্গহানি হওয়া তোমার পক্ষে ভালো।
MAT 5:31 “এরকম বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, তাহলে সে যেন অবশ্যই তাকে বিচ্ছেদের ত্যাগপত্র লিখে দেয়।’
MAT 5:32 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, বৈবাহিক জীবনে অবিশ্বস্ততার কারণ ছাড়া কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, সে তাকে ব্যভিচারিণী করে তোলে এবং পরিত্যক্ত সেই নারীকে যে বিবাহ করে, সেও ব্যভিচার করে।
MAT 5:33 “আবার তোমরা শুনেছ, বহুকাল পূর্বে লোকদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা প্রভুর সাক্ষাতে যে শপথ করেছ, তা ভঙ্গ কোরো না, বরং শপথগুলি পালন কোরো।’
MAT 5:34 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা আদৌ কোনো শপথ কোরো না; স্বর্গের নামে নয়, কারণ তা ঈশ্বরের সিংহাসন;
MAT 5:35 কিংবা পৃথিবীর নামে নয়, কারণ তা ঈশ্বরের পাদপীঠ; আবার জেরুশালেমের নামেও নয়, কারণ তা মহান রাজার নগরী।
MAT 5:36 আর নিজের মাথারও শপথ কোরো না, কারণ তুমি একটিও চুল সাদা বা কালো করতে পারো না।
MAT 5:37 সাধারণভাবেই তোমাদের ‘হ্যাঁ’ যেন ‘হ্যাঁ’ হয় ও ‘না’ যেন ‘না’ হয়। যা এর অতিরিক্ত, তা সেই পাপাত্মা থেকে আসে।
MAT 5:38 “তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছিল, ‘চোখের পরিবর্তে চোখ, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত।’
MAT 5:39 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, কোনো দুষ্ট ব্যক্তির প্রতিরোধ কোরো না। কেউ যদি তোমার ডান গালে চড় মারে, তোমার অন্য গালও তার দিকে বাড়িয়ে দাও।
MAT 5:40 আর কেউ যদি তোমার জামা নিয়ে নেওয়ার জন্য তোমার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়, তাকে তোমার চাদরও নিতে দিয়ো।
MAT 5:41 কেউ যদি তোমাকে এক কিলোমিটার যাওয়ার জন্য জোর করে, তুমি তার সঙ্গে দুই কিলোমিটার যাও।
MAT 5:42 কেউ যদি তোমার কাছে কিছু চায়, তাকে তা দাও; যে তোমার কাছে ঋণ চায়, তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।
MAT 5:43 “তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছিল, ‘তোমার প্রতিবেশীকে প্রেম কোরো’ ও ‘তোমার শত্রুকে ঘৃণা কোরো।’
MAT 5:44 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের শত্রুদের ভালোবেসো এবং যারা তোমাদের অত্যাচার করে, তোমরা তাদের জন্য প্রার্থনা কোরো,
MAT 5:45 যেন তোমরা তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার সন্তান হও। কারণ তিনি ভালোমন্দ, সব মানুষের উপরে সূর্য উদিত করেন এবং ধার্মিক অধার্মিক নির্বিশেষে সকলের উপরে বৃষ্টি দেন।
MAT 5:46 যারা তোমাদের ভালোবাসে, তোমরা যদি তাদেরই ভালোবাসো, তাহলে তোমরা কী পুরস্কার পাবে? কর আদায়কারীরাও কি সেরকম করে না?
MAT 5:47 আর তোমরা যদি কেবলমাত্র তোমাদের ভাইদেরই নমস্কার করো, তাহলে অন্যদের চেয়ে বেশি আর কী করছ? পরজাতীয়েরাও কি সেরকম করে না?
MAT 5:48 অতএব, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা যেমন সিদ্ধ, তোমরাও সেইরূপ সিদ্ধ হও।
MAT 6:1 “সতর্ক থেকো তোমরা যেন প্রকাশ্যে কোনো লোক-দেখানো ধর্মকর্ম না করো। যদি করো, তাহলে তোমরা তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছ থেকে কোনো পুরস্কারই পাবে না।
MAT 6:2 “তাই তোমরা যখন কোনো দরিদ্র মানুষকে দান করো, তখন ভণ্ডেরা যেমন সমাজভবনগুলিতে বা পথে পথে মানুষদের কাছে প্রশংসা পাওয়ার জন্য তূরী বাজিয়ে ঘোষণা করে, তোমরা তেমন কোরো না। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
MAT 6:3 কিন্তু যখন তুমি দরিদ্রদের দান করো, তোমার ডান হাত কী করছে, তা যেন তোমার বাঁ হাত জানতে না পায়, যেন তোমার দান গোপনে হয়।
MAT 6:4 তাহলে তোমার পিতা, যিনি গোপনে সবকিছু দেখেন, তিনি তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
MAT 6:5 “আর তোমরা যখন প্রার্থনা করো, তখন ভণ্ডদের মতো কোরো না, কারণ তারা সমাজভবনগুলিতে বা পথের কোণে কোণে দাঁড়িয়ে লোক-দেখানো প্রার্থনা করতে ভালোবাসে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
MAT 6:6 কিন্তু তুমি যখন প্রার্থনা করো তখন ঘরে যাও, দরজা বন্ধ করো ও তোমার পিতা যিনি অদৃশ্য হলেও উপস্থিত—তাঁর কাছে প্রার্থনা করো। এতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে সবকিছু দেখেন, তিনি তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।
MAT 6:7 আর তুমি প্রার্থনা করার সময় পরজাতীয়দের মতো অর্থহীন পুনরাবৃত্তি কোরো না, কারণ তারা মনে করে, বাগবাহুল্যের জন্যই তারা প্রার্থনার উত্তর পাবে।
MAT 6:8 তাদের মতো হোয়ো না, কারণ তোমাদের কী প্রয়োজন তা চাওয়ার পূর্বেই তোমাদের পিতা জানেন।
MAT 6:9 “অতএব, তোমরা এভাবে প্রার্থনা কোরো: “ ‘হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক,
MAT 6:10 তোমার রাজ্য আসুক, তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমন পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক।
MAT 6:11 আমাদের দৈনিক আহার আজ আমাদের দাও।
MAT 6:12 আমরা যেমন আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধীদের ক্ষমা করেছি, তেমন তুমিও আমাদের অপরাধসকল ক্ষমা করো।
MAT 6:13 আর আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিয়ো না, কিন্তু সেই পাপাত্মা থেকে রক্ষা করো।’
MAT 6:14 কারণ তোমরা যদি লোকের অপরাধ ক্ষমা করো, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।
MAT 6:15 কিন্তু তোমরা যদি লোকের অপরাধ ক্ষমা না করো, তোমাদের পিতাও তোমাদের অপরাধসকল ক্ষমা করবেন না।
MAT 6:16 “তোমরা যখন উপোস করো, তখন ভণ্ডদের মতো নিজেদের গুরুগম্ভীর দেখিয়ো না, কারণ তারা নিজেদের মুখমণ্ডল মলিন করে লোকদের দেখায় যে তারা উপোস করছে। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।
MAT 6:17 কিন্তু তুমি যখন উপোস করো, তোমার মাথায় তেল দিয়ো ও মুখ ধুয়ো,
MAT 6:18 ফলে তুমি যে উপোস করছ, তা যেন লোকদের কাছে স্পষ্ট না হয়, কেবলমাত্র তোমার পিতার কাছেই স্পষ্ট হয় যিনি অদৃশ্য। এতে তোমার পিতা, যিনি গোপনে সব দেখেন, তিনি তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।
MAT 6:19 “তোমরা নিজেদের জন্য পৃথিবীতে ধন সঞ্চয় কোরো না। এখানে কীটপতঙ্গ ও মরচে তা নষ্ট করে এবং চোর সিঁধ কেটে চুরি করে।
MAT 6:20 কিন্তু নিজেদের জন্য স্বর্গে ধন সঞ্চয় করো, যেখানে কীটপতঙ্গ ও মরচে তা নষ্ট করতে পারে না এবং চোরেও সিঁধ কেটে চুরি করতে পারে না।
MAT 6:21 কারণ যেখানে তোমাদের ধন থাকবে, সেখানেই তোমাদের মন পড়ে থাকবে।
MAT 6:22 “চোখ শরীরের প্রদীপ। তোমার দুই চোখ যদি নির্মল হয়, তাহলে তোমার সমস্ত শরীর আলোময় হয়ে উঠবে।
MAT 6:23 কিন্তু তোমার চোখ যদি মন্দ হয়, তোমার সমস্ত শরীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে। তোমার ভিতরের আলো যদি অন্ধকারময় হয়ে ওঠে, তবে সেই অন্ধকার কতই না ভয়ংকর!
MAT 6:24 “কেউই দুজন মনিবের সেবা করতে পারে না। সে হয় একজনকে ঘৃণা করে অপরজনকে ভালোবাসবে, নয়তো সে একজনের অনুগত হয়ে অপরজনকে অবজ্ঞা করবে। তোমরা ঈশ্বর ও অর্থ, এই দুয়ের সেবা করতে পারো না।
MAT 6:25 “এই কারণে আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের জীবনের বিষয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না, তোমরা কী খাবে বা পান করবে; বা শরীরের বিষয়ে, কী পোশাক পড়বে। খাবারের চেয়ে জীবন কি বড়ো বিষয় নয় এবং পোশাকের চেয়ে শরীর কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
MAT 6:26 আকাশের পাখিদের দিকে তাকিয়ে দেখো; তারা বীজবপন করে না, ফসল কাটে না, বা গোলায় সঞ্চয়ও করে না; তবুও তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা তাদের খাবার জুগিয়ে দেন। তোমরা কি তাদের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান নও?
MAT 6:27 দুশ্চিন্তা করে তোমাদের কেউ কি নিজের আয়ু এক ঘণ্টাও বৃদ্ধি করতে পারে?
MAT 6:28 “আর পোশাকের বিষয়ে তোমরা কেন দুশ্চিন্তা করো? দেখো, মাঠের লিলি ফুল কীভাবে বিকশিত হয়। তারা পরিশ্রম করে না, সুতোও কাটে না।
MAT 6:29 তবুও আমি তোমাদের বলছি, রাজা শলোমনও তার সমস্ত মহিমায় এদের একটিরও মতো সুশোভিত ছিলেন না।
MAT 6:30 মাঠের যে ঘাস আজ আছে, অথচ আগামীকাল আগুনে নিক্ষিপ্ত করা হবে, ঈশ্বর যদি সেগুলিকে এত সুশোভিত করে থাকেন, তাহলে ওহে অল্পবিশ্বাসীরা, তিনি কি তোমাদের আরও বেশি সুশোভিত করবেন না?
MAT 6:31 সেই কারণে, ‘আমরা কী খাব?’ বা ‘আমরা কী পান করব?’ বা ‘আমরা কী পরব?’ এসব নিয়ে তোমরা দুশ্চিন্তা কোরো না।
MAT 6:32 কারণ পরজাতীয়রাই এই সমস্ত বিষয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে, অথচ তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা জানেন যে এগুলো তোমাদের প্রয়োজন।
MAT 6:33 কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁর রাজ্য ও ধার্মিকতার অন্বেষণ করো, তাহলে এই সমস্ত বিষয়ও তোমাদের দেওয়া হবে।
MAT 6:34 অতএব, কালকের বিষয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না, কারণ কাল স্বয়ং নিজের বিষয়ে দুশ্চিন্তা করবে। প্রত্যেকটি দিনের কষ্ট প্রতিটি দিনের জন্য যথেষ্ট।
MAT 7:1 “তোমরা অপরকে বিচার কোরো না, নইলে তোমাদেরও বিচার করা হবে।
MAT 7:2 কারণ যেভাবে তোমরা অপরের বিচার করবে, সেভাবেই তোমাদের বিচার করা হবে এবং যে মানদণ্ডে তোমরা পরিমাপ করবে, সেই একই মানদণ্ডে তোমাদের পরিমাপ করা হবে।
MAT 7:3 “তোমার ভাইয়ের চোখে যে কাঠের গুঁড়ো রয়েছে, কেবলমাত্র সেটিই দেখছ, অথচ তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে, তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না কেন?
MAT 7:4 তুমি কী করে তোমার ভাইকে বলতে পারো, ‘এসো, তোমার চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করে দিই,’ যখন তোমার নিজের চোখেই সবসময় কড়িকাঠ রয়েছে?
MAT 7:5 ওহে ভণ্ড, প্রথমে নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠটি বের করো, তাহলেই তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
MAT 7:6 “পবিত্র বস্তু কুকুরদের দিয়ো না; তোমাদের মুক্তো শূকরদের সামনে ছড়িয়ো না, যদি তা করো, তারা হয়তো সেগুলি পদদলিত করবে ও ফিরে তোমাদের ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করবে।
MAT 7:7 “চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ করো, তোমরা পাবে; কড়া নাড়ো, তোমাদের জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হবে।
MAT 7:8 কারণ যে চায়, সে গ্রহণ করে; যে খোঁজ করে, সে সন্ধান পায়; আর যে কড়া নাড়ে, তার জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হয়।
MAT 7:9 “তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তার ছেলে রুটি চাইলে, তাকে পাথর দেবে?
MAT 7:10 অথবা, মাছ চাইলে তাকে সাপ দেবে?
MAT 7:11 তোমরা মন্দ প্রকৃতির হয়েও যদি নিজেদের সন্তানদের ভালো ভালো উপহার দিতে জানো, তাহলে যারা তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছে চায়, তাদের তিনি আরও কত না উৎকৃষ্ট সব উপহার নিশ্চিতরূপে দান করবেন?
MAT 7:12 তাই সব বিষয়ে, তোমরা অপরের কাছ থেকে যেরূপ ব্যবহার পেতে চাও, তাদের প্রতি তোমরাও সেরূপ ব্যবহার কোরো। কারণ এই হল বিধান ও ভাববাদীদের শিক্ষার মূল বিষয়।
MAT 7:13 “সংকীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করো, কারণ প্রশস্ত দ্বার ও সুবিস্তৃত পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং বহু মানুষ তা দিয়ে প্রবেশ করে।
MAT 7:14 কিন্তু জীবনে প্রবেশ করার দ্বার সংকীর্ণ ও পথ দুর্গম, আর খুব কম লোকই তার সন্ধান পায়।
MAT 7:15 “ভণ্ড ভাববাদীদের থেকে সাবধান। তারা মেষের ছদ্মবেশে তোমাদের কাছে আসে, কিন্তু অন্তরে তারা হিংস্র নেকড়ের মতো।
MAT 7:16 তাদের ফল দ্বারাই তোমরা তাদের চিনতে পারবে। লোকে কি কাঁটাঝোপ থেকে আঙুর, বা শিয়ালকাঁটা থেকে ডুমুরফল পায়?
MAT 7:17 একইভাবে, প্রত্যেক ভালো গাছে ভালো ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে।
MAT 7:18 কোনো ভালো গাছে মন্দ ফল ধরতে পারে না এবং কোনো মন্দ গাছে ভালো ফল ধরতে পারে না।
MAT 7:19 যে গাছে ভালো ফল ধরে না, সেই গাছ কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।
MAT 7:20 এভাবে, তাদের ফল দ্বারাই তোমরা তাদের চিনতে পারবে।
MAT 7:21 “যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে, তারা সবাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; কিন্তু যে আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করবে, সেই প্রবেশ করতে পারবে।
MAT 7:22 সেদিন, অনেকে আমাকে বলবে, ‘প্রভু, প্রভু; আমরা কি আপনার নামে ভবিষ্যদ্‌বাণী করিনি? আপনার নামে কি ভূত তাড়াইনি ও বহু অলৌকিক কাজ করিনি?’
MAT 7:23 তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, ‘আমি তোমাদের কোনোকালেও জানতাম না। দুষ্টের দল, আমার সামনে থেকে দূর হও!’
MAT 7:24 “অতএব, যে আমার এসব বাক্য শুনে পালন করে, সে এমন এক বুদ্ধিমান লোকের মতো, যে পাথরের উপরে তার বাড়ি নির্মাণ করল।
MAT 7:25 পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা এল, ঝড় বইল ও সেই বাড়িতে আঘাত করল; তবুও তার পতন হল না, কারণ পাথরের উপরে তার ভিত্তিমূল প্রতিষ্ঠিত ছিল।
MAT 7:26 কিন্তু যে কেউ আমার এসব বাক্য শুনেও পালন করে না, সে এমন এক মূর্খ মানুষের মতো, যে বালির উপরে তার বাড়ি নির্মাণ করল।
MAT 7:27 পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা এল, ঝড় বইল ও সেই বাড়িতে আঘাত করল, আর তার ভয়ংকর পতন হল।”
MAT 7:28 যীশু যখন এসব বিষয় বলা শেষ করলেন তখন লোকেরা তাঁর শিক্ষায় আশ্চর্য হয়ে গেল।
MAT 7:29 কারণ তিনি শাস্ত্রবিদদের মতো নয়, কিন্তু একজন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির মতোই শিক্ষা দিলেন।
MAT 8:1 যীশু যখন পর্বতের উপর থেকে নেমে এলেন তখন অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করতে লাগল।
MAT 8:2 তখন একজন কুষ্ঠরোগী এসে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বলল, “প্রভু, আপনি ইচ্ছা করলেই আমাকে শুচিশুদ্ধ করতে পারেন।”
MAT 8:3 যীশু তাঁর হাত বাড়িয়ে সেই ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেন। তিনি বললেন, “আমার ইচ্ছা, তুমি শুচিশুদ্ধ হও!” তৎক্ষণাৎ তার কুষ্ঠরোগ দূর হয়ে গেল।
MAT 8:4 তখন যীশু তাকে বললেন, “দেখো, তুমি একথা কাউকে বোলো না, কিন্তু যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং মোশির আদেশমতো তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।”
MAT 8:5 যীশু কফরনাহূমে প্রবেশ করলে একজন শত-সেনাপতি তাঁর কাছে এসে সাহায্যের নিবেদন করলেন।
MAT 8:6 তিনি বললেন, “প্রভু, আমার দাস পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে পড়ে আছে, ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।”
MAT 8:7 যীশু তাকে বললেন, “আমি গিয়ে তাকে সুস্থ করব।”
MAT 8:8 সেই শত-সেনাপতি উত্তরে বললেন, “প্রভু, আপনি আমার বাড়িতে আসবেন আমি এমন যোগ্য নই। কেবলমাত্র মুখে বলুন, তাতেই আমার দাস সুস্থ হবে।
MAT 8:9 কারণ আমিও কর্তৃত্বের অধীন একজন মানুষ এবং সৈন্যরা আমার অধীন। আমি তাদের একজনকে ‘যাও’ বললে সে যায়, অপরজনকে ‘এসো’ বললে সে আসে, আবার আমার দাসকে ‘এই কাজটি করো,’ বললে সে তা করে।”
MAT 8:10 একথা শুনে যীশু বিস্মিত হয়ে তাঁর অনুসরণকারীদের উদ্দেশে বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ইস্রায়েলে আমি এমন কারও সন্ধান পাইনি, যার মধ্যে এত গভীর বিশ্বাস আছে।
MAT 8:11 আমি তোমাদের বলে রাখছি, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দেশ থেকে বহু মানুষই আসবে এবং এসে অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের সঙ্গে স্বর্গরাজ্যে তাদের আসন গ্রহণ করবে।
MAT 8:12 কিন্তু সেই রাজ্যের প্রজাদের বাইরের অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হবে, যেখানে রোদন ও দন্তঘর্ষণ হবে।”
MAT 8:13 পরে যীশু সেই শত-সেনাপতিকে বললেন, “যাও! তুমি যেমন বিশ্বাস করেছ, তেমনই হবে।” আর সেই মুহূর্তেই তার দাস সুস্থ হয়ে গেল।
MAT 8:14 যীশু যখন পিতরের বাড়িতে এলেন, তিনি দেখলেন, পিতরের শাশুড়ি জ্বরে বিছানায় শুয়ে আছেন।
MAT 8:15 তিনি তাঁর হাত স্পর্শ করলেন, এবং তাঁর জ্বর ছেড়ে গেল। তিনি উঠে তাঁর পরিচর্যা করতে লাগলেন।
MAT 8:16 যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, বহু ভূতগ্রস্ত মানুষকে যীশুর কাছে নিয়ে আসা হল। তিনি মুখের কথাতেই ভূতদের তাড়িয়ে দিলেন ও সব অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করলেন।
MAT 8:17 এভাবে ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে কথিত বচন পূর্ণ হল: “তিনি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা গ্রহণ ও আমাদের সকল রোগ বহন করলেন।”
MAT 8:18 যীশু যখন তাঁর চারপাশে অনেক লোকের ভিড় দেখলেন, তিনি সাগরের অপর পারে যাওয়ার জন্য শিষ্যদের আদেশ দিলেন।
MAT 8:19 তখন একজন শাস্ত্রবিদ তাঁর কাছে এসে বললেন, “গুরুমহাশয়, আপনি যেখানে যাবেন আমিও আপনার সঙ্গে সেখানে যাব।”
MAT 8:20 উত্তরে যীশু বললেন, “শিয়ালদের গর্ত আছে, আকাশের পাখিদের বাসা আছে, কিন্তু মনুষ্যপুত্রের মাথা রাখার কোনও স্থান নেই।”
MAT 8:21 অন্য একজন শিষ্য তাঁকে বললেন, “প্রভু, প্রথমে আমাকে গিয়ে আমার পিতাকে সমাধি দিয়ে আসার অনুমতি দিন।”
MAT 8:22 কিন্তু যীশু তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো। মৃতেরাই তাদের মৃতজনদের সমাধি দিক।”
MAT 8:23 এরপর যীশু নৌকায় উঠলেন ও শিষ্যরাও তাঁর সঙ্গ নিলেন।
MAT 8:24 হঠাৎ সমুদ্রে এক ভয়ংকর ঝড় উঠল ও নৌকার উপরে ঢেউ আছড়ে পড়তে লাগল। কিন্তু যীশু তখন ঘুমাচ্ছিলেন।
MAT 8:25 শিষ্যেরা গিয়ে তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, “প্রভু, আমাদের রক্ষা করুন! আমরা যে ডুবতে বসেছি!”
MAT 8:26 তিনি উত্তর দিলেন, “অল্পবিশ্বাসীর দল, তোমরা এত ভয় পাচ্ছ কেন?” তারপর তিনি উঠে ঝড় ও ঢেউকে ধমক দিলেন, তাতে সবকিছু সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে গেল।
MAT 8:27 এতে শিষ্যেরা আশ্চর্য হয়ে বললেন, “ইনি কেমন মানুষ? ঝড় ও সমুদ্র তাঁর আদেশ পালন করে!”
MAT 8:28 পরে যীশু যখন সমুদ্রের অপর পারে গাদারীয়দের অঞ্চলে পৌঁছালেন, দুজন ভূতগ্রস্ত লোক সমাধিস্থল থেকে বের হয়ে তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হল। তারা এতই হিংস্র ছিল যে, সেই পথ দিয়ে কেউই যাওয়া-আসা করতে পারত না।
MAT 8:29 তারা চিৎকার করে বলল, “হে ঈশ্বরের পুত্র, আপনি আমাদের নিয়ে কী করতে চান? নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কি আপনি আমাদের যন্ত্রণা দিতে এসেছেন?”
MAT 8:30 তাদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে একপাল শূকর চরে বেড়াচ্ছিল।
MAT 8:31 সেই ভূতেরা যীশুর কাছে বিনতি করল, “আপনি যদি আমাদের তাড়াতে চান, তাহলে ওই শূকরদের মধ্যে আমাদের পাঠিয়ে দিন।”
MAT 8:32 তিনি তাদের বললেন, “যাও!” তখন তারা বেরিয়ে এসে সেই শূকরপালের মধ্যে প্রবেশ করল। তাতে সেই শূকরের পাল ঢালু তীর বেয়ে তীব্র গতিতে ছুটে এসে সমুদ্রে পড়ল ও জলে ডুবে মারা গেল।
MAT 8:33 যারা সেই শূকরদের চরাচ্ছিল, তারা দৌড়ে পালিয়ে নগরের মধ্যে গেল ও এসব বিষয়ের সংবাদ দিল; ওই ভূতগ্রস্ত লোকদের কী ঘটেছিল, সেকথাও তারা বলল।
MAT 8:34 তখন নগরের সমস্ত লোক যীশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বেরিয়ে এল। তারা তাঁকে দেখতে পেয়ে অনুরোধ করল, যেন তিনি তাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।
MAT 9:1 এরপর যীশু একটি নৌকায় উঠে সাগর পার করে তাঁর নিজের নগরে এলেন।
MAT 9:2 কয়েকজন মানুষ একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে খাটে শুইয়ে তাঁর কাছে নিয়ে এল। তাদের বিশ্বাস দেখে যীশু সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “বৎস, সাহস করো, তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হল।”
MAT 9:3 এতে কয়েকজন শাস্ত্রবিদ মনে মনে বলল, “এই লোকটি তো ঈশ্বরনিন্দা করছে!”
MAT 9:4 যীশু তাদের মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন, “তোমরা মনে মনে মন্দ চিন্তা করছ কেন?
MAT 9:5 কোন কথাটি বলা সহজ, ‘তোমার পাপ ক্ষমা করা হল,’ বলা না, ‘তুমি উঠে হেঁটে বেড়াও’ বলা?
MAT 9:6 কিন্তু আমি চাই যেন তোমরা জানতে পারো যে পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার মনুষ্যপুত্রের আছে” এই বলে তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “ওঠো, তোমার খাট তুলে বাড়ি চলে যাও।”
MAT 9:7 তখন ব্যক্তিটি উঠে বাড়ি চলে গেল।
MAT 9:8 এই দেখে সমস্ত লোক ভীত হয়ে উঠল এবং ঈশ্বর মানুষকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
MAT 9:9 সেই স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় যীশু দেখলেন, মথি নামে এক ব্যক্তি কর আদায়কারীর চালাঘরে বসে আছেন। তিনি তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো!” মথি তখনই উঠে পড়লেন ও তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন।
MAT 9:10 মথির বাড়িতে যীশু যখন রাতের খাওয়া খেতে বসেছিলেন, তখন বহু কর আদায়কারী ও পাপী মানুষ এসে যীশু ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে খেতে বসল।
MAT 9:11 ফরিশীরা তা লক্ষ্য করে তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করল, “কর আদায়কারী ও পাপীদের সঙ্গে বসে তোমাদের গুরুমহাশয় কেন খাওয়াদাওয়া করেন?”
MAT 9:12 একথা শুনে যীশু বললেন, “পীড়িত ব্যক্তিরই চিকিৎসকের প্রয়োজন, সুস্থ ব্যক্তির নয়।
MAT 9:13 কিন্তু তোমরা যাও এবং এই বাক্যের মর্ম কি তা শিক্ষা নাও: ‘আমি দয়া চাই, বলিদান নয়।’ কারণ আমি ধার্মিকদের নয়, কিন্তু পাপীদের আহ্বান করতে এসেছি।”
MAT 9:14 এরপর যোহনের শিষ্যেরা এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “এ কী রকম যে, ফরিশীরা ও আমরা উপোস করি, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা উপোস করে না?”
MAT 9:15 যীশু উত্তর দিলেন, “বর সঙ্গে থাকতে তার অতিথিরা কীভাবে দুঃখ করতে পারে? সময় আসবে, যখন বরকে তাদের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে; তখন তারা উপোস করবে।
MAT 9:16 “পুরোনো পোশাকে কেউ নতুন কাপড়ের তালি লাগায় না, কারণ তা করলে সেই কাপড়ের টুকরোটি পুরোনো পোশাক থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে ও সেই ছিদ্র আরও বড়ো হয়ে উঠবে।
MAT 9:17 আবার পুরোনো চামড়ার সুরাধারে কেউই টাটকা আঙুরের রস ঢালে না। যদি ঢালে, তাহলে চামড়ার সুরাধার ফেটে যাবে, আঙুরের রস গড়িয়ে পড়বে এবং সুরাধারটিও নষ্ট হবে। না, তারা নতুন আঙুরের রস নতুন সুরাধারেই রাখে, এতে উভয়ই সংরক্ষিত থাকে।”
MAT 9:18 যীশু যখন এই কথাগুলি বলছিলেন, এমন সময়ে একজন সমাজভবনের অধ্যক্ষ এসে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বললেন, “আমার মেয়েটি সবেমাত্র মারা গেছে। কিন্তু আপনি এসে তার উপরে হাত রাখুন, তাহলে সে বেঁচে উঠবে।”
MAT 9:19 যীশু উঠে তাঁর সঙ্গ নিলেন, তাঁর শিষ্যেরাও তাই করলেন।
MAT 9:20 ঠিক সেই মুহূর্তে, এক নারী, যে বারো বছর ধরে রক্তস্রাবের ব্যাধিতে ভুগছিল, তাঁর পিছন দিক থেকে এসে তাঁর পোশাকের আঁচল স্পর্শ করল।
MAT 9:21 সে মনে মনে ভেবেছিল, “কেবলমাত্র তাঁর পোশাকটুকু যদি আমি স্পর্শ করতে পারি, তাহলেই আমি সুস্থ হব।”
MAT 9:22 যীশু পিছন ফিরে তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, “সাহস করো, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।” সেই মুহূর্ত থেকেই সেই নারী সুস্থ হল।
MAT 9:23 যীশু সেই সমাজভবনের অধ্যক্ষের বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন বাঁশি-বাদকেরা রয়েছে ও লোকেরা শোরগোল করছে।
MAT 9:24 তিনি বললেন, “তোমরা চলে যাও। মেয়েটি মারা যায়নি, সে ঘুমিয়ে আছে।” তারা কিন্তু তাঁকে উপহাস করতে লাগল।
MAT 9:25 লোকের ভিড় এক পাশে সরিয়ে দেওয়ার পর, যীশু ভিতরে গিয়ে মেয়েটির হাত ধরলেন। এতে সে উঠে বসল।
MAT 9:26 এই ঘটনার সংবাদ সেই সমস্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল।
MAT 9:27 যীশু সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় দুজন অন্ধ মানুষ তাঁকে অনুসরণ করে চিৎকার করতে লাগল, “দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি দয়া করুন।”
MAT 9:28 তিনি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে সেই দুজন অন্ধ মানুষ তাঁর কাছে এল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, আমি এ কাজ করতে পারি?” তারা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, প্রভু।”
MAT 9:29 তখন তিনি তাদের চোখ স্পর্শ করলেন ও বললেন, “তোমাদের বিশ্বাস অনুযায়ীই তোমাদের প্রতি হোক।”
MAT 9:30 আর তারা দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরে পেল। যীশু তাদের কঠোরভাবে সাবধান করে দিয়ে বললেন, “দেখো, কেউ যেন একথা জানতে না পারে।”
MAT 9:31 কিন্তু তারা বাইরে গিয়ে সেই অঞ্চলের সর্বত্র তাঁর সংবাদ ছড়িয়ে দিল।
MAT 9:32 সেই দুজন যখন বেরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন একজন ভূতগ্রস্ত মানুষকে যীশুর কাছে নিয়ে আসা হল। সে কথা বলতে পারত না।
MAT 9:33 যখন সেই ভূতকে তাড়ানো হল তখন বোবা মানুষটি কথা বলতে লাগল। সকলে বিস্ময়ে আশ্চর্য হয়ে বলল, “ইস্রায়েলে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও দেখা যায়নি।”
MAT 9:34 কিন্তু ফরিশীরা বলল, “ও তো ভূতদের অধিপতির দ্বারাই ভূত ছাড়ায়।”
MAT 9:35 যীশু বিভিন্ন নগর ও গ্রাম পরিক্রমা করতে লাগলেন। তিনি তাদের সমাজভবনগুলিতে শিক্ষা দিতে ও স্বর্গরাজ্যের সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন। তিনি সব ধরনের রোগ ও ব্যাধি দূর করলেন।
MAT 9:36 যখন তিনি লোকের ভিড় দেখলেন তিনি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেন, কারণ তারা পালকহীন মেষপালের মতো বিপর্যস্ত ও দিশেহারা ছিল।
MAT 9:37 তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “ফসল প্রচুর, কিন্তু কর্মী সংখ্যা অল্প।
MAT 9:38 তোমরা ফসলের মালিকের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি তাঁর শস্যক্ষেত্রে কর্মচারীদের পাঠান।”
MAT 10:1 যীশু তাঁর বারোজন শিষ্যকে নিজের কাছে ডাকলেন। তিনি তাঁদের অশুচি আত্মা তাড়ানোর, সমস্ত রকম রোগ ও পীড়া ভালো করার ক্ষমতা দিলেন।
MAT 10:2 সেই বারোজন প্রেরিতের নাম হল: প্রথমে, শিমোন যাকে পিতর নামে ডাকা হত ও তার ভাই আন্দ্রিয়; সিবদিয়ের পুত্র যাকোব ও তার ভাই যোহন;
MAT 10:3 ফিলিপ ও বর্থলময়; থোমা ও কর আদায়কারী মথি; আলফেয়ের পুত্র যাকোব ও থদ্দেয়;
MAT 10:4 উদ্যোগী শিমোন ও যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ, যে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
MAT 10:5 যীশু বারোজনকে এসব আদেশ দিয়ে পাঠালেন: “তোমরা অইহুদিদের মধ্যে যেয়ো না বা শমরীয়দের কোনো নগরে প্রবেশ কোরো না।
MAT 10:6 বরং তোমরা ইস্রায়েলের হারিয়ে যাওয়া মেষদের কাছে যাও।
MAT 10:7 তোমরা যেতে যেতে এই বার্তা প্রচার কোরো: ‘স্বর্গরাজ্য সন্নিকট।’
MAT 10:8 তোমরা পীড়িতদের সুস্থ করো, মৃতদের উত্থাপন করো, যাদের কুষ্ঠরোগ আছে, তাদের শুচিশুদ্ধ করো, ভূতদের তাড়িও। তোমরা বিনামূল্যে পেয়েছ, সেইরূপ বিনামূল্যেই দান করো।
MAT 10:9 “তোমাদের কোমরের বেল্টে সোনা, বা রুপো, বা তামার মুদ্রা নিয়ো না;
MAT 10:10 যাত্রার উদ্দেশ্যে কোনো থলি, বা অতিরিক্ত পোশাক, বা চটিজুতো বা কোনো ছড়ি নিয়ো না; কর্মচারী তার বেতন পাওয়ার যোগ্য।
MAT 10:11 আর তোমরা যে নগরে বা গ্রামে প্রবেশ করবে, সেখানকার কোনো উপযুক্ত লোকের সন্ধান করে সেই স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার বাড়িতেই থেকো।
MAT 10:12 সেই বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, তোমরা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ো।
MAT 10:13 যদি সেই বাড়ি যোগ্য হয়, তোমাদের শান্তি তার উপরে বিরাজ করুক; যদি যোগ্য না হয়, তাহলে তোমাদের শান্তি তোমাদেরই কাছে ফিরে আসুক।
MAT 10:14 কেউ যদি তোমাদের স্বাগত না জানায়, বা তোমাদের কথা না শোনে, সেই বাড়ি বা নগর ত্যাগ করার সময় তোমাদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলো।
MAT 10:15 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, বিচারদিনে সদোম ও ঘমোরার দশা, বরং সেই নগরের চেয়ে বেশি সহনীয় হবে।
MAT 10:16 “আমি নেকড়েদের মধ্যে তোমাদের মেষের মতো পাঠাচ্ছি। সেই কারণে, তোমরা সাপের মতো চতুর ও কপোতের মতো সরল হও।
MAT 10:17 লোকেদের ব্যাপারে তোমরা সাবধান থেকো। তারা তোমাদের স্থানীয় বিচার-পরিষদের হাতে তুলে দেবে এবং তাদের সমাজভবনে তোমাদের চাবুক মারবে।
MAT 10:18 আমারই কারণে প্রদেশপালদের ও রাজাদের কাছে এবং অইহুদিদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তোমাদের নিয়ে যাওয়া হবে।
MAT 10:19 কিন্তু, তারা যখন তোমাদের গ্রেপ্তার করবে, কী বলবে বা কীভাবে তা বলবে, সে বিষয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না। সেই সময়ে, তোমরা কী বলবে, তা তোমাদের বলে দেওয়া হবে।
MAT 10:20 কারণ তোমরা যে কথা বলবে, তা নয়, কিন্তু তোমাদের পিতার আত্মাই তোমাদের মাধ্যমে কথা বলবেন।
MAT 10:21 “ভাই ভাইকে ও পিতা সন্তানকে প্রতারিত করবে; ছেলেমেয়েরা বাবা-মার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে তাদের মৃত্যুর উদ্দেশে সমর্পণ করবে।
MAT 10:22 আমার কারণে সব মানুষ তোমাদের ঘৃণা করবে, কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।
MAT 10:23 কোনো এক স্থানে তোমরা নির্যাতিত হলে অন্য স্থানে পালিয়ে যেয়ো। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, মনুষ্যপুত্রের আগমনের পূর্বে ইস্রায়েলের নগরগুলির পরিক্রমা তোমরা শেষ করতে পারবে না।
MAT 10:24 “কোনো শিষ্য তার গুরু থেকে বড়ো নয়, কোনো দাস তার মনিব থেকেও নয়।
MAT 10:25 শিষ্য যদি গুরুর সদৃশ হয় এবং দাস তার মনিবের সদৃশ, তাহলেই যথেষ্ট। বাড়ির কর্তাকেই যদি বেলসবুল বলা হয়, তার পরিজনদের আরও কত নাকি বলা হবে।
MAT 10:26 “সুতরাং, তোমরা তাদের ভয় পেয়ো না। এমন কিছুই লুকোনো নেই যা প্রকাশ পাবে না, বা এমন কিছুই গোপন নেই যা জানা যাবে না।
MAT 10:27 আমি তোমাদের অন্ধকারে যা কিছু বলি, দিনের আলোয় তোমরা তা বোলো; তোমাদের কানে কানে যা বলা হয়, তা ছাদের উপর থেকে ঘোষণা কোরো।
MAT 10:28 যারা কেবলমাত্র শরীর বধ করতে পারে, কিন্তু আত্মাকে বধ করতে পারে না, তাদের ভয় কোরো না। বরং, যিনি আত্মা ও শরীর, উভয়কেই নরকে ধ্বংস করতে পারেন, তোমরা তাঁকেই ভয় কোরো।
MAT 10:29 দুটি চড়ুইপাখি কি এক পয়সায় বিক্রি হয় না? তবুও, তোমাদের পিতার ইচ্ছা ব্যতিরেকে তাদের একটিও মাটিতে পড়ে না।
MAT 10:30 এমনকি, তোমাদের মাথার চুলগুলিরও সংখ্যা গোনা আছে।
MAT 10:31 তাই ভয় পেয়ো না কারণ চড়ুইপাখি থেকেও তোমরা অনেক বেশি মূল্যবান।
MAT 10:32 “যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, আমিও স্বর্গে আমার পিতার কাছে তাকে স্বীকার করব।
MAT 10:33 কিন্তু কেউ যদি মানুষের সাক্ষাতে আমাকে অস্বীকার করে, আমিও স্বর্গে আমার পিতার কাছে তাকে অস্বীকার করব।
MAT 10:34 “মনে কোরো না যে আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে এসেছি। আমি শান্তি দিতে নয়, কিন্তু এক খড়্গ দিতে এসেছি।
MAT 10:35 কারণ আমি এসেছি, “পুত্রকে তার পিতার বিরুদ্ধে বিচ্ছেদ করাতে ‘কন্যাকে তার মাতার বিরুদ্ধে, পুত্রবধূকে তার শাশুড়ির বিরুদ্ধে—
MAT 10:36 একজন মানুষের শত্রু তার নিজ পরিবারের সদস্যই হবে।’
MAT 10:37 “যে তার বাবা অথবা মাকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসে সে আমার যোগ্য নয়। যে তার ছেলে বা মেয়েকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসে সে আমার যোগ্য নয়।
MAT 10:38 আর যে আমার অনুগামী হতে চায় অথচ নিজের ক্রুশ বহন করে না, সে আমার যোগ্য নয়।
MAT 10:39 যে তার প্রাণরক্ষা করতে চায় সে তা হারাবে এবং কেউ যদি আমার কারণে তার প্রাণ হারায় সে তা লাভ করবে।
MAT 10:40 “যে তোমাদের গ্রহণ করে সে আমাকেই গ্রহণ করে; যে আমাকে গ্রহণ করে সে তাঁকেই গ্রহণ করে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
MAT 10:41 কেউ যদি কোনো ভাববাদীকে ভাববাদী জেনে গ্রহণ করে, সে এক ভাববাদীরই পুরস্কার লাভ করবে। আবার যে এক ধার্মিক ব্যক্তিকে ধার্মিক ব্যক্তি বলে গ্রহণ করে, সেও ধার্মিকের পুরস্কার পাবে।
MAT 10:42 আবার এই ক্ষুদ্রজনেদের মধ্যে কোনো একজনকে কেউ যদি আমার শিষ্য জেনে এক পেয়ালা ঠান্ডা জল দেয়, আমি তোমাদের সত্যি বলছি সে কোনোমতেই তার প্রাপ্য পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে না।”
MAT 11:1 যীশু তাঁর বারোজন শিষ্যকে আদেশ দেওয়া শেষ করে সেখান থেকে গালীলের বিভিন্ন নগরে শিক্ষা দিতে ও প্রচার করতে চলে গেলেন।
MAT 11:2 সেই সময়ে, যোহন কারাগার থেকে মশীহের কার্যাবলি শুনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁর শিষ্যদের এই বলে পাঠালেন,
MAT 11:3 “যাঁর আসার কথা ছিল আপনিই কি তিনি না আমরা অন্য কারও প্রতীক্ষায় থাকব?”
MAT 11:4 যীশু উত্তর দিলেন, “তোমরা যা শুনছ ও দেখছ, ফিরে গিয়ে যোহনকে সেই কথা বলো।
MAT 11:5 যারা অন্ধ তারা দৃষ্টি পাচ্ছে, যারা খোঁড়া তারা চলতে পারছে, যারা কুষ্ঠরোগী তারা শুচিশুদ্ধ হচ্ছে, যারা কালা তারা শুনতে পাচ্ছে, যারা মৃত তারা উত্থাপিত হচ্ছে ও যারা দরিদ্র তাদের কাছে সুসমাচার প্রচারিত হচ্ছে।
MAT 11:6 আর ধন্য সেই ব্যক্তি যে আমার কারণে বাধা পায় না।”
MAT 11:7 যখন যোহনের শিষ্যেরা চলে যাচ্ছিল, তখন যীশু সকলের কাছে যোহনের সম্পর্কে বলতে লাগলেন, “তোমরা মরুপ্রান্তরে কী দেখতে গিয়েছিলে? বাতাসে দুলছে এমন কোনো নলখাগড়া?
MAT 11:8 তা যদি না হয়, তাহলে তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? মোলায়েম পোশাক পরা কোনো মানুষকে? তা নয়, যারা মোলায়েম পোশাকে পরিচ্ছন্ন তারা তো রাজপ্রাসাদে থাকে।
MAT 11:9 তাহলে তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? কোনো ভাববাদীকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলি, ভাববাদীর চেয়েও মহত্তর একজনকে।
MAT 11:10 ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে লেখা আছে: “ ‘আমি আমার বার্তাবাহককে তোমার আগে পাঠাব, যে তোমার আগে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে।’
MAT 11:11 আমি তোমাদের সত্যি বলছি: নারীর গর্ভে জন্মেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে, বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের চেয়ে মহান আর কেউই নেই; তবুও স্বর্গরাজ্যে যে নগণ্যতম সেও যোহনের চেয়ে মহান।
MAT 11:12 বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত, স্বর্গরাজ্য সবলে অগ্রসর হচ্ছে ও পরাক্রমী ব্যক্তিরা তা অধিকার করছে।
MAT 11:13 কারণ সমস্ত ভাববাদী ও বিধান যোহনের সময় পর্যন্ত ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছে।
MAT 11:14 আর তোমরা যদি স্বীকার করতে আগ্রহী হও তাহলে জেনে নাও, ইনিই সেই এলিয় যার আগমনের কথা ছিল।
MAT 11:15 যার কান আছে, সে শুনুক।
MAT 11:16 “এই প্রজন্মকে আমি কার সঙ্গে তুলনা করব? তারা সেই ছেলেমেয়েদের মতো, যারা হাটেবাজারে বসে অন্য লোকদের আহ্বান করে বলে,
MAT 11:17 “ ‘আমরা তোমাদের জন্য বাঁশি বাজালাম, তোমরা তো নৃত্য করলে না; আমরা শোকগাথা গাইলাম, তোমরা তো বিলাপ করলে না!’
MAT 11:18 কারণ যোহন এসে আহার করলেন না, দ্রাক্ষারসও পান করলেন না, অথচ তারা বলল, ‘সে ভূতগ্রস্ত।’
MAT 11:19 মনুষ্যপুত্র এলেন, খাওয়াদাওয়া করলেন, কিন্তু তারা বলল, ‘এই দেখো একজন পেটুক ও মদ্যপ, কর আদায়কারী ও “পাপীদের” বন্ধু।’ কিন্তু প্রজ্ঞা তার অনুসরণকারীদের আচরণের দ্বারাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়।”
MAT 11:20 এরপর যীশু সেই সমস্ত নগরকে ধিক্কার দিতে লাগলেন, যেখানে তাঁর অধিকাংশ অলৌকিক কাজ সম্পাদিত হয়েছিল, কারণ তারা মন পরিবর্তন করেনি। তিনি বললেন,
MAT 11:21 “কোরাসীন, ধিক্ তোমাকে! বেথসৈদা, ধিক্ তোমাকে! তোমাদের মধ্যে যেসব অলৌকিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, সেসব যদি টায়ার ও সীদোনে করা হত, তারা অনেক আগেই চটবস্ত্র পরে ভস্মে বসে অনুতাপ করত।
MAT 11:22 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, বিচারদিনে টায়ার ও সীদোনের দশা, বরং তোমাদের চেয়ে বেশি সহনীয় হবে।
MAT 11:23 আর তুমি কফরনাহূম, তুমি কি না স্বর্গ পর্যন্ত উঁচুতে উঠবে? তা নয়, তুমি অধোলোক পর্যন্ত তলিয়ে যাবে। তোমার মধ্যে যেসব অলৌকিক কাজ করা হয়েছে, সেগুলি যদি সদোমে করা হত, তাহলে আজও সেই নগরের অস্তিত্ব থাকত।
MAT 11:24 কিন্তু আমি তোমাকে বলছি যে, বিচারদিনে টায়ার ও সদোমের দশা, বরং তোমাদের চেয়ে বেশি সহনীয় হবে।”
MAT 11:25 সেই সময় যীশু বললেন, “হে পিতা, তুমি স্বর্গ ও পৃথিবীর প্রভু, আমি তোমার প্রশংসা করি, কারণ তুমি এই সমস্ত বিষয় বিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষদের কাছ থেকে গোপন রেখে ছোটো শিশুদের কাছে প্রকাশ করেছ।
MAT 11:26 হ্যাঁ পিতা, কারণ এই ছিল তোমার ঈপ্সিত ইচ্ছা।
MAT 11:27 “আমার পিতা সবকিছুই আমার হাতে সমর্পণ করেছেন। পুত্রকে কেউ জানে না, কেবলমাত্র পিতা জানেন এবং পিতাকে কেউ জানে না, কেবলমাত্র পুত্র জানেন ও পুত্র যার কাছে তাঁকে প্রকাশ করেন, সেই জানে।
MAT 11:28 “ওহে, তোমরা যারা পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত, আমার কাছে এসো, আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব।
MAT 11:29 আমার জোয়াল তোমরা নিজেদের উপরে তুলে নাও ও আমার কাছে শিক্ষা নাও, কারণ আমার স্বভাব কোমল ও নম্র। এতে তোমরা নিজেদের অন্তরে বিশ্রাম পাবে।
MAT 11:30 কারণ আমার জোয়াল সহজ ও আমার বোঝা হালকা।”
MAT 12:1 সেই সময়ে যীশু বিশ্রামদিনে শস্যক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর শিষ্যেরা ক্ষুধার্ত ছিলেন। তাঁরা শস্যের শিষ ছিঁড়ে খেতে লাগলেন।
MAT 12:2 এ দেখে ফরিশীরা তাঁকে বলল, “দেখুন! বিশ্রামদিনে যা করা বিধিসংগত নয়, আপনার শিষ্যেরা তাই করছে।”
MAT 12:3 তিনি উত্তর দিলেন, “দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা যখন ক্ষুধার্ত ছিলেন, তখন তাঁরা কী করেছিলেন, তা কি তোমরা পাঠ করোনি?
MAT 12:4 তিনি ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সেই পবিত্র রুটি খেয়েছিলেন, যা করা তাঁদের পক্ষে বিধিসংগত ছিল না, কিন্তু কেবলমাত্র যাজকদেরই ছিল।
MAT 12:5 কিংবা, তোমরা কি মোশির বিধানে (বিধিগ্রন্থে) পড়োনি যে, বিশ্রামদিনে যাজকেরা মন্দির অপবিত্র করলেও তাঁরা নির্দোষ থাকতেন?
MAT 12:6 আমি তোমাদের বলছি, মন্দির থেকেও মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন।
MAT 12:7 ‘আমি দয়া চাই, বলিদান নয়,’ এই বাক্যের মর্ম যদি তোমরা বুঝতে, তাহলে নির্দোষদের তোমরা দোষী সাব্যস্ত করতে না।
MAT 12:8 কারণ, মনুষ্যপুত্রই হলেন বিশ্রামদিনের প্রভু।”
MAT 12:9 সেই স্থান থেকে চলে গিয়ে, তিনি তাদের সমাজভবনে প্রবেশ করলেন।
MAT 12:10 সেখানে একটি লোক ছিল, যার একটি হাত শুকিয়ে গিয়েছিল। যীশুকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো সূত্র পাওয়ার সন্ধানে তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “বিশ্রামদিনে সুস্থ করা কি বিধিসংগত?”
MAT 12:11 তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের মধ্যে কারও যদি একটি মেষ থাকে ও সেটি বিশ্রামদিনে গর্তে পড়ে যায়, তাহলে তোমরা কি সেটিকে ধরে তুলবে না?
MAT 12:12 একটি মেষের চেয়ে একজন মানুষ আরও কত না মূল্যবান! সেই কারণে, বিশ্রামদিনে ভালো কাজ করা ন্যায়সংগত।”
MAT 12:13 তারপর তিনি সেই লোকটিকে বললেন, “তোমার হাতটি বাড়িয়ে দাও।” তাই সে হাতটি বাড়িয়ে দিল এবং সেটি অন্য হাতটির মতোই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল।
MAT 12:14 কিন্তু ফরিশীরা বাইরে গিয়ে কীভাবে যীশুকে হত্যা করতে পারে, তার ষড়যন্ত্র করতে লাগল।
MAT 12:15 সেকথা জানতে পেরে, যীশু সেই স্থান থেকে চলে গেলেন। বহু মানুষ তাঁকে অনুসরণ করল এবং তিনি তাদের সব অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করলেন।
MAT 12:16 তিনি তাদের সতর্ক করলেন তারা যেন কাউকে না বলে যে, আসলে তিনি কে।
MAT 12:17 এরকম হল যেন ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে কথিত বচন পূর্ণ হয়:
MAT 12:18 “এই দেখো আমার দাস, আমার মনোনীত, যাঁকে আমি প্রেম করি, যাঁর প্রতি আমি পরম প্রসন্ন; আমি তাঁর উপরে আমার আত্মাকে স্থাপন করব, আর তিনি সর্বজাতির কাছে ন্যায়ের বাণী প্রচার করবেন।
MAT 12:19 তিনি কলহবিবাদ করবেন না, উচ্চরবে চিৎকার করবেন না, পথে পথে কেউ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে না।
MAT 12:20 তিনি দলিত নলখাগড়া ভেঙে ফেলবেন না, এবং ধূমায়িত সলতে নির্বাপিত করবেন না, যতক্ষণ না ন্যায়বিচারকে প্রবলরূপে বলবৎ করেন।
MAT 12:21 আর সর্বজাতি তাঁরই নামে তাদের প্রত্যাশা রাখবে।”
MAT 12:22 তারপর তারা একজন ভূতগ্রস্ত ব্যক্তিকে তাঁর কাছে নিয়ে এল। সে ছিল অন্ধ ও বোবা। যীশু তাকে সুস্থ করলেন, আর সে দৃষ্টি ও বাক্ শক্তি, উভয়ই ফিরে পেল।
MAT 12:23 সব মানুষ চমৎকৃত হয়ে বলল, “ইনি কি সেই দাউদের সন্তান?”
MAT 12:24 কিন্তু ফরিশীরা একথা শুনে বলল, “এই লোকটি তো ভূতদের অধিপতি, বেলসবুলের দ্বারা ভূত তাড়ায়।”
MAT 12:25 যীশু তাদের মনের কথা বুঝতে পেরে তাদের বললেন, “যে কোনো রাজ্য অন্তর্বিরোধের ফলে বিভাজিত হলে, তা ধ্বংস হয়, আর যে কোনো নগর বা পরিবার অন্তর্বিরোধের কারণে বিভাজিত হলে, তা স্থির থাকতে পারে না।
MAT 12:26 শয়তান যদি শয়তানকে বিতাড়িত করে, সে তার নিজের বিপক্ষেই বিভাজিত হবে। তাহলে কীভাবে তার রাজ্য স্থির থাকবে?
MAT 12:27 আর আমি যদি বেলসবুলের দ্বারা ভূত তাড়িয়ে থাকি, তাহলে তোমাদের লোকেরা কার সাহায্যে তাদের তাড়ায়? সেই কারণে, তারাই তোমাদের বিচারক হবে।
MAT 12:28 কিন্তু যদি আমি ঈশ্বরের আত্মার সাহায্যে ভূতদের বিতাড়িত করি, তাহলে ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের উপরে এসে পড়েছে।
MAT 12:29 “আবার, কীভাবে কেউ কোনো শক্তিশালী ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করে তার ধনসম্পত্তি লুট করতে পারে, যতক্ষণ না সেই শক্তিশালী ব্যক্তিকে বেঁধে ফেলে? কেবলমাত্র তখনই সে তার বাড়ি লুট করতে পারবে।
MAT 12:30 “যে আমার পক্ষে নয়, সে আমার বিপক্ষে, আর যে আমার সঙ্গে সংগ্রহ করে না, সে ছড়িয়ে ফেলে।
MAT 12:31 আর তাই আমি তোমাদের বলছি, মানুষের সব পাপ ও ঈশ্বরনিন্দার ক্ষমা হবে, কিন্তু পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে নিন্দা ক্ষমা করা হবে না।
MAT 12:32 কোনো ব্যক্তি মনুষ্যপুত্রের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু কেউ যদি পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে কথা বলে, তাকে ইহকাল বা পরকাল, কোনো কালেই ক্ষমা করা হবে না।
MAT 12:33 “গাছ ভালো হলে তার ফলও ভালো হবে, আবার গাছ মন্দ হলে তার ফলও মন্দ হবে, কারণ ফল দেখেই গাছ চেনা যায়।
MAT 12:34 তোমরা বিষধর সাপের বংশধর! তোমাদের মতো মন্দ মানুষ কীভাবে কোনও ভালো কথা বলতে পারে? কারণ হৃদয় থেকে যা উপচে পড়ে মুখ সেকথাই ব্যক্ত করে।
MAT 12:35 ভালো মানুষ তার অন্তরের সঞ্চিত ভালো ভাণ্ডার থেকে ভালো বিষয়ই বের করে এবং মন্দ মানুষ তার অন্তরের সঞ্চিত মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দ বিষয়ই বের করে।
MAT 12:36 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, মানুষ যত অনর্থক কথা বলে, বিচারদিনে তাকে তার প্রত্যেকটির জবাবদিহি করতে হবে।
MAT 12:37 কারণ তোমাদের কথার দ্বারাই তোমরা অব্যাহতি পাবে, আর তোমাদের কথার দ্বারাই তোমরা অপরাধী সাব্যস্ত হবে।”
MAT 12:38 এরপরে কয়েকজন ফরিশী ও শাস্ত্রবিদ তাঁকে বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা আপনার কাছ থেকে কোনও অলৌকিক চিহ্ন দেখতে চাই।”
MAT 12:39 তিনি উত্তর দিলেন, “দুষ্ট ও ব্যভিচারী প্রজন্মই অলৌকিক চিহ্ন দেখতে চায়! কিন্তু ভাববাদী যোনার চিহ্ন ছাড়া আর কোনো চিহ্নই কাউকে দেওয়া হবে না।
MAT 12:40 কারণ যোনা যেমন এক বিশাল মাছের পেটে তিন দিন ও তিনরাত ছিলেন, মনুষ্যপুত্রও তেমনই তিন দিন ও তিনরাত মাটির নিচে থাকবেন।
MAT 12:41 বিচারের দিনে নীনবী নগরের লোকেরা এই প্রজন্মের লোকদের সঙ্গে উঠে দাঁড়াবে ও এদের অভিযুক্ত করবে; কারণ তারা যোনার প্রচারে মন পরিবর্তন করেছিল, আর এখন যোনার চেয়েও মহান একজন এখানে উপস্থিত আছেন।
MAT 12:42 বিচারের দিনে দক্ষিণ দেশের রানি এই প্রজন্মের লোকেদের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের অভিযুক্ত করবেন, কারণ শলোমনের প্রজ্ঞার বাণী শোনার জন্য তিনি পৃথিবীর সুদূর প্রান্ত থেকে এসেছিলেন। কিন্তু শলোমনের চেয়েও মহান একজন এখানে উপস্থিত আছেন।
MAT 12:43 “কোনো মানুষের ভিতর থেকে যখন কোনও দুষ্ট-আত্মা বের হয়ে যায় সে তখন বিশ্রামের খোঁজে শুষ্ক-ভূমিতে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু তার সন্ধান পায় না।
MAT 12:44 তখন সে বলে, ‘আমি যে বাড়ি ছেড়ে এসেছি সেখানেই ফিরে যাব।’ যখন সে ফিরে আসে তখন সেই বাড়ি শূন্য, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল দেখতে পায়।
MAT 12:45 তখন সে গিয়ে তার থেকেও দুষ্ট আরও সাতটি আত্মাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে আসে, আর তারা ভিতরে প্রবেশ করে সেখানে বাস করতে থাকে। তখন সেই মানুষটির অন্তিমদশা আগের থেকে আরও বেশি শোচনীয় হয়ে পড়ে। এই দুষ্ট প্রজন্মের দশা সেরকমই হবে।”
MAT 12:46 যীশু যখন লোকেদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন।
MAT 12:47 এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, “আপনার মা ও ভাইয়েরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন।”
MAT 12:48 তিনি তাঁকে উত্তর দিলেন, “কে আমার মা আর কারাই বা আমার ভাই?”
MAT 12:49 তাঁর শিষ্যদের দিকে ইশারা করে তিনি বললেন, “এই যে আমার মা ও ভাইয়েরা।
MAT 12:50 কারণ যে কেউ আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, তারাই আমার ভাই, বোন ও মা।”
MAT 13:1 সেইদিনই যীশু বাড়ি থেকে বের হয়ে সাগরের তীরে গিয়ে বসলেন।
MAT 13:2 তাঁর চারপাশে এত লোক সমবেত হল যে তিনি একটি নৌকায় উঠলেন ও তার উপরে বসলেন। সব লোক তীরে দাঁড়িয়ে রইল।
MAT 13:3 তখন তিনি রূপকের মাধ্যমে তাদের অনেক কথা বলতে লাগলেন। তিনি বললেন, “একজন কৃষক তার বীজবপন করতে গেল।
MAT 13:4 সে যখন বীজ ছড়াচ্ছিল, কিছু বীজ পথের ধারে পড়ল, আর পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেলল।
MAT 13:5 কিছু বীজ পাথুরে জমিতে পড়ল, যেখানে মাটি গভীর ছিল না। মাটি অগভীর থাকাতে সেগুলো দ্রুত অঙ্কুরিত হল,
MAT 13:6 কিন্তু যখন সূর্য উঠল চারাগুলি ঝলসে গেল এবং মূল না থাকাতে সেগুলি শুকিয়ে গেল।
MAT 13:7 অন্য কিছু বীজ পড়ল কাঁটাঝোপের মধ্যে। সেগুলি বৃদ্ধি পেলে কাঁটাঝোপ তাদের চেপে রাখল।
MAT 13:8 তবুও কিছু বীজ উৎকৃষ্ট জমিতে পড়ল ও ফসল উৎপন্ন করল—যা বপন করা হয়েছিল তার শতগুণ, ষাটগুণ বা ত্রিশগুণ পর্যন্ত।
MAT 13:9 যাদের কান আছে, তারা শুনুক।”
MAT 13:10 শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি লোকদের কাছে রূপকের মাধ্যমে কথা বলছেন কেন?”
MAT 13:11 উত্তরে তিনি বললেন, “স্বর্গরাজ্যের গুপ্তরহস্য তোমাদের জানতে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে নয়।
MAT 13:12 যার কাছে আছে, তাকে আরও দেওয়া হবে ও তার অনেক হবে। যার কাছে নেই, তার কাছে যা আছে, তাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে।
MAT 13:13 এই কারণে আমি তাদের কাছে রূপকের মাধ্যমে কথা বলছি: “ ‘যেন দেখেও তারা দেখতে না পায়, শুনেও তারা শুনতে বা বুঝতে না পায়।’
MAT 13:14 তাদের মধ্যেই যিশাইয়ের এই ভবিষ্যদ্‌বাণী পূর্ণ হয়েছে: “ ‘তোমরা সবসময়ই শুনতে থাকবে, কিন্তু কখনও বুঝতে পারবে না; তোমরা সবসময়ই দেখতে থাকবে, কিন্তু কখনও উপলব্ধি করবে না।
MAT 13:15 কারণ এই লোকেদের হৃদয় অনুভূতিহীন হয়েছে, তারা কদাচিৎ তাদের কান দিয়ে শোনে এবং তারা তাদের চোখ বন্ধ করেছে। অন্যথায়, তারা হয়তো তাদের চোখ দিয়ে দেখবে, তাদের কান দিয়ে শুনবে, তাদের মন দিয়ে বুঝবে ও ফিরে আসবে, যেন আমি তাদের আরোগ্য দান করি।’
MAT 13:16 কিন্তু ধন্য তোমাদের চোখ কারণ সেগুলি দেখতে পায় ও তোমাদের কান কারণ সেগুলি শুনতে পায়।
MAT 13:17 কারণ আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা যা দেখছ, বহু ভাববাদী ও ধার্মিক ব্যক্তি, তা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তা দেখতে পাননি এবং তোমরা যা শুনছ, তাঁরা তা শুনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শুনতে পাননি।
MAT 13:18 “তাহলে শোনো, বীজবপকের রূপকের তাৎপর্য কী:
MAT 13:19 যখন কেউ স্বর্গরাজ্যের বার্তা শোনে অথচ বোঝে না, তখন সেই পাপাত্মা এসে তার হৃদয়ে যা বপন করা হয়েছিল, তা হরণ করে নেয়। এ সেই বীজ, যা পথের ধারে বপন করা হয়েছিল।
MAT 13:20 আর পাথুরে জমিতে বপন করা বীজের সম্বন্ধে বলা হয়েছে, যে বাক্য শোনামাত্র তা সানন্দে গ্রহণ করে,
MAT 13:21 কিন্তু যেহেতু তার অন্তরে মূল নেই, সে অল্পকালমাত্র স্থির থাকে। আর বাক্যের কারণে যখন কষ্ট বা অত্যাচার আসে, সে দ্রুত পিছিয়ে যায়।
MAT 13:22 আর যে বীজ কাঁটাঝোপে বপন করা হয়েছিল, সে সেই মানুষ যে বাক্য শোনে কিন্তু এই জীবনের সব দুশ্চিন্তা ও ধনসম্পদের প্রতারণা তা চেপে রাখে, এতে তা ফলহীন হয়।
MAT 13:23 কিন্তু উৎকৃষ্ট জমিতে যে বীজবপন করা হয়েছিল, সে সেই ব্যক্তি যে বাক্য শোনে ও তা বোঝে। যা বপন করা হয়েছিল সে তার শতগুণ, ষাটগুণ বা ত্রিশগুণ ফসল উৎপন্ন করে।”
MAT 13:24 যীশু তাদের আর একটি রূপকের কথা বললেন: “স্বর্গরাজ্য এমন একজন মানুষের মতো, যিনি তার মাঠে উৎকৃষ্ট বীজবপন করলেন।
MAT 13:25 কিন্তু সবাই যখন নিদ্রাচ্ছন্ন, তার শত্রুরা এসে গমের সঙ্গে শ্যামাঘাসেরও বীজবপন করে চলে গেল।
MAT 13:26 পরে গম অঙ্কুরিত হয়ে যখন শিষ দেখা দিল, তখন শ্যামাঘাসও দেখা গেল।
MAT 13:27 “এতে সেই মনিবের দাসেরা তার কাছে এসে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কি আপনার ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট বীজবপন করেননি? তাহলে এই শ্যামাঘাসগুলি কোথা থেকে এল?’
MAT 13:28 “ ‘কোনো শত্রু এরকম করেছে,’ তিনি উত্তর দিলেন। “দাসেরা তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি চান, আমরা গিয়ে শ্যামাঘাসগুলি উপড়ে ফেলি?’
MAT 13:29 “ ‘না,’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘কারণ শ্যামাঘাস উপড়ানোর সময়, তোমরা হয়তো তার সঙ্গে গমও শিকড়শুদ্ধ তুলে ফেলবে।
MAT 13:30 শস্য কাটার দিন পর্যন্ত উভয়কে একসঙ্গে বাড়তে দাও। সেই সময়ে, আমি শস্যচয়নকারীদের বলে দেব: প্রথমে শ্যামাঘাস সংগ্রহ করে পোড়াবার জন্য আঁটি বাঁধো; তারপরে গম সংগ্রহ করে আমার গোলাঘরে এনে মজুত করো।’ ”
MAT 13:31 তিনি তাদের অন্য একটি রূপক বললেন: “স্বর্গরাজ্য এমন একটি সর্ষে বীজের মতো, যা একজন ব্যক্তি নিয়ে তার মাঠে রোপণ করল।
MAT 13:32 যদিও সব বীজের মধ্যে ওই বীজ ক্ষুদ্রতম, তবুও তা যখন বৃদ্ধি পেল তা অন্য সব গাছপালাকে ছাড়িয়ে গেল ও একটি গাছে পরিণত হল। ফলে আকাশের পাখিরা এসে তার শাখাপ্রশাখায় বাসা বাঁধল।”
MAT 13:33 তিনি তাদের আরও একটি রূপক বললেন: “স্বর্গরাজ্য এমন খামিরের মতো, যা একজন স্ত্রীলোক তিন পাল্লা ময়দার সঙ্গে মেশালো, ফলে সমস্ত তালটিই ফেঁপে উঠল।”
MAT 13:34 লোকেদের কাছে যীশু এই সমস্ত বিষয় রূপকের মাধ্যমে বললেন; রূপক ব্যবহার না করে তিনি তাদের কাছে কোনো কথাই বললেন না।
MAT 13:35 এভাবেই ভাববাদীর মাধ্যমে কথিত বচন পূর্ণ হল: “আমি রূপকের মাধ্যমে আমার মুখ খুলব, জগৎ সৃষ্টির লগ্ন থেকে গুপ্ত বিষয়গুলি আমি উচ্চারণ করব।”
MAT 13:36 এরপর তিনি সকলকে বিদায় দিয়ে ঘরে ঢুকলেন। তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “মাঠের শ্যামাঘাসের রূপকটি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করুন।”
MAT 13:37 তিনি উত্তর দিলেন, “যিনি উৎকৃষ্ট বীজবপন করেন তিনি মনুষ্যপুত্র।
MAT 13:38 মাঠ হল জগৎ এবং উৎকৃষ্ট বীজ হল স্বর্গরাজ্যের সন্তানেরা। শ্যামাঘাস হল সেই পাপাত্মার সন্তানেরা।
MAT 13:39 আর যে শত্রু তাদের বপন করেছিল সে হল দিয়াবল। শস্য কাটার সময় হচ্ছে যুগের শেষ সময় এবং যাঁরা শস্য কাটবেন তাঁরা হলেন সব স্বর্গদূত।
MAT 13:40 “যেমনভাবে শ্যামাঘাস উপড়ে ফেলে আগুনে পোড়ানো হয়েছিল যুগের শেষ সময়েও সেরকমই হবে।
MAT 13:41 মনুষ্যপুত্র তাঁর দূতদের পাঠাবেন। তাঁরা তাঁর রাজত্ব থেকে যা কিছু পাপের কারণস্বরূপ ও যারা অন্যায় আচরণ করে তাদের উৎখাত করবেন।
MAT 13:42 তাঁরা তাদের জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করবেন, যেখানে হবে কেবলই রোদন ও দন্তঘর্ষণ।
MAT 13:43 তখন ধার্মিকেরা তাদের পিতার রাজ্যে সূর্যের মতো দীপ্যমান হবে। যার কান আছে, সে শুনুক।
MAT 13:44 “স্বর্গরাজ্য হল মাঠে লুকোনো ধনসম্পদের মতো। যখন কোনো মানুষ তার সন্ধান পায় সে পুনরায় তা লুকিয়ে রাখে। পরে আনন্দে সে গিয়ে সর্বস্ব বিক্রি করে ও মাঠটি কিনে নিল।
MAT 13:45 “আবার স্বর্গরাজ্য এমন এক বণিকের মতো, যে উৎকৃষ্ট সব মুক্তার অন্বেষণ করছিল।
MAT 13:46 যখন সে অমূল্য এক মুক্তার সন্ধান পেল সে ফিরে গিয়ে সর্বস্ব বিক্রি করে তা কিনে নিল।
MAT 13:47 “আবার স্বর্গরাজ্য এমন এক টানা-জালের মতো যা সাগরে নিক্ষেপ করা হলে সব ধরনের মাছ ধরা পড়ল।
MAT 13:48 জালটি পূর্ণ হলে জেলেরা তা টেনে তীরে তুলল। তারপর তারা বসে ভালো মাছগুলি ঝুড়িতে সংগ্রহ করল, কিন্তু মন্দগুলিকে ফেলে দিল।
MAT 13:49 যুগের শেষ সময়ে এরকমই ঘটনা ঘটবে। স্বর্গদূতেরা এসে ধার্মিকদের মধ্যে থেকে দুষ্টদের পৃথক করবেন এবং
MAT 13:50 জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে তাদের নিক্ষেপ করবেন, যেখানে হবে কেবলই রোদন ও দন্তঘর্ষণ।”
MAT 13:51 যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি এসব বিষয় বুঝতে পেরেছ?” তারা উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ।”
MAT 13:52 তিনি তাদের বললেন, “এই কারণে স্বর্গরাজ্যের বিষয়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শাস্ত্রবিদ এমন এক গৃহস্থের মতো যিনি তার ভাণ্ডার থেকে নতুন ও পুরোনো, উভয় প্রকার সম্পদই বের করে থাকেন।”
MAT 13:53 যীশু যখন এসব রূপক বলা শেষ করলেন, তিনি সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেলেন।
MAT 13:54 নিজ নগরে ফিরে এসে তিনি সমাজভবনে লোকদের শিক্ষা দিতে লাগলেন। এতে তারা আশ্চর্য হয়ে গেল। তারা প্রশ্ন করল, “এই লোকটি কোথা থেকে এমন জ্ঞান ও এই অলৌকিক ক্ষমতা পেল?
MAT 13:55 এ কি সেই কাঠ মিস্ত্রির পুত্র নয়? এর মায়ের নাম কি মরিয়ম নয়? আর যাকোব, যোষেফ, শিমোন ও যিহূদা কি এর ভাই নয়?
MAT 13:56 এর বোনেরা কি আমাদের মধ্যে নেই? তাহলে ও কোথা থেকে এসব পেল?”
MAT 13:57 এভাবে তারা তাঁর প্রতি বিরূপ হয়ে উঠল। কিন্তু যীশু তাদের বললেন, “কেবলমাত্র নিজের দেশ ও নিজের পরিবারেই কোনো ভাববাদী সম্মান পান না।”
MAT 13:58 তাদের বিশ্বাসের অভাবে তিনি সেখানে বিশেষ আর অলৌকিক কাজ করলেন না।
MAT 14:1 সেই সময়ে শাসনকর্তা হেরোদ যীশুর সম্মন্ধে শুনে
MAT 14:2 তাঁর পরিচারকদের বললেন, “ইনি সেই বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, যিনি মৃত্যু থেকে বেঁচে উঠেছেন! সেই কারণে এইসব অলৌকিক ক্ষমতা তাঁর মধ্যে রয়েছে।”
MAT 14:3 কারণ হেরোদ, তাঁর ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়ার জন্য যোহনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন ও তাঁকে কারাগারে বন্দি করেছিলেন।
MAT 14:4 কারণ যোহন তাঁকে ক্রমাগত বলতেন, “আপনার পক্ষে হেরোদিয়াকে রাখা ন্যায়সংগত নয়।”
MAT 14:5 হেরোদ যোহনকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি লোকদের ভয় পেতেন কারণ তারা তাকে ভাববাদী বলে মনে করত।
MAT 14:6 হেরোদের জন্মদিনে হেরোদিয়ার মেয়ে সকলের জন্য নৃত্য করে হেরোদকে এমন সন্তুষ্ট করল যে,
MAT 14:7 তিনি শপথ করে বললেন সেই মেয়ে যা চাইবে, তাই তিনি তাকে দেবেন।
MAT 14:8 তার মায়ের প্ররোচনায়, সে তখন বলল, “বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের মাথা আমাকে থালায় করে এনে দিন।”
MAT 14:9 এতে রাজা হেরোদ মর্মাহত হলেন, কিন্তু তাঁর নিজের শপথের জন্য ও যাঁরা তাঁর সঙ্গে ভোজসভায় বসেছিলেন তাঁদের জন্য তিনি তাঁর অনুরোধ রক্ষার আদেশ দিলেন।
MAT 14:10 তিনি কারাগারে লোক পাঠিয়ে যোহনের মাথা কাটালেন।
MAT 14:11 তাঁর মাথা একটি থালায় করে এনে সেই মেয়েকে দেওয়া হল। সে তার মায়ের কাছে তা নিয়ে গেল।
MAT 14:12 পরে যোহনের শিষ্যেরা এসে তাঁর শরীর নিয়ে গেল ও কবর দিল। তারপর তারা গিয়ে যীশুকে সেই সংবাদ দিল।
MAT 14:13 সেই ঘটনার সংবাদ শুনে যীশু নৌকায় একান্তে এক নির্জন স্থানে গেলেন। একথা শুনতে পেয়ে অনেক লোক বিভিন্ন নগর থেকে পায়ে হেঁটে তাঁকে অনুসরণ করল।
MAT 14:14 তীরে নেমে যীশু যখন অনেক লোককে দেখতে পেলেন, তিনি তাদের প্রতি করুণায় পূর্ণ হলেন ও তাদের মধ্যে অসুস্থ লোকদের সুস্থ করলেন।
MAT 14:15 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “এ এক নির্জন স্থান, আর ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আপনি সবাইকে বিদায় দিন, যেন তারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেদের জন্য কিছু খাবার কিনতে পারে।”
MAT 14:16 যীশু উত্তর দিলেন, “ওদের যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তোমরাই ওদের কিছু খেতে দাও।”
MAT 14:17 তারা উত্তর দিলেন, “এখানে আমাদের কাছে কেবলমাত্র পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ আছে।”
MAT 14:18 তিনি বললেন, “ওগুলি আমার কাছে নিয়ে এসো।”
MAT 14:19 আর তিনি লোকদের ঘাসের উপরে বসার জন্য নির্দেশ দিলেন। সেই পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ নিয়ে যীশু স্বর্গের দিকে তাকিয়ে ধন্যবাদ দিলেন ও রুটিগুলিকে ভাঙলেন। তারপর তিনি সেগুলি শিষ্যদের দিলেন ও শিষ্যেরা লোকদের দিলেন।
MAT 14:20 তারা সকলে খেয়ে পরিতৃপ্ত হল। আর শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটির টুকরো সংগ্রহ করে বারো ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
MAT 14:21 যারা খাবার খেয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল নারী ও শিশু বাদ দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ।
MAT 14:22 পর মুহূর্তেই যীশু শিষ্যদের নৌকায় তুলে দিয়ে তাঁর যাওয়ার আগেই সাগরের অপর পারে তাঁদের চলে যেতে বললেন, ইতিমধ্যে তিনি সকলকে বিদায় দিলেন।
MAT 14:23 তাদের বিদায় করার পর তিনি একা প্রার্থনা করার জন্য এক পর্বতের উপরে উঠলেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তিনি সেখানে একাই ছিলেন।
MAT 14:24 কিন্তু নৌকাখানি তখন তীর থেকে বেশ খানিকটা দূরে চলে গিয়েছিল। বাতাস প্রতিকূলে বইছিল তাই নৌকা ঢেউয়ে টলোমলো করছিল।
MAT 14:25 রাত্রির চতুর্থ প্রহরে যীশু সাগরের উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে শিষ্যদের কাছে গেলেন।
MAT 14:26 শিষ্যেরা তাঁকে সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে ভীষণ ভয় পেলেন। তাঁরা বললেন, “এ এক ভূত!” আর তাঁরা ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন।
MAT 14:27 কিন্তু যীশু তক্ষুনি তাঁদের বললেন, “সাহস করো! এ আমি। ভয় পেয়ো না।”
MAT 14:28 পিতর উত্তর দিলেন, “প্রভু, যদি আপনিই হন, তাহলে আমাকেও জলের উপর দিয়ে আপনার কাছে হেঁটে আসতে বলুন।”
MAT 14:29 তিনি বললেন, “এসো।” তখন পিতর নৌকা থেকে নেমে জলের উপর দিয়ে হেঁটে যীশুর দিকে চললেন।
MAT 14:30 কিন্তু যখন তিনি বাতাসের দিকে দৃষ্টি দিলেন, তিনি ভয় পেলেন ও ডুবতে লাগলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, “প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন!”
MAT 14:31 সঙ্গে সঙ্গে যীশু তাঁর হাত বাড়িয়ে তাঁকে ধরে ফেললেন ও বললেন, “অল্পবিশ্বাসী তুমি, কেন তুমি সন্দেহ করলে?”
MAT 14:32 আর তাঁরা যখন নৌকায় উঠলেন তখন বাতাস থেমে গেল।
MAT 14:33 তখন যাঁরা নৌকায় ছিলেন, তাঁরা তাঁকে প্রণাম করলেন, বললেন, “সত্যি, আপনিই ঈশ্বরের পুত্র।”
MAT 14:34 তাঁরা সাগরের অপর পারে গিয়ে গিনেষরৎ প্রদেশে নৌকা থেকে নামলেন।
MAT 14:35 সেখানকার লোকেরা যখন তাঁকে চিনতে পারল তারা চতুর্দিকে খবর পাঠাল। লোকেরা সব অসুস্থ ব্যক্তিদের তাঁর কাছে নিয়ে এল,
MAT 14:36 আর তাঁর কাছে মিনতি করল, যেন অসুস্থরা কেবলমাত্র তাঁর পোশাকের আঁচলটুকু স্পর্শ করতে পারে। আর যারাই তাঁকে স্পর্শ করল তারা সকলে সুস্থ হল।
MAT 15:1 তখন জেরুশালেম থেকে কয়েকজন ফরিশী ও শাস্ত্রবিদ যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল,
MAT 15:2 “আপনার শিষ্যেরা কেন প্রাচীনদের পরম্পরাগত নিয়ম ভঙ্গ করে? তারা খাবার আগে কেন তাদের হাত ধোয় না?”
MAT 15:3 যীশু উত্তর দিলেন, “আর তোমরা কেন তোমাদের পরম্পরাগত নিয়মের দোহাই দিয়ে ঈশ্বরের আদেশ ভঙ্গ করো?
MAT 15:4 কারণ ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমার বাবা ও তোমার মাকে সম্মান কোরো,’ এবং ‘যে কেউ তার বাবা অথবা মাকে অভিশাপ দেয়, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।’
MAT 15:5 কিন্তু তোমরা বলো, কেউ যদি তার বাবা বা মাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে তোমরা যে সাহায্য পেতে তা ঈশ্বরের কাছে উপহারস্বরূপ দেওয়া হয়েছে,’
MAT 15:6 তাহলে সে তার বাবাকে বা মাকে আর তা দিয়ে সম্মান করবে না। এভাবে তোমরা পরম্পরাগত ঐতিহ্যের নামে ঈশ্বরের বাক্যকে অমান্য করে থাকো।
MAT 15:7 ভণ্ডের দল! যিশাইয় তোমাদের সম্পর্কে সঠিক ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন:
MAT 15:8 “ ‘এই লোকেরা তাদের ওষ্ঠাধরে আমাকে সম্মান করে, কিন্তু তাদের হৃদয় থাকে আমার থেকে বহুদূরে।
MAT 15:9 বৃথাই তারা আমার উপাসনা করে; তাদের শিক্ষামালা বিভিন্ন মানুষের শেখানো নিয়মবিধি মাত্র।’ ”
MAT 15:10 যীশু সকলকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা শোনো ও বোঝো।
MAT 15:11 মানুষের মুখ দিয়ে যা প্রবেশ করে তা তাকে অশুচি করে না, কিন্তু যা তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে তাই তাকে ‘অশুচি’ করে।”
MAT 15:12 তখন শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “আপনি কি জানেন, ফরিশীরা একথা শুনে মনে আঘাত পেয়েছে?”
MAT 15:13 তিনি উত্তর দিলেন, “যে চারাগাছ আমার স্বর্গস্থ পিতা রোপণ করেননি, তা উপড়ে ফেলা হবে।
MAT 15:14 ওদের ছেড়ে দাও, ওরা অন্ধ পথপ্রদর্শক। কোনো অন্ধ ব্যক্তি যদি অপর ব্যক্তিকে পথ প্রদর্শন করে তবে উভয়েই গর্তে পড়বে।”
MAT 15:15 পিতর বললেন, “এই রূপকটি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করুন।”
MAT 15:16 যীশু তাদের প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি এখনও এত অবুঝ রয়েছ?
MAT 15:17 তোমরা কি দেখতে পাও না, যা কিছু মুখের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করে তা পাকস্থলীতে যায় ও তারপর শরীর থেকে বের হয়ে যায়?
MAT 15:18 কিন্তু যেসব বিষয় মুখ থেকে বার হয়ে আসে, তা হৃদয় থেকে আসে এবং সেগুলিই কোনো মানুষকে অশুচি করে তোলে।
MAT 15:19 কারণ মানুষের হৃদয় থেকে উৎপন্ন হয় কুচিন্তা, নরহত্যা, ব্যভিচার, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, চুরি, মিথ্যা সাক্ষ্য, পরনিন্দা।
MAT 15:20 এগুলিই কোনো মানুষকে অশুচি করে, কিন্তু হাত না ধুয়ে খাবার খেলে সে ‘অশুচি’ হয় না।”
MAT 15:21 সেই স্থান ত্যাগ করে, যীশু টায়ার ও সীদোন অঞ্চলে চলে গেলেন।
MAT 15:22 তারই কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে এক কনানীয় নারী তাঁর কাছে এসে চিৎকার করতে লাগল, “প্রভু, দাউদের সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন! আমার মেয়েটি ভূতগ্রস্ত হয়ে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।”
MAT 15:23 যীশু তাকে কোনও উত্তর দিলেন না। তাই তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে তাঁকে অনুরোধ জানালেন, “ওকে বিদায় দিন কারণ ও চিৎকার করতে করতে আমাদের পিছনে আসছে।”
MAT 15:24 তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকে কেবলমাত্র ইস্রায়েলের হারানো মেষদের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
MAT 15:25 সেই নারী এসে তাঁর কাছে নতজানু হয়ে বলল, “প্রভু, আমার উপকার করুন!”
MAT 15:26 তিনি উত্তর দিলেন, “ছেলেমেয়েদের খাবার নিয়ে কুকুরদের দেওয়া সংগত নয়।”
MAT 15:27 সে বলল, “হ্যাঁ প্রভু, কিন্তু কুকুরও তো মনিবের টেবিল থেকে খাবারের যেসব টুকরো পড়ে তা খায়!”
MAT 15:28 তখন যীশু উত্তর দিলেন, “নারী, তোমার বড়োই বিশ্বাস! তোমার অনুরোধ রক্ষা করা হল।” সেই মুহূর্ত থেকে তার মেয়ে সুস্থ হয়ে গেল।
MAT 15:29 যীশু সেই স্থান ত্যাগ করে গালীল সাগরের তীরে উপস্থিত হলেন। তারপর তিনি এক পাহাড়ের উপরে উঠে বসলেন।
MAT 15:30 অসংখ্য লোক খোঁড়া, অন্ধ, পঙ্গু, বোবা ও অন্য অনেক অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এসে তাঁর পায়ের কাছে ফেলে রাখল। তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
MAT 15:31 লোকেরা যখন দেখল, বোবারা কথা বলছে, পঙ্গুরা সুস্থ হচ্ছে, যারা খোঁড়া তারা চলতে পারছে ও অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে, তারা বিস্ময়ে হতবাক হল। আর তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
MAT 15:32 যীশু তাঁর শিষ্যদের তাঁর কাছে ডেকে বললেন, “এই লোকদের প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; এরা তিন দিন ধরে আমার সঙ্গে আছে এবং এদের কাছে খাওয়ার জন্য কিছুই নেই। আমি এদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেরত পাঠাতে চাই না, হয়তো এরা পথেই অজ্ঞান হয়ে পড়বে।”
MAT 15:33 তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “এত লোককে খাওয়ানোর জন্য এই প্রত্যন্ত স্থানে আমরা কোথায় যথেষ্ট খাবার পাব?”
MAT 15:34 যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের কাছে কতগুলি রুটি আছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “সাতটি, আর কয়েকটি ছোটো মাছ।”
MAT 15:35 তিনি সবাইকে মাটির উপরে বসার আদেশ দিলেন।
MAT 15:36 তারপর তিনি সেই সাতটি রুটি ও মাছগুলি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর সেগুলি ভেঙে শিষ্যদের দিলেন ও তারা লোকদের দিলেন।
MAT 15:37 সবাই খেয়ে পরিতৃপ্ত হল। পরে শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটির টুকরো সংগ্রহ করে সাতটি ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
MAT 15:38 যারা খাবার খেয়েছিল, নারী ও শিশু ছাড়া তাদের সংখ্যা ছিল চার হাজার।
MAT 15:39 যীশু সকলকে বিদায় করার পর নৌকাতে উঠলেন ও মগদনের সীমানায় চলে গেলেন।
MAT 16:1 ফরিশী ও সদ্দূকীরা যীশুর কাছে এসে পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে বলল যেন তিনি আকাশ থেকে তাদের কোনো চিহ্ন দেখান।
MAT 16:2 তিনি উত্তর দিলেন, “যখন সন্ধ্যা আসে, তোমরা বলো, ‘আবহাওয়া মনোরম হবে, কারণ আকাশ লাল হয়েছে,’ আবার সকালবেলায় বলো,
MAT 16:3 ‘আজ ঝড় হবে, কারণ আকাশ লাল ও মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে।’ তোমরা আকাশের অবস্থা দেখে আবহাওয়ার ব্যাখ্যা করতে পারো, কিন্তু সময়ের চিহ্ন ব্যাখ্যা করতে পারো না।
MAT 16:4 এক দুষ্ট ও ব্যভিচারী প্রজন্ম অলৌকিক চিহ্ন খোঁজে কিন্তু যোনার চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই তাদের দেওয়া হবে না।” তখন যীশু তাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
MAT 16:5 তারা যখন সাগরের অপর পারে গেলেন, শিষ্যেরা রুটি সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন।
MAT 16:6 যীশু তাদের বললেন, “সতর্ক হও, ফরিশী ও সদ্দূকীদের খামির থেকে তোমরা সাবধান থেকো।”
MAT 16:7 তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করে বললেন, “আমরা রুটি আনিনি বলেই তিনি এরকম বলছেন।”
MAT 16:8 তাদের আলোচনা বুঝতে পেরে যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “অল্পবিশ্বাসী তোমরা, রুটি নেই বলে কেন নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছ?
MAT 16:9 তোমরা কি এখনও বুঝতে পারোনি? তোমাদের কি পাঁচটি রুটি ও পাঁচ হাজার মানুষের কথা মনে পড়ে না, তখন কত ঝুড়ি উদ্বৃত্ত তোমরা তুলে নিয়েছিলে?
MAT 16:10 কিংবা সেই সাতটি রুটি ও চার হাজার মানুষ, কত ঝুড়ি তোমরা সংগ্রহ করেছিলে?
MAT 16:11 আমি যে তোমাদের রুটির কথা বলিনি তা তোমরা বুঝতে পারোনি? তোমরা ফরিশী ও সদ্দূকীদের খামির থেকে সাবধান থেকো।”
MAT 16:12 তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাদের রুটিতে ব্যবহৃত খামির থেকে সতর্ক থাকতে বলেননি, কিন্তু ফরিশী ও সদ্দূকীদের দেওয়া শিক্ষা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
MAT 16:13 যীশু যখন কৈসরিয়া-ফিলিপী অঞ্চলে এলেন, তিনি তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, “মনুষ্যপুত্র কে, এ সম্বন্ধে লোকে কী বলে?”
MAT 16:14 তাঁরা উত্তর দিলেন, “কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন; অন্যেরা বলে এলিয়; আর কেউ কেউ বলে, যিরমিয় বা ভাববাদীদের মধ্যে কোনও একজন।”
MAT 16:15 “কিন্তু তোমরা কী বলো?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী বলো, আমি কে?”
MAT 16:16 শিমোন পিতর উত্তর দিলেন, “আপনি সেই খ্রীষ্ট, জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।”
MAT 16:17 যীশু উত্তর দিলেন, “যোনার পুত্র শিমোন ধন্য তুমি, কারণ রক্তমাংসের কোনো মানুষ এ তোমার কাছে প্রকাশ করেনি, কিন্তু আমার স্বর্গস্থ পিতাই প্রকাশ করেছেন।
MAT 16:18 আর আমি তোমাকে বলি, তুমি পিতর, আর আমি এই পাথরের উপরে আমার মণ্ডলী নির্মাণ করব। আর পাতালের দ্বারসকল এর বিপক্ষে জয়ী হতে পারবে না।
MAT 16:19 আমি তোমাকে স্বর্গরাজ্যের চাবি দেব; তোমরা পৃথিবীতে যা আবদ্ধ করবে তা স্বর্গেও আবদ্ধ হবে এবং পৃথিবীতে যা কিছু মুক্ত করবে তা স্বর্গেও মুক্ত হবে।”
MAT 16:20 তারপর তিনি তাঁর শিষ্যদের সতর্ক করে বলে দিলেন, তিনি যে খ্রীষ্ট একথা তাঁরা যেন কাউকে না বলেন।
MAT 16:21 সেই সময় থেকে যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে স্পষ্টরূপে বলতে লাগলেন যে, তাঁকে অবশ্যই জেরুশালেমে যেতে হবে। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে দুঃখভোগ করতে হবে; প্রাচীনবর্গ, মহাযাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে। তাঁকে হত্যা করা হবে এবং তৃতীয় দিনে তাঁর পুনরুত্থান হবে।
MAT 16:22 পিতর তাঁকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে অনুযোগ করে বললেন, “প্রভু, তা নয়! এরকম আপনার প্রতি কখনও ঘটবে না!”
MAT 16:23 যীশু ফিরে পিতরকে বললেন, “দূর হও শয়তান! তুমি আমার কাছে এক বাধাস্বরূপ; তোমার মনে ঈশ্বরের বিষয়গুলি নেই কেবল মানুষের বিষয়গুলিই আছে।”
MAT 16:24 তারপর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করতে চায়, সে অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করবে, তার ক্রুশ তুলে নেবে ও আমাকে অনুসরণ করবে।
MAT 16:25 কারণ যে কেউ তার প্রাণরক্ষা করতে চায় সে তা হারাবে, কিন্তু কেউ যদি আমার কারণে তার প্রাণ হারায় সে তা লাভ করবে।
MAT 16:26 কেউ যদি সমস্ত জগতের অধিকার লাভ করে ও তার নিজের প্রাণ হারায়, তাহলে তার কী লাভ হবে? কিংবা কোনো মানুষ তার প্রাণের বিনিময়ে আর কী দিতে পারে?
MAT 16:27 কারণ মনুষ্যপুত্র তাঁর দূতদের সঙ্গে নিয়ে নিজ পিতার মহিমায় ফিরে আসবেন, তখন তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কাজ অনুসারে ফল দেবেন।
MAT 16:28 “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ, যতদিন না মনুষ্যপুত্রকে তাঁর রাজ্যে আসতে দেখবে ততদিন পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না।”
MAT 17:1 ছয় দিন পর, যীশু তাঁর সঙ্গে পিতর, যাকোব ও তাঁর ভাই যোহনকে নিয়ে অতি উচ্চ এক পর্বতে উঠলেন।
MAT 17:2 সেখানে তিনি তাঁদের সামনে রূপান্তরিত হলেন। তাঁর মুখ সূর্যের মতো জ্যোতির্ময় হয়ে উঠল এবং তাঁর পোশাক আলোর মতো ধবধবে সাদা হয়ে উঠল।
MAT 17:3 ঠিক সেই সময়, তাঁদের সামনে মোশি ও এলিয় আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।
MAT 17:4 পিতর যীশুকে বললেন, “প্রভু, এখানে থাকা আমাদের পক্ষে ভালোই হবে। আপনি যদি চান, আমি তিনটি তাঁবু নির্মাণ করি, একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য ও একটি এলিয়ের জন্য।”
MAT 17:5 তিনি তখনও কথা বলছেন, এমন সময় একটি উজ্জ্বল মেঘ তাঁদের ঢেকে ফেলল। আর মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল, “ইনিই আমার পুত্র, যাঁকে আমি প্রেম করি; এঁর প্রতি আমি পরম প্রসন্ন। তোমরা এঁর কথা শোনো।”
MAT 17:6 শিষ্যেরা একথা শুনে ভূমিতে উবুড় হয়ে পড়লেন এবং অত্যন্ত ভীত হলেন।
MAT 17:7 কিন্তু যীশু এসে তাঁদের স্পর্শ করে বললেন, “ওঠো, ভয় কোরো না।”
MAT 17:8 তাঁরা যখন চোখ তুলে তাকালেন, তাঁরা আর কোনো মানুষকে দেখতে পেলেন না, কেবলমাত্র যীশু একা সেখানে ছিলেন।
MAT 17:9 পর্বত থেকে নেমে আসার সময়, যীশু তাঁদের এই আদেশ দিলেন, “মনুষ্যপুত্র মৃতলোক থেকে উত্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত, তোমরা যা দেখলে সেকথা কাউকে বোলো না।”
MAT 17:10 শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “শাস্ত্রবিদরা তাহলে কেন বলেন যে, এলিয়কে অবশ্যই প্রথমে আসতে হবে?”
MAT 17:11 যীশু উত্তর দিলেন, “একথা নিশ্চিত যে, এলিয় এসে সব বিষয় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন।
MAT 17:12 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, এলিয় ইতিমধ্যে এসে গেছেন, আর তারা তাঁকে চিনতে পারেনি। তারা তাঁর প্রতি যেমন ইচ্ছা, তেমনই ব্যবহার করেছে। একইভাবে, মনুষ্যপুত্রও তাদের হাতে কষ্টভোগ করতে চলেছেন।”
MAT 17:13 শিষ্যেরা তখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাঁদের বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের কথা বলছেন।
MAT 17:14 তাঁরা যখন অনেক লোকের মাঝে এলেন, একজন লোক যীশুর সামনে এসে নতজানু হয়ে বলল,
MAT 17:15 “প্রভু, আমার পুত্রের প্রতি দয়া করুন, সে মৃগীরোগগ্রস্ত এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাভোগ করছে। সে প্রায়ই আগুনে বা জলে লাফ দিয়ে পড়ে।
MAT 17:16 আপনার শিষ্যদের কাছে আমি তাকে এনেছিলাম, কিন্তু তাঁরা তাকে সুস্থ করতে পারেননি।”
MAT 17:17 যীশু উত্তর দিলেন, “ওহে অবিশ্বাসী ও পথভ্রষ্ট প্রজন্ম, আমি কত কাল তোমাদের সঙ্গে থাকব? আমি কত কাল তোমাদের সহ্য করব? ছেলেটিকে এখানে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
MAT 17:18 যীশু সেই ভূতকে ধমক দিলেন, এতে ছেলেটির মধ্য থেকে সে বের হয়ে এল, আর সেই মুহূর্ত থেকে সে সুস্থ হয়ে উঠল।
MAT 17:19 তারপর শিষ্যেরা গোপনে যীশুর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা কেন ওটি ছাড়াতে পারলাম না?”
MAT 17:20 তিনি উত্তর দিলেন, “কারণ তোমাদের বিশ্বাস অতি অল্প। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমাদের বিশ্বাস যদি সর্ষের দানা যেমন ক্ষুদ্র তেমনই হয়, তোমরা এই পর্বতটিকে বলবে, ‘এখান থেকে ওখানে সরে যাও,’ আর সেটি সরে যাবে। তোমাদের পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব থাকবে না।”
MAT 17:21 কিন্তু প্রার্থনা ও উপোস ছাড়া এই জাতি কোনো কিছুতেই বের হয় না।
MAT 17:22 পরে তারা যখন গালীলে একত্র হলেন, তিনি তাদের বললেন, “মনুষ্যপুত্রকে লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
MAT 17:23 তারা তাঁকে হত্যা করবে, কিন্তু তৃতীয় দিনে তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন।” এতে শিষ্যেরা খুব দুঃখিত হলেন।
MAT 17:24 যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা কফরনাহূমে উপস্থিত হলে পর মন্দিরের দুই-দ্রাকমা কর আদায়কারীরা এসে পিতরকে জিজ্ঞাসা করল, “তোমাদের গুরুমহাশয় কি মন্দিরের কর দেন না?”
MAT 17:25 তিনি উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, তিনি দেন।” পিতর যখন বাড়িতে ফিরে এলেন, যীশুই প্রথমে জিজ্ঞাসা করলেন, “শিমোন, তুমি কী মনে করো, পৃথিবীর রাজারা কার কাছ থেকে শুল্ক ও কর আদায় করে থাকেন—তাঁর নিজের সন্তানদের কাছে, না অন্যদের কাছ থেকে?”
MAT 17:26 পিতর উত্তর দিলেন, “অন্যদের কাছ থেকে।” যীশু তাকে বললেন, “তাহলে তো সন্তানেরা দায়মুক্ত!
MAT 17:27 কিন্তু আমরা যেন তাদের মনে আঘাত না দিই, এই কারণে তুমি সাগরে গিয়ে তোমার বড়শি ফেলো। প্রথমে যে মাছটি তুমি ধরবে, সেটি নিয়ে তার মুখ খুললে তুমি চারদিনের পারিশ্রমিকের সমান একটি মুদ্রা পাবে। সেটি নিয়ে তোমার ও আমার কর-বাবদ ওদের দিয়ে দাও।”
MAT 18:1 সেই সময়ে, শিষ্যেরা যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “স্বর্গরাজ্যে কে শ্রেষ্ঠ?”
MAT 18:2 তিনি একটি ছোটো শিশুকে তাঁর কাছে ডেকে সবার মাঝে দাঁড় করালেন।
MAT 18:3 তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা মন পরিবর্তন করে যদি এই ছোটো শিশুদের মতো না হও তবে কোনোমতেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
MAT 18:4 অতএব, যে কেউ এই শিশুর মতো নিজেকে নম্র করে, সেই স্বর্গরাজ্যে সব থেকে মহান।
MAT 18:5 আবার যে কেউ এর মতো এক ছোটো শিশুকে স্বাগত জানায়, সে আমাকেই স্বাগত জানায়।
MAT 18:6 “কিন্তু এই ছোটো শিশুদের যারা আমাকে বিশ্বাস করে, তাদের কোনো একজনকে কেউ যদি পাপ করতে বাধ্য করে, তাহলে তার গলায় বড়ো একটি জাঁতা বেঁধে সমুদ্রের অথৈ জলে ডুবিয়ে দেওয়া তার পক্ষে ভালো হবে।
MAT 18:7 ধিক্কার সেই জগৎকে কারণ জগতের বিভিন্ন প্রলোভন মানুষকে পাপের মুখে ফেলে। এসব বিষয় অবশ্যই উপস্থিত হবে, কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে যার দ্বারা তা উপস্থিত হবে!
MAT 18:8 যদি তোমার হাত বা পা যদি পাপের কারণ হয়, তা কেটে ফেলে দাও। কারণ দু-হাত ও দুই পা নিয়ে নরকের অনির্বাণ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং বিকলাঙ্গ বা পঙ্গু হয়ে জীবনে প্রবেশ করা ভালো।
MAT 18:9 আর তোমার চোখ যদি পাপের কারণ হয়, তাহলে তা উপড়ে ফেলো ও ছুঁড়ে ফেলে দাও। দুই চোখ নিয়ে নরকের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে বরং এক চোখ নিয়ে জীবনে প্রবেশ করা তোমার পক্ষে ভালো।
MAT 18:10 “দেখো, এই ছোটো শিশুদের একজনকেও যেন কেউ তুচ্ছজ্ঞান না করে। কারণ আমি তোমাদের বলছি, স্বর্গে তাদের দূতেরা প্রতিনিয়ত আমার স্বর্গস্থ পিতার মুখদর্শন করে থাকেন।
MAT 18:12 “তোমরা কী মনে করো? কোনো মানুষের যদি একশোটি মেষ থাকে এবং তাদের মধ্যে কোনো একটি যদি ভুল পথে যায়, তাহলে সে কি নিরানব্বইটি মেষ পাহাড়ের উপরে ছেড়ে ভুল পথে যাওয়া সেই মেষটি খুঁজতে যাবে না?
MAT 18:13 আর যদি সে সেটি খুঁজে পায়, আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যে নিরানব্বইটি মেষ ভুল পথে যায়নি, সেগুলির চেয়ে সে ওই একটি মেষের জন্য বেশি আনন্দিত হবে।
MAT 18:14 একইভাবে, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার এমন ইচ্ছা নয় যে এই ক্ষুদ্রজনেদের মধ্যে একজনও হারিয়ে যায়।
MAT 18:15 “তোমার ভাই অথবা বোন যদি তোমার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ করে, তাহলে যাও, যখন তোমরা দুজন থাকো, তার দোষ তাকে দেখিয়ে দাও। যদি সে তোমার কথা শোনে, তাহলে তুমি তোমার ভাইকে জয় করলে।
MAT 18:16 কিন্তু সে যদি কথা না শোনে, তাহলে আরও দুই একজনকে সঙ্গে নিয়ে যাও, যেন ‘দুই বা তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে কোনো বিষয় সত্যি বলে প্রমাণিত হবে।’
MAT 18:17 যদি সে তাদের কথাও শুনতে না চায়, তাহলে মণ্ডলীকে বলো; আর সে যদি মণ্ডলীর কথাও শুনতে না চায়, তাহলে পরজাতীয় বা কর আদায়কারীদের সঙ্গে তুমি যে রকম ব্যবহার করো, তার সঙ্গে তেমনই করো।
MAT 18:18 “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা পৃথিবীতে যা আবদ্ধ করবে তা স্বর্গেও আবদ্ধ হবে এবং পৃথিবীতে যা কিছু মুক্ত করবে তা স্বর্গেও মুক্ত হবে।
MAT 18:19 “আবার, আমি সত্যি বলছি, তোমাদের মধ্যে দুজন এই পৃথিবীতে একমত হয়ে যা কিছু চাইবে, আমার স্বর্গস্থ পিতা তোমাদের জন্য তাই করবেন।
MAT 18:20 কারণ যেখানে দুই কিংবা তিনজন আমার নামে একত্র হয়, সেখানে আমি তাদের মধ্যে উপস্থিত।”
MAT 18:21 তখন পিতর যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আমার ভাই কতবার আমার বিরুদ্ধে অপরাধ করলে আমি তাকে ক্ষমা করব? সাতবার পর্যন্ত?”
MAT 18:22 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাকে বলছি, সাতবার নয়, কিন্তু সত্তর গুণ সাতবার পর্যন্ত।
MAT 18:23 “এই কারণে স্বর্গরাজ্য এমন এক রাজার মতো, যিনি তাঁর দাসদের কাছে হিসেব চাইলেন।
MAT 18:24 হিসেব নিকেশ করার সময় একজন দাস, যে তাঁর কাছে দশ হাজার তালন্তের ঋণী ছিল, তাকে নিয়ে আসা হল।
MAT 18:25 যেহেতু সে ঋণ শোধ করতে অক্ষম ছিল, তাঁর মনিব আদেশ দিলেন যেন তাকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ও তার সর্বস্ব বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা হয়।
MAT 18:26 “এতে সেই দাস তাঁর সামনে নতজানু হয়ে পড়ল, ‘আমার প্রতি ধৈর্য ধরুন,’ সে মিনতি জানাল, ‘আমি সব দেনা শোধ করে দেব।’
MAT 18:27 সেই দাসের মনিব তাঁকে দয়া করে তার ঋণ মকুব করলেন ও তাকে চলে যেতে দিলেন।
MAT 18:28 “কিন্তু সেই দাস বাইরে গিয়ে তার এক সহদাসকে দেখতে পেল। সে তার কাছে মাত্র একশো দিনার ঋণ করেছিল। সে তাকে ধরে তার গলা টিপে দাবি করল, ‘আমার কাছে যে ঋণ করেছিস তা শোধ কর।’
MAT 18:29 “তার সহদাস তার পায়ে পড়ে মিনতি করল, ‘আমার প্রতি ধৈর্য ধরুন, আমি আপনার ঋণ শোধ করে দেব!’
MAT 18:30 “সে কিন্তু শুনতে চাইল না। পরিবর্তে, সে চলে গিয়ে ঋণ শোধ না করা পর্যন্ত তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখল।
MAT 18:31 অন্য সব সহদাস যখন এসব ঘটতে দেখল, তারা অত্যন্ত রেগে গিয়ে তাদের মনিবকে যা ঘটেছিল সব বলল।
MAT 18:32 “তখন মনিব সেই দাসকে ভিতরে ডাকলেন। তিনি বললেন, ‘দুষ্ট দাস তুমি, আমার কাছে তুমি মিনতি করায় আমি তোমার সব ঋণ মকুব করেছিলাম।
MAT 18:33 আমি যেমন তোমাকে দয়া করেছিলাম, তোমারও কি উচিত ছিল না তোমার সহদাসকে দয়া করা?’
MAT 18:34 ক্রুদ্ধ হয়ে তার মনিব তাকে কারাধ্যক্ষদের হাতে নিপীড়িত হওয়ার জন্য সমর্পণ করলেন, যতদিন না পর্যন্ত সে তার সমস্ত ঋণ শোধ করে।
MAT 18:35 “তোমরা যদি প্রত্যেকে তোমাদের ভাইকে মনেপ্রাণে ক্ষমা না করো, তাহলে আমার স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের প্রতি এরকমই আচরণ করবেন।”
MAT 19:1 যীশু এসব কথা বলা শেষ করে গালীল প্রদেশ ত্যাগ করলেন এবং জর্ডন নদীর অপর পারে যিহূদিয়ার অঞ্চলে উপস্থিত হলেন।
MAT 19:2 অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করল, আর তিনি সেখানে অসুস্থ মানুষদের সুস্থ করলেন।
MAT 19:3 কয়েকজন ফরিশী তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে এসে প্রশ্ন করল, “কোনো পুরুষের পক্ষে তার স্ত্রীকে যে কোনো কারণে পরিত্যাগ করা কি বিধিসংগত?”
MAT 19:4 তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরা কি পাঠ করোনি যে, প্রথমে সৃষ্টিকর্তা ‘তাদের পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে সৃষ্টি করেছিলেন?’
MAT 19:5 তিনি বললেন, ‘এই কারণে একজন পুরুষ তার পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করবে, তার স্ত্রীর সাথে সংযুক্ত হবে ও সেই দুজন একাঙ্গ হবে।’
MAT 19:6 তাই, তারা আর দুজন নয়, কিন্তু অভিন্নসত্তা। সেই কারণে, ঈশ্বর যা সংযুক্ত করেছেন, কোনো মানুষ তা বিচ্ছিন্ন না করুক।”
MAT 19:7 তারা জিজ্ঞাসা করল, “তাহলে মোশি কেন ত্যাগপত্র লিখে দিয়ে স্ত্রীকে বিদায় দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন?”
MAT 19:8 যীশু উত্তর দিলেন, “তোমাদের মন কঠোর বলেই মোশি তোমাদের স্ত্রীকে ত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রথম থেকে এরকম বিধান ছিল না।
MAT 19:9 আমি তোমাদের বলছি, বৈবাহিক জীবনে অবিশ্বস্ততার কারণ ছাড়া কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে অপর কোনো নারীকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে।”
MAT 19:10 শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, “স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক যদি এরকম হয়, তাহলে বিবাহ না করাই ভালো।”
MAT 19:11 যীশু উত্তর দিলেন, “সবাই একথা গ্রহণ করতে পারে না, কিন্তু যাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারাই পারে।
MAT 19:12 কারণ কেউ কেউ নপুংসক, যেহেতু তারা সেইরকম হয়েই জন্মগ্রহণ করেছে; অন্যদের মানুষেরা নপুংসক করেছে; এছাড়াও আরও কিছু মানুষ স্বর্গরাজ্যের কারণে বিবাহ করতে অস্বীকার করেছে। যে এ বিষয় গ্রহণ করতে পারে সে গ্রহণ করুক।”
MAT 19:13 এরপর ছোটো শিশুদের যীশুর কাছে নিয়ে আসা হল, যেন তিনি তাদের উপরে হাত রেখে প্রার্থনা করেন। কিন্তু যারা তাদের এনেছিল শিষ্যেরা তাদের বকুনি দিলেন।
MAT 19:14 যীশু বললেন, “ছোটো শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, ওদের বাধা দিয়ো না। কারণ স্বর্গরাজ্য এদের মতো মানুষদেরই।”
MAT 19:15 তিনি তাদের উপরে হাত রেখে প্রার্থনা করে সেখান থেকে চলে গেলেন।
MAT 19:16 সেই সময় একজন লোক এসে যীশুকে জিজ্ঞাসা করল, “গুরুমহাশয়, অনন্ত জীবন লাভের জন্য আমাকে কী ধরনের সৎকর্ম করতে হবে?”
MAT 19:17 যীশু উত্তর দিলেন, “আমাকে সৎ-এর বিষয়ে কেন জিজ্ঞাসা করো? সৎ কেবলমাত্র একজনই আছেন। তুমি যদি জীবনে প্রবেশ করতে চাও, তাহলে অনুশাসনগুলি পালন করো।”
MAT 19:18 লোকটি জিজ্ঞাসা করল, “কোন কোন অনুশাসন?” যীশু উত্তর দিলেন, “নরহত্যা কোরো না, ব্যভিচার কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না,
MAT 19:19 তোমার পিতামাতাকে সম্মান কোরো ও তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই প্রেম কোরো।”
MAT 19:20 যুবকটি বলল, “এ সমস্ত আমি পালন করেছি। আমার আর কী ত্রুটি আছে?”
MAT 19:21 যীশু উত্তর দিলেন, “তুমি যদি সিদ্ধ হতে চাও, তাহলে যাও, গিয়ে তোমার সব সম্পত্তি বিক্রি করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে তুমি স্বর্গে ধন লাভ করবে। তারপর এসে আমাকে অনুসরণ করো।”
MAT 19:22 এই কথা শুনে যুবকটি দুঃখিত হয়ে চলে গেল, কারণ তার প্রচুর ধনসম্পত্তি ছিল।
MAT 19:23 তখন যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, স্বর্গরাজ্যে ধনী মানুষের প্রবেশ করা কঠিন।
MAT 19:24 আবার আমি তোমাদের বলছি, ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে বরং সুচের ছিদ্রপথ দিয়ে উটের পার হওয়া সহজ।”
MAT 19:25 শিষ্যেরা একথা শুনে অত্যন্ত আশ্চর্য হলেন ও জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে কে পরিত্রাণ পেতে পারে?”
MAT 19:26 যীশু তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মানুষের পক্ষে এটা অসম্ভব, কিন্তু ঈশ্বরের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।”
MAT 19:27 পিতর উত্তরে তাঁকে বললেন, “আপনাকে অনুসরণ করার জন্য আমরা সবকিছু ত্যাগ করেছি। আমরা তাহলে কী পাব?”
MAT 19:28 যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সব বিষয়ের নতুন সৃষ্টিতে যখন মনুষ্যপুত্র মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরা, যারা আমার অনুগামী হয়েছ, তোমরাও বারোটি সিংহাসনে বসে ইস্রায়েলের বারো বংশের বিচার করবে।
MAT 19:29 আর যে কেউ আমার কারণে তার বাড়ি বা ভাইদের বা বোনেদের বা বাবাকে বা মাকে বা সন্তানদের বা স্থাবর সম্পত্তি ত্যাগ করেছে, সে তার শতগুণ লাভ করবে ও অনন্ত জীবনের অধিকারী হবে।
MAT 19:30 কিন্তু যারা প্রথম, এমন অনেকে শেষে পড়বে, আর যারা শেষে তারা প্রথমে আসবে।”
MAT 20:1 “কারণ স্বর্গরাজ্য এমন এক গৃহকর্তার মতো, যিনি তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেতে কর্মী নিয়োগের জন্য ভোরবেলা বাইরে গেলেন।
MAT 20:2 কর্মীদের দৈনিক এক দিনার পারিশ্রমিক দিতে সম্মত হয়ে তাদের তিনি নিজের দ্রাক্ষাক্ষেতে পাঠিয়ে দিলেন।
MAT 20:3 “সকাল নয়টার সময় তিনি বাইরে গিয়ে দেখলেন, আরও কিছু মানুষ বাজারে নিষ্কর্মা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
MAT 20:4 তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরাও গিয়ে আমার দ্রাক্ষাক্ষেতে কাজ করো, যা ন্যায়সংগত তা আমি তোমাদের দেব।’
MAT 20:5 তাতে তারাও গেল। “বেলা বারোটার সময় ও বিকেল তিনটের সময় তিনি আবার বাইরে গিয়ে সেরকম করলেন।
MAT 20:6 বিকেল প্রায় পাঁচটার সময় তিনি বাইরে গিয়ে দেখলেন, আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কেন এখানে সমস্ত দিন নিষ্কর্মা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছ?’
MAT 20:7 “তারা উত্তর দিল, ‘কারণ কেউই আমাদের কাজে লাগায়নি।’ “তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরাও গিয়ে আমার দ্রাক্ষাক্ষেতে কাজ করো।’
MAT 20:8 “পরে সন্ধ্যা হলে, দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক তাঁর নায়েবকে ডেকে বললেন, ‘সব কর্মীকে ডেকে শেষের জন থেকে শুরু করে প্রথমজন পর্যন্ত প্রত্যেককে তাদের মজুরি দিয়ে দাও।’
MAT 20:9 “বিকেল পাঁচটায় যাদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা এসে সকলে এক দিনার করে পেল।
MAT 20:10 তখন যাদের সর্বপ্রথমে নিযুক্ত করা হয়েছিল, তারা এসে আরও বেশি পারিশ্রমিক আশা করল। কিন্তু তারা প্রত্যেকে এক দিনার করেই পেল।
MAT 20:11 তারা তা পেয়ে গৃহকর্তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল।
MAT 20:12 তারা বলল, ‘এই লোকেরা, যাদের বিকেল পাঁচটায় নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা তো কেবলমাত্র এক ঘণ্টা কাজ করেছে। আর আমরা যারা সমস্ত দিনের কাজের ভারবহন করে রোদের তাপে পুড়েছি, আপনি কি না আমাদের সমান মজুরি তাদের দিলেন।’
MAT 20:13 “কিন্তু তিনি তাদের একজনকে উত্তর দিলেন, ‘বন্ধু, আমি তোমার প্রতি কোনও অবিচার করিনি। তুমি কি এক দিনারের বিনিময়ে কাজ করতে সম্মত হওনি?
MAT 20:14 তোমার পাওনা নিয়ে চলে যাও। আমার ইচ্ছা আমি শেষে নিয়োগ করা লোকটিকেও তোমার সমানই মজুরি দেব।
MAT 20:15 আমার অর্থ নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করার কি অধিকার আমার নেই? না, আমি সদয় বলে তুমি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েছ?’
MAT 20:16 “এভাবেই শেষের জন প্রথম হবে ও প্রথমের জন শেষে পড়বে।”
MAT 20:17 এসময় যীশু যখন জেরুশালেমের পথে যাচ্ছিলেন, তিনি সেই বারোজন শিষ্যকে এক পাশে ডেকে বললেন,
MAT 20:18 “আমরা জেরুশালেম পর্যন্ত যাচ্ছি, আর মনুষ্যপুত্রকে প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রবিদদের হাতে সমর্পণ করা হবে। তারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করবে
MAT 20:19 ও অইহুদিদের হাতে তুলে দেবে। তারা তাঁকে বিদ্রুপ করবে ও চাবুক দিয়ে মারার এবং ক্রুশার্পিত হওয়ার জন্য তাঁকে সমর্পণ করবে। কিন্তু তৃতীয় দিনে তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবেন।”
MAT 20:20 পরে সিবদিয়ের দুই পুত্রের মা তাদের নিয়ে যীশুর কাছে এলেন এবং নতজানু হয়ে তাঁর কাছে এক প্রার্থনা চাইলেন।
MAT 20:21 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী চাও?” তিনি বললেন, “অনুমতি দিন যেন আপনার রাজ্যে আমার এক ছেলে আপনার ডানদিকে ও অন্যজন বাঁদিকে বসতে পায়।”
MAT 20:22 যীশু তাদের বললেন, “তোমরা কী চাইছ, তা তোমরা বোঝো না। আমি যে পানপাত্রে পান করি, তাতে কি তোমরা পান করতে পারো?” তারা উত্তর দিলেন, “আমরা পারি।”
MAT 20:23 যীশু তাদের বললেন, “তোমরা সত্যিই আমার পানপাত্র থেকে পান করবে, কিন্তু আমার ডানদিকে বা বাঁদিকে বসার অনুমতি আমি দিতে পারি না। আমার পিতা যাদের জন্য তা নির্ধারিত করেছেন, এই স্থানগুলিতে কেবলমাত্র তারাই বসতে পারবে।”
MAT 20:24 অন্য দশজন একথা শুনে সেই দুই ভাইয়ের প্রতি রুষ্ট হলেন।
MAT 20:25 যীশু তাদের সকলকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা জানো, পরজাতীয়দের শাসকেরা তাদের উপরে প্রভুত্ব করে, আবার তাদের উচ্চপদাধিকারীরাও তাদের উপরে কর্তৃত্ব করে।
MAT 20:26 তোমাদের ক্ষেত্রে সেরকম হবে না। বরং, কেউ যদি তোমাদের মধ্যে মহান হতে চায়, তাকে অবশ্যই তোমাদের দাস হতে হবে।
MAT 20:27 আর কেউ যদি প্রধান হতে চায়, তাকে অবশ্যই তোমাদের ক্রীতদাস হতে হবে।
MAT 20:28 যেমন মনুষ্যপুত্রও সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু সেবা করতে ও অনেকের পরিবর্তে নিজের প্রাণ মুক্তিপণস্বরূপ দিতে এসেছেন।”
MAT 20:29 যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা যখন যিরীহো ছেড়ে যাচ্ছিলেন, অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করল।
MAT 20:30 দুজন অন্ধ মানুষ পথের পাশে বসেছিল। তারা যখন শুনল, যীশু সেই পথ দিয়ে যাচ্ছেন, তারা চিৎকার করে বলল, “প্রভু, দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি কৃপা করুন!”
MAT 20:31 লোকেরা তাদের ধমক দিয়ে শান্ত থাকতে বলল, কিন্তু তারা আরও জোরে চিৎকার করতে লাগল, “প্রভু, দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি কৃপা করুন!”
MAT 20:32 যীশু পথ চলা থামিয়ে তাদের ডাকলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী চাও, আমি তোমাদের জন্য কী করব?”
MAT 20:33 তারা উত্তর দিল, “প্রভু, আমরা দৃষ্টিশক্তি পেতে চাই।”
MAT 20:34 যীশু তাদের প্রতি করুণায় পূর্ণ হয়ে তাদের চোখ স্পর্শ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা দৃষ্টিশক্তি লাভ করল ও তাঁকে অনুসরণ করতে লাগল।
MAT 21:1 তাঁরা জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে যখন জলপাই পর্বতের ধারে বেথফাগ গ্রামে উপস্থিত হলেন, তখন যীশু দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন,
MAT 21:2 “তোমরা সামনের ওই গ্রামে যাও। সেখানে গিয়ে তোমরা দেখতে পাবে একটি গর্দভী তার শাবকের সঙ্গে বাঁধা আছে। তাদের খুলে আমার কাছে নিয়ে এসো।
MAT 21:3 কেউ যদি তোমাদের কিছু বলে, তাকে বোলো যে, প্রভুর তাদের প্রয়োজন আছে। এতে সে তখনই তাদের পাঠিয়ে দেবে।”
MAT 21:4 এরকম ঘটল যেন ভাববাদীর দ্বারা কথিত বচন পূর্ণ হয়:
MAT 21:5 “তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বলো, ‘দেখো, তোমার রাজা তোমার কাছে আসছেন, তিনি নম্র কোমল প্রাণ, গর্দভের উপরে উপবিষ্ট, এক শাবকের, গর্দভ শাবকের উপরে উপবিষ্ট।’ ”
MAT 21:6 শিষ্যেরা গেলেন ও যীশু যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন, তেমনই করলেন।
MAT 21:7 তারা গর্দভী ও সেই শাবকটিকে নিয়ে এসে, তাদের উপরে নিজেদের পোশাক পেতে দিলেন। যীশু তার উপরে বসলেন।
MAT 21:8 আর ভিড়ের মধ্যে অনেক লোক নিজেদের পোশাক রাস্তায় বিছিয়ে দিল, অন্যেরা গাছ থেকে ডালপালা কেটে পথে ছড়িয়ে দিল।
MAT 21:9 যেসব লোক তাঁর সামনে যাচ্ছিল ও পিছনে অনুসরণ করছিল, তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, “হোশান্না, দাউদ-সন্তান!” “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন!” “ঊর্ধ্বতমলোকে হোশান্না!”
MAT 21:10 যীশু যখন জেরুশালেমে প্রবেশ করলেন, সমস্ত নগরে আলোড়ন পড়ে গেল ও তারা জিজ্ঞাসা করল, “ইনি কে?”
MAT 21:11 তাতে লোকেরা উত্তর দিল, “ইনি যীশু, গালীলের নাসরতের সেই ভাববাদী।”
MAT 21:12 যীশু মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে তাদের তাড়িয়ে দিলেন যারা সেখানে কেনাবেচা করছিল। তিনি মুদ্রা-বিনিময়কারীদের টেবিল ও যারা পায়রা বিক্রি করছিল তাদের আসন উল্টে দিলেন।
MAT 21:13 তিনি তাদের বললেন, “এরকম লেখা আছে, ‘আমার গৃহ প্রার্থনা-গৃহ বলে আখ্যাত হবে,’ কিন্তু তোমরা একে ‘দস্যুদের গহ্বরে’ পরিণত করেছ।”
MAT 21:14 পরে অন্ধ ও খোঁড়া সকলে মন্দিরে তাঁর কাছে এলে তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
MAT 21:15 কিন্তু প্রধান যাজকবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা যখন দেখল, তিনি আশ্চর্য সব কাজ করে চলেছেন ও ছেলেমেয়েরা মন্দির চত্বরে “হোশান্না, দাউদ-সন্তান,” বলে চিৎকার করছে, তারা রুষ্ট হল।
MAT 21:16 তারা তাঁকে বলল, “এই ছেলেমেয়েরা কী সব বলছে, তা কি তুমি শুনতে পাচ্ছ?” তোমরা কি কখনও পাঠ করোনি, “ ‘ছেলেমেয়েদের ও শিশুদের মুখ দিয়ে তুমি স্তব ও প্রশংসার ব্যবস্থা করেছ’?”
MAT 21:17 পরে তিনি তাদের ছেড়ে দিয়ে নগরের বাইরে বেথানি গ্রামে চলে গেলেন। সেখানেই তিনি রাত্রিযাপন করলেন।
MAT 21:18 খুব ভোরবেলায়, নগরে আসার পথে যীশুর খিদে পেল।
MAT 21:19 পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখে, তিনি তার কাছে গেলেন, কিন্তু পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন তিনি গাছটিকে বললেন, “তোমার মধ্যে আর কখনও যেন ফল না ধরে!” সঙ্গে সঙ্গে গাছটি শুকিয়ে গেল।
MAT 21:20 শিষ্যেরা এই দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, “ডুমুর গাছটি এত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গেল কীভাবে?”
MAT 21:21 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে আর তোমরা সন্দেহ না করো, তাহলে এই ডুমুর গাছটির প্রতি যা করা হয়েছে, তোমরা যে কেবলমাত্র তাই করতে পারবে, তা নয়, কিন্তু যদি এই পর্বতটিকে বলো, ‘যাও, সমুদ্রে গিয়ে পড়ো,’ তবে সেরকমই হবে।
MAT 21:22 আর তোমরা প্রার্থনায় যা কিছু চাইবে, বিশ্বাস করলে সে সমস্তই পাবে।”
MAT 21:23 যীশু মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলেন। তিনি যখন শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন প্রধান যাজকেরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গ তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কোন অধিকারে এসব কাজ করছ? আর এসব করার অধিকারই বা কে তোমাকে দিল?”
MAT 21:24 যীশু উত্তর দিলেন, “আমিও তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। তোমরা যদি উত্তর দিতে পারো, তাহলে আমিও তোমাদের বলব, আমি কোন অধিকারে এসব করছি।
MAT 21:25 যোহনের বাপ্তিষ্ম কোথা থেকে হয়েছিল? স্বর্গ থেকে, না মানুষের কাছ থেকে?” তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করে বলল, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তাহলে তোমরা তাকে বিশ্বাস করোনি কেন?’
MAT 21:26 কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষের কাছ থেকে,’ আমরা জনসাধারণকে ভয় করি; কারণ তারা প্রত্যেকে যোহনকে ভাববাদী বলেই মনে করত।”
MAT 21:27 তাই তারা যীশুকে উত্তর দিল, “আমরা জানি না।” তখন তিনি বললেন, “তাহলে, আমিও কোন অধিকারে এসব কাজ করছি, তোমাদের বলব না।
MAT 21:28 “তোমরা কী মনে করো? এক ব্যক্তির দুই পুত্র ছিল। তিনি প্রথমজনের কাছে গিয়ে বললেন, ‘বৎস, তুমি গিয়ে দ্রাক্ষাক্ষেতে কাজ করো।’
MAT 21:29 “সে উত্তর দিল, ‘আমি যাব না,’ কিন্তু পরে সে মত পরিবর্তন করে কাজ করতে গেল।
MAT 21:30 “পরে সেই পিতা অপর পুত্রের কাছে গেলেন এবং একই কথা তাকেও বললেন। সে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ মহাশয়, যাচ্ছি,’ কিন্তু সে গেল না।
MAT 21:31 “এই দুজনের মধ্যে কে তার পিতার ইচ্ছা পালন করল?” তারা উত্তর দিলেন, “প্রথমজন।” যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কর আদায়কারী ও বেশ্যারা তোমাদের আগেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করছে।
MAT 21:32 কারণ যোহন তোমাদের কাছে এসে ধার্মিকতার পথ দেখালেন আর তোমরা তাকে বিশ্বাস করলে না, কিন্তু কর আদায়কারী ও বেশ্যারা বিশ্বাস করল। আর তোমরা তা দেখা সত্ত্বেও অনুতাপ করলে না এবং বিশ্বাস করলে না।
MAT 21:33 “অন্য একটি রূপক শোনো: একজন জমিদার এক দ্রাক্ষাক্ষেত প্রস্তুত করলেন। তিনি তাঁর চারপাশে বেড়া দিলেন, তার মধ্যে এক দ্রাক্ষাকুণ্ড খুঁড়লেন ও পাহারা দেওয়ার জন্য এক উঁচু মিনার নির্মাণ করলেন। তারপর তিনি সেই দ্রাক্ষাক্ষেত কয়েকজন ভাগচাষিকে ভাড়া দিয়ে বিদেশ ভ্রমণে চলে গেলেন।
MAT 21:34 ফল কাটার সময় উপস্থিত হল তিনি তাঁর দাসদের ফল সংগ্রহের জন্য ভাগচাষিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
MAT 21:35 “ভাগচাষিরা সেই দাসদের বন্দি করে একজনকে মারধর করল, অন্যজনকে হত্যা করল, তৃতীয় জনকে পাথর ছুঁড়ে মারল।
MAT 21:36 আবার তিনি তাদের কাছে অন্য দাসদের পাঠালেন, এদের সংখ্যা আগের চেয়েও বেশি ছিল। ভাগচাষিরা এদের প্রতিও সেই একইরকম ব্যবহার করল।
MAT 21:37 সবশেষে তিনি তাদের কাছে তাঁর পুত্রকে পাঠালেন, বললেন, ‘তারা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।’
MAT 21:38 “কিন্তু ভাগচাষিরা যখন সেই পুত্রকে দেখল, তারা পরস্পরকে বলল, ‘এই হচ্ছে উত্তরাধিকারী। এসো, আমরা একে হত্যা করে এর মালিকানা হস্তগত করি।’
MAT 21:39 এভাবে তারা তাঁকে ধরে, দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করল।
MAT 21:40 “অতএব, দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক যখন ফিরে আসবেন, তিনি ওইসব ভাগচাষিদের নিয়ে কী করবেন?”
MAT 21:41 তারা উত্তর দিল, “তিনি ওই দুর্জনদের শোচনীয় পরিণতি ঘটাবেন ও সেই দ্রাক্ষাক্ষেত অন্য ভাগচাষিদের ভাড়া দেবেন, যারা ফল সংগ্রহের সময় তাকে তার উপযুক্ত অংশ দেবে।”
MAT 21:42 যীশু তাদের বললেন, “তোমরা কি শাস্ত্রে কখনও পাঠ করোনি: “ ‘গাঁথকেরা যে পাথর অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল কোণের প্রধান পাথর; প্রভুই এরকম করেছেন, আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য’?
MAT 21:43 “এই কারণে আমি তোমাদের বলছি যে, স্বর্গরাজ্য তোমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এমন এক জাতিকে দেওয়া হবে, যারা এর জন্য ফল উৎপন্ন করবে।
MAT 21:44 যে এই পাথরের উপরে পড়বে, সে খানখান হবে, কিন্তু যার উপরে এই পাথর পড়বে, সে চূর্ণবিচূর্ণ হবে।”
MAT 21:45 যখন প্রধান যাজকেরা ও ফরিশীরা যীশুর কথিত রূপকগুলি শুনল, তারা বুঝতে পারল, তিনি তাদের সম্পর্কেই সেগুলি বলছেন।
MAT 21:46 তারা যীশুকে গ্রেপ্তার করার কোনো উপায় খুঁজল, কিন্তু তারা জনসাধারণকে ভয় পেত কারণ তারা তাঁকে ভাববাদী বলে মানত।
MAT 22:1 যীশু পুনরায় তাদের সঙ্গে রূপকের মাধ্যমে কথা বলতে লাগলেন। তিনি বললেন,
MAT 22:2 “স্বর্গরাজ্য এমন এক রাজার মতো যিনি তাঁর পুত্রের বিবাহভোজের আয়োজন করলেন।
MAT 22:3 তিনি আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের বিবাহভোজে আসার জন্য আহ্বান করতে তাঁর দাসদের পাঠালেন, কিন্তু তারা আসতে চাইল না।
MAT 22:4 “তারপর তিনি আরও অনেক দাসকে পাঠিয়ে বললেন, ‘আমন্ত্রিত লোকদের গিয়ে বলো, আমি আমার ভোজ প্রস্তুত করেছি: আমার বলদ ও মোটাসোটা বাছুরদের জবাই করা হয়েছে এবং সবকিছুই প্রস্তুত আছে। তোমরা সবাই বিবাহভোজে এসো।’
MAT 22:5 “কিন্তু তারা কোনও আগ্রহ না দেখিয়ে নিজের নিজের কাজে চলে গেল—একজন তার মাঠে, অন্যজন তার ব্যবসায়।
MAT 22:6 অবশিষ্ট লোকেরা তার দাসদের ধরে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করল ও তাদের হত্যা করল।
MAT 22:7 রাজা ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি তাঁর সৈন্যদল পাঠিয়ে সেইসব হত্যাকারীদের ধ্বংস করলেন ও তাদের নগর পুড়িয়ে দিলেন।
MAT 22:8 “তারপর তিনি তাঁর দাসদের বললেন, ‘বিবাহভোজ তো প্রস্তুত, কিন্তু যাদের আমি নিমন্ত্রণ করেছিলাম, তারা এর যোগ্য ছিল না।
MAT 22:9 তোমরা পথের কোণে কোণে যাও এবং যারই সন্ধান পাও, তাকে বিবাহভোজে আমন্ত্রণ করো।’
MAT 22:10 অতএব দাসেরা পথের কোণে কোণে গেল ও তারা যত লোকের সন্ধান পেল, ভালোমন্দ সবাইকে ডেকে একত্র করল। এইভাবে বিবাহের আসর অতিথিতে ভরে গেল।
MAT 22:11 “কিন্তু রাজা যখন অতিথিদের দেখতে এলেন, তিনি লক্ষ্য করলেন, একজন বিবাহ-পোশাক না পরেই সেখানে উপস্থিত ছিল।
MAT 22:12 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বন্ধু, বিবাহ-পোশাক ছাড়াই তুমি কীভাবে এখানে প্রবেশ করলে?’ লোকটি নিরুত্তর রইল।
MAT 22:13 “রাজা তখন পরিচারকদের বললেন, ‘ওর হাত পা বেঁধে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও। সেখানে রোদন ও দন্তঘর্ষণ হবে।’
MAT 22:14 “কারণ বহু জন আমন্ত্রিত, কিন্তু অল্প কয়েকজনই মনোনীত।”
MAT 22:15 তখন ফরিশীরা বাইরে গিয়ে ষড়যন্ত্র করল, কীভাবে যীশুকে কথার ফাঁদে ফেলতে পারে।
MAT 22:16 তারা কয়েকজন হেরোদীয়ের সঙ্গে তাদের শিষ্যদের তাঁর কাছে পাঠাল। তারা বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা জানি, আপনি একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ এবং আপনি সত্য অনুযায়ী ঈশ্বরের পথের বিষয়ে শিক্ষা দেন। আপনি কারও দ্বারা প্রভাবিত হন না, কারণ তাদের কারও বিষয়ে আপনি কোনো ভ্রূক্ষেপ করেন না।
MAT 22:17 বেশ, আমাদের বলুন, আপনার অভিমত কী, কৈসরকে কর দেওয়া কি উচিত?”
MAT 22:18 কিন্তু যীশু তাদের মন্দ অভিসন্ধি বুঝতে পেরে বললেন, “ভণ্ডেরা, তোমরা কেন আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছ?
MAT 22:19 সেই কর প্রদানের মুদ্রা আমাকে দেখাও।” তারা তাঁর কাছে একটি দিনার নিয়ে এল।
MAT 22:20 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এই মূর্তি কার? এই নামই বা কার?”
MAT 22:21 তারা উত্তর দিল, “কৈসরের।” তখন তিনি তাদের বললেন, “কৈসরের যা, তা কৈসরকে দাও, এবং যা ঈশ্বরের, তা ঈশ্বরকে দাও।”
MAT 22:22 একথা শুনে তারা আশ্চর্য হল। তাই তারা তাঁকে ছেড়ে চলে গেল।
MAT 22:23 সেদিনই সদ্দূকীরা, যারা বলে পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, তাঁর কাছে এক প্রশ্ন নিয়ে এল।
MAT 22:24 তারা বলল, “গুরুমহাশয়, মোশি আমাদের বলেছেন, কোনো মানুষ যদি অপুত্রক মারা যায়, তাহলে তার ভাই সেই বিধবাকে বিবাহ করবে ও তার বড়ো ছেলের জন্য সন্তানের জন্ম দেবে।
MAT 22:25 এখন, আমাদের মধ্যে সাত ভাই ছিল। প্রথমজন বিবাহ করে মারা গেল, আর যেহেতু সে অপুত্রক ছিল, সে তার ভাইয়ের জন্য স্ত্রীকে রেখে গেল।
MAT 22:26 একই ঘটনা দ্বিতীয়, তৃতীয়, এমনকি সপ্তমজন পর্যন্ত ঘটল।
MAT 22:27 শেষে সেই নারীও মারা গেল।
MAT 22:28 তাহলে পুনরুত্থানে সে সাতজনের মধ্যে কার স্ত্রী হবে, কারণ তারা সবাই তো তাকে বিবাহ করেছিল?”
MAT 22:29 যীশু উত্তর দিলেন, “তোমরা ভুল করছ, কারণ তোমরা শাস্ত্র জানো না, ঈশ্বরের পরাক্রমও জানো না।
MAT 22:30 পুনরুত্থানের পর লোকেরা বিবাহ করে না, বা তাদের বিবাহ দেওয়াও হয় না। তারা স্বর্গলোকের দূতদের মতো থাকে।
MAT 22:31 কিন্তু মৃতদের পুনরুত্থান সম্পর্কে বলি, ঈশ্বর তোমাদের কী বলেছেন, তা কি তোমরা পাঠ করোনি?
MAT 22:32 তিনি বলেছেন, ‘আমি অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর।’ তিনি মৃতদের ঈশ্বর নন, তিনি জীবিতদের ঈশ্বর।”
MAT 22:33 সকলে যখন একথা শুনল, তারা তাঁর উপদেশে চমৎকৃত হল।
MAT 22:34 যীশু সদ্দূকীদের নিরুত্তর করেছেন শুনে ফরিশীরা একত্র হল।
MAT 22:35 তাদের মধ্যে অন্যতম, একজন বিধানবিশারদ, এই প্রশ্ন করে তাঁকে পরীক্ষা করল:
MAT 22:36 “গুরুমহাশয়, বিধানের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মহৎ আজ্ঞা কোনটি?”
MAT 22:37 যীশু উত্তর দিলেন: “ ‘তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করবে।’
MAT 22:38 এটিই প্রথম ও মহত্তম আজ্ঞা।
MAT 22:39 আর দ্বিতীয়টি এরই সমতুল্য: ‘তোমার প্রতিবেশীকে তোমার নিজের মতোই প্রেম করবে।’
MAT 22:40 এই দুটি আজ্ঞার উপরেই সমস্ত বিধান ও ভাববাদীদের গ্রন্থ প্রতিষ্ঠিত।”
MAT 22:41 ফরিশীরা যখন সমবেত হয়েছিল, যীশু তাদের প্রশ্ন করলেন,
MAT 22:42 “খ্রীষ্ট সম্পর্কে তোমাদের কী মনে হয়? তিনি কার সন্তান?” তারা উত্তর দিল, “তিনি দাউদের সন্তান।”
MAT 22:43 তিনি তাদের বললেন, “তাহলে দাউদ কীভাবে আত্মার আবেশে তাঁকে ‘প্রভু’ বলেন? কারণ তিনি বলেছেন,
MAT 22:44 “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, আমার ডানদিকে এসে বসো, যে পর্যন্ত তোমার শত্রুদের আমি তোমার পদতলে না রাখি।’
MAT 22:45 যদি দাউদ তাঁকে ‘প্রভু’ বলে অভিহিত করেছেন, তাহলে কীভাবে তিনি তাঁর সন্তান হতে পারেন?”
MAT 22:46 প্রত্যুত্তরে তারা কেউ একটি কথাও বলতে পারল না। সেদিন থেকে আর কেউ তাঁকে কোনও প্রশ্ন করতে সাহস পেল না।
MAT 23:1 তারপর যীশু সকল লোকদের ও তাঁর শিষ্যদের বললেন,
MAT 23:2 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা মোশির আসনে বসে।
MAT 23:3 সেই কারণে, তোমরা অবশ্যই তাদের কথা শুনবে ও তারা যা বলে তা পালন করবে। কিন্তু তারা যে কাজ করে, তোমরা সেই কাজ করবে না, কারণ তারা যা প্রচার করে, তা নিজেরা অনুশীলন করে না।
MAT 23:4 তারা দুর্বহ বোঝা বেঁধে সেগুলি মানুষদের কাঁধে চাপায়, কিন্তু তারা একটি আঙুল দিয়েও তা সরাতে ইচ্ছুক হয় না।
MAT 23:5 “তারা যা কিছুই করে, তা লোক-দেখানো মাত্র। তারা তাদের কবচ প্রশস্ত ও আলখাল্লার ঝালর লম্বা করে।
MAT 23:6 তারা ভোজসভায় সব থেকে সম্মানজনক আসন ও সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলি পেতে ভালোবাসে।
MAT 23:7 তারা হাটেবাজারে সম্ভাষিত হতে ভালোবাসে ও চায় যেন লোকেরা তাদের ‘রব্বি’ বলে ডাকে।
MAT 23:8 “কিন্তু তোমরা ‘রব্বি’ বলে সম্ভাষিত হোয়ো না, কারণ তোমাদের গুরুমহাশয় কেবলমাত্র একজন ও তোমরা পরস্পর ভাই ভাই।
MAT 23:9 আবার পৃথিবীতে কাউকে ‘পিতা’ বলে সম্বোধন কোরো না, কারণ তোমাদের পিতা একজনই, তিনি স্বর্গে থাকেন।
MAT 23:10 আবার কেউ তোমাদের ‘আচার্য’ বলে যেন না ডাকে, কারণ তোমাদের আচার্য একজনই তিনি খ্রীষ্ট।
MAT 23:11 তোমাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ, সে তোমাদের পরিচারক হবে।
MAT 23:12 কারণ যে কেউ নিজেকে উন্নত করে, তাকে নত করা হবে, আর যে কেউ নিজেকে নত করে তাকে উন্নত করা হবে।
MAT 23:13 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা লোকদের মুখের সামনে স্বর্গরাজ্য রুদ্ধ করে থাকো।
MAT 23:14 তোমরা নিজেরা তার মধ্যে তো প্রবেশ করো না অথচ যারা প্রবেশ করতে চেষ্টা করে তাদেরও প্রবেশ করতে দাও না। শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা বিধবাদের বাড়িশুদ্ধ গ্রাস করো, আর লোক-দেখানো লম্বা লম্বা প্রার্থনা করো। সেই কারণে তোমাদের শাস্তি কঠোরতম হবে।
MAT 23:15 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা একজনকে ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য স্থলে ও সমুদ্রে পরিভ্রমণ করে থাকো। আর সে যখন রাজি হয়, তখন তোমরা যেমন নারকীয়, তাকেও তেমনই তোমাদের দ্বিগুণ নরকের উপযুক্ত করে তোলো।
MAT 23:16 “অন্ধ পথপ্রদর্শকেরা, ধিক্ তোমাদের! তোমরা বলো, ‘কেউ যদি মন্দিরের নামে শপথ করে সেটা বড়ো কিছুই নয়, কিন্তু কেউ যদি মন্দিরের সোনার শপথ করে তাহলে সে তার শপথে আবদ্ধ হল।’
MAT 23:17 মূর্খ অন্ধের দল! কোনটা মহত্তর: সেই সোনা, না সেই মন্দির, যা সোনাকে পবিত্র করে?
MAT 23:18 তোমরা আরও বলো, ‘কেউ যদি যজ্ঞবেদির শপথ করে সেটা কিছুই নয়; কিন্তু কেউ যদি তার উপরে স্থিত নৈবেদ্যের শপথ করে তাহলে সে তার শপথে আবদ্ধ হল।’
MAT 23:19 অন্ধ মানুষ তোমরা! কোনটা মহত্তর: সেই নৈবেদ্য, না যজ্ঞবেদি, যা নৈবেদ্যকে পবিত্র করে?
MAT 23:20 সেই কারণে, যে যজ্ঞবেদির শপথ করে সে বেদির ও তার উপরে স্থিত সবকিছুরই শপথ করে।
MAT 23:21 আর যে মন্দিরের শপথ করে সে মন্দিরের ও যিনি তার মধ্যে অধিষ্ঠান করেন, তাঁরও শপথ করে।
MAT 23:22 আর যে স্বর্গের শপথ করে, সে ঈশ্বরের সিংহাসন ও যিনি তার উপরে উপবেশন করেন তাঁরও শপথ করে।
MAT 23:23 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা তোমাদের মশলাপাতি—পুদিনা, মৌরি ও জিরার দশমাংশ দিয়ে থাকো কিন্তু বিধানের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন ন্যায়বিচার, করুণা, বিশ্বস্ততা—এগুলি উপেক্ষা করে থাকো। ভালো হত, তোমরা আগের বিষয়গুলি উপেক্ষা না করে যদি এগুলিও পালন করতে।
MAT 23:24 অন্ধ পথপ্রদর্শক তোমরা! তোমরা মশা ছাঁকো, কিন্তু উট গিলে ফেলো।
MAT 23:25 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা থালাবাটির বাইরেটা পরিষ্কার করে থাকো কিন্তু ভিতরের দিকটা লোভ-লালসা ও আত্ম-অসংযমে পূর্ণ।
MAT 23:26 অন্ধ ফরিশী! প্রথমে থালাবাটির ভিতরটা পরিষ্কার করো তারপরে বাইরের দিকটিও পরিষ্কার হবে।
MAT 23:27 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা চুনকাম করা কবরের মতো! সেগুলি বাইরে থেকে দেখতে তো সুন্দর কিন্তু ভিতরে মরা মানুষের হাড় ও সব ধরনের অশুচি বিষয়ে পরিপূর্ণ।
MAT 23:28 একইভাবে, লোকেদের কাছে বাহ্যিকভাবে তোমরা নিজেদের ধার্মিক দেখাও কিন্তু অন্তরে তোমরা ভণ্ডামি ও দুষ্টতায় পূর্ণ।
MAT 23:29 “শাস্ত্রবিদ ও ফরিশীরা, ভণ্ডের দল তোমরা! তোমরা ভাববাদীদের সমাধি নির্মাণ করে থাকো এবং ধার্মিকদের কবর সুশোভিত করো।
MAT 23:30 আর তোমরা বলো, ‘আমরা যদি পূর্বপুরুষদের সময়ে থাকতাম তাহলে ভাববাদীদের রক্তপাত করায় তাদের সঙ্গ দিতাম না।’
MAT 23:31 এভাবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিষয়ে সাক্ষ্য দাও যে যারা ভাববাদীদের হত্যা করেছিল তোমরা তাদেরই বংশধর।
MAT 23:32 তাহলে, তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যে পাপ শুরু করেছিল তোমরা তারই মাত্রা পূর্ণ করো!
MAT 23:33 “সাপেরা! কালসাপের বংশেরা! তোমরা ন্যায়বিচারের দিন কীভাবে নরকদণ্ড এড়াতে পারবে?
MAT 23:34 সেই কারণে আমি তোমাদের কাছে ভাববাদী, বিজ্ঞ মানুষ ও শিক্ষাগুরুদের পাঠিয়ে চলেছি। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তোমরা হত্যা করবে, কয়েকজনকে ক্রুশার্পিত করবে। অপরদের তোমরা সমাজভবনে নিয়ে গিয়ে চাবুক দিয়ে মারবে ও এক নগর থেকে অন্য নগরে তাদের তাড়া করবে।
MAT 23:35 এভাবে পৃথিবীতে যত ধার্মিক মানুষের রক্তপাত হয়ে আসছে, সেই ধার্মিক হেবলের রক্তপাত থেকে শুরু করে, বরখিয়ের পুত্র সখরিয়ের রক্তপাত পর্যন্ত, যাকে তোমরা মন্দির ও যজ্ঞবেদির মাঝখানে হত্যা করেছিলে, এদের সকলের রক্তপাতের ফল তোমাদের উপরেই বর্তাবে।
MAT 23:36 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এসবই এই প্রজন্মের লোকেদের উপরে এসে পড়বে।
MAT 23:37 “হায়! জেরুশালেম, জেরুশালেম, তুমি ভাববাদীদের হত্যা করো ও তোমার কাছে যাদের পাঠানো হয়, তাদের পাথরের আঘাত করে থাকো। কতবার আমি তোমার সন্তানদের একত্র করতে চেয়েছি, যেমন মুরগি তার শাবকদের নিজের ডানার তলায় একত্র করে, কিন্তু তোমরা ইচ্ছুক হওনি।
MAT 23:38 দেখো, তোমাদের গৃহ তোমাদের জন্য পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রইল।
MAT 23:39 কারণ আমি তোমাদের বলছি, যতক্ষণ না তোমরা বলবে, ‘ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন’ ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আর আমাকে দেখতে পাবে না।”
MAT 24:1 যীশু মন্দির ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, এমন সময়ে তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে মন্দিরের গঠনের প্রতি তাঁর মনোযোগ আকৃষ্ট করলেন।
MAT 24:2 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি এসব জিনিস দেখছ? আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এদের একটি পাথরও অন্যটির উপরে থাকবে না, সবকটিকেই ভূমিসাৎ করা হবে।”
MAT 24:3 যীশু যখন জলপাই পর্বতের উপরে বসেছিলেন, শিষ্যেরা এক প্রকার গোপনে তাঁর কাছে এসে বললেন, “আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটনা ঘটবে এবং আপনার আগমনের, বা যুগান্তের চিহ্নই বা কী কী হবে?”
MAT 24:4 যীশু উত্তর দিলেন, “সতর্ক থেকো, কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে।
MAT 24:5 কারণ অনেকে এসে আমার নামে দাবি করবে, ‘আমিই সেই খ্রীষ্ট’ আর এভাবে বহু মানুষকে ঠকাবে।
MAT 24:6 তোমরা যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের সব জনরব শুনবে। কিন্তু দেখো, তোমরা যেন ব্যাকুল না হও। এ সমস্ত বিষয় অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও অন্তিমলগ্ন উপস্থিত হয়নি।
MAT 24:7 এক জাতি অন্য জাতির বিপক্ষে, এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিপক্ষে অভিযান করবে। বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে।
MAT 24:8 এসব প্রসব যন্ত্রণার সূচনা মাত্র।
MAT 24:9 “তখন তোমাদেরকে অত্যাচার করার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য সমর্পণ করা হবে। আমার কারণে সমস্ত জাতির মানুষেরা তোমাদের ঘৃণা করবে।
MAT 24:10 সেই সময়ে অনেকেই বিশ্বাস হারাবে, বিশ্বাসঘাতকতা করবে ও পরস্পরকে ঘৃণা করবে।
MAT 24:11 বহু ভণ্ড ভাববাদী উপস্থিত হয়ে বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে।
MAT 24:12 আর দুষ্টতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষেরই প্রেম শীতল হয়ে যাবে,
MAT 24:13 কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।
MAT 24:14 আর সকল জাতির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য স্বর্গরাজ্যের এই সুসমাচার সমস্ত জগতে প্রচারিত হবে, আর তখনই অন্তিমলগ্ন উপস্থিত হবে।
MAT 24:15 “আর তাই, যখন তোমরা দেখবে, ‘ধ্বংস-আনয়নকারী সেই ঘৃণ্য বস্তু’ পবিত্রস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যা ভাববাদী দানিয়েল উল্লেখ করেছেন—পাঠক বুঝে নিক—
MAT 24:16 তখন যারা যিহূদিয়া প্রদেশে বসবাস করে, তারা পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যাক।
MAT 24:17 তখন ছাদের উপরে যে থাকবে, সে যেন কোনো জিনিসপত্র ঘর থেকে নেওয়ার জন্য নিচে নেমে না আসে।
MAT 24:18 মাঠে যে থাকবে, সে যেন জামাকাপড় নেওয়ার জন্য ঘরে ফিরে না যায়।
MAT 24:19 সেই সময় গর্ভবতী নারীদের ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের কতই না ভয়ংকর কষ্ট হবে!
MAT 24:20 প্রার্থনা কোরো, যেন তোমাদের পালিয়ে যাওয়া শীতকালে বা বিশ্রামদিনে না হয়।
MAT 24:21 কারণ সেই সময় এমন চরম বিপর্যয় এসে উপস্থিত হবে, যা পৃথিবী সৃষ্টির সময় থেকে এ পর্যন্ত কখনও হয়নি, আর কখনও হবেও না।
MAT 24:22 “সেই সমস্ত দিনের সংখ্যা যদি কমিয়ে না দেওয়া হত, তাহলে কোনো মানুষই রক্ষা পেত না, কিন্তু যাদের তিনি মনোনীত করেছেন, তাঁদের জন্য সেইসব দিনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হবে।
MAT 24:23 সেই সময়, কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, খ্রীষ্ট এখানে!’ অথবা, ‘তিনি ওখানে!’ তোমরা বিশ্বাস কোরো না।
MAT 24:24 কারণ ভণ্ড খ্রীষ্টেরা ও ভণ্ড ভাববাদীরা উপস্থিত হয়ে বহু বড়ো বড়ো চিহ্ন ও অলৌকিক কাজ করে দেখাবে, যেন সম্ভব হলে মনোনীতদেরও প্রতারিত করতে পারে।
MAT 24:25 দেখো, ঘটনা ঘটবার পূর্বেই আমি তোমাদের একথা বলে দিলাম।
MAT 24:26 “তাই, কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, তিনি মরুপ্রান্তরে আছেন,’ তোমরা বেরিয়ে যেয়ো না; কিংবা, ‘তিনি এখানে ভিতরের ঘরে আছেন,’ তা বিশ্বাস কোরো না।
MAT 24:27 কারণ বিদ্যুতের ঝলক যেমন পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিক পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়, মনুষ্যপুত্রের আগমনও সেইরূপ হবে।
MAT 24:28 যেখানেই মৃতদেহ, সেখানেই শকুনের ঝাঁক জড়ো হবে।
MAT 24:29 “আর সেই সময়কালীন বিপর্যয়ের অব্যবহিত পরেই, “ ‘সূর্য অন্ধকারে ঢেকে যাবে, চাঁদ তার আলো দেবে না, আকাশ থেকে নক্ষত্রসমূহের পতন হবে, আর জ্যোতিষ্কমণ্ডলী প্রকম্পিত হবে।’
MAT 24:30 “সে সময়ে মনুষ্যপুত্রের আগমনের চিহ্ন আকাশে ফুটে উঠবে, আর পৃথিবীর সমস্ত জাতি শোকবিলাপ করবে। তারা মনুষ্যপুত্রকে স্বর্গের মেঘে করে আসতে দেখবে, তিনি পরাক্রমে ও মহামহিমায় আবির্ভূত হবেন।
MAT 24:31 তিনি তাঁর দূতদের মহা তূরীধ্বনির সঙ্গে পাঠাবেন। তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের সংগ্রহ করবেন।
MAT 24:32 “এখন ডুমুর গাছ থেকে এই শিক্ষাগ্রহণ করো: যখনই এর শাখায় কোমল পল্লব ও পাতা বের হয়ে আসে, তোমরা বুঝতে পারো যে, গ্রীষ্মকাল কাছে এসেছে।
MAT 24:33 একইভাবে, তোমরা যখন এসব বিষয় ঘটতে দেখবে, তোমরা জানবে যে, সময় হয়ে এসেছে, এমনকি, তিনি দুয়ারে উপস্থিত হয়েছেন।
MAT 24:34 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই সমস্ত ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত বর্তমান প্রজন্ম লুপ্ত হবে না।
MAT 24:35 আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্য কখনও লুপ্ত হবে না।
MAT 24:36 “কিন্তু সেই দিন বা ক্ষণের কথা কেউই জানে না, এমনকি স্বর্গদূতেরা বা পুত্রও জানেন না, কেবলমাত্র পিতা জানেন।
MAT 24:37 নোহের সময়ে যে রকম হয়েছিল, মনুষ্যপুত্রের আগমনকালেও তেমনই হবে।
MAT 24:38 কারণ মহাপ্লাবনের আগে নোহ জাহাজে প্রবেশ করা পর্যন্ত, লোকেরা খাওয়াদাওয়া করত, পান করত, বিবাহ করত ও তাদের বিবাহ দেওয়া হত।
MAT 24:39 কী ঘটতে চলেছে, তারা তার কিছুই বুঝতে পারেনি, যতক্ষণ না বন্যা এসে তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। মনুষ্যপুত্রের আগমনকালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটবে।
MAT 24:40 দুজন মানুষ মাঠে কর্মরত থাকবে; একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।
MAT 24:41 দুজন মহিলা একটি জাঁতা পেষণ করবে; একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
MAT 24:42 “সেই কারণে সতর্ক থেকো, কারণ তোমরা জানো না, কোন দিন তোমাদের প্রভু এসে পড়বেন।
MAT 24:43 কিন্তু এ বিষয় বুঝে নাও; বাড়ির কর্তা যদি জানতে পারত, রাতের কোন প্রহরে চোর আসছে, তাহলে সে সজাগ থাকত এবং তার বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না।
MAT 24:44 তাই তোমরাও প্রস্তুত থেকো, কারণ যখন তোমরা প্রত্যাশা করবে না, সেই মুহূর্তেই মনুষ্যপুত্র আসবেন।
MAT 24:45 “তাহলে সেই বিশ্বস্ত ও বিজ্ঞ দাস কে, যাকে প্রভু তাঁর পরিজনবর্গের উপরে নিযুক্ত করেছেন, যেন সে তার দাসদের যথাসময়ে খাদ্য পরিবেশন করে?
MAT 24:46 তার প্রভু ফিরে এসে তাকে সেই কাজ করতে দেখলে সেই দাসের পক্ষে তা মঙ্গলজনক হবে।
MAT 24:47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে তাঁর বিষয়সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক করবেন।
MAT 24:48 কিন্তু মনে করো, সেই দুষ্ট দাস মনে মনে ভাবল, ‘দীর্ঘদিন হল আমার প্রভু দূরে বাস করছেন,’
MAT 24:49 আর সে তার সহদাসদের মারতে শুরু করল ও মদ্যপদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও সুরাপান করে মত্ত হতে লাগল।
MAT 24:50 সেই দাসের প্রভু এমন এক সময়ে ফিরে আসবেন, যখন সে তাঁর আগমনের প্রত্যাশা করেনি, বা এমন এক ক্ষণে, যা সে জানতেও পারেনি।
MAT 24:51 তিনি তাকে খণ্ডবিখণ্ড করবেন এবং ভণ্ডদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন, যেখানে কেবলমাত্র রোদন ও দন্তঘর্ষণ হবে।
MAT 25:1 “সেই সময়ে স্বর্গরাজ্য হবে এমন দশজন কুমারীর মতো, যারা তাদের প্রদীপ হাতে নিয়ে বরের সঙ্গে মিলিত হতে গেল।
MAT 25:2 তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিল নির্বোধ ও পাঁচজন ছিল বুদ্ধিমতী।
MAT 25:3 নির্বোধ কুমারীরা তাদের প্রদীপ নিল, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো তেল নিল না।
MAT 25:4 কিন্তু বুদ্ধিমতী কুমারীরা প্রদীপের সঙ্গে পাত্রে করে তেলও নিল।
MAT 25:5 বর আসতে দেরি করল, ফলে তারা সকলে ঢুলতে ঢুলতে ঘুমিয়ে পড়ল।
MAT 25:6 “মধ্যরাত্রে এক উচ্চ রব শোনা গেল: ‘দেখো, বর এসেছেন! তোমরা তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য বেরিয়ে এসো!’
MAT 25:7 “তখন সব কুমারী উঠে তাদের প্রদীপ সাজিয়ে নিল।
MAT 25:8 নির্বোধ কুমারীরা বুদ্ধিমতীদের বলল, ‘তোমাদের তেল থেকে আমাদের কিছু দাও; আমাদের প্রদীপগুলি নিভে যাচ্ছে।’
MAT 25:9 “তারা উত্তর দিল, ‘না, তোমাদের ও আমাদের জন্য হয়তো পর্যাপ্ত হবে না। বরং যারা তেল বিক্রি করে তাদের কাছে গিয়ে তোমরা নিজেদের জন্য কিছু তেল কিনে আনো।’
MAT 25:10 “তারা তেল কেনার জন্য যখন পথে যাচ্ছে, এমন সময় বর এসে পৌঁছালেন। যে কুমারীরা প্রস্তুত ছিল, তারা তাঁর সঙ্গে বিবাহ আসরে প্রবেশ করল। আর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল।
MAT 25:11 “পরে অন্য কুমারীরাও এসে পৌঁছাল। তারা বলল, ‘প্রভু! প্রভু! আমাদের জন্যও দরজা খুলে দিন!’
MAT 25:12 “কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আমি তোমাদের চিনি না।’
MAT 25:13 “সেই কারণে সজাগ থেকো, কারণ তোমরা সে দিন বা ক্ষণ জানো না।
MAT 25:14 “আবার, এ হবে এমন এক ব্যক্তির মতো, যিনি বিদেশ ভ্রমণে বের হলেন। তিনি তার দাসদের ডেকে তাদের হাতে তার সম্পত্তির ভার দিলেন।
MAT 25:15 একজনকে তিনি পাঁচ তালন্ত অর্থ দিলেন, অপর একজনকে দুই তালন্ত ও আরও একজনকে এক তালন্ত, যার যেমন ক্ষমতা, সেই অনুযায়ী দিলেন। তারপর তিনি ভ্রমণে চলে গেলেন।
MAT 25:16 যে মানুষটি পাঁচ তালন্ত নিয়েছিল, সে তক্ষুনি গিয়ে তার অর্থ বিনিয়োগ করল ও আরও পাঁচ তালন্ত লাভ করল।
MAT 25:17 একইভাবে, যে দুই তালন্ত নিয়েছিল, সে আরও দুই তালন্ত লাভ করল।
MAT 25:18 কিন্তু যে এক তালন্ত নিয়েছিল, সে ফিরে গেল, মাটিতে গর্ত খুঁড়ল ও তার মনিবের অর্থ লুকিয়ে রাখল।
MAT 25:19 “দীর্ঘ সময় পরে, ওই দাসদের মনিব ফিরে এলেন ও তাদের সঙ্গে হিসেব নিকেশ করতে চাইলেন।
MAT 25:20 যে পাঁচ তালন্ত নিয়েছিল, সে আরও পাঁচ তালন্ত নিয়ে এসে বলল, ‘প্রভু, আপনি আমার হাতে পাঁচ তালন্ত দিয়েছিলেন। দেখুন, আমি আরও পাঁচ তালন্ত লাভ করেছি।’
MAT 25:21 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘বেশ করেছ, উত্তম ও বিশ্বস্ত দাস! তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত থেকেছ; আমি তোমাকে বহু বিষয়ের উপরে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করব। এসো, তোমার মনিবের আনন্দের অংশীদার হও!’
MAT 25:22 “যে দুই তালন্ত নিয়েছিল, সেও এসে বলল, ‘প্রভু, আপনি আমাকে দুই তালন্ত দিয়েছিলেন; দেখুন, আমি আরও দুই তালন্ত লাভ করেছি।’
MAT 25:23 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘বেশ করেছ, উত্তম ও বিশ্বস্ত দাস! তুমি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত থেকেছ; আমি তোমাকে বহু বিষয়ের উপরে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করব। এসো, তোমার মনিবের আনন্দের অংশীদার হও!’
MAT 25:24 “তখন যে এক তালন্ত অর্থ নিয়েছিল, সে এসে উপস্থিত হল। সে বলল, ‘প্রভু, আমি জানি, আপনি এক কঠোর প্রকৃতির মানুষ, যেখানে বীজ বোনেননি, সেখানে কাটেন এবং যেখানে বীজ ছড়াননি, সেখানেই সংগ্রহ করেন।
MAT 25:25 তাই আমি ভীত হয়ে, আপনার তালন্ত মাটিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। এই দেখুন, আপনার যা, তা ফিরে পেলেন।’
MAT 25:26 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘দুষ্ট ও অলস দাস! তুমি তো জানতে যে, আমি যেখানে বুনিনি, সেখানেই কাটি ও যেখানে বীজ ছড়াইনি, সেখানেই সংগ্রহ করি?
MAT 25:27 তাহলে মহাজনদের কাছে তুমি আমার অর্থ গচ্ছিত রাখতে পারতে, যেন আমি ফিরে এসে তা সুদসমেত ফেরত পেতাম।
MAT 25:28 “ ‘অতএব, তোমরা ওই তালন্তটি তার কাছ থেকে নিয়ে নাও এবং যার দশ তালন্ত আছে তাকে দিয়ে দাও।
MAT 25:29 কারণ যার কাছে আছে, তাকে আরও দেওয়া হবে ও তার অনেক হবে। যার কাছে নেই, তার কাছে যা আছে, তাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে।
MAT 25:30 আর তোমরা সেই অকর্মণ্য দাসকে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দাও, যেখানে কেবলই রোদন ও দন্তঘর্ষণ হবে।’
MAT 25:31 “মনুষ্যপুত্র যখন তাঁর মহিমায়, তাঁর সমস্ত দূতদের সঙ্গে নিয়ে আসবেন, তিনি স্বর্গীয় মহিমায় তাঁর সিংহাসনে উপবেশন করবেন।
MAT 25:32 সমস্ত জাতিকে তাঁর সামনে উপস্থিত করা হবে। তিনি লোকেদের, একজন থেকে অপরজনকে পৃথক করবেন, যেভাবে মেষপালক ছাগদের মধ্য থেকে মেষদের পৃথক করে।
MAT 25:33 তিনি মেষদের তাঁর ডানদিকে ও ছাগদের তাঁর বাঁদিকে রাখবেন।
MAT 25:34 “তখন রাজা তাঁর ডানদিকের লোকদের বলবেন, ‘আমার পিতার আশিস ধন্য তোমরা এসো; জগৎ সৃষ্টির সময় থেকে যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তোমরা তার অধিকারী হও।
MAT 25:35 কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে খাবার দিয়েছিলে; আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে পান করতে দিয়েছিলে; আমি অপরিচিত ছিলাম, তোমরা আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলে;
MAT 25:36 আমার পোশাকের প্রয়োজন ছিল, তোমরা পোশাক দিয়েছিলে; আমি অসুস্থ ছিলাম, তোমরা আমার দেখাশোনা করেছিলে; আমি কারাগারে ছিলাম, তোমরা আমাকে দেখতে গিয়েছিলে।’
MAT 25:37 “ধার্মিক ব্যক্তিরা তখন তাঁকে উত্তর দেবে, ‘প্রভু, আমরা কখন আপনাকে ক্ষুধার্ত দেখে আহার দিয়েছিলাম, বা তৃষ্ণার্ত দেখে পান করতে দিয়েছিলাম?
MAT 25:38 কখনই-বা আপনাকে অপরিচিত দেখে ভিতরে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলাম, বা পোশাকহীন দেখে পোশাক দিয়েছিলাম?
MAT 25:39 কখনই-বা আপনাকে অসুস্থ বা কারাগারে দেখে আপনার কাছে গিয়েছিলাম?’
MAT 25:40 “রাজা উত্তর দেবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যখন তোমরা আমার এই ভাইবোনদের মধ্যে নগণ্যতম কারও প্রতি এরকম করেছিলে, তখন তা আমারই প্রতি করেছিলে।’
MAT 25:41 “তারপরে তিনি তাঁর বাঁদিকের লোকদের বলবেন, ‘অভিশপ্ত তোমরা, আমার কাছ থেকে দূর হয়ে অনন্ত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হও, যা দিয়াবল ও তার দূতদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
MAT 25:42 কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে কিছুই খেতে দাওনি; আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম, তোমরা আমাকে পান করার জন্য কিছু দাওনি;
MAT 25:43 আমি অপরিচিত ছিলাম, তোমরা আমাকে আশ্রয় দাওনি; আমার পোশাকের প্রয়োজন দেখেও আমাকে পোশাক দাওনি; আমি অসুস্থ ও কারাগারে ছিলাম, তোমরা আমার দেখাশোনা করোনি।’
MAT 25:44 “তারাও উত্তর দেবে, ‘প্রভু, আমরা কখন আপনাকে ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত, অপরিচিত বা পোশাকহীন, অসুস্থ বা কারাগারে দেখে সাহায্য করিনি?’
MAT 25:45 “তিনি উত্তর দেবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আমার এই নগণ্যতম জনেদের কোনো একজনের প্রতি যখন তা করোনি তখন তা তোমরা আমার প্রতিই করোনি।’
MAT 25:46 “তারপর তারা চিরন্তন শাস্তির উদ্দেশ্যে যাবে, কিন্তু ধার্মিকেরা অনন্ত জীবনে প্রবেশ করবে।”
MAT 26:1 এসব বিষয় বলা শেষ করার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন,
MAT 26:2 “তোমরা জানো, আর দু-দিন পরে নিস্তারপর্ব আসছে, তখন মনুষ্যপুত্রকে ক্রুশার্পিত করার জন্য সমর্পণ করা হবে।”
MAT 26:3 সেই সময় প্রধান যাজকেরা ও লোকেদের প্রাচীনবর্গ কায়াফা নামক মহাযাজকের প্রাসাদে সমবেত হল।
MAT 26:4 আর তারা কোনও ছলে যীশুকে গ্রেপ্তার করে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল।
MAT 26:5 তারা বলল, “কিন্তু পর্বের সময়ে নয়, তাতে লোকদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যেতে পারে।”
MAT 26:6 যীশু যখন বেথানিতে কুষ্ঠরোগী শিমোনের বাড়িতে ছিলেন,
MAT 26:7 তখন একজন নারী একটি শ্বেতস্ফটিকের পাত্রে বহুমূল্য সুগন্ধি তেল নিয়ে তাঁর কাছে এল। যীশু যখন টেবিলে হেলান দিয়ে বসেছিলেন, সেই নারী তাঁর মাথায় তা উপুড় করে ঢেলে দিল।
MAT 26:8 শিষ্যেরা এই দেখে ভীষণ রুষ্ট হলেন। তাঁরা বললেন, “এই অপচয় কেন?
MAT 26:9 এই সুগন্ধি তেল তো অনেক টাকায় বিক্রি করে দরিদ্রদের দান করা যেত!”
MAT 26:10 একথা শুনে যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা কেন এই মহিলাকে বিরক্ত করছ? সে তো আমার জন্য এক ভালো কাজই করেছে।
MAT 26:11 দরিদ্রেরা তোমাদের সঙ্গে সবসময়ই থাকবে, কিন্তু আমাকে তোমরা সবসময় পাবে না।
MAT 26:12 সে আমার শরীরে এই সুগন্ধি তেল ঢেলে আমাকে সমাধির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করল।
MAT 26:13 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সমস্ত জগতে যেখানেই এই সুসমাচার প্রচারিত হবে, সে যা করেছে, স্মৃতির উদ্দেশে তার সেই কাজের কথাও বলা হবে।”
MAT 26:14 তখন সেই বারোজনের মধ্যে একজন, যে যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ নামে আখ্যাত, সে প্রধান যাজকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
MAT 26:15 “যীশুকে আপনাদের হাতে সমর্পণ করলে, আপনারা আমাকে কী দেবেন?” তারা তাকে ত্রিশটি রুপোর মুদ্রা গুনে দিল।
MAT 26:16 সেই সময় থেকে যিহূদা তাঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগল।
MAT 26:17 খামিরবিহীন রুটির পর্বের প্রথম দিনে, শিষ্যেরা যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণের প্রস্তুতি আমরা কোথায় করব?”
MAT 26:18 তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরা নগরে জনৈক ব্যক্তির কাছে যাও ও তাকে বলো, ‘গুরুমহাশয় বলছেন, আমার জন্য নির্ধারিত সময় এসে গেছে। আমি তোমার গৃহে আমার শিষ্যদের নিয়ে নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করতে চাই।’ ”
MAT 26:19 তাই শিষ্যেরা যীশুর নির্দেশমতো কাজ করলেন ও গিয়ে নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করলেন।
MAT 26:20 সন্ধ্যা হলে, যীশু সেই বারোজনের সঙ্গে ভোজের টেবিলে হেলান দিয়ে বসলেন।
MAT 26:21 তারা খাওয়াদাওয়া করছেন, এমন সময়ে যীশু বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।”
MAT 26:22 তাঁরা ভীষণ দুঃখিত হলেন ও একের পর এক তাঁকে বললেন, “প্রভু, সে নিশ্চয়ই আমি নই?”
MAT 26:23 যীশু উত্তর দিলেন, “যে আমার সঙ্গে খাবারের পাত্রে হাত ডুবালো, সেই আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
MAT 26:24 মনুষ্যপুত্রের বিষয়ে যে রকম লেখা আছে, তেমনই তিনি চলে যাবেন, কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে মনুষ্যপুত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে! তার জন্ম না হলেই বরং তার পক্ষে ভালো হত।”
MAT 26:25 তখন, যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সেই যিহূদা বলল, “রব্বি, সে নিশ্চয়ই আমি নই?” যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, তুমিই সে।”
MAT 26:26 তাঁরা যখন আহার করছিলেন, যীশু রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও তা ভাঙলেন। আর তিনি তাঁর শিষ্যদের দিলেন ও বললেন, “তোমরা নাও, এবং ভোজন করো; এ আমার শরীর।”
MAT 26:27 তারপর তিনি পানপাত্র নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও শিষ্যদের তা দিয়ে বললেন, “তোমরা সবাই এর থেকে পান করো।
MAT 26:28 এ আমার রক্ত, সেই নতুন নিয়মের রক্ত, যা পাপক্ষমার উদ্দেশ্যে অনেকের জন্য পাতিত হচ্ছে।
MAT 26:29 আমি তোমাদের বলছি, এখন থেকে আমি এই দ্রাক্ষারস আর কখনও পান করব না, যতদিন না আমি আমার পিতার রাজ্যে তোমাদের সঙ্গে নতুন দ্রাক্ষারস পান করি।”
MAT 26:30 পরে তাঁরা একটি গান করে সেখান থেকে বের হয়ে জলপাই পর্বতে গেলেন।
MAT 26:31 তারপর যীশু তাঁদের বললেন, “এই রাত্রিতে তোমরা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, কারণ এরকম লেখা আছে, “ ‘আমি পালরক্ষককে আঘাত করব, তাতে পালের মেষেরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।’
MAT 26:32 কিন্তু আমি উত্থিত হলে পর, আমি তোমাদের আগেই গালীলে পৌঁছাব।”
MAT 26:33 পিতর উত্তর দিলেন, “সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে গেলেও, আমি কিন্তু কখনও যাব না।”
MAT 26:34 প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজ রাত্রে, মোরগ ডাকার আগেই, তুমি তিনবার আমাকে অস্বীকার করবে।”
MAT 26:35 কিন্তু পিতর তাঁকে বললেন, “আপনার সঙ্গে যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হয়, তাহলেও আমি আপনাকে কখনোই অস্বীকার করব না।” অন্য সব শিষ্যও একই কথা বললেন।
MAT 26:36 তারপর যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে গেৎশিমানি নামে এক স্থানে গেলেন। তিনি তাদের বললেন, “আমি যতক্ষণ ওখানে প্রার্থনা করি তোমরা ততক্ষণ এখানে বসে থাকো।”
MAT 26:37 তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই পুত্রকে তাঁর সঙ্গে নিলেন। তিনি ক্রমেই দুঃখার্ত ও ব্যাকুল হতে লাগলেন।
MAT 26:38 তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “আমার প্রাণ মৃত্যু পর্যন্ত দুঃখার্ত হয়েছে। তোমরা এখানে থাকো, এবং আমার সঙ্গে জেগে থাকো।”
MAT 26:39 আরও কিছু দূর এগিয়ে, তিনি ভূমিতে উবুড় হয়ে প্রার্থনা করলেন, “পিতা, যদি সম্ভব হয়, এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূর করে দাও। তবুও আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছামতো হোক।”
MAT 26:40 তারপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি পিতরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি এক ঘণ্টাও আমার সঙ্গে জেগে থাকতে পারলে না?
MAT 26:41 জেগে থাকো ও প্রার্থনা করো, যেন তোমরা প্রলোভনে না পড়ো। আত্মা ইচ্ছুক, কিন্তু শরীর দুর্বল।”
MAT 26:42 তিনি দ্বিতীয়বার গিয়ে প্রার্থনা করলেন, “পিতা আমার, আমি পান না করলে যদি এই পাত্র দূর না হয়, তাহলে তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।”
MAT 26:43 যখন তিনি ফিরে এলেন, তিনি আবার তাঁদের ঘুমাতে দেখলেন, কারণ তাঁদের চোখের পাতা ভারী হয়ে উঠেছিল।
MAT 26:44 তাই তিনি পুনরায় তাদের ছেড়ে এগিয়ে গেলেন ও একই কথা বলে তৃতীয়বার প্রার্থনা করলেন।
MAT 26:45 তারপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “তোমরা কি এখনও ঘুমিয়ে আছ ও বিশ্রাম করছ? দেখো, সময় হয়েছে। মনুষ্যপুত্রকে পাপীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
MAT 26:46 ওঠো, চলো আমরা যাই! দেখো, আমার বিশ্বাসঘাতক এসে পড়েছে!”
MAT 26:47 তিনি তখনও কথা বলছেন সেই সময় বারোজনের অন্যতম যিহূদা সেখানে এসে উপস্থিত হল। তার সঙ্গে ছিল একদল সশস্ত্র লোক, তাদের হাতে ছিল তরোয়াল ও লাঠিসোঁটা। প্রধান যাজকেরা ও লোকসমূহের প্রাচীনবর্গ তাদের পাঠিয়েছিল।
MAT 26:48 সেই বিশ্বাসঘাতক তাদের এই সংকেত দিয়ে রেখেছিল, “যাকে আমি চুম্বন করব, সেই ওই ব্যক্তি; তাকে গ্রেপ্তার কোরো।”
MAT 26:49 সেই মুহূর্তেই যীশুর কাছে গিয়ে যিহূদা বলল, “রব্বি, নমস্কার!” আর তাঁকে চুম্বন করল।
MAT 26:50 যীশু উত্তর দিলেন, “বন্ধু, যা করতে এসেছ, তুমি তাই করো।” তখন সেই লোকেরা এগিয়ে এসে যীশুকে ধরল ও তাঁকে গ্রেপ্তার করল।
MAT 26:51 তাই দেখে যীশুর সঙ্গীদের একজন তাঁর তরোয়াল বের করে মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার কান কেটে ফেললেন।
MAT 26:52 যীশু তাঁকে বললেন, “তোমার তরোয়াল পুনরায় স্বস্থানে রাখো, কারণ যারাই তরোয়াল ধারণ করে তারাই তরোয়ালের দ্বারা মৃত্যুবরণ করবে।
MAT 26:53 তুমি কি মনে করো? আমি কি আমার পিতাকে ডাকতে পারি না, আর তিনি সঙ্গে সঙ্গে কি আমার অধীনে বারোটি বাহিনীরও বেশি দূত পাঠিয়ে দেবেন না?
MAT 26:54 তাহলে শাস্ত্রবাণী কীভাবে পূর্ণ হবে, যা বলে যে, এসব এভাবেই ঘটবে?”
MAT 26:55 সেই সময় যীশু লোকদের বললেন, “আমি কি কোনও বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছি যে, তোমরা তরোয়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ? প্রতিদিন আমি মন্দির চত্বরে বসে শিক্ষা দিয়েছি, তখন তো তোমরা আমাকে গ্রেপ্তার করোনি।
MAT 26:56 কিন্তু এ সমস্ত এজন্যই ঘটছে, যেন ভাববাদীদের লিখিত বচনগুলি পূর্ণ হয়।” তখন সব শিষ্য তাঁকে ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন।
MAT 26:57 যারা যীশুকে গ্রেপ্তার করেছিল, তারা তাঁকে মহাযাজক কায়াফার কাছে নিয়ে গেল। সেখানে সব শাস্ত্রবিদ ও লোকদের প্রাচীনবর্গ সমবেত হয়েছিল।
MAT 26:58 কিন্তু পিতর দূর থেকে, মহাযাজকের উঠান পর্যন্ত যীশুকে অনুসরণ করলেন। তিনি প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য রক্ষীদের কাছে গিয়ে বসলেন।
MAT 26:59 প্রধান যাজকেরা ও সমস্ত মহাসভা যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণ খুঁজছিল।
MAT 26:60 বহু মিথ্যাসাক্ষী এগিয়ে এলেও তারা সেরকম কিছুই পেল না। শেষে দুজন এগিয়ে
MAT 26:61 এসে বলল, “এই লোকটি বলেছিল, ‘আমি ঈশ্বরের মন্দির ভেঙে ফেলতে ও তিনদিনের মধ্যে তা পুনর্নির্মাণ করতে পারি।’ ”
MAT 26:62 তখন মহাযাজক উঠে দাঁড়িয়ে যীশুকে বললেন, “তুমি কি উত্তর দেবে না? এই লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ নিয়ে এসেছে, এগুলি কী?”
MAT 26:63 যীশু তবুও নীরব রইলেন। মহাযাজক তাঁকে বললেন, “আমি জীবন্ত ঈশ্বরের নামে শপথ করে তোমাকে অভিযুক্ত করছি: আমাদের বলো দেখি, তুমিই কি সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র?”
MAT 26:64 যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, ঠিক তাই, যেমন তুমি বলেছ। কিন্তু আমি তোমাদের সবাইকে বলছি: ভাবীকালে তোমরা মনুষ্যপুত্রকে সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ডানদিকে বসে থাকতে ও স্বর্গের মেঘে করে আসতে দেখবে।”
MAT 26:65 তখন মহাযাজক তাঁর কাপড় ছিঁড়ে ফেলে বললেন, “ও ঈশ্বরনিন্দা করেছে! আমাদের আর সাক্ষ্য-প্রমাণের কী প্রয়োজন? দেখো, এখন তোমরা ঈশ্বরনিন্দা শুনলে।
MAT 26:66 তোমাদের অভিমত কী?” তারা উত্তর দিল, “ও মৃত্যুরই যোগ্য।”
MAT 26:67 তারা তখন তাঁর মুখে থুতু দিল ও তাঁকে ঘুসি মারল।
MAT 26:68 অন্যেরা তাঁকে চড় মেরে বলতে লাগল, “ওরে খ্রীষ্ট, আমাদের কাছে ভাববাণী বল দেখি, কে তোকে মারল?”
MAT 26:69 সেই সময় পিতর বাইরের উঠানে বসেছিলেন। একজন দাসী তাঁর কাছে এসে বলল, “তুমিও সেই গালীলীয় যীশুর সঙ্গে ছিলে।”
MAT 26:70 কিন্তু তিনি তাদের সবার সামনে সেকথা অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন, “আমি জানি না, তুমি কী বলছ।”
MAT 26:71 তখন তিনি ফটকের কাছে গেলেন। সেখানে অন্য একজন দাসী তাঁকে দেখে, সেখানকার লোকজনকে বলল, “এই লোকটিও নাসরতীয় যীশুর সঙ্গে ছিল।”
MAT 26:72 তিনি শপথ করে আবার তা অস্বীকার করলেন, বললেন, “আমি ওই মানুষটিকে চিনি না!”
MAT 26:73 আরও কিছুক্ষণ পরে, যারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তারা পিতরের কাছে গিয়ে বলল, “নিশ্চিতরূপে তুমি তাদেরই একজন, কারণ তোমার উচ্চারণভঙ্গিই তা প্রকাশ করছে।”
MAT 26:74 তখন তিনি নিজের উপরে অভিশাপ ডেকে এনে তাদের কাছে শপথ করে বললেন, “আমি ওই মানুষটিকে চিনিই না!” সেই মুহূর্তে একটি মোরগ ডেকে উঠল।
MAT 26:75 তখন যীশু যে কথা বলেছিলেন, তা পিতরের মনে পড়ল, “মোরগ ডাকার পূর্বে তুমি তিনবার আমাকে অস্বীকার করবে।” আর তিনি বাইরে গিয়ে খুব কাঁদতে লাগলেন।
MAT 27:1 ভোরবেলায়, সমস্ত প্রধান যাজক ও লোকদের প্রাচীনবর্গ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
MAT 27:2 তারা তাঁকে বেঁধে প্রদেশপাল পীলাতের কাছে গেল ও তাঁর হাতে তাঁকে সমর্পণ করল।
MAT 27:3 যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেই যিহূদা যখন দেখল যে যীশুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সে তীব্র বিবেক দংশনে বিদ্ধ হল। সে প্রধান যাজকদের ও প্রাচীনদের কাছে গিয়ে সেই ত্রিশটি রুপোর মুদ্রা ফিরিয়ে দিল।
MAT 27:4 সে বলল, “নির্দোষ মানুষের রক্ত সমর্পণ করে আমি পাপ করেছি।” তারা উত্তরে বলল, “তাতে আমাদের কী? সে তোমার দায়।”
MAT 27:5 তাই যিহূদা সেই অর্থ মন্দিরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেল। তারপর গিয়ে নিজেকে ফাঁসি দিল।
MAT 27:6 প্রধান যাজকেরা মুদ্রাগুলি তুলে নিয়ে বলল, “এই অর্থ ভাণ্ডারে রাখা বিধানবিরুদ্ধ, কারণ এটি রক্তের মূল্য।”
MAT 27:7 তাই তারা স্থির করল, ওই অর্থ দিয়ে কুমোরের জমি কেনা হবে, যেন বিদেশিদের কবর দেওয়া যেতে পারে।
MAT 27:8 এই কারণে একে আজও পর্যন্ত রক্তক্ষেত্র বলা হয়।
MAT 27:9 তখন ভাববাদী যিরমিয়ের দ্বারা কথিত এই বচন পূর্ণ হল: “তারা সেই ত্রিশটি রুপোর মুদ্রা নিল, ইস্রায়েল-সন্তানেরা যা তাঁর মূল্য নির্ধারণ করেছিল,
MAT 27:10 আর তারা সেই অর্থ কুমোরের জমি কেনার জন্য ব্যয় করল, যেমন প্রভু আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন।”
MAT 27:11 ইতিমধ্যে যীশুকে প্রদেশপালের সামনে দাঁড় করানো হল। প্রদেশপাল তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি ইহুদিদের রাজা?” যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, ঠিক তাই, যেমন তুমি বললে।”
MAT 27:12 প্রধান যাজকেরা ও প্রাচীনবর্গ যখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে লাগল, তিনি কোনও উত্তর দিলেন না।
MAT 27:13 তখন পীলাত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার বিরুদ্ধে ওরা যে সাক্ষ্য এনেছে তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না?”
MAT 27:14 তবুও যীশু কোনো উত্তর দিলেন না, একটি অভিযোগেরও না। এতে প্রদেশপাল অত্যন্ত বিস্মিত হলেন।
MAT 27:15 সেই সময়ে, পর্ব উপলক্ষে প্রদেশপালের একটি প্রথা ছিল, লোকসাধারণ যে কারাবন্দিকে চাইত, তিনি তাকে মুক্তি দিতেন।
MAT 27:16 তখন যীশু-বারাব্বা নামে তাদের এক কুখ্যাত বন্দি ছিল।
MAT 27:17 তাই লোকেরা সমবেত হলে পীলাত তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের জন্য আমি কাকে মুক্তি দেব, বারাব্বাকে না যীশুকে, যাকে খ্রীষ্ট বলে?”
MAT 27:18 কারণ তিনি জানতেন, তারা ঈর্ষাবশত যীশুকে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল।
MAT 27:19 পীলাত যখন বিচারাসনে বসেছিলেন, তাঁর স্ত্রী তাঁর কাছে এই বার্তা পাঠালেন, “ওই নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি তুমি কিছু কোরো না, কারণ আজ আমি স্বপ্নে তাঁর কারণে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।”
MAT 27:20 কিন্তু প্রধান যাজকেরা ও প্রাচীনবর্গ লোকদের প্ররোচিত করে বলল, তারা যেন বারাব্বাকে মুক্তির জন্য চেয়ে নেয়, কিন্তু যীশুকে যেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
MAT 27:21 প্রদেশপাল জিজ্ঞাসা করলেন, “এই দুজনের মধ্যে তোমরা কাকে চাও যে আমি মুক্ত করি?” তারা উত্তর দিল, “বারাব্বাকে।”
MAT 27:22 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে যীশু, যাকে খ্রীষ্ট বলে, আমি তাকে নিয়ে কী করব?” তারা সকলে মিলে উত্তর দিল, “ওকে ক্রুশে দিন!”
MAT 27:23 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন? ও কী অপরাধ করেছে?” কিন্তু তারা আরও জোরে চিৎকার করে বলতে লাগল, “ওকে ক্রুশে দিন!”
MAT 27:24 পীলাত যখন দেখলেন, তাঁর সব প্রচেষ্টা নিষ্ফল হচ্ছে, বরং এক হট্টগোলের সৃষ্টি হচ্ছে, তিনি জল নিয়ে লোকদের সামনে তাঁর হাত ধুয়ে বললেন, “আমি এই মানুষটির রক্তপাত সম্পর্কে নির্দোষ। এই দায় তোমাদের!”
MAT 27:25 লোকেরা সবাই উত্তর দিল, “ওর রক্ত আমাদের উপরে ও আমাদের সন্তানের উপরে বর্তাক।”
MAT 27:26 তখন তিনি তাদের কাছে বারাব্বাকে মুক্ত করে দিলেন, কিন্তু যীশুকে চাবুক দিয়ে প্রহার করিয়ে ক্রুশার্পিত করার জন্য সমর্পণ করলেন।
MAT 27:27 এরপর প্রদেশপালের সৈন্যরা যীশুকে তাঁর প্রাসাদে নিয়ে গেল ও তাঁর চারপাশে সমস্ত সৈন্যদলকে একত্র করল।
MAT 27:28 তারা তাঁর পোশাক খুলে একটি লাল রংয়ের পোশাক পরিয়ে দিল।
MAT 27:29 তারপর কাঁটালতা দিয়ে পাকানো একটি মুকুট তৈরি করে তাঁর মাথায় স্থাপন করল। তারা তাঁর ডান হাতে নলখাগড়ার একটি ছড়ি দিল ও তাঁর সামনে নতজানু হয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করল, বলল, “ইহুদিদের রাজা, নমস্কার!”
MAT 27:30 তারা তাঁর গায়ে থুতু দিল, ছড়িটি নিয়ে নিল এবং তা দিয়ে বারবার তাঁর মাথায় আঘাত করতে লাগল।
MAT 27:31 তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করার পর, তারা তাঁর পোশাকটি খুলে নিল ও তাঁর নিজের পোশাক তাঁকে পরিয়ে দিল। তারপর তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য নিয়ে গেল।
MAT 27:32 তারা যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন তারা কুরীণ থেকে আগত শিমোন নামে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেল। তারা ক্রুশ বয়ে নিয়ে যেতে তাকে বাধ্য করল।
MAT 27:33 তারা গলগথা নামক এক স্থানে এল (নামটির অর্থ, “মাথার খুলির স্থান”)।
MAT 27:34 তারা সেখানে যীশুকে পিত্তরসে মেশানো দ্রাক্ষারস পান করতে দিল; কিন্তু তিনি তার স্বাদ নিয়ে তা পান করতে চাইলেন না।
MAT 27:35 তারা যখন তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল, তারা গুটিকাপাত করে তাঁর পোশাকগুলি ভাগ করে নিল।
MAT 27:36 আর সেখানে বসে, তারা তাঁকে পাহারা দিতে লাগল।
MAT 27:37 তাঁর মাথার উপরে তারা তাঁর বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগপত্র টাঙিয়ে দিল: এই ব্যক্তি যীশু, ইহুদিদের রাজা।
MAT 27:38 দুজন দস্যুকে তাঁর সঙ্গে ক্রুশার্পিত করা হল, একজনকে তাঁর ডানদিকে, অন্যজনকে তাঁর বাঁদিকে।
MAT 27:39 যারা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, তারা তাদের মাথা নাড়তে নাড়তে তাঁকে অপমান করে বলতে লাগল,
MAT 27:40 “তুমি নাকি মন্দির ধ্বংস করে তিনদিনের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করতে চলেছিলে, এবার নিজেকে রক্ষা করো! তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, ক্রুশ থেকে নেমে এসো!”
MAT 27:41 একইভাবে প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও প্রাচীনবর্গ তাঁকে বিদ্রুপ করল।
MAT 27:42 তারা বলল, “ও অন্যদের বাঁচাত, কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা! এখন ও ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরাও ওকে বিশ্বাস করব।
MAT 27:43 ও ঈশ্বরে নির্ভর করে। ঈশ্বরই ওকে নিস্তার করুন, যদি তিনি ওকে চান, কারণ ও বলেছে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র।’ ”
MAT 27:44 একইভাবে, তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ দুই দস্যুও তাঁকে বিভিন্নভাবে অপমান করল।
MAT 27:45 দুপুর বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশে অন্ধকার ছেয়ে গেল।
MAT 27:46 প্রায় তিনটের সময় যীশু উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন, “এলী, এলী,লামা শবক্তানী?” যার অর্থ, “ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ?”
MAT 27:47 সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন এমন কয়েকজন যখন একথা শুনল, তারা বলল, “ও এলিয়কে ডাকছে।”
MAT 27:48 সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে একজন দৌড়ে গিয়ে একটি স্পঞ্জ নিয়ে এল। সে তা সিরকা মিশ্রিত দ্রাক্ষারসে পূর্ণ করে একটি নলের সাহায্যে যীশুকে পান করতে দিল।
MAT 27:49 অন্যেরা সকলে বলল, “এখন ওকে একা ছেড়ে দাও। দেখি, এলিয় ওকে রক্ষা করতে আসেন কি না।”
MAT 27:50 পরে যীশু আবার উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে তাঁর আত্মাকে সমর্পণ করলেন।
MAT 27:51 আর সেই মুহূর্তে মন্দিরের পর্দাটি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চিরে দু-টুকরো হল। ভূমিকম্প হল ও পাথর শিলাগুলি বিদীর্ণ হল।
MAT 27:52 কবরসকল উন্মুক্ত হল ও বহু পুণ্যজনের শরীর, যাঁরা পূর্বে নিদ্রাগত হয়েছিলেন, তাদের জীবনে উত্থাপিত করা হল।
MAT 27:53 তাঁরা কবর থেকে বের হয়ে এলেন ও যীশুর পুনরুত্থানের পর পবিত্র নগরে প্রবেশ করলেন এবং বহু মানুষকে দর্শন দিলেন।
MAT 27:54 তখন সেই শত-সেনাপতি ও যারা তার সঙ্গে যীশুকে পাহারা দিচ্ছিল, সেই ভূমিকম্প ও অন্য সব ঘটনা ঘটতে দেখে, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হল ও বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল, “নিশ্চিতরূপেই ইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন!”
MAT 27:55 সেখানে বহু মহিলাও উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা দূর থেকে সব লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা যীশুর পরিচর্যার জন্য গালীল থেকে তাঁকে অনুসরণ করে আসছিলেন।
MAT 27:56 তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাগ্দালাবাসী মরিয়ম, যাকোব ও যোষির মা মরিয়ম এবং সিবদিয়ের পুত্রদের মা।
MAT 27:57 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, সেখানে যোষেফ নামে আরিমাথিয়ার এক ধনী ব্যক্তি উপস্থিত হলেন। তিনি নিজেও যীশুর শিষ্য হয়েছিলেন।
MAT 27:58 পীলাতের কাছে গিয়ে তিনি যীশুর দেহটি চাইলেন, পীলাত তা তাঁকে দেওয়ার আদেশ দিলেন।
MAT 27:59 যোষেফ সেই দেহটি নিয়ে পরিষ্কার লিনেন কাপড়ে জড়ালেন
MAT 27:60 ও পাথরে খোদাই করা তাঁর নিজের নতুন সমাধি গৃহে তা রাখলেন। তিনি সমাধির প্রবেশপথে একটি বড়ো পাথর গড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন।
MAT 27:61 সেখানে মাগ্দালাবাসী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবরের উল্টোদিকে বসেছিলেন।
MAT 27:62 পরের দিন, অর্থাৎ প্রস্তুতি-দিনের পরদিন, প্রধান যাজকেরা ও ফরিশীরা পীলাতের কাছে গেল।
MAT 27:63 তারা বলল, “মহাশয়, আমাদের মনে পড়ছে, সেই প্রবঞ্চক জীবিত থাকাকালীন বলেছিল, ‘তিন দিন পরে আমি আবার উত্থিত হব।’
MAT 27:64 সেই কারণে, তিন দিন পর্যন্ত সমাধিটি পাহারা দিতে আদেশ দিন, তা না হলে, তাঁর শিষ্যেরা এসে সেই দেহ চুরি করে নিয়ে যাবে ও লোকদের বলবে যে তিনি মৃতলোক থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন। তাহলে শেষের এই প্রতারণা প্রথমের থেকে আরও গুরুতর হবে।”
MAT 27:65 পীলাত উত্তর দিলেন, “তোমরা পাহারা দাও। গিয়ে সমাধি যতটা সুরক্ষিত রাখতে পারো, তোমরা তাই করো।”
MAT 27:66 তাই তারা গেল, সেই পাথরটি মোহরাঙ্কিত করে সমাধি সুরক্ষিত করল ও প্রহরীদের নিযুক্ত করল।
MAT 28:1 বিশ্রামদিনের অবসান হলে, সপ্তাহের প্রথম দিনে অতি প্রত্যূষকালে, মাগ্দালাবাসী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম সমাধি দেখতে গেলেন।
MAT 28:2 সেখানে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প হল, কারণ প্রভুর এক দূত স্বর্গ থেকে নেমে এলেন। তিনি সমাধির কাছে গিয়ে সেই পাথরটি গড়িয়ে দিলেন ও তাঁর উপরে বসলেন।
MAT 28:3 তাঁর বস্ত্র ছিল বিদ্যুতের মতো এবং তাঁর পোশাক ছিল তুষারের মতো ধবধবে সাদা।
MAT 28:4 তাঁকে দেখে প্রহরীরা এত ভয়ভীত হয়েছিল, যে তারা কাঁপতে লাগল ও মরার মতো পড়ে রইল।
MAT 28:5 স্বর্গদূত সেই মহিলাদের বললেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না, কারণ আমি জানি, তোমরা যীশুর অন্বেষণ করছ, যিনি ক্রুশার্পিত হয়েছিলেন।
MAT 28:6 তিনি এখানে নেই, তিনি মৃত্যু থেকে বেঁচে উঠেছেন, যেমন তিনি বলেছিলেন। এসো, তিনি যেখানে শায়িত ছিলেন, সেই স্থানটি দেখবে।
MAT 28:7 তারপর দ্রুত গিয়ে তাঁর শিষ্যদের বলো, ‘তিনি মৃতলোক থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং তোমাদের আগেই গালীলে যাচ্ছেন। সেখানে তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে।’ মনে রাখবে, যে কথা আমি তোমাদের বললাম।”
MAT 28:8 তাই সেই মহিলারা ভীত, অথচ আনন্দে পূর্ণ হয়ে দ্রুত সমাধি ছেড়ে চলে গেলেন ও তাঁর শিষ্যদের সংবাদ দেওয়ার জন্য দৌড়ে গেলেন।
MAT 28:9 হঠাৎ যীশু তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, “তোমাদের কল্যাণ হোক।” তারা এগিয়ে এসে তাঁর পা-দুখানি জড়িয়ে ধরলেন ও তাঁকে প্রণাম করলেন।
MAT 28:10 তখন যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না। যাও, আমার ভাইদের গালীলে যেতে বলো; সেখানে তারা আমার দর্শন পাবে।”
MAT 28:11 সেই মহিলারা যখন পথে যাচ্ছেন, প্রহরীদের কয়েকজন নগরে প্রবেশ করে প্রধান যাজকদের সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিল।
MAT 28:12 প্রধান যাজকেরা প্রাচীনবর্গের সঙ্গে মিলিত হয়ে এক কুমন্ত্রণা করল। তারা সেই সৈন্যদের প্রচুর পরিমাণে অর্থ দিল,
MAT 28:13 তাদের বলল, “তোমাদের বলতে হবে, ‘রাত্রে আমরা যখন ঘুমিয়েছিলাম, তখন তার শিষ্যেরা এসে তাকে চুরি করে নিয়ে গেছে।’
MAT 28:14 আর এই সংবাদ যদি প্রদেশপালের কাছে যায়, আমরাই তাঁকে বুঝিয়ে তোমাদের সংকটের সমাধান করব।” অতএব, সৈন্যরা সেই অর্থ নিয়ে তাদের নির্দেশমতো কাজ করল।
MAT 28:15 আর এই কাহিনি ব্যাপকরূপে ইহুদিদের মধ্যে রটিয়ে দেওয়া হল, যা আজও পর্যন্ত প্রচলিত আছে।
MAT 28:16 তারপর সেই এগারোজন শিষ্য গালীলের সেই পর্বতে গেলেন, যেখানে যীশু তাদের যেতে বলেছিলেন।
MAT 28:17 তাঁরা তাঁকে দেখে প্রণাম করলেন, কিন্তু কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করলেন।
MAT 28:18 তখন যীশু তাঁদের কাছে এসে বললেন, “স্বর্গে ও পৃথিবীতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে।
MAT 28:19 অতএব, তোমরা যাও ও সমস্ত জাতিকে শিষ্য করো, পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের বাপ্তিষ্ম দাও।
MAT 28:20 আর আমি তোমাদের যে সমস্ত আদেশ দিয়েছি, সেগুলি পালন করার জন্য তাদের শিক্ষা দাও। আর আমি নিশ্চিতরূপে, যুগান্ত পর্যন্ত নিত্য তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।”
MAR 1:1 ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সুসমাচারের সূচনা।
MAR 1:2 ভাববাদী যিশাইয়ের গ্রন্থে লেখা আছে: “আমি আমার বার্তাবাহককে তোমার আগে পাঠাব, যে তোমার পথ প্রস্তুত করবে”—
MAR 1:3 “মরুপ্রান্তরে একজনের কণ্ঠস্বর আহ্বান করছে, তোমরা প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করো, তাঁর জন্য রাজপথগুলি সরল করো।”
MAR 1:4 আর তাই যোহন মরুপ্রান্তরে এসে জলে বাপ্তিষ্ম দিতে এবং মন পরিবর্তন, অর্থাৎ পাপক্ষমার জন্য বাপ্তিষ্ম বিষয়ক বাণী প্রচার করতে লাগলেন।
MAR 1:5 সমগ্র যিহূদিয়ার গ্রামাঞ্চল ও জেরুশালেম নগরের সমস্ত লোক তাঁর কাছে যেতে লাগল। তারা নিজের নিজের পাপস্বীকার করে জর্ডন নদীতে তাঁর কাছে বাপ্তিষ্ম নিতে লাগল।
MAR 1:6 যোহন উটের লোমে তৈরি পোশাক এবং কোমরে এক চামড়ার বেল্ট পরতেন। তাঁর খাদ্য ছিল পঙ্গপাল ও বনমধু।
MAR 1:7 আর তিনি প্রচার করতেন: “যিনি আমার পরে আসছেন, তিনি আমার চেয়েও পরাক্রমশালী, নত হয়ে যাঁর চটিজুতোর ফিতেটুকু খোলারও যোগ্যতা আমার নেই।
MAR 1:8 আমি তোমাদের জলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছি, কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্ম দেবেন।”
MAR 1:9 সেই সময় যীশু গালীল প্রদেশের অন্তর্গত নাসরৎ নগর থেকে এলেন এবং যোহনের কাছে জর্ডন নদীতে বাপ্তিষ্ম নিলেন।
MAR 1:10 যীশু জলের মধ্য থেকে উঠে আসা মাত্র দেখলেন, আকাশ উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং পবিত্র আত্মা কপোতের মতো তাঁর উপরে অবতরণ করছেন।
MAR 1:11 আর সেই মুহূর্তে স্বর্গ থেকে এক স্বর ধ্বনিত হল: “তুমি আমার পুত্র, আমি তোমাকে প্রেম করি, তোমারই উপর আমি পরম প্রসন্ন।”
MAR 1:12 ঠিক এর পরেই পবিত্র আত্মা তাঁকে মরুপ্রান্তরে পাঠিয়ে দিলেন
MAR 1:13 এবং সেই মরুপ্রান্তরে চল্লিশ দিন থাকার সময় যীশু শয়তানের দ্বারা প্রলোভিত হলেন। তখন তাঁর চারপাশে ছিল বন্যপশু; আর স্বর্গদূতেরা তাঁর পরিচর্যা করলেন।
MAR 1:14 যোহন কারাগারে বন্দি হওয়ার পর, যীশু গালীলে গিয়ে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন এবং বললেন:
MAR 1:15 “কাল পূর্ণ হয়েছে, তাই ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট। তোমরা মন পরিবর্তন করো ও সুসমাচারে বিশ্বাস করো।”
MAR 1:16 পরে গালীল সাগরের তীর ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় যীশু, শিমোন ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয়কে দেখতে পেলেন। তাঁরা সাগরের জলে জাল ফেলছিলেন, কারণ তাঁরা ছিলেন মৎস্যজীবী।
MAR 1:17 যীশু বললেন, “এসো, আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের মানুষ-ধরা জেলে করব।”
MAR 1:18 সেই মুহূর্তেই তাঁরা জাল ফেলে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
MAR 1:19 আরও কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর যীশু সিবদিয়ের ছেলে যাকোব ও তাঁর ভাই যোহনকে দেখতে পেলেন। তাঁরা দুজন নৌকায় বসে জাল মেরামত করছিলেন।
MAR 1:20 যীশু তখনই তাঁদের ডাক দিলেন এবং তাঁরা মজুরদের সঙ্গে তাঁদের বাবা সিবদিয়কে নৌকায় পরিত্যাগ করে যীশুকে অনুসরণ করলেন।
MAR 1:21 এরপর তাঁরা সবাই কফরনাহূমে গেলেন। পরবর্তী সাব্বাথ অর্থাৎ বিশ্রামদিনে যীশু সমাজভবনে গিয়ে লোকদের শিক্ষা দিতে শুরু করলেন।
MAR 1:22 তাঁর শিক্ষায় লোকেরা বিস্মিত হল, কারণ তিনি ক্ষমতাপন্ন ব্যক্তির মতো শিক্ষা দিতেন, প্রথাগত শাস্ত্রবিদদের মতো নয়।
MAR 1:23 সেই সময় সমাজভবনে উপস্থিত মন্দ-আত্মাগ্রস্ত এক ব্যক্তি চিৎকার করে উঠল,
MAR 1:24 “নাসরতের যীশু, আপনি আমাদের নিয়ে কি করতে চান? আপনি কি আমাদের ধ্বংস করতে এসেছেন? আমি জানি আপনি কে—ঈশ্বরের সেই পবিত্রজন!”
MAR 1:25 যীশু তাকে কঠোরভাবে ধমক দিয়ে বললেন, “চুপ করো! ওর ভিতর থেকে বেরিয়ে এসো।”
MAR 1:26 তখন সেই মন্দ-আত্মা চিৎকার করে লোকটির মধ্য থেকে বেরিয়ে গেল।
MAR 1:27 এই ঘটনায় লোকেরা এমনই অবাক হল যে, তারা পরস্পর বলাবলি করল, “এ কী? এ তো এক নতুন ধরনের শিক্ষা—আর কী কর্তৃত্বপূর্ণ! এমনকি, ইনি কেমন কর্তৃত্ব সহকারে মন্দ-আত্মাদের আদেশ দেন, আর তারাও তাঁর আজ্ঞা পালন করে!”
MAR 1:28 অচিরেই যীশুর এসব কীর্তি ও বাণী সমগ্র গালীল অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল।
MAR 1:29 যীশু সমাজভবন ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে যাকোব ও যোহনকে সঙ্গে নিয়ে শিমোন ও আন্দ্রিয়ের বাড়িতে গেলেন।
MAR 1:30 সেই সময় শিমোনের শাশুড়ি জ্বরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন, যাঁর বিষয়ে যীশুকে তাঁরা জানালেন।
MAR 1:31 তাই তিনি প্রথমেই শিমোনের শাশুড়ির কাছে গেলেন, তাঁর হাত ধরলেন ও তাঁকে উঠে বসতে সাহায্য করলেন। তক্ষুনি শিমোনের শাশুড়ির জ্বর ছেড়ে গেল এবং তিনি তাঁদের আপ্যায়ন করতে লাগলেন।
MAR 1:32 সেদিন সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যাওয়ার পর, স্থানীয় লোকেরা সমস্ত পীড়িত ও ভূতগ্রস্তদের যীশুর কাছে নিয়ে এল।
MAR 1:33 ফলে শিমোনের বাড়ির দরজায় সমস্ত নগরের লোক এসে জড়ো হল
MAR 1:34 এবং যীশু বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষকে সুস্থ করলেন। বহু ভূতকেও তিনি তাড়ালেন, কিন্তু ভূতদের তিনি কোনো কথা বলতে দিলেন না, কারণ তারা জানত যে তিনি কে।
MAR 1:35 পরদিন খুব ভোরে, রাত পোহাবার অনেক আগে, যীশু উঠে পড়লেন এবং বাড়ি ছেড়ে এক নির্জন স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করতে শুরু করলেন।
MAR 1:36 এদিকে শিমোন ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা তাঁকে খুঁজতে বের হলেন।
MAR 1:37 তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁরা উৎফুল্ল কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন, “সবাই আপনার খোঁজ করছে।”
MAR 1:38 যীশু উত্তর দিলেন, “চলো, আমরা অন্য কোথাও—কাছের গ্রামগুলিতে যাই, যেন ওইসব জায়গাতেও আমি বাণী প্রচার করতে পারি, কারণ সেজন্যই আমি এসেছি।”
MAR 1:39 অতএব তিনি গালীলের সর্বত্র বিভিন্ন সমাজভবনে গিয়ে বাণী প্রচার করলেন ও ভূতে ধরা লোকদের সুস্থ করে তুললেন।
MAR 1:40 একবার একজন কুষ্ঠরোগী যীশুর কাছে এসে নতজানু হয়ে মিনতি করল, “প্রভু, আপনি ইচ্ছা করলেই আমাকে শুচিশুদ্ধ করতে পারেন।”
MAR 1:41 করুণায় পূর্ণ হয়ে যীশু তাঁর হাত বাড়িয়ে সেই ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেন। বললেন, “আমার ইচ্ছা, তুমি শুচিশুদ্ধ হও।”
MAR 1:42 সঙ্গে সঙ্গে তার কুষ্ঠ মিলিয়ে গেল, সে শুচিশুদ্ধ হয়ে উঠল।
MAR 1:43 যীশু তাকে তক্ষুনি অন্যত্র পাঠিয়ে এই বলে দৃঢ়ভাবে সতর্ক করে দিলেন,
MAR 1:44 “দেখো, তুমি একথা কাউকে বোলো না; কিন্তু যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং তোমার শুচিশুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মোশির আদেশমতো নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।”
MAR 1:45 কিন্তু সে তা না করে, ফিরে গিয়ে মুক্তকণ্ঠে ঘটনাটির কথা সবাইকে বলে বেড়াতে লাগল, ফলে এই সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। এর ফলে যীশু আর কোনো নগরে প্রকাশ্যে প্রবেশ করতে পারলেন না; নগরের বাইরে নির্জন স্থানেই তিনি থাকতে লাগলেন। তবুও বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে মানুষ তাঁর কাছে আসতে লাগল।
MAR 2:1 কয়েক দিন পরে যীশু যখন আবার কফরনাহূমে প্রবেশ করলেন, তখন সেখানকার লোকজনেরা জানতে পারল যে, তিনি বাড়িতে এসেছেন।
MAR 2:2 ফলে সেই বাড়িতে অসংখ্য লোক জড়ো হল; এমনকি, দরজার বাইরেও তিল ধারণের স্থান রইল না। যীশু তাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করলেন।
MAR 2:3 সেই সময় একদল লোক চারজন বাহকের সাহায্যে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে যীশুর কাছে নিয়ে আসতে চাইছিল।
MAR 2:4 কিন্তু ভিড়ের জন্য তারা কিছুতেই যীশুর কাছে পৌঁছাতে পারছিল না; ফলে, যীশুর ঠিক মাথার উপরের ছাদ খুলে তারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে খাটে শুইয়ে ঘরের মধ্যে নামিয়ে দিল।
MAR 2:5 তাদের এই ধরনের বিশ্বাস দেখে যীশু পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “বৎস, তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হল।”
MAR 2:6 সেখানে কয়েকজন শাস্ত্রবিদ বসেছিল। তারা মনে মনে ভাবল,
MAR 2:7 “লোকটা এভাবে কথা বলছে কেন? এ তো ঈশ্বরনিন্দা! কেবলমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে?”
MAR 2:8 তাদের মনের এই কথা যীশু তক্ষুনি তাঁর অন্তরে বুঝতে পেরে তাদের বললেন, “তোমরা এসব কথা চিন্তা করছ কেন?
MAR 2:9 পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে কোন কথাটি বলা সহজ, ‘তোমার পাপ ক্ষমা করা হল’ বলা, নাকি ‘ওঠো, তোমার বিছানা তুলে নিয়ে ঘরে চলে যাও’ বলা?
MAR 2:10 কিন্তু আমি চাই যেন তোমরা জানতে পারো যে পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার মনুষ্যপুত্রের আছে” এই বলে তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন,
MAR 2:11 “ওঠো, তোমার খাট তুলে বাড়ি চলে যাও।”
MAR 2:12 লোকটি সঙ্গে সঙ্গে উঠে তার খাট তুলে নিয়ে সকলের চোখের সামনে দিয়ে ঘরের বাইরে হেঁটে চলে গেল। এই দৃশ্য দেখে সবাই বিস্ময়ে অভিভূত হল এবং তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করে বলতে লাগল, “এরকম ঘটনা আমরা কখনও দেখিনি।”
MAR 2:13 যীশু আবার গালীল সাগরের তীরে চলে গেলেন। সেখানে অনেক লোক তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হল এবং তিনি তাদের শিক্ষা দিতে লাগলেন।
MAR 2:14 এরপর সেখান থেকে ফেরার পথে যীশু দেখলেন, আলফেয়ের পুত্র লেবি কর আদায়ের চালাঘরে বসে আছেন। যীশু তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।” লেবি তখনই উঠে পড়লেন ও তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন।
MAR 2:15 লেবির বাড়িতে যীশু যখন রাতের খাওয়া খেতে বসেছিলেন, তখন বহু কর আদায়কারী ও পাপী মানুষ এসে যীশু ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে খেতে বসল। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই যীশুর অনুগামী ছিল।
MAR 2:16 পাপী ও কর আদায়কারীদের সঙ্গে ওইভাবে পাশাপাশি বসে যীশুকে খাওয়াদাওয়া করতে দেখে, কয়েকজন শাস্ত্রবিদ ফরিশী যীশুর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করল, “তিনি এইসব কর আদায়কারী ও পাপীদের সঙ্গে বসে কেন খাওয়াদাওয়া করেন?”
MAR 2:17 একথা শুনে যীশু তাদের বললেন, “পীড়িত ব্যক্তিরই চিকিৎসকের প্রয়োজন, সুস্থ ব্যক্তির নয়। আমি ধার্মিকদের নয়, কিন্তু পাপীদের আহ্বান করতে এসেছি।”
MAR 2:18 একদিন বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের শিষ্যেরা ও ফরিশীরা উপোস করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল, “যোহন আর ফরিশীদের শিষ্যেরা উপোস করে, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা করে না, এ কেমন কথা?”
MAR 2:19 যীশু উত্তর দিলেন, “বর সঙ্গে থাকতে তার অতিথিরা কীভাবে উপোস করতে পারে? যতদিন বর তাদের সঙ্গে থাকবে ততদিন তারা তা করতে পারবে না।
MAR 2:20 কিন্তু সময় আসবে, যেদিন বরকে তাদের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে; এবং সেদিনই তারা উপোস করবে।
MAR 2:21 “পুরোনো পোশাকে কেউ নতুন কাপড়ের তালি লাগায় না। তা করলে নতুন কাপড়ের টুকরোটি পুরোনো পোশাক থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে ও সেই ছিদ্র আরও বড়ো হয়ে উঠবে।
MAR 2:22 তেমনই পুরোনো চামড়ার সুরাধারে কেউ নতুন সুরা রাখে না। তা করলে সুরাধারের চামড়া ফেটে যাবে। তাতে সুরা এবং সুরাধার দুটিই নষ্ট হবে—তাই নতুন সুরা নতুন সুরাধারেই রাখতে হবে।”
MAR 2:23 এক বিশ্রামদিনে যীশু শস্যক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর শিষ্যেরা শস্যের শিষ ছিঁড়তে লাগলেন।
MAR 2:24 তা দেখে ফরিশীরা যীশুকে বলল, “আচ্ছা, বিশ্রামদিনে যা করা বিধিসংগত নয়, তা আপনার শিষ্যেরা করছে কেন?”
MAR 2:25 তিনি উত্তর দিলেন, “যখন দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষুধার্ত ছিলেন, তখন খাদ্যের প্রয়োজনে তাঁরা কী করেছিলেন, তা কি তোমরা কখনও পাঠ করোনি?
MAR 2:26 মহাযাজক অবিয়াথরের সময়ে তিনি ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই পবিত্র রুটি খেয়েছিলেন যা করা একমাত্র যাজকদের পক্ষেই বিধিসংগত ছিল। এমনকি তিনি তাঁর সঙ্গীদেরও দিয়েছিলেন।”
MAR 2:27 তারপর তিনি তাদের বললেন, “বিশ্রামদিন সৃষ্ট হয়েছে মানুষের জন্য, মানুষ বিশ্রামদিনের জন্য সৃষ্ট হয়নি।
MAR 2:28 অতএব, মনুষ্যপুত্রই হলেন বিশ্রামদিনের প্রভু।”
MAR 3:1 অন্য এক সময়ে যীশু সমাজভবনে গেলেন। সেখানে এক লোক ছিল, যার একটি হাত শুকিয়ে গিয়েছিল।
MAR 3:2 কয়েকজন ফরিশী যীশুকে অভিযুক্ত করার সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছিল। যীশু বিশ্রামদিনে লোকটিকে সুস্থ করেন কি না, দেখার জন্য তারা তাঁর উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখল।
MAR 3:3 যার হাত শুকিয়ে গিয়েছিল, তাকে যীশু বললেন, “তুমি সবার সামনে এসে দাঁড়াও।”
MAR 3:4 এরপর যীশু তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “বিশ্রামদিনে কী করা ন্যায়সংগত, ভালো কাজ করা, না মন্দ কাজ করা; জীবন রক্ষা করা, না হত্যা করা?” কিন্তু তারা নীরব হয়ে রইল।
MAR 3:5 যীশু ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাদের সকলের দিকে তাকালেন এবং তাদের হৃদয়ের তীব্র কাঠিন্যের জন্য তিনি গভীর বেদনায় লোকটিকে বললেন, “তোমার হাত বাড়িয়ে দাও।” লোকটি হাত বাড়িয়ে দিল, সঙ্গে সঙ্গে তার হাত আগের মতো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল।
MAR 3:6 এরপর ফরিশীরা বেরিয়ে গেল এবং হেরোদীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করল যে, কীভাবে যীশুকে হত্যা করা যায়।
MAR 3:7 যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে গালীল সাগরের দিকে চলে গেলেন। গালীল থেকে অনেক লোক তাঁকে সেখানে অনুসরণ করল।
MAR 3:8 তারা যখন যীশুর সমস্ত কীর্তির কথা শুনল, তখন যিহূদিয়া, জেরুশালেম, ইদুমিয়া, জর্ডনের অপর পারের অঞ্চল এমনকি টায়ার ও সীদোনের চারদিক থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁর কাছে এসে জড়ো হল।
MAR 3:9 এই বিপুল সংখ্যক লোক দেখে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, তাঁর জন্য একটি ছোটো নৌকা প্রস্তুত রাখতে, যেন এত ভিড়ের চাপ তাঁর উপরে এসে না পড়ে।
MAR 3:10 যেহেতু যীশু এর আগে বহু লোককে সুস্থ করেছিলেন, তাই অসংখ্য রোগী তাঁকে একবার স্পর্শ করার জন্য ঠেলাঠেলি করে সামনে এগোতে চাইছিল।
MAR 3:11 তাদের মধ্যে মন্দ-আত্মাগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁকে দেখে তাঁর সামনে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করে বলছিল, “আপনিই সেই ঈশ্বরের পুত্র।”
MAR 3:12 যীশু কিন্তু তাদের কঠোর নির্দেশ দিলেন, তারা যেন কাউকে না বলে যে, আসলে তিনি কে।
MAR 3:13 পরে যীশু এক পাহাড়ে উঠলেন ও তিনি যাদের ইচ্ছা করলেন তাঁদের কাছে আহ্বান করলেন, এবং তারা তাঁর কাছে এগিয়ে এলেন।
MAR 3:14 তিনি বারোজন শিষ্যকে নিয়োগ করলেন ও তাঁদের “প্রেরিতশিষ্য” বলে ডাকলেন যেন তাঁরা তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকেন ও তিনি যেন তাঁদের প্রচারের কাজে চারদিকে পাঠাতে পারেন
MAR 3:15 এবং তাঁরা যেন ভূত তাড়ানোর ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন।
MAR 3:16 যে বারোজনকে তিনি প্রেরিতশিষ্য পদে নিয়োগ করলেন, তাঁরা হলেন: শিমোন (যাঁকে তিনি নাম দিয়েছিলেন পিতর),
MAR 3:17 সিবদিয়ের পুত্র যাকোব ও তাঁর ভাই যোহন (তিনি যাঁদের নাম দিয়েছিলেন বোনেরগশ, এর অর্থ, বজ্রতনয়);
MAR 3:18 আন্দ্রিয়, ফিলিপ, বর্থলময়, মথি, থোমা, আলফেয়ের পুত্র যাকোব, থদ্দেয়, জিলট দলভুক্ত শিমোন,
MAR 3:19 এবং যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ, যে যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
MAR 3:20 এরপর যীশু এক বাড়িতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু সেখানেও আবার এত লোক ভিড় জমালো যে, তিনি ও তাঁর শিষ্যেরা খাওয়াদাওয়া করার সময়ই পেলেন না।
MAR 3:21 এসব ঘটনার কথা শুনে যীশুর আত্মীয়পরিজনেরা বলল, “ওর বুদ্ধিভ্রম হয়েছে।” এই বলে তারা তাঁকে ধরে আনতে গেল।
MAR 3:22 আর জেরুশালেম থেকে যেসব শাস্ত্রবিদ এসেছিল, তারা বলল, “ওর উপর বেলসবুল ভর করেছে। ভূতদের অধিপতির সাহায্যেই ও ভূতদের দূর করছে।”
MAR 3:23 যীশু তখন তাদের ডাকলেন ও রূপকের আশ্রয়ে তাদের বললেন, “শয়তান কীভাবে শয়তানকে দূর করতে পারে?
MAR 3:24 কোনো রাজ্য যদি নিজের বিপক্ষে বিভক্ত হয়, তাহলে সেই রাজ্য টিকে থাকতে পারে না।
MAR 3:25 আবার একটি পরিবার যদি নিজেরই বিরোধিতা করে, তাহলে সেই পরিবারও টিকে থাকতে পারে না।
MAR 3:26 এভাবে শয়তান যদি নিজেরই বিরুদ্ধে যায় ও বিভক্ত হয়, তাহলে সেও আর টিকে থাকতে পারে না। অর্থাৎ তার সমাপ্তি সন্নিকট।
MAR 3:27 বস্তুত, শক্তিশালী ব্যক্তির ধনসম্পত্তি লুট করতে হলে, প্রথমেই তাকে বেঁধে ফেলতে হয়, তা না হলে তার ঘরে ঢুকে তার সম্পত্তি লুট করা অসম্ভব।
MAR 3:28 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, মানুষের সব পাপ ও ঈশ্বরনিন্দা ক্ষমা করা হবে,
MAR 3:29 কিন্তু পবিত্র আত্মার নিন্দা যে করবে, তাকে কোনো কালেই ক্ষমা করা হবে না, বরং সে হবে অনন্ত পাপের অপরাধী।”
MAR 3:30 তাঁর একথা বলার কারণ হল, শাস্ত্রবিদরা বলেছিল, “ওর মধ্যে মন্দ-আত্মা ভর করেছে।”
MAR 3:31 তখন যীশুর মা ও ভাইয়েরা সেখানে এসে পৌঁছালেন। তাঁরা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে যীশুকে ডেকে আনার জন্য একজনকে ভিতরে পাঠালেন।
MAR 3:32 সেই সময় যীশুর চারপাশে বহু মানুষ ভিড় করে বসেছিল। তারা তাঁকে বলল, “আপনার মা ও ভাইয়েরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আপনার খোঁজ করছেন।”
MAR 3:33 তিনি প্রশ্ন করলেন, “কে আমার মা? আর আমার ভাইয়েরাই বা কারা?”
MAR 3:34 তারপর, যারা তাঁর চারপাশে গোল করে বসেছিল, তাদের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “এরাই হল আমার মা ও ভাইয়েরা!
MAR 3:35 কারণ যে কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সেই আমার ভাই ও বোন এবং মা।”
MAR 4:1 যীশু আবার সাগরের তীরে গিয়ে শিক্ষা দেওয়া শুরু করলেন। সেখানে তাঁর চারপাশে এত লোক এসে ভিড় করল যে, তিনি সাগরের উপরে একটি নৌকায় উঠলেন ও তার উপরে বসলেন, লোকেরা রইল সাগরের তীরে, জলের কিনারায়।
MAR 4:2 তিনি রূপকের মাধ্যমে বহু বিষয়ে তাদের শিক্ষা দিলেন। তাঁর উপদেশে তিনি বললেন,
MAR 4:3 “শোনো! একজন কৃষক তার বীজবপন করতে গেল।
MAR 4:4 সে যখন বীজ ছড়াচ্ছিল, কিছু বীজ পথের ধারে পড়ল। আর পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেলল।
MAR 4:5 কিছু বীজ পাথুরে জমিতে পড়ল, যেখানে মাটি গভীর ছিল না। মাটি অগভীর থাকাতে সেগুলো দ্রুত অঙ্কুরিত হল।
MAR 4:6 কিন্তু যখন সূর্য উঠল চারাগুলি ঝলসে গেল এবং মূল না থাকাতে সেগুলি শুকিয়ে গেল।
MAR 4:7 অন্য কিছু বীজ পড়ল কাঁটাঝোপের মধ্যে। সেগুলি বৃদ্ধি পেলে কাঁটাঝোপ তাদের চেপে রাখল, ফলে সেগুলিতে কোনও দানা হল না।
MAR 4:8 আরও কিছু বীজ পড়ল উৎকৃষ্ট জমিতে। সেগুলির অঙ্কুরোদ্গম হল, বৃদ্ধি পেল এবং ত্রিশগুণ, ষাটগুণ, এমনকি, শতগুণ পর্যন্ত শস্য উৎপন্ন হল।”
MAR 4:9 এরপর যীশু বললেন, “যার শোনবার মতো কান আছে, সে শুনুক।”
MAR 4:10 যীশু যখন একা ছিলেন, তখন সেই বারোজনের সঙ্গে তাঁর চারপাশে থাকা মানুষেরা এই রূপকটি সম্বন্ধে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন।
MAR 4:11 তিনি তাদের বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্যের নিগুঢ়তত্ত্বগুলি তোমাদের জানতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা বাইরের মানুষ, তাদের কাছে সবকিছুই রূপকের আশ্রয়ে বলা হবে,
MAR 4:12 যেন, “ ‘তারা ক্রমেই দেখে যায়, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না, আর সবসময় শুনতে থাকে, কিন্তু কখনও উপলব্ধি করে না, অন্যথায় তারা হয়তো ফিরে আসত ও পাপের ক্ষমা লাভ করত।’ ”
MAR 4:13 তারপর যীশু তাদের বললেন, “তোমরা কি এই রূপকটি বুঝতে পারছ না? তাহলে অন্য কোনো রূপক তোমরা কীভাবে বুঝবে?
MAR 4:14 কৃষক বাক্য-বীজ বপন করে।
MAR 4:15 কিছু মানুষ পথের ধারে থাকা লোকের মতো, যেখানে বীজবপন করা হয়েছিল। তারা তা শোনামাত্র, শয়তান এসে তাদের মধ্যে বপন করা বাক্য হরণ করে নেয়।
MAR 4:16 অন্য কিছু লোক পাথুরে জমিতে ছড়ানো বীজের মতো। তারা বাক্য শুনে তক্ষুনি তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে।
MAR 4:17 কিন্তু যেহেতু সেগুলির মধ্যে শিকড় নেই, সেগুলি ক্ষণস্থায়ী হয়। বাক্যের কারণে যখন কষ্টসমস্যা বা নির্যাতন ঘটে, তারা দ্রুত পতিত হয়।
MAR 4:18 আরও কিছু লোক, কাঁটাঝোপে ছড়ানো বীজের মতো। তারা বাক্য শ্রবণ করে,
MAR 4:19 কিন্তু এই জীবনের বিভিন্ন দুশ্চিন্তা, ধনসম্পত্তি, ছলনা ও অন্য সব বিষয়ের কামনাবাসনা এসে উপস্থিত হলে, তা সেই বাক্যকে চেপে রাখে, ফলে তা ফলহীন হয়।
MAR 4:20 আর, যারা উৎকৃষ্ট জমিতে বপন করা বীজের মতো, তারা বাক্য শুনে তা গ্রহণ করে এবং যা বপন করা হয়েছিল, তার ত্রিশগুণ, ষাটগুণ, এমনকি, শতগুণ পর্যন্ত ফল উৎপন্ন করে।”
MAR 4:21 তিনি তাদের বললেন, “তোমরা কি কোনো প্রদীপ এনে, তা কোনও গামলা বা খাটের নিচে রাখো? বরং তোমরা কি তা বাতিদানের উপরেই রাখো না?
MAR 4:22 এতে যা কিছু গুপ্ত থাকে, তা প্রকাশ পায় এবং যা কিছু লুকোনো থাকে, তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়।
MAR 4:23 যদি কারও শোনবার মতো কান থাকে, সে শুনুক।”
MAR 4:24 তিনি বলে চললেন, “তোমরা যা শুনছ, তা সতর্কভাবে বিবেচনা করে দেখো। যে মানদণ্ডে তোমরা পরিমাপ করবে, সেই একই মানদণ্ডে, কিংবা আরও কঠোর মানদণ্ডে তোমাদের পরিমাপ করা হবে।
MAR 4:25 যার আছে, তাকে আরও বেশি দেওয়া হবে, যার নেই, তার যেটুকু আছে, তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।”
MAR 4:26 তিনি আরও বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্য এরকম। কোনো ব্যক্তি জমিতে বীজ ছড়ায়।
MAR 4:27 দিনরাত সে জেগে বা ঘুমিয়ে কাটালেও, বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয় ও তা বেড়ে ওঠে। অথচ, কেমন করে তা হল, তার সে কিছুই বুঝতে পারে না।
MAR 4:28 মাটি নিজে থেকেই শস্য উৎপন্ন করে—প্রথমে অঙ্কুর, পরে শিষ, তারপর শিষের মধ্যে পরিণত দানা।
MAR 4:29 দানা পরিপক্ব হলে, সে তক্ষুনি তাতে কাস্তে চালায়, কারণ শস্য কাটার সময় উপস্থিত হয়েছে।”
MAR 4:30 তিনি আবার বললেন, “আমরা কী বলব, ঈশ্বরের রাজ্য কীসের মতো? অথবা তা বর্ণনা করার জন্য আমরা কোন রূপক ব্যবহার করব?
MAR 4:31 এ যেন এক সর্ষে বীজের মতো; তোমরা যতরকম বীজ জমিতে বোনো, তা সেগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম।
MAR 4:32 তবুও বোনা হলে তা বৃদ্ধি পায় ও বাগানের অন্য সব গাছপালা থেকে বড়ো হয়ে ওঠে। এর শাখাগুলি এত বিশাল হয় যে, আকাশের পাখিরা এসে এর ছায়ায় বাসা বাঁধতে পারে।”
MAR 4:33 এ ধরনের আরও অনেক রূপকের মাধ্যমে, যীশু তাদের বুঝবার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কাছে বাক্য প্রচার করলেন।
MAR 4:34 রূপক ব্যবহার না করে তিনি তাদের কাছে কোনো কথাই বললেন না। কিন্তু তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে একান্তে থাকার সময়, তাঁদের কাছে সবকিছুই ব্যাখ্যা করতেন।
MAR 4:35 সেদিন সন্ধ্যা হলে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “চলো আমরা ওপারে যাই।”
MAR 4:36 সকলকে পিছনে রেখে, যীশু যেভাবে নৌকায় ছিলেন, সেভাবেই তাঁকে নিয়ে শিষ্যেরা নৌকায় যাত্রা করলেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকটি নৌকা ছিল।
MAR 4:37 ভয়ংকর এক ঝড় এসে উপস্থিত হল। ঢেউ নৌকার উপরে এমনভাবে আছড়ে পড়তে লাগল যে, নৌকা প্রায় জলে পূর্ণ হতে লাগল।
MAR 4:38 যীশু নৌকার পিছন দিকে একটি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। শিষ্যেরা তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা ডুবে যাচ্ছি, আপনার কি কোনও চিন্তা নেই?”
MAR 4:39 তিনি উঠে ঝড়কে থেমে যাওয়ার আদেশ দিলেন ও ঢেউগুলিকে বললেন, “শান্ত হও! স্থির হও!” তখন ঝড় থেমে গেল ও সবকিছু সম্পূর্ণ শান্ত হল।
MAR 4:40 তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “তোমরা এত ভয় পেলে কেন? তোমাদের কি এখনও কোনো বিশ্বাস নেই?”
MAR 4:41 আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, “ইনি তাহলে কে? ঝড় ও ঢেউ যে এঁর আদেশ পালন করে!”
MAR 5:1 তারা গালীল সাগর আড়াআড়ি পার হয়ে গেরাসেনী অঞ্চলে পৌঁছালেন।
MAR 5:2 যীশু নৌকা থেকে নেমে এলে এক মন্দ-আত্মাগ্রস্ত ব্যক্তি কবরস্থান থেকে বের হয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এল।
MAR 5:3 এই মানুষটি কবরস্থানে বাস করত। কেউ তাকে আর বেঁধে রাখতে পারত না, এমনকি, শিকল দিয়েও নয়।
MAR 5:4 কারণ তার হাত পা প্রায়ই শিকল দিয়ে বাঁধা হত, কিন্তু সে ওই শিকল ছিঁড়ে ফেলত এবং পায়ের লোহার বেড়িও ভেঙে ফেলত। তাকে বশ করার মতো শক্তি কারও ছিল না।
MAR 5:5 সে দিনরাত কবরস্থানে ও পাহাড়ে পাহাড়ে চিৎকার করে বেড়াত এবং পাথর দিয়ে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করত।
MAR 5:6 সে দূর থেকে যীশুকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে এসে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে প্রণাম করল।
MAR 5:7 তারপর সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলে উঠল, “হে পরাৎপর ঈশ্বরের পুত্র যীশু! আমাকে নিয়ে আপনি কী করতে চান? আমি আপনাকে ঈশ্বরের দিব্যি দিয়ে বলছি, আমাকে যন্ত্রণা দেবেন না।”
MAR 5:8 কারণ যীশু তাকে ইতিমধ্যে বলেছিলেন, “ওহে মন্দ-আত্মা, এই মানুষটির ভিতর থেকে বেরিয়ে এসো!”
MAR 5:9 তারপর যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কী?” সে উত্তর দিল, “আমার নাম বাহিনী, কারণ আমাদের সংখ্যা অনেক।”
MAR 5:10 আর সে বারবার যীশুর কাছে অনুনয়-বিনয় করতে লাগল, যেন সেই এলাকা থেকে তিনি তাদের তাড়িয়ে না দেন।
MAR 5:11 অদূরে পাহাড়ের ঢালে বিশাল একপাল শূকর চরে বেড়াচ্ছিল।
MAR 5:12 ওই ভূতেরা যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, “আমাদের ওই শূকরদের মধ্যে পাঠিয়ে দিন; ওদের ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি আমাদের দিন।”
MAR 5:13 তিনি তাদের যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তখন মন্দ-আত্মারা বের হয়ে সেই শূকরদের মধ্যে প্রবেশ করল। পালে প্রায় দুই হাজার শূকর ছিল। সেই শূকরের পাল হ্রদের ঢালু পাড় বেয়ে ছুটে গেল এবং হ্রদে ডুবে মরল।
MAR 5:14 যারা ওই শূকরদের চরাচ্ছিল, তারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে নগরে ও গ্রামে-গঞ্জে এই বিষয়ের সংবাদ দিল। আর কী ঘটেছে, তা দেখার জন্য লোকেরা বেরিয়ে এল।
MAR 5:15 তারা যীশুর কাছে এসে দেখল, যে ব্যক্তির উপরে ভূত বাহিনী ভর করেছিল, সে পোশাক পরে সুবোধ হয়ে সেখানে বসে আছে। তারা সবাই ভয় পেয়ে গেল।
MAR 5:16 প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই ভূতগ্রস্ত ব্যক্তিটির ও সেই শূকরপালের পরিণতির কথা সকলকে বলতে লাগল।
MAR 5:17 তখন সেই লোকেরা তাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য যীশুকে অনুরোধ করল।
MAR 5:18 যীশু নৌকায় উঠতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় সেই ব্যক্তি, যে ভূতগ্রস্ত ছিল, তাঁর সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল।
MAR 5:19 যীশু তাকে সেই অনুমতি দিলেন না, কিন্তু বললেন, “তুমি বাড়িতে তোমার পরিবারের কাছে যাও ও তাদের বলো, প্রভু তোমার জন্য যে যে মহান কাজ করেছেন এবং কেমন করে তিনি তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছেন।”
MAR 5:20 তখন সে চলে গেল এবং যীশু তার জন্য যা করেছেন, সেকথা ডেকাপলিতে প্রচার করতে লাগল। আর সব মানুষই এতে চমৎকৃত হল।
MAR 5:21 যীশু যখন আবার নৌকায় উঠে আড়াআড়ি সাগরের অপর পারে গেলেন, সাগরের তীরে তখন তাঁর চারপাশে অনেক লোকের সমাবেশ হল।
MAR 5:22 সেই সময় যায়ীর নামে সমাজভবনের একজন অধ্যক্ষ সেখানে এলেন। যীশুকে দেখে তিনি তাঁর চরণে পতিত হলেন।
MAR 5:23 তিনি আকুলভাবে তাঁর কাছে অনুনয় করলেন, “আমার ছোটো মেয়েটি মরণাপন্ন। আপনি দয়া করে আসুন ও তার উপরে হাত রাখুন, যেন সে আরোগ্য লাভ করে বাঁচতে পারে।”
MAR 5:24 তাই যীশু তাঁর সঙ্গে চললেন। অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করছিল ও তারা চারপাশ থেকে ঠেলাঠেলি করে তাঁর উপরে প্রায় চেপে পড়তে লাগল।
MAR 5:25 সেখানে এক নারী ছিল, যে বারো বছর ধরে রক্তস্রাবের ব্যাধিতে ভুগছিল।
MAR 5:26 বহু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে সে অনেক কষ্টভোগ করেছিল। সে তার সর্বস্ব ব্যয় করেছিল, কিন্তু ভালো হওয়ার পরিবর্তে তার অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল।
MAR 5:27 যীশুর কথা শুনে ভিড়ের মধ্যে সে পিছন দিকে এল এবং তাঁর পোশাক স্পর্শ করল।
MAR 5:28 কারণ সে ভেবেছিল, “আমি যদি কেবলমাত্র তাঁর পোশাকটি স্পর্শ করতে পারি, তাহলেই আমি সুস্থ হয়ে যাব।”
MAR 5:29 আর তক্ষুনি তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল এবং সে শরীরে অনুভব করল যে, সে তার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে।
MAR 5:30 সেই মুহূর্তে যীশু উপলব্ধি করলেন যে, তাঁর মধ্য থেকে শক্তি নির্গত হয়েছে। তিনি পিছনে লোকদের দিকে ঘুরে বললেন, “কে আমার পোশাক স্পর্শ করেছে?”
MAR 5:31 তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “আপনি দেখতে পাচ্ছেন, লোকেরা আপনার উপর চাপাচাপি করে পড়ছে, তবুও আপনি জিজ্ঞাসা করছেন, ‘কে আমাকে স্পর্শ করল’?”
MAR 5:32 কিন্তু যীশু চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন, কে এই কাজ করেছে।
MAR 5:33 তখন সেই নারী, তার প্রতি কী ঘটেছে জেনে, যীশুর কাছে এসে তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়ল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সমস্ত সত্য তাঁকে জানাল।
MAR 5:34 যীশু তাকে বললেন, “কন্যা, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে। শান্তিতে ফিরে যাও ও তোমার কষ্ট থেকে মুক্তি পাও।”
MAR 5:35 যীশু তখনও কথা বলছেন, এমন সময় সমাজভবনের অধ্যক্ষ যায়ীরের বাড়ি থেকে কয়েকজন লোক এসে উপস্থিত হল। তারা বলল, “আপনার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আর কেন গুরুমহাশয়কে বিব্রত করছেন?”
MAR 5:36 তাদের কথা অগ্রাহ্য করে যীশু সেই অধ্যক্ষকে বললেন, “ভয় পেয়ো না, শুধু বিশ্বাস করো।”
MAR 5:37 তিনি পিতর, যাকোব ও যাকোবের ভাই যোহন, এই তিনজন ছাড়া আর কাউকে তাঁর সঙ্গে যেতে দিলেন না।
MAR 5:38 তাঁরা সেই অধ্যক্ষের বাড়িতে এলে যীশু দেখলেন, সেখানে প্রচণ্ড হৈ হট্টগোল হচ্ছে, লোকেরা কাঁদছে ও তারস্বরে বিলাপ করছে।
MAR 5:39 তিনি ভিতরে প্রবেশ করে তাদের বললেন, “তোমরা এত হৈ হট্টগোল ও বিলাপ করছ কেন? মেয়েটি মরেনি, ও ঘুমিয়ে আছে।”
MAR 5:40 তারা কিন্তু তাঁকে উপহাস করল। তাদের সবাইকে বের করে দিয়ে তিনি মেয়েটির বাবা-মা ও তাঁর সঙ্গী শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েটি ভিতরে যেখানে ছিল, সেখানে গেলেন।
MAR 5:41 তিনি তার হাত ধরে তাকে বললেন, “টালিথা কওম্!” (এর অর্থ, “খুকুমণি, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো”)
MAR 5:42 সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি উঠে দাঁড়াল ও চারদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল (তার বয়স ছিল বারো বছর)। এতে তারা সম্পূর্ণরূপে বিস্ময়-বিহ্বল হয়ে পড়ল।
MAR 5:43 তিনি তাদের দৃঢ় আদেশ দিলেন, কেউ যেন এ বিষয়ে জানতে না পারে। তারপর তিনি মেয়েটিকে কিছু খাবার খেতে দিতে বললেন।
MAR 6:1 যীশু সেই স্থান ত্যাগ করে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে নিজের নগরে গেলেন।
MAR 6:2 বিশ্রামদিন উপস্থিত হলে তিনি সমাজভবনে শিক্ষা দিতে লাগলেন। তাঁর শ্রোতাদের অনেকেই এতে বিস্মিত হল। তারা প্রশ্ন করল, “এই লোকটি কোথা থেকে এমন জ্ঞান পেল? সে এসব অলৌকিক কাজ কীভাবে করছে?
MAR 6:3 এ কি সেই ছুতোরমিস্ত্রি নয়? এ কি মরিয়মের পুত্র নয় এবং যাকোব, যোষি, যিহূদা ও শিমোনের দাদা নয়? ওর বোনেরাও কি এখানে আমাদের মধ্যে নেই?” তারা তাঁর উপরে বিরূপ হয়ে উঠল।
MAR 6:4 যীশু তাদের বললেন, “নিজের নগরে আপনজনদের মধ্যে ও নিজের গৃহে ভাববাদী অসম্মানিত হন।”
MAR 6:5 তিনি সেখানে আর কোনো অলৌকিক কাজ করতে পারলেন না, কেবলমাত্র কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তির উপরে হাত রাখলেন ও তাদের সুস্থ করলেন।
MAR 6:6 তাদের বিশ্বাসের অভাব দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। তারপর যীশু গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
MAR 6:7 তিনি সেই বারোজনকে তাঁর কাছে ডেকে, দুজন দুজন করে তাঁদের পাঠালেন। তিনি তাঁদের অশুচি আত্মার উপরে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতাও প্রদান করলেন।
MAR 6:8 তাঁর নির্দেশগুলি ছিল এরকম: “যাত্রার উদ্দেশে একটি ছড়ি ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে নিয়ো না—কোনো খাবার, কোনো থলি বা কোমরের বেল্টে কোনো অর্থও নয়।
MAR 6:9 চটিজুতো পরো, কিন্তু কোনো অতিরিক্ত পোশাক নিয়ো না।
MAR 6:10 কোনো বাড়িতে প্রবেশ করলে, সেই নগর পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তোমরা সেখানেই থেকো।
MAR 6:11 আর কোনো স্থানের মানুষ যদি তোমাদের স্বাগত না জানায়, বা তোমাদের বাক্যে কর্ণপাত না করে, সেই স্থান ছেড়ে যাওয়ার সময় তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যস্বরূপ তোমাদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলো।”
MAR 6:12 তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন ও প্রচার করতে লাগলেন, যেন লোকেরা মন পরিবর্তন করে।
MAR 6:13 তাঁরা বহু ভূত বিতাড়িত করলেন ও অনেক অসুস্থ মানুষকে তেল দিয়ে অভিষেক করে তাদের রোগনিরাময় করলেন।
MAR 6:14 রাজা হেরোদ এ সম্পর্কে শুনতে পেলেন, কারণ যীশুর নাম সুপরিচিত হয়ে উঠেছিল। কেউ কেউ বলছিল, “বাপ্তিষ্মদাতা যোহন মৃতলোক থেকে উত্থাপিত হয়েছেন, সেই কারণে এইসব অলৌকিক ক্ষমতা তাঁর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে।”
MAR 6:15 অন্যেরা বলল, “তিনি এলিয়।” কিন্তু আরও অন্যেরা দাবি করল, “উনি একজন ভাববাদী, বা পুরাকালের ভাববাদীদের মতোই একজন।”
MAR 6:16 কিন্তু হেরোদ একথা শুনে বললেন, “যে যোহনের আমি মাথা কেটেছিলাম, তিনি মৃতলোক থেকে উত্থাপিত হয়েছেন!”
MAR 6:17 কারণ হেরোদ স্বয়ং যোহনকে গ্রেপ্তার করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁকে শিকলে বেঁধে কারাগারে বন্দি করেছিলেন। তাঁর ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়ার জন্য তিনি এ কাজ করেছিলেন, কারণ তিনি তাকে বিবাহ করেছিলেন।
MAR 6:18 এর কারণ হল, যোহন ক্রমাগত হেরোদকে বলতেন, “ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা আপনার পক্ষে ন্যায়সংগত নয়।”
MAR 6:19 সেই কারণে, হেরোদিয়া যোহনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ পোষণ করছিল ও তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পক্ষে তা করা সম্ভব ছিল না।
MAR 6:20 কারণ, হেরোদ যোহনকে ভয় করতেন এবং তিনি একজন ধার্মিক ও পবিত্র মানুষ জেনে তাঁকে সুরক্ষা দিতেন। হেরোদ যখন যোহনের কথা শুনলেন, তখন তিনি অত্যন্ত হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন, তবুও তিনি তাঁর কথা শুনতে ভালোবাসতেন।
MAR 6:21 অবশেষে এক সুযোগ এসে গেল। হেরোদ তাঁর জন্মদিনে তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মচারী, সেনাধক্ষ্য ও গালীলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য এক ভোজসভার আয়োজন করলেন।
MAR 6:22 সেখানে হেরোদিয়ার মেয়ে এসে নৃত্য পরিবেশন করে হেরোদ ও ভোজে আগত অতিথিদের সন্তুষ্ট করল। রাজা সেই মেয়েকে বললেন, “তুমি যা খুশি আমার কাছে চাইতে পারো, আমি তা তোমাকে দেব।”
MAR 6:23 তিনি শপথ করে তাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, “তুমি যা চাইবে, অর্ধেক রাজত্ব হলেও আমি তোমাকে তাই দেব।”
MAR 6:24 সে বাইরে গিয়ে তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কী চাইব?” তার মা উত্তর দিল, “বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের মাথা।”
MAR 6:25 মেয়েটি তখনই ভিতরে প্রবেশ করে রাজাকে তার অনুরোধ জানাল, “আমি চাই, আপনি একটি থালায় বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের মাথা এনে এখনই আমাকে দিন।”
MAR 6:26 রাজা অত্যন্ত মর্মাহত হলেন, কিন্তু তাঁর নিজের শপথের জন্য ও যাঁরা তাঁর সঙ্গে ভোজসভায় বসেছিলেন, তাঁদের জন্য তিনি তাকে প্রত্যাখ্যান করতে চাইলেন না।
MAR 6:27 তিনি তক্ষুনি যোহনের মাথা কেটে নিয়ে আসার আদেশ দিয়ে একজন ঘাতককে পাঠালেন। লোকটি কারাগারে গিয়ে যোহনের মাথা কাটল।
MAR 6:28 সে থালায় করে তাঁর কাঁটা মাথা নিয়ে এল। তিনি তা নিয়ে সেই মেয়েটিকে দিলেন ও সে তা নিয়ে তার মাকে দিল।
MAR 6:29 একথা শুনে যোহনের শিষ্যেরা এসে তাঁর শরীর নিয়ে গেল ও কবরে শুইয়ে দিল।
MAR 6:30 প্রেরিতশিষ্যেরা যীশুর চারপাশে জড়ো হয়ে তাঁদের সমস্ত কাজ ও শিক্ষাদানের বিবরণ দিলেন।
MAR 6:31 সেই সময় এত বেশি লোক সেখানে যাওয়া-আসা করছিল যে, তাঁরা খাবার খাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা আমার সঙ্গে কোনো নির্জন স্থানে চলো ও সেখানেই কিছু সময় বিশ্রাম করো।”
MAR 6:32 তাই তাঁরা নিজেরাই নৌকায় করে এক নির্জন স্থানে গেলেন।
MAR 6:33 কিন্তু সেই স্থান ত্যাগ করার সময় বহু মানুষ তাঁদের চিনতে পারল। লোকেরা সব নগর থেকে দৌড়ে গিয়ে তাঁদের আগেই সেখানে উপস্থিত হল।
MAR 6:34 তীরে নেমে যীশু যখন অনেক লোককে দেখতে পেলেন, তিনি তাদের প্রতি করুণায় পূর্ণ হলেন। কারণ তারা ছিল পালকহীন মেষপালের মতো। তাই তিনি তাদের বহু বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
MAR 6:35 এসময় দিনের প্রায় অবসান হয়ে এল। তাই শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “এ এক নির্জন এলাকা, আর ইতিমধ্যে অনেক দেরিও হয়ে গেছে।
MAR 6:36 লোকদের বিদায় দিন, যেন তারা কাছাকাছি গ্রাম বা পল্লিতে যেতে পারে ও নিজেদের জন্য কিছু খাবার কিনতে পারে।”
MAR 6:37 কিন্তু প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, “তোমরা তাদের কিছু খেতে দাও।” তাঁরা তাঁকে বললেন, “এর জন্য ছয় মাসের বেতনের সমান পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। আমরা কি গিয়ে অত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে রুটি কিনে লোকদের খেতে দেব?”
MAR 6:38 তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের কাছে কতগুলি রুটি আছে? যাও গিয়ে দেখো।” তারা খুঁজে দেখে বললেন, “পাঁচটি রুটি, আর দুটি মাছও আছে।”
MAR 6:39 তখন যীশু লোকদের সবুজ ঘাসে দলে দলে বসাবার জন্য শিষ্যদের নির্দেশ দিলেন।
MAR 6:40 তারা এক-একটা সারিতে একশো জন ও পঞ্চাশ জন করে বসে গেল।
MAR 6:41 সেই পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ নিয়ে যীশু স্বর্গের দিকে দৃষ্টি দিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও রুটিগুলিকে ভাঙলেন। তারপর তিনি সেগুলি লোকদের পরিবেশন করার জন্য তাঁর শিষ্যদের হাতে তুলে দিলেন। তিনি সেই মাছ দুটিও সবার মধ্যে ভাগ করে দিলেন।
MAR 6:42 তারা সকলে খেয়ে পরিতৃপ্ত হল।
MAR 6:43 আর শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটি ও মাছের টুকরো সংগ্রহ করে বারো ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
MAR 6:44 যতজন পুরুষ খাবার খেয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার।
MAR 6:45 পর মুহূর্তেই যীশু তাঁর শিষ্যদের নৌকায় তুলে দিয়ে তাঁর যাওয়ার আগেই তাঁদের বেথসৈদায় যেতে বললেন, ইতিমধ্যে তিনি সকলকে বিদায় দিলেন।
MAR 6:46 তাঁদের বিদায় করে তিনি প্রার্থনা করার জন্য একটি পাহাড়ে উঠে গেলেন।
MAR 6:47 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে। নৌকা ছিল সাগরের মাঝখানে, কেবলমাত্র তিনি একা স্থলে ছিলেন।
MAR 6:48 তিনি দেখলেন, প্রতিকূল বাতাসে শিষ্যেরা অতিকষ্টে নৌকা বইছিল। রাত্রি চতুর্থ প্রহরে তিনি সাগরে, জলের উপরে হেঁটে শিষ্যদের কাছে চললেন। তিনি তাঁদের পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলেন।
MAR 6:49 কিন্তু তাঁকে সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে তাঁরা তাঁকে কোনও ভূত মনে করলেন।
MAR 6:50 তাঁরা চিৎকার করে উঠলেন, কারণ তাঁরা সবাই তাঁকে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তক্ষুনি তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন, “সাহস করো! এ আমি! ভয় পেয়ো না।”
MAR 6:51 তারপর তিনি তাঁদের কাছে নৌকায় উঠলেন। বাতাস থেমে গেল। তাঁরা সম্পূর্ণরূপে বিস্মিত হলেন,
MAR 6:52 কারণ তাঁরা সেই রুটির বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারেননি, তাঁদের হৃদয় কঠিন হয়ে পড়েছিল।
MAR 6:53 তাঁরা সাগরের অপর পারে গিয়ে গিনেষরৎ প্রদেশে নৌকা থেকে নামলেন ও নৌকা নোঙর করলেন।
MAR 6:54 তাঁরা নৌকা থেকে নামা মাত্রই লোকেরা যীশুকে চিনতে পারল।
MAR 6:55 তারা সেখানকার সমগ্র অঞ্চলে ছুটে গেল এবং যেখানেই যীশু আছেন শুনতে পেল, তারা সেখানেই খাটে করে পীড়িতদের বয়ে নিয়ে এল।
MAR 6:56 আর যেখানেই তিনি গেলেন—গ্রামে, নগরে বা পল্লি-অঞ্চলে—সেখানেই তারা পীড়িতদের বাজারের মধ্যে এনে রাখল। তারা মিনতি করল, তিনি যেন তাঁর পোশাকের আঁচলও তাদের স্পর্শ করতে দেন। আর যারাই তাঁকে স্পর্শ করল, তারা সবাই সুস্থ হল।
MAR 7:1 জেরুশালেম থেকে কয়েকজন ফরিশী ও শাস্ত্রবিদ এসে যীশুর চারপাশে জড়ো হল।
MAR 7:2 তারা দেখল, তাঁর কয়েকজন শিষ্য অশুচি হাতে, অর্থাৎ হাত না ধুয়ে খাবার গ্রহণ করছে।
MAR 7:3 (ফরিশীরা ও সমগ্র ইহুদি সমাজ প্রাচীনদের নিয়ম অনুসারে সংস্কারগতভাবে হাত না ধুয়ে খাবার গ্রহণ করত না।
MAR 7:4 হাটবাজার থেকে ফিরে এসে তারা স্নান না করে খাবার খেতো না। আরও বহু প্রথা তারা পালন করত, যেমন ঘটি, কলশি ও বিভিন্ন পাত্র পরিষ্কার করা।)
MAR 7:5 সেই কারণে ফরিশীরা ও শাস্ত্রবিদরা যীশুকে জিজ্ঞাসা করল, “আপনার শিষ্যেরা প্রাচীনদের প্রথা অনুসরণ না করে অশুচি হাতেই খাবার খাচ্ছে কেন?”
MAR 7:6 তিনি উত্তর দিলেন, “ভণ্ডের দল! যিশাইয় তোমাদের সম্পর্কে সঠিক ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন: যেমন লেখা আছে: “ ‘এই লোকেরা তাদের ওষ্ঠাধরে আমাকে সম্মান করে, কিন্তু তাদের হৃদয় থাকে আমার থেকে বহুদূরে।
MAR 7:7 বৃথাই তারা আমার উপাসনা করে, তাদের শিক্ষামালা বিভিন্ন মানুষের শেখানো নিয়মবিধি মাত্র।’
MAR 7:8 তোমরা ঈশ্বরের আদেশ উপেক্ষা করে মানুষের প্রথা আঁকড়ে আছ।”
MAR 7:9 তিনি তাদের আরও বললেন, “তোমাদের নিজস্ব প্রথা পালন করার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের আদেশ এক পাশে সরিয়ে রাখার এক সুন্দর উপায় তোমাদের আছে।
MAR 7:10 মোশি বলেছেন, তোমার বাবা ও তোমার মাকে সম্মান কোরো, এবং ‘যে কেউ তার বাবা অথবা মাকে অভিশাপ দেয়, তার অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে।’
MAR 7:11 কিন্তু তোমরা বলে থাকো, কেউ যদি তার বাবা অথবা মাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে যে সাহায্য তোমরা পেতে পারতে, তা কর্বান,’ (অর্থাৎ ঈশ্বরকে দেওয়া হয়েছে)—
MAR 7:12 তাহলে তাকে তার বাবা অথবা মার জন্য আর কিছুই করতে দাও না।
MAR 7:13 এইভাবে প্রথা অনুসরণ করতে গিয়ে তোমরা ঈশ্বরের বাক্য নিষ্ফল করছ। এই ধরনের আরও অনেক কাজ তোমরা করে থাকো।”
MAR 7:14 যীশু আবার সব লোককে তাঁর কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা সকলে শোনো আর একথা বুঝে নাও,
MAR 7:15 বাইরে থেকে কোনো কিছু মানুষের ভিতরে প্রবেশ করে তাকে অশুচি করতে পারে না।
MAR 7:16 বরং মানুষের ভিতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাই তাকে অশুচি করে। যদি কারোর শোনার কান থাকে, তবে সে শুনুক।”
MAR 7:17 লোকদের ছেড়ে দিয়ে যীশু এসে ঘরে প্রবেশ করলে তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে এই রূপকটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন।
MAR 7:18 তিনি প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি এতই অবোধ? তোমরা কি বোঝো না যে, বাইরে থেকে যা মানুষের ভিতরে প্রবেশ করে, তা তাকে অশুচি করতে পারে না?
MAR 7:19 কারণ সেটা তার অন্তরে প্রবেশ করে না, কিন্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তারপর তার শরীর থেকে বের হয়ে যায়।” (একথা বলে যীশু ঘোষণা করলেন যে, সব খাদ্যদ্রব্যই শুচিশুদ্ধ।)
MAR 7:20 তিনি আরও বললেন, “মানুষের ভিতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাই তাকে অশুচি করে।
MAR 7:21 কারণ ভিতর থেকে, সব মানুষের হৃদয় থেকে নির্গত হয় কুচিন্তা, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, চুরি, নরহত্যা, ব্যভিচার,
MAR 7:22 লোভ-লালসা, অপরের অনিষ্ট কামনা, প্রতারণা, অশ্লীলতা, ঈর্ষা, কুৎসা-রটনা, ঔদ্ধত্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীনতা।
MAR 7:23 এই সমস্ত মন্দ বিষয় ভিতর থেকে আসে ও মানুষকে অশুচি করে।”
MAR 7:24 যীশু সেই অঞ্চল ত্যাগ করে টায়ার ও সীদোনের কাছাকাছি স্থানে গেলেন। তিনি একটি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু চাইলেন, কেউ যেন সেকথা জানতে না পারে। তবুও তিনি তাঁর উপস্থিতি গোপন রাখতে পারলেন না।
MAR 7:25 প্রকৃতপক্ষে একজন নারী, যেই তাঁর কথা শুনতে পেল, এসে তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়ল। তার মেয়ে ছিল ছোটো অথচ অশুচি-আত্মাগ্রস্ত ছিল।
MAR 7:26 সেই নারী ছিল জাতিতে গ্রিক, তার জন্ম সাইরো-ফিনিশিয়া অঞ্চলে। সে তার মেয়ের ভিতর থেকে ভূত বের করার জন্য যীশুর কাছে মিনতি করল।
MAR 7:27 তিনি তাকে বললেন, “প্রথমে ছেলেমেয়েরা পরিতৃপ্ত হোক, কারণ ছেলেমেয়েদের খাবার নিয়ে কুকুরদের দেওয়া সংগত নয়।”
MAR 7:28 সে উত্তর দিল, “হ্যাঁ প্রভু, কিন্তু কুকুরও তো টেবিলের নিচে থেকে ছেলেমেয়েদের রুটির টুকরো খেতে পায়!”
MAR 7:29 তখন তিনি তাকে বললেন, “এ ধরনের উত্তর দিয়েছ বলে, তুমি চলে যাও, ভূত তোমার মেয়েকে ছেড়ে চলে গেছে।”
MAR 7:30 সে বাড়ি গিয়ে দেখল, তার মেয়ে বিছানায় শুয়ে আছে ও ভূত তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
MAR 7:31 এরপর যীশু টায়ারের সন্নিহিত সেই অঞ্চল ত্যাগ করে সীদোনের মধ্য দিয়ে গালীল সাগরের কাছে গেলেন। যাওয়ার সময় তিনি ডেকাপলি হয়েই গেলেন।
MAR 7:32 সেখানে কয়েকজন লোক এক কালা ও তোৎলা ব্যক্তিকে তাঁর কাছে নিয়ে এল। সে ভালো করে কথা বলতে পারত না। তারা তার উপর হাত রেখে প্রার্থনা করার জন্য যীশুকে মিনতি করল।
MAR 7:33 তখন তিনি সকলের মধ্য থেকে সেই ব্যক্তিকে এক পাশে নিয়ে গেলেন। তিনি তার দুই কানে আঙুল রাখলেন, থুতু ফেললেন ও তার জিভ স্পর্শ করলেন।
MAR 7:34 আর তিনি স্বর্গের দিকে ঊর্ধ্বদৃষ্টি করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ইপফাথা!” (যার অর্থ, “খুলে যাক!”)।
MAR 7:35 এতে সেই লোকটির দুই কান খুলে গেল, তার জিভ জড়তামুক্ত হল এবং সে স্পষ্টভাবে কথা বলতে লাগল।
MAR 7:36 সেকথা কাউকে না বলার জন্য যীশু তাদের আদেশ দিলেন। কিন্তু তিনি যতই নিষেধ করলেন, তারা ততই সেকথা প্রচার করতে লাগল।
MAR 7:37 লোকে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বলতে লাগল, “তিনি সবকিছুই সুন্দররূপে সম্পন্ন করেছেন, এমনকি, কালাকে শোনার শক্তি ও বোবাকে কথা বলার শক্তি দান করেছেন।”
MAR 8:1 সেই দিনগুলিতে আবার অনেক লোকের ভিড় হল। কিন্তু তাদের কাছে খাওয়ার কিছু ছিল না। যীশু তাই তাঁর শিষ্যদের তাঁর কাছে ডেকে বললেন,
MAR 8:2 “এই লোকদের প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; এরা তিন দিন ধরে আমার সঙ্গে আছে এবং এদের কাছে খাওয়ার জন্য কিছুই নেই।
MAR 8:3 আমি যদি এদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দিই, তাহলে এরা পথেই অজ্ঞান হয়ে পড়বে। কারণ এদের মধ্যে কেউ কেউ বহুদূর থেকে এসেছে।”
MAR 8:4 তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “কিন্তু এই জনহীন প্রান্তরে ওদের তৃপ্ত করার মতো কে এত রুটি জোগাড় করবে?”
MAR 8:5 যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের কাছে কতগুলি রুটি আছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “সাতটি।”
MAR 8:6 তিনি সবাইকে মাটির উপরে বসার আদেশ দিলেন। তিনি সেই সাতটি রুটি নিলেন ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। পরে সেগুলি ভাঙলেন ও লোকদের পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের দিতে লাগলেন। তাঁরা তাই করলেন।
MAR 8:7 তাঁদের কাছে কয়েকটি ছোটো মাছও ছিল। তিনি সেগুলির জন্যও ধন্যবাদ দিয়ে পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের বললেন।
MAR 8:8 লোকেরা খেয়ে পরিতৃপ্ত হল। পরে শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটির টুকরো সংগ্রহ করে সাতটি ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
MAR 8:9 সেখানে উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজার। পরে তিনি তাঁদের বিদায় দিয়ে
MAR 8:10 তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নৌকায় বসলেন ও দলমনুথা প্রদেশে চলে গেলেন।
MAR 8:11 ফরিশীরা এসে যীশুকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগল। তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য তারা এক স্বর্গীয় নিদর্শন দেখতে চাইল।
MAR 8:12 তিনি দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বললেন, “এই প্রজন্মের লোকেরা কেন অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চায়? আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ওদের কোনো নিদর্শন দেখানো হবে না।”
MAR 8:13 তারপর তিনি তাদের ত্যাগ করে নৌকায় উঠলেন ও অপর পারে চলে গেলেন।
MAR 8:14 শিষ্যেরা রুটি নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। নৌকায় তাঁদের সঙ্গে কেবলমাত্র একটি রুটি ছাড়া আর কোনো রুটি ছিল না।
MAR 8:15 যীশু তাঁদের সতর্ক করে দিলেন, “সাবধান, হেরোদ ও ফরিশীদের খামির থেকে সতর্ক থেকো।”
MAR 8:16 এ বিষয়ে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে বললেন, “এর কারণ হল, আমাদের কাছে কোনো রুটি নেই।”
MAR 8:17 তাঁদের আলোচনার বিষয় অবহিত ছিলেন বলে যীশু তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “রুটি নেই বলে তোমরা তর্কবিতর্ক করছ কেন? তোমরা কি এখনও কিছু দেখতে বা বুঝতে পারছ না? তোমাদের মন কি কঠোর হয়ে গেছে?
MAR 8:18 তোমরা কি চোখ থাকতেও দেখতে পাচ্ছ না, কান থাকতেও শুনতে পাচ্ছ না?
MAR 8:19 আমি যখন পাঁচ হাজার লোকের জন্য পাঁচটি রুটি ভেঙেছিলাম, তোমরা কত ঝুড়ি রুটির টুকরো তুলে নিয়েছিলে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “বারো ঝুড়ি।”
MAR 8:20 “আর যখন আমি চার হাজার লোকের জন্য সাতটি রুটি ভেঙেছিলাম, তোমরা কত ঝুড়ি রুটির টুকরো তুলে নিয়েছিলে?” উত্তরে তাঁরা বললেন, “সাত ঝুড়ি।”
MAR 8:21 তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা কি এখনও বুঝতে পারছ না?”
MAR 8:22 তাঁরা বেথসৈদায় উপস্থিত হলে কয়েকজন লোক এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তিকে নিয়ে এল ও তাকে স্পর্শ করার জন্য যীশুকে অনুরোধ করল।
MAR 8:23 তিনি সেই দৃষ্টিহীন ব্যক্তির হাত ধরে তাকে গ্রামের বাইরে নিয়ে গেলেন। যীশু তার দুই চোখে থুতু দিয়ে তার উপর হাত রাখলেন। যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কিছু দেখতে পাচ্ছ কি?”
MAR 8:24 সে চোখ তুলে চাইল ও বলল, “আমি মানুষ দেখতে পাচ্ছি, তারা দেখতে গাছের মতো, ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
MAR 8:25 যীশু আর একবার তার চোখে হাত রাখলেন। তখন তার দৃষ্টি স্থির হল। আরোগ্য লাভ করে সে সবকিছু স্পষ্ট দেখতে লাগল।
MAR 8:26 যীশু তাকে সোজা বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন ও বললেন, “তুমি এই গ্রামে যেয়ো না।”
MAR 8:27 যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা কৈসরিয়া-ফিলিপী অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে পরিভ্রমণ করতে লাগলেন। পথে তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কে, লোকেরা এ সম্পর্কে কী বলে?”
MAR 8:28 তাঁরা উত্তর দিলেন, “কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, অন্যেরা বলে এলিয়, আর কেউ কেউ বলে, আপনি ভাববাদীদের মধ্যে কোনও একজন।”
MAR 8:29 “কিন্তু তোমরা কী বলো?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী বলো, আমি কে?” পিতর উত্তর দিলেন, “আপনি সেই খ্রীষ্ট।”
MAR 8:30 যীশু তাঁর সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাঁদের সতর্ক করে দিলেন।
MAR 8:31 তারপর তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতে গিয়ে একথা বললেন যে, মনুষ্যপুত্রকে বিভিন্ন বিষয়ে দুঃখভোগ করতে হবে; প্রাচীনবর্গ, মহাযাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবেন। তাঁকে হত্যা করা হবে এবং তিন দিন পরে তাঁর পুনরুত্থান হবে।
MAR 8:32 তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টরূপে কথা বললেন, কিন্তু পিতর তাঁকে এক পাশে নিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন।
MAR 8:33 কিন্তু যীশু যখন ফিরে শিষ্যদের দিকে তাকালেন, তিনি পিতরকে তিরস্কার করলেন। তিনি বললেন, “দূর হও শয়তান! তোমার মনে ঈশ্বরের বিষয়গুলি নেই, কেবল মানুষের বিষয়ই আছে।”
MAR 8:34 তারপর তিনি শিষ্যদের সঙ্গে অন্যান্য লোকদেরও তাঁর কাছে ডাকলেন ও বললেন, “কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করতে চায়, সে অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করবে, তার ক্রুশ তুলে নেবে ও আমাকে অনুসরণ করবে।
MAR 8:35 কারণ যে তার জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে, কিন্তু যে তার জীবন আমার ও সুসমাচারের জন্য হারায়, সে তা রক্ষা করবে।
MAR 8:36 বস্তুত, কোনো মানুষ যদি সমস্ত জগতের অধিকার লাভ করে ও তার প্রাণ হারায়, তাহলে তার কী লাভ হবে?
MAR 8:37 কিংবা, নিজের প্রাণের পরিবর্তে মানুষ আর কী দিতে পারে?
MAR 8:38 এই ব্যভিচারী ও পাপিষ্ঠ প্রজন্মের মধ্যে কেউ যদি আমাকে ও আমার বাক্যকে লজ্জার বিষয় বলে মনে করে, মনুষ্যপুত্রও যখন পবিত্র দূতবাহিনীর সঙ্গে তাঁর পিতার মহিমায় আসবেন, তখন তিনিও তাকে লজ্জার পাত্র বলে মনে করবেন।”
MAR 9:1 আবার তিনি তাঁদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের কেউ কেউ সপরাক্রমে ঈশ্বরের রাজ্যের আগমন না দেখা পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ লাভ করবে না।”
MAR 9:2 ছয় দিন পরে যীশু কেবলমাত্র পিতর, যাকোব ও যোহনকে তাঁর সঙ্গে নিয়ে এক অতি উচ্চ পর্বতে গেলেন। সেখানে কেবলমাত্র তাঁরাই একান্তে ছিলেন। সেখানে তিনি তাঁদের সামনে রূপান্তরিত হলেন।
MAR 9:3 তাঁর পরনের পোশাক উজ্জ্বল ও ধবধবে সাদা হয়ে উঠল। পৃথিবীর কোনও রজক পোশাককে সেরকম সাদা করতে পারে না।
MAR 9:4 আর সেখানে এলিয় ও মোশি তাঁদের সামনে আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।
MAR 9:5 পিতর যীশুকে বললেন, “রব্বি, এখানে থাকা আমাদের পক্ষে ভালোই হবে। এখানে আমরা তিনটি তাঁবু স্থাপন করি, একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য ও একটি এলিয়ের জন্য।”
MAR 9:6 (তাঁরা এত ভয় পেয়েছিলেন যে, কী বলতে হবে, তিনি তা বুঝতে পারেননি।)
MAR 9:7 তখন এক টুকরো মেঘ এসে তাঁদের ঢেকে ফেলল। সেই মেঘের ভিতর থেকে একটি স্বর ভেসে এল, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, তোমরা এঁর কথা শোনো।”
MAR 9:8 হঠাৎই তাঁরা চারদিকে তাকিয়ে আর কোনো মানুষকে দেখতে পেলেন না। কেবলমাত্র যীশু তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
MAR 9:9 পর্বত থেকে নেমে আসার সময় যীশু তাঁদের আদেশ দিলেন, মনুষ্যপুত্র মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত, তাঁদের এই দর্শন লাভের কথা তাঁরা যেন কাউকে না বলেন।
MAR 9:10 তাঁরা বিষয়টি নিজেদেরই মধ্যে গোপন রাখলেন, আলোচনা করতে লাগলেন, “মৃতদের মধ্য থেকে উত্থান” এর তাৎপর্য কী!
MAR 9:11 তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “শাস্ত্রবিদরা কেন বলেন যে, এলিয়কে অবশ্যই প্রথমে আসতে হবে?”
MAR 9:12 যীশু উত্তর দিলেন, “একথা ঠিক, এলিয় প্রথমে এসে সব বিষয় পুনঃস্থাপিত করবেন। তাহলে, একথাও কেন লেখা আছে যে, মনুষ্যপুত্রকেও অনেক কষ্টভোগ করতে ও অগ্রাহ্য হতে হবে?
MAR 9:13 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, এলিয় এসে গেছেন। আর তাঁর বিষয়ে যেমন লেখা আছে, তেমনই লোকেরা তাঁর প্রতি তাদের ইচ্ছামতো দুর্ব্যবহার করেছে।”
MAR 9:14 তাঁরা যখন অন্য শিষ্যদের কাছে ফিরে এলেন তখন দেখলেন, অনেক লোক তাঁদের ঘিরে আছে ও শাস্ত্রবিদরা তাঁদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করছেন।
MAR 9:15 সমস্ত লোক যেই যীশুকে দেখতে পেল, তারা বিস্ময়ে অভিভূত হল ও দৌড়ে গিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাল।
MAR 9:16 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী নিয়ে ওদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করছ?”
MAR 9:17 লোকেদের মধ্য থেকে একজন উত্তর দিল, “গুরুমহাশয়, আমি আমার ছেলেটিকে আপনার কাছে এনেছিলাম, ওকে এক অশুচি আত্মা ভর করেছে, তাই ও কথা বলতে পারে না।
MAR 9:18 সে যখনই তাকে ধরে, তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। তার মুখে ফেনা ওঠে, সে দাঁত কিড়মিড় করে, আর আড়ষ্ট হয়ে যায়। আত্মাটিকে দূর করার জন্য আমি আপনার শিষ্যদের অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তাঁরা তা করতে পারেননি।”
MAR 9:19 যীশু উত্তর দিলেন, “ওহে অবিশ্বাসী প্রজন্ম, আমি আর কত কাল তোমাদের সঙ্গে থাকব? কত কাল তোমাদের জন্য ধৈর্য রাখতে হবে? ছেলেটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
MAR 9:20 তারা তাকে নিয়ে এল। অশুচি আত্মাটি যীশুকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটিকে খুব জোরে মুচড়ে ধরল। সে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল, ও তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে লাগল।
MAR 9:21 যীশু ছেলেটির বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কত দিন থেকে ওর এরকম হচ্ছে?” সে উত্তর দিল, “ছোটোবেলা থেকেই।
MAR 9:22 এ তাকে মেরে ফেলার জন্য বহুবার জলে ও আগুনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু আপনি যদি কিছু করতে পারেন, আমাদের প্রতি সদয় হোন ও আমাদের সাহায্য করুন।”
MAR 9:23 যীশু বললেন, “যদি আপনি পারেন? যে বিশ্বাস করে, তার পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।”
MAR 9:24 সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির বাবা আর্তনাদ করে উঠল, “আমি বিশ্বাস করি, অবিশ্বাস কাটিয়ে উঠতে আমাকে সাহায্য করুন।”
MAR 9:25 যীশু যখন দেখলেন, অনেক লোক ঘটনাস্থলের দিকে একসঙ্গে দৌড়ে আসছে, তিনি সেই অশুচি আত্মাকে ধমক দিলেন। তিনি বললেন, “ওহে কালা ও বোবা আত্মা, আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি, ওর ভিতর থেকে বেরিয়ে এসো এবং আর কখনও ওর মধ্যে প্রবেশ কোরো না।”
MAR 9:26 আত্মাটি তীক্ষ্ণ চিৎকার করে তাকে প্রচণ্ডভাবে মুচড়ে দিয়ে তার মধ্যে থেকে বের হয়ে গেল। ছেলেটিকে মড়ার মতো পড়ে থাকতে দেখে অনেকে বলল, “ও মরে গেছে।”
MAR 9:27 কিন্তু যীশু তাকে হাত দিয়ে ধরলেন ও তার পায়ে ভর দিয়ে তাকে দাঁড় করালেন। এতে সে উঠে দাঁড়াল।
MAR 9:28 যীশু বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলে, তাঁর শিষ্যেরা একান্তে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা কেন ওটিকে তাড়াতে পারলাম না?”
MAR 9:29 তিনি উত্তর দিলেন, “প্রার্থনা ছাড়া এই ধরনের আত্মা বের হতে চায় না।”
MAR 9:30 তাঁরা সেই স্থান ত্যাগ করে গালীলের মধ্য দিয়ে যাত্রা করলেন। যীশু চাইলেন না, যে তাঁরা কোথায় আছেন, কেউ সেকথা জানুক।
MAR 9:31 কারণ যীশু সেই সময় তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের বললেন, “মনুষ্যপুত্র মানুষের হাতে সমর্পিত হতে চলেছেন। তারা তাঁকে হত্যা করবে, আর তিন দিন পর তিনি উত্থাপিত হবেন।”
MAR 9:32 কিন্তু শিষ্যেরা তাঁর একথার অর্থ বুঝতে পারলেন না, আবার এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেও তাঁরা ভয় পেলেন।
MAR 9:33 পরে তাঁরা কফরনাহূমে এলেন। বাড়ির মধ্যে গিয়ে তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “পথে তোমরা কী নিয়ে তর্কবিতর্ক করছিলে?”
MAR 9:34 তাঁরা চুপ করে রইলেন, কারণ তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, তাঁরা এই নিয়ে পথে তর্কবিতর্ক করছিলেন।
MAR 9:35 সেখানে বসে, যীশু সেই বারোজনকে ডেকে বললেন, “কেউ যদি প্রথম হতে চায়, তাকে থাকতে হবে সকলের পিছনে, আর তাকে সকলের দাস হতে হবে।”
MAR 9:36 পরে তিনি একটি শিশুকে তাঁদের মাঝে দাঁড় করালেন। তাকে নিজের কোলে নিয়ে তিনি তাঁদের বললেন,
MAR 9:37 “আমার নামে যে এই শিশুদের একজনকেও গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে। আর যে আমাকে গ্রহণ করে, সে আমাকে নয়, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁকেই গ্রহণ করে।”
MAR 9:38 যোহন বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা একজনকে আপনার নামে ভূত তাড়াতে দেখে, তাকে সে কাজ করতে বারণ করেছিলাম, কারণ সে আমাদের দলের কেউ ছিল না।”
MAR 9:39 যীশু বললেন, “তাকে নিষেধ কোরো না। কেউ যদি আমার নামে কোনো অলৌকিক কাজ করে, পর মুহূর্তেই সে আমার নামে কোনও নিন্দা করতে পারবে না।”
MAR 9:40 কারণ যে আমাদের বিপক্ষে নয়, সে আমাদের সপক্ষে।
MAR 9:41 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কেউ যদি খ্রীষ্টের লোক বলে তোমাদের এক পেয়ালা জল খেতে দেয়, সে কোনোভাবেই তার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে না।
MAR 9:42 “কিন্তু এই ছোটো শিশুরা যারা আমাকে বিশ্বাস করে, তাদের কোনো একজনকে কেউ যদি পাপ করতে বাধ্য করে, তাহলে তার গলায় বড়ো একটি জাঁতা বেঁধে সমুদ্রের জলে ডুবিয়ে দেওয়া তার পক্ষে ভালো হবে।
MAR 9:43 যদি তোমার হাত পাপের কারণ হয়, তা কেটে ফেলে দাও। দু-হাত নিয়ে নরকের অনির্বাণ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে অঙ্গহীন হয়ে জীবনে প্রবেশ করা ভালো।
MAR 9:44 সেখানে, ‘তাদের কীট মরে না, আর আগুন নির্বাপিত হয় না।’
MAR 9:45 যদি আর তোমার পা পাপের কারণ হয়, তা কেটে ফেলে দাও। দুই পা নিয়ে নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে পঙ্গু হয়ে জীবনে প্রবেশ করা ভালো।
MAR 9:46 সেখানে, ‘তাদের কীট মরে না, আর আগুন নির্বাপিত হয় না।’
MAR 9:47 আর তোমার চোখ যদি পাপের কারণ হয়, তা উপড়ে ফেলে দাও। কারণ দুই চোখ নিয়ে নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে, বরং এক চোখ নিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা ভালো।
MAR 9:48 সেখানে, “ ‘তাদের কীট মরে না, আর আগুন নির্বাপিত হয় না।’
MAR 9:49 প্রত্যেক ব্যক্তিকে আগুনে লবণাক্ত করা হবে।
MAR 9:50 “লবণ ভালো, কিন্তু লবণ যদি তার লবণত্ব হারায়, তাহলে তোমরা কীভাবে তা আবার লবণাক্ত করবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে লবণের গুণ বজায় রাখো ও পরস্পরের সঙ্গে শান্তিতে সহাবস্থান করো।”
MAR 10:1 যীশু এরপর সেই স্থান ত্যাগ করে যিহূদিয়া অঞ্চলে ও জর্ডন নদীর অপর পারে গেলেন। আবার তাঁর কাছে লোকেরা ভিড় করতে লাগল, আর তিনি তাঁর রীতি অনুযায়ী তাদের শিক্ষা দিলেন।
MAR 10:2 কয়েকজন ফরিশী এসে তাঁকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, “কোনো পুরুষের পক্ষে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করা কি বিধিসংগত?”
MAR 10:3 তিনি উত্তর দিলেন, “মোশি তোমাদের কি আদেশ দিয়েছেন?”
MAR 10:4 তারা বলল, “মোশি পুরুষকে একটি ত্যাগপত্র লিখে দিয়ে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছেন।”
MAR 10:5 যীশু উত্তর দিলেন, “তোমাদের হৃদয় কঠোর বলেই মোশি এই বিধানের কথা লিখে গিয়েছেন।
MAR 10:6 কিন্তু সৃষ্টির সূচনায় ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও নারী—এভাবেই সৃষ্টি করেছিলেন।
MAR 10:7 আর এই কারণে একজন পুরুষ তার পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করবে, তার স্ত্রীর সাথে সংযুক্ত হবে
MAR 10:8 ও সেই দুজন একাঙ্গ হবে। তাই, তারা আর দুজন নয়, কিন্তু অভিন্নসত্তা।
MAR 10:9 সেই কারণে, ঈশ্বর যা সংযুক্ত করেছেন, কোনো মানুষ তা বিচ্ছিন্ন না করুক।”
MAR 10:10 তাঁরা আবার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে তাঁর শিষ্যেরা যীশুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
MAR 10:11 তিনি উত্তর দিলেন, “যে নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে অন্য নারীকে বিবাহ করে, সে তার বিরুদ্ধে ব্যভিচার করে।
MAR 10:12 আর নারী যদি তার স্বামীকে পরিত্যাগ করে অন্য পুরুষকে বিবাহ করে, সেও ব্যভিচার করে।”
MAR 10:13 লোকেরা ছোটো শিশুদের যীশুর কাছে নিয়ে আসছিল, যেন তিনি তাদের স্পর্শ করেন। কিন্তু শিষ্যেরা তাদের ধমক দিলেন।
MAR 10:14 যীশু তা দেখে রুষ্ট হলেন। তিনি তাঁদের বললেন, “ছোটো শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, ওদের বাধা দিয়ো না। কারণ ঈশ্বরের রাজ্য এদের মতো মানুষদেরই।
MAR 10:15 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ছোটো শিশুর মতো যে ঈশ্বরের রাজ্যকে গ্রহণ করতে পারে না, সে কখনও তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
MAR 10:16 পরে তিনি সেই শিশুদের কোলে নিয়ে তাদের উপরে হাত রাখলেন ও তাদের আশীর্বাদ করলেন।
MAR 10:17 যীশু তাঁর পথ চলা শুরু করলে, একজন যুবক দৌড়ে তাঁর কাছে এল। সে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “সৎ গুরু, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
MAR 10:18 যীশু উত্তর দিলেন, “তুমি আমাকে সৎ বলছ কেন? একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ সৎ নয়।
MAR 10:19 তুমি আজ্ঞাগুলি নিশ্চয় জানো, ‘নরহত্যা কোরো না, ব্যভিচার কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না, প্রতারণা কোরো না, তোমার বাবাকে ও তোমার মাকে সম্মান কোরো।’ ”
MAR 10:20 সে ঘোষণা করল, “গুরুমহাশয়, এসবই আমি বাল্যকাল থেকে পালন করে আসছি।”
MAR 10:21 যীশু তার দিকে তাকালেন ও তাকে প্রেম করলেন। তিনি বললেন, “একটি বিষয়ে তোমার ঘাটতি আছে। তুমি যাও, গিয়ে তোমার যা কিছু আছে, সর্বস্ব বিক্রি করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে তুমি স্বর্গে ধনসম্পত্তি লাভ করবে। তারপর এসে আমাকে অনুসরণ করো।”
MAR 10:22 এতে সেই লোকটির মুখ ম্লান হয়ে গেল। সে দুঃখিত মনে চলে গেল, কারণ তার বিপুল ধনসম্পত্তি ছিল।
MAR 10:23 যীশু চারদিকে তাকিয়ে তাঁর শিষ্যদের বললেন, “ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কত কঠিন!”
MAR 10:24 শিষ্যেরা তাঁর কথা শুনে বিস্মিত হলেন। কিন্তু যীশু আবার বললেন, “বৎসেরা, যারা ধনসম্পদে নির্ভর করে, তাদের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কঠিন!
MAR 10:25 ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে বরং সুচের ছিদ্রপথ দিয়ে উটের পার হওয়া সহজ।”
MAR 10:26 শিষ্যেরা তখন আরও বেশি বিস্মিত হয়ে পরস্পরকে বললেন, “তাহলে কে পরিত্রাণ পেতে পারে?”
MAR 10:27 যীশু তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মানুষের পক্ষে এ অসম্ভব, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে নয়। ঈশ্বরের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।”
MAR 10:28 পিতর তাঁকে বললেন, “আপনাকে অনুসরণ করার জন্য আমরা সবকিছু ত্যাগ করেছি।”
MAR 10:29 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এমন কেউ নেই, যে আমার ও সুসমাচারের জন্য নিজের বাড়িঘর, ভাইবোন, মা-বাবা, সন্তানসন্ততি, কি জমিজায়গা ত্যাগ করেছে, অথচ বর্তমান কালে তার শতগুণ ফিরে পাবে না।
MAR 10:30 সে এই জীবনেই বাড়িঘর, ভাইবোন, মা-বাবা, সন্তানসন্ততি ও জমিজায়গা লাভ করবে ও সেই সঙ্গে নির্যাতন ভোগ করবে। কিন্তু ভাবীকালে অনন্ত জীবন লাভ করবে।
MAR 10:31 কিন্তু অনেকেই, যারা প্রথমে আছে, তারা শেষে হবে, আর যারা পিছনে আছে, তারা প্রথমে হবে।”
MAR 10:32 তাঁরা জেরুশালেমের পথে যাচ্ছিলেন। যীশু ছিলেন সবার সামনে। শিষ্যেরা এতে বিস্মিত হলেন ও যারা অনুসরণ করছিল, তারা ভয় পেল। তিনি আবার সেই বারোজনকে এক পাশে ডেকে নিয়ে, তাঁর প্রতি কী ঘটতে চলেছে তা বললেন।
MAR 10:33 তিনি বললেন, “আমরা জেরুশালেম পর্যন্ত যাচ্ছি। আর মনুষ্যপুত্রকে প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রবিদদের হাতে সমর্পণ করা হবে। তারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করবে ও অইহুদিদের হাতে তুলে দেবে।
MAR 10:34 তারা তাঁকে বিদ্রুপ করবে, তাঁর গায়ে থুতু দেবে, চাবুক দিয়ে মারবে ও তাঁকে হত্যা করবে। তিন দিন পরে, তিনি আবার মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবেন।”
MAR 10:35 তারপর, সিবদিয়ের পুত্র যাকোব ও যোহন তাঁর কাছে এলেন। তাঁরা বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা যা চাই, আপনি আমাদের জন্য তা করুন।”
MAR 10:36 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী চাও? আমি তোমাদের জন্য কী করব?”
MAR 10:37 তাঁরা উত্তর দিলেন, “আপনি মহিমা লাভ করলে আমাদের একজনকে আপনার ডানদিকে, আর একজনকে আপনার বাঁদিকে বসতে দেবেন।”
MAR 10:38 যীশু বললেন, “তোমরা কী চাইছ, তা তোমরা জানো না। আমি যে পেয়ালায় পান করি, তাতে তোমরা কি পান করতে পারো? অথবা যে বাপ্তিষ্মে আমি বাপ্তিষ্ম লাভ করি, তাতে কি তোমরা বাপ্তিষ্ম নিতে পারো?”
MAR 10:39 তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা পারি।” যীশু তাঁদের বললেন, “আমি যে পেয়ালায় পান করি, তাতে তোমরা পান করবে এবং আমি যে বাপ্তিষ্মে বাপ্তিষ্ম লাভ করি, তোমরাও সেই বাপ্তিষ্মে বাপ্তিষ্ম লাভ করবে।
MAR 10:40 কিন্তু, আমার ডানদিকে বা বাঁদিকে বসতে দেওয়ার অধিকার আমার নেই। এই স্থান তাদের জন্য, যাদের জন্য সেগুলি প্রস্তুত করা হয়েছে।”
MAR 10:41 অন্য দশজন একথা শুনে যাকোব ও যোহনের প্রতি রুষ্ট হলেন।
MAR 10:42 যীশু তাঁদের কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা জানো যে, যারা অন্য জাতির শাসক বলে পরিচিত, তারা তাদের উপরে প্রভুত্ব করে। আবার তাদের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা সেই শাসকদের উপরে কর্তৃত্ব করে।
MAR 10:43 তোমাদের ক্ষেত্রে সেরকম হবে না। বরং, কেউ যদি তোমাদের মধ্যে মহান হতে চায়, তাকে অবশ্যই তোমাদের দাস হতে হবে।
MAR 10:44 আর যে প্রধান হতে চায়, সে অবশ্যই সকলের ক্রীতদাস হবে।
MAR 10:45 কারণ, এমনকি, মনুষ্যপুত্রও সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু সেবা করতে ও অনেকের পরিবর্তে নিজের প্রাণ মুক্তিপণস্বরূপ দিতে এসেছেন।”
MAR 10:46 এরপর তাঁরা যিরীহোতে এলেন। যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা যখন অনেক লোকের সঙ্গে নগর ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন, তখন বরতীময় নামে এক ব্যক্তি পথের ধারে বসে ভিক্ষা করছিল। সে ছিল তীময়ের পুত্র।
MAR 10:47 যখন সে শুনতে পেল, তিনি নাসরতের যীশু, সে চিৎকার করে বলতে লাগল, “দাউদ-সন্তান যীশু, আমার প্রতি কৃপা করুন।”
MAR 10:48 অনেকে তাকে ধমক দিল ও চুপ করতে বলল, কিন্তু সে আরও বেশি চিৎকার করে বলতে লাগল, “হে দাউদের সন্তান, আমার প্রতি কৃপা করুন।”
MAR 10:49 যীশু থেমে বললেন, “ওকে ডাকো।” তাই তারা সেই অন্ধ লোকটিকে ডেকে বলল, “ওহে, সাহস করো, ওঠো, তিনি তোমাকে ডাকছেন!”
MAR 10:50 সে তার নিজের পোশাক একদিকে ছুঁড়ে ফেলে তার পায়ে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল ও যীশুর কাছে এল।
MAR 10:51 যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী চাও, আমি তোমার জন্য কী করব?” অন্ধ লোকটি বলল, “রব্বি, আমি যেন দেখতে পাই।”
MAR 10:52 যীশু বললেন, “যাও, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।” তখনই সে তার দৃষ্টিশক্তি লাভ করল ও সেই পথে যীশুকে অনুসরণ করল।
MAR 11:1 তাঁরা জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে যখন জলপাই পর্বতের ধারে বেথফাগ ও বেথানি গ্রামে উপস্থিত হলেন, তখন যীশু তাঁর দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন,
MAR 11:2 “তোমরা সামনের ওই গ্রামে যাও। সেখানে প্রবেশ করা মাত্র দেখতে পাবে যে একটি গর্দভশাবক বাঁধা আছে, যার উপরে কেউ কখনও বসেনি। সেটির বাঁধন খুলে এখানে নিয়ে এসো।
MAR 11:3 কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমরা কেন এরকম করছ?’ তাকে বোলো, ‘প্রভুর প্রয়োজন আছে, শীঘ্রই তিনি এটি ফেরত পাঠিয়ে দেবেন।’ ”
MAR 11:4 তাঁরা গিয়ে দেখলেন, একটি দরজার কাছে, বাইরের রাস্তায় একটি গর্দভশাবক বাঁধা আছে। তাঁরা সেটি খোলা মাত্র,
MAR 11:5 সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন লোক জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কী করছ? শাবকটির বাঁধন খুলছ কেন?”
MAR 11:6 এতে যীশু যেমন বলেছিলেন, তাঁরা সেভাবেই উত্তর দিলেন। আর সেই লোকেরা সেটিকে নিয়ে যেতে দিল।
MAR 11:7 তাঁরা গর্দভশাবকটি যীশুর কাছে নিয়ে এসে তার উপর তাদের পোশাক বিছিয়ে দিলেন। তিনি তার উপরে বসলেন।
MAR 11:8 বহু মানুষ পথের উপরে তাদের পোশাক বিছিয়ে দিল, অন্যেরা মাঠ থেকে গাছের ডালপালা কেটে এনে রাস্তার উপরে ছড়িয়ে দিল।
MAR 11:9 যারা সামনে যাচ্ছিল ও যারা পিছনে ছিল, তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, “হোশান্না!” “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন!”
MAR 11:10 “ধন্য আমাদের পিতা দাউদের সন্নিকট রাজ্য!” “ঊর্ধ্বলোকে হোশান্না!”
MAR 11:11 যীশু জেরুশালেমে প্রবেশ করে মন্দিরে গেলেন। তিনি চারপাশের সবকিছু লক্ষ্য করতে লাগলেন। কিন্তু ইতিমধ্যে অনেক দেরি হওয়াতে, তিনি সেই বারোজনের সঙ্গে বেথানিতে চলে গেলেন।
MAR 11:12 পরদিন, তাঁরা বেথানি পরিত্যাগ করে যাওয়ার সময়, যীশু ক্ষুধার্ত হলেন।
MAR 11:13 দূরে একটি পাতায় ভরা ডুমুর গাছ দেখে, তাতে কোনো ফল আছে কি না, তিনি তা খুঁজতে গেলেন। তিনি গাছটির কাছে গিয়ে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না, কারণ তখন ডুমুরের মরশুম ছিল না।
MAR 11:14 তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, “তোমার ফল কেউ যেন আর কখনও না খায়।” শিষ্যেরা তাঁকে একথা বলতে শুনলেন।
MAR 11:15 জেরুশালেমে পৌঁছে যীশু মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলেন এবং যারা সেখানে কেনাবেচা করছিল, তাদের তাড়িয়ে দিতে লাগলেন। তিনি মুদ্রা-বিনিময়কারীদের টেবিল ও পায়রা-বিক্রেতাদের বেঞ্চি উল্টে দিলেন।
MAR 11:16 মন্দির-প্রাঙ্গণ দিয়ে তিনি কাউকে বিক্রি করার কোনো কিছু নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন না।
MAR 11:17 তিনি তাদের বললেন, “একথা কি লেখা নেই, ‘আমার গৃহ সর্বজাতির প্রার্থনা-গৃহরূপে আখ্যাত হবে’? কিন্তু তোমরা একে ‘দস্যুদের গহ্বরে পরিণত করেছ।’”
MAR 11:18 প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা একথা শুনতে পেয়ে, তাঁকে হত্যা করার পথ খুঁজতে লাগল। কিন্তু তারা তাঁকে ভয় করত, কারণ লোকসকল তার উপদেশে চমৎকৃত হয়েছিল।
MAR 11:19 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যীশু ও তাঁর শিষ্যরা নগরের বাইরে চলে গেলেন।
MAR 11:20 সকালবেলা, পথে যাওয়ার সময় তাঁরা দেখলেন, সেই ডুমুর গাছটি সমূলে শুকিয়ে গেছে।
MAR 11:21 সব কথা তখন পিতরের মনে পড়ল, আর তিনি যীশুকে বললেন, “রব্বি দেখুন, যে ডুমুর গাছটিকে আপনি অভিশাপ দিয়েছিলেন, সেটি শুকিয়ে গেছে।”
MAR 11:22 যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখো।
MAR 11:23 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কেউ যদি এই পর্বতটিকে বলে, ‘যাও, উপড়ে গিয়ে সমুদ্রে পড়ো,’ কিন্তু তার মনে কোনো সন্দেহ পোষণ না করে বিশ্বাস করে যে, সে যা বলেছে, তাই ঘটবে, তার জন্য সেরকমই করা হবে।
MAR 11:24 সেই কারণে আমি তোমাদের বলছি, তোমরা প্রার্থনায় যা কিছু চাও, বিশ্বাস করো যে তোমরা তা পেয়ে গিয়েছ, তবে তোমাদের জন্য সেরকমই হবে।
MAR 11:25 আর তোমরা যখন প্রার্থনা করার জন্য দাঁড়াও, যদি কারও বিরুদ্ধে তোমাদের কোনও ক্ষোভ থাকে, তাকে ক্ষমা করো,
MAR 11:26 যেন তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করেন।”
MAR 11:27 তাঁরা পুনরায় জেরুশালেমে এলেন। যীশু যখন মন্দির চত্বরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গ তাঁর কাছে এল।
MAR 11:28 তারা প্রশ্ন করল, “তুমি কোন অধিকারে এসব কাজ করছ? আর এসব করার অধিকারই বা কে তোমাকে দিল?”
MAR 11:29 যীশু উত্তর দিলেন, “আমিও তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। আমাকে উত্তর দাও, তাহলে আমিও তোমাদের বলব, আমি কোন অধিকারে এসব করছি।
MAR 11:30 আমাকে বলো, যোহনের বাপ্তিষ্ম স্বর্গ থেকে হয়েছিল, না মানুষের কাছ থেকে?”
MAR 11:31 তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করে বলল, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তাহলে তোমরা তাকে বিশ্বাস করোনি কেন?’
MAR 11:32 কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষের কাছ থেকে’…” (তারা জনসাধারণকে ভয় করত, কারণ প্রত্যেকে যোহনকে প্রকৃত ভাববাদী বলেই মনে করত।)
MAR 11:33 তাই তারা যীশুকে উত্তর দিল, “আমরা জানি না।” যীশু বললেন, “তাহলে, আমিও কোন অধিকারে এসব কাজ করছি, তা তোমাদের বলব না।”
MAR 12:1 যীশু তখন বিভিন্ন রূপকের আশ্রয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন: “এক ব্যক্তি একটি দ্রাক্ষাক্ষেত স্থাপন করলেন। তিনি তাঁর চারপাশে একটি প্রাচীর নির্মাণ করলেন; দ্রাক্ষা পেষাই করার জন্য গর্ত খুঁড়লেন এবং পাহারা দেওয়ার জন্য এক উঁচু মিনার নির্মাণ করলেন। তারপর কয়েকজন ভাগচাষিকে দ্রাক্ষাক্ষেতটি ভাড়া দিয়ে তিনি এক যাত্রাপথে চলে গেলেন।
MAR 12:2 পরে ফল কাটার সময় উপস্থিত হলে, তিনি তাঁর এক দাসকে ফলের অংশ সংগ্রহের জন্য দ্রাক্ষাক্ষেতে ভাগচাষিদের কাছে পাঠালেন।
MAR 12:3 কিন্তু তারা তাকে মারধর করল ও শূন্য হাতে তাকে ফিরিয়ে দিল।
MAR 12:4 তারপর তিনি অন্য এক দাসকে তাদের কাছে পাঠালেন; তারা সেই দাসের মাথায় আঘাত করল ও তার সঙ্গে নির্লজ্জ আচরণ করল।
MAR 12:5 তিনি তবুও আর একজনকে পাঠালেন, তারা তাকে হত্যা করল। তিনি আরও অনেকজনকে পাঠালেন, তাদের কাউকে কাউকে তারা মারধর করল, অন্যদের হত্যা করল।
MAR 12:6 “তখন তাঁর কাছে অবশিষ্ট ছিলেন আর একজন মাত্র ব্যক্তি, তিনি তাঁর প্রিয়তম পুত্র। সকলের শেষে তিনি একথা বলে তাঁকেই পাঠালেন, ‘তারা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।’
MAR 12:7 “কিন্তু ভাগচাষিরা পরস্পরকে বলল, ‘এই হচ্ছে উত্তরাধিকারী! এসো, আমরা একে হত্যা করি, তাহলে মালিকানা আমাদের হবে।’
MAR 12:8 তাই তারা তাঁকে ধরে হত্যা করল ও দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিল।
MAR 12:9 “দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক তখন কী করবেন? তিনি এসে ওইসব ভাগচাষিদের হত্যা করবেন এবং দ্রাক্ষাক্ষেতটি অন্যদের দেবেন।
MAR 12:10 তোমরা কি শাস্ত্রে পাঠ করোনি, “ ‘গাঁথকেরা যে পাথর অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল কোণের প্রধান পাথর;
MAR 12:11 প্রভুই এরকম করেছেন, আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য।’ ”
MAR 12:12 তখন প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও প্রাচীনবর্গ যীশুকে গ্রেপ্তার করার কোনো উপায় খুঁজতে লাগল, কারণ তারা জানত, রূপক কাহিনিটি তিনি তাদের বিরুদ্ধেই বলেছেন। কিন্তু তারা জনসাধারণকে ভয় পেত; তাই তারা তাঁকে ছেড়ে চলে গেল।
MAR 12:13 এরপর তারা কয়েকজন ফরিশী ও হেরোদীয়কে যীশুর কাছে পাঠাল, যেন তাঁর কথাতেই তারা তাঁকে ধরার সূত্র খুঁজে পায়।
MAR 12:14 তারা তাঁর কাছে এসে বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা জানি, আপনি একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ। কোনো মানুষের দ্বারা আপনি প্রভাবিত হন না, তাদের কারও বিষয়ে আপনি কোনো ভ্রূক্ষেপ করেন না। বরং আপনি সত্য অনুযায়ী ঈশ্বরের পথের বিষয়ে শিক্ষা দেন। আপনার অভিমত কী, কৈসরকে কর দেওয়া কি উচিত?
MAR 12:15 আমরা কি কর দেব না দেব না?” যীশু কিন্তু তাদের ভণ্ডামির কথা বুঝতে পারলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কেন আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছ? তোমরা আমার কাছে এক দিনার মুদ্রা নিয়ে এসো ও আমাকে তা দেখতে দাও।”
MAR 12:16 তারা সেই মুদ্রা নিয়ে এল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এটি কার প্রতিকৃতি? খোদাই করা এই নাম কার?” তারা উত্তর দিল, “কৈসরের।”
MAR 12:17 তখন যীশু তাদের বললেন, “যা কৈসরের, তা কৈসরকে দাও, আর যা ঈশ্বরের, তা ঈশ্বরকে দাও।” এতে তারা তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্মিত হল।
MAR 12:18 তখন সদ্দূকীরা, যারা বলে পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, একটি প্রশ্ন নিয়ে তাঁর কাছে এল।
MAR 12:19 তারা বলল, “গুরুমহাশয়, মোশি আমাদের জন্য লিখে গেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে সন্তানহীন রেখে মারা যায়, তবে তার ভাই, তার বিধবা পত্নীকে বিবাহ করবে এবং সে তার বড়ো ভাইয়ের জন্য সন্তানের জন্ম দেবে।
MAR 12:20 মনে করুন, সাতজন ভাই ছিল। প্রথমজন বিবাহ করল ও নিঃসন্তান অবস্থায় তার স্ত্রীকে রেখে মারা গেল।
MAR 12:21 দ্বিতীয়জন সেই বিধবাকে বিবাহ করল, কিন্তু সেও নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল। তৃতীয় জনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।
MAR 12:22 প্রকৃতপক্ষে, সেই সাতজনের কেউই কোনো সন্তান রেখে যেতে পারল না। অবশেষে সেই স্ত্রীরও মৃত্যু হল।
MAR 12:23 তাহলে, পুনরুত্থানে সে কার স্ত্রী হবে, কারণ সাতজনই তো তাকে বিবাহ করেছিল?”
MAR 12:24 যীশু উত্তর দিলেন, “এই কি তোমাদের ভ্রান্তির কারণ নয়, কারণ তোমরা শাস্ত্র জানো না, ঈশ্বরের পরাক্রমও জানো না?
MAR 12:25 মৃতেরা যখন উত্থিত হয়, তখন তারা বিবাহ করে না, বা তাদের বিবাহ দেওয়াও হয় না। তারা স্বর্গলোকের দূতগণের মতো হয়।
MAR 12:26 কিন্তু মৃতদের উত্থান সম্পর্কে মোশির গ্রন্থে জ্বলন্ত ঝোপের বৃত্তান্তে কী লেখা আছে, তা কি তোমরা পাঠ করোনি? ঈশ্বর কীভাবে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর?’
MAR 12:27 তিনি মৃতদের ঈশ্বর নন, তিনি জীবিতদের ঈশ্বর। তোমরা চরম বিভ্রান্তিতে আছ।”
MAR 12:28 শাস্ত্রবিদদের মধ্যে একজন এসে তাদের তর্কবিতর্ক করতে শুনলেন। যীশু তাদের ভালো উত্তর দিয়েছেন লক্ষ্য করে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সব আজ্ঞার মধ্যে কোনটি সর্বাপেক্ষা মহৎ?”
MAR 12:29 যীশু উত্তর দিলেন, “সব থেকে মহৎ আজ্ঞাটি হল এই, ‘হে ইস্রায়েল শোনো, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একই প্রভু।
MAR 12:30 তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করবে।’
MAR 12:31 দ্বিতীয়টি হল, ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই প্রেম করবে।’ এগুলির থেকে আর বড়ো কোনও আজ্ঞা নেই।”
MAR 12:32 “গুরুমহাশয়, আপনি বেশ বলেছেন,” শাস্ত্রবিদ উত্তর দিলেন। “আপনি যথার্থই বলেছেন যে, ঈশ্বর একই প্রভু এবং তিনি ছাড়া আর অন্য কেউ নেই।
MAR 12:33 সমস্ত হৃদয়, সমস্ত উপলব্ধি ও সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসা এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো প্রেম করা, সমস্ত হোম ও বলিদানের চেয়েও বেশি মহত্ত্বপূর্ণ।”
MAR 12:34 যীশু দেখলেন, তিনি বিজ্ঞতার সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন, তাই তিনি তাকে বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্য থেকে তুমি দূরে নও।” সেই সময় থেকে কেউ তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন করতে সাহস পেল না।
MAR 12:35 মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “শাস্ত্রবিদরা কী করে বলে যে, খ্রীষ্ট দাউদের পুত্র?
MAR 12:36 দাউদ স্বয়ং পবিত্র আত্মার আবেশে একথা ঘোষণা করেছেন, “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, “তুমি আমার ডানদিকে বসো, যতক্ষণ না তোমার শত্রুদের আমি তোমার পদানত করি।” ’
MAR 12:37 স্বয়ং দাউদ তাঁকে ‘প্রভু’ বলে অভিহিত করেছেন, তাহলে কীভাবে তিনি তাঁর সন্তান হতে পারেন?” বিস্তর লোক আনন্দের সঙ্গে তাঁর কথা শুনছিল।
MAR 12:38 শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু তাদের বললেন, “শাস্ত্রবিদদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। তারা লম্বা লম্বা পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে ও হাটেবাজারে সম্ভাষিত হতে ভালোবাসে।
MAR 12:39 তারা সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন পেতে ও ভোজসভায় সব থেকে সম্মানজনক আসন লাভ করতে ভালোবাসে।
MAR 12:40 তারা বিধবাদের বাড়িশুদ্ধ গ্রাস করে এবং লোক-দেখানো লম্বা লম্বা প্রার্থনা করে। এই ধরনের লোকেরা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।”
MAR 12:41 যেখানে দান সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যীশু তার উল্টোদিকে বসে দেখছিলেন, লোকেরা কীভাবে মন্দিরের ভাণ্ডারে অর্থ দান করছে। বহু ধনী ব্যক্তি প্রচুর সব মুদ্রা সেখানে রাখছিল।
MAR 12:42 কিন্তু একজন দরিদ্র বিধবা এসে তার মধ্যে খুব ছোটো দুটি তামার পয়সা রাখল, যার মূল্য সিকি পয়সা মাত্র।
MAR 12:43 যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে ডেকে বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই দরিদ্র বিধবা, অন্য সবার চেয়ে বেশি অর্থ ভাণ্ডারে দিয়েছে।
MAR 12:44 তারা সবাই তাদের প্রাচুর্য থেকে দান করেছে, কিন্তু সে তার দরিদ্রতা সত্ত্বেও, তার বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু ছিল, তা থেকে সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছে।”
MAR 13:1 তিনি যখন মন্দির ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁর শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁকে বললেন, “গুরুমহাশয়, দেখুন! পাথরগুলি কেমন বিশাল! কেমন অপরূপ সব ভবন!”
MAR 13:2 উত্তরে যীশু বললেন, “তোমরা কি বিশাল এসব ভবন দেখছ? এদের একটি পাথরও অন্যটির উপরে থাকবে না, সবকটিকেই ভূমিসাৎ করা হবে।”
MAR 13:3 মন্দিরের বিপরীত দিকে যীশু যখন জলপাই পর্বতে বসেছিলেন, পিতর, যাকোব, যোহন ও আন্দ্রিয় তাঁকে একান্তে জিজ্ঞাসা করলেন,
MAR 13:4 “কখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটবে, আমাদের বলুন। আর এগুলি পূর্ণ হওয়ার চিহ্নই বা কী হবে?”
MAR 13:5 যীশু তাঁদের বললেন, “সতর্ক থেকো, কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে।
MAR 13:6 অনেকে এসে আমার নামে দাবি করবে, ‘আমিই সেই,’ আর এভাবে বহু মানুষকে ঠকাবে।
MAR 13:7 তোমরা যখন যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের সব জনরব শুনবে, তখন আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না। এ সমস্ত বিষয় অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও অন্তিমলগ্ন উপস্থিত হয়নি।
MAR 13:8 এক জাতি অন্য জাতির বিপক্ষে, এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিপক্ষে অভিযান করবে। বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হবে ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। কিন্তু এসব প্রসব যন্ত্রণার সূচনা মাত্র।
MAR 13:9 “তোমরা অবশ্যই নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমাদেরকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে ও সমাজভবনগুলিতে চাবুক মারা হবে। আমার কারণে তোমাদের বিভিন্ন প্রদেশপাল ও রাজাদের কাছে দাঁড়াতে হবে, তাদের কাছে তোমরা আমার সাক্ষীস্বরূপ হবে।
MAR 13:10 আর প্রথমে সমস্ত জাতির কাছে সুসমাচার প্রচারিত হবে।
MAR 13:11 যখনই তোমাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য নিয়ে আসা হবে, কী বলবে, তা নিয়ে আগে থেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হোয়ো না। সেই সময়ে তোমাদের যা দেওয়া হবে, কেবলমাত্র তাই বোলো, কারণ তোমরা যে কথা বলবে, এমন নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মাই বলবেন।
MAR 13:12 “ভাই ভাইকে ও পিতা সন্তানকে প্রতারিত করবে; ছেলেমেয়েরা বাবা-মার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে তাদের মৃত্যুর উদ্দেশে সমর্পণ করবে।
MAR 13:13 আমার কারণে সব মানুষ তোমাদের ঘৃণা করবে, কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।
MAR 13:14 “যখন তোমরা দেখবে, ‘ধ্বংসের কারণস্বরূপ সেই ঘৃণ্য বস্তু’ যেখানে তার দাঁড়াবার অধিকার নেই, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে, তখন যারা যিহূদিয়ায় থাকে, তারা পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যাক।
MAR 13:15 তখন ছাদের উপরে যে থাকবে, সে যেন কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য নিচে নেমে না আসে, বা ঘরে প্রবেশ না করে।
MAR 13:16 মাঠে যে থাকবে, সে যেন জামাকাপড় নেওয়ার জন্য ঘরে ফিরে না যায়।
MAR 13:17 সেই সময় গর্ভবতী নারীদের ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের কতই না ভয়ংকর কষ্ট হবে!
MAR 13:18 প্রার্থনা কোরো, যেন এই ঘটনা শীতকালে না ঘটে।
MAR 13:19 কারণ সেইসব দিনের দুঃসহ যন্ত্রণার কোনও তুলনা হবে না, ঈশ্বরের জগৎ সৃষ্টির সময় থেকে সেরকম কখনও হয়নি, বা আর কখনও হবেও না।
MAR 13:20 “প্রভু যদি সেই সমস্ত দিনের সংখ্যা কমিয়ে না দিতেন, তাহলে কোনো মানুষই রক্ষা পেত না। কিন্তু যাদের তিনি মনোনীত করেছেন ও বেছে নিয়েছেন, তাঁদের জন্য তিনি সেইসব দিনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।
MAR 13:21 সেই সময় কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, খ্রীষ্ট এখানে,’ বা ‘দেখো, তিনি ওখানে,’ সেকথা তোমরা বিশ্বাস কোরো না।
MAR 13:22 কারণ ভণ্ড খ্রীষ্টেরা ও ভণ্ড ভাববাদীরা উপস্থিত হয়ে বহু চিহ্ন ও অলৌকিক কাজ করে দেখাবে, যেন সম্ভব হলে মনোনীতদেরও প্রতারিত করতে পারে।
MAR 13:23 তাই, সতর্ক থেকো, সময়ের আগেই আমি তোমাদের সবকিছু জানালাম।
MAR 13:24 “কিন্তু সেই সমস্ত দিনে, সেই বিপর্যয়ের শেষে, “ ‘সূর্য অন্ধকারে ঢেকে যাবে, চাঁদ তার আলো দেবে না;
MAR 13:25 আকাশ থেকে নক্ষত্রসমূহের পতন হবে, আর জ্যোতিষ্কমণ্ডলী প্রকম্পিত হবে।’
MAR 13:26 “সেই সময়ে লোকেরা মনুষ্যপুত্রকে মহাপরাক্রমে ও মহিমায় মেঘে করে আসতে দেখবে।
MAR 13:27 তিনি তাঁর দূতদের পাঠাবেন এবং তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের সংগ্রহ করবেন।
MAR 13:28 “এখন ডুমুর গাছ থেকে এই শিক্ষাগ্রহণ করো: যখনই এর শাখায় কোমল পল্লব ও পাতা বের হয়ে আসে, তোমরা বুঝতে পারো যে, গ্রীষ্মকাল কাছে এসেছে।
MAR 13:29 সেভাবে, তোমরা যখন এসব বিষয় ঘটতে দেখবে, তোমরা জানবে যে, সময় হয়ে এসেছে, এমনকি, তিনি দুয়ারে উপস্থিত হয়েছেন।
MAR 13:30 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই সমস্ত ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত বর্তমান প্রজন্ম লুপ্ত হবে না।
MAR 13:31 আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্য কখনও লুপ্ত হবে না।
MAR 13:32 “কিন্তু সেই দিন বা ক্ষণের কথা কেউই জানে না, এমনকি স্বর্গদূতেরা বা পুত্রও জানেন না, কেবলমাত্র পিতা জানেন।
MAR 13:33 সতর্ক হও! তোমরা সজাগ থেকো! কারণ তোমরা জানো না সেই সময় কখন আসবে।
MAR 13:34 এ যেন কোনো ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন; তিনি তাঁর বাড়ি ত্যাগ করে তাঁর দাসদের উপরে সমস্ত দায়িত্ব দিলেন। তিনি প্রত্যেককে তার নির্দিষ্ট কাজ দিলেন এবং দ্বাররক্ষীকে সতর্ক পাহারা দিতে বললেন।
MAR 13:35 “সেই কারণে, সজাগ থেকো, কারণ তোমরা জানো না, বাড়ির কর্তা কখন ফিরে আসবেন—সন্ধ্যায়, না মধ্যরাত্রে, মোরগ ডাকার সময়, নাকি সকালবেলায়।
MAR 13:36 তিনি যদি হঠাৎ এসে উপস্থিত হন, তোমাদের যেন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে না পান।
MAR 13:37 আমি তোমাদের যা কিছু বলি, তা সবাইকেই বলি: ‘তোমরা সজাগ থেকো।’ ”
MAR 14:1 নিস্তারপর্ব ও খামিরবিহীন রুটির পর্ব শুরু হতে আর মাত্র দু-দিন বাকি ছিল। প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা সুকৌশলে যীশুকে গ্রেপ্তার ও হত্যা করার জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
MAR 14:2 তারা বলল, “কিন্তু পর্বের সময়ে নয়, তাতে লোকদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যেতে পারে।”
MAR 14:3 যীশু যখন বেথানিতে কুষ্ঠরোগী শিমোন নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে আসনে হেলান দিয়ে বসেছিলেন, তখন একজন নারী, একটি শ্বেতস্ফটিকের পাত্রে বিশুদ্ধ জটামাংসীর নির্যাসে তৈরি বহুমূল্য সুগন্ধি তেল নিয়ে এল। সে পাত্রটি ভেঙে তাঁর মাথায় সেই সুগন্ধি তেল ঢেলে দিল।
MAR 14:4 উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ বিরক্তির স্বরে বলল, “সুগন্ধিদ্রব্যের এই অপচয় কেন?
MAR 14:5 এটি বিক্রি করে তো তিনশো দিনারেরও বেশি অর্থ পাওয়া যেত ও দরিদ্রদের দান করা যেত।” তারা রূঢ়ভাবে তাকে তিরস্কার করল।
MAR 14:6 যীশু বললেন, “ওকে ছেড়ে দাও। তোমরা কেন ওকে উত্যক্ত করছ? ও আমার প্রতি এক অপূর্ব কাজ করেছে।
MAR 14:7 দরিদ্রদের তোমরা সবসময়ই সঙ্গে পাবে, আর তোমরা চাইলে যে কোনো সময় তাদের সাহায্য করতে পারো। কিন্তু আমাকে তোমরা সবসময় পাবে না।
MAR 14:8 সে তার সাধ্যমতোই কাজ করেছে। সে আগে থেকেই আমার শরীরে সুগন্ধিদ্রব্য ঢেলে দিয়ে আমার দেহকে সমাধির জন্য প্রস্তুত করেছে।
MAR 14:9 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সমস্ত জগতে, যেখানেই সুসমাচার প্রচারিত হবে, সে যা করেছে, স্মৃতির উদ্দেশে তার সেই কাজের কথাও বলা হবে।”
MAR 14:10 তখন সেই বারোজনের একজন, যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ যীশুকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধান যাজকদের কাছে গেল।
MAR 14:11 তারা একথা শুনে আনন্দিত হয়ে তাকে টাকা দিতে প্রতিশ্রুতি দিল। তাই সে তাঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগল।
MAR 14:12 খামিরবিহীন রুটির পর্বের প্রথম দিনে, যখন নিস্তারপর্বের মেষশাবক বলিদান করার প্রথা ছিল, যীশুর শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা কোথায় গিয়ে আপনার জন্য নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করব? আপনার ইচ্ছা কী?”
MAR 14:13 তাই তিনি তাঁর দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন, “তোমরা ওই নগরে যাও। সেখানে দেখবে, এক ব্যক্তি জলের একটি কলশি নিয়ে যাচ্ছে। তোমরা তাকে অনুসরণ কোরো।
MAR 14:14 যে বাড়িতে সে প্রবেশ করবে, সেই গৃহকর্তাকে তোমরা বোলো, ‘গুরুমহাশয় জানতে চান, অতিথিদের জন্য আমার সেই নির্দিষ্ট ঘরটি কোথায়, যেখানে আমি আমার শিষ্যদের নিয়ে নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করতে পারি?’
MAR 14:15 সে তোমাদের উপরতলায় একটি বড়ো ঘর দেখাবে। তা সুসজ্জিত ও প্রস্তুত অবস্থায় আছে। আমাদের জন্য সেখানেই সব আয়োজন কোরো।”
MAR 14:16 সেই শিষ্যেরা বেরিয়ে পড়লেন। নগরে প্রবেশ করে যীশু তাঁদের যেমন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই তাঁরা সবকিছু দেখতে পেলেন। তাই তাঁরা সেখানেই নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করলেন।
MAR 14:17 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যীশু সেই বারোজনের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হলেন।
MAR 14:18 আসনে হেলান দিয়ে তাঁরা যখন আহার করছিলেন, তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে—সে আমারই সঙ্গে আহার করছে।”
MAR 14:19 তাঁরা দুঃখিত হলেন এবং এক এক করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সে নিশ্চয়ই আমি নই?”
MAR 14:20 তিনি উত্তর দিলেন, “সে এই বারোজনের মধ্যেই একজন, যে আমার সঙ্গে খাবারের পাত্রে রুটি ডুবালো।
MAR 14:21 মনুষ্যপুত্রের বিষয়ে যে রকম লেখা আছে, তেমনই তিনি চলে যাবেন, কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে মনুষ্যপুত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে! তার জন্ম না হলেই বরং তার পক্ষে ভালো হত।”
MAR 14:22 তাঁরা যখন আহার করছিলেন, যীশু রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও তা ভাঙলেন। আর তিনি তাঁর শিষ্যদের দিলেন ও বললেন, “তোমরা নাও; এ আমার শরীর।”
MAR 14:23 তারপর তিনি পানপাত্রটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও তাঁদের সেটি দিলেন। তাঁরা সবাই তা থেকে পান করলেন।
MAR 14:24 তিনি তাঁদের বললেন, “এ আমার রক্ত, নতুন নিয়মের রক্ত, যা অনেকের জন্য পাতিত হয়েছে।
MAR 14:25 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, ঈশ্বরের রাজ্যে আমি নতুন করে পান না করা পর্যন্ত দ্রাক্ষারস আর কখনও পান করব না।”
MAR 14:26 পরে তাঁরা একটি গান করে সেখান থেকে বের হয়ে জলপাই পর্বতে গেলেন।
MAR 14:27 যীশু তাদের বললেন, “তোমরা সবাই আমাকে ছেড়ে যাবে, কারণ এরকম লেখা আছে: “ ‘আমি মেষপালককে আঘাত করব, এতে মেষেরা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়বে।’
MAR 14:28 কিন্তু আমি উত্থিত হলে পর, আমি তোমাদের আগেই গালীলে পৌঁছাব।”
MAR 14:29 পিতর তাঁকে বললেন, “সবাই আপনাকে ছেড়ে গেলেও, আমি যাব না।”
MAR 14:30 যীশু উত্তরে বললেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজই—হ্যাঁ, আজ রাত্রিবেলায়—দু-বার মোরগ ডাকার আগেই, তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।”
MAR 14:31 কিন্তু পিতর আরও জোরের সঙ্গে বললেন, “আপনার সঙ্গে যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হয়, তাহলেও আমি আপনাকে কখনোই অস্বীকার করব না।” আর বাকি সকলেও একই কথা বললেন।
MAR 14:32 পরে তাঁরা গেৎশিমানি নামে পরিচিত একটি স্থানে গেলেন। আর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “আমি যখন প্রার্থনা করি, তোমরা এখানে বসে থাকো।”
MAR 14:33 তিনি পিতর, যাকোব ও যোহনকে তাঁর সঙ্গে নিলেন এবং গভীর মর্মবেদনাগ্রস্ত ও উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠলেন।
MAR 14:34 তিনি তাঁদের বললেন, “আমার প্রাণ মৃত্যু পর্যন্ত দুঃখার্ত হয়েছে। তোমরা এখানে থাকো, এবং জেগে থাকো।”
MAR 14:35 আরও কিছু দূর এগিয়ে গিয়ে, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রার্থনা করলেন, যেন সম্ভব হলে সেই লগ্ন তাঁর কাছ থেকে দূর করা হয়।
MAR 14:36 তিনি বললেন, “আব্বা, পিতা, তোমার পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। তবুও আমার ইচ্ছা অনুযায়ী নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা অনুযায়ী হোক।”
MAR 14:37 তারপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি পিতরকে বললেন, “শিমোন, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ? তুমি এক ঘণ্টাও জেগে থাকতে পারলে না?
MAR 14:38 জেগে থাকো ও প্রার্থনা করো, যেন প্রলোভনে না পড়ো। আত্মা ইচ্ছুক, কিন্তু শরীর দুর্বল।”
MAR 14:39 আর একবার তিনি দূরে গিয়ে সেই একই প্রার্থনা করলেন।
MAR 14:40 যখন তিনি ফিরে এলেন, তিনি আবার তাঁদের ঘুমাতে দেখলেন, কারণ তাঁদের চোখের পাতা ভারী হয়ে উঠেছিল। তাঁরা তাঁকে কী বলবেন, বুঝতে পারলেন না।
MAR 14:41 তৃতীয়বার তিনি ফিরে এসে তাঁদের বললেন, “তোমরা কি এখনও ঘুমিয়ে আছ ও বিশ্রাম করছ? যথেষ্ট হয়েছে! সময় হয়েছে। দেখো, মনুষ্যপুত্রকে পাপীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
MAR 14:42 ওঠো! চলো আমরা যাই! দেখো, আমার বিশ্বাসঘাতক এসে পড়েছে।”
MAR 14:43 তিনি তখনও কথা বলছেন, সেই সময় বারোজনের অন্যতম যিহূদা এসে উপস্থিত হল। তার সঙ্গে ছিল একদল সশস্ত্র লোক, তাদের হাতে ছিল তরোয়াল ও লাঠিসোঁটা। প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও লোকসমূহের প্রাচীনবর্গ তাদের পাঠিয়েছিল।
MAR 14:44 সেই বিশ্বাসঘাতক তাদের এই সংকেত দিয়ে রেখেছিল, “যাকে আমি চুম্বন করব, সেই ওই ব্যক্তি; তাকে গ্রেপ্তার কোরো ও সতর্ক পাহারা দিয়ে নিয়ে যেয়ো।”
MAR 14:45 সেই মুহূর্তেই যীশুর কাছে গিয়ে যিহূদা বলল, “রব্বি!” আর তাঁকে চুম্বন করল।
MAR 14:46 সেই লোকেরা যীশুকে ধরল ও তাঁকে গ্রেপ্তার করল।
MAR 14:47 যারা আশেপাশে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের মধ্যে একজন তার তরোয়াল বের করে মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার একটি কান কেটে ফেলল।
MAR 14:48 যীশু বললেন, “আমি কি কোনও বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছি যে, তোমরা তরোয়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ?
MAR 14:49 প্রতিদিন আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে মন্দির চত্বরে বসে শিক্ষা দিয়েছি, তখন তো তোমরা আমাকে গ্রেপ্তার করোনি। কিন্তু শাস্ত্রবাণী অবশ্যই পূর্ণ হতে হবে।”
MAR 14:50 তখন সকলে তাঁকে ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন।
MAR 14:51 আর একজন যুবক, কোনো কিছু না-পরে, কেবলমাত্র একটি মসিনার কাপড় গায়ে জড়িয়ে যীশুকে অনুসরণ করছিল।
MAR 14:52 তারা তাকে ধরলে, সে তার পোশাক ফেলে নগ্ন অবস্থাতেই পালিয়ে গেল।
MAR 14:53 তারা যীশুকে মহাযাজকের কাছে নিয়ে গেল। আর সব প্রধান যাজকেরা, লোকদের প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা সমবেত হয়েছিল।
MAR 14:54 পিতর দূর থেকে তাঁকে অনুসরণ করে মহাযাজকের উঠান পর্যন্ত চলে গেলেন। সেখানে তিনি প্রহরীদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন।
MAR 14:55 প্রধান যাজকেরা ও সমস্ত মহাসভা যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ খুঁজছিল, কিন্তু তারা সেরকম কিছুই পেল না।
MAR 14:56 অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল ঠিকই, কিন্তু তাদের সাক্ষ্যের মধ্যে কোনও মিল ছিল না।
MAR 14:57 তখন কয়েকজন উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা সাক্ষ্য দিল:
MAR 14:58 “আমরা একে বলতে শুনেছি, ‘মানুষের তৈরি এই মন্দির আমি ধ্বংস করতে ও তিনদিনের মধ্যে আর একটি মন্দির নির্মাণ করতে পারি, যা মানুষের তৈরি নয়।’ ”
MAR 14:59 তবুও, এই সাক্ষ্যের মধ্যেও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া গেল না।
MAR 14:60 তখন মহাযাজক তাদের সামনে উঠে দাঁড়ালেন ও যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি উত্তর দেবে না? তোমার বিরুদ্ধে এরা যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ এনেছে, সেগুলি কী?”
MAR 14:61 যীশু তবুও নীরব রইলেন, কোনও উত্তর দিলেন না। মহাযাজক তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমিই কি সেই খ্রীষ্ট, পরমধন্য ঈশ্বরের পুত্র?”
MAR 14:62 যীশু বললেন, “আমিই তিনি। আর তোমরা মনুষ্যপুত্রকে সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ডানদিকে বসে থাকতে ও স্বর্গের মেঘে করে আসতে দেখবে।”
MAR 14:63 তখন মহাযাজক তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। তিনি বললেন, “আমাদের আর সাক্ষ্য-প্রমাণের কী প্রয়োজন?
MAR 14:64 তোমরা তো ঈশ্বরনিন্দা শুনলে। তোমাদের অভিমত কী?” তারা সবাই যীশুকে অপরাধী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য বলে রায় দিল।
MAR 14:65 তখন কেউ কেউ তাঁর গায়ে থুতু দিল, তারা তাঁর চোখ বেঁধে তাঁকে ঘুসি মারল ও বলল, “ভাববাণী বল!” আর প্রহরীরা তাঁকে নিয়ে গিয়ে প্রহার করতে লাগল।
MAR 14:66 পিতর যখন নিচে উঠানে ছিলেন, মহাযাজকের একজন দাসী তাঁর কাছে এল।
MAR 14:67 পিতরকে আগুন পোহাতে দেখে সে তাঁকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। সে বলল, “তুমিও ওই নাসরতীয় যীশুর সঙ্গে ছিলে।”
MAR 14:68 কিন্তু তিনি সেই কথা অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন, “তুমি কী বলছ, তা আমি জানি না, বুঝতেও পারছি না।” এরপর তিনি প্রবেশদ্বারের দিকে চলে গেলেন, আর তক্ষুনি মোরগ ডেকে উঠল।
MAR 14:69 সেই দাসী তাঁকে সেখানে দেখে তাঁর চারপাশের লোকদের আবার বলল, “এই লোকটিও ওদেরই একজন!”
MAR 14:70 তিনি আবার তা অস্বীকার করলেন। এর কিছুক্ষণ পরে, যারা পিতরের কাছে দাঁড়িয়েছিল, তারা বলল, “তুমি নিশ্চয় ওদেরই একজন, কারণ তুমি একজন গালীলীয়।”
MAR 14:71 তিনি নিজেকে অভিশাপ দিতে লাগলেন ও তাদের কাছে শপথ করে বললেন, “যাঁর সম্পর্কে আপনারা বলছেন, তাঁকে আমি চিনি না।”
MAR 14:72 সঙ্গে সঙ্গে মোরগ দ্বিতীয়বার ডেকে উঠল। তখন যীশু পিতরকে যে কথা বলেছিলেন, তাঁর তা মনে পড়ল: “মোরগ দু-বার ডাকার পূর্বে তুমি তিনবার আমাকে অস্বীকার করবে।” তখন তিনি অত্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
MAR 15:1 খুব ভোরবেলায়, প্রধান যাজকেরা, লোকদের প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা সমস্ত মহাসভার সঙ্গে এক সিদ্ধান্তে উপনীত হল। তারা যীশুকে বেঁধে পীলাতের কাছে নিয়ে গেল ও তাঁর হাতে তাঁকে সমর্পণ করল।
MAR 15:2 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমিই কি ইহুদিদের রাজা?” যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, ঠিক তাই, যেমন তুমি বললে।”
MAR 15:3 প্রধান যাজকেরা তাঁকে অনেক বিষয়ে অভিযুক্ত করল।
MAR 15:4 তাই পীলাত আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি উত্তর দেবে না? দেখো, ওরা তোমার বিরুদ্ধে কত অভিযোগ করছে।”
MAR 15:5 যীশু তবুও কোনো উত্তর দিলেন না দেখে পীলাত বিস্মিত হলেন।
MAR 15:6 লোকেদের পর্বের সময় সকলের অনুরোধে এক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল।
MAR 15:7 তখন বারাব্বা নামে এক ব্যক্তি অন্য কয়েকজন বিদ্রোহীর সঙ্গে কারারুদ্ধ ছিল। তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সময় নরহত্যাও করেছিল।
MAR 15:8 লোকেরা সামনে এসে পীলাতকে অনুরোধ করল, তিনি সাধারণত যা করে থাকেন, তাদের জন্য যেন তাই করেন।
MAR 15:9 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি চাও যে, ‘ইহুদিদের রাজাকে’ আমি তোমাদের জন্য মুক্ত করে দিই?”
MAR 15:10 কারণ তিনি জানতেন, প্রধান যাজকেরা ঈর্ষাবশত যীশুকে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল।
MAR 15:11 কিন্তু প্রধান যাজকেরা সকলকে উত্তেজিত করে পীলাতকে বলতে বলল যে তারা যেন বারাব্বার মুক্তি চায়।
MAR 15:12 পীলাত তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে, তোমরা যাকে ইহুদিদের রাজা বলো, তাকে নিয়ে আমি কী করব?”
MAR 15:13 তারা চিৎকার করে বলল, “ওকে ক্রুশে দিন!”
MAR 15:14 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন, ও কী অপরাধ করেছে?” কিন্তু তারা আরও জোরে চিৎকার করে বলতে লাগল, “ওকে ক্রুশে দিন!”
MAR 15:15 লোকসকলকে সন্তুষ্ট করার জন্য পীলাত তাদের কাছে বারাব্বাকে মুক্ত করে দিলেন। তিনি যীশুকে চাবুক দিয়ে প্রহার করিয়ে ক্রুশার্পিত করার জন্য সমর্পণ করলেন।
MAR 15:16 সৈন্যরা যীশুকে প্রাঙ্গণে, অর্থাৎ শাসক-ভবনের ভিতরে নিয়ে গেল। তারা সৈন্যবাহিনীর সবাইকে ডেকে একত্র করল।
MAR 15:17 তারা তাঁর গায়ে বেগুনি রংয়ের এক পোশাক পরিয়ে দিল। তারপর পাক দিয়ে একটি কাঁটার মুকুট গেঁথে তাঁর মাথায় পরিয়ে দিল।
MAR 15:18 তারা তাঁকে অভিবাদন করে বলতে লাগল, “ইহুদি-রাজ, নমস্কার!”
MAR 15:19 একটি নলখাগড়া দিয়ে বারবার তারা তাঁর মাথায় আঘাত করল ও তাঁর গায়ে থুতু দিল। তারপর তারা নতজানু হয়ে তাঁকে প্রণাম করল।
MAR 15:20 তাঁকে নিয়ে বিদ্রুপের পর্ব এভাবে শেষ হলে, তারা বেগুনি রংয়ের পোশাকটি খুলে নিল ও তাঁর নিজের পোশাক তাঁকে পরিয়ে দিল। তারপর তারা তাঁকে ক্রুশার্পিত করার জন্য নিয়ে গেল।
MAR 15:21 কুরীণ থেকে আগত শিমোন নামে জনৈক ব্যক্তি গ্রামাঞ্চল থেকে সেই পথে আসছিল। সে আলেকজান্ডার ও রূফের পিতা। তারা ক্রুশ বয়ে নিয়ে যেতে তাকে বাধ্য করল।
MAR 15:22 তারা যীশুকে গলগথা নামে একটি স্থানে নিয়ে এল (নামটির অর্থ, “মাথার খুলির স্থান”)।
MAR 15:23 সেখানে তারা যীশুকে গন্ধরস মেশানো দ্রাক্ষারস পান করতে দিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না।
MAR 15:24 এরপর তারা তাঁকে ক্রুশে দিল। তাঁর পোশাকগুলি ভাগ করে নিয়ে কে কোন অংশ নেবে, তার জন্য তারা গুটিকাপাত করল।
MAR 15:25 সকাল নয়টার সময় তারা তাঁকে ক্রুশে দিল।
MAR 15:26 তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র টাঙিয়ে দেওয়া হল: ইহুদিদের রাজা।
MAR 15:27 তারা তাঁর সঙ্গে আরও দুজন দস্যুকে ক্রুশার্পিত করল, একজনকে তাঁর ডানদিকে, অন্যজনকে তাঁর বাঁদিকে।
MAR 15:28 তখন এই শাস্ত্রীয় বাণী পূর্ণ হল, “তিনি অধর্মীদের সঙ্গে গণিত হলেন।”
MAR 15:29 যারা সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল, তারা মাথা নাড়তে নাড়তে তাঁকে অপমান করে বলতে লাগল, “তাহলে তুমিই সেই লোক, যে মন্দির ধ্বংস করে তিনদিনে তা পুনর্নির্মাণ করতে পারো!
MAR 15:30 এখন ক্রুশ থেকে নেমে এসো ও নিজেকে রক্ষা করো।”
MAR 15:31 একইভাবে প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরাও তাঁকে বিদ্রুপ করে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল; তারা বলল, “ও অন্যদের বাঁচাত, কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারে না।
MAR 15:32 এখন এই খ্রীষ্ট, ইস্রায়েলের রাজা, ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, যেন আমরাও তা দেখে বিশ্বাস করতে পারি।” যারা তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল, তারাও তাঁকে অনেক অপমান করল।
MAR 15:33 বেলা বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশে অন্ধকার ছেয়ে গেল।
MAR 15:34 আর বেলা তিনটের সময়, যীশু উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, “এলী, এলী, লামা শবক্তানী?” যার অর্থ, “ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ?”
MAR 15:35 সেখানে দাঁড়িয়েছিল এমন কয়েকজন যখন একথা শুনল, তারা বলল, “শোনো, ও এলিয়কে ডাকছে।”
MAR 15:36 আর একজন লোক দৌড়ে গিয়ে একটি স্পঞ্জ সিরকায় পূর্ণ করে, একটি নলখাগড়ার সাহায্যে যীশুকে পান করতে দিল। সে বলল, “ওকে ছেড়ে দাও, এসো দেখি, এলিয় ওকে নামাতে আসেন কি না।”
MAR 15:37 এরপর যীশু উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে তাঁর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
MAR 15:38 মন্দিরের পর্দাটি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চিরে দু-টুকরো হল।
MAR 15:39 আর যে শত-সেনাপতি সেখানে যীশুর সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর চিৎকার শুনে এবং তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করলেন, তা দেখে বলে উঠলেন, “নিশ্চিতরূপেই ইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন।”
MAR 15:40 কয়েকজন নারী দূর থেকে সব লক্ষ্য করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাগ্দালাবাসী মরিয়ম, কনিষ্ঠ যাকোব ও যোষির মা মরিয়ম ও শালোমি।
MAR 15:41 গালীলে এসব নারী তাঁকে অনুসরণ করে তাঁর পরিচর্যা করতেন। আরও অনেক নারী, যারা তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমে এসেছিলেন, তাঁরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
MAR 15:42 সেদিন ছিল প্রস্তুতির দিন (অর্থাৎ, বিশ্রামদিনের আগের দিন)। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে,
MAR 15:43 আরিমাথিয়ার যোষেফ, যিনি বিচার-পরিষদের একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন, তিনি সাহসের সঙ্গে পীলাতের কাছে গিয়ে যীশুর দেহটি চাইলেন। ইনি নিজেও ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতীক্ষায় ছিলেন।
MAR 15:44 যীশু ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন শুনে পীলাত বিস্মিত হলেন। শত-সেনাপতিকে তলব করে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সত্যিই এর মধ্যে যীশুর মৃত্যু হয়েছে কি না।
MAR 15:45 শত-সেনাপতির কাছে সেকথার সত্যতা জেনে তিনি যীশুর দেহটি যোষেফের হাতে তুলে দিলেন।
MAR 15:46 তাই যোষেফ কিছু লিনেন কাপড় কিনে আনলেন, দেহটি নামিয়ে লিনেন কাপড়ে আবৃত করলেন। তারপরে বড়ো পাথরে খোদিত এক সমাধিতে তা রাখলেন। পরে তিনি সমাধির প্রবেশপথে বড়ো একটি পাথর গড়িয়ে দিলেন।
MAR 15:47 কোথায় তাঁকে রাখা হল, তা মগ্দলিনী মরিয়ম ও যোষির মা মরিয়ম দেখতে পেলেন।
MAR 16:1 বিশ্রামদিন অতিক্রান্ত হলে, মাগ্দালাবাসী মরিয়ম, যাকোবের মা মরিয়ম ও শালোমি কিছু সুগন্ধিদ্রব্য কিনে নিয়ে এলেন, যেন যীশুর দেহে তা লেপন করতে পারেন।
MAR 16:2 সপ্তাহের প্রথম দিন, খুব ভোরবেলায়, সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পরেই তাঁরা সমাধির কাছে এলেন।
MAR 16:3 তাঁরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সমাধির প্রবেশমুখ থেকে কে পাথরখানা সরাবে?”
MAR 16:4 কিন্তু তাঁরা যখন চোখ তুলে তাকালেন, তাঁরা দেখলেন যে, অতি বিশাল সেই পাথরটিকে সরানো হয়েছে।
MAR 16:5 সমাধির মধ্যে প্রবেশ করা মাত্র, তাঁরা দেখলেন, সাদা পোশাক পরে এক যুবক ডানদিকে বসে আছেন। এতে তাঁরা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন।
MAR 16:6 তিনি বললেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না। তোমরা তো নাসরতীয় যীশুর অন্বেষণ করছ, যিনি ক্রুশার্পিত হয়েছিলেন। তিনি উত্থিত হয়েছেন! তিনি এখানে নেই। এই দেখো সেই স্থান, যেখানে তাঁর দেহ রাখা হয়েছিল।
MAR 16:7 কিন্তু তোমরা যাও, গিয়ে তাঁর শিষ্যদের ও পিতরকেও বলো, ‘তিনি তোমাদের আগেই গালীলে যাচ্ছেন। সেখানে তোমরা তাঁর দর্শন পাবে, যেমন তিনি তোমাদের বলেছিলেন।’ ”
MAR 16:8 ভীতকম্পিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সেই মহিলারা বাইরে গিয়ে সেই সমাধিস্থল থেকে পালিয়ে গেলেন। তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন বলে কাউকেই তাঁরা কিছু বললেন না।
MAR 16:9 সপ্তাহের প্রথম দিনে ভোরবেলায় যীশু উত্থিত হয়ে প্রথমে মাগ্দালাবাসী মরিয়মকে দর্শন দেন, যার মধ্য থেকে তিনি সাতটি ভূত দূর করেছিলেন।
MAR 16:10 তিনি গিয়ে যারা যীশুর সঙ্গে ছিলেন ও কান্নাকাটি এবং বিলাপ করছিলেন, তাঁদের কাছে সেই সংবাদ দিলেন।
MAR 16:11 তাঁরা যখন শুনলেন যে, যীশু জীবিত আছেন ও মরিয়ম তাঁকে দর্শন করেছেন, তাঁরা সেকথা বিশ্বাস করলেন না।
MAR 16:12 এরপর যীশু ভিন্ন রূপে অপর দুজন শিষ্যকে দর্শন দিলেন। তাঁরা পায়ে হেঁটে একটি গ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
MAR 16:13 তাঁরাও ফিরে এসে অন্য সবার কাছে সেকথা বললেন, কিন্তু তাঁরা তাদের কথাও বিশ্বাস করলেন না।
MAR 16:14 পরে এগারোজন শিষ্য যখন আহার করছিলেন, যীশু তাঁদের কাছে আবির্ভূত হলেন, তাঁদের বিশ্বাসের অভাব দেখে ও পুনরুত্থানের পরে যারা তাঁকে দেখেছিলেন, তাদের কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে রাজি না-হওয়াতে তিনি তাদের তিরস্কার করলেন।
MAR 16:15 তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা সমস্ত জগতে যাও ও সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার করো।
MAR 16:16 যে বিশ্বাস করে ও বাপ্তাইজিত হয়, সে পরিত্রাণ পাবে, কিন্তু যে বিশ্বাস করে না, তার শাস্তি হবে।
MAR 16:17 আর যারা বিশ্বাস করে, এই চিহ্নগুলি তাদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাবে: তারা আমার নামে ভূত তাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে,
MAR 16:18 তারা হাতে করে সাপ তুলে ধরবে, আর তারা প্রাণনাশক বিষ পান করলেও তাদের কোনো ক্ষতি হবে না; তারা পীড়িত ব্যক্তিদের উপরে হাত রেখে প্রার্থনা করবে, আর তারা সুস্থ হবে।”
MAR 16:19 তাদের সঙ্গে প্রভু যীশুর কথা বলা শেষ হওয়ার পর, তাঁকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, আর তিনি ঈশ্বরের ডানদিকে গিয়ে উপবিষ্ট হলেন।
MAR 16:20 তারপর শিষ্যেরা বেরিয়ে পড়ে সর্বত্র সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন। আর প্রভু তাঁদের সঙ্গী হয়ে কাজ করতে লাগলেন এবং সেই সঙ্গে বহু চিহ্নকর্মের মাধ্যমে তাঁর বাক্যের সত্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন।
LUK 1:1 যা কিছু ঘটে গেছে, আমাদের মধ্যে অনেকেই তার একটি বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
LUK 1:2 যাঁরা প্রথম থেকেই সবকিছু চাক্ষুষ দেখেছেন ও বাক্যের পরিচর্যা করেছেন, তাঁরাই সে সমস্ত আমাদের কাছে সমর্পণ করেছেন।
LUK 1:3 মহামান্য থিয়ফিল, সেইজন্য আমি প্রথম থেকে সবকিছু সযত্নে অনুসন্ধান করে আপনার জন্য একটি সুবিন্যস্ত বিবরণ রচনা করা সংগত বিবেচনা করলাম,
LUK 1:4 যেন আপনি যে শিক্ষা লাভ করেছেন, সে বিষয়ে আপনার জ্ঞান সুনিশ্চিত হয়।
LUK 1:5 যিহূদিয়ার রাজা হেরোদের রাজত্বকালে সখরিয় নামে একজন যাজক ছিলেন। তিনি ছিলেন অবিয়ের পুরোহিত অধীনস্থ যাজক-সম্প্রদায়ভুক্ত। তাঁর স্ত্রী ইলিশাবেতও ছিলেন হারোণ বংশীয়।
LUK 1:6 তাঁরা উভয়েই ছিলেন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ধার্মিক। তাঁরা প্রভুর সমস্ত আজ্ঞা ও বিধিনিয়ম নির্দোষরূপে পালন করতেন।
LUK 1:7 কিন্তু তাঁরা ছিলেন নিঃসন্তান, কারণ ইলিশাবেত বন্ধ্যা ছিলেন এবং তাঁদের দুজনেরই বেশ বয়স হয়েছিল।
LUK 1:8 একদিন সখরিয়ের দলের পালা ছিল এবং তিনি ঈশ্বরের সামনে যাজকীয় পরিচর্যা করছিলেন।
LUK 1:9 যাজকীয় কাজের রীতি অনুসারে, প্রভুর মন্দিরে গিয়ে ধূপ জ্বালাবার জন্য তিনিই গুটিকাপাতের দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন।
LUK 1:10 সেই ধূপ জ্বালাবার সময় যখন উপস্থিত হল, সমবেত উপাসকেরা তখন বাইরে প্রার্থনা করছিলেন।
LUK 1:11 সেই সময় প্রভুর এক দূত ধূপ জ্বালাবার বেদির ডানদিকে দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন।
LUK 1:12 তাঁকে দেখে সখরিয় বিস্ময়ে বিহ্বল ও ভীত হলেন।
LUK 1:13 কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, “সখরিয়, ভয় পেয়ো না, ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা শুনেছেন। তোমার স্ত্রী ইলিশাবেত তোমার জন্য এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবেন। তুমি তার নাম রাখবে, যোহন।
LUK 1:14 সে তোমার আনন্দ ও উল্লাসের কারণ হবে এবং তার জন্মে অনেক মানুষ উল্লসিত হবে,
LUK 1:15 কারণ প্রভুর দৃষ্টিতে সে হবে মহান। সে কখনও দ্রাক্ষারস, বা অন্য কোনো উত্তেজক পানীয় গ্রহণ করবে না এবং জন্মমুহূর্ত থেকেই সে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হবে।
LUK 1:16 ইস্রায়েলের বহু মানুষকে সে তাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে আনবে।
LUK 1:17 ভাববাদী এলিয়ের আত্মা ও পরাক্রমে সে প্রভুর অগ্রগামী হবে; সকল পিতৃহৃদয়কে তাদের সন্তানের দিকে ফিরিয়ে আনবে, অবাধ্যদের ধার্মিকদের প্রজ্ঞাপথে নিয়ে আসবে—প্রভুর জন্য এক প্রজাসমাজকে প্রস্তুত করে তুলবে।”
LUK 1:18 সখরিয় দূতকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কী করে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হব? কারণ আমি বৃদ্ধ, আমার স্ত্রীরও অনেক বয়স হয়েছে।”
LUK 1:19 দূত উত্তর দিলেন, “আমি গ্যাব্রিয়েল, ঈশ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। এই শুভবার্তা ব্যক্ত করার জন্য ও তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে।
LUK 1:20 কিন্তু তুমি আমার কথা বিশ্বাস করলে না, যদিও সেকথা যথাসময়ে সত্য হয়ে উঠবে। এজন্য তুমি বোবা হয়ে যাবে এবং যতদিন না এই ঘটনা ঘটে, তুমি কথা বলতে পারবে না।”
LUK 1:21 এদিকে সখরিয়ের জন্য অপেক্ষায় লোকেরা অবাক হয়ে ভাবছিল, তিনি মন্দিরে কেন এত দেরি করছেন।
LUK 1:22 বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারলেন না। তারা উপলব্ধি করল, তিনি মন্দিরে কোনো দর্শন লাভ করেছেন, কারণ তিনি ক্রমাগত ইঙ্গিতে তাদের বোঝাচ্ছিলেন, কিন্তু কথা বলতে পারছিলেন না।
LUK 1:23 তাঁর পরিচর্যার কাজ সম্পূর্ণ হলে তিনি ঘরে ফিরে গেলেন।
LUK 1:24 এরপরে তাঁর স্ত্রী ইলিশাবেত অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং পাঁচ মাস গোপনে অবস্থান করলেন।
LUK 1:25 তিনি বললেন, “প্রভু আমার জন্য এ কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি আমার প্রতি করুণা প্রদর্শন করেছেন, লোকসমাজ থেকে আমার অপবাদ দূর করেছেন।”
LUK 1:26 ছয় মাস পরে ঈশ্বর তাঁর দূত গ্যাব্রিয়েলকে গালীল প্রদেশের নাসরৎ-নগরে এক কুমারীর কাছে পাঠালেন।
LUK 1:27 তিনি দাউদ বংশের যোষেফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বাগদত্তা হয়েছিলেন। সেই কুমারী কন্যার নাম ছিল মরিয়ম।
LUK 1:28 দূত তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “মহান অনুগ্রহের অধিকারিণী, তোমাকে অভিনন্দন! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।”
LUK 1:29 তাঁর কথা শুনে মরিয়ম অত্যন্ত বিচলিত হলেন এবং অবাক হয়ে ভাবলেন, এ কী ধরনের অভিবাদন হতে পারে!
LUK 1:30 কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, “মরিয়ম, ভয় পেয়ো না। তুমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছ।
LUK 1:31 তুমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এক পুত্রের জন্ম দেবে, আর তুমি তাঁর নাম রাখবে যীশু।
LUK 1:32 তিনি মহান হবেন ও পরাৎপরের পুত্র নামে আখ্যাত হবেন। প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতা দাউদের সিংহাসন তাঁকে দেবেন
LUK 1:33 এবং তিনি যাকোব বংশে চিরকাল রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বের কখনও অবসান হবে না।”
LUK 1:34 মরিয়ম দূতকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তা কী করে হবে? আমি যে কুমারী!”
LUK 1:35 উত্তর দিয়ে দূত তাঁকে বললেন, “পবিত্র আত্মা তোমার উপরে অবতরণ করবেন ও পরাৎপরের শক্তি তোমাকে আবৃত করবে। তাই যে পবিত্র পুরুষ জন্মগ্রহণ করবেন, তিনি ঈশ্বরের পুত্র বলে আখ্যাত হবেন।
LUK 1:36 আর তোমার আত্মীয় ইলিশাবেতও বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের মা হতে চলেছেন। যাকে সকলে বন্ধ্যা বলে জানত, এখন তাঁর ছয় মাস চলছে।
LUK 1:37 কারণ ঈশ্বর যা বলেন তা সবসময় সত্যি হয়।”
LUK 1:38 মরিয়ম উত্তর দিলেন, “আমি প্রভুর দাসী। আপনি যে রকম বললেন, আমার প্রতি সেরকমই হোক।” এরপর দূত তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।
LUK 1:39 তখন মরিয়ম যিহূদিয়ার পার্বত্য অঞ্চলের এক নগরের দিকে দ্রুত বেরিয়ে পড়লেন।
LUK 1:40 সেখানে এসে তিনি সখরিয়ের বাড়িতে প্রবেশ করে ইলিশাবেতকে অভিনন্দন জানালেন।
LUK 1:41 ইলিশাবেত যখন মরিয়মের অভিনন্দন শুনলেন, তাঁর গর্ভে শিশুটি লাফ দিয়ে উঠল এবং ইলিশাবেত পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন।
LUK 1:42 উচ্ছ্বসিত স্বরে তিনি বলে উঠলেন, “নারীকুলে তুমি ধন্য, আর যে শিশুকে তুমি গর্ভে ধারণ করবে, সেও ধন্য।
LUK 1:43 আর আমার প্রতিই বা এত অনুগ্রহের কারণ কী যে, আমার প্রভুর মা আমার কাছে এসেছেন?
LUK 1:44 তোমার অভিনন্দন আমার কানে প্রবেশ করা মাত্র, আমার গর্ভের শিশুটি আনন্দে নেচে উঠল।
LUK 1:45 ধন্য সেই নারী, যে বিশ্বাস করেছে, প্রভুর প্রতিশ্রুতি তাঁর জীবনে সার্থক হয়ে উঠবে।”
LUK 1:46 তখন মরিয়ম বললেন, “আমার প্রাণ প্রভুর মহিমাকীর্তন করে,
LUK 1:47 আমার পরিত্রাতা ঈশ্বরে আমার আত্মা উল্লাস করে।
LUK 1:48 কারণ তিনি তাঁর এই দীনদরিদ্র দাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন। এখন থেকে পুরুষ-পরম্পরা আমাকে ধন্য বলে অভিহিত করবে।
LUK 1:49 কারণ যিনি পরাক্রমী, যিনি আমার জন্য কত মহৎ কাজ সাধন করেছেন— তাঁর নাম পবিত্র।
LUK 1:50 যারা তাঁকে ভয় করে, তাদেরই জন্য পুরুষ-পরম্পরায় তাঁর করুণার হাত প্রসারিত।
LUK 1:51 তাঁর বাহু সব পরাক্রম কাজ সাধন করেছে; যারা অন্তরের গভীরতম ভাবনায় গর্বিত, তিনি তাদের ছত্রভঙ্গ করেছেন।
LUK 1:52 শাসকদের তিনি সিংহাসনচ্যূত করেছেন, কিন্তু বিনম্রদের উন্নত করেছেন।
LUK 1:53 তিনি উত্তম দ্রব্যে ক্ষুধার্তদের তৃপ্ত করেছেন, কিন্তু ধনীদের রিক্ত হাতে বিদায় করেছেন।
LUK 1:54 আপন করুণার কথা স্মরণ করে, তিনি তাঁর সেবক ইস্রায়েলকে সহায়তা দান করেছেন।
LUK 1:55 যেমন আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলেছিলেন, অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি চিরতরে করুণা প্রদান করেছেন।”
LUK 1:56 মরিয়ম প্রায় তিন মাস ইলিশাবেতের কাছে রইলেন, তারপর তিনি বাড়িতে ফিরে এলেন।
LUK 1:57 প্রসবের সময় পূর্ণ হলে, ইলিশাবেত এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন।
LUK 1:58 তাঁর প্রতিবেশী এবং আত্মীয়পরিজনেরা শুনল যে, প্রভু তাঁর প্রতি মহৎ করুণা প্রদর্শন করেছেন, আর তারাও তাঁর আনন্দের অংশীদার হল।
LUK 1:59 অষ্টম দিনে তারা শিশুটিকে সুন্নত করার জন্য এসে তার পিতার নাম অনুসারে শিশুটির নাম সখরিয় রাখতে চাইল।
LUK 1:60 কিন্তু তার মা বলে উঠলেন, “না, ওর নাম হবে যোহন।”
LUK 1:61 তারা তাঁকে বলল, “কেন? আপনার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কারও তো এই নাম নেই!”
LUK 1:62 তখন তারা তার পিতার কাছে ইশারায় জানতে চাইল, তিনি শিশুটির কী নাম রাখতে চান।
LUK 1:63 তিনি একটি লিপিফলক চেয়ে নিলেন এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে লিখলেন, “ওর নাম যোহন।”
LUK 1:64 সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মুখ খুলে গেল, জিভের জড়তা চলে গেল, আর তিনি কথা বলতে লাগলেন ও ঈশ্বরের প্রশংসায় মুখর হলেন।
LUK 1:65 প্রতিবেশীরা সবাই ভীত হল এবং যিহূদিয়ার সমস্ত পার্বত্য অঞ্চলের লোকেরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে লাগল।
LUK 1:66 যারা শুনল, তারা প্রত্যেকেই বিস্মিত হয়ে বলাবলি করল, “এই শিশুটি তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে?” কারণ প্রভুর হাত ছিল তার সহায়।
LUK 1:67 তখন তার পিতা সখরিয় পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে ভাববাণী করলেন। তিনি বললেন:
LUK 1:68 “প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নাম প্রশংসিত হোক, কারণ তিনি এসে তাঁর প্রজাদের মুক্ত করেছেন।
LUK 1:69 তিনি তাঁর দাস দাউদের বংশে আমাদের জন্য এক ত্রাণশৃঙ্গ তুলে ধরেছেন,
LUK 1:70 (বহুকাল আগে তাঁর পবিত্র ভাববাদীদের মাধ্যমে তিনি যেমন বলেছিলেন),
LUK 1:71 যেন আমরা আমাদের সব শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার পাই, যারা আমাদের ঘৃণা করে, তাদের হাত থেকে রক্ষা পাই,
LUK 1:72 আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রতি করুণা প্রদর্শন এবং তাঁর পবিত্র নিয়ম স্মরণ করার জন্য,
LUK 1:73 আমাদের পিতা অব্রাহামের কাছে তিনি যা শপথ করেছিলেন:
LUK 1:74 তিনি আমাদের সব শত্রুর হাত থেকে আমাদের নিস্তার করবেন, যেন নির্ভয়ে তাঁর সেবা করতে আমাদের সক্ষম করেন,
LUK 1:75 যেন তাঁর সামনে পবিত্রতায় ও ধার্মিকতায় আমরা তাঁর সেবা করে যাই।
LUK 1:76 “আর তুমি, আমার শিশুসন্তান, তুমি পরাৎপরের ভাববাদী বলে আখ্যাত হবে, কারণ প্রভুর পথ প্রস্তুতির জন্য তুমি তাঁর অগ্রগামী হবে;
LUK 1:77 তাঁর প্রজাবৃন্দকে, তাদের পাপসমূহ ক্ষমার মাধ্যমে পরিত্রাণের জ্ঞান দেওয়ার জন্য।
LUK 1:78 আমাদের ঈশ্বরের স্নেহময় করুণার গুণে, স্বর্গ থেকে আমাদের মাঝে স্বর্গীয় জ্যোতির উদয় হবে।
LUK 1:79 যারা অন্ধকারে, মৃত্যুচ্ছায়ায় বসবাস করছে, তাদের উপর আলো বিকীর্ণ করতে, আমাদের পা শান্তির পথে চালিত করতে।”
LUK 1:80 আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই শিশু আত্মাতে বলীয়ান হয়ে উঠলেন এবং ইস্রায়েলের জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ না করা পর্যন্ত, তিনি মরুপ্রান্তরে বসবাস করলেন।
LUK 2:1 সেই সময়, সম্রাট অগাস্টাস, এক হুকুম জারি করলেন যে, সমগ্র রোমীয় জগতে লোকগণনা করা হবে।
LUK 2:2 সিরিয়ার শাসনকর্তা কুরিণিয়ের সময় এটিই ছিল প্রথম জনগণনা।
LUK 2:3 আর নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রত্যেকেই নিজের নিজের নগরে গেল।
LUK 2:4 যোষেফও দাউদের কুল ও বংশজাত পুরুষ হিসেবে, গালীলের নাসরৎ নগর থেকে যিহূদিয়ার অন্তর্গত দাউদের নগর বেথলেহেমের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।
LUK 2:5 তিনি তাঁর বাগদত্তা স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে সেখানে নাম তালিকাভুক্তির জন্য গেলেন। মরিয়ম তখন সন্তানের জন্মের প্রতীক্ষায় ছিলেন।
LUK 2:6 তাঁরা যখন সেখানে ছিলেন, তখন সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এল।
LUK 2:7 মরিয়ম তাঁর প্রথম সন্তান, এক পুত্রের জন্ম দিলেন এবং শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে জাবপাত্রে শুইয়ে রাখলেন, কারণ পান্থশালায় তাদের জন্য কোনো স্থান ছিল না।
LUK 2:8 আশেপাশের মাঠে কয়েকজন মেষপালক অবস্থিতি করছিল। তারা রাত্রিবেলা তাদের মেষপাল পাহারা দিচ্ছিল।
LUK 2:9 প্রভুর এক দূত তাদের সামনে আবির্ভূত হলেন, ও প্রভুর প্রতাপ তাদের চারপাশে উজ্জ্বল হওয়ায় তারা ভীতচকিত হয়ে উঠল।
LUK 2:10 কিন্তু দূত তাদের বললেন, “ভয় কোরো না, আমি তোমাদের কাছে এক মহা আনন্দের সুসমাচার নিয়ে এসেছি—এই আনন্দ হবে সব মানুষেরই জন্য।
LUK 2:11 আজ দাউদের নগরে তোমাদের জন্য এক উদ্ধারকর্তা জন্মগ্রহণ করেছেন, তিনি খ্রীষ্ট প্রভু।
LUK 2:12 তোমাদের কাছে এই হবে চিহ্ন: তোমরা কাপড়ে জড়ানো এক শিশুকে জাবপাত্রে শুইয়ে রাখা অবস্থায় দেখতে পাবে।”
LUK 2:13 হঠাৎই বিশাল এক স্বর্গীয় দূতবাহিনী ওই দূতের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে ঈশ্বরের বন্দনা করে বলতে লাগলেন,
LUK 2:14 “ঊর্ধ্বতমলোকে ঈশ্বরের মহিমা, আর পৃথিবীতে তাঁর প্রীতির পাত্র সব মানুষের মাঝে শান্তি।”
LUK 2:15 স্বর্গদূতেরা তাদের ছেড়ে স্বর্গে ফিরে যাওয়ার পরে মেষপালকেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “চলো, প্রভু আমাদের যে ঘটনার কথা জানালেন, আমরা বেথলেহেমে গিয়ে তা দেখে আসি।”
LUK 2:16 তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে মরিয়ম, যোষেফ ও জাবপাত্রে শুইয়ে রাখা শিশুটিকে দেখতে পেল।
LUK 2:17 তারা শিশুটিকে দর্শন করার পর তাঁর সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছিল, সেই কথা চারদিকে ছড়িয়ে দিল।
LUK 2:18 যারা মেষপালকদের এই কথা শুনল, তারা সবাই হতচকিত হল।
LUK 2:19 কিন্তু মরিয়ম এসব বিষয় তাঁর হৃদয়ের মধ্যে সঞ্চয় করে রাখলেন, আর এ নিয়ে চিন্তা করে গেলেন।
LUK 2:20 যেমন তাদের বলা হয়েছিল, তেমনই সব দেখেশুনে মেষপালকেরা ঈশ্বরের গৌরব ও বন্দনা করতে করতে ফিরে গেল।
LUK 2:21 আট দিন পরে, শিশুটির সুন্নত অনুষ্ঠানের সময়ে, তাঁর নাম রাখা হল যীশু। শিশুটি মায়ের গর্ভে আসার আগেই স্বর্গদূত তাঁর এই নাম দিয়েছিলেন।
LUK 2:22 মোশির বিধান অনুসারে তাঁদের শুদ্ধকরণের সময় পূর্ণ হওয়ার পর, যোষেফ ও মরিয়ম যীশুকে জেরুশালেমের মন্দিরে প্রভুর সান্নিধ্যে উপস্থিত করার জন্য নিয়ে গেলেন, যেমন
LUK 2:23 প্রভুর বিধান লেখা আছে, “প্রত্যেক প্রথমজাত পুরুষসন্তান প্রভুর কাছে উৎসর্গীকৃত হবে,” এবং
LUK 2:24 প্রভুর বিধান অনুযায়ী তারা যেন “এক জোড়া ঘুঘু পাখি বা দুটি কপোতশাবক” বলির জন্য উৎসর্গ করেন।
LUK 2:25 সেই সময় জেরুশালেমে শিমিয়োন নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক ও ভক্তিপরায়ণ। তিনি ইস্রায়েলের সান্ত্বনাপ্রাপ্তির প্রতীক্ষায় ছিলেন এবং পবিত্র আত্মা তাঁর উপর অধিষ্ঠিত ছিলেন।
LUK 2:26 পবিত্র আত্মা তাঁর কাছে প্রকাশ করেছিলেন যে, প্রভুর মশীহকে দর্শন না করা পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হবে না।
LUK 2:27 আত্মার চালনায় তিনি মন্দির-প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হলেন। বিধানের প্রথা অনুযায়ী সেই শিশু যীশুর বাবা-মা যখন তাঁকে নিয়ে এলেন,
LUK 2:28 শিমিয়োন তাঁকে দু-হাতে তুলে নিয়ে ঈশ্বরের স্তুতি করতে লাগলেন এবং বললেন,
LUK 2:29 “সার্বভৌম প্রভু, তোমার প্রতিশ্রুতিমতো এবার তুমি তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও।
LUK 2:30 কারণ আমার দুই চোখ তোমার পরিত্রাণ দেখেছে,
LUK 2:31 যা তুমি সমস্ত জাতির দৃষ্টিগোচরে প্রস্তুত করেছ,
LUK 2:32 পরজাতিদের কাছে প্রকাশিত হওয়ার জন্য ইনিই সেই জ্যোতি এবং তোমার প্রজা ইস্রায়েল জাতির জন্য গৌরব।”
LUK 2:33 যীশুর সম্পর্কে যে কথা বলা হল, তা শুনে তাঁর বাবা-মা চমৎকৃত হলেন।
LUK 2:34 তখন শিমিয়োন তাঁদের আশীর্বাদ করলেন এবং যীশুর মা মরিয়মকে বললেন, “এই শিশু হবেন ইস্রায়েলের অনেকের পতন ও উত্থানের কারণ এবং ইনি হবেন এক চিহ্নস্বরূপ, যার বিরুদ্ধতা করবে অনেকে,
LUK 2:35 ফলে অনেকের হৃদয় হবে উদ্‌ঘাটিত; আর একটি তরোয়াল তোমারও প্রাণকে বিদ্ধ করবে।”
LUK 2:36 সেখানে হান্না নামে এক মহিলা ভাববাদী ছিলেন। তিনি ছিলেন আশের বংশীয় পনূয়েলের মেয়ে। তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল। বিবাহের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে সাত বছর জীবনযাপন করেছিলেন।
LUK 2:37 পরে চুরাশি বছর পর্যন্ত তিনি বিধবার জীবনযাপন করেন। তিনি কখনও মন্দির পরিত্যাগ করে যাননি, বরং তিনি উপোস ও প্রার্থনার সঙ্গে দিনরাত আরাধনা করতেন।
LUK 2:38 তিনি সেই মুহূর্তে তাদের কাছে এগিয়ে এসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। আর যারা জেরুশালেমের মুক্তির অপেক্ষায় ছিল, তাদের সকলের কাছে শিশুটির বিষয়ে বলতে লাগলেন।
LUK 2:39 প্রভুর বিধান অনুযায়ী সমস্ত কাজ সম্পাদন করে যোষেফ ও মরিয়ম নিজেদের নগর গালীল প্রদেশের নাসরতে ফিরে গেলেন।
LUK 2:40 আর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই শিশু বলীয়ান হয়ে উঠলেন; তিনি বিজ্ঞতায় পূর্ণ হলেন এবং তাঁর উপরে ঈশ্বরের অনুগ্রহ রইল।
LUK 2:41 যীশুর বাবা-মা প্রতি বছর নিস্তারপর্ব পালন করতে জেরুশালেমে যেতেন।
LUK 2:42 তাঁর যখন বারো বছর বয়স, প্রথানুসারে তাঁরা পর্বে যোগ দিতে গেলেন।
LUK 2:43 পর্ব শেষে তাঁর বাবা-মা যখন ঘরে ফিরে আসছিলেন, কিশোর যীশু জেরুশালেমে রয়ে গেলেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতে পারলেন না।
LUK 2:44 যীশু তাঁদের দলের সঙ্গেই আছেন, ভেবে নিয়ে তাঁরা একদিনের পথ অতিক্রম করলেন। তারপর তাঁরা তাদের আত্মীয়পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন।
LUK 2:45 যীশুর সন্ধান না পেয়ে, তাঁকে খুঁজতে তাঁরা জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
LUK 2:46 তিন দিন পর তাঁরা তাঁকে মন্দির-প্রাঙ্গণে খুঁজে পেলেন এবং দেখলেন, যীশু শাস্ত্রগুরুদের মাঝে বসে তাঁদের কথা শুনছেন, আর বহু প্রশ্ন করছেন।
LUK 2:47 তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও উত্তর দেওয়ার ক্ষমতায় প্রত্যেক শ্রোতাই বিস্মিত হচ্ছিলেন।
LUK 2:48 তাঁর বাবা-মা তাঁকে দেখতে পেয়ে আশ্চর্য হলেন। তাঁর মা তাঁকে বললেন, “বৎস, তুমি আমাদের সঙ্গে এরকম আচরণ করলে কেন? তোমার বাবা আর আমি কত ব্যাকুল হয়ে তোমাকে খুঁজছিলাম!”
LUK 2:49 তিনি বললেন, “তোমরা আমার সন্ধান করছিলে কেন? তোমরা কি জানতে না যে, আমাকে আমার পিতার গৃহে থাকতে হবে?”
LUK 2:50 যীশু তাঁদের যে কী বলছিলেন, তা কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারলেন না।
LUK 2:51 এরপর তিনি তাঁদের সঙ্গে নাসরতে ফিরে গেলেন ও তাঁদের বাধ্য হয়ে রইলেন। তাঁর মা কিন্তু এই সমস্ত কথা হৃদয়ে সঞ্চয় করে রাখলেন।
LUK 2:52 আর যীশু জ্ঞানে ও বয়সে বেড়ে উঠতে লাগলেন এবং ঈশ্বর ও মানুষের অনুগ্রহে সমৃদ্ধ হতে থাকলেন।
LUK 3:1 রোমান সম্রাট তিবিরীয় কৈসরের রাজত্বের পনেরোতম বছরে, যখন পন্তীয় পীলাত ছিলেন যিহূদিয়ার শাসনকর্তা, হেরোদ ছিলেন গালীল প্রদেশের সামন্ত-নৃপতি, তাঁর ভাই ফিলিপ ছিলেন ইতুরিয়া ও ত্রাখোনীতিয়া প্রদেশের সামন্ত-নৃপতি ও লুসানিয় ছিলেন অবিলিনীর সামন্ত-নৃপতি
LUK 3:2 এবং হানন ও কায়াফা ছিলেন মহাযাজক, সেই সময় সখরিয়ের পুত্র যোহনের কাছে মরুপ্রান্তরে ঈশ্বরের বাক্য উপস্থিত হল।
LUK 3:3 তিনি জর্ডন অঞ্চলের চতুর্দিক পরিভ্রমণ করে পাপক্ষমার জন্য মন পরিবর্তনের বাপ্তিষ্মের কথা প্রচার করলেন।
LUK 3:4 ভাববাদী যিশাইয়ের বাক্য যেমন গ্রন্থে লেখা আছে: “মরুপ্রান্তরে একজনের কণ্ঠস্বর আহ্বান করছে, ‘তোমরা প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করো, তাঁর জন্য রাজপথগুলি সরল করো।
LUK 3:5 প্রত্যেক উপত্যকা ভরিয়ে তোলা হবে, প্রত্যেক পর্বত ও উপপর্বতকে নিচু করা হবে। বক্র পথগুলি সরল হবে, অমসৃণ স্থানগুলি সমতল হবে।
LUK 3:6 আর সমস্ত মানুষ ঈশ্বরের পরিত্রাণ প্রত্যক্ষ করবে।’ ”
LUK 3:7 যে লোকেরা যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম নিতে এসেছিল, তিনি তাদের বললেন, “তোমরা বিষধর সাপের বংশ! সন্নিকট ক্রোধ থেকে পালিয়ে যেতে কে তোমাদের চেতনা দিল?
LUK 3:8 তোমরা এমন সব কাজ করো যেন তার দ্বারা বোঝা যায় যে তোমাদের মন পরিবর্তন হয়েছে। তোমরা মনে মনে এরকম বোলো না, ‘অব্রাহাম আমাদের পিতা।’ কারণ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বর এই পাথরগুলি থেকেও অব্রাহামের জন্য সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন।
LUK 3:9 গাছগুলির শিকড়ে ইতিমধ্যেই কুড়ুল লাগানো আছে। যে গাছে উৎকৃষ্ট ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।”
LUK 3:10 লোকেরা প্রশ্ন করল, “আমরা তাহলে কী করব?”
LUK 3:11 যোহন উত্তর দিলেন, “যার দুটি পোশাক আছে সে, যার একটিও নেই, তার সঙ্গে ভাগ করে নিক; আর যার কাছে কিছু খাদ্যসামগ্রী আছে, সেও তাই করুক।”
LUK 3:12 কর আদায়কারীরাও এল বাপ্তিষ্ম নিতে। তারা বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা কী করব?”
LUK 3:13 তিনি তাদের বললেন, “তোমরা ন্যায্য পরিমাণের অতিরিক্ত কর আদায় কোরো না।”
LUK 3:14 তখন কয়েকজন সৈন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আর আমরা কী করব?” তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরা বলপ্রয়োগ করে লোকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কোরো না, মিথ্যা অভিযোগে কাউকে অভিযুক্ত কোরো না; যা বেতন পাও, তাতে সন্তুষ্ট থেকো।”
LUK 3:15 সকলে অধীর প্রতীক্ষায় ছিল এবং সবারই মনে প্রশ্ন জাগছিল, যোহনই হয়তো সেই খ্রীষ্ট।
LUK 3:16 যোহন তাদের সবাইকে উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের জলে বাপ্তিষ্ম দিই; কিন্তু আমার চেয়েও পরাক্রমী একজন আসছেন। তাঁর চটিজুতোর বাঁধন খোলারও যোগ্যতা আমার নেই। তিনি তোমাদের পবিত্র আত্মায় ও আগুনে বাপ্তিষ্ম দেবেন।
LUK 3:17 শস্য ঝাড়াই করার কুলো তাঁর হাতেই আছে, তিনি তা দিয়ে খামার পরিষ্কার করবেন ও তাঁর গম গোলাঘরে সংগ্রহ করবেন এবং তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।”
LUK 3:18 যোহন লোকসমূহকে আরও অনেক শিক্ষা দিয়ে সতর্ক করলেন এবং তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করলেন।
LUK 3:19 কিন্তু যোহন যখন সামন্তরাজ হেরোদকে নিজের ভাইয়ের স্ত্রী হেরোদিয়াকে বিবাহ করার বিষয়ে এবং তাঁর সমস্ত দুষ্কর্মের জন্য তিরস্কার করলেন,
LUK 3:20 তখন হেরোদ আরও একটি দুষ্কর্ম করলেন: তিনি যোহনকে কারাগারে বন্দি করলেন।
LUK 3:21 অন্য সকলে যখন বাপ্তিষ্ম নিচ্ছিল, তখন যীশুও বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করলেন। তিনি যখন প্রার্থনা করছিলেন, সেই সময়ে স্বর্গলোক খুলে গেল
LUK 3:22 এবং পবিত্র আত্মা কপোতের রূপ ধারণ করে তাঁর উপর অবতীর্ণ হলেন। আর স্বর্গ থেকে একটি কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল, “তুমি আমার প্রিয় পুত্র, যাঁকে আমি প্রেম করি, তোমার উপরে আমি পরম প্রসন্ন।”
LUK 3:23 পরে যীশুর বয়স যখন প্রায় ত্রিশ বছর, তিনি তাঁর পরিচর্যা কাজ শুরু করলেন। লোকেরা যেমন মনে করত, যীশু ছিলেন যোষেফের পুত্র, যোষেফ ছিলেন, এলির পুত্র,
LUK 3:24 এলি মত্ততের পুত্র, মত্তত লেবির পুত্র, লেবি মল্কির পুত্র, মল্কি যান্নায়ের পুত্র, যান্নায় যোষেফের পুত্র,
LUK 3:25 যোষেফ মত্তথিয়ের পুত্র, মত্তথিয় আমোষের পুত্র, আমোষ নহূমের পুত্র, নহূম ইষলির পুত্র, ইষলি নগির পুত্র,
LUK 3:26 নগি মাটের পুত্র, মাট মত্তথিয়ের পুত্র, মত্তথিয় শিমিয়ির পুত্র, শিমিয়ি যোষেফের পুত্র, যোষেফ জোদার পুত্র,
LUK 3:27 জোদা যোহানার পুত্র, যোহানা রীষার পুত্র, রীষা সরুব্বাবিলের পুত্র, সরুব্বাবিল শল্টীয়েলের পুত্র, শল্টীয়েল নেরির পুত্র,
LUK 3:28 নেরি মল্কির পুত্র, মল্কি অদ্দীর পুত্র, অদ্দী কোষণের পুত্র, কোষণ ইলমাদমের পুত্র, ইলমাদম এরের পুত্র,
LUK 3:29 এর যিহোশূয়ের পুত্র, যিহোশূয় ইলীয়েষরের পুত্র, ইলীয়েষর যোরীমের পুত্র, যোরীম মত্ততের পুত্র, মত্তত লেবির পুত্র,
LUK 3:30 লেবি শিমিয়োনের পুত্র, শিমিয়োন যিহূদার পুত্র, যিহূদা যোষেফের পুত্র, যোষেফ যোনমের পুত্র, যোনম ইলিয়াকীমের পুত্র,
LUK 3:31 ইলিয়াকীম মিলেয়ার পুত্র, মিলেয়া মিন্নার পুত্র, মিন্না মত্তথের পুত্র, মত্তথ নাথনের পুত্র, নাথন দাউদের পুত্র,
LUK 3:32 দাউদ যিশয়ের পুত্র, যিশয় ওবেদের পুত্র, ওবেদ বোয়সের পুত্র, বোয়স সলমনের পুত্র, সলমন নহশোনের পুত্র,
LUK 3:33 নহশোন অম্মীনাদবের পুত্র, অম্মীনাদব রামের পুত্র, রাম হিষ্রোণের পুত্র, হিষ্রোণ পেরসের পুত্র, পেরস যিহূদার পুত্র,
LUK 3:34 যিহূদা যাকোবের পুত্র, যাকোব ইস্‌হাকের পুত্র, ইস্‌হাক অব্রাহামের পুত্র, অব্রাহাম তেরহের পুত্র, তেরহ নাহোরের পুত্র,
LUK 3:35 নাহোর সরূগের পুত্র, সরূগ রিয়ূর পুত্র, রিয়ূ পেলগের পুত্র, পেলগ এবরের পুত্র, এবর শেলহের পুত্র,
LUK 3:36 শেলহ কৈননের পুত্র, কৈনন অর্ফকষদের পুত্র, অর্ফকষদ শেমের পুত্র, শেম নোহের পুত্র, নোহ লেমকের পুত্র,
LUK 3:37 লেমক মথূশেলহের পুত্র, মথূশেলহ হনোকের পুত্র, হনোক যেরদের পুত্র, যেরদ মহললেলের পুত্র, মহললেল কৈননের পুত্র,
LUK 3:38 কৈনন ইনোশের পুত্র, ইনোশ শেথের পুত্র, শেথ আদমের পুত্র, আদম ঈশ্বরের পুত্র।
LUK 4:1 যীশু পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে জর্ডন নদী থেকে ফিরে এলেন এবং পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে মরুপ্রান্তরে গেলেন।
LUK 4:2 সেখানে চল্লিশ দিন দিয়াবলের দ্বারা প্রলোভিত হলেন। এই সমস্ত দিন তিনি কিছুই আহার করেননি। সেইসব দিন শেষ হলে তিনি ক্ষুধার্ত হলেন।
LUK 4:3 দিয়াবল তাঁকে বলল, “যদি তুমি ঈশ্বরের পুত্রই হও, তবে পাথরগুলিকে রুটিতে পরিণত হতে বলো।”
LUK 4:4 যীশু উত্তর দিলেন, “এরকম লেখা আছে: ‘মানুষ কেবলমাত্র রুটিতে বাঁচে না।’”
LUK 4:5 তখন দিয়াবল তাঁকে নিয়ে গেল এক উচ্চ স্থানে; এক লহমায় সে তাঁকে বিশ্বের সমস্ত রাজ্য দর্শন করাল।
LUK 4:6 আর সে তাঁকে বলল, “এসবই আমাকে দেওয়া হয়েছে; আমি যাকে চাই, তাকে এগুলি দিতে পারি। এসব অধিকার ও সমারোহ, আমি তোমাকে দিতে চাই।
LUK 4:7 তাই, যদি তুমি আমার উপাসনা করো, তাহলে তুমিই এ সবকিছুর অধিকারী হবে।”
LUK 4:8 যীশু উত্তর দিলেন, “এরকম লেখা আছে, ‘তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুরই আরাধনা করবে, কেবলমাত্র তাঁরই সেবা করবে।’ ”
LUK 4:9 দিয়াবল তাঁকে জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের শীর্ষদেশে তাঁকে দাঁড় করালো। সে বলল, “তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এখান থেকে নিচে ঝাঁপ দাও।
LUK 4:10 কারণ এরকম লেখা আছে: “ ‘তিনি তাঁর দূতদের তোমার বিষয়ে আদেশ দেবেন, যেন তাঁরা যত্নসহকারে তোমাকে রক্ষা করেন,
LUK 4:11 তাঁরা তোমাকে তাঁদের হাতে তুলে নেবেন, যেন তোমার পায়ে পাথরের আঘাত না লাগে।’ ”
LUK 4:12 যীশু উত্তর দিলেন, “একথাও লেখা আছে, ‘তোমার ঈশ্বর প্রভুকে পরীক্ষা কোরো না।’ ”
LUK 4:13 প্রলোভনের সমস্ত কৌশল ব্যর্থ হলে দিয়াবল কিছুকালের জন্য যীশুকে ছেড়ে চলে গেল, এবং পরবর্তী সুযোগের অপেক্ষায় রইল।
LUK 4:14 পরে আত্মার পরাক্রমে যীশু গালীলে প্রত্যাবর্তন করলেন। সমস্ত গ্রামাঞ্চলে তাঁর কথা ছড়িয়ে পড়ল।
LUK 4:15 তিনি তাদের সমাজভবনগুলিতে শিক্ষা দিলেন এবং সবাই তাঁর প্রশংসা করল।
LUK 4:16 আর তিনি যেখানে বড়ো হয়েছিলেন, সেই নাসরতে উপস্থিত হলেন। তাঁর রীতি অনুসারে তিনি বিশ্রামদিনে সমাজভবনে গেলেন এবং শাস্ত্র থেকে পাঠ করার জন্য উঠে দাঁড়ালেন।
LUK 4:17 ভাববাদী যিশাইয়ের পুঁথি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল। পুঁথিটি খুলে তিনি সেই অংশটি দেখতে পেলেন, যেখানে লেখা আছে,
LUK 4:18 “প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত, কারণ দীনহীনদের কাছে সুসমাচার প্রচারের জন্য তিনি আমাকে অভিষিক্ত করেছেন। তিনি আমাকে বন্দিদের কাছে মুক্তি প্রচার করবার জন্য পাঠালেন, অন্ধদের কাছে দৃষ্টিপ্রাপ্তি প্রচার করার জন্য, নিপীড়িতদের নিস্তার করে বিদায় করার জন্য,
LUK 4:19 প্রভুর প্রসন্নতার বছর ঘোষণা করার জন্য।”
LUK 4:20 তারপর তিনি পুঁথিটি গুটিয়ে পরিচারকের হাতে ফেরত দিয়ে আসন গ্রহণ করলেন। সমাজভবনে সকলের দৃষ্টি তাঁর উপরে নিবদ্ধ হল।
LUK 4:21 তিনি তাদের প্রতি এই কথা বললেন, “যে শাস্ত্রীয় বাণী তোমরা শুনলে আজ তা পূর্ণ হল।”
LUK 4:22 সকলেই তাঁর প্রশংসা করল। তাঁর মুখ থেকে বেরোনো অমৃতবাণী শুনে তারা চমৎকৃত হল। তারা প্রশ্ন করল, “এ কি যোষেফের পুত্র নয়?”
LUK 4:23 যীশু তাদের বললেন, “আমি নিশ্চিত যে, তোমরা আমাকে এই প্রবাদ উল্লেখ করে বলবে, ‘চিকিৎসক, তুমি নিজেকে সুস্থ করো। কফরনাহূমে যে কাজ তুমি করেছ বলে শুনেছি, এখন তোমার নিজের নগরে তা করে দেখাও।’ ”
LUK 4:24 তিনি আরও বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কোনো ভাববাদীই স্বদেশে স্বীকৃতি পান না।
LUK 4:25 আমি তোমাদের নিশ্চিতরূপে বলছি, এলিয়ের সময়ে ইস্রায়েলে বহু বিধবা ছিল। সেই সময় সাড়ে তিন বছর ধরে আকাশ থেকে বৃষ্টি হয়নি। ফলে সারা দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
LUK 4:26 তবুও এলিয় তাদের কারও কাছে প্রেরিত হননি, কিন্তু সীদোন অঞ্চলে সারিফত-নিবাসী এক বিধবার কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন।
LUK 4:27 আর ভাববাদী ইলীশায়ের কালে ইস্রায়েলে বহু কুষ্ঠরোগী ছিল, তবুও সিরিয়া-নিবাসী নামান ছাড়া একজনও শুচিশুদ্ধ হয়নি।”
LUK 4:28 একথা শুনে সমাজভবনের লোকেরা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল।
LUK 4:29 তারা উঠে এসে তাঁকে নগরের বাইরে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। যে পাহাড়ের উপরে নগরটি স্থাপিত ছিল, তারা তাঁকে সেই পাহাড়ের কিনারায় নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইল।
LUK 4:30 কিন্তু তিনি সকলের মধ্য দিয়ে নিজের পথ করে সোজা হেঁটে চলে গেলেন।
LUK 4:31 তারপর তিনি গালীল প্রদেশের একটি নগর কফরনাহূমে ফিরে গেলেন। বিশ্রামদিনে তিনি লোকসকলকে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
LUK 4:32 তাঁর শিক্ষা শুনে সকলে চমৎকৃত হল, কারণ তিনি ক্ষমতার সঙ্গে বাক্য প্রচার করতেন।
LUK 4:33 সেই সমাজভবনে ছিল একটি ভূতগ্রস্ত, অশুচি আত্মাবিষ্ট লোক।
LUK 4:34 সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “আহা, নাসরতের যীশু, আপনি আমাদের নিয়ে কী করতে চান? আপনি কি আমাদের বিনাশ করতে এসেছেন? আমি জানি, আপনি কে, আপনি ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি!”
LUK 4:35 যীশু কঠোর স্বরে তাকে বললেন, “চুপ করো! ওর ভিতর থেকে বেরিয়ে এসো!” তখন সেই ভূত সেই লোকটির কোনও ক্ষতি না করে, সকলের সামনে তাকে আছড়ে ফেলে দিয়ে বেরিয়ে এল।
LUK 4:36 লোকেরা চমৎকৃত হয়ে পরস্পর বলাবলি করল, “এ কেমন শিক্ষা! কর্তৃত্ব ও পরাক্রমের সঙ্গে ইনি মন্দ-আত্মাদের আদেশ দেন, আর তারা বেরিয়ে আসে!”
LUK 4:37 তখন সেই অঞ্চলের চারদিকে তাঁর কথা ছড়িয়ে পড়ল।
LUK 4:38 সমাজভবন ত্যাগ করে যীশু শিমোনের বাড়িতে গেলেন। শিমোনের শাশুড়ি তখন প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন। তাঁর নিরাময়ের জন্য তাঁরা যীশুর কাছে অনুনয় করলেন।
LUK 4:39 যীশু তাই তাঁর উপরে ঝুঁকে পড়ে জ্বরকে ধমক দিলেন, এবং তাঁর জ্বর ছেড়ে গেল। তিনি তখনই উঠে তাঁদের পরিচর্যা করতে লাগলেন।
LUK 4:40 পরে সূর্য যখন অস্ত গেল, লোকেরা যীশুর কাছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এল। তিনি তাদের প্রত্যেকের উপরে হাত রেখে আরোগ্য দান করলেন।
LUK 4:41 এছাড়াও বহু জনের মধ্য থেকে দুষ্টাত্মারা বেরিয়ে এসে চিৎকার করতে লাগল, “আপনিই সেই ঈশ্বরের পুত্র!” কিন্তু তিনি তাদের ধমক দিলেন, তাদের কথা বলার অনুমতি দিলেন না, কারণ তিনি যে মশীহ, তা তারা জানত।
LUK 4:42 প্রত্যুষে যীশু এক নির্জন স্থানে গেলেন। লোকেরা তাঁর সন্ধান করছিল। তিনি যেখানে ছিলেন, তারা সেখানে এসে উপস্থিত হল। তারা তাঁকে নিরস্ত করতে চেষ্টা করল, যেন তিনি তাদের ছেড়ে না যান।
LUK 4:43 কিন্তু তিনি বললেন, “আমাকে অন্যান্য নগরেও ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করতে হবে, কারণ এই জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।”
LUK 4:44 আর তিনি যিহূদিয়ার সমাজভবনগুলিতে প্রচার করতে লাগলেন।
LUK 5:1 একদিন যখন লোকসমূহ তাঁর উপরে চাপাচাপি করে ঈশ্বরের বাক্য শুনছিল, তখন তিনি গিনেষরৎ হ্রদের তীরে দাঁড়িয়েছিলেন, আর তিনি দেখলেন।
LUK 5:2 মৎস্যজীবীরা জলের কিনারায় দুটি নৌকা রেখে দিয়ে তাদের জাল পরিষ্কার করছিল।
LUK 5:3 তিনি দুটি নৌকার একটিতে, শিমোনের নৌকায় উঠে তাঁকে কূল থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যেতে বললেন। তারপর তিনি নৌকায় বসে সকলকে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
LUK 5:4 কথা শেষ করে তিনি শিমোনকে বললেন, “নৌকা গভীর জলে নিয়ে গিয়ে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলো।”
LUK 5:5 শিমোন উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমরা সারারাত কঠোর পরিশ্রম করেও কিছু ধরতে পারিনি, কিন্তু আপনার কথানুসারে আমি জাল ফেলব।”
LUK 5:6 তাঁরা সেইমতো করলে এত মাছ ধরা পড়ল যে, তাঁদের জাল ছেঁড়ার উপক্রম হল।
LUK 5:7 তখন অন্য নৌকায় তাঁদের যে সহযোগীরা ছিলেন, তিনি তাঁদের ইশারা করলেন, যেন তাঁরা এসে তাঁদের সাহায্য করেন। তাঁরা এলেন। দুটি নৌকায় মাছে এমনভাবে ভর্তি হল যে, সেগুলি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হল।
LUK 5:8 তা দেখে শিমোন পিতর যীশুর দুই পায়ের উপর লুটিয়ে পড়ে বললেন, “প্রভু, আমার কাছ থেকে চলে যান, আমি পাপী!”
LUK 5:9 কারণ এত মাছ ধরা পড়তে দেখে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা আশ্চর্য হয়ে পড়েছিলেন।
LUK 5:10 শিমোনের সঙ্গী সিবদিয়ের দুই পুত্র যাকোব ও যোহনও একইভাবে আশ্চর্য হয়েছিলেন। যীশু তখন শিমোনকে বললেন, “ভয় কোরো না, এখন থেকে তুমি মানুষ ধরবে।”
LUK 5:11 তখন তাঁরা তাঁদের নৌকা দুটি তীরে টেনে নিয়ে এসে, সবকিছু পরিত্যাগ করে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
LUK 5:12 যীশু তখন কোনো এক নগরে ছিলেন। সেই সময়, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এল, যার সর্বাঙ্গ কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ছিল। যীশুকে দেখে সে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে মিনতি করল, “প্রভু, আপনি ইচ্ছা করলেই আমাকে শুচিশুদ্ধ করতে পারেন।”
LUK 5:13 যীশু তাঁর হাত বাড়িয়ে সেই ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেন। তিনি বললেন, “আমার ইচ্ছা, তুমি শুচিশুদ্ধ হও।” সেই মুহূর্তে সে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্ত হল।
LUK 5:14 যীশু তাকে আদেশ দিলেন, “কাউকে একথা বোলো না। কিন্তু যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখাও এবং তোমার শুচিশুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মোশির আদেশমতো নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।”
LUK 5:15 তবুও তাঁর কীর্তিকলাপের কথা আরও বেশি করে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ল যে, দলে দলে বিস্তর লোক তাঁর শিক্ষা শুনতে ও অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য তাঁর কাছে আসতে লাগল।
LUK 5:16 কিন্তু যীশু কোনও না কোনও নির্জন স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করতেন।
LUK 5:17 একদিন যীশু শিক্ষা দিচ্ছিলেন। গালীলের প্রতিটি গ্রাম থেকে এবং যিহূদিয়া ও জেরুশালেম থেকে আগত ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা সেখানে বসেছিল। এবং রোগীদের সুস্থ করবার জন্য প্রভুর শক্তি যীশুর মধ্যে ছিল।
LUK 5:18 কয়েকজন লোক এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে খাটে করে ঘরের ভিতরে যীশুর কাছে রাখার চেষ্টা করল।
LUK 5:19 ভিড়ের জন্য ভিতরে প্রবেশের পথ না পেয়ে তারা ছাদে উঠল ও টালি সরিয়ে খাটশুদ্ধ লোকটিকে ভিড়ের মধ্যে যীশুর সামনে নামিয়ে দিল।
LUK 5:20 তাদের এই ধরনের বিশ্বাস দেখে যীশু বললেন, “বন্ধু, তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হল।”
LUK 5:21 ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা মনে মনে চিন্তা করতে লাগল, “এই লোকটি কে, যে ঈশ্বরের নিন্দা করছে! ঈশ্বর ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে?”
LUK 5:22 যীশু তাদের মনের কথা বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা মনে মনে এসব কথা চিন্তা করছ কেন?
LUK 5:23 কোন কথাটি বলা সহজ, ‘তোমার পাপ ক্ষমা করা হল,’ বলা না, ‘তুমি উঠে হেঁটে বেড়াও’ বলা?
LUK 5:24 কিন্তু আমি চাই যেন তোমরা জানতে পারো যে পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার মনুষ্যপুত্রের আছে” এই বলে তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “ওঠো, তোমার খাট তুলে নিয়ে বাড়ি চলে যাও।”
LUK 5:25 লোকটি সঙ্গে সঙ্গে তাদের সামনে উঠে দাঁড়িয়ে, তার খাট তুলে নিয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে বাড়ি ফিরে গেল।
LUK 5:26 সবাই চমৎকৃত হয়ে ঈশ্বরের প্রশংসায় মুখর হয়ে উঠল। তারা ভয়ে ও ভক্তিতে অভিভূত হয়ে বলল, “আজ আমরা এক অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম।”
LUK 5:27 এরপর যীশু বেরিয়ে লেবি নামে এক কর আদায়কারীকে তাঁর নিজের কর আদায়ের চালাঘরে বসে থাকতে দেখলেন। যীশু তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।”
LUK 5:28 লেবি তখনই উঠে পড়লেন, সবকিছু ত্যাগ করলেন ও তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন।
LUK 5:29 পরে লেবি তাঁর বাড়িতে যীশুর সম্মানে এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করলেন। বহু কর আদায়কারী এবং আরও অনেকে তাঁদের সঙ্গে আহার করছিল।
LUK 5:30 কিন্তু ফরিশীরা ও তাঁদের দলভুক্ত শাস্ত্রবিদরা যীশুর শিষ্যদের কাছে অভিযোগ করল, “কর আদায়কারী ও পাপীদের সঙ্গে তোমরা কেন খাওয়াদাওয়া করছ?”
LUK 5:31 যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “পীড়িত ব্যক্তিরই চিকিৎসকের প্রয়োজন, সুস্থ ব্যক্তির নয়।
LUK 5:32 আমি ধার্মিকদের নয়, কিন্তু পাপীদের আহ্বান করতে এসেছি, যেন তারা মন পরিবর্তন করে।”
LUK 5:33 তাঁরা যীশুকে বললেন, “যোহনের শিষ্যেরা প্রায়ই উপোস ও প্রার্থনা করে, ফরিশীদের শিষ্যেরাও তাই করে, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা নিয়মিত খাওয়াদাওয়া করে যায়।”
LUK 5:34 যীশু উত্তর দিলেন, “বর সঙ্গে থাকতে তোমরা কি বরের অতিথিদের উপোস করাতে পারো?
LUK 5:35 কিন্তু সময় আসবে, যখন বরকে তাদের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, তখন তারা উপোস করবে।”
LUK 5:36 তিনি তাদের এই রূপকটি বললেন, “নতুন কাপড় থেকে টুকরো কেটে নিয়ে কেউ পুরোনো কাপড়ে তালি দেয় না। কেউ তা করলে, নতুন কাপড়টিও ছিঁড়বে, আর নতুন কাপড়ের তালিটিও পুরোনো কাপড়ের সঙ্গে মিলবে না।
LUK 5:37 আবার পুরোনো চামড়ার সুরাধারে কেউ নতুন দ্রাক্ষারস ঢালে না। তা করলে, নতুন দ্রাক্ষারস চামড়ার সুরাধারটিকে ফাটিয়ে দেবে; ফলে দ্রাক্ষারস পড়ে যাবে এবং চামড়ার সুরাধারটিও নষ্ট হয়ে যাবে।
LUK 5:38 তাই, নতুন চামড়ার সুরাধারেই নতুন দ্রাক্ষারস ঢালতে হবে।
LUK 5:39 আর পুরোনো দ্রাক্ষারস পান করার পর কেউ নতুন দ্রাক্ষারস পান করতে চায় না, কারণ সে বলে, ‘পুরোনোটিই ভালো।’ ”
LUK 6:1 এক বিশ্রামদিনে যীশু শস্যক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর শিষ্যেরা শস্যের শিষ ছিঁড়ে দু-হাতে ঘষে দানা বের করে খেতে লাগলেন।
LUK 6:2 কয়েকজন ফরিশী জিজ্ঞাসা করল, “বিশ্রামদিনে যা করা বিধিসংগত নয়, এমন কাজ তোমরা করছ কেন?”
LUK 6:3 যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা যখন ক্ষুধার্ত ছিলেন, তখন তাঁরা কী করেছিলেন, তা কি তোমরা কখনও পাঠ করোনি?
LUK 6:4 তিনি ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করেছিলেন, এবং পবিত্র রুটি নিয়ে নিজে খেয়েছিলেন যা করা একমাত্র যাজকদের পক্ষেই বিধিসংগত ছিল। এমনকি তিনি তাঁর সঙ্গীদেরও দিয়েছিলেন।”
LUK 6:5 তারপর যীশু তাদের বললেন, “মনুষ্যপুত্রই হলেন বিশ্রামদিনের প্রভু।”
LUK 6:6 আর এক বিশ্রামদিনে তিনি সমাজভবনে গিয়ে শিক্ষাদান করছিলেন। সেখানে একটি লোক ছিল, তার ডান হাত শুকিয়ে গিয়েছিল।
LUK 6:7 ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা যীশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য কোনো সূত্রের সন্ধানে ছিল। সেইজন্য যীশু বিশ্রামদিনে সুস্থ করেন কি না, সেদিকে ছিল তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
LUK 6:8 কিন্তু যীশু তাদের চিন্তার কথা জেনে হাত শুকিয়ে যাওয়া লোকটিকে বললেন, “তুমি সকলের সামনে উঠে দাঁড়াও।” তাই সে সেখানে উঠে দাঁড়াল।
LUK 6:9 যীশু তখন তাদের বললেন, “আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করি, বিশ্রামদিনে কী করা ন্যায়সংগত, ভালো কাজ করা, না মন্দ কাজ করা; জীবন রক্ষা করা, না তা ধ্বংস করা?”
LUK 6:10 তিনি তাদের সকলের প্রতি চারদিকে তাকালেন। তারপর লোকটিকে বললেন, “তোমার হাতটি বাড়িয়ে দাও।” সে তাই করল। তার হাত একেবারে সুস্থ হল।
LUK 6:11 তারা কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল এবং যীশুর বিরুদ্ধে আর কী করা যায়, তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা শুরু করল।
LUK 6:12 সেই সময়, একদিন যীশু প্রার্থনা করার জন্য একটি পাহাড়ের ধারে গেলেন। সেখানে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে সারারাত কাটালেন।
LUK 6:13 ভোরবেলায় তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে ডাকলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে বারোজনকে মনোনীত করলেন। তিনি তাঁদের প্রেরিতশিষ্য নামে অভিহিত করলেন:
LUK 6:14 শিমোন (তিনি যাঁর নাম দিয়েছিলেন পিতর), তাঁর ভাই আন্দ্রিয়, যাকোব, যোহন, ফিলিপ, বর্থলময়,
LUK 6:15 মথি, থোমা, আলফেয়ের পুত্র যাকোব, জিলট নামে পরিচিত শিমোন,
LUK 6:16 যাকোবের পুত্র যিহূদা এবং যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ, যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
LUK 6:17 তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে এসে এক সমভূমিতে দাঁড়ালেন। সেখানে তাঁর অনেক শিষ্য এবং যিহূদিয়া, জেরুশালেম, টায়ার ও সীদোনের উপকূল অঞ্চল থেকে আগত অনেক লোক সমবেত হয়েছিল।
LUK 6:18 তারা তাঁর শিক্ষা শুনতে ও তাদের সব রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এসেছিল। মন্দ-আত্মার দ্বারা উৎপীড়িতেরা সুস্থ হল।
LUK 6:19 লোকেরা তাঁকে স্পর্শ করার চেষ্টা করল, কারণ তাঁর ভিতর থেকে শক্তি নির্গত হয়ে সবাইকে রোগমুক্ত করছিল।
LUK 6:20 যীশু তাঁর শিষ্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ধন্য তোমরা, যারা দীনহীন কারণ ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদেরই।
LUK 6:21 ধন্য তোমরা, যারা এখন ক্ষুধার্ত, কারণ তোমরা পরিতৃপ্ত হবে। ধন্য তোমরা, যারা এখন কান্নাকাটি করছ, কারণ তোমাদের মুখে হাসি ফুটবে।
LUK 6:22 ধন্য তোমরা, যখন মনুষ্যপুত্রের জন্য মানুষ তোমাদের ঘৃণা করে, তোমাদের বহিষ্কার করে ও তোমাদের অপমান করে, আবার মন্দ অপবাদ দিয়ে তোমাদের নাম অগ্রাহ্য করে।
LUK 6:23 “তখন তোমরা উল্লসিত হোয়ো, আনন্দে নাচ কোরো, কারণ স্বর্গে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর পুরস্কার। তাদের পূর্বপুরুষেরা ভাববাদীদের সঙ্গেও এরকম আচরণ করেছিল।
LUK 6:24 “কিন্তু তোমরা যারা ধনী, ধিক্ তোমাদের কারণ স্বাচ্ছন্দ্য তোমরা ইতিমধ্যেই পেয়ে গিয়েছ।
LUK 6:25 খাদ্য প্রাচুর্যে পরিতৃপ্ত যারা, ধিক্ তোমাদের, কারণ তোমরা ক্ষুধার্ত হবে। যারা এখন হাসছ, ধিক্ তোমাদের, কারণ তোমরা বিলাপ ও কান্নাকাটি করবে।
LUK 6:26 যখন মানুষ তোমাদের প্রশংসা করে, ধিক্ তোমাদের, কারণ তাদের পূর্বপুরুষেরা ভণ্ড ভাববাদীদের সঙ্গে এরকমই আচরণ করত।
LUK 6:27 “কিন্তু তোমরা, যারা আমার কথা শুনছ, তাদের আমি বলছি, তোমরা শত্রুদের ভালোবেসো; যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের মঙ্গল কোরো।
LUK 6:28 যারা তোমাদের অভিশাপ দেয়, তাদের আশীর্বাদ দিয়ো; যারা তোমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, তাদের জন্য প্রার্থনা কোরো।
LUK 6:29 কেউ যদি তোমার এক গালে চড় মারে, অন্য গালও তার দিকে ফিরিয়ে দিয়ো। কেউ যদি তোমার গায়ের চাদর নিয়ে নেয়, তাকে তোমার জামাও নিতে বাধা দিয়ো না।
LUK 6:30 যারা তোমার কাছে চায়, তাদের তুমি দাও। আর কেউ যদি তোমার কাছ থেকে তোমার কোনো জিনিস নিয়ে নেয়, তা ফেরত চেয়ো না।
LUK 6:31 তোমরা অপরের কাছ থেকে যেরূপ ব্যবহার পেতে চাও, তাদের প্রতি তোমরাও সেরূপ ব্যবহার কোরো।
LUK 6:32 “যারা তোমাদের ভালোবাসে, তোমরা যদি তাদেরই ভালোবাসো, তাহলে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? এমনকি, পাপীদের যারা ভালোবাসে, পাপীরা তাদেরই ভালোবাসে।
LUK 6:33 যারা তোমাদের উপকার করে, তোমরা যদি তাদেরই উপকার করো, তাহলে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? পাপীরাও তো তাই করে।
LUK 6:34 যাদের কাছে ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা আছে, শুধুমাত্র তাদেরই যদি তোমরা ঋণ দাও, তাহলে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? পাপীরাও তো তাদের সমস্ত ঋণ ফেরত পাওয়ার আশায় পাপীদের ঋণ দেয়।
LUK 6:35 কিন্তু তোমরা শত্রুদেরও ভালোবেসো, তাদের মঙ্গল কোরো এবং কোনো কিছু ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা না করে, তাদের ঋণ দিয়ো। তাহলে তোমাদের পুরস্কার হবে প্রচুর। আর তোমরা হবে পরাৎপরের সন্তান, কারণ তিনি অকৃতজ্ঞ ও দুর্জনদের প্রতিও কৃপাবান।
LUK 6:36 অতএব, তোমাদের পিতা যেমন দয়ালু, তোমরাও তেমনই দয়ালু হও।
LUK 6:37 “বিচার কোরো না, তাহলে তোমাদের বিচার করা হবে না। কাউকে দোষী কোরো না, তাহলে তোমাদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হবে না। ক্ষমা কোরো, তাহলে তোমাদেরও ক্ষমা করা হবে।
LUK 6:38 দান কোরো, তোমাদেরও দেওয়া হবে। প্রচুর পরিমাণে, ঠেসে, ঝাঁকিয়ে তোমাদের পাত্র এমনভাবে তোমাদের কোলে ভরিয়ে দেওয়া হবে, যেন তা উপচে পড়ে। কারণ যে মানদণ্ডে তোমরা পরিমাপ করবে, সেই একই মানদণ্ডে পরিমাপ করে তোমাদের ফেরত দেওয়া হবে।”
LUK 6:39 পরে তিনি তাদের এই রূপকটি বললেন, “একজন অন্ধ কি আর একজন অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? তারা দুজনেই কি কোনো গর্তে পড়বে না?
LUK 6:40 শিষ্য তার গুরুর ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ শিক্ষালাভ করলে প্রত্যেক শিষ্যও তার গুরুর সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
LUK 6:41 “তোমার ভাইয়ের চোখে যে কাঠের গুঁড়ো রয়েছে, কেবলমাত্র সেটিই দেখছ? অথচ তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে, তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না কেন?
LUK 6:42 তুমি কী করে তোমার ভাইকে বলতে পারো, ‘এসো, তোমার চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করে দিই,’ যখন তোমার নিজের চোখের কড়িকাঠ দেখতে পাচ্ছ না? ওহে ভণ্ড, প্রথমে নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠটি বের করো, তাহলেই তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কাঠের গুঁড়োটি বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
LUK 6:43 “কোনো ভালো গাছে মন্দ ফল ধরে না, আবার মন্দ গাছেও ভালো ফল ধরে না।
LUK 6:44 তার ফলের দ্বারাই প্রত্যেক গাছের পরিচয় পাওয়া যায়। লোকে কাঁটাঝোপ থেকে ডুমুর বা শেয়ালকাঁটা থেকে আঙুর সংগ্রহ করে না।
LUK 6:45 ভালো মানুষ তার অন্তরের সঞ্চিত ভালো ভাণ্ডার থেকে ভালো বিষয়ই বের করে, এবং মন্দ মানুষ তার অন্তরের সঞ্চিত মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দ বিষয়ই বের করে। কারণ হৃদয় থেকে যা উপচে পড়ে মুখ সেকথাই ব্যক্ত করে।
LUK 6:46 “কেন তোমরা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু,’ বলে সম্বোধন করো, অথচ আমি যা বলি, তা তোমরা করো না?
LUK 6:47 যে আমার কাছে এসে আমার কথা শুনে কাজ করে, সে যে কেমন লোক, তা আমি তোমাদের বলি।
LUK 6:48 সে এমন একজন লোক, যে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে শক্ত পাথরের উপর তার ভিত্তিমূল স্থাপন করল। যখন বন্যা এল, প্রবল স্রোত বাড়িতে এসে আঘাত করল, তাকে টলাতে পারল না, কারণ তা দৃঢ়ভাবে নির্মিত হয়েছিল।
LUK 6:49 কিন্তু যে আমার কথা শুনেও সেই অনুযায়ী কাজ করে না, সে এমন একজনের মতো, যে ভিত ছাড়াই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করল। প্রবল স্রোত যে মুহূর্তে সেই বাড়িতে আঘাত হানল, বাড়িটি পড়ে গেল, আর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেল।”
LUK 7:1 যীশু সকলের সামনে এই সমস্ত কথা বলার পর কফরনাহূমে ফিরে গেলেন।
LUK 7:2 সেখানে এক শত-সেনাপতির দাস, যে ছিল তাঁর প্রিয়পাত্র, রোগে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।
LUK 7:3 শত-সেনাপতি যীশুর কথা শুনেছিলেন। তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রাচীনকে যীশুর কাছে পাঠিয়ে অনুরোধ জানালেন, তিনি যেন এসে তাঁর দাসকে সুস্থ করেন।
LUK 7:4 তাঁরা যীশুর কাছে এসে তাঁকে কাতর মিনতি জানালেন, “এই ব্যক্তি আপনার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য,
LUK 7:5 কারণ তিনি আমাদের জাতিকে ভালোবাসেন, আর আমাদের সমাজভবনটি নির্মাণ করে দিয়েছেন।”
LUK 7:6 তাই যীশু তাঁদের সঙ্গে গেলেন। যীশু শত-সেনাপতির বাড়ির কাছাকাছি এলে, তিনি তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে যীশুর কাছে বলে পাঠালেন, “প্রভু, আপনি নিজে কষ্ট করবেন না। আপনি আমার বাড়িতে আসবেন আমি এমন যোগ্য নই।
LUK 7:7 তাই আমি নিজেকেও আপনার কাছে যাওয়ার যোগ্য মনে করিনি। আপনি কেবলমাত্র মুখে বলুন, তাতেই আমার দাস সুস্থ হবে।
LUK 7:8 কারণ আমিও কর্তৃত্বের অধীন একজন মানুষ এবং সৈন্যরা আমার অধীন। আমি তাদের একজনকে ‘যাও’ বললে সে যায়, অপরজনকে ‘এসো’ বললে সে আসে, আবার আমার দাসকে ‘এই কাজটি করো,’ বললে সে তা করে।”
LUK 7:9 একথা শুনে যীশু তার সম্পর্কে চমৎকৃত হলেন। তাঁকে যারা অনুসরণ করছিলেন তাদের দিকে ফিরে তিনি বললেন, “আমি তোমাদের বলছি, ইস্রায়েলের মধ্যেও আমি এমন প্রগাঢ় বিশ্বাস দেখতে পাইনি।”
LUK 7:10 তখন যে লোকদের তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখলেন, দাসটি সুস্থ হয়ে উঠেছে।
LUK 7:11 এর কিছুকাল পরেই যীশু নায়িন নামে এক নগরে গেলেন। তাঁর শিষ্যেরা ও বিস্তর লোক তাঁর সঙ্গী হল।
LUK 7:12 তিনি নগরদ্বারের কাছে এসে পৌঁছালেন। তখন দেখলেন, লোকেরা এক মৃত ব্যক্তিকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মা ছিল বিধবা এবং সে ছিল তার একমাত্র পুত্র। নগরের বিস্তর লোক তাদের সঙ্গে ছিল।
LUK 7:13 তাকে দেখে প্রভুর হৃদয় তার প্রতি করুণায় ভরে উঠল। তিনি তাকে বললেন, “কেঁদো না।”
LUK 7:14 তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে শবদেহ রাখা খাট স্পর্শ করলেন। আর যারা বাহক তারা দাঁড়িয়ে পড়ল। তিনি বললেন, “ওহে যুবক, আমি তোমাকে বলছি, তুমি ওঠো!”
LUK 7:15 মৃত মানুষটি উঠে বসে কথা বলতে লাগল। যীশু তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
LUK 7:16 এই দেখে তারা সকলে ভয়ে ও ভক্তিতে অভিভূত হল, ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল এবং তারা বলতে লাগল, “আমাদের মধ্যে এক মহান ভাববাদীর উদয় হয়েছে। ঈশ্বর তাঁর প্রজাদের সাহায্য করতে এসেছেন।”
LUK 7:17 যীশুর এই কীর্তির কথা যিহূদিয়ার সর্বত্র এবং সন্নিহিত অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল।
LUK 7:18 যোহনের শিষ্যেরা এই সমস্ত কথা তাঁকে জানাল।
LUK 7:19 তিনি তাদের দুজনকে ডেকে প্রভুর কাছে জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন, “যাঁর আসার কথা ছিল আপনিই কি তিনি না আমরা অন্য কারও প্রতীক্ষায় থাকব?”
LUK 7:20 তারা যখন যীশুর কাছে এল, তারা বলল, “বাপ্তিষ্মদাতা যোহন আপনার কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা করতে পাঠিয়েছেন, ‘যে মশীহের আবির্ভাবের কথা ছিল, সে কি আপনি, না আমরা অন্য কারও প্রতীক্ষায় থাকব?’ ”
LUK 7:21 ঠিক সেই সময়ে যীশু বহু রোগগ্রস্ত, পীড়িত ও মন্দ-আত্মাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুস্থ করছিলেন; বহু অন্ধকেও দৃষ্টিশক্তি দান করছিলেন।
LUK 7:22 তাই তিনি সেই বার্তাবহদের উত্তর দিলেন, “তোমরা যা দেখলে, যা শুনলে, ফিরে গিয়ে সেসব যোহনকে জানাও। যারা অন্ধ তারা দৃষ্টি পাচ্ছে, যারা খোঁড়া তারা চলতে পারছে, যারা কুষ্ঠরোগী তারা শুচিশুদ্ধ হচ্ছে, যারা কালা তারা শুনতে পাচ্ছে, যারা মৃত তারা উত্থাপিত হচ্ছে ও যারা দরিদ্র তাদের কাছে সুসমাচার প্রচারিত হচ্ছে।
LUK 7:23 আর ধন্য সেই ব্যক্তি যে আমার কারণে বাধা পায় না।”
LUK 7:24 যোহনের বার্তাবাহকেরা চলে গেলে, যীশু সকলের কাছে যোহনের সম্পর্কে বলতে লাগলেন, “তোমরা মরুপ্রান্তরে কী দেখতে গিয়েছিলে? বাতাসে দুলছে এমন কোনো নলখাগড়া?
LUK 7:25 তা না হলে, তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? মোলায়েম পোশাক পরা কোনো মানুষকে? তা নয়, যারা মূল্যবান পোশাক পরে, বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, তারা তো রাজপ্রাসাদে থাকে।
LUK 7:26 কিন্তু তোমরা কী দেখতে গিয়েছিলে? কোনো ভাববাদীকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলি, ভাববাদীর চেয়েও মহত্তর একজনকে।
LUK 7:27 ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে লেখা আছে: “ ‘আমি আমার বার্তাবাহককে তোমার আগে পাঠাব, যে তোমার আগে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে।’
LUK 7:28 আমি তোমাদের বলছি, নারীর গর্ভে জন্মেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যোহনের চেয়ে মহান আর কেউই নেই; তবুও ঈশ্বরের রাজ্যে যে নগণ্যতম সেও তাঁর চেয়ে মহান।”
LUK 7:29 সব লোক, এমনকি, কর আদায়কারীরাও, যীশুর শিক্ষা শুনে ঈশ্বরের পথকে সঠিক বলে স্বীকার করল, কারণ তারা বুঝতে পারল, যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম নিয়ে তারা ভুল করেনি।
LUK 7:30 কিন্তু ফরিশীরা ও শাস্ত্রবিদরা তাদের বিষয়ে ঈশ্বরের পরিকল্পনা অগ্রাহ্য করল, কারণ তারা যোহনের কাছে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেনি।
LUK 7:31 “তাহলে, কার সঙ্গে আমি এই প্রজন্মের লোকদের তুলনা করতে পারি? তারা কাদের মতো?
LUK 7:32 তারা সেইসব ছেলেমেয়ের মতো, যারা হাটেবাজারে বসে পরস্পরকে সম্বোধন করে বলে, “ ‘আমরা তোমাদের জন্য বাঁশি বাজালাম, কিন্তু তোমরা নৃত্য করলে না; আমরা শোকগাথা গাইলাম, কিন্তু তোমরা বিলাপ করলে না।’
LUK 7:33 বাপ্তিষ্মদাতা যোহন এসে রুটি খেলেন না বা দ্রাক্ষারস পান করলেন না, কিন্তু তোমরা বললে, ‘তিনি ভূতগ্রস্ত।’
LUK 7:34 মনুষ্যপুত্র এলেন, খাওয়াদাওয়া করলেন, কিন্তু তোমরা বললে, ‘এই দেখো একজন পেটুক ও মদ্যপ, কর আদায়কারী ও পাপীদের বন্ধু।’
LUK 7:35 কিন্তু প্রজ্ঞা তার অনুসরণকারীদের আচরণের দ্বারাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়।”
LUK 7:36 আর একজন ফরিশী আহার করার জন্য যীশুকে নিমন্ত্রণ করল। যীশু তার বাড়িতে গেলেন এবং খাবারের সময় আসনে হেলান দিয়ে বসলেন।
LUK 7:37 সেই নগরে একজন পাপীষ্ঠা নারী ছিল। যীশু ফরিশীর বাড়িতে খাবার খাচ্ছেন শুনে, সে একটি শ্বেতস্ফটিকের পাত্রে সুগন্ধি তেল নিয়ে এল।
LUK 7:38 সে যীশুর পিছনে তাঁর পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে চোখের জলে তাঁর পা-দুটি ভিজিয়ে দিতে লাগল। তারপর সে তার চুল দিয়ে তাঁর পা দুটিকে মুছিয়ে দিয়ে চুম্বন করল এবং সেই সুগন্ধি তেল ঢেলে দিল।
LUK 7:39 এই ঘটনা দেখে আমন্ত্রণকর্তা ফরিশী মনে মনে ভাবল, “এই লোকটি যদি ভাববাদী হত, তাহলে বুঝতে পারত, কে তাঁকে স্পর্শ করছে এবং সে কী প্রকৃতির নারী! সে তো এক পাপীষ্ঠা!”
LUK 7:40 যীশু তাকে উত্তর দিলেন, “শিমোন, তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।” শিমোন বলল, “গুরুমহাশয়, বলুন।”
LUK 7:41 “এক মহাজনের কাছে দুজন ব্যক্তি ঋণ নিয়েছিল। একজন নিয়েছিল পাঁচশো দিনার, অন্যজন পঞ্চাশ দিনার।
LUK 7:42 তাদের কারোরই সেই পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না, তাই তিনি দুজনেরই ঋণ মকুব করে দিলেন। এখন তাদের মধ্যে কে তাঁকে বেশি ভালোবাসবে?”
LUK 7:43 শিমোন উত্তর দিল, “আমার মনে হয়, যার বেশি ঋণ মকুব করা হয়েছিল, সেই।” যীশু বললেন, “তুমি যথার্থ বিচার করেছ।”
LUK 7:44 তারপর তিনি সেই নারীর দিকে ফিরে শিমোনকে বললেন, “তুমি এই স্ত্রীলোককে দেখতে পাচ্ছ, আমি তোমার বাড়িতে প্রবেশ করলাম, অথচ তুমি আমাকে পা-ধোওয়ার জল দিলে না। কিন্তু ও তার চোখের জলে আমার পা ভিজিয়ে দিল, আর তার চুল দিয়ে তা মুছিয়ে দিল।
LUK 7:45 তুমি আমাকে একবারও চুম্বন করলে না, কিন্তু আমি এই বাড়িতে প্রবেশ করার সময় থেকেই এই নারী আমার পা-দুখানি চুম্বন করা থেকে বিরত হয়নি।
LUK 7:46 তুমি আমার মাথায় তেল দিয়ে অভিষেক করলে না, কিন্তু ও আমার পায়ে সুগন্ধি তেল ঢেলে অভিষেক করল।
LUK 7:47 তাই আমি তোমাকে বলছি, যেহেতু তার অজস্র পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, সে আমাকে বেশি ভালোবেসেছে। কিন্তু যাকে অল্প ক্ষমা করা হয়, সে অল্পই ভালোবাসে।”
LUK 7:48 তারপর যীশু সেই নারীকে বললেন, “তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হয়েছে।”
LUK 7:49 অন্য অতিথিরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল “ইনি কে, যে পাপও ক্ষমা করেন?”
LUK 7:50 যীশু সেই নারীকে বললেন, “তোমার বিশ্বাসই তোমাকে পরিত্রাণ দিয়েছে, শান্তিতে চলে যাও।”
LUK 8:1 এরপর যীশু ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার ঘোষণা করতে করতে বিভিন্ন গ্রাম ও নগর পরিক্রমা করতে লাগলেন। সেই বারোজন প্রেরিতশিষ্যও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
LUK 8:2 মন্দ-আত্মা ও বিভিন্ন রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করেছিলেন, এমন আরও কয়েকজন মহিলা তাদের সহযাত্রী হয়েছিলেন। তারা হলেন সেই মরিয়ম (মাগ্দালাবাসী নামে আখ্যাত), যার মধ্যে থেকে যীশু সাতটি ভূত তাড়িয়ে ছিলেন,
LUK 8:3 হেরোদের গৃহস্থালীর প্রধান ব্যবস্থাপক কূষের স্ত্রী যোহান্না, শোশন্না এবং আরও অনেকে। এই মহিলারা আপন আপন সম্পত্তি থেকে তাঁদের পরিচর্যা করতেন।
LUK 8:4 যখন অনেক লোক সমবেত হচ্ছিল এবং বিভিন্ন নগর থেকে লোকেরা যীশুর কাছে আসছিল, তিনি তাদের এই রূপক কাহিনিটি বললেন:
LUK 8:5 “একজন কৃষক তার বীজবপন করতে গেল। সে যখন বীজ ছড়াচ্ছিল, কিছু বীজ পথের ধারে পড়ল; সেগুলি পায়ের তলায় মাড়িয়ে গেল, আর পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেলল।
LUK 8:6 কতগুলি বীজ পড়ল পাথুরে জমিতে। সেগুলির অঙ্কুরোদ্গম হল, কিন্তু রস না থাকায় চারাগুলি শুকিয়ে গেল।
LUK 8:7 কিছু বীজ পড়ল কাঁটাঝোপের মধ্যে। কাঁটাঝোপ চারাগাছের সঙ্গেই বেড়ে উঠে তাদের ঢেকে ফেলল।
LUK 8:8 আবার কিছু বীজ পড়ল উৎকৃষ্ট জমিতে, সেখানে গাছগুলি বেড়ে উঠে যা বপন করা হয়েছিল, তার শতগুণ ফসল উৎপন্ন করল।” একথা বলার পর তিনি উচ্চকণ্ঠে বললেন, “যার শোনবার কান আছে, সে শুনুক।”
LUK 8:9 তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে এই রূপকের অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন।
LUK 8:10 তিনি বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্যের নিগূঢ়তত্ত্ব তোমাদেরই কাছে ব্যক্ত হয়েছে, কিন্তু অন্যদের কাছে আমি রূপকের আশ্রয়ে কথা বলি যেন, “ ‘দেখেও তারা দেখতে না পায়, আর শুনেও তারা বুঝতে না পায়।’
LUK 8:11 “এই রূপকের অর্থ হল এরকম: সেই বীজ ঈশ্বরের বাক্য।
LUK 8:12 পথের উপর পতিত বীজ হল এমন কিছু লোক, যারা বাক্য শোনে, আর পরে দিয়াবল এসে তাদের অন্তর থেকে বাক্য হরণ করে, যেন তারা বিশ্বাস করতে না পারে ও পরিত্রাণ না পায়।
LUK 8:13 পাথুরে জমির উপরে পতিত বীজ হল তারাই, যারা ঈশ্বরের বাক্য শোনামাত্র সানন্দে গ্রহণ করে, কিন্তু মূল না থাকায় তাদের বিশ্বাস ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু পরীক্ষার সময় তারা বিপথগামী হয়।
LUK 8:14 কাঁটাঝোপের মধ্যে পতিত বীজ তারা, যারা বাক্য শোনে, কিন্তু জীবনে চলার পথে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা, ধনসম্পত্তি ও বিলাসিতায় ব্যাহত হয়ে পরিপক্ব হতে পারে না।
LUK 8:15 কিন্তু উৎকৃষ্ট জমিতে পতিত বীজ তারাই, যারা উদার ও শুদ্ধচিত্ত, তারা বাক্য শুনে তা আঁকড়ে থাকে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে প্রচুর শস্য উৎপন্ন করে।
LUK 8:16 “প্রদীপ জ্বেলে কেউ পাত্রের মধ্যে লুকিয়ে রাখে না, বা খাটের নিচেও রেখে দেয় না। বরং প্রদীপটিকে সে একটি বাতিদানের উপরেই রেখে দেয়, যেন যারা ভিতরে প্রবেশ করে, তারা আলো দেখতে পায়।
LUK 8:17 কারণ গুপ্ত এমন কিছুই নেই, যা জানা যাবে না, বা প্রকাশ্যে উদ্‌ঘাটিত হবে না।
LUK 8:18 কাজেই কীভাবে শুনছ, সে বিষয়ে সতর্ক থেকো। যার আছে, তাকে আরও দেওয়া হবে; যার নেই, এমনকি, কিছু আছে বলে যদি সে মনে করে, তাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে।”
LUK 8:19 এরপর যীশুর মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন, কিন্তু ভিড়ের জন্য তাঁরা তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারলেন না।
LUK 8:20 এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, “আপনার মা ও ভাইয়েরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।”
LUK 8:21 তিনি উত্তর দিলেন, “যারা ঈশ্বরের বাক্য শুনে সেইমতো কাজ করে, তারাই আমার মা ও ভাই।”
LUK 8:22 একদিন যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “চলো আমরা সাগরের ওপারে যাই।” এতে তারা একটি নৌকায় উঠে বসে যাত্রা করলেন।
LUK 8:23 তাঁরা নৌকা চালানো শুরু করলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। এমন সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় উঠল, নৌকা জলে ভর্তি হতে লাগল। তাঁরা এক ভয়ংকর বিপদের সম্মুখীন হলেন।
LUK 8:24 শিষ্যেরা কাছে গিয়ে তাঁকে জাগালেন, “প্রভু, প্রভু, আমরা যে ডুবতে বসেছি!” তিনি উঠে বাতাস ও উত্তাল জলরাশিকে ধমক দিলেন, ঝড় থেমে গেল। সবকিছু শান্ত হল।
LUK 8:25 তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “তোমাদের বিশ্বাস কোথায় গেল?” ভয়ে ও বিস্ময়ে তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, “ইনি তাহলে কে, যিনি বাতাস ও জলকে আদেশ দেন, ও তারা তাঁর কথা মেনে চলে?”
LUK 8:26 পরে তাঁরা গেরাসেনী অঞ্চলে পৌঁছালেন। সেই স্থানটি গালীল সাগরের অপর পারে অবস্থিত।
LUK 8:27 যীশু তীরে নামবার সঙ্গে সঙ্গেই নগরের এক মন্দ-আত্মাগ্রস্ত ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলেন। বহুদিন ধরে এই লোকটি বিনা কাপড়ে উলঙ্গ হয়ে থাকত, বাড়িতে বসবাস করত না। সে থাকত কবরস্থানে।
LUK 8:28 সে যীশুকে দেখে চিৎকার করে উঠল এবং তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে উচ্চস্বরে বলল, “পরাৎপর ঈশ্বরের পুত্র যীশু, আপনি আমাকে নিয়ে কী করতে চান? আমি আপনার কাছে মিনতি করি, আমাকে যন্ত্রণা দেবেন না!”
LUK 8:29 কারণ লোকটির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যীশু সেই অশুচি আত্মাকে আদেশ দিয়েছিলেন। বারবার সে তার উপর ভর করত। লোকটির হাতে-পায়ে শিকল দিয়ে সতর্ক পাহারা রাখা হলেও, সে তার শিকল ছিঁড়ে ফেলত, আর ভূত তাকে তাড়িয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যেত।
LUK 8:30 যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কী?” “বাহিনী,” সে উত্তর দিল, কারণ বহু ভূত তার মধ্যে প্রবেশ করেছিল।
LUK 8:31 তারা তাঁর কাছে বারবার অনুরোধ করতে লাগল, তিনি যেন তাদের রসাতলে না পাঠান।
LUK 8:32 সেখানে পাহাড়ের গায়ে বিশাল একপাল শূকর চরে বেড়াচ্ছিল। ভূতেরা শূকরদের মধ্যে প্রবেশ করার অনুমতি প্রার্থনা করে যীশুকে অনুনয় করল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন।
LUK 8:33 ভূতেরা লোকটির ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে সেই শূকরপালের মধ্যে প্রবেশ করল। শূকরের পাল পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে ছুটে গিয়ে হ্রদে পড়ে ডুবে গেল।
LUK 8:34 যারা শূকর চরাচ্ছিল, তারা এই ঘটনাটি দেখে দৌড়ে পালিয়ে গেল ও নগরে ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে এই সংবাদ দিল।
LUK 8:35 কী ঘটেছে দেখবার জন্য লোকেরা বাইরে এল। যীশুর কাছে উপস্থিত হয়ে তারা দেখতে পেল, সেই লোকটি ভূতের কবলমুক্ত হয়ে পোশাক পরে সুস্থ মনে যীশুর পায়ের কাছে বসে আছে। এই দেখে তারা ভয় পেয়ে গেল।
LUK 8:36 প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই ভূতগ্রস্ত ব্যক্তিটি কীভাবে সুস্থ হয়েছে, তা সকলকে বলতে লাগল।
LUK 8:37 তখন গেরাসেনী অঞ্চলের লোকেরা ভয় পেয়ে তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য যীশুকে অনুরোধ করল। যীশু তখন নৌকায় উঠে চলে গেলেন।
LUK 8:38 যে লোকটির মধ্য থেকে ভূতেরা বেরিয়ে এসেছিল, সে তাঁর সঙ্গী হওয়ার জন্য যীশুকে অনুনয় করতে লাগল। কিন্তু যীশু তাকে ফিরিয়ে দিলেন,
LUK 8:39 বললেন, “তুমি বাড়ি ফিরে যাও, আর লোকদের গিয়ে বলো, ঈশ্বর তোমার জন্য কী করেছেন।” তাই লোকটি চলে গেল, আর যীশু তার জন্য যা করেছেন, সেকথা নগরের সর্বত্র বলে বেড়াতে লাগল।
LUK 8:40 যীশু ফিরে আসার পর লোকেরা তাঁকে স্বাগত জানাল, কারণ তারা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল।
LUK 8:41 সেই সময়, যায়ীর নামে এক ব্যক্তি এসে যীশুর পায়ে লুটিয়ে পড়লেন; তিনি ছিলেন সমাজভবনের একজন অধ্যক্ষ। তাঁর বাড়িতে আসার জন্য তিনি তাঁকে মিনতি করলেন।
LUK 8:42 কারণ তাঁর একমাত্র মেয়ে তখন ছিল মৃত্যুশয্যায়, যার বয়স ছিল প্রায় বারো বছর। যীশু যখন পথ চলছিলেন, মানুষের ভিড়ে তাঁর চাপা পড়ার উপক্রম হল।
LUK 8:43 সেখানে এক নারী ছিল, যে বারো বছর ধরে রক্তস্রাবের ব্যাধিতে ভুগছিল। সে চিকিৎসকদের পিছনে তার সর্বস্ব ব্যয় করেছিল, কিন্তু কেউ তাকে সুস্থ করতে পারেনি।
LUK 8:44 নারী ভিড়ের মধ্যে যীশুর পিছনে এসে তাঁর পোশাকের আঁচল স্পর্শ করল এবং সঙ্গে সঙ্গে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল।
LUK 8:45 যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “কে আমাকে স্পর্শ করল?” তারা সবাই অস্বীকার করলে, পিতর বললেন, “প্রভু, লোকেরা ভিড় করে যে আপনার উপরে চেপে পড়ছে!”
LUK 8:46 কিন্তু যীশু বললেন, “কেউ একজন আমাকে স্পর্শ করেছে, কারণ আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমার ভিতর থেকে শক্তি নির্গত হয়েছে।”
LUK 8:47 সেই নারী যখন দেখল যে এই বিষয়টি গোপন রাখা সম্ভব নয়, তখন সে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে এসে যীশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ল। সে সমস্ত লোকের সাক্ষাতে বলল, কেন সে তাঁকে স্পর্শ করেছিল এবং কীভাবে, সেই মুহূর্তেই সে সুস্থ হয়েছিল।
LUK 8:48 তখন তিনি তাকে বললেন, “কন্যা, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে। শান্তিতে ফিরে যাও।”
LUK 8:49 যীশু তখনও কথা বলছেন, এমন সময় সমাজভবনের অধ্যক্ষ যায়ীরের বাড়ি থেকে একজন এসে উপস্থিত হল। সে বলল, “আপনার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আর গুরুমহাশয়কে বিব্রত করবেন না।”
LUK 8:50 একথা শুনে যীশু যায়ীরকে বললেন, “ভয় পেয়ো না, শুধু বিশ্বাস করো, সে সুস্থ হয়ে যাবে।”
LUK 8:51 তিনি যায়ীরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পিতর, যোহন ও যাকোব এবং মেয়েটির বাবা-মা ছাড়া আর কাউকে তাঁর সঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে দিলেন না।
LUK 8:52 সেই সময়, সমস্ত লোক মেয়েটির জন্য শোক ও বিলাপ করছিল। যীশু বললেন, “তোমাদের বিলাপ বন্ধ করো। সে মারা যায়নি, ঘুমিয়ে আছে মাত্র।”
LUK 8:53 তারা জানত, মেয়েটি মারা গেছে, তাই তারা যীশুকে উপহাস করল।
LUK 8:54 কিন্তু যীশু মেয়েটির হাত ধরে বললেন, “খুকুমণি, ওঠো!”
LUK 8:55 তখন তার আত্মা ফিরে এল এবং সে তখনই উঠে দাঁড়াল। তখন যীশু তাদের বললেন মেয়েটিকে কিছু খেতে দিতে।
LUK 8:56 তার বাবা-মা ভীষণ অবাক হয়ে গেল। কিন্তু তিনি এই ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে তাদের নিষেধ করে দিলেন।
LUK 9:1 যীশু সেই বারোজনকে আহ্বান করে মন্দ-আত্মা তাড়ানোর এবং রোগনিরাময় করার ক্ষমতা ও অধিকার তাদের দিলেন।
LUK 9:2 তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রচার ও পীড়িতদের আরোগ্য দান করার জন্য তাঁদের পাঠালেন।
LUK 9:3 তিনি তাঁদের বললেন, “যাত্রার উদ্দেশে তোমরা সঙ্গে কিছুই নিয়ো না; ছড়ি, থলি, কোনো খাবার, টাকাপয়সা, অতিরিক্ত পোশাক, কোনো কিছুই না।
LUK 9:4 যে বাড়িতে তোমরা প্রবেশ করবে, সেই নগর পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তোমরা সেখানেই থেকো।
LUK 9:5 লোকে তোমাদের স্বাগত না জানালে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ, তাদের নগর পরিত্যাগ করার সময় তোমাদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলো।”
LUK 9:6 সেইমতো তাঁরা যাত্রা করলেন এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে সুসমাচার প্রচার করলেন, সর্বত্র লোকদের রোগনিরাময় করলেন।
LUK 9:7 সামন্তরাজ হেরোদ এসব ঘটনার কথা শুনতে পেলেন। তিনি খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন, কারণ কেউ কেউ বলছিল যে, যোহন মৃত্যুলোক থেকে উত্থিত হয়েছেন।
LUK 9:8 অন্যেরা বলছিল, এলিয় আবির্ভূত হয়েছেন; আবার কেউ কেউ বলছিল, প্রাচীনকালের কোনো ভাববাদী পুনর্জীবিত হয়েছেন।
LUK 9:9 কিন্তু হেরোদ বললেন, “আমিই তো যোহনের মাথা কেটেছিলাম, তাহলে কে এই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে আমি এত কথা শুনছি?” তিনি যীশুকে দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন।
LUK 9:10 প্রেরিতশিষ্যেরা ফিরে এসে যীশুকে তাঁদের কাজের বিবরণ দিলেন। তিনি তখন তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বেথসৈদা নগরের দিকে একান্তে যাত্রা করলেন।
LUK 9:11 কিন্তু লোকেরা সেকথা জানতে পেরে তাঁকে অনুসরণ করল। তিনি তাদের স্বাগত জানিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে কথা বললেন এবং যাদের সুস্থতা লাভের প্রয়োজন ছিল, তাদের সুস্থ করলেন।
LUK 9:12 পড়ন্ত বিকেলে সেই বারোজন তাঁর কাছে এসে বললেন, “লোকদের চলে যেতে বলুন, তারা যেন চারদিকের গ্রামে এবং পল্লিতে গিয়ে খাবার ও রাত্রিবাসের সন্ধান করতে পারে, কারণ আমরা এখানে এক প্রত্যন্ত স্থানে আছি।”
LUK 9:13 তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরাই ওদের কিছু খেতে দাও।” তাঁরা বললেন, “আমাদের কাছে কেবলমাত্র পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ আছে—সব লোককে খাওয়াতে হলে আমাদের গিয়ে খাবার কিনতে হবে।”
LUK 9:14 (সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল।) তিনি কিন্তু শিষ্যদের বললেন, “প্রত্যেক সারিতে কমবেশি পঞ্চাশ জন করে ওদের বসিয়ে দাও।”
LUK 9:15 শিষ্যেরা তাই করলেন, এবং প্রত্যেকে বসে পড়ল।
LUK 9:16 সেই পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ নিয়ে যীশু স্বর্গের দিকে দৃষ্টি দিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও রুটিগুলিকে ভাঙলেন। তারপর তিনি সেগুলি লোকদের পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের হাতে তুলে দিলেন।
LUK 9:17 তারা সকলে খেয়ে পরিতৃপ্ত হল। আর শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটির টুকরো সংগ্রহ করে বারো ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
LUK 9:18 একদিন যীশু একান্তে প্রার্থনা করছিলেন। তাঁর শিষ্যেরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কে, এ বিষয়ে লোকেরা কী বলে?”
LUK 9:19 তাঁরা উত্তর দিলেন, “কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, অন্যেরা বলে এলিয়, আর কেউ কেউ বলে, প্রাচীনকালের কোনও একজন ভাববাদী যিনি পুনর্জীবিত হয়েছেন।”
LUK 9:20 “কিন্তু তোমরা কী বলো?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী বলো, আমি কে?” পিতর উত্তর দিলেন, “আপনি ঈশ্বরের সেই খ্রীষ্ট।”
LUK 9:21 একথা কারও কাছে প্রকাশ না করার জন্য যীশু দৃঢ়ভাবে তাঁদের সতর্ক করে দিলেন।
LUK 9:22 তিনি বললেন, “মনুষ্যপুত্রকে বিভিন্ন বিষয়ে দুঃখভোগ করতে হবে; প্রাচীনবর্গ, মহাযাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে। তাঁকে হত্যা করা হবে এবং তৃতীয় দিনে তাঁর পুনরুত্থান হবে।”
LUK 9:23 তারপর তিনি তাঁদের সবাইকে বললেন, “কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করতে চায়, সে অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করবে, প্রতিদিন তার ক্রুশ তুলে নেবে ও আমাকে অনুসরণ করবে।
LUK 9:24 কারণ কেউ যদি তার প্রাণরক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে, কিন্তু কেউ যদি আমার কারণে তার প্রাণ হারায়, সে তা লাভ করবে।
LUK 9:25 মানুষ যদি সমস্ত জগতের অধিকার লাভ করে ও তার নিজের প্রাণ হারায়, বা জীবন থেকে বঞ্চিত হয়, তাতে তার কী লাভ হবে?
LUK 9:26 কেউ যদি আমার ও আমার বাক্যের জন্য লজ্জাবোধ করে, মনুষ্যপুত্র যখন তাঁর নিজের মহিমায় ও তাঁর পিতা এবং পবিত্র স্বর্গদূতদের মহিমায় আসবেন, তিনিও তার জন্য লজ্জাবোধ করবেন।
LUK 9:27 “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈশ্বরের রাজ্যের দর্শন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ লাভ করবে না।”
LUK 9:28 একথা বলার প্রায় আট দিন পরে যীশু পিতর, যোহন ও যাকোবকে সঙ্গে নিয়ে প্রার্থনা করার জন্য এক পর্বতে উঠলেন।
LUK 9:29 প্রার্থনাকালে তাঁর মুখের রূপের পরিবর্তন হল এবং তাঁর পোশাক বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
LUK 9:30 দুজন পুরুষ, মোশি ও এলিয়, হঠাৎই আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।
LUK 9:31 তাঁরা মহিমাময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়ে যীশুর সঙ্গে তাঁর আসন্ন প্রস্থানের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, যা তিনি জেরুশালেমে সম্পন্ন করতে চলেছিলেন।
LUK 9:32 পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু যখন তাঁরা সম্পূর্ণ জেগে উঠলেন, তাঁরা যীশুর মহিমান্বিত রূপ এবং তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন।
LUK 9:33 যখন তাঁরা যীশুকে ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হলেন, তখন পিতর যীশুকে বললেন, “প্রভু, এখানে থাকা আমাদের পক্ষে ভালোই হবে। এখানে আমরা তিনটি তাঁবু নির্মাণ করি, একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য, ও একটি এলিয়ের জন্য।” (তিনি কী বলছেন, তা নিজেই বুঝতে পারলেন না।)
LUK 9:34 তিনি একথা বলছেন, এমন সময় একখণ্ড মেঘ এসে তাঁদের ঢেকে ফেলল। যখন তাঁরা মেঘে ঢাকা পড়লেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত ভয়ভীত হলেন।
LUK 9:35 তখন মেঘের ভিতর থেকে একটি স্বর ধ্বনিত হল, “ইনিই আমার পুত্র, আমার মনোনীত, তোমরা এঁর কথা শোনো।”
LUK 9:36 সেই স্বর ধ্বনিত হওয়ার পর, তাঁরা দেখলেন যীশু একা দাঁড়িয়ে আছেন। শিষ্যেরা নিজেদের মধ্যেই সেকথা গোপন করে রাখলেন, তাঁরা কী দেখেছেন, সে সম্বন্ধে তাঁরা কারও কাছেই প্রকাশ করলেন না।
LUK 9:37 পরদিন তাঁরা পর্বত থেকে নেমে আসার পর একদল লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল।
LUK 9:38 সকলের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে উচ্চকণ্ঠে বলল, “গুরুমহাশয়, মিনতি করছি, আপনি আমার ছেলেটির দিকে দয়া করে একবার দেখুন, সে আমার একমাত্র সন্তান।
LUK 9:39 একটি আত্মা তার উপর ভর করেছে। সে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। সেই আত্মা তাকে আছড়ে ফেলে এবং এমনভাবে মোচড় দেয় যে, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। সে তাকে যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে, কিছুতেই তাকে ছেড়ে যায় না।
LUK 9:40 আমি আপনার শিষ্যদের কাছে মিনতি করেছিলাম যেন তাঁরা সেই আত্মাকে তাড়িয়ে দেন, কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।”
LUK 9:41 যীশু উত্তর দিলেন, “ওহে অবিশ্বাসী ও বিপথগামী প্রজন্ম, আমি আর কত কাল তোমাদের সঙ্গে থাকব ও তোমাদের সহ্য করব? তোমার ছেলেটিকে এখানে নিয়ে এসো।”
LUK 9:42 ছেলেটি যখন আসছিল, এমন সময় সেই ভূত তাকে মাটিতে আছাড় দিয়ে মুচড়ে ধরল। কিন্তু যীশু মন্দ-আত্মাটিকে ধমক দিলেন, ছেলেটিকে সুস্থ করলেন এবং তাকে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
LUK 9:43 ঈশ্বরের এই মহিমা দেখে তারা সকলে অভিভূত হয়ে পড়ল। যীশুর কার্যকলাপ যখন সবাইকে বিস্মিত করে দিল, তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন,
LUK 9:44 “আমি তোমাদের যা বলতে চলেছি, তা মন দিয়ে শোনো। মনুষ্যপুত্র মানুষদের হাতে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে চলেছেন।”
LUK 9:45 তাঁরা কিন্তু একথার অর্থ বুঝতে পারলেন না। বিষয়টি তাঁদের কাছে গুপ্ত রাখা হয়েছিল বলে, তাঁরা তা উপলব্ধি করতে পারলেন না। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেও তাঁরা ভয় পেলেন।
LUK 9:46 পরে শিষ্যদের মধ্যে এক বিতর্কের সূচনা হল, তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?
LUK 9:47 যীশু তাঁদের মনোভাব জানতে পেরে একটি শিশুকে কাছে টেনে নিয়ে নিজের পাশে দাঁড় করালেন।
LUK 9:48 তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “যে আমার নামে এই শিশুটিকে স্বাগত জানায়, সে আমাকেই স্বাগত জানায়। যে আমাকে গ্রহণ করে, সে তাঁকেই গ্রহণ করে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। কারণ তোমাদের সকলের মধ্যে যে নগণ্য, সেই হল শ্রেষ্ঠ।”
LUK 9:49 যোহন বললেন, “প্রভু, আমরা একজনকে আপনার নামে ভূত তাড়াতে দেখে, তাকে সে কাজ করতে বারণ করেছিলাম, কারণ সে আমাদের কেউ নয়।”
LUK 9:50 যীশু বললেন, “তাকে নিষেধ কোরো না, কারণ যে তোমাদের বিপক্ষে নয়, সে তোমাদের সপক্ষে।”
LUK 9:51 স্বর্গে যাওয়ার কাল সন্নিকট হলে, যীশু স্থিরসংকল্প হয়ে জেরুশালেমের দিকে যাত্রা করলেন।
LUK 9:52 তিনি তাঁর বার্তাবহদের আগেই পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা যীশুর জন্য সবকিছুর আয়োজন সম্পূর্ণ করতে শমরীয়দের এক গ্রামে প্রবেশ করলেন।
LUK 9:53 কিন্তু তিনি জেরুশালেম দিকে যাচ্ছিলেন বলে সেখানকার অধিবাসীরা কেউ তাঁকে স্বাগত জানাল না।
LUK 9:54 এই দেখে তাঁর দুজন শিষ্য, যাকোব ও যোহন জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কি চান যে, আমরা ওদের ধ্বংস করার জন্য আকাশ থেকে আগুন নেমে আসতে বলি, যেমন এলিয় করেছিলেন?”
LUK 9:55 কিন্তু যীশু তাঁদের দিকে ফিরে তিরস্কার করলেন।
LUK 9:56 এরপর তাঁরা অন্য গ্রামে চলে গেলেন।
LUK 9:57 তাঁরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, সেই সময় একজন তাঁকে বলল, “আপনি যেখানে যাবেন আমিও আপনার সঙ্গে সেখানে যাব।”
LUK 9:58 উত্তরে যীশু বললেন, “শিয়ালদের গর্ত আছে, আকাশের পাখিদের বাসা আছে, কিন্তু মনুষ্যপুত্রের মাথা রাখার কোনও স্থান নেই।”
LUK 9:59 তারপর তিনি অন্য একজনকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।” কিন্তু সে উত্তর দিল, “প্রভু, প্রথমে আমাকে গিয়ে আমার পিতাকে সমাধি দিয়ে আসার অনুমতি দিন।”
LUK 9:60 যীশু তাকে বললেন, “মৃতরাই তাদের মৃতদের সমাধি দিক। কিন্তু তুমি গিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের কথা ঘোষণা করো।”
LUK 9:61 আরও একজন বলল, “প্রভু, আমি আপনাকে অনুসরণ করব। কিন্তু আমাকে ফিরে গিয়ে প্রথমে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিতে অনুমতি দিন।”
LUK 9:62 যীশু উত্তর দিলেন, “লাঙ্গলে হাত দিয়ে যে পিছনে ফিরে তাকায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের সেবাকাজের উপযুক্ত নয়।”
LUK 10:1 এরপর প্রভু আরও বাহাত্তর জনকে নিযুক্ত করলেন এবং যে সমস্ত নগরে ও স্থানে নিজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তার আগেই তিনি দুজন দুজন করে তাঁদের সেইসব স্থানে পাঠিয়ে দিলেন।
LUK 10:2 তিনি তাঁদের বললেন, “ফসল প্রচুর, কিন্তু কর্মী সংখ্যা অল্প। তোমরা ফসলের মালিকের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি তাঁর শস্যক্ষেত্রে কর্মচারীদের পাঠান।”
LUK 10:3 তোমরা যাও! আমি নেকড়েদের মধ্যে তোমাদের মেষের মতো পাঠাচ্ছি।
LUK 10:4 তোমাদের সঙ্গে টাকার থলি, ঝুলি, অথবা চটিজুতো নিয়ো না; পথে কাউকে অভিবাদন জানিয়ো না।
LUK 10:5 “কোনো বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, প্রথমে তোমরা বোলো, ‘এই বাড়িতে শান্তি বিরাজ করুক।’
LUK 10:6 সেখানে কোনো শান্তিপ্রিয় মানুষ থাকলে, তোমাদের শান্তি তার উপর বিরাজ করবে, না থাকলে তোমাদের কাছেই তা ফিরে আসবে।
LUK 10:7 তোমরা সেই বাড়িতে থেকো, তারা যা দেবেন, তাই খেয়ো ও পান কোরো, কারণ কর্মচারী তার বেতন পাওয়ার যোগ্য। তোমরা এক বাড়ি ছেড়ে অন্য কোনো বাড়িতে আশ্রয় নিয়ো না।
LUK 10:8 “তোমরা কোনো নগরে প্রবেশ করলে সেখানকার লোক যদি তোমাদের স্বাগত জানিয়ে কিছু খাবার খেতে দেয়, তবে সেই খাবার গ্রহণ কোরো।
LUK 10:9 সেখানকার পীড়িতদের সুস্থ কোরো। তাদের বোলো, ‘ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের সন্নিকট।’
LUK 10:10 কিন্তু কোনো নগরে প্রবেশ করার পর লোকে যদি তোমাদের স্বাগত না জানায়, তবে পথে বেরিয়ে পড়ে বোলো,
LUK 10:11 ‘তোমাদের নগরের যে ধুলো আমাদের পায়ে লেগেছিল, তাও আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে ফেললাম। তবুও তোমরা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জেনো, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট।’
LUK 10:12 আমি তোমাদের বলছি, বিচারদিনে সদোমের দশা, বরং সেই নগরের চেয়ে বেশি সহনীয় হবে।
LUK 10:13 “কোরাসীন, ধিক্ তোমাকে! বেথসৈদা, ধিক্ তোমাকে! তোমাদের মধ্যে যেসব অলৌকিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, সেসব যদি টায়ার ও সীদোনে করা হত, তারা অনেক আগেই চটবস্ত্র পরে ভস্মে বসে অনুতাপ করত।
LUK 10:14 কিন্তু বিচারদিনে টায়ার ও সীদোনের দশা, বরং তোমাদের চেয়ে বেশি সহনীয় হবে।
LUK 10:15 আর তুমি কফরনাহূম, তুমি কি না স্বর্গ পর্যন্ত উঁচুতে উঠবে? তা নয়, তুমি অধোলোক পর্যন্ত তলিয়ে যাবে।
LUK 10:16 “যারা তোমাদের কথা শোনে, তারা আমারই কথা শোনে; যারা তোমাদের প্রত্যাখ্যান করে, তারা আমাকেই প্রত্যাখ্যান করে; কিন্তু যে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে, সে প্রত্যাখ্যান করে তাঁকেই, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।”
LUK 10:17 সেই বাহাত্তর জন শিষ্য সানন্দে ফিরে এসে বললেন, “প্রভু, আপনার নামে ভূতেরাও আমাদের অধীনতা স্বীকার করে।”
LUK 10:18 তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আকাশ থেকে বিদ্যুতের মতো শয়তানকে পতিত হতে দেখেছি।
LUK 10:19 আমি তোমাদের সাপ ও কাঁকড়াবিছে পায়ের তলায় পিষে মারার এবং শত্রুর সমস্ত ক্ষমতার উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার দান করেছি। কোনো কিছুই তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
LUK 10:20 কিন্তু আত্মারা তোমাদের বশীভূত হয় বলে উল্লসিত হোয়ো না, বরং স্বর্গে তোমাদের নাম লেখা হয়েছে বলে উল্লসিত হও।”
LUK 10:21 সেই সময় যীশু পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে বললেন, “হে পিতা, তুমি স্বর্গ ও পৃথিবীর প্রভু, আমি তোমার প্রশংসা করি, কারণ তুমি এই সমস্ত বিষয় বিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষদের কাছ থেকে গোপন রেখে ছোটো শিশুদের কাছে প্রকাশ করেছ। হ্যাঁ পিতা, কারণ এই ছিল তোমার ঈপ্সিত ইচ্ছা।
LUK 10:22 “আমার পিতা সবকিছুই আমার হাতে সমর্পণ করেছেন। পুত্রকে কেউ জানে না, কেবলমাত্র পিতা জানেন এবং পিতাকে কেউ জানে না, কেবলমাত্র পুত্র জানেন ও পুত্র যার কাছে তাঁকে প্রকাশ করে, সেই জানে।”
LUK 10:23 তারপর তিনি শিষ্যদের দিকে ফিরে একান্তে বললেন, “তোমরা যা দেখছ, যারা তা দেখতে পায় ধন্য তাদের চোখ।
LUK 10:24 কারণ আমি তোমাদের বলছি, বহু ভাববাদী ও রাজা তা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তা দেখতে পাননি এবং তোমরা যা শুনছ, তাঁরা তা শুনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শুনতে পাননি।”
LUK 10:25 একদিন এক শাস্ত্রবিদ যীশুকে পরীক্ষা করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, “গুরুমহাশয়, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
LUK 10:26 তিনি উত্তর দিলেন, “বিধানশাস্ত্রে কী লেখা আছে? তুমি কি পাঠ করছ?”
LUK 10:27 সে উত্তরে বলল, “ ‘তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত শক্তি ও সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করবে’; এবং, ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো প্রেম করবে।’”
LUK 10:28 যীশু উত্তরে বললেন, “তুমি যথার্থ উত্তর দিয়েছ। তাই করো এবং এতেই তুমি জীবন লাভ করবে।”
LUK 10:29 কিন্তু সে নিজের সততা প্রতিপন্ন করতে যীশুকে প্রশ্ন করল, “বেশ, আমার প্রতিবেশী কে?”
LUK 10:30 প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “এক ইহুদি ব্যক্তি জেরুশালেম থেকে যিরীহোতে নেমে যাচ্ছিল। পথে সে দস্যুদের কবলে পড়ল। তারা তার পোশাক খুলে নিয়ে এবং তাকে মেরে আধমরা করে ফেলে রেখে চলে গেল।
LUK 10:31 ঘটনাক্রমে একজন যাজক সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটিকে দেখে সে রাস্তার অন্য প্রান্ত দিয়ে চলে গেল।
LUK 10:32 সেভাবে একজন লেবীয়ও সেখানে এসে তাকে দেখে অন্য দিক দিয়ে চলে গেল।
LUK 10:33 কিন্তু একজন শমরীয় পথ চলতে চলতে, সেই ব্যক্তি যেখানে ছিল, সেখানে এসে পৌঁছাল; তাকে দেখে সে তার প্রতি করুণাবিষ্ট হল।
LUK 10:34 সে তার কাছে গিয়ে ক্ষতস্থানে তেল ও দ্রাক্ষারস লাগিয়ে বেঁধে দিল। তারপর সেই ব্যক্তিকে তার নিজের গাধায় চাপিয়ে একটি পান্থশালায় নিয়ে এসে তার সেবাযত্ন করল।
LUK 10:35 পরদিন পান্থশালার মালিককে সে দুটি রুপোর মুদ্রা দিল। সে বলল, ‘ওই ব্যক্তির সেবাযত্ন কোরো। এর অতিরিক্ত কিছু ব্যয় হলে, ফেরার পথে আমি পরিশোধ করে দেব।’
LUK 10:36 “এই তিনজনের মধ্যে কে দস্যুদের হাতে পড়া ওই লোকটির কাছে প্রতিবেশী হয়ে উঠল? তোমার কী মনে হয়?”
LUK 10:37 সেই শাস্ত্রবিদ উত্তর দিল, “লোকটির প্রতি যে করুণা দেখিয়েছিল, সেই।” যীশু তাকে বললেন, “যাও, ফিরে গিয়ে তুমিও সেরকম করো।”
LUK 10:38 যীশু শিষ্যদের নিয়ে পথ চলতে চলতে একটি গ্রামে এসে পৌঁছালেন। সেখানে মার্থা নামে এক স্ত্রীলোক তাঁর বাড়িতে তাঁকে স্বাগত জানালেন।
LUK 10:39 মরিয়ম নামে তাঁর এক বোন ছিলেন। প্রভুর মুখের বাক্য শোনার জন্য তিনি তাঁর পায়ের কাছে বসলেন।
LUK 10:40 কিন্তু মার্থা আপ্যায়নের আয়োজন করতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি যীশুর কাছে এসে বললেন, “প্রভু, আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, আমার বোন আমার একার উপর সমস্ত কাজের ভার ছেড়ে দিয়েছে? আপনি ওকে বলুন, আমাকে সাহায্য করতে।”
LUK 10:41 প্রভু উত্তর দিলেন, “মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আর বিচলিত হয়ে পড়েছ।
LUK 10:42 কিন্তু প্রয়োজন একটিমাত্র বিষয়ের। মরিয়ম সেই উত্তম বিষয়টিই মনোনীত করেছে, যা তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে না।”
LUK 11:1 একদিন যীশু কোনো এক স্থানে প্রার্থনা করছিলেন। যখন শেষ করলেন, তাঁর একজন শিষ্য তাঁকে বললেন, “প্রভু, যোহন যেমন তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিয়েছিলেন, তেমন আপনিও আমাদের প্রার্থনা করতে শিখিয়ে দিন।”
LUK 11:2 তিনি তাঁদের বললেন, “প্রার্থনা করার সময়, তোমরা বোলো: “ ‘হে পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক, তোমার রাজ্য আসুক।
LUK 11:3 প্রতিদিন আমাদের দৈনিক আহার আমাদের দাও।
LUK 11:4 আর আমাদের সব পাপ ক্ষমা করো, যেমন আমরাও নিজেদের সব অপরাধীকে ক্ষমা করি। আর আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিয়ো না।’ ”
LUK 11:5 তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “মনে করো, তোমাদের কোনও একজনের বন্ধু যদি মাঝরাতে তার কাছে গিয়ে বলে,
LUK 11:6 ‘বন্ধু, আমাকে তিনটি রুটি ধার দাও। আমার এক বন্ধু এক জায়গায় যাওয়ার পথে আমার কাছে এসেছে। কিন্তু তাকে খেতে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।’
LUK 11:7 তখন ভিতর থেকে সে উত্তর দিল, ‘আমাকে বিরক্ত কোরো না। দরজা বন্ধ করা হয়েছে, ছেলেমেয়েরা আমার সঙ্গে শুয়ে আছে। আমি উঠে তোমাকে কিছু দিতে পারছি না।’
LUK 11:8 আমি তোমাদের বলছি, যদিও তার বন্ধু বলে সে উঠে তাকে রুটি দিতে পারবে না, কিন্তু লোকটির আকুলতার জন্য সে উঠে তার চাহিদামতো রুটি তাকে দেবে।
LUK 11:9 “তাই আমি তোমাদের বলছি, চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ করো, তোমরা পাবে; কড়া নাড়ো, তোমাদের জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হবে।
LUK 11:10 কারণ যে চায়, সে গ্রহণ করে; যে খোঁজ করে, সে সন্ধান পায়; আর যে কড়া নাড়ে, তার জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হয়।
LUK 11:11 “তোমাদের মধ্যে এমন বাবা কে আছে, ছেলে রুটি চাইলে যে তাকে পাথর দেবে, অথবা মাছ চাইলে তার পরিবর্তে সাপ দেবে?
LUK 11:12 অথবা সে ডিম চাইলে তাকে কাঁকড়াবিছে দেবে?
LUK 11:13 তোমরা মন্দ প্রকৃতির হয়েও যদি নিজেদের সন্তানদের ভালো ভালো উপহার দিতে জানো, তাহলে যারা তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছে চায়, তাদের তিনি আরও কত না নিশ্চিতরূপে পবিত্র আত্মা দান করবেন!”
LUK 11:14 যীশু ভূতগ্রস্ত এক বোবা ব্যক্তির মধ্য থেকে ভূত তাড়ালেন। ভূতটি চলে গেলে বোবা মানুষটি কথা বলতে লাগল। এ দেখে লোকেরা ভীষণ চমৎকৃত হয়ে গেল।
LUK 11:15 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন বলল, “ও ভূতদের অধিপতি বেলসবুলের সহায়তায় ভূতদের দূর করে।”
LUK 11:16 অন্যেরা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য কোনও স্বর্গীয় চিহ্ন দেখতে চাইল।
LUK 11:17 যীশু তাদের মনের কথা জানতে পেরে তাদের বললেন, “কোনো রাজ্য যদি নিজেরই বিরুদ্ধে বিভাজিত হয়, তাহলে তার পতন হবে। কোনো পরিবার যদি নিজের বিরুদ্ধে বিভাজিত হয়, তাহলে তার পতন হবে।
LUK 11:18 শয়তান যদি নিজের বিরুদ্ধে বিভাজিত হয়ে পড়ে, কেমনভাবে তার সাম্রাজ্য টিকে থাকতে পারে? আমার একথা বলার কারণ, তোমরা বলে থাকো যে, আমি বেলসবুলের সহায়তায় ভূতদের তাড়িয়ে থাকি।
LUK 11:19 আমি যদি বেলসবুলের দ্বারা ভূত তাড়িয়ে থাকি, তাহলে তোমাদের অনুগামীরা কার সাহায্যে তাদের তাড়ায়? সেই কারণে, তারাই তোমাদের বিচারক হবে।
LUK 11:20 কিন্তু যদি আমি ঈশ্বরের শক্তির দ্বারা ভূত তাড়াই, তাহলে ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের উপরে এসে পড়েছে।
LUK 11:21 “কোনো শক্তিশালী ব্যক্তি যখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজের প্রাসাদ পাহারা দেয়, তখন তার সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে।
LUK 11:22 কিন্তু তার চেয়েও বলিষ্ঠ কেউ যখন আক্রমণ করে তাকে পরাস্ত করেন, পরাজিত লোকটি যে অস্ত্রশস্ত্রের উপর নির্ভর করেছিল, সেসব তিনি কেড়ে নেন এবং সমস্ত লুন্ঠিত দ্রব্য নিয়ে চলে যান।
LUK 11:23 “যে আমার পক্ষে নয়, সে আমার বিপক্ষে, আর যে আমার সঙ্গে সংগ্রহ করে না, সে ছড়িয়ে ফেলে।
LUK 11:24 “কোনো মানুষের ভিতর থেকে যখন কোনও দুষ্ট-আত্মা বের হয়ে যায় সে তখন বিশ্রামের খোঁজে শুষ্ক-ভূমিতে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু তার সন্ধান পায় না। তখন সে বলে, ‘আমি যে বাড়ি ছেড়ে এসেছি সেখানেই ফিরে যাব।’
LUK 11:25 যখন সে ফিরে আসে, তখন সেই বাড়ি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল দেখতে পায়।
LUK 11:26 তখন সে গিয়ে তার থেকেও দুষ্ট আরও সাতটি আত্মাকে নিয়ে আসে, আর তারা ভিতরে প্রবেশ করে সেখানে বাস করতে থাকে। তখন সেই মানুষটির অন্তিমদশা আগের থেকে আরও বেশি শোচনীয় হয়ে পড়ে।”
LUK 11:27 যীশু যখন এসব কথা বলছিলেন, লোকদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীলোক চিৎকার করে বলে উঠল, “ধন্য সেই গর্ভ, যা আপনাকে ধারণ করেছিল এবং সেই স্তন, যার দুধ আপনি পান করেছিলেন।”
LUK 11:28 তিনি উত্তর দিলেন, “বরং তারাই ধন্য, যারা ঈশ্বরের বাক্য শোনে ও তা পালন করে।”
LUK 11:29 লোকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে লাগল। যীশু বললেন, “বর্তমান প্রজন্মের লোকেরা দুষ্ট প্রকৃতির। তারা অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চায়, কিন্তু যোনার নিদর্শন ছাড়া আর কিছুই তাদের দেওয়া হবে না।
LUK 11:30 যোনা নীনবীবাসীদের কাছে যেমন নিদর্শনস্বরূপ ছিলেন, মনুষ্যপুত্রও তেমনই এই প্রজন্মের কাছে নিদর্শনস্বরূপ হবেন।
LUK 11:31 বিচারের দিনে দক্ষিণ দেশের রানি এই প্রজন্মের লোকেদের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের অভিযুক্ত করবেন, কারণ শলোমনের প্রজ্ঞার বাণী শোনার জন্য তিনি পৃথিবীর সুদূর প্রান্ত থেকে এসেছিলেন। কিন্তু শলোমনের চেয়েও মহান একজন এখানে উপস্থিত আছেন।
LUK 11:32 বিচারের দিনে নীনবী নগরের লোকেরা এই প্রজন্মের লোকদের সঙ্গে উঠে দাঁড়াবে ও এদের অভিযুক্ত করবে, কারণ তারা যোনার প্রচারে মন পরিবর্তন করেছিল; আর এখন যোনার চেয়েও মহান একজন এখানে উপস্থিত আছেন।
LUK 11:33 “প্রদীপ জ্বেলে কেউ গোপন স্থানে, বা পাত্রের নিচে রাখে না, বরং সে দীপাধারের উপরে রাখে, যেন যারা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে, তারা আলো দেখতে পায়।
LUK 11:34 তোমার চোখই তোমার শরীরের প্রদীপ। তোমার চোখ যদি সরল হয়, তাহলে তোমার সমস্ত শরীর আলোকময় হয়ে উঠবে। কিন্তু চোখদুটি যদি মন্দ হয়, তোমার শরীরও হয়ে উঠবে অন্ধকারময়।
LUK 11:35 সেই কারণে দেখো, তোমার মধ্যে যে আলো রয়েছে বলে তুমি মনে করছ, তা আসলে অন্ধকার যেন না হয়।
LUK 11:36 তাই তোমার সারা শরীর যদি আলোকময় হয়ে ওঠে ও তার কোনো অংশ যদি অন্ধকারময় না হয়, প্রদীপের আলো যেমন তোমার উপরে আলো দেয় তেমনই তোমার শরীরও সম্পূর্ণ আলোময় হয়ে উঠবে।”
LUK 11:37 যীশুর কথা বলা শেষ হওয়ার পর একজন ফরিশী তাঁকে তার সঙ্গে খাবারের জন্য নিমন্ত্রণ করল। তাই তিনি ভিতরে গিয়ে খেতে বসলেন।
LUK 11:38 কিন্তু খাওয়ার আগে যীশুকে প্রথামতো হাত পা ধুতে না দেখে, সেই ফরিশী অবাক হয়ে গেল।
LUK 11:39 তখন প্রভু তাকে বললেন, “তোমরা ফরিশীরা, থালাবাটির বাইরের অংশ পরিষ্কার করে থাকো, কিন্তু তোমাদের অন্তর লালসা ও দুষ্টতায় ভর্তি থাকে।
LUK 11:40 মূর্খের দল! বাইরের দিক যিনি তৈরি করেছেন, তিনি কি ভিতরের দিকও তৈরি করেননি?
LUK 11:41 কিন্তু পাত্রের ভিতরে যা আছে, তা দরিদ্রদের বিলিয়ে দাও, দেখবে, তোমাদের কাছে সবকিছুই শুচিশুদ্ধ হয়ে উঠবে।
LUK 11:42 “ফরিশীরা, ধিক্ তোমাদের! কারণ তোমরা খেতের পুদিনা, তেজপাতা ও অন্যান্য শাকের এক-দশমাংশ ঈশ্বরকে দিয়ে থাকো, কিন্তু ন্যায়বিচার ও ঈশ্বরের প্রেম অবহেলা করে থাকো। এক-দশমাংশ দান করেও, আরও গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলি তোমাদের পালন করা উচিত ছিল।
LUK 11:43 “ফরিশীরা, ধিক্ তোমাদের! কারণ তোমরা সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসতে এবং হাটেবাজারে লোকদের অভিবাদন পেতে ভালোবাসো।
LUK 11:44 “ধিক্ তোমাদের! কারণ তোমরা চিহ্নহীন কবরের মতো, যার উপর দিয়ে মানুষ অজান্তে হেঁটে যায়।”
LUK 11:45 একজন শাস্ত্রবিদ তাঁকে উত্তর দিল, “গুরুমহাশয়, এ সমস্ত কথায় আপনি আমাদেরও অপমান করছেন।”
LUK 11:46 যীশু প্রত্যুত্তরে বললেন, “শাস্ত্রবিদরা, ধিক্ তোমাদের! তোমরা সব মানুষের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দাও, যা তারা বইতে অক্ষম, কিন্তু তোমরা নিজেরা একটি আঙুল তুলেও তাদের সাহায্য করো না।
LUK 11:47 “ধিক্ তোমাদের! কারণ তোমরা ভাববাদীদের সমাধি নির্মাণ করে থাকো, কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষেরাই তাদের হত্যা করেছিল।
LUK 11:48 তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাজ যে তোমরা সমর্থন করছ, তোমাদের কাজই তার প্রমাণ। তারা হত্যা করেছিল সেই ভাববাদীদের, আর তোমরা তাদের সমাধি নির্মাণ করছ!
LUK 11:49 এজন্য ঈশ্বর তাঁর প্রজ্ঞায় বলেন, ‘আমি তাদের কাছে ভাববাদীদের ও প্রেরিতশিষ্যদের পাঠাব; তাদের কয়েকজনকে তারা হত্যা করবে এবং অন্যদের নিপীড়ন করবে।’
LUK 11:50 তাই জগতের উৎপত্তিকাল থেকে সব ভাববাদীর রক্তপাতের জন্য এই প্রজন্মের মানুষেরাই দায়ী হবে।
LUK 11:51 হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, হেবল থেকে শুরু করে বেদি ও মন্দিরের মাঝখানে নিহত সখরিয় পর্যন্ত, সকলেরই রক্তপাতের জন্য বর্তমান প্রজন্ম দায়ী হবে।
LUK 11:52 “শাস্ত্রবিদরা, ধিক্ তোমাদের! কারণ তোমরা জ্ঞান-ভাণ্ডারের চাবি কেড়ে নিয়েছ। তোমরা নিজেরা তো প্রবেশ করোইনি, যারা প্রবেশ করতে চেয়েছে, তাদেরও বাধা দিয়েছ।”
LUK 11:53 যীশু সেই স্থান ছেড়ে যাওয়ার সময় ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা তাঁর তীব্র বিরোধিতা করতে লাগল এবং তাঁকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তুলল।
LUK 11:54 যীশুর কথা দিয়েই তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্য তারা সুযোগের অপেক্ষায় রইল।
LUK 12:1 ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হলে এমন অবস্থা হল যে, একে অন্যের পা-মাড়াতে লাগল। যীশু প্রথমে তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিতে লাগলেন, বললেন, “ফরিশীদের খামির, অর্থাৎ ভণ্ডামি থেকে তোমরা নিজেদের সাবধানে রেখো।
LUK 12:2 গোপন এমন কিছুই নেই, যা প্রকাশিত হবে না, লুকোনো এমন কিছুই নেই, যা অজানা থেকে যাবে।
LUK 12:3 অন্ধকারে তোমরা যা উচ্চারণ করেছ তা প্রকাশ্য দিবালোকে শোনা যাবে। আর ভিতরের ঘরে যে কথা তুমি চুপিচুপি বলেছ, তা ছাদের উপর থেকে ঘোষণা করা হবে।
LUK 12:4 “আমার বন্ধু সব, আমি তোমাদের বলছি, শরীরকে হত্যা করার বেশি আর কিছু করার সাধ্য যাদের নেই, তাদের তোমরা ভয় কোরো না।
LUK 12:5 কিন্তু কাকে ভয় করতে হবে, তা আমি তোমাদের বলছি: শরীরকে হত্যা করার পর যাঁর ক্ষমতা আছে তোমাদের নরকে নিক্ষেপ করার তোমরা তাঁকেই ভয় কোরো। হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তাঁকেই ভয় কোরো।
LUK 12:6 দুই পয়সায় কি পাঁচটি চড়ুইপাখি বিক্রি হয় না? তবুও তাদের একটিকেও ঈশ্বর ভোলেন না।
LUK 12:7 প্রকৃতপক্ষে, তোমাদের মাথার চুলগুলিরও সংখ্যা গোনা আছে। ভয় পেয়ো না কারণ চড়ুইপাখি থেকেও তোমরা অনেক বেশি মূল্যবান।
LUK 12:8 “আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ মানুষের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, মনুষ্যপুত্রও তাকে ঈশ্বরের দূতদের সাক্ষাতে স্বীকার করবেন।
LUK 12:9 কিন্তু কেউ যদি মানুষের সাক্ষাতে আমাকে অস্বীকার করে, ঈশ্বরের দূতদের সাক্ষাতে তাকেও অস্বীকার করা হবে।
LUK 12:10 মনুষ্যপুত্রের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে, তাকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে কেউ যদি নিন্দা করে, তার ক্ষমা হবে না।
LUK 12:11 “যখন সমাজভবনের শাসনকর্তা ও কর্তৃপক্ষের সামনে তোমাদের টেনে আনা হয়, তখন তোমরা কীভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে, অথবা কী বলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না।
LUK 12:12 কারণ সে সময়ে তোমাদের কী বলতে হবে, পবিত্র আত্মা তা শিখিয়ে দেবেন।”
LUK 12:13 লোকদের মধ্য থেকে কেউ একজন বলল, “গুরুমহাশয়, আমার ভাইকে বলুন, সে যেন পৈত্রিক সম্পত্তি আমার সঙ্গে ভাগ করে নেয়।”
LUK 12:14 যীশু উত্তর দিলেন, “ওহে, কে আমাকে তোমাদের বিচার, অথবা মধ্যস্থতা করার জন্য নিযুক্ত করেছে?”
LUK 12:15 তারপর তিনি তাদের বললেন, “সজাগ থেকো! সমস্ত রকম লোভ থেকে নিজেদের রক্ষা কোরো; সম্পদের প্রাচুর্যের উপরে মানুষের জীবনের অস্তিত্ব নির্ভর করে না।”
LUK 12:16 আর তিনি তাদের এই রূপকটি বললেন: “এক ধনবান ব্যক্তির জমিতে প্রচুর ফসল হয়েছিল।
LUK 12:17 সে চিন্তা করল, ‘আমি কী করব? এত ফসল মজুত করার মতো কোনো জায়গা আমার নেই।’
LUK 12:18 “তারপর সে বলল, ‘আমি এক কাজ করব, আমার গোলাঘরগুলি ভেঙে আমি বড়ো বড়ো গোলাঘর নির্মাণ করব। সেখানে আমার সমস্ত ফসল আর অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী মজুত করব।
LUK 12:19 তারপর নিজেকে বলব, “তুমি বহু বছরের জন্য অনেক ভালো ভালো জিনিস মজুত করেছ। এবার জীবনকে সহজভাবে নাও; খাওয়াদাওয়া ও আমোদ স্ফূর্তি করো।” ’
LUK 12:20 “কিন্তু ঈশ্বর তাকে বললেন, ‘মূর্খ! আজ রাতেই তোমার প্রাণ তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তাহলে, তোমার নিজের জন্য যে আয়োজন করে রেখেছ, তখন কে তা ভোগ করবে?’
LUK 12:21 “যে নিজের জন্য ধন সঞ্চয় করে, অথচ ঈশ্বরের উদ্দেশে ধনী নয়, তার পরিণতি এরকমই হবে।”
LUK 12:22 এরপর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এই কারণে আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের জীবনের বিষয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না, তোমরা কী খাবে; বা শরীরের বিষয়ে, কী পোশাক পড়বে।
LUK 12:23 কারণ খাবারের চেয়ে জীবন বড়ো বিষয় এবং পোশাকের চেয়ে শরীর বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
LUK 12:24 কাকদের কথা ভেবে দেখো, তারা বীজবপন করে না, ফসল কাটে না, তাদের কোনও গুদাম, বা গোলাঘরও নেই, তবুও ঈশ্বর তাদের খাবার জুগিয়ে দেন। পাখিদের চেয়ে তোমাদের মূল্য আরও কত না বেশি!
LUK 12:25 দুশ্চিন্তা করে কে তার আয়ু এক ঘণ্টাও বৃদ্ধি করতে পারে?
LUK 12:26 অতএব, তোমরা যখন এই সামান্য কাজটুকু করতে পারো না, তখন অন্য সব বিষয়ে দুশ্চিন্তা করো কেন?
LUK 12:27 “লিলি ফুল কেমন বেড়ে ওঠে, ভেবে দেখো। তারা পরিশ্রম করে না, সুতোও কাটে না। তবুও আমি তোমাদের বলছি, রাজা শলোমনও তাঁর সমস্ত মহিমায় এদের একটিরও মতো সুশোভিত ছিলেন না।
LUK 12:28 মাঠের যে ঘাস আজ আছে, অথচ আগামীকাল আগুনে নিক্ষিপ্ত করা হবে, ঈশ্বর যদি সেগুলিকে এত সুশোভিত করে থাকেন, তাহলে ওহে অল্পবিশ্বাসীরা, তিনি তোমাদের আরও কত বেশি সুশোভিত করবেন!
LUK 12:29 আর কী খাবার খাবে বা কী পান করবে, তা নিয়ে তোমাদের হৃদয়কে ব্যাকুল কোরো না; এজন্য তোমরা দুশ্চিন্তা কোরো না।
LUK 12:30 কারণ জগতে ঈশ্বরে অবিশ্বাসীরা এসব জিনিসের পিছনে ছুটে বেড়ায়; কিন্তু তোমাদের পিতা জানেন, তোমাদের এগুলির প্রয়োজন আছে।
LUK 12:31 কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁর রাজ্যের অন্বেষণ করো, তাহলে এই সমস্ত বিষয়ও তোমাদের দেওয়া হবে।
LUK 12:32 “ক্ষুদ্র মেষপাল, তোমরা ভয় পেয়ো না, কারণ তোমাদের পিতা এই রাজ্য তোমাদের দান করেই প্রীত হয়েছেন।
LUK 12:33 তোমাদের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দীনদরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দাও। নিজেদের জন্য এমন টাকার থলি তৈরি করো, যা কোনোদিন জীর্ণ হবে না; স্বর্গে এমন ঐশ্বর্য সংগ্রহ করো, যা কোনোদিন নিঃশেষ হবে না, সেখানে কোনো চোর কাছে আসে না, কোনো কীটপতঙ্গ তা নষ্ট করে না।
LUK 12:34 কারণ যেখানে তোমাদের ধন থাকবে, সেখানেই তোমাদের মন পড়ে থাকবে।
LUK 12:35 “সেবাকাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকো ও তোমাদের প্রদীপ জ্বেলে রাখো
LUK 12:36 যেন তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রতীক্ষায় রয়েছ যে কখন তিনি বিবাহ আসর থেকে ফিরে আসবেন। যে মুহূর্তে তিনি ফিরে আসবেন ও দরজায় কড়া নাড়বেন সেই মুহূর্তেই যেন দরজা খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারো।
LUK 12:37 ফিরে এসে প্রভু যাদের সজাগ দেখবেন, সেই দাসদের কাছে তা মঙ্গলজনক হয়ে উঠবে। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি নিজে পরিবেশন করার জন্য পোশাক পরে প্রস্তুত হবেন, তাদের খাওয়াদাওয়া করতে টেবিলে বসাবেন, এবং তাদের কাছে এসে তাদের পরিচর্যা করবেন।
LUK 12:38 রাতের দ্বিতীয়, বা তৃতীয় প্রহরে এসেও তিনি যাদের প্রস্তুত থাকতে দেখবেন, তাদের পক্ষে তা হবে মঙ্গলজনক।
LUK 12:39 কিন্তু এ বিষয় বুঝে নাও; বাড়ির কর্তা যদি জানতে পারত, কোন প্রহরে চোর আসছে, তাহলে সে তার বাড়িতে সিঁধ কাটতে দিত না।
LUK 12:40 সেরকম, তোমরাও প্রস্তুত থেকো, কারণ যখন তোমরা প্রত্যাশা করবে না, সেই মুহূর্তেই মনুষ্যপুত্র আসবেন।”
LUK 12:41 পিতর জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি এই রূপকটি শুধুমাত্র আমাদেরই বলছেন, না সবাইকেই বলছেন?”
LUK 12:42 প্রভু উত্তর দিলেন, “তাহলে সেই বিশ্বস্ত ও বিজ্ঞ দেওয়ান কে, যাকে তার প্রভু বাড়ির অন্যান্য সকল দাসকে যথাসময়ে খাবার দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করবেন?
LUK 12:43 তার প্রভু ফিরে এসে তাকে সেই কাজ করতে দেখলে সেই দাসের পক্ষে তা মঙ্গলজনক হবে।
LUK 12:44 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে তাঁর বিষয়সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক করবেন।
LUK 12:45 কিন্তু মনে করো, সেই দাস মনে মনে ভাবল, ‘আমার প্রভুর ফিরে আসতে এখনও অনেক দেরি আছে,’ তাই সে অন্য দাস-দাসীদের মারতে শুরু করল, খাওয়াদাওয়া ও সুরাপান করে মত্ত হতে লাগল।
LUK 12:46 সেই দাসের প্রভু এমন এক সময়ে ফিরে আসবেন, যখন সে তাঁর আগমনের প্রত্যাশা করেনি, বা এমন এক ক্ষণে, যা সে জানতেও পারেনি। তিনি তাকে খণ্ডবিখণ্ড করবেন এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন।
LUK 12:47 “যে দাস তার প্রভুর ইচ্ছা জেনেও প্রস্তুত হয়ে থাকে না বা প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে না, তাকে কঠোর দণ্ড দেওয়া হবে।
LUK 12:48 কিন্তু যে না জেনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে, তাকে কম দণ্ড দেওয়া হবে। যাকে অনেক দেওয়া হয়েছে, তার কাছে দাবিও করা হবে অনেক; যার উপর বহু বিষয়ের ভার অর্পণ করা হয়েছে, তার কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা করা হবে।
LUK 12:49 “আমি পৃথিবীতে আগুন জ্বালাতে এসেছি; আর আমার একান্ত ইচ্ছা এই যে, সেই আগুন ইতিমধ্যে জ্বলে উঠছে!
LUK 12:50 কিন্তু আমাকে এক বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করতে হবে। তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কতই না যন্ত্রণাবিদ্ধ হচ্ছি!
LUK 12:51 তোমরা কি মনে করো যে, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে এসেছি? তা নয়, আমি তোমাদের বলছি, আমি দিতে এসেছি বিভেদ।
LUK 12:52 এখন থেকে পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ দেখা যাবে; তিনজন যাবে দুজনের বিপক্ষে, আর দুজন যাবে তিনজনের বিপক্ষে।
LUK 12:53 তারা বিচ্ছিন্ন হবে; পিতা সন্তানের বিরুদ্ধে এবং সন্তান পিতার বিরুদ্ধে, মা মেয়ের বিরুদ্ধে এবং মেয়ে মায়ের বিরুদ্ধে, শাশুড়ি বউমার বিরুদ্ধে এবং বউমা শাশুড়ির বিরুদ্ধে।”
LUK 12:54 তিনি সকলকে বললেন, “পশ্চিম আকাশে মেঘের উদয় হলে তোমরা সঙ্গে সঙ্গে বলো, ‘বৃষ্টি আসছে,’ আর তাই হয়।
LUK 12:55 যখন দক্ষিণ দিক থেকে বাতাস বইতে থাকে, তোমরা বলো, ‘এবার গরম পড়বে’ এবং সত্যিই গরম পড়ে।
LUK 12:56 ভণ্ডের দল! তোমরা পৃথিবী ও আকাশের অবস্থা দেখে তার মর্মব্যাখ্যা করতে পারো, অথচ এই বর্তমানকালের মর্মব্যাখ্যা করতে পারো না, এ কেমন কথা?
LUK 12:57 “কোনটি ন্যায্য, তা তোমরা নিজেরাই বিচার করো না কেন?
LUK 12:58 প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিচারকের কাছে যাওয়ার সময় পথেই তার সঙ্গে বিবাদের মীমাংসা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করো, না হলে সে তোমাকে বিচারকের কাছে টেনে নিয়ে যাবে; বিচারক তোমাকে আধিকারিকের হাতে তুলে দেবে, আর আধিকারিক তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করবে।
LUK 12:59 আমি তোমাকে বলছি, তোমার দেনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তুমি বাইরে আসতে পারবে না।”
LUK 13:1 সেই সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন যীশুকে সেই গালীলীয়দের সম্পর্কে সংবাদ দিল, যাদের রক্ত পীলাত তাদের বলির সঙ্গে মিশিয়ে ছিলেন।
LUK 13:2 যীশু উত্তর দিলেন, “তোমরা কি মনে করো যে, এইভাবে তাড়িত হয়েছিল বলে তারা অন্যান্য গালীলীয়দের তুলনায় বেশি পাপী ছিল?
LUK 13:3 আমি তোমাদের বলছি, না! কিন্তু মন পরিবর্তন না করলে তোমরা সবাই সেরকমই বিনষ্ট হবে।
LUK 13:4 অথবা, সিলোয়ামের মিনার চাপা পড়ে যে আঠারো জনের মৃত্যু হয়েছিল, তোমরা কি মনে করো, অন্যান্য জেরুশালেমবাসীদের চেয়ে তারা বেশি অপরাধী ছিল?
LUK 13:5 আমি তোমাদের বলছি, না! কিন্তু মন পরিবর্তন না করলে তোমরা সেরকমই বিনষ্ট হবে।”
LUK 13:6 তারপর তিনি এই রূপকটি বললেন: “এক ব্যক্তি তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেতে একটি ডুমুর গাছ লাগিয়েছিলেন। তিনি ফলের আশায় গাছটির কাছে গেলেন কিন্তু একটি ফলও খুঁজে পেলেন না।
LUK 13:7 তাই দ্রাক্ষাক্ষেতের রক্ষককে তিনি বললেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমি এই গাছে ফলের আশায় আসছি, কিন্তু কোনো ফলই পাইনি। এটাকে কেটে ফেলো। কেন শুধু শুধু এ জমি জুড়ে থাকবে?’
LUK 13:8 “লোকটি উত্তর দিল, ‘মহাশয়, আর শুধু এক বছর এটাকে থাকতে দিন। আমি এর চারপাশে গর্ত খুঁড়ে সার দেব।
LUK 13:9 এতে পরের বছর যদি ফল ধরে, ভালো! না হলে, এটাকে কেটে ফেলবেন।’ ”
LUK 13:10 বিশ্রামদিনে যীশু কোনও এক সমাজভবনে শিক্ষা দিচ্ছিলেন।
LUK 13:11 সেখানে এক নারী মন্দ-আত্মার প্রভাবে আঠারো বছর ধরে পঙ্গু হয়েছিল। সে কুঁজো হয়ে পড়েছিল, কিছুতেই সোজা হতে পারত না।
LUK 13:12 যীশু তাকে দেখে সামনে ডেকে বললেন, “নারী, তুমি তোমার দুর্বলতা থেকে মুক্ত হলে।”
LUK 13:13 তারপর তিনি তাকে স্পর্শ করলে সে সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
LUK 13:14 বিশ্রামদিনে যীশু সুস্থ করেছেন দেখে সমাজভবনের অধ্যক্ষ ঘৃণামিশ্রিত ক্রোধে অন্যান্য লোকদের লক্ষ্য করে বলল, “কাজ করার জন্য অন্য ছয় দিন আছে। তাই, ওই দিনগুলিতে তোমরা সুস্থ হতে এসো, বিশ্রামদিনে নয়।”
LUK 13:15 প্রভু তাকে উত্তর দিলেন, “ওহে ভণ্ডের দল! তোমরা প্রত্যেক বিশ্রামদিনে বলদ অথবা গর্দভকে গোয়ালঘর থেকে বাঁধন খুলে জল খাওয়ানোর জন্য কি বাইরে নিয়ে যাও না?
LUK 13:16 তাহলে, অব্রাহামের কন্যা এই নারী, শয়তান যাকে দীর্ঘ আঠারো বছর বেঁধে রেখেছিল, বিশ্রামদিনে তাকে বাঁধন থেকে মুক্ত করা কি উচিত নয়?”
LUK 13:17 একথা শুনে তাঁর সমস্ত বিরোধী লজ্জিত হল। কিন্তু তাঁর বিস্ময়কর কাজগুলি দেখে সাধারণ লোকেরা আনন্দিত হল।
LUK 13:18 এরপর যীশু প্রশ্ন করলেন, “ঈশ্বরের রাজ্য কীসের মতো? কার সঙ্গে আমি এর তুলনা দেব?
LUK 13:19 এ হল এক সর্ষে বীজের মতো যা এক ব্যক্তি সেটাকে তার বাগানে রোপণ করল। তারপর সেটি বেড়ে উঠে গাছে পরিণত হল, আর আকাশের পাখিরা এসে তার শাখায় আশ্রয় নিল।”
LUK 13:20 তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ঈশ্বরের রাজ্যকে আমি কীসের সঙ্গে তুলনা করব?
LUK 13:21 এ এমন খামিরের মতো যা একজন স্ত্রীলোক তিন পাল্লা ময়দার সঙ্গে মেশালো, ফলে সমস্ত ময়দা ফেঁপে উঠল।”
LUK 13:22 তারপর যীশু নগরে ও গ্রামে শিক্ষা দিতে দিতে জেরুশালেমের দিকে চললেন।
LUK 13:23 তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “প্রভু, শুধু কি অল্প সংখ্যক লোকই পরিত্রাণ পাবে?”
LUK 13:24 তিনি তাকে বললেন, “সংকীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করো, কারণ আমি তোমাদের বলছি, বহু মানুষই প্রবেশ করার চেষ্টা করবে, কিন্তু সফল হবে না।
LUK 13:25 বাড়ির কর্তা একবার উঠে দ্বার বন্ধ করে দিলে তোমরা বাইরে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়িয়ে মিনতি করতে থাকবে, ‘মহাশয়, আমাদের জন্য দ্বার খুলে দিন।’ কিন্তু তিনি উত্তর দেবেন, ‘তোমরা কোথা থেকে এসেছ, আমি জানি না।’
LUK 13:26 “তখন তোমরা বলবে, ‘আমরা আপনার সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছি, আমাদের পথে পথে আপনি শিক্ষা দিয়েছেন।’
LUK 13:27 “কিন্তু তিনি উত্তর দেবেন, ‘তোমরা কে বা কোথা থেকে এসেছ, আমি জানি না। হে অন্যায়কারীরা, আমার কাছ থেকে তোমরা দূর হও!’
LUK 13:28 “সেখানে হবে রোদন ও দন্তঘর্ষণ; তখন তোমরা দেখবে, ঈশ্বরের রাজ্যে রয়েছেন অব্রাহাম, ইস্‌হাক, যাকোব ও সব ভাববাদী, কিন্তু তোমরা নিজেরা বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়েছ।
LUK 13:29 আর পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ থেকে লোকেরা এসে ঈশ্বরের রাজ্যের ভোজসভায় আসন গ্রহণ করবে।
LUK 13:30 বাস্তবিক, যারা আছে, তারা কেউ কেউ প্রথমে স্থান পাবে এবং যারা প্রথমে আছে, তাদের কারোর কারোর স্থান সকলের শেষে হবে।”
LUK 13:31 সেই সময় কয়েকজন ফরিশী যীশুর কাছে এসে তাঁকে বলল, “এই স্থান ত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে যান। হেরোদ আপনাকে হত্যা করতে চাইছেন।”
LUK 13:32 তিনি উত্তর দিলেন, “সেই শিয়ালকে গিয়ে বলো, ‘আজ ও আগামীকাল, আমি ভূতদের তাড়াব, অসুস্থ মানুষদের সুস্থ করব এবং তৃতীয় দিনে আমি আমার লক্ষ্যে উপনীত হব।’
LUK 13:33 যেভাবেই হোক, আজ, কাল ও তার পরের দিন আমাকে এগিয়ে চলতেই হবে—কারণ নিঃসন্দেহে, কোনো ভাববাদীই জেরুশালেমের বাইরে মৃত্যুবরণ করবেন না।
LUK 13:34 “হায়! জেরুশালেম, জেরুশালেম, তুমি ভাববাদীদের হত্যা করো ও তোমার কাছে যাদের পাঠানো হয়, তাদের পাথরের আঘাত করে থাকো। কতবার আমি তোমার সন্তানদের একত্র করতে চেয়েছি, যেমন মুরগি তার শাবকদের নিজের ডানার তলায় একত্র করে, কিন্তু তোমরা ইচ্ছুক হওনি!
LUK 13:35 দেখো, তোমাদের গৃহ তোমাদের জন্য পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রইল। আমি তোমাদের বলছি, যতক্ষণ না তোমরা বলবে, ‘ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন’ ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আর আমাকে দেখতে পাবে না।”
LUK 14:1 এক বিশ্রামদিনে যীশু এক বিশিষ্ট ফরিশীর বাড়িতে খাবার খেতে গেলেন। লোকেরা তাঁর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিল।
LUK 14:2 সেখানে তাঁর সামনে ছিল এক ব্যক্তি যার শরীর রোগের কারণে অস্বাভাবিক ফুলে উঠেছিল।
LUK 14:3 যীশু ফরিশী ও শাস্ত্রবিদদের প্রশ্ন করলেন, “বিশ্রামদিনে রোগনিরাময় করা বৈধ, না অবৈধ?”
LUK 14:4 তারা কিন্তু নিরুত্তর রইল। তাই যীশু তাকে ধরে সুস্থ করলেন ও তাকে বিদায় দিলেন।
LUK 14:5 তারপর তিনি তাদের প্রশ্ন করলেন, “তোমাদের কারও ছেলে বা বলদ যদি বিশ্রামদিনে কুয়োতে পড়ে যায়, তোমরা কি তখনই তাকে তুলবে না?”
LUK 14:6 প্রত্যুত্তরে তাদের কিছু বলার ছিল না।
LUK 14:7 আর নিমন্ত্রিত লোকেরা কীভাবে বিশিষ্ট আসন দখল করছিল তা লক্ষ্য করে তিনি তাদের একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে পরামর্শ দিলেন:
LUK 14:8 “কেউ যখন তোমাকে বিবাহভোজে নিমন্ত্রণ করে, তখন তুমি সম্মানিত ব্যক্তির আসন গ্রহণ কোরো না। কারণ তোমার চেয়ে বেশি সম্মানিত কোনো ব্যক্তি হয়তো নিমন্ত্রিত হয়ে থাকতে পারেন।
LUK 14:9 যদি তাই হয়, তাহলে যিনি তোমাদের দুজনকেই নিমন্ত্রণ করেছেন, তিনি এসে তোমাকে বলবেন, ‘এই ভদ্রলোককে আপনার আসনটি ছেড়ে দিন।’ তখন লজ্জিত হয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ আসনে তোমাকে বসতে হবে।
LUK 14:10 কিন্তু তুমি নিমন্ত্রিত হলে, নিকৃষ্টতম আসনে গিয়ে বোসো, তাহলে তোমার নিমন্ত্রণকর্তা তোমাকে বলবেন, ‘বন্ধু, এর চেয়ে ভালো আসনে উঠে বসো।’ তখন অন্যান্য সহ নিমন্ত্রিতদের সামনে তুমি সম্মানিত হবে।
LUK 14:11 কারণ যে কেউ নিজেকে উন্নত করে, তাকে নত করা হবে, আর যে কেউ নিজেকে নত করে তাকে উন্নত করা হবে।”
LUK 14:12 যীশু তখন তাঁর নিমন্ত্রণকর্তাকে বললেন, “তুমি যখন দুপুরের, বা রাতের ভোজ আয়োজন করবে, তোমার বন্ধুবান্ধব, ভাইবোন অথবা আত্মীয়স্বজন, বা তোমার ধনী প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করবে না; তাহলে তারা তার প্রতিদানে আবার তোমাকে নিমন্ত্রণ করবে। আর তাই হবে তোমার কেবলমাত্র পুরস্কার।
LUK 14:13 পরিবর্তে, দীনদরিদ্র, পঙ্গু, খোঁড়া ও দৃষ্টিহীনদের নিমন্ত্রণ করো।
LUK 14:14 তখনই তুমি আশীর্বাদধন্য হবে। তারা তোমাকে প্রতিদান কিছু দিতে না পারলেও, ধার্মিকদের পুনরুত্থানকালে তুমি প্রতিদান লাভ করবে।”
LUK 14:15 তাঁর সঙ্গে ভোজে খাচ্ছিলেন এমন এক ব্যক্তি একথা শুনে যীশুকে বলল, “ধন্য সেই মানুষ, যে ঈশ্বরের রাজ্যের ভোজে আহার করবে।”
LUK 14:16 যীশু উত্তর দিলেন, “কোনো ব্যক্তি এক বিশাল ভোজের আয়োজন করে বহু অতিথিকে নিমন্ত্রণ করলেন।
LUK 14:17 ভোজের সময় তিনি তাঁর দাসের মারফত নিমন্ত্রিতদের বলে পাঠালেন, ‘সব আয়োজনই এখন সম্পূর্ণ, তোমরা এসো।’
LUK 14:18 “কিন্তু তারা সবাই একইভাবে অজুহাত দেখাতে লাগল। প্রথম ব্যক্তি বলল, ‘আমি সবেমাত্র একটি জমি কিনেছি, আমাকে গিয়ে সেটি দেখতেই হবে। আমাকে মার্জনা করো।’
LUK 14:19 “আর একজন বলল, ‘আমি এইমাত্র পাঁচজোড়া বলদ কিনেছি। সেগুলি পরখ করে দেখার জন্য আমি পথে বেরিয়ে পড়েছি। আমাকে মার্জনা করো।’
LUK 14:20 “আর এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি সবেমাত্র বিবাহ করেছি, তাই আমি যেতে পারছি না।’
LUK 14:21 “পরে সেই দাস ফিরে এসে তার প্রভুকে এসব কথা জানাল। তখন সেই বাড়ির কর্তা ক্রুদ্ধ হয়ে তার দাসকে আদেশ দিলেন, ‘নগরের পথে পথে ও অলিগলিতে শীঘ্র বেরিয়ে পড়ো এবং কাঙাল, পঙ্গু, অন্ধ ও খোঁড়া—সবাইকে নিয়ে এসো।’
LUK 14:22 “সেই দাস বলল, ‘প্রভু, আপনার আদেশমতোই কাজ হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক জায়গা খালি আছে।’
LUK 14:23 “প্রভু তখন তার দাসকে বললেন, ‘বড়ো রাস্তায় ও গ্রামের অলিগলিতে যাও এবং যাদের পাও তাদের জোর করে নিয়ে এসো যেন আমার বাসভবন ভর্তি হয়ে ওঠে।
LUK 14:24 আমি তোমাকে বলছি, যাদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল তাদের কেউই আমার ভোজের স্বাদ পাবে না।’ ”
LUK 14:25 অনেক লোক যীশুর সঙ্গে সঙ্গে চলছিল। তিনি তাদের দিকে ফিরে বললেন,
LUK 14:26 “কেউ যদি আমার কাছে আসে এবং তার বাবা ও মা, স্ত্রী ও সন্তান, ভাই ও বোন, এমনকি, নিজের প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।
LUK 14:27 যে আমার অনুগামী হতে চায় অথচ নিজের ক্রুশ বহন করে না, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।
LUK 14:28 “মনে করো, তোমাদের মধ্যে একজন একটি মিনার তৈরি করতে চাইল। সে কি প্রথমেই খরচের হিসেব করে দেখে নেবে না, যে তা শেষ করার মতো তার যথেষ্ট আর্থিক সংগতি আছে, কি না?
LUK 14:29 কারণ ভিত স্থাপন করে তা শেষ করতে না পারলে, যে দেখবে, সেই তাকে বিদ্রুপ করে বলবে,
LUK 14:30 ‘এই লোকটি নির্মাণ করতে শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ করতে পারেনি।’
LUK 14:31 “অথবা, মনে করো, এক রাজা অন্য এক রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিযান চালাতে উদ্যত হলেন। তিনি কি প্রথমেই বসে বিবেচনা করে দেখবেন না, কুড়ি হাজার সৈন্য নিয়ে যে রাজা তার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসছেন, দশ হাজার সৈন্য নিয়ে তিনি তার প্রতিরোধ করতে পারবেন, কি না?
LUK 14:32 তিনি সক্ষম না হলে, প্রতিপক্ষ অনেক দূরে থাকতে থাকতেই তিনি এক প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে সন্ধির শর্ত জেনে নেবেন।
LUK 14:33 একইভাবে, তোমাদের মধ্যে কেউ তার সর্বস্ব পরিত্যাগ না করলে আমার শিষ্য হতে পারে না।
LUK 14:34 “লবণ তো উত্তম, কিন্তু লবণ যদি তার লবণত্ব হারায়, তাহলে কেমনভাবে আবার তা লবণাক্ত করা যাবে?
LUK 14:35 সেগুলি জমি, অথবা সারঢিবি, কোনো কিছুরই যোগ্য নয় বলে বাইরে ফেলে দেওয়া হবে। “শোনবার মতো কান যার আছে, সে শুনুক।”
LUK 15:1 আর কর আদায়কারী ও পাপীরা, তাঁর কথা শোনার জন্য তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছিল।
LUK 15:2 কিন্তু ফরিশী ও শাস্ত্রবিদরা ফিসফিস করে বলতে লাগল, “এই মানুষটি পাপীদের গ্রহণ করে, তাদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে।”
LUK 15:3 যীশু তখন তাদের এই রূপকটি বললেন,
LUK 15:4 “মনে করো, তোমাদের কারও একশোটি মেষ আছে। তার মধ্যে একটি হারিয়ে গেল। সে কি নিরানব্বইটি মেষকে মাঠে রেখে হারানো মেষটি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তার সন্ধান করবে না?
LUK 15:5 সেটি খুঁজে পেলে সে সানন্দে তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে।
LUK 15:6 পরে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে সে বলবে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ করো; আমি আমার হারানো মেষটি খুঁজে পেয়েছি।’
LUK 15:7 আমি তোমাদের বলছি, একইভাবে নিরানব্বইজন ধার্মিক ব্যক্তি, যাদের মন পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই, তাদের চেয়ে একজন পাপী মন পরিবর্তন করলে স্বর্গে অনেক বেশি আনন্দ হবে।
LUK 15:8 “আবার মনে করো, কোনো স্ত্রীলোকের দশটি রুপোর মুদ্রা আছে, কিন্তু তার একটি হারিয়ে গেল। সেটাকে না পাওয়া পর্যন্ত, সে কি প্রদীপ জ্বেলে, ঘর ঝাঁট দিয়ে, তন্নতন্ন করে খুঁজবে না?
LUK 15:9 মুদ্রাটি খুঁজে পেলে, সে তার বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের একসঙ্গে ডেকে বলবে, ‘আমার সঙ্গে আনন্দ করো, আমার হারিয়ে যাওয়া মুদ্রাটি আমি খুঁজে পেয়েছি।’
LUK 15:10 একইভাবে, আমি তোমাদের বলছি, একজন পাপী মন পরিবর্তন করলে ঈশ্বরের দূতগণের সাক্ষাতে আনন্দ হয়।”
LUK 15:11 যীশু আরও বললেন, “এক ব্যক্তির দুই ছেলে ছিল।
LUK 15:12 ছোটো পুত্র তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, সম্পত্তির যে অংশ আমার, তা আমাকে দিয়ে দাও।’ তাই তিনি ছেলেদের মধ্যে তাঁর সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন।
LUK 15:13 “অল্পদিন পরেই, ছোটো ছেলে তার সবকিছু নিয়ে এক দূরবর্তী দেশের উদ্দেশে যাত্রা করল। সেখানে সে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে, তার নিজস্ব সম্পত্তি অপচয় করল।
LUK 15:14 তার সর্বস্ব শেষ হলে পর, সেই দেশের সর্বত্র ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল; তাতে সে অত্যন্ত অভাবের মধ্যে পড়ল।
LUK 15:15 তখন সে গিয়ে সেই দেশের এক ব্যক্তির কাছে তার অধীনে কাজে নিযুক্ত হল। সে তাকে শূকর চরানোর কাজে মাঠে পাঠিয়ে দিল।
LUK 15:16 সে এতটাই ক্ষুধার্ত হয়ে উঠল যে শূকরেরা যে শুঁটি খেত তা খেয়েই পেট ভরানো তার কাছে ভালো মনে হল, কিন্তু কেউ তাকে কিছুই খেতে দিত না।
LUK 15:17 “কিন্তু যখন তার চেতনার উদয় হল, সে মনে মনে বলল, ‘আমার বাবার কত মজুরই তো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার পাচ্ছে, আর আমি এখানে অনাহারে মৃত্যুর মুখে পড়ে আছি!
LUK 15:18 আমি বাড়ি ফিরে আমার বাবার কাছে যাব; তাঁকে বলব, “বাবা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি,
LUK 15:19 তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেওয়ার যোগ্যতা আর আমার নেই; আমাকে তোমার এক মজুরের মতো করে নাও।” ’
LUK 15:20 তাই সে উঠে তার বাবার কাছে ফিরে গেল। “সে তখনও অনেক দূরে, তার বাবা তাকে দেখতে পেলেন। ছেলের জন্য তাঁর অন্তর করুণায় ভরে উঠল। তিনি দৌড়ে তাঁর ছেলের কাছে গেলেন, তার গলা জড়িয়ে ধরলেন ও তাকে চুম্বন করলেন।
LUK 15:21 “সেই ছেলে তাঁকে বলল, ‘বাবা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেওয়ার কোনো যোগ্যতা আমার নেই।’
LUK 15:22 “কিন্তু তার বাবা তাঁর দাসদের বললেন, ‘শীঘ্র, সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পোশাক এনে ওকে পরিয়ে দাও। ওর আঙুলে আংটি পরিয়ে দাও, পায়ে চটিজুতো দাও।
LUK 15:23 আর ভোজের জন্য একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর এনে মারো। এসো আমরা ভোজ ও আনন্দ উৎসবের আয়োজন করি।
LUK 15:24 কারণ আমার এই ছেলেটি মারা গিয়েছিল, কিন্তু এখন সে আবার বেঁচে উঠেছে। সে হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখন তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।’ তাই তারা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠল।
LUK 15:25 “এদিকে বড়ো ছেলেটি মাঠে ছিল। সে বাড়ির কাছে এসে নাচ-গানের শব্দ শুনতে পেল।
LUK 15:26 তখন সে একজন দাসকে ডেকে কি হচ্ছে জানতে চাইল?
LUK 15:27 সে উত্তর দিল, ‘আপনার ভাই ফিরে এসেছে এবং আপনার বাবা তাকে নিরাপদে, সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়েছেন বলে একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর মেরেছেন।’
LUK 15:28 “বড়ো ছেলে খুব রেগে গেল ও ভিতরে প্রবেশ করতে রাজি হল না। তাই তার বাবা বাইরে গিয়ে তাকে অনুনয়-বিনয় করলেন।
LUK 15:29 কিন্তু সে তার বাবাকে উত্তর দিল, ‘দেখুন, এত বছর ধরে আমি আপনার সেবা করছি, কখনও আপনার আদেশের অবাধ্য হইনি। তবুও আমার বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উৎসব করার জন্য আপনি আমাকে কখনও একটি ছাগলছানাও দেননি।
LUK 15:30 কিন্তু আপনার এই ছেলে, যে বেশ্যাদের পিছনে আপনার সম্পত্তি উড়িয়ে দিয়েছে, সে যখন বাড়ি ফিরে এলে, আপনি তারই জন্য হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি মারলেন!’
LUK 15:31 “বাবা বললেন, ‘ছেলে আমার, তুমি সবসময়ই আমার সঙ্গে আছ। আর আমার যা কিছু আছে, সবই তো তোমার।
LUK 15:32 কিন্তু তোমার এই ভাই মরে গিয়েছিল, এখন সে আবার বেঁচে উঠেছে; সে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই আমাদের উচিত আনন্দ উৎসব করা ও খুশি হওয়া।’ ”
LUK 16:1 যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর দেওয়ান তাঁর ধনসম্পত্তি অপচয় করার অপরাধে অভিযুক্ত হল।
LUK 16:2 তাই তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি তোমার সম্পর্কে এ কী কথা শুনছি? তোমার হিসেব পত্র দাখিল করো, কারণ তুমি আর কখনোই দেওয়ান থাকতে পারো না।’
LUK 16:3 “সেই দেওয়ান মনে মনে ভাবল, ‘আমি এখন কী করব? আমার মনিব আমার কাজ কেড়ে নিয়েছেন। মাটি কাটার মতো শারীরিক সামর্থ্য আমার নেই, ভিক্ষা করতেও আমার লজ্জা হয়—
LUK 16:4 আমি এখানে কাজ হারালে লোকেরা যেন আমাকে তাদের বাড়িতে স্বাগত জানায়, এজন্য আমি জানি আমাকে কী করতে হবে।’
LUK 16:5 “তখন যারা যারা তার মনিবের ঋণী তাদের প্রত্যেককে সে ডেকে পাঠাল। সে প্রথমজনকে বলল, ‘আমার মনিবের কাছে তোমার ঋণ কত?’
LUK 16:6 “সে উত্তর দিল, ‘তিন হাজার লিটার জলপাই তেল।’ “দেওয়ান তাকে বলল, ‘তোমার ঋণপত্র নাও, তাড়াতাড়ি বসো আর এখানে এক হাজার পাঁচশো লিটার লেখো।’
LUK 16:7 “তারপর সে দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আর তোমার ঋণ কত?’ “ ‘এক হাজার বস্তা গম,’ সে উত্তর দিল। “সে তাকে বলল, ‘তোমার ঋণপত্র নাও আর আটশো বস্তা লেখো।’
LUK 16:8 “সেই অসাধু দেওয়ান বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করেছিল বলে তাঁর মনিব তার প্রশংসা করলেন। কারণ, এই যুগের জাগতিক মনোভাব সম্পন্ন লোকেরা তাদের সমকালীন আলোকপ্রাপ্ত লোকেদের থেকে বেশি বিচক্ষণ।
LUK 16:9 আমি তোমাদের বলছি, নিজেদের জন্য বন্ধুত্ব গড়ে তোলার উদ্দেশে জাগতিক সম্পদ ব্যবহার করো, যেন সব ধন নিঃশেষ হয়ে গেলে তোমাদের অনন্ত আবাসে স্বাগত জানানো হয়।
LUK 16:10 “অল্প বিষয়ে যার উপরে নির্ভর করা যায়, বহু বিষয়েও তার উপর নির্ভর করা যায়। আবার অতি অল্প বিষয়ে যে অসৎ, বহু বিষয়েও সে অসৎ।
LUK 16:11 তাই, জাগতিক ধনসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তোমরা যদি বিশ্বাসযোগ্য না হও, তাহলে কে বিশ্বাস করে তোমাদের হাতে প্রকৃত সম্পদ গচ্ছিত রাখবে?
LUK 16:12 আর অন্যের সম্পত্তি সম্পর্কে যদি তোমরা বিশ্বস্ত না হও, তবে তোমাদের নিজেদের সম্পত্তির দায়িত্ব তোমাদের হাতে কে ছেড়ে দেবে?
LUK 16:13 “কেউই দুজন মনিবের সেবা করতে পারে না। সে হয় একজনকে ঘৃণা করে অপরজনকে ভালোবাসবে, নয়তো সে একজনের অনুগত হয়ে অপরজনকে অবজ্ঞা করবে। তোমরা ঈশ্বর ও অর্থ, এই দুয়ের সেবা করতে পারো না।”
LUK 16:14 এই সমস্ত কথা শুনে অর্থলোভী ফরিশীরা যীশুকে ব্যঙ্গ করতে লাগল।
LUK 16:15 তিনি তাদের বললেন, “তোমরাই সেই লোক, যারা মানুষের চোখে নিজেদের ন্যায়পরায়ণ বলে প্রতিপন্ন করতে চাও, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের হৃদয় জানেন। মানুষের কাছে যার মূল্য অপরিসীম, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তা ঘৃণ্য।
LUK 16:16 “যোহনের আমল পর্যন্ত বিধিবিধান ও ভাববাদীদের বাণী ঘোষিত হয়েছিল। সেই সময় থেকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচারিত হয়ে আসছে এবং প্রত্যেকেই সেখানে সবলে প্রবেশ করছে।
LUK 16:17 কিন্তু বিধানের একটি আঁচড়ও লোপ হওয়ার চেয়ে বরং আকাশ ও পৃথিবী বিলুপ্ত হওয়া সহজ।
LUK 16:18 “যে নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে অন্য নারীকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচার করে এবং যে পুরুষ কোনও বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীকে বিবাহ করে, সেও ব্যভিচার করে।
LUK 16:19 “এক ধনী ব্যক্তি ছিল। সে বেগুনি রংয়ের মিহি মসিনার পোশাক পরত। প্রতিদিন সে বিলাসবহুল জীবনযাপন করত।
LUK 16:20 তার বাড়ির প্রবেশপথে এক ভিখারি সর্বাঙ্গে ক্ষত নিয়ে শুয়ে থাকত। তার নাম ছিল লাসার।
LUK 16:21 ধনী ব্যক্তির টেবিল থেকে যা কিছু উচ্ছিষ্ট পড়ত, তাই সে খেতে চাইত। এমনকি, কুকুরেরা এসেও তার ঘা চাটতো।
LUK 16:22 “কালক্রমে ভিখারিটির মৃত্যু হল। স্বর্গদূতেরা তাকে নিয়ে এল অব্রাহামের পাশে। পরে ধনী ব্যক্তির মৃত্যু হলে, তাকেও সমাধি দেওয়া হল।
LUK 16:23 সে পাতালে নিদারুণ যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছিল। সেখান থেকে সে দৃষ্টি ঊর্ধ্বে তুলে দূরে অব্রাহামের পাশে লাসারকে দেখতে পেল।
LUK 16:24 তাই সে তাঁকে ডাকল, ‘পিতা অব্রাহাম, আমার প্রতি কৃপা করুন; লাসারকে পাঠিয়ে দিন, সে যেন আঙুলের ডগায় জল নিয়ে আমার জিভ ঠান্ডা করে দেয়। কারণ এই আগুনে আমি ভীষণ যন্ত্রণা পাচ্ছি।’
LUK 16:25 “কিন্তু অব্রাহাম উত্তর দিলেন, ‘বৎস, স্মরণ করে দেখো, তোমার জীবনকালে তুমি সব উৎকৃষ্ট জিনিস পেয়েছ, লাসার পেয়েছে সব মন্দ জিনিস। কিন্তু এখন সে এখানে লাভ করছে সান্ত্বনা, আর তুমি পাচ্ছ যন্ত্রণা।
LUK 16:26 আর তা ছাড়া, তোমার ও আমাদের মধ্যে রয়েছে বিরাট এক ব্যবধান যাতে কেউ এখান থেকে তোমাদের কাছে যেতে চাইলেও যেতে পারে না বা কেউ ওখান থেকে পার হয়ে আমাদের কাছেও আসতে পারে না।’
LUK 16:27 “সে উত্তর দিল, ‘তাহলে পিতা, আপনার কাছে অনুনয় করছি, লাসারকে আমার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিন,
LUK 16:28 কারণ আমার পাঁচ ভাই আছে। সে গিয়ে তাদের সতর্ক করে দিক, যেন তারাও এই যন্ত্রণাময় স্থানে না এসে পড়ে।’
LUK 16:29 “অব্রাহাম উত্তর দিলেন, ‘তাদের জন্য আছেন মোশি ও ভাববাদীরা। তাদেরই কথায় তারা কর্ণপাত করুক।’
LUK 16:30 “সে বলল, ‘না, পিতা অব্রাহাম, মৃতলোক থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায়, তাহলেই তারা মন পরিবর্তন করবে।’
LUK 16:31 “তিনি তাকে বললেন, ‘তারা যদি মোশি ও ভাববাদীদের কথায় কর্ণপাত না করে, তাহলে মৃত্যুলোক থেকে উঠে কেউ গেলেও তারা তাকে বিশ্বাস করবে না।’ ”
LUK 17:1 যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “পাপের প্রলোভন নিশ্চিতভাবে আসবে, কিন্তু ধিক্ তাকে, যার মাধ্যমে সেসব আসবে।
LUK 17:2 যে এই ক্ষুদ্রজনেদের একজনকেও পাপে প্রলোভিত করে, তার গলায় জাঁতা বেঁধে তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করাই বরং তার পক্ষে ভালো।
LUK 17:3 তাই নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। “তোমার ভাই পাপ করলে তাকে তিরস্কার কোরো এবং সে অনুতপ্ত হলে, তাকে ক্ষমা কোরো।
LUK 17:4 সে যদি দিনে সাতবার তোমার বিরুদ্ধে পাপ করে এবং সাতবারই ফিরে এসে বলে, ‘আমি অনুতপ্ত,’ তাহলেও তাকে ক্ষমা কোরো।”
LUK 17:5 প্রেরিতশিষ্যেরা প্রভুকে বললেন, “আমাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি করুন।”
LUK 17:6 তিনি বললেন, “যদি তোমাদের সর্ষে বীজের মতো অতি সামান্য বিশ্বাস থাকে, তাহলে এই তুঁত গাছটিকে তোমরা বলতে পারো, ‘যাও, সমূলে উপড়ে দিয়ে সমুদ্রে রোপিত হও,’ তাহলে সেরকমই হবে।
LUK 17:7 “মনে করো, তোমাদের কোনো একজনের এক দাস আছে। সে চাষবাস বা মেষপালের তত্ত্বাবধান করে। সে মাঠ থেকে ফিরে এলে তার মনিব কি তাকে বলবে, ‘এখন এসে খেতে বসো’?
LUK 17:8 বরং, সে কি তাকে বলবেন না, ‘আমার খাবারের আয়োজন করো; আমি যতক্ষণ খাওয়াদাওয়া করব, আমার সেবাযত্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকো, তারপর তুমি খাওয়াদাওয়া করতে পারো’?
LUK 17:9 তার কথামতো কাজ করার জন্য তিনি কি সেই দাসকে ধন্যবাদ দেবেন?
LUK 17:10 সেরকমই, তোমাদের যা করতে বলা হয়েছিল, তার সবকিছু পালন করার পর তোমরাও বোলো, ‘আমরা অযোগ্য দাস, যা করতে বাধ্য ছিলাম শুধুমাত্র তাই করেছি।’ ”
LUK 17:11 জেরুশালেমের দিকে যাওয়ার সময় যীশু শমরিয়া ও গালীল প্রদেশের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন।
LUK 17:12 তিনি যখন একটি গ্রামে প্রবেশ করছেন, দশজন কুষ্ঠরোগী তাঁর কাছে এল। তারা দূরে দাঁড়িয়ে রইল
LUK 17:13 এবং উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “যীশু, প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন!”
LUK 17:14 তাদের দেখে তিনি বললেন, “যাও, যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেদের দেখাও।” আর যেতে যেতেই তারা শুচিশুদ্ধ হয়ে গেল।
LUK 17:15 তাদের মধ্যে একজন যখন দেখল, সে সুস্থ হয়ে গেছে, সে ফিরে এসে উচ্চকণ্ঠে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
LUK 17:16 সে যীশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল। সে ছিল একজন শমরীয়।
LUK 17:17 যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “দশজনই কি শুচিশুদ্ধ হয়নি? অন্য নয়জন কোথায়?
LUK 17:18 ফিরে এসে ঈশ্বরের প্রশংসা করার জন্য এই বিদেশি ছাড়া আর কাউকে কি পাওয়া গেল না?”
LUK 17:19 তারপর তিনি তাকে বললেন, “ওঠো, চলে যাও। তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।”
LUK 17:20 এক সময় ফরিশীরা ঈশ্বরের রাজ্যের আগমনকাল সম্বন্ধে জানতে চাইল। যীশু উত্তর দিলেন, “সতর্ক দৃষ্টি রাখলেই যে ঈশ্বরের রাজ্যের আগমন দেখতে পাওয়া যাবে, তেমন নয়।
LUK 17:21 লোকেরা বলবেও না, ‘ঈশ্বরের রাজ্য এখানে’ বা ‘ওখানে,’ কারণ ঈশ্বরের রাজ্য বিরাজ করছে তোমাদের মধ্যেই।”
LUK 17:22 তারপর তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “এমন এক সময় আসছে, যখন তোমরা মনুষ্যপুত্রের রাজত্বের একটি দিন দেখার আকাঙ্ক্ষা করবে, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাবে না।
LUK 17:23 লোকেরা তোমাদের বলবে, ‘ওই যে, তিনি ওখানে’ অথবা ‘এখানে!’ তোমরা তাদের পিছনে ছুটে বেড়িয়ো না।
LUK 17:24 কারণ বিদ্যুৎ রেখা যেমন আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে উদ্ভাসিত হয়ে আকাশকে আলোকিত করে, তেমনই মনুষ্যপুত্রও তাঁর দিনে হবেন।
LUK 17:25 কিন্তু প্রথমে তাঁকে অবশ্যই বহু যন্ত্রণাভোগ করতে হবে এবং এই প্রজন্মের মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হতে হবে।
LUK 17:26 “নোহের সময় যেমন ঘটেছিল, মনুষ্যপুত্রের সময়েও সেরকম হবে।
LUK 17:27 নোহ জাহাজে প্রবেশ করা পর্যন্ত লোকেরা খাওয়াদাওয়া করত, বিবাহ করত ও তাদের বিবাহ দেওয়া হত। তারপর মহাপ্লাবন এসে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিল।
LUK 17:28 “লোটের সময়েও একই ঘটনা ঘটেছিল। লোকেরা খাওয়াদাওয়া করছিল, কেনাবেচা, কৃষিকাজ ও গৃহ নির্মাণে ব্যস্ত ছিল।
LUK 17:29 কিন্তু লোট যেদিন সদোম ত্যাগ করলেন, সেদিন আকাশ থেকে আগুন ও গন্ধকের বৃষ্টি নেমে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিল।
LUK 17:30 “মনুষ্যপুত্র যেদিন প্রকাশিত হবেন, সেদিনও ঠিক এরকমই হবে।
LUK 17:31 সেদিন ছাদের উপরে যে থাকবে, সে যেন ঘরের ভিতরে জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য নিচে নেমে না আসে। সেরকমই, মাঠে যে থাকবে, সে যেন কোনোকিছু নেওয়ার জন্য ফিরে না যায়।
LUK 17:32 লোটের স্ত্রীর কথা মনে করো!
LUK 17:33 যে নিজের জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে; আবার যে তার জীবন হারায়, সে তা রক্ষা করবে।
LUK 17:34 আমি তোমাদের বলছি, সেই রাত্রে একই বিছানায় দুজন শুয়ে থাকবে; তাদের একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
LUK 17:35 দুজন মহিলা একসঙ্গে জাঁতা পেষণ করবে; একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।
LUK 17:36 দুজন মাঠে থাকবে; একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যজনকে ছেড়ে যাওয়া হবে।”
LUK 17:37 তারা জিজ্ঞাসা করল, “কোথায় প্রভু?” তিনি বললেন, “যেখানে মৃতদেহ, শকুনের ঝাঁক সেখানেই জড়ো হবে।”
LUK 18:1 তারপর যীশু এক রূপক কাহিনির মাধ্যমে তাঁর শিষ্যদের বোঝাতে চাইলেন, তাঁরা যেন সব সবময়ই প্রার্থনা করে, নিরাশ না হয়।
LUK 18:2 তিনি বললেন, “কোনো এক নগরে একজন বিচারক ছিলেন। তিনি ঈশ্বরকে ভয় করতেন না, কোনো মানুষকেও গ্রাহ্য করতেন না।
LUK 18:3 সেই নগরে একজন বিধবা ছিল। সে বারবার এসে তাঁর কাছে মিনতি করত, ‘আমার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমার প্রতি ন্যায়বিচার করুন।’
LUK 18:4 “কিছুদিন তিনি সম্মত হলেন না। কিন্তু শেষে চিন্তা করলেন, ‘যদিও আমি ঈশ্বরকে ভয় করি না,
LUK 18:5 তবুও, এই বিধবা যেহেতু আমাকে বারবার জ্বালাতন করে চলেছে, তাই সে যেন ন্যায়বিচার পায়, তা আমি দেখব যেন সে বারবার এসে আমাকে আর বিরক্ত না করে।’ ”
LUK 18:6 প্রভু বললেন, “শোনো তোমরা, ওই ন্যায়হীন বিচারক কী বলে।
LUK 18:7 তাহলে ঈশ্বরের যে মনোনীত জনেরা তাঁর কাছে দিবারাত্রি কান্নাকাটি করে, তাদের বিষয়ে তিনি কি ন্যায়বিচার করবেন না? তিনি কি তাদের দূরে সরিয়ে রাখবেন?
LUK 18:8 আমি তোমাদের বলছি, তিনি দ্রুত তাদের ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু মনুষ্যপুত্র যখন আসবেন, তিনি কি পৃথিবীতে বিশ্বাস খুঁজে পাবেন?”
LUK 18:9 নিজেদের ধার্মিকতার প্রতি যাদের আস্থা ছিল ও অন্যদের যারা হীনদৃষ্টিতে দেখত, যীশু এই রূপক কাহিনিটি তাদের বললেন:
LUK 18:10 “দুই ব্যক্তি প্রার্থনার জন্য মন্দিরে গেল; একজন ফরিশী ও অন্যজন কর আদায়কারী।
LUK 18:11 ফরিশী দাঁড়িয়ে নিজের বিষয়ে প্রার্থনা করল, ‘হে ঈশ্বর, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ আমি কোনো দস্যু, দুর্বৃত্ত, ব্যভিচারী, এমনকি, ওই কর আদায়কারী, বা অন্য লোকের মতো নই।
LUK 18:12 আমি সপ্তাহে দু-দিন উপোস করি এবং যা আয় করি, তার এক-দশমাংশ দান করি।’
LUK 18:13 “কিন্তু কর আদায়কারী দূরে দাঁড়িয়ে রইল। এমনকি, সে স্বর্গের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারল না। সে তার বুক চাপড়ে বলতে লাগল, ‘হে ঈশ্বর, আমার প্রতি, এই পাপীর প্রতি কৃপা করো।’
LUK 18:14 “আমি তোমাদের বলছি, এই ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক গণ্য হয়ে ঘরে ফিরে গেল, কিন্তু অন্যজন নয়। কারণ যে কেউ নিজেকে উন্নত করে, তাকে নত করা হবে, আর যে কেউ নিজেকে নত করে তাকে উন্নত করা হবে।”
LUK 18:15 যীশুকে স্পর্শ করার জন্য লোকেরা শিশু সন্তানদের তাঁর কাছে নিয়ে আসছিল। এই দেখে শিষ্যেরা তাদের তিরস্কার করলেন।
LUK 18:16 কিন্তু যীশু শিষ্যদের তাঁর কাছে ডাকলেন ও বললেন, “ছোটো শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, ওদের বাধা দিয়ো না। কারণ ঈশ্বরের রাজ্য এদের মতো মানুষদেরই।
LUK 18:17 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ছোটো শিশুর মতো যে ঈশ্বরের রাজ্যকে গ্রহণ করতে পারে না, সে কখনও তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
LUK 18:18 একজন সমাজভবনের অধ্যক্ষ তাঁকে প্রশ্ন করল, “সৎ গুরু, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
LUK 18:19 যীশু উত্তর দিলেন, “আমাকে সৎ বলছ কেন? ঈশ্বর ছাড়া তো আর কেউ সৎ নেই!
LUK 18:20 ঈশ্বরের আজ্ঞা তুমি নিশ্চয় জানো: ‘ব্যভিচার কোরো না, নরহত্যা কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না, তোমার বাবাকে ও তোমার মাকে সম্মান কোরো।’ ”
LUK 18:21 তিনি বললেন, “আমি ছোটোবেলা থেকে এসব পালন করে আসছি।”
LUK 18:22 একথা শুনে যীশু তাকে বললেন, “এখনও একটি বিষয়ে তোমার ঘাটতি আছে। তুমি তোমার সর্বস্ব বিক্রি করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে স্বর্গে ঐশ্বর্য লাভ করবে। তারপর এসো, আমাকে অনুসরণ করো।”
LUK 18:23 একথা শুনে সে অত্যন্ত বিষণ্ণ হয়ে উঠল, কারণ সে প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী ছিল।
LUK 18:24 যীশু তার দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, “ধনীর পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কষ্টসাধ্য!
LUK 18:25 প্রকৃতপক্ষে, ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে বরং সুচের ছিদ্রপথ দিয়ে উটের পার হওয়া সহজ।”
LUK 18:26 একথা শুনে শ্রোতারা জিজ্ঞাসা করল, “তাহলে কে পরিত্রাণ পেতে পারে?”
LUK 18:27 যীশু উত্তর দিলেন, “মানুষের পক্ষে যা অসম্ভব, ঈশ্বরের কাছে তা সম্ভবপর।”
LUK 18:28 পিতর তাঁকে বললেন, “আপনাকে অনুসরণ করার জন্য আমরা আমাদের সর্বস্ব ত্যাগ করেছি।”
LUK 18:29 যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এমন কেউ নেই, যে ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য নিজের ঘরবাড়ি, অথবা স্ত্রী, ভাই, বাবা-মা, বা সন্তানসন্ততি ত্যাগ করেছে,
LUK 18:30 সে এই জীবনে তার বহুগুণ এবং আগামী যুগে অনন্ত জীবন লাভ করবে না।”
LUK 18:31 যীশু সেই বারোজনকে একান্তে ডেকে বললেন, “আমরা জেরুশালেম পর্যন্ত যাচ্ছি; আর মনুষ্যপুত্র সম্পর্কে ভাববাদীদের সমস্ত ভবিষ্যদ্‌বাণী বাস্তবায়িত হবে।
LUK 18:32 তাঁকে অইহুদিদের হাতে সমর্পণ করা হবে। তারা তাঁকে বিদ্রুপ করবে, অপমান করবে, তাঁর গায়ে থুতু দেবে, তাঁকে চাবুক দিয়ে মারবে ও হত্যা করবে।
LUK 18:33 কিন্তু তৃতীয় দিনে তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবেন।”
LUK 18:34 শিষ্যেরা এসব কথার কিছুই উপলব্ধি করতে পারলেন না। তাদের কাছে এর অর্থ গুপ্ত ছিল এবং তিনি কোন বিষয়ে আলোচনা করছেন, তা তারা বুঝতে পারলেন না।
LUK 18:35 যীশু যখন যিরীহোর নিকটবর্তী হলেন, একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি পথের পাশে বসে ভিক্ষা করছিল।
LUK 18:36 পথে চলা লোকদের কলরোল শুনে সে তার কারণ জানতে চাইল।
LUK 18:37 তারা তাকে বলল, “নাসরতের যীশু সেখান দিয়ে যাচ্ছেন।”
LUK 18:38 সে চিৎকার করে উঠল, “যীশু, দাউদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।”
LUK 18:39 সামনের লোকেরা তাকে ধমক দিল ও চুপ করতে বলল, কিন্তু সে আরও বেশি চিৎকার করে বলতে লাগল, “হে দাউদের সন্তান, আমার প্রতি কৃপা করুন।”
LUK 18:40 যীশু থেমে সেই মানুষটিকে তাঁর কাছে নিয়ে আসার জন্য আদেশ দিলেন। সে কাছে এলে যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
LUK 18:41 “আমার কাছে তুমি কী চাও? তোমার জন্য আমি কী করব?” সে উত্তর দিল, “প্রভু, আমি যেন দেখতে পাই।”
LUK 18:42 যীশু তাকে বললেন, “তুমি দৃষ্টি লাভ করো; তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।”
LUK 18:43 তখনই সে তার দৃষ্টিশক্তি লাভ করল ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে যীশুকে অনুসরণ করল। এই দেখে সমস্ত লোকও ঈশ্বরের বন্দনা করতে লাগল।
LUK 19:1 যীশু যিরীহোয় প্রবেশ করে তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
LUK 19:2 সেখানে সক্কেয় নামে এক ব্যক্তি ছিল, সে ছিল প্রধান কর আদায়কারী ও একজন ধনী ব্যক্তি।
LUK 19:3 কে যীশু, সে তা দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু সে খাটো প্রকৃতির হওয়ার দরুন ও ভিড়ের জন্য, তাঁকে দেখতে পেল না।
LUK 19:4 তাই তাঁকে দেখার জন্য সে দৌড়ে গিয়ে সামনের একটি সিকামোর-ডুমুর গাছে উঠল। কারণ যীশু সেই পথ ধরেই আসছিলেন।
LUK 19:5 যীশু সেই স্থানে উপস্থিত হয়ে উপর দিকে তাকালেন ও তাকে বললেন, “সক্কেয়, এখনই নেমে এসো, আজ আমাকে অবশ্যই তোমার ঘরে থাকতে হবে।”
LUK 19:6 তাই সে তখনই নেমে এসে সানন্দে তাঁকে স্বাগত জানাল।
LUK 19:7 এই দেখে লোকেরা গুঞ্জন করতে লাগল, “ইনি একজন ‘পাপীর’ ঘরে অতিথি হতে যাচ্ছেন।”
LUK 19:8 কিন্তু সক্কেয় দাঁড়িয়ে প্রভুকে বলল, “প্রভু দেখুন, আমি এখনই আমার সম্পত্তির অর্ধেক দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছি। আর কাউকে প্রতারণা করে যদি কিছু নিয়েছি, তাহলে তার চারগুণ অর্থ আমি তাকে ফিরিয়ে দেব।”
LUK 19:9 যীশু তাকে বললেন, “আজই এই পরিবারে পরিত্রাণ উপস্থিত হল, কারণ এই ব্যক্তিও অব্রাহামের সন্তান।
LUK 19:10 বস্তুত, যা হারিয়ে গিয়েছিল, তার অন্বেষণ ও পরিত্রাণ করতে মনুষ্যপুত্র উপস্থিত হয়েছেন।”
LUK 19:11 তারা যখন একথা শুনছিল, তিনি তাদের একটি রূপক কাহিনি বললেন, কারণ তিনি জেরুশালেমের নিকটে এসে পড়েছিলেন এবং লোকেরা মনে করছিল, ঈশ্বরের রাজ্যের আবির্ভাব তখনই হবে।
LUK 19:12 তিনি বললেন, “সম্ভ্রান্ত বংশের এক ব্যক্তি এই উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো এক সুদূর দেশে গেলেন যে রাজপদ লাভের পর স্বদেশে ফিরে আসবেন।
LUK 19:13 তাই তিনি তাঁর দশজন দাসকে ডেকে তাদের দশটি মিনা দিয়ে বললেন, ‘আমি যতদিন ফিরে না-আসি, এই অর্থ ব্যবসায়ে নিয়োগ করো।’
LUK 19:14 “কিন্তু তার প্রজারা তাকে ঘৃণা করত। তারা তাই তার পিছনে এক প্রতিনিধি মারফত বলে পাঠাল, ‘আমরা চাই না, এই লোকটি আমাদের উপর রাজত্ব করুক।’
LUK 19:15 “যাই হোক, তিনি রাজপদ লাভ করে স্বদেশে ফিরে এলেন। তারপর তিনি যে দাসদের অর্থ দিয়ে গিয়েছিলেন, তারা কী লাভ করেছে, জানবার জন্য তাদের ডেকে পাঠালেন।
LUK 19:16 “প্রথমজন এসে বলল, ‘হুজুর, আপনার মুদ্রা দিয়ে আমি আরও দশটি মুদ্রা অর্জন করেছি।’
LUK 19:17 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘উত্তম দাস আমার, তুমি ভালোই করেছ। যেহেতু অত্যন্ত সামান্য বিষয়ে তুমি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছ, সেজন্য তুমি দশটি নগরের দায়িত্ব গ্রহণ করো।’
LUK 19:18 “দ্বিতীয়জন এসে বলল, ‘হুজুর, আপনার মুদ্রা দিয়ে আমি আরও পাঁচটি মুদ্রা অর্জন করেছি।’
LUK 19:19 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘তুমি পাঁচটি নগরের দায়িত্ব গ্রহণ করো।’
LUK 19:20 “তখন অন্য একজন দাস এসে বলল, ‘হুজুর, এই নিন আপনার মুদ্রা, আমি এটাকে কাপড়ে জড়িয়ে রেখে দিয়েছিলাম।
LUK 19:21 আমি আপনাকে ভয় করেছিলাম, কারণ আপনি কঠোর প্রকৃতির মানুষ। আপনি যা রাখেননি, তাই নিয়ে নেন, যা বোনেননি, তাও কাটেন।’
LUK 19:22 “তার মনিব উত্তর দিলেন, ‘দুষ্ট দাস, তোমার নিজের কথা দিয়েই আমি তোমার বিচার করব! তুমি না জানতে, আমি কঠোর প্রকৃতির মানুষ, যা আমি রাখিনি, তা নিয়ে থাকি, আর যা বুনিনি, তা কেটে থাকি?
LUK 19:23 আমার অর্থ তুমি কেন মহাজনের কাছে রাখোনি, তাহলে ফিরে এসে আমি তা সুদসমেত আদায় করতে পারতাম?’
LUK 19:24 “তারপর তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সকলের উদ্দেশে বললেন, ‘ওর কাছ থেকে মুদ্রাটি নিয়ে নাও, আর যার দশটি মুদ্রা আছে, তাকে দাও।’
LUK 19:25 “তারা বলল, ‘মহাশয়, ওর তো দশটি মুদ্রা আছেই!’
LUK 19:26 “তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি তোমাদের বলছি, যার আছে, তাকে আরও বেশি দেওয়া হবে; কিন্তু যার কিছু নেই, তার যেটুকু আছে, তাও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।
LUK 19:27 আর যারা চায়নি যে, আমি তাদের উপরে রাজত্ব করি, আমার সেইসব শত্রুকে এখানে নিয়ে এসে আমার সামনে বধ করো।’ ”
LUK 19:28 এসব কথা বলার পর যীশু সামনে, জেরুশালেমের দিকে এগিয়ে চললেন।
LUK 19:29 জলপাই পর্বত নামের পাহাড়ে, বেথফাগে ও বেথানি গ্রামের কাছে এসে তিনি তাঁর দুজন শিষ্যকে এই কথা বলে পাঠালেন,
LUK 19:30 “তোমরা সামনের ওই গ্রামে যাও। সেখানে প্রবেশ করা মাত্র দেখতে পাবে যে একটি গর্দভশাবক বাঁধা আছে, যার উপরে কেউ কখনও বসেনি। সেটির বাঁধন খুলে এখানে নিয়ে এসো।
LUK 19:31 কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে, ‘এর বাঁধন খুলছ কেন?’ তাহলে তাকে বোলো, ‘এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।’ ”
LUK 19:32 যাদের আগে পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা গিয়ে যীশু যেমন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই দেখতে পেলেন।
LUK 19:33 তাঁরা যখন গর্দভ শাবকটির বাঁধন খুলছিলেন, শাবকটির মালিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কেন এর বাঁধন খুলছ?”
LUK 19:34 তাঁরা উত্তর দিলেন, “এতে প্রভুর প্রয়োজন আছে।”
LUK 19:35 তাঁরা শাবকটিকে যীশুর কাছে নিয়ে এসে তার উপর তাঁদের পোশাক বিছিয়ে দিলেন, আর তার উপর যীশুকে বসালেন।
LUK 19:36 তাঁর যাওয়ার পথের উপর জনসাধারণ তাদের পোশাক বিছিয়ে দিতে লাগল।
LUK 19:37 পথ যেখানে জলপাই পর্বতের দিকে নেমে গেছে, যীশু সেখানে উপস্থিত হলে তাঁর সমস্ত শিষ্যদল, যীশুর মাধ্যমে যেসব অলৌকিক কাজ দেখেছিলেন, সেগুলিকে উল্লেখ করে উচ্চকণ্ঠে ঈশ্বরের মহিমাকীর্তন করে বলতে লাগলেন:
LUK 19:38 “ধন্য সেই রাজাধিরাজ, যিনি আসছেন প্রভুরই নামে।” “স্বর্গলোকে শান্তি, আর ঊর্ধ্বতমলোকে মহিমা হোক!”
LUK 19:39 লোকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরিশী যীশুকে বলল, “গুরুমহাশয়, আপনার শিষ্যদের ধমক দিন!”
LUK 19:40 তিনি উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের বলছি, ওরা যদি চুপ করে থাকে, তাহলে এই পাথরগুলি চিৎকার করে উঠবে।”
LUK 19:41 জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে নগরটিকে দেখে তিনি কেঁদে ফেললেন, আর বললেন,
LUK 19:42 “তুমি, শুধুমাত্র তুমি যদি জানতে, আজকের দিনে শান্তির জন্য তোমার কী প্রয়োজন! কিন্তু এখন তা তোমার দৃষ্টির অগোচর হয়ে রইল।
LUK 19:43 তোমার উপরে এমন একদিন ঘনিয়ে আসবে, যেদিন তোমার শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে অবরোধের প্রাচীর তুলবে, তোমাকে বেষ্টন করে সবদিক থেকে তোমাকে ঘিরে ধরবে।
LUK 19:44 তারা তোমাকে ও তোমার চার দেওয়ালের মধ্যবর্তী সন্তানদের ভূমিসাৎ করবে। তারা একটি পাথরের উপর অন্য পাথর রাখবে না। কারণ তোমার কাছে ঈশ্বরের আগমনকালকে তুমি চিনতে পারোনি।”
LUK 19:45 তারপর তিনি মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে যারা বিক্রি করছিল তাদের তিনি তাড়িয়ে দিতে লাগলেন।
LUK 19:46 তিনি তাদের বললেন, “এরকম লেখা আছে, ‘আমার গৃহ হবে প্রার্থনার গৃহ,’ কিন্তু তোমরা একে দস্যুদের গহ্বরে পরিণত করেছ।”
LUK 19:47 প্রতিদিন তিনি মন্দিরে শিক্ষা দিতেন। কিন্তু প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও জননেতারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছিল।
LUK 19:48 তবুও তা কাজে পরিণত করার পথ তারা খুঁজে পাচ্ছিল না, কারণ জনসাধারণ মুগ্ধ হয়ে তাঁর বাক্য শুনত।
LUK 20:1 একদিন যীশু মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং সুসমাচার প্রচার করছিলেন। সেই সময় প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা, প্রাচীনদের সঙ্গে একযোগে তাঁর কাছে এল।
LUK 20:2 তারা বলল, “আমাদের বলো, কোন অধিকারে তুমি এসব কাজ করছ? কে তোমাকে এই অধিকার দিয়েছে?”
LUK 20:3 তিনি উত্তর দিলেন, “আমিও তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। তোমরা আমাকে বলো,
LUK 20:4 যোহনের বাপ্তিষ্ম কোথা থেকে হয়েছিল? স্বর্গ থেকে, না মানুষের কাছ থেকে?”
LUK 20:5 তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করে বলল, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তাহলে তোমরা তাকে বিশ্বাস করোনি কেন?’
LUK 20:6 কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষের কাছ থেকে,’ তাহলে লোকেরা আমাদের পাথর ছুঁড়ে মারবে, কারণ তারা নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করে যে, যোহন ছিলেন একজন ভাববাদী।”
LUK 20:7 তাই তারা উত্তর দিল, “কোথা থেকে, আমরা তা জানি না।”
LUK 20:8 যীশু বললেন, “আমিও কোন অধিকারে এসব কাজ করছি, তোমাদের বলব না।”
LUK 20:9 তিনি সকলকে এই রূপক আখ্যানটি বলতে লাগলেন: “এক ব্যক্তি একটি দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করে কয়েকজন ভাগচাষিকে ভাড়া দিয়ে অনেক দিনের জন্য অন্যত্র চলে গেলেন।
LUK 20:10 ফল সংগ্রহের সময় তিনি এক দাসকে ভাগচাষিদের কাছে পাঠালেন, যেন তারা তাকে দ্রাক্ষাক্ষেতের ফলের কিছু অংশ দেয়। কিন্তু ভাগচাষিরা তাকে মারধর করে খালি হাতে তাড়িয়ে দিল।
LUK 20:11 তিনি আর একজন দাসকে পাঠালেন, কিন্তু তাকেও তারা মারধর করল এবং অপমানজনক ব্যবহার করে তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিল।
LUK 20:12 এবার তিনি তৃতীয় জনকে পাঠালেন। তারা তাকে ক্ষতবিক্ষত করল এবং ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিল।
LUK 20:13 “তখন দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক বললেন, ‘আমি কী করি? আমি আমার প্রিয় পুত্রকে পাঠাব, তারা হয়তো তাঁকে সম্মান করবে।’
LUK 20:14 “কিন্তু ভাগচাষিরা তাঁকে দেখে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তারা বলল, ‘এই হচ্ছে উত্তরাধিকারী। এসো আমরা একে হত্যা করি, তাহলে মালিকানা আমাদের হবে।’
LUK 20:15 তাই তারা তাঁকে দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করল। “দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক তখন তাদের প্রতি কী করবেন?
LUK 20:16 তিনি এসে ওইসব ভাগচাষিদের হত্যা করবেন এবং দ্রাক্ষাক্ষেতটি অন্যদের দেবেন।” লোকেরা এই কাহিনি শুনে বলল, “এরকম যেন কখনও না হয়।”
LUK 20:17 যীশু তাদের দিকে সরাসরি তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, “তাহলে, এই লিখিত বাক্যের অর্থ কী? “ ‘গাঁথকেরা যে পাথর অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল কোণের প্রধান পাথর!’
LUK 20:18 সেই পাথরের উপরে যে পড়বে, সে খানখান হবে, কিন্তু যার উপরে এই পাথর পড়বে, সে চূর্ণবিচূর্ণ হবে।”
LUK 20:19 শাস্ত্রবিদরা ও প্রধান যাজকবর্গ আর দেরি না করে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পথ খুঁজতে লাগল। কারণ তারা জানত, এই রূপক কাহিনিটি তিনি তাদের বিরুদ্ধেই বলেছেন, কিন্তু তারা জনসাধারণকে ভয় পেত।
LUK 20:20 যীশুর উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে তারা কয়েকজন গুপ্তচর পাঠাল যারা যীশুর সঙ্গে সততার ভান করল। তারা আশা করছিল, যীশুর কথায় খুঁত ধরে তাঁকে দেশাধ্যক্ষের ক্ষমতা ও বিচারাধীনে আনতে পারবে।
LUK 20:21 তাই গুপ্তচরেরা তাঁকে প্রশ্ন করল, “গুরুমহাশয়, আমরা জানি, আপনি ন্যায়সংগত কথা বলেন ও শিক্ষা দেন, আপনি পক্ষপাতিত্ব করেন না, কিন্তু ঈশ্বরের পথ সম্বন্ধে যথার্থ শিক্ষা দেন।
LUK 20:22 আপনার অভিমত কী, কৈসরকে কর দেওয়া কি উচিত?”
LUK 20:23 তিনি তাদের দুমুখো আচরণ বুঝতে পেরে বললেন,
LUK 20:24 “আমাকে একটি দিনার দেখাও। এর উপরে কার মূর্তি আর কার নাম আছে?” তারা উত্তর দিল, “কৈসরের।”
LUK 20:25 তিনি তাদের বললেন, “তাহলে, যা কৈসরের প্রাপ্য, তা কৈসরকে দাও, আর ঈশ্বরের যা প্রাপ্য, তা ঈশ্বরকে দাও।”
LUK 20:26 তিনি সেখানে যে কথা প্রকাশ্যে বললেন, সেই কথায় তারা তাঁকে ফাঁদে ফেলতে পারল না। তাঁর উত্তরে তারা চমৎকৃত হয়ে নির্বাক হয়ে গেল।
LUK 20:27 যে সদ্দূকীরা বলে, পুনরুত্থান বলে কিছু নেই, তাদের কয়েকজন একটি প্রশ্ন নিয়ে যীশুর কাছে এল।
LUK 20:28 তারা বলল, “গুরুমহাশয়, মোশি আমাদের জন্য লিখে গেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে সন্তানহীন রেখে মারা যায়, তবে তার ভাই, তার বিধবা পত্নীকে বিবাহ করবে এবং সে তার বড়ো ভাইয়ের জন্য সন্তানের জন্ম দেবে।
LUK 20:29 মনে করুন, সাত ভাই ছিল। প্রথমজন, এক নারীকে বিবাহ করে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল।
LUK 20:30 দ্বিতীয়জন ও তৃতীয়জন তাকে বিবাহ করল এবং
LUK 20:31 একইভাবে নিঃসন্তান অবস্থায় সেই সাতজনই মারা গেল।
LUK 20:32 সবশেষে, সেই নারীরও মৃত্যু হল।
LUK 20:33 তাহলে, পুনরুত্থানে সে কার স্ত্রী হবে, কারণ সাতজনই তো তাকে বিবাহ করেছিল?”
LUK 20:34 যীশু উত্তর দিলেন, “এই জগতের সন্তানেরা বিবাহ করে এবং তাদের বিবাহ দেওয়া হয়।
LUK 20:35 কিন্তু যারা সেই জগতের ও মৃতলোক থেকে পুনরুত্থানে অংশীদার হওয়ার যোগ্যরূপে বিবেচিত হয়েছে, তারা বিবাহ করবে না বা তাদের বিবাহও দেওয়া হবে না।
LUK 20:36 তাদের কখনও মৃত্যু হবে না, কারণ তারা হবে স্বর্গদূতের মতো। তাদের পুনরুত্থান বলে তারা ঈশ্বরের সন্তান।
LUK 20:37 কিন্তু জ্বলন্ত ঝোপের বর্ণনায় মোশিও দেখিয়েছেন যে মৃতেরা উত্থাপিত হয়, কারণ তিনি প্রভুকে ‘অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর,’ বলে অভিহিত করেছেন।
LUK 20:38 তিনি মৃতদের ঈশ্বর নন, তিনি জীবিতদের ঈশ্বর। কারণ তাঁর কাছে সকলেই জীবিত।”
LUK 20:39 তখন কয়েকজন শাস্ত্রবিদ উত্তর দিল, “গুরুমহাশয়, আপনি বেশ ভালোই বলেছেন।”
LUK 20:40 সেই থেকে কেউ তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে সাহস পেল না।
LUK 20:41 এরপর যীশু তাদের বললেন, “লোকে বলে, ‘খ্রীষ্ট হল দাউদের পুত্র,’ এ কেমন কথা?
LUK 20:42 গীতসংহিতা পুস্তকে দাউদ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন: “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বলেন, “তুমি আমার ডানদিকে বসো,
LUK 20:43 যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠে পরিণত করি।” ’
LUK 20:44 সুতরাং, দাউদ তাঁকে ‘প্রভু’ বলে অভিহিত করেছেন, তাহলে কীভাবে তিনি তাঁর সন্তান হতে পারেন?”
LUK 20:45 সমস্ত লোকেরা যখন শুনছিল, যীশু তখন তাঁর শিষ্যদের বললেন,
LUK 20:46 “শাস্ত্রবিদদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো, তারা লম্বা লম্বা পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে ও হাটেবাজারে সম্ভাষিত হতে ভালোবাসে; সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন পেতে ও ভোজসভায় সব থেকে সম্মানজনক আসন লাভ করতে ভালোবাসে।
LUK 20:47 তারা বিধবাদের বাড়িশুদ্ধ গ্রাস করে এবং লোক-দেখানো লম্বা লম্বা প্রার্থনা করে। এই ধরনের লোকেরা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।”
LUK 21:1 যীশু চোখ তুলে দেখলেন ধনী ব্যক্তিরা মন্দিরের ভাণ্ডারে উপহার দান করছে।
LUK 21:2 তিনি এক দরিদ্র বিধবাকেও খুব ছোটো দুটি তামার পয়সা রাখতে দেখলেন।
LUK 21:3 তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই দরিদ্র বিধবা অন্য সবার চেয়ে বেশি দান করেছে।
LUK 21:4 কারণ এসব লোক তাদের প্রাচুর্য থেকে দান করেছে, কিন্তু সে তার দরিদ্রতা সত্ত্বেও, তার বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু ছিল, তা থেকে সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছে।”
LUK 21:5 তাঁর কয়েকজন শিষ্য আলোচনা করে বলছিল যে, সুন্দর সুন্দর পাথর ও ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত সব বস্তুতে মন্দিরটি কেমন সুশোভিত! কিন্তু যীশু বললেন,
LUK 21:6 “তোমরা এখানে যা দেখছ, এমন এক সময় আসবে, যখন এদের একটি পাথরও অন্যটির উপরে থাকবে না, সবকটিকেই ভূমিসাৎ করা হবে।”
LUK 21:7 তাঁরা জানতে চাইলেন, “গুরুমহাশয়, এ সমস্ত কখন ঘটবে? তার লক্ষণই বা কী, যা দেখে আমরা বুঝব যে, সে সমস্ত ঘটতে চলেছে?”
LUK 21:8 তিনি উত্তর দিলেন, “সতর্ক থেকো, তোমরা যেন প্রতারিত না হও। কারণ আমার নাম নিয়ে অনেকেই আসবে। তারা দাবি করে বলবে, ‘আমিই তিনি,’ আর ‘সেই কাল সন্নিকট।’ তোমরা তাদের অনুগামী হোয়ো না।
LUK 21:9 যুদ্ধ ও বিপ্লবের কথা শুনে তোমরা আতঙ্কিত হোয়ো না। প্রথমে এসব অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনই সমাপ্তি হবে না।”
LUK 21:10 এরপর তিনি তাঁদের বললেন, “এক জাতি অন্য জাতির বিপক্ষে, এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিপক্ষে অভিযান করবে।
LUK 21:11 বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি হবে, মহাকাশে দেখা যাবে বহু ভীতিকর দৃশ্য ও বড়ো বড়ো নিদর্শন।
LUK 21:12 “কিন্তু এসব ঘটার আগে তারা তোমাদের গ্রেপ্তার করবে ও নির্যাতন করবে। তারা তোমাদের সমাজভবনের কর্তৃপক্ষের হাতে সমর্পণ করবে ও কারাগারে নিক্ষেপ করবে। রাজা ও প্রদেশপালদের দরবারে তোমাদের হাজির করানো হবে, আর আমার নাম স্বীকার করার কারণেই সে সমস্ত ঘটবে।
LUK 21:13 এর পরিণামে, তোমরা তাদের কাছে সাক্ষ্যদানের সুযোগ লাভ করবে।
LUK 21:14 কিন্তু কীভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে, সে বিষয়ে আগেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হওয়ার জন্য মনস্থির করবে।
LUK 21:15 কারণ আমি তোমাদের এমন বাক্য ও জ্ঞান দান করব, যা তোমাদের প্রতিপক্ষ প্রতিরোধ ও খণ্ডন করতে ব্যর্থ হবে।
LUK 21:16 এমনকি, তোমাদের বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়পরিজন ও বন্ধুবান্ধব তোমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তারা তোমাদের কাউকে কাউকে মৃত্যুমুখে সমর্পণ করবে।
LUK 21:17 আর আমার কারণে তোমরা সকলের কাছে ঘৃণিত হবে।
LUK 21:18 কিন্তু তোমাদের মাথার একটি চুলও বিনষ্ট হবে না।
LUK 21:19 তোমরা যদি অবিচলিত থাকো, তাহলে জীবন লাভ করবে।
LUK 21:20 “যখন তোমরা দেখবে সৈন্যসামন্ত জেরুশালেম নগরীকে অবরোধ করেছে, তখন জানবে যে তার ধ্বংসের দিন এগিয়ে এসেছে।
LUK 21:21 তখন যারা যিহূদিয়ায় থাকবে, তারা যেন পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যায়, যারা নগরে থাকে, তারা যেন বাইরে চলে যায়; আর যারা গ্রামাঞ্চলে থাকবে, তারা যেন নগরের ভিতরে প্রবেশ না করে।
LUK 21:22 কারণ সেসময় হবে প্রতিশোধের সময়, শাস্ত্রের সমস্ত বাক্য পূর্ণ হওয়ার সময়।
LUK 21:23 সেই সময় গর্ভবতী নারীদের ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের কতই না ভয়ংকর কষ্ট হবে! দেশের উপর ঘনিয়ে আসবে চরম দুর্গতি, এই জাতির উপরে নেমে আসবে ঈশ্বরের ক্রোধ।
LUK 21:24 তরোয়ালের আঘাতে তাদের মৃত্যু হবে, বন্দিরূপে অন্য সব জাতির কাছে নির্বাসিত হবে। অইহুদিদের জন্য নিরূপিত সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জেরুশালেম অইহুদিদের দ্বারা পদদলিত হবে।
LUK 21:25 “আর সূর্য, চাঁদ ও তারার মধ্যে বিভিন্ন অদ্ভুত চিহ্ন দেখা যাবে। উত্তাল সমুদ্রের গর্জনে ও অদ্ভুত ঢেউয়ের সামনে পৃথিবীর সমস্ত জাতি যন্ত্রণাগ্রস্ত ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে।
LUK 21:26 পৃথিবীতে যা কিছু ঘটবে, সেই কথা ভেবে মানুষ আতঙ্কে মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে, কারণ জ্যোতিষ্কমণ্ডল তখন প্রকম্পিত হবে।
LUK 21:27 সেই সময়ে তারা দেখতে পাবে, মনুষ্যপুত্র পরাক্রমে ও মহামহিমায় মেঘে করে আবির্ভূত হবেন।
LUK 21:28 এই সমস্ত ঘটনা যখন ঘটতে শুরু হবে, তখন তোমরা ঊর্ধ্বদৃষ্টি কোরো ও মাথা উঁচু কোরো, কারণ তোমাদের মুক্তি সন্নিকট।”
LUK 21:29 তিনি তাদের এই রূপকটিও বললেন: “ডুমুর গাছ ও অন্য সব গাছের দিকে তাকিয়ে দেখো।
LUK 21:30 সেগুলি যখন নতুন পাতায় সজ্জিত হয়ে ওঠে, তা দেখে তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারো, গ্রীষ্মকাল সন্নিকট।
LUK 21:31 সেরকম, তোমরা যখন এই সমস্ত ঘটতে দেখবে, তখন জেনো যে, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট।
LUK 21:32 “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এসব না ঘটা পর্যন্ত এই প্রজন্মের অবলুপ্তি কিছুতেই হবে না।
LUK 21:33 আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্য কখনও লুপ্ত হবে না।
LUK 21:34 “সতর্ক থেকো, নইলে উচ্ছৃঙ্খলতা, মত্ততা ও জীবনের দুশ্চিন্তা তোমাদের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলবে।
LUK 21:35 আর সেদিনটি ফাঁদের মতো অপ্রত্যাশিতভাবে সমগ্র পৃথিবীর প্রত্যেক অধিবাসীর উপরেই ঘনিয়ে আসবে।
LUK 21:36 সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রেখো ও প্রার্থনা কোরো, যেন সন্নিকট সব ঘটনা থেকে তোমরা অব্যাহতি পাও এবং মনুষ্যপুত্রের সামনে দাঁড়াবার সামর্থ্য লাভ করো।”
LUK 21:37 যীশু প্রতিদিন মন্দিরে গিয়ে শিক্ষা দিতেন এবং প্রতি সন্ধ্যায় রাত্রি কাটানোর জন্য জলপাই নামের পর্বতের অভিমুখে বেরিয়ে পড়তেন।
LUK 21:38 তাঁর বাণী শোনার জন্য লোকেরা খুব ভোরবেলাতেই মন্দিরে এসে উপস্থিত হত।
LUK 22:1 তখন, নিস্তারপর্ব নামে পরিচিত খামিরবিহীন রুটির পর্ব ক্রমশ এগিয়ে আসছিল।
LUK 22:2 আর প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা যীশুর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথ খুঁজছিল, কারণ তারা জনসাধারণকে ভয় করত।
LUK 22:3 শয়তান তখন সেই বারোজনের অন্যতম, ইষ্কারিয়োৎ নামে পরিচিত যিহূদার অন্তরে প্রবেশ করল।
LUK 22:4 যিহূদা প্রধান যাজকবর্গ ও মন্দিরের পাহারায় নিযুক্ত পদস্থ কর্মচারীদের কাছে গিয়ে, কীভাবে যীশুকে ধরিয়ে দেবে, তা নিয়ে আলোচনা করল।
LUK 22:5 তারা আনন্দিত হয়ে তাকে টাকা দিতে সম্মত হল।
LUK 22:6 সেও তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে জনসাধারণের অগোচরে যীশুকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগল।
LUK 22:7 অবশেষে খামিরবিহীন রুটির পর্বের দিন উপস্থিত হল। সেদিন নিস্তারপর্বের মেষ বলি দিতে হত।
LUK 22:8 যীশু পিতর ও যোহনকে পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, “যাও, আমাদের জন্য নিস্তারপর্বের ভোজের আয়োজন করো।”
LUK 22:9 তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কী চান? আমরা কোথায় এর আয়োজন করব?”
LUK 22:10 তিনি উত্তর দিলেন, “তোমরা নগরে প্রবেশ করেই দেখতে পাবে, এক ব্যক্তি জলের একটি কলশি নিয়ে যাচ্ছে। তোমরা তাকে অনুসরণ করে যে বাড়িতে সে প্রবেশ করবে, সেখানে যেয়ো।
LUK 22:11 তোমরা সেই বাড়ির কর্তাকে বোলো, ‘গুরুমহাশয় জানতে চান, অতিথিদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি কোথায়, যেখানে আমি আমার শিষ্যদের নিয়ে নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করতে পারি?’
LUK 22:12 সে তোমাদের উপরতলার একটি সুসজ্জিত বড়ো ঘর দেখাবে। সেখানেই সব আয়োজন কোরো।”
LUK 22:13 তাঁরা বেরিয়ে পড়ে যীশুর কথামতো সবকিছুই দেখতে পেলেন এবং নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করলেন।
LUK 22:14 পরে সময় উপস্থিত হলে যীশু ও প্রেরিতশিষ্যেরা আসনে হেলান দিয়ে বসলেন।
LUK 22:15 আর তিনি তাঁদের বললেন, “যন্ত্রণাভোগের আগে আমি তোমাদের সঙ্গে নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করার জন্য সাগ্রহে প্রতীক্ষা করেছি।
LUK 22:16 কারণ আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বরের রাজ্যে এই ভোজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত, আমি আর এই ভোজ গ্রহণ করব না।”
LUK 22:17 পরে তিনি পানপাত্র তুলে নিয়ে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর বললেন, “এটি নাও ও তোমাদের মধ্যে ভাগ করো।
LUK 22:18 আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বরের রাজ্যের আগমন না হওয়া পর্যন্ত আমি আর দ্রাক্ষারস পান করব না।”
LUK 22:19 তাপর তিনি রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও ভেঙে তাঁদের দিলেন, আর বললেন, “এই হল আমার শরীর যা তোমাদের জন্য উৎসর্গীকৃত; আমার স্মরণার্থে তোমরা এরকম কোরো।”
LUK 22:20 একইভাবে, খাবারের পরে তিনি পানপাত্র নিয়ে বললেন, “এই পানপাত্র আমার রক্তে নতুন নিয়ম, যা তোমাদেরই জন্য পাতিত হয়েছে।
LUK 22:21 কিন্তু যে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তার হাত আমারই সঙ্গে টেবিলের উপরে আছে।
LUK 22:22 মনুষ্যপুত্র তাঁর নির্ধারিত পথেই এগিয়ে যাবেন, কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে মনুষ্যপুত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে!”
LUK 22:23 তাঁরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন যে, তাদের মধ্যে কে এমন কাজ করতে পারে!
LUK 22:24 আর তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, এ নিয়েও একটি বিতর্ক দেখা দিল।
LUK 22:25 যীশু তাঁদের বললেন, “অন্য অন্য জাতির রাজা তাদের প্রজাদের উপরে প্রভুত্ব করে; আর যারা তাদের উপরে কর্তৃত্ব করে, তারা নিজেদের হিতার্থী বলে অভিহিত করে।
LUK 22:26 কিন্তু তোমরা সেরকম হোয়ো না। বরং, তোমাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ, তাকে হতে হবে যে সবচেয়ে ছোটো তার মতো, আর প্রশাসককে হতে হবে সেবকের মতো।
LUK 22:27 কারণ শ্রেষ্ঠ কে? যে খাবার খেতে বসে সে, না, যে পরিবেশন করে, সে? যে খাবার খেতে বসে, সেই নয় কি? কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে সেবকের মতো আছি।
LUK 22:28 আমার পরীক্ষার দিনগুলিতে তোমরা বরাবর আমার সঙ্গে আছ।
LUK 22:29 আমার পিতা যেমন আমাকে একটি রাজ্য অর্পণ করেছেন, আমিও তেমনই তোমাদের জন্য একটি রাজ্য নিরূপণ করছি,
LUK 22:30 যেন তোমরা আমার রাজ্যে আমারই সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করতে ও সিংহাসনে বসে ইস্রায়েলের বারো গোষ্ঠীর বিচার করতে পারো।
LUK 22:31 “শিমোন, শিমোন, শয়তান তোমাদেরকে গমের মতো ঝাড়াই করার জন্য অনুমতি চেয়েছে।
LUK 22:32 কিন্তু শিমোন, আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করেছি, যেন তোমার বিশ্বাস ব্যর্থ না হয়। আর তুমি যখন ফিরে আসবে, তখন তোমার ভাইদের মধ্যে শক্তি সঞ্চার কোরো।”
LUK 22:33 কিন্তু পিতর উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমি আপনার সঙ্গে কারাগারে যেতে ও মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত আছি।”
LUK 22:34 যীশু উত্তর দিলেন, “পিতর, আমি তোমাকে বলছি, আজ মোরগ ডাকার আগেই তুমি আমাকে চেনো না বলে তিনবার অস্বীকার করবে।”
LUK 22:35 যীশু তারপর তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি যখন তোমাদের টাকার থলি, ঝুলি, বা চটিজুতো ছাড়াই পাঠিয়েছিলাম, তখন তোমরা কি কোনো কিছুর অভাববোধ করেছিলে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “না, কোনো কিছুরই নয়।”
LUK 22:36 তিনি তাঁদের বললেন, “কিন্তু এখন তোমাদের কাছে টাকার থলি থাকলে সঙ্গে নিয়ো, একটি ঝুলিও নিয়ো; যদি তোমাদের তরোয়াল না থাকে, তাহলে পোশাক বিক্রি করে তা কিনে নিয়ো।
LUK 22:37 কারণ লেখা আছে: ‘আর তিনি অপরাধীদের সঙ্গে গণিত হলেন’; আর আমি তোমাদের বলছি, যে লেখা আছে তা আমার জীবনে অবশ্যই পূর্ণ হবে। হ্যাঁ, আমার সম্পর্কে যা লেখা আছে, তার পূর্ণ হতে চলেছে।”
LUK 22:38 শিষ্যেরা বললেন, “প্রভু দেখুন, এখানে দুটি তরোয়াল আছে।” তিনি উত্তর দিলেন, “তাই যথেষ্ট।”
LUK 22:39 পরে যীশু সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁর অভ্যাসমতো জলপাই পর্বতে গেলেন এবং তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে অনুসরণ করলেন।
LUK 22:40 সেই স্থানে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁদের বললেন, “প্রার্থনা করো, যেন তোমরা প্রলোভনে না পড়ো।”
LUK 22:41 তিনি তাঁদের কাছ থেকে এক-ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে গিয়ে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করলেন,
LUK 22:42 “পিতা, তোমার ইচ্ছা হলে আমার কাছ থেকে এই পানপাত্র সরিয়ে নাও। তবুও আমার ইচ্ছা নয়, তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।”
LUK 22:43 তখন স্বর্গের এক দূত তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে শক্তি জোগালেন।
LUK 22:44 নিদারুণ যন্ত্রণায়, তিনি প্রার্থনায় আরও একাগ্র হলেন; তাঁর ঘাম রক্তের বড়ো বড়ো ফোঁটার মতো মাটিতে ঝরে পড়ছিল।
LUK 22:45 প্রার্থনা থেকে উঠে তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে গিয়ে দেখলেন, তাঁরা দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
LUK 22:46 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা ঘুমাচ্ছ কেন? ওঠো, প্রার্থনা করো, যেন তোমরা প্রলোভনে না পড়ো।”
LUK 22:47 তিনি তখনও কথা বলছেন, এমন সময় একদল লোক উঠে এল আর তাদের সঙ্গে এল সেই বারোজনের অন্যতম যিহূদা। সে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। সে চুম্বন করার জন্য যীশুর কাছে এগিয়ে এল।
LUK 22:48 কিন্তু যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যিহূদা, তুমি কি চুম্বন করে মনুষ্যপুত্রকে শত্রুদের হাতে সমর্পণ করছ?”
LUK 22:49 যীশুর অনুগামীরা যখন দেখলেন কী ঘটতে যাচ্ছে, তাঁরা বললেন, “প্রভু, আমাদের তরোয়াল দিয়ে কি আঘাত করব?”
LUK 22:50 তাঁদের মধ্যে একজন মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার ডানদিকের কান কেটে ফেললেন।
LUK 22:51 কিন্তু যীশু উত্তর দিলেন, “এমন যেন আর না ঘটে!” আর তিনি সেই লোকটির কান স্পর্শ করে তাকে সুস্থ করে দিলেন।
LUK 22:52 আর যে প্রধান যাজকবর্গ, মন্দিরের প্রহরীদলের অধ্যক্ষেরা ও প্রাচীনবর্গ যীশুর উদ্দেশে এসেছিল, তিনি তাদের বললেন, “আমি কি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছি যে, তোমরা তরোয়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছ?
LUK 22:53 আমি মন্দির চত্বরে প্রতিদিনই তোমাদের মধ্যে ছিলাম। তখন তোমরা আমার উপরে হস্তক্ষেপ করোনি। কিন্তু এই হল তোমাদের সুসময়, কারণ এখন অন্ধকারেরই রাজত্ব।”
LUK 22:54 তারা তখন যীশুকে বন্দি করল ও তাঁকে মহাযাজকের বাড়িতে নিয়ে গেল। পিতর দূরত্ব বজায় রেখে অনুসরণ করলেন।
LUK 22:55 কিন্তু উঠানের মাঝখানে তারা যখন আগুন জ্বেলে একসঙ্গে বসল, পিতরও তাদের সঙ্গে বসলেন।
LUK 22:56 একজন দাসী আগুনের আলোয় তাঁকে সেখানে বসে থাকতে দেখল। সে তাঁর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বলল, “এই লোকটিও ওর সঙ্গে ছিল।”
LUK 22:57 কিন্তু তিনি অস্বীকার করে বললেন, “নারী, আমি ওঁকে চিনি না।”
LUK 22:58 অল্প কিছুক্ষণ পরে আর একজন তাকে দেখে বলল, “তুমিও ওদের একজন।” পিতর বললেন, “ওহে, আমি নই।”
LUK 22:59 প্রায় এক ঘণ্টা পরে আরও একজন দৃঢ়ভাবে বলল, “নিঃসন্দেহে, এই লোকটিও তাঁর সঙ্গে ছিল, কারণ এ একজন গালীলীয়।”
LUK 22:60 পিতর উত্তর দিলেন, “ওহে, তুমি কী বলছ, আমি বুঝতে পারছি না।” তিনি কথা বলছিলেন, এমন সময় মোরগ ডেকে উঠল।
LUK 22:61 প্রভু মুখ ফিরালেন ও সোজা পিতরের দিকে তাকালেন। তখন প্রভু তাঁকে যে কথা বলেছিলেন, পিতরের তা মনে পড়ল: “আজ মোরগ ডাকার আগেই তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।”
LUK 22:62 তখন পিতর বাইরে গিয়ে তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
LUK 22:63 যারা যীশুর পাহারায় নিযুক্ত ছিল, তারা তাঁকে বিদ্রুপ ও মারধর করতে লাগল।
LUK 22:64 তাঁর চোখ বেঁধে দিয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, “ভাববাণী বল দেখি! কে তোকে মারল?”
LUK 22:65 তারা তাঁকে আরও অনেক অপমানসূচক কথা বলল।
LUK 22:66 সকাল হলে সেই জাতির প্রাচীনবর্গ, দুই প্রধান যাজক ও শাস্ত্রবিদদের মন্ত্রণা পরিষদ সমবেত হল। যীশুকে তাদের সামনে হাজির করা হল।
LUK 22:67 তারা বলল, “তুমি যদি সেই খ্রীষ্ট হও, তাহলে আমাদের বলো।” যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের বললে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে না।
LUK 22:68 আর আমি যদি তোমাদের প্রশ্ন করি, তোমরাও উত্তর দেবে না।
LUK 22:69 কিন্তু এখন থেকে, মনুষ্যপুত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ডানদিকে উপবিষ্ট থাকবেন।”
LUK 22:70 তারা সবাই প্রশ্ন করল, “তাহলে, তুমিই কি ঈশ্বরের পুত্র?” তিনি বললেন, “তোমরা ঠিক কথাই বলছ, আমিই তিনি।”
LUK 22:71 তখন তারা বলল, “আমাদের আর সাক্ষ্য-প্রমাণের কী প্রয়োজন? আমরা নিজেরাই তো ওর মুখ থেকে একথা শুনলাম।”
LUK 23:1 তখন সকলে দল বেঁধে উঠে তাঁকে পীলাতের কাছে নিয়ে গেল।
LUK 23:2 তারা যীশুকে অভিযুক্ত করে বলল, “আমরা দেখেছি, এই লোকটি আমাদের জাতিকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। সে কৈসরকে কর দিতে নিষেধ করে, আর নিজেকে খ্রীষ্ট, একজন রাজা বলে দাবি করে।”
LUK 23:3 পীলাত তাই যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি ইহুদিদের রাজা?” যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, ঠিক তাই, যেমন তুমি বললে।”
LUK 23:4 পীলাত তখন প্রধান যাজকবর্গ ও লোকদের কাছে ঘোষণা করলেন, “এই মানুষটিকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো দোষ আমি খুঁজে পেলাম না।”
LUK 23:5 কিন্তু তারা জোর দিয়ে বলল, “ও তার শিক্ষায় সমগ্র যিহূদিয়ার লোকদের উত্তেজিত করে তুলেছে। গালীল থেকে শুরু করে ও এখানেও এসে পৌঁছেছে।”
LUK 23:6 একথা শুনে পীলাত জানতে চাইলেন, লোকটি গালীলীয় কি না।
LUK 23:7 তিনি যখন জানতে পারলেন যে, যীশু হেরোদের শাসনাধীন, তিনি তাঁকে হেরোদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। সেই সময় হেরোদও জেরুশালেমে ছিলেন।
LUK 23:8 যীশুকে দেখে হেরোদ অত্যন্ত খুশি হলেন, কারণ দীর্ঘকাল যাবৎ তিনি তাঁকে দেখতে চাইছিলেন। তিনি যীশুর সম্পর্কে যা শুনেছিলেন, সেইমতো আশা করছিলেন, তাঁকে কোনো অলৌকিক চিহ্নকাজ করতে দেখবেন।
LUK 23:9 তিনি তাঁকে বহু প্রশ্ন করলেন, কিন্তু যীশু তাঁকে কোনও উত্তর দিলেন না।
LUK 23:10 প্রধান যাজকবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ডভাবে তাঁর বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে লাগল।
LUK 23:11 তখন হেরোদ ও তাঁর সেনারা তাঁকে তুচ্ছ ও ব্যঙ্গবিদ্রুপ করলেন। এক জমকালো পোশাক পরিয়ে যীশুকে তারা পীলাতের কাছে ফেরত পাঠালেন।
LUK 23:12 সেদিন হেরোদ ও পীলাত বন্ধু হয়ে উঠলেন; কারণ এর আগে তাঁরা পরস্পরের শত্রু ছিলেন।
LUK 23:13 পীলাত প্রধান যাজকদের, সমাজভবনের অধ্যক্ষদের ও জনসাধারণকে একসঙ্গে ডেকে তাদের বললেন,
LUK 23:14 “বিদ্রোহের জন্য লোকদের উত্তেজিত করার অভিযোগে তোমরা এই লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসেছ। তোমাদের সাক্ষাতে আমি তাকে পরীক্ষা করেছি, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি আমি খুঁজে পাইনি।
LUK 23:15 আর হেরোদও কোনো দোষ পাননি, কারণ তিনি তাঁকে আমার কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। তোমরা দেখতেই পাচ্ছ, মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য কোনো অপরাধই সে করেনি।
LUK 23:16 তাই, আমি তাকে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেব।”
LUK 23:17 সেই পর্বের সময়ে একজন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রথা ছিল।
LUK 23:18 কিন্তু তারা সকলে চিৎকার করে উঠল, “এই লোকটিকে দূর করুন। আমরা বারাব্বার মুক্তি চাই।”
LUK 23:19 (নগরে বিদ্রোহের চেষ্টা ও হত্যার অপরাধে বারাব্বাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল।)
LUK 23:20 যীশুকে মুক্ত করার অভিপ্রায়ে পীলাত তাদের কাছে আবার অনুরোধ করলেন।
LUK 23:21 কিন্তু তারা চিৎকার করতে লাগল, “ওকে ক্রুশে দিন! ওকে ক্রুশে দিন!”
LUK 23:22 তিনি তৃতীয়বার তাদের কাছে বললেন, “কেন? এই মানুষটি কী অপরাধ করেছে? মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো কোনো কারণই আমি এর মধ্যে খুঁজে পাইনি। সেইজন্য আমি ওকে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেব।”
LUK 23:23 কিন্তু তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার অনড় দাবিতে তারা উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তাদের চিৎকারেরই জয় হল।
LUK 23:24 তাই পীলাত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
LUK 23:25 বিদ্রোহ ও হত্যার অভিযোগে যে লোকটি কারাগারে বন্দি ছিল ও যাকে তারা চেয়েছিল, তিনি তাকে মুক্তি দিলেন এবং তাদের ইচ্ছার কাছে তিনি যীশুকে সমর্পণ করলেন।
LUK 23:26 যীশুকে নিয়ে এগিয়ে চলার পথে কুরীণের অধিবাসী শিমোনকে তারা ধরল। সে গ্রাম থেকে শহরে আসছিল। তারা ক্রুশটি তার উপরে চাপিয়ে দিয়ে যীশুর পিছন পিছন সেটি বয়ে নিয়ে যেতে তাকে বাধ্য করল।
LUK 23:27 বিস্তর লোক তাঁকে অনুসরণ করছিল। সেই সঙ্গে ছিল অনেক নারী, যারা তাঁর জন্য শোক ও বিলাপ করছিল।
LUK 23:28 যীশু ফিরে তাদের উদ্দেশে বললেন, “ওগো জেরুশালেমের কন্যারা, আমার জন্য তোমরা কেঁদো না, কিন্তু নিজেদের জন্য ও তোমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য কাঁদো।
LUK 23:29 কারণ এমন সময় আসবে, যখন তোমরা বলবে, ‘ধন্য সেই বন্ধ্যা নারীরা, যাদের গর্ভ কোনোদিন সন্তানধারণ করেনি, যারা কোনোদিন বুকের দুধ পান করায়নি।’
LUK 23:30 তখন “ ‘তারা পর্বতসকলের উদ্দেশে বলবে, “আমাদের উপরে পতিত হও!” আর পাহাড়গুলিকে বলবে, “আমাদের ঢেকে ফেলো!” ’
LUK 23:31 গাছ সতেজ থাকার সময়ই মানুষ যদি এরকম আচরণ করে, তাহলে গাছ যখন শুকিয়ে যাবে, তখন আরও কি না ঘটবে!”
LUK 23:32 আরও দুজন দুষ্কৃতীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
LUK 23:33 মাথার খুলি নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে তারা তাঁকে সেই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ করল, একজনকে তাঁর ডানদিকে, অন্যজনকে তাঁর বাঁদিকে।
LUK 23:34 তখন যীশু বললেন, “পিতা, এদের ক্ষমা করো, কারণ এরা জানে না, এরা কী করছে।” আর গুটিকাপাত করে তারা তাঁর পোশাকগুলি ভাগ করে নিল।
LUK 23:35 লোকেরা দাঁড়িয়ে সবকিছু লক্ষ্য করছিল। এমনকি, সমাজভবনের অধ্যক্ষরাও তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করল। তারা বলল, “ও অন্যদের বাঁচাত; ও যদি ঈশ্বরের সেই খ্রীষ্ট, সেই মনোনীত জন হয়, তাহলে এখন নিজেকে বাঁচাক!”
LUK 23:36 সৈন্যেরাও উঠে এসে তাঁকে বিদ্রুপ করল। তারা তাঁকে সিরকা দিয়ে বলল,
LUK 23:37 “তুমি যদি ইহুদিদের রাজা হও, তাহলে নিজেকে বাঁচাও।”
LUK 23:38 তাঁর মাথার উপরে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি ছিল। তাতে লেখা ছিল, “এই ব্যক্তি ইহুদিদের রাজা।”
LUK 23:39 ক্রুশার্পিত দুষ্কৃতীদের একজন তাঁকে কটূক্তি করে বলল, “তুমিই কি সেই খ্রীষ্ট নও? নিজেকে আর আমাদের বাঁচাও!”
LUK 23:40 কিন্তু অপর দুষ্কৃতী তাকে তিরস্কার করে বলল, “তুমি কি ঈশ্বরকেও ভয় করো না? তুমিও তো সেই একই দণ্ডভোগ করছ।
LUK 23:41 আমরা ন্যায়সংগত দণ্ডভোগ করছি, আমরা যা করেছি, তারই সমুচিত ফলভোগ করছি। কিন্তু এই মানুষটি কোনও অন্যায় করেননি।”
LUK 23:42 তারপর সে বলল, “যীশু, আপনি যখন নিজের রাজ্যে আসবেন, তখন আমাকে স্মরণ করবেন।”
LUK 23:43 যীশু তাকে উত্তর দিলেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজই তুমি আমার সঙ্গে পরমদেশে উপস্থিত হবে।”
LUK 23:44 তখন দুপুর প্রায় বারোটা। সেই সময় থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশের উপরে অন্ধকার ছেয়ে রইল।
LUK 23:45 সূর্যের আলো নিভে গেল। আর মন্দিরের পর্দাটি চিরে দু-টুকরো হল।
LUK 23:46 যীশু উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, “পিতা, তোমার হাতে আমি আমার আত্মা সমর্পণ করি।” একথা বলে তিনি তাঁর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
LUK 23:47 এই সমস্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করে শত-সেনাপতি ঈশ্বরের প্রশংসা করে বললেন, “এই মানুষটি নিঃসন্দেহে ধার্মিক ছিলেন।”
LUK 23:48 এই দৃশ্য দেখার জন্য যারা সমবেত হয়েছিল, তারা তা দেখে বুকে আঘাত করতে করতে ফিরে গেল।
LUK 23:49 কিন্তু তাঁর পরিচিতজনেরা এবং গালীলের যে মহিলারা তাঁকে অনুসরণ করছিলেন, তাঁরা দূরে দাঁড়িয়ে এই সমস্ত ঘটনা লক্ষ্য করলেন।
LUK 23:50 এখন যোষেফ নামে মহাসভার এক সদস্য সেখানে ছিলেন। তিনি ছিলেন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ।
LUK 23:51 তিনি তাদের সিদ্ধান্তে ও কাজকর্মে সহমত ছিলেন না। তিনি ছিলেন যিহূদিয়ার আরিমাথিয়া নগরের অধিবাসী। তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেন।
LUK 23:52 তিনি পীলাতের কাছে গিয়ে যীশুর দেহটি চেয়ে নিলেন।
LUK 23:53 তিনি তাঁর দেহটি ক্রুশ থেকে নামিয়ে একখণ্ড লিনেন কাপড়ে জড়িয়ে, পাহাড় কেটে তৈরি করা একটি সমাধিতে রাখলেন। আগে কখনও কাউকে সেখানে সমাধি দেওয়া হয়নি।
LUK 23:54 সেদিনটি ছিল প্রস্তুতির দিন, বিশ্রামদিন শুরু হতে অল্প কিছুক্ষণ বাকি ছিল।
LUK 23:55 গালীল থেকে যীশুর সঙ্গে আগত মহিলারা যোষেফকে অনুসরণ করে সমাধি স্থানটি ও কীভাবে তাঁর দেহটি রাখা হল, তা দেখলেন।
LUK 23:56 তারপর তাঁরা বাড়ি ফিরে বিভিন্ন রকম মশলা ও সুগন্ধিদ্রব্য প্রস্তুত করলেন। কিন্তু বিধানের প্রতি বাধ্য হয়ে তাঁরা বিশ্রামদিনে বিশ্রাম করলেন।
LUK 24:1 সপ্তাহের প্রথম দিনে খুব ভোরবেলায়, সেই মহিলারা তাঁদের প্রস্তুত করা মশলা নিয়ে সমাধিস্থানে গেলেন।
LUK 24:2 তাঁরা দেখলেন, সমাধির মুখ থেকে পাথরখানি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
LUK 24:3 কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করে তাঁরা প্রভু যীশুর দেহটি দেখতে পেলেন না।
LUK 24:4 তাঁরা এ বিষয়ে যখন অবাক বিস্ময়ে ভাবছিলেন, তখন বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল পোশাক পরা দুজন পুরুষ হঠাৎ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।
LUK 24:5 আতঙ্কে মহিলারা মাটির দিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিন্তু পুরুষ দুজন তাঁদের বললেন, “তোমরা মৃতদের মধ্যে জীবিতের সন্ধান করছ কেন?
LUK 24:6 তিনি এখানে নেই, কিন্তু উত্থাপিত হয়েছেন। তোমাদের সঙ্গে গালীলে থাকার সময়ে তিনি কী বলেছিলেন, মনে করে দেখো।
LUK 24:7 তিনি বলেছিলেন, ‘মনুষ্যপুত্রকে পাপী মানুষদের হাতে অবশ্যই সমর্পিত হতে হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ ও তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হতে হবে।’ ”
LUK 24:8 তখন তাঁর কথাগুলি তাঁদের মনে পড়ে গেল।
LUK 24:9 সমাধিস্থান থেকে ফিরে এসে তাঁরা এ সমস্ত বিষয় সেই এগারোজন ও অন্য সবাইকে বললেন।
LUK 24:10 এরা হলেন মাগ্দালাবাসী মরিয়ম, যোহান্না ও যাকোবের মা মরিয়ম। তাঁদের সঙ্গে আরও অনেকে এই ঘটনার কথা প্রেরিতশিষ্যদের জানালেন।
LUK 24:11 কিন্তু তাঁরা মহিলাদের কথা বিশ্বাস করলেন না। কারণ তাঁদের এই সমস্ত কথা তাঁরা আজগুবি বলে মনে করলেন।
LUK 24:12 কিন্তু পিতর উঠে সমাধিস্থানের দিকে দৌড়ে গেলেন। তিনি নিচু হয়ে দেখলেন, লিনেন কাপড়ের খণ্ডগুলি পড়ে রয়েছে। বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে কী ঘটেছে ভাবতে ভাবতে তিনি ফিরে গেলেন।
LUK 24:13 সেদিন, তাঁদের মধ্যে দুজন জেরুশালেম থেকে এগারো কিলোমিটার দূরের ইম্মায়ুস নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন।
LUK 24:14 তাঁরা পরস্পর বিগত ঘটনাবলি সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিলেন।
LUK 24:15 তাঁরা যখন পরস্পরের মধ্যে এ সমস্ত আলোচনা করছিলেন, তখন যীশু স্বয়ং উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে পথ চলতে লাগলেন;
LUK 24:16 কিন্তু দৃষ্টি রুদ্ধ থাকায় তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন না।
LUK 24:17 তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “পথ চলতে চলতে তোমরা পরস্পর কী আলোচনা করছিলে?” তাঁরা বিষণ্ণ মুখে থমকে দাঁড়ালেন।
LUK 24:18 তাঁদের মধ্যে যাঁর নাম ক্লিয়োপা তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি জেরুশালেমে একমাত্র প্রবাসী যে, এই কয় দিনে সেখানে যা ঘটেছে তার কিছুই আপনি জানেন না?”
LUK 24:19 তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কী সব ঘটেছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “নাসরতের যীশু সম্পর্কিত ঘটনা। তিনি ছিলেন একজন ভাববাদী, ঈশ্বর ও সব মানুষের সাক্ষাতে বাক্যে ও কাজে এক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
LUK 24:20 প্রধান যাজকেরা ও আমাদের সমাজভবনের অধ্যক্ষরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশে সমর্পিত করল এবং তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল।
LUK 24:21 কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করতে চলেছেন। আর তিন দিন হল এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে।
LUK 24:22 এছাড়াও, আমাদের কয়েকজন মহিলা আমাদের হতবাক করে দিয়েছেন। তাঁরা আজ খুব ভোরবেলা সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন,
LUK 24:23 কিন্তু তাঁর দেহের সন্ধান পাননি। তাঁরা এসে আমাদের বললেন যে, তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন লাভ করেছেন। তাঁরা আরও বললেন যে, যীশু জীবিত আছেন।
LUK 24:24 তারপর আমাদের কয়েকজন সঙ্গী সমাধিস্থলে গিয়ে মহিলারা যেমন বলেছিলেন, ঠিক সেইমতো দেখলেন, কিন্তু তাঁকে তাঁরা দেখতে পাননি।”
LUK 24:25 যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা কত অবোধ! আর ভাববাদীরা যেসব কথা বলে গেছেন, সেগুলি বিশ্বাস করতে তোমাদের মন কেমন শিথিল!
LUK 24:26 এই প্রকার দুঃখ বরণ করার পরই কি খ্রীষ্ট স্বমহিমায় প্রবেশ করতেন না?”
LUK 24:27 এরপর মোশি ও সমস্ত ভাববাদী গ্রন্থ থেকে শুরু করে সমগ্র শাস্ত্রে তাঁর সম্পর্কে যা লেখা আছে, সে সমস্তই তিনি তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করলেন।
LUK 24:28 যে গ্রামে তারা যাচ্ছিলেন, সেখানে উপস্থিত হলে যীশু আরও দূরে এগিয়ে যাওয়ার ভাব দেখালেন।
LUK 24:29 কিন্তু তাঁরা তাঁকে সাধাসাধি করে বললেন, “সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, দিনও প্রায় শেষ হয়ে এল, আপনি আমাদের সঙ্গে থাকুন।” তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকার জন্য ভিতরে গেলেন।
LUK 24:30 তাঁদের সঙ্গে আহারে বসে তিনি রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন এবং তা ভেঙে তাঁদের হাতে দিলেন।
LUK 24:31 সেই মুহূর্তে তাঁদের চোখ খুলে গেল, আর তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন। কিন্তু যীশু তাঁদের চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
LUK 24:32 তাঁরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের সঙ্গে পথ চলতে চলতে তিনি যখন আমাদের কাছে শাস্ত্রের ব্যাখ্যা করছিলেন, তখন কি আমাদের অন্তরে এক আবেগের উত্তাপ অনুভব হচ্ছিল না?”
LUK 24:33 সেই মুহূর্তে তাঁরা উঠে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন। সেখানে সেই এগারোজন এবং তাঁদের সঙ্গীদের তাঁরা দেখতে পেলেন।
LUK 24:34 তাঁরা এক স্থানে মিলিত হয়ে বলাবলি করছিলেন, “সত্যিই, প্রভু পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং শিমোনকে দর্শন দিয়েছেন।”
LUK 24:35 তখন সেই দুজন, পথে কী ঘটেছিল এবং যীশু রুটি ভেঙে দেওয়ার পর তাঁরা কেমনভাবে তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন, সেইসব কথা জানালেন।
LUK 24:36 তাঁরা তখনও এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, সেই সময় যীশু তাঁদের মধ্যে এসে দাঁড়ালেন এবং তাঁদের বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।”
LUK 24:37 কোনও ভূত দেখছেন ভেবে তাঁরা ভয়ভীত হলেন ও বিহ্বল হয়ে পড়লেন।
LUK 24:38 তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হচ্ছো কেন? তোমাদের মনে সংশয়ই বা জাগছে কেন?
LUK 24:39 আমার হাত ও পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখো! এ স্বয়ং আমি! আমাকে স্পর্শ করো, দেখো! ভূতের এরকম হাড় মাংস নেই; তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আমার তা আছে।”
LUK 24:40 এই কথা বলার পর তিনি তাঁর দু-হাত ও পা তাঁদের দেখালেন।
LUK 24:41 আনন্দে ও বিস্ময়ে তাঁরা তখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না দেখে, যীশু তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে?”
LUK 24:42 তাঁরা তাঁকে আগুনে ঝলসানো এক টুকরো মাছ দিলেন।
LUK 24:43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনেই আহার করলেন।
LUK 24:44 তিনি তাঁদের বললেন, “তোমাদের সঙ্গে থাকার সময়েই আমি এই কথা বলেছিলাম, মোশির বিধানে, ভাববাদীদের গ্রন্থে ও গীতসংহিতায় আমার সম্পর্কে যা লেখা আছে, তার সবকিছুই পূর্ণ হবে।”
LUK 24:45 তারপর তিনি তাঁদের মনের দ্বার খুলে দিলেন, যেন তাঁরা শাস্ত্র বুঝতে পারেন।
LUK 24:46 তিনি তাঁদের বললেন, “একথা লেখা আছে, খ্রীষ্ট কষ্টভোগ করবেন ও তৃতীয় দিনে মৃতলোক থেকে পুনরুত্থিত হবেন
LUK 24:47 এবং জেরুশালেম থেকে শুরু করে সমস্ত জাতির কাছে তাঁরই নামে মন পরিবর্তন ও পাপক্ষমার কথা প্রচার করা হবে।
LUK 24:48 আর তোমরাই এ সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী।
LUK 24:49 আর দেখো, পিতার প্রতিশ্রুত দান আমি তোমাদের জন্য পাঠিয়ে দিতে যাচ্ছি; কিন্তু ঊর্ধ্বলোক থেকে আগত শক্তি লাভ না করা পর্যন্ত তোমরা এই নগরেই অবস্থান করো।”
LUK 24:50 তারপর তিনি তাঁদের বেথানির কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে, তাঁদের দিকে হাত তুলে আশীর্বাদ করলেন।
LUK 24:51 আশীর্বাদরত অবস্থাতেই তিনি তাঁদের ছেড়ে গেলেন ও স্বর্গে নীত হলেন।
LUK 24:52 তাঁরা তখন তাঁকে প্রণাম জানিয়ে মহা আনন্দে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন
LUK 24:53 এবং মন্দিরে নিরন্তর ঈশ্বরের বন্দনা করতে থাকলেন।
JOH 1:1 আদিতে বাক্য ছিলেন, সেই বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন এবং বাক্যই ঈশ্বর ছিলেন।
JOH 1:2 আদিতে তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন।
JOH 1:3 তাঁর মাধ্যমে সবকিছু সৃষ্ট হয়েছিল; সৃষ্ট কোনো বস্তুই তিনি ব্যতিরেকে সৃষ্ট হয়নি।
JOH 1:4 তাঁর মধ্যে জীবন ছিল। সেই জীবন ছিল মানবজাতির জ্যোতি।
JOH 1:5 সেই জ্যোতি অন্ধকারে আলো বিকিরণ করে, কিন্তু অন্ধকার তা উপলব্ধি করতে পারেনি।
JOH 1:6 ঈশ্বর থেকে প্রেরিত এক ব্যক্তির আবির্ভাব হল, তাঁর নাম যোহন।
JOH 1:7 সেই জ্যোতির সাক্ষ্য দিতেই সাক্ষীরূপে তাঁর আগমন ঘটেছিল, যেন তাঁর মাধ্যমে মানুষ বিশ্বাস করে।
JOH 1:8 তিনি স্বয়ং সেই জ্যোতি ছিলেন না, কিন্তু সেই জ্যোতির সাক্ষ্য দিতেই তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল।
JOH 1:9 সেই প্রকৃত জ্যোতি, যিনি প্রত্যেক মানুষকে আলো দান করেন, জগতে তাঁর আবির্ভাব হচ্ছিল।
JOH 1:10 তিনি জগতে ছিলেন, জগৎ তাঁর দ্বারা সৃষ্ট হলেও জগৎ তাঁকে চিনল না।
JOH 1:11 তিনি তাঁর আপনজনদের মধ্যে এলেন, কিন্তু যারা তাঁর আপন, তারা তাঁকে গ্রহণ করল না।
JOH 1:12 তবু যতজন তাঁকে গ্রহণ করল, যারা তাঁর নামে বিশ্বাস করল, তাদের তিনি ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার অধিকার দিলেন।
JOH 1:13 তারা স্বাভাবিকভাবে জাত নয়, মানবিক ইচ্ছা বা পুরুষের ইচ্ছায় নয়, কিন্তু ঈশ্বর থেকে জাত।
JOH 1:14 সেই বাক্য দেহ ধারণ করলেন এবং আমাদেরই মধ্যে বসবাস করলেন। আমরা তাঁর মহিমা দেখেছি, ঠিক যেমন পিতার নিকট থেকে আগত এক ও অদ্বিতীয় পুত্রের মহিমা। তিনি অনুগ্রহ ও সত্যে পূর্ণ।
JOH 1:15 যোহন তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন। তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, “ইনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে আমি বলেছিলাম, ‘আমার পরে যিনি আসছেন তিনি আমার অগ্রগণ্য, কারণ আমার আগে থেকেই তিনি বিদ্যমান।’ ”
JOH 1:16 তাঁর অনুগ্রহের পূর্ণতা থেকে আমরা সকলেই একের পর এক আশীর্বাদ লাভ করেছি।
JOH 1:17 মোশির মাধ্যমে বিধান দেওয়া হয়েছিল; যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে অনুগ্রহ ও সত্য উপস্থিত হয়েছে।
JOH 1:18 ঈশ্বরকে কেউ কোনোদিন দেখেনি; কিন্তু এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর, যিনি পিতার পাশে বিরাজ করেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন।
JOH 1:19 জেরুশালেমে ইহুদিরা যখন কয়েকজন যাজক ও লেবীয়কে পাঠিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চাইল, তখন যোহন এভাবে সাক্ষ্য দিলেন।
JOH 1:20 তিনি স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করলেন না বরং মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করলেন, “আমি সেই খ্রীষ্ট নই।”
JOH 1:21 তারা তাঁকে প্রশ্ন করল, “তাহলে আপনি কে? আপনি কি এলিয়?” তিনি বললেন, “না, আমি নই।” “আপনি কি সেই ভাববাদী?” তিনি বললেন, “না।”
JOH 1:22 শেষে তারা বলল, “তাহলে, কে আপনি? আমাদের বলুন। যারা আমাদের পাঠিয়েছেন, তাদের কাছে উত্তর নিয়ে যেতে হবে। নিজের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?”
JOH 1:23 ভাববাদী যিশাইয়ের ভাষায় যোহন উত্তর দিলেন, “আমি মরুপ্রান্তরে এক কণ্ঠস্বর যা আহ্বান করছে, ‘তোমরা প্রভুর জন্য রাজপথগুলি সরল করো।’ ”
JOH 1:24 তখন ফরিশীদের প্রেরিত কয়েকজন লোক
JOH 1:25 তাঁকে প্রশ্ন করল, “আপনি যদি খ্রীষ্ট, এলিয়, বা সেই ভাববাদী না হন, তাহলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছেন কেন?”
JOH 1:26 যোহন উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের জলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু তোমাদেরই মধ্যে এমন একজন দাঁড়িয়ে আছেন, যাঁকে তোমরা জানো না।
JOH 1:27 তিনি আমার পরে আসছেন। তাঁর চটিজুতোর বাঁধন খোলারও যোগ্যতা আমার নেই।”
JOH 1:28 এই সমস্ত ঘটল জর্ডন নদীর অপর পারে বেথানিতে, যেখানে যোহন লোকেদের বাপ্তিষ্ম দিচ্ছিলেন।
JOH 1:29 পরের দিন যোহন যীশুকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখে বললেন, “ওই দেখো ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের সমস্ত পাপ দূর করেন।
JOH 1:30 ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর সম্পর্কে আমি বলেছিলাম ‘আমার পরে যিনি আসছেন তিনি আমার চেয়েও মহান, কারণ আমার আগে থেকেই তিনি বিদ্যমান আছেন।’
JOH 1:31 আমি নিজে তাঁকে জানতাম না, কিন্তু তিনি যেন ইস্রায়েলের কাছে প্রকাশিত হন সেজন্যই আমি জলে বাপ্তিষ্ম দিতে এসেছি।”
JOH 1:32 তারপর যোহন এই সাক্ষ্য দিলেন: “আমি পবিত্র আত্মাকে কপোতের মতো স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম, তিনি তাঁর উপরে অধিষ্ঠান করলেন।
JOH 1:33 আমি তাঁকে চিনতাম না কিন্তু যিনি আমাকে জলে বাপ্তিষ্ম দিতে পাঠিয়েছেন তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মাকে যাঁর উপরে নেমে এসে অধিষ্ঠান করতে দেখবে তিনিই পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্ম দেবেন।’
JOH 1:34 আমি দেখেছি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইনিই ঈশ্বরের পুত্র।”
JOH 1:35 পরের দিন যোহন তাঁর দুজন শিষ্যের সঙ্গে আবার সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
JOH 1:36 সেখান দিয়ে যীশুকে যেতে দেখে তিনি বললেন, “ওই দেখো ঈশ্বরের মেষশাবক।”
JOH 1:37 তাঁর একথা শুনে শিষ্য দুজন যীশুকে অনুসরণ করলেন।
JOH 1:38 তাঁদের অনুসরণ করতে দেখে যীশু ঘুরে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী চাও?” তাঁরা বললেন, “রব্বি, (এর অর্থ, গুরুমহাশয়) আপনি কোথায় থাকেন?”
JOH 1:39 “এসো,” তিনি উত্তর দিলেন, “আর তোমরা দেখতে পাবে।” অতএব, তাঁরা গিয়ে দেখলেন তিনি কোথায় থাকেন এবং তাঁরা সেদিন তাঁর সঙ্গেই থাকলেন। তখন সময় ছিল বেলা প্রায় চারটা।
JOH 1:40 যোহনের কথা শুনে যে দুজন যীশুকে অনুসরণ করেছিলেন, শিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয় ছিলেন তাদের অন্যতম।
JOH 1:41 আন্দ্রিয় প্রথমে তাঁর ভাই শিমোনের খোঁজ করলেন এবং তাঁকে বললেন, “আমরা মশীহের (অর্থাৎ খ্রীষ্টের) সন্ধান পেয়েছি।”
JOH 1:42 তিনি তাঁকে যীশুর কাছে নিয়ে এলেন। যীশু তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি যোহনের পুত্র শিমোন। তোমাকে কৈফা বলে ডাকা হবে।” (যার অনূদিত অর্থ, পিতর)।
JOH 1:43 পরের দিন যীশু গালীলের উদ্দেশে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফিলিপকে দেখতে পেয়ে তিনি বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।”
JOH 1:44 আন্দ্রিয় ও পিতরের মতো ফিলিপও ছিলেন বেথসৈদা নগরের অধিবাসী।
JOH 1:45 ফিলিপ নথনেলকে দেখতে পেয়ে বললেন, “মোশি তার বিধানপুস্তকে ও ভাববাদীরাও যাঁর বিষয়ে লিখেছেন, আমরা তাঁর সন্ধান পেয়েছি। তিনি নাসরতের যীশু, যোষেফের পুত্র।”
JOH 1:46 নথনেল জিজ্ঞাসা করলেন, “নাসরৎ থেকে কি ভালো কিছু আসতে পারে?” ফিলিপ বললেন, “এসে দেখে যাও।”
JOH 1:47 যীশু নথনেলকে আসতে দেখে তাঁর সম্পর্কে বললেন, “ওই দেখো একজন প্রকৃত ইস্রায়েলী, যার মধ্যে কোনও ছলনা নেই।”
JOH 1:48 নথনেল জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কী করে আমাকে চিনলেন।” যীশু বললেন, “ফিলিপ তোমাকে ডাকার আগে তুমি যখন ডুমুর গাছের নিচে ছিলে, তখনই আমি তোমাকে দেখেছিলাম।”
JOH 1:49 তখন নথনেল বললেন, “রব্বি, আপনিই ঈশ্বরের পুত্র, আপনিই ইস্রায়েলের রাজা।”
JOH 1:50 যীশু বললেন, “তোমাকে ডুমুর গাছের তলায় দেখেছি একথা বলার জন্য কি তুমি বিশ্বাস করলে! তুমি এর চেয়েও অনেক মহৎ বিষয় দেখতে পাবে।”
JOH 1:51 তিনি আরও বললেন, “আমি তোমাকে সত্যি বলছি, তুমি দেখবে স্বর্গলোক উন্মুক্ত হয়েছে, আর ঈশ্বরের দূতেরা মনুষ্যপুত্রের উপর ওঠানামা করছেন।”
JOH 2:1 তৃতীয় দিনে গালীলের কানা নগরে এক বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল। যীশুর মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
JOH 2:2 যীশু এবং তাঁর শিষ্যেরাও সেই বিবাহ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন।
JOH 2:3 দ্রাক্ষারস শেয হয়ে গেলে, যীশুর মা তাঁকে বললেন, “ওদের দ্রাক্ষারস আর নেই।”
JOH 2:4 যীশু বললেন, “নারী! কেন তুমি এর সঙ্গে আমাকে জড়াচ্ছ? এখনও আমার সময় উপস্থিত হয়নি।”
JOH 2:5 তাঁর মা পরিচারকদের বললেন, “উনি যা বলেন, তোমরা সেইমতো করো।”
JOH 2:6 কাছেই জল রাখার জন্য ছয়টি পাথরের জালা ছিল। ইহুদিদের শুচিকরণ রীতি অনুযায়ী সেগুলিতে জল রাখা হত। প্রতিটি জালায় কুড়ি থেকে তিরিশ গ্যালন জল ধরত।
JOH 2:7 যীশু দাসদের বললেন, “জালাগুলি জলে পূর্ণ করো।” তারা কানায় কানায় সেগুলি ভর্তি করল।
JOH 2:8 তখন তিনি তাদের বললেন, “এবার এখান থেকে কিছুটা তুলে ভোজের কর্তার কাছে নিয়ে যাও।” তারা তাই করল।
JOH 2:9 ভোজের কর্তা দ্রাক্ষারসে রূপান্তরিত জলের স্বাদ গ্রহণ করলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন না কোথা থেকে এই দ্রাক্ষারস এল। সেকথা দাসেরা জানত। তখন তিনি বরকে এক পাশে ডেকে বললেন,
JOH 2:10 “সবাই প্রথমে উৎকৃষ্ট দ্রাক্ষারসই পরিবেশন করে। অতিথিরা যথেষ্ট পান করার পর কমদামি দ্রাক্ষারস পরিবেশন করা হয়। কিন্তু তুমি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো জিনিসই বাঁচিয়ে রেখেছ!”
JOH 2:11 এ ছিল গালীলের কানা নগরে করা যীশুর প্রথম চিহ্নকাজ। এইভাবে তিনি তাঁর মহিমা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর শিষ্যেরা তাঁর উপর বিশ্বাস করলেন।
JOH 2:12 এরপর তিনি তাঁর মা, ভাইদের ও শিষ্যদের নিয়ে কফরনাহূমে গেলেন। তাঁরা সেখানে কিছুদিন থাকলেন।
JOH 2:13 ইহুদিদের নিস্তারপর্ব প্রায় এসে গেলে যীশু জেরুশালেমে গেলেন।
JOH 2:14 তিনি দেখলেন মন্দির-প্রাঙ্গণে লোকেরা গবাদি পশু, মেষ ও পায়রা বিক্রি করছে আর অন্যেরা টেবিল সাজিয়ে মুদ্রা বিনিময় করছে।
JOH 2:15 তিনি দড়ি দিয়ে একটি চাবুক তৈরি করে গবাদি পশু ও মেষপালসহ সবাইকে মন্দির চত্বর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। তিনি মুদ্রা-বিনিময়কারীদের মুদ্রা ছড়িয়ে দিয়ে তাদের টেবিল উল্টে দিলেন।
JOH 2:16 যারা পায়রা বিক্রি করছিল তাদের তিনি বললেন, “এখান থেকে এসব বের করে নিয়ে যাও! আমার পিতার গৃহকে ব্যবসার গৃহে পরিণত কোরো না!”
JOH 2:17 তাঁর শিষ্যদের মনে পড়ল, শাস্ত্রে লেখা আছে, “তোমার গৃহের জন্য আবেগ আমাকে গ্রাস করবে।”
JOH 2:18 ইহুদিরা তখন তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করল, “এই সমস্ত কাজ করার অধিকার যে তোমার আছে, তার প্রমাণস্বরূপ তুমি আমাদের কোন চিহ্ন দেখাতে পারো?”
JOH 2:19 প্রত্যুত্তরে তিনি তাদের বললেন, “তোমরা এই মন্দির ধ্বংস করে ফেলো, আমি তিনদিনে আবার এটি গড়ে তুলব।”
JOH 2:20 ইহুদিরা বলল, “এই মন্দির নির্মাণ করতে ছেচল্লিশ বছর লেগেছে, আর তুমি কি না সেটি তিনদিনে গড়ে তুলবে?”
JOH 2:21 কিন্তু যীশু মন্দির বলতে নিজের দেহের কথা বলেছিলেন।
JOH 2:22 তিনি মৃতলোক থেকে পুনরুত্থিত হওয়ার পর তাঁর শিষ্যদের মনে পড়েছিল, তিনি কী বলেছিলেন। তখন তাঁরা শাস্ত্র ও যীশুর কথিত বাক্যে বিশ্বাস করলেন।
JOH 2:23 নিস্তারপর্বের উৎসবের সময় জেরুশালেমে থাকাকালীন তিনি যে সমস্ত চিহ্নকাজ করছিলেন, তা দেখে তারা তাঁর নামে বিশ্বাস করল।
JOH 2:24 কিন্তু যীশু নিজে তাদের বিশ্বাস করতেন না, কারণ তিনি সব মানুষকেই জানতেন।
JOH 2:25 মানুষের সম্পর্কে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রয়োজন তাঁর ছিল না, কারণ মানুষের অন্তরে কী আছে তা তিনি জানতেন।
JOH 3:1 নীকদীম নামে ফরিশী সম্প্রদায়ভুক্ত এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ইহুদি মহাসভার এক সদস্য।
JOH 3:2 তিনি রাত্রিবেলা যীশুর কাছে এসে বললেন, “রব্বি, আমরা জানি আপনি ঈশ্বরের কাছ থেকে আগত একজন শিক্ষাগুরু কারণ ঈশ্বরের সহায়তা ব্যতীত কোনো মানুষ আপনার মতো চিহ্নকাজ সম্পাদন করতে পারে না।”
JOH 3:3 উত্তরে যীশু তাঁকে বললেন, “আমি তোমাকে সত্যি বলছি, নতুন জন্ম লাভ না করলে কেউ ঈশ্বরের রাজ্যের দর্শন পায় না।”
JOH 3:4 নীকদীম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “বয়স্ক মানুষ কীভাবে জন্মগ্রহণ করতে পারে? জন্মগ্রহণের জন্য সে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার তার মাতৃগর্ভে প্রবেশ করতে পারে না!”
JOH 3:5 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, জল ও পবিত্র আত্মা থেকে জন্মগ্রহণ না করলে কেউ ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না।
JOH 3:6 মাংস থেকে মাংসই জন্ম নেয়, আর আত্মা থেকে আত্মাই জন্ম নেয়।
JOH 3:7 ‘তোমাদের অবশ্যই নতুন জন্ম লাভ করতে হবে,’ আমার একথায় তুমি বিস্মিত হোয়ো না।
JOH 3:8 বাতাস আপন খেয়ালে যেদিকে খুশি বয়ে চলে। তোমরা তার শব্দ শুনতে পাও, কিন্তু তার উৎস কোথায়, কোথায়ই বা সে যায়, তা তোমরা বলতে পারো না। পবিত্র আত্মা থেকে জাত প্রত্যেক ব্যক্তিও সেরূপ।”
JOH 3:9 নীকদীম জিজ্ঞাসা করলেন, “কীভাবে তা সম্ভব?”
JOH 3:10 যীশু বললেন, “তুমি ইস্রায়েলের শিক্ষাগুরু, আর এই সমস্ত তুমি উপলব্ধি করতে পারছ না?
JOH 3:11 আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আমরা যা জানি, তার কথাই বলি; আর যা দেখেছি, তারই সাক্ষ্য দিই। তা সত্ত্বেও তোমরা আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না।
JOH 3:12 আমি তোমাদের পার্থিব বিষয়ের কথা বললেও তোমরা তা বিশ্বাস করোনি, তাহলে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কিছু বললে, তোমরা কী করে বিশ্বাস করবে?
JOH 3:13 স্বর্গলোক থেকে আগত সেই একজন, অর্থাৎ, মনুষ্যপুত্র ব্যতীত আর কেউ কখনও স্বর্গে প্রবেশ করেননি।
JOH 3:14 মরুপ্রান্তরে মোশি যেমন সেই সাপকে উঁচুতে স্থাপন করেছিলেন, মনুষ্যপুত্রকেও তেমনই উন্নত হতে হবে,
JOH 3:15 যেন যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তারা প্রত্যেকেই অনন্ত জীবন পায়।
JOH 3:16 “কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করলেন যে, তিনি তাঁর একজাত পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।
JOH 3:17 কারণ জগতের বিচার করতে ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে জগতে পাঠাননি, কিন্তু তাঁর মাধ্যমে জগৎকে উদ্ধার করতেই পাঠিয়েছিলেন।
JOH 3:18 যে ব্যক্তি তাঁকে বিশ্বাস করে না, তার বিচার ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, কারণ ঈশ্বরের একজাত পুত্রের নামে সে বিশ্বাস করেনি।
JOH 3:19 এই হল দণ্ডাদেশ: জগতে জ্যোতির আগমন হয়েছে, কিন্তু মানুষ জ্যোতির পরিবর্তে অন্ধকারকে ভালোবাসলো কারণ তাদের সব কাজ ছিল মন্দ।
JOH 3:20 যে দুষ্কর্ম করে, সে জ্যোতিকে ঘৃণা করে ও জ্যোতির সান্নিধ্যে আসতে ভয় পায়, পাছে তার দুষ্কর্মগুলি প্রকাশ হয়ে পড়ে।
JOH 3:21 কিন্তু যে সত্যে জীবনযাপন করে সে জ্যোতির সান্নিধ্যে আসে, যেন তার সমস্ত কাজই ঈশ্বরে সাধিত বলে প্রকাশ পায়।”
JOH 3:22 এরপর যীশু শিষ্যদের সঙ্গে যিহূদিয়ার গ্রামাঞ্চলে গেলেন। সেখানে তিনি শিষ্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটালেন ও বাপ্তিষ্ম দিলেন।
JOH 3:23 শালীমের নিকটবর্তী ঐনোনে যোহন বাপ্তিষ্ম দিচ্ছিলেন, কারণ সেখানে প্রচুর পরিমাণে জল ছিল এবং লোকেরা অনবরত এসে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করছিল।
JOH 3:24 (যোহন কারাগারে বন্দি হওয়ার আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।)
JOH 3:25 তখন আনুষ্ঠানিক শুদ্ধকরণ নিয়ে যোহনের কয়েকজন শিষ্য ও কয়েকজন ইহুদির মধ্যে বিতর্ক দেখা দিল।
JOH 3:26 তারা যোহনের কাছে এসে বলল, “রব্বি, জর্ডনের অপর পারে, যিনি আপনার সঙ্গে ছিলেন—যাঁর বিষয়ে আপনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন—তিনি বাপ্তিষ্ম দিচ্ছেন, আর সকলেই তাঁর কাছে যাচ্ছে।”
JOH 3:27 উত্তরে যোহন বললেন, “ঊর্ধ্বলোক থেকে যা দেওয়া হয়েছে একজন মানুষ কেবল তাই গ্রহণ করতে পারে।
JOH 3:28 তোমরা নিজেরাই সাক্ষ্য দিতে পারো যে, আমি বলেছিলাম, ‘আমি সেই খ্রীষ্ট নই, কিন্তু আমি তাঁর আগে প্রেরিত হয়েছি।’
JOH 3:29 যে বধূকে পেয়েছে সেই তো বর। যে বন্ধু বরের সঙ্গে থাকে, সে তার কথা শোনার প্রতীক্ষায় থাকে ও বরের কণ্ঠস্বর শুনে আনন্দে পূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আনন্দই আমার, তা এখন পূর্ণ হয়েছে।
JOH 3:30 তাঁকে অবশ্যই বৃদ্ধি পেতে হবে, আর আমাকে ক্ষুদ্র হতে হবে।
JOH 3:31 “ঊর্ধ্বলোক থেকে যাঁর আগমন তিনি সবার উপরে। যিনি মর্ত্য থেকে আসেন তিনি মর্ত্যেরই, আর তিনি মর্ত্যের কথাই বলেন। স্বর্গলোক থেকে যাঁর আগমন তিনি সবার ঊর্ধ্বে।
JOH 3:32 তিনি যা দেখেছেন ও শুনেছেন তারই সাক্ষ্য দেন, কিন্তু তাঁর সাক্ষ্য কেউ গ্রহণ করে না।
JOH 3:33 যে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে সে বিবৃতি দিয়েছে যে ঈশ্বর সত্য।
JOH 3:34 ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন তিনি ঈশ্বরের বাক্য প্রকাশ করেন, কারণ ঈশ্বর সীমা ছাড়িয়ে পবিত্র আত্মা দান করেন।
JOH 3:35 পিতা পুত্রকে প্রেম করেন এবং সবকিছু তাঁরই হাতে সমর্পণ করেছেন।
JOH 3:36 পুত্রকে যে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে; কিন্তু পুত্রকে যে অমান্য করে, সে জীবন দেখতে পাবে না, কারণ ঈশ্বরের ত্রুোধ তার উপর নেমে আসে।”
JOH 4:1 যীশু জানতে পারলেন যে ফরিশীরা শুনেছে, যীশুর শিষ্যসংখ্যা যোহনের চেয়েও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তিনি তাদের বাপ্তিষ্ম দিচ্ছেন—
JOH 4:2 অবশ্য যীশু নিজে বাপ্তিষ্ম দিতেন না, তাঁর শিষ্যেরাই দিতেন।
JOH 4:3 তিনি যিহূদিয়া ত্যাগ করে আর একবার গালীলে ফিরে গেলেন।
JOH 4:4 কিন্তু শমরিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছিল।
JOH 4:5 যেতে যেতে তিনি শমরিয়ার শুখর নামক একটি গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন। যাকোব তাঁর পুত্র যোষেফকে যে জমি দান করেছিলেন, সেই স্থানটি তারই নিকটবর্তী।
JOH 4:6 সেই স্থানে যাকোবের কুয়ো ছিল। পথশ্রান্ত যীশু কুয়োর পাশে বসলেন। তখন প্রায় দুপুরবেলা।
JOH 4:7 এক শমরীয় নারী জল তুলতে এলে, যীশু তাকে বললেন, “আমাকে একটু জল খেতে করতে দেবে?”
JOH 4:8 (তাঁর শিষ্যেরা তখন খাবার কিনতে নগরে গিয়েছিলেন।)
JOH 4:9 শমরীয় নারী তাঁকে বলল, “আপনি একজন ইহুদি, আর আমি এক শমরীয় নারী। আপনি কী করে আমার কাছে খাওয়ার জন্য জল চাইছেন?” (কারণ ইহুদিদের সঙ্গে শমরীয়দের সামাজিক সম্পর্ক ছিল না।)
JOH 4:10 উত্তরে যীশু তাকে বললেন, “তুমি যদি ঈশ্বরের দানের কথা জানতে, আর জানতে, কে তোমার কাছে খাওয়ার জন্য জল চাইছেন, তাহলে তুমিই তাঁর কাছে চাইতে আর তিনি তোমাকে জীবন্ত জল দিতেন।”
JOH 4:11 সেই নারী তাঁকে বলল, “মহাশয়, আপনার কাছে জল তোলার কোনো পাত্র নেই, কুয়োটিও গভীর। এই জীবন্ত জল আপনি কোথায় পাবেন?
JOH 4:12 আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়েও কি আপনি মহান? তিনি আমাদের এই কুয়ো দান করেছিলেন। তিনি নিজেও এর থেকে জল খেতেন, আর তার পুত্রেরা ও তার পশুপাল এই জলই খেতো।”
JOH 4:13 যীশু উত্তর দিলেন, “যে এই জল খাবে, সে আবার তৃষ্ণার্ত হবে,
JOH 4:14 কিন্তু আমি যে জল দান করি, তা যে খাবে, সে কোনোদিনই তৃষ্ণার্ত হবে না। প্রকৃতপক্ষে, আমার দেওয়া জল তার অন্তরে এক জলের উৎসে পরিণত হবে, যা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলে উঠবে।”
JOH 4:15 সেই নারী তাঁকে বলল, “মহাশয়, আমাকে সেই জল দিন, যেন আমার পিপাসা না পায় এবং জল তোলার জন্য আমাকে এখানে আর আসতে না হয়।”
JOH 4:16 তিনি তাকে বললেন, “যাও, তোমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে এসো।”
JOH 4:17 সে উত্তর দিল, “আমার স্বামী নেই।” যীশু তাকে বললেন, “তুমি ঠিকই বলেছ যে, তোমার স্বামী নেই।
JOH 4:18 প্রকৃত সত্য হল, তোমার পাঁচজন স্বামী ছিল আর এখন যে পুরুষটি তোমার সঙ্গে আছে, সে তোমার স্বামী নয়। তুমি যা বলেছ তা সম্পূর্ণ সত্য।”
JOH 4:19 সেই নারী বলল, “মহাশয়, আমি দেখছি, আপনি একজন ভাববাদী।
JOH 4:20 আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই পর্বতে উপাসনা করতেন, কিন্তু আপনারা, যাঁরা ইহুদি, দাবি করেন যে, জেরুশালেমেই আমাদের উপাসনা করতে হবে।”
JOH 4:21 যীশু তাকে বললেন, “নারী, আমার কথায় বিশ্বাস করো, এমন সময় আসছে যখন তোমরা এই পর্বতে অথবা জেরুশালেমে পিতার উপাসনা করবে না।
JOH 4:22 তোমরা শমরীয়েরা জানো না, তোমরা কী উপাসনা করছ; আমরা জানি, আমরা কী উপাসনা করি, কারণ ইহুদিদের মধ্য থেকেই পরিত্রাণ উপলব্ধ হবে।
JOH 4:23 কিন্তু এখন সময় আসছে বরং এসে পড়েছে, যখন প্রকৃত উপাসকেরা আত্মায় ও সত্যে পিতার উপাসনা করবে, কারণ পিতা এরকম উপাসকদেরই খোঁজ করেন।
JOH 4:24 ঈশ্বর আত্মা, তাই যারা তাঁর উপাসনা করে, তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে।”
JOH 4:25 তখন সেই নারী তাঁকে বলল, “আমি জানি মশীহ” (যাঁকে খ্রীষ্ট বলা হয়), “আসছেন। তিনি এসে আমাদের কাছে সবকিছু ব্যাখ্যা করবেন।”
JOH 4:26 যীশু তাকে বললেন, “তোমার সঙ্গে কথা বলছি যে আমি, আমিই সেই খ্রীষ্ট।”
JOH 4:27 ঠিক এসময় শিষ্যেরা ফিরে এসে যীশুকে এক নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে বিস্মিত হলেন। কিন্তু একথা কেউ জিজ্ঞাসা করলেন না, “আপনি কী চাইছেন?” বা “আপনি ওর সঙ্গে কেন কথা বলছেন?”
JOH 4:28 তখন জলের পাত্র ফেলে রেখে সেই নারী নগরে ফিরে গিয়ে লোকদের বলল,
JOH 4:29 “একজন মানুষকে দেখবে এসো। আমি এতদিন যা করেছি, তিনি সবকিছু বলে দিয়েছেন। তিনিই কি সেই খ্রীষ্ট নন?”
JOH 4:30 নগর থেকে বেরিয়ে তারা যীশুর কাছে আসতে লাগল।
JOH 4:31 এই অবসরে তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে মিনতি করলেন, “রব্বি, কিছু খেয়ে নিন।”
JOH 4:32 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, “আমার এমন খাবার আছে, যার কথা তোমরা কিছুই জানো না।”
JOH 4:33 তাঁর শিষ্যেরা তখন পরস্পর বলাবলি করলেন, “কেউ কি তাঁকে কিছু খাবার এনে দিয়েছে?”
JOH 4:34 যীশু বললেন, “যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পালন করা ও তাঁর কাজ শেষ করাই আমার খাবার।
JOH 4:35 তোমরা কি বলো না, ‘আর চার মাস পরেই ফসল কাটার সময় আসবে?’ আমি তোমাদের বলছি, তোমরা চোখ মেলে মাঠের দিকে তাকিয়ে দেখো। ফসল কাটার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।
JOH 4:36 এমনকি, যে ফসল কাটছে, সে এখনই তার পারিশ্রমিক পাচ্ছে এবং এখনই সে অনন্ত জীবনের ফসল সংগ্রহ করছে, যেন যে কাটছে, আর যে বুনছে—দুজনেই উল্লসিত হতে পারে।
JOH 4:37 তাই ‘একজন বোনে, অপরজন কাটে,’ এই কথাটি সত্য।
JOH 4:38 আমি তোমাদের এমন ফসল সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছি, যার জন্য তোমরা পরিশ্রম করোনি। অন্যেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, আর তোমরা তাদের শ্রমের ফসল সংগ্রহ করেছ।”
JOH 4:39 “আমি এতদিন যা করেছি, তিনি তার সবকিছু বলে দিয়েছেন,” নারীটির এই সাক্ষ্যের ফলে সেই নগরের বহু শমরীয় যীশুকে বিশ্বাস করল।
JOH 4:40 তাই শমরীয়েরা তাঁর কাছে এসে তাদের সঙ্গে থাকার জন্য তাঁকে মিনতি করলে, তিনি সেখানে দু-দিন থাকলেন।
JOH 4:41 তাঁর বাণী শুনে আরও অনেকেই তাঁকে বিশ্বাস করল।
JOH 4:42 তারা সেই নারীকে বলল, “শুধু তোমার কথা শুনে এখন আর আমরা বিশ্বাস করছি না, আমরা এখন নিজেরা শুনেছি এবং আমরা জানি যে, এই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে জগতের উদ্ধারকর্তা।”
JOH 4:43 দু-দিন পরে তিনি গালীলের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।
JOH 4:44 (যীশু স্বয়ং উল্লেখ করেছিলেন যে, ভাববাদী তার নিজের নগরে সম্মানিত হন না।)
JOH 4:45 তিনি গালীলে উপস্থিত হলে গালীলীয়রা তাঁকে স্বাগত জানাল। নিস্তারপর্বের সময় তিনি জেরুশালেমে যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, তারা তা দেখেছিল, কারণ তারাও সেখানে গিয়েছিল।
JOH 4:46 গালীলের যে কানা নগরে তিনি জলকে দ্রাক্ষারসে রূপান্তরিত করেছিলেন, তিনি আর একবার সেখানে গেলেন। সেখানে এক উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী ছিলেন, যাঁর পুত্র কফরনাহূমে অসুস্থ ছিল।
JOH 4:47 তিনি যখন শুনতে পেলেন, যীশু যিহূদিয়া থেকে গালীলে এসেছেন, তিনি যীশুর কাছে গিয়ে অনুনয় করলেন, যেন তিনি এসে তার মৃতপ্রায় পুত্রকে সুস্থ করেন।
JOH 4:48 যীশু তাকে বললেন, “তোমরা চিহ্ন ও বিস্ময়কর কিছু না দেখলে কি কখনোই বিশ্বাস করবে না।”
JOH 4:49 রাজকর্মচারী বললেন, “মহাশয়, আমার ছেলেটির মৃত্যুর পূর্বে আসুন।”
JOH 4:50 যীশু উত্তর দিলেন, “যাও, তোমার ছেলে বেঁচে থাকবে।” সেই ব্যক্তি যীশুর কথা বিশ্বাস করে চলে গেলেন।
JOH 4:51 তিনি তখনও পথে, এমন সময় তার পরিচারকেরা এসে তাকে সংবাদ দিল যে, তার ছেলেটি বেঁচে আছে।
JOH 4:52 “কখন থেকে ছেলেটির অবস্থার উন্নতি ঘটল,” তার এই প্রশ্নের উত্তরে তারা বলল, “গতকাল বেলা একটায় তার জ্বর ছেড়েছে।”
JOH 4:53 বালকটির পিতা তখন বুঝতে পারলেন, ঠিক ওই সময়েই যীশু তাকে বলেছিলেন, “তোমার ছেলে বেঁচে থাকবে।” এর ফলে তিনি ও তার সমস্ত পরিজন বিশ্বাস করলেন।
JOH 4:54 যিহূদিয়া থেকে গালীলে আগমনের পর যীশু এই দ্বিতীয় চিহ্নকাজটি সম্পন্ন করলেন।
JOH 5:1 যীশু কিছুদিন পর ইহুদিদের একটি পর্ব উপলক্ষে জেরুশালেমে গেলেন।
JOH 5:2 সেখানে মেষদ্বারের কাছে একটি সরোবর আছে। অরামীয় ভাষায় একে বলা হয় বেথেসদা। পাঁচটি আচ্ছাদিত ঘাট সরোবরটিকে ঘিরে রেখেছিল।
JOH 5:3 সেখানে বহু প্রতিবন্ধী—অন্ধ, খোঁড়া, পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকেরা শুয়ে থাকত।
JOH 5:4 সময়ে সময়ে প্রভুর এক দূত সেখানে নেমে আসতেন এবং জল কাঁপাতেন। সেই সময় প্রথম যে ব্যক্তি প্রথমে সরোবরের জলে নামত, সে যে কোনো রকমের রোগ থেকে মুক্ত হত।
JOH 5:5 সেখানে আটত্রিশ বছরের এক পঙ্গু ব্যক্তি ছিল।
JOH 5:6 যীশু তাকে সেখানে শুয়ে থাকতে দেখে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তার এরকম অবস্থা জেনে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি সুস্থ হতে চাও?”
JOH 5:7 পঙ্গু লোকটি উত্তর দিল, “মহাশয়, জল কেঁপে ওঠার সময় সরোবরের জলে নামতে আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই। আমি জলে নামার চেষ্টা করতে করতেই অন্য কেউ আমার আগে নেমে পড়ে।”
JOH 5:8 যীশু তখন তাকে বললেন, “ওঠো, তোমার খাট তুলে নিয়ে চলে যাও।”
JOH 5:9 লোকটি সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হয়ে গেল। সে তার খাট তুলে নিয়ে হাঁটতে লাগল। যেদিন এই ঘটনা ঘটে, সেদিন ছিল বিশ্রামদিন।
JOH 5:10 তাই, যে লোকটি রোগ থেকে সুস্থ হয়েছিল, ইহুদিরা তাকে বলল, “আজ বিশ্রামদিন। বিধান অনুসারে আজ শয্যা বয়ে নেওয়া তোমার পক্ষে অনুচিত।”
JOH 5:11 কিন্তু সে উত্তর দিল, “যে ব্যক্তি আমাকে সুস্থ করেছেন, তিনিই আমাকে বললেন, ‘তোমার বিছানা তুলে নিয়ে চলে যাও।’ ”
JOH 5:12 অতএব, তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “যে তোমাকে বিছানা তুলে নিয়ে চলে যেতে বলেছে, সে কে?”
JOH 5:13 যে লোকটি সুস্থ হয়েছিল, যীশুর বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না, কারণ যীশু সেখানে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিশে গিয়েছিলেন।
JOH 5:14 পরে যীশু তাকে মন্দিরে দেখতে পেয়ে বললেন, “দেখো, তুমি এবার সুস্থ হয়ে উঠেছ। আর পাপ কোরো না, না হলে তোমার জীবনে এর থেকেও বেশি অমঙ্গল ঘটতে পারে।”
JOH 5:15 লোকটি ফিরে গিয়ে ইহুদিদের বলল যে, যীশু তাকে সুস্থ করেছেন।
JOH 5:16 যীশু বিশ্রামদিনে এই সমস্ত কাজ করছিলেন বলে ইহুদিরা তাঁকে তাড়না করল এবং হত্যা করারও চেষ্টা করল।
JOH 5:17 যীশু তাদের বললেন, “আমার পিতা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, আর আমিও কাজ করে চলেছি।”
JOH 5:18 এই কারণে ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কারণ তিনি যে শুধু বিশ্রামদিন লঙ্ঘন করছিলেন, তা নয়, তিনি ঈশ্বরকে তাঁর পিতা বলেও সম্বোধন করে নিজেকে ঈশ্বরের সমতুল্য করেছিলেন।
JOH 5:19 যীশু তাদের এই উত্তর দিলেন: “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, পুত্র নিজে থেকে কিছুই করেন না, কিন্তু পিতাকে যা করতে দেখেন, তিনি কেবল তাই করতে পারেন, কারণ পিতা যা করেন, পুত্রও তাই করেন।
JOH 5:20 পিতা পুত্রকে প্রেম করেন এবং তিনি যা করেন, তা পুত্রকে দেখান। হ্যাঁ, তোমরা অবাক বিস্ময়ে দেখবে, তিনি এর চেয়েও মহৎ মহৎ বিষয় তাঁকে দেখাচ্ছেন।
JOH 5:21 পিতা যেমন মৃতদের উত্থাপিত করে জীবন দান করেন, পুত্রও তেমনই যাকে ইচ্ছা তাকে জীবন দান করেন।
JOH 5:22 আর পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার পুত্রের উপর দিয়েছেন,
JOH 5:23 যেন তারা যেমন পিতাকে সম্মান করে, তেমনই সকলে পুত্রকেও সম্মান করে। যে ব্যক্তি পুত্রকে সম্মান করে না, সে সেই পিতাকেও সম্মান করে না, যিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন।
JOH 5:24 “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যে আমার বাক্য শোনে এবং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁকে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে। সে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হবে না, কারণ সে মৃত্যু থেকে জীবনে পার হয়েছে।
JOH 5:25 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সময় আসছে, বরং তা এসে গেছে, যখন মৃতেরা ঈশ্বর পুত্রের রব শুনতে পাবে; আর যারা শুনবে, তারা জীবিত হবে।
JOH 5:26 কারণ পিতার মধ্যে যেমন জীবন আছে, তেমনই তিনি পুত্রকেও তাঁর মধ্যে জীবন রাখার অধিকার দিয়েছেন।
JOH 5:27 পিতা পুত্রকে বিচার করার অধিকার দিয়েছেন, কারণ তিনি মনুষ্যপুত্র।
JOH 5:28 “তোমরা একথায় বিস্মিত হোয়ো না, কারণ এমন এক সময় আসছে, যখন কবরস্থ লোকেরা সকলে তাঁর কণ্ঠস্বর শুনবে এবং
JOH 5:29 যারা সৎকাজ করেছে, তারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য, আর যারা দুষ্কর্ম করেছে, তারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বের হয়ে আসবে।
JOH 5:30 আমি আমার ইচ্ছামতো কিছুই করতে পারি না। আমি যেমন শুনি, কেবল তেমনই বিচার করি। আর আমার বিচার ন্যায্য কারণ আমি নিজের নয়, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁরই ইচ্ছা পালনের চেষ্টা করি।
JOH 5:31 “আমি যদি নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই, তাহলে আমার এই সাক্ষ্য সত্য নয়।
JOH 5:32 আর একজন আছেন, যিনি আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেন। আমি জানি, আমার বিষয়ে তাঁর সাক্ষ্য সত্য।
JOH 5:33 “তোমরা যোহনের কাছে লোক পাঠিয়েছিলে। তিনি সত্যের পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছেন।
JOH 5:34 আমি যে মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করি তা নয়, কিন্তু তোমরা যেন পরিত্রাণ লাভ করতে পারো, সেজন্য এর উল্লেখ করছি।
JOH 5:35 যোহন ছিলেন এক প্রদীপ যিনি জ্যোতি প্রদান করেছিলেন এবং কিছু সময় তোমরা তার জ্যোতি উপভোগ করতে চেয়েছিলে।
JOH 5:36 “সেই যোহনের সাক্ষ্যের চেয়েও এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আমার আছে। পিতা আমাকে যে কাজ সম্পাদন করতে দিয়েছেন এবং যে কাজ সম্পূর্ণ করতে আমি নিয়োজিত, সেই কাজই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, পিতা আমাকে পাঠিয়েছেন।
JOH 5:37 পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি স্বয়ং আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তোমরা কখনও তাঁর স্বর শোনোনি, তাঁর রূপও দেখোনি।
JOH 5:38 তোমাদের মধ্যে তাঁর বাক্য বিরাজ করে না। কারণ তিনি যাঁকে পাঠিয়েছেন, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করো না।
JOH 5:39 তোমরা মনোযোগ সহকারে শাস্ত্র পাঠ করে থাকো, কারণ তোমরা মনে করো যে, তার মাধ্যমেই তোমরা অনন্ত জীবন লাভ করেছ। সেই শাস্ত্র আমারই সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
JOH 5:40 তবু তোমরা জীবন পাওয়ার জন্য আমার কাছে আসতে চাও না।
JOH 5:41 “মানুষের প্রশংসা আমি গ্রহণ করি না।
JOH 5:42 কিন্তু আমি তোমাদের চিনি। আমি জানি, তোমাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রেম নেই।
JOH 5:43 আমি আমার পিতার নামে এসেছি, কিন্তু তোমরা আমাকে গ্রহণ করলে না। অন্য কেউ যদি তার নিজের নামে আসে, তোমরা তাকে গ্রহণ করবে।
JOH 5:44 তোমরা যদি পরস্পরের কাছ থেকে গৌরবলাভের জন্য সচেষ্ট হও অথচ যে গৌরব কেবলমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া যায়, তা পাওয়ার জন্য যদি কোনো প্রয়াস না করো, তাহলে কীভাবে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো?
JOH 5:45 “তোমরা মনে কোরো না যে, পিতার সামনে আমি তোমাদের অভিযুক্ত করব। যার উপর তোমাদের প্রত্যাশা, সেই মোশিই তোমাদের অভিযুক্ত করবেন।
JOH 5:46 তোমরা যদি মোশিকে বিশ্বাস করতে, তাহলে আমাকেও বিশ্বাস করতে, কারণ তিনি আমারই বিষয়ে লিখেছেন।
JOH 5:47 তার লিখিত বাণী তোমরা বিশ্বাস না করলে, আমার মুখের কথা তোমরা কীভাবে বিশ্বাস করবে?”
JOH 6:1 এর কিছুদিন পর, যীশু গালীল সাগরের (অর্থাৎ, টাইবেরিয়াস সাগরের) দূরবর্তী তীরে, লম্বালম্বি ভাবে পার হলেন।
JOH 6:2 অসুস্থদের ক্ষেত্রে তিনি যে চিহ্নকাজ সাধন করেছিলেন, তার পরিচয় পেয়ে অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করল।
JOH 6:3 যীশু তখন শিষ্যদের নিয়ে এক পর্বতে উঠলেন ও তাঁদের নিয়ে সেখানে বসলেন।
JOH 6:4 তখন ইহুদিদের নিস্তারপর্ব উৎসবের সময় এসে গিয়েছিল।
JOH 6:5 যীশু চোখ তুলে অনেক লোককে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ফিলিপকে বললেন, “এসব লোককে খাওয়াবার জন্য আমরা কোথা থেকে রুটি কিনব।”
JOH 6:6 তিনি তাঁকে শুধু পরীক্ষা করার জন্যই একথা জিজ্ঞাসা করলেন, কারণ তিনি যে কি করবেন সে সম্পর্কে ইতিমধ্যেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন।
JOH 6:7 ফিলিপ তাঁকে উত্তর দিলেন, “প্রত্যেকের মুখে কিছু খাবার দেওয়ার জন্য আট মাসের বেতনের বিনিময়ে কেনা রুটিও পর্যাপ্ত হবে না।”
JOH 6:8 তাঁর অপর একজন শিষ্য, শিমোন পিতরের ভাই, আন্দ্রিয়কে বললেন,
JOH 6:9 “এখানে একটি ছেলের কাছে যবের পাঁচটি ছোটো রুটি ও দুটি ছোটো মাছ আছে। কিন্তু এত লোকের মধ্যে ওতে কী হবে?”
JOH 6:10 যীশু বললেন, “লোকদের বসিয়ে দাও।” সেখানে প্রচুর ঘাস ছিল এবং প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ বসে পড়ল।
JOH 6:11 তখন যীশু রুটিগুলি নিয়ে ধন্যবাদ দিলেন এবং যারা বসেছিলেন তাদের মধ্যে চাহিদামতো ভাগ করে দিলেন। মাছগুলি নিয়েও তিনি তাই করলেন।
JOH 6:12 সকলে তৃপ্তি করে খাওয়ার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “অবশিষ্ট রুটির টুকরোগুলি এক জায়গায় জড়ো করো। কোনো কিছুই যেন নষ্ট না হয়।”
JOH 6:13 তাই তাঁরা সেই পাঁচটি যবের রুটির অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহ করলেন। লোকদের খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া রুটির টুকরোগুলি দিয়ে তাঁরা বারোটি ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।
JOH 6:14 যীশুর করা এই চিহ্নকাজ দেখে লোকেরা বলতে লাগল, “পৃথিবীতে যাঁর আসার কথা, ইনি নিশ্চয়ই সেই ভাববাদী।”
JOH 6:15 যীশু বুঝতে পারলেন যে লোকেরা তাঁকে জোর করে রাজা করতে চায়, তখন তিনি নিজে একটি পাহাড়ে চলে গেলেন।
JOH 6:16 সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তাঁর শিষ্যেরা সাগরের তীরে নেমে গেলেন।
JOH 6:17 সেখানে একটি নৌকায় উঠে তাঁরা সাগর পার হয়ে কফরনাহূমের উদ্দেশে যাত্রা করলেন। সেই সময় অন্ধকার নেমে এলেও যীশু তখনও তাঁদের কাছে ফিরে আসেননি।
JOH 6:18 প্রবল বাতাস বইছিল এবং জলরাশি উত্তাল হয়ে উঠেছিল।
JOH 6:19 তাঁরা নৌকা বেয়ে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এগিয়ে যাওয়ার পর যীশুকে জলের উপর দিয়ে হেঁটে নৌকার দিকে আসতে দেখলেন। তাঁরা ভয় পেলেন।
JOH 6:20 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, “এ আমি, ভয় পেয়ো না।”
JOH 6:21 তখন তাঁরা যীশুকে নৌকায় তুলতে আগ্রহী হলেন এবং তাঁরা যেখানে যাচ্ছিলেন নৌকা তাঁদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেল।
JOH 6:22 পরদিন, সাগরের অপর তীরে যারা থেকে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পারল যে, আগের দিন সেখানে একটি নৌকা ছাড়া আর অন্য নৌকা ছিল না। যীশু শিষ্যদের সঙ্গে সেই নৌকায় ওঠেননি, বরং শিষ্যেরা নিজেরাই চলে গিয়েছিলেন।
JOH 6:23 প্রভুর ধন্যবাদ দেওয়ার পর লোকেরা যেখানে রুটি খেয়েছিল, টাইবেরিয়াস থেকে কয়েকটি নৌকা তখন সেই স্থানে এসে পৌঁছাল।
JOH 6:24 যীশু বা তাঁর শিষ্যদের কেউই সেখানে নেই বুঝতে পেরে সকলে নৌকায় উঠে যীশুর সন্ধানে কফরনাহূমে গেল।
JOH 6:25 সাগরের অপর পারে যীশুকে দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, “রব্বি, আপনি কখন এখানে এলেন?”
JOH 6:26 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা চিহ্নকাজ দেখেছিলে বলে যে আমার অন্বেষণ করছ, তা নয়, কিন্তু রুটি খেয়ে তৃপ্ত হয়েছিলে বলেই তোমরা আমার অন্বেষণ করছ।
JOH 6:27 যে খাদ্য নষ্ট হয়ে যায় তার জন্য নয়, বরং অনন্ত জীবনব্যাপী স্থায়ী খাদ্যের জন্য তোমরা পরিশ্রম করো। মনুষ্যপুত্রই তোমাদের সেই খাদ্য দান করবেন। পিতা ঈশ্বর তাঁকেই মুদ্রাঙ্কিত করেছেন।”
JOH 6:28 তারা তখন জিজ্ঞাসা করল, “ঈশ্বরের কাজ করতে হলে আমাদের কী করতে হবে?”
JOH 6:29 যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বরের কাজ হল এই: তিনি যাঁকে পাঠিয়েছেন, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করো।”
JOH 6:30 অতএব, তারা জিজ্ঞাসা করল, “আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি, এমন কী অলৌকিক চিহ্নকাজ আপনি আমাদের দেখাবেন? আপনি কী করবেন?
JOH 6:31 ‘তিনি খাবারের জন্য স্বর্গ থেকে তাদের খাদ্য দিয়েছিলেন,’ শাস্ত্রে লিখিত এই বচন অনুসারে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না আহার করেছিলেন।”
JOH 6:32 যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, মোশি স্বর্গ থেকে তোমাদের সেই খাদ্য দেননি, বরং আমার পিতাই স্বর্গ থেকে প্রকৃত খাদ্য দান করেন।
JOH 6:33 কারণ যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসে জগৎকে জীবন দান করেন, তিনিই ঈশ্বরীয় খাদ্য।”
JOH 6:34 তারা বলল, “প্রভু, এখন থেকে সেই খাদ্যই আমাদের দিন।”
JOH 6:35 যীশু তখন ঘোষণা করলেন, “আমিই সেই জীবন-খাদ্য। যে আমার কাছে আসে, সে কখনও ক্ষুধার্ত হবে না এবং যে আমাকে বিশ্বাস করে, সে কোনোদিনই পিপাসিত হবে না।
JOH 6:36 কিন্তু আমি যেমন তোমাদের বলেছি, তোমরা আমাকে দেখেছ অথচ এখনও পর্যন্ত আমাকে বিশ্বাস করোনি।
JOH 6:37 পিতা যাদের আমাকে দেন, তাদের সবাই আমার কাছে আসবে, আর যে আমার কাছে আসে, তাকে আমি কখনও তাড়িয়ে দেব না।
JOH 6:38 কারণ আমার ইচ্ছা পূরণের জন্য আমি স্বর্গ থেকে আসিনি, আমি এসেছি যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পূরণের জন্য।
JOH 6:39 আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই যে, তিনি যাদের আমাকে দিয়েছেন, আমি যেন তাদের একজনকেও না হারাই, কিন্তু শেষের দিনে তাদের মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করি।
JOH 6:40 কারণ আমার পিতার ইচ্ছা এই, পুত্রের দিকে যে দৃষ্টিপাত করে তাঁকে বিশ্বাস করে, সে যেন অনন্ত জীবন লাভ করে। আর শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।”
JOH 6:41 একথায় ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল, কারণ তিনি বলেছিলেন, “আমিই সেই খাদ্য, যা স্বর্গলোক থেকে নেমে এসেছে।”
JOH 6:42 তারা বলল, “এ কি যোষেফের পুত্র যীশু নয়, যার বাবা-মা আমাদের পরিচিত? তাহলে কী করে ও এখন বলছে, ‘আমি স্বর্গলোক থেকে নেমে এসেছি’?”
JOH 6:43 প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “তোমরা নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখিয়ো না।
JOH 6:44 পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আকর্ষণ না করলে কেউ আমার কাছে আসতে পারে না, আর শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।
JOH 6:45 ভাববাদীদের গ্রন্থে লেখা আছে, ‘তারা সবাই ঈশ্বরের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করবে।’ পিতার কথায় যে কর্ণপাত করে এবং তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করে, সে আমার কাছে আসে।
JOH 6:46 ঈশ্বরের কাছ থেকে যিনি এসেছেন, তিনি ব্যতীত আর কেউ পিতার দর্শন লাভ করেনি, একমাত্র তিনিই পিতাকে দর্শন করেছেন।
JOH 6:47 আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে।
JOH 6:48 আমিই সেই জীবন-খাদ্য।
JOH 6:49 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না আহার করেছিল, তবুও তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
JOH 6:50 কিন্তু এখানে স্বর্গ থেকে আগত সেই খাদ্য রয়েছে, কোনো মানুষ তা গ্রহণ করলে তার মৃত্যু হবে না।
JOH 6:51 আমিই স্বর্গ থেকে নেমে আসা সেই জীবন-খাদ্য। যদি কেউ এই খাদ্যগ্রহণ করে, সে চিরজীবী হবে। আমার মাংসই এই খাদ্য, যা জগতের জীবন লাভের জন্য আমি দান করব।”
JOH 6:52 তখন ইহুদিরা নিজেদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু করল, “এই লোকটি কীভাবে আমাদের খাওয়ার জন্য তাঁর মাংস দান করতে পারে?”
JOH 6:53 যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা যদি মনুষ্যপুত্রের মাংস ভোজন এবং তাঁর রক্ত পান না করো, তোমাদের মধ্যে জীবন নেই।
JOH 6:54 যে আমার মাংস ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে এবং শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।
JOH 6:55 কারণ আমার মাংসই প্রকৃত খাদ্য এবং আমার রক্তই প্রকৃত পানীয়।
JOH 6:56 যে আমার মাংস ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে আমার মধ্যে থাকে, আর আমি তার মধ্যে থাকি।
JOH 6:57 জীবন্ত পিতা যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন এবং আমি যেমন পিতারই জন্য জীবনধারণ করি, আমাকে যে ভোজন করে, সেও তেমনই আমার জন্য জীবনধারণ করবে।
JOH 6:58 এই সেই খাদ্য যা স্বর্গলোক থেকে নেমে এসেছে। তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মান্না ভোজন করেছিল, তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু যে এই খাদ্য ভোজন করে, সে চিরকাল জীবিত থাকবে।”
JOH 6:59 কফরনাহূমের সমাজভবনে শিক্ষা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বললেন।
JOH 6:60 একথা শুনে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকে বললেন, “এ এক কঠিন শিক্ষা। এই শিক্ষা কে গ্রহণ করতে পারে?”
JOH 6:61 শিষ্যেরা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে, জানতে পেরে যীশু তাদের বললেন, “একথায় কি তোমরা আঘাত পেলে?
JOH 6:62 তাহলে, মনুষ্যপুত্র আগে যে স্থানে ছিলেন সেই স্থানে উন্নীত হতে দেখলে কী বলবে?
JOH 6:63 পবিত্র আত্মাই জীবন দান করেন, মাংস কিছু উপকারী নয়। তোমাদের কাছে আমি যেসব কথা বলেছি সেই বাক্যই আত্মা এবং জীবন।
JOH 6:64 কিন্তু তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা বিশ্বাস করে না।” কারণ প্রথম থেকেই যীশু জানতেন, তাদের মধ্যে কে তাঁকে বিশ্বাস করবে না এবং কে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
JOH 6:65 তিনি বলে চললেন, “এই জন্য আমি তোমাদের বলছি, পিতার কাছ থেকে সামর্থ্য লাভ না করলে, কেউ আমার কাছে আসতে পারে না।”
JOH 6:66 সেই সময় থেকে বহু শিষ্য ফিরে গেল এবং তারা আর তাঁকে অনুসরণ করল না।
JOH 6:67 তখন যীশু সেই বারোজন শিষ্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরাও কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও?”
JOH 6:68 শিমোন পিতর তাঁকে উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমরা কার কাছে যাব? আপনার কাছেই আছে অনন্ত জীবনের বাক্য।
JOH 6:69 আমরা বিশ্বাস করি এবং জানি যে, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি।”
JOH 6:70 যীশু তখন বললেন, “তোমাদের এই বারোজনকে কি আমি মনোনীত করিনি? তবুও তোমাদের মধ্যে একজন হচ্ছে এক দিয়াবল।”
JOH 6:71 (একথার দ্বারা তিনি শিমোন ইষ্কারিয়োৎ-এর পুত্র যিহূদার বিষয়ে ইঙ্গিত করলেন। সে বারোজন শিষ্যের অন্যতম হলেও পরবর্তীকালে যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।)
JOH 7:1 এরপর যীশু গালীল প্রদেশের চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন, ইচ্ছাপূর্বক তিনি যিহূদিয়া থেকে দূরে রইলেন, কারণ সেখানে ইহুদিরা তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টায় ছিল।
JOH 7:2 কিন্তু ইহুদিদের কুটিরবাস-পর্ব সন্নিকট হলে,
JOH 7:3 যীশুর ভাইয়েরা তাঁকে বলল, “এ স্থান ছেড়ে তোমার যিহূদিয়ায় যাওয়া উচিত, যেন তোমার শিষ্যেরা তোমার অলৌকিক কাজ দেখতে পায়।
JOH 7:4 প্রকাশ্যে পরিচিতি লাভ করতে চাইলে কেউ গোপনে কাজ করে না। তুমি যখন এই সমস্ত কাজ করছই, তখন নিজেকে জগতের সামনে প্রকাশ করো।”
JOH 7:5 এরকম বলার কারণ হল, এমনকি যীশুর নিজের ভাইরাও তাঁকে বিশ্বাস করত না।
JOH 7:6 তখন যীশু তাদের বললেন, “আমার নিরূপিত সময় এখনও আসেনি, তোমাদের পক্ষে যে কোনো সময়ই উপযুক্ত।
JOH 7:7 জগৎ তোমাদের ঘৃণা করতে পারে না, কিন্তু আমাকে ঘৃণা করে। কারণ জগৎ যা করে, তা যে মন্দ, তা আমি প্রকাশ করে দিই।
JOH 7:8 তোমরাই পর্বে যোগদান করতে যাও। আমি এখনই পর্বে যাচ্ছি না, কারণ আমার উপযুক্ত সময় এখনও আসেনি।”
JOH 7:9 একথা বলে তিনি গালীলেই থেকে গেলেন।
JOH 7:10 কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা পর্বে চলে গেলে, তিনিও সেখানে গেলেন, তবে প্রকাশ্যে নয়, কিন্তু গোপনে।
JOH 7:11 পর্বের সময় ইহুদিরা যীশুর সন্ধান করছিল এবং জিজ্ঞাসা করছিল, “সেই ব্যক্তি কোথায়?”
JOH 7:12 ভিড়ের মধ্যে তাঁকে নিয়ে প্রচুর গুঞ্জন চলছিল। কেউ কেউ বলল, “তিনি একজন সৎ মানুষ।” অন্যেরা বলল, “না, সে মানুষকে ভুল পথে চালনা করছে।”
JOH 7:13 কিন্তু ইহুদিদের ভয়ে কেউ তাঁর সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলল না।
JOH 7:14 পর্বের মাঝামাঝি সময়, যীশু মন্দির-প্রাঙ্গণে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
JOH 7:15 ইহুদিরা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “শিক্ষালাভ না করেও এই মানুষটি কী করে এত শাস্ত্রজ্ঞ হয়ে উঠল?”
JOH 7:16 যীশু উত্তর দিলেন, “এই শিক্ষা আমার নিজস্ব নয়। যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছ থেকেই আমি এই শিক্ষা পেয়েছি।
JOH 7:17 কেউ যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে মনস্থির করে, তাহলে সে উপলব্ধি করতে পারবে, আমার এই শিক্ষা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজে থেকে বলেছি।
JOH 7:18 যে নিজের জ্ঞানের কথা বলে, সে তার গৌরবপ্রাপ্তির জন্যই তা করে, কিন্তু যে তার প্রেরণকর্তার গৌরবের জন্য কাজ করে, সে সত্যবাদী পুরুষ। তার মধ্যে কোনো মিথ্যাচার নেই।
JOH 7:19 মোশি কি তোমাদের বিধান দেননি? তবু তোমরা একজনও সেই বিধান পালন করো না। তোমরা কেন আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছ?”
JOH 7:20 সব লোক উত্তর দিল, “তোমাকে ভূতে পেয়েছে। কে তোমাকে হত্যার চেষ্টা করছে?”
JOH 7:21 যীশু তাদের বললেন, “আমি মাত্র একটি অলৌকিক কাজ করেছি, আর তা দেখেই তোমরা চমৎকৃত হয়েছিলে।
JOH 7:22 মোশি তোমাদের সুন্নত প্রথা দিয়েছিলেন বলে (যদিও প্রকৃতপক্ষে মোশি তা দেননি, কিন্তু পিতৃপুরুষদের সময় থেকে এই প্রথার প্রচলন ছিল), তোমরা বিশ্রামদিনে শিশুকে সুন্নত করে থাকো।
JOH 7:23 এখন, বিশ্রামদিনে কোনো শিশুকে সুন্নত করলে যদি মোশির বিধান ভাঙা না হয়, তাহলে বিশ্রামদিনে একটি মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার উপর ক্রুদ্ধ হচ্ছো কেন?
JOH 7:24 শুধু বাহ্যিক বিষয় দেখে বিচার কোরো না, ন্যায়সংগত বিচার করো।”
JOH 7:25 সেই সময় জেরুশালেমের কিছু লোক জিজ্ঞাসা করতে লাগল, “এই লোকটিকেই কি তারা হত্যা করার চেষ্টা করছেন না?
JOH 7:26 ইনি তো এখানে প্রকাশ্যে কথা বলছেন, অথচ তারা তাঁকে একটিও কথা বলছেন না। কর্তৃপক্ষ কি সত্যিসত্যিই মেনে নিয়েছেন যে, উনিই সেই খ্রীষ্ট?
JOH 7:27 যাই হোক, এই ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তা আমরা জানি, কিন্তু খ্রীষ্ট এলে কেউ জানবে না যে কোথা থেকে তাঁর আগমন হয়েছে।”
JOH 7:28 তারপর মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু উচ্চকণ্ঠে বললেন, “এটা ঠিক যে, তোমরা আমাকে জানো এবং আমি কোথা থেকে এসেছি, তাও তোমরা জানো। আমি নিজের ইচ্ছানুসারে এখানে আসিনি, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি সত্যময়। তোমরা তাঁকে জানো না।
JOH 7:29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি এবং তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন।”
JOH 7:30 একথায় তারা তাঁকে বন্দি করতে চেষ্টা করল, কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিল না, কারণ তাঁর সময় তখনও উপস্থিত হয়নি।
JOH 7:31 কিন্তু লোকদের মধ্যে অনেকেই তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করল। তারা বলল, “খ্রীষ্টের আগমন হলে তিনি কি এই লোকটির চেয়ে আরও বেশি চিহ্নকাজ করে দেখাবেন?”
JOH 7:32 ফরিশীরা লোকদিগকে তাঁর সম্পর্কে এসব বিষয়ে কানাকানি করতে শুনল। তখন প্রধান যাজকবর্গ এবং ফরিশীরা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য মন্দিরের রক্ষীদের পাঠাল।
JOH 7:33 যীশু বললেন, “আমি তোমাদের সঙ্গে আর অল্পকাল আছি, তারপর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর কাছে ফিরে যাব।
JOH 7:34 তোমরা আমার সন্ধান করবে, কিন্তু পাবে না। আর আমি যেখানে থাকব, তোমরা সেখানে আসতে পারো না।”
JOH 7:35 তখন ইহুদিরা পরস্পর বলাবলি করল, “এই লোকটি এমন কোথায় যেতে চায় যে আমরা তাঁর সন্ধান পাব না? যেখানে গ্রিকদের মধ্যে আমাদের লোকরা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে, ও কি সেখানে গিয়ে গ্রিকদের শিক্ষা দিতে চায়?
JOH 7:36 ‘তোমরা আমাকে খুঁজবে, কিন্তু পাবে না,’ আর, ‘আমি যেখানে থাকব, তোমরা সেখানে আসতে পারো না,’ একথার দ্বারা ও কী বলতে চায়?”
JOH 7:37 পর্বের শেষ ও প্রধান দিনটিতে যীশু দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে বললেন, “কেউ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, সে আমার কাছে এসে পান করুক।
JOH 7:38 আমাকে যে বিশ্বাস করে, শাস্ত্রের বচন অনুসারে, তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের স্রোতোধারা প্রবাহিত হবে।”
JOH 7:39 একথার দ্বারা তিনি সেই পবিত্র আত্মার কথাই বললেন। যারা তাঁকে বিশ্বাস করে, পরবর্তীকালে তারা সেই আত্মা লাভ করবে। যীশু তখনও মহিমান্বিত হননি, তাই সেই সময় পর্যন্ত পবিত্র আত্মা প্রদান করা হয়নি।
JOH 7:40 তাঁর একথা শুনে কিছু লোক বলল, “নিশ্চয়ই, এই লোকটিই সেই ভাববাদী।”
JOH 7:41 অন্যেরা বলল, “ইনিই সেই খ্রীষ্ট।” আবার অনেকে জিজ্ঞাসা করল, “গালীল থেকে কি খ্রীষ্টের আগমন হতে পারে?
JOH 7:42 শাস্ত্র কি একথা বলে না যে, দাউদ যেখানে বসবাস করতেন, সেই বেথলেহেম নগরে, দাউদের বংশে খ্রীষ্টের আগমন হবে?”
JOH 7:43 এভাবে যীশুকে নিয়ে লোকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল।
JOH 7:44 কয়েকজন তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইলেও কেউ তাঁর গায়ে হাত দিল না।
JOH 7:45 মন্দিরের রক্ষীরা অবশেষে প্রধান যাজকদের ও ফরিশীদের কাছে ফিরে গেল। তারা তাদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা তাকে ধরে নিয়ে এলে না কেন?”
JOH 7:46 রক্ষীরা বলল, “এই লোকটি যেভাবে কথা বলেন, এ পর্যন্ত আর কেউ সেভাবে কথা বলেননি।”
JOH 7:47 প্রত্যুত্তরে ফরিশীরা ব্যঙ্গ করে বলল, “তোমরা বলতে চাইছ, লোকটি তোমাদেরও বিভ্রান্ত করেছে।
JOH 7:48 কোনো নেতা বা কোনো ফরিশী কি তাকে বিশ্বাস করেছে?
JOH 7:49 না! কিন্তু এই যেসব লোক, যারা বিধানের কিছুই জানে না, এরা সকলে অভিশপ্ত।”
JOH 7:50 তখন নীকদীম, যিনি আগে যীশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন এবং যিনি ছিলেন তাদেরই একজন, জিজ্ঞাসা করলেন,
JOH 7:51 “কোনো ব্যক্তির কথা প্রথমে না শুনে ও সে কী করে তা না জেনে, তাকে দোষী সাব্যস্ত করা কি আমাদের পক্ষে বিধানসংগত?”
JOH 7:52 তারা উত্তর দিল, “তুমিও কি গালীলের লোক? শাস্ত্র খুঁজে দেখো, দেখতে পাবে যে, গালীল থেকে কোনো ভাববাদীই আসতে পারেন না।”
JOH 7:53 তখন তারা প্রত্যেকেই নিজের নিজের ঘরে ফিরে গেল,
JOH 8:1 কিন্তু যীশু জলপাই পর্বতে চলে গেলেন।
JOH 8:2 ভোরবেলায় যীশু আবার মন্দির-প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলেন। সেখানে সমস্ত লোক তাঁর চারপাশে সমবেত হলে তিনি বসলেন ও তাদের শিক্ষাদান করলেন।
JOH 8:3 তখন শাস্ত্রবিদ এবং ফরিশীরা ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত এক নারীকে নিয়ে এল। তারা সকলের সামনে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে
JOH 8:4 তারা যীশুকে বলল, “গুরুমহাশয়, এই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার করার মুহূর্তে ধরা পড়েছে।
JOH 8:5 মোশি তাঁর বিধানে এই ধরনের স্ত্রীলোককে পাথর মারার আদেশ দিয়েছেন। এখন এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?”
JOH 8:6 তারা এই প্রশ্নটি ফাঁদ হিসেবে প্রয়োগ করল, যেন যীশুকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো সূত্র পেতে পারে। কিন্তু যীশু নত হয়ে তাঁর আঙুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন।
JOH 8:7 কিন্তু তারা যখন তাঁকে বারবার প্রশ্ন করল, তিনি সোজা হয়ে তাদের বললেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিষ্পাপ থাকে, তাহলে প্রথমে সেই তাকে পাথর মারুক,”
JOH 8:8 বলে তিনি আবার নত হয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন।
JOH 8:9 যারা একথা শুনল তারা, প্রবীণ থেকে শুরু করে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত একে একে সরে পড়তে লাগল। সেখানে শুধু যীশু রইলেন, আর দাঁড়িয়ে থাকল সেই নারী।
JOH 8:10 যীশু সোজা হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “নারী, ওরা সব গেল কোথায়? কেউ কি তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি?”
JOH 8:11 সে বলল, “একজনও নয়, প্রভু।” যীশু বললেন, “তাহলে আমিও তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করি না। এখন যাও, আর কখনও পাপ কোরো না।”
JOH 8:12 লোকদের আবার শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু বললেন, “আমি জগতের জ্যোতি। যে আমাকে অনুসরণ করে, সে কখনও অন্ধকারে পথ চলবে না, বরং সে জীবনের জ্যোতি লাভ করবে।”
JOH 8:13 ফরিশীরা তাঁর প্রতিবাদ করে বলল, “তুমি তো নিজের হয়ে নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছ, তোমার সাক্ষ্য বৈধ নয়।”
JOH 8:14 যীশু উত্তর দিলেন, “নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিলেও আমার সাক্ষ্য বৈধ, কারণ আমি কোথা থেকে এসেছি, আর কোথায় যাচ্ছি, তা আমি জানি। কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি বা কোথায় যাচ্ছি, সে বিষয়ে তোমাদের কোনো ধারণা নেই।
JOH 8:15 তোমরা মানুষের মানদণ্ডে বিচার করো; আমি কারও বিচার করি না।
JOH 8:16 কিন্তু যদি আমি বিচার করি, আমার রায় যথার্থ, কারণ আমি একা নই। যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আমার সেই পিতা স্বয়ং আমার সঙ্গে আছেন।
JOH 8:17 তোমাদের নিজেদের বিধানশাস্ত্রে লেখা আছে যে, দুজন লোকের সাক্ষ্য বৈধ।
JOH 8:18 আমার সাক্ষী আমি স্বয়ং, অপর সাক্ষী হলেন পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।”
JOH 8:19 তারা তখন যীশুকে জিজ্ঞাসা করল, “তোমার পিতা কোথায়?” যীশু উত্তর দিলেন, “তোমরা আমাকে বা আমার পিতাকে জানো না। যদি তোমরা আমাকে জানতে, তাহলে আমার পিতাকেও জানতে।”
JOH 8:20 যেখানে দান উৎসর্গ করা হত, সেই স্থানের কাছে মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দেওয়ার সময়, যীশু এই সমস্ত কথা বললেন। তবুও কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করল না, কারণ তাঁর সময় তখনও আসেনি।
JOH 8:21 যীশু আর একবার তাদের বললেন, “আমি চলে যাচ্ছি, আর তোমরা আমাকে খুঁজে বেড়াবে, কিন্তু তোমাদের পাপেই তোমাদের মৃত্যু হবে। আমি যেখানে যাচ্ছি, তোমরা সেখানে আসতে পারো না?”
JOH 8:22 এর ফলে ইহুদিরা বাধ্য হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “ও কি আত্মহত্যা করবে? সেই কারণেই ও কি বলছে, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তোমরা আসতে পারো না’?”
JOH 8:23 তিনি কিন্তু বলে চললেন, “তোমরা মর্তের মানুষ কিন্তু আমি ঊর্ধ্বলোকের। তোমরা এই জগতের, আমি এই জগতের নই।
JOH 8:24 সেই কারণেই আমি তোমাদের বলেছি, তোমাদের পাপেই তোমাদের মৃত্যু হবে; আমি নিজের বিষয়ে যা দাবি করেছি, যে আমিই তিনি, তোমরা তা বিশ্বাস না করলে অবশ্যই তোমাদের পাপে তোমাদের মৃত্যু হবে।”
JOH 8:25 তারা জিজ্ঞাসা করল, “আপনি কে?” যীশু উত্তর দিলেন, “আমি প্রথম থেকে যা দাবি করে আসছি, আমিই সেই।
JOH 8:26 তোমাদের বিষয়ে বিচার করে আমার অনেক কিছু বলার আছে। কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি সত্য। তাঁর কাছ থেকে আমি যা শুনেছি, জগৎকে সেকথাই বলি।”
JOH 8:27 তারা বুঝতে পারল না যে, যীশু তাদের কাছে তাঁর পিতার বিষয়ে বলছেন।
JOH 8:28 তাই যীশু বললেন, “যখন তোমরা মনুষ্যপুত্রকে উঁচুতে স্থাপন করবে, তখন জানতে পারবে যে, আমি নিজেকে যা বলে দাবি করি, আমিই সেই। আর আমি নিজে থেকে কিছুই করি না, কিন্তু পিতা আমাকে যা শিক্ষা দেন, আমি শুধু তাই বলি।
JOH 8:29 যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সঙ্গেই আছেন। তিনি আমাকে একা ছেড়ে দেননি, কারণ আমি সর্বদা তাই করি যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।”
JOH 8:30 তিনি যখন এসব কথা বললেন তখন অনেকেই তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করল।
JOH 8:31 যে ইহুদিরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল, যীশু তাদের বললেন, “যদি তোমরা আমার বাক্যে অবিচল থাকো, তাহলে তোমরা প্রকৃতই আমার শিষ্য।
JOH 8:32 তখন তোমরা সত্যকে জানবে, আর সেই সত্য তোমাদের মুক্ত করবে।”
JOH 8:33 তারা তাঁকে বলল, “আমরা অব্রাহামের বংশধর, আমরা কখনও কারও দাসত্ব করিনি। তাহলে আপনি কী করে বলছেন, আমরা মুক্ত হব?”
JOH 8:34 যীশু তাদের উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যে ব্যক্তি পাপ করে, সে পাপেরই দাসত্ব করে।
JOH 8:35 কোনও দাস পরিবারে স্থায়ী জায়গা পায় না, কিন্তু পরিবারে পুত্রের স্থান চিরদিনের।
JOH 8:36 তাই পুত্র যদি তোমাদের মুক্ত করেন, তাহলেই তোমরা প্রকৃত মুক্ত হবে।
JOH 8:37 আমি জানি, তোমরা অব্রাহামের বংশধর, তবু আমার বাক্য তোমাদের অন্তরে স্থান পায় না বলে তোমরা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ।
JOH 8:38 পিতার সান্নিধ্যে আমি যা দেখেছি, তোমাদের তাই বলছি। আর তোমাদের পিতার কাছে তোমরা যা শুনেছ, তোমরা তাই করে থাকো।”
JOH 8:39 তারা উত্তর দিল, “অব্রাহাম আমাদের পিতা।” যীশু তাদের বললেন, “তোমরা যদি অব্রাহামের সন্তান হতে, তাহলে অব্রাহাম যা করেছিলেন, তোমরাও তাই করতে।
JOH 8:40 অথচ, ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি যে সত্য শুনেছি, তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছি বলে তোমরা আমাকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হয়েছ। অব্রাহাম এমন সব কাজ করেননি।
JOH 8:41 তোমাদের পিতা যা করে, তোমরা সেসব কাজই করছ।” তারা প্রতিবাদ করে বলল, “আমরা অবৈধ সন্তান নই। আমাদের একমাত্র পিতা স্বয়ং ঈশ্বর।”
JOH 8:42 যীশু তাদের বললেন, “ঈশ্বর যদি তোমাদের পিতা হন তবে তোমরা আমাকে ভালোবাসতে, কারণ আমি ঈশ্বরের কাছ থেকেই এখানে এসেছি। আমি নিজের ইচ্ছানুসারে আসিনি, কিন্তু তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
JOH 8:43 আমার ভাষা তোমাদের বোধগম্য হচ্ছে না কেন? কারণ তোমরা আমার কথা শুনতে অক্ষম।
JOH 8:44 তোমরা তোমাদের পিতা দিয়াবলের আর তোমাদের পিতার সব অভিলাষ পূর্ণ করাই তোমাদের ইচ্ছা। প্রথম থেকেই সে এক হত্যাকারী। তার মধ্যে সত্যের লেশমাত্র নেই, কারণ সে সত্যনিষ্ঠ নয়। সে তার নিজস্ব স্বভাববশেই মিথ্যা বলে, কারণ সে এক মিথ্যাবাদী এবং সব মিথ্যার জন্মদাতা।
JOH 8:45 কিন্তু আমি সত্যিকথা বললেও তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না।
JOH 8:46 তোমরা কি কেউ আমাকে পাপের দোষী বলে প্রমাণ করতে পারো? আমি যদি সত্যি বলি, তাহলে কেন তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো না?
JOH 8:47 যে ঈশ্বরের আপনজন, সে ঈশ্বরের সব কথা শোনে। তোমরা যে শোনো না তার কারণ হল, তোমরা ঈশ্বরের আপনজন নও।”
JOH 8:48 উত্তরে ইহুদিরা যীশুকে বলল, “আমরা যে বলি, তুমি শমরীয় এবং একজন ভূতগ্রস্ত, তা কি যথার্থ নয়?”
JOH 8:49 যীশু বললেন, “আমি ভূতগ্রস্ত নই, কিন্তু আমি আমার পিতাকে সমাদর করি, আর তোমরা আমার অনাদর করো।
JOH 8:50 আমি নিজের গৌরবের খোঁজ করি না, কিন্তু একজন আছেন, যিনি তা খোঁজ করেন, তিনিই বিচার করবেন।
JOH 8:51 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কেউ যদি আমার বাক্য পালন করে, সে কখনও মৃত্যু দেখবে না।”
JOH 8:52 কিন্তু একথা শুনে ইহুদিরা বলে উঠল, “এখন আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি ভূতগ্রস্ত! অব্রাহাম এবং ভাববাদীদেরও মৃত্যু হয়েছে, তবু তুমি বলছ যে তোমার বাক্য পালন করে সে কখনও মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না।
JOH 8:53 তুমি কি আমাদের পিতা অব্রাহামের চেয়েও মহান? তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, ভাববাদীরাও তাই। তুমি নিজের সম্পর্কে কী মনে করো?”
JOH 8:54 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি যদি নিজের গৌরব নিজেই করতাম, তবে আমার গৌরব মূল্যহীন। আমার পিতা, যাঁকে তোমরা নিজেদের ঈশ্বর বলে দাবি করছ, তিনিই আমাকে গৌরব দান করেন।
JOH 8:55 তোমরা তাঁকে না জানলেও আমি তাঁকে জানি। আমি যদি বলতাম, আমি তাঁকে জানি না, তাহলে তোমাদেরই মতো আমি মিথ্যাবাদী হতাম। কিন্তু আমি তাঁকে জানি, আর তাঁর বাক্য পালন করি।
JOH 8:56 আমার দিন দেখার প্রত্যাশায় তোমাদের পিতা অব্রাহাম উল্লসিত হয়ে উঠেছিলেন এবং তা দর্শন করে তিনি আনন্দিত হয়েছেন।”
JOH 8:57 ইহুদিরা তাঁকে বলল, “তোমার বয়স পঞ্চাশ বছরও হয়নি, আর তুমি কি না অব্রাহামকে দেখেছ!”
JOH 8:58 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, অব্রাহামের জন্মের পূর্ব থেকেই আমি আছি।”
JOH 8:59 একথা শুনে তারা তাঁকে আঘাত করার জন্য পাথর তুলে নিল। কিন্তু যীশু লুকিয়ে পড়লেন এবং সবার অলক্ষ্যে মন্দির-প্রাঙ্গণ থেকে চলে গেলেন।
JOH 9:1 পথ চলতে চলতে যীশু এক জন্মান্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন।
JOH 9:2 তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “রব্বি, কার পাপের কারণে এ অন্ধ হয়ে জন্মেছে, নিজের না এর বাবা-মার?”
JOH 9:3 যীশু বললেন, “এই ব্যক্তি বা এর বাবা-মা যে পাপ করেছে, তা নয়, কিন্তু এর জীবনে যেন ঈশ্বরের কাজ প্রকাশ পায়, তাই এরকম ঘটেছে।
JOH 9:4 যতক্ষণ দিনের আলো আছে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই কাজ আমাদের করতে হবে। রাত্রি ঘনিয়ে আসছে, তখন কেউ আর কাজ করতে পারে না।
JOH 9:5 যতক্ষণ আমি জগতে আছি, আমিই এই জগতের জ্যোতি হয়ে আছি।”
JOH 9:6 একথা বলে, তিনি মাটিতে থুতু ফেললেন এবং সেই লালা দিয়ে কাদা তৈরি করে সেই ব্যক্তির চোখে মাখিয়ে দিলেন।
JOH 9:7 তারপর তিনি তাকে বললেন, “যাও, সিলোয়াম সরোবরে গিয়ে ধুয়ে ফেলো” (সিলোয়াম শব্দের অর্থ, প্রেরিত)। তখন সেই ব্যক্তি সেখানে গিয়ে (চোখ) ধুয়ে ফেলল এবং দৃষ্টিশক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে গেল।
JOH 9:8 তার প্রতিবেশীরা এবং যারা তাকে আগে ভিক্ষা করতে দেখেছিল, তারা বলল, “যে ব্যক্তি বসে ভিক্ষা করত, এ কি সেই একই ব্যক্তি নয়?”
JOH 9:9 কেউ কেউ বলল যে, সেই ব্যক্তিই তো! অন্যেরা বলল, “না, সে তার মতো দেখতে।” সে বলল, “আমিই সেই ব্যক্তি।”
JOH 9:10 তারা জানতে চাইল, “তাহলে তোমার চোখ কীভাবে খুলে গেল?”
JOH 9:11 উত্তরে সে বলল, “লোকে যাকে যীশু বলে, তিনি কিছু কাদা তৈরি করে আমার দু-চোখে মাখিয়ে দিলেন এবং আমাকে বললেন, ‘যাও, সিলোয়াম সরোবরে গিয়ে ধুয়ে ফেলো।’ তাঁর নির্দেশমতো গিয়ে আমি তাই ধুয়ে ফেললাম, আর তারপর থেকে আমি দেখতে পাচ্ছি।”
JOH 9:12 তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “সেই ব্যক্তি কোথায়?” সে বলল, “আমি জানি না।”
JOH 9:13 যে অন্ধ ছিল, সেই ব্যক্তিকে তারা ফরিশীদের কাছে নিয়ে গেল।
JOH 9:14 যেদিন যীশু কাদা তৈরি করে ব্যক্তির চোখ খুলে দিয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল বিশ্রামদিন।
JOH 9:15 তাই ফরিশীরাও তাকে জিজ্ঞাসা করল, কীভাবে সে দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে। সে উত্তর দিল, “তিনি আমার চোখদুটিতে কাদা মাখিয়ে দিলেন। আমি ধুয়ে ফেললাম, আর এখন আমি দেখতে পাচ্ছি।”
JOH 9:16 ফরিশীদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, “এই লোকটি ঈশ্বরের কাছ থেকে আসেনি, কারণ সে বিশ্রামদিন পালন করে না।” অন্য ফরিশীরা বলল, “যে পাপী, সে কী করে এমন চিহ্নকাজ করতে পারে?” এইভাবে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল।
JOH 9:17 অবশেষে তারা অন্ধ ব্যক্তির দিকে ফিরে তাকে আবার জিজ্ঞাসা করল, “যে তোমার চোখ খুলে দিয়েছে তার বিষয়ে তোমার কী বলার আছে?” সে উত্তর দিল, “তিনি একজন ভাববাদী।”
JOH 9:18 তার বাবা-মাকে ডেকে না আনা পর্যন্ত ইহুদিরা বিশ্বাসই করতে পারল না যে, সে অন্ধ ছিল এবং সে দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে।
JOH 9:19 তারা জিজ্ঞাসা করল, “এ কি তোমাদেরই ছেলে? এর বিষয়েই কি তোমরা বলো যে, এ অন্ধ হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল? তাহলে এখন কী করে ও দেখতে পাচ্ছে?”
JOH 9:20 তার বাবা-মা উত্তর দিল, “আমরা জানি ও আমাদের ছেলে, আর আমরা এও জানি যে, ও অন্ধ হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল।
JOH 9:21 কিন্তু এখন ও কীভাবে দেখতে পাচ্ছে বা কে ওর চোখ খুলে দিয়েছে, আমরা তা জানি না। আপনারা ওকেই জিজ্ঞাসা করুন। ও সাবালক, তাই ওর কথা ও নিজেই বলবে।”
JOH 9:22 তার বাবা-মা ইহুদিদের ভয়ে একথা বলল, কারণ ইহুদিরা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যীশুকে যে খ্রীষ্ট বলে স্বীকার করবে, সমাজভবন থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
JOH 9:23 সেইজন্য তার বাবা-মা বলল, “ও সাবালক, তাই ওকেই জিজ্ঞাসা করুন।”
JOH 9:24 যে আগে অন্ধ ছিল, সেই ব্যক্তিকে তারা দ্বিতীয়বার ডেকে এনে বলল, “ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান করো। আমরা জানি, সেই ব্যক্তি একজন পাপী।”
JOH 9:25 সে উত্তর দিল, “তিনি পাপী, কি পাপী নন, তা আমি জানি না। আমি একটি বিষয় জানি, আমি আগে অন্ধ ছিলাম, কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি।”
JOH 9:26 তারা তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল, “সে তোমার প্রতি কী করেছিল? সে কী করে তোমার চোখ খুলে দিল?”
JOH 9:27 সে উত্তর দিল, “আমি এর আগেই সেকথা আপনাদের বলেছি, কিন্তু আপনারা তা শোনেননি। আপনারা আবার তা শুনতে চাইছেন কেন? আপনারাও কি তাঁর শিষ্য হতে চান?”
JOH 9:28 তারা তাকে গালাগাল দিয়ে অপমান করে বলল, “তুই ওই লোকটির শিষ্য! আমরা মোশির শিষ্য।
JOH 9:29 আমরা জানি, ঈশ্বর মোশির সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কিন্তু এই লোকটির আগমন কোথা থেকে হল তা আমরা জানি না।”
JOH 9:30 সে উত্তর দিল, “সেটাই তো আশ্চর্যের কথা! আপনারা জানেন না তিনি কোথা থেকে এলেন, অথচ তিনিই আমার দু-চোখ খুলে দিলেন।
JOH 9:31 আমরা জানি, ঈশ্বর পাপীদের কথা শোনেন না। যারা ঈশ্বরভক্ত ও তাঁর ইচ্ছা পালন করে, তিনি তাদেরই কথা শোনেন।
JOH 9:32 জন্মান্ধ ব্যক্তির চোখ কেউ খুলে দিয়েছে, একথা কেউ কখনও শোনেনি।
JOH 9:33 সেই ব্যক্তির আগমন ঈশ্বরের কাছ থেকে না হলে, কোনো কিছুই তিনি করতে পারতেন না।”
JOH 9:34 একথা শুনে তারা বলল, “তোর জন্ম পাপেই হয়েছে, তুই কী করে আমাদের শিক্ষা দেওয়ার সাহস পেলি?” আর তারা তাকে সমাজ থেকে বের করে দিল।
JOH 9:35 যীশু শুনতে পেলেন তারা লোকটিকে বের করে দিয়েছে। তিনি তাকে যখন দেখতে পেলেন, তিনি বললেন, “তুমি কি মনুষ্যপুত্রে বিশ্বাস করো?”
JOH 9:36 সেই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, “প্রভু তিনি কে? আমাকে বলুন, আমি যেন তাঁকে বিশ্বাস করতে পারি।”
JOH 9:37 যীশু বললেন, “তুমি তাঁকে দেখেছ। প্রকৃতপক্ষে, তিনিই তোমার সঙ্গে কথা বলছেন।”
JOH 9:38 “প্রভু, আমি বিশ্বাস করি,” একথা বলে সে তাঁকে প্রণাম করল।
JOH 9:39 যীশু বললেন, “বিচার করতেই আমি এ জগতে এসেছি, যেন দৃষ্টিহীনরা দেখতে পায় এবং যারা দেখতে পায়, তারা দৃষ্টিহীন হয়।”
JOH 9:40 তাঁর সঙ্গী কয়েকজন ফরিশী তাঁকে একথা বলতে শুনে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল? আমরাও অন্ধ নাকি?”
JOH 9:41 যীশু বললেন, “তোমরা অন্ধ হলে তোমাদের পাপের জন্য অপরাধী হতে না; কিন্তু তোমরা নিজেদের দেখতে পাও বলে দাবি করছ, তাই তোমাদের অপরাধ রয়ে গেল।”
JOH 10:1 পরে যীশু বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যে ব্যক্তি সদর দরজা দিয়ে মেষদের খোঁয়াড়ে প্রবেশ না করে অন্য কোনো দিক দিয়ে ডিঙিয়ে আসে, সে চোর ও দস্যু।
JOH 10:2 যে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, সেই তার মেষদের পালক।
JOH 10:3 পাহারাদার তার জন্য দরজা খুলে দেয় এবং মেষ তার গলার স্বর শোনে। সে নিজের মেষদের নাম ধরে ডেকে তাদের বাইরে নিয়ে যায়।
JOH 10:4 নিজের সব মেষকে বাইরে নিয়ে এসে সে তাদের সামনে সামনে এগিয়ে চলে। তার মেষেরা তাকে অনুসরণ করে, কারণ তারা তার কণ্ঠস্বর চেনে।
JOH 10:5 কিন্তু তারা কখনও কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে অনুসরণ করবে না; বরং, তারা তার কাছ থেকে ছুটে পালাবে, কারণ অপরিচিত লোকের গলার স্বর তারা চেনে না।”
JOH 10:6 যীশু এই রূপকটি ব্যবহার করলেন, কিন্তু তিনি তাদের কী বললেন, তারা তা বুঝতে পারল না।
JOH 10:7 তাই যীশু তাদের আবার বললেন, “আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমিই মেষদের দ্বার।
JOH 10:8 যারা আমার আগে এসেছিল, তারা সবাই ছিল চোর ও দস্যু, তাই মেষেরা তাদের ডাকে কান দেয়নি।
JOH 10:9 আমিই দ্বার, আমার মধ্য দিয়ে যে প্রবেশ করবে, সে রক্ষা পাবে। সে ভিতরে আসবে ও বাইরে যাবে, আর চারণভূমির সন্ধান পাবে।
JOH 10:10 চোর আসে কেবল চুরি, হত্যা ও ধ্বংস করতে, কিন্তু আমি এসেছি যেন তারা জীবন পায় এবং তা পূর্ণরূপেই পায়।
JOH 10:11 “আমিই উৎকৃষ্ট মেষপালক। উৎকৃষ্ট মেষপালক মেষদের জন্য তাঁর প্রাণ সমর্পণ করেন।
JOH 10:12 বেতনজীবী লোক মেষপালক নয়, সে মেষপালের মালিকও নয়। তাই সে নেকড়ে বাঘকে আসতে দেখে, মেষদের ছেড়ে পালিয়ে যায়। নেকড়ে তখন মেষপালকে আক্রমণ করে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
JOH 10:13 বেতনজীবী বলেই সে পালিয়ে যায়, মেষপালের জন্য কোনো চিন্তা করে না।
JOH 10:14 “আমিই উৎকৃষ্ট মেষপালক, আমার মেষদের আমি জানি ও আমার নিজেরা আমাকে জানে—
JOH 10:15 যেমন পিতা আমাকে জানেন ও আমি পিতাকে জানি—আর মেষদের জন্য আমি আমার প্রাণ সমর্পণ করি।
JOH 10:16 এই খোঁয়াড়ের বাইরেও আমার অন্য মেষ আছে। তারা আমার কণ্ঠস্বর শুনবে। তখন একটি পাল এবং একজন পালক হবে।
JOH 10:17 আমার পিতা এজন্য আমাকে প্রেম করেন, কারণ আমি আমার প্রাণ সমর্পণ করি, যেন আবার তা পুনরায় গ্রহণ করি।
JOH 10:18 কেউ আমার কাছ থেকে তা কেড়ে নিতে পারে না। আমি স্বেচ্ছায় আমার প্রাণ সমর্পণ করি। সমর্পণ করার অধিকার এবং তা ফিরে পাওয়ারও অধিকার আমার আছে। আমার পিতার কাছ থেকে আমি এই আদেশ লাভ করেছি।”
JOH 10:19 একথায় ইহুদিদের মধ্যে আবার মতভেদ দেখা দিল।
JOH 10:20 তাদের অনেকেই বলল, “ওকে ভূতে পেয়েছে; তাই ও পাগলের মতো কথা বলছে। ওর কথা শুনছ কেন?”
JOH 10:21 কিন্তু অন্যেরা বলল, “এসব কথা তো ভূতের পাওয়া লোকের নয়! ভূত কি অন্ধদের চোখ খুলে দিতে পারে?”
JOH 10:22 এরপর জেরুশালেমে মন্দির-উৎসর্গের পর্ব এসে গেল। তখন শীতকাল।
JOH 10:23 যীশু মন্দির চত্বরে শলোমনের বারান্দায় হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন।
JOH 10:24 ইহুদিরা তাঁকে ঘিরে ধরে বলল, “আর কত দিন তুমি আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখবে? তুমি যদি খ্রীষ্ট হও, সেকথা আমাদের স্পষ্ট করে বলো!”
JOH 10:25 উত্তরে যীশু বললেন, “আমি বলা সত্ত্বেও তোমরা বিশ্বাস করোনি। আমার পিতার নামে সম্পাদিত অলৌকিক কাজই আমার পরিচয় বহন করে।
JOH 10:26 কিন্তু তোমরা তা বিশ্বাস করো না, কারণ তোমরা আমার পালের মেষ নও।
JOH 10:27 আমার মেষেরা আমার কণ্ঠস্বর শোনে, আমি তাদের জানি, আর তারা আমাকে অনুসরণ করে।
JOH 10:28 আমি তাদের অনন্ত জীবন দান করি; তারা কোনোদিনই বিনষ্ট হবে না। আর কেউ তাদের আমার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।
JOH 10:29 আমার পিতা, যিনি তাদের আমাকে দিয়েছেন, তিনি সবার চেয়ে মহান। আমার পিতার হাত থেকে কেউ তাদের কেড়ে নিতে পারে না।
JOH 10:30 আমি ও পিতা, আমরা এক।”
JOH 10:31 ইহুদিরা তাঁকে আবার পাথর ছুঁড়ে মারার জন্য পাথর তুলে নিল।
JOH 10:32 কিন্তু যীশু তাদের বললেন, “পিতার দেওয়া শক্তিতে আমি তোমাদের অনেক মহৎ অলৌকিক কাজ দেখিয়েছি। সেগুলির মধ্যে কোনটির জন্য তোমরা আমাকে পাথর মারতে চাইছ?”
JOH 10:33 ইহুদিরা বলল, “এসব কোনো কারণের জন্যই নয়, কিন্তু ঈশ্বরনিন্দার জন্য আমরা তোমাকে পাথর মারতে উদ্যত হয়েছি, কারণ তুমি একজন সামান্য মানুষ হয়েও নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করছ।”
JOH 10:34 যীশু তাদের বললেন, “তোমাদের বিধানপুস্তকে কি লেখা নেই, ‘আমি বলেছি, তোমরা “ঈশ্বর”’?
JOH 10:35 যাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি যদি তাদের ‘ঈশ্বর’ নামে অভিহিত করে থাকেন—এবং শাস্ত্রের তো পরিবর্তন হতে পারে না—
JOH 10:36 তাহলে পিতা যাকে তাঁর আপনজনরূপে পৃথক করে জগতে পাঠিয়েছেন, তাঁর বিষয়ে কী বলবে? তবে ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র,’ একথা বলার জন্য কেন তোমরা আমাকে ঈশ্বরনিন্দার অভিযোগে অভিযুক্ত করছ?
JOH 10:37 আমার পিতা যা করেন, আমি যদি সে কাজ না করি, তাহলে তোমরা আমাকে বিশ্বাস কোরো না।
JOH 10:38 কিন্তু আমি যদি তা করি, তোমরা আমাকে বিশ্বাস না করলেও, সেই অলৌকিক কাজগুলিকে বিশ্বাস করো, যেন তোমরা জানতে ও বুঝতে পারো যে, পিতা আমার মধ্যে ও আমি পিতার মধ্যে আছি।”
JOH 10:39 তারা আবার তাঁকে বন্দি করার চেষ্টা করল, কিন্তু তিনি তাদের কবল এড়িয়ে গেলেন।
JOH 10:40 এরপর যীশু জর্ডন নদীর অপর পারে ফিরে গেলেন, যেখানে যোহন আগে লোকেদের বাপ্তিষ্ম দিতেন। তিনি সেখানে থেকে গেলেন এবং বহু লোক তাঁর কাছে এল।
JOH 10:41 তারা বলল, “যোহন কখনও চিহ্নকাজ সম্পাদন না করলেও, এই মানুষটির বিষয়ে তিনি যথার্থ কথাই বলেছেন।”
JOH 10:42 সেখানে বহু মানুষ যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করল।
JOH 11:1 লাসার নামে এক ব্যক্তি পীড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বেথানি গ্রামের অধিবাসী, যেখানে মরিয়ম ও তার বোন মার্থা বসবাস করতেন।
JOH 11:2 এই মরিয়মই প্রভুর উপরে সুগন্ধিদ্রব্য ঢেলে তাঁর চুল দিয়ে প্রভুর পা-দুটি মুছিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরই ভাই লাসার সেই সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
JOH 11:3 দুই বোন তাই যীশুর কাছে সংবাদ পাঠালেন, “প্রভু আপনি যাকে প্রেম করেন, সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
JOH 11:4 একথা শুনে যীশু বললেন, “এই অসুস্থতা মৃত্যুর জন্য হয়নি, কিন্তু ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশের জন্য এরকম হয়েছে, যেন ঈশ্বরের পুত্র এর মাধ্যমে গৌরবান্বিত হন।”
JOH 11:5 মার্থা, তাঁর বোন ও লাসারকে যীশু প্রেম করতেন।
JOH 11:6 তবুও লাসারের অসুস্থতার কথা শুনে তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানেই আরও দু-দিন রইলেন।
JOH 11:7 এরপর তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “চলো, আমরা যিহূদিয়ায় ফিরে যাই।”
JOH 11:8 তাঁর শিষ্যেরা বললেন, “কিন্তু রব্বি, কিছু সময় আগেই তো ইহুদিরা আপনাকে পাথর মারার চেষ্টা করেছিল, তবুও আপনি সেখানে ফিরে যেতে চাইছেন?”
JOH 11:9 যীশু উত্তর দিলেন, “দিনের আলোর স্থায়িত্ব কি বারো ঘণ্টা নয়? যে মানুষ দিনের আলোয় পথ চলে, সে হোঁচট খাবে না। কারণ এই জগতের আলোতেই সে দেখতে পায়।
JOH 11:10 কিন্তু রাতে যখন সে পথ চলে, তখন সে হোঁচট খায়, কারণ তার কাছে আলো থাকে না।”
JOH 11:11 একথা বলার পর তিনি তাঁদের বললেন, “আমাদের বন্ধু লাসার ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাকে জাগিয়ে তুলতে আমি সেখানে যাচ্ছি।”
JOH 11:12 তাঁর শিষ্যেরা বললেন, “প্রভু, সে যদি ঘুমিয়ে পড়েছে, তাহলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।”
JOH 11:13 যীশু তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে বলছিলেন, কিন্তু তাঁর শিষ্যেরা ভাবলেন, তিনি স্বাভাবিক ঘুমের কথা বলছেন।
JOH 11:14 তাই তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে বললেন, “লাসারের মৃত্যু হয়েছে।
JOH 11:15 তোমাদের কথা ভেবে আমি আনন্দিত যে, আমি তখন সেখানে ছিলাম না, যেন তোমরা বিশ্বাস করতে পারো। চলো, আমরা তার কাছে যাই।”
JOH 11:16 তখন থোমা, যিনি দিদুমঃ (যমজ) নামে আখ্যাত, অন্যান্য শিষ্যদের বললেন, “চলো, আমরাও যাই, যেন তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করতে পারি।”
JOH 11:17 সেখানে এসে যীশু দেখলেন যে, চারদিন যাবৎ লাসার সমাধির মধ্যে আছেন।
JOH 11:18 বেথানি থেকে জেরুশালেমের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার।
JOH 11:19 আর মার্থা ও মরিয়মের ভাইয়ের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য জেরুশালেম থেকে অনেক ইহুদি তাঁদের কাছে এসেছিল।
JOH 11:20 যীশুর আসার কথা শুনতে পেয়ে মার্থা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম ঘরেই রইলেন।
JOH 11:21 মার্থা যীশুকে বললেন, “প্রভু, আপনি এখানে উপস্থিত থাকলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হত না।
JOH 11:22 কিন্তু আমি জানি, আপনি ঈশ্বরের কাছে যা চাইবেন, তিনি আপনাকে এখনও তাই দেবেন।”
JOH 11:23 যীশু তাঁকে বললেন, “তোমার ভাই আবার জীবিত হবে।”
JOH 11:24 মার্থা উত্তর দিলেন, “আমি জানি, শেষের দিনে, পুনরুত্থানের সময়, সে আবার জীবিত হবে।”
JOH 11:25 যীশু তাঁকে বললেন, “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমাকে বিশ্বাস করে, তার মৃত্যু হলেও সে জীবিত থাকবে।
JOH 11:26 আর যে জীবিত এবং আমাকে বিশ্বাস করে, তার মৃত্যু কখনও হবে না। তুমি কি একথা বিশ্বাস করো?”
JOH 11:27 তিনি তাঁকে বললেন, “হ্যাঁ প্রভু, আমি বিশ্বাস করি যে, জগতে যাঁর আগমনের সময় হয়েছিল, আপনিই সেই মশীহ, ঈশ্বরের পুত্র।”
JOH 11:28 একথা বলে তিনি ফিরে গিয়ে তাঁর বোন মরিয়মকে একান্তে ডেকে বললেন, “গুরুমহাশয় এখানে এসেছেন, তিনি তোমাকে ডাকছেন।”
JOH 11:29 একথা শুনে মরিয়ম তাড়াতাড়ি উঠে তাঁর কাছে গেলেন।
JOH 11:30 যীশু তখনও গ্রামে প্রবেশ করেননি, মার্থার সঙ্গে তাঁর যেখানে দেখা হয়েছিল, তিনি তখনও সেখানেই ছিলেন।
JOH 11:31 যে ইহুদিরা মরিয়মকে তাঁর বাড়িতে এসে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তাঁকে তাড়াতাড়ি উঠে বাইরে যেতে দেখে তারা মনে করল, তিনি বোধহয় সমাধিস্থানে দুঃখে কাঁদতে যাচ্ছেন। তাই তারা তাকে অনুসরণ করল।
JOH 11:32 যীশু যেখানে ছিলেন, মরিয়ম সেখানে পৌঁছে তাঁকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন, “প্রভু, আপনি এখানে উপস্থিত থাকলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হত না।”
JOH 11:33 মরিয়মকে এবং তাঁর অনুসরণকারী ইহুদিদের কাঁদতে দেখে, যীশু আত্মায় গভীরভাবে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
JOH 11:34 “তোমরা তাকে কোথায় রেখেছ?” তাঁরা উত্তর দিল, “প্রভু, দেখবেন আসুন।”
JOH 11:35 যীশু কাঁদলেন।
JOH 11:36 তখন ইহুদিরা বলল, “দেখো, তিনি তাঁকে কত ভালোবাসতেন!”
JOH 11:37 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন বলল, “যিনি সেই অন্ধ ব্যক্তির চোখ খুলে দিয়েছিলেন, তিনি কি সেই ব্যক্তিকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারতেন না?”
JOH 11:38 যীশু আবার গভীরভাবে বিচলিত হয়ে সমাধির কাছে উপস্থিত হলেন। সেটি ছিল একটি গুহা, তার প্রবেশপথে একটি পাথর রাখা ছিল।
JOH 11:39 তিনি বললেন, “পাথরটি সরিয়ে দাও।” মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা বললেন, “কিন্তু প্রভু, চারদিন হল সে সেখানে আছে। এখন সেখানে দুর্গন্ধ হবে।”
JOH 11:40 যীশু তখন বললেন, “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, যদি তুমি বিশ্বাস করো, তাহলে ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পাবে?”
JOH 11:41 তারা তখন পাথরটি সরিয়ে দিল। যীশু তারপর আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন, “পিতা, আমার প্রার্থনা শুনেছ বলে তোমায় ধন্যবাদ দিই।
JOH 11:42 আমি জানতাম, তুমি নিয়ত আমার কথা শোনো, কিন্তু এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের উপকারের জন্য একথা বলছি। তারা যেন বিশ্বাস করে যে তুমি আমাকে পাঠিয়েছ,”
JOH 11:43 একথা বলে যীশু উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলেন, “লাসার, বেরিয়ে এসো!”
JOH 11:44 সেই মৃত ব্যক্তি বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাত ও পা লিনেন কাপড়ের ফালিতে জড়ানো ছিল, তার মুখ ছিল কাপড়ে ঢাকা। যীশু তাদের বললেন, “ওর বাঁধন খুলে ওকে যেতে দাও।”
JOH 11:45 তখন ইহুদিদের অনেকে যারা মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, তারা যীশুকে এই কাজ করতে দেখে তাঁকে বিশ্বাস করল।
JOH 11:46 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন ফরিশীদের কাছে গিয়ে যীশুর সেই অলৌকিক কাজের কথা জানাল।
JOH 11:47 তখন প্রধান যাজকবর্গ ও ফরিশীরা মহাসভার এক অধিবেশন আহ্বান করল। তারা জিজ্ঞাসা করল, “আমরা কী করছি? এই লোকটি তো বহু চিহ্নকাজ করে যাচ্ছে।
JOH 11:48 আমরা যদি ওকে এভাবে চলতে দিই, তাহলে প্রত্যেকেই ওকে বিশ্বাস করবে। তখন রোমীয়রা এসে আমাদের স্থান ও জাতি উভয়ই ধ্বংস করবে।”
JOH 11:49 তখন তাদের মধ্যে কায়াফা নামে এক ব্যক্তি, যিনি সে বছরের মহাযাজক ছিলেন, বললেন, “তোমরা কিছুই জানো না,
JOH 11:50 তোমরা বুঝতে পারছ না যে, সমগ্র জাতি বিনষ্ট হওয়ার চেয়ে বরং প্রজাদের মধ্যে একজন মানুষের মৃত্যু শ্রেয়।”
JOH 11:51 তিনি নিজের থেকে একথা বলেননি, কিন্তু সেই বছরের মহাযাজকরূপে ভবিষ্যদ্‌বাণী করলেন যে, ইহুদি জাতির জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করবেন
JOH 11:52 এবং শুধুমাত্র সেই জাতির জন্য নয়, কিন্তু ঈশ্বরের যেসব সন্তান ছিন্নভিন্ন হয়েছিল, তাদের সংগ্রহ করে এক করার জন্যও তিনি মৃত্যুবরণ করবেন।
JOH 11:53 তাই সেদিন থেকে তারা যীশুকে হত্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে লাগল।
JOH 11:54 সেই কারণে যীশু এরপর ইহুদিদের মধ্যে আর প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেন না। পরিবর্তে, তিনি মরু-অঞ্চলের নিকটবর্তী ইফ্রয়িম নামক এক গ্রামে চলে গেলেন। সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকলেন।
JOH 11:55 ইহুদিদের নিস্তারপর্বের সময় প্রায় এসে গেল; নিস্তারপর্বের আগে আনুষ্ঠানিক শুদ্ধকরণের জন্য বহু লোক গ্রামাঞ্চল থেকে জেরুশালেমে গেল।
JOH 11:56 তারা যীশুর সন্ধান করতে লাগল এবং মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, “তোমাদের কী মনে হয়, তিনি কি পর্বে আসবেন না?”
JOH 11:57 কিন্তু প্রধান যাজকবর্গ ও ফরিশীরা আদেশ জারি করেছিল যে, কেউ যদি কোথাও যীশুর সন্ধান পায়, তাহলে যেন সেই সংবাদ জানায়, যেন তারা যীশুকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
JOH 12:1 নিস্তারপর্বের ছয় দিন আগে যীশু বেথানিতে উপস্থিত হলেন। যীশু যাকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছিলেন, সেই লাসারের বাড়ি সেখানে ছিল।
JOH 12:2 সেখানে যীশুর সম্মানে এক ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল। মার্থা পরিবেশন করছিলেন, আর লাসার ভোজের আসনে হেলান দিয়ে অনেকের সঙ্গে যীশুর কাছে বসেছিলেন।
JOH 12:3 তখন মরিয়ম আধলিটার বিশুদ্ধ বহুমূল্য জটামাংসীর সুগন্ধি তেল নিয়ে যীশুর চরণে ঢেলে দিলেন এবং তাঁর চুল দিয়ে তাঁর পা-দুখানি মুছিয়ে দিলেন। তেলের সুগন্ধে সেই ঘর ভরে গেল।
JOH 12:4 কিন্তু তাঁর এক শিষ্য যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ, যে পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, আপত্তি করল,
JOH 12:5 “এই সুগন্ধিদ্রব্য বিক্রি করে সেই অর্থ দরিদ্রদের দেওয়া হল না কেন? এর মূল্য তো এক বছরের বেতনের সমান!”
JOH 12:6 দরিদ্রদের জন্য চিন্তা ছিল বলে যে সে একথা বলেছিল, তা নয়; প্রকৃতপক্ষে সে ছিল চোর। টাকার থলি তার কাছে থাকায়, সেই অর্থ থেকে সে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করত।
JOH 12:7 যীশু উত্তর দিলেন, “ওকে ছেড়ে দাও। আমার সমাধি দিনের জন্য সে এই সুগন্ধিদ্রব্য বাঁচিয়ে রেখেছিল।
JOH 12:8 তোমরা তো তোমাদের মধ্যে দরিদ্রদের সবসময়ই পাবে, কিন্তু আমাকে তোমরা সবসময় পাবে না।”
JOH 12:9 ইতিমধ্যে ইহুদি সমাজের অনেক লোক যীশু সেখানে আছেন জানতে পেরে, শুধু যীশুকে নয়, লাসারকেও দেখতে এল, যাঁকে যীশু মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করেছিলেন।
JOH 12:10 প্রধান যাজকেরা তখন লাসারকেও হত্যা করার পরিকল্পনা করল,
JOH 12:11 কারণ তাঁর জন্য অনেক ইহুদি যীশুর কাছে যাচ্ছিল এবং তাঁকে বিশ্বাস করছিল।
JOH 12:12 পর্বের জন্য যে বিস্তর লোকের সমাগম ঘটেছিল, পরদিন তারা শুনতে পেল যে, যীশু জেরুশালেমের পথে এগিয়ে চলেছেন।
JOH 12:13 তারা খেজুর গাছের ডাল নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেল, আর উচ্চকণ্ঠে বলতে লাগল, “হোশান্না!” “প্রভুর নামে যিনি আসছেন, তিনি ধন্য!” “ধন্য ইস্রায়েলের সেই রাজাধিরাজ!”
JOH 12:14 তখন একটি গর্দভশাবক দেখতে পেয়ে যীশু তার উপরে বসলেন, যেমন শাস্ত্রে লেখা আছে,
JOH 12:15 “হে সিয়োন-কন্যা, তুমি ভীত হোয়ো না, দেখো, তোমার রাজাধিরাজ আসছেন, গর্দভশাবকে চড়ে আসছেন।”
JOH 12:16 তাঁর শিষ্যেরা প্রথমে এ সমস্ত বুঝতে পারেননি। যীশু মহিমান্বিত হওয়ার পর তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, যীশুর সম্পর্কে শাস্ত্রে উল্লিখিত ঘটনা অনুসারেই তাঁরা তাঁর প্রতি এরূপ আচরণ করেছেন।
JOH 12:17 যীশু লাসারকে সমাধি থেকে ডেকে মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করার সময় যে সকল লোক তাঁর সঙ্গে ছিল, তারা এসব কথা প্রচার করে চলেছিল।
JOH 12:18 বহু মানুষ যীশুর করা এই চিহ্নকাজের কথা শুনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেল।
JOH 12:19 তাই ফরিশীরা পরস্পর বলাবলি করল, “দেখো, আমরা কিছুই করতে পারছি না। চেয়ে দেখো, সমস্ত জগৎ কেমন তাঁর পিছনে ছুটে চলেছে!”
JOH 12:20 পর্বের সময় যারা উপাসনা করতে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রিক ছিল।
JOH 12:21 তারা গালীলের বেথসৈদার অধিবাসী ফিলিপের কাছে এসে নিবেদন করল, “মহাশয়, আমরা যীশুকে দেখতে চাই!”
JOH 12:22 ফিলিপ আন্দ্রিয়র কাছে বলতে গেলেন। আন্দ্রিয় ও ফিলিপ গিয়ে সেকথা যীশুকে জানালেন।
JOH 12:23 কিন্তু যীশু তাদের বললেন, “মনুষ্যপুত্রের মহিমান্বিত হওয়ার মুহূর্ত এসে পড়েছে।
JOH 12:24 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, গমের দানা যদি মাটিতে পড়ে না মরে, তবে তা শুধু একটি বীজ হয়েই থাকে। কিন্তু যদি মরে, তাহলে বহু বীজের উৎপন্ন হয়।
JOH 12:25 যে মানুষ নিজের প্রাণকে ভালোবাসে, সে তা হারাবে; কিন্তু এ জগতে যে নিজের প্রাণকে ঘৃণা করে, সে অনন্ত জীবনের জন্য তা রক্ষা করবে।
JOH 12:26 যে আমার সেবা করতে চায়, তাকে অবশ্যই আমার অনুগামী হতে হবে, যেন আমি যেখানে থাকব, আমার সেবকও সেখানে থাকে। যে আমার সেবা করবে, আমার পিতা তাকে সমাদর করবেন।
JOH 12:27 “আমার হৃদয় এখন উৎকণ্ঠায় ভরে উঠেছে? আমি কি বলব, ‘পিতা এই মুহূর্ত থেকে তুমি আমাকে রক্ষা করো?’ না! সেজন্যই তো আমি এই মুহূর্ত পর্যন্ত এসেছি।
JOH 12:28 পিতা, তোমার নাম মহিমান্বিত করো।” তখন স্বর্গ থেকে এক বাণী উপস্থিত হল, “আমি তা মহিমান্বিত করেছি এবং আবার মহিমান্বিত করব।”
JOH 12:29 উপস্থিত সকলে সেই বাণী শুনে বলল, “এ বজ্রের ধ্বনি!” অন্যেরা বলল, “কোনো স্বর্গদূত এঁর সঙ্গে কথা বললেন।”
JOH 12:30 যীশু বললেন, “এই বাণী ছিল তোমাদের উপকারের জন্য, আমার জন্য নয়।
JOH 12:31 এখন এ জগতের বিচারের সময়। এ জগতের অধিপতিকে এখন তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
JOH 12:32 কিন্তু, যখন আমি পৃথিবী থেকে আকাশে উত্তোলিত হব, তখন সব মানুষকে আমার দিকে আকর্ষণ করব।”
JOH 12:33 তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করবেন, তা বোঝাবার জন্য তিনি একথা বললেন।
JOH 12:34 লোকেরা বলে উঠল, “আমরা বিধানশাস্ত্র থেকে শুনেছি যে, খ্রীষ্ট চিরকাল থাকবেন। তাহলে আপনি কী করে বলতে পারেন, ‘মনুষ্যপুত্রকে অবশ্যই উত্তোলিত হতে হবে?’ এই ‘মনুষ্যপুত্র’ কে?”
JOH 12:35 তখন যীশু তাদের বললেন, “আর অল্পকালমাত্র জ্যোতি তোমাদের মধ্যে আছেন। অন্ধকার তোমাদের গ্রাস করার আগেই জ্যোতির প্রভায় তোমরা পথ চলো। যে অন্ধকারে পথ চলে, সে জানে না, কোথায় চলেছে।
JOH 12:36 তোমরা যতক্ষণ জ্যোতির সহচর্যে আছ, তোমরা সেই জ্যোতির উপরেই বিশ্বাস রেখো, যেন তোমরাও জ্যোতির সন্তান হতে পারো।” কথা বলা শেষ করে যীশু সেখান থেকে চলে গেলেন এবং তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রইলেন।
JOH 12:37 যীশু ইহুদিদের সামনে এই সমস্ত চিহ্নকাজ সম্পাদন করলেন। তবুও তারা তাঁকে বিশ্বাস করল না।
JOH 12:38 ভাববাদী যিশাইয়ের বাণী এভাবেই সম্পূর্ণ হল: “প্রভু, আমাদের দেওয়া সংবাদ কে বিশ্বাস করেছে? কার কাছেই বা প্রভুর পরাক্রম প্রকাশিত হয়েছে?”
JOH 12:39 এই কারণেই তারা বিশ্বাস করতে পারেনি, যেমন যিশাইয় অন্যত্র বলেছেন:
JOH 12:40 “তিনি তাদের চক্ষু দৃষ্টিহীন করেছেন, তাদের হৃদয়কে কঠিন করেছেন। তাই তারা নয়নে দেখতে পায় না, হৃদয়ে উপলব্ধি করে না, অথবা ফিরে আসে না—যেন আমি তাদের সুস্থ করি।”
JOH 12:41 যিশাইয় একথা বলেছিলেন, কারণ তিনি যীশুর মহিমা দর্শন করেছিলেন ও তাঁরই কথা বলেছিলেন।
JOH 12:42 তবু, সেই একই সময়ে, নেতাদের মধ্যেও অনেকেই তাঁকে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু ফরিশীদের ভয়ে তারা তাদের বিশ্বাসের কথা স্বীকার করতে পারল না, কারণ আশঙ্কা ছিল যে সমাজভবন থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে;
JOH 12:43 কেননা ঈশ্বরের প্রশংসার চেয়ে তারা মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে বেশি ভালোবাসতো।
JOH 12:44 যীশু তখন উচ্চকণ্ঠে বললেন, “কোনো মানুষ যখন আমাকে বিশ্বাস করে তখন সে শুধু আমাকেই নয়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকেও বিশ্বাস করে।
JOH 12:45 আমাকে দেখলে সে তাঁকেই দেখে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
JOH 12:46 এ জগতে আমি জ্যোতিরূপে এসেছি, যেন আমাকে যে বিশ্বাস করে, সে আর অন্ধকারে না থাকে।
JOH 12:47 “যে আমার বাণী শুনেও তা পালন করে না, আমি তার বিচার করি না। কারণ আমি জগতের বিচার করতে আসিনি, আমি এসেছি জগৎকে উদ্ধার করতে।
JOH 12:48 যে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আমার বাক্য গ্রহণ করে না, তার জন্য এক বিচারক আছেন। আমার বলা বাক্যই শেষের দিনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে।
JOH 12:49 কারণ আমি নিজের ইচ্ছানুসারে বাক্য প্রকাশ করিনি, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, আমার সেই পিতাই, কী বলতে হবে বা কেমনভাবে বলতে হবে, আমাকে তার নির্দেশ দিয়েছেন।
JOH 12:50 আমি জানি, তাঁর নির্দেশ অনন্ত জীবনের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমার পিতা আমাকে যা বলতে বলেছেন, আমি শুধু সেকথাই বলি।”
JOH 13:1 নিস্তারপর্বের আগের ঘটনা। যীশু বুঝতে পেরেছিলেন যে এই পৃথিবী থেকে তাঁর বিদায় নিয়ে পিতার কাছে যাওয়ার সময় উপস্থিত হয়েছে। জগতে তাঁর আপনজন যাঁদের তিনি প্রেম করতেন, এখন তিনি তাঁদের শেষ পর্যন্ত প্রেম করলেন।
JOH 13:2 সান্ধ্যভোজ পরিবেশন করা হচ্ছিল। দিয়াবল ইতিমধ্যেই যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য শিমোনের পুত্র যিহূদা ইষ্কারিয়োৎকে প্ররোচিত করেছিল।
JOH 13:3 যীশু জানতেন যে, পিতা সবকিছু তাঁর ক্ষমতার অধীন করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছ থেকেই তিনি এসেছেন ও তিনি ঈশ্বরের কাছেই ফিরে যাচ্ছেন।
JOH 13:4 তাই তিনি ভোজ থেকে উঠে তাঁর উপরের পোশাক খুলে কোমরে একটি তোয়ালে জড়ালেন।
JOH 13:5 এরপর তিনি একটি গামলায় জল নিয়ে তাঁর শিষ্যদের পা ধুয়ে, ও তাঁর কোমরে জড়ানো তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিতে লাগলেন।
JOH 13:6 তিনি শিমোন পিতরের কাছে এলে পিতর তাঁকে বললেন, “প্রভু, আপনি কি আমার পা ধুয়ে দেবেন?”
JOH 13:7 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি কী করছি তা তুমি এখন বুঝতে পারছ না, কিন্তু পরে বুঝবে।”
JOH 13:8 পিতর বললেন, “না, আপনি কখনোই আমার পা ধুয়ে দেবেন না।” প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “আমি তোমার পা ধুয়ে না দিলে, আমার সাথে তোমার কোনো অংশই থাকবে না।”
JOH 13:9 শিমোন পিতর বললেন, “তাহলে প্রভু, শুধু আমার পা নয়, আমার হাত ও মাথাও ধুয়ে দিন।”
JOH 13:10 যীশু উত্তর দিলেন, “যে স্নান করেছে, তার শুধু পা ধোয়ার প্রয়োজন, কারণ তার সমস্ত শরীরই শুচিশুদ্ধ। তুমিও শুচিশুদ্ধ, তবে তোমাদের প্রত্যেকে নও।”
JOH 13:11 কারণ কে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তা তিনি জানতেন। সেই কারণেই তিনি বললেন যে, সবাই শুচিশুদ্ধ নয়।
JOH 13:12 তাঁদের পা ধুয়ে দেওয়া শেষ হলে যীশু তাঁর পোশাক পরে নিজের আসনে ফিরে গেলেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি তোমাদের প্রতি কী করলাম, তা কি তোমরা বুঝতে পেরেছ?
JOH 13:13 তোমরা আমাকে ‘গুরুমহাশয়’ ও ‘প্রভু’ বলে থাকো এবং তা যথার্থই, কারণ আমি সেই।
JOH 13:14 এখন তোমাদের প্রভু ও গুরুমহাশয় হয়েও আমি তোমাদের পা ধুয়ে দিলাম, সুতরাং, তোমাদেরও একে অপরের পা ধুয়ে দেওয়া উচিত।
JOH 13:15 আমি তোমাদের কাছে এক আদর্শ স্থাপন করেছি, যেন আমি তোমাদের প্রতি যা করলাম, তোমরাও তাই করো।
JOH 13:16 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কোনো দাস তার প্রভুর চেয়ে মহান নয়, কিংবা প্রেরিত ব্যক্তি তার প্রেরণকারীর চেয়ে মহান নয়।
JOH 13:17 তোমরা যেহেতু এখন এসব জেনেছ, তা পালন করলে তোমরা ধন্য হবে।
JOH 13:18 “আমি তোমাদের সকলের কথা বলছি না, কিন্তু যাদের আমি মনোনীত করেছি, তাদের আমি জানি। কিন্তু, ‘যে আমার রুটি ভাগ করে খেয়েছে, সে আমারই বিপক্ষে গেছে’ শাস্ত্রের এই বচন পূর্ণ হতে হবে।
JOH 13:19 “এরকম ঘটার আগেই আমি তোমাদের জানাচ্ছি, যখন তা ঘটবে, তোমরা যেন বিশ্বাস করতে পারো যে, আমিই তিনি।
JOH 13:20 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার প্রেরিত কোনো মানুষকে যে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে এবং যে আমাকে গ্রহণ করে, সে তাঁকেই গ্রহণ করে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।”
JOH 13:21 একথা বলার পর যীশু আত্মায় উদ্বিগ্ন হয়ে সাক্ষ্য দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।”
JOH 13:22 শিষ্যরা বিস্ময়ের দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকালেন, তাঁরা বুঝতে পারলেন না যে যীশু তাঁদের মধ্যে কার সম্পর্কে এই ইঙ্গিত করলেন।
JOH 13:23 তাঁদের মধ্যে এক শিষ্য, যীশু যাঁকে প্রেম করতেন, তিনি যীশুর বুকে হেলান দিয়ে বসেছিলেন।
JOH 13:24 শিমোন পিতর সেই শিষ্যকে ইশারায় বললেন, “ওঁকে জিজ্ঞাসা করো, কার সম্পর্কে তিনি একথা বলছেন।”
JOH 13:25 যীশুর বুকের দিকে পিছন ফিরে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, সে কে?”
JOH 13:26 যীশু উত্তর দিলেন, “পাত্রে ডুবিয়ে রুটির টুকরোটি আমি যার হাতে তুলে দেব, সেই তা করবে।” এরপর, রুটির টুকরোটি ডুবিয়ে তিনি শিমোনের পুত্র যিহূদা ইষ্কারিয়োৎকে দিলেন।
JOH 13:27 যিহূদা রুটি গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে শয়তান তার মধ্যে প্রবেশ করল। যীশু তাকে বললেন, “তুমি যা করতে উদ্যত, তা তাড়াতাড়ি করে ফেলো।”
JOH 13:28 কিন্তু যাঁরা খাবার খাচ্ছিলেন তাঁদের কেউই বুঝতে পারলেন না যে, যীশু একথা তাকে কেন বললেন।
JOH 13:29 যিহূদার হাতে টাকাপয়সার দায়িত্ব ছিল বলে কেউ কেউ মনে করলেন যে, যীশু তাকে পর্বের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার কথা, অথবা দরিদ্রদের কিছু দান করার বিষয়ে বলছেন।
JOH 13:30 রুটির টুকরোটি গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে যিহূদা বাইরে বেরিয়ে গেল। বাইরে তখন ঘোর অন্ধকার।
JOH 13:31 যিহূদা বেরিয়ে গেলে যীশু বললেন, “এখন মনুষ্যপুত্র মহিমান্বিত হলেন এবং ঈশ্বর তাঁর মধ্যে মহিমান্বিত হলেন।
JOH 13:32 ঈশ্বর যখন তাঁর মধ্যে মহিমান্বিত হলেন, তিনিও পুত্রকে নিজের মধ্যেই মহিমান্বিত করবেন এবং তাঁকে শীঘ্রই মহিমান্বিত করবেন।
JOH 13:33 “বৎসেরা, আমি আর কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে থাকব। তোমরা আমার সন্ধান করবে, আর ইহুদিদের যেমন বলেছি, এখন তোমাদেরও বলছি, আমি যেখানে যাচ্ছি, তোমরা সেখানে আসতে পারো না।
JOH 13:34 “আমি তোমাদের এক নতুন আজ্ঞা দিচ্ছি, তোমরা পরস্পরকে প্রেম করো। আমি যেমন তোমাদের প্রেম করেছি, তোমাদেরও তেমন পরস্পরকে প্রেম করতে হবে।
JOH 13:35 তোমাদের এই পারস্পরিক প্রেমের দ্বারাই সব মানুষ জানতে পারবে যে, তোমরা আমার শিষ্য।”
JOH 13:36 শিমোন পিতর তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” যীশু উত্তর দিলেন, “আমি যেখানে যাচ্ছি, তুমি এখন সেখানে আমার সঙ্গে আসতে পারো না, কিন্তু পরে আমার সঙ্গে আসতে পারো।”
JOH 13:37 পিতর বললেন, “প্রভু, কেন এখন আপনার সঙ্গে যেতে পারি না? আপনার জন্য আমি আমার প্রাণও দেব।”
JOH 13:38 তখন যীশু উত্তর দিলেন, “তুমি কি সত্যিই আমার জন্য প্রাণ দেবে? আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, মোরগ ডাকার আগেই তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।”
JOH 14:1 “তোমাদের হৃদয় যেন উদ্বিগ্ন না হয়। ঈশ্বরকে বিশ্বাস করো, আমাকেও বিশ্বাস করো।
JOH 14:2 আমার পিতার গৃহে অনেক ঘর আছে, যদি না থাকত, আমি তোমাদের বলতাম। তোমাদের জন্য আমি সেখানে স্থান প্রস্তুত করতে যাচ্ছি।
JOH 14:3 আর যখন আমি সেখানে যাই ও তোমাদের জন্য স্থানের ব্যবস্থা করি, আমি আবার ফিরে আসব এবং আমি যেখানে থাকি, সেখানে আমার সঙ্গে থাকার জন্য তোমাদের নিয়ে যাব।
JOH 14:4 আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে যাওয়ার পথ তোমরা জানো।”
JOH 14:5 থোমা তাঁকে বললেন, “প্রভু, আপনি কোথায় যাচ্ছেন, আমরা জানি না, তাহলে সেই পথ আমরা জানব কী করে?”
JOH 14:6 যীশু উত্তর দিলেন, “আমিই পথ ও সত্য ও জীবন। আমার মাধ্যমে না এলে, কোনো মানুষই পিতার কাছে আসতে পারে না।
JOH 14:7 তোমরা যদি আমাকে প্রকৃতই জানো, তাহলে আমার পিতাকেও জানবে। এখন থেকে তোমরা তাঁকে জেনেছ এবং দেখেছ।”
JOH 14:8 ফিলিপ বললেন, “প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখান, তাই আমাদের পক্ষে যথেষ্ট হবে।”
JOH 14:9 যীশু বললেন, “ফিলিপ, এত কাল আমি তোমাদের মধ্যে আছি, তবুও কি তুমি আমাকে চেনো না? যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে। তাহলে ‘পিতাকে আমাদের দেখান,’ একথা তুমি কী করে বলছ?
JOH 14:10 তোমরা কি বিশ্বাস করো না যে, আমি পিতার মধ্যে আছি এবং পিতা আমার মধ্যে আছেন? আমি তোমাদের যা কিছু বলি, তা শুধু আমার নিজের কথা নয়, বরং পিতা, যিনি আমার মধ্যে আছেন, তিনি তাঁর কাজ সম্পাদন করছেন।
JOH 14:11 তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো যে, আমি পিতার মধ্যে আমি আছি এবং পিতা আমার মধ্যে আছেন, না হলে অন্তত অলৌকিক সব কাজ দেখে বিশ্বাস করো।
JOH 14:12 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার উপর যার বিশ্বাস আছে, আমি যে কাজ করছি, সেও সেরকম কাজ করবে, এমনকি, এর চেয়েও মহৎ সব কাজ করবে, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি।
JOH 14:13 আর আমার নামে তোমরা যা কিছু চাইবে, আমি তাই পূরণ করব, যেন পুত্র পিতাকে মহিমান্বিত করেন।
JOH 14:14 আমার নামে তোমরা যা কিছু চাইবে, আমি তা পূরণ করব।
JOH 14:15 “তোমরা যদি আমাকে ভালোবেসে থাকো, তাহলে আমার সব আদেশ পালন করবে।
JOH 14:16 আমি পিতার কাছে নিবেদন করব এবং তোমাদের সঙ্গে চিরকাল থাকার জন্য তিনি আর এক সহায় তোমাদের দান করবেন।
JOH 14:17 তিনি সত্যের আত্মা। জগৎ তাঁকে গ্রহণ করতে পারে না। কারণ জগৎ তাঁকে দেখে না, তাঁকে জানেও না। কিন্তু তোমরা তাঁকে জানো, কারণ তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন এবং তিনি তোমাদের অন্তরে থাকবেন।
JOH 14:18 আমি তোমাদের অনাথ রেখে যাব না, আমি তোমাদের কাছে আসব।
JOH 14:19 অল্পকাল পরে জগৎ আর আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা আমাকে দেখতে পাবে। কারণ আমি জীবিত আছি, এই জন্য তোমরাও জীবিত থাকবে।
JOH 14:20 সেদিন তোমরা উপলব্ধি করবে যে, আমি পিতার মধ্যে আছি, আর তোমরা আমার মধ্যে এবং আমি তোমাদের মধ্যে আছি।
JOH 14:21 যে আমার আদেশ লাভ করে সেগুলি পালন করে, সেই আমাকে প্রেম করে। আমাকে যে প্রেম করে, আমার পিতাও তাকে প্রেম করবেন, আর আমিও তাকে প্রেম করব এবং নিজেকে তারই কাছে প্রকাশ করব।”
JOH 14:22 তখন যিহূদা (যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ নয়) বললেন, “কিন্তু প্রভু, আপনি জগতের কাছে নিজেকে প্রকাশ না করে, শুধুমাত্র আমাদের কাছে প্রকাশ করতে চান কেন?”
JOH 14:23 যীশু উত্তর দিলেন, “কেউ যদি আমাকে প্রেম করে, সে আমার বাক্য পালন করবে। আমার পিতা তাকে প্রেম করবেন। আমরা তার কাছে আসব এবং তারই সঙ্গে বাস করব।
JOH 14:24 যে আমাকে প্রেম করে না, সে আমার শিক্ষাও পালন করে না। তোমরা আমার যেসব বাণী শুনছ, তা আমার নিজের নয়, সেগুলি পিতার, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
JOH 14:25 “তোমাদের মধ্যে থাকার সময়ে আমি এ সমস্ত কথা বললাম,
JOH 14:26 কিন্তু সেই সহায়, সেই পবিত্র আত্মা, যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠাবেন, তিনি সমস্ত বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেবেন এবং তোমাদের কাছে আমার বলা সমস্ত বাক্য তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন।
JOH 14:27 আমি তোমাদের মধ্যে শান্তি রেখে যাচ্ছি, আমারই শান্তি তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি। জগৎ যেভাবে দেয়, আমি সেভাবে তোমাদের দান করি না। তোমাদের হৃদয় যেন উদ্বিগ্ন না হয় এবং তোমরা ভীত হোয়ো না।
JOH 14:28 “তোমরা আমার কাছে শুনেছ, ‘আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু তোমাদের কাছে আবার ফিরে আসছি।’ তোমরা যদি আমাকে প্রেম করতে, আমি পিতার কাছে যাচ্ছি বলে তোমরা উল্লসিত হতে, কারণ পিতা আমার চেয়ে মহান।
JOH 14:29 এসব ঘটবার আগেই আমি এখন তোমাদের সেসব বলে দিলাম, যেন তা ঘটলে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো।
JOH 14:30 আমি তোমাদের সঙ্গে আর বেশিক্ষণ কথা বলব না, কারণ এই জগতের অধিকর্তা আসছে। আমার উপর তার কোনো অধিকার নেই।
JOH 14:31 কিন্তু জগৎ যেন শিক্ষাগ্রহণ করে যে, আমি পিতাকে প্রেম করি এবং পিতা আমাকে যা আদেশ করেন, আমি ঠিক তাই পালন করি। “এখন চলো, আমরা এখান থেকে যাই।
JOH 15:1 “আমিই প্রকৃত দ্রাক্ষালতা এবং আমার পিতা কৃষক।
JOH 15:2 আমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি শাখায় ফল না ধরলে, তিনি তা কেটে ফেলেন, কিন্তু যে শাখায় ফল ধরে তাদের প্রত্যেকটিকে তিনি পরিষ্কার করেন, যেন সেই শাখায় আরও বেশি ফল ধরে।
JOH 15:3 আমার বলা বাক্যের দ্বারা তোমরা ইতিমধ্যেই শুচিশুদ্ধ হয়েছ।
JOH 15:4 তোমরা আমার মধ্যে থাকলে, আমিও তোমাদের মধ্যে থাকব। নিজে থেকে কোনো শাখা ফলধারণ করতে পারে না, দ্রাক্ষালতার সঙ্গে অবশ্যই সেটিকে যুক্ত থাকতে হবে। আমার সঙ্গে যুক্ত না থাকলে, তোমরাও ফলবান হতে পারো না।
JOH 15:5 “আমি দ্রাক্ষালতা, তোমরা সবাই শাখা। যে আমার মধ্যে থাকে এবং আমি যার মধ্যে থাকি, সে প্রচুর ফলে ফলবান হবে; আমাকে ছাড়া তোমরা কিছুই করতে পারো না।
JOH 15:6 কেউ যদি আমার মধ্যে না থাকে, সে সেই শাখার মতো, যেটিকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয় ও সেটি শুকিয়ে যায়। সেই শাখাগুলিকে তুলে নিয়ে আগুনে ফেলা হয় ও সেগুলি পুড়ে যায়।
JOH 15:7 তোমরা যদি আমার মধ্যে থাকো এবং আমার বাক্য তোমাদের মধ্যে থাকে, তোমরা যা কিছুই প্রার্থনা করো, তা তোমাদের দেওয়া হবে।
JOH 15:8 এতেই আমার পিতা মহিমান্বিত হন যে, তোমরা প্রচুর ফলে ফলবান হও, আর এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে তোমরা আমার শিষ্য।
JOH 15:9 “পিতা যেমন আমাকে ভালোবেসেছেন, আমিও তেমন তোমাদের ভালোবেসেছি। তোমরা এখন আমার প্রেমে অবস্থিতি করো।
JOH 15:10 তোমরা যদি আমার আদেশ পালন করো, তাহলে আমার প্রেমে অবস্থিতি করবে, যেমন আমি আমার পিতার আদেশ পালন করে তাঁর প্রেমে অবস্থিতি করছি।
JOH 15:11 আমি তোমাদের একথা বললাম, যেন আমার আনন্দ তোমাদের মধ্যে থাকে এবং তোমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয়।
JOH 15:12 আমি যেমন তোমাদের ভালোবেসেছি, তোমরা তেমনই পরস্পরকে ভালোবেসো, এই আমার আদেশ।
JOH 15:13 বন্ধুদের জন্য যে নিজের প্রাণ সমর্পণ করে, তার চেয়ে মহত্তর প্রেম আর কিছু নেই।
JOH 15:14 তোমরা যদি আমার আদেশ পালন করো, তাহলে তোমরা আমার বন্ধু।
JOH 15:15 আমি তোমাদের আর দাস বলে ডাকি না, কারণ একজন প্রভু কী করেন, দাস তা জানে না। বরং, আমি তোমাদের বন্ধু বলে ডাকি, কারণ আমার পিতার কাছ থেকে আমি যা কিছু জেনেছি, তা তোমাদের জানিয়েছি।
JOH 15:16 তোমরা আমাকে মনোনীত করোনি, আমিই তোমাদের মনোনীত করেছি এবং ফলধারণ করবার জন্য নিযুক্ত করেছি—সেই ফল যেন স্থায়ী হয়—তাতে আমার নামে পিতার কাছে তোমরা যা কিছু প্রার্থনা করবে, তা তিনি তোমাদের দান করবেন।
JOH 15:17 আমার আদেশ এই: তোমরা পরস্পরকে প্রেম করো।
JOH 15:18 “জগৎ যদি তোমাদের ঘৃণা করে, তাহলে মনে রেখো যে, জগৎ প্রথমে আমাকেই ঘৃণা করেছে।
JOH 15:19 তোমরা যদি জগতের হতে, তাহলে জগৎ তোমাদের তার আপনজনের মতো ভালোবাসতো। তোমরা এ জগতের নও, বরং এ জগতের মধ্য থেকে আমি তোমাদের মনোনীত করেছি। তাই জগৎ তোমাদের ঘৃণা করে।
JOH 15:20 আমি তোমাদের কাছে যেসব কথা বলেছি, তা মনে রাখো: ‘কোনো দাস তার প্রভুর চেয়ে মহান নয়।’ তারা যখন আমাকে তাড়না করেছে, তখন তোমাদেরও তাড়না করবে। তারা আমার শিক্ষা মান্য করলে, তোমাদের শিক্ষাও মান্য করবে।
JOH 15:21 আমার নামের জন্য তোমাদের সঙ্গে তারা এরকম আচরণ করবে, কারণ আমাকে যিনি পাঠিয়েছেন, তারা তাঁকে জানে না।
JOH 15:22 আমি যদি না আসতাম এবং তাদের সঙ্গে কথা না বলতাম, তাহলে তাদের পাপ হত না। কিন্তু এখন পাপের জন্য তাদের অজুহাত দেওয়ার উপায় নেই।
JOH 15:23 যে আমাকে ঘৃণা করে, সে আমার পিতাকেও ঘৃণা করে।
JOH 15:24 যা কেউ করেনি, সেইসব কাজ যদি আমি তাদের মধ্যে না করতাম, তবে তাদের পাপ হত না। কিন্তু তারা এখন এসব অলৌকিক ঘটনা নিজেদের চোখে দেখেছে। তবুও তারা আমাকে, ও আমার পিতাকে ঘৃণা করেছে।
JOH 15:25 ‘কিন্তু তারা বিনা কারণে আমাকে ঘৃণা করেছে,’ তাদের বিধানশাস্ত্রে লিখিত এই বচন সফল করার জন্যই এসব ঘটেছে।
JOH 15:26 “যাঁকে আমি পিতার কাছ থেকে পাঠাব, সেই সহায় যখন আসবেন, পিতার কাছ থেকে নির্গত সেই সত্যের আত্মা, তিনি আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।
JOH 15:27 আর তোমরাও আমার সাক্ষ্য হবে, কারণ প্রথম থেকেই তোমরা আমার সঙ্গে আছ।
JOH 16:1 “আমি তোমাদের এ সমস্ত কথা বললাম, যেন তোমরা বিপথে না যাও।
JOH 16:2 ওরা সমাজভবন থেকে তোমাদের বহিষ্কার করবে; এমনকি সময় আসছে, যখন তোমাদের যারা হত্যা করবে তারা ভাববে যে তারা ঈশ্বরের উদ্দেশে এক নৈবেদ্য উৎসর্গ করছে।
JOH 16:3 ওরা পিতাকে বা আমাকে জানে না বলেই, এই সমস্ত কাজ করবে।
JOH 16:4 একথা আমি তোমাদের এজন্য বললাম যে, সময় উপস্থিত হলে তোমরা মনে করতে পারো যে, আমি আগেই তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। আমি প্রথমে তোমাদের একথা বলিনি, কারণ আমি এতদিন তোমাদের সঙ্গেই ছিলাম।
JOH 16:5 “যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, এখন আমি তাঁরই কাছে যাচ্ছি, অথচ তোমরা কেউই আমাকে জিজ্ঞাসা করছ না, ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন?’
JOH 16:6 এ সমস্ত কথা আমি বলেছি বলেই তোমাদের হৃদয় দুঃখে ভরে গেছে।
JOH 16:7 কিন্তু আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মঙ্গলের জন্যই আমি চলে যাচ্ছি। আমি না গেলে সেই সহায় তোমাদের কাছে আসবেন না। আমি গিয়ে তাঁকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব।
JOH 16:8 তিনি এসে পাপ, ধার্মিকতা এবং বিচার সম্বন্ধে জগৎকে অভিযুক্ত করবেন:
JOH 16:9 পাপের সম্বন্ধে করবেন, কারণ মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে না;
JOH 16:10 ধার্মিকতার সম্বন্ধে করবেন, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি এবং তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না;
JOH 16:11 আর বিচার সম্বন্ধে করবেন, কারণ এই জগতের অধিপতি এখন দোষী প্রমাণিত হয়েছে।
JOH 16:12 “তোমাদেরকে আমার আরও অনেক কিছু বলার আছে, যা এখন তোমরা সহ্য করতে পারবে না।
JOH 16:13 কিন্তু যখন তিনি, সেই সত্যের আত্মা আসবেন, তিনি তোমাদের সমস্ত সত্যের পথে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজে থেকে কিছুই বলবেন না, তিনি যা শুনবেন, তিনি শুধু তাই বলবেন। আর তিনি আগামী দিনের ঘটনার কথাও তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
JOH 16:14 তিনি আমাকেই মহিমান্বিত করবেন, কারণ তিনি আমার কাছ থেকে যা গ্রহণ করবেন তা তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
JOH 16:15 যা কিছু পিতার অধিকারভুক্ত, তা আমারই। সেজন্যই আমি বলছি পবিত্র আত্মা আমার কাছ থেকে সেইসব গ্রহণ করে তোমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
JOH 16:16 “কিছুকাল পরে তোমরা আমাকে আর দেখতে পাবে না, কিন্তু তার অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে আবার দেখতে পাবে, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি।”
JOH 16:17 তখন তাঁর কয়েকজন শিষ্য পরস্পর বলাবলি করলেন, “ ‘আর কিছুকাল পরে তোমরা আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তার অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে আবার দেখতে পাবে,’ আবার বলছেন, ‘কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি,’ এসব কথার মাধ্যমে তিনি কী বলতে চাইছেন?”
JOH 16:18 তাঁরা আরও বললেন, “ ‘অল্পকাল পরে’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? আমরা তাঁর কথার মানে বুঝতে পারছি না।”
JOH 16:19 যীশু বুঝতে পারলেন, তাঁরা এ সম্পর্কে তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চান। তাই তিনি বললেন, “ ‘আর কিছুকাল পরে তোমরা আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তার অল্পকাল পরে তোমরা আমাকে দেখতে পাবে,’ আমার একথার অর্থ কি তোমরা পরস্পরের কাছে জানতে চাইছ?
JOH 16:20 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা যখন কাঁদবে ও শোক করবে, জগৎ তখন আনন্দ করবে। তোমরা শোক করবে, কিন্তু তোমাদের শোক আনন্দে রূপান্তরিত হবে।
JOH 16:21 সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় নারী যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ওঠে, কারণ তার সময় পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সন্তানের জন্ম হলে, আনন্দে সে তার যন্ত্রণা ভুলে যায়, কারণ জগতে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে।
JOH 16:22 তোমাদের ক্ষেত্রেও তাই। এখন তোমাদের শোকের সময়, কিন্তু আমি তোমাদের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ করব এবং তোমরা আনন্দ করবে। তোমাদের সেই আনন্দ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
JOH 16:23 সেদিন তোমরা আমার কাছে আর কিছু চাইবে না। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার নামে, আমার পিতার কাছে, তোমরা যা কিছু প্রার্থনা করবে, তা তিনি তোমাদের দান করবেন।
JOH 16:24 এখনও পর্যন্ত তোমরা আমার নামে কোনো কিছুই চাওনি। চাও, তোমরা পাবে এবং তখন তোমাদের আনন্দ পূর্ণ হবে।
JOH 16:25 “আমি রূপকের মাধ্যমে কথা বললেও এমন এক সময় আসছে, যখন আমি আর এমন ভাষা প্রয়োগ করব না। আমার পিতার সম্পর্কে আমি স্পষ্টভাবে কথা বলব।
JOH 16:26 সেদিন তোমরা আমার নামে চাইবে। আমি বলছি না যে, তোমাদের পক্ষে আমি পিতার কাছে অনুরোধ করব,
JOH 16:27 কিন্তু পিতা স্বয়ং তোমাদের প্রেম করেন, কারণ তোমরা আমাকে ভালোবেসেছ এবং বিশ্বাস করেছ যে, আমি পিতার কাছ থেকে এসেছি।
JOH 16:28 আমি পিতার কাছ থেকে এসে এই জগতে প্রবেশ করেছি। এখন আমি জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে পিতার কাছে ফিরে যাচ্ছি।”
JOH 16:29 তাঁর শিষ্যেরা তখন বললেন, “এখন আপনি রূপকের সাহায্য না নিয়েই স্পষ্টভাবে কথা বলছেন।
JOH 16:30 এখন আমরা জানতে পারলাম যে, আপনি সবই জানেন এবং আপনাকে প্রশ্ন করার কারও কোনো প্রয়োজন নেই। এর দ্বারাই আমরা বিশ্বাস করছি যে, ঈশ্বরের কাছ থেকে আপনি এসেছেন।”
JOH 16:31 যীশু উত্তর দিলেন, “অবশেষে তোমরা বিশ্বাস করলে!
JOH 16:32 কিন্তু সময় আসছে, বরং এসে পড়েছে, যখন তোমরা ছিন্নভিন্ন হয়ে প্রত্যেকে আপন আপন ঘরের কোণে ফিরে যাবে। তোমরা আমাকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পরিত্যাগ করবে। তবুও আমি নিঃসঙ্গ নই, কারণ আমার পিতা আমার সঙ্গে আছেন।
JOH 16:33 “আমি তোমাদের এসব কথা জানালাম, যেন আমার মধ্যে তোমরা শান্তি লাভ করো। এই জগতে তোমরা সংকটের সম্মুখীন হবে, কিন্তু সাহস করো! আমি এই জগৎকে জয় করেছি।”
JOH 17:1 একথা বলে যীশু স্বর্গের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করলেন, “পিতা, সময় উপস্থিত হয়েছে, তোমার পুত্রকে মহিমান্বিত করো, যেন তোমার পুত্র তোমাকে মহিমান্বিত করতে পারেন।
JOH 17:2 কারণ সব মানুষের উপর তুমি তাঁকে কর্তৃত্ব দান করেছ, যেন তুমি তাঁর হাতে যাদের অর্পণ করেছ, তিনি তাদের অনন্ত জীবন দিতে পারেন।
JOH 17:3 আর এই হল অনন্ত জীবন যে, তারা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় ঈশ্বরকে, এবং তুমি যাঁকে পাঠিয়েছ, সেই যীশু খ্রীষ্টকে জানতে পারে।
JOH 17:4 তোমার দেওয়া কাজ সম্পূর্ণ করে, আমি পৃথিবীতে তোমাকে মহিমান্বিত করেছি।
JOH 17:5 তাই এখন পিতা, জগৎ সৃষ্টির আগে তোমার কাছে আমার যে মহিমা ছিল, তোমার সান্নিধ্যে আমাকে সেই মহিমায় ভূষিত করো।
JOH 17:6 “এই জগতের মধ্য থেকে যাদের তুমি আমায় দিয়েছিলে, তাদের কাছে আমি তোমাকে প্রকাশ করেছি। তারা তোমারই ছিল, তুমি তাদের আমাকে দিয়েছ। তারা তোমার বাক্য পালন করেছে।
JOH 17:7 এখন তারা জানে, যা কিছু তুমি আমাকে দিয়েছ, তা তোমারই দেওয়া।
JOH 17:8 আমাকে দেওয়া তোমার সব বাণী আমি তাদের দান করেছি। তারা তা গ্রহণ করেছে। তারা সত্যিই জানে যে, আমি তোমারই কাছ থেকে এসেছি, আর তারা বিশ্বাস করেছে যে, তুমি আমাকে পাঠিয়েছ।
JOH 17:9 তাদেরই জন্য আমি নিবেদন করছি। আমি জগতের জন্য নিবেদন করছি না, কিন্তু যাদের তুমি আমাকে দিয়েছ, তাদেরই জন্য করছি, কারণ তারা তোমারই।
JOH 17:10 আমার যা কিছু আছে সবই তোমার, আর তোমার সবকিছুই আমার। তাদেরই মধ্যে আমি মহিমান্বিত হয়েছি।
JOH 17:11 আমি জগতে আর থাকব না, কিন্তু ওরা এখনও জগতে আছে। আমি তোমার কাছে যাচ্ছি। পবিত্র পিতা, যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, তোমার সেই নামের শক্তিতে তাদের রক্ষা করো। আমরা যেমন এক, তারাও যেন তেমনই এক হতে পারে।
JOH 17:12 তাদের সঙ্গে থাকার সময় যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নামে আমি তাদের রক্ষা করে নিরাপদে রেখেছি। তাদের মধ্যে আর কেউই বিনষ্ট হয়নি কেবলমাত্র সেই বিনাশ-সন্তান ছাড়া, যেন শাস্ত্রবাক্য পূর্ণ হয়।
JOH 17:13 “আমি এখন তোমার কাছে আসছি, কিন্তু জগতে থাকার সময়েই আমি এ সমস্ত বিষয়ে বলছি, যেন আমার আনন্দ তাদের হৃদয়ে সম্পূর্ণ হয়।
JOH 17:14 তোমার বাণী তাদের কাছে আমি প্রকাশ করেছি, কিন্তু জগৎ তাদের ঘৃণা করেছে, কারণ তারা আর জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই।
JOH 17:15 আমি এই নিবেদন করছি না যে তুমি তাদের জগৎ থেকে নিয়ে নাও কিন্তু সেই পাপাত্মা থেকে তাদের রক্ষা করো।
JOH 17:16 তারা জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই।
JOH 17:17 সত্যের দ্বারা তুমি তাদের পবিত্র করো, তোমার বাক্যই সত্য।
JOH 17:18 তুমি যেমন আমাকে জগতে পাঠিয়েছ, আমিও তেমনই তাদের জগতে পাঠাচ্ছি।
JOH 17:19 তাদেরই জন্য আমি নিজেকে পবিত্র করি, যেন তারাও সত্যের দ্বারা পবিত্র হতে পারে।
JOH 17:20 “শুধু তাদেরই জন্য আমি নিবেদন করছি না। তাদের বাক্য প্রচারের মাধ্যমে যারা আমাকে বিশ্বাস করবে, আমি তাদের জন্যও নিবেদন করছি, যেন তারাও সকলে এক হয়।
JOH 17:21 যেমন পিতা, তুমি আমার মধ্যে এবং আমি তোমার মধ্যে আছি, যেন তারাও আমাদের মধ্যে এক হয়, যেন জগৎ বিশ্বাস করে যে, তুমি আমাকে পাঠিয়েছ।
JOH 17:22 তুমি আমাকে যে মহিমা দিয়েছিলে, তাদের আমি তা দিয়েছি, যেন তারা এক হয়, যেমন আমরা এক।
JOH 17:23 আমি তাদের মধ্যে এবং তুমি আমার মধ্যে আছ। তারা যেন সম্পূর্ণ এক হয় এবং জগৎ যেন জানতে পারে যে, তুমিই আমাকে পাঠিয়েছ এবং তুমি যেমন আমাকে ভালোবেসেছ, তেমনই তাদেরও ভালোবেসেছ।
JOH 17:24 “পিতা, তুমি যাদের আমাকে দিয়েছ, আমি চাই, আমি যেখানে থাকি, তারাও যেন সেখানে আমার সঙ্গে থাকে এবং তারাও যেন সেই মহিমা দেখতে পায় যে মহিমা তুমি আমাকে দিয়েছ, কারণ জগৎ সৃষ্টির আগে থেকেই তুমি আমাকে ভালোবেসেছ।
JOH 17:25 “ধর্মময় পিতা, জগৎ তোমাকে না জানলেও আমি তোমাকে জানি, আর তারা জানে যে, তুমিই আমাকে পাঠিয়েছ।
JOH 17:26 তোমাকে আমি তাদের কাছে প্রকাশ করেছি এবং তা প্রকাশ করতেই থাকব, যেন আমার প্রতি তোমার যে প্রেম, তা তাদের মধ্যে থাকে এবং আমি স্বয়ং যেন তাদের মধ্যে থাকি।”
JOH 18:1 প্রার্থনা শেষ করে যীশু শিষ্যদের সঙ্গে সেই স্থান ত্যাগ করলেন এবং কিদ্রোণ উপত্যকা পার হয়ে গেলেন। অন্য পারে একটি বাগান ছিল। যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা সেখানে প্রবেশ করলেন।
JOH 18:2 যিহূদা, যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেই স্থানটি সম্বন্ধে জানত, কারণ যীশু প্রায়ই সেখানে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে মিলিত হতেন।
JOH 18:3 তাই যিহূদা সৈন্যদল, প্রধান যাজকদের ও ফরিশীদের প্রেরিত কিছু কর্মচারীকে পথ দেখিয়ে সেই বাগানে প্রবেশ করল। তাদের সঙ্গে ছিল মশাল, লণ্ঠন এবং অস্ত্রশস্ত্র।
JOH 18:4 তাঁর প্রতি যা কিছু ঘটতে চলেছে জানতে পেরে, যীশু এগিয়ে এসে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কাকে খুঁজছ?”
JOH 18:5 তারা উত্তর দিল, “নাসরতের যীশুকে।” যীশু বললেন, “আমিই তিনি।” বিশ্বাসঘাতক যিহূদাও তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।
JOH 18:6 “আমিই তিনি,” যীশুর এই কথা শুনে তারা পিছিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
JOH 18:7 তিনি তাদের আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কাকে চাও?” তারা বলল, “নাসরতের যীশুকে।”
JOH 18:8 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তো তোমাদের বললাম, আমিই তিনি। যদি তোমরা আমারই সন্ধান করছ, তাহলে এদের যেতে দাও।”
JOH 18:9 এরকম ঘটল, যেন তিনি যে কথা বলেছিলেন, তা পূর্ণ হয়, “যাদের তুমি আমাকে দান করেছ, তাদের একজনকেও আমি হারাইনি।”
JOH 18:10 তখন শিমোন পিতর তার তরোয়াল বের করে মহাযাজকের দাসকে আঘাত করলেন এবং তার ডানদিকের কান কেটে ফেললেন। সেই দাসের নাম ছিল মল্ক।
JOH 18:11 যীশু পিতরকে আদেশ দিলেন, “তোমার তরোয়াল কোষে রেখে দাও। পিতা আমাকে যে পানপাত্র দিয়েছেন, আমি কি তা থেকে পান করব না?”
JOH 18:12 তখন সৈন্যদল, সেনাপতি এবং ইহুদি কর্মচারীরা যীশুকে গ্রেপ্তার করে বেঁধে ফেলল।
JOH 18:13 প্রথমে তারা তাঁকে হাননের কাছে নিয়ে এল। তিনি ছিলেন সেই বছরের মহাযাজক, কায়াফার শ্বশুর।
JOH 18:14 এই কায়াফাই ইহুদিদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, সমগ্র জাতির জন্য বরং একজনের মৃত্যুই ভালো।
JOH 18:15 শিমোন পিতর এবং আর এক শিষ্য যীশুকে অনুসরণ করছিলেন। সেই শিষ্য মহাযাজকের পরিচিত ছিলেন। তাই তিনি যীশুর সঙ্গে মহাযাজকের উঠানে প্রবেশ করলেন।
JOH 18:16 কিন্তু পিতরকে দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হল। মহাযাজকের পরিচিত অপর শিষ্যটি ফিরে এলেন এবং সেখানে কর্তব্যরত দাসীকে বলে পিতরকে ভিতরে নিয়ে গেলেন।
JOH 18:17 দ্বাররক্ষী সেই দাসী পিতরকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি তাঁর শিষ্যদেরই একজন নও?” তিনি উত্তর দিলেন, “না, আমি নই।”
JOH 18:18 তখন ছিল শীতকাল। নিজেদের উষ্ণ করার জন্য পরিচারক এবং কর্মচারীরা আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে দাঁড়িয়েছিল। পিতরও তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন।
JOH 18:19 মহাযাজক ইতিমধ্যে যীশুকে তাঁর শিষ্যদের এবং তাঁর শিক্ষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন।
JOH 18:20 যীশু উত্তর দিলেন, “জগতের সামনে আমি প্রকাশ্যে প্রচার করেছি। ইহুদিরা সকলে যেখানে সমবেত হয়, সেই সমাজভবনে, অথবা মন্দিরে, আমি সবসময়ই শিক্ষা দিয়েছি, গোপনে কিছুই বলিনি।
JOH 18:21 আমাকে প্রশ্ন করছ কেন? আমার শিক্ষা যারা শুনেছে, তাদের জিজ্ঞাসা করো। আমি যা বলেছি, তারা নিশ্চয়ই তা জানে।”
JOH 18:22 যীশুর একথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক কর্মচারী তাঁর মুখে চড় মারল। সে বলল, “মহাযাজকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কি এই রীতি?”
JOH 18:23 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি যদি অন্যায় কিছু বলে থাকি, তাহলে সেই অন্যায়ের বিপক্ষে সাক্ষ্য দাও। কিন্তু যদি আমি সত্যিকথা বলে থাকি, তাহলে তুমি আমাকে কেন আঘাত করলে?”
JOH 18:24 হানন তখনই তাঁকে বাঁধন সমেত মহাযাজক কায়াফার কাছে পাঠালেন।
JOH 18:25 শিমোন পিতর যখন দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন, একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমিও কি তাঁর শিষ্যদের একজন নও?” তিনি অস্বীকার করলেন, বললেন, “আমি নই।”
JOH 18:26 মহাযাজকের দাসেদের মধ্যে একজন, পিতর যার কান কেটে দিয়েছিলেন, তার এক আত্মীয় দৃঢ়তার সঙ্গে বলল, “আমি কি বাগানে তোমাকে তাঁর সঙ্গে দেখিনি?”
JOH 18:27 পিতর আবার সেকথা অস্বীকার করলেন, আর সেই মুহূর্তে একটি মোরগ ডাকতে শুরু করল।
JOH 18:28 পরে ইহুদি নেতারা যীশুকে কায়াফার কাছ থেকে নিয়ে রোমীয় প্রদেশপালের প্রাসাদে গেল। তখন ভোর হয়ে আসছিল। ইহুদি নেতারা নিজেদের কলুষিত করতে চায়নি। তারা যেন নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করতে পারে, এজন্য তারা প্রাসাদে প্রবেশ করল না।
JOH 18:29 তাই পীলাত তাদের কাছে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই মানুষটির বিরুদ্ধে তোমাদের অভিযোগ কী?”
JOH 18:30 তারা উত্তর দিল, “সে অপরাধী না হলে, আমরা তাকে আপনার হাতে তুলে দিতাম না।”
JOH 18:31 পীলাত বললেন, “তোমরা নিজেরাই ওকে নিয়ে গিয়ে তোমাদের নিজস্ব বিধান অনুসারে ওর বিচার করো।” ইহুদিরা আপত্তি জানিয়ে বলল, “কিন্তু কাউকে প্রাণদণ্ড দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই।”
JOH 18:32 তাঁর কীভাবে মৃত্যু হবে, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে যীশু যে কথা বলেছিলেন, তা সফল হয়ে ওঠার জন্যই এরকম ঘটল।
JOH 18:33 পীলাত তখন প্রাসাদের অভ্যন্তরে ফিরে গিয়ে যীশুকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমিই কি ইহুদিদের রাজা?”
JOH 18:34 উত্তরে যীশু বললেন, “এ কি তোমার নিজের ধারণা, না অন্যেরা আমার সম্পর্কে তোমাকে বলেছে?”
JOH 18:35 পীলাত উত্তর দিলেন, “আমি কি ইহুদি? তোমারই স্বজাতিয়েরা এবং প্রধান যাজকেরা তোমাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছে। কী করেছ তুমি?”
JOH 18:36 যীশু বললেন, “আমার রাজ্য এ জগতের নয়। তা যদি হত, ইহুদিদের দ্বারা আমার গ্রেপ্তার আটকানোর জন্য আমার অনুচররা প্রাণপণ সংগ্রাম করত। কিন্তু আমার রাজ্য তো এখানকার নয়।”
JOH 18:37 পীলাত বললেন, “তাহলে, তুমি তো একজন রাজাই!” যীশু উত্তর দিলেন, “তুমি সংগত কথাই বলছ যে, আমি একজন রাজা। প্রকৃতপক্ষে, এজন্যই আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আর এই কারণেই, সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আমি জগতে এসেছি। যে সত্যের পক্ষে, সে আমার কথা শোনে।”
JOH 18:38 পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “সত্য কী?” একথা বলে তিনি বাইরে ইহুদিদের কাছে আবার গেলেন। তিনি বললেন, “ওকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো কারণই আমি খুঁজে পাচ্ছি না।
JOH 18:39 কিন্তু তোমাদের প্রথা অনুসারে নিস্তারপর্বের সময় একজন বন্দিকে আমি কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে থাকি। তোমরা কি চাও যে, ‘ইহুদিদের রাজাকে’ আমি তোমাদের জন্য মুক্ত করে দিই?”
JOH 18:40 তারা চিৎকার করে উঠল, “না, ওকে নয়! বারাব্বাকে আমাদের দিন।” সেই বারাব্বা এক বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল।
JOH 19:1 পীলাত তখন যীশুকে নিয়ে গিয়ে চাবুক দিয়ে প্রহার করালেন।
JOH 19:2 সৈন্যরা একটি কাঁটার মুকুট তৈরি করে তাঁর মাথায় পরালো। তারা তাঁকে বেগুনি রংয়ের পোশাক পরিয়ে দিল।
JOH 19:3 বারবার তাঁর কাছে গিয়ে তারা বলতে লাগল, “ইহুদি-রাজ নমস্কার!” আর তাঁর মুখে তারা চড় মারতে লাগল।
JOH 19:4 পীলাত আর একবার বাইরে এসে ইহুদিদের বললেন, “দেখো, ওকে অভিযুক্ত করার মতো আমি কোনো অপরাধ খুঁজে পাইনি, একথা জানানোর জন্য ওকে আমি তোমাদের কাছে বের করে নিয়ে এসেছি।”
JOH 19:5 কাঁটার মুকুট এবং বেগুনি পোশাক পরে যীশু বেরিয়ে এলে পীলাত তাদের বললেন, “এই দেখো, সেই ব্যক্তি!”
JOH 19:6 প্রধান যাজকবৃন্দ ও তাদের কর্মচারীরা তাঁকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল, “ওকে ক্রুশে দিন, ক্রুশে দিন!” পীলাত বললেন, “তোমরাই ওকে নিয়ে ক্রুশে দাও। যদি আমার কথা বলো, ওকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো অপরাধ আমি পাইনি।”
JOH 19:7 ইহুদিরা জোর করতে লাগল, “আমাদের একটি বিধান আছে এবং সেই বিধান অনুসারে লোকটিকে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে, কারণ সে নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র বলে দাবি করেছে।”
JOH 19:8 একথা শুনে পীলাত আরও বেশি ভীত হয়ে পড়লেন
JOH 19:9 এবং প্রাসাদের ভিতরে ফিরে গিয়ে তিনি যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথা থেকে এসেছ?” কিন্তু যীশু তাঁকে কোনও উত্তর দিলেন না।
JOH 19:10 পীলাত বললেন, “তুমি কি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাও না? তুমি কি বুঝতে পারছ না, তোমাকে মুক্তি দেওয়ার বা ক্রুশবিদ্ধ করার ক্ষমতা আমার আছে?”
JOH 19:11 যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বর তোমাকে এ ক্ষমতা না দিলে আমার উপর তোমার কোনো অধিকার থাকত না, তাই যে আমাকে তোমার হাতে সমর্পণ করেছে, তার অপরাধ আরও বেশি।”
JOH 19:12 সেই সময় থেকে পীলাত যীশুকে মুক্ত করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ইহুদিরা চিৎকার করে বলতে লাগল, “এই লোকটিকে মুক্তি দিলে আপনি কৈসরের বন্ধু নন। যে নিজেকে রাজা বলে দাবি করে, সে কৈসরের বিরুদ্ধাচরণ করে।”
JOH 19:13 একথা শুনে পীলাত যীশুকে বাইরে নিয়ে এলেন এবং পাষাণ-বেদি নামে পরিচিত এক স্থানে বিচারের আসনে বসলেন (অরামীয় ভাষায় স্থানটির নাম, গব্বথা)।
JOH 19:14 সেদিন ছিল নিস্তারপর্বের প্রস্তুতির দিন। তখন প্রায় দুপুর। “এই দেখো, তোমাদের রাজা,” পীলাত ইহুদিদের বললেন।
JOH 19:15 কিন্তু তারা চিৎকার করে উঠল, “ওকে দূর করুন, দূর করুন, ওকে ক্রুশে দিন!” পীলাত জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের রাজাকে কি আমি ক্রুশে দেব?” প্রধান যাজকেরা উত্তর দিলেন, “কৈসর ছাড়া আমাদের আর কোনও রাজা নেই।”
JOH 19:16 অবশেষে পীলাত যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য তাদের হাতে সমর্পণ করলেন। তখন সৈন্যরা যীশুর দায়িত্ব গ্রহণ করল।
JOH 19:17 যীশু নিজের ক্রুশ বহন করে করোটি নামক স্থানে গেলেন (অরামীয় ভাষায় স্থানটির নাম গলগথা)।
JOH 19:18 তারা সেখানে অন্য দুজনের সঙ্গে তাঁকে ক্রুশার্পিত করল। দুই পাশে দুজন এবং মাঝখানে যীশু।
JOH 19:19 একটি বিজ্ঞপ্তি লিখিয়ে পীলাত ক্রুশে ঝুলিয়ে দিলেন। তাতে লেখা ছিল: নাসরতের যীশু, ইহুদিদের রাজা।
JOH 19:20 যীশুকে যেখানে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই স্থানটি ছিল নগরের কাছেই। অনেক ইহুদি এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ল। এটি লেখা হয়েছিল অরামীয়, লাতিন ও গ্রিক ভাষায়।
JOH 19:21 ইহুদিদের প্রধান যাজকেরা পীলাতের কাছে প্রতিবাদ জানাল, “ ‘ইহুদিদের রাজা,’ একথা লিখবেন না, বরং লিখুন যে এই লোকটি নিজেকে ইহুদিদের রাজা বলে দাবি করেছিল।”
JOH 19:22 পীলাত উত্তর দিলেন, “আমি যা লিখেছি, তা লিখেছি।”
JOH 19:23 সৈন্যরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার পর তাঁর পোশাক চার ভাগে ভাগ করে প্রত্যেকে একটি করে অংশ নিল। রইল শুধু অন্তর্বাসটি। সেই পোশাকে কোনো সেলাই ছিল না, উপর থেকে নিচ পর্যন্ত বোনা একটি অখণ্ড কাপড়ে সেটি তৈরি করা হয়েছিল।
JOH 19:24 তারা পরস্পরকে বলল, “এটা আমরা ছিঁড়ব না, এসো, এটা কার ভাগে পড়ে, তা নির্ধারণ করার জন্য গুটিকাপাত করি।” শাস্ত্রের এই বাণী যেন পূর্ণ হয় তাঁর জন্য এ ঘটনা ঘটল: “আমার পোশাক তারা তাদের মধ্যে ভাগ করে নিল, আর আমার আচ্ছাদনের জন্য গুটিকাপাতের দান ফেলল।” সুতরাং, সৈন্যরা তাই করল।
JOH 19:25 যীশুর ক্রুশের কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর মা, তাঁর মাসিমা, ক্লোপার স্ত্রী মরিয়ম এবং মাগ্দালাবাসী মরিয়ম।
JOH 19:26 যীশু সেখানে তাঁর মা এবং কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা শিষ্যকে, যাঁকে তিনি প্রেম করতেন, তাঁকে দেখে, তাঁর মাকে বললেন, “নারী, ওই দেখো, তোমার পুত্র!”
JOH 19:27 এবং সেই শিষ্যকে বললেন, “ওই দেখো, তোমার মা!” সেই সময় থেকে, সেই শিষ্য তাঁর মাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
JOH 19:28 এরপর, সবকিছুই সম্পূর্ণ হয়েছে জেনে, শাস্ত্রের বচন যেন পূর্ণ হয় সেইজন্য যীশু বললেন, “আমার পিপাসা পেয়েছে।”
JOH 19:29 সেখানে রাখা ছিল এক পাত্র অম্লরস। তারা সেই অম্লরসে এক টুকরো স্পঞ্জ ভিজিয়ে, সেটিকে এসোব গাছের ডাঁটায় লাগিয়ে যীশুর মুখের কাছে তুলে ধরল।
JOH 19:30 সেই পানীয় গ্রহণ করে যীশু বললেন, “সমাপ্ত হল।” এই কথা বলে তিনি তাঁর মাথা নত করে তাঁর আত্মা সমর্পণ করলেন।
JOH 19:31 সেদিন ছিল প্রস্তুতির দিন এবং পরদিন ছিল বিশেষ এক বিশ্রামদিন। ইহুদিরা চায়নি যে বিশ্রামদিনের সময় ওই দেহগুলি ক্রুশের উপর থাকে, তাই পা ভেঙে দিয়ে দেহগুলি ক্রুশের উপর থেকে নামাবার জন্য তারা পীলাতকে অনুরোধ করল।
JOH 19:32 সৈন্যরা সেই কারণে এসে যীশুর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ প্রথম ব্যক্তির এবং তারপর অন্য ব্যক্তির পা ভেঙে দিল।
JOH 19:33 কিন্তু তারা যীশুর কাছে এসে দেখল, ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই তারা তাঁর পা ভাঙল না।
JOH 19:34 বরং, সৈন্যদের একজন বর্শা দিয়ে যীশুর বুকে বিদ্ধ করলে রক্ত ও জলের ধারা নেমে এল।
JOH 19:35 যে এ বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী, সেই সাক্ষ্যদান করেছে এবং তার সাক্ষ্য সত্য। সে জানে যে, সে সত্য কথা বলেছে এবং সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যেন তোমরাও বিশ্বাস করতে পারো।
JOH 19:36 শাস্ত্রের বচন পূর্ণ হওয়ার জন্য এই সমস্ত ঘটল, “তাঁর একটিও হাড় ভাঙা হবে না” এবং
JOH 19:37 শাস্ত্রের অন্যত্র যেমন বলা হয়েছে, “তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে, তাঁরই উপরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে তারা।”
JOH 19:38 পরে, আরিমাথিয়ার যোষেফ যীশুর দেহের জন্য পীলাতের কাছে নিবেদন জানালেন। যোষেফ ছিলেন যীশুর একজন শিষ্য, কিন্তু ইহুদি নেতাদের ভয়ে তাঁকে গোপনে অনুসরণ করতেন। পীলাতের অনুমতি নিয়ে, তিনি এসে যীশুর দেহ নিয়ে গেলেন।
JOH 19:39 তার সঙ্গে ছিলেন নীকদীম, যিনি রাত্রিবেলা যীশুর সঙ্গে পূর্বে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। নীকদীম প্রায় চৌত্রিশ কিলোগ্রাম গন্ধরস মিশ্রিত অগুরু নিয়ে এলেন।
JOH 19:40 যীশুর দেহ নিয়ে তারা দুজনে সুগন্ধি মশলা মাখিয়ে লিনেন কাপড়ের ফালি দিয়ে জড়ালেন। ইহুদিদের সমাধিদানের প্রথা অনুসারে তারা এ কাজ করলেন।
JOH 19:41 যীশু যেখানে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেখানে একটি বাগান ছিল। সেই বাগানে ছিল একটি নতুন সমাধি, কাউকে কখনও তার মধ্যে কবর দেওয়া হয়নি।
JOH 19:42 সেদিন ছিল ইহুদিদের প্রস্তুতির দিন এবং সমাধিটি কাছেই ছিল বলে তারা সেখানেই যীশুর দেহ শুইয়ে রাখলেন।
JOH 20:1 সপ্তাহের প্রথম দিন ভোরবেলায়, অন্ধকার থাকতে থাকতেই, মাগ্দালাবাসী মরিয়ম সমাধির কাছে গিয়ে দেখলেন যে, প্রবেশমুখ থেকে পাথরটিকে সরানো হয়েছে।
JOH 20:2 তাই তিনি শিমোন পিতর এবং সেই অন্য শিষ্য, যীশু যাঁকে প্রেম করতেন, তাঁদের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন, “ওরা সমাধি থেকে প্রভুকে নিয়ে গেছে, ওরা তাঁকে কোথায় রেখেছে, আমরা জানি না!”
JOH 20:3 তাই পিতর এবং সেই অন্য শিষ্য সমাধিস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।
JOH 20:4 তাঁরা দুজনেই ছুটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অন্য শিষ্যটি পিতরকে অতিক্রম করে প্রথমে সমাধির কাছে পৌঁছালেন।
JOH 20:5 তিনি নত হয়ে ভিতরে পড়ে থাকা লিনেন কাপড়ের খণ্ডগুলি দেখতে পেলেন, কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করলেন না।
JOH 20:6 তাঁর পিছনে পিছনে শিমোন পিতর উপস্থিত হয়ে সমাধির ভিতরে প্রবেশ করলেন। তিনি দেখলেন লিনেন কাপড়ের খণ্ডগুলি
JOH 20:7 এবং যীশুর মাথার চারপাশে যে সমাধিবস্ত্র জড়ানো ছিল, সেগুলি সেখানে পড়ে আছে। সমাধিবস্ত্রটি লিনেন কাপড় থেকে পৃথকভাবে গুটানো অবস্থায় রাখা ছিল।
JOH 20:8 অবশেষে, অপর যে শিষ্যটি প্রথমে সমাধিতে পৌঁছেছিলেন, তিনিও ভিতরে প্রবেশ করলেন। তিনি দেখলেন ও বিশ্বাস করলেন।
JOH 20:9 (তখনও তাঁরা শাস্ত্রের বাণী উপলব্ধি করতে পারেননি যে, যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হতে হবে।)
JOH 20:10 এরপর শিষ্যেরা তাঁদের ঘরে ফিরে গেলেন।
JOH 20:11 কিন্তু মরিয়ম সমাধির বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। কাঁদতে কাঁদতে সমাধির ভিতরে দেখার জন্য তিনি নিচু হলেন।
JOH 20:12 যীশুর দেহ যেখানে শোয়ানো ছিল, সেখানে তিনি সাদা পোশাক পরে দুজন স্বর্গদূতকে দেখতে পেলেন, একজন মাথার দিকে এবং অন্যজন পায়ের দিকে বসে আছেন।
JOH 20:13 তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “নারী, তুমি কাঁদছ কেন?” তিনি বললেন, “ওরা আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে, তাঁকে কোথায় রেখেছে, আমি জানি না।”
JOH 20:14 এই বলে পিছনে ফিরতেই তিনি যীশুকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন, কিন্তু তিনি যে যীশু, মরিয়ম তা বুঝতে পারলেন না।
JOH 20:15 যীশু তাঁকে বললেন, “নারী, তুমি কাঁদছ কেন? কার সন্ধান করছ?” তাঁকে বাগানের মালি মনে করে মরিয়ম বললেন, “মহাশয়, আপনি যদি তাঁকে নিয়ে গিয়ে থাকেন, আমাকে বলুন, কোথায় তাঁকে রেখেছেন, আমি তাঁকে নিয়ে যাব।”
JOH 20:16 যীশু তাঁকে বললেন, “মরিয়ম!” তাঁর দিকে ঘুরে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, “রব্বুনি!” (শব্দটি অরামীয়, যার অর্থ, “গুরুমহাশয়”)।
JOH 20:17 যীশু তাঁকে বললেন, “আমাকে ধরে রেখো না, কারণ আমি এখনও পিতার কাছে ফিরে যাইনি। বরং, আমার ভাইদের কাছে গিয়ে তাঁদের বলো, ‘যিনি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা, যিনি আমার ঈশ্বর এবং তোমাদের ঈশ্বর, আমি তাঁর কাছে ফিরে যাচ্ছি।’ ”
JOH 20:18 মাগ্দালাবাসী মরিয়ম শিষ্যদের কাছে গিয়ে এই সংবাদ দিলেন, “আমি প্রভুকে দেখেছি!” আর যে সমস্ত বিষয়ের কথা যীশু তাঁকে বলেছিলেন, তিনি তাঁদের সেসব কথা বললেন।
JOH 20:19 সপ্তাহের প্রথম দিন, সন্ধ্যা হলে, শিষ্যেরা ইহুদিদের ভয়ে দরজা বন্ধ করে একত্র হয়েছিলেন। সেই সময় যীশু তাঁদের মধ্যে এসে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।”
JOH 20:20 একথা বলার পর তিনি তাঁর দু-হাত ও বুকের পাঁজর তাঁদের দেখালেন। প্রভুকে দেখে শিষ্যেরা আনন্দিত হয়ে উঠলেন।
JOH 20:21 যীশু আবার বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক! পিতা যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন, আমিও তেমন তোমাদের পাঠাচ্ছি।”
JOH 20:22 একথা বলে তিনি তাদের উপর ফুঁ দিয়ে বললেন, “পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করো।
JOH 20:23 তোমরা যাদের পাপ ক্ষমা করবে, তাদের ক্ষমা হবে, যাদের ক্ষমা করবে না, তাদের ক্ষমা হবে না।”
JOH 20:24 যীশু যখন এসেছিলেন, তখন বারোজন শিষ্যের অন্যতম, দিদুমঃ নামে আখ্যাত থোমা সেখানে ছিলেন না।
JOH 20:25 তাই অন্য শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, “আমি যতক্ষণ না তাঁর হাতে পেরেকের চিহ্ন দেখছি এবং যেখানে পেরেকের চিহ্ন ছিল, সেখানে আঙুল রাখছি, আর তাঁর বুকের পাশে আমার হাত রাখছি, ততক্ষণ আমি বিশ্বাস করব না।”
JOH 20:26 এক সপ্তাহ পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে ছিলেন। থোমা তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। দরজা বন্ধ করা থাকলেও যীশু এসে তাঁদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক!”
JOH 20:27 তারপর তিনি থোমাকে বললেন, “এখানে তোমার আঙুল রাখো। আমার হাত দুটি দেখো। তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, আমার বুকের পাশে রাখো। সন্দেহ কোরো না ও বিশ্বাস করো।”
JOH 20:28 থোমা তাঁকে বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার!”
JOH 20:29 যীশু তখন তাঁকে বললেন, “তুমি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করেছ, কিন্তু ধন্য তারা, যারা আমাকে না দেখেও বিশ্বাস করেছে।”
JOH 20:30 যীশু শিষ্যদের সাক্ষাতে আরও অনেক চিহ্নকাজ করেছিলেন, সে সমস্ত এই বইতে লিপিবদ্ধ হয়নি।
JOH 20:31 কিন্তু এ সমস্ত এজন্য লিখে রাখা হয়েছে, যেন তোমরা বিশ্বাস করো যে, যীশুই মশীহ, ঈশ্বরের পুত্র এবং বিশ্বাস করে তোমরা তাঁর নামে জীবন লাভ করো।
JOH 21:1 পরে, টাইবেরিয়াস সাগরের তীরে যীশু শিষ্যদের সামনে আবার আবির্ভূত হলেন। এভাবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করছিলেন:
JOH 21:2 শিমোন পিতর, থোমা (দিদুমঃ নামে আখ্যাত), গালীলের কানা নগরের নথনেল, সিবদিয়ের দুই পুত্র এবং অন্য দুজন শিষ্য সমবেত হয়েছিলেন।
JOH 21:3 শিমোন পিতর তাঁদের বললেন, “আমি মাছ ধরতে যাচ্ছি।” তাঁরা বললেন, “আমরাও তোমার সঙ্গে যাব।” তাই তাঁরা বের হয়ে নৌকায় উঠলেন, কিন্তু সেই রাত্রে তাঁরা কিছুই ধরতে পারলেন না।
JOH 21:4 ভোরবেলা যীশু তীরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু শিষ্যেরা বুঝতে পারলেন না যে, তিনিই যীশু।
JOH 21:5 যীশু তাঁদের বললেন, “বৎসেরা, তোমাদের কাছে কি কোনো মাছ নেই?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “না।”
JOH 21:6 তিনি বললেন, “নৌকার ডানদিকে তোমাদের জাল ফেলো, পাবে।” তাঁর নির্দেশমতো জাল ফেললে এত অসংখ্য মাছ ধরা পড়ল যে, তাঁরা জাল টেনে তুলতে পারলেন না।
JOH 21:7 তখন যীশুর সেই শিষ্য, যাঁকে তিনি প্রেম করতেন, তিনি পিতরকে বললেন, “উনি প্রভু!” যেই না শিমোন পিতর শুনলেন যে “উনি প্রভু,” তিনি তাঁর উপরের পোশাক শরীরে জড়িয়ে নিয়ে জলে ঝাঁপ দিলেন (কারণ তিনি তা খুলে রেখেছিলেন)।
JOH 21:8 অন্য শিষ্যেরা মাছ ভর্তি সেই জাল টানতে টানতে নৌকায় করে এলেন, কারণ তাঁরা তীর থেকে খুব একটি দূরে ছিলেন না, নব্বই মিটার মাত্র দূরে ছিলেন।
JOH 21:9 তীরে নেমে তাঁরা দেখলেন, কয়লার আগুন জ্বলছে এবং তাঁর উপরে মাছ ও কিছু রুটি রাখা আছে।
JOH 21:10 যীশু তাঁদের বললেন, “এইমাত্র যে মাছ তোমরা ধরেছ, তা থেকে কিছু নিয়ে এসো।”
JOH 21:11 শিমোন পিতর নৌকায় উঠে জালটিকে টেনে তীরে নিয়ে এলেন। সেটি একশো তিপ্পান্নটি বড়ো মাছে ভর্তি ছিল, কিন্তু অত মাছেও জাল ছিঁড়ল না।
JOH 21:12 যীশু তাঁদের বললেন, “এসো, খেয়ে নাও।” একজন শিষ্যও সাহস করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারলেন না, “আপনি কে,” কারণ তাঁরা জানতেন, তিনিই প্রভু।
JOH 21:13 যীশু এসে রুটি নিয়ে তাঁদের দিলেন, সেভাবে মাছও দিলেন।
JOH 21:14 মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের পর শিষ্যদের কাছে যীশুর এই ছিল তৃতীয় আবির্ভাব।
JOH 21:15 খাবার শেষে যীশু শিমোন পিতরকে বললেন, “যোহনের পুত্র শিমোন, তুমি কি আমাকে এদের চেয়েও বেশি প্রেম করো?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, প্রভু, আপনি জানেন, আমি আপনাকে ভালোবাসি।” যীশু তাঁকে বললেন, “আমার মেষশাবকদের চরাও।”
JOH 21:16 যীশু দ্বিতীয়বার তাঁকে বললেন, “যোহনের পুত্র শিমোন, তুমি কি আমাকে প্রেম করো?” তিনি তাঁকে বললেন, “হ্যাঁ, প্রভু। আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালোবাসি।” যীশু তাঁকে বললেন, “আমার মেষদের যত্ন করো।”
JOH 21:17 তৃতীয়বার তিনি তাঁকে বললেন, “যোহনের পুত্র শিমোন, তুমি কি আমাকে প্রেম করো?” পিতর দুঃখিত হলেন, কারণ তৃতীয়বার যীশু তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি আমাকে প্রেম করো?” তখন তিনি তাঁকে বললেন, “প্রভু, আপনি সবই জানেন। আপনি জানেন, আমি আপনাকে ভালোবাসি।” যীশু বললেন, “আমার মেষদের চরাও।
JOH 21:18 আমি তোমাকে সত্যি বলছি, যখন তুমি যুবক ছিলে তখন নিজেই নিজের পোশাক পরতে, যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে, কিন্তু বৃদ্ধ হলে তুমি তোমার হাত দুটিকে বাড়িয়ে দেবে, আর অন্য কেউ তোমাকে পোশাক পরিয়ে দেবে এবং যেখানে যেতে চাও না, সেখানে তোমাকে নিয়ে যাবে।”
JOH 21:19 একথার দ্বারা যীশু ইঙ্গিত দিলেন পিতর কীভাবে মৃত্যুবরণ করে ঈশ্বরের গৌরব করবেন। এরপর তিনি তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো।”
JOH 21:20 পিতর ফিরে দেখলেন, যে শিষ্যকে যীশু প্রেম করতেন, তিনি তাঁদের অনুসরণ করছেন (ইনিই সেই শিষ্য, যিনি সান্ধ্যভোজের সময় যীশুর বুকের দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “প্রভু, কে আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে?”)
JOH 21:21 পিতর তাঁকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, ওর কী হবে?”
JOH 21:22 যীশু উত্তর দিলেন, “আমি যদি চাই যে আমার ফিরে আসা পর্যন্ত সে জীবিত থাকবে, তাতে তোমার কী? তুমি শুধু আমাকে অনুসরণ করো।”
JOH 21:23 এই কারণে শিষ্যদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে সেই শিষ্যের মৃত্যু হবে না, যদিও যীশু বলেননি যে তাঁর মৃত্যু হবে না। তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি যদি চাই যে আমার ফিরে আসা পর্যন্ত সে জীবিত থাকবে, তাতে তোমার কী?”
JOH 21:24 সেই শিষ্যই এই সমস্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং তিনিই এ সমস্ত লিপিবদ্ধ করেছেন। আমরা জানি যে, তাঁর সাক্ষ্য সত্যি।
JOH 21:25 যীশু আরও অনেক কাজ করেছিলেন। সেগুলির প্রত্যেকটি যদি এক এক করে লেখা হত, আমার মনে হয়, এত বই লেখা হত যে, সমগ্র বিশ্বেও সেগুলির জন্য স্থান যথেষ্ট হত না।
ACT 1:1 হে থিয়ফিল, আমার আগের বইতে আমি সেইসব বিষয় লিখেছি, যেগুলি যীশু সম্পন্ন করতে ও শিক্ষা দিতে শুরু করেছিলেন,
ACT 1:2 সেদিন পর্যন্ত, যখন তিনি তাঁর মনোনীত প্রেরিতশিষ্যদের পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশদান করার পর ঊর্ধ্বে নীত হন।
ACT 1:3 তাঁর কষ্টভোগের পর, তিনি এসব মানুষের কাছে নিজেকে দেখা দিলেন এবং বহু বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিলেন যে, তিনি জীবিত আছেন। চল্লিশ দিন অবধি তিনি তাঁদের কাছে দেখা দিলেন এবং ঈশ্বরের রাজ্য সম্পর্কে শিক্ষা দিলেন।
ACT 1:4 একবার, যখন তিনি তাদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন তখন তিনি তাঁদের এই আদেশ দিলেন, “তোমরা জেরুশালেম ছেড়ে যেয়ো না, কিন্তু আমার পিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে দানের কথা আমাকে বলতে শুনেছ, তাঁর অপেক্ষায় থেকো।
ACT 1:5 কারণ যোহন জলে বাপ্তিষ্ম দিতেন ঠিকই, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্ম লাভ করবে।”
ACT 1:6 পরে তাঁরা যখন একত্র মিলিত হলেন, তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কি এই সময়ে ইস্রায়েলীদের কাছে রাজ্য ফিরিয়ে দিতে চলেছেন?”
ACT 1:7 তিনি তাঁদের বললেন, “পিতা তাঁর নিজস্ব অধিকারে যে সময় ও দিন নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, সেসব তোমাদের জানার কথা নয়।
ACT 1:8 কিন্তু পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে এলে তোমরা শক্তি লাভ করবে, আর তোমরা জেরুশালেমে ও সমস্ত যিহূদিয়ায় ও শমরিয়ায় এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত আমার সাক্ষী হবে।”
ACT 1:9 একথা বলার পর তাঁকে তাঁদের চোখের সামনেই স্বর্গে তুলে নেওয়া হল ও একখণ্ড মেঘ তাঁকে তাঁদের দৃষ্টির আড়াল করে দিল।
ACT 1:10 তিনি যখন যাচ্ছিলেন, তাঁরা অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন, তখন হঠাৎই সাদা পোশাক পরে দুজন পুরুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।
ACT 1:11 তাঁরা বললেন, “হে গালীলীয়রা, তোমরা এখানে কেন আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ? এই একই যীশু, যাঁকে তোমাদের মধ্য থেকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হল, তাঁকে যেভাবে স্বর্গে যেতে দেখলে, ঠিক সেভাবেই তিনি ফিরে আসবেন।”
ACT 1:12 এরপর তাঁরা “জলপাই পর্বত” নামক পাহাড় থেকে জেরুশালেমে ফিরে এলেন। নগর থেকে তা ছিল এক বিশ্রামদিনের হাঁটাপথ।
ACT 1:13 তাঁরা যখন নগরে পৌঁছালেন, তাঁরা উপরতলার সেই ঘরে গেলেন, যেখানে তাঁরা থাকতেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন: পিতর, যোহন, যাকোব ও আন্দ্রিয়, ফিলিপ ও থোমা, বর্থলময় ও মথি, আলফেয়ের ছেলে যাকোব এবং জিলট দলভুক্ত শিমোন ও যাকোবের ছেলে যিহূদা।
ACT 1:14 তাঁরা সকলে এবং কয়েকজন মহিলা, যীশুর মা মরিয়ম ও তাঁর ভাইরা একযোগে প্রার্থনায় ক্রমাগত লেগে রইলেন।
ACT 1:15 সেই সময় একদিন পিতর বিশ্বাসীদের (প্রায় একশো কুড়ি জনের একটি দল) মধ্যে উঠে দাঁড়ালেন।
ACT 1:16 তিনি বললেন, “সকল ভাই ও বোন, যীশুকে যারা গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের পথপ্রদর্শক যে যিহূদা, তার সম্পর্কে অনেক আগে দাউদের মাধ্যমে পবিত্র আত্মা যে কথা বলেছিলেন, সেই শাস্ত্রবাণী পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল।
ACT 1:17 সে আমাদেরই একজন ছিল এবং আমাদের এই পরিচর্যায় অংশগ্রহণ করেছিল।”
ACT 1:18 তার দুষ্টতার জন্য সে যে পুরস্কার পেয়েছিল, তা দিয়ে যিহূদা একটি জমি কিনেছিল। সেখানেই সে নিচের দিকে মাথা করে পড়ে গেল, তার শরীর ফেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল ও তার সমস্ত অন্ত্র বেরিয়ে পড়ল।
ACT 1:19 জেরুশালেমের সকলে একথা শুনতে পেল, তাই তারা তাদের ভাষায় সেই জমির নাম দিল হকলদামা, যার অর্থ, রক্তক্ষেত্র।
ACT 1:20 পিতর বললেন, “বস্তুত, গীতসংহিতায় লেখা আছে, “ ‘তার বাসস্থান শূন্য হোক; সেখানে বসবাস করার জন্য যেন কেউ না থাকে,’ আবার, “ ‘অন্য কেউ যেন তার নেতৃত্বের পদে নিযুক্ত হয়।’
ACT 1:21 অতএব, প্রভু যীশু যতদিন আমাদের সঙ্গে বাস করেছিলেন এবং সেই সময়ে আমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদেরই একজনকে মনোনীত করা আবশ্যক,
ACT 1:22 অর্থাৎ, যোহনের বাপ্তিষ্ম দেওয়ার সময় থেকে শুরু করে আমাদের মধ্য থেকে যীশুর স্বর্গে নীত হওয়ার সময় পর্যন্ত। কারণ এদেরই মধ্যে একজন ব্যক্তিকে আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হতে হবে।”
ACT 1:23 তখন তাঁরা দুজনের নাম প্রস্তাব করলেন: বার্শব্বা নামে আখ্যাত যোষেফ (ইনি যুষ্ট নামেও পরিচিত ছিলেন), ও মত্তথিয়।
ACT 1:24 তারপর তাঁরা প্রার্থনা করলেন, “প্রভু, তুমি সকলের অন্তর জানো। আমাদের দেখিয়ে দাও, এই দুজনের মধ্যে তুমি কাকে মনোনীত করেছ,
ACT 1:25 যে এই প্রৈরিতিক পরিচর্যার ভার গ্রহণ করবে, যা যিহূদা ত্যাগ করে তার যেখানে যাওয়া উচিত ছিল, সেখানে গিয়েছে।”
ACT 1:26 পরে তাঁরা গুটিকাপাত করলেন ও মত্তথিয়ের নামে গুটি উঠল। এইভাবে তিনি সেই এগারোজন প্রেরিতশিষ্যের সঙ্গে যুক্ত হলেন।
ACT 2:1 যখন পঞ্চাশত্তমীর দিন উপস্থিত হল, তাঁরা সকলেই এক স্থানে সমবেত ছিলেন।
ACT 2:2 হঠাৎই আকাশ থেকে প্রবল বায়ুপ্রবাহের মতো একটি শব্দ ভেসে এল এবং তাঁরা যেখানে বসেছিলেন, সেই ঘরের সর্বত্র ব্যাপ্ত হল।
ACT 2:3 তাঁরা দেখতে পেলেন, যেন জিভের মতো আগুনের শিখা, যা ভাগ ভাগ হয়ে তাঁদের প্রত্যেকের উপরে অধিষ্ঠান করল।
ACT 2:4 আর তাঁরা সবাই পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন এবং আত্মা যেমন সক্ষমতা দিলেন, তাঁরা সেইরূপ অন্য অন্য ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।
ACT 2:5 সেই সময় আকাশের নিচে অবস্থিত সমস্ত দেশ থেকে ঈশ্বরভয়শীল ইহুদিরা জেরুশালেমে বাস করছিলেন।
ACT 2:6 তারা যখন এই শব্দ শুনল, তারা হতচকিত হয়ে সেই স্থানে এসে ভিড় করল, কারণ তাদের মধ্যে প্রত্যেকেই নিজস্ব ভাষায় তাঁদের কথা বলতে শুনল।
ACT 2:7 অত্যন্ত চমৎকৃত হয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, “এই যে লোকেরা কথা বলছে, এরা সবাই কি গালীলীয় নয়?
ACT 2:8 তাহলে কীভাবে আমরা প্রত্যেকেই তার নিজস্ব জন্মদেশীয় ভাষায় তাঁদের কথা বলতে শুনছি?
ACT 2:9 পার্থীয়, মাদীয়, এলমীয় এবং মেসোপটেমিয়া, যিহূদিয়া ও কাপ্পাদোকিয়া, পন্ত ও এশিয়ার অধিবাসীরা,
ACT 2:10 ফরুগিয়া ও পাম্ফুলিয়া, মিশর ও কুরীণের কাছাকাছি লিবিয়ার অংশবিশেষ, রোম থেকে আগত পরিদর্শকেরা,
ACT 2:11 (ইহুদি ও ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত, উভয়ই); ক্রীটিয় ও আরবীয়েরা, আমরা শুনতে পাচ্ছি, আমাদের নিজস্ব ভাষায় তাঁরা ঈশ্বরের বিস্ময়কর কীর্তির কথা ঘোষণা করছেন!”
ACT 2:12 চমৎকৃত ও হতভম্ব হয়ে তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করল, “এর অর্থ কী?”
ACT 2:13 কেউ কেউ অবশ্য তাদের পরিহাস করে বলল, “এরা অত্যধিক সুরাপান করে ফেলেছে।”
ACT 2:14 তখন পিতর সেই এগারোজনের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে জনসাধারণকে সম্বোধন করলেন, “হে ইহুদি জনমণ্ডলী ও জেরুশালেমে বসবাসকারী আপনারা সকলে, আমাকে এই ঘটনার কথা আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে দিন; আমি যা বলি, তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
ACT 2:15 এই লোকেরা নেশাগ্রস্ত নয়, যেমন আপনারা মনে করছেন। এখন সকাল নয়টা মাত্র!
ACT 2:16 আসলে ভাববাদী যোয়েল এই ঘটনার কথাই ব্যক্ত করেছিলেন:
ACT 2:17 “ঈশ্বর বলেন, ‘অন্তিমকালে, আমি সমস্ত মানুষের উপরে আমার আত্মা ঢেলে দেব। তোমাদের ছেলে ও মেয়েরা ভাববাণী বলবে, তোমাদের প্রবীণেরা স্বপ্ন দেখবে, তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে।
ACT 2:18 এমনকি, আমার দাস-দাসীদেরও উপরে, সেইসব দিনে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব, আর তারা ভবিষ্যদ্‌বাণী করবে।
ACT 2:19 ঊর্ধ্বাকাশে আমি দেখাব বিস্ময়কর সব লক্ষণ এবং নিচে পৃথিবীতে বিভিন্ন নিদর্শন, রক্ত ও আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
ACT 2:20 প্রভুর সেই মহৎ ও মহিমাময় দিনের আগমনের পূর্বে, সূর্য অন্ধকার এবং চাঁদ রক্তবর্ণ হয়ে যাবে।
ACT 2:21 আর যে কেউ প্রভুর নামে ডাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।’
ACT 2:22 “হে ইস্রায়েলবাসী, একথা শুনুন, নাসরতীয় যীশু অনেক অলৌকিক কাজ, বিস্ময়কর ঘটনা ও নিদর্শনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আপনাদের কাছে ঈশ্বরের দ্বারা স্বীকৃত মানুষ ছিলেন। সেইসব কাজ ঈশ্বর তাঁরই মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন, যেমন আপনারা নিজেরাই অবগত আছেন।
ACT 2:23 সেই ব্যক্তিকে ঈশ্বর তাঁর নিরূপিত পরিকল্পনা ও পূর্বজ্ঞান অনুসারে তোমাদের হাতে সমর্পণ করেছিলেন, আর তোমরা দুর্জন ব্যক্তিদের সহায়তায় তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছ।
ACT 2:24 কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃত্যুযন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে মৃত্যুর কবল থেকে উত্থাপিত করেছেন, কারণ মৃত্যুর পক্ষে তাঁকে ধরে রাখা অসম্ভব ছিল।
ACT 2:25 দাউদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “ ‘আমি প্রভুকে নিয়ত, আমার সামনে দেখেছি। কারণ, তিনি তো আমার ডানপাশে, আমি বিচলিত হব না।
ACT 2:26 তাই আমার হৃদয় আনন্দিত এবং আমার জিভ উল্লাস করে; আমার দেহ প্রত্যাশায় বিশ্রাম নেবে,
ACT 2:27 কারণ তুমি কখনও আমাকে পাতালের গর্ভে পরিত্যাগ করবে না, তুমি তোমার পবিত্রজনকে ক্ষয় দেখতে দেবে না।
ACT 2:28 তুমি আমার কাছে জীবনের পথ অবগত করেছ, তোমার সামনে আমায় আনন্দে পূর্ণ করবে।’
ACT 2:29 “হে ইস্রায়েলবাসী, আমি আপনাদের মুক্তকণ্ঠে বলতে পারি যে, পূর্বপুরুষ দাউদ মৃত্যুবরণ করেছিলেন ও তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল; তাঁর কবর আজও এখানে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।
ACT 2:30 কিন্তু তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন, আর তিনি জানতেন যে, ঈশ্বর শপথপূর্বক তাঁকে প্রতিশ্রুতি দান করেছেন, তিনি তাঁর এক সন্তানকে তাঁর সিংহাসনে স্থাপন করবেন।
ACT 2:31 ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগেই দেখতে পেয়ে তিনি মশীহের পুনরুত্থান সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি পাতালের গর্ভে পরিত্যক্ত হবেন না, কিংবা তাঁর শরীর ক্ষয় দেখবে না।
ACT 2:32 এই যীশুকেই ঈশ্বর মৃত্যু থেকে জীবনে বাঁচিয়ে তুলেছেন এবং আমরা সকলেই এই ঘটনার সাক্ষী।
ACT 2:33 ঈশ্বরের ডানদিকে উন্নীত হয়ে তিনি পিতার কাছ থেকে প্রতিশ্রুত পবিত্র আত্মা লাভ করেছেন এবং আমাদের উপরে তাঁকে ঢেলে দিয়েছেন, যেমন আপনারা এখন দেখছেন ও শুনছেন।
ACT 2:34 কিন্তু দাউদ নিজে স্বর্গে যাননি, তবুও তিনি বলেছেন, “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, তুমি আমার ডানদিকে বসো,
ACT 2:35 যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি।’
ACT 2:36 “সেই কারণে, সমস্ত ইস্রায়েল এ বিষয়ে নিশ্চিত হোক: যে যীশুকে তোমরা ক্রুশে বিদ্ধ করেছ, ঈশ্বর তাঁকে প্রভু ও মশীহ, এই উভয়ই করেছেন।”
ACT 2:37 সকলে যখন একথা শুনল, তাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হল। তারা পিতর ও অন্য প্রেরিতশিষ্যদের বলল, “ভাইরা, আমরা কী করব?”
ACT 2:38 পিতর উত্তর দিলেন, “তোমরা প্রত্যেকে মন পরিবর্তন করো ও যীশু খ্রীষ্টের নামে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করো, যেন তোমাদের পাপ ক্ষমা হয়, তাহলে তোমরা ঈশ্বরের দানস্বরূপ পবিত্র আত্মা লাভ করবে।
ACT 2:39 এই প্রতিশ্রুতি তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের জন্য এবং যারা দূরে আছে তাদের সকলের জন্য—সকলের জন্য যাদেরকে আমাদের ঈশ্বর প্রভু আহ্বান করবেন।”
ACT 2:40 আরও অনেক কথায় তিনি তাদের সতর্ক করে দিলেন এবং তিনি তাদের উপদেশ দিয়ে বললেন, “এই কলুষিত প্রজন্ম থেকে তোমরা নিজেদের রক্ষা করো।”
ACT 2:41 যারা তাঁর বাণী গ্রাহ্য করল, তারা বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল, আর সেদিন প্রায় তিন হাজার লোক তাদের সঙ্গে যুক্ত হল।
ACT 2:42 আর তারা প্রেরিতশিষ্যদের শিক্ষায় ও সহভাগিতায়, রুটি-ভাঙায় ও প্রার্থনায় একান্তভাবে অংশগ্রহণ করল।
ACT 2:43 প্রেরিতশিষ্যদের মাধ্যমে বহু আশ্চর্য ঘটনা ও অলৌকিক নিদর্শন সম্পন্ন হতে দেখে প্রত্যেকে ভক্তিপূর্ণ ভয়ে পূর্ণ হয়ে উঠল।
ACT 2:44 যারা বিশ্বাস করল তারা সকলেই একসঙ্গে থাকত ও একই ভাণ্ডার থেকে তাদের প্রয়োজন মেটাতো।
ACT 2:45 তাদের বিষয়সম্পত্তি ও জিনিসপত্র বিক্রি করে তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ভাগ করে দিত।
ACT 2:46 প্রতিদিন তারা একসঙ্গে মন্দির-প্রাঙ্গণে মিলিত হত। তারা নিজেদের ঘরে রুটি ভাঙত এবং আনন্দের সঙ্গে ও হৃদয়ের সরলতায় একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করত।
ACT 2:47 তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করত এবং সব মানুষ তাদের শ্রদ্ধা করত। আর যারা পরিত্রাণ লাভ করল, প্রভু দিন-প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে পরিত্রাণপ্রাপ্তদের যুক্ত করে তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেন।
ACT 3:1 একদিন প্রার্থনার নির্দিষ্ট সময়ে, বেলা তিনটের সময়, পিতর ও যোহন একসঙ্গে মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন।
ACT 3:2 এমন সময়ে জন্ম থেকে খোঁড়া এক ব্যক্তিকে মন্দিরের সুন্দর নামক দরজার দিকে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যারা মন্দির-প্রাঙ্গণে যেত, তাদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য তাকে রোজ সেখানে বসিয়ে রাখা হত।
ACT 3:3 সে যখন পিতর ও যোহনকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেখল, সে তাদের কাছে টাকাপয়সা ভিক্ষা করল।
ACT 3:4 পিতর সোজা তার দিকে তাকালেন, যোহনও তাই করলেন। তখন পিতর বললেন, “আমাদের দিকে তাকাও!”
ACT 3:5 এতে সেই ব্যক্তি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখল। তাদের কাছ থেকে সে কিছু পাওয়ার আশা করেছিল।
ACT 3:6 তখন পিতর বললেন, “সোনা কি রুপো আমার কাছে নেই, কিন্তু আমার কাছে যা আছে, আমি তাই তোমাকে দান করি। তুমি নাসরতের যীশু খ্রীষ্টের নামে হেঁটে বেড়াও।”
ACT 3:7 তার ডান হাত ধরে তিনি তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন, সঙ্গে সঙ্গে মানুষটির দু-পা ও গোড়ালি সবল হয়ে উঠল।
ACT 3:8 সে তার পায়ে লাফ দিয়ে উঠল ও চলে বেড়াতে লাগল। তারপর সে চলতে চলতে, লাফ দিতে দিতে ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে তাঁদের সঙ্গে মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করল।
ACT 3:9 সব লোক তাকে যখন চলতে ও ঈশ্বরের প্রশংসা করতে দেখল,
ACT 3:10 তারা তাকে চিনতে পারল যে, এ সেই ব্যক্তি, যে সুন্দর নামে পরিচিত মন্দিরের দরজায় বসে ভিক্ষা চাইত। তার প্রতি যা ঘটেছে, তা দেখে তারা চমৎকৃত ও বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ল।
ACT 3:11 আর সেই ব্যক্তি পিতর ও যোহনের কাছে ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে থাকাতে সব লোক বিস্মিত হল। তারা সবাই শলোমনের বারান্দায় তাদের কাছে দৌড়ে এল।
ACT 3:12 পিতর যখন তা দেখলেন, তিনি তাদের বললেন, “হে ইস্রায়েলবাসী, এই ঘটনায় তোমরা কেন বিস্মিত হচ্ছো? কেনই বা আমাদের দিকে এমন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছ, যেন আমরা নিজস্ব ক্ষমতায় বা পুণ্যবলে এই ব্যক্তিকে চলার শক্তি দিয়েছি?
ACT 3:13 অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের ঈশ্বর, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, তাঁর সেবক সেই যীশুকে গৌরবান্বিত করেছেন। তোমরা তাঁকে হত্যা করার জন্য সমর্পণ করেছিলে এবং পীলাতের বিচারালয়ের সামনে তাঁকে অস্বীকার করেছিলে, যদিও তিনি তাঁকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন।
ACT 3:14 তোমরা সেই পবিত্র ও ধার্মিক জনকে অস্বীকার করে চেয়েছিলে যেন এক হত্যাকারীকে তোমাদের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়।
ACT 3:15 যিনি জীবনের স্রষ্টা, তোমরা তাঁকে হত্যা করেছিলে, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করেছেন। আমরা এই ঘটনার সাক্ষী।
ACT 3:16 তোমরা এই যে ব্যক্তিকে দেখছ ও জানো, যীশুর নামে বিশ্বাস করেই সে সবল হয়েছে। যীশুর নাম ও তাঁর মাধ্যমে যে বিশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তার দ্বারা সে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়েছে, যেমন তোমরা সবাই দেখছ।
ACT 3:17 “হে ইস্রায়েলবাসী, আমি জানি, তোমাদের নেতাদের মতো তোমরাও না জেনে এসব কাজ করেছিলে।
ACT 3:18 কিন্তু ঈশ্বর তা এভাবেই পূর্ণ করেছেন, যা তিনি তাঁর সব ভাববাদীর দ্বারা অনেক আগেই ঘোষণা করেছিলেন, বলেছিলেন যে তাঁর মশীহ কষ্টভোগ করবেন।
ACT 3:19 সুতরাং, এখন তোমরা মন পরিবর্তন করো ও ঈশ্বরের প্রতি ফিরে এসো, যেন তোমাদের সব পাপ মুছে ফেলা হয় ও প্রভুর কাছ থেকে পুনরুজ্জীবনের সময় উপস্থিত হয়।
ACT 3:20 তখন তিনি সেই মশীহকে, অর্থাৎ যীশুকে, আবার পাঠাবেন যাঁকে তিনি তোমাদের জন্য নিযুক্ত করেছেন।
ACT 3:21 তাঁকে সেই সময় পর্যন্ত স্বর্গে থাকতেই হবে, যতক্ষণ না সবকিছু পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঈশ্বরের সময় উপস্থিত হয়, যেমন তিনি তাঁর পবিত্র ভাববাদীদের মাধ্যমে বহুকাল আগেই প্রতিশ্রুতি দান করেছিলেন।
ACT 3:22 কারণ মোশি বলেছেন, ‘প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের ভাইয়ের মধ্য থেকে আমার মতো একজন ভাববাদীর উত্থান ঘটাবেন। তিনি তোমাদের যা বলেন, তোমরা অবশ্যই সেইসব বিষয় মন দিয়ে শোনো।
ACT 3:23 কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর কথা না শোনে, সে তার আপনজনদের মধ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছিন্ন হবে।’
ACT 3:24 “প্রকৃতপক্ষে শমূয়েল থেকে শুরু করে যতজন ভাববাদী বাণী প্রচার করেছেন, তাঁরা এই সময়ের বিষয়েই আগে ঘোষণা করেছিলেন।
ACT 3:25 আর তোমরা হলে সেই ভাববাদীদের উত্তরাধিকারী এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে স্থাপিত নিয়মের উত্তরাধিকারী। ঈশ্বর অব্রাহামকে বলেছিলেন, ‘তোমার বংশের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত জাতি আশীর্বাদ লাভ করবে।’
ACT 3:26 যখন ঈশ্বর তাঁর দাসকে মনোনীত করলেন, তিনি তাঁকে প্রথমে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, যেন তোমাদের প্রত্যেককে নিজেদের দুষ্টতার জীবনাচরণ থেকে ফিরিয়ে আশীর্বাদ করতে পারেন।”
ACT 4:1 পিতর ও যোহন যখন জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলছিলেন, সেই সময় যাজকেরা, মন্দিরের রক্ষী-প্রধান ও সদ্দূকীরা তাদের কাছে এল।
ACT 4:2 তারা অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিল, কারণ প্রেরিতশিষ্যেরা লোকদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং যীশুর মাধ্যমেই মৃতলোক থেকে পুনরুত্থানের কথা প্রচার করছিলেন।
ACT 4:3 তারা পিতর ও যোহনকে গ্রেপ্তার করল, আর সন্ধ্যা হয়েছিল বলে তারা পরদিন পর্যন্ত তাঁদের কারাগার বন্দি করে রাখল।
ACT 4:4 কিন্তু যারা বাক্য শুনেছিল, তাদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাস করল এবং পুরুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হল প্রায় পাঁচ হাজার।
ACT 4:5 পরের দিন শাসকেরা, প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা জেরুশালেমে মিলিত হল।
ACT 4:6 মহাযাজক হানন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, আর ছিলেন কায়াফা, যোহন, আলেকজান্ডার ও মহাযাজকের পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তিরাও।
ACT 4:7 তাঁরা পিতর ও যোহনকে তাঁদের কাছে তলব করে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, “কোন শক্তিতে বা কী নামে তোমরা এই কাজ করেছ?”
ACT 4:8 তখন পিতর, পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁদের বললেন, “শাসকেরা ও সমাজের প্রাচীনবর্গ!
ACT 4:9 একজন পঙ্গু মানুষের প্রতি করুণা দেখানোর জন্য যদি আজ আমাদের জবাবদিহি করতে বলা হচ্ছে এবং জিজ্ঞেস করা হচ্ছে যে, সে কীভাবে সুস্থ হল,
ACT 4:10 তাহলে আপনারা ও ইস্রায়েলের সব মানুষ একথা জেনে নিন: যাঁকে আপনারা ক্রুশার্পিত করেছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর যাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত করেছেন, নাসরতের সেই যীশু খ্রীষ্টের নামে এই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ACT 4:11 তিনিই “ ‘সেই পাথর যাঁকে গাঁথকেরা অগ্রাহ্য করেছিলেন, তিনিই হয়ে উঠেছেন কোণের প্রধান পাথর।’
ACT 4:12 আর অন্য কারও কাছে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না, কারণ আকাশের নিচে, মানুষের মধ্যে এমন আর কোনো নাম দেওয়া হয়নি, যার দ্বারা আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি।”
ACT 4:13 তাঁরা যখন পিতর ও যোহনের সাহসিকতা দেখলেন ও উপলব্ধি করলেন যে তাঁরা ছিলেন অশিক্ষিত, সাধারণ মানুষ, তখন তাঁরা বিস্মিত হলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন যে এঁরা যীশুর সঙ্গে ছিলেন।
ACT 4:14 কিন্তু যে ব্যক্তি সুস্থ করেছিল, তাকে তাঁদের সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তাঁদের বলার মতো আর কিছুই ছিল না।
ACT 4:15 সেই কারণে তাঁরা তাঁদের মহাসভা থেকে বাইরে যেতে বললেন এবং তারপর একত্রে শলাপরামর্শ করতে লাগলেন।
ACT 4:16 তাঁরা বলাবলি করলেন, “এই লোকগুলিকে নিয়ে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব? জেরুশালেমে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই জানে যে, তাঁরা এক নজিরবিহীন অলৌকিক চিহ্নকাজ সম্পন্ন করেছে, আর আমরা তা অস্বীকার করতে পারি না।
ACT 4:17 কিন্তু এই বিষয় লোকদের মধ্যে যেন আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা অবশ্যই তাঁদের সতর্ক করে দেব, যেন তাঁরা এই নামে আর কারও কাছে আর কোনো কথা না বলে।”
ACT 4:18 তাঁরা তখন আবার তাঁদের ভিতরে ডেকে পাঠালেন ও আদেশ দিলেন, যেন তাঁরা যীশুর নামে আদৌ আর কোনো কথা না বলে, বা শিক্ষা না দেয়।
ACT 4:19 কিন্তু পিতর ও যোহন উত্তর দিলেন, “আপনারা নিজেরাই বিচার করুন, ঈশ্বরের কথা শোনার চেয়ে আপনাদের কথা শোনা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ন্যায়সংগত কি না।
ACT 4:20 কারণ আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি, তা না বলে থাকতে পারছি না।”
ACT 4:21 পরে আরও অনেকভাবে ভয় দেখানোর পর তাঁরা তাঁদের যেতে দিলেন। তাঁরা ঠিক করতে পারলেন না, কীভাবে তাঁদের শাস্তি দেবেন, কারণ যা ঘটেছিল, সেই কারণে সব মানুষই ঈশ্বরের প্রশংসা-স্তব করছিল।
ACT 4:22 আর যে মানুষটি অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়েছিল, তার বয়স ছিল চল্লিশ বছরের বেশি।
ACT 4:23 মুক্তিলাভের পর, পিতর ও যোহন, তাঁদের নিজেদের লোকজনের কাছে ফিরে গেলেন এবং প্রধান যাজকেরা ও প্রাচীনবর্গ, যা কিছু তাঁদের বলেছিলেন, সেই সংবাদ তাঁদের দিলেন।
ACT 4:24 তাঁরা যখন একথা শুনলেন, তখন তাঁরা সম্মিলিতভাবে উচ্চকণ্ঠে প্রার্থনায় ঈশ্বরের উদ্দেশে বলতে লাগলেন, “হে সার্বভৌম প্রভু, তুমিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী ও সমুদ্র ও সেগুলির মধ্যে যা কিছু আছে সেসব সৃষ্টি করেছ।
ACT 4:25 তুমি, তোমার দাস, আমাদের পিতৃপুরুষ দাউদের মাধ্যমে, পবিত্র আত্মার দ্বারা বলেছিলে, “ ‘কেন জাতিগণ চক্রান্ত করে আর লোকেরা কেন বৃথাই সংকল্প করে?
ACT 4:26 পৃথিবীর রাজারা উদিত হয় এবং শাসকেরা সংঘবদ্ধ হয়, সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ও তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।’
ACT 4:27 সত্যিই হেরোদ ও পন্তীয় পীলাত পরজাতিদের ও ইস্রায়েলী জনগণের সঙ্গে এই নগরে মিলিত হয়ে তোমার সেই পবিত্র সেবক যীশু, যাঁকে তুমি অভিষিক্ত করেছিলে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।
ACT 4:28 তারা তাই করেছিল, যা তোমার পরাক্রম ও ইচ্ছা অনুসারে অবশ্যই ঘটবে বলে অনেক আগে থেকে স্থির করে রেখেছিল।
ACT 4:29 এখন হে প্রভু, ওদের ভয় দেখানোর কথা বিবেচনা করো ও সম্পূর্ণ সাহসিকতার সঙ্গে তোমার বাক্য বলার জন্য তোমার এই দাসেদের ক্ষমতা দাও।
ACT 4:30 তোমার পবিত্র সেবক যীশুর নামের মাধ্যমে রোগনিরাময় ও অলৌকিক সব নিদর্শন এবং বিস্ময়কর কাজগুলি সম্পন্ন করতে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও।”
ACT 4:31 তাঁদের প্রার্থনা শেষ হলে, তাঁরা যে স্থানে মিলিত হয়েছিলেন, সেই স্থান কেঁপে উঠল। আর তাঁরা সকলেই পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন এবং সাহসের সঙ্গে ঈশ্বরের বাক্য বলতে লাগলেন।
ACT 4:32 বিশ্বাসীরা সকলেই ছিল একচিত্ত ও একপ্রাণ। কেউই তাঁর সম্পত্তির কোনো অংশ নিজের বলে দাবি করত না। কিন্তু তাদের যা কিছু ছিল, তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিত।
ACT 4:33 প্রেরিতশিষ্যেরা মহাপরাক্রমের সঙ্গে প্রভু যীশুর পুনরুত্থান সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে লাগলেন এবং প্রচুর অনুগ্রহ তাদের সকলের উপরে ছিল।
ACT 4:34 তাদের মধ্যে কেউ অভাবগ্রস্ত ছিল না। কারণ, সময়ে সময়ে, যাদের জমি বা বাড়িঘর ছিল, তারা সেগুলি বিক্রি করে, সেই বিক্রি করা অর্থ এনে
ACT 4:35 প্রেরিতশিষ্যদের চরণে রাখত। পরে যার যেমন প্রয়োজন হত, তাকে সেই অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হত।
ACT 4:36 আর যোষেফ নামে সাইপ্রাসের একজন লেবীয়, যাঁকে প্রেরিতশিষ্যেরা বার্ণবা (নামটির অর্থ, উৎসাহের সন্তান) নামে ডাকতেন,
ACT 4:37 তাঁর মালিকানাধীন একটি জমি তিনি বিক্রি করে সেই অর্থ নিয়ে এলেন ও প্রেরিতশিষ্যদের চরণে তা রাখলেন।
ACT 5:1 এখন অননিয় নামে একজন ব্যক্তি, তার স্ত্রী সাফিরার সঙ্গে সম্পত্তির এক অংশ বিক্রি করল।
ACT 5:2 তার স্ত্রীর সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে, সে তার নিজের জন্য অর্থের কিছু অংশ রেখে দিল, কিন্তু অবশিষ্ট অংশ এনে প্রেরিতশিষ্যদের চরণে রাখল।
ACT 5:3 তখন পিতর বললেন, “অননিয়, এ কী রকম হল, শয়তান তোমার অন্তরকে এমন পূর্ণ করল যে, তুমি পবিত্র আত্মার কাছে মিথ্যা বললে এবং জমির বিক্রি করা অর্থের কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে দিলে?
ACT 5:4 বিক্রি করার আগে তা কি তোমারই ছিল না? আর বিক্রি করার পরেও সেই অর্থ কি তোমারই অধিকারে ছিল না? এরকম একটি কাজ করার কথা তুমি কী করে চিন্তা করলে? তুমি মানুষের কাছে নয়, কিন্তু ঈশ্বরেরই কাছে মিথ্যা বললে।”
ACT 5:5 অননিয় একথা শোনামাত্র মাটিতে পড়ে গেল ও প্রাণত্যাগ করল। ওই ঘটনার কথা যারা শুনল, তারা সকলেই মহা আতঙ্কে কবলিত হল।
ACT 5:6 তখন যুবকেরা এগিয়ে এল, তার শরীরে কাপড় জড়ালো এবং তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে কবর দিল।
ACT 5:7 প্রায় তিন ঘণ্টা পরে তার স্ত্রী উপস্থিত হল। কী ঘটনা ঘটেছে, সে তা জানত না।
ACT 5:8 পিতর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাকে বলো তো, জমি বিক্রি করে তুমি ও অননিয় কি এই পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলে?” সে বলল, “হ্যাঁ, এই তার দাম।”
ACT 5:9 পিতর তাকে বললেন, “প্রভুর আত্মাকে পরীক্ষা করার জন্য কীভাবে তোমরা একমত হলে? দেখো! যারা তোমার স্বামীকে কবর দিয়েছে, তারা দুয়ারে এসে পড়েছে, তারা তোমাকেও বাইরে নিয়ে যাবে।”
ACT 5:10 সেই মুহূর্তে সে তাঁর চরণে পড়ে প্রাণত্যাগ করল। তখন যুবকেরা ভিতরে এসে দেখল সেও মারা গেছে। তারা তাকে বাইরে বয়ে নিয়ে গেল ও তার স্বামীর পাশে তাকে কবর দিল।
ACT 5:11 সমস্ত মণ্ডলী ও যারাই এই ঘটনার কথা শুনল, সকলেই অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে উঠল।
ACT 5:12 প্রেরিতশিষ্যেরা জনসাধারণের মধ্যে অনেক অলৌকিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর কাজ সম্পন্ন করলেন। বিশ্বাসীরা সকলে শলোমনের বারান্দায় একযোগে মিলিত হত।
ACT 5:13 অন্য কেউই তাদের সঙ্গে যোগ দিতে সাহস করত না, যদিও লোকেরা তাদের অত্যন্ত সমাদর করত।
ACT 5:14 তা সত্ত্বেও, বহু পুরুষ ও মহিলা, উত্তরোত্তর প্রভুতে বিশ্বাস করে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করল।
ACT 5:15 শেষে এমন হল যে, লোকেরা অসুস্থ মানুষদের রাস্তার ধারে বয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের বিছানা ও মাদুরে শুইয়ে রাখত, যেন পিতর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ছায়া অন্তত কারও কারও উপরে পড়ে।
ACT 5:16 জেরুশালেমের চারপাশের নগরগুলি থেকেও জনতা ভিড় করতে লাগল। তারা তাদের অসুস্থ মানুষদের ও যারা মন্দ-আত্মা দ্বারা যন্ত্রণা পাচ্ছিল, তাদের নিয়ে আসত এবং তারা সকলেই সুস্থ হয়ে উঠত।
ACT 5:17 এরপর মহাযাজক ও তাঁর সমস্ত সহযোগী, যারা সদ্দূকী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন, তাঁরা ঈর্ষায় পূর্ণ হয়ে উঠলেন।
ACT 5:18 তাঁরা প্রেরিতশিষ্যদের গ্রেপ্তার করে সরকারি কারাগারে রেখে দিলেন।
ACT 5:19 কিন্তু রাত্রিবেলা প্রভুর এক দূত কারাগারের দরজাগুলি খুলে দিয়ে তাঁদের বাইরে নিয়ে এলেন।
ACT 5:20 তিনি বললেন, “তোমরা যাও, গিয়ে মন্দির-প্রাঙ্গণে দাঁড়াও এবং জনসাধারণের কাছে এই নতুন জীবনের পূর্ণ বার্তা প্রকাশ করো।”
ACT 5:21 তাঁদের যেমন বলা হয়েছিল, ভোরবেলা তাঁরা মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন এবং লোকদের শিক্ষা দিতে লাগলেন। মহাযাজক ও তাঁর সহযোগীরা যখন উপস্থিত হলেন, তাঁরা ইস্রায়েলীদের প্রাচীনবর্গের সমন্বয়ে গঠিত পূর্ণ জমায়েত বা মহাসভাকে একত্র করলেন ও প্রেরিতশিষ্যদের নিয়ে আসার জন্য কারাগারে লোক পাঠালেন।
ACT 5:22 কিন্তু কারাগারে উপস্থিত হয়ে কর্মচারীরা তাঁদের সেখানে খুঁজে পেল না। তাই তারা ফেরত গিয়ে সংবাদ দিল,
ACT 5:23 “আমরা গিয়ে দেখলাম, কারাগার সুদৃঢ়রূপে তালাবন্ধ, রক্ষীরাও দরজায় দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আমরা সেগুলি খুলে ভিতরে কাউকে দেখতে পেলাম না।”
ACT 5:24 এই সংবাদ শুনে মন্দিরের রক্ষী-প্রধান ও মহাযাজক বিস্ময়বিমূঢ় হলেন। তাঁরা অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন যে, এর পরিণাম কী হতে পারে।
ACT 5:25 তখন একজন ব্যক্তি এসে বলল, “দেখুন! যাঁদের আপনারা কারাগারে রেখেছিলেন, তাঁরা মন্দির-প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে লোকদের শিক্ষা দিচ্ছে।”
ACT 5:26 এতে রক্ষী-প্রধান তাঁর কর্মচারীদের সঙ্গে গিয়ে প্রেরিতশিষ্যদের নিয়ে এলেন। তাঁরা বলপ্রয়োগ করলেন না, কারণ লোকেরা তাঁদের উপর পাথর মারতে পারে ভেবে তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন।
ACT 5:27 প্রেরিতশিষ্যদের নিয়ে এসে, তাঁরা তাঁদের মহাসভার সামনে উপস্থিত করলেন, যেন মহাযাজক তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
ACT 5:28 তিনি বললেন, “আমরা তোমাদের এই নামে শিক্ষা না দেওয়ার জন্য কঠোর আদেশ দিয়েছিলাম, তবুও তোমরা তোমাদের উপদেশে জেরুশালেম পূর্ণ করেছ এবং সেই ব্যক্তির রক্তের জন্য আমাদেরই অপরাধী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে দৃঢ়সংকল্প হয়েছ।”
ACT 5:29 পিতর ও অন্য প্রেরিতশিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “মানুষের চেয়ে আমরা বরং ঈশ্বরের আদেশই পালন করব!
ACT 5:30 আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর সেই যীশুকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন—যাঁকে আপনারা একটি গাছের উপরে টাঙিয়ে হত্যা করেছিলেন।
ACT 5:31 ঈশ্বর তাঁকে অধিপতি ও উদ্ধারকর্তা করে তাঁর ডানদিকে উন্নীত করেছেন, যেন তিনি ইস্রায়েলকে মন পরিবর্তনের পথে চালনা করতে ও পাপের ক্ষমা দিতে পারেন।
ACT 5:32 আমরা এই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী, আর পবিত্র আত্মাও সাক্ষী, যাঁকে ঈশ্বর, যারা তাঁর আজ্ঞা পালন করে, তাদের দান করেছেন।”
ACT 5:33 একথা শুনে তাঁরা ক্রোধে উন্মত্ত হলেন এবং তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইলেন।
ACT 5:34 কিন্তু গমলীয়েল নামে একজন ফরিশী, যিনি শাস্ত্রবিদ ও সর্বসাধারণের কাছে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন, তিনি উঠে দাঁড়ালেন ও আদেশ দিলেন, যেন কিছুক্ষণের জন্য ওদেরকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ACT 5:35 এরপর তিনি মহাসভাকে সম্বোধন করে বললেন, “হে ইস্রায়েলী জনগণ, এই লোকেদের নিয়ে আপনারা যা করতে চলেছেন, সে সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করুন।
ACT 5:36 কিছুদিন আগে, থুদা উপস্থিত হয়ে নিজেকে এক মহাপুরুষ বলে দাবি করেছিল এবং প্রায় চারশো মানুষ তার পাশে জড়ো হয়েছিল। সে নিহত হল ও তার অনুগামীরা ছত্রভঙ্গ হওয়ায় সবকিছুই ব্যর্থ হয়েছিল; কারো আর অস্তিত্ব রইল না।
ACT 5:37 তারপরে গালীলীয় যিহূদা জনগণনার সময়ে উপস্থিত হয়ে কিছু মানুষকে বিদ্রোহের পথে চালিত করল। সেও নিহত হল ও তার সমস্ত অনুগামী ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল।
ACT 5:38 সেই কারণে, বর্তমান বিষয়টি সম্পর্কে আমি তোমাদের পরামর্শ দিই, এই লোকেরা যেমন আছে, থাকতে দাও! ওদের চলে যেতে দাও! কারণ ওদের অভিপ্রায় বা কাজকর্ম যদি মানুষ থেকে হয়, তবে তা ব্যর্থ হবে।
ACT 5:39 কিন্তু তা যদি ঈশ্বর থেকে হয়, তোমরা এদের আটকাতে পারবে না; তোমরা কেবলমাত্র দেখতে পাবে যে, তোমরা নিজেরাই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছ।”
ACT 5:40 তাঁরা তখন তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করল। তাঁরা প্রেরিতশিষ্যদের ভিতরে ডেকে এনে চাবুক মারলেন। তাঁরা তাঁদের আদেশ দিলেন, তাঁরা যেন যীশুর নামে কোনো কথা না বলেন। তারপর তাঁরা তাঁদের চলে যেতে দিলেন।
ACT 5:41 প্রেরিতশিষ্যেরা আনন্দ করতে করতে মহাসভা ত্যাগ করলেন, কারণ তাঁরা সেই নামের কারণে অপমান ভোগ করার জন্য যোগ্য বলে গণ্য হয়েছিলেন।
ACT 5:42 দিনের পর দিন, মন্দির-প্রাঙ্গণে ও ঘরে ঘরে, তাঁরা শিক্ষা দিতে এবং যীশুই যে সেই খ্রীষ্ট, এই সুসমাচার ঘোষণা করতে কখনও ক্ষান্ত হতেন না।
ACT 6:1 সেই সময় শিষ্যদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তাদের মধ্যে যারা গ্রিকভাষী ইহুদি ছিল তারা, হিব্রুভাষী ইহুদিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে লাগল, কারণ প্রতিদিনের খাবার ভাগ করার সময় তাদের বিধবারা উপেক্ষিত হচ্ছিল।
ACT 6:2 তখন সেই বারোজন সব শিষ্যকে একত্র আহ্বান করে বললেন, “খাবার পরিবেশনের জন্য ঈশ্বরের বাক্যের পরিচর্যা অবহেলা করা আমাদের পক্ষে ন্যায়সংগত হবে না।
ACT 6:3 ভাইয়েরা, তোমাদের মধ্য থেকে এমন সাতজনকে বেছে নাও, যারা পবিত্র আত্মায় ও বিজ্ঞতায় পূর্ণ বলে সুপরিচিত। আমরা এই দায়িত্বভার তাদের উপরে দেবো
ACT 6:4 ও আমরা প্রার্থনায় ও বাক্যের পরিচর্যায় মনোনিবেশ করব।”
ACT 6:5 এই প্রস্তাব সমস্ত দলের কাছে সন্তোষজনক হল। তারা স্তিফানকে মনোনীত করল, যিনি বিশ্বাসে ও পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ ছিলেন; এবং ফিলিপ, প্রখোর, নিকানর, তিমোন, পার্মেনাস ও আন্তিয়খের নিকোলাসকে, যিনি ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।
ACT 6:6 তারা এই সাতজনকে প্রেরিতশিষ্যদের কাছে উপস্থিত করল, যাঁরা প্রার্থনা করে তাঁদের উপরে হাত রাখলেন।
ACT 6:7 এভাবে ঈশ্বরের বাক্য ছড়িয়ে পড়ল। জেরুশালেমে শিষ্যদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেল এবং বহুসংখ্যক যাজক বিশ্বাসের প্রতি বাধ্য হলেন।
ACT 6:8 এরপর স্তিফান, যিনি ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও শক্তিতে পূর্ণ ছিলেন, তিনি জনসাধারণের মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অলৌকিক চিহ্নকাজ সাধন করতে লাগলেন।
ACT 6:9 এতে মুক্ত-মানুষদের (যেমন বলা হত) সমাজভবনের সদস্যরা প্রতিবাদ করল। এরা ছিল, কুরীণ ও আলেকজান্দ্রিয়া এবং সেই সঙ্গে কিলিকিয়া ও এশিয়া প্রদেশের ইহুদিরা। এই লোকেরা স্তিফানের সঙ্গে তর্ক শুরু করল।
ACT 6:10 কিন্তু তারা তাঁর প্রজ্ঞা ও যে আত্মার শক্তিতে তিনি কথা বলছিলেন, তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারল না।
ACT 6:11 তখন তারা গোপনে কয়েকজন মানুষকে এই কথা বলতে প্ররোচিত করল, “আমরা স্তিফানকে মোশির বিরুদ্ধে ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নিন্দার কথা বলতে শুনেছি।”
ACT 6:12 এভাবে তারা জনসাধারণ, প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রবিদদের উত্তেজিত করে তুলল। তারা স্তিফানকে গ্রেপ্তার করে মহাসভার সামনে উপস্থিত করল।
ACT 6:13 তারা মিথ্যা সাক্ষীদের দাঁড় করালো, যারা সাক্ষ্য দিল, “এই লোকটি এই পবিত্রস্থান ও বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলতে কখনও ক্ষান্ত হয় না।
ACT 6:14 কারণ আমরা তাকে বলতে শুনেছি যে, নাসরতের যীশু এই স্থান ধ্বংস করবে ও মোশি আমাদের কাছে যেসব রীতিনীতি সমর্পণ করেছেন—সেগুলির পরিবর্তন করবে।”
ACT 6:15 যারা মহাসভায় বসেছিল, তারা স্তিফানের প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে দেখল, তাঁর মুখমণ্ডল স্বর্গদূতের মুখমণ্ডলের মতো।
ACT 7:1 তখন মহাযাজক স্তিফানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এসব অভিযোগ কি সত্যি?”
ACT 7:2 এর উত্তরে তিনি বললেন, “হে আমার ভাইরা ও পিতৃতুল্য ব্যক্তিরা, আমার কথা শুনুন। আমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম, হারণে বসবাস করার পূর্বে তিনি যখন মেসোপটেমিয়ায় বাস করছিলেন, তখন প্রতাপের ঈশ্বর তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
ACT 7:3 ঈশ্বর বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার দেশ ও তোমার আত্মীয়স্বজন ত্যাগ করো এবং আমি যে দেশ তোমাকে দেখাব, সেই দেশে যাও।’
ACT 7:4 “তাই তিনি কলদীয়দের দেশ ত্যাগ করে হারণে গিয়ে বসতি স্থাপন করলেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ঈশ্বর তাঁকে এই দেশে পাঠালেন, যেখানে এখন আপনারা বসবাস করছেন।
ACT 7:5 তিনি তাঁকে এখানে কোনও অধিকার, এমনকি, পা রাখার মতো একখণ্ড জমিও দান করেননি। কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ও তাঁর পরে তাঁর উত্তরপুরুষেরা সেই দেশের অধিকারী হবেন, যদিও সেই সময় অব্রাহামের কোনো সন্তান ছিল না।
ACT 7:6 ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে এভাবে কথা বলেছিলেন, ‘জেনে রাখো যে তোমার বংশধরেরা চারশো বছর এমন একটি দেশে অপরিচিত হয়ে বসবাস করবে, যা তাদের নিজস্ব নয়; তারা সেখানে ক্রীতদাসে পরিণত হবে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হবে।
ACT 7:7 কিন্তু যে দেশে তারা ক্রীতদাস হয়ে থাকবে, সেই দেশটিকে আমি শাস্তি দেব।’ ঈশ্বর বলেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা সেই দেশ থেকে বেরিয়ে আসবে ও এই স্থানে এসে আমার উপাসনা করবে।’
ACT 7:8 তারপর তিনি অব্রাহামকে নিয়মের চিহ্নস্বরূপ সুন্নতের সংস্কার দান করলেন। আর অব্রাহাম, তাঁর ছেলে ইস্‌হাকের জন্ম দিলেন ও আট দিন পরে তাঁর সুন্নত করলেন। পরে ইস্‌হাক যাকোবের জন্ম দিলেন ও যাকোব সেই বারোজন পিতৃকুলপতির জন্ম দিলেন।
ACT 7:9 “যেহেতু পিতৃকুলপতিরা যোষেফের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন, তারা তাঁকে মিশরে ক্রীতদাসরূপে বিক্রি করে দিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
ACT 7:10 তিনি তাঁকে সমস্ত সংকট থেকে উদ্ধার করলেন। তিনি যোষেফকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং মিশরের রাজা ফরৌণের আনুকূল্য অর্জন করতে সক্ষমতা দিলেন। সেই কারণে, ফরৌণ তাঁকে মিশর ও তাঁর সমস্ত প্রাসাদের উপরে প্রশাসকরূপে নিযুক্ত করলেন।
ACT 7:11 “তারপরে সমস্ত মিশরে ও কনানে এক দুর্ভিক্ষ হল এবং ভীষণ কষ্ট উপস্থিত হল। আমাদের পিতৃপুরুষেরা খাদ্যের সন্ধান পেলেন না।
ACT 7:12 যাকোব যখন শুনলেন যে মিশরে শস্য সঞ্চিত আছে, তিনি আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রথমবার সেই যাত্রায় পাঠালেন।
ACT 7:13 তাদের দ্বিতীয় যাত্রায় যোষেফ তাঁর ভাইদের কাছে আত্মপরিচয় দিলেন, আর ফরৌণ যোষেফের পরিবারের বিষয়ে জানতে পারলেন।
ACT 7:14 এরপরে যোষেফ নিজের পিতা যাকোব ও তাঁর সমগ্র পরিবারের সব মিলিয়ে পঁচাত্তর জনকে তাঁর কাছে ডেকে পাঠালেন।
ACT 7:15 তারপরে যাকোব মিশরে গেলেন। সেখানে তাঁর ও আমাদের পিতৃপুরুষদের মৃত্যু হল।
ACT 7:16 তাঁদের শবদেহ শিখিমে নিয়ে আসা হল এবং অব্রাহাম শিখিমে, হমোরের ছেলেদের কাছ থেকে কিছু অর্থের বিনিময়ে যে কবর কিনেছিলেন, সেখানে তাদের কবর দেওয়া হল।
ACT 7:17 “ঈশ্বর অব্রাহামের কাছে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, তা পূর্ণ হওয়ার সময় সন্নিকট হলে, মিশরে আমাদের লোকদের সংখ্যা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেল।
ACT 7:18 পরে ‘এমন এক নতুন রাজা মিশরের ক্ষমতায় এলেন, যাঁর কাছে যোষেফের কোনও গুরুত্বই ছিল না।’
ACT 7:19 তিনি আমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আচরণ করলেন এবং তিনি বলপ্রয়োগ করে তাদের নবজাত সন্তানদের বাইরে ফেলে দিতে বললেন, যেন তারা মারা যায়। এভাবে তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের উপরে অত্যাচার করলেন।
ACT 7:20 “সেই সময়ে মোশির জন্ম হয়। তিনি কোনো সাধারণ শিশু ছিলেন না। তিন মাস পর্যন্ত তিনি তাঁর বাবার বাড়িতে প্রতিপালিত হলেন।
ACT 7:21 তাঁকে যখন বাইরে রেখে দেওয়া হল, ফরৌণের মেয়ে তাঁকে তুলে নিলেন ও তাঁর নিজের ছেলের মতো তাঁকে প্রতিপালন করলেন।
ACT 7:22 মোশি মিশরীয় সমস্ত জ্ঞান-বিদ্যায় শিক্ষিত হয়ে উঠলেন। কথায় ও কাজে তিনি পরাক্রমী ছিলেন।
ACT 7:23 “মোশির বয়স যখন চল্লিশ বছর, তিনি তাঁর সহ-ইস্রায়েলীদের খোঁজ করবেন বলে স্থির করলেন।
ACT 7:24 তিনি দেখলেন, তাদের একজনের প্রতি এক মিশরীয় অন্যায় আচরণ করছে। তাই তিনি তার প্রতিরক্ষায় গেলেন এবং সেই মিশরীয়কে হত্যা করে তার প্রতিশোধ নিলেন।
ACT 7:25 মোশি ভেবেছিলেন যে, তাঁর স্বজাতির লোকেরা উপলব্ধি করতে পারবে যে, তাদের উদ্ধারের জন্য ঈশ্বর তাঁকে ব্যবহার করছেন, কিন্তু তারা বুঝতে পারল না।
ACT 7:26 পরের দিন, দুজন ইস্রায়েলী যখন পরস্পর মারামারি করছিল, মোশি তাদের কাছে এলেন। তিনি এই কথা বলে তাদের পুনর্মিলনের চেষ্টা করলেন, ‘ওহে, তোমরা পরস্পর ভাই ভাই, কেন তোমাদের একজন অন্যজনকে আহত করতে চাইছ?’
ACT 7:27 “কিন্তু যে লোকটি অপরজনের প্রতি অন্যায় আচরণ করছিল, সে মোশিকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলল, ‘কে তোমাকে আমাদের উপরে শাসক ও বিচারকর্তা নিযুক্ত করেছে?
ACT 7:28 গতকাল সেই মিশরীয়টিকে যেমন হত্যা করেছিলে, আমাকেও কি তেমনই হত্যা করতে চাও?’
ACT 7:29 মোশি যখন একথা শুনলেন, তিনি মিদিয়ন দেশে পালিয়ে গেলেন। সেখানে তিনি প্রবাসী হয়ে বসবাস করে দুই ছেলের জন্ম দিলেন।
ACT 7:30 “চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সীনয় পর্বতের কাছে মরুপ্রান্তরে এক প্রজ্বলিত ঝোপের আগুনের শিখায় এক স্বর্গদূত মোশিকে চাক্ষুষ দর্শন দিলেন।
ACT 7:31 তিনি যখন তা দেখলেন, সেই দৃশ্যে তিনি চমৎকৃত হলেন। আরও নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করার জন্য যেই তিনি এগিয়ে গেলেন, তিনি প্রভুর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন:
ACT 7:32 ‘আমি তোমার পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের ঈশ্বর।’ মোশি ভয়ে কাঁপতে লাগলেন, সেদিকে তাকানোর সাহস তাঁর রইল না।
ACT 7:33 “তখন প্রভু তাঁকে বললেন, ‘তোমার চটিজুতো খুলে ফেলো, কারণ তুমি যে স্থানে দাঁড়িয়ে আছ সেটি পবিত্র ভূমি।
ACT 7:34 আমি প্রকৃতই মিশরে আমার প্রজাদের উপরে নির্যাতন লক্ষ্য করেছি। আমি তাদের আর্তনাদ শুনেছি ও তাদের মুক্ত করার জন্যই নেমে এসেছি। এখন এসো, আমি তোমাকে মিশরে ফেরত পাঠাই।’
ACT 7:35 “ইনিই সেই মোশি, যাঁকে তারা এই কথা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, ‘কে তোমাকে শাসক ও বিচারকর্তা নিযুক্ত করেছে’? স্বয়ং ঈশ্বর তাঁকে তাদের শাসক ও উদ্ধারকারীরূপে পাঠিয়েছিলেন সেই স্বর্গদূতের মাধ্যমে, যিনি ঝোপের মধ্যে তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন।
ACT 7:36 তিনি তাদের মিশর থেকে বের করে আনলেন এবং মিশরে, লোহিত সাগরে ও চল্লিশ বছর যাবৎ মরুপ্রান্তরে বিভিন্ন বিস্ময়কর কাজ ও অলৌকিক চিহ্নকাজ সম্পন্ন করলেন।
ACT 7:37 “ইনিই সেই মোশি, যিনি ইস্রায়েলীদের বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর তোমাদের ভাইয়ের মধ্য থেকে আমার মতো একজন ভাববাদীর উত্থান ঘটাবেন।’
ACT 7:38 তিনি সেই মরুপ্রান্তরে জনমণ্ডলীর মধ্যে ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই স্বর্গদূতের সঙ্গে, যিনি সীনয় পর্বতের উপরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং যিনি আমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গেও ছিলেন। তিনি জীবন্ত বাক্য আমাদের কাছে দেওয়ার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।
ACT 7:39 “কিন্তু আমাদের পিতৃপুরুষেরা মোশির আদেশ পালন করতে চাইলেন না। পরিবর্তে, তাঁরা তাঁকে অগ্রাহ্য করলেন ও মনে মনে মিশরের প্রতি ফিরে গেলেন।
ACT 7:40 তাঁরা হারোণকে বললেন, ‘আমাদের আগে আগে যাওয়ার উদ্দেশে আমাদের জন্য দেবতা নির্মাণ করো। এই যে মোশি, যিনি আমাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন, তাঁর কী হয়েছে, তা আমরা জানি না!’
ACT 7:41 সেই সময় তাঁরা বাছুরের আকৃতিবিশিষ্ট একটি মূর্তি নির্মাণ করলেন। তাঁরা তার কাছে বিভিন্ন নৈবেদ্য নিয়ে এলেন এবং তাঁদের হাতে তৈরি মূর্তির সম্মানে এক আনন্দোৎসব পালন করলেন।
ACT 7:42 কিন্তু ঈশ্বর বিমুখ হলেন এবং আকাশের সূর্য, চাঁদ ও আকাশের তারা উপাসনা করার জন্য তাদের সমর্পণ করলেন। ভাববাদীদের গ্রন্থে যা লেখা আছে, এ তারই সঙ্গে সহমত পোষণ করে: “ ‘হে ইস্রায়েলের কুল, তোমরা কি মরুভূমিতে চল্লিশ বছর, আমার কাছে বিভিন্ন বলিদান ও নৈবেদ্য নিয়ে এসেছিলে?
ACT 7:43 তোমরা তুলে ধরেছিলে মোলকের সেই সমাগম তাঁবু ও তোমাদের দেবতা রিফনের প্রতীক, তারকা— যে দুই মূর্তি তোমরা উপাসনার জন্য নির্মাণ করেছিলে। আমি তাই তোমাদের ব্যাবিলনের সীমানার ওপারে নির্বাসনে পাঠাব।’
ACT 7:44 “মরুপ্রান্তরে আমাদের পিতৃপুরুষদের সঙ্গে ছিল সেই সাক্ষ্য-তাঁবু। মোশি যে নকশা দেখেছিলেন, সেই অনুযায়ী তাঁকে ঈশ্বরের দেওয়া নির্দেশমতো তা নির্মিত হয়েছিল।
ACT 7:45 পরবর্তীকালে যিহোশূয়ের আমলে আমাদের পিতৃপুরুষেরা যখন ঈশ্বর দ্বারা তাড়িয়ে দেওয়া জাতিকে উচ্ছেদ করে তাদের দেশ অধিকার করলেন, তখনও তাঁরা সেই সমাগম তাঁবুটি সঙ্গে নিয়ে গেলেন। সেই তাঁবু দাউদের সময় পর্যন্ত সেখানেই ছিল।
ACT 7:46 তিনি ঈশ্বরের অনুগ্রহ উপভোগ করলেন এবং যাকোবের ঈশ্বরের জন্য একটি আবাসগৃহ নির্মাণ করার জন্য অনুমতি চাইলেন।
ACT 7:47 কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শলোমন তাঁর জন্য সেই আবাসগৃহ নির্মাণ করেন।
ACT 7:48 “যাই হোক, পরাৎপর মানুষের হাতে তৈরি গৃহে বসবাস করেন না। ভাববাদী যেমন বলেন:
ACT 7:49 “ ‘স্বর্গ আমার সিংহাসন ও পৃথিবী আমার পাদপীঠ। প্রভু বলেন, তোমরা আমার জন্য কী ধরনের আবাস নির্মাণ করবে? অথবা, আমার বিশ্রামস্থানই বা হবে কোথায়?
ACT 7:50 আমার হাতই কি এই সমস্ত নির্মাণ করেনি?’
ACT 7:51 “একগুঁয়ে মানুষ তোমরা, অচ্ছিন্নত্বক তোমাদের হৃদয় ও কান! তোমরাও তোমাদের পিতৃপুরুষদের মতো; তোমরা সবসময়ই পবিত্র আত্মাকে প্রতিরোধ করে থাকো!
ACT 7:52 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা নির্যাতন করেনি, এমন কোনও ভাববাদী কি আছেন? তারা এমনকি, তাঁদেরও হত্যা করেছিল, যাঁরা সেই ধর্মময় পুরুষের আগমনবার্তা ঘোষণা করেছিলেন। আর এখন তোমরাও বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করেছ—
ACT 7:53 তোমরা, বিধান গ্রহণ করেছিলে, যা স্বর্গদূতদের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পালন করোনি।”
ACT 7:54 মহাসভার সদস্যরা যখন একথা শুনল, তারা ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে তাঁর প্রতি দন্তঘর্ষণ করতে লাগল।
ACT 7:55 কিন্তু স্তিফান, পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে স্বর্গের প্রতি একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন। তিনি ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পেলেন। আরও দেখলেন যে যীশু ঈশ্বরের ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছেন।
ACT 7:56 তিনি বললেন, “দেখো, আমি স্বর্গ খোলা দেখতে পাচ্ছি ও মনুষ্যপুত্র ঈশ্বরের ডানদিকে দাঁড়িয়ে আছেন।”
ACT 7:57 এতে তারা তাদের কান বন্ধ করল এবং উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে সকলে তাঁর দিকে এগিয়ে গেল।
ACT 7:58 তারা তাঁকে নগরের বাইরে টেনে নিয়ে গেল ও তাঁকে পাথর দিয়ে আঘাত করতে লাগল। ইতিমধ্যে, সাক্ষীরা নিজের নিজের পোশাক খুলে শৌল নামে এক যুবকের পায়ের কাছে রাখল।
ACT 7:59 তারা যখন তাঁকে পাথর দিয়ে আঘাত করছিল, স্তিফান প্রার্থনা করলেন, “প্রভু যীশু, আমার আত্মাকে তুমি গ্রহণ করো।”
ACT 7:60 তারপর তিনি নতজানু হয়ে চিৎকার করে বললেন, “প্রভু, এদের বিরুদ্ধে তুমি এই পাপ গণ্য করো না।” একথা বলার পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।
ACT 8:1 আর শৌল সেখানে তাঁর মৃত্যুর অনুমোদন করছিলেন। সেদিন, জেরুশালেমের মণ্ডলীর বিরুদ্ধে ভীষণ নির্যাতন শুরু হল। প্রেরিতশিষ্যরা ছাড়া অন্য সকলে যিহূদিয়া ও শমরিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।
ACT 8:2 কয়েকজন ঈশ্বরভক্ত স্তিফানের কবর দিলেন এবং তাঁর জন্য গভীর শোকপ্রকাশ করলেন।
ACT 8:3 কিন্তু শৌল মণ্ডলী ধ্বংস করার কাজ শুরু করলেন। ঘরে ঘরে প্রবেশ করে তিনি নারী ও পুরুষ সবাইকে টেনে এনে তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করলেন।
ACT 8:4 যারা ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা যেখানেই গেল, সেখানেই বাক্য প্রচার করল।
ACT 8:5 ফিলিপ শমরিয়ার একটি নগরে গেলেন এবং খ্রীষ্টকে সেখানে প্রচার করতে লাগলেন।
ACT 8:6 সব লোক যখন ফিলিপের কথা শুনল ও তিনি যেসব অলৌকিক চিহ্নকাজ করছিলেন, তা দেখল, তারা তাঁর কথায় গভীর মনোনিবেশ করল।
ACT 8:7 বহু মানুষের মধ্য থেকে অশুচি আত্মারা তীক্ষ্ণ চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এল। বহু পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও পঙ্গু ব্যক্তিরা আরোগ্য লাভ করল।
ACT 8:8 সেই কারণে, সেই নগরে মহা আনন্দ উপস্থিত হল।
ACT 8:9 কিছুকাল যাবৎ সেই নগরে শিমোন নামে এক ব্যক্তি জাদুবিদ্যা অভ্যাস করত এবং শমরিয়ার সব মানুষকে চমৎকৃত করত। সে নিজেকে একজন মহাপুরুষরূপে জাহির করে গর্ববোধ করত
ACT 8:10 এবং উঁচু বা নীচ সবাই তাঁর কথা মন দিয়ে শুনত ও বলত, “এই ব্যক্তি সেই দিব্যশক্তি, যা ‘মহাশক্তি’ নামে পরিচিত।”
ACT 8:11 তারা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত, কারণ সে তার জাদুবিদ্যার মাধ্যমে বহুদিন ধরে তাদের মুগ্ধ করে রেখেছিল।
ACT 8:12 কিন্তু ফিলিপ যখন ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার ও যীশু খ্রীষ্টের নাম প্রচার করলেন, তারা তাঁকে বিশ্বাস করল এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল।
ACT 8:13 শিমোন নিজেও বিশ্বাস করে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল। আর সে সর্বত্র ফিলিপকে অনুসরণ করতে থাকল; মহান সব চিহ্নকাজ ও অলৌকিক কাজ দেখে আশ্চর্যচকিত হল।
ACT 8:14 জেরুশালেমের প্রেরিতশিষ্যেরা যখন শুনলেন যে, শমরিয়া ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করেছে, তাঁরা পিতর ও যোহনকে তাদের কাছে পাঠালেন।
ACT 8:15 তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের জন্য প্রার্থনা করলেন, যেন তারা পবিত্র আত্মা পায়,
ACT 8:16 কারণ তখনও পর্যন্ত পবিত্র আত্মা তাদের কারোরই উপরে আসেননি, তারা প্রভু যীশুর নামে কেবলমাত্র বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছিল।
ACT 8:17 তখন পিতর ও যোহন তাদের উপরে হাত রাখলেন, আর তারা পবিত্র আত্মা লাভ করল।
ACT 8:18 শিমোন যখন দেখল যে প্রেরিতশিষ্যদের হাত রাখার ফলে পবিত্র আত্মা দেওয়া হচ্ছেন, সে তাঁদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিল
ACT 8:19 ও বলল, “আমাকেও এই ক্ষমতা দিন, যেন আমিও যার উপরে হাত রাখি, সেও পবিত্র আত্মা পেতে পারে।”
ACT 8:20 পিতর উত্তর দিলেন, “তোমার অর্থ তোমার সঙ্গেই ধ্বংস হোক, কারণ তুমি ভেবেছ, অর্থ দিয়ে তুমি ঈশ্বরের দান কিনতে পারো!
ACT 8:21 এই পরিচর্যায় তোমার কোনও ভূমিকা বা ভাগ নেই, কারণ তোমার অন্তর ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সরল নয়।
ACT 8:22 এই দুষ্টতার জন্য অনুতাপ করো এবং প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। হয়তো তোমার অন্তরের এ ধরনের চিন্তার জন্য তিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন,
ACT 8:23 কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি তিক্ততায় পূর্ণ ও পাপের কাছে এখনও বন্দি হয়ে আছ।”
ACT 8:24 তখন শিমোন উত্তর দিল, “আমার জন্য আপনারাই প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন, যেন আপনারা যা বললেন, তার কিছুই আমার প্রতি না ঘটে।”
ACT 8:25 যীশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ও প্রভুর বাক্য প্রচার করার পর পিতর ও যোহন বিভিন্ন শমরীয় গ্রামে সুসমাচার প্রচার করলেন ও জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
ACT 8:26 ইতিমধ্যে প্রভুর এক দূত ফিলিপকে বললেন, “দক্ষিণ দিকে, জেরুশালেম থেকে গাজার দিকে যে পথটি গেছে, মরুপ্রান্তরের সেই পথটিতে যাও।”
ACT 8:27 তিনি তখন যাত্রা শুরু করলেন। তাঁর যাওয়ার পথে তিনি এক ইথিয়োপীয় নপুংসক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি ইথিয়োপীয়দের কান্দাকি রানির সমস্ত কোষাগার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন। সেই ব্যক্তি উপাসনা করার জন্য জেরুশালেমে গিয়েছিলেন।
ACT 8:28 তাঁর বাড়ি ফেরার পথে, তিনি তাঁর রথে বসে ভাববাদী যিশাইয়ের পুস্তকটি পাঠ করছিলেন।
ACT 8:29 পবিত্র আত্মা ফিলিপকে বললেন, “তুমি ওই রথের কাছে গিয়ে তার কাছাকাছি থাকো।”
ACT 8:30 ফিলিপ তখন রথের দিকে দৌড়ে গেলেন এবং শুনলেন, সেই ব্যক্তি ভাববাদী যিশাইয়ের গ্রন্থ পাঠ করছেন। ফিলিপ জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি যা পাঠ করছেন, তা কি বুঝতে পারছেন?”
ACT 8:31 তিনি বললেন, “কেউ আমাকে এর ব্যাখ্যা না করে দিলে, আমি কী করে বুঝতে পারব?” সেই কারণে তিনি ফিলিপকে তাঁর কাছে উঠে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন।
ACT 8:32 সেই নপুংসক শাস্ত্রের এই অংশটি পাঠ করছিলেন: “যেমন ঘাতকের কাছে নিয়ে যাওয়া মেষশাবককে, ও লোমচ্ছেদকদের কাছে নিয়ে যাওয়া মেষ নীরব থাকে, তেমনই তিনি তাঁর মুখ খোলেননি।
ACT 8:33 তাঁর অবমাননাকালে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলেন। তাঁর বংশধরদের কথা কে বলতে পারে? কারণ পৃথিবী থেকে তাঁর জীবন উচ্ছিন্ন হল।”
ACT 8:34 নপুংসক ফিলিপকে জিজ্ঞাসা করলেন, “অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন, ভাববাদী এখানে কার সম্পর্কে একথা বলেছেন, নিজের বিষয়ে, না অন্য কারও সম্পর্কে?”
ACT 8:35 তখন তাঁর কাছে ফিলিপ শাস্ত্রের সেই অংশ থেকে শুরু করে যীশুর বিষয়ে সুসমাচার প্রচার করলেন।
ACT 8:36 তাঁরা যখন পথে যাচ্ছিলেন, তাঁরা এক জলাশয়ের কাছে এসে পৌঁছালেন। নপুংসক বললেন, “দেখুন, এখানে জল আছে। আমার বাপ্তিষ্ম গ্রহণের বাধা কোথায়?”
ACT 8:37 ফিলিপ বললেন, “আপনি যদি সম্পূর্ণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, তাহলে নিতে পারেন।” প্রত্যুত্তরে নপুংসক বললেন, “আমি বিশ্বাস করি যে, যীশু খ্রীষ্টই ঈশ্বরের পুত্র।”
ACT 8:38 তিনি তখন রথ থামানোর আদেশ দিলেন। পরে ফিলিপ ও নপুংসক, উভয়েই জলের মধ্যে নেমে গেলেন এবং ফিলিপ তাঁকে বাপ্তিষ্ম দিলেন।
ACT 8:39 তাঁরা যখন জলের মধ্য থেকে বের হয়ে এলেন, প্রভুর আত্মা তখন হঠাৎই ফিলিপকে সেই স্থান থেকে সরিয়ে দিলেন। নপুংসক তাঁকে আর দেখতে পেলেন না। তখন তিনি আনন্দ করতে করতে তাঁর পথে চলে গেলেন।
ACT 8:40 ফিলিপকে অবশ্য আজোতাস নগরে দেখতে পাওয়া গেল। তিনি যাওয়ার পথে সব নগরগুলিতে সুসমাচার প্রচার করতে করতে অবশেষ কৈসরিয়াতে গিয়ে পৌঁছালেন।
ACT 9:1 এর মধ্যে শৌল তখনও তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছিলেন ও প্রভুর শিষ্যদের হত্যা করতে উদ্যত ছিলেন। তিনি মহাযাজকের কাছে গিয়ে
ACT 9:2 দামাস্কাসের সমাজভবনগুলির উদ্দেশে তাঁর কাছে কয়েকটি পত্র লিখে দিতে অনুরোধ করলেন, যেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেই পথের অনুসারী যদি কাউকে দেখতে পান, তাদেরকে বন্দি করে জেরুশালেমে নিয়ে আসতে পারেন।
ACT 9:3 দামাস্কাসে যাওয়ার পথে, যখন তিনি সে নগরের কাছে পৌঁছালেন, হঠাৎই আকাশ থেকে এক আলো তাঁর চারপাশে দ্যুতিমান হয়ে উঠল।
ACT 9:4 তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন ও এক কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন তাঁকে বলছে, “শৌল, শৌল, তুমি কেন আমাকে নির্যাতন করছ?”
ACT 9:5 শৌল জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, আপনি কে?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি যীশু, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ।
ACT 9:6 এখন ওঠো, আর নগরের মধ্যে প্রবেশ করো। তোমাকে যা করতে হবে, তা তোমাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
ACT 9:7 শৌলের সহযাত্রীরা নির্বাক হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সেই শব্দ শুনলেও কাউকে দেখতে পেল না।
ACT 9:8 শৌল মাটি থেকে উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি চোখ খুললে পর কিছুই দেখতে পেলেন না। তাই তারা তাঁর হাত ধরে তাঁকে দামাস্কাসে নিয়ে গেল।
ACT 9:9 তিন দিন যাবৎ তিনি দৃষ্টিহীন রইলেন, খাবার বা পানীয় কিছুই গ্রহণ করলেন না।
ACT 9:10 দামাস্কাসে অননিয় নামে একজন শিষ্য ছিলেন। প্রভু এক দর্শনের মাধ্যমে তাঁকে ডাক দিলেন, “অননিয়!” তিনি উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ প্রভু, দেখুন, এই আমি!”
ACT 9:11 প্রভু তাঁকে বললেন, “তুমি সরল নামক রাস্তায় অবস্থিত যিহূদার বাড়িতে যাও এবং তার্ষ নগরের শৌল নামে এক ব্যক্তির সন্ধান করো, কারণ সে প্রার্থনা করছে।
ACT 9:12 এক দর্শনে সে দেখেছে যে, অননিয় নামে এক ব্যক্তি এসে তার উপরে হাত রাখলেন, যেন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়।”
ACT 9:13 অননিয় উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমি এই লোকটি সম্পর্কে বহু অভিযোগ এবং জেরুশালেমে তোমার পবিত্রগণের যে সমস্ত ক্ষতি করেছে, তা আমি শুনেছি।
ACT 9:14 আবার এখানেও যারা তোমার নামে ডাকে, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করার জন্য সে প্রধান যাজকদের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে এসেছে।”
ACT 9:15 কিন্তু প্রভু অননিয়কে বললেন, “তুমি যাও! অইহুদি সব জাতি ও তাদের রাজাদের কাছে এবং ইস্রায়েলী জনগণের কাছে আমার নাম প্রচার করার জন্য সে আমার মনোনীত পাত্র।
ACT 9:16 আমি তাকে দেখাব যে আমার নামের জন্য তাকে কত কষ্টভোগ করতে হবে।”
ACT 9:17 অননিয় তখন সেই বাড়ির উদ্দেশে চলে গেলেন এবং সেখানে প্রবেশ করলেন। শৌলের উপরে হাত রেখে তিনি বললেন, “ভাই শৌল, প্রভু যীশু, যিনি তোমার আসার সময় পথে তোমাকে দর্শন দিয়েছেন, তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, যেন তুমি দৃষ্টি ফিরে পাও ও পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হও।”
ACT 9:18 সঙ্গে সঙ্গে, আঁশের মতো কোনো বস্তু শৌলের দু-চোখ থেকে পড়ে গেল এবং তিনি আবার দেখতে লাগলেন। তিনি উঠে বাপ্তাইজিত হলেন,
ACT 9:19 এবং পরে কিছু খাবার খেয়ে তাঁর শক্তি ফিরে পেলেন। শৌল কয়েক দিন দামাস্কাসে শিষ্যদের সঙ্গে সময় কাটালেন।
ACT 9:20 দেরি না করে তিনি সমাজভবনগুলিতে প্রচার করতে লাগলেন যে, যীশুই ঈশ্বরের পুত্র।
ACT 9:21 যারা তাঁর কথা শুনল, তারা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “এ কি সেই ব্যক্তি নয় যে জেরুশালেমে তাদের সর্বনাশ করেছিল যারা যীশুর নামে ডাকে, এবং তাদের বন্দি করে প্রধান যাজকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যই কি সে এখানে আসেনি?”
ACT 9:22 কিন্তু শৌল শক্তিতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগলেন এবং যীশুই যে মশীহ, দামাস্কাসবাসী ইহুদিদের কাছে তা প্রমাণ করে তাদের হতবুদ্ধি করে দিলেন।
ACT 9:23 এভাবে অনেকদিন কেটে যাওয়ার পর ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল।
ACT 9:24 কিন্তু শৌল তাদের পরিকল্পনার কথা জানতে পারলেন। তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তারা দিনরাত নগরদ্বারগুলিতে সতর্ক পাহারা দিতে লাগল।
ACT 9:25 কিন্তু তাঁর অনুগামীরা একটি বড়ো ঝুড়িতে করে প্রাচীরের একটি ছিদ্রের মধ্য দিয়ে রাত্রিবেলা তাঁকে নামিয়ে দিলেন।
ACT 9:26 তিনি যখন জেরুশালেমে এলেন, তিনি শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাঁরা সকলেই তাঁর সম্পর্কে ভীত হলেন, বিশ্বাস করতে চাইলেন না যে, তিনি প্রকৃতই শিষ্য হয়েছেন।
ACT 9:27 কিন্তু বার্ণবা তাঁর হাত ধরে তাঁকে প্রেরিতশিষ্যদের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁদের বললেন, শৌল কীভাবে তাঁর যাত্রাপথে প্রভুর দর্শন লাভ করেছেন এবং প্রভু তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার দামাস্কাসে তিনি কেমন সাহসের সঙ্গে যীশুর নামে প্রচার করেছেন।
ACT 9:28 এভাবে শৌল তাঁদের সঙ্গে থেকে গেলেন। তিনি স্বচ্ছন্দে জেরুশালেমে এদিক-ওদিক যাতায়াত করতে লাগলেন, প্রভুর নামে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।
ACT 9:29 তিনি গ্রিকভাষী ইহুদিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও তর্কবিতর্কে যুক্ত হলেন, কিন্তু তারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করল।
ACT 9:30 বিশ্বাসী ভাইয়েরা যখন একথা জানতে পারলেন, তাঁরা তাঁকে কৈসরিয়ায় নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে তার্ষে পাঠিয়ে দিলেন।
ACT 9:31 এরপরে যিহূদিয়া, গালীল ও শমরিয়ার সর্বত্র মণ্ডলীগুলি শান্তি উপভোগ করতে লাগল ও শক্তিশালী হতে লাগল। তারা প্রভুর ভয়ে দিন কাটিয়ে ও পবিত্র আত্মার দ্বারা প্রেরণা লাভ করে সংখ্যায় বৃদ্ধিলাভ করল।
ACT 9:32 পিতর যখন দেশের সর্বত্র যাতায়াত করছিলেন, তিনি লুদ্দায় পবিত্রগণের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।
ACT 9:33 সেখানে তিনি ঐনিয় নামে এক ব্যক্তির সন্ধান পেলেন, সে ছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও আট বছর যাবৎ শয্যাশায়ী।
ACT 9:34 পিতর তাকে বললেন, “ঐনিয়, যীশু খ্রীষ্ট তোমার সুস্থ করছেন। তুমি ওঠো ও তোমার বিছানা গুটিয়ে নাও।” ঐনিয় সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল।
ACT 9:35 লুদ্দা ও শারোণ-নিবাসী সব মানুষ তাকে সুস্থ দেখতে পেল ও প্রভুকে গ্রহণ করল।
ACT 9:36 জোপ্পায় টাবিথা নামে এক মহিলা শিষ্য ছিলেন (এই নামের অনূদিত অর্থ, দর্কা); তিনি সবসময় সৎকর্ম করতেন ও দরিদ্রদের সাহায্য করতেন।
ACT 9:37 সেই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর শরীর ধুয়ে দিয়ে উপরতলার একটি ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
ACT 9:38 লুদ্দা জোপ্পার কাছেই ছিল, তাই শিষ্যেরা যখন শুনল যে, পিতর লুদ্দায় আছেন, তারা তাঁর কাছে দুজন লোককে পাঠিয়ে মিনতি করল, “অনুগ্রহ করে আপনি এখনই চলে আসুন!”
ACT 9:39 পিতর তাদের সঙ্গে গেলেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে তাঁকে উপরতলার সেই ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। বিধবারা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়েছিল, দর্কা তাদের সঙ্গে থাকার সময় যে সমস্ত আলখাল্লা ও অন্যান্য পোশাক তৈরি করেছিলেন, সেসব তাঁকে দেখাতে লাগল।
ACT 9:40 পিতর তাদের সবাইকে সেই ঘর থেকে বের করে দিলেন। তারপর তিনি নতজানু হয়ে প্রার্থনা করলেন। মৃত মহিলার দিকে ফিরে তিনি বললেন, “টাবিথা, ওঠো।” তিনি তাঁর চোখ খুললেন এবং পিতরকে দেখে উঠে বসলেন।
ACT 9:41 তিনি তাঁর হাত ধরলেন ও তাঁর দু-পায়ে ভর দিয়ে তাঁকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন। তারপর তিনি সব বিধবা ও অন্য বিশ্বাসীদের ডেকে তাদের কাছে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উপস্থিত করলেন।
ACT 9:42 জোপ্পার সর্বত্র একথা প্রকাশ পেল, আর বহু মানুষ প্রভুর উপরে বিশ্বাস করল।
ACT 9:43 পিতর কিছুকাল জোপ্পায় শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়িতে থাকলেন।
ACT 10:1 কৈসরিয়াতে কর্ণীলিয় নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ইতালীয় সৈন্যবাহিনী নামে পরিচিত এক সৈন্যদলের শত-সেনাপতি ছিলেন।
ACT 10:2 তিনি ও তাঁর পরিবারের সকলে ভক্তিপরায়ণ ও ঈশ্বরভয়শীল ছিলেন। তিনি অভাবী লোকদের উদার হাতে দান করতেন এবং নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন।
ACT 10:3 একদিন বিকালে, প্রায় তিনটের সময়, তিনি এক দর্শন লাভ করলেন। তিনি ঈশ্বরের এক দূতকে স্পষ্ট দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর কাছে এসে বললেন, “কর্ণীলিয়!”
ACT 10:4 কর্ণীলিয় সভয়ে তাঁর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভু, কী হয়েছে?” দূত উত্তর দিলেন, “তোমার সব প্রার্থনা ও দরিদ্রদের প্রতি সব দান, স্মরণীয় নৈবেদ্যরূপে ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হয়েছে।
ACT 10:5 এখন জোপ্পায় লোক পাঠিয়ে শিমোন নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসো, যাকে পিতর বলে ডাকা হয়।
ACT 10:6 সে শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়িতে আছে, যার বাড়ি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত।”
ACT 10:7 তাঁর সঙ্গে যিনি কথা বলছিলেন, সেই দূত চলে যাওয়ার পর, কর্ণীলিয় তাঁর দুজন দাস ও একজন অনুগত সৈন্যকে ডেকে পাঠালেন, যে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত পরিচারক।
ACT 10:8 তিনি তাদের কাছে সব ঘটনার কথা বলে তাদের জোপ্পায় পাঠিয়ে দিলেন।
ACT 10:9 পরের দিন, প্রায় দুপুর বারোটায়, তারা যখন পথ চলতে চলতে সেই নগরের কাছাকাছি উপস্থিত হল, সেই সময়, পিতর প্রার্থনা করার জন্য ছাদের উপরে উঠলেন।
ACT 10:10 তাঁর খিদে পেল এবং তিনি কিছু খাবার খেতে চাইলেন। যখন খাবার প্রস্তুত হচ্ছে, তিনি ভাবাবিষ্ট হলেন।
ACT 10:11 তিনি দেখলেন, আকাশ খুলে গেছে এবং বিশাল চাদরের মতো একটা কিছু, তার চার প্রান্ত ধরে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ACT 10:12 তার মধ্যে ছিল সব ধরনের চতুষ্পদ প্রাণী, সেই সঙ্গে পৃথিবীর যত সরীসৃপ ও আকাশের বিভিন্ন পাখি।
ACT 10:13 তখন একটি কণ্ঠস্বর তাঁকে বলল, “পিতর ওঠো, মারো ও খাও।”
ACT 10:14 পিতর উত্তর দিলেন, “কিছুতেই তা হয় না প্রভু! অশুদ্ধ বা অশুচি কোনো কিছু আমি কখনও ভোজন করিনি।”
ACT 10:15 সেই কণ্ঠস্বর দ্বিতীয়বার তাঁকে বলল, “ঈশ্বর যা শুচিশুদ্ধ করেছেন, তুমি তাকে অশুদ্ধ বোলো না।”
ACT 10:16 এরকম তিনবার হল, আর সঙ্গে সঙ্গে সেই চাদরখানা আকাশে তুলে নেওয়া হল।
ACT 10:17 সেই দর্শনের কী অর্থ হতে পারে, ভেবে পিতর যখন বিস্মিত হচ্ছিলেন, কর্ণীলিয়ের প্রেরিত সেই লোকেরা শিমোনের বাড়ির সন্ধান পেল এবং দুয়ারের সামনে এসে দাঁড়াল।
ACT 10:18 তারা ডাকাডাকি করে জিজ্ঞাসা করল, পিতর নামে পরিচিত শিমোন সেখানে থাকেন কি না।
ACT 10:19 পিতর তখনও সেই দর্শনের বিষয়ে চিন্তা করছিলেন পবিত্র আত্মা তাঁকে বললেন, “শিমোন, তিনজন লোক তোমার খোঁজ করছে।
ACT 10:20 তাই ওঠো ও নিচে নেমে যাও। তাদের সঙ্গে যেতে ইতস্তত বোধ কোরো না, কারণ আমিই তাদের পাঠিয়েছি।”
ACT 10:21 পিতর নিচে নেমে সেই লোকদের বললেন, “তোমরা যাঁর খোঁজ করছ, আমিই সেই। তোমরা কেন এসেছ?”
ACT 10:22 সেই লোকেরা উত্তর দিল, “আমরা শত-সেনাপতি কর্ণীলিয়ের কাছ থেকে এসেছি। তিনি একজন ধার্মিক ও ঈশ্বরভয়শীল মানুষ। সব ইহুদিই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এক পবিত্র দূত তাঁকে বলেছেন, তিনি যেন আপনাকে তাঁর বাড়িতে ডাকেন ও আপনি এসে যা বলতে চান, তিনি সেকথা শোনেন।”
ACT 10:23 তখন পিতর তাদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলেন ও তাদের আতিথ্য করলেন। পরের দিন পিতর তাদের সঙ্গে যাত্রা শুরু করলেন। জোপ্পার কয়েকজন ভাইও তাদের সঙ্গে গেলেন।
ACT 10:24 তার পরদিন তিনি কৈসরিয়ায় পৌঁছালেন। কর্ণীলিয় তাদের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও ডেকে একত্র করেছিলেন।
ACT 10:25 পিতর বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্র কর্ণীলিয় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ও সম্ভ্রমবশত তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়লেন।
ACT 10:26 কিন্তু পিতর তাঁকে তুলে ধরলেন ও বললেন, “উঠে দাঁড়ান, আমিও একজন মানুষমাত্র!”
ACT 10:27 তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পিতর ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন অনেক লোক একত্র হয়েছে।
ACT 10:28 তিনি তাদের বললেন, “আপনারা ভালোভাবেই জানেন যে, অইহুদি কোনো মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা বা তাকে পরিদর্শন করা, কোনো ইহুদির পক্ষে বিধানবিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে দেখিয়েছেন, আমি যেন কোনো মানুষকে অশুদ্ধ বা অশুচি না বলি।
ACT 10:29 তাই যখন আমাকে ডেকে পাঠানো হল, কোনোরকম আপত্তি না করে আমি চলে এলাম। আমি কি জিজ্ঞাসা করতে পারি, কেন আপনারা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন?”
ACT 10:30 কর্ণীলিয় উত্তর দিলেন, “চারদিন আগে, এরকম সময়ে, বেলা তিনটের সময়, আমি আমার বাড়িতে প্রার্থনা করছিলাম। হঠাৎই উজ্জ্বল পোশাক পরে এক ব্যক্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
ACT 10:31 তিনি বললেন, ‘কর্ণীলিয়, ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা শুনেছেন এবং দরিদ্রদের প্রতি তোমার সব দান স্মরণ করেছেন।
ACT 10:32 তুমি পিতর নামে পরিচিত শিমোনকে ডেকে আনার জন্য জোপ্পাতে লোক পাঠাও। সে শিমোন নামে এক চর্মকারের বাড়িতে অতিথি হয়ে আছে। তার বাড়ি সমুদ্রের তীরে।’
ACT 10:33 তাই আমি সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাছে লোক পাঠালাম, আর আপনি এসে ভালোই করেছেন। এখন আমরা সকলে এই স্থানে ঈশ্বরের সাক্ষাতে উপস্থিত হয়েছি। প্রভু আমাদের কাছে বলার জন্য আপনাকে যে আদেশ দিয়েছেন, সেই সমস্ত শোনার জন্য আমরা একত্র হয়েছি।”
ACT 10:34 তখন পিতর কথা বলা শুরু করলেন: “এখন আমি বুঝতে পারছি যে, একথা কেমন সত্যি যে ঈশ্বর পক্ষপাতিত্ব করেন না,
ACT 10:35 কিন্তু যারাই তাঁকে ভয় করে ও ন্যায়সংগত আচরণ করে, সেইসব জাতির মানুষকে তিনি গ্রহণ করেন।
ACT 10:36 ইস্রায়েল জাতির কাছে এই হল সুসমাচারের বার্তা যে যীশু খ্রীষ্ট, যিনি সকলের প্রভু, তাঁর মাধ্যমে, ঈশ্বরের সঙ্গে শান্তি স্থাপিত হয়েছে।
ACT 10:37 যোহন বাপ্তিষ্মের বিষয়ে প্রচার করার পর গালীল থেকে শুরু করে সমস্ত যিহূদিয়ায় যা যা ঘটেছে, তা আপনাদের অজানা নেই—
ACT 10:38 ঈশ্বর কীভাবে নাসরতের যীশুকে পবিত্র আত্মায় ও পরাক্রমে অভিষিক্ত করেছিলেন এবং কীভাবেই বা তিনি বিভিন্ন স্থানে সকলের কল্যাণ করে বেড়াতেন ও দিয়াবলের ক্ষমতাধীন ব্যক্তিদের সুস্থ করতেন, কারণ ঈশ্বর তাঁর সহবর্তী ছিলেন।
ACT 10:39 “ইহুদিদের দেশে ও জেরুশালেমে তিনি যা যা করেছিলেন, আমরা সেই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী। তারা তাঁকে ক্রুশে টাঙিয়ে হত্যা করেছিল।
ACT 10:40 কিন্তু ঈশ্বর তৃতীয় দিনে তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছিলেন এবং তাঁকে প্রত্যক্ষ হতে দিয়েছিলেন।
ACT 10:41 সব মানুষ তাঁকে দেখতে পায়নি, কিন্তু ঈশ্বর যাদের আগে থেকেই সাক্ষীরূপে মনোনীত করে রেখেছিলেন, সেই আমরাই মৃতলোক থেকে তাঁর উত্থাপিত হওয়ার পর তাঁকে দেখেছি ও তাঁর সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছি।
ACT 10:42 তিনি সব জাতির কাছে প্রচার করতে ও সাক্ষ্য দিতে আমাদের এই আদেশ দিয়েছেন যে, তিনিই সেই ব্যক্তি, যাঁকে ঈশ্বর জীবিত ও মৃতদের বিচারক হওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
ACT 10:43 ভাববাদীরা সকলে তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে তাঁকে বিশ্বাস করে, সে তাঁর নামের মাধ্যমে নিজের সব পাপের ক্ষমা লাভ করে।”
ACT 10:44 পিতর যখন এসব কথা বলছিলেন, সেই সময়, যত লোক সেই বাণী শুনছিল, তাদের উপরে পবিত্র আত্মা নেমে এলেন।
ACT 10:45 সুন্নতপ্রাপ্ত যে বিশ্বাসীরা পিতরের সঙ্গে এসেছিলেন, তাঁরা অইহুদিদের উপরে পবিত্র আত্মার বরদান নেমে আসতে দেখে বিস্মিত হলেন।
ACT 10:46 কারণ তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে ও ঈশ্বরের মহিমাকীর্তন করতে শুনলেন। তখন পিতর বললেন,
ACT 10:47 “আমাদেরই মতো এরাও পবিত্র আত্মা লাভ করেছে বলে কেউ কি এদের জলে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে?”
ACT 10:48 তাই তিনি যীশু খ্রীষ্টের নামে তাদের বাপ্তাইজিত হওয়ার আদেশ দিলেন। পরে তাঁরা পিতরকে অনুনয় করলেন, যেন তিনি আরও কিছুদিন তাঁদের সঙ্গে থেকে যান।
ACT 11:1 প্রেরিতশিষ্যেরা ও সমগ্র যিহূদিয়ার ভাইয়েরা শুনতে পেলেন যে, অইহুদিরাও ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করেছে।
ACT 11:2 তাই পিতর যখন জেরুশালেমে গেলেন, সুন্নতপ্রাপ্ত বিশ্বাসীরা তাঁর সমালোচনা করল।
ACT 11:3 তারা বলল, “তুমি অচ্ছিন্নত্বক লোকদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে খাবার খেয়েছ।”
ACT 11:4 যা যা ঘটেছিল, প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পিতর একের পর এক তাদের কাছে ব্যাখ্যা করলেন।
ACT 11:5 “আমি জোপ্পা নগরে প্রার্থনা করছিলাম। তখন ভাবাবিষ্ট হয়ে আমি এক দর্শন লাভ করলাম। আমি দেখলাম বিশাল চাদরের মতো একটি বস্তুর চার প্রান্ত ধরে আকাশ থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি যেখানে ছিলাম, সেটা আমার কাছে সেখানে নেমে এল।
ACT 11:6 আমি তার উপরে দৃষ্টিপাত করে পৃথিবীর সব ধরনের চতুষ্পদ প্রাণী, বন্যপশু, বিভিন্ন সরীসৃপ ও আকাশের পাখি দেখতে পেলাম।
ACT 11:7 তারপর আমি শুনলাম, এক কণ্ঠস্বর আমাকে বলছেন, ‘ওঠো পিতর, মারো ও খাও।’
ACT 11:8 “আমি উত্তর দিলাম, ‘কিছুতেই নয়, প্রভু! কখনও কোনো অশুদ্ধ বা অশুচি কিছু আমার মুখে প্রবেশ করেনি।’
ACT 11:9 “দ্বিতীয়বার সেই কণ্ঠস্বর আকাশ থেকে বলে উঠলেন, ‘ঈশ্বর যা শুচিশুদ্ধ করেছেন, তুমি তাকে অশুদ্ধ বোলো না।’
ACT 11:10 এরকম তিনবার হল। তারপর সেটাকে আবার আকাশে তুলে নেওয়া হল।
ACT 11:11 “ঠিক সেই সময়ে, যে তিনজন লোককে কৈসরিয়া থেকে আমার কাছে পাঠানো হয়েছিল, তারা সেই বাড়ির কাছে এসে দাঁড়াল, যেখানে আমি ছিলাম।
ACT 11:12 পবিত্র আত্মা আমাকে বললেন, তাদের সঙ্গে যেতে আমি যেন কোনো দ্বিধাবোধ না করি। এই ছ-জন ভাইও আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং আমরা সেই ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করলাম।
ACT 11:13 তিনি আমাদের বললেন, কীভাবে তিনি এক স্বর্গদূতের দর্শন পেয়েছেন, যিনি তাঁর বাড়িতে আবির্ভূত হয়ে বলেছিলেন, ‘পিতর নামে পরিচিত শিমোনকে আনার জন্য জোপ্পাতে লোক পাঠাও।
ACT 11:14 সে তোমাদের কাছে এক বার্তা নিয়ে আসবে, যার মাধ্যমে তুমি ও তোমার সমস্ত পরিজন পরিত্রাণ লাভ করবে।’
ACT 11:15 “আমি কথা বলা শুরু করলে, পবিত্র আত্মা তাঁদের উপরে নেমে এলেন, যেভাবে তিনি শুরুতে আমাদের উপরে নেমে এসেছিলেন।
ACT 11:16 তখন আমার মনে এল, যে কথা প্রভু বলেছিলেন, ‘যোহন জলে বাপ্তিষ্ম দিতেন, কিন্তু তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্ম লাভ করবে।’
ACT 11:17 সুতরাং, আমরা যখন প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করেছিলাম তখন ঈশ্বর যেমন আমাদেরকে বরদান দিয়েছিলেন তেমন যদি তাঁদেরও দিয়ে থাকেন, তাহলে আমি কে যে ঈশ্বরের পথে বাধা সৃষ্টি করব?”
ACT 11:18 তাঁরা যখন একথা শুনলেন, তাঁদের আর কোনো আপত্তি রইল না। তাঁরা এই বলে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল, “তাহলে তো ঈশ্বর অইহুদিদেরও জীবন পাওয়ার উদ্দেশ্যে মন পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছেন।”
ACT 11:19 এখন স্তিফানকে কেন্দ্র করে নির্যাতন শুরু হওয়ার ফলে যারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তারা যাত্রা শুরু করে ফিনিসিয়া, সাইপ্রাস ও আন্তিয়খ পর্যন্ত গিয়ে কেবলমাত্র ইহুদিদের কাছে সেই বার্তা প্রচার করেছিল।
ACT 11:20 অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ, যারা ছিল সাইপ্রাস ও কুরীণের মানুষ, তারা আন্তিয়খে গিয়ে গ্রিকভাষী ইহুদিদের কাছেও কথা বলল, তাদের কাছে প্রভু যীশুর বিষয়ে সুসমাচার প্রচার করল।
ACT 11:21 প্রভুর হাত তাদের সহবর্তী ছিল এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বিশ্বাস করে প্রভুর প্রতি ফিরল।
ACT 11:22 এ বিষয়ের সংবাদ জেরুশালেমে স্থিত মণ্ডলীর কানে পৌঁছাল। তাঁরা বার্ণবাকে আন্তিয়খে পাঠিয়ে দিলেন।
ACT 11:23 তিনি সেখানে পৌঁছে যখন ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রমাণ দেখতে পেলেন, তিনি আনন্দিত হলেন ও তাদের সকলকে সর্বান্তঃকরণে প্রভুর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্য প্রেরণা দিলেন।
ACT 11:24 তিনি ছিলেন একজন সৎ ব্যক্তি, পবিত্র আত্মায় ও বিশ্বাসে পরিপূর্ণ। আর বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেখানে প্রভুর কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল।
ACT 11:25 এরপরে বার্ণবা শৌলের সন্ধানে তার্ষ নগরে গেলেন।
ACT 11:26 তাঁর সন্ধান পেয়ে তিনি তাঁকে আন্তিয়খে নিয়ে এলেন। আর তাঁরা সম্পূর্ণ এক বছর মণ্ডলীর সঙ্গে মিলিত হলেন এবং অনেক লোককে শিক্ষা দিলেন। আর আন্তিয়খেই শিষ্যেরা সর্বপ্রথম খ্রীষ্টিয়ান নামে আখ্যাত হল।
ACT 11:27 এই সময়ে কয়েকজন ভাববাদী জেরুশালেম থেকে আন্তিয়খে এসে উপস্থিত হলেন।
ACT 11:28 তাঁদের মধ্যে আগাব নামে একজন উঠে দাঁড়ালেন এবং (পবিত্র) আত্মার মাধ্যমে ভবিষ্যদ্‌বাণী করলেন যে, সমগ্র রোমীয় সাম্রাজ্য দারুণভাবে দুর্ভিক্ষকবলিত হবে। (এই ঘটনা ঘটেছিল ক্লডিয়াসের রাজত্বকালে।)
ACT 11:29 শিষ্যেরা, তাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী, যিহূদিয়া প্রদেশে বসবাসকারী ভাইবোনদের কাছে সাহায্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।
ACT 11:30 সেই অনুযায়ী তাঁরা বার্ণবা ও শৌলের মারফত তাদের দান প্রাচীনদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
ACT 12:1 প্রায় এরকম সময়ে রাজা হেরোদ মণ্ডলীর কয়েকজনকে নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করলেন।
ACT 12:2 তিনি যোহনের ভাই যাকোবকে তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করলেন।
ACT 12:3 এতে ইহুদিরা সন্তুষ্ট হল দেখে তিনি পিতরকেও বন্দি করার আদেশ দিলেন। খামিরশূন্য রুটির পর্বের সময়ে এই ঘটনা ঘটল।
ACT 12:4 তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিনি কারাগারে রাখলেন। এক-একটি দলে চারজন করে সৈন্য, এমন চারটি দলের উপরে তিনি তাঁর পাহারার ভার দিলেন। হেরোদের উদ্দেশ্য ছিল, নিস্তারপর্বের পরে তাঁকে নিয়ে এসে সবার সামনে তাঁর বিচার করবেন।
ACT 12:5 এভাবে পিতরকে কারাগারে রেখে দেওয়া হল, কিন্তু মণ্ডলী আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিল।
ACT 12:6 হেরোদ সবার সামনে যেদিন তাঁর বিচারের দিন স্থির করেছিলেন, তার আগের রাতে পিতর দুজন সৈন্যের মাঝখানে দুটি শিকলে বাঁধা অবস্থায় ঘুমিয়েছিলেন। প্রহরীরা প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছিল।
ACT 12:7 হঠাৎই প্রভুর এক দূত সেখানে আবির্ভূত হলেন এবং কারাগারে এক আলো প্রকাশ পেল। তিনি পিতরের বুকের পাশে আঘাত করে তাঁকে জাগিয়ে তুললেন। তিনি বললেন, “তাড়াতাড়ি করো, উঠে পড়ো!” তখন পিতরের দু-হাতের কব্জি থেকে শিকল খসে পড়ল।
ACT 12:8 তারপর সেই দূত তাঁকে বললেন, “তুমি তোমার জামাকাপড় ও চটিজুতো পরে নাও।” পিতর তাই করলেন। দূত তাঁকে বললেন, “তোমার আলখাল্লা তোমার গায়ে জড়িয়ে নাও ও আমাকে অনুসরণ করো।”
ACT 12:9 পিতর তাঁকে অনুসরণ করে কারাগারের বাইরে এলেন, কিন্তু দূত যা করছেন, তা সত্যিই বাস্তবে ঘটছে কি না, সে বিষয়ে কোনও ধারণা করতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন যে তিনি কোনো দর্শন দেখছেন।
ACT 12:10 তাঁরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রহরীদলকে অতিক্রম করে যেখান দিয়ে নগরে যাওয়া যায় সেই লোহার দরজার সামনে এসে উপস্থিত হলেন। সেই দরজা তাঁদের জন্য আপনা-আপনি খুলে গেল, তাঁরা তার মধ্য দিয়ে পার হয়ে গেলেন। তাঁরা যখন একটি পথের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে পার হলেন, হঠাৎই দূত তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।
ACT 12:11 তখন পিতর তাঁর চেতনা ফিরে পেলেন ও বললেন, “এখন আমি নিঃসন্দেহে বুঝতে পারছি যে, প্রভুই তাঁর দূত পাঠিয়ে আমাকে হেরোদের কবল থেকে এবং ইহুদি জনসাধারণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ধার করেছেন।”
ACT 12:12 এই বিষয় তাঁর উপলব্ধি হওয়ার পর, তিনি মার্ক নামে পরিচিত সেই যোহনের মা মরিয়মের বাড়িতে গেলেন। সেখানে অনেকে একত্র হয়ে প্রার্থনা করছিল।
ACT 12:13 পিতর বাইরের দরজায় করাঘাত করলে রোদা নামে এক দাসী সাড়া দিতে দরজার কাছে এল।
ACT 12:14 সে যখন পিতরের কণ্ঠস্বর চিনতে পারল, আনন্দের আতিশয্যে দরজা না খুলেই দৌড়ে ফিরে গেল ও চিৎকার করে বলে উঠল, “পিতর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।”
ACT 12:15 তারা তাকে বলল, “তোমার মাথা খারাপ হয়েছে।” কিন্তু যখন সে জোর দিয়ে বলতে লাগল যে তার কথাই সত্যি, তারা বলল, “উনি নিশ্চয়ই তাঁর দূত।”
ACT 12:16 পিতর কিন্তু ক্রমাগত দরজায় করাঘাত করে যাচ্ছিলেন। তারা দরজা খুলে যখন তাঁকে দেখতে পেল, তারা বিস্মিত হল।
ACT 12:17 পিতর হাতের ইশারায় তাদের শান্ত হতে বললেন। তারপর বর্ণনা করলেন, প্রভু কীভাবে তাঁকে কারাগার থেকে বাইরে এনেছেন। তিনি বললেন, “তোমরা এই ঘটনার কথা যাকোবকে ও সেই ভাইদের বলো,” একথা বলে তিনি অন্য স্থানের উদ্দেশে চলে গেলেন।
ACT 12:18 সকালবেলা, পিতরের কী হল, ভেবে সৈন্যদের মধ্যে উত্তেজনার ঝড় বয়ে গেল।
ACT 12:19 তাঁর জন্য হেরোদ তন্নতন্ন অনুসন্ধান করার পরেও তাঁকে খুঁজে না পেয়ে তিনি প্রহরীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন ও তাদের প্রাণদণ্ডের আদেশ দিলেন। এরপরে হেরোদ যিহূদিয়া থেকে কৈসরিয়ায় চলে গেলেন ও সেখানে কিছুকাল থাকলেন।
ACT 12:20 টায়ার ও সীদোনের জনগণের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। তারা এসময় জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর কাছে এল যেন তিনি তাদের কথা শোনেন। রাজার শয়নাগারের একজন দাস ব্লাস্ত-এর সমর্থন আদায় করে তারা সন্ধির প্রস্তাব করল, কারণ তাদের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য তারা রাজার দেশের উপরে নির্ভর করত।
ACT 12:21 পরে, এক নির্ধারিত দিনে হেরোদ, তাঁর রাজকীয় পোশাক পরে তাঁর সিংহাসনে বসলেন। তিনি প্রকাশ্যে জনগণের উদ্দেশে এক ভাষণ দিলেন।
ACT 12:22 তারা চিৎকার করে বলল, “এ তো এক দেবতার কণ্ঠস্বর, মানুষের নয়।”
ACT 12:23 হেরোদ ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান না করায়, সেই মুহূর্তেই, প্রভুর এক দূত তাঁকে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর সর্বাঙ্গ পোকায় ছেয়ে গেল। পোকায় তাঁকে খেয়ে ফেলল ও তাঁর মৃত্যু হল।
ACT 12:24 কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে ও প্রসার লাভ করতে লাগল।
ACT 12:25 যখন বার্ণবা ও শৌল তাঁদের পরিচর্যা কাজ শেষ করলেন, তাঁরা জেরুশালেম থেকে ফিরে এলেন। সঙ্গে তাঁরা যোহনকে নিয়ে এলেন যাকে মার্ক বলেও ডাকা হত।
ACT 13:1 আন্তিয়খের মণ্ডলীতে কয়েকজন ভাববাদী ও শিক্ষক ছিলেন: বার্ণবা, নিগের নামে আখ্যাত শিমোন, কুরীণ প্রদেশের লুসিয়াস, মনায়েন (ইনি সামন্তরাজ হেরোদের সঙ্গে প্রতিপালিত হয়েছিলেন) ও শৌল।
ACT 13:2 তাঁরা যখন প্রভুর উপাসনা ও উপোস করছিলেন, পবিত্র আত্মা বললেন, “বার্ণবা ও শৌলকে আমি যে কাজের জন্য আহ্বান করেছি, সেই কাজের জন্য আমার উদ্দেশ্যে তাদের পৃথক করে দাও।”
ACT 13:3 এভাবে তাঁরা উপোস ও প্রার্থনা শেষ করার পর, তাঁরা তাঁদের উপরে হাত রাখলেন ও তাঁদের বিদায় দিলেন।
ACT 13:4 এইভাবে তাঁরা দুজন পবিত্র আত্মার দ্বারা প্রেরিত হয়ে সিলুকিয়াতে গেলেন এবং সেখান থেকে জাহাজে সাইপ্রাস গেলেন।
ACT 13:5 তাঁরা সালামিতে পৌঁছে ইহুদি সমাজভবনগুলিতে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করলেন। যোহনও তাঁদের সঙ্গে সাহায্যকারীরূপে ছিলেন।
ACT 13:6 সম্পূর্ণ দ্বীপটির এদিক-ওদিক যাতায়াত করে তাঁরা পাফোতে পৌঁছালেন। সেখানে তাঁরা বর-যীশু নামে একজন ইহুদি জাদুকর ও ভণ্ড ভাববাদীর সাক্ষাৎ পেলেন।
ACT 13:7 সে ছিল প্রদেশপাল সের্গীয় পৌলের একজন পরিচারক। প্রদেশপাল ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তিনি বার্ণবা ও শৌলকে ডেকে পাঠালেন, কারণ তিনি ঈশ্বরের বাক্য শুনতে চাইছিলেন।
ACT 13:8 কিন্তু ইলুমা, সেই জাদুকর (কারণ সেই ছিল তার নামের অর্থ), তাদের বিরোধিতা করল এবং প্রদেশপালকে বিশ্বাস থেকে ফেরাতে চাইল।
ACT 13:9 তখন শৌল, যাঁকে পৌল নামেও অভিহিত করা হত, পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে ইলুমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বললেন,
ACT 13:10 “তুমি দিয়াবলের সন্তান এবং সর্বপ্রকার ধার্মিকতার বিপক্ষ! তুমি সর্বপ্রকার ছলনা ও ধূর্ততায় পরিপূর্ণ। প্রভুর প্রকৃত পথকে বিকৃত করতে তুমি কি কখনোই ক্ষান্ত হবে না?
ACT 13:11 এখন প্রভুর হাত তোমার বিপক্ষে রয়েছে। তুমি দৃষ্টিহীন হবে এবং কিছু সময় পর্যন্ত তুমি সূর্যের আলো দেখতে পাবে না।” সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করল। সে হাতড়ে বেড়াতে লাগল, খুঁজতে লাগল, কেউ যেন তার হাত ধরে নিয়ে যায়।
ACT 13:12 যা ঘটেছে, প্রদেশপাল তা লক্ষ্য করে বিশ্বাস করলেন, কারণ তিনি প্রভুর সম্পর্কিত উপদেশে চমৎকৃত হয়েছিলেন।
ACT 13:13 পাফো থেকে পৌল ও তাঁর সঙ্গীরা জাহাজে করে পাম্ফুলিয়ার পর্গা নগরে গেলেন। সেখানে যোহন তাঁদের ছেড়ে দিয়ে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
ACT 13:14 পর্গা থেকে তাঁরা গেলেন পিষিদিয়ার আন্তিয়খে। বিশ্রামদিনে তাঁরা সমাজভবনে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করলেন।
ACT 13:15 বিধানশাস্ত্র ও ভাববাদী গ্রন্থ পাঠ করা হলে পর, সমাজভবনের অধ্যক্ষেরা তাঁদের কাছে বলে পাঠালেন, “ভাইরা, জনগণের জন্য আপনাদের কাছে যদি কোনও উৎসাহ দেওয়ার বার্তা থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে বলুন।”
ACT 13:16 পৌল উঠে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন ও বললেন, “হে ইস্রায়েলবাসী ও ঈশ্বরের উপাসক অইহুদি জনগণ, আমার কথা শোনো।
ACT 13:17 ইস্রায়েল জাতির ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন, মিশরে তাদের থাকার সময়ে তিনিই তাদের সমৃদ্ধ করেছিলেন। মহাপরাক্রমের সঙ্গে তিনি সেদেশ থেকে তাদের বের করেও এনেছিলেন।
ACT 13:18 চল্লিশ বছর পর্যন্ত মরুপ্রান্তরে তিনি তাদের আচরণ সহ্য করেছিলেন।
ACT 13:19 কনানে সাতটি জাতিকে উৎখাত করে তিনি অধিকাররূপে তাদের দেশ তাঁর প্রজাদের দান করেছিলেন।
ACT 13:20 এসব সম্পন্ন হতে প্রায় চারশো পঞ্চাশ বছর লেগেছিল। “এরপর, ভাববাদী শমূয়েলের আমল পর্যন্ত ঈশ্বর তাদের জন্য বিচারকর্তৃগণ দিলেন।
ACT 13:21 তারপর প্রজারা একজন রাজা চাইল। তিনি তাদের বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত কীশের ছেলে শৌলকে দিলেন। তিনি চল্লিশ বছর রাজত্ব করলেন।
ACT 13:22 শৌলকে পদচ্যুত করে, তিনি দাউদকে তাদের রাজা করলেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন: ‘আমি আমার মনের মতো মানুষ, যিশয়ের ছেলে দাউদকে খুঁজে পেয়েছি। আমি যা চাই, সে আমার জন্য তাই করবে।’
ACT 13:23 “তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ঈশ্বর তাঁরই বংশধরদের মধ্য থেকে পরিত্রাতা যীশুকে ইস্রায়েলের কাছে উপস্থিত করলেন।
ACT 13:24 যীশুর আগমনের পূর্বে যোহন ইস্রায়েলী প্রজাদের কাছে মন পরিবর্তন ও বাপ্তিষ্মের কথা প্রচার করলেন।
ACT 13:25 যোহন তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করার সময় বলেছিলেন, ‘তোমরা কী মনে করো, আমি কে? আমি সেই ব্যক্তি নই। না, কিন্তু তিনি আমার পরে আসছেন, যাঁর চটিজুতোর বাঁধন খোলারও যোগ্যতা আমার নেই।’
ACT 13:26 “ভাইরা, অব্রাহামের সন্তানেরা এবং ঈশ্বরভয়শীল অইহুদি তোমরা, আমাদেরই কাছে পরিত্রাণের এই বাণী পাঠানো হয়েছে।
ACT 13:27 জেরুশালেমের লোকেরা ও তাদের অধ্যক্ষেরা যীশুকে চিনতে পারেনি, তবুও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে তারা ভাববাদীদের বাণী পূর্ণ করেছে, যা প্রতি বিশ্রামদিনে পড়া হয়।
ACT 13:28 যদিও তাঁকে প্রাণদণ্ড দেওয়ার জন্য তারা কোনো যথাযথ কারণ খুঁজে পায়নি, তবুও তারা পীলাতের কাছে নিবেদন করেছিল যেন তাঁকে হত্যা করা হয়।
ACT 13:29 তাঁর সম্পর্কে লিখিত সব কথা তারা সম্পূর্ণ করলে, তারা তাঁকে ক্রুশ থেকে নামিয়ে একটি কবরে সমাধি দিল।
ACT 13:30 কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করলেন।
ACT 13:31 যাঁরা তাঁর সঙ্গে গালীল থেকে জেরুশালেমে যাত্রা করেছিলেন, তিনি তাঁদের কাছে দেখা দিয়েছিলেন। তাঁরা এখন জনসমক্ষে তাঁর সাক্ষী হয়েছেন।
ACT 13:32 “আমরা তোমাদের এই সুসমাচার বলি: ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
ACT 13:33 যীশুকে উত্থাপিত করে তিনি তাদের বংশধরদের, অর্থাৎ আমাদের কাছে তা পূর্ণ করেছেন। দ্বিতীয় গীতে যেমন লেখা আছে, “ ‘তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি।’
ACT 13:34 ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, কবরে পচে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেননি। এই সত্য এসব বচনে ব্যক্ত হয়েছে: “ ‘আমি তোমাকে দাউদের কাছে প্রতিশ্রুত পবিত্র ও সুনিশ্চিত সব আশীর্বাদ দান করব।’
ACT 13:35 অন্যত্রও এই কথার এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে: “ ‘তুমি তোমার পবিত্রজনকে ক্ষয় দেখতে দেবে না।’
ACT 13:36 “কারণ দাউদ যখন তাঁর প্রজন্মে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পূর্ণ করলেন, তিনি নিদ্রাগত হলেন। তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের সঙ্গে কবরপ্রাপ্ত হলেন ও তাঁর শরীর ক্ষয় পেল।
ACT 13:37 কিন্তু ঈশ্বর যাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তিনি ক্ষয় দেখেননি।
ACT 13:38 “সেই কারণে, আমার ভাইরা, আমি চাই তোমরা অবগত হও যে যীশুর মাধ্যমে সব পাপের ক্ষমা হয়, যা তোমাদের কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে। মোশির বিধান যে সমস্ত বিষয় থেকে তোমাদের নির্দোষ করতে পারেনি,
ACT 13:39 যীশুর মাধ্যমে প্রত্যেকজন, যারা বিশ্বাস করে, তারা সেইসব বিষয় থেকে নির্দোষ গণ্য হয়।
ACT 13:40 সাবধান হও, ভাববাদীরা যা বলে গেছেন, তোমাদের ক্ষেত্রে যেন সেরকম না হয়:
ACT 13:41 “ ‘ওহে বিদ্রুপকারীর দল, তোমরা বিস্ময়চকিত হয়ে ধ্বংস হও, কারণ আমি তোমাদের দিনে এমন কিছু করব, যা তোমাদের বলা হলেও, তোমরা কখনও তা বিশ্বাস করবে না।’ ”
ACT 13:42 পৌল ও বার্ণবা সমাজভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়, লোকেরা পরবর্তী বিশ্রামদিনে এ প্রসঙ্গে আরও কথা বলার জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানাল।
ACT 13:43 সভা শেষ হওয়ার পর বহু ইহুদি ও ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা পৌল ও বার্ণবাকে অনুসরণ করল। তাঁরা তাদের সঙ্গে কথা বললেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে অবিচল থাকার জন্য তাদের উৎসাহিত করলেন।
ACT 13:44 পরবর্তী বিশ্রামদিনে নগরের প্রায় সমস্ত মানুষ প্রভুর বাক্য শোনার জন্য একত্র হল।
ACT 13:45 ইহুদিরা সেই জনসমাগম দেখে ঈর্ষায় পরিপূর্ণ হল। তারা পৌলের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কটূক্তি করতে লাগল।
ACT 13:46 তখন পৌল ও বার্ণবা সাহসের সঙ্গে উত্তর দিলেন, “প্রথমে আপনাদের কাছে আমাদের ঈশ্বরের বাক্য বলতে হয়েছে। আপনারা যেহেতু তা অগ্রাহ্য করছেন ও নিজেদের অনন্ত জীবন লাভের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করছেন, আমরা এখন অইহুদিদের কাছেই যাচ্ছি।
ACT 13:47 কারণ প্রভু আমাদের এই আদেশই দিয়েছেন: “ ‘আমি তোমাকে অইহুদিদের জন্য দীপ্তিস্বরূপ করেছি, যেন পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত তুমি পরিত্রাণ নিয়ে যেতে পারো।’ ”
ACT 13:48 অইহুদিরা একথা শুনে আনন্দিত হল। তারা প্রভুর বাক্যের সমাদর করল। যারাই অনন্ত জীবনের জন্য নিরূপিত হয়েছিল, তারা সকলে বিশ্বাস করল।
ACT 13:49 প্রভুর বাক্য সেই সমস্ত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
ACT 13:50 কিন্তু ইহুদিরা সম্ভ্রান্ত ঘরের ঈশ্বরভয়শীল মহিলাদের ও নগরের নেতৃস্থানীয় লোকদের উত্তেজিত করে তুলল। তারা পৌল ও বার্ণবার প্রতি নির্যাতন করা শুরু করল এবং তাদের এলাকা থেকে তাঁদের বের করে দিল।
ACT 13:51 তাঁরা তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ তাঁদের পায়ের ধুলো ঝেড়ে ইকনিয়তে চলে গেলেন।
ACT 13:52 আর শিষ্যরা আনন্দে ও পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে উঠল।
ACT 14:1 ইকনিয়তে পৌল ও বার্ণবা যথারীতি ইহুদিদের সমাজভবনে গেলেন। সেখানে তারা এমনভাবে কথা বললেন যে, এক বিপুল সংখ্যক ইহুদি ও গ্রিক বিশ্বাস করল।
ACT 14:2 কিন্তু যে ইহুদিরা বিশ্বাস করতে চাইল না, তারা অইহুদিদের উত্তেজিত করে তুলল এবং ভাইদের বিরুদ্ধে তাদের মন বিষিয়ে তুলল।
ACT 14:3 তাই পৌল ও বার্ণবা সেখানে বেশ কিছুদিন কাটালেন। তাঁরা সাহসের সঙ্গে প্রভুর কথা প্রচার করতে লাগলেন। আর প্রভুও তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন দেখিয়ে ও বিস্ময়কর কাজ সম্পন্ন করে তাঁর অনুগ্রহের বার্তার সত্যতা প্রমাণ করলেন।
ACT 14:4 সেই নগরের লোকেরা দুদলে ভাগ হয়ে গেল; কিছু লোক ইহুদিদের, অন্যেরা প্রেরিতশিষ্যদের পক্ষসমর্থন করল।
ACT 14:5 অইহুদি ও ইহুদিরা, তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক হয়ে ষড়যন্ত্র করল যে তারা তাঁদের প্রতি দুর্ব্যবহার করবে ও তাঁদের পাথর দিয়ে মারবে।
ACT 14:6 কিন্তু তাঁরা একথা জানতে পেরে লুকায়োনিয়ার লুস্ত্রা ও ডার্বি নগরে এবং পারিপার্শ্বিক অঞ্চলগুলিতে পালিয়ে গেলেন।
ACT 14:7 আর সেখানে তাঁরা সুসমাচার প্রচার করতে থাকলেন।
ACT 14:8 লুস্ত্রায় একটি খোঁড়া মানুষ বসে থাকত। সে ছিল জন্ম থেকেই খোঁড়া। সে কখনও হাঁটেনি।
ACT 14:9 সে পৌলের প্রচার শুনছিল। পৌল সরাসরি তার দিকে তাকালেন ও দেখলেন যে সুস্থ হওয়ার জন্য তার বিশ্বাস আছে।
ACT 14:10 তিনি উচ্চকণ্ঠে বললেন, “তোমার পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াও!” এতে সেই ব্যক্তি লাফ দিয়ে উঠল ও হেঁটে বেড়াতে লাগল।
ACT 14:11 পৌলের এই অলৌকিক কাজ দেখে জনতা লুকায়োনীয় ভাষায় চিৎকার করে বলতে লাগল, “দেবতারা মানুষের রূপ ধরে আমাদের মধ্যে নেমে এসেছেন!”
ACT 14:12 বার্ণবাকে তারা বলল জুপিটর এবং পৌল প্রধান বক্তা ছিলেন বলে তাঁর নাম দিল মার্কারি।
ACT 14:13 নগরের ঠিক বাইরেই ছিল জিউসের মন্দির। সেখানকার পুরোহিত ষাঁড় ও ফুলের মালা নগরের প্রবেশপথে নিয়ে এল, কারণ সে ও সমস্ত লোক তাদের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করতে চাইল।
ACT 14:14 কিন্তু প্রেরিতশিষ্যেরা, বার্ণবা ও পৌল যখন একথা শুনলেন, তাঁরা তাদের পোশাক ছিঁড়লেন। তাঁরা দ্রুত জনতার কাছে ছুটে গিয়ে চিৎকার করে বললেন,
ACT 14:15 “বন্ধুগণ, আপনারা কেন এরকম করছেন? আমরাও মানুষ, আপনাদেরই মতো মানুষমাত্র। আমরা আপনাদের কাছে এই সুসমাচার নিয়ে এসেছি ও আপনাদের বলছি যে, এসব অসার বস্তু থেকে জীবন্ত ঈশ্বরের প্রতি ফিরে আসতে যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেগুলির মধ্যে যা কিছু আছে সেসব সৃষ্টি করেছেন।
ACT 14:16 অতীতে, তিনি সব জাতিকেই তাদের ইচ্ছামতো জীবনাচরণ করতে দিয়েছেন।
ACT 14:17 তবুও তিনি নিজেকে সাক্ষ্যবিহীন রাখেননি। তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি ও বিভিন্ন ঋতুতে শস্য উৎপাদন করে তাঁর করুণা দেখিয়েছেন। তিনি আপনাদের প্রচুর খাদ্যসামগ্রী দান করেছেন ও আপনাদের অন্তর আনন্দে পরিপূর্ণ করেছেন।”
ACT 14:18 এসব কথা বলা সত্ত্বেও, তাঁদের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করা থেকে জনতাকে নিবৃত্ত করতে তাঁরা বেগ পেলেন।
ACT 14:19 এরপর আন্তিয়খ ও ইকনিয় থেকে কয়েকজন ইহুদি এসে জনতাকে প্রভাবিত করল। তারা পৌলকে পাথর দিয়ে আঘাত করল ও নগরের বাইরে টেনে নিয়ে গেল, ভাবল তিনি মারা গেছেন।
ACT 14:20 কিন্তু শিষ্যেরা তাঁর চারপাশে একত্র হলে, তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং নগরের মধ্যে ফিরে গেলেন। পরের দিন তিনি ও বার্ণবা ডার্বির উদ্দেশে রওনা হলেন।
ACT 14:21 তাঁরা সেই নগরে সুসমাচার প্রচার করলেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে শিষ্য করলেন। তারপর তারা লুস্ত্রা, ইকনিয় ও আন্তিয়খে ফিরে এলেন।
ACT 14:22 তাঁরা শিষ্যদের শক্তি জোগালেন ও বিশ্বাসে স্থির থাকার জন্য তাঁদের প্রেরণা দিলেন। তাঁরা বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার জন্য আমাদের অবশ্যই বহু কষ্টভোগ করতে হবে।”
ACT 14:23 পৌল ও বার্ণবা প্রত্যেকটি মণ্ডলীতে তাঁদের জন্য প্রাচীনদের মনোনীত করলেন। যে প্রভুর উপরে তাঁরা আস্থা স্থাপন করেছিলেন, প্রার্থনা ও উপোসের মাধ্যমে তাঁরই কাছে তাঁদের সমর্পণ করলেন।
ACT 14:24 পিষিদিয়া অতিক্রম করে তাঁরা গেলেন পাম্ফুলিয়ায়।
ACT 14:25 পরে পর্গায় বাক্য প্রচার করে তাঁরা অত্তালিয়াতে চলে গেলেন।
ACT 14:26 অত্তালিয়া থেকে তাঁরা সমুদ্রপথে আন্তিয়খে ফিরে এলেন। তাঁরা যে প্রচারকাজ সম্পাদন করেছিলেন তার জন্য এখান থেকেই ঈশ্বরের অনুগ্রহের অধীনে তাঁদের সমর্পণ করা হয়েছিল।
ACT 14:27 সেখানে পৌঁছে তাঁরা মণ্ডলীকে একত্রিত করলেন। ঈশ্বর যা কিছু তাঁদের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছিলেন ও যেভাবে তিনি অইহুদিদের কাছে বিশ্বাসের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, সেই সংবাদ তাঁদের কাছে পরিবেশন করলেন।
ACT 14:28 এরপর তাঁরা সেখানে শিষ্যদের সঙ্গে অনেকদিন কাটালেন।
ACT 15:1 যিহূদিয়া থেকে কয়েকজন ব্যক্তি আন্তিয়খে এসে বিশ্বাসীদের শিক্ষা দিতে লাগল যে, “মোশি যে প্রথার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী সুন্নত না করলে, তোমরা পরিত্রাণ পাবে না।”
ACT 15:2 এই ঘটনায় পৌল ও বার্ণবার সঙ্গে তাদের তুমুল মতবিরোধ ও তর্কবিতর্ক দেখা দিল। সেই কারণে ঠিক হল, এই প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য পৌল ও বার্ণবা আরও কয়েকজন বিশ্বাসীর সঙ্গে জেরুশালেমে যাবেন এবং প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ACT 15:3 মণ্ডলী তাঁদের যাত্রাপথে পাঠিয়ে দিলেন। ফিনিসিয়া ও শমরিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে অইহুদি মানুষেরা পরিবর্তিত হয়েছিল, তাঁরা সেকথা বর্ণনা করলেন। এই সংবাদে সব ভাইয়েরা আনন্দিত হলেন।
ACT 15:4 তাঁরা যখন জেরুশালেমে এলেন, মণ্ডলী প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের সঙ্গে তাঁদের স্বাগত জানালেন। ঈশ্বর তাঁদের মাধ্যমে যে সমস্ত কাজ সাধন করেছিলেন, তাঁরা সেকথা তাঁদের জানালেন।
ACT 15:5 তখন ফরিশী-দলভুক্ত কয়েকজন বিশ্বাসী উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “অইহুদিদের অবশ্যই সুন্নত করতে হবে এবং তাদের মোশির বিধানও পালন করা প্রয়োজন।”
ACT 15:6 প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনেরা এই প্রশ্নের আলোচনার জন্য মিলিত হলেন।
ACT 15:7 বহু আলোচনার পর, পিতর উঠে দাঁড়িয়ে, তাঁদের উদ্দেশে বললেন, “ভাইরা, তোমরা জানো যে, কিছুদিন আগে ঈশ্বর তোমাদের মধ্য থেকে আমাকে মনোনীত করেছিলেন, যেন অইহুদিরা আমার মুখ থেকে সুসমাচারের বার্তা শুনে বিশ্বাস করে।
ACT 15:8 ঈশ্বর, যিনি অন্তর্যামী, তিনি তাদের গ্রহণ করেছেন প্রমাণ করার জন্য, আমাদের ক্ষেত্রে যেমন করেছিলেন, তেমনই তাদেরও পবিত্র আত্মা দান করলেন।
ACT 15:9 আমাদের ও তাদের মধ্যে তিনি কোনও বিভেদ রাখেননি, কারণ তিনি বিশ্বাসের দ্বারা তাদের হৃদয় শুচিশুদ্ধ করেছেন।
ACT 15:10 তাহলে এখন, কেন তোমরা শিষ্যদের কাঁধে সেই জোয়াল চাপিয়ে দিয়ে ঈশ্বরকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করছ, যা আমরা বা আমাদের পিতৃপুরুষেরাও বহন করতে পারিনি?
ACT 15:11 না! আমরা বিশ্বাস করি, প্রভু যীশুর অনুগ্রহের মাধ্যমেই আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি, ঠিক যেমন তারাও পেয়েছে।”
ACT 15:12 সমস্ত মণ্ডলী নীরব হয়ে রইল; আর বার্ণবা ও পৌলের মাধ্যমে ঈশ্বর অইহুদিদের মাঝে যেসব অলৌকিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর কাজ সম্পাদন করেছিলেন সেসব বর্ণনা তারা শুনল।
ACT 15:13 তাঁদের কথা শেষ হলে, যাকোব বলে উঠলেন, “ভাইয়েরা, আমার কথা শোনো।
ACT 15:14 শিমোন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে ঈশ্বর কীভাবে তাঁর নিজের নামের গৌরবের জন্য অইহুদিদের পরিদর্শন করেছেন ও তাদের মধ্য থেকে একদল লোক বেছে নিয়েছেন।
ACT 15:15 ভাববাদীদের বাণীর সঙ্গে এর মিল আছে, যেমন লেখা আছে:
ACT 15:16 “ ‘এরপর আমি ফিরে আসব ও দাউদের পতিত হওয়া তাঁবু পুনরায় গাঁথব। এর ধ্বংসাবশেষকে আমি পুননির্মাণ করব এবং তা আমি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব,
ACT 15:17 যেন লোকেদের অবশিষ্টাংশ এবং আমার নাম বহনকারী সমস্ত অইহুদি জাতি প্রভুর অন্বেষণ করতে পারে, একথা বলেন প্রভু, যিনি এ সমস্ত সাধন করেন’
ACT 15:18 বহুকাল আগে যা তিনি ব্যক্ত করেছেন।
ACT 15:19 “অতএব আমার বিচার এই, যে সমস্ত অইহুদি ঈশ্বরের দিকে ফিরে এসেছে, আমরা তাদের জন্য কোনো কিছু কঠিন করব না।
ACT 15:20 বরং আমরা পত্র লিখে তাদের জানিয়ে দেব, যেন তারা প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাবার যা কলুষিত, অবৈধ যৌন-সংসর্গ, শ্বাসরোধ করে মারা প্রাণীর মাংস এবং রক্ত পান করা থেকে দূরে থাকে।
ACT 15:21 কারণ প্রাচীনকাল থেকে প্রতিটি নগরেই মোশির বিধান প্রচার করা হয়েছে এবং প্রতি বিশ্রামবারে তা সমাজভবনগুলিতে পড়া হয়েছে।”
ACT 15:22 তখন প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনেরা, সমস্ত মণ্ডলীর সঙ্গে স্থির করলেন যে তাঁদের মধ্য থেকে নিজস্ব কয়েকজন ব্যক্তিকে মনোনীত করে, পৌল ও বার্ণবার সঙ্গে তাঁদের আন্তিয়খে পাঠাবেন। তারা ভাইদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় দুজনকে মনোনীত করলেন যাদের নাম যিহূদা (বার্শব্বা নামেও ডাকা হত) ও সীল।
ACT 15:23 তাদের মারফত তাঁরা নিম্নলিখিত পত্র পাঠালেন: আন্তিয়খ, সিরিয়া ও কিলিকিয়ার অইহুদি বিশ্বাসীদের প্রতি সব প্রেরিতশিষ্য, প্রাচীনগণ ও আমরা ভাইয়েরা তোমাদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
ACT 15:24 “আমরা শুনলাম যে, আমাদের অনুমোদন ছাড়াই আমাদের মধ্য থেকে কয়েকজন, তাদের কথাবার্তার দ্বারা তোমাদের মনকে অস্থির ও বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছে।
ACT 15:25 তাই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকজনকে মনোনীত করে আমাদের প্রিয় বন্ধু বার্ণবা ও পৌলের সঙ্গে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি
ACT 15:26 যাঁরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামের জন্য তাঁদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছেন।
ACT 15:27 অতএব, আমরা যা লিখছি, তা মুখে তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্য আমরা যিহূদা ও সীলকে পাঠাচ্ছি।
ACT 15:28 পবিত্র আত্মা ও আমাদের কাছে এ বিষয়ে বিহিত মনে হয়েছে যে নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি ছাড়া আমরা আর কোনো বোঝা তোমাদের উপর চাপাতে চাই না।
ACT 15:29 তোমরা প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাবার, রক্ত, শ্বাসরোধ করে মারা প্রাণীর মাংস এবং অবৈধ যৌন-সংসর্গ থেকে দূরে থাকবে। এই সমস্ত বিষয় এড়িয়ে চললে তোমাদের মঙ্গল হবে। বিদায়।”
ACT 15:30 তখন তাঁদের বিদায় দেওয়া হল ও তাঁরা আন্তিয়খে উপস্থিত হলেন। তাঁরা সেখানে মণ্ডলীকে সমবেত করে সেই পত্র দিলেন।
ACT 15:31 তা পাঠ করে তাঁরা সেই উৎসাহজনক বার্তার জন্য আনন্দিত হল।
ACT 15:32 যিহূদা ও সীল, যাঁরা নিজেরাও ভাববাদী ছিলেন, বিশ্বাসীদের উৎসাহ দান ও শক্তি সঞ্চার করার জন্য অনেক কথা বললেন।
ACT 15:33 কিছুকাল সেখানে কাটানোর পর, বিশ্বাসীরা শান্তি কামনা করে আশীর্বাদ দিয়ে তাঁদের বিদায় দিলেন, যেন যাঁরা তাঁদের পাঠিয়েছিলেন তাঁদের কাছে ফেরত যান।
ACT 15:34 কিন্তু সীল সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
ACT 15:35 কিন্তু পৌল ও বার্ণবা আন্তিয়খে থেকে গেলেন, যেখানে তাঁরা এবং অন্য আরও অনেকে প্রভুর বাক্য শিক্ষা দিলেন ও সুসমাচার প্রচার করলেন।
ACT 15:36 কিছুদিন পর পৌল বার্ণবাকে বললেন, “যে সমস্ত নগরে আমরা প্রভুর বাক্য প্রচার করেছি, চলো সেখানে ফিরে গিয়ে সেই ভাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং দেখি, তারা কেমন আছে।”
ACT 15:37 বার্ণবা চাইলেন যোহনকে সঙ্গে নিতে, যাকে মার্ক বলেও ডাকা হত।
ACT 15:38 কিন্তু পৌল তাঁকে নেওয়া উপযুক্ত হবে বলে মনে করলেন না, কারণ তিনি পাম্ফুলিয়ায় তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল, তাদের কাজে সহায়তা করেনি।
ACT 15:39 এতে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ এমন তীব্র আকার ধারণ করল যে, তাঁরা পৃথকভাবে যাত্রা করলেন। বার্ণবা মার্ককে সঙ্গে নিয়ে জাহাজে করে সাইপ্রাসের পথে যাত্রা করলেন,
ACT 15:40 কিন্তু পৌল, সীলকে মনোনীত করে সেখানকার ভাইদের দ্বারা প্রভুর অনুগ্রহে সমর্পিত হয়ে রওনা হলেন।
ACT 15:41 সিরিয়া ও কিলিকিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মণ্ডলীগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুললেন।
ACT 16:1 পৌল ডার্বিতে গেলেন ও পরে লুস্ত্রায় এলেন। সেখানে তিমথি নামে একজন শিষ্য বসবাস করতেন। তাঁর মা ছিলেন একজন বিশ্বাসী ইহুদি, কিন্তু পিতা ছিলেন গ্রিক।
ACT 16:2 লুস্ত্রা ও ইকনিয়ের ভাইরা তাঁর সম্পর্কে সুখ্যাতি করতেন।
ACT 16:3 পৌল চাইলেন যাত্রায় তাঁকেও সঙ্গে নিতে। তাই সেই অঞ্চলে বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য তিনি তাঁকে সুন্নত করালেন, কারণ তারা সকলে জানত যে, তাঁর পিতা ছিলেন একজন গ্রিক।
ACT 16:4 এক নগর থেকে অন্য নগরে যাওয়ার সময়, তাঁরা জেরুশালেমের প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও প্রাচীনদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি তাদের জানালেন, যেন তারা সেসব পালন করে।
ACT 16:5 এভাবে মণ্ডলীগুলি বিশ্বাসে বলীয়ান হতে ও প্রতিদিন সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকল।
ACT 16:6 পবিত্র আত্মা তাঁদের এশিয়া প্রদেশে সুসমাচার প্রচার করতে বাধা দেওয়ায়, পৌল ও তাঁর সঙ্গীরা ফরুগিয়া ও গালাতিয়া অঞ্চলের সর্বত্র পরিভ্রমণ করলেন।
ACT 16:7 মুশিয়া প্রদেশের সীমান্তে এসে তাঁরা বিথুনিয়ায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু যীশুর আত্মা তাঁদের অনুমতি দিলেন না।
ACT 16:8 তাই তাঁরা মুশিয়াকে পাশ কাটিয়ে ত্রোয়াতে গিয়ে পৌঁছালেন।
ACT 16:9 রাত্রিবেলা পৌল এক দর্শন পেলেন, তিনি দেখলেন ম্যাসিডোনিয়ার একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে অনুনয় করছেন, “আপনি ম্যাসিডোনিয়ায় এসে আমাদের সাহায্য করুন।”
ACT 16:10 পৌলের এই দর্শন পাওয়ার পর আমরা তখনই ম্যাসিডোনিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত হলাম। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, তাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার জন্য ঈশ্বর আমাদের আহ্বান করেছেন।
ACT 16:11 ত্রোয়া থেকে আমরা সরাসরি সামোথ্রেসের উদ্দেশে সমুদ্রপথে পাড়ি দিলাম। পরের দিন সেখান থেকে গেলাম নিয়াপলিতে।
ACT 16:12 সেখান থেকে আমরা যাত্রা করলাম ফিলিপীতে। ফিলিপী নগরটি ছিল একটি রোমীয় উপনিবেশ এবং ম্যাসিডোনিয়া প্রদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগর। আমরা বেশ কিছুদিন সেখানে থাকলাম।
ACT 16:13 বিশ্রামদিনে আমরা নগরদ্বারের বাইরে নদীতীরে গেলাম। সেখানে প্রার্থনা করার কোনও উপযুক্ত স্থান পাওয়া যাবে বলে আশা করেছিলাম। আমরা সেখানে বসে পড়লাম ও সমবেত মহিলাদের সঙ্গে কথা বললাম।
ACT 16:14 যারা আমাদের কথা শুনছিলেন তাদের মধ্যে লিডিয়া নামে এক মহিলা ছিলেন। থুয়াতীরা নগরের বেগুনি কাপড়ের ব্যবসায়ী এই মহিলাটি ছিলেন ঈশ্বরের উপাসক। পৌলের বার্তায় মনোনিবেশ করার জন্য প্রভু তাঁর হৃদয় খুলে দিলেন।
ACT 16:15 যখন তিনি ও তাঁর পরিজনেরা বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করলেন, তিনি আমাদের তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানালেন। তিনি বললেন, “আপনারা যদি আমাকে প্রভুতে বিশ্বাসী বলে মনে করেন, তাহলে এসে আমার বাড়িতে থাকুন।” তিনি আমাদের বুঝিয়ে রাজি করালেন।
ACT 16:16 একদিন যখন আমরা প্রার্থনা-স্থানে যাচ্ছিলাম, এক ক্রীতদাসীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হল। সে ভবিষ্যৎ বলতে পারে এমন আত্মার প্রভাবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারত। ভবিষ্যতের কথা বলে সে তার মনিবদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জন করত।
ACT 16:17 সেই মেয়েটি পৌল ও আমাদের সকলকে অনুসরণ করতে লাগল। সে চিৎকার করে বলতে লাগল, “এই লোকেরা পরাৎপর ঈশ্বরের দাস, তোমাদের কাছে পরিত্রাণের উপায়ের কথা বলছেন।”
ACT 16:18 বহুদিন যাবৎ সে এরকম করতে থাকল। শেষে পৌল এত উত্যক্ত হয়ে উঠলেন যে, তিনি ফিরে সেই আত্মার উদ্দেশে বললেন, “আমি যীশু খ্রীষ্টের নামে তোমাকে আদেশ দিচ্ছি, ওর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসো।” সেই মুহূর্তেই সেই আত্মা তাকে ছেড়ে চলে গেল।
ACT 16:19 সেই ক্রীতদাসীর মনিবেরা যখন বুঝতে পারল যে, তাদের অর্থ উপার্জনের আশা শেষ হয়েছে, তারা পৌল ও সীলকে ধরে টানতে টানতে বাজারে কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থিত করল।
ACT 16:20 তারা নগরের প্রশাসকদের সামনে তাঁদের নিয়ে এসে বলল, “এই ব্যক্তিরা ইহুদি। এরা আমাদের নগরে গণ্ডগোলের সৃষ্টি করেছে।
ACT 16:21 এরা এমন সব রীতিনীতির কথা বলছে, যা আমাদের, রোমীয়দের পক্ষে গ্রহণ বা পালন করা ন্যায়সংগত নয়।”
ACT 16:22 জনসাধারণ পৌল ও সীলের বিরুদ্ধে আক্রমণে যোগ দিল। প্রশাসকেরা তাদের পোশাক খুলে তাদের চাবুক মারার আদেশ দিলেন।
ACT 16:23 চাবুক দিয়ে তাঁদের অনেক মারার পর কারাগারে বন্দি করা হল। কারারক্ষককে আদেশ দেওয়া হল যেন তাঁদের সতর্কভাবে পাহারা দেওয়া হয়।
ACT 16:24 এই ধরনের আদেশ পেয়ে, সে তাঁদের কারাগারের ভিতরের ঘরে নিয়ে গেল এবং কাঠের বেড়ির মধ্যে তাঁদের পা আটকে দিল।
ACT 16:25 প্রায় মাঝরাতে পৌল ও সীল প্রার্থনা এবং ঈশ্বরের উদ্দেশে স্তবগান করছিলেন। অন্য কারাবন্দিরা তা শুনছিল।
ACT 16:26 হঠাৎই সেখানে এমন এক ভয়ংকর ভূমিকম্প হল যে, কারাগারের ভিত পর্যন্ত কেঁপে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের সব দরজা খুলে গেল এবং বন্দিদের শিকল খসে পড়ল।
ACT 16:27 কারারক্ষক জেগে উঠল। সে যখন কারাগারের দরজাগুলি খোলা দেখল, তখন সে তার তরোয়াল কোষ থেকে বের করে আত্মহত্যায় উদ্যত হল, কারণ সে ভেবেছিল যে বন্দিরা পালিয়ে গেছে।
ACT 16:28 কিন্তু পৌল চিৎকার করে বললেন, “তুমি নিজের ক্ষতি কোরো না! কারণ আমরা সবাই এখানেই আছি!”
ACT 16:29 কারারক্ষক আলো আনতে বলে দ্রুত ভিতরে প্রবেশ করল। সে কাঁপতে কাঁপতে পৌল ও সীলের সামনে লুটিয়ে পড়ল।
ACT 16:30 তারপর সে তাঁদের বাইরে এনে জিজ্ঞাসা করল, “মহাশয়েরা, পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”
ACT 16:31 তাঁরা উত্তর দিলেন, “প্রভু যীশুতে বিশ্বাস করো, তাহলে তুমি ও তোমার পরিবার পরিত্রাণ পাবে।”
ACT 16:32 তারপর তাঁরা তার কাছে ও তার বাড়ির অন্য সকলের কাছে প্রভুর বাক্য প্রচার করলেন।
ACT 16:33 রাত্রির সেই প্রহরেই, কারারক্ষক তাঁদের নিয়ে গিয়ে তাঁদের ক্ষত ধুয়ে দিল। তারপর দেরি না করে সে ও তার সমস্ত পরিবার বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল।
ACT 16:34 সেই কারারক্ষক তার বাড়ির ভিতরে তাঁদের নিয়ে গেল ও তাদের সামনে খাবার পরিবেশন করল। সে ও তার পরিবারের সকলে আনন্দে পরিপূর্ণ হল, কারণ তারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছিল।
ACT 16:35 দিনের আলো দেখা দিলে, প্রশাসকেরা কারারক্ষকের কাছে তাঁদের কর্মচারীদের পাঠিয়ে দিয়ে আদেশ দিলেন, “ওই লোকদের মুক্ত করে দাও।”
ACT 16:36 কারারক্ষক পৌলকে বললেন, “প্রশাসকেরা আপনাকে ও সীলকে মুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। এখন আপনারা চলে যেতে পারেন। শান্তিতে প্রস্থান করুন।”
ACT 16:37 কিন্তু পৌল সেই কর্মচারীদের বললেন, “আমরা রোমীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিনা বিচারে সবার সামনে আমাদের মেরেছে ও কারাগারে বন্দি করেছে। এখন তাঁরা গোপনে আমাদের থেকে অব্যাহতি পেতে চাইছেন? না, তাঁরা নিজেরা এখানে এসে আমাদের বের করে নিয়ে যান।”
ACT 16:38 কর্মচারীরা একথা গিয়ে প্রশাসকদের জানাল। তাঁরা যখন শুনলেন যে, পৌল ও সীল রোমীয় নাগরিক, তাঁরা আতঙ্কিত হলেন।
ACT 16:39 তাঁরা এসে তাঁদের শান্ত করলেন এবং কারাগার থেকে সঙ্গে করে তাঁদের বের করে এনে অনুরোধ করলেন, তাঁরা যেন নগর ছেড়ে চলে যান।
ACT 16:40 পৌল ও সীল কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর, তাঁরা লিডিয়ার বাড়ি চলে গেলেন। সেখানে তাঁরা বিশ্বাসী ভাইদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের উৎসাহিত করলেন। তারপর তারা সেখান থেকে চলে গেলেন।
ACT 17:1 তাঁরা পরে অ্যাম্ফিপলি ও অ্যাপল্লোনিয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা করে থিষলনিকায় পৌঁছালেন। সেখানে একটি ইহুদি সমাজভবন ছিল।
ACT 17:2 পৌল তাঁর প্রথা অনুসারে সমাজভবনে গেলেন এবং তিনটি বিশ্রামদিনে যুক্তিসহ তাদের কাছে শাস্ত্রব্যাখ্যা করলেন।
ACT 17:3 তিনি তাদের কাছে প্রমাণ করে দেখালেন যে, খ্রীষ্টের কষ্টভোগ করা ও মৃতলোক থেকে উত্থাপিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি বললেন, “এই যে যীশুর কথা আমি তোমাদের কাছে প্রচার করছি, তিনিই সেই মশীহ।”
ACT 17:4 এতে কয়েকজন ইহুদি বিশ্বাস করে পৌল ও সীলের সঙ্গে যোগ দিল। সেই সঙ্গে বহুসংখ্যক ঈশ্বরভয়শীল গ্রিক ও বেশ কিছু বিশিষ্ট মহিলাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন।
ACT 17:5 কিন্তু ইহুদিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠল। তাই তাঁরা বাজার-চত্বর থেকে কিছু খারাপ চরিত্রের লোককে একত্র করে একটি দল গঠন করল এবং তারা নগরে দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু করে দিল। তারা পৌল ও সীলের সন্ধানে যাসোনের বাড়ির দিকে ছুটে গেল, যেন তাদের সেই জনসাধারণের সামনে নিয়ে আসা যায়।
ACT 17:6 কিন্তু তারা যখন তাঁদের খুঁজে পেল না, তারা যাসোন ও অন্য কয়েকজন বিশ্বাসীকে নগরের প্রশাসকদের কাছে টেনে নিয়ে গেল। তারা চিৎকার করে বলল, “এই লোকেরা সমস্ত জগৎ ওলট-পালট করে দিয়ে এখন এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে,
ACT 17:7 আর যাসোন তার বাড়িতে এদের আতিথ্য করেছে। এরা সবাই কৈসরের শাসন অস্বীকার করে, বলে যে যীশু নামে আর একজন রাজা আছেন।”
ACT 17:8 তারা যখন একথা শুনল, সেই জনসাধারণ ও নগর-প্রশাসকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠল।
ACT 17:9 তখন যাসোন ও অন্যান্যদের কাছে জামিন আদায় করে, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হল।
ACT 17:10 রাত্রি নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসী ভাইয়েরা পৌল ও সীলকে বিরয়াতে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা ইহুদিদের সমাজভবনে গেলেন।
ACT 17:11 বিরয়াবাসীরা থিষলনিকার ইহুদিদের চেয়ে উদার চরিত্রের মানুষ ছিল, কারণ তারা ভীষণ আগ্রহের সঙ্গে সুসমাচার গ্রহণ করেছিল। পৌল যা বলছিলেন, তা প্রকৃতই সত্য কি না, তা জানবার জন্য তারা প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করে দেখত।
ACT 17:12 অতএব, অনেক ইহুদি বিশ্বাস করল, বেশ কিছু বিশিষ্ট গ্রিক মহিলা ও অনেক গ্রিক পুরুষও বিশ্বাস করলেন।
ACT 17:13 থিষলনিকার ইহুদিরা যখন জানতে পারল যে, পৌল বিরয়াতে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করছেন, তারা সেখানেও গেল। তারা গিয়ে সবাইকে বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তুলল।
ACT 17:14 বিশ্বাসী ভাইয়েরা তৎক্ষণাৎ পৌলকে সমুদ্র উপকূলের দিকে পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু সীল ও তিমথি বিরয়াতে থেকে গেলেন।
ACT 17:15 পৌলের সঙ্গী যারা ছিল, তারা তাঁকে এথেন্সে নিয়ে এল এবং সীল ও তিমথিকে যত শীঘ্র সম্ভব পৌলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ নিয়ে ফিরে গেল।
ACT 17:16 পৌল যখন এথেন্সে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন নগরটি প্রতিমায় পরিপূর্ণ দেখে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন।
ACT 17:17 তাই তিনি সমাজভবনে ইহুদিদের ও ঈশ্বরভয়শীল গ্রিকদের সঙ্গে এবং বাজারে যাদের সঙ্গে তাঁর দিনের পর দিন সাক্ষাৎ হত, তাদের কাছে এ নিয়ে আলোচনা করতেন।
ACT 17:18 একদল এপিকুরীয় ও স্তোয়িকীয় দার্শনিক তাঁর সঙ্গে তর্কবিতর্কে করতে লাগল। তাদের মধ্যে কয়েকজন জিজ্ঞাসা করল, “এই বাচাল লোকটি কী বলতে চাইছে?” অন্যেরা মন্তব্য করল, “একে বিদেশি দেবতাদের প্রচারক বলে মনে হচ্ছে।” তাদের একথা বলার কারণ হল, পৌল যীশুর সুসমাচার ও পুনরুত্থানের কথা প্রচার করছিলেন।
ACT 17:19 তখন তারা তাঁকে ধরে আরেয়পাগের সভায় নিয়ে গেল। সেখানে তারা তাঁকে বলল, “আমরা কি জানতে পারি, আপনি যে নতুন শিক্ষা প্রচার করছেন, সেটি কী?
ACT 17:20 আপনি কতগুলি অদ্ভুত ধারণার কথা আমাদের কানে দিচ্ছেন, আমরা সেগুলির অর্থ জানতে চাই।”
ACT 17:21 (এথেন্সের অধিবাসীরা ও সেখানকার প্রবাসী বিদেশিরা কেবলমাত্র নতুন সব চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা করা বা সেসব শোনা ছাড়া আর কোনো কিছুতে কালক্ষেপ করত না)।
ACT 17:22 পৌল তখন আরেয়পাগের সভায় উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “এথেন্সের জনগণ! আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমরা সর্বতোভাবে অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ।
ACT 17:23 কারণ আমি যখন চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, তোমাদের আরাধনা করার বস্তু সতর্কভাবে দেখছিলাম। তখন আমি এমন একটি বেদি দেখতে পেলাম, যার উপরে লেখা আছে: এক অজ্ঞাত দেবতার উদ্দেশে। এখন, তোমরা যাকে অজ্ঞাতরূপে আরাধনা করো, তাঁরই কথা আমি তোমাদের কাছে বলতে চাই।
ACT 17:24 “ঈশ্বর, যিনি এই জগৎ ও তার অন্তর্গত সমস্ত বস্তু রচনা করেছেন, তিনিই স্বর্গ ও মর্ত্যের প্রভু। তিনি হাত দিয়ে তৈরি দেবালয়ে বাস করেন না।
ACT 17:25 তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে বলে মানুষের হাতে তাঁর সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। কারণ তিনি স্বয়ং সমস্ত মানুষকে জীবন ও শ্বাস এবং সবকিছুই দান করেন।
ACT 17:26 তিনি একজন ব্যক্তি থেকে সব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তারা সমস্ত পৃথিবীতে বসবাস করে। তিনি আগেই তাদের নির্দিষ্ট কাল ও বসবাসের জন্য স্থান স্থির করে রেখেছিলেন।
ACT 17:27 ঈশ্বর এ কাজ করেছেন, যেন মানুষ তাঁর অন্বেষণ করে এবং সম্ভব হলে অনুসন্ধান করে তাঁর সন্ধান পায়, যদিও তিনি আমাদের কারও কাছ থেকে দূরে নেই।
ACT 17:28 কারণ তাঁর মধ্যেই আছে আমাদের প্রাণ, আমাদের জীবনাচরণ ও আমাদের অস্তিত্ব। যেমন তোমাদেরই কয়েকজন কবি বলেছেন, ‘আমরা তাঁর বংশ।’
ACT 17:29 “অতএব, আমরা যখন ঈশ্বরের বংশ, তখন আমাদের এরকম চিন্তা করা উচিত নয় যে ঈশ্বর মানুষের কলাকুশলতা ও কল্পনাপ্রসূত সোনা, রুপো বা পাথরের তৈরি করা কোনো প্রতিমূর্তি।
ACT 17:30 অতীতকালে ঈশ্বর এই প্রকার অজ্ঞতাকে উপেক্ষা করেছেন, কিন্তু এখন তিনি সর্বস্থানের সব মানুষকে মন পরিবর্তনের আদেশ দিচ্ছেন।
ACT 17:31 কারণ তিনি একটি দিন নির্ধারিত করেছেন, যখন তিনি তাঁর নিযুক্ত এক ব্যক্তির দ্বারা ন্যায়ে জগতের বিচার করবেন। মৃত্যু থেকে তাঁকে উত্থাপিত করে সব মানুষের কাছে তিনি তার প্রমাণ দিয়েছেন।”
ACT 17:32 যখন তারা মৃতদের পুনরুত্থানের কথা শুনল, তাদের মধ্যে কয়েকজন উপহাসসূচক মন্তব্য করল। কিন্তু অন্যেরা বলল, “আমরা আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে আবার শুনতে চাই।”
ACT 17:33 একথা শুনে পৌল সভা ত্যাগ করে চলে গেলেন।
ACT 17:34 অল্প কয়েকজন ব্যক্তি পৌলের অনুসারী হলেন ও বিশ্বাস করলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আরেয়পাগের সদস্য দিয়নুষিয়, দামারি নামে এক মহিলা এবং আরও অনেক ব্যক্তি।
ACT 18:1 এরপরে পৌল এথেন্স ত্যাগ করে করিন্থে গেলেন।
ACT 18:2 সেখানে আক্বিলা নামে এক ইহুদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি পন্তের অধিবাসী। ক্লডিয়াস সব ইহুদিকে রোম পরিত্যাগ করার আদেশ জারি করায়, তিনি তাঁর স্ত্রী প্রিষ্কিল্লাকে নিয়ে সম্প্রতি ইতালি থেকে এসেছিলেন। পৌল তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন।
ACT 18:3 তিনি যেহেতু তাঁদের মতো তাঁবু-নির্মাতা ছিলেন, তিনি তাঁদেরই সঙ্গে থেকে কাজ করতে লাগলেন।
ACT 18:4 প্রতি বিশ্রামবারে তিনি সমাজভবনে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন, ইহুদি ও গ্রিকদের বিশ্বাসে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন।
ACT 18:5 যখন সীল ও তিমথি ম্যাসিডোনিয়া থেকে উপস্থিত হলেন, পৌল সস্পূর্ণরূপে নিজেকে প্রচারকাজে উৎসর্গ করলেন। তিনি ইহুদিদের কাছে সাক্ষ্যদান করতে লাগলেন যে, যীশুই ছিলেন মশীহ।
ACT 18:6 কিন্তু ইহুদিরা পৌলের বিরোধিতা ও কটুভাষায় তাঁর নিন্দা করায়, তিনি প্রতিবাদস্বরূপ তাঁর পোশাক ঝেড়ে তাদের বললেন, “তোমাদের রক্তের দায় তোমাদেরই মাথায় থাকুক। আমি আমার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। এখন থেকে আমি অইহুদিদের কাছে যাব।”
ACT 18:7 পৌল তখন সমাজভবন ত্যাগ করে পাশেই তিতিয়-যুষ্টের বাড়িতে গেলেন। তিনি ছিলেন ঈশ্বরের একজন উপাসক।
ACT 18:8 সমাজভবনের অধ্যক্ষ ক্রীষ্প ও তাঁর সমস্ত পরিজন প্রভুকে বিশ্বাস করলেন। করিন্থীয়দের মধ্যেও বহু ব্যক্তি তাঁর কথা শুনে বিশ্বাস করল ও বাপ্তাইজিত হল।
ACT 18:9 এক রাত্রে, প্রভু পৌলকে এক দর্শনের মাধ্যমে বললেন, “তুমি ভয় পেয়ো না, প্রচার করতে থাকো, নীরব থেকো না।
ACT 18:10 কারণ আমি তোমার সঙ্গে আছি, কেউই তোমাকে আক্রমণ বা তোমার ক্ষতি করবে না, কারণ এই নগরে আমার অনেক প্রজা আছে।”
ACT 18:11 তাই পৌল সেখানে দেড় বছর থেকে গেলেন এবং তাদের ঈশ্বরের বাক্য শিক্ষা দিলেন।
ACT 18:12 গাল্লিয়ো যখন আখায়ার প্রদেশপাল ছিলেন, ইহুদিরা একজোট হয়ে পৌলকে আক্রমণ করল এবং তাঁকে বিচারালয়ে নিয়ে গেল।
ACT 18:13 তারা অভিযোগ করল, “এই ব্যক্তি বিধানশাস্ত্রের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের আরাধনা করার জন্য জনসাধারণকে প্ররোচিত করছে।”
ACT 18:14 পৌল কথা বলতে উদ্যত হলে, গাল্লিয়ো ইহুদিদের বললেন, “তোমরা ইহুদিরা, যদি কিছু অপকর্ম বা গুরুতর অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ করতে, তাহলে তোমাদের কথা শোনা আমার পক্ষে যুক্তিযুক্ত হত।
ACT 18:15 কিন্তু যেহেতু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কতগুলি শব্দ, নাম ও তোমাদের বিধানসম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্ন, তোমরা নিজেরাই বিষয়টির নিষ্পত্তি করে নাও, আমি এসব বিষয়ের বিচারক হতে চাই না।”
ACT 18:16 তাই তিনি বিচারালয় থেকে তাদের বের করে দিলেন।
ACT 18:17 তখন তারা সকলে সমাজভবনের অধ্যক্ষ সোস্থিনিকে আক্রমণ করে বিচারালয়ের সামনেই তাঁকে মারতে লাগল। কিন্তু গাল্লিয়ো এ বিষয়ে কোনোরকম ভ্রূক্ষেপ করলেন না।
ACT 18:18 পৌল আরও কিছু সময় করিন্থে থাকলেন। তারপর তিনি ভাইবোনেদের বিদায় জানিয়ে জাহাজে করে সিরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করলেন। সহযাত্রীরূপে তিনি নিলেন প্রিষ্কিল্লা ও আক্বিলাকে। তিনি মানত করেছিলেন বলে যাত্রার আগে কিংক্রিয়া নগরে তাঁর মাথা ন্যাড়া করলেন।
ACT 18:19 তাঁরা ইফিষে উপস্থিত হলেন। সেখানে পৌল প্রিষ্কিল্লা ও আক্কিলাকে রেখে দিলেন, কিন্তু তিনি নিজে সমাজভবনে গিয়ে ইহুদিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে লাগলেন।
ACT 18:20 তারা যখন তাঁকে আরও কিছু সময় তাদের সঙ্গে কাটাতে বললেন, তিনি রাজি হলেন না।
ACT 18:21 কিন্তু বিদায় নেওয়ার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন, “ঈশ্বরের ইচ্ছা হলে আমি আবার ফিরে আসব।” তারপর তিনি ইফিষ থেকে সমুদ্রপথে যাত্রা করলেন।
ACT 18:22 যখন তিনি কৈসরিয়ায় পৌঁছালেন, তিনি জেরুশালেম গেলেন ও মণ্ডলীকে শুভেচ্ছা জানালেন ও সেখান থেকে আন্তিয়খে চলে গেলেন।
ACT 18:23 আন্তিয়খে কিছুকাল থাকার পর, পৌল সেখান থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু করলেন। সমস্ত গালাতিয়া ও ফরুগিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পরিভ্রমণ করে তিনি শিষ্যদের সুদৃঢ় করতে লাগলেন।
ACT 18:24 ইতিমধ্যে আপল্লো নামে এক ইহুদি ইফিষে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়ার অধিবাসী। তিনি শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন, শাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান ছিল।
ACT 18:25 তাঁকে প্রভুর পথ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তিনি আত্মার উদ্দীপনায় কথা বলতেন এবং যীশুর বিষয়ে নিখুঁতরূপে শিক্ষা দিতেন, যদিও তিনি কেবলমাত্র যোহনের বাপ্তিষ্মের কথা জানতেন।
ACT 18:26 তিনি সমাজভবনে সাহসের সঙ্গে প্রচার করতে লাগলেন। প্রিষ্কিল্লা ও আক্বিলা তাঁর প্রচার শুনে তাঁদের বাড়িতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানালেন। তাঁরা ঈশ্বরের পথের বিষয়ে তাঁর কাছে আরও সঠিকরূপে ব্যাখ্যা করলেন।
ACT 18:27 আপল্লো যখন আখায়ায় যেতে চাইলেন, বিশ্বাসী ভাইয়েরা তাঁকে উৎসাহিত করলেন এবং তাঁকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশে সেখানকার শিষ্যদের পত্র লিখলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন তিনি তাদের, যারা অনুগ্রহ দ্বারা বিশ্বাস করেছিল, অনেক সাহায্য করলেন।
ACT 18:28 প্রকাশ্য বিতর্কে তিনি দৃঢ়ভাবে ইহুদিদের যুক্তি খণ্ডন করলেন, শাস্ত্র থেকে প্রমাণ দিতে লাগলেন যে, যীশুই ছিলেন সেই মশীহ।
ACT 19:1 আপল্লো যখন করিন্থে ছিলেন, পৌল তখন দেশের ভিতরের পথ দিয়ে ইফিষে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি কয়েকজন শিষ্যের সন্ধান পেলেন।
ACT 19:2 তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা যখন বিশ্বাস করেছিলে, তখন কি পবিত্র আত্মা লাভ করেছিলে?” তারা উত্তর দিল, “না, এমনকি কোনো পবিত্র আত্মা যে আছেন, সেকথা, আমরা শুনিনি।”
ACT 19:3 তখন পৌল জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে তোমরা কোন বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছিলে?” তারা উত্তর দিল, “যোহনের বাপ্তিষ্ম।”
ACT 19:4 পৌল বললেন, “যোহনের বাপ্তিষ্ম ছিল মন পরিবর্তনের বাপ্তিষ্ম। তিনি লোকদের বলেছিলেন, যিনি তাঁর পরে আসছেন, সেই যীশুর উপরে তারা যেন বিশ্বাস করে।”
ACT 19:5 একথা শুনে তারা প্রভু যীশুর নামে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল।
ACT 19:6 পৌল যখন তাদের উপরে হাত রাখলেন, পবিত্র আত্মা তাদের উপরে নেমে এলেন। তারা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা ও ভাববাণী বলতে লাগল।
ACT 19:7 সেখানে মোট বারোজন পুরুষ ছিল।
ACT 19:8 পরে পৌল সমাজভবনে প্রবেশ করে সেখানে তিন মাস যাবৎ সাহসের সঙ্গে প্রচার করলেন। তিনি যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে তাদের বিশ্বাস করতে অনুপ্রেরণা দিলেন।
ACT 19:9 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন জেদি মনোভাবাপন্ন হল। তারা বিশ্বাস করতে চাইল না এবং সেই পথ সম্পর্কে প্রকাশ্যে নিন্দা করতে লাগল। তাই পৌল তাদের ত্যাগ করে চলে গেলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে শিষ্যদের নিয়ে গেলেন এবং তুরান্নের বক্তৃতা দেওয়ার স্থানে প্রতিদিন আলোচনা করতে লাগলেন।
ACT 19:10 এভাবে দুই বছর অতিক্রান্ত হল। ফলে এশিয়া প্রদেশে বসবাসকারী ইহুদি ও গ্রিক সবাই প্রভুর বাক্য শুনতে পেল।
ACT 19:11 ঈশ্বর পৌলের মাধ্যমে অনন্যসাধারণ সব অলৌকিক কাজ সাধন করতেন।
ACT 19:12 এমনকি, তাঁর স্পর্শ করা রুমাল ও পোশাক অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছে নিয়ে গেলে তারা সুস্থ হত এবং মন্দ-আত্মা তাদের ছেড়ে যেত।
ACT 19:13 কয়েকজন ইহুদি ওঝা, যারা এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে মন্দ-আত্মাদের তাড়ানোর কাজ করত, তারা মন্দ-আত্মাগ্রস্তদের উপরে প্রভু যীশুর নাম প্রয়োগ করতে চেষ্টা করল। তারা বলত, “পৌল যাঁকে প্রচার করেন, সেই যীশুর নামে আমরা তোমাদের বেরিয়ে আসার জন্য আদেশ করছি।”
ACT 19:14 স্কিবা নামে এক ইহুদি প্রধান যাজকের সাত ছেলে এই কাজ করে যাচ্ছিল।
ACT 19:15 তাতে সেই মন্দ-আত্মা তাদের উত্তর দিল, “আমি যীশুকে জানি, পৌলের বিষয়েও জানি, কিন্তু তোমরা কারা?”
ACT 19:16 তখন যে ব্যক্তির মধ্যে মন্দ-আত্মা ছিল, সে তাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের সবাইকে পর্যুদস্ত করে তুলল। সে তাদের এমন মার দিল যে, তারা পোশাক ফেলে রক্তাক্ত ও নগ্ন দেহে সেই বাড়ি থেকে ছুটে পালিয়ে গেল।
ACT 19:17 ইফিষে বসবাসকারী ইহুদি ও গ্রিকেরা একথা জানতে পেরে সবাই ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে পড়ল এবং প্রভু যীশুর নাম মহিমান্বিত হয়ে উঠল।
ACT 19:18 যারা বিশ্বাস করেছিল, তাদের অনেকেই তখন এসে প্রকাশ্যে তাদের সব অপকর্মের কথা স্বীকার করল।
ACT 19:19 যারা জাদুবিদ্যার অনুশীলন করছিল, তাদের মধ্যে অনেকে তাদের পুঁথিপত্র নিয়ে এসে একত্র করে সেগুলি প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দিল। পুঁথিগুলির মূল্য নির্ধারণ করে তারা দেখল, সেগুলির মোট মূল্য পঞ্চাশ হাজার দ্রাকমা।
ACT 19:20 এইভাবে প্রভুর বাক্য ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করল এবং পরাক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকল।
ACT 19:21 এই সমস্ত ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পৌল ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়া পরিক্রমা করে জেরুশালেম যাবেন বলে স্থির করলেন। তিনি বললেন, “সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর আমি অবশ্যই রোম-ও পরিদর্শন করতে যাব।”
ACT 19:22 তিনি তাঁর দুই সাহায্যকারী, তিমথি ও ইরাস্তকে ম্যাসিডোনিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন এবং স্বয়ং এশিয়া প্রদেশে আরও কিছুকাল থেকে গেলেন।
ACT 19:23 প্রায় সেই সময়ে, সেই পথের বিষয়ে এক মহা গোলযোগ দেখা দিল।
ACT 19:24 দিমিত্রীয় নামে একজন রুপোর কারিগর, যে আর্তেমিসের মন্দিরের মতো রুপোর ছোটো ছোটো মন্দির নির্মাণ করত ও শিল্পীদের প্রচুর কাজের জোগান দিত,
ACT 19:25 সে তার সহকর্মীদের ও একই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শ্রমিকদের ডেকে একত্র করল ও বলল, “জনগণ, আপনারা জানেন, এই ব্যবসা থেকে আমরা ভালোরকম অর্থ উপার্জন করি।
ACT 19:26 আর আপনারা দেখছেন ও শুনতে পাচ্ছেন, এই পৌল কেমনভাবে লোকদের প্রভাবিত করছে এবং এখানে ইফিষের, বস্তুত সমগ্র এশিয়া প্রদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। সে বলে যে, মানুষের হাতে তৈরি দেবতারা আদৌ কোনো দেবতা নয়।
ACT 19:27 এর ফলে এই বিপদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, এতে কেবলমাত্র আমাদের ব্যবসার সুনাম নষ্ট হবে তা নয়, মহাদেবী আর্তেমিসের মন্দিরেরও অখ্যাতি হবে এবং যিনি সমগ্র এশিয়া প্রদেশে, এমনকি সারা পৃথিবীতে পূজিত হন, তারও অখ্যাতি হবে এবং তিনি তার মহিমা হারাবেন।”
ACT 19:28 একথা শুনে তারা ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠল ও চিৎকার করতে লাগল, “ইফিষীয়দের আর্তেমিস-ই মহাদেবী!”
ACT 19:29 এর পরেই সমস্ত নগরে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ল। জনসাধারণ ম্যাসিডোনিয়া থেকে আগত পৌলের দুই ভ্রমণের সঙ্গী গায়ো ও আরিষ্টার্খকে ধরে একযোগে রঙ্গমঞ্চে নিয়ে গেল।
ACT 19:30 পৌল জনসাধারণের সম্মুখীন হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শিষ্যেরা তাঁকে যেতে দিলেন না।
ACT 19:31 এমনকি, পৌলের বন্ধুস্থানীয় কয়েকজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা তাঁর কাছে বার্তা পাঠিয়ে অনুনয় করলেন, রঙ্গমঞ্চে গিয়ে তিনি যেন বিপদের ঝুঁকি না নেন।
ACT 19:32 তখন সভার মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিল। কিছু লোক এক বিষয়ে, আবার কিছু লোক অন্য বিষয়ে চিৎকার করছিল। এমনকি, অধিকাংশ লোকই জানত না, কেন তারা সেখানে সমবেত হয়েছে।
ACT 19:33 ইহুদিরা আলেকজান্ডারকে সামনে এগিয়ে দিল। জনসাধারণের একাংশ চিৎকার করে তাকে নির্দেশ দিতে লাগল। এতে সে সকলের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাত নেড়ে নীরব হওয়ার জন্য ইঙ্গিত করল।
ACT 19:34 কিন্তু যখন তারা তাকে ইহুদি বলে জানতে পারল, তারা প্রায় দুঘণ্টা ধরে একস্বরে চিৎকার করে গেল, “ইফিষীয়দের আর্তেমিস-ই মহাদেবী!”
ACT 19:35 নগরের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী সবাইকে শান্ত করে বললেন, “ইফিষের জনগণ, সমস্ত পৃথিবীর মানুষ কি জানে না যে, এই ইফিষ নগরই মহাদেবী আর্তেমিসের মন্দিরের ও তাঁর প্রতিমার রক্ষক, যা আকাশ থেকে পতিত হয়েছিল?
ACT 19:36 সেই কারণে, যেহেতু এই বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারে না, তোমাদের শান্ত থাকাই উচিত, হঠকারিতার বশে কিছু করা উচিত নয়।
ACT 19:37 তোমরা এই লোকগুলিকে এখানে নিয়ে এসেছ, এরা তো মন্দির লুট করেনি, আমাদের দেবীরও অবমাননা করেনি।
ACT 19:38 তাহলে, যদি দিমিত্রীয় ও তার সহযোগী শিল্পীদের কোনো অভিযোগ থাকে, আদালতের দরজা খোলা আছে, সেখানে প্রদেশপালেরাও আছেন। তারা সেখানে অভিযোগ দাখিল করতে পারে।
ACT 19:39 এছাড়া, আরও যদি অন্য কোনো বিষয় তোমাদের উত্থাপন করার থাকে, তাহলে বৈধ সভায় অবশ্যই তা নিষ্পত্তি করা হবে।
ACT 19:40 আজকের ঘটনার জন্য দাঙ্গা বাধানোর অভিযোগে আমরা অভিযুক্ত হওয়ার বিপদে পড়তে পারি। সেক্ষেত্রে, এই বিক্ষোভের পক্ষে আমরা কোনও যুক্তি দেখাতে পারব না।”
ACT 19:41 এই কথা বলে তিনি সভা ভেঙে দিলেন।
ACT 20:1 হট্টগোল সমাপ্ত হলে পৌল শিষ্যদের ডেকে পাঠালেন। তাদের উৎসাহিত করে তিনি বিদায়সম্ভাষণ জানালেন ও ম্যাসিডোনিয়ার পথে যাত্রা শুরু করলেন।
ACT 20:2 সেই অঞ্চল অতিক্রম করার সময় তিনি লোকদের উৎসাহ দেওয়ার অনেক কথাবার্তা বলে শেষে গ্রীসে উপস্থিত হলেন।
ACT 20:3 সেখানে তিনি তিন মাস থাকলেন। তিনি জলপথে সিরিয়া যাওয়ার আগে ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র রচনা করায়, তিনি ম্যাসিডোনিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
ACT 20:4 তাঁর সহযাত্রী হলেন বিরয়া থেকে পুর্হের ছেলে সোপাত্র, থিষলনিকা নিবাসী আরিষ্টার্খ ও সিকুন্দ, ডার্বি নগর থেকে গায়ো, সেই সঙ্গে তিমথি, এশিয়া প্রদেশের তুখিক ও ত্রফিম।
ACT 20:5 এরা আমাদের আগেই যাত্রা করে ত্রোয়াতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করলেন।
ACT 20:6 কিন্তু খামিরশূন্য রুটির পর্বের পর আমরা ফিলিপী থেকে জলপথে যাত্রা করলাম এবং পাঁচদিন পরে অন্যান্যদের সঙ্গে ত্রোয়াতে মিলিত হলাম। সেখানে আমরা সাত দিন থাকলাম।
ACT 20:7 সপ্তাহের প্রথম দিনে আমরা রুটি-ভাঙার জন্য একত্র হলাম। পৌল লোকদের সঙ্গে কথা বললেন। পরদিন তিনি সেই স্থান ত্যাগ করার মনস্থ করেছিলেন বলে মাঝরাত পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বললেন।
ACT 20:8 উপরতলার যে ঘরে আমরা সমবেত হয়েছিলাম, সেখানে অনেক প্রদীপ জ্বলছিল।
ACT 20:9 উতুখ নামে একজন যুবক জানালায় বসেছিল। পৌল যখন ক্রমেই কথা বলে গেলেন, সে গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়ল। সে যখন গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল, সে তিনতলা থেকে নিচে, মাটিতে পড়ে গেল। লোকেরা তাকে তুলতে গিয়ে দেখল যে সে মারা গেছে।
ACT 20:10 পৌল নিচে গেলেন, নিচু হয়ে তিনি তাঁর দু-হাত দিয়ে যুবকটিকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বললেন, “তোমরা আতঙ্কিত হোয়ো না, এর মধ্যে প্রাণ আছে!”
ACT 20:11 পরে তিনি আবার উপরতলায় গিয়ে রুটি ভেঙে ভোজন করলেন। তারপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত কথা বলে তিনি বিদায় নিলেন।
ACT 20:12 লোকেরা সেই যুবককে জীবিত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে গেল ও দুশ্চিন্তামুক্ত হল।
ACT 20:13 আমরা আগেই গিয়ে জাহাজে উঠলাম এবং আসোস অভিমুখে যাত্রা করলাম। কথা ছিল যা সেখানে আমরা পৌলকে জাহাজে তুলে নেব। তিনি এই ব্যবস্থা করেছিলেন কারণ তিনি সেখানে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
ACT 20:14 তিনি যখন আসোসে আমাদের সঙ্গে মিলিত হলেন, আমরা তাঁকে জাহাজে তুলে নিলাম ও মিতুলিনীতে গেলাম।
ACT 20:15 পরের দিন আমরা সেখান থেকে জাহাজে যাত্রা করে খী-দ্বীপের তীরে পৌঁছালাম। তার পরদিন আমরা সমুদ্র অতিক্রম করে সামো দ্বীপে এবং পরের দিন মিলেতা পৌঁছালাম।
ACT 20:16 পৌল মনস্থির করেছিলেন জলপথে ইফিষ পাশ কাটিয়ে যাবেন, যেন এশিয়া প্রদেশে সময় নষ্ট না হয়। কারণ তিনি জেরুশালেমে ফিরে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন, যেন সম্ভব হলে পঞ্চাশত্তমীর দিনে জেরুশালেমে উপস্থিত থাকতে পারেন।
ACT 20:17 পৌল মিলেতা থেকে ইফিষে লোক পাঠিয়ে মণ্ডলীর প্রাচীনদের ডেকে পাঠালেন।
ACT 20:18 তাঁরা এসে পৌঁছালে তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা জানো, এশিয়া প্রদেশে আমি উপস্থিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই তোমাদের মধ্যে থাকাকালীন আমি কীভাবে জীবনযাপন করেছি।
ACT 20:19 আমি অত্যন্ত নম্রতার সঙ্গে ও চোখের জলে প্রভুর সেবা করে গেছি, যদিও ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের কারণে আমি অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলাম।
ACT 20:20 তোমরা জানো যে আমি তোমাদের পক্ষে কল্যাণকর কোনো কিছুই প্রচার করতে ইতস্তত করিনি, বরং প্রকাশ্যে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষা দিয়েছি।
ACT 20:21 ইহুদি ও গ্রিক, উভয়েরই কাছে আমি ঘোষণা করেছি যে, মন পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের প্রভু যীশুর উপরে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
ACT 20:22 “আর এখন পবিত্র আত্মার দ্বারা বাধ্য হয়ে আমি জেরুশালেমে যাচ্ছি, জানি না, সেখানে আমার প্রতি কী ঘটবে।
ACT 20:23 আমি শুধু জানি যে, পবিত্র আত্মা আমাকে সচেতন করছেন, প্রতিটি নগরে আমাকে বন্দিদশা ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে।
ACT 20:24 কিন্তু, আমি আমার প্রাণকেও নিজের কাছে মূল্যবান বিবেচনা করি না, শুধু চাই যে আমি যেন সেই দৌড় শেষ করতে পারি এবং প্রভু যীশু যে কর্মভার আমাকে দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ করতে পারি—সেই কাজটি হল, ঈশ্বরের অনুগ্রহের সুসমাচার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া।
ACT 20:25 “এখন আমি জানি, আমি যাদের মধ্যে সেই রাজ্যের কথা প্রচার করেছি, সেই তোমরা কেউই আর আমাকে দেখতে পাবে না।
ACT 20:26 সেই কারণে, আমি তোমাদের কাছে আজ ঘোষণা করছি যে, সব মানুষের রক্তের দায় থেকে আমি নির্দোষ।
ACT 20:27 কারণ তোমাদের কাছে ঈশ্বর যা চান, আমি সেইসব ইচ্ছা ঘোষণা করতে দ্বিধাবোধ করিনি।
ACT 20:28 তোমরা নিজেদের বিষয়ে সাবধান থাকো ও পবিত্র আত্মা যে মেষদের উপরে তোমাদের তত্ত্বাবধায়করূপে নিযুক্ত করেছেন, তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখো। ঈশ্বরের যে মণ্ডলীকে তিনি তাঁর রক্তের দ্বারা কিনেছেন, তার প্রতিপালন করো।
ACT 20:29 আমি জানি, আমার চলে যাওয়ার পর, তোমাদের মধ্যে হিংস্র নেকড়েদের আবির্ভাব হবে, তারা মেষপালকে নিষ্কৃতি দেবে না।
ACT 20:30 এমনকি, তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাদের উত্থান হবে। তারা সত্যকে বিকৃত করবে, যেন তাদের অনুগামী হওয়ার জন্য শিষ্যদের টেনে নিয়ে যেতে পারে।
ACT 20:31 তাই তোমরা সতর্ক থাকো! মনে রেখো যে, সেই তিন বছর আমি তোমাদের প্রত্যেকজনকে দিনরাত চোখের জলে সাবধান করে এসেছি, কখনও ক্ষান্ত হইনি।
ACT 20:32 “এখন আমি ঈশ্বর ও তাঁর অনুগ্রহের বাক্যের কাছে তোমাদের সমর্পণ করছি, যা তোমাদের গঠন করতে ও যারা পবিত্র তাঁদের মধ্যে অধিকার দান করতে সমর্থ।
ACT 20:33 আমি কোনো মানুষের রুপো, সোনা বা পোশাকের প্রতি লোভ করিনি।
ACT 20:34 তোমরা নিজেরা জানো যে, আমার এই দু-হাত আমার ও আমার সঙ্গীদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছে।
ACT 20:35 আমার সমস্ত কাজের মাধ্যমে আমি তোমাদের দেখিয়েছি যে, এই ধরনের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই দুর্বলদের সাহায্য করতে হবে। স্বয়ং প্রভু যীশুর বলা বাক্য আমাদের মনে রাখতে হবে, ‘গ্রহণ করার চেয়ে দান করাতেই বেশি আশীর্বাদ।’ ”
ACT 20:36 একথা বলার পর তিনি তাদের সবার সঙ্গে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করলেন।
ACT 20:37 তাঁরা সবাই তাঁকে জড়িয়ে ধরল ও চুমু খেয়ে কাঁদতে লাগল।
ACT 20:38 তাঁরা আর কখনও তাঁর মুখ দেখতে পারবেন না—পৌলের এই কথায় তাঁরা সবচেয়ে দুঃখ পেলেন। এরপর তাঁরা সবাই জাহাজ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে গেলেন।
ACT 21:1 তাদের কাছ থেকে আমরা বহুকষ্টে বিদায় নেওয়ার পর, সমুদ্রপথে সরাসরি কোস নামক দ্বীপ অভিমুখে যাত্রা করলাম। পরদিন আমরা রোডসে এবং সেখান থেকে পাতারায় গেলাম।
ACT 21:2 সেখানে আমরা ফিনিসিয়াগামী একটি জাহাজ পেলাম। আমরা সেই জাহাজে উঠে যাত্রা করলাম।
ACT 21:3 সাইপ্রাস দেখা দিলে আমরা তার দক্ষিণ দিক দিয়ে অতিক্রম করে সিরিয়ার দিকে চললাম। টায়ারে এসে আমরা নামলাম। সেখানে আমাদের জাহাজের মালপত্র নামানোর কথা ছিল।
ACT 21:4 সেখানে কয়েকজন শিষ্যের সন্ধান পেয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে সাত দিন থাকলাম। পবিত্র আত্মার মাধ্যমে তাঁরা পৌলকে জেরুশালেমে না যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করলেন।
ACT 21:5 কিন্তু আমাদের সময় হয়ে এলে, আমরা সেই স্থান ত্যাগ করে আমাদের পথে এগিয়ে চললাম। সব শিষ্য, তাদের স্ত্রী ও সন্তানসন্ততিসহ আমাদের সঙ্গে নগরের বাইরে পর্যন্ত এল। সেখানে সমুদ্রতীরে আমরা নতজানু হয়ে প্রার্থনা করলাম।
ACT 21:6 পরস্পরকে বিদায়সম্ভাষণ জানিয়ে আমরা জাহাজে উঠলাম, আর তাঁরা ঘরে ফিরে গেলেন।
ACT 21:7 টায়ার থেকে আমাদের সমুদ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে আমরা তলোমায়িতে নামলাম। সেখানে ভাইবোনেদের অভিনন্দন জানিয়ে আমরা একদিন তাদের সঙ্গে থাকলাম।
ACT 21:8 পরদিন সেই স্থান ছেড়ে আমরা কৈসরিয়ায় পৌঁছালাম ও সুসমাচার প্রচারক ফিলিপের বাড়িতে থাকলাম। তিনি ছিলেন জেরুশালেমে মনোনীত সাতজনের অন্যতম।
ACT 21:9 তাঁর ছিল চারজন অবিবাহিত মেয়ে, যাঁরা ভাববাণী বলতেন।
ACT 21:10 সেখানে আমরা বেশ কিছুদিন থাকার পর, যিহূদিয়া থেকে আগাব নামে এক ভাববাদী এসে পৌঁছালেন।
ACT 21:11 আমাদের কাছে এসে তিনি পৌলের বেল্ট নিয়ে নিজের হাত ও পা-দুটি বেঁধে বললেন, “পবিত্র আত্মা বলছেন, ‘এই বেল্ট যে ব্যক্তির, জেরুশালেমের ইহুদিরা তাঁকে এভাবে বাঁধবে, আর তাঁকে পরজাতিদের হাতে তুলে দেবে।’ ”
ACT 21:12 যখন আমরা একথা শুনলাম, তখন আমরা ও সেখানে উপস্থিত সবাই পৌলকে জেরুশালেম পর্যন্ত না যাওয়ার জন্য অনুনয় করলাম।
ACT 21:13 তখন পৌল উত্তর দিলেন, “তোমরা কেন কাঁদছ ও আমার মনোবল ভেঙে দিচ্ছ? আমি যে শুধু বন্দি হওয়ার জন্যই তৈরি তা নয়, বরং প্রভু যীশুর নামের জন্য আমি জেরুশালেমে মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত।”
ACT 21:14 তিনি কিছুতেই সম্মত হবেন না দেখে, আমরা হাল ছেড়ে দিলাম ও বললাম, “প্রভুরই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।”
ACT 21:15 এরপর আমরা প্রস্তুত হয়ে জেরুশালেমের দিকে যাত্রা করলাম।
ACT 21:16 কৈসরিয়া থেকে আসা কয়েকজন শিষ্য আমাদের সঙ্গী হলেন এবং আমাদের ম্নাসোনের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। এখানেই আমাদের থাকার কথা ছিল। তিনি ছিলেন সাইপ্রাসের মানুষ ও প্রাথমিক শিষ্যদের অন্যতম।
ACT 21:17 আমরা জেরুশালেমে পৌঁছালে ভাইবোনেরা আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন।
ACT 21:18 পরদিন পৌল ও আমরা সবাই যাকোবের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। সেখানে সব প্রাচীন উপস্থিত ছিলেন।
ACT 21:19 পৌল তাঁদের নমস্কার জানিয়ে, ঈশ্বর তাঁর পরিচর্যার মাধ্যমে অইহুদিদের মধ্যে কী কাজ করেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন।
ACT 21:20 একথা শুনে তাঁরা ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন। তারপর তারা পৌলকে বললেন, “দেখুন ভাই, কত সহস্র ইহুদি বিশ্বাস করেছে, তারা সকলেই শাস্ত্রের বিধান সম্পর্কে অত্যন্ত উদ্যমী।
ACT 21:21 তারা সংবাদ পেয়েছে যে, অইহুদি জাতিদের মধ্যে প্রবাসী সব ইহুদিকে তুমি মোশির পথ ত্যাগ করার শিক্ষা দাও, বলে থাকো, তারা যেন শিশুদের সুন্নত না করে বা আমাদের প্রথা অনুযায়ী না চলে।
ACT 21:22 আমরা কী করব? তারা নিশ্চয়ই তোমার আসার কথা শুনতে পাবে।
ACT 21:23 তাই তুমি আমাদের কথামতো কাজ করো। আমাদের মধ্যে চারজন ব্যক্তি আছে, যারা এক মানত করেছে।
ACT 21:24 তুমি এসব ব্যক্তিকে নিয়ে যাও, তাদের শুদ্ধকরণ-সংস্কারে যোগ দাও ও তাদের মাথা ন্যাড়া করার ব্যয়ভার বহন করো। তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে যে, তোমার সম্পর্কিত এই সংবাদের কোনও সত্যতা নেই, বরং তুমিও নিজে বিধানের প্রতি অনুগত জীবনযাপন করছ।
ACT 21:25 কিন্তু অইহুদি বিশ্বাসীদের সম্পর্কে, আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের কথা তাদের লিখেছি, তারা যেন প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাবার, রক্ত, শ্বাসরোধ করে মারা প্রাণীর মাংস এবং অবৈধ যৌন-সংসর্গ থেকে নিজেদের দূরে রাখে।”
ACT 21:26 পরের দিন পৌল সেই ব্যক্তিদের তাঁর সঙ্গে নিলেন এবং তাদের সঙ্গে তিনি নিজেও শুচিশুদ্ধ হলেন। তারপর, শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানের সময় কখন শেষ হবে এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য কবে নৈবেদ্য উৎসর্গ করা হবে, সেকথা জানানোর জন্য তিনি মন্দিরে প্রবেশ করলেন।
ACT 21:27 সাত দিন যখন প্রায় শেষ হতে চলেছে, সেই সময় এশিয়া প্রদেশ থেকে আসা কয়েকজন ইহুদি পৌলকে মন্দিরে দেখতে পেল। তারা সমস্ত জনতাকে উত্তেজিত করে পৌলকে পাকড়াও করল।
ACT 21:28 তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, “হে ইস্রায়েলবাসী, আমাদের সাহায্য করো। এই সেই লোক, যে সব স্থানের সব মানুষকে আমাদের জাতি, আমাদের বিধান ও এই স্থানের বিরুদ্ধে শিক্ষা দিয়ে থাকে। এছাড়াও ও মন্দির এলাকায় গ্রিকদের নিয়ে এসে এই পবিত্র স্থানকে কলুষিত করেছে।”
ACT 21:29 (তারা ইফিষের ত্রফিমকে ইতিপূর্বে পৌলের সঙ্গে নগরে দেখে মনে করেছিল, পৌল হয়তো তাঁকে মন্দির অঞ্চলে নিয়ে এসেছেন।)
ACT 21:30 সমস্ত নগর উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং লোকেরা সবদিক থেকে ছুটে এল। পৌলকে পাকড়াও করে তারা মন্দির থেকে তাঁকে টেনে বের করল। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল।
ACT 21:31 তারা যখন তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত, সেই সময়ে রোমীয় সৈন্যদলের অধিনায়কের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, সমস্ত জেরুশালেম নগরে গণ্ডগোল শুরু হয়েছে।
ACT 21:32 তিনি সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শত-সেনাপতি ও সৈন্যকে নিয়ে দ্রুত জনতার কাছে ছুটে গেলেন। হাঙ্গামাকারীরা যখন সেনাপতি ও সৈন্যদের দেখতে পেল, তারা পৌলকে মারা বন্ধ করল।
ACT 21:33 সেনাপতি এগিয়ে এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করলেন ও দুটি শিকল নিয়ে তাঁকে বাঁধার আদেশ দিলেন। তারপর তিনি তাঁর পরিচয় ও তিনি কী করেছেন, তা জিজ্ঞাসা করলেন।
ACT 21:34 জনতার মধ্য থেকে কেউ এক রকম, কেউ আবার অন্যরকম কথা বলে চিৎকার করতে লাগল। হট্টগোলের জন্য সেনাপতি প্রকৃত সত্য বুঝতে না পারায়, তিনি পৌলকে সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন।
ACT 21:35 পৌল সিঁড়ির কাছে পৌঁছালে জনতা এত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল যে, সৈন্যদের তাঁকে বয়ে নিয়ে যেতে হল।
ACT 21:36 অনুসরণকারী জনতা চিৎকার করতে লাগল, “ওকে দূর করে দাও!”
ACT 21:37 সৈন্যরা পৌলকে সেনানিবাসের ভিতরে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে, তিনি সেনাপতিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি আপনাকে কিছু বলতে পারি?” তিনি উত্তর দিলেন, “তুমি কি গ্রিক বলতে পারো?
ACT 21:38 তুমিই কি সেই মিশরীয় নও, যে একটি বিদ্রোহের সূচনা করেছিল এবং চার হাজার সন্ত্রাসবাদীকে কিছুকাল আগে মরুপ্রান্তরে নিয়ে গিয়েছিল?”
ACT 21:39 প্রত্যুত্তরে পৌল বললেন, “আমি একজন ইহুদি, কিলিকিয়া তার্ষ নগরের মানুষ, কোনও সাধারণ নগরের নাগরিক নই। দয়া করে আমাকে লোকদের সঙ্গে কথা বলতে দিন।”
ACT 21:40 সেনাপতির অনুমতি লাভ করে পৌল সিঁড়ির উপরে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে জনতার দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা সকলে নীরব হলে তিনি হিব্রু ভাষায় বলতে শুরু করলেন:
ACT 22:1 “হে ভাইয়েরা ও পিতৃতুল্য ব্যক্তিরা, আমার আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা এখন আপনারা শুনুন।”
ACT 22:2 পৌলকে হিব্রু ভাষায় কথা বলতে শুনে তারা আরও শান্ত হয়ে গেল। তখন পৌল বললেন,
ACT 22:3 “আমি একজন ইহুদি, কিলিকিয়ার তার্ষ নগরে আমার জন্ম, কিন্তু এই নগরে বড়ো হয়েছি। গমলীয়েলের অধীনে আমি আমাদের পিতৃপুরুষদের বিধান সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ শিক্ষা লাভ করেছি। আজ আপনারা যেমন, একদিন আমিও আপনাদেরই একজনের মতো ঈশ্বরের পক্ষে উদ্যমী ছিলাম।
ACT 22:4 আমি এই পথের অনুসারীদের অত্যাচার করে অনেককে হত্যা করেছি, নারী ও পুরুষ সবাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে বন্দি করেছি।
ACT 22:5 এ বিষয়ে মহাযাজক ও সমস্ত বিচার পরিষদ আমার সাক্ষী। এমনকি আমি তাদের কাছ থেকে কয়েকটি পত্র নিয়ে তাদের ইহুদি ভাইদের কাছে দামাস্কাসে যাচ্ছিলাম, যেন এই সমস্ত লোককে গ্রেপ্তার করে জেরুশালেমে নিয়ে এসে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করি।
ACT 22:6 “প্রায় দুপুরবেলায়, যেই আমি দামাস্কাসের কাছে পৌঁছালাম, হঠাৎই আকাশ থেকে একটি উজ্জ্বল আলো আমার চারপাশে ঝলসে উঠল।
ACT 22:7 আমি মাটিতে পড়ে গেলাম ও একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, আমাকে বলছে, ‘শৌল, শৌল, তুমি কেন আমাকে নির্যাতন করছ?’
ACT 22:8 “ ‘প্রভু, আপনি কে?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম। “ ‘আমি নাসরতীয় যীশু, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ।’ তিনি উত্তর দিলেন।
ACT 22:9 আমার সঙ্গীরা সেই আলো দেখতে পেল, কিন্তু যিনি আমার উদ্দেশে কথা বলছিলেন, তারা তাঁর সেই কণ্ঠস্বর বুঝতে পারল না।
ACT 22:10 “ ‘প্রভু, আমি কী করব?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম। “ ‘উঠে পড়ো,’ প্রভু বললেন, ‘ও দামাস্কাসে প্রবেশ করো। তোমাকে কী করতে হবে, সেখানে তোমাকে বলে দেওয়া হবে।’
ACT 22:11 আমার সঙ্গীরা হাত ধরে আমাকে দামাস্কাসে নিয়ে গেল, কারণ সেই আলোর তীব্র ঔজ্জ্বল্য আমাকে দৃষ্টিহীন করে দিয়েছিল।
ACT 22:12 “এরপর অননিয় নামে একজন ব্যক্তি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে বিধান পালন করতেন এবং সেখানকার অধিবাসী সব ইহুদির কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।
ACT 22:13 তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ভাই শৌল, তুমি দৃষ্টিশক্তি লাভ করো!’ আর সেই মুহূর্তে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম।
ACT 22:14 “তখন তিনি বললেন, ‘আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর তোমাকে মনোনীত করেছেন, যেন তুমি তাঁর ইচ্ছা জানতে পারো ও সেই ধর্মময় ব্যক্তির দর্শন লাভ করো এবং তাঁর মুখের বাণী শুনতে পাও।
ACT 22:15 তুমি যা দেখেছ বা শুনেছ, সব মানুষের কাছে সেইসব বিষয়ে তাঁর সাক্ষী হবে।
ACT 22:16 আর এখন তুমি কীসের প্রতীক্ষা করছ? ওঠো, বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করো ও তাঁর নামে আহ্বান করে তোমার সব পাপ ধুয়ে ফেলো।’
ACT 22:17 “জেরুশালেমে ফিরে এসে আমি যখন মন্দিরে প্রার্থনা করছিলাম, আমি ভাবাবিষ্ট হলাম।
ACT 22:18 আমি দেখলাম, প্রভু কথা বলছেন, ‘তাড়াতাড়ি করো!’ তিনি আমাকে বললেন, ‘এই মুহূর্তে জেরুশালেম ছেড়ে চলে যাও, কারণ তারা আমার বিষয়ে তোমার সাক্ষ্য গ্রাহ্য করবে না।’
ACT 22:19 “আমি উত্তর দিলাম, ‘প্রভু, এই লোকেরা জানে, যারা তোমাকে বিশ্বাস করে তাদের মারধোর ও বন্দি করার জন্য আমি এক সমাজভবন থেকে অন্য সমাজভবনে গিয়েছি।
ACT 22:20 আর তোমার শহিদ স্তিফানের যখন রক্তপাত করা হয়, আমি সেখানে দাঁড়িয়ে আমার সমর্থন দিচ্ছিলাম ও যারা তাঁকে হত্যা করছিল, তাদের পোশাক পাহারা দিচ্ছিলাম।’
ACT 22:21 “তারপর প্রভু আমাকে বললেন, ‘যাও, আমি তোমাকে বহুদূরে, অইহুদিদের কাছে পাঠাব।’ ”
ACT 22:22 লোকেরা এই পর্যন্ত পৌলের কথা শুনল। তারপর তারা চিৎকার করতে লাগল, “ওকে পৃথিবী থেকে দূর করো! ও বেঁচে থাকার যোগ্য নয়!”
ACT 22:23 তারা যখন চিৎকার করে তাদের পোশাক খুলে ফেলছিল ও বাতাসে ধুলো ছড়াতে শুরু করেছিল,
ACT 22:24 তখন সেনাপতি পৌলকে সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তাঁকে চাবুক মারা হয় এবং প্রশ্ন করে যেন জানতে পারা যায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে লোকেরা এরকম চিৎকার করছে।
ACT 22:25 তারা তাঁকে টান-টান করে বেঁধে চাবুক মারতে উদ্যত হলে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শত-সেনাপতিকে পৌল বললেন, “যার অপরাধ সাব্যস্ত হয়নি, এমন কোনও রোমীয় নাগরিককে চাবুক মারা কি আপনাদের পক্ষে আইনসংগত?”
ACT 22:26 শত-সেনাপতি একথা শুনে সেনানায়কের কাছে গেলেন ও এই সংবাদ দিলেন। তিনি বললেন, “আপনি কী করতে চলেছেন? এই ব্যক্তি তো একজন রোমীয় নাগরিক!”
ACT 22:27 সেনানায়ক পৌলের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাকে বলো, তুমি কি একজন রোমীয় নাগরিক?” তিনি উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, আমি তাই।”
ACT 22:28 তখন সেনানায়ক তাঁকে বললেন, “আমার নাগরিকত্ব লাভের জন্য আমাকে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে।” পৌল উত্তর দিলেন, “কিন্তু আমি জন্মসূত্রেই নাগরিক।”
ACT 22:29 যারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল, তারা তক্ষুনি পিছিয়ে গেল। সেনানায়ক যখন উপলব্ধি করলেন যে, যাঁকে তিনি শিকলে বন্দি করেছেন, সেই পৌল একজন রোমীয় নাগরিক, তিনি নিজেই আতঙ্কিত হলেন।
ACT 22:30 পরদিন, সেনানায়ক অনুসন্ধান করতে চাইলেন, পৌলের বিরুদ্ধে ইহুদিদের সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আছে। তিনি তাঁকে মুক্ত করলেন ও প্রধান যাজকদের এবং মহাসভার সমস্ত সদস্যকে একত্র হওয়ার আদেশ দিলেন। তারপর তিনি পৌলকে এনে তাঁদের সামনে দাঁড় করালেন।
ACT 23:1 পৌল সরাসরি মহাসভার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার ভাইয়েরা, আজকের এই দিন পর্যন্ত আমি সৎ বিবেকে ঈশ্বরের প্রতি আমার কর্তব্য পালন করেছি।”
ACT 23:2 এতে মহাযাজক অননিয়, যারা পৌলের কাছে দাঁড়িয়েছিল, তাদের আদেশ দিলেন যেন তাঁর মুখে আঘাত করা হয়।
ACT 23:3 তখন পৌল তাঁকে বললেন, “চুনকাম করা দেওয়ালের মতো তুমি, ঈশ্বর তোমাকেও আঘাত করবেন! বিধানসম্মতভাবে আমার বিচার করার জন্য তুমি ওখানে বসেছ, কিন্তু তবুও আমাকে আঘাত করার আদেশ দিয়ে তুমি স্বয়ং বিধান লঙ্ঘন করছ!”
ACT 23:4 যারা পৌলের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছিল, তারা বলল, “তুমি কি ঈশ্বরের মহাযাজককে অপমান করার দুঃসাহস দেখাচ্ছ?”
ACT 23:5 পৌল উত্তর দিলেন, “ভাইয়েরা, আমি বুঝতে পারিনি যে, উনিই মহাযাজক। আমি জানি যে, এরকম লেখা আছে, ‘তোমার স্বজাতির অধ্যক্ষ সম্পর্কে কটূক্তি কোরো না।’”
ACT 23:6 তারপর পৌল যখন বুঝতে পারলেন যে, তাদের একাংশ সদ্দূকী ও একাংশ ফরিশী, তখন মহাসভার মধ্যে চিৎকার করে বললেন, “আমার ভাইয়েরা, আমি ফরিশী, একজন ফরিশীর সন্তান। মৃতদের পুনরুত্থান সম্পর্কে আমার প্রত্যাশার জন্যই আমার বিচার করা হচ্ছে।”
ACT 23:7 তিনি একথা বলার পর ফরিশী ও সদ্দূকীদের মধ্যে বিতর্ক বেধে গেল, সভা দুদলে ভাগ হয়ে গেল।
ACT 23:8 (সদ্দূকীরা বলে যে পুনরুত্থান নেই, স্বর্গদূতেরা বা আত্মারাও নেই, কিন্তু ফরিশীরা সেসব স্বীকার করে থাকে।)
ACT 23:9 তখন প্রচণ্ড কোলাহল শুরু হল। কয়েকজন শাস্ত্রবিদ যারা ফরিশী-দলভুক্ত ছিল, উঠে দাঁড়িয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু করল। তারা বলল, “আমরা এই লোকটির কোনো অন্যায় খুঁজে পাচ্ছি না। কোনো আত্মা বা স্বর্গদূত যদি এর সঙ্গে কথা বলে থাকে, তাহলে তাতেই বা কী?”
ACT 23:10 বিতর্ক এমন হিংস্র আকার ধারণ করল সেনানায়ক ভয় পেলেন যে তারা হয়তো পৌলকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলবে। তিনি সৈন্যবাহিনীকে আদেশ দিলেন, নিচে নেমে গিয়ে তাঁকে তাদের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে আনতে ও সেনানিবাসে নিয়ে যেতে।
ACT 23:11 সেই দিনই রাত্রিবেলায় প্রভু পৌলের পাশে এসে দাঁড়ালেন ও বললেন, “সাহসী হও! তুমি যেমন জেরুশালেমে আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছ, তেমনই তুমি রোমেও সাক্ষ্য দেবে।”
ACT 23:12 পরের দিন সকালবেলা ইহুদিরা এক ষড়যন্ত্র করল এবং একটি শপথে নিজেদের আবদ্ধ করল যে, যতদিন পর্যন্ত তারা পৌলকে হত্যা না করে, ততদিন পর্যন্ত তারা খাওয়াদাওয়া বা পান করবে না।
ACT 23:13 চল্লিশজনেরও বেশি লোক এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।
ACT 23:14 তারা প্রধান যাজকদের ও প্রাচীনবর্গের কাছে গিয়ে বলল, “আমরা এক গুরু-অঙ্গীকার করেছি যে, পৌলকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমরা কিছুই খাবো না।
ACT 23:15 তাহলে এখন, মহাসভাকে সঙ্গে নিয়ে আপনারা সেনানায়কের কাছে এই অজুহাতে আবেদন করুন যে, তার সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য অনুসন্ধানের জন্য তাকে যেন আপনাদের সামনে নিয়ে আসা হয়। সে এখানে আসার আগেই তাকে আমরা হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছি।”
ACT 23:16 কিন্তু পৌলের ভাগ্নে যখন এই ষড়যন্ত্রের কথা শুনতে পেল, সে সেনানিবাসে গিয়ে পৌলকে সেকথা বলল।
ACT 23:17 পৌল তখন একজন শত-সেনাপতিকে ডেকে বললেন, “এই যুবককে সেনানায়কের কাছে নিয়ে যান, সে তাঁকে কিছু বলতে চায়।”
ACT 23:18 তাই তিনি তাকে সেনানায়কের কাছে নিয়ে গেলেন। শত-সেনাপতি বললেন, “বন্দি পৌল আমাকে ডেকে এই যুবককে আপনার কাছে নিয়ে আসতে বলল, কারণ আপনার কাছে এর কিছু বক্তব্য আছে।”
ACT 23:19 সেনানায়ক যুবকটির হাত ধরে তাকে এক পাশে নিয়ে গেলেন ও জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি আমাকে কী বলতে চাও?”
ACT 23:20 সে বলল, “ইহুদিরা একমত হয়েছে, আগামীকাল পৌলের বিষয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধান করবে, এই অজুহাতে তাঁকে মহাসভার কাছে হাজির করার জন্য তারা আপনার কাছে আবেদন জানাবে।
ACT 23:21 আপনি তাদের কথায় সম্মত হবেন না, কারণ তাদের চল্লিশজনেরও বেশি লোক তাঁর জন্য গোপনে ওত পেতে আছে। তারা শপথ করেছে যে, তাঁকে হত্যা না করা পর্যন্ত তারা খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করবে না। তারা এখনই প্রস্তুত আছে, তাদের অনুরোধের প্রত্যুত্তরে আপনার সম্মতির অপেক্ষা করছে।”
ACT 23:22 সেনানায়ক যুবকটিকে বিদায় করার সময় সতর্ক করে দিলেন, “তুমি যে এই সংবাদ আমাকে দিয়েছ, একথা কাউকে বোলো না।”
ACT 23:23 এরপর তিনি তাঁর দুজন শত-সেনাপতিকে ডেকে তাদের আদেশ দিলেন, “আজ রাত্রি নয়টার সময় দুশো জন সেনা, সত্তরজন অশ্বারোহী ও দুশো বর্শাধারী সেনা কৈসরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত থেকো।
ACT 23:24 পৌলের জন্য আরও কয়েকটি ঘোড়ার ব্যবস্থা কোরো, যেন তাকে নিরাপদে প্রদেশপাল ফীলিক্সের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।”
ACT 23:25 তিনি এভাবে একটি পত্র লিখলেন:
ACT 23:26 ক্লডিয়াস লিসিয়াসের তরফে, মহামান্য প্রদেশপাল ফীলিক্স সমীপেষু, শুভেচ্ছা।
ACT 23:27 ইহুদিরা এই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল, কিন্তু আমি আমার সৈন্যবাহিনীসহ গিয়ে একে উদ্ধার করি, কারণ আমি জানতে পেরেছিলাম যে, সে একজন রোমীয় নাগরিক।
ACT 23:28 আমি জানতে চেয়েছিলাম, কেন তারা এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তাই আমি একে তাদের মহাসভার কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।
ACT 23:29 আমি দেখলাম যে, তাদের অভিযোগ ছিল তাদের বিধানসম্পর্কিত বিষয়ে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ডের যোগ্য কোনো অভিযোগ ছিল না।
ACT 23:30 এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা যখন আমাকে জানানো হল, আমি তক্ষুনি একে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিলাম। আমি এর বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদেরও আদেশ দিলাম, তারা যেন তাদের অভিযোগ আপনার কাছে উপস্থাপিত করে।
ACT 23:31 অতএব সৈন্যরা তাঁর আদেশ পালন করে রাত্রিবেলা পৌলকে সঙ্গে নিয়ে সুদূর আন্তিপাত্রিতে নিয়ে গেল।
ACT 23:32 পরের দিন অশ্বারোহী সেনাদের সঙ্গে তাঁকে পাঠিয়ে দিয়ে পদাতিকেরা সেনানিবাসে ফিরে গেল।
ACT 23:33 অশ্বারোহী সেনারা কৈসরিয়ায় পৌঁছে, তারা সেই পত্র প্রদেশপালকে দিল ও পৌলকে তাঁর হাতে সমর্পণ করল।
ACT 23:34 সেই পত্র পড়ে প্রদেশপাল জানতে চাইলেন, তিনি কোন প্রদেশের লোক। পৌল কিলিকিয়ার অধিবাসী জানতে পেরে,
ACT 23:35 তিনি বললেন, “তোমার অভিযোগকারীরা এখানে এসে উপস্থিত হলে আমি তোমার কথা শুনব।” এরপর তিনি পৌলকে হেরোদের প্রাসাদে পাহারাধীন রাখার আদেশ দিলেন।
ACT 24:1 পাঁচদিন পরে মহাযাজক অননিয় কয়েকজন প্রাচীন ও তর্তুল্ল নামে এক উকিলকে সঙ্গে নিয়ে কৈসরিয়ায় পৌঁছালেন। তাঁরা প্রদেশপালের কাছে পৌলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন।
ACT 24:2 পৌলের ডাক পড়লে, তর্তুল্ল ফীলিক্সের কাছে তাঁর অভিযোগ উপস্থাপন করলেন, “আপনার অধীনে আমরা দীর্ঘকাল শান্তি উপভোগ করে আসছি; আপনার দূরদর্শিতার গুণে এই জাতির বিভিন্ন প্রকার সংস্কার সাধিত হয়েছে।
ACT 24:3 হে মহামান্য ফীলিক্স, সর্বত্র এবং সর্বতোভাবে আমরা এই সত্য গভীর কৃতজ্ঞতাসহ স্বীকার করছি।
ACT 24:4 কিন্তু বেশি কথা বলে আপনাকে বিরক্ত করতে চাই না তাই আমি আপনাকে অনুরোধ করি, অনুগ্রহ করে আপনি আমাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শুনুন।
ACT 24:5 “আমরা দেখেছি, এই ব্যক্তি গণ্ডগোল সৃষ্টি করে ও সমস্ত পৃথিবীতে ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধানোর জন্য প্ররোচনা দেয়। সে নাসরতীয় দলের একজন হোতা।
ACT 24:6 সে এমনকি, মন্দিরও অপবিত্র করতে চেয়েছিল; তাই আমরা তাকে ধরে এনেছি, এবং আমাদের বিধান অনুসারে তার বিচার করতে চেয়েছিলাম।
ACT 24:7 কিন্তু সেনানায়ক লিসিয়াস এসে বলপ্রয়োগ করে আমাদের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিলেন এবং
ACT 24:8 তার অভিযোগকারীদের কাছে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দিলেন। যেসব বিষয়ে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, আপনি স্বয়ং একে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সত্যতা জানতে পারবেন।”
ACT 24:9 ইহুদিরাও এসব বিষয় সত্য বলে সেই অভিযোগ সমর্থন করল।
ACT 24:10 প্রদেশপাল পৌলকে তাঁর বক্তব্য জানানোর ইঙ্গিত করলে, পৌল উত্তর দিলেন: “বহু বছর যাবৎ আপনি এই জাতির বিচারক হয়ে আছেন জানতে পেরে আমি সানন্দে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি।
ACT 24:11 আপনি সহজেই যাচাই করতে পারেন যে, বারোদিনেরও বেশি হয়নি, আমি উপাসনা করার জন্য জেরুশালেমে গিয়েছিলাম।
ACT 24:12 আমার অভিযোগকারীরা আমাকে মন্দিরে কারও সঙ্গে তর্কবিতর্ক করতে বা সমাজভবনে, কিংবা নগরের অন্যত্র, কোথাও কোনো জনগণকে উত্তেজিত করতে দেখেনি।
ACT 24:13 আর তারা এখন আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উত্থাপন করছে, সেগুলি আপনার কাছে প্রমাণ করতেও পারে না।
ACT 24:14 তবুও, আমি স্বীকার করছি, এরা যাকে ‘দল’ বলছে, সেই ‘পথের’ অনুসারীরূপে আমি আমার পিতৃপুরুষদের ঈশ্বরের উপাসনা করি। যেসব বিষয় বিধানসম্মত এবং যা কিছু ভাববাদীদের গ্রন্থে লেখা আছে, আমি সে সমস্তই বিশ্বাস করি।
ACT 24:15 আর এসব লোকের মতোই আমারও ঈশ্বরে একই প্রত্যাশা আছে যে, ধার্মিক ও দুর্জন, উভয়েরই পুনরুত্থান হবে।
ACT 24:16 তাই ঈশ্বর ও মানুষের কাছে আমার বিবেক নির্মল রাখার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করি।
ACT 24:17 “কয়েক বছর অনুপস্থিত থাকার পর, আমি স্বজাতীয় দরিদ্রদের জন্য কিছু দানসামগ্রী নিয়ে ও নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য জেরুশালেমে যাই।
ACT 24:18 যখন তারা আমাকে মন্দির-প্রাঙ্গণে এ কাজ করতে দেখেছিল আমি সংস্কারগতভাবে শুচিশুদ্ধ ছিলাম। আমার সঙ্গে কোনো লোকজন ছিল না, কোনো গণ্ডগোলের সঙ্গেও আমি জড়িত ছিলাম না।
ACT 24:19 কিন্তু এশিয়া প্রদেশ থেকে আগত কিছু ইহুদি সেখানে ছিল। আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে, তা নিয়ে এখানে আপনার কাছে তাদের উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল।
ACT 24:20 অথবা, এখানে যারা উপস্থিত আছে, তারাই বলুক, যখন আমি মহাসভার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তারা আমার মধ্যে কোন অপরাধ পেয়েছিল—
ACT 24:21 শুধু একটি ছাড়া? তাদের উপস্থিতিতে আমি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘মৃতদের পুনরুত্থান সম্পর্কে আজ আপনাদের সামনে আমার বিচার হচ্ছে।’ ”
ACT 24:22 তখন ফীলিক্স, সেই পথ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন বলে, শুনানি মুলতুবি রাখলেন। তিনি বললেন, “যখন সেনানায়ক লিসিয়াস আসবেন, আমি তোমাদের বিচার নিষ্পত্তি করব।”
ACT 24:23 তিনি শত-সেনাপতিকে আদেশ দিলেন পৌলকে পাহারায় রাখার জন্য, কিন্তু তাঁকে যেন কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া হয় ও তাঁর বন্ধুদেরও যেন তাঁকে সেবা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
ACT 24:24 বেশ কয়েক দিন পর ফীলিক্স, তাঁর ইহুদি স্ত্রী দ্রুষিল্লাকে সঙ্গে নিয়ে এলেন। তিনি পৌলকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর মুখ থেকে খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাস স্থাপনের কথা শুনলেন।
ACT 24:25 আলোচনাকালে পৌল ন্যায়পরায়ণতা, আত্মসংযম ও সন্নিকট বিচারের কথা বললে, ফীলিক্স ভীত হয়ে বললেন, “এখন এই যথেষ্ট। তুমি যেতে পারো। পরে সুবিধেমতো আমি তোমাকে ডেকে পাঠাব।”
ACT 24:26 একইসঙ্গে, তিনি পৌলের কাছে কিছু ঘুস পাওয়ারও আশা করেছিলেন, সেই কারণে, তিনি তাঁকে বারবার ডেকে পাঠাতেন ও তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন।
ACT 24:27 দুই বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল, পর্কীয় ফীষ্ট ফীলিক্সের পদে বসলেন। কিন্তু ফীলিক্স যেহেতু ইহুদিদের সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন, তিনি পৌলকে কারাগারেই রেখে দিলেন।
ACT 25:1 সেই প্রদেশে উপস্থিত হওয়ার তিন দিন পর ফীষ্ট কৈসরিয়া থেকে জেরুশালেমে গেলেন।
ACT 25:2 সেখানে প্রধান যাজকেরা ও ইহুদি নেতৃবৃন্দ তাঁর নিকটে উপস্থিত হয়ে পৌলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করলেন।
ACT 25:3 তাঁরা ফীষ্টের কাছে জরুরি অনুরোধ জানালেন যে, তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়ে পৌলকে যেন জেরুশালেমে স্থানান্তরিত করা হয় কারণ তাঁরা পথের মধ্যেই পৌলকে হত্যা করার জন্য ওত পাতার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
ACT 25:4 ফীষ্ট উত্তর দিলেন, “পৌল কৈসরিয়াতে বন্দি আছে, আমিও স্বয়ং শীঘ্রই সেখানে যাচ্ছি।
ACT 25:5 তোমাদের কয়েকজন নেতা আমার সঙ্গে আসুক, সেই লোকটি কোনো অন্যায় করে থাকলে, তোমরা সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করবে।”
ACT 25:6 সেখানে তাঁদের সঙ্গে আট-দশদিন কাটিয়ে, তিনি কৈসরিয়ায় চলে গেলেন। পরের দিনই তিনি বিচারসভা আহ্বান করলেন এবং আদেশ দিলেন যেন পৌলকে তাঁর সামনে নিয়ে আসা হয়।
ACT 25:7 পৌল উপস্থিত হলে, জেরুশালেম থেকে আগত ইহুদিরা তাঁর চারপাশে দাঁড়াল। তারা তাঁর বিরুদ্ধে বহু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করতে লাগল, কিন্তু কোনো প্রমাণ দিতে পারল না।
ACT 25:8 তখন পৌল আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন: “আমি ইহুদিদের বিধানের বিরুদ্ধে বা মন্দিরের বিরুদ্ধে বা কৈসরের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় করিনি।”
ACT 25:9 ফীষ্ট ইহুদিদের প্রতি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশে পৌলকে বললেন, “তুমি কি জেরুশালেমে গিয়ে এসব অভিযোগের জন্য আমার সামনে বিচারের জন্য দাঁড়াতে চাও?”
ACT 25:10 পৌল উত্তর দিলেন, “আমি এখন কৈসরের বিচারালয়ে দাঁড়িয়ে আছি, আমার বিচার এখানেই হওয়া উচিত। আপনি স্বয়ং ভালোভাবেই জানেন যে, আমি ইহুদিদের প্রতি কোনও অন্যায় করিনি।
ACT 25:11 তা সত্ত্বেও, যদি আমি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে মৃত্যুবরণ করতে অস্বীকার করি না। কিন্তু ইহুদিদের দ্বারা নিয়ে আসা এসব অভিযোগ যদি সত্যি না হয়, তাহলে আমাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। আমি কৈসরের কাছে আপিল করছি।”
ACT 25:12 ফীষ্ট তাঁর মন্ত্রণা-পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই রায় ঘোষণা করলেন, “তুমি কৈসরের কাছে আপিল করেছ, তুমি কৈসরের কাছেই যাবে।”
ACT 25:13 কয়েক দিন পর রাজা আগ্রিপ্প ও বার্নিস, ফীষ্টকে তাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার জন্য কৈসরিয়ায় উপস্থিত হলেন।
ACT 25:14 সেখানে তাঁরা বেশ কিছুদিন কাটানোর সময়, ফীষ্ট রাজার সঙ্গে পৌলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “এখানে এক ব্যক্তি আছে, যাকে ফীলিক্স বন্দি রেখে গেছেন।
ACT 25:15 আমি যখন জেরুশালেমে গেলাম, প্রধান যাজকেরা ও ইহুদিদের প্রাচীনেরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তার শাস্তি চেয়েছিল।
ACT 25:16 “আমি তাদের বললাম যে, কোনো মানুষকে সমর্পণ করা রোমীয়দের প্রথা নয়, যতক্ষণ না সে তার অভিযোগকারীদের সম্মুখীন হয় ও তাদের উত্থাপিত অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করে।
ACT 25:17 তারা যখন এখানে আমার সঙ্গে এল, আমি মামলাটি নিয়ে দেরি করলাম না, পরের দিনই বিচারসভা আহ্বান করে সেই ব্যক্তিকে নিয়ে আসার আদেশ দিলাম।
ACT 25:18 অভিযোগকারীরা কথা বলতে উঠে দাঁড়ালে, আমি যে রকম আশা করেছিলাম, তারা সে ধরনের কোনও অভিযোগ উত্থাপন করল না।
ACT 25:19 বরং, তারা তাদের নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত বিষয় এবং যীশু নামে এক মৃত ব্যক্তি যাকে পৌল জীবিত বলে দাবি করে, সেই নিয়ে তার সঙ্গে তর্কবিতর্কের প্রসঙ্গ উত্থাপন করল।
ACT 25:20 এ ধরনের বিষয় কীভাবে অনুসন্ধান করতে হবে, তা বুঝতে না পেরে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এসব অভিযোগের বিচারের জন্য সে জেরুশালেম যেতে ইচ্ছুক কি না।
ACT 25:21 পৌল যখন সম্রাটের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য আপিল করল, কৈসরের কাছে না পাঠানো পর্যন্ত আমি তাকে বন্দি করে রাখারই আদেশ দিলাম।”
ACT 25:22 তখন আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, “আমি নিজে এই লোকটির কথা শুনতে চাই।” তিনি উত্তর দিলেন, “আগামীকালই আপনি তার কথা শুনবেন।”
ACT 25:23 পরদিন আগ্রিপ্প ও বার্নিস, মহাসমারোহের সঙ্গে সেখানে এলেন ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের ও নগরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সভাকক্ষে প্রবেশ করলেন। ফীষ্টের আদেশে পৌলকে সেখানে নিয়ে আসা হল।
ACT 25:24 ফীষ্ট বললেন, “মহারাজ আগ্রিপ্প ও আমাদের সঙ্গে উপস্থিত সকলে, আপনারা এই ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছেন! সমস্ত ইহুদি সম্প্রদায় জেরুশালেমে ও এখানে এই কৈসরিয়ায় আমার কাছে এর বিরুদ্ধে আবেদন করেছে, চিৎকার করে বলেছে যে এর আর বেঁচে থাকা উচিত নয়।
ACT 25:25 আমি দেখেছি, এ মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে এমন কোনো অপরাধ করেনি, কিন্তু যেহেতু সে সম্রাটের কাছে তার আপিল করেছে, আমি তাকে রোমে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ACT 25:26 কিন্তু মাননীয় সম্রাটের কাছে তার সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে লেখার কিছু নেই। সেই কারণে, তাকে আমি আপনাদের সকলের কাছে, বিশেষভাবে মহারাজ আগ্রিপ্প, আপনার কাছে নিয়ে এসেছি, যেন এই তদম্তের ফলে আমি তার বিষয়ে লেখার মতো কিছু পাই।
ACT 25:27 কারণ আমি মনে করি, কোনো বন্দির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাকে রোমে পাঠানো যুক্তিসম্মত নয়।”
ACT 26:1 তখন আগ্রিপ্প পৌলকে বললেন, “তোমার স্বপক্ষে বক্তব্য পেশ করার জন্য তোমাকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।” তখন পৌল তাঁর হাত প্রসারিত করে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করলেন:
ACT 26:2 “মহারাজ আগ্রিপ্প, ইহুদিদের সমস্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করার উদ্দেশ্যে, আজ আপনার সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
ACT 26:3 আর বিশেষ করে এজন্য যে, আপনি ইহুদিদের সমস্ত রীতিনীতি ও মতবিরোধগুলির সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচিত। সেই কারণে, ধৈর্যের সঙ্গে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আমি আপনাকে অনুরোধ করছি।
ACT 26:4 “শৈশবকাল থেকে, আমার জীবনের প্রথমদিকে, আমার নিজের নগরে ও জেরুশালেমে আমি কীভাবে জীবনযাপন করেছি ইহুদিরা তা সকলেই জানে।
ACT 26:5 দীর্ঘকাল যাবৎ তারা আমাকে জানে ও ইচ্ছা করলে সাক্ষ্যও দিতে পারে যে, আমাদের ধর্মের মধ্যে পরম নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়, একজন ফরিশীরূপে আমি জীবনযাপন করতাম।
ACT 26:6 আর এখন, ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দান করেছিলেন, তারই উপর আমার প্রত্যাশার জন্য, আজ আমি বিচারের সম্মুখীন হয়েছি।
ACT 26:7 আমাদের বারো গোষ্ঠী সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশায় আগ্রহভরে দিনরাত ঈশ্বরের সেবা করে আসছে। মহারাজ, এই প্রত্যাশার জন্যই ইহুদিরা আমাকে অভিযুক্ত করেছে।
ACT 26:8 ঈশ্বর মৃতজনকে উত্থাপিত করেন, কেন একথা বিশ্বাস করা আপনাদের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়?
ACT 26:9 “আমারও দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এই যে, নাসরতের যীশুর নামের প্রতিরোধে যা কিছু করা সম্ভবপর, সে সবকিছু করাই আমার কর্তব্য।
ACT 26:10 আর জেরুশালেমে ঠিক সেই কাজই আমি করেছিলাম। প্রধান যাজকদের দেওয়া অধিকারবলে আমি অনেক পবিত্রগণকে কারাগারে বন্দি করেছি। যখন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, তখন আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার মত দিয়েছি।
ACT 26:11 অনেক সময় আমি এক সমাজভবন থেকে অন্য সমাজভবনে তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য গিয়েছি, তাদের উপরে বলপ্রয়োগ করেছি, যেন তারা ঈশ্বরনিন্দা করে। তাদের বিরুদ্ধে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে আমি তাদের অত্যাচার করার জন্য পরজাতীয় নগরগুলি পর্যন্তও গিয়েছিলাম।
ACT 26:12 “এরকমই এক যাত্রাকালে, আমি প্রধান যাজকদের কাছ থেকে অধিকার ও অনুমতিপত্র নিয়ে দামাস্কাসে যাচ্ছিলাম।
ACT 26:13 মহারাজ, প্রায় দুপুরবেলায়, যখন আমি মাঝপথে ছিলাম, আকাশ থেকে এক আলো দেখলাম। তা ছিল সূর্য থেকেও উজ্জ্বল, আমার ও আমার সঙ্গীদের চারপাশে তা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
ACT 26:14 আমরা সবাই মাটিতে পড়ে গেলাম। আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনলাম, যা হিব্রু ভাষায় আমাকে বলছিল, ‘শৌল, শৌল, তুমি কেন আমাকে নির্যাতন করছ? কাঁটার মুখে লাথি মারা তোমার পক্ষে কঠিন।’
ACT 26:15 “তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘প্রভু, আপনি কে?’ “ ‘আমি যীশু, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ,’ প্রভু উত্তর দিলেন।
ACT 26:16 ‘এখন ওঠো ও তোমার পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও। আমি তোমাকে আমার সেবক নিযুক্ত করার জন্য তোমাকে দর্শন দিয়েছি। আমার বিষয়ে তুমি যা দেখেছ ও আমি তোমাকে যা দেখাব, তুমি তার সাক্ষী হবে।
ACT 26:17 আমি তোমার স্বজাতি ও অইহুদিদের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করব। আমি তোমাকে তাদের কাছে পাঠাচ্ছি,
ACT 26:18 তুমি তাদের চোখ খুলে দেবে, অন্ধকার থেকে তাদের আলোয় ফিরিয়ে আনবে, শয়তানের পরাক্রম থেকে নিয়ে আসবে ঈশ্বরের কাছে, যেন তারা সব পাপের ক্ষমা লাভ করে এবং আমার উপরে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা পবিত্র হয়েছে, তাদের মধ্যে স্থান লাভ করতে পারে।’
ACT 26:19 “সেই কারণে, মহারাজ আগ্রিপ্প, আমি স্বর্গীয় এই দর্শনের অবাধ্য হইনি।
ACT 26:20 প্রথমে দামাস্কাসবাসীদের কাছে, পরে জেরুশালেম ও সমগ্র যিহূদিয়ার অধিবাসীদের কাছে এবং অইহুদিদের কাছেও আমি প্রচার করলাম, যেন তারা মন পরিবর্তন করে ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসে ও তাদের কাজ দিয়ে তাদের অনুতাপের প্রমাণ দেয়।
ACT 26:21 এই কারণেই ইহুদিরা আমাকে মন্দির চত্বরে পাকড়াও করে ও আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে।
ACT 26:22 কিন্তু আজ, এই দিন পর্যন্ত, আমি ঈশ্বরের সহায়তা লাভ করে এসেছি। সেই কারণেই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে ছোটো-বড়ো নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি। ভাববাদীরা ও মোশি যা ঘটবার কথা বলে গেছেন, তার বাইরে আমি কোনো কথাই বলছি না—
ACT 26:23 মশীহকে কষ্টভোগ করতে হবে এবং মৃতলোক থেকে সর্বপ্রথম উত্থাপিত বলে, তিনি তাঁর স্বজাতি ও অইহুদিদেরও কাছে আলোর বার্তা ঘোষণা করবেন।”
ACT 26:24 এই সময়ে ফীষ্ট পৌলের আত্মপক্ষ সমর্থনে বাধা দিয়ে বললেন, “পৌল, তোমার বুদ্ধিভ্রম হয়েছে। তোমার অত্যধিক জ্ঞান তোমাকে পাগল করে তুলেছে।”
ACT 26:25 পৌল উত্তর দিলেন, “মহামান্য ফীষ্ট, আমি পাগল নই। আমি যা বলছি, তা সত্য ও যুক্তিগ্রাহ্য।
ACT 26:26 রাজা এসব বিষয়ে পরিচিত ও তাঁর কাছে আমি স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারি। আমি দৃঢ়রূপে বিশ্বাস করি, এর কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি, কারণ তা কোণে করা হয়নি।
ACT 26:27 মহারাজ আগ্রিপ্প, আপনি কি ভাববাদীদের বিশ্বাস করেন? আমি জানি, আপনি করেন।”
ACT 26:28 আগ্রিপ্প তখন পৌলকে বললেন, “তুমি কি মনে করো যে, এই অল্প সময়ের মধ্যেই তুমি আমাকে খ্রীষ্টিয়ান করে তুলবে?”
ACT 26:29 পৌল উত্তর দিলেন, “অল্প সময়ে হোক, বা বেশি—আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, শুধুমাত্র আপনি নন, কিন্তু যারা আজ আমার কথা শুনছেন, কেবলমাত্র এই শিকলটুকু ছাড়া তারা সবাই যেন আমারই মতো হতে পারেন।”
ACT 26:30 রাজা উঠে দাঁড়ালেন ও তাঁর সঙ্গে প্রদেশপাল, বার্নিস ও তাদের সঙ্গে বসে থাকা সকলে উঠলেন।
ACT 26:31 তাঁরা সেই ঘর ত্যাগ করলেন ও পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করার সময়ে বললেন, “এই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা কারাগারে বন্দি হওয়ার যোগ্য কিছুই করেনি।”
ACT 26:32 আগ্রিপ্প ফীষ্টকে বললেন, “কৈসরের কাছে আপিল না করলে এই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া যেত।”
ACT 27:1 যখন স্থির হল যে আমরা জাহাজে করে ইতালি যাত্রা করব, পৌল ও আরও কয়েকজন বন্দিকে সম্রাট অগাস্টাসের সৈন্যদলের একজন শত-সেনাপতি জুলিয়াসের হাতে সমর্পণ করা হল।
ACT 27:2 আমরা আদ্রামুত্তিয়ামের একটি জাহাজে উঠলাম, যেটা এশিয়া প্রদেশের উপকূলবর্তী বিভিন্ন বন্দরে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমরা সমুদ্রযাত্রা শুরু করলাম। থিষলনিকা থেকে আসা আরিষ্টার্খ নামে একজন ম্যাসিডোনিয়াবাসী আমাদের সঙ্গে ছিলেন।
ACT 27:3 পরের দিন, আমরা সীদোনে পৌঁছালাম। জুলিয়াস পৌলের প্রতি দয়া দেখিয়ে বন্ধুদের কাছে তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দিলেন, যেন তারা তাঁর সব প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাতে পারে।
ACT 27:4 সেখান থেকে আমরা আবার সমুদ্রযাত্রা শুরু করলাম এবং বাতাস যেহেতু আমাদের প্রতিকূলে বইছিল, আমরা সাইপ্রাস দ্বীপের আড়ালে আড়ালে যেতে লাগলাম।
ACT 27:5 যখন আমরা কিলিকিয়া ও পাম্ফুলিয়া উপকূলের সম্মুখবর্তী সমুদ্র অতিক্রম করলাম, আমরা লুসিয়া প্রদেশের ম্যুরা নামক স্থানে পৌঁছালাম।
ACT 27:6 সেখানে একটি আলেকজান্দ্রীয় জাহাজকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখে শত-সেনাপতি আমাদের সেই জাহাজে তুলে দিলেন।
ACT 27:7 বহুদিন যাবৎ ধীর গতিতে চলার পর আমরা কষ্টের সঙ্গে ক্নীদের কাছে এসে পৌঁছালাম। বাতাস যখন আমাদের নির্ধারিত পথে যাত্রা করতে দিল না, আমরা সলমোনির বিপরীত দিকে ক্রীট দ্বীপের আড়ালে আড়ালে পাড়ি দিলাম।
ACT 27:8 কষ্ট করে উপকূল বরাবর যেতে যেতে, আমরা লাসেয়া নগরের কাছে সুন্দর পোতাশ্রয় নামে একটি স্থানে এসে পৌঁছালাম।
ACT 27:9 এভাবে অনেক সময় নষ্ট হয়েছিল। উপবাস-পর্ব শেষ হওয়ার পরে সমুদ্রযাত্রা বিপদসংকুল হয়ে উঠেছিল। তাই পৌল তাদের সতর্ক করে দিয়ে বললেন,
ACT 27:10 “মহাশয়েরা, আমি দেখতে পাচ্ছি, আমাদের সমুদ্রযাত্রা দুর্দশাজনক হবে, জাহাজ ও মালপত্রের প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি হবে, আবার আমাদেরও প্রাণসংশয় হতে পারে।”
ACT 27:11 কিন্তু শত-সেনাপতি, পৌলের কথায় কান না দিয়ে, নাবিকের ও জাহাজের মালিকের পরামর্শ মেনে চললেন।
ACT 27:12 যেহেতু বন্দরটি শীতকাল কাটানোর জন্য উপযুক্ত ছিল না তাই অধিকাংশ লোকই সমুদ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা আশা করছিল যে ফিনিক্সে পৌঁছে সেখানে শীতকাল কাটাবে। সেটা ছিল ক্রীটের একটি বন্দর, যার দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দুই দিকই ছিল খোলা।
ACT 27:13 যখন দক্ষিণ দিক থেকে হালকা এক বাতাস বইতে লাগল, তারা ভাবল যে তারা যা চেয়েছিল তাই হয়েছে। ফলে তারা নোঙর তুলে ক্রীটের উপকূল বরাবর যাত্রা করল।
ACT 27:14 কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উরাকুলো নামে প্রচণ্ড এক ঘূর্ণিঝড় দ্বীপের দিক থেকে আছড়ে পড়ল।
ACT 27:15 জাহাজটি ঝড়ের মুখে পড়ল এবং বাতাসের মধ্য দিয়ে যেতে পারল না। তাই আমরা তা ভেসে যেতে দিলাম।
ACT 27:16 যখন আমরা কৌদা নামের ছোটো একটি দ্বীপের আড়াল দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমরা অনেক কষ্টে জাহাজের জীবন-রক্ষাকারী নৌকাটি নিজেদের আয়ত্তে আনতে পারলাম।
ACT 27:17 মাঝিমাল্লারা যখন সেটাকে পাটাতনের উপরে তুলল, তারা নিচ থেকে দড়ি দিয়ে সেটাকে জাহাজের সঙ্গে বাঁধল। সূর্তির বালির চড়ায় আটকে পড়ার ভয়ে তারা সমুদ্রে নোঙর নামিয়ে দিল এবং জাহাজটিকে ভেসে যেতে দিল।
ACT 27:18 আমরা ঝড়ের এমন প্রচণ্ড দাপটের মুখে পড়লাম যে পরের দিন তারা জাহাজের মালপত্র ফেলে দিতে লাগল।
ACT 27:19 তৃতীয় দিনে তারা নিজের হাতে জাহাজের সাজসরঞ্জাম জলে ফেলে দিল।
ACT 27:20 যখন অনেকদিন পর্যন্ত সূর্য বা আকাশের তারা দেখা গেল না এবং ঝড়ের তাণ্ডব অব্যাহত রইল, আমরা বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিলাম।
ACT 27:21 লোকেরা অনেকদিন অনাহারে থাকার পর, পৌল তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “মহাশয়েরা, আমার পরামর্শ গ্রহণ করে ক্রীট থেকে আপনাদের যাত্রা না করাই উচিত ছিল; তাহলে আপনাদের এই ক্ষয়ক্ষতি হত না।
ACT 27:22 কিন্তু এখন আমি আপনাদের অনুনয় করছি, আপনারা সাহস রাখুন, কারণ আপনাদের কারও প্রাণহানি হবে না, কেবলমাত্র জাহাজটি ধ্বংস হবে।
ACT 27:23 আমি যে ঈশ্বরের দাস ও আমি যাঁর উপাসনা করি, তাঁর এক দূত গত রাত্রে আমার পাশে দাঁড়িয়ে
ACT 27:24 বললেন, ‘পৌল, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমাকে কৈসরের সামনে বিচারের জন্য উপস্থিত হতেই হবে। আর ঈশ্বর দয়া করে যারা তোমার সঙ্গে সমুদ্রযাত্রা করছে, তাদের সকলের জীবন তোমায় দান করেছেন।’
ACT 27:25 সেই কারণে মহাশয়েরা সাহস রাখুন, কারণ ঈশ্বরের উপরে আমার বিশ্বাস আছে যে, তিনি আমার কাছে যেমন ব্যক্ত করেছেন, তেমনই ঘটবে।
ACT 27:26 তবুও, আমাদের কোনো দ্বীপে গিয়ে উঠতেই হবে।”
ACT 27:27 চোদ্দো দিন পরে রাত্রিবেলায়, আমরা তখনও আদ্রিয়া সমুদ্রের উপর দিয়ে ভেসে চলেছি, এমন সময়ে, প্রায় মাঝরাতে, নাবিকরা অনুমান করল যে তারা কোনও ডাঙার কাছাকাছি এসে পড়েছে।
ACT 27:28 তারা মেপে দেখল যে, জলের গভীরতা একশো কুড়ি ফুট। অল্প কিছুক্ষণ পরে তারা আবার মেপে দেখল, জলের গভীরতা নব্বই ফুট।
ACT 27:29 পাথরের গায়ে আছড়ে পরার ভয়ে তারা জাহাজের পিছন দিক থেকে চারটি নোঙর ফেলে দিয়ে দিনের আলোর জন্য প্রার্থনা করতে লাগল।
ACT 27:30 আর জাহাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে নাবিকেরা জাহাজের সামনের দিকে কয়েকটি নোঙর নামিয়ে দেওয়ার ছল করল ও সমুদ্রে জীবন-রক্ষাকারী নৌকাটিকে নামিয়ে দিল।
ACT 27:31 পৌল তখন শত-সেনাপতি ও সৈন্যদের বললেন, “এই লোকেরা জাহাজে না থাকলে আপনারা কিছুতেই রক্ষা পাবেন না।”
ACT 27:32 তখন সৈন্যরা নৌকার দড়ি কেটে দিয়ে সেটাকে জলে পড়ে যেতে দিল।
ACT 27:33 ভোরের ঠিক আগে, পৌল তাদের সবাইকে কিছু খেয়ে নেওয়ার জন্য অনুনয় করলেন। তিনি বললেন, “গত চোদ্দো দিন যাবৎ আপনারা ক্রমাগত উদ্বেগের মধ্যে আছেন এবং অনাহারে কাটিয়েছেন, আপনারা কিছুই আহার করেননি।
ACT 27:34 এখন কিছু খাওয়ার জন্য আমি আপনাদের অনুরোধ করছি। বেঁচে থাকার জন্য আপনাদের খাবার প্রয়োজন আছে। আপনাদের একজনের মাথার একটি চুলও নষ্ট হবে না।”
ACT 27:35 একথা বলার পর, তিনি কিছু রুটি নিয়ে তাদের সকলের সামনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর তা ভেঙে তিনি খেতে লাগলেন।
ACT 27:36 এতে তারা সকলেই উৎসাহিত হয়ে কিছু কিছু খাবার গ্রহণ করল।
ACT 27:37 জাহাজে আমরা সর্বমোট দুশো ছিয়াত্তর জন ছিলাম।
ACT 27:38 তারা যখন নিজেদের ইচ্ছামতো পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করল, তারা খাদ্যশস্য সমুদ্রে ফেলে দিয়ে জাহাজের ভার হালকা করল।
ACT 27:39 দিনের আলো ফুটে উঠলে তারা জায়গাটা চিনতে পারল না। কিন্তু তারা একটি উপসাগর দেখতে পেল, যার তীর বালিতে ভর্তি ছিল। তারা স্থির করল, সম্ভব হলে তারা জাহাজটিকে চড়ায় আটকে দেবে।
ACT 27:40 নোঙরগুলি কেটে দিয়ে তারা সেগুলি সমুদ্রে ফেলে দিল। সেই সঙ্গে তারা হালের সঙ্গে বাঁধা দড়িগুলিও খুলে দিল। এরপর তারা বাতাসের অনুকূলে পাল তুলে দিয়ে তীরের দিকে এগিয়ে চলল।
ACT 27:41 কিন্তু জাহাজ একটি বালির চড়ায় ধাক্কা মারল এবং আটকে গেল। জাহাজের সামনের দিকটি জোরে ধাক্কা মারল ও তা অচল হয়ে গেল। কিন্তু পিছনের দিকটি ঢেউয়ের প্রবল আঘাতে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
ACT 27:42 বন্দিরা কেউ যেন সাঁতার কেটে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সৈন্যরা তাদের হত্যা করার পরামর্শ করল।
ACT 27:43 কিন্তু শত-সেনাপতি পৌলের প্রাণ বাঁচানোর ইচ্ছায় তাদের সেই পরিকল্পনা কার্যকর হতে দিলেন না। তিনি আদেশ দিলেন, যারা সাঁতার জানে, প্রথমে তারাই যেন জলে ঝাঁপ দিয়ে তীরে ওঠে।
ACT 27:44 অবশিষ্ট সকলে যেন তক্তা বা জাহাজের ভাঙা অংশ নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। এভাবে প্রত্যেকেই নিরাপদে তীরে পৌঁছে গেল।
ACT 28:1 এভাবে নিরাপদে তীরে পৌঁছানোর পর, আমরা জানতে পারলাম যে সেই দ্বীপের নাম মাল্টা।
ACT 28:2 সেই দ্বীপের অধিবাসীরা আমাদের প্রতি অসাধারণ সহানুভূতি দেখাল। সেই সময় বৃষ্টি পড়ছিল এমনকি শীতও পড়েছিল, তাই তারা আগুন জ্বেলে আমাদের সবাইকে অভ্যর্থনা জানাল।
ACT 28:3 পৌল এক বোঝা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে ওই আগুনে দেওয়ামাত্র, আগুনের তাপে একটি বিষধর সাপ বেরিয়ে এসে তাঁর হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
ACT 28:4 দ্বীপের অধিবাসীরা যখন দেখল যে সাপটি তাঁর হাতে ঝুলছে, তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, “এই ব্যক্তি নিশ্চয়ই একজন খুনি। কারণ সমুদ্রের কবল থেকে এ রক্ষা পেলেও দেবতার বিচারে ও প্রাণে বাঁচবে না।”
ACT 28:5 কিন্তু পৌল সাপটিকে আগুনে ঝেড়ে ফেলে দিলেন, আর তাঁর কোনো ক্ষতি হল না।
ACT 28:6 লোকেরা ভাবছিল, তিনি ফুলে উঠবেন বা হঠাৎই মারা গিয়ে মাটিতে পড়ে যাবেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করেও কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা তাঁর প্রতি ঘটতে না দেখে, তারা তাদের মত বদল করে বলল যে, তিনি একজন দেবতা।
ACT 28:7 কাছেই ছিল সেই দ্বীপের প্রধান কর্মকর্তা পুব্লিয়ের জমিজায়গা। তিনি আমাদের তাঁর বাড়িতে স্বাগত জানালেন এবং তিন দিন যাবৎ আমাদের অতিথি আপ্যায়ন করলেন।
ACT 28:8 তাঁর বাবা জ্বর ও আমাশয়রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। পৌল তাঁকে দেখতে ভিতরে গেলেন এবং প্রার্থনা করার পর তাঁর উপরে হাত রেখে তাঁকে সুস্থ করলেন।
ACT 28:9 এ ঘটনা ঘটার পর, সেই দ্বীপের অন্যান্য রোগীরাও এসে সুস্থতা লাভ করল।
ACT 28:10 তারা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের সমাদর করল এবং যখন আমরা সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রস্তুত হলাম, আমাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু তারা সরবরাহ করল।
ACT 28:11 তিন মাস পরে আমরা একটি জাহাজে করে যাত্রা শুরু করলাম। সেই জাহাজ ওই দ্বীপেই শীতকাল কাটাচ্ছিল। সেটা ছিল একটি আলেকজান্দ্রীয় জাহাজ, যার সামনে খোদাই করা ছিল ক্যাস্টর ও পোল্লাক্স, দুই যমজ দেবতার মূর্তি।
ACT 28:12 আমরা সুরাকুষে জাহাজ লাগিয়ে সেখানে তিন দিন থাকলাম।
ACT 28:13 সেখান থেকে আমরা সমুদ্রযাত্রা করে রিগিয়ামে পৌঁছালাম। পরের দিন দক্ষিণ দিক থেকে বাতাস বইতে লাগল এবং তার পরের দিন আমরা পুতিয়লিতে পৌঁছালাম।
ACT 28:14 সেখানে আমরা কয়েকজন বিশ্বাসীর সন্ধান পেলাম, তাঁরা তাঁদের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটানোর জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানালেন। এভাবে আমরা রোমে পৌঁছালাম।
ACT 28:15 সেখানকার ভাইবোনরা আমাদের আসার খবর শুনতে পেয়েছিলেন, তাই আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তাঁরা সুদূর আপ্পিয়ের হাট ও ত্রি-পান্থনিবাস পর্যন্ত এলেন। তাঁদের দেখে পৌল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন ও উৎসাহিত হলেন।
ACT 28:16 যখন আমরা রোমে পৌঁছালাম, পৌলকে স্বতন্ত্রভাবে বাস করার অনুমতি দেওয়া হল যদিও একজন সৈন্য তাঁকে পাহারা দিত।
ACT 28:17 তিন দিন পরে তিনি ইহুদিদের নেতৃবৃন্দকে একত্র হওয়ার জন্য আহ্বান করলেন। তাঁরা সমবেত হলে পৌল তাঁদের বললেন, “হে আমার ভাইয়েরা, যদিও স্বজাতির বিরুদ্ধে বা আমাদের পিতৃপুরুষদের রীতিনীতির বিরুদ্ধে আমি কিছুই করিনি, তবুও আমাকে জেরুশালেমে গ্রেপ্তার করে রোমীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
ACT 28:18 তারা আমাকে জেরা করার পর মুক্তি দিতে চেয়েছিল, কারণ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য কোনো অপরাধই আমি করিনি।
ACT 28:19 কিন্তু ইহুদিরা যখন আপত্তি করল, আমি কৈসরের কাছে অনুরোধ জানাতে বাধ্য হলাম। এমন নয় যে স্বজাতির লোকদের দোষারোপ করার মতো আমার কোনও অভিযোগ ছিল।
ACT 28:20 এই কারণে, আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ও কথা বলতে চেয়েছি। ইস্রায়েলের প্রত্যাশার জন্যই আমি এই শিকলে বন্দি হয়েছি।”
ACT 28:21 তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা আপনার সম্পর্কে যিহূদিয়া থেকে কোনও পত্র পাইনি। সেখান থেকে আসা কোনও ব্যক্তি আপনার বিষয়ে কোনো খারাপ সংবাদ দেয়নি বা কোনো খারাপ কথা বলেনি।
ACT 28:22 কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী প্রকার তা আমরা শুনতে চাই, কারণ আমরা জানি, সর্বত্র লোকেরা এই দলের বিরুদ্ধে কথা বলে।”
ACT 28:23 পৌলের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাঁরা একটি দিন স্থির করলেন। পৌল যেখানে বসবাস করছিলেন, তাঁরা আরও বেশি সংখ্যায় সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি তাঁদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও প্রচার করলেন। তিনি মোশির বিধান ও ভাববাদীদের গ্রন্থ থেকে যীশুর বিষয়ে তাঁদের মনে বিশ্বাস জাগানোর চেষ্টা করলেন।
ACT 28:24 তিনি যা বললেন, তা শুনে কেউ কেউ বিশ্বাস করলেন, কিন্তু অন্যরা বিশ্বাস করলেন না।
ACT 28:25 তাঁদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ায় তাঁরা সেই স্থান ত্যাগ করতে লাগলেন, যখন পৌল তাঁর সর্বশেষ মন্তব্য করলেন, “পবিত্র আত্মা আপনাদের পিতৃপুরুষদের কাছে সত্য ঘোষণা করেছিলেন, যখন তিনি ভাববাদী যিশাইয়র মাধ্যমে বলেছিলেন,
ACT 28:26 “ ‘তুমি এই জাতির কাছে যাও ও বলো, “তোমরা সবসময়ই শুনতে থাকবে, কিন্তু কখনও বুঝতে পারবে না; তোমরা সবসময়ই দেখতে থাকবে, কিন্তু কখনও উপলব্ধি করবে না।”
ACT 28:27 কারণ এই লোকেদের হৃদয় অনুভূতিহীন হয়েছে, তারা কদাচিৎ তাদের কান দিয়ে শোনে, তারা তাদের চোখ মুদ্রিত করেছে। অন্যথায়, তারা হয়তো তাদের চোখ দিয়ে দেখবে, তাদের কান দিয়ে শুনবে, তাদের মন দিয়ে বুঝবে, ও ফিরে আসবে যেন আমি তাদের আরোগ্য দান করি।’
ACT 28:28 “সেই কারণে, আমি আপনাদের বলতে চাই যে, ঈশ্বরের পরিত্রাণ অইহুদিদের কাছে পাঠানো হয়েছে, আর তারা তা শুনবে।”
ACT 28:29 তিনি একথা বলার পর, ইহুদিরা নিজেদের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক করতে করতে সেই স্থান ত্যাগ করল।
ACT 28:30 সম্পূর্ণ দু-বছর পৌল সেখানে তাঁর নিজস্ব ভাড়াবাড়িতে রইলেন। যারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসত, তাদের সকলকে তিনি স্বাগত জানাতেন।
ACT 28:31 সাহসের সঙ্গে তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে প্রচার করতেন এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। কেউ তাঁকে বাধা দিত না।
ROM 1:1 পৌল, খ্রীষ্ট যীশুর একজন ক্রীতদাস, প্রেরিতশিষ্যরূপে আহূত ও ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচারের জন্য নিযুক্ত—
ROM 1:2 পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থে তাঁর ভাববাদীদের দ্বারা পূর্ব থেকেই তিনি যে সুসমাচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
ROM 1:3 তা তাঁর পুত্র-বিষয়ক, যিনি তাঁর মানব প্রকৃতির দিক থেকে ছিলেন দাউদের একজন বংশধর।
ROM 1:4 কিন্তু যিনি পবিত্রতার আত্মার মাধ্যমে মৃতলোক থেকে পুনরুত্থানের দ্বারা সপরাক্রমে ঈশ্বরের পুত্ররূপে ঘোষিত হয়েছেন: তিনি যীশু খ্রীষ্ট, আমাদের প্রভু।
ROM 1:5 তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর নামের গুণে, আমরা অনুগ্রহ পেয়েছি ও প্রেরিতশিষ্য হওয়ার আহ্বান পেয়েছি, যেন বিশ্বাস থেকে যে বাধ্যতা আসে তার প্রতি সব অইহুদি জাতির মধ্য থেকে লোকদের আহ্বান করি।
ROM 1:6 আবার তোমরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা যীশু খ্রীষ্টের আপনজন হওয়ার জন্য আহূত হয়েছ।
ROM 1:7 রোমে, ঈশ্বর যাদের ভালোবেসেছেন ও যারা পবিত্রগণ হওয়ার জন্য আহূত, তাদের সবার প্রতি: আমাদের পিতা ঈশ্বরের ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কাছ থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।
ROM 1:8 সর্বপ্রথম, আমি যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে, তোমাদের সকলের জন্য আমার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তোমাদের বিশ্বাসের কথা জগতের সর্বত্র শোনা যাচ্ছে।
ROM 1:9 যে ঈশ্বরকে তাঁর পুত্রের সুসমাচারের জন্য আমি সমস্ত অন্তর দিয়ে সেবা করি, তিনিই আমার সাক্ষী যে আমি কীভাবে আমার প্রার্থনায় প্রতিনিয়ত তোমাদের স্মরণ করি;
ROM 1:10 আবার, আমি প্রার্থনা করি যে ঈশ্বরের ইচ্ছায় তোমাদের কাছে আমার আসার পথ যেন উন্মুক্ত হয়।
ROM 1:11 আমি তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি, যেন আমি তোমাদের কাছে কোনো আত্মিক বরদান প্রদান করে তোমাদের শক্তিশালী করে তুলতে পারি—
ROM 1:12 অর্থাৎ, তোমাদের ও আমার বিশ্বাসের দ্বারা যেন আমরা পারস্পরিক অনুপ্রাণিত হতে পারি।
ROM 1:13 ভাইবোনেরা, আমি চাই না তোমাদের কাছে একথা অজানা থাকুক যে, তোমাদের কাছে আসার জন্য আমি বহুবার পরিকল্পনা করেছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছু না কিছু আমার যাওয়ার পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য অইহুদি জাতির মধ্যে আমি যেমন ফল লাভ করেছি, তেমন তোমাদের মধ্যেও যেন ফল লাভ করতে পারি।
ROM 1:14 গ্রিক ও যারা গ্রিক নয়, জ্ঞানী অথবা মূর্খ, উভয়েরই কাছে আমি ঋণী।
ROM 1:15 এই কারণেই তোমরা যারা রোম নগরে বাস করছ, তোমাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার জন্য আমি এত উৎসুক।
ROM 1:16 আমি সুসমাচারের জন্য লজ্জাবোধ করি না, কারণ যারা বিশ্বাস করে, তাদের সকলের পরিত্রাণ লাভের জন্য এ হল ঈশ্বরের পরাক্রম: প্রথমত, ইহুদিদের জন্য, পরে অইহুদিদের জন্যও।
ROM 1:17 কারণ সুসমাচারে ঈশ্বর থেকে এক ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে—প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের দ্বারা এক ধার্মিকতা, যেমন লেখা আছে, “ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের দ্বারাই জীবিত থাকবে।”
ROM 1:18 যেসব মানুষ তাদের দুষ্টতার দ্বারা সত্যকে চেপে রাখছে, তাদের সমস্ত ভক্তিহীনতা ও দুষ্টতার বিরুদ্ধে স্বর্গ থেকে ঈশ্বরের ক্রোধ প্রকাশিত হচ্ছে।
ROM 1:19 কারণ ঈশ্বর সম্পর্কে যা জানা যেতে পারে, তা তাদের কাছে সুস্পষ্ট, কারণ ঈশ্বর তা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ROM 1:20 এর কারণ হল, জগৎ সৃষ্টি হওয়ার সময় থেকে, ঈশ্বরের অদৃশ্য গুণাবলি—তাঁর অনন্ত পরাক্রম ও ঐশী-চরিত্র—স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর মধ্য দিয়ে তা বোঝা যায়, যেন কোনো মানুষ অজুহাত দিতে না পারে।
ROM 1:21 কারণ তারা ঈশ্বরকে জানলেও, ঈশ্বর বলে তাঁর মহিমাকীর্তন করেনি, তাঁকে ধন্যবাদও দেয়নি, কিন্তু তাদের ভাবনাচিন্তা অসার হয়ে পড়েছে এবং তাদের মূর্খ হৃদয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে।
ROM 1:22 যদিও তারা নিজেদের বিজ্ঞ বলে দাবি করে, কিন্তু তারা মূর্খে পরিণত হয়েছে।
ROM 1:23 তারা নশ্বর মানুষ, পশুপাখি ও সরীসৃপের মতো দেখতে প্রতিমূর্তির সঙ্গে অক্ষয় ঈশ্বরের মহিমার পরিবর্তন করেছে।
ROM 1:24 সেই কারণে ঈশ্বর, অশুদ্ধ যৌনাচারের প্রতি তাদের হৃদয়কে পাপপূর্ণ অভিলাষে সমর্পণ করলেন, যেন পরস্পরের দ্বারা তাদের শরীরের মর্যাদাহানি হয়।
ROM 1:25 তারা ঈশ্বরের সত্যের পরিবর্তে এক মিথ্যাকে বেছে নিল। তারা স্রষ্টার উপাসনা না করে সৃষ্ট বস্তুর উপাসনা ও সেবা করেছে—সেই স্রষ্টাই চিরতরে প্রশংসিত হোন। আমেন।
ROM 1:26 এই কারণে, ঈশ্বর তাদের ঘৃণ্য কামনাবাসনার সমর্পণ করেছেন। এমনকি, তাদের নারীরাও স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্ক ত্যাগ করে অস্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
ROM 1:27 একইভাবে, পুরুষেরাও নারীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক ত্যাগ করে পরস্পরের প্রতি সমকামী হওয়ার আগুনে জ্বলে উঠেছে। পুরুষেরা অন্য পুরুষদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে এবং তাদের বিকৃত আচরণের জন্য তারা যোগ্য শাস্তি লাভ করেছে।
ROM 1:28 শুধু তাই নয়, তারা যেহেতু ঐশ্বরিক জ্ঞানকে মান্য করার প্রয়োজন বোধ করেনি, তিনি তাদের ভ্রষ্ট মানসিকতার কবলে সমর্পণ করেছেন, যেন তারা অনৈতিক কাজ করে।
ROM 1:29 তারা সব ধরনের দুষ্টতা, মন্দতা, লোভ ও বিকৃতরুচিতে পূর্ণ হয়েছে। তারা ঈর্ষা, নরহত্যা, বিবাদ, প্রতারণা ও বিদ্বেষের মানসিকতায় পরিপূর্ণ।
ROM 1:30 তারা গুজব রটনাকারী, পরনিন্দুক, ঈশ্বরঘৃণাকারী, অশিষ্ট, উদ্ধত ও দাম্ভিক; তারা দুষ্কর্মের নতুন পন্থা খুঁজে বের করে, তারা তাদের বাবা-মার অবাধ্য হয়;
ROM 1:31 তারা নির্বোধ, বিশ্বাসইীন, হৃদয়হীন ও নির্মম।
ROM 1:32 যদিও তারা ঈশ্বরের ন্যায়বিচার জানে যে, যারা এসব কাজ করে তারা মৃত্যুর যোগ্য, তবুও তারা কেবলমাত্র যে সেরকম আচরণ করে শুধু তাই নয়, কিন্তু যারা সেই ধরনের আচরণ অভ্যাস করে, তাদেরও অনুমোদন করে।
ROM 2:1 তোমাদের মনে হতে পারে যে তোমরা তাদের বিচার করতে পারো কিন্তু তোমাদের অজুহাত দেওয়ার মতো কিছু নেই, কারণ যে বিষয়ে তুমি অন্যদের বিচার করো সেই বিষয়ে তুমি নিজেকেই অপরাধী করে তুলছ, কারণ তোমরা যারা বিচার করো, তোমরাও একই কাজ করে থাকো।
ROM 2:2 এখন, আমরা জানি যে, যারা এই ধরনের আচরণে লিপ্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বিচার সত্যের উপরে ভিত্তি করে হয়।
ROM 2:3 তাহলে, তোমরা যখন নিছক মানুষ হয়ে তাদের উপরে শাস্তি ঘোষণা করো অথচ নিজেরাও একই কাজ করো, তখন কি মনে হয় যে তোমরা ঈশ্বরের ন্যায়বিচার এড়াতে পারবে?
ROM 2:4 অথবা তোমরা কি তাঁর দয়া, সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের ঐশ্বর্যের প্রতি অবজ্ঞা করছ, একথা না বুঝে যে ঈশ্বরের করুণা তোমাদের অনুতাপের পথে নিয়ে যায়?
ROM 2:5 কিন্তু তোমাদের একগুঁয়ে ও অনুতাপহীন হৃদয়ের কারণে, তোমরা নিজেদেরই উপরে ঈশ্বরের সেই ক্রোধ প্রকাশ করার দিনের জন্য ঈশ্বরের ক্রোধ জমা করছ, যেদিন তাঁর ধর্মময় ন্যায়বিচার প্রকাশিত হবে।
ROM 2:6 ঈশ্বর “প্রত্যেক মানুষকে তার কাজ অনুযায়ী পুরস্কার দেবেন।”
ROM 2:7 যারা নিরবচ্ছিন্ন সৎকর্মের দ্বারা মহিমা, সমাদর ও অক্ষয়তা অনুসরণ করে তিনি তাদের অনন্ত জীবন দেবেন।
ROM 2:8 কিন্তু যারা স্বার্থচেষ্টা করে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মন্দের অনুসারী হয়, তাদের উপরে ক্রোধ ও রোষ নেমে আসবে।
ROM 2:9 যারা দুষ্কর্ম করে তাদের প্রত্যেকের উপরে কষ্ট-সংকট ও দুঃখযন্ত্রণা হবে: প্রথমে ইহুদিদের, পরে অইহুদিদের;
ROM 2:10 কিন্তু যারাই সৎকর্ম করে, তাদের প্রত্যেকজন লাভ করবে গৌরব, সম্মান ও শান্তি: প্রথমে ইহুদিরা, পরে অইহুদিরাও।
ROM 2:11 কারণ ঈশ্বরের কাছে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।
ROM 2:12 বিধান ছাড়া যতজন পাপ করে, বিধান ছাড়াই তারা ধ্বংস হবে। আবার বিধানের অধীনে থেকে যারা পাপ করে, তাদের বিচার বিধান অনুসারেই হবে।
ROM 2:13 কারণ, যারা বিধান শুধু শোনে, তারা যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ধার্মিক বলে গণ্য হয়, তা নয়, কিন্তু যারা বিধান পালন করে, তারাই ধার্মিক বলে ঘোষিত হবে।
ROM 2:14 বাস্তবিক ক্ষেত্রে অইহুদিদের কাছে বিধান না থাকলেও, তারা যখন স্বাভাবিকভাবে বিধানসম্মত আচরণ করে, তখন তাদের কাছে বিধান না থাকলেও তারা নিজেরাই নিজেদের বিধান হয়ে ওঠে,
ROM 2:15 তারা দেখায় যে, ঈশ্বরের বিধান তাদের হৃদয়ে লেখা আছে, কারণ তাদের বিবেকও সেই সাক্ষ্য বহন করে এবং তাদের চিন্তাভাবনা কখনও কখনও তাদের অভিযুক্ত করে আবার কখনও কখনও তাদের পক্ষসমর্থন করে।
ROM 2:16 আর আমি সুসমাচারের এই বার্তা প্রচার করি—সেইদিন আসছে যেদিন ঈশ্বর, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে, মানুষের সব গুপ্ত বিষয় বিচার করবেন।
ROM 2:17 এখন তুমি, যদি নিজেকে ইহুদি বলে অভিহিত করে থাকো; তুমি যদি বিধানের উপরে আস্থা রেখে থাকো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্কের কারণে দম্ভপ্রকাশ করো;
ROM 2:18 যদি তুমি তাঁর ইচ্ছা জেনে থাকো এবং যেহেতু বিধানের দ্বারা নির্দেশিত হয়েছ, তাই যা কিছু উৎকৃষ্ট, সেগুলির অনুমোদন করে থাকো;
ROM 2:19 যদি তুমি নিশ্চিতরূপে উপলব্ধি করেছ যে, তুমিই অন্ধের একজন পথপ্রদর্শক, যারা অন্ধকারে আছে, তাদের পক্ষে এক জ্যোতিস্বরূপ,
ROM 2:20 মূর্খদের জ্ঞানদাতা, শিশুদের শিক্ষাদাতা, কারণ বিধানের মাধ্যমে জ্ঞান ও সত্যের পূর্ণরূপ তুমি দেখেছ—
ROM 2:21 তুমি অপরকে শিক্ষা দিয়ে থাকো তবে কেন নিজেকে শিক্ষা দিচ্ছ না? তুমি চুরি না করার শিক্ষা দাও, কিন্তু তুমি কি চুরি করো?
ROM 2:22 তুমি বলে থাকো, লোকেরা যেন ব্যভিচার না করে, অথচ তুমি নিজে কি ব্যভিচার করছ? তুমি যে প্রতিমাদের ঘৃণা করো, তুমি কি মন্দির লুট করছ?
ROM 2:23 তুমি বিধানের জন্য গর্ব করে থাকো, অথচ নিজে কি বিধান ভেঙে ঈশ্বরের অবমাননা করছ?
ROM 2:24 যেমন লেখা আছে, “তোমাদেরই কারণে অইহুদিদের মধ্যে ঈশ্বরের নাম নিন্দিত হচ্ছে।”
ROM 2:25 তুমি যদি বিধান পালন করো, তাহলে সুন্নত হয়ে লাভ আছে। কিন্তু তুমি যদি বিধান মান্য না করো, তাহলে তুমি এমন মানুষ হয়েছ, যেন তোমার সুন্নতই হয়নি।
ROM 2:26 যাদের সুন্নত হয়নি, তারা যদি বিধানের নির্দেশ পালন করে, তাহলে তারা কি সুন্নতপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে না?
ROM 2:27 যে ব্যক্তি শারীরিকরূপে সুন্নতপ্রাপ্ত নয় অথচ বিধান পালন করে, সে তোমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করবে, কারণ তোমার কাছে লিখিত বিধি থাকা ও সুন্নত হওয়া সত্ত্বেও তুমি বিধান অমান্য করেছ।
ROM 2:28 কোনো ব্যক্তি বাহ্যিকরূপে ইহুদি হলে সে ইহুদি নয়, আবার সুন্নতও নিছক বাহ্যিক ও শরীরে কৃত কোনও কাজ নয়।
ROM 2:29 না, অন্তরে যে ইহুদি হয় সেই প্রকৃত ইহুদি; আবার প্রকৃত সুন্নত হল হদয়ের সুন্নত, তা আত্মার দ্বারা হয়, লিখিত বিধির দ্বারা নয়। এ ধরনের মানুষের প্রশংসা মানুষের কাছ থেকে নয়, কিন্তু ঈশ্বর থেকে হয়।
ROM 3:1 তাহলে, একজন ইহুদি হওয়ার সুবিধা কী বা সুন্নত হলেই বা কী লাভ?
ROM 3:2 সবদিক দিয়েই তা প্রচুর! ঈশ্বরের সমস্ত বাক্য সর্বপ্রথম, তাদের কাছেই অর্পণ করা হয়েছিল।
ROM 3:3 কেউ কেউ যদি অবিশ্বাসী হয়, তো কী হয়েছে? তাদের অবিশ্বাস কি ঈশ্বরের বিশ্বস্ততাকে নাকচ করে দেবে?
ROM 3:4 আদৌ তা নয়! ঈশ্বরই সত্যময় থাকুন, প্রত্যেক মানুষ হোক মিথ্যাবাদী। যেমন লেখা আছে: “যেন, তুমি যখন কথা বলো, তুমি যেন সত্যময় প্রতিপন্ন হও ও বিচারকালে তুমি বিজয়ী হও।”
ROM 3:5 কিন্তু যদি আমাদের অধার্মিকতা ঈশ্বরের ধার্মিকতাকে আরও স্পষ্ট করে প্রকাশ করে, তাহলে আমরা কী বলব? ঈশ্বর আমাদের উপরে তাঁর ক্রোধ নিয়ে এসে অন্যায় করেছেন? (আমি মানবিক যুক্তি প্রয়োগ করছি।)
ROM 3:6 নিশ্চিতরূপে তা নয়! যদি তাই হত, ঈশ্বর কীভাবে জগতের বিচার করতেন?
ROM 3:7 কেউ হয়তো তর্ক করতে পারে, “আমার মিথ্যাচার যদি ঈশ্বরের সত্যতা বৃদ্ধি করে ও এভাবে তাঁর মহিমা বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমি এখনও কেন পাপী বলে অভিযুক্ত হচ্ছি?”
ROM 3:8 কেউ কেউ এভাবে আমাদের বাক্য বিকৃত করে বলে যে আমরা নাকি বলি, “এসো, আমরা অপকর্ম করি, যেন পরিণামে মঙ্গল হয়?” তাদের শাস্তি যথাযোগ্য।
ROM 3:9 তাহলে আমাদের শেষ কথা কী হবে? আমরা কি কোনোভাবে অন্যদের চেয়ে ভালো? অবশ্যই নয়! আমরা ইতিপূর্বে অভিযোগ করেছি যে, ইহুদি, অইহুদি নির্বিশেষে সকলেই পাপের অধীন।
ROM 3:10 যেমন লেখা আছে: “ধার্মিক কেউই নেই, একজনও নেই;
ROM 3:11 বোঝে, এমন কেউই নেই, কেউই ঈশ্বরের অন্বেষণ করে না।
ROM 3:12 সকলেই বিপথগামী হয়েছে, তারা একসঙ্গে অকর্মণ্য হয়ে পড়েছে, সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই, একজনও নেই।”
ROM 3:13 “তাদের কণ্ঠ উন্মুক্ত কবরস্বরূপ; তাদের জিভ প্রতারণার অনুশীলন করে।” “কালসাপের বিষ তাদের মুখে।”
ROM 3:14 “তাদের মুখ অভিশাপে ও তিক্ততায় পূর্ণ।”
ROM 3:15 “তাদের চরণ রক্তপাতের জন্য দ্রুত দৌড়ায়;
ROM 3:16 বিনাশ ও দুর্গতি তাদের সব পথ চিহ্নিত করে,
ROM 3:17 আর তারা শান্তির পথ জানে না,”
ROM 3:18 “তাদের চোখে ঈশ্বরভয় নেই।”
ROM 3:19 এখন আমরা জানি যে, বিধান যা কিছু বলে, যারা বিধানের অধীনে আছে আসলে তাদেরই বলে, যেন প্রত্যেকের মুখ বদ্ধ হয় ও সমস্ত জগৎ ঈশ্বরের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।
ROM 3:20 সুতরাং, বিধান পালন করে কোনো ব্যক্তিই তাঁর দৃষ্টিতে ধার্মিক ঘোষিত হবে না, বরং, বিধানের মাধ্যমে আমরা পাপ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি।
ROM 3:21 কিন্তু এখন, বিধান ছাড়াই ঈশ্বর থেকে এক ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে, যে বিষয়ে সেই বিধান ও ভাববাদীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ROM 3:22 এই ধার্মিকতা, যারা বিশ্বাস করে, তাদের প্রতি যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। এখানে কোনও পার্থক্য-বিভেদ নেই,
ROM 3:23 কারণ সকলেই পাপ করেছে এবং ঈশ্বরের গৌরব-বিহীন হয়েছে।
ROM 3:24 তারা বিনামূল্যে, তাঁরই অনুগ্রহে, খ্রীষ্ট যীশুতে প্রাপ্ত মুক্তির দ্বারা নির্দোষ গণ্য হয়।
ROM 3:25 তাঁর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে, ঈশ্বর তাঁকেই প্রায়শ্চিত্ত-বলিরূপে উপস্থাপিত করেছেন। তিনি তাঁর ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শনের জন্য এরকম করেছেন, কারণ তাঁর সহনশীলতার গুণে তিনি অতীতে করা সকল পাপের শাস্তি দেননি।
ROM 3:26 বর্তমান যুগে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শনের জন্য তিনি এরকম করেছিলেন, যেন তিনি ন্যায়পরায়ণ থাকেন এবং যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তাদের নির্দোষ গণ্য করেন।
ROM 3:27 তাহলে গর্বের স্থান কোথায়? তা বর্জন করা হয়েছে। কোন নীতির দ্বারা? তা কি বিধান পালনের জন্য? না, কিন্তু বিশ্বাসের কারণে।
ROM 3:28 কারণ আমাদের সিদ্ধান্ত এই যে, একজন ব্যক্তি বিধান পালন না করে বিশ্বাসের মাধ্যমে নির্দোষ গণ্য হয়।
ROM 3:29 ঈশ্বর কি কেবলমাত্র ইহুদিদেরই ঈশ্বর? তিনি কি অইহুদিদেরও ঈশ্বর নন? হ্যাঁ, তিনি অইহুদিদেরও ঈশ্বর
ROM 3:30 যেহেতু ঈশ্বর একজনই, যিনি সুন্নত হওয়া লোকদের বিশ্বাসের মাধ্যমে ও সুন্নতবিহীন লোকদের সেই একই বিশ্বাসের মাধ্যমে নির্দোষ গণ্য করবেন।
ROM 3:31 তাহলে আমরা কি এই বিশ্বাসের দ্বারা বিধানকে বাতিল করি? না, আদৌ তা নয়! বরং, আমরা বিধানকে প্রতিষ্ঠা করছি।
ROM 4:1 আমরা তাহলে কী বলব যে, আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম এই বিষয়ে কী লাভ করেছিলেন?
ROM 4:2 যদি, অব্রাহাম কাজের দ্বারা নির্দোষ গণিত হয়ে থাকতেন তবে তাঁর পক্ষে গর্ব করার কিছু থাকত, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে নয়।
ROM 4:3 শাস্ত্র কী কথা বলে? “অব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেন, এবং তা তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হল।”
ROM 4:4 এখন, কোনো ব্যক্তি যখন কাজ করে, তার পারিশ্রমিক কিন্তু উপহার বলে গণ্য করা হয় না, কিন্তু তার প্রাপ্য বলেই গণ্য হয়।
ROM 4:5 কিন্তু, যে ব্যক্তি কাজ করে না—অথচ ঈশ্বরের উপরে আস্থা রাখে যিনি ভক্তিহীনকে নির্দোষ ঘোষণা করে থাকেন—তার বিশ্বাসই তার পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হয়।
ROM 4:6 দাউদও এই একই কথা বলেন, যখন তিনি সেই ব্যক্তির ধন্য হওয়া সম্পর্কে বলেছেন, যাকে ঈশ্বর কোনো কাজ ছাড়াই ধার্মিক গণ্য করেন:
ROM 4:7 “ধন্য তারা, যাদের অপরাধ ক্ষমা করা হয়েছে, যাদের পাপ আচ্ছাদিত হয়েছে।
ROM 4:8 ধন্য সেই ব্যক্তি, যার পাপ প্রভু কখনও তার বিরুদ্ধে গণ্য করবেন না।”
ROM 4:9 এই আশীর্বাদ কি কেবলমাত্র সুন্নত হওয়া লোকদের জন্য, না যারা সুন্নতবিহীন, তাদেরও জন্য? আমরা বলে আসছি যে, অব্রাহামের বিশ্বাস তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হয়েছিল।
ROM 4:10 কোন অবস্থায় তা গণ্য হয়েছিল? তা কি তাঁর সুন্নতের পরে, না আগেই? তা পরে নয়, কিন্তু আগে।
ROM 4:11 আর তিনি সুন্নতের চিহ্ন লাভ করলেন যা ধার্মিকতার এক সিলমোহর, যা তিনি সুন্নতহীন অবস্থায় থাকার সময়ই বিশ্বাসের দ্বারা পেয়েছিলেন। সেই কারণে, যারা বিশ্বাস করে, অথচ সুন্নতপ্রাপ্ত হয়নি, তিনি তাদের সকলের পিতা, যেন তাদের পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য করা হয়।
ROM 4:12 একইসঙ্গে, তিনি সুন্নতপ্রাপ্তদেরও পিতা, যারা কেবলমাত্র সুন্নতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে নয় কিন্তু আমাদের পিতা অব্রাহামের সুন্নত হওয়ার আগে যে বিশ্বাস ছিল সেই বিশ্বাসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে বলে।
ROM 4:13 অব্রাহাম ও তাঁর বংশ প্রতিশ্রুতি লাভ করেছিলেন, যে তিনি জগতের উত্তরাধিকারী হবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বিধানের মাধ্যমে নয় বরং ধার্মিকতার মাধ্যমে আসে যা বিশ্বাস থেকে উৎপন্ন হয়।
ROM 4:14 কারণ যারা বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করে, তারা যদি উত্তরাধিকারী হয় তাহলে বিশ্বাসের কোনো মূল্যই থাকে না এবং সেই প্রতিশ্রুতিও অর্থহীন হয়,
ROM 4:15 কারণ বিধান নিয়ে আসে ক্রোধ। আর যেখানে বিধান নেই, সেখানে বিধান অমান্য করার অপরাধও নেই।
ROM 4:16 অতএব, সেই প্রতিশ্রুতি আসে বিশ্বাসের দ্বারা, যেন তা অনুগ্রহ অনুসারে সম্ভব হয় এবং অব্রাহামের সকল বংশধরের জন্য নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়—কেবলমাত্র যারা বিধান মান্য করে তাদের প্রতি নয়, কিন্তু তাদেরও প্রতি যারা অব্রাহামের বিশ্বাস অবলম্বন করে। তিনি আমাদের সকলের পিতা।
ROM 4:17 যেমন লেখা আছে, “আমি তোমাকে বহু জাতির পিতা করেছি।” যে ঈশ্বরে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁর দৃষ্টিতে তিনি আমাদের পিতা—সেই ঈশ্বর, যিনি মৃতদের জীবন দান করেন ও যা নেই, তা আছে বলেন।
ROM 4:18 সব আশার প্রতিকূলে, অব্রাহাম প্রত্যাশাতেই বিশ্বাস করলেন এবং এভাবে বহু জাতির পিতা হয়ে উঠলেন, যেমন তাঁকে বলা হয়েছিল, “তোমার বংশ এরকমই হবে।”
ROM 4:19 তাঁর বিশ্বাসে দুর্বল না হয়েও, তিনি এই সত্যের সম্মুখীন হয়েছিলেন যে, তাঁর শরীর মৃত মানুষেরই সদৃশ ছিল—কারণ তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় একশো বছর—আবার সারার গর্ভও অসাড় হয়েছিল।
ROM 4:20 তবুও তিনি অবিশ্বাস করে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত হলেন না, কিন্তু তাঁর বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করলেন।
ROM 4:21 তিনি পূর্ণরূপে বিশ্বাস করেছিলেন যে, ঈশ্বর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সফল করার ক্ষমতা তাঁর আছে।
ROM 4:22 এই কারণেই “এটি তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হয়েছিল।”
ROM 4:23 “তাঁর পক্ষে গণ্য হয়েছিল,” এই কথাগুলি কেবলমাত্র তাঁরই জন্য লেখা হয়নি,
ROM 4:24 কিন্তু আমাদের জন্য, যারা তাঁকে বিশ্বাস করি, যিনি আমাদের প্রভু যীশুকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন।
ROM 4:25 আমাদের পাপের জন্য তাঁকে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করা হয়েছিল এবং আমাদের নির্দোষ গণ্য করার জন্য তাঁকে জীবনে উত্থাপিত করা হয়েছে।
ROM 5:1 অতএব, বিশ্বাসের মাধ্যমে যেহেতু আমরা নির্দোষ গণ্য হয়েছি, তাই আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের শান্তি স্থাপিত হয়েছে।
ROM 5:2 তাঁরই মাধ্যমে বিশ্বাসে আমরা এই অনুগ্রহে প্রবেশের অধিকার অর্জন করেছি ও তার মধ্যেই এখন আমরা অবস্থান করছি। আর আমরা ঈশ্বরের মহিমার প্রত্যাশায় উল্লসিত হচ্ছি।
ROM 5:3 শুধু তাই নয়, আমরা আমাদের দুঃখকষ্টেও আনন্দ করি, কারণ আমরা জানি, দুঃখকষ্ট সহিষ্ণুতাকে,
ROM 5:4 সহিষ্ণুতা অভিজ্ঞতাকে ও অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার জন্ম দেয়।
ROM 5:5 সেই প্রত্যাশা আমাদের নিরাশ করে না, কারণ আমাদের প্রতি দেওয়া পবিত্র আত্মা দ্বারা ঈশ্বর তাঁর প্রেম আমাদের হৃদয়ে উজাড় করে ঢেলে দিয়েছেন।
ROM 5:6 তাহলে বলা যায়, আমরা যখন শক্তিহীন ছিলাম, তখনই খ্রীষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন।
ROM 5:7 কোনো ধার্মিক ব্যক্তির জন্য প্রায় কেউই প্রাণ দেয় না, যদিও কোনো সৎ ব্যক্তির জন্য কেউ হয়তো প্রাণ দেওয়ার সাহস দেখাতেও পারে;
ROM 5:8 কিন্তু ঈশ্বর এভাবে তাঁর প্রেম আমাদের প্রতি প্রদর্শন করেছেন: আমরা যখন পাপী ছিলাম তখন খ্রীষ্ট আমাদের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন।
ROM 5:9 এখন যেহেতু আমরা তাঁর রক্তের দ্বারা নির্দোষ বলে গণ্য হয়েছি, তাঁর মাধ্যমে ঈশ্বরের ক্রোধ থেকে আমরা কত না বেশি নিষ্কৃতি পাব!
ROM 5:10 কারণ যখন আমরা ঈশ্বরের শত্রু ছিলাম, তখন তাঁর পুত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছিলাম, তাহলে আমরা আরও কত বেশি সুনিশ্চিত যে, তাঁর জীবনের দ্বারা আমরা রক্ষা পাব!
ROM 5:11 কেবলমাত্র এই নয়, কিন্তু আমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরে আনন্দ উপভোগও করি, যাঁর মাধ্যমে আমরা এখন পুনর্মিলন লাভ করেছি।
ROM 5:12 সুতরাং, যেমন একজন মানুষের মাধ্যমে পাপ ও পাপের মাধ্যমে মৃত্যু জগতে প্রবেশ করেছিল এবং এভাবে সব মানুষের কাছে মৃত্যু উপস্থিত হল কারণ সকলেই পাপ করেছিল।
ROM 5:13 বিধান প্রবর্তিত হবার আগেও জগতে পাপ ছিল। কিন্তু বিধান না থাকায় পাপ গণ্য করা হয়নি।
ROM 5:14 তবুও, আদমের সময় থেকে মোশির সময় পর্যন্ত মৃত্যু কর্তৃত্ব করেছিল, এমনকি তাদের উপরেও করেছিল যারা বিধান অমান্য করে কোনো পাপ করেনি, যেমন সেই আদম করেছিলেন, যিনি ছিলেন ভবিষ্যতে আগত ব্যক্তির প্রতিরূপ।
ROM 5:15 কিন্তু অনুগ্রহ-দান অপরাধের মতো নয়। কারণ একজন ব্যক্তির অপরাধে যখন অনেকের মৃত্যু হল, তখন ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও সেই অপর ব্যক্তি অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্টের দ্বারা আগত অনুগ্রহ-দান, অনেকের উপরে কত বেশি না উপচে পড়ল!
ROM 5:16 আবার, ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দান একজন ব্যক্তির পাপের পরিণামের মতো নয়: একটিমাত্র পাপের পরিণামে হয়েছিল বিচার ও তা এনেছিল শাস্তি; কিন্তু অনেক অপরাধের পরে এসেছিল অনুগ্রহ-দান, যা নিয়ে এসেছিল নির্দোষিকরণ।
ROM 5:17 কারণ যদি একজন ব্যক্তির অপরাধের কারণে মৃত্যু সেই ব্যক্তির মাধ্যমে কর্তৃত্ব করল, তাহলে যারা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রাচুর্য ও ধার্মিকতার অনুগ্রহ-দান লাভ করে, তারা আরও কত না নিশ্চিতরূপে জীবনের উপরে কর্তৃত্ব করবে!
ROM 5:18 সুতরাং, একটি পাপের পরিণামে যেমন সব মানুষের উপর শাস্তি নেমে এসেছিল, তেমনই ধার্মিকতার একটিমাত্র কাজের পরিণামে এল নির্দোষিকরণ, যা সব মানুষের কাছে জীবন নিয়ে আসে।
ROM 5:19 কারণ একজন মানুষের অবাধ্যতার মাধ্যমে যেমন অনেকে পাপী বলে গণ্য হয়েছে, তেমনই সেই একজন ব্যক্তির বাধ্যতার ফলে বহু মানুষকে ধার্মিক বলে গণ্য করা হবে।
ROM 5:20 বিধান দেওয়া হল যেন অপরাধ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যেখানে পাপের বৃদ্ধি হল, অনুগ্রহ আরও বেশি বৃদ্ধি পেল,
ROM 5:21 যেন পাপ যেমন মৃত্যু দ্বারা কর্তৃত্ব করছে, তেমনই অনুগ্রহ যেন ধার্মিকতার দ্বারা কর্তৃত্ব করে ও আমাদের প্রভু, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে অনন্ত জীবন নিয়ে আসে।
ROM 6:1 তাহলে, আমরা কী বলব? আমরা কি পাপ করতেই থাকব যেন অনুগ্রহ বৃদ্ধি পায়?
ROM 6:2 কোনোমতেই নয়! আমরা পাপের পক্ষে মৃত, তাহলে কী করে আমরা আবার পাপে জীবনযাপন করব?
ROM 6:3 অথবা, তোমরা কি জানো না, আমরা যারা খ্রীষ্ট যীশুতে বাপ্তাইজিত হয়েছি, আমরা সকলে তাঁর মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হয়েছি?
ROM 6:4 সেই কারণে আমরা মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তিষ্মের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সমাধিপ্রাপ্ত হয়েছি, যেন খ্রীষ্ট যেমন পিতার মহিমার মাধ্যমে মৃতলোক থেকে উত্থিত হয়েছিলেন, তেমনই আমরাও এক নতুন জীবন লাভ করি।
ROM 6:5 যদি আমরা এভাবে তাঁর মৃত্যুতে তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে থাকি, আমরা নিশ্চিতরূপে তাঁর পুনরুত্থানেও তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত হব।
ROM 6:6 কারণ আমরা জানি যে, আমাদের পুরোনো সত্তা তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে যেন আমাদের পাপদেহ শক্তিহীন হয় এবং আমরা আর পাপের ক্রীতদাস না থাকি—
ROM 6:7 কারণ যার মৃত্যু হয়েছে, সে পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।
ROM 6:8 এখন যদি আমরা খ্রীষ্টের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছি, আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব।
ROM 6:9 কারণ আমরা জানি, খ্রীষ্টকে যেহেতু মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করা হয়েছিল, তিনি আর মরতে পারেন না; তাঁর উপরে মৃত্যুর আর কোনও কর্তৃত্ব নেই।
ROM 6:10 যে মৃত্যু তিনি বরণ করেছেন, পাপের সম্বন্ধে একবারেই তিনি চিরকালের জন্য সেই মৃত্যুবরণ করেছেন; কিন্তু তাঁর যে জীবন আছে তার দ্বারা তিনি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যেই জীবিত আছেন।
ROM 6:11 একইভাবে, নিজেদের তোমরা পাপের ক্ষমতার প্রতি মৃত, কিন্তু খ্রীষ্ট যীশুতে ঈশ্বরের উদ্দেশে জীবিত বলে গণ্য করো।
ROM 6:12 অতএব, তোমাদের নশ্বর দেহে পাপকে কর্তৃত্ব করতে দিয়ো না, তা না হলে, তোমরা তার দৈহিক কামনাবাসনার আজ্ঞাবহ হয়ে পড়বে।
ROM 6:13 তোমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে দুষ্টতার উপকরণরূপে পাপের কাছে সমর্পণ কোরো না, বরং মৃত্যু থেকে জীবিত মানুষরূপে নিজেদের ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করো এবং তাঁর কাছে তোমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি ধার্মিকতার উপকরণরূপে সমর্পণ করো।
ROM 6:14 কারণ পাপ তোমাদের উপরে আর কর্তৃত্ব করবে না, কারণ তোমরা বিধানের অধীন নও, কিন্তু অনুগ্রহের অধীন।
ROM 6:15 তাহলে কী বলা যায়? বিধানের অধীন নই, কিন্তু অনুগ্রহের অধীন বলে আমরা কি পাপ করেই যাব? কোনোভাবেই নয়!
ROM 6:16 তোমরা কি জানো না যে, ক্রীতদাসের মতো আদেশ পালনের জন্য যখন তোমরা কারও কাছে নিজেদের সমর্পণ করো, যার আদেশ তোমরা পালন করো, তোমরা তারই ক্রীতদাস হও—হয় তোমরা পাপের ক্রীতদাস, যা মৃত্যুর অভিমুখে নিয়ে যায়, অথবা বাধ্যতার দাস, যা ধার্মিকতার পথে চালিত করে?
ROM 6:17 কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, তোমরা যদিও পাপের ক্রীতদাস ছিলে, শিক্ষার যে আদর্শ তোমাদের কাছে রাখা হয়েছিল, তা তোমরা সমস্ত অন্তর দিয়ে পালন করেছ।
ROM 6:18 তোমাদের পাপ থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং তোমরা ধার্মিকতার ক্রীতদাস হয়েছ।
ROM 6:19 তোমরা যেহেতু তোমাদের স্বাভাবিক সত্তায় দুর্বল তাই আমি একথা সাধারণ মানুষের মতোই বলছি। যেমন তোমরা তোমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে অশুদ্ধতা ও ক্রমবর্ধমান দুষ্টতার কাছে সমর্পণ করতে, তেমনই এখন সেগুলি ধার্মিকতার ক্রীতদাসত্বে সমর্পণ করো, যা পবিত্রতার অভিমুখে চালিত করে।
ROM 6:20 তোমরা যখন পাপের ক্রীতদাস ছিলে, তখন তোমরা ধার্মিকতার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত ছিলে।
ROM 6:21 যেসব বিষয়ের জন্য তোমরা এখন লজ্জাবোধ করছ, সেই সময় তোমরা তা থেকে কী ফল সংগ্রহ করেছিলে? সেই সমস্ত বিষয়ের পরিণাম মৃত্যু!
ROM 6:22 কিন্তু এখন, যেহেতু তোমাদের পাপ থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং তোমরা ঈশ্বরের ক্রীতদাস হয়েছ, যে ফল তোমরা লাভ করছ, তা হল পবিত্রতা এবং তার পরিণাম হল অনন্ত জীবন।
ROM 6:23 কারণ পাপের বেতন মৃত্যু, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দান আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন।
ROM 7:1 ভাইবোনেরা, বিধান সম্বন্ধে যাদের কিছুটা জ্ঞান আছে আমি তাদের বলছি, তোমরা কি জানো না যে যতদিন কোনো মানুষ জীবিত থাকে, বিধান ততদিনই তার উপরে কর্তৃত্ব করে?
ROM 7:2 উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিবাহিত নারী, যতদিন তার স্বামী জীবিত থাকে ততদিন সে তার সঙ্গে বিবাহের বাঁধনে যুক্ত থাকে; কিন্তু যদি তার স্বামী মারা যায়, সে বিবাহের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়।
ROM 7:3 সেই কারণে, তার স্বামী জীবিত থাকাকালীন সে যদি অপর পুরুষকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচারিণীরূপে গণ্য হবে। কিন্তু যদি তার স্বামী মারা যায়, সে বিধান থেকে মুক্ত হয়। ফলে সে অপর পুরুষকে বিবাহ করলেও আর ব্যভিচারিণী হয় না।
ROM 7:4 অতএব, আমার ভাইবোনেরা, তোমরাও খ্রীষ্টের শরীরের মাধ্যমে বিধানের কাছে মৃত্যুবরণ করেছ, যেন তোমরা অন্যের হও, যাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করা হয়েছিল, যেন আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে ফল উৎপন্ন করতে পারি।
ROM 7:5 কারণ, যখন আমরা পাপ-প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতাম, তখন আমাদের শরীরে পাপপূর্ণ বাসনাগুলি বিধানের মাধ্যমে জাগৃত হয়ে সক্রিয় হত, যেন আমরা মৃত্যুর উদ্দেশে ফল উৎপন্ন করি।
ROM 7:6 কিন্তু এক সময় যে বিধান আমাদের আবদ্ধ করে রেখেছিল, এখন তার প্রতি মৃত্যুবরণ করার ফলে আমরা বিধানের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়েছি, যেন আমরা লিখিত বিধানের পুরোনো পদ্ধতিতে নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মার নতুন পথে ঈশ্বরের দাসত্ব করি।
ROM 7:7 তাহলে, আমরা কী বলব? বিধানই কি পাপ? নিশ্চিতরূপে তা নয়! প্রকৃতপক্ষে বিধান না থাকলে পাপ কী, আমি তা জানতেই পারতাম না, কারণ বিধান যদি না বলত, “লোভ কোরো না,” তাহলে লোভ প্রকৃতপক্ষে কী, তা আমি জানতে পারতাম না।
ROM 7:8 কিন্তু পাপ, সেই বিধানের সুযোগ নিয়ে আমার মধ্যে সব ধরনের লোভের ইচ্ছাকে জাগিয়ে তুলল, কারণ বিধান ছাড়া পাপ মৃত।
ROM 7:9 এক সময় আমি বিধান ছাড়াই জীবিত ছিলাম, কিন্তু দশাজ্ঞা আসার পরে পাপ জীবিত হয়ে উঠল, আর আমার মৃত্যু হল।
ROM 7:10 আমি দেখলাম, যে আজ্ঞার জীবন নিয়ে আসার কথা ছিল, প্রকৃতপক্ষে তা মৃত্যু নিয়ে এল।
ROM 7:11 কারণ আজ্ঞার সুযোগ নিয়ে পাপ আমার সঙ্গে প্রতারণা করল এবং আজ্ঞার মাধ্যমে আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিল।
ROM 7:12 তাহলে বিধান পবিত্র, সেই আজ্ঞাও পবিত্র, ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর।
ROM 7:13 তাহলে, যা কল্যাণকর, তাই কি আমার পক্ষে মৃত্যুজনক হয়ে উঠল? কোনোভাবেই নয়! কিন্তু পাপকে যেন পাপরূপেই চিনতে পারা যায়, তাই যা কল্যাণকর ছিল তারই মধ্য দিয়ে পাপ আমার মধ্যে মৃত্যু নিয়ে এল, যেন আজ্ঞার মাধ্যমে সেই পাপ চরম পাপময় হয়ে ওঠে।
ROM 7:14 আমরা জানি যে বিধান আত্মিক, কিন্তু আমি অনাত্মিক, পাপের কাছে ক্রীতদাসরূপে বিক্রীত।
ROM 7:15 আমি যা করি, তা আমি বুঝি না, কারণ আমি যা করতে চাই, তা আমি করি না, কিন্তু যা আমি ঘৃণা করি, আমি তাই করি।
ROM 7:16 আবার আমি যা করতে চাই না, যদি তাই করি, তাহলে আমি মেনে নিই যে বিধান উৎকৃষ্ট।
ROM 7:17 তাই যদি হয়, আমি আর নিজে থেকে এ কাজ করি না, কিন্তু আমার মধ্যে যে পাপ বাস করে তাই করে।
ROM 7:18 আমি জানি যে আমার মধ্যে, অর্থাৎ আমার পাপময় প্রকৃতির মধ্যে ভালো কিছুই বাস করে না। কারণ যা কিছু কল্যাণকর, তা করার ইচ্ছা আমার আছে, কিন্তু আমি তা করে উঠতে পারি না।
ROM 7:19 কারণ আমি যা করতে চাই, সেই ভালো কাজ আমি করি না, কিন্তু যে দুষ্কর্ম আমি করতে চাই না, তা ক্রমাগত করেই যাই।
ROM 7:20 এখন, যা আমি করতে চাই না তা যদি আমি করি, সে কাজটি আর আমি নিজে করি না, কিন্তু আমার মধ্যে বাস করা পাপ-ই তা করে।
ROM 7:21 তাই আমি এই নিয়ম সক্রিয় দেখতে পাচ্ছি: যখন আমি সৎকর্ম করতে চাই, তখনই মন্দ আমার সঙ্গী হয়।
ROM 7:22 কারণ আমার আন্তরিক সত্তায় আমি ঈশ্বরের বিধানে আনন্দ করি,
ROM 7:23 কিন্তু আমার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অন্য এক বিধান কার্যকরী দেখতে পাই; তা আমার মনের বিধানের সঙ্গে সংগ্রাম করে চলে এবং পাপের যে বিধান আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আছে, আমাকে তার বন্দি করে রাখে।
ROM 7:24 কী দুর্ভাগ্যপূর্ণ মানুষ আমি! মৃত্যুর এই শরীর থেকে কে আমাকে উদ্ধার করবে?
ROM 7:25 আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। সুতরাং, মনে মনে আমি ঈশ্বরের বিধানের ক্রীতদাস, কিন্তু পাপময় প্রকৃতিতে পাপের বিধানের দাসত্ব করি।
ROM 8:1 অতএব, এখন যারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে, তাদের প্রতি কোনও শাস্তি নেই,
ROM 8:2 কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে জীবনের আত্মার যে বিধান, তা আমাকে পাপ ও মৃত্যুর বিধান থেকে মুক্ত করেছে।
ROM 8:3 বিধান রক্তমাংসের দ্বারা দুর্বল হওয়াতে যা করতে পারেনি, ঈশ্বর তা করেছেন। তিনি তাঁর নিজ পুত্রকে পাপময় মানবদেহের সাদৃশ্যে পাপার্থক বলিরূপে উৎসর্গ করার জন্য পাঠিয়ে তাই সম্পাদন করেছেন। এভাবে তিনি পাপময় মানুষের রক্তমাংসে পাপের শাস্তি দিলেন,
ROM 8:4 যেন বিধানের ধার্মিক দাবি আমাদের মধ্যে সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়। কারণ আমরা পাপময় প্রকৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করি না কিন্তু আত্মার বশ্যতাধীন হয়ে করি।
ROM 8:5 যারা পাপময় প্রকৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করে, সেই প্রকৃতি যা চায়, তার উপর তারা তাদের মনোনিবেশ করে। কিন্তু যারা পবিত্র আত্মার বশে জীবনযাপন করে, তাদের মন পবিত্র আত্মা যা চান, তার প্রতিই নিবিষ্ট থাকে।
ROM 8:6 রক্তমাংসের উপরে নিবদ্ধ মানসিকতার পরিণাম হল মৃত্যু, কিন্তু পবিত্র আত্মার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানিসকতা হল জীবন ও শান্তি।
ROM 8:7 রক্তমাংসের মানসিকতা হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা। তা ঈশ্বরের বিধানের প্রতি বশীভূত থাকে না, আর তেমন করতেও পারে না।
ROM 8:8 যারা রক্তমাংসের স্বভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তারা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
ROM 8:9 তোমরা অবশ্য রক্তমাংসের দ্বারা নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যদি ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে বাস করেন। আর যার মধ্যে খ্রীষ্টের আত্মা নেই, সে খ্রীষ্টের নয়।
ROM 8:10 কিন্তু খ্রীষ্ট যদি তোমাদের মধ্যে থাকেন, পাপের কারণে তোমাদের শরীর মৃত হলেও ধার্মিকতার কারণে তোমাদের আত্মা জীবিত।
ROM 8:11 যিনি যীশুকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তাঁর আত্মা যদি তোমাদের মধ্যে বাস করেন, তাহলে যিনি খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তিনি তোমাদের নশ্বর শরীরকেও তাঁর আত্মার মাধ্যমে সঞ্জীবিত করবেন, যিনি তোমাদের অন্তরে বাস করেন।
ROM 8:12 অতএব ভাইবোনেরা, আমাদের আইনগত এক বাধ্যবাধকতা আছে—তা কিন্তু রক্তমাংসের বশে জীবনযাপন করার জন্য নয়।
ROM 8:13 কারণ তোমরা যদি রক্তমাংসের বশ্যতাধীনে জীবনযাপন করো, তোমাদের মৃত্যু হবে; কিন্তু পবিত্র আত্মার দ্বারা যদি শরীরের অপকর্মগুলি ধ্বংস করো, তোমরা জীবিত থাকবে।
ROM 8:14 কারণ যারা ঈশ্বরের আত্মা দ্বারা চালিত হয়, তারাই ঈশ্বরের পুত্র।
ROM 8:15 প্রকৃতপক্ষে, তোমরা যে আত্মাকে গ্রহণ করেছ, তিনি তোমাদের ভয়ে জীবন কাটানোর জন্য ক্রীতদাস করেন না; কিন্তু তোমরা দত্তকপুত্র হওয়ার আত্মা লাভ করেছ। তাঁরই দ্বারা আমরা ডেকে উঠি “আব্বা! পিতা” বলে।
ROM 8:16 পবিত্র আত্মা স্বয়ং আমাদের আত্মার সঙ্গে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান।
ROM 8:17 এখন, যদি আমরা সন্তান হই, তাহলে আমরা উত্তরাধিকারীও—ঈশ্বরের উত্তরাধিকারী ও খ্রীষ্টের সঙ্গে সহ-উত্তরাধিকারী। কিন্তু যদি আমরা তাঁর মহিমার অংশীদার হতে চাই তবে তাঁর কষ্টভোগেরও অংশীদার হতে হবে।
ROM 8:18 আমি এরকম মনে করি যে, আমাদের মধ্যে যে মহিমার প্রকাশ ঘটবে, আমাদের বর্তমানকালের কষ্টভোগের সঙ্গে তার কোনো তুলনা হতে পারে না।
ROM 8:19 ঈশ্বরের পুত্রগণের প্রকাশ পাওয়ার প্রতীক্ষায় সমস্ত সৃষ্টি সাগ্রহে অপেক্ষা করে আছে।
ROM 8:20 কারণ সৃষ্টি অলীকতার বশীভূত হয়েছিল, তার নিজের ইচ্ছায় নয়, কিন্তু যিনি বশীভূত করেছিলেন, তাঁর ইচ্ছায়;
ROM 8:21 প্রত্যাশা ছিল এই যে, সৃষ্টি স্বয়ং অবক্ষয়ের বাঁধন থেকে মুক্ত হবে এবং ঈশ্বরের সন্তানদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতায় অংশীদার হবে।
ROM 8:22 আমরা জানি যে, সমস্ত সৃষ্টি বর্তমানকাল পর্যন্ত সন্তান প্রসবের যন্ত্রণার মতো আর্তনাদ করছে।
ROM 8:23 শুধু তাই নয়, কিন্তু আমরা নিজেরাও, যারা আত্মার প্রথম ফল পেয়েছি, আমাদের দত্তকপুত্র হয়ে স্বীকৃতি পাওয়ার গভীর প্রতীক্ষায় ও শরীরের মুক্তির জন্য অন্তরে আর্তনাদ করছি।
ROM 8:24 কারণ এই প্রত্যাশাতেই আমরা পরিত্রাণ লাভ করেছি। কিন্তু যে প্রত্যাশা দৃষ্টিগোচর, তা আদৌ কোনো প্রত্যাশা নয়। যার ইতিমধ্যে কিছু আছে, তার জন্য কেন সে প্রত্যাশা করবে?
ROM 8:25 কিন্তু যা আমাদের নেই, তার জন্য যদি আমরা প্রত্যাশা করি, তাহলে তার জন্য ধৈর্যসহ প্রতীক্ষা করি।
ROM 8:26 একইভাবে পবিত্র আত্মা আমাদের দুর্বলতায় আমাদের সাহায্য করেন। সঠিক কী প্রার্থনা করতে হয়, তা আমরা জানি না, কিন্তু পবিত্র আত্মা স্বয়ং আমাদের পক্ষে আর্তস্বরে প্রার্থনা করেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ROM 8:27 যিনি আমাদের সকলের হৃদয় অনুসন্ধান করেন, তিনি পবিত্র আত্মার মানসিকতা জানেন, কারণ পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ীই পবিত্রগণের জন্য মিনতি করেন।
ROM 8:28 আর আমরা জানি যে, যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে, যারা তাঁর ইচ্ছা অনুসারে আহূত, তিনি সব বিষয়ে তাদের মঙ্গলসাধনের জন্য কাজ করেন।
ROM 8:29 কারণ ঈশ্বর যাদের পূর্ব থেকে জানতেন, তিনি তাদের তাঁর পুত্রের প্রতিমূর্তির সাদৃশ্য দান করবেন বলে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন, যেন তিনি অনেক ভাইয়ের মধ্যে প্রথমজাত হন।
ROM 8:30 আবার যাদের তিনি পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করেছিলেন, তাদের তিনি আহ্বানও করলেন, যাদের আহ্বান করলেন, তিনি তাদের নির্দোষ প্রতিপন্ন করলেন, আর যাদের নির্দোষ প্রতিপন্ন করলেন, তাদের মহিমান্বিতও করলেন।
ROM 8:31 এসবের প্রত্যুত্তরে তাহলে আমরা কী বলব? ঈশ্বর যদি আমাদের পক্ষে থাকেন, তাহলে কে আমাদের বিরোধী হতে পারে?
ROM 8:32 যিনি তাঁর নিজ পুত্রকেও নিষ্কৃতি দেননি, কিন্তু আমাদের সকলের জন্য তাঁকে সমর্পণ করেছেন—তিনি কি তাঁর সঙ্গে সবকিছুই অনুগ্রহপূর্বক আমাদের দান করবেন না?
ROM 8:33 ঈশ্বর যাদের মনোনীত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ করবে? ঈশ্বরই তাদের নির্দোষ প্রতিপন্ন করেন।
ROM 8:34 কে তাহলে দোষী সাব্যস্ত করবে? খ্রীষ্ট যীশু, যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন—তার চেয়েও বড়ো কথা, যাঁকে জীবনে উত্থাপিত করা হয়েছিল—তিনি ঈশ্বরের ডানদিকে উপস্থিত আছেন এবং আমাদের জন্য অনুরোধও করছেন।
ROM 8:35 খ্রীষ্টের প্রেম থেকে কে আমাদের বিচ্ছিন্ন করবে? কষ্ট-সংকট, না দুর্দশা, না নির্যাতন, না দুর্ভিক্ষ, না নগ্নতা, না বিপদ, না তরোয়াল—এর কোনোটিই নয়?
ROM 8:36 যেমন লেখা আছে, “তোমার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হই, বলির মেষের মতো আমাদের গণ্য করা হয়।”
ROM 8:37 না, যিনি আমাদের প্রেম করেছেন, তাঁরই মাধ্যমে আমরা এসব বিষয়ে বিজয়ীর থেকেও বেশি বিজয়ী হয়েছি।
ROM 8:38 কারণ আমি নিশ্চিতরূপে জানতে পেরেছি যে, মৃত্যু বা জীবন, স্বর্গদূতেরা বা ভূতেরা, বর্তমান বা ভাবীকালের কোনো বিষয়, না কোনো পরাক্রম,
ROM 8:39 ঊর্ধ্বলোক বা অধোলোক বা সমস্ত সৃষ্টির অন্য কোনো বিষয়, কোনো কিছুই আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুতে অবস্থিত ঈশ্বরের প্রেম থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
ROM 9:1 খ্রীষ্টে আমি সত্যি কথাই বলছি—মিথ্যা বলছি না, পবিত্র আত্মায় আমার বিবেক তা সমর্থন করছে যে—
ROM 9:2 আমার গভীর দুঃখ আছে ও হৃদয়ে আমি নিরন্তর মর্মযন্ত্রণা অনুভব করছি।
ROM 9:3 এমনকি, যারা আমার স্বজাতি, আমার সেই ভাইবোনেদের জন্য আমি নিজে খ্রীষ্ট থেকে বিছিন্ন হয়ে অভিশপ্ত হতেও রাজি হতাম!
ROM 9:4 তারা হল ইস্রায়েল জাতি। দত্তকপুত্রের অধিকার তাদেরই, স্বর্গীয় মহিমাও তাদের, বিভিন্ন নিয়ম, বিধানলাভ, মন্দির-কেন্দ্রিক উপাসনা ও সব প্রতিশ্রুতি তাদেরই;
ROM 9:5 পিতৃপুরুষেরাও তাদের এবং খ্রীষ্টের মানবীয় বংশপরিচয় তাদের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, যিনি সর্বোপরি বিরাজমান ঈশ্বর, চির প্রশংসনীয়! আমেন।
ROM 9:6 এরকম নয় যে, ঈশ্বরের বাক্য ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইস্রায়েল বংশজাত সকলেই ইস্রায়েলী নয়।
ROM 9:7 আবার অব্রাহামের বংশধর বলে তারা সকলেই যে তাঁর সন্তান, তাও নয়। কিন্তু বলা হয়েছিল, “ইস্‌হাকের মাধ্যমেই তোমার বংশ পরিচিত হবে।”
ROM 9:8 অন্যভাবে বলা যায়, স্বাভাবিকভাবে জাত সন্তানেরা ঈশ্বরের সন্তান নয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতির সন্তানেরাই অব্রাহামের বংশধর বলে বিবেচিত হয়।
ROM 9:9 কারণ এভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল: “পূর্ব-নির্ধারিত সময়েই আমি ফিরে আসব, তখন সারার এক পুত্র হবে।”
ROM 9:10 শুধু তাই নয়, রেবেকার সন্তানদেরও একমাত্র ও একই পিতা ছিলেন, তিনি আমাদের পিতৃপুরুষ ইস্‌হাক।
ROM 9:11 তবুও, সেই দুজন যমজের জন্ম হওয়ার পূর্বে ও তাদের ভালোমন্দ কোনো কাজ করার পূর্বেই মনোনয়নের ব্যাপারে ঈশ্বরের অভিপ্রায় যেন স্থির থাকে,
ROM 9:12 কাজের ফলস্বরূপ নয়, কিন্তু যিনি আহ্বান করেন তাঁর ইচ্ছার দ্বারা—সারাকে বলা হয়েছিল, “বড়ো ছেলে ছোটো ছেলের সেবা করবে।”
ROM 9:13 যেমন লেখা আছে: “যাকোবকে আমি ভালোবেসেছি, কিন্তু এষৌকে আমি ঘৃণা করেছি।”
ROM 9:14 তাহলে, এখন আমরা কী বলব? ঈশ্বর কি অবিচার করেছেন? তা কখনোই নয়!
ROM 9:15 কারণ তিনি মোশিকে বলেছেন, “যার প্রতি আমি দয়া দেখাতে চাই, তার প্রতি আমি দয়া দেখাব, এবং যার প্রতি আমি করুণা করতে চাই, তার প্রতি আমি করুণা করব।”
ROM 9:16 সেই কারণে, তা মানুষের ইচ্ছা বা চেষ্টার উপরে নির্ভর করে না, কিন্তু ঈশ্বরের করুণার উপর তা নির্ভর করে।
ROM 9:17 কারণ শাস্ত্র ফরৌণকে বলে, “আমি এই বিশেষ উদ্দেশ্যেই তোমাকে উন্নত করেছি, যেন আমি তোমাকে আমার ক্ষমতা দেখাতে পারি ও সমগ্র পৃথিবীতে আমার নাম প্রচারিত হয়।”
ROM 9:18 সেই কারণে, ঈশ্বর যার প্রতি দয়া করতে চান, তার প্রতি তিনি দয়া করেন, কিন্তু যাকে কঠিন করতে চান, তাকে কঠিন করেন।
ROM 9:19 তোমাদের মধ্যে কেউ হয়তো আমাকে বলবে, “তাহলে কেন ঈশ্বর এসব সত্ত্বেও আমাদের প্রতি দোষারোপ করেন? কারণ, কে তাঁর ইচ্ছার প্রতিরোধ করতে পারে?”
ROM 9:20 কিন্তু ওহে মানুষ, তুমি কে যে ঈশ্বরের প্রতিবাদ করো? “সৃষ্টবস্তু কি তার নির্মাতাকে একথা বলতে পারে, ‘তুমি কেন আমাকে এরকম গঠন করেছ?’ ”
ROM 9:21 একই মাটির তাল থেকে অভিজাত উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য কিছু পাত্র এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য কিছু পাত্র নির্মাণ করার অধিকার কি কুমোরের নেই?
ROM 9:22 কী হবে, যদি ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ ও ক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য ধ্বংসের উদ্দেশে নির্দিষ্ট তাঁর ক্রোধের পাত্রদের অসীম ধৈর্য সহকারে সহ্য করেন?
ROM 9:23 আর এতেই বা কী, তিনি যদি তাঁর করুণার পাত্রদের, যাদের মহিমাপ্রাপ্তির জন্য তিনি পূর্ব থেকেই প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের কাছে তাঁর মহিমার ঐশ্বর্য প্রকাশ করেন—
ROM 9:24 এমনকি, আমাদের কাছেও, যাদের তিনি কেবলমাত্র ইহুদি জাতির মধ্য থেকে নয়, কিন্তু অইহুদিদের মধ্য থেকেও আহ্বান করেছেন?
ROM 9:25 হোশেয়ের গ্রন্থে যেমন তিনি বলেছেন: “যারা আমার প্রজা নয়, তাদের আমি ‘আমার প্রজা’ বলব; আর যে আমার প্রেমের পাত্রী নয়, তাকে আমি ‘আমার প্রিয়তমা’ বলে ডাকব।”
ROM 9:26 আবার, “এরকম ঘটবে, যে স্থানে তাদের বলা হত, ‘তোমরা আমার প্রজা নও,’ তাদের বলা হবে, ‘জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।’ ”
ROM 9:27 যিশাইয় ইস্রায়েল সম্পর্কে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “ইস্রায়েলীদের জনসংখ্যা যদি সমুদ্রতীরের বালির মতোও হয়, কেবলমাত্র অবশিষ্টাংশই পরিত্রাণ পাবে।
ROM 9:28 কারণ প্রভু দ্রুতগতিতে ও চরমভাবে পৃথিবীতে তাঁর শাস্তি কার্যকর করবেন।”
ROM 9:29 যিশাইয় যেমন পূর্বেই একথা বলেছিলেন: “সর্বশক্তিমান প্রভু যদি আমাদের জন্য কয়েকজন বংশধর অবশিষ্ট না রাখতেন, আমাদের অবস্থা হত সদোমের মতো, আমরা হতাম ঘমোরার মতো।”
ROM 9:30 তাহলে আমরা কী বলব? অইহুদিরা, যারা ধার্মিকতা লাভের জন্য চেষ্টা করেনি কিন্তু তা পেয়েছে, তা এমন ধার্মিকতা, যা বিশ্বাসের দ্বারা পাওয়া যায়।
ROM 9:31 কিন্তু ইস্রায়েল, যারা ধার্মিকতার বিধান অনুসরণ করেছে, তা তারা অর্জন করতে পারেনি।
ROM 9:32 কেন পারেনি? কারণ তারা বিশ্বাসের দ্বারা তার অনুসরণ না করে বিভিন্ন কাজের দ্বারা তা করেছে। তারা সেই “প্রতিবন্ধকতার পাথরে” হোঁচট খেয়েছে।
ROM 9:33 যেমন লেখা আছে, “দেখো, আমি সিয়োনে এক পাথর রেখেছি, যাতে মানুষ হোঁচট খাবে, আর একটি শিলা স্থাপন করেছি, যার কারণে তাদের পতন হবে, আর যে কেউ তাঁর উপরে বিশ্বাস করবে, সে কখনও লজ্জিত হবে না।”
ROM 10:1 ভাইবোনেরা, ইস্রায়েলীদের জন্য আমার হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা এই যে তারা যেন পরিত্রাণ পায়।
ROM 10:2 কারণ তাদের বিষয়ে আমি সাক্ষ্য দিতে পারি যে, তারা ঈশ্বরের জন্য প্রবল উদ্যমী, কিন্তু তাদের উদ্যম জ্ঞানের উপরে ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি।
ROM 10:3 তারা যেহেতু ঈশ্বর থেকে আগত ধার্মিকতার কথা জানত না এবং তারা নিজেদের ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল তাই তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতার বশীভূত হয়নি।
ROM 10:4 খ্রীষ্টই হচ্ছেন বিধানের পূর্ণতা, যেন যারা বিশ্বাস করে তাদের সকলে ধার্মিক বলে গণ্য হয়।
ROM 10:5 বিধানের দ্বারা যে ধার্মিকতা সে সম্পর্কে মোশি এভাবে বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি এইসব পালন করবে, সে এগুলির দ্বারা জীবিত থাকবে।”
ROM 10:6 কিন্তু বিশ্বাস দ্বারা যে ধার্মিকতা, তা বলে, “তুমি তোমার মনে মনে বোলো না, ‘কে স্বর্গে আরোহণ করবে?’ ” (অর্থাৎ, খ্রীষ্টকে নামিয়ে আনার জন্য),
ROM 10:7 “অথবা, ‘কে অতলে নেমে যাবে?’ ” (অর্থাৎ, খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে তুলে আনার জন্য)।
ROM 10:8 কিন্তু এ কী কথা বলে? “সেই বাক্য তোমাদের খুব কাছেই আছে; তা তোমাদের মুখে ও তোমাদের হৃদয়ে রয়েছে,” এর অর্থ, বিশ্বাসেরই এই বার্তা আমরা ঘোষণা করছি:
ROM 10:9 যদি তুমি “যীশুই প্রভু,” বলে মুখে স্বীকার করো ও হৃদয়ে বিশ্বাস করো যে, ঈশ্বর তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তাহলে তুমি পরিত্রাণ পাবে।
ROM 10:10 কারণ হৃদয়েই তুমি বিশ্বাস করো ও ধার্মিক বলে গণ্য হও এবং তোমার মুখে তা স্বীকার করো ও পরিত্রাণ পাও।
ROM 10:11 শাস্ত্র যেমন বলে, “যে কেউ তাঁর উপরে বিশ্বাস করে, সে কখনও লজ্জিত হবে না।”
ROM 10:12 কারণ ইহুদি ও অইহুদির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই; সেই একই প্রভু সকলের প্রভু এবং যতজন তাঁকে ডাকে, তাদের সকলকে তিনি পর্যাপ্ত আশীর্বাদ করেন।
ROM 10:13 কারণ, “যে কেউ প্রভুর নামে ডাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।”
ROM 10:14 তাহলে, যাঁর উপরে তারা বিশ্বাস করেনি তারা কীভাবে তাঁকে ডাকবে? আর যাঁর কথাই তারা শোনেনি, কীভাবে তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে? আবার কেউ তাদের কাছে প্রচার না করলে তারা কীভাবে শুনতে পাবে?
ROM 10:15 আর তারা প্রচারই বা কীভাবে করবে, যদি তারা প্রেরিত না হয়? যেমন লেখা আছে, “যারা সুসমাচার প্রচার করে, তাদের চরণ কতই না সুন্দর!”
ROM 10:16 কিন্তু ইস্রায়েলীরা সকলেই সেই সুসমাচার গ্রহণ করেনি। কারণ যিশাইয় বলেছেন, “হে প্রভু, আমাদের দেওয়া সংবাদ কে বিশ্বাস করেছে?”
ROM 10:17 সুতরাং, সুসমাচারের প্রচার শুনে বিশ্বাস উৎপন্ন হয় ও প্রচার হয় খ্রীষ্টের বাক্য দ্বারা।
ROM 10:18 কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করি, তারা কি শোনেনি? অবশ্যই তারা শুনেছিল: “তাদের কণ্ঠস্বর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের বাক্য পৃথিবীর প্রান্তসীমায় পৌঁছায়।”
ROM 10:19 আমি আবার জিজ্ঞাসা করি: ইস্রায়েল জাতি কি বুঝতে পারেনি? প্রথমত, মোশি বলেন, “যারা কোনো প্রজা নয় তাদের দ্বারা আমি তোমাদের ঈর্ষাকাতর করে তুলব; যে জাতি কিছু বোঝে না তাদের দ্বারা আমি তাদের ক্রুদ্ধ করব।”
ROM 10:20 আবার যিশাইয় সাহসিকতার সঙ্গে বলেছেন, “যারা আমার অন্বেষণ করেনি, তারা আমাকে খুঁজে পেয়েছে, যারা কখনও আমার সন্ধান করেনি, তাদের কাছে আমি নিজেকে প্রকাশ করেছি।”
ROM 10:21 কিন্তু ইস্রায়েল জাতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “এক অবাধ্য ও একগুঁয়ে জাতির প্রতি, সারাদিন আমি, আমার দু-হাত বাড়িয়ে রেখেছিলাম।”
ROM 11:1 আমি তাই জিজ্ঞাসা করি: ঈশ্বর কি তাঁর প্রজাদের অগ্রাহ্য করেছেন? কোনোভাবেই নয়! আমি স্বয়ং একজন ইস্রায়েলী, বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত, অব্রাহামের এক বংশধর।
ROM 11:2 ঈশ্বর যাদের পূর্ব থেকেই জানতেন, তাঁর সেই প্রজাদের তিনি অগ্রাহ্য করেননি। এলিয়ের ইতিহাসে শাস্ত্র কী বলে, তা কি তোমরা জানো না যে কীভাবে তিনি ইস্রায়েল জাতির বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন:
ROM 11:3 “প্রভু, তারা তোমার ভাববাদীদের হত্যা করেছে ও তোমার যজ্ঞবেদি চূর্ণবিচূর্ণ করেছে, কেবলমাত্র আমি একা বেঁচে আছি, আর তারা আমাকেও হত্যা করতে চেষ্টা করছে?”
ROM 11:4 কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে কী উত্তর দিয়েছিলেন? “বায়াল-দেবতার সামনে যারা নতজানু হয়নি, এমন 7,000 লোককে আমি আমার জন্য সংরক্ষিত রেখেছি।”
ROM 11:5 একইভাবে, বর্তমান সময়েও অনুগ্রহের দ্বারা মনোনীত অবশিষ্টাংশ একদল আছে।
ROM 11:6 তারা যদি অনুগ্রহে মনোনীত হয়, তাহলে তা কাজের পরিণামে নয়; যদি তা হত, তাহলে অনুগ্রহ আর অনুগ্রহ থাকত না।
ROM 11:7 তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়াল? ইস্রায়েল যা এত আগ্রহভরে অন্বেষণ করল, তা তারা পেল না, কিন্তু যারা মনোনীত তারা পেল। অন্য সকলের মন কঠোর হয়েছিল,
ROM 11:8 যেমন লেখা আছে: “ঈশ্বর তাদের এক অচেতন আত্মা দিয়েছেন, চোখ দিয়েছেন, যেন তারা দেখতে না পায় ও কান, যেন তারা শুনতে না পায়, আজও পর্যন্ত।”
ROM 11:9 আর দাউদ বলেন, “তাদের টেবিলের খাবার হোক জাল ও ফাঁদস্বরূপ, তাদের পক্ষে এক প্রতিবন্ধক ও প্রতিফলস্বরূপ।
ROM 11:10 তাদের চোখ অন্ধকারে পূর্ণ হোক যেন তারা দেখতে না পায়, এবং তাদের পিঠ চিরকাল বেঁকে থাকুক।”
ROM 11:11 আমি আবার জিজ্ঞাসা করি, তারা কি এজন্যই হোঁচট খেয়েছে, যেন পতিত হয় ও আর কখনও উঠে দাঁড়াতে না পারে? আদৌ তা নয়! বরং, তাদের অপরাধের কারণেই অইহুদিরা পরিত্রাণ লাভ করেছে, যেন ইস্রায়েলীরা ঈর্ষাকাতর হয়ে ওঠে।
ROM 11:12 কিন্তু যদি তাদের অপরাধের ফলে জগতের শ্রীবৃদ্ধি হয় এবং তাদের ক্ষতি যদি অইহুদিদের সমৃদ্ধির কারণ হয়, তাহলে তাদের পূর্ণতা আরও কত না মহত্তর সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে!
ROM 11:13 হে অইহুদি লোকেরা, আমি তোমাদের বলছি, আমি অইহুদিদের কাছে সুসমাচার প্রচারের জন্য প্রেরিতশিষ্য। তাই ঈশ্বর ও অন্যদের প্রতি আমি যে কাজ করি তাতে আমি গর্ববোধ করছি।
ROM 11:14 আশা করি আমি যে কোনো উপায়ে যেন আমার স্বজাতীয়দের মধ্যে ঈর্ষা উৎপন্ন করতে পারি ও তাদের কয়েকজনের পরিত্রাণ সাধন করতে পারি।
ROM 11:15 কারণ তাদের প্রত্যাখ্যানের ফলে যদি জগতের পুনর্মিলন হয়, তাহলে তাদের গ্রহণ করার ফলে কী হবে? তার ফলে কি মৃত্যু থেকে জীবন লাভ হবে না?
ROM 11:16 ময়দার তালের প্রথম অংশ, যা নৈবেদ্যরূপে উৎসর্গ করা হয়, তা যদি পবিত্র হয়, তাহলে সমস্ত তাল-ই পবিত্র; যদি গাছের মূল পবিত্র হয়, তাহলে তার শাখাগুলিও পবিত্র।
ROM 11:17 কিন্তু ইস্রায়েলীদের মধ্য থেকে কতগুলি শাখাপ্রশাখা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর অইহুদি তোমরা বন্য জলপাই গাছের শাখা না হলেও তাদের মধ্যে তোমাদের কলমরূপে লাগানো হয়েছে; তাই এখন তোমরা জলপাই গাছের মূলের পুষ্টিকর রসের অংশীদার হয়েছ।
ROM 11:18 সুতরাং, কেটে ফেলা শাখাপ্রশাখার বিরুদ্ধে গর্ব কোরো না। যদি তুমি করো, এ বিষয়ে বিবেচনা কোরো: তুমি মূলকে ধরে রাখোনি, বরং মূল-ই তোমাকে ধরে রেখেছে।
ROM 11:19 তুমি হয়তো বলবে, “সেইসব শাখাপ্রশাখাকে ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যেন আমাকে কলমরূপে লাগানো হয়।”
ROM 11:20 ভালোই বলেছ! তুমি বিশ্বাসের উপরে দাঁড়িয়ে আছ, কিন্তু অবিশ্বাসের কারণে তাদের ভেঙে ফেলা হয়েছিল। তাই, উদ্ধত হোয়ো না, বরং ভীত হও।
ROM 11:21 কারণ ঈশ্বর যদি প্রকৃত শাখাপ্রশাখাকে রেহাই না দিয়ে থাকেন, তিনি তোমাকেও রেহাই দেবেন না!
ROM 11:22 সেই কারণে, ঈশ্বরের সদয়তা ও কঠোরতা, উভয়ই বিবেচনা করো: যারা পতিত হয়, তাদের প্রতি তিনি কঠোর, কিন্তু তোমার প্রতি সদয়, যদি তুমি তাঁর সদয়তার শরণাপন্ন থাকো। নতুবা, তোমাকেও কেটে ফেলা হবে।
ROM 11:23 আবার, তারা যদি অবিশ্বাস ত্যাগ করে বিশ্বাসী হয় তাহলে তাদেরও কলমরূপে লাগানো হবে, কারণ ঈশ্বর পুনরায় তাদের কলমরূপে জুড়ে দিতে সমর্থ।
ROM 11:24 সর্বোপরি, তোমাকে যদি কোনো বন্য জলপাই গাছ থেকে কেটে অস্বাভাবিকভাবে আসল গাছের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, তাহলে আরও কত না অনায়াসে গাছের আসল শাখাগুলিকে তাদের নিজস্ব জলপাই গাছের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যাবে!
ROM 11:25 ভাইবোনেরা, আমি চাই না যে এই গুপ্তরহস্য সম্পর্কে তোমরা অজ্ঞাত থাকো, যেন তোমরা আত্মঅহংকারী না হও: যতক্ষণ না অইহুদিরা পূর্ণ সংখ্যায় মণ্ডলীতে প্রবেশলাভ করে ততক্ষণ ইস্রায়েল জাতি আংশিক কঠোর হয়েছে।
ROM 11:26 আর এভাবেই সমস্ত ইস্রায়েল পরিত্রাণ লাভ করবে, যেমন লেখা আছে, “সিয়োন থেকে মুক্তিদাতা আসবেন; তিনি যাকোব কুল থেকে ভক্তিহীনতা দূর করবেন।
ROM 11:27 আর এই হবে তাদের সঙ্গে আমার নিয়ম, যখন তাদের পাপসকল আমি হরণ করি।”
ROM 11:28 ইস্রায়েলের অনেকে এখন সুসমাচারের শত্রু, আর এর ফলে তোমরা অইহুদিরা লাভবান হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বর তাদের এখনও প্রেম করেন কারণ তিনি তাদের পিতৃপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন।
ROM 11:29 কারণ ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দানসকল ও তাঁর আহ্বান তিনি কখনও প্রত্যাহার করেন না।
ROM 11:30 যেমন তোমরা এক সময় ঈশ্বরের অবাধ্য ছিলে, কিন্তু এখন তাদের অবাধ্যতার কারণে করুণা লাভ করেছ,
ROM 11:31 তেমনই তারাও এখন অবাধ্য হয়েছে, যেন তোমরা ঈশ্বরের করুণা লাভ করেছে বলে তারাও একদিন করুণা লাভ করবে।
ROM 11:32 কারণ ঈশ্বর সব মানুষকে অবাধ্যতার কাছে রুদ্ধ করেছেন, যেন তিনি তাদের সকলেরই প্রতি করুণা করতে পারেন।
ROM 11:33 আহা, ঈশ্বরের প্রজ্ঞার ঐশ্বর্য ও জ্ঞান কত গভীর! তাঁর বিচারসকল কেমন অন্বেষণের অতীত, তাঁর পথসকল অনুসন্ধান করা যায় না!
ROM 11:34 “প্রভুর মন কে জানতে পেরেছে? কিংবা কে তাঁর উপদেষ্টা হয়েছে?”
ROM 11:35 “কে কখন ঈশ্বরকে কিছু দিয়েছে, যে ঈশ্বর তা পরিশোধ করবেন?”
ROM 11:36 কারণ সকল বস্তুর উদ্ভব তাঁর থেকে, তাঁর মাধ্যমে ও তাঁরই জন্য, তাঁরই মহিমা হোক চিরকাল! আমেন।
ROM 12:1 অতএব, ভাইবোনেরা, ঈশ্বরের বহুবিধ করুণার পরিপ্রেক্ষিতে, আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি, তোমরা তোমাদের শরীরকে জীবন্ত বলিরূপে, পবিত্র ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্যরূপে উৎসর্গ করো—তাই হবে তোমাদের যুক্তিসংগত আরাধনা।
ROM 12:2 আর তোমরা এই জগতের রীতি অনুযায়ী জীবনযাপন করো না, কিন্তু তোমাদের মনের নতুনীকরণের দ্বারা রূপান্তরিত হও। তখন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছাকে যাচাই ও অনুমোদন করতে পারবে, যা উৎকৃষ্ট, প্রীতিজনক ও সিদ্ধ।
ROM 12:3 কারণ যে অনুগ্রহ আমাকে দেওয়া হয়েছে, তার গুণে আমি তোমাদের প্রত্যেককে বলছি: তোমরা নিজেদের সম্বন্ধে যেমন উপযুক্ত, তার থেকে আরও উচ্চ ধারণা পোষণ কোরো না, কিন্তু ঈশ্বর তোমাকে যে পরিমাণ বিশ্বাস দান করেছেন, সেই অনুযায়ী, সংযমী বিচার দ্বারা নিজের বিষয়ে চিন্তা কোরো।
ROM 12:4 যেমন আমাদের প্রত্যেকের একই শরীরে বহু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে, আর এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ এক নয়,
ROM 12:5 তেমনই খ্রীষ্টে আমরা, যারা অনেকে, এক দেহ গঠন করি এবং প্রত্যেক সদস্য অপর সদস্যদের প্রতি অঙ্গপ্রত্যঙ্গরূপে যুক্ত।
ROM 12:6 আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী আমাদের বিভিন্ন বরদান আছে। যদি কোনো মানুষের বরদান হয় ভাববাণী বলা, তাহলে সে তার বিশ্বাসের মাত্রা অনুযায়ী তা ব্যবহার করুক।
ROM 12:7 যদি তা হয় সেবাকাজ করার, তাহলে সে সেবাকাজ করুক; যদি তা হয় শিক্ষাদানের, তাহলে সে শিক্ষাদান করুক;
ROM 12:8 যদি তা হয় উৎসাহদানের, তবে সে উৎসাহ দান করুক। যদি তা হয় অন্যের প্রয়োজনে দান করার, সে উদারভাবে দান করুক; যদি তা হয় নেতৃত্বদানের, সে নিষ্ঠার সঙ্গে শাসন করুক; তা যদি হয় করুণা প্রদর্শনের, সে আনন্দের সঙ্গেই তা করুক।
ROM 12:9 প্রেম অকপট হোক। যা মন্দ, তা ঘৃণা করো, যা ভালো, তার প্রতি আসক্ত হও।
ROM 12:10 প্রেমে তোমরা পরস্পরের প্রতি অনুরক্ত হও। নিজেদের থেকেও বেশি একে অপরকে সম্মান করো।
ROM 12:11 কর্ম উদ্যোগে শিথিল হোয়ো না, কিন্তু আত্মায় উদ্দীপিত থেকো ও প্রভুর সেবা করো।
ROM 12:12 প্রত্যাশায় আনন্দ করো, কষ্ট-সংকটে সহিষ্ণু হও, প্রার্থনায় বিশ্বস্ত থেকো।
ROM 12:13 ঈশ্বরভক্তদের অভাবে সাহায্য করো। আতিথেয়তার চর্চা করো।
ROM 12:14 যারা তোমাদের নির্যাতন করে, তাদের আশীর্বাদ করো; আশীর্বাদ করো, অভিশাপ দিয়ো না।
ROM 12:15 যারা আনন্দ করে, তাদের সঙ্গে আনন্দ করো; যারা শোক করে, তাদের সঙ্গে শোক করো।
ROM 12:16 পরস্পরের প্রতি তোমরা সমমনা হও। দাম্ভিক হোয়ো না, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক হও। নিজেকে বিজ্ঞ বলে মনে করো না।
ROM 12:17 মন্দের পরিশোধে কারও মন্দ করো না। সকলের দৃষ্টিতে যা ন্যায়সংগত, তা করতে যত্নবান হও।
ROM 12:18 যদি সম্ভব হয়, তোমার পক্ষে যতদূর সাধ্য, সকলের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করো।
ROM 12:19 হে আমার প্রিয় বন্ধুগণ, তোমরা প্রতিশোধ নিয়ো না, কিন্তু ঈশ্বরের ক্রোধের জন্য স্থান ছেড়ে দাও, কারণ একথা লেখা আছে: “প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ, আমি প্রতিফল দেব,” একথা প্রভু বলেন।
ROM 12:20 বরং, “তোমার শত্রু যদি ক্ষুধার্ত হয়, তাকে খেতে দাও; যদি সে তৃষ্ণার্ত হয়, তাকে পান করার কিছু দাও। এরকম করলে, তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লার স্তূপ চাপিয়ে দেবে।”
ROM 12:21 তুমি মন্দের দ্বারা পরাজিত হোয়ো না, বরং উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাস্ত করো।
ROM 13:1 প্রত্যেকেই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের কাছে অবশ্যই বশ্যতাস্বীকার করুক, কারণ ঈশ্বর ব্যতিরেকে কোনও কর্তৃপক্ষের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। যে সমস্ত কর্তৃপক্ষের অস্তিত্ব আছে, সেগুলি ঈশ্বর প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ROM 13:2 কাজেই, যে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সে ঈশ্বর যা স্থাপন করেছেন, তারই বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, আর যারা তা করে, তারা নিজেদের উপরে শাস্তি নিয়ে আসে।
ROM 13:3 কারণ যারা ন্যায়সংগত কাজ করে, তাদের কাছে নয়, কিন্তু যারা অন্যায় করে, তাদের কাছে শাসকেরা ভীতির কারণস্বরূপ। কর্তৃত্বে যিনি আছেন, তাঁর কাছে তুমি কি নির্ভয় হতে চাও? তাহলে যা ন্যায়সংগত, তাই করো, তিনি তোমার প্রশংসা করবেন।
ROM 13:4 কারণ তোমাদের মঙ্গল করার জন্যই তিনি ঈশ্বরের পরিচারক। কিন্তু তুমি যদি অন্যায় করো, তাহলে ভীত হও, কারণ তিনি বিনা কারণে তরোয়াল ধারণ করেন না। তিনি ঈশ্বরের পরিচারক, দুষ্কৃতীকে শাস্তিদানের জন্য তিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধি।
ROM 13:5 সেই কারণে, কর্তৃপক্ষের বশ্যতাধীন থাকা আবশ্যিক, কেবলমাত্র সম্ভাব্য শাস্তির জন্য নয়, কিন্তু বিবেকের কারণেও।
ROM 13:6 এজন্যই তোমরা কর দিয়ে থাকো, কারণ কর্তৃপক্ষেরা ঈশ্বরের পরিচারক, যারা তাদের পূর্ণ সময় শাসনকর্মে প্রদান করেন।
ROM 13:7 প্রত্যেকের যা প্রাপ্য, তা তাকে দাও: যাঁকে কর দেওয়ার থাকে, তাঁকে কর দাও; যদি শুল্ক হয়, তাহলে শুল্ক দাও; যদি শ্রদ্ধা হয়, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করো; যদি সম্মান হয়, তাহলে সম্মান করো।
ROM 13:8 তোমরা কারও কাছে কোনো ঋণ কোরো না, কেবলমাত্র পরস্পরের কাছে ভালোবাসার ঋণ কোরো; কারণ যে তার অপরকে ভালোবাসে, সে বিধান পূর্ণরূপে পালন করেছে।
ROM 13:9 “ব্যভিচার কোরো না,” “নরহত্যা কোরো না,” “চুরি কোরো না,” “লোভ কোরো না,” এই আজ্ঞাগুলি এবং আরও যে কোনো আজ্ঞা থাকুক না কেন, এই একটি আজ্ঞায় সেসবই সংকলিত হয়েছে, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই প্রেম করো।”
ROM 13:10 ভালোবাসা প্রতিবেশীর কোনও অনিষ্ট করে না। সেই কারণে, প্রেম করাই বিধানের পূর্ণতা।
ROM 13:11 আর বর্তমানকাল সম্পর্কে সচেতন হয়ে তোমরা এরকম কোরো। তোমাদের তন্দ্রা থেকে জেগে ওঠার সময় উপস্থিত হয়েছে, কারণ যখন আমরা প্রথম বিশ্বাস করেছিলাম, তখন থেকে আমাদের পরিত্রাণ আরও এগিয়ে এসেছে।
ROM 13:12 রাত্রি প্রায় অবসান হল, দিন এল বলে। তাই, এসো আমরা অন্ধকারের কাজকর্ম ত্যাগ করে আলোর রণসজ্জা পরিধান করি।
ROM 13:13 এসো, আমরা দিনের আলোর উপযুক্ত শোভন আচরণ করি, রঙ্গরস ও মত্ততায় নয়, যৌনাচার ও লাম্পট্যে নয়, মতবিরোধ ও ঈর্ষায় নয়
ROM 13:14 বরং, তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে পরিধান করো, রক্তমাংসের অভিলাষ কীভাবে পূর্ণ করবে, সে সম্পর্কে চিন্তা কোরো না।
ROM 14:1 বিশ্বাসে যে দুর্বল, বিতর্কিত বিষয়গুলিতে তার সমালোচনা না করেই তাকে গ্রহণ করো।
ROM 14:2 একজন ব্যক্তির বিশ্বাস, তাকে সবকিছুই আহার করার অনুমতি দেয়, কিন্তু অপর ব্যক্তি, যার বিশ্বাস দুর্বল, সে কেবলমাত্র শাকসবজি খায়।
ROM 14:3 যে ব্যক্তি সবকিছুই খায়, সে তাকে অবজ্ঞা না করুক যে সবকিছু খায় না, আবার যে সবকিছু খায় না, সে অপর ব্যক্তিকে দোষী না করুক যে সবকিছু খায়, কারণ ঈশ্বর তাকে গ্রহণ করেছেন।
ROM 14:4 তুমি কে, যে অন্য কোনো ব্যক্তির দাসের বিচার করো? সে তার মনিবের কাছে হয় স্থির থাকবে, নয়তো পতিত হবে। আর সে অবশ্য স্থির থাকবে, কারণ প্রভু তাকে স্থির রাখতে সমর্থ।
ROM 14:5 কোনো ব্যক্তি কোনো একটি দিনকে অন্য দিনের চেয়ে বেশি পবিত্র মনে করে। অন্য একজন সবদিনকেই সমান বলে মনে করে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার মনে দৃঢ়প্রত্যয়ী হোক।
ROM 14:6 কেউ যদি কোনো দিনকে বিশিষ্ট বলে মানে, প্রভুর উদ্দেশেই সে তা করে। যে মাংস খায়, সে প্রভুর উদ্দেশেই খায়, যেহেতু সে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেয়।
ROM 14:7 কারণ আমরা কেউই কেবলমাত্র নিজের জন্য জীবনধারণ করি না এবং কেউই শুধু নিজের জন্য মৃত্যুবরণ করি না।
ROM 14:8 আমরা যদি জীবিত থাকি, তাহলে প্রভুর উদ্দেশেই জীবিত থাকি; আবার যদি আমরা মৃত্যুবরণ করি, আমরা প্রভুর উদ্দেশেই মৃত্যুবরণ করি। তাই, আমরা জীবিত থাকি বা মৃত্যুবরণ করি, আমরা প্রভুরই থাকি।
ROM 14:9 এই বিশেষ কারণেই, খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করলেন ও পুনর্জীবিত হলেন, যেন তিনি মৃত ও জীবিত, উভয়েরই প্রভু হন।
ROM 14:10 তাহলে তুমি কেন অপর বিশ্বাসীর বিচার করো? কিংবা, কেনই বা অপর বিশ্বাসীকে ঘৃণা করো? কারণ আমরা তো সকলেই ঈশ্বরের বিচারাসনের সামনে দাঁড়াব!
ROM 14:11 এরকম লেখা আছে: “প্রভু বলেন, ‘আমার অস্তিত্বের মতোই এ বিষয় নিশ্চিত, প্রত্যেকের জানু আমার সামনে পাতিত হবে, প্রত্যেক জিভ ঈশ্বরের গৌরব স্বীকার করবে।’ ”
ROM 14:12 সুতরাং, আমাদের প্রত্যেককেই ঈশ্বরের কাছে নিজের নিজের জবাবদিহি করতে হবে।
ROM 14:13 এই কারণে এসো, আমরা পরস্পরের বিচার যেন আর না করি। বরং অপর বিশ্বাসীর চলার পথে কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা স্থাপন না করার মানসিকতা গড়ে তোলো।
ROM 14:14 প্রভু যীশুর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরূপে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, কোনো খাবারই স্বাভাবিকভাবে অশুচি নয়। কিন্তু কেউ যদি কোনো বস্তুকে অশুচি বলে মনে করে, তাহলে তার কাছে সেটা অশুচি।
ROM 14:15 তুমি যা খাও, সেই কারণে তোমার ভাই যদি অস্বস্তি বোধ করে, তাহলে তুমি আর প্রেমপূর্ণ আচরণ করছ না। তোমার খাওয়াদাওয়ার জন্য তোমার ভাইয়ের বিনাশের কারণ হোয়ো না, যার জন্য খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেছেন।
ROM 14:16 তুমি যা ভালো মনে করো, সেই বিষয়ে তাকে মন্দ কথা বলার সুযোগ দিয়ো না।
ROM 14:17 কারণ ঈশ্বরের রাজ্য ভোজনপানের বিষয় নয়, কিন্তু ধার্মিকতার, শান্তির ও পবিত্র আত্মায় আনন্দের।
ROM 14:18 কারণ এভাবে যে খ্রীষ্টের সেবা করে, সে ঈশ্বরের প্রীতিপাত্র ও মানুষের কাছেও সমর্থনযোগ্য।
ROM 14:19 সেই কারণে, যা শান্তির পথে চালিত করে ও পরস্পরকে গেঁথে তোলে, তা করার জন্য এসো আমরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করি।
ROM 14:20 খাদ্যের কারণে ঈশ্বরের কাজ ধ্বংস কোরো না। সমস্ত খাবারই শুচিশুদ্ধ, কিন্তু কেউ যদি এমন খাবার গ্রহণ করে যা অন্যের বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে সেই খাবার গ্রহণ করা অন্যায়।
ROM 14:21 মাংস খাওয়া বা মদ্যপান বা অন্য কোনও কৃতকর্ম, যা অপর বিশ্বাসীর পতনের কারণ হয়, তা না করাই ভালো।
ROM 14:22 তাই, এ সমস্ত বিষয়ে তুমি যা বিশ্বাস করো, তা তোমার ও ঈশ্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখো। ধন্য সেই ব্যক্তি, যে নিজে যা অনুমোদন করে, তার জন্য নিজের প্রতি দোষারোপ করে না।
ROM 14:23 কিন্তু যে ব্যক্তির সন্দেহ আছে, সে যদি আহার করে তাহলে সে দোষী সাব্যস্ত হয়, কারণ তার আহার করা বিশ্বাস থেকে হয় না; আর যা কিছু বিশ্বাস থেকে হয় না, তাই পাপ।
ROM 15:1 আমরা যারা বলবান, আমাদের উচিত দুর্বলদের ব্যর্থতা বহন করা এবং নিজেদের সন্তুষ্ট না করা।
ROM 15:2 আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিবেশীকে গঠন করার উদ্দেশে তার মঙ্গলের জন্য তাকে সন্তুষ্ট করা।
ROM 15:3 কারণ, এমনকি খ্রীষ্টও নিজেকে সন্তুষ্ট করলেন না, কিন্তু যেমন লেখা আছে, “যারা তোমাকে অপমান করে, তাদের করা সব অপমান আমার উপরে এসে পড়েছে।”
ROM 15:4 এই কারণে, অতীতে যা কিছু লেখা হয়েছিল, তা আমাদের শিক্ষার জন্যই লেখা হয়েছিল, যেন সহিষ্ণুতা ও শাস্ত্রবাণীর আশ্বাসের মাধ্যমে আমরা প্রত্যাশা লাভ করি।
ROM 15:5 যে ঈশ্বর সহিষ্ণুতা ও আশ্বাস দেন, তিনি তোমাদের মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে ঐক্যের মনোভাব নিয়ে বাস করার ক্ষমতা প্রদান করুন যা খ্রীষ্ট যীশুর বিশ্বাসীদের পক্ষে মানানসই।
ROM 15:6 তখন তোমরা এক মনে ও একস্বরে আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতার মহিমাকীর্তন করতে পারবে।
ROM 15:7 অতএব খ্রীষ্ট যেমন তোমাদের গ্রহণ করেছেন, তেমনই ঈশ্বরের প্রশংসার জন্য তোমরা একে অপরকে গ্রহণ করো।
ROM 15:8 কারণ আমি তোমাদের বলি, খ্রীষ্ট ইহুদিদের দাস হয়ে এসেছিলেন যেন পিতৃপুরুষদের প্রতি ঈশ্বরের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহকে প্রমাণ করেন।
ROM 15:9 তিনি এই কারণেও এসেছিলেন যেন অইহুদি জাতিরাও ঈশ্বরের করুণার জন্য তাঁর মহিমাকীর্তন করে, যেমন লেখা আছে: “অতএব, অইহুদি জাতিবৃন্দের মাঝে, আমি তোমার প্রশংসা করব; আমি তোমার নামের উদ্দেশে সংকীর্তন গাইব।”
ROM 15:10 আবার তা বলে, “ওহে অইহুদি জাতিরা, তাঁর প্রজাদের সঙ্গে উল্লসিত হও।”
ROM 15:11 আবারও, “তোমরা সব অইহুদি জাতি, প্রভুর প্রশংসা করো, আর সমস্ত প্রজাবৃন্দ, তোমরাও তাঁর সংকীর্তন করো।”
ROM 15:12 আবার যিশাইয় বলেন, “যিশয়ের মূল অঙ্কুরিত হবে, যিনি সব জাতির উপরে কর্তৃত্ব করতে উত্থিত হবেন, অইহুদিরা তাঁরই উপরে প্রত্যাশা রাখবে।”
ROM 15:13 প্রত্যাশার ঈশ্বর তোমাদের সমস্ত আনন্দ ও শান্তিতে পূর্ণ করুন, যেমন তোমরা তাঁর উপরে বিশ্বাস করো, যেন তোমরা পবিত্র আত্মার পরাক্রমের দ্বারা প্রত্যাশায় উপচে পড়ো।
ROM 15:14 আমার ভাইবোনেরা, আমি নিজে নিশ্চিত যে, তোমরা নিজেরা সদগুণে পূর্ণ, পূর্ণজ্ঞানী ও পরস্পরকে শিক্ষা দেওয়ার যোগ্য।
ROM 15:15 আমি কতগুলি বিষয়ে সম্পূর্ণ সাহসের সঙ্গে তোমাদের কাছে লিখেছি, যেন সেগুলি পুনরায় তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিই। এর কারণ হল, ঈশ্বর আমাকে অনুগ্রহ প্রদান করেছেন,
ROM 15:16 যেন আমি অইহুদিদের কাছে খ্রীষ্ট যীশুর একজন সেবক হই ও ঈশ্বরের সুসমাচার ঘোষণা করার জন্য যাজকীয় কর্তব্য পালন করি। এর পরিণামে, অইহুদিরা যেন পবিত্র আত্মা দ্বারা শুচিশুদ্ধ হয় এবং ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য নৈবেদ্যস্বরূপ হয়।
ROM 15:17 সেই কারণে, আমি ঈশ্বরের জন্য আমার পরিচর্যায় খ্রীষ্ট যীশুতে গর্বপ্রকাশ করি।
ROM 15:18 আমি অন্য কিছু বলার দুঃসাহস করি না, কেবলমাত্র এই বিষয় ছাড়া, যা আমার কথা ও কাজের দ্বারা অইহুদিদের ঈশ্বরের আজ্ঞবহ হওয়ার জন্য চালিত করতে খ্রীষ্ট আমার মাধ্যমে সাধন করেছেন।
ROM 15:19 তিনি তা করেছেন চিহ্নকাজ ও অলৌকিক নিদর্শনের ক্ষমতার দ্বারা ও পবিত্র আত্মার পরাক্রমের দ্বারা। তাই আমি জেরুশালেম থেকে ইল্লুরিকা পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চলে খ্রীষ্টের সুসমাচার পূর্ণরূপে ঘোষণা করেছি।
ROM 15:20 সবসময়ই এ আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল যে, খ্রীষ্টকে যেখানে প্রচার করা হয়নি, সেখানে সুসমাচার প্রচার করি, যেন আমি অন্য কারও ভিত্তিমূলের উপর নির্মাণ না করি।
ROM 15:21 বরং, যেমন লেখা আছে: “তাঁর সম্পর্কে যাদের কাছে বলা হয়নি, তারা দেখতে পাবে, আর যারা শুনতে পায়নি, তারা বুঝতে পারবে।”
ROM 15:22 এই কারণেই, আমি তোমাদের কাছে যেতে চেয়েও প্রায়ই বাধা পেয়েছি।
ROM 15:23 কিন্তু এখন, এই সমস্ত অঞ্চলে কাজ করার জন্য, আমার আর কোনও স্থান নেই এবং যেহেতু আমি বহু বছর যাবৎ তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আকুল হয়ে আছি,
ROM 15:24 আমি স্পেনে যাওয়ার সময় তা করার পরিকল্পনা করেছি। ওই পথ অতিক্রম করার সময় আমি আশা করি তোমাদের পরিদর্শন করব, যেন কিছু সময় তোমাদের সান্নিধ্য উপভোগের পর তোমরা আমার সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।
ROM 15:25 এখন, আমি অবশ্য জেরুশালেমের পবিত্রগণের পরিচর্যা করার জন্য আমার যাত্রাপথে আছি।
ROM 15:26 কারণ জেরুশালেমের পবিত্রগণের মধ্যে যারা দীনদরিদ্র, তাদের জন্য ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়ার লোকেরা কিছু অনুদান সংগ্রহ করেছিল।
ROM 15:27 তারা খুশি হয়েই এ কাজ করেছে এবং বাস্তবিকই এই ব্যাপারে তারা ওদের কাছে ঋণী। কারণ অইহুদিরা যদি ইহুদিদের আত্মিক সব আশীর্বাদের অংশীদার হয়েছে, তাহলে তাদের পার্থিব আশীর্বাদসমূহ ভাগ করে দেওয়ার জন্য তারা ইহুদিদের কাছে ঋণী।
ROM 15:28 তাই, আমি এ কাজ সম্পূর্ণ করার পর এবং তারা এই ফল প্রাপ্ত হয়েছে, এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়ার পরই আমি স্পেন দেশে যাব ও যাত্রাপথে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।
ROM 15:29 আমি জানি যে, আমি যখন যাব, তখন আমি পূর্ণমাত্রায় খ্রীষ্টের আশীর্বাদের সঙ্গেই যাব।
ROM 15:30 ভাইবোনেরা, আমি আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কারণে ও পবিত্র আত্মার প্রেমের কারণে তোমাদের কাছে অনুনয় করছি, তোমরা আমার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে আমার সঙ্গে আমার সংগ্রামে যোগদান করো।
ROM 15:31 প্রার্থনা করো, আমি যেন যিহূদিয়ার অবিশ্বাসীদের হাত থেকে উদ্ধারলাভ করি এবং জেরুশালেমে আমার সেবাকাজ যেন সেখানকার পবিত্রগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
ROM 15:32 এর পরিণামে, আমি যেন ঈশ্বরের ইচ্ছায় সানন্দে তোমাদের কাছে যেতে পারি ও একত্র তোমাদের সঙ্গে প্রাণ জুড়াতে পারি।
ROM 15:33 শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকুন। আমেন।
ROM 16:1 আমি তোমাদের কাছে কিংক্রিয়ায় অবস্থিত মণ্ডলীর পরিচারিকা, বোন ফৈবীর জন্য সুপারিশ করছি।
ROM 16:2 আমি তোমাদের কাছে অনুরোধ করি, পবিত্রগণের পক্ষে যেমন উপযুক্ত, তোমরা তেমনই উপায়ে তাঁকে গ্রহণ করো। তোমাদের কাছে তাঁর কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে, তোমরা তাঁকে তা দিয়ো, কারণ তিনি বহু মানুষের, এমনকি আমারও অনেক উপকার করেছেন।
ROM 16:3 খ্রীষ্ট যীশুতে আমার সহকর্মী প্রিষ্কিল্লা ও আক্বিলাকে অভিনন্দন জানাও।
ROM 16:4 তাঁরা আমার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কেবলমাত্র আমিই নই, কিন্তু অইহুদিদের সব মণ্ডলীই তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
ROM 16:5 তাঁদের বাড়িতে সমবেত হওয়া মণ্ডলীকেও অভিনন্দন জানিয়ো। আমার প্রিয় বন্ধু ইপেনিতকেও অভিবাদন জানিয়ো। তিনি এশিয়া প্রদেশে সর্বপ্রথম খ্রীষ্টকে গ্রহণ করে পরিবর্তিত হন।
ROM 16:6 মরিয়মকে অভিবাদন জানাও। তিনি তোমাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।
ROM 16:7 আমার আত্মীয় আন্দ্রনিক ও জুনিয়াকে অভিবাদন জানাও, যাঁরা আমারই সঙ্গে কারাবন্দি ছিলেন। প্রেরিতশিষ্যদের মধ্যে তাঁরা সুপরিচিত এবং আমার পূর্বেই তাঁরা খ্রীষ্টের শরণাগত হয়েছেন।
ROM 16:8 আমপ্লিয়াতকে অভিবাদন জানিয়ো, যাঁকে আমি প্রভুতে ভালোবাসি।
ROM 16:9 খ্রীষ্টে আমাদের সহকর্মী ঊর্বাণ ও আমার প্রিয় বন্ধু স্তাখুকে অভিবাদন জানিয়ো।
ROM 16:10 আপিল্লিকে অভিবাদন জানিয়ো। তিনি খ্রীষ্টে পরীক্ষিত হয়ে অনুমোদন লাভ করেছেন। যারা আরিষ্টবুলের পরিজন, তাঁদেরও অভিবাদন জানাও।
ROM 16:11 আমার আত্মীয় হেরোদিয়ানকে অভিবাদন জানাও। যাঁরা প্রভুতে আছেন, সেই নার্কিসের পরিজনদের অভিনন্দন জানাও।
ROM 16:12 ত্রুফেণা ও ত্রুফোষাকে অভিবাদন জানাও। এই মহিলারা প্রভুতে কঠোর পরিশ্রম করেন। অপর এক মহিলা প্রভুতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, আমার সেই প্রিয় বন্ধু পার্সিসকে অভিবাদন জানাও।
ROM 16:13 প্রভুতে মনোনীত রূফকে অভিবাদন জানাও, তাঁর মাকেও জানাও, যিনি আমারও মা।
ROM 16:14 অসুংক্রিত, ফ্লেগন, হার্মি, পাত্রোবা, হর্মা ও তাঁদের সঙ্গী ভাইবোনেদের অভিবাদন জানাও।
ROM 16:15 ফিললগ, জুলিয়া, নীরিয় ও তাঁর বোনকে, অলিম্পাস ও তাঁদের সঙ্গী সমস্ত পবিত্রগণকে অভিবাদন জানাও।
ROM 16:16 তোমরা পবিত্র চুম্বনে পরস্পরকে অভিবাদন জানাও। খ্রীষ্টের সব মণ্ডলী তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
ROM 16:17 ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের অনুনয় করছি, তোমরা যে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছ, তার বিরোধিতা করে যারা বিভেদ সৃষ্টি করে ও তোমাদের পথে বাধার সৃষ্টি করে, তোমরা তাদের চিনে নিয়ো। তাদের থেকে দূরে থেকো।
ROM 16:18 কারণ এই ধরনের লোকেরা আমাদের প্রভু খ্রীষ্টের দাসত্ব করে না, কিন্তু নিজেদের পেটের দাসত্ব করে। মধুর কথাবার্তা ও স্তাবকতার দ্বারা তারা সরল মানুষদের প্রতারিত করে।
ROM 16:19 তোমাদের বাধ্যতার কথা প্রত্যেকেই জানতে পেরেছে, সেই কারণে আমি তোমাদের জন্য আনন্দে পরিপূর্ণ। কিন্তু আমি চাই, তোমরা যা ন্যায়সংগত, সে ব্যাপারে বিজ্ঞ এবং যা মন্দ, সে বিষয়ে অমায়িক থাকো।
ROM 16:20 শান্তির ঈশ্বর অচিরেই শয়তানকে তোমাদের পদতলে দলিত করবেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সহবর্তী হোক।
ROM 16:21 আমার সহকর্মী তিমথিও তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছেন ও সেই সঙ্গে লুসিয়াস, যাসোন ও সোষিপাত্র, আমার স্বজনবর্গেরাও জানাচ্ছেন।
ROM 16:22 এই পত্রের লেখক, আমি তর্তিয়, তোমাদের প্রভুতে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
ROM 16:23 আমি ও এখানকার সব মণ্ডলী যাঁর আতিথেয়তা উপভোগ করে, সেই গায়ো তাঁর অভিবাদন জ্ঞাপন করছেন। এই নগরের সরকারি কর্মাধ্যক্ষ ইরাস্ত ও আমাদের ভাই ক্বার্ত, তোমাদের কাছে তাঁদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
ROM 16:25 যিনি তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ, আমার সুসমাচারের দ্বারা ও যীশু খ্রীষ্ট-বিষয়ক ঘোষণার দ্বারা, অতীতে দীর্ঘকালব্যাপী যা অপ্রকাশিত ছিল, সেই গুপ্তরহস্যের প্রকাশ অনুসারে,
ROM 16:26 কিন্তু সম্প্রতি সনাতন ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা প্রকাশিত ও ভাববাণীমূলক রচনাসমূহের দ্বারা ব্যক্ত হয়েছে, যেন সব জাতি বিশ্বাস করে ও তাঁর আজ্ঞাবহ হয়—
ROM 16:27 সেই একমাত্র প্রজ্ঞাবান ঈশ্বরের মহিমা চিরকাল ধরে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে কীর্তিত হোক! আমেন।
1CO 1:1 পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছায় খ্রীষ্ট যীশুর আহূত প্রেরিতশিষ্য ও আমাদের ভাই সোস্থিনি,
1CO 1:2 করিন্থে অবস্থিত ঈশ্বরের মণ্ডলীর প্রতি, খ্রীষ্ট যীশুতে যাদের শুচিশুদ্ধ ও পবিত্ররূপে আহ্বান করা হয়েছে তাদের প্রতি, সেই সঙ্গে যারা সর্বত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ডাকে, তাদের সকলের প্রতি; তিনি তাদের ও আমাদেরও প্রভু।
1CO 1:3 আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।
1CO 1:4 খ্রীষ্ট যীশুতে যে অনুগ্রহ তোমাদের দেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমি প্রতিনিয়ত ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই।
1CO 1:5 কারণ তাঁতেই তোমরা—তোমাদের সমস্ত কথাবার্তায় ও তোমাদের সমস্ত জ্ঞানে—সর্বতোভাবে সমৃদ্ধ হয়েছ।
1CO 1:6 কারণ খ্রীষ্ট সম্পর্কে আমাদের সাক্ষ্য তোমাদের মধ্যে স্বীকৃত হয়েছে।
1CO 1:7 এই কারণে যখন তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছ, তোমাদের মধ্যে কোনও আত্মিক বরদানের অভাব ঘটেনি।
1CO 1:8 তিনিই শেষ পর্যন্ত তোমাদের সবল রাখবেন, যেন তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দিনে অনিন্দনীয় থাকতে পারো।
1CO 1:9 ঈশ্বর, যিনি তাঁর পুত্র, আমাদের প্রভু, যীশু খ্রীষ্টের সহভাগিতায় তোমাদের আহ্বান করেছেন, তিনি বিশ্বাসযোগ্য।
1CO 1:10 ভাইবোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে তোমাদের কাছে নিবেদন করছি, তোমরা সকলে পরস্পর অভিন্নমত হও, যেন তোমাদের মধ্যে কোনোরকম দলাদলি না হয় এবং তোমরা যেন মনে ও চিন্তায় সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকো।
1CO 1:11 আমার ভাইবোনরা, ক্লোয়ীর পরিজনদের মধ্যে কয়েকজন আমাকে এই সংবাদ দিয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ আছে।
1CO 1:12 আমি যা বলতে চাই, তা হল এই: তোমাদের মধ্যে একজন বলে, “আমি পৌলের অনুসারী,” অন্য একজন বলে, “আমি আপল্লোর অনুসারী,” আরও একজন বলে, “আমি কৈফার অনুসারী”; এছাড়াও অন্য একজন বলে, “আমি খ্রীষ্টের অনুসারী।”
1CO 1:13 খ্রীষ্ট কি বিভাজিত হয়েছেন? পৌল কি তোমাদের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে? তোমরা কি পৌলের নামে বাপ্তাইজিত হয়েছ?
1CO 1:14 আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে, ক্রীষ্প ও গায়ো ছাড়া তোমাদের মধ্যে আমি কাউকে বাপ্তিষ্ম দিইনি,
1CO 1:15 তাই কেউই বলতে পারে না যে, তোমরা আমার নামে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছ।
1CO 1:16 (হ্যাঁ, আমি স্তেফানার পরিজনদেরও বাপ্তিষ্ম দিয়েছি, এছাড়া আর কাউকে যে আমি বাপ্তিষ্ম দিয়েছি, তা আমার মনে পড়ে না।)
1CO 1:17 কারণ খ্রীষ্ট আমাকে বাপ্তিষ্ম দেওয়ার জন্য পাঠাননি, কিন্তু সুসমাচার প্রচারের জন্য—কিন্তু তা মানবিক জ্ঞানের বাক্য দিয়ে নয় কারণ এতে খ্রীষ্টের ক্রুশের পরাক্রম ক্ষুণ্ণ হয়।
1CO 1:18 কারণ যারা ধ্বংস হচ্ছে সেই ক্রুশের বার্তা তাদের কাছে মূর্খতা, কিন্তু আমরা যারা পরিত্রাণ লাভ করছি, এই বাক্য হল ঈশ্বরের পরাক্রমস্বরূপ।
1CO 1:19 কারণ একথা লেখা আছে: “আমি জ্ঞানীদের জ্ঞান নষ্ট করব, বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি ব্যর্থ করব।”
1CO 1:20 জ্ঞানবান মানুষ কোথায়? বিধানের শিক্ষকই বা কোথায়? এই যুগের দার্শনিক কোথায়? ঈশ্বর কি জগতের জ্ঞানকে মূর্খতায় পরিণত করেননি?
1CO 1:21 কারণ, যেহেতু ঈশ্বরের জ্ঞান অনুসারে জগৎ তার জ্ঞানে তাঁকে জানতে পারেনি, তাই যা প্রচারিত হয়েছিল সেই মূর্খতার মাধ্যমে যারা বিশ্বাস করে ঈশ্বর তাদের পরিত্রাণ দিতে প্রীত হলেন।
1CO 1:22 ইহুদিরা অলৌকিক বিভিন্ন চিহ্ন দাবি করে এবং গ্রিকেরা জ্ঞানের খোঁজ করে,
1CO 1:23 কিন্তু আমরা ক্রুশবিদ্ধ খ্রীষ্টকে প্রচার করি; তিনি ইহুদিদের কাছে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ ও অইহুদিদের কাছে মূর্খতাস্বরূপ।
1CO 1:24 কিন্তু ইহুদি ও গ্রিক নির্বিশেষে, ঈশ্বর যাদের আহ্বান করেছেন, তাদের কাছে খ্রীষ্টই হলেন ঈশ্বরের পরাক্রম ও ঈশ্বরের জ্ঞান।
1CO 1:25 কারণ ঈশ্বরের মূর্খতা মানুষের জ্ঞান থেকেও বেশি জ্ঞানসম্পন্ন এবং ঈশ্বরের দুর্বলতা মানুষের শক্তি থেকেও বেশি শক্তিশালী।
1CO 1:26 ভাইবোনেরা, ভেবে দেখো, যখন তোমাদের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা কী ছিলে? মানবিক মানদণ্ড অনুসারে, তোমরা অনেকেই জ্ঞানী ছিলে না; অনেকেই প্রভাবশালী ছিলে না; অনেকেই অভিজাত বংশীয় ছিলে না।
1CO 1:27 কিন্তু ঈশ্বর জগতের মূর্খ বিষয়গুলি মনোনীত করলেন, যেন জ্ঞানীদের লজ্জা দেন; ঈশ্বর জগতের দুর্বল বিষয়গুলি মনোনীত করলেন, যেন শক্তিসম্পন্ন বিষয়গুলিকে লজ্জিত করেন।
1CO 1:28 তিনি জগতের যা কিছু নিচুস্তরের, যা কিছু তুচ্ছ, আবার যেসব বিষয় কিছুই নয়, সেইসব বিষয় মনোনীত করলেন, যেন যা কিছু আছে সেগুলিকে নাকচ করেন,
1CO 1:29 যেন কোনো মানুষ তাঁর সামনে গর্ব করতে না পারে।
1CO 1:30 তাঁরই কারণে তোমরা খ্রীষ্ট যীশুতে আছ, যিনি আমাদের জন্য হয়েছেন ঈশ্বর থেকে জ্ঞান—অর্থাৎ, আমাদের ধার্মিকতা, পবিত্রতা ও মুক্তি।
1CO 1:31 অতএব, যেমন লেখা আছে, “যে গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক।”
1CO 2:1 ভাইবোনেরা, আমি যখন তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম, আমি কোনো বাক্যের অলংকার ব্যবহার বা জ্ঞানের উৎকৃষ্টতায় তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সাক্ষ্য ঘোষণা করতে যাইনি।
1CO 2:2 কারণ আমি মনস্থির করেছিলাম, তোমাদের সঙ্গে থাকার সময়, আমি যীশু খ্রীষ্ট ও তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ বলে জানা ছাড়া আর কিছুই জানতে চাইব না।
1CO 2:3 আমি দুর্বলতায় ও ভয়ে এবং মহাকম্পিত হয়ে তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম।
1CO 2:4 আমার বার্তা ও আমার প্রচার কোনও জ্ঞানের বা প্রেরণা দেওয়ার বাক্যযুক্ত ছিল না, কিন্তু ছিল পবিত্র আত্মার পরাক্রমের প্রদর্শনযুক্ত,
1CO 2:5 যেন তোমাদের বিশ্বাস মানবীয় জ্ঞানের উপরে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে ঈশ্বরের পরাক্রমের উপরে হয়।
1CO 2:6 যারা পরিণত তাদের কাছে আমরা জ্ঞানের কথা বলে থাকি, তা কিন্তু এই যুগের জ্ঞান অনুযায়ী নয় বা এই যুগের শাসকদেরও নয়, যারা ক্রমেই মূল্যহীন হয়ে পড়ছেন।
1CO 2:7 না, আমরা ঈশ্বরের গোপন জ্ঞানের কথা বলি, যে নিগূঢ়তত্ত্ব গুপ্ত ছিল, যা সময় শুরু হওয়ার আগেই ঈশ্বর আমাদের মহিমার জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন।
1CO 2:8 এই যুগের শাসকদের কেউই তা বুঝতে পারেননি, কারণ যদি পারতেন, তাহলে তাঁরা মহিমার প্রভুকে ক্রুশবিদ্ধ করতেন না।
1CO 2:9 কিন্তু, যেমন লেখা আছে, “কোনো চোখ যা দেখেনি, কোনো কান যা শোনেনি, কোনো মানুষের মনে যা আসেনি, যারা তাঁকে ভালোবাসে, ঈশ্বর তাদের জন্য তাই প্রস্তুত করেছেন।”
1CO 2:10 কিন্তু ঈশ্বর, তাঁর আত্মার দ্বারা, সেসব আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন। আত্মা সকল বিষয়ের, এমনকি, ঈশ্বরের নিগূঢ় বিষয়গুলিও অনুসন্ধান করেন।
1CO 2:11 কারণ মানুষের অন্তরের আত্মা ছাড়া কোনো মানুষের চিন্তা কে জানতে পারে? একইভাবে, ঈশ্বরের চিন্তাভাবনা ঈশ্বরের আত্মা ছাড়া আর কেউই জানতে পারে না।
1CO 2:12 আমরা জগতের আত্মাকে লাভ করিনি, কিন্তু লাভ করেছি সেই আত্মাকে, যিনি ঈশ্বর থেকে নির্গত হয়েছেন, যেন আমরা বুঝতে পারি, ঈশ্বর বিনামূল্যে আমাদের কী দান করেছেন।
1CO 2:13 আমরা একথাই বলি, মানুষের জ্ঞান দ্বারা আমাদের শেখানো ভাষায় নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মার দ্বারা শেখানো ভাষায়, যা আত্মিক বিভিন্ন সত্যকে আত্মিক ভাষায় ব্যক্ত করে।
1CO 2:14 প্রাকৃতিক মানুষ ঈশ্বরের আত্মা থেকে আগত বিষয়গুলি গ্রহণ করতে পারে না, কারণ সেসব তার কাছে মূর্খতা। সে সেগুলি বুঝতেও পারে না, কারণ সেগুলিকে আত্মিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হয়।
1CO 2:15 আত্মিক চেতনা সম্পন্ন মানুষ সব বিষয়েরই বিচার করে, কিন্তু সে স্বয়ং কোনো মানুষের বিচারাধীন হয় না।
1CO 2:16 “কারণ প্রভুর মন কে জানতে পেরেছে, যে তাঁকে পরামর্শ দান করতে পারে?” কিন্তু খ্রীষ্টের মন আমাদের আছে।
1CO 3:1 ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের আত্মিক চেতনা সম্পন্ন মানুষরূপে সম্বোধন করতে পারিনি, কিন্তু করেছি জাগতিক মানুষরূপে—খ্রীষ্টে নিতান্তই শিশুদের মতো।
1CO 3:2 আমি তোমাদের দুধ পান করতে দিয়েছি, কঠিন খাবার নয়, কারণ তার জন্য তখনও তোমরা প্রস্তুত ছিলে না।
1CO 3:3 তোমরা এখনও জাগতিকমনা রয়েছ। কারণ তোমাদের মধ্যে, যেহেতু ঈর্ষা ও কলহবিবাদ রয়েছে, তা কি প্রমাণ করে না যে, তোমাদের মধ্যে এখনও জাগতিক প্রবৃত্তি রয়েছে? তোমরা কি নিতান্তই জাগতিক মানুষের মতো আচরণ করছ না?
1CO 3:4 কারণ যখন একজন বলে, “আমি পৌলের অনুসারী,” অন্যজন, “আমি আপল্লোর অনুসারী,” তাহলে তোমরা কি নিতান্তই সাধারণ মানুষ নও?
1CO 3:5 তাহলে আপল্লো কে? আর পৌল-ই বা কে? কেবল পরিচারক মাত্র, যাদের দ্বারা তোমরা বিশ্বাসী হয়েছ—যেমন প্রভু তাদের প্রত্যেকের উপরে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
1CO 3:6 আমি বীজবপন করেছি, আপল্লো এতে জল দিয়েছেন, কিন্তু ঈশ্বর তা বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করেছেন।
1CO 3:7 তাই, যে বীজবপন করেছে সে কিছু নয়, যে জল দিয়েছে সেও কিছু নয়, কিন্তু কেবলমাত্র ঈশ্বর, যিনি সবকিছু বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করেন।
1CO 3:8 যে বীজবপন করে এবং যে জল দেয়, তাদের উদ্দেশ্য একই থাকে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তি, যে যেমন পরিশ্রম করে, সেই অনুযায়ী পুরস্কৃত হবে।
1CO 3:9 কারণ, আমরা ঈশ্বরের সহকর্মী; তোমরা ঈশ্বরের জমি, ঈশ্বরেরই ভবন।
1CO 3:10 ঈশ্বর আমাকে যে অনুগ্রহ-দান করেছেন, তার দ্বারা এক দক্ষ স্থপতির মতো আমি এক ভিত্তিমূল স্থাপন করেছি, আর অন্য কেউ তার উপর নির্মাণকাজ করছে। কিন্তু প্রত্যেককে সতর্ক থাকবে হবে যে, সে কীভাবে নির্মাণ করছে।
1CO 3:11 কারণ ইতিমধ্যেই যে ভিত্তিমূল স্থাপিত হয়েছে, তা ছাড়া অন্য কোনও ভিত্তিমূল আর কেউ স্থাপন করতে পারে না। সেই ভিত্তিমূল হল যীশু খ্রীষ্ট।
1CO 3:12 কেউ যদি এই ভিত্তিমূলের উপরে সোনা, রুপো, মণিমাণিক্য, কাঠ, খড় বা নাড়া দিয়ে নির্মাণ করে,
1CO 3:13 তার কাজের যথার্থ রূপ প্রকাশ করা হবে, কারণ সেদিনই তা আলোতে প্রকাশ করবে। আগুনের মাধ্যমে তা প্রকাশিত হবে এবং আগুন প্রত্যেক মানুষের কাজের গুণমান যাচাই করবে।
1CO 3:14 সে যা নির্মাণ করেছে, তা যদি থেকে যায়, সে তার পুরস্কার লাভ করবে।
1CO 3:15 যদি তা আগুনে পুড়ে যায় তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে নিজে রক্ষা পাবে, কিন্তু কেবলমাত্র আগুনের শিখা থেকে উত্তীর্ণ মানুষের মতো।
1CO 3:16 তোমরা কি জানো না যে তোমরা নিজেরাই হলে ঈশ্বরের মন্দির এবং ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে অধিষ্ঠান করেন?
1CO 3:17 কেউ যদি ঈশ্বরের মন্দির ধ্বংস করে, ঈশ্বর তাকে ধ্বংস করবেন, কারণ ঈশ্বরের মন্দির শুচিশুদ্ধ এবং তোমরাই হলে সেই মন্দির।
1CO 3:18 তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা কোরো না। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি এই যুগের মানদণ্ড অনুসারে নিজেকে জ্ঞানী বলে ভাবে, তাকে “মূর্খ” হতে হবে, যেন সে জ্ঞানী হতে পারে।
1CO 3:19 কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে এই জগতের জ্ঞান মূর্খতামাত্র। যেমন লেখা আছে: “জ্ঞানীদের তিনি তাদের ধূর্ততায় ধরে ফেলেন,”
1CO 3:20 আবার, “প্রভু জানেন যে, জ্ঞানীদের চিন্তাভাবনা অসার।”
1CO 3:21 তাহলে, কোনো মানুষ সম্পর্কে কেউ যেন আর গর্ব না করে! সব বিষয়ই তোমাদের জন্য,
1CO 3:22 পৌল হোক বা আপল্লো বা কৈফা বা জগৎ বা জীবন বা মৃত্যু বা বর্তমানকাল বা ভাবীকাল—সবকিছুই তোমাদের,
1CO 3:23 আর তোমরা খ্রীষ্টের ও খ্রীষ্ট ঈশ্বরের।
1CO 4:1 তাহলে, লোকেরা আমাদের অবশ্যই খ্রীষ্টের পরিচারক ও ঈশ্বরের গোপন বিষয়সমূহের ধারক বলে মনে করুক।
1CO 4:2 এখন, যাকে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বিশ্বস্ততা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।
1CO 4:3 তোমাদের কাছে, কিংবা মানুষের কোনও আদালতে যদি আমার বিচার হয়, আমি তা নগণ্য বিষয় বলেই মনে করি। প্রকৃতপক্ষে, আমি নিজেরও বিচার করি না।
1CO 4:4 আমার বিবেক পরিষ্কার, কিন্তু তা আমাকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করে না। যিনি আমার বিচার করেন, তিনি প্রভু।
1CO 4:5 অতএব, নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে তোমরা কোনো কিছুরই বিচার কোরো না। প্রভুর আগমন পর্যন্ত অপেক্ষা করো। অন্ধকারে যা গুপ্ত আছে, তা তিনি আলোয় নিয়ে আসবেন এবং সব মানুষের হৃদয়ের অভিপ্রায় উদ্‌ঘাটিত করবেন। সেই সময় প্রত্যেকে ঈশ্বর থেকে তার প্রশংসা লাভ করবে।
1CO 4:6 এখন ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের উপকারের জন্য এ সমস্ত বিষয় নিজের ও আপল্লোর উপরে প্রয়োগ করেছি, যেন তোমরা আমাদের কাছ থেকে এই প্রবচনের অর্থ শিখতে পারো, “যা লেখা আছে, তা অতিক্রম কোরো না।” তখন তোমরা কোনো একজনের পক্ষে আর অন্য কারও বিপক্ষে গর্ব করতে পারবে না।
1CO 4:7 কারণ কে তোমাদের অন্য কারও চেয়ে বিশিষ্ট করেছে? তোমাদের এমন কী আছে যা ঈশ্বর তোমদের দান করেননি? আর যদি তা পেয়েছ, তাহলে নিজেরা তা অর্জন করেছ ভেবে গর্ব করো কেন?
1CO 4:8 তোমরা যা চাও, ইতিমধ্যে তা তোমাদের কাছে আছে। তোমরা এরই মধ্যে সম্পদশালী হয়েছ! তোমরা রাজা হয়েছ—তাও আমাদের বাদ দিয়েই! আমি কত না ইচ্ছা করি যে তোমরা সত্যিসত্যিই রাজা হয়ে ওঠো, যেন আমরাও তোমাদের সঙ্গে রাজা হতে পারি!
1CO 4:9 কিন্তু আমার মনে হয়, শোভাযাত্রার শেষে বধ্যভূমিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মতো, ঈশ্বর আমাদের, অর্থাৎ প্রেরিতশিষ্যদের দর্শনীয় বস্তুরূপে প্রদর্শন করছেন। আমরা সমস্ত বিশ্ব, স্বর্গদূত ও সেই সঙ্গে সব মানুষের কাছে উপহাসের পাত্র হয়েছি।
1CO 4:10 আমরা খ্রীষ্টের জন্য মূর্খ, কিন্তু তোমরা খ্রীষ্টে কত বুদ্ধিমান! আমরা দুর্বল, কিন্তু তোমরা সবল! তোমরা সম্মানিত, আমরা অপমানিত!
1CO 4:11 এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে আছি, আমাদের পোশাক জীর্ণ, আমাদের প্রতি নির্মম ব্যবহার করা হয়েছে, আমরা গৃহহীন।
1CO 4:12 আমরা নিজেদের হাত দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করি। আমাদের অভিশাপ দেওয়া হলে, আমরা আশীর্বাদ করি, যখন আমাদের নির্যাতন করা হয়, আমরা সহ্য করি।
1CO 4:13 আমাদের যখন নিন্দা করা হয়, আমরা নম্রতায় তার উত্তর দিই। এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা সমাজের আবর্জনা, জগতের জঞ্জাল হয়ে আছি।
1CO 4:14 তোমাদের লজ্জা দেওয়ার জন্য আমি এই পত্র লিখছি না, কিন্তু আমার প্রিয় সন্তানতুল্য মনে করে তোমাদের সতর্ক করার জন্যই লিখছি।
1CO 4:15 খ্রীষ্টে যদিও তোমাদের দশ হাজার অভিভাবক থাকে কিন্তু তোমাদের অনেক পিতা থাকতে পারে না, কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে সুসমাচারের মাধ্যমে আমি তোমাদের জন্ম দিয়েছি।
1CO 4:16 সেই কারণে, আমি তোমাদের কাছে অনুনয় করি, তোমরা আমাকে অনুকরণ করো।
1CO 4:17 এই উদ্দেশ্যে আমি আমার পুত্রসম তিমথিকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি, যাঁকে আমি ভালোবাসি; তিনি প্রভুতে বিশ্বস্ত। তিনি খ্রীষ্ট যীশুতে আমার জীবনযাপনের কথা তোমাদের মনে করিয়ে দেবেন, যা আমি সর্বত্র প্রতিটি মণ্ডলীতে আমি যা শিক্ষা দিই তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
1CO 4:18 তোমাদের কাছে আমি আসব না মনে করে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ উদ্ধত হয়ে উঠেছে।
1CO 4:19 কিন্তু প্রভুর ইচ্ছা হলে, খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের কাছে যাব। তখন এই উদ্ধত লোকেরা কীভাবে কথা বলছে, শুধু তাই নয়, তাদের ক্ষমতা কতটুকু, তাও আমি দেখব।
1CO 4:20 কারণ ঈশ্বরের রাজ্য কথা বলার বিষয় নয়, কিন্তু পরাক্রমের।
1CO 4:21 তোমরা কী চাও? তোমাদের কাছে আমি কি চাবুক নিয়ে যাব, না ভালোবাসায় ও কোমল মানসিকতার সঙ্গে যাব?
1CO 5:1 আমাকে বাস্তবিকই এরকম সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে অনৈতিক যৌনাচার রয়েছে, আর তা এমনই ধরনের যা পরজাতীয়দের মধ্যেও দেখা যায় না। এক ব্যক্তি তার বিমাতার সঙ্গে সহবাস করছে।
1CO 5:2 আর তোমরা গর্ব করছ? তোমাদের কি দুঃখে ভারাক্রান্ত হওয়া এবং যে লোকটি এ কাজ করেছে, তাকে তোমাদের সহভাগিতা থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল না?
1CO 5:3 আমি যদিও সশরীরে তোমাদের মধ্যে নেই, তবুও আত্মায় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। আর আমি ইতিমধ্যে একজন উপস্থিত ব্যক্তির মতোই সেই ব্যক্তির বিচার করেছি যে এমন করেছে।
1CO 5:4 তোমরা যখন প্রভু যীশুর নামে সমবেত হও এবং আমিও আত্মায় তোমাদের সঙ্গে থাকি ও প্রভু যীশুর পরাক্রম উপস্থিত থাকে,
1CO 5:5 সেই ব্যক্তিকে শয়তানের হাতে সমপর্ণ কোরো, যেন তার পাপময় চরিত্রের বিনাশ হয় ও তার আত্মা আমাদের প্রভু যীশুর দিনে রক্ষা পায়।
1CO 5:6 তোমাদের গর্ব করা ভালো নয়। তোমরা কি জানো না যে, সামান্য খামির ময়দার সমস্ত তালকেই খামিরময় করতে পারে?
1CO 5:7 তোমরা পুরোনো খামির দূর করে দাও, যেন এক নতুন তাল হতে পারো, যার মধ্যে খামির থাকবে না—প্রকৃতপক্ষে যেমন তোমরা আছ। কারণ খ্রীষ্ট, আমাদের নিস্তারপর্বীয় মেষশাবক বলিরূপে উৎসর্গীকৃত হয়েছেন।
1CO 5:8 তাই এসো, আমরা পুরোনো খামির দিয়ে নয়, যা হিংসা ও দুষ্টতার খামির, বরং খামিরশূন্য রুটি দিয়ে, যা সরলতা ও সত্যের খামির, তা দিয়ে পর্বটি পালন করি।
1CO 5:9 আমার পত্রে আমি লিখেছিলাম, তোমরা যেন অনৈতিক যৌন-সংসর্গকারীদের সঙ্গে যুক্ত না থাকো—
1CO 5:10 তার অর্থ এই নয় যে, এ জগতের সব লোক, যারা নীতিভ্রষ্ট বা লোভী বা প্রতারক কিংবা প্রতিমাপূজক, তাদের সংসর্গ ত্যাগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে তোমাদের এ জগৎ পরিত্যাগ করতে হবে।
1CO 5:11 কিন্তু এখন আমি তোমাদের লিখছি, বিশ্বাসী নামে পরিচয় দিয়ে যে ব্যক্তি বিবাহ-বহির্ভূত সংসর্গে লিপ্ত থাকে, অথবা লোভী, প্রতিমাপূজক বা পরনিন্দুক, মদ্যপ বা প্রতারক হয়, তার সঙ্গ অবশ্যই ত্যাগ করবে। এ ধরনের মানুষের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া পর্যন্ত করবে না।
1CO 5:12 মণ্ডলীর বাইরের লোকেদের বিচার করায় আমার কাজ কী? ভিতরের লোকদের বিচার করা কি তোমাদের দায়িত্ব নয়?
1CO 5:13 বাইরের লোকদের বিচার ঈশ্বর করবেন। “তোমরা ওই দুষ্ট ব্যক্তিকে তোমাদের মধ্য থেকে দূর করে দাও।”
1CO 6:1 তোমাদের মধ্যে কারও যদি অন্যজনের সঙ্গে বিবাদ থাকে, সে কি তা বিচারের জন্য পবিত্রগণের কাছে না নিয়ে গিয়ে অবিশ্বাসীদের কাছে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়?
1CO 6:2 তোমরা কি জানো না যে, পবিত্রগণেরা জগতের বিচার করবেন? আর যদি তোমরা জগতের বিচার করতে যাচ্ছ, তাহলে তোমরা কি এই সামান্য বিষয়গুলিও বিচার করার যোগ্য নও?
1CO 6:3 তোমরা কি জানো না যে, আমরা স্বর্গদূতদেরও বিচার করব? তাহলে, এই জীবন সংক্রান্ত বিষয়ের বিচার আরও কতই না বেশি করব!
1CO 6:4 অতএব, এই সমস্ত বিষয়ে যদি তোমাদের মধ্যে বিবাদ থাকে, তাহলে মণ্ডলীতে যারা কিছুরই মধ্যে গণ্য নয়, তাদেরই কি বিচারকের আসনে বসিয়ে থাকো?
1CO 6:5 তোমাদের লজ্জা দেওয়ার উদ্দেশে আমি একথা বলছি। বিশ্বাসীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নিষ্পত্তি করার মতো যথেষ্ট বিচক্ষণ ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে কেউ নেই, এও কি সম্ভব?
1CO 6:6 কিন্তু এর পরিবর্তে, এক ভাই অপর এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হচ্ছে—তাও আবার অবিশ্বাসীদের সামনেই!
1CO 6:7 তোমাদের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা থাকার অর্থ, তোমরা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়েছ। এর চেয়ে বরং অন্যায় সহ্য করো বা প্রতারিত হও।
1CO 6:8 কিন্তু তার পরিবর্তে, তোমরা নিজেরাই প্রতারণা ও অন্যায় করছ, আবার এসব তোমাদের সহ-বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধেই করছ।
1CO 6:9 তোমরা কি জানো না, যে যারা অধার্মিক, তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার লাভ করবে না? তোমরা বিভ্রান্ত হোয়ো না। কারণ যারা বিবাহ-বহির্ভূত সংসর্গকারী, বা প্রতিমাপূজক, বা ব্যভিচারী, বা সমকামী
1CO 6:10 বা চোর বা লোভী বা মদ্যপ বা কুৎসা-রটনাকারী বা পরধনগ্রাহী, তারা কেউই ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার লাভ করবে না।
1CO 6:11 আর তোমরাও কেউ কেউ সেইরকমই ছিলে, কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও আমাদের ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা ধৌত হয়েছ, শুচিশুদ্ধ হয়েছ ও নির্দোষ প্রতিপন্ন হয়েছ।
1CO 6:12 “সবকিছু করা আমার পক্ষে নিয়মসংগত,” কিন্তু সবকিছুই আমার জন্য উপকারী নয়। “সবকিছু করা আমার পক্ষে নিয়মসংগত,” কিন্তু কোনো কিছুই আমার উপরে কর্তৃত্ব করবে না।
1CO 6:13 “পেটের জন্য খাদ্য এবং খাদ্যের জন্য পেট,” কিন্তু ঈশ্বর এই উভয়কেই ধ্বংস করবেন। দেহ অবৈধ সংসর্গের জন্য নয়, কিন্তু প্রভুর জন্য এবং প্রভু দেহের জন্য।
1CO 6:14 ঈশ্বর তাঁর পরাক্রমের দ্বারা প্রভুকে মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করেছেন এবং তিনি আমাদেরও উত্থাপিত করবেন।
1CO 6:15 তোমরা কি জানো না যে, তোমাদের দেহ স্বয়ং খ্রীষ্টেরই অঙ্গ? তাহলে আমি কি খ্রীষ্টের অঙ্গগুলিকে নিয়ে কোনো বেশ্যার সঙ্গে সংযুক্ত করব? কখনোই নয়!
1CO 6:16 তোমরা কি জানো না, যে নিজেকে বেশ্যার সঙ্গে সংযুক্ত করে, সে তার সঙ্গে এক দেহ হয়? কারণ এরকম বলা হয়েছে, “সেই দুজন একাঙ্গ হবে।”
1CO 6:17 কিন্তু যে নিজেকে প্রভুর সঙ্গে সংযুক্ত করে, সে তাঁর সঙ্গে একাত্ম হয়।
1CO 6:18 তোমরা অবৈধ সংসর্গ থেকে পালিয়ে যাও। কোনো মানুষ অন্য যেসব পাপাচারে লিপ্ত হয়, তার সঙ্গে দেহের কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু যে যৌন-পাপ করে, সে তার নিজের দেহের বিরুদ্ধেই পাপ করে।
1CO 6:19 তোমরা কি জানো না যে, তোমাদের দেহ পবিত্র আত্মার মন্দির, যিনি তোমাদের অন্তরে বাস করেন, যাঁকে তোমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছ?
1CO 6:20 তোমরা আর তোমাদের নিজের নও, তোমাদের মূল্য দিয়ে কিনে নেওয়া হয়েছে। অতএব, তোমাদের দেহ দিয়ে তোমরা ঈশ্বরের গৌরব করো।
1CO 7:1 এখন যেসব বিষয়ে তোমরা লিখেছ: “বিবাহ না করা পুরুষের পক্ষে মঙ্গলজনক।”
1CO 7:2 কিন্তু যৌনাচার এত বেশি যে, প্রত্যেক পুরুষের পক্ষে তার নিজের স্ত্রী ও প্রত্যেক নারীর পক্ষে তার নিজের স্বামী থাকা উচিত।
1CO 7:3 স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য পালন করুক ও একইভাবে স্ত্রীও তার স্বামীর প্রতি তা করুক।
1CO 7:4 স্ত্রীর দেহ কেবলমাত্র তার নিজের অধিকারভুক্ত নয়, কিন্তু তার স্বামীরও। একইভাবে, স্বামীর দেহ কেবলমাত্র তার অধিকারভুক্ত নয়, কিন্তু তার স্ত্রীরও।
1CO 7:5 পরস্পরের সম্মতি ছাড়া কেউ কাউকে বঞ্চিত কোরো না, কিন্তু প্রার্থনায় নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য কিছু সময় পৃথক থাকতে পারো। তারপর পুনরায় একত্র মিলিত হবে, যেন তোমাদের আত্মসংযমের অভাবে শয়তান তোমাদের প্রলোভনে ফেলতে না পারে।
1CO 7:6 আমি একথা আদেশরূপে নয়, কিন্তু কিছু সুবিধা দেওয়ার জন্য বলছি।
1CO 7:7 আমার ইচ্ছা, যদি সব মানুষই আমার মতো থাকতে পারত! কিন্তু প্রত্যেকজন ঈশ্বরের কাছ থেকে তার নিজস্ব বরদান লাভ করেছে, একজনের এক ধরনের বরদান, অপরজনের অন্য ধরনের।
1CO 7:8 এখন অবিবাহিত ও বিধবাদের সম্পর্কে আমি বলি, তারা যদি আমার মতো অবিবাহিত থাকে, তাহলে তাদেরই পক্ষে মঙ্গল।
1CO 7:9 কিন্তু যদি তারা নিজেদের সংযত রাখতে না পারে, তারা বিবাহ করুক, কারণ কামনার আগুনে দগ্ধ হওয়ার চেয়ে বরং বিবাহ করা ভালো।
1CO 7:10 বিবাহিতদের প্রতি আমি এই আদেশ দিই, আমি নই, বরং প্রভুই দিচ্ছেন, কোনো স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হোক।
1CO 7:11 কিন্তু যদি সে তা করে, সে অবশ্যই অবিবাহিত থাকবে, নয়তো সে তার স্বামীর সঙ্গে পুনর্মিলিত হবে। আবার কোনো স্বামীও তার স্ত্রীকে অবশ্যই ত্যাগ করবে না।
1CO 7:12 বাকিদের সম্পর্কে আমি একথা বলি (আমি, প্রভু নন), কোনো ভাইয়ের যদি অবিশ্বাসী স্ত্রী থাকে ও সে তার সঙ্গে বসবাস করতে চায়, সেই ভাইয়ের পক্ষে তাকে ত্যাগ করা উচিত নয়।
1CO 7:13 আবার কোনো নারীর যদি অবিশ্বাসী স্বামী থাকে ও সে তার সঙ্গে বসবাস করতে চায়, সেই নারীর পক্ষেও তাকে ত্যাগ করা উচিত নয়।
1CO 7:14 কারণ সেই অবিশ্বাসী স্বামী, তার স্ত্রীর মাধ্যমে শুচিশুদ্ধ হয়েছে এবং সেই অবিশ্বাসী স্ত্রী, তার বিশ্বাসী স্বামীর মাধ্যমে শুচিশুদ্ধ হয়েছে। তা না হলে তোমাদের ছেলেমেয়েরা অশুচি বলে গণ্য হত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা পবিত্র।
1CO 7:15 কিন্তু অবিশ্বাসী যদি চলে যায়, তাকে তাই করতে দাও। কোনো বিশ্বাসী ভাই বা বোন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়। ঈশ্বর আমাদের শান্তিতে বসবাস করার জন্য আহ্বান করেছেন।
1CO 7:16 হে স্ত্রী, তুমি জানো না যে, তোমার মাধ্যমেই তোমার স্বামী হয়তো পরিত্রাণ লাভ করবে অথবা হে স্বামী, তুমিও জানো না যে, তোমার মাধ্যমেই হয়তো তোমার স্ত্রী পরিত্রাণ পাবে!
1CO 7:17 তা সত্ত্বেও, প্রভু যার প্রতি যেমন কর্তব্যভার নির্দিষ্ট করেছেন ও যার জন্য ঈশ্বর তাকে আহ্বান করেছেন, প্রত্যেকে জীবনে সেই স্থান ধরে রাখুক। সমস্ত মণ্ডলীতে আমি এই নিয়মই স্থাপন করে থাকি।
1CO 7:18 সুন্নত হওয়ার পরে কি কাউকে আহ্বান করা হয়েছিল? তবে সে যেন সুন্নতহীন না হয়। সুন্নতহীন অবস্থায় কি কাউকে আহ্বান করা হয়েছিল? তবে সে যেন সুন্নত না হয়।
1CO 7:19 সুন্নত কিছু নয় এবং সুন্নতহীন হওয়াও কিছু নয়, ঈশ্বরের আদেশপালনই হল আসল বিষয়।
1CO 7:20 ঈশ্বরের আহ্বান পাওয়ার সময়ে কোনো ব্যক্তি যে অবস্থায় ছিল, সে সেই অবস্থাতেই থাকুক।
1CO 7:21 তোমাকে যখন আহ্বান করা হয়, তখন তুমি কি ক্রীতদাস ছিলে? তা তোমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না করুক। অবশ্য যদি তুমি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারো তবে তাই করো।
1CO 7:22 কারণ প্রভুর আহ্বান লাভের সময় যে ব্যক্তি ছিল দাস, সে প্রভুতে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি। একইভাবে, আহ্বান লাভের সময় যে ব্যক্তি স্বাধীন ছিল, সে খ্রীষ্টের ক্রীতদাস।
1CO 7:23 মূল্যের বিনিময়ে তোমাদের কিনে নেওয়া হয়েছে, তোমরা মানুষদের ক্রীতদাস হোয়ো না।
1CO 7:24 ভাইবোনেরা, ঈশ্বর প্রত্যেক ব্যক্তিকে যে অবস্থায় আহ্বান করেছেন, ঈশ্বরের প্রতি তার দায়বদ্ধতা অনুসারে সে সেই অবস্থাতেই জীবনযাপন করুক।
1CO 7:25 এবারে কুমারীদের প্রসঙ্গে বলি: আমি প্রভুর কাছ থেকে তাদের সম্পর্কে কোনও আদেশ পাইনি, কিন্তু আমি এমন ব্যক্তির মতো অভিমত ব্যক্ত করছি, যে প্রভুর করুণায় এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
1CO 7:26 বর্তমান সংকটের কারণে, আমি মনে করি, তোমরা যেমন আছ, তেমনই থাকা তোমাদের পক্ষে ভালো।
1CO 7:27 তুমি কি বিবাহিত? তাহলে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ো না। তুমি কি অবিবাহিত? তাহলে বিবাহ করার চেষ্টা কোরো না।
1CO 7:28 কিন্তু যদি তুমি বিবাহ করো, তাহলে তোমার পাপ হবে না। আর কোনো কুমারী যদি বিবাহ করে, তারও পাপ হবে না; কিন্তু যারা বিবাহ করে, তারা জীবনে বহু কষ্ট-সংকটের সম্মুখীন হবে, কিন্তু আমি এ থেকে তোমাদের নিষ্কৃতি দিতে চাই।
1CO 7:29 ভাইবোনেরা, আমি যা বোঝাতে চাই, তা হল সময় সংক্ষিপ্ত। এখন থেকে যাদের স্ত্রী আছে, তারা এমনভাবে জীবনযাপন করুক, যেন তাদের স্ত্রী নেই।
1CO 7:30 যারা শোক করে, তারা মনে করুক তাদের শোকের কোনো কারণ নেই; যারা আনন্দিত, তারাও মনে করুক তাদের আনন্দিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; যারা কিছু কেনে, তারা মনে করুক তাদের কেনা জিনিসগুলি তাদের নয়;
1CO 7:31 যারা সাংসারিক বিষয় ভোগ করছে, তারা মনে করুক তারা সংসারে আর জড়িত নয়। কারণ এই জগৎ তার বর্তমান রূপে শেষ হচ্ছে।
1CO 7:32 আমি চাই, তোমরা যেন দুশ্চিন্তামুক্ত থাকো। কোনো অবিবাহিত পুরুষ প্রভুরই বিষয়ে চিন্তা করে যে, কীভাবে সে প্রভুকে সন্তুষ্ট করবে।
1CO 7:33 কিন্তু একজন বিবাহিত পুরুষ এই জগতের সব বিষয়ে জড়িত থাকে, কীভাবে সে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করবে,
1CO 7:34 তার স্বার্থ দ্বিধায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একজন অবিবাহিত নারী বা কুমারী, প্রভুর বিষয়ে মনোযোগী হয়। তার লক্ষ্য থাকে দেহে ও আত্মায় প্রভুর প্রতি সমর্পিত থাকা। কিন্তু একজন বিবাহিত নারী সাংসারিক বিষয়ে মনোযোগী থাকে—কীভাবে সে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করবে।
1CO 7:35 আমি তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য একথা বলছি, তোমাদের বাধা সৃষ্টি করার জন্য নয়, কিন্তু যেন তোমরা প্রভুর প্রতি অখণ্ড আনুগত্য নিয়ে সঠিক পথে জীবনযাপন করতে পারো।
1CO 7:36 যদি কেউ মনে করে, সে তার বাগদত্তা কুমারীর প্রতি সঠিক আচরণ করছে না এবং যদি তার বয়স বেড়ে যেতে থাকে এবং সে মনে করে তার বিবাহ হওয়া উচিত, তাহলে সে যেমন চায়, তেমনই করুক। সে পাপ করছে না। তাদের বিবাহ হওয়া উচিত।
1CO 7:37 কিন্তু যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তার মনে দৃঢ়সংকল্প, যে সে কোনো বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই কিন্তু তার নিজের ইচ্ছার উপরে তার নিয়ন্ত্রণ আছে এবং যে মনে স্থির করেছে যে সেই কুমারীকে বিবাহ করবে না—এই ব্যক্তিও যথার্থ কাজ করে।
1CO 7:38 তাহলে যে এক কুমারীকে বিবাহ করে, সে যথার্থ কাজই করে, কিন্তু যে তাকে বিবাহ না করে, সে আরও ভালো কাজ করে।
1CO 7:39 একজন নারী, যতদিন তার স্বামী বেঁচে থাকে ততদিন পর্যন্ত তার কাছে বাঁধনে যুক্ত থাকে। কিন্তু যদি তার স্বামীর মৃত্যু হয়, সে তার ইচ্ছামতো যে কাউকে বিবাহ করতে পারে। কিন্তু সেই পুরুষ প্রভুর অনুগত হবে।
1CO 7:40 আমার বিচারে, সে যদি বিবাহ না করে থাকে, সে আরও বেশি সুখী থাকবে—আর আমি মনে করি যে, আমারও মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা আছেন।
1CO 8:1 এখন প্রতিমাদের কাছে উৎসর্গ করা খাবার সম্পর্কিত কথা। আমরা জানি যে, আমাদের সকলরেই জ্ঞান আছে। জ্ঞান গর্বিত করে, কিন্তু প্রেম গেঁথে তোলে।
1CO 8:2 যে মনে করে যে সে কিছু জানে, তার যেমন জানা উচিত, তা সে এখনও জানে না।
1CO 8:3 কিন্তু যে ঈশ্বরকে ভালোবাসে, সেই ঈশ্বরের পরিচিত ব্যক্তি।
1CO 8:4 তাহলে, প্রতিমাদের কাছে উৎসর্গ করা খাবার গ্রহণ করা সম্পর্কে বলতে হয়: আমরা জানি যে, কোনো প্রতিমা জগতে কিছুই নয় এবং আর কোনো ঈশ্বর নেই, কেবলমাত্র একজন আছেন।
1CO 8:5 কারণ স্বর্গে, বা পৃথিবীতে, যদিও তথাকথিত কোনও দেবতারা থাকে (বাস্তবিক অনেক “দেবতা” ও অনেক “প্রভুর” কথা শোনা যায়),
1CO 8:6 তবুও আমাদের জন্য আছেন একমাত্র সেই পিতা ঈশ্বর, যাঁর কাছ থেকে সবকিছুরই উদ্ভব হয়েছে এবং যাঁর উদ্দেশ্যে আমরা জীবনধারণ করি; আবার একজনই প্রভুও আছেন, তিনি যীশু খ্রীষ্ট। তাঁরই মাধ্যমে সবকিছু উদ্ভূত হয়েছে এবং তাঁরই মাধ্যমে আমরা জীবনধারণ করি।
1CO 8:7 কিন্তু প্রত্যেকেই একথা জানে না। কিছু সংখ্যক মানুষ প্রতিমার বিষয়ে এমনই অভ্যস্ত, তারা যখন এ ধরনের খাবার গ্রহণ করে, তারা মনে করে যে, সেই খাবার যেন কোনো প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে, আর যেহেতু তাদের বিবেক দুর্বল, তাই তা কলুষিত হয়।
1CO 8:8 কিন্তু খাবার আমাদের ঈশ্বরের নিকটে নিয়ে আসে না; আমরা যদি সেই খাবার না খাই, আমাদের ক্ষতি হয় না; আবার তা গ্রহণ করলেও কোনো লাভ হয় না।
1CO 8:9 কিন্তু, তোমরা সতর্ক থেকো, তোমাদের এই অধিকার যেন কোনোভাবেই দুর্বল মানুষের কাছে বিঘ্নের কারণ না হয়।
1CO 8:10 কারণ দুর্বল বিবেকবিশিষ্ট যদি কেউ তোমাকে, অর্থাৎ তোমার মতো জ্ঞানবিশিষ্ট মানুষকে, প্রতিমার মন্দিরে খাবার গ্রহণ করতে দেখে, তাহলে সে কি প্রতিমাদের কাছে উৎসর্গ করা খাবার গ্রহণ করতে সাহস পাবে না?
1CO 8:11 তাই, তোমার জ্ঞানের জন্য এই দুর্বল বিশ্বাসী, যার জন্য খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেছেন, তাকে নষ্ট করা হয়।
1CO 8:12 তোমরা যখন তোমাদের ভাইবোনের বিরুদ্ধে পাপ করো ও তাদের দুর্বল বিবেককে আঘাত করো, তোমরা খ্রীষ্টের বিরুদ্ধে পাপ করো।
1CO 8:13 এই কারণে, আমি যে খাবার গ্রহণ করি, তা যদি অপর বিশ্বাসীর পাপে পতনের কারণ হয়, আমি আর কখনও সেই খাবার গ্রহণ করব না, যেন আমি তার পতনের কারণ না হই।
1CO 9:1 আমি কি স্বাধীন নই? আমি কি প্রেরিতশিষ্য নই? আমি কি আমাদের প্রভু, যীশুকে দেখিনি? তোমরা কি প্রভুতে আমার কাজের ফলস্বরূপ নও?
1CO 9:2 আমি যদিও অন্যদের কাছে প্রেরিতশিষ্যরূপে গণ্য না হই, তোমাদের কাছে নিশ্চিতরূপে আমি তো তাই! কারণ প্রভুতে তোমরাই আমার প্রেরিতশিষ্য হওয়ার সিলমোহর।
1CO 9:3 যারা আমার বিচার করে, তাদের কাছে এই হল আমার আত্মপক্ষ সমর্থন।
1CO 9:4 খাওয়াদাওয়া করার অধিকার কি আমাদের নেই?
1CO 9:5 অন্য সব প্রেরিতশিষ্য, প্রভুর ভাইয়েরা ও কৈফার মতো কোনো বিশ্বাসী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার অধিকার কি আমাদের নেই?
1CO 9:6 অথবা, পরিশ্রম না করার অধিকার কি কেবলমাত্র আমার ও বার্ণবার নেই?
1CO 9:7 কে নিজের খরচে সৈনিকের কাজ করে? কে দ্রাক্ষাক্ষেত প্রস্তুত করে ও নিজে তার ফল গ্রহণ করে না? কে পশুপাল চরায় ও তার দুধ পান করে না?
1CO 9:8 আমি কি কেবলমাত্র মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একথা বলছি? বিধানও কি এই একই কথা বলে না?
1CO 9:9 কারণ মোশির বিধানে একথা লেখা আছে, “শস্য মাড়াই করার সময় বলদের মুখে জালতি বেঁধো না।” ঈশ্বর কি কেবলমাত্র বলদের বিষয়েই চিন্তা করেন?
1CO 9:10 নিশ্চিতরূপে, তিনি আমাদেরও বিষয়ে একথা বলেন, তাই নয় কি? হ্যাঁ, একথা আমাদের জন্য লেখা হয়েছে, কারণ যে চাষ করে, সেই প্রত্যাশাতেই তার চাষ করা উচিত এবং যে শস্য মাড়াই করে, ফসলের ভাগ পাওয়ার প্রত্যাশাতেই তার শস্য মাড়াই করা উচিত।
1CO 9:11 আমরা যদি তোমাদের মধ্যে আত্মিক বীজবপন করে থাকি, তাহলে তোমাদের মধ্য থেকে যদি পার্থিব ফসলের প্রত্যাশা করি, তাহলে কি খুব বেশি চাওয়া হবে?
1CO 9:12 অন্যদের যদি তোমাদের কাছ থেকে সাহায্য লাভের অধিকার থাকে, তাহলে আমাদের এই প্রাপ্য কি আরও বেশি হওয়া উচিত নয়? কিন্তু আমরা এই অধিকার প্রয়োগ করিনি। কিন্তু তার পরিবর্তে, আমরা সবকিছু সহ্য করেছি, যেন খ্রীষ্টের সুসমাচারের কোনো বাধা সৃষ্টি না করি।
1CO 9:13 তোমরা কি জানো না যে, যারা মন্দিরের কাজ করে, তারা তাদের খাবার মন্দির থেকেই পায় এবং যারা যজ্ঞবেদিতে সেবাকাজ করে, যজ্ঞবেদিতে উৎসর্গ করা নৈবেদ্যের অংশ তারা পায়?
1CO 9:14 একইভাবে, প্রভু এরকম আদেশ দিয়েছেন যে, যারা সুসমাচার প্রচার করে, তাদের জীবিকা সুসমাচার থেকেই হবে।
1CO 9:15 কিন্তু আমি এ সমস্ত কোনো অধিকারই প্রয়োগ করিনি। আর আমি এসব এজন্য লিখছি না যে, তোমরা আমার জন্য এসব কিছু করবে। আমার এই গর্ব থেকে কেউ আমাকে বঞ্চিত করুক, তার থেকে বরং মৃত্যুবরণই আমি শ্রেয় মনে করব।
1CO 9:16 তবুও, আমি যখন সুসমাচার প্রচার করি, আমি গর্ব করতে পারি না, কারণ তা প্রচার করতে আমি বাধ্য। ধিক্ আমাকে, যদি আমি সুসমাচার প্রচার না করি!
1CO 9:17 আমি যদি স্বেচ্ছায় প্রচার করি, তাহলে আমার পুরস্কার আছে। যদি স্বেচ্ছায় না করি, তাহলে আমার উপর দেওয়া দায়িত্ব আমি শুধু পালন করে চলেছি মাত্র।
1CO 9:18 তাহলে আমার পুরস্কার কী? শুধু এই যে, আমি যেন বিনা পারিশ্রমিকে সুসমাচার প্রচার করি, এভাবে তা প্রচার করার জন্য আমার অধিকার যেন আমাকে প্রয়োগ করতে না হয়।
1CO 9:19 যদিও আমি মুক্ত ও কারও অধীন নই, আমি নিজেকে সকলের ক্রীতদাস করে তুলেছি, যেন যতজনকে সম্ভব, ততজনকে জয় করতে পারি।
1CO 9:20 ইহুদিদের কাছে আমি ইহুদির মতো হয়েছি, যেন ইহুদিদের জয় করতে পারি। যারা বিধানের অধীন, তাদের কাছে আমি বিধানের অধীন একজনের মতো হয়েছি (যদিও আমি স্বয়ং বিধানের অধীন নই), যেন বিধানের অধীন মানুষদের আমি জয় করতে পারি।
1CO 9:21 যারা বিধানের অধীন নয়, তাদের জন্য আমি বিধানবিহীন মানুষের মতো হয়েছি (যদিও আমি ঈশ্বরের বিধান থেকে মুক্ত নই, কিন্তু খ্রীষ্টের বিধানের অধীন), যেন যারা বিধানের অধীন নয়, তাদের জয় করতে পারি।
1CO 9:22 দুবর্লদের জন্য আমি দুর্বল হলাম, যেন দুর্বলদের জয় করতে পারি। সব মানুষের কাছে আমি সবকিছু হয়েছি, যেন সম্ভাব্য সমস্ত উপায়ে, আমি কিছু মানুষের পরিত্রাণ সাধন করতে পারি।
1CO 9:23 আমি সুসমাচারের কারণে এ সমস্ত করি, যেন আমি এর সমস্ত আশীর্বাদের অংশীদার হতে পারি।
1CO 9:24 তোমরা কি জানো না যে, দৌড়ের প্রতিযোগিতায় সব দৌড়বাজ দৌড়ায়, কিন্তু কেবলমাত্র একজনই পুরস্কার পায়। তোমরা এমনভাবে দৌড়াও, যেন পুরস্কার পেতে পারো।
1CO 9:25 যারা ক্রীড়া প্রতিযোগী, তারা সকলেই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যায়। তারা এক অস্থায়ী মুকুট পাওয়ার প্রত্যাশায় তা করে, কিন্তু আমরা তা করি এক অক্ষয় মুকুট পাওয়ার প্রত্যাশায়।
1CO 9:26 সেই কারণে, আমি কোনো লক্ষ্যহীন মানুষের মতো ছুটে চলি না; যে বাতাসে মুষ্টিযুদ্ধ করে, আমি তার মতো লড়াই করি না।
1CO 9:27 না, আমি আমার দেহকে প্রহার করে আমার দাসত্বে রাখি, যেন অপর মানুষদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার পর, আমি স্বয়ং যেন পুরস্কার লাভের অযোগ্য হয়ে না পড়ি।
1CO 10:1 কারণ ভাইবোনেরা, আমি চাই না, তোমরা এ বিষয়ে অজ্ঞাত থাকো যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা সকলে সেই মেঘের নিচে ছিলেন এবং তাঁরা সকলে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন।
1CO 10:2 তাঁরা সবাই মোশির উদ্দেশে মেঘে ও সমুদ্রে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন।
1CO 10:3 তাঁরা সকলে একই আত্মিক খাদ্যগ্রহণ করেছিলেন এবং একই আত্মিক পানীয় পান করেছিলেন।
1CO 10:4 কারণ তাঁরা তাঁদের সঙ্গে পথ চলেছিলেন সেই আত্মিক শৈল থেকে পান করতেন এবং সেই শৈল ছিলেন খ্রীষ্ট।
1CO 10:5 তবুও, ঈশ্বর তাঁদের অধিকাংশদের প্রতিই সন্তুষ্ট ছিলেন না; তাই, তাঁদের দেহ মরুপ্রান্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল।
1CO 10:6 এখন এ সমস্ত বিষয় দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়েছিল, যেন তাঁদের মতো আমরাও মন্দ বিষয়ে আসক্ত না হই।
1CO 10:7 তাঁদের মধ্যে যেমন কিছু প্রতিমাপূজক ছিল, তোমরা তাঁদের মতো হোয়ো না, যেমন লেখা আছে: “লোকেরা ভোজনপান করার জন্য বসে পড়ল, তারপর উঠে পরজাতীয়দের মতো হুল্লোড়ে মত্ত হল।”
1CO 10:8 তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ যেমন অনৈতিক যৌনাচারে মত্ত হয়েছিল এবং একদিনে তেইশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আমরাও যেন তেমনই ব্যভিচার না করি।
1CO 10:9 তাঁদের কেউ কেউ যেমন মশীহের পরীক্ষা করেছিল ও সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করেছিল, আমরাও যেন তেমন না করি।
1CO 10:10 আবার তাদের কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করে যেমন মৃত্যুদূতের দ্বারা নিহত হয়েছিল, তোমরাও তেমন কোরো না।
1CO 10:11 এসব বিষয় তাঁদের প্রতি দৃষ্টান্তস্বরূপ ঘটেছিল এবং আমাদের সতর্ক করার জন্যই সেগুলি লেখা হয়েছে—যাদের উপরে শেষ সময় এসে উপস্থিত হয়েছে।
1CO 10:12 তাই, তোমরা যদি মনে করো যে, তোমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছ, সতর্ক থেকো, যেন তোমাদের পতন না ঘটে।
1CO 10:13 মানুষের কাছে সাধারণভাবে যেমন ঘটে থাকে, তা ছাড়া অন্য কোনো প্রলোভন তোমাদের প্রতি ঘটেনি। আর ঈশ্বর বিশ্বস্ত। তোমরা যা সহ্য করতে পারো, তার অতিরিক্ত কোনো প্রলোভনে তিনি তোমাদের পড়তে দেবেন না। কিন্তু তোমরা যখন প্রলোভিত হও, তিনিই তোমাদের রক্ষা পাওয়ার পথও করে দেবেন, যেন তার মধ্যেও তোমরা দাঁড়িয়ে থাকতে পারো।
1CO 10:14 সেই কারণে, আমার প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা প্রতিমাপূজা থেকে পালিয়ে যাও।
1CO 10:15 তোমাদের বিচক্ষণ মনে করেই আমি একথা বলছি; আমি যা বলি, তা তোমরা নিজেরাই বিচার করো।
1CO 10:16 ধন্যবাদ দেওয়ার যে পানপাত্রটি নিয়ে আমরা ধন্যবাদ দিই, তা কি খ্রীষ্টের রক্তের সহভাগিতা নয়? আবার, যে রুটি আমরা ভেঙে থাকি, তা কি খ্রীষ্টের দেহের সহভাগিতা নয়?
1CO 10:17 কারণ, আমরা যারা অনেকে, আমরা এক রুটি, একই দেহ, কারণ আমরা সকলেই এক রুটি থেকে অংশগ্রহণ করে থাকি।
1CO 10:18 ইস্রায়েল জাতির বিষয়ে বিবেচনা করে দেখো: যারা বিভিন্ন বলির মাংস আহার করে, তারা কি যজ্ঞবেদিতে অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে না?
1CO 10:19 তাহলে আমি একথাই বোঝাতে চাইছি যে, প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাবারের কী মূল্য? বা কোনো প্রতিমারই বা কী মূল্য?
1CO 10:20 কিছুই নয়, কিন্তু যারা প্রতিমাপূজা করে তাদের নিবেদিত সব বলি ভূতদের উদ্দেশে নিবেদিত হয়, ঈশ্বরের উদ্দেশে নয়। আর আমি চাই না যে তোমরা ভূতদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী হও।
1CO 10:21 তোমরা একইসঙ্গে প্রভুর পানপাত্র ও ভূতদের পানপাত্র থেকে অংশগ্রহণ করতে পারো না।
1CO 10:22 আমরা কি প্রভুর ঈর্ষা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছি? আমরা কি তাঁর চেয়েও শক্তিমান?
1CO 10:23 “সব কিছুকেই অনুমোদন দেওয়া যায়,” কিন্তু সবকিছু উপকারী নয়। “সবকিছুই অনুমোদনযোগ্য,” কিন্তু সবকিছু গঠনমূলক নয়।
1CO 10:24 কোনো ব্যক্তিই যেন স্বার্থচেষ্টা না করে, বরং অপরের মঙ্গল করার চেষ্টা করে।
1CO 10:25 বিবেকের প্রশ্ন না তুলে মাংসের বাজারে যা বিক্রি হয়, তা ভোজন করো।
1CO 10:26 কারণ, “এই জগৎ ও তার মধ্যে থাকা সবকিছু, সব প্রভুরই।”
1CO 10:27 যদি কোনো অবিশ্বাসী ব্যক্তি, কোনও ভোজে তোমাদের আমন্ত্রণ করে ও তোমরা সেখানে যেতে চাও, তাহলে বিবেকের প্রশ্ন না তুলে, তোমাদের সামনে যা রাখা হয়, তাই ভোজন করো।
1CO 10:28 কিন্তু কেউ যদি তোমাদের বলে, “এ প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা বলি,” তাহলে যে বলল, সেই ব্যক্তির জন্য ও বিবেকের কারণে তোমরা তা ভোজন কোরো না।
1CO 10:29 আমি বলতে চাই, এই বিবেক তোমাদের নয়, কিন্তু সেই ব্যক্তির। কারণ আমার স্বাধীনতা কেন অপরের বিবেকের দ্বারা বিচারিত হবে?
1CO 10:30 ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে যদি আমি আহার গ্রহণ করি, তাহলে যার জন্য আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই, তার জন্য আমার নিন্দা করা হবে কেন?
1CO 10:31 অতএব, তোমরা ভোজন, কি পান, বা যা কিছুই করো, সবকিছুই ঈশ্বরের গৌরবের জন্য করো।
1CO 10:32 ইহুদি, গ্রিক, কি ঈশ্বরের মণ্ডলী, কারও জন্য তোমরা বিঘ্নের কারণ হোয়ো না,
1CO 10:33 যেমন আমিও সব উপায়ে সব মানুষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি। কারণ আমি নিজের মঙ্গলের চেষ্টা করি না, কিন্তু বহু মানুষের জন্য করি, যেন তারা পরিত্রাণ লাভ করে।
1CO 11:1 তোমরা আমার আদর্শ অনুকরণ করো, যেমন আমিও খ্রীষ্টের আদর্শ অনুকরণ করি।
1CO 11:2 আমি তোমাদের প্রশংসা করি, কারণ তোমরা সব বিষয়ে আমাকে স্মরণ করে থাকো ও তোমাদের যে শিক্ষা আমি দিই, তা হুবহু তোমরা মেনে চলো।
1CO 11:3 এখন আমি চাই, তোমরা যেন উপলব্ধি করো যে, প্রত্যেক পুরুষের মস্তকস্বরূপ হলেন খ্রীষ্ট এবং নারীর মস্তকস্বরূপ হল পুরুষ, আবার খ্রীষ্টের মস্তকস্বরূপ হলেন ঈশ্বর।
1CO 11:4 যে পুরুষ তার মস্তক আবৃত রেখে প্রার্থনা করে বা ভাববাণী বলে, সে তার মস্তকের অবমাননা করে।
1CO 11:5 আবার, কোনো নারী যখন মস্তক অনাবৃত রেখে প্রার্থনা করে বা ভাববাণী বলে, সে তার মস্তকের অবমাননা করে—এ যেন তার মস্তক মুণ্ডন করা হয়েছে, সেরকম।
1CO 11:6 কোনো নারী যদি তার মস্তক আবৃত না করে, তাহলে তার চুল কেটে ফেলাই উচিত; কিন্তু চুল কেটে ফেলা বা মুণ্ডন করা যদি নারীর কাছে অবমাননাকর বলে মনে হয়, সে তার মস্তকে আবরণ দিক।
1CO 11:7 কোনো পুরুষ অবশ্যই তার মস্তক আবৃত করবে না, কারণ সে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ও গৌরব; কিন্তু নারী পুরুষের গৌরব।
1CO 11:8 কারণ পুরুষের উদ্ভব নারী থেকে নয়, কিন্তু নারীর উদ্ভব পুরুষ থেকে।
1CO 11:9 আবার, পুরুষের সৃষ্টি নারীর জন্য হয়নি, কিন্তু নারীর সৃষ্টি হয়েছে পুরুষের জন্য।
1CO 11:10 এই কারণে ও স্বর্গদূতদের জন্য, নারী তার মস্তকে কর্তৃত্বের চিহ্ন রাখবে।
1CO 11:11 অবশ্য, প্রভুতে নারীও পুরুষ থেকে স্বতন্ত্র নয়, আবার পুরুষও নারী থেকে স্বতন্ত্র নয়।
1CO 11:12 কারণ যেমন নারী এসেছে পুরুষ থেকে, তেমনই পুরুষেরও জন্ম হয়েছে নারী থেকে। কিন্তু ঈশ্বর থেকে সকলই উদ্ভূত হয়।
1CO 11:13 তোমরা নিজেরাই বিচার করো: মস্তক অনাবৃত রেখে কোনো নারীর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা কি যথাযথ?
1CO 11:14 স্বয়ং প্রকৃতিও কি এই বিষয়ের শিক্ষা দেয় না যে, যদি কোনও পুরুষ লম্বা চুল রাখে, তাহলে তা তার পক্ষে অসম্মানজনক বিষয়,
1CO 11:15 কিন্তু কোনো নারীর যদি লম্বা চুল থাকে, তাহলে, তা তার গৌরবের বিষয়, কারণ লম্বা চুল তাকে আবরণের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে।
1CO 11:16 কেউ যদি এ বিষয়ে বিবাদ করতে চায়, তাহলে আমাদের অন্য কোনও আচরণ-বিধি নেই, কিংবা ঈশ্বরের মণ্ডলীরও নেই।
1CO 11:17 পরবর্তী নির্দেশগুলি দেওয়ার সময়, আমি তোমাদের প্রশংসা করি না, কারণ তোমাদের সমবেত হওয়া ভালোর চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।
1CO 11:18 প্রথমত, আমি শুনতে পাচ্ছি, তোমরা যখন মণ্ডলীগতভাবে সমবেত হও, তোমাদের মধ্যে দলাদলি হয়ে থাকে এবং এর কিছুটা আমি বিশ্বাসও করি।
1CO 11:19 কোনো সন্দেহ নেই, তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হতেই হবে, যেন তোমাদের মধ্যে যারা ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করেছে, তাদের বুঝতে পারা যায়।
1CO 11:20 তোমরা যখন একত্রে সমবেত হও, তোমরা যে প্রভুর ভোজ গ্রহণ করো, তা নয়,
1CO 11:21 কারণ যখন তোমরা ভোজন করো, তখন তোমাদের প্রত্যেকে অন্য কারও জন্য অপেক্ষা না করে, নিজেরাই প্রথমে ভোজন করে থাকো। একজন থাকে ক্ষুধার্ত, অপর একজন মত্ত হয়।
1CO 11:22 ভোজনপান করার জন্য কি তোমাদের ঘরবাড়ি নেই? নাকি, তোমরা ঈশ্বরের মণ্ডলীকে অবজ্ঞা করছ ও যাদের কিছু নেই, তাদের লজ্জা দিচ্ছ? তোমাদের আমি কী বলব? এর জন্য আমি কি তোমাদের প্রশংসা করব? কোনোমতেই নয়!
1CO 11:23 কারণ প্রভু থেকে আমি যে শিক্ষা লাভ করেছি, তোমাদের কাছে আমি তাই সমর্পণ করছি। যে রাত্রিতে প্রভু যীশুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, তিনি রুটি নিলেন
1CO 11:24 এবং ধন্যবাদ দিয়ে তা ভাঙলেন ও বললেন, “এ আমার দেহ, এ তোমাদেরই জন্য; তোমরা আমার স্মরণার্থে এরকম কোরো।”
1CO 11:25 একইভাবে, খাবারের পরে তিনি পানপাত্র নিয়ে বললেন, “এই পানপাত্র আমার রক্তে নতুন নিয়ম, তোমরা যখনই এটা পান করবে, আমার স্মরণার্থেই তা করবে।”
1CO 11:26 কারণ যখনই তোমরা এই রুটি ভোজন করো ও এই পানপাত্র থেকে পান করো, তোমরা প্রভুর মৃত্যু ঘোষণা করে থাকো, যতদিন পর্যন্ত তিনি না আসেন।
1CO 11:27 অতএব, যে কেউ যদি অযোগ্যরূপে এই রুটি ভোজন করে, বা প্রভুর পানপাত্র থেকে পান করে, সে প্রভুর দেহ ও প্রভুর রক্তের বিরুদ্ধে পাপ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে।
1CO 11:28 সেই রুটি ভোজন ও পানপাত্র থেকে পান করার পূর্বে কোনো মানুষের অবশ্যই নিজেকে পরীক্ষা করে দেখা উচিত,
1CO 11:29 কারণ কেউ যদি প্রভুর দেহ উপলব্ধি না করে ভোজন ও পান করে, সে নিজেরই উপরে বিচারের শাস্তি ভোজন ও পান করে।
1CO 11:30 এই কারণেই তোমাদের মধ্যে অনেকে দুর্বল ও পীড়িত এবং বেশ কয়েকজন নিদ্রাগত হয়েছে।
1CO 11:31 কিন্তু যদি আমরা নিজেদের বিচার করতাম, তাহলে বিচারের দায়ে পড়তাম না।
1CO 11:32 যখন আমরা প্রভুর দ্বারা বিচারিত হই, আমরা শাসিত হই, যেন আমরা জগতের সঙ্গে শাস্তিপ্রাপ্ত না হই।
1CO 11:33 তাই, আমার ভাইবোনেরা, তোমরা যখন প্রভুর ভোজের জন্য সমবেত হও, পরস্পরের জন্য অপেক্ষা করো। কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে সে তার নিজের বাড়িতেই আহার করুক,
1CO 11:34 যেন তোমাদের সমবেত হওয়া বিচারের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। এরপর আমি উপস্থিত হলে তোমাদের আরও সব নির্দেশ দেব।
1CO 12:1 ভাইবোনেরা, এখন আত্মিক বরদানগুলির ব্যাপারে তোমরা যে অজ্ঞ থাকো, তা আমি চাই না।
1CO 12:2 তোমরা জানো যে, যখন তোমরা পরজাতীয় ছিলে, তখন যে কোনোভাবে হোক তোমরা প্রভাবিত হয়ে নির্বাক প্রতিমাদের দিকে চালিত হয়েছিলে।
1CO 12:3 সেই কারণে, আমি তোমাদের বলছি যে, ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা কথা বললে, “যীশু অভিশপ্ত হোক,” কেউ বলতে পারে না এবং পবিত্র আত্মার আবেশ ছাড়া কেউ বলতে পারে না যে, “যীশুই প্রভু।”
1CO 12:4 বিভিন্ন ধরনের বরদান আছে, কিন্তু আত্মা সেই একই।
1CO 12:5 বিভিন্ন ধরনের সেবাকাজ আছে, কিন্তু প্রভু সেই একই।
1CO 12:6 বিভিন্ন ধরনের কাজ আছে, কিন্তু সেই একই ঈশ্বর সব মানুষের মধ্যে সেইসব কাজ করেন।
1CO 12:7 এখন সবার মঙ্গলের জন্য প্রত্যেকের কাছে আত্মার প্রকাশ দেওয়া হয়েছে।
1CO 12:8 একজনকে আত্মার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের বাণী, অপর একজনকে সেই একই আত্মার দ্বারা প্রজ্ঞার বাণী,
1CO 12:9 অপর একজনকে সেই আত্মার দ্বারা বিশ্বাস, অপর একজনকে সেই একই আত্মার দ্বারা সুস্থ করার বরদান,
1CO 12:10 অপর একজনকে অলৌকিক কাজ করার পরাক্রম, অপর একজনকে ভাববাণী, আর একজনকে আত্মার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষমতা, অপর একজনকে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা এবং আরও অপরজনকে বিশেষ বিশেষ ভাষার তর্জমা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
1CO 12:11 এসবই সেই এক ও অদ্বিতীয় আত্মার কাজ, তিনি প্রত্যেকের জন্য যেমন নির্ধারণ করেন, তেমনই বরদান দিয়ে থাকেন।
1CO 12:12 দেহ যেমন এক, যদিও তা বহু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গঠিত; আর যদিও এর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক, সেগুলি এক দেহ গঠন করে। খ্রীষ্টের ক্ষেত্রেও সেই কথা।
1CO 12:13 কারণ আমরা সবাই—ইহুদি বা গ্রিক, ক্রীতদাস বা স্বাধীন—এক আত্মার দ্বারা একই দেহে বাপ্তাইজিত হয়েছি, আবার আমাদের সবাইকে একই আত্মা পান করতে দেওয়া হয়েছিল।
1CO 12:14 এখন দেহ কেবলমাত্র একটি অঙ্গ দিয়ে নয়, কিন্তু বহু অঙ্গের দ্বারা গঠিত।
1CO 12:15 পা যদি বলে, “যেহেতু আমি হাত নই, তাই দেহের অংশ নই,” সেই কারণে যে সে দেহের অংশ হবে না, তা নয়।
1CO 12:16 আবার, কান যদি বলে, “আমি যেহেতু চোখ নই, তাই আমি দেহের অংশ নই,” এই কারণের জন্য তা যে দেহের অংশ হবে না, তা নয়।
1CO 12:17 সমস্ত দেহই যদি চোখ হত, তাহলে শোনার ক্ষমতা কোথায় থাকত? সমস্ত দেহই যদি কান হত, তাহলে গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা কোথায় থাকত?
1CO 12:18 কিন্তু ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির প্রত্যেকটিকে নিজের ইচ্ছামতো সাজিয়েছেন।
1CO 12:19 সবই যদি এক অঙ্গ হত, তাহলে দেহ কোথায় থাকত?
1CO 12:20 আসলে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক, কিন্তু দেহ একটাই।
1CO 12:21 চোখ হাতকে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই!” আবার মাথা পা-কে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই!”
1CO 12:22 তার পরিবর্তে, দেহের যেসব অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মনে হয়, সেগুলিই অপরিহার্য
1CO 12:23 এবং যে অঙ্গগুলিকে আমরা কম মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করি, সেগুলিকে আমরা বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকি। এছাড়া যেসব অঙ্গ সুশ্রী নয়, সেগুলি বিশেষ শালীনতার সঙ্গে যত্ন নিয়ে থাকি,
1CO 12:24 অথচ আমাদের সুশ্রী অঙ্গগুলির বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ঈশ্বর দেহের অঙ্গগুলিকে একত্র সংগঠিত করেছেন এবং যে অঙ্গগুলি শ্রীহীন, সেগুলিকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন,
1CO 12:25 যেন দেহের মধ্যে কোনও বিভেদ সৃষ্টি না হয়, কিন্তু সব অঙ্গ পরস্পরের প্রতি সমান যত্নবান হয়।
1CO 12:26 যদি কোনো একটি অঙ্গ কষ্টভোগ করে, তাহলে তার সঙ্গে প্রত্যেকটি অঙ্গই কষ্টভোগ করে। কোনো একটি অঙ্গ মর্যাদা লাভ করলে, তার সঙ্গে প্রত্যেক অঙ্গই আনন্দ করে।
1CO 12:27 এখন তোমরা হলে খ্রীষ্টের দেহ এবং এক একজন সেই দেহের এক-একটি অঙ্গ।
1CO 12:28 আর ঈশ্বর মণ্ডলীতে নিয়োগ করেছেন, প্রথমত প্রেরিতশিষ্যদের, দ্বিতীয়ত ভাববাদীদের, তৃতীয়ত শিক্ষকদের। তারপরে, অলৌকিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সুস্থ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সাহায্য করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, প্রশাসনিক বরদানপ্রাপ্ত, এবং বিভিন্ন ধরনের ভাষা বলার ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাদের নিয়োগ করেছেন।
1CO 12:29 সবাই কি প্রেরিতশিষ্য? সবাই কি ভাববাদী? সবাই কি শিক্ষক? সবাই কি অলৌকিক কাজ সম্পাদন করে?
1CO 12:30 সবারই কি সুস্থ করার বরদান আছে? সবাই কি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে? সবাই কি অর্থ ব্যাখ্যা করে?
1CO 12:31 তোমরা বরং মহত্তর বরদান পাওয়ার জন্য আগ্রহভরে কামনা করো। তবে আমি এবার তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা দেখাতে চাই।
1CO 13:1 আমি যদি সব মানুষের ও দূতদেরও ভাষায় কথা বলি, কিন্তু আমার ভালোবাসা না থাকে, তাহলে আমি শুধু এক অনুনাদী কাঁসরঘণ্টা বা ঝনঝনকারী করতাল।
1CO 13:2 যদি আমার ভাববাণী বলার বরদান আছে এবং আমি সকল গুপ্তরহস্য ও সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হই এবং আমার যদি এমন বিশ্বাস থাকে, যা পাহাড়-পর্বতকে স্থানান্তরিত করতে পারে, অথচ আমার ভালোবাসা না থাকে, তাহলে আমি কিছুই নই।
1CO 13:3 যদি আমি আমার সর্বস্ব দরিদ্রদের দান করি এবং আগুনে পুড়ে যাওয়ার জন্য আমার দেহ সমর্পণ করি, কিন্তু ভালোবাসা না থাকে, আমার কোনোই লাভ হয় না।
1CO 13:4 প্রেম চিরসহিষ্ণু, প্রেম সদয়। তা ঈর্ষা করে না, আত্মঅহংকার করে না, গর্বিত হয় না।
1CO 13:5 তা রূঢ় আচরণ করে না, স্বার্থ অন্বেষণ করে না, সহজে ক্রুদ্ধ হয় না, অন্যায় আচরণ মনে রাখে না।
1CO 13:6 প্রেম মন্দ কিছুতে আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যে উল্লসিত হয়।
1CO 13:7 তা সবসময় সুরক্ষা দেয়, সবসময়ই বিশ্বাস করে, সবসময়ই প্রত্যাশায় থাকে, সবসময়ই ধৈর্য ধরে।
1CO 13:8 প্রেম কখনও ব্যর্থ হয় না। কিন্তু যদি ভাববাণী থাকে, সেগুলির অবসান হবে। যদি ভিন্ন ভিন্ন ভাষা থাকে, সেগুলি স্তব্ধ হয়ে যাবে; যদি জ্ঞান থাকে, তা অবলুপ্ত হবে।
1CO 13:9 এখন, আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণরূপে ভাববাণী বলি,
1CO 13:10 কিন্তু পূর্ণতা উপস্থিত হলে যা কিছু অসম্পূর্ণ, সেগুলি বিলীন হবে।
1CO 13:11 আমি যখন শিশু ছিলাম, আমি শিশুর মতো কথা বলতাম, শিশুর মতো চিন্তা করতাম, শিশুর মতো বিচার করতাম। যখন আমি পরিণত বয়স্ক হয়ে উঠলাম, আমি শিশুসুলভ সবকিছুই ত্যাগ করলাম।
1CO 13:12 কারণ এখন আমরা আয়নায় অস্পষ্ট প্রতিফলন দেখছি, কিন্তু তখন আমরা দেখব মুখোমুখি। এখন আমার জ্ঞান অসম্পূর্ণ; কিন্তু তখন আমি সম্পূর্ণরূপে জানতে পারব যেমন আমি সম্পূর্ণ পরিচিত হয়েছি।
1CO 13:13 আর এখন এই তিনটি অবশিষ্ট আছে: বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও প্রেম। কিন্তু এদের মধ্যে প্রেমই সর্বশ্রেষ্ঠ।
1CO 14:1 তোমরা ভালোবাসার পথ অনুসরণ করো এবং আগ্রহের সঙ্গে আত্মিক বরদানগুলি কামনা করো, বিশেষত ভাববাণী বলার বরদান।
1CO 14:2 কারণ কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে মানুষের উদ্দেশে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলে। প্রকৃতপক্ষে, কেউ তার কথা বুঝতে পারে না; সে তার আত্মায় গুপ্তরহস্য উচ্চারণ করে।
1CO 14:3 কিন্তু যে ব্যক্তি ভাববাণী বলে, সে মানুষের উদ্দেশে বলে, তাদের শক্তিশালী, প্রেরণা ও আশ্বাস-দান করার জন্যই বলে।
1CO 14:4 যে বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে নিজেকে গেঁথে তোলে, কিন্তু যে ভাববাণী বলে, সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।
1CO 14:5 আমি ইচ্ছা করি, তোমরা প্রত্যেকেই যেন বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে পারো। কিন্তু আমি বেশি করে চাইব, তোমরা যেন ভাববাণী বলো। যে ভাববাণী বলে সে, যে বিশেষ সব ভাষায় কথা বলে, তার চেয়ে মহান, যদি না সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলার জন্য সেই ভাষার অর্থ ব্যাখ্যা করে দেয়।
1CO 14:6 এখন ভাইবোনেরা, আমি যদি তোমাদের কাছে এসে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলি, অথচ প্রত্যাদেশ, জ্ঞান বা ভাববাণী বা শিক্ষামূলক কোনো কথা না বলি, আমি তোমাদের কোন উপকারে লাগব?
1CO 14:7 এমনকি, বাঁশি বা বীণার মতো যেসব নিষ্প্রাণ বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে, সেগুলির স্বরের মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি না হলে, কেমন করে লোকে জানবে যে, কোন সুর বাজানো হচ্ছে?
1CO 14:8 আবার তূরীধ্বনির আহ্বান যদি স্পষ্ট না হয়, তাহলে যুদ্ধের জন্য কে প্রস্তুত হবে?
1CO 14:9 তোমাদের সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তোমাদের জিভের দ্বারা যদি বোধগম্য বাক্য উচ্চারণ না করো, তাহলে তোমরা কী বলছ, কেউ তা কীভাবে জানতে পারবে? তোমরা যেন বাতাসের সঙ্গে কথা বলবে।
1CO 14:10 নিঃসন্দেহে, জগতে সব ধরনের ভাষা আছে, তবুও সেগুলির কোনোটিই অর্থহীন নয়।
1CO 14:11 তাহলে কারও কথার অর্থ আমি যদি উপলব্ধি করতে না পারি, তাহলে সেই বক্তার কাছে আমি হব বিদেশি, আর সেও আমার কাছে হবে বিদেশি।
1CO 14:12 তোমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি। তোমরা যেহেতু আত্মিক বরদান লাভের জন্য আগ্রহী, সেইসব বরদান লাভের চেষ্টা করো, যেগুলি মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।
1CO 14:13 এই কারণে, যে ব্যক্তি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, তার প্রার্থনা করা উচিত, যেন সে যা বলে, তা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে পারে।
1CO 14:14 কারণ আমি যদি বিশেষ ভাষায় প্রার্থনা করি, তাহলে আমার আত্মা প্রার্থনা করে, কিন্তু আমার বুদ্ধি ফলহীন থাকে।
1CO 14:15 তাহলে আমি কী করব? আমি আমার আত্মাতে প্রার্থনা করব, কিন্তু আমি আমার বুদ্ধি-সহযোগেও প্রার্থনা করব। আমি আমার আত্মাতে গান গাইব, কিন্তু আমার বোধশক্তিতেও গান গাইব।
1CO 14:16 তা না হলে তুমি যখন তোমার আত্মায় ঈশ্বরের প্রশংসা করো তবে যে শ্রোতা তা বুঝতে পারে না, তোমার ধন্যবাদ দেওয়ায় সে কী করে “আমেন” বলবে? কারণ তুমি কী বলছ, সে তো তা বুঝবেই না!
1CO 14:17 তুমি হয়তো বেশ ভালোভাবেই ধন্যবাদ দিচ্ছ, কিন্তু অপর ব্যক্তিকে গেঁথে তোলা হল না।
1CO 14:18 আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, তোমাদের সবার চেয়ে আমি অনেক বেশি ভাষায় কথা বলতে পারি।
1CO 14:19 কিন্তু মণ্ডলীর মধ্যে বিশেষ ভাষায় দশ হাজার শব্দ উচ্চারণ করার চেয়ে, আমি বরং পাঁচটি সহজবোধ্য শব্দ বলব।
1CO 14:20 ভাইবোনেরা, তোমরা শিশুসুলভ চিন্তাভাবনা করা থেকে ক্ষান্ত হও। মন্দ বিষয়ে তোমরা দুধ খাওয়া শিশুর মতো হও, কিন্তু বোধবুদ্ধিতে পরিণত হও।
1CO 14:21 বিধানশাস্ত্রে একথা লেখা আছে: “ভিনদেশী ভাষাভাষী লোকদের এবং বিদেশিদের ওষ্ঠাধরের মাধ্যমে, আমি এই জাতির সঙ্গে কথা বলব, কিন্তু তবুও, তারা আমার কথা শুনতে চাইলো না,” একথা প্রভু বলেন।
1CO 14:22 তাহলে, বিশেষ বিশেষ ভাষা বিশ্বাসীদের জন্য নয়, কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য চিহ্নস্বরূপ; কিন্তু ভাববাণী বিশ্বাসীদের জন্য, অবিশ্বাসীদের জন্য নয়।
1CO 14:23 তাই যদি সমস্ত মণ্ডলী একত্রে মিলিত হয় ও প্রত্যেকেই বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলে এবং কোনো ব্যক্তি, যে তা বোঝে না, বা কিছু সংখ্যক অবিশ্বাসী ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, তাহলে তারা কি বলবে না যে, তোমরা পাগল?
1CO 14:24 কিন্তু যদি কোনো অবিশ্বাসী বা অবোধ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, যখন সকলেই ভাববাণী বলে, সে তাদের সকলের দ্বারা বুঝতে পারবে যে সে একজন পাপী এবং সকলের দ্বারা সে বিচারিত হবে।
1CO 14:25 তখন তার হৃদয়ের গুপ্ত বিষয়গুলি প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই সে মাটিতে পড়ে ঈশ্বরের উপাসনা করবে এবং পরম বিস্ময়ে বলে উঠবে, “সত্যিই, ঈশ্বর আপনাদের মধ্যে বিরাজমান!”
1CO 14:26 ভাইবোনেরা, তাহলে আমরা কী বলব? তোমরা যখন একত্রে মিলিত হও, তখন প্রত্যেকের কোনো গীত বা উপদেশবাণী, কোনো প্রত্যাদেশ, কোনো বিশেষ ভাষা বা কোনও অর্থ ব্যাখ্যা আছে। এসব অবশ্যই মণ্ডলীকে শক্তিশালী করার জন্য করতে হবে।
1CO 14:27 কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, দুজন বা তিনজনের বেশি তা বলবে; একবারে একজন করে বলবে এবং অন্য কেউ অবশ্যই তার অর্থ ব্যাখ্যা করে দেবে।
1CO 14:28 সেখানে যদি কোনও অর্থব্যাখ্যাকারী না থাকে, সেই ব্যক্তি মণ্ডলীতে নীরব থাকবে এবং নিজের ও ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলবে।
1CO 14:29 ভাববাদীরা দুজন বা তিনজন কথা বলবে এবং অন্যরা সযত্নে বক্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনা করবে।
1CO 14:30 আর উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যাদেশ লাভ করে, তাহলে প্রথম বক্তা নীরব থাকবে।
1CO 14:31 কারণ তোমরা সকলে পর্যায়ক্রমে ভাববাণী বলতে পারো, যেন প্রত্যেকেই শিক্ষা ও প্রেরণা লাভ করতে পারে।
1CO 14:32 ভাববাদীদের আত্মা ভাববাদীদের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।
1CO 14:33 কারণ ঈশ্বর বিশৃঙ্খলার ঈশ্বর নন, কিন্তু শান্তির যেমন পবিত্রগণের সমস্ত মণ্ডলীতে হয়ে থাকে।
1CO 14:34 মণ্ডলীতে মহিলারা নীরব থাকবে। তাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া যায় না, বরং শাস্ত্রীয় বিধানও যেমন বলে, তারা অবশ্যই বশ্যতাধীন থাকবে।
1CO 14:35 তারা যদি কোনও বিষয়ে কিছু জানতে চায়, তারা বাড়িতে নিজের নিজের স্বামীর কাছে তা জিজ্ঞাসা করুক, কারণ মণ্ডলীতে কোনো মহিলার কথা বলা লজ্জাকর ব্যাপার।
1CO 14:36 ঈশ্বরের বাক্য কি তোমাদের মধ্য থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল? অথবা, তা কি কেবলমাত্র তোমাদেরই কাছে উপস্থিত হয়েছে?
1CO 14:37 কেউ যদি নিজেকে ভাববাদী বা আত্মিকভাবে বরদানপ্রাপ্ত বলে মনে করে, তাহলে সে স্বীকার করবে যে, তোমাদের কাছে আমি যা লিখছি, তা প্রভুরই আদেশ।
1CO 14:38 সে যদি তা উপেক্ষা করে, তাহলে সে নিজেই উপেক্ষিত হবে।
1CO 14:39 অতএব, আমার ভাইবোনেরা, তোমরা ভাববাণী বলার জন্য আগ্রহী হও এবং বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে নিষেধ কোরো না।
1CO 14:40 কিন্তু সবকিছুই যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে হওয়া উচিত।
1CO 15:1 এখন ভাইবোনেরা, আমি যে সুসমাচার তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, তা আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা তোমরা গ্রহণ করেছিলে এবং যার উপরে তোমরা প্রতিষ্ঠিত আছ।
1CO 15:2 এই সুসমাচারের দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পেয়েছ, যদি তোমরা তোমাদের কাছে আমার প্রচারিত বাক্য দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকো। অন্যথায়, তোমরা বৃথাই বিশ্বাস করেছ।
1CO 15:3 কারণ আমি যে বিষয়ে শিখেছি তা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রথমেই তোমাদের কাছে তা সমর্পণ করেছি যে, শাস্ত্র অনুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন,
1CO 15:4 তিনি সমাধিপ্রাপ্ত হয়েছেন ও শাস্ত্র অনুসারেই তিনি তৃতীয় দিনে উত্থাপিত হয়েছেন
1CO 15:5 এবং পরে কৈফা ও সেই বারোজনকে দর্শন দিয়েছেন।
1CO 15:6 এরপরে তিনি ভাইদের মধ্যে পাঁচশোরও বেশিজনকে একবারে দর্শন দিয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন নিদ্রাগত হলেও, অধিকাংশ জনই এখনও জীবিত আছেন।
1CO 15:7 তারপর তিনি যাকোবকে ও পরে সমস্ত প্রেরিতশিষ্যকে দর্শন দিয়েছেন;
1CO 15:8 সবশেষে, আমার মতো অকালজাতের কাছেও তিনি দর্শন দিয়েছেন।
1CO 15:9 কারণ, আমি প্রেরিতশিষ্যদের মধ্যে নগণ্যতম, এমনকি, প্রেরিতশিষ্যরূপে অভিহিত হওয়ারও যোগ্যতা আমার নেই, কারণ আমি ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্যাতন করতাম।
1CO 15:10 কিন্তু এখন আমি যা হয়েছি তা ঈশ্বরের অনুগ্রহেই হয়েছি এবং আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ নিরর্থক হয়নি। বরং, আমি তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছি—তবুও আমি নই, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ আমার সহবর্তী ছিল।
1CO 15:11 অতএব, আমি হই বা তাঁরা হন, একথাই আমরা প্রচার করি এবং তোমরা একথাই বিশ্বাস করেছ।
1CO 15:12 কিন্তু একথা যদি প্রচার করা হয়ে থাকে যে, খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের মধ্যে কেউ কীভাবে বলে যে, মৃতদের পুনরুত্থান নেই?
1CO 15:13 যদি মৃতদের পুনরুত্থান নেই, তাহলে তো খ্রীষ্টও উত্থাপিত হননি!
1CO 15:14 আবার খ্রীষ্ট যদি উত্থাপিত না হয়ে থাকেন তবে আমাদের প্রচার করা ও তোমাদের বিশ্বাস করা, সব অর্থহীন হয়েছে।
1CO 15:15 তার চেয়েও বড়ো কথা, আমরা তখন ঈশ্বর সম্পর্কে মিথ্যাসাক্ষী বলে প্রমাণিত হব, কারণ ঈশ্বর সম্পর্কে আমরা এই সাক্ষ্য দিয়েছি যে, তিনি খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন।
1CO 15:16 কারণ মৃতদের উত্থাপন যদি না হয়, তাহলে খ্রীষ্টকেও উত্থাপিত করা হয়নি।
1CO 15:17 আর যদি খ্রীষ্ট উত্থাপিত না হয়েছেন, তোমাদের বিশ্বাস নিরর্থক, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যে রয়েছ।
1CO 15:18 সুতরাং, যারা খ্রীষ্টে নিদ্রাগত হয়েছে, তারাও বিনষ্ট হয়েছে।
1CO 15:19 কেবলমাত্র এই জীবনের জন্য যদি আমাদের খ্রীষ্টে প্রত্যাশা থাকে, তাহলে সব মানুষের চেয়ে আমরাই বেশি দুর্ভাগ্যপূর্ণ।
1CO 15:20 কিন্তু খ্রীষ্ট সত্যিই মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত হয়েছেন, যারা নিদ্রাগত হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ফলস্বরূপ।
1CO 15:21 কারণ মৃত্যু যেহেতু একজন মানুষের মাধ্যমে এসেছিল, মৃতদের পুনরুত্থানও তেমনই একজন মানুষের মাধ্যমেই আসে।
1CO 15:22 কারণ আদমে যেমন সকলের মৃত্যু হয়, তেমনই খ্রীষ্টে সকলেই পুনর্জীবিত হবে।
1CO 15:23 কিন্তু প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ পর্যায়ক্রমে: প্রথম ফসল খ্রীষ্ট, পরে যখন তিনি আসবেন, তাঁর আপনজনেরা।
1CO 15:24 তারপর সবকিছুর শেষ সময় উপস্থিত হবে যখন তিনি সমস্ত শাসনভার, কর্তৃত্ব ও পরাক্রম ধ্বংস করার পর, পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্যের ভার হস্তান্তর করবেন।
1CO 15:25 কারণ যতক্ষণ না তিনি তাঁর সমস্ত শত্রুকে তাঁর পদানত করেন, তাঁকে রাজত্ব করতেই হবে।
1CO 15:26 সর্বশেষ শত্রু যে মৃত্যু, তাও ধ্বংস করা হবে।
1CO 15:27 কারণ, “তিনি সবকিছুই তাঁর পায়ের নিচে রেখেছেন।” এখন, যখন বলা হচ্ছে, “সবকিছুই” তাঁর বশ্যতাধীন করা হয়েছে, এ বিষয় সুস্পষ্ট যে, এতে স্বয়ং ঈশ্বর অন্তর্ভুক্ত নন, যিনি সবকিছুই খ্রীষ্টের অধীন করেছেন।
1CO 15:28 তিনি যখন এরকম করবেন, তখন পুত্রও স্বয়ং তাঁর বশ্যতাধীন হবেন, যিনি সবকিছুই তাঁর বশ্যতাধীন করেন, যেন ঈশ্বরই সর্বেসর্বা হন।
1CO 15:29 এখন পুনরুত্থান যদি না থাকে, তাহলে যারা মৃতদের জন্য বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করে, তারা কী করবে? মৃতেরা যদি আদৌ উত্থাপিত না হয়, লোকেরা কেন তাদের জন্য বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করে?
1CO 15:30 আর আমাদের প্রসঙ্গে বলতে হলে, আমরাই বা কেন প্রতি মুহূর্তে নিজেদের বিপদগ্রস্ত করে তুলি?
1CO 15:31 ভাইবোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টতে তোমাদের বিষয়ে আমার যা গর্ব, তারই দোহাই দিয়ে আমি বলছি যে আমি প্রতিদিনই মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছি।
1CO 15:32 শুধুমাত্র মানবিক কারণেই যদি আমি ইফিষে বন্যপশুদের সঙ্গে লড়াই করে থাকি, তাহলে আমি কী লাভ করেছি? মৃতেরা যদি উত্থাপিত না হয়, তাহলে, “এসো আমরা ভোজন ও পান করি, কারণ আগামীকাল আমরা মারা যাব।”
1CO 15:33 তোমরা বিভ্রান্ত হোয়ো না। “অসৎ সঙ্গ ভালো চরিত্রকে কলুষিত করে।”
1CO 15:34 তোমাদের যেমন হওয়া উচিত, চেতনায় ফিরে এসো এবং পাপ করা থেকে ক্ষান্ত হও; কারণ এমন কিছু লোক আছে, যাদের ঈশ্বরজ্ঞান নেই; তোমাদের লজ্জা দেওয়ার জন্য আমি একথা বলছি।
1CO 15:35 কিন্তু, কেউ হয়তো প্রশ্ন করবে, “কীভাবে মৃতদের উত্থাপিত করা হয়? কোন প্রকারের দেহ নিয়ে তারা উপস্থিত হবে?”
1CO 15:36 কী মূর্খতা! তোমরা যা বপন করো, তা না মরলে জীবিত হয় না।
1CO 15:37 যখন তোমরা কিছু বপন করো, যে গাছ উৎপন্ন হবে, তা কিন্তু তোমরা বপন করো না, কিন্তু একটি বীজবপন করো; তা হয়তো গমের বা অন্য কিছুর।
1CO 15:38 কিন্তু ঈশ্বর যেমন নির্ধারণ করেছেন, তেমনই তার দেহ দান করেন এবং প্রত্যেক প্রকারের বীজকে তার নিজ নিজ দেহ দান করেন।
1CO 15:39 সব মাংসই এক প্রকারের নয়: মানুষের এক প্রকার মাংস আছে, পশুদের অন্য প্রকার; পাখিদের এক প্রকার এবং মাছের আর এক প্রকার;
1CO 15:40 এছাড়াও আছে স্বর্গীয় দেহ এবং আছে পার্থিব দেহ; কিন্তু স্বর্গীয় দেহগুলির ঔজ্জ্বল্য এক প্রকার, পার্থিব দেহগুলির অন্য প্রকার।
1CO 15:41 সূর্যের আছে এক ধরনের ঔজ্জ্বল্য, চাঁদের আর এক ধরনের ও তারার আর এক ধরনের; আর ঔজ্জ্বল্যের দিক দিয়ে এক তারা অন্য তারার থেকে ভিন্ন।
1CO 15:42 মৃতদের পুনরুত্থানের ক্ষেত্রেও এরকমই হবে। ক্ষয়ে বপন করা হয়, কিন্তু অক্ষয়তায় উত্থাপিত করা হবে;
1CO 15:43 অনাদরে বপন করা হয়, মহিমায় তা উত্থাপিত করা হবে; দুর্বলতায় তা বপন করা হয়, পরাক্রমে তা উত্থাপিত হবে;
1CO 15:44 স্বাভাবিক দেহ বপন করা হয়, আত্মিক দেহ উত্থাপিত হবে। যদি স্বাভাবিক দেহ থাকে, তাহলে আত্মিক দেহও থাকে।
1CO 15:45 তাই এরকম লেখা আছে: “প্রথম মানুষ আদম হলেন এক জীবিত প্রাণী”; শেষ আদম হলেন এক জীবনদায়ী আত্মা।
1CO 15:46 আত্মিক প্রথমে আসেনি, কিন্তু এসেছে স্বাভাবিক, তারপর আত্মিক।
1CO 15:47 প্রথম মানুষ ছিলেন পৃথিবীর ধুলি থেকে, দ্বিতীয় মানুষ স্বর্গ থেকে।
1CO 15:48 পার্থিব সব ব্যক্তি সেই পার্থিব ব্যক্তির মতো এবং স্বর্গীয় সকলে সেই স্বর্গ থেকে আগত ব্যক্তির মতোই।
1CO 15:49 আর যেমন আমরা পার্থিব ব্যক্তির স্বরূপ ধারণ করেছি, তেমনই আমরা স্বর্গ থেকে আগত ব্যক্তির রূপও ধারণ করব।
1CO 15:50 ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি যে, রক্তমাংসের দেহ ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না, কিংবা ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ অক্ষয়তার অধিকারী হয় না।
1CO 15:51 শোনো, আমি তোমাদের এক গুপ্তরহস্য বলি: আমরা সকলে নিদ্রাগত হব না, কিন্তু আমরা সকলেই রূপান্তরিত হব—
1CO 15:52 এক নিমেষে, চোখের পলকে, শেষ তূরীধ্বনির সঙ্গে তা ঘটবে। কারণ তূরীধ্বনি হবে, মৃতেরা অক্ষয়তায় উত্থাপিত হবে এবং আমরা রূপান্তরিত হব,
1CO 15:53 কারণ এই ক্ষয়প্রাপ্তকে অক্ষয়তা পরিধান করতে হবে এবং এই মরদেহকে অমরতা পরিধান হতে হবে।
1CO 15:54 আর এই ক্ষয়প্রাপ্ত যখন অক্ষয়তা পরিধান করবে ও এই মরদেহ অমরতা পরিধান করবে, তখন এই যে কথা লেখা আছে, তা সত্য প্রমাণিত হবে: “চিরকালের জন্য মৃত্যুকে গ্রাস করা হয়েছে।”
1CO 15:55 “মৃত্যু, তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু, তোমার হুল কোথায়?”
1CO 15:56 মৃত্যুর হুল পাপ ও পাপের পরাক্রম হল বিধান।
1CO 15:57 কিন্তু ঈশ্বরের ধন্যবাদ হোক! তিনি প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের বিজয় দান করেন।
1CO 15:58 তাই, আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, সুস্থির থাকো। কোনো কিছুই তোমাদের বিচলিত না করুক। প্রভুর কাজে তোমরা সর্বদা নিজেদের সম্পূর্ণ উৎসর্গ করো, কারণ তোমরা জানো যে, প্রভুতে তোমাদের পরিশ্রম ব্যর্থ হবে না।
1CO 16:1 এখন ঈশ্বরের লোকদের জন্য দান সংগ্রহ প্রসঙ্গে লিখছি: আমি গালাতিয়ায় অবস্থিত মণ্ডলীগুলিকে যা করতে বলেছি, তোমরাও তাই করো।
1CO 16:2 প্রত্যেক সপ্তাহের প্রথম দিনে, তোমাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ উপার্জনের সঙ্গে সংগতি রেখে কিছু অর্থ আলাদা করে সরিয়ে রাখো, যেন আমি যখনই আসি, তখন কোনো অর্থ সংগ্রহ করতে না হয়।
1CO 16:3 তারপর, আমি উপস্থিত হলে, তোমরা যাদের উপযুক্ত মনে করবে, আমি তাদের পরিচয়-পত্র দিয়ে তোমাদের সেই দান তাদের মাধ্যমে জেরুশালেমে পাঠিয়ে দেব।
1CO 16:4 আর যদি আমার যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়, তবে তারা আমার সঙ্গে যাবে।
1CO 16:5 ম্যাসিডোনিয়া দিয়ে আমার যাত্রা শেষ হলেই আমি তোমাদের ওখানে যাব—কারণ আমাকে ম্যাসিডোনিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
1CO 16:6 আমি হয়তো কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে থাকব, কিংবা শীতকালও কাটাব, যেন আমি যেখানেই যাই, তোমরা আমার যাত্রায় সাহায্য করতে পারো।
1CO 16:7 আমি এখন তোমাদের সঙ্গে মাত্র কিছুক্ষণের জন্য দেখাসাক্ষাৎ করতে চাই না। প্রভুর অনুমতি পেলে, আমি তোমাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আশা করছি।
1CO 16:8 কিন্তু পঞ্চাশত্তমী পর্যন্ত আমি ইফিষেই থাকব,
1CO 16:9 কারণ মহৎ কাজের এক উন্মুক্ত দুয়ার আমার সামনে খুলে গিয়েছে, যদিও এখানে অনেকেই আমার বিরোধিতা করে।
1CO 16:10 যদি তিমথি আসেন, তবে দেখো, তোমাদের সঙ্গে থাকার সময় তাঁর ভয় পাওয়ার যেন কিছু না থাকে, কারণ তিনি আমারই মতো প্রভুর কাজ করে চলেছেন।
1CO 16:11 তাই, কেউই তাঁকে যেন গ্রহণ করতে অস্বীকার না করে। তাঁকে শান্তিতে তাঁর যাত্রাপথে পাঠিয়ে দিয়ো, যেন তিনি আমার কাছে ফিরে আসতে পারেন। আমি ভাইদের সঙ্গে তাঁরও আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
1CO 16:12 এখন আমাদের ভাই আপল্লো সম্পর্কে বলছি, অন্যান্য বিশ্বাসীদের সঙ্গে তোমাদের কাছে যাওয়ার জন্য আমি তাঁকে অনেক অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি এখন একেবারেই যেতে ইচ্ছুক নন। পরে সুযোগ পেলেই তিনি যাবেন।
1CO 16:13 তোমরা সতর্ক থেকো; বিশ্বাসে অবিচলিত থেকো; সাহসী ও শক্তিমান হও।
1CO 16:14 তোমরা যা কিছু করো সেসব ভালোবাসায় করো।
1CO 16:15 তোমরা জানো যে স্তেফানার পরিজনেরা হলেন আখায়া প্রদেশের প্রথম ফসল, তাঁরা পবিত্রগণের সেবাকাজে নিজেদের নিযুক্ত করেছেন। ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি,
1CO 16:16 তোমরা এইসব লোকদের এবং যতজন কাজে যুক্ত হয় ও পরিশ্রম করে, তাঁদের প্রত্যেকের বাধ্য হও।
1CO 16:17 স্তেফানা, ফর্তুনাত ও আখাইকার আগমনে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম, কারণ তোমাদের থেকে যা অপূর্ণ ছিল, তাঁরা তা সরবরাহ করেছেন।
1CO 16:18 এর কারণ হল, তাঁরা আমার ও সেই সঙ্গে তোমাদেরও আত্মাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এই ধরনের লোকেরা স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
1CO 16:19 এশিয়া প্রদেশের সব মণ্ডলী তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছেন। আক্বিলা ও প্রিষ্কিল্লা এবং তাঁদের বাড়িতে সমবেত হওয়া মণ্ডলী, প্রভুতে তোমাদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন।
1CO 16:20 এখানকার সমস্ত ভাইবোনেরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তোমরা পবিত্র চুম্বনে পরস্পরকে প্রীতি-সম্ভাষণ জানাও।
1CO 16:21 আমি পৌল, নিজের হাতে এই অভিনন্দনবাণী লিখছি।
1CO 16:22 কেউ যদি প্রভুকে না ভালোবাসে, তবে তার উপরে অভিশাপ নেমে আসুক। হে প্রভু, তুমি এসো!
1CO 16:23 প্রভু যীশুর অনুগ্রহ তোমাদের সহবর্তী হোক।
1CO 16:24 খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের সকলকে আমার ভালোবাসা জানাই। আমেন।
2CO 1:1 পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী খ্রীষ্ট যীশুর একজন প্রেরিতশিষ্য এবং আমাদের ভাই তিমথি, করিন্থে অবস্থিত ঈশ্বরের মণ্ডলী এবং সমস্ত আখায়া প্রদেশের যত পবিত্রগণ আছেন, তাদের সবার প্রতি:
2CO 1:2 আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।
2CO 1:3 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতার প্রশংসা হোক, যিনি করুণাময় পিতা ও সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর,
2CO 1:4 যিনি আমাদের সকল কষ্টের জন্য সান্ত্বনা প্রদান করেন, যেন আমরা স্বয়ং যে সান্ত্বনা ঈশ্বরের কাছ থেকে লাভ করেছি, যারা যে কোনো কষ্টভোগ করছে, তাদের সেই সান্ত্বনা দ্বারা সান্ত্বনা প্রদান করতে পারি।
2CO 1:5 কারণ যেমন খ্রীষ্টের কষ্টভোগ আমাদের জীবনে প্রচুররূপে প্রবাহিত হয়েছে, তেমনই খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের সান্ত্বনাও যেন প্রবলরূপে উপচে পড়ে।
2CO 1:6 আমরা যদি যন্ত্রণাগ্রস্ত হই, তা তোমাদের সান্ত্বনা ও পরিত্রাণের জন্য; যদি আমরা সান্ত্বনা লাভ করি, তা তোমাদের সান্ত্বনার জন্য, যা তোমাদের মধ্যে ধৈর্যসহ, আমরা যে কষ্টভোগ করি, সেই একই কষ্টভোগে সহ্যশক্তি উৎপন্ন করে।
2CO 1:7 আর তোমাদের জন্য আমাদের প্রত্যাশা অবিচল, কারণ আমরা জানি যে, যেমন তোমরা আমাদের কষ্টভোগের অংশীদার হও, তেমনই তোমরা আমাদের সান্ত্বনারও সহভাগী হয়ে থাকো।
2CO 1:8 ভাইবোনেরা, আমি চাই না, এশিয়া প্রদেশে যে দুর্দশা আমরা ভোগ করেছিলাম, তা তোমাদের অজানা থাকে। আমাদের সহ্যশক্তির থেকেও বহুগুণে বেশি আমরা নিদারুণ চাপের মধ্যে ছিলাম, যার ফলে আমরা প্রাণের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।
2CO 1:9 প্রকৃতপক্ষে, আমরা আমাদের অন্তরে মৃত্যুর শাস্তি অনুভব করেছিলাম। কিন্তু এরকম ঘটল, যেন আমরা নিজের উপরে নির্ভর না করে ঈশ্বরের উপরে করি, যিনি মৃতদের উত্থাপিত করেন।
2CO 1:10 তিনিই আমাদের এরকম মৃত্যুজনক সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন। তাঁরই উপর আমরা আশা রেখেছি যে, তিনি আমাদের পুনরায় উদ্ধার করবেন,
2CO 1:11 যেমন তোমরা তোমাদের প্রার্থনা দ্বারা আমাদের সাহায্য করে থাকো। এরপর অনেকের প্রার্থনার উত্তরে আমরা যে মহা-অনুগ্রহ লাভ করেছি, সেই কারণে, অনেকেই আমাদের পক্ষে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে।
2CO 1:12 এখন আমাদের গর্ব এই: আমাদের বিবেক সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা ঈশ্বরের দেওয়া পবিত্রতায় এবং সরলতায় জগতের মধ্যে আচরণ করেছি, বিশেষত তোমাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এইসব গুণ ঈশ্বর থেকে লব্ধ। আমরা জাগতিক প্রজ্ঞা অনুসারে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহের দ্বারা এরকম করেছি।
2CO 1:13 আমরা শুধু তাই লিখছি, যা তোমরা পড়তে ও বুঝতে পারবে। আমি এই আশাতেই আছি।
2CO 1:14 এখন পর্যন্ত তোমরা আমাদের আংশিকরূপে বুঝতে পেরেছ, যেন প্রভু যীশুর দিনে তোমরা আমাদের জন্য গর্ব করতে পারো, যেমন আমরা তোমাদের জন্য গর্ব করব।
2CO 1:15 আমি যেহেতু এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম, যাত্রার শুরুতে আমি প্রথমে তোমাদের কাছে যাব, যেন তোমরা দু-বার উপকৃত হতে পারো।
2CO 1:16 আমি ম্যাসিডোনিয়া যাওয়ার পথে তোমাদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলাম এবং চেয়েছিলাম সেখান থেকে তোমাদের কাছে ফিরে আসতে, তারপর তোমরা যেন আমাকে যিহূদিয়ার পথে পাঠিয়ে দাও।
2CO 1:17 এই পরিকল্পনা করার সময় আমি কি তা লঘুভাবে করেছিলাম? নাকি আমি আমার পরিকল্পনাগুলি জাগতিক উপায়ে করি যে, একইসঙ্গে আমি “হ্যাঁ, হ্যাঁ” ও “না, না” বলি?
2CO 1:18 কিন্তু ঈশ্বর যেমন নিশ্চিতরূপে বিশ্বস্ত, তোমাদের কাছে আমাদের বার্তা তেমনই “হ্যাঁ” বা “না” নয়।
2CO 1:19 কারণ ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, যাঁকে আমি, সীল ও তিমথি তোমাদের কাছে প্রচার করেছিলাম, তিনি “হ্যাঁ” ও “না” মেশানো ছিলেন না, কিন্তু তাঁর মধ্যে সবসময়ই “ইতিবাচক” ব্যাপার ছিল।
2CO 1:20 কারণ ঈশ্বর যত প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, সেগুলি খ্রীষ্টের মধ্যে “ইতিবাচক” হয়েছে। আর তাই, তাঁরই মাধ্যমে ঈশ্বরের মহিমার উদ্দেশে আমরা “আমেন” বলি।
2CO 1:21 এখন ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আমাদের, উভয়কেই খ্রীষ্টে দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করেছেন। তিনি আমাদের অভিষিক্ত করেছেন,
2CO 1:22 আমাদের উপরে তাঁর অধিকারের সিলমোহর দিয়েছেন এবং সন্নিকট সব বিষয়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ তাঁর আত্মাকে আমাদের হৃদয়ে অগ্রিম দানস্বরূপ স্থাপন করেছেন।
2CO 1:23 আমি আমার প্রাণের উপরে ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, তোমাদেরকে কঠোর তিরস্কার থেকে বাঁচানোর জন্যই আমি করিন্থে ফিরে যাইনি।
2CO 1:24 তোমাদের বিশ্বাসের উপরে প্রভুত্ব করতে চেয়েছি বলে নয়, কিন্তু তোমাদের আনন্দের জন্য আমরা তোমাদের সহকর্মী হয়েছি, কারণ বিশ্বাস সম্পর্কে বলতে গেলে, তোমরা তার উপরে সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত আছ।
2CO 2:1 তাই আমি আমার মনে স্থির করেছিলাম যে, পুনরায় তোমাদের দুঃখ দেওয়ার জন্য আমি তোমাদের কাছে যাব না।
2CO 2:2 কারণ, আমি যদি তোমাদের দুঃখ দিই, তাহলে যাদের দুঃখ দিয়েছি, সেই তোমরা ছাড়া আমাকে আনন্দিত জন্য আর কে থাকবে?
2CO 2:3 পত্র লেখার সময় আমি এরকমই লিখেছিলাম যে, আমি যখন আসব, তখন যাদের কাছ থেকে আমার আনন্দ পাওয়ার কথা, তাদের কাছ থেকে যেন দুঃখ না পাই। তোমাদের সকলের প্রতি আমার এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তোমরা সকলে আমার আনন্দে আনন্দিত হবে।
2CO 2:4 আমি নিদারুণ কষ্ট ও মর্মযন্ত্রণায় ও অনেক চোখের জলের সঙ্গে তোমাদের লিখেছিলাম, তোমাদের দুঃখ দেওয়ার জন্য নয়, কিন্তু তোমাদের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা জানাবার জন্য।
2CO 2:5 কেউ যদি দুঃখের কারণ হয়ে থাকে, সে আমাকে তেমন দুঃখ দেয়নি, যেমন তোমাদের সবাইকে কিছু পরিমাণে দিয়েছে—কোনও অতিশয়োক্তি না করেই আমি একথা বলছি।
2CO 2:6 অধিকাংশ লোকই তাকে যে শাস্তি দিয়েছে, তাই তার পক্ষে যথেষ্ট।
2CO 2:7 বরং, এখন তোমাদের উচিত তাকে ক্ষমা করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যেন সে দুঃখের আতিশয্যে ভেঙে না পড়ে।
2CO 2:8 তাই, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা পুনরায় তার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করো।
2CO 2:9 তোমাদের কাছে আমার লেখার কারণ এই যে, আমি দেখতে চেয়েছিলাম, তোমরা সেই পরীক্ষা সহ্য করতে ও সর্ববিষয়ে অনুগত থাকতে পারো কি না।
2CO 2:10 তোমরা যদি কাউকে ক্ষমা করো, আমিও তাকে ক্ষমা করি। আর আমি যা ক্ষমা করেছি—যদি ক্ষমা করার মতো কিছু ছিল—আমি তোমাদেরই কারণে খ্রীষ্টের সাক্ষাতে তাকে ক্ষমা করেছি,
2CO 2:11 যেন শয়তান ধূর্ততায় আমাদের পরাস্ত করতে না পারে, কারণ তার কৌশল আমাদের অজানা নয়।
2CO 2:12 এখন খ্রীষ্টের সুসমাচার প্রচারের জন্য যখন আমি ত্রোয়াতে গেলাম, দেখলাম প্রভু আমার জন্য এক দুয়ার খুলে দিয়েছেন।
2CO 2:13 তবুও আমার মনে শান্তি ছিল না, কারণ সেখানে আমি আমার ভাই তীতের সন্ধান পাইনি। তাই তাদের বিদায় জানিয়ে আমি ম্যাসিডোনিয়ায় চলে গেলাম।
2CO 2:14 কিন্তু ঈশ্বরের ধন্যবাদ হোক, তিনি সর্বদা আমাদের নিয়ে খ্রীষ্টে বিজয়যাত্রা করেন এবং আমাদের মাধ্যমে সর্বত্র তাঁর সম্পর্কীয় জ্ঞানের সৌরভ ছড়িয়ে দেন।
2CO 2:15 কারণ যারা পরিত্রাণ পাচ্ছে এবং যারা ধ্বংস হচ্ছে, উভয়েরই কাছে আমরা ঈশ্বরের পক্ষে খ্রীষ্টের সৌরভস্বরূপ।
2CO 2:16 এক পক্ষের কাছে আমরা মৃত্যুর ভীতিপ্রদ গন্ধস্বরূপ, অপর পক্ষের কাছে জীবনের সুগন্ধস্বরূপ। আর এ ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি কে?
2CO 2:17 অনেকের মতো, আমরা লাভের জন্য ঈশ্বরের বাক্য ফেরি করে বেড়াই না। এর পরিবর্তে, ঈশ্বরের দ্বারা প্রেরিত মানুষদের মতো আমরা সরলতার সঙ্গে ঈশ্বরের সাক্ষাতে খ্রীষ্টেই কথা বলি।
2CO 3:1 আমরা কি আবার নিজেদের প্রশংসা করা শুরু করেছি? কিংবা, কিছু মানুষের মতো, তোমাদের কাছে আমাদেরও সুপারিশ-পত্রের প্রয়োজন বা তোমাদের কাছ থেকে তা নিতে হবে?
2CO 3:2 তোমরাই তো আমাদের পত্র, আমাদের হৃদয়ে লিখিত পত্র, যা প্রত্যেকেই জানে ও পড়ে।
2CO 3:3 তোমরা দেখাও যে, আমাদের পরিচর্যার ফলস্বরূপ তোমরা খ্রীষ্টের কাছ থেকে লিখিত পত্র, যা কালি দিয়ে নয়, কিন্তু জীবন্ত ঈশ্বরের আত্মা দিয়ে, পাথরের ফলকে নয়, কিন্তু মানুষের হৃদয়-ফলকে লেখা হয়েছ।
2CO 3:4 ঈশ্বরের প্রতি এ ধরনের বিশ্বাসই খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের আছে।
2CO 3:5 এরকম নয় যে, নিজেদের যোগ্যতায় আমরা কিছু করতে পারি বলে দাবি করি। আমাদের যোগ্যতা ঈশ্বর থেকেই আসে।
2CO 3:6 তিনিই আমাদের এক নতুন নিয়মের পরিচারকরূপে যোগ্য করে তুলেছেন—যা অক্ষরে নয়, কিন্তু আত্মায় লিখিত হয়েছে, কারণ অক্ষর মৃত্যুতে শেষ হয়, কিন্তু পবিত্র আত্মা জীবন প্রদান করেন।
2CO 3:7 যে পরিচর্যা মৃত্যু নিয়ে এসেছিল, যা পাথরের উপরে লিপিতে উৎকীর্ণ ছিল, তা যদি এমন মহিমার সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিল যে, ইস্রায়েলীরা স্থিরদৃষ্টিতে মোশির মুখমণ্ডলের দিকে তাঁর মহিমার জন্য তাকাতে পারছিল না, যদিও সেই মহিমা ক্রমেই নিষ্প্রভ হচ্ছিল,
2CO 3:8 তাহলে আত্মার পরিচর্যা কি আরও বেশি মহিমাদীপ্ত হবে না?
2CO 3:9 যে পরিচর্যা মানুষকে অভিযুক্ত করে, তা যদি এমন মহিমাদীপ্ত হয়, তাহলে যে পরিচর্যা ধার্মিকতা নিয়ে আসে, তা আরও কত না বেশি মহিমাদীপ্ত হবে!
2CO 3:10 প্রকৃতপক্ষে, যা ছিল মহিমাময়, তা বর্তমানের বহুগুণে শ্রেষ্ঠতর মহিমার তুলনায় কোনো মহিমাই নয়।
2CO 3:11 আবার যা ক্রমশ নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছিল, তা যদি মহিমার সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিল, তাহলে যা স্থায়ী, তার মহিমা আরও কত না মহত্তর হবে!
2CO 3:12 সেই কারণে, আমাদের এরকম প্রত্যাশা আছে বলেই আমরা এরকম অতি সাহসী হয়েছি।
2CO 3:13 আমরা মোশির মতো নই; তিনি তাঁর মুখের উপরে আবরণ দিতেন যেন, যে মহিমার কিরণ ম্লান হয়ে আসছিল, ইস্রায়েল-সন্তানদের দৃষ্টি শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরিয়ে রাখতে পারেন।
2CO 3:14 কিন্তু তাদের মনকে কঠিন করা হয়েছিল, কারণ পুরোনো নিয়মের পাঠে আজও পর্যন্ত সেই আবরণ থেকেই গেছে। তা অপসারিত করা হয়নি, কারণ কেবলমাত্র খ্রীষ্টেই তা অপসারিত করা যায়।
2CO 3:15 এমনকি, আজও অবধি যখন মোশির বিধান পাঠ করা হয়, একটি আবরণ তাদের অন্তরকে আবৃত করে রাখে।
2CO 3:16 কিন্তু যখনই কেউ প্রভুর প্রতি ফিরে আসে, সেই আবরণ অপসারিত করা হয়।
2CO 3:17 এখন প্রভুই সেই আত্মা, আর যেখানে প্রভুর আত্মা থাকেন সেখানেই স্বাধীনতা থাকে।
2CO 3:18 আর আমরা সকলে, যারা অনাবৃত মুখমণ্ডলে প্রভুর মহিমা দর্পণের মতো প্রতিফলিত করছি, আমরা তাঁরই প্রতিমূর্তিতে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া মহিমায় রূপান্তরিত হচ্ছি, যে মহিমা প্রভু, যিনি আত্মা, তাঁর কাছ থেকে আসে।
2CO 4:1 এই কারণে, ঈশ্বরের করুণার মাধ্যমে আমাদের যেহেতু এই পরিচর্যা আছে, আমরা নিরুৎসাহ হই না।
2CO 4:2 বরং, আমরা গোপনীয় ও লজ্জাজনক পথগুলি ত্যাগ করেছি; আমরা ধূর্ততার আশ্রয় নিই না, কিংবা ঈশ্বরের বাক্যকে বিকৃতও করি না। এর বিপরীতে, সহজসরলভাবে সত্যকে প্রকাশ করে আমরা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সব মানুষের বিবেকের কাছে নিজেদের যোগ্য করে তুলি।
2CO 4:3 আবার, আমাদের সুসমাচার যদি আবৃত থাকে, তাহলে যারা ধ্বংস হচ্ছে, তা তাদের কাছেই আবৃত থাকে।
2CO 4:4 এই যুগের দেবতা অবিশ্বাসীদের মন অন্ধ করেছে, যেন তারা খ্রীষ্টের মহিমার যে সুসমাচার তার আলো দেখতে না পায়। সেই খ্রীষ্টই হলেন ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি।
2CO 4:5 কারণ আমরা নিজেদের বিষয়ে প্রচার করি না, কিন্তু যীশু খ্রীষ্টকে প্রভুরূপে করি এবং যীশুর কারণে নিজেদের পরিচয় দিই তোমাদের দাসরূপে।
2CO 4:6 কারণ যে ঈশ্বর বলেছিলেন, “অন্ধকারের মধ্য থেকে জ্যোতি উদ্ভাসিত হোক,” তিনি তাঁর জ্যোতি আমাদের হৃদয়ে উদ্দীপিত করলেন, যেন খ্রীষ্টের মুখমণ্ডলে বিরাজিত ঈশ্বরের যে মহিমা, তার জ্ঞানের আলো আমাদের প্রদান করেন।
2CO 4:7 কিন্তু এই সম্পদ আমরা মাটির পাত্রে ধারণ করছি, যেন এরকম প্রত্যক্ষ হয় যে সর্বগুণে উৎকৃষ্টতর এই পরাক্রম আমাদের থেকে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে।
2CO 4:8 আমরা চতুর্দিক থেকেই প্রবলরূপে নিষ্পেষিত হচ্ছি, কিন্তু চূর্ণ হচ্ছি না; হতবুদ্ধি হচ্ছি, কিন্তু নিরাশ হচ্ছি না;
2CO 4:9 নির্যাতিত হচ্ছি, কিন্তু পরিত্যক্ত হচ্ছি না; আঘাতে ধরাশায়ী হচ্ছি, কিন্তু বিধ্বস্ত হচ্ছি না।
2CO 4:10 আমরা সবসময়ই, আমাদের শরীরে যীশুর মৃত্যুকে বহন করে চলেছি, যেন আমাদের শরীরে যীশুর জীবনও প্রকাশ পায়।
2CO 4:11 কারণ আমরা যারা জীবিত আছি, তাদের সবসময়ই যীশুর কারণে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করা হচ্ছে, যেন আমাদের এই মানবিক দেহে তাঁর জীবনও প্রকাশিত হতে পারে।
2CO 4:12 তাহলে এখন, মৃত্যু আমাদের শরীরে সক্রিয় ঠিকই, কিন্তু তোমাদের মধ্যে জীবন সক্রিয় আছে।
2CO 4:13 বিশ্বাসের সেই একই আত্মা আমাদের আছে বলে, যেমন লেখা আছে, “আমি বিশ্বাস করেছি, তাই কথা বলেছি,” সেই অনুযায়ী আমরাও বিশ্বাস করি ও সেই কারণে কথা বলি।
2CO 4:14 কারণ আমরা জানি যে, যিনি প্রভু যীশুকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তিনি যীশুর সঙ্গে আমাদেরও উত্থাপিত করবেন এবং তোমাদের সঙ্গে আমাদেরও তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত করবেন।
2CO 4:15 এসবই তোমাদের কল্যাণের জন্য, যেন যে অনুগ্রহ আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে উপস্থিত হচ্ছে, তা ঈশ্বরের মহিমার উদ্দেশে উপচে পড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপনের কারণ হয়।
2CO 4:16 সেই কারণে, আমরা নিরুৎসাহ হই না। যদিও বাহ্যিকভাবে আমরা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি, তবুও অভ্যন্তরীণভাবে দিন-প্রতিদিন আমরা নতুন হচ্ছি।
2CO 4:17 কারণ আমাদের তুচ্ছ ও ক্ষণস্থায়ী কষ্টসমস্যাগুলি আমাদের জন্য যে চিরন্তন মহিমা অর্জন করছে, তা সেইসব কষ্টসমস্যাকে বিপুলরূপে অতিক্রম করে।
2CO 4:18 তাই কোনো দৃশ্যমান বস্তুর দিকে নয়, কিন্তু যা অদৃশ্য তার প্রতি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। কারণ যা কিছু দৃশ্যমান, তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যা কিছু অদৃশ্য তাই চিরন্তন।
2CO 5:1 এখন আমরা জানি যে, যদি এই পার্থিব তাঁবু, যার মধ্যে আমরা বসবাস করি, তা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আমাদের জন্য আছে এক ঈশ্বরের দেওয়া গৃহ, স্বর্গে এক চিরন্তন আবাস, যা মানুষের হাতে তৈরি নয়।
2CO 5:2 এই সময়কালে আমরা আর্তনাদ করছি, আমাদের স্বর্গীয় আবাস পরিহিত হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করছি,
2CO 5:3 কারণ যখন আমরা পোশাক পরিহিত হব, আমাদের বস্ত্রহীন দেখা যাবে না।
2CO 5:4 কারণ আমরা যতক্ষণ এই তাঁবুর মধ্যে আছি, আমরা আর্তনাদ করি ও ভারগ্রস্ত হই, কারণ আমরা পোশাকহীন হতে চাই না, কিন্তু আমাদের স্বর্গীয় আবাসের দ্বারা আবৃত হতে চাই, যেন যা কিছু নশ্বর, তা জীবনের দ্বারা কবলিত হয়।
2CO 5:5 এখন ঈশ্বর আমাদের এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন এবং আগামী সময়ে যা সন্নিকট, তার নিশ্চয়তাস্বরূপ পবিত্র আত্মাকে আমাদের অগ্রিম দান করেছেন।
2CO 5:6 অতএব, আমরা সবসময়ই সুনিশ্চিত এবং জানি যে, যতক্ষণ আমরা এই শরীরে অবস্থান করছি, আমরা প্রভু থেকে দূরে আছি।
2CO 5:7 আমরা বিশ্বাস দ্বারা জীবনযাপন করি, দৃশ্য বস্তুর দ্বারা নয়।
2CO 5:8 আমরা সুনিশ্চিত, তাই আমি বলি, আমরা বেশি করে চাইব, শরীর থেকে দূরে থেকে প্রভুর সান্নিধ্যে গিয়ে বাস করি।
2CO 5:9 তাই আমরা এই শরীরে বাস করি বা এর থেকে দূরে থাকি, আমাদের লক্ষ্য হল তাঁকে সন্তুষ্ট করা।
2CO 5:10 কারণ আমরা সকলে খ্রীষ্টের বিচারাসনের সামনে অবশ্যই উপস্থিত হব, যেন প্রত্যেকেই শরীরে বসবাস করার কালে, সৎ বা অসৎ, যে কাজই করেছে, তার প্রাপ্য ফল পায়।
2CO 5:11 তাহলে, প্রভুকে ভয় করার অর্থ কী, তা আমরা জানি; সেই কারণে আমরা সব মানুষকে তা বোঝানোর চেষ্টা করি। আমরা যে কী প্রকার, তা ঈশ্বরের কাছে স্পষ্ট। আমি আশা করি, তোমাদের বিবেকের কাছেও তা স্পষ্ট।
2CO 5:12 আমরা আবার তোমাদের কাছে নিজেদের প্রশংসা করার চেষ্টা করছি না, কিন্তু আমাদের জন্য তোমাদের গর্ব করার একটি সুযোগ দিচ্ছি, যেন যারা অন্তরের বিষয় নিয়ে গর্বিত না হয়ে বাহ্যিক প্রদর্শন নিয়ে গর্ব করে, তোমরা তাদের উত্তর দিতে পারো।
2CO 5:13 যদি আমরা উন্মাদ হয়েছি, তাহলে তা ঈশ্বরের জন্যই হয়েছি; যদি আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, তাহলে তা তোমাদেরই জন্য।
2CO 5:14 কারণ খ্রীষ্টের প্রেম আমাদের বাধ্য করেছে এবং আমরা নিশ্চিত যে, একজন যখন সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন, সেই কারণে সকলেরই মৃত্যু হল।
2CO 5:15 আর তিনি সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, যেন যারা জীবিত আছে, তারা আর যেন নিজেদের জন্য জীবনধারণ না করে, কিন্তু তাঁর জন্য করে, যিনি তাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন ও পুনরায় উত্থাপিত হয়েছেন।
2CO 5:16 তাই, এখন থেকে জাগতিক মানদণ্ড অনুসারে আমরা কাউকে জানি না। যদিও খ্রীষ্টকে আমরা জাগতিক মানদণ্ড অনুসারে জানতাম, কিন্তু এখন আর জানি না।
2CO 5:17 অতএব, কেউ যদি খ্রীষ্টে থাকে, সে এক নতুন সৃষ্টি; পুরোনো বিষয় সব অতীত হয়েছে, দেখো সব নতুন হয়ে উঠেছে।
2CO 5:18 এসবই ঈশ্বর থেকে হয়েছে, যিনি খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাঁর নিজের সঙ্গে আমাদের পুনর্মিলিত করেছেন এবং পুনর্মিলনের সেই পরিচর্যা আমাদের দিয়েছেন।
2CO 5:19 তা হল এই যে, ঈশ্বর জগৎকে খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে পুনর্মিলিত করছিলেন, মানুষের পাপসকল আর তাদের বিরুদ্ধে গণ্য করেননি। আর সেই পুনর্মিলনের বার্তা ঘোষণা করা তিনি আমাদের উপর ন্যস্ত করেছেন।
2CO 5:20 অতএব, আমরা খ্রীষ্টের রাজদূত, ঈশ্বর যেন আমাদের মাধ্যমে তাঁর আবেদন জানাচ্ছিলেন। আমরা খ্রীষ্টের পক্ষে তোমাদের কাছে এই মিনতি করছি, ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত হও।
2CO 5:21 যিনি পাপ জানতেন না, ঈশ্বর তাঁকে আমাদের পক্ষে পাপস্বরূপ করলেন, যেন আমরা তাঁর দ্বারা ঈশ্বরের ধার্মিকতাস্বরূপ হতে পারি।
2CO 6:1 ঈশ্বরের সহকর্মীরূপে আমরা তোমাদের নিবেদন করছি, তোমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ বৃথা গ্রহণ কোরো না।
2CO 6:2 কারণ তিনি বলেন, “আমার অনুগ্রহ প্রদর্শনকালে, আমি তোমার কথা শুনেছি, আর পরিত্রাণের দিনে আমি তোমাকে সাহায্য প্রদান করেছি।” আমি তোমাদের বলি, এখনই ঈশ্বরের সেই অনুগ্রহের সময়, আজই সেই পরিত্রাণের দিন।
2CO 6:3 আমরা কারও পথে কোনো বাধার সৃষ্টি করি না, যেন আমাদের পরিচর্যা কলঙ্কিত না হয়।
2CO 6:4 বরং, আমরা যেহেতু ঈশ্বরের পরিচারক, সবদিক দিয়ে নিজেদের যোগ্যপাত্ররূপে দেখাতে চাই: মহা ধৈর্যে, কষ্ট-সংকটে, কষ্টভোগ ও দুর্দশায়;
2CO 6:5 প্রহারে, কারাবাসে ও গণবিক্ষোভে, কঠোর পরিশ্রমে, নিদ্রাহীন রাত্রিযাপনে ও অনাহারে;
2CO 6:6 শুদ্ধতায়, জ্ঞানে, সহিষ্ণুতায় ও সদয়ভাবে, পবিত্র আত্মায় ও অকপট ভালোবাসায়;
2CO 6:7 সত্যভাষণে ও ঐশ্বরিক পরাক্রমে, ডান ও বাঁ হাতে ধার্মিকতার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে;
2CO 6:8 গৌরব ও অসম্মানের মধ্যে, অখ্যাতি ও সুখ্যাতিক্রমে; আমরা সত্যনিষ্ঠ, অথচ বিবেচিত হই প্রতারকরূপে;
2CO 6:9 পরিচিত, অথচ যেন অপরিচিতের মতো; মরণাপন্ন, তবুও বেঁচে আছি; প্রহারিত, তবুও নিহত নই;
2CO 6:10 দুঃখার্ত, তবু যেন সবসময়ই আনন্দ করছি; দরিদ্র, তবুও অনেককে সমৃদ্ধ করছি; আমাদের কিছুই নেই, তবুও সবকিছুর অধিকারী।
2CO 6:11 করিন্থের মানুষেরা, আমরা অবাধে তোমাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং তোমাদের কাছে আমাদের হৃদয় উন্মুক্ত করেছি।
2CO 6:12 আমরা আমাদের ভালোবাসা তোমাদের দিতে অস্বীকার করিনি, কিন্তু তোমরা তোমাদের ভালোবাসা আমাদের দিতে অস্বীকার করছ।
2CO 6:13 শোভনীয় বিনিময়রূপে—আমি আমার সন্তানরূপে তোমাদের বলছি—তোমরাও তোমাদের হৃদয় উন্মুক্ত করো।
2CO 6:14 তোমরা অবিশ্বাসীদের সঙ্গে অসম জোয়ালে আবদ্ধ হোয়ো না। কারণ ধার্মিকতা ও দুষ্টতার মধ্যে কী সাদৃশ্য আছে? অথবা, অন্ধকারের সঙ্গে আলোর কী সহভাগিতা থাকতে পারে?
2CO 6:15 খ্রীষ্ট ও বলিয়ালের মধ্যেই বা কী ঐক্য? কোনো বিশ্বাসীর সঙ্গে অবিশ্বাসীরই বা কী মিল?
2CO 6:16 ঈশ্বরের মন্দির ও প্রতিমার মধ্যেই বা কী সহযোগিতা থাকতে পারে? কারণ আমরাই তো জীবন্ত ঈশ্বরের মন্দির! ঈশ্বর যেমন বলেছেন, “আমি তাদের মধ্যে বসতি করব ও তাদের মধ্যে গমনাগমন করব, আর আমি তাদের ঈশ্বর হব ও তারা আমার প্রজা হবে।”
2CO 6:17 অতএব, “তোমরা তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসো ও পৃথক হও, একথা প্রভু বলেন। কোনো অশুচি বস্তু স্পর্শ কোরো না, তাহলে আমি তোমাদের গ্রহণ করব।”
2CO 6:18 “আমি তোমাদের পিতা হব, আর তোমরা হবে আমার পুত্রকন্যা, সর্বশক্তিমান প্রভু একথা বলেন।”
2CO 7:1 প্রিয় বন্ধুরা, যেহেতু আমাদের কাছে এসব প্রতিশ্রুতি আছে, তাই যা কিছু আমাদের শরীর ও আত্মাকে কলুষিত করে, এসো আমরা সেসব থেকে নিজেদের শুচিশুদ্ধ করি এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্ভ্রমবশত পবিত্রতা সিদ্ধ করি।
2CO 7:2 তোমরা তোমাদের হৃদয়ে আমাদের জন্য স্থান দিয়ো। আমরা কারও প্রতি অন্যায় করিনি, আমরা কাউকে ভুল পথে নিয়ে যাইনি, আমরা কাউকে শোষণ করিনি।
2CO 7:3 তোমাদের অভিযুক্ত করার জন্য আমি একথা বলছি না। আমি পূর্বেই তোমাদের বলেছি যে, তোমরা আমাদের অন্তরে এমন স্থান জুড়ে আছ যে, আমরা মরি তো একসঙ্গে, আবার বাঁচি তো একসঙ্গে।
2CO 7:4 তোমাদের প্রতি আমার গভীর আস্থা আছে; তোমাদের নিয়ে আমার ভীষণ গর্ব। তাই আমি সম্পূর্ণ অনুপ্রাণিত হয়েছি; আমাদের সমস্ত কষ্ট-সংকটের মধ্যেও আমার আনন্দের সীমা নেই।
2CO 7:5 কারণ, আমরা ম্যাসিডোনিয়ায় আসার পরেও, আমাদের এই শরীরের কোনো বিশ্রাম ছিল না, কিন্তু জীবনের প্রতিটি মোড়ে বিপর্যস্ত হচ্ছিলাম—বাইরে সংঘর্ষ, অন্তরে ভয়।
2CO 7:6 কিন্তু ঈশ্বর, যিনি দুঃখিত মানুষদের সান্ত্বনা প্রদান করেন, তিনি তীতের আগমনের মাধ্যমে আমাদের সান্ত্বনা দিলেন।
2CO 7:7 আর কেবলমাত্র তাঁর আগমনের মাধ্যমে নয়, কিন্তু তোমরা তাঁকে যে সান্ত্বনা দিয়েছ, তার মাধ্যমেও আশ্বস্ত করলেন। তিনি আমার জন্য তোমাদের আকাঙ্ক্ষা, তোমাদের গভীর দুঃখ, আমার জন্য তোমাদের প্রবল দুশ্চিন্তার কথাও ব্যক্ত করলেন, যেন আমার আনন্দ আগের থেকেও আরও বেশি হয়।
2CO 7:8 আমার পত্রের দ্বারা আমি তোমাদের দুঃখ দিলেও, আমি তার জন্য অনুশোচনা করি না। আমি অনুশোচনা করলেও—আমি দেখছি যে আমার পত্র তোমাদের আহত করেছে, কিন্তু তা মাত্র অল্প সময়ের জন্য—
2CO 7:9 এখন আমি আনন্দিত, তোমাদের দুঃখ দিয়েছিলাম বলে নয়, কিন্তু সেই দুঃখ তোমাদের অনুতাপের পথে চালিত করেছিল বলে। কারণ ঈশ্বর যেমন চেয়েছিলেন, তোমরা তেমনই দুঃখিত হয়েছিলে, অতএব, আমাদের দ্বারা তোমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
2CO 7:10 ঐশ্বরিক দুঃখ নিয়ে আসে অনুতাপ, যা পরিত্রাণের পথে চালিত করে; সেখানে অনুশোচনার কোনও অবকাশ নেই; কিন্তু জাগতিক দুঃখ নিয়ে আসে মৃত্যু।
2CO 7:11 দেখো, ঈশ্বরের অভিমত অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে কী সব বিষয় উৎপন্ন করেছে: কত আগ্রহ, নিজেদের শুদ্ধ দেখানোর জন্য কত আকুলতা, কত না ধিক্কার, কত আশঙ্কা, কত প্রতীক্ষা, কত উদ্বেগ, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কত না প্রস্তুতি। এই ব্যাপারে, প্রতি ক্ষেত্রেই তোমরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করেছ।
2CO 7:12 তাই আমি যদিও তোমাদের লিখেছিলাম, যে অন্যায় করেছিল, এ তার বিরুদ্ধে, অথবা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তোমরা নিজেরাই দেখতে পাও যে, তোমরা আমাদের প্রতি কত অনুরক্ত।
2CO 7:13 এ সবকিছুর দ্বারা আমরা উৎসাহ লাভ করেছি। আমাদের নিজস্ব উৎসাহ ছাড়াও, তীতকে সুখী দেখে আমরাও বিশেষভবে আনন্দিত হয়েছিলাম, কারণ তোমাদের সকলের দ্বারা তাঁর আত্মা সঞ্জীবিত হয়েছে।
2CO 7:14 আমি তাঁর কাছে তোমাদের সম্পর্কে গর্বপ্রকাশ করেছিলাম, আর তোমরা আমাকে অপ্রস্তুত করোনি। কারণ যেমন তোমাদের কাছে আমাদের বলা সব কথাই ছিল সত্যি, তেমনই তীতের কাছে তোমাদের সম্পর্কে যে গর্বপ্রকাশ করেছিলাম, তাও সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।
2CO 7:15 আর তোমাদের জন্য তাঁর স্নেহ আরও বেশি প্রবল হয়েছে, যখন তিনি স্মরণ করেন যে, তোমরা কেমন আদেশ পালন করেছিলে, তাঁকে সভয়ে ও কম্পিত হৃদয়ে গ্রহণ করেছিলে।
2CO 7:16 আমি আনন্দিত যে, আমি তোমাদের উপরে সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারি।
2CO 8:1 এখন ভাইবোনেরা, ম্যাসিডোনিয়ার মণ্ডলীগুলিকে ঈশ্বর যে অনুগ্রহ প্রদান করেছেন, আমরা চাই, তোমরা সে সম্পর্কে অবহিত হও।
2CO 8:2 কষ্টের চরম পরীক্ষার মধ্যেও তাদের আনন্দের উচ্ছ্বাস ও নিদারুণ দারিদ্র্য, প্রচুর দানশীলতায় উপচে পড়েছে।
2CO 8:3 কারণ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তারা তাদের সাধ্যমতো, এমনকি, সাধ্যেরও অতিরিক্ত পরিমাণে, দান করেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায়
2CO 8:4 প্রবল আগ্রহের সঙ্গে, পবিত্রগণের এই সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভের জন্য আমাদের মিনতি জানিয়েছে।
2CO 8:5 তারা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে কাজ করল। ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে তারা প্রথমে প্রভুর, পরে আমাদেরও কাছে নিজেদের প্রদান করল।
2CO 8:6 তাই আমরা তীতকে অনুরোধ করলাম, তোমাদের মধ্যে সেই অনুগ্রহের কাজ শেষ করার জন্য, যা তিনি আগেই শুরু করেছিলেন।
2CO 8:7 কিন্তু যেমন তোমরা সব বিষয়ে উৎকর্ষ লাভ করছ—বিশ্বাসে, বক্তৃতায়, জ্ঞানে, সম্পূর্ণ আন্তরিকতায় ও ভালোবাসায়, যা তোমাদের মধ্যে আমরা উদ্দীপিত করেছি—দেখো, দান দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনুগ্রহেও তোমরা যেন উৎকর্ষ লাভ করো।
2CO 8:8 আমি তোমাদের আদেশ করছি না, কিন্তু অপর মানুষদের আন্তরিকতার সঙ্গে তুলনা করে আমি তোমাদের ভালোবাসার সততাকে পরীক্ষা করতে চাই।
2CO 8:9 কারণ তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহের কথা জানো যে, তিনি যদিও ধনী ছিলেন, তবুও তোমাদের কারণে তিনি দরিদ্র হলেন, যেন তোমরা তাঁর দারিদ্র্যের মাধ্যমে ধনী হতে পারো।
2CO 8:10 আর এ বিষয়ে তোমাদের পক্ষে যা সর্বোৎকৃষ্ট, সে সম্পর্কে আমার পরামর্শ এই: গত বছর, তোমরা যে কেবলমাত্র প্রথমে দান করেছিলে, তা নয়, কিন্তু তা করার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলে।
2CO 8:11 এখন সেই কাজ সম্পূর্ণ করো, যেন তা করার জন্য তোমাদের আগ্রহ তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা সম্পন্ন করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
2CO 8:12 কারণ আগ্রহ যদি থাকে, তবে যার যা আছে, সেই অনুযায়ী দান গ্রহণযোগ্য হয়, তার যা নেই, সেই অনুযায়ী নয়।
2CO 8:13 আমাদের ইচ্ছা এই নয় যে অন্যেরা স্বস্তি বোধ করে এবং তোমরা প্রবল চাপ অনুভব করো, কিন্তু যেন সাম্যভাব বজায় থাকে।
2CO 8:14 বর্তমানে তোমাদের প্রাচুর্যে তাদের যা প্রয়োজন, তা পূরণ করবে, যেন তার পরিবর্তে, তাদের প্রাচুর্য সময়মতো তোমাদের প্রয়োজন পূরণ করবে। তখনই সমতা বজায় থাকবে,
2CO 8:15 যেমন লেখা আছে, “যে বেশি পরিমাণে কুড়িয়েছিল তার কাছে খুব বেশি ছিল না, এবং যে কম পরিমাণে কুড়িয়েছিল তার কাছেও খুব কম ছিল না।”
2CO 8:16 আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, তিনি তীতের অন্তরে সেই একই প্রকার প্রবল আগ্রহ দিয়েছেন, যেমন তোমাদের প্রতি আমার আছে।
2CO 8:17 কারণ তীত আমাদের আবেদনকে কেবলমাত্র স্বাগতই জানাননি, কিন্তু ভীষণ উদ্যোগী হয়ে স্বেচ্ছায় তিনি তোমাদের কাছে যাচ্ছেন।
2CO 8:18 আর আমরা তাঁর সঙ্গে সেই ভাইকে পাঠাচ্ছি, যিনি সুসমাচারের প্রতি তাঁর সেবাকাজের জন্য মণ্ডলীগুলির দ্বারা প্রশংসিত হয়েছেন।
2CO 8:19 শুধু তাই নয়, আমরা যখন সেই দান বহন করে নিয়ে যাই, আমাদের সঙ্গী হওয়ার জন্য তিনিও মণ্ডলীগুলির দ্বারা মনোনীত হয়েছেন। প্রভুর গৌরবের জন্য ও সহায়তা প্রদানে আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশের জন্য আমরা এই পরিচর্যা সম্পন্ন করছি।
2CO 8:20 সুপ্রচুর এই দান আমরা যেভাবে তদারকি করছি, আমরা চাই না যে কেউ তার সমালোচনা করে।
2CO 8:21 কারণ কেবলমাত্র প্রভুর দৃষ্টিতে নয়, কিন্তু সব মানুষের দৃষ্টিতেও যা ন্যায়সংগত, আমরা তাই করার জন্য প্রাণপণ করছি।
2CO 8:22 সেই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গী করে আমাদের আর একজন ভাইকে পাঠাচ্ছি, যিনি বিভিন্নভাবে বহুবার আমাদের কাছে তাঁর উদ্যমের পরিচয় দিয়েছেন, এমনকি, তোমাদের প্রতি তাঁর গভীর আস্থার জন্য তিনি এখন আরও অনেক বেশি উদ্যমী হয়েছেন।
2CO 8:23 তীতের বিষয়ে বলতে হলে, তিনি আমার অংশীদার ও তোমাদের মধ্যে আমার সহকর্মী। আর আমাদের ভাইদের সম্পর্কে বলি, তাঁরা মণ্ডলীগুলির দ্বারা প্রেরিত ও খ্রীষ্টের গৌরবস্বরূপ।
2CO 8:24 অতএব, তাঁদের কাছে তোমাদের ভালোবাসা ও তোমাদের সম্পর্কে আমাদের গর্ববোধের প্রমাণ প্রদর্শন করো, যেন সব মণ্ডলী তা দেখতে পায়।
2CO 9:1 পবিত্রগণের প্রতি এই যে সেবাকাজ, সে সম্পর্কে তোমাদের কাছে আমার কিছু লেখার প্রয়োজন নেই।
2CO 9:2 সাহায্যের জন্য তোমাদের আগ্রহের কথা আমি জানি। ম্যাসিডোনিয়ার লোকদের কাছে এ সম্পর্কে আমি গর্বও করে থাকি, তাদের বলি যে, আখায়া প্রদেশের মধ্যে তোমরা গত বছর থেকেই দান করার জন্য প্রস্তুত হয়েছ এবং তোমাদের উদ্যম তাদের অধিকাংশ লোককে এ বিষয়ে তৎপর করে তুলতে উৎসাহিত করেছে।
2CO 9:3 কিন্তু আমি এজন্যই এই ভাইদের পাঠাচ্ছি, যেন এ বিষয়ে তোমাদের সম্পর্কে আমাদের গর্ব মিথ্যা না হয়, বরং তোমরা যেন প্রস্তুত থাকো, যেমন তোমরা থাকবে বলে আমি বলেছিলাম।
2CO 9:4 কারণ ম্যাসিডোনিয়ার কোনো লোক আমার সঙ্গে এসে যদি দেখে যে, তোমরা প্রস্তুত নও, আমরা—তোমাদের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না—এত আস্থাশীল বলে লজ্জিতই হব।
2CO 9:5 তাই আমি ভাবলাম, এই ভাইদের অনুরোধ করা আবশ্যক, যেন তাঁরা আগে তোমাদের পরিদর্শন করেন এবং যে মুক্তহস্ত দানের প্রতিশ্রুতি তোমরা দিয়েছিলে, সেই ব্যবস্থাপনা শেষ করতে পারেন। তখন তা মুক্তহস্তের দান বলে প্রস্তুত থাকবে, অনিচ্ছাকৃত দানরূপে নয়।
2CO 9:6 একথা স্মরণে রেখো: যে অল্প পরিমাণে বীজ বোনে, সে অল্প পরিমাণেই ফসল কাটবে এবং যে অনেক পরিমাণে বীজ বোনে, সে অনেক পরিমাণে ফসলও কাটবে।
2CO 9:7 প্রত্যেক ব্যক্তি তার মনে যা দেওয়ার সংকল্প করেছে, তার তাই দেওয়া উচিত, অনিচ্ছুকরূপে বা বাধ্যবাধকতা বলে নয়, কারণ ঈশ্বর উৎফুল্ল দাতাকে প্রেম করেন।
2CO 9:8 আর ঈশ্বর তোমাদের সমস্ত অনুগ্রহে সমৃদ্ধ করতে সমর্থ, যেন সকল বিষয়ে, সবসময়, সব ধরনের পর্যাপ্ততা থাকায়, তোমরা সব ধরনের সৎকর্মে উপচে পড়ো।
2CO 9:9 যেমন লেখা আছে: “সে অবাধে দরিদ্রদের মাঝে দান বিতরণ করেছে, তার ধার্মিকতা চিরস্থায়ী।”
2CO 9:10 এখন যিনি বপনকারীকে বীজ ও আহারের জন্য খাদ্য যুগিয়ে দেন, তিনি তোমাদের জন্য বীজ যুগিয়ে দেবেন ও বৃদ্ধি করবেন, সেই সঙ্গে তোমাদের ধার্মিকতার ফসল প্রচুররূপে বৃদ্ধি করবেন।
2CO 9:11 তোমরা সর্বতোভাবে সমৃদ্ধিশালী হবে, যেন তোমরা সব উপলক্ষে মুক্তহস্ত হতে পারো এবং আমাদের মাধ্যমে তোমাদের মুক্তহস্তের সেই দান ঈশ্বরের প্রতি ধন্যবাদ-দানে পরিণত হবে।
2CO 9:12 তোমাদের সাধিত এই সেবাকাজ কেবলমাত্র যে ঈশ্বরের লোকদের অভাব দূর করেছে, তা নয়, কিন্তু তা বহু অভিব্যক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি ধন্যবাদ-জ্ঞাপনে উপচে পড়ছে।
2CO 9:13 যে সেবাকাজের দ্বারা তোমরা নিজেদের প্রমাণ করেছ, সেই কারণে খ্রীষ্টের সুসমাচারের প্রতি তোমাদের স্বীকৃত বাধ্যতার জন্য এবং তাদের প্রতি ও অন্য সকলের প্রতি তোমাদের মুক্তহস্তের দানের জন্য লোকেরা ঈশ্বরের প্রশংসা করবে।
2CO 9:14 ঈশ্বর তোমাদের প্রতি যে অপার অনুগ্রহ-দান করেছেন, সেই কারণে তোমাদের জন্য তাদের প্রার্থনায়, তাদের হৃদয় তোমাদের প্রতি ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠবে।
2CO 9:15 বর্ণনার অতীত ঈশ্বরের দানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
2CO 10:1 খ্রীষ্টের মৃদুভাব ও সৌজন্যবোধের জন্য, আমি তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি—তোমরা বলো, আমি পৌল নাকি তোমাদের সাক্ষাতে “ভীরু,” কিন্তু অসাক্ষাতে “সাহসী!”
2CO 10:2 আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি যে, যখন আমি আসি, আমাকে যেন তেমন সাহসী হতে না হয়, যেমন কয়েকজন ব্যক্তির প্রতি সাহসী হওয়া আবশ্যক বলে আমি মনে করি, কারণ তারা মনে করে যে, আমরা এই জগতের মানদণ্ড অনুযায়ী জীবনযাপন করি।
2CO 10:3 কারণ যদিও আমরা এই জগতে বসবাস করি, আমরা এই জগতের মতো যুদ্ধের অভিযান করি না।
2CO 10:4 যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমরা সংগ্রাম করি, তা জাগতিক নয়, কিন্তু দুর্গসকল ধ্বংস করার জন্য সেগুলির মধ্যে আছে ঐশ্বরিক পরাক্রম। আমরা সব তর্কবিতর্ক ধ্বংস করে
2CO 10:5 এবং ঈশ্বরজ্ঞানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত ভণিতা ও সমস্ত চিন্তাকে বন্দি করে খ্রীষ্টের আজ্ঞাবহ করি।
2CO 10:6 আর একবার তোমাদের আজ্ঞাবহতা সম্পূর্ণ হলে, আমরা বাকিদের সমস্ত অবাধ্যতার শাস্তি দিতে প্রস্তুত আছি।
2CO 10:7 তোমরা সব বিষয়ের কেবলমাত্র উপরিভাগটা দেখছ। যদি কেউ দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে বলে যে সে খ্রীষ্টের, তাহলে তার একথাও বিবেচনা করা উচিত যে, সে যেমন খ্রীষ্টের, আমরাও তেমনই খ্রীষ্টের।
2CO 10:8 তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করার যে অধিকার প্রভু আমাকে দিয়েছেন, তা নিয়ে যদি আমি একটু বেশি গর্ব করেই থাকি, সেই কর্তৃত্ব তোমাদের ভেঙে ফেলার জন্য নয়, কিন্তু গঠন করার জন্য—সেজন্য আমি একটুও লজ্জিত হব না।
2CO 10:9 আমি চাই না যে তোমরা মনে করো, আমার পত্রগুলির দ্বারা আমি তোমাদের ভয় দেখাতে চাইছি।
2CO 10:10 কারণ কেউ কেউ বলে, “তাঁর পত্রগুলি তো গুরুভার ও শক্তিশালী, কিন্তু উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রভাবহীন ও তাঁর কথাবার্তাও গুরুত্বহীন।”
2CO 10:11 এই ধরনের লোকদের বোঝা উচিত যে, আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাদের পত্রগুলিতে আমরা যেমন, আমরা উপস্থিত হলে, আমাদের কাজেও একই প্রকার হবে।
2CO 10:12 যারা নিজেরাই নিজেদের প্রশংসা করে, তাদের কারও সঙ্গে আমরা নিজেদের সমপর্যায়ভুক্ত বা তুলনা করার সাহস করি না। তারা যখন নিজেরাই নিজেদের পরিমাণ করে ও নিজেদেরই সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে, তখন তারা বিজ্ঞ নয়।
2CO 10:13 আমরা অবশ্য যথাযথ সীমা অতিক্রম করে গর্ব করব না, কিন্তু ঈশ্বর আমাদের জন্য যে কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন, যা তোমাদের কাছ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে, সেই কর্মক্ষেত্র অবধি আমাদের গর্বকে সীমিত রাখব।
2CO 10:14 আমাদের গর্বে আমরা বহুদূর ছাড়িয়ে যাচ্ছি না। তোমাদের কাছে না এলে বরং তেমনই হত, কিন্তু খ্রীষ্টের সুসমাচার নিয়ে আমরা সমস্ত পথ অতিক্রম করে তোমাদের কাছ পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
2CO 10:15 এছাড়াও, অপর ব্যক্তিদের দ্বারা সাধিত কর্মের জন্য আমরা গর্ব করি না এবং এভাবে আমাদের নির্ধারিত সীমা অতিক্রমও করি না। আমাদের আশা এই যে তোমাদের বিশ্বাস যেমন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তোমাদের সাহায্যে আমাদের সুসমাচার প্রচারের কাজও বিস্তৃত হবে।
2CO 10:16 এর পরিণামে তোমাদের এলাকা ছাড়িয়েও আমরা সুসমাচার প্রচার করতে পারি। কারণ অপরের এলাকায় যে কাজ ইতিমধ্যে করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা গর্ব করতে চাই না।
2CO 10:17 তাই, “যে গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক।”
2CO 10:18 কারণ নিজের প্রশংসা যে করে সে নয়, কিন্তু প্রভু যার প্রশংসা করেন, সেই অনুমোদিত হয়।
2CO 11:1 আমি আশা করি, তোমরা আমার সামান্য নির্বুদ্ধিতা সহ্য করবে; অবশ্য তা তোমরা আগে থেকেই করে আসছ।
2CO 11:2 আমি তোমাদের জন্য ঈর্ষান্বিত, তবে সেই ঈর্ষা ঐশ্বরিক। আমি তোমাদেরকে এক বর, খ্রীষ্টের কাছে সমর্পণ করার জন্য বাগদান করেছি, যেন শুচিশুদ্ধ কুমারীর মতো আমি তাঁর কাছে তোমাদের উপস্থাপিত করি।
2CO 11:3 কিন্তু আমার ভয় হয়, হবা যেমন সেই সাপের চতুরতায় প্রতারিত হয়েছিলেন, খ্রীষ্টের প্রতি তোমাদের আন্তরিক ও অমলিন ভক্তি থেকে তোমাদের মন যেন কোনোভাবে বিপথে চালিত না হয়।
2CO 11:4 কারণ কেউ যদি তোমাদের কাছে এসে যে যীশুকে আমরা প্রচার করেছি, তাঁকে ছাড়া এমন এক যীশুকে তোমাদের কাছে প্রচার করে বা যে পবিত্র আত্মা তোমরা পেয়েছ, তা ছাড়া অন্য কোনো আত্মাকে তোমরা গ্রহণ করো, কিংবা যে সুসমাচার তোমরা গ্রহণ করেছ, তা ছাড়া অন্য কোনো সুসমাচার পাও, তাহলে তো দেখছি তোমরা যথেষ্ট সহজেই সেসব সহ্য করছ।
2CO 11:5 প্রকৃতপক্ষে, আমি মনে করি না, ওইসব “প্রেরিতশিষ্য-শিরোমণির” তুলনায় আমি কোনও অংশে নিকৃষ্ট।
2CO 11:6 হতে পারে, আমি কোনও প্রশিক্ষিত বক্তা নই, কিন্তু আমার জ্ঞানবুদ্ধি আছে। আমরা সর্বতোভাবে এ বিষয় তোমাদের কাছে সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট করে দিয়েছি।
2CO 11:7 তোমাদের উন্নত করার জন্য আমি নিজেকে অবনত করে বিনামূল্যে তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করেছি। এতে আমার কি পাপ হয়েছে?
2CO 11:8 তোমাদের সেবা করার জন্য অন্যান্য মণ্ডলী থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আমি তাদের লুট করেছি।
2CO 11:9 আর তোমাদের সঙ্গে থাকার সময় আমার যখন কিছু প্রয়োজন হত, আমি কারও বোঝা হইনি, কারণ ম্যাসিডোনিয়া থেকে আগত ভাইয়েরা আমার সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়েছিলেন। কোনো দিক দিয়েই আমি যেন তোমাদের বোঝা না হই, তাই আমি নিজেকে রক্ষা করেছি এবং এভাবেই আমি করে যাব।
2CO 11:10 খ্রীষ্টের সত্য যেমন নিশ্চিতরূপে আমার মধ্যে বিদ্যমান, সমস্ত আখায়া প্রদেশে কোনো মানুষই আমার এই গর্ব করা থেকে নিবৃত্ত করতে পারবে না।
2CO 11:11 কেন? আমি তোমাদের ভালোবাসি না বলে? ঈশ্বর জানেন, আমি ভালোবাসি!
2CO 11:12 আর তাই আমি যা করছি, তা করেই যাব, যেন যারা আমাদের সমকক্ষ হওয়ার সুযোগ পেতে চায়, যে বিষয়গুলি নিয়ে তারা গর্ব করে, সেগুলির সুযোগ আমি তাদের পেতেই দেব না।
2CO 11:13 কারণ এসব মানুষ হল ভণ্ড প্রেরিত, প্রতারক সব কর্মী, তারা খ্রীষ্টের প্রেরিতশিষ্যদের ছদ্মবেশ ধারণ করে।
2CO 11:14 বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ শয়তান স্বয়ং দীপ্তিময় স্বর্গদূতের ছদ্মবেশ ধারণ করে।
2CO 11:15 তাহলে এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, তার পরিচারকেরা ধার্মিকতার পরিচারকদের ছদ্মবেশ ধারণ করবে। তাদের কাজের নিরিখেই তাদের যোগ্য পরিণতি হবে।
2CO 11:16 আমি আবার বলছি, কেউ যেন আমাকে নির্বোধ বলে মনে না করে। কিন্তু তোমরা যদি করো, তাহলে এক নির্বোধের মতোই আমাকে গ্রহণ করো, যেন আমিও কিছুটা গর্ব করতে পারি।
2CO 11:17 আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে এই যে গর্বপ্রকাশ, প্রভু যে রকম বলতেন, আমি সেরকম বলছি না, কিন্তু বলছি এক নির্বোধের মতো।
2CO 11:18 যেহেতু অনেকে যখন জাগতিক উপায়ে গর্ব করছে, আমিও সেভাবে গর্ব করব।
2CO 11:19 তোমরা সানন্দে মূর্খদের সহ্য করো, যেহেতু তোমরা কত জ্ঞানবান!
2CO 11:20 প্রকৃতপক্ষে, কেউ যদি তোমাদের দাসত্ব করায়, কিংবা শোষণ করে বা তোমাদের কাছ থেকে সুযোগ আদায় করে বা নিজে গর্ব করে বা তোমাদের গালে চড় মারে—তোমরা এদের যে কাউকে সহ্য করে থাকো।
2CO 11:21 আমি লজ্জার সঙ্গে স্বীকার করছি যে, এ বিষয়ে আমরা খুবই দুর্বলচিত্ত ছিলাম! অপর কেউ যে বিষয়ে গর্ব করতে সাহস করে—আমি নির্বোধের মতোই বলছি—আমিও গর্ব করতে সাহস করি।
2CO 11:22 ওরা কি হিব্রু? আমিও তাই। ওরা কি ইস্রায়েলী? আমিও তাই। ওরা কি অব্রাহামের বংশধর? আমিও তাই।
2CO 11:23 ওরা কি খ্রীষ্টের সেবক? (আমি উন্মাদের মতো একথা বলছি।) আমি বেশিমাত্রায়। আমি অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি, ঘনঘন কারাগারে বন্দি হয়েছি, অনেক বেশি চাবুকের মার খেয়েছি, বারবার মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছি।
2CO 11:24 ইহুদিদের কাছ থেকে আমি পাঁচ দফায় ঊনচল্লিশ ঘা করে চাবুক খেয়েছি।
2CO 11:25 তিনবার আমাকে বেত দিয়ে মারা হয়েছে, একবার পাথর দিয়ে, তিনবার আমি জাহাজডুবিতে পড়েছি, অগাধ সমুদ্রের জলে আমি এক রাত ও একদিন কাটিয়েছি,
2CO 11:26 আমি অবিরত এক স্থান থেকে অন্যত্র গিয়েছি। আমি কতবার নদীতে বিপদে পড়েছি, দস্যুদের কাছে বিপদে, স্বদেশবাসীদের কাছে, অইহুদি জাতির কাছে বিপদে পড়েছি, নগরের মধ্যে, মরুপ্রান্তরে, সমুদ্রের মধ্যে ও ভণ্ড ভাইদের মধ্যে আমি বিপদে পড়েছি।
2CO 11:27 আমি পরিশ্রম ও কষ্ট করেছি এবং প্রায়ই অনিদ্রায় কাটিয়েছি, আমি ক্ষুধাতৃষ্ণার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি ও কতবারই অনাহারে কাটিয়েছি, শীতে ও নগ্নতায় দিনযাপন করেছি।
2CO 11:28 এর সবকিছু ছাড়া, প্রতিদিন একটি বিষয় আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে, তা হল, সব মণ্ডলীর চিন্তা।
2CO 11:29 কেউ দুর্বল হলে আমি দুর্বলতা অনুভব করি না? কেউ পাপপথে চালিত হলে আমার অন্তর রাগে জ্বলে ওঠে না?
2CO 11:30 আমাকে যদি গর্ব করতেই হয়, যেসব বিষয় আমার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে, আমি সেসব বিষয় নিয়েই গর্ব করব।
2CO 11:31 প্রভু যীশুর ঈশ্বর ও পিতা, যিনি চিরতরে প্রশংসনীয়, তিনি জানেন যে, আমি মিথ্যা কথা বলছি না!
2CO 11:32 দামাস্কাসে রাজা আরিতা-র অধীনস্থ প্রশাসক আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য দামাস্কাসবাসীদের সেই নগরে পাহারা বসিয়েছিলেন।
2CO 11:33 কিন্তু প্রাচীরের একটি জানালা দিয়ে ঝুড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এভাবে আমি তাঁর হাত এড়িয়েছিলাম।
2CO 12:1 আমি অবশ্যই গর্ব করতে থাকব। যদিও লাভজনক কিছু না হলেও আমি প্রভুর কাছ থেকে উপলব্ধ বিভিন্ন দর্শন ও প্রত্যাদেশের কথা বলে যাব।
2CO 12:2 আমি খ্রীষ্টে আশ্রিত একজন মানুষকে জানি, চোদ্দো বছর আগে যিনি তৃতীয় স্বর্গে নীত হয়েছিলেন। তা সশরীরে, না অশরীরে, তা আমি জানি না—ঈশ্বরই জানেন।
2CO 12:3 আর আমি জানি যে এই ব্যক্তি—সশরীরে, না অশরীরে, তা আমি জানি না, ঈশ্বরই জানেন—
2CO 12:4 তাঁকে পরমদেশে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তিনি অবর্ণনীয় সব বিষয় শুনতে পেয়েছিলেন, যে বিষয়গুলি বলার অধিকার মানুষকে দেওয়া হয়নি।
2CO 12:5 এরকম ব্যক্তির জন্যই আমি গর্ব করব; কিন্তু আমার দুর্বলতাগুলি ছাড়া আমি নিজের সম্পর্কে কোনো গর্ব করব না।
2CO 12:6 যদিও আমি গর্ব করাকে বেছে নিই, আমি একজন নির্বোধ হব না, কারণ আমি সত্যি কথাই বলব। তবুও আমি সংযত থাকি, যেন আমার মধ্যে কেউ যা দেখে বা আমার কাছে যা শোনে, তার চেয়ে বেশি সে আমাকে কিছু মনে না করে।
2CO 12:7 এই সমস্ত অসাধারণ, মহৎ প্রত্যাদেশের কারণে, আমি যেন গর্বে ফুলেফেঁপে না উঠি, আমার শরীরে এক কাঁটা, শয়তানের এক দূত, দেওয়া হয়েছে যেন সে আমাকে কষ্ট দেয়।
2CO 12:8 আমার কাছ থেকে এটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনবার আমি প্রভুর কাছে মিনতি করেছিলাম।
2CO 12:9 কিন্তু তিনি আমাকে বলেছেন, “আমার অনুগ্রহ তোমার পক্ষে যথেষ্ট, কারণ আমার শক্তি দুর্বলতায় সিদ্ধিলাভ করে।” অতএব, আমার দুর্বলতা সম্পর্কে আমি সানন্দে আরও বেশি গর্ব করব, যেন খ্রীষ্টের শক্তি আমার উপরে অবস্থিতি করে।
2CO 12:10 এই কারণে, খ্রীষ্টের জন্য আমি বিভিন্ন দুর্বলতায়, অপমানে, অনটনে, ক্লেশভোগ ও কষ্ট-সংকটে আনন্দ করি, কারণ যখন আমি দুর্বল, তখনই আমি শক্তিমান।
2CO 12:11 আমি নিজেকে নির্বোধ প্রতিপন্ন করেছি, কিন্তু তোমরাই তা করতে আমাকে বাধ্য করেছ। তোমাদের দ্বারা আমার প্রশংসা হওয়া উচিত ছিল, কারণ যদিও আমি কিছু নই, সেই “প্রেরিতশিষ্য-শিরোমণিদের” তুলনায় কিন্তু কোনো অংশে নিকৃষ্ট নই।
2CO 12:12 যেসব বিষয় কোনো প্রেরিতশিষ্যকে চিহ্নিত করে—চিহ্নকাজ, বিস্ময়কর ও অলৌকিক কর্মসকল—অত্যন্ত প্রযত্নের সঙ্গে আমি সেগুলি তোমাদের মধ্যে করেছি।
2CO 12:13 অন্যান্য সব মণ্ডলীর তুলনায় তোমরা কি নিকৃষ্ট হয়েছ? আমি কখনও তোমাদের কাছে বোঝা হইনি, কেবলমাত্র এই বিষয়টি ছাড়া? এই অন্যায়টির জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।
2CO 12:14 এখন, এই তৃতীয়বার, আমি তোমাদের কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি। আমি তোমাদের পক্ষে বোঝা হব না, কারণ আমি যা চাই, তা তোমাদের ধনসম্পত্তি নয়, কিন্তু তোমাদেরই চাই। যাই হোক, বাবা-মার জন্য সঞ্চয় করা সন্তানদের উচিত নয়, কিন্তু বাবা-মা সন্তানদের জন্য তা করবে।
2CO 12:15 তাই, আমার যা কিছু আছে, সবই এবং নিজেকেও তোমাদের জন্য সানন্দে ব্যয় করব। আমি যদি তোমাদের বেশি ভালোবাসি, তোমরা কি আমাকে কম ভালোবাসবে?
2CO 12:16 যাই হোক, একথা ঠিক, আমি তোমাদের কাছে বোঝা হইনি। তবুও, চতুর ব্যক্তি আমি নাকি তোমাদের কৌশলে বশ করেছি!
2CO 12:17 যাদের আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম, তাদের কারও মাধ্যমে আমি কি তোমাদের শোষণ করেছি?
2CO 12:18 তোমাদের কাছে যাওয়ার জন্য আমি তীতকে বিনীত অনুরোধ করেছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের সেই ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। তীত তোমাদের শোষণ করেননি, তাই নয় কি? আমরা উভয়ই কি একই মানসিকতা নিয়ে কাজ করিনি ও একই পথ অনুসরণ করিনি?
2CO 12:19 তোমরা কি এ পর্যন্ত মনে ভাবছ যে, আমরা তোমাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করছি? ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা খ্রীষ্টে আশ্রিত মানুষদের মতোই কথা বলছি। প্রিয় বন্ধুরা, আমরা যা কিছু করি, তোমাদের শক্তি জোগানোর জন্যই তা করি।
2CO 12:20 কারণ আমার ভয় হয়, আমি যখন আসব, আমি তোমাদের যেমন দেখতে চাই, তেমন হয়তো দেখতে পাব না এবং তোমরা আমাকে যেমনভাবে দেখতে চাও, তেমন হয়তো দেখতে পাবে না। আমার ভয় হয়, হয়তো কলহবিবাদ, ঈর্ষা, ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ, দলাদলি, অপবাদ, কুৎসা-রটনা, ঔদ্ধত্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাবে।
2CO 12:21 আমার আশঙ্কা, আমি যখন আবার আসব, আমার ঈশ্বর তোমাদের সামনে আমাকে নত করবেন। আগে যারা পাপ করেছে অথচ ঘৃণ্য কাজকর্ম, যৌন-পাপ ও লাম্পট্যে জড়িয়ে থাকার জন্য অনুতাপ করেনি, এমন অনেক মানুষের জন্য আমাকে দুঃখ পেতে হবে।
2CO 13:1 তোমাদের কাছে এ হবে আমার তৃতীয় পরিদর্শন। “দুই বা তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে কোনো বিষয় সত্যি বলে প্রমাণিত হবে।”
2CO 13:2 দ্বিতীয়বার তোমাদের সঙ্গে থাকার সময় ইতিমধ্যে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিয়েছি। এখন আমি অনুপস্থিত থাকাকালীন তার পুনরাবৃত্তি করছি। আমি যখন ফিরে আসব তখন, ইতিপূর্বে যারা পাপ করেছে, অথবা অন্য কাউকেই আমি অব্যাহতি দেব না,
2CO 13:3 কারণ খ্রীষ্ট যে আমার মাধ্যমে কথা বলেন, তোমরা তার প্রমাণ দাবি করছ। তোমাদের সঙ্গে আচরণে তিনি দুর্বল নন, বরং তোমাদের মধ্যে তিনি পরাক্রমী।
2CO 13:4 কারণ নিশ্চিতরূপে বলতে গেলে, তিনি দুর্বলতায় ক্রুশার্পিত হয়েছিলেন, তবুও ঈশ্বরের পরাক্রমের দ্বারা তিনি জীবিত আছেন। একইভাবে, আমরা তাঁতে দুর্বল, তবুও তোমাদের প্রতি আচরণে, আমরা তাঁর সঙ্গে ঐশ্বরিক পরাক্রমে জীবিত থাকব।
2CO 13:5 নিজেদের পরীক্ষা করে দেখো, তোমরা বিশ্বাসে আছ, কি না; নিজেরাই পরীক্ষা করো। তোমরা কি উপলব্ধি করতে পারো না যে, যীশু খ্রীষ্ট তোমাদের মধ্যে আছেন—যদি না তোমরা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হও?
2CO 13:6 যাই হোক, আমি আশা করি, তোমরা জানতে পারবে যে, আমরা পরীক্ষায় ব্যর্থ হইনি।
2CO 13:7 এখন আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যেন তোমরা আর কোনো অন্যায় না করো। এরকম নয় যে, লোকেরা দেখবে আমরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, কিন্তু যা ন্যায়সংগত, তোমরা তা করবে, যদিও আমরা ব্যর্থ হয়েছি বলে মনে হয়।
2CO 13:8 কারণ সত্যের বিপক্ষে আমরা কিছুই করতে পারি না, কিন্তু কেবলমাত্র সত্যের পক্ষেই পারি।
2CO 13:9 তোমরা যদি সবল হও, আমরা দুর্বল হতেও আনন্দ বোধ করি। তোমাদের পরিপক্বতার জন্য আমরা প্রার্থনা করি।
2CO 13:10 এজন্যই আমি অনুপস্থিত থাকার সময় এই সমস্ত বিষয় লিখছি, যেন আমি যখন আসি, কর্তৃত্বাধিকার প্রয়োগের জন্য আমাকে কঠোর হতে না হয়। এই কর্তৃত্বাধিকার প্রভু আমাকে দিয়েছেন তোমাদের গঠন করে তোলার জন্য, তোমাদের ভেঙে ফেলার জন্য নয়।
2CO 13:11 সবশেষে ভাইবোনরা, তোমরা আনন্দ করো। পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য সচেষ্ট হও। পরস্পরকে সাহায্য করো ও তোমরা সমমনা হও। শান্তিতে বসবাস করো। আর প্রেম ও শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে থাকবেন।
2CO 13:12 তোমরা পবিত্র চুম্বনে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাও।
2CO 13:13 ঈশ্বরের সব লোকজন তাদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন।
2CO 13:14 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ ও ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা, তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
GAL 1:1 পৌল, একজন প্রেরিতশিষ্য—মানুষের কাছ থেকে বা কোনো মানুষের দ্বারা প্রেরিত নয়, কিন্তু যীশু খ্রীষ্টের দ্বারা ও যিনি তাঁকে মৃত্যু থেকে জীবিত করে তুলেছেন, সেই পিতা ঈশ্বরের দ্বারা নিযুক্ত—
GAL 1:2 এবং আমার সঙ্গী সমস্ত ভাই, আমরা গালাতিয়ার সকল মণ্ডলীকে এই পত্র লিখছি:
GAL 1:3 আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট তোমাদের অনুগ্রহ ও শান্তি দান করুন।
GAL 1:4 তিনি আমাদের সমস্ত পাপের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন যেন আমাদের ঈশ্বর ও পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী বর্তমান মন্দ যুগ থেকে আমাদের উদ্ধার করতে পারেন।
GAL 1:5 চিরকাল তাঁর মহিমা হোক। আমেন।
GAL 1:6 আমি আশ্চর্য বোধ করছি যে, যিনি তোমাদের খ্রীষ্টের অনুগ্রহে আহ্বান করেছেন, তাঁকে তোমরা এত শীঘ্র ছেড়ে দিয়ে, অন্য এক সুসমাচারের দিকে ঝুঁকে পড়েছ—
GAL 1:7 যা আসলে কোনো সুসমাচারই নয়। স্পষ্টত, কিছু লোক তোমাদের বিভ্রান্ত করছে এবং খ্রীষ্টের সুসমাচারকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে।
GAL 1:8 কিন্তু যে সুসমাচার আমরা তোমাদের কাছে প্রচার করেছিলাম, তা ছাড়া অন্য কোনো সুসমাচার যদি আমরা বা স্বর্গ থেকে আগত কোনো দূতও প্রচার করে, তাহলে সে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হোক।
GAL 1:9 যেমন আমরা এর আগে বলেছি, তেমনই আমি এখন আবার বলছি, তোমরা যে সুসমাচার গ্রহণ করেছ, তা ছাড়া অন্য কোনও সুসমাচার কেউ যদি প্রচার করে, তাহলে সে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হোক।
GAL 1:10 আমি কি এখন মানুষের সমর্থন পেতে চাইছি, না ঈশ্বরের? অথবা, আমি কি মানুষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছি? আমি যদি এখনও মানুষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতাম, আমি খ্রীষ্টের একজন দাস হতাম না।
GAL 1:11 ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের জানাতে চাই, যে সুসমাচার আমি প্রচার করেছি, তা মানবসৃষ্ট কোনো বিষয় নয়।
GAL 1:12 কোনো মানুষের কাছে আমি তা পাইনি, কিংবা শিক্ষাও পাইনি; বরং যীশু খ্রীষ্ট নিজেই আমার কাছে তা প্রকাশ করেছিলেন।
GAL 1:13 কারণ ইহুদি ধর্মে আমার অতীত জীবনের কথা তোমরা তো শুনেছ। ঈশ্বরের মণ্ডলীকে আমি কী মারাত্মকরূপে অত্যাচার ও ধ্বংস করার চেষ্টা করতাম।
GAL 1:14 আমি ইহুদি ধর্মশিক্ষায় আমার সমবয়সি অনেক ইহুদিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম এবং আমার পূর্বপুরুষদের রীতিনীতি পালন করায় আমি ছিলাম খুব আগ্রহী।
GAL 1:15 কিন্তু ঈশ্বর, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে পৃথক করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাকে আহ্বান করেছেন,
GAL 1:16 তিনি যখন তাঁর পুত্রকে আমার মধ্যে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করলেন, যেন আমি অইহুদি জাতিদের কাছে তাঁকে প্রচার করি, তখন আমি এক মুহূর্তের জন্যও কোনো মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করিনি,
GAL 1:17 এমনকি যাঁরা আমার আগে প্রেরিত হয়েছিলেন আমি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য জেরুশালেমেও গেলাম না, কিন্তু আমি সঙ্গে সঙ্গে আরবে চলে গেলাম ও পরে দামাস্কাসে ফিরে এলাম।
GAL 1:18 এরপর, তিন বছর পরে, পিতরের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি জেরুশালেমে গেলাম ও পনেরো দিন তাঁর সঙ্গে কাটালাম।
GAL 1:19 সেখানে অন্য প্রেরিতশিষ্যদের মধ্যে আর কাউকে দেখতে পেলাম না, কেবলমাত্র প্রভুর ভাই যাকোব ছিলেন।
GAL 1:20 ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমি তোমাদের আশ্বস্ত করে বলছি, আমি তোমাদের কাছে যা লিখছি, তা মিথ্যা নয়।
GAL 1:21 তারপর আমি সিরিয়া ও কিলিকিয়া প্রদেশে গেলাম।
GAL 1:22 আমি খ্রীষ্টে স্থিত যিহূদিয়ার মণ্ডলীগুলির কাছে ব্যক্তিগতভাবে অপরিচিত ছিলাম।
GAL 1:23 তারা কেবলমাত্র এই সংবাদ পেয়েছিল, “আগে যে লোকটি আমাদের উপর অত্যাচার করত, সে এখন সেই বিশ্বাসের কথা প্রচার করছে, যা সে আগে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।”
GAL 1:24 আর তারা আমার কারণে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
GAL 2:1 চোদ্দো বছর পরে, আমি আবার জেরুশালেমে গেলাম; এসময় সঙ্গে ছিলেন বার্ণবা। আমি তীতকেও সঙ্গে নিলাম।
GAL 2:2 ঈশ্বরের ইচ্ছা প্রকাশিত হওয়ার আগে আমি সেখানে গিয়েছিলাম ও যে সুসমাচার আমি অইহুদি জাতিদের কাছে প্রচার করি, তা তাঁদের সামনে বললাম। কিন্তু এ কাজ আমি গোপনে, যাঁদের নেতৃস্থানীয় বলে আমার মনে হয়েছিল, তাঁদের কাছে করলাম, কারণ ভয় হচ্ছিল, আমি হয়তো অনর্থক পরিশ্রম করেছি বা করছি।
GAL 2:3 এমনকি, আমার সঙ্গী তীত, যিনি জাতিতে গ্রিক ছিলেন, তাঁকেও সুন্নত করতে বাধ্য করা হয়নি।
GAL 2:4 কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে আমরা যে স্বাধীনতা ভোগ করি, তার উপরে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ও আমাদের ক্রীতদাসে পরিণত করার জন্য কয়েকজন ভণ্ড ভাই আমাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছিল।
GAL 2:5 আমরা এক মুহূর্তের জন্যও তাদের বশ্যতাস্বীকার করলাম না, যেন সুসমাচারের সত্য তোমাদের জন্য রক্ষা করতে পারি।
GAL 2:6 আর যাদের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল—তারা যেই হোন না কেন, আমার কিছু আসে-যায় না; ঈশ্বর বাহ্যিক রূপ দেখে বিচার করেন না—সেই ব্যক্তিরা আমার বার্তার সঙ্গে অতিরিক্ত কিছুই যোগ করেননি।
GAL 2:7 এর বিপরীতে, তারা দেখলেন যে, পিতরকে যেমন ইহুদিদের কাছে, তেমনই আমাকে অইহুদি জাতিদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
GAL 2:8 কারণ ঈশ্বর, যিনি ইহুদিদের কাছে প্রেরিতশিষ্যরূপে কাজ করার জন্য পিতরের পরিচর্যায় সক্রিয় ছিলেন, তিনি অইহুদি জাতিদের কাছে প্রেরিতশিষ্যরূপে কাজ করার জন্য আমার পরিচর্যাতেও সক্রিয় ছিলেন।
GAL 2:9 যাকোব, পিতর ও যোহন—যাঁরা মণ্ডলীর স্তম্ভরূপে খ্যাত ছিলেন—তাঁরা আমাকে দেওয়া এই অনুগ্রহ উপলব্ধি করে আমার ও বার্ণবার হাতে হাত মিলিয়ে সহকর্মীরূপে আমাদের গ্রহণ করলেন। তাঁরা সম্মত হলেন যে, অইহুদিদের কাছে আমাদের যাওয়া উচিত ও তাঁদের উচিত ইহুদিদের কাছে যাওয়া।
GAL 2:10 তাঁরা শুধু চাইলেন, আমরা যেন নিয়ত দরিদ্রদের কথা স্মরণে রাখি, যে কাজ করার জন্য আমিও আগ্রহী ছিলাম।
GAL 2:11 পিতর যখন আন্তিয়খে এলেন, আমি মুখের উপর তাঁর প্রতিবাদ করলাম, কারণ স্পষ্টতই তিনি উচিত কাজ করেননি।
GAL 2:12 যাকোবের কাছ থেকে কিছু লোক আসার আগে তিনি অইহুদিদের সঙ্গে আহার করতেন; কিন্তু তারা উপস্থিত হলে তিনি পিছিয়ে গেলেন ও অইহুদিদের কাছ থেকে নিজেকে পৃথক করতে লাগলেন, কারণ যারা সুন্নতপ্রাপ্ত ছিল, তিনি তাদের ভয় পেতেন।
GAL 2:13 অন্য সব ইহুদিরাও তাঁর এই ভণ্ডামিতে যোগ দিল, এমনকি, তাঁদের ভণ্ড আচরণে বার্ণবাও ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন।
GAL 2:14 আমি যখন দেখলাম, তাঁরা সুসমাচারের সত্য অনুযায়ী কাজ করছেন না, আমি তাঁদের সকলের সামনে পিতরকে বললাম, “তুমি একজন ইহুদি, তবুও তুমি ইহুদির মতো নয় বরং একজন অইহুদির মতো জীবনযাপন করছ। তাহলে, এ কী রকম যে, তুমি অইহুদিদের বাধ্য করছ ইহুদি রীতিনীতি পালন করতে?
GAL 2:15 “আমরা, যারা জন্মসূত্রে ইহুদি, কিন্তু ‘অইহুদি পাপী’ নই,
GAL 2:16 আমরা জানি যে, বিধান পালন করে কোনো মানুষ নির্দোষ প্রতিপন্ন হয় না, কিন্তু হয় যীশু খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস দ্বারা। তাই আমরাও খ্রীষ্ট যীশুতে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যেন আমরা খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন হতে পারি, বিধান পালনের দ্বারা নয়, কারণ বিধান পালনের দ্বারা কেউই নির্দোষ প্রতিপন্ন হবে না।
GAL 2:17 “যদি খ্রীষ্টে নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার প্রচেষ্টায় আমরাও যদি পাপী বলে প্রতিপন্ন হয়ে থাকি, তবে কি ধরে নিতে হবে যে খ্রীষ্ট পাপের সহায়ক? অবশ্যই নয়!
GAL 2:18 যদি আমি যা ধ্বংস করেছি, তাই আবার তৈরি করি, আমি নিজেকে আইনভঙ্গকারী বলেই প্রমাণ করি।
GAL 2:19 “কারণ বিধানের মাধ্যমে বিধানের প্রতি আমি মৃত্যুবরণ করেছি, যেন আমি ঈশ্বরের জন্য বেঁচে থাকতে পারি। আমি খ্রীষ্টের সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছি।
GAL 2:20 আমি আর জীবিত নেই, কিন্তু খ্রীষ্টই আমার মধ্যে জীবিত আছেন। আর এই শরীরে আমি যে জীবনযাপন করছি, তা আমি ঈশ্বরের পুত্রের উপর বিশ্বাস দ্বারাই যাপন করছি; তিনি আমাকে প্রেম করেছেন ও আমার জন্য নিজেকে প্রদান করেছেন।
GAL 2:21 আমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ অগ্রাহ্য করতে পারি না, কারণ যদি বিধান দ্বারা ধার্মিকতা লাভ করা যায়, তাহলে বৃথাই খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেছেন!”
GAL 3:1 ওহে অবুঝ গালাতীয়রা! কে তোমাদের জাদু করেছে? তোমাদেরই চোখের সামনে ক্রুশবিদ্ধ যীশু খ্রীষ্টের রূপ স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে।
GAL 3:2 আমি তোমাদের কাছে থেকে কেবলমাত্র একটি বিষয় জানতে চাই। তোমরা কি বিধান পালন করে পবিত্র আত্মা লাভ করেছিলে, নাকি যা শুনেছিলে তা বিশ্বাস করে?
GAL 3:3 তোমরা কি এতই নির্বোধ? সেই আত্মায় শুরু করে, এখন কি তোমরা মানবিক প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছ?
GAL 3:4 তোমরা কি বৃথাই এত কষ্টভোগ করেছ—যদি তা প্রকৃতই বৃথা হয়ে থাকে?
GAL 3:5 ঈশ্বর তোমাদের তাঁর আত্মা দান করেন ও তোমাদের মধ্যে অলৌকিক সব কাজ করেন, কারণ তোমরা বিধান পালন করো বলে নাকি যা শুনেছিলে, তা বিশ্বাস করেছ বলে?
GAL 3:6 অব্রাহামের কথা বিবেচনা করো। তিনি “ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন, তিনি তা অব্রাহামের পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য করলেন।”
GAL 3:7 তাহলে বুঝে নাও, যারা বিশ্বাস করে, তারাই অব্রাহামের সন্তান।
GAL 3:8 শাস্ত্র আগেই দেখেছিল যে, ঈশ্বর অইহুদি জাতিদের বিশ্বাসের দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন করবেন এবং সেই সুসমাচার অব্রাহামের কাছে আগেই ঘোষণা করেছিলেন। “সমস্ত জাতি তোমার মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করবে।”
GAL 3:9 তাই যাদের বিশ্বাস আছে, তারা বিশ্বাসী অব্রাহামের সঙ্গেই আশীর্বাদ লাভ করেছে।
GAL 3:10 যারা বিধান পালনের উপরে আস্থাশীল, তারা সকলে এক অভিশাপের অধীন, কারণ লেখা আছে, “প্রতিটি লোক অভিশপ্ত যে বিধানের সব কথাগুলি পালন করে না।”
GAL 3:11 স্পষ্টত, কোনো মানুষই বিধানের দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ প্রতিপন্ন হয় না, কারণ, “ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের দ্বারাই জীবিত থাকবে।”
GAL 3:12 বিধান বিশ্বাসভিত্তিক নয়; এর পরিবর্তে, “যে ব্যক্তি এইসব পালন করবে, সে এগুলির দ্বারা জীবিত থাকবে।”
GAL 3:13 খ্রীষ্টই মূল্য দিয়ে বিধানের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, কারণ তিনি আমাদের জন্য অভিশাপস্বরূপ হলেন, কারণ এরকম লেখা আছে, “যে ব্যক্তিকে গাছে টাঙানো হয়, সে অভিশাপগ্রস্ত।”
GAL 3:14 তিনি আমাদের মুক্ত করলেন, যেন যে আশীর্বাদ অব্রাহামকে দেওয়া হয়েছিল, তা খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে অইহুদিদের কাছে পৌঁছায়, যেন বিশ্বাসের দ্বারা আমরা পবিত্র আত্মার প্রতিশ্রুতি লাভ করি।
GAL 3:15 সকল ভাই ও বোন, প্রতিদিনের জীবন থেকে আমি একটি উদাহরণ দিতে চাই। যে দুজনের মধ্যে চুক্তিপত্র ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাতে যেমন কেউ কিছু বাদ দিতে পারে না বা তাতে কিছু যোগ করতে পারে না, তেমনই এক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
GAL 3:16 সেই প্রতিশ্রুতিগুলি অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরের কাছে বলা হয়েছিল। শাস্ত্র এরকম বলেনি, “বংশধরদের কাছে,” যার অর্থ, অনেকের কাছে, কিন্তু “তোমার বংশের কাছে,” যার অর্থ, একজন ব্যক্তি অর্থাৎ খ্রীষ্টের কাছে।
GAL 3:17 আমি যা বলতে চাই, তা হল, যে বিধান 430 বছর পরে প্রবর্তিত হল, তা পূর্বে ঈশ্বরের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিয়মকে বাতিল করতে পারে না এবং এভাবে সেই প্রতিশ্রুতি বিফল হতে পারে না।
GAL 3:18 কারণ উত্তরাধিকার যদি বিধানের উপরে নির্ভরশীল হয়, তাহলে তা আর কোনো প্রতিশ্রুতির উপরে নির্ভরশীল হয় না; কিন্তু ঈশ্বর তাঁর অনুগ্রহে এক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অব্রাহামকে তা দান করেছিলেন।
GAL 3:19 তাহলে, বিধানের উদ্দেশ্য কী ছিল? এই শাস্ত্রীয় বিধান অপরাধের কারণে যুক্ত হয়েছিল, যতক্ষণ না পর্যন্ত যে বংশধরের উদ্দেশে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁর আগমন হয়। স্বর্গদূতদের মাধ্যমে এক মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা সেই বিধান কার্যকরী হয়েছিল।
GAL 3:20 যেখানে একটি পক্ষ, সেখানে কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিত্ব করে না; কিন্তু ঈশ্বর এক।
GAL 3:21 তাহলে বিধান কি ঈশ্বরের সব প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা করেছিল? একেবারেই নয়! কারণ জীবনদানের জন্য যদি কোনো বিধান দেওয়া হত, তাহলে বিধানের দ্বারা অবশ্যই ধার্মিকতা উপলব্ধ হত।
GAL 3:22 কিন্তু শাস্ত্র ঘোষণা করে যে, সমস্ত জগৎ পাপের কাছে বন্দি হয়ে আছে, যেন যা প্রতিশ্রুত হয়েছিল, তা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে দেওয়া যায় ও যারা বিশ্বাস করে, তাদের প্রতি দেওয়া হয়।
GAL 3:23 এই বিশ্বাস আসার পূর্বে, আমরা বিধানের দ্বারা বন্দি হয়ে অবরুদ্ধ ছিলাম, যতক্ষণ না বিশ্বাস প্রকাশিত হল।
GAL 3:24 তাই আমাদের খ্রীষ্টের উদ্দেশে চালিত করার জন্য বিধানকে দায়িত্ব দেওয়া হল, যেন আমরা বিশ্বাসের দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন হই।
GAL 3:25 এখন সেই বিশ্বাসের আগমন হওয়ায়, আমরা আর বিধানের তত্ত্বাবধানে নেই।
GAL 3:26 তোমরা সকলেই খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের পুত্রকন্যা হয়েছ,
GAL 3:27 কারণ তোমরা সকলে যারা খ্রীষ্টে বাপ্তাইজিত হয়েছ, তারা সকলে খ্রীষ্টকে পরিধান করেছ।
GAL 3:28 ইহুদি কি গ্রিক, ক্রীতদাস কি স্বাধীন, পুরুষ কি স্ত্রী, তোমরা সকলেই খ্রীষ্ট যীশুতে এক।
GAL 3:29 আর তোমরা যদি খ্রীষ্টের হও, তাহলে তোমরা অব্রাহামের বংশ, সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উত্তরাধিকারী।
GAL 4:1 যা আমি বলতে চাইছি, তা হল, উত্তরাধিকারী যতদিন শিশু থাকে, সে সমস্ত সম্পত্তির অধিকারী হলেও, ক্রীতদাসের সঙ্গে তার কোনও পার্থক্য থাকে না।
GAL 4:2 তার বাবা যে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, সেই সময় পর্যন্ত সে অভিভাবক ও প্রতিপালকদের তত্ত্বাবধানে থাকে।
GAL 4:3 একইভাবে, আমরা যখন শিশু ছিলাম, আমরা জগতের বিভিন্ন রীতিনীতির অধীনে ক্রীতদাস ছিলাম।
GAL 4:4 কিন্তু সময় যখন সম্পূর্ণ হল, ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠালেন; তিনি এক নারী থেকে জন্ম নিলেন, বিধানের অধীনে জন্মগ্রহণ করলেন,
GAL 4:5 যেন যারা বিধানের অধীন তাদের মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করেন এবং আমরা পুত্র হওয়ার পূর্ণ অধিকার লাভ করি।
GAL 4:6 যেহেতু আমরা পুত্র, তাই ঈশ্বর তাঁর পুত্রের আত্মাকে আমাদের হৃদয়ে পাঠালেন, যে আত্মা “আব্বা, পিতা” বলে ডেকে ওঠেন।
GAL 4:7 তাই তোমরা আর ক্রীতদাস নও, কিন্তু পুত্র; আর যেহেতু তোমরা পুত্র, ঈশ্বর তোমাদের উত্তরাধিকারীও করেছেন।
GAL 4:8 আগে তোমরা যখন ঈশ্বরকে জানতে না, তোমরা তাদেরই দাসত্ব করতে, যারা প্রকৃতপক্ষে দেবতা নয়।
GAL 4:9 কিন্তু এখন, যেহেতু তোমরা ঈশ্বরকে জানো—বা সঠিক বলতে গেলে, তোমরাই ঈশ্বরের দ্বারা পরিচিত হয়েছ—তাহলে, কী করে তোমরা ওইসব দুর্বল ও ঘৃণ্য নীতিগুলির প্রতি ফিরে যাচ্ছ? তোমরা কি আবার ফিরে গিয়ে সেসবের দ্বারা দাসত্বে আবদ্ধ হতে চাও?
GAL 4:10 তোমরা বিশেষ বিশেষ দিন, মাস, ঋতু ও বছর পালন করছ!
GAL 4:11 তোমাদের জন্য আমার ভয় হয়, হয়তো আমি তোমাদের মধ্যে ব্যর্থ পরিশ্রম করেছি।
GAL 4:12 ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা আমার মতো হও, কারণ আমি তোমাদের মতো হয়েছি। তোমরা আমার প্রতি কোনো অন্যায় করোনি।
GAL 4:13 যেমন তোমরা জানো, আমি অসুস্থ ছিলাম, যখন প্রথমবার তোমাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করেছিলাম।
GAL 4:14 যদিও আমার অসুস্থতা তোমাদের কাছে পরীক্ষার কারণস্বরূপ ছিল, তোমরা আমার সঙ্গে ঘৃণ্য ও অবজ্ঞাসুলভ আচরণ করোনি। বরং তোমরা আমাকে যেন ঈশ্বরের এক দূতের মতো, স্বয়ং খ্রীষ্ট যীশুর মতো মনে করে স্বাগত জানিয়েছিলে।
GAL 4:15 তোমাদের সেইসব আনন্দের কী হল? আমি সাক্ষ্য দিতে পারি যে, সম্ভব হলে, তোমরা নিজের নিজের চোখদুটি উপড়ে নিয়ে আমাকে দিতে!
GAL 4:16 সত্যিকথা বলার জন্য আমি কি এখন তোমাদের শত্রু হয়েছি?
GAL 4:17 ওইসব লোক তোমাদের জয় করার জন্য আগ্রহী হয়েছে, কিন্তু কোনো ভালো উদ্দেশ্যে নয়। তারা যা চায় তা হল আমাদের কাছ থেকে তোমাদের দূরে সরিয়ে দিতে, যেন তোমরা ওদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠো।
GAL 4:18 কেবলমাত্র তোমাদের মধ্যে যখন উপস্থিত থাকি তখন নয়, কিন্তু সব সময়ের জন্য সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে আগ্রহী হওয়া ভালো।
GAL 4:19 আমার প্রিয় সন্তানেরা তোমাদের জন্য আমি আবার প্রসবযন্ত্রণা ভোগ করছি, যতক্ষণ না তোমরা খ্রীষ্টের মতো হও।
GAL 4:20 আমার এমন ইচ্ছা হচ্ছে যে, আমি যদি এখনই তোমাদের কাছে যেতে ও অন্য স্বরে কথা বলতে পারতাম! কারণ আমি তোমাদের নিয়ে যে কী করব তা বুঝতে পারছি না!
GAL 4:21 তোমরা যারা বিধানের অধীনে থাকতে চাও, আমাকে বলো তো, বিধান যা বলে, তা কি তোমরা জানো না?
GAL 4:22 কারণ লেখা আছে, অব্রাহামের দুই পুত্র ছিল, একজন ক্রীতদাসীর, অন্যজন স্বাধীন নারীর।
GAL 4:23 ক্রীতদাসী নারীর দ্বারা তাঁর পুত্রের জন্ম হয়েছিল স্বাভাবিক উপায়ে, কিন্তু স্বাধীন নারীর দ্বারা তাঁর পুত্রের জন্ম হয়েছিল এক প্রতিশ্রুতির ফলস্বরূপে।
GAL 4:24 এসব বিষয় রূপক অর্থে গ্রহণ করা যেতে পারে, কারণ ওই দুজন নারী দুটি চুক্তির প্রতীকস্বরূপ। একটি চুক্তি সীনয় পর্বত থেকে, তা ক্রীতদাস হওয়ার জন্য সন্তানদের জন্ম দেয়। এ হল হাগার।
GAL 4:25 এখন হাগার হল আরবে স্থিত সীনয় পর্বতের প্রতীক এবং বর্তমানের জেরুশালেম নগরীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, কারণ সে তার সন্তানদের নিয়ে দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ আছে।
GAL 4:26 কিন্তু ঊর্ধ্বে স্থিত জেরুশালেম স্বাধীন, সে আমাদের প্রকৃত মা।
GAL 4:27 কারণ লেখা আছে, “ওহে বন্ধ্যা নারী, যে কখনও সন্তান প্রসব করোনি, আনন্দিত হও; তোমরা কখনও প্রসবযন্ত্রণা ভোগ করোনি, আনন্দোল্লাসে ফেটে পড়ো; কারণ যার স্বামী আছে, সেই নারীর চেয়ে, যে নারী পরিত্যক্তা, তার সন্তান বেশি।”
GAL 4:28 এখন ভাইবোনেরা, তোমরা ইস্‌হাকের মতো প্রতিশ্রুতির সন্তান।
GAL 4:29 সেই সময়, স্বাভাবিক উপায়ে জাত পুত্র, ঈশ্বরের আত্মার পরাক্রমে জাত পুত্রকে নির্যাতন করত। তেমনই এখনও হচ্ছে।
GAL 4:30 কিন্তু শাস্ত্র কী বলে? “সেই ক্রীতদাসী ও তার ছেলেকে তাড়িয়ে দাও, কারণ সেই স্বাধীন নারীর সম্পত্তির অধিকারে ওই মহিলার ছেলে কখনোই ভাগ বসাবে না।”
GAL 4:31 অতএব ভাইবোনেরা, আমরা ক্রীতদাসীর সন্তান নই, কিন্তু সেই স্বাধীন নারীর সন্তান।
GAL 5:1 স্বাধীনতা ভোগ করার জন্যই খ্রীষ্ট আমাদের স্বাধীন করেছেন। অতএব, তোমরা অবিচল থাকো এবং দাসত্বের জোয়ালে নিজেদের পুনরায় বন্দি কোরো না।
GAL 5:2 আমার কথা লক্ষ্য করো। আমি পৌল তোমাদের বলছি যে, তোমরা যদি নিজেদের সুন্নত করো, তাহলে তোমাদের কাছে খ্রীষ্টের কোনো মূল্যই থাকবে না।
GAL 5:3 যারা নিজেদের সুন্নত করতে চায়, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি আবার ঘোষণা করছি যে, সে সমস্ত বিধান পালন করতে বাধ্য।
GAL 5:4 তোমরা যারা বিধানের দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন হতে চাইছ, তারা খ্রীষ্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছ; তোমরা অনুগ্রহ থেকে বিচ্যুত হয়েছ।
GAL 5:5 কিন্তু যে ধার্মিকতার আমরা প্রত্যাশা করি, তার জন্য আমরা বিশ্বাসের দ্বারা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে সাদর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি।
GAL 5:6 কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে সুন্নত বা অত্বকছেদ, উভয়ই মূল্যহীন। কেবলমাত্র বিষয় যা গণ্য করা হয়, তা হল বিশ্বাস, যা ভালোবাসার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করে।
GAL 5:7 তোমরা তো ভালোভাবেই দৌড়াচ্ছিলে। কে তোমাদের বাধা দিল এবং সত্য পালন করতে দিল না?
GAL 5:8 যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, তাঁর কাছ থেকে এই ধরনের চাপ আসে না।
GAL 5:9 অল্প একটু খামির সমস্ত ময়দার তালকে তাড়িময় করে তোলে।
GAL 5:10 প্রভুতে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, তোমরা আর কোনো দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে না। যে তোমাদের বিভ্রান্ত করছে, সে যেই হোক না কেন, সে তার শাস্তি ভোগ করবে।
GAL 5:11 ভাইবোনেরা, আমি যদি এখনও সুন্নতের বিষয় প্রচার করে থাকি, তাহলে কেন এখনও আমি নির্যাতিত হচ্ছি? তাহলে তো ক্রুশের কথা প্রচারের বাধা দূর হয়ে যেত।
GAL 5:12 যারা তোমাদের কাছে অশান্তি সৃষ্টি করে আমার ইচ্ছা এই যে তারা সম্পূর্ণ পথ অতিক্রম করে নিজেদের নপুংসক করে ফেলুক।
GAL 5:13 আমার ভাইবোনেরা, তোমরা স্বাধীনতার জন্য আহূত হয়েছ, কিন্তু তোমাদের স্বাধীনতাকে শারীরিক লালসা চরিতার্থ করার জন্য প্রশ্রয় দিয়ো না; বরং প্রেমে পরস্পরের সেবা করো।
GAL 5:14 সমস্ত বিধান এই একটিমাত্র আজ্ঞায় সারসংক্ষিপ্ত হয়েছে: “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবেসো।”
GAL 5:15 যদি তোমরা পরস্পরকে দংশন ও গ্রাস করো, সতর্ক হও, অন্যথায় তোমরা পরস্পরের দ্বারা ধ্বংস হবে।
GAL 5:16 তাই আমি বলি, তোমরা পবিত্র আত্মার বশে জীবনযাপন করো, তাহলে তোমরা শারীরিক লালসার অভিলাষ চরিতার্থ করবে না।
GAL 5:17 কারণ শারীরিক লালসা পবিত্র আত্মার অভিলাষের বিপরীত এবং পবিত্র আত্মা শারীরিক লালসার অভিলাষের বিপরীত। সেগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করে, যেন তোমরা যা চাও, তা করতে না পারো।
GAL 5:18 কিন্তু তোমরা যদি পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হও, তাহলে তোমরা বিধানের অধীন নও।
GAL 5:19 শারীরিক লালসার সব কাজ সুস্পষ্ট: ব্যভিচার, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতা;
GAL 5:20 প্রতিমাপূজা ও ডাকিনীবিদ্যা; ঘৃণা, ঈর্ষা, ক্রোধের উত্তেজনা, স্বার্থকেন্দ্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মতবিরোধ, দলাদলি ও
GAL 5:21 হিংসা; মত্ততা, রঙ্গরস ও এ ধরনের আরও অনেক বিষয়। আগের মতোই আমি আবার তোমাদের সতর্ক করছি, যারা এ ধরনের জীবনযাপন করে, তারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাবে না।
GAL 5:22 কিন্তু পবিত্র আত্মার ফল হল প্রেম, আনন্দ, শান্তি, দীর্ঘসহিষ্ণুতা, মাধুর্য, পরোপকারিতা, বিশ্বস্ততা,
GAL 5:23 বিনম্রতা ও আত্মসংযম। এসব বিষয়ের বিরুদ্ধে কোনও বিধান নেই।
GAL 5:24 আর যারা খ্রীষ্ট যীশুর, তারা শারীরিক লালসার সমস্ত আসক্তি ও অভিলাষকে ক্রুশার্পিত করেছে।
GAL 5:25 আমরা যেহেতু পবিত্র আত্মার বশে জীবনযাপন করি, এসো আমরা আত্মার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি।
GAL 5:26 এসো, আমরা অহংকারী না হই, পরস্পরকে উত্তেজিত না করি ও এক অপরের প্রতি হিংসা না করি।
GAL 6:1 ভাইবোনেরা, কেউ যদি কোনো পাপকাজে ধরা পড়ে, তাহলে তোমরা যারা আত্মিক, তোমরা কোমল মনোভাব নিয়ে তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনো। কিন্তু নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো, নইলে তোমরাও প্রলোভিত হতে পারো।
GAL 6:2 প্রত্যেকে একে অপরের ভারবহন করো, এভাবে তোমরা খ্রীষ্টের বিধান পূর্ণ করবে।
GAL 6:3 কেউ যদি কিছু না হয়েও নিজেকে বিশিষ্ট মনে করে, সে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে।
GAL 6:4 প্রত্যেকেই তার নিজের কাজ যাচাই করে দেখবে। তাহলেই সে অপর কারও সঙ্গে নিজের তুলনা না করেই নিজের বিষয়ে গর্ব করতে পারবে।
GAL 6:5 কারণ প্রত্যেকেরই উচিত, তার নিজের ভারবহন করা।
GAL 6:6 যে ব্যক্তি ঈশ্বরের বাক্য সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে, সে তার শিক্ষককে অবশ্যই সমস্ত উৎকৃষ্ট বিষয়ের সহভাগী করবে।
GAL 6:7 তোমরা বিভ্রান্ত হোয়ো না, ঈশ্বরকে উপহাস করা যায় না। কোনো মানুষ যা বোনে, তাই কাটে।
GAL 6:8 যে তার শারীরিক লালসা নিবৃত্তির উদ্দেশে বীজ বোনে, সেই শরীর থেকেই সে বিনাশরূপ শস্য সংগ্রহ করবে। যে পবিত্র আত্মাকে প্রীত করার জন্য বীজ বোনে, তা থেকেই অনন্ত জীবনের ফসল আসবে।
GAL 6:9 এসো, সৎকর্ম করতে করতে আমরা যেন ক্লান্তিবোধ না করি, কারণ হাল ছেড়ে না দিলে আমরা যথাসময়ে ফসল তুলব।
GAL 6:10 তাই, আমরা যখন সুযোগ পেয়েছি, এসো, আমরা সব মানুষের প্রতি সৎকর্ম করি, বিশেষত তাদের প্রতি যারা বিশ্বাসীদের পরিজন।
GAL 6:11 দেখো, আমি কত বড়ো বড়ো অক্ষরে নিজের হাতে তোমাদের কাছে লিখলাম!
GAL 6:12 যারা ব্যহ্যিকরূপে এক সুন্দর ভাবমূর্তি গড়তে চায়, তারা তোমাদের সুন্নত পালনে বাধ্য করতে চেষ্টা করছে। কেবলমাত্র যে কারণের জন্য তারা এ কাজ করতে চাইছে, তা খ্রীষ্টের ক্রুশের কারণে নির্যাতিত হওয়া থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য।
GAL 6:13 যারা সুন্নতপ্রাপ্ত তারাও বিধান পালন করে না, তবুও তারা চায় তোমরা সুন্নত-সংস্কার পালন করো, যেন তারা তোমাদের শরীরের বিষয়ে গর্ব করতে পারে।
GAL 6:14 কিন্তু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশ ছাড়া আমি আর যে কোনো বিষয়ে গর্ব করি, তা দূরে থাকুক, কারণ তাঁরই দ্বারা জগৎ আমার কাছে ও আমি জগতের কাছে ক্রুশার্পিত।
GAL 6:15 সুন্নত বা অত্বকছেদ, উভয়ই মূল্যহীন, নতুন সৃষ্টিই হল মূলকথা।
GAL 6:16 এই নীতি যারা অনুসরণ করে তাদের উপর, এমনকি ঈশ্বরের ইস্রায়েলের উপর শান্তি ও করুণা বিরাজ করুক।
GAL 6:17 সবশেষে বলি, কেউ যেন আমাকে কষ্ট না দেয়, কারণ আমার শরীরে আমি যীশুর ক্ষতচিহ্ন বহন করছি।
GAL 6:18 ভাইবোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার সঙ্গে থাকুক। আমেন।
EPH 1:1 ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে খ্রীষ্ট যীশুর প্রেরিতশিষ্য, আমি পৌল, ইফিষ নগরীর সব পবিত্রগণ ও খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বস্তজনদের প্রতি,
EPH 1:2 আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের উপরে বর্ষিত হোক।
EPH 1:3 ধন্য আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতা, যিনি খ্রীষ্টে স্বর্গীয় স্থানে সমস্ত আত্মিক আশীর্বাদে আমাদের আশীর্বাদ করেছেন।
EPH 1:4 কারণ জগৎ সৃষ্টির পূর্বেই তিনি আমাদের খ্রীষ্টে মনোনীত করেছিলেন, যেন তাঁর দৃষ্টিতে আমরা প্রেমে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হতে পারি।
EPH 1:5 প্রেমে, তিনি তাঁর মঙ্গল সংকল্প ও ইচ্ছায়, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের পুত্ররূপে দত্তক নেওয়ার জন্য পূর্ব থেকেই নির্ধারিত করেছিলেন—
EPH 1:6 এসব তিনি করেছেন তাঁর গৌরবময় অনুগ্রহের প্রশংসার জন্য, যাঁকে তিনি প্রেম করেন, তাঁর মাধ্যমে, যা তিনি বিনামূল্যে আমাদের দান করেছেন।
EPH 1:7 তাঁর দ্বারাই আমরা তাঁর রক্তে মুক্তি, অর্থাৎ সব পাপের ক্ষমা পেয়েছি। এসব ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রাচুর্যর কারণে হয়েছে,
EPH 1:8 যা তিনি সমস্ত প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির সঙ্গে আমাদের উপরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঢেলে দিয়েছেন।
EPH 1:9 তিনি তাঁর সেই হিতসংকল্প অনুযায়ী সেই গুপ্তরহস্য আমাদের জানতে দিয়েছেন, যা তিনি খ্রীষ্টে পূর্বসংকল্প করেছিলেন,
EPH 1:10 যা কালের পূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে রূপায়িত করার সংকল্প করেছিলেন, যেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে সবকিছুই, এক মস্তক, অর্থাৎ খ্রীষ্টের অধীনে একত্র করেন।
EPH 1:11 যিনি তাঁর সংকল্প অনুসারে সমস্ত কিছু সাধন করেন, তাঁরই পরিকল্পনামতো পূর্ব-নির্ধারিত হয়ে তাঁর মাধ্যমে আমরা মনোনীতও হয়েছি,
EPH 1:12 যেন আমরা যারা খ্রীষ্টের উপরে প্রথমে প্রত্যাশা রেখেছিলাম, সেই আমাদেরই মাধ্যমে তাঁর মহিমার গুণগান হতে পারে।
EPH 1:13 আর তোমরা যখন সত্যের বাণী, তোমাদের পরিত্রাণের সুসমাচার শুনেছ, তখনই তোমরা খ্রীষ্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছ। বিশ্বাস করে তোমরা তাঁর মাধ্যমে প্রতিশ্রুত পবিত্র আত্মার মুদ্রাঙ্কণে চিহ্নিত হয়েছ,
EPH 1:14 যিনি আমাদের উত্তরাধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য অগ্রিম বায়নাস্বরূপ, যতক্ষণ না তিনি নিজের মহিমার প্রশস্তির জন্য তাঁর আপনজনদের মুক্ত করেন।
EPH 1:15 এই কারণে, প্রভু যীশুর প্রতি তোমাদের বিশ্বাসের ও পবিত্রগণের প্রতি তোমাদের ভালোবাসার কথা যখন শুনেছি,
EPH 1:16 তখন থেকেই আমার প্রার্থনায় তোমাদের স্মরণ করে তোমাদের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে বিরত হইনি।
EPH 1:17 আমি অবিরত মিনতি করি, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর, গৌরবময় পিতা, তোমাদের প্রজ্ঞা ও প্রত্যাদেশের আত্মা দান করুন, যেন তোমরা তাঁর পরিচয় অনেক বেশি জানতে পারো।
EPH 1:18 আমি আরও প্রার্থনা করি যে, তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হয়ে উঠুক, যেন তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা, পবিত্রগণের মধ্যে তাঁর গৌরবময় উত্তরাধিকারের ঐশ্বর্য
EPH 1:19 এবং আমাদের মতো বিশ্বাসীদের জন্য তাঁর অতুলনীয় মহান শক্তি তোমরা জানতে পারো। সেই শক্তি তাঁর প্রবল পরাক্রমের সঙ্গে কৃতকর্মের মতো সক্রিয়।
EPH 1:20 তিনি সেই শক্তি খ্রীষ্টে প্রয়োগ করেছেন, যখন তিনি তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপন করেছেন এবং স্বর্গীয় স্থানে তাঁর ডানদিকে তাঁকে বসিয়েছেন,
EPH 1:21 শুধু বর্তমান কালে নয়, কিন্তু আগামী দিনেও যে সমস্ত শাসন ও কর্তৃত্ব, ক্ষমতা ও আধিপত্য এবং পদাধিকার দেওয়া যেতে পারে, তারও ঊর্ধ্বে তিনি তাঁকে স্থাপন করেছেন।
EPH 1:22 আর ঈশ্বর সমস্তই খ্রীষ্টের পদানত করেছেন, তাঁকেই মণ্ডলীর সবকিছুর উপরে মস্তকরূপে প্রতিষ্ঠা করলেন,
EPH 1:23 সেই মণ্ডলীই তাঁর দেহ, তাঁরই পূর্ণতাস্বরূপ, যিনি সব বিষয় সমস্ত উপায়ে পূর্ণ করেন।
EPH 2:1 তোমাদের কথা বলতে হলে, তোমরা নিজের নিজের অপরাধে ও পাপে মৃত ছিলে,
EPH 2:2 যেগুলির মধ্যে তোমরা জীবনযাপন করতে। তখন তোমরা এই জগতের ও আকাশের রাজ্যশাসকের পথ অনুসরণ করতে, যে আত্মা এখন যারা অবাধ্য, তাদের মধ্যে কার্যকরী রয়েছে।
EPH 2:3 আমরাও সকলে এক সময় তাদেরই মধ্যে জীবনযাপন করতাম। আমাদের পাপময় প্রকৃতির বাসনাকে চরিতার্থ করার জন্য আমরা তার কামনা ও ভাবনার বশে চলতাম। অন্য সকলের মতো, স্বভাবগতভাবে আমরা ছিলাম (ঈশ্বরের) ক্রোধের পাত্র।
EPH 2:4 কিন্তু আমাদের প্রতি মহাপ্রেমের জন্য ঈশ্বর, যিনি অপার করুণাময়,
EPH 2:5 আমরা যখন অপরাধের ফলে মৃত হয়েছিলাম, তখনই তিনি খ্রীষ্টের সঙ্গে আমাদের জীবিত করলেন। আর তোমরা অনুগ্রহেই পরিত্রাণ লাভ করেছ।
EPH 2:6 ঈশ্বর খ্রীষ্টের সঙ্গে আমাদের পুনরুত্থিত করে তাঁরই সঙ্গে আমাদের স্বর্গীয় স্থানে বসিয়েছেন,
EPH 2:7 যেন খ্রীষ্ট যীশুতে আমাদের প্রতি তাঁর যে করুণা প্রকাশ পেয়েছে, আগামী দিনেও তিনি তাঁর সেই অতুলনীয় অনুগ্রহের ঐশ্বর্য প্রদর্শন করতে পারেন।
EPH 2:8 কারণ বিশ্বাসের মাধ্যমে অনুগ্রহের দ্বারাই তোমরা পরিত্রাণ লাভ করেছ। তা তোমাদের থেকে হয়নি, কিন্তু ঈশ্বরেরই দান।
EPH 2:9 তা কোনো কাজের ফল নয় যে তা নিয়ে কেউ গর্ববোধ করবে।
EPH 2:10 কারণ আমরা ঈশ্বরের রচনা, সৎকর্ম করার জন্য খ্রীষ্ট যীশুতে সৃষ্ট, যা তিনি পূর্ব থেকেই আমাদের করার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
EPH 2:11 অতএব স্মরণ করো, এক সময় তোমরা, যারা জন্মসূত্রে অইহুদি ছিলে, মানুষের হাতে করা “সুন্নতপ্রাপ্ত” ব্যক্তিরা তোমাদের “সুন্নতহীন” বলে অভিহিত করত।
EPH 2:12 স্মরণ করো, সেই সময় তোমরা খ্রীষ্টের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলে, ইস্রায়েলের নাগরিকত্বের সঙ্গে তোমরা ছিলে সম্পর্কহীন এবং প্রতিশ্রুতির নিয়মের কাছে ছিলে অসম্পর্কিত। তোমাদের কোনও আশা ছিল না এবং পৃথিবীতে তোমরা ছিলে ঈশ্বরবিহীন।
EPH 2:13 কিন্তু তোমরা যারা এক সময় বহু দূরবর্তী ছিলে, এখন খ্রীষ্ট যীশুতে তাঁর রক্তের মাধ্যমে নিকটবর্তী হয়েছ।
EPH 2:14 কারণ তিনি স্বয়ং আমাদের শান্তি। তিনি উভয়কে এক করেছেন এবং প্রতিবন্ধকতাকে ধ্বংস করেছেন, বিদ্বেষের প্রাচীর ভেঙে ফেলেছেন,
EPH 2:15 বিধান ও তার নির্দেশমালা, নিয়ন্ত্রণবিধি, সব নিজের শরীরে বিলোপ করেই তা করেছেন। উভয়কে নিয়ে নিজের মধ্যে এক নতুন মানুষ গড়ে তোলা এবং এভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
EPH 2:16 আর এই এক দেহে, ক্রুশের মাধ্যমে তিনি উভয়কে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলিত করেছেন, যার দ্বারা তিনি দু-পক্ষের শত্রুতার অবসান ঘটিয়েছেন।
EPH 2:17 তোমরা যারা ছিলে বহুদূরে, আর যারা ছিলে কাছে, তোমাদের সকলের কাছে তিনি এসে শান্তির বাণী প্রচার করেছেন।
EPH 2:18 কারণ তাঁরই মাধ্যমে আমরা দু-পক্ষ একই আত্মার দ্বারা পিতার সান্নিধ্যে আসার অধিকার লাভ করেছি।
EPH 2:19 অতএব, তোমরা আর অসম্পর্কিত ও বহিরাগত নও, তোমরা এখন ঈশ্বরের প্রজাদের সহনাগরিক এবং ঈশ্বরের পরিবারের সদস্য।
EPH 2:20 প্রেরিতশিষ্যবর্গ ও ভাববাদীদের ভিত্তিমূলের উপর তোমাদের গেঁথে তোলা হয়েছে, স্বয়ং খ্রীষ্ট যীশু যার কোণের প্রধান পাথর।
EPH 2:21 তাঁরই মধ্যে সমগ্র কাঠামো একত্রে সন্নিবদ্ধ এবং প্রভুতে তা এক পবিত্র মন্দিররূপে গড়ে উঠছে।
EPH 2:22 তাঁতে তোমাদেরও একসঙ্গে একটি আবাসরূপে গঠন করা হচ্ছে, যেখানে ঈশ্বর তাঁর আত্মায় অধিষ্ঠান করেন।
EPH 3:1 এই কারণে, তোমরা যারা ইহুদি নও, তাদের জন্য খ্রীষ্ট যীশুর বন্দি আমি, পৌল—
EPH 3:2 তোমাদের জন্য ঈশ্বর তাঁর যে অনুগ্রহের পরিচালনা আমাকে প্রদান করেছেন, তোমরা সেকথা নিশ্চয় শুনেছ।
EPH 3:3 অর্থাৎ, ঈশ্বরের যে গুপ্তরহস্য আমাকে জ্ঞাপন করা হয়েছে, সেকথা আমি সংক্ষেপে আগেই লিখেছি।
EPH 3:4 এই লিপি পাঠ করলে খ্রীষ্টের গুপ্তরহস্যে আমার অন্তর্দৃষ্টির কথা তোমরা বুঝতে পারবে।
EPH 3:5 অন্য প্রজন্মের মানুষের কাছে এই সত্য ব্যক্ত হয়নি, যেমন বর্তমান প্রজন্মে ঈশ্বরের পবিত্র প্রেরিতশিষ্যদের এবং ভাববাদীদের কাছে পবিত্র আত্মা তা প্রকাশ করেছেন।
EPH 3:6 এই গুপ্তরহস্য হল, সুসমাচারের মাধ্যমে অইহুদিরা ইস্রায়েলীদের সঙ্গে একই উত্তরাধিকারের শরিক, একত্রে একই দেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং খ্রীষ্ট যীশুতে একই প্রতিশ্রুতির যৌথ অংশীদার।
EPH 3:7 ঈশ্বরের পরাক্রমের সক্রিয়তায়, তাঁরই অনুগ্রহ দানের দ্বারা আমি এই সুসমাচারের পরিচারক হয়েছি।
EPH 3:8 ঈশ্বরের সকল পবিত্রগণের মধ্যে আমি সর্বাপেক্ষা তুচ্ছ হলেও এই অনুগ্রহ আমাকে দেওয়া হয়েছিল, যেন খ্রীষ্টের অতুল ঐশ্বর্যের সুসমাচার অইহুদিদের কাছে প্রচার করি;
EPH 3:9 এবং এই গুপ্তরহস্যের প্রয়োগ প্রত্যেকের কাছে স্পষ্ট করে দিই, যা অতীতকালে সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের কাছে গুপ্ত রাখা ছিল।
EPH 3:10 তাঁর অভিপ্রায় ছিল এই যে, এখন মণ্ডলীর মাধ্যমে যেন ঈশ্বরের বহুবিধ প্রজ্ঞা, স্বর্গীয় স্থানের আধিপত্য ও কর্তৃত্বসকলের কাছে প্রকাশ করা যায়।
EPH 3:11 এ ছিল তাঁর চিরকালীন অভিপ্রায়, যা তিনি আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে সাধন করেছেন।
EPH 3:12 তাঁতে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে আসতে পারি।
EPH 3:13 তাই, আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমাদের জন্য আমার যে কষ্টভোগ, তা দেখে তোমরা নিরাশ হোয়ো না; কারণ এসব তোমাদের গৌরব।
EPH 3:14 এই কারণের জন্য আমি পিতার কাছে নতজানু হই,
EPH 3:15 যাঁর কাছ থেকে স্বর্গে ও পৃথিবীতে তাঁর সমগ্র পরিবার এই নাম প্রাপ্ত হয়েছে।
EPH 3:16 আমি প্রার্থনা করি, যেন তাঁর গৌরবময় ঐশ্বর্য থেকে তিনি তাঁর আত্মার মাধ্যমে তোমাদেরকে আন্তরিক সত্তায় ও শক্তিতে সবল করে তোলেন,
EPH 3:17 যেন বিশ্বাসের মাধ্যমে খ্রীষ্ট তোমাদের অন্তরে অধিষ্ঠান করেন। আমি প্রার্থনা করি, তোমরা প্রেমে দৃঢ়মূল ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে,
EPH 3:18 সকল পবিত্রগণের সঙ্গে যেন পরাক্রমের অধিকারী হতে পারো এবং খ্রীষ্টের প্রেমের বিস্তার, দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও গভীরতা উপলব্ধি করতে পারো, আর
EPH 3:19 জ্ঞানের অতীত খ্রীষ্টের এই প্রেম অবগত হয়ে তোমরা যেন ঈশ্বরের সকল পূর্ণতায় ভরপুর হয়ে ওঠো।
EPH 3:20 এখন আমাদের অন্তরে যিনি তাঁর সক্রিয় ক্ষমতা অনুসারে আমাদের সকল চাহিদা পূর্ণ করতে অথবা কল্পনারও অতীত কাজ করতে সমর্থ,
EPH 3:21 মণ্ডলীতে এবং খ্রীষ্ট যীশুতে, যুগ যুগ ধরে সকল প্রজন্মে চিরকাল তাঁর গৌরব কীর্তিত হোক! আমেন।
EPH 4:1 অতএব, প্রভুতে বন্দি আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি, যে আহ্বান তোমরা লাভ করেছ, তার যোগ্য হয়ে জীবনযাপন করো।
EPH 4:2 সম্পূর্ণ নম্র ও অমায়িক হও, ধৈর্যশীল হয়ে প্রেমে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হও।
EPH 4:3 শান্তির যোগবন্ধনে আত্মার ঐক্য রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে সচেষ্ট হও।
EPH 4:4 দেহ এক এবং আত্মা এক, তেমনই তোমাদের প্রত্যাশাও এক, যে প্রত্যাশার উদ্দেশে তোমরা আহূত হয়েছিলে।
EPH 4:5 প্রভু এক, বিশ্বাস এক, বাপ্তিষ্ম এক,
EPH 4:6 সকলের ঈশ্বর ও পিতা এক, তিনি সকলের উপরে, সকলের কাছে এবং সকলের অন্তরে আছেন।
EPH 4:7 কিন্তু খ্রীষ্ট যেভাবে বণ্টন করেছেন, সেই অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকে অনুগ্রহ-দান পেয়েছি।
EPH 4:8 সেজন্যই বলা হয়েছে: “তিনি যখন ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন বহু বন্দিকে এবং মানুষকে দিলেন বিবিধ উপহার।”
EPH 4:9 “তিনি ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন,” একথার অর্থ কি এই নয় যে, তিনি পৃথিবীর নিম্নলোকেও অবতরণ করেছিলেন?
EPH 4:10 সমগ্র বিশ্বে পরিব্যাপ্ত হওয়ার জন্য যিনি সব স্বর্গের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছিলেন, সেই তিনিই নিম্নে অবতরণ করেছিলেন।
EPH 4:11 তিনিই কয়েকজনকে প্রেরিতশিষ্য, কয়েকজনকে ভাববাদী, কয়েকজনকে সুসমাচার প্রচারক, কয়েকজনকে পালক ও শিক্ষকরূপে দান করেছেন,
EPH 4:12 পবিত্রগণকে পরিপক্ব করার জন্য করেছেন, যেন পরিচর্যার কাজ সাধিত হয়, খ্রীষ্টের দেহ যেন গঠন করে তোলা হয়,
EPH 4:13 যতদিন না আমরা সবাই ঈশ্বরের পুত্রের জ্ঞান ও বিশ্বাসের ঐক্যে উপনীত হতে পারি ও পরিণত হই এবং খ্রীষ্টের সকল পূর্ণতা অর্জন করতে পারি।
EPH 4:14 তখন আমরা আর নাবালক থাকব না। যে কোনো মতবাদের হাওয়ায় বিচলিত হব না বা বাতাসে ভেসে যাব না। আমরা প্রভাবিত হব না যখন লোকেরা মিথ্যার সাহায্য নিয়ে, যা শুনে মনে হয় সত্য, আমাদের ঠকানোর চেষ্টা করবে।
EPH 4:15 এর পরিবর্তে আমরা প্রেমে সত্য প্রকাশ করব এবং সব বিষয়ে খ্রীষ্টের মতো হয়ে উঠব, যিনি তাঁর দেহের মস্তক; আর সেই দেহ হল মণ্ডলী।
EPH 4:16 তিনি সমগ্র দেহকে সুন্দরভাবে সন্নিবদ্ধ করেন। প্রতিটি অঙ্গ নিজের নিজের বিশেষ কাজ করে, যার ফলে অন্যান্য অংশ বৃদ্ধিলাভ করে। এই কারণে সমগ্র দেহ সুস্থ, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ও প্রেমে পূর্ণতা লাভ করে।
EPH 4:17 অতএব, আমি তোমাদের এই কথা বলি এবং প্রভুর নামে অনুনয় করি, তোমরা অইহুদিদের মতো আর অসার চিন্তায় জীবনযাপন কোরো না।
EPH 4:18 তাদের বুদ্ধি হয়েছে অন্ধকারে আচ্ছন্ন এবং ঐশ্বরিক-জীবন থেকে তারা হয়েছে বিচ্ছিন্ন। তাদের কঠিন হৃদয়ের অজ্ঞতাই তার কারণ।
EPH 4:19 সমস্ত চেতনা হারিয়ে তারা কামনাবাসনায় নিজেদের সমর্পণ করেছে, যেন সকল প্রকার কলুষতা ও ইন্দ্রিয়লালসায় তারা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে।
EPH 4:20 খ্রীষ্টের সম্বন্ধে তোমরা অবশ্য সেরকম শিক্ষা লাভ করোনি।
EPH 4:21 নিঃসন্দেহে, তোমরা তাঁর বিষয়ে শুনেছ এবং যীশুর মধ্যে যে সত্য আছে, সেই অনুযায়ী শিক্ষা পেয়েছ।
EPH 4:22 তোমাদের অতীত জীবনধারা সম্বন্ধে তোমরা শিক্ষা পেয়েছ যে, তোমাদের পুরোনো সত্তাকে ত্যাগ করতে হবে, যা তার বহুবিধ ছলনাময় অভিলাষের দ্বারা কলুষিত হয়ে উঠেছে।
EPH 4:23 তোমাদের মানসিকতাকে নতুন করতে হবে;
EPH 4:24 প্রকৃত ধার্মিকতা এবং পবিত্রতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট নতুন সত্তাকে পরিধান করতে হবে।
EPH 4:25 অতএব, তোমাদের প্রত্যেকে মিথ্যাচার ত্যাগ করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সত্য কথা বলো, কারণ আমরা সকলে একই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
EPH 4:26 “ক্রোধের বশবর্তী হয়ে পাপ কোরো না।” সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তোমাদের ক্রোধ প্রশমিত হোক।
EPH 4:27 দিয়াবলকে প্রশ্রয় দিয়ো না।
EPH 4:28 যে চুরি করতে অভ্যস্ত, সে যেন আর চুরি না করে, বরং নিজের হাতে পরিশ্রমের দ্বারা সৎ উপায়ে উপার্জন করে; দুস্থদের সাহায্য করার মতো তার হাতে যেন কিছু উদ্বৃত্ত থাকে।
EPH 4:29 তোমরা কোনো অশালীন কথা বোলো না, প্রয়োজন অনুসারে যা অপরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক, যা শ্রোতার পক্ষে কল্যাণকর, তোমাদের মুখ থেকে শুধু এমন কথাই বের হোক।
EPH 4:30 ঈশ্বরের পবিত্র আত্মাকে দুঃখার্ত কোরো না, তাঁরই দ্বারা তোমরা মুক্তিদিনের জন্য মোহরাঙ্কিত হয়েছ।
EPH 4:31 সব রকমের তিক্ততা, রোষ ও ক্রোধ, কলহ ও নিন্দা, সেই সঙ্গে সব ধরনের হিংসা ত্যাগ করো।
EPH 4:32 পরস্পরের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হও। ঈশ্বর যেমন খ্রীষ্টে তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তেমনই তোমরাও পরস্পরকে ক্ষমা করো।
EPH 5:1 অতএব, যেহেতু তোমরা ঈশ্বরের প্রিয় সন্তান, তোমরা ঈশ্বরেরই অনুকরণ করো
EPH 5:2 এবং প্রেমে জীবনযাপন করো, যেমন খ্রীষ্ট আমাদের ভালোবেসেছেন এবং নিজেকে সুরভিত নৈবেদ্য ও বলিরূপে ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন।
EPH 5:3 কিন্তু, তোমাদের মধ্যে যেন বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, কোনও ধরনের কলুষতা বা লোভের লেশমাত্র না থাকে। কারণ ঈশ্বরের পবিত্রগণের পক্ষে এ সমস্ত আচরণ অনুচিত।
EPH 5:4 কোনও রকম অশ্লীলতা, নির্বোধের মতো কথাবার্তা বা স্থূল রসিকতা যেন শোনা না যায়, কারণ এসবই অসংগত; বরং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করো।
EPH 5:5 কারণ এ ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত হতে পারো যে, ব্যভিচারী, অশুদ্ধাচারী বা লোভী ব্যক্তি—সে তো এক প্রতিমাপূজক—খ্রীষ্টের ও ঈশ্বরের রাজ্যে তাদের কোনো অধিকার নেই।
EPH 5:6 অসার বাক্যের দ্বারা কেউ যেন তোমাদের প্রতারিত না করে, কারণ এসব বিষয়ের জন্যই অবাধ্য ব্যক্তিদের উপরে ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে আসে।
EPH 5:7 অতএব, তাদের সঙ্গে তোমরা অংশীদার হোয়ো না।
EPH 5:8 এক সময়ে তোমরা ছিলে অন্ধকার, কিন্তু এখন তোমরা প্রভুতে আলো হয়ে উঠেছ। আলোর সন্তানদের মতো চলো।
EPH 5:9 কারণ এই আলো তোমাদের মধ্যে কেবলমাত্র উত্তম ও নৈতিক ও সত্য বিষয় উৎপন্ন করে।
EPH 5:10 প্রভু কোন কাজে সন্তুষ্ট হন, তা বোঝার চেষ্টা করো।
EPH 5:11 অন্ধকারের নিষ্ফল কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত হোয়ো না, বরং সেগুলিকে আলোতে প্রকাশ করো।
EPH 5:12 কারণ যারা অবাধ্য, তারা গোপনে যা করে, তা উল্লেখ করাও লজ্জাজনক।
EPH 5:13 কিন্তু আলোকে প্রকাশিত সবকিছুই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে,
EPH 5:14 কারণ আলোই সবকিছু দৃশ্যমান করে। এজন্যই লেখা আছে: “ওহে নিদ্রামগ্ন ব্যক্তি, জাগো, মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত হও, তাহলে খ্রীষ্ট তোমার উপর আলোক বিকিরণ করবেন।”
EPH 5:15 তাই, কীভাবে জীবনযাপন করবে সে সম্বন্ধে অত্যন্ত সতর্ক থেকো। জ্ঞানবানের মতো চলো, মূর্খের মতো নয়।
EPH 5:16 সব সুযোগের সর্বাধিক সদব্যবহার করো, কারণ এই যুগ মন্দ।
EPH 5:17 এই জন্য নির্বোধ হোয়ো না, প্রভুর ইচ্ছা কী, তা উপলব্ধি করো।
EPH 5:18 সুরা পান করে মত্ত হোয়ো না, তা ভ্রষ্টাচারের পথে নিয়ে যায়; তার পরিবর্তে আত্মায় পরিপূর্ণ হও।
EPH 5:19 গীত, স্তুতি ও আত্মিক সংকীর্তনে পরস্পর ভাব বিনিময় করো। প্রভুর উদ্দেশে গীত গাও, হৃদয়ে সুরের ঝংকার তোলো।
EPH 5:20 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে সব বিষয়ের জন্য সবসময় পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও।
EPH 5:21 খ্রীষ্টের জন্য সম্ভ্রমবশত একে অপরের বশীভূত হও।
EPH 5:22 স্ত্রীরা, তোমরা যেমন প্রভুর, তেমনই স্বামীর বশ্যতাধীন হও।
EPH 5:23 কারণ স্বামী হল স্ত্রীর মস্তক, যেমন খ্রীষ্ট মণ্ডলীর মস্তক, যে মণ্ডলী তাঁর দেহ, যার তিনি পরিত্রাতা।
EPH 5:24 মণ্ডলী যেমন খ্রীষ্টের বশ্যতাধীন থাকে, স্ত্রীরাও তেমনই সমস্ত বিষয়ে নিজের নিজের স্বামীর বশ্যতাধীন থাকুক।
EPH 5:25 স্বামীরা, তোমরা নিজের নিজের স্ত্রীকে ভালোবেসো, যেমন খ্রীষ্ট মণ্ডলীকে ভালোবেসেছেন এবং তার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন,
EPH 5:26 যেন তাকে পবিত্র করেন, বাক্যের মাধ্যমে জলে স্নান করিয়ে তাকে শুচি করেন,
EPH 5:27 এবং তাকে সব রকম কলঙ্ক, বিকৃতি এবং কলুষতা থেকে মুক্ত করে পবিত্র ও অনিন্দনীয়ভাবে এক প্রদীপ্ত মণ্ডলী করে নিজের কাছে উপস্থিত করেন।
EPH 5:28 স্বামীদেরও সেভাবে নিজের নিজের দেহের মতোই স্ত্রীদের ভালোবাসা উচিত। যে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে, সে নিজেকেই ভালোবাসে।
EPH 5:29 সর্বোপরি, কেউ কখনও তার নিজের দেহকে ঘৃণা করে না, বরং সে তার ভরণ-পোষণ ও তত্ত্বাবধান করে, যেমন খ্রীষ্ট তাঁর মণ্ডলীর প্রতি করেন,
EPH 5:30 কারণ আমরা তো তাঁরই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
EPH 5:31 “এই কারণে একজন পুরুষ তার পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করবে, তার স্ত্রীর সাথে সংযুক্ত হবে ও সেই দুজন একাঙ্গ হবে।”
EPH 5:32 এ এক বিশাল রহস্য, কিন্তু আমি খ্রীষ্ট ও তাঁর মণ্ডলী সম্বন্ধে একথা বলছি।
EPH 5:33 যাই হোক, তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে যেমন নিজেকে ভালোবাসে, তেমনই স্ত্রীকে অবশ্যই ভালোবাসবে এবং স্ত্রী অবশ্যই তার স্বামীকে শ্রদ্ধা করবে।
EPH 6:1 সন্তানেরা, তোমরা প্রভুতে বাবা-মার বাধ্য হও, কারণ তাই হবে ন্যায়সংগত।
EPH 6:2 “তোমার বাবাকে ও তোমার মাকে সম্মান কোরো,” এই হল প্রথম আদেশ, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি প্রতিশ্রুতি,
EPH 6:3 “যেন তোমার মঙ্গল হয় এবং পৃথিবীতে তুমি দীর্ঘ জীবন উপভোগ করো।”
EPH 6:4 তোমরা যারা বাবা, তোমরা সন্তানদের ক্রুদ্ধ কোরো না, বরং প্রভুর শিক্ষা ও নির্দেশ অনুযায়ী তাদের গড়ে তোলো।
EPH 6:5 ক্রীতদাসেরা, তোমরা শ্রদ্ধায় ও ভয়ে, হৃদয়ের সরলতার সঙ্গে তোমাদের জাগতিক প্রভুদের আদেশ মেনে চলো, যেমন তোমরা খ্রীষ্টের আদেশ মেনে থাকো।
EPH 6:6 তাদের আদেশ পালন করো, কেবলমাত্র তাদের দৃষ্টি যখন তোমাদের প্রতি থাকে, তখন তাদের অনুগ্রহ লাভের জন্য নয়, কিন্তু খ্রীষ্টের ক্রীতদাসদের মতো, অন্তর দিয়ে যেন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করছ, সেভাবে।
EPH 6:7 তোমরা সমস্ত অন্তর দিয়ে তাদের সেবা করো, যেন তোমরা মানুষের নয়, কিন্তু প্রভুরই সেবা করছ।
EPH 6:8 কারণ তোমরা জানো যে, ক্রীতদাস হোক, বা স্বাধীন হোক, প্রভু তাদের সকলকেই সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত করবেন।
EPH 6:9 আর গৃহস্বামীরা, তোমরাও ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরূপ আচরণ করো। তাদের ভয় দেখিয়ো না, কারণ তোমরা জানো, যিনি স্বর্গে আছেন, তিনি তাদের এবং তোমাদের, উভয়েরই প্রভু। তিনি কারও পক্ষপাতিত্ব করেন না।
EPH 6:10 পরিশেষে, তোমরা প্রভুতে এবং তাঁর প্রবল পরাক্রমে বলীয়ান হও।
EPH 6:11 ঈশ্বরের সম্পূর্ণ রণসাজ পরে নাও, যেন দিয়াবলের বিভিন্ন চাতুরী প্রতিহত করতে পারো।
EPH 6:12 কারণ আমাদের সংগ্রাম রক্তমাংসের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু আধিপত্য ও কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে, অন্ধকারে আচ্ছন্ন এই জগতের শক্তির বিরুদ্ধে এবং স্বর্গীয় স্থানের মন্দ আত্মিক শক্তির বিরুদ্ধে।
EPH 6:13 তাই, ঈশ্বরের সম্পূর্ণ রণসাজ পরে নাও, যেন সেই মন্দ দিন উপস্থিত হলে তোমরা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারো এবং সমস্ত বিষয় সম্পন্ন করে স্থির থাকতে পারো।
EPH 6:14 সুতরাং সত্যের বেল্ট কোমরে বেঁধে, ধার্মিকতার বুকপাটা পরে নিয়ে এবং
EPH 6:15 শান্তির সুসমাচার প্রচারের তৎপরতায় চটিজুতো পরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকো।
EPH 6:16 এসব ছাড়া তুলে নাও বিশ্বাসের ঢাল; তা দিয়েই সেই পাপাত্মার সমস্ত অগ্নিবাণ তোমরা নির্বাপিত করতে পারবে।
EPH 6:17 আর ধারণ করো পরিত্রাণের শিরস্ত্রাণ ও আত্মার তরোয়াল, অর্থাৎ ঈশ্বরের বাক্য।
EPH 6:18 সব উপলক্ষে, সব ধরনের মিনতি ও অনুরোধের সঙ্গে আত্মায় প্রার্থনা করো। এসব স্মরণে রেখে সতর্ক থেকো এবং সকল পবিত্রগণের জন্য সবসময়ই প্রার্থনায় রত থেকো।
EPH 6:19 তোমরা আমার জন্য প্রার্থনা কোরো, যেন আমি যখনই মুখ খুলি, সুসমাচারের গুপ্তরহস্য নির্ভীকভাবে প্রচার করতে আমাকে বাক্য দান করা হয়।
EPH 6:20 এরই জন্য কারাগারে বন্দি হয়েও আমি রাজদূতের কাজ করছি। প্রার্থনা কোরো, যেমন করা উচিত তেমনই আমি সাহসের সঙ্গে সেই ঘোষণা করতে পারি।
EPH 6:21 আমি কেমন আছি এবং কী করছি, তোমরাও যেন তা জানতে পারো, সেজন্য প্রিয় ভাই ও প্রভুতে বিশ্বস্ত সেবক তুখিক তোমাদের সবকিছু জানাবেন।
EPH 6:22 শুধু এই উদ্দেশ্যেই আমি তাঁকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি, যেন আমরা কেমন আছি তা তোমরা জানাতে পারো এবং তিনি তোমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
EPH 6:23 পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে শান্তি, বিশ্বাসে পূর্ণ প্রেম, ভাইবোনদের উপরে বর্ষিত হোক।
EPH 6:24 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রতি যাদের ভালোবাসা অমর, অনুগ্রহ তাদের সহায় হোক।
PHI 1:1 খ্রীষ্ট যীশুর দাস পৌল ও তিমথি, খ্রীষ্ট যীশুতে অবস্থিত ফিলিপীর সমস্ত সন্ত, অধ্যক্ষগণ ও পরিচারকবর্গের প্রতি,
PHI 1:2 আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের উপর বর্ষিত হোক।
PHI 1:3 আমি যখনই তোমাদের কথা স্মরণ করি, আমি আমার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই।
PHI 1:4 প্রার্থনার সময়ে আমি তোমাদের সকলের জন্য সর্বদা সানন্দে প্রার্থনা করি,
PHI 1:5 কারণ প্রথম দিন থেকে, আজ পর্যন্ত সুসমাচার প্রচারের কাজে তোমরা আমাকে সহযোগিতা করেছ।
PHI 1:6 এ বিষয়ে আমি সুনিশ্চিত যে, যিনি তোমাদের অন্তরে শুভকর্মের সূচনা করেছেন, খ্রীষ্ট যীশুর দিন পর্যন্ত তিনি তা সুসম্পন্ন করবেন।
PHI 1:7 তোমাদের সকলের বিষয়ে এই মনোভাব পোষণ করাই আমার পক্ষে সংগত, কারণ তোমরা আমার হৃদয় জুড়ে আছ। আমি বন্দিদশায় থাকি, অথবা সুসমাচারের পক্ষসমর্থনে বা প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যাপৃত থাকি, তোমরা সকলেই আমার সঙ্গে ঈশ্বরের অনুগ্রহের সহভাগী।
PHI 1:8 ঈশ্বরই আমার সাক্ষী, খ্রীষ্ট যীশুর স্নেহে আমি তোমাদের সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য কতই না ব্যাকুল!
PHI 1:9 এখন, আমার প্রার্থনা এই: তোমাদের ভালোবাসা যেন জ্ঞান ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে দিনের পর দিন সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে,
PHI 1:10 যেন কোনটি উৎকৃষ্ট, তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো এবং খ্রীষ্টের পুনরাগমনের দিন পর্যন্ত পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হয়ে থাকতে পারো;
PHI 1:11 ঈশ্বরের গৌরব ও প্রশংসার জন্য তোমরা ধার্মিকতার সেই ফলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠো, যা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
PHI 1:12 ভাই ও বোনেরা, আমি চাই, তোমরা যেন জানতে পারো যে, আমার প্রতি যা ঘটেছে, তা প্রকৃতপক্ষে সুসমাচার প্রচারের কাজ আরও এগিয়ে দিয়েছে।
PHI 1:13 ফলস্বরূপ, সমস্ত প্রাসাদরক্ষী এবং অন্য সকলের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, খ্রীষ্টের জন্যই আমি কারাগারে বন্দি হয়েছি।
PHI 1:14 আমার বন্দিদশার জন্যই প্রভুতে অধিকাংশ ভাই আরও সাহসের সঙ্গে ও আরও নির্ভীকভাবে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করতে অনুপ্রেরণা লাভ করেছে।
PHI 1:15 একথা সত্যি যে, কেউ কেউ ঈর্ষা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব নিয়ে খ্রীষ্টকে প্রচার করে, কিন্তু অন্যেরা করে সদিচ্ছার বশবর্তী হয়ে।
PHI 1:16 এই ব্যক্তিরা ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রচার করে কারণ তারা জানে যে সুসমাচারের পক্ষ সমর্থনের জন্যই আমাকে এখানে রাখা হয়েছে।
PHI 1:17 কিন্তু অন্যরা আন্তরিকতায় নয়, স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে খ্রীষ্টকে প্রচার করে। তারা মনে করে, আমার বন্দিদশায় তারা আমার কষ্ট আরও বেশি বাড়িয়ে তুলতে পারবে।
PHI 1:18 কিন্তু তাতেই বা কী? গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছলনা বা সত্য, যেভাবেই হোক, খ্রীষ্টকে প্রচার করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই আমি আনন্দিত। হ্যাঁ, আমার এই আনন্দ অব্যাহত থাকবে,
PHI 1:19 কারণ আমি জানি, আমার জীবনে যা ঘটেছে, তোমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে এবং যীশু খ্রীষ্টের আত্মা দ্বারা যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সেসব আমার মুক্তির কারণ হবে।
PHI 1:20 আমার আকুল আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা এই যে, আমি কোনোভাবেই লজ্জিত হব না, বরং পর্যাপ্ত সাহসের সঙ্গে চলব, যেন সবসময় যেমন করে এসেছি আজও তেমনি—জীবনে হোক বা মৃত্যুতে হোক—আমার এই শরীরে খ্রীষ্ট মহিমান্বিত হবেন।
PHI 1:21 কারণ আমার কাছে খ্রীষ্টই জীবন, আর মৃত্যু লাভজনক।
PHI 1:22 যদি এই শরীরে আমাকে বেঁচে থাকতে হয়, তাহলে আমার পরিশ্রম ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করব। তবুও কোনটা আমি বেছে নেব, তা জানি না!
PHI 1:23 এই দুই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে আমি বিদীর্ণ হচ্ছি: আমার আকাঙ্ক্ষা এই, বিদায় নিয়ে আমি খ্রীষ্টের সঙ্গে থাকি, যা অনেক বেশি শ্রেয়।
PHI 1:24 কিন্তু তোমাদেরই জন্য আমার শরীরে বেঁচে থাকার প্রয়োজন অনেক বেশি।
PHI 1:25 এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে, আমি জীবিত থাকব এবং বিশ্বাসে তোমাদের উন্নতি ও আনন্দের জন্য আমি তোমাদের সকলের সঙ্গেই থাকব,
PHI 1:26 যেন তোমাদের মধ্যে আমার পুনরায় অবস্থিতির জন্য খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের আনন্দ, আমার কারণে উপচে পড়তে পারে।
PHI 1:27 যাই ঘটুক না কেন, তোমরা খ্রীষ্টের সুসমাচারের যোগ্য আচরণ করো। তাহলে আমি কাছে এসে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি বা আমার অনুপস্থিতিতে তোমাদের কথা শুধু শুনেই থাকি, আমি জানব যে তোমরা এক আত্মায় অবিচল আছ, এবং এক মন হয়ে সুসমাচারে তোমাদের স্থির বিশ্বাসের জন্য সংগ্রাম করছ,
PHI 1:28 যারা তোমাদের বিপক্ষতা করে, কোনোভাবেই তাদের ভয় পাওনি। এই হবে তাদের বিনাশের প্রমাণ, কিন্তু তোমরা লাভ করবে মুক্তি—ঈশ্বরই তা দান করবেন।
PHI 1:29 কারণ খ্রীষ্টের পক্ষে তোমাদের এই অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে, কেবলমাত্র তাঁর উপর বিশ্বাস করো, তা নয়, কিন্তু তাঁর জন্য যেন কষ্টভোগও করো,
PHI 1:30 কারণ আমাকে যে রকম দেখেছ ও শুনতে পাচ্ছ এবং এখনও যেমন হচ্ছে, তোমরাও সেই একই সংগ্রাম করে চলেছ।
PHI 2:1 খ্রীষ্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্য তোমরা যদি কোনো অনুপ্রেরণা, তাঁর প্রেমে যদি কোনো সান্ত্বনা, যদি আত্মায় কোনো সহভাগিতা, যদি কোনো কোমলতা ও সহমর্মিতা লাভ করে থাকো,
PHI 2:2 তাহলে তোমরা এক চিত্ত, এক প্রেম, এক আত্মা এবং একই ভাববিশিষ্ট হয়ে আমার আনন্দকে পূর্ণ করো।
PHI 2:3 স্বার্থযুক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা ভ্রান্ত দম্ভের বশবর্তী হয়ে কিছু কোরো না, কিন্তু নম্রতা সহকারে অন্যকে নিজেদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করো।
PHI 2:4 নিজেদেরই বিষয়ে নয়, কিন্তু তোমরা অন্যদের বিষয়েও চিন্তা করো।
PHI 2:5 খ্রীষ্ট যীশুর যে মনোভাব ছিল, তোমাদেরও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত:
PHI 2:6 তিনি স্বভাবগতভাবে ঈশ্বর হয়েও ঈশ্বরের সমকক্ষ হওয়ার অবস্থান আঁকড়ে ধরে রাখার কথা ভাবেননি,
PHI 2:7 কিন্তু নিজেকে শূন্য করে দিয়ে, ক্রীতদাসের রূপ ধারণ করলেন, মানব-সদৃশ হয়ে জন্ম নিলেন ও
PHI 2:8 মানব দেহ ধারণ করে নিজেকে অবনত করলেন; মৃত্যু পর্যন্ত, এমনকি ক্রুশে মৃত্যু পর্যন্ত, অনুগত থাকলেন।
PHI 2:9 সেই কারণে, ঈশ্বর তাঁকে সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করলেন এবং সব নাম থেকে শ্রেষ্ঠ সেই নাম তাঁকে দান করলেন,
PHI 2:10 যেন যীশুর নামে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালনিবাসী সকলে নতজানু হয়
PHI 2:11 এবং পিতা ঈশ্বরের মহিমার জন্য প্রত্যেক জিভ স্বীকার করে যে, যীশু খ্রীষ্টই প্রভু।
PHI 2:12 সুতরাং, আমার প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা সবসময় যেমন বাধ্য থেকেছ—কেবলমাত্র আমার উপস্থিতিতে নয়, কিন্তু এখন আমার অনুপস্থিতিতে আরও বেশি করে সভয়ে ও কম্পিত হৃদয়ে, কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা তোমাদের পরিত্রাণ সম্পন্ন করো।
PHI 2:13 কারণ ঈশ্বর তাঁর শুভ-সংকল্পের জন্য তোমাদের অন্তরে ইচ্ছা উৎপন্ন ও কাজ করার জন্য সক্রিয় আছেন।
PHI 2:14 তোমরা অভিযোগ ও তর্কবিতর্ক না করে সব কাজ করো,
PHI 2:15 যেন তোমরা এই কুটিল ও অবক্ষয়ের যুগে “ঈশ্বরের নিষ্কলঙ্ক ও শুচিশুদ্ধ সন্তান হতে পারো।” তোমরা তখন তাদের মধ্যে আকাশের তারার মতো এই জগতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
PHI 2:16 কারণ তোমরা সেই জীবনের বাক্য ধারণ করে আছ। এর ফলে যেন খ্রীষ্টের দিনে আমি গর্ব করতে পারি যে, আমি বৃথা দৌড়াইনি বা পরিশ্রম করিনি।
PHI 2:17 যেমন তোমাদের বিশ্বস্ত সেবা ঈশ্বরের কাছে এক নৈবেদ্য, তেমন যদি আমাকে পেয়-নৈবেদ্যের মতো ঢেলে দেওয়া হয় ও তার ফলে আমি জীবন হারাই, তবুও আমি আনন্দ করব। আর আমি চাই যে তোমরাও আমার সেই আনন্দের ভাগীদার হও।
PHI 2:18 সুতরাং তোমরাও আনন্দিত হও এবং আমার সঙ্গে আনন্দ করো।
PHI 2:19 আমি প্রভু যীশুতে আশা করি, তিমথিকে অচিরেই তোমাদের কাছে পাঠাতে পারব, তাহলে তোমাদের সংবাদ পেয়ে আমিও আশ্বস্ত হব।
PHI 2:20 সে ছাড়া আমার কাছে এমন আর একজনও নেই, যে তোমাদের মঙ্গলের জন্য আন্তরিক আগ্রহ দেখাবে।
PHI 2:21 প্রত্যেকেই যীশু খ্রীষ্টের নয়, কিন্তু নিজের স্বার্থই দেখে।
PHI 2:22 কিন্তু তোমরা জানো, তিমথি নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করেছে, কারণ সুসমাচারের কাজে সে বাবার সঙ্গে ছেলের মতো আমার সেবা করেছে।
PHI 2:23 তাই আশা করছি, আমার পরিস্থিতি কী হয়, সেকথা জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পাঠিয়ে দিতে পারব।
PHI 2:24 আমি প্রভুতে নিশ্চিত যে, আমি নিজেও খুব শীঘ্রই উপস্থিত হব।
PHI 2:25 কিন্তু আমার মনে হয়, আমার ভাই, সহকর্মী ও সংগ্রামী-সঙ্গী ইপাফ্রদীত, যিনি তোমাদেরও সংবাদবাহক এবং আমার প্রয়োজনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যাঁকে তোমরা পাঠিয়েছিলে, তাঁকে তোমাদের কাছে ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।
PHI 2:26 কারণ তিনি তোমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত ব্যাকুল এবং তোমরা তাঁর অসুস্থতার সংবাদ শুনেছিলে বলে তিনি উৎকণ্ঠিত।
PHI 2:27 সত্যিই তিনি অসুস্থ হয়ে মরণাপন্ন হয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর তাঁর উপর করুণা করেছেন; শুধু তাঁর উপর নয়, আমার উপরেও করুণা করেছেন, যেন দুঃখের উপর আমার আর দুঃখ না হয়।
PHI 2:28 সেইজন্য, আমি আরও আগ্রহ সহকারে তাঁকে পাঠাচ্ছি, যেন আবার তাঁর দেখা পেয়ে তোমরা আনন্দ করতে পারো এবং আমারও দুঃখ হালকা হয়।
PHI 2:29 প্রভুতে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানিয়ো এবং তাঁর মতো লোকদের সমাদর কোরো।
PHI 2:30 কারণ খ্রীষ্টের কাজের জন্য তিনি মরণাপন্ন হয়েছিলেন, যে সাহায্য দূর থেকে তোমরা আমাকে দিতে অপারগ ছিলে, তার জন্য তিনি তাঁর জীবন বিপন্ন করেছিলেন।
PHI 3:1 পরিশেষে আমার ভাইবোনেরা, প্রভুতে আনন্দ করো। তোমাদের কাছে একই বিষয়ে বারবার লিখতে আমি বিরক্তি বোধ করি না এবং তা তোমাদের পক্ষে নিরাপদও বটে।
PHI 3:2 যারা দুষ্কর্ম করে, যারা অঙ্গচ্ছেদ ঘটায়, সেইসব কুকুর থেকে সাবধান থেকো। তাদের সম্বন্ধে সতর্ক হও।
PHI 3:3 কারণ আমরা যারা ঈশ্বরের আত্মায় উপাসনা করি, যারা খ্রীষ্ট যীশুতে গৌরববোধ করি, শরীরের বিষয়ে যাদের কোনো আস্থা নেই, সেই আমরাই তো প্রকৃত সুন্নতপ্রাপ্ত—
PHI 3:4 যদিও এরকম আস্থাশীল হওয়ার যথেষ্ট কারণ আমার নিজের উপরে আছে। অন্য কেউ যদি মনে করে যে, শারীরিক সংস্কারের ব্যাপারে সে নির্ভর করতে পারে, আমার আরও অনেক বিষয়ে নির্ভর করার আছে:
PHI 3:5 অষ্টম দিনে আমার সুন্নত হয়েছে, জাতিতে আমি ইস্রায়েলী, বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত, হিব্রু বংশজাত একজন হিব্রু, বিধানসংক্রান্ত বিষয়ে একজন ফরিশী;
PHI 3:6 উদ্যমের ব্যাপারে আমি মণ্ডলীর নির্যাতনকারী এবং বিধানগত ধার্মিকতায় আমি ছিলাম নির্দোষ।
PHI 3:7 কিন্তু, যা ছিল আমার কাছে লাভজনক, খ্রীষ্টের জন্য আজ সেই সবকিছুকে আমি লোকসান বলে মনে করছি।
PHI 3:8 তার চেয়েও বেশি, আমার প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুকে জানার বহুগুণে শ্রেষ্ঠতর মহত্ত্বের তুলনায়, বাকি সবকিছুকে আমি লোকসান মনে করি, যাঁর জন্য আমি সবকিছু হারিয়েছি। খ্রীষ্টকে লাভ করার প্রচেষ্টায় আমি সে সমস্তকে আবর্জনাতুল্য মনে করি এবং
PHI 3:9 তাঁরই মধ্যে যেন আমাকে খুঁজে পাওয়া যায়। যে ধার্মিকতা বিধান থেকে পাওয়া যায় তা আজ আর আমার মধ্যে নেই; কিন্তু সেই ধার্মিকতা আছে যা খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রাপ্য—যে ধার্মিকতা ঈশ্বর থেকে বিশ্বাসের মাধ্যমে আসে।
PHI 3:10 আমি খ্রীষ্টকে এবং তাঁর পুনরুত্থানের পরাক্রমকে জানতে চাই; তাঁর কষ্টভোগের সহভাগীও হতে চাই; এভাবেই তাঁর মৃত্যুতে যেন তাঁরই মতো হই।
PHI 3:11 আর তাই, যেভাবেই হোক, যেন আমি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থানের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি।
PHI 3:12 আমি যে ইতিমধ্যেই এসব পেয়েছি, বা সিদ্ধিলাভ করেছি, তা নয়, কিন্তু যে জন্য খ্রীষ্ট যীশুর দ্বারা আমি ধৃত হয়েছি, আমিও তা ধারণ করার জন্য প্রাণপণ ছুটে চলেছি।
PHI 3:13 ভাইবোনেরা, আমি নিজে যে ধরে ফেলেছি, এমন কথা বলতে পারি না, কিন্তু একটি কাজ আমি করি: পিছনের সমস্ত কিছু ভুলে গিয়ে সামনে যা আছে, তারই দিকে আমি প্রাণপণ প্রয়াসে,
PHI 3:14 লক্ষ্যের অভিমুখে দৌড়াই, যেন ঈশ্বর খ্রীষ্ট যীশুতে স্বর্গীয় যে আহ্বান দিয়েছেন, সেই পুরস্কার লাভ করতে পারি।
PHI 3:15 আমাদের মধ্যে যারা পরিপক্ব, তাদের সকলের দৃষ্টিভঙ্গি যেন এরকমই হয়। যদি কোনো ক্ষেত্রে তোমরা ভিন্নমত পোষণ করো, ঈশ্বর সে বিষয়ও তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট করে তুলবেন।
PHI 3:16 আমরা যা পেয়েছি, কেবলমাত্র সেই অনুযায়ী যেন জীবনযাপন করি।
PHI 3:17 ভাইবোনেরা, তোমরা সবাই মিলে আমার আদর্শ অনুসরণ করো। যে আদর্শ আমরা স্থাপন করেছি, সেই অনুযায়ী যারা জীবনযাপন করে, তাদের লক্ষ্য করো।
PHI 3:18 কারণ, আমি আগেই যেমন বারবার তোমাদের বলেছি, আর এখন আবার চোখের জলে বলছি, অনেকেই এমন জীবনযাপন করে, যেন তারা খ্রীষ্টের ক্রুশের শত্রু।
PHI 3:19 ধ্বংসই তাদের শেষগতি, পেটপূজাই তাদের দেবতা, নিজ লজ্জাতেই তাদের গৌরব। জাগতিক বিষয়ই তারা ভাবে।
PHI 3:20 কিন্তু আমরা স্বর্গের নাগরিক। আমরা আগ্রহ সহকারে সেখান থেকে এক পরিত্রাতার প্রতীক্ষা করছি—অর্থাৎ, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের, যিনি তাঁর যে ক্ষমতাবলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ,
PHI 3:21 তারই দ্বারা আমাদের দীনতার দেহকে রূপান্তরিত করে, তাঁর গৌরবজ্জ্বল দেহের মতো করবেন।
PHI 4:1 অতএব, আমার প্রিয় ভাইবোন, তোমাদের, যাদের আমি ভালোবাসি ও যাদের একান্তভাবে পেতে চাই, তোমরাই আমার আনন্দ ও মুকুট। প্রিয় বন্ধুরা, প্রভুতে তোমরা এভাবেই অবিচল থাকো।
PHI 4:2 আমি ইবদিয়াকে অনুনয় করছি এবং সুন্তুখীকেও অনুনয় করছি, তারা যেন প্রভুতে সহমত হয়।
PHI 4:3 আর আমার অনুগত সহকর্মী, আমি তোমাকেও বলছি, এই মহিলাদের সাহায্য করো। সুসমাচারের জন্য তারা ক্লীমেন্ত এবং আমার অন্যান্য সহকর্মীদের পাশে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছে। তাদের নাম জীবনপুস্তকে লেখা আছে।
PHI 4:4 তোমরা প্রভুতে সবসময় আনন্দ করো। আমি আবার বলব, আনন্দ করো।
PHI 4:5 তোমাদের শান্তভাব সবার কাছে প্রত্যক্ষ হোক। প্রভু শীঘ্রই আসছেন।
PHI 4:6 কোনো বিষয়েই উৎকণ্ঠিত হোয়ো না, কিন্তু সব বিষয়ে প্রার্থনা ও মিনতি দ্বারা ধন্যবাদের সঙ্গে ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সব অনুরোধ জানাও।
PHI 4:7 এতে সব বোধবুদ্ধির অতীত ঈশ্বরের শান্তি, খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের অন্তর ও মন রক্ষা করবে।
PHI 4:8 অবশেষে বলি, ভাইবোনেরা, যা কিছু সত্য, যা কিছু মহান, যা কিছু যথার্থ, যা কিছু বিশুদ্ধ, যা কিছু আদরণীয়, যা কিছু আকর্ষণীয়—যদি কোনো কিছু উৎকৃষ্ট বা প্রশংসার যোগ্য হয়—তোমরা সেই সমস্ত বিষয়ের চিন্তা করো।
PHI 4:9 তোমরা আমার কাছ থেকে যা শিক্ষা পেয়েছ, যা কিছু পেয়েছ, যা কিছু শুনেছ বা আমার মধ্যে দেখেছ, সেসব অনুশীলন করো। তাহলে শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে অবস্থিতি করবেন।
PHI 4:10 প্রভুতে আমি পরম আনন্দ করি যে, অবশেষে তোমরা আমার সম্বন্ধে চিন্তা করতে নতুন উৎসাহ পেয়েছ। সত্যিই, তোমাদের চিন্তা ছিল, কিন্তু তা দেখানোর সুযোগ তোমাদের ছিল না।
PHI 4:11 আমি অভাবগ্রস্ত বলেই যে একথা তোমাদের বলছি, তা নয়। কারণ যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমি সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা লাভ করেছি।
PHI 4:12 অভাব কী, তা আমি জানি এবং প্রাচুর্য কী, তাও আমি জানি। যে কোনো এবং প্রত্যেকটি পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট থাকার গোপন রহস্য শিখেছি—ভালোভাবে উদরপূর্তি করার বা ক্ষুধার্ত থাকার, প্রাচুর্যের মধ্যে থাকার, কিংবা অনটনে থাকার।
PHI 4:13 যিনি আমাকে শক্তি দান করেন, তাঁর মাধ্যমে আমি সবকিছুই করতে পারি।
PHI 4:14 তবুও তোমরা আমার দুঃখকষ্টের অংশীদার হয়ে ভালোই করেছ।
PHI 4:15 তা ছাড়াও, তোমরা ফিলিপীয়েরা তো জানো, তোমাদের সুসমাচার-পরিচিতি লাভের প্রাথমিক পর্বে আমি যখন ম্যাসিডোনিয়া ছেড়ে যাত্রা করেছিলাম, তখন তোমরা ছাড়া আর কোনো মণ্ডলী দেওয়া-নেওয়ার বিষয়ে আমার সহভাগী হয়নি।
PHI 4:16 এমনকি, থিষলনিকায় থাকার সময়ে আমার অভাব পূরণের জন্য তোমরা বারবার আমাকে সাহায্য পাঠিয়েছিলে।
PHI 4:17 আমি যে দান গ্রহণের জন্য আগ্রহী, তা নয়, বরং আমার দৃষ্টি তোমাদের ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের দিকে।
PHI 4:18 আমি পূর্ণমাত্রায় সবকিছু পেয়েছি, এমনকি, তার চেয়েও বেশি পেয়েছি; বর্তমানে ইপাফ্রদীতের মাধ্যমে পাঠানো তোমাদের দান পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাকে দেওয়া হয়েছে। সেই দান সুরভিত অর্ঘ্যস্বরূপ, ঈশ্বরের প্রীতিজনক গ্রহণযোগ্য বলি।
PHI 4:19 আর আমার ঈশ্বর খ্রীষ্ট যীশুতে স্থিত তাঁর গৌরবময় ধন অনুযায়ী তোমাদের সব প্রয়োজন পূর্ণরূপে মিটিয়ে দেবেন।
PHI 4:20 আমাদের ঈশ্বর ও পিতার প্রতি মহিমা যুগে যুগে চিরকাল হোক। আমেন।
PHI 4:21 খ্রীষ্ট যীশুতে সমস্ত পবিত্রগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ো। আমার সঙ্গী ভাইয়েরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
PHI 4:22 সমস্ত পবিত্রগণ, বিশেষ করে কৈসরের পরিজনেরা, তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
PHI 4:23 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার সহবর্তী হোক। আমেন।
COL 1:1 ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী, খ্রীষ্ট যীশুর প্রেরিতশিষ্য আমি পৌল এবং আমাদের ভাই তিমথি,
COL 1:2 কলসী নগরে খ্রীষ্টে পবিত্র ও বিশ্বস্ত ভাইবোনেদের প্রতি: আমাদের পিতা ঈশ্বর থেকে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ এবং শান্তি বর্ষিত হোক।
COL 1:3 তোমাদের জন্য প্রার্থনা করার সময় আমরা সবসময় আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই।
COL 1:4 কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের বিশ্বাস এবং পবিত্রগণের প্রতি তোমাদের ভালোবাসার কথা আমরা শুনেছি।
COL 1:5 যে বিশ্বাস ও প্রেম প্রত্যাশা থেকে উৎসারিত হয়, যা স্বর্গে তোমাদের জন্য সঞ্চিত রয়েছে, তা সত্যবাণীর মাধ্যমে তোমরা আগেই শুনেছ।
COL 1:6 সেই সুসমাচার তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে। সুসমাচার শোনার ও ঈশ্বরের অনুগ্রহের নিগূঢ় সত্যকে উপলব্ধি করার দিন থেকে তা যেমন তোমাদের মধ্যে সক্রিয়, তেমনই সারা জগতে এই সুসমাচার ফলপ্রসূ হচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
COL 1:7 একথা তোমরা আমাদের প্রিয় সহ-সেবক ইপাফ্রার কাছে শিক্ষা পেয়েছ, যিনি আমাদের পক্ষে খ্রীষ্টের একজন বিশ্বস্ত পরিচারক।
COL 1:8 আত্মাতে তোমাদের ভালোবাসার কথা তিনিও আমাদের জানিয়েছেন।
COL 1:9 এই কারণে আমরাও, যেদিন থেকে তোমাদের কথা শুনেছি সেইদিন থেকে তোমাদের জন্য প্রার্থনা করা থেকে বিরত হইনি। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রতিনিয়ত নিবেদন করি, যেন তোমরা সমস্ত আত্মিক জ্ঞানে ও বোধশক্তিতে তাঁর ইচ্ছার তত্ত্বজ্ঞানে পূর্ণ হও।
COL 1:10 আমরা এজন্য এই প্রার্থনা করছি যে, তোমরা যেন প্রভুর যোগ্যরূপে জীবনযাপন করো, জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই তোমাদের আচরণ দ্বারা তাঁকে সন্তুষ্ট করে তোলো, সমস্ত শুভকাজে সফল হয়ে ওঠো ও ঐশ্বরিক জ্ঞানে বৃদ্ধিলাভ করো।
COL 1:11 ঈশ্বরের গৌরবময় শক্তিতে তোমরা পরাক্রান্ত হয়ে যেন অসীম সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের অধিকারী হও এবং
COL 1:12 সানন্দে পিতাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করো, যিনি জ্যোতির রাজ্যে পবিত্রগণের যে অধিকার তার অংশীদার হওয়ার জন্য তোমাদের যোগ্য করে তুলেছেন।
COL 1:13 কারণ অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে তিনি আমাদের উদ্ধার করে তাঁর পুত্রের রাজ্যে নিয়ে এসেছেন, যাঁকে তিনি প্রেম করেন।
COL 1:14 তাঁর দ্বারাই আমরা মুক্তি এবং সব পাপের ক্ষমা পেয়েছি।
COL 1:15 তিনি অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি, সমগ্র সৃষ্টির প্রথমজাত।
COL 1:16 কারণ তাঁর দ্বারা সমস্ত কিছু সৃষ্ট হয়েছে, স্বর্গ কি মর্ত্য, দৃশ্য কি অদৃশ্য, সিংহাসন কি আধিপত্য, আধিপত্য কি কর্তৃত্ব, সমস্ত বস্তু তাঁরই দ্বারা ও তাঁরই জন্য সৃষ্ট হয়েছে।
COL 1:17 সব বিষয়ের পূর্ব থেকেই তিনি বিরাজমান। তাঁরই মধ্যে সমস্ত বস্তু সন্নিবদ্ধ।
COL 1:18 তিনি দেহের, অর্থাৎ মণ্ডলীর মস্তক; তিনিই সূচনা, তিনিই মৃতগণের মধ্য থেকে উত্থিত প্রথমজাত, যেন সমস্ত কিছুর উপরে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
COL 1:19 কারণ ঈশ্বর এতেই প্রীত হলেন যে, তাঁর সমস্ত পূর্ণতা খ্রীষ্টের মধ্যে অধিষ্ঠান করে এবং
COL 1:20 ক্রুশে পাতিত তাঁর রক্তের মাধ্যমে শান্তি স্থাপন করে, তাঁর দ্বারা স্বর্গ কি মর্ত্যের সবকিছুকে তাঁর সঙ্গে সম্মিলিত করেন।
COL 1:21 এক সময় তোমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলে এবং তোমাদের মন্দ আচরণের জন্য অন্তরে ঈশ্বরের শত্রু হয়েছিলে;
COL 1:22 কিন্তু ঈশ্বর এখন খ্রীষ্টের মানবদেহে মৃত্যুবরণের দ্বারা তোমাদের সম্মিলিত করেছেন, যেন তাঁর সাক্ষাতে তোমাদের পবিত্র, নিষ্কলঙ্ক ও অনিন্দনীয়রূপে উপস্থিত করেন,
COL 1:23 যদি তোমরা বিশ্বাসে অবিচল থাকো, প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় থেকে সুসমাচারের মধ্যে যে প্রত্যাশা আছে, তা থেকে বিচ্যুত না হও। তোমরা এই সুসমাচারই শুনেছ, যা আকাশমণ্ডলের নিচে সব সৃষ্টির কাছে প্রচার করা হয়েছে, আমি পৌল যার পরিচারক হয়েছি।
COL 1:24 তোমাদের জন্য আমি আমার দেহে যে দুঃখকষ্ট আমি ভোগ করেছি তার জন্য এখন আমি আনন্দ বোধ করছি কারণ এভাবে আমি খ্রীষ্টের কষ্টভোগে অংশগ্রহণ করছি যা তাঁর দেহ অর্থাৎ মণ্ডলীর ক্ষেত্রে বজায় রয়েছে।
COL 1:25 তোমাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্যকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য ঈশ্বর আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, সেজন্য আমি মণ্ডলীর দাসত্ব বরণ করেছি।
COL 1:26 যুগযুগাম্ত এবং বহু প্রজন্ম ধরে এই গুপ্তরহস্য গোপন রাখা হয়েছিল, কিন্তু এখন তা পবিত্রগণের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে।
COL 1:27 কারণ ঈশ্বর চেয়েছিলেন, তাঁরা জানবে যে খ্রীষ্টের ঐশ্বর্য ও গৌরব অইহুদিদের জন্যও। আর এই হল সেই গুপ্তরহস্য: খ্রীষ্ট তোমাদের মধ্যে বাস করেন; এই সত্য তোমাদের আশ্বাস দেয় যে তোমরাও তাঁর গৌরবের ভাগীদার হবে।
COL 1:28 আমরা তাঁকেই প্রচার করি। প্রত্যেককে আমরা পূর্ণরূপে সতর্ক করে তুলি এবং শিক্ষা দিই যেন প্রত্যেককে খ্রীষ্টে নিখুঁতরূপে উপস্থিত করতে পারি।
COL 1:29 এই উদ্দেশ্যে খ্রীষ্টের যেসব শক্তি আমার মধ্যে প্রবলভাবে সক্রিয়, তাঁরই সহায়তায় আমি পরিশ্রম ও সংগ্রাম করে চলেছি।
COL 2:1 লায়োদেকিয়ার অধিবাসীদের ও যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়নি, তাদের এবং তোমাদের জন্য আমি কত সংগ্রাম করে চলেছি, তোমাদের তা অবগত করতে চাই।
COL 2:2 তাদের অন্তরকে অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ও ভালোবাসায় একতাবদ্ধ করে তোলাই আমার অভিপ্রায়। তারা যেন পূর্ণ বোধশক্তির ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে এবং ঈশ্বরের গুপ্তরহস্য, অর্থাৎ খ্রীষ্টকে জানতে পারে।
COL 2:3 তাঁরই মধ্যে আছে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সমস্ত ঐশ্বর্য।
COL 2:4 আমি তোমাদের একথা বলছি যেন, কোনো মানুষ শ্রুতিসুখকর যুক্তিজাল বিস্তার করে তোমাদের প্রতারিত না করে।
COL 2:5 কারণ শারীরিকভাবে আমি তোমাদের কাছে অনুপস্থিত থাকলেও, আত্মায় আমি তোমাদের মধ্যে উপস্থিত আছি। তোমাদের সুশৃঙ্খল জীবন এবং খ্রীষ্টে তোমাদের বিশ্বাস দেখে আমি আনন্দিত।
COL 2:6 সুতরাং, খ্রীষ্ট যীশুকে যেমন প্রভুরূপে গ্রহণ করেছ, তেমনই তাঁর মধ্যেই জীবনযাপন করতে থাকো।
COL 2:7 তাঁর মধ্যেই তোমাদের বিশ্বাসের মূল গভীর হোক ও গড়ে ওঠো। তোমরা যে শিক্ষা পেয়েছ তা অনুযায়ী বিশ্বাসে দৃঢ় হও ও ধন্যবাদ অর্পণে উচ্ছ্বসিত হও।
COL 2:8 দেখো, কেউ যেন অসার ও বিভ্রান্তিকর দর্শনের দ্বারা তোমাদের বন্দি না করে, যা কেবল মানবিক ঐতিহ্য এবং জাগতিক মূলনীতির উপর নির্ভরশীল, খ্রীষ্টের উপর নয়।
COL 2:9 কারণ ঈশ্বরত্বের সমস্ত পূর্ণতা, খ্রীষ্টের মধ্যেই দৈহিকরূপে অধিষ্ঠিত
COL 2:10 এবং যিনি সমস্ত পরাক্রম ও কর্তৃত্বের মস্তকস্বরূপ, সেই খ্রীষ্টে তোমরা পূর্ণতা লাভ করেছ।
COL 2:11 পাপময় স্বভাব পরিত্যাগ করে, তাঁর মধ্যেই তোমরা সুন্নতপ্রাপ্ত হয়েছ। সেই সুন্নত-সংস্কার মানুষের হাতে নয়, কিন্তু খ্রীষ্টের দ্বারা সাধিত হয়েছে।
COL 2:12 এর ফলে, বাপ্তিষ্মে খ্রীষ্টের সঙ্গে তোমরা সমাধিপ্রাপ্ত হয়েছ এবং মৃতদের মধ্য থেকে যিনি তাঁকে উত্থাপিত করেছিলেন, সেই ঈশ্বরের পরাক্রমে বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁরই সঙ্গে তোমরা উত্থাপিত হয়েছ।
COL 2:13 তোমাদের সকল পাপে এবং পাপময় স্বভাবে সুন্নতহীন অবস্থায় তোমরা যখন মৃত ছিলে, তখন ঈশ্বর তোমাদের খ্রীষ্টে জীবিত করেছেন।
COL 2:14 বিধানের যেসব লিখিত নির্দেশনামা আমাদের বিরুদ্ধে ও প্রতিকূলে ছিল, তা তিনি বাতিল করেছেন; ক্রুশে বিদ্ধ করে তিনি তা দূর করেছেন।
COL 2:15 আর পরাক্রম এবং কর্তৃত্বকে পরাস্ত করে ক্রুশের মাধ্যমে তাদের উপরে বিজয়ী হয়েছেন এবং তাদের প্রকাশ্যে দৃশ্যমান করেছেন।
COL 2:16 অতএব আহার, পানীয়, ধর্মীয় উৎসব, অমাবস্যা বা বিশ্রামদিন পালন নিয়ে কেউ তোমাদের বিচার না করুক।
COL 2:17 এগুলি ছিল ভবিষ্যতে যা ঘটবে তার ছায়ামাত্র, প্রকৃত বিষয় কিন্তু খ্রীষ্টের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।
COL 2:18 যারা ভ্রান্ত নম্রতায় সুখবোধ করে ও স্বর্গদূতদের আরাধনা করে, পুরস্কারের জন্য তারা যেন তোমাদের অযোগ্য প্রতিপন্ন না করতে পারে। এই ধরনের লোক নিজের দর্শনের কথাই সবিস্তারে বর্ণনা করে; তার জাগতিক মন তাকে অনর্থক মানসিক কল্পনায় দাম্ভিক করে তোলে।
COL 2:19 সে সেই মস্তকের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা থেকে সমগ্র দেহ পরিপুষ্ট হয়, পেশী ও গ্রন্থি-বন্ধনীর দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে সন্নিবদ্ধ থাকে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী বৃদ্ধিলাভ করে।
COL 2:20 খ্রীষ্টের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে তোমরা জগতের রীতিনীতি থেকে মুক্ত হয়েছ, তাহলে, কেন তোমরা এখনও সেইসব রীতিনীতির অধীনে জীবনযাপন করছ?
COL 2:21 “এটা কোরো না! ওটা খেয়ো না! সেটা ছুঁয়ো না!”?
COL 2:22 প্রয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গেই তো এসব রীতিনীতির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়, কারণ মানুষের তৈরি বিধিনিষেধ এবং শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই এগুলি গড়ে উঠেছে।
COL 2:23 তাদের স্ব-আরোপিত আরাধনা, ভ্রান্ত নম্রতা এবং শরীরের প্রতি নির্দয় ব্যবহার দেখে জ্ঞানের পরিচয় আছে বলে মনে হলেও শারীরিক কামনাবাসনা নিবৃত্তির ক্ষেত্রে এসব মূল্যহীন।
COL 3:1 তাহলে, তোমরা যেহেতু খ্রীষ্টের সঙ্গে উত্থাপিত হয়েছ, তাই ঈশ্বরের ডানদিকে, যেখানে খ্রীষ্ট উপবিষ্ট আছেন, সেই স্বর্গীয় বিষয়সমূহে মনোনিবেশ করো।
COL 3:2 তোমরা পার্থিব বিষয়সমূহে নয়, স্বর্গীয় বিষয়ে মনোযোগী হও।
COL 3:3 কারণ তোমাদের মৃত্যু হয়েছে এবং এখন তোমাদের জীবন খ্রীষ্টের সঙ্গে ঈশ্বরে নিহিত আছে।
COL 3:4 তোমাদের জীবনস্বরূপ খ্রীষ্ট যখন প্রকাশিত হবেন, তখন তোমরাও তাঁর সঙ্গে মহিমায় প্রকাশিত হবে।
COL 3:5 তাই তোমাদের সমস্ত পার্থিব প্রবৃত্তিকে নাশ করো—অনৈতিক যৌনাচার, অশুদ্ধতা, ব্যভিচার, কামনাবাসনা এবং লোভ যা হল প্রতিমাপূজা।
COL 3:6 এসব কারণেই যারা অবাধ্য, তাদের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে এসেছে।
COL 3:7 বিগত জীবনে, এক সময় তোমরা এসব কিছুতেই অভ্যস্ত ছিলে।
COL 3:8 কিন্তু এখন তোমরা এসব বিষয় পরিত্যাগ করো: ক্রোধ, রোষ, বিদ্বেষ ও পরনিন্দা, এবং মুখে অশ্লীল ভাষা উচ্চারণ করা।
COL 3:9 পরস্পরের কাছে মিথ্যা কথা বোলো না, কারণ তোমরা তোমাদের পুরোনো সত্তাকে তার কার্যকলাপসহ পরিত্যাগ করে
COL 3:10 নতুন সত্তাকে পরিধান করেছ, যা তার স্রষ্টার প্রতিমূর্তিতে ঈশ্বরের জ্ঞানে নতুন হয়ে উঠছে।
COL 3:11 এখানে গ্রিক বা ইহুদি, সুন্নত হওয়া বা সুন্নতবিহীন, বর্বর, স্কুথীয়, ক্রীতদাস বা স্বাধীন বলে কিছু নেই, খ্রীষ্টই সব এবং তিনি সকলের মধ্যে আছেন।
COL 3:12 অতএব, ঈশ্বরের মনোনীত, পবিত্র ও প্রিয়জনরূপে সহানুভূতি, দয়া, নম্রতা, সৌজন্যবোধ এবং সহিষ্ণুতায় নিজেদের আবৃত করো।
COL 3:13 পরস্পরের প্রতি সহনশীল হও। একের বিরুদ্ধে অপরের কোনো ক্ষোভ থাকলে, পরস্পরকে ক্ষমা করো। প্রভু যেমন তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তোমরাও তেমনই করো।
COL 3:14 এসব গুণের ঊর্ধ্বে ভালোবাসাকে পরিধান করো, যা সেইসব গুণকে পূর্ণ ঐক্যের বাঁধনে আবদ্ধ করে।
COL 3:15 খ্রীষ্টের শান্তি তোমাদের হৃদয়ে কর্তৃত্ব করুক, কারণ একই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গরূপে তোমরা শান্তির উদ্দেশে আহূত হয়েছ। আর তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
COL 3:16 তোমাদের অন্তরে খ্রীষ্টের বাক্য প্রচুর পরিমাণে অবস্থিতি করুক; তোমরা সমস্ত বিজ্ঞতায় বিভূষিত হয়ে পরস্পরকে শিক্ষাদান ও সচেতন করো এবং গীত, স্তুতি ও আত্মিক সংকীর্তনে মুখর হয়ে ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের হৃদয়ের কৃতজ্ঞতায় তা করো।
COL 3:17 আর কথায় ও কাজে, তোমরা যা কিছুই করো, সবই প্রভু যীশুর নামে করো, তাঁরই মাধ্যমে পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে দিতে তা করো।
COL 3:18 স্ত্রীরা, স্বামীর বশ্যতাধীন হও। প্রভুতে এরকম আচরণই সংগত।
COL 3:19 স্বামীরা, তোমরা নিজের নিজের স্ত্রীকে ভালোবেসো। তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ কোরো না।
COL 3:20 সন্তানেরা, সব বিষয়ে বাবা-মার বাধ্য হও, কারণ এরকম আচরণই প্রভুর প্রীতিজনক।
COL 3:21 পিতারা, সন্তানদের উত্যক্ত কোরো না, করলে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।
COL 3:22 ক্রীতদাসেরা, তোমরা সব বিষয়ে জগতের মনিবদের আজ্ঞা পালন করো; তাদের অনুগ্রহ লাভের জন্য বা তারা যখন তোমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখে, তখনই শুধু নয়, কিন্তু অকপট হৃদয়ে প্রভুর প্রতি সম্ভ্রমবশত তা করো।
COL 3:23 মানুষের জন্য নয়, প্রভুরই জন্য করছ মনে করে, যা কিছুই করো, মনপ্রাণ দিয়ে করো,
COL 3:24 কারণ তোমাদের জানা আছে, প্রভুর কাছ থেকে তোমরা পুরস্কাররূপে এক অধিকার লাভ করবে। তোমরা প্রভু খ্রীষ্টেরই সেবায় রত আছ।
COL 3:25 অন্যায়কারী তার অন্যায়ের প্রতিফল পাবে, কারণ ঈশ্বরের কাছে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।
COL 4:1 মনিবেরা, তোমরা তোমাদের দাসদের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও শোভনীয় আচরণ করো, কারণ তোমরা জানো, স্বর্গে তোমাদেরও এক প্রভু আছেন।
COL 4:2 তোমরা সচেতনভাবে ও ধন্যবাদের সঙ্গে প্রার্থনায় নিবিষ্ট থাকো।
COL 4:3 আমাদের জন্যও প্রার্থনা করো, যেন ঈশ্বর আমাদের জন্য বাক্যের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং আমরা খ্রীষ্টের গুপ্তরহস্য ঘোষণা করতে পারি, যে কারণে আমি শিকলে বন্দি আছি।
COL 4:4 প্রার্থনা করো, যেন যেমন উচিত, আমি তা স্পষ্টরূপে ব্যক্ত করতে পারি।
COL 4:5 বাইরের লোকদের সঙ্গে আচরণে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ো, সব সুযোগের সর্বাধিক সদব্যবহার করো।
COL 4:6 তোমাদের আলাপ-আলোচনা যেন সবসময় অনুগ্রহে ভরপুর ও লবণে আস্বাদযুক্ত হয় এবং কাকে কীভাবে উত্তর দিতে হবে, তা যেন তোমরা জানতে পারো।
COL 4:7 আমার সব খবর তুখিক তোমাদের জানাবেন। তিনি একজন প্রিয় ভাই, বিশ্বস্ত পরিচারক এবং প্রভুতে আমার সহদাস।
COL 4:8 তাঁর কাছ থেকে তোমরা যেন আমাদের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানতে পারো এবং তিনি যেন তোমাদের হৃদয়ে উৎসাহ সঞ্চার করতে পারেন, এই বিশেষ উদ্দেশ্যে তাঁকে আমি তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি।
COL 4:9 তাঁর সঙ্গে আছেন আমাদের বিশ্বস্ত ও প্রিয় ভাই ওনীষিম। তিনি তোমাদেরই একজন। এখানকার সব কথা তাঁরা তোমাদের জানাবেন।
COL 4:10 আমার কারাগারের সঙ্গী আরিষ্টার্খ এবং বার্ণবার জ্ঞাতিভাই মার্ক-ও তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। (তোমরা তাঁর সম্বন্ধে নির্দেশ পেয়েছ, তিনি যদি তোমাদের কাছে যান তবে তাঁকে স্বাগত জানিয়ো।)
COL 4:11 যীশু নামে আখ্যাত যুষ্ট তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য আমার সহকর্মীদের মধ্যে শুধু এরাই ইহুদি। তাঁরা আমার সান্ত্বনার কারণ হয়েছেন।
COL 4:12 তোমাদেরই একজন, যীশু খ্রীষ্টের সেবক ইপাফ্রা, তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি তোমাদের জন্য সবসময় প্রার্থনায় মল্লযুদ্ধ করছেন, যেন তোমরা ঈশ্বরের সব ইচ্ছায় সুদৃঢ় থাকো, পরিণত ও সুনিশ্চিত হও।
COL 4:13 তাঁর পক্ষে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি তোমাদের, লায়োদেকিয়া ও হিয়েরাপলিসের অধিবাসীদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।
COL 4:14 আমাদের প্রিয় বন্ধু, চিকিৎসক লূক এবং দীমা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
COL 4:15 লায়োদেকিয়ার ভাইবোনেদের, এবং নিম্ফা ও তাঁর বাড়িতে সমবেত হওয়া মণ্ডলীর সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানিয়ো।
COL 4:16 এই পত্রটি তোমাদের কাছে পাঠ করার পর যেন লায়োদেকিয়ার মণ্ডলীতেও পাঠ করা হয়। আর লায়োদেকিয়া মণ্ডলী থেকে যে পত্রটি তোমাদের কাছ পাঠানো হবে, সেটি তোমরাও পাঠ কোরো।
COL 4:17 আর্খিপ্পকে বোলো, “প্রভুতে সেবা করার যে দায়িত্ব তোমাকে দেওয়া হয়েছে তা যেন তুমি সুসম্পন্ন করো।”
COL 4:18 আমি পৌল, নিজের হাতে এই অভিনন্দনবাণী লিখছি। আমার বন্দি অবস্থার কথা স্মরণ কোরো। অনুগ্রহ তোমাদের সহবর্তী হোক।
1TH 1:1 পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টে থিষলনীকীয় মণ্ডলীর প্রতি, পৌল, সীল এবং তিমথি এই পত্র লিখছি। অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।
1TH 1:2 আমাদের প্রার্থনায় তোমাদের নাম উল্লেখ করে আমরা তোমাদের সবার জন্য ঈশ্বরের কাছে সবসময় ধন্যবাদ নিবেদন করি।
1TH 1:3 বিশ্বাসের বলে তোমরা যে কাজ করেছ, প্রেমের বশে যে পরিশ্রম দিয়েছ এবং আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের উপর প্রত্যাশা রেখে যে সহিষ্ণুতার পরিচয় রেখেছ—আমাদের ঈশ্বর ও পিতার সমক্ষে আমরা সেকথা বারবার মনে করি।
1TH 1:4 ঈশ্বরের প্রীতিভাজন ভাইবোনেরা, আমরা জানি যে, তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন,
1TH 1:5 কারণ, আমাদের সুসমাচার শুধু বাক্যবিন্যাসের দ্বারা তোমাদের কাছে আসেনি, কিন্তু এসেছিল পরাক্রম, পবিত্র আত্মায় এবং গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে। তোমাদের মধ্যে, তোমাদেরই জন্য আমরা কীভাবে জীবনযাপন করেছি, তা তোমরা জানো।
1TH 1:6 তোমরা আমাদের এবং প্রভুর অনুকরণ করেছিলে, প্রচণ্ড দুঃখকষ্টের মধ্যেও পবিত্র আত্মার দেওয়া আনন্দে তোমরা সেই বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছ।
1TH 1:7 তাই ম্যাসিডোনিয়া এবং আখায়ার সমস্ত বিশ্বাসীর কাছে তোমরা আদর্শ হয়ে উঠেছ।
1TH 1:8 তোমাদের কাছ থেকে প্রভুর বার্তা শুধু যে ম্যাসিডোনিয়া এবং আখায়াতে ঘোষিত হয়েছে তা নয়, ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের বিশ্বাসের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
1TH 1:9 কারণ তোমরা আমাদের কী রকম অভ্যর্থনা জানিয়েছিলে, লোকেরা নিজেরাই সেকথা প্রচার করেছে। তারা প্রকাশ করে যে, জীবন্ত এবং সত্য ঈশ্বরের সেবা করার জন্য তোমরা সব প্রতিমা ত্যাগ করে কীভাবে ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসেছ এবং
1TH 1:10 তিনি যাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন, সন্নিকট ক্রোধ থেকে যিনি আমাদের রক্ষা করবেন, তোমরা ঈশ্বরের সেই পুত্র যীশুর স্বর্গ থেকে আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছ।
1TH 2:1 ভাইবোনেরা, তোমরা জানো, তোমাদের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ ব্যর্থ হয়নি।
1TH 2:2 তোমরা জানো, আমরা ফিলিপীতে আগেই নির্যাতিত ও অপমানিত হয়েছিলাম, কিন্তু প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও আমাদের ঈশ্বরের সহায়তায় তোমাদের কাছে তাঁর সুসমাচারের কথা বলতে সাহসী হয়েছিলাম।
1TH 2:3 ভ্রান্তির বশে, অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে আমরা আবেদন জানাইনি, আমরা কাউকে প্রতারিত করারও চেষ্টা করিনি,
1TH 2:4 বরং, ঈশ্বর যেমন আমাদের পরীক্ষাসিদ্ধ করে সুসমাচার প্রচার করার দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তেমনই প্রচার করি। আমরা মানুষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করিনি, কিন্তু সন্তুষ্ট করতে চেয়েছি ঈশ্বরকে, যিনি আমাদের হৃদয় পরীক্ষা করেন।
1TH 2:5 তোমরা জানো, আমরা কখনও তোষামোদ করিনি, মুখোশের আড়ালে লোভকে ঢাকিনি—ঈশ্বর আমাদের সাক্ষী।
1TH 2:6 আমরা কোনো মানুষের প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করিনি, তোমাদের কাছে নয় বা অন্য কারও কাছে নয়। খ্রীষ্টের প্রেরিতশিষ্য বলে আমরা আমাদের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারতাম,
1TH 2:7 কিন্তু তা না করে খ্রীষ্টের প্রেরিতশিষ্যরূপে আমরা শিশুদের মতো তোমাদের কাছে নতনম্র হয়েছিলাম। যেমন মা তাঁর শিশু সন্তানদের লালনপালন করেন,
1TH 2:8 আমরা তেমনই তোমাদের প্রতি যত্নশীল ছিলাম। আমরা তোমাদের এত ভালোবেসেছিলাম যে, শুধু ঈশ্বরের সুসমাচারই নয়, কিন্তু তোমাদের আনন্দে আমাদের জীবনও ভাগ করেছিলাম, তোমরা ছিলে আমাদের কাছে এতই প্রিয়।
1TH 2:9 ভাইবোনেরা, আমাদের কঠোর পরিশ্রম এবং কষ্টস্বীকারের কথা তোমাদের নিশ্চয় মনে আছে। তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচারের সময়, আমরা যেন কারও বোঝা না হই, সেজন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি।
1TH 2:10 তোমরা যারা বিশ্বাস করেছিলে, তাদের মধ্যে আমরা কেমন পবিত্র, ধার্মিক ও নিষ্কলুষ জীবনযাপন করেছি—তোমরা এবং ঈশ্বরও তার সাক্ষী।
1TH 2:11 তোমরা জানো, পিতা তাঁর নিজের সন্তানদের প্রতি যেমন আচরণ করেন, আমরাও তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তেমনই আচরণ করেছি।
1TH 2:12 আমরা তোমাদেরও তেমনই উদ্বুদ্ধ করছি, সান্ত্বনা দিচ্ছি ও প্রেরণা দিচ্ছি যেন ঈশ্বর তাঁর যে রাজ্যে ও মহিমায় তোমাদের আহ্বান করেছেন, তোমরা তার যোগ্য হয়ে জীবনযাপন করো।
1TH 2:13 আমরাও এজন্য ঈশ্বরকে অবিরত ধন্যবাদ জানাই যে, আমাদের কাছে শুনে তোমরা যখন ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করেছিলে, তা মানুষের নয় বরং ঈশ্বরের বলেই গ্রহণ করেছিলে এবং প্রকৃতপক্ষে সে তো ঈশ্বরেরই বাক্য; তোমরা যারা বিশ্বাস করেছ, তোমাদের অন্তরে সেই বাক্য কাজ করে চলেছে।
1TH 2:14 কারণ ভাইবোনেরা, তোমরা খ্রীষ্ট যীশুতে যিহূদিয়ায় ঈশ্বরের মণ্ডলীগুলির অনুকরণ করেছিলে, ইহুদিদের হাতে যেসব মণ্ডলী নির্যাতিত হয়েছিল, তোমরা তাদেরই মতো নিজেদের স্বজাতির হাতে লাঞ্ছনা ভোগ করেছ।
1TH 2:15 ইহুদিরাই তো প্রভু যীশুকে ও ভাববাদীদের হত্যা করেছিল এবং আমাদেরও তাড়িয়ে দিয়েছিল। তারা ঈশ্বরকে অসন্তুষ্ট করে এবং সমস্ত লোকের তারা বিরোধী,
1TH 2:16 যেন অইহুদিদের কাছে আমরা পরিত্রাণের সুসমাচার প্রচার করতে না পারি, এভাবেই তারা সবসময় তাদের পাপের বোঝা পূর্ণ করে চলেছে। তাদের উপর ঈশ্বরের রোষ অবশেষে নেমে এসেছে।
1TH 2:17 কিন্তু ভাইবোনেরা, আমরা যখন তোমাদের কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম (মানসিকভাবে নয়, কিন্তু শারীরিকভাবে), তখন তোমাদের দেখার জন্য আকুল হয়ে সব ধরনের চেষ্টা করেছি।
1TH 2:18 আমরা তোমাদের কাছে আসতে চেয়েছিলাম, প্রকৃতপক্ষে আমি পৌল দু-একবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু শয়তান আমাদের বাধা দিয়েছে।
1TH 2:19 কারণ আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আনন্দ, অথবা আমাদের প্রভু যীশুর আগমনকালে আমাদের গৌরব-মুকুট কী?
1TH 2:20 তা কি তোমরাই নও? প্রকৃতপক্ষে, তোমরাই আমাদের গৌরব ও আনন্দ।
1TH 3:1 সেই কারণে, আর ধৈর্য ধরতে না পেরে, আমরা মনস্থির করলাম যে, এথেন্সেই থেকে যাব।
1TH 3:2 খ্রীষ্টের সুসমাচার প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের ভাই ও ঈশ্বরের সহকর্মী তিমথিকে পাঠিয়েছিলাম, যেন তিনি তোমাদের বিশ্বাসে সবল করেন ও উৎসাহ দান করেন,
1TH 3:3 যেন এই দুঃখকষ্টের সময় কেউ বিচলিত হয়ে না পড়ে। তোমরা নিঃসংশয়েই জানো যে, আগে থেকেই আমরা এসবের জন্য নির্ধারিত হয়ে আছি।
1TH 3:4 বাস্তবিক, তোমাদের সঙ্গে থাকার সময়েই আমরা বারবার তোমাদের বলেছিলাম যে, আমাদের অত্যাচারিত হতে হবে। আর তোমরা ভালোভাবেই জানো, সেভাবেই তা ঘটেছে।
1TH 3:5 এই কারণে, আর ধৈর্য ধরতে না পেরে, তোমাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জানার জন্য আমি তাঁকে পাঠিয়েছিলাম। আমার আশঙ্কা ছিল, প্রলুব্ধকারী হয়তো কোনোভাবে তোমাদের প্রলুব্ধ করে থাকতে পারে এবং আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টাই হয়তো ব্যর্থ হয়েছে।
1TH 3:6 কিন্তু তোমাদের কাছ থেকে সদ্য ফিরে এসে তিমথি তোমাদের বিশ্বাস এবং ভালোবাসা সম্পর্কে সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন। তিনি আমাদের বলেছেন যে, তোমরা সবসময় আমাদের কথা আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করে থাকো এবং আমরা যেমন তোমাদের দেখতে উৎসুক, তোমরাও তেমনই আমাদের দেখার জন্য আগ্রহী।
1TH 3:7 অতএব, ভাইবোনেরা, আমাদের সমস্ত দুর্দশা ও লাঞ্ছনার মধ্যেও তোমাদের বিশ্বাসের কথা শুনে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।
1TH 3:8 প্রভুতে তোমরা স্থির আছ, তা জানতে পেরে আমরা সঞ্জীবিত হয়ে উঠছি।
1TH 3:9 তোমাদের জন্য আমাদের ঈশ্বরের সান্নিধ্যে যে আনন্দ আমাদের হয়েছে তার প্রতিদানে ঈশ্বরকে কীভাবে পর্যাপ্ত ধন্যবাদ দেব!
1TH 3:10 আবার তোমাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে যেন তোমাদের বিশ্বাসের ঘাটতি পূরণ করতে পারি, এজন্য আকুল আগ্রহে দিনরাত আমরা প্রার্থনা করেছি।
1TH 3:11 এখন, আমাদের ঈশ্বর ও পিতা স্বয়ং এবং আমাদের প্রভু যীশু তোমাদের কাছে আসার জন্য আমাদের পথ সুগম করুন।
1TH 3:12 প্রভু তোমাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি করুন এবং তোমাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা যেমন উপচে পড়ে, তেমনই পরস্পরের ও অন্য সকলের প্রতিও তোমাদের ভালোবাসা উপচে পড়ুক।
1TH 3:13 তোমাদের অন্তরকে তিনি সবল করুন, যেন আমাদের প্রভু যীশু তাঁর সমস্ত পবিত্রজনের সঙ্গে যেদিন আসবেন, সেদিন তোমরা আমাদের ঈশ্বর ও পিতার সান্নিধ্যে অনিন্দনীয় ও পবিত্র অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারো।
1TH 4:1 ভাইবোনেরা, সবশেষে বলি, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, সেই নির্দেশ আমরা তোমাদের দিয়েছি এবং সেইমতোই তোমরা জীবনযাপন করছ। এখন, প্রভু যীশুর নামে আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি ও মিনতি জানাচ্ছি, তোমরা এই বিষয়ে আরও সমৃদ্ধ হতে চেষ্টা করো।
1TH 4:2 কারণ প্রভু যীশুর দেওয়া অধিকারবলে আমরা তোমাদের কী নির্দেশ দিয়েছিলাম, তা তোমরা জানো।
1TH 4:3 ফলত, ঈশ্বরের ইচ্ছা এই যে, তোমরা পবিত্র হও, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার থেকে দূরে থাকো;
1TH 4:4 যেন তোমরা প্রত্যেকে এই শিক্ষা লাভ করো যে শরীরকে সংযত রেখে কীভাবে পবিত্র ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে হয়,
1TH 4:5 যারা ঈশ্বরকে জানে না, এমন বিধর্মী লোকদের মতো জাগতিক কামনার বশে নয়;
1TH 4:6 আর এই ব্যাপারে কেউ যেন তার ভাইয়ের (বা, বোনের) প্রতি কোনো অন্যায় আচরণ বা প্রতারণা না করে। এরকম সব পাপের জন্য প্রভু মানুষকে শাস্তি দেবেন, একথা আমরা তোমাদের আগেই বলেছি এবং সতর্ক করে দিয়েছি।
1TH 4:7 ঈশ্বর আমাদের পবিত্র জীবনযাপন করার জন্য আহ্বান করেছেন, অশুচি হওয়ার জন্য নয়।
1TH 4:8 তাই, এই নির্দেশ যে অগ্রাহ্য করে, সে মানুষকে নয়, কিন্তু যিনি তোমাদের তাঁর পবিত্র আত্মা দান করেন, সেই ঈশ্বরকেই অগ্রাহ্য করে।
1TH 4:9 আবার বিশ্বাসীদের প্রতি ভালোবাসা সম্পর্কে তোমাদের কাছে কিছু লেখার প্রয়োজন নেই। কারণ পরস্পরকে ভালোবাসতে স্বয়ং ঈশ্বরই তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
1TH 4:10 বস্তুত, সমগ্র ম্যাসিডোনিয়ার ভাইবোনেদের তোমরা ভালোবাসো। তবুও ভাইবোনেরা, আমরা তোমাদের মিনতি করছি, তোমরা আরও বেশি করে তা করো।
1TH 4:11 শান্ত জীবনযাপনই হোক তোমাদের লক্ষ্য। আমাদের নির্দেশমতো, নিজের কাজে মন দাও, স্বনির্ভর হও,
1TH 4:12 যেন তোমাদের দৈনিক জীবনচর্যা বাইরের লোকদের শ্রদ্ধা উদ্রেক করতে পারে এবং তোমরা যেন পরনির্ভরশীল না হও।
1TH 4:13 ভাইবোনেরা, আমরা চাই না যে, যারা নিদ্রাগত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে তোমরা অজ্ঞ থাকো বা যাদের প্রত্যাশা নেই, তাদের মতো দুঃখে ভারাক্রান্ত হও।
1TH 4:14 কারণ আমরা বিশ্বাস করি, যীশু মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং পুনরুত্থিত হয়েছেন। তাই আমাদের বিশ্বাস যে, যীশুতে যারা নিদ্রাগত হয়েছে, ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে তাদেরও নিয়ে আসবেন।
1TH 4:15 প্রভুর নিজের কথা অনুসারে আমরা তোমাদের বলছি যে, আমরা যারা বেঁচে আছি, প্রভুর আগমন পর্যন্ত যারা অবশিষ্ট থাকব, তারা নিদ্রাগতদের আগে কিছুতেই যেতে পারব না।
1TH 4:16 কারণ প্রভু স্বয়ং উচ্চধ্বনির সঙ্গে, প্রধান স্বর্গদূতের উচ্চ রব এবং ঐশ্বরিক তূরীধ্বনির আহ্বানের সঙ্গে স্বর্গ থেকে অবতরণ করবেন এবং খ্রীষ্টে যারা মৃত্যুবরণ করেছে, প্রথমে তারা উত্থাপিত হবে।
1TH 4:17 এরপর, আমরা যারা জীবিত আছি, যারা অবশিষ্ট থাকব, আমরা প্রভুর সঙ্গে অন্তরীক্ষে মিলিত হওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে মেঘযোগে উন্নীত হব। আর এইভাবে আমরা চিরকাল প্রভুর সঙ্গে থাকব।
1TH 4:18 সেইজন্য, এসব কথা বলে তোমরা পরস্পরকে আশ্বাস দাও।
1TH 5:1 এখন ভাইবোনেরা, এসব কখন ঘটবে, সেই সময় ও কালের বিষয়ে তোমাদের কিছু লেখার প্রয়োজন নেই।
1TH 5:2 কারণ, তোমরা ভালোভাবেই জানো, রাতের বেলা যেমন চোর আসে, সেভাবেই প্রভুর দিন উপস্থিত হবে।
1TH 5:3 লোকেরা যখন “শান্তি ও নিরাপত্তার” কথা বলবে, তখন গর্ভবতী নারীর প্রসববেদনার মতো অকস্মাৎ তাদের উপর ধ্বংস নেমে আসবে; তারা কোনোক্রমেই তা এড়াতে পারবে না।
1TH 5:4 কিন্তু ভাইবোনেরা, তোমরা তো অন্ধকারে থাকো না, তাই সেদিন তোমাদের চোরের মতো বিস্মিত করে তুলবে না।
1TH 5:5 তোমরা সবাই জ্যোতির সন্তান এবং দিনের সন্তান। আমরা রাত্রির নই বা অন্ধকারেরও নই।
1TH 5:6 তাই, অন্যদের মতো আমরা যেন নিদ্রামগ্ন না হই। আমরা যেন সচেতন থাকি ও আত্মসংযমী হই।
1TH 5:7 কারণ যারা নিদ্রা যায়, তারা রাত্রেই নিদ্রা যায় এবং মদ্যপানকারীরা রাত্রেই মত্ত হয়।
1TH 5:8 কিন্তু আমরা যেহেতু দিনের সন্তান, তাই এসো, আমরা আত্মসংযমী হয়ে উঠি; বিশ্বাস এবং ভালোবাসাকে বুকপাটা করি, আর পরিত্রাণের প্রত্যাশাকে করি শিরস্ত্রাণ।
1TH 5:9 কারণ ঈশ্বর তাঁর ক্রোধের শিকার হওয়ার জন্য নয়, কিন্তু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভের জন্য আমাদের নিযুক্ত করেছেন।
1TH 5:10 আমরা জীবিত থাকি বা নিদ্রাগত হই, তাঁরই সঙ্গে যেন জীবনধারণ করি, এই উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন।
1TH 5:11 অতএব তোমরা এখন যেমন করছ, সেভাবেই পরস্পরকে প্রেরণা দাও এবং একজন আর একজনকে গড়ে উঠতে সাহায্য করো।
1TH 5:12 ভাইবোনেরা, আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমাদের মধ্যে যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, যাঁরা প্রভুতে তোমাদের উপরে নিযুক্ত আছেন, যাঁরা তোমাদের সতর্ক করেন, তাঁদের সম্মান করো।
1TH 5:13 তাঁদের পরিষেবার জন্য ভালোবেসে সর্ব্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ো। পরস্পরের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করো।
1TH 5:14 ভাইবোনেরা, আমরা তোমাদের মিনতি করছি, যারা অলস, তাদের সতর্ক করো, ভীরু প্রকৃতির ব্যক্তিকে প্রেরণা দিয়ো, দুর্বলকে সাহায্য করো, প্রত্যেকের প্রতি সহনশীলতা দেখিয়ো।
1TH 5:15 দেখো, কেউ যেন অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে অন্যায় না করে, পরস্পরের এবং অন্যান্য সকলের প্রতি সবসময় সহৃদয় হতে চেষ্টা করে।
1TH 5:16 সবসময় আনন্দ করো;
1TH 5:17 অবিরত প্রার্থনা করো;
1TH 5:18 সমস্ত পরিস্থিতিতেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করো, কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের জন্য এই হল ঈশ্বরের ইচ্ছা।
1TH 5:19 আত্মার আগুন নিভিয়ে দিয়ো না।
1TH 5:20 কোনও ভাববাণী অগ্রাহ্য কোরো না।
1TH 5:21 সবকিছু পরীক্ষা করে দেখো। যা কিছু উৎকৃষ্ট, তা আঁকড়ে থাকো।
1TH 5:22 যা কিছু মন্দ, তা এড়িয়ে চলো।
1TH 5:23 শান্তির ঈশ্বর স্বয়ং তোমাদের সর্বতোভাবে পবিত্র করে তুলুন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমনকালে তোমাদের সমগ্র আত্মা, প্রাণ ও দেহ, অনিন্দনীয়রূপে রক্ষিত হোক।
1TH 5:24 যিনি তোমাদের আহ্বান করেন, তিনি বিশ্বস্ত, তিনিই এই কাজ করবেন।
1TH 5:25 ভাইবোনেরা, আমাদের জন্য প্রার্থনা কোরো।
1TH 5:26 পবিত্র চুম্বনে সব বিশ্বাসীকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ো।
1TH 5:27 প্রভুর সাক্ষাতে আমি তোমাদের মিনতি করছি, সব ভাইবোনেদের কাছে এই পত্র যেন পাঠ করা হয়।
1TH 5:28 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সঙ্গে বিরাজ করুক।
2TH 1:1 আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টে অবস্থিত থিষলনীকীয়দের মণ্ডলীর প্রতি, পৌল, সীল ও তিমথি এই পত্র লিখছি।
2TH 1:2 পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ ও শান্তি বর্তুক।
2TH 1:3 ভাইবোনেরা, তোমাদের জন্য সবসময় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে আমরা বাধ্য এবং তাই সংগত। কারণ তোমাদের বিশ্বাস এবং পারস্পরিক ভালোবাসা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
2TH 1:4 তাই সমস্ত নির্যাতন এবং দুঃখকষ্টের মধ্যেও তোমাদের সহনশীলতা ও বিশ্বাসের জন্য ঈশ্বরের মণ্ডলীগুলিতে আমরা গর্ব করি।
2TH 1:5 এসব কিছুই প্রমাণ করছে যে, ঈশ্বরের বিচার ন্যায়সংগত এবং এর ফলে, যে ঐশ-রাজ্যের জন্য তোমরা দুঃখভোগ করছ, তার যোগ্য বলে গণ্য হয়ে উঠবে।
2TH 1:6 ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ; যারা তোমাদের নির্যাতন করে, তিনি প্রতিদানে তাদের কষ্ট দেবেন
2TH 1:7 এবং তোমরা যারা নিপীড়িত, তিনি সেই তোমাদের এবং আমাদের স্বস্তি দেবেন। প্রভু যীশু যখন তাঁর পরাক্রান্ত দূতবাহিনী নিয়ে জ্বলন্ত আগুনের শিখার মাঝে স্বর্গ থেকে প্রকাশিত হবেন, এ সমস্ত তখনই ঘটবে।
2TH 1:8 যারা ঈশ্বরকে জানে না এবং আমাদের প্রভু যীশুর সুসমাচার পালন করে না, তাদের তিনি শাস্তি দেবেন।
2TH 1:9 তাদের দণ্ড হবে চিরকালীন বিনাশ এবং প্রভুর সান্নিধ্য ও তাঁর পরাক্রমের গৌরব থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হবে।
2TH 1:10 এই ঘটনা সেদিন ঘটবে, যেদিন তাঁর পুণ্যজনদের মাঝে তিনি মহিমান্বিত হওয়ার জন্য এবং যারা বিশ্বাস করেছে তাদের চমৎকৃত হওয়ার জন্য তিনি আসবেন। তোমরাও তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, কারণ তোমাদের কাছে আমরা যে সাক্ষ্য দিয়েছি, তোমরা তা বিশ্বাস করেছ।
2TH 1:11 একথা মনে রেখে, আমরা তোমাদের জন্য অবিরত প্রার্থনা করি, যেন আমাদের ঈশ্বর, তাঁর আহ্বানের যোগ্য বলে তোমাদের গড়ে তোলেন এবং তাঁর পরাক্রমে তোমাদের প্রত্যেক শুভ-সংকল্প এবং বিশ্বাস-প্রণোদিত প্রত্যেকটি কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন।
2TH 1:12 আমরা এই প্রার্থনা করি, যেন তোমাদের মধ্যে প্রভু যীশুর নাম গৌরবান্বিত হয় এবং আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহে, তোমরা তাঁতে গৌরব লাভ করতে পারো।
2TH 2:1 ভাইবোনেরা, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন ও তাঁর কাছে আমাদের একত্রিত হওয়া সম্পর্কে তোমাদের অনুরোধ করছি,
2TH 2:2 প্রভুর দিন ইতিমধ্যেই এসে গেছে, এই মর্মে আমাদের কাছ থেকে কোনো প্রত্যাদেশ, কোনো পত্র বা সংবাদ পেয়েছ মনে করে তোমরা সহজেই বিচলিত বা আতঙ্কিত হোয়ো না।
2TH 2:3 কেউ যেন কোনোভাবেই তোমাদের প্রতারিত করতে না পারে। কারণ বিদ্রোহ না ঘটা এবং চরম বিনাশের জন্য নির্ধারিত ধর্মভ্রষ্ট পুরুষের প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেদিনের আবির্ভাব হবে না।
2TH 2:4 সে প্রতিরোধ করবে এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে যিনি, অর্থাৎ ঈশ্বর নামে আখ্যাত ও পূজিত, তাঁর উপরে সে নিজেকে উন্নীত করবে, এমনকি, সে ঈশ্বররূপে নিজেকে ঈশ্বরের মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করবে।
2TH 2:5 তোমাদের কাছে থাকার সময় এ সমস্ত বিষয় আমি তোমাদের বলতাম, সেকথা কি তোমাদের মনে নেই?
2TH 2:6 নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত হওয়ার পথে এখন কোন শক্তি তার বাধা সৃষ্টি করছে, তা তোমরা জানো।
2TH 2:7 কারণ অধর্মের গোপন শক্তি ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, কিন্তু একজন তাকে বাধা দিচ্ছেন এবং দিয়েই যাবেন, যতদিন পর্যন্ত তাকে দূর করা না হয়।
2TH 2:8 তারপর, সেই পাপ-পুরুষের প্রকাশ হবে, প্রভু যীশু তাঁর মুখের নিঃশ্বাসে তাকে সংহার করবেন এবং তাঁর আগমনের জৌলুসে তাকে ধ্বংস করবেন।
2TH 2:9 সেই অধর্মাচারী পুরুষের আগমন শয়তানের ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে হবে। সে সব ধরনের ক্ষমতার প্রদর্শন বিভিন্ন চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজকর্মের মাধ্যমে করবে, যেগুলি মিথ্যাচারিতার সেবা করে।
2TH 2:10 সে সব ধরনের মন্দের দ্বারা যারা বিনাশের পথে চলেছে তাদের প্রতারণা করবে। তারা ধ্বংস হবে, কারণ তারা সত্যের অনুরাগী হতে অস্বীকার করেছে ও পরিত্রাণ পেতে চায়নি।
2TH 2:11 সেইজন্য, ঈশ্বর তাদের মধ্যে এক বিভ্রান্তিকর শক্তিকে প্রেরণ করবেন, যেন তারা মিথ্যাকেই বিশ্বাস করে,
2TH 2:12 এবং তারা সকলেই যেন শাস্তি পায় যারা সত্যে বিশ্বাস করেনি, কিন্তু দুষ্টতায় উল্লসিত হয়েছে।
2TH 2:13 প্রভুর প্রীতিজনক ভাইবোনেরা, আমরা কিন্তু তোমাদের জন্য ঈশ্বরকে সবসময় ধন্যবাদ দিতে বাধ্য হই, কারণ পবিত্র আত্মার শুদ্ধকরণের কাজ ও সত্যের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভের জন্য প্রথম থেকেই ঈশ্বর তোমাদের মনোনীত করেছেন।
2TH 2:14 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মহিমার অংশীদার হওয়ার জন্য আমাদের প্রচার করা সুসমাচারের মাধ্যমে তিনি তোমাদের এই উদ্দেশ্যে আহ্বান করেছেন।
2TH 2:15 সেইজন্য, ভাইবোনেরা, অবিচল থাকো; আমরা মুখের কথায়, অথবা পত্রের মাধ্যমে যেসব শিক্ষা তোমাদের দিয়েছি, তা আঁকড়ে ধরে থাকো।
2TH 2:16 প্রভু যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং এবং আমাদের পিতা ঈশ্বর, যিনি আমাদের ভালোবেসেছেন এবং যাঁর অনুগ্রহে আমরা চিরন্তন সান্ত্বনা ও উত্তম প্রত্যাশা লাভ করেছি,
2TH 2:17 তিনি তোমাদের অন্তরকে আশ্বাস প্রদান করুন এবং প্রত্যেকটি শুভকর্মে ও উত্তম বাক্যে সবল করুন।
2TH 3:1 সবশেষে বলি, ভাইবোনেরা, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেন প্রভুর বাণী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সসম্মানে গৃহীত হয়, যেমন তোমাদের ক্ষেত্রে হয়েছিল।
2TH 3:2 আর প্রার্থনা করো, দুষ্ট ও নীচ লোকদের হাত থেকে আমরা যেন নিষ্কৃতি পাই, কারণ প্রত্যেকের যে বিশ্বাস আছে, এমন নয়,
2TH 3:3 কিন্তু প্রভু বিশ্বস্ত। তিনি তোমাদের শক্তি দেবেন এবং সেই পাপাত্মা থেকে রক্ষা করবেন।
2TH 3:4 তোমাদের সম্পর্কে প্রভুতে আমাদের এই দৃঢ়প্রত্যয় আছে যে, আমাদের সমস্ত আদেশ, যা তোমরা পালন করছ, তা করে যাবে।
2TH 3:5 প্রভু তোমাদের হৃদয়কে ঈশ্বরের প্রেমের পথে এবং খ্রীষ্টের ধৈর্যের পথে চালিত করুন।
2TH 3:6 ভাইবোনেরা, প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমরা তোমাদের আদেশ দিচ্ছি, যে ভাই অলস এবং আমাদের শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপন করে না, তার সঙ্গ ত্যাগ করো।
2TH 3:7 কারণ তোমরা নিজেরা জানো, কীভাবে আমাদের আদর্শ অনুকরণ করতে তোমরা বাধ্য। তোমাদের সঙ্গে থাকার সময় আমরা আলস্যে কাল কাটাইনি;
2TH 3:8 অথবা বিনামূল্যে আমরা কারও খাবার গ্রহণ করিনি। বরং আমরা যেন তোমাদের কারও কাছে বোঝা না হই, সেজন্য দিনরাত কাজ করেছি, কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট করেছি।
2TH 3:9 এই সাহায্য লাভের অধিকার যে আমাদের নেই, তা নয়, কিন্তু তোমরা যেন অনুসরণ করো, সেজন্য নিজেদের এক আদর্শরূপে স্থাপন করেছি।
2TH 3:10 কারণ তোমাদের সঙ্গে থাকার সময়েও আমরা তোমাদের এই নিয়ম দিয়েছি, “যদি কেউ পরিশ্রম না করে, সে আহারও করবে না।”
2TH 3:11 আমরা শুনতে পাচ্ছি, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অলস হয়ে পড়েছে। তারা কর্মব্যস্ত নয়; পরের ব্যাপারে অনর্থক চর্চায় তারা সবসময় ব্যস্ত।
2TH 3:12 এরকম লোকদের আমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টে নির্দেশ ও উপদেশ দিচ্ছি, যেন তারা শান্তভাব বজায় রেখে পরিশ্রম করে এবং তাদের খাবারের সংস্থান করে।
2TH 3:13 আর ভাইবোনেরা, তোমাদের আরও বলছি, সৎকর্ম করতে কখনও ক্লান্তিবোধ কোরো না।
2TH 3:14 এই পত্রে উল্লিখিত আমাদের নির্দেশ কেউ যদি অমান্য করে, তাকে চিহ্নিত করে রেখো। তার সংস্পর্শে থেকো না, যেন সে লজ্জাবোধ করতে পারে।
2TH 3:15 তবুও, তাকে শত্রু বলে মনে কোরো না, বরং ভাই বা বোন হিসেবে তাকে সতর্ক কোরো।
2TH 3:16 এখন শান্তির প্রভু স্বয়ং তোমাদের সর্বদা এবং সর্বতোভাবে শান্তি দান করুন। প্রভু তোমাদের সকলের সঙ্গে থাকুন।
2TH 3:17 আমি পৌল, নিজের হাতে এই অভিনন্দনবাণী লিখছি। আমার সমস্ত পত্রের এটিই বিশেষ চিহ্ন। এভাবেই আমি লিখে থাকি।
2TH 3:18 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সকলের সঙ্গী হোক।
1TI 1:1 আমাদের পরিত্রাতা ঈশ্বর এবং আমাদের প্রত্যাশা খ্রীষ্ট যীশুর আদেশে, তাঁরই প্রেরিতশিষ্য, আমি পৌল,
1TI 1:2 বিশ্বাসে আমার প্রকৃত সন্তান তিমথির প্রতি এই পত্র লিখছি। পিতা ঈশ্বর এবং আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুর অনুগ্রহ, করুণা এবং শান্তি বর্ষিত হোক।
1TI 1:3 ম্যাসিডোনিয়া যাওয়ার পথে, আমি তোমাকে অনুরোধ করেছিলাম, যেন তুমি ইফিষে থেকে কতগুলি লোককে আদেশ দাও, তারা যেন আর ভুল শিক্ষা না দেয় এবং
1TI 1:4 তারা যেন পুরাকাহিনী ও অন্তহীন বংশাবলির আলোচনাতেই নিজেদের মনপ্রাণ ঢেলে না দেয়। ঈশ্বরের কাজের পরিবর্তে এগুলি বিতর্কের সৃষ্টি করে। কারণ ঈশ্বরের কাজ হয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে।
1TI 1:5 এই আদেশের লক্ষ্য হল ভালোবাসা, যা শুচিশুদ্ধ হৃদয়, সৎ বিবেক ও অকপট বিশ্বাস থেকে উৎপন্ন হয়।
1TI 1:6 কিছু লোক এসব থেকে বিচ্যুত হয়ে অর্থহীন আলোচনাতে মন দিয়েছে।
1TI 1:7 তারা শাস্ত্রবিদ হতে চায়, কিন্তু তারা কোন বিষয়ে বলছে বা যেসব বিষয়ে এত জোরের সঙ্গে বলেছে, তা সম্বন্ধে তারা নিজেরাই জানে না।
1TI 1:8 আমরা জানি, যথার্থভাবে ব্যবহার করলেই বিধান মঙ্গলজনক হয়ে ওঠে।
1TI 1:9 আমরা আরও জানি যে, ধার্মিকদের জন্য বিধানের সৃষ্টি হয়নি, বরং যারা বিধানভঙ্গকারী, ভক্তিহীন ও উচ্ছৃঙ্খল এবং পাপী, অপবিত্র, ধর্মবিরোধী, যারা তাদের বাবা-মাকে বা অন্যদের হত্যা করে,
1TI 1:10 ব্যভিচারী, সমকামী ব্যক্তি ও ক্রীতদাস-ব্যবসায়ী এবং মিথ্যাবাদী ও মিথ্যাশপথকারী, তাদের জন্য এবং যা কিছু সঠিক শিক্ষার বিরোধী, তারই জন্য বিধানের সৃষ্টি।
1TI 1:11 পরমধন্য ঈশ্বরের গৌরবময় সুসমাচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সেই বিষয়টি প্রচার করার দায়িত্ব তিনি আমার উপরে দিয়েছেন।
1TI 1:12 আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশু, যিনি আমাকে শক্তি দান করেছেন এবং আমাকে বিশ্বস্ত বিচার করে যিনি তাঁর পরিচর্যাকাজে আমাকে নিযুক্ত করেছেন, তাঁকে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।
1TI 1:13 যদিও আমি এক সময় ঈশ্বরনিন্দুক, নির্যাতনকারী এবং নৃশংস ছিলাম, কিন্তু তিনি আমার প্রতি করুণা প্রদর্শন করেছেন, কারণ অজ্ঞতা ও অবিশ্বাসের বশেই আমি সেসব করেছিলাম।
1TI 1:14 আমাদের প্রভুর অনুগ্রহ, খ্রীষ্ট যীশুতে স্থিত বিশ্বাস ও প্রেম আমার উপরে প্রচুর পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে।
1TI 1:15 এই উক্তি বিশ্বাসযোগ্য এবং সম্পূর্ণরূপে গ্রহণের যোগ্য যে, খ্রীষ্ট যীশু পাপীদের উদ্ধার করার জন্য পৃথিবীতে এসেছেন এবং তাদের মধ্যে আমিই নিকৃষ্টতম।
1TI 1:16 কিন্তু শুধু এই কারণেই ঈশ্বর আমার প্রতি করুণা প্রদর্শন করলেন যে, আমার মতো জঘন্যতম পাপীর মধ্য দিয়ে খ্রীষ্ট যীশু যেন তাঁর অসীম সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করতে পারেন, যেন তাঁর উপর বিশ্বাস করে যারা অনন্ত জীবনের অধিকারী হবে, তাদের কাছে তিনি আমাদের উদাহরণস্বরূপ উপস্থাপন করতে পারেন।
1TI 1:17 এখন অনন্ত রাজাধিরাজ, অবিনশ্বর, অদৃশ্য, একমাত্র ঈশ্বর, তাঁরই প্রতি যুগে যুগে সম্মান ও মহিমা অর্পিত হোক। আমেন।
1TI 1:18 বৎস তিমথি, এক সময় তোমার বিষয়ে যেসব ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সংগতি রেখে আমি তোমাকে এই নির্দেশ দিচ্ছি, সেসব পালনের মধ্য দিয়ে তুমি যেন যথোচিত সংগ্রাম করতে পারো,
1TI 1:19 বিশ্বাস ও সৎ বিবেক আঁকড়ে ধরে রাখতে পারো। কেউ কেউ এসব প্রত্যাখান করায়, তাদের বিশ্বাসের নৌকার ভরাডুবি হয়েছে।
1TI 1:20 তাদের মধ্যে রয়েছে হুমিনায় ও আলেকজান্ডার। আমি তাদের শয়তানের হাতে তুলে দিয়েছি, যেন তারা ঈশ্বরনিন্দা ত্যাগ করার শিক্ষা পায়।
1TI 2:1 সর্বপ্রথমেই আমি অনুনয় করছি, সকলের জন্য যেন অনুরোধ, প্রার্থনা, মিনতি এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়,
1TI 2:2 বিশেষত রাজা এবং উচ্চপদস্থ সকল ব্যক্তির জন্য, যেন আমরা পরিপূর্ণ ভক্তিতে ও পবিত্রতায়, শান্তিপূর্ণ ও নিরুদ্বিগ্ন জীবনযাপন করতে পারি।
1TI 2:3 আমাদের পরিত্রাতা ঈশ্বরের সামনে এটাই উত্তম ও সন্তোষজনক।
1TI 2:4 তিনি চান, সব মানুষ যেন পরিত্রাণ পায় এবং সত্যের তত্ত্বজ্ঞান উপলব্ধি করতে পারে।
1TI 2:5 কারণ ঈশ্বর যেমন এক তেমন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী আছেন, তিনি মানুষ খ্রীষ্ট যীশু।
1TI 2:6 তিনি সব মানুষের জন্য নিজেকে মুক্তিপণরূপে প্রদান করেছেন—এই সাক্ষ্য যথাসময়ে দেওয়া হয়েছে।
1TI 2:7 এই উদ্দেশ্যেই আমি বার্তাবাহক ও প্রেরিতশিষ্য এবং অইহুদিদের কাছে প্রকৃত বিশ্বাসের শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছি—আমি সত্যিই বলছি, মিথ্যা নয়।
1TI 2:8 আমি চাই, সর্বত্র পুরুষেরা ক্রোধ এবং মতবিরোধ ত্যাগ করে তাদের পবিত্র দু-হাত তুলে প্রার্থনা করুক।
1TI 2:9 আমি এও চাই, নারীরা পরিশীলিত সাজসজ্জা করুক, শিষ্টাচার ও শালীনতা বজায় রাখুক। চুলের বাহার, সোনা ও মণিমুক্তা বা বহুমূল্য পোশাক দ্বারা নয়,
1TI 2:10 কিন্তু যে নারীরা নিজেদের ঈশ্বরের উপাসক বলে দাবি করে, তারা যোগ্য সৎকর্মের দ্বারা ভূষিত হোক।
1TI 2:11 নীরবে এবং সম্পূর্ণ বশ্যতার সঙ্গে নারীর শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।
1TI 2:12 শিক্ষা দেওয়ার বা পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করার অনুমতি আমি নারীকে দিই না, সে নীরব হয়ে থাকবে।
1TI 2:13 কারণ, প্রথমে সৃষ্টি হয়েছিল আদমের, পরে হবার।
1TI 2:14 আর আদম প্রতারিত হননি, নারীই প্রতারিত হয়ে পাপী প্রতিপন্ন হলেন।
1TI 2:15 কিন্তু নারী যদি আত্মসংযমের সঙ্গে বিশ্বাস, প্রেম ও পবিত্রতা বজায় রাখে, তাহলে সন্তান-ধারণের মধ্য দিয়ে সে মুক্তি পাবে।
1TI 3:1 এক বিশ্বাসযোগ্য উক্তি আছে: যদি কেউ অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য মনস্থির করেন, তাহলে তিনি মহৎ কাজ করারই আকাঙ্ক্ষী হন।
1TI 3:2 অধ্যক্ষকে অবশ্যই নিন্দার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে; তিনি একজন স্ত্রীর স্বামী হবেন। তিনি হবেন মিতাচারী, আত্মসংযমী, শ্রদ্ধার পাত্র, অতিথিপরায়ণ এবং শিক্ষাদানে দক্ষ।
1TI 3:3 তিনি মদ্যপ বা উগ্র স্বভাবের হবেন না কিন্তু অমায়িক হবেন; তিনি ঝগড়াটে বা অর্থলোভী হবেন না।
1TI 3:4 নিজের পরিবারের উপরে তাঁর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং তিনি দেখবেন, তাঁর সন্তানেরা যেন যথোচিত শ্রদ্ধায় তাঁর বাধ্য হয়।
1TI 3:5 (কারণ কেউ যদি নিজের পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানেন, তাহলে কীভাবে তিনি ঈশ্বরের মণ্ডলীর তত্ত্বাবধান করবেন?)
1TI 3:6 তিনি যেন নতুন বিশ্বাসী না হন, অন্যথায়, তিনি দাম্ভিক হয়ে দিয়াবলের মতো একই বিচারের দায়ে পড়তে পারেন।
1TI 3:7 বাইরের সব মানুষের কাছেও তাঁর সুনাম থাকা চাই, যেন তিনি অসম্মানের ভাগী না হন এবং দিয়াবলের ফাঁদে না পড়েন।
1TI 3:8 তেমনই, ডিকনেরাও হবেন শ্রদ্ধার যোগ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ। তাঁরা যেন অত্যধিক মদ্যপানে আসক্ত ও অসৎ ভাবে ধনলাভের জন্য সচেষ্ট না হন।
1TI 3:9 নির্মল বিবেকে তাঁরা যেন বিশ্বাসের গভীর সত্যকে ধারণ করে থাকেন।
1TI 3:10 প্রথমে তাঁদের যাচাই করে দেখতে হবে, যদি তাঁরা অনিন্দনীয় হন, তবেই ডিকনরূপে তাদের পরিচর্যা করতে দেওয়া হবে।
1TI 3:11 একইভাবে, তাদের স্ত্রীদেরও শ্রদ্ধার পাত্রী হতে হবে। পরনিন্দা না করে তাঁরা যেন মিতাচারী এবং সর্ববিষয়ে বিশ্বস্ত হন।
1TI 3:12 ডিকনেরা কেবলমাত্র একজন স্ত্রীর স্বামী হবেন। তাঁর সন্তান এবং পরিজনদের তিনি যেন উপযুক্তভাবে বশ্যতাধীনে রাখেন।
1TI 3:13 কারণ যাঁরা উপযুক্তভাবে পরিচর্যা করেছেন, তাঁরা সুপ্রতিষ্ঠা এবং খ্রীষ্ট যীশুতে তাদের বিশ্বাসে মহা-নিশ্চয়তা লাভ করবেন।
1TI 3:14 যদিও শীঘ্রই আমি তোমাদের কাছে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি, এই সমস্ত নির্দেশ আমি তোমাদের লিখে জানাচ্ছি, যেন
1TI 3:15 আমার দেরি হলেও, তোমরা জানতে পারবে যে, ঈশ্বরের গৃহের মধ্যে লোকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত। এই গৃহ হল জীবন্ত ঈশ্বরের মণ্ডলী এবং সত্যের স্তম্ভ ও বুনিয়াদ।
1TI 3:16 ধার্মিকতার গুপ্তরহস্য মহৎ! তা প্রশ্নাতীত: তিনি দেহ ধারণ করে প্রকাশিত হলেন, আত্মার দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন হলেন, তিনি দূতদের কাছে দেখা দিলেন, সর্বজাতির মাঝে প্রচারিত হলেন, তিনি বিশ্বাসে জগতের মাঝে গৃহীত হলেন, মহিমান্বিত হয়ে ঊর্ধ্বে উন্নীত হলেন।
1TI 4:1 ঈশ্বরের আত্মা সুস্পষ্টভাবে বলছেন যে, পরবর্তীকালে বেশ কিছু লোক বিশ্বাস ত্যাগ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী দুষ্টাত্মা দ্বারা প্রভাবিত হবে ও সেসব আত্মা ও তাদের বিভিন্ন বিষয় অনুসরণ করবে।
1TI 4:2 এসব শিক্ষা ভণ্ড মিথ্যাবাদীদের মাধ্যমে আসে, যাদের বিবেক উত্তপ্ত লোহার দ্বারা যেন পুড়ে গেছে।
1TI 4:3 তারা লোকদের বিবাহ করতে নিষেধ করে ও কোনো কোনো খাবার থেকে দূরে থাকার জন্য আদেশ দেয়, যা ঈশ্বর এই উদ্দেশে সৃষ্টি করেছেন যেন যারা বিশ্বাসী এবং সত্য জানে তারা ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সঙ্গে সেইসব খাবার গ্রহণ করে।
1TI 4:4 ঈশ্বরের সৃষ্ট সবকিছুই ভালো এবং ধন্যবাদের সঙ্গে গ্রহণ করলে, কোনো কিছুই অখাদ্য নয়,
1TI 4:5 কারণ ঈশ্বরের বাক্য এবং প্রার্থনায় এসব পবিত্র হয়ে যায়।
1TI 4:6 এসব বিষয় যদি ভাইবোনেদের বুঝিয়ে দিতে পারো, তাহলে তুমি যীশু খ্রীষ্টের উত্তম পরিচর্যাকারী হয়ে উঠবে, কারণ বিশ্বাসের বিভিন্ন সত্যে এবং উত্তম শিক্ষায় তুমি বড়ো হয়েছ, যা তুমি অনুসরণ করে এসেছ।
1TI 4:7 ঈশ্বরবিহীন রূপকথা এবং মহিলাদের গালগল্পে মগ্ন না হয়ে নিজেকে ভক্তিপরায়ণ হতে প্রশিক্ষিত করে তোলো।
1TI 4:8 শরীরচর্চার কিছু মূল্য আছে, কিন্তু ভক্তির মূল্য আছে সব বিষয়ে। তা এই জীবন এবং পরের জীবন, উভয় জীবনেরই জন্য মঙ্গলময়।
1TI 4:9 একথা বিশ্বাসযোগ্য এবং সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য;
1TI 4:10 কারণ এজন্যই আমরা পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার করছি। কারণ সেই জীবন্ত ঈশ্বরেরই উপরে আমরা প্রত্যাশা করেছি, যিনি সব মানুষের বিশেষত বিশ্বাসীদের পরিত্রাতা।
1TI 4:11 তুমি এই সমস্ত বিষয়ে নির্দেশ ও শিক্ষা দাও।
1TI 4:12 তুমি যুবক বলে কেউ যেন তোমাকে অবজ্ঞা না করে, কিন্তু কথায়, আচার-আচরণে, প্রেমে, বিশ্বাসে ও শুদ্ধতায়, বিশ্বাসীদের মধ্যে আদর্শ হয়ে ওঠো।
1TI 4:13 আমি না আসা পর্যন্ত প্রকাশ্যে শাস্ত্র পাঠ, প্রচার ও শিক্ষাদানে নিজেকে নিযুক্ত রাখো।
1TI 4:14 তুমি যে বরদান লাভ করেছ, তা অবহেলা কোরো না, যা ভাববাণীমূলক বার্তার মাধ্যমে তোমাকে দেওয়া হয়েছিল, যখন প্রাচীনেরা তোমার উপরে হাত রেখেছিলেন।
1TI 4:15 এসব বিষয়ে মনঃসংযোগ করো, সম্পূর্ণভাবে সেগুলিতে আত্মনিয়োগ করো, সকলে যেন তোমার উন্নতি দেখতে পায়।
1TI 4:16 তোমার জীবন ও শাস্ত্রশিক্ষা সম্বন্ধে একান্তভাবে সচেতন থেকো। এসব পালন করে চলো তাহলে তুমি নিজেকে এবং তোমার কথা যারা শোনে, তাদেরও রক্ষা করতে পারবে।
1TI 5:1 কোনো প্রবীণ ব্যক্তিকে কঠোরভাবে তিরস্কার কোরো না, বরং তাঁকে তোমার বাবার মতো মনে করে বিনীতভাবে অনুরোধ করো। যুবকদের ছোটো ভাইয়ের মতো মনে করো।
1TI 5:2 প্রবীণাদের মায়ের মতো এবং তরুণীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ শুদ্ধভাবে বোনের মতো আচরণ করো।
1TI 5:3 প্রকৃত দুস্থ বিধবাদের যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ো।
1TI 5:4 কিন্তু কোনো বিধবার যদি সন্তানসন্ততি বা নাতি-নাতনি থাকে, তবে তাদের প্রথম দায়িত্ব হল নিজেদের বাড়িতে তাদের পরিবারের তত্ত্বাবধান করা এবং তাদের বাবা-মা ও দাদু-দিদার প্রতি ঋণ পরিশোধ করা। এভাবেই তারা তাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করবে এবং তা ঈশ্বরের চোখে সন্তোষজনক।
1TI 5:5 যে বিধবা প্রকৃতই নিঃস্ব ও একেবারেই নিঃসঙ্গ, সে ঈশ্বরের উপরেই প্রত্যাশা রাখে এবং দিনরাত প্রার্থনায় রত থেকে ঈশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।
1TI 5:6 কিন্তু যে বিধবা শারীরিক কামনার বশে জীবনযাপন করে, সে জীবিত থেকেও মৃত।
1TI 5:7 তুমি তাদের এই শিক্ষা দাও, যেন কেউ তাদের নিন্দা করার সুযোগ না পায়।
1TI 5:8 কেউ যদি তার আত্মীয়স্বজনের, বিশেষত পরিবারের আপনজনদের ভরণ-পোষণ না করে, সে বিশ্বাস অস্বীকার করেছে এবং অবিশ্বাসীর চেয়েও নিকৃষ্ট প্রতিপন্ন হয়েছে।
1TI 5:9 তাঁরই নাম বিধবাদের তালিকাভুক্ত হবে, যাঁর বয়স ষাট বছরের বেশি এবং যিনি তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন;
1TI 5:10 যিনি বিভিন্ন সৎকর্মের জন্য সুপরিচিত, যেমন সন্তানের লালনপালন, আতিথেয়তা, পবিত্রগণের পা ধুয়ে দেওয়া, বিপন্নদের সাহায্য করা এবং সর্বপ্রকার সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করেছেন।
1TI 5:11 অল্পবয়স্ক বিধবাদের নাম এই ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোরো না। কারণ খ্রীষ্টের প্রতি আত্মনিবেদনের চেয়ে, তাদের শারীরিক কামনাবাসনা যখন প্রবল হয়ে ওঠে, তখন তারা বিবাহ করতে চায়।
1TI 5:12 এভাবে তারা প্রথম প্রতিশ্রুতি ভেঙে নিজেদের অপরাধী করে তোলে আর নিজের উপরে শাস্তি ডেকে আনে।
1TI 5:13 এছাড়া তারা অলসতায় জীবনযাপন করতে এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা যে শুধু অলসই হয়, তা নয়, তারা অনধিকারচর্চা এবং কুৎসা-রটনা করে যা বলা উচিত নয়, এমন কথা বলে বেড়ায়।
1TI 5:14 তাই অল্পবয়স্ক বিধবাদের প্রতি আমার উপদেশ: তারা বিবাহ করুক, সন্তানের জন্ম দিক, তাদের গৃহের দেখাশোনা করুক এবং মিথ্যা কলঙ্ক দেওয়ার কোনো সুযোগ যেন শত্রুকে না দেয়।
1TI 5:15 বাস্তবিক, কেউ কেউ ইতিমধ্যেই ভুল পথে গিয়ে শয়তানের অনুগামী হয়েছে।
1TI 5:16 বিশ্বাসী কোনো মহিলার পরিবারে যদি বিধবারা থাকে, তাহলে সে তাদের সাহায্য করুক, তাদের জন্য মণ্ডলীকে যেন দায়িত্বভার নিতে না হয়; সেক্ষেত্রে যে বিধবারা সত্যিসত্যিই দুস্থ, মণ্ডলী তাদের সাহায্য করতে পারবে।
1TI 5:17 যেসব প্রাচীন মণ্ডলীর কাজকর্ম ভালোভাবে পরিচালনা করেন, তাঁরা দ্বিগুণ সম্মানের যোগ্য, বিশেষ করে যাঁরা প্রচারক ও শিক্ষক।
1TI 5:18 কারণ শাস্ত্র বলে, “শস্য মাড়াই করার সময় বলদের মুখে জালতি বেঁধো না” এবং “কর্মচারী তার বেতন পাওয়ার যোগ্য”
1TI 5:19 দুজন কি তিনজন সাক্ষীর সমর্থন ছাড়া কোনো প্রাচীনের বিরুদ্ধে নিয়ে আসা অভিযোগকে গ্রাহ্য কোরো না।
1TI 5:20 যারা পাপ করে, প্রকাশ্যে তাদের তিরস্কার করো, যেন অন্যেরা সতর্ক হতে পারে।
1TI 5:21 ঈশ্বর, খ্রীষ্ট যীশু এবং মনোনীত দূতদের সাক্ষাতে আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি, এসব নির্দেশ নিরপেক্ষভাবে পালন করো, পক্ষপাতিত্বের বশে কোনো কিছুই কোরো না।
1TI 5:22 সত্বর কারও উপরে হাত রেখো না; অপরের পাপের ভাগী হোয়ো না; নিজেকে শুচিশুদ্ধ রেখো।
1TI 5:23 এখন থেকে শুধু জলপান কোরো না, তোমার পাকস্থলীর রোগ এবং বারবার অসুস্থতার জন্য একটু দ্রাক্ষারস পান কোরো।
1TI 5:24 কিছু লোকের পাপ স্পষ্ট ধরা পড়ে এবং তা বিচারের অপেক্ষা রাখে না, কিন্তু অন্যদের পাপ পরবর্তীকালে ধরা পড়ে।
1TI 5:25 একইভাবে, সৎ কর্মগুলি সুস্পষ্ট দেখা যায়, এমনকি, যদি নাও দেখা যায়, সেগুলি ঢেকে রাখা যায় না।
1TI 6:1 যারা ক্রীতদাসত্বের জোয়ালে আবদ্ধ, তারা তাদের প্রভুকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার যোগ্য বলে মনে করুক, যেন ঈশ্বরের নাম এবং আমাদের শিক্ষার নিন্দা না হয়।
1TI 6:2 যাদের মনিবরা বিশ্বাসী, প্রভুতে ভাই হওয়ার কারণে সেই মনিবদের প্রতি তাদের যেন শ্রদ্ধার অভাব না দেখা যায়। বরং, আরও ভালোভাবে তারা তাঁদের সেবা করবে, কারণ যাঁরা তাদের সেবার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে, তাঁরাও বিশ্বাসী এবং তাদের প্রিয়জন। এই সমস্ত বিষয় তুমি তাদের শিক্ষা দাও এবং অনুনয় করো।
1TI 6:3 কেউ যদি ভ্রান্ত ধর্মশিক্ষা দেয় এবং আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অভ্রান্ত নির্দেশ ও ঐশ্বরিক শিক্ষার সঙ্গে একমত না হয়,
1TI 6:4 তাহলে সে গর্বে অন্ধ ও নির্বোধ। ঝগড়া ও তর্কবিতর্কের প্রতিই তার অকারণ আগ্রহ, ফলে সৃষ্টি হয় ঈর্ষা, বিবাদ, বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তা, হীন সন্দেহ;
1TI 6:5 এবং কলুষিতমনা লোকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় অবিরত দ্বন্দ্ব। তারা সত্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং ভক্তিকে তারা অর্থলাভের উপায় বলে মনে করে।
1TI 6:6 প্রকৃতপক্ষে ভক্তি মহালাভজনক, যদি তার সঙ্গে থাকে পরিতৃপ্তি;
1TI 6:7 কারণ এ জগতে আমরা কিছুই আনিনি এবং এখান থেকে কিছু নিয়েও যেতে পারি না।
1TI 6:8 কিন্তু যদি আমাদের অন্নবস্ত্রের সংস্থান থাকে, তাহলে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব।
1TI 6:9 যারা ধনী হতে চায়, তারা প্রলোভনে পড়ে। তারা বহু অবোধ ও ক্ষতিকর বাসনার ফাঁদে পড়ে, যা মানুষকে বিনাশ ও ধ্বংসের গর্তে ছুঁড়ে দেয়।
1TI 6:10 কারণ অর্থের প্রতি আসক্তি সকল প্রকার অনর্থের মূল। অর্থলোভী কিছু মানুষ বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছে ও গভীর দুঃখে নিজেদের বিদ্ধ করেছে।
1TI 6:11 তুমি কিন্তু ঈশ্বরের লোক, এসব বিষয় থেকে পালিয়ে যাও এবং ধার্মিকতা, ভক্তি, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ধৈর্য এবং মৃদুতার অনুসরণ করো।
1TI 6:12 তুমি বিশ্বাসের উত্তম যুদ্ধে সংগ্রাম করো। অনন্ত জীবনে প্রতিষ্ঠিত থাকো, কারণ এরই জন্য তোমাকে আহ্বান করা হয়েছে এবং বহু সাক্ষীর সামনে তোমার উত্তম প্রতিজ্ঞা স্বীকার করেছ।
1TI 6:13 যিনি সকলকে জীবন দান করেন, সেই ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ও খ্রীষ্ট যীশুর দৃষ্টিতে, যিনি পন্তীয় পীলাতের দরবারে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় উত্তম স্বীকারোক্তি করেছিলেন, আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি,
1TI 6:14 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত এই আজ্ঞা নিষ্কলঙ্ক ও অনিন্দনীয়রূপে পালন করো,
1TI 6:15 যা ঈশ্বর তাঁর উপযুক্ত সময়ে প্রদর্শন করবেন—যিনি পরমধন্য, একমাত্র সম্রাট, রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু,
1TI 6:16 একমাত্র অমর, অগম্য জ্যোতির মাঝে যাঁর অবস্থান, যাঁকে কেউ কখনও দেখেনি এবং দেখতেও পারে না—তাঁরই প্রতি হোক সমাদর এবং চিরস্থায়ী পরাক্রম। আমেন।
1TI 6:17 এই বর্তমান জগতে যারা ধনবান, তাদের আদেশ দাও, তারা যেন উদ্ধত না হয়, তাদের অনিশ্চিত সম্পদের উপরে তারা যেন আশাভরসা না করে, কিন্তু ঈশ্বরের উপরে প্রত্যাশা রাখে, যিনি আমাদের উপভোগের জন্য সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে জুগিয়ে দেন।
1TI 6:18 তাদের সৎকর্ম করতে আদেশ দাও, তারা যেন ভালো কাজে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে, দানশীল হয় এবং নিজেদের সম্পদ অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইচ্ছুক হয়।
1TI 6:19 এভাবে তারা নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় করে তাদের ভবিষ্যতে দৃঢ় ভিত্তিমূল স্থাপন করবে এবং যা প্রকৃতই জীবন, সেই জীবন ধরে রাখতে পারবে।
1TI 6:20 তিমথি, তোমার তত্ত্বাবধানে যা দেওয়া হয়েছে, তা সযত্নে রক্ষা করো। অসার বাক্যালাপ এবং বিরুদ্ধ মতবাদ থেকে দূরে থেকো, যা ভ্রান্তিরূপে “জ্ঞান” বলে অভিহিত।
1TI 6:21 কিছু মানুষ তা স্বীকার করেছে, এর ফলে বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছে। অনুগ্রহ তোমাদের সহবর্তী হোক।
2TI 1:1 ঈশ্বরের ইচ্ছায় খ্রীষ্ট যীশুর প্রেরিতশিষ্য, আমি পৌল, খ্রীষ্ট যীশুতে নিহিত জীবনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে,
2TI 1:2 আমার প্রিয় বৎস তিমথির উদ্দেশে এই পত্র লিখছি। পিতা ঈশ্বর এবং আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশু থেকে অনুগ্রহ, করুণা এবং শান্তি বর্ষিত হোক।
2TI 1:3 আমি শুদ্ধবিবেকে আমার পূর্বপুরুষদের মতোই যে ঈশ্বরের উপাসনা করি, আমার প্রার্থনায় আমি দিনরাত তোমাকে স্মরণ করে সেই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে থাকি।
2TI 1:4 তোমার চোখের জলের কথা স্মরণ করে তোমাকে দেখার জন্য আমি আকুল হয়ে উঠেছি, যেন আমি আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠতে পারি।
2TI 1:5 তোমার অকপট বিশ্বাসের কথা আমি স্মরণ করি, যা প্রথমে তোমার দিদিমা লোয়িস ও মা ইউনিসের মধ্যেও ছিল। আমি সুনিশ্চিত, তোমার মধ্যেও এখন তা বর্তমান।
2TI 1:6 এই কারণেই আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, তোমার উপরে আমার হাত রাখার ফলে ঈশ্বরের যে বরদান তুমি লাভ করেছিলে, তা উদ্দীপ্ত করে তোলো।
2TI 1:7 কারণ ঈশ্বর আমাদের ভীরুতার আত্মা দেননি, কিন্তু দিয়েছেন পরাক্রম, প্রেম ও সুবুদ্ধির আত্মা।
2TI 1:8 সেইজন্য আমাদের প্রভুর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বা তাঁরই বন্দি আমার বিষয়ে বলতে লজ্জাবোধ কোরো না। বরং, ঈশ্বরের শক্তিতে আমার সঙ্গে সুসমাচারের জন্য কষ্টভোগ স্বীকার করো।
2TI 1:9 আমাদের করা কোনো কাজের জন্য নয়, কিন্তু ঈশ্বর তাঁর নিজের পরিকল্পনা এবং অনুগ্রহ অনুসারে পরিত্রাণ দান করে আমাদের পবিত্র জীবনে আহ্বান করেছেন। সময় শুরু হওয়ার আগেই, তিনি খ্রীষ্ট যীশুতে এই অনুগ্রহ আমাদের দান করেছিলেন।
2TI 1:10 কিন্তু এখন আমাদের পরিত্রাতা খ্রীষ্ট যীশুর আগমনের দ্বারা সেই অনুগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মৃত্যুর বিনাশ ঘটিয়ে সুসমাচারের মাধ্যমে জীবন ও অমরত্ব আলোতে নিয়ে এসেছেন।
2TI 1:11 এই সুসমাচারের জন্য আমি একজন ঘোষক, প্রেরিত এবং শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছি।
2TI 1:12 এই জন্যই আমি এত দুঃখকষ্ট ভোগ করছি। তবুও আমি লজ্জিত নই, কারণ যাঁকে আমি বিশ্বাস করেছি, তাঁকে জানি এবং আমার নিশ্চিত যে, সেই মহাদিনের জন্য আমি তাঁর কাছে যা গচ্ছিত রেখেছি, তিনি তা রক্ষা করতে সমর্থ।
2TI 1:13 খ্রীষ্ট যীশুর বিশ্বাসে ও ভালোবাসায় আমার কাছে তুমি যা যা শুনেছ সেসব অভ্রান্ত শিক্ষার আদর্শরূপে ধারণ করো।
2TI 1:14 যে উৎকৃষ্ট সম্পদ তোমার কাছে গচ্ছিত হয়েছে, তা রক্ষা করো—আমাদের অন্তরে যিনি বাস করেন সেই পবিত্র আত্মার সহায়তায় তা রক্ষা করো।
2TI 1:15 তুমি জানো, ফুগিল্ল ও হর্মগিনিসহ এশিয়া প্রদেশের অন্যান্য সবাই আমাকে পরিত্যাগ করে চলে গেছে।
2TI 1:16 অনীষিফরের পরিজনদের প্রতি ঈশ্বর করুণা প্রদর্শন করুন, কারণ বারবার তিনি আমার প্রাণ জুড়িয়েছেন এবং আমার শিকলের জন্য লজ্জাবোধ করেননি।
2TI 1:17 বরং, তিনি যখন রোমে ছিলেন, আমার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত, তিনি সবিশেষ চেষ্টা করে আমার খোঁজ করেছিলেন।
2TI 1:18 ইফিষে তিনি যে কতভাবে আমাকে সাহায্য করেছিলেন, তা তুমি ভালোভাবেই জানো। প্রভু তাঁকে এমনই বর দিন যেন সেইদিন তিনি প্রভুর করুণা লাভ করতে পারেন।
2TI 2:1 অতএব, বৎস আমার, খ্রীষ্ট যীশুতে স্থিত অনুগ্রহে তুমি শক্তিশালী হও।
2TI 2:2 আর বহু সাক্ষীর উপস্থিতিতে তুমি আমাকে যেসব বিষয় বলতে শুনেছ, সেগুলি এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে অর্পণ করো, যারা অন্যদের কাছে সেগুলি শিক্ষা দিতে সমর্থ হবে।
2TI 2:3 তুমি খ্রীষ্ট যীশুর একজন উত্তম সৈনিকের মতো আমার সঙ্গে কষ্টভোগ করো।
2TI 2:4 যে সৈনিক সে সাংসারিক বিষয়ে নিজেকে জড়াতে চায় না, কিন্তু সে তার সেনানায়ককেই সন্তুষ্ট করতে চায়।
2TI 2:5 সেরকমই, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যে অংশগ্রহণ করে সে নিয়ম মেনে না চললে, বিজয়ীর মুকুট লাভ করতে পারে না।
2TI 2:6 যে কৃষক কঠোর পরিশ্রম করে, ফসলে তারই প্রথম অধিকার হয়।
2TI 2:7 আমি যা বলছি তা বিবেচনা করো। প্রভু তোমাকে এসব বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি দান করবেন।
2TI 2:8 যীশু খ্রীষ্টকে স্মরণ করো, যিনি মৃতলোক থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং যিনি দাউদের বংশজাত। এই হল আমার সুসমাচার।
2TI 2:9 এরই জন্য, আমি অপরাধীর মতো শিকলে বন্দি হয়ে দুঃখযন্ত্রণা ভোগ করছি, কিন্তু ঈশ্বরের বাণী শিকলে বন্দি হয়নি।
2TI 2:10 অতএব, মনোনীতদের জন্য আমি সবকিছুই সহ্য করি, যেন তারাও অনন্ত মহিমার সঙ্গে সেই মুক্তি অর্জন করতে পারে যার আধার খ্রীষ্ট যীশু।
2TI 2:11 একটি বিশ্বাসযোগ্য উক্তি হল: আমরা যদি তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে থাকি, তাহলে তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব;
2TI 2:12 যদি সহ্য করি, তাহলে তাঁর সঙ্গে রাজত্বও করব। যদি তাঁকে অস্বীকার করি, তিনিও আমাদের অস্বীকার করবেন।
2TI 2:13 আমরা যদি বিশ্বাসবিহীন হই, তিনি থাকবেন চির বিশ্বস্ত, কারণ তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না।
2TI 2:14 এ সমস্ত বিষয় তুমি তাদের সবসময় স্মরণ করিয়ে দাও। ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাদের সতর্ক করে দাও যেন তারা তর্কবিতর্ক না করে। এর কোনও মূল্য নেই, তা শুধু শ্রোতাদের ধ্বংস করে।
2TI 2:15 সর্বোত্তম প্রচেষ্টার দ্বারা তুমি ঈশ্বরের কাছে নিজেকে অনুমোদিতরূপে উপস্থাপন করো; এমন কার্যকারী হও, যার লজ্জিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, যে সত্যের বাক্য যথার্থরূপে ব্যবহার করতে জানে।
2TI 2:16 কিন্তু, ঈশ্বরবিরোধী বাক্যালাপ এড়িয়ে চলো, কারণ যারা এগুলিতে জড়িয়ে পড়ে, তারা দিনে দিনে ভক্তিহীন হয়।
2TI 2:17 তাদের শিক্ষা দূষিত ক্ষতের মতো ছড়িয়ে পড়বে। হুমিনায় ও ফিলিত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
2TI 2:18 তারা সত্য থেকে দূরে চলে গেছে। তারা এই কথা বলে কিছু লোকের বিশ্বাস নষ্ট করছে যে পুনরুত্থান ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।
2TI 2:19 তবুও, ঈশ্বরের স্থাপিত বনিয়াদ দৃঢ় ও অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার উপর মোহরাঙ্কিত আছে এই বাক্য: “প্রভু জানেন কে কে তাঁর” এবং “প্রভুর নাম যে কেউ স্বীকার করে, দুষ্কর্ম থেকে সে দূরে থাকুক।”
2TI 2:20 কোনো বড়ো বাড়িতে শুধু সোনারুপোর বাসনই নয়, কিন্তু কাঠ ও মাটিরও পাত্র থাকে; কতগুলি ব্যবহত হয় বিশেষ কাজে, আবার কতগুলি সাধারণ কাজে।
2TI 2:21 কোনো মানুষ যদি নিজেকে ইতরতা থেকে মুক্ত রাখতে পারে, সে হবে মহৎ কাজে ব্যবহারের উপযুক্ত, পবিত্রীকৃত, মনিবের কাজের উপযোগী এবং যে কোনো সৎকর্মে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
2TI 2:22 তুমি যৌবনের সব কু-অভিলাষ থেকে পালিয়ে যাও এবং যারা শুদ্ধচিত্তে প্রভুকে ডাকে, তাদের সঙ্গে ধার্মিকতা, বিশ্বাস, প্রেম ও শান্তিলাভের অনুধাবন করো।
2TI 2:23 বিচারবুদ্ধিহীন ও নির্বুদ্ধিতার তর্কবিতর্কে রত হোয়ো না, কারণ তুমি জানো, এসব থেকে বিবাদের সূত্রপাত হয়।
2TI 2:24 আর প্রভুর সেবক কখনোই ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না; বরং সে সবার প্রতি হবে সদয়, শিক্ষাদানে নিপুণ এবং সহনশীল।
2TI 2:25 যারা তার বিরোধিতা করে সে এই প্রত্যাশায় নম্রভাবে তাদের সুপরামর্শ দেবে, যেন ঈশ্বর সত্যের জ্ঞানের দিকে তাদের মন পরিবর্তন করেন এবং
2TI 2:26 তারা যেন চেতনা ফিরে পেয়ে দিয়াবলের ফাঁদ থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে যে তার ইচ্ছা পালনের জন্য তাদের বন্দি করে রেখেছে।
2TI 3:1 কিন্তু একথা মনে রেখো: শেষের দিনগুলিতে ভীষণ দুঃসময় ঘনিয়ে আসবে;
2TI 3:2 মানুষ হবে আত্মপ্রেমী, অর্থপ্রিয়, দাম্ভিক, অহংকারী, পরনিন্দুক, বাবা-মার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অপবিত্র,
2TI 3:3 প্রেমহীন, ক্ষমাহীন, কুৎসা-রটনাকারী, আত্মসংযমহীন, নৃশংস, ভালো সবকিছুকে ঘৃণা করবে,
2TI 3:4 বিশ্বাসঘাতক, বেপরোয়া, আত্মাভিমানী, ঈশ্বরকে ভালোবাসার চেয়ে তারা ভোগ-বিলাসকেই বেশি ভালোবাসবে।
2TI 3:5 তারা ভক্তির ছদ্মবেশ ধারণ করবে, কিন্তু তাঁর পরাক্রমকে তারা অস্বীকার করবে। তুমি তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রেখো না।
2TI 3:6 তারা কৌশলে ঘরে ঘরে প্রবেশ করে পাপ-ভারাক্রান্ত ও সমস্ত রকমের দুষ্প্রবৃত্তির দ্বারা চালিত, দুর্বলচিত্ত স্ত্রীলোকদের উপরে আধিপত্য বিস্তার করে।
2TI 3:7 তারা সর্বদা শিক্ষা লাভ করলেও, কখনোই সত্য স্বীকার করতে পারে না।
2TI 3:8 যান্নি এবং যাম্ব্রি যেমন মোশির বিরুদ্ধতা করেছিল, তারাও তেমনই সত্যের প্রতিরোধ করে। তাদের মন দূষিত, যাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে যতদূর বলা যেতে পারে, তারা কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না।
2TI 3:9 তারা বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবে না কারণ সেই দুই ব্যক্তির মতো তাদের মূর্খতাও সকলের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে।
2TI 3:10 তুমি অবশ্য আমার শিক্ষা, আমার জীবনচর্যা, আমার উদ্দেশ্য, বিশ্বাস, ধৈর্য, ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা,
2TI 3:11 লাঞ্ছনা, দুঃখকষ্ট, সবকিছু জানো—যেসব ঘটনা আন্তিয়খ, ইকনিয় ও লুস্ত্রাতে আমার প্রতি ঘটেছিল এবং যেসব নির্যাতন আমি সহ্য করেছিলাম। তবুও প্রভু সে সমস্ত থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন।
2TI 3:12 প্রকৃতপক্ষে, খ্রীষ্ট যীশুতে যারা ভক্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে চায়, তারা নির্যাতিত হবেই।
2TI 3:13 কিন্তু একই সময়ে, দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা ও প্রতারকেরা, ক্রমাগত মন্দ থেকে নিকৃষ্টতার দিকে যাবে, তারা অন্যদের প্রতারণা করবে এবং নিজেরাও প্রতারিত হবে।
2TI 3:14 কিন্তু তুমি যা শিখেছ এবং বিশ্বাস করেছ, তা পালন করে চলো। কারণ, তুমি জানো যে তুমি কাদের কাছে শিক্ষা পেয়েছ,
2TI 3:15 এবং ছোটোবেলা থেকে কীভাবে পবিত্র শাস্ত্র জেনেছ, তাও তুমি জানো। সে সবকিছু খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিত্রাণের জন্য তোমাকে বিজ্ঞ করে তুলতে সক্ষম।
2TI 3:16 সমস্ত শাস্ত্রলিপি ঈশ্বর-নিশ্বসিত এবং শিক্ষা, তিরস্কার, সংশোধন ও ধার্মিকতায় প্রশিক্ষণের জন্য উপযোগী,
2TI 3:17 যেন ঈশ্বরের লোক পরিপক্ব ও সমস্ত সৎকর্মের জন্য সুসজ্জিত হয়।
2TI 4:1 ঈশ্বর এবং যিনি জীবিত ও মৃতদের বিচার করবেন, সেই খ্রীষ্ট যীশুর সাক্ষাতে এবং তাঁর আগমন ও তাঁর রাজ্যের প্রেক্ষিতে আমি তোমাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করছি:
2TI 4:2 তুমি বাক্য প্রচার করো; সময়ে-অসময়ে প্রস্তুত থেকো; অসীম ধৈর্য ও সুপরামর্শ দিয়ে সবাইকে সংশোধন, তিরস্কার এবং উৎসাহ প্রদান করো।
2TI 4:3 কারণ এমন সময় আসবে যখন মানুষ অভ্রান্ত শিক্ষা সহ্য করতে পারবে না। বরং তাদের নিজস্ব কামনাবাসনা চরিতার্থ করতে শ্রুতিসুখকর কথা শোনার জন্য তারা অনেক গুরু জোগাড় করবে।
2TI 4:4 তারা সত্যের প্রতি কর্ণপাত না করে কল্পকাহিনির দিকে ঝুঁকে পড়বে।
2TI 4:5 কিন্তু সকল পরিস্থিতিতেই তুমি নিজেকে সংযত রেখো, দুঃখকষ্ট সহ্য কোরো, সুসমাচার প্রচারকের কাজ কোরো ও তোমার পরিচর্যার সমস্ত কর্তব্য সম্পাদন কোরো।
2TI 4:6 আর আমি ইতিমধ্যে পানীয়-নৈবেদ্যর মতো সেচিত হয়েছি, আমার মহাপ্রস্থানের সময় এসে উপস্থিত হয়েছে।
2TI 4:7 আমি উত্তম সমরে সংগ্রাম করেছি। আমার দৌড় শেষ হয়েছে। আমি বিশ্বাস রক্ষা করেছি।
2TI 4:8 এখন আমার জন্য সঞ্চিত আছে সেই ধার্মিকতার মুকুট যা ধর্মময় বিচারক, সেই প্রভু, সেদিন আমাকে তা দান করবেন। শুধুমাত্র আমাকে নয়, কিন্তু যতজন তাঁর আবির্ভাবের প্রতীক্ষায় রয়েছে তাদের সবাইকেই তা দেবেন।
2TI 4:9 তুমি অবিলম্বে আমার কাছে আসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো,
2TI 4:10 কারণ দীমা, এই জগৎকে ভালোবেসে আমাকে ত্যাগ করে থিষলনিকাতে চলে গেছে। ক্রিসেন্স গালাতিয়ায় এবং তীত গেছেন দালমাতিয়ায়।
2TI 4:11 কেবলমাত্র লূক, একা আমার সঙ্গে আছেন। তুমি মার্ককে সঙ্গে নিয়ে এসো, কারণ পরিচর্যার কাজে সে আমার বড়ো উপকারী।
2TI 4:12 তুখিককে আমি ইফিষে পাঠিয়েছি।
2TI 4:13 আসার সময়, ত্রোয়াতে কার্পের কাছে যে আলখাল্লাটি ফেলে এসেছি, সেটা নিয়ে এসো; আর আমার পুঁথিগুলি, বিশেষত চামড়ার পুঁথিগুলিও নিয়ে আসবে।
2TI 4:14 ধাতু-শিল্পী আলেকজান্ডার আমার অনেক ক্ষতি করেছে। প্রভু তার কাজের সমুচিত প্রতিফল তাকে দেবেন।
2TI 4:15 তুমি তার থেকে সাবধানে থেকো, কারণ আমাদের বার্তাকে সে প্রবলভাবে প্রতিরোধ করেছিল।
2TI 4:16 প্রথমবারের আত্মপক্ষ সমর্থনের সময়, আমার পক্ষে একজনও এগিয়ে আসেনি, বরং প্রত্যেকেই আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এসব যেন তাদের বিপক্ষে না যায়।
2TI 4:17 কিন্তু প্রভু আমার পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি দিয়েছিলেন, যেন আমার মাধ্যমে সেই বার্তা সম্পূর্ণরূপে প্রচারিত হয় ও অইহুদি জনগণ তা শুনতে পায়। আবার আমি সিংহের মুখ থেকেও উদ্ধার পেয়েছি।
2TI 4:18 সমস্ত অশুভ আক্রমণ থেকে প্রভু আমাকে রক্ষা করবেন এবং তাঁর স্বর্গীয় রাজ্যে তিনি আমাকে নিরাপদে নিয়ে আসবেন। চিরকাল যুগে যুগে কীর্তিত হোক তাঁর মহিমা। আমেন।
2TI 4:19 প্রিষ্কা ও আক্বিলা এবং অনীষিফরের পরিজনদের শুভেছা জানিয়ো।
2TI 4:20 ইরাস্ত করিন্থে থেকে গেছেন এবং ত্রফিমকে আমি অসুস্থ অবস্থায় মিলেতায় রেখে এসেছি।
2TI 4:21 তুমি শীতকালের আগেই এখানে আসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা কোরো। উবুল, পুদেন্স্, লীন, ক্লডিয়া এবং ভাইবোনেরা সকলে তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
2TI 4:22 প্রভু তোমার আত্মার সহবর্তী হোন। অনুগ্রহ তোমাদের সহবর্তী হোক।
TIT 1:1 পৌল, ঈশ্বরের একজন দাস ও যীশু খ্রীষ্টের একজন প্রেরিতশিষ্য থেকে এই পত্র। ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তিদের কাছে বিশ্বাস প্রচার করতে এবং ভক্তিপরায়ণতার পথে তাদের চালনা করার উদ্দেশ্যে সত্যের তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দিতে আমাকে পাঠানো হয়েছে।
TIT 1:2 সেই সত্য তাদের আশ্বাস দেয় যে তাদের অনন্ত জীবন আছে যা ঈশ্বর, যিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, সময়ের শুরুতেই তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
TIT 1:3 এবং তাঁর নির্ধারিত সময়ে তিনি তাঁর বাক্য ঘোষণা করেছেন যা প্রচার করার ভার আমাদের পরিত্রাতা ঈশ্বরের আদেশে আমারই উপর দেওয়া হয়েছে।
TIT 1:4 আমাদের যে সাধারণ বিশ্বাস আছে, তার বলে, আমার প্রকৃত বৎস, তীতের প্রতি: পিতা ঈশ্বর এবং আমাদের পরিত্রাতা খ্রীষ্ট যীশু থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি বর্তুক।
TIT 1:5 আমি তোমাকে যে কারণে ক্রীটে রেখে এসেছিলাম, তা হল, তুমি যেন সব অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারো এবং আমার নির্দেশমতো প্রত্যেক নগরে প্রাচীনদের নিযুক্ত করতে পারো।
TIT 1:6 একজন প্রাচীন অবশ্যই হবেন অনিন্দনীয়, তিনি এক স্ত্রীর স্বামী হবেন, যাঁর সন্তানেরা বিশ্বাসী এবং যাদের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খলতার ও অবাধ্যতার কোনো অভিযোগ নেই।
TIT 1:7 যেহেতু অধ্যক্ষের উপরে ঈশ্বরের কাজের ভার দেওয়া হয়েছে, তাই তাঁকে হতে হবে অনিন্দনীয়; তিনি উদ্ধত, বদমেজাজি, মদ্যপ, উগ্র বা অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের জন্য লালায়িত হবেন না;
TIT 1:8 বরং তাঁকে হতে হবে অতিথিবৎসল, মঙ্গলজনক সবকিছুর প্রতি অনুরক্ত, আত্মসংযমী, ন্যায়নিষ্ঠ, পবিত্র এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ।
TIT 1:9 যেমন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তেমনই তাঁকে বিশ্বাসযোগ্য বাণী দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকতে হবে, যেন সঠিক তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন ও যারা সেই শিক্ষার বিরোধিতা করে তাদের ভুল প্রমাণিত করতে পারেন।
TIT 1:10 কারণ বহু বিদ্রোহীভাবাপন্ন, অসার বাক্যবাগীশ এবং প্রতারক ব্যক্তি রয়েছে তারা বিশেষত সুন্নত-প্রাপ্তদের দলে আছে।
TIT 1:11 এরা অসৎ লাভের জন্য এমন সব কথা বলছে যে শিক্ষা দেওয়া উচিত নয়। ফলে পরিবারগুলি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এদের মুখ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
TIT 1:12 এমনকি, তাদেরই একজন ভাববাদী বলেছেন, “ক্রীটের অধিবাসীরা সবসময়ই মিথ্যাবাদী, পশুর মতো হিংস্র, অলস পেটুক।”
TIT 1:13 এই সাক্ষ্য সত্য। সুতরাং তাদের কঠোরভাবে তিরস্কার করো, যেন তারা সঠিক বিশ্বাসের অধিকারী হতে পারে
TIT 1:14 এবং তারা যেন ইহুদি গালগল্পে অথবা যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এমন লোকদের আদেশের প্রতি মনোযোগ না দেয়।
TIT 1:15 যারা শুচিশুদ্ধ, তাদের কাছে সবকিছুই শুচিশুদ্ধ, কিন্তু যারা কলুষিত এবং অবিশ্বাসী, তাদের কাছে কোনো কিছুই শুচিশুদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে, তাদের মন ও বিবেক উভয়ই কলুষিত হয়ে পড়েছে।
TIT 1:16 ঈশ্বরকে জানে বলে তারা দাবি করে, কিন্তু তাদের কাজকর্মের দ্বারা তারা তাঁকে অস্বীকার করে। তারা ঘৃণার পাত্র, অবাধ্য এবং কোনও সৎকর্ম করার অযোগ্য।
TIT 2:1 তীত, তুমি লোকদের অভ্রান্ত শাস্ত্রশিক্ষা দাও।
TIT 2:2 বয়স্ক ব্যক্তিদের মিতাচারী, শ্রদ্ধেয়, আত্মসংযমী হতে এবং বিশ্বাস, প্রেম ও ধৈর্যে মজবুত হতে শিক্ষা দাও।
TIT 2:3 সেভাবে, বয়স্ক মহিলাদেরও শিক্ষা দাও, যেন তাঁরা সম্ভ্রমের সঙ্গে জীবনযাপন করেন, যেন পরচর্চায় মত্ত বা মদ্যপানে আসক্ত না হয়ে পড়েন। কিন্তু যা কিছু মঙ্গলজনক, তাঁরা যেন সেই শিক্ষা দেন।
TIT 2:4 তাহলেই তাঁরা তরুণীদের শিক্ষা দিতে পারবেন, যেন তারা তাদের স্বামী ও সন্তানদের ভালোবাসতে পারে;
TIT 2:5 যেন তারা সংযত, শুদ্ধচিত্ত, ঘরের কাজে ব্যস্ত, সদয় ও নিজের নিজের স্বামীর বশ্যতাধীন হয়, যেন কেউ ঈশ্বরের বাক্যের নিন্দা করতে না পারে।
TIT 2:6 একইভাবে, আত্মসংযমী হওয়ার জন্য তরুণদের অনুপ্রাণিত করো।
TIT 2:7 সৎকর্মের দ্বারা প্রত্যেক বিষয়ে তাদের সামনে আদর্শ স্থাপন করো। শিক্ষাদানকালে তুমি সততা এবং আন্তরিকতা দেখাও,
TIT 2:8 আর তোমার কথা এমন সারগর্ভ হোক যেন কেউ তা অগ্রাহ্য করতে না পারে, যারা তোমার বিরোধিতা করে তারা যেন লজ্জিত হয়, কারণ আমাদের বিষয়ে তাদের খারাপ কিছুই বলার নেই।
TIT 2:9 ক্রীতদাসদের শেখাও, তারা যেন সব বিষয়ে তাদের মনিবদের অনুগত হয়, তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে, তাদের কথার প্রতিবাদ না করে;
TIT 2:10 তাদের কিছু চুরি না করে, বরং তারা যেন নিজেদের সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত দেখায়; আমাদের পরিত্রাতা ঈশ্বর সম্বন্ধীয় শিক্ষাকে তারা যেন সর্বতোভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে।
TIT 2:11 কারণ ঈশ্বরের অনুগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে, তা সব মানুষের কাছে পরিত্রাণ নিয়ে আসে।
TIT 2:12 এই অনুগ্রহ অভক্তি এবং সাংসারিক অভিলাষকে উপেক্ষা করতে এবং এই বর্তমান যুগে আত্মসংযমী, সৎ ও ভক্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে আমাদের শিক্ষা দেয়,
TIT 2:13 যখন আমরা সেই পরমধন্য আশা নিয়ে, আমাদের মহান ঈশ্বর ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের মহিমাময় প্রকাশের প্রতীক্ষায় আছি,
TIT 2:14 যিনি আমাদের জন্য নিজেকে দান করেছেন, যেন সব দুষ্টতা থেকে আমাদের মুক্ত করেন এবং নিজের জন্য এক জাতিকে, যারা তাঁর একান্তই আপন, তাদের শুচিশুদ্ধ করেন, যেন তারা সৎকর্মে আগ্রহী হয়।
TIT 2:15 তাহলে এই বিষয়গুলি তুমি শিক্ষা দাও, পূর্ণ কর্তৃত্বের সঙ্গে তুমি তাদের উৎসাহ দাও ও তিরস্কার করো। কেউ যেন তোমাকে অবজ্ঞা না করে।
TIT 3:1 লোকদের তুমি মনে করিয়ে দিয়ো, তারা যেন প্রশাসক ও কর্তৃপক্ষের অনুগত ও বাধ্য হয় এবং যে কোনো সৎকর্মের জন্যই প্রস্তুত থাকে।
TIT 3:2 তারা যেন কারও নিন্দা না করে, কিন্তু শান্তিপ্রিয় ও সুবিবেচক হয় এবং সব মানুষের প্রতি যথার্থ নম্রতা প্রদর্শন করে।
TIT 3:3 এক সময় আমরাও ছিলাম মূর্খ, অবাধ্য, পথভ্রষ্ট এবং সমস্ত রকমের কামনাবাসনা ও সহজাত প্রবৃত্তির দাস। আমরা বিদ্বেষ ও ঈর্ষাপূর্ণ জীবনযাপন করতাম এবং নিজেরাও অন্যদের ঘৃণার পাত্র ছিলাম; আমরা পরস্পরকে ঘৃণা করতাম।
TIT 3:4 কিন্তু যখন আমাদের উদ্ধারকর্তা ঈশ্বরের করুণা ও প্রেমের প্রকাশ ঘটল,
TIT 3:5 তখন তিনি আমাদের পরিত্রাণ দিলেন, আমাদের সৎকর্মের জন্য নয়, কিন্তু তাঁর করুণার গুণে। তিনি নতুন জন্মের স্নান ও পবিত্র আত্মার নবীকরণের মাধ্যমে আমাদের পরিত্রাণ সাধন করলেন।
TIT 3:6 যাঁকে তিনি আমাদের পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে উদারভাবে সঙ্গে ঢেলে দিলেন,
TIT 3:7 যেন তাঁর অনুগ্রহে আমরা ধার্মিক সাব্যস্ত হয়ে অনন্ত জীবনের প্রত্যাশায় তাঁর উত্তরাধিকারী হয়ে উঠতে পারি।
TIT 3:8 এই উক্তি নির্ভরযোগ্য। আমি চাই, এ সমস্ত বিষয়ে তুমি গুরুত্ব দেবে, যেন ঈশ্বরের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তারা সতর্কভাবে সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করে। এই বিষয়গুলি পরম উৎকৃষ্ট এবং সবার পক্ষেই লাভজনক।
TIT 3:9 কিন্তু বিচারবুদ্ধিহীন মতবিরোধ, বংশতালিকা, তর্কবিতর্ক এবং বিধিবিধান সম্পর্কিত সব ঝগড়া এড়িয়ে চলো, কারণ এসব লাভজনক নয় এবং নিরর্থক।
TIT 3:10 বিভেদ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিকে একবার বা প্রয়োজন হলে দু-বার সতর্ক করে দাও। এরপর তার সঙ্গে আর সম্পর্ক রেখো না।
TIT 3:11 তুমি নিশ্চিতভাবে জেনো যে, এই ধরনের লোকেরা বিকৃতমনা এবং তারা পাপে লিপ্ত; তারা নিজেরাই নিজেদের দোষী করে।
TIT 3:12 আর্তিমা বা তুখিককে তোমার কাছে পাঠানো মাত্র নিকোপলিতে আমার কাছে আসার জন্য তুমি যথাসাধ্য চেষ্টা কোরো, কারণ সেখানেই আমি শীতকাল কাটাতে মনস্থির করেছি।
TIT 3:13 আইনজীবী সীনাকে ও আপল্লোকে তাদের যাত্রাপথে যথাসাধ্য সাহায্য কোরো, দেখো তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই যেন তারা পায়।
TIT 3:14 আমাদের লোকদের সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করতে শেখা উচিত, যেন তারা দৈনিক প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং তাদের জীবন ফলহীন হয়ে না পড়ে।
TIT 3:15 আমার সঙ্গীরা সকলে তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বিশ্বাসে যারা আমাদের ভালোবাসে, তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ো। অনুগ্রহ তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
PHM 1:1 খ্রীষ্ট যীশুর বন্দি, আমি পৌল এবং আমাদের ভাই তিমথি, আমাদের প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী ফিলীমন,
PHM 1:2 আমাদের বোন আপ্পিয়া ও আমাদের সহসৈনিক আর্খিপ্প এবং তোমার বাড়িতে সমবেত হওয়া মণ্ডলীর উদ্দেশে:
PHM 1:3 আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের উপর বর্ষিত হোক।
PHM 1:4 আমার প্রার্থনায় তোমাকে স্মরণ করার সময় আমি প্রতিনিয়ত আমার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই,
PHM 1:5 কারণ প্রভু যীশুতে তোমার বিশ্বাস এবং সমস্ত পবিত্রগণের প্রতি তোমার ভালোবাসার কথা আমি শুনেছি।
PHM 1:6 আমি প্রার্থনা করি, বিশ্বাসে আমাদের যে সহভাগিতা আছে তা অন্যের কাছে ব্যক্ত করতে তুমি যেন সক্রিয় হয়ে ওঠো, যেন খ্রীষ্টে আমাদের যেসব উৎকৃষ্ট বিষয় আছে তার পূর্ণ উপলব্ধি তোমার হয়।
PHM 1:7 তোমার ভালোবাসা আমাকে খুবই আনন্দ এবং প্রেরণা দিয়েছে, কারণ ভাই, তুমি পবিত্রগণের প্রাণ জুড়িয়েছ।
PHM 1:8 অতএব, খ্রীষ্টে সাহসী হয়ে যদিও তোমার কর্তব্য সম্বন্ধে আমি তোমাকে আদেশ দিতে পারতাম,
PHM 1:9 তবুও, ভালোবাসাবশত আমি তোমার কাছে মিনতি করছি, আমি পৌল—সেই বৃদ্ধ এবং এখন খ্রীষ্ট যীশুর বন্দি—
PHM 1:10 আমার ছেলে ওনীষিমের জন্য আমি তোমাকে মিনতি করছি যাকে আমি বন্দিদশায় ছেলেরূপে পেয়েছি।
PHM 1:11 আগে তোমার কাছে সে ছিল অনুপযোগী, কিন্তু এখন তোমার ও আমার, উভয়ের কাছেই সে উপযোগী হয়ে উঠেছে।
PHM 1:12 আমি তাকেই—আমার চোখের মণিকে—তোমার কাছে ফেরত পাঠাচ্ছি। আমার সব ভালোবাসা তার সাথে যাচ্ছে।
PHM 1:13 তাকে আমি আমার কাছেই রাখতে পারতাম, তাহলে সুসমাচারের জন্য আমার বন্দিদশায় সে আমাকে তোমার পরিবর্তে সাহায্য করতে পারত।
PHM 1:14 কিন্তু তোমার সম্মতি ছাড়া আমি কিছুই করতে চাইনি, যেন তুমি যে মঙ্গলকর কাজ করো, তা স্বেচ্ছায় করো, বাধ্য হয়ে নয়।
PHM 1:15 হয়তো, সে অল্প সময়ের জন্য তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, যেন তুমি তাকে চিরকালের জন্য ফিরে পাও—
PHM 1:16 আর ক্রীতদাসরূপে নয়, কিন্তু তার চেয়েও শ্রেয়, প্রিয় এক ভাইরূপে। সে আমার বড়োই প্রিয়, কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে এবং প্রভুতে ভাই হিসেবে, সে তোমার কাছে আরও বেশি প্রিয়।
PHM 1:17 তাই, তুমি যদি আমাকে তোমার সহযোগী বলে মনে করো, তাহলে আমাকে যেমন স্বাগত জানাতে, তাকেও সেভাবেই গ্রহণ করো।
PHM 1:18 আর সে যদি তোমার প্রতি কোনো অন্যায় করে থাকে বা তোমার কাছে তার কোনো ঋণ থাকে, তা আমারই বলে গণ্য করো।
PHM 1:19 আমি পৌল, নিজের হাতে এই পত্র লিখছি, আমি তা সব শোধ করব। তুমি নিজেই যে আমার কাছে ঋণে বাঁধা আছ, সেকথা আর উল্লেখ করলাম না।
PHM 1:20 ভাই, আমরা দুজনই প্রভুতে আছি। প্রভুতে আমি তোমার কাছ থেকে এই উপকার যেন পেতে পারি; খ্রীষ্টে তুমি আমাকে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত করো।
PHM 1:21 তোমার আনুগত্যের উপরে আস্থা রেখেই আমি তোমাকে লিখছি, কারণ আমি জানি যে, আমি যা চাই তুমি তার চেয়েও বেশি করবে।
PHM 1:22 আরও একটি কথা: আমার থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করো, কারণ তোমাদের সব প্রার্থনার উত্তরস্বরূপ, আমি তোমাদের কাছে ফিরে যাওয়ার আশা করি।
PHM 1:23 খ্রীষ্ট যীশুতে আমার সহবন্দি ইপাফ্রা তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
PHM 1:24 আর আমার সহকর্মী মার্ক, আরিষ্টার্খ, দীমা ও লূক, এরাও জানাচ্ছেন।
PHM 1:25 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার সহবর্তী হোক। আমেন।
HEB 1:1 অতীতে ঈশ্বর ভাববাদীদের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বহুবার বিভিন্নভাবে কথা বলেছেন,
HEB 1:2 কিন্তু এই শেষ যুগে, তিনি তাঁর পুত্রের মাধ্যমেই আমাদের কাছে কথা বলেছেন, যাঁকে তিনি সবকিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন, এবং যাঁর মাধ্যমে তিনি সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।
HEB 1:3 সেই পুত্রই ঈশ্বরের মহিমার বিচ্ছুরণ এবং তাঁর সত্তার যথার্থ প্রতিরূপ, যিনি তাঁর তেজোদৃপ্ত বাক্যের দ্বারা সবকিছুই ধারণ করে আছেন। সব পাপ ক্ষমা করার কাজ সম্পন্ন করার পর, তিনি স্বর্গে ঐশ-মহিমার ডানদিকে উপবেশন করেছেন।
HEB 1:4 তিনি উত্তরাধিকার বলে স্বর্গদূতদের তুলনায় যে উচ্চতর পদের অধিকারী হয়েছেন, সেই অনুযায়ী তাদের থেকেও মহান হয়ে উঠেছেন।
HEB 1:5 কারণ স্বর্গদূতদের মধ্যে কাকে ঈশ্বর কখন বলেছেন, “তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি?” অথবা আবার, “আমি তার পিতা হব, আর সে হবে আমার পুত্র?”
HEB 1:6 আবারও, ঈশ্বর যখন তাঁর প্রথমজাতকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসেন, তিনি বললেন, “ঈশ্বরের সব দূত তাঁর উপাসনা করুক।”
HEB 1:7 আর স্বর্গদূতদের সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি তাঁর দূতদের করেন বায়ুসদৃশ, তাঁর সেবকদের করেন আগুনের শিখার মতো।”
HEB 1:8 কিন্তু পুত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, “হে ঈশ্বর, তোমার সিংহাসন অনন্তকালস্থায়ী; ধার্মিকতার রাজদণ্ড হবে তোমার রাজ্যের রাজদণ্ড।
HEB 1:9 তুমি ধার্মিকতাকে ভালোবেসেছ, আর দুষ্টতাকে ঘৃণা করেছ; সেই কারণে ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর, আনন্দের তেল দিয়ে অভিষিক্ত করে, তোমাকে তোমার সহচরদের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন।”
HEB 1:10 তিনি আরও বলেন, “হে প্রভু, আদিকালে তুমি এই পৃথিবীর ভিত্তিমূল স্থাপন করেছ, আর আকাশমণ্ডলও তোমারই হাতের রচনা।
HEB 1:11 সেসব বিলুপ্ত হবে, কিন্তু তুমি স্থায়ী হবে; সেগুলি ছেঁড়া কাপড়ের মতো হবে।
HEB 1:12 পরিচ্ছদের মতো তুমি সেসব গুটিয়ে রাখবে, পরনের পোশাকের মতো সেগুলি পরিবর্তিত হবে। কিন্তু তুমি থাকবে সেই একইরকম, তোমার আয়ুর কখনও শেষ হবে না।”
HEB 1:13 স্বর্গদূতদের মধ্যে কাকে ঈশ্বর কখন বলেছেন, “তুমি আমার ডানদিকে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠে পরিণত করি?”
HEB 1:14 স্বর্গদূতেরা সবাই কি পরিচর্যাকারী আত্মা নন? যারা পরিত্রাণের অধিকারী হবে, তাদের সেবা করার জন্যই কি তারা প্রেরিত হননি?
HEB 2:1 সেজন্য, আমরা যা শুনেছি, তার প্রতি অবশ্যই আরও যত্নসহকারে মনোযোগ দেব, যেন আমরা বিপথে না যাই।
HEB 2:2 কারণ স্বর্গদূতদের দ্বারা কথিত বাণী যদি বাধ্যতামূলক হয় এবং তা কোনও ভাবে লঙ্ঘন বা অমান্য করার ফলে যদি ন্যায্য শাস্তি প্রাপ্য হয়,
HEB 2:3 তাহলে, এমন এক মহা পরিত্রাণ অবহেলা করলে আমরা কীভাবে নিষ্কৃতি পাব? এই পরিত্রাণের কথা প্রভুই প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন; তাঁর কথা যারা শুনেছিলেন, তারাই আমাদের কাছে তার সত্যতা প্রতিপন্ন করেছেন।
HEB 2:4 আর ঈশ্বরও বিভিন্ন নিদর্শন, বিস্ময়কর কাজ এবং বিভিন্ন অলৌকিক কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিয়েছেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুসারে পবিত্র আত্মার বিভিন্ন বরদান বিতরণ করা হয়েছে।
HEB 2:5 আমরা যে নতুন জগতের কথা বলছি তা তিনি স্বর্গদূতদের হাতে সমর্পণ করেননি।
HEB 2:6 কিন্তু কোনো এক ব্যক্তি কোনো এক স্থানে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: “মানবজাতি কি, যে তাদের কথা তুমি চিন্তা করো? মানবসন্তান কি, যে তার তুমি যত্ন করো?
HEB 2:7 তুমি তাদের স্বর্গদূতদের চেয়ে সামান্য ছোটো করেছ; তুমি তাদের গৌরব ও সম্মানের মুকুটে ভূষিত করেছ,
HEB 2:8 আর সবকিছুই তাঁর পদানত করেছ।” ঈশ্বর সবকিছুই তার অধীনে রাখাতে এমন আর কিছুই রাখেননি, যা তার অধীন নয়। অথচ, বর্তমানে আমরা সবকিছু তার অধীনে দেখতে পাচ্ছি না।
HEB 2:9 আমরা সেই যীশুকে দেখতে পাচ্ছি, যাঁকে স্বর্গদূতদের সামান্য নিচে স্থান দেওয়া হয়েছিল, তিনি মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগের কারণে মহিমা ও সমাদরের মুকুটে ভূষিত হয়েছেন, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহে তিনি সব মানুষের জন্য মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করেন।
HEB 2:10 যাঁর জন্য ও যাঁর মাধ্যমে সবকিছু অস্তিত্বলাভ করেছে, সেই ঈশ্বর তাঁর বহু সন্তানকে মহিমায় অংশীদার করার পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ করার জন্য যিনি তাদের পরিত্রাণের প্রবর্তক তাঁকে কষ্টভোগের মাধ্যমে সিদ্ধি প্রদান করেছেন। ঈশ্বরের পক্ষে তাই যথার্থ কাজ হয়েছিল।
HEB 2:11 যিনি মানুষকে পবিত্র করেন ও যারা পবিত্র হয়, তারা উভয়েই এক পরিবারভুক্ত। তাই তাদের ভাই (বা বোন) বলতে যীশু লজ্জিত নন।
HEB 2:12 তিনি বলেন, “আমার ভাইবোনেদের কাছে আমি তোমার নাম ঘোষণা করব; সভার মাঝে আমি তোমার জয়গান গাইব।”
HEB 2:13 আবার, “আমি তাঁরই উপর আমার আস্থা স্থাপন করব।” তিনি আরও বলেন, “দেখো, এই আমি ও আমার সন্তানেরা, ঈশ্বর যাদের আমায় দিয়েছেন।”
HEB 2:14 যেহেতু সন্তানেরা রক্তমাংস বিশিষ্ট, তাই তিনি তাদের মানব-স্বভাবের অংশীদার হলেন, যেন তাঁর মৃত্যুর দ্বারা তিনি মৃত্যুর উপরে যার ক্ষমতা আছে অর্থাৎ দিয়াবলকে ধ্বংস করতে পারেন,
HEB 2:15 এবং মৃত্যুভয়ে যারা সমস্ত জীবন দাসত্বের শিকলে বন্দি ছিল, তিনি তাদের মুক্ত করতে পারেন।
HEB 2:16 নিশ্চিতরূপেই তিনি স্বর্গদূতদের নয়, কিন্তু অব্রাহামের বংশধরদের সাহায্য করেন।
HEB 2:17 এই কারণে, তাঁকে সর্বতোভাবে তাঁর ভাইবোনেদের মতো হতে হয়েছিল, যেন ঈশ্বরের সেবায় তিনি এক করুণাময় ও বিশ্বস্ত মহাযাজক হতে পারেন এবং প্রজাদের সব পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন।
HEB 2:18 কারণ প্রলোভিত হয়ে তিনি স্বয়ং যন্ত্রণাভোগ করেছিলেন বলে, যারা প্রলুব্ধ হচ্ছে, তাদের তিনি সাহায্য করতে সক্ষম।
HEB 3:1 অতএব, পবিত্র ভাইবোনেরা, তোমরা যারা স্বর্গীয় আহ্বানের অংশীদার, আমরা যাঁকে স্বীকার করি প্রেরিত ও মহাযাজকরূপে, সেই যীশুর প্রতি তোমাদের সব চিন্তাভাবনা নিবদ্ধ করো।
HEB 3:2 ঈশ্বরের সমস্ত গৃহে মোশি যেমন বিশ্বস্ত ছিলেন, যীশুও তেমনই তাঁর নিয়োগকর্তার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন।
HEB 3:3 বাড়ির চেয়ে বাড়ির নির্মাতা যেমন বেশি সম্মানের অধিকারী, যীশুও তেমনই মোশির চেয়ে বেশি সম্মানের যোগ্য বলে নিশ্চিত হয়েছেন।
HEB 3:4 কারণ প্রত্যেক গৃহ কারও দ্বারা নির্মিত হয়, কিন্তু ঈশ্বর সবকিছুর নির্মাতা।
HEB 3:5 “ঈশ্বরের সমস্ত গৃহে মোশি দাসের মতো বিশ্বস্ত ছিলেন,” ভবিষ্যতে যা বলা হবে, সে বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
HEB 3:6 কিন্তু খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের গৃহের উপরে, তাঁর পুত্রের মতো বিশ্বস্ত। যদি আমরা সাহস ও প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত ধারণ করে থাকি, যার জন্য আমরা গর্ব করি, তাহলে তাঁর গৃহ আমরাই।
HEB 3:7 অতএব, “আজ যদি তোমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শোনো,
HEB 3:8 তাহলে তোমাদের হৃদয় কঠিন কোরো না; যেমন মরুপ্রান্তরে পরীক্ষাকালে, তোমরা বিদ্রোহ করেছিলে;
HEB 3:9 যেখানে তোমাদের পূর্বপুরুষেরা আমাকে পরীক্ষা করেছিল; আর যাচাই করেছিল, যদিও চল্লিশ বছর ধরে আমি যা করেছিলাম, তারা সব দেখেছিল।
HEB 3:10 তাই, ওই প্রজন্মের প্রতি আমি ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম এবং আমি বলেছিলাম, ‘তাদের হৃদয় সবসময় বিপথগামী হয় আর তারা আমার পথগুলি জানে না।’
HEB 3:11 তাই আমার ক্রোধে আমি এক শপথ নিয়েছিলাম, ‘আমার বিশ্রামে তারা আর কোনোদিন প্রবেশ করবে না।’ ”
HEB 3:12 ভাইবোনেরা, দেখো, তোমাদের কারও হৃদয়ে যেন পাপ ও অবিশ্বাস না থাকে, যা জীবন্ত ঈশ্বরের কাছ থেকে তোমাদের দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।
HEB 3:13 কিন্তু প্রতিদিন পরস্পরকে উৎসাহিত করো, যতক্ষণ আজ বলে দিনটি অভিহিত হয়, যেন পাপের ছলনায় তোমাদের কারও হৃদয় কঠিন হয়ে না পড়ে।
HEB 3:14 প্রথমে যেমন ছিল, যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস সুদৃঢ় রাখতে পারি, তাহলে আমরা খ্রীষ্টের সহভাগী হয়েছি।
HEB 3:15 যেমন যথার্থই বলা হয়েছে, “আজ যদি তোমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শোনো, তাহলে তোমাদের হৃদয়কে কঠিন কোরো না, যেমন বিদ্রোহ-কালে তোমরা করেছিলে।”
HEB 3:16 যারা শুনে বিদ্রোহ করেছিল, তারা কারা? মোশি যাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন, তারাই কি নয়?
HEB 3:17 আর চল্লিশ বছর ধরে তিনি কাদের প্রতি ক্রুদ্ধ ছিলেন? যারা পাপ করেছিল, মরুপ্রান্তরে যাদের শবদেহ পতিত হয়েছিল, তাদেরই উপর নয় কি?
HEB 3:18 আর কাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বর শপথ করেছিলেন, যে তারা কখনও তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করবে না, যারা অবাধ্য হয়েছিল, তাদেরই বিরুদ্ধে নয় কি?
HEB 3:19 তাই আমরা দেখতে পাই যে, অবিশ্বাসের জন্যই তারা প্রবেশ করতে পারেনি।
HEB 4:1 অতএব, তাঁর বিশ্রামে প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি বলবৎ থাকলেও, তোমাদের কেউ যেন তা থেকে বঞ্চিত না হয়। এ বিষয়ে এসো, আমরা সতর্ক হই।
HEB 4:2 কারণ তাদের মতো আমাদেরও কাছে সুসমাচার প্রচার করা হয়েছিল; কিন্তু তারা যে বাণী শুনেছিল, তাদের কাছে তা ছিল মূল্যহীন, কারণ যারা বিশ্বাসের সঙ্গে শুনেছিল, তারা তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেনি।
HEB 4:3 এখন আমরা যারা বিশ্বাস করেছি, তারা সেই বিশ্রামে প্রবেশ করছি, যে বিশ্রামের কথা ঈশ্বর উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন, “তাই আমার ক্রোধে আমি এক শপথ নিয়েছিলাম, ‘আমার বিশ্রামে তারা আর কোনোদিন প্রবেশ করবে না।’ ” যদিও তাঁর কাজ জগৎ সৃষ্টির সময় থেকে সমাপ্ত হয়েছে।
HEB 4:4 কারণ সপ্তম দিন সম্পর্কে তিনি কোনও এক স্থানে এই কথা বলেছেন, “সপ্তম দিনে ঈশ্বর তাঁর সমস্ত কাজ থেকে বিশ্রাম নিলেন।”
HEB 4:5 উপরোক্ত অংশটিতে তিনি আবার বলেন, “তারা আমার বিশ্রামে আর কোনোদিন প্রবেশ করবে না।”
HEB 4:6 একথা এখনও ঠিক যে, কিছু লোক সেই বিশ্রামে প্রবেশ করবে এবং যাদের কাছে পূর্বে সুসমাচার প্রচার করা হয়েছিল, তাদের অবাধ্যতার জন্য তারা প্রবেশ করতে পারেনি।
HEB 4:7 তাই, “আজ” নামে অভিহিত করে ঈশ্বর আর একটি দিন নির্ধারণ করলেন, যেমন ইতিপূর্বে বলা হয়েছে, সেইমতো বহুকাল পরে তিনি দাউদের মাধ্যমে বলেছেন: “আজ যদি তোমরা তাঁর কণ্ঠস্বর শোনো, তাহলে তোমাদের হৃদয়কে কঠিন কোরো না।”
HEB 4:8 কারণ যিহোশূয় যদি তাদের বিশ্রাম দিতেন, তাহলে ঈশ্বর পরে তাদের আর একটি দিনের কথা বলতেন না।
HEB 4:9 তাই ঈশ্বরের প্রজাবৃন্দের জন্য এক সাব্বাথের বিশ্রাম ভোগ করা বাকি আছে।
HEB 4:10 কারণ ঈশ্বর যেমন তাঁর কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, ঈশ্বরের বিশ্রামে যে প্রবেশ করে, সেও তেমনই তার নিজের কাজ থেকে বিশ্রাম নেয়।
HEB 4:11 সুতরাং এসো, সেই বিশ্রামে প্রবেশ করার জন্য আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করি, যেন তাদের অবাধ্যতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে কারও পতন না হয়।
HEB 4:12 কারণ ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও সক্রিয়, উভয় দিকে ধারবিশিষ্ট যে কোনো তরোয়াল থেকে তীক্ষ্ণ; প্রাণ ও আত্মা এবং শরীরের গ্রন্থি ও মজ্জা পর্যন্ত তা ভেদ করে যায়; তা হৃদয়ের চিন্তা ও আচরণের বিচার করে।
HEB 4:13 সমস্ত সৃষ্টিতে সবকিছুই যাঁর দৃষ্টিতে অনাবৃত ও উন্মুক্ত, তাঁর কাছে আমাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
HEB 4:14 অতএব, আমরা এমন এক মহান মহাযাজককে পেয়েছি, যিনি আকাশমণ্ডল অতিক্রম করে উন্নীত হয়েছেন, তিনি ঈশ্বরের পুত্র যীশু; তাই এসো, আমরা যে বিশ্বাস স্বীকার করি, তা দৃঢ়রূপে আঁকড়ে ধরে থাকি।
HEB 4:15 কারণ আমাদের মহাযাজক এমন নন, যিনি আমাদের দুর্বলতায় সহানুভূতি দেখাতে অক্ষম; বরং আমরা এমন একজনকে পেয়েছি, যিনি আমাদেরই মতো সব বিষয়ে প্রলোভিত হয়েছিলেন, অথচ নিষ্পাপ থেকেছেন।
HEB 4:16 তাই এসো, আস্থার সঙ্গে আমরা তাঁর অনুগ্রহ-সিংহাসনের সামনে উপস্থিত হই, যেন আমরা করুণা লাভ করতে পারি ও আমাদের প্রয়োজনের সময়ে অনুগ্রহ পাই।
HEB 5:1 প্রত্যেক মহাযাজক মানুষের মধ্য থেকে মনোনীত হন এবং ঈশ্বর সম্পর্কিত বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ও পাপার্থক বলি উৎসর্গ করার জন্য নিযুক্ত হন।
HEB 5:2 যারা অজ্ঞ, যারা পথভ্রান্ত, তাদের সঙ্গে তিনি কোমল আচরণ করতে সমর্থ, যেহেতু তিনি স্বয়ং দুর্বলতার অধীন।
HEB 5:3 এই জন্যই তাঁর নিজের ও সেই সঙ্গে প্রজাদের সব পাপের জন্য তাঁকে বিভিন্ন বলি উৎসর্গ করতে হয়।
HEB 5:4 কেউ এই সম্মান স্বয়ং নিজের উপর নিতে পারে না। তাঁকে অবশ্যই ঈশ্বরের দ্বারা আহূত হতে হবে, যেমন হারোণকে হতে হয়েছিল।
HEB 5:5 তাই খ্রীষ্টও মহাযাজক হওয়ার মহিমা স্বয়ং গ্রহণ করেননি। কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, “তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি।”
HEB 5:6 অন্যত্র তিনি বলেন, “মল্কীষেদকের পরম্পরা অনুযায়ী, তুমিই চিরকালীন যাজক।”
HEB 5:7 যীশু তাঁর পার্থিব জীবনকালে তীব্র আর্তনাদ ও অশ্রুপাতের সঙ্গে সেই একজনের কাছে প্রার্থনা ও মিনতি উৎসর্গ করেছিলেন, যিনি তাঁকে মৃত্যু থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ ছিলেন। তাঁর এই বিনম্র আত্মসমর্পণের জন্য তিনি উত্তর পেয়েছিলেন।
HEB 5:8 পুত্র হয়েও তিনি কষ্টযন্ত্রণা ভোগ করলেন ও তার মাধ্যমে বাধ্য হওয়ার শিক্ষা লাভ করলেন
HEB 5:9 এবং এভাবে সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়ে, তাঁর অনুগতদের জন্য তিনি চিরন্তন পরিত্রাণের উৎস হয়েছেন।
HEB 5:10 আর মল্কীষেদকের পরম্পরা অনুযায়ী ঈশ্বরের দ্বারা মহাযাজকরূপে অভিহিত হয়েছেন।
HEB 5:11 এ বিষয়ে আমাদের অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু তোমরা শিখতে মন্থর বলে, তা ব্যাখ্যা করা কষ্টসাধ্য।
HEB 5:12 প্রকৃতপক্ষে, এতদিনে তোমাদের শিক্ষক হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যের প্রাথমিক সত্য শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমাদেরই একজন শিক্ষকের প্রয়োজন। তোমাদের প্রয়োজন কঠিন খাবার নয়, কিন্তু দুধের।
HEB 5:13 যে দুধ খেয়ে বেঁচে থাকে সে এখনও শিশু, ধার্মিকতা বিষয়ের শিক্ষা সম্পর্কে তার কোনো পরিচয় নেই।
HEB 5:14 কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের প্রয়োজন কঠিন খাবার, যারা সবসময় অনুশীলনের মাধ্যমে ভালো ও খারাপের মধ্যে প্রভেদ নির্ণয় করতে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলেছে।
HEB 6:1 সুতরাং এসো, আমরা খ্রীষ্ট সম্পর্কিত প্রাথমিক শিক্ষার দিকে বারবার দৃষ্টি না দিই। তার পরিবর্তে আমরা পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে চলি। সুতরাং, যেসব কাজ মৃত্যুর পথে চালিত করে সেসব থেকে অনুতাপ করা ও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস করা—এইসব প্রাথমিক শিক্ষার পুনরাবৃত্তি করার আর প্রয়োজন নেই।
HEB 6:2 বাপ্তিষ্ম সম্পর্কিত নির্দেশ, কারও উপরে হাত রাখা, মৃত ব্যক্তিদের পুনরুত্থান ও শেষ বিচার—এইসব বিষয়ে তোমাদের আর নতুন করে নির্দেশের প্রয়োজন নেই।
HEB 6:3 আর ঈশ্বরের ইচ্ছা হলে আমরা পরবর্তী শিক্ষার দিকে এগিয়ে যাব।
HEB 6:4 কারণ একবার যারা আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে—যারা স্বর্গীয় বিষয়ের রস আস্বাদন করেছে, যারা পবিত্র আত্মার অংশীদার হয়েছে,
HEB 6:5 যারা ঈশ্বরের বাক্যের মাধুর্য উপলব্ধি করেছে ও সন্নিকট যুগের পরাক্রম আস্বাদন করেছে—
HEB 6:6 তারা যদি ঈশ্বর থেকে দূরে চলে যায় তাহলে তাদের আবার মন পরিবর্তন ঘটানো অসম্ভব। কারণ ঈশ্বরের পুত্রকে প্রত্যাখ্যান করে তারা আবার তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করছে এবং প্রকাশ্যে তাঁর মর্যাদাহানি করছে।
HEB 6:7 যে জমি বৃষ্টির জল শুষে নেয় ও উপযোগী ফসল উৎপন্ন করে, তা ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করে।
HEB 6:8 কিন্তু যে জমি কাঁটাঝোপ ও আগাছা উৎপন্ন করে, তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়। চাষি সেই জমিকে অভিশাপ দেয় ও তা পুড়িয়ে দেয়।
HEB 6:9 প্রিয় বন্ধুরা, আমরা এসব কথা বললেও আমরা বিশ্বাস করি না যে এইসব বিষয় তোমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা নিশ্চিত যে তোমরা এর থেকে উৎকৃষ্ট বিষয়ের সহযোগী যা পরিত্রাণের মাধ্যমে আসে।
HEB 6:10 কারণ ঈশ্বর অবিচার করেন না; অতীতে তোমরা তাঁর ভক্তদাসদের প্রতি যে সাহায্য করেছ এবং এখনও করে যাচ্ছ এবং তাঁর প্রতি যে ভালোবাসার নিদর্শন দেখিয়েছ, ঈশ্বর তোমাদের সেসব কাজ ভুলে যাবেন না।
HEB 6:11 আমরা চাই, তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের প্রত্যাশা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সমান আগ্রহ বজায় রাখো।
HEB 6:12 আমরা চাই না, তোমরা শিথিল হও, বরং বিশ্বাস ও ধৈর্যের দ্বারা যারা প্রতিশ্রুতির অধিকারী, তাদেরই অনুসরণ করো।
HEB 6:13 ঈশ্বর যখন অব্রাহামকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শপথ করার মতো আর মহত্তর কেউ না থাকায়, তিনি নিজের নামেই শপথ করেছিলেন
HEB 6:14 এবং বলেছিলেন, “আমি নিশ্চয়ই তোমাকে আশীর্বাদ করব এবং তোমাকে বহু বংশধর দান করব।”
HEB 6:15 তাই অব্রাহাম ধৈর্যের সঙ্গে প্রতীক্ষার পরে প্রতিশ্রুত বিষয় লাভ করেছিলেন।
HEB 6:16 আর মানুষ নিজের চেয়েও মহত্তর কারও নামে শপথ করে। আবার যা বলা হয়েছে শপথ তার নিশ্চয়তা দেয় ও সব যুক্তিতর্কের অবসান ঘটায়।
HEB 6:17 কারণ ঈশ্বর তাঁর অপরিবর্তনীয় ইচ্ছাকে প্রতিশ্রুতির উত্তরাধিকারীদের কাছে স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন বলে, তিনি শপথের দ্বারা তা সুনিশ্চিত করলেন।
HEB 6:18 ঈশ্বর আমাদের প্রতিশ্রুতি ও শপথ দুই-ই দিয়েছেন। এই দুটি বিষয় অপরিবর্তনীয় কারণ ঈশ্বরের পক্ষে মিথ্যা কথা বলা অসম্ভব। তাই, আমাদের সামনের প্রত্যাশা আঁকড়ে ধরে আমরা শরণ নেওয়ার জন্য তাঁর দিকে ছুটে গিয়েছি যেন আমরা দৃঢ় আশ্বাস প্রাপ্ত হই।
HEB 6:19 আমাদের সেই প্রত্যাশা আছে যা প্রাণের নোঙরের মতো, সুদৃঢ় ও নিশ্চিত। তা পর্দার অন্তরালে থাকা মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করে,
HEB 6:20 যেখানে আমাদের অগ্রগামী যীশু আমাদের পক্ষে প্রবেশ করেছেন। মল্কীষেদকের পরম্পরা অনুসারে তিনি চিরকালের জন্য মহাযাজক হয়েছেন।
HEB 7:1 এই মল্কীষেদক ছিলেন শালেমের রাজা ও পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক। অব্রাহাম যখন রাজন্যবর্গকে পরাস্ত করে ফিরে আসছিলেন, সেই সময় তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন
HEB 7:2 এবং অব্রাহাম তাঁর সর্বস্বের এক-দশমাংশ তাঁকে দান করেছিলেন। প্রথমত, তাঁর নামের অর্থ, “ধার্মিকতার রাজা,” আর পরে, “শালেমের রাজা,” এর অর্থ, “শান্তিরাজ।”
HEB 7:3 পিতামাতা ছাড়া ও বংশপরিচয় ছাড়া, জীবনের সূচনা বা সমাপ্তি ছাড়াই, ঈশ্বরের পুত্রের মতো তিনি চিরকালের জন্য যাজক হয়েছেন।
HEB 7:4 শুধু ভেবে দেখো, তিনি কত মহান ছিলেন: এমনকি পিতৃপুরুষ অব্রাহাম তাঁকে লুট করা দ্রব্যসামগ্রীর এক-দশমাংশ দান করেছিলেন।
HEB 7:5 এখন বিধান অনুসারে, লেবির বংশধরেরা, যারা যাজক হয়, তারা প্রজাসাধারণের, অর্থাৎ তাদের ভাইদের কাছ থেকে এক-দশমাংশ সংগ্রহ করার বিধি লাভ করেছে, যদিও তারা ছিল অব্রাহামেরই বংশধর।
HEB 7:6 যাই হোক, এই ব্যক্তি লেবির বংশধররূপে নির্দিষ্ট না হলেও, তিনি অব্রাহামের কাছ থেকে এক-দশমাংশ সংগ্রহ করেছিলেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত অব্রাহামকে আশীর্বাদ করেছিলেন।
HEB 7:7 নিঃসন্দেহে, সাধারণ ব্যক্তি মহৎ ব্যক্তির কাছ থেকে আশীর্বাদ লাভ করে।
HEB 7:8 এক অর্থে, মরণশীল মানুষের দ্বারা দশমাংশ সংগৃহীত হয়; কিন্তু অন্য অর্থে, যিনি জীবিত আছেন বলে ঘোষিত হয়েছিলেন তাঁর দ্বারাই হয়।
HEB 7:9 কেউ এমন কথাও বলতে পারে যে, যিনি দশমাংশ সংগ্রহ করেন সেই লেবি অব্রাহামের মাধ্যমেই দশমাংশ দিয়েছিলেন,
HEB 7:10 কারণ মল্কীষেদক যখন অব্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন লেবি তাঁর পিতৃপুরুষের কটিতে বিদ্যমান ছিলেন।
HEB 7:11 লেবীয় যাজকত্বের মাধ্যমে যদি পূর্ণতা অর্জন করা যেত—কারণ এরই ভিত্তিতে লোকদের কাছে বিধিবিধান দেওয়া হয়েছিল—তাহলে হারোণের রীতি অনুযায়ী নয়, কিন্তু মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী কেন আরও একজন যাজকের প্রয়োজন হল?
HEB 7:12 কারণ যাজকত্বের পরিবর্তন হলে বিধানেরও পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক।
HEB 7:13 যাঁর সম্পর্কে এসব বিষয় উক্ত হয়েছে, তিনি ভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত এবং সেই গোষ্ঠীর কেউ কখনও যজ্ঞবেদির পরিচর্যা করেনি।
HEB 7:14 একথা স্পষ্ট যে, আমাদের প্রভু যিহূদা বংশের। এবং এই বংশের যে কেউ যাজক হবে সে সম্পর্কে মোশি কিছুই বলেননি।
HEB 7:15 মল্কীষেদকের মতো অন্য একজন যাজকের আবির্ভাব হলে আমাদের কথা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে,
HEB 7:16 যিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো বিধানের উপরে ভিত্তি করে নয়, কিন্তু এক অবিনশ্বর জীবনের শক্তিতে যাজক হয়েছিলেন।
HEB 7:17 কারণ ঘোষণা করা হয়েছে: “মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী তুমিই চিরকালীন যাজক।”
HEB 7:18 পূর্বেকার বিধান নিষ্ফল ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ায়, তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে
HEB 7:19 (কারণ বিধানের দ্বারা কিছুই পূর্ণতা লাভ করেনি), বরং এক মহত্তর প্রত্যাশা উপস্থিত হয়েছে, যার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের সান্নিধ্যে আসতে পারি।
HEB 7:20 আবার শপথ ছাড়া কিন্তু এরকম হয়নি! অন্যেরা কোনো শপথ ছাড়াই যাজক হয়েছেন,
HEB 7:21 তিনি কিন্তু শপথ সহ যাজক হয়েছিলেন, যখন ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, “প্রভু এই শপথ করেছেন, তাঁর সংকল্পের পরিবর্তন হবে না; ‘তুমিই চিরকালীন যাজক।’ ”
HEB 7:22 এই শপথের জন্য যীশু এক উৎকৃষ্টতর নিয়মের প্রতিভূ হয়েছেন।
HEB 7:23 পুরোনো প্রথায় এরকম অনেক যাজকই ছিলেন, যারা মৃত্যুর জন্য তাদের পদে চিরকাল থেকে যেতে পারেননি,
HEB 7:24 কিন্তু যীশু চিরজীবী বলে তাঁর যাজকত্বও চিরস্থায়ী।
HEB 7:25 তাই তাঁর মাধ্যমে যারা ঈশ্বরের কাছে আসে, তাদের তিনি সম্পূর্ণভাবে পরিত্রাণ করতে সমর্থ, কারণ তাদের পক্ষে মিনতি করার জন্য তিনি সবসময়ই জীবিত আছেন।
HEB 7:26 এইরকম একজন মহাযাজক আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেন, যিনি পবিত্র, অনিন্দনীয়, বিশুদ্ধ, পাপীদের থেকে পৃথকীকৃত এবং সমস্ত স্বর্গলোকের ঊর্ধ্বে উন্নীত।
HEB 7:27 অন্যান্য মহাযাজকের মতো, প্রথমত নিজের জন্য ও পরে সব মানুষের পাপের জন্য, দিনের পর দিন তাঁর বিভিন্ন বলি উৎসর্গ করার প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের সব পাপের জন্য তিনি নিজেকে একবারই বলিরূপে উৎসর্গ করেছেন।
HEB 7:28 কারণ বিধান যাদের মহাযাজকরূপে নিযুক্ত করে, তারা দুর্বল। কিন্তু বিধান প্রতিষ্ঠা করার পরবর্তীকালে শপথের দ্বারা যিনি নিযুক্ত হয়েছেন তিনি “পুত্র,” সর্বকালের সিদ্ধপুরুষ।
HEB 8:1 আমরা যা বলছি, তার মর্ম হল এই: আমাদের এমন একজন মহাযাজক আছেন, যিনি স্বর্গে মহিমা-সিংহাসনের ডানদিকে উপবিষ্ট;
HEB 8:2 তিনি সেই পবিত্রধামে, যা মানুষের দ্বারা নির্মিত নয়, কিন্তু প্রভুর দ্বারা স্থাপিত, সেই প্রকৃত সমাগম তাঁবুতে সেবাকাজ করেন।
HEB 8:3 প্রত্যেক মহাযাজক বিভিন্ন নৈবেদ্য ও বলি উৎসর্গের জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, সেই কারণে এই মহাযাজকেরও উৎসর্গ করার জন্য অবশ্যই কিছু থাকা প্রয়োজন ছিল।
HEB 8:4 তিনি যদি পৃথিবীতে থাকতেন, তাহলে তিনি যাজক হতে পারতেন না, কারণ এখানে এমন অনেক লোক আছে, যারা বিধানের নির্দেশমতো নৈবেদ্য উৎসর্গ করে।
HEB 8:5 তারা এমন এক পবিত্রস্থানে পরিচর্যা করে, যা স্বর্গীয় পবিত্রস্থানের মতো ও তার প্রতিচ্ছায়াস্বরূপ। সেই কারণে সমাগম তাঁবু নির্মাণ করতে উদ্যত হলে মোশিকে সতর্ক করা হয়েছিল, “দেখো, পর্বতের উপরে তোমাকে যে নকশা দেখানো হয়েছিল, সেই অনুযায়ী সবকিছু নির্মাণ কোরো।”
HEB 8:6 কিন্তু যীশু যে পরিচর্যা করেন, তা তাদের চেয়েও উৎকৃষ্ট স্তরের, কারণ তিনি যে সন্ধিচুক্তির মধ্যস্থতাকারী হয়েছেন, পুরোনোর চেয়ে তা শ্রেয় এবং উৎকৃষ্টতর প্রতিশ্রুতির উপরে প্রতিষ্ঠিত।
HEB 8:7 কারণ প্রথম সন্ধিচুক্তির মধ্যে যদি কোনো ত্রুটি না থাকত, তাহলে অন্যটির কোনো প্রয়োজনই হত না।
HEB 8:8 কিন্তু ঈশ্বর লোকদের মধ্যে ত্রুটি দেখে বলেছিলেন, “প্রভু ঘোষণা করেন, দিন সন্নিকট, যখন ইস্রায়েল বংশ ও যিহূদা বংশের সঙ্গে আমি নতুন এক সন্ধিচুক্তি স্থাপন করব।
HEB 8:9 তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে স্থাপন করা নিয়মের মতো হবে না, যখন আমি তাদের হাত ধরে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, কারণ তারা আমার সন্ধিচুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না, আর আমি তাদের প্রতি বিমুখ হয়েছিলাম, প্রভু একথা বলেন।
HEB 8:10 সেই সময়ের পরে, আমি ইস্রায়েল বংশের সঙ্গে এই নিয়ম স্থাপন করব, প্রভু ঘোষণা করেন। আমি তাদের মনে আমার বিধান স্থাপন করব, তাদের হৃদয়ে সেসব লিখে দেব। আর আমি হব তাদের ঈশ্বর এবং তারা হবে আমার প্রজা।
HEB 8:11 কোনো মানুষ তার প্রতিবেশীকে শেখাবে না বা একে অপরকে বলবে না, ‘তুমি সদাপ্রভুকে জেনে নাও,’ কারণ নগণ্যতম জন থেকে মহত্তম ব্যক্তি পর্যন্ত, তারা সবাই আমার পরিচয় পাবে।
HEB 8:12 কারণ আমি তাদের পাপ ক্ষমা করব এবং তাদের অনাচার আর কোনোদিন স্মরণ করব না।”
HEB 8:13 এই সন্ধিচুক্তিকে নতুন আখ্যা দিয়ে প্রথমটিকে তিনি পুরোনো করেছেন; আর যা পুরোনো, যা জীর্ণ, তা অচিরেই লুপ্ত হবে।
HEB 9:1 প্রথম সন্ধিচুক্তিতে উপাসনা-সংক্রান্ত রীতিনীতি ছিল এবং ছিল এক পার্থিব পবিত্রধাম।
HEB 9:2 কারণ, একটি সমাগম তাঁবু স্থাপিত হয়েছিল, যার প্রথম কক্ষে ছিল সেই দীপাধার, উৎসর্গীকৃত দর্শন রুটিসহ একটি টেবিল; একে বলা হত, পবিত্রস্থান।
HEB 9:3 দ্বিতীয় পর্দার পিছনে মহাপবিত্র স্থান বলে আর একটি কক্ষ ছিল।
HEB 9:4 সেখানে ছিল সোনার ধূপবেদি ও সোনায় মোড়া নিয়ম-সিন্দুক। এই সিন্দুকে ছিল মান্নায় ভরা সোনার ঘট, হারোণের মুকুলিত লাঠি এবং নিয়মসমন্বিত পাথরের ফলকগুলি।
HEB 9:5 সিন্দুকের উপরে ছিল মহিমার সেই দুই করূব, যারা সিন্দুকের আচ্ছাদনের উপরে ছায়া বিস্তার করত। কিন্তু এখন আমরা এ সমস্ত বিষয় বিশদভাবে আলোচনা করতে পারি না।
HEB 9:6 এইভাবে পবিত্র তাঁবুতে সবকিছুর ব্যবস্থা করার পর, যাজকেরা তাদের পরিচর্যা সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিতরূপে বাইরের কক্ষে প্রবেশ করতেন।
HEB 9:7 কিন্তু কেবলমাত্র মহাযাজকই বছরে শুধুমাত্র একবার ভিতরের কক্ষে প্রবেশ করতেন এবং কখনও রক্ত ছাড়া প্রবেশ করতেন না। সেই রক্ত তিনি নিজের ও লোকেদের অজ্ঞতায় করা পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য উৎসর্গ করতেন।
HEB 9:8 এর দ্বারা পবিত্র আত্মা দেখিয়েছেন যে, প্রথম সমাগম তাঁবুটি যতদিন বজায় ছিল, ততদিন মহাপবিত্র স্থানের প্রবেশপথ উন্মুক্ত হয়নি।
HEB 9:9 বর্তমানকালের জন্য এ এক দৃষ্টান্তস্বরূপ; এর তাৎপর্য হল, উৎসর্গীকৃত বলি-উপহার ও নৈবেদ্য কখনও উপাসনাকারীর বিবেক শুচিশুদ্ধ করতে সমর্থ হয়নি।
HEB 9:10 সেগুলি শুধুমাত্র খাবার, পানীয় ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক শুচিকরণ সম্পর্কিত বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ-বিধিস্বরূপ, যা নতুন বিধি প্রবর্তণের সময় না আসা পর্যন্ত প্রযোজ্য ছিল।
HEB 9:11 এখন, খ্রীষ্ট যখন আগত উৎকৃষ্ট বিষয়গুলির জন্য মহাযাজকরূপে এলেন, তিনি আরও বেশি মহৎ ও নিখুঁত সমাগম তাঁবুর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলেন, যা মানবসৃষ্ট নয়; এমনকি, যা এই সৃষ্টিরই অঙ্গ নয়।
HEB 9:12 তিনি ছাগল ও বাছুরের রক্ত নিয়ে প্রবেশ করেননি; সেই মহাপবিত্র স্থানে তিনি নিজের রক্ত নিয়ে চিরকালের মতো একবারই প্রবেশ করেছেন এবং আমাদের জন্য অনন্তকালীন মুক্তি অর্জন করেছেন।
HEB 9:13 যারা সংস্কারগতভাবে অশুচি, বাহ্যিকভাবে শুচিশুদ্ধ করার জন্য তাদের উপরে ছাগল ও ষাঁড়ের রক্ত এবং দগ্ধ বকনা-বাছুরের ভস্ম ছিটিয়ে দেওয়া হত।
HEB 9:14 তাহলে আমরা যেন জীবন্ত ঈশ্বরের সেবা করতে পারি, এই উদ্দেশ্যে যিনি চিরন্তন আত্মার মাধ্যমে নিষ্কলঙ্ক বলিরূপে নিজেকেই ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করেছেন, সেই খ্রীষ্টের রক্ত আমাদের বিবেককে মৃত্যুমুখী ক্রিয়াকলাপ থেকে আরও কত না নিশ্চিতরূপে শুচিশুদ্ধ করবে!
HEB 9:15 এই কারণে খ্রীষ্ট এক নতুন নিয়মের মধ্যস্থতাকারী, যেন আহূতজনেরা চিরন্তন উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে। এখন তা সম্ভব, কারণ প্রথম নিয়মের সময়ে তারা যেসব পাপ করেছিল, তা থেকে তাদের উদ্ধার করতে তিনি মুক্তিপণরূপে মৃত্যুবরণ করেছেন।
HEB 9:16 কোনও ইচ্ছাপত্র কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে, যিনি ইচ্ছাপত্র সম্পাদন করেছেন, তাঁর মৃত্যু প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।
HEB 9:17 কারণ যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়, কেবলমাত্র তখনই ইচ্ছাপত্র বলবৎ হয়। জীবিত ব্যক্তির ইচ্ছাপত্র কখনও কার্যকর হয় না।
HEB 9:18 এই কারণেই রক্ত ছাড়া প্রথম নিয়ম কার্যকর হয়নি।
HEB 9:19 মোশি যখন সব লোকের কাছে বিধানপুস্তকের প্রত্যেকটি আজ্ঞা ঘোষণা করেন, তিনি বাছুরের ও ছাগদের রক্তের সঙ্গে নিলেন জল, রক্তবর্ণ মেষলোম ও এসোব গাছের শাখা এবং তিনি তা ছিটিয়ে দিলেন সেই পুঁথি ও প্রজাদের উপর।
HEB 9:20 তিনি বললেন, “এ হল সেই নতুন নিয়মের রক্ত, যা পালন করার জন্য ঈশ্বর তোমাদের আদেশ দিয়েছেন।”
HEB 9:21 একইভাবে তিনি সেই সমাগম তাঁবু ও তার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রীর উপরে রক্ত ছিটিয়ে দিলেন।
HEB 9:22 বিধান অনুসারে, প্রকৃতপক্ষে সব কিছুকেই রক্ত দ্বারা পরিশোধিত হতে হয় এবং রক্তসেচন ছাড়া পাপের ক্ষমা হয় না।
HEB 9:23 অতএব, যেগুলি স্বর্গীয় বিষয়ের প্রতিরূপ, সেগুলি এসব বলির দ্বারা শুচিকৃত হওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু স্বর্গীয় বিষয়গুলির জন্য মহত্তর বলিদানের আবশ্যকতা ছিল।
HEB 9:24 কারণ খ্রীষ্ট প্রকৃত উপাসনাস্থলের প্রতিরূপ মানব-নির্মিত পবিত্রস্থানে প্রবেশ করেননি; তিনি সাক্ষাৎ স্বর্গে প্রবেশ করেছেন, যেন আমাদের পক্ষে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে উপস্থিত হন।
HEB 9:25 আবার মহাযাজক যেভাবে নিজের নয়, কিন্তু অন্যের রক্ত নিয়ে প্রতি বছর মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করতেন, খ্রীষ্ট কিন্তু সেভাবে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য বারবার স্বর্গে প্রবেশ করেননি।
HEB 9:26 তাহলে জগৎ সৃষ্টির কাল থেকে খ্রীষ্টকে বহুবারই কষ্টভোগ ও মৃত্যুবরণ করতে হত। কিন্তু এখন, যুগের শেষ সময়ে, আত্মবলিদানের দ্বারা তিনি চিরকালের মতো পাপের বিলোপ সাধনের উদ্দেশ্যে একবারই প্রকাশিত হয়েছেন।
HEB 9:27 মানুষের জন্য যেমন একবার মৃত্যু ও তারপর বিচার নির্ধারিত হয়ে আছে,
HEB 9:28 তেমনই বহু মানুষের সব পাপ হরণ করার জন্য খ্রীষ্ট একবারই উৎসর্গীকৃত হয়েছেন এবং আর পাপবহনের জন্য নয়, কিন্তু যারা তাঁর প্রতীক্ষায় আছে, তাদের পরিত্রাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হবেন।
HEB 10:1 বিধান হল সন্নিকট বিষয়ের ছায়ামাত্র, সেগুলির বাস্তব রূপ নয়। সেই কারণে, বিধান অনুযায়ী বছরের পর বছর একইভাবে যে বলি উৎসর্গ করা হয় তা উপাসকদের সিদ্ধি দান করতে পারে না।
HEB 10:2 যদি তা পারত, তাহলে সেগুলি উৎসর্গ করা কি বন্ধ হয়ে যেত না? কারণ উপাসকেরা চিরকালের মতো একবারেই শুচিশুদ্ধ হত, তাদের পাপের জন্য আর অপরাধবোধ করত না।
HEB 10:3 কিন্তু ওইসব বলিদান প্রতি বছর পাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,
HEB 10:4 কারণ ষাঁড় ও ছাগলের রক্ত পাপ হরণ করতেই পারে না।
HEB 10:5 তাই খ্রীষ্ট যখন জগতে এসেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “তুমি বলিদানে ও নৈবেদ্যে প্রীত নও, কিন্তু আমার জন্য এক শরীর রচনা করেছ;
HEB 10:6 হোমবলি বা পাপার্থক বলি তুমি চাওনি।
HEB 10:7 তখন আমি বললাম, ‘এই আমি, শাস্ত্রে আমার বিষয়ে লেখা আছে—হে আমার ঈশ্বর, আমি তোমার ইচ্ছা পালন করতেই এসেছি।’ ”
HEB 10:8 প্রথমে তিনি বলেছিলেন, “বিভিন্ন বলিদান ও নৈবেদ্য এবং হোম ও পাপার্থক বলিদান তুমি চাওনি, তাতে তুমি প্রসন্নও ছিলে না।”
HEB 10:9 তারপর তিনি বললেন, “দেখো, এই আমি, তোমার ইচ্ছা পালন করতেই আমি এসেছি।” দ্বিতীয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি প্রথম বিধানকে অগ্রাহ্য করলেন।
HEB 10:10 সেই ইচ্ছার কারণেই, যীশু খ্রীষ্টের দেহ চিরকালের জন্য একবারই উৎসর্গ করা হয়েছে বলে আমরা পবিত্র হয়েছি।
HEB 10:11 দিনের পর দিন, প্রত্যেক যাজক ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পাদন করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন; তিনি বারবার একই বলি উৎসর্গ করেন, যা কখনও পাপ হরণ করতে পারে না।
HEB 10:12 কিন্তু এই যাজক সব পাপের জন্য চিরকালের মতো একটিই বলি উৎসর্গ করলেন, তারপর তিনি ঈশ্বরের ডানদিকে গিয়ে বসলেন।
HEB 10:13 সেই সময় থেকে, তাঁর শত্রুদের তাঁর পদানত করার জন্য তিনি প্রতীক্ষা করে আছেন,
HEB 10:14 কারণ তাঁর একবার মাত্র বলিদানের জন্য যাদের পবিত্র করা হচ্ছে, তাদের তিনি চিরকালের জন্য পূর্ণতা দান করেন।
HEB 10:15 এ বিষয়ে পবিত্র আত্মাও আমাদের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। প্রথমে তিনি বলেন:
HEB 10:16 “সেই কালের পর আমি তাদের সঙ্গে এই নিয়ম স্থাপন করব, প্রভু একথা বলেন। আমি তাদের হৃদয়ে আমার বিধান রাখব এবং সেগুলি তাদের মনে লিখে রাখব।”
HEB 10:17 এরপর তিনি বলেন, “আমি তাদের পাপ ও অনাচার, আর কোনোদিন স্মরণ করব না।”
HEB 10:18 যেখানে এগুলি ক্ষমা করা হয়েছে, সেখানে পাপের জন্য বলিদানের আর প্রয়োজন হয় না।
HEB 10:19 অতএব ভাইবোনেরা, যীশুর রক্তের মাধ্যমে মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করার আমাদের দৃঢ় নিশ্চয়তা আছে।
HEB 10:20 পর্দা অর্থাৎ তাঁর দেহের মাধ্যমে তিনি আমাদের জন্য এক নতুন ও জীবন্ত পথ উন্মুক্ত করেছেন,
HEB 10:21 এবং যেহেতু ঈশ্বরের গৃহের উপরে নিযুক্ত আমাদের একজন মহান যাজক আছেন,
HEB 10:22 তাই এসো রক্ত সিঞ্চনের দ্বারা অপরাধী বিবেক থেকে আমাদের হৃদয়কে শুচিশুদ্ধ করে এবং নির্মল জলে আমাদের দেহ ধুয়ে বিশ্বাসের পূর্ণ নিশ্চয়তায় সরল হৃদয়ে ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হই।
HEB 10:23 এসো, আমরা অবিচলভাবে আমাদের প্রত্যাশার স্বীকারোক্তি আঁকড়ে ধরে থাকি, কারণ যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি বিশ্বস্ত।
HEB 10:24 আবার এসো, আমরা এও বিবেচনা করে দেখি, কীভাবে আমরা পরস্পরকে প্রেমে ও সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করতে পারি।
HEB 10:25 এসো, আমরা সভায় একত্রিত হওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ না করি, কেউ কেউ যেমন এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বরং এসো পরস্পরকে উৎসাহিত করি, বিশেষত আরও বেশি তৎপর হয়ে করি, কারণ তোমরা দেখতেই পাচ্ছ প্রভুর আগমনের সেইদিন ক্রমশ এগিয়ে আসছে।
HEB 10:26 আবার সত্যের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার পর আমরা যদি স্বেচ্ছায় পাপ করতে থাকি, তাহলে ওইসব পাপ ক্ষমা করার জন্য বলিদানের আর ব্যবস্থা থাকে না,
HEB 10:27 থাকে শুধু বিচারের জন্য ভয়াবহ প্রতীক্ষা এবং ঈশ্বরের শত্রুদের গ্রাস করার জন্য প্রচণ্ড আগুন।
HEB 10:28 কেউ মোশির বিধান লঙ্ঘন করলে, দুজন বা তিনজনের সাক্ষ্য প্রমাণে তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হত।
HEB 10:29 তাহলে যে ঈশ্বরের পুত্রকে পদদলিত করেছে, নিয়মের রক্ত দ্বারা শুচিশুদ্ধ হয়েও যে তা অপবিত্র জ্ঞান করেছে এবং যে অনুগ্রহের আত্মাকে অপমান করেছে, সে আরও কত না কঠোর শাস্তির যোগ্য বলে তোমাদের মনে হয়?
HEB 10:30 কারণ যিনি বলেছেন, “প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ, আমি প্রতিফল দেব,” তাঁকে আমরা জানি। আবার, “প্রভুই তাঁর প্রজাদের বিচার করবেন।”
HEB 10:31 জীবন্ত ঈশ্বরের হাতে পড়া ভয়ংকর বিষয়!
HEB 10:32 ঈশ্বরের আলো পাওয়ার পর প্রাথমিক সেই দিনগুলির কথা তোমরা স্মরণ করো, যখন তোমরা দুঃখকষ্টের মুখোমুখি হয়ে কঠোর সংগ্রামে রত ছিলে।
HEB 10:33 কখনও কখনও তোমরা প্রকাশ্যে অপমানিত হয়েছ, অত্যাচার ভোগ করছ; অন্য সময়ে যাদের প্রতি এরকম আচরণ করা হয়েছিল, তোমরা তাদের সহভাগী হয়েছ।
HEB 10:34 তোমরা কারাগারে বন্দিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছ এবং তোমাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলেও তা সানন্দে মেনে নিয়েছ, কারণ তোমরা জানতে যে, তোমাদের জন্য এক উৎকৃষ্টতর ও স্থায়ী সম্পত্তি রাখা আছে।
HEB 10:35 তাই তোমরা তোমাদের নির্ভরতা ত্যাগ কোরো না, তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পুরস্কৃত হবে।
HEB 10:36 তোমাদের ধৈর্য ধরার প্রয়োজন আছে, যেন ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে তিনি যা প্রতিজ্ঞা করেছেন, তা লাভ করতে পারো।
HEB 10:37 কারণ, আর অতি অল্পকাল পরেই, “যাঁর আগমন সন্নিকট, তিনি আসবেন, বিলম্ব করবেন না।
HEB 10:38 কিন্তু আমার ধার্মিক ব্যক্তি, বিশ্বাসের দ্বারাই জীবিত থাকবে। যদি সে পিছিয়ে পড়ে, আমি তার প্রতি প্রসন্ন হব না।”
HEB 10:39 যারা পিছিয়ে পড়ে ও বিনষ্ট হয়, আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নই; যারা বিশ্বাস করে ও পরিত্রাণ পায়, আমরা তাদেরই সহভাগী।
HEB 11:1 এখন বিশ্বাস হল, যা আমরা আশা করি, সে বিষয়ের নিশ্চয়তা এবং যা আমরা দেখতে পাই না, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া।
HEB 11:2 এই কারণেই প্রাচীনকালের লোকেরা প্রশংসিত হয়েছিলেন।
HEB 11:3 বিশ্বাসে আমরা বুঝতে পারি যে, সমগ্র বিশ্ব ঈশ্বরের আদেশে রচিত হয়েছিল; যার ফলে, যা কিছু এখন আমরা দেখি, তা কোনো দৃশ্য বস্তু থেকে নির্মিত হয়নি।
HEB 11:4 বিশ্বাসে হেবল কয়িনের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলি ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। বিশ্বাসেই তিনি ধার্মিক বলে প্রশংসিত হয়েছিলেন, যখন ঈশ্বর তাঁর বলিদানের সপক্ষে কথা বলেছিলেন। যদিও তিনি মৃত, তবু আজও বিশ্বাসের দ্বারা তিনি কথা বলে চলেছেন।
HEB 11:5 বিশ্বাসেই হনোককে এই জীবন থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, “এই কারণে তিনি মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেল না, কারণ ঈশ্বর তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন।” ঊর্ধ্বে নীত হওয়ার পূর্বে, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেছিলেন বলে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন।
HEB 11:6 কিন্তু বিশ্বাস ছাড়া ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব। কারণ যে ব্যক্তি তাঁর সান্নিধ্যে আসে, তাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তিনি আছেন এবং যারা আন্তরিকভাবে তাঁর অন্বেষণ করে, তিনি তাদের পুরস্কার দেন।
HEB 11:7 বিশ্বাসে নোহ, যেসব বিষয় তখনও প্রত্যক্ষ হয়নি, সেগুলি সম্পর্কে সতর্কবাণী লাভ করে তাঁর পরিবারকে রক্ষা করার জন্য ভক্তিপূর্ণ ভয়ে তাঁর বিশ্বাসের দ্বারা একটি জাহাজ নির্মাণ করলেন। বিশ্বাসের দ্বারা তিনি জগৎকে অপরাধী সাব্যস্ত করলেন এবং বিশ্বাসের দ্বারা যে ধার্মিকতা লাভ করা যায়, তিনি তার উত্তরাধিকার হলেন।
HEB 11:8 বিশ্বাসেই অব্রাহাম, যে স্থান তিনি ভাবীকালে উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করবেন, সেই স্থানে যাওয়ার আহ্বান পেয়ে গন্তব্যস্থান না জেনেই, বাধ্যতার সঙ্গে সেই স্থানে গেলেন।
HEB 11:9 এমনকি তিনি যখন সেই দেশে পৌঁছালেন যা ঈশ্বর তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেখানে বিশ্বাসে বাস করলেন—কারণ তিনি সেখানে ছিলেন বিদেশি আগন্তুকের মতো, তিনি তাঁবুতে বাস করলেন। আর ইস্‌হাক ও যাকোব তাঁর মতো তাঁবুতে বাস করলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে একই প্রতিশ্রুতির উত্তরাধিকার ছিলেন।
HEB 11:10 কারণ তিনি ভিত্তিযুক্ত সেই নগরের প্রতীক্ষায় ছিলেন, ঈশ্বরই যার স্থপতি ও নির্মাতা।
HEB 11:11 বিশ্বাসে সারা, যিনি বন্ধ্যা ছিলেন—তিনি মা হওয়ার সক্ষমতা লাভ করেছিলেন, কারণ যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন।
HEB 11:12 আর তাই এই এক ব্যক্তি থেকে অর্থাৎ এক মৃতপ্রায় ব্যক্তি থেকে আকাশের তারার মতো বহুসংখ্যক এবং সমুদ্রতটের বালির কণার মতো অগণিত বংশধর উৎপন্ন হল।
HEB 11:13 এই সমস্ত লোক মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁদের কাছে দেওয়া ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন। প্রতিশ্রুত দান তাঁরা লাভ করেননি; তাঁরা শুধু সেগুলি দেখেছিলেন এবং দূর থেকে সেগুলিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁরা স্বীকার করেছিলেন, এই পৃথিবীতে তাঁরা বহিরাগত ও আগন্তুক মাত্র।
HEB 11:14 যাঁরা এসব কথা বলেন, তাঁরা স্পষ্ট ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা নিজেদের জন্য একটি দেশের অনুসন্ধান করছেন।
HEB 11:15 তাঁরা যদি তাদের ফেলে-আসা দেশের কথা ভাবতেন, তাহলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তাঁরা পেতেন।
HEB 11:16 বরং, তাঁরা এর চেয়েও উৎকৃষ্ট, এক স্বর্গীয় দেশের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। তাই ঈশ্বর, তাঁদের ঈশ্বর বলে অভিহিত হতে লজ্জাবোধ করেননি, কারণ তাঁদের জন্য তিনি এক নগর প্রস্তুত করে রেখেছেন।
HEB 11:17 বিশ্বাসে অব্রাহাম, ঈশ্বর যখন তাঁকে পরীক্ষা করলেন, তিনি ইস্‌হাককে বলিরূপে উৎসর্গ করলেন। যিনি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি লাভ করেছিলেন, তিনি তাঁর একমাত্র ও অনন্য পুত্রকে বলি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন,
HEB 11:18 যদিও ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, “ইস্‌হাকের মাধ্যমেই তোমার বংশ পরিচিত হবে।”
HEB 11:19 অব্রাহাম যুক্তিবিবেচনা করেছিলেন যে, ঈশ্বর মৃত মানুষকেও উত্থাপিত করতে পারেন, তাই আলংকারিকরূপে বলা যেতে পারে, তিনি মৃত্যু থেকে ইস্‌হাককে ফিরে পেয়েছিলেন।
HEB 11:20 বিশ্বাসে ইস্‌হাক, যাকোব ও এষৌকে, তাঁদের ভাবীকাল সম্পর্কে আশীর্বাদ করেছিলেন।
HEB 11:21 বিশ্বাসে যাকোব, মৃত্যুর সময় যোষেফের উভয় পুত্রকে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং তাঁর লাঠির ডগার উপর হেলান দিয়ে উপাসনা করেছিলেন।
HEB 11:22 বিশ্বাসে যোষেফ, যখন তাঁর অন্তিমকাল ঘনিয়ে এল, তিনি মিশর থেকে ইস্রায়েলীদের নির্গমনের কথা বলেছিলেন এবং তাঁর হাড়গোড় সেখানে কবর দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
HEB 11:23 বিশ্বাসে মোশির বাবা-মা, জন্মের পরে তিন মাস তাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তাঁরা লক্ষ্য করেছিলেন, তিনি কোনও সাধারণ শিশু ছিলেন না। তাঁরা রাজার হুকুমনামায় ভীত হননি।
HEB 11:24 বিশ্বাসে মোশি বড়ো হয়ে উঠলে, ফরৌণের মেয়ের পুত্র বলে পরিচিত হতে অস্বীকার করলেন।
HEB 11:25 তিনি পাপের ক্ষণস্থায়ী সুখ ভোগ করার বদলে, ঈশ্বরের প্রজাদের সঙ্গে নির্যাতন ভোগ করাই শ্রেয় বলে মনে করলেন।
HEB 11:26 মিশরের ঐশ্বর্যের চেয়ে খ্রীষ্টের জন্য অপমান ভোগ করাকে তিনি আরও বেশি মূল্যবান বলে মনে করলেন, কারণ তিনি তাঁর দৃষ্টি ভাবী পুরস্কারের প্রতিই নিবদ্ধ রেখেছিলেন।
HEB 11:27 রাজার ক্রোধ ভয় না করে, তিনি বিশ্বাসে মিশর ত্যাগ করলেন। যিনি দৃষ্টির অগোচর, তিনি তাঁকে দেখেছিলেন বলে অবিচল ছিলেন।
HEB 11:28 বিশ্বাসে তিনি নিস্তারপর্ব পালন ও রক্তসিঞ্চন করলেন, যেন প্রথমজাতদের ধ্বংসকারী দূত ইস্রায়েলের প্রথমজাতদের স্পর্শ না করেন।
HEB 11:29 বিশ্বাসে ইস্রায়েলী লোকেরা শুষ্ক ভূমির মতো লোহিত সাগর পার হয়ে গেল, কিন্তু মিশরীয়রা তা করতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেল।
HEB 11:30 বিশ্বাসে যিরীহোর প্রাচীর পড়ে গেল, যখন ইস্রায়েলী লোকেরা সেগুলির চারদিকে সাত দিন ধরে প্রদক্ষিণ করল।
HEB 11:31 বিশ্বাসে পতিতা রাহব, গুপ্তচরদের স্বাগত জানিয়েছিল বলে, যারা অবাধ্য হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সে নিহত হয়নি।
HEB 11:32 আমি আর কত বলব? গিদিয়োন, বারক, শিমশোন, যিপ্তহ, দাউদ, শমূয়েল ও ভাববাদীদের সম্পর্কে বলার মতো সময় আমার নেই।
HEB 11:33 বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন রাজ্য জয় করেছিলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং প্রতিশ্রুত বিষয় লাভ করেছিলেন; তাঁরা সিংহের মুখ বন্ধ করেছিলেন,
HEB 11:34 জ্বলন্ত আগুনের শিখা নিভিয়ে দিয়েছিলেন এবং ধারালো তরোয়াল থেকে নিস্তার পেয়েছিলেন; তাঁদের দুর্বলতা শক্তিতে পরিণত হয়েছিল; তাঁরা যুদ্ধে পরাক্রমী হয়েছিলেন ও পরজাতীয় সৈন্যবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করেছিলেন।
HEB 11:35 নারীরা তাঁদের মৃতজনেদের ফিরে পেয়েছিলেন, তাঁদের পুনরায় জীবন দান করা হয়েছিল। অন্যেরা যন্ত্রণাভোগ করেছিলেন এবং মুক্ত হতে অস্বীকার করেছিলেন, যেন তাঁরা এক উৎকৃষ্টতর পুনরুত্থানের অংশীদার হতে পারেন।
HEB 11:36 কেউ কেউ বিদ্রুপ ও বেতের আঘাত সহ্য করেছিলেন, অন্যেরা বন্দি ও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।
HEB 11:37 তাঁদের পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল; করাত দিয়ে দু-খণ্ড করা হয়েছিল; তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁরা মেষের ছাল ও ছাগলের ছাল পরে ঘুরে বেড়াতেন; তাঁরা দীনদরিদ্রের মতো ও অত্যাচারিত ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতেন।
HEB 11:38 এই জগৎ তাঁদের জন্য যোগ্য স্থান ছিল না; তাঁরা বিভিন্ন মরুভূমিতে, পাহাড়-পর্বতে, গুহায় ও মাটির গর্তে আশ্রয় নিতেন।
HEB 11:39 এরা সবাই বিশ্বাসের জন্য প্রশংসা লাভ করেছিলেন, তবুও এরা কেউই প্রতিশ্রুত বিষয় লাভ করেননি।
HEB 11:40 ঈশ্বর উৎকৃষ্টতর কিছু আমাদের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন, যেন আমাদেরই সঙ্গে মিলিতভাবে তাঁদের সিদ্ধতা দান করা হয়।
HEB 12:1 সুতরাং, আমরা এরকম এক বিশাল সাক্ষীবাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায়, এসো বাধাদায়ক সমস্ত বিষয় ও যেসব পাপ সহজেই আমাদের জড়িয়ে ধরে, সেগুলি ছুঁড়ে ফেলি। আর যে দৌড় আমাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এসো ধৈর্যের সঙ্গে সেই অভিমুখে ছুটে চলি।
HEB 12:2 এসো, আমাদের বিশ্বাসের আদি-উৎস ও সিদ্ধিদাতা যীশুর উপরে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, যিনি তাঁর সামনে স্থিত আনন্দের জন্য ক্রুশ সহ্য করলেন, সেই লজ্জাকে উপেক্ষা করলেন ও ঈশ্বরের সিংহাসনের ডানদিকে উপবেশন করলেন।
HEB 12:3 পাপী মানুষের এত বিরোধিতা যিনি সহ্য করলেন, তাঁর কথা বিবেচনা করো, তাহলে তোমরাও ক্লান্তিতে অবসন্ন ও নিরুৎসাহ হবে না।
HEB 12:4 পাপের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য তোমাদের রক্তপাত করতে হয়েছে, এ ধরনের প্রতিরোধ তোমরা এখনও করোনি।
HEB 12:5 আর উৎসাহ প্রদানকারী সেই বাণী তোমরা ভুলে গিয়েছ, যা তোমাদের পুত্র বলে সম্বোধন করে: “পুত্র আমার, তুমি প্রভুর শাসন তুচ্ছ মনে কোরো না, তিনি তিরস্কার করলে নিরুৎসাহ হোয়ো না।
HEB 12:6 কারণ প্রভু যাদের প্রেম করেন, তাদের শাসনও করেন, যাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করেন, তাকে শাস্তি প্রদানও করেন।”
HEB 12:7 কষ্ট-দুর্দশাকে শাসন বলে সহ্য করো; ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে সন্তানের মতো আচরণ করেন। কারণ এমন পুত্র কেউ আছে, যাকে পিতা শাসন করেন না?
HEB 12:8 যদি তোমাদের শাসন করা না হয়, আর প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শাসনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তাহলে তোমরা অবৈধ সন্তান, প্রকৃত পুত্রকন্যা নও।
HEB 12:9 এছাড়া, পৃথিবীতে আমাদের প্রত্যেকেরই বাবা আছেন, যাঁরা আমাদের শাসন করেছেন এবং সেজন্য আমরা তাঁদের শ্রদ্ধাও করি। তাহলে যিনি আমাদের আত্মাসকলের পিতা, তাঁর কাছে আমরা কত না আত্মসমর্পণ করব ও বেঁচে থাকব?
HEB 12:10 তাঁরা যেমন ভালো মনে করেছেন, তেমনই অল্পকালের জন্য আমাদের শাসন করেছেন। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের মঙ্গলের জন্য শাসন করেন, যেন আমরা তাঁর পবিত্রতার অংশীদার হতে পারি।
HEB 12:11 কোনো শাসনই তাৎক্ষণিক আনন্দদায়ক মনে হয় না, বরং যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। যাই হোক, পরবর্তীকালে, যারা এর মধ্য দিয়ে শিক্ষা লাভ করেছে, তা তাদের জন্য ধার্মিকতার ও শান্তির ফসল উৎপন্ন করে।
HEB 12:12 অতএব, তোমরা তোমাদের অশক্ত বাহু ও দুর্বল হাঁটু সবল করো।
HEB 12:13 “তোমাদের চলার পথ সরল করো,” যেন খোঁড়া ব্যক্তি পঙ্গু না হয়, বরং সুস্থ হতে পারে।
HEB 12:14 সকলের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে ও পবিত্র হওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো। পবিত্রতা ব্যতিরেকে কেউ প্রভুর দর্শন পাবে না।
HEB 12:15 সতর্ক থেকো, কেউ যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত না হয়। দেখো, তিক্ততার কোনো মূল যেন অঙ্কুরিত হয়ে সমস্যার সৃষ্টি না করে ও অনেককে কলুষিত না করে।
HEB 12:16 সাবধান, কেউ যেন অবৈধ-সংসর্গকারী, অথবা এষৌর মতো ভক্তিহীন না হয়, যে একবারের খাবারের জন্য বড়ো ছেলের অধিকার বিক্রি করে দিয়েছিল।
HEB 12:17 তোমরা জানো, পরে এই আশীর্বাদের অধিকারী হতে চাইলেও, সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। যদিও সে চোখের জল ফেলে সেই আশীর্বাদের অন্বেষী হয়েছিল, কিন্তু সে মনের কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।
HEB 12:18 তোমরা এমন কোনো পর্বতের সম্মুখীন হওনি, যা স্পর্শ করা যায়, যাতে আগুন জ্বলছে, যেখানে আছে অন্ধকার, ভীতি ও ঝড়ঝঞ্ঝা।
HEB 12:19 যারা তূরীধ্বনি শুনেছিল বা কণ্ঠস্বরের মুখোমুখি হয়েছিল, তারা প্রার্থনা করেছিল যে তাদের কাছে যেন আর কোনো কথা বলা না হয়।
HEB 12:20 কারণ এই আদেশ তারা সহ্য করতে পারেনি, “যদি একটি পশুও পর্বত স্পর্শ করে, তাহলে তাকে অবশ্যই পাথরের আঘাতে মেরে ফেলা হবে।”
HEB 12:21 সেই দৃশ্য এতই ভয়ংকর ছিল যে, মোশি বলেছিলেন, “আমি ভয়ে কাঁপছি।”
HEB 12:22 কিন্তু তোমরা উপস্থিত হয়েছ সিয়োন পর্বতে, সেই স্বর্গীয় জেরুশালেমে, জীবন্ত ঈশ্বরের নগরে। তোমরা উপস্থিত হয়েছ হাজার হাজার স্বর্গদূতের আনন্দমুখর সমাবেশে,
HEB 12:23 প্রথমজাতদের মণ্ডলীতে, যাদের নাম স্বর্গে লেখা আছে। তোমরা সব মানুষের বিচারক ঈশ্বর, সিদ্ধিপ্রাপ্ত ধার্মিকদের আত্মা ও
HEB 12:24 এক নতুন নিয়মের মধ্যস্থতাকারী যীশু এবং তাঁর সিঞ্চিত রক্তের সম্মুখীন হয়েছ, যা হেবলের রক্তের চেয়েও উৎকৃষ্টতর কথা বলে।
HEB 12:25 দেখো, যিনি কথা বলেন, তাঁকে যেন তোমরা অগ্রাহ্য না করো। যিনি পৃথিবীতে তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন, তাঁকে অগ্রাহ্য করে তারা যদি অব্যাহতি না পেয়ে থাকে, তাহলে যিনি স্বর্গ থেকে আমাদের সতর্ক করেন, তাঁর প্রতি যদি আমরা বিমুখ হই, তাহলে নিশ্চিত যে আমরা নিষ্কৃতি পাব!
HEB 12:26 সেই সময় তাঁর কণ্ঠস্বর পৃথিবীকে কম্পিত করেছিল, কিন্তু এখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “আর একবার, আমি শুধুমাত্র পৃথিবীকে নয়, কিন্তু আকাশমণ্ডলকেও প্রকম্পিত করব।”
HEB 12:27 “আর একবার” উক্তিটির তাৎপর্য হল, যেসব সৃষ্টবস্তু প্রকম্পিত করা যায়, সেগুলি দূর করা হবে, কিন্তু যা প্রকম্পিত করা যায় না, সেগুলি স্থায়ী হবে।
HEB 12:28 অতএব, আমরা যে রাজ্য গ্রহণ করতে চলেছি, তা প্রকম্পিত হবে না; তাই এসো আমরা কৃতজ্ঞ হই এবং শ্রদ্ধায় ও সম্ভ্রমে ঈশ্বরের প্রীতিজনক উপাসনা করি।
HEB 12:29 কারণ আমাদের “ঈশ্বর সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া আগুনের মতো।”
HEB 13:1 তোমরা ভাইবোনের মতো পরস্পরকে ভালোবেসে যাও।
HEB 13:2 অতিথির সেবা করতে ভুলে যেয়ো না, কারণ তা করে কেউ কেউ না জেনে স্বর্গদূতদেরই সেবা করেছে।
HEB 13:3 যারা কারারুদ্ধ আছে, সহবন্দি মনে করে তাদের স্মরণ করো। তোমরা নিজেরাই যেন কষ্টভোগ করছ, এরকম মনে করে যাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, তাদের স্মরণ করো।
HEB 13:4 বিবাহ-সম্পর্ককে সবারই সম্মান করা উচিত এবং বিবাহ-শয্যা শুচিশুদ্ধ রাখতে হবে। কারণ ব্যভিচারীদের ও অবৈধ-সংসর্গকারীদের বিচার ঈশ্বর করবেন।
HEB 13:5 তোমাদের জীবন অর্থলালসা থেকে মুক্ত রেখো। তোমাদের যা আছে, তাতেই সন্তুষ্ট থেকো। কারণ ঈশ্বর বলেছেন, “আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে দেব না, কখনও তোমায় পরিত্যাগ করব না।”
HEB 13:6 তাই আমরা আস্থার সঙ্গে বলতে পারি, “প্রভুই আমার সহায়, আমি ভীত হব না, মানুষ আমার কী করতে পারে?”
HEB 13:7 যাঁরা তোমাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করে গেছেন সেই নেতাদের স্মরণ করো। তাদের জীবনচর্যার পরিণাম সম্পর্কে বিবেচনা করো এবং তাদের বিশ্বাসের অনুকরণ করো।
HEB 13:8 যীশু খ্রীষ্ট কাল যেমন ছিলেন, আজও তেমনি আছেন এবং চিরকাল একই থাকবেন।
HEB 13:9 তোমরা বিভিন্ন ধরনের বিচিত্র শিক্ষায় বিপথে চালিত হোয়ো না। অনুগ্রহের দ্বারা আমাদের হৃদয়কে শক্তিশালী করাই ভালো, কোনো সংস্কারগত খাবার দিয়ে নয়, কারণ যারা তা ভোজন করে, তাদের কাছে এর কোনো মূল্য নেই।
HEB 13:10 আমাদের এক যজ্ঞবেদি আছে, যা থেকে, যারা সমাগম তাঁবুর পরিচারক, তাদের ভোজন করার অধিকার নেই।
HEB 13:11 মহাযাজক পাপমোচনের নৈবেদ্যস্বরূপ পশুর রক্ত মহাপবিত্র স্থানে বয়ে নিয়ে যান, কিন্তু সেগুলির দেহ শিবিরের বাইরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
HEB 13:12 সেভাবে, যীশুও তাঁর রক্তের মাধ্যমে প্রজাদের পবিত্র করার জন্য নগরদ্বারের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন।
HEB 13:13 তাহলে এসো, তিনি যে অপমান সহ্য করেছিলেন, তা বহন করে আমরা শিবিরের বাইরে তাঁর কাছে যাই।
HEB 13:14 কারণ এখানে আমাদের কাছে কোনো চিরস্থায়ী নগর নেই, কিন্তু আমরা সন্নিকট সেই নগরের প্রতীক্ষায় আছি।
HEB 13:15 অতএব এসো, যীশুর মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছে অবিরাম প্রশংসার বলি উৎসর্গ করি—তা হল তাঁর নাম স্বীকার করা আমাদের ঠোঁটের ফল।
HEB 13:16 আর অপরের উপকার ও অন্যদের সঙ্গে তোমাদের সম্পদ ভাগ করার কথা ভুলে যেয়ো না, কারণ এ ধরনের বলিদানেই ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।
HEB 13:17 তোমাদের নেতাদের নির্দেশ মেনে চলো ও তাদের কর্তৃত্বের বশ্যতাধীন হও। যাদের জবাবদিহি করতে হবে, এমন মানুষের মতো তাঁরা তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। তাঁদের আদেশ পালন করো, যেন তাদের কাজ আনন্দদায়ক হয়, বোঝাস্বরূপ না হয়, তা না হলে, তা তোমাদের পক্ষে লাভজনক হবে না।
HEB 13:18 আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। আমরা সুনিশ্চিত যে, আমাদের এক পরিচ্ছন্ন বিবেক আছে এবং আমরা সব বিষয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করার আকাঙ্ক্ষা করি।
HEB 13:19 আমি তোমাদের বিশেষভাবে প্রার্থনা করার জন্য অনুনয় করি, যেন আমি শীঘ্রই তোমাদের কাছে আবার ফিরে যেতে পারি।
HEB 13:20 শান্তির ঈশ্বর, যিনি অনন্ত সন্ধিচুক্তির রক্তের মাধ্যমে আমাদের প্রভু যীশুকে মৃতলোক থেকে পুনরায় উত্থাপিত করেছেন, মেষপালের সেই মহান পালরক্ষক,
HEB 13:21 তাঁর ইচ্ছা পালনের উদ্দেশে তোমাদের সব উত্তম উপকরণে সুসজ্জিত করুন এবং তাঁর কাছে যা প্রীতিকর, তা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের অন্তরে সম্পন্ন করুন। যুগে যুগে চিরকাল তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক। আমেন!
HEB 13:22 ভাইবোনেরা, তোমাদের অনুনয় করি, আমার এই উপদেশবাণী সহ্য করো, কারণ আমি তোমাদের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত পত্র লিখেছি মাত্র।
HEB 13:23 আমি চাই, তোমরা জেনে নাও যে, আমাদের ভাই তিমথিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি শীঘ্র আসেন, তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি তাঁর সঙ্গে যাব।
HEB 13:24 তোমাদের সব নেতা ও ঈশ্বরের সমস্ত পবিত্রগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ো। ইতালির সকলেও তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
HEB 13:25 অনুগ্রহ তোমাদের সবারই সহবর্তী হোক।
JAM 1:1 ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দাস, আমি যাকোব, বিভিন্ন দেশে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা ইস্রায়েলের বারো গোষ্ঠীর উদ্দেশে: শুভেচ্ছা।
JAM 1:2 হে আমার ভাইবোনেরা, যখনই তোমরা বিভিন্ন প্রকারের পরীক্ষার সম্মুখীন হও, সেগুলিকে নির্মল আনন্দের বিষয় বলে মনে করো,
JAM 1:3 কারণ তোমরা জানো যে, তোমাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা ধৈর্য উৎপন্ন করে।
JAM 1:4 ধৈর্যকে অবশ্যই তার কাজ শেষ করতে হবে, যেন তোমরা পরিপক্ব ও সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারো, কোনো বিষয়ের অভাব তোমাদের না থাকে।
JAM 1:5 তোমাদের কারও যদি প্রজ্ঞার অভাব থাকে, সে ঈশ্বরের কাছে তা চাইবে, যিনি কোনও ত্রুটি না ধরে উদারভাবে সকলকে দান করে থাকেন, আর তাকে তা দেওয়া হবে।
JAM 1:6 কিন্তু চাওয়ার সময় তাকে বিশ্বাস করতে হবে, সে যেন সন্দেহ না করে। কারণ যে সন্দেহ করে, সে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, বাতাসে তাড়িত ও উৎক্ষিপ্ত।
JAM 1:7 সেই ব্যক্তি এমন মনে না করুক যে, সে প্রভুর কাছ থেকে কিছু পাবে।
JAM 1:8 সে দ্বিমনা ব্যক্তি, তার সমস্ত কাজে কোনো স্থিরতা নেই।
JAM 1:9 যে ভাইবোনেরা খুব সাধারণ পরিস্থিতিতে আছে, সে তার উঁচু অবস্থানের জন্য গর্ববোধ করুক।
JAM 1:10 কিন্তু যে ধনী, সে তার থেকে নিচু অবস্থানের জন্য গর্বিত হোক, কারণ সে বুনোফুলের মতো হারিয়ে যাবে।
JAM 1:11 কারণ সূর্য প্রখর তাপ নিয়ে উদিত হয় ও গাছপালা শুকিয়ে যায়; তার ফুল ঝরে যায় ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়। একইভাবে, ধনী ব্যক্তি তার কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও ম্লান হয়ে যাবে।
JAM 1:12 ধন্য সেই ব্যক্তি, যে পরীক্ষার মধ্যেও ধৈর্য ধরে, কারণ পরীক্ষা সহ্য করলে সে জীবনমুকুট লাভ করবে, যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঈশ্বর তাদের দিয়েছেন, যারা তাঁকে ভালোবাসে।
JAM 1:13 প্রলোভনে পড়লে কেউ যেন না বলে, “ঈশ্বর আমাকে প্রলুব্ধ করেছেন।” কারণ মন্দ বিষয়ের দ্বারা ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করা যায় না, আবার তিনিও কাউকে প্রলুব্ধ করেন না।
JAM 1:14 কিন্তু প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কামনাবাসনার দ্বারা আকর্ষিত হয়ে প্রলোভনে পড়ে ও কুপথে চালিত হয়।
JAM 1:15 পরে, সেই কামনা পূর্ণগর্ভ হয়ে পাপের জন্ম দেয় এবং পাপ পূর্ণতা লাভ করে মৃত্যু প্রসব করে।
JAM 1:16 আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, ভ্রান্ত হোয়ো না।
JAM 1:17 সমস্ত উৎকৃষ্ট ও নিখুঁত দান ঊর্ধ্বলোক থেকে, আকাশের জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর সেই পিতা থেকে আসে। তিনি কখনও পরিবর্তন হন না বা ছায়ার মতো সরে যান না।
JAM 1:18 তিনি আমাদের মনোনীত করে সত্যের বাক্য দ্বারা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, যেন তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আমরা এক প্রকার প্রথম ফসলরূপে গণ্য হতে পারি।
JAM 1:19 আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, তোমরা এ বিষয়ে মনোনিবেশ করো: প্রত্যেকেই শুনতে আগ্রহী হও ও কথা বলায় ধীর হও এবং ক্রোধে ধীর হও।
JAM 1:20 কারণ মানুষের ক্রোধ ঈশ্বরের কাঙ্ক্ষিত ধর্মময় জীবনের বিকাশ ঘটাতে পারে না।
JAM 1:21 সেই কারণে, তোমাদের জীবনের সমস্ত নৈতিক কলুষতা ও মন্দতা থেকে মুক্ত হও ও তোমাদের মধ্যে বপন করা সেই বচনকে নতনম্ররূপে গ্রহণ করো, যা তোমাদের পরিত্রাণ সাধন করতে পারে।
JAM 1:22 বাক্যের কেবল শ্রোতা হোয়ো না ও নিজেদের প্রতারিত কোরো না। বাক্য যা বলে, তা করো।
JAM 1:23 যে বাক্য শোনে অথচ তার নির্দেশ পালন করে না, সে এমন মানুষের মতো যে আয়নায় তার মুখ দেখে,
JAM 1:24 নিজেকে দেখার পর সে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভুলে যায়, সে দেখতে কেমন।
JAM 1:25 কিন্তু যে নিখুঁত বিধানের প্রতি আগ্রহভরে দৃষ্টি দেয়, যা স্বাধীনতা প্রদান করে ও যা শুনেছে তা ভুলে না গিয়ে নিরন্তর তা পালন করতে থাকে, সে সবকাজেই আশীর্বাদ পাবে।
JAM 1:26 কেউ যদি নিজেকে ধার্মিক বলে মনে করে, কিন্তু নিজের জিভকে লাগাম দিয়ে বশে না রাখে, সে নিজের সঙ্গে নিজেই প্রতারণা করে এবং তার ধর্ম অসার।
JAM 1:27 পিতা ঈশ্বরের কাছে বিশুদ্ধ ও নির্দোষরূপে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হল এই: অনাথ ও বিধবাদের দুঃখকষ্টে তত্ত্বাবধান করা এবং সাংসারিক কলুষতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
JAM 2:1 হে আমার ভাইবোনেরা, আমাদের মহিমাময় প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসীরূপে তোমরা পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ো না।
JAM 2:2 মনে করো, কোনো ব্যক্তি সোনার আংটি ও সুন্দর পোশাক পরে তোমাদের মণ্ডলীর সভায় এল এবং মলিন পোশাক পরে একজন দীনহীন ব্যক্তিও সেখানে এল।
JAM 2:3 তোমরা যদি সুন্দর পোশাক পরা ব্যক্তির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেখাও ও তাকে বলো, “এখানে আপনার জন্য একটি ভালো আসন আছে,” কিন্তু সেই দীনহীন ব্যক্তিকে বলো, “তুমি ওখানে দাঁড়াও” বা “আমার পায়ের কাছে মেঝের উপরে বসো,”
JAM 2:4 তাহলে তোমরা কি নিজেদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করছ না ও মন্দ ভাবনা নিয়ে বিচারকের স্থান গ্রহণ করছ না?
JAM 2:5 আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, তোমরা শোনো: জগতের দৃষ্টিতে যারা দরিদ্র, ঈশ্বর কি তাদের মনোনীত করেননি, যেন তারা বিশ্বাসে ধনী হয় এবং যারা তাঁকে ভালোবাসে, তাদের কাছে প্রতিশ্রুত রাজ্যের অধিকারী হয়?
JAM 2:6 কিন্তু তোমরা সেই দরিদ্রকে অপমান করেছ। ধনী ব্যক্তিরাই কি তোমাদের শোষণ করে না? তারাই কি তোমাদের বিচারালয়ে টেনে নিয়ে যায় না?
JAM 2:7 তারাই কি সেই পরমশ্রেষ্ঠ নামের নিন্দা করে না, যাঁর নিজস্ব অধিকাররূপে তোমরা পরিচিত হয়েছ?
JAM 2:8 শাস্ত্রের এই রাজকীয় বিধান, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবেসো,” যদি তোমরা প্রকৃতই মেনে চলো, তাহলে তোমরা ঠিকই করছ।
JAM 2:9 কিন্তু তোমরা যদি পক্ষপাতিত্ব করো, তবে পাপ করেছ এবং বিধানের দ্বারাই তোমরা বিধানভঙ্গকারীরূপে দোষী সাব্যস্ত হবে।
JAM 2:10 কারণ সমস্ত বিধান পালন করে কেউ যদি শুধুমাত্র একটি আজ্ঞা পালনে ব্যর্থ হয়, সে তার সমস্তই লঙ্ঘনের দায়ে দোষী হবে।
JAM 2:11 কারণ যিনি বলেছেন, “ব্যভিচার কোরো না,” তিনিই আবার বলেছেন, “তোমরা নরহত্যা কোরো না।” তোমরা হয়তো ব্যভিচার করোনি, কিন্তু যদি নরহত্যা করে থাকো, তাহলে তোমরা বিধানভঙ্গকারী হয়েছ।
JAM 2:12 যে বিধানের দ্বারা তোমরা স্বাধীনতা লাভ করেছ তারই দ্বারা তোমাদের বিচার হতে চলেছে, তোমরা সেইমতো কথা বলো ও কাজ করো।
JAM 2:13 কারণ যে দয়া দেখায়নি, নির্দয়ভাবে তার বিচার করা হবে। দয়াই বিচারের উপরে জয়লাভ করে।
JAM 2:14 কোনো মানুষ যদি দাবি করে তার বিশ্বাস আছে, কিন্তু সেইমতো কোনো কর্ম না থাকে, তাহলে আমার ভাইবোনেরা, এতে কী লাভ হবে? এ ধরনের বিশ্বাস কি তাকে পরিত্রাণ দিতে পারে?
JAM 2:15 মনে করো, কোনো ভাই বা বোনের পোশাক ও দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান নেই।
JAM 2:16 তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাকে বলে, “শান্তিতে যাও, তুমি উষ্ণ ও তৃপ্ত থাকো,” কিন্তু তার শারীরিক প্রয়োজন সম্পর্কে সে কিছুই না করে, তাহলে, তাতে কী লাভ হবে?
JAM 2:17 একইভাবে, বিশ্বাসের সঙ্গে যদি কর্ম যুক্ত না হয়, তাহলে সেই বিশ্বাস মৃত।
JAM 2:18 কিন্তু কেউ হয়তো বলবে, “তোমার বিশ্বাস আছে, কিন্তু আমার কর্ম আছে।” আমাকে তোমার কর্মহীন বিশ্বাসের প্রমাণ দেখাও, আমি তোমাকে আমার কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাস দেখাব।
JAM 2:19 তুমি তো বিশ্বাস করো যে, ঈশ্বর এক। ভালো, এমনকি, ভূতেরাও তা বিশ্বাস করে ও ভয়ে কাঁপে।
JAM 2:20 ওহে নির্বোধ মানুষ, কর্মহীন বিশ্বাস যে নিরর্থক, তুমি কি তার প্রমাণ চাও?
JAM 2:21 আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, তাঁর পুত্র ইস্‌হাককে বেদির উপরে উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁর কর্মের দ্বারাই তাঁকে কি ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক দেখানো হয়নি?
JAM 2:22 তাহলে, তোমরা দেখতে পাচ্ছ যে, তাঁর বিশ্বাস ও তাঁর কর্ম একযোগে সক্রিয় ছিল এবং কর্মের দ্বারাই তাঁর বিশ্বাস পূর্ণতা লাভ করেছিল।
JAM 2:23 আবার শাস্ত্রেরও এই বচন পূর্ণ হল, যা বলে, “অব্রাহাম ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন এবং তা তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হল।” আর তিনি ঈশ্বরের বন্ধু—এই নামে আখ্যাত হলেন।
JAM 2:24 তোমরা দেখতে পাচ্ছ, কোনো মানুষ কেবলমাত্র বিশ্বাসে নয়, কিন্তু তার কর্মের দ্বারাই নির্দোষ গণ্য হয়।
JAM 2:25 একইভাবে, বেশ্যা রাহবও তাঁর কর্মের জন্য কি ধার্মিক বলে প্রদর্শিত হননি? তিনি সেই গুপ্তচরদের থাকার আশ্রয় দিয়ে, পরে অন্য পথ দিয়ে তাদের বিদায় দিয়েছিলেন।
JAM 2:26 যেমন আত্মাবিহীন শরীর মৃত, তেমনই কর্মবিহীন বিশ্বাসও মৃত।
JAM 3:1 আমার ভাইবোনেরা, তোমরা অনেকেই শিক্ষক হতে চেয়ো না, কারণ তোমরা জানো যে, আমরা যারা শিক্ষা দিই, আমাদের আরও কঠোরভাবে বিচার করা হবে।
JAM 3:2 আমরা সকলেই বিভিন্নভাবে ভুল করি। কেউ যদি তার কথাবার্তায় কখনও ভুল না করে, তাহলে সে সিদ্ধপুরুষ, সে তার সমস্ত শরীর বশে রাখতে সমর্থ।
JAM 3:3 ঘোড়াকে বশে রাখার জন্য যখন আমরা তাদের মুখে লাগাম পরাই, তখন আমরা তার সমস্ত শরীরকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
JAM 3:4 কিংবা উদাহরণস্বরূপ, জাহাজের কথাই ধরো। যদিও সেগুলি অনেক বড়ো ও প্রবল বাতাসে চলে, তবুও নাবিক একটি ছোটো হালের সাহায্যে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে নিয়ে যায়।
JAM 3:5 একইভাবে, জিভ শরীরের একটি ছোটো অঙ্গ, কিন্তু তা মহা দম্ভের সব কথা বলে থাকে। ভেবে দেখো, সামান্য একটি আগুনের ফুলকি কীভাবে মহা অরণ্যকে জ্বালিয়ে দেয়!
JAM 3:6 সেরকম, জিভও যেন এক আগুন, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে অধর্মের এক জগতের মতো রয়েছে। সমগ্র ব্যক্তিসত্তাকে তা কলুষিত করে, তার সমগ্র জীবনচক্রে আগুন জ্বালায় এবং সে নিজেও নরকের আগুনে জ্বলে।
JAM 3:7 সব ধরনের পশুপাখি, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীকে বশ করা যায় ও মানুষ তাদের বশ করেছে,
JAM 3:8 কিন্তু জিভকে কেউই বশ করতে পারে না। এ এক অশান্ত মন্দতা ও প্রাণঘাতী বিষে পূর্ণ।
JAM 3:9 এই জিভ দিয়েই আমরা আমাদের প্রভু ও পিতার গৌরব করি, আবার এ দিয়েই আমরা ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট সব মানুষকে অভিশাপ দিই।
JAM 3:10 একই মুখ থেকে প্রশংসা ও অভিশাপ বের হয়ে আসে। আমার ভাইবোনেরা, এরকম হওয়া উচিত নয়।
JAM 3:11 একই উৎস থেকে কি মিষ্টি জল ও লবণাক্ত জল, উভয়ই প্রবাহিত হতে পারে?
JAM 3:12 আমার ভাইবোনেরা, ডুমুর গাছে কি জলপাই, কিংবা দ্রাক্ষালতায় কি ডুমুর উৎপন্ন হতে পারে? তেমনই লবণাক্ত জলের উৎস মিষ্টি জল দিতে পারে না।
JAM 3:13 তোমাদের মধ্যে কে জ্ঞানবান ও বুদ্ধিমান? সে জ্ঞানের মাধ্যমে আসা সৎ জীবন ও নম্রতায় করা কাজকর্মের দ্বারা তা প্রমাণ করুক।
JAM 3:14 কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের অন্তরে তিক্ত ঈর্ষা ও স্বার্থকেন্দ্রিক উচ্চাশা পোষণ করো, তার জন্য গর্বপ্রকাশ কোরো না বা সত্যকে অস্বীকার কোরো না।
JAM 3:15 এ ধরনের “জ্ঞান” স্বর্গ থেকে নেমে আসে না। তা পার্থিব, সাংসারিক ও শয়তানসুলভ।
JAM 3:16 কারণ যেখানে তোমাদের মধ্যে ঈর্ষা ও স্বার্থকেন্দ্রিক উচ্চাশা আছে, সেখানেই তোমরা দেখবে বিশৃঙ্খলা ও সব ধরনের মন্দ অভ্যাস।
JAM 3:17 কিন্তু স্বর্গ থেকে যে জ্ঞান আসে, প্রথমত তা বিশুদ্ধ, তারপরে তা শান্তিপ্রিয়, সুবিবেচক, অনুগত, করুণায় ও উৎকৃষ্ট ফলে পূর্ণ, পক্ষপাতশূন্য ও অকপট।
JAM 3:18 আর যারা শান্তি স্থাপনের জন্য শান্তিতে বীজবপন করে, তারা ধার্মিকতার ফসল উৎপন্ন করবে।
JAM 4:1 তোমাদের মধ্যে কী কারণে সংঘর্ষ ও বিবাদ ঘটে? তোমাদের মধ্যে যেসব অভিলাষ যুদ্ধ করে সেসব থেকেই কি তার উৎস নয়?
JAM 4:2 তোমরা কিছু পেতে চাও, কিন্তু তা পাও না। তোমরা হত্যা করো, লোভ করো, কিন্তু যা পেতে চাও, তা তোমরা পাও না। তোমরা বিবাদ করো ও সংঘর্ষে লিপ্ত হও। তোমরা ঈশ্বরের কাছে কিছু চাও না, তাই তোমরা পাও না।
JAM 4:3 তোমরা যখন চাও, তখন তোমরা পাও না, কারণ তোমরা মন্দ উদ্দেশ্যে সেসব চেয়ে থাকো, যেন প্রাপ্ত বিষয়গুলি নিয়ে নিজেদের সুখাভিলাষের জন্য ব্যবহার করতে পারো।
JAM 4:4 ব্যভিচারীর দল, তোমরা কি জানো না, জগতের সঙ্গে বন্ধুত্ব হল ঈশ্বরের প্রতি ঘৃণার নিদর্শন? কোনো ব্যক্তি যদি জগতের সঙ্গে বন্ধুত্বকে বেছে নেয়, সে ঈশ্বরের শত্রু হয়ে ওঠে।
JAM 4:5 তোমরা কি জানো না যে শাস্ত্র কী বলে? যে আত্মাকে তিনি আমাদের মধ্যে অধিষ্ঠান করতে দিয়েছেন, তিনি চান যেন তিনি শুধু তাঁরই হয়ে থাকেন। ঈশ্বর এই আত্মাকে আমাদের মধ্যে বসবাস করতে দিয়েছেন। তোমাদের কি মনে হয় না যে শাস্ত্রে একথা বলার এক কারণ আছে?
JAM 4:6 কিন্তু তিনি আমাদের আরও বেশি অনুগ্রহ-দান করেন। এই কারণেই শাস্ত্র বলে: “ঈশ্বর অহংকারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নতনম্রদের অনুগ্রহ-দান করেন।”
JAM 4:7 অতএব, তোমরা ঈশ্বরের বশ্যতাধীন হও। দিয়াবলের প্রতিরোধ করো, আর সে তোমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।
JAM 4:8 ঈশ্বরের কাছে এসো, তিনিও তোমাদের কাছে আসবেন। পাপীরা, তোমরা তোমাদের হাত ধুয়ে ফেলো ও দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তিরা, তোমরা তোমাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করো।
JAM 4:9 তোমরা দুঃখকাতর হও, শোক ও বিলাপ করো। তোমাদের হাসিকে কান্নায় ও আনন্দকে বিষাদে পরিবর্তন করো।
JAM 4:10 তোমরা প্রভুর কাছে নিজেদের নতনম্র করো, তিনিই তোমাদের উন্নীত করবেন।
JAM 4:11 ভাইবোনেরা, তোমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কুৎসা-রটনা থেকে দূরে থাকো। যে তার ভাইয়ের (বা বোনের) বিরুদ্ধে কথা বলে, কিংবা তার বিচার করে, সে বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলে ও তা বিচার করে। তোমরা যখন বিধানের বিচার করো, তোমরা তা আর পালন না করে তা নিয়ে বিচার করতে বসো।
JAM 4:12 বিধানদাতা ও বিচারক কেবলমাত্র একজনই যিনি রক্ষা বা ধ্বংস উভয়ই করতে সক্ষম। কিন্তু তুমি, তুমি কে যে, তোমার প্রতিবেশীর বিচার করো?
JAM 4:13 এখন শোনো, তোমরা যারা বলে থাকো, “আজ বা আগামীকাল আমরা এই নগরে বা ওই নগরে যাব, সেখানে এক বছর থাকব, ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করব।”
JAM 4:14 কেন, তোমরা তা জানোই না যে আগামীকাল কী ঘটবে! তোমাদের জীবন কী ধরনের? তোমরা তো কুয়াশার মতো, যা সামান্য সময়ের জন্য দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায়।
JAM 4:15 বরং তোমাদের বলা উচিত, “যদি প্রভুর ইচ্ছা হয়, আমরা বেঁচে থেকে এ কাজ বা ও কাজ করব।”
JAM 4:16 কিন্তু যেমন দেখা যাচ্ছে, তোমরা দম্ভ ও বড়াই করছ। এ ধরনের সমস্ত গর্ব হল মন্দ বিষয়।
JAM 4:17 তাহলে, সৎকর্ম করতে জেনেও যে তা করে না, সে পাপ করে।
JAM 5:1 ওহে ধনী ব্যক্তিরা, তোমরা এখন শোনো, তোমাদের উপরে যে দুঃখদুর্দশা ঘনিয়ে আসছে, তার জন্য তোমরা কাঁদো ও বিলাপ করো।
JAM 5:2 তোমাদের ধনসম্পদ পচে যাচ্ছে ও জামাকাপড় পোকায় খেয়ে নিচ্ছে।
JAM 5:3 তোমাদের সোনা ও রুপো পচতে শুরু করেছে। সেই পচনই তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে ও আগুনের মতো তোমাদের শরীরকে গ্রাস করবে, কারণ শেষের দিনগুলির জন্য তোমরা ধন সঞ্চয় করছ।
JAM 5:4 দেখো! যে মজুরেরা তোমাদের জমিতে ফসল কেটেছে তাদের মজুরি তোমরা দাওনি, তারা তোমাদের বিরুদ্ধে চিৎকার করছে। যারা শস্য কাটে তাদের কান্না সর্বশক্তিমান প্রভুর কানে গিয়ে পৌঁছেছে।
JAM 5:5 তোমরা পৃথিবীতে বিলাসিতায় ও আত্মসুখভোগে জীবন কাটিয়েছ। পশুহত্যার দিনে তোমরা নিজেদের হৃষ্টপুষ্ট করেছ।
JAM 5:6 যারা প্রতিরোধ করেনি সেইসব নির্দোষ মানুষকেও তোমরা অপরাধী সাব্যস্ত করে হত্যা করেছ।
JAM 5:7 তাই ভাইবোনেরা, তোমরা প্রভুর আগমন পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো। দেখো, মূল্যবান ফসলের জন্য চাষি জমির দিকে তাকিয়ে কত প্রতীক্ষা করে, প্রথম ও শেষ বৃষ্টির জন্য সে কতই না সহিষ্ণুতা অবলম্বন করে।
JAM 5:8 তোমরাও তেমনই ধৈর্যধারণ করো ও অবিচল থাকো, কারণ প্রভুর আগমন সন্নিকট।
JAM 5:9 ভাইবোনেরা, পরস্পরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ কোরো না, নতুবা তোমাদের বিচার করা হবে। বিচারক দুয়ারেই দাঁড়িয়ে আছেন!
JAM 5:10 ভাইবোনেরা, কষ্টযন্ত্রণা ভোগের সময় সেইসব ভাববাদীর দীর্ঘসহিষ্ণুতার আদর্শ গ্রহণ করো, যাঁরা প্রভুর নামে কথা বলেছিলেন।
JAM 5:11 যেমন তোমরা জানো, যারা কষ্টভোগের সময় নিষ্ঠাবান ছিল তাদের আমরা ধন্য বলে মনে করি। তোমরা ইয়োবের নিষ্ঠার কথা শুনেছ এবং দেখেছ, শেষে প্রভু কী করলেন। প্রভু সহানুভূতিশীল ও করুণায় পূর্ণ।
JAM 5:12 আমার ভাইবোনেরা, সবচেয়ে বড়ো কথা, তোমরা দিব্যি কোরো না—স্বর্গ বা মর্ত্য, বা অন্য কিছুরই নামে নয়। তোমাদের “হ্যাঁ,” হ্যাঁ হোক, আর “না,” না হোক, নইলে তোমরা দোষী সাব্যস্ত হবে।
JAM 5:13 তোমাদের মধ্যে কেউ কি সমস্যায় ভুগছে? সে প্রার্থনা করুক। কেউ কি সুখে আছে? সে প্রশংসাগান করুক।
JAM 5:14 তোমাদের মধ্যে কেউ কি অসুস্থ আছে? সে মণ্ডলীর প্রাচীনদের আহ্বান করুক, তাঁরা তার জন্য প্রার্থনা করবেন ও প্রভুর নামে তাকে তেল দিয়ে অভিষেক করবেন।
JAM 5:15 আর বিশ্বাসের সঙ্গে নিবেদিত প্রার্থনা, সেই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করবে। প্রভু তাকে তুলে ধরবেন। যদি সে পাপ করে থাকে, সে ক্ষমা লাভ করবে।
JAM 5:16 সেই কারণে, তোমরা পরস্পরের কাছে পাপস্বীকার করো ও পরস্পরের জন্য প্রার্থনা করো, যেন তোমরা আরোগ্য লাভ করতে পারো। ধার্মিকদের প্রার্থনা শক্তিশালী ও কার্যকরী।
JAM 5:17 এলিয় আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। দেশে বৃষ্টি না হওয়ার জন্য তিনি একান্তভাবে প্রার্থনা করেছিলেন, আর সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি।
JAM 5:18 আবার তিনি প্রার্থনা করলেন, আকাশমণ্ডল থেকে বৃষ্টি এল ও পৃথিবী শস্য উৎপন্ন করল।
JAM 5:19 আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সত্য থেকে দূরে চলে যায় ও অপর কেউ তাকে ফিরিয়ে আনে,
JAM 5:20 তাহলে, একথা মনে রেখো: পাপীকে যে কেউ তার ভুল পথ থেকে ফেরায়, সে তাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করে ও তার সব পাপ ঢেকে দেয়।
1PE 1:1 আমি পিতর, যীশু খ্রীষ্টের একজন প্রেরিতশিষ্য, তাঁদের উদ্দেশে এই পত্র লিখছি, যাঁরা ঈশ্বরের মনোনীত, পৃথিবীতে প্রবাসী এবং পন্ত, গালাতিয়া, কাপ্পাদোকিয়া, এশিয়া ও বিথুনিয়াতে বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করছে।
1PE 1:2 পিতা ঈশ্বর পূর্বজ্ঞান অনুসারে তোমাদের মনোনীত করেছেন, এবং তাঁর আত্মা তোমাদের পবিত্র করেছেন। এর ফলে তোমরা তাঁর প্রতি অনুগত হয়েছ এবং যীশু খ্রীষ্টের রক্তের মাধ্যমে শুচিশুদ্ধ হয়েছ: অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের উপরে প্রচুর পরিমাণে বর্ষিত হোক।
1PE 1:3 আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতার প্রশংসা হোক! মৃতলোক থেকে যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থানের মাধ্যমে, তাঁর মহা করুণায় তিনি এক জীবন্ত প্রত্যাশায় আমাদের নতুন জন্ম দান করেছেন
1PE 1:4 এবং তিনি এক অধিকার দিয়েছেন, যা অক্ষয়, অম্লান এবং নিষ্কলঙ্ক; তা তোমাদেরই জন্য স্বর্গে সঞ্চিত আছে।
1PE 1:5 যে পরিত্রাণ অন্তিমকালে প্রকাশিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, যা প্রভুর আগমনের সময় পর্যন্ত বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের পরাক্রমের দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে।
1PE 1:6 এই কারণে তোমরা মহা উল্লসিত হয়েছ, যদিও বর্তমানে কিছু সময়ের জন্য সমস্ত রকম পরীক্ষায় তোমাদের দুঃখকষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
1PE 1:7 সোনা আগুনের দ্বারা পরিশোধিত হলেও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তার থেকেও বহুমূল্য তোমাদের বিশ্বাস তেমনি আগুনের মাধ্যমে শুদ্ধ হয়েছে যেন যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশকালে তা প্রশংসা, গৌরব ও মর্যাদা লাভ করতে পারে।
1PE 1:8 তোমরা তাঁকে দেখোনি অথচ তাঁকে ভালোবেসেছ; আর যদিও তোমরা তাঁকে এখন দেখতে পাচ্ছ না, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করে অবর্ণনীয় ও মহিমাময় আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠছ,
1PE 1:9 কারণ তোমরা তোমাদের বিশ্বাসের লক্ষ্য, অর্থাৎ তোমাদের প্রাণের পরিত্রাণ লাভ করছ।
1PE 1:10 এই পরিত্রাণ সম্পর্কে ভাববাদীরা তোমাদের কাছে ইতিপূর্বে যে আসন্ন অনুগ্রহের কথা বলেছিলেন, তাঁরাও নিষ্ঠাভরে ও পরম যত্নের সঙ্গে তা অনুসন্ধান করেছিলেন।
1PE 1:11 তাঁদের অন্তরে স্থিত খ্রীষ্টের আত্মা তাঁদের কাছে খ্রীষ্টের কষ্টভোগ ও পরবর্তী মহিমার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন এবং কোন সময়ে ও কোন পরিস্থিতিতে তা ঘটবে, তার সন্ধান পেতে তাঁরা চেষ্টা করছিলেন।
1PE 1:12 তাঁদের কাছে এ বিষয় প্রকাশিত হয়েছিল যে, তাঁরা নিজেদের সেবা করছেন না, কিন্তু তোমাদের সেবা করছেন। আর এখন এই সুসমাচার তাঁদের মাধ্যমে তোমাদের কাছে ঘোষণা করা হয়েছে যাঁরা স্বর্গ থেকে প্রেরিত পবিত্র আত্মার শক্তিতে এই সমস্ত প্রচার করেছিলেন। আবার স্বর্গদূতেরাও সাগ্রহে এসব প্রত্যক্ষ করার আকাঙ্ক্ষায় রয়েছেন।
1PE 1:13 অতএব, কর্মে তৎপর হওয়ার জন্য তোমাদের মনকে প্রস্তুত করো, আত্মসংযমী হও; যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশকালে যে অনুগ্রহ তোমাদের দেওয়া হবে, তার উপরে পূর্ণ প্রত্যাশা রাখো।
1PE 1:14 বাধ্য সন্তানদের মতো চলো, অজ্ঞতাবশত আগে যেভাবে মন্দ বাসনার বশে চলতে, তার মতো আর হোয়ো না।
1PE 1:15 কিন্তু যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, তিনি যেমন পবিত্র, তোমরাও তেমনই সমস্ত আচার-আচরণে পবিত্র হও।
1PE 1:16 কারণ লেখা আছে, “তোমরা পবিত্র হও, কারণ আমি পবিত্র।”
1PE 1:17 যেহেতু তোমরা এমন পিতার নামে আহ্বান করো, যিনি সব মানুষের কাজ নিরপেক্ষভাবে বিচার করেন, তাই তোমরা সম্ভ্রমপূর্ণ ভয়ে প্রবাসীর মতো এখানে নিজেদের জীবনযাপন করো।
1PE 1:18 কারণ তোমরা জানো যে, তোমাদের পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া অলীক আচার-ব্যবহার থেকে, রুপো বা সোনার মতো ক্ষয়িষ্ণু বস্তুর বিনিময়ে তোমরা মুক্তি পাওনি,
1PE 1:19 কিন্তু নির্দোষ ও নিষ্কলঙ্ক মেষশাবক, অর্থাৎ খ্রীষ্টের বহুমূল্য রক্তের দ্বারা মুক্তি পেয়েছ।
1PE 1:20 জগৎ সৃষ্টির আগে থেকে ঈশ্বর তাঁকে মনোনীত করেছিলেন, কিন্তু তোমাদের কারণে এই শেষ সময়ে তিনি প্রকাশিত হয়েছেন।
1PE 1:21 তাঁরই মাধ্যমে তোমরা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছ, যিনি তাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করে মহিমান্বিত করেছেন। সেই কারণে, তোমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ঈশ্বরের উপরে রয়েছে।
1PE 1:22 এখন তোমরা সত্যের বাধ্য হয়ে নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছ যেন ভাইবোনেদের প্রতি তোমাদের আন্তরিক ভালোবাসা থাকে, তোমরা অন্তর থেকেই পরস্পরকে ভালোবাসো।
1PE 1:23 কারণ তোমরা ক্ষয়িষ্ণু বীর্য থেকে নয়, কিন্তু অক্ষয় বীর্য থেকে, অর্থাৎ, ঈশ্বরের জীবন্ত ও চিরস্থায়ী বাক্যের দ্বারা নতুন জন্ম লাভ করেছ।
1PE 1:24 কারণ, “সব মানুষই ঘাসের মতো, আর তাদের সব সৌন্দর্য মেঠো-ফুলের মতো; ঘাস শুকিয়ে যায় ও ফুল ঝরে পড়ে,
1PE 1:25 কিন্তু প্রভুর বাক্য থাকে চিরকাল।” আর সুসমাচারের এই বাক্যই তোমাদের কাছে প্রচার করা হয়েছে।
1PE 2:1 অতএব, তোমরা সমস্ত বিদ্বেষ ও সমস্ত ছলনা, ভণ্ডামি, ঈর্ষা ও সমস্ত রকম কুৎসা-রটানো ত্যাগ করো।
1PE 2:2 নবজাত শিশুর মতো, বিশুদ্ধ আত্মিক দুধের আকাঙ্ক্ষা করো, যেন এর গুণে তোমরা পরিত্রাণের পূর্ণ অভিজ্ঞতায় বৃদ্ধিলাভ করতে পারো,
1PE 2:3 যেহেতু এখন তোমরা আস্বাদন করে দেখেছ যে, প্রভু মঙ্গলময়।
1PE 2:4 তোমরা যখন তাঁর কাছে অর্থাৎ সেই জীবন্ত পাথরের কাছে এসেছ—যিনি মানুষের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, কিন্তু ঈশ্বরের দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন ও তাঁর কাছে মহামূল্যবান ছিলেন—
1PE 2:5 তখন তোমাদেরও জীবন্ত পাথরের মতো, একটি আত্মিক আবাসরূপে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেন এক পবিত্র যাজকসমাজ হয়ে তোমরা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য আত্মিক বলি উৎসর্গ করতে পারো।
1PE 2:6 কারণ শাস্ত্রে বলা হয়েছে: “দেখো, আমি সিয়োনে এক পাথর স্থাপন করি, এক মনোনীত ও মহামূল্যবান কোণের পাথর, যে তাঁর উপরে আস্থা রাখে, সে কখনও লজ্জিত হবে না।”
1PE 2:7 এখন তোমরা যারা বিশ্বাস করো, তাদের কাছে এই পাথর বহুমূল্য। কিন্তু যারা বিশ্বাস করে না, তাদের ক্ষেত্রে, “গাঁথকেরা যে পাথর অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল কোণের প্রধান পাথর,”
1PE 2:8 এবং “এক পাথর, যাতে মানুষ হোঁচট খাবে এবং এক শিলা, যার কারণে তাদের পতন হবে।” সেই বাক্যের অবাধ্য হওয়াতে তারা হোঁচট খায়, যার জন্য তারা নির্ধারিত হয়েই আছে।
1PE 2:9 কিন্তু তোমরা এক মনোনীত বংশ, এক রাজকীয় যাজক-সম্প্রদায়, এক পবিত্র জাতি, ঈশ্বরের অধিকারস্বরূপ নিজস্ব এক প্রজা, যেন তোমরা তাঁরই গুণকীর্তন করতে পারো, যিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আহ্বান করে তাঁর আশ্চর্য জ্যোতির মধ্যে নিয়ে এসেছেন।
1PE 2:10 এক সময় তোমরা তাঁর প্রজা ছিলে না, কিন্তু এখন তোমরা ঈশ্বরের প্রজা হয়েছ; এক সময় তোমরা করুণা পাওনি, কিন্তু এখন তোমরা করুণা লাভ করেছ।
1PE 2:11 প্রিয় বন্ধুরা, আমি তোমাদের অনুনয় করি, যেহেতু পৃথিবীতে তোমরা বিদেশি ও প্রবাসী তাই তোমরা পাপপূর্ণ কামনাবাসনা থেকে দূরে থাকো, যেগুলি তোমাদের প্রাণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
1PE 2:12 অবিশ্বাসী প্রতিবেশীদের মধ্যে তোমরা এমন উৎকৃষ্ট মানের জীবনযাপন করো যে, যদিও তারা তোমাদের দুষ্কর্মকারী বলে অপবাদ দেয়, তবুও তারা তোমাদের সৎ কর্মগুলি দেখতে পায় ও যেদিন ঈশ্বর আমাদের পরিদর্শন করেন, সেদিন তারা তাঁর গৌরব কীর্তন করবে।
1PE 2:13 তোমরা প্রভুর কারণে মানুষের মধ্যে নিযুক্ত প্রত্যেক কর্তৃপক্ষের বশ্যতাস্বীকার করো—তা তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাজা হন
1PE 2:14 বা তাঁর প্রেরিত প্রদেশপাল হন। কারণ অন্যায়কারীদের শাস্তি ও সদাচারীদের প্রশংসা করতে রাজাই তাঁদের নিযুক্ত করেছেন।
1PE 2:15 কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা হল এই যে, সৎকর্মের দ্বারা তোমরা নির্বোধ লোকেদের অর্থইীন কথাবার্তাকে যেন স্তব্ধ করে দিতে পারো।
1PE 2:16 তোমরা স্বাধীন মানুষের মতো জীবনযাপন করো; কিন্তু তোমাদের স্বাধীনতাকে দুষ্কর্মের আড়ালস্বরূপ ব্যবহার কোরো না; বরং তোমরা ঈশ্বরের সেবকরূপে জীবনযাপন করো।
1PE 2:17 প্রত্যেক মানুষের প্রতি যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করো: বিশ্বাসী সমাজকে প্রেম করো, ঈশ্বরকে ভয় করো, রাজাকে সমাদর করো।
1PE 2:18 ক্রীতদাসেরা, তোমরা সব ব্যাপারে শ্রদ্ধার সঙ্গে তোমাদের মনিবদের বশ্যতাস্বীকার করো; কেবলমাত্র যারা সজ্জন ও সুবিবেচক, তাদেরই নয়, কিন্তু যারা হৃদয়হীন, তাদেরও।
1PE 2:19 কারণ ঈশ্বরসচেতন কোনো ব্যক্তি যদি অন্যায্য যন্ত্রণা পেয়ে কষ্টভোগ করে, তাহলে তা প্রশংসার যোগ্য।
1PE 2:20 কিন্তু অন্যায় কাজের জন্য যদি মার খাও ও তা সহ্য করো, তাহলে এতে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? বরং সৎকর্মের জন্য যদি কষ্টভোগ করো ও তা সহ্য করো, তাই ঈশ্বরের কাছে প্রশংসনীয়।
1PE 2:21 এই উদ্দেশ্যেই তোমাদের আহ্বান করা হয়েছ, কারণ খ্রীষ্টও তোমাদের জন্য কষ্টভোগ করেছেন ও তোমাদের কাছে এক দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যেন তোমরাও তাঁর চলার পথ অনুসরণ করো।
1PE 2:22 “তিনি কোনও পাপ করেননি, তাঁর মুখেও কোনো ছলনার বাণী পাওয়া যায়নি।”
1PE 2:23 তাঁর প্রতি যখন নিন্দা-অপমান বর্ষিত হল, তিনি প্রতিনিন্দা করলেন না। যখন কষ্টভোগ করলেন, তিনি কোনও কটু বাক্য উচ্চারণ করলেন না। পরিবর্তে, যিনি ন্যায়বিচারক, তিনি তাঁরই হাতে বিচারের ভার অর্পণ করলেন।
1PE 2:24 স্বয়ং তিনি ক্রুশের উপরে নিজ শরীরে আমাদের “পাপরাশি বহন করলেন,” যেন আমরা পাপসমূহের প্রতি মৃত্যুবরণ করে ধার্মিকতার প্রতি জীবিত হই; “তাঁরই সব ক্ষত দ্বারা তোমরা আরোগ্য লাভ করেছ।”
1PE 2:25 কারণ “তোমরা বিপথগামী মেষের মতো ছিলে,” কিন্তু এখন তোমরা তোমাদের প্রাণের পালক ও তত্ত্বাবধায়কের কাছে ফিরে এসেছ।
1PE 3:1 একইভাবে স্ত্রীরা, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্বামীর বশ্যতাধীন হও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ যদি বাক্যের অবাধ্য হয়, তবে কোনো বাক্য ছাড়াই তাদের স্ত্রীর আচার-আচরণের দ্বারা তাদের জয় করা যাবে,
1PE 3:2 যখন তারা তোমাদের জীবনের শুদ্ধতা ও সম্ভ্রমপূর্ণ মনোভাব লক্ষ্য করবে।
1PE 3:3 তোমাদের সৌন্দর্য যেন বাহ্যিক সাজসজ্জা, যেমন চুলের বাহার, সোনার অলংকার বা সূক্ষ্ম পোশাক-পরিচ্ছদের উপর নির্ভরশীল না হয়।
1PE 3:4 বরং সেই সৌন্দর্য হবে তোমাদের আন্তরিক সত্তার, শান্ত ও কোমল আত্মার অম্লান শোভায় ভূষিত, যা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে মহামূল্যবান।
1PE 3:5 কারণ প্রাচীনকালের পবিত্র নারীরা, যাঁরা ঈশ্বরের উপরে প্রত্যাশা রাখতেন, এভাবেই নিজেদের সৌন্দর্যময়ী করতেন। তাঁরা নিজের নিজের স্বামীর বশ্যতাধীন থাকতেন,
1PE 3:6 যেমন সারা, তিনি অব্রাহামের বাধ্য ছিলেন এবং তাঁকে “প্রভু” বলে সম্বোধন করতেন। যদি তোমরা ন্যায়সংগত কাজ করো ও ভয়ভীত না হও, তাহলে তোমরা তাঁরই কন্যা হয়ে উঠেছ।
1PE 3:7 একইভাবে স্বামীরা, তোমরা তোমাদের স্ত্রীর সঙ্গে বাস করার সময় সুবিবেচক হও। তাদের দুর্বলতর সঙ্গী ও জীবনের অনুগ্রহ-রূপ বরদানের সহ-উত্তরাধিকারী জেনে, তোমরা তাদের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্বক আচরণ কোরো, যেন কোনো কিছুই তোমাদের প্রার্থনায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।
1PE 3:8 সবশেষে বলি, তোমরা সবাই পরস্পরের সঙ্গে মিল রেখে বসবাস করো; তোমরা সহানুভূতিশীল, একে অপরকে ভালোবাসো, দরদি ও নতনম্র হও।
1PE 3:9 মন্দের পরিশোধে মন্দ বা অপমানের পরিশোধে অপমান কোরো না, বরং আশীর্বাদ কোরো; কারণ এর জন্যই তোমাদের আহ্বান করা হয়েছ, যেন তোমরা আশীর্বাদের অধিকারী হতে পারো।
1PE 3:10 কারণ, “কেউ যদি জীবন ভালোবাসতে চায়, মঙ্গলের দিন দেখতে চায়, সে অবশ্যই মন্দ থেকে তার জিভ ও ছলনাপূর্ণ বাক্য থেকে তার ঠোঁট রক্ষা করবে।
1PE 3:11 তারা মন্দ থেকে মন ফেরাবে আর সৎকর্ম করবে তারা অবশ্যই শান্তির সন্ধান করবে ও তা অনুসরণ করবে।
1PE 3:12 কারণ প্রভুর দৃষ্টি ধার্মিকদের প্রতি রয়েছে, আর তাদের প্রার্থনায় তিনি কর্ণপাত করেন, কিন্তু যারা দুষ্কর্ম করে প্রভুর মুখ তাদের বিরুদ্ধে।”
1PE 3:13 তোমরা যদি সৎকর্ম করতে আগ্রহী হও, কে তোমাদের ক্ষতি করবে?
1PE 3:14 কিন্তু ন্যায়সংগত কাজের জন্য যদি তোমরা কষ্টও ভোগ করো, তাহলে তোমরা ধন্য। “তাদের ভীতি প্রদর্শনে তোমরা ভয় পেয়ো না, তোমরা বিচলিত হোয়ো না।”
1PE 3:15 কিন্তু তোমাদের হৃদয়ের মধ্যে খ্রীষ্টকেই প্রভু বলে মান্য করো। তোমাদের অন্তরের প্রত্যাশার কারণ সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে, তাকে উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থেকো। কিন্তু তা কোমলতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে কোরো,
1PE 3:16 বিবেককে স্বচ্ছ রেখো, যেন তোমাদের খ্রীষ্টীয় সদাচরণ দেখে যারা বিদ্বেষপূর্ণভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা তাদের কটূক্তির জন্য লজ্জিত হয়।
1PE 3:17 যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়, তবে দুষ্কর্ম করে দুঃখকষ্ট ভোগ করার চেয়ে বরং সৎকর্ম করে কষ্টভোগ করা শ্রেয়।
1PE 3:18 কারণ খ্রীষ্টও পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য একবারই মৃত্যুবরণ করেছেন, সেই ধার্মিক ব্যক্তি অধার্মিকদের জন্য করেছেন, যেন তোমাদের ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। তাঁকে শরীরে হত্যা করা হলেও আত্মায় জীবিত করা হয়েছে,
1PE 3:19 যাঁর মাধ্যমে কারাগারে বন্দি আত্মাদের কাছে গিয়ে তিনি প্রচার করেছিলেন।
1PE 3:20 এই আত্মারা বহুপূর্বে অবাধ্য হয়েছিল, যখন ঈশ্বর নোহের সময়ে সহিষ্ণুতার সঙ্গে অপেক্ষা করেছিলেন এবং জাহাজ নির্মিত হচ্ছিল। এর মধ্যে মাত্র কয়েকজন, সর্বমোট আটজন জলের মধ্য থেকে উদ্ধার পেয়েছিল।
1PE 3:21 এই জলই হল বাপ্তিষ্মের প্রতীক, যা এখন তোমাদেরও রক্ষা করে—শরীর থেকে ময়লা দূর করার জন্য নয়, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে এক সৎ বিবেক নিবেদন করার জন্য। এ যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদের পরিত্রাণ সাধন করে।
1PE 3:22 তিনি স্বর্গে গিয়েছেন ও ঈশ্বরের ডানদিকে আছেন—সব স্বর্গদূত, কর্তৃত্ব ও পরাক্রম তাঁরই বশ্যতাধীন রয়েছে।
1PE 4:1 অতএব, খ্রীষ্ট তাঁর শরীরে কষ্টভোগ করেছেন বলে, তোমরাও সেই একই উপায়ে নিজেদের সুসজ্জিত করে তোলো, কারণ যে শরীরে কষ্টভোগ করেছে, সে পাপের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছে।
1PE 4:2 এর ফলে, সে মন্দ দৈহিক কামনাবাসনায় তার পার্থিব জীবনযাপন করে না, বরং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই করে।
1PE 4:3 অইহুদিরা যেমন করে—লম্পটতা, ভোগলালসা, মদ্যপান, রঙ্গরস ও ঘৃণ্য প্রতিমাপূজা—এসব করে অতীতে তোমরা যথেষ্ট সময় কাটিয়ে দিয়েছ।
1PE 4:4 তোমরা তাদের মতো একই উচ্ছৃঙ্খলতার জীবন অনুসরণ করছ না বলে এখন তারা বিস্ময় বোধ করে ও তোমাদের উপরে অবমাননার বোঝা চাপিয়ে দেয়।
1PE 4:5 কিন্তু যিনি জীবিত ও মৃতদের বিচার করতে প্রস্তুত, তাঁর কাছে তাদের কৈফিয়ত দিতে হবে।
1PE 4:6 এই কারণেই এখন যারা মৃত, তাদের কাছেও সুসমাচার প্রচার করা হয়েছিল, যেন শারীরিকভাবে মানুষের মতো তাদের বিচার করা গেলেও, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী তারা আত্মায় জীবিত থাকে।
1PE 4:7 সবকিছুরই অন্তিমকাল সন্নিকট। অতএব তোমরা শুদ্ধমন ও আত্মসংযমী হও, যেন প্রার্থনা করতে পারো।
1PE 4:8 সর্বোপরি, পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবাসো, কারণ “ভালোবাসা পাপকে আবৃত করে।”
1PE 4:9 বিরক্তি বোধ না করে তোমরা একে অপরের আতিথ্য করো।
1PE 4:10 প্রত্যেকেই অন্যদের সেবা করার উদ্দেশে যে বরদান লাভ করেছে, ঈশ্বরের সেই অনুগ্রহ তারা বিশ্বস্ত কর্মাধ্যক্ষের মতো ব্যবহার করুক।
1PE 4:11 কেউ যদি কথা বলে, সে এমনভাবে বলুক, যেন ঈশ্বরের বাণীই বলছে। কেউ যদি সেবা করে, সে ঈশ্বরের দেওয়া শক্তির গুণেই তা করুক, যেন সব বিষয়ে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বর প্রশংসিত হন। মহিমা ও পরাক্রম যুগে যুগে চিরকাল তাঁরই হোক। আমেন।
1PE 4:12 প্রিয় বন্ধুরা, যে যন্ত্রণাপূর্ণ পরীক্ষা তোমরা ভোগ করছ, তা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা তোমাদের প্রতি ঘটছে মনে করে বিস্মিত হোয়ো না।
1PE 4:13 কিন্তু খ্রীষ্টের কষ্টভোগে তোমরাও অংশগ্রহণ করছ মনে করে আনন্দ করো, যেন যেদিন তাঁর মহিমা প্রকাশিত হবে, সেদিন তোমরাও অতিশয় আনন্দিত হতে পারো।
1PE 4:14 খ্রীষ্টের নামের জন্য যদি তোমরা অপমানিত হও, তাহলে তোমরা ধন্য, কারণ ঈশ্বরের মহিমাময় আত্মা তোমাদের উপরে অধিষ্ঠান করছেন।
1PE 4:15 তোমরা যদি কষ্টভোগ করো, তাহলে হত্যাকারী বা চোর অথবা অন্য কোনো প্রকার অপরাধী হয়ে, এমনকি, অনধিকার-চর্চাকারীরূপে করো না,
1PE 4:16 কিন্তু যদি খ্রীষ্টিয়ান বলে কষ্টভোগ করো, তাহলে লজ্জিত হোয়ো না, বরং সেই নামের জন্য ঈশ্বরের প্রশংসা করো।
1PE 4:17 কারণ ঈশ্বরের গৃহেই বিচারের সময় আরম্ভ হল, আর তা যদি আমাদের দিয়ে শুরু হয়, তাহলে যারা ঈশ্বরের সুসমাচারের অবাধ্য, তাদের পরিণতি কী হবে?
1PE 4:18 আবার, “পরিত্রাণ লাভ যদি ধার্মিকদেরই কষ্টসাধ্য হয়, তাহলে ভক্তিহীন ও পাপীদের কী হবে?”
1PE 4:19 তাহলে, সেই কারণে যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী কষ্টভোগ করে, তারা তাদের বিশ্বস্ত সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদের সমর্পণ করুক ও সৎকর্ম করে যাক।
1PE 5:1 তোমাদের মধ্যে যে প্রাচীনেরা আছেন, তাদের কাছে আমিও একজন প্রাচীন, খ্রীষ্টের কষ্টভোগের সাক্ষী ও যে মহিমা প্রকাশিত হবে তার অংশীদাররূপে আমি মিনতি করছি,
1PE 5:2 ঈশ্বরের যে পাল তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, তাদের পালক হও—তত্ত্বাবধায়করূপে তাদের সেবা করো—বাধ্য হয়ে নয়, কিন্তু তোমরা ইচ্ছুক বলে, যেমন ঈশ্বর তোমাদের কাছে চান; অর্থের লালসায় নয়, কিন্তু সেবার আগ্রহ নিয়ে,
1PE 5:3 যাদের তোমাদের হাতে সমপর্ণ করা হয়েছে, তাদের উপরে প্রভুত্ব করার জন্য নয়, কিন্তু পালের কাছে আদর্শস্বরূপ হয়ে করো।
1PE 5:4 তাহলে, যখন প্রধান পালক প্রকাশিত হবেন, তোমরা মহিমার মুকুট লাভ করবে, যা কখনও ম্লান হবে না।
1PE 5:5 সেভাবে যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশ্যতাস্বীকার করো। তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই পরস্পরের প্রতি নতনম্র আচরণ করো, কারণ, “ঈশ্বর অহংকারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু বিনম্রদের অনুগ্রহ-দান করেন।”
1PE 5:6 সেই কারণে, ঈশ্বরের পরাক্রমী হাতের নিচে, নিজেদের নতনম্র করো, যেন তিনি উপযুক্ত সময়ে তোমাদের উন্নত করেন।
1PE 5:7 তোমাদের সমস্ত দুশ্চিন্তার ভার তাঁরই উপরে দিয়ে দাও, কারণ তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন।
1PE 5:8 তোমরা আত্মসংযমী হও ও সতর্ক থাকো। তোমাদের শত্রু, সেই দিয়াবল, গর্জনকারী সিংহের মতো কাকে গ্রাস করবে, তাকে চারদিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
1PE 5:9 বিশ্বাসে অটল থেকে তোমরা তার প্রতিরোধ করো, কারণ তোমরা জানো যে, সমগ্র জগতে বিশ্বাসী মণ্ডলীও একই রকমের কষ্ট-লাঞ্ছনা ভোগ করছে।
1PE 5:10 আর সমস্ত অনুগ্রহের ঈশ্বর, যিনি খ্রীষ্টে তাঁর অনন্ত মহিমা প্রদানের জন্য তোমাদের আহ্বান করেছেন, সাময়িক কষ্টভোগ করার পর তিনি স্বয়ং তোমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তোমাদের শক্তিশালী, সুদৃঢ় ও অবিচল করবেন।
1PE 5:11 যুগে যুগে চিরকাল তাঁর পরাক্রম হোক। আমেন।
1PE 5:12 সীল, যাঁকে আমি বিশ্বস্ত ভাই বলে মনে করি, তাঁরই সাহায্য নিয়ে আমি তোমাদের উৎসাহ দিয়ে এই সংক্ষিপ্ত পত্র লিখেছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই হল ঈশ্বরের প্রকৃত অনুগ্রহ। এতেই তোমরা স্থির থাকো।
1PE 5:13 তোমাদেরই সঙ্গে মনোনীত ব্যাবিলনবাসী সেই বোন তোমাদের প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমার পুত্রসম মার্ক-ও তাঁর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
1PE 5:14 প্রীতি-চুম্বনে তোমরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাও। তোমরা যতজন খ্রীষ্টে আছ, সকলের প্রতি শান্তি বর্তুক।
2PE 1:1 আমি শিমোন পিতর, যীশু খ্রীষ্টের একজন প্রেরিতশিষ্য ও দাস, যারা আমাদের ঈশ্বর ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতার মাধ্যমে আমাদের মতোই বহুমূল্য বিশ্বাস পেয়েছে, তাদের উদ্দেশে এই পত্র লিখছি।
2PE 1:2 ঈশ্বর ও আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে জ্ঞানলাভের মাধ্যমে তোমরা প্রচুর পরিমাণে অনুগ্রহ ও শান্তির অধিকারী হও।
2PE 1:3 যিনি নিজ মহিমা ও মহত্ত্বে আমাদের আহ্বান করেছেন, তাঁর তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা তাঁর ঐশ্বরিক পরাক্রম আমাদের জীবন ও ভক্তিপরায়ণতা সম্পর্কে যা কিছু প্রয়োজন, সবকিছুই দান করেছেন।
2PE 1:4 এসবের মাধ্যমে তিনি আমাদের তাঁর অত্যন্ত মহান ও বহুমূল্য সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যেন সেগুলির মাধ্যমে ঐশ্বরিক স্বভাবের অংশীদার হও। সেই সঙ্গে মন্দ কামনাবাসনার দ্বারা উদ্ভূত যে জগতের কলুষতা, তা থেকে তোমরা পালিয়ে যেতে পারো।
2PE 1:5 বিশেষ এই কারণেই তোমরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করে তোমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করো সৎ আচরণ, সৎ আচরণের সঙ্গে জ্ঞান,
2PE 1:6 জ্ঞানের সঙ্গে আত্মসংযম, আত্মসংযমের সঙ্গে নিষ্ঠা, নিষ্ঠার সঙ্গে ভক্তি
2PE 1:7 ও ভক্তির সঙ্গে একে অপরের প্রতি স্নেহ এবং একে অপরের প্রতি স্নেহের সঙ্গে ভালোবাসা।
2PE 1:8 কারণ তোমরা যদি এই সমস্ত গুণের অধিকারী হয়ে সেগুলির বৃদ্ধি ঘটাও, তাহলে সেগুলিই তোমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সম্বন্ধে জ্ঞানলাভের পথে তোমাদের নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল হতে দেবে না।
2PE 1:9 কিন্তু কারও মধ্যে যদি সেগুলি না থাকে, সে অদূরদর্শী ও অন্ধ, সে ভুলে গেছে যে, তার অতীতের সব পাপ থেকে সে শুদ্ধ হয়েছে।
2PE 1:10 সেই কারণে ভাইবোনেরা, তোমাদের আহ্বান ও মনোনীত হওয়া সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য তোমরা সবাই আরও বেশি আগ্রহী হও। কারণ তোমরা এসব বিষয় সম্পন্ন করলে তোমরা কখনও ব্যর্থ হবে না।
2PE 1:11 আর তোমরা আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের অনন্ত রাজ্যে সাদর অভ্যর্থনা লাভ করবে।
2PE 1:12 অতএব, আমি এই সমস্ত বিষয় প্রতিনিয়ত তোমাদের মনে করিয়ে দেব, যদিও তোমরা সেসব জানো এবং এখন যে সত্য তোমরা জেনেছ তাতেই দৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত আছ।
2PE 1:13 এই দেহরূপ তাঁবুতে আমি যতদিন বাস করব, ততদিন তোমাদের মনে করিয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য বলে মনে করি।
2PE 1:14 কারণ আমি জানি, খুব শীঘ্রই আমাকে তা ছেড়ে যেতে হবে, প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আমাকে তা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন।
2PE 1:15 আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব, যেন আমার চলে যাওয়ার পরেও তোমরা এসব বিষয় সবসময়ই মনে রাখতে পারো।
2PE 1:16 তোমাদের কাছে যখন প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরাক্রম ও আগমনের কথা বলেছিলাম, তখন আমরা কৌশলে কোনো কল্পকাহিনির আশ্রয় গ্রহণ করিনি, কিন্তু আমরা ছিলাম তাঁর মহিমার প্রত্যক্ষদর্শী।
2PE 1:17 কারণ তিনি পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে সম্মান ও গৌরব পেয়েছিলেন, যখন রাজসিক মহিমা থেকে এক বাণী তাঁর কাছে উপস্থিত হল, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, যাঁকে আমি প্রেম করি, এঁর প্রতি আমি পরম প্রসন্ন।”
2PE 1:18 আমরা যখন তাঁর সঙ্গে সেই পবিত্র পর্বতে ছিলাম, আমরা নিজেরাও স্বর্গ থেকে শোষিত সেই স্বর শুনেছি।
2PE 1:19 আবার, আমাদের কাছে ভাববাদীদের বাণীও রয়েছে যা আমাদের আরও সুনিশ্চিত করেছে এবং তোমরা এ বিষয়ে মনোনিবেশ করলে ভালোই করবে, কারণ যতদিন না দিনের আলো ফুটে ওঠে ও তোমাদের হৃদয়ের আকাশে প্রভাতি তারার উদয় হয়, ততদিন এই বাণীই হবে অন্ধকারময় স্থানে প্রদীপের মতো।
2PE 1:20 সর্বোপরি, তোমাদের অবশ্যই বুঝে নিতে হবে যে, শাস্ত্রের কোনো ভবিষ্যদ্‌বাণী ভাববাদীর নিজের ব্যাখ্যার বিষয় নয়।
2PE 1:21 কারণ মানুষের ইচ্ছা থেকে কখনও ভাববাণীর উদ্ভব হয়নি, মানুষেরা পবিত্র আত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়ে ঈশ্বর থেকে যা পেয়েছেন, তাই বলেছেন।
2PE 2:1 কিন্তু, সেই ইস্রায়েলী প্রজাদের মধ্যে ভণ্ড ভাববাদীরাও ছিল, যেমন তোমাদের মধ্যে ভণ্ড শিক্ষকদের দেখা যাবে। তারা গোপনে ধ্বংসাত্মক মতবাদ প্রচার করবে, এমনকি, যিনি তাদের কিনে নিয়েছেন, সেই সার্বভৌম প্রভুকেই অস্বীকার করবে—তারা দ্রুত নিজেদের বিনাশ ডেকে আনবে।
2PE 2:2 বহু মানুষই তাদের ঘৃণ্য আচরণের অনুসারী হবে; আর তাদের জন্য সত্যের পথ নিন্দিত করবে।
2PE 2:3 এসব শিক্ষক লোভের বশবর্তী হয়ে তাদেরই রচিত কল্পকাহিনির দ্বারা তোমাদের শোষণ করবে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উপরে শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে এবং তাদের বিনাশের আর দেরি নেই।
2PE 2:4 কারণ স্বর্গদূতেরা পাপ করলে, ঈশ্বর তাদের নিষ্কৃতি না দিয়ে নরকে পাঠিয়ে দিলেন, বিচারের জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন পাতালে শিকল দিয়ে বন্দি করে রেখে দিলেন।
2PE 2:5 তিনি প্রাচীন পৃথিবীকে নিষ্কৃতি না দিয়ে ভক্তিহীন লোকদের উপরে মহাপ্লাবন এনেছিলেন, কিন্তু ধার্মিকতার প্রচারক নোহ ও অপর আরও সাতজনকে রক্ষা করেছিলেন;
2PE 2:6 তিনি সদোম ও ঘমোরা নগর দুটিকে দোষী সাব্যস্ত করে ভস্মীভূত করেছিলেন, যেন ভবিষ্যতে ভক্তিহীন লোকদের প্রতি কী ঘটবে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
2PE 2:7 কিন্তু লোট নামের এক ধার্মিক ব্যক্তিকে, যিনি উচ্ছৃঙ্খল মানুষদের স্বেচ্ছাচারে যন্ত্রণাভোগ করতেন, তাঁকে তিনি উদ্ধার করেছিলেন।
2PE 2:8 (কারণ সেই ধার্মিক ব্যক্তি দিনের পর দিন তাদের মধ্যে বাস করে, তাদের অনাচার দেখে ও শুনে, তাঁর ধর্মময় প্রাণে কষ্ট পেতেন)—
2PE 2:9 যদি তাই হয়, তাহলে প্রভু জানেন, কীভাবে ধার্মিকদের বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করতে হয় এবং অধার্মিকদের কীভাবে বিচারদিনের জন্য রাখতে হয়, যদিও সেই সময় পর্যন্ত তাদের শাস্তি অব্যাহত রাখেন।
2PE 2:10 একথা বিশেষরূপে তাদের ক্ষেত্রে সত্য, যারা পাপময় প্রবৃত্তির কলুষিত কামনাবাসনার অনুসারী হয় ও কর্তৃত্বকে অবজ্ঞা করে। এরা দুঃসাহসী ও উদ্ধত, এরা দিব্যজনেদের নিন্দা করতে ভয় পায় না;
2PE 2:11 তবুও স্বর্গদূতেরা, যদিও তাঁরা বেশি শক্তিশালী ও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন, তাঁরা কিন্তু এদের বিরুদ্ধে প্রভুর সাক্ষাতে কুৎসাপূর্ণ অভিযোগ করেন না।
2PE 2:12 কিন্তু এই লোকেরা যে বিষয় বোঝে না, সেই বিষয়েরই নিন্দা করে। তারা হিংস্র পশুর মতো, ইতর প্রবৃত্তির প্রাণী, তাদের জন্ম কেবলমাত্র ধরা পড়ে ধ্বংস হওয়ার জন্যই হয়েছে। পশুর মতোই তারা বিনষ্ট হবে।
2PE 2:13 তারা যে অনিষ্ট করেছে, তার প্রতিফলে তারা অনিষ্টই ভোগ করবে। তাদের কাছে সুখভোগের অর্থ হল প্রকাশ্যে দিনের আলোয় ভোজনপানে মত্ত হওয়া। তোমাদের সঙ্গে ভোজসভায় যোগ দেওয়ার সময় তারা উচ্ছৃঙ্খল ভোগবাসনায় কলঙ্ক ও লজ্জার কারণ হয়।
2PE 2:14 তাদের চোখ ব্যভিচারে পূর্ণ, তারা পাপ করতে কখনও ক্ষান্ত হয় না; যাদের মতিগতির কোনো ঠিক নেই তাদের ব্যভিচারে প্রলুব্ধ করে; তারা অর্থলালসায় অভ্যস্ত, তারা অভিশপ্ত বংশ।
2PE 2:15 তারা সহজসরল পথ ত্যাগ করে, বিয়োরের পুত্র বিলিয়মের পথ অনুসরণ করেছে, যে দুষ্টতার পারিশ্রমিক ভালোবাসতো।
2PE 2:16 কিন্তু সে তার দুষ্কর্মের জন্য কথা বলতে পারে না এমন এক পশু—এক গর্দভের দ্বারা তিরস্কৃত হল; সেই গর্দভ মানুষের ভাষায় কথা বলে সেই ভাববাদীর অন্যায় কাজ সংযত করেছিল।
2PE 2:17 এই লোকেরা জলহীন উৎস ও ঝড়ে উড়ে যাওয়া কুয়াশার মতো। তাদের জন্য ঘোরতর অন্ধকার সংরক্ষিত আছে।
2PE 2:18 কারণ তারা অসার ও দাম্ভিক উক্তি করে এবং পাপপূর্ণ দৈহিক কামনাবাসনার কথা বলে। তারা সেইসব মানুষদের প্রলোভিত করে, যারা বিপথে জীবনযাপন করার হাত থেকে সবেমাত্র উদ্ধার পেয়েছে।
2PE 2:19 এই ভণ্ড শিক্ষকেরা তাদের কাছে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়, অথচ তারা নিজেরাই অনৈতিকতার ক্রীতদাস, কারণ মানুষের উপরে যা প্রভুত্ব করে, মানুষ তারই দাস।
2PE 2:20 আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টকে জানার পর তারা যদি জগতের কলুষতা থেকে মুক্ত হয়ে আবার তারই মধ্যে জড়িয়ে পড়ে ও পরাজিত হয়, তাহলে তাদের প্রথম অবস্থার চেয়ে শেষের অবস্থা হবে আরও শোচনীয়।
2PE 2:21 তাদের পক্ষে ধার্মিকতার পথ জেনে ও তাদের কাছে যে পবিত্র অনুশাসন দেওয়া হয়েছিল, তা অমান্য করার চেয়ে, সেই পথ না-জানাই তাদের পক্ষে ভালো ছিল।
2PE 2:22 তাদের পক্ষে এই প্রবাদ সত্যি: “কুকুর তার বমির দিকে ফিরে যায়,” আর “পরিচ্ছন্ন শূকর কাদায় গড়াগড়ি দিতে ফিরে যায়।”
2PE 3:1 প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের কাছে এ আমার দ্বিতীয় পত্র। তোমাদের সরল ভাবনাচিন্তাকে উদ্দীপিত করার জন্য এই দুটি পত্রে আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিয়েছি।
2PE 3:2 অতীতে পবিত্র ভাববাদীরা যেসব কথা বলে গিয়েছেন এবং তোমাদের প্রেরিতশিষ্যদের মাধ্যমে প্রদত্ত আমাদের প্রভু ও উদ্ধারকর্তা যে আদেশ দিয়েছেন, আমি চাই তোমরা যেন সেগুলি মনে রাখো।
2PE 3:3 প্রথমে, তোমরা অবশ্যই বুঝে নিয়ো যে, শেষের দিনে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকারীদের আবির্ভাব ঘটবে; তারা ব্যঙ্গবিদ্রুপ করবে ও নিজের নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবে।
2PE 3:4 তারা বলবে, “তাঁর পুনরাগমনের প্রতিশ্রুতির কী হল? আমাদের পিতৃপুরুষদের যখন থেকে মৃত্যু হয়েছে, সৃষ্টির রচনাকাল থেকে সবকিছু যেমন চলছিল, তেমনই চলছে।”
2PE 3:5 কিন্তু তারা ইচ্ছা করেই ভুলে যায় যে, আদিতে ঈশ্বরের বাক্য দ্বারাই আকাশমণ্ডল সৃষ্টি হয়েছিল এবং পৃথিবী জলের মধ্য থেকে ও জলের দ্বারা গঠিত হয়েছিল।
2PE 3:6 এই জলরাশির দ্বারাই সেই সময়ের পৃথিবী প্লাবিত হয়ে ধ্বংস হয়েছিল।
2PE 3:7 সেই একই বাক্যের দ্বারা বর্তমান আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী আগুনের জন্য সংরক্ষিত আছে, বিচারদিনের জন্য ও ভক্তিহীন মানুষদের ধ্বংসের জন্য রক্ষিত আছে।
2PE 3:8 প্রিয় বন্ধুরা, এই একটি কথা কিন্তু ভুলে যেয়ো না: প্রভুর কাছে একদিন হাজার বছরের সমান ও হাজার বছর একদিনের সমান।
2PE 3:9 প্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনে দেরি করেন না যেমন কেউ কেউ তা মনে করে। তিনি তোমাদের প্রতি দীর্ঘসহিষ্ণু, তিনি চান না, কেউ যেন বিনষ্ট হয়, কিন্তু চান, প্রত্যেকেই যেন মন পরিবর্তন করে।
2PE 3:10 কিন্তু প্রভুর সেদিন আসবে চোরের মতো। আকাশমণ্ডল গুরুগম্ভীর গর্জনে অদৃশ্য হয়ে যাবে; এর মৌলিক পদার্থগুলি আগুনে ধ্বংস হবে এবং পৃথিবী ও তার মধ্যে সবকিছুই আগুনে পুড়ে বিলীন হবে।
2PE 3:11 সবকিছুই যখন এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তোমাদের কী ধরনের মানুষ হওয়া উচিত? তোমাদের অবশ্যই পবিত্র ও ভক্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে হবে,
2PE 3:12 যখন তোমরা ঈশ্বরের সেই দিনের আগমনের জন্য প্রতীক্ষা করছ ও চাইছ যে তা যেন দ্রুত আসে। সেদিনে আকাশমণ্ডল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং মৌলিক পদার্থগুলি আগুনে পুড়ে গলে যাবে।
2PE 3:13 কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা এক নতুন আকাশ ও এক নতুন পৃথিবীর প্রতীক্ষায় আছি, তা হবে ধার্মিকতার আবাস।
2PE 3:14 তাহলে, প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা যেহেতু এরই প্রতীক্ষা করে আছ তাই সব ধরনের প্রয়াস করো, যেন তোমাদের নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ অবস্থায় ও শান্তিতে তাঁর কাছে দেখতে পাওয়া যায়।
2PE 3:15 মনে রাখবে, আমাদের প্রভুর দীর্ঘসহিষ্ণুতা মানুষকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ দেয়। আমাদের প্রিয় ভাই পৌলও ঈশ্বরের দেওয়া জ্ঞান ব্যবহার করে তোমাদের একথা লিখেছেন।
2PE 3:16 তিনি তাঁর সব পত্রেই এভাবে লিখেছেন এবং সেগুলির মধ্যে এসব বিষয়ের উল্লেখ থাকে। তাঁর পত্রগুলির মধ্যে এমন কতগুলি বিষয় থাকে, যেগুলি বুঝে ওঠা কষ্টকর। অজ্ঞ ও চঞ্চল লোকেরা শাস্ত্রের অন্যান্য বাণীর মতো এগুলিও বিকৃত করে ও নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে।
2PE 3:17 তাই প্রিয় বন্ধুরা, যেহেতু তোমরা এ বিষয় আগে থেকেই জানো, সতর্ক থেকো, যেন তোমরা স্বেচ্ছাচারী মানুষদের ভুল পথে ভেসে যেয়ো না ও তোমাদের নিরাপদ অবস্থান থেকে বিপথ না যাও।
2PE 3:18 কিন্তু তোমরা আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ ও জ্ঞানে বৃদ্ধি পেতে থাকো। এখন ও চিরকাল পর্যন্ত তাঁর মহিমা হোক। আমেন।
1JO 1:1 প্রথম থেকেই যা ছিল বিদ্যমান, যা আমরা শুনেছি, যা আমরা নিজের চোখে দেখেছি, যা আমরা নিরীক্ষণ করেছি এবং নিজের হাতে যা স্পর্শ করেছি, জীবনের সেই বাক্য সম্পর্কে আমরা ঘোষণা করছি।
1JO 1:2 সেই জীবন প্রকাশিত হলেন, আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি ও সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি। যা পিতার কাছে ছিল এবং যা আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে, আমরা সেই অনন্ত জীবনের কথা তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি।
1JO 1:3 আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি, তাই তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি, যেন তোমরা আমাদের সঙ্গে সহভাগিতা স্থাপন করতে পারো। আর আমাদের সহভাগিতা পিতা ও তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সঙ্গে।
1JO 1:4 তোমাদের আমরা একথা লিখছি, যেন আমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয়।
1JO 1:5 এই বাণী আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনে তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি: ঈশ্বর জ্যোতি; তাঁর মধ্যে অন্ধকারের লেশমাত্র নেই।
1JO 1:6 তাঁর সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা আছে, এমন দাবি করেও যদি অন্ধকারে চলি, তবে আমরা মিথ্যা কথা বলি এবং সত্যে জীবনযাপন করি না।
1JO 1:7 কিন্তু তিনি যেমন জ্যোতিতে আছেন আমরাও যদি তেমন জ্যোতিতে জীবন কাটাই, তাহলে পরস্পরের সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা আছে এবং তাঁর পুত্র যীশুর রক্ত সব পাপ থেকে আমাদের শুচিশুদ্ধ করে।
1JO 1:8 আমরা যদি নিজেদের নিষ্পাপ বলে দাবি করি, তাহলে আমরা নিজেদের প্রতারণা করি এবং সত্য আমাদের মধ্যে বাস করে না।
1JO 1:9 আমরা যদি আমাদের পাপস্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ, তাই তিনি আমাদের সব পাপ ক্ষমা করে সমস্ত অধার্মিকতা থেকে শুচিশুদ্ধ করবেন।
1JO 1:10 যদি আমরা বলি যে আমরা পাপ করিনি, আমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করি এবং আমাদের জীবনে তাঁর বাক্যের কোনও স্থান নেই।
1JO 2:1 আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমি তোমাদের এসব লিখছি, যেন তোমরা পাপ না করো। কিন্তু কেউ যদি পাপ করে, তাহলে আমাদের একজন পক্ষসমর্থনকারী আছেন; তিনি আমাদের হয়ে পিতার কাছে মিনতি করেন। তিনি যীশু খ্রীষ্ট, সেই ধার্মিক পুরুষ।
1JO 2:2 তিনি আমাদের সব পাপের প্রায়শ্চিত্ত, শুধুমাত্র আমাদের জন্য নয়, কিন্তু সমস্ত জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন।
1JO 2:3 আমরা যদি তাঁর আদেশ পালন করি, তাহলেই বুঝতে পারব যে আমরা তাঁকে জেনেছি।
1JO 2:4 যে ব্যক্তি বলে, “আমি তাঁকে জানি,” কিন্তু তাঁর আদেশ পালন করে না, সে মিথ্যাচারী, তার অন্তরে সত্য নেই।
1JO 2:5 কিন্তু যে তাঁর বাক্য পালন করে, তার অন্তরে ঈশ্বরের প্রেম প্রকৃত অর্থেই পূর্ণতা লাভ করেছে। এভাবেই আমরা জানতে পারি যে, আমরা তাঁর মধ্যে আছি।
1JO 2:6 তাঁর মধ্যে বাস করছে বলে যে দাবি করে, সে অবশ্যই তেমন জীবনাচরণ করবে ঠিক যেমন যীশু করতেন।
1JO 2:7 প্রিয় বন্ধুরা, আমি তোমাদের কাছে নতুন আদেশ নয়, কিন্তু এক পুরোনো আদেশ সম্পর্কেই লিখছি, যা তোমরা প্রথম থেকেই পেয়েছ। এই পুরোনো আদেশই সেই বাণী, যা তোমরা শুনেছ,
1JO 2:8 তবুও, তোমাদের কাছে আমি এক নতুন আদেশ সম্পর্কে লিখছি; এর সত্যতা তাঁর এবং তোমাদের জীবনে প্রত্যক্ষ হয়েছে, কারণ অন্ধকার ক্রমশ কেটে যাচ্ছে এবং প্রকৃত জ্যোতি এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
1JO 2:9 যে সেই জ্যোতিতে বাস করে বলে দাবি করে, অথচ তার ভাইবোনকে ঘৃণা করে, সে এখনও অন্ধকারেই আছে।
1JO 2:10 যে তার ভাইবোনকে ভালোবাসে, সে জ্যোতির মধ্যেই জীবনযাপন করে, তার হোঁচট খাওয়ার কোনো কারণ নেই।
1JO 2:11 কিন্তু যে তার ভাইবোনকে ঘৃণা করে, সে অন্ধকারেই বাস করে এবং অন্ধকারেই পথ চলে। সে কোথায় যাচ্ছে তা জানে না, কারণ অন্ধকার তাকে অন্ধ করে দিয়েছে।
1JO 2:12 প্রিয় সন্তানেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তাঁর নামের গুণে তোমাদের সব পাপের ক্ষমা হয়েছে।
1JO 2:13 পিতারা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ যিনি আদি থেকে আছেন, তাঁকে তোমরা জানো। যুবকেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ সেই পাপাত্মাকে তোমরা জয় করেছ।
1JO 2:14 প্রিয় সন্তানেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তোমরা পিতাকে জানো। পিতারা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ আদি থেকে যিনি আছেন, তোমরা তাঁকে জানো। যুবকেরা, আমি তোমাদের লিখছি, কারণ তোমরা বলবান, আর তোমাদের মধ্যেই ঈশ্বরের বাক্য বাস করে এবং তোমরা সেই পাপাত্মাকে জয় করেছ।
1JO 2:15 জগৎকে বা জাগতিক কোনো কিছুই তোমরা ভালোবেসো না। কেউ যদি জগৎকে ভালোবাসে, তাহলে পিতার প্রেম তার অন্তরে নেই।
1JO 2:16 কারণ এ জগতের সমস্ত বিষয়—শারীরিক অভিলাষ, চোখের অভিলাষ ও জীবনের অহংকার—পিতা থেকে নয়, কিন্তু জগৎ থেকে আসে।
1JO 2:17 আর জগৎ ও তার কামনাবাসনা বিলুপ্ত হবে, কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে সে চিরকাল জীবিত থাকবে।
1JO 2:18 প্রিয় সন্তানেরা, এ সেই শেষ সময় এবং তোমরা যেমন শুনেছ, খ্রীষ্টারির আগমন সন্নিকট, বরং এখনই বহু খ্রীষ্টারি উপস্থিত হয়েছে। এভাবেই আমরা জানতে পারি যে, এখনই শেষ সময়।
1JO 2:19 আমাদের মধ্য থেকেই তারা বেরিয়ে গেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের ছিল না। কারণ তারা যদি আমাদের হত, তাহলে আমাদের সঙ্গেই তারা থাকত। কিন্তু তাদের চলে যাওয়ার ফলে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আমাদের ছিল না।
1JO 2:20 কিন্তু তোমরা সেই পবিত্রজন থেকে অভিষিক্ত হয়েছ এবং তোমরা সবাই সত্যকে জানো।
1JO 2:21 তোমরা সত্য জানো না বলে নয়, বরং তোমরা তা জানো বলেই আমি তোমাদের লিখছি। সত্য থেকে কোনো মিথ্যার উদ্ভব হতে পারে না।
1JO 2:22 মিথ্যাবাদী কে? যে অস্বীকার করে যে যীশুই খ্রীষ্ট। এরকম মানুষই খ্রীষ্টারি—যে পিতা ও পুত্রকে অস্বীকার করে।
1JO 2:23 পুত্রকে যে অস্বীকার করে, সে পিতাকে পায়নি; পুত্রকে যে স্বীকার করে, সে পিতাকে পেয়েছে।
1JO 2:24 দেখো, প্রথম থেকেই তোমরা যা শুনেছ, তা যেন তোমাদের অন্তরে থাকে। যদি তা থাকে, তোমরা পুত্রতে ও পিতাতে থাকবে।
1JO 2:25 আর আমাদের যা তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা হল অনন্ত জীবন।
1JO 2:26 যারা তোমাদের বিপথে চালিত করতে সচেষ্ট, তাদেরই বিষয়ে আমি এসব কথা লিখছি।
1JO 2:27 তোমাদের বিষয়ে বলি, তাঁর কাছ থেকে যে অভিষেক তোমরা পেয়েছ তা তোমাদের মধ্যেই রয়েছে এবং আর কারও কাছ থেকে তোমাদের শিক্ষাগ্রহণের প্রয়োজন নেই। তাঁর সেই অভিষেক সব বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেয় এবং সেই অভিষেক প্রকৃত, কৃত্রিম নয়। তাই এই অভিষেক তোমাদের যেমন শিক্ষা দিয়েছে, তোমরা তেমনই তাঁর মধ্যে থাকো।
1JO 2:28 প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা এখন তাঁর মধ্যেই থাকো, যেন তাঁর আবির্ভাবকালে আমরা নিঃসংশয় থাকতে পারি এবং তাঁর আগমনের সময় তাঁর সাক্ষাতে যেন লজ্জিত না হই।
1JO 2:29 তিনি ধর্মময় তা যদি তোমরা জেনে থাকো, তাহলে একথাও জেনো, যারা ধর্মাচরণ করে তারা সবাই ঈশ্বর থেকে জাত।
1JO 3:1 দেখো, ঈশ্বর কেমন তাঁর প্রেম পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের ঢেলে দিয়েছেন, যেন আমরা ঈশ্বরের সন্তান বলে অভিহিত হই। আর আমরা প্রকৃতপক্ষে তাই। জগৎ এজন্য আমাদের জানে না, কারণ সে তাঁকে জানে না।
1JO 3:2 প্রিয় বন্ধুরা, বর্তমানে আমরা ঈশ্বরের সন্তান এবং আমরা কী হব, তা এখনও প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু আমরা জানি, যখন তিনি প্রকাশিত হবেন আমরা তাঁরই মতো হব, কারণ তিনি যেমন আছেন, আমরা তেমনই তাঁকে দেখতে পাব।
1JO 3:3 তাঁর প্রতি যার এই প্রত্যাশা আছে, তিনি যেমন শুদ্ধ, সে নিজেকেও তেমনই শুদ্ধ করে।
1JO 3:4 যে কেউ পাপ করে, সে বিধান লঙ্ঘন করে; প্রকৃতপক্ষে, বিধান লঙ্ঘন করাই হল পাপ।
1JO 3:5 কিন্তু তোমরা জানো যে, আমাদের পাপ হরণের জন্য তিনি প্রকাশিত হয়েছিলেন এবং তাঁর মধ্যে পাপের লেশমাত্র নেই।
1JO 3:6 যে তাঁর মধ্যে বাস করে, সে পাপে লিপ্ত থাকে না। যে অবিরত পাপ করতেই থাকে, সে তাঁকে দেখেনি বা তাঁকে জানেও না।
1JO 3:7 প্রিয় সন্তানেরা, কাউকে তোমাদের বিপথে চালিত করতে দিয়ো না। যে ন্যায়সংগত আচরণ করে, সে ধার্মিক, যেমন তিনি ধার্মিক।
1JO 3:8 যে পাপ করে, সে দিয়াবলের, কারণ দিয়াবল প্রথম থেকেই পাপ করে আসছে। ঈশ্বরের পুত্র এই কারণেই প্রকাশিত হয়েছেন, যেন দিয়াবলের সব কাজ ধ্বংস করেন।
1JO 3:9 ঈশ্বর থেকে জাত কোনো ব্যক্তি পাপে লিপ্ত থাকতে পারে না, কারণ ঈশ্বরের স্বভাব তার মধ্যে থাকে; সে ক্রমাগত পাপ করতে পারে না, কারণ সে ঈশ্বর থেকে জাত।
1JO 3:10 এভাবেই আমরা জানতে পারি, কারা ঈশ্বরের সন্তান, আর কারা দিয়াবলের সন্তান। যে ন্যায়সংগত আচরণ করে না, সে ঈশ্বরের সন্তান নয়; যে তার ভাইবোনকে ভালোবাসে না, সেও নয়।
1JO 3:11 কারণ প্রথম থেকেই তোমরা এই শিক্ষা শুনেছ যে, আমাদের পরস্পরকে ভালোবাসা উচিত।
1JO 3:12 তোমরা কয়িনের মতো হোয়ো না; সে ছিল সেই পাপাত্মার দলভুক্ত এবং তার ভাইয়ের হত্যাকারী। সে কেন তাকে হত্যা করেছিল? কারণ তার নিজের কাজ ছিল মন্দ এবং তার ভাইয়ের কাজ ছিল ন্যায়সংগত।
1JO 3:13 প্রিয় ভাইবোনেরা, জগৎ যদি তোমাদের ঘৃণা করে, তাহলে আশ্চর্য হোয়ো না।
1JO 3:14 আমরা জানি, মৃত্যু থেকে আমরা জীবনে উত্তীর্ণ হয়েছি, কারণ আমাদের ভাইবোনদের আমরা ভালোবাসি; যে ভালোবাসে না, সে মৃত্যুর মাঝেই বাস করে।
1JO 3:15 যে তার ভাইবোনকে ঘৃণা করে, সে হত্যাকারী এবং তোমরা জানো যে কোনো হত্যাকারীর অন্তরে অনন্ত জীবন থাকতে পারে না।
1JO 3:16 প্রেম করার অর্থ আমরা এভাবেই বুঝতে পারি: যীশু খ্রীষ্ট আমাদের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমাদেরও তেমনই ভাইবোনদের জন্য নিজেদের প্রাণ দেওয়া উচিত।
1JO 3:17 জাগতিক সম্পদের অধিকারী হয়ে কেউ যদি তার ভাইবোনকে অভাবগ্রস্ত দেখে কিন্তু তার প্রতি করুণাবিষ্ট না হয়, তাহলে তার অন্তরে ঈশ্বরের প্রেম কীভাবে থাকতে পারে?
1JO 3:18 প্রিয় সন্তানেরা, এসো, মুখের কথায় অথবা ভাষণে নয়, কিন্তু কাজ করে ও সত্যের মাধ্যমেই আমরা প্রেম করি।
1JO 3:19 আমাদের কাজকর্ম প্রমাণ করবে যে আমরা সত্যের, এবং যখন আমরা ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াব তখন আমাদের হৃদয়ে আশ্বাস থাকবে।
1JO 3:20 কারণ আমাদের হৃদয়ে দোষভাব থাকলেও ঈশ্বর আমাদের অনুভূতির চেয়ে মহান এবং তিনি সবকিছুই জানেন।
1JO 3:21 প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের হৃদয় যদি আমাদের দোষী সাব্যস্ত না করে, তাহলে ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায়
1JO 3:22 এবং আমাদের প্রার্থিত সবকিছুই আমরা তাঁর কাছ থেকে পাই; কারণ আমরা তাঁর আদেশ পালন করি এবং তাঁর প্রীতিজনক কাজ করি।
1JO 3:23 আর তাঁর আদেশ এই: আমরা যেন তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের নামে বিশ্বাস করি এবং তাঁর নির্দেশমতো পরস্পরকে প্রেম করি।
1JO 3:24 যারা তাঁর আদেশ পালন করে, তারা তাঁর মধ্যেই বাস করে এবং তিনিও তাদের মধ্যে বাস করেন। আবার তিনি যে আত্মা আমাদের দিয়েছেন, তাঁর দ্বারা আমরা জানতে পারি যে, তিনি আমাদের মধ্যে আছেন।
1JO 4:1 প্রিয় বন্ধুরা, সব আত্মাকে বিশ্বাস কোরো না, বরং তারা ঈশ্বর থেকে এসেছে কি না তা জানার জন্য তাদের পরীক্ষা করো, কারণ বহু ভণ্ড ভাববাদী পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।
1JO 4:2 তোমরা এভাবেই ঈশ্বরের আত্মাকে চিনতে পারবে: যে আত্মা স্বীকার করে যে যীশু খ্রীষ্ট মানবদেহে আগমন করেছেন, সে ঈশ্বর থেকে,
1JO 4:3 কিন্তু যে আত্মা যীশু খ্রীষ্টকে শরীরে আগত বলে স্বীকার করে না, সে ঈশ্বর থেকে নয়। এ হল সেই খ্রীষ্টারির আত্মা, যার আগমন সম্পর্কে তোমরা শুনেছ, এমনকি ইতিমধ্যেই সে জগতে উপস্থিত হয়েছে।
1JO 4:4 প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা ঈশ্বর থেকে। তোমরা খ্রীষ্ট বিরোধীদের পরাস্ত করেছ, কারণ তোমাদের অন্তরে যিনি আছেন, তিনি জগতে যে বিচরণ করে, তার চেয়ে মহান।
1JO 4:5 তারা জগৎ থেকে, তাই জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই তারা কথা বলে এবং জগৎ তাদের কথা শোনে।
1JO 4:6 কিন্তু আমরা ঈশ্বর থেকে এবং ঈশ্বরকে যে জানে, সে আমাদের কথা শোনে; কিন্তু যে ঈশ্বর থেকে নয়, সে আমাদের কথায় কর্ণপাত করে না। এভাবেই আমরা সত্যের আত্মা ও বিভ্রান্তির আত্মাকে চিনতে পারি।
1JO 4:7 প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা পরস্পরকে প্রেম করি, কারণ প্রেম ঈশ্বর থেকে আসে। যে প্রেম করে, সে ঈশ্বর থেকে জাত এবং সে ঈশ্বরকে জানে।
1JO 4:8 যে প্রেম করে না, সে ঈশ্বরকে জানে না, কারণ ঈশ্বরই প্রেম।
1JO 4:9 এভাবেই ঈশ্বর আমাদের মধ্যে তাঁর প্রেম প্রদর্শন করেছেন: তাঁর এক ও অদ্বিতীয় পুত্রকে তিনি জগতে পাঠিয়েছেন, যেন আমরা তাঁর মাধ্যমে জীবিত থাকি।
1JO 4:10 এই হল প্রেম: এমন নয় যে আমরা ঈশ্বরকে প্রেম করেছি, বরং তিনি আমাদের প্রেম করেছেন এবং আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য তাঁর পুত্রকে পাঠিয়েছেন।
1JO 4:11 প্রিয় বন্ধুরা, ঈশ্বর যখন আমাদের এত প্রেম করেছেন, আমাদেরও উচিত পরস্পরকে প্রেম করা।
1JO 4:12 কেউ কখনও ঈশ্বরকে দেখেনি। কিন্তু আমরা যদি পরস্পরকে প্রেম করি, ঈশ্বর আমাদের মধ্যে বাস করেন এবং আমাদের মধ্যে তাঁর প্রেম পূর্ণতা লাভ করে।
1JO 4:13 এতেই আমরা জানি যে, আমরা তাঁর মধ্যে বাস করি এবং তিনি আমাদের মধ্যে বাস করেন, কারণ তিনি তাঁর আত্মাকে আমাদের দিয়েছেন।
1JO 4:14 আমরা দেখেছি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পিতা তাঁর পুত্রকে জগতের উদ্ধারকর্তা হওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন।
1JO 4:15 কেউ যদি যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র বলে স্বীকার করে, তাহলে ঈশ্বর তার মধ্যে থাকেন এবং সেও ঈশ্বরের মধ্যে থাকে।
1JO 4:16 আর তাই, আমাদের জন্য ঈশ্বরের যে প্রেম, আমরা তা জানি এবং তার উপর নির্ভর করি। ঈশ্বরই প্রেম। যে প্রেমে বাস করে, সে ঈশ্বরে থাকে এবং ঈশ্বর তার মধ্যে থাকেন।
1JO 4:17 এভাবে, আমাদের মধ্যে প্রেম পূর্ণতা লাভ করে, যেন বিচারের দিনে আমরা নির্ভয়ে থাকতে পারি, কারণ এই জগতে আমরা তাঁরই মতো রয়েছি।
1JO 4:18 প্রেমে কোনো ভয় নেই। কিন্তু নিখাদ ভালোবাসা ভয় দূর করে, কারণ ভয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে শাস্তি। আর যে ভয় করে, তার প্রেম পূর্ণতা লাভ করেনি।
1JO 4:19 আমরা প্রেম করি, কারণ তিনিই প্রথমে আমাদের প্রেম করেছেন।
1JO 4:20 কেউ যদি বলে, “আমি ঈশ্বরকে প্রেম করি,” অথচ তার ভাইবোনকে ঘৃণা করে, সে মিথ্যাবাদী। যে ভাই বা বোনকে সে দেখতে পায় তাকে যদি সে প্রেম না করে, তাহলে যে ঈশ্বরকে সে দেখেনি তাঁকে সে প্রেম করতে পারে না।
1JO 4:21 তিনি আমাদের এই আদেশ দিয়েছেন: ঈশ্বরকে যে প্রেম করে, সে তার ভাইবোনকেও প্রেম করবে।
1JO 5:1 যে বিশ্বাস করে যে, যীশুই খ্রীষ্ট, সে ঈশ্বর থেকে জাত এবং যে পিতাকে প্রেম করে, সে তাঁর সন্তানকেও প্রেম করে।
1JO 5:2 ঈশ্বরকে প্রেম করে এবং তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তানদের প্রেম করি।
1JO 5:3 ঈশ্বরের প্রতি প্রেম করা হল এই: তাঁর আদেশ পালন করা। আর, কারণ তাঁর আদেশ দুর্বহ নয়।
1JO 5:4 কারণ ঈশ্বর থেকে জাত প্রত্যেক ব্যক্তি জগৎকে জয় করে। আমাদের জয় এই যে, আমাদের বিশ্বাসই জগতকে পরাস্ত করেছে।
1JO 5:5 কে জগৎকে জয় করে? একমাত্র সেই, যে বিশ্বাস করে যে, যীশুই ঈশ্বরের পুত্র।
1JO 5:6 ইনিই সেই যীশু খ্রীষ্ট, যিনি জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছিলেন। তিনি শুধু জলের মাধ্যমে নয়, কিন্তু জল ও রক্তের মাধ্যমে এসেছিলেন। আত্মাই এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন, কারণ এই আত্মাই সেই সত্য।
1JO 5:7 বস্তুত তিন সাক্ষী এখানে রয়েছে:
1JO 5:8 আত্মা, জল ও রক্ত, এই তিনের সাক্ষ্য একই।
1JO 5:9 আমরা মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করি, কিন্তু ঈশ্বরের সাক্ষ্য তার চেয়েও মহান, কারণ তিনি তাঁর পুত্রের বিষয়ে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাই ঈশ্বরের সাক্ষ্য।
1JO 5:10 ঈশ্বরের পুত্রে যে বিশ্বাস করে, তার অন্তরে এই সাক্ষ্য আছে। ঈশ্বরকে যে বিশ্বাস করে না, সে প্রকৃতপক্ষে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে, কারণ তাঁর পুত্রের বিষয়ে ঈশ্বর যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, সে তা বিশ্বাস করেনি।
1JO 5:11 এই হল সেই সাক্ষ্য: ঈশ্বর আমাদের অনন্ত জীবন দিয়েছেন এবং সেই জীবন তাঁর পুত্রের মধ্যে আছে।
1JO 5:12 যে পুত্রকে লাভ করেছে, সে জীবন পেয়েছে; যে ঈশ্বরের পুত্রকে লাভ করেনি, সে জীবন পায়নি।
1JO 5:13 তোমরা যারা ঈশ্বরের পুত্রের নামে বিশ্বাস করো, তাদের কাছে আমি এসব বিষয় লিখছি, যেন তোমরা জানতে পারো যে, তোমরা অনন্ত জীবন লাভ করেছ।
1JO 5:14 ঈশ্বরের কাছে আসার জন্য আমরা এই ভরসা পেয়েছি যে, আমরা যদি তাঁর ইচ্ছানুসারে কিছু প্রার্থনা করি, তিনি আমাদের প্রার্থনা শোনেন।
1JO 5:15 আর আমরা যদি জানি যে, আমরা যা কিছুই প্রার্থনা করি, তিনি তা শোনেন, তাহলে আমরা এও জানব যে, তাঁর কাছে প্রার্থিত সবকিছুই আমরা পেয়েছি।
1JO 5:16 কেউ যদি তার ভাইবোনকে এমন কোনো পাপ করতে দেখে যা মৃত্যুমুখী নয়, তাহলে সে প্রার্থনা করুক, এবং ঈশ্বর তাকে জীবন দান করবেন। যাদের পাপ মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় না আমি তাদের কথাই বলছি। কিন্তু এমন একটি পাপ আছে, যা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। আমি সে বিষয়ে তাকে প্রার্থনা করতে বলছি না।
1JO 5:17 সমস্ত দুষ্কর্মই পাপ, কিন্তু এমনও পাপ আছে যা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় না।
1JO 5:18 আমরা জানি, যে ঈশ্বর থেকে জাত, সে পাপকর্মে রত থাকে না; ঈশ্বর থেকে যে জাত, সে নিজেকে সুরক্ষিত রাখে এবং সেই পাপাত্মা তার ক্ষতি করতে পারে না।
1JO 5:19 আমরা এও জানি, আমরা ঈশ্বরের সন্তান, আর সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার নিয়ন্ত্রণের অধীন।
1JO 5:20 আমরা আরও জানি যে, ঈশ্বরের পুত্রের আগমন হয়েছে এবং তিনি আমাদের বোধশক্তি দিয়েছেন যেন, যিনি প্রকৃত সত্য তাঁকে আমরা জানতে পারি। আমরা তাঁরই মধ্যে আছি, যিনি সত্যময়, অর্থাৎ তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টে। তিনিই প্রকৃত ঈশ্বর এবং অনন্ত জীবন।
1JO 5:21 প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা সব প্রতিমা থেকে নিজেদের রক্ষা করো।
2JO 1:1 আমি, এই প্রাচীন, সেই মনোনীত মহিলা ও তাঁর সন্তানদের উদ্দেশ্যে লিখছি, যাঁদের আমি প্রকৃতই ভালোবাসি, শুধু আমি নয়, যারা সত্যকে জানে, তারা সকলেই ভালোবাসে,
2JO 1:2 কারণ সেই সত্য আমাদের অন্তরে আছে এবং চিরদিন আমাদের সঙ্গে থাকবে।
2JO 1:3 পিতা ঈশ্বর এবং পিতার পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ, করুণা ও শান্তি আমাদের মধ্যে সত্যে ও প্রেমে বিরাজ করবে।
2JO 1:4 পিতা যেমন আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তোমার কয়েকজন সন্তান সেইমতো সত্যে জীবন কাটাচ্ছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দ পেয়েছি।
2JO 1:5 আর এখন, প্রিয় মহিলা, এ কোনো নতুন আজ্ঞা নয়, কিন্তু প্রথম থেকে যা পেয়েছি, এমন একটি আজ্ঞা সম্পর্কে আমি তোমাকে লিখছি। আমি বলি, আমরা যেন পরস্পরকে প্রেম করি।
2JO 1:6 আর প্রেম হল এই: আমরা যেন তাঁর সব আজ্ঞার বাধ্য হয়ে চলি। প্রথম থেকেই তোমরা তাঁর এই আজ্ঞা শুনেছ যে, তোমরা প্রেমে জীবনযাপন করো।
2JO 1:7 বহু প্রতারক, যারা যীশু খ্রীষ্টের মানবদেহে আগমনকে স্বীকার করে না, তারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের লোকেরাই প্রতারক এবং খ্রীষ্টারি।
2JO 1:8 সতর্ক থেকো, যে জন্য তোমরা পরিশ্রম করেছ, তা যেন হারিয়ে না ফেলো, বরং তোমরা যেন পূর্ণমাত্রায় পুরস্কার লাভ করতে পারো।
2JO 1:9 খ্রীষ্টের শিক্ষায় অবিচল না থেকে যে তা অতিক্রম করে চলে, সে ঈশ্বরকে পায়নি। সেই শিক্ষায় যে অবিচল থাকে, সে পিতা ও পুত্র উভয়কেই পেয়েছে।
2JO 1:10 কেউ যদি এই শিক্ষা না নিয়েই তোমার কাছে আসে, তাকে তোমার বাড়িতে স্থান দিয়ো না বা স্বাগত জানিয়ো না।
2JO 1:11 যে তাকে স্বাগত জানায়, সে তার দুষ্কর্মের অংশীদার হয়।
2JO 1:12 তোমাকে আরও অনেক কথা লেখার ছিল, কিন্তু আমি কাগজ কলম ব্যবহার করতে চাই না। বরং, আমি তোমাদের কাছে গিয়ে সাক্ষাতে কথা বলার আশা করি, যেন আমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয়।
2JO 1:13 তোমার মনোনীত বোনের সন্তানেরা তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
3JO 1:1 আমি যাকে প্রকৃতই ভালোবাসি, আমার সেই প্রিয় বন্ধু গায়োর প্রতি আমি এই প্রাচীন, এই পত্র লিখছি।
3JO 1:2 প্রিয় বন্ধু, তোমার আত্মা যেমন কুশলে আছে, তেমনই তোমার শারীরিক ও সর্বাঙ্গীণ কুশল কামনা করি।
3JO 1:3 সত্যের প্রতি তোমার বিশ্বস্ততা এবং কেমনভাবে তুমি সত্যের পথে চলছ, কয়েকজন ভাই এসে আমাকে সেকথা জানানোয়, আমি অত্যন্ত আনন্দ পেয়েছি।
3JO 1:4 আমার সন্তানেরা সত্যে জীবনযাপন করছে, একথা শুনে যে আনন্দ পাই তার থেকে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই হতে পারে না।
3JO 1:5 প্রিয় বন্ধু, তোমার কাছে অপরিচিত হলেও তুমি ভাইদের প্রতি বিশ্বস্তভাবে তোমার কর্তব্য করে চলেছ।
3JO 1:6 তাঁরা তোমার ভালোবাসার কথা মণ্ডলীতে জানিয়েছেন। ঈশ্বরের উপযোগীরূপে তাঁদের যাত্রার সুব্যবস্থা করে দিলে তুমি ভালো কাজই করবে।
3JO 1:7 প্রভুর নাম-কীর্তনের জন্যই তাঁরা বেরিয়েছেন, তাঁরা বিধর্মীদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য গ্রহণ করেননি।
3JO 1:8 অতএব, এই ধরনের লোকদের প্রতি আমাদের আতিথেয়তা প্রদর্শন করা উচিত, যেন সত্যের পক্ষে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।
3JO 1:9 মণ্ডলীর কাছে আমি পত্র লিখেছিলাম, কিন্তু দিয়ত্রিফি যে প্রাধান্য পেতে ভালোবাসে, সে আমাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না।
3JO 1:10 তাই আমি ওখানে গেলে, সে কী করছে, তা তোমাদের কাছে বলব; আমাদের সম্পর্কে সে কুৎসা-রটনা করছে। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে, সে ভাইদের অভ্যর্থনা করতে অস্বীকার করে; যারা তা করতে চায়, সে তাদেরও বাধা দেয়, এমনকি, মণ্ডলী থেকেও বের করে দেয়।
3JO 1:11 প্রিয় বন্ধু, যা মন্দ তার অনুকরণ কোরো না, যা ভালো, তারই অনুকরণ কোরো। মনে রেখো যারা ভালো কাজ করে তারা প্রমাণ করে যে তারা ঈশ্বরের সন্তান। কিন্তু যারা মন্দ কাজ করে তারা প্রমাণ করে যে তারা ঈশ্বরকে জানে না।
3JO 1:12 দীমীত্রিয়ের সুখ্যাতি সকলেই করে। এমনকি, সত্যও তাঁর পক্ষে। আমরাও তাঁর সুখ্যাতি করি এবং তুমি জানো যে, আমাদের সাক্ষ্য সত্যি।
3JO 1:13 তোমাকে অনেক কথা লেখার আছে, কিন্তু কাগজে কলমে তা আমি করতে চাই না।
3JO 1:14 আশা করি, অচিরেই তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে; আমরা মুখোমুখি সব আলোচনা করব।
3JO 1:15 তোমার শান্তি হোক। এখানকার বন্ধুরা তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ওখানকার বন্ধুদেরও প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানিয়ো।
JUD 1:1 আমি যিহূদা, যীশু খ্রীষ্টের দাস ও যাকোবের ভাই, যাঁরা পিতা ঈশ্বরের প্রীতির পাত্র ও যীশু খ্রীষ্টের জন্য সংরক্ষিত, সেই আহ্বানপ্রাপ্ত লোকদের উদ্দেশে এই পত্র লিখছি।
JUD 1:2 করুণা, শান্তি ও প্রেম প্রচুর পরিমাণে তোমাদের প্রতি বর্ষিত হোক।
JUD 1:3 প্রিয় বন্ধুরা, যে পরিত্রাণের আমরা অংশীদার সেই বিষয়ে আমি তোমাদের কাছে লিখবার জন্য প্রবল আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু এমন আমি বুঝতে পারলাম যে তোমাদের কাছে অন্য কিছু লেখা প্রয়োজন; তোমরা সেই বিশ্বাসের জন্য প্রাণপণ সংগ্রাম করো যে বিশ্বাস সর্বসময়ের জন্য একবারই পবিত্রগণের কাছে দেওয়া হয়েছে।
JUD 1:4 কারণ কয়েকজন ব্যক্তি গোপনে তোমাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে, যাদের শাস্তি অনেক আগেই লেখা হয়েছিল। তারা সব ভক্তিহীন, যারা আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহকে লাম্পট্যের ছাড়পত্রে পরিণত করে এবং আমাদের একমাত্র সার্বভৌম ও প্রভু, যীশু খ্রীষ্টকে অগ্রাহ্য করে।
JUD 1:5 তোমরা যদিও এসব বিষয় ইতিমধ্যেই জানো, তবুও আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, প্রভু তাঁর প্রজাদের মিশর থেকে উদ্ধার করেছিলেন, কিন্তু যারা বিশ্বাস করেনি, পরবর্তীকালে তিনি তাদের বিনষ্ট করেছিলেন।
JUD 1:6 আর যে স্বর্গদূতেরা নিজেদের অধিকারের সীমা ছাড়িয়ে তাদের নিজস্ব আবাস ত্যাগ করেছিল, তিনি তাদের সেই মহাদিনে বিচারের জন্য চিরকালীন শিকলে বন্দি করে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে রেখেছেন।
JUD 1:7 একইভাবে, সদোম ও ঘমোরা এবং তাদের আশেপাশের নগরগুলি এদেরই মতো দৈহিক উচ্ছৃঙ্খলতা ও অস্বাভাবিক যৌন আচরণে নিজেদের সমর্পণ করেছিল বলে অনন্ত আগুনের শাস্তি ভোগ করে এরা সকলের কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে আছে।
JUD 1:8 সেই একইভাবে, এসব লোকেরা—যারা তাদের স্বপ্ন থেকে অধিকার দাবি করে—নিজেদের শরীরকে কলুষিত করে, কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করে ও দিব্যজনেদের নিন্দা করে।
JUD 1:9 এমনকি, প্রধান স্বর্গদূত মীখায়েল যখন মোশির মৃতদেহ নিয়ে দিয়াবলের সঙ্গে বাদ-প্রতিবাদ করেছিলেন তখনও তিনি তার বিরুদ্ধে কোনো নিন্দাসূচক অভিযোগ উত্থাপন করার সাহস দেখাননি, কিন্তু বলেছিলেন, “প্রভু তোমাকে তিরস্কার করুন!”
JUD 1:10 কিন্তু এই লোকেরা যা বোঝে না, সেইসব বিষয়ের তীব্র নিন্দা করে। বিবেচনাহীন পশুর মতো সহজাত প্রবৃত্তির বশে যা খুশি তারা তাই করে, আর সেভাবেই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে।
JUD 1:11 তাদেরকে ধিক্! তারা কয়িনের পথ বেছে নিয়েছে; তারা টাকার লোভে বিলিয়মের দেখানো ভুল পথে দ্রুত ছুটে চলেছে; তারা কোরহের মতো বিদ্রোহ করে ধ্বংস হয়েছে।
JUD 1:12 এই লোকেরা তোমাদের সব প্রীতিভোজে কলঙ্ক নিয়ে আসে, তোমাদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করার সময় এদের সামান্যতমও বিবেক-দংশন হয় না। এরা এমন পালক, যারা কেবলমাত্র নিজেদেরই পেটপূজা করে। এরা বাতাসে উড়ে চলা বৃষ্টিহীন মেঘের মতো; হেমন্ত ঋতুর গাছ, ফলশূন্য ও মূল থেকে উপড়ানো—দু-বার মৃত।
JUD 1:13 এরা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো, নিজেদের লজ্জা ফেনার মতো ফাঁপিয়ে তোলে; কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত তারার মতো, যাদের জন্য অনন্তকালীন ঘোরতর অন্ধকার নির্দিষ্ট করা আছে।
JUD 1:14 আদম থেকে সাত পুরুষ যে হনোক, তিনি এসব লোকের বিষয়ে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন: “দেখো, প্রভু তাঁর হাজার হাজার পবিত্রজনেদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন
JUD 1:15 যেন তিনি জগতের প্রত্যেকের বিচার করেন। তিনি প্রত্যেক ভক্তিহীন মানুষকে ভক্তিবিরুদ্ধ কাজ করার জন্য এবং তাঁর বিরুদ্ধে যেসব ভক্তিহীন পাপী কটুকথা বলেছে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করবেন।”
JUD 1:16 এসব লোক সবসময় অসন্তুষ্ট, দোষ খুঁজে বেড়ায়; তারা শুধু নিজেদের কু-বাসনা সন্তুষ্ট করতে বেঁচে আছে; তারা নিজেদের বিষয়ে গর্ব করে এবং নিজেদের সুযোগ সুবিধার জন্য অপর ব্যক্তিদের তোষামোদ করে।
JUD 1:17 কিন্তু প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রেরিতশিষ্যেরা ইতিপূর্বে কী বলে গিয়েছেন, তা মনে করো।
JUD 1:18 তাঁরা তোমাদের বলেছিলেন, “শেষ সময়ে এমন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকারীদের উদয় হবে, যারা তাদের নিজস্ব ভক্তিহীন কামনাবাসনা অনুসারে চলবে।”
JUD 1:19 এই লোকেরাই তোমাদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করে, যারা নিজেদের সহজাত প্রবৃত্তি অনুসারে চলে এবং তাদের মধ্যে পবিত্র আত্মা নেই।
JUD 1:20 কিন্তু প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা তোমাদের পরম পবিত্র বিশ্বাসের উপরে নিজেদের গেঁথে তোলো ও পবিত্র আত্মার শক্তিতে প্রার্থনা করো,
JUD 1:21 ঈশ্বরের প্রেমে অবিচল থাকো এবং সেই দিনের জন্য প্রতীক্ষা করো যেদিন আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সদয় হয়ে তোমাদের অনন্ত জীবন দান করবেন।
JUD 1:22 যারা সন্দেহ করে তাদের প্রতি করুণা করো;
JUD 1:23 অন্যদের বিচারের আগুন থেকে টেনে এনে রক্ষা করো; অন্যদের প্রতি সম্ভ্রমে করুণা করো, কিন্তু অত্যন্ত সাবধানতার সাথেই তা করো, তাদের দেহ কলুষিত করেছে সেসব পাপকে ঘৃণা করো।
JUD 1:24 যিনি তোমাদের বিশ্বাসে হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা করতে সমর্থ, ও যিনি তোমাদের নির্দোষরূপে ও মহা আনন্দের সঙ্গে তাঁর মহিমাময় উপস্থিতিতে উপস্থাপন করবেন,
JUD 1:25 সেই একমাত্র ঈশ্বর, আমাদের পরিত্রাতা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মহিমা, রাজকীয় প্রতাপ, পরাক্রম ও কর্তৃত্ব, সকল যুগের শুরু থেকে বর্তমানে ও যুগপর্যায়ের সমস্ত যুগেই হোক! আমেন।
REV 1:1 যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশিত বাক্য। ঈশ্বর তাঁকে তা দান করেছেন, যেন খুব শীঘ্রই যা ঘটতে চলেছে তা তিনি তাঁর দাসদের দেখিয়ে দেন। তিনি তাঁর দাস যোহনের কাছে নিজের দূত পাঠিয়ে একথা জানালেন;
REV 1:2 সেই যোহন যা কিছু দেখেছিলেন, অর্থাৎ ঈশ্বরের বাক্য ও যীশু খ্রীষ্টের সাক্ষ্য সম্পর্কে সবকিছু সবিস্তারে সাক্ষ্য দিলেন।
REV 1:3 ধন্য সেই ব্যক্তি, যে এই ভাববাণীর বাক্যগুলি পাঠ করে এবং ধন্য তারাও, যারা তা শোনে ও তার মধ্যে যা লেখা আছে, সেগুলি পালন করে, কারণ সময় আসন্ন।
REV 1:4 আমি যোহন, এশিয়া প্রদেশে অবস্থিত সাতটি মণ্ডলীর উদ্দেশে লিখছি, অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের সহবর্তী হোক, যিনি আছেন, যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন, তাঁর কাছ থেকে এবং তাঁর সিংহাসনের সম্মুখবর্তী সপ্ত-আত্মা থেকে
REV 1:5 এবং সেই যীশু খ্রীষ্ট থেকে যিনি বিশ্বস্ত সাক্ষী, মৃতলোক থেকে প্রথমজাত ও পৃথিবীর রাজাদের শাসক। যিনি আমাদের প্রেম করেন এবং যিনি তাঁর রক্তে আমাদের পাপসমূহ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন,
REV 1:6 এবং তাঁর ঈশ্বর ও পিতার সেবা করার জন্য আমাদের এক রাজ্যস্বরূপ ও যাজকসমাজ করেছেন—তাঁরই মহিমা ও পরাক্রম যুগে যুগে চিরকাল হোক! আমেন।
REV 1:7 দেখো, তিনি মেঘবাহনে আসছেন, এবং প্রত্যেক চোখ তাঁকে দেখতে পাবে, এমনকি, যারা তাঁকে বিদ্ধ করেছিল, তারাও দেখবে; আর পৃথিবীর সমস্ত জাতি তাঁর জন্য বিলাপ করবে।
REV 1:8 প্রভু ঈশ্বর বলেন, “আমি আলফা ও ওমেগা, আদি ও অন্ত, যিনি আছেন ও যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন, সেই সর্বশক্তিমান।”
REV 1:9 আমি যোহন, তোমাদের ভাই; কষ্টভোগ, ঈশ্বরের রাজ্য ও ধৈর্যশীল সহিষ্ণুতা—যীশুতে যা কিছু আমাদের সেসব কিছুতে তোমাদের সহভাগী। আমি ঈশ্বরের বাক্য প্রচার ও যীশুর হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে পাটম দ্বীপে নির্বাসিত ছিলাম।
REV 1:10 প্রভুর দিনে আমি পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট ছিলাম, আর তখন আমার পিছনে তূরীধ্বনির মতো এক উচ্চ কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম;
REV 1:11 তা ঘোষণা করল: “তুমি যা কিছু দেখছ তা একটি পুঁথিতে লিপিবদ্ধ করো এবং ইফিষ, স্মূর্ণা, পর্গাম, থুয়াতীরা, সার্দি, ফিলাদেলফিয়া ও লায়োদেকিয়া, এই সাতটি মণ্ডলীর কাছে পাঠিয়ে দাও।”
REV 1:12 যে কণ্ঠস্বর আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁকে দেখার জন্য আমি পিছন দিকে ফিরে তাকালাম। আর আমি দেখলাম, সাতটি সোনার দীপাধার,
REV 1:13 ও দীপাধারগুলির মধ্যে “মনুষ্যপুত্রের মতো এক ব্যক্তি”; তাঁর দু-পা লম্বা আলখাল্লায় আবৃত ও তাঁর বুকে জড়ানো সোনার এক বন্ধনী।
REV 1:14 তাঁর মাথা ও চুল ছিল শুকনো পশমের মতো, এমনকি, তুষারের মতো ধবধবে সাদা এবং তাঁর চোখদুটি ছিল জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো।
REV 1:15 তাঁর দু-পা ছিল চুল্লিতে পরিষ্কৃত পিতলের মতো ঝকঝকে ও তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল প্রবহমান মহা জলস্রোতের মতো।
REV 1:16 তাঁর ডান হাতে তিনি সাতটি তারা ধরে আছেন ও তাঁর মুখ দিয়ে বার হয়ে আসছে দুদিকে ধারবিশিষ্ট এক তরোয়াল। তাঁর মুখমণ্ডল পূর্ণ দীপ্তিতে উদ্ভাসিত সূর্যের মতো।
REV 1:17 তাঁকে দেখামাত্র আমি মৃত মানুষের মতো তাঁর চরণে পতিত হলাম। তখন তিনি তাঁর ডান হাত আমার উপরে রেখে বললেন, “ভয় পেয়ো না, আমিই আদি ও অন্ত।
REV 1:18 আমিই সেই জীবিত সত্তা; আমার মৃত্যু হয়েছিল, আর দেখো, আমি যুগে যুগে চিরকাল জীবিত আছি! আর মৃত্যু ও পাতালের চাবি আছে আমারই হাতে।
REV 1:19 “অতএব, তুমি যা কিছু দেখলে, এখন যা কিছু ঘটছে ও পরে যেসব ঘটনা ঘটবে, তা লিখে ফেলো।
REV 1:20 আমার ডান হাতে যে সাতটি তারা ও যে সাতটি সোনার দীপাধার তুমি দেখলে, তার গুপ্তরহস্য এই: ওই সাতটি তারা সেই সাতটি মণ্ডলীর দূত এবং সাতটি দীপাধার হল সেই সাতটি মণ্ডলী।
REV 2:1 “ইফিষে অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি তাঁর ডান হাতে সাতটি তারা ধারণ করে আছেন ও সাতটি সোনার দীপাধারের মধ্যে দিয়ে গমনাগমন করেন, তিনিই একথা বলেন:
REV 2:2 আমি তোমার সব কাজ, তোমার কঠোর পরিশ্রম ও তোমার ধৈর্যের কথা জানি। আমি জানি তুমি দুষ্ট লোকদের সহ্য করতে পারো না এবং যারা নিজেদের প্রেরিতশিষ্য বলে দাবি করলেও প্রেরিতশিষ্য নয়, তাদের তুমি যাচাই করে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেছ।
REV 2:3 তুমি আমার নামের জন্য ধৈর্য অবলম্বন করেছ ও কষ্ট সহ্য করেছ, অথচ পরিশ্রান্ত হওনি।
REV 2:4 তবুও তোমার বিরুদ্ধে আমার কিছু কথা আছে: তুমি তোমার প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করেছ।
REV 2:5 অতএব ভেবে দেখো, কোথা থেকে কোথায় তোমার পতন হয়েছে। তুমি মন পরিবর্তন করো ও প্রথমে যে কাজগুলি করতে সেগুলি করো। কিন্তু যদি মন পরিবর্তন না করো, আমি তোমার কাছে এসে তোমার দীপাধারটি তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে অপসারিত করব।
REV 2:6 তবে তোমার পক্ষে বলার মতো এই বিষয়টি হল: তুমি নিকোলায়তীয়দের আচার-আচরণ ঘৃণা করো, আমিও সেগুলিকে ঘৃণা করি।
REV 2:7 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন। যে বিজয়ী হয়, তাকে আমি ঈশ্বরের পরমদেশে অবস্থিত জীবনদায়ী গাছের ফল খাওয়ার অধিকার দেব।
REV 2:8 “স্মূর্ণায় অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি প্রথম ও শেষ, যিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন ও পুনরায় জীবিত হয়েছেন, তিনিই একথা বলেন:
REV 2:9 আমি তোমার দুঃখকষ্ট ও তোমার দারিদ্র্যের কথা জানি—তবুও তুমি ধনী। নিজেদের ইহুদি বললেও যারা ইহুদি নয়, কিন্তু শয়তানের সমাজ, তাদের ধর্মনিন্দার কথাও আমি জানি।
REV 2:10 তোমাকে যে কষ্টভোগ করতে হবে, তার জন্য ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে বলি, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য দিয়াবল তোমাদের কাউকে কাউকে কারাগারে নিক্ষেপ করবে। এতে দশদিন পর্যন্ত তোমরা নির্যাতন ভোগ করবে। তুমি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো, আর আমি তোমাকে জীবনমুকুট দেব।
REV 2:11 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন। যে বিজয়ী হয়, সে কখনোই দ্বিতীয় মৃত্যুর কোনো আঘাত পাবে না।
REV 2:12 “পর্গামে অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি তীক্ষ্ণ ও দুদিকে ধারবিশিষ্ট তরোয়াল ধারণ করেন, তিনিই একথা বলেন:
REV 2:13 আমি জানি, তুমি কোথায় বাস করছ—সেখানে রয়েছে শয়তানের সিংহাসন। তা সত্ত্বেও তুমি আমার নামের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছ। আমার সেই বিশ্বস্ত সাক্ষী আন্তিপাস যখন তোমার নগরের মধ্যে নিহত হয়েছিল, যেখানে শয়তানের বাসস্থান, তখনও তুমি আমার উপরে তোমার বিশ্বাস অস্বীকার করোনি।
REV 2:14 তা সত্ত্বেও, তোমার বিরুদ্ধে আমার কয়েকটি অভিযোগ আছে: তুমি সেখানে এমন কিছু মানুষকে থাকতে দিয়েছ যারা বিলিয়মের শিক্ষা পালন করে, যে বালাককে কুশিক্ষা দিয়েছিল যেন সে ইস্রায়েলীদের প্রলোভিত করে যার ফলে তারা প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা বলি আহার করেছিল ও অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার পাপ করেছিল।
REV 2:15 একইভাবে, তোমার মধ্যেও নিকোলায়তীয়দের শিক্ষা পালন করে এমন কিছু মানুষ আছে।
REV 2:16 সেই কারণে, মন পরিবর্তন করো! অন্যথায়, আমি শীঘ্রই তোমার কাছে এসে আমার মুখের তরোয়াল দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব।
REV 2:17 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন। যে বিজয়ী হয়, তাকে আমি কিছু পরিমাণ গুপ্ত মান্না দেব। এছাড়াও, তাকে আমি একটি শ্বেতপাথর দেব, যার উপরে একটি নতুন নাম লেখা আছে, কেউ সেই নাম জানতে পারে না, কেবলমাত্র যে তা গ্রহণ করে, সেই জানে।
REV 2:18 “থুয়াতীরায় অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি ঈশ্বরের পুত্র, যাঁর দুটি চোখ জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো ও যাঁর দু-পা ঝকঝকে পিতলের মতো, তিনিই একথা বলছেন:
REV 2:19 আমি তোমার সকল কাজকর্ম, তোমার প্রেম ও বিশ্বাস, তোমার সেবা ও ধৈর্য সম্বন্ধে জানি; এবং তোমার শেষের কাজগুলি যে প্রথমের কাজগুলিকে ছাপিয়ে গেছে সেকথাও আমি জানি।
REV 2:20 তা সত্ত্বেও, তোমার বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ এই: তুমি ওই নারী ঈষেবলকে সহ্য করে আসছ, যে নিজেকে মহিলা ভাববাদী বলে। তার শিক্ষার মাধ্যমে সে আমার দাসদের অবৈধ যৌনাচার ও প্রতিমাদের কাছে উৎসর্গ করা বলি আহার করতে বলে তাদের ভ্রান্তপথে চালিত করছে।
REV 2:21 তার ব্যভিচার থেকে মন পরিবর্তন করার জন্য আমি তাকে সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ইচ্ছুক হয়নি।
REV 2:22 সেই কারণে, আমি তাকে কষ্টভোগে শয্যাশায়ী করব এবং যারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করছে, তারা যদি তার শেখানো পথ থেকে মন পরিবর্তন না করে, তাহলে তাদেরও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ফেলব।
REV 2:23 আমি সেই নারীর সন্তানদের আঘাত করে বধ করব। তখন সব মণ্ডলী জানতে পারবে যে আমি হৃদয় ও মনের অনুসন্ধানকারী এবং আমি তোমাদের প্রত্যেককে, তার কাজ অনুযায়ী প্রতিফল দেব।
REV 2:24 এখন অবশিষ্ট তোমরা যারা থুয়াতীরাতে আছ, যারা তার শিক্ষাগ্রহণ করোনি এবং শয়তানের তথাকথিত গভীর তত্ত্বকথা গ্রহণ করোনি, ‘আমি তোমাদের উপরে আর কোনও ভার চাপাতে চাই না:
REV 2:25 তোমাদের যা আছে, আমার আগমন পর্যন্ত কেবলমাত্র সেটুকুই দৃঢ়রূপে পালন করো।’
REV 2:26 যে বিজয়ী হয় ও শেষ পর্যন্ত আমার ইচ্ছা পালন করে, তাকে আমি জাতিবৃন্দের উপরে কর্তৃত্ব করতে দেব—
REV 2:27 তার ফলে ‘সে লোহার দণ্ডের দ্বারা তাদের শাসন করবে; মাটির পাত্রের মতো সে তাদের খণ্ডবিখণ্ড করবে’—ঠিক যে ধরনের কর্তৃত্ব আমি পিতার কাছ থেকে লাভ করেছি।
REV 2:28 এছাড়াও আমি তাকে দেব প্রভাতি তারা।
REV 2:29 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন।
REV 3:1 “সার্দিতে অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি ঈশ্বরের সপ্ত-আত্মা ও সাতটি তারা ধারণ করেন, তিনিই একথা বলেন: আমি তোমার কাজকর্মগুলি জানি; তুমি তো নামে মাত্র জীবিত আছ, আসলে তুমি মৃত।
REV 3:2 তুমি জেগে ওঠো! কেননা এখনও যা কিছু অবশিষ্ট আছে অথচ মৃতপ্রায়, সেগুলিতে শক্তি সঞ্চার করো, কারণ আমি তোমার কোনও কাজ আমার ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সুসম্পূর্ণ দেখিনি।
REV 3:3 অতএব স্মরণ করো, তুমি যা যা পেয়েছ ও শুনেছ; তা পালন করো ও মন পরিবর্তন করো। কিন্তু তুমি যদি জেগে না-ওঠো, তাহলে আমি চোরের মতো আসব, আর আমি কখন তোমার কাছে আসব, তা তুমি জানতেই পারবে না।
REV 3:4 তবুও সার্দিতে তোমার এমন কয়েকজন লোক আছে, যারা নিজেদের পোশাক কলুষিত করেনি। তারা সাদা পোশাক পরে আমার সান্নিধ্যে জীবনযাপন করবে, কারণ তারা যোগ্য।
REV 3:5 যে বিজয়ী হবে, সেও তাদের মতোই সাদা পোশাক পরবে। আমি জীবনপুস্তক থেকে তার নাম কখনও মুছে ফেলব না, কিন্তু আমার পিতার ও তাঁর দূতদের সামনে তার নাম স্বীকার করব।
REV 3:6 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন।
REV 3:7 “ফিলাদেলফিয়ায় অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি পবিত্র ও সত্যময়, যিনি দাউদের চাবি ধারণ করেন, তিনিই একথা বলেন: তিনি যা খোলেন, কেউ তা বন্ধ করতে পারে না এবং তিনি যা বন্ধ করেন, কেউ তা খুলতে পারে না।
REV 3:8 আমি তোমার কাজকর্মগুলি জানি। দেখো, আমি তোমার সামনে এক দরজা খুলে রেখেছি, যা কেউ বন্ধ করতে পারে না। আমি জানি তোমার শক্তি অল্প আছে, তা সত্ত্বেও তুমি আমার বাক্য পালন করেছ এবং আমার নাম অস্বীকার করোনি।
REV 3:9 দেখো, যারা শয়তানের সমাজের লোক, যারা নিজেদের ইহুদি বলে দাবি করলেও ইহুদি নয়, তারা মিথ্যাবাদী—আমি তাদের নিয়ে এসে তোমার পায়ে প্রণাম করতে বাধ্য করব, আর তারা স্বীকার করবে যে, আমি তোমাকে ভালোবেসেছি।
REV 3:10 যেহেতু তুমি ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করে আমার আদেশ পালন করেছ, আমিও তোমাকে সেই পরীক্ষাকাল থেকে রক্ষা করব, যা সকল পৃথিবীবাসীর জন্য সমগ্র জগতে আসতে চলেছে।
REV 3:11 আমি শীঘ্রই আসছি। তোমার কাছে যা আছে, সযত্নে ধরে থাকো, যেন কেউই তোমার মুকুট কেড়ে নিতে না পারে।
REV 3:12 যে বিজয়ী হয়, তাকে আমি আমার ঈশ্বরের মন্দিরের এক স্তম্ভস্বরূপ করব। তারা কখনও সেখান থেকে বাইরে যাবে না। আমি তার উপরে আমার ঈশ্বরের নাম ও আমার ঈশ্বরের সেই নগর সেই নতুন জেরুশালেমের নাম লিখব, যা আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে, স্বর্গ থেকে নেমে আসছে; এবং তার উপরেও আমি আমার নতুন নাম লিখব।
REV 3:13 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন।
REV 3:14 “লায়োদেকিয়া অবস্থিত মণ্ডলীর দূতকে লেখো: যিনি আমেন, সেই বিশ্বস্ত ও সত্যময় সাক্ষী, ঈশ্বরের সৃষ্টির শাসনকর্তা, তিনিই একথা বলেন:
REV 3:15 আমি তোমার কাজকর্মগুলি জানি, তুমি উত্তপ্ত নও, তুমি শীতলও নও। আমি চাইছিলাম, তুমি হয় উত্তপ্ত হও, নয় শীতল হও!
REV 3:16 তাই, তুমি যেহেতু নাতিশীতোষ্ণ, অর্থাৎ না উত্তপ্ত, না শীতল, তাই আমি তোমাকে আমার মুখ থেকে বমি করে ফেলতে উদ্যত হয়েছি।
REV 3:17 তুমি বলে থাকো, ‘আমি ধনী; আমি প্রচুর ধনসম্পদ সংগ্রহ করেছি, তাই আমার আর কোনও প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু তুমি বুঝতেই পারছ না যে, তুমিই হলে দুর্দশাগ্রস্ত, কৃপার পাত্র, দরিদ্র, অন্ধ ও নগ্ন।
REV 3:18 আমি তোমাকে একটি পরামর্শ দিই, তুমি আমার কাছ থেকে আগুনে পরিশোধিত হওয়া সোনা কিনে নাও যেন তুমি ধনী হতে পারো; গায়ে পরবার জন্য সাদা পোশাক যেন তোমার লজ্জাজনক নগ্নতা ঢাকা দিতে পারো; ও দুই চোখে লাগানোর জন্য কাজল যেন তুমি দেখতে পাও।
REV 3:19 আমি যাদের প্রেম করি, তাদের আমি তিরস্কার করি ও শাসন করি। তাই আন্তরিক আগ্রহ দেখাও ও মন পরিবর্তন করো।
REV 3:20 দেখো আমি তোমার কাছেই আছি! এই আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি ও কড়া নাড়ছি, যদি কেউ আমার কণ্ঠস্বর শুনে দুয়ার খুলে দেয়, আমি ভিতরে প্রবেশ করব ও তার সঙ্গে বসে আহার করব, আর সেও আমার সঙ্গে আহার করবে।
REV 3:21 যে বিজয়ী হয়, তাকে আমি আমার সঙ্গে আমার সিংহাসনে বসার অধিকার দেব, ঠিক যেমন আমি বিজয়ী হয়ে আমার পিতার সঙ্গে তাঁর সিংহাসনে বসেছি।
REV 3:22 যার কান আছে, সে শুনুক, যে পবিত্র আত্মা মণ্ডলীদের কী বলছেন।”
REV 4:1 এরপরে আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে স্বর্গে একটি দুয়ার খোলা রয়েছে; আর প্রথমে যে কণ্ঠস্বর আমি শুনেছিলাম যা তূরীধ্বনির মতো আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তিনি বললেন, “তুমি এখানে উঠে এসো, এরপরে যা অতি অবশ্যই ঘটবে, সেসব আমি তোমাকে দেখাব।”
REV 4:2 আমি সেই মুহূর্তেই পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট হলাম এবং দেখলাম আমার সামনে স্বর্গের সিংহাসন রাখা আছে এবং এক ব্যক্তি তার উপরে উপবিষ্ট।
REV 4:3 এবং উপবিষ্ট সেই ব্যক্তির চেহারা সূর্যকান্ত ও সার্দীয় মণির মতো। সেই সিংহাসনকে ঘিরে ছিল পান্নার মতো এক মেঘধনু।
REV 4:4 সেই সিংহাসনের চারদিকে ছিল আরও চব্বিশটি সিংহাসন, সেগুলির উপরে উপবিষ্ট ছিলেন চব্বিশজন প্রাচীন ব্যক্তি। তাদের পরনে ছিল সাদা পোশাক ও তাদের মাথায় ছিল সোনার মুকুট।
REV 4:5 সেই সিংহাসন থেকে নির্গত হচ্ছিল বিদ্যুতের ঝলক, গুরুগম্ভীর ধ্বনি ও বজ্রপাতের গর্জন। সিংহাসনের সামনে রাখা ছিল সাতটি জ্বলন্ত প্রদীপ, যেগুলি ঈশ্বরের সপ্ত-আত্মা।
REV 4:6 এছাড়াও, সিংহাসনের সামনেটা ছিল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, যেন কাচের একটি সমুদ্র। মাঝখানে, সিংহাসনের চারদিকে ছিলেন চার জীবন্ত প্রাণী, এবং তাদের সামনের ও পেছনের দিক ছিল চোখে পরিপূর্ণ।
REV 4:7 প্রথম জীবন্ত প্রাণী ছিলেন সিংহের মতো, দ্বিতীয়জন ছিলেন বলদের মতো, তৃতীয় জনের মুখমণ্ডল ছিল মানুষের মতো, চতুর্থজন ছিলেন উড়ন্ত ঈগলের মতো।
REV 4:8 এই চার জীবন্ত প্রাণীর প্রত্যেকের ছিল ছয়টি করে ডানা এবং তাদের দেহের সর্বত্র এমনকি ডানাগুলির নিচেও ছিল চোখে পরিপূর্ণ। দিনরাত, অবিরাম তারা একথা বলেন:
REV 4:9 যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট ও যিনি যুগে যুগে চিরকাল জীবন্ত, তাঁকে যখনই সেই জীবন্ত প্রাণীরা গৌরব, সম্মান ও ধন্যবাদ অর্পণ করেন,
REV 4:10 তখন সিংহাসনে উপবিষ্ট ব্যক্তির সামনে ওই চব্বিশজন প্রাচীন প্রণাম করেন ও যিনি যুগে যুগে চিরকাল জীবন্ত, তাঁর উপাসনা করেন। তাঁরা তাদের মুকুট সিংহাসনের সামনে রেখে দিয়ে বলেন,
REV 4:11 “আমাদের প্রভু ও ঈশ্বর, তুমি মহিমা, সম্মান ও পরাক্রম গ্রহণের যোগ্য; কেননা তুমি সবকিছু সৃষ্টি করেছ, এবং তোমার ইচ্ছামতোই সবকিছু সৃষ্ট হয়েছে ও তাদের অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে।”
REV 5:1 পরে আমি দেখলাম, যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট, তাঁর ডান হাতে রয়েছে একটি পুঁথি, যার ভিতরে ও বাইরে, দুদিকেই লেখা এবং তা সাতটি সিলমোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত।
REV 5:2 পরে আমি এক শক্তিশালী দূতকে দেখলাম, যিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করছেন, “এই সিলমোহরগুলি ভেঙে পুঁথিটি খোলার যোগ্য কে?”
REV 5:3 কিন্তু স্বর্গে বা পৃথিবীতে বা পাতালে, কেউই ওই পুঁথিটি খুলতে বা তার ভিতরে দৃষ্টিপাত করতে সক্ষম হল না।
REV 5:4 আমি কেবলই কাঁদতে থাকলাম, কারণ ওই পুঁথি খুলতে বা তার ভিতরে দৃষ্টিপাত করার যোগ্য কাউকেই পাওয়া গেল না।
REV 5:5 তখন প্রাচীনদের মধ্যে একজন আমাকে বললেন, “তুমি কেঁদো না! দেখো, যিনি যিহূদা গোষ্ঠীর সিংহ, দাউদ বংশের মূলস্বরূপ, তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তিনিই ওই পুঁথি ও তার সাতটি সিলমোহর খুলতে সক্ষম।”
REV 5:6 এরপর আমি এক মেষশাবককে দেখতে পেলাম, দেখে মনে হল যেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি সিংহাসনের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন ও তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ছিলেন সেই চার জীবন্ত প্রাণী ও প্রাচীনবর্গ। সেই মেষশাবকের ছিল সাতটি শিং ও সাতটি চোখ, যেগুলি হল সমস্ত পৃথিবীতে প্রেরিত ঈশ্বরের সপ্ত-আত্মা।
REV 5:7 তিনি গেলেন ও সিংহাসনে যিনি উপবিষ্ট তাঁর ডান হাত থেকে সেই পুঁথিটি নিলেন।
REV 5:8 এবং তিনি সেই পুঁথিটি নেওয়া মাত্র সেই চার জীবন্ত প্রাণী ও চব্বিশজন প্রাচীনবর্গ মেষশাবকের সামনে নত হয়ে প্রণাম করলেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে ছিল একটি করে বীণা ও তাদের হাতে ছিল সুগন্ধি ধূপে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র। এই ধূপ হল পবিত্রগণের প্রার্থনা।
REV 5:9 আর তাঁরা একটি নতুন গীত গাইলেন: “তুমি ওই পুঁথি গ্রহণ করার ও তার সিলমোহর খোলার যোগ্য, কারণ তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল, আর তোমার রক্ত দ্বারা তুমি ঈশ্বরের জন্য সব গোষ্ঠী ও ভাষাভাষী ও জাতি ও দেশ থেকে মানুষদের কিনে নিয়েছ।
REV 5:10 আমাদের ঈশ্বরের সেবা করার জন্য তুমি তাদের রাজ্য ও যাজকসমাজ করেছ, আর তারা পৃথিবীতে রাজত্ব করবে।”
REV 5:11 তখন আমি দৃষ্টিপাত করলাম এবং হাজার হাজার ও অযুত অযুত স্বর্গদূতের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। তাঁরা সেই সিংহাসন ও জীবন্ত প্রাণীদের ও প্রাচীনদের ঘিরে ছিলেন।
REV 5:12 তাঁরা উচ্চকণ্ঠে গাইতে লাগলেন, “মেষশাবক, যিনি হত হয়েছিলেন, তিনিই পরাক্রম ও ঐশ্বর্য ও প্রজ্ঞা ও শক্তি ও সম্মান ও মহিমা ও প্রশংসা, গ্রহণ করার যোগ্য!”
REV 5:13 পরে আমি শুনতে পেলাম স্বর্গ ও পৃথিবী ও পৃথিবীর নিচ ও সমুদ্রের অভ্যন্তরস্থ প্রত্যেক সৃষ্ট প্রাণী এবং এই সবকিছুর মধ্যে যা আছে সে সমস্ত গাইছে: “যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট, তাঁর ও মেষশাবকের প্রশংসা ও সম্মান, মহিমা ও পরাক্রম,
REV 5:14 সেই চারজন জীবন্ত প্রাণী বললেন, “আমেন,” আর প্রাচীনেরা ভূমিষ্ঠ হলেন ও উপাসনা করলেন।
REV 6:1 পরে আমি দেখলাম, সেই মেষশাবক সাতটি সিলমোহরের প্রথমটি খুললেন। তারপর আমি শুনলাম, ওই চারজন জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে একজন বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে ডেকে উঠলেন, “এসো!”
REV 6:2 আমি তাকিয়ে দেখলাম, আর আমার সামনে এক সাদা রংয়ের ঘোড়া! এর আরোহীর হাতে ধনুক, আর তাঁকে একটি মুকুট দেওয়া হল, আর তিনি বিজয়ীর মতো জয়লাভ করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন।
REV 6:3 মেষশাবক যখন দ্বিতীয় সিলমোহরটি খুললেন, আমি শুনতে পেলাম, দ্বিতীয় জীবন্ত প্রাণী বললেন, “এসো!”
REV 6:4 তখন আগুনের মতো লাল রংয়ের দ্বিতীয় একটি ঘোড়া বের হয়ে এল। এর আরোহীকে পৃথিবীর শান্তি হরণ করার ও মানুষের মধ্যে একে অপরকে হত্যা করে ক্ষমতা দেওয়া হল। তাকে দেওয়া হল লম্বা এক তরোয়াল।
REV 6:5 মেষশাবক যখন তৃতীয় সিলমোহরটি খুললেন, আমি তৃতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, “এসো!” আমি তাকিয়ে দেখলাম, আর আমার সামনে এক কালো রংয়ের ঘোড়া। এর আরোহীর হাতে একটি দাঁড়িপাল্লা।
REV 6:6 তারপর আমি শুনতে পেলাম, সেই চারজন জীবন্ত প্রাণীর কোনো একজনের কণ্ঠস্বর, বলে উঠল, “এক কিলো গমের দাম এক দিনার ও তিন কিলো যবের দাম এক দিনার, এবং তুমি তেল বা দ্রাক্ষারসের অপচয় কোরো না!”
REV 6:7 মেষশাবক যখন চতুর্থ সিলমোহর খুললেন, আমি শুনতে পেলাম চতুর্থ জীবন্ত প্রাণীর কণ্ঠস্বর বলছে, “এসো!”
REV 6:8 আমি তাকিয়ে দেখলাম আর আমার সামনে এক পাণ্ডুর রংয়ের ঘোড়া! এর আরোহীর নাম মৃত্যু, পাতাল ঘনিষ্ঠভাবে তাকে অনুসরণ করছে। তাদের ক্ষমতা দেওয়া হল যেন তারা তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি এবং পৃথিবীর বন্য জন্তুদের দ্বারা পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ প্রাণীকে হত্যা করে।
REV 6:9 তিনি যখন পঞ্চম সিলমোহরটি খুললেন তখন আমি বেদির নিচে তাঁদের প্রাণকে দেখলাম, যারা ঈশ্বরের বাক্য ও তাদের অবিচল সাক্ষ্যের জন্য নিহত হয়েছিলেন।
REV 6:10 তাঁরা উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, “পবিত্র ও সত্যময়, সর্বশক্তিমান প্রভু, পৃথিবী নিবাসীদের বিচার করতে ও আমাদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে আর কত কাল দেরি করবেন?”
REV 6:11 তখন তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে সাদা পোশাক দেওয়া হল এবং তাঁদের বলা হল, আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে, যতক্ষণ না তাঁদেরই মতো তাঁদের সহদাস ও ভাইবোনদের হত্যা করা হবে ও তাঁদের সংখ্যা পূর্ণ হবে।
REV 6:12 পরে আমি দেখলাম, তিনি ষষ্ঠ সিলমোহরটি খুললেন। তখন এক মহা ভূমিকম্প হল। সূর্য ছাগলের লোমে বোনা কম্বলের মতো কালো রংয়ের আর সম্পূর্ণ চাঁদ রক্তের মতো লাল রংয়ে রূপান্তরিত হল,
REV 6:13 আর ঠিক যেভাবে প্রবল বাতাসে আন্দোলিত ডুমুর গাছ থেকে কাঁচা ডুমুর ঝরে পড়ে সেভাবে আকাশের তারা সকল পৃথিবীতে ঝরে পড়ল।
REV 6:14 যেভাবে পুঁথিকে গুটিয়ে ফেলা হয় সেভাবে আকাশমণ্ডল দৃষ্টিপথ থেকে দূরে সরে গেল এবং সমস্ত পর্বত ও দ্বীপ নিজের নিজের স্থান থেকে উপড়ে ফেলা হল।
REV 6:15 তখন পৃথিবীর সব রাজা, রাজপুত্র ও রাজকন্যা, সৈন্যাধ্যক্ষ, ধনী, পরাক্রমী, এবং সকলে, ক্রীতদাস ও সব স্বাধীন মানুষ বিভিন্ন গুহায় ও পর্বতশিলায় নিজেদের লুকিয়ে রাখল।
REV 6:16 তারা পর্বতসকল ও মহাশিলাকে ডেকে বলতে লাগল, “আমাদের উপরে পতিত হও, যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট, তাঁর সামনে থেকে ও মেষশাবকের কোপ থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখো!
REV 6:17 কারণ তাঁদের ক্রোধ প্রকাশের মহাদিন এসে পড়েছে, আর কে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারে?”
REV 7:1 এরপরে আমি দেখলাম চারজন স্বর্গদূত, তাঁরা পৃথিবীর চার কোণে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁরা পৃথিবীর চার বায়ুকে পিছন দিকে টেনে ধরে রেখেছেন, যেন ভূমিতে বা সমুদ্রে বা কোনো গাছের উপরে বাতাস প্রবাহিত না হয়।
REV 7:2 তারপর আমি আর একজন স্বর্গদূতকে পূর্বদিক থেকে আসতে দেখলাম, তাঁর কাছে ছিল জীবন্ত ঈশ্বরের সিলমোহর। তিনি সেই চার স্বর্গদূত, যাঁদের ভূমি ও সমুদ্রের উপর অনিষ্ট করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাঁদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে বললেন:
REV 7:3 “আমরা যতক্ষণ না আমাদের ঈশ্বরের দাসগণের কপালে সিলমোহর দিয়ে ছাপ দিতে পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ভূমি বা সমুদ্র বা গাছগুলির প্রতি কোনো অনিষ্ট কোরো না।”
REV 7:4 পরে আমি ওই সিলমোহরাঙ্কিত লোকদের সংখ্যার কথা শুনতে পেলাম। তারা ছিল ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠীর 1,44,000 জন।
REV 7:5 যিহূদা গোষ্ঠী থেকে মোহরাঙ্কিত 12,000 জন, রূবেণ গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, গাদ গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন,
REV 7:6 আশের গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, নপ্তালি গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, মনঃশি গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন,
REV 7:7 শিমিয়োন গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, লেবি গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, ইষাখর গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন,
REV 7:8 সবূলূন গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, যোষেফ গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন, বিন্যামীন গোষ্ঠী থেকে 12,000 জন মোহরাঙ্কিত হল।
REV 7:9 এরপর আমি তাকিয়ে দেখলাম, আর আমার সামনে প্রত্যেক দেশের, গোষ্ঠীর, জাতির ও ভাষাভাষী লোকের এক বিশাল জনারণ্য দেখতে পেলাম যাদের গণনা করার সামর্থ কারও নেই। তারা সেই সিংহাসন ও মেষশাবকের সামনে দাঁড়িয়েছিল। তারা ছিল সাদা পোশাক পরিহিত ও তাদের হাতে ছিল খেজুর পাতা।
REV 7:10 তারা উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “পরিত্রাণ দেওয়ার অধিকার সিংহাসনে উপবিষ্ট আমাদের ঈশ্বর ও মেষশাবকের অধিকারভুক্ত।”
REV 7:11 সব স্বর্গদূত সেই সিংহাসনের চারদিকে এবং সেই প্রাচীনবর্গের ও চারজন জীবন্ত প্রাণীর চারদিকে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা সেই সিংহাসনের সামনে নত হয়ে প্রণাম করলেন ও ঈশ্বরের উপাসনা করলেন,
REV 7:12 বললেন: “আমেন! প্রশংসা ও মহিমা, প্রজ্ঞা ও ধন্যবাদ ও সম্মান, পরাক্রম ও শক্তি চিরকাল যুগে যুগে আমাদের ঈশ্বরেরই হোক। আমেন!”
REV 7:13 তখন প্রাচীনদের মধ্যে একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সাদা পোশাক পরিহিত এই লোকেরা কারা এবং কোথা থেকে তারা এসেছেন?”
REV 7:14 আমি উত্তর দিলাম, “মহামান্য, আপনিই তা জানেন।” তখন তিনি বললেন, “এরা সেই লোক, যারা মহাসংকটকাল থেকে উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে; তারা মেষশাবকের রক্তে তাদের পোশাক পরিষ্কার করেছে ও তা সাদা করছে।
REV 7:15 এই কারণে, “তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে রয়েছে, আর তারা দিনরাত তাঁর মন্দিরে তাঁর সেবা করে; আর যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট, তিনি তাদের আশ্রয় দেবেন।
REV 7:16 ‘আর তারা কখনও ক্ষুধার্ত হবে না, আর তারা কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। সূর্যের প্রচণ্ড তাপ বা প্রখর উত্তাপ,’ তাদের গায়ে লাগবে না।
REV 7:17 কারণ সিংহাসনের কেন্দ্রে স্থিত মেষশাবক তাদের পালক হবেন; ‘তিনি তাদের জীবন্ত জলের উৎসের দিকে নিয়ে যাবেন।’ ‘আর ঈশ্বর তাদের চোখের জল মুছিয়ে দেবেন।’”
REV 8:1 তিনি যখন সপ্তম সিলমোহরটি খুললেন, তখন স্বর্গে প্রায় আধ ঘণ্টা পর্যন্ত নিস্তব্ধতা পরিলক্ষিত হল।
REV 8:2 আর আমি ঈশ্বরের সামনে সেই সাতজন স্বর্গদূতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, তাঁদেরকে সাতটি তূরী দেওয়া হল।
REV 8:3 অন্য একজন স্বর্গদূত এসে বেদির কাছে দাঁড়ালেন। তাঁর কাছে ছিল একটি সোনার ধূপদানী। তাঁকে প্রচুর ধূপ দেওয়া হল, যেন তিনি সিংহাসনের সামনে সব পবিত্রগণের প্রার্থনার সময় তা সোনার বেদিতে উৎসর্গ করেন।
REV 8:4 পবিত্রগণের প্রার্থনার সঙ্গে মিশ্রিত সেই ধূপের ধোঁয়া, সেই স্বর্গদূতের হাত থেকে ঊর্ধ্বে ঈশ্বরের কাছে উঠে গেল।
REV 8:5 তারপরে সেই স্বর্গদূত ধূপদানীটি নিয়ে বেদি থেকে আগুন নিয়ে তা পূর্ণ করলেন এবং পৃথিবীতে তা নিক্ষেপ করলেন; এতে বজ্রপাতের গর্জন, গুরুগম্ভীর ধ্বনি, বিদ্যুতের ঝলকানি ও ভূমিকম্প হল।
REV 8:6 পরে সাত তূরীধারী সেই সাতজন স্বর্গদূত তূরীগুলি বাজাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।
REV 8:7 প্রথম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর রক্তমিশ্রিত শিলা ও আগুন উপস্থিত হল ও তা পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হল। এতে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ আগুনে পুড়ে গেল, এক-তৃতীয়াংশ গাছ আগুনে পুড়ে গেল ও সমস্ত সবুজ ঘাস আগুনে পুড়ে গেল।
REV 8:8 দ্বিতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর প্রজ্বলিত বিশাল পর্বতের মতো একটি বস্তু সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হল। এতে সমুদ্রের এক-তৃতীয়াংশ রক্তে পরিণত হল,
REV 8:9 সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের এক-তৃতীয়াংশ মারা গেল ও জাহাজসমূহের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হল।
REV 8:10 তৃতীয় স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর মশালের মতো জ্বলন্ত এক বৃহৎ তারা আকাশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ নদনদীর ও জলের সমস্ত উৎসের উপরে পতিত হল।
REV 8:11 এই তারাটির নাম সোমরাজ। এতে এক-তৃতীয়াংশ জল তেতো হয়ে গেল এবং সেই তেতো জলের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হল।
REV 8:12 চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন। এতে সূর্যের এক-তৃতীয়াংশ, চাঁদের এক-তৃতীয়াংশ ও তারাগণের এক-তৃতীয়াংশ আঘাতপ্রাপ্ত হল, এভাবে তাদের প্রত্যেকের এক-তৃতীয়াংশ অন্ধকারময় হল। ফলে দিনের এক-তৃতীয়াংশ ও রাতের এক-তৃতীয়াংশ আলোকশূন্য হল।
REV 8:13 আমি যখন তাকিয়ে দেখছিলাম, আমি মধ্য-আকাশে উড়ে যাওয়া এক ঈগল পাখির রব শুনলাম, সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “আরও তিনজন স্বর্গদূত, যাঁরা তূরী বাজাতে উদ্যত, তাঁদের তূরীধ্বনির জন্য পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দুর্দশা, দুর্দশা, দুর্দশাই হবে!”
REV 9:1 পঞ্চম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর আমি দেখলাম আকাশ থেকে একটি তারা পৃথিবীতে খসে পড়ল। সেই তারাটিকে অতল-গহ্বরের সুড়ঙ্গপথের চাবি দেওয়া হল।
REV 9:2 যখন সে অতল-গহ্বরের সুড়ঙ্গপথটি খুলল, তার মধ্যে থেকে বিশাল চুল্লির ধোঁয়ার মতো একটি ধোঁয়া উঠতে লাগল। অতল-গহ্বরের সেই ধোঁয়ায় সূর্য ও চাঁদ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল।
REV 9:3 আর সেই ধোঁয়ার মধ্য থেকে পঙ্গপাল বের হয়ে পৃথিবীতে নেমে এল। তাদেরকে পৃথিবীর কাঁকড়াবিছেদের মতোই ক্ষমতা দেওয়া হল।
REV 9:4 তাদের বলা হল, তারা যেন পৃথিবীর কোনো ঘাস বা গাছপালা বা গাছের ক্ষতি না করে, কিন্তু সেইসব মানুষের ক্ষতি করে, যাদের কপালে ঈশ্বরের সিলমোহর নেই।
REV 9:5 তাদের হত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, কিন্তু পাঁচ মাস ধরে অত্যাচার করার ক্ষমতা দেওয়া হল। আর তারা সেরকম যন্ত্রণাভোগ করল, যেমন কাঁকড়াবিছে কোনো মানুষকে হুল ফোটালে যন্ত্রণা হয়।
REV 9:6 ওই দিনগুলিতে মানুষ মৃত্যুর সন্ধান করবে, কিন্তু তার সন্ধান পাবে না। তারা আকুল হয়ে মৃত্যুবরণ করতে চাইবে, কিন্তু মৃত্যু তাদের নাগাল এড়িয়ে যাবে।
REV 9:7 সেই পঙ্গপালগুলি দেখতে ছিল রণসাজে সজ্জিত ঘোড়ার মতো। তাদের মাথায় ছিল সোনার মুকুটের মতো দেখতে কিছু এক জিনিস এবং তাদের মুখমণ্ডল দেখতে ছিল মানুষের মুখমণ্ডলের মতো।
REV 9:8 তাদের চুল ছিল নারীর চুলের মতো এবং দাঁত ছিল সিংহের দাঁতের মতো।
REV 9:9 তাদের বুকের পাটা ছিল লোহার বুকের পাটার মতো এবং তাদের ডানার আওয়াজ ছিল যুদ্ধে চলেছে এমন অনেক ঘোড়া ও রথের গুরুগম্ভীর শব্দের মতো।
REV 9:10 কাঁকড়াবিছের মতো ছিল তাদের লেজ ও হুল। পাঁচ মাস ধরে মানুষকে যন্ত্রণা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের ওই লেজে ছিল,
REV 9:11 অতল-গহ্বরের এক দূত ছিল তাদের রাজা। হিব্রু ভাষায় তার নাম আবদ্দোন ও গ্রিক ভাষায়, আপল্লিয়োন।
REV 9:12 প্রথম দুর্দশার অন্ত হল; আরও বাকি দুই দুর্দশার সময় ছিল সন্নিকট।
REV 9:13 ষষ্ঠ দূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর আমি ঈশ্বরের সামনে স্থিত সোনার বেদির শৃঙ্গগুলি থেকে এক বাণী শুনতে পেলাম।
REV 9:14 তা তূরীধারী সেই ষষ্ঠ স্বর্গদূতকে বলছিল, “ইউফ্রেটিস মহানদীর কাছে যে চারজন দূত রুদ্ধ আছে, তাদের মুক্ত করে দাও।”
REV 9:15 তখন যে চারজন দূতকে সেই ক্ষণ ও দিন ও মাস ও বছরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, তাদের মুক্ত করা হল, যেন তারা মানবজাতির এক-তৃতীয়াংশকে হত্যা করতে পারে।
REV 9:16 আর অশ্বারোহী ওই সৈন্যের সংখ্যা ছিল কুড়ি কোটি। আমি তাদের সংখ্যা শুনলাম।
REV 9:17 আমি আমার দর্শনে যেসব ঘোড়া ও তাদের আরোহীদের দেখতে পেলাম, তারা দেখতে ছিল এরকম: তাদের বুকের পাটা ছিল আগুনে-লাল, ঘন নীল ও গন্ধকের মতো হলুদ রংয়ের। ঘোড়াগুলির মাথা ছিল সিংহের মাথার মতো এবং তাদের মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধক।
REV 9:18 তাদের মুখ থেকে বের হওয়া সেই তিন মহামারি, আগুন, ধোঁয়া ও গন্ধকের দ্বারা মানবজাতির এক-তৃতীয়াংশ নিহত হল।
REV 9:19 ঘোড়াগুলির ক্ষমতা ছিল তাদের মুখে ও তাদের লেজে; কারণ তাদের লেজে সাপের মতো মাথা ছিল, যার দ্বারা তারা মানুষের ক্ষতি করতে পারত।
REV 9:20 মানবজাতির অবশিষ্ট লোক, যারা এই সমস্ত মহামারির দ্বারা নিহত হল না, তারা তখনও তাদের হাত দিয়ে করা কাজ থেকে মন পরিবর্তন করল না; তারা ভূতদের পূজা এবং সোনা, রুপো, পিতল, পাথর ও কাঠ দ্বারা নির্মিত বিভিন্ন প্রতিমা—যে প্রতিমারা দেখতে বা শুনতে বা চলতে পারে না, তাদের পূজা করা থেকে বিরত থাকল না।
REV 9:21 এছাড়াও তারা তাদের নরহত্যা, তাদের তন্ত্রমন্ত্র-মায়াবিদ্যা, তাদের অবৈধ যৌনাচার, কিংবা তাদের চুরি করা থেকেও মন পরিবর্তন করল না।
REV 10:1 এরপর আমি অন্য একজন শক্তিশালী দূতকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর পরনে ছিল মেঘের পোশাক ও তাঁর মাথায় ছিল এক মেঘধনু। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল সূর্যের মতো ও তাঁর পা-দুটি ছিল আগুনের স্তম্ভের মতো।
REV 10:2 তাঁর হাতে ধরা ছিল ছোটো একটি পুঁথি, যা ছিল খোলা অবস্থায়। তিনি তাঁর ডান পা সমুদ্রের উপরে ও বাঁ পা শুকনো জমির উপরে রাখলেন।
REV 10:3 আর তিনি সিংহের গর্জনের মতো প্রবল হুংকার দিলেন। তিনি চিৎকার করলে পর সাতটি বজ্রধ্বনি প্রত্যুত্তর করল।
REV 10:4 যখন সেই সাতটি বজ্রধ্বনি কথা বলল, আমি তা লিখতে উদ্যত হলাম; কিন্তু আমি স্বর্গ থেকে এক বাণী শুনতে পেলাম, তা আমাকে বলছিল, “সাত বজ্রধ্বনির বাণী সিলমোহরাঙ্কিত করো, কিন্তু তা লিপিবদ্ধ করবে না।”
REV 10:5 তখন সমুদ্র ও স্থলের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা যে স্বর্গদূতকে আমি দেখেছিলাম, তিনি স্বর্গের দিকে তাঁর ডান হাত তুলে ধরলেন।
REV 10:6 আর যিনি যুগে যুগে চিরকাল জীবন্ত, যিনি আকাশমণ্ডল ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু, পৃথিবী ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু এবং সমুদ্র ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু সৃষ্টি করছেন, তাঁরই নামে তিনি এই শপথ করে বললেন, “আর দেরি হবে না!
REV 10:7 কিন্তু যখন সেই সপ্তম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজাতে উদ্যত হবেন, ঠিক তখনই ঈশ্বরের রহস্য পরিপূর্ণতা লাভ করবে যেমন তিনি তাঁর দাস ভাববাদীদের কাছে ঘোষণা করেছিলেন।”
REV 10:8 তারপর যে কণ্ঠস্বর স্বর্গ থেকে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তিনি আমার সঙ্গে আবার কথা বললেন: “তুমি যাও, যে স্বর্গদূত সমুদ্র ও ভূমির উপরে দাঁড়িয়ে আছে, তাঁর হাত থেকে খোলা ওই পুঁথিটি গ্রহণ করো।”
REV 10:9 তাই আমি ওই স্বর্গদূতের কাছে গিয়ে, তাঁর কাছ থেকে ওই ছোটো পুঁথিটি চাইলাম। তিনি আমাকে বললেন, “এটি নাও ও খেয়ে ফেলো। এ তোমার পেটে গিয়ে টক হয়ে উঠবে, কিন্তু তোমার মুখে তা মধুর মতো মিষ্টি লাগবে।”
REV 10:10 আমি ওই স্বর্গদূতের হাত থেকে ছোটো পুঁথিটি নিয়ে তা খেয়ে ফেললাম। তা আমার মুখে মধুর মতো মিষ্টি স্বাদযুক্ত মনে হল, কিন্তু তা খেয়ে ফেলার পর আমার পেট টক হয়ে গেল।
REV 10:11 তখন আমাকে বলা হল, “তোমাকে আবার বহু জাতি, দেশ, ভাষাভাষী ও রাজাদের সম্পর্কে ভাববাণী বলতে হবে।”
REV 11:1 আমাকে মাপকাঠির মতো একটি নলখাগড়া দেওয়া হল ও বলা হল, “তুমি যাও, গিয়ে ঈশ্বরের মন্দির ও তাঁর বেদি পরিমাপ করো ও সেখানকার উপাসকদের সংখ্যা গুনে নাও।
REV 11:2 কিন্তু বাইরের প্রাঙ্গণটি বাদ দেবে; সেটার পরিমাপ কোরো না, কারণ তা অইহুদিদের দেওয়া হয়েছে। তারা 42 মাস পর্যন্ত পবিত্র নগরকে পদদলিত করবে।
REV 11:3 আর আমি আমার দুই সাক্ষীকে ক্ষমতা দেব। তাঁরা চটের পোশাক পরে 1,260 দিন ভাববাণী বলবে।”
REV 11:4 তাঁরাই সেই দুই জলপাই গাছ ও দুই দীপাধার, যাঁরা পৃথিবীর প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
REV 11:5 কেউ যদি তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবে তাঁদের মুখ থেকে আগুন বেরিয়ে এসে তাঁদের শত্রুদের গ্রাস করে। এভাবে, যারা তাদের ক্ষতি করতে চায়, অবশ্যই তাদের মৃত্যু হবে।
REV 11:6 আকাশ রুদ্ধ করার ক্ষমতা থাকবে তাঁদের, যেন যতদিন তাঁরা ভাববাণী বলেন, কোনও বৃষ্টি না হয়। জলকে রক্তে পরিণত করার এবং তাঁরা যতবার যখনই চায়, সব প্রকার মহামারিতে পৃথিবীকে আঘাত করার ক্ষমতা তাঁদের আছে।
REV 11:7 তাঁরা নিজেদের সাক্ষ্য শেষ করলে পরে, যে পশু সেই অতল-গহ্বর থেকে উঠে আসবে, সে তাঁদের আক্রমণ করবে, বিজয়ী হবে ও তাঁদের হত্যা করবে।
REV 11:8 তাঁদের মৃতদেহ মহানগরীর পথে পড়ে থাকবে। এই নগরীকেই আলংকারিকরূপে সদোম ও মিশর বলে, যেখানে তাঁদের প্রভুও ক্রুশার্পিত হয়েছিলেন।
REV 11:9 সাড়ে তিন দিন যাবৎ প্রত্যেক জাতি, গোষ্ঠী, ভাষাভাষী ও দেশের মানুষ তাঁদের মৃতদেহের দিকে চেয়ে থাকবে ও তাঁদের কবর দেওয়ার অনুমতি দেবে না।
REV 11:10 পৃথিবীর অধিবাসীরা তাঁদের কারণে উল্লসিত হবে এবং পরস্পরকে উপহার পাঠিয়ে আনন্দ উদ্‌যাপন করবে, কারণ এই দুই ভাববাদী পৃথিবী নিবাসীদের যন্ত্রণা দিত।
REV 11:11 কিন্তু সাড়ে তিন দিন পরে ঈশ্বরের কাছ থেকে আগত প্রাণবায়ু তাঁদের মধ্যে প্রবেশ করল। তাঁরা তাঁদের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন; যারা তাঁদের দেখল, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল।
REV 11:12 এরপর তাঁরা শুনলেন, স্বর্গ থেকে কেউ উচ্চকণ্ঠে তাঁদের বলছেন, “এখানে উঠে এসো।” আর তাঁদের শত্রুদের চোখের সামনেই এক মেঘযোগে স্বর্গে উঠে গেলেন।
REV 11:13 আর সেই মুহূর্তে এক তীব্র ভূমিকম্প হল এবং সেই নগররীর এক-দশমাংশ ধসে পড়ল। সেই ভূমিকম্পে সাত হাজার মানুষ নিহত হল, আর যারা রক্ষা পেল, তারা আতঙ্কিত হয়ে স্বর্গের ঈশ্বরের গৌরব করল।
REV 11:14 দ্বিতীয় দুর্দশার অবসান হল; শীঘ্রই তৃতীয় দুর্দশা এসে উপস্থিত হবে।
REV 11:15 সপ্তম স্বর্গদূত তাঁর তূরী বাজালেন, আর স্বর্গে উচ্চনাদে এই বাণী শোনা গেল: “জগতের রাজ্য পরিণত হল, আমাদের প্রভু ও তাঁর খ্রীষ্টের রাজ্যে, আর তিনি যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব করবেন।”
REV 11:16 আর যে চব্বিশজন প্রাচীন ঈশ্বরের সামনে নিজেদের সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁরা অধোমুখে প্রণাম করে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন:
REV 11:17 তাঁরা বললেন, “হে সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, যিনি আছেন ও ছিলেন, আমরা তোমাকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি তোমার মহাপরাক্রম গ্রহণ করেছ ও রাজত্ব শুরু করেছ।
REV 11:18 সব জাতি ক্রুদ্ধ হয়েছিল; তাই তোমার রোষও উপস্থিত হয়েছে। মৃতদের বিচার করার সময় এবং তোমার দাস সেই ভাববাদীদের ও পবিত্রগণের, আর যতজন তোমার নামে সম্ভ্রম প্রকাশ করে, ক্ষুদ্র ও মহান নির্বিশেষে সবাইকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য—এবং পৃথিবী-বিনাশকদের ধ্বংস করার সময় উপস্থিত হল।”
REV 11:19 তারপরে স্বর্গে ঈশ্বরের মন্দির খোলা হল এবং মন্দিরের ভিতরে তাঁর নিয়ম-সিন্দুকটি দেখা গেল। আর সেখানে বিদ্যুতের ঝলক, গুরুগম্ভীর ধ্বনি, বজ্রপাতের গর্জন, ভূমিকম্প ও বড়ো বড়ো শিলাবৃষ্টি হতে লাগল।
REV 12:1 তারপর স্বর্গে এক বিশাল ও বিস্ময়কর চিহ্ন দেখা গেল, এক নারী, সূর্য তার পোশাক, চাঁদ তার পায়ের নিচে এবং তার মাথায় বারোটি তারাখচিত এক মুকুট।
REV 12:2 সে ছিল সন্তান-সম্ভবা এবং প্রসব যন্ত্রণায় কাতর হয়ে সে আর্তনাদ করছিল।
REV 12:3 এরপর মহাকাশে আর একটি চিহ্ন দেখা দিল; এক অতিকায় লাল দানব, তার ছিল সাতটি মাথা ও দশটি শিং এবং তার মাথাগুলিতে ছিল সাতটি মুকুট।
REV 12:4 তার লেজ আকাশের এক-তৃতীয়াংশ তারাকে টেনে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করল। সেই দানব, সন্তান প্রসব করতে উদ্যত সেই নারীর সামনে এসে দাঁড়াল, যেন জন্ম হওয়ামাত্র সে তার শিশুকে গ্রাস করতে পারে।
REV 12:5 সেই নারী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিল, যিনি লোহার রাজদণ্ডের দ্বারা সব জাতিকে শাসন করবেন। তার সেই শিশুকে সেই দানবের সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সিংহাসনের কাছে নিয়ে যাওয়া হল।
REV 12:6 সেই নারী মরুপ্রান্তরে এক স্থানে পালিয়ে গেল, যে স্থান ঈশ্বর তার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যেখানে তাকে 1,260 দিন পর্যন্ত প্রতিপালন করা হবে।
REV 12:7 এরপর স্বর্গে এক যুদ্ধ হল। মীখায়েল ও তাঁর দূতেরা সেই দানবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, আর সেই দানব ও তার দূতেরাও যুদ্ধ করল।
REV 12:8 কিন্তু তার যথেষ্ট শক্তি ছিল না, তাই স্বর্গে তাদের আর কোনও স্থান হল না।
REV 12:9 সেই মহাদানবকে নিচে নিক্ষেপ করা হল—এ সেই পুরাকালের সাপ, যাকে দিয়াবল বা শয়তান বলা হয়, সে সমস্ত জগৎকে বিপথে চালিত করে। তাকে ও তার সঙ্গে তার দূতদেরও পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হল।
REV 12:10 এরপরে আমি স্বর্গে এক উচ্চ রব শুনতে পেলাম: “এখন পরিত্রাণ ও পরাক্রম ও আমাদের ঈশ্বরের রাজ্য এবং তাঁর খ্রীষ্টের কর্তৃত্ব উপস্থিত হল। কারণ আমাদের ভাইবোনেদের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগকারী, যে আমাদের ঈশ্বরের সামনে তাদের বিরুদ্ধে দিনরাত অভিযোগ করে, সে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
REV 12:11 মেষশাবকের রক্তের দ্বারা ও তাদের সাক্ষ্যের বাণী দ্বারা তারা তাকে পরাস্ত করেছে; তারা নিজেদের প্রাণকেও এত প্রিয় জ্ঞান করেনি, যে কারণে মৃত্যুকেও তুচ্ছজ্ঞান করেছে।
REV 12:12 সেই কারণে স্বর্গলোক ও তার অধিবাসীরা, তোমরা আনন্দ করো! কিন্তু পৃথিবী ও সমুদ্রের দুর্দশা হবে, কারণ দিয়াবল তোমাদের কাছে নেমে গিয়েছে! সে ক্রোধে পূর্ণ, কারণ সে জানে তার সময় সংক্ষিপ্ত।”
REV 12:13 সেই দানব যখন দেখল, তাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে সেই নারীর পিছনে ধাওয়া করল, যে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিল।
REV 12:14 সেই নারীকে একটি বড়ো ঈগল পাখির মতো দুটি ডানা দেওয়া হয়েছিল, যেন মরুপ্রান্তরে তার জন্য যে স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে, সে সেখানে উড়ে যেতে পারে। সে সেই দানবের নাগালের বাইরে, এক বছর, দু-বছর ও ছয় মাস প্রতিপালিত হবে।
REV 12:15 তারপর সেই দানবটি তার মুখ থেকে নদীর মতো জলস্রোত বের করল, যেন সেই নারীর নাগাল পায় ও তাকে জলের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে পারে।
REV 12:16 কিন্তু পৃথিবী তার মুখ খুলে সেই নারীকে সাহায্য করল এবং সে নাগ-দানবের মুখ থেকে বের হওয়া সেই নদী গিলে ফেলল।
REV 12:17 তখন সেই নাগ-দানব সেই নারীর প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে তার বংশের সেই অবশিষ্ট লোকদের সঙ্গে—যারা ঈশ্বরের আদেশ পালন ও যীশুর সাক্ষ্য ধারণ করে—তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল।
REV 13:1 আর সেই নাগ-দানব সমুদ্রের তীরে গিয়ে দাঁড়াল। আর আমি দেখলাম, একটি পশু সমুদ্রের মধ্য থেকে উঠে আসছে। তার ছিল দশটি শিং ও সাতটি মাথা এবং তার শিংগুলির উপরে দশটি মুকুট। আর প্রত্যেকটি মাথার উপরে ছিল একটি করে ঈশ্বর নিন্দাসূচক নাম।
REV 13:2 যে পশুটি আমি দেখলাম, সেটি দেখতে চিতাবাঘের মতো, কিন্তু তার পা ছিল ভালুকের মতো এবং মুখ ছিল সিংহের মতো। সেই নাগ তার পরাক্রম ও তার সিংহাসন ও মহা কর্তৃত্ব সেই দানব পশুটিকে দান করল।
REV 13:3 সেই পশুর একটি মাথা মনে হল যেন মারাত্মক আঘাতে আহত, কিন্তু সেই মারাত্মক আঘাতের নিরাময় করা হল। এতে সমস্ত জগৎ বিস্মিত হয়ে সেই পশুকে অনুসরণ করল।
REV 13:4 লোকেরা সেই নাগ-দানবের পূজা করল, কারণ সে সেই পশুকে কর্তৃত্ব প্রদান করেছিল। আর তারা সেই পশুটিরও পূজা করে বলতে লাগল, “এই পশুর সমতুল্য কে? কে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে?”
REV 13:5 সেই পশুটিকে এমন এক মুখ দেওয়া হল, যা বহু দম্ভের বাক্য ও ঈশ্বরনিন্দার উক্তি করবে এবং বিয়াল্লিশ মাস পর্যন্ত তার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবে।
REV 13:6 সে তার মুখ খুলে ঈশ্বরের নিন্দা, তাঁর নাম, তাঁর আবাসস্থল ও স্বর্গবাসী সকলের নিন্দা করতে লাগল।
REV 13:7 তাকে পবিত্রগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও তাদের পরাস্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হল। আর সমস্ত গোষ্ঠী, জাতি, ভাষাভাষী ও দেশের উপরে তাকে কর্তৃত্ব দেওয়া হল।
REV 13:8 এতে পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসী সেই পশুর পূজা করবে। তাদের নাম জগৎ সৃষ্টির লগ্ন থেকে মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লিখিত নেই।
REV 13:9 যার কান আছে, সে শুনুক।
REV 13:10 যদি কেউ বন্দি হওয়ার জন্য নির্ধারিত, সে বন্দি হবে। যদি কেউ তরোয়ালের দ্বারা হত হওয়ার জন্য নির্ধারিত, সে তরোয়ালের দ্বারা হত হবে। এর অর্থ, পবিত্রজনেরা ধৈর্যের সঙ্গে নিপীড়ন সহ্য করবে ও বিশ্বস্ত থাকবে।
REV 13:11 তারপর আমি অন্য একটি পশু দেখলাম, সে পৃথিবীর গর্ভ থেকে উঠে এল। তার ছিল মেষশাবকের মতো দুটি শিং, কিন্তু সে দানবের মতো কথা বলত।
REV 13:12 সে ওই প্রথম পশুটির পক্ষে তার সমস্ত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করল এবং যার মারাত্মক ক্ষত নিরাময় করা হয়েছিল, সেই প্রথম পশুটির পূজা করতে পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের বাধ্য করল।
REV 13:13 আর সে মহা অলৌকিক চিহ্নকাজ করতে লাগল, এমনকি, লোকদের চোখের সামনে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আগুন নামিয়ে আনল।
REV 13:14 এভাবে প্রথম পশুর সামনে যেসব চিহ্নকাজ করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছিল তা দিয়ে সে পৃথিবীবাসীদের প্রতারণা করল। সেই পশুর সম্মানে সে তাদের একটি প্রতিমা স্থাপন করার আদেশ দিল; যে পশুকে তরোয়ালের দ্বারা আঘাত করলেও সে জীবিত ছিল।
REV 13:15 তাকে ক্ষমতা দেওয়া হল যেন সে প্রথম পশুটির প্রতিমায় প্রাণবায়ু দিতে পারে ও সেই প্রতিমা কথা বলতে পারে। তখন সেই পশুর প্রতিমা আদেশ দিল যে, যারাই তাকে পূজা করতে অস্বীকার করে তাদের হত্যা করা হয়।
REV 13:16 আর, সামান্য ও মহান, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও ক্রীতদাস নির্বিশেষে সকলকে সে বাধ্য করল, যেন তারা তাদের ডান হাতে বা কপালে একটি ছাপ গ্রহণ করে,
REV 13:17 যেন ওই ছাপ না থাকলে, কেউ কেনাবেচা করতে না পারে। সেই ছাপ ছিল ওই পশুর নাম বা তার নামের সংখ্যা।
REV 13:18 এতে প্রজ্ঞার প্রয়োজন হয়। যদি কারও অন্তর্দৃষ্টি থাকে, সে ওই পশুর সংখ্যা গুনে নিক, কারণ তা ছিল মানুষের সংখ্যা। সেই সংখ্যাটি হল 666।
REV 14:1 তারপর আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে সিয়োন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়েছিলেন সেই মেষশাবক ও তাঁর সঙ্গে ছিল সেই 1,44,000 জন মানুষ, যাদের কপালে তাঁর নাম ও তাঁর পিতার নাম লেখা ছিল।
REV 14:2 আর আমি স্বর্গ থেকে প্রবহমান মহা জলস্রোতের মতো গর্জন ও বজ্রপাতের মতো শব্দ শুনতে পেলাম। যে শব্দ আমি শুনলাম, মনে হল যেন কোনো বীণাবাদকের দল তাদের বীণা বাজাচ্ছে।
REV 14:3 আর তাঁরা সেই সিংহাসনের সামনে এবং চারজন সজীব প্রাণীর ও প্রাচীনদের সামনে এক নতুন গীত গাইলেন। পৃথিবী থেকে মুক্ত করা সেই 1,44,000 জন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই সেই গান শিখতে পারল না।
REV 14:4 এঁরা তাঁরাই, যাঁরা নারী-সংসর্গে নিজেদের কলুষিত করেননি, কারণ তাঁরা নিজেদের শুচিশুদ্ধ রেখেছিলেন। মেষশাবক যেখানেই যান, তাঁরা তাঁকে অনুসরণ করেন। তাঁদের মানুষদের মধ্য থেকে কিনে নেওয়া হয়েছিল এবং ঈশ্বর ও সেই মেষশাবকের উদ্দেশে প্রথম ফসলরূপে তাঁদের নিবেদন করা হয়েছিল।
REV 14:5 তাঁদের মুখে কোনও মিথ্যা কথা পাওয়া যায়নি, তাঁরা ছিলেন নিষ্কলঙ্ক।
REV 14:6 এরপর আমি অন্য এক স্বর্গদূতকে মধ্যাকাশে উড়ে যেতে দেখলাম। তাঁর কাছে ছিল অনন্তকালীন সুসমাচার, যেন তিনি প্রত্যেক দেশ, গোষ্ঠী, ভাষাভাষী, জাতির, পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীর কাছে তা ঘোষণা করেন।
REV 14:7 তিনি উচ্চকণ্ঠে বললেন, “ঈশ্বরকে ভয় করো ও তাঁকে সম্মান দাও, কারণ তাঁর বিচারের সময় এসে উপস্থিত হয়েছে। যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র ও জলের সব উৎস উৎপন্ন করেছেন, তাঁর উপাসনা করো।”
REV 14:8 দ্বিতীয় এক স্বর্গদূত তাঁকে অনুসরণ করে এসে বললেন, “পতন হল! বিশাল সেই ব্যাবিলনের পতন হল, যে তার ব্যভিচারের উন্মত্তকারী সুরা সমস্ত জাতিকে পান করিয়েছে।”
REV 14:9 তৃতীয় এক স্বর্গদূত তাঁদের অনুসরণ করে এসে উচ্চকণ্ঠে বললেন: “যদি কেউ সেই পশুর ও তার মূর্তির পূজা করে এবং কপালে বা হাতে তার চিহ্ন গ্রহণ করে,
REV 14:10 সেও ঈশ্বরের রোষের সুরা অবশ্যই পান করবে, যা ঈশ্বরের ক্রোধের পানপাত্রে পূর্ণ শক্তির সঙ্গে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সে পবিত্র দূতদের ও মেষশাবকের সাক্ষাতে জ্বলন্ত আগুন ও গন্ধকে যন্ত্রণা পাবে।
REV 14:11 আর তাদের যন্ত্রণাভোগের ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল উঠতে থাকবে। যারা সেই পশু ও তার মূর্তিকে পূজা করে, বা যে কেউ তার নামের চিহ্ন গ্রহণ করে, দিনরাত কখনও সে বিশ্রাম পাবে না।”
REV 14:12 পবিত্রগণ যারা ঈশ্বরের আদেশ পালন করে ও যীশুর কাছে বিশ্বস্ত থাকে, এখানেই তাদের ধৈর্যশীল সহিষ্ণুতার পরীক্ষা হবে।
REV 14:13 তখন আমি স্বর্গ থেকে এই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, “তুমি লেখো: ধন্য সেই মৃতজনেরা, যারা এখন থেকে প্রভুতে মৃত্যুবরণ করবে।” পবিত্র আত্মা বলছেন, “হ্যাঁ, তারা তাদের শ্রম থেকে বিশ্রাম পাবে, কারণ তাদের সব কাজ তাদের অনুসরণ করবে।”
REV 14:14 আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে ছিল এক সাদা রংয়ের মেঘ। সেই মেঘের উপরে “মনুষ্যপুত্রের মতো” একজনকে উপবিষ্ট দেখলাম, যাঁর মাথায় ছিল সোনার মুকুট ও হাতে ছিল এক ধারালো কাস্তে।
REV 14:15 তারপর মন্দির থেকে অন্য এক স্বর্গদূত বের হয়ে, যিনি মেঘের উপরে উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁকে উচ্চকণ্ঠে বললেন, “আপনার কাস্তে নিন ও শস্য কাটুন, কারণ শস্য কাটার সময় উপস্থিত হয়েছে, কারণ পৃথিবীর শস্য পরিপক্ব হয়েছে।”
REV 14:16 তাই যিনি মেঘের উপরে উপবিষ্ট তিনি পৃথিবীর উপরে তাঁর কাস্তে চালালেন, আর পৃথিবীর শস্য কাটা হল।
REV 14:17 স্বর্গের মন্দির থেকে আর একজন স্বর্গদূত বেরিয়ে এলেন, তাঁর কাছেও ছিল ধারালো এক কাস্তে।
REV 14:18 আরও একজন স্বর্গদূত বেদি থেকে বেরিয়ে এলেন। আগুনের উপরে তাঁর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা ছিল। যাঁর কাছে ধারালো কাস্তে ছিল, তিনি তাঁকে উচ্চকণ্ঠে ডেকে বললেন, “আপনার ধারালো কাস্তে নিন ও পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ সংগ্রহ করুন, কারণ তার দ্রাক্ষা পরিপক্ব হয়েছে।”
REV 14:19 সেই স্বর্গদূত পৃথিবীতে তাঁর কাস্তে চালালেন, তাঁর দ্রাক্ষাগুচ্ছ সংগ্রহ করলেন ও সেগুলি ঈশ্বরের ক্রোধের বিশাল দ্রাক্ষাকুণ্ডে নিক্ষেপ করলেন।
REV 14:20 সেগুলি নগরের বাইরে দ্রাক্ষাকুণ্ডে পদদলিত করা হল এবং কুণ্ড থেকে রক্তস্রোত প্রবাহিত হল। তা 300 কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবাহিত হল ও ঘোড়ার বলগা পর্যন্ত উঠল।
REV 15:1 আমি স্বর্গে আর একটি মহৎ ও বিস্ময়কর চিহ্ন দেখতে পেলাম: সাতজন স্বর্গদূত সাতটি অন্তিম বিপর্যয় নিয়ে আসছেন। অন্তিম, কারণ এগুলির সঙ্গেই ঈশ্বরের ক্রোধের অবসান হবে।
REV 15:2 আর আমি দেখলাম, যেন আগুন মেশানো এক গনগনে কাচময় সমুদ্র, আর সেই সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেইসব মানুষ, যাঁরা সেই পশু ও তার মূর্তি ও তার নামের সংখ্যার উপরে বিজয়ী হয়েছে। তাঁদের হাতে আছে ঈশ্বরের দেওয়া বীণা।
REV 15:3 তাঁরা ঈশ্বরের দাস মোশির গীত ও মেষশাবকের গীত গাইছেন: “প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান, মহৎ ও বিস্ময়কর তোমার কর্মসকল; যুগপর্যায়ের রাজা, ন্যায়সংগত ও সত্য তোমার যত পথ।
REV 15:4 হে প্রভু, কে না তোমাকে ভয় করবে ও তোমার নামের মহিমা করবে? কারণ কেবলমাত্র তুমিই পবিত্র। সর্বজাতি এসে তোমার সামনে উপাসনা করবে, কারণ তোমার ধর্মময় ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হয়েছে।”
REV 15:5 এরপরে আমি দৃষ্টিপাত করলাম, স্বর্গের মন্দির, অর্থাৎ সেই সাক্ষ্য-তাঁবু খুলে দেওয়া হল।
REV 15:6 সেই মন্দির থেকে সাতটি বিপর্যয় নিয়ে বেরিয়ে এলেন সাতজন স্বর্গদূত। তারা পরিষ্কার ও উজ্জ্বল মসিনার পোশাক পরিহিত এবং তাদের বুকে ঘিরে ছিল সোনার উত্তরীয়।
REV 15:7 তখন সেই চারজন জীবন্ত প্রাণীর একজন, যুগে যুগে চিরজীবী ঈশ্বরের ক্রোধে পরিপূর্ণ সাতটি সোনার বাটি, সেই সাতজন স্বর্গদূতকে দিলেন।
REV 15:8 আর সেই মন্দির ঈশ্বরের গরিমা থেকে ও তাঁর পরাক্রম থেকে উৎপন্ন ধোঁয়ায় পূর্ণ হল, আর ওই সাতজন স্বর্গদূতের সাতটি বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারল না।
REV 16:1 এরপর আমি মন্দিরের মধ্য থেকে এক উচ্চ রব শুনতে পেলাম, যা ওই সাতজন স্বর্গদূতকে বলছিল, “তোমরা যাও, গিয়ে ঈশ্বরের ক্রোধে পূর্ণ ওই সাতটি বাটি পৃথিবীতে ঢেলে দাও।”
REV 16:2 প্রথম স্বর্গদূত গিয়ে তাঁর বাটি পৃথিবীর উপরে ঢেলে দিলেন। এতে যারা সেই পশুর ছাপ ধারণ করেছিল ও তার মূর্তির পূজা করেছিল, তাদের গায়ে বীভৎস ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত উৎপন্ন হল।
REV 16:3 দ্বিতীয় স্বর্গদূত সমুদ্রের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। এতে তা মৃত মানুষের রক্তের মতো হল ও সমুদ্রের সমস্ত সজীব প্রাণী মারা পড়ল।
REV 16:4 তৃতীয় স্বর্গদূত তাঁর বাটি সব নদনদী ও জলের উৎসের উপরে ঢেলে দিলেন, ও সেগুলি রক্তে পরিণত হল।
REV 16:5 তখন আমি শুনলাম, জলরাশির উপরে ভারপ্রাপ্ত স্বর্গদূত বলছেন: “যিনি আছেন ও যিনি ছিলেন, সেই পবিত্রজন, এই সমস্ত বিচারে তুমিই ধর্মময়, যেহেতু তুমি এরকম বিচার করেছ;
REV 16:6 কারণ তারা তোমার পবিত্রগণের ও ভাববাদীদের রক্তপাত করেছিল, আর তুমি তাদের রক্ত পান করতে দিয়েছ, কারণ তারা তারই উপযুক্ত।”
REV 16:7 আর আমি সেই যজ্ঞবেদির প্রত্যুত্তর শুনতে পেলাম: “হ্যাঁ, প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান, তোমার সব বিচারাদেশ যথার্থ ও ন্যায়সংগত।”
REV 16:8 চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর বাটি সূর্যের উপরে ঢেলে দিলেন। আর সূর্যকে ক্ষমতা দেওয়া হল, যেন সে আগুনের দ্বারা সব মানুষকে ঝলসে দেয়।
REV 16:9 তখন প্রখর উত্তাপে তারা তাপদগ্ধ হয়ে, এই সমস্ত আঘাতের উপরে যাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল সেই ঈশ্বরের নামকে অভিশাপ দিতে লাগল। কিন্তু তারা মন পরিবর্তন করতে ও তাঁকে গৌরব দিতে চাইল না।
REV 16:10 পঞ্চম স্বর্গদূত সেই পশুর সিংহাসনের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। ফলে তার রাজ্য অন্ধকারে ছেয়ে গেল। লোকেরা যন্ত্রণায় তাদের জিভ কামড়াতে লাগল
REV 16:11 এবং তাদের যন্ত্রণা ও তাদের ক্ষতের জন্য স্বর্গের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিল। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করল না।
REV 16:12 ষষ্ঠ স্বর্গদূত মহানদী ইউফ্রেটিসের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। এতে সেই নদীর জল শুকিয়ে গিয়ে পূর্বদিক থেকে রাজাদের আগমনের পথ সুগম করল।
REV 16:13 তারপর আমি তিনটি মন্দ-আত্মা দেখলাম, যেগুলি দেখতে ছিল ব্যাঙের মতো। সেগুলি সেই নাগ-দানবের মুখ থেকে, সেই পশুর মুখ থেকে ও সেই ভণ্ড ভাববাদীর মুখ থেকে বেরিয়ে এল।
REV 16:14 তারা ভূতদের আত্মা, অলৌকিক সব চিহ্নকাজ করে, আর তারা সমস্ত জগতের রাজাদের কাছে যায়, যেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সেই মহাদিনের জন্য সেইসব রাজাদের যুদ্ধে একত্র করতে পারে।
REV 16:15 “দেখো, আমি চোরের মতো আসছি! ধন্য সেই মানুষ, যে জেগে থেকে তার পোশাক সঙ্গে রাখে, যেন সে উলঙ্গ না হয় ও তার লজ্জা প্রকাশ হয়ে না পড়ে।”
REV 16:16 তারপর তারা সেই রাজাদের একটি স্থানে একত্র করল, হিব্রু ভাষায় যে স্থানটির নাম হরমাগিদোন।
REV 16:17 সপ্তম স্বর্গদূত আকাশের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। তখন মন্দিরের ভিতরের সিংহাসন থেকে এক উচ্চধ্বনি শোনা গেল, যা বলছিল, “সমাপ্ত হল!”
REV 16:18 তারপর সেখানে প্রকাশ পেল বিদ্যুতের ঝলকানি, গুরুগম্ভীর ধ্বনি, বজ্রপাত ও এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প। পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি হওয়া থেকে এমন ভূমিকম্প আর কখনও হয়নি, সেই ভূমিকম্প ছিল এমনই সাংঘাতিক।
REV 16:19 এতে সেই মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হল ও বিভিন্ন দেশের নগর ধূলিসাৎ হল। ঈশ্বর মহানগরী ব্যাবিলনকে স্মরণ করলেন এবং তাঁর ভয়ংকর ক্রোধে পূর্ণ সুরার পানপাত্র তাকে দিলেন।
REV 16:20 প্রত্যেকটি দ্বীপ পালিয়ে গেল ও পর্বতগণকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না।
REV 16:21 আর মহাকাশ থেকে মানুষদের উপরে বড়ো বড়ো শিলাবৃষ্টি হল, তার এক একটির ওজন প্রায় পঞ্চাশ কিলোগ্রাম। তখন তারা শিলাবৃষ্টির জন্য ঈশ্বরকে অভিশাপ দিল, কারণ সেই আঘাত ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর।
REV 17:1 সেই সাতটি বাটি যাদের হাতে ছিল, সেই সাতজন স্বর্গদূতের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন, “এসো, বহু জলরাশির উপরে বসে থাকে যে মহাবেশ্যা, তার কী শাস্তি হয়, আমি তোমাকে দেখাব।
REV 17:2 তার সঙ্গে পৃথিবীর রাজারা ব্যভিচার করেছে। আর পৃথিবীর অধিবাসীরা তার ব্যভিচারের সুরায় মত্ত হয়েছে।”
REV 17:3 তারপর সেই স্বর্গদূত পবিত্র আত্মায় আমাকে এক মরুপ্রান্তরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আমি এক নারীকে একটি গাঢ় লাল রংয়ের পশুর উপরে বসে থাকতে দেখলাম। পশুটি ছিল ঈশ্বরনিন্দার নামে আবৃত এবং তার ছিল সাতটি মাথা ও দশটি শিং।
REV 17:4 সেই নারীর পোশাক ছিল বেগুনি ও লাল রংয়ের এবং সে ছিল সোনা, মণিমাণিক্য ও মুক্তায় ভূষিত। সে তার হাতে একটি সোনার পানপাত্র ধরেছিল, যা ছিল ঘৃণ্য সব দ্রব্য ও তার ব্যভিচারের মলিনতায় পূর্ণ।
REV 17:5 তার কপালে লিখিত ছিল এই শিরোনাম: রহস্যময়ী মহানগরী ব্যাবিলন পৃথিবীর বেশ্যাদের এবং ঘৃণ্য বস্তুসকলের মা।
REV 17:6 আমি দেখলাম, সেই নারী পবিত্রগণের রক্তে ও যারা যীশুর সাক্ষ্য বহন করেছে, তাদের রক্তে মত্ত। তাকে দেখে আমি ভীষণ আশ্চর্য হলাম।
REV 17:7 তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, “তুমি আশ্চর্য বোধ করলে কেন? আমি ওই নারীর ও তার বাহনের, অর্থাৎ যার সাতটি মাথা ও দশটি শিং, সেই পশুর রহস্য তোমার কাছে ব্যাখ্যা করব।
REV 17:8 যে পশুকে তুমি দেখলে, যে এক সময়ে ছিল, কিন্তু এখন নেই, সে অতল-গহ্বর থেকে আবার উঠে আসবে ও তার ধ্বংসের পথে যাবে। আর পৃথিবীর অধিবাসী যতজনের নাম জগৎ সৃষ্টির সময় থেকে জীবনপুস্তকে লেখা নেই, তারা যখন সেই পশুটিকে দেখবে, যা ছিল কিন্তু এখন নেই কিন্তু পরে আসবে, তখন তারাও আশ্চর্য বোধ করবে।
REV 17:9 “এখানে বিচক্ষণ মানসিকতার প্রয়োজন হয়। ওই সাতটি মাথা হল সাতটি পর্বত, যার উপরে সেই নারী বসে আছে।
REV 17:10 সেগুলি আবার সাতজন রাজাও। পাঁচজনের পতন হয়েছে, একজন আছে, অন্যজনের আগমন এখনও হয়নি; কিন্তু সে এলে পরে, তাকে অবশ্য অল্প সময়ের জন্য থাকতে হবে।
REV 17:11 আর যে পশুটি এক সময় ছিল, কিন্তু এখন নেই, সে অষ্টম রাজা। সেও সেই সাতজনের অন্যতম এবং সে তার বিনাশের অভিমুখী হবে।
REV 17:12 “যে দশটি শিং তুমি দেখলে, তারা দশজন রাজা। তারা এখনও তাদের রাজ্য লাভ করেনি, কিন্তু তারা সেই পশুর সঙ্গে এক ঘণ্টার জন্য রাজাদের মতো কর্তৃত্ব প্রাপ্ত হবে।
REV 17:13 তাদের অভিপ্রায় একই, তাই তারা তাদের পরাক্রম ও কর্তৃত্ব সেই পশুকে দান করবে।
REV 17:14 তারা মেষশাবকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, কিন্তু মেষশাবক তাদের পরাস্ত করবেন, কারণ তিনি প্রভুদের প্রভু ও রাজাদের রাজা। আর যারা আহূত, মনোনীত ও বিশ্বস্ত অনুসারী, তারাও তাঁর সঙ্গে বিজয়ী হবেন।”
REV 17:15 তারপর সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, “যে জলরাশি তুমি দেখলে, যার উপরে সেই বেশ্যা বসে আছে, তা হল বিভিন্ন প্রজাবৃন্দ, বিপুল জনসমষ্টি, বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভাষী মানুষ।
REV 17:16 আর তুমি যে সেই পশু ও দশটা শিং দেখলে তারা সেই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে। তারা তার সর্বনাশ করে তাকে উলঙ্গ করে ছেড়ে দেবে; তারা তার মাংস খাবে ও তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারবে।
REV 17:17 কারণ ঈশ্বর তাদের হৃদয়ে এই প্রবৃত্তি দিয়েছিলেন যেন তারা তাঁর অভিপ্রায় পূর্ণ করে এবং যতদিন পর্যন্ত ঈশ্বরের সমস্ত বাক্য পূর্ণ না হয়, ততদিন তারা শাসন করার জন্য সেই পশুকে রাজকীয় কর্তৃত্ব দান করতে একমত হয়।
REV 17:18 যে নারীকে তুমি দেখলে, সে হল সেই মহানগরী, যা পৃথিবীর রাজাদের উপরে শাসন করে।”
REV 18:1 এরপরে আমি অন্য এক দূতকে স্বর্গ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন মহা কর্তৃত্বসম্পন্ন, পৃথিবী তাঁর প্রতাপে আলোকিত হয়ে উঠল।
REV 18:2 তিনি প্রবল রবে চিৎকার করে বললেন, “ ‘পতন হল! বিশাল সেই ব্যাবিলনের পতন হল!’ সে হয়ে উঠেছিল ভূতপ্রেতদের গৃহ, সমস্ত মন্দ-আত্মার লুকোনোর স্থান, প্রত্যেক অশুচি পাখির এক আস্তানা। প্রত্যেক অশুচি ও ঘৃণ্য পশুর এক আস্তানা।
REV 18:3 কারণ সমস্ত জাতি তার ব্যভিচারের উন্মত্তকারী সুরা পান করেছে। পৃথিবীর রাজারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করেছে, আবার পৃথিবীর বণিকেরা তার বিলাসিতার প্রাচুর্যে ধনবান হয়েছে।”
REV 18:4 তারপর আমি স্বর্গ থেকে শুনলাম অন্য এক কণ্ঠস্বর: “ ‘আমার প্রজারা, ওর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো,’ যেন তোমরা তার পাপসকলের অংশীদার না হও, যেন তার কোনো বিপর্যয় তোমাদের প্রতি না ঘটে;
REV 18:5 কারণ তার সব পাপ আকাশ পর্যন্ত স্তূপীকৃত হয়েছে; আর ঈশ্বর তার সব অপরাধ স্মরণ করেছেন।
REV 18:6 সে যেমন করেছে, তার প্রতি ফিরে সেরকমই করো; তার কৃতকর্মের দ্বিগুণ প্রতিফল তাকে দাও। তার নিজের পানপাত্রেই তার জন্য দ্বিগুণ পানীয় মিশ্রিত করো।
REV 18:7 সে যত আত্মগরিমা ও বিলাসিতা করত, সেই পরিমাণে তাকে যন্ত্রণা ও কষ্ট দাও। সে তার মনে মনে দম্ভ করে, ‘আমি রানির মতো উপবিষ্ট, আমি বিধবা নই, আর আমি কখনও শোকবিলাপ করব না।’
REV 18:8 এই কারণে একদিনেই তার সমস্ত বিপর্যয়, মৃত্যু, শোকবিলাপ ও দুর্ভিক্ষ, তার উপরে এসে পড়বে। আগুন তাকে গ্রাস করবে, কারণ তার বিচারকর্তা প্রভু ঈশ্বর, শক্তিমান।
REV 18:9 “যখন পৃথিবীর রাজারা, যারা তার সঙ্গে ব্যভিচার করেছিল ও তার বিলাসিতায় অংশগ্রহণ করেছিল, তারা তার দাহ হওয়ার ধোঁয়া দেখবে, তারা তার জন্য কাঁদবে ও শোকবিলাপ করবে।
REV 18:10 তার যন্ত্রণাভোগে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তারা দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে ও আর্তনাদ করে বলবে, “ ‘হায়! হায় সেই মহানগরী, ও ব্যাবিলন, পরাক্রান্ত নগরী! এক ঘণ্টার মধ্যেই তোমার সর্বনাশ উপস্থিত হল।’
REV 18:11 “পৃথিবীর বণিকেরা তার জন্য কাঁদবে ও বিলাপ করবে, কারণ কেউই আর তাদের বাণিজ্যিক পণ্যসামগ্রী কিনবে না।
REV 18:12 সেই বাণিজ্যিক পণ্যসামগ্রী হল সোনা, রুপো, মণিমাণিক্য ও মুক্তো; মিহি মসিনা, বেগুনি, সিল্ক ও লাল রংয়ের পোশাক; সব ধরনের চন্দনকাঠ ও হাতির দাঁত, মূল্যবান কাঠ, পিতল, লোহা ও মার্বেল পাথরের তৈরি সমস্ত ধরনের দ্রব্য;
REV 18:13 দারচিনি ও মশলা, সুগন্ধি ধূপ, কুন্দুরু ও গন্ধরস, সুরা ও জলপাই তেল, সূক্ষ্ম ময়দা ও গম, গবাদি পশুপাল ও মেষ, ঘোড়া ও রথ, ক্রীতদাস ও মানুষের প্রাণ।
REV 18:14 “আর তারা বলবে, ‘যে ফলের তুমি আকাঙ্ক্ষা করতে, তা তোমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। তোমার সমস্ত ঐশ্বর্য ও সমারোহ তোমার নাগালের বাইরে, আর কখনও সেসব ফিরে পাওয়া যাবে না।’
REV 18:15 যে বণিকেরা এই সমস্ত পণ্য বিক্রি করত ও তার কাছ থেকে তাদের ঐশ্বর্য লাভ করত, তারা তার যন্ত্রণায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে। তারা কাঁদবে ও হাহাকার করবে
REV 18:16 এবং চিৎকার করে বলে উঠবে, “ ‘হায়! হায়! সেই মহানগরী, সে মিহি মসিনা, বেগুনি ও লাল রংয়ের পোশাকে সজ্জিত ছিল, সে সজ্জিত ছিল সোনা, মণিমাণিক্য ও মুক্তায়!
REV 18:17 এক ঘণ্টায় এই বিপুল ঐশ্বর্য ধ্বংস হয়ে গেল!’ “আর সমুদ্রের প্রত্যেক দলপতি, যারা জলপথে যাত্রা করে, নাবিকের দল ও সমুদ্র থেকে যারা তাদের জীবিকা অর্জন করে, তারা সবাই দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে।
REV 18:18 তারা যখন তার দাহ হওয়ার ধোঁয়া দেখবে, তারা চিৎকার করে বলবে, ‘এই মহানগরীর সমতুল্য আর কোনও নগর কি ছিল?’
REV 18:19 তারা তাদের মাথায় ধুলো ছড়াবে, কাঁদতে কাঁদতে ও বিলাপ করতে করতে হাহাকার করে বলবে: “হায়! হায়! হে মহানগরী, তারা কোথায়, যাদের জাহাজ সমুদ্রে ছিল, যারা তার ঐশ্বর্যের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছিল! এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে ধ্বংস করা হল!
REV 18:20 “হে স্বর্গ, তার এ দশায় উল্লসিত হও! পবিত্রগণেরা ও প্রেরিতশিষ্যেরা এবং সব ভাববাদী, তোমরা আনন্দ করো! কারণ সে তোমাদের প্রতি যে রকম আচরণ করেছে, ঈশ্বর তেমনই তার বিচার করেছেন।”
REV 18:21 পরে এক শক্তিমান স্বর্গদূত বড়ো জাঁতার মতো বিশাল এক পাথর তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন ও বললেন: “এ ধরনের কঠোরতার সঙ্গে মহানগরী ব্যাবিলনকে নিক্ষিপ্ত করা হবে, তার সন্ধান আর কখনও পাওয়া যাবে না।
REV 18:22 বীণাবাদক ও সংগীতজ্ঞদের গানবাজনা, বাঁশি-বাদক ও তূরীবাদকদের ধ্বনি, আর শোনা যাবে না। কোনও বাণিজ্যের কোনো শ্রমিককে আর তোমার মধ্যে পাওয়া যাবে না, কোনো জাঁতার শব্দ আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না।
REV 18:23 প্রদীপের শিখা তোমার মধ্যে আর কখনও আলো জ্বালাবে না। বর ও কনের রব আর কখনও তোমার মধ্যে শোনা যাবে না। তোমার বণিকেরা ছিল জগতের সব মহৎ ব্যক্তি। তোমার তন্ত্রমন্ত্রের মায়ায় সব জাতি বিপথে চালিত হয়েছিল।
REV 18:24 তার মধ্যে পাওয়া গিয়েছে ভাববাদীদের ও পবিত্রগণের এবং যতজন পৃথিবীতে নিহত হয়েছে, তাদের সকলের রক্ত।”
REV 19:1 এরপরে আমি স্বর্গে এক বিপুল জনসমষ্টির গর্জনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম। তারা বলছিল: “হাল্লেলুইয়া! পরিত্রাণ ও মহিমা ও পরাক্রম আমাদের ঈশ্বরেরই,
REV 19:2 কারণ তাঁর বিচারাদেশ সব যথার্থ ও ন্যায়সংগত। যে মহাবেশ্যা অবৈধ সহবাসের দ্বারা পৃথিবীকে কলুষিত করেছিল, তিনি তার বিচার করেছেন। তিনি তাঁর দাসদের রক্তের প্রতিশোধ তার কাছ থেকে নিয়েছেন।”
REV 19:3 তারা আবার চিৎকার করে উঠল: “হাল্লেলুইয়া! তার ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল উপরে উঠে যাবে।”
REV 19:4 সেই চব্বিশজন প্রাচীন ও চারজন জীবন্ত প্রাণী নত হয়ে প্রণাম করে সিংহাসনে উপবিষ্ট ঈশ্বরের উপাসনা করলেন। তাঁরা উচ্চকণ্ঠে বললেন, “আমেন, হাল্লেলুইয়া!”
REV 19:5 তখন সিংহাসন থেকে এক কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “ঈশ্বরের দাসেরা, তোমরা যারা ঈশ্বরকে ভয় করো, সামান্য কি মহান তোমরা সকলে আমাদের ঈশ্বরের স্তবগান করো।”
REV 19:6 তারপর আমি এক বিপুল জনসমষ্টির রব, প্রবহমান মহা জলস্রোত ও প্রবল বজ্রপাতের মতো ধ্বনি শুনতে পেলাম। সেই ধ্বনিতে ঘোষণা করা হচ্ছিল: “হাল্লেলুইয়া! কারণ আমাদের সর্বশক্তিমান, প্রভু ঈশ্বর, রাজত্ব করছেন।
REV 19:7 এসো আমরা উল্লসিত হই, আনন্দ করি এবং তাঁকে মহিমা প্রদান করি! কারণ মেষশাবকের বিবাহ-লগ্ন উপস্থিত এবং তাঁর কনে নিজেকে প্রস্তুত করেছে।
REV 19:8 উজ্জ্বল ও পরিষ্কার, মিহি মসিনার পোশাক সজ্জিত হতে তাকে দেওয়া হয়েছিল।” (মিহি মসিনার পোশাক পবিত্রগণের ধর্মাচরণের প্রতীক।)
REV 19:9 তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, “তুমি লেখো, ‘ধন্য তারা, যারা মেষশাবকের বিবাহভোজে আমন্ত্রিত।’ ” তিনি আরও যোগ করলেন, “এগুলি প্রকৃতই ঈশ্বরের বাক্য।”
REV 19:10 একথা শুনে উপাসনা করার জন্য আমি তাঁর পায়ে পড়লাম। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এরকম কোরো না! আমি তোমার ও তোমার ভাইবোন যারা যীশুর সাক্ষ্য ধারণ করে, তাদের সহদাস; কেবলমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা করো! কারণ যীশুর সাক্ষ্যই হল ভাববাণীর অনুপ্রেরণা।”
REV 19:11 আমি দেখলাম, স্বর্গ খুলে গেল এবং সেখানে আমার সামনে ছিল একটি সাদা ঘোড়া। এর আরোহী বিশ্বস্ত ও সত্যময় নামে আখ্যাত। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে তিনি বিচার ও যুদ্ধ করেন।
REV 19:12 তাঁর দুই চোখ জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো এবং তাঁর মাথায় আছে অনেক মুকুট। তাঁর উপরে একটি নাম লেখা আছে, যা স্বয়ং তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।
REV 19:13 তিনি রক্তে ডুবানো পোশাক পরে আছেন ও তাঁর নাম ঈশ্বরের বাক্য।
REV 19:14 স্বর্গের সৈন্যরা তাঁকে অনুসরণ করল যিনি সাদা ও পরিষ্কার মিহি মসিনার পোশাক পরে সাদা ঘোড়ায় চড়ে ছিলেন।
REV 19:15 তাঁর মুখ থেকে নির্গত হচ্ছিল এক ধারালো তরোয়াল, যা দিয়ে তিনি সব জাতিকে ধরাশায়ী করেন। “তিনি লোহার রাজদণ্ড নিয়ে তাদের শাসন করবেন।” তিনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধের পেষণকুণ্ডের দ্রাক্ষা দলন করেন।
REV 19:16 তাঁর পোশাকে ও তাঁর ঊরুতে তাঁর এই নাম লেখা আছে: রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু।
REV 19:17 আর আমি দেখলাম, একজন স্বর্গদূত সূর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি মধ্যাকাশে উড়ন্ত সব পাখিকে উচ্চকণ্ঠে ডেকে বললেন, “তোমরা এসো, ঈশ্বরের মহাভোজে সকলে একত্র হও,
REV 19:18 যেন তোমরা রাজাদের মাংস, সৈন্যাধ্যক্ষদের মাংস, শক্তিশালী লোকেদের মাংস, ঘোড়া ও তাদের আরোহীর মাংস, স্বাধীন বা ক্রীতদাস, সামান্য বা মহান—সকলের মাংস খেতে পারো।”
REV 19:19 তারপর আমি দেখলাম, ওই সাদা ঘোড়ার আরোহী ও তাঁর সৈন্যদলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সেই পশু ও পৃথিবীর রাজারা ও তাদের সৈন্যবাহিনী একত্রিত হল।
REV 19:20 কিন্তু সেই পশু বন্দি হল ও তার সঙ্গে যে ভণ্ড ভাববাদী তার হয়ে অলৌকিক সব চিহ্নকাজ করেছিল, সেও ধরা পড়ল। যারা সেই পশুর ছাপ ধারণ ও তার মূর্তির পূজা করেছিল, সে এসব চিহ্নকাজের দ্বারা তাদের বিভ্রান্ত করেছিল। সেই দুজনকে জীবন্ত অবস্থায় জ্বলন্ত গন্ধকের আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল।
REV 19:21 অবশিষ্ট সকলে সেই সাদা ঘোড়ার আরোহীর মুখ থেকে নির্গত তরোয়ালের দ্বারা নিহত হল এবং সব পাখি তাদের মাংস খেয়ে তৃপ্ত হল।
REV 20:1 তারপর আমি স্বর্গ থেকে এক দূতকে নেমে আসতে দেখলাম। তাঁর হাতে ছিল সেই অতল-গহ্বরের চাবি ও একটি বড়ো শিকল।
REV 20:2 তিনি সেই দানবকে বন্দি করলেন। এ সেই পুরোনো সাপ, যে হল দিয়াবল বা শয়তান। তিনি তাকে এক হাজার বছর বন্দি করে রাখলেন।
REV 20:3 তিনি তাকে সেই অতল-গহ্বরে নিক্ষেপ করে তার উপরে তালাবন্ধ করে সিলমোহরাঙ্কিত করলেন, যেন যতদিন পর্যন্ত সেই হাজার বছর শেষ না হয়, ততদিন সে সব জাতিকে প্রতারিত করতে না পারে। তারপরে তাকে অবশ্যই অল্প সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে।
REV 20:4 পরে আমি কতগুলি সিংহাসন দেখলাম। সেগুলির উপরে যাঁরা উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আর আমি তাদেরও আত্মা দেখলাম, যীশুর সপক্ষে তাদের দেওয়া সাক্ষ্য ও ঈশ্বরের বাক্যের কারণে যাদের মাথা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। তারা সেই পশু বা তার মূর্তির পূজা করেনি। তারা তার ছাপও তাদের কপালে কিংবা তাদের হাতে ধারণ করেনি। তারা পুনর্জীবন লাভ করে এক হাজার বছর খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করল।
REV 20:5 (সেই হাজার বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট মৃতেরা জীবন লাভ করল না।) এই হল প্রথম পুনরুত্থান।
REV 20:6 ধন্য ও পবিত্র তাঁরা, যারা প্রথম পুনরুত্থানের অংশীদার হন। তাঁদের উপরে দ্বিতীয় মৃত্যুর কোনও ক্ষমতা নেই, কিন্তু তাঁরা ঈশ্বরের ও খ্রীষ্টের যাজক হবেন এবং তাঁর সঙ্গে এক হাজার বছর রাজত্ব করবেন।
REV 20:7 সেই হাজার বছর শেষ হলে পর শয়তানকে তার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
REV 20:8 তখন সে গোগ ও মাগোগ নামে অভিহিত পৃথিবীর চতুর্দিকে অবস্থিত জাতিদের গিয়ে প্রতারিত করে যুদ্ধ করার জন্য তাদের সমবেত করবে। সংখ্যায় তারা সমুদ্রতীরের বালির মতো।
REV 20:9 তারা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরাবর যুদ্ধযাত্রা করে ঈশ্বরের প্রজাদের শিবির ও তাঁর প্রিয় নগরটি ঘিরে ধরল। কিন্তু স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এসে তাদের গ্রাস করল।
REV 20:10 আর তাদের প্রতারণাকারী দিয়াবলকে জ্বলন্ত গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল, যেখানে সেই পশু ও ভণ্ড ভাববাদীকেও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তারা যুগে যুগে চিরকাল, দিনরাত যন্ত্রণাভোগ করবে।
REV 20:11 এরপরে আমি এক বিশাল সাদা রংয়ের সিংহাসন ও তার উপরে যিনি বসে আছেন, তাঁকে দেখতে পেলাম। তাঁর উপস্থিতি থেকে পৃথিবী ও আকাশ পালিয়ে গেল। তাদের জন্য আর কোনো স্থান পাওয়া গেল না।
REV 20:12 আর আমি দেখলাম, সামান্য ও মহান সকল মৃত ব্যক্তিরা সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর কতগুলি পুস্তক খোলা হল। অন্য একটি পুস্তক, অর্থাৎ জীবনপুস্তকও খোলা হল। পুস্তকগুলিতে লিখিত মৃত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ অনুসারে তাদের বিচার করা হল।
REV 20:13 সমুদ্র তার মধ্যস্থিত মৃতদের সমর্পণ করল এবং পরলোক ও পাতালও তাদের মধ্যে অবস্থিত মৃতদের সমর্পণ করল। আর তাদের প্রত্যেকের কাজ অনুযায়ী তাদের বিচার করা হল।
REV 20:14 তারপর পরলোক ও পাতালকেও আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল। সেই আগুনের হ্রদ হল দ্বিতীয় মৃত্যু।
REV 20:15 আর যার নাম সেই জীবনপুস্তকে লিখিত পাওয়া গেল না, তাকেই আগুনের হ্রদে নিক্ষেপ করা হল।
REV 21:1 তারপর আমি এক নতুন আকাশ ও এক নতুন পৃথিবী দেখলাম, কারণ প্রথম আকাশ ও প্রথম পৃথিবী লুপ্ত হয়েছিল এবং কোনো সমুদ্র আর ছিল না।
REV 21:2 আর আমি দেখলাম, পবিত্র নগরী, সেই নতুন জেরুশালেম, স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছে। সে তার বরের জন্য সুন্দর কনের বেশে সজ্জিত হয়েছিল।
REV 21:3 আর আমি সেই সিংহাসন থেকে এক উচ্চ রব শুনতে পেলাম, তা বলছিল, “দেখো, এখন মানুষের মাঝে ঈশ্বরের আবাস, তিনি তাদের সঙ্গে বসবাস করবেন। তারা তাঁর প্রজা হবে এবং ঈশ্বর স্বয়ং তাদের সঙ্গে থাকবেন ও তাদের ঈশ্বর হবেন।
REV 21:4 তিনি তাদের সমস্ত চোখের জল মুছে দেবেন। আর কোনো শোক বা মৃত্যু বা কান্না বা ব্যথাবেদনা হবে না, কারণ পুরোনো সমস্ত বিষয় গত হয়েছে।”
REV 21:5 যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি বললেন, “আমি সবকিছুই নতুন করছি!” তারপর তিনি বললেন, “লিখে নাও, কারণ এসব বাক্য বিশ্বাসযোগ্য ও সত্যি।”
REV 21:6 তিনি আমাকে বললেন: “সম্পন্ন হল। আমিই আলফা ও ওমেগা, আদি ও অন্ত। যে তৃষ্ণার্ত, তাকে আমি জীবন-জলের উৎস থেকে বিনামূল্যে পান করতে দেব।
REV 21:7 যে জয়ী হয়, সে এসবের অধিকারী হবে, আর আমি তার ঈশ্বর হব ও সে আমার পুত্র বা কন্যা হবে।
REV 21:8 কিন্তু যারা কাপুরুষ, অবিশ্বাসী, ঘৃণ্য স্বভাববিশিষ্ট, খুনি, অবৈধ যৌনাচারী, যারা তন্ত্রমন্ত্র-মায়াবিদ্যা অভ্যাস করে, যারা প্রতিমাপূজা করে এবং যত মিথ্যাবাদী, তাদের স্থান হবে জ্বলন্ত গন্ধকের আগুনের হ্রদে। এই হল দ্বিতীয় মৃত্যু।”
REV 21:9 যে সাতজন স্বর্গদূতের কাছে সাতটি শেষ আঘাতে পূর্ণ সাতটি বাটি ছিল, তাদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন, “এসো, আমি তোমাকে সেই কনে দেখাই যিনি মেষশাবকের স্ত্রী।”
REV 21:10 আর তিনি আমাকে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ করে এক বিশাল ও উঁচু মহাপর্বতে নিয়ে গেলেন ও সেই পবিত্র নগরী জেরুশালেমকে দেখালেন, যা স্বর্গ থেকে, ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসছিল।
REV 21:11 তা ছিল ঈশ্বরের মহিমায় ভাস্বর, আর তার ঔজ্জ্বল্য ছিল বহুমূল্য মণির, স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, সূর্যকান্ত মণির মতো।
REV 21:12 তার চারিদিকে ছিল বিশাল, উঁচু প্রাচীর এবং তার বারোটি দরজা। বারোজন স্বর্গদূত ওই দরজাগুলিতে পাহারা দিচ্ছিলেন। দরজাগুলির উপরে লেখা ছিল ইস্রায়েলের বারো গোষ্ঠীর নাম।
REV 21:13 তিনটি দরজা ছিল পূর্বদিকে, তিনটি উত্তর দিকে, তিনটি দক্ষিণ দিকে ও তিনটি পশ্চিমদিকে।
REV 21:14 নগরের প্রাচীরের ছিল বারোটি ভিত, আর সেগুলির উপরে লেখা ছিল মেষশাবকের বারোজন প্রেরিতশিষ্যের নাম।
REV 21:15 যে স্বর্গদূত আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর হাতে ওই নগর, তার দরজাগুলি ও তার প্রাচীরগুলি পরিমাপ করার জন্য ছিল সোনার এক মাপকাঠি।
REV 21:16 নগরটির আকৃতি ছিল বর্গাকার, তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান। তিনি ওই মাপকাঠি দিয়ে নগরটি পরিমাপ করলেন এবং তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা একই হল, অর্থাৎ 2,220 কিলোমিটার।
REV 21:17 তিনি মানুষের মাপকাঠি অনুসারে সেই প্রাচীর পরিমাপ করলেন এবং যার উচ্চতা 65 মিটার হল।
REV 21:18 সেই প্রাচীর সূর্যকান্তমণি দ্বারা ও নগর বিশুদ্ধ কাচের মতো নির্মল সোনায় নির্মিত।
REV 21:19 নগর-প্রাচীরের ভিত সব ধরনের মণিমাণিক্যে সুশোভিত। প্রথম ভিত সূর্যকান্ত মণির, দ্বিতীয় নীলকান্তের, তৃতীয় তাম্রমণির, চতুর্থ মরকতের,
REV 21:20 পঞ্চম বৈদুর্য্যের, ষষ্ঠ সার্দীয় মণির, সপ্তম হেমকান্তমণির, অষ্টম গোমেদের, নবম পদ্মরাগমণির, দশম লশুনিয়ের, একাদশ পেরোজের ও বারো জামিরা মণির।
REV 21:21 আর বারোটি দরজা ছিল বারোটি মুক্তার, প্রত্যেকটি দরজা এক-একটি মুক্তায় নির্মিত। নগরের রাজপথ ছিল স্বচ্ছ কাচের মতো বিশুদ্ধ সোনার।
REV 21:22 আমি নগরের মধ্যে কোনো মন্দির দেখলাম না, কারণ সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর ও মেষশাবকই তার মন্দির।
REV 21:23 নগরটি আলোকিত করার জন্য সূর্যের বা চাঁদের কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ ঈশ্বরের মহিমা সেখানে আলো প্রদান করে এবং মেষশাবকই তার প্রদীপ
REV 21:24 সব জাতি তার আলোয় চলাফেরা করবে এবং পৃথিবীর রাজারা এর মধ্যে তাদের প্রতাপ নিয়ে আসবে।
REV 21:25 ওই নগরের দরজাগুলি কোনোদিন বা কখনও বন্ধ হবে না, কারণ সেখানে কোনো রাত্রিই হবে না।
REV 21:26 সব জাতির প্রতাপ ও সম্মান এর মধ্যে নিয়ে আসা হবে।
REV 21:27 কোনও অশুচি কিছু কিংবা লজ্জাজনক মূর্তিপূজক বা প্রতারণাকারী, কেউই এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; কেবলমাত্র যাদের নাম মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লেখা আছে, তারাই প্রবেশ করবে।
REV 22:1 তারপর সেই স্বর্গদূত আমাকে জীবন-জলের নদী দেখালেন। তার জল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং তা ঈশ্বরের ও মেষশাবকের সিংহাসন থেকে নির্গত হয়ে
REV 22:2 নগরের রাজপথের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে। নদীর দুই পাশে ছিল জীবনদায়ী গাছ, যা বারো মাসে বারো রকমের ফল উৎপন্ন করে। আর সেই গাছের পাতা সব জাতির আরোগ্যলাভের জন্য।
REV 22:3 সেখানে আর কোনও অভিশাপ থাকবে না। সেই নগরের মধ্যে থাকবে ঈশ্বরের ও মেষশাবকের সিংহাসন, আর তাঁর দাসেরা তাঁর উপাসনা করবে।
REV 22:4 তারা তাঁর শ্রীমুখ দর্শন করবে এবং তাঁর শ্রীনাম তাদের কপালে লেখা থাকবে।
REV 22:5 সেখানে আর রাত্রি হবে না। তাদের প্রদীপের আলো বা সূর্যের আলোর প্রয়োজন হবে না, কারণ প্রভু ঈশ্বরই তাদের আলো প্রদান করবেন। আর তারা যুগে যুগে চিরকাল রাজত্ব করবে।
REV 22:6 সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, “এই সমস্ত বাক্য বিশ্বাসযোগ্য ও সত্যি; যা অবশ্যই অচিরে ঘটতে চলেছে। আর এইসব তাঁর দাসদের দেখানোর জন্য প্রভু, ভাববাদীদের আত্মাসমূহের ঈশ্বর, নিজের দূতকে প্রেরণ করেছেন।”
REV 22:7 “দেখো, আমি শীঘ্রই আসছি! ধন্য সেই জন, যে এই পুঁথিতে লেখা ভাববাণীর বাক্য পালন করে।”
REV 22:8 আমি যোহন, এসব বিষয় শুনলাম ও দেখলাম। আর যখন আমি সেগুলি শুনলাম ও দেখলাম, তখন যে স্বর্গদূত সেসব আমাকে দেখাচ্ছিলেন, আমি তাঁর উপাসনা করার জন্য তাঁর পায়ে পড়ে তাঁকে উপাসনা করলাম।
REV 22:9 কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এরকম কোরো না। আমি তোমার ভাববাদী ভাইদের ও যারা এই পুঁথিতে লিখিত সব বাক্য পালন করে, তাদের সহদাস। কেবলমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা করো!”
REV 22:10 এরপর তিনি আমাকে বললেন, “এই পুঁথিতে লিখিত ভাববাণীর বাক্য মোহরাঙ্কিত কোরো না, কারণ সময় সন্নিকট।
REV 22:11 যে অন্যায় করে, সে এর পরেও অন্যায় করুক; যে কলুষিত, সে এর পরেও কলুষতার আচরণ করুক; যে ন্যায়সংগত আচরণ করে, সে এর পরেও ন্যায়সংগত আচরণ করুক; আর যে পবিত্র, সে এর পরেও পবিত্র থাকুক।”
REV 22:12 “দেখো, আমি শীঘ্রই আসছি! আমার দেয় পুরস্কার আমার সঙ্গে আছে, আর আমি সকলের কৃতকর্ম অনুযায়ী তাদের পুরস্কার দেব।
REV 22:13 আমিই আলফা ও ওমেগা, প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত।
REV 22:14 “ধন্য তারা, যারা নিজেদের পোশাক পরিষ্কার করে, যেন তারা জীবনদায়ী গাছের অধিকার লাভ করে ও নগরের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।
REV 22:15 বাইরে রয়েছে কুকুরেরা, আর যারা তন্ত্রমন্ত্র-মায়াবিদ্যা অভ্যাস করে, যারা অবৈধ যৌনাচারী, যারা খুনি, যারা প্রতিমাপূজা করে, আর যারা মিথ্যা কথা বলতে ভালোবাসে ও তা অনুশীলন করে।
REV 22:16 “আমি যীশু, মণ্ডলীগুলির কাছে এই সাক্ষ্য দিতে আমি আমার দূতকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি। আমিই দাউদের মূল ও বংশধর, উজ্জ্বল প্রভাতী-তারা!”
REV 22:17 পবিত্র আত্মা ও কন্যা বলছেন, “এসো!” যে শোনে, সেও বলুক, “এসো!” যে তৃষ্ণার্ত, সে আসুক; আর যে চায়, সে বিনামূল্যের উপহার, জীবন-জল গ্রহণ করুক।
REV 22:18 যারা এই পুঁথির ভাববাণীর বাক্যগুলি শোনে, আমি তাদের প্রত্যেককে সতর্ক করে বলছি: যদি কেউ এর সঙ্গে আরও কিছু যোগ করে, ঈশ্বর সেই ব্যক্তির প্রতি এই পুঁথিতে লেখা আঘাতগুলিও যোগ করবেন।
REV 22:19 আবার কেউ যদি ভাববাণীর এই পুঁথি থেকে কোনও বাক্য সরিয়ে দেয়, তাহলে ঈশ্বর এই পুঁথিতে লিখিত জীবনদায়ী গাছ থেকে ও সেই পবিত্র নগর থেকে তার অধিকারও সরিয়ে দেবেন।
REV 22:20 যিনি এসব বিষয়ের সাক্ষ্য দেন, তিনি বলছেন, “হ্যাঁ, আমি শীঘ্রই আসছি।” আমেন। প্রভু যীশু, এসো।
REV 22:21 প্রভু যীশুর অনুগ্রহ ঈশ্বরের সকল পবিত্রজনের সঙ্গে থাকুক। আমেন।
