﻿যাকোব.
5.
ওহে ধনী ব্যক্তিরা, তোমরা এখন শোনো, তোমাদের উপরে যে দুঃখদুর্দশা ঘনিয়ে আসছে, তার জন্য তোমরা কাঁদো ও বিলাপ করো। 
তোমাদের ধনসম্পদ পচে যাচ্ছে ও জামাকাপড় পোকায় খেয়ে নিচ্ছে। 
তোমাদের সোনা ও রুপো পচতে শুরু করেছে। সেই পচনই তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে ও আগুনের মতো তোমাদের শরীরকে গ্রাস করবে, কারণ শেষের দিনগুলির জন্য তোমরা ধন সঞ্চয় করছ। 
দেখো! যে মজুরেরা তোমাদের জমিতে ফসল কেটেছে তাদের মজুরি তোমরা দাওনি, তারা তোমাদের বিরুদ্ধে চিৎকার করছে। যারা শস্য কাটে তাদের কান্না সর্বশক্তিমান প্রভুর কানে গিয়ে পৌঁছেছে। 
তোমরা পৃথিবীতে বিলাসিতায় ও আত্মসুখভোগে জীবন কাটিয়েছ। পশুহত্যার দিনে তোমরা নিজেদের হৃষ্টপুষ্ট করেছ। 
যারা প্রতিরোধ করেনি সেইসব নির্দোষ মানুষকেও তোমরা অপরাধী সাব্যস্ত করে হত্যা করেছ। 
তাই ভাইবোনেরা, তোমরা প্রভুর আগমন পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো। দেখো, মূল্যবান ফসলের জন্য চাষি জমির দিকে তাকিয়ে কত প্রতীক্ষা করে, প্রথম ও শেষ বৃষ্টির জন্য সে কতই না সহিষ্ণুতা অবলম্বন করে। 
তোমরাও তেমনই ধৈর্যধারণ করো ও অবিচল থাকো, কারণ প্রভুর আগমন সন্নিকট। 
ভাইবোনেরা, পরস্পরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ কোরো না, নতুবা তোমাদের বিচার করা হবে। বিচারক দুয়ারেই দাঁড়িয়ে আছেন! 
ভাইবোনেরা, কষ্টযন্ত্রণা ভোগের সময় সেইসব ভাববাদীর দীর্ঘসহিষ্ণুতার আদর্শ গ্রহণ করো, যাঁরা প্রভুর নামে কথা বলেছিলেন। 
যেমন তোমরা জানো, যারা কষ্টভোগের সময় নিষ্ঠাবান ছিল তাদের আমরা ধন্য বলে মনে করি। তোমরা ইয়োবের নিষ্ঠার কথা শুনেছ এবং দেখেছ, শেষে প্রভু কী করলেন। প্রভু সহানুভূতিশীল ও করুণায় পূর্ণ। 
আমার ভাইবোনেরা, সবচেয়ে বড়ো কথা, তোমরা দিব্যি কোরো না—স্বর্গ বা মর্ত্য, বা অন্য কিছুরই নামে নয়। তোমাদের “হ্যাঁ,” হ্যাঁ হোক, আর “না,” না হোক, নইলে তোমরা দোষী সাব্যস্ত হবে। 
তোমাদের মধ্যে কেউ কি সমস্যায় ভুগছে? সে প্রার্থনা করুক। কেউ কি সুখে আছে? সে প্রশংসাগান করুক। 
তোমাদের মধ্যে কেউ কি অসুস্থ আছে? সে মণ্ডলীর প্রাচীনদের আহ্বান করুক, তাঁরা তার জন্য প্রার্থনা করবেন ও প্রভুর নামে তাকে তেল দিয়ে অভিষেক করবেন। 
আর বিশ্বাসের সঙ্গে নিবেদিত প্রার্থনা, সেই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করবে। প্রভু তাকে তুলে ধরবেন। যদি সে পাপ করে থাকে, সে ক্ষমা লাভ করবে। 
সেই কারণে, তোমরা পরস্পরের কাছে পাপস্বীকার করো ও পরস্পরের জন্য প্রার্থনা করো, যেন তোমরা আরোগ্য লাভ করতে পারো। ধার্মিকদের প্রার্থনা শক্তিশালী ও কার্যকরী। 
এলিয় আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। দেশে বৃষ্টি না হওয়ার জন্য তিনি একান্তভাবে প্রার্থনা করেছিলেন, আর সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। 
আবার তিনি প্রার্থনা করলেন, আকাশমণ্ডল থেকে বৃষ্টি এল ও পৃথিবী শস্য উৎপন্ন করল। 
আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সত্য থেকে দূরে চলে যায় ও অপর কেউ তাকে ফিরিয়ে আনে, 
তাহলে, একথা মনে রেখো: পাপীকে যে কেউ তার ভুল পথ থেকে ফেরায়, সে তাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করে ও তার সব পাপ ঢেকে দেয়।
